(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: -)
الرد على سير الأوزاعي   (أبو يوسف القاضي)

القسم: الفقه الحنفي


الكتاب: الرد على سير الأوزاعي

المؤلف: أبو يوسف يعقوب بن إبراهيم بن حبيب بن سعد بن حبتة الأنصاري (ت 182 هـ)

عني بتصحيحه والتعليق عليه: أبو الوفا الأفغاني، المدرس بالمدرسة النظامية بالهند [ت 1395 هـ]

عني بنشره: لجنة إحياء المعارف النعمانية، بحيدر آباد الدكن، بالهند

أشرف على طبعه: رضوان محمد رضوان وكيل لجنة إحياء المعارف النعمانية بمصر

الطبعة: الأولى

عدد الصفحات: 135

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আওযায়ীর সিয়ারের খণ্ডন   (কাযী আবু ইউসুফ)

বিভাগ: হানাফী ফিকহ


গ্রন্থ: আওযায়ীর সিয়ারের খণ্ডন

লেখক: আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম ইবনে হাবীব ইবনে সা'দ ইবনে হাবতাহ আল-আনসারী (মৃত্যু ১৮২ হিজরি)

সম্পাদনা ও টীকা প্রদান: আবুল ওয়াফা আল-আফগানী, ভারতের মাদ্রাসা-ই-নিযামিয়ার শিক্ষক [মৃত্যু ১৩৯৫ হিজরি]

প্রকাশনার দায়িত্বে: লাজনাতি ইহয়ায়িল মা'আরিফ আন-নু'মানিয়া, হায়দ্রাবাদ দাক্ষিণাত্য, ভারত

মুদ্রণ তদারকি: রেদওয়ান মুহাম্মদ রেদওয়ান, মিশরে লাজনাতি ইহয়ায়িল মা'আরিফ আন-নু'মানিয়ার প্রতিনিধি

সংস্করণ: প্রথম

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৩৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌بَابُ قِسْمَةِ الْغَنَائِمِ

عَنْ أَبِي يُوسُفَ قَالَ قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ رضي الله عنهما إِذَا غَنِمَ جُنْدٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ غِنَيمَةً فِي أَرْضِ الْعَدُوِّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَلَا يَقْتَسِمُونَهَا حَتَّى يُخْرِجُوهَا إِلَى دَارِ الْإِسْلَام ويحرزوها

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيُّ لَمْ يَقْفُلْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَزْوَةٍ أَصَابَ فِيهَا مَغْنَمًا إِلَّا خَمَّسَهُ وَقَسَّمَهُ قَبْلَ أَنْ يَقْفُلَ مِنْ ذَلِكَ غَزْوَةُ بَنِي الْمُصْطَلِقِ وَهَوَازِنَ وَيَوْمِ حُنَيْنٍ وَخَيْبَرَ وَتَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِخَيْبَرَ حِينَ افْتَتَحَهَا صَفِيَّةَ رضي الله عنها وَقَتَلَ كِنَانَةَ بْنَ الرَّبِيعِ وَأَعْطَى أُخْتَهُ دُحَيَّةَ ثُمَّ لَمْ يَزَلِ الْمُسْلِمُونَ عَلَى ذَلِكَ بَعْدَهُ وَغَلَّتْهُ جُيُوشُهُمْ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌গনিমতের (যুদ্ধলব্ধ সম্পদের) বণ্টন পরিচ্ছেদ

আবু ইউসুফ (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু হানিফা (রা.) বলেছেন যে, যখন মুসলিমদের কোনো সেনাবাহিনী মুশরিক শত্রুর ভূখণ্ডে গনিমত অর্জন করে, তখন তারা তা বণ্টন করবে না যতক্ষণ না তারা তা দারুল ইসলামে (ইসলামি রাষ্ট্রে) নিয়ে আসে এবং তা আয়ত্তে নেয়।

ইমাম আওজায়ি (রহ.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন কোনো যুদ্ধ থেকে ফিরে আসতেন না যাতে তিনি গনিমত লাভ করেছেন, ফিরে আসার আগে তার এক-পঞ্চমাংশ বের করা এবং তা বণ্টন করা ব্যতীত। এর মধ্যে রয়েছে বনু মুস্তালিকের যুদ্ধ, হাওয়াযিন, হুনাইনের দিন এবং খাইবার। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খাইবার বিজয়ের সময় সেখানে সাফিয়্যাহ (রা.)-কে বিবাহ করেন, কিনানাহ ইবনুর রাবিকে হত্যা করেন এবং তার বোনকে দিহয়াকে প্রদান করেন। অতঃপর তাঁর পরবর্তী সময়েও মুসলিমগণ এই রীতির ওপর অবিচল ছিলেন এবং তাঁদের সেনাবাহিনীসমূহও তা পালন করেছে।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ২)
فِي أَرْضِ الرُّومِ فِي خِلَافَةِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ وَخِلَافَةِ عُثْمَانَ رضي الله عنهما فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ثُمَّ هَلُمَّ جَرًّا وَفِي أَرْضِ الشِّرْكِ حَتَّى هَاجَتِ الْفِتْنَةُ وَقُتِلَ الْوَلِيدُ بْنُ يَزِيدَ لَمْ يَخْرُجْ جَيْشٌ مُنْهُمْ مِنْ أَرْضِ الرُّومِ إِلَّا بَعْدَ مَا يَفْرَغُونَ مِنْ قَسْمِ غَنَائِمِهِمْ

قَالَ أَبُو يُوسُفَ رضي الله عنه أَمَّا غَزْوَةُ بَنِي الْمُصْطَلِقِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم افْتتح بِلَادهمْ وَظهر عَلَيْهِم فَصَارَتْ بِلادُهُمْ دَارَ الْإِسْلَامِ وَبَعَثَ الْوَلِيدُ بْنُ عُقْبَةَ يَأْخُذُ صَدَقَاتِهِمْ وَعَلَى هَذِهِ الْحَالِ كَانَتْ خَيْبَرُ حِين
উমর ইবনুল খাত্তাবের খিলাফতকাল এবং উসমানের (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) খিলাফতকালে রোম ভূখণ্ডে স্থলে ও জলে, এরপর ধারাবাহিকভাবে শিরকের ভূখণ্ডেও (অভিযান পরিচালিত হয়), যতক্ষণ না ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ওয়ালিদ ইবনে ইয়াজিদ নিহত হয়। তাদের কোনো বাহিনীই গনিমতের মাল বণ্টন শেষ করার আগে রোম ভূখণ্ড থেকে প্রস্থান করত না।

আবু ইউসুফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, বনু মুস্তালিকের যুদ্ধের বিষয়টি হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের ভূখণ্ড জয় করেন এবং তাদের ওপর বিজয় লাভ করেন, ফলে তাদের ভূখণ্ড দারুল ইসলামে পরিণত হয়। তিনি ওয়ালিদ ইবনে উকবাহকে তাদের সদকা সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করেছিলেন। খায়বারের অবস্থাও অনুরূপ ছিল যখন
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ৩)
افْتَتَحَهَا وَصَارَتْ دَارَ الْإِسْلَامِ وَعَامَلَهُمْ عَلَى النَّخْلِ وَعَلَى هَذَا كَانَتْ حُنَيْنٌ وَهَوَازِنُ وَلَمْ يُقَسِّمْ فَيْءَ حُنَيْنٍ إِلَّا بَعْدَ مُنْصَرَفِهِ عَنِ الطَّائِف حِين
তিনি এটি জয় করেন এবং তা ইসলামি ভূখণ্ডে পরিণত হয়। তিনি তাদের সাথে খেজুর গাছের ভিত্তিতে লেনদেনের চুক্তি করেন এবং হুনাইন ও হাওয়াযিন যুদ্ধের বিষয়টিও এর অনুরূপ ছিল। তিনি হুনাইনের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন করেননি যতক্ষণ না তিনি তায়েফ থেকে ফিরে আসেন, যখন...
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ৪)
سَأَلَهُ النَّاسُ وَهُمْ بِالْجُعْرَانَةِ أَنْ يُقَسِّمَهُ بَيْنَهُمْ فَإِذَا ظَهَرَ الْإِمَامُ عَلَى دَارٍ وَأَثْخَنَ أَهْلُهَا فَيَجْرِي حُكْمُهُ عَلَيْهَا فَلَا بَأْسَ أَنْ يقسم الْغَنِيمَة فِيهَا قبل
লোকেরা জিরানায় অবস্থানকালে তাঁর নিকট তা বন্টন করে দেওয়ার আবেদন করল। সুতরাং ইমাম যখন কোনো ভূখণ্ডের ওপর বিজয়ী হন এবং সেখানকার অধিবাসীদের পর্যুদস্ত করেন এবং সেখানে তাঁর শাসন বলবৎ হয়, তখন সেখানে (পূর্বেই) গনীমত বন্টন করাতে কোনো অসুবিধা নেই।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ৫)
أَنْ يَخْرُجَ وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ رضي الله عنه أَيْضًا وَإِنْ كَانَ مُغِيرًا فِيهَا لَمْ يَظْهَرْ عَلَيْهَا وَلَمْ يَجْرِ حُكْمُهُ فَإِنَّا نَكْرَهُ أَنْ يُقَسِّمَ فِيهَا غَنِيمَةً أَوْ فَيْئًا مِنْ قِبَلِ أَنَّهُ لَمْ يُحْرِزَهُ وَمِنْ قِبَلِ أَنَّهُ لَوْ دَخَلَ جَيْشٌ مِنْ جُيُوشِ الْمُسْلِمِينَ مَدَدًا لَهُمْ شَرَكُوهُمْ فِي تِلْكَ الْغَنِيمَةِ وَمِنْ قِبَلِ أَنَّ الْمُشْرِكِينَ لَوِ اسْتَنْقَذُوا مَا فِي أَيْدِيهِمْ ثُمَّ غَنَمَهُ جَيْشٌ آخَرُ مِنْ جُيُوشِ الْمُسْلِمِينَ بَعْدَ ذَلِكَ لَمْ يُرَدَّ عَلَى الْأَوَّلِينَ مِنْهُ شَيْء وَأما ذُكِرَ عَنِ الْمُسْلِمِينَ أَنَّهُمْ لَمْ يَزَالُوا يُقَسِّمُونَ مَغَانِمَهُمْ فِي خِلَافَةِ عُمَرَ وَعُثْمَانَ رضي الله عنهما فِي أَرْضِ الْحَرْبِ فَإِنَّ هَذَا لَيْسَ يُقْبَلُ إِلَّا عَنِ الرِّجَالِ الثِّقَاتِ فَعَمَّنْ هَذَا الْحَدِيثُ وَعَمَّنْ ذَكَرَهُ وَشَهِدَهُ وَعَمَّنْ رُوِيَ وَنَقُولُ أَيْضًا إِذَا قَسَّمَ الْإِمَامُ فِي دَارِ الْحَرْبِ فَقَسْمُهُ جَائِزٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ حُمُولَةٌ يَحْمِلُ عَلَيْهَا الْمَغْنَمَ أَوِ احْتَاجَ الْمُسْلِمُونَ إِلَيْهَا أَوْ كَانَتْ عِلَّةٌ فَقَسَّمَ لَهَا الْمَغْنَمَ وَرَأَى أَنَّ ذَلِكَ أَفْضَلُ فَهُوَ مُسْتَقِيمٌ جَائِزٌ غَيْرُ أَنَّ أَحَبَّ ذَلِكَ إِلَيْنَا وَأَفْضَلَهُ أَلَّا يُقَسِّمَ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ إِذَا لَمْ يَكُنْ بِهِ إِلَيْهِ حَاجَةٌ حَتَّى يُخْرِجَهُ إِلَى دَارِ الْإِسْلَامِ

قَالَ أَبُو يُوسُفَ حَدَّثَنَا مُجَالِدُ بْنُ سَعِيدٍ عَنِ الشَّعْبِيِّ عَن عمر رَضِي الله
বেরিয়ে আসা এবং এটি আবু হানিফা (রা.)-এরও অভিমত। আর যদিও তিনি সেখানে আক্রমণকারী হন কিন্তু এর ওপর পূর্ণ আধিপত্য লাভ না করেন এবং সেখানে তাঁর শাসন জারি না হয়, তবে আমরা সেখানে গনিমাত বা ফায় বণ্টন করাকে অপছন্দ করি; কারণ তিনি তা সুরক্ষিতভাবে আয়ত্তে আনেননি। এবং এ কারণেও যে, যদি মুসলিম বাহিনীর কোনো সাহায্যকারী দল সেখানে সাহায্য হিসেবে প্রবেশ করে, তবে তারা সেই গনিমাতের অংশীদার হবে। আর একারণেও যে, মুশরিকরা যদি তাদের হাতে থাকা সম্পদ উদ্ধার করে নেয় এবং এরপর অন্য কোনো মুসলিম বাহিনী তা পুনরায় গনিমাত হিসেবে লাভ করে, তবে পূর্ববর্তী বাহিনীকে তা থেকে কিছুই ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। আর মুসলিমদের পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করা হয়েছে যে, তারা ওমর ও উসমান (রা.)-এর খিলাফতকালে যুদ্ধক্ষেত্রে নিরন্তর গনিমাত বণ্টন করতেন—এই বর্ণনা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের সূত্র ছাড়া গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং এই হাদিসটি কার সূত্রে বর্ণিত? কে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর চাক্ষুষ সাক্ষী ছিলেন? আর এটি কার থেকে বর্ণিত হয়েছে? আমরা আরও বলি যে, ইমাম যদি যুদ্ধক্ষেত্রে গনিমাত বণ্টন করে দেন, তবে তাঁর সেই বণ্টন জায়েজ। এমতাবস্থায় যদি তাঁর সাথে গনিমাত বহন করার মতো বাহন না থাকে, কিংবা মুসলিমরা সেটির মুখাপেক্ষী হয়, অথবা অন্য কোনো কারণ থাকে যার কারণে তিনি গনিমাত বণ্টন করেন এবং এটিকে উত্তম মনে করেন, তবে তা সঠিক ও জায়েজ। তবে আমাদের নিকট অধিকতর পছন্দনীয় ও উত্তম হলো, প্রয়োজন না থাকলে গনিমাতের কিছুই বণ্টন না করা—যতক্ষণ না তা ইসলামী ভূখণ্ডে বের করে আনা হয়।

আবু ইউসুফ (রহ.) বলেন, আমাদের নিকট মুজালিদ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন শা'বী থেকে, তিনি ওমর (রা.) থেকে...
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ৬)
عَنْهُ أَنَّهُ كَتَبَ إِلَى سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ إِنِّي قَدْ أَمْدَدْتُكَ بِقَوْمٍ فَمَنْ أَتَاكَ مِنْهُمْ قَبْلَ أَنْ تَتَفَقَّأَ الْقَتْلَى فَأَشْرِكْهُ فِي الْغَنِيمَةِ

قَالَ أَبُو يُوسُفَ وَهَذَا يَعْلَمُ أَنَّهُمْ لَمْ يُحْرِزُوا ذَلِك فِي أَرض الْحَرْب
তাঁর থেকে বর্ণিত যে, তিনি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস-এর কাছে লিখেছিলেন: "আমি আপনার সাহায্যের জন্য একদল লোক পাঠিয়েছি; সুতরাং তাদের মধ্যে যারা নিহতদের দেহ ফুলে ওঠার পূর্বেই আপনার কাছে পৌঁছাবে, তাদের গনিমতের অংশে শরিক করবেন।"

আবু ইউসুফ (রহ.) বলেন, এর দ্বারা জানা যায় যে, তারা তখনও যুদ্ধক্ষেত্রে সেই সম্পদ পুরোপুরি আয়ত্তে বা সুরক্ষিত করতে পারেননি।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ৭)
قَالَ أَبُو يُوسُف ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ سُئِلَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ عَنِ الْأَنْفَالِ فَقَالَ فِينَا أَصْحَاب مُحَمَّد وأنزلت يَسْأَلُونَك عَن الْأَنْفَال الْآيَةَ انْتَزَعَهُ اللَّهُ مِنَّا حِين اخْتَلَفْنَا وَسَاءَتْ أخلافنا فَجَعَلَهُ اللَّهُ إِلَى رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم يَجْعَلُهُ حَيْثُ شَاءَ

قَالَ أَبُو يُوسُفَ وَذَلِكَ عندنَا لأَنهم لم يحرزوه وَيخرجُونَ إِلَى دَار الْإِسْلَام
আবু ইউসুফ বলেন, মুহাম্মদ বিন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, উবাদাহ ইবনুত সামিতকে আনফাল (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, আমাদের অর্থাৎ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের ব্যাপারেই "তারা আপনাকে আনফাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে..." আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে। যখন আমাদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি হলো এবং আমাদের আচরণ মন্দ হলো, তখন আল্লাহ তা আমাদের থেকে ছিনিয়ে নিলেন। অতঃপর আল্লাহ তা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ন্যস্ত করলেন, যেন তিনি যেখানে ইচ্ছা তা বণ্টন করতে পারেন।

আবু ইউসুফ বলেন, আমাদের নিকট এর কারণ হলো, তারা তখনও তা সম্পূর্ণ আয়ত্তে নিতে পারেননি এবং তা দারুল ইসলামে নিয়ে আসতে পারেননি।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ৮)
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عُمَارَةَ عَنِ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاس
আল-হাসান ইবনে উমারাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-হাকাম হতে, তিনি মিকসাম হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ৯)
رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يُقَسِّمْ غَنَائِمَ بَدْرٍ إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَقْدِمِهِ الْمَدِينَةَ

وَالدَّلِيلُ عَلَى ذَلِكَ أَنَّهُ ضَرَبَ لِعُثْمَانَ وَطَلْحَةَ رضي الله عنهما فِي ذَلِكَ بِسَهْمٍ سَهْمٍ فَقَالَا وَأَجْرُنَا فَقَالَ وَأَجْرُكُمَا وَلَمْ يَشْهَدَا وَقْعَةَ بَدْرٍ
আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় পৌঁছানোর পরই কেবল বদরের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন করেছিলেন।

এর প্রমাণ হলো, তিনি উসমান ও তালহা (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর জন্য তাতে অংশ বরাদ্দ করেছিলেন। তাঁরা দুজনে বললেন, "আর আমাদের প্রতিদান?" তিনি বললেন, "তোমাদের প্রতিদানও নির্ধারিত হয়েছে।" অথচ তাঁরা বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন না।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ১০)
حَدَّثَنَا أَشْيَاخُنَا عَنِ الزُّهْرِيِّ وَمَكْحُولٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ لَمْ يُقَسِّمْ غنيمَة فِي دَار الْحَرْب

আমাদের শায়খগণ যুহরি এবং মাকহুল থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দারুল হারবে (শত্রু ভূমিতে) কোনো যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টন করেননি।

(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ১১)
قَالَ أَبُو يُوسُفَ وَأَهْلُ الْحِجَازِ يَقْضُونَ بِالْقَضَاءِ فَيُقَالُ لَهُمْ عَمَّنْ فَيَقُولُونَ بِهَذَا جَرَتِ السُّنَّةُ وَعَسَى أَنْ يَكُونَ قَضَى بِهِ عَامِلُ السُّوقِ أَوْ عَامِلٌ مَا مِنَ الْجِهَاتِ وَقَوْلُ الْأَوْزَاعِيِّ رحمه الله عَلَى هَذَا كَانَتِ الْمَقَاسِمُ فِي زَمَانِ عُمَرَ وَعُثْمَانَ رضي الله عنهما وَهَلُمَّ جَرًّا غَيْرُ مَقْبُولٍ عَنْدَنَا

حَدَّثَنَا الْكَلْبِيُّ مِنْ حَدِيثٍ رَفَعَهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهُ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ بَعَثَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ جَحْشٍ رضي الله عنه إِلَى بَطْنِ نَخْلَةٍ فَأَصَابَ هُنَالِكَ عَمْرَو بْنَ الْحَضْرَمِيِّ وَأَصَابَ أَسِيرًا أَوِ اثْنَيْنِ وَأَصَابَ مَا كَانَ مَعَهُمْ مِنْ أَدَمٍ وَزَيْتٍ وَتِجَارَةٍ مِنْ تِجَارَةِ أَهْلِ الطَّائِفِ فَقَدِمَ بِذَلِكَ عَلَى رَسُولِ الله
আবু ইউসুফ বলেন, হিজাযের অধিবাসীরা (পূর্বতন) কোনো ফয়সালার ভিত্তিতে বিচারকার্য পরিচালনা করেন। তখন তাদের নিকট জানতে চাওয়া হয়, "এটি কার নিকট থেকে বর্ণিত?" তখন তারা বলে, "সুন্নাহ এভাবেই চলে আসছে।" অথচ হতে পারে বাজারের কোনো কর্মকর্তা বা কোনো অঞ্চলের কোনো কর্মকর্তা এমন ফয়সালা দিয়েছিলেন। ইমাম আওযাঈ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর এই কথা—"উমর ও উসমান (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর যুগে এভাবেই বণ্টন প্রক্রিয়া চলত এবং ধারাবাহিকভাবে পরবর্তীতেও এ ধারা অব্যাহত ছিল"—আমাদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।

কালবী আমাদের নিকট এমন একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যা রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) পর্যন্ত মারফু হিসেবে বর্ণিত; তিনি আবদুল্লাহ ইবন জাহশ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-কে 'বাতনে নাখলা' নামক স্থানে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি আমর ইবনুল হাদরামীকে পান এবং একজন বা দুইজন যুদ্ধবন্দী পাকড়াও করেন। এছাড়া চামড়া, তেল এবং তায়েফবাসীর বাণিজ্যিক মালামাল যা তাদের সাথে ছিল, তাও তিনি হস্তগত করেন। অতঃপর তিনি তা নিয়ে আল্লাহর রাসূলের নিকট উপস্থিত হন।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ১২)
صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَمْ يُقَسِّمْ ذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَحْشٍ حَتَّى قَدِمَ الْمَدِينَةَ وَأَنْزَلَ اللَّهُ عز وجل فِي ذَلِكَ يَسْأَلُونَكَ عَنِ الشَّهْرِ الْحَرَامِ قِتَالٍ فِيهِ قُلْ قِتَالٌ فِيهِ كَبِيرٌ حَتَّى فَرَغَ مِنَ الْآيَةِ فَقَبَضَ رَسُولُ اللَّهِ الْمَغْنَمَ وَخَمَّسَهُ

حَدَّثَنَا مُحَمَّد بن إِسْحَاق بن مَكْحُولٍ عَنِ الْحَارِثِ بْنِ مُعَاوَيَةَ قَالَ قيل لِمعَاذ بن حَنْبَل رضي الله عنه إِنَّ شُرَحْبِيلَ بْنَ حَسَنَةَ بَاعَ غَنَمًا وَبَقَرًا أَصَابَهَا بِقِنِّسْرِينَ نَحَلَهَا النَّاسُ وَقَدْ كَانَ النَّاسُ يَأْكُلُونَ مَا أَصَابُوا مِنَ الْمَغْنَمِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَلَا يَبِيعُونَهُ فَقَالَ مُعَاذٌ لَمْ يسيء شُرَحْبِيلُ إِذَا لَمْ يَكُنِ الْمُسْلِمُونَ مُحْتَاجِينَ إِلَى لُحُومِهَا فَقَوَوْا عَلَى خَلَّتِهَا فَلْيَبِيعُوهَا فَلْيَكُنْ ثَمَنُهَا فِي الْغَنِيمَةِ وَالْخُمُسِ وَإِنْ كَانَ الْمُسْلِمُونَ مُحْتَاجين إِلَى لحومها فلنقسم عَلَيْهِمْ فَيَأْكُلُونَهَا فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَصَابَ أَمْوَالَ أَهْلِ خَيْبَرَ وَفِيهَا الْغَنَمُ وَالْبَقَرُ فَقَسَّمَهَا وَأَخَذَ الْخُمُسَ وَقَدْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُطْعِمُ النَّاسَ مَا أَصَابُوا مِنَ الْغَنَمِ وَالْبَقَرِ إِذَا كَانُوا مُحْتَاجين
আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ তা বণ্টন করেননি যতক্ষণ না তিনি মদিনায় পৌঁছালেন এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এ বিষয়ে অবতীর্ণ করলেন: "তারা আপনাকে পবিত্র মাসে যুদ্ধ করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তাতে যুদ্ধ করা একটি বড় অপরাধ..." আয়াতের শেষ পর্যন্ত। অতঃপর আল্লাহর রাসূল গনীমতের মাল কবজা করলেন এবং এর এক-পঞ্চমাংশ গ্রহণ করলেন।

মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে মাকহুল হারিস ইবনে মুয়াবিয়া থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুআজ বিন হানবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলা হয়েছিল যে, শুরাহবিল ইবনে হাসানা কিন্নাসরীন থেকে প্রাপ্ত কিছু ভেড়া ও গরু বিক্রি করেছেন যা লোকদের প্রদান করা হয়েছিল। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগে লোকেরা গনীমত থেকে যা লাভ করত তা ভক্ষণ করত এবং তারা তা বিক্রি করত না। তখন মুআজ বলেন: শুরাহবিল মন্দ কাজ করেননি; যদি মুসলিমরা সেগুলোর মাংসের মুখাপেক্ষী না হয় এবং সেগুলোর অভাব পূরণে সক্ষম হয়, তবে তারা যেন তা বিক্রি করে এবং তার মূল্য যেন গনীমত ও খুমুসের (এক-পঞ্চমাংশ) অন্তর্ভুক্ত হয়। আর যদি মুসলিমরা সেগুলোর মাংসের মুখাপেক্ষী হয়, তবে আমরা তা তাদের মধ্যে বণ্টন করব এবং তারা তা ভক্ষণ করবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) খায়বারবাসীদের সম্পদ লাভ করেছিলেন যার মধ্যে ভেড়া ও গরু ছিল; তিনি সেগুলো বণ্টন করেছিলেন এবং এক-পঞ্চমাংশ গ্রহণ করেছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অভাবগ্রস্ত অবস্থায় লোকদেরকে গনীমত হিসেবে পাওয়া ভেড়া ও গরু থেকে আহার করাতেন।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌بَابُ أَخْذِ السِّلاحِ

قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ رضي الله عنه لَا بَأْسَ أَنْ يَأْخُذَ الرَّجُلُ السِّلاحَ مِنَ الْغَنِيمَةِ إِذَا احْتَاجَ إِلَيْهِ بِغَيْرِ إِذْنِ الْإِمَامِ فَيُقَاتِلُ بِهِ حَتَّى يَفْرُغَ مِنَ الْحَرْبِ ثُمَّ يَرُدُّهُ فِي الْمَغْنَمِ

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيُّ يُقَاتِلُ بِهِ مَا كَانَ النَّاسُ فِي مَعْمَعَةِ الْقِتَالِ ثُمَّ يَرُدُّهُ فِي مَقَاسِمِهِمْ وَلَا يَنْتَظِرُ بِرَدِّهِ الْفَرَاغَ مِنَ الْحَرْبِ فَيُعَرِّضَهُ لِلْهَلَاكِ وانكسار
অস্ত্র গ্রহণের অধ্যায়

আবু হানিফা (রা.) বলেন, যদি কোনো ব্যক্তির প্রয়োজন হয়, তবে ইমামের অনুমতি ব্যতিরেকেই গনিমতের মাল থেকে অস্ত্র গ্রহণ করায় কোনো দোষ নেই; তিনি তা দিয়ে যুদ্ধ করবেন যতক্ষণ না যুদ্ধ শেষ হয়, অতঃপর তা পুনরায় গনিমতের মালের মধ্যে ফিরিয়ে দেবেন।

আর আওযায়ী (রহ.) বলেন, যতক্ষণ মানুষ যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে থাকে ততক্ষণ তিনি তা দিয়ে লড়াই করবেন, অতঃপর তা বণ্টনস্থলে ফিরিয়ে দেবেন। তা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি যুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না, পাছে তা ধ্বংস হওয়া বা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় পড়ে।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ১৪)
سنه من طول مكنه فِي دَارِ الْحَرْبِ وَرُوِيَ أَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِيَّاكَ وَرِبَا الْغُلُولِ أَنْ تَرْكَبَ الدَّابَّةَ حَتَّى تُحْسَرَ قَبْلَ أَنْ تُؤَدَّى إِلَى الْمَغْنَمِ وَتَلْبَسَ الثَّوْبَ حَتَّى يَخْلُقَ قَبْلَ أَنْ تَرُدَّهُ إِلَى الْمَغْنَمِ

قَالَ أَبُو يُوسُفَ قَدْ بَلَغَنَا عَنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا قَالَ الْأَوْزَاعِيُّ وَلِحَدِيثِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم معَان ووجوه وَتَفْسِير لَا يَفْهَمُهُ وَلَا يُبْصِرُهُ إِلَّا من أَعَانَهُ الله تَعَالَى فَهَذَا الحَدِيث
যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘকাল অবস্থানের কারণে এটি একটি বিধিবদ্ধ নিয়ম। বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “গনীমতের মালের খিয়ানত ও এর অপব্যবহার থেকে সাবধান থেকো; যেমন গনীমতের মাল বন্টন হওয়ার আগেই কোনো পশুকে সওয়ার হয়ে ক্লান্ত করা অথবা কোনো কাপড় পরিধান করে তা জীর্ণ করা।”

আবু ইউসুফ বলেন: ইমাম আওযাঈ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা আমাদের কাছে পৌঁছেছে। মূলত আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদীসের নানাবিধ অর্থ, দিক ও ব্যাখ্যা রয়েছে যা আল্লাহ তাআলার বিশেষ সাহায্য প্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারে না। সুতরাং এই হাদীসটি
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ১৫)
عِنْدَنَا عَلَى مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ وَهُوَ عَنْهُ غَنِيٌّ يَبْقَى بِذَلِكَ عَلَى دَابَّتِهِ وَعَلَى ثَوْبِهِ أَوْ يَأْخُذُ ذَلِكَ يُرِيدُ بِهِ الْخِيَانَةَ فَأَمَّا رَجُلٌ مُسْلِمٌ فِي دَارِ الْحَرْبِ لَيْسَ مَعَهُ دَابَّةٌ وَلَيْسَ مَعَ الْمُسْلِمِينَ فَضْلٌ يَحْمِلُونَهُ إِلَّا دَوَابُّ الْغَنِيمَةِ وَلَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يمشي فَإِذا كَانَ هَذَا فَلَا يَحِلُّ لِلْمُسْلِمِينَ تَرْكَهُ وَلَا بَأْسَ بِتَرْكِيبِهِ إِنْ شَاءُوا وَإِنْ كَرِهُوا وَكَذَلِكَ هَذِهِ الْحَالُ فِي الثِّيَابِ وَكَذَلِكَ هَذِهِ الْحَالُ فِي السِّلاحِ وَالْحَالُ فِي السِّلاحِ أَبْيَنُ وَأَوْضَحُ أَلَا تَرَى أَنَّ قَوْمًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ لَوْ تَكَسَّرَتْ سُيُوفُهُمْ أَوْ ذَهَبَتْ وَلَهُمْ عَنَاءٌ فِي الْمُسْلِمِينَ أَنَّهُ لَا بَأْسَ أَنْ يَأْخُذُوا سُيُوفًا مِنَ الْغَنِيمَةِ فَيُقَاتِلُوا بِهَا مَا دَامُوا فِي دَارِ الْحَرْبِ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَحْتَاجُوا إِلَيْهَا فِي مَعْمَعَةِ الْقِتَالِ وَاحْتَاجُوا إِلَيْهَا بَعْدَ ذَلِكَ بِيَوْمَيْنِ أَغَارَ عَلَيْهِمُ الْعَدُوُّ أَيَقُومُونَ هَكَذَا فِي وَجْهِ الْعَدُوِّ بِغَيْرِ سِلَاحٍ أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ الْمُسْلِمُونَ كُلُّهُمْ عَلَى حَالِهِمْ كَيْفَ يَصْنَعُونَ أَيُسْتَأْسَرُونَ هَذَا الرَّأْيُ فِيهِ تَوْهِينٌ لِمَكِيدَةِ الْمُسْلِمِينَ وَلِجُنُودِهِمْ وَكَيْفَ يَحِلُّ هَذَا مَا دَامَ فِي الْمَعْمَعَةِ وَيُحَرَّمُ بَعْدَ ذَلِكَ وَقَدْ بَلَغَنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَن الثِّقَات حَدِيث

আমাদের মতে, যে ব্যক্তি এটি করে অথচ সে তা থেকে অমুখাপেক্ষী (সচ্ছল), সে এর মাধ্যমে তার পশুর ওপর এবং তার কাপড়ের ওপর থেকে যায় অথবা সে তা খিয়ানতের (বিশ্বাসঘাতকতা) উদ্দেশ্যে গ্রহণ করে। পক্ষান্তরে, দারুল হারবে (যুদ্ধক্ষেত্রে) থাকা এমন একজন মুসলিম ব্যক্তি যার সাথে কোনো পশু নেই এবং মুসলমানদের নিকটও গণিমতের পশু ছাড়া তাকে বহন করার মতো অতিরিক্ত কোনো বাহন নেই, আর সে পায়ে হেঁটে চলতে সক্ষম নয়—এমন পরিস্থিতি হলে তাকে পরিত্যাগ করা মুসলমানদের জন্য বৈধ নয়। তারা চাইলে তাকে (গণিমতের পশুর ওপর) আরোহণ করাতে পারে, এতে কোনো অসুবিধা নেই, তারা তা পছন্দ করুক বা অপছন্দ করুক। একইভাবে কাপড়ের ক্ষেত্রেও এই বিধান এবং অস্ত্রের ক্ষেত্রেও এই বিধান প্রযোজ্য। অস্ত্রের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও বেশি সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার। আপনি কি দেখছেন না যে, একদল মুসলিমের তলোয়ার যদি ভেঙে যায় বা হারিয়ে যায় এবং মুসলিমদের স্বার্থে তাদের জিহাদ করার প্রয়োজন থাকে, তবে যতক্ষণ তারা দারুল হারবে অবস্থান করবে ততক্ষণ গণিমত থেকে তলোয়ার নিয়ে তা দিয়ে যুদ্ধ করাতে কোনো সমস্যা নেই। আপনার কী অভিমত, যদি যুদ্ধের ভয়াবহতার সময় তাদের সেটির প্রয়োজন না হয়, কিন্তু এর দুদিন পর শত্রুরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তখন তাদের প্রয়োজন পড়ে, তবে কি তারা এভাবেই অস্ত্রহীন অবস্থায় শত্রুর মোকাবিলায় দাঁড়িয়ে থাকবে? আপনার কী মনে হয়, যদি সমস্ত মুসলিমই এই অবস্থায় থাকত তবে তারা কী করত? তারা কি নিজেদের বন্দিত্ব বরণ করে নিত? এই অভিমতটি মুসলিমদের যুদ্ধকৌশল এবং তাদের সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করার নামান্তর। যুদ্ধের ভয়াবহতার সময় যা বৈধ, এরপর তা কীভাবে হারাম হতে পারে? আর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাদের নিকট একটি হাদিস পৌঁছেছে...

(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ১৬)
مُسْنَدٌ عَنِ الرِّجَالِ الْمَعْرُوفِينَ بِالْفِقْهِ الْمَأْمُونِينَ عَلَيْهِ أَنَّهُ كَانَ يَغْنَمُ الْغَنِيمَةَ فِيهَا الطَّعَامُ فَيَأْكُلُ أَصْحَابَهُ مِنْهَا إِذَا احْتَاجَ الرَّجُلُ شَيْئًا يَأْخُذُهُ وَحَاجَةُ النَّاسِ إِلَى السِّلاحِ فِي دَارِ الْحَرْبِ وَإِلَى الدَّوَابِّ وَإِلَى الثِّيَابِ أَشَدُّ مِنْ حَاجَتِهِمْ إِلَى الطَّعَامِ

حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الشَّيْبَانِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي المجالد عَن عبد الله ابْن أَبِي أَوْفَى رضي الله عنه قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِخَيْبَرَ يَأْتِي أَحَدُنَا إِلَى الطَّعَامِ مِنَ الْغَنِيمَة فَيَأْخُذ مِنْهُ حَاجته
ফিকহ শাস্ত্রে সুপরিচিত ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের সূত্রে বর্ণিত মুসনাদ রেওয়ায়েত অনুযায়ী, তিনি যখন এমন গনীমত লাভ করতেন যাতে খাদ্যদ্রব্য থাকত, তখন তাঁর সাহাবীগণ তা থেকে আহার করতেন। যখন কোনো ব্যক্তির কোনো কিছুর প্রয়োজন হতো, সে তা গ্রহণ করত। আর যুদ্ধক্ষেত্রে মানুষের নিকট অস্ত্রশস্ত্র, যানবাহন এবং পোশাকের প্রয়োজনীয়তা খাদ্যের প্রয়োজনীয়তার চেয়েও অধিকতর তীব্র।

আবু ইসহাক আশ-শায়বানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবিল মুজালিদ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে খায়বর যুদ্ধে ছিলাম। আমাদের কেউ গনীমতের খাদ্যের কাছে আসত এবং তা থেকে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রহণ করত।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌بَابُ سَهْمِ الْفَارِسِ وَالرَّاجِلِ وَتَفْضِيلِ الْخَيْلِ

قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ رضي الله عنه يُضْرَبُ لِلْفَارِسِ بِسَهْمَيْنِ سَهْمٌ لَهُ وَسَهْمٌ لِفَرَسِهِ وَيُضْرَبُ لِلرَّاجِلِ بِسَهْمٍ

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيُّ أَسْهَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْفَرَسِ بِسَهْمَيْنِ وَلِصَاحِبِهِ بِسَهْمٍ وَأَخَذَ الْمُسْلِمُونَ بَعْدَهُ إِلَى الْيَوْمِ لَا يختطفون فِيهِ
অশ্বারোহী ও পদাতিকের যুদ্ধের গনীমতের অংশ এবং ঘোড়ার শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক পরিচ্ছেদ

ইমাম আবূ হানীফা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: অশ্বারোহীর জন্য দুটি অংশ বরাদ্দ করা হবে—একটি অংশ তার নিজের জন্য এবং একটি অংশ তার ঘোড়ার জন্য; আর পদাতিকের জন্য একটি অংশ বরাদ্দ করা হবে।

ইমাম আওযাঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘোড়ার জন্য দুটি অংশ এবং তার আরোহীর জন্য একটি অংশ বরাদ্দ করেছেন। তাঁর পরবর্তী মুসলিমগণ আজ পর্যন্ত এটিই অনুসরণ করে আসছেন এবং তারা এ থেকে বিচ্যুত হননি।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌بَابُ سَهْمِ الْفَارِسِ وَالرَّاجِلِ وَتَفْضِيلِ الْخَيْلِ

قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ رضي الله عنه يُضْرَبُ لِلْفَارِسِ بِسَهْمَيْنِ سَهْمٌ لَهُ وَسَهْمٌ لِفَرَسِهِ وَيُضْرَبُ لِلرَّاجِلِ بِسَهْمٍ

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيُّ أَسْهَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِلْفَرَسِ بِسَهْمَيْنِ وَلِصَاحِبِهِ بِسَهْمٍ وَأَخَذَ الْمُسْلِمُونَ بَعْدَهُ إِلَى الْيَوْمِ لَا يختطفون فِيهِ
অশ্বারোহী ও পদাতিকের অংশ এবং ঘোড়ার শ্রেষ্ঠত্ব বিষয়ক অধ্যায়

আবু হানিফা (রা.) বলেন, অশ্বারোহীর জন্য দুটি অংশ বরাদ্দ করা হবে—একটি অংশ তার নিজের জন্য এবং একটি অংশ তার ঘোড়ার জন্য; আর পদাতিকের জন্য একটি অংশ বরাদ্দ করা হবে।

আল-আওযাঈ (রহ.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘোড়ার জন্য দুই অংশ এবং তার আরোহীর জন্য এক অংশ নির্ধারণ করেছেন; এবং তাঁর পরবর্তী মুসলিমগণ আজ পর্যন্ত এই নিয়মটিই অনুসরণ করে আসছেন, এতে তারা কোনো ভিন্নমত পোষণ করেননি।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ الْفَرَسُ وَالْبِرْذَوْنُ سَوَاء

আর আবু হানিফা (রহ.) বলেন, ঘোড়া এবং মালবাহী ঘোড়া উভয়ই সমান।

(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ২০)
وَقَالَ الْأَوْزَاعِيُّ كَانَ أَئِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ فِيمَا سلف حَتَّى هَاجَتْ الفتة مِنْ بَعْدِ قَتْلِ الْوَلِيدِ بْنِ يزِيد لَا يسهمون للبراذين
ইমাম আওযায়ী বলেন, অতীতে মুসলিমদের ইমামগণ—ওয়ালীদ ইবনে ইয়াযীদের হত্যার পর ফিতনা ছড়িয়ে পড়ার পূর্ব পর্যন্ত—অনারব ঘোড়ার জন্য (গনীমতের) কোনো অংশ বরাদ্দ করতেন না।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ২১)
قَالَ أَبُو يُوسُفَ كَانَ أَبُو حَنِيفَةَ رضي الله عنه يَكْرَهُ أَنْ تُفَضَّلَ بَهِيَمةٌ عَلَى رَجُلٍ مُسْلِمٍ وَيُجْعَلَ سَهْمُهَا فِي الْقَسْمِ أَكْثَرَ مِنْ سَهْمِهِ فَأَمَّا الْبَرَاذِينُ فَمَا كُنْتُ أَحْسَبُ أَحَدًا يَجْهَلُ هَذَا وَلَا يُمَيِّزُ بَيْنَ الْفَرَسِ والْبِرْذَوْنِ وَمِنْ كَلَامِ الْعَرَبِ الْمَعْرُوفِ الَّذِي لَا تَخْتَلِفُ فِيهِ الْعَرَبُ أَنْ تَقُولَ هَذِهِ الْخَيْلُ وَلَعَلَّهَا بَرَاذِينُ كلهَا أَو جلها وَيَكُونُ فِيهَا الْمَقَارِيفُ أَيْضًا وَمِمَّا نَعْرِفُ نَحْنُ فِي الْحَرْبِ أَنَّ الْبَرَاذِينَ أَوْفَقُ لِكَثِيرٍ مِنَ الْفُرْسَانِ مِنَ الْخَيْلِ فِي لِينِ عَطْفِهَا وَقَوْدِهَا وَجَوْدَتِهَا مِمَّا لَمْ يُبْطِلِ الْغَايَةَ وَأَمَّا قَوْلُ الْأَوْزَاعِيِّ عَلَى هَذَا كَانَتْ أَئِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ فِيمَا سَلَفَ فَهَذَا كَمَا وَصَفَ مِنْ أَهْلِ الْحِجَازِ أَوْ رَأَى بَعْضُ مَشَائِخِ الشَّامِ مِمَّنْ لَا يُحْسِنُ الْوُضُوءَ وَلَا التَّشَهُّدَ وَلَا أُصُولَ الْفِقْهِ صَنَعَ هَذَا فَقَالَ الْأَوْزَاعِيُّ بِهَذَا مَضَت السّنة

وَقَالَ أَبُو يُوسُف بَلَغَنَا عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَنْ غَيْرِهِ مِنْ أَصْحَابِهِ أَنَّهُ أَسْهَمَ لِلْفَارِسِ بِثَلَاثَةِ أَسْهُمٍ وَلِلرَّاجِلِ بِسَهْمٍ وَبِهَذَا نَأْخُذ
আবু ইউসুফ বলেন, আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অপছন্দ করতেন যে, কোনো পশুকে একজন মুসলিম ব্যক্তির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হবে এবং বণ্টনের ক্ষেত্রে পশুর অংশকে মানুষের অংশের চেয়ে বেশি নির্ধারণ করা হবে। আর সাধারণ ঘোড়া সম্পর্কে আমি ভাবিনি যে, কেউ এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকবে অথবা অভিজাত আরব ঘোড়া ও সাধারণ ঘোড়ার মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে না। আরবদের সুপরিচিত বক্তব্য—যাতে আরবরা কোনো দ্বিমত পোষণ করে না—হলো ‘এগুলো ঘোড়া’ বলা, অথচ হয়তো সেগুলোর সবই বা অধিকাংশ সাধারণ ঘোড়া এবং সেগুলোর মধ্যে মিশ্র-জাতের ঘোড়াও থাকতে পারে। যুদ্ধের ময়দানে আমাদের অভিজ্ঞতা এই যে, অনেক অশ্বারোহীর নিকট অভিজাত আরব ঘোড়ার চেয়ে সাধারণ ঘোড়াই অধিকতর উপযোগী—সেগুলোর নমনীয়তা, বশ্যতা এবং উৎকর্ষের কারণে, যা যুদ্ধের মূল লক্ষ্যকে ব্যাহত করে না। আর ইমাম আওযায়ীর কথা—‘অতীতের মুসলিম ইমামগণ এভাবেই চলতেন’—তা তিনি হিজাযবাসীদের সম্পর্কে যেমন বর্ণনা করেছেন অথবা সিরিয়ার এমন কিছু শাইখকে দেখেছেন যারা সঠিকভাবে ওযু, তাশাহহুদ বা ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতিও জানেন না, তারা হয়তো এমনটি করেছেন; ফলে আওযায়ী বলেছেন, ‘এভাবেই সুন্নাহ অতিবাহিত হয়েছে’।

আবু ইউসুফ বলেন, আমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর অন্যান্য সাহাবীদের থেকে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি অশ্বারোহীর জন্য তিন অংশ এবং পদাতিকের জন্য এক অংশ নির্ধারণ করেছিলেন; আর আমরা এটিই গ্রহণ করি।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ২২)
وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ إِذَا كَانَ الرَّجُلُ فِي الدِّيوَانِ رَاجِلًا وَدَخَلَ أَرْضَ الْعَدُوِّ غَازِيًا رَاجِلًا ثُمَّ ابْتَاعَ فَرَسًا يُقَاتِلُ عَلَيْهِ وَأُحْرِزَتِ الْغَنِيمَةُ وَهُوَ فَارِسٌ أَنَّهُ لَا يُضْرَبُ لَهُ إِلَّا سَهْمُ رَاجِلٍ

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيُّ لَمْ يَكُنْ لِلْمُسْلِمِينَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم دِيوَانٌ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُسْهِمُ لِلْخَيْلِ وَتَتَابَعَ عَلَى ذَلِك أَئِمَّةُ الْمُسْلِمِينَ

وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ لَيْسَ فِيهَا ذَكَرَ الْأَوْزَاعِيُّ رحمه الله حُجَّةٌ وَنَحْنُ أَيْضًا نُسْهِمُ لِلْفَارِسِ كَمَا قَالَ فَهَلْ عِنْدَهُ أَثَرٌ مُسْنَدٌ عَنِ الثِّقَاتِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْهَمَ سَهْمَ فَارِسٍ لِرَجُلٍ غَزَا مَعَهُ رَاجِلًا ثُمَّ اسْتَعَارَ أَوِ اشْتَرَى فَرَسًا فَقَاتَلَ عَلَيْهِ عِنْدَ الْقِتَالِ وَيُفَسِّرُهَا هَكَذَا وَعَلَيْهِ فِي هَذَا
ইমাম আবু হানিফা বলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি সামরিক তালিকায় পদাতিক হিসেবে নিবন্ধিত থাকে এবং পদাতিক যোদ্ধা হিসেবেই শত্রুর ভূখণ্ডে প্রবেশ করে, অতঃপর সে একটি ঘোড়া ক্রয় করে তার ওপর চড়ে যুদ্ধ করে এবং গনীমত হস্তগত করার সময় সে অশ্বারোহী থাকে, তবে তাকে কেবল পদাতিকের অংশই দেওয়া হবে।

ইমাম আওযায়ী বলেছেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মুসলিমদের কোনো সামরিক তালিকা (দেওয়ান) ছিল না। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়ার জন্য অংশ বরাদ্দ করতেন এবং মুসলিমদের ইমামগণ এই নীতিই অনুসরণ করেছেন।

আবু ইউসুফ বলেছেন, ইমাম আওযায়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) যা উল্লেখ করেছেন তাতে কোনো দলিল নেই। তিনি যেমনটি বলেছেন, আমরাও অশ্বারোহীর জন্য অংশ বরাদ্দ করি। তবে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে তাঁর কাছে কি এমন কোনো মুসনাদ বর্ণনা আছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোনো ব্যক্তিকে অশ্বারোহীর অংশ দিয়েছেন যে তাঁর সাথে পদাতিক হিসেবে যুদ্ধে গিয়েছিল, অতঃপর সে কোনো ঘোড়া ধার নিয়েছিল বা ক্রয় করে যুদ্ধের সময় তার ওপর চড়ে যুদ্ধ করেছিল এবং তিনি বিষয়টিকে এভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন? আর এ বিষয়ে তাঁর ওপর...
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ২৩)
أَشْيَاءُ أَرَأَيْتَ لَوْ قَاتَلَ عَلَيْهِ بَعْضَ يَوْمٍ ثُمَّ بَاعَهُ مِنْ آخَرَ فَقَاتَلَ عَلَيْهِ سَاعَةً أَكُلُّ هَؤُلَاءِ يُضْرَبُ لَهُمْ بِسَهْمِ فَرَسٍ وَإِنَّمَا هُوَ فَرَسٌ وَاحِدٌ هَذَا لَا يَسْتَقِيمُ وَإِنَّمَا تُوضَعُ الْأُمُورُ عَلَى مَا يَدْخُلُ عَلَيْهِ الْجُنْدُ فَمَنْ دَخَلَ فَارِسًا أَرْضَ الْحَرْبِ فَهُوَ فَارِسٌ وَمَنْ دَخَلَ رَاجِلًا فَهُوَ رَاجِلٌ عَلَى مَا عَلَيهِ الدَّوَاوِينُ مُنْذُ زَمَنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه إِلَى يَوْمِكَ هَذَا

وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ رضي الله عنه فِي الرَّجُلِ يَمُوتُ فِي دَارِ الْحَرْبِ أَوْ يُقْتَلُ إِنَّهُ لَا يُضْرَبُ لَهُ بِسَهْمٍ فِي الْغَنِيمَةِ

وَقَالَ الْأَوْزَاعِيُّ رحمه الله أَسْهَمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِرَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ قُتِلَ بِخَيْبَرَ فَأَجْمَعَتْ أَئِمَّةُ الْهُدَى عَلَى الْإِسْهَامِ لِمَنْ مَاتَ أَو قتل

وَقَالَ أَبُو يُوسُف حَدَّثَنَا بَعْضُ أَشْيَاخِنَا عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ لَمْ يَضْرِبْ لِأَحَدٍ مِمَّنِ اسْتُشْهِدَ مَعَهُ بِسَهْمٍ فِي شَيْء
বিষয়সমূহ। আপনি কি মনে করেন যদি কেউ দিনের কিছু অংশ তার ওপর (ঘোড়ায় চড়ে) যুদ্ধ করে, অতঃপর তা অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয় এবং সে ব্যক্তিও তার ওপর এক ঘণ্টা যুদ্ধ করে, তবে কি এই সবার জন্যই ঘোড়ার একটি অংশ বরাদ্দ করা হবে অথচ সেটি তো একটি মাত্র ঘোড়া? এটি সংগত নয়। বরং বিষয়সমূহ সেভাবেই নির্ধারিত হবে যেভাবে সৈন্যদল প্রবেশ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি অশ্বারোহী হিসেবে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করবে সে অশ্বারোহী হিসেবে গণ্য হবে, আর যে পদাতিক হিসেবে প্রবেশ করবে সে পদাতিক হিসেবে গণ্য হবে। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সময় থেকে আপনার এই দিন পর্যন্ত রেজিস্টারসমূহ এভাবেই চলে আসছে।

এবং ইমাম আবু হানিফা রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে দারুল হারবে (যুদ্ধক্ষেত্রে) মারা যায় অথবা নিহত হয় যে, গনিমতের মালে তার জন্য কোনো অংশ বরাদ্দ করা হবে না।

এবং ইমাম আওযায়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবারে নিহত জনৈক মুসলিম ব্যক্তির জন্য অংশ বরাদ্দ করেছিলেন। অতএব হিদায়াতের ইমামগণ ওই ব্যক্তির জন্য অংশ বরাদ্দের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে মৃত্যুবরণ করে অথবা নিহত হয়।

এবং আবু ইউসুফ বলেন: আমাদের জনৈক উস্তাদ আমাদের কাছে যুহরী থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর সাথে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের কারো জন্য তিনি কোনো বিষয়ে কোনো অংশ বরাদ্দ করেননি।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ২৪)
من الْمَغَانِم قَطُّ وَأَنَّهُ لَمْ يَضْرِبْ لِعُبَيْدَةَ بْنِ الْحَارِثِ رضي الله عنه فِي غَنِيمَةِ بَدْرٍ وَمَاتَ بِالصَّفْرَاءِ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ الْمَدِينَةَ

وَقَالَ أَبُو يُوسُفَ رضي الله عنه مَا قَالَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهُوَ كَمَا قَالَ وَلِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الفئ وَغَيْرِهِ حَالٌ لَيْسَتْ لِغَيْرِهِ وَقَدْ أَسْهَمَ رَسُولُ اللَّهُ صلى الله عليه وسلم لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رضي الله عنه فِي بَدْرٍ وَلم يشهدها فَقَالَ وأجرى يارسول الله قَالَ وأجرك قَالَ وأسهم أَيْضًا لِطَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ فِي بَدْرٍ وَلَمْ يَشْهَدْهَا فَقَالَ وَأَجْرِي قَالَ وَأَجْرُكَ وَلَوْ أَنَّ إِمَامًا مِنْ أَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ أَشْرَكَ قَوْمًا لَمْ يَغْزُوا مَعَ الْجُنْدِ لَمْ يَتَّسِعْ ذَلِكَ لَهُ وَكَانَ مُسِيئًا فِيهِ وَلَيْسَ لِلْأَئِمَّةِ فِي هَذَا مَا لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَا نَعْلَمُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْهَمَ لِأَحَدٍ مِنَ الْغَنِيمَةِ مِمَّنْ قُتِلَ يَوْمَ بَدْرٍ وَلَا يَوْمَ حُنَيْنٍ وَلَا يَوْمَ خَيْبَرَ وَقَدْ قُتِلَ بِهَا رَهْطٌ مَعْرُوفُونَ فَمَا نَعْلَمُ أَنَّهُ أَسْهَمَ لِأَحَدٍ مِنْهُم وَهَذَا مَا لَا يَخْتَلِفُ فِيهِ فَعَلَيْكَ مِنَ الْحَدِيثِ بِمَا تَعْرِفُ الْعَامَّةُ وَإِيَّاكَ وَالشَّاذَّ مِنْهُ فَإِنَّهُ حَدَّثَنَا ابنُ أَبِي كَرِيمَة
গনিমতের মাল থেকে মোটেও নয়। আর তিনি বদরের গনিমতে উবায়দাহ ইবনুল হারিস (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য কোনো অংশ বরাদ্দ করেননি এবং তিনি মদীনায় প্রবেশের পূর্বে সাফরা নামক স্থানে ইন্তেকাল করেছিলেন।

আবু ইউসুফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে যা বলেছেন তা ঠিক তেমনই। আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য ‘ফাই’ (বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ) এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে এমন বিশেষ অবস্থা ছিল যা অন্য কারো জন্য ছিল না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদরের যুদ্ধে উসমান ইবনে আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য অংশ বরাদ্দ করেছিলেন অথচ তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তখন তিনি (উসমান) জিজ্ঞেস করেছিলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমার সওয়াব কি হবে?" তিনি বললেন, "তোমার সওয়াবও হবে।" তিনি তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহর জন্যও বদরের যুদ্ধে অংশ বরাদ্দ করেছিলেন অথচ তিনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, "আর আমার সওয়াব?" তিনি বললেন, "তোমার সওয়াবও হবে।" আর যদি মুসলিমদের ইমামগণের মধ্যে কেউ এমন একদল লোককে অংশীদার করেন যারা সৈন্যদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি, তবে তার জন্য তা করার সুযোগ নেই এবং তিনি এতে ভুলকারী হিসেবে গণ্য হবেন। এই ক্ষেত্রে ইমামদের জন্য তেমন অধিকার নেই যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য ছিল। সুতরাং আমাদের জানা মতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বদর, হুনাইন কিংবা খায়বরের যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদের কাউকেই গনিমতের অংশ দেননি। অথচ সেসব যুদ্ধে একদল সুপরিচিত ব্যক্তি শহীদ হয়েছিলেন, কিন্তু আমরা জানি না যে তিনি তাদের কাউকে অংশ দিয়েছিলেন। আর এটি এমন একটি বিষয় যাতে কোনো মতভেদ নেই। অতএব আপনি সেই সব হাদীস গ্রহণ করুন যা সাধারণ আলেমদের নিকট পরিচিত এবং বিরল বা ‘শাজ’ বর্ণনা থেকে দূরে থাকুন। কেননা ইবনে আবু কারীমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ২৫)
عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ دَعَا الْيَهُودَ فَسَأَلَهُمْ فَحَدَّثُوهُ حَتَّى كَذَبُوا عَلَى عِيسَى عليه الصلاة والسلام فَصَعِدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَخَطَبَ النَّاس فَقَالَ إِن الحَدِيث سيشفو عَنِّي فَمَا أَتَاكُمْ عَنِّي يُوَافِقُ الْقُرْآنَ فَهُوَ عَنِّي وَمَا أَتَاكُمْ عَنِّي يُخَالِفُ الْقُرْآنَ فَلَيْسَ عَنِّي

আবু জাফর হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদিদের আহ্বান করলেন এবং তাদের নিকট জিজ্ঞাসা করলেন। তারা তাঁর নিকট বর্ণনা করতে থাকল, এমনকি তারা ঈসা আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের প্রতি মিথ্যাারোপ করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আমার পক্ষ থেকে হাদীস বিস্তার লাভ করবে। সুতরাং আমার উদ্ধৃতি দিয়ে যা কিছু তোমাদের নিকট আসে এবং তা কুরআনের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, তবে তা আমার পক্ষ থেকেই। আর যা কিছু আমার উদ্ধৃতি দিয়ে তোমাদের নিকট আসে এবং তা কুরআনের পরিপন্থী হয়, তবে তা আমার পক্ষ থেকে নয়।"

(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ২৬)
عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ دَعَا الْيَهُودَ فَسَأَلَهُمْ فَحَدَّثُوهُ حَتَّى كَذَبُوا عَلَى عِيسَى عليه الصلاة والسلام فَصَعِدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَخَطَبَ النَّاس فَقَالَ إِن الحَدِيث سيشفو عَنِّي فَمَا أَتَاكُمْ عَنِّي يُوَافِقُ الْقُرْآنَ فَهُوَ عَنِّي وَمَا أَتَاكُمْ عَنِّي يُخَالِفُ الْقُرْآنَ فَلَيْسَ عَنِّي

আবু জাফর হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইহুদিদের আহ্বান করলেন এবং তাদের নিকট কিছু জানতে চাইলেন। তারা তাঁর নিকট বর্ণনা প্রদান করল, এমনকি তারা ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর নামে মিথ্যাচার করল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে আরোহণ করলেন এবং লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করলেন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমার পক্ষ থেকে হাদিস ব্যাপকতা লাভ করবে। সুতরাং আমার পক্ষ থেকে যা কিছু তোমাদের নিকট পৌঁছাবে এবং তা কুরআনের অনুকূল হবে, তবে তা আমার পক্ষ থেকেই। আর যা কিছু আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট পৌঁছাবে অথচ তা কুরআনের পরিপন্থী হবে, তবে তা আমার পক্ষ থেকে নয়।"

(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ২৭)
عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ دَعَا الْيَهُودَ فَسَأَلَهُمْ فَحَدَّثُوهُ حَتَّى كَذَبُوا عَلَى عِيسَى عليه الصلاة والسلام فَصَعِدَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَخَطَبَ النَّاس فَقَالَ إِن الحَدِيث سيشفو عَنِّي فَمَا أَتَاكُمْ عَنِّي يُوَافِقُ الْقُرْآنَ فَهُوَ عَنِّي وَمَا أَتَاكُمْ عَنِّي يُخَالِفُ الْقُرْآنَ فَلَيْسَ عَنِّي
আবু জাফর থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইহুদিদের ডাকলেন এবং তাদের নিকট কিছু জানতে চাইলেন। তারা তাঁর নিকট বর্ণনা করতে করতে একপর্যায়ে ঈসা (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর নামে মিথ্যাচার করল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মিম্বরে উঠলেন এবং জনগণের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমার পক্ষ থেকে বর্ণনার আধিক্য ঘটবে; সুতরাং আমার পক্ষ থেকে যা কিছু তোমাদের নিকট পৌঁছাবে এবং তা কুরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তবে তা আমার পক্ষ থেকেই। আর যা কিছু আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট পৌঁছাবে অথচ তা কুরআনের পরিপন্থী হবে, তা আমার পক্ষ থেকে নয়।"
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ২৮)
حَدَّثَنِي مِسْعَرُ بْنُ كِدَامٍ وَالْحَسَنُ بْنُ عُمَارَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ
আমাকে মিসআর ইবনে কিদাম এবং আল-হাসান ইবনে উমারা, আমর ইবনে... থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রদ্দু আলা সিয়ারিল আওযাঈ (পৃষ্ঠা: ২৯)
مرّة عَن أبي البحتري عَنْ عَلَيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ إِذَا أَتَاكُمُ الْحَدِيثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَظُنُّوا أَنَّهُ الَّذِي هُوَ أَهْدَى وَالَّذِي وَهُوَ أَتْقَى وَالَّذِي هُوَ أَحْيَا

حَدَّثَنَا أشعت بْنُ سَوَّارٍ وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِد عَن الشّعبِيّ
মুররাহ হতে, আবু আল-বাখতারী থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যখন তোমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোনো হাদীস পৌঁছে, তখন তোমরা তার সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করবে যা সর্বাধিক হেদায়েতপূর্ণ, সর্বাধিক তাকওয়াপূর্ণ এবং সর্বাধিক উপযুক্ত।

আশ’আছ ইবনে সাউওয়ার এবং ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ আমাদের নিকট আশ-শা’বী থেকে বর্ণনা করেছেন।