(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: -)
موسوعة شرح أسماء الله الحسنى   (نوال العيد)

القسم: العقيدة


الكتاب: موسوعة شرح أسماء الله الحسنى

المؤلف: نوال عبد العزيز العيد

شارك في الإعداد والإخراج: فريق علمي بإدارة وفاء بنت محسن التركي

الطبعة: الأولى، 1441 هـ

عدد الأجزاء: 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 3 شعبان 1443

আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের ব্যাখ্যা বিশ্বকোষ   (নাওয়াল আল-ঈদ)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের ব্যাখ্যা বিশ্বকোষ

লেখক: নাওয়াল আব্দুল আজিজ আল-ঈদ

প্রস্তুতি ও সম্পাদনায় অংশগ্রহণ করেছেন: ওয়াফা বিনতে মুহসিন আত-তুর্কির ব্যবস্থাপনায় একটি বৈজ্ঞানিক দল

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪১ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩ শাবান ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌موسوعة شرح أسماء الله الحسنى

تأليف: أ. د. نوال عبد العزيز العيد

 

شارك في الإعداد والإخراج فريق علمي بإدارة: أ. وفاء بنت محسن التركي
আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের ব্যাখ্যার বিশ্বকোষ

রচনা: প্রফেসর ড. নাওয়াল আব্দুল আজিজ আল-ঈদ

 

প্রস্তুতি ও সম্পাদনায় অংশগ্রহণ করেছে একটি গবেষণা দল, যার পরিচালনায় ছিলেন: উস্তাযা ওয়াফা বিনতে মুহসিন আল-তুর্কি
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المقدمة

‌‌رحلة المشروع

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102] {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1] {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70 - 71](1)، أما بعد:

بدأت فكرة الموسوعة بدروس علمية أسبوعية في جامع عثمان بن عفان في حي الواحة بالرياض في عام 1426 من هجرة رسول الله صلى الله عليه وسلم، كل يوم أحد بعد صلاة العشاء، واستمرت قرابة السبع سنين، أنهينا فيها ولله الحمد شرح الأسماء الحسنى.

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن ماجه في سنته، ح: (1892)، قال الألباني: حديث صحيح.
উপস্থাপনা

‌প্রকল্পের যাত্রা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২)} [আল-ইমরান: ১০২] {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। (১)} [নিসা: ১] {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে। (৭১)} [আহযাব: ৭০ - ৭১](১), অতঃপর:

এই বিশ্বকোষের ধারণাটি শুরু হয়েছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিজরতের ১৪২৬ সনে রিয়াদের আল-ওয়াহাহ মহল্লার উসমান বিন আফফান মসজিদে প্রতি রবিবার এশার সালাতের পর আয়োজিত সাপ্তাহিক ইলমি দরসের মাধ্যমে। এটি প্রায় সাত বছর যাবৎ চলতে থাকে, যার মধ্যে আল্লাহর প্রশংসায় আমরা আসমাউল হুসনা (আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ)-এর ব্যাখ্যা সম্পন্ন করেছি।

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং: (১৮৯২), আলবানী বলেছেন: হাদিসটি সহিহ।
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১০)
وقامت الفاضلة الأستاذة: نورة الغفيلي بتفريغ الشروح وترتيبها، إلا أنه كان من الصعب طباعتها ككتاب بعد هذا التفريغ؛ لحاجته للمراجعة والتهذيب، وتهيئتها لإخراجها كموسوعة.

وعليه تم تشكيل فريق بحثي قام بدراسة مسحية لجميع كتب شروح الأسماء الحسنى العلمية، وإعطاء وصف لكل كتاب، والإضافة العلمية فيه، واستخرت الله مع الفريق لإخراج موسوعة علمية لشرح أسماء الله الحسنى نرجو أن تكون عملًا صالحًا ممتدًا، يبقى أجره وبره بعد انقطاع الأجل.

ومما لا شك فيه أن في كل الكتب والشروح الخاصة بشرح أسماء الله الحسنى فائدة عظيمة وجليلة، ويكفيها في ذلك شرفًا أنها في أجل العلوم على الإطلاق، إلا أننا اجتهدنا بعد توفيق الله وتسديده في إضافة بعض المزايا في هذه الموسوعة، ويمكن تصنيف هذه المزايا كالتالي:

 

‌‌1 - تقسيم الموسوعة، وأسلوب الكتابة:

أولا: تم تقسيم الأسماء فيها على طريقة بديعة لم يُسبق إليها، -بحسب ما اطلع عليه الفريق العلمي-، وكانت على النحو التالي:

الأسماء التي ثبتت في القرآن والسنة.

الأسماء التي ثبتت في القرآن دون السنة.

الأسماء التي ثبتت في السنة دون القرآن.

ثانيا: أسلوب الكتابة في الموسوعة كان الأسلوب السهل الممتنع، إذ أنه يسهل على كل قارئ فهم الموسوعة، فصياغتها تجمع بين الأسلوب الأدبي البليغ، مع سهولة وسلاسة الألفاظ، وقوة وفخامة التراكيب.
বিদুষী অধ্যাপিকা নূরা আল-গুফাইলি ব্যাখ্যাগুলো শ্রুতিলিখন এবং বিন্যাস করেছেন; তবে এই শ্রুতিলিখনের পর এটি বই আকারে প্রকাশ করা কঠিন ছিল, কারণ এটি পর্যালোচনা, পরিমার্জন এবং একটি বিশ্বকোষ হিসেবে প্রকাশের উপযোগী প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল।

ফলশ্রুতিতে একটি গবেষণা দল গঠন করা হয়েছে, যারা আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের ব্যাখ্যার ওপর রচিত সকল ইলমি কিতাবের ওপর একটি জরীপমূলক গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তারা প্রতিটি কিতাবের বর্ণনা এবং এর ইলমি সংযোজন তুলে ধরেছেন। আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের ব্যাখ্যার ওপর একটি ইলমি বিশ্বকোষ সংকলনের বিষয়ে আমি এই দলের সাথে ইস্তিখারা করেছি। আমরা আশা করি এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী নেক আমল হবে, যার সওয়াব ও কল্যাণ মৃত্যু পরবর্তী সময়েও অব্যাহত থাকবে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের ব্যাখ্যার ওপর লিখিত সকল কিতাব ও ব্যাখ্যাগ্রন্থে মহান ও অসামান্য ফায়দা রয়েছে। এই কিতাবগুলোর জন্য এ সম্মানই যথেষ্ট যে, এগুলো সর্বশ্রেষ্ঠ ইলম বা জ্ঞান নিয়ে রচিত। তবে আল্লাহর তাওফীক ও সঠিক নির্দেশনায় আমরা এই বিশ্বকোষে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য যোগ করার চেষ্টা করেছি, যা নিম্নরূপে শ্রেণীবিন্যাস করা যেতে পারে:

 

‌‌১ - বিশ্বকোষের বিভাজন এবং লিখনশৈলী:

প্রথমত: এতে নামসমূহকে এক অভিনব পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে যা আগে কখনো হয়নি—গবেষক দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী—এবং তা ছিল নিম্নরূপ:

যে নামসমূহ কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।

যে নামসমূহ কেবল কুরআনে প্রমাণিত, সুন্নাহতে নয়।

যে নামসমূহ কেবল সুন্নাহতে প্রমাণিত, কুরআনে নয়।

দ্বিতীয়ত: এই বিশ্বকোষের লিখনশৈলী ছিল সহজবোধ্য অথচ অনন্য (আল-সাহলুল মুমতেনি), যাতে প্রত্যেক পাঠকের পক্ষে এটি বোঝা সহজ হয়। এর বর্ণনাভঙ্গিতে সাবলীল ও সহজ শব্দপ্রয়োগের পাশাপাশি অলঙ্কারপূর্ণ সাহিত্যিক শৈলী এবং বলিষ্ঠ ও গাম্ভীর্যপূর্ণ বাক্যগঠনের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌2 - العناية بالجانب العملي التطبيقي المستنبط من فهم أسماء الله الحسنى.

حيث اعتمدت الموسوعة على حصر جميع الآيات الواردة في الاسم، وربطها بآثارها المسلكية لتنمية ملكة الاستدلال والاستنباط لدى القارئ.

وتم التركيز على جانب الآثار المسلكية في كل اسم من الأسماء الحسنى، بحيث لا تقل نسبة هذه الآثار عن 80% من مجمل شرح الاسم، ويقصد بهذه الآثار: التطبيقات الإيمانية والتربوية والسلوكية المستنبطة من الإيمان بهذه الأسماء الجليلة.

 

‌‌3 - العناية بالجانب القيمي والأخلاقي المستنبط من فهم أسماء الله الحسنى.

فإضافة لتركيز الموسوعة على جانب الآثار المسلكية التطبيقية، فهي تخصص ملحقات خاصة بكل اسم يمكن أن يكون للعبد حظ منه، كاسم الكريم والرحمن والحيي والستير … الخ، وفي هذا الملحق يتم عرض هذه القيم والأخلاق ببيان معناها وفضلها وكيفية التخلق بها.

 

‌‌4 - خضوع الموسوعة لعمليات عديدة في التقييم والتقويم.

فقد خضعت الموسوعة لعمليات عديدة في التقييم والتقويم، وذلك وفق آليات محددة كالتالي:

حصر جميع الأعمال التي تقدمت في شرح أسماء الله الحسنى، وتقييم العمل فيها قبل البدء بالموسوعة؛ للاستفادة منها، وتقديم إضافة علمية
‌২ - আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের বুঝ থেকে উদ্ভূত ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক দিকটির প্রতি গুরুত্বারোপ।

কেননা বিশ্বকোষটি সংশ্লিষ্ট নামের ব্যাপারে আগত সকল আয়াতকে একত্রিত করার এবং পাঠকের মধ্যে দলিল উপস্থাপন ও মাসআলা উদ্ভাবনের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেগুলোকে চারিত্রিক প্রভাবের সাথে সম্পৃক্ত করার ওপর নির্ভর করেছে।

এবং প্রতিটি সুন্দর নামের ক্ষেত্রে চারিত্রিক প্রভাবের দিকটির ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে, যাতে এই প্রভাবের হার নামটির সামগ্রিক ব্যাখ্যার ৮০ শতাংশের কম না হয়। এই প্রভাবগুলো দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: এই মহান নামসমূহের প্রতি ঈমান থেকে উদ্ভূত ঈমানি, তারবিয়াতি (শিক্ষা ও সংস্কারমূলক) এবং চারিত্রিক প্রয়োগসমূহ।

 

‌‌৩ - আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের বুঝ থেকে উদ্ভূত মূল্যবোধ ও নৈতিক দিকটির প্রতি গুরুত্বারোপ।

ব্যবহারিক চারিত্রিক প্রভাবের ওপর গুরুত্ব প্রদানের পাশাপাশি বিশ্বকোষটি এমন প্রতিটি নামের জন্য বিশেষ পরিশিষ্ট নির্দিষ্ট করেছে যাতে বান্দার কোনো অংশ থাকতে পারে, যেমন আল-কারিম, আর-রহমান, আল-হায়িয়্যু এবং আস-সিত্তীর … ইত্যাদি। এই পরিশিষ্টে এই সকল মূল্যবোধ ও নৈতিকতাগুলোর অর্থ, মর্যাদা এবং তা অর্জনের পদ্ধতি বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 

‌‌৪ - বিশ্বকোষটির মান যাচাই ও সংস্কারের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হওয়া।

বিশ্বকোষটি মান যাচাই ও সংস্কারের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, যা নিম্নোক্ত সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির আলোকে সম্পন্ন হয়েছে:

আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে পূর্বে সম্পাদিত সকল কর্মকে একত্রিত করা এবং এই বিশ্বকোষের কাজ শুরু করার আগে সেই কাজগুলোর মান মূল্যায়ন করা; যাতে সেগুলো থেকে উপকৃত হওয়া যায় এবং একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক সংযোজন উপস্থাপন করা যায়।
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১২)
حقيقة لما تقدم من مشاريع، وقد حقق الفريق العلمي ولله الحمد هذه الإضافة بشهادة المراجعين من أهل الاختصاص.

عُرضت جميع البحوث بعد الانتهاء منها على أستاذات فاضلات، حاصلات على درجة الدكتوراه في تخصصي: العقيدة واللغة العربية؛ للتدقيق العقدي واللغوي.

وقد تولى كامل الإشراف والمتابعة، والمشاركة في التصنيف الأستاذة الفاضلة: وفاء بنت محسن التركي، التي كانت تعمل ليل نهار من أجل هذا العمل المبارك، ولا تألُ جهدًا في إخراجه، حتى يسر الله التمام، وكتب الله صدور هذه الموسوعة المباركة التي نسأل الله لها القبول، (ربنا تقبل منا إنك أنت السميع العليم وتب علينا إنك أنت التواب الرحيم).

كتبته: …

أ. د. نوال العيد
পূর্বোক্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তব রূপ হিসেবে, বৈজ্ঞানিক দলটি আল্লাহর প্রশংসায় এই সংযোজনটি সম্পন্ন করেছে, যা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণের সাক্ষ্য দ্বারা সমর্থিত।

সমস্ত গবেষণাপত্র সম্পন্ন করার পর সেগুলোকে আকিদাহ ও আরবি ভাষা—এই দুই বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং ডক্টরেট ডিগ্রিধারী বিদুষী অধ্যাপিকাদের নিকট আকিদাহগত ও ভাষাগত নিরীক্ষার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল।

সম্পূর্ণ তত্ত্বাবধান, পর্যবেক্ষণ এবং সংকলনে অংশগ্রহণ করেছেন বিদুষী অধ্যাপিকা: ওয়াফা বিনতে মুহসিন আত-তুর্কি। তিনি এই বরকতময় কাজের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করেছেন এবং এটি প্রকাশের ক্ষেত্রে চেষ্টার কোনো ত্রুটি করেননি, যতক্ষণ না আল্লাহ এটি সম্পন্ন করা সহজ করেছেন। আল্লাহ এই বরকতময় বিশ্বকোষটি প্রকাশের তৌফিক দিয়েছেন যার কবুলিয়াতের জন্য আমরা তাঁর নিকট প্রার্থনা করি, (হে আমাদের প্রতিপালক, আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ এবং আমাদের প্রতি সদয় হোন, নিশ্চয়ই আপনি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু)।

লিখেছেন: …

প্রফেসর ড. নাওয়াল আল-ঈদ
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المنهجية المتبعة في تقسيم الأسماء الحسنى

المنهجية الأولى: قسمت الأسماء الحسنى في هذه الموسوعة إلى ثلاثة أقسام، وهي:

الأسماء التي ثبتت في القرآن والسنة.

الأسماء التي ثبتت في القرآن دون السنة.

الأسماء التي ثبتت في السنة دون القرآن.

وهذا الشرط مضطردًا إلا في مواضع عشرة -سيأتي تفصيلها-، فقد تم تصنيف الاسم في أحد الأقسام الثلاثة المتقدمة بناء على الاسم الأول منها، كالخالق الخلاق البارئ المصور وضعناه تحت القسم الأول (الأسماء التي ثبتت في القرآن والسنة)؛ لأن الاسم الأول منها (الخالق) جاءت نصوص تثبته من كتاب الله وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، أما الخلاق فلم يرد إلا في القرآن دون السنة ...... ، وهكذا في بقية الأسماء العشرة، وتفصيل ذلك ما يلي:

الأسماء التي أثبتت في القرآن والسنة، بناء على أن الاسم الأول منها ثابت فيهما:

الخالق والخلاق والبارئ والمصور.

الرازق والرزاق.

الكريم والأكرم.

الناصر والنصير والغالب.
আল-আসমাউল হুসনা (আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ) বিভাজনের ক্ষেত্রে অনুসৃত কর্মপদ্ধতি

প্রথম পদ্ধতি: এই বিশ্বকোষে আল-আসমাউল হুসনাকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, সেগুলো হলো:

যে নামগুলো কুরআন ও সুন্নাহ উভয়টিতে প্রমাণিত হয়েছে।

যে নামগুলো কেবল কুরআনে প্রমাণিত হয়েছে, সুন্নাহতে নয়।

যে নামগুলো কেবল সুন্নাহতে প্রমাণিত হয়েছে, কুরআনে নয়।

এই শর্তটি দশটি ক্ষেত্র ব্যতীত সর্বত্র প্রযোজ্য—যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে—সেখানে প্রথম নামটির ওপর ভিত্তি করে নামটিকে উল্লেখিত তিনটি বিভাগের কোনো একটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন: আল-খালিক, আল-খাল্লাক, আল-বারি, আল-মুসাব্বির; আমরা এগুলোকে প্রথম বিভাগের (কুরআন ও সুন্নাহ উভয়টিতে প্রমাণিত নামসমূহ) অধীনে রেখেছি; কারণ এর প্রথম নামটি (আল-খালিক) আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর দলিল দ্বারা প্রমাণিত। পক্ষান্তরে 'আল-খাল্লাক' নামটি কেবল কুরআনেই এসেছে, সুন্নাহতে আসেনি... একইভাবে বাকি দশটি নামের ক্ষেত্রেও এমনটি করা হয়েছে। এর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:

যে নামগুলো কুরআন ও সুন্নাহ উভয়টিতে সাব্যস্ত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, এ ভিত্তিতে যে সেগুলোর প্রথম নামটি উভয়টিতে প্রমাণিত:

আল-খালিক, আল-খাল্লাক, আল-বারি এবং আল-মুসাব্বির।

আর-রাযিক এবং আর-রায্যাক।

আল-কারিম এবং আল-আকরাম।

আন-নাসির, আন-নাসির এবং আল-গালিব।
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৪)
الملك والمالك والمليك.

القدير والقادر والمقتدر.

القهار والقاهر.

الوكيل والكفيل والكافي.

الأسماء التي أثبتت في القرآن دون السنة، بناء على ان الاسم الأول منها ثبت في القرآن دون السنة، وهو اسم واحد:

الحسيب والديان.

الأسماء التي أثبتت في السنة دون القرآن، بناء على أن الاسم الأول منها ثابت في السنة دون القرآن، وهو اسم واحد:

السبوح والقدوس.

المنهجية الثانية: اضطراد العمل في الموسوعة على إفراد كل اسم بشرح مستقل إن كان مفردًا كالجبار والعفو والرفيق، أما الأسماء المختلفة في اللفظ والدالة على صفة واحدة كالحافظ الحفيظ، والكريم الأكرم، والمالك الملك … وغير ذلك من الأسماء فتم جمعها في شرح واحد، وكذلك الأسماء التي اختلف لفظها وتقاربت آثارها المسلكية تم جمعها في شرح واحد كالحيي الستير، والحاسب الديان، والقريب المجيب، وغيرها.
বাদশাহ, মালিক ও মহিমান্বিত অধিপতি।

মহাপরাক্রমশালী, ক্ষমতাবান ও শক্তিমান।

মহাপ্রবল ও পরাভূতকারী।

কর্মবিধায়ক, জিম্মাদার ও যথেষ্টকারী।

সেই নামসমূহ যা সুন্নাহ ব্যতিরেকে কেবল কুরআনে সাব্যস্ত হয়েছে, এই ভিত্তিতে যে এগুলোর প্রথম নামটি সুন্নাহ ব্যতিরেকে কেবল কুরআনে সাব্যস্ত, আর তা হলো একটি নাম:

হিসাব গ্রহণকারী ও কর্মফল দানকারী।

সেই নামসমূহ যা কুরআন ব্যতিরেকে কেবল সুন্নাহতে সাব্যস্ত হয়েছে, এই ভিত্তিতে যে এগুলোর প্রথম নামটি কুরআন ব্যতিরেকে কেবল সুন্নাহতে সাব্যস্ত, আর তা হলো একটি নাম:

পরম পবিত্র ও অতি পবিত্র।

দ্বিতীয় কর্মপদ্ধতি: বিশ্বকোষে প্রতিটি নামকে স্বতন্ত্র ব্যাখ্যাসহ উপস্থাপনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে যদি তা একক হয়, যেমন: আল-জাব্বার, আল-আফুব্বু ও আর-রাফিক। পক্ষান্তরে, যেসব নাম শব্দগতভাবে ভিন্ন কিন্তু একই গুণের ওপর প্রমাণ বহন করে, যেমন: আল-হাফিজ ও আল-হাফিয, আল-কারিম ও আল-আকরাম, আল-মালিক ও আল-মালিক … এবং এজাতীয় অন্যান্য নামসমূহকে একটি ব্যাখ্যায় একত্র করা হয়েছে। একইভাবে, যেসব নামের শব্দ ভিন্ন কিন্তু সেগুলোর আচরণগত প্রভাব কাছাকাছি, সেগুলোকে একটি ব্যাখ্যায় একত্র করা হয়েছে; যেমন: আল-হায়িয়্যু ও আস-সিত্তির, আল-হাসিব ও আদ-দাইয়ান, আল-কারিব ও আল-মুজীব ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌تقسيمات البحث

رحلة المشروع.

المنهجية المتبعة في تقسيم الأسماء.

تقسيمات البحث.

أهمية العيش مع أسماء الله وصفاته، وأثرها على المتدبر.

قواعد في أسماء الله وصفاته وفق منهج أهل السنة والجماعة.

شرح أسماء الله الحسنى، كالتالي:

أولًا: الأسماء التي ثبتت في القرآن الكريم والسنة النبوية:

1) الأول والآخر سبحانه وتعالى.

2) بديع السماوات والأرض سبحانه وتعالى.

3) البصير سبحانه وتعالى.

4) التواب سبحانه وتعالى.

5) الجبار سبحانه وتعالى.

6) الحق سبحانه وتعالى.

7) الحكيم والحكم سبحانه وتعالى.

8) الحليم سبحانه وتعالى.

9) الحميد سبحانه وتعالى.
গবেষণার বিভাজনসমূহ

প্রকল্পের যাত্রা।

নামসমূহ বিভাজনের ক্ষেত্রে অনুসৃত কর্মপদ্ধতি।

গবেষণার বিভাজনসমূহ।

আল্লাহর নাম ও গুণাবলির সাথে জীবনযাপনের গুরুত্ব এবং চিন্তাশীল ব্যক্তির ওপর এর প্রভাব।

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ অনুযায়ী আল্লাহর নাম ও গুণাবলি বিষয়ক নীতিমালা।

আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ব্যাখ্যা, যা নিম্নরূপ:

প্রথমত: কুরআন মাজীদ এবং সুন্নাতে নববীতে সাব্যস্ত নামসমূহ:

১) আল-আউয়াল এবং আল-আখির সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

২) আসমান ও যমীনের উদ্ভাবক (বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ) সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

৩) আল-বাসীর সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

৪) আত-তাওয়াব সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

৫) আল-জাব্বার সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

৬) আল-হাক্ক সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

৭) আল-হাকীম এবং আল-হাকাম সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

৮) আল-হালীম সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

৯) আল-হামীয়দ সুবহানাহু ওয়া তাআলা।
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৬)
10) الحي والقيوم سبحانه وتعالى.

11) الخالق والخلاق والبارئ والمصور سبحانه وتعالى.

12) الخبير سبحانه وتعالى.

13) ذو الجلال والإكرام سبحانه وتعالى.

14) الرب سبحانه وتعالى.

15) الرحمن والرحيم سبحانه وتعالى.

16) الرازق والرزاق سبحانه وتعالى.

17) الرؤوف سبحانه وتعالى.

18) السلام سبحانه وتعالى.

19) السميع سبحانه وتعالى.

20) الشكور والشاكر سبحانه وتعالى.

21) الشهيد سبحانه وتعالى.

22) الصمد سبحانه وتعالى.

23) الظاهر والباطن سبحانه وتعالى.

24) العزيز سبحانه وتعالى.

25) العظيم سبحانه وتعالى.

26) العفو سبحانه وتعالى.

27) العلي والأعلى والمتعال سبحانه وتعالى.
১০) আল-হাইয়ু (চিরঞ্জীব) ও আল-কাইয়ুম (সর্বসত্তার ধারক) তিনি পবিত্র ও মহান।

১১) আল-খালিক (সৃষ্টিকর্তা), আল-খাল্লাক (মহাস্রষ্টা), আল-বারিউ (উদ্ভাবক) ও আল-মুসাব্বির (রূপদানকারী) তিনি পবিত্র ও মহান।

১২) আল-খাবির (সর্বজ্ঞ) তিনি পবিত্র ও মহান।

১৩) যুল-জালালি ওয়াল-ইকরাম (মহিমা ও মহানুভবতার অধিকারী) তিনি পবিত্র ও মহান।

১৪) আর-রাব্ব (প্রতিপালক) তিনি পবিত্র ও মহান।

১৫) আর-রাহমান (পরম করুণাময়) ও আর-রাহিম (অতিশয় মেহেরবান) তিনি পবিত্র ও মহান।

১৬) আর-রাযিক (রিযিকদাতা) ও আর-রাযযাক (মহা-রিযিকদাতা) তিনি পবিত্র ও মহান।

১৭) আর-রাউফ (পরম মমতাময়) তিনি পবিত্র ও মহান।

১৮) আস-সালাম (শান্তিদাতা) তিনি পবিত্র ও মহান।

১৯) আস-সামিউ (সর্বশ্রোতা) তিনি পবিত্র ও মহান।

২০) আশ-শাকুর ও আশ-শাকির (গুণগ্রাহী) তিনি পবিত্র ও মহান।

২১) আশ-শাহিদ (প্রত্যক্ষদর্শী) তিনি পবিত্র ও মহান।

২২) আস-সামাদ (অমুখাপেক্ষী) তিনি পবিত্র ও মহান।

২৩) আয-যাহির (প্রকাশ্য) ও আল-বাতিন (লুক্কায়িত) তিনি পবিত্র ও মহান।

২৪) আল-আযিয (মহা-পরাক্রমশালী) তিনি পবিত্র ও মহান।

২৫) আল-আযিম (মহা-মর্যাদাশীল) তিনি পবিত্র ও মহান।

২৬) আল-আফুউ (মার্জনাকারী) তিনি পবিত্র ও মহান।

২৭) আল-আলিইউ, আল-আ’লা ও আল-মুতা’আলি (সুউচ্চ, সর্বোচ্চ ও সমুন্নত) তিনি পবিত্র ও মহান।
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৭)
28) العليم والعالم وعلام الغيوب سبحانه وتعالى.

29) الغفور والغفار سبحانه وتعالى.

30) الغني سبحانه وتعالى.

31) فاطر السماوات والأرض سبحانه وتعالى.

32) القدير والقادر والمقتدر سبحانه وتعالى.

33) القريب والمجيب سبحانه وتعالى.

34) القهار والقاهر سبحانه وتعالى.

35) الكبير والمتكبر سبحانه وتعالى.

36) الكريم والأكرم سبحانه وتعالى.

37) اللطيف سبحانه وتعالى.

38) الله سبحانه وتعالى.

39) المجيد سبحانه وتعالى.

40) المستعان سبحانه وتعالى.

41) الملك والمالك والمليك سبحانه وتعالى.

42) الناصر والنصير والغالب سبحانه وتعالى.

43) نور السماوات والأرض سبحانه وتعالى.

44) الواحد والأحد سبحانه وتعالى.

45) الودود سبحانه وتعالى.
28) সর্বজ্ঞ, পরিজ্ঞাত এবং অদৃশ্য বিষয়াবলীর সম্যক পরিজ্ঞাত; তিনি পবিত্র ও মহান।

29) পরম ক্ষমাশীল এবং অতি ক্ষমাশীল; তিনি পবিত্র ও মহান।

30) অমুখাপেক্ষী; তিনি পবিত্র ও মহান।

31) আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা; তিনি পবিত্র ও মহান।

32) সর্বশক্তিমান, ক্ষমতাধর এবং মহা শক্তিশালী; তিনি পবিত্র ও মহান।

33) নিকটবর্তী এবং সাড়াদানকারী; তিনি পবিত্র ও মহান।

34) মহাপরাক্রমশালী এবং প্রবল পরাক্রান্ত; তিনি পবিত্র ও মহান।

35) সুমহান এবং অহঙ্কারী; তিনি পবিত্র ও মহান।

36) মহাদাতা এবং শ্রেষ্ঠ দাতা; তিনি পবিত্র ও মহান।

37) পরম সূক্ষ্মদর্শী; তিনি পবিত্র ও মহান।

38) আল্লাহ; তিনি পবিত্র ও মহান।

39) মহিমান্বিত; তিনি পবিত্র ও মহান।

40) সাহায্য প্রার্থনার একমাত্র স্থল; তিনি পবিত্র ও মহান।

41) অধিপতি, মালিক এবং সার্বভৌম সম্রাট; তিনি পবিত্র ও মহান।

42) সাহায্যকারী, পরম সাহায্যকারী এবং বিজয়ী; তিনি পবিত্র ও মহান।

43) আসমানসমূহ ও জমিনের জ্যোতি; তিনি পবিত্র ও মহান।

44) একক ও অদ্বিতীয়; তিনি পবিত্র ও মহান।

45) পরম স্নেহশীল; তিনি পবিত্র ও মহান।
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৮)
46) الوكيل والكفيل، والكافي سبحانه وتعالى.

47) الولي والمولى سبحانه وتعالى.

48) الوهاب سبحانه وتعالى.

ثانيًا: الأسماء التي ثبتت في القرآن الكريم فقط

البر سبحانه وتعالى.

الحسيب والديان سبحانه وتعالى.

الحفيظ والحافظ سبحانه وتعالى.

ذو الفضل سبحانه وتعالى.

الرقيب سبحانه وتعالى.

الفتاح سبحانه وتعالى.

القوي والمتين سبحانه وتعالى.

المبين سبحانه وتعالى.

المحيط سبحانه وتعالى.

المهيمن سبحانه وتعالى.

المؤمن سبحانه وتعالى.

الهادي سبحانه وتعالى.

الوارث سبحانه وتعالى.

الواسع سبحانه وتعالى.
৪৬) আল-ওয়াকিল, আল-কাফিল এবং আল-কাফি, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

৪৭) আল-ওয়ালি এবং আল-মাওলা, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

৪৮) আল-ওয়াহহাব, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

দ্বিতীয়ত: সেই নামসমূহ যা শুধুমাত্র কুরআনুল কারীমে সাব্যস্ত হয়েছে

আল-বারর, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

আল-হাসিব এবং আদ-দাইয়ান, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

আল-হাফিজ এবং আল-হাফিয, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

যুল-ফাদল, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

আর-রাকিব, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

আল-ফাত্তাহ, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

আল-কাওয়ি এবং আল-মাতিন, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

আল-মুবিন, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

আল-মুহিত, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

আল-মুহাইমিন, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

আল-মু'মিন, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

আল-হাদি, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

আল-ওয়ারিস, তিনি পবিত্র ও সুমহান।

আল-ওয়াসি, তিনি পবিত্র ও সুমহান।
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৯)
ثالثًا: الأسماء التي ثبتت في السنة النبوية فقط:

الجميل سبحانه وتعالى.

الحيي والستير سبحانه وتعالى.

الرفيق سبحانه وتعالى.

السبوح والقدوس سبحانه وتعالى.

السيد سبحانه وتعالى.

الشافي سبحانه وتعالى.

الطيب سبحانه وتعالى.

القابض والباسط سبحانه وتعالى.

المحسن سبحانه وتعالى.

المقدم والمؤخر سبحانه وتعالى.

المنان سبحانه وتعالى.

الوتر سبحانه وتعالى.
তৃতীয়ত: সেই নামসমূহ যা কেবল সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত:

আল-জামিল সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

আল-হাইয়্যি ও আস-সিত্তীর সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

আর-রাফিক সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

আস-সুব্বুহ ও আল-কুদ্দুস সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

আস-সাইয়্যিদ সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

আশ-শাফী সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

আত-তায়্যিব সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

আল-কাবিদ ও আল-বাসিত সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

আল-মুহসিন সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

আল-মুকাদ্দিম ও আল-মুআখখির সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

আল-মান্নান সুবহানাহু ওয়া তাআলা।

আল-উইতর সুবহানাহু ওয়া তাআলা।
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌أهمية العيش مع أسماء الله وصفاته، وأثرها على المتدبر

إن أهم ما يتضمنّه الإيمان بالله تَعَالَى -الذي هو أول أركان الإيمان- هو التعرف على الله سُبْحَانَهُ بأسمائه وصفاته، ولهذه المعرفة آثار عظيمة في حياة المؤمن في الدنيا والآخرة، ومن ذلك ما يلي:

 

‌‌1 - العلم بأسماء الله وصفاته أشرف العلوم وأفضلها:

«فشرف العلم بشرف المعلوم، وهو الرب، وأن العلم به ثلاث مقامات: العلم بالذات، والصفات، والأفعال»(1)، «وكما أن العلم به تَعَالَى أجل العلوم وأشرفها، فهو أصلها كلها … ، وكل موجود سوى الله فهو مستند في وجوده إليه استناد المصنوع إلى صانعه، والمفعول إلى فاعله، فالعلم بذاته سُبْحَانَهُ وصفاته وأفعاله يستلزم العلم بما سواه، فهو في ذاته رب كل شيء ومليكه، والعلم به أصل كل علم ومنشؤه، فمن عرف الله عرف ما سواه، ومن جهل ربه فهو لما سواه أجهل، يقول تَعَالَى: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ نَسُوا اللَّهَ فَأَنْسَاهُمْ أَنْفُسَهُمْ أُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ (19)} [الحشر: 19] فتأمل هذه الآية تجد تحتها معنًا شريفًا عظيمًا، وهو أن من نسى ربه أنساه ذاته، ونفسه، فلم يعرف حقيقته ولا مصالحه، بل نسى ما به صلاحه وفلاحه في معاشه»(2).

--------------------------------------------

(1) النبوات، ابن تيمية، (ص: 89)

(2) مفتاح دار السعادة، ابن القيم، (1/ 86)
‌আল্লাহর নাম ও গুণাবলির সাথে জীবন অতিবাহিত করার গুরুত্ব এবং অনুধাবনকারীর ওপর এর প্রভাব

মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানের—যা ঈমানের প্রথম রোকন—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে সুবহানাহু ওয়া তাআলার পরিচয় লাভ করা। দুনিয়া ও আখেরাতে মুমিনের জীবনে এই জ্ঞানের রয়েছে সুমহান প্রভাব, যার মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত:

 

‌১ - আল্লাহর নাম ও গুণাবলির জ্ঞান সবচেয়ে মহৎ ও শ্রেষ্ঠ জ্ঞান:

«জ্ঞাত বিষয়ের শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমেই জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হয়; আর এখানে জ্ঞাত বিষয় হলেন প্রতিপালক। তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান তিনটি স্তরে বিভক্ত: সত্তা, গুণাবলি এবং কার্যাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান»(১), «যেহেতু মহান আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহত্তম জ্ঞান, তাই এটিই হলো সকল জ্ঞানের মূল … এবং আল্লাহ ব্যতীত যা কিছু বিদ্যমান, তার অস্তিত্বের জন্য সে তাঁর ওপর নির্ভরশীল; যেমন একটি সৃষ্টি তার স্রষ্টার ওপর এবং একটি কর্ম তার কর্তার ওপর নির্ভরশীল হয়। সুতরাং সুবহানাহু ওয়া তাআলার সত্তা, গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা তাঁর সৃষ্টিজগত সম্পর্কে জ্ঞানের দাবি রাখে। তিনি তাঁর সত্তাগতভাবে সবকিছুর রব এবং মালিক। তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানই হলো সকল জ্ঞানের মূল ও উৎস। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহকে চিনেছে, সে সবকিছুকেই চিনেছে। আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালক সম্পর্কে অজ্ঞ, সে অন্য সব বিষয়ে আরও বেশি অজ্ঞ। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে আল্লাহ তাদের নিজেদের কথা ভুলিয়ে দিয়েছেন; ওরাই তো ফাসেক} [আল-হাশর: ১৯]। এই আয়াতটি নিয়ে চিন্তা করলে দেখবে এর মাঝে এক সুমহান ও গভীর অর্থ নিহিত রয়েছে; আর তা হলো—যে ব্যক্তি তার প্রতিপালককে ভুলে যায়, তিনি তাকে তার নিজ সত্তা ও নফস সম্পর্কে ভুলিয়ে দেন। ফলে সে তার প্রকৃত স্বরূপ এবং কল্যাণ বুঝতে পারে না, বরং সে তার জীবনযাত্রায় যাতে সংশোধন ও সফলতা রয়েছে তা-ই ভুলে যায়»(২)।

--------------------------------------------

(১) আন-নুবুওয়াত, ইবনে তাইমিয়্যাহ, (পৃ: ৮৯)

(২) মিফতাহু দারিস সা'আদাহ, ইবনুল কাইয়্যিম, (১/ ৮৬)
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌2 - معرفة أسماء الله الحسنى وصفاته العلى هي الطريق الرئيسي إلى معرفة الله:

يقول ابن القيم رحمه الله: «معرفة الله سُبْحَانَهُ نوعان: معرفة إقرار، وهي التي اشترك فيها الناس، البر والفاجر، والمطيع والعاصي، والثاني: معرفة توجب الحياء منه، والمحبة له، وتعلق القلب به، والشوق إلى لقائه، وخشيته والإنابة إليه، والأنس به، والفرار من الخلق إليه، وهذه هي المعرفة الخالصة الجارية على لسن القوم، وتفاوتهم فيها لا يحصيه إلا الذي عرفهم بنفسه، وكشف لقلوبهم من معرفته ما أخفاه عن سواهم، وكل أشار إلى هذه المعرفة بحسب مقامه، وما كشف له منها، وقد قال أعرف الخلق به: «لا أحصي ثناء عليك، أنت كما أثنيت على نفسك»(1)، وأخبر أنه سُبْحَانَهُ يفتح عليه يوم القيامة من محامده بما لا يحسنه الآن.

ولهذه المعرفة بابان واسعان: باب التفكر والتأمل في آيات القرآن كلها، والفهم الخاص عن الله ورسوله، والباب الثاني: التفكر في آياته المشهودة وتأمل حكمته فيها وقدرته، ولطفه وإحسانه، وعدله وقيامه بالقسط على خلقه.

وجماع ذلك: الفقه في معاني أسمائه الحسنى وجلالها وكمالها، وتفرده بذلك، وتعلقها بالخلق والأمر، فيكون فقيهًا في أوامره ونواهيه، فقيهًا في قضائه وقدره، فقيها في أسمائه وصفاته، فقيهًا في الحكم الديني الشرعي والحكم الكوني القدري، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء، والله ذو الفضل العظيم»(2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم، رقم الحديث: (486)

(2) الفوائد، ابن القيم، (ص: 170)
২ - আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও তাঁর মহান গুণাবলি জানাই হলো আল্লাহকে জানার প্রধান পথ:

ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন: «মহান আল্লাহকে জানা দুই প্রকার: প্রথমটি হলো স্বীকৃতির জ্ঞান, যাতে পুণ্যবান ও পাপিষ্ঠ, অনুগত ও অবাধ্য—সব মানুষই অংশীদার। আর দ্বিতীয়টি হলো: এমন জ্ঞান যা তাঁর প্রতি লজ্জা, তাঁর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর সাথে অন্তরের গভীর সম্পর্ক, তাঁর সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা, তাঁর প্রতি ভয়, তাঁর অভিমুখী হওয়া, তাঁর সান্নিধ্যে প্রশান্তি এবং সৃষ্টিজগত থেকে পলায়ন করে তাঁর দিকে ধাবিত হওয়াকে আবশ্যক করে। আর এটিই হলো সেই বিশুদ্ধ জ্ঞান যা মারেফাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মুখে উচ্চারিত হয়। এতে তাদের পারস্পরিক মর্যাদার পার্থক্য একমাত্র তিনিই গণনা করতে পারেন যিনি তাদেরকে নিজের পরিচয় দিয়েছেন এবং তাদের অন্তরের নিকট স্বীয় পরিচয়ের এমন কিছু উন্মোচন করেছেন যা অন্যদের থেকে গোপন রেখেছেন। প্রত্যেকেই স্বীয় অবস্থান এবং তার নিকট যতটুকু উন্মোচিত হয়েছে সে অনুযায়ী এই পরিচয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। সৃষ্টিজগতের মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি পরিজ্ঞাত সত্তা বলেছেন: “আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না; আপনি তেমনই যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন”(১)। এবং তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাঁর জন্য এমন কিছু প্রশংসাগীতি উন্মুক্ত করে দেবেন যা তিনি বর্তমানে করতে সক্ষম নন।

এই পরিচয়ের জন্য দুটি প্রশস্ত দরজা রয়েছে: একটি হলো সমগ্র কুরআনের আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে বিশেষ সমঝ লাভ করা। আর দ্বিতীয় দরজাটি হলো: তাঁর দৃশ্যমান নিদর্শনাবলি নিয়ে চিন্তা করা এবং সেগুলোর মধ্যে নিহিত তাঁর হিকমত, কুদরত, দয়া, অনুগ্রহ, ন্যায়বিচার এবং সৃষ্টির মাঝে ইনসাফের সাথে তাঁর অটল থাকা নিয়ে গভীরভাবে ভাবা।

আর এই সবকিছুর সারকথা হলো: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের অর্থ, সেগুলোর মাহাত্ম্য ও পূর্ণতা, সেগুলোতে তাঁর একত্ব এবং সৃষ্টি ও আদেশের সাথে সেগুলোর সম্পর্ক অনুধাবন করা। ফলে সে তাঁর আদেশ ও নিষেধ সম্পর্কে প্রজ্ঞাবান হবে, তাঁর ফয়সালা ও তাকদীর সম্পর্কে প্রজ্ঞাবান হবে, তাঁর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে প্রজ্ঞাবান হবে এবং দ্বীনি-শরয়ি বিধান ও মহাজাগতিক-তাকদিরি বিধান সম্পর্কে প্রজ্ঞাবান হবে। আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল»(২)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত, হাদীস নং: (৪৮৬)

(২) আল-ফাওয়াইদ, ইবনুল কাইয়্যিম, (পৃষ্ঠা: ১৭০)
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌3 - معرفة أسماء الله الحسنى وصفاته العلى تقوي الإيمان وتحقق التوحيد، وتورث خشية الله:

فهناك تلازم وثيق بين إثبات الأسماء والصفات لله وتوحيد الله تَعَالَى، فكلما حقق العبد أسماء الله وصفاته علماً وعملاً كان أعظم وأكمل توحيداً، وفي المقابل: فإن هناك تلازماً وطيداً بين إنكار الأسماء أو الصفات، وبين الشرك.

يقول ابن القيم في تقرير هذا التلازم: «كل شرك في العالم فأصله التعطيل، فإنه لولا تعطيل كماله - أو بعضه - وظن السوء به لما أشرك به، كما قال إمام الحنفاء وأهل التوحيد لقومه: {أَئِفْكًا آلِهَةً دُونَ اللَّهِ تُرِيدُونَ (86) فَمَا ظَنُّكُمْ بِرَبِّ الْعَالَمِينَ (87)} [الصافات: 86 - 87].

أي فما ظنكم به أن يجازيكم، وقد عبدتم معه غيره؟ وما الذي ظننتم به حتى جعلتم معه شركاء؟ أظننتم: أنه محتاج إلى الشركاء والأعوان؟ أم ظننتم: أنه يخفى عليه شيء من أحوال عباده، حتى يحتاج إلى شركاء تعرفه بها كالملوك؟ أم ظننتم أنه لا يقدر وحده على استقلاله بتدبيرهم وقضاء حوائجهم، أم هو قاس؛ فيحتاج إلى شفعاء يستعطفونه على عباده؟ أم ذليل؛ فيحتاج إلى ولي يتكثر به من القلة، ويتعزز به من الذلة؟ أم يحتاج إلى الولد؛ فيتخذ صاحبة يكون الولد منها ومنه؟ تَعَالَى الله عن ذلك كله علوا كبيرا، والمقصود: أن التعطيل مبدأ الشرك وأساسه، فلا تجد معطلا إلا وشركه على حسب تعطيله، فمستقل ومستكثر»(1)

يقول الشيخ السعدي في تقرير التوحيد بالإيمان بأسماء الله وصفاته: «إن

--------------------------------------------

(1) مدارج السالكين بين منازل إياك نعبد وإياك نستعين، (3/ 324)
৩ - আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও তাঁর সুউচ্চ গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ঈমানকে শক্তিশালী করে, তাওহীদকে বাস্তবায়িত করে এবং আল্লাহর প্রতি ভীতি সৃষ্টি করে:

আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলি সাব্যস্ত করা এবং মহান আল্লাহর তাওহীদের মধ্যে এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বান্দা যখনই জ্ঞান ও আমলের মাধ্যমে আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলিকে বাস্তবায়িত করে, তার তাওহীদ ততটাই মহান ও পূর্ণাঙ্গ হয়। এর বিপরীতে, আল্লাহর নামসমূহ বা গুণাবলি অস্বীকার করা এবং শিরকের মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।

ইবনুল কাইয়্যিম এই গভীর সম্পর্কের বর্ণনায় বলেন: «বিশ্বের প্রতিটি শিরকের মূলে রয়েছে ‘তাতীল’ (আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার বা অকার্যকর করা)। কারণ, যদি তাঁর পূর্ণতার—বা তার কিছু অংশের—অস্বীকার (তাতীল) এবং তাঁর প্রতি কুধারণা পোষণ করা না হতো, তবে তাঁর সাথে কাউকে শরিক করা হতো না। যেমনটি হানিফদের ইমাম ও তাওহীদপন্থীদের নেতা তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেন: {তোমরা কি আল্লাহর পরিবর্তে মিথ্যা উপাস্যসমূহকে চাও? (৮৬) তবে জগতসমূহের রব সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী? (৮৭)} [আস-সাফফাত: ৮৬ - ৮৭]।

অর্থাৎ তাঁর সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী যে তিনি তোমাদের প্রতিদান দেবেন, অথচ তোমরা তাঁর সাথে অন্য কিছুর ইবাদত করেছ? তোমরা তাঁর সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করেছ যার ফলে তোমরা তাঁর সাথে শরিক সাব্যস্ত করেছ? তোমরা কি ভেবেছ: তিনি শরিক ও সাহায্যকারীদের মুখাপেক্ষী? নাকি ভেবেছ: তাঁর বান্দাদের অবস্থা তাঁর কাছে গোপন থাকে, যার ফলে রাজাদের মতো তাঁরও এমন কিছু শরিক প্রয়োজন যারা তাঁকে তা জানাবে? নাকি ভেবেছ তিনি একাকী তাদের পরিচালনা করতে এবং তাদের প্রয়োজন পূরণ করতে সক্ষম নন? অথবা তিনি কি কঠোর; তাই তাঁর এমন কিছু সুপারিশকারী প্রয়োজন যারা তাঁর বান্দাদের প্রতি তাঁকে দয়াপরবশ করবে? অথবা তিনি কি লাঞ্ছিত; তাই তাঁর এমন অভিভাবক প্রয়োজন যার মাধ্যমে তিনি সংখ্যাস্বল্পতা থেকে সংখ্যাধিক্য এবং লাঞ্ছনা থেকে সম্মান লাভ করবেন? নাকি তাঁর সন্তানের প্রয়োজন; তাই তিনি সঙ্গিনী গ্রহণ করবেন যার মাধ্যমে সন্তান লাভ করবেন? মহান আল্লাহ এসকল বিষয় থেকে অত্যন্ত উচ্চে ও পবিত্র। মূল কথা হলো: ‘তাতীল’ (আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার) হলো শিরকের প্রারম্ভ ও ভিত্তি। সুতরাং আপনি কোনো অস্বীকারকারীকেই পাবেন না যার শিরক তার অস্বীকারের মাত্রার ওপর নির্ভরশীল নয়—তা অল্প হোক বা বেশি»(১)

শায়খ আস-সাদী আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলির প্রতি ঈমান আনার মাধ্যমে তাওহীদ সাব্যস্ত করার বিষয়ে বলেন: «নিশ্চয়

--------------------------------------------

(১) মাদারিজুস সালিকিন বাইনা মানাজিলি ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাইন, (৩/ ৩২৪)
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৩)
الإيمان بأسماء الله الحسنى، ومعرفتها يتضمّن أنواع التوحيد الثلاثة: توحيد الربوبيّة، وتوحيد الألوهية، وتوحيد الأسماء والصفات، وهذه الأنواع هي رَوح الإيمان وروحه، وأصله وغايته، فكلّما ازداد العبد معرفة بأسماء الله وصفاته ازداد إيمانه، وقوي يقينه.

ويقول ابن القيم: «إن العلم بالله أصل كل علم، وهو أصل علم العبد بسعادته وكماله، ومصالح دنياه وآخرته، والجهل به مستلزم للجهل بنفسه ومصالحها، وكمالها وما تزكو به، وتفلح به، فالعلم به سعادة العبد، والجهل به أصل شقاوته … ، فلا شيء أطيب للعبد، ولا ألذ ولا أهنأ، ولا أنعم لقلبه وعيشه من محبة فاطره وباريه، ودوام ذكره والسعي في مرضاته، وهذا هو الكمال الذي لا كمال للعبد بدونه، وله خلق الخلق، ولأجله نزل الوحي، وأرسلت الرسل، وقامت السماوات والأرض، ووجدت الجنة والنار، ولأجله شرعت الشرائع»(1)

ومن قوي إيمانه وعلمه ازدادت خشيته من ربه، يقول تَعَالَى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} [فاطر: 28]، وفي الحديث: يقول صلى الله عليه وسلم: «أما واللَّهِ إنِّي لَأَخْشَاكُمْ لِلَّهِ وأَتْقَاكُمْ له»(2)، ويقول ابن مَسْعُودٍ في ذلكُ: «كفى بخشية الله علما، وكفى بالاغترار بالله جهلا»(3).

--------------------------------------------

(1) مفتاح دار السعادة، (1/ 86)

(2) أخرجه مسلم، رقم الحديث: (1108).

(3) جامع بيان العلم وفضله، أبو عمر القرطبي، (2/ 812)
আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের ওপর ঈমান আনা এবং তা জানা তাওহীদের তিনটি প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করে: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত। এই প্রকারগুলোই হলো ঈমানের প্রাণ ও আত্মা এবং এর মূল ও লক্ষ্য। বান্দা যখনই আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করে, তখনই তার ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তার ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) শক্তিশালী হয়।

ইবনুল কায়্যিম বলেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান হলো প্রতিটি জ্ঞানের মূল। আর এটিই হলো বান্দার নিজের সুখ, পূর্ণতা এবং তার দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ বিষয়ক জ্ঞানের মূল ভিত্তি। আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা নিজের নফস, এর কল্যাণ, এর পূর্ণতা এবং কিসে তা পবিত্র ও সফল হবে—সে সম্পর্কে অজ্ঞতাকে আবশ্যক করে। সুতরাং তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানই হলো বান্দার সুখ, আর তাঁর সম্পর্কে অজ্ঞতাই হলো তার দুর্ভাগ্যের মূল … , বান্দার জন্য তার স্রষ্টা ও জীবনদাতার ভালোবাসা, সর্বদা তাঁর যিকর এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হওয়ার চেয়ে অধিক পবিত্র, সুস্বাদু, তৃপ্তিদায়ক ও সুখময় আর কিছুই নেই। আর এটিই হলো সেই পূর্ণতা, যা ছাড়া বান্দার কোনো পূর্ণতা নেই। এরই জন্য সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করা হয়েছে, এরই জন্য ওহী নাযিল করা হয়েছে, রাসূলদের পাঠানো হয়েছে, আসমান ও যমিন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এরই জন্য শরীয়ত প্রবর্তন করা হয়েছে।»(১)

আর যার ঈমান ও ইলম শক্তিশালী হয়, তার রবের প্রতি তার ভয়ও বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে} [ফাতির: ২৮], এবং হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি এবং তোমাদের চেয়ে বেশি তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করি»(২), আর ইবনে মাসঊদ এ প্রসঙ্গে বলেন: «আল্লাহকে ভয় করাই জ্ঞান হিসেবে যথেষ্ট, আর আল্লাহ সম্পর্কে বিভ্রান্ত বা উদাসীন থাকাই মূর্খতা হিসেবে যথেষ্ট»(৩)।

--------------------------------------------

(১) মিফতাহু দারিস সাআদাহ, (১/ ৮৬)

(২) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং: (১১০৮)।

(৩) জামেউ বয়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলিহি, আবু উমর আল-কুরতুবী, (২/ ৮১২)
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌4 - معرفة أسماء الله الحسنى وصفاته العلى أصل كل عبادة:

فمن أراد امتثال أوامر الله تَعَالَى واجتناب نواهيه فلابد أن يعرف ربه أولا، ولذلك كان أول أمرٍ أمرَ النبي صلى الله عليه به معاذ إذا قدم على أهل اليمن أن يعرفهم بربهم، ففي حديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما بعث معاذا رضي الله عنه على اليمن قال: «إِنَّكَ تَقْدَمُ عَلَى قَوْمٍ أَهْلِ كِتَابٍ، فَلْيَكُنْ أَوَّلَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ عِبَادَةُ اللَّهِ، فَإِذَا عَرَفُوا اللَّهَ، فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ قَدْ فَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي يَوْمِهِمْ وَلَيْلَتِهِمْ، فَإِذَا فَعَلُوا، فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّ اللَّهَ فَرَضَ عَلَيْهِمْ زَكَاةً مِنْ أَمْوَالِهِمْ وَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ، فَإِذَا أَطَاعُوا بِهَا، فَخُذْ مِنْهُمْ وَتَوَقَّ كَرَائِمَ أَمْوَالِ النَّاسِ»(1).

 

‌‌5 - إحصاء أسماء الله الحسنى من أعظم أسباب دخول الجنة:

روى البخاري في صحيحه من حديث أبو هريرة رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مائَةً إِلا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ»(2)

يقول ابن القيم في معنى إحصائها: «في بيان مراتب إحصاء أسمائه التي من أحصاها دخل الجنة، وهذا هو قطب السعادة، ومدار النجاة والفلاح.

المرتبة الأولى: إحصاء ألفاظها وعددها.

المرتبة الثانية: فهم معانيها ومدلولها.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري واللفظ له، رقم الحديث: (1458)، ومسلم، رقم الحديث: (19).

(2) أخرجه البخاري، رقم الحديث: (7392)، ومسلم، رقم الحديث: (2677).
৪ - আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও তাঁর মহান গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনই সকল ইবাদতের মূল:

সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর আদেশসমূহ পালন ও তাঁর নিষেধসমূহ বর্জন করতে চায়, তাকে সর্বপ্রথম তার রবকে চিনতে হবে। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজ (রা.)-কে যখন ইয়ামেনবাসীদের নিকট প্রেরণ করেন, তখন তাকে দেওয়া প্রথম নির্দেশ ছিল যেন তিনি তাদেরকে তাদের রব সম্পর্কে পরিচিত করান। ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুয়াজ (রা.)-কে ইয়ামেনে পাঠান, তখন তিনি বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং তাদের প্রতি তোমার প্রথম দাওয়াত যেন হয় আল্লাহর ইবাদতের দিকে। অতঃপর যখন তারা আল্লাহকে চিনবে, তখন তাদের জানিয়ে দিও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। যখন তারা তা পালন করবে, তখন তাদের জানিও যে, আল্লাহ তাদের সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ করেছেন, যা তাদের দরিদ্রদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া হবে। যখন তারা এ বিষয়ে আনুগত্য করবে, তখন তাদের থেকে (জাকাত) গ্রহণ করবে, তবে মানুষের উত্তম সম্পদসমূহ গ্রহণ করা থেকে বিরত থেকো»(১).

 

‌৫ - আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ গণনা করা জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম:

ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি—এক কম একশটি—নাম রয়েছে; যে ব্যক্তি এগুলো গণনা করবে (হেফজ করবে, বুঝবে ও আমল করবে), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»(২)

ইবনুল কায়্যিম এই নামসমূহ গণনার অর্থ সম্পর্কে বলেন: «আল্লাহর নামসমূহ গণনার স্তরসমূহ বর্ণনায়, যা সম্পাদন করলে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে—আর এটাই সৌভাগ্যের মূলবিন্দু এবং মুক্তি ও সফলতার কেন্দ্রবিন্দু।

প্রথম স্তর: এর শব্দাবলি আয়ত্ত করা এবং সংখ্যা গণনা করা।

দ্বিতীয় স্তর: এর অর্থ ও তাৎপর্য অনুধাবন করা।

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি তাঁর, হাদিস নম্বর: (১৪৫৮), এবং মুসলিম, হাদিস নম্বর: (১৯)।

(২) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর: (৭৩৯২), এবং মুসলিম, হাদিস নম্বর: (২৬৭৭)।
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৫)
المرتبة الثالثة: دعاؤه بها كما قال تَعَالَى: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} [الأعراف: 180]، وهو مرتبتان، إحداهما: دعاء ثناء وعبادة، والثاني: دعاء طلب ومسألة فلا يثنى عليه إلا بأسمائه الحسنى وصفاته العلى وكذلك لا يسأل إلا بها»(1).

 

‌‌6 - العمل بمقتضى أسماء الله الحسنى:

قال ابن بطال في معنى حديث «من أحصاها دخل الجنة»: «يحتمل أن يكون الإحصاء المراد في هذا الحديث والله أعلم: العمل بالأسماء والتعبد لمن سُمي بها، فإن قال قائل: كيف وجه إحصائها عملًا؟ قيل له وجه ذلك:

أن ما كان من أسماء الله تَعَالَى مما يجب على المؤمن الاقتداء بالله تَعَالَى فيه: كالرحيم والكريم، والعفو والغفور، والشكور والتواب وشبهها، فإن الله تَعَالَى يُحب أن يرى على عبده حلاها ويرضى له معناها، والاقتداء به تَعَالَى فيها، فهذا العمل بهذا النوع من الأسماء، وما كان منها مما لا يليق بالعبد معانيها كالله والأحد، والقدوس والجبار، والمتعال والمتكبر، والعظيم والعزيز، والقوي وشبهها، فإنه يجب على العبد الإقرار بها، والتذلل لها، والإشفاق منها.

وما كان بمعنى الوعيد: كشديد العقاب، وعزيز ذي انتقام، وسريع الحساب وشبهها، فإنه يجب على العبد الوقوف عند أمره، واجتناب نهيه، واستشعار خشية الله تَعَالَى من أجلها، خوف وعيده، وشديد عقابه، هذا وجه إحصائها عملًا، فهذا يدخل الجنة إن شاء الله، وأخبرني بعض أهل العلم عن

--------------------------------------------

(1) بدائع الفوائد، ابن القيم، (1/ 164)
তৃতীয় স্তর: তাঁর সুন্দর নামসমূহের মাধ্যমে তাঁকে ডাকা, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্যই সুন্দরতম নামসমূহ রয়েছে, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেগুলোর মাধ্যমেই ডাকো} [আল-আরাফ: ১৮০]। এটি দুই স্তরের; একটি হলো: প্রশংসা ও ইবাদতের দুআ, এবং দ্বিতীয়টি হলো: প্রার্থনা ও চাওয়ার দুআ। সুতরাং তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলি ব্যতীত তাঁর প্রশংসা করা যাবে না, তেমনিভাবে এগুলোর মাধ্যম ছাড়া তাঁর কাছে প্রার্থনাও করা যাবে না (১)।

 

‌‌৬ - আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের দাবি অনুযায়ী আমল করা:

ইবনে বাত্তাল "যে ব্যক্তি এগুলো গণনা (ইহসা) করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে" এই হাদীসের অর্থে বলেন: "আল্লাহই ভালো জানেন, এই হাদীসে উদ্দিষ্ট 'ইহসা' বা গণনা হতে পারে: নামগুলো অনুযায়ী আমল করা এবং যাঁর নামে এগুলো রাখা হয়েছে তাঁর ইবাদত করা। যদি কেউ প্রশ্ন করে: আমলের মাধ্যমে সেগুলো গণনার পদ্ধতি কী? তাকে বলা হবে তার পদ্ধতি হলো:

মহান আল্লাহর যে নামগুলোর ক্ষেত্রে মুমিনের জন্য মহান আল্লাহর অনুসরণ করা আবশ্যক: যেমন পরম দয়ালু (আর-রাহীম), মহা দাতা (আল-কারীম), অত্যন্ত ক্ষমাশীল (আল-আফুউ), পরম ক্ষমাশীল (আল-গাফুর), গুণগ্রাহী (আশ-শাকুর), তওবা কবুলকারী (আত-তাওয়াব) এবং এ জাতীয় নামসমূহ; কেননা মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার মাঝে এগুলোর প্রতিফলন দেখতে পছন্দ করেন এবং তাদের জন্য এগুলোর অর্থ পছন্দ করেন, আর এগুলোর ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর অনুসরণ করা পছন্দ করেন। এটি হলো এই প্রকারের নামগুলো অনুযায়ী আমলের পদ্ধতি। আর যে নামগুলোর অর্থ বান্দার জন্য শোভনীয় নয় যেমন: আল্লাহ, একক (আল-আহাদ), অতি পবিত্র (আল-কুদ্দুস), মহা প্রতাপশালী (আল-জাব্বার), সর্বোচ্চ (আল-মুতাআল), অহংকারী (আল-মুতাকাব্বির), মহান (আল-আজিম), পরাক্রমশালী (আল-আজিজ), শক্তিশালী (আল-কাবি) এবং এ জাতীয় নামসমূহ; সেক্ষেত্রে বান্দার উপর আবশ্যক হলো এগুলোর স্বীকৃতি দেওয়া, এগুলোর সামনে নিজেকে তুচ্ছ করা এবং এগুলোকে ভয় করা।

আর যা শাস্তির হুমকির অর্থ বহন করে: যেমন কঠোর শাস্তিদাতা (শাদীদুল ইক্বাব), প্রতিশোধ গ্রহণকারী পরাক্রমশালী (আজিজুন যুনতিক্বাম), দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী (সারীউল হিসাব) এবং এ জাতীয় নামসমূহ; সেক্ষেত্রে বান্দার কর্তব্য হলো তাঁর আদেশের সামনে অনুগত থাকা, তাঁর নিষেধ বর্জন করা এবং এই নামগুলোর কারণে আল্লাহর ভীতি অন্তরে অনুভব করা, তাঁর শাস্তির হুমকি ও কঠোর আজাবকে ভয় করা। এটিই হলো আমলের মাধ্যমে নামগুলো গণনার পদ্ধতি, আর এমন ব্যক্তি ইনশাআল্লাহ জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমাকে জনৈক আলেম জানিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) বাদাইউল ফাওয়াইদ, ইবনুল কাইয়্যিম, (১/ ১৬৪)
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৬)
أبى محمد الأصيلى أنه أشار إلى هذا المعنى غير أنه لم يشرحه فقال: الإحصاء لأسمائه تَعَالَى هو: العمل بها، لا عدّها وحفظها فقط؛ لأنه قد يعدها المنافق والكافر وذلك غير نافع له»(1).

 

‌‌7 - معرفة أسماء الله الحسنى من أعظم أسباب إجابة الدعاء:

فالله سُبْحَانَهُ أمر عباده أولا بدعائه بأسمائه الحسنى، في قول تَعَالَى:

{وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} [الأعراف: 180]، ووعد بالإجابة في قوله تَعَالَى: {ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ} [غافر: 60].

وفي حديث ابن مسعود رضي الله عنه عن رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم؛ أنه قال: «مَا أَصَابَ أَحَدًا قَطُّ هَمٌ ولا حَزَنٌ، فَقَالَ: اللهُمَّ إِني عَبْدُك، ابْنُ عَبْدِك، ابْنُ أَمَتِك، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ، مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ، عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ، أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ، أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِك، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الغَيْبِ عِنْدَكَ، أَنْ تَجْعَلَ القُرْآنَ العَظِيمَ رَبِيعَ قَلْبِي، وَنُورَ صَدْرِي، وَجلَاءَ حُزْنِي، وَذَهَابَ هَمِّي، إِلَّا أَذْهَبَ اللهُ هَمَّهُ وَحَزَنَهُ وأَبْدَلَ مَكَانَه فَرَحًا». فَقِيلَ: يَا رَسُولَ الله، أَفَلَا نَتَعَلَّمُها؟ فَقَالَ: «بَلَى يَنْبَغِي لِكُلِّ مَنْ سَمِعَها أَنْ يَتَعَلَّمَها»(2).

 

‌‌8 - محبة الله لمن فقه أسماءه الحسنى وأحبها:

ومما يدل على ذلك حديث عَاِئشَةَ رضي الله عنها؛ أنَّ النبيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ رَجُلًا عَلَى سَرِيَّةٍ، وَكَانَ يَقْرَأُ لِأَصْحَابِهِ في صَلَاتِهِم، فَيَخْتِمُ بقُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ، فَلَمَّا رَجَعُوا ذَكَرُوا ذَلِكَ للنَّبِي صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «سَلُوهُ لَأَي شَيْءٍ يَصْنَعُ

--------------------------------------------

(1) شرح صحيح البخاري، (10/ 420)

(2) أخرجه البخاري، رقم الحديث: (6306)
আবু মুহাম্মাদ আল-আসিলি এই অর্থের দিকে ইঙ্গিত করেছেন, যদিও তিনি এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলার নামসমূহ গণনা (ইহসা) করার অর্থ হলো সে অনুযায়ী আমল করা, কেবল সেগুলো গণনা করা বা মুখস্থ করা নয়। কারণ মুনাফিক ও কাফিরও সেগুলো গণনা করতে পারে, আর তা তাদের জন্য কোনো উপকারে আসবে না।"(১).

 

‌‌৭ - আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা দুআ কবুল হওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সর্বপ্রথম তাঁর বান্দাদের তাঁর সুন্দর নামসমূহের মাধ্যমে তাঁকে ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন:

{আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সব সুন্দর নাম, কাজেই তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো} [আল-আরাফ: ১৮০], এবং তিনি দুআ কবুল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব} [গাফির: ৬০]।

ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «কখনো কোনো ব্যক্তি কোনো দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগে আক্রান্ত হয়ে যদি বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা, আপনার এক দাসের পুত্র, আপনার এক দাসীর পুত্র; আমার ললাট আপনার হাতে, আমার ওপর আপনার নির্দেশ কার্যকর, আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা ইনসাফপূর্ণ। আমি আপনার কাছে আপনার সেই প্রত্যেকটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি, যে নাম আপনি নিজের জন্য রেখেছেন, অথবা আপনার কিতাবে নাজিল করেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন, অথবা আপনার কাছে অদৃশ্যের জ্ঞানে সংরক্ষিত রেখেছেন—আপনি মহান কুরআনকে আমার হৃদয়ের বসন্ত, আমার বক্ষের জ্যোতি, আমার দুঃখের অপসারণকারী এবং আমার দুশ্চিন্তা দূরকারী বানিয়ে দিন; তবে আল্লাহ অবশ্যই তার দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ দূর করে দেবেন এবং তার পরিবর্তে তাকে আনন্দ দান করবেন।» বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি এ শব্দগুলো শিখে নেব না? তিনি বললেন: «হ্যাঁ, যে ব্যক্তি তা শুনবে তার উচিত তা শিখে নেওয়া»(২).

 

‌‌৮ - যে ব্যক্তি আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ অনুধাবন করে এবং সেগুলো ভালোবাসে, তার প্রতি আল্লাহর মহব্বত:

এর প্রমাণ হলো আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিস; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে একটি ছোট যুদ্ধাভিযানে সেনাপতি করে পাঠালেন। তিনি নামাজে তাঁর সাথীদের ইমামতি করতেন এবং প্রতিবার কিরাত শেষে 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' (সুরা ইখলাস) পাঠ করে শেষ করতেন। যখন তারা ফিরে এলেন, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেন: «তাকে জিজ্ঞেস করো, সে কেন এমন করে?»

--------------------------------------------

(১) শারহু সহীহ আল-বুখারী, (১০/ ৪২০)

(২) বুখারী কর্তৃক সংগৃহীত, হাদিস নম্বর: (৬৩০৬)
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৭)
ذلك؟» فَسَأَلُوهُ، فَقَالَ: لأنَّها صِفَةُ الرَّحْمَنِ، وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَقْرَأَ بِهَا. فقالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: «أَخْبِرُوه أنَّ اللهَ يُحِبُّه»(1)، وَفِي حَدِيثٍ آخَرَ، قالَ الرَّجُلُ: إِنِّي أُحِبُّها، فَقَالَ: «حُبُّك إِياها أَدْخَلَكَ الجَنَّةَ»(2).

 

‌‌9 - معرفة أسماء الله الحسنى تورث حياة طيبة للعبد:

ومن ذلك: الصبر على المكروهات والمصائب النازلة بالعبد، فهو سُبْحَانَهُ حكيم عليم، حكم عدل، ولا يظلم أحداً فمن عرف ربًا كذلك صبر على قضائه وقدره، يقول ابن القيم: «من صحت له معرفة ربه والفقه في أسمائه وصفاته علم يقيناً أن المكروهات التي تصيبه والمحن الذي تنزل به فيها ضروب من المصالح والمنافع، التي لا يحصيها علمه ولا فكرته، بل مصلحة العبد فيما يكره أعظم منها فيما يحب»(3).

ومن ذلك أيضًا: حسن الظن بالله والثقة به تَعَالَى، فمعرفة أنه قادر حكيم، فعال لما يريد، يوجب ذلك، يقول ابن القيم: «وأكثر الناس يظنون بالله غير الحق ظن السوء فيما يختص بهم، وفيما يفعله بغيرهم، ولا يسلم عن ذلك إلا من عرف الله وعرف أسماءه وصفاته، وعرف موجب حمده وحكمته، فمن قنط من رحمته وأيس من روحه، فقد ظن به ظن السوء، ومن جوز عليه أن يعذب أولياءه مع إحسانهم وإخلاصهم ويسوي بينهم وبين أعدائه، فقد ظن به ظن السوء، ومن ظن به أن يترك خلقه سدى معطلين عن الأمر والنهي،

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري، رقم الحديث (7375)، ومسلم، رقم الحديث: (813).

(2) أخرجه البخاري في مختصره، رقم الحديث: (130).

(3) الفوائد، (ص: 92)
কেন এটি?" তখন তারা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তিনি বললেন: "কারণ এটি দয়াময় আল্লাহর গুণাবলি (বর্ণনা করে), আর আমি এটি পাঠ করতে ভালোবাসি।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তাকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন"(১)। অন্য একটি হাদীসে রয়েছে, সেই ব্যক্তি বললেন: "নিশ্চয়ই আমি একে ভালোবাসি।" তখন তিনি বললেন: "এর প্রতি তোমার ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছে"(২).

 

‌‌৯ - আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান বান্দার জন্য পবিত্র জীবন বয়ে আনে:

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: বান্দার ওপর আপতিত অপ্রীতিকর বিষয় এবং বিপদ-আপদে ধৈর্য ধারণ করা। কেননা তিনি সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ, ন্যায়বিচারক ফয়সালাকারী, এবং তিনি কারও প্রতি জুলুম করেন না। সুতরাং যে ব্যক্তি তার রবকে এভাবে চিনবে, সে তাঁর ফয়সালা ও তাকদীরের ওপর ধৈর্য ধারণ করবে। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "যার জন্য তার রব সম্পর্কে পরিচয় এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির সঠিক জ্ঞান অর্জিত হয়েছে, সে নিশ্চিতভাবে জানে যে, তার ওপর আপতিত অপ্রীতিকর বিষয় ও পরীক্ষাগুলোর মধ্যে নানাবিধ কল্যাণ ও উপকার নিহিত রয়েছে, যা তার জ্ঞান বা চিন্তা দ্বারা নিরূপণ করা সম্ভব নয়। বরং বান্দার জন্য সে যা অপছন্দ করে তার মধ্যে নিহিত কল্যাণ, সে যা পছন্দ করে তার চেয়েও মহত্তর"(৩)।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে সুধারণা পোষণ করা এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখা। কেননা তিনি সক্ষম, প্রজ্ঞাময় এবং তিনি যা ইচ্ছা তা সম্পাদনকারী—এই পরিচয় থাকলে তা (সুধারণা ও আস্থা) অপরিহার্য করে দেয়। ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: "অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ সম্পর্কে অবাস্তব ও মন্দ ধারণা পোষণ করে—তাদের নিজেদের বিষয়ে এবং অন্যদের প্রতি আল্লাহর কর্মের বিষয়ে। এ থেকে কেবল তারাই মুক্তি পায় যারা আল্লাহকে চিনেছে, তাঁর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জেনেছে এবং তাঁর প্রশংসা ও প্রজ্ঞার দাবি অনুধাবন করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় এবং তাঁর করুণা থেকে হতাশ হয়, সে তাঁর প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করল। আর যে ব্যক্তি ধারণা করল যে, আল্লাহ তাঁর বন্ধুদের তাদের ইহসান ও ইখলাস থাকা সত্ত্বেও শাস্তি দেবেন এবং তাদের ও তাঁর শত্রুদের সমান করে দেবেন, সে তাঁর প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করল। আর যে ব্যক্তি তাঁর সম্পর্কে ধারণা করল যে, তিনি তাঁর সৃষ্টিজগতকে আদেশ ও নিষেধ মুক্ত অবস্থায় নিরর্থক ছেড়ে দেবেন,

--------------------------------------------

(১) বুখারী কর্তৃক বর্ণিত, হাদীস নং (৭৩৭৫); মুসলিম, হাদীস নং (৮১৩)।

(২) বুখারী তাঁর মুখতাসার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং (১৩০)।

(৩) আল-ফাওয়াইদ, (পৃষ্ঠা: ৯২)
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৮)
ولا يرسل إليهم رسله، ولا ينزل عليهم كتبه، بل يتركهم هملا كالأنعام، فقد ظن به ظن السوء … »(1)

ومن ذلك أيضًا: حسن الخلق وسلامة السلوك والسلامة من الآفات كالعجب والكبر والحسد، فمن عرف ربه بأسمائه وصفاته لم يتكبر ولم يحسد أحداً على ما آتاه الله؛ لأن الحسد في الحقيقة مضاد لله في حكمته، فإنعام الله على عبده تابع لحكمته والحاسد يكره هذا الإنعام وقد اقتضته حكمة الله، فهو مضاد لله تَعَالَى في حكمته وقضائه وقدره.

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد في هدي خير العباد، (3/ 206)
আর তিনি তাদের নিকট তাঁর রাসূলগণকে পাঠাবেন না, এবং তাদের প্রতি তাঁর কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করবেন না, বরং তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় লক্ষ্যহীনভাবে পরিত্যাগ করবেন—তবে সে আল্লাহর প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করল … »(১)

এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো: উত্তম চরিত্র, আচরণের বিশুদ্ধতা এবং আত্মম্ভরিতা, অহংকার ও হিংসার মতো ব্যাধি থেকে মুক্তি। সুতরাং যে ব্যক্তি তার রবকে তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির মাধ্যমে চিনেছে, সে অহংকার করবে না এবং আল্লাহ কাউকে যা দান করেছেন তার জন্য তাকে হিংসা করবে না; কেননা হিংসা প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর হিকমতের (প্রজ্ঞার) বিরোধিতা করা। কারণ বান্দার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ তাঁর হিকমতের অনুগামী, আর হিংসুক এই অনুগ্রহকে অপছন্দ করে অথচ আল্লাহর হিকমতই তা দাবি করেছে। ফলে সে মহান আল্লাহর হিকমত, ফয়সালা ও তকদিরের বিরোধিতা করল।

--------------------------------------------

(১) যাদুল মাআদ ফি হাদয়ি খাইরিল ইবাদ, (৩/ ২০৬)
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌قواعد في أسماء الله وصفاته وفق منهج أهل السنة والجماعة (1)

إن من أجل العلوم وأعظمها نفعًا وأكثرها فائدة معرفة القواعد والأصول، والضوابط الكلية الجامعة، وذلك لأن «الأصول والقواعد للعلوم بمنزلة الأساس للبنيان، والأصول للأشجار، لا ثبات لها إلا بها، والأصول تبنى عليها الفروع، والفروع تثبت وتتقوى بالأصول، وبالقواعد والأصول يثبت العلم ويقوى وينمى نماءً مطردًا، وبها تعرف مآخذ الأصول، وبها يحصل الفرقان بين المسائل التي تشتبه كثيرا، كما أنها تجمع النظائر والأشباه التي من جمال العلم جمعها، غير ذلك من الفوائد العظيمة والمنافع الجليلة»(2).

وعليه فإذا ضُبطت هذه القواعد وفهمت الأصول، أمكن الإلمام بكثير من المسائل التي هي بمثابة الفروع لها، وأمن الخلط بين المسائل التي قد تشتبه، وكان فيها تسهيل لفهم العلم وحفظه وضبطه، وبها يكون الكلام مبنيًا على علم متين وعدل وإنصاف، يقول شيخ الإسلام ابن تيمية في ذلك: «لابد أن يكون مع الإنسان أصول كلية تُرد إليها الجزئيات؛ ليتكلم بعلم وعدل، ثم يعرف الجزئيات كيف وقعت، وإلا فيبقى في كذب وجهل في الجزئيات،

--------------------------------------------

(1) المرجع الأساسي: القواعد المثلى في صفات الله وأسمائه الحسنى، ابن عثيمين، بتصرف يسير، وما تم نقله بالنص أضفته بين قوسي تنصيص، وأحلت على رقم الصفحة من الكتاب في الهامش.

(2) طريق الوصول إلى العلم المأمول بمعرفة القواعد والضوابط والأصول، السعدي، (ص: 6).
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের মানহাজ অনুযায়ী আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কিত কতিপয় মূলনীতি(১)

নিশ্চয়ই সর্বাধিক মহান, অত্যন্ত উপকারী এবং সবচেয়ে বেশি কল্যাণকর জ্ঞানের অন্যতম হলো মূলনীতি, উৎস এবং সর্বজনীন ও সমন্বিত বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। কারণ, "জ্ঞানের ক্ষেত্রে উৎস ও মূলনীতিসমূহ হলো ইমারতের জন্য ভিত্তিস্বরূপ এবং গাছের জন্য মূলস্বরূপ; এগুলো ছাড়া এগুলোর কোনো স্থায়িত্ব নেই। আর উৎসের ওপর শাখা-প্রশাখা নির্মিত হয় এবং উৎসের মাধ্যমেই শাখা-প্রশাখা দৃঢ় ও শক্তিশালী হয়। মূলনীতি ও উৎসের মাধ্যমেই জ্ঞান স্থির হয়, শক্তিশালী হয় এবং ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। এগুলোর মাধ্যমেই উৎসের উৎসস্থল জানা যায় এবং প্রায়শই সাদৃশ্যপূর্ণ মনে হয় এমন মাসআলাসমূহের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা সম্ভব হয়। একইভাবে এটি সমজাতীয় ও সদৃশ বিষয়গুলোকে একত্রিত করে, যা জ্ঞানের সৌন্দর্যের অন্যতম দিক। এ ছাড়াও এর আরও অনেক মহৎ উপকারিতা ও মহান কল্যাণ রয়েছে"(২)।

অতএব, এই মূলনীতিগুলো যদি আয়ত্ত করা যায় এবং উৎসগুলো বোঝা যায়, তবে এর অন্তর্ভুক্ত শাখা-প্রশাখা হিসেবে গণ্য হয় এমন অসংখ্য মাসআলা সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা লাভ করা সম্ভব হবে। সেইসাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মাসআলাগুলোর মধ্যে গোলমাল হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এটি জ্ঞান অর্জন, মুখস্থ রাখা এবং আয়ত্ত করার কাজকে সহজ করে দেয়। এর মাধ্যমেই কোনো বক্তব্য সুদৃঢ় জ্ঞান, ন্যায়বিচার ও ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এ প্রসঙ্গে বলেন: "মানুষের সাথে অবশ্যই এমন কিছু মৌলিক নীতি থাকতে হবে যার দিকে সে খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে; যাতে সে জ্ঞান ও ন্যায়ের সাথে কথা বলতে পারে। অতঃপর সে জানবে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো কীভাবে সংঘটিত হয়েছে। অন্যথায় সে খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে মিথ্যা ও অজ্ঞতার মাঝে নিমজ্জিত থাকবে,"

--------------------------------------------

(১) মূল উৎস: আল-কাওয়ায়েদুল মুসলা ফি সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা, ইবনে উসাইমীন, সামান্য পরিমার্জিত। যা হুবহু উদ্ধৃত করা হয়েছে তা আমি উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রেখেছি এবং পাদটীকায় বইটির পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি।

(২) ত্বরিকুল উসুল ইলাল ইলমিল মামুল বি-মারিফাতিল কাওয়ায়েদ ওয়ায যাওয়াবিত ওয়াল উসুল, আস-সা'দী, (পৃষ্ঠা: ৬)।
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩০)
وجهل وظلم في الكليات، فيتولد فساد عظيم»(1).

وفيما يلي جملة من القواعد الأساسية، والضوابط المهمة في فقه أسماء الله الحسنى، مستمدة من الشريعة الإسلامية، معلومة بالاستقراء والتتبع لنصوص الكتاب والسنة، وفي فهمها إعانة لفهم أسماء الله تَعَالَى وصفاته وفق منهج أهل السنة والجماعة، بعيدًا عن أراء أهل البدع والضلال.

--------------------------------------------

(1) الفتاوى، ابن تيمية، (19/ 203)
মৌলিক বিষয়সমূহে অজ্ঞতা ও অবিচার, যার ফলে মহা বিপর্যয় সৃষ্টি হয়»(১).

নিম্নে মহান আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের গভীর জ্ঞান ও উপলব্ধির ক্ষেত্রে কতিপয় মৌলিক নীতিমালা ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলি তুলে ধরা হলো, যা ইসলামি শরিয়ত থেকে আহরিত এবং কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহের গভীর অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সুনিশ্চিত। এসকল নীতিমালা অনুধাবন করা মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলিকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ অনুযায়ী বুঝতে সহায়ক হবে এবং বিদআত ও ভ্রষ্টতা অবলম্বনকারীদের মতামত থেকে দূরে রাখবে।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়্যাহ, (১৯/ ২০৩)
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌أولا: أبرز القواعد في أسماء الله تعالى:

‌‌القاعدة الأولى: أسماء الله تَعَالَى كلها حسنى:

أي: بالغة في الحسن غايته، وقد وصف الله سُبْحَانَهُ أسماءه بالحسنى في أربع آيات من القرآن الكريم، وهي:

قوله تَعَالَى: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (180)} [الأعراف: 180].

قوله تَعَالَى: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيًّا مَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى وَلَا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بِهَا وَابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا (110)} [الإسراء: 110].

قوله تَعَالَى: {اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى (8)} [طه: 8].

قوله تَعَالَى: {هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (24)} [الحشر: 24].

وسميت بالحسنى؛ لأنها متضمنة للصفات الكاملة، التي لا نقص فيها بوجه من الوجوه، لا احتمالًا ولا تقديرًا، فمثلًا اسم الله (العليم) متضمن للعلم الكامل الذي لم يسبق بجهل، ولا يلحقه نسيان، يقول تَعَالَى: {قَالَ فَمَا بَالُ الْقُرُونِ الْأُولَى (51) قَالَ عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي فِي كِتَابٍ لَا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنْسَى (52)} [طه: 51 - 52]، ويقول سُبْحَانَهُ: {وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ (59)} [الأنعام: 59]، والحسن في أسماء الله تَعَالَى يكون باعتبار كل اسم على انفراده، ويكون باعتبار جمعه إلى غيره، فيحصل
প্রথমত: আল্লাহ তাআলার নামসমূহের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতিসমূহ:

প্রথম মূলনীতি: আল্লাহ তাআলার নামসমূহ সবই অত্যন্ত সুন্দর:

অর্থাৎ: সৌন্দর্যের দিক থেকে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর আল্লাহ সুবহানাহু কুরআনুল কারীমের চারটি আয়াতে তাঁর নামসমূহকে 'হুসনা' (সর্বোত্তম সুন্দর) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেগুলো হলো:

আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোত্তম সুন্দর নামসমূহ। অতএব তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো। আর তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নামসমূহের বিকৃতি ঘটায়। তারা যা করত, অচিরেই তাদের তার ফল দেওয়া হবে।" [আল-আরাফ: ১৮০]।

আল্লাহ তাআলার বাণী: "বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো অথবা রহমান নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্যই রয়েছে সর্বোত্তম সুন্দর নামসমূহ। আর আপনি আপনার সালাতে স্বর খুব বেশি উচ্চ করবেন না এবং খুব বেশি নিচুও করবেন না; বরং এর মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন করুন।" [আল-ইসরা: ১১০]।

আল্লাহ তাআলার বাণী: "আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। তাঁর জন্যই রয়েছে সর্বোত্তম সুন্দর নামসমূহ।" [ত্বহা: ৮]।

আল্লাহ তাআলার বাণী: "তিনিই আল্লাহ—স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী। তাঁর জন্যই রয়েছে সর্বোত্তম সুন্দর নামসমূহ। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" [আল-হাশর: ২৪]।

আর এই নামসমূহকে 'হুসনা' (সর্বোত্তম সুন্দর) নামকরণ করা হয়েছে; কারণ এগুলো এমন পূর্ণাঙ্গ গুণাবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে, যাতে কোনো দিক থেকেই কোনো কমতি বা ত্রুটি নেই—না সম্ভাব্যভাবে, আর না অনুমিতভাবে। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহর নাম (আল-আলিম) এমন পূর্ণ জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে যা কোনো অজ্ঞতার পরবর্তী নয় এবং যাকে কোনো বিস্মৃতি স্পর্শ করে না। আল্লাহ তাআলা বলেন: "সে (ফেরাউন) বলল, তাহলে অতীত যুগের লোকদের অবস্থা কী? তিনি (মুসা) বললেন, সে জ্ঞান আমার রবের কাছে কিতাবে আছে; আমার রব পথ হারান না এবং বিস্মৃতও হন না।" [ত্বহা: ৫১ - ৫২]। তিনি সুবহানাহু আরও বলেন: "আর তাঁর কাছেই আছে অদৃশ্যের চাবিকাঠি; তিনি ছাড়া আর কেউ তা জানে না। আর স্থলে ও সমুদ্রে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। তাঁর অগোচরে একটি পাতাও পড়ে না এবং জমিনের অন্ধকারাচ্ছন্ন অংশে এমন কোনো শস্যকণাও নেই, আর না আছে কোনো সরস বা নীরস বস্তু যা একটি সুস্পষ্ট কিতাবে নেই।" [আল-আনআম: ৫৯]। আল্লাহ তাআলার নামসমূহের এই সৌন্দর্য প্রতিটি নামের একক অবস্থানের বিবেচনায়ও হয়, আবার অন্য নামের সাথে মিলিত হওয়ার বিবেচনায়ও হয়, ফলে অর্জিত হয়
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩২)
بجمع الاسم إلى الآخر كمال فوق كمال.

ويشترط في الاسم ليكون من أسماء الله الحسنى اجتماع ثلاثة شروط، وهي:

أن يكون قد جاء في الكتاب والسنة، يعني نُص عليه في الكتاب والسنة، نُص عليه بالاسم لا بالفعل، ولا بالمصدر.

أن يكون مما يدعى الله عز وجل به.

أن يكون متضمنًا لمدح كامل مطلق غير مخصوص.

 

‌‌القاعدة الثانية: أسماء الله تَعَالَى أعلام وأوصاف:

فهي أعلام باعتبار: دلالتها على الذات، وبهذا الاعتبار تعد مترادفة؛ لدلالتها على مسمى واحد، وهو الله عز وجل، أما اعتبارها أوصافًا فبما دلت عليه من المعاني، وبهذا الاعتبار تعد متباينة، لدلالة كل واحد منهما على معناه الخاص.

فمثلا: «الحي، العليم، القدير، السميع، البصير»، كلها أسماء لمسمى واحد وهو الله سبحانه وتعالى، لكن معنى الحي غير معنى العليم، ومعنى العليم غير معنى القدير، وهكذا.

 

‌‌القاعدة الثالثة: أسماء الله تَعَالَى إن دلت على وصف متعد تضمنت ثلاثة أمور:

أحدها: ثبوت ذلك الاسم لله عز وجل.

الثاني: ثبوت الصفة التي تضمنها لله عز وجل.
একটি নামের সাথে অন্য নাম যুক্ত করার মাধ্যমে পূর্ণতার ওপর পূর্ণতা অর্জিত হয়।

কোনো নাম আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য তিনটি শর্ত একত্রিত হওয়া আবশ্যক, আর সেগুলো হলো:

তা কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে প্রমাণিত হতে হবে। অর্থাৎ, কুরআন ও সুন্নাহতে তা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হতে হবে; এটি নাম হিসেবেই বর্ণিত হতে হবে, ক্রিয়া বা মূলশব্দ হিসেবে নয়।

এমন হতে হবে যা দ্বারা মহান আল্লাহকে ডাকা বা তাঁর নিকট প্রার্থনা করা যায়।

এটি যেন এমন হয় যা কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিরঙ্কুশ ও পূর্ণাঙ্গ প্রশংসাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

 

‌‌দ্বিতীয় নীতি: মহান আল্লাহর নামসমূহ একইসাথে ব্যক্তিনাম এবং গুণবাচক নাম:

স্বীয় সত্তার ওপর নির্দেশক হওয়ার বিচারে এগুলো ব্যক্তিনাম; আর এই বিচারে এগুলো সমার্থবোধক, কারণ এগুলো একই সত্তাকে অর্থাৎ মহান আল্লাহকে নির্দেশ করে। পক্ষান্তরে এগুলো যে অর্থের ওপর নির্দেশ করে, সেই বিচারে এগুলো গুণবাচক নাম; আর এই বিচারে এগুলো ভিন্ন ভিন্ন অর্থবোধক, কারণ এগুলোর প্রতিটি নিজস্ব স্বতন্ত্র অর্থের ওপর নির্দেশ করে।

উদাহরণস্বরূপ: ‘আল-হাই’ (চিরঞ্জীব), ‘আল-আলিম’ (সর্বজ্ঞ), ‘আল-কাদির’ (সর্বশক্তিমান), ‘আস-সামি’ (সর্বশ্রোতা), ‘আল-বাসির’ (সর্বদ্রষ্টা)—এই সবই মূলত এক সত্তার নাম, আর তিনি হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা। কিন্তু ‘আল-হাই’ এর অর্থ ‘আল-আলিম’ এর অর্থ থেকে ভিন্ন, এবং ‘আল-আলিম’ এর অর্থ ‘আল-কাদির’ এর অর্থ থেকে ভিন্ন; একইভাবে অন্যান্যগুলোও।

 

‌‌তৃতীয় নীতি: মহান আল্লাহর নামসমূহ যদি কোনো সকর্মক গুণের ওপর নির্দেশ করে, তবে তা তিনটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

এক: মহান আল্লাহর জন্য সেই নামটি সাব্যস্ত হওয়া।

দুই: সেই নামটির অন্তর্ভুক্ত গুণটি মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত হওয়া।
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الثالث: ثبوت حكمها ومقتضاها.

مثال ذلك: «السميع» يتضمن إثبات السميع اسما لله تَعَالَى وإثبات السمع صفة له، وإثبات حكم ذلك ومقتضاه، وهو أنه يسمع السر والنجوى، كما قال تَعَالَى «والله يسمع تحاوركما إن الله سميع بصير».

وإن دلت على وصف غير متعد تضمنت أمرين:

أحدهما: ثبوت ذلك الاسم لله عز وجل.

الثاني: ثبوت الصفة التي تضمنها لله عز وجل.

مثال ذلك: «الحي» يتضمن إثبات الحي اسما لله عز وجل وإثبات الحياة صفة له.

 

‌‌القاعدة الرابعة: دلالة أسماء الله تَعَالَى على ذاته وصفاته تكون: بالمطابقة، وبالتضمن، وبالالتزام.

مثال ذلك: «الخالق» يدل على ذات الله، وعلى صفة الخلق بالمطابقة، ويدل على الذات وحدها، وعلى صفة الخلق وحدها بالتضمن، ويدل على صفتي العلم والقدرة بالالتزام.

ولهذا لما ذكر الله خلق السماوات والأرض قال: «لتعلموا أن الله على كل شيء قدير وأن الله قد أحاط بكل شيء علما».

ودلالة الالتزام مفيدة جدًا لطالب العلم إذا تدبر المعنى، ووفقه الله تَعَالَى فهمًا للتلازم، فإنه بذلك يحصل من الدليل الواحد على مسائل كثيرة.
তৃতীয়: তার বিধান ও অপরিহার্য বিষয় সাব্যস্ত হওয়া।

এর উদাহরণ হলো: ‘আস-সামি’ (সর্বশ্রোতা) নামটির মধ্যে মহান আল্লাহর জন্য ‘আস-সামি’ নামটি সাব্যস্ত হওয়া, ‘সাম’ (শ্রবণ করা) গুণটি সাব্যস্ত হওয়া এবং এর বিধান ও দাবি সাব্যস্ত হওয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; আর তা হলো তিনি গোপন কথা ও কানাকানি শোনেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: “আল্লাহ তোমাদের কথোপকথন শোনেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।”

আর যদি তা অ-সকর্মক (অ-সংক্রামক) গুণের ওপর নির্দেশ করে, তবে তা দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

এক: মহান আল্লাহর জন্য সেই নামটি সাব্যস্ত হওয়া।

দুই: মহান আল্লাহর জন্য সেই নামের অন্তর্ভুক্ত গুণটি সাব্যস্ত হওয়া।

এর উদাহরণ হলো: ‘আল-হাই’ (চিরঞ্জীব) নামটির মধ্যে মহান আল্লাহর জন্য ‘আল-হাই’ নামটি সাব্যস্ত হওয়া এবং তাঁর জন্য ‘হায়াত’ (জীবন) গুণটি সাব্যস্ত হওয়া অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

‌‌চতুর্থ নিয়ম: মহান আল্লাহর নামসমূহ তাঁর সত্তা ও গুণাবলির ওপর মুতাবাকাত (সামঞ্জস্য), তাদাম্মুন (অন্তর্ভুক্তি) এবং ইলতিযাম (অপরিহার্যতা)-এর মাধ্যমে নির্দেশ করে।

এর উদাহরণ হলো: ‘আল-খালিক’ (সৃষ্টিকর্তা) নামটির দ্বারা আল্লাহর সত্তা ও সৃষ্টির গুণের ওপর মুতাবাকাত-এর ভিত্তিতে নির্দেশ করে; আর শুধুমাত্র সত্তার ওপর অথবা শুধুমাত্র সৃষ্টির গুণের ওপর তাদাম্মুন-এর ভিত্তিতে নির্দেশ করে; এবং জ্ঞান ও ক্ষমতা—এই দুটি গুণের ওপর ইলতিযাম-এর ভিত্তিতে নির্দেশ করে।

এজন্যই আল্লাহ যখন আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেছেন, তখন বলেছেন: “যাতে তোমরা জানতে পারো যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং আল্লাহ সবকিছুকে তাঁর জ্ঞান দিয়ে পরিবেষ্টন করে আছেন।”

আর ইলতিযাম-এর নির্দেশ জ্ঞানান্বেষী ছাত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী, যদি সে অর্থ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে এবং মহান আল্লাহ তাকে এই অপরিহার্য সম্পর্কের বিষয়টি বোঝার তাওফিক দান করেন। কারণ এর মাধ্যমে সে একটিমাত্র দলিল থেকে অনেক মাসআলা অর্জন করতে পারে।
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌القاعدة الخامسة: أسماء الله تَعَالَى توقيفية لا مجال للعقل فيها.

وعليه فيجب الوقوف فيها على ما جاء به الكتاب والسنة، فلا يزاد فيها ولا ينقص، لأن العقل لا يمكنه إدراك ما يستحقه تَعَالَى من الأسماء، فوجب الوقوف في ذلك على النص، يقول تَعَالَى في ذلك: {وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا (36)} [الإسراء: 36]؛ ولأن تسميته تَعَالَى بما لم يسم به نفسه أو إنكار ما سمى به نفسه جناية في حقه تَعَالَى، ويدخل في الإلحاد في أسمائه تَعَالَى، وقد يقع صاحبه في التشبيه؛ لأن المشبهة وصفوا الله بما لم يأذن به الله تَعَالَى.

يقول الخطابي في ذلك: «ومن علم هذا الباب، أعني: الأسماء والصفات، ومما يدخل في أحكامه، ويتعلق به من شرائط، أنه لا يتجاوز فيها التوقيف، ولا يستعمل فيها القياس؛ فيلحق بالشيء نظيره في ظاهر وضع اللغة ومتعارف الكلام … ، فقد جاء في الأسماء: «القوي»، ولكن لا يقاس عليه الجلد، وإن كانا يتقاربان في نعوت الآدميين؛ لأن باب التجلد يدخله التكلف والاجتهاد، ولا يقاس على «القادر» المطيق ولا المستطيع؛ لأن الطاقة والاستطاعة إنما تطلقان على معنى قوة البنية، وتركيب الخلقة، ولا يقاس على «الرحيم» الرقيق، وإن كانت الرحمة في نعوت الآدميين نوعًا من رقة القلب، وفي صفات الله سُبْحَانَهُ: «الحليم» و «الصبور» فلا يجوز أن يقاس عليها الوقور والرزين»(1).

--------------------------------------------

(1) شأن الدعاء، (1/ 111)
পঞ্চম নিয়ম: মহান আল্লাহর নামসমূহ তাওকিফিয়্যাহ (শরীয়ত দ্বারা নির্ধারিত), এতে আকল বা যুক্তির কোনো অবকাশ নেই।

এর ওপর ভিত্তি করে এ কথা বলা আবশ্যক যে, আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহতে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। সুতরাং এতে কোনো কিছু বাড়ানো যাবে না এবং কমানোও যাবে না। কেননা, আকল বা বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির পক্ষে মহান আল্লাহ যে সকল নামের যোগ্য তা অনুধাবন করা সম্ভব নয়। তাই এ ক্ষেত্রে টেক্সট বা দলিলের (নস) ওপর নির্ভর করা ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ ও হৃদয়—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে (৩৬)} [আল-ইসরা: ৩৬]; কারণ আল্লাহ নিজেকে যে নামে নামান্বিত করেননি সে নামে তাকে অভিহিত করা অথবা তিনি নিজেকে যে নামে নামান্বিত করেছেন তা অস্বীকার করা মহান আল্লাহর হকের প্রতি একটি অপরাধ, যা আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে 'ইলহাদ' (বিচ্যুতি)-এর অন্তর্ভুক্ত। এমনকি এর ফলে ব্যক্তি 'তাশবিহ' (সাদৃশ্যকরণ)-এর মধ্যেও নিপতিত হতে পারে; কারণ মুশাব্বিহাগণ আল্লাহকে এমন সব গুণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছে যার অনুমতি মহান আল্লাহ প্রদান করেননি।

এ বিষয়ে খাত্তাবি বলেন: «আর যে ব্যক্তি এই অধ্যায় সম্পর্কে অবগত হয়েছে—আমি বুঝাতে চাচ্ছি: নাম ও গুণাবলি—এবং এর বিধানাবলি ও সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি সম্পর্কে জেনেছে, সে জানে যে এতে তাওকিফ (শরীয়তের বর্ণনা)-এর সীমা অতিক্রম করা যাবে না এবং এতে কিয়াস (সাদৃশ্য বা অনুমান) প্রয়োগ করা যাবে না; যার ফলে ভাষার বাহ্যিক গঠন এবং প্রচলিত বাকরীতির নিরিখে কোনো বিষয়কে তার সদৃশ অন্য কিছুর সাথে যুক্ত করা হয় … , আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে 'আল-কাবি' (শক্তিশালী) নামটি এসেছে, কিন্তু এর ওপর ভিত্তি করে 'আল-জালাদ' (দৃঢ়তা) নাম রাখা যাবে না, যদিও মানুষের গুণের ক্ষেত্রে শব্দ দুটি কাছাকাছি অর্থ প্রকাশ করে; কারণ দৃঢ়তা বা সহনশীলতার (তাজাল্লুদ) মধ্যে কৃত্রিমতা ও প্রচেষ্টার বিষয় জড়িত থাকে। আবার 'আল-কাদির' (ক্ষমতাবান)-এর ওপর ভিত্তি করে 'আল-মুতীক' (ভার বহনে সক্ষম) বা 'আল-মুস্তাতী' (সামর্থ্যবান) বলা যাবে না; কারণ শক্তি ও সামর্থ্য (তাকাত ও ইস্তিতাত) কেবল দৈহিক গঠন ও শারীরিক কাঠামোর শক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তদ্রূপ 'আর-রাহিম' (দয়ালু)-এর ওপর কিয়াস করে 'আর-রাকীক' (কোমল হৃদয়) বলা যাবে না, যদিও মানুষের গুণের ক্ষেত্রে দয়া বা রহমত হলো হৃদয়ের এক প্রকার কোমলতা। আল্লাহর গুণাবলির মধ্যে 'আল-হালিম' (ধৈর্যশীল/সহনশীল) এবং 'আস-সাবুর' (পরম ধৈর্যশীল) রয়েছে, তবে এগুলোর ওপর ভিত্তি করে তাকে 'আল-ওয়াকুর' (গম্ভীর) এবং 'আর-রাজিন' (স্থিরপ্রজ্ঞ) বলা জায়েজ নয়»(১)।

--------------------------------------------

(১) শানুদ দুআ, (১/ ১১১)
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌القاعدة السادسة: أسماء الله تَعَالَى غير محصورة بعدد معين:

لقوله صلى الله عليه وسلم في دعائه: «أسألُك بكلِّ اسمٍ هو لك سميتَ به نفسَك أوْ علَّمْتَه أحدًا مِنْ خلقِك أو أنزلته في كتابِك أو استأثرتَ به في علمِ الغيبِ»(1)، وما استأثر الله تَعَالَى به في علم الغيب لا يمكن أحدا حصره ولا الإحاطة به.

وفي الجمع بين هذا الحديث وحديث: «إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ»(2)

يقول ابن حجر: «وقد اختلف في هذا العدد -يقصد: حديث «إن لله تسعة وتسعين اسما» - هل المراد به حصر الأسماء الحسنى في هذه العدة؟ أو أنها أكثر من ذلك، ولكن اختصت هذه بأن من أحصاها دخل الجنة؟ فذهب الجمهور إلى الثاني ونقل النووي اتفاق العلماء عليه، فقال: ليس في الحديث حصر أسماء الله تَعَالَى، وليس معناه أنه ليس له اسم غير هذه التسعة والتسعين وإنما مقصود الحديث أن هذه الأسماء من أحصاها دخل الجنة، فالمراد الإخبار عن دخول الجنة بإحصائها، لا الإخبار بحصر الأسماء، ويؤيده قوله صلى الله عليه وسلم في حديث بن مسعود: «أسألُك بكلِّ اسمٍ هو لك سميتَ به نفسَك أوْ علَّمْتَه أحدًا مِنْ خلقِك أو أنزلته في كتابِك أو استأثرتَ به في علمِ الغيبِ»(3)

«فأما قوله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ لِلَّهِ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ اسْمًا مِائَةً إِلا وَاحِدًا مَنْ أَحْصَاهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ» فلا يدل على حصر الأسماء بهذا العدد، ولو كان المراد

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري، رقم الحديث: (6306)

(2) أخرجه البخاري، رقم الحديث: (7392)، ومسلم، رقم الحديث: (2677).

(3) فتح الباري في شرح صحيح البخاري، (11/ 220)
ষষ্ঠ নীতি: মহান আল্লাহর নামসমূহ নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়:

কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুআয় বলেছেন: «আমি আপনার কাছে আপনার প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি, যা আপনি নিজের জন্য রেখেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন, অথবা আপনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন, অথবা আপনার কাছে অদৃশ্যের জ্ঞানে সংরক্ষিত রেখেছেন»(১)। আর মহান আল্লাহ অদৃশ্যের জ্ঞানে যা নিজের জন্য বিশেষিত করেছেন, তা কারো পক্ষে সীমাবদ্ধ করা বা পূর্ণাঙ্গরূপে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়।

এই হাদীস এবং নিচের হাদীসটির মধ্যে সমন্বয় করার ক্ষেত্রে: «নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে—এক কম একশটি; যে ব্যক্তি এগুলো গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»(২)

ইবনে হাজার বলেন: «এই সংখ্যাটি নিয়ে মতভেদ হয়েছে—অর্থাৎ: 'নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে' এই হাদীসটি প্রসঙ্গে—এর দ্বারা কি উদ্দেশ্য আল্লাহর সুন্দর নামসমূহকে এই সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা? নাকি নামসমূহ এর চেয়েও বেশি, কিন্তু এই নামগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো যে ব্যক্তি এগুলো গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে? জমহুর (অধিকাংশ আলেম) দ্বিতীয় মতটি গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম নববী এ বিষয়ে আলেমদের ঐকমত্যের কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: এই হাদীসে মহান আল্লাহর নামসমূহ সীমাবদ্ধ করা হয়নি। এর অর্থ এই নয় যে, এই নিরানব্বইটি ছাড়া তাঁর আর কোনো নাম নেই। বরং হাদীসটির উদ্দেশ্য হলো, এই নামগুলো যে ব্যক্তি গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সুতরাং এখানে নামগুলো গণনার বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশের সংবাদ প্রদান উদ্দেশ্য, নামসমূহকে সীমাবদ্ধ করা নয়। ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই হাদীসটি একে সমর্থন করে: «আমি আপনার কাছে আপনার প্রতিটি নামের উসিলায় প্রার্থনা করছি, যা আপনি নিজের জন্য রেখেছেন, অথবা আপনার সৃষ্টির কাউকে শিখিয়েছেন, অথবা আপনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন, অথবা আপনার কাছে অদৃশ্যের জ্ঞানে সংরক্ষিত রেখেছেন»(৩)

«আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী: 'নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে—এক কম একশটি; যে ব্যক্তি এগুলো গণনা করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে'—এটি নামসমূহকে এই সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে না। আর যদি উদ্দেশ্য হতো

--------------------------------------------

(১) বুখারী কর্তৃক সংকলিত, হাদীস নম্বর: (৬৩০৬)

(২) বুখারী কর্তৃক সংকলিত, হাদীস নম্বর: (৭৩৯২) এবং মুসলিম কর্তৃক সংকলিত, হাদীস নম্বর: (২৬৭৭)।

(৩) ফাতহুল বারী ফি শারহি সহীহিল বুখারী, (১১/ ২২০)
(খণ্ড: ১) মাওসূয়াতু শারহি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
الحصر لكانت العبارة: إن أسماء الله تسعة وتسعون اسما، من أحصاها دخل الجنة، أو نحو ذلك.

 

‌‌القاعدة السابعة: الإلحاد في أسماء الله تَعَالَى هو الميل بها عما يجب فيها

والإلحاد في أسماء الله سبحانه وتعالى أنواع، وهي:

الأول: أن ينكر شيئًا منها، أو مما دلت عليه من الصفات والأحكام، كما فعل أهل التعطيل من الجهمية وغيرهم.

الثاني: أن يجعلها دالة على صفات تشابه صفات المخلوقين، كما فعل أهل التشبيه.

الثالث: أن يسمى الله تَعَالَى بما لم يسم به نفسه، كتسمية النصارى له: (الأب)، وتسمية الفلاسفة إياه (العلة الفاعلة).

الرابع: أن يشتق من أسمائه أسماء للأصنام، كما فعل المشركون في اشتقاق العزى من العزيز، واشتقاق اللات من الإله على أحد القولين، فسموا بها أصنامهم.

والإلحاد بجميع أنواعه محرم؛ لأن الله تَعَالَى هدد الملحدين بقوله:

{وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [الأعراف: 180]، ومنه ما يكون شركا أو كفرا حسبما تقتضيه الأدلة الشرعية.

«وقد برأ الله أتباع رسوله وورثته القائمين بسنته عن ذلك كله، فلم يصفوه إلا بما وصف به نفسه، ولم يجحدوا صفاته ولم يشبهوها بصفات خلقه، ولم
সীমাবদ্ধ করার উদ্দেশ্য থাকলে বাক্যটি এমন হতো: নিশ্চয় আল্লাহর নাম নিরানব্বইটি, যে ব্যক্তি এগুলো আয়ত্ত করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, অথবা এই জাতীয় কিছু।

 

‌‌সপ্তম নীতি: মহান আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে ইলহাদ (বিচ্যুতি) হলো সেগুলোকে তার যথাযথ হক থেকে সরিয়ে দেওয়া

মহান আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে ইলহাদ কয়েক প্রকার, সেগুলো হলো:

প্রথম: সেগুলোর কোনোটিকে অস্বীকার করা, অথবা সেগুলো যেসব গুণাবলি ও বিধানের ওপর প্রমাণ বহন করে তা অস্বীকার করা; যেমনটা করেছে জাহমিয়্যা ও অন্যান্য গুণ-অস্বীকারকারী দলগুলো।

দ্বিতীয়: সেগুলোকে সৃষ্টির গুণাবলির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ গুণের ওপর প্রমাণবহ সাব্যস্ত করা; যেমনটা করেছে সাদৃশ্যবাদীরা।

তৃতীয়: মহান আল্লাহকে এমন নামে অভিহিত করা যা দিয়ে তিনি নিজেকে নামান্বিত করেননি; যেমন খ্রিষ্টানদের তাঁকে ‘পিতা’ বলা এবং দার্শনিকদের তাঁকে ‘কার্যকরী কারণ’ বলা।

চতুর্থ: তাঁর নামসমূহ থেকে মূর্তিদের জন্য নাম বের করা; যেমনটা মুশরিকরা ‘আল-আজিজ’ থেকে ‘আল-উজ্জা’ এবং দুই মতের এক মত অনুযায়ী ‘আল-ইলাহ’ থেকে ‘আল-লাত’ বের করেছিল এবং তা দিয়ে তাদের মূর্তিদের নামকরণ করেছিল।

আর সকল প্রকার ইলহাদই হারাম; কারণ মহান আল্লাহ ইলহাদকারীদের এই বলে ধমক দিয়েছেন:

{আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো। আর তাদেরকে বর্জন করো যারা তাঁর নামসমূহের ব্যাপারে বিচ্যুতি ঘটায়। তারা যা করত অচিরেই তার প্রতিফল তাদেরকে দেওয়া হবে।} [আল-আরাফ: ১৮০], আর এগুলোর মধ্যে কোনটি শিরক বা কুফর হবে তা শরয়ি দলিলের দাবির ওপর নির্ভর করে।

«আল্লাহ তাঁর রাসূলের অনুসারী এবং তাঁর সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত তাঁর উত্তরাধিকারীদের এই সবকিছু থেকে মুক্ত রেখেছেন। ফলে তাঁরা আল্লাহকে কেবল সেই সব গুণেই গুণান্বিত করেন যা দিয়ে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন। তাঁরা তাঁর গুণাবলি অস্বীকার করেন না এবং সেগুলোকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে সাদৃশ্যও দেন না, এবং...