(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: -)
نوادر الأصول في أحاديث الرسول   (الحكيم الترمذي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: نوادر الأصول في أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم

المؤلف: محمد بن علي بن الحسن بن بشر، أبو عبد الله، الحكيم الترمذي (ت نحو 320هـ)

المحقق: عبد الرحمن عميرة

الناشر: دار الجيل - بيروت

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নাওয়াদিরুল উসুল ফি আহাদিসির রাসুল   (আল-হাকিম আত-তিরমিজি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: নাওয়াদিরুল উসুল ফি আহাদিসির রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

লেখক: মুহাম্মদ বিন আলী বিন হাসান বিন বিশর, আবু আব্দুল্লাহ, আল-হাকিম আত-তিরমিজি (মৃত্যু আনুমানিক ৩২০ হিজরি)

সম্পাদক: আব্দুর রহমান আমিরাহ

প্রকাশক: দারুল জিল - বৈরুত

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা সংস্করণের প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৫৯)
-‌‌ الأَصْل الأول

-

‌‌فِي بَيَان التحصين من لدغ الْعَقْرَب وَكلمَة الِاسْتِعَاذَة بالكلمات

 

حَدثنَا قُتَيْبَة بن سعيد عَن مَالك بن أنس عَن سُهَيْل بن أبي صَالح عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رجل يَا رَسُول الله مَا نمت البارحة قَالَ من أَي شَيْء قَالَ لدغتني عقرب فَقَالَ أما انك لَو قلت حِين أمسيت أعوذ بِكَلِمَات الله التَّامَّة كلهَا من شَرّ مَا خلق لم يَضرك شَيْء إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَفِي رِوَايَة لم يَضرك شَيْء حَتَّى تصبح
-‌‌প্রথম মূলনীতি

-

‌‌বিচ্ছু দংশন থেকে সুরক্ষা এবং কালিমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করার বিবরণে

 

আমাদের নিকট কুতাইবা ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন মালিক ইবনে আনাস থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে আবু সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: এক ব্যক্তি আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! গত রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "কী কারণে?" সে বলল, "আমাকে একটি বিচ্ছু দংশন করেছে।" তখন তিনি বললেন, "জেনে রেখো, তুমি যদি সন্ধ্যায় উপনীত হওয়ার সময় বলতে: 'আমি আল্লাহর সকল পরিপূর্ণ কালিমার মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাচ্ছি', তবে আল্লাহ তাআলা চাইলে কোনো কিছুই তোমার ক্ষতি করতে পারত না।" আর অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: "সকাল হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই তোমার ক্ষতি করবে না।"
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৬০)
وَعَن خَوْلَة بنت حَكِيم السلمِيَّة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ من نزل منزلا فَقَالَ أعوذ بِكَلِمَات الله التامات من شَرّ مَا خلق لم يضرّهُ شَيْء حَتَّى يرتحل من منزله ذَلِك

وَعَن عَمْرو بن شُعَيْب عَن أَبِيه عَن جده رضوَان الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا فزع أحدكُم فِي النّوم فَلْيقل أعوذ بِكَلِمَات الله التَّامَّة من غَضَبه وعقابه وَمن شَرّ عباده وَمن همزات الشَّيَاطِين وَأَن يحْضرُون فَإِنَّهَا لن تضره فَكَانَ عبد الله بن عَمْرو يعلمهَا من بلغ من وَلَده وَمن لم يبلغ كتبهَا فِي صك ثمَّ علقها فِي عُنُقه
খাওলা বিনতে হাকীম আস-সুলামিয়্যাহ থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবতরণ করে বলে: ‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’, তবে সে সেই স্থান ত্যাগ করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।"

আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন ঘুমের ঘোরে আতঙ্কিত হয়, তখন সে যেন বলে: ‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীসমূহের মাধ্যমে তাঁর ক্রোধ ও তাঁর শাস্তি হতে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট হতে এবং শয়তানদের কুমন্ত্রণা ও আমার নিকট তাদের উপস্থিতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ তবে তা তার কোনো ক্ষতি করবে না।" সুতরাং আবদুল্লাহ ইবনে আমর তাঁর সন্তানদের মধ্যে যারা প্রাপ্তবয়স্ক ছিল তাদের এটি শিক্ষা দিতেন এবং যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিল তাদের জন্য এটি কাগজে লিখে গলায় ঝুলিয়ে দিতেন।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৬১)
وَعَن سعيد بن جُبَير عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يعوذ الْحسن وَالْحُسَيْن يَقُول أُعِيذكُمَا بِكَلِمَات الله التَّامَّة من كل شَيْطَان وَهَامة وَمن كل عين لَامة

وَيَقُول كَانَ أبي إِبْرَاهِيم يعوذ بِهن إِسْمَاعِيل وَإِسْحَاق عليهما السلام

قَالَ أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن عَليّ بن الْحُسَيْن بن بشير الْحَكِيم التِّرْمِذِيّ الْمُؤَذّن كلمة الله التَّامَّة وكلمات الله التامات يؤديان إِلَى معنى وَاحِد فَمن قَالَ كلمة الله التَّامَّة فَإِنَّمَا أَرَادَ بِهِ الْجُمْلَة وَمن قَالَ كَلِمَات الله التامات فَإِنَّمَا أَرَادَ الْكَلِمَة الْوَاحِدَة الَّتِي تَفَرَّقت فِي الْأُمُور فِي الْأَوْقَات فَصَارَت كَلِمَات ومرجعهن إِلَى كلمة وَاحِدَة فكلمته التَّامَّة هِيَ قَوْله تَعَالَى {إِنَّمَا أمره إِذا أَرَادَ شَيْئا أَن يَقُول لَهُ كن فَيكون}

وَقَالَ الله تَعَالَى {إِذا قضى أمرا فَإِنَّمَا يَقُول لَهُ كن فَيكون}

وَإِنَّمَا قيل تَامَّة لِأَن أقل الْكَلَام عِنْد أهل اللُّغَة على ثَلَاثَة أحرف حرف يبتدأ بِهِ وحرف يحشى بِهِ الْكَلِمَة وحرف يسكت عَلَيْهِ فَإِذا كَانَ على حرفين فَهُوَ عِنْدهم مَنْقُوص وَإِنَّمَا نقصت لعِلَّة مثل قَوْله يَد وَدم وغد وفم هَذِه كلهَا منقوصات لِأَنَّهَا على حرفين وَكَذَلِكَ كن هِيَ من الْآدَمِيّين من المنقوصات لِأَنَّهَا على حرفين وَلِأَنَّهَا كلمة ملفوظة
সাঈদ ইবনে জুবায়র (র.) থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসান ও হুসাইনকে (রা.) এই বলে পানাহ চাইতেন: "আমি তোমাদের উভয়কে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামের আশ্রয়ে নিচ্ছি প্রত্যেক শয়তান ও বিষধর প্রাণী থেকে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর কুদৃষ্টি থেকে।"

এবং তিনি বলতেন, "আমার পিতা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এই দোয়াগুলোর মাধ্যমে ইসমাইল ও ইসহাক (আলাইহিমাস সালাম)-এর জন্য পানাহ চাইতেন।"

আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে আল-হুসাইন ইবনে বশির আল-হাকিম আত-তিরমিজি আল-মুয়াযযিন বলেন, 'আল্লাহর পরিপূর্ণ কালাম' এবং 'আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহ' একই অর্থ প্রদান করে। অতএব, যিনি 'আল্লাহর পরিপূর্ণ কালাম' বলেছেন, তিনি এর দ্বারা সমষ্টিকে উদ্দেশ্য করেছেন। আর যিনি 'আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহ' বলেছেন, তিনি মূলত সেই একক কালামকেই উদ্দেশ্য করেছেন যা বিভিন্ন বিষয়ে ও সময়ে বিভক্ত হয়ে বহু কালামে পরিণত হয়েছে, অথচ সেগুলোর মূল উৎস একটিই কালাম। আর তাঁর পরিপূর্ণ কালাম হলো মহান আল্লাহর এই বাণী: {নিশ্চয়ই তাঁর নির্দেশ হলো এই যে, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাকে বলেন, 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।}

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যখন তিনি কোনো বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি কেবল তাকে বলেন, 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।}

আর একে 'পরিপূর্ণ' বলা হয়েছে কারণ ভাষাবিদদের মতে ন্যূনতম শব্দ তিনটি অক্ষর নিয়ে গঠিত হয়: একটি অক্ষর যা দিয়ে শুরু হয়, একটি অক্ষর যা শব্দের মাঝখানে বসানো হয় এবং একটি অক্ষর যার ওপর থামা হয়। অতএব, যদি কোনো শব্দ দুটি অক্ষরের হয়, তবে তাদের নিকট তা 'অপূর্ণ' বা 'হ্রাসকৃত'। আর তা কোনো কারণবশত হ্রাস পেয়েছে, যেমন: 'হাত', 'রক্ত', 'আগামীকাল' এবং 'মুখ'; এ সবগুলোই অপূর্ণ শব্দ কারণ এগুলো দুটি অক্ষরের ওপর গঠিত। তদ্রূপ, মানুষের দিক থেকে 'হও' শব্দটিও অপূর্ণ শব্দসমূহের অন্তর্ভুক্ত, কারণ তা দুটি অক্ষরের ওপর গঠিত এবং এটি একটি উচ্চারিত শব্দ।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৬২)
بالأدوات وَمن رَبنَا جل جلاله كلمة تَامَّة لِأَنَّهَا بغيرالأدوات ومنفي عَنهُ شبه المخلوقين وَقَالَ الله تَعَالَى {وتمت كلمة رَبك}

ثمَّ وصفهَا فَقَالَ {صدقا وعدلا}

أَي قدسا واستواء ثمَّ قَالَ {لَا مبدل لكلماته} أَي لَيْسَ لأحد أَن يعجزه إِذا قَالَ لشَيْء كن وَإِنَّمَا قَالَ بكلماته لتفرق هَذِه الْكَلِمَة فِي الْأُمُور كلهَا فَلِكُل قَضِيَّة وَلكُل إِرَادَة من الْأُمُور من رَبنَا فِي كل أَمر كَلَام بقوله كن وَهُوَ مَا رُوِيَ عَن أبي ذَر رضي الله عنه عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِيمَا يحْكى عَن الله عز وجل إِنَّمَا عطائي كَلَام وعذابي كَلَام

فَأَما قَوْله كن فالكاف من كينونته وَالنُّون من نوره وَهِي كلمة تَامَّة بهَا أحدث الْأَشْيَاء وَخلق الْخلق فَإِذا استعاذ العَبْد بِتِلْكَ الْكَلِمَة صَارَت لَهُ معَاذًا وَوقى شَرّ مَا استعاذ بهَا مِنْهُ لِأَن العَبْد الْمُؤمن لما عرف أَن لَا يكون شَيْء إِلَّا مَا جرى بِهِ الْقَضَاء وَالْقدر وَإِنَّمَا يمْضِي الْقَضَاء بقوله كن عظمت هَذِه الْكَلِمَة عِنْده فَصَارَت مُتَعَلق قلبه فَإِنَّمَا
উপকরণের মাধ্যমে। আর আমাদের মহান প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তা একটি পূর্ণাঙ্গ বাণী, কারণ তা উপকরণ ছাড়াই সম্পন্ন হয়। আর তাঁর থেকে সৃষ্টিজীবের সাদৃশ্য নাকচ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "আপনার প্রতিপালকের বাণী পূর্ণ হয়েছে।"

অতঃপর তিনি এর বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, "সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে।"

অর্থাৎ পবিত্রতা ও উঠা। অতঃপর তিনি বলেছেন, "তাঁর বাণীসমূহ পরিবর্তনকারী কেউ নেই।" অর্থাৎ তিনি যখন কোনো কিছুকে বলেন "হও", তখন তাঁকে অক্ষম করার সাধ্য কারো নেই। আর তিনি 'বাণীসমূহ' (বহুবচন) ব্যবহার করেছেন কারণ এই বাণী সমস্ত বিষয়ের মধ্যে পরিব্যাপ্ত। সুতরাং প্রতিটি ফয়সালা এবং প্রতিটি অভিপ্রায়ভুক্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতিটি বিষয়ে "হও" বাণীর মাধ্যমে একটি বক্তব্য রয়েছে। আর এটিই আবু যার (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর প্রতি বর্ষিত হোক) থেকে বর্ণনা করেছেন যা মহান আল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, "নিশ্চয়ই আমার দান কেবল একটি বাণী এবং আমার শাস্তিও কেবল একটি বাণী।"

আর তাঁর "হও" বাণীর ক্ষেত্রে, "কাফ" অক্ষরটি তাঁর অস্তিত্ব থেকে এবং "নুন" অক্ষরটি তাঁর নূর থেকে। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বাণী যার মাধ্যমে তিনি নতুন বস্তুসমূহ উদ্ভাবন করেছেন এবং সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং বান্দা যখন এই বাণীর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তখন তা তার জন্য আশ্রয়স্থল হয়ে যায় এবং যে অনিষ্ট থেকে সে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে তা থেকে সে রক্ষা পায়। কারণ মুমিন বান্দা যখন জানতে পারে যে, ফয়সালা ও তকদিরে যা নির্ধারিত হয়েছে তা ব্যতীত কিছুই ঘটে না, এবং ফয়সালা কেবল তাঁর "হও" বাণীর মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়, তখন এই বাণীটি তার নিকট অত্যন্ত মহিমান্বিত হয়ে ওঠে এবং তা তার হৃদয়ের আসক্তি হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে...
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৬৩)
تَأْخُذهُ الرَّغْبَة فِي الْأَشْيَاء والرهبة من الْأَشْيَاء وَقَلبه نَازع إِلَى مَشِيئَته وفؤاده مراقب لإرادته وَأذنه مصيغة إِلَى كلمة كن وعينه شاخصة إِلَى تَدْبيره

فَإِذا قَالَ أعوذ بِكَلِمَات الله التَّامَّة من شَرّ مَا خلق وقِي شَرّ مَا خلق وَصَارَ فِي حصنه وارتتع فِي عياذه آمنا مطمئنا هَذَا لمن قَالَهَا بيقظة وعقل مَا يَقُول وَهَذَا القَوْل مِنْهُ تَحْقِيق الايمان لِأَنَّهُ آمن بِرَبّ لَا يملك أحد سواهُ شَيْئا وَلَا شريك لَهُ فِي شَيْء وَهَذَا لأهل الْيَقِين الَّذين إِذا قَالَ أحدهم هَذَا القَوْل اسْتَقر قلبه بعد القَوْل على مقَالَته واطمأنت نَفسه

فَأَما أهل الْغَفْلَة فَإِنَّهُم يعاذون على أقدارهم لحُرْمَة الْكَلِمَة وَهُوَ مثل مَا جَاءَ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ إِذا قَالَ العَبْد حسبي الله سبع مَرَّات قَالَ الله تَعَالَى وَعِزَّتِي لأكفينه صَادِقا أَو كَاذِبًا

فَإِنَّمَا قَالَ صَادِقا أَو كَاذِبًا لِأَن السَّابِق المقرب وَهُوَ الموقن إِذا قَالَ حسبي الله صدقه بِفِعْلِهِ فَهُوَ صَادِق لِأَنَّهُ لَا يتَعَلَّق بعد ذَلِك قلبه بالأسباب وَذَلِكَ مثل قَول إِبْرَاهِيم عليه السلام حِين وضع فِي المنجنيق من الْجَبَل ليرمى بِهِ فِي النَّار وعري من الْكسْوَة وكتف بِالْوَثَاقِ فَقَالَ حسبي الله فعارضه جِبْرِيل عليه السلام فِي الْهَوَاء امتحانا
বস্তুসমূহের প্রতি আসক্তি ও বস্তুসমূহ হতে ভীতি তাকে আচ্ছন্ন করে, তার অন্তর তাঁর ইচ্ছার প্রতি ব্যাকুল হয়, তার হৃদয় তাঁর অভিপ্রায়ের দিকে নিবদ্ধ থাকে, তার কান ‘কুন’ (হও) শব্দের প্রতি নিবিষ্ট থাকে এবং তার চোখ তাঁর ব্যবস্থাপনার প্রতি নিবদ্ধ থাকে।

অতঃপর যখন সে বলে: “আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করি”, তখন সে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে রক্ষা পায় এবং তাঁর দুর্গে প্রবেশ করে নিরাপদ ও প্রশান্তচিত্তে তাঁর আশ্রয়ে বিচরণ করে। এটি তার জন্য যে জাগ্রত হৃদয়ে এবং যা বলছে তা অনুধাবন করে এটি বলে। তার এই উক্তি ঈমানের প্রকৃত বাস্তবায়ন, কারণ সে এমন এক রবের প্রতি ঈমান এনেছে যিনি ব্যতীত অন্য কেউ কোনো কিছুর মালিক নয় এবং কোনো বিষয়ে যাঁর কোনো অংশীদার নেই। আর এটি সুনিশ্চিত বিশ্বাসী লোকদের জন্য, যাদের কেউ এই কথাটি বললে বলার পর তার অন্তর সেই কথার ওপর স্থির হয় এবং তার আত্মা প্রশান্ত হয়ে যায়।

আর অসতর্ক লোকদের ক্ষেত্রে, সেই বাক্যের মর্যাদার কারণে তাদের নিজ নিজ অবস্থা অনুযায়ী আশ্রয় দান করা হয়। এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বাণীর অনুরূপ যে, তিনি বলেছেন: “যখন কোনো বান্দা সাতবার ‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’ বলে, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘আমার ইজ্জতের কসম! সে সত্যবাদী হোক বা মিথ্যাবাদী হোক, আমি অবশ্যই তার জন্য যথেষ্ট হব’।”

তিনি “সত্যবাদী হোক বা মিথ্যাবাদী হোক” একারণে বলেছেন যে, অগ্রগামী নৈকট্যপ্রাপ্ত ব্যক্তি—যিনি সুনিশ্চিত বিশ্বাসী—যখন তিনি ‘আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট’ বলেন, তখন তিনি আপন কর্মের মাধ্যমে তার সত্যতা প্রমাণ করেন। সুতরাং তিনি সত্যবাদী, কারণ এরপর তার অন্তর আর জাগতিক উপকরণের সাথে যুক্ত থাকে না। এটি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের উক্তির ন্যায়, যখন তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করার জন্য পাহাড়ের উপর মিনজানিকে (ক্ষেপণাস্ত্র যন্ত্রে) স্থাপন করা হয়েছিল, তাঁর পরিধেয় বস্ত্র হরণ করা হয়েছিল এবং তাঁকে শক্ত বন্ধনে আবদ্ধ করা হয়েছিল; তখন তিনি বলেছিলেন: “আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট”। তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম পরীক্ষার উদ্দেশ্যে শূন্যলোকে তাঁর সম্মুখীন হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৬৪)
وابتلاء وَقَالَ هَل من حَاجَة يَا إِبْرَاهِيم وَهُوَ يهوى فِي الجو فَقَالَ إِبْرَاهِيم عليه السلام أما إِلَيْك فَلَا وَقد بَكت السَّمَوَات وَالْمَلَائِكَة وخزان الْمَطَر عليهم السلام لما حل بِهِ وجأرت إِلَى الله تَعَالَى فَأمر الله تَعَالَى بنصرته من حِين اسْتَغَاثَ بِهِ عَبده فَلم يلْتَفت إِلَى أحد من خلقه وَلَا إِلَى جِبْرِيل مستغيثا حَتَّى تفرد الله تَعَالَى بنصرته فَقَالَ تَعَالَى {قُلْنَا يَا نَار كوني بردا وَسلَامًا على إِبْرَاهِيم}

وَإِنَّمَا عَارضه جِبْرِيل عليه السلام فِي الْهَوَاء بِمَا عَارضه ليبرز صدق مقَالَة إِبْرَاهِيم عليه السلام فِي قَوْله حسبي الله عَن مَكْنُون قلبه وليعلم الصادقون من بعده غَايَة الصدْق فِي المقالات فاتخذه خَلِيلًا ونوه باسمه فِي الْعَالمين وَهُوَ أول من يكسى يَوْم الْقِيَامَة لِأَنَّهُ عري فِي دَار الدِّينَا فِي ذَات الله تَعَالَى فبدىء بِهِ من بَين الْأَنْبِيَاء وَالرسل عليهم السلام فَهَكَذَا يكون قَول أهل الْيَقِين فِي حسبي الله والمخلط كذبه بِفِعْلِهِ حَيْثُ تعلق بالأسباب وبالمخلوقين حَتَّى صَارُوا فتْنَة عَلَيْهِ

فَقَوله حسبي الله قَول الْمُوَحِّدين قَول أهل الْإِيمَان لَا قَول الْمُحَقِّقين قَول أهل النزاهة وَالْيَقِين فَكَذَلِك قَوْله أعوذ بِكَلِمَة الله التَّامَّة المقرب عينه وَأذنه إِلَى تَدْبيره وقضائه وَقَوله كن والمخلط عينه وَأذنه إِلَى الْأَسْبَاب والحيل والحرز والحصون والوقايات فيعاذ على قدره لحُرْمَة قَوْله واعترافه بِأَنَّهَا كلمة إِيمَان فالاستعاذة بِاللَّه تعلق بِهِ مَحْضا والاستعاذة بكلمته تعلق بتدبيره لِأَنَّهُ كَذَا دبر أَن تكون الْأَشْيَاء بِالْكَلِمَةِ وَقَالَ فِي تَنْزِيله عز من قَائِل {وَإِمَّا يَنْزغَنك من الشَّيْطَان نَزغ فاستعذ بِاللَّه}
...এবং পরীক্ষা। তিনি বললেন, "হে ইব্রাহিম, আপনার কি কোনো প্রয়োজন আছে?" যখন তিনি শূন্যে পতিত হচ্ছিলেন। ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম বললেন, "আপনার কাছে নয়, (বরং আল্লাহর কাছে)।" আকাশসমূহ, ফেরেশতাগণ এবং বৃষ্টির রক্ষকগণ (আলাইহিমুস সালাম) তাঁর ওপর যা আপতিত হয়েছিল তার কারণে ক্রন্দন করেছিলেন এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে আর্তনাদ করেছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর সাহায্যের নির্দেশ দিলেন যখন থেকে তাঁর বান্দা তাঁর কাছে ফরিয়াদ করেছিলেন। তিনি তাঁর সৃষ্টির কোনো একজনের দিকেও ভ্রুক্ষেপ করেননি, এমনকি সাহায্যের জন্য জিবরীলের দিকেও নয়, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা এককভাবে তাঁকে সাহায্য করলেন। অতঃপর মহান আল্লাহ বললেন, "আমরা বললাম, হে আগুন! তুমি ইব্রাহিমের জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাও।"

নিশ্চয়ই জিবরীল আলাইহিস সালাম শূন্যে তাঁর মুখোমুখি হয়েছিলেন যা দিয়ে হওয়ার ছিল, যেন ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম-এর অন্তরের গহীনে প্রোথিত "আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট" এই বাণীর সত্যতা প্রকাশ পায় এবং তাঁর পরবর্তী সত্যবাদীরা যেন বাণীর চূড়ান্ত সত্যতা সম্পর্কে অবগত হতে পারে। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে 'খলীল' (বন্ধু) হিসেবে গ্রহণ করলেন এবং বিশ্বজগতে তাঁর নামকে সমুন্নত করলেন। কিয়ামতের দিন তিনিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যাকে পোশাক পরিধান করানো হবে, কারণ তিনি দুনিয়াতে আল্লাহর সত্তার খাতিরে বস্ত্রহীন হয়েছিলেন। ফলে নবী ও রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) মধ্য থেকে তাঁকে দিয়েই শুরু করা হবে। সুতরাং "আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট" - এটি হলো ইয়াকীন বা দৃঢ় বিশ্বাসী লোকদের কথা। আর সংমিশ্রণকারী ব্যক্তি তার কাজের মাধ্যমে তার মিথ্যার পরিচয় দেয়, যেখানে সে উপকরণ ও সৃষ্টিজীবের ওপর নির্ভরশীল হয়, এমনকি সেগুলো তার জন্য ফিতনা বা পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সুতরাং তাঁর কথা "আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট" হলো একত্ববাদীদের কথা, মুমিনদের কথা; বরং এটি মুহাক্কিক (সত্যসন্ধানী), পবিত্রতা ও দৃঢ় বিশ্বাসী লোকদের কথা। অনুরূপভাবে তাঁর কথা "আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর আশ্রয় নিচ্ছি" হলো এমন ব্যক্তির কথা যে তার চোখ ও কানকে আল্লাহর ব্যবস্থাপনা, ফয়সালা এবং তাঁর "হও" বাণীর প্রতি নিবদ্ধ করেছে। আর সংমিশ্রণকারী ব্যক্তি তার চোখ ও কানকে উপকরণ, কৌশল, রক্ষাকবচ, দুর্গ এবং সুরক্ষার দিকে নিবদ্ধ করে। ফলে তাকে তার মর্যাদা অনুযায়ী আশ্রয় দেওয়া হয়, তার কথার সম্মান রক্ষার্থে এবং তার এই স্বীকৃতির কারণে যে এটি ঈমানের একটি বাণী। সুতরাং আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা হলো বিশুদ্ধভাবে তাঁরই মুখাপেক্ষী হওয়া, আর তাঁর বাণীর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করা হলো তাঁর ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত হওয়া। কেননা তিনি এভাবেই ফয়সালা করেছেন যে, যাবতীয় বিষয় বাণীর মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। তিনি তাঁর অবতীর্ণ কিতাবে বলেছেন, আর তিনি কতই না শ্রেষ্ঠ বক্তা: "আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা আপনাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন।"
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৬৫)
وَقَالَ الله تَعَالَى {وَقل رب أعوذ بك من همزات الشَّيَاطِين}

فهما يدلان على أَن مَا كَانَ من أَمر الْبَاطِن فالاستعاذة بِهِ وَمَا كَانَ من أَمر الظَّاهِر فالاستعاذة بكلمته لِأَن مَا هُوَ فِي الظَّاهِر هُوَ بقوله كن وَمَا فِي الْبَاطِن صنعه وَقَالَ {قل أعوذ بِرَبّ النَّاس}

ثمَّ قَالَ {ملك النَّاس}

ثمَّ قَالَ {إِلَه النَّاس} أمره أَن يستعيذ بِثَلَاثَة من أَسْمَائِهِ {من شَرّ الوسواس} وَهُوَ بَاطِن

فَقَوله رب أَي مَالك ربني فلَان يربنِي فَهُوَ راب ثمَّ قَالُوا رب فحذفوا الْألف كَمَا قَالُوا بار ثمَّ قَالُوا بر فَقَوله رب يُؤَدِّي إِلَى الْملك وَملك يُؤَدِّي إِلَى الْملك وإله يُؤَدِّي إِلَى وَله الْقُلُوب فالوسواس آفَة على الْقلب أمره أَن يستعيذ بِمَالك وَملك وإله لِأَن الْمَالِك الَّذِي أحَاط بهم فملكهم وَالْملك الَّذِي نفذ أمره فيهم والاله الَّذِي أَوله الْقُلُوب إِلَى نَفسه
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, {এবং বল, হে আমার রব! আমি শয়তানদের কুমন্ত্রণা হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।}

সুতরাং এই দুটি নির্দেশ করে যে, যা কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত সে ক্ষেত্রে তাঁর (সত্তার) কাছে আশ্রয় চাওয়া হবে, আর যা বাহ্যিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত সে ক্ষেত্রে তাঁর কালেমার (বাণীর) মাধ্যমে আশ্রয় চাওয়া হবে। কারণ যা কিছু বাহ্যিক তা তাঁর ‘হও’ (কুন) বাণীর দ্বারা বিদ্যমান, আর যা অভ্যন্তরীণ তা তাঁর নির্মাণ। এবং তিনি বলেছেন, {বল, আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের কাছে,}

অতঃপর তিনি বলেছেন, {মানুষের অধিপতির কাছে,}

তারপর তিনি বলেছেন, {মানুষের ইলাহ (মাবুদ)-এর কাছে}। তিনি তাকে তাঁর নামসমূহের মধ্য থেকে তিনটি নামের মাধ্যমে {ওয়াসওয়াসার (কুমন্ত্রণার) অনিষ্ট থেকে} আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন, আর তা (ওয়াসওয়াসা) হলো একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়।

সুতরাং তাঁর বাণী ‘রব’ এর অর্থ হলো মালিক (অধিপতি)। যেমন বলা হয়, ‘অমুক আমাকে লালন-পালন করেছে’, তখন সে হলো ‘রাব’ (পালনকর্তা); অতঃপর তারা আলিফ বিলুপ্ত করে ‘রব’ বলেছে, যেমন তারা ‘বার’ (পুণ্যবান) থেকে ‘বারর’ বলেছে। সুতরাং তাঁর শব্দ ‘রব’ মালিকানার দিকে ধাবিত করে, ‘মালিক’ রাজত্বের দিকে ধাবিত করে এবং ‘ইলাহ’ হৃদয়ের ব্যাকুলতার (ওয়ালহ) দিকে ধাবিত করে। ওয়াসওয়াসা হলো হৃদয়ের জন্য একটি আপদ, তাই তিনি তাকে মালিক, রাজা এবং ইলাহ-এর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ মালিক তিনি যিনি তাদের পরিবেষ্টন করে তাদের ওপর আধিপত্য লাভ করেছেন, রাজা তিনি যাঁর নির্দেশ তাদের মধ্যে কার্যকর হয় এবং ইলাহ তিনি যিনি হৃদয়সমূহকে নিজের দিকে ব্যাকুল বা অনুরাগী করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৬৬)
من شر الوسواس الخناس وسوس عِنْد الْغَفْلَة وخنس عِنْد الذّكر فاشتق لَهُ اسمان من فَعَلَيهِ

ثمَّ بَين أَيْن مَوْضِعه من الْجَسَد فَقَالَ {الَّذِي يوسوس فِي صُدُور النَّاس} والصدر ساحة الْقلب وَفِيه الْفِكر وَمِنْه تصدر الْأُمُور

ثمَّ بَين أَن الوسوسة جِنْسَانِ فَقَالَ من الْجنَّة وَالنَّاس وَسْوَسَة جنية وَهِي الشَّيْطَان ووسوسة إنسية وَهِي النَّفس

وَكَذَلِكَ رُوِيَ عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما أَنه قَالَ هما وسواسان وَإِنَّمَا قَالَ وسوس لِأَنَّهُ يزعج وَقَوله أز يؤز أَي أزعج يزعج وَقَالَ فِي تَنْزِيله {تؤزهم أزا} وَالْهَاء والهمزة وَالْوَاو اخوات تجزىء الْوَاحِدَة عَن صاحبتيها فَقَوله أز وهز ووز بِمَعْنى وَاحِد إِلَّا أَن كل وَاحِدَة تسْتَعْمل فِي نوع والزاء وَالسِّين أختَان تجزىء إِحْدَاهمَا عَن الْأُخْرَى كَمَا قَالُوا صقر وزقر وسقر فَقَوله وز وَقَوله وس يوس بِمَعْنى وسوس وَقَوله وسوس فِي قالب الْعَرَبيَّة فع فع لِأَنَّهُ فِي الأَصْل وس ثمَّ كرر فَقيل وسوس لِأَن فعله على الْقلب مردد مُكَرر فَأمره أَن يستعيذ بالأسماء الثَّلَاثَة مِنْهُ
‘ওয়াসওয়াসাতুল খান্নাস’ (কুমন্ত্রণাদানকারী ও আত্মগোপনকারী)-এর অনিষ্ট থেকে। সে উদাসীনতার সময় কুমন্ত্রণা দেয় এবং জিকিরের সময় আত্মগোপন করে; তাই তার এই দুটি কাজ থেকে তার জন্য দুটি নাম নেওয়া হয়েছে।

অতঃপর শরীরের কোন স্থানে এর অবস্থান তা বর্ণনা করে তিনি বলেছেন: {যিনি মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেন}। আর বক্ষ হলো হৃদয়ের প্রাঙ্গণ, আর এখানেই চিন্তা-ভাবনার উদয় হয় এবং এখান থেকেই যাবতীয় বিষয়াবলি নির্গত হয়।

এরপর তিনি বর্ণনা করেছেন যে, কুমন্ত্রণা দুই প্রকার। তিনি বলেছেন: 'জিন ও মানুষের মধ্য থেকে'। একটি হলো জিন শয়তানের কুমন্ত্রণা, আর অন্যটি হলো মানুষের কুমন্ত্রণা যা হলো কুপ্রবৃত্তি।

অনুরূপভাবে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: এগুলো দুই ধরণের কুমন্ত্রণা। মূলত 'ওয়াসওয়াসা' বলা হয়েছে কারণ এটি অস্থিরতা তৈরি করে। যেমন 'আযযা' ও 'ইয়াউযযু' শব্দের অর্থ হলো অস্থির বা উত্তেজিত করা। মহান আল্লাহ তাঁর অবতীর্ণ কালামে বলেছেন: {তাদেরকে তীব্রভাবে উত্তেজিত করে}। আর 'হা', 'হামযাহ' এবং 'ওয়াও' হলো সমজাতীয় বর্ণ, যার একটি অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। সুতরাং 'আযযা', 'হাযযা' এবং 'ওয়াযযা' একই অর্থ বহন করে, যদিও প্রত্যেকটি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আবার 'যা' এবং 'সীন' পরস্পর সমজাতীয় বর্ণ, যার একটি অন্যটির পরিবর্তে ব্যবহৃত হতে পারে; যেমন ভাষাবিদগণ 'সাক্বর', 'যাক্বর' এবং 'সাক্বার' বলে থাকেন। সুতরাং 'ওয়ায' এবং 'ওয়াস ইয়াসু' শব্দদ্বয় 'ওয়াসওয়াসা' অর্থেই ব্যবহৃত হয়। আরবি ব্যাকরণের ছাঁচে 'ওয়াসওয়াসা' শব্দটি 'ফা’ ফা’' ওজনের, কারণ এর মূল শব্দ ছিল 'ওয়াস', যা পরে পুনরাবৃত্ত হয়ে 'ওয়াসওয়াসা' হয়েছে। যেহেতু হৃদয়ের ওপর এর ক্রিয়া বারবার ঘটে থাকে, তাই একে দ্বিরুক্তি করা হয়েছে। ফলে আল্লাহ তাআলা এই তিনটি নামের মাধ্যমে তার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৬৭)
ثمَّ قَالَ {قل أعوذ بِرَبّ الفلق} وكل مَا انْفَلق شَيْء عَن شَيْء فَهُوَ فلق قَالَ أهل التَّفْسِير الفلق وَاد فِي جَهَنَّم إِذا فتح وانفلق هر أهل النَّار من شدَّة حره وَقَالَ بَعضهم الفلق الصُّبْح لِأَنَّهُ انْفَلق عَن اللَّيْل وَهُوَ قَوْله تَعَالَى {فالق الإصباح}

وَقَالَ الله تَعَالَى {فالق الْحبّ والنوى}

فالحبة تنفلق فتنبت والنوى كَذَلِك أَيْضا وَلَيْسَ هَذَا مِنْهُم اخْتِلَاف لِأَن الْكَلِمَة تُؤدِّي إِلَى كل شَيْء انْفَلق واعظم فلق فِي الدُّنْيَا فلق قلب الْمُؤمن بِنور الله تَعَالَى فَقَالَ {قل أعوذ بِرَبّ الفلق} وَهُوَ فلق الْقلب إِذا انْفَلق بنوره

وَرُوِيَ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ للقلب أذنان وعينان فَإِذا أَرَادَ الله تَعَالَى بِعَبْد خيرا فتح عَيْنَيْهِ اللَّتَيْنِ فِي قلبه

{من شَرّ مَا خلق} وَهُوَ ظلمَة الْكفْر {من شَرّ غَاسِق إِذا وَقب} والغسق الظلمَة وَهِي ظلمَة الْمعاصِي وَقَوله وَقب أَي دخل {وَمن شَرّ النفاثات فِي العقد} وَهُوَ السحر يعْقد السَّاحر الَّذِي قد بَاعَ آخرته بدنياه فاعطى مَا تمنى وَاخْتَارَ وربنا عز وجل وَاسع كريم طلب آدم التَّوْبَة وَالطَّاعَة فَأعْطِي وَطلب إِبْلِيس تضليل ولد
এরপর তিনি বললেন, {বলুন, আমি আশ্রয় চাই উষার রবের} এবং যা কিছু কোনো কিছু থেকে বিদীর্ণ হয়ে নির্গত হয়, তাকেই 'ফালাক' (বিদীর্ণ বস্তু) বলা হয়। মুফাসসিরগণ বলেছেন, 'ফালাক' হলো জাহান্নামের একটি উপত্যকা; যখন এটি উন্মুক্ত ও বিদীর্ণ হয়, তখন এর উত্তাপের তীব্রতায় জাহান্নামবাসীরা আর্তনাদ করে ওঠে। আবার কেউ কেউ বলেছেন, 'ফালাক' হলো প্রভাত, কারণ তা রাত চিরে উদিত হয়; আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {তিনিই প্রভাত উন্মেষকারী}।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন, {নিশ্চয় আল্লাহ শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী}।

সুতরাং শস্য-দানা বিদীর্ণ হয় এবং তা অঙ্কুরিত হয়, আর আঁটিও একইভাবে বিদীর্ণ হয়। ব্যাখ্যাকারীদের এই বক্তব্যের মাঝে কোনো বৈপরীত্য নেই, কারণ এই শব্দটি বিদীর্ণ হওয়া সকল বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আর দুনিয়াতে সবচেয়ে বড় বিদীর্ণ হওয়া হলো মহান আল্লাহর নূরের মাধ্যমে মুমিনের অন্তরের উন্মেষ। তাই তিনি বলেছেন, {বলুন, আমি আশ্রয় চাই উষার রবের}, আর তা হলো অন্তরের সেই উন্মেষ যখন তা তাঁর নূরের মাধ্যমে বিদীর্ণ হয়।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "অন্তরের রয়েছে দুটি কান এবং দুটি চোখ। যখন মহান আল্লাহ কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন তিনি তার অন্তরের চক্ষুদ্বয় উন্মীলিত করে দেন।"

{তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে}, আর তা হলো কুফরির অন্ধকার। {অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে যখন তা সমাগত হয়}, আর 'গাসাক' হলো অন্ধকার, যা পাপাচারের অন্ধকার। আর তাঁর বাণী 'ওয়াক্বাব' অর্থ হলো প্রবেশ করা। {এবং গ্রন্থিতে ফুঁৎকারদানকারিণীদের অনিষ্ট থেকে}, আর এটি হলো জাদু। জাদুকর এতে গিঁট দেয়, যে ব্যক্তি তার পরকালের বিনিময়ে দুনিয়াকে বিক্রি করে দিয়েছে; ফলে সে যা কামনা ও পছন্দ করেছে তাকে তা-ই প্রদান করা হয়েছে। আর আমাদের প্রতিপালক মহাপরাক্রমশালী ও অতিশয় দয়ালু; আদম তাওবাহ ও আনুগত্য প্রার্থনা করেছিলেন, ফলে তাঁকে তা দেওয়া হয়েছিল, আর ইবলিস সন্তানদের পথভ্রষ্ট করার প্রার্থনা করেছিল।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৬৮)
آدم وغوايتهم وَأَن يعْطى سُلْطَان ذَلِك لَهُ فَأعْطِي وَطلب السَّاحر منى الدُّنْيَا وَأَن يعْطى كل شَيْء يتمناه برفض الْآخِرَة وَأَن لَا خلاق لَهُ فِيهَا فَأعْطِي فَهُوَ يعْقد خيطا أَو وترا على منيته وينفث فِيهِ من نَفسه الخبيثة فيصل ضَرَره الى من يتَمَنَّى ذَلِك عَلَيْهِ {وَمَا هم بضارين بِهِ من أحد إِلَّا بِإِذن الله}

وَلما سحر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَتَّى عجز عَن نِسَائِهِ وَأخذ بِقَلْبِه لبث فِي ذَلِك سِتَّة أشهر فِيمَا رُوِيَ فِي الْخَبَر ثمَّ نزلت المعوذتان إِحْدَى عشرَة آيَة واستخرج الْوتر فِيهِ العقد من ذَلِك الْبِئْر فَكَانَ كلما قَرَأَ آيَة من المعوذتين انْحَلَّت عقدَة حَتَّى حل العقد كلهَا وبرىء {وَمن شَرّ حَاسِد إِذا حسد} وَهُوَ الْعين والحاسد والحاصد بِمَعْنى فَهُوَ يحصده بِعَيْنِه أَي يقطعهُ من الأَصْل هَلَاكًا ودمارا وَهُوَ أَن يعجب بالشَّيْء فَلَا يذكر خالقه فَإِذا هُوَ قد حصده ودمره والحسد إرادتك الَّتِي تُرِيدُ بهَا إبِْطَال
আদম সন্তান ও তাদের বিভ্রান্তি এবং তাকে এর ওপর কর্তৃত্ব প্রদান করা হবে—অতঃপর তাকে তা দেওয়া হলো। আর জাদুকর আমার কাছে পার্থিব জগতের সুখ-শান্তি প্রার্থনা করল এবং পরকাল বর্জন করার বিনিময়ে যেন তাকে তার আকাঙ্ক্ষিত সবকিছু দেওয়া হয় এবং পরকালে তার কোনো অংশ না থাকে—এমনটা চাইল; ফলে তাকে তা দেওয়া হলো। অতঃপর সে তার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য সুতা বা রশিতে গিঁট দেয় এবং তাতে তার অপবিত্র আত্মা থেকে ফুঁ দেয়, ফলে এর ক্ষতি সেই ব্যক্তির ওপর গিয়ে পড়ে যার জন্য সে তা আকাঙ্ক্ষা করে। "আর তারা এর মাধ্যমে আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না।"

আর যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর জাদু করা হয়েছিল, যার ফলে তিনি তাঁর স্ত্রীদের ব্যাপারে অক্ষম হয়ে পড়েছিলেন এবং তা তাঁর অন্তরে প্রভাব বিস্তার করেছিল; বর্ণিত রিওয়ায়েত অনুযায়ী তিনি ছয় মাস এই অবস্থায় অতিবাহিত করেন। অতঃপর এগারোটি আয়াতবিশিষ্ট মুআওয়িযাতাইন অবতীর্ণ হলো এবং সেই কূপ থেকে গিঁটযুক্ত রশিটি উদ্ধার করা হলো। তিনি যখনই মুআওয়িযাতাইনের একটি আয়াত পাঠ করতেন, একটি করে গিঁট খুলে যেত। এভাবে সব কটি গিঁট খুলে গেল এবং তিনি আরোগ্য লাভ করলেন। "এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।" এটি হলো বদনজর বা কুনজর। এখানে হিংসুক ও কর্তনকারী একই অর্থ প্রকাশ করে; সে তার দৃষ্টির মাধ্যমে তাকে কর্তন করে, অর্থাৎ ধ্বংস ও বিনাশের মাধ্যমে তাকে সমূলে উৎপাটন করে দেয়। আর এটি ঘটে তখন, যখন কেউ কোনো জিনিসের ওপর মুগ্ধ হয় কিন্তু তার স্রষ্টাকে স্মরণ করে না; ফলে সে যেন তাকে কর্তন ও ধ্বংস করে দিল। আর হিংসা হলো তোমার সেই সংকল্প যার মাধ্যমে তুমি বিলোপ সাধন করতে চাও...
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৬৯)
ذَلِك الشَّيْء فنوره فلق الظُّلُمَات وَهُوَ فِي دَعْوَة إِدْرِيس عليه السلام أَنْت الَّذِي فلق الظُّلُمَات نوره فاذا أورد على الْقلب نوره فلق الظُّلُمَات فَجَمِيع مَا ذكر فِي التَّنْزِيل من الِاسْتِعَاذَة بِهِ وَجَدْنَاهُ يؤول الى الْبَاطِن من الْأُمُور وَمَا جَاءَ عَنهُ صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ أَمرنِي جِبْرِيل عليه السلام أَن أكررهن فِي السُّجُود

وَأَعُوذ بعفوك من عقابك فاستعاذ بِالْعَفو من الْعقَاب لِأَنَّهُ ضِدّه وَأَعُوذ برضاك من سخطك فالرضى ضد السخط

ثمَّ قَالَ وَأَعُوذ بك مِنْك فاستعاذ بِهِ مِنْهُ لِأَنَّهُ لَا ضد لَهُ وَهُوَ كَقَوْلِه لَا مفر مِنْك إِلَّا إِلَيْك وَهُوَ قَوْله تَعَالَى {فَفرُّوا إِلَى الله} أَي فروا مِنْهُ إِلَيْهِ
সেই বিষয়টি, যার নূর অন্ধকারকে বিদীর্ণ করেছে। এটি ইদরীস (আলাইহিস সালাম)-এর দোয়ায় বর্ণিত হয়েছে: "আপনিই সেই সত্তা যার নূর অন্ধকার বিদীর্ণ করেছে।" সুতরাং যখন তাঁর নূর হৃদয়ে অবতীর্ণ হয়, তা অন্ধকারকে বিদীর্ণ করে দেয়। অবতীর্ণ কিতাবে তাঁর মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করার বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, আমরা তা বিষয়সমূহের অভ্যন্তরীণ তাৎপর্যের দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে দেখেছি। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: "জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আমাকে সিজদাবনত অবস্থায় এই শব্দগুলো বারবার পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন—"

"আমি আপনার শাস্তির বিপরীতে আপনার ক্ষমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" এখানে তিনি শাস্তির বিপরীতে ক্ষমার আশ্রয় চেয়েছেন কারণ ক্ষমা হলো শাস্তির বিপরীত। "এবং আপনার অসন্তুষ্টির বিপরীতে আপনার সন্তুষ্টির আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" কেননা সন্তুষ্টি হলো অসন্তুষ্টির বিপরীত।

অতঃপর তিনি বললেন: "এবং আমি আপনার থেকে আপনারই নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" এখানে তিনি তাঁর থেকে তাঁরই নিকট আশ্রয় চাইলেন কারণ তাঁর কোনো বিপরীত নেই। এটি রাসূলের এই বাণীর মতোই: "আপনার থেকে পলায়ন করে আপনার নিকট ছাড়া আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই।" আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা আল্লাহর দিকে ধাবিত হও}, অর্থাৎ তাঁর থেকে পলায়ন করে তাঁরই দিকে ফিরে যাও।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৭০)
-‌‌ الأَصْل الثَّانِي

-

‌‌فِي كلمة النَّجْوَى

 

عَن نَافِع عَن ابْن عمر رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يجلس الرجل إِلَى الرجلَيْن إِلَّا على إِذن مِنْهُمَا إِذا كَانَا يتناجيان

رُوِيَ عَن النَّضر فِيمَا يحْكى عَن أهل اللُّغَة أَن الْجَمَاعَة إِذا لم يكن فيهم
দ্বিতীয় মূলনীতি

-

নাজ্জওয়া (গোপন আলাপ) শব্দ প্রসঙ্গে

 

নাফে‘ থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে উমর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: “দুইজন ব্যক্তি যখন পরস্পর কানাকানি বা গোপন কথা বলে, তখন তাদের অনুমতি ব্যতীত কোনো ব্যক্তি যেন তাদের কাছে না বসে।”

আন-নাদর থেকে ভাষাবিদদের উদ্ধৃতিতে বর্ণিত হয়েছে যে, কোনো জামাত বা দলে যখন এমন কেউ না থাকে
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৭১)
غَرِيب فحديثهم نجوى وَإِن جهروا فِيمَا بَينهم وَإِذا كَانُوا ثَلَاثَة وَفِيهِمْ غَرِيب فَلَيْسَ حَدِيثهمْ بنجوى وَإِن أسروه قَالَ الله تَعَالَى فَلَمَّا استيئسوا مِنْهُ خلصوا نجيا

وَأهل النَّجْوَى إِذا اجْتَمعُوا نجيا فكأنهم فِي ستر أَو وَطن فَكَمَا يجب الاسْتِئْذَان فِي الدُّخُول عَلَيْهِم فِي أوطانهم فَكَذَلِك يجب الاسْتِئْذَان فِي الْجُلُوس إِلَيْهِم فَإِن ذَلِك أَذَى لَهُم وَقطع عَلَيْهِم وهتك لسترهم وَهَذَا كُله لعظم حُرْمَة الْمُؤمن وتجنب أَذَاهُ وَإِذا كَانَ وَحده فَفِيهِ سَعَة لِأَنَّهُ لَيْسَ هُنَاكَ سر يطلع عَلَيْهِ وَلَكِن يحِق على الْوَرع أَن يتحين الْوَقْت وَالْحَال وَأَن يتَجَنَّب التثقيل

قَالَ إِبْرَاهِيم النَّخعِيّ رحمه الله من أَمن الثّقل ثقل

وَقَالَ أَبُو حنيفَة رحمه الله عَن حَمَّاد من خَافَ أَن يكون ثقيلا فَلَيْسَ بثقيل

قَالَ مُغيرَة لقد نهى الله تَعَالَى عَن التثقيل فِي قَوْله الْكَرِيم {فَإِذا طَعِمْتُمْ فَانْتَشرُوا وَلَا مستأنسين لحَدِيث}

إِلَى قَوْله وَالله لَا يستحي من الْحق

وَهَذِه الْآيَة نزلت فِي بعض أَزوَاج النَّبِي صلى الله عليه وسلم أحسبها زَيْنَب رضي الله عنها تزوج رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بهَا وَأَوْلَمَ عَلَيْهَا فَلَمَّا أطْعمهُم أَرَادَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن يَخْلُو بأَهْله فقعدوا بعد الطَّعَام
একজন আগন্তুক থাকলে তাদের আলাপচারিতা গোপন আলাপ (নাজওয়া) হিসেবে গণ্য হবে, যদিও তারা নিজেদের মধ্যে উচ্চস্বরে কথা বলে। আর তারা যদি তিনজন হয় এবং তাদের মধ্যে একজন আগন্তুক থাকে, তবে তাদের কথা গোপন আলাপ নয়, যদিও তারা তা সংগোপনে বলে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর যখন তারা তার নিকট থেকে নিরাশ হলো, তখন তারা নির্জনে গিয়ে পরামর্শ করতে লাগল।"

আর গোপন আলাপে রত ব্যক্তিরা যখন নির্জনে একত্রিত হয়, তখন তারা যেন কোনো আবরণে বা নিজ গৃহে অবস্থান করছে। সুতরাং তাদের গৃহে প্রবেশের ক্ষেত্রে যেমন অনুমতি গ্রহণ করা আবশ্যক, তেমনি তাদের সাথে বসার জন্যও অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। কেননা অনুমতি ব্যতীত বসা তাদের জন্য কষ্টদায়ক, তাদের আলাপে বিচ্ছেদ সৃষ্টিকারী এবং তাদের গোপনীয়তা নষ্টকারী। এই সবকিছুই মুমিনের সুমহান মর্যাদা রক্ষা এবং তাকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকার উদ্দেশ্যে। আর ব্যক্তি যদি একা থাকে তবে সেখানে কিছুটা প্রশস্ততা রয়েছে, কারণ সেখানে এমন কোনো গোপন বিষয় নেই যা প্রকাশ হয়ে যেতে পারে। তবে একজন পরহেজগার ব্যক্তির উচিত উপযুক্ত সময় ও অবস্থা অন্বেষণ করা এবং বিরক্তি উৎপাদন বা বোঝা হওয়া এড়িয়ে চলা।

ইবরাহিম নাখয়ি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজেকে বোঝা হওয়া থেকে নিরাপদ মনে করে, সে-ই আসলে বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।"

ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি বোঝা হওয়ার ভয় করে, সে আসলে বোঝা নয়।"

মুগিরা বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বিরক্তি উৎপাদন বা বোঝা হওয়া থেকে তাঁর এই পবিত্র বাণীতে নিষেধ করেছেন: {অতঃপর যখন তোমরা ভোজন শেষ করবে, তখন তোমরা চলে যাবে এবং কথাবার্তায় মগ্ন হয়ে পড়বে না}

আল্লাহর এই বাণী পর্যন্ত: {এবং আল্লাহ সত্য বলতে সংকুচিত হন না।}

এই আয়াতটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জনৈক স্ত্রীর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছিল, আমার ধারণা তিনি হলেন জয়নব (রাদিয়াল্লাহু আনহা)। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বিবাহ করেছিলেন এবং ওলিমার আয়োজন করেছিলেন। যখন তিনি তাদের আহার করালেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীর সাথে একান্তে সময় কাটাতে চাইলেন, কিন্তু তারা আহার শেষ করার পরও সেখানে বসে রইল।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৭২)
يتحدثون فِي بَيته وَرَسُول الله صلى الله عليه وسلم مرّة يخرج وَمرَّة يدْخل وهم فِي الْبَيْت قعُود لَا يبرحون فَنزلت هَذِه الْآيَة

وَكَانَ أَبُو هُرَيْرَة رضي الله عنه إِذا استثقل رجلا قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِر لنا وَله وَأَرِحْنَا مِنْهُ

وَقَالَ حَاتِم بن عبد الله الأشجي انْتَهَيْت مَعَ سُفْيَان الثَّوْريّ إِلَى أبي حنيفَة اليمامي رحمه الله وَإِذا هُوَ جَالس فِي تُرَاب فَدَنَوْنَا مِنْهُ وَسلمنَا عَلَيْهِ وَقَالَ لَهُ سُفْيَان رَحِمك الله تَأذن فنجلس إِلَيْك قَالَ لَا فرجعنا فَقَالَ سُفْيَان إِن الرجل فِي كل حالاته يحب أَن يجلس إِلَيْهِ
তারা তাঁর ঘরে কথা বলছিলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বের হচ্ছিলেন ও একবার প্রবেশ করছিলেন, এমতাবস্থায় তারা ঘরে উপবিষ্ট ছিলেন এবং সেখান থেকে সরছিলেন না। তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হলো।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন কাউকে ভারি বা বিরক্তিকর মনে করতেন, তখন বলতেন: হে আল্লাহ! আমাদের ও তাকে ক্ষমা করুন এবং তার থেকে আমাদের স্বস্তি দান করুন।

হাতিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আশজায়ী বলেন, আমি সুফিয়ান সাওরির সাথে আবু হানিফা আল-ইয়ামামির (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) কাছে পৌঁছালাম। এমতাবস্থায় তিনি মাটির ওপর বসা ছিলেন। আমরা তাঁর নিকটবর্তী হলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। সুফিয়ান তাঁকে বললেন, আল্লাহ আপনাকে রহম করুন, আপনি কি আমাদের আপনার কাছে বসার অনুমতি দেবেন? তিনি বললেন, না। ফলে আমরা ফিরে এলাম। তখন সুফিয়ান বললেন, মানুষ তো সর্বাবস্থায়ই চায় যে তার কাছে কেউ বসুক।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৭৩)
-‌‌ الأَصْل الثَّالِث

-

‌‌فِي تَأْثِير الْغَضَب فِي الْإِيمَان

 

عَن بهز بن حَكِيم بن مُعَاوِيَة بن حيدة الْقشيرِي عَن أَبِيه عَن جده رضوَان الله عَلَيْهِم أَجْمَعِينَ قَالَ قلت يَا رَسُول الله أَخْبرنِي بِوَصِيَّة قَصِيرَة فألزمها قَالَ لَا تغْضب يَا مُعَاوِيَة بن حيدة إِن الْغَضَب يفْسد الْإِيمَان كَمَا يفْسد الصَّبْر الْعَسَل

وَعَن ابْن مَسْعُود رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
তৃতীয় মূলনীতি

-

ঈমানের ওপর ক্রোধের প্রভাব প্রসঙ্গে

 

বাহজ ইবনে হাকিম ইবনে মুআবিয়া ইবনে হায়দাহ আল-কুশাইরী থেকে তার পিতা, তিনি তার দাদা (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি সংক্ষিপ্ত উপদেশ প্রদান করুন যা আমি আঁকড়ে ধরব। তিনি বললেন: হে মুআবিয়া ইবনে হায়দাহ, তুমি রাগ করো না; কেননা রাগ ঈমানকে সেভাবে নষ্ট করে দেয় যেভাবে এলুয়া মধুকে নষ্ট করে দেয়।

এবং ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৭৪)
إِن الْغَضَب ميسم من نَار جَهَنَّم يَضَعهُ الله تَعَالَى على نِيَاط أحدهم أَلا ترى أَنه إِذا غضب احْمَرَّتْ عينه واربد وَجهه وَانْتَفَخَتْ أوداجه

وَقَالَ فِي حَدِيث آخر إِن الْغَضَب جَمْرَة توقد فِي قلب ابْن آدم أَلا ترى إِلَى انتفاخ أوداجه وَحُمرَة عَيْنَيْهِ وَذَلِكَ أَن الشَّيْطَان ينْفخ فِي تِلْكَ الْجَمْرَة

فَشبه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ذَلِك بالعسل وَالصَّبْر فَكَمَا يفْسد الصَّبْر الْعَسَل فَكَذَلِك الْغَضَب يدنس الْإِيمَان ومرارته تذْهب حلاوته ونزاهته فالإيمان حُلْو نزه وَالْغَضَب مر دنس

وَرُوِيَ عَن عِيسَى عليه السلام أَنه سَأَلَهُ يحيى بن زَكَرِيَّا عليه السلام عَن الْغَضَب مَا بدؤه قَالَ الْكبر أَلا ترى أَنَّك تغْضب على من هُوَ دُونك وَلَا تغْضب على من هُوَ فَوْقك بِمثلِهِ

وَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يدْخل الْجنَّة من كَانَ فِي قلبه مِثْقَال ذرة من كبر قيل فَمَا الْكبر يَا رَسُول الله قَالَ أَن تسفه الْحق وَتغمضُ النَّاس أَي تحقرهم
নিশ্চয়ই ক্রোধ হলো জাহান্নামের অগ্নির একটি চিহ্ন, যা আল্লাহ তাআলা কোনো ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের ধমনীতে স্থাপন করেন। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, যখন কেউ রাগান্বিত হয়, তখন তার চোখ লাল হয়ে যায়, চেহারা বিবর্ণ হয়ে যায় এবং ঘাড়ের রগগুলো ফুলে ওঠে?

অন্য একটি হাদীসে তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই ক্রোধ আদম সন্তানের হৃদয়ে প্রজ্বলিত একটি জ্বলন্ত অঙ্গার। আপনি কি তার ঘাড়ের রগ ফুলে ওঠা এবং চোখের লালিমার দিকে লক্ষ্য করেন না? আর তা এজন্য যে, শয়তান সেই অঙ্গারে ফুঁ দেয়।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একে মধু এবং সিবর (একজাতীয় তিক্ত উদ্ভিদ) এর সাথে তুলনা করেছেন। সুতরাং যেভাবে সিবর মধুকে নষ্ট করে দেয়, তেমনিভাবে ক্রোধ ঈমানকে কলুষিত করে এবং এর তিক্ততা ঈমানের মাধুর্য ও নির্মলতাকে বিলীন করে দেয়। কেননা ঈমান হলো মিষ্ট ও নির্মল, আর ক্রোধ হলো তিক্ত ও কলুষিত।

ঈসা আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া আলাইহিস সালাম তাঁকে ক্রোধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এর উৎস কী? তিনি বললেন, অহংকার। আপনি কি দেখেন না যে, আপনি আপনার নিম্নস্থ ব্যক্তির ওপর যেভাবে রাগান্বিত হন, আপনার চেয়ে উচ্চস্থ ব্যক্তির ওপর সেভাবে রাগান্বিত হন না?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! অহংকার কী? তিনি বললেন, সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা অর্থাৎ তাদের অবজ্ঞা করা।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৭৫)
وَعَن أنس رضي الله عنه عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ يَقُول الله عز وجل لي العظمة والكبرياء وَالْفَخْر وَالْقدر سري فَمن نَازَعَنِي فِي وَاحِدَة مِنْهُنَّ كببته فِي النَّار وَالْإِيمَان هُوَ خضوع العَبْد والقاؤه بِيَدِهِ لَهُ سلما وَالْكبر ضِدّه وَالْغَضَب مِنْهُ يَبْدُو وَينْزع الشَّيْطَان بنفثه ونفخه حَتَّى يتوقد ويهتاج فَلذَلِك قَالَ يفْسد الْإِيمَان

وَرُوِيَ عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ إِنِّي لأعْلم كلمة لَو قَالَهَا لذهب عَنهُ أعوذ بِاللَّه من الشَّيْطَان الرَّجِيم وَذَلِكَ عِنْدَمَا رأى رجلا يتمرغ أَنفه من الْغَضَب وَهُوَ قَوْله تَعَالَى وَإِمَّا يَنْزغَنك من الشَّيْطَان نَزغ فاستعذ بِاللَّه من الشَّيْطَان الرَّجِيم

وَإِنَّمَا وضع هَذَا الميسم من النَّار فِي هَذَا الْموضع من الْآدَمِيّ لكَي يغْضب لله تَعَالَى فِي الْمَوَاضِع الَّتِي يَنْبَغِي فَإِن فِي الْغَضَب قُوَّة للآدمي على أَمر الله تَعَالَى وَهُوَ مُحْتَاج إِلَى أَن يعادي اعداءه ويحاربهم فبالغضب
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা বলেন: মহিমা, অহংকার, গৌরব এবং ক্ষমতা হলো আমার গোপন রহস্য; সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলোর কোনো একটি নিয়ে আমার সাথে বিবাদ করবে, আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব। আর ঈমান হলো বান্দার বিনয় এবং আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আল্লাহর হাতের ওপর তার হাত রাখা। অহংকার হলো এর বিপরীত এবং তা থেকেই ক্রোধের উৎপত্তি হয়। শয়তান তার ফুঁক ও কুমন্ত্রণার মাধ্যমে এটিকে উসকে দেয় যতক্ষণ না তা প্রজ্বলিত ও উত্তেজিত হয়ে ওঠে; এজন্যই বলা হয়েছে যে এটি ঈমানকে নষ্ট করে দেয়।

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: আমি অবশ্যই এমন একটি বাক্য জানি, যা সে বললে তার এই অবস্থা দূর হয়ে যেত: "আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" এটি তখন হয়েছিল যখন তিনি এক ব্যক্তিকে রাগে অগ্নিশর্মা হতে দেখেছিলেন। আর এটিই মহান আল্লাহর বাণী: "আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা তোমাকে উসকে দেয়, তবে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো।"

মানুষের মধ্যে আগুনের এই বৈশিষ্ট্যটি কেবল এজন্যই রাখা হয়েছে যাতে সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যথাযথ ক্ষেত্রে রাগান্বিত হতে পারে। কেননা আল্লাহর বিধান পালনে ক্রোধের মধ্যে মানুষের জন্য এক প্রকার শক্তি রয়েছে। তার শত্রুদের শত্রু হিসেবে গণ্য করা এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সে ক্রোধের মুখাপেক্ষী। সুতরাং ক্রোধের মাধ্যমেই...
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৭৬)
يتقوى حَتَّى يحاربهم ويغير الْمُنكر وَيُقِيم حُقُوق الله تَعَالَى وحدوده فللحق نفخة فِي تِلْكَ الْجَمْرَة وللشيطان نفخة فِي وقته فنفخة الشَّيْطَان لَهَا رجاسة تفْسد الْإِيمَان وطهارته وطيبه وَإِذا كَانَت نفخة الْحق فَإِنَّهُ يتقوى ويحمر وَجهه ويمتلىء من نور الْحق وَلَا يفْسد الْإِيمَان وَكَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا غضب غضب لله تَعَالَى وَلَا يغْضب لنَفسِهِ وَلَا لدنياه وَكَانَ إِذا غضب رُؤِيَ ذَلِك الْعرق بَين عَيْنَيْهِ يرد من الْغَضَب وَيظْهر نتوؤه وانتفاخه وتحمر وجنتاه

وَكَانَ مُوسَى عليه السلام إِذا غضب اشتعلت قلنسوته نَارا
তিনি শক্তিশালী হন যাতে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেন, অন্যায় পরিবর্তন করতে পারেন এবং মহান আল্লাহর হকসমূহ ও তাঁর নির্ধারিত সীমারেখা কায়েম করতে পারেন। সুতরাং সেই জ্বলন্ত অঙ্গারে সত্যের পক্ষ থেকে একটি ফুঁৎকার রয়েছে এবং শয়তানের পক্ষ থেকেও তার সময়ে একটি ফুঁৎকার রয়েছে। শয়তানের ফুঁৎকারে এমন অপবিত্রতা রয়েছে যা ঈমান এবং এর পবিত্রতা ও শুভ্রতাকে নষ্ট করে দেয়। আর যখন সত্যের পক্ষ থেকে ফুঁৎকার হয়, তখন তিনি শক্তিশালী হন, তাঁর চেহারা রক্তিম হয়ে ওঠে এবং তা সত্যের নূরে পরিপূর্ণ হয়ে যায় এবং এটি ঈমানকে নষ্ট করে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাগান্বিত হতেন, তখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই রাগান্বিত হতেন; নিজের জন্য বা দুনিয়ার কোনো কারণে রাগান্বিত হতেন না। যখন তিনি রাগান্বিত হতেন, তখন তাঁর দুই চোখের মধ্যবর্তী সেই রগটি দেখা যেত যা রাগের কারণে স্পন্দিত হতো এবং তার স্ফীতি ও ফুলে ওঠা প্রকাশ পেত এবং তাঁর গণ্ডদেশ রক্তিম হয়ে যেত।

আর মূসা আলাইহিস সালাম যখন রাগান্বিত হতেন, তখন তাঁর টুপি আগুনে প্রজ্বলিত হয়ে উঠত।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৭৭)
-‌‌ الأَصْل الرَّابِع

-

‌‌فِي أدب الانتعال

 

عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا انْتقل أحدكُم فليبدأ بِالْيَمِينِ فَإِذا نَزغ فليبدأ بالشمال وَليكن بِالْيَمِينِ أَولهمَا يلبس وآخرهما ينْزع

الْيَمين مَحْبُوب الله ومختاره من الْأَشْيَاء فَأهل الْجنَّة عَن يَمِين الْعَرْش يَوْم الْقِيَامَة وَأهل السَّعَادَة يُعْطون كتبهمْ بأيمانهم وكفة الْحَسَنَات من الْمِيزَان عَن الْيَمين والكرام الكاتبون وَكَاتب الْحَسَنَات مِنْهُم عَن الْيَمين

وَكَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يتوخى فِي كل فعل من مثل هَذَا الْيَمين
চতুর্থ মূলনীতি

-

জুতা পরিধানের শিষ্টাচার প্রসঙ্গে

 

আবু হুরায়রা (আল্লাহ তার ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন জুতা পরিধান করবে, তখন সে যেন ডান দিক থেকে আরম্ভ করে। আর যখন সে জুতা খুলবে, তখন সে যেন বাম দিক থেকে আরম্ভ করে। যেন পরিধান করার ক্ষেত্রে ডানটি প্রথম হয় এবং খোলার ক্ষেত্রে তা সর্বশেষ হয়।"

ডান দিক আল্লাহর নিকট প্রিয় এবং সকল বিষয়ের মধ্য হতে তাঁর মনোনীত। সুতরাং কিয়ামতের দিন জান্নাতবাসীরা আরশের ডান পার্শ্বে অবস্থান করবেন এবং সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের আমলনামা তাদের ডান হাতে প্রদান করা হবে। মীযানের নেকির পাল্লাও ডান পার্শ্বে থাকবে এবং সম্মানিত লেখক ফেরেশতামণ্ডলীর মধ্যে নেকি লেখক ফেরেশতা ডান পার্শ্বে অবস্থান করেন।

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই জাতীয় প্রতিটি কার্যে ডান দিকটিই অন্বেষণ করতেন।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৭৮)
توخيا لمختار الله تَعَالَى وَكَانَ إِذا شرب أعْطى الْأَيْمن فالأيمن جرعته حَتَّى أَنه شرب يَوْمًا وَأَبُو بكر رضي الله عنه عَن يسَاره وَغُلَام إعرابي عَن يَمِينه فَقَالَ للغلام أتأذن لي فَأعْطِي الْأَشْيَاخ فَقَالَ مَا كنت لأوثر بِفَضْلِك على نَفسِي أحدا فَأعْطَاهُ الْغُلَام وَكَانَ يبْدَأ باليمنى إِذا دخل الْمَسْجِد ثمَّ إِذا خرج أَو نزع نَعله بَدَأَ باليسرى كي يكون الْيَمين آخر الْعَهْد بِمَسْجِد الله تَعَالَى وَبِمَا هُوَ خير للقدم ورفق لَهُ وَكَانَ يسْتَعْمل تَدْبِير الله تَعَالَى ويفتقده فِي كل شَيْء حَتَّى فِي ترجله وتنعله وَطهُوره

وَعَن أنس رضي الله عنه قَالَ لما رمى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْجَمْرَة وَنحر نُسكه ناول رَأسه الحلاق فَقَالَ ابدأ بالشق الْأَيْمن فحلقه فَأعْطَاهُ أَبَا طَلْحَة ثمَّ نَاوَلَهُ الْأَيْسَر فحلقه فَقَالَ اقسمه بَين النَّاس

وَعَن ابْن عمر رضي الله عنهما عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ إِذا أكل أحدكُم فَليَأْكُل بِيَمِينِهِ وَإِذا شرب أحدكُم فليشرب بيمنه
আল্লাহ তাআলার মনোনীত বিষয় অন্বেষণে তিনি যখন পান করতেন, তখন তাঁর ডানদিকের ব্যক্তিকে এবং তার পরবর্তী ডানদিকের ব্যক্তিকে তাঁর অবশিষ্ট পানীয় দিতেন। এমনকি একদিন তিনি পান করলেন যখন আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর বাম পাশে ছিলেন এবং এক গ্রাম্য বালক তাঁর ডান পাশে ছিল। তিনি বালকটিকে বললেন, "তুমি কি আমাকে অনুমতি দেবে যাতে আমি বয়োজ্যেষ্ঠদের দিতে পারি?" বালকটি বলল, "আপনার নিকট থেকে প্রাপ্ত আমার অংশে আমি নিজের ওপর অন্য কাউকে প্রাধান্য দেব না।" অতঃপর তিনি তা বালকটিকেই দিলেন। তিনি যখন মসজিদে প্রবেশ করতেন তখন ডান পা দিয়ে শুরু করতেন, আর যখন বের হতেন বা জুতা খুলতেন তখন বাম পা দিয়ে শুরু করতেন, যাতে ডান পায়ের সম্পর্ক আল্লাহ তাআলার মসজিদের সাথে সবার শেষে হয় এবং যা পায়ের জন্য কল্যাণকর ও কোমল হয়। তিনি প্রতিটি কাজে আল্লাহ তাআলার প্রবর্তিত রীতি অনুসরণ করতেন এবং এমনকি চুল আঁচড়ানো, জুতা পরা ও পবিত্রতা অর্জনের মতো প্রতিটি বিষয়েও তা লক্ষ্য রাখতেন।

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জামরায় পাথর নিক্ষেপ করলেন এবং তাঁর কুরবানির পশু জবাই করলেন, তখন নাপিতের দিকে তাঁর মাথা এগিয়ে দিলেন এবং বললেন, "ডান পাশ থেকে শুরু করো।" অতঃপর সে তা মুণ্ডন করল এবং তিনি তা আবু তালহাকে দিলেন। এরপর তিনি বাম পাশ এগিয়ে দিলেন এবং সে তা মুণ্ডন করল। তখন তিনি বললেন, "এটি মানুষের মধ্যে বণ্টন করে দাও।"

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "তোমাদের কেউ যখন আহার করে, সে যেন তার ডান হাত দিয়ে আহার করে এবং যখন পান করে, সে যেন তার ডান হাত দিয়ে পান করে।"
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৭৯)
وَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ يَمِين الله ملأى سحاء لَا يغيضها شَيْء بِاللَّيْلِ وَلَا بِالنَّهَارِ

وَعَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ إِن الله تَعَالَى خلق آدم فَمسح ظَهره بِيَمِينِهِ فاستخرج مِنْهُ ذُرِّيَّة فَقَالَ خلقت هَؤُلَاءِ للجنة وبعمل أهل الْجنَّة يعْملُونَ ثمَّ مسح ظَهره بيساره فاستخرج مِنْهُ ذُرِّيَّة فَقَالَ خلقت هَؤُلَاءِ للنار وبعمل أهل النَّار يعْملُونَ

وَعَن أبي أُمَامَة رضي الله عنه عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ خلق الله الْخلق وَقضى الْقَضِيَّة فَأخذ مِيثَاق النَّبِيين وعرشه على المَاء فَأخذ أهل الْيَمين بِيَمِينِهِ وَأخذ أهل الشمَال بِالْأُخْرَى وكلتا يَدي الرَّحْمَن يَمِين ثمَّ قَالَ يَا أَصْحَاب الْيَمين قَالُوا لبيْك رَبنَا وَسَعْديك قَالَ أَلَسْت بربكم قَالُوا بلَى ثمَّ قَالَ أَصْحَاب الشمَال قَالُوا لبيْك
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহর ডান হাত পূর্ণ, যা দিন ও রাতের অবিরত দান সত্ত্বেও কমে যায় না।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আদমকে সৃষ্টি করলেন, অতঃপর তাঁর ডান হাত দিয়ে তাঁর পিঠ মাসাহ করলেন এবং তা থেকে তাঁর একদল বংশধর বের করলেন। এরপর তিনি বললেন: আমি এদের জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং তারা জান্নাতবাসীদের আমল করবে। এরপর তিনি তাঁর বাম হাত দিয়ে তাঁর পিঠ মাসাহ করলেন এবং তা থেকে একদল বংশধর বের করলেন। এরপর তিনি বললেন: আমি এদের জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি এবং তারা জাহান্নামীদের আমল করবে।

আবু উমামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করলেন এবং তকদির নির্ধারণ করলেন। অতঃপর তিনি নবীদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর আরশ পানির উপর ছিল। এরপর তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে ডানপন্থীদের ধরলেন এবং অন্য হাত দিয়ে বামপন্থীদের ধরলেন—আর রহমানের উভয় হাতই ডান। এরপর তিনি বললেন: হে ডানপন্থীগণ! তারা বলল: লাব্বাইক রব্বানা ওয়া সাদাইক (আমরা হাজির হে আমাদের রব এবং আপনার আনুগত্যে প্রস্তুত)। তিনি বললেন: আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলল: অবশ্যই। এরপর তিনি বামপন্থীদের সম্বোধন করলেন, তারাও বলল: লাব্বাইক।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৮০)
وَسَعْديك قَالَ أَلَسْت بربكم قَالُوا بلَى فخلط بَعضهم بِبَعْض فَقَالَ قَائِل مِنْهُم رب لم خلطت بَيْننَا فَقَالَ لَهُم أَعمال من دون ذَلِك هم لَهَا عاملون فَقَالَ قَائِل فَمَا الْأَعْمَال قَالَ يعْمل كل قوم لمنزلتهم فَقَالَ عمر رضي الله عنه إِذا نجتهد

وَسُئِلَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن الْأَعْمَال أَهِي مؤتنف أم قد فرغ مِنْهَا قَالَ بل فرغ مِنْهَا

عَن سعيد بن الْمسيب عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لما خلق الله تَعَالَى آدم ضرب بِيَدِهِ على شقّ آدم الْأَيْمن فَأخْرج ذُرِّيَّة كالذر ثمَّ قَالَ يَا آدم هَؤُلَاءِ ذريتك من أهل الْجنَّة ثمَّ ضرب بِيَدِهِ على شقّ آدم الْأَيْسَر فَأخْرج ذُرِّيَّة كالحمم ثمَّ قَالَ هَؤُلَاءِ ذريتك من أهل النَّار

وَقَالَ تَعَالَى فِي تَنْزِيله {وَالْأَرْض جَمِيعًا قَبضته يَوْم الْقِيَامَة وَالسَّمَاوَات مَطْوِيَّات بِيَمِينِهِ} وَجَاء فِي الْخَبَر أَن الْجنَّة يُؤْتى بهَا فتوضع عَن يَمِين الْعَرْش يَوْم الْقِيَامَة وَالنَّار عَن يسَار الْعَرْش وَيُؤْتى بالميزان فينصب بَين يَدي الله وكفة الْحَسَنَات عَن يَمِين الْعَرْش مُقَابل الْجنَّة وكفة السَّيِّئَات عَن يسَار الْعَرْش مُقَابل النَّار وَقَالَ تَعَالَى وَأَصْحَاب الْيَمين مَا أَصْحَاب الْيَمين وَأَصْحَاب الشمَال مَا أَصْحَاب الشمَال

حدث جَعْفَر بن كثير من آل عَليّ بن أبي طَالب كرم الله وَجهه وَهُوَ يَوْمئِذٍ ابْن ثَمَانِينَ سنة قَالَ حَدثنِي أبي أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ
এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য (আমি হাজির)। তিনি বললেন, ‘আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই?’ তারা বলল, ‘অবশ্যই’। অতঃপর তিনি তাদের একে অপরের সাথে মিশিয়ে দিলেন। তখন তাদের মধ্য থেকে একজন বলল, ‘হে প্রতিপালক, কেন আপনি আমাদের একে অপরের সাথে মিশিয়ে দিলেন?’ তিনি বললেন, ‘তাদের জন্য এ ব্যতীত আরও আমল রয়েছে যা তারা সম্পাদন করবে।’ তখন এক ব্যক্তি বলল, ‘তবে আমলগুলো কী?’ তিনি বললেন, ‘প্রত্যেক সম্প্রদায় তাদের নির্ধারিত গন্তব্যের জন্যই আমল করবে।’ তখন ওমর (রা.) বললেন, ‘তাহলে তো আমরা সচেষ্ট হব’।

এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, তা কি নতুন সূচিত বিষয় নাকি তা থেকে ফারেগ হওয়া হয়েছে? তিনি বললেন, ‘বরং তা থেকে ফারেগ হওয়া হয়েছে’।

সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণিত, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন আল্লাহ তাআলা আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি তাঁর হাত দিয়ে আদমের ডান পার্শ্বে আঘাত করলেন এবং ক্ষুদ্র পিঁপড়াসদৃশ একদল বংশধর বের করে আনলেন। অতঃপর তিনি বললেন: ‘হে আদম, এরা তোমার জান্নাতবাসী বংশধর’। তারপর তিনি তাঁর হাত দিয়ে আদমের বাম পার্শ্বে আঘাত করলেন এবং কয়লার মতো কৃষ্ণবর্ণ একদল বংশধর বের করে আনলেন। অতঃপর তিনি বললেন: ‘এরা তোমার জাহান্নামী বংশধর’।

এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর নাযিলকৃত কিতাবে বলেছেন: {আর কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোয় এবং আসমানসমূহ তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা অবস্থায় থাকবে}। বর্ণনায় এসেছে যে, কিয়ামতের দিন জান্নাতকে আনা হবে এবং তা আরশের ডানে রাখা হবে, আর জাহান্নামকে আরশের বামে রাখা হবে। মিযান আনা হবে এবং তা আল্লাহর সামনে স্থাপন করা হবে। নেক আমলের পাল্লাটি জান্নাতের বিপরীতে আরশের ডানে থাকবে এবং বদ আমলের পাল্লাটি জাহান্নামের বিপরীতে আরশের বামে থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর ডান দিকের দল, কত সৌভাগ্যবান ডান দিকের দল! এবং বাম দিকের দল, কত দুর্ভাগ্যবান বাম দিকের দল!}।

আলী ইবনে আবি তালিব (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু)-এর বংশধর জাফর বিন কাসীর বর্ণনা করেছেন—সেদিন তিনি আশি বছর বয়সী ছিলেন—তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৮১)
إِذا صلى الْفَرِيضَة تياسر فصلى مَا بدا لَهُ وَأمر أَصْحَابه أَن يتياسروا وَلَا يتيامنوا

وَعَن ضبيعة بنت الْمِقْدَاد بن معدي كرب عَن أَبِيهَا أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذا صلى إِلَى عَمُود أَو خَشَبَة أَو شبه ذَلِك لم يَجعله نصب عَيْنَيْهِ وَلَكِن يَجعله على حَاجِبه الْأَيْسَر

قَالَ كَأَنَّهُ يدل بِهَذَيْنِ الْفِعْلَيْنِ من هذَيْن الْحَدِيثين على أَنه يتوخى الْيَمين فَإِن العَبْد إِذا أَقَامَ فَإِنَّمَا هُوَ قبالة الله عز وجل

بذلك جَاءَت الْأَخْبَار عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَالْيَمِين دلّ اسْمه على مَعْنَاهُ فالأمن وَالْإِيمَان وَالْيَمِين كُله مَوْجُود فِي هَذَا الِاسْم

وَوجه آخر أَنه كَانَ يتياسر بِصَلَاة التَّطَوُّع عَن مَوْضِعه الَّذِي أدّى فِيهِ الْفَرِيضَة كَأَنَّهُ لَا يجب أَن يقدم على الْفَرِيضَة شَيْئا وَمِمَّا يُحَقّق ذَلِك مَا رُوِيَ عَن أبي صَالح الْحَنَفِيّ قَالَ كَانَ عَليّ كرم الله وَجهه يسلم تسليمتي الصَّلَاة إِحْدَاهمَا اخْفِضْ من الْأُخْرَى قيل لأبي صَالح أَيهمَا أَخفض من الْأُخْرَى قَالَ الْيُسْرَى وَإِنَّمَا توخى ذَلِك أَن يكون فرقا بَين التسليمتين بالخفض وَرفع الصَّوْت ليؤدي حق كَاتب الْحَسَنَات بِرَفْع الصَّوْت وَكَذَلِكَ حق من عَن يَمِينه ليؤديه بِرَفْع ذَلِك الصَّوْت وبخفضه عَن الْيُسْرَى ليتبين فضل الْيُمْنَى عَن الْيُسْرَى
যখন তিনি ফরয সালাত আদায় করতেন, তখন তিনি বাম দিকে সরে যেতেন এবং যা তাঁর ইচ্ছা হতো তা (নফল) সালাত আদায় করতেন এবং তিনি তাঁর সাহাবীদেরকেও বাম দিকে সরার এবং ডান দিকে না সরার নির্দেশ দিতেন।

দুবাইআহ বিনতে মিকদাদ ইবনে মাদিকারিব তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো খুঁটি, কাঠ বা এই জাতীয় কিছুর দিকে (সুতরা হিসেবে) সালাত আদায় করতেন, তখন তিনি সেটিকে সরাসরি তাঁর চোখের সামনে রাখতেন না, বরং তাঁর বাম ভ্রুর সোজাসুজি রাখতেন।

তিনি বলেন, এই হাদীস দুটিতে বর্ণিত এই দুটি কাজ দ্বারা যেন তিনি ডান দিককে গুরুত্ব দিতে চেয়েছেন। কেননা বান্দা যখন সালাতে দাঁড়ায়, তখন সে মূলত মহান আল্লাহর সম্মুখেই থাকে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সংবাদসমূহ এই বিষয়টিই নিয়ে এসেছে। আর 'ইয়ামীন' (ডান দিক) নামটির শব্দমূলই এর অর্থ নির্দেশ করে। কেননা নিরাপত্তা (আমন), ঈমান এবং ডান দিক (ইয়ামীন)—সবই এই নামের মাঝে বিদ্যমান।

অন্য একটি দিক হলো, তিনি যে স্থানে ফরয সালাত আদায় করতেন, নফল সালাত আদায়ের সময় সেখান থেকে বাম দিকে সরে যেতেন; যেন ফরয সালাতের ওপর অন্য কোনো কিছুকেই তিনি অগ্রগণ্য করতে চাইতেন না। এর সত্যতা আবু সালেহ আল-হানাফী থেকে বর্ণিত বর্ণনায় পাওয়া যায়, তিনি বলেন: আলী (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে মর্যাদাপূর্ণ করুন) সালাতে দুবার সালাম ফেরাতেন, যার একটি অন্যটির তুলনায় নিম্নস্বরে হতো। আবু সালেহকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন সালামটি অন্যটির চেয়ে নিম্নস্বরে ছিল? তিনি বললেন, বাম দিকেরটি। তিনি স্বরের উচ্চতা ও নিম্নতার মাধ্যমে দুই সালামের মাঝে পার্থক্য করতে চেয়েছিলেন, যাতে উচ্চস্বরের মাধ্যমে নেকি লেখক ফেরেশতার হক আদায় হয় এবং একইভাবে তাঁর ডান দিকে অবস্থানকারীদের হকও সেই উচ্চস্বরের মাধ্যমে আদায় হয়; আর বাম দিকে নিম্নস্বরে সালাম দেওয়ার মাধ্যমে বামের ওপর ডানের শ্রেষ্ঠত্ব সুস্পষ্ট হয়।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৮২)
-‌‌ الأَصْل الْخَامِس

-

‌‌فِي النَّهْي عَن القزع

 

عَن نَافِع عَن ابْن عمر رضي الله عنهما قَالَ نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن القزع والقزع أَن يحلق وسط رَأس الصَّبِي وَيتْرك مَا حوله وَكَانَ هَذَا فعل القسين وهم ضرب من النَّصَارَى وَفِي الْقُرْآن {ذَلِك بِأَن مِنْهُم قِسِّيسِينَ وَرُهْبَانًا} والقسيس فِي النَّصَارَى كالصديق فِي الْإِسْلَام وهومن قس أَي قصّ أثر الرَّسُول الَّذِي دَعَاهُ على لِسَانه

قَالَ سلمَان رضي الله عنه قَرَأت على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم {ذَلِك بِأَن مِنْهُم قِسِّيسِينَ وَرُهْبَانًا} فأقرأني ذَلِك بِأَن مِنْهُم صديقين وَرُهْبَانًا
-‌‌পঞ্চম মূলনীতি

-

‌‌’ক্বাযা’ (চুল আংশিক মুণ্ডন) নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে

 

নাফে’ থেকে বর্ণিত, তিনি ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'ক্বাযা' নিষিদ্ধ করেছেন। আর 'ক্বাযা' হলো শিশুর মাথার মাঝখানের চুল কামিয়ে ফেলা এবং তার চারপাশের অংশ রেখে দেওয়া। এটি ছিল পাদ্রীদের (ক্বিসসীন) কাজ, যারা খ্রিষ্টানদের একটি শ্রেণি। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: {এটি এ কারণে যে, তাদের মধ্যে অনেক পণ্ডিত (ক্বিসসীন) ও সংসারবিরাগী (রুহবান) রয়েছে}। খ্রিষ্টানদের নিকট 'ক্বিসসীস' হলো তেমন, যেমন ইসলামের ক্ষেত্রে 'সিদ্দীক্ব'। এটি 'ক্বাসসা' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো—সে ওই রাসূলের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে যিনি তাঁর ভাষায় তাঁকে (সত্যের পথে) আহ্বান করেছিলেন।

সালমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পাঠ করলাম— {এটি এ কারণে যে, তাদের মধ্যে অনেক ক্বিসসীন ও রুহবান রয়েছে}, তখন তিনি আমাকে এভাবে পাঠ করালেন— {এটি এ কারণে যে, তাদের মধ্যে অনেক সিদ্দীক্বীন ও রুহবান রয়েছে}।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৮৩)
وَأما حلق أوساط الرؤوس فَذَلِك عَلامَة لضرب مِنْهُم أحدثوه فِيمَا بَينهم

وَلما بعث أَبُو بكر الصّديق رضي الله عنه الْجنُود إِلَى الشَّام قَالَ إِنَّكُم سَتَجِدُونَ أَقْوَامًا حبسوا أنفسهم فِي الصوامع فدعوهم وَمَا حبسوا أنفسهم لله تَعَالَى وستجدون آخَرين اتخذ الشَّيْطَان فِي أوساط رؤوسهم أفحاصا فَإِذا أوجدتم أُولَئِكَ فاضربوا أَعْنَاقهم فالذنن تركُوا الدُّنْيَا وحبسوا أنفسهم فِي الصوامع واعتزلوا أَمر بترك التَّعَرُّض لَهُم وَلم يطالبوا بجزية لأَنهم تركُوا فتركوا لأَنهم كَانُوا صَادِقين فِي سبيلهم وَإِن كَانُوا على ضَلَالَة وَالَّذين خَرجُوا من الصوامع فَلم يصبروا على الْعُزْلَة وفحصوا عَن أواسط رؤوسهم فقد أخبر أَبُو بكر رضي الله عنه أَن الشَّيْطَان دلهم على ذَلِك عَلامَة لأَنْفُسِهِمْ وتشهيرا وإظهارا لما هم عَلَيْهِ كَأَنَّهُ يدل على أَن ذَلِك الصِّنْف مِنْهُم بِمَنْزِلَة من تزهد فِي هَذَا الْعَصْر وَهُوَ غير صَادِق فِي ذَلِك يُرِيد بترك الدُّنْيَا وَقصد بِلبْس الصُّوف والخلقان وحف الشَّارِب وتشمير الثِّيَاب والعمة المطوقة تَحت الحنك وَالِاسْتِقْصَاء فِي الْكحل إِلَى اللحاظ المراياة فَهَذِهِ عَلَامَات الطَّبَقَة الكاذبة المتزهدة المتأكلة حطام الدُّنْيَا بِمَا أظهرُوا من زيهم وشكلهم وتماوتهم وخشوع نفاقهم فَكَذَلِك كَانَ أُولَئِكَ غير صَادِقين فِي عزلتهم فِي الصوامع فَلم يصبروا عَلَيْهَا فَخَرجُوا وَقد حَلقُوا أوساط رؤوسهم ترائيا وتشهيرا لأمرهم فَأمر أَبُو بكر رضي الله عنه بِضَرْب أَعْنَاقهم لأَنهم مَعَ كفرهم لغيرالله عمِلُوا فِي دينهم وَالَّذين تركُوا وحبسوا أنفسهم تركُوا وَمَا حبسوا
আর মাথার মাঝখান মুণ্ডন করার বিষয়টি হলো তাদের একটি দলের আলামত, যা তারা নিজেদের মধ্যে উদ্ভাবন করেছিল।

যখন আবু বকর সিদ্দিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সিরিয়ায় সেনাবাহিনী প্রেরণ করলেন, তখন তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই তোমরা এমন কিছু সম্প্রদায়কে পাবে যারা গির্জায় নিজেদের আবদ্ধ করে রেখেছে, সুতরাং তাদের এবং তারা যার জন্য নিজেদের আল্লাহ তাআলার ইবাদতে আবদ্ধ করে রেখেছে তা ত্যাগ করো। আর তোমরা অন্যদের পাবে যাদের মাথার মাঝখানে শয়তান বাসার মতো গর্ত (মুণ্ডন) তৈরি করে দিয়েছে, যখন তোমরা তাদের পাবে তখন তাদের গর্দান উড়িয়ে দিও।’ সুতরাং যারা দুনিয়া ত্যাগ করেছে, গির্জায় নিজেদের আবদ্ধ রেখেছে এবং নির্জনবাস অবলম্বন করেছে, তাদের বিষয়ে নির্দেশ হলো তাদের কোনো ক্ষতি না করা। তাদের থেকে জিজিয়াও দাবি করা হয়নি, কারণ তারা দুনিয়া ত্যাগ করেছে বলেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে; যেহেতু তারা তাদের পথে সত্যবাদী ছিল, যদিও তারা ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল। আর যারা গির্জা থেকে বের হয়ে এসেছে এবং নির্জনবাসে ধৈর্য ধারণ করতে পারেনি, আর নিজেদের মাথার মাঝখান মুণ্ডন করেছে, তাদের সম্পর্কে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সংবাদ দিয়েছেন যে, শয়তান তাদের নিজেদের জন্য একটি নিদর্শন হিসেবে এবং তারা যে অবস্থায় আছে তা প্রচার ও প্রকাশ করার জন্য এই পথ দেখিয়েছে। যেন এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তাদের সেই শ্রেণীটি বর্তমান যুগের ঐসব মেকি দরবেশদের সমতুল্য যারা যহদ বা বৈরাগ্য প্রদর্শন করে অথচ তারা তাতে সত্যবাদী নয়; বরং তারা দুনিয়া ত্যাগের ভান করে পশমি ও জীর্ণ বস্ত্র পরিধান, গোঁফ ছাঁটা, কাপড় ছোট করে পরা, চিবুকের নিচ দিয়ে প্যাঁচানো পাগড়ি পরিধান এবং লোক দেখানোর জন্য চোখের কোণ পর্যন্ত সুরমা ব্যবহারের মাধ্যমে লৌকিকতা প্রদর্শন করতে চায়। এগুলো হলো সেই মিথ্যাবাদী ও ভণ্ড দরবেশ শ্রেণীর আলামত, যারা তাদের পোশাক, বাহ্যিক রূপ, কৃত্রিম ম্রিয়মাণতা এবং মুনাফেকিসুলভ বিনয় প্রদর্শনের মাধ্যমে দুনিয়ার তুচ্ছ সম্পদ ভোগ করতে চায়। ঠিক তেমনি তারাও তাদের গির্জার নির্জনবাসে সত্যবাদী ছিল না, ফলে তারা সেখানে ধৈর্য ধারণ করতে পারেনি এবং বের হয়ে এসেছে; আর তারা লৌকিকতা ও নিজেদের অবস্থা জাহির করার জন্য মাথার মাঝখান মুণ্ডন করেছিল। তাই আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাদের গর্দান ওড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন; কারণ তারা কুফরিতে লিপ্ত থাকার পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টির পরিবর্তে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে তাদের ধর্মের বেশ ধরেছিল। আর যাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং যারা নিজেদের আবদ্ধ রেখেছিল, তাদের এবং তারা যা নিয়ে আবদ্ধ ছিল সে অবস্থায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৮৪)
لأَنْفُسِهِمْ لأَنهم صَادِقُونَ فِي سبيلهم قَالَ الله تَعَالَى ورهبانية ابتدعوها مَا كتبناها عَلَيْهِم إِلَّا ابْتِغَاء رضوَان الله ثمَّ ذمهم فَقَالَ {فَمَا رعوها حق رعايتها}

فَإِنَّمَا نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي شَأْن الصَّبِي أَن يحلق وسط رَأسه للتشبه بهؤلاء الَّذين وصفناهم وَأما قصَّة هَؤُلَاءِ الَّذين ابتدعوا الرهبانية فقد روى سعيد بن جُبَير عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما فِي قَوْله عز وجل {ورهبانية ابتدعوها مَا كتبناها عَلَيْهِم}

قَالَ كَانَت مُلُوك بعد عِيسَى بن مَرْيَم عليه السلام بدلُوا التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل فَقَالَ نَاس لملوكهم مَا نجد شتما أَشد مِمَّا يشتموننا بِهِ إِنَّهُم يقرأون وَمن لم يحكم بِمَا أنزل الله فَأُولَئِك هم الْكَافِرُونَ وَمن لم يحكم بِمَا أنزل الله فَأُولَئِك هم الظَّالِمُونَ {فَأُولَئِك هم الْفَاسِقُونَ} مَعَ مَا يعيبوننا بِهِ من أَعمالنَا فِي قراءتهم فادعهم فليقرأوا مَا نَقْرَأ وليؤمنوا بِمَا آمنا بِهِ فَدَعَاهُمْ فَجَمعهُمْ فَعرض عَلَيْهِم الْقَتْل وَأَن يتْركُوا قِرَاءَة التَّوْرَاة وَالْإِنْجِيل إِلَّا مَا بدلُوا مِنْهَا فَقَالُوا وَمَا
নিজেদের জন্য, কারণ তারা তাদের পথে সত্যবাদী ছিল। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, "এবং বৈরাগ্যবাদ—যা তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল, আমি তাদের ওপর তা আবশ্যক করিনি, কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষার উদ্দেশ্য ব্যতীত। অতঃপর তারা তা যথাযথভাবে রক্ষা করেনি।"

মূলত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুর মাথার মাঝখান মুণ্ডন করতে নিষেধ করেছেন ঐ সকল লোকদের সাথে সাদৃশ্য বর্জন করার জন্য যাদের আমরা বর্ণনা করেছি। আর যারা বৈরাগ্যবাদ উদ্ভাবন করেছিল তাদের কাহিনী সম্পর্কে সাঈদ ইবনে জুবায়ের ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মহান আল্লাহর এই বাণী প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন: "এবং বৈরাগ্যবাদ—যা তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল, আমি তাদের ওপর তা আবশ্যক করিনি"—

তিনি বলেন: ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম-এর পরবর্তী যুগে এমন কিছু রাজা ছিল যারা তাওরাত ও ইঞ্জিল পরিবর্তন করে ফেলেছিল। তখন কিছু লোক তাদের রাজাদের বলল: "আমরা এমন কোনো কঠোর নিন্দা জানি না যা তারা আমাদের প্রতি করে থাকে। তারা পাঠ করে—'যারা আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফির'; 'যারা আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই জালিম'; 'তারাই ফাসিক'; এর পাশাপাশি তারা তাদের পাঠের মাধ্যমে আমাদের কর্মসমূহের দোষারোপ করে। সুতরাং আপনি তাদের তলব করুন যেন তারা আমরা যা পাঠ করি তা-ই পাঠ করে এবং আমরা যাতে বিশ্বাস করি তারাও যেন তাতেই বিশ্বাস স্থাপন করে।" অতঃপর রাজা তাদের ডেকে একত্রিত করলেন এবং তাদের সামনে প্রাণদণ্ডের হুমকি দিয়ে এই প্রস্তাব দিলেন যে, তারা যেন তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ করা বর্জন করে—কেবল ততটুকু ব্যতীত যা তারা পরিবর্তন করেছে। তখন তারা বলল: "এবং কী..."
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৮৫)
تَصْنَعُونَ بقتلنا دَعونَا وَابْنُوا لنا أساطينا ادفعونا فِيهَا واتركوا لنا شَيْئا يدلى فِيهِ طعامنا وَلَا نؤذيكم وَقَالَت طَائِفَة أُخْرَى مِنْهُم دَعونَا نهيم فِي الأَرْض ونسيح وَنَأْكُل مِمَّا تَأْكُل مِنْهُ الْوَحْش وَنَشْرَب مِمَّا تشرب مِنْهُ الْوَحْش فَإِن قدرتم علينا فِي أَرْضكُم فاقتلونا

وَقَالَت طَائِفَة أُخْرَى مِنْهُم ابْنُوا لنا ديورا فِي الفيافي فنحتفر الْآبَار ونحترث الْبُقُول وَلَا نؤذيكم وَلَا نمر بكم وَلَيْسَ أحد من الْقَبَائِل إِلَّا لَهُ حميم فيهم فَفَعَلُوا ذَلِك فيهم وَقَالَ الْآخرُونَ مِمَّن تعبد من أهل الشّرك نتعبد كَمَا تعبد فلَان ونتخذ ديورا كَمَا اتخذ فلَان ونسيح كَمَا ساح فلَان وهم فِي شركهم لَا علم لَهُم بِإِيمَان الَّذين اقتدوا بهم وَقد فني من فني مِنْهُم فَلَمَّا بعث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلم يبْق مِنْهُم إِلَّا قَلِيل انحط صَاحب الصومعة من صومعته وَصَاحب الدَّيْر من ديره وَصَاحب السياحة من سياحته فآمنوا بِهِ وَصَدقُوهُ

قَالَ الله تَعَالَى {فآتينا الَّذين آمنُوا مِنْهُم أجرهم وَكثير مِنْهُم فَاسِقُونَ} وَقَالَ يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا اتَّفقُوا الله وآمنوا بِرَسُولِهِ يُؤْتكُم كِفْلَيْنِ من رَحمته أَي أَجْرَيْنِ بايمانهم بِعِيسَى عليه السلام وبالتوراة وَالْإِنْجِيل وَإِيمَانهمْ بِمُحَمد صلى الله عليه وسلم {وَيجْعَل لكم نورا تمشون بِهِ} وَقَالَ لِئَلَّا يعلم أهل الْكتاب أَلا يقدرُونَ على شَيْء من فضل الله وَأَن الْفضل بيد الله يؤتيه من يَشَاء
আমাদের হত্যা করে তোমরা কী লাভ করবে? বরং আমাদের ছেড়ে দাও এবং আমাদের জন্য উঁচু স্তম্ভ নির্মাণ করে দাও যাতে তোমরা আমাদের সেখানে তুলে দিতে পারো। আমাদের জন্য এমন কিছুর ব্যবস্থা করো যার মাধ্যমে আমাদের খাবার নিচে পাঠানো যায়, আমরা তোমাদের কোনো কষ্ট দেব না। তাদের মধ্য থেকে অন্য একটি দল বলল, আমাদের ছেড়ে দাও যেন আমরা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াতে পারি এবং বিচরণ করতে পারি; বন্য প্রাণীরা যা খায় আমরা তাই খাব এবং তারা যা পান করে আমরা তাই পান করব। এরপরও যদি তোমরা তোমাদের জমিনে আমাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ পাও, তবে আমাদের হত্যা করো।

তাদের মধ্য থেকে অন্য একটি দল বলল, আমাদের জন্য নির্জন প্রান্তরে মঠ নির্মাণ করে দাও, আমরা সেখানে কূপ খনন করব এবং শাকসবজি চাষ করব; আমরা তোমাদের কোনো কষ্ট দেব না এবং তোমাদের পাশ দিয়ে যাতায়াতও করব না। প্রতিটি গোত্রের মধ্য থেকেই তাদের কোনো না কোনো আত্মীয় ছিল, ফলে তারা তাদের জন্য সেই ব্যবস্থাই করল। মুশরিকদের মধ্য থেকে যারা ইবাদত করত তারা বলতে লাগল, আমরাও অমুকের মতো ইবাদত করব, অমুকের মতো মঠ নির্মাণ করব এবং অমুকের মতো পরিভ্রমণ করব। অথচ তারা তাদের শিরকের মধ্যেই নিমজ্জিত ছিল এবং যাদের তারা অনুসরণ করছিল তাদের ঈমান সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান ছিল না। এভাবে তাদের মধ্য থেকে যাদের গত হওয়ার ছিল তারা গত হয়ে গেল। অতঃপর যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরিত হলেন এবং তাদের মধ্য থেকে অল্প কয়েকজনই অবশিষ্ট ছিল, তখন গির্জার অধিবাসী তার গির্জা থেকে, মঠের অধিবাসী তার মঠ থেকে এবং পরিব্রাজক তার পরিভ্রমণ ছেড়ে নেমে এল। অতঃপর তারা তাঁর ওপর ঈমান আনল এবং তাঁকে সত্য বলে মেনে নিল।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল আমি তাদের পুরস্কার দান করেছি, তবে তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।} তিনি আরও বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, তিনি তাঁর রহমত থেকে তোমাদের দ্বিগুণ অংশ দান করবেন} অর্থাৎ ঈসা (আলাইহিস সালাম), তাওরাত ও ইঞ্জিলের ওপর তাদের ঈমান এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর ঈমানের কারণে দুটি পুরস্কার। {এবং তিনি তোমাদের জন্য এমন আলো দান করবেন যার সাহায্যে তোমরা পথ চলবে।} তিনি আরও বলেন: {যাতে আহলে কিতাবরা জানতে পারে যে, আল্লাহর অনুগ্রহের কোনো কিছুর ওপর তাদের কোনো ক্ষমতা নেই এবং নিশ্চয়ই অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন।}
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৮৬)
قَالَ أَبُو عبد الله فعلى هَذَا الْمِثَال عاملت متزهدة زَمَاننَا سَمِعت أَنه مضى فِي السّلف الصَّالح من الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ قوم اجتزوا بالدون من الْحَال فلبسوا الصُّوف والخلقان وأكلوا النخالة وامتنعوا من الشَّهَوَات وشمروا الثِّيَاب وامتنعوا من المخالطة صدقا وتورعا واحتياطا لدينهم كل ذَلِك خوفًا من الله تَعَالَى أَن يقدموا عَلَيْهِ متدنسين بحطام الدُّنْيَا مفتونين فِيهَا وَإِنَّمَا فعل الْقَوْم ذَلِك لضعف يقينهم بِمَنْزِلَة من امْتنع من دُخُول الْبَحْر سباحة مَخَافَة الْغَرق لعَجزه عَن السباحة فَلم يكْتب الله تَعَالَى هَذَا عَلَيْهِم بل احل لَهُم الطَّيِّبَات والزينة ووسع عَلَيْهِم فابتدعوا تَركهَا رهبة من الله تَعَالَى وَكَانُوا فِيهَا صَادِقين فَلم يعابوا وَلم يذموا لأَنهم رعوا مَا ابتدعوا حَتَّى خَرجُوا من الدُّنْيَا مَعَ صدق مَا ابتدعوا ابْتِغَاء رضوَان الله تَعَالَى فخلف من بعدهمْ خلف اتَّبَعُوهُمْ فِيمَا ابتدعوه وهم غير صَادِقين فِيهَا فَأَقْبَلُوا على لبس الصُّوف والخلقان وَأكل النخالة وَالْخبْز المتكرج يُرِيدُونَ بذلك إِظْهَار الزّهْد وَقُلُوبهمْ مشحونة بشهوات الدُّنْيَا تَأْكُل دنياهم بدينهم فَمَا رعوها حق رعايتها كَمَا فعل أَصْحَاب الصوامع والديور وَاتبعُوا الْقَوْم فِي فعلهم وأس أَمرهم على ضَلَالَة

عَن عبد الله بن مَسْعُود رضي الله عنه قَالَ قَالَ لي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَا عبد الله بن مَسْعُود قلت لبيْك يَا رَسُول الله ثَلَاث مَرَّات قَالَ هَل تَدْرِي أَي عرى الْإِيمَان أوثق قلت الله وَرَسُوله أعلم قَالَ فَإِن أوثق عرى الْإِيمَان الْولَايَة فِي الله وَالْحب فِيهِ والبغض فِيهِ يَا عبد الله ابْن مَسْعُود قلت لبيْك يَا رَسُول الله ثَلَاث مَرَّات قَالَ هَل تَدْرِي أَي النَّاس أفضل قلت الله وَرَسُوله أعلم قَالَ فَإِن أفضل النَّاس أفضلهم عملا إِذا فقهوا فِي دينهم يَا عبد الله بن مَسْعُود قلت لبيْك يَا رَسُول الله ثَلَاث مَرَّات قَالَ هَل تَدْرِي أَي النَّاس أعلم قلت الله وَرَسُوله أعلم قَالَ فَإِن أعلم النَّاس أبصرهم بِالْحَقِّ إِذا اخْتلف النَّاس وَإِن كَانَ مقصرا فِي الْعَمَل وَإِن كَانَ يزحف على أسته وَاخْتلف من كَانَ قبلنَا على
আবু আবদুল্লাহ বলেন, এই উদাহরণের ওপরই আমাদের সময়ের কৃচ্ছ্রসাধনকারীরা আমল করেছেন। আমি শুনেছি যে, সাহাবী ও তাবেয়ীদের মধ্য থেকে সালাফে সালেহীনের এমন একদল অতিবাহিত হয়েছেন যারা যৎসামান্য জীবনযাপনে সন্তুষ্ট ছিলেন। তারা পশমি বস্ত্র ও জীর্ণ পোশাক পরিধান করতেন, ভূষি মিশ্রিত আহার গ্রহণ করতেন, কামনা-বাসনা থেকে বিরত থাকতেন, পরিধেয় বস্ত্র গুটিয়ে রাখতেন এবং সত্যনিষ্ঠা, পরহেজগারি ও দ্বীন রক্ষার সতর্কতাস্বরূপ মানুষের সাথে মেলামেশা বর্জন করতেন। এ সবই ছিল মহান আল্লাহর ভয়ে, যাতে তারা দুনিয়ার ধ্বংসশীল বস্তুর দ্বারা কলুষিত ও মোহাচ্ছন্ন হয়ে তাঁর সম্মুখে উপস্থিত না হন। তারা মূলত তাদের দৃঢ় বিশ্বাসের দুর্বলতার কারণেই এরূপ করেছিলেন; তাদের অবস্থা সেই ব্যক্তির ন্যায় যে সাঁতার কেটে সমুদ্রে নামতে অক্ষমতার কারণে ডুবে যাওয়ার ভয়ে তাতে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকে। আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর এটি বাধ্যতামূলক করেননি, বরং তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তু ও সৌন্দর্য হালাল করেছিলেন এবং তাদের জন্য প্রশস্ততা দান করেছিলেন। কিন্তু তারা আল্লাহর ভয়ে সেগুলো পরিহার করার নতুন রীতি উদ্ভাবন করেছিলেন এবং তারা এতে সত্যনিষ্ঠ ছিলেন। ফলে তাদের দোষারোপ বা নিন্দা করা হয়নি, কারণ তারা তাদের উদ্ভাবিত রীতির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করেছিলেন যতক্ষণ না তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্বেষণে তাদের সেই সত্যনিষ্ঠ উদ্ভাবিত রীতির সাথেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। অতঃপর তাদের পরে এমন এক অপদার্থ উত্তরসূরি আসল যারা তাদের উদ্ভাবিত বিষয়ের অনুসরণ করল অথচ তারা এতে সত্যনিষ্ঠ ছিল না। তারা পশমি বস্ত্র, জীর্ণ পোশাক, তুষ মিশ্রিত খাবার এবং ছাতা পড়া দুর্গন্ধযুক্ত রুটি খাওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়ল। তারা এর মাধ্যমে যুহদ বা বৈরাগ্য প্রকাশ করতে চেয়েছিল, অথচ তাদের অন্তর দুনিয়ার কামনা-বাসনায় পরিপূর্ণ ছিল। তারা তাদের দ্বীনের বিনিময়ে দুনিয়া হাসিল করছিল। তারা এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করেনি যেভাবে মঠ ও গির্জার অধিবাসীরা করেছিল। তারা সেই কওমের কার্যাবলীর অনুসরণ করল অথচ তাদের এই বিষয়ের মূল ভিত্তি ছিল বিভ্রান্তির ওপর।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "হে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ!" আমি তিনবার বললাম, "আমি উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসূল।" তিনি বললেন, "তুমি কি জানো ঈমানের কোন হাতলটি সবচেয়ে মজবুত?" আমি বললাম, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন।" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই ঈমানের সবচেয়ে মজবুত হাতল হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বন্ধুত্ব করা এবং আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ও আল্লাহর জন্য ঘৃণা পোষণ করা। হে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ!" আমি তিনবার বললাম, "আমি উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসূল।" তিনি বললেন, "তুমি কি জানো কোন মানুষটি শ্রেষ্ঠ?" আমি বললাম, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন।" তিনি বললেন, "শ্রেষ্ঠ মানুষ হলো আমলের দিক থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি যখন সে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করে। হে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ!" আমি তিনবার বললাম, "আমি উপস্থিত, হে আল্লাহর রাসূল।" তিনি বললেন, "তুমি কি জানো কোন মানুষটি সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী?" আমি বললাম, "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সবচেয়ে ভালো জানেন।" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষ হলো সে, যে মানুষের মতভেদের সময় সত্য সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন, যদিও সে আমলে পিছিয়ে থাকে এবং যদিও সে তার নিতম্বের ওপর ভর করে হেঁচড়িয়ে চলে। আর আমাদের পূর্ববর্তীরা যে বিষয়ে মতবিরোধ করেছিল..."
(খণ্ড: ১) নাওয়াদিরুল উসুল ফী আহাদিসির রাসূল (পৃষ্ঠা: ৮৭)
ثِنْتَيْنِ وَسَبْعَة فرقة نجا مِنْهُم ثَلَاث وَهلك سائرها فرقة آذت الْمُلُوك وقاتلتهم على دين الله وَدين عِيسَى بن مَرْيَم حَتَّى قتلوا وَفرْقَة مِنْهُم لم يكن لَهُم بموازاة الْمُلُوك طَاقَة فأقاموا بَين ظهراني قَومهمْ يَدعُونَهُمْ إِلَى دين الله وَدين عِيسَى بن مَرْيَم فَأَخَذتهم الْمُلُوك وقتلتهم وقطعتهم بالمناشير وَفرْقَة لم يكن لَهُم طَاقَة بموازاة الْمُلُوك وَلَا أَن يقيموا بَين ظهراني قَومهمْ يَدعُونَهُمْ إِلَى دين الله وَدين عِيسَى بن مَرْيَم عليه السلام فساحوا فِي الْجبَال وتزهدوا فِيهَا فهم الَّذين قَالَ الله تَعَالَى ورهبانية ابتدعوها مَا كتبناها عَلَيْهِم إِلَّا ابْتِغَاء رضوَان الله فَمَا رعوها حق رعايتها فآتينا الَّذين آمنُوا مِنْهُم أجرهم وَكثير مِنْهُم فَاسِقُونَ فالمؤمنون الَّذين آمنُوا بِي وصدقوني والفاسقون الَّذين كَذَّبُونِي وجحدوني

فَكَأَنَّهُ صلى الله عليه وسلم يخبر فِي هَذَا الحَدِيث أَن الَّذين ساحوا وترهبوا هم الْفرْقَة الثَّالِثَة الَّتِي قد نجت وان الَّذين أخبر أَنهم مَا رعوها حق رعايتها قوم جَاءُوا من بعدهمْ يقتدون بهم فِي ذَلِك وَلَيْسوا على صدق من أَمرهم أخذُوا بِظَاهِر أَمرهم وفعلهم فساحوا ولزموا الديور والصوامع وَتركُوا سَبِيل أَصْحَابهم الَّذين مضوا على ذَلِك
বাহাত্তরটি দল; তাদের মধ্যে তিনটি দল নাজাত পেয়েছে এবং অবশিষ্ট সবাই ধ্বংস হয়েছে। একদল রাজাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে এবং আল্লাহর দ্বীন ও ঈসা ইবনে মারিয়ামের দ্বীনের উপর অটল থেকে তাদের সাথে লড়াই করেছে, পরিশেষে তারা নিহত হয়েছে। আর একটি দলের রাজাদের মোকাবিলা করার সক্ষমতা ছিল না, তাই তারা নিজ সম্প্রদায়ের মাঝে অবস্থান করে তাদেরকে আল্লাহর দ্বীন ও ঈসা ইবনে মারিয়ামের দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিতে থাকল। অতঃপর রাজারা তাদেরকে পাকড়াও করল, হত্যা করল এবং করাত দিয়ে চিরে দ্বিখণ্ডিত করল। আর একদল ছিল যাদের না রাজাদের মোকাবিলা করার শক্তি ছিল, আর না নিজ সম্প্রদায়ের মাঝে অবস্থান করে তাদেরকে আল্লাহর দ্বীন ও ঈসা ইবনে মারিয়ামের (আলাইহিস সালাম) দ্বীনের দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষমতা ছিল। তাই তারা পাহাড়ে পাহাড়ে বিচরণ করল এবং সেখানে বৈরাগ্য অবলম্বন করল। তারাই সেই লোক যাদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: 'আর বৈরাগ্যবাদ, তারা তা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল, আমি তা তাদের ওপর বিধিবদ্ধ করিনি; কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায় তারা এটি করেছিল। কিন্তু তারা তা যথাযথভাবে পালন করেনি। অতঃপর তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছিল আমি তাদেরকে তাদের পুরস্কার দান করেছি, আর তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।' সুতরাং মুমিন তারা যারা আমার ওপর ঈমান এনেছে এবং আমাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছে, আর ফাসেক তারা যারা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং আমাকে অস্বীকার করেছে।

যেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই হাদিসে এ সংবাদ দিচ্ছেন যে, যারা বিচরণ করেছিল এবং বৈরাগ্য অবলম্বন করেছিল তারাই হলো সেই তৃতীয় দল যারা মুক্তি পেয়েছে। আর যাদের সম্পর্কে তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে তারা এর যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করেনি, তারা হলো এমন এক গোষ্ঠী যারা তাদের পরবর্তী সময়ে এসেছিল এবং এ ক্ষেত্রে তাদের অনুকরণ করেছিল, কিন্তু তারা তাদের উদ্দেশ্য ও কর্মে সত্যনিষ্ঠ ছিল না। তারা কেবল তাদের পূর্বসূরিদের বাহ্যিক বেশভূষা ও কর্মকাণ্ড গ্রহণ করেছিল, ফলে তারা পাহাড়ে বিচরণ করল এবং মঠ ও গির্জা আঁকড়ে ধরল, অথচ তারা তাদের সেই পূর্ববর্তীদের পথ বর্জন করেছিল যারা ওই আদর্শের ওপর অতিবাহিত হয়েছিলেন।