(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: -)
المئوية في إعراب القرآن الكريم   (حازم خنفر)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: المئوية في إعراب القرآن الكريم

(إعراب المئة الأولى من آيات القرآن الكريم)، مبني على منهجية في الإعراب التطبيقي لغير المتخصص، ترتكز على اللفظ الظاهر مع تصور المعنى

المؤلف: حازم خنفر

عدد الصفحات: 155

[كتاب إلكتروني موافق لأصل المؤلف]

تاريخ النشر بالشاملة: 23 رجب 1443

আল-মিআউইয়্যাহ ফি ই'রাবিল কুরআনিল কারিম   (হাজেম খানফার)

বিভাগ: উলুমুল কুরআন এবং উসুলুত তাফসির


বই: আল-মিআউইয়্যাহ ফি ই'রাবিল কুরআনিল কারিম

(পবিত্র কুরআনের প্রথম একশত আয়াতের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ), যা অ-বিশেষজ্ঞদের জন্য প্রায়োগিক ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের একটি পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে রচিত, এবং এটি অর্থের উপলব্ধিসহ শব্দের বাহ্যিক রূপের ওপর গুরুত্বারোপ করে।

লেখক: হাজেম খানফার

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫৫

[লেখকের মূল কপির সাথে সংগতিপূর্ণ ইলেকট্রনিক সংস্করণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৩ রজব ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১)
المِئَوِيَّة

فِي

إِعْرَابِ القُرْآنِ الكَرِيم

(إِعْرَابُ المئَةِ الأُولَى مِنْ آيَاتِ القُرْآنِ الكَرِيمِ)

الكِتَابُ مَبْنِيٌّ عَلَى مَنْهَجيَّةٍ في الإعْرَابِ التَّطْبِيقِيِّ لِغَيْرِ المُتَخَصِّصِ

تَرْتَكِزُ عَلَى اللَّفْظِ الظَّاهِرِ مَعَ تَصَوُّرِ المَعْنَى

 

حَازِم خَنْفَر
আল-মিআউইয়্যাহ

বিষয়ে

পবিত্র কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ

(পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ থেকে প্রথম একশত আয়াতের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ)

গ্রন্থটি অ-বিশেষজ্ঞদের জন্য ফলিত ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের একটি পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে রচিত

যা অর্থের উপলব্ধির সাথে সাথে শব্দের বাহ্যিক রূপের ওপর গুরুত্বারোপ করে

 

হাজেম খানফার
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تَوْطِئَة

الحَمْدُ للهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ.

فَهَذَا كِتَابٌ فِي إِعْرَابِ المِئَةِ الأُولَى مِنْ آيَاتِ القُرْآنِ الكَرِيمِ لِغَيْرِ المُتَخَصِّصِينَ، وَهُو بَاكُورَةُ عَمَلٍ لِي كَبِيرٍ، وَقِطْعَةٌ مِنْهُ، كُنْتُ قَدْ سَمَّيْتُهُ: «المَنْشُودَ فِي إِعْرَابِ القُرْآنِ الكَرِيمِ»، وَلَمْ تَتَهْيَأْ سُبُلُ التَّفَرُّغِ لَهُ - بَعْدُ -.

وَكَانَ مَسْلَكِي فِيهِ قَائِمًا عَلَى ثَلَاثَةِ أَرْكَانٍ لِتَحْقِيقِ الهَدَفِ المَنْشُودِ مِنْهُ؛ ألَا وَهُوَ تَقْوِيمُ لِسَانِ النَّاطِقِ بِالعَرَبِيَّةِ بِأَقَلِّ المَعَارِفِ النَّظَرِيَّةِ وَأَقْرَبِ الوَسَائِلِ الذِّهْنِيَّةِ.

وَأَمَّا الأَرْكَانُ فَهِيَ: تَصَوُّرُ المَعْنَى المُتَعَلِّقِ بِالإِعْرَابِ، وَالسَّلِيقَةُ اللُّغَوِيَّةُ، وَقَوَاعِدُ النَّحْوِ، فَأَفَدْتُ مِنَ الأَوَّلِ وَالثَّانِي مَا أَمْكَنَ، وَذَلِكَ لِلتَّقْلِيلِ مِنَ الثَّالِثِ مَا أَمْكَنَ.

فَكَانَ مَنْهَجِي فِي الكِتَابِ:

1 - أَنِّي اقْتَصَرْتُ عَلَى أَقْرَبِ قَرِينَةٍ تُوصِلُ القَارِئَ إِلَى إِعْرَابِ الكَلِمَةِ وَضَبْطِهَا عَلَى الوَجْهِ الصَّحِيحِ، فَمَا تَحَقَّقَ مِنْ ذَلِكَ بِقَرِينَةٍ لَفْظِيَّةٍ اكْتَفَيْتُ بِهَا، وَمَا لَمْ يَتَحَقَّقْ إِلَّا بِقَرِينَةٍ مَعْنَوِيَّةٍ فَصَّلْتُ فِي تَصَوُّرِ مَعْنَاهُ الإِعْرَابِيِّ.

أَمَّا الكَلِمَاتُ الَّتِي لَا يَحْتَاجُ النَّاطِقُ بِالعَرَبِيَّةِ إِلَى قَرِينَةٍ لِنُطْقِهَا عَلَى الصَّوَابِ

ـ كَالحُرُوفِ وَالضَّمَائِرِ وَأَسْمَاءِ الإِشَارَةِ وَنَحْوِهَا - فَاكْتَفَيْتُ بِتَصْنِيفِهَا فَقَطْ، وَجَعَلْتُ مَا أُلْحِقَ بِالضَّمَائِرِ وَأَسْمَاءِ الإِشَارَةِ جُزْءًا مِنْهَا - اخْتِصَارًا وَإِيجَازًا -.

وَذَلِكَ كُلُّهُ مَبْنِيٌّ عَلَى تَحْقِيقِ سَلَامَةِ النُّطْقِ لِأَوَاخِرِ الكَلِمَاتِ فِي الجُمَلِ دُونَ تَكَلُّفٍ أَوْ حَشْوٍ لَا أَثَرَ لَهُ في ضَبْطِ الكَلِمَةِ الظَّاهِرَةِ أَوْ فِي إِدْرَاكِ مَعْنًى مُتَعَلِّقٍ بِضَبْطِهَا أَوْ بِضَبْطِ أُخْرَى شَارَكَتْهَا فِي الجُمْلَةِ نَفْسِهَا، فَمَا دَامَ ضَبْطُ الكَلِمَةِ الظَّاهِرَةِ مَعَ تَصَوُّرِ المَعْنَى العَامِّ لِلتَّرْكِيبِ مُتَحَقِّقًا - أَيْ بِمَجْمُوعِهِمَا - فَإِنَّ ذَلِكَ جَدِيرٌ بِأَنْ يُقْبَلَ بِهِ - كَحَدٍّ أَدْنَى - فِي الإِعْرَابِ التَّطْبِيقِيِّ لِغَيْرِ المُتَخَصِّصِ وَإِنْ كَانَ هَذَا خِلَافَ مَا صَرَّحَ بِهِ بَعْضُ النُّحَاةِ بِوَجْهٍ عَامٍّ.
‌‌ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর।

অবিশেষজ্ঞদের জন্য পবিত্র কুরআনের প্রথম একশত আয়াতের ইরাব বা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ বিষয়ক একটি গ্রন্থ এটি। এটি আমার একটি বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রাথমিক ফসল এবং তারই একটি অংশ; আমি এর নামকরণ করেছিলাম: «আল-মানশূদ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম», তবে বর্তমানে এর জন্য পূর্ণ সময় নিবেদনের সুযোগ হয়ে ওঠেনি।

কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই গ্রন্থে আমার অনুসৃত পথটি ছিল তিনটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত; আর সেই লক্ষ্যটি হলো—স্বল্পতম তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং নিকটতম বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে আরবি ভাষাভাষীর উচ্চারণকে পরিশুদ্ধ করা।

আর সেই স্তম্ভ তিনটি হলো: ইরাব সংশ্লিষ্ট অর্থের অনুধাবন, ভাষাগত সহজাত প্রবৃত্তি এবং ব্যাকরণের নিয়মাবলি। আমি প্রথম ও দ্বিতীয় স্তম্ভ থেকে যথাসম্ভব ফল লাভের চেষ্টা করেছি, যাতে তৃতীয়টির প্রয়োজনীয়তা যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা যায়।

গ্রন্থটিতে আমার অনুসৃত পদ্ধতি ছিল:

১ - আমি কেবল সেই নিকটতম সূত্রের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি যা পাঠককে শব্দের ইরাব এবং তার সঠিক (صحيح) রূপ নির্ণয়ের দিকে নিয়ে যায়। সুতরাং যা শাব্দিক সূত্রের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, আমি তাতেই সন্তুষ্ট থেকেছি; আর যা কেবল অর্থগত সূত্রের মাধ্যমেই নিরূপণ করা সম্ভব, সেখানে আমি তার ব্যাকরণিক অর্থ অনুধাবনের ক্ষেত্রে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।

আর যেসব শব্দের সঠিক উচ্চারণের জন্য আরবি ভাষাভাষীদের কোনো বিশেষ সূত্রের প্রয়োজন হয় না—

যেমন: হরফ বা অব্যয়, সর্বনাম, নির্দেশক বিশেষ্য এবং অনুরূপ শব্দাবলি—সেগুলোর ক্ষেত্রে আমি শুধু শ্রেণিবিন্যাস করেই ক্ষান্ত হয়েছি। আর সংক্ষেপ ও সারসংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমি সর্বনাম ও নির্দেশক বিশেষ্যগুলোর সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলোকে সেগুলোরই অন্তর্ভুক্ত করেছি।

এ সবকিছুর ভিত্তি হলো বাক্যের শেষে শব্দগুলোর উচ্চারণের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা; কোনো প্রকার কৃত্রিমতা বা বাহুল্য বর্জন করে যার প্রভাব দৃশ্যমান শব্দের উচ্চারণ ঠিক করার ক্ষেত্রে কিংবা তার অর্থ অনুধাবনে অথবা একই বাক্যে থাকা অন্য কোনো শব্দের উচ্চারণগত সামঞ্জস্য রক্ষায় কোনো ভূমিকা রাখে না। যতক্ষণ পর্যন্ত দৃশ্যমান শব্দের সঠিক উচ্চারণ এবং বাক্যের সাধারণ গাঠনিক অর্থের অনুধাবন—অর্থাৎ উভয়ের সমষ্টির মাধ্যমে—অর্জিত হচ্ছে, ততক্ষণ অবিশেষজ্ঞদের জন্য ফলিত ইরাবের ক্ষেত্রে এটিই গ্রহণ করা যুক্তিসঙ্গত—ন্যূনতম সীমা হিসেবে—যদিও এটি সাধারণভাবে কোনো কোনো ব্যাকরণবিদের সুস্পষ্ট মতের পরিপন্থী হতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৪)
وَلِهَذَا لَمْ أَتَقَيَّدْ فِي هَذَا الكِتَابِ بِبَعْضِ الإِلْزَامَاتِ إِلَّا عِنْدَ الحَاجَةِ؛ فَإِنَّ قِسْمًا مِنْهَا يُدْرَكُ بِالسَّلِيقَةِ، وَأَمَّا القِسْمُ الآخَرُ فَيُفِيدُ فِي المَعْنَى المُفَصَّلِ لِلتَّرْكِيبِ، وَلَا عَلَاقَةَ لَهُ بِضَبْطِ أَوَاخِرِ الكَلِمَاتِ؛ فَلَيْسَ كُلُّ مَعْنًى فِي الجُمْلَةِ يَحْتَاجُهُ الإِعْرَابُ - إِنْ كَانَ المُبْتَغَى ضَبْطَ أَوَاخِرِ الكَلِمِ فِي التَّرَاكِيبِ -.

فَمِنَ ذَلِكَ: أَنِّي لَمْ أُشِرْ إِلَى الفَاعِلِ إِذَا كَانَ مُضْمَرًا أَوْ مُسْتَتِرًا إِلَّا إِذَا تَطَلَّبَ مَفْعُولًا بِهِ، وَمِنْ ذَلِكَ: أَنَّي أَعْرَضْتُ عَنْ ذِكْرِ تَعَلُّقِ شِبْهِ الجُمْلَةِ وَالإِعْرَابِ المَحَلِّي وَإِعْرَابِ الجُمَلِ - وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنَ الأُمُورِ الَّتِي يَحْتَاجُهَا المُتَخَصِّصُونَ -.

وَأَمَّا مَا ذَكَرْتُ مِنْهَا لِقَرِينَةٍ تَطَلَّبَتْهُ فَقَدْ أَشَرْتُ إِلَيْهِ دُونَ اسْتِعْمَالِ المُصْطَلَحَاتِ النَّحْوِيَّةِ، وَذَلِكَ لِتَقْرِيبِ المَعْنَى المُرَادِ.

ثُمَّ إِنِّي جَعَلْتُ لِلْمَعَانِي المُتَصَوَّرَةِ المُتَعَلِّقَةِ بِالإِعْرَابِ ضَوَابِطَ وَتَعَابِيرَ:

فَأَمَّا المُبْتَدَأُ وَالخَبَرُ فَقَيَّدْتُهُمَا بِالإِخْبَارِ - وَإِنْ كَانَ يَصْلُحُ فِي غَيْرِهِمَا عَلَى الصِّنَاعَةِ النَّحْوِيَّةِ -، وَهَذَا يَشْمَلُ الإِخْبَارَ الصَّادِقَ وَالكَاذِبَ - كَالَّذِي جَاءَ عَلَى لِسَانِ المُنَافِقِينَ وَنَحْوِهِمْ -، فَإِنْ دَخَلَ عَلَى الإِخْبَارِ نَاسِخٌ أَشَرْتُ إِلَى ذَلِكَ وَصَيَّرْتُ المُبْتَدَأَ لِمَا صَارَ إِلَيْهِ بَعْدَ دُخُولِ النَّاسِخِ.

وَأَمَّا الفَاعِلُ فَقَيَّدْتُهُ بِوُجُودِ الفِعْلِ، وَهَذَا يَشْمَلُ: فَاعِلَ الفِعْلِ، وَالمُمْتَنِعَ عَنْهُ، وَالمُتَّصِفَ بِهِ، وَالمَأْمُورَ بِهِ، وَالمَنْهِيَّ عَنْهُ، وَالمَنْفِيَّ عَنْهُ الفِعْلُ، وَالنَّافِيَ عَنْ نَفْسِهِ الفِعْلَ.

وَهَذَا التَّقْيِيدُ مَحْصُورٌ بِمَا إِذَا سَبَقَ الفِعْلُ فَاعِلَهُ، فَإِنْ سَبَقَ الفَاعِلُ فِعْلَهُ صَيَّرْتُهُ مُبْتَدَءًا وَقَيَّدْتُهُ عَلَى الإِخْبَارِ، وَذَلِكَ جَرْيًا عَلَى قَانُونِ الإِعْرَابِ.

وَأَمَّا مَا جَاءَ إِسْنَادًا مَجَازِيًّا - مِنْ فَاعِلٍ وَغَيْرِهِ - فَأَظْهَرْتُهُ إِنْ بَعُدَ مَعْنَاهُ النَّحْوِيُّ وَخَفِيَ بَيَانُهُ الإِعْرَابِيُّ، وَإِلَّا فَأَبْقَيْتُهُ عَلَى صُورتِهِ المَجَازِيَّةِ.

وَأَمَّا الفَضَلَاتُ فَمَيَّزْتُهَا - تَصَوُّرًا وَمَعْنًى -، كُلٌّ فِي مَوْضِعِهِ وَبِمَا يُنَاسِبُ التَّعْبِيرَ عَنْهَا.

وَاعْلَمْ أَنَّ لِتَصَوُّرِ المَعَانِي فِي الجُمَلِ وُجُوهًا عَدِيدَةً، وَلَيْسَ بِالإِمْكَانِ أَنْ يَنْحَصِرَ
এই কারণে আমি এই কিতাবে অতিপ্রয়োজনীয় ক্ষেত্র ব্যতীত কিছু বাধ্যবাধকতায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখিনি; কেননা এর একটি অংশ সহজাত প্রবৃত্তির (سليقة) মাধ্যমেই অনুধাবন করা যায়, আর অপর অংশটি বাক্যের বিশদ অর্থ উপলব্ধিতে সহায়তা করে, যার সাথে শব্দের শেষ বর্ণের হরকত বা এরাব (إعراب) নির্ধারণের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ বাক্যের প্রতিটি অর্থের জন্য এরাব (إعراب)-এর প্রয়োজন হয় না—যদি উদ্দেশ্য হয় কেবল বাক্যের কাঠামোর মধ্যে শব্দের শেষ বর্ণগুলোর উচ্চারণ বা হরকত (ضبط) ঠিক করা।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো: যখন কর্তা (فاعل) উহ্য (مضمر) বা প্রচ্ছন্ন (مستتر) থাকে, তখন আমি সেটির প্রতি ইঙ্গিত করিনি, যদি না সেটি কোনো কর্মের (مفعول به) দাবি রাখে। আরও অন্তর্ভুক্ত হলো: আমি বাক্যাংশের (شبه الجملة) সংশ্লিষ্টতা, স্থানিক এরাব (إعراب محلي) এবং বাক্যের এরাব (إعراب الجمل)—তথা বিশেষজ্ঞগণের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর বর্ণনা প্রদান থেকে বিরত থেকেছি।

আর প্রাসঙ্গিক কারণে আমি যেগুলো উল্লেখ করেছি, সেখানে ব্যাকরণিক পরিভাষা ব্যবহার না করেই সেগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, যাতে উদ্দিষ্ট অর্থটি সহজবোধ্য হয়।

অতঃপর আমি এরাব (إعراب) সংশ্লিষ্ট ধারণাকৃত অর্থগুলোর জন্য কিছু নীতিমালা ও অভিব্যক্তি নির্ধারণ করেছি:

মুক্তাদা (مبتدأ) ও খবর (خبر)-এর ক্ষেত্রে আমি সেগুলোকে সংবাদ প্রদান (إخبار)-এর সাথে সীমাবদ্ধ করেছি—যদিও ব্যাকরণিক শাস্ত্র অনুযায়ী তা অন্য ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। এটি সত্য এবং মিথ্যা সংবাদ—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে (যেমনটি মুনাফিক ও তাদের অনুরূপ ব্যক্তিদের বক্তব্যে এসেছে)। যদি সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তনকারী পরিভাষা (ناسخ) প্রবেশ করে, তবে আমি সেটির প্রতি ইঙ্গিত করেছি এবং পরিবর্তনকারী পরিভাষা (ناسخ) প্রবেশের পর মুক্তাদা (مبتدأ) যে অবস্থায় পরিবর্তিত হয়েছে, সেভাবেই তাকে উপস্থাপন করেছি।

আর কর্তা (فاعل)-কে আমি ক্রিয়া (فعل)-এর অস্তিত্বের সাথে সম্পৃক্ত করেছি। এটি ক্রিয়ার সম্পাদনকারী, ক্রিয়া থেকে বিরত থাকা ব্যক্তি, ক্রিয়ার গুণসম্পন্ন ব্যক্তি, আদিষ্ট ব্যক্তি, নিষিদ্ধ ব্যক্তি, যার থেকে ক্রিয়াটি অস্বীকার করা হয়েছে এবং যে নিজেই নিজের থেকে ক্রিয়াটি অস্বীকার করেছে—সবই অন্তর্ভুক্ত করে।

এই সীমাবদ্ধতা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন ক্রিয়া (فعل) তার কর্তার (فاعل) পূর্বে আসে। কিন্তু যদি কর্তা (فاعل) তার ক্রিয়ার (فعل) পূর্বে চলে আসে, তবে আমি তাকে মুক্তাদা (مبتدأ) হিসেবে গণ্য করেছি এবং সংবাদ প্রদানের (إخبار) নিয়মের অধীনে নিয়ে এসেছি; আর এটি করা হয়েছে এরাব (إعراب)-এর ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী।

আর রূপক সম্পৃক্ততা (إسناد مجازي)—চাই তা কর্তা (فاعل) হোক বা অন্য কিছু—এর ক্ষেত্রে যদি ব্যাকরণিক অর্থ দূরবর্তী হয় এবং এর এরাব (إعراب)-সংক্রান্ত বর্ণনা অস্পষ্ট থাকে, তবে আমি তা স্পষ্ট করে দিয়েছি; অন্যথায় আমি একে তার রূপক রূপেই রেখেছি।

আর অতিরিক্ত অংশ (فضلات)-গুলোকে আমি ধারণা ও অর্থের দিক থেকে পৃথক করেছি—প্রত্যেকটিকে তার নিজ নিজ স্থানে এবং উপযুক্ত অভিব্যক্তির মাধ্যমে।

জেনে রাখুন যে, বাক্যের অর্থ অনুধাবনের অনেকগুলো দিক রয়েছে এবং একে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়...
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৫)
فِي قَوَاعِدَ عَامَّةٍ كُلِّيَّةٍ تَجْرِي عَلَى الإِعْرَابِ لِإِظْهَارِ المَعْنَى الإِعْرَابِيِّ فِيهَا، وَذَلِكَ لِاخْتِلَافِ الأَسَالِيبِ فِي اللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ وَإِنْ كَانَ المَعْنَى مُدْرَكًا، وَلِهَذَا فَإِنَّ مِنَ الكَلِمَاتِ فِي التَّرَاكِيبِ وَالجُمَلِ مَا لَا يَصْلُحُ أَنْ تَجْرِيَ عَلَيْهَا هَذِهِ القَوَاعِدُ إِلَّا بِتَكَلُّفٍ، وَمِثْلُ هَذِهِ المَوَاضِعِ لَا يُدْرَكُ إِعْرَابُهَا إِلَّا بَعْدَ تَحْصِيلِ المَلَكَةِ.

وَاللهُ المُوَفِّقُ وَالمُعِينُ، وَالحَمْدُ للهِ رَبِّ العَالَمِينَ.

حَازِم خَنْفَر

12/ 12/2021 م

8/ 5/1443 هـ
সাধারণ এবং সামগ্রিক কতিপয় মূলনীতির বিবরণে যা ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের (إعراب) ওপর প্রয়োগ করা হয় যাতে সেগুলোতে ব্যাকরণিক অর্থ পরিস্ফুট হয়; আর এটি আরবি ভাষার প্রকাশভঙ্গির বৈচিত্র্যের কারণে হয়ে থাকে, যদিও মূল অর্থটি অনুধাবনযোগ্য। এ কারণেই বাক্য ও শব্দবিন্যাসের মাঝে এমন কিছু শব্দ রয়েছে যার ওপর কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যা (تكلف) ব্যতীত এই নিয়মগুলো প্রয়োগ করা সমীচীন হয় না। এ জাতীয় স্থানগুলোর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (إعراب) কেবল ভাষাগত ব্যুৎপত্তি (ملكة) অর্জনের মাধ্যমেই অনুধাবন করা সম্ভব।

আর আল্লাহই তাওফিকদাতা ও সাহায্যকারী। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

হাযেম খানফার

১২/ ১২/ ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ

০৮/ ০৫/ ১৪৪৩ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌سُورَةُ الفَاتِحَةِ

‌‌{بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (1)}

(بِسْمِ): البَاءُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «بِسْمِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(اللَّهِ): لَفْظُ الجَلَالَةِ: مُضَافٌ إِلَيْهِ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(الرَّحْمَنِ): نَعْتٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «الرَّحْمَنِ»: صِفَةٌ لِلَّهِ - تَعَالَى -؛ أَيْ: «بِسْمِ اللهِ المَوْصُوفِ بالرَّحْمَةِ».

(الرَّحِيمِ): نَعْتٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «الرَّحِيمِ»: صِفَةٌ لِلَّهِ - تَعَالَى -؛ أَيْ: «بِسْمِ اللهِ المَوْصُوفِ بِالرَّحْمَةِ».

 

‌‌{الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ (2)}

(الحَمْدُ): مُبْتَدَأٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ الحَمْدِ بِأَنَّهُ مُسْتَحَقٌّ لِلَّهِ؛ فَالحَمْدُ: مُبْتَدَأٌ لِأَنَّهُ مُخْبَرٌ عَنْهُ، وَالاسْتِحْقَاقُ: هُوَ الأَمْرُ المخْبَرُ بِهِ عَنِ اللهِ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «الحَمْدُ مُسْتَحَقٌّ للهِ»، أَوْ كَائِنٌ أَوْ ثَابِتٌ - أَوْ نَحْوُ ذَلِكَ -، فَالجُمْلَةُ: مُبْتَدَأٌ وَخَبَرٌ مَحْذُوفٌ وَجَارٌّ وَمَجْرُورٌ.

(للهِ): اللَّامُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَلَفْظُ الجَلَالَةِ: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(رَبِّ): نَعْتٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «رَبِّ»: صِفَةٌ لِلَّهِ - تَعَالَى -؛ أَيِ «الحَمْدُ لِلَّهِ المَوْصُوفِ بِرَبِّ العَالَمِينَ».

(العَالَمِينَ): مُضَافٌ إِلَيْهِ مَجْرُورٌ بِاليَاءِ؛ لِأَنَّهُ مُلْحَقٌ بِجَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ.

 

‌‌{الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (3)}

(الرَّحْمَنِ): نَعْتٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «الرَّحْمَنِ»: صِفَةٌ لِلَّهِ - تَعَالَى -؛ أَيِ: «الحَمْدُ لِلَّهِ المَوْصُوفِ بالرَّحْمَةِ».

(الرَّحِيمِ): نَعْتٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.
সূরা আল-ফাতিহা

{পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১)}

(বিসম): এখানে ‘বা’ হলো হরফে জার (অব্যয়), এবং ‘ইসম’ হলো দৃশ্যমান কাসরাহ (জের) দ্বারা মাজরুর বিশেষ্য।

(আল্লাহ): আল্লাহর মহান নাম (লফজুল জালালাহ): এটি মুদাফ ইলাইহি এবং দৃশ্যমান কাসরাহ দ্বারা মাজরুর।

(আর-রাহমান): এটি একটি বিশেষণ (নাত) যা দৃশ্যমান কাসরাহ দ্বারা মাজরুর।

সুতরাং ‘আর-রাহমান’ মহান আল্লাহর একটি গুণ; অর্থাৎ: ‘রহমতের গুণে গুণান্বিত আল্লাহর নামে’।

(আর-রাহিম): এটি একটি বিশেষণ (নাত) যা দৃশ্যমান কাসরাহ দ্বারা মাজরুর।

সুতরাং ‘আর-রাহিম’ মহান আল্লাহর একটি গুণ; অর্থাৎ: ‘রহমতের গুণে গুণান্বিত আল্লাহর নামে’।

 

{সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক (২)}

(আল-হামদু): এটি মুবতাদা (উদ্দেশ্য), যা দৃশ্যমান জম্মাহ (পেশ) দ্বারা মারফু।

এই আয়াতে প্রশংসা সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, তা আল্লাহর জন্য প্রাপ্য; সুতরাং ‘আল-হামদু’ হলো মুবতাদা কারণ এটি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে, আর ‘প্রাপ্যতা’ হলো সেই বিষয়টি যা আল্লাহ সম্পর্কে সংবাদ (খবর) হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

বাক্যটির মূল গঠন হলো: ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য প্রাপ্য’, অথবা ‘বিদ্যমান’ কিংবা ‘সাব্যস্ত’—বা এই জাতীয় কিছু। সুতরাং বাক্যটি মুবতাদা, একটি উহ্য খবর এবং জার ও মাজরুর দ্বারা গঠিত।

(লিল্লাহি): ‘লাম’ হলো হরফে জার, এবং আল্লাহর মহান নাম (লফজুল জালালাহ) হলো দৃশ্যমান কাসরাহ দ্বারা মাজরুর বিশেষ্য।

(রব্বি): এটি একটি বিশেষণ (নাত) যা দৃশ্যমান কাসরাহ দ্বারা মাজরুর।

সুতরাং ‘রব’ আল্লাহর একটি গুণ; অর্থাৎ: ‘সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক হিসেবে গুণান্বিত’।

(আল-আলামিন): এটি মুদাফ ইলাইহি, যা ‘ইয়া’ যোগে মাজরুর হয়েছে; কারণ এটি জুমা মুযাক্কার সালিম-এর অনুগামী (মুলহাক)।

 

{পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু (৩)}

(আর-রাহমান): এটি একটি বিশেষণ (নাত) যা দৃশ্যমান কাসরাহ দ্বারা মাজরুর।

সুতরাং ‘আর-রাহমান’ মহান আল্লাহর একটি গুণ; অর্থাৎ: ‘সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি রহমতের গুণে গুণান্বিত’।

(আর-রাহিম): এটি একটি বিশেষণ (নাত) যা দৃশ্যমান কাসরাহ দ্বারা মাজরুর।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৮)
فَـ «الرَّحِيمِ»: صِفَةٌ لِلَّهِ - تَعَالَى -؛ أَيِ: «الحَمْدُ لِلَّهِ المَوْصُوفِ بِالرَّحْمَةِ».

 

‌‌{مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (4)}

(مَالِكِ): نَعْتٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «مَالِكِ»: صِفَةٌ لِلَّهِ - تَعَالَى -؛ أَيِ: «الحَمْدُ لِلَّهِ المَوْصُوفِ بِالمُلْكِ».

(يَوْمِ): مُضَافٌ إِلَيْهِ مَجْرُورٌ بالكَسْرَةِ الظَّاهرَةِ.

(الدِّينِ): مُضَافٌ إِلَيْهِ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

 

‌‌{إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (5)}

(إِيَّاكَ): ضَمِيرٌ.

(نَعْبُدُ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

(وَإِيَّاكَ): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «إِيَّاكَ»: ضَمِيرٌ.

(نَسْتَعِينُ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

 

‌‌{اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ (6)}

(اهْدِنَا): «اهْدِ»: فِعْلُ أَمْرٍ لِلدُّعَاءِ مَبْنِيٌّ عَلَى حَذْفِ حَرْفِ العِلَّةِ، وَ «نَا»: ضَمِيرٌ.

(الصِّرَاطَ): مَفْعُولٌ بِهِ ثَانٍ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَالصِّرَاطُ - هُنَا -: مَفْعُولٌ بِهِ ثَانٍ لِأَنَّهُ المَهْدِيُّ إِلَى الدَّاعِي - لَوْ تَحَقَّقَ الطَّلَبُ -، وَأَمَّا المَفْعُولُ بِهِ الأَوَّلُ فَهُوَ الدَّاعِي لأَنَّهُ المَهْدِيُّ الأَوَّلُ - لَوْ تَحَقَّقَ الطَّلَبُ -، وَقَدْ نَابَ الضَّمِيرُ «نَا» عَنْ ذِكْرِهِ، وَأَمَّا الفَاعِلُ فَهُوَ اللهُ عز وجل لِأَنَّهُ الهَادِي، وَقَد نَابَ الضَّمِيرُ المُسْتَتِرُ عَنْ ذِكْرِ لَفْظِ الجَلَالَةِ؛ أَيْ: «هَدَى اللهُ الدَّاعِيَ الصَّرَاطَ»؛ فِعْلٌ وَفَاعِلٌ وَمَفْعُولٌ بِهِ أَوَّلُ وَمَفْعُولٌ بِهِ ثَانٍ.

(المُسْتَقِيمَ): نَعْتٌ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «المُسْتَقِيمَ»: صِفَةٌ لِلصِّرَاطِ؛ أَيِ: «اهْدِنَا الصِّرَاطَ المَوْصُوفَ بِالاسْتِقَامَةِ».
সুতরাং 'আর-রাহীম' শব্দটি মহান আল্লাহ তায়ালার একটি গুণ (صفة); অর্থাৎ: 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি রহমত দ্বারা গুণান্বিত (موصوف)'।

 

‌‌{মালিকি ইয়াওমিদ্দীন (৪)}

(মালিকি): স্পষ্ট কাসরাহ দ্বারা মাজরুর (مجرور) নাত (نعت)।

সুতরাং 'মালিকি' শব্দটি মহান আল্লাহ তায়ালার একটি গুণ (صفة); অর্থাৎ: 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি রাজত্বের অধিকারী হিসেবে গুণান্বিত (موصوف)'।

(ইয়াওমি): স্পষ্ট কাসরাহ দ্বারা মাজরুর (مجرور) মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)।

(আদ-দীন): স্পষ্ট কাসরাহ দ্বারা মাজরুর (مجرور) মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)।

 

‌‌{ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন (৫)}

(ইয়্যাকা): একটি জমির (ضمير)।

(নাবুদু): স্পষ্ট দাম্মাহ দ্বারা মারফু (مرفوع) মুদারি (مضارع) ফেল (فعل)।

আর মুদারি (مضارع) ফেলটি (فعل) মারফু (مرفوع) হয়েছে কারণ এটি কোনো নাসিব (ناصب) অথবা জাযিম (جازم) থেকে মুক্ত।

(ওয়া ইয়্যাকা): 'ওয়া' বর্ণটি আতফ (عطف), আর 'ইয়্যাকা' হলো জমির (ضمير)।

(নাসতাঈন): স্পষ্ট দাম্মাহ দ্বারা মারফু (مرفوع) মুদারি (مضارع) ফেল (فعل)।

আর মুদারি (مضارع) ফেলটি (فعل) মারফু (مرفوع) হয়েছে কারণ এটি কোনো নাসিব (ناصب) অথবা জাযিম (جازم) থেকে মুক্ত।

 

‌‌{ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম (৬)}

(ইহদিনা): 'ইহদি' হলো দোয়ার জন্য আমরের (أمر) ফেল (فعل), যা হরফে ইল্লাত বিলোপের ওপর মাবনি (مبني); আর 'না' হলো জমির (ضمير)।

(আস-সিরাত): স্পষ্ট ফাতহাহ দ্বারা মানসুব (منصوب) দ্বিতীয় মাফউলে বিহি (مفعول به)।

এখানে 'আস-সিরাত' শব্দটি দ্বিতীয় মাফউলে বিহি (مفعول به), কারণ প্রার্থনা কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে এটিই দোয়াকারীর উদ্দিষ্ট গন্তব্য। আর প্রথম মাফউলে বিহি (مفعول به) হলো দোয়াকারী ব্যক্তি, কারণ প্রার্থনা কবুল হলে তাকেই প্রথম হেদায়েত দান করা হয়। 'না' জমিরটি (ضمير) তার উল্লেখের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আর ফায়িল (فاعل) হলেন মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা, কারণ তিনিই পথপ্রদর্শক; লফজুল জালালার পরিবর্তে এখানে মুসতাতর (مستتر) জমির (ضمير) স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। অর্থাৎ: 'আল্লাহ দোয়াকারীকে সঠিক পথ দেখিয়েছেন'—এখানে ফেল (فعل), ফায়িল (فاعل), প্রথম মাফউলে বিহি (مفعول به) এবং দ্বিতীয় মাফউলে বিহি (مفعول به) রয়েছে।

(আল-মুস্তাকীম): স্পষ্ট ফাতহাহ দ্বারা মানসুব (منصوب) নাত (نعت)।

সুতরাং 'আল-মুস্তাকীম' হলো 'সিরাত'-এর সিফাত (صفة); অর্থাৎ: 'আমাদেরকে সেই পথ বা সিরাতে পরিচালিত করুন যা সরলতা দ্বারা গুণান্বিত (موصوف)'।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌{صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ (7)}

(صِرَاطَ): بَدَلٌ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «صِرَاطَ»: بَدَلٌ مِنَ «الصِّرَاطَ» الَّتِي قَبْلَهَا؛ أَيِ: «اهْدِنَا صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ».

(الَّذِينَ): اسْمٌ مَوْصُولٌ.

(أَنْعَمْتَ): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى السُّكُونِ لِاتِّصَالِهِ بِالتَّاءِ المَفْتُوحَةِ، وَالتَّاءُ: ضَمِيرٌ.

(عَلَيْهِمْ): «عَلَى»: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(غَيْرِ): نَعْتٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «غَيْرِ»: صِفَةٌ لِـ «اللَّذِينَ»، وَهُمُ المُنْعَمُ عَلَيْهِمْ؛ أَيِ: «اهْدِنَا صِرَاطَ المُنْعَمِ عَلَيْهِمْ، غَيْرِ المَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ».

(المَغضُوبِ): مُضَافٌ إِلَيْهِ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(عَلَيْهِمْ): «عَلَى»: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(وَلَا): الوَاوُ: حَرْفُ عَطْفٍ، وَ «لَا»: بِمَعْنَى «غَيْرِ»؛ أَيْ: «وَغَيْرِ الضَّالِّينَ».

(الضَّالِّينَ): اسْمٌ مَعْطُوفٌ مَجْرُورٌ بِاليَاءِ لِأَنَّهُ جَمْعُ مُذَكَّرٍ سَالِمٌ.

فَـ «الضَّالِّينَ»: مَعْطُوفَةٌ عَلَى «المَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ»؛ أَيِ: «اهْدِنَا صِرَاطَ غَيْرِ المَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ، وَاهْدِنَا صِرَاطَ غَيْرِ الضَّالِّينَ».
‌‌{তাদের পথ, যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন; যারা অভিশপ্ত নয় এবং যারা পথভ্রষ্টও নয় (৭)}

(সিরাত - صِرَاطَ): স্পষ্ট ফাতহা (الفتحة الظاهرة) সহ মানসুব (منصوب) অবস্থায় একটি স্থলাভিষিক্ত শব্দ (بدل)।

সুতরাং «সিরাত (صِرَاطَ)»: এটি এর পূর্ববর্তী «আস-সিরাত (الصِّرَاطَ)» শব্দ থেকে স্থলাভিষিক্ত (بدل); অর্থাৎ: «আমাদেরকে তাদের পথ দেখান যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন»।

(আল্লাযিনা - الَّذِينَ): একটি সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (اسم موصول)।

(আনামতা - أَنْعَمْتَ): ফাতহা-যুক্ত 'তা' (التاء) এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে সুকুন (السكون) এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني) একটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض), এবং 'তা' (التاء) হলো একটি সর্বনাম (ضمير)।

(আলাইহিম - عَلَيْهِمْ): «আলা (عَلَى)» হলো একটি অব্যয় (حرف جر), এবং «হিম (هِمْ)» হলো একটি সর্বনাম (ضمير)।

(গইরি - غَيْرِ): স্পষ্ট কাসরা (الكسرة الظاهرة) সহ মাজরুর (مجرور) অবস্থায় একটি বিশেষণ (نعت)।

সুতরাং «গইরি (غَيْرِ)»: এটি «আল্লাযিনা (الَّذِينَ)» এর একটি বিশেষণ (صفة), আর তারা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যাদের ওপর অনুগ্রহ করা হয়েছে; অর্থাৎ: «আমাদেরকে তাদের পথ দেখান যাদের ওপর অনুগ্রহ করা হয়েছে, যারা ক্রোধান্বিত হয়েছে তাদের পথ নয়»।

(আল-মাগদুবি - المَغضُوبِ): স্পষ্ট কাসরা (الكسرة الظاهرة) সহ মাজরুর (مجرور) অবস্থায় একটি মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)।

(আলাইহিম - عَلَيْهِمْ): «আলা (عَلَى)» হলো একটি অব্যয় (حرف جر), এবং «হিম (هِمْ)» হলো একটি সর্বনাম (ضمير)।

(ওয়ালা - وَلَا): এখানে 'ওয়াও' (الواو) হলো একটি সংযোজক অব্যয় (حرف عطف), এবং 'লা' (لَا) শব্দটি «গইরি (غَيْرِ)» এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ: «এবং পথভ্রষ্টদের ছাড়া»।

(আদ-দল্লিন - الضَّالِّينَ): একটি সংযোজিত বিশেষ্য (اسم معطوف) যা 'ইয়া' (الياء) যোগে মাজরুর (مجرور) হয়েছে, কারণ এটি একটি নিয়মিত পুংলিঙ্গবাচক বহুবচন (جمع مذكر سالم)।

সুতরাং «আদ-দল্লিন (الضَّالِّينَ)» শব্দটি: «আল-মাগদুবি আলাইহিম (المَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ)» এর ওপর সংযোজিত (معطوفة); অর্থাৎ: «আমাদেরকে তাদের পথ দেখান যারা অভিশপ্ত নয়, এবং আমাদেরকে তাদের পথ দেখান যারা পথভ্রষ্ট নয়»।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌سُورَةُ البَقَرَةِ

‌‌{الم (1)}

(الم): لَا مَحَلَّ لَهَا مِنَ الإِعْرَابِ.

 

‌‌{ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ (2)}

(ذَلِكَ): اسْمُ إِشَارَةٍ يُشِيرُ إِلَى الكِتَابِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ الكِتَابِ بِأَنَّهُ لَا رَيْبَ فِيهِ، فَالكِتَابُ: مُخْبَرٌ عَنْهُ، وَقَدْ نَابَ عَنْ ذِكْرِهِ اسْمُ الإِشَارَةِ «ذَلِكَ»، فَـ «ذَلِكَ»: اسْمُ إِشَارَةٍ فِي مَحَلِّ رَفْعِ مُبْتَدَإٍ.

وَأَمَّا الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنِ الكِتَابِ فَهُوَ نَفْيُ الرَّيْبِ عَنْهُ؛ فَالجُمْلَةُ: فِي مَحَلِّ خَبَرٍ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ للْجُمْلَةِ: «الكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ»؛ مُبْتَدَأٌ نَابَ عَنْ ذِكِرِهِ اسْمُ الإِشَارِةِ الَّذِي قَبْلَهُ، وَالخَبَرُ: الجُمْلَةُ الَّتِي بَعْدَهُ.

(الْكِتَابُ): بَدَلٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «الكِتَابُ» - هُنَا -: بَدَلٌ مِنِ اسْمِ الإِشَارَةِ «ذَلِكَ» الَّذِي قَبْلَهُ - وَإِنْ كَانَ الكِتَابُ هُوَ المُخْبَرَ عَنْهُ -؛ لِأَنَّ اسْمَ الإِشارَةِ أَشَارَ إِلَيْهِ قَبْلَ ذِكْرِهِ، فَـ «الكِتَابُ» مَرْفُوعَةٌ تَبَعًا لِلْمُبْتَدَإِ الَّذِي نَابَ عَنْ ذِكْرِهِ اسْمُ الإِشَارَةِ، وَهُوَ الكِتَابُ نَفْسُهُ.

(لَا): حَرْفُ نَفْيٍ لِلْجِنْسِ، يَعْمَلُ عَمَلَ «إِنَّ».

(رَيْبَ): اسْمُ «لَا» مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ فِي مَحَلِّ نَصْبٍ.

(فِيهِ): «فِي»: حَرْفُ جَرٍّ، وَالهَاءُ: ضَمِيرٌ.

(هُدًى): خَبْرٌ ثَانٍ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ المُقَدَّرَةِ؛ لِلتَّعَذُّرِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ ثَانٍ عَنِ الكِتَابِ بِأَنَّهُ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ.

فَالكِتَابُ: مُخْبَرٌ عَنْهُ، وَقَدْ نَابَ عَنْ ذِكْرِهِ اسْمُ الإِشَارَةِ «ذَلِكَ»، فَـ «ذَلِكَ»: اسْمُ إِشَارَةٍ فِي مَحَلِّ مُبْتَدَإٍ.

وَأَمَّا الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنِ الكِتَابِ فَهُوَ الهِدَايَةُ، فَـ «هُدًى»: خَبَرٌ؛ لِأَنَّهُ الأَمْرُ
সূরা আল-বাকারাহ

{আলিফ-লাম-মীম (১)}

(আলিফ-লাম-মীম): এর কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই।

 

{যালিকা আল-কিতাবু লা রাইবা ফীহি হুদাল-লিল মুত্তাকীন (২)}

(যালিকা): এটি একটি নির্দেশক বিশেষ্য যা কিতাবের দিকে ইঙ্গিত করছে।

সুতরাং আয়াতে কিতাব সম্পর্কে এই সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। অতএব কিতাব হলো: সংবাদকৃত বিষয়, আর তার উল্লেখের পরিবর্তে নির্দেশক বিশেষ্য ‘যালিকা’ স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। সুতরাং ‘যালিকা’ হলো: রাফ-এর স্থলে অবস্থিত মুক্তাদা (উদ্দেশ্য) হিসেবে ব্যবহৃত নির্দেশক বিশেষ্য।

আর কিতাব সম্পর্কে যে সংবাদটি প্রদান করা হয়েছে তা হলো তা থেকে সন্দেহ নাকচ করা; সুতরাং বাক্যটি: খবরের (বিধেয়) স্থানে অবস্থিত।

বাক্যের মূল গঠন ছিল: ‘আল-কিতাবু লা রাইবা ফীহি’; এখানে মুক্তাদার উল্লেখের পরিবর্তে তার পূর্ববর্তী নির্দেশক বিশেষ্যটি স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, আর খবর হলো: তার পরবর্তী বাক্যটি।

(আল-কিতাবু): এটি স্পষ্ট পেশ (যম্মাহ) দ্বারা মারফু হওয়া বাদাল।

সুতরাং ‘আল-কিতাবু’ এখানে তার পূর্ববর্তী নির্দেশক বিশেষ্য ‘যালিকা’ থেকে বাদাল হিসেবে এসেছে—যদিও কিতাবই হলো মূলত সংবাদকৃত বিষয়—কারণ নির্দেশক বিশেষ্যটি এর উল্লেখের পূর্বেই এর দিকে ইশারা করেছে। তাই ‘আল-কিতাবু’ শব্দটি সেই মুক্তাদার অনুসারী হিসেবে মারফু হয়েছে যার স্থলাভিষিক্ত নির্দেশক বিশেষ্যটি হয়েছে, আর সেটি কিতাব নিজেই।

(লা): এটি জাতিগত না-বোধক অব্যয়, যা ‘ইন্না’-এর ন্যায় আমল করে।

(রাইবা): এটি ‘লা’-এর ইসিম যা যবর (ফাতহা)-এর ওপর ভিত্তি করে নাসাব-এর স্থানে অবস্থিত।

(ফীহি): ‘ফী’ হলো হারফে জার (অব্যয়), এবং ‘হা’ হলো সর্বনাম।

(হুদান): এটি দ্বিতীয় খবর যা উচ্চারণগত অপারগতার কারণে উহ্য পেশ (যম্মাহ) দ্বারা মারফু।

সুতরাং আয়াতে কিতাব সম্পর্কে দ্বিতীয় সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, এটি মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ।

অতএব কিতাব হলো সংবাদকৃত বিষয়, আর তার উল্লেখের পরিবর্তে নির্দেশক বিশেষ্য ‘যালিকা’ স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। সুতরাং ‘যালিকা’ হলো: মুক্তাদার স্থানে অবস্থিত নির্দেশক বিশেষ্য।

আর কিতাব সম্পর্কে যে বিষয়টি সংবাদ হিসেবে দেওয়া হয়েছে তা হলো হিদায়াত, তাই ‘হুদান’ হলো খবর; কারণ এটিই হলো সেই বিষয়
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১২)
المُخْبَرُ بِهِ عَنِ الكِتَابِ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «الكِتَابُ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ»؛ مُبْتَدَأٌ نَابَ عَنْ ذِكِرِهِ اسْمُ الإِشَارِةِ الَّذِي قَبْلَهُ، وَخَبَرٌ، وَجَارٌّ وَمَجْرُورٌ.

(لِلْمُتَّقِينَ): اللَّامُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «المُتَّقِينَ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِاليَاءِ لِأَنَّهُ جَمْعُ مُذَكَّرٍ سَالِمٌ.

 

‌‌{الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ (3)}

(الَّذِينَ): اسْمٌ مَوْصُولٌ.

(يُؤْمِنُونَ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُوتِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ،

وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

(بِالْغَيْبِ): البَاءُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «الغَيْبِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(وَيُقِيمُونَ): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «يُقِيمُونَ»: فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُوتِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

(الصَّلَاةَ): مَفْعُولٌ بِهِ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَالصَّلَاَةُ - هُنَا -: مَفْعُولٌ بِهِ لِأَنَّهَا المُقَامَةُ، وَأَمَّا الفَاعِلُ فَهُمُ المُتَّقُونَ لِأَنَّهُمُ المُقِيمُونَ لِلصَّلَاةِ، وَقَدْ نَابَتِ الوَاوُ عَنْ ذِكْرِهِمْ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «يُقِيمُ المُتَّقُونَ الصَّلَاةَ»؛ فِعْلٌ وَفَاعِلٌ وَمَفْعُولٌ بِهِ.

(وَمِمَّا): أَيْ: «وَمِنْ مَا»، الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «مِنْ»: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «مَا»: اسْمٌ مَوْصُولٌ.

(رَزَقْنَاهُمْ): «رَزَقْ»: فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى السُّكُونِ لِاتِّصَالِهِ بِـ «نَا»، وَ «نَا»:

ضَمِيرٌ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

(يُنْفِقُونَ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُوتِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ،
কিতাব সম্পর্কে যা সংবাদ দেওয়া হয়েছে।

বাক্যটির মূল গঠন হলো: «কিতাব মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক»; এখানে একটি মুবতাদা রয়েছে যার পরিবর্তে তার পূর্বের ইশারা বাচক বিশেষ্যটি স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, আর রয়েছে একটি খবর এবং হরফে জর ও মাজরুর।

(লিল মুত্তাকীন): লাম হলো হরফে জর, এবং «মুত্তাকীন» হলো ইয়া-এর মাধ্যমে মাজরুর হওয়া ইসম, কারণ এটি জমা মুযাক্কার সালিম।

 

‌‌{যারা অদৃশ্যে ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে (৩)}

(আল্লাযীনা): এটি একটি ইসম মওসুল।

(ইউ’মিনুনা): এটি একটি ফেয়াল মোজারে যা নূন অক্ষরের স্থায়িত্বের মাধ্যমে মারফু হয়েছে, কারণ এটি আফয়ালে খামসাহ-এর অন্তর্ভুক্ত,

এবং ওয়াও হলো একটি জমির।

ফেয়াল মোজারেটি মারফু হয়েছে কারণ এটি নাসব বা জাযম প্রদানকারী আমেল থেকে মুক্ত।

(বিল গায়বি): বা হলো হরফে জর, আর «গায়ব» হলো দৃশ্যমান কাসরা দ্বারা মাজরুর হওয়া ইসম।

(ওয়া ইউকিমুনা): ওয়াও হলো আতফ, আর «ইউকিমুনা» হলো একটি ফেয়াল মোজারে যা নূন অক্ষরের স্থায়িত্বের মাধ্যমে মারফু হয়েছে, কারণ এটি আফয়ালে খামসাহ-এর অন্তর্ভুক্ত, এবং ওয়াও হলো একটি জমির।

ফেয়াল মোজারেটি মারফু হয়েছে কারণ এটি নাসব বা জাযম প্রদানকারী আমেল থেকে মুক্ত।

(আস-সালাতা): এটি দৃশ্যমান ফাতহা দ্বারা মানসুব হওয়া মাফউল বিহি।

এখানে সালাত হলো মাফউল বিহি কারণ এটি কায়েম করা হয়। আর এর ফায়িল হলো মুত্তাকীগণ, কারণ তারাই সালাত কায়েমকারী; এবং এখানে ওয়াও জমিরটি তাদের পরিবর্তে স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

বাক্যটির মূল গঠন হলো: «মুত্তাকীগণ সালাত কায়েম করে»; ফেয়াল, ফায়িল এবং মাফউল বিহি।

(ওয়া মিম্মা): অর্থাৎ: «ওয়া মিন মা», ওয়াও হলো আতফ, এবং «মিন» হলো হরফে জর, আর «মা» হলো ইসম মওসুল।

(রাযাকনাহুম): «রাযাক» হলো সুকুন ভিত্তিক ফেয়াল মাজি কারণ এটি «না»-এর সাথে যুক্ত হয়েছে, এবং «না» হলো একটি জমির, আর «হুম» হলো একটি জমির।

(ইউনফিকুনা): এটি একটি ফেয়াল মোজারে যা নূন অক্ষরের স্থায়িত্বের মাধ্যমে মারফু হয়েছে, কারণ এটি আফয়ালে খামসাহ-এর অন্তর্ভুক্ত,
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৩)
وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

 

‌‌{وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ (4)}

(وَالَّذِينَ): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «الَّذِينَ»: اسْمٌ مَوْصُولٌ.

(يُؤْمِنُونَ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُوتِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ،

وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

(بِمَا): البَاءُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «مَا»: اسْمٌ مَوْصُولٌ.

(أُنْزِلَ): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ، بِصِيغَةِ المَبْنِيِّ لِلْمَجْهُولِ.

(إِلَيْكَ): «إِلَى»: حَرْفُ جَرٍّ، وَالكَافُ: ضَمِيرٌ.

(وَمَا): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «مَا»: اسْمٌ مَوْصُولٌ.

(أُنْزِلَ): فِعْلٌ مَاضٍ بِصِيغَةِ المَبْنِيِّ لِلْمَجْهُولِ، مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ.

(مِنْ): حَرْفُ جَرٍّ.

(قَبْلِكَ): «قَبْلِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ، وَالكَافُ: ضَمِيرٌ.

(وَبِالآخِرَةِ): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَالبَاءُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «الآخِرَةِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(هُمْ): ضَمِيرٌ.

(يُوقِنُونَ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُوتِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ،

وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

 

‌‌{أُوْلَئِكَ عَلَى هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ وَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (5)}

(أُوْلَئِكَ): اسْمُ إِشَارَةٍ.

(عَلَى): حَرْفُ جَرٍّ.
এবং ওয়াও (الواو): সর্বনাম (ضمير)।

সুতরাং বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) মারফু (مرفوع) হয়েছে, কারণ এটি নাসেিব (ناصب) বা জাযেম (جازم) থেকে মুক্ত।

 

‌‌{আর যারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তারা আখেরাতে দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করে। (৪)}

(ওয়াল্লাযিনা): ওয়াও (الواو): সংযোজক অব্যয় (عطف), এবং ‘আল্লাযিনা’: পদান্বয়ী সর্বনাম (اسم موصول)।

(ইউ’মিনুনা): বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) যা ‘নুন’ অক্ষরের স্থায়িত্বের মাধ্যমে (بثبوت النون) মারফু (مرفوع) হয়েছে, কারণ এটি পঞ্চ-ক্রিয়া (الأفعال الخمسة) এর অন্তর্ভুক্ত।

এবং ওয়াও (الواو): সর্বনাম (ضمير)।

সুতরাং বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) মারফু (مرفوع) হয়েছে, কারণ এটি নাসেিব (ناصب) বা জাযেম (جازم) থেকে মুক্ত।

(বিমা): ‘বা’ (الباء): হরফে জার (حرف جر), এবং ‘মা’: পদান্বয়ী সর্বনাম (اسم موصول)।

(উনযিলা): অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) যা ফাতহাহ-র ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على الفتح) এবং এটি কর্মবাচ্যের (مبني للمجهول) রূপ।

(ইলাইকা): ‘ইলা’ (إلى): হরফে জার (حرف جر), এবং ‘কাফ’ (الكاف): সর্বনাম (ضمير)।

(ওয়ামা): ওয়াও (الواو): সংযোজক অব্যয় (عطف), এবং ‘মা’: পদান্বয়ী সর্বনাম (اسم موصول)।

(উনযিলা): অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) যা কর্মবাচ্যের (مبني للمجهول) রূপ এবং ফাতহাহ-র ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على الفتح)।

(মিন): হরফে জার (حرف جر)।

(কাবলিকা): ‘কাবলি’ (قبل): স্পষ্ট কাসরাহ দ্বারা মাজরুর (مجرور) বিশেষ্য এবং ‘কাফ’ (الكاف): সর্বনাম (ضمير)।

(ওয়াবিল-আখিরাতি): ওয়াও (الواو): সংযোজক অব্যয় (عطف), ‘বা’ (الباء): হরফে জার (حرف جر), এবং ‘আল-আখিরাতি’: স্পষ্ট কাসরাহ দ্বারা মাজরুর (مجرور) বিশেষ্য।

(হুম): সর্বনাম (ضمير)।

(ইউকিনুনা): বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) যা ‘নুন’ অক্ষরের স্থায়িত্বের মাধ্যমে (بثبوت النون) মারফু (مرفوع) হয়েছে, কারণ এটি পঞ্চ-ক্রিয়া (الأفعال الخمسة) এর অন্তর্ভুক্ত।

এবং ওয়াও (الواو): সর্বনাম (ضمير)।

সুতরাং বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) মারফু (مرفوع) হয়েছে, কারণ এটি নাসেিব (ناصب) বা জাযেম (جازم) থেকে মুক্ত।

 

‌‌{তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে নির্দেশিত হিদায়াতের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম। (৫)}

(উলাইকা): নির্দেশক বিশেষ্য (اسم إشارة)।

(আলা): হরফে জার (حرف جر)।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৪)
(هُدًى): اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ المُقَدَّرَةِ لِلتَّعَذُّرِ.

(مِنْ): حَرْفُ جَرٍّ.

(رَبِّهِمْ): «رَبِّ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(وَأُولَئِكَ): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «أُولَئِكَ»: اسْمُ إِشَارَةٍ.

(هُمُ): ضَمِيرُ فَصْلٍ.

(المُفْلِحُونَ): خَبَرٌ مَرْفُوعٌ بِالوَاوِ لِأَنَّهُ جَمْعُ مُذَكَّرٍ سَالِمٌ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ المُتَّقِينَ بِأَنَّهُمُ المُفْلِحُونَ، فَالإِفْلَاحُ: خَبَرٌ لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنِ المُتَّقِينَ، وَأَمَّا المُبْتَدَأُ فَهُوَ «المُتَّقُونَ» لِأَنَّهُمُ المُخْبَرُ عَنْهُمْ، وَقَدْ نَابَ اسْمُ الإِشَارَةِ «أُولَئِكَ» عَنْ ذِكْرِهِمْ؛ أَيْ: «وَالمُتَّقُونَ هُمُ المُفْلِحُونَ»؛ مُبْتَدَأٌ وَضَمِيرُ فَصْلٍ وَخَبَرٌ.

 

‌‌{إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ ءَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ (6)}

(إِنَّ): حَرْفُ نَصْبٍ.

(الَّذِينَ): اسْمٌ مَوْصُولٌ.

(كَفَرُوا): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ لِاتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

(سَوَاءٌ): خَبَرٌ مُقَدَّمٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارَانِ:

الأَوَّلُ: إِخْبَارٌ عَنِ الكُفَّارِ بِأَنَّهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ، وَقَدِ اتَّصَلَ هَذَا الإِخْبَارُ بِـ «إِنَّ»؛ فَالكُفَّارُ: اسْمُ «إِنَّ» لِأَنَّهُمُ المُخْبَرُ عَنْهُمْ، وَقَدْ نَابَ الاسْمُ المَوْصُولُ عَنْ ذِكْرِهِمْ، وَأَمَّا خَبَرُهَا فَهُوَ نَفْيُ الإِيمَانِ لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنْهُمْ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «إِنَّ الكُفَّارَ لَا يُؤْمِنُونَ»؛ «إِنَّ» وَاسْمُهَا، وَأَمَّا خَبَرُهَا فَهُوَ: «لَا يُؤْمِنُونَ».

وَأَمَّا الثَّانِي: فَهُوَ إِخْبَارٌ اعْتِرَاضِيٌّ فَرْعِيٌّ لِلأَوَّلِ، وَهُوَ الإِخْبَارُ عَنْ إِنْذَارِ الكُفَّارِ وَعَدَمِهِ بِأَنَّهُ سَوَاءٌ فِي عَدَمِ إِيمَانِهِمْ، فَالإِنْذَارُ: مُبْتَدَأٌ لِأَنَّهُ المُخْبَرُ عَنْهُ، وَالسَّوَاءُ: خَبَرٌ
(হুদান): এটি অপারগতার কারণে উহ্য কাসরা দ্বারা মাজরুর হওয়া একটি বিশেষ্য।

(মিন): একটি হরফে জার।

(রব্বিহিম): «রব্বি»: দৃশ্যমান কাসরা দ্বারা মাজরুর হওয়া একটি বিশেষ্য, এবং «হিম»: একটি সর্বনাম।

(ওয়া উলাইকা): ‘ওয়াও’ হলো সংযোজক অব্যয়, এবং «উলাইকা» হলো একটি নির্দেশক বিশেষ্য।

(হুমু): এটি একটি পৃথককারী সর্বনাম।

(আল-মুফলিহুন): ‘ওয়াও’ দ্বারা মারফু হওয়া একটি বিধেয়, কারণ এটি একটি সুস্থ পুংলিঙ্গ বহুবচন।

সুতরাং এই আয়াতে মুত্তাকিদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয়েছে যে তারাই সফলকাম। এখানে সফলতা হলো সংবাদ বা বিধেয়, কারণ মুত্তাকিদের সম্পর্কে এটিই সংবাদ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। আর উদ্দেশ্য হলো «মুত্তাকিগণ», কারণ তাদের সম্পর্কেই সংবাদ প্রদান করা হচ্ছে। এখানে সরাসরি তাদের নাম উল্লেখের পরিবর্তে «উলাইকা» নামক নির্দেশক বিশেষ্যটি ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ: ‘মুত্তাকিরাই সফলকাম’। এটি উদ্দেশ্য, পৃথককারী সর্বনাম ও বিধেয়ের সমন্বয়ে গঠিত।

 

‌‌{নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে, আপনি তাদের সতর্ক করুন বা না করুন, তাদের জন্য সমান; তারা ঈমান আনবে না (৬)}

(ইন্না): একটি নাসব প্রদানকারী অব্যয়।

(আল্লাযিনা): এটি একটি সংযোজক বিশেষ্য।

(কাফারু): এটি জমিরে জামাআতের সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে দম্মা-র ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি অতীতকালীন ক্রিয়া, আর ‘ওয়াও’ হলো একটি সর্বনাম।

(সাওয়াউন): এটি দৃশ্যমান দম্মা দ্বারা মারফু হওয়া একটি অগ্রবর্তী বিধেয়।

আয়াতটিতে দুটি সংবাদ রয়েছে:

প্রথমটি: কাফিরদের সম্পর্কে এই সংবাদ দেওয়া যে তারা ঈমান আনবে না। এই সংবাদটি «ইন্না»-র সাথে যুক্ত হয়েছে; সুতরাং কাফিররা হলো «ইন্না»-র বিশেষ্য, কারণ তাদের সম্পর্কেই সংবাদ প্রদান করা হচ্ছে এবং এখানে তাদের সরাসরি উল্লেখের পরিবর্তে সংযোজক বিশেষ্য ব্যবহৃত হয়েছে। আর এর বিধেয় হলো ঈমানের অস্বীকৃতি, কারণ তাদের সম্পর্কে এই বিষয়টিই সংবাদ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

সুতরাং বাক্যটির মূল গঠন হলো: ‘নিশ্চয়ই কাফিররা ঈমান আনবে না’; এখানে «ইন্না» ও তার বিশেষ্য রয়েছে, আর তার বিধেয় হলো: ‘তারা ঈমান আনবে না’।

আর দ্বিতীয়টি হলো: এটি প্রথম সংবাদের একটি আনুষঙ্গিক বা ব্যাখ্যামূলক সংবাদ। তা হলো কাফিরদের সতর্ক করা বা না করার বিষয়ে এই সংবাদ দেওয়া যে, তাদের ঈমান না আনার ক্ষেত্রে এটি সমান। সুতরাং সতর্ক করা বিষয়টি হলো উদ্দেশ্য, কারণ এর সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে এবং ‘সমান’ শব্দটি হলো বিধেয়।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৫)
لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنِ الإِنْذَارِ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «إِنْذَارُ الكُفَّارِ وَعَدَمُ إِنْذَارِهِمْ سَوَاءٌ»؛ مُبْتَدَأٌ وَمُضَافٌ إِلَيْهِ وَوَاوُ عَطْفٍ وَمَعْطُوفٌ وَمُضَافٌ إِلَيْهِ وَضَمِيرٌ وَخَبَرٌ.

(عَلَيْهِمْ): «عَلَى»: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(أَأَنذَرْتَهُمْ): الهَمْزَةُ لِلتَّسْوِيَةِ، وَ «أَنْذَرْ»: فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى السُّكُونِ لِاتِّصَالِهِ بِالتَّاءِ المَفْتُوحَةِ، وَالتَّاءُ: ضَمِيرٌ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

(أَمْ): حَرْفُ عَطْفٍ.

(لَمْ): حَرْفُ جَزْمٍ.

(تُنذِرْهُمْ): «تُنْذِرْ»: فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَجْزُومٌ بِالسُّكُونِ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

(لَا): حَرْفُ نَفْيٍ.

(يُؤْمِنُونَ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُوتِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ،

وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

 

‌‌{خَتَمَ اللَّهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ وَعَلَى سَمْعِهِمْ وَعَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ (7)}

(خَتَمَ): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ علَى الفَتْحِ.

(اللهُ): لَفْظُ الجَلَالَةِ: فَاعِلٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَاللهُ - تَعَالَى - هُوَ الخَاتِمُ عَلَى قُلُوبِ الكَافِرِينَ.

(عَلَى): حَرْفُ جَرٍّ.

(قُلُوبِهِمْ): «قُلُوبِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(وَعَلَى): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «عَلَى»: حَرْفُ جَرٍّ.

(سَمْعِهِمْ): «سَمْعِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(وَعَلَى): الوَاوُ: اسْتِئْنَافِيَّةٌ، وَ «عَلَى»: حَرْفُ جَرٍّ.
কারণ এটি সতর্কীকরণ সম্পর্কে সংবাদকৃত বিষয়।

সুতরাং বাক্যটির মূল গঠন হলো: «কাফিরদের সতর্ক করা এবং তাদের সতর্ক না করা সমান»; এটি উদ্দেশ্য (مبتدأ), সম্বন্ধপদ (مضاف إليه), সংযোজক 'ওয়াও' (واو عطف), সংযোজিত পদ (معطوف), সম্বন্ধপদ (مضاف إليه), সর্বনাম (ضمير) এবং বিধেয় (خبر) নিয়ে গঠিত।

(عَلَيْهِمْ): «عَلَى» হলো অব্যয় (حرف جر), এবং «هِمْ» হলো সর্বনাম (ضمير)।

(أَأَنذَرْتَهُمْ): হামযাহটি সমতা প্রকাশের জন্য (للتسوية), এবং «أَنْذَرْ» হলো অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على السكون) যেহেতু এটি যবরযুক্ত 'তা'-এর সাথে যুক্ত হয়েছে, আর 'তা' হলো সর্বনাম (ضمير) এবং «هُمْ» হলো সর্বনাম (ضمير)।

(أَمْ): সংযোজক অব্যয় (حرف عطف)।

(لَمْ): জযম প্রদানকারী অব্যয় (حرف جزم)।

(تُنذِرْهُمْ): «تُنْذِرْ» হলো বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) যা সুকুন দ্বারা জযমপ্রাপ্ত (مجزوم بالسكون), এবং «هُمْ» হলো সর্বনাম (ضمير)।

(لَا): না-বোধক অব্যয় (حرف نفي)।

(يُؤْمِنُونَ): এটি বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) যা 'নুন' স্থির থাকার মাধ্যমে রাফা-প্রাপ্ত (مرفوع بثبوت النون), কারণ এটি আফ'আলুল খামসাহ (الأفعال الخمسة)-এর অন্তর্ভুক্ত।

এবং 'ওয়াও' হলো সর্বনাম (ضمير)।

সুতরাং বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াটি রাফা-প্রাপ্ত (مرفوع), কারণ এটি নসব বা জযম প্রদানকারী আমেল থেকে মুক্ত।

 

‌‌{আল্লাহ তাদের অন্তরে এবং তাদের কানে মোহর করে দিয়েছেন এবং তাদের চোখের ওপর আবরণ রয়েছে, আর তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি। (৭)}

(خَتَمَ): অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) যা ফাতাহর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني على الفتح)।

(اللهُ): মহিমান্বিত শব্দ (لفظ الجلالة): এটি কর্তা (فاعل) যা প্রকাশ্য পেশ বা যম্মাহ দ্বারা রাফা-প্রাপ্ত (مرفوع بالضمة الظاهرة)।

সুতরাং আল্লাহ তাআলাই হলেন কাফিরদের অন্তরে মোহরকারী।

(عَلَى): অব্যয় (حرف جر)।

(قُلُوبِهِمْ): «قُلُوبِ» হলো বিশেষ্য পদ যা প্রকাশ্য কাসরাহ বা যের দ্বারা যের-প্রাপ্ত (اسم مجرور بالكسرة الظاهرة), এবং «هِمْ» হলো সর্বনাম (ضمير)।

(وَعَلَى): 'ওয়াও' হলো সংযোজক (عطف), এবং «عَلَى» হলো অব্যয় (حرف جر)।

(سَمْعِهِمْ): «سَمْعِ» হলো বিশেষ্য পদ যা প্রকাশ্য কাসরাহ বা যের দ্বারা যের-প্রাপ্ত (اسم مجرور بالكسرة الظاهرة), এবং «هِمْ» হলো সর্বনাম (ضمير)।

(وَعَلَى): 'ওয়াও' হলো প্রারম্ভিক (استئنافية), এবং «عَلَى» হলো অব্যয় (حرف جر)।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৬)
(أَبْصَارِهِمْ): «أَبْصَارِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(غِشَاوَةٌ): مُبْتَدَأٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَالغِشَاوَةُ هِيَ الَّتِي دَلَّتْ عَلَى أَنَّ الوَاوَ الأَخِيرَةَ اسْتِئْنَافِيَّةٌ؛ إِذْ لَوْ كَانَتْ عَطْفًا لَكَانَ المَعْنَى: «خَتَمَ اللهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ، وَخَتَمَ اللهُ عَلَى سَمْعِهِمْ، وَخَتَمَ اللهُ عَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ»، فَلَا يَصِحُّ المَعْنَى فِي الشَّطْرِ الأَخِيرِ.

وَلِهَذَا كَانَ الصَّحِيحُ: «خَتَمَ اللهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ، وَخَتَمَ اللهُ عَلَى سَمْعِهِمْ، وَعَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ»؛ فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ الغِشَاوَةِ بِأَنَّهَا عَلَى أَبْصَارِ الكَافِرِينَ؛ أَيْ:

وَاقِعَةٌ - أَوْ نَحْوُهَا -؛ فَالغِشَاوَةُ مُخْبَرٌ عَنْهَا بِأَمْرٍ، وَلِهَذَا فَهِيَ مُبْتَدَأٌ، وَأَمَّا الخَبَرُ فَهُوَ وُقُوعُهَا لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنْهَا.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «الغِشَاوَةُ وَاقِعَةٌ عَلَى أَبْصَارِ الكُفَّارِ»؛ مُبْتَدَأٌ وَخَبَرٌ مَحْذُوفٌ وَجَارٌّ وَمَجْرُورٌ وَمُضَافٌ إِلَيْهِ.

(وَلَهُمْ): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَاللَّامُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

(عَذَابٌ): مُبْتَدَأٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ العَذَابِ بِأَنَّهُ كَائِنٌ لِلْكَافِرِينَ، فَالعَذَابُ: مُبْتَدأٌ لِأَنَّهُ المُخْبَرُ عَنْهُ، وَأَمَّا الخَبَرُ فَهُوَ كَيْنُونَتُهُ لَهُمْ لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنِ العَذَابِ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «العَذَابُ كَائِنٌ لَهُمْ»؛ مُبْتَدَأٌ وَخَبَرٌ مَحْذُوفٌ وَجَارٌّ وَضَمِيرٌ.

(عَظِيمٌ): نَعْتٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «عَظِيمٌ» صِفَةٌ لِلْعَذَابِ؛ أَيْ: «وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ مَوْصُوفٌ بِالعَظَمَةِ».

 

‌‌{وَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ (8)}

(وَمِنَ): الوَاوُ: اسْتِئْنَافِيَّةٌ، وَ «مِنْ»: حَرْفُ جَرٍّ.

(النَّاسِ): اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(مَنْ): اسْمٌ مَوْصُولٌ.
(তাদের দৃষ্টিসমূহ): «আবসার»: দৃশ্যমান কাসরাহ দ্বারা মাজরুর বিশেষ্য (اسم مجرور), এবং «হিম»: সর্বনাম (ضمير)।

(আবরণ): দৃশ্যমান দাম্মাহ দ্বারা মারফু (مرفوع) হওয়া মুবতাদা (مبتدأ)।

এখানে ‘গিশাওয়াহ’ (আবরণ) শব্দটিই নির্দেশ করে যে, শেষ ‘ওয়াও’ বর্ণটি ইস্তিনাফিয়্যাহ (استئنافية); কেননা এটি যদি আতিফাহ (عاطفة) হতো, তবে অর্থ দাঁড়াত: «আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরেছেন, তাদের শ্রবণেন্দ্রিয়ে মোহর মেরেছেন এবং তাদের দৃষ্টির ওপর মোহর মেরেছেন একটি আবরণ», ফলে শেষ অংশের অর্থ সঠিক হতো না।

এই কারণে সঠিক পাঠ হলো: «আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরেছেন, তাদের শ্রবণেন্দ্রিয়ে মোহর মেরেছেন, আর তাদের দৃষ্টির ওপর রয়েছে আবরণ»; সুতরাং আয়াতে আবরণ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে সেটি কাফিরদের দৃষ্টির ওপর রয়েছে; অর্থাৎ:

সেটি আপতিত — অথবা অনুরূপ কিছু —; তাই ‘গিশাওয়াহ’ হলো যার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয়েছে (মুবতাদা), আর খবর (خبر) হলো তার আপতিত হওয়া, কারণ এটিই সেই বিষয় যা তার সম্পর্কে সংবাদ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।

সুতরাং বাক্যটির মূল গঠন হলো: «আবরণটি কাফিরদের দৃষ্টির ওপর আপতিত»; এখানে মুবতাদা (مبتدأ), ঊহ্য সংবাদ (خبر محذوف), হরফে জার (حرف جر), মাজরুর (مجرور) এবং মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) রয়েছে।

(এবং তাদের জন্য): ‘ওয়াও’ হলো আতিফাহ (عاطفة), ‘লাম’ হলো হরফে জার (حرف جر), এবং «হিম» হলো সর্বনাম (ضمير)।

(আজাব): দৃশ্যমান দাম্মাহ দ্বারা মারফু (مرفوع) হওয়া মুবতাদা (مبتدأ)।

সুতরাং আয়াতে আজাব সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে সেটি কাফিরদের জন্য নির্ধারিত, তাই আজাব হলো মুবতাদা (مبتدأ) কারণ এটিই সংবাদ প্রদানের লক্ষ্যবস্তু, আর খবর (خبر) হলো তাদের জন্য সেটির বিদ্যমানতা, কারণ এটিই আজাব সম্পর্কে প্রদানকৃত সংবাদ।

সুতরাং বাক্যটির মূল গঠন হলো: «আজাব তাদের জন্য নির্ধারিত»; এখানে মুবতাদা (مبتدأ), ঊহ্য সংবাদ (خبر محذوف), হরফে জার (حرف جر) এবং সর্বনাম (ضمير) রয়েছে।

(মহা): দৃশ্যমান দাম্মাহ দ্বারা মারফু (مرفوع) হওয়া নাত (نعت)।

সুতরাং «আজিম» শব্দটি আজাবের জন্য সিফাত (صفة); অর্থাৎ: «এবং কাফিরদের জন্য রয়েছে এমন আজাব যা মহত্ত্বের গুণে গুণান্বিত»।

 

‌‌{আর মানুষের মধ্যে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা বলে, ‘আমরা আল্লাহর ওপর এবং শেষ দিবসের ওপর ঈমান এনেছি’, অথচ তারা মুমিন নয়। (৮)}

(এবং থেকে): ‘ওয়াও’ হলো ইস্তিনাফিয়্যাহ (استئنافية) এবং «মিন» হলো হরফে জার (حرف جر)।

(মানুষ): দৃশ্যমান কাসরাহ দ্বারা মাজরুর বিশেষ্য (اسم مجرور)।

(যে): ইসম মাউসুল (اسم موصول)।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৭)
(يَقُولُ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

(آمَنَّا): «آمَنْ»: فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى السُّكُونِ لِاتِّصَالِهِ بِـ «نَا»، وَ «نَا»: ضَمِيرٌ.

(بِاللَّهِ): البَاءُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «اللهِ»: لَفْظُ الجَلَالَةِ: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(وَبِالْيَوْمِ): الوَاوُ عَطْفٌ، وَالبَاءُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «اليَوْمِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(الآخِرِ): نَعْتٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «الآخِرِ»: صِفَةٌ لِلْيَوْمِ؛ أَيْ: «آمَنَّا بِاليَوْمِ المَوْصُوفِ بِالآخِرِ».

(وَمَا): الوَاوُ: حَالِيَّةٌ؛ أَيْ: «وَحَالُهُمْ أَنَّهُمْ غَيْرُ مُؤْمِنِينَ»، وَ «مَا»: حَرْفُ نَفْيٍ.

(هُمْ): ضَمِيرٌ.

(بِمُؤْمِنِينَ): البَاءُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «مُؤْمِنِينَ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِاليَاءِ لِأَنَّهُ جَمْعُ مُذَكَّرٍ سَالِمٌ.

 

‌‌{يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ (9)}

(يُخَادِعُونَ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُوتِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

(اللهَ): لَفْظُ الجَلَالَةِ: مَفْعُولٌ بِهِ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَلَفْظُ الجَلَالَةِ: مَفْعُولٌ بِهِ لِأَنَّ اللهَ هُوَ المُخَادَعُ - ظَنًّا مِنْهُمْ -، وَأَمَّا الفَاعِلُ فَهُمُ المُنَافِقُونَ لِأَنَّهُمُ المُخَادِعُونَ، وَقَدْ نَابَتِ الوَاوُ عَنْ ذِكْرِهِمْ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «يُخَادِعُ المُنَافِقُونَ اللهَ، وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ»؛ فِعْلٌ وَفَاعِلٌ وَمَفْعُولٌ بِهِ.

(وَالَّذِينَ): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «الَّذِينَ»: اسْمٌ مَوْصُولٌ.
(يَقُولُ): বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালবাচক ক্রিয়া (فعل مضارع), যা দৃশ্যমান পেশ (ضمة ظاهرة) দ্বারা মারফু (مرفوع) হয়েছে।

বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালবাচক ক্রিয়াটি মারফু (مرفوع) হয়েছে কারণ এটি নসব (نواصب) বা জজম (جوازم) প্রদানকারী আমেল থেকে মুক্ত।

(آمَنَّا): «آمَنْ»: অতীতকালবাচক ক্রিয়া (فعل ماض), যা সুকুন (سكون) এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (مبني) হয়েছে, যেহেতু এটি «نَا» এর সাথে যুক্ত হয়েছে। আর «نَا» হলো একটি সর্বনাম (ضمير)।

(بِاللَّهِ): 'বা' (بـ) হলো অব্যয় (حرف جر), এবং «اللهِ» হলো মহান আল্লাহর পবিত্র নাম (لفظ الجلالة), যা দৃশ্যমান যের (كسرة ظاهرة) দ্বারা মাজরুর (مجرور) হয়েছে।

(وَبِالْيَوْمِ): 'ওয়াও' (و) হলো সংযোজক অব্যয় (عطف), 'বা' (بـ) হলো অব্যয় (حرف جر), এবং «اليَوْمِ» হলো দৃশ্যমান যের (كسرة ظاهرة) দ্বারা মাজরুর (مجرور) বিশেষ্য।

(الآخِرِ): এটি মাজরুর (مجرুর) সিফাত বা বিশেষণ (نعت), যা দৃশ্যমান যের (كسرة ظاهرة) দ্বারা মাজরুর হয়েছে।

সুতরাং «الآخِرِ» হলো «اليَوْمِ» এর বিশেষণ (صفة); অর্থাৎ: "আমরা পরকাল হিসেবে বিশেষায়িত দিবসের প্রতি ঈমান এনেছি"।

(وَمَا): 'ওয়াও' (و) হলো অবস্থাজ্ঞাপক (حالية); অর্থাৎ: "তাদের অবস্থা এই যে তারা মুমিন নয়", এবং «مَا» হলো না-বোধক অব্যয় (حرف نفي)।

(هُمْ): এটি একটি সর্বনাম (ضمير)।

(بِمُؤْمِنِينَ): 'বা' (بـ) হলো অতিরিক্ত অব্যয় (حرف جر), এবং «مُؤْمِنِينَ» হলো 'ইয়া' (ياء) দ্বারা মাজরুর (مجرور) বিশেষ্য, কারণ এটি পুংলিঙ্গবাচক বহুবচন (جمع مذكر سالم)।

 

‌{তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারদের সাথে প্রতারণা করে; অথচ তারা নিজেদের ছাড়া আর কারো সাথে প্রতারণা করে না, কিন্তু তারা তা বুঝতে পারে না। (৯)}

(يُخَادِعُونَ): এটি বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালবাচক ক্রিয়া (فعل مضارع), যা 'নুন' (نون) অক্ষরের স্থিতিশীলতার মাধ্যমে মারফু (مرفوع) হয়েছে, যেহেতু এটি 'পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়ার' (الأفعال الخمسة) অন্তর্ভুক্ত। আর 'ওয়াও' (و) হলো সর্বনাম (ضمير)।

বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালবাচক ক্রিয়াটি মারফু (مرفوع) হয়েছে কারণ এটি নসব (نواصب) বা জজম (جوازم) প্রদানকারী আমেল থেকে মুক্ত।

(اللهَ): মহান আল্লাহর পবিত্র নাম (لفظ الجلالة) এখানে মানসুব (منصوب) অবস্থায় থাকা কর্মপদ (مفعول به), যা দৃশ্যমান জবর (فتحة ظاهرة) দ্বারা প্রকাশ পেয়েছে।

মহান আল্লাহর পবিত্র নাম (لفظ الجلالة) এখানে কর্মপদ (مفعول به); কারণ তাদের ধারণা অনুযায়ী আল্লাহই প্রতারিত হচ্ছেন—নাউযুবিল্লাহ—। আর এর প্রকৃত কর্তা (فاعل) হলো মুনাফিকরা, কারণ তারাই মূলত প্রতারক। এখানে 'ওয়াও' (و) সর্বনামটি তাদের নামের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

বাক্যটির মূল গঠন হলো: "মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে এবং তারা নিজেদের ছাড়া অন্য কারো সাথে প্রতারণা করে না এবং তারা তা অনুভব করে না"; এখানে ক্রিয়া (فعل), কর্তা (فاعل) এবং কর্ম (مفعول به) বিদ্যমান।

(وَالَّذِينَ): 'ওয়াও' (و) হলো সংযোজক অব্যয় (عطف), এবং «الَّذِينَ» হলো একটি সংযোগবাচক বিশেষ্য (اسم موصول)।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৮)
(آمَنُوا): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ لِاتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

(وَمَا): الوَاوُ: اسْتِئْنَافِيَّةٌ، وَ «مَا»: حَرْفُ نَفْيٍ.

(يَخْدَعُونَ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُوتِ النُّونِ؛ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

(إِلَّا): حَرْفُ حَصْرٍ وَاسْتِثْنَاءٍ.

(أَنفُسَهُمْ): «أَنْفُسَ»: مَفْعُولٌ بِهِ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

فَالأَنْفُسُ - هُنَا -: مَفْعُولٌ بِهِ لأَنَّهَا المَخْدُوعَةُ؛ وَأَمَّا الفَاعِلُ فَهُمُ المُنَافِقُونَ لِأَنَّهُمُ الخَادِعُونَ لِأَنْفُسِهِمْ، وَقَدْ نَابَتِ الوَاوُ عَنْ ذِكْرِهِمْ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «يَخْدَعُ المُنَافِقُونَ أَنْفُسَهُمْ»؛ فِعْلٌ وَفَاعِلٌ وَمَفْعُولٌ بِهِ.

(وَمَا): الوَاوُ: اسْتِئْنَافِيَّةٌ، وَ «مَا»: حَرْفُ نَفْيٍ.

(يَشْعُرُونَ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُوتِ النُّونِ؛ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

 

‌‌{فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ اللَّهُ مَرَضًا وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ (10)}

(فِي): حَرْفُ جَرٍّ.

(قُلُوبِهِمْ): «قُلُوبِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(مَرَضٌ): مُبْتَدَأٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ المَرَضِ بِأَنَّهُ مَوْجُودٌ فِي قُلُوبِ الكَافِرِينَ، أَوْ مُسْتَقِرٌّ

أَوْ كَائِنٌ - أَوْ نَحْوُ ذَلِكَ -، فَالمَرْضُ: مُبْتَدَأٌ لِأَنَّهُ المُخْبَرُ عَنْهُ، وَأَمَّا الخَبَرُ فَهُوَ وُجُودُ المَرْضِ لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنْهُ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «المَرَضُ مَوْجُودٌ فِي قُلُوبِ الكَافِرِينِ»؛ مُبْتَدَأٌ وَخَبَرٌ
(আমানু): এটি একটি অতীতকালীন ক্রিয়া যা ‘দম্ম’ বা পেশের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, কারণ এটি ‘ওয়াও আল-জামায়াত’ এর সাথে যুক্ত হয়েছে; আর এই ‘ওয়াও’ হলো একটি সর্বনাম।

(ওয়ামা): এখানে ‘ওয়াও’ হলো প্রারম্ভিক অব্যয় এবং ‘মা’ হলো না-বোধক অব্যয়।

(ইয়াখদাউনা): এটি একটি বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া যা ‘নুন’ অক্ষরের স্থিতিশীলতার মাধ্যমে ‘রফা’ বা পেশ প্রাপ্ত হয়েছে; কারণ এটি ‘আফয়ালে খামসাহ’ বা পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত, আর ‘ওয়াও’ হলো একটি সর্বনাম।

বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াটি এখানে ‘রফা’ বা পেশ প্রাপ্ত হয়েছে কারণ এটি নসবকারী (জবর প্রদানকারী) কিংবা জজমকারী (সাকিন প্রদানকারী) অব্যয় থেকে মুক্ত।

(ইল্লা): এটি সীমাবদ্ধকরণ এবং ব্যতিরেকী অব্যয়।

(আনফুসাহুম): ‘আনফুসা’ হলো দৃশ্যমান ‘ফাতহা’ বা জবর দ্বারা ‘নসব’ প্রাপ্ত কর্মপদ, আর ‘হুম’ হলো একটি সর্বনাম।

এখানে ‘আনফুস’ (নিজেদের বা আত্মাসমূহ) হলো কর্মপদ কারণ তারাই প্রতারিত হচ্ছে; আর এর কর্তা হলো মুনাফিকরা কারণ তারাই নিজেদের প্রতারণা করছে, এবং তাদের নামের পরিবর্তে এখানে ‘ওয়াও’ সর্বনামটি ব্যবহৃত হয়েছে।

বাক্যটির মূল গঠন হলো: ‘মুনাফিকরা নিজেদের প্রতারণা করছে’; যা ক্রিয়া, কর্তা এবং কর্মপদ নিয়ে গঠিত।

(ওয়ামা): এখানে ‘ওয়াও’ হলো প্রারম্ভিক অব্যয় এবং ‘মা’ হলো না-বোধক অব্যয়।

(ইয়াশউরুনা): এটি একটি বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া যা ‘নুন’ অক্ষরের স্থিতিশীলতার মাধ্যমে ‘রফা’ বা পেশ প্রাপ্ত হয়েছে; কারণ এটি ‘আফয়ালে খামসাহ’ বা পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত, আর ‘ওয়াও’ হলো একটি সর্বনাম।

বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াটি এখানে ‘রফা’ বা পেশ প্রাপ্ত হয়েছে কারণ এটি নসবকারী কিংবা জজমকারী অব্যয় থেকে মুক্ত।

 

‌‌{তাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, অতঃপর আল্লাহ তাদের ব্যাধি বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, কারণ তারা মিথ্যা বলত (১০)}

(ফী): এটি একটি অব্যয় (হরফে জর)।

(কুলুবিহিম): ‘কুলুবি’ হলো দৃশ্যমান ‘কাসরা’ বা জের দ্বারা ‘জর’ প্রাপ্ত বিশেষ্য, আর ‘হিম’ হলো একটি সর্বনাম।

(মরাদুন): এটি দৃশ্যমান ‘দম্ম’ বা পেশ দ্বারা ‘রফা’ প্রাপ্ত উদ্দেশ্য (মুবতাদা)।

এই আয়াতে ‘ব্যাধি’ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, এটি কাফেরদের অন্তরে বিদ্যমান বা স্থিতিশীল রয়েছে।

অর্থাৎ এটি সেখানে আছে বা অবস্থান করছে—এমন কিছু বোঝানো হয়েছে। সুতরাং ‘ব্যাধি’ শব্দটি এখানে উদ্দেশ্য (মুবতাদা) কারণ এটি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে; আর সংবাদ বা বিধেয় (খবর) হলো ব্যাধির অস্তিত্ব বা বিদ্যমান থাকা, কারণ এটি দিয়েই উদ্দেশ্য সম্পর্কে তথ্য প্রদান করা হয়েছে।

বাক্যটির মূল গঠন হলো: ‘কাফেরদের অন্তরে ব্যাধি বিদ্যমান’; যা উদ্দেশ্য ও বিধেয় দ্বারা গঠিত।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৯)
مَحْذُوفٌ وجَارٌّ وَمَجْرُورٌ وَمُضَافٌ إِلَيْهِ.

(فَزَادَهُمُ): الفَاءُ: اسْتِئْنَافِيَّةٌ، وَ «زَادَ»: فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

(اللَّهُ): لَفْظُ الجَلَالَةِ: فَاعِلٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَاللهُ - تَعَالَى - فَاعِلُ الزِّيَادَةِ.

(مَرَضًا): مَفْعُولٌ بِهِ ثَانٍ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَالمَرَضُ - هُنَا -: مَفْعُولٌ بِهِ ثَانٍ لِأَنَّهُ المَزِيدُ الثَّانِي، أَمَّا المَفْعُولُ بِهِ الأَوَّلُ فَهُمُ المُنَافِقُونَ لِأَنَّهُمُ المَزِيدُونَ أَيْضًا.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: ««زَادَ اللهُ المُنَافِقِينَ مَرَضًا»؛ فِعْلٌ وَفَاعِلٌ وَمَفْعُولٌ بِهِ أَوَّلُ وَمَفْعُولٌ بِهِ ثَانٍ.

(وَلَهُمْ): الوَاوُ: اسْتِئْنَافِيَّةٌ، وَاللَّامُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

(عَذَابٌ): مُبْتَدَأٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ العَذَابِ بِأَنَّهُ كَائِنٌ لِلْمُنَافِقِينَ، فَالعَذَابُ: مُبْتَدأٌ لِأَنَّهُ المُخْبَرُ عَنْهُ، وَأَمَّا الخَبَرُ فَهُوَ كَيْنُونَتُهُ لَهُمْ لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنِ العَذَابِ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «العَذَابُ كَائِنٌ لَهُمْ»؛ مُبْتَدَأٌ وَخَبَرٌ مَحْذُوفٌ وَجَارٌّ وَضَمِيرٌ.

(أَلِيمٌ): نَعْتٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «أَلِيمٌ»: صِفَةٌ لِلْعَذَابِ؛ أَيْ: «وَلَهُمْ عَذَابٌ مَوْصُوفٌ بِأَنَّهُ مُؤْلِمٌ».

(بِمَا): البَاءُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «مَا»: اسْمٌ مَوْصُولٌ.

(كَانُوا): فِعْلٌ مَاضٍ نَاقِصٌ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ لِاتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ، وَالواوُ:

ضَمِيرٌ.

(يَكْذِبُونَ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُوتِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.
ঊহ্য (محذوف), জার (جار), মাজরুর (مجرور) এবং মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)।

(ফাযাদাহুম): ফা-টি হলো প্রারম্ভিক (استئنافية), এবং 'জাদা' (زاد) হলো অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض) যা ফাতাহ-এর ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত (مبني على الفتح), এবং 'হুম' (هم) হলো একটি সর্বনাম (ضمير)।

(আল্লাহ): আল্লাহ শব্দটি হলো 'শব্দে জালালাত': এটি কর্তৃপদ (فاعل) যা দৃশ্যমান দম্মাহ (ضمة ظاهرة) দ্বারা মারফু (مرفوع) হয়েছে।

সুতরাং আল্লাহ তাআলা হলেন বৃদ্ধির কর্তা (فاعل)।

(মারদান): এটি দ্বিতীয় কর্মপদ (مفعول به ثان) যা দৃশ্যমান ফাতাহ (فتحة ظاهرة) দ্বারা মানসুব (منصوب) হয়েছে।

এখানে 'ব্যাধি' (مرض) হলো দ্বিতীয় কর্মপদ (مفعول به ثان), কারণ এটি দ্বিতীয় বর্ধিত বিষয়। আর প্রথম কর্মপদ (مفعول به أول) হলো মুনাফিকরা, কারণ তাদেরও বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়েছে।

বাক্যটির মূল গঠন (تركيب) হলো: "জাদাল্লাহুল মুনাফিকিনা মারদান"; যা ক্রিয়া (فعل), কর্তৃপদ (فاعل), প্রথম কর্মপদ (مفعول به أول) এবং দ্বিতীয় কর্মপদ (مفعول به ثان) দ্বারা গঠিত।

(ওয়া লাহুম): ওয়াও-টি হলো প্রারম্ভিক (استئنافية), লাম-টি হলো হরফে জার (حرف جر), এবং 'হুম' (هم) হলো সর্বনাম (ضمير)।

(আজাবুন): এটি মুক্তাদা (مبتدأ) যা দৃশ্যমান দম্মাহ (ضمة ظاهرة) দ্বারা মারফু (مرفوع) হয়েছে।

এই আয়াতে আজাব বা শাস্তি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে তা মুনাফিকদের জন্য নির্ধারিত। এখানে 'আজাব' শব্দটি হলো মুক্তাদা (مبتدأ), কারণ এটি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে; আর খবর (خبر) হলো তাদের জন্য শাস্তি সাব্যস্ত হওয়া, কারণ এটিই শাস্তির ব্যাপারে সংবাদ।

বাক্যটির মূল গঠন (تركيب) হলো: "আল-আজাবু কাইনুল লাহুম"; যা মুক্তাদা (مبتدأ), ঊহ্য খবর (خبر محذوف), জার (جار) এবং সর্বনাম (ضمير) নিয়ে গঠিত।

(আলিমুন): এটি বিশেষণ (نعت) যা দৃশ্যমান দম্মাহ (ضمة ظاهرة) দ্বারা মারফু (مرفوع) হয়েছে।

সুতরাং 'আলিমুন' হলো আজাবের একটি গুণ (صفة); অর্থাৎ: "তাদের জন্য রয়েছে এমন আজাব যা যন্ত্রণাদায়ক হিসেবে বিশেষিত।"

(বিমা): বা-টি হলো হরফে জার (حرف جر) এবং 'মা' হলো ইসম মাওসুল (اسم موصول)।

(কানু): এটি একটি অতীতকালীন অপূর্ণক্রিয়া (فعل ماض ناقص) যা ওয়াও-উল-জামায়াত যুক্ত হওয়ার কারণে দম্মাহ-এর ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত (مبني على الضم), এবং ওয়াও-টি হলো একটি

সর্বনাম (ضمير)।

(ইয়াকজিবুন): এটি বর্তমানকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) যা নুন বহাল থাকার মাধ্যমে (ثبوت النون) মারফু (مرفوع) হয়েছে, কারণ এটি আফআলে খামসাহ-এর (الأفعال الخمسة) অন্তর্ভুক্ত; আর ওয়াও-টি হলো সর্বনাম (ضمير)।

এই বর্তমানকালীন ক্রিয়াটি (فعل مضارع) মারফু (مرفوع) হয়েছে কারণ এটি নাসেিব (ناصب) বা জাযেম (جازم) থেকে মুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌{وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ (11)}

(وَإِذَا): الوَاوُ: اسْتِئْنَافِيَّةٌ، وَ «إِذَا»: اسْمُ شَرْطٍ، غَيْرُ جَازِمٍ.

(قِيلَ): فِعْلٌ مَاضٍ بِصِيغَةِ المَبْنِيِّ لِلْمَجْهُولِ، مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ.

(لَهُمْ): اللَّامُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

(لَا): حَرْفُ نَهْيٍ، جَازِمٌ.

(تُفْسِدُوا): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَجْزُومٌ بِحَذْفِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

(فِي): حَرْفُ جَرٍّ.

(الأَرْضِ): اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(قَالُوا): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ لِاتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

(إِنَّمَا): «إِنَّ»: حَرْفُ نَصْبٍ، وَ «مَا»: حَرْفٌ كَافٌّ، يَكُفُّ «إِنَّ» عَنِ العَمَلِ.

(نَحْنُ): ضَمِيرٌ.

(مُصْلِحُونَ): خَبَرٌ مَرْفُوعٌ بِالوَاوِ لِأَنَّهُ جَمْعُ مُذَكَّرٍ سَالِمٌ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ كَاذِبٌ عَلَى لِسَانِ المُنَافِقِينَ، وَهُوَ الإِخْبَارُ عَنْ أَنْفُسِهِمْ بِأَنَّهُمْ مُصْلِحُونَ، فَالمُنَافِقُونَ: مُبْتَدَأٌ لِأَنَّهُمُ المُخْبَرُ عَنْهُمْ فِي السِّيَاقِ، وَقَدْ نَابَ الضَّمِيرُ «نَحْنُ» عَنْ ذِكْرِهِمْ، وَأَمَّا الخَبَرُ فَهُوَ الإِصْلَاحُ لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنْهُمْ - وَذَلِكَ عَلَى لِسَانِهِمْ -.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْإِخْبَارِ الكَاذِبِ: «المُنَافِقُونَ مُصْلِحُونَ»؛ مُبْتَدَأٌ وَخَبَرٌ.

 

‌‌{أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَكِن لَّا يَشْعُرُونَ (12)}

(أَلَا): حَرْفُ تَنْبِيهٍ وَاسْتِفْتَاحٍ.

(إِنَّهُمْ): «إِنَّ»: حَرْفُ نَصْبٍ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

(هُمُ): ضَمِيرُ فَصْلٍ.

(الْمُفْسِدُونَ): خَبَرُ «إِنَّ» مَرْفُوعٌ بِالوَاوِ لِأَنَّهُ جَمْعُ مُذَكَّرٍ سَالِمٌ.
‌‌{আর যখন তাদেরকে বলা হয়, “তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না,” তারা বলে, “আমরা তো কেবল সংশোধনকারী।” (১১)}

(ওয়া ইযা): ‘ওয়াও’ বর্ণটি প্রারম্ভিক, এবং ‘ইযা’ হলো একটি শর্তবাচক বিশেষ্য, যা জযম প্রদানকারী নয়।

(ক্বিলা): অতীতকালীন ক্রিয়া যা কর্মবাচ্য রূপে ব্যবহৃত এবং ফাতাহ-এর ওপর ভিত্তিহীন।

(লাহুম): ‘লাম’ হলো হরফে জার বা অব্যয়, এবং ‘হুম’ হলো সর্বনাম।

(লা): নিষেধসূচক অব্যয় যা জযম প্রদানকারী।

(তুফসিদু): বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া যা ‘নুন’ বিলুপ্তির মাধ্যমে জযমপ্রাপ্ত হয়েছে কারণ এটি ‘পাঁচটি ক্রিয়া’-এর অন্তর্ভুক্ত; এবং ‘ওয়াও’ হলো সর্বনাম।

(ফী): হরফে জার বা অব্যয়।

(আল-আরদি): বিশেষ্য যা স্পষ্ট কাসরাহ দ্বারা জার-প্রাপ্ত।

(ক্বলু): অতীতকালীন ক্রিয়া যা ‘ওয়াও আল-জামাআহ’ যুক্ত হওয়ার কারণে দম্মাহ-এর ওপর ভিত্তিহীন; এবং ‘ওয়াও’ হলো সর্বনাম।

(ইন্নামা): ‘ইন্না’ হলো নসব প্রদানকারী অব্যয় এবং ‘মা’ হলো বাধাদানকারী অব্যয় যা ‘ইন্না’-এর আমলকে রহিত করে দেয়।

(নাহনু): সর্বনাম।

(মুসলিহুন): খবর বা প্রেডিকেট যা ‘ওয়াও’ চিহ্নের মাধ্যমে রাফা-প্রাপ্ত হয়েছে কারণ এটি পুংলিঙ্গবাচক অক্ষত বহুবচন।

আয়াতে মুনাফিকদের পক্ষ থেকে একটি মিথ্যা সংবাদ প্রদানের বিষয় বর্ণিত হয়েছে, আর তা হলো নিজেদের সম্পর্কে তাদের এই দাবি যে তারা সংশোধনকারী। এখানে ‘মুনাফিকগণ’ হলো মুবতাদা বা উদ্দেশ্য, কারণ প্রেক্ষাপটে তাদের সম্পর্কেই সংবাদ দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের উল্লেখের পরিবর্তে ‘নাহনু’ সর্বনামটি ব্যবহৃত হয়েছে। আর খবর বা বিধেয় হলো ‘সংশোধন’, কারণ এটিই তাদের সম্পর্কে বর্ণিত বিষয়—যা তাদের নিজেদের মুখে উচ্চারিত হয়েছে।

সুতরাং এই মিথ্যা সংবাদের মূল গঠন হলো: ‘মুনাফিকগণ সংশোধনকারী’; যা মুবতাদা ও খবর দ্বারা গঠিত।

 

‌‌{সাবধান! নিশ্চয়ই তারাই ফাসাদ সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা অনুভব করে না। (১২)}

(আলা): সতর্কীকরণ ও প্রারম্ভিক অব্যয়।

(ইন্নাহুম): ‘ইন্না’ হলো নসব প্রদানকারী অব্যয় এবং ‘হুম’ হলো সর্বনাম।

(হুমু): ব্যবচ্ছেদকারী সর্বনাম।

(আল-মুফসিদুন): ‘ইন্না’-এর খবর বা প্রেডিকেট যা ‘ওয়াও’ চিহ্নের মাধ্যমে রাফা-প্রাপ্ত হয়েছে কারণ এটি পুংলিঙ্গবাচক অক্ষত বহুবচন।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২১)
فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ المُنَافِقِينَ بِأَنَّهُمُ المُفْسِدُونَ، فَالإِفْسَادُ هُوَ الأَمْرُ المُخْبَرُ

بِهِ، وَالمُنَافِقُونَ هُمُ المُخْبَرُ عَنْهُمْ، وَقَدِ اتَّصَلَ هَذَا الخَبَرُ بِـ «إِنَّ»، وَنَابَ الضَّمِيرُ المُتَّصِلُ بِـ «إِنَّ» عَنِ ذِكْرِ المُنَافِقِينَ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «أَلَا إِنَّ المُنَافِقِينَ هُمُ المُفْسِدُونَ»؛ «أَلَا» وَ «إِنَّ» وَاسْمُهَا وَضَمِيرُ فَصْلٍ وَخَبَرُهَا.

(وَلَكِنْ): الوَاوُ: حَالِيَّةٌ؛ أَيْ: «وَحَالُهُمْ أَنَّهُمْ لَا يَشْعُرُونَ»، وَ «لَكِنْ»: حَرْفُ اسْتِدْرَاكٍ.

(لَا): حَرْفُ نَفْيٍ.

(يَشْعُرُونَ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُونِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ،

وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

 

‌‌{وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَكِن لَّا يَعْلَمُونَ (13)}

(وَإِذَا): الوَاوُ: اسْتِئْنَافِيَّةٌ، وَ «إِذَا»: اسْمُ شَرْطٍ، غَيْرُ جَازِمٍ.

(قِيلَ): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ، بِصِيغَةِ المَبْنِيِّ لِلْمَجْهُولِ.

(لَهُمْ): اللَّامُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

(آمِنُوا): فِعْلُ أَمْرٍ مَبْنِيٌّ عَلَى حَذْفِ النُّونِ لِاتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

(كَمَا): الكَافُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «مَا»: حَرْفٌ مَصْدَرِيٌّ؛ أَيْ: «كَإِيمَانِ النَّاسِ».

(آمَنَ): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ.

(النَّاسُ): فَاعِلٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «النَّاسُ»: فَاعِلٌ لِأَنَّهُمُ المُؤْمِنُونَ.

(قَالُوا): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ لِاتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

(أَنُؤْمِنُ): الهَمْزَةُ: حَرْفُ اسْتِفْهَامٍ، وَ «نُؤْمِنُ»: فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ

এই আয়াতে মুনাফিকদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয়েছে যে, তারাই ফাসাদ সৃষ্টিকারী। সুতরাং ফাসাদ সৃষ্টি করাই হলো সংবাদকৃত বিষয়, আর মুনাফিকরা হলো যাদের সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে। এই সংবাদটি «ইন্না»-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে এবং «ইন্না»-এর সাথে যুক্ত সর্বনামটি মুনাফিকদের উল্লেখের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

বাক্যটির মূল গঠন হলো: «আলা ইন্নাল মুনাফিক্বীনা হুমুল মুফসিদুন»; এখানে «আলা», «ইন্না» ও তার ইসিম, বিভেদকারী সর্বনাম (যমীরে ফাসল) এবং তার খবর রয়েছে।

(ওয়ালকিন): এখানে ‘ওয়াও’ হলো অবস্থা নির্দেশক (হালিয়্যাহ); অর্থাৎ: ‘তাদের অবস্থা হলো এই যে, তারা উপলব্ধি করে না’, এবং «লাকিন» হলো সংশয় নিরসনকারী (ইস্তিদরাক) অব্যয়।

(লা): এটি একটি না-বোধক অব্যয়।

(ইয়াশউরুনা): এটি একটি বর্তমান-ভবিষ্যৎকালসূচক ক্রিয়া যা ‘নূন’ বহাল থাকার মাধ্যমে মারফু হয়েছে, কারণ এটি ‘আফআলে খামসাহ’-এর অন্তর্ভুক্ত।

আর ‘ওয়াও’ হলো একটি সর্বনাম।

সুতরাং বর্তমান-ভবিষ্যৎকালসূচক ক্রিয়াটি মারফু হয়েছে কারণ এটি নসব প্রদানকারী বা জজম প্রদানকারী অব্যয় থেকে মুক্ত।

 

‌‌{আর যখন তাদের বলা হয়, তোমরা ঈমান আনো যেভাবে মানুষেরা ঈমান এনেছে, তারা বলে, আমরা কি ঈমান আনব যেভাবে নির্বোধেরা ঈমান এনেছে? জেনে রেখো, নিশ্চয়ই তারাই নির্বোধ, কিন্তু তারা তা জানে না। (১৩)}

(ওয়া ইযা): ‘ওয়াও’ হলো প্রারম্ভিক অব্যয়, আর «ইযা» হলো শর্তবাচক বিশেষ্য (ইসিম), যা পরবর্তী শব্দকে জজম প্রদান করে না।

(ক্বীলা): এটি একটি অতীতকালসূচক ক্রিয়া যা ফাতহা-এর ওপর মাবনি এবং এটি কর্মবাচ্য (মাজহুল) রূপে ব্যবহৃত হয়েছে।

(লাহুম): এখানে ‘লাম’ হলো হরফে জার এবং «হুম» হলো সর্বনাম।

(আমিনু): এটি একটি আদেশসূচক ক্রিয়া যা ‘নূন’ বিলুপ্ত হওয়ার ওপর মাবনি, যেহেতু এটি বহুবচনবাচক ‘ওয়াও’-এর সাথে যুক্ত হয়েছে; আর ‘ওয়াও’ হলো একটি সর্বনাম।

(কামা): এখানে ‘কাফ’ হলো হরফে জার এবং «মা» হলো মাসদারিয়্যাহ (ক্রিয়ামূলীয়) অব্যয়; অর্থাৎ: ‘মানুষের ঈমান আনার মতো’।

(আমানা): এটি একটি অতীতকালসূচক ক্রিয়া যা ফাতহা-এর ওপর মাবনি।

(আন-নাসু): এটি ফায়েল (কর্তা), যা প্রকাশ্য দম্মাহ দ্বারা মারফু হয়েছে।

সুতরাং «আন-নাসু» শব্দটি এখানে ফায়েল বা কর্তা, কারণ তারাই মুমিন।

(ক্বালু): এটি একটি অতীতকালসূচক ক্রিয়া যা দম্মাহ-এর ওপর মাবনি, কারণ এটি বহুবচনবাচক ‘ওয়াও’-এর সাথে যুক্ত হয়েছে; আর ‘ওয়াও’ হলো একটি সর্বনাম।

(আ-নু’মিনু): এখানে হামজাহ হলো প্রশ্নবোধক অব্যয় এবং «নু’মিনু» হলো একটি বর্তমান-ভবিষ্যৎকালসূচক ক্রিয়া যা দম্মাহ দ্বারা মারফু হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২২)
الظَّاهِرَةِ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

(كَمَا): الكَافُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «مَا»: حَرْفٌ مَصْدَرِيٌّ؛ أَيْ: «كَإِيمَانِ السُّفَهَاءِ».

(آمَنَ): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ.

(السُّفَهَاءُ): فَاعِلٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «السُّفَهَاءُ»: فَاعِلٌ لِأَنَّهُمُ المُؤْمِنُونَ، وَهَذَا التَّرْكِيبُ قَدْ جَاءَ عَلَى لِسَانِ المُنَافِقِينَ الَّذِينَ وَصَفُوا الصَّحَابَةَ رضي الله عنهم بِالسَّفَهِ؛ فَأُجْرِيَ الكَلَامُ مَجْرَى الإِعْرَابِ.

(أَلَا): حَرْفُ تَنْبِيهٍ وَاسْتِفْتَاحٍ.

(إِنَّهُمْ): «إِنَّ»: حَرْفُ نَصْبٍ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

(هُمُ): ضَمِيرُ فَصْلٍ.

(السُّفَهَاءُ): خَبَرُ «إِنَّ» مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ المُنَافِقِينَ بِأَنَّهُمْ سُفَهَاءُ، فَالسَّفَهُ هُوَ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ، وَالمُنَافِقُونَ هُمُ المُخْبَرُ عَنْهُمْ، وَقَدِ اتَّصَلَ هَذَا الخَبَرُ بِـ «إِنَّ»، وَنَابَ الضَّمِيرُ المُتَّصِلُ بِـ «إِنَّ» عَنْ ذِكْرِ المُنَافِقِينَ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «أَلَا إِنَّ المُنَافِقِينَ هُمُ السُّفَهَاءُ»؛ «أَلَا» وَ «إِنَّ» وَاسْمُهَا وَضَمِيرُ فَصْلٍ وَخَبَرُهَا.

(وَلَكِنْ): الوَاوُ: حَالِيَّةٌ؛ أَيْ: «وَحَالُهُمْ أَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ»، وَ «لَكِنْ»: حَرْفُ اسْتِدْرَاكٍ.

(لَا): حَرْفُ نَفْيٍ.

(يَعْلَمُونَ): فعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُونِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ،

وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.
প্রকাশ্য।

সুতরাং মুজারে ক্রিয়াটি মারফু, কারণ এটি কোনো নাসেিব (নসব প্রদানকারী) বা জাযেম (জযম প্রদানকারী) থেকে মুক্ত।

(কামা): ‘কাফ’ হলো হরফে জর এবং ‘মা’ হলো হরফে মাসদারিয়্যাহ; অর্থাৎ: ‘নির্বোধদের ঈমান আনয়নের ন্যায়’।

(আমানা): ফাতহার ওপর মাবনি মাজি ক্রিয়া।

(আস-সুফাহাউ): এটি প্রকাশ্য দম্মা দ্বারা মারফু হওয়া ফায়েল।

সুতরাং ‘আস-সুফাহাউ’ হলো ফায়েল, কারণ তারাই ঈমান আনয়নকারী। এই বাক্য গঠনটি মুনাফিকদের ভাষায় বর্ণিত হয়েছে, যারা সাহাবা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-দের নির্বুদ্ধিতার বিশেষণে বিশেষিত করেছিল; ফলে বক্তব্যটিকে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (ইরাব) ধারায় পরিচালনা করা হয়েছে।

(আলা): এটি সতর্কীকরণ এবং সূচনাসূচক অব্যয়।

(ইন্নাহুম): ‘ইন্না’ হলো হরফে নসব এবং ‘হুম’ হলো জমির।

(হুমু): এটি জামিরে ফাসল।

(আস-সুফাহাউ): এটি ‘ইন্না’-র খবর, যা প্রকাশ্য দম্মা দ্বারা মারফু।

সুতরাং এই আয়াতে মুনাফিকদের সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে তারা নির্বোধ। এখানে নির্বুদ্ধিতা হলো সংবাদ (মুخبارুন বিহি) এবং মুনাফিকরা হলো সংবাদ প্রদানকৃত পক্ষ (মুخبارুন আনহুম)। এই খবরটি ‘ইন্না’-র সাথে যুক্ত হয়েছে এবং ‘ইন্না’-র সাথে সংযুক্ত জমিরটি মুনাফিকদের নাম উল্লেখ করার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

বাক্যটির মূল গঠন হলো: ‘আলা ইন্নাল মুনাফিকিনা হুমুস সুফাহাউ’; (অর্থাৎ) ‘আলা’, ‘ইন্না’ ও তার ইসম, এবং জামিরে ফাসল ও তার খবর।

(ওয়ালাকিন): ‘ওয়াও’ হলো হালিয়া; অর্থাৎ: ‘তাদের অবস্থা এমন যে তারা জানে না’, এবং ‘লাকিন’ হলো হরফে ইস্তিদরাক।

(লা): এটি না-বোধক অব্যয়।

(ইয়া’লামুনা): এটি মুজারে ক্রিয়া, যা ‘নুন’ অক্ষরের স্থিতিশীলতার মাধ্যমে মারফু, কারণ এটি ‘আফয়ালে খামসাহ’-এর অন্তর্ভুক্ত,

এবং ‘ওয়াও’ হলো জমির।

সুতরাং মুজারে ক্রিয়াটি মারফু, যেহেতু এটি কোনো নাসেিব বা জাযেম থেকে মুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌{وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا إِلَى شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِءُونَ (14)}

(وَإِذَا): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «إِذَا»: اسْمُ شَرْطٍ، غَيْرُ جَازِمٍ.

(لَقُوا): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ؛ لِاتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

(الَّذِينَ): اسْمٌ مَوْصُولٌ.

(آمَنُوا): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ لِاتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

(قَالُوا): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ لِاتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

(آمَنَّا): «آمَنْ»: فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى السُّكُونِ لِاتِّصَالِهِ بـ «نَا»، وَ «نَا»: ضَمِيرٌ.

(وَإِذَا): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «إِذَا»: اسْمُ شَرْطٍ، غَيْرُ جَازِمٍ.

(خَلَوْا): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ المُقَدَّرِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المَاضِي مَفْتُوحُ اللَّامِ لِأَنَّ أَصْلَهُ - بِدُونِ وَاوِ الجَمَاعَةِ -: «خَلَى»؛ مَفْتُوحُ اللَّامِ، وَبِأَلِفٍ مَقْصُورَةٍ فِي آخِرِهِ.

(إِلَى): حَرْفُ جَرٍّ.

(شَيَاطِينِهِمْ): «شَيَاطِينِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(قَالُوا): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ لِاتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

(إِنَّا): «إِنَّ»: حَرْفُ نَصْبٍ، وَ «نَا»: ضَمِيرٌ.

(مَعَكُمْ): «مَعَ»: ظَرْفُ مَكَانٍ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «كُمْ»: ضَمِيرٌ.

فَـ «مَعَ» - هُنَا -: كَلِمَةٌ دَلَّتْ بِالقَصْدِ عَلَى مَكَانِ المُصَاحَبَةِ.

(إِنَّمَا): «إِنَّ»: حَرْفُ نَصْبٍ، وَ «مَا»: حَرفٌ كَافٌّ، يَكُفُّ «إِنَّ» عَنِ العَمَلِ.

(نَحْنُ): ضَمِيرٌ.

(مُسْتَهْزِءُونَ): خَبَرٌ مَرْفُوعٌ بِالوَاوِ لِأَنَّهُ جَمْعُ مُذَكَّرٍ سَالِمٌ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَلَى لِسَانِ المُنَافِقِينَ، وَهُوَ الإِخْبَارُ عَنْ أَنْفُسِهِمْ بِأَنَّهُمْ مُسْتَهْزِءُونَ، فَالاسْتِهْزَاءُ هُوَ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنِ المُنَافِقِينَ، وَقَدْ نَابَ الضَّمِيرُ «نَحْنُ»
‌‌{আর যখন তারা তাদের সাথে মিলিত হয় যারা ঈমান এনেছে, তারা বলে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’; আর যখন তারা তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে মিলিত হয়, তখন তারা বলে, ‘নিশ্চয় আমরা তোমাদের সাথে আছি, আমরা তো কেবল উপহাসকারী’ (১৪)}

(ওয়া ইযা): ‘ওয়াও’ হলো সংযোজক অব্যয়, এবং ‘ইযা’ হলো একটি শর্তবাচক বিশেষ্য যা জযম প্রদান করে না।

(লাকু): অতীতকালীন ক্রিয়া, যা ‘যম্মাহ’ এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত; কারণ এটি ‘ওয়াও আল-জামাআহ’-এর সাথে যুক্ত হয়েছে, এবং ‘ওয়াও’ হলো একটি সর্বনাম।

(আল্লাযিনা): এটি একটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য।

(আমানু): অতীতকালীন ক্রিয়া, যা ‘যম্মাহ’ এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত; কারণ এটি ‘ওয়াও আল-জামাআহ’-এর সাথে যুক্ত হয়েছে, এবং ‘ওয়াও’ হলো একটি সর্বনাম।

(কালু): অতীতকালীন ক্রিয়া, যা ‘যম্মাহ’ এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত; কারণ এটি ‘ওয়াও আল-জামাআহ’-এর সাথে যুক্ত হয়েছে, এবং ‘ওয়াও’ হলো একটি সর্বনাম।

(আমান্না): ‘আমান’ হলো অতীতকালীন ক্রিয়া, যা ‘সুকুন’-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত; কারণ এটি ‘না’-এর সাথে যুক্ত হয়েছে, এবং ‘না’ হলো একটি সর্বনাম।

(ওয়া ইযা): ‘ওয়াও’ হলো সংযোজক অব্যয়, এবং ‘ইযা’ হলো একটি শর্তবাচক বিশেষ্য যা জযম প্রদান করে না।

(খালাও): অতীতকালীন ক্রিয়া, যা উহ্য ‘যম্মাহ’-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং ‘ওয়াও’ হলো একটি সর্বনাম।

এখানে অতীতকালীন ক্রিয়াটির শেষ বর্ণ (লাম কালিমাহ) ফাতাহযুক্ত, কারণ ‘ওয়াও আল-জামাআহ’ ব্যতীত এর মূল রূপ হলো: ‘খালা’; যার শেষ বর্ণ ফাতাহযুক্ত এবং এর শেষে একটি আলিফ মাকসুরাহ রয়েছে।

(ইলা): পদান্বয়ী অব্যয়।

(শায়াত্বীনিহিম): ‘শায়াত্বীন’ হলো প্রকাশ্য কাসরা দ্বারা মাজরুর হওয়া বিশেষ্য এবং ‘হিম’ হলো একটি সর্বনাম।

(কালু): অতীতকালীন ক্রিয়া, যা ‘যম্মাহ’ এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত; কারণ এটি ‘ওয়াও আল-জামাআহ’-এর সাথে যুক্ত হয়েছে, এবং ‘ওয়াও’ হলো একটি সর্বনাম।

(ইন্না): ‘ইন্না’ হলো নাসব প্রদানকারী অব্যয় এবং ‘না’ হলো একটি সর্বনাম।

(মাআকুম): ‘মাআ’ হলো একটি স্থানবাচক ক্রিয়া-বিশেষণ যা প্রকাশ্য ফাতাহ দ্বারা মানসুব হয়েছে এবং ‘কুম’ হলো একটি সর্বনাম।

এখানে ‘মাআ’ শব্দটি মূলত সাহচর্য বা সাথে থাকার স্থান নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়েছে।

(ইন্নামা): ‘ইন্না’ হলো নাসব প্রদানকারী অব্যয় এবং ‘মা’ হলো একটি নিবৃত্তকারী বর্ণ, যা ‘ইন্না’-এর কার্যকারিতাকে রহিত করে দেয়।

(নাহনু): একটি সর্বনাম।

(মুস্তাহযিউন): এটি ‘ওয়াও’ দ্বারা মারফু হওয়া খবর, কারণ এটি একটি সুগঠিত পুংলিঙ্গবাচক বহুবচন শব্দ।

এই আয়াতে মুনাফিকদের জবানিতে সংবাদ প্রদান করা হয়েছে, আর তা হলো তাদের নিজেদের সম্পর্কে সংবাদ যে তারা উপহাসকারী। সুতরাং উপহাস হচ্ছে এমন একটি বিষয় যা মুনাফিকদের পক্ষ থেকে সংবাদ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে, আর এখানে ‘নাহনু’ (আমরা) সর্বনামটি স্থলাভিষিক্ত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৪)
عَنْ ذِكْرِهِمْ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْإِخْبَارِ: «المُنَافِقُونَ مُسْتَهْزِءُونَ»؛ مُبْتَدَأٌ وَخَبَرٌ.

 

‌‌{اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ (15)}

(اللَّهُ): لَفْظُ الجَلَالَةِ: مُبْتَدَأٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ اللهِ - تَعَالَى - بِأَنَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِالمُنَافِقِينَ؛ فَاللهُ مُخْبَرٌ عَنْهُ فِي الآيَةِ، فَلَفْظُ الجَلَالَةِ: مُبْتَدَأٌ، وَأَمَّا الخَبَرُ فَهُوَ الاسْتِهْزَاءُ بِالكَافِرِينَ لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنْهُ - سُبْحَانَهُ -؛ أَيِ: «اللهُ مُسْتَهْزِئٌ بِالكَافِرِينَ»؛ مُبْتَدَأٌ وَخَبَرٌ وَجَارٌّ وَمَجْرُورٌ.

(يَسْتَهْزِئُ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

(بِهِمْ): البَاءُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(وَيَمُدُّهُمْ): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «يَمُدُّ»: فِعْلٌ مَضارِعٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

(فِي): حَرْفُ جَرٍّ.

(طُغْيَانِهِمْ): «طُغْيَانِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(يَعْمَهُونَ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُوتِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ،

وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

 

‌‌{أُوْلَئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَى فَمَا رَبِحَت تِّجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ (16)}

(أُولَئِكَ): اسْمُ إِشَارَةٍ.

(الَّذِينَ): اسْمٌ مَوْصُولٌ.

(اشْتَرَوُا): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ المُقَدَّرِ لِاتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ، وَالوَاوُ:
তাদের আলোচনা থেকে।

সুতরাং সংবাদ প্রদানের মূল গঠন হলো: 'মুনাফিকরা উপহাসকারী'; এটি মুক্তাদা এবং খবর নিয়ে গঠিত।

 

‌‌{আল্লাহ তাদের সাথে উপহাস করেন এবং তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ানোর অবকাশ দেন (১৫)}

(আল্লাহ): লফজুল জালালাহ (আল্লাহ শব্দ): প্রকাশ্য দম্মাহ দ্বারা মারফু হওয়া মুক্তাদা।

সুতরাং এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, তিনি মুনাফিকদের সাথে উপহাস করেন; আয়াতে আল্লাহ হলেন 'মুখবার আনহু' (যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে), তাই লফজুল জালালাহ হলো মুক্তাদা। আর খবর হলো কাফেরদের প্রতি উপহাস করা, কারণ এটাই হলো মহান আল্লাহ সম্পর্কে সংবাদকৃত বিষয়; অর্থাৎ: "আল্লাহ কাফেরদের প্রতি উপহাসকারী"; এটি মুক্তাদা, খবর এবং জার-মাজরুর নিয়ে গঠিত।

(ইয়াসতাহজিউ): প্রকাশ্য দম্মাহ দ্বারা মারফু হওয়া ফেয়েলে মুজারে।

ফেয়েলে মুজারেটি মারফু হয়েছে কারণ এটি নাসেিব (নসবদানকারী) বা জাযেম (জযমদানকারী) থেকে মুক্ত।

(বিহিম): 'বা' হলো হরফে জার এবং 'হুম' হলো জমির।

(ওয়াইয়ামুদ্দুহুম): 'ওয়াও' হলো আতফ, এবং 'ইয়ামুদ্দু' হলো প্রকাশ্য দম্মাহ দ্বারা মারফু হওয়া ফেয়েলে মুজারে, আর 'হুম' হলো জমির।

ফেয়েলে মুজারেটি মারফু হয়েছে কারণ এটি নাসেিব (নসবদানকারী) বা জাযেম (জযমদানকারী) থেকে মুক্ত।

(ফি): হরফে জার।

(তুগইয়ানিহিম): 'তুগইয়ানি' হলো প্রকাশ্য কাসরাহ (যের) দ্বারা মাজরুর হওয়া ইসম, এবং 'হুম' হলো জমির।

(ইয়ামাহুন): নুন বহাল থাকার মাধ্যমে মারফু হওয়া ফেয়েলে মুজারে, কারণ এটি আফয়ালে খামসাহ-এর অন্তর্ভুক্ত।

এবং ওয়াও হলো জমির।

ফেয়েলে মুজারেটি মারফু হয়েছে কারণ এটি নাসেিব (নসবদানকারী) বা জাযেম (জযমদানকারী) থেকে মুক্ত।

 

‌‌{তারাই ঐসব লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে ভ্রষ্টতা ক্রয় করেছে; সুতরাং তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি এবং তারা হেদায়েতপ্রাপ্তও ছিল না (১৬)}

(উলাইকা): ইসমুল ইশারা।

(আল্লাজিনা): ইসমে মাউসুল।

(ইশতারওউ): ওয়াও জামাআত-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে উহ্য দম্মাহর ওপর ভিত্তি করে মাবনি হওয়া ফেয়েলে মাজি, এবং ওয়াও হলো:
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৫)
ضَمِيرٌ.

وَالفِعْلُ المَاضِي مَفْتُوحُ الرَّاءِ لِأَنَّ أَصْلَهُ - بِدُونِ وَاوِ الجَمَاعَةِ -: «اشْتَرَى»؛ مَفْتُوحُ الرَّاءِ، وَبِأَلِفٍ مَقْصُورَةٍ فِي آخِرِهِ.

وَأَمَّا حَرَكَةُ الضَّمَّةِ عَلَى الوَاوِ فَهِيَ حَرَكَةٌ عَارِضَةُ وَلَيْسَتْ أَصْلِيَّةً، وَذَلِكَ لِالْتِقَاءِ السَّاكِنَيْنِ.

(الضَّلَالَةَ): مَفْعُولٌ بِهِ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَالضَّلَالَةُ مَفْعُولٌ بِهِ لِأَنَّهَا المُشْتَرَاةُ، وَأَمَا الفَاعِلُ فَهُمُ المُنَافِقُونَ لِأَنَّهُمُ المُشْتَرُونَ، وَقَدْ نَابَتِ الوَاوُ عِنْ ذِكْرِهِم.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «اشْتَرَى المُنَافِقُونَ الضَّلَالَةَ»؛ فِعْلٌ وَفَاعلٌ وَمَفْعُولٌ بِهِ.

(بِالْهُدَى): البَاءُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «الهُدَى»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ المُقَدَّرَةِ لِلتَّعَذُّرِ.

(فَمَا): الفَاءُ: اسْتِئْنَافِيَّةٌ، وَ «مَا»: حَرْفُ نَفْيٍ.

(رَبِحَتْ): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ، وَالتَّاءُ: تَاءُ التَّأْنِيثِ.

(تِجَارَتُهُمْ): فَاعِلٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

فَالتِّجَارَةُ: فَاعِلٌ لِأَنَّهَا سَبَبُ الرِّبْحِ، وَأَمَّا الفَاعِلُ الحَقِيقِيُّ فَهُوَ صَاحِبُ التِّجَارَةِ لِأَنَّهُ الرَّابِحُ لَوْ لَمْ يُنْفَ عَنْهُ ذَلِكَ، وَهَذَا مَجَازٌ عَقْلِيٌّ أُسْنِدَ فِيهِ الفِعْلُ إِلَى سَبَبِهِ.

(وَمَا): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «مَا»: حَرْفُ نَفْيٍ.

(كَانُوا): فِعْلٌ نَاقِصٌ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ لِاتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

(مُهْتَدِينَ): خَبَرُ «كَانَ» مَنْصُوبٌ بِاليَاءِ لِأَنَّهُ جَمْعُ مُذَكَّرٍ سَالِمٌ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ المُنَافِقِينَ بِأَنَّهُمْ غَيْرُ مُهْتَدِينَ، وَهُوَ إِخْبَارٌ اتَّصَلَ بِـ «كَانَ»، فَالمُنَافِقُونَ هُمُ المُخْبَرُ عَنْهُمْ، وَقَدْ نَابَتِ الوَاوُ عَنْ ذِكْرِهِمْ، وَأَمَّا الخَبَرُ فهُوَ عَدَمُ الاهْتِدَاءِ لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنْهُمْ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «وَمَا كَانَ المُنَافِقُونَ مُهْتَدِينَ»؛ «كَانَ» وَاسْمُهَا وَخَبَرُهَا.
সর্বনাম।

অতীতকালীন ক্রিয়াটি 'রা' বর্ণে ফাতহাযুক্ত, কারণ এর মূল রূপ—বহুবচনবোধক 'ওয়াও' ব্যতীত—হলো: 'ইশতারা'; যা 'রা' বর্ণে ফাতহাযুক্ত এবং এর শেষে একটি 'আলিফে মাকসুরা' রয়েছে।

আর 'ওয়াও' বর্ণের ওপর পেশ বা জম্মাহর হরকতটি একটি আগন্তুক হরকত এবং তা মৌলিক নয়; মূলত দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে।

(আদ-দালালাহ): এটি কর্মপদ যা দৃশ্যমান ফাতহা দ্বারা নসবপ্রাপ্ত।

সুতরাং 'আদ-দালালাহ' হলো কর্মপদ কারণ এটিই ক্রয় করা হয়েছে; আর এর কর্তা হলো মুনাফিকরা, কারণ তারাই ক্রেতা। এখানে তাদের নাম উল্লেখের পরিবর্তে 'ওয়াও' ব্যবহৃত হয়েছে।

বাক্যটির মূল গঠন হলো: 'মুনাফিকরা পথভ্রষ্টতা ক্রয় করেছে'; যা ক্রিয়া, কর্তা এবং কর্মপদ নিয়ে গঠিত।

(বিল-হুদা): 'বা' বর্ণটি অব্যয় এবং 'আল-হুদা' হলো দৃশ্যত উচ্চারণে অক্ষমতার কারণে উহ্য কাসরা দ্বারা জারপ্রাপ্ত বিশেষ্য।

(ফামা): 'ফা' বর্ণটি প্রারম্ভসূচক এবং 'মা' হলো না-বোধক অব্যয়।

(রাবিহাত): অতীতকালীন ক্রিয়া যা ফাতহার ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং 'তা' হলো স্ত্রীলিঙ্গবোধক চিহ্ন।

(তিজারাতুহুম): এটি দৃশ্যমান জম্মাহ দ্বারা রফাপ্রাপ্ত কর্তা এবং 'হুম' হলো সর্বনাম।

এখানে 'ব্যবসা' হলো কর্তা কারণ এটি লাভের কারণ; তবে প্রকৃত কর্তা হলো ব্যবসায়ী, কেননা সে-ই মূলত লাভবান হতো যদি তার থেকে তা অস্বীকার করা না হতো। এটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক রূপক যেখানে ক্রিয়াটিকে তার কারণের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।

(ওয়ামা): 'ওয়াও' হলো সংযোজক অব্যয় এবং 'মা' হলো না-বোধক অব্যয়।

(কানু): এটি একটি অপূর্ণ ক্রিয়া যা বহুবচনবোধক 'ওয়াও'-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে জম্মাহর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং 'ওয়াও' হলো সর্বনাম।

(মুহতাদিন): এটি 'কানা'-এর বিধেয় যা 'ইয়া' বর্ণের মাধ্যমে নসবপ্রাপ্ত; কারণ এটি সুস্থ পুংলিঙ্গবাচক বহুবচন।

এই আয়াতে মুনাফিকদের সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে তারা হেদায়াতপ্রাপ্ত নয়। এটি 'কানা' যোগে একটি বর্ণনা; এখানে মুনাফিকরাই হলো সংবাদপ্রাপ্ত পক্ষ, যাদের নাম উল্লেখের পরিবর্তে 'ওয়াও' ব্যবহৃত হয়েছে। আর সংবাদ বা বিধেয়টি হলো হেদায়াতপ্রাপ্ত না হওয়া, কারণ এটিই তাদের সম্পর্কে বর্ণিত বিষয়।

বাক্যটির মূল গঠন হলো: 'আর মুনাফিকরা হেদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না'; যা 'কানা', এর বিশেষ্য এবং এর বিধেয় দ্বারা গঠিত।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌{مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ لَّا يُبْصِرُونَ (17)}

(مَثَلُهُمْ): «مَثَلُ»: مُبْتَدَأٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنْ مَثَلِ المُنَافِقِينَ بِأَنَّهُ كَمَثَلِ المُسْتَوْقِدِ لِلنَّارِ؛ فَالمَثَلُ مُخْبَرٌ عَنْهُ، فَهُوَ مُبْتَدَأٌ، وَأَمَّا الخَبَرُ فَهُوَ التَّشْبِيهُ، وَقَدْ عُبِّرَ عَنْهُ بِالكَافِ.

(كَمَثَلِ): الكَافُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «مَثَلِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(الَّذِي): اسْمٌ مَوْصُولٌ.

(اسْتَوْقَدَ): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ.

(نَارًا): مَفْعُولٌ بِهِ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَالنَّارُ - هُنَا -: مَفْعُولٌ بِهِ لِأَنَّهَا المُسْتَوْقَدَةُ، وَأَمَّا الفَاعِلُ فَهُوَ المُسْتَوْقِدُ، وَقَدْ نَابَ عَنْهُ الضَّمِيرُ المُسْتَتِرُ؛ أَيِ: «اسْتَوْقَدَ المُسْتَوْقِدُ نَارًا»؛ فِعْلٌ وَفَاعِلٌ وَمَفْعُولٌ بِهِ.

(فَلَمَّا): الفَاءُ: اسْتِئْنَافِيَّةٌ، وَ «لَمَّا»: اسْمُ شَرْطٍ، غَيْرُ جَازِمٍ.

(أَضَاءَتْ): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ، وَالتَّاءُ: تَاءُ التَّأْنِيثِ.

(مَا): اسْمٌ مَوْصُولٌ.

(حَوْلَهُ): «حَوْلَ»: ظَرْفُ مَكَانٍ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ، وَالهَاءُ: ضَمِيرٌ.

فَـ «حَوْلَ»: اسْمٌ دَلَّ بِالقَصْدِ عَلَى مَكَانِ الإِضَاءَةِ.

(ذَهَبَ): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ.

(اللَّهُ): لَفْظُ الجَلَالَةِ: فَاعِلٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَاللهُ - تَعَالَى - هُوَ الذَّاهِبُ بِنُورِ المُنَافِقِينَ.

(بِنُورِهِمْ): البَاءُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «نُورِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(وَتَرَكَهُمْ): «الوَاوُ»: عَطْفٌ، وَ «تَرَكَ»: فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ، وَ «هُمْ»:

ضَمِيرٌ.
‌‌{তাদের উদাহরণ সেই ব্যক্তির ন্যায় যে আগুন প্রজ্বলিত করল; অতঃপর যখন আগুন তার চারপাশকে আলোকিত করল, আল্লাহ তাদের জ্যোতি কেড়ে নিলেন এবং তাদেরকে ঘোর অন্ধকারের মধ্যে ছেড়ে দিলেন, এমতাবস্থায় যে তারা কিছুই দেখতে পায় না। (১৭)}

(তাদের উদাহরণ): «উদাহরণ»: দৃশ্যমান দম্মা দ্বারা মারফু হওয়া মুবতাদা (উদ্দেশ্য), এবং «হুম» (তাদের): জমির (সর্বনাম)।

আয়াতের মধ্যে মুনাফিকদের উদাহরণ সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, তা আগুন প্রজ্বলনকারীর উদাহরণের মতো; সুতরাং উদাহরণটি হলো যার সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হয়েছে, তাই এটি মুবতাদা। আর খবর (বিধেয়) হলো সেই সাদৃশ্য প্রদান করা, যা ‘কাফ’ বর্ণ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে।

(উদাহরণের ন্যায়): ‘কাফ’: হরফে জর (পদান্বয়ী অব্যয়), এবং «উদাহরণ»: দৃশ্যমান কাসরা দ্বারা মাজরুর হওয়া ইসম (বিশেষ্য)।

(যিনি/যে): ইসমে মাউসুল (সংযোজক বিশেষ্য)।

(প্রজ্বলিত করল): ফে’লে মাজি (অতীতকালীন ক্রিয়া) যা ফাতহার ওপর মাবনি।

(আগুন): দৃশ্যমান ফাতহা দ্বারা মানসুব হওয়া মাফউলে বিহি (কর্মপদ)।

এখানে ‘আগুন’ শব্দটি মাফউলে বিহি কারণ তা প্রজ্বলিত করা হয়েছে। আর ফায়েল (কর্তা) হলো সেই প্রজ্বলনকারী, যার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে জমির মুসতাতিন (উহ্য সর্বনাম); অর্থাৎ: «প্রজ্বলনকারী আগুন প্রজ্বলন করল»; এখানে ক্রিয়া, কর্তা ও কর্ম বিদ্যমান।

(অতঃপর যখন): ‘ফা’: ইস্তিনায়িফিয়্যাহ (প্রারম্ভিক), এবং «যখন»: শর্তবাচক ইসম, যা জজম প্রদানকারী নয়।

(আলোকিত করল): ফে’লে মাজি যা ফাতহার ওপর মাবনি, এবং ‘তা’: তায়ি তানিছ (স্ত্রীলিঙ্গবাচক তা)।

(যা): ইসমে মাউসুল (সংযোজক বিশেষ্য)।

(তার চারপাশ): «চারপাশ»: দৃশ্যমান ফাতহা দ্বারা মানসুব হওয়া জরফে মাকান (স্থানবাচক ক্রিয়া-বিশেষণ), এবং «হু» (তার): জমির (সর্বনাম)।

সুতরাং «চারপাশ» এমন একটি ইসম যা সুনির্দিষ্টভাবে আলো ছড়ানোর স্থানকে নির্দেশ করে।

(নিয়ে গেলেন): ফে’লে মাজি যা ফাতহার ওপর মাবনি।

(আল্লাহ): শব্দে জালালাত: দৃশ্যমান দম্মা দ্বারা মারফু হওয়া ফায়েল (কর্তা)।

বস্তুত আল্লাহ তাআলাই মুনাফিকদের জ্যোতি হরণকারী।

(তাদের জ্যোতি সহ/জ্যোতিকে): ‘বা’: হরফে জর, এবং «জ্যোতি»: দৃশ্যমান কাসরা দ্বারা মাজরুর হওয়া ইসম, এবং «হুম»: জমির।

(এবং তাদেরকে ছেড়ে দিলেন): «ওয়াও»: আতিফাহ (সংযোজক), এবং «ছেড়ে দিলেন»: ফে’লে মাজি যা ফাতহার ওপর মাবনি, এবং «হুম»:

জমির।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৭)
(فِي): حَرْفُ جَرٍّ.

(ظُلُمَاتٍ): اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(لَا): حَرْفُ نَفْيٍ.

(يُبْصِرُونَ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُوتِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ،

وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

 

‌‌{صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ (18)}

(صُمٌّ): خَبَرٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ المُنَافِقِينَ بِأَنَّهُمْ صُمٌّ؛ فَالمُنَافِقُونَ: مُبْتَدَأٌ لِأَنَّهُمُ المُخْبَرُ عَنْهُمْ، وَأَمَّا الخَبَرُ فَهُوَ الصَّمَمُ لأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنْهُمْ؛ أَيِ: «المُنَافِقُونَ صُمٌّ»؛ مُبْتَدَأٌ مَحْذُوفٌ وَخَبَرٌ.

(بُكْمٌ): خَبَرٌ ثَانٍ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ المُنَافِقِينَ بِأَنَّهُمْ بُكْمٌ؛ فَالمُنَافِقُونَ: مُبْتَدَأٌ لِأَنَّهُمُ المُخْبَرُ عَنْهُمْ، وَأَمَّا الخَبَرُ فَهُوَ البَكَمُ لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنْهُمْ؛ أَيِ: «المُنَافِقُونَ بُكْمٌ»؛ مُبْتَدَأٌ مَحْذُوفٌ وَخَبَرٌ.

(عُمْيٌ): خَبَرٌ ثَالِثٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ المُنَافِقِينَ بِأَنَّهُمْ عُمْيٌ؛ فَالمُنَافِقُونَ: مُبْتَدَأٌ لِأَنَّهُمُ المُخْبَرُ عَنْهُمْ، وَأَمَّا الخَبَرُ فَهُوَ العَمَى لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنْهُمْ؛ أَيِ: «المُنَافِقُونَ عُمْيٌ»؛ مُبْتَدَأٌ مَحْذُوفٌ وَخَبَرٌ.

(فَهُمْ): الفَاءُ: عَطْفٌ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

(لَا): حَرْفُ نَفْيٍ.

(يَرْجِعُونَ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُوتِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ،

وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.
(ফি): অব্যয় (حَرْفُ جَرٍّ)।

(জুলুমাতিন): বিশেষ্য (اسْمٌ) যা দৃশ্যমান কাসরা দ্বারা মাজরুর (مَجْرُورٌ)।

(লা): না-বোধক অব্যয় (حَرْفُ نَفْيٍ)।

(ইউবসিরুনা): বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فِعْلٌ مُضَارِعٌ) যা 'নুন' অক্ষরের স্থিতির (ثُبُوتِ النُّونِ) মাধ্যমে মারফু (مَرْفُوعٌ), কারণ এটি পঞ্চক্রিয়ার (الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ) অন্তর্ভুক্ত,

এবং ওয়াও (الوَاوُ): সর্বনাম (ضَمِيرٌ)।

সুতরাং বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فِعْلٌ مُضَارِعٌ) মারফু (مَرْفُوعٌ) হয়েছে কারণ এটি নাসেিব (نَاصِبٍ) বা জাজেম (جَازِمٍ) থেকে মুক্ত।

 

‌‌{তারা বধির, বোবা ও অন্ধ, তাই তারা ফিরে আসবে না (১৮)}

(সুম্মুন): বিধেয় (خَبَرٌ) যা দৃশ্যমান দাম্মা দ্বারা মারফু (مَرْفُوعٌ)।

এই আয়াতে মুনাফিকদের সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে তারা বধির; সুতরাং 'মুনাফিকগণ' হলো উদ্দেশ্য (مُبْتَدَأٌ), কারণ তাদের সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে। আর বিধেয় (خَبَرٌ) হলো 'বধিরতা', কারণ এটি তাদের সম্পর্কে সংবাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; অর্থাৎ: "মুনাফিকরা বধির"; এখানে উদ্দেশ্য (مُبْتَدَأٌ) উহ্য এবং এটি বিধেয় (خَبَرٌ)।

(বুকমুন): দ্বিতীয় বিধেয় (خَبَرٌ) যা দৃশ্যমান দাম্মা দ্বারা মারফু (مَرْفُوعٌ)।

এই আয়াতে মুনাফিকদের সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে তারা বোবা; সুতরাং 'মুনাফিকগণ' হলো উদ্দেশ্য (مُبْتَدَأٌ), কারণ তাদের সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে। আর বিধেয় (خَبَرٌ) হলো 'বোবা হওয়া', কারণ এটি তাদের সম্পর্কে সংবাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; অর্থাৎ: "মুনাফিকরা বোবা"; এখানে উদ্দেশ্য (مُبْتَدَأٌ) উহ্য এবং এটি বিধেয় (خَبَرٌ)।

(উমইয়ুন): তৃতীয় বিধেয় (خَبَرٌ) যা দৃশ্যমান দাম্মা দ্বারা মারফু (مَرْفُوعٌ)।

এই আয়াতে মুনাফিকদের সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে তারা অন্ধ; সুতরাং 'মুনাফিকগণ' হলো উদ্দেশ্য (مُبْتَدَأٌ), কারণ তাদের সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে। আর বিধেয় (خَبَرٌ) হলো 'অন্ধত্ব', কারণ এটি তাদের সম্পর্কে সংবাদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; অর্থাৎ: "মুনাফিকরা অন্ধ"; এখানে উদ্দেশ্য (مُبْتَدَأٌ) উহ্য এবং এটি বিধেয় (خَبَرٌ)।

(ফাহুম): 'ফা' (الفَاءُ) বর্ণটি সংযোজক অব্যয় (عَطْفٌ), এবং "হুম" (هُمْ) হলো সর্বনাম (ضَمِيرٌ)।

(লা): না-বোধক অব্যয় (حَرْفُ نَفْيٍ)।

(ইয়ারজিউনা): বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فِعْلٌ مُضَارِعٌ) যা 'নুন' অক্ষরের স্থিতির (ثُبُوتِ النُّونِ) মাধ্যমে মারফু (مَرْفُوعٌ), কারণ এটি পঞ্চক্রিয়ার (الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ) অন্তর্ভুক্ত,

এবং ওয়াও (الوَاوُ): সর্বনাম (ضَمِيرٌ)।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৮)
فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

 

‌‌{أَوْ كَصَيِّبٍ مِّنَ السَّمَاءِ فِيهِ ظُلُمَاتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِم مِّنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ وَاللَّهُ مُحِيطٌ بِالْكَافِرِينَ (19)}

(أَوْ): حَرْفُ عَطْفٍ.

(كَصَيِّبٍ): الكَافُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «صَيِّبٍ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(مِنَ): حَرْفُ جَرٍّ.

(السَّمَاءِ): اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(فِيهِ): «فِي»: حَرْفُ جَرٍّ، وَالهَاءُ: ضَمِيرٌ.

(ظُلُمَاتٌ): مُبْتَدَأٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنْ ظُلُمَاتٍ فِي المَطَرِ، وَقَدْ عُبِّرَ عَنْهُ فِي الآيَةِ بِالصَّيِّبِ، أَيْ: ظُلُمَاتٌ مُصَاحِبَةٌ لِزَمَنِ نُزُولِهِ، مُتَّصِلَةٌ بِهِ، وَقِيلَ: إِخْبَارٌ عَنْ ظُلُمَاتٍ فِي السَّحَابِ، وَقَدْ عُبِّرَ عَنْهُ فِي الآيَةِ بِالسَّمَاءِ؛ فَالظُّلُمَاتُ: مُبْتَدَأٌ لِأَنَّهَا المُخْبَرُ عَنْهَا، وَأَمَّا الخَبَرُ فَهُوَ اسْمٌ مَحْذُوفٌ مُتَعَلِّقٌ بِالمَعْنَى؛ أَيِ: «الظُّلُمَاتُ مُصَاحِبَةٌ لِلْمَطَرِ»، أَوِ «الظُّلُمَاتُ مَوْجُودَةٌ فِي السَّحَابِ»، أَوْ نَحْوُ ذَلِكَ.

(وَرَعْدٌ): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «رَعْدٌ»: مَعْطُوفٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «رَعْدٌ»: مَعْطُوفٌ عَلَى «ظُلُمَاتٌ»؛ أَيْ: «فِيهِ ظُلُمَاتٌ وَفِيهِ رَعْدٌ».

(وَبَرْقٌ): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «بَرْقٌ»: مَعْطُوفٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَـ «بَرْقٌ»: مَعْطُوفٌ عَلَى «ظُلُمَاتٌ»؛ أَيْ: «فِيهِ ظُلُمَاتٌ وَفِيهِ بَرْقٌ».

(يَجْعَلُونَ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِثُبُوتِ النُّونِ لِأَنَّهُ مِنَ الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ،

وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

(أَصَابِعَهُمْ): «أَصَابِعَ»: مَفْعُولٌ بِهِ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

فَالأَصَابِعُ هِيَ المَجْعُولَةُ فِي آذَانِهِمْ، وَأَمَّا الفَاعِلُ فَهُمُ المُنَافِقُونَ لِأَنَّهُمُ الجَاعِلُونَ
অতএব বর্তমান-ভবিষ্যৎকালসূচক ক্রিয়াটি (ফেলে মুজারি) মারফু হয়েছে, কারণ এটি কোনো নাসেিব (নসবদানকারী) বা জাযেম (জযমদানকারী) থেকে মুক্ত।

 

‌‌{অথবা যেমন আকাশের বর্ষণ, যাতে রয়েছে ঘোর অন্ধকার, বজ্রধ্বনি ও বিদ্যুৎচমক। তারা বজ্রধ্বনির কারণে মৃত্যুর ভয়ে তাদের কানে আঙ্গুল দিয়ে থাকে। আর আল্লাহ কাফিরদের পরিবেষ্টন করে আছেন। (১৯)}

(আও): সংযোজক অব্যয় (হরফে আতফ)।

(কা-সইয়িবিন): ‘কাফ’ হলো হরফে জার (পদান্বয়ী অব্যয়), আর ‘সইয়িবিন’ হলো দৃশ্যমান কাসরাহ (জের) দ্বারা মাজরুর হওয়া ইসমে মাজরুর।

(মিন): হরফে জার।

(আস-সামায়ি): দৃশ্যমান কাসরাহ দ্বারা মাজরুর হওয়া ইসমে মাজরুর।

(ফীহি): ‘ফী’ হলো হরফে জার, এবং ‘হা’ হলো জমির (সর্বনাম)।

(জুলুমাতুন): দৃশ্যমান দাম্মাহ (পেশ) দ্বারা মারফু হওয়া মুবতাদা (উদ্দেশ্য)।

আয়াতে বৃষ্টির অন্ধকার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে, যাকে আয়াতে ‘সইয়িব’ শব্দ দ্বারা প্রকাশ করা হয়েছে; অর্থাৎ: অন্ধকার যা বৃষ্টি বর্ষণের সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ও তার সাথে যুক্ত। আবার বলা হয়েছে: এটি মেঘের অন্ধকার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান, যা আয়াতে ‘সামা’ (আকাশ) শব্দ দ্বারা বুঝানো হয়েছে। সুতরাং ‘জুলুমাত’ হলো মুবতাদা, কারণ এটি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে। আর খবর (বিধেয়) হলো একটি উহ্য শব্দ যা অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট; অর্থাৎ: ‘অন্ধকার বৃষ্টির সাথে সংশ্লিষ্ট’ অথবা ‘অন্ধকার মেঘের মধ্যে বিদ্যমান’ বা এই জাতীয় কিছু।

(ওয়া রা’দুন): ‘ওয়াও’ হলো হরফে আতফ (সংযোজক অব্যয়), এবং ‘রা’দুন’ হলো দৃশ্যমান দাম্মাহ দ্বারা মারফু হওয়া মা’তুফ (সংযুক্ত পদ)।

সুতরাং ‘রা’দুন’ পদটি ‘জুলুমাতুন’-এর উপর মা’তুফ; অর্থাৎ: ‘তাতে রয়েছে অন্ধকার এবং তাতে রয়েছে বজ্রধ্বনি’।

(ওয়া বারকুন): ‘ওয়াও’ হলো হরফে আতফ, এবং ‘বারকুন’ হলো দৃশ্যমান দাম্মাহ দ্বারা মারফু হওয়া মা’তুফ।

সুতরাং ‘বারকুন’ পদটি ‘জুলুমাতুন’-এর উপর মা’তুফ; অর্থাৎ: ‘তাতে রয়েছে অন্ধকার এবং তাতে রয়েছে বিদ্যুৎচমক’।

(ইয়াজআলুনা): এটি ফেলে মুজারি (বর্তমান-ভবিষ্যৎকালসূচক ক্রিয়া) যা ‘নুন’ বহাল থাকার মাধ্যমে মারফু হয়েছে, কারণ এটি আফয়ালে খামসাহ (পাঁচটি বিশেষ ক্রিয়ারূপ)-এর অন্তর্ভুক্ত।

এবং ‘ওয়াও’ হলো জমির (সর্বনাম)।

অতএব ফেলে মুজারিটি মারফু হয়েছে, কারণ এটি কোনো নাসেিব (নসবদানকারী) বা জাযেম (জযমদানকারী) থেকে মুক্ত।

(আসা-বিআহুম): ‘আসা-বিআ’ হলো দৃশ্যমান ফাতহাহ (জবর) দ্বারা মানসুব হওয়া মাফউলে বিহি (কর্মপদ), এবং ‘হুম’ হলো জমির (সর্বনাম)।

সুতরাং আঙ্গুলগুলোই তাদের কানের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়েছে, আর ফায়েল (কর্তা) হলো মুনাফিকরা কারণ তারাই প্রবেশকারী।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৯)
ـ عَلَى سَبيلِ التَّمْثِيلِ وَالتَّشْبِيهِ -، وَقَدْ نَابَتِ الوَاوُ عَنْ ذِكْرِهِمْ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «يَجْعَلُ المُنَافِقُونَ أَصَابِعَهُمْ»؛ فِعْلٌ وَفَاعِلٌ وَمَفْعُولٌ بِهِ وَضَمِيرٌ.

(فِي): حَرْفُ جَرٍّ.

(آذَانِهِمْ): «آذَانِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(مِنَ): حَرْفُ جَرٍّ.

(الصَّوَاعِقِ): اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(حَذَرَ): مَفْعُولٌ لِأَجْلِهِ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ.

أَيْ: «يَجْعَلُونَ أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِمْ مِنَ الصَّوَاعِقِ لِأَجْلِ حَذَرِ المَوْتِ»؛ أَيِ: الخَوْفُ مِنْ أَنْ يَمُوتُوا بِسَبَبِهَا.

(المَوْتِ): مُضَافٌ إِلَيْهِ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(وَاللَّهُ): الوَاوُ: اسْتِئْنَافِيَّةٌ، وَ «اللهُ»: لَفْظُ الجَلَالَةِ: مُبْتَدَأٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ اللهِ - تَعَالَى - بِأَنَّهُ مُحِيطٌ بِالكَافِرِينَ، فَاللهُ مُخْبَرٌ عَنْهُ، فَلَفْظُ الجَلَالَةِ: مُبْتَدَأٌ، وَأَمَّا الخَبَرُ فَهُوَ الإِحَاطَةُ لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنِ اللهِ عز وجل، فَـ «مُحِيطٌ»: خَبَرٌ.

(مُحِيطٌ): خَبَرٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَكَمَا سَبَقَ بَيَانُهُ: فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ اللهِ - تَعَالَى - بِأَنَّهُ مُحِيطٌ بِالكَافِرِينَ، فَاللهُ مُخْبَرٌ عَنْهُ، فَلَفْظُ الجَلَالَةِ: مُبْتَدَأٌ، وَأَمَّا الخَبَرُ فَهُوَ الإِحَاطَةُ لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنِ اللهِ عز وجل، فَـ «مُحِيطٌ»: خَبَرٌ.

(بِالْكافِرِينَ): البَاءُ: حَرْفُ جَرٍ، وَ «الكَافِرِينَ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِاليَاءِ لِأَنَّهُ جَمْعُ مُذَكَّرٍ سَالِمٌ.

{يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ كُلَّمَا أَضَاءَ لَهُم مَّشَوْا فِيهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ
—উদাহরণ এবং সাদৃশ্য প্রদানের রীতি হিসেবে—আর এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি তাদের উল্লেখের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

সুতরাং বাক্যের মূল গঠন হলো: ‘মুনাফিকরা তাদের আঙ্গুলগুলো রাখছে’; এখানে রয়েছে ক্রিয়া, কর্তা, কর্ম এবং সর্বনাম।

(ফী): পদান্বয়ী অব্যয়।

(আদানুহিম): ‘আদান’ হলো দৃশ্যমান কাসরাহ দ্বারা মাজরুর হওয়া বিশেষ্য এবং ‘হিম’ হলো সর্বনাম।

(মিন): পদান্বয়ী অব্যয়।

(আস-সাওয়ায়িক্ব): দৃশ্যমান কাসরাহ দ্বারা মাজরুর হওয়া বিশেষ্য।

(হাযারা): দৃশ্যমান ফাতহাহ দ্বারা মানসুব হওয়া নিমিত্তার্থক কর্ম (মাফউলু লি-আজলিহি)।

অর্থাৎ: ‘তারা বজ্রধ্বনির কারণে মৃত্যুর ভয়ে তাদের কানসমূহে আঙ্গুল দিয়ে রাখে’; অর্থাৎ: এর কারণে তারা মারা যেতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে।

(আল-মাউত): দৃশ্যমান কাসরাহ দ্বারা মাজরুর হওয়া মুদাফ ইলাইহি।

(ওয়াল্লাহু): ‘ওয়াও’ হলো প্রারম্ভিক অব্যয় এবং ‘আল্লাহ’ শব্দটি মহিমান্বিত নাম: যা দৃশ্যমান দাম্মাহ দ্বারা মারফু হওয়া মুবতাদা (উদ্দেশ্য)।

সুতরাং এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, তিনি কাফিরদের পরিবেষ্টনকারী। এখানে আল্লাহ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে, তাই মহিমান্বিত শব্দটি হলো মুবতাদা; আর সংবাদ বা খবর হলো পরিবেষ্টন করা, কারণ এটিই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সম্পর্কে সংবাদ হিসেবে পরিবেশিত বিষয়। অতএব ‘মুহিত’ শব্দটি হলো খবর।

(মুহিত): দৃশ্যমান দাম্মাহ দ্বারা মারফু হওয়া খবর।

যেমনটি পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে: আয়াতে আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, তিনি কাফিরদের পরিবেষ্টনকারী। এখানে আল্লাহ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে, তাই মহিমান্বিত শব্দটি হলো মুবতাদা; আর খবর হলো পরিবেষ্টন করা, কারণ এটিই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সম্পর্কে সংবাদ হিসেবে পরিবেশিত বিষয়। অতএব ‘মুহিত’ শব্দটি হলো খবর।

(বিল কাফিরিন): ‘বা’ হলো পদান্বয়ী অব্যয় এবং ‘কাফিরিন’ হলো ‘ইয়া’ দ্বারা মাজরুর হওয়া বিশেষ্য, কারণ এটি পুংলিঙ্গবাচক অক্ষত বহুবচন।

{বিদ্যুৎচমক তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেওয়ার উপক্রম হয়; যখনই তা তাদের জন্য আলোকোজ্জ্বল হয়, তারা তাতে চলতে থাকে এবং যখন তাদের ওপর অন্ধকার ছেয়ে যায়...
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩০)
قَامُوا وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ (20)}

(يَكَادُ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ نَاقِصٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

(البَرْقُ): اسْمُ «كَادَ» مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ البَرْقِ بِأَنَّهُ يَكَادُ يَخْطَفُ الأَبْصَارَ؛ فَالبَرْقُ مُخْبَرٌ عَنْهُ، وَهُوَ إِخْبَارٌ اتَّصَلَ بِـ «كَادَ»، فَـ «البَرْقُ»: اسْمُهَا، وَأَمَّا الخَبَرُ فَهُوَ الخَطْفُ لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنِ البَرْقِ.

(يَخْطَفُ): فِعْلٌ مُضَارِعٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَالفِعْلُ المُضَارِعُ مَرْفُوعٌ لِأَنَّهُ خَلَا مِنْ نَاصِبٍ أَوْ جَازِمٍ.

(أَبْصَارَهُمْ): «أَبْصَارَ»: مَفْعُولٌ بِهِ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

فَالأَبْصَارُ هِيَ المَخْطُوفَةُ؛ فَهِيَ مَفْعُولٌ بِهِ، وَالفَاعِلُ هُوَ البَرْقُ لِأَنَّهُ الخَاطِفُ لِأَبْصَارِهِمْ، وَقَدْ نَابَ عَنْهُ - فِي الجُمْلَةِ الفِعْلِيَّةِ - الضَّمِيرُ المُسْتَتِرُ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «يَخْطَفُ البَرْقُ أَبْصَارَهُمْ»؛ فِعْلٌ وَفَاعِلٌ وَمَفْعُولٌ بِهِ وَضَمِيرٌ.

(كُلَّمَا): «كُلَّ»: ظَرْفُ زَمَانٍ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ لِاتِّصَالِهِ بِـ «مَا»، وَ «مَا»: مَصْدَرِيَّةٌ ظَرْفِيَّةٌ.

فَـ «كُلَّ» بِاتِّصَالِهَا بِـ «مَا» فِي الجُمْلَةِ: دَلَّتْ بِالقَصْدِ عَلَى زَمَنِ الإِضَاءَةِ وَتَكْرَارِهِ.

(أَضَاءَ): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ.

(لَهُمْ): اللَّامُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «هُمْ»: ضَمِيرٌ.

(مَشَوْا): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ المُقَدَّرِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

وَالفِعْلُ المَاضِي مَفْتُوحُ الشِّينِ لِأَنَّ أَصْلَهُ - بِدُونِ وَاوِ الجَمَاعَةِ -: «مَشَى»؛ مَفْتُوحُ الشِّينِ، وَبِأَلِفٍ مَقْصُورَةٍ فِي آخِرِهِ.

(فِيهِ): «فِي»: حَرْفُ جَرٍّ، وَالهَاءُ: ضَمِيرٌ.

(وَإِذَا): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «إِذَا»: اسْمُ شَرْطٍ، غَيْرُ جَازِمٍ.
তারা দাঁড়িয়ে পড়ে; আর আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি হরণ করতেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান (২০)।}

(ইয়াকাদু): এটি একটি অপূর্ণ মুদারি ক্রিয়া যা দৃশ্যমান দম্মাহ (পেশ) দ্বারা মারফু হয়েছে।

(আল-বারকু): এটি ‘কাদা’-এর ইসিম, যা দৃশ্যমান দম্মাহ দ্বারা মারফু হয়েছে।

এই আয়াতে বিদ্যুৎ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, তা দৃষ্টি কেড়ে নেওয়ার উপক্রম করে। এখানে বিদ্যুৎ হলো ‘মুখবার আনহু’ (সংবাদকৃত বিষয়), যা ‘কাদা’-এর সাথে অন্বিত হয়েছে। সুতরাং ‘আল-বারকু’ হলো তার ইসিম; আর ‘খবর’ হলো দৃষ্টি হরণ করা, কারণ এটিই বিদ্যুৎ সম্পর্কে সংবাদকৃত বিষয়।

(ইয়াখতাফু): এটি একটি মুদারি ক্রিয়া যা দৃশ্যমান দম্মাহ দ্বারা মারফু হয়েছে।

এখানে মুদারি ক্রিয়াটি মারফু হয়েছে কারণ এটি কোনো নাসিব (নসব প্রদানকারী) বা জাযিম (জযম প্রদানকারী) থেকে মুক্ত।

(আবসারাহুম): ‘আবসারা’ হলো মাফউল বিহি যা দৃশ্যমান ফাতাহ (যবর) দ্বারা মানসুব হয়েছে এবং ‘হুম’ হলো জমির (সর্বনাম)।

এখানে দৃষ্টিসমূহ হলো অপহৃত বস্তু; তাই এটি মাফউল বিহি। আর ফায়িল (কর্তা) হলো বিদ্যুৎ, কারণ সেটিই দৃষ্টি হরণকারী। জুমলা ফেলিয়া বা ক্রিয়াভিত্তিক বাক্যে একটি জমির মুস্তাতীর (উহ্য সর্বনাম) তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

বাক্যের মূল গঠন হলো: ‘বিদ্যুৎ তাদের দৃষ্টি হরণ করে’; যা একটি ক্রিয়া, কর্তা, কর্ম এবং সর্বনামের সমন্বয়ে গঠিত।

(কুল্লামা): ‘কুল্লা’ হলো যরফে জামান যা ‘মা’-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে দৃশ্যমান ফাতাহ দ্বারা মানসুব হয়েছে। আর ‘মা’ হলো মাসদারিয়া যারফিয়া।

বাক্যের মধ্যে ‘কুল্লা’ শব্দটি ‘মা’-এর সাথে অন্বিত হয়ে মূলত আলোর সময় এবং তার পুনরাবৃত্তিকে নির্দেশ করেছে।

(আদা-আ): এটি একটি মাজি (অতীতকালীন) ক্রিয়া যা ফাতাহর ওপর মাবনি।

(লাহুম): এখানে ‘লাম’ হলো হরফে জার এবং ‘হুম’ হলো জমির।

(মাশাও): এটি একটি মাজি ক্রিয়া যা তাকদিরি দম্মাহ (উহ্য পেশ) এর ওপর মাবনি। আর ‘ওয়াও’ হলো জমির।

এই মাজি ক্রিয়াটির ‘শীন’ বর্ণটি ফাতাহযুক্ত হয়েছে, কারণ ‘ওয়াও আল-জামাআ’ ব্যতীত এর মূল রূপ হলো ‘মাশা’; যেখানে ‘শীন’ ফাতাহযুক্ত এবং শেষে একটি আলিফে মাকসুরা রয়েছে।

(ফিহি): ‘ফি’ হলো হরফে জার এবং ‘হা’ হলো জমির।

(ওয়া ইযা): ‘ওয়াও’ হলো আতফ এবং ‘ইযা’ হলো একটি গায়রে জাযিম ইসমে শর্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩১)
(أَظْلَمَ): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ.

(عَلَيْهِمْ): «عَلَى»: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(قَامُوا): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ لِاتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

(وَلَوْ): الوَاوُ: اسْتِئْنَافِيَّةٌ، وَ «لَوْ»: حَرْفُ شَرْطٍ، غَيْرُ جَازِمٍ.

(شَاءَ): فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ.

(اللَّهُ): لَفْظُ الجَلَالَةِ: فَاعِلٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَاللهُ عز وجل هُوَ الشَّائِي.

(لَذَهَبَ): اللَّامُ: لَامُ «لَوْ»، وَ «ذَهَبَ»: فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ.

(بِسَمْعِهِمْ): البَاءُ: حَرْفُ جَرٍّ، وَ «سَمْعِ»: اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

(وَأَبْصَارِهِمْ): الوَاوُ: عَطْفٌ، وَ «أَبْصَارِ»: مَعْطُوفٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «هِمْ»: ضَمِيرٌ.

فَالأَبْصَارُ مَعْطُوفَةٌ عَلَى السَّمْعِ؛ أَيْ: «لَوْ شَاءُ اللهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ، وَلَوْ شَاءَ اللهُ لَذَهَبَ بِأَبْصَارِهِمْ».

(إِنَّ): حَرْفُ نَصْبٍ.

(اللَّهَ): لَفْظُ الجَلَالَةِ: اسْمُ «إِنَّ» مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ.

فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ اللهِ - تَعَالَى - بِأَنَّهُ قَدِيرٌ، فَاللهُ - تَعَالَى - مُخْبَرٌ عَنْهُ، وَقَدِ اتَّصَلَ هَذَا الإِخْبَارُ بِـ «إِنَّ»، فَلَفْظُ الجَلَالَةِ: اسْمُهَا لِأَنَّهُ المُخْبَرُ عَنْهُ، وَأَمَّا خَبَرُهَا فَهُوَ القُدْرَةُ لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنِ اللهِ عز وجل.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «إِنَّ اللهَ قَدِيرٌ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ»؛ «إِنَّ» وَاسْمُهَا وَخَبَرُهَا وَجَارٌّ وَمَجْرُورٌ وَمُضَافٌ إِلَيْهِ.

(عَلَى): حَرْفُ جَرٍّ.

(كُلِّ): اسْمٌ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.

(شَيْءٍ): مُضَافٌ إِلَيْهِ مَجْرُورٌ بِالكَسْرَةِ الظَّاهِرَةِ.
(আযলামা): ফাতাহর ওপর ভিত্তি করে গঠিত অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض)।

(আলাইহিম): ‘আলা’ হলো অব্যয় (حرف جر) এবং ‘হিম’ হলো সর্বনাম (ضمير)।

(কামু): জমা‘আতের ওয়াও-এর সাথে সংযুক্ত হওয়ার কারণে পেশ বা জম্মা দ্বারা গঠিত অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض), এবং ওয়াও হলো সর্বনাম (ضمير)।

(ওয়া-লাউ): ওয়াও হলো প্রারম্ভিক অব্যয় (استئنافية) এবং ‘লাউ’ হলো শর্তবাচক অব্যয় (حرف شرط), যা জযম প্রদান করে না।

(শা’আ): ফাতাহর ওপর ভিত্তি করে গঠিত অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض)।

(আল্লাহ): মহিমান্বিত শব্দ: প্রকাশ্য পেশ বা জম্মা দ্বারা মারফু হওয়া কর্তা (فاعل)।

সুতরাং মহান আল্লাহ তায়ালাই হলেন ইচ্ছাকারী।

(লা-যাহাবা): লাম হলো ‘লাউ’-এর উত্তরসূচক লাম এবং ‘যাহাবা’ হলো ফাতাহর ওপর ভিত্তি করে গঠিত অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض)।

(বিসাম’ইহিম): ‘বা’ হলো অব্যয় (حرف جر), ‘সাম’ই’ হলো প্রকাশ্য যের বা কাসরা দ্বারা মাজরুর (مجرور) হওয়া বিশেষ্য (اسم), এবং ‘হিম’ হলো সর্বনাম (ضمير)।

(ওয়া আবসারিহিম): ওয়াও হলো সংযোজক অব্যয় (عطف), ‘আবসার’ হলো প্রকাশ্য যের বা কাসরা দ্বারা মাজরুর (مجرور) হওয়া সংশ্লিষ্ট শব্দ (معطوف), এবং ‘হিম’ হলো সর্বনাম (ضمير)।

এখানে ‘আবসার’ (দৃষ্টিশক্তি) শব্দটি ‘সাম’ই’ (শ্রবণশক্তি) শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট (معطوف); অর্থাৎ: “যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তিনি তাদের শ্রবণশক্তি কেড়ে নিতেন এবং যদি আল্লাহ চাইতেন তবে তিনি তাদের দৃষ্টিশক্তিও কেড়ে নিতেন।”

(ইন্না): নসব প্রদানকারী অব্যয় (حرف نصب)।

(আল্লাহ): মহিমান্বিত শব্দ: ‘ইন্না’-এর বিশেষ্য (اسم) যা প্রকাশ্য যবর বা ফাতহা দ্বারা মানসুব (منصুব) হয়েছে।

এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে তিনি মহান ক্ষমতাবান। সুতরাং আল্লাহ তায়ালা এখানে সংবাদ বা আলোচনার বিষয় (مخبر عنه), আর এই সংবাদটি ‘ইন্না’-এর সাথে যুক্ত হয়েছে। তাই মহিমান্বিত ‘আল্লাহ’ শব্দটি হলো এর বিশেষ্য (اسم), যেহেতু তিনি আলোচনার মূল বিষয়। আর এর সংবাদ বা খবর (خبر) হলো ক্ষমতা, কারণ এটিই মহান আল্লাহ সম্পর্কে প্রদানকৃত সংবাদ।

বাক্যটির মূল গঠন হলো: “নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান”; এখানে রয়েছে ‘ইন্না’, এর বিশেষ্য (اسم) ও সংবাদ (خبر), অব্যয় (حرف جر), মাজরুর (مجرور) এবং মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)।

(আলা): অব্যয় (حرف جر)।

(কুল্লি): প্রকাশ্য যের বা কাসরা দ্বারা মাজরুর (مجرুর) হওয়া বিশেষ্য (اسم)।

(শাই-ইন): প্রকাশ্য যের বা কাসরা দ্বারা মাজরুর (مجرور) হওয়া মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)।
(খণ্ড: ১) আল-মিওয়িয়্যাহ ফী ইরাবিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩২)
(قَدِيرٌ): خَبْرُ «إِنَّ»: مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَكَمَا سَبَقَ بَيَانُهُ: فَفِي الآيَةِ إِخْبَارٌ عَنِ اللهِ - تَعَالَى - بِأَنَّهُ قَدِيرٌ، فَاللهُ - تَعَالَى - مُخْبَرٌ عَنْهُ، وَقَدِ اتَّصَلَ هَذَا الإِخْبَارُ بِـ «إِنَّ»، فَلَفْظُ الجَلَالَةِ: اسْمُهَا لِأَنَّهُ المُخْبَرُ عَنْهُ، وَأَمَّا خَبَرُهَا فَهُوَ القُدْرَةُ لِأَنَّهُ الأَمْرُ المُخْبَرُ بِهِ عَنِ اللهِ عز وجل.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ لِلْجُمْلَةِ: «إِنَّ اللهَ قَدِيرٌ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ»؛ «إِنَّ» وَاسْمُهَا وَخَبَرُهَا وَجَارٌّ وَمَجْرُورٌ وَمُضَافٌ إِلَيْهِ.

 

‌‌{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (21)}

(يَا): حَرْفُ نِدَاءٍ.

(أَيُّهَا): «أَيُّ»: مُنَادًى مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ فِي مَحَلِّ نَصْبٍ، وَالهَاءُ: هَاءُ التَّنْبِيهِ.

(النَّاسُ): بَدَلٌ مَرْفُوعٌ بِالضَّمَّةِ الظَّاهِرَةِ.

فَالنَّاسُ بَدَلٌ مِنْ «أَيُّ»؛ أَيْ: «يَا نَاسُ».

(اعْبُدُوا): فِعْلُ أَمْرٍ مَبْنِيٌّ عَلَى حَذْفِ النُّونِ؛ لِاتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ، وَالوَاوُ: ضَمِيرٌ.

(رَبَّكُمْ): «رَبَّ»: مَفْعُولٌ بِهِ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ الظَّاهِرَةِ، وَ «كُمْ»: ضَمِيرٌ.

فَالرَّبُّ هُوَ المَعْبُودُ، وَأَمَّا الفَاعِلُ فَهُمُ النَّاسُ لِأَنَّهُمُ المُأْمُورُونَ بِالعِبَادَةِ؛ أَيْ هُمُ العَابِدُونَ - لَوْ تَحَقَّقَتِ العُبُودِيَّةُ -، وَقَدْ نَابَتِ الوَاوُ عَنْ ذِكْرِهِمْ.

فَالتَّرْكِيبُ الأَصْلِيُّ - لَوْ تَحَقَّقَ الأَمْرُ -: «عَبَدَ النَّاسُ رَبَّهُمْ»؛ فِعْلٌ وَفَاعِلٌ وَمَفْعُولٌ بِهِ وَضَمِيرٌ.

(الَّذِي): اسْمٌ مَوْصُولٌ.

(خَلَقَكُمْ): «خَلَقَ»: فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ، وَ «كُمْ»: ضَمِيرٌ.

(وَالَّذِينَ): الوَاوُ: عَطْفٌ؛ أَيْ: «وَخَلَقَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ»، وَ «الَّذِينَ»: اسْمٌ مَوْصُولٌ.
(কাদিরুন): ‘ইন্না’-এর সংবাদ (খবর); এটি প্রকাশ্য পেশ (জম্মাহ) দ্বারা পেশযুক্ত (মারফু)।

যেভাবে এর বর্ণনা পূর্বে গত হয়েছে: এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয়েছে যে, তিনি সর্বশক্তিমান (কাদির)। এখানে আল্লাহ তাআলা হলেন সংবাদকৃত সত্তা (মুখবারুন আনহু)। এই সংবাদটি ‘ইন্না’-এর সাথে যুক্ত হয়েছে, তাই মহান ‘আল্লাহ’ শব্দটি হলো এর বিশেষ্য (ইসম), কেননা এটিই সংবাদকৃত বিষয়। আর এর সংবাদ (খবর) হলো তাঁর সক্ষমতা (কুদরত), কারণ এটিই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সম্পর্কে সংবাদকৃত বিষয়।

বাক্যটির মূল গঠন হলো: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান’; এখানে ‘ইন্না’ এবং এর বিশেষ্য (ইসম) ও সংবাদ (খবর), এবং অব্যয় (জার), অব্যয়যুক্ত শব্দ (মাজরুর) ও সম্বন্ধপদ (মুদাফ ইলাইহি) বিদ্যমান।

 

‌‌{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদত করো, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো (২১)}

(ইয়া): সম্বোধনসূচক অব্যয় (হারফে নিদা)।

(আইয়্যুহা): ‘আইয়্যু’ হলো সম্বোধিত শব্দ (মুনাদা), যা পেশ (জম্মাহ)-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (মাবনি) এবং জবর-এর স্থানে (ফি মাহাল্লি নাসব) অবস্থিত। আর ‘হা’ হলো সতর্কীকরণসূচক ‘হা’ (হা-উত তানবিহ)।

(আন-নাসু): এটি পরিবর্তনকারী শব্দ (বাদাল), যা প্রকাশ্য পেশ (জম্মাহ) দ্বারা পেশযুক্ত (মারফু)।

সুতরাং ‘আন-নাসু’ শব্দটি ‘আইয়্যু’ থেকে পরিবর্তনকারী (বাদাল); অর্থাৎ: ‘হে মানুষ’।

(উ’বুদু): এটি আদেশবাচক ক্রিয়া (ফি’লুল আমর), যা ‘নুন’ বিলোপের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (মাবনি); যেহেতু এটি বহুবচনবোধক ‘ওয়াও’ (ওয়াও আল-জামাআহ)-এর সাথে যুক্ত হয়েছে। আর ‘ওয়াও’ হলো একটি সর্বনাম (দামির)।

(রাব্বাকুম): ‘রাব্বা’ হলো কর্মপদ (মাফউলুন বিহি), যা প্রকাশ্য জবর (ফাতহা) দ্বারা জবরযুক্ত (মানসুব)। আর ‘কুম’ হলো একটি সর্বনাম (দামির)।

এখানে প্রতিপালকই হলেন উপাস্য (মাবুদ), আর কর্তা (ফায়েল) হলেন মানুষ, কারণ তারাই ইবাদতের আদিষ্ট। অর্থাৎ—যদি দাসত্ব বাস্তবায়িত হয়—তবে তারাই ইবাদতকারী (আবিদুন)। আর তাদের উল্লেখের পরিবর্তে এখানে ‘ওয়াও’ প্রতিনিধি হিসেবে এসেছে।

আদেশটি বাস্তবায়িত হলে বাক্যটির মূল গঠন হতো: ‘মানুষ তাদের প্রতিপালকের ইবাদত করেছে’; এখানে ক্রিয়া (ফেল), কর্তা (ফায়েল), কর্মপদ (মাফউলুন বিহি) ও সর্বনাম (দামির) রয়েছে।

(আল্লাজি): সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (ইসম মাউসুল)।

(খালাকাকুম): ‘খালাকা’ হলো অতীতকালীন ক্রিয়া (ফি’লুন মাদি), যা জবর (ফাতহা)-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (মাবনি)। আর ‘কুম’ হলো একটি সর্বনাম (দামির)।

(ওয়াল্লাজিনা): ‘ওয়াও’ হলো সংযোজক অব্যয় (আতিফ); অর্থাৎ: ‘এবং তাদেরও সৃষ্টি করেছেন যারা তোমাদের পূর্বে ছিল’। আর ‘আল্লাজিনা’ হলো সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (ইসম মাউসুল)।