(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
صحيح مسلم - ط التركية القسم: كتب السنة
الكتاب: الجامع الصحيح «صحيح مسلم»
(طبعة مصححة ومقابلة على عدة مخطوطات ونسخ معتمدة)
المؤلف: أبو الحسين مسلم بن الحجاج بن مسلم القشيري النيسابوري
المحقق: محمد ذهني أفندي - إسماعيل بن عبد الحميد الحافظ الطرابلسي- أحمد رفعت بن عثمان حلمي القره حصاري - محمد عزت بن عثمان الزعفرانبوليوي- أبو نعمة الله محمد شكري بن حسن الأنقروي
الناشر: دار الطباعة العامرة - تركيا
عام النشر: 1334 هـ
ثم صَوّرها بعنايته: د. محمد زهير الناصر، وطبعها الطبعة الأولى عام 1433 هـ لدى دار طوق النجاة - بيروت، مع إثراء الهوامش بترقيم الأحاديث لمحمد فؤاد عبد الباقي، والإحالة لبعض المراجع المهمة
عدد الأجزاء: 8
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو ضمن خدمة التخريج]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 ربيع الآخر 1443
সহীহ মুসলিম - তুর্কি সংস্করণ বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আল-জামেউস সহীহ «সহীহ মুসলিম»
(একাধিক পাণ্ডুলিপি ও নির্ভরযোগ্য কপির ভিত্তিতে সংশোধিত ও মুকাবিলাকৃত সংস্করণ)
লেখক: আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরী আন-নিশাপুরী
সম্পাদক/গবেষক: মুহাম্মদ জেহনী এফেন্দি - ইসমাঈল ইবনে আব্দুল হামীদ আল-হাফিয আত-তরাবুলুসী - আহমদ রিফআত ইবনে উসমান হিলমী আল-কারাহ হিসারী - মুহাম্মদ ইজ্জাত ইবনে উসমান আজ-জা'ফরানবোলুওয়ী - আবু নি'মাতুল্লাহ মুহাম্মদ শুকরী ইবনে হাসান আল-আনকারাভী
প্রকাশক: দারুত তিবাহ আল-আমিরাহ - তুরস্ক
প্রকাশকাল: ১৩৩৪ হিজরী
অতঃপর যার তত্ত্বাবধানে এটি পুনর্মুদ্রিত হয়েছে: ড. মুহাম্মদ যুহাইর আন-নাসির, এবং ১৪৩৩ হিজরীতে বৈরুতের দার তওকুন নাজাত থেকে এর প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়, সাথে মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকীর হাদীস নাম্বারিং অনুযায়ী টীকাগুলো সমৃদ্ধ করা হয়েছে এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ উৎসগ্রন্থের উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে
খণ্ড সংখ্যা: ৮
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি তাখরীজ পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত]
শামেলার প্রকাশকাল: ১৪ রবিউস সানী ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ.
الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
(1)، وَصَلَّى اللهُ عَلَى مُحَمَّدٍ خَاتَمِ النَّبِيِّينَ وَعَلَى جَمِيعِ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ، أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّكَ يَرْحَمُكَ اللهُ بِتَوْفِيقِ خَالِقِكَ ذَكَرْتَ أَنَّكَ هَمَمْتَ بِالْفَحْصِ عَنْ تَعَرُّفِ جُمْلَةِ الْأَخْبَارِ الْمَأْثُورَةِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي سُنَنِ الدِّينِ وَأَحْكَامِهِ، وَمَا كَانَ مِنْهَا فِي الثَّوَابِ وَالْعِقَابِ وَالتَّرْغِيبِ وَالتَّرْهِيبِ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ صُنُوفِ الْأَشْيَاءِ، بِالْأَسَانِيدِ الَّتِي بِهَا نُقِلَتْ، وَتَدَاوَلَهَا أَهْلُ الْعِلْمِ فِيمَا بَيْنَهُمْ، فَأَرَدْتَ أَرْشَدَكَ اللهُ أَنْ تُوَقَّفَ
(2) عَلَى جُمْلَتِهَا مُؤَلَّفَةً مُحْصَاةً، وَسَأَلْتَنِي أَنْ أُلَخِّصَهَا لَكَ فِي التَّأْلِيفِ بِلَا تَكْرَارٍ يَكْثُرُ، فَإِنَّ ذَلِكَ زَعَمْتَ
(3) مِمَّا يَشْغَلُكَ عَمَّا لَهُ قَصَدْتَ مِنَ التَّفَهُّمِ فِيهَا وَالِاسْتِنْبَاطِ مِنْهَا، وَلِلَّذِي سَأَلْتَ أَكْرَمَكَ اللهُ حِينَ رَجَعْتُ إِلَى تَدَبُّرِهِ، وَمَا تَؤُولُ بِهِ الْحَالُ
(4) إِنْ شَاءَ اللهُ عَاقِبَةٌ مَحْمُودَةٌ وَمَنْفَعَةٌ مَوْجُودَةٌ، وَظَنَنْتُ حِينَ سَأَلْتَنِي تَجَشُّمَ ذَلِكَ
(5) أَنْ لَوْ عُزِمَ لِي عَلَيْهِ، وَقُضِيَ لِي تَمَامُهُ، كَانَ أَوَّلُ مَنْ يُصِيبُهُ نَفْعُ ذَلِكَ إِيَّايَ خَاصَّةً قَبْلَ غَيْرِي مِنَ النَّاسِ لِأَسْبَابٍ كَثِيرَةٍ يَطُولُ
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য
(১)। এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক শেষ নবী মুহাম্মাদ এবং সকল নবী ও রাসুলের ওপর। অতঃপর: আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন। আপনার স্রষ্টার তৌফিকে আপনি উল্লেখ করেছেন যে, আপনি দীনের রীতিনীতি ও বিধি-বিধান সম্পর্কে এবং সওয়াব, শাস্তি, অনুপ্রেরণা ও ভীতিপ্রদর্শন এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহের সমষ্টি সেই সব বর্ণনাসূত্রসহ জানার জন্য অনুসন্ধানের ইচ্ছা পোষণ করেছেন যার মাধ্যমে সেগুলো বর্ণিত হয়েছে এবং যা আলেমদের মাঝে প্রচলিত রয়েছে। সুতরাং আল্লাহ আপনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আপনি চেয়েছেন যেন আপনি এগুলোর একটি সুবিন্যস্ত ও সুসংবদ্ধ সংকলন সম্পর্কে অবগত হতে পারেন
(২)। আর আপনি আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন আমি আপনার জন্য অধিক পুনরাবৃত্তি ছাড়াই সংক্ষেপে একটি সংকলন প্রস্তুত করি। কারণ আপনার মতে
(৩) অধিক পুনরাবৃত্তি আপনাকে সেই বিষয়গুলো বুঝতে এবং তা থেকে বিধান উদঘাটন করা থেকে বিরত রাখবে যার সংকল্প আপনি করেছেন। আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করুন। আপনি যা চেয়েছেন, আমি যখন তা নিয়ে চিন্তা করলাম এবং ইনশাআল্লাহ এর পরিণতি কী হবে
(৪) তা ভেবে দেখলাম, তখন বুঝতে পারলাম যে এর পরিণাম হবে প্রশংসনীয় এবং এর উপকারিতা হবে বিদ্যমান। আপনি যখন আমাকে এই কঠিন কাজের দায়িত্ব নেওয়ার
(৫) অনুরোধ করলেন, তখন আমার ধারণা হলো যে, যদি আমার জন্য এই সংকল্পটি নির্ধারিত হয় এবং এর সমাপ্তি আমার ভাগ্যে থাকে, তবে অন্য যে কারো আগে এর দ্বারা আমি নিজেই বিশেষভাবে উপকৃত হব। এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে যা দীর্ঘ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بِذِكْرِهَا الْوَصْفُ، إِلَّا أَنَّ جُمْلَةَ ذَلِكَ أَنَّ ضَبْطَ الْقَلِيلِ مِنْ هَذَا الشَّأْنِ وَإِتْقَانَهُ أَيْسَرُ عَلَى الْمَرْءِ مِنْ مُعَالَجَةِ الْكَثِيرِ مِنْهُ، وَلَا سِيَّمَا عِنْدَ مَنْ لَا تَمْيِيزَ عِنْدَهُ مِنَ الْعَوَامِّ إِلَّا بِأَنْ يُوَقِّفَهُ عَلَى التَّمْيِيزِ غَيْرُهُ، فَإِذَا كَانَ الْأَمْرُ فِي هَذَا كَمَا وَصَفْنَا، فَالْقَصْدُ مِنْهُ إِلَى الصَّحِيحِ الْقَلِيلِ أَوْلَى بِهِمْ مِنَ ازْدِيَادِ السَّقِيمِ، وَإِنَّمَا يُرْجَى بَعْضُ الْمَنْفَعَةِ فِي الِاسْتِكْثَارِ مِنْ هَذَا الشَّأْنِ، وَجَمْعِ الْمُكَرَّرَاتِ مِنْهُ لِخَاصَّةٍ مِنَ النَّاسِ مِمَّنْ رُزِقَ فِيهِ بَعْضَ التَّيَقُّظِ، وَالْمَعْرِفَةِ بِأَسْبَابِهِ وَعِلَلِهِ، فَذَلِكَ
(1) إِنْ شَاءَ اللهُ يَهْجُِمُ
(2) بِمَا أُوتِيَ مِنْ ذَلِكَ عَلَى الْفَائِدَةِ فِي الِاسْتِكْثَارِ مِنْ جَمْعِهِ، فَأَمَّا عَوَامُّ النَّاسِ الَّذِينَ هُمْ بِخِلَافِ مَعَانِي الْخَاصِّ مِنْ أَهْلِ التَّيَقُّظِ وَالْمَعْرِفَةِ، فَلَا مَعْنَى لَهُمْ فِي طَلَبِ الْكَثِيرِ، وَقَدْ عَجَزُوا عَنْ مَعْرِفَةِ الْقَلِيلِ.
ثُمَّ إِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ مُبْتَدِئُونَ فِي تَخْرِيجِ مَا سَأَلْتَ وَتَأْلِيفِهِ، عَلَى شَرِيطَةٍ سَوْفَ أَذْكُرُهَا لَكَ، وَهُوَ إِنَّا نَعْمِدُ إِلَى جُمْلَةِ مَا أُسْنِدَ مِنَ الْأَخْبَارِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَنَقْسِمُهَا عَلَى ثَلَاثَةِ أَقْسَامٍ، وَثَلَاثِ طَبَقَاتٍ مِنَ النَّاسِ عَلَى غَيْرِ تَكْرَارٍ، إِلَّا أَنْ يَأْتِيَ مَوْضِعٌ لَا يُسْتَغْنَى فِيهِ عَنْ تَرْدَادِ حَدِيثٍ فِيهِ زِيَادَةُ مَعْنًى، أَوْ إِسْنَادٌ يَقَعُ إِلَى جَنْبِ إِسْنَادٍ لِعِلَّةٍ تَكُونُ هُنَاكَ؛ لِأَنَّ الْمَعْنَى الزَّائِدَ فِي الْحَدِيثِ الْمُحْتَاجَ
(3) إِلَيْهِ يَقُومُ مَقَامَ حَدِيثٍ تَامٍّ، فَلَا بُدَّ مِنْ إِعَادَةِ الْحَدِيثِ الَّذِي فِيهِ مَا وَصَفْنَا مِنَ الزِّيَادَةِ، أَوْ أَنْ يُفَصَّلَ
(4) ذَلِكَ الْمَعْنَى مِنْ جُمْلَةِ الْحَدِيثِ عَلَى اخْتِصَارِهِ إِذَا أَمْكَنَ، وَلَكِنْ تَفْصِيلُهُ رُبَّمَا عَسُرَ مِنْ جُمْلَتِهِ، فَإِعَادَتُهُ بِهَيْئَتِهِ إِذَا ضَاقَ ذَلِكَ أَسْلَمُ، فَأَمَّا مَا وَجَدْنَا بُدًّا مِنْ إِعَادَتِهِ بِجُمْلَتِهِ مِنْ غَيْرِ حَاجَةٍ مِنَّا إِلَيْهِ فَلَا نَتَوَلَّى فِعْلَهُ إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى
.
فَأَمَّا الْقِسْمُ الْأَوَّلُ فَإِنَّا نَتَوَخَّى
(5) أَنْ نُقَدِّمَ الْأَخْبَارَ الَّتِي هِيَ أَسْلَمُ مِنَ الْعُيُوبِ مِنْ غَيْرِهَا وَأَنْقَى؛ مِنْ أَنْ يَكُونَ نَاقِلُوهَا أَهْلَ اسْتِقَامَةٍ
(6) فِي الْحَدِيثِ وَإِتْقَانٍ لِمَا نَقَلُوا، لَمْ يُوجَدْ فِي رِوَايَتِهِم اخْتِلَافٌ شَدِيدٌ وَلَا تَخْلِيطٌ فَاحِشٌ، كَمَا
--------------------------------------------
এগুলোর বিবরণের মাধ্যমেই বিষয়টি বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়; তবে মোদ্দা কথা হলো, এই শাস্ত্রের (হাদিসের) অল্প কিছু যথাযথভাবে আয়ত্ত করা ও তা নিখুঁতভাবে রক্ষা করা একজন মানুষের জন্য এর আধিক্য নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হওয়ার চেয়ে অধিকতর সহজ। বিশেষ করে সেই সকল সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে যাদের মাঝে অন্যের বুঝিয়ে দেওয়া ব্যতিরেকে সঠিক-ভুলের পার্থক্য করার সক্ষমতা নেই। সুতরাং এ বিষয়ের হাকিকত যখন আমরা যেমন বর্ণনা করলাম তেমনই, তখন তাদের জন্য ত্রুটিযুক্ত বর্ণনার আধিক্যের চেয়ে অল্প সংখ্যক সহিহ (বিশুদ্ধ) বর্ণনার দিকে মনোনিবেশ করাই অধিক উত্তম। অবশ্য এই শাস্ত্রের আধিক্য এবং এর পুনরাবৃত্তিসমূহ সংগ্রহ করার মাঝে কেবল সেই বিশেষ একদল মানুষের জন্য কিছু উপকারের আশা করা যায়, যাদেরকে এ বিষয়ে প্রখরতা এবং এর নিহিত কারণ ও ত্রুটিসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান দান করা হয়েছে। আল্লাহ চাহেন তো, তিনি (সেই বিশেষ ব্যক্তি) তাঁর প্রদত্ত জ্ঞানের বদৌলতে বর্ণনার আধিক্য সংকলনের মধ্যে নিহিত উপকারের ওপর উপনীত হতে পারবেন। পক্ষান্তরে সেই সকল সাধারণ মানুষ, যারা প্রখরতা ও জ্ঞানের অধিকারী বিশেষ ব্যক্তিদের বিপরীত গুণের অধিকারী, তাদের জন্য অধিক বর্ণনার অনুসন্ধানে কোনো সার্থকতা নেই, অথচ তারা সামান্যটুকু জানতেই অক্ষম।
অতঃপর আমরা ইনশাআল্লাহ আপনার অনুরোধ অনুযায়ী হাদিসসমূহ চয়ন ও সংকলন শুরু করছি, একটি শর্তের ভিত্তিতে যা আমি আপনার কাছে উল্লেখ করব। তা হলো, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সমস্ত হাদিসের দিকে লক্ষ্য করব এবং সেগুলোকে কোনো পুনরাবৃত্তি ছাড়াই মানুষের তিনটি স্তর বা পর্যায়ে বিভক্ত করব; তবে এমন কোনো স্থান ব্যতিরেকে যেখানে হাদিসটি পুনরায় উল্লেখ করা ছাড়া উপায় নেই—যেমন অতিরিক্ত কোনো অর্থ থাকা বা কোনো কারণবশত একটি সনদের পাশে আরেকটি সনদ নিয়ে আসা। কেননা হাদিসের ভেতরে বিদ্যমান প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থটি একটি পূর্ণাঙ্গ হাদিসের স্থলাভিষিক্ত হয়। তাই যে হাদিসে আমরা বর্ণিত অতিরিক্ত অংশ রয়েছে, তা পুনরায় উল্লেখ করা আবশ্যক। অথবা সম্ভব হলে মূল হাদিস থেকে সেই অর্থটিকে সংক্ষেপ করে পৃথকভাবে উল্লেখ করা হবে। তবে অনেক সময় মূল হাদিস থেকে তা আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে, তাই সেই সংকীর্ণ অবস্থায় হাদিসটি যেভাবে আছে সেভাবেই পুনরায় উল্লেখ করাই অধিক নিরাপদ। কিন্তু যে ক্ষেত্রে প্রয়োজন ছাড়া পুনরায় উল্লেখ না করার বিকল্প থাকবে, আমরা ইনশাআল্লাহ তা করব না।
প্রথম স্তরের ক্ষেত্রে আমরা সেই সকল বর্ণনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করব যেগুলো অন্যগুলোর তুলনায় অধিকতর ত্রুটিমুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন; আর তা এভাবে যে, এর বর্ণনাকারীগণ হাদিসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান এবং যা বর্ণনা করছেন তাতে পারদর্শী হবেন। তাদের বর্ণনায় বড় কোনো মতভেদ কিংবা জঘন্য কোনো বিভ্রান্তি পাওয়া যাবে না, যেমন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
قَدْ عُثِرَ
(1) فِيهِ عَلَى كَثِيرٍ مِنَ الْمُحَدِّثِينَ، وَبَانَ ذَلِكَ فِي حَدِيثِهِمْ، فَإِذَا نَحْنُ تَقَصَّيْنَا
(2) أَخْبَارَ هَذَا الصِّنْفِ مِنَ النَّاسِ، أَتْبَعْنَاهَا أَخْبَارًا يَقَعُ فِي أَسَانِيدِهَا بَعْضُ مَنْ لَيْسَ بِالْمَوْصُوفِ بِالْحِفْظِ وَالْإِتْقَانِ، كَالصِّنْفِ الْمُقَدَّمِ قَبْلَهُمْ عَلَى أَنَّهُمْ، وَإِنْ كَانُوا فِيمَا وَصَفْنَا دُونَهُمْ فَإِنَّ اسْمَ السَِّتْرِ
(3) وَالصِّدْقِ وَتَعَاطِي الْعِلْمِ يَشْمَلُهُمْ، كَعَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، وَيَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ، وَلَيْثِ بْنِ أَبِي سُلَيْمٍ، وَأَضْرَابِهِمْ
(4) مِنْ حُمَّالِ الْآثَارِ وَنُقَّالِ الْأَخْبَارِ، فَهُمْ وَإِنْ كَانُوا بِمَا وَصَفْنَا مِنَ الْعِلْمِ وَالسَِّتْرِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مَعْرُوفِينَ، فَغَيْرُهُمْ مِنْ أَقْرَانِهِمْ مِمَّنْ عِنْدَهُمْ مَا ذَكَرْنَا مِنَ الْإِتْقَانِ وَالِاسْتِقَامَةِ فِي الرِّوَايَةِ يَفْضُلُونَهُمْ فِي الْحَالِ وَالْمَرْتَبَةِ؛ لِأَنَّ هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ دَرَجَةٌ رَفِيعَةٌ وَخَصْلَةٌ سَنِيَّةٌ، أَلَا تَرَى أَنَّكَ إِذَا وَازَنْتَ
(5) هَؤُلَاءِ الثَّلَاثَةَ الَّذِينَ سَمَّيْنَاهُمْ: عَطَاءً، وَيَزِيدَ، وَلَيْثًا بِمَنْصُورِ بْنِ الْمُعْتَمِرِ، وَسُلَيْمَانَ الْأَعْمَشِ، وَإِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ فِي إِتْقَانِ الْحَدِيثِ وَالِاسْتِقَامَةِ فِيهِ، وَجَدْتَهُمْ مُبَايِنِينَ لَهُمْ، لَا يُدَانُونَهُمْ، لَا شَكَّ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالْحَدِيثِ فِي ذَلِكَ لِلَّذِي اسْتَفَاضَ عِنْدَهُمْ مِنْ صِحَّةِ حِفْظِ مَنْصُورٍ، وَالْأَعْمَشِ، وَإِسْمَاعِيلَ، وَإِتْقَانِهِمْ لِحَدِيثِهِمْ، وَأَنَّهُمْ لَمْ يَعْرِفُوا مِثْلَ ذَلِكَ مِنْ عَطَاءٍ، وَيَزِيدَ، وَلَيْثٍ، وَفِي مِثْلِ مَجْرَى هَؤُلَاءِ إِذَا وَازَنْتَ بَيْنَ الْأَقْرَانِ كَابْنِ عَوْنٍ وَأَيُّوبَ السَّخْتِيَانِيِّ، مَعَ عَوْفِ بْنِ أَبِي جَمِيلَةَ وَأَشْعَثَ الْحُمْرَانِيِّ، وَهُمَا صَاحِبَا الْحَسَنِ وَابْنِ سِيرِينَ. كَمَا أَنَّ ابْنَ عَوْنٍ، وَأَيُّوبَ صَاحِبَاهُمَا، إِلَّا أَنَّ الْبَوْنَ بَيْنَهُمَا وَبَيْنَ هَذَيْنِ بَعِيدٌ فِي كَمَالِ الْفَضْلِ وَصِحَّةِ النَّقْلِ، وَإِنْ كَانَ عَوْفٌ وَأَشْعَثُ غَيْرَ مَدْفُوعَيْنِ عَنْ صِدْقٍ وَأَمَانَةٍ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ، وَلَكِنَّ الْحَالَ مَا وَصَفْنَا مِنَ الْمَنْزِلَةِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ، وَإِنَّمَا مَثَّلْنَا هَؤُلَاءِ فِي التَّسْمِيَةِ لِيَكُونَ تَمْثِيلُهُمْ سِمَةً يَصْدُرُ عَنْ فَهْمِهَا مَنْ غَبِيَ
(6) عَلَيْهِ طَرِيقُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي تَرْتِيبِ أَهْلِهِ فِيهِ، فَلَا يُقَصَّرُ
(7) بِالرَّجُلِ الْعَالِي الْقَدْرِ عَنْ دَرَجَتِهِ، وَلَا يُرْفَعُ
(7) مُتَّضِعُ الْقَدْرِ فِي الْعِلْمِ فَوْقَ مَنْزِلَتِهِ،
--------------------------------------------
এতে অনেক হাদীসবিশারদেরই ভুল পাওয়া গিয়েছে
(১) এবং তা তাঁদের বর্ণিত হাদীসে প্রকাশ পেয়েছে। সুতরাং যখন আমরা এই শ্রেণির লোকদের বর্ণনাগুলো সবিস্তারে অনুসন্ধান
(২) করব, তখন আমরা সেগুলোর অনুগামী হিসেবে এমন সব বর্ণনা নিয়ে আসব যেগুলোর সনদসমূহে এমন কিছু বর্ণনাকারী রয়েছেন যারা পূর্বোক্ত শ্রেণির ন্যায় মুখস্থশক্তি ও প্রখর নির্ভুলতার গুণে গুণান্বিত নন। যদিও তাঁরা আমাদের বর্ণিত গুণাবলিতে তাঁদের চেয়ে নিম্নস্তরের, তবুও সাধুতা
(৩), সত্যবাদিতা এবং ইলম চর্চার বিষয়টি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করে; যেমন—আতা ইবনে সায়িব, ইয়াযিদ ইবনে আবি যিয়াদ, লাইস ইবনে আবি সুলায়ম এবং তাঁদের সমপর্যায়ের
(৪) বর্ণনা ও সংবাদ বহনকারী ব্যক্তিবর্গ। সুতরাং তাঁরা যদিও জ্ঞান ও সাধুতার কারণে আলেমদের নিকট পরিচিত, তবুও তাঁদের সমসাময়িকদের মধ্যে যাঁরা বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্ভুলতা ও সুদৃঢ়তা ধারণ করেন, তাঁরা অবস্থা ও মর্যাদার দিক থেকে তাঁদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কারণ আলেমদের নিকট এটি একটি সুউচ্চ স্তর ও অতি মহৎ গুণ। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, যখন আপনি আমাদের নামোল্লেখ করা ওই তিন ব্যক্তি—আতা, ইয়াযিদ ও লাইসকে—হাদীসের নির্ভুলতা ও সুদৃঢ়তার ক্ষেত্রে মানসুর ইবনে মুতামির, সুলায়মান আল-আমাশ এবং ইসমাইল ইবনে আবি খালিদের সাথে তুলনা করবেন
(৫), তখন তাঁদের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান খুঁজে পাবেন? তাঁরা তাঁদের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারবেন না। হাদীসবিশারদগণের নিকট এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই; কারণ মানসুর, আমাশ ও ইসমাইলের মুখস্থশক্তির বিশুদ্ধতা এবং হাদীস বর্ণনায় তাঁদের প্রখর নির্ভুলতা সম্পর্কে তাঁদের নিকট সবিস্তারে সংবাদ পৌঁছেছে। অথচ আতা, ইয়াযিদ ও লাইসের ক্ষেত্রে তাঁরা তেমনটি জানতে পারেননি। সমসাময়িকদের মধ্যে তুলনার ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটিই ঘটবে যখন আপনি ইবনে আওন ও আইয়ুব সাখতিয়ানীকে আওফ ইবনে আবি জামিলা ও আশআস আল-হুমরানীর সাথে তুলনা করবেন—যাঁরা উভয়ে হাসান ও ইবনে সীরীনের সঙ্গী। যেমন ইবনে আওন ও আইয়ুবও তাঁদেরই সঙ্গী; তবে পূর্ণাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব ও বর্ণনার বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে এই দুই পক্ষের মধ্যে ব্যবধান অনেক বেশি। যদিও আওফ ও আশআস আলেমদের নিকট সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত নন, কিন্তু আলেমদের নিকট তাঁদের মর্যাদাগত অবস্থান আমরা যেমনটি বর্ণনা করেছি তেমনই। আমরা নাম উল্লেখ করে এঁদের দৃষ্টান্ত প্রদান করেছি যাতে তাঁদের এই উদাহরণটি এমন এক চিহ্নে পরিণত হয় যা থেকে সেই ব্যক্তি বোধোদয় করতে পারে যার কাছে আলেমদের স্তর বিন্যাসের পদ্ধতিটি অস্পষ্ট
(৬) রয়ে গেছে। ফলে কোনো উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিকে তাঁর স্তর থেকে নিচে নামিয়ে দেওয়া হবে না
(৭) এবং ইলমের ক্ষেত্রে নিম্নমর্যাদার কোনো ব্যক্তিকে তাঁর অবস্থানের উপরে উঠানো হবে না
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَيُعْطَى كُلُّ ذِي حَقٍّ فِيهِ حَقَّهُ وَيُنَزَّلُ مَنْزِلَتَهُ، وَقَدْ ذُكِرَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا أَنَّهَا قَالَتْ: أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نُنَزِّلَ النَّاسَ مَنَازِلَهُمْ، مَعَ مَا نَطَقَ بِهِ الْقُرْآنُ مِنْ قَوْلِ اللهِ تَعَالَى: {وَفَوْقَ كُلِّ ذِي عِلْمٍ عَلِيمٌ} فَعَلَى نَحْوِ مَا ذَكَرْنَا مِنَ الْوُجُوهِ نُؤَلِّفُ مَا سَأَلْتَ مِنَ الْأَخْبَارِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَمَّا مَا كَانَ مِنْهَا عَنْ قَوْمٍ هُمْ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ مُتَّهَمُونَ، أَوْ عِنْدَ الْأَكْثَرِ مِنْهُمْ، فَلَسْنَا نَتَشَاغَلُ بِتَخْرِيجِ حَدِيثِهِمْ كَعَبْدِ اللهِ بْنِ مِسْوَرٍ أَبِي جَعْفَرٍ الْمَدَائِنِيِّ، وَعَمْرِو بْنِ خَالِدٍ، وَعَبْدِ الْقُدُّوسِ الشَّامِيِّ، وَمُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَصْلُوبِ، وَغِيَاثِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، وَسُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرٍو أَبِي دَاوُدَ النَّخَعِيِّ، وَأَشْبَاهِهِمْ مِمَّنِ اتُّهِمَ بِوَضْعِ الْأَحَادِيثِ وَتَوْلِيدِ الْأَخْبَارِ
وَكَذَلِكَ مَنِ الْغَالِبُ عَلَى حَدِيثِهِ الْمُنْكَرُ أَوِ الْغَلَطُ، أَمْسَكْنَا أَيْضًا عَنْ حَدِيثِهِمْ، وَعَلَامَةُ الْمُنْكَرِ فِي حَدِيثِ الْمُحَدِّثِ، إِذَا مَا عُرِضَتْ رِوَايَتُهُ لِلْحَدِيثِ عَلَى رِوَايَةِ غَيْرِهِ مِنْ أَهْلِ الْحِفْظِ وَالرِّضَا خَالَفَتْ رِوَايَتُهُ رِوَايَتَهُمْ أَوْ لَمْ تَكَدْ تُوَافِقُهَا، فَإِذَا كَانَ الْأَغْلَبُ مِنْ حَدِيثِهِ كَذَلِكَ، كَانَ مَهْجُورَ الْحَدِيثِ غَيْرَ مَقْبُولِهِ وَلَا مُسْتَعْمَلِهِ، فَمِنْ هَذَا الضَّرْبِ مِنَ الْمُحَدِّثِينَ: عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَرَّرٍ، وَيَحْيَى بْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ، وَالْجَرَّاحُ بْنُ الْمِنْهَالِ أَبُو الْعَطُوفِ، وَعَبَّادُ بْنُ كَثِيرٍ، وَحُسَيْنُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ ضُمَيْرَةَ
(1)، وَعُمَرُ بْنُ صُهْبَانَ، وَمَنْ نَحَا نَحْوَهُمْ فِي رِوَايَةِ الْمُنْكَرِ مِنَ الْحَدِيثِ، فَلَسْنَا نُعَرِّجُ عَلَى حَدِيثِهِمْ وَلَا نَتَشَاغَلُ بِهِ؛ لِأَنَّ حُكْمَ أَهْلِ الْعِلْمِ، وَالَّذِي نَعْرِفُ
(1) مِنْ مَذْهَبِهِمْ فِي قَبُولِ مَا يَتَفَرَّدُ بِهِ الْمُحَدِّثُ مِنَ الْحَدِيثِ أَنْ يَكُونَ قَدْ شَارَكَ الثِّقَاتِ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ وَالْحِفْظِ فِي بَعْضِ مَا رَوَوْا، وَأَمْعَنَ فِي ذَلِكَ عَلَى الْمُوَافَقَةِ لَهُمْ، فَإِذَا وُجِدَ كَذَلِكَ، ثُمَّ زَادَ بَعْدَ ذَلِكَ شَيْئًا لَيْسَ عِنْدَ أَصْحَابِهِ قُبِلَتْ زِيَادَتُهُ، فَأَمَّا مَنْ تَرَاهُ يَعْمِدُ لِمِثْلِ الزُّهْرِيِّ فِي جَلَالَتِهِ وَكَثْرَةِ أَصْحَابِهِ الْحُفَّاظِ الْمُتْقِنِينَ لِحَدِيثِهِ وَحَدِيثِ غَيْرِهِ، أَوْ لِمِثْلِ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، وَحَدِيثُهُمَا
--------------------------------------------
এবং প্রত্যেক অধিকারীকে তার প্রাপ্য হক প্রদান করা হবে এবং তাকে তার যথাযোগ্য মর্যাদায় স্থান দেওয়া হবে। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা মানুষকে তাদের মর্যাদা অনুযায়ী স্থান দিই।" এর পাশাপাশি কুরআনের সেই বাণী তো রয়েছেই যেখানে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরেই রয়েছেন একজন মহাজ্ঞানী}। সুতরাং আমরা যে দিকগুলো উল্লেখ করেছি, সেই অনুযায়ী আপনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে হাদিসগুলো সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন, আমরা সেগুলো সংকলন করব। তবে ওই সকল ব্যক্তিদের বর্ণিত হাদিস—যারা হাদিস বিশারদগণের নিকট অথবা তাদের অধিকাংশের নিকট অভিযুক্ত—তাদের হাদিস উদ্ধৃত করার পেছনে আমরা সময় ব্যয় করব না। যেমন: আবদুল্লাহ ইবনে মিসওয়ার আবু জাফর আল-মাদায়িনি, আমর ইবনে খালিদ, আবদুল কুদ্দুস আল-শামি, মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-মাসলুব, গিয়াস ইবনে ইবরাহিম, সুলাইমান ইবনে আমর আবু দাউদ আন-নাখায়ি এবং তাদের অনুরূপ ব্যক্তিরা যারা হাদিস জাল করা ও বানোয়াট বর্ণনা তৈরির দায়ে অভিযুক্ত।
একইভাবে যাদের বর্ণিত হাদিসের ওপর 'মুনকার' (অস্বাভাবিক/অপরিচিত) বা ভুলভ্রান্তি প্রবল, তাদের হাদিস থেকেও আমরা বিরত থাকব। একজন বর্ণনাকারীর হাদিসে 'মুনকার' হওয়ার আলামত হলো এই যে, যখন তার বর্ণিত হাদিসকে অন্যান্য মুখস্থকারী ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সাথে তুলনা করা হবে, তখন তার বর্ণনা তাদের বর্ণনার বিপরীত হবে অথবা তাদের বর্ণনার সাথে খুব একটা মিলবে না। যখন কারও অধিকাংশ হাদিসই এমন হবে, তখন তার হাদিস বর্জনীয় হবে এবং তা গ্রহণযোগ্য বা অনুসৃত হবে না। এই শ্রেণির বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলেন: আবদুল্লাহ ইবনে মুহাররার, ইয়াহইয়া ইবনে আবি উনাইসাহ, আল-জাররাহ ইবনুল মিনহাল আবু আল-আতুফ, আব্বাদ ইবনে কাসির, হুসাইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে দুমাইরাহ
(১), উমর ইবনে সাহবান এবং যারা মুনকার হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের পথ অনুসরণ করেছেন; আমরা তাদের হাদিসের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করি না এবং তা নিয়ে ব্যস্ত হই না। কারণ আলেমগণের সিদ্ধান্ত এবং কোনো বর্ণনাকারীর একক হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের যে মাযহাব বা নীতি আমরা জানি তা হলো—বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য আলেম ও হাফেজদের বর্ণনাকৃত কিছু হাদিসে অংশীদার হতে হবে এবং তাদের সাথে মিল থাকার ব্যাপারে দৃঢ় হতে হবে। যখন এমনটি পাওয়া যাবে, তারপর যদি সে অতিরিক্ত এমন কিছু বর্ণনা করে যা তার সাথীদের কাছে নেই, তবে তার সেই অতিরিক্ত অংশ (জিয়াদা) কবুল করা হবে। কিন্তু আপনি যাকে দেখবেন যে, সে ইমাম যুহরীর মতো এমন একজন মহান ব্যক্তি—যার হাদিস ও অন্যদের হাদিস নিখুঁতভাবে মুখস্থকারী অসংখ্য শাগরিদ রয়েছে—তাদের বিপরীতে একক বর্ণনার ইচ্ছা পোষণ করে, অথবা হিশাম ইবনে উরওয়ার মতো ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এমনটি করে, অথচ তাঁদের হাদিসসমূহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مَبْسُوطٌ مُشْتَرَكٌ، قَدْ نَقَلَ أَصْحَابُهُمَا عَنْهُمَا حَدِيثَهُمَا عَلَى الِاتِّفَاقِ مِنْهُمْ فِي أَكْثَرِهِ، فَيَرْوِي عَنْهُمَا أَوْ عَنْ أَحَدِهِمَا الْعَدَدَ مِنَ الْحَدِيثِ، مِمَّا لَا يَعْرِفُهُ أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِمَا، وَلَيْسَ مِمَّنْ قَدْ شَارَكَهُمْ فِي الصَّحِيحِ مِمَّا عِنْدَهُمْ، فَغَيْرُ جَائِزٍ قَبُولُ حَدِيثِ هَذَا الضَّرْبِ مِنَ النَّاسِ، وَاللهُ أَعْلَمُ
.
قَدْ شَرَحْنَا مِنْ مَذْهَبِ الْحَدِيثِ وَأَهْلِهِ بَعْضَ مَا يَتَوَجَّهُ بِهِ مَنْ أَرَادَ سَبِيلَ الْقَوْمِ وَوُفِّقَ لَهَا، وَسَنَزِيدُ إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى شَرْحًا وَإِيضَاحًا فِي مَوَاضِعَ مِنَ الْكِتَابِ، عِنْدَ ذِكْرِ الْأَخْبَارِ الْمُعَلَّلَةِ، إِذَا أَتَيْنَا عَلَيْهَا فِي الْأَمَاكِنِ الَّتِي يَلِيقُ بِهَا الشَّرْحُ وَالْإِيضَاحُ إِنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى، وَبَعْدُ يَرْحَمُكَ اللهُ، فَلَوْلَا الَّذِي رَأَيْنَا مِنْ سُوءِ صَنِيعِ كَثِيرٍ مِمَّنْ نَصَبَ نَفْسَهُ مُحَدِّثًا، فِيمَا يَلْزَمُهُمْ مِنْ طَرْحِ الْأَحَادِيثِ الضَّعِيفَةِ وَالرِّوَايَاتِ الْمُنْكَرَةِ، وَتَرْكِهِمُ الِاقْتِصَارَ عَلَى الْأَحَادِيثِ
(1) الصَّحِيحَةِ الْمَشْهُورَةِ مِمَّا نَقَلَهُ الثِّقَاتُ الْمَعْرُوفُونَ بِالصِّدْقِ وَالْأَمَانَةِ، بَعْدَ مَعْرِفَتِهِمْ وَإِقْرَارِهِمْ بِأَلْسِنَتِهِمْ أَنَّ كَثِيرًا مِمَّا يَقْذِفُونَ بِهِ إِلَى الْأَغْبِيَاءِ مِنَ النَّاسِ هُوَ مُسْتَنْكَرٌ، وَمَنْقُولٌ عَنْ قَوْمٍ غَيْرِ مَرْضِيِّينَ مِمَّنْ ذَمَّ الرِّوَايَةَ عَنْهُمْ أَئِمَّةُ أَهْلِ الْحَدِيثِ
(2) مِثْلُ: مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، وَشُعْبَةَ بْنِ الْحَجَّاجِ، وَسُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، وَيَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانِ، وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَهْدِيٍّ، وَغَيْرِهِمْ مِنَ الْأَئِمَّةِ لَمَا سَهُلَ عَلَيْنَا الِانْتِصَابُ لِمَا سَأَلْتَ مِنَ التَّمْيِيزِ وَالتَّحْصِيلِ، وَلَكِنْ مِنْ أَجْلِ مَا أَعْلَمْنَاكَ مِنْ نَشْرِ الْقَوْمِ الْأَخْبَارَ الْمُنْكَرَةَ بِالْأَسَانِيدِ الضِّعَافِ الْمَجْهُولَةِ، وَقَذْفِهِمْ بِهَا إِلَى الْعَوَامِّ الَّذِينَ لَا يَعْرِفُونَ عُيُوبَهَا خَفَّ عَلَى قُلُوبِنَا إِجَابَتُكَ إِلَى مَا سَأَلْتَ
.
--------------------------------------------
বিজ্ঞ আলেমদের নিকট এটি একটি বিস্তৃত ও সর্বজনবিদিত বিষয়। তাদের (বর্ণনাকারীদের) শাগরিদগণ তাদের থেকে অধিকাংশ হাদিস ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে বর্ণনা করেছেন। এরপর যদি কেউ তাদের থেকে বা তাদের কোনো একজনের থেকে এমন কিছু সংখ্যক হাদিস বর্ণনা করে যা তাদের শাগরিদদের কেউ চেনে না, এবং সে ব্যক্তি তাদের নিকট বিদ্যমান সহিহ হাদিসসমূহের ক্ষেত্রেও তাদের সমকক্ষ বা অংশীদার নয়, তবে এই শ্রেণীর মানুষের হাদিস গ্রহণ করা বৈধ নয়; আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ
.
আমরা হাদিসের মাযহাব ও তার অনুসারীদের পদ্ধতি সম্পর্কে এমন কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করেছি যা সেই ব্যক্তির পাথেয় হবে যে এই কাফেলার পথ অনুসরণ করতে চায় এবং সে বিষয়ে তাওফিকপ্রাপ্ত হয়েছে। আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা কিতাবের বিভিন্ন স্থানে ত্রুটিযুক্ত বর্ণনাগুলো উল্লেখ করার সময় আরও বিশদ ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ প্রদান করব, যখন আমরা এমন সব স্থানে পৌঁছাব যা ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণের জন্য উপযুক্ত, ইনশাআল্লাহ তাআলা। অতঃপর, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, আমরা যদি এমন অনেক ব্যক্তির মন্দ আচরণ না দেখতাম যারা নিজেদের মুহাদ্দিস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, অথচ দুর্বল হাদিস ও প্রত্যাখ্যাত বর্ণনাগুলো বর্জন করা এবং নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের বর্ণিত সহিহ
(১) ও প্রসিদ্ধ হাদিসগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা তাদের জন্য আবশ্যক ছিল—তা সত্ত্বেও তারা জেনে-বুঝে এবং মুখে স্বীকার করে যে, তারা অজ্ঞ মানুষের কাছে যা কিছু পেশ করছে তার অনেক কিছুই প্রত্যাখ্যাত এবং এমন সব ব্যক্তিদের থেকে বর্ণিত যারা গ্রহণযোগ্য নন, যাদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ করার বিষয়ে হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণ
(২) নিন্দা করেছেন, যেমন: মালিক ইবনে আনাস, শু’বাহ ইবনে হাজ্জাজ, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান, আবদুর রহমান ইবনে মাহদী এবং অন্যান্য ইমামগণ—তবে আপনার অনুরোধ অনুযায়ী পার্থক্য নিরূপণ ও তা সংকলনের দায়িত্ব গ্রহণ করা আমাদের জন্য সহজ হতো না। কিন্তু যেহেতু আমরা আপনাকে অবগত করেছি যে, একদল লোক দুর্বল ও অপরিচিত সনদে প্রত্যাখ্যাত সংবাদসমূহ প্রচার করছে এবং সেগুলো এমন সাধারণ মানুষের নিকট পেশ করছে যারা সেগুলোর ত্রুটি সম্পর্কে অবগত নয়, তাই আপনার অনুরোধে সাড়া দেওয়া আমাদের হৃদয়ে সহজতর হয়েছে
.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
بَابُ وُجُوبِ الرِّوَايَةِ عَنِ الثِّقَاتِ وَتَرْكِ الْكَذَّابِينَوَاعْلَمْ، وَفَّقَكَ اللهُ تَعَالَى، أَنَّ الْوَاجِبَ عَلَى كُلِّ أَحَدٍ عَرَفَ التَّمْيِيزَ بَيْنَ صَحِيحِ الرِّوَايَاتِ وَسَقِيمِهَا، وَثِقَاتِ النَّاقِلِينَ لَهَا مِنَ الْمُتَّهَمِينَ أَنْ لَا يَرْوِيَ مِنْهَا إِلَّا مَا عَرَفَ صِحَّةَ مَخَارِجِهِ وَالسِّتَارَةَ
(1) فِي نَاقِلِيهِ، وَأَنْ يَتَّقِيَ مِنْهَا مَا كَانَ مِنْهَا عَنْ أَهْلِ التُّهَمِ وَالْمُعَانِدِينَ مِنْ أَهْلِ الْبِدَعِ، وَالدَّلِيلُ عَلَى أَنَّ الَّذِي
--------------------------------------------
নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করা এবং মিথ্যাবাদীদের বর্জন করার আবশ্যকতা সম্পর্কিত অধ্যায়জেনে রাখুন, মহান আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দান করুন, যে ব্যক্তি সহিহ (বিশুদ্ধ) ও সাকিম (ত্রুটিযুক্ত) বর্ণনার মধ্যে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিপরীতে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম, তার জন্য আবশ্যিক হলো তিনি কেবল সেই বর্ণনাগুলোই করবেন যার উৎসের বিশুদ্ধতা এবং বর্ণনাকারীদের সততা ও চারিত্রিক নিষ্কলুষতা
(১) সম্পর্কে তিনি নিশ্চিতভাবে অবগত। আর তিনি যেন সেই বর্ণনাগুলো পরিহার করেন যা অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং বিদআতিদের মধ্যে যারা সত্যবিমুখ ও একগুঁয়ে তাদের পক্ষ থেকে এসেছে। আর এর প্রমাণ এই যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
قُلْنَا مِنْ هَذَا هُوَ اللَّازِمُ دُونَ مَا خَالَفَهُ قَوْلُ اللهِ جَلَّ ذِكْرُهُ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} وَقَالَ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: {مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ} وَقَالَ عز وجل: {وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِنْكُمْ} فَدَلَّ بِمَا ذَكَرْنَا مِنْ هَذِهِ الْآيِ أَنَّ خَبَرَ الْفَاسِقِ سَاقِطٌ غَيْرُ مَقْبُولٍ، وَأَنَّ شَهَادَةَ غَيْرِ الْعَدْلِ مَرْدُودَةٌ، وَالْخَبَرُ وَإِنْ فَارَقَ مَعْنَاهُ مَعْنَى الشَّهَادَةِ فِي بَعْضِ الْوُجُوهِ، فَقَدْ يَجْتَمِعَانِ فِي أَعْظَمِ مَعَانِيهِمَا إِذْ كَانَ خَبَرُ الْفَاسِقِ غَيْرَ مَقْبُولٍ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ، كَمَا أَنَّ شَهَادَتَهُ مَرْدُودَةٌ عِنْدَ جَمِيعِهِمْ،
আমরা বললাম: এটিই হলো অপরিহার্য বিষয় এবং এর বিপরীতটি বর্জনীয়, কারণ আল্লাহ—যাঁর স্মরণ মহিমান্বিত—তাঁর বাণী হলো: "হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো, ফলে তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও।" এবং তিনি—যাঁর প্রশংসা সুমহান—বলেছেন: "সাক্ষীদের মধ্যে যাদেরকে তোমরা পছন্দ করো তাদের মধ্য থেকে।" এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: "আর তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী করো।" সুতরাং এই আয়াতগুলো থেকে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা এ কথাই প্রমাণ করে যে, পাপাচারীর সংবাদ অসার ও অগ্রহণযোগ্য এবং ন্যায়পরায়ণ নয় এমন ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যাত। সংবাদ যদিও কোনো কোনো দিক থেকে সাক্ষ্যের অর্থের চেয়ে ভিন্নতর হয়, তবুও তারা তাদের প্রধান অর্থগত দিকগুলোতে একীভূত হয়; যেহেতু আলেমদের নিকট পাপাচারীর সংবাদ অগ্রহণযোগ্য, যেমন তাদের সকলের নিকট তার সাক্ষ্যও প্রত্যাখ্যাত।
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وَدَلَّتِ السُّنَّةُ عَلَى نَفْيِ رِوَايَةِ الْمُنْكَرِ مِنَ الْأَخْبَارِ
(1)، كَنَحْوِ دَلَالَةِ الْقُرْآنِ عَلَى نَفْيِ خَبَرِ الْفَاسِقِ.
• وَهُوَ الْأَثَرُ الْمَشْهُورُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم: « مَنْ حَدَّثَ عَنِّي بِحَدِيثٍ يُرَى
(2) أَنَّهُ كَذِبٌ فَهُوَ أَحَدُ الْكَاذِبِينَ
(3)».
(*) حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، عَنْ شُعْبَةَ ، عَنِ الْحَكَمِ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدَبٍ . (ح)
--------------------------------------------
সুন্নাহর মাধ্যমে ভিত্তিহীন বা মুনকার সংবাদ বর্ণনা করার অসারতার প্রমাণ পাওয়া যায়
(১), যেমন আল-কুরআনের মাধ্যমে ফাসিকের সংবাদ প্রত্যাখ্যান করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
• আর এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ আসার (বা হাদীস): «যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করে যা মিথ্যা বলে ধারণা করা হয়
(২), তবে সেও মিথ্যাবাদীদের একজন
(৩)»।
(*) আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ওকী’ বর্ণনা করেছেন, তিনি শু’বাহ থেকে, তিনি হাকাম থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে, তিনি সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) থেকে। (হা)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
• وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ أَيْضًا، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، عَنْ شُعْبَةَ وَسُفْيَانَ ، عَنْ
حَبِيبٍ(1) ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَا: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ذَلِكَ
.
--------------------------------------------
• এবং আমাদের নিকট আবু বকর বিন আবি শায়বাও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ওয়াকি বর্ণনা করেছেন শু'বাহ ও সুফইয়ান থেকে, তাঁরা
হাবিব(১) থেকে, তিনি মাইমুন বিন আবি শাবিব থেকে, আর তিনি মুগিরা বিন শু'বা থেকে বর্ণনা করেন; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা বলেছেন।
.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بَابٌ فِي التَّحْذِيرِ مِنَ الْكَذِبِ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর মিথ্যা আরোপ করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ সম্পর্কিত অধ্যায়
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
1 - (1) وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ ، عَنْ شُعْبَةَ (ح) وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ بَشَّارٍ قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ مَنْصُورٍ ، عَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ أَنَّهُ سَمِعَ عَلِيًّا رضي الله عنه يَخْطُبُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: « لَا تَكْذِبُوا عَلَيَّ فَإِنَّهُ مَنْ يَكْذِبْ عَلَيَّ يَلِجِ النَّارَ ».
১ - (১) এবং আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট গুন্দার হাদীস বর্ণনা করেছেন শু'বাহ থেকে; (হ) এবং আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না ও ইবনে বাশশার হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে জাফর হাদীস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শু'বাহ হাদীস বর্ণনা করেছেন মানসুর থেকে, তিনি রিবয়ী ইবনে হিরাশ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে খুতবা প্রদানকালে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করো না; কারণ যে ব্যক্তি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।»
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
2 - (2) وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ - يَعْنِي: ابْنَ عُلَيَّةَ -، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ قَالَ: « إِنَّهُ لَيَمْنَعُنِي أَنْ أُحَدِّثَكُمْ حَدِيثًا كَثِيرًا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَنْ تَعَمَّدَ
(1) عَلَيَّ كَذِبًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ ».
--------------------------------------------
২ - (২) এবং আমাদের নিকট যুহাইর ইবনে হারব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাইল - অর্থাৎ ইবনে উলাইয়্যাহ - , তিনি আবদুল আজীজ ইবনে সুহাইব থেকে এবং তিনি আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেন যে, আনাস (রা.) বলেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট অধিক হাদীস বর্ণনা করা থেকে আমাকে যা বিরত রাখে তা হলো এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে
(১) আমার উপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
3 - (3) وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْغُبَرِيُّ ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ ،
⦗ص: 8⦘عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: « مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ ».
--------------------------------------------
৩ - (৩) এবং মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ আল-গুবরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আওয়ানা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাসীন থেকে বর্ণিত, আবু সালিহ থেকে বর্ণিত,
⦗পৃষ্ঠা: ৮⦘আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
4 - (4) وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُمَيْرٍ ، حَدَّثَنَا أَبِي ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ رَبِيعَةَ
(1) قَالَ: أَتَيْتُ الْمَسْجِدَ، وَالْمُغِيرَةُ أَمِيرُ الْكُوفَةِ، قَالَ: فَقَالَ الْمُغِيرَةُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: « إِنَّ كَذِبًا عَلَيَّ لَيْسَ كَكَذِبٍ عَلَى أَحَدٍ، فَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ .»
--------------------------------------------
৪ - (৪) আমাদের নিকট মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু নুমাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাঈদ ইবনু উবাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনু রাবীআহ
(১) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি মসজিদে আসলাম এমতাবস্থায় যে, মুগীরাহ কুফার আমীর ছিলেন। তিনি বলেন: অতঃপর মুগীরাহ বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «নিশ্চয়ই আমার ওপর মিথ্যারোপ করা অন্য কারো ওপর মিথ্যারোপ করার মতো নয়। অতএব, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যারোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার আবাসস্থল নির্ধারণ করে নেয়।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
4 - (4) وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قَيْسٍ الْأَسَدِيُّ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ الْأَسَدِيِّ
(1)، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ. وَلَمْ يَذْكُرْ: إِنَّ كَذِبًا عَلَيَّ لَيْسَ كَكَذِبٍ عَلَى أَحَدٍ
.
--------------------------------------------
৪ - (৪) এবং আমার কাছে আলী ইবন হুজর আস-সাদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবন মুশহির আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবন কায়স আল-আসাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আলী ইবন রাবিআ আল-আসাদী থেকে
(১), তিনি মুগীরা ইবন শু'বা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এটি উল্লেখ করেননি যে: "নিশ্চয়ই আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করা অন্য কারও ওপর মিথ্যা আরোপ করার মতো নয়।"
.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
بَابُ النَّهْيِ عَنِ الْحَدِيثِ بِكُلِّ مَا سُمِعَ
যা কিছু শোনা যায় তার সবকিছু বর্ণনা করার ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
5 - (5) وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ ، حَدَّثَنَا أَبِي (ح) وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ قَالَا: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ
خُبَيْبِ(1) بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ
(2) قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: « كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ .»
--------------------------------------------
৫ - (৫) আমাদের নিকট ওবায়দুল্লাহ ইবন মুয়াজ আল-আনবারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন। (হ) এবং আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবন মাহদী বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের নিকট শু'বাহ বর্ণনা করেছেন,
খুবায়েব(১) ইবন আব্দুর রহমান থেকে, তিনি হাফস ইবন আসিম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা
(২) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «একজন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বর্ণনা করে।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
5 - (5) وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حَفْصٍ ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِ ذَلِكَ .
5 - (৫) এবং আমাদের নিকট আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আলী ইবনে হাফস বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট শু’বাহ বর্ণনা করেছেন খুবাইব ইবনে আবদুর রহমান হতে, তিনি হাফস ইবনে আসিম হতে, তিনি আবু হুরায়রাহ হতে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।।
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
• وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ قَالَ: قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: « بِحَسْبِ الْمَرْءِ
(1) مِنَ الْكَذِبِ أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ ».
--------------------------------------------
• ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান আত-তাইমি থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু বলেছেন: «একজন ব্যক্তির
(১) মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই বর্ণনা করে।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
• وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَرْحٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: « قَالَ لِي مَالِكٌ : اعْلَمْ أَنَّهُ لَيْسَ يَسْلَمُ
(1) رَجُلٌ حَدَّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ، وَلَا يَكُونُ إِمَامًا أَبَدًا وَهُوَ يُحَدِّثُ بِكُلِّ مَا سَمِعَ ».
--------------------------------------------
• এবং আমার কাছে আবু তাহের আহমদ ইবনে আমর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে সারহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: « মালিক আমাকে বলেছেন: জেনে রেখো, যে ব্যক্তি যা কিছু শুনেছে তার সবকিছুই বর্ণনা করে সে নিরাপদ থাকে না
(১) এবং সে কখনও ইমাম হতে পারে না যতক্ষণ সে যা শোনে তার সবকিছুই বর্ণনা করে »।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
• حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ ، عَنْ عَبْدِ اللهِ
(1) قَالَ: « بِحَسْبِ الْمَرْءِ مِنَ الْكَذِبِ أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ ».
--------------------------------------------
মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রহমান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবুল আহওয়াস থেকে, আর তিনি আবদুল্লাহ
(১) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «একজন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বর্ণনা করে।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
• এবং মুহাম্মাদ ইবনুল মুসান্না আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি
আবদুর রহমান ইবনে⦗পৃষ্ঠা: ৯⦘মাহদীকে বলতে শুনেছি: «কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত অনুসরণযোগ্য ইমাম হতে পারেন না, যতক্ষণ না তিনি যা শুনেছেন তার কিছু অংশ (বলা) থেকে বিরত থাকেন»।
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
• وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى ، أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ مُقَدَّمٍ ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ قَالَ: « سَأَلَنِي إِيَاسُ بْنُ مُعَاوِيَةَ ، فَقَالَ: إِنِّي أَرَاكَ قَدْ كَلِفْتَ بِعِلْمِ الْقُرْآنِ
(1)، فَاقْرَأْ عَلَيَّ سُورَةً وَفَسِّرْ حَتَّى أَنْظُرَ فِيمَا عَلِمْتَ، قَالَ: فَفَعَلْتُ، فَقَالَ لِيَ: احْفَظْ عَلَيَّ مَا أَقُولُ لَكَ: إِيَّاكَ وَالشَّنَاعَةَ فِي الْحَدِيثِ
(2)، فَإِنَّهُ قَلَّمَا حَمَلَهَا أَحَدٌ إِلَّا ذَلَّ فِي نَفْسِهِ وَكُذِّبَ فِي حَدِيثِهِ ».
--------------------------------------------
ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে আলী ইবনে মুকাদ্দাম সুফিয়ান ইবনে হুসাইন থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: «ইয়াস ইবনে মুয়াবিয়া আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: আমি দেখতে পাচ্ছি যে তুমি কুরআনের ইলমের প্রতি বিশেষভাবে অনুরাগী হয়ে উঠেছ
(১), সুতরাং আমার কাছে একটি সূরা পাঠ করো এবং তার ব্যাখ্যা করো যাতে আমি তোমার অর্জিত জ্ঞান সম্পর্কে দেখতে পারি। তিনি (সুফিয়ান) বললেন: আমি তা করলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: আমি তোমাকে যা বলছি তা মনে রেখো: হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে বীভৎসতা (মুনকার বর্ণনা) থেকে বেঁচে থাকো
(২), কারণ খুব কম লোকই এটি বহন করেছে অথচ সে নিজের কাছে লাঞ্ছিত হয়নি এবং তার বর্ণিত হাদীসের ক্ষেত্রে তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা হয়নি।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
• وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى قَالَا: أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ ، عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ مَسْعُودٍ قَالَ: « مَا أَنْتَ بِمُحَدِّثٍ قَوْمًا حَدِيثًا لَا تَبْلُغُهُ عُقُولُهُمْ إِلَّا كَانَ لِبَعْضِهِمْ فِتْنَةً ».
• এবং আমার নিকট আবু তাহির ও হারমালাহ ইবনু ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: আমাদের ইবনু ওয়াহাব সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাকে ইউনুস সংবাদ দিয়েছেন ইবনু শিহাব থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উতবাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেছেন: «তুমি যখনই কোনো সম্প্রদায়ের নিকট এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করবে যা তাদের বিবেক-বুদ্ধি উপলব্ধি করতে পারে না, তবে তা অবশ্যই তাদের কারো কারো জন্য ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে»।
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
باب النَّهْيِ عَنِ الرِّوَايَةِ عَنِ الضُّعَفَاءِ وَالْكَذَّابِينَ وَمَنْ يرغب عَنْ حَدِيثِهِمْ
দুর্বল ও মিথ্যাবাদী বর্ণনাকারী এবং যাদের হাদিস থেকে বিমুখ থাকা আবশ্যক, তাদের থেকে হাদিস বর্ণনা করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
6 - (6) وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ قَالَا: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيدَ ، قَالَ: حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ مُسْلِمِ بْنِ يَسَارٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: « سَيَكُونُ فِي آخِرِ أُمَّتِي أُنَاسٌ
(1) يُحَدِّثُونَكُمْ مَا
(2) لَمْ تَسْمَعُوا أَنْتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ، فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ ».
--------------------------------------------
৬ - (৬) মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমায়র এবং যুহাইর ইবনে হারব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা দুজনেই বললেন: আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে আবু আইয়ুব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু হানি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু উসমান মুসলিম ইবনে ইয়াসার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «আমার উম্মতের শেষ যুগে এমন কিছু লোক হবে
(১) যারা তোমাদের কাছে এমন সব কথা বলবে যা
(২) তোমরা শোনোনি এবং তোমাদের পিতৃপুরুষরাও শোনোনি। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সতর্ক থাকো এবং তাদেরকে তোমাদের থেকে দূরে রাখো।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
7 - (7) وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ حَرْمَلَةَ بْنِ عِمْرَانَ التُّجِيبِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ ، قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو شُرَيْحٍ أَنَّهُ سَمِعَ شَرَاحِيلَ بْنَ يَزِيدَ يَقُولُ: أَخْبَرَنِي
(1) مُسْلِمُ بْنُ يَسَارٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: « يَكُونُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ يَأْتُونَكُمْ مِنَ الْأَحَادِيثِ بِمَا لَمْ تَسْمَعُوا
(2) أَنْتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ، فَإِيَّاكُمْ وَإِيَّاهُمْ لَا يُضِلُّونَكُمْ وَلَا يَفْتِنُونَكُمْ ».
--------------------------------------------
৭ - (৭) হারমালা ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হারমালা ইবনে ইমরান আত-তুজিবি (রহ.) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু শুরাইহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শারাহিল ইবনে ইয়াজিদকে বলতে শুনেছেন: মুসলিম ইবনে ইয়াসার আমাকে সংবাদ দিয়েছেন
(১) যে, তিনি আবু হুরায়রাকে (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «শেষ জামানায় এমন সব মহামিথ্যাবাদী দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে, যারা তোমাদের নিকট এমন সব হাদীস নিয়ে আসবে যা তোমরা শোনোনি এবং তোমাদের পিতৃপুরুষরাও শোনেনি। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সাবধান থেকো এবং তাদেরকে তোমাদের থেকে দূরে রেখো, যেন তারা তোমাদের বিভ্রান্ত করতে না পারে এবং তোমাদের ফিতনায় ফেলতে না পারে»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
• وَحَدَّثَنِي أَبُو سَعِيدٍ الْأَشَجُّ ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ ، عَنِ الْمُسَيَّبِ بْنِ رَافِعٍ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبَدَةَ
(1) قَالَ: قَالَ عَبْدُ اللهِ: « إِنَّ الشَّيْطَانَ لَيَتَمَثَّلُ فِي صُورَةِ الرَّجُلِ فَيَأْتِي الْقَوْمَ فَيُحَدِّثُهُمْ بِالْحَدِيثِ مِنَ الْكَذِبِ، فَيَتَفَرَّقُونَ، فَيَقُولُ الرَّجُلُ مِنْهُمْ: سَمِعْتُ رَجُلًا أَعْرِفُ وَجْهَهُ، وَلَا أَدْرِي مَا اسْمُهُ يُحَدِّثُ ».
--------------------------------------------
আবু সাঈদ আল-আশাজ্জ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়াকি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-আমাশ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-মুসাইয়্যাব ইবনে রাফি হতে, তিনি আমির ইবনে আবদাহ
(১) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবদুল্লাহ বলেছেন: «নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রূপ ধারণ করে কোনো সম্প্রদায়ের নিকট আসে এবং তাদের নিকট মিথ্যা কথা বর্ণনা করে। অতপর তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন তাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি বলে: আমি এমন এক ব্যক্তির নিকট হতে শুনেছি যার চেহারা আমি চিনি, কিন্তু তার নাম জানি না, সে কথা বলছিল।»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সহীহ মুসলিম - ত্বা আল-তুর্কিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
• وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ ، عَنِ ابْنِ طَاوُسٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ
⦗ص: 10⦘قَالَ: « إِنَّ فِي الْبَحْرِ شَيَاطِينَ مَسْجُونَةً أَوْثَقَهَا سُلَيْمَانُ، يُوشِكُ أَنْ تَخْرُجَ فَتَقْرَأَ عَلَى النَّاسِ قُرْآنًا ».
• এবং আমার নিকট মুহাম্মাদ ইবনে রাফি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আবদুর রাজ্জাক বর্ণনা করেছেন, আমাদের মা'মার সংবাদ দিয়েছেন ইবনে তাউস হতে, তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস হতে বর্ণনা করেন
⦗পৃষ্ঠা: ১০⦘তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই সমুদ্রে কিছু বন্দি শয়তান রয়েছে যাদেরকে সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) শৃঙ্খলাবদ্ধ করে রেখেছেন, অচিরেই তারা বের হয়ে আসবে এবং মানুষের নিকট কুরআন পাঠ করবে।»