(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: -)
فقه الواقع - الألباني (ناصر الدين الألباني)
القسم: كتب عامة
الكتاب: فقه الواقع
المؤلف: محمد ناصر الدين الألباني (ت 1420هـ)
عدد الصفحات: 29
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ফিকহুল ওয়াকি' - আলবানী (নাসিরুদ্দিন আলবানী)
বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
গ্রন্থ: ফিকহুল ওয়াকি'
লেখক: মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আলবানী (মৃত্যু: ১৪২০ হিজরি)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১)
حول فقه الواقعللعلامة محمد ناصر الدين الألباني
বাস্তবতার ফিকহ প্রসঙ্গেআল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী-এর
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২)
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي لهوأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لهوأشهد أن محمدا عبده ورسولهأما بعد:فإن رسول الله محمدا صلى الله عليه وسلم يقول: (يوشك الأمم أن تداعى عليكم كما تداعى الأكلة إلى قصعتها)فقال قائل: ومن قلة نحن يومئذ؟قال: (بل أنتم يومئذ كثير ولكنكم غثاء كغثاء السيل ولينزعن الله من صدور عدوكم المهابة منكم وليقذفن الله في قلوبكم الوهن)فقال قائل: يا رسول الله وما الوهن؟قال: (حب الدنيا وكراهية الموت) [حديث صحيح تراه مخرجا في (الصحيحة) (958]
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই।আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।অতঃপর:নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: (অচিরেই বিভিন্ন জাতি তোমাদের ওপর চড়াও হওয়ার জন্য একে অপরকে এমনভাবে আহ্বান করবে, যেমন ভক্ষণকারীরা তাদের খাবারের পাত্রের দিকে একে অপরকে আহ্বান করে)।তখন একজন প্রশ্নকারী বললেন: আমরা কি সেদিন সংখ্যায় কম হওয়ার কারণে এমন হবে?তিনি বললেন: (বরং তোমরা সেদিন সংখ্যায় অধিক হবে, কিন্তু তোমরা হবে বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়া ফেনার মতো। আর আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয়ভীতি দূর করে দেবেন এবং তোমাদের অন্তরে 'ওয়াহন' ঢেলে দেবেন)।তখন এক ব্যক্তি প্রশ্ন করলেন: হে আল্লাহর রাসুল! 'ওয়াহন' কী?তিনি বললেন: (দুনিয়ার প্রতি মোহ এবং মৃত্যুকে অপছন্দ করা) [এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, আপনি এটি আস-সহিহাহ গ্রন্থে ৯৫৮ নম্বরে সংকলিত পাবেন]
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৩)
واقع المسلمين:قد تجلى هذا الحديث النبوي الشريف بأقوى مظاهره وأجلى صوره في الفتنة العظيمة التي ضربت المسلمين ففرقت كلمتهم وشتتت (صفوفهم)ولقد أصاب طرف من هذه الفتنة القاسية جذر قلوب عدد كبير من الدعاة وطلبة العلم فانقسموا وللأسف الشديد على أنفسهم فصار بعضهم (يتكلم) في بعض والبعض (الآخر) ينقد الباقين ويرد عليهم. . . وهكذا
মুসলিমদের বাস্তবতা:এই মহিমান্বিত নব্যুয়তি হাদিসটি তার প্রবলতম বহিঃপ্রকাশ ও স্পষ্টতম রূপে সেই মহা ফিতনার (فتنة) মাঝে প্রস্ফুটিত হয়েছে, যা মুসলিমদের আঘাত করেছে এবং তাদের ঐক্যকে খণ্ডবিখণ্ড ও তাদের (সারিগুলোকে) বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।দুর্ভাগ্যবশত, এই কঠোর ফিতনার একটি অংশ বহুসংখ্যক দায়ি ও ইলম অন্বেষণকারীর হৃদয়ের মূলে আঘাত হেনেছে। ফলে তারা নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে; তাদের একাংশ অন্যের বিরুদ্ধে (সমালোচনা) করছে এবং অন্য পক্ষ বাকিদের সমালোচনা ও খণ্ডন করছে... এভাবেই চলছে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৪)
معرفة الحق بالرد:وليست تلك الردود (مجردة) أو هاتيك النقدات (وحدها) بضائرة أحدا من هؤلاء أو أولئك سواء منهم الراد أم المردود عليه لأن الحق يعرف بنوره ودلائله لا بحاكيه وقائله عند أهل الإنصاف وليس عند ذوي التعصب والاعتساف وإنما الذي يضير أولئك أو هؤلاء: هو الكلام بغير علم وإلقاء القول على عواهنه والتكلم بغير حق على عباد الله
খণ্ডন (رد) এর মাধ্যমে সত্য অনুধাবন:এই খণ্ডনসমূহ (ردود) (নিছক) কিংবা এই সমালোচনাগুলো (نقدات) (একাকী) এদের বা ওদের কাউকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, চাই তিনি খণ্ডনকারী (راد) হোন অথবা যার বক্তব্য খণ্ডন করা হয়েছে (مردود عليه) তিনি হোন; কারণ ন্যায়নিষ্ঠ (إنصاف) ব্যক্তিদের নিকট সত্য তার জ্যোতি ও প্রমাণাদির (دلائل) মাধ্যমে পরিচিত হয়, তার বর্ণনাকারী বা প্রবক্তার মাধ্যমে নয়। এটি অন্ধ পক্ষপাতদুষ্ট (تعصب) ও অবিচারকারীদের (اعتساف) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বরং যা এদের বা ওদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তা হলো: ইলম ব্যতীত কথা বলা, বাছবিচারহীনভাবে মন্তব্য করা এবং আল্লাহর বান্দাদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে কথা বলা।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৫)
مسألة (فقه الواقع) :ولقد أثيرت أثناء تلك الفتنة العمياء الصماء البكماء مسائل شتى فقهية ومنهجية ودعوية وكان لنا حينها أجوبة علمية عليها بحمد الله سبحانه ومنتهومن المسائل التي أعقبت تلك الفتنة وكثر الخوض فيها: ما اصطلح (البعض) على تسميته ب (فقه الواقع)وأنا لا أخالف في صورة هذا العلم الذي ابتدعوا له هذا الاسم ألا وهو (فقه الواقع) لأن كثيرا من العلماء قد نصوا على أنه ينبغي على من يتولون توجيه الأمة ووضع الأجوبة لحل مشاكلهم: أن يكونوا عالمين وعارفين بواقعهم لذلك كان من مشهور كلماتهم: (الحكم على الشيء فرع عن تصوره) ولا يتحقق ذلك إلا بمعرفة (الواقع) المحيط بالمسألة المراد بحثها وهذا من قواعد الفتيا بخاصة وأصول العلم بعامةففقه الواقع إذا هو الوقوف على ما يهم المسلمين مما يتعلق بشؤونهم أو كيد أعدائهم لتحذيرهم والنهوض بهم واقعيا لا كلاما نظريا [أما الكلام (النظري) الذي ليس له من (يتبناه) عملا ويخرجه إلى حيز (الواقع) فعلا] أو انشغالا بأخبار الكفار وأنبائهم. . . أو إغراقا بتحليلاتهم وأفكارهم
মাসয়ালা (সমকালীন পরিস্থিতির জ্ঞান - فقه الواقع) :সেই অন্ধ, বধির ও মূক ফিতনার সময় ফিকহী (فقهي), মানহাজী (منهجي) এবং দাওয়াহ সংশ্লিষ্ট নানাবিধ মাসয়ালা (مسائل) উত্থাপিত হয়েছিল। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার প্রশংসা ও তাঁর অনুগ্রহে তখন আমাদের নিকট সেগুলোর ইলমী (علمي) সমাধান বিদ্যমান ছিল।উক্ত ফিতনার পরবর্তী সময়ে যে মাসয়ালাগুলো নিয়ে অধিক আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো যাকে কেউ কেউ 'ফেকহুল ওয়াকি' বা সমকালীন পরিস্থিতির জ্ঞান (فقه الواقع) হিসেবে নামকরণ করেছেন।আমি এই ইলমের স্বরূপ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করি না যার জন্য তারা এই 'ফেকহুল ওয়াকি' (فقه الواقع) নামটি উদ্ভাবন করেছেন; কারণ বহু আলেম সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, যারা উম্মাহর দিকনির্দেশনা এবং তাদের সমস্যা সমাধানের পথ বাতলে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের জন্য নিজেদের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বা বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত ও সম্যক জ্ঞান রাখা আবশ্যক। এজন্যই তাদের একটি প্রসিদ্ধ উক্তি হলো: "কোনো বিষয়ের ওপর বিধান (الحكم) প্রদান করা উক্ত বিষয়টি সঠিকভাবে অনুধাবনেরই একটি শাখা।" আর এটি অর্জিত হওয়া কেবল তখনই সম্ভব, যখন গবেষণাধীন মাসয়ালাটির পারিপার্শ্বিক 'বাস্তবতা' (الواقع) সম্পর্কে জ্ঞান থাকবে। এটি বিশেষভাবে ফতোয়া প্রদানের মূলনীতি (قواعد الفتيا) এবং সাধারণভাবে ইলমের মূলনীতির (أصول العلم) অন্তর্ভুক্ত।অতএব, 'ফেকহুল ওয়াকি' (فقه الواقع) হলো মুসলিমদের বিষয়াদি সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি অথবা শত্রুদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত হওয়া, যাতে তাদেরকে সতর্ক করা যায় এবং কেবল তাত্ত্বিক (النظري) আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবিকভাবে তাদের জাগরণ ঘটানো সম্ভব হয়। [পক্ষান্তরে সেই তাত্ত্বিক (النظري) কথা যা বাস্তবায়ন করার মতো বা বাস্তব (الواقع) ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার মতো কেউ নেই], অথবা কেবল কাফিরদের খবরাখবর নিয়ে ব্যস্ত থাকা... কিংবা তাদের বিশ্লেষণ ও চিন্তাধারার মধ্যে নিমজ্জিত হওয়া (ফেকহুল ওয়াকি নয়)।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৬)
أهمية معرفة الواقع:فمعرفة الواقع للوصول به إلى حكم الشرع واجب مهم من الواجبات التي يجب أن يقوم بها طائفة مختصة من طلاب العلم المسلمين النبهاء كأي علم من العلوم الشرعية أو الاجتماعية أو الاقتصادية أو العسكرية أو أي علم ينفع الأمة الإسلامية ويدنيها من مدارج العودة إلى عزها ومجدها وسؤددها وبخاصة إذا ما تطورت هذه العلوم بتطور الأزمنة والأمكنة
বাস্তব পরিস্থিতি অনুধাবনের গুরুত্ব:শরয়ি বিধানের (حكم الشرع) লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা সেই সকল গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্যের (واجب) অন্তর্ভুক্ত, যা একদল বিশেষজ্ঞ ও মেধাবী মুসলিম ইলম অন্বেষণকারীর সম্পন্ন করা আবশ্যক। এটি অন্য যেকোনো শরয়ি (شرعي), সামাজিক, অর্থনৈতিক, সামরিক বা এমন যেকোনো বিদ্যার মতোই যা মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে আসে এবং তাকে তার হারানো সম্মান, গৌরব ও শ্রেষ্ঠত্বের সোপানে প্রত্যাবর্তনের নিকটবর্তী করে; বিশেষত যখন এই বিদ্যাগুলো কাল ও স্থানের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিকশিত হয়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৭)
من أنواع (الفقه) الواجبة:ومما يجب التنبيه عليه في هذا المقام أن أنواع الفقه المطلوبة من جملة المسلمين ليست فقط ذلك الفقه المذهبي الذي يعرفونه ويتلقنونه أو هذا (الفقه) الذي تنبه إليه ونبه عليه بعض شباب الدعاة حيث إن أنواع الفقه الواجب على المسلمين القيام بها ولو كفائيا عل الأقل أكبر من ذلك كله وأوسع دائرة منه فمن ذلك مثلا: (فقه الكتاب) و (فقه السنة) و (فقه اللغة) و (فقه السنن الكونية) و (فقه الخلاف) ونحو ذلك مما يشبههوهذه الأنواع من الفقه بعمومها لا تقل أهمية عن نوعي الفقه المشار إليهما قبل سواء منها الفقه المعروف أم (فقه الواقع) الذي نحن بصدد إيضاح القول فيهومع ذلك كله فإننا لا نرى من ينبه على أنواع الفقه هذه أو يشير إليها وبخاصة (فقه الكتاب والسنة) الذي هو رأس هذه الأنواع وأسها هذا الفقه الذي لو قال أحد بوجوبه عينيا لما أبعد لعظيم حاجة المسلمين إليه وشديد لزومه لهم وبالرغم من ذلك:فإننا لا نسمع من يدندن حوله ويقعد منهجه ويشغل الشباب به ويربيهم عليه
আবশ্যিক ফিকহ (الفقه) এর প্রকারভেদসমূহ:এই পর্যায়ে যে বিষয়ে সতর্ক করা আবশ্যক তা হলো, সাধারণ মুসলিমদের নিকট কাম্য ফিকহ (الفقه) এর প্রকারভেদগুলো কেবল সেই মাযহাবী ফিকহ নয় যা তারা জানে ও শেখে, কিংবা সেই ফিকহ (الفقه) নয় যার প্রতি কতিপয় তরুণ দাঈগণ মনোযোগী হয়েছেন এবং সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বরং মুসলিমদের ওপর ফিকহ (الفقه) এর যে প্রকারগুলো পালন করা আবশ্যক—যা অন্তত সামষ্টিকভাবে আবশ্যিক (كفائيا) হিসেবে হলেও পালনীয়—তা এই সবকিছুর চেয়েও মহত্তর এবং এর পরিধি আরও বিস্তৃত। উদাহরণস্বরূপ তার মধ্যে রয়েছে: মহাগ্রন্থের ফিকহ (فقه الكتاب), সুন্নাহর ফিকহ (فقه السنة), ভাষার ফিকহ (فقه اللغة), মহাজাগতিক বিধানের ফিকহ (فقه السنن الكونية), মতভেদ বিষয়ক ফিকহ (فقه الخلاف) এবং তদ্রূপ অন্যান্য বিষয়।আর ফিকহ (الفقه) এর এই প্রকারসমূহ সামগ্রিকভাবে পূর্বে উল্লিখিত ফিকহ (الفقه) এর প্রকারদ্বয় অপেক্ষা কোনো অংশেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়; তা সুপরিচিত ফিকহ হোক কিংবা সমসাময়িক বাস্তবতা বিষয়ক ফিকহ (فقه الواقع) হোক, যার বর্ণনায় আমরা ব্যাপৃত আছি।এতৎসত্ত্বেও আমরা কাউকে ফিকহ (الفقه) এর এই প্রকারগুলো সম্পর্কে সতর্ক করতে বা এর দিকে ইঙ্গিত করতে দেখি না; বিশেষ করে মহাগ্রন্থ ও সুন্নাহর ফিকহ (فقه الكتاب والسنة), যা এই প্রকারসমূহের শিরোমণি ও ভিত্তি। এটি এমন এক ফিকহ (الفقه), যার প্রতি মুসলিমদের বিশাল প্রয়োজনীয়তা এবং তীব্র আবশ্যকতা লক্ষ্য করে কেউ যদি একে ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যিক (عينيا) বলে অভিহিত করেন, তবে তা সত্য থেকে দূরবর্তী হবে না। তাসত্ত্বেও:আমরা এমন কাউকে শুনি না যিনি এটি নিয়ে নিবিড় আলোচনা করেন, এর কর্মপন্থা নির্ধারণ করেন এবং তরুণ সমাজকে এটি নিয়ে ব্যাপৃত রাখেন ও এর ওপর তাদের গড়ে তোলেন।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৮)
نريد (المنهج) لا مجرد الكلام:نعم كثيرون ولله الحمد الذين يتكلمون في الكتاب والسنة اليوم ويشيرون إليهما ولكن الواجب الذي نريده ليس فقط أكتوبة أو محاضرة هناك إنما الذي نريده جعل الكتاب والسنة الإطار العام لكل صغير وكبير وأن يكون منهجهما هو الشعار والدثار للدعوة بدء وانتهاء وبالتالي أن يكون تفكير المدعوين من الشباب وغيرهم مؤصلا وفق هذا المنهج العظيم الذي لا صلاح للأمة إلا به وعليهفلا بد إذا من أن يكون هناك علماء في كل أنواع الفقه المتقدمة وبخاصة (فقه الكتاب والسنة) بضوابط واضحة وقواعد مبينة
আমরা কেবল নিছক কথা নয়, বরং পদ্ধতি (المنهج) চাই:হ্যাঁ, আল্লাহর প্রশংসায় বর্তমান সময়ে কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং এ দুটির দিকে পথপ্রদর্শন করেন এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। তবে আমাদের ওপর অর্পিত কাঙ্ক্ষিত দায়িত্ব কেবল কিছু লেখালেখি বা কোনো জায়গায় বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং আমাদের উদ্দেশ্য হলো কুরআন ও সুন্নাহকে প্রতিটি ছোট ও বড় বিষয়ের সাধারণ কাঠামো হিসেবে নির্ধারণ করা এবং দাওয়াতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ দুটির পদ্ধতিই (منهج) যেন হয় আমাদের আদর্শ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর ফলে তরুণ সমাজসহ দাওয়াতের আওতাভুক্ত অন্যান্যদের চিন্তাধারাও যেন এই মহান পদ্ধতির (منهج) আলোকে সুদৃঢ় ভিত্তির (مؤصل) ওপর গড়ে ওঠে; কারণ এ ছাড়া এই উম্মাহর সংশোধন সম্ভব নয়।তাই ফিকহ (فقه)-এর পূর্ববর্তী সকল শাখায় বিজ্ঞ আলেম থাকা অপরিহার্য, বিশেষ করে স্পষ্ট নীতিমালা (ضوابط) এবং সুবিন্যস্ত মূলনীতির (قواعد) আলোকে কুরআন ও সুন্নাহর ফিকহ (فقه) অর্জনের ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ৯)
الانقسام حول (فقه الواقع) :ولكننا سمعنا ولاحظنا أنه قد وقع كثير من الشباب المسلم في حيص بيص نحو هذا النوع من العلم الذي سبقت الإشارة إلى تسميتهم له ب (فقه الواقع) فانقسموا قسمين وصاروا للأسف فريقين حيث إنه قد غلا البعض بهذا الأمر وقصر البعض الآخر فيهإذ إنك ترى وتسمع ممن يفخمون شأن (فقه الواقع) ويضعونه في مرتبة علية فوق مرتبته العلمية الصحيحة أنهم يريدون من كل عالم بالشرع أن يكون عالما بما سموه (فقه الواقع)كما أن العكس أيضا حاصل فيهم فقد أوهموا السامعين لهم والملتفين حولهم أن كل من كان عارفا بواقع العالم الإسلامي هو فقيه في الكتاب والسنة وعلى منهج السلف الصالحوهذا ليس بلازم كما هو ظاهر
‘বর্তমান পরিস্থিতির ফিকহ (فقه الواقع)’ সংক্রান্ত বিভাজন: কিন্তু আমরা শুনেছি এবং লক্ষ্য করেছি যে, অনেক মুসলিম যুবক এই প্রকারের জ্ঞান সম্পর্কে বিভ্রান্তি ও কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার মধ্যে নিপতিত হয়েছে, যার নামকরণ তারা 'বর্তমান পরিস্থিতির ফিকহ (فقه الواقع)' করেছে বলে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং দুর্ভাগ্যবশত দুটি দলে পরিণত হয়েছে; কারণ কেউ কেউ এই বিষয়ে বাড়াবাড়ি (غلو) করেছে, আবার অন্য কেউ কেউ এতে শিথিলতা (تقصير) প্রদর্শন করেছে।আপনি তাদের নিকট থেকে দেখতে ও শুনতে পাবেন যারা 'বর্তমান পরিস্থিতির ফিকহ (فقه الواقع)'-এর গুরুত্বকে অতিরঞ্জিত করে এবং একে এর সঠিক জ্ঞানতাত্ত্বিক (علمي) মর্যাদার ঊর্ধ্বে স্থান দেয়। তারা চায় যে প্রত্যেক শরীয়ত বিশেষজ্ঞ (عالم بالشرع) যেন তাদের নাম দেওয়া এই 'বর্তমান পরিস্থিতির ফিকহ (فقه الواقع)' সম্পর্কে পারদর্শী হন।তেমনিভাবে এর বিপরীত বিষয়ও তাদের মধ্যে বিদ্যমান। তারা তাদের শ্রোতা এবং অনুসারীদের এই বিভ্রান্তিতে ফেলেছে যে, যে ব্যক্তিই মুসলিম বিশ্বের সমসাময়িক বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত, সেই কিতাব ও সুন্নাহর ফকিহ (فقيه) এবং সালফে সালেহীনদের আদর্শ বা মানহাজ (منهج)-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত।অথচ এটি যে কোনো অবধারিত বা আবশ্যকীয় বিষয় (لازم) নয়, তা সুস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১০)
الكمال عزيز فالواجب التعاون:ونحن لا نتصور وجود إنسان كامل بكل معنى هذه الكلمة أي: أن يكون عالما بكل هذه العلوم التي أشرت إليها وسبق الكلام عليهافالواجب إذا: تعاون هؤلاء الذين تفرغوا لمعرفة واقع الأمة الإسلامية وما يحاك ضدها مع علماء الكتاب والسنة وعلى نهج سلف الأمة فأولئك يقدمون تصوراتهم وأفكارهم وهؤلاء يبينون فيها حكم الله سبحانه القائم على الدليل الصحيح والحجة النيرةأما أن يصبح المتكلم في (فقه الواقع) في أذهان سامعيه واحدا من العلماء والمفتين لا لشيء إلا لأنه تكلم بهذا (الفقه) المشار إليه فهذا ما لا يحكم له بوجه من الصواب إذ يتخذ كلامه تكأة ترد بها فتاوى العلماء وتنقض فيه اجتهاداتهم وأحكامهم
পূর্ণতা দুর্লভ, তাই পারস্পরিক সহযোগিতা করা আবশ্যক:আমরা এমন কোনো মানুষের অস্তিত্ব কল্পনা করি না যিনি এই শব্দের আক্ষরিক অর্থে পূর্ণাঙ্গ; অর্থাৎ, যিনি নির্দেশিত এবং ইতিপূর্বে আলোচিত সকল বিদ্যায় পারদর্শী হবেন।সুতরাং কর্তব্য হলো: যারা মুসলিম উম্মাহর বাস্তব প্রেক্ষাপট এবং এর বিরুদ্ধে যেসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে তা জানার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছেন, তাদের সাথে কুরআন ও সুন্নাহর আলেমদের—যারা উম্মাহর সালাফদের আদর্শের ওপর অবিচল—পারস্পরিক সহযোগিতা থাকা। ফলে তারা তাদের ধারণা ও চিন্তাধারা পেশ করবেন, আর আলেমগণ সেগুলোর ক্ষেত্রে সহিহ (صحيح) দলিল ও সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে মহান আল্লাহর বিধান বর্ণনা করবেন।কিন্তু যারা সমসাময়িক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলেন, তারা কেবল এই বিষয়ের ওপর কথা বলার কারণেই যদি শ্রোতাদের নিকট আলেম ও মুফতিদের একজন হিসেবে গণ্য হন, তবে তা কোনোভাবেই সঠিক বলে বিবেচিত হতে পারে না। কেননা সেক্ষেত্রে তাদের কথাকে এমন এক অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করা হয় যার মাধ্যমে আলেমদের ফতোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং তাদের ইজতিহাদ ও সিদ্ধান্তসমূহকে খণ্ডন করা হয়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১১)
خطأ (العالم) لا يسقطه:ومن المهم بيانه في هذا المقام أنه قد يخطئ عالم ما في حكمه على مسألة معينة من تلك المسائل الواقعية وهذا أمر (حدث) ويحدث ولكن. . . هل هذا يسقط هذا العالم أو ذاك ويجعل المخالفين له يصفونه بكلمات نابية لا يجوز إيرادها عليه كأن يقال مثلا وقد قيل: هذا فقيه شرع وليس فقيه واقعفهذه قسمة تخالف الشرع والواقعفكلامهم المشار إليه كله كأنه يوجب على علماء الكتاب والسنة أن يكونوا أيضا عارفين بالاقتصاد والاجتماع والسياسة والنظم العسكرية وطرق استعمال الأسلحة الحديثة ونحو هذا وذاكولست أظن أن هناك أنسانا عاقلا يتصور اجتماع هذه العلوم والمعارف كلها في صدر إنسان مهما كان عالما أو (كاملا)
বিদগ্ধ আলেম (العالم)-এর ভুল তাকে মর্যাদাচ্যুত করে না:এই পর্যায়ে এটি স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ যে, বাস্তব জীবনের বাস্তবসম্মত বিষয়াদির মধ্য থেকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে গিয়ে কোনো একজন বিদগ্ধ আলেম (العالم) ভুল করতে পারেন; আর এটি এমন একটি বিষয় যা অতীতে সংঘটিত হয়েছে (حدث) এবং বর্তমানেও ঘটছে। কিন্তু... এটি কি সেই আলেমকে (العالم) মর্যাদাচ্যুত করবে এবং তার বিরোধীদেরকে তার সম্পর্কে এমন সব অশালীন শব্দ ব্যবহারের সুযোগ দেবে যা তার শানে উচ্চারণ করা বৈধ নয়? যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা হয়ে থাকে এবং ইতোমধ্যেই বলা হয়েছে: "তিনি শরিয়তের ফকিহ, কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির ফকিহ নন।"এই বিভাজন শরিয়ত এবং বাস্তব পরিস্থিতির পরিপন্থী।তাদের নির্দেশিত এই সকল কথার সারমর্ম যেন কিতাব ও সুন্নাহর আলেমদের ওপর এটিও আবশ্যক করে দেয় যে, তাদেরকে অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতি, সামরিক ব্যবস্থা এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহারের পদ্ধতি ও এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়েও অভিজ্ঞ হতে হবে।আমি মনে করি না যে, কোনো বিবেকসম্পন্ন মানুষ এমনটি কল্পনা করতে পারেন যে, কোনো একজন ব্যক্তির হৃদয়ে এই সমস্ত জ্ঞান ও বিজ্ঞানের সমাবেশ ঘটতে পারে, তিনি যত বড় বিদগ্ধ আলেম (العالم) বা গুণাবলীতে পরিপূর্ণ (كاملا) স্তরেরই হোন না কেন।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১২)
خطأ (الجهل) بالواقع:وقد سمعنا أيضا عن أناس يقولون: (ما يهمنا نحن أن نعرف هذا الواقع) فهذا إن وقع خطا أيضافالعدل أن يقال: لا بد في كل علم من العلوم أن يكون هناك عارفون به متخصصون فيه يتعاونون فيما بينهم تعاونا إسلاميا أخويا صادقا لا حزبية فيه ولا عصبية ليحققوا مصلحة الأمة الإسلامية وإقامة ما ينشده كل مسلم من إيجاد المجتمع الإسلامي وتطبيق شرع الله في أرضهفكل تلك العلوم واجبة وجوبا كفائيا على مجموع علماء المسلمين وليس من الواجب في شيء أن يجمعها فرد واحد فضلا عن استحالة ذلك واقعافمثلا: لا يجوز للطبيب أن يسوغ أحيانا القيام بعملية جراحية معينة إلا إذا استعان برأي العالم الفقيه بكتاب الله سبحانه وبسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلى منهج السلف الصالح إذ من الصعب إن لم نقل: من المستحيل أن يكون الطبيب المتمكن في علمه عارفا أيضا بالكتاب والسنة متمكنا من فقههما ومعرفة أحكامهما
বাস্তবতা সম্পর্কে অজ্ঞতা (الجهل) জনিত ভুল:আমরা এমন লোকদের সম্পর্কেও শুনেছি যারা বলেন: "এই বাস্তবতা জানা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়"—এটি যদি বলা হয়ে থাকে তবে তাও একটি ভুল।ন্যায়সংগত কথা হলো: প্রতিটি শাস্ত্রেই এমন বিশেষজ্ঞ থাকা আবশ্যক যারা দলাদলি বা সংকীর্ণতা বর্জন করে ইসলামের ভিত্তিতে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করবেন, যাতে তারা মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ সাধন করতে পারেন এবং প্রতিটি মুসলিম যা আকাঙ্ক্ষা করে—অর্থাৎ একটি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং আল্লাহর জমিনে তাঁর বিধানের প্রয়োগ—তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়।এই সকল শাস্ত্র চর্চা করা মুসলিম আলেম সমাজের ওপর সামগ্রিকভাবে ফরজে কিফায়া বা সামষ্টিক আবশ্যকতা (وجوبا كفائيا)। একজন ব্যক্তির পক্ষে একাই সব জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক নয়, বরং বাস্তবে তা অসম্ভবও বটে।উদাহরণস্বরূপ: একজন চিকিৎসকের জন্য মাঝে মাঝে বিশেষ কোনো অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা বৈধ হবে না যতক্ষণ না তিনি আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন ফকিহ (الفقيه) এবং সালফে সালেহীন (السلف الصالح)-এর পথ বা পদ্ধতি (منهج) অনুসরণকারী আলেমের শরণাপন্ন হন। কেননা, একজন চিকিৎসকের পক্ষে নিজ শাস্ত্রে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি কুরআন ও সুন্নাহ (سنة) সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখা এবং তাদের ফিকহ (فقه) ও আহকাম বা বিধানসমূহ অনুধাবনে পারদর্শী হওয়া অত্যন্ত কঠিন, বরং তা প্রায় অসম্ভব।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
التأكيد على وجوب التعاون:لذلك لا بد من التعاون عملا بقول رب العالمين في كتابه الكريم:) وتعاونوا على البر والتقوى ولا تعاونوا على الإثم والعدوان ( [المائدة:] وبذلك تتحقق المصالح المرجوة للأمة الإسلاميةوهذه المسألة من البداهة بمكان فإن المسلم لا يكاد يتصور عالما فقيها في الكتاب والسنة ثم هو مع ذلك طبيب خريت ثم هو مع ذلك يعرف كما يقولون اليوم (فقه الواقع) إذ بقدر اشتغاله بهذا العلم ينشغل عن ذاك العلم وبقدر اهتمامه بذاك العلم ينصرف عن هذا العلم. . . وهكذاولا يكون الكمال كما ذكرت آنفا إلا بتعاون هؤلاء جميعا كل في اختصاصه مع الآخرين وبذلك وبه فقط تتحقق المقاصد الشرعية لكل المسلمين وينجون من الخسران المبين كما قال رب العالمين:) والعصر إن الإنسان لفيخسر إلا الذين آمنوا وعملوا الصالحات وتواصوا بالحق وتواصوا بالصبر (
সহযোগিতার আবশ্যকতা নিশ্চিতকরণ:তাই বিশ্বজগতের প্রতিপালকের তাঁর পবিত্র গ্রন্থে বর্ণিত নির্দেশ অনুযায়ী পরস্পর সহযোগিতা করা আবশ্যক: (তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে পরস্পরকে সহযোগিতা করো এবং গুনাহ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না) [আল-মায়িদাহ:] এর মাধ্যমেই মুসলিম উম্মাহর কাঙ্ক্ষিত কল্যাণসমূহ অর্জিত হবে।আর বিষয়টি অত্যন্ত স্বতঃসিদ্ধ; কারণ একজন মুসলিম এমন কোনো ব্যক্তিকে কল্পনা করতে পারে না যিনি কিতাব ও সুন্নাহর বিশেষজ্ঞ ফকীহ (فقيه), আবার একই সাথে তিনি একজন সুদক্ষ চিকিৎসকও বটে; আবার এর পাশাপাশি তিনি বর্তমানকালের পরিভাষায় বাস্তবতার জ্ঞান (فقه الواقع)-ও রাখেন। কেননা তিনি এই জ্ঞান অর্জনে যতটুকু মগ্ন থাকবেন, অন্য জ্ঞান থেকে ততটুকুই বিমুখ থাকবেন এবং ওই জ্ঞানের প্রতি যতটুকু মনোযোগী হবেন, এই জ্ঞান থেকে ততটুকুই বিমুখ হবেন... এভাবেই চলতে থাকে।আমি ইতিপূর্বে যেমনটি উল্লেখ করেছি, পূর্ণতা কেবল তখনই সম্ভব যখন এই বিশেষজ্ঞগণ নিজ নিজ ক্ষেত্রে অন্যের সাথে সহযোগিতা করবেন। কেবল এর মাধ্যমেই এবং শুধুমাত্র এভাবেই সকল মুসলিমের জন্য শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ (المقاصد الشرعية) বাস্তবায়িত হবে এবং তারা সুস্পষ্ট ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবে; যেমনটি বিশ্বজগতের প্রতিপালক বলেছেন: (সময়ের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যেনিমজ্জিত। কিন্তু তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে হকের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।)
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الغلو فيما لابد منه:لكن الذي لاحظناه ونلاحظه أن للعواطف الحماسية الجامحة التي لا حدود لها: آثارا سلبية متعددة منها الغلو فيما لا بد منه إذ الواجب الذي لا بد منه يقسم إلى قسمين:الأول: الفرض العيني وهذا يجب على كل مسلمالثاني: الفرض الكفائي وهو ما إذا قام به البعض سقط عن الباقينفلا يجوز أن نجعل الفرض الكفائي كالفرض العيني متساويين في الحكمولو أننا قلنا تنزلا: يجب على طلاب العلم الصاعدين أن يكونوا عارفين بفقه الواقع فلا يمكن أن نطلق هذا الكلام في علماء المسلمين الكبار فضلا عن أن نلزم طلاب العلم بوجوب معرفة الواقع وما يترتب على هذه المعرفة من فقه يعطي لكل حالة حكمها
অপরিহার্য বিষয়সমূহে অতিরঞ্জন (الغلو):কিন্তু আমরা যা লক্ষ্য করেছি এবং করছি তা হলো, লাগামহীন উচ্ছ্বসিত আবেগের বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো অপরিহার্য বিষয়সমূহে অতিরঞ্জন (الغلو) করা; কেননা অপরিহার্য ওয়াজিব (الواجب) দুই ভাগে বিভক্ত:প্রথমত: ফরজে আইন (الفرض العيني), যা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যক।দ্বিতীয়ত: ফরজে কেফায়া (الفرض الكفائي), যা একদল লোক আদায় করলে বাকিদের ওপর থেকে দায়িত্ব রহিত হয়ে যায়।সুতরাং বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে ফরজে কেফায়াকে (الفرض الكفائي) ফরজে আইনের (الفرض العيني) সমপর্যায়ভুক্ত করা বৈধ নয়।যদি আমরা তর্কের খাতিরে ধরেও নিই যে, উদীয়মান ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য সমসাময়িক পরিস্থিতির ফিকহ (فقه الواقع) সম্পর্কে অবগত হওয়া আবশ্যক, তবুও বড় মাপের মুসলিম আলেমদের ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে এই কথা বলা সম্ভব নয়; বরং ইলম অন্বেষণকারীদের ওপর বাস্তবতাকে জানা এবং সেই বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে উদ্ভূত ফিকহ (فقه) — যা প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য যথাযথ বিধান (حكم) প্রদান করে — তা আবশ্যক করা তো সংগতই নয়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
لا ينكر (فقه الواقع) :وكذلك لا يجوز والحالة هذه أن ينكر أحد من طلاب العلم ضرورة هذا الفقه بالواقع لأنه لا يمكن الوصول إلى تحقيق الضالة المنشودة بإجماع المسلمين ألا وهي التخلص من الاستعمار الكافر للبلاد الإسلامية أو على الأقل بعضها إلا بأن نعرف ما يتآمرون به أو ما يجتمعون عليه لنحذره ونحذر منه حتى لا يستمر استعمارهم واستعبادهم للعالم الإسلامي وهذا لا يكون جزء منه إلا بتربية الشباب تربية عقائدية علمية منهجية قائمة على أساس التصفية للإسلام من الشوائب التي علقت به ومبنية على قاعدة التربية على الإسلام المصفى كما أنزله على قلب رسول صلى الله عليه وسلم
বাস্তব পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট ফিকহ (فقه الواقع) অস্বীকার করা যায় না:
অনুরূপভাবে, এই পরিস্থিতিতে ইলম অন্বেষণকারীদের (طلاب العلم) মধ্য থেকে কারও পক্ষেই বাস্তব পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট এই ফিকহ বা জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করা বৈধ নয়। কারণ, মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়—যা হলো মুসলিম দেশসমূহ অথবা অন্ততপক্ষে সেগুলোর কিছু অংশ থেকে কাফিরদের উপনিবেশ (استعمار) থেকে মুক্তি লাভ করা—যদি না আমরা তাদের ষড়যন্ত্র বা ঐসব বিষয় সম্পর্কে অবগত হই যা নিয়ে তারা একত্র হয়, যেন আমরা নিজেরা সতর্ক থাকতে পারি এবং অন্যদেরও সতর্ক করতে পারি, যাতে মুসলিম বিশ্বের ওপর তাদের এই উপনিবেশ ও দাসত্বের ধারা অব্যাহত না থাকে। আর এর একটি অংশ তখনই সম্ভব হবে, যখন তরুণ সমাজকে একটি আকিদাগত (عقائدية), ইলমি (علمية) এবং পদ্ধতিগত (منهجية) প্রক্রিয়ায় গড়ে তোলা হবে; যা ইসলামকে তার সাথে যুক্ত হওয়া কলুষতা থেকে পরিশুদ্ধ করার (تصفية) মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং সেই বিশুদ্ধ ইসলামের ওপর তারবিয়াত বা গঠনের (تربية) ওপর ভিত্তি করে নির্মিত, যেভাবে তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হৃদয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بين العلماء والحكام:ومن الأمور التي ينبغي ذكرها هنا: أن الذين يستطيعون حمل الأمة على ما يجب عليها وجوبا عينيا أو كفائيا ليس هم الخطباء المتحمسين ولا الفقهاء النظريين وإنما هم الحكام الذين بيدهم الأمر والتنفيذ والحل والعقد وليس أيضا أولئك المتحمسين من الشباب أو العاطفيين من الدعاةفعلى الخطباء والعلماء والدعاة أن يربوا المسلمين على قبول حكم الإسلام والاستسلام له ثم دعوة الحكام بالتي هي أحسن للتي هي أقوم إلى أن يستعينوا بالفقهاء والعلماء [فهم للمسلمين جماعات وأفرادا ضياء السبيل ومنار الطريق وعلى نهجهم يسيرون] على اختلاف علمهم وتنوع فقههم فقه الكتاب والسنة فقه اللغة فقه السنن الكونية فقه الواقع. . . وغير ذلك من مهمات إعمالا منهم للمبدأ الإسلامي العظيم مبدأ الشورى ويومئذ تستقيم الأمور ويفرح المؤمنون بنصر الله) فإن أعرضوا فما أرسلناك عليهم حفيظا ( [الشورى: 4]
আলেম ও শাসকদের মধ্যবর্তী সম্পর্ক:এক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো: উম্মাহর ওপর অর্পিত ব্যক্তিগত আবশ্যকতা (وجوبا عينيا) বা সামষ্টিক আবশ্যকতা (وجوبا كفائيا) পালনে যারা সক্ষম, তারা কেবল অতি-উৎসাহী খতিব বা তাত্ত্বিক ফকিহগণ নন; বরং তারা হলেন শাসকগোষ্ঠী, যাদের হাতে কর্তৃত্ব, বাস্তবায়ন এবং নীতিনির্ধারণের (الحل والعقد) ক্ষমতা ন্যস্ত। এমনকি তারা যুবকদের মধ্য থেকে সেই অতি-উৎসাহী বা দাঈদের মধ্য থেকে অতি-আবেগপ্রবণ ব্যক্তিরাও নন।অতএব, খতিব, আলেম ও দাঈদের দায়িত্ব হলো মুসলমানদের ইসলামের বিধান গ্রহণ ও তার নিকট আত্মসমর্পণ করার ওপর গড়ে তোলা। অতঃপর শাসকদেরকে সর্বোত্তম ও সুদৃঢ় পন্থায় দাওয়াত প্রদান করা, যাতে তারা ফকিহ ও আলেমদের সহযোগিতা গ্রহণ করেন। [কেননা ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উভয় ক্ষেত্রে মুসলিমদের জন্য তারা হলেন পথের দিশারী ও আলোকবর্তিকা এবং তাদের দেখানো পথেই তারা পরিচালিত হন।] তাদের ইলমের ভিন্নতা এবং প্রজ্ঞার বৈচিত্র্য অনুযায়ী—যেমন কুরআন ও সুন্নাহর প্রজ্ঞা (فقه الكتاب والسنة), ভাষাতত্ত্বের প্রজ্ঞা (فقه اللغة), মহাজাগতিক বিধানের প্রজ্ঞা (فقه السنن الكونية), বাস্তবতার প্রজ্ঞা (فقه الواقع) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ—যাতে তারা ইসলামের মহান মূলনীতি 'পরামর্শ' (شورى)-এর বিধানটি কার্যকর করতে পারেন। আর সেদিনই সকল বিষয় সুসংহত হবে এবং মুমিনগণ আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে। (অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আমি আপনাকে তাদের ওপর রক্ষক হিসেবে প্রেরণ করিনি) [আশ-শূরা: ৪]
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
علة ذل المسلمين:ولا بد هنا من بيان أمر مهم جدا يغفل عنه الكثيرون فأقول: ليست علة بقاء المسلمين فيما هم عليه من الذل واستعباد الكفار حتى اليهود لبعض الدول الإسلامية هي جهل الكثيرين من أهل العلم بفقه الواقع أو عدم الوقوف على مخططات الكفار ومؤامراتهم كما يتوهم
মুসলিমদের লাঞ্ছনার কারণ (علة):এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করা আবশ্যক যা অনেকেই উপেক্ষা করেন; আমি বলব: মুসলিমরা বর্তমানে যে লাঞ্ছনা এবং কাফেরদের—এমনকি কিছু মুসলিম রাষ্ট্রের ওপর ইহুদিদেরও—দাসত্বের মধ্যে রয়েছে, তার স্থায়িত্বের কারণ (علة) আলেমদের এক বিরাট অংশের ‘বর্তমান পরিস্থিতির ফিকহ’ (فقه الواقع) সম্পর্কে অজ্ঞতা অথবা কাফেরদের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অবগত না থাকা নয়, যেমনটি অনেকে ধারণা করে থাকেন।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
من أغلاط بعض (الدعاة) :ولذلك فأنا أرى أن الاهتمام بفقه الواقع اهتماما زائدا بحيث يكون منهجا للدعاة والشباب يربون ويتربون عليه ظانين أنه سبيل النجاة: خطأ ظاهر وغلط واضحوالأمر الذي لا يختلف فيه من الفقهاء اثنان ولا ينتطح فيه عنزان: أن العلة الأساسية للذل الذي حط في المسلمين رحاله:أولا: جهل المسلمين بالإسلام الذي أنزله الله على قلب نبينا عليه الصلاة والسلاموثانيا: أن كثيرا من المسلمين الذين يعرفون أحكام الإسلام في بعض شؤونهم لا يعملون بها
কতিপয় (দাঈর) ভুলভ্রান্তির অন্তর্ভুক্ত:
আর এই কারণে আমি মনে করি যে, ‘ফিকহুল ওয়াকি’ (সমসাময়িক বাস্তবতা)-এর প্রতি এমন অত্যধিক গুরুত্ব প্রদান করা—যাতে করে তা দাঈ এবং যুবকদের জন্য এমন এক মানহাজ বা কর্মপদ্ধতিতে পরিণত হয় যার ওপর ভিত্তি করে তারা নিজেরা পরিচালিত হয় এবং অন্যদের গড়ে তোলে, এই বিশ্বাস পোষণ করে যে এটিই নাজাত বা মুক্তির পথ—তা একটি সুস্পষ্ট ভুল ও প্রকাশ্য ভ্রান্তি।
আর এমন একটি বিষয় যাতে দুজন ফকিহও দ্বিমত পোষণ করবেন না এবং যাতে বিন্দুমাত্র বিতর্কের অবকাশ নেই, তা হলো: মুসলিমদের ওপর যে লাঞ্ছনা ও অবমাননা জেঁকে বসেছে তার মূল কারণ:
প্রথমত: ইসলাম সম্পর্কে মুসলিমদের অজ্ঞতা—যে ইসলাম আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছেন।
এবং দ্বিতীয়ত: অনেক মুসলিম যারা তাদের জীবনের কতিপয় ক্ষেত্রে ইসলামের বিধানাবলি জানা সত্ত্বেও সেগুলো অনুযায়ী আমল করেন না।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
التصفية والتربية:فإذا: مفتاح عودة مجد الإسلام: تطبيق العلم النافع والقيام بالعمل الصالح وهو أمر جليل لا يمكن للمسلمين أن يصلوا إليه إلا بإعمال منهج التصفية والتربية وهما واجبان مهمان عظيمان وأردت بالأول منهما أمورا:الأول: تصفية العقيدة الإسلامية مما هو غريب عنها كالشرك وجحد الصفات الإلهية وتأويلها ورد الأحاديث الصحيحة لتعلقها بالعقيدة ونحوهاالثاني: تصفية الفقه الإسلامي من الاجتهادات الخاطئة المخالفة للكتاب والسنة وتحرير العقول من آصار التقليد وظلمات التعصبالثالث: تصفية كتب التفسير والفقه والرقائق وغيرها من الأحاديث الضعيفة والموضوعة والإسرائيليات والمنكراتوأما الواجب الآخر: فأريد به تربية الجيل الناشئ على هذا الإسلام المصفى من كل ما ذكرنا تربية إسلامية صحيحة منذ نعومة أظفاره دون أي تأثر بالتربية الغربية الكافرةومما لا ريب فيه أن تحقيق هذين الواجبين يتطلب جهودا جبارة مخلصة بين المسلمين كافة: جماعات وأفرادا من الذين يهمهم حقا إقامة المجتمع الإسلامي المنشود كل في مجاله واختصاصه
পরিশোধন (تصفية) ও প্রতিপালন (تربية):সুতরাং: ইসলামের গৌরব পুনরুদ্ধারের চাবিকাঠি হলো: উপকারী জ্ঞান অর্জন এবং সেই অনুযায়ী নেক আমল সম্পাদন। এটি একটি সুমহান বিষয় যা অর্জন করা মুসলিমদের পক্ষে সম্ভব নয় ‘পরিশোধন (تصفية)’ ও ‘প্রতিপালন (تربية)’ পদ্ধতি কার্যকর করা ব্যতীত। এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহান আবশ্যিক কাজ। প্রথমটি (পরিশোধন) দ্বারা আমি কয়েকটি বিষয়কে উদ্দেশ্য করেছি:প্রথমত: ইসলামি আকিদাহকে তার বহির্ভূত বিষয়সমূহ থেকে মুক্ত করা; যেমন—শিরক, আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করা ও সেগুলোর অপব্যাখ্যা করা এবং আকিদাহ সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে সঠিক (صحيحة) হাদিসগুলো প্রত্যাখ্যান করা ইত্যাদি।দ্বিতীয়ত: ইসলামি ফিকহকে কিতাব ও সুন্নাহর পরিপন্থী ভুল ইজতিহাদসমূহ থেকে মুক্ত করা এবং অন্ধ অনুকরণ (تقليد) ও গোঁড়ামির অন্ধকার থেকে বুদ্ধিবৃত্তিকে স্বাধীন করা।তৃতীয়ত: তাফসির, ফিকহ, হৃদয়গলানো বর্ণনা (رقائق) ও অন্যান্য গ্রন্থসমূহকে দুর্বল (ضعيفة), জাল (موضوعة), ইসরাঈলি বর্ণনা (إسرائيليات) ও অস্বীকৃত (منكرات) বিষয়াদি থেকে মুক্ত করা।আর দ্বিতীয় আবশ্যিক দায়িত্বটি দ্বারা আমি উদ্দেশ্য করেছি: উদীয়মান প্রজন্মকে আমাদের উল্লিখিত বিষয়সমূহ হতে মুক্ত এই বিশুদ্ধ ইসলামের ওপর শৈশব থেকেই সঠিক ইসলামি পদ্ধতিতে গড়ে তোলা, যেন তারা কাফির পশ্চিমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির দ্বারা কোনোভাবেই প্রভাবিত না হয়।এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই দুটি দায়িত্ব পালন করার জন্য সকল মুসলিমের—ব্যক্তি ও দল নির্বিশেষে—একনিষ্ঠ ও কঠোর প্রচেষ্টার প্রয়োজন; বিশেষ করে তাদের জন্য যারা কাঙ্ক্ষিত ইসলামি সমাজ বিনির্মাণে সত্যিই আগ্রহী, প্রত্যেকের নিজ নিজ ক্ষেত্র ও বিশেষত্ব অনুযায়ী কাজ করা জরুরি।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২০)
الإسلام الصحيح:فلا بد إذا من أن يعنى العلماء العارفون بأحكام الإسلام الصحيح بدعوة المسلمين إلى هذا الإسلام الصحيح وتفهيمهم إياه ثم تربيتهم عليه كما قال الله تعالى:) ولكن كونوا ربانيين بما كنتم تعلمون الكتاب وبما كنتم تدرسون ( [آل عمران: 7]هذا هو الحل الوحيد الذي جاءت به نصوص الكتاب والسنة كما في قوله تعالى:) إن تنصروا الله ينصركم ويثبت أقدامكم ( [محمد:] وغيره كثير
সঠিক (صحيح) ইসলাম:অতএব, সঠিক (صحيح) ইসলামের বিধানসমূহ (أحكام) সম্পর্কে প্রাজ্ঞ আলেমদের জন্য এটি আবশ্যক যে, তাঁরা মুসলিমদের এই সঠিক (صحيح) ইসলামের প্রতি দাওয়াত দেবেন, তাঁদেরকে এটি অনুধাবন করাবেন এবং অতঃপর এর ওপর তাঁদের লালন-পালন করবেন; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "বরং তোমরা রব্বানী হও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে।" [আল-ইমরান: ৭]এটিই একমাত্র সমাধান যা কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ (نصوص) দ্বারা উপস্থাপিত হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে:"যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদযুগল সুদৃঢ় করবেন।" [মুহাম্মদ:] এবং এ ছাড়া আরও অনেক আয়াত।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২১)
كيف يأتي نصر الله؟فمن المتفق عليه دون خلاف ولله الحمد بين المسلمين أن معنى) إن تنصروا الله (أي: إن عملتم بما أمركم به: نصركم الله على أعدائكمومن أهم النصوص المؤيدة لهذا المعنى مما يناسب واقعنا الذي نعيشه تماما حيث وصف الدواء والعلاج معا قوله صلى الله عليه وسلم: (إذا تبايعتم بالعينة وأخذتم أذناب البقر ورضيتم بالزرع وتركتم الجهاد سلط الله عليكم ذلا لا ينزعه عنكم حتى ترجعوا إلى دينكم) [وهو مخرج في كتابي (سلسلة الأحاديث الصحيحة) (رقم: 11]
আল্লাহর সাহায্য কীভাবে আসে?আলহামদুলিল্লাহ, মুসলিমদের মাঝে কোনো মতভেদ ছাড়াই এটি সর্বসম্মত (متفق عليه) যে, "যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো" আয়াতের অর্থ হলো: যদি তোমরা তাঁর নির্দেশিত পথে আমল করো, তবে আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে তোমাদের সাহায্য করবেন।আমাদের বর্তমান বাস্তবতার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ এই অর্থের সপক্ষে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বক্তব্য হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, যেখানে তিনি রোগ ও প্রতিকার উভয়ই বর্ণনা করেছেন: "যখন তোমরা ঈনাহ (সুদি পদ্ধতি) অনুযায়ী ক্রয়-বিক্রয় করবে, গবাদি পশুর লেজ আঁকড়ে ধরবে, চাষাবাদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে এবং জিহাদ ত্যাগ করবে, তখন আল্লাহ তোমাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেবেন; যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের দ্বীনের পথে ফিরে আসবে, ততক্ষণ তিনি তা অপসারিত করবেন না।" [এটি আমার সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ (নম্বর: ১১) গ্রন্থে বর্ণিত (مخرج) হয়েছে।]
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২২)
سبب (مرض) المسلمين:فإذا: ليس مرض المسلمين اليوم هو جهلهم بعلم معين أقول هذا معترفا بأن كل علم ينفع المسلمين فهو واجب بقدره ولكن ليس سبب الذل الذي لحق بالمسلمين جهلهم بهذا الفقه المسمى اليوم (فقه الواقع) وإنما العلة كما جاء في هذا الحديث الصحيح هي إهمالهم العمل بأحكام الدين كتابا وسنةفقوله صلى الله عليه وسلم: (إذا تبايعتم بالعينة) إشارة إلى نوع من المعاملات الربوية ذات التحايل على الشرعوقوله صلى الله عليه وسلم: (وأخذتم أذناب البقر) إشارة إلى الاهتمام بأمور الدنيا والركون إليها وعدم الاهتمام بالشريعة وأحكامهاومثله قوله صلى الله عليه وسلم: (ورضيتم بالزرع)وقوله صلى الله عليه وسلم: (وتركتم الجهاد) هو ثمرة الخلود إلى الدنيا كما في قوله تعالى:) يا أيها الذين آمنوا ما لكم إذا قيل لكم انفروا في سبيل الله اثاقلتم إلى الأرض أرضيتم بالحياة الدنيا من الآخرة فما متاع الحياة الدنيا في الآخرة إلا قليل ( [التوبة: 3]وقوله صلى الله عليه وسلم: (. . . سلط الله عليكم ذلا لا ينزعه عنكم حتى ترجعوا إلى دينكم) فيه إشارة صريحة إلى أن الدين الذي يجب الرجوع إليه هو الذي ذكره الله عز وجل في أكثر من آية كريمة كمثل قوله سبحانه:) اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعمتي ورضت لكم الإسلام دينا ( [آل عمران: 1]وفي تعليق الإمام مالك المشهور على هذه الآية ما يبين المراد حيث قال رحمه الله: (وما لم يكن يومئذ دينا فلا يكون اليوم دينا ولا يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح به أولها)
মুসলমানদের (অসুস্থতার) কারণ:
অতএব: বর্তমানে মুসলমানদের অসুস্থতা কোনো বিশেষ জ্ঞান সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা নয়; আমি এ কথা স্বীকার করেই বলছি যে, প্রত্যেক জ্ঞান যা মুসলমানদের উপকারে আসে তা তার গুরুত্ব অনুযায়ী আবশ্যক। কিন্তু মুসলমানদের ওপর যে লাঞ্ছনা আপতিত হয়েছে, তার কারণ বর্তমানে (সমসাময়িক ফিকহ (فقه الواقع)) নামে পরিচিত বিষয়টি সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা নয়। বরং এর মূল কারণ (علة), যেমনটি এই সহীহ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে—তা হলো কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক দ্বীনের বিধানাবলি পালনে তাদের অবহেলা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (যখন তোমরা ঈনাহ (العينة) পদ্ধতিতে কেনাবেচা করবে)—এটি শরীয়তের সাথে প্রতারণামূলক এক প্রকার সুদি লেনদেনের প্রতি ইঙ্গিত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (এবং তোমরা গরুর লেজ ধরবে)—এটি জাগতিক বিষয়ের প্রতি অতি গুরুত্ব প্রদান, তার প্রতি ঝুঁকে পড়া এবং শরীয়ত ও এর বিধানাবলির প্রতি অনাগ্রহের প্রতি ইঙ্গিত।
অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (এবং তোমরা কৃষিকাজ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবে)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (এবং তোমরা জিহাদ (الجهاد) বর্জন করবে)—এটি দুনিয়ার প্রতি আসক্তিরই ফল, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: "হে মুমিনগণ, তোমাদের কী হলো যে, যখন তোমাদের বলা হয় আল্লাহর পথে অভিযানে বের হও, তখন তোমরা ভারাক্রান্ত হয়ে জমিনের দিকে ঝুঁকে পড়ো? তোমরা কি আখেরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনেই সন্তুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখেরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের ভোগসামগ্রী অতি সামান্য।" [আত-তাওবাহ: ৩]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: (...আল্লাহ তোমাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেবেন, যা তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত অপসারিত করবেন না যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের দ্বীনের দিকে ফিরে আসবে)—এতে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে, যে দ্বীনের দিকে ফিরে আসা আবশ্যক তা মহান আল্লাহ একাধিক আয়াতে উল্লেখ করেছেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" [আল ইমরান: ১]
এই আয়াতের ওপর ইমাম মালিক-এর বিখ্যাত ব্যাখ্যায় বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়েছে, যেখানে তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সেদিন যা দ্বীন হিসেবে গণ্য ছিল না, আজ তা দ্বীন হতে পারে না। আর এই উম্মতের শেষাংশকে কেবল তা-ই সংশোধন করতে পারে যা এর প্রথমাংশকে সংশোধন করেছিল।"
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الغلو في (فقه الواقع) :وأما هؤلاء الدعاة الذين يدندنون اليوم حول (فقه الواقع) ويفخمون أمره ويرفعون شأنه وهذا حق في الأصل فإنهم يغالون فيه حيث يفهمون ويفهمون ربما من غير قصد أنه يجب على كل عالم بل على كل طالب علم أن يكون عارفا بهذا الفقهمع أن كثيرا من هؤلاء الدعاة يعلمون جيدا أن هذا الدين الذي ارتضاه ربنا عز وجل في أمة الإسلام قد تغيرت مفاهيمه منذ قديم الزمان حتى فيما يتعلق بالعقيدة فنجد أناسا كثيرين جدا يشهدون أن (لا إله إلا الله) ويقومون بسائر الأركان بل قد يتعبدون بنوافل من العبادات كقيام الليل والصدقات ونحو ذلك ولكنهم انحرفوا عن مثل قوله تعالى:) فاعلم أنه لا إله إلا الله ( [محمد: 1]
(فقه الواقع) বা সমসাময়িক বাস্তবতার উপলব্ধির ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন (غلو): আর ওই সকল দাঈ (আহ্বায়ক), যারা বর্তমানে (فقه الواقع) বা সমসাময়িক বাস্তবতার উপলব্ধি নিয়ে বারবার আলোচনা করেন এবং এর গুরুত্বকে বড় করে তুলে ধরেন ও উচ্চমর্যাদা দান করেন—যদিও বিষয়টি মূলত সত্য—তবে তারা এই ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন (غلو) করছেন। কেননা তারা নিজেরা এমনটি বুঝছেন এবং সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্যদেরও এমনটি বোঝাচ্ছেন যে, প্রত্যেক আলিম, বরং প্রত্যেক তালিবে ইলমের (জ্ঞানান্বেষী) জন্যই এই ফিকহ সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকা আবশ্যক। অথচ এই দাঈদের অনেকেই স্পষ্টভাবে জানেন যে, মহান আল্লাহ মুসলিম উম্মাহর জন্য যে দ্বীনকে পছন্দ করেছেন, দীর্ঘকাল আগে থেকেই সেই দ্বীনের মৌলিক ধারণাগুলো পরিবর্তিত হয়ে গেছে, এমনকি আকিদার (বিশ্বাস) ক্ষেত্রেও। তাই আমরা এমন অনেক মানুষকে দেখতে পাই যারা সাক্ষ্য দেয় যে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই', তারা ইসলামের অন্যান্য রুকনসমূহ পালন করে, এমনকি তারা কিয়ামুল লাইল, দান-সদকা ও এই জাতীয় নফল (نوافل) ইবাদতও করে থাকে; কিন্তু তারা মহান আল্লাহর এই বাণীর মর্ম থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে: “অতএব জেনে রাখুন, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।” [মুহাম্মাদ: ১]
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
واقع (الدعاة) مع (فقه الواقع) :ونحن نعلم أن كثيرا من أولئك (الدعاة) يشاركوننا في معرفة سبب سوء الواقع الذي يعيشه المسلمون اليوم جذريا ألا وهو بعدهم عن الفهم الصحيح للإسلام فيما يجب على كل فرد وليس فيما يجب على بعض الأفراد فقط فالواجب: تصحيح العقيدة وتصحيح العبادة وتصحيح السلوكأين من هذه الأمة من قام بهذا الواجب العيني وليس الواجب الكفائي؟ ؟ إذ الواجب الكفائي يأتي بعد الواجب العيني وليس قبلهولذلك: فإن الانشغال والاهتمام بدعوة الخاصة من الأمة الإسلامية إلى العناية بواجب كفائي ألا وهو (فقه الواقع) وتقليل الاهتمام بالفقه الواجب عينيا على كل مسلم وهو (فقه الكتاب والسنة) بما أشرت إليه: هو إفراط وتضييع [أنظر ما سبق (ص 14] لما يجب وجوبا مؤكدا على كل فرد من أفراد الأمة المسلمة وغلو في رفع شأن أمر لا يعدو كونه على حقيقته واجبا كفائيا
(দায়ীগণের (الدعاة)) সাথে (সমসাময়িক বাস্তবতার জ্ঞানের (فقه الواقع)) বাস্তবতা:
আমরা জানি যে, ঐসব (আহ্বানকারীগণের (الدعاة)) অনেকেই মুসলিমরা আজ যে শোচনীয় বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করছে তার মূল কারণ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আমাদের সাথে একমত; আর তা হলো ইসলামের সঠিক উপলব্ধি থেকে তাদের বিচ্যুতি—যা প্রতিটি ব্যক্তির ওপর আবশ্যক, কেবল গুটিকতক ব্যক্তির ওপর নয়। সুতরাং আবশ্যকীয় কর্তব্য হলো: আকীদা (العقيدة) সংশোধন, ইবাদত (العبادة) সংশোধন এবং আমল ও আচরণ (السلوك) সংশোধন।
এই উম্মতের মাঝে তারা কোথায় যারা এই ব্যক্তিগত আবশ্যিক দায়িত্ব (الواجب العيني) পালনে ব্রতী হয়েছেন, যা সামষ্টিক আবশ্যিক দায়িত্ব (الواجب الكفائي) নয়? কেননা সামষ্টিক আবশ্যিক দায়িত্ব (الواجب الكفائي) তো আসে ব্যক্তিগত আবশ্যিক দায়িত্বের (الواجب العيني) পরে, তার আগে নয়।
একই কারণে: মুসলিম উম্মাহর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে একটি সামষ্টিক আবশ্যিক দায়িত্ব (واجب كفائي) তথা (সমসাময়িক বাস্তবতার জ্ঞানের (فقه الواقع)) প্রতি আহ্বান জানানোয় নিমগ্ন থাকা এবং প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ব্যক্তিগতভাবে আবশ্যকীয় এমন জ্ঞান (واجب عينيا) তথা (কুরআন ও সুন্নাহর গভীর জ্ঞানের (فقه الكتاب والسنة)) প্রতি গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া—যে বিষয়ে আমি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি—তা মূলত সীমালঙ্ঘন (إفراط) এবং অবহেলা বা বিনাশ (تضييع) [দ্রষ্টব্য: পূর্ববর্তী আলোচনা (পৃষ্ঠা ১৪)]। এটি মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি ব্যক্তির ওপর সুনিশ্চিতভাবে যা আবশ্যক তাকে বিনষ্ট করার নামান্তর এবং এমন একটি বিষয়ের গুরুত্ব বৃদ্ধিতে অতিরঞ্জন, যা প্রকৃত বিচারে একটি সামষ্টিক আবশ্যিক দায়িত্বের (واجب كفائي) অতিরিক্ত কিছু নয়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
القول الوسط الحق في (فقه الواقع) :فالأمر إذا كما قال الله تعالى:) وكذلك جعلناكم أمة وسطا ( [البقرة: 14] ففقه الواقع بمعناه الشرعي الصحيح هو واجب بلا شك ولكن وجوبا كفائيا إذا قام به بعض العلماء سقط عن سائر العلماء فضلا عن طلاب العلم فضلا عن عامة المسلمينفلذلك يجب الاعتدال بدعوة المسلمين إلى معرفة (فقه الواقع) وعدم إغراقهم بأخبار السياسة وتحليلات مفكري الغرب وإنما الواجب دائما وأبدا الدندنة حول تصفية الإسلام مما علق به من شوائب ثم تربية المسلمين: جماعات وأفرادا على هذا الإسلام المصفى وربطهم بمنهج الدعوة الأصيل:الكتاب والسنة بفهم سلف الأمة
বাস্তব পরিস্থিতির জ্ঞান (ফিকহুল ওয়াকি) সম্পর্কে মধ্যপন্থা ও সঠিক বক্তব্য:
বিষয়টি মূলত তেমনই যেমন মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী উম্মত হিসেবে সৃষ্টি করেছি" [আল-বাকারা: ১৪]। সুতরাং বাস্তব পরিস্থিতির জ্ঞান (ফিকহুল ওয়াকি) তার সঠিক (صحيح) শরয়ি অর্থে নিঃসন্দেহে একটি ওয়াজিব, তবে তা সামষ্টিক ওয়াজিব (وجوبا كفائيا); যখন আলেমদের একাংশ এটি সম্পাদন করেন, তখন অন্যান্য আলেমদের ওপর থেকে সেই আবশ্যকতা রহিত হয়ে যায়; ইলমে দ্বীনের শিক্ষার্থী কিংবা সাধারণ মুসলিমদের তো প্রশ্নই আসে না।
তাই মুসলিমদের "বাস্তব পরিস্থিতির জ্ঞান (ফিকহুল ওয়াকি)" অর্জনের দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা আবশ্যক এবং তাদেরকে রাজনৈতিক সংবাদ ও পশ্চিমা চিন্তাবিদদের বিশ্লেষণে নিমজ্জিত করা অনুচিত। বরং সর্বদা ও চিরস্থায়ী কর্তব্য হলো ইসলামকে তার সাথে যুক্ত হওয়া যাবতীয় কলুষতা থেকে পরিশুদ্ধকরণের (تصفية) বিষয়ে সচেষ্ট হওয়া এবং অতঃপর মুসলিমদের—ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগতভাবে—এই পরিশ্রুত ইসলামের ওপর গড়ে তোলা (تربية) এবং তাদেরকে দাওয়াতের মূল মানহাজের সাথে সম্পৃক্ত করা:
উম্মতের সালাফদের অনুধাবন অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহ।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وجوب المحبة والولاء:ومن الواجب على العلماء أيضا وعلى مختلف اختصاصاتهم فضلا عن بقية الأمة أن يكونوا ممتثلين قول نبيهم صلى الله عليه وسلم: (مثل المؤمنين في توادهم وتراحمهم كمثل الجسد الواحد. . .) [مخرج في (الصيحة) (1083]ولا يتحقق هذاالمثل النبوي العظيم بمعناه الرائع الجميل إلا بتعاون العلماء مع أفراد المجتمع تعليما وتعلما دعوة وتطبيقافيتعاون إذا من عرفوا فقه الشرع بأدلته وأحكامه مع من عرفوا فقه الواقع بصورته الصحيحة التطبيقية لا النظرية فأولئك يمدون هؤلاء بما عندهم من علم وفقه وهؤلاء يوقفون أولئك على ما تبين لهم ليحذروا ويحذرواومن هذا التعاون الصادق بين العلماء والدعاة على تنوع اختصاصاتهم يمكن تحقيق ما ينشده كل مسلم غيور
ভালোবাসা এবং আনুগত্যের আবশ্যকতা:উম্মাহর অবশিষ্ট জনগণের পাশাপাশি আলেমদের জন্য এবং তাঁদের বিভিন্ন বিশেষত্বের ক্ষেত্রেও এটি আবশ্যক যে, তাঁরা তাঁদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীর অনুসারী হবেন: (মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়ার উদাহরণ একটি দেহের মতো...) [সাঈহা (১০৮৩) গ্রন্থে বর্ণিত (مخرج)]এই মহান নববী উপমা তার চমৎকার ও সুন্দর অর্থসহ ততক্ষণ বাস্তবায়িত হবে না, যতক্ষণ না শিক্ষা প্রদান ও গ্রহণ এবং দাওয়াত ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমাজের ব্যক্তিবর্গের সাথে আলেমদের সহযোগিতা অর্জিত হয়।সুতরাং, যারা শরিয়তের ফিকহ বা গভীর জ্ঞানকে এর দলিল ও বিধানসহ জানেন, তারা যদি সেই ব্যক্তিদের সাথে সহযোগিতা করেন যারা বাস্তবতার ফিকহকে কেবল তাত্ত্বিকভাবে নয় বরং তার সঠিক ও প্রয়োগিক রূপে জানেন; তবে প্রথমোক্তরা তাদের ইলম ও প্রজ্ঞা দ্বারা দ্বিতীয়োক্তদের সাহায্য করবেন, আর দ্বিতীয়োক্তরা তাদের কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে সে সম্পর্কে প্রথমোক্তদের অবহিত করবেন, যাতে তারা নিজেরাও সতর্ক থাকতে পারেন এবং অন্যদেরও সতর্ক করতে পারেন।আলেম এবং দাঈদের বিভিন্ন বিশেষত্ব থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যকার এই আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই প্রত্যেক আত্মমর্যাদাশীল মুসলিম যা প্রত্যাশা করে তা অর্জন করা সম্ভব।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
خطر الطعن بالعلماء:أما الطعن في بعض العلماء أو طلاب العلم ونبزهم بجهل فقه الواقع ورميهم بما يستحيى من إيراده:فهذا خطأ وغلط ظاهر لا يجوز استمراره لأنه من التباغض الذي جاءت الأحاديث الكثيرة لتنهى المسلمين عنه بل لتأمرهم بضده من التحاب والتلافي والتعاون
ওলামায়ে কেরামের সমালোচনা (الطعن) করার ঝুঁকি:পক্ষান্তরে কিছু আলেম বা দ্বীনি জ্ঞান অন্বেষণকারীদের সমালোচনা (الطعن) করা, সমসাময়িক বাস্তবতা সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার তকমা দেওয়া এবং তাদের প্রতি এমন সব অপবাদ আরোপ করা যা উল্লেখ করতেও সংকোচ বোধ হয়:এটি একটি ভুল এবং স্পষ্ট ভ্রান্তি যা অব্যাহত রাখা বৈধ নয়। কারণ এটি সেই পারস্পরিক বিদ্বেষের অন্তর্ভুক্ত যা থেকে মুসলমানদের বিরত রাখতে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে; বরং হাদিসগুলো এর বিপরীতে পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার নির্দেশ প্রদান করেছে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
كيف نعالج الأخطاء؟وأما الواجب على أي مسلم رأى أمرا أخطأ فيه أحد العلماء أو (الدعاة) : فهو أن يقوم بتذكيره ونصحه:فإن كان الخطأ في مكان محصور: كان التنبيه في ذلك المكان نفسه دون إعلان أو إشهار وبالتي هي أحسن للتي هي أقوموإن كان الخطأ معلنا مشهورا فلا بأس من التنبيه والبيان لهذا الخطأ وعلى طريقة الإعلان ولكن كما قال الله تعالى:) ادع إلى سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة وجادلهم بالتي هي أحسن ( [النحل: 12]ومن المهم بيانه أن التخطئة المشار إليها هنا ليست التخطئة المبنية على حماسة الشباب وعواطفهم دونما علم أو بينة لا وإنما المراد: التخطئة القائمة على الحجة والبيان والدليل والبرهانوهذه التخطئة بهذه الصورة اللينة الحكيمة لا تكون إلا بين العلماء المخلصين وطلاب العلم الناصحين الذين هم في علمهم ودعوتهم على كلمة سواء مبنية على الكتاب والسنة وعلى نهج سلف الأمةأما إذا كان من يراد تخطئته من المنحرفين عن هذا المنهج الرباني فله حينئذ معاملة خاصة وأسلوب خاص يليق بقدر انحرافه وبعده عن جادة الحق والصواب
আমরা কীভাবে ভুল সংশোধন করব?আর কোনো আলেম বা (দাওয়াতদানকারী) কোনো বিষয়ে ভুল করেছেন এমনটি যদি কোনো মুসলিম দেখতে পান, তবে তার ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যক হলো তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং উপদেশ প্রদান করা:যদি ভুলটি কোনো সীমাবদ্ধ গণ্ডির ভেতরে হয়, তবে প্রচার বা প্রকাশ না করে সেই স্থানটিতেই তাকে অত্যন্ত সুন্দর ও যথাযথভাবে সতর্ক করতে হবে।আর যদি ভুলটি প্রকাশ্য ও প্রসিদ্ধ হয়, তবে সেই ভুলটি সম্পর্কে জনসমক্ষে সতর্ক করা ও বর্ণনা করাতে কোনো দোষ নেই; তবে তা হতে হবে মহান আল্লাহর বাণী অনুযায়ী: "তোমার রবের পথের দিকে আহ্বান করো হিকমত বা প্রজ্ঞা এবং উত্তম উপদেশের মাধ্যমে এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো অত্যন্ত সুন্দর পন্থায়" [আন-নাহল: ১২]এটি বর্ণনা করা গুরুত্বপূর্ণ যে, এখানে যে ভুল ধরার কথা বলা হয়েছে, তা ইলম বা সুস্পষ্ট প্রমাণ (بينة) ছাড়া যুবকদের আবেগ ও উচ্ছ্বাসের বশবর্তী হয়ে করা ভুল ধরা নয়; বরং এর উদ্দেশ্য হলো: যা প্রমাণ (حجة), বর্ণনা, দলীল (دليل) ও অকাট্য যুক্তির ওপর ভিত্তি করে ভুল সংশোধন করা।এই কোমল ও প্রজ্ঞাপূর্ণ পদ্ধতিতে ভুল সংশোধন কেবল সেই সকল নিষ্ঠাবান আলেম ও উপদেশদানকারী ইলম অন্বেষণকারীদের মধ্যেই হওয়া সম্ভব, যারা তাদের জ্ঞান ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে কিতাব ও সুন্নাহ এবং উম্মতের সালাফ (سلف) গণের মানহাজের ওপর ভিত্তি করে এক অভিন্ন নীতির ওপর অটল রয়েছেন।কিন্তু যাকে ভুল সংশোধন করতে চাওয়া হচ্ছে সে যদি এই রব্বানী মানহাজ থেকে বিচ্যুত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তার জন্য বিশেষ আচরণ ও বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে, যা তার বিচ্যুতি এবং সত্য ও সঠিক পথ থেকে তার দূরত্বের মাত্রা অনুযায়ী সঙ্গতিপূর্ণ হয়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল ওয়াকি - আলবানী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
خطر (السياسة) المعاصرة:ولا بد أخيرا من تعريف المسلمين بأمر مهم جدا في هذا الباب فأقول:يجب ألا يدفعنا الرضا بفقه الواقع بصورته الشرعية أو الانشغال به إلى ولوج أبواب السياسة المعاصرة الظالم أهلها مغترين بكلمات الساسة مرددين لأساليبهم غارقين بطرائقهموإنما الواجب هو السير على السياسة الشرعية ألا وهي (رعاية شؤون الأمة) ولا تكون هذه الرعاية إلا في ضوء الكتاب والسنة وعلى منهج السلف الصالح وبيد أولي الأمر من العلماء العاملين والأمراء العادلين فإن الله يزع بالسلطان ما لا يزع بالقرآن [انظر (الدر المنثور) (4 / 99) ]أما تلك السياسة الغربية التي تفتح أبوابها وتغر أصحابها: فلا دين لها وسائر من انساق خلفها أو غرق ببحرها: أصابه بأسها وضربه جحيمها لأنه انشغل بالفرع قبل الأصل ورحم الله من قال: (من تعجل الشيء قبل أوانه: عوقب بحرمانه)والله الموفق للسدادوآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين[12]سؤال وجواب حول فقه الواقع للعلامة شيخ الإسلام الألباني
সমসাময়িক (রাজনীতি)-র বিপদ:অবশেষে মুসলমানদেরকে এই অধ্যায়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবগত করা আবশ্যক, তাই আমি বলছি:শরয়ি পদ্ধতিতে বাস্তব অবস্থার জ্ঞান (فقه الواقع)-এর প্রতি সন্তুষ্টি অথবা এতে নিমগ্ন থাকা যেন আমাদের সমসাময়িক রাজনীতির দ্বারে প্রবেশ করতে প্ররোচিত না করে—যার অনুসারীরা জালিম, যারা রাজনীতিবিদদের বাকচাতুর্যে প্রতারিত, তাদের কর্মপন্থা পুনরাবৃত্তিকারী এবং তাদের পথে নিমজ্জিত।বরং ওয়াজিব হলো শরয়ি রাজনীতি (السياسة الشرعية) অনুযায়ী চলা, আর তা হলো (উম্মাহর বিষয়াবলি তদারকি করা)। আর এই তদারকি কেবল কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এবং নেককার পূর্বসূরীদের (السلف الصالح) মানহাজ (منهج) অনুযায়ী হতে হবে; এবং তা আমলকারী আলেম ও ন্যায়পরায়ণ শাসকদের ন্যায় উলুল আমর বা কর্তৃপক্ষের (أولي الأمر) হাতে হতে হবে। কারণ, আল্লাহ সুলতান বা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার (سلطان) মাধ্যমে যা দমন করেন, তা কুরআনের মাধ্যমে করেন না [দেখুন আদ-দুররুল মানসুর (৪/৯৯)]আর সেই পশ্চিমা রাজনীতি যা তার দ্বার উন্মুক্ত করে এবং এর অনুসারীদের প্রলুব্ধ করে: তার কোনো দ্বীন নেই। আর যারা এর পেছনে ছুটেছে বা এর সাগরে ডুবেছে, তারা এর কষ্টের শিকার হয়েছে এবং এর দাবানলে দগ্ধ হয়েছে। কারণ সে মূলের আগে শাখা নিয়ে ব্যস্ত হয়েছে। আর আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি কোনো বস্তু তার সময়ের আগে পেতে তাড়াহুড়ো করে, তাকে তা থেকে বঞ্চিত করে শাস্তি দেওয়া হয়)আল্লাহই সঠিক পথ প্রাপ্তির তাওফিকদাতাআমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য[12]শায়খুল ইসলাম আল্লামা আলবানী-র বাস্তব অবস্থার জ্ঞান (فقه الواقع) বিষয়ক প্রশ্নোত্তর