(খণ্ড: ১)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: -)
تاريخ دمشق لابن عساكر القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: تاريخ مدينة دمشق، وذكر فضلها وتسمية من حلها من الأماثل أو اجتاز بنواحيها من وارديها وأهلها
المؤلف: أبو القاسم علي بن الحسن ابن هبة الله بن عبد الله الشافعي المعروف بابن عساكر (499 هـ - 571 هـ)
دراسة وتحقيق: محب الدين أبو سعيد عمر بن غرامة العمروي
الناشر: دار الفكر للطباعة والنشر والتوزيع
عام النشر: 1415 هـ - 1995 م
عدد الأجزاء: 80 (74 و 6 للفهارس)
جـ 1 - 2: ما ورد في فضائل دمشق والشام
جـ 3 - 4: السيرة النبوية
جـ 5 - 65: الرجال
جـ 66 - 68: الكنى
جـ 69 - 70: النساء
جـ 71 - 74: مستدرك (عند اكتشاف مخطوطات أخرى تبين وجود سقط في بعض التراجم)
جـ 75 - 80: الفهارس
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে আসাকিরের তারিখে দিমাশক বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: তারিখে মাদিনাতু দিমাশক (দামেস্ক শহরের ইতিহাস), এবং এর শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা এবং এর অধিবাসী অথবা এর অঞ্চলসমূহ দিয়ে অতিক্রমকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বাসিন্দাদের মধ্য থেকে যারা সেখানে এসেছেন তাদের বিবরণ
লেখক: আবুল কাসেম আলী বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাফেঈ, যিনি ইবনে আসাকির নামে পরিচিত (৪৯৯ হিজরি - ৫৭১ হিজরি)
গবেষণা ও সম্পাদনা: মুহিব্বুদ্দীন আবু সাঈদ ওমর বিন গারামাহ আল-আমরাভি
প্রকাশক: দারুল ফিকর মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ
প্রকাশকাল: ১৪১৫ হিজরি - ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৮০ (৭৪টি মূল এবং ৬টি নির্ঘণ্টের জন্য)
খণ্ড ১ - ২: দামেস্ক ও শামের ফজিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
খণ্ড ৩ - ৪: সীরাতুন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
খণ্ড ৫ - ৬৫: পুরুষদের জীবনী
খণ্ড ৬৬ - ৬৮: কুনিয়াত (উপনাম) সমূহ
খণ্ড ৬৯ - ৭০: মহিলাদের জীবনী
খণ্ড ৭১ - ۷৪: মুস্তাদরাক (পরিশিষ্ট) (অন্যান্য পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃত হওয়ার পর কিছু জীবনীতে যে অংশগুলো বাদ পড়েছিল তা প্রকাশিত হয়েছে)
খণ্ড ৭৫ - ৮০: নির্ঘণ্টসমূহ
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ١)
[مقدمات]تاريخ مدينة دمشق وذكر فضلها وتسمية من حلها من الاماثل أو اجتاز بنواحيها من وارديها وأهلها
تصنيف الامام العالم الحافظ أبي القاسم علي بن الحسن ابن هبة الله بن عبد الله الشافعي المعروف بابن عساكر
(499 - هـ - 571 هـ)
دار الفكر للطباعة والنشر والتوزيع
[ভূমিকা]দামেস্ক নগরের ইতিহাস, এর শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা এবং এতে অবস্থানকারী বরেণ্য ব্যক্তিদের অথবা এর উপকণ্ঠ অতিক্রমকারী আগন্তুক ও অধিবাসীদের নামসমূহের উল্লেখ
ইমাম, আলেম, হাফেজ আবুল কাসিম আলী বিন হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাফিঈ কর্তৃক সংকলিত, যিনি ইবনে আসাকির নামে পরিচিত
(৪৯৯ হিজরি - ৫৭১ হিজরি)
দারুল ফিকর মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢)
جميع حقوق الطبع إعادة الطبع محفوظة للناشر
الطبعة الاولى
1419 - هـ - 1998 م
دار الفكر
بيروت
لبنان
মুদ্রণ ও পুনর্মুদ্রণের সকল স্বত্ব প্রকাশকের নিকট সংরক্ষিত।
প্রথম সংস্করণ
১৪১৯ - হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
দারুল ফিকর
বৈরুত
লেবানন
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٣)
اهداء
إلى مهد الحضارات الانسانية وملتقى الديانات السماوية إلى أبناء العروبة والاسلام إلى أقدام مدينة في التاريخ إلى دمشق أم الشام نهدي انتاجنا
উৎসর্গ
মানব সভ্যতার দোলনা এবং আসমানী ধর্মসমূহের মিলনস্থলের প্রতি; আরবীয় সত্তা ও ইসলামের সন্তানদের প্রতি; ইতিহাসের প্রাচীনতম নগরীর প্রতি; শামের জননী দামেস্কের প্রতি আমরা আমাদের এই কর্মটি উৎসর্গ করছি।
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٥)
كلمة الناشربسم الله الرحمن الرحيم تصدير (*) أهمية التاريخ : إذا كان التاريخ سردا لماضي الانسانية وسجلا لمجرى الحوادث الذي يصنعه الابطال والشعوب فإن التاريخ الكبير تاريخ دمشق لمحدث الشام ومؤرخها الحافظ ابن عساكر هو النور الساطع واللؤلؤة المضيئة بين كتب التاريخ
الذي يؤرخ لاعرق مدينة في التاريخ بل إنها جنة الارض ومدينة العلم والفضل والحضارة أم الشام يشد إليها الرحال بما زخرت به من المدارس وحلقات العلم في كل فن وعلم وبما أنجبت من علماء وفرسان أعلام في كل حلبة من حلباتها
لقد دأبت دار الفكر وديدنها منذ تأسيسها بعد أسفار التراث من شتى العلوم والفنون وإخراجها وبسطها للناس للاستفادة من كنزو الاجدئاد واستخلاص العبر منها
ومنذ عشرين عاما وعند اطلاعنا على المجلد الذي حققه الاستاذ الدكتور شكري فيصل من تاريخ دمشق أثار لدينا حلما دفينا وأمنية من أعظم أمانينا فقد كنا نحلم بتحقيق وإخراج هذا الكتاب وفاء منا لهذه المدينة العظيمة الذي كان لها دور مميز في كل عصر من عصور التاريخ
فعرضنا على الدكتور رحمه الله أن نكمل الطريق معا بإحياء هذ الاثر التاريخي النفيس وذلك بتحقيق بقية أجزاء الكتاب الثمانين ولكن الدكتور رحمه الله أشفق علينا وقال : وأنى لنا ذلك؟ والكتاب بحر زخار عميق الغور تغقصر عن جمعه وإنجازه وتحقيقه همم الرجال لعدم اكتمال مخطوطاته في مكان واحد من جهة ولحاجته إلى سيل فياض لتغطية أعبائه المادية ونفقات إخراجه من جهة ثانية وهو بهذا يحتاج لرعاية دولة وليس لدار نشر؟ ولكن كما قال الشاعر العربي : * على قدر أهل العزم تأتي العزائم *
--------------------------------------------
প্রকাশকের কথাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। মুখবন্ধ (*) ইতিহাসের গুরুত্ব: ইতিহাস যদি হয় মানবজাতির অতীতের বর্ণনা এবং বীর ও জাতিগোষ্ঠী কর্তৃক সৃষ্ট ঘটনাবলির প্রবাহের একটি দলিল, তবে শামের মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক হাফিজ ইবনে আসাকিরের সুবিশাল ইতিহাস গ্রন্থ 'তারিখে দামেশক' হলো ইতিহাসের বইগুলোর মধ্যে এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা ও দেদীপ্যমান মুক্তা।
যা ইতিহাসের প্রাচীনতম শহরটির ইতিহাস বর্ণনা করে; বরং এটি হলো পৃথিবীর জান্নাত এবং ইলম, ফযীলত ও সভ্যতার শহর—উম্মুশ শাম (শামের জননী)। এর প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় গড়ে ওঠা মাদরাসা ও বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের ইলমি হালকাসমূহের প্রাচুর্যের কারণে এবং এর প্রতিটি ময়দানে জন্ম নেওয়া বরেণ্য আলিম ও ক্ষণজন্মা বীরদের কারণে মানুষ এর দিকে সফর করে থাকে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দারুল ফিকর-এর নিরন্তর প্রচেষ্টা ও অনুসৃত নীতি হলো বিভিন্ন জ্ঞান ও শিল্পের ঐতিহ্যবাহী পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ করা এবং পূর্বপুরুষদের জ্ঞানভাণ্ডার থেকে উপকৃত হওয়া ও তা থেকে শিক্ষা গ্রহণের নিমিত্তে সেগুলো মানুষের সামনে প্রকাশ ও উপস্থাপিত করা।
বিশ বছর আগে যখন আমরা অধ্যাপক ডক্টর শুকরি ফয়সাল কর্তৃক সম্পাদিত 'তারিখে দামেশক'-এর খণ্ডটি দেখি, তখন তা আমাদের মাঝে এক সুপ্ত স্বপ্ন এবং আমাদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত করে। এই মহান শহরের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার নিদর্শনস্বরূপ আমরা এই কিতাবটির সম্পাদনা ও প্রকাশের স্বপ্ন দেখছিলাম, যে শহরটি ইতিহাসের প্রতিটি যুগে এক অনন্য ভূমিকা পালন করেছে।
তাই আমরা মরহুম ডক্টর সাহেবকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে, এই মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শনটিকে পুনর্জীবিত করার মাধ্যমে আমরা একসাথে পথ চলব, আর তা হলো কিতাবটির বাকি আশিটি খণ্ডের সম্পাদনা সম্পন্ন করা। কিন্তু মরহুম ডক্টর সাহেব আমাদের ওপর করুণাভরে বললেন: "আমাদের পক্ষে তা কীভাবে সম্ভব? এই কিতাব তো এক উত্তাল অথৈ সাগর, যার সংকলন, সমাপ্তি ও সম্পাদনার ভার বহন করতে মানুষের হিম্মতও কম পড়ে যায়। একদিকে যেমন এর পাণ্ডুলিপিগুলো এক স্থানে পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় নেই, অন্যদিকে এর আর্থিক ব্যয়ভার ও প্রকাশনা খরচ মেটাতে এক বিশাল অর্থের প্রবাহ প্রয়োজন। একারণে এটি কোনো প্রকাশনী নয়, বরং একটি রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা দাবি করে।" কিন্তু যেমনটি আরব্য কবি বলেছেন: "উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তিদের সংকল্প অনুযায়ীই বড় বড় কাজ সম্পাদিত হয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٦)
وقد استخرنا الله علام الغيوب فشرح صدرنا للتصدي للعمل الضخم فتوكلنا على الله لانجاز هذا التاريخ العظيم ووضعه بين أيدي الناس هنيئا سلسا
فتتبعنا مخطوطاته شرقا وغربا فأتينا بها جاهدين
وكان مما أثار حماسنا أنه أثناء المؤتمر الذي عقد في دمشق بمناسبة مرور 900 سنة على وفاة مصنفه الحافظ المحدث الثقة ابن عساكر ومن المناقشات التي دارت في المؤتمر لمسنا أنه لا أحد مهيؤ لانجاز هذا المشروع الكبير الذي بدأه المجمع العلي العربي بدمشق منذ أربعين عاما ولم ينجزه لاسباب شتى
ومصنف الكتاب الحافظ ابن عساكر سليل أسرة عربية اشتهرت بالعلم والفقه والحديث والقضاء والفتيا
ولد هذا العالم الجليل في دمشق سنة (499) هـ وشب ونما في مناخها الصافي وترعرع في أحضان مدارسها وحلقات الاقراء والحديث الحافلة التي كانت تعقد في مسجد بني أمية وفي منارات أخرى للعلم والحديث والفقه كالمدرسة الغزالية (1) التي كان يتردد عليها ويأخذ عن أرباب العلم الذين كانوا يدرسون فيها فكان لكل ذلك أثر كبير في توجهه نحو العلم ونبوغه فيه
ولكن بعد وفاة أبيه وفي سنة (520) عقد العزم على الرحلة إلى طلب العلم وشأنه في ذلك شأن كل العلماء الذين نبغوا وارتقوا مدارج العلم والمعرفة
فاتجه نحو العراق أولا ففيها من العلماء من يرحل إليه وعاد إلى دمشق بعد سنة قاصدا الحج وفي مكة والمدينة ومنيه سمع ممن لقي من العلماء وحدث بمكة
ثم عاد من مكة ميمما شطر العراق ثانية فأقام في العراق خمس سنين في بغداد وسائر مدن العراق وكانت حافلة بشيوخ العلم كالموصل والرحبة والجزيرة وماردين والكوفة متنقلا بينها شمالا وجنوبا
وقد استمع إلى كبار المحدثين (ذكرهم في معجم شيوخه)
وينهي رحلته العلمية هذه ويعود إلى بغداد ومنها إلى دمشق بعد أن استنفد ما عند علماء بغداد وشيوخها وضمنه صدره وصحائفه
وفي دمشق أخذ يستعد لرحلة جديدة في طلب الحديث ولكن هذه المرة إلى ما وراء بغداد إلى خراسان ففيها من مراكز الحديث والمحدثين ما يشد إليه الرحال أيضا وكان ذلك سنة (529 هـ)
--------------------------------------------
আর আমরা গায়িবের পরিজ্ঞাতা আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছি, ফলে তিনি এই বিশাল কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য আমাদের অন্তরকে প্রশস্ত করে দিয়েছেন; অতএব আমরা এই মহান ইতিহাসগ্রন্থটি সম্পন্ন করার জন্য এবং এটি মানুষের কাছে সহজ ও সাবলীলভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করেছি।
অতঃপর আমরা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে এর পাণ্ডুলিপিগুলো অনুসন্ধান করেছি এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তা সংগ্রহ করেছি।
আমাদের উৎসাহ উদ্দীপিত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল যে, এই গ্রন্থের সংকলক নির্ভরযোগ্য হাফিয ও মুহাদ্দিস ইবনে আসাকিরের মৃত্যুর ৯০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দামেশকে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে এবং সেখানে সংঘটিত আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, দামেশকের 'আল-মাজমাউল ইলমি আল-আরাবি' (আরব একাডেমি) চল্লিশ বছর আগে যে বৃহৎ প্রকল্পটি শুরু করেছিল এবং বিভিন্ন কারণে যা সম্পন্ন করতে পারেনি, সেটি সম্পন্ন করার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিল না।
আর গ্রন্থের সংকলক হাফিয ইবনে আসাকির ছিলেন এমন এক আরব পরিবারের উত্তরসূরি, যারা ইলম, ফিকহ, হাদিস, বিচারকার্য এবং ফতোয়া প্রদানের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।
এই মহান আলেম ৪৯৯ হিজরিতে দামেশকে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এর নির্মল পরিবেশে লালিত-পালিত ও বর্ধিত হন এবং এর মাদ্রাসাগুলোতে এবং উমাইয়া মসজিদে ও ইলম, হাদিস ও ফিকহের অন্যান্য বাতিঘরসমূহে—যেমন আল-মাদরাসাতুল গাযালিয়্যাহ (১)—অনুষ্ঠিত সমৃদ্ধ ক্বিরাআত ও হাদিসের হালকাগুলোতে বেড়ে ওঠেন। তিনি সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং সেখানে পাঠদানকারী জ্ঞানতাপসদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন। এসবই ইলমের প্রতি তাঁর মনোনিবেশ এবং তাতে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিল।
তবে তাঁর পিতার মৃত্যুর পর ৫২০ হিজরিতে তিনি ইলম অন্বেষণে সফরের সংকল্প করেন, যা ছিল সেই সকল আলেমদের চিরাচরিত নিয়ম যারা ইলম ও মারেফাতের সোপানসমূহে শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চমর্যাদা অর্জন করেছিলেন।
তিনি প্রথমে ইরাকের দিকে যাত্রা করেন, কারণ সেখানে এমন আলেমগণ ছিলেন যাদের কাছে সফরের প্রয়োজন ছিল। এক বছর পর তিনি হজের উদ্দেশ্যে মক্কায় যাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে দামেশকে ফিরে আসেন। মক্কা, মদিনা ও মিনায় তিনি যে সকল আলেমদের সাক্ষাৎ পান তাদের কাছ থেকে শ্রুতি গ্রহণ করেন এবং মক্কায় হাদিস বর্ণনা করেন।
অতঃপর তিনি মক্কা থেকে পুনরায় ইরাক অভিমুখে যাত্রা করেন এবং ইরাকে পাঁচ বছর অবস্থান করেন। তিনি বাগদাদ এবং ইরাকের অন্যান্য শহরগুলোতে অবস্থান করেন যা ইলমি শায়খদের দ্বারা মুখরিত ছিল, যেমন—মসুল, রাহবাহ, জাযিরাহ, মারদিন এবং কুফা; তিনি এগুলোর উত্তর ও দক্ষিণে ভ্রমণ করেন।
তিনি বড় বড় মুহাদ্দিসদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন (তিনি তাঁর 'মুজামু শুয়ুখিহি' গ্রন্থে তাঁদের কথা উল্লেখ করেছেন)।
তিনি তাঁর এই ইলমি সফর সমাপ্ত করে বাগদাদে ফিরে আসেন এবং সেখান থেকে দামেশকে প্রত্যাবর্তন করেন। এর আগে তিনি বাগদাদের আলেম ও শায়খদের কাছে থাকা ইলম পুরোপুরি অর্জন করেন এবং তা নিজের হৃদয়ে ও পাণ্ডুলিপিতে গেঁথে নেন।
দামেশকে তিনি হাদিস অন্বেষণে নতুন এক সফরের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন; তবে এবার বাগদাদ ছাড়িয়ে খুরাসানের দিকে, কারণ সেখানেও হাদিস ও মুহাদ্দিসদের এমন সব কেন্দ্র ছিল যার দিকে সফরের সংকল্প করা হতো। আর এটি ছিল ৫২৯ হিজরির ঘটনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٧)
يقول السمعاني الذي التقاه : دخل نيسابور قبلي بشهر سمعت منه معجمه والمجالسة للدينوري وقد شرع في تصنيف تاريخه تاريخ دمشق
ثم قفل راجعا إلى بغداد ومنها إلى دمشق وكان ذلك سنة (533) ثلاث وثلاثين وخمسمائة
وها هو ذا قد بلغ قمة العلم وتبوأ مرتبة الحفاظ والمحدثين يقول : متى أروي ما سمعت؟ لكنه لا يجرؤ على ذلك قبل أن يأذن له شيوخه فقال له جده يحيى بن علي القرشي : اجلس إلى سارية من هذه السواري حتى نجلس إليك أما أعيان شيوخه ورؤساء البلد فكلهم قالوا له : من أحق بهذا منك؟ قال الحافظ : فجلست في ذلك منذ ثلاث وثلاثين وخمسمائة
وهنا تبدأ حقبة جديدة يمن حياة الحافظ تمتد أربعين عاما ينصرف فيها إلى الجمع والتصنيف والرواية والتأليف والمطالعة والتسميع ويشتهر أمره ويطير ذكره في الافاق فيرحل إليه الطلبة كما رحل هو من قبل إلى شيوخه وتنتهي إليه الرئاسة في الحفظ والاتقان والمعرفة التامة بالحديث متونا وأسانيد ويصبح إمام الحديث في عصره وفارسا في ميدانه
ثم كان دخول نور الدين زنكي إلى دمشق عام (549) وهو قائد الجهاد ضد الصليبيين
وهذه الحقبة من التاريخ نشط فيها العلم والجهاد في آن ورقي خبر ابن عساكر إلى نور الدين يقول الحافظ في خطبة كتابه : ورقي خبر جمعي له (أي لتاريخ دمشق) إلى الملك العادل
وبلغني تشوقه إلى استنجازه والاستتمام فراجعت العمل به راجيا الظفر بالتمام
وقد بنى له نور الدين دارا لتعليم الحديث سميت فيما بعد دار الحديث النورية وهي أول مدرسة أنشئت في الاسلام لتعليم الحديث وتولى التدريس فيها الحافظ ابن عساكر نفسه وابنه ثم بنو عساكر من بعدهما وكان نور الدين يحضر حلقات تدريس له فيها كما كان السلطان صلاح الدين يحضر مجلسه ودروسه أيضا
وقد تخرج من المدرسة النورية هذه وأخذ عن شيوخها كبار العلماء والمؤرخين والمحدثين في القرنين السادس والسابع للهجرة كابن الاثير الجزري والمقدسي والمزي وابن كثير والنووي والذهبي والحسيني وابن تيمية وابن قيم الجوزية وغيرهم
وللحافظ مؤلفات كثيرة في الحديث ومؤلفات وفيرة في الفضائل فضائل الاشخاص
আস-সামআনী, যিনি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, তিনি বলেন: তিনি আমার এক মাস আগে নিশাপুরে প্রবেশ করেন। আমি তাঁর নিকট থেকে তাঁর মু'জাম এবং দাইনুওয়ারীর আল-মুজালাসাহ শুনেছি। তিনি তখন তাঁর ইতিহাস গ্রন্থ তারিখে দামেশক রচনার কাজ শুরু করেছিলেন।
এরপর তিনি বাগদাদে ফিরে যান এবং সেখান থেকে দামেশকে প্রত্যাবর্তন করেন। এটি ছিল ৫৩৩ (পাঁচশত তেত্রিশ) হিজরী সাল।
এখন তিনি ইলমের শিখরে পৌঁছেছেন এবং হাফেজ ও মুহাদ্দিসগণের মর্যাদা লাভ করেছেন। তিনি বলতেন: "আমি যা শুনেছি তা কবে বর্ণনা করব?" কিন্তু তাঁর উস্তাদগণ অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তিনি তা করার সাহস পাচ্ছিলেন না। তাঁর দাদা ইয়াহইয়া ইবনে আলী আল-কুরাশী তাঁকে বললেন: "এই স্তম্ভগুলোর কোনো একটির পাশে বসো যাতে আমরা তোমার কাছে বসতে পারি।" আর তাঁর প্রধান শিক্ষকগণ এবং শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সকলেই তাকে বললেন: "আপনার চেয়ে এ কাজের যোগ্য আর কে আছে?" হাফেজ বলেন: "অতঃপর আমি ৫৩৩ হিজরী থেকে সেই মজলিসে বসতে শুরু করি।"
এখান থেকেই হাফেজের জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়, যা চল্লিশ বছর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এ সময়ে তিনি হাদীস সংগ্রহ, সংকলন, বর্ণনা, রচনা, অধ্যয়ন এবং পাঠদানের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং দিগদিগন্তে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ছাত্ররা তাঁর কাছে আসতে শুরু করে, যেমনটি তিনি ইতিপূর্বে তাঁর উস্তাদদের কাছে গিয়েছিলেন। হাদীস মুখস্থ রাখা, নির্ভুলতা এবং হাদীসের মতন (মূল পাঠ) ও সনদ (সূত্র) সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব তাঁর কাছে এসে শেষ হয়। তিনি তাঁর যুগের হাদীস শাস্ত্রের ইমাম এবং এই ময়দানের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী বীর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
এরপর ৫৪৯ হিজরীতে নূরুদ্দীন জাঙ্গী দামেশকে প্রবেশ করেন, যিনি ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে জিহাদের সেনাপতি ছিলেন।
ইতিহাসের এই সময়ে ইলম এবং জিহাদ একই সাথে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এবং ইবনে আসাকিরের সংবাদ নূরুদ্দীনের কাছে পৌঁছে। হাফেজ তাঁর কিতাবের ভূমিকায় বলেন: "আমার এই কিতাব (অর্থাৎ তারিখে দামেশক) সংকলনের খবর ন্যায়পরায়ণ বাদশাহর কাছে পৌঁছে যায়।"
আমি জানতে পারলাম যে, তিনি এটি সম্পন্ন ও পূর্ণাঙ্গ করার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী। তাই আমি এটি সমাপ্ত করার আশায় পুনরায় কাজ শুরু করলাম।
নূরুদ্দীন তাঁর জন্য হাদীস শিক্ষার একটি কেন্দ্র নির্মাণ করে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীকালে দারুল হাদীস আন-নূরিয়্যাহ নামে পরিচিতি লাভ করে। এটিই ছিল ইসলামে হাদীস শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রথম মাদ্রাসা। সেখানে স্বয়ং হাফেজ ইবনে আসাকির এবং তাঁর পুত্র শিক্ষকতা করেন, অতঃপর তাঁদের পরবর্তী ইবনে আসাকির বংশধরেরা এই দায়িত্ব পালন করেন। নূরুদ্দীন সেখানে তাঁর পাঠদানের মজলিসে উপস্থিত থাকতেন, এমনকি সুলতান সালাহউদ্দীনও তাঁর মজলিসে ও দরসে অংশগ্রহণ করতেন।
এই নূরিয়্যাহ মাদ্রাসা থেকে অনেক বড় বড় আলেম, ঐতিহাসিক ও মুহাদ্দিস শিক্ষা লাভ করেছেন এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম হিজরী শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মনীষীগণ এখানকার উস্তাদদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুল আসির আল-জাযারি, আল-মাকদিসি, আল-মিযযি, ইবনে কাসির, আন-নববী, আয-যাহাবি, আল-হুসাইনি, ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ এবং আরও অনেকে।
হাফেজ ইবনে আসাকিরের হাদীস শাস্ত্রে অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে এবং বিভিন্ন ব্যক্তির ফযীলত সম্পর্কেও প্রচুর রচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٨)
وفضائل المدن وفضائل الاعمال وفضائل الشهور والايام وفضل الجهاد وفضل كتابة القرآن وغيرها من الفضائل
كما له المعجم لمن سمع منه أو أجاز له ومعجم الشيوخ من النبلاء
ومن مؤلفاته ووفرتها وتنوعها نجد أن ابن عساكر محدث حافظ ثبت ثقة أولا ومؤرخ ثانيا شأنه في ذلك شأن سائر المؤرخين المسلمين
ولا جرم أن أكبر تأليفه وأكثرها ذيوعا وشمولا كتابه تاريخ دمشق
وأهمية هذا التاريخ لا تكمن في أنه تاريخ لمدينة دمشق أحد أكبر معاقل الحضارة الانسانية والعلوم الاسلامية عبر مختلف العصور فحسب بل إنه موسوعة حديثية وهو من أوسع المصادر في سير الرجال فمنه يمكن استخلاص كتب وأسفار عدة في موضوعات وعلوم وفنون شتى
فالكتاب مرجع لعلماء لاحتوائه على الالاف من الاحاديث النبوية والاثار
والكتاب موسوعة في علم الرجال والجرح والتعديل فهو عندما يترجم للرجال ويذكر سيرهم ويذكر مروياتهم فإنه يبين حالهم وعلى ما هم عليه من ضعف أو توثيق ويصحح أسماءهم إذا اقتضى الحال
ويذكر سنة الوفاة للرجال وهو بهذا يحدد طبقة الاسم المترجم له وفي هذا من الفائدة ما يدركه العاملون في حقل الرجال
وهو عنمد يسرد الخبر خصوصا في الفضائل يسرد جميع الروايات بأسانيدها المتعلقة بالخبر يذكر ذلك وهو أعلم الناس بالاحاديث الضعيفة والموضوعة فكأنه بإيراده السند يخلي مسؤوليته ويدع العهدة في نقل الاخبار على من نقلها وكأنه يريد أن يقول أيضا : إن كتابه لجميع طبقات الناس وإنه يريد أن يكون تاريخه مرآة تعكس حياة الناس ومعتقداتهم ومذاهبهم ونحلهم وآراءهم السياسية والاجتماعية فله النقل والعرض والسرد وللعقل التدقيق والتمحيص
وكأنه هنا يتلقي مع نظرية معاصرة في تدوين التاريخ لا رنولد توينبي التي تزعم " أن المؤرخين أميل إلى توضيح آراء الجماعات التي يعيشون في محيطها منهم إلى تصحيح الاراء "
والكتاب جمع أكبر عدد من رجال الثقافة الاسلامية وأعلام الحضارة العربية خصوصا ذوي الشأن منهم وحتى ترجم لمن كان قبل الاسلام أيضا
والكتاب موسوعة في الادب شعرا ونثرا فضلا عن كون الحافظ ابن عساكر نفسه
শহরের ফযীলতসমূহ, আমলের ফযীলতসমূহ, মাস ও দিনসমূহের ফযীলতসমূহ, জিহাদের ফযীলত, কুরআন লিপিবদ্ধ করার ফযীলত এবং অন্যান্য ফযীলতসমূহ সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ।
অনুরূপভাবে তাঁর রয়েছে এমন ব্যক্তিবর্গের 'মু'জাম' (সংকলন) যারা তাঁর থেকে শুনেছেন অথবা যাদের তিনি ইজাযত দিয়েছেন, এবং সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে তাঁর শায়খদের মু'জাম।
তাঁর রচনাবলী, সেগুলোর প্রাচুর্য এবং বৈচিত্র্য থেকে আমরা দেখতে পাই যে, ইবনে আসাকির প্রথমত একজন মুহাদ্দিস, হাফিজ, সুপ্রতিষ্ঠিত ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এবং দ্বিতীয়ত একজন ঐতিহাসিক; এক্ষেত্রে তাঁর অবস্থা অন্যান্য মুসলিম ঐতিহাসিকদের মতোই।
নিঃসন্দেহে তাঁর সর্ববৃহৎ, সর্বাধিক প্রচারিত এবং ব্যাপক গ্রন্থ হলো তাঁর 'তারীখে দামেস্ক' (দামেস্কের ইতিহাস)।
এই ইতিহাসের গুরুত্ব কেবল একারণেই নয় যে এটি বিভিন্ন যুগ ধরে মানব সভ্যতা ও ইসলামী বিজ্ঞানের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র দামেস্ক শহরের ইতিহাস; বরং এটি একটি হাদীস বিষয়ক বিশ্বকোষ এবং এটি জীবনীশাস্ত্রের (সিয়ারুর রিজাল) অন্যতম বিস্তৃত উৎস। এখান থেকে বিভিন্ন বিষয়, বিজ্ঞান ও বিবিধ শিল্পের ওপর অনেক বই ও খণ্ড বের করা সম্ভব।
হাজার হাজার নববী হাদীস ও আসার (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী) অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে গ্রন্থটি আলেমদের জন্য একটি আকর গ্রন্থ।
গ্রন্থটি রিজাল শাস্ত্র এবং জারহ ও তা'দীল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও গুণাগুণ বিচার) শাস্ত্রের একটি বিশ্বকোষ। কারণ তিনি যখন বর্ণনাকারীদের জীবনী লিখেন, তাদের জীবনবৃত্তান্ত ও বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেন, তখন তিনি তাদের অবস্থা স্পষ্ট করেন—তারা কি দুর্বল নাকি নির্ভরযোগ্য, এবং প্রয়োজনবোধে তিনি তাদের নামসমূহ সংশোধন করে দেন।
তিনি বর্ণনাকারীদের মৃত্যুর সাল উল্লেখ করেন এবং এর মাধ্যমে তিনি যার জীবনী লিখছেন তার স্তর (তাবাকা) নির্ধারণ করেন। এর মধ্যে এমন উপকারিতা রয়েছে যা রিজাল শাস্ত্রের গবেষকগণ অনুধাবন করতে পারেন।
তিনি যখন কোনো সংবাদ বর্ণনা করেন, বিশেষ করে ফযীলতের ক্ষেত্রে, তখন তিনি সেই সংবাদ সংশ্লিষ্ট সকল বর্ণনা সেগুলোর সনদসহ উল্লেখ করেন। তিনি দুর্বল ও জাল হাদীস সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত হওয়া সত্ত্বেও এটি করেন। মনে হয় যেন সনদ উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি নিজের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হচ্ছেন এবং সংবাদ বর্ণনার দায়ভার বর্ণনাকারীদের ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন। তিনি যেন ইহাও বলতে চাচ্ছেন যে: তাঁর গ্রন্থটি মানুষের সকল স্তরের জন্য এবং তিনি চান তাঁর ইতিহাস এমন একটি আয়না হোক যা মানুষের জীবন, বিশ্বাস, মাযহাব, মতাদর্শ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক মতামতকে প্রতিফলিত করবে। সুতরাং তাঁর কাজ হলো তথ্য প্রদান, উপস্থাপন ও বর্ণনা করা, আর বিবেকের কাজ হলো সেগুলোকে সূক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ ও যাচাই করা।
এক্ষেত্রে তিনি যেন আরনল্ড টয়েনবি-র ইতিহাস রচনার একটি সমকালীন তত্ত্বের সাথে মিলিত হচ্ছেন, যা দাবি করে যে, "ঐতিহাসিকগণ মতসমূহ সংশোধনের চেয়ে তাদের পারিপার্শ্বিক গোষ্ঠীগুলোর মতামত স্পষ্ট করার দিকেই বেশি আগ্রহী।"
গ্রন্থটি ইসলামী সংস্কৃতির সর্বাধিক সংখ্যক ব্যক্তি এবং আরব সভ্যতার মনিষীদের একত্রিত করেছে, বিশেষ করে তাদের মধ্যে যারা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন; এমনকি তিনি প্রাক-ইসলামী যুগের ব্যক্তিদের জীবনীও আলোচনা করেছেন।
হাফিজ ইবনে আসাকির নিজে একজন সাহিত্যমনা হওয়া ছাড়াও গ্রন্থটি কবিতা ও গদ্য সাহিত্যের একটি বিশ্বকোষ।
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٩)
شاعرا وأديبا وله قصيدة في مدح نور الدين بعد أن رفع عن أهل دمشق المطالبة بالخشب فيها : لما سمحت لاهل الشام بالخشب عوضت مصر بما فيها النشب وإن بذلت لفتح القدس محتسبا للاجر جوزببت خيرا غير محتسب ولست تعذر في ترك الجهاد وقد أصبحت تملك من مصر إلى حلب وكان يختم مجالسه بقطعة من شعره
والحافظ ينقل من مصادر لم تصلنا فتاريخه وسيط بين عصرنا وعصر أسلافه وكثيرا ما ينقل علماء القرنين السادس والسابع عنه كابن الاثير في تاريخه الكامل والمزي في تهذيبه تهذيب الكمال والذهبي في تاريخه تاريخ الاسلام وسير أعلام النبلاء وابن كثير في تاريخه البداية والنهاية
وهو عندما يؤرخ لمدينة دمشق تخصيصا لا يقتصر على الجانب التاريخي بل يتعداه إلى جغرافية المدينة لانه أدرك بحس العالم وحس المؤرخ أنه لا انفصام بين التاريخ والجغرافيا فالجغرافيا هي المسرح التي تحدث عليه وقائع التاريخ وهي من أهم المؤثرات التي تؤثر في الانسان وبالتالي في الحياة الاجتماعية والسياسية والثقافية
كما أن الموقع الجغرافي للمدينة الذي حباها الله به كان له أثر في دورها الحضاري عبر مختلف العصور
وإذا كان تاريخ الطبري يعد أغنى المصادر عن تاريخ الفرس فإن تاريخ ابن عساكر أغنى المصادر عن تاريخ العرب المسلمين من نقطة الانطلاق الاولى وعلى امتداد الرقعة الجغرافية التي وصل إليها الاسلام خصوصا في الحقبات التاريخية التي كانت دمشق عاصمة الحياة العربية ومصدر القرار ومحجة وفود الجماعات والرجالات من الجزيرة والعراق وفارس وما وراء النهرين وأقصى الشرق ومصر وإفريقية وأطراف المحيط كما كانت مركز تجمع ومنطقة حشد وقاعدة عمليات للجيوش التي وصلت شرقا حتى حدود الصين وغربا حتى اجتازت المحيط وعبرت إلى إسبانيا وجنوب أوربة كما العمليات البحرية أيضا جنبا إلى جنب حتى أصبح حوض البحر الابيض المتوسط بسواحله شرقا وغربا بحيرة عربية
أليس من دمشق كانت تنطلق قوات الصوائف والشواتي لسد الثغور والدروب ورد غارات بيزنطة عن حدود الشام؟ ومن دمشق أيضا انطلقت جحافل صلاح الدين لطرد الصليبين وتحرير القدس
তিনি একাধারে কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন। দামেস্কবাসীদের ওপর থেকে কাঠের কর মওকুফ করার পর নূরুদ্দীনের প্রশংসায় তাঁর একটি কবিতা রয়েছে: "যখন আপনি শামবাসীদের জন্য কাঠ দান করলেন, তখন আপনি মিশরকে এর সমস্ত সম্পদ দ্বারা প্রতিস্থাপন করলেন। আর যদি আপনি সওয়াবের আশায় বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়ের জন্য আত্মনিয়োগ করেন, তবে আপনি কল্পনাতীত কল্যাণ লাভ করবেন। জিহাদ বর্জন করার জন্য আপনাকে ক্ষমা করা যায় না, যখন আপনি মিশর থেকে আলেপ্পো পর্যন্ত ভূখণ্ডের অধিপতি হয়েছেন।" তিনি তাঁর মজলিসগুলো নিজের কবিতার একটি অংশ দিয়ে সমাপ্ত করতেন।
হাফেজ (ইবনে আসাকির) এমন সব উৎস থেকে বর্ণনা করেছেন যা আমাদের কাছে পৌঁছেনি, তাই তাঁর ইতিহাসগ্রন্থটি আমাদের যুগ এবং তাঁর পূর্বসূরিদের যুগের মধ্যে একটি যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে। ষষ্ঠ ও সপ্তম হিজরি শতাব্দীর পণ্ডিতগণ প্রায়শই তাঁর থেকে বর্ণনা উদ্ধৃত করতেন, যেমন ইবনুল আসির তাঁর ‘আত-তারিখুল কামিল’-এ, আল-মিযযি তাঁর ‘তহযীবুল কামাল’-এ, আয-যাহাবি তাঁর ইতিহাসগ্রন্থ ‘তারিখুল ইসলাম’ ও ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’-তে এবং ইবনে কাসীর তাঁর ইতিহাসগ্রন্থ ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’-তে।
তিনি যখন বিশেষভাবে দামেস্ক শহরের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেন, তখন তিনি কেবল ঐতিহাসিক দিকটিতেই সীমাবদ্ধ থাকেন না, বরং শহরের ভৌগোলিক অবস্থার দিকেও অগ্রসর হন। কারণ তিনি একজন আলিম ও ঐতিহাসিকের দূরদৃষ্টি দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন যে, ইতিহাস ও ভূগোলের মধ্যে কোনো বিচ্ছেদ নেই। ভূগোল হলো সেই মঞ্চ যেখানে ইতিহাসের ঘটনাবলি সংঘটিত হয় এবং এটি মানুষের ওপর এবং ফলস্বরূপ সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
একইভাবে শহরটির ভৌগোলিক অবস্থান, যা আল্লাহ একে দান করেছেন, বিভিন্ন যুগে এর সভ্যতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
যদি তাবারির ইতিহাস পারস্যের ইতিহাসের সবচেয়ে সমৃদ্ধ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে ইবনে আসাকিরের ইতিহাস হলো যাত্রার প্রথম বিন্দু থেকে ইসলামের বিস্তৃতি লাভ করা সমগ্র ভৌগোলিক অঞ্চল জুড়ে আরব মুসলমানদের ইতিহাসের সবচেয়ে সমৃদ্ধ উৎস। বিশেষ করে সেই ঐতিহাসিক যুগগুলোতে যখন দামেস্ক ছিল আরব জীবনের রাজধানী, সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল কেন্দ্র এবং আরব উপদ্বীপ, ইরাক, পারস্য, মা-ওয়ারাউন নহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা), সুদূর প্রাচ্য, মিশর, আফ্রিকা ও মহাসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে আসা প্রতিনিধি দল ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মিলনস্থল। এটি ছিল সমাবেশের কেন্দ্র, সৈন্য সংগ্রহের এলাকা এবং সেই সব সেনাবাহিনীর অভিযানের ভিত্তি, যারা পূর্বে চীনের সীমান্ত পর্যন্ত এবং পশ্চিমে মহাসাগর অতিক্রম করে স্পেন ও দক্ষিণ ইউরোপ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। এর পাশাপাশি নৌ-অভিযানও সমান্তরালভাবে চলতে থাকে, যতক্ষণ না ভূমধ্যসাগরীয় অববাহিকা তার পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলসহ একটি আরব হ্রদে পরিণত হয়।
দামেস্ক থেকেই কি সীমান্ত রক্ষা করতে এবং শামের সীমানা থেকে বাইজান্টাইনদের আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন বাহিনীগুলো রওনা হতো না? আর দামেস্ক থেকেই সালাহুদ্দীনের বিশাল বাহিনী ক্রুসেডারদের বিতাড়িত করতে এবং বায়তুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করতে যাত্রা করেছিল।
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ١٠)
كما لم تكن دمشق بمعزل عن الحياة والمشاركة فيها في كل العهود
وتاريخ دمشق يقدم مادة غنية للذين يدرسون التاريخ الاندلسي
ألم تنتقل الخلافة الاموية إلى الاندلس؟ كل ذلك يؤكد أن تاريخ دمشق هو تاريخ حضاري للعالم العربي والاسلامي مند ما قبل البعثة النبوية وحتى عصر المؤلف الذي يقف عند سنة 571 (1)
وكأن الحافظ ابن عساكر أراد أن يؤرخ للعالم العربي والاسلامي على امتداد رقعته الجغرافية شرقا وغربا من خلال تلك المشكاة المشعة دمشق الشام فكان بتاريخه الكبير الموسوعي الفذ شيخ المؤرخين ومؤرخ الحفاظ والمحدثين ختاما من عصر الحفاظ ابن عساكر وهو عصر الجهاد وعصر النهضة العلمية ومن خلال موسوعته تاريخ دمشق ندرك كيف استطاعت هذه الامة تخطي محنتها بالصمود وبالقوة الحيوية الكامنة فيها وطرد الصليبيين وتحرير القدس ثالث الحرمين الشريفين ومحرك الاسراء من المسجد الحرام إلى المسجد الاقصى
ومع كل ما بذلناه من جهد وصبر وتحمل لاخراج هذه الموسوعة التاريخية العربية إلى الضوء نشعر بالتقصير وفرحتنا الكبرى تكتمل يوم يكتمل عقد هذا السفر العظيم بأجزائه الثمانين
وجدير بنا أن نردد هنا وبعد تسعة قرون ما قاله الحافظ في خطبة كتابه يوم ألف تاريخه: فمن وقف فيه على تقصير أو خلل أو عثر فيه على تغيير أو زلل فليعذر أخاه متطولا وليصلح ما يحتاج إلى إصلاح متفضلا
ونحن نردد وراءه: وإن تجد عيبا فسد الخللا فجل من لا عيب فيه وعلا اللهم زدنا علما ولا تزغ قلوبنا بعد إذ هديتنا وهب لنا من لدنك رحمة إنك أنت الوهاب
واجعلنا ربنا خيرا مما يظنون واغفر لنا ما لا يعلمون ولا تؤاخذنا بما يقولون وآخر دعواهم أن الحمد لله رب العالمين
بيروت 10 ذو القعدة 1415 10 نيسان ابريل 1995 الناشر دار الفكر
--------------------------------------------
যেমনভাবে দামেস্ক সকল যুগেই জীবন এবং তাতে অংশগ্রহণের ঊর্ধ্বে ছিল না।
এবং দামেস্কের ইতিহাস সেই সকল ব্যক্তিদের জন্য এক সমৃদ্ধ উপকরণ প্রদান করে যারা আন্দালুসিয়ার ইতিহাস অধ্যয়ন করেন।
উমাইয়া খিলাফত কি আন্দালুসিয়ায় স্থানান্তরিত হয়নি? এ সবই নিশ্চিত করে যে, দামেস্কের ইতিহাস হলো আরব ও মুসলিম বিশ্বের এক সভ্যতাগত ইতিহাস, যা নবীজির নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্ব থেকে শুরু করে লেখকের যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা ৫৭১ (১) হিজরীতে গিয়ে থেমেছে।
যেন হাফেজ ইবনে আসাকির চেয়েছিলেন দামেস্কের সেই প্রদীপ্ত আলোকবর্তিকার মাধ্যমে পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত বিস্তৃত ভৌগোলিক সীমারেখায় আরব ও মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে। ফলে তার এই বিশাল ও অনন্য বিশ্বকোষীয় ইতিহাসের মাধ্যমে তিনি ঐতিহাসিকদের প্রধান এবং হাফেজ ও মুহাদ্দিসদের ঐতিহাসিক হিসেবে গণ্য হয়েছেন। ইবনে আসাকিরের যুগ ছিল হাফেজদের যুগের সমাপ্তি, যা ছিল জিহাদের যুগ এবং ইলমি নবজাগরণের যুগ। তার বিশ্বকোষ 'তারিখে দামেস্ক'-এর মাধ্যমে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, এই উম্মত কীভাবে অবিচলতা এবং তাদের মধ্যকার সুপ্ত জীবনীশক্তির মাধ্যমে বিপদ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছিল, ক্রুসেডারদের বিতাড়িত করেছিল এবং হারামাইন শরিফাইনের তৃতীয় পবিত্র স্থান কুদসকে মুক্ত করেছিল, যা ছিল মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় ইসরা-এর কেন্দ্রবিন্দু।
এই আরব ঐতিহাসিক বিশ্বকোষটি আলোর মুখ দেখাতে আমরা যে প্রচেষ্টা, ধৈর্য এবং কষ্ট স্বীকার করেছি, তা সত্ত্বেও আমরা নিজেদের অপূর্ণতা অনুভব করছি। আমাদের পরম আনন্দ সেদিনই পূর্ণতা পাবে যখন আশি খণ্ডে সমাপ্ত এই মহান গ্রন্থের সংকলন পূর্ণ হবে।
নয়টি শতাব্দী অতিবাহিত হওয়ার পর এখানে হাফেজ তার ইতিহাসের ভূমিকা লিখবার সময় যা বলেছিলেন তা পুনরাবৃত্তি করা সমীচীন হবে: "যদি কেউ এতে কোনো ত্রুটি বা বিচ্যুতি খুঁজে পায় অথবা কোনো পরিবর্তন বা স্খলন দেখতে পায়, তবে সে যেন অনুগ্রহপূর্বক তার ভাইকে ক্ষমা করে দেয় এবং মহানুভবতা দেখিয়ে যা সংশোধন করা প্রয়োজন তা সংশোধন করে দেয়।"
আমরাও তার কথার প্রতিধ্বনি করে বলছি: "যদি আপনি কোনো খুঁত পান তবে তা পূরণ করে দিন, কারণ সেই সত্তা মহান ও সুউচ্চ যার কোনো খুঁত নেই। হে আল্লাহ! আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করুন এবং আমাদের হেদায়েত প্রদানের পর আমাদের অন্তরকে সত্যচ্যুত করবেন না। আমাদের আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন, নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা।"
হে আমাদের প্রতিপালক! তারা আমাদের সম্পর্কে যা ধারণা করে আমাদের তার চেয়ে উত্তম করুন, আমাদের সেই সকল গোনাহ ক্ষমা করুন যা তারা জানে না এবং তারা যা বলে তার জন্য আমাদের পাকড়াও করবেন না। আর তাদের শেষ আহ্বান হলো: সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
বৈরুত, ১০ যিলকদ ১৪১৫ হিজরী, ১০ এপ্রিল ১৯৯৫ ঈসায়ী। প্রকাশক: দারুল ফিকর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ١١)
مقدمة التحقيققال الله تعالى: (وقل اعملوا فسيرى الله عملكم ورسوله والمؤمنون)
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه ونؤمن به ونتوكل عليه والصلاة والسلام على أشرف الخلق محمد رسوله ونبيه أرسله بالهدى وعلى آله وصحبه الذين ازداد بهم الحق إشراقا والخير انتظاما واتساقا
أما بعد
ترجمة ابن عساكر اسمه ومولده وحياته: هو علي بن الحسن بن هبة الله بن عبد الله بن الحسين أبو القاسم الدمشقي الشافعي المعروف بابن عساكر
ولد في المحرم في أول الشهر سنة تسع وتسعين وأربعمئة في مدينة دمشق
أخذ العلم والفقه منذ الحداثة بدمشق حيث عاش في بيت جليل وقد كان أبوه الحسن بن هبة الله شيخا صالحا (1) عدلا محبا للعلم مقدرا للعلماء مهتما بأمور الدين والفقه
يقول د. صلاح الدين المنجد في مقدمة المجلدة الاولى من تاريخ ابن عساكر (2) : " كان للبيئة التي نشأ فيها الحافظ ابن عساكر أثر كبير في اتجاهه نحو العلم ونبوغه فيه فقد نبت في بيت قضاء وحديث وفقه وكان ألاف هذا البيت من كبار علماء دمشق
--------------------------------------------
সম্পাদকের ভূমিকামহান আল্লাহ বলেছেন: (আর আপনি বলুন, তোমরা আমল করো, শীঘ্রই আল্লাহ তোমাদের আমল দেখবেন এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনগণও দেখবেন)
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান আনি এবং তাঁর ওপর ভরসা করি। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি তাঁর রাসূল ও নবী, যাকে তিনি হিদায়াত দিয়ে পাঠিয়েছেন। এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁদের মাধ্যমে সত্য অধিকতর উজ্জ্বল হয়েছে এবং কল্যাণ সুসংহত ও সুশৃঙ্খল হয়েছে।
অতঃপর
ইবনে আসাকিরের জীবনীনাম, জন্ম ও জীবন: তিনি হলেন আলী বিন হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন হুসাইন আবুল কাসিম আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি, যিনি ইবনে আসাকির নামে পরিচিত।
তিনি ৪৯৯ হিজরি সনের মহররম মাসের শুরুতে দামেস্ক শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি শৈশব থেকেই দামেস্কে জ্ঞান ও ফিকহ অর্জন করেন, কেননা তিনি এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। তাঁর পিতা হাসান বিন হিবাতুল্লাহ ছিলেন একজন নেককার শাইখ (১), ন্যায়পরায়ণ, জ্ঞানানুরাগী, আলেমদের সমাদরকারী এবং দ্বীন ও ফিকহী বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল।
ড. সালাহুদ্দিন আল-মুনজিদ 'তারিখে ইবনে আসাকির'-এর প্রথম খণ্ডের ভূমিকায় (২) বলেন: "হাফিজ ইবনে আসাকির যে পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন, তাঁর ইলমের প্রতি ঝোঁক এবং তাতে বুৎপত্তি অর্জনের ক্ষেত্রে তার বিশাল প্রভাব ছিল। কারণ তিনি বিচারকার্য, হাদীস ও ফিকহের এক ঘরানায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং এই পরিবারের সদস্যরা ছিলেন দামেস্কের বড় বড় আলেমদের অন্তর্ভুক্ত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وقضاتها (1) فما أرى ابن عساكر منذ نشأته غير العلماء وما وعى غير العلم
وكان أخوه الاكبر صائن الدين هبة الله (2) بن الحسن فقيها مفتيا محدثا قرأ القرآن بالروايات وتفقه وبرع ورحل فسمع وقرأ الاصول والنحو وتقدم وسمع الكثير وأعاد بالامينية لشيخه أبي الحصن السلمي ودرس وأفتى وكتب الكثير وكان إماما ثقة ثبتا دينا ورعا (3)
سمع أبا القاسم النسيب وأبا طاهر الحنائي وأبا الحسن بن الموازيني وأبا علي بن نبهان وأبا علي بن مهدي وأبا الغنائم المهتدي بالله وأبا طالب الزينبي ولد سنة 488 ومات في شعبان سنة 563
وأما أخوه محمد بن الحسن بن هبة أبو عبد الله كان قاضيا (4) وقد نشر أولاده الستة العلم والحديث (4)
وكانت أمه من بيت القرشي أبوها يحيى بن علي بن عبد العزيز القاضي الفقيه الكبير وكان عالما بالعربية ثقة حلو المحاضرة فصيحا (5)
سمع عبد العزيز الكتاني والحسن بن علي بن البري وحيدرة بن علي وعبد الرزاق بن الفضيل وأبا القاسم بن أبي العلاء وارتحل إلى بغداد فسمع بها وتفقه على أبي بكر الشاشي وبدمشق على القاضي المروزي والفقيه نصر (6)
وقد سمع منه وروى عنه نافلته أبو القاسم بن عساكر
وأما خاله أبو المعالي محمد بن يحيى فقد سمع أبا القاسم بن أبي العلاء والحسن بن أبي الحديد والفقيه نصر المقدسي وأبا محمد بن البري والقاضي الخلعي بمصر وعلي بن عبد الملك الدبيقي بعكا وحضر درس الفقيه نصر وثقه به
--------------------------------------------
এবং এর বিচারপতিগণ (১)। ফলে ইবনে আসাকির তাঁর শৈশব থেকে আলেমগণ ছাড়া অন্য কাউকে দেখেননি এবং ইলম ছাড়া অন্য কিছু উপলব্ধি করেননি।
তাঁর বড় ভাই সায়িনুদ্দীন হিবাতুল্লাহ (২) বিন হাসান ছিলেন একজন ফকিহ, মুফতি ও মুহাদ্দিস। তিনি বিভিন্ন পদ্ধতিতে (রেওয়ায়াত) কুরআন পাঠ করেছেন, ফিকহ অর্জন করেছেন ও তাতে দক্ষতা লাভ করেছেন এবং সফর করে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি উসুল ও নাহু পাঠ করেছেন এবং অগ্রগতি লাভ করেছেন। তিনি প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর শায়খ আবুল হাসন আস-সুলামীর নিকট আল-আমিনিয়্যাহ মাদরাসায় সহকারী শিক্ষক (মুঈদ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পাঠদান করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন এবং প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ছিলেন একজন বিশ্বস্ত ইমাম, সুদৃঢ়, দ্বীনদার ও পরহেযগার (৩)।
তিনি আবুল কাসিম আন-নাসীব, আবু তাহির আল-হিন্নায়ী, আবুল হাসান ইবনুল মাওয়াযিনী, আবু আলী বিন নাবহান, আবু আলী বিন মাহদী, আবু গা নাইম আল-মুহতাদী বিল্লাহ এবং আবু তালিব আয-যাইনাবীর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি ৪৮৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৬৩ হিজরির শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
আর তাঁর ভাই মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনে হিবা আবু আব্দুল্লাহ ছিলেন একজন বিচারক (৪), এবং তাঁর ছয় সন্তান ইলম ও হাদিস প্রচার করেছেন (৪)।
তাঁর মাতা ছিলেন আল-কুরাশী পরিবারের; তাঁর পিতা ইয়াহইয়া বিন আলী বিন আব্দুল আজিজ ছিলেন একজন প্রখ্যাত ফকিহ ও বড় মাপের বিচারক। তিনি আরবি ভাষায় পণ্ডিত, বিশ্বস্ত, মাধুর্যপূর্ণ বক্তা এবং প্রাঞ্জলভাষী ছিলেন (৫)।
তিনি আব্দুল আজিজ আল-কাত্তানী, হাসান বিন আলী ইবনুল বাররী, হায়দারা বিন আলী, আব্দুর রাজ্জাক ইবনুল ফুযাইল এবং আবুল কাসিম বিন আবিল আলা-এর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি বাগদাদে সফর করেন এবং সেখানে শ্রবণ করেন। তিনি বাগদাদে আবু বকর আশ-শাশীর নিকট এবং দামেশকে কাযী আল-মারওয়াযী ও ফকিহ নাসরের নিকট ফিকহ অর্জন করেন (৬)।
তাঁর নাতি আবুল কাসিম ইবনে আসাকির তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
আর তাঁর মামা আবুল মাআলী মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া; তিনি আবুল কাসিম বিন আবিল আলা, হাসান বিন আবিল হাদীদ, ফকিহ নাসর আল-মাকদিসী, আবু মুহাম্মাদ ইবনুল বাররী, মিসরের কাযী আল-খিলায়ী এবং আক্কার আলী বিন আব্দুল মালিক আদ-দাবীকীর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তিনি ফকিহ নাসরের পাঠে উপস্থিত হতেন এবং তিনি তাকে বিশ্বস্ত মনে করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ناب عن أبيه في القضاء ثم استقل به وكان نزيها عفيفا صليبا في الحكم (1)
قال عنه السمعاني أنه كان محمودا حسن السيرة شفوقا وقورا حسن المنظر مترددا (2)
روى عنه ابن أخته أبو القاسم بن عساكر
وأما خاله الاخر سلطان بن يحيى زين القضاة أبو المكارم القرشي الدمشقي فقد روى عن أبي القاسم بن أبي العلاء ناب في القضاء عن أبيه ووعظ وأفتى (3)
بدأ بتلقي علومه ودروسه باكرا وهو في سن صغيرة فقد سمعه أخوه الصائن سنة خمس وخمسمئة (4) فقد كان في السادسة من عمره يومذاك فأخذ يسمع باعتناء أبيه وأخيه الصائن فسمع أبا القاسم النسيب وقوام بن زيد وسبيع بن قيراط وأبا طاهر الحنائي وأبا الحسن بن الموازيني (5)
وراح يتردد إلى مجالسهم ويحضر حلقات تدريسهم
يقول د
المنجد في مقدمة المجلدة الاولى (6) : فبيئة هذا شأنها
فقد وجد فيها الحافظ ما ساعده على تفتح ذكائه وإقباله على ما رغب فيه حتى غدا مؤرخ الشام وحافظ العصر
تفقه في حداثته بدمشق على الفقيه أبي الحسن علي بن المسلم بن محمد بن علي السلمي (7) عمدة أهل الشام ومفتيهم وكان قد لازم الغزالي مدة مقامه بدمشق وقد نقل ابن عساكر عن الغزالي قوله في أبي الحسن السلمي: خلفت بالشام شابا إن عاش كان له شأن فكان كما تفرس فيه ودرس بحلقة الغزالي مدة ثم ولي التدريس في المدرسة الامينية (8) في سنة أربع وخمسمئة وهي أول مدرسة للشافعية بنيت في دمشق
--------------------------------------------
তিনি বিচারকার্য পালনে তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হন, এরপর তিনি স্বতন্ত্রভাবে তা পরিচালনা করেন। তিনি ছিলেন সৎ, নিষ্কলঙ্ক এবং বিচারকাজে কঠোর। (১)
সামআনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি ছিলেন প্রশংসিত, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, দয়ালু, গাম্ভীর্যপূর্ণ, সুদর্শন এবং (মানুষের নিকট) গমনাগমনকারী। (২)
তাঁর থেকে তাঁর ভাগ্নে আবুল কাসিম ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন।
আর তাঁর অপর মামা সুলতান ইবনে ইয়াহইয়া যাইনুল কুদাত আবুল মাকারিম আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি; তিনি আবুল কাসিম ইবনে আবিল আলা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে বিচারকার্য পরিচালনা করেছেন এবং ওয়াজ-নসিহত ও ফতোয়া প্রদান করেছেন। (৩)
তিনি খুব অল্প বয়সেই ইলম অর্জন এবং পাঠ গ্রহণ শুরু করেন। তাঁর ভাই আস-সাইয়েন ৫০৫ হিজরিতে তাঁকে (হাদিস) শুনিয়েছেন (৪), তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর। তিনি তাঁর পিতা এবং ভাই আস-সাইয়েনের তত্ত্বাবধানে হাদিস শ্রবণ শুরু করেন। তিনি আবুল কাসিম আন-নাসিব, কাওয়াম ইবনে যাইদ, সুবাই ইবনে কিরাত, আবু তাহির আল-হিন্নায়ি এবং আবু হাসান ইবনে আল-মাওয়াজিনি থেকে শ্রবণ করেছেন। (৫)
তিনি তাঁদের মজলিসগুলোতে যাতায়াত করতে থাকেন এবং তাঁদের দরস বা পাঠদানের হালকাসমূহে উপস্থিত হতে থাকেন।
ড. আল-মুনাজ্জিদ প্রথম খণ্ডের ভূমিকায় (৬) বলেন: এমন এক পরিবেশ ছিল এটি,
যেখানে হাফেজ (ইবনে আসাকির) এমন কিছু পেয়েছিলেন যা তাঁর মেধা বিকাশে এবং কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের প্রতি অগ্রসর হতে সাহায্য করেছিল, এমনকি তিনি শামের ইতিহাসবিদ এবং সমকালীন হাফেজে হাদিস হয়ে উঠেছিলেন।
তিনি তাঁর তারুণ্যে দামেস্কে ফকিহ আবুল হাসান আলী ইবনুল মুসলিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী আস-সুলামি (৭)-এর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, যিনি ছিলেন শামের অধিবাসীদের প্রধান স্তম্ভ ও মুফতি। তিনি গাজ্জালির দামেস্কে অবস্থানকালে তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন। ইবনে আসাকির গাজ্জালি থেকে আবুল হাসান সুলামি সম্পর্কে তাঁর এই উক্তিটি বর্ণনা করেছেন: "আমি শামে এমন একজন যুবককে রেখে এসেছি, যদি সে বেঁচে থাকে তবে তার এক মহান মর্যাদা হবে।" আর গাজ্জালি তাঁর সম্পর্কে যা অনুমান করেছিলেন ঠিক তেমনটিই হয়েছিল। তিনি দীর্ঘকাল গাজ্জালির হালকায় পড়াশোনা করেন, এরপর ৫০৪ হিজরিতে আল-মাদরাসাতুল আমিনিয়া (৮)-তে শিক্ষকতার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এটিই ছিল দামেস্কে নির্মিত শাফেয়ী মাজহাবের প্রথম মাদ্রাসা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ١٤)
وكان السلمي ثقة ثبتا عالما بالمذاهب والفرائض وكان ابن عساكر يتردد عليه ويحضر دروسه في المدرسة الامينية ويستمع عليه
رحلته الاولى: إلى بغداد: وفي سنة 520 هـ وكان قد بلغ الحادية والعشرين من عمره وكان قد استوفى قسطا مهما من العلم على شيوخه بدمشق وتنوعت معارفه واتجه نحو رواية الحديث حيث جمع من معرفة المتون والاسانيد وحفظ فأتقن وقرأ فتثبت وتعب في ملاحقة المحدثين والعلماء ولم يعد يقنعه ما حصل عليه في حلقات دمشق ومساجدها ومدارسها وعلمائها (1) عزم على طلب المزيد والوقوف على آراء مشاهير العلماء والفقهاء فقرر أن يرحل عن دمشق رغبة في طلب الحديث
يقول د
المنجد في مقدمة المجلدة الاولى (2) : وكانت الرحلة في طلب الحديث والاستماع إلى الشيوخ أرا ذا شأن ولم يتخلف محدث كبير عن الرحلة ليتم علمه ويتلقى الاسانيد العالية
وكانت مراكز العلم منتشرة في طول العالم الاسلامي وعرضه والعلماء والفقهاء منتشرون في كافة الاصقاع ولكن الاشعاع كان ينتشر من مراكز استطاعت أن تستقطب أهل العلم والحديث والرواية واشتهرت فيها حلقات التدريس والنقاش في مراكزها العامة كالمدارس والمساجد وفي مراكزها الخاصة كمقرات إقامة الفقهاء والعلماء والمحدثين
وكانت بغداد جنة الارض ومدينة السلام وقبة الاسلام ومجمع الرافدين وغرة البلاد وعين العراق ودار الخلافة ومجمع المحاسن والطيبات ومعدن الظرائف واللطائف وبها أرباب الغايات في كل فن وآحاد الدهر في كل نوع (3)
ورغم تدني نفوذها السياسي إلى مستوى كبير فقد حافظت على دورها الاستقطابي والمحوري حيث بقيت المركز الاساس الذي يجذب طلبة الحديث
--------------------------------------------
সুলামি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ় এবং মাযহাব ও ফরায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রে অভিজ্ঞ। ইবনে আসাকির তাঁর কাছে যাতায়াত করতেন এবং মাদরাসা আল-আমিনিয়্যায় তাঁর পাঠদানগুলোতে উপস্থিত হতেন ও তাঁর থেকে শ্রবণ করতেন।
তাঁর প্রথম সফর: বাগদাদের উদ্দেশ্যে: ৫২০ হিজরি সনে, যখন তাঁর বয়স একুশ বছরে পৌঁছেছিল, তিনি দামেস্কের শায়খদের কাছে ইলমের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অর্জন করেছিলেন। তাঁর জ্ঞান বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছিল এবং তিনি হাদিস বর্ণনার দিকে ধাবিত হন, যেখানে তিনি মতন (মূল পাঠ) ও আসানিদ (সনদসমূহ) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন এবং মুখস্থ করে তাতে পারদর্শিতা লাভ করেন। তিনি পাঠ করেন ও সুনিশ্চিত হন এবং মুহাদ্দিস ও ওলামাদের সান্নিধ্য লাভের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। দামেস্কের মজলিস, মসজিদ, মাদরাসা এবং ওলামাদের কাছ থেকে যা অর্জন করেছিলেন তাতে তিনি আর সন্তুষ্ট থাকতে পারলেন না (১)। তিনি আরও জ্ঞান অন্বেষণ এবং প্রসিদ্ধ আলেম ও ফকিহদের মতামতের সাথে পরিচিত হওয়ার সংকল্প করলেন। ফলে হাদিস অন্বেষণের আকাঙ্ক্ষায় তিনি দামেস্ক ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন।
ড. আল-মুনজিদ প্রথম খণ্ডের ভূমিকায় বলেন (২): হাদিস অন্বেষণে এবং শায়খদের কাছ থেকে শোনার জন্য সফর ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো বড় মুহাদ্দিসই তাঁর ইলম পূর্ণ করতে এবং উচ্চতর সনদ লাভের জন্য সফর করা থেকে বিরত থাকতেন না।
ইলমের কেন্দ্রসমূহ সমগ্র ইসলামী বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ছিল এবং আলেম ও ফকিহগণ পৃথিবীর সকল প্রান্তে ছড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু জ্ঞান-রশ্মি বিচ্ছুরিত হচ্ছিল এমন সব কেন্দ্র থেকে যা ইলম, হাদিস ও বর্ণনাকারীদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়েছিল। সেখানে মাদরাসা ও মসজিদের মতো সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে এবং ফকিহ, আলেম ও মুহাদ্দিসদের আবাসের মতো ব্যক্তিগত কেন্দ্রগুলোতে পাঠদান ও আলোচনার মজলিসগুলো প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।
বাগদাদ ছিল পৃথিবীর জান্নাত, শান্তির শহর, ইসলামের গম্বুজ, দুই নদীর সঙ্গমস্থল, ভূখণ্ডের জৌলুস, ইরাকের নয়নমণি, খিলাফতের কেন্দ্রবিন্দু এবং সকল সৌন্দর্য ও পবিত্রতার মিলনস্থল। এটি ছিল সূক্ষ্মতা ও মাধুর্যের খনি এবং সেখানে প্রতিটি শিল্পে পারদর্শী ইমামগণ এবং প্রতিটি শাখায় যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিবর্গ অবস্থান করতেন (৩)।
যদিও এর রাজনৈতিক প্রভাব বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছিল, তবুও এটি এর আকর্ষণীয় ও কেন্দ্রীয় ভূমিকা বজায় রেখেছিল। এটি হাদিসের ছাত্রদের আকর্ষণ করার মূল কেন্দ্র হিসেবেই রয়ে গিয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ١٥)
والفقه والعلوم ولم تستطع أي من المراكز الاخرى في مصر ومكة والمدينة وخراسان ونيسابور وأصبهان ومرو وهراة وسرخس وطوس أن تنال من أهمية بغداد ودورها
وقد عرف عن أهل بغداد أنهم أرغب الناس في طلب الحديث وأشدهم حرصا عليه وأكثرهم كتبا له
ويقول الخطيب (1) : وأهل بغداد موصوفون بحسن المعرفة والتثبت في أخذ الحديث وآدابه وشدة الورع في روايته اشتهر ذلك عنهم وعرفوا به
ورحل أبو القاسم بن عساكر إلى بغداد سنة 520 هـ (2) وذهب من بغداد إلى الحج سنة 521 هـ فسمع بمكة ومنى والمدينة وممن سمع بمكة: عبد الله بن محمد المصري الملقب بالغزال بمكة وعبد الخلاق بن عبد الواسع الهروي بمكة وحدث بمكة ومنها قفل عائد إلى بغداد
ولما دخل بغداد أعجب به العراقيون وقالوا: ما رأينا مثله وقال شيخه أبو الفتح المختار بن عبد الحميد: قدم علينا هذا فلم نر مثله (4)
وأقام ببغداد خمسة أعوام يحصل العلم فسمع من هبة الله بن الحصين وعلي بن عبد الواحد الدينوري وقراتكين بن أسعد وأبي غالب بن البناء وهبة الله بن أحمد بن الطبر وأبي الحسن البارع وأحمد بن ملوك الوراق والقاضي أبي بكر (5)
وسمع بالكوفة الشريف أبا البركات عمر بن إبراهيم الزيدي وطوف وجاب العراق ولقي المشايخ ثم عاد إلى بغداد فأقام بها يسمع الحديث (6)
ولزم به التفقه
--------------------------------------------
ফিকহ ও অন্যান্য জ্ঞান বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মিসর, মক্কা, মদিনা, খোরাসান, নিশাপুর, ইসফাহান, মার্ভ, হেরাত, সারাখস এবং তুসের মতো অন্য কোনো কেন্দ্রই বাগদাদের গুরুত্ব ও ভূমিকার সমকক্ষ হতে পারেনি।
বাগদাদবাসীদের সম্পর্কে এটি জানা ছিল যে, তারা হাদিস অন্বেষণে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী, হাদিসের প্রতি সবচেয়ে বেশি যত্নবান এবং হাদিস লিপিবদ্ধকরণে সবচেয়ে অগ্রগামী ছিলেন।
খতিব (১) বলেন: বাগদাদবাসীরা হাদিস গ্রহণ ও এর আদব রক্ষায় উত্তম জ্ঞান ও দৃঢ়তার জন্য এবং হাদিস বর্ণনায় কঠোর পরহেজগারির জন্য বিশেষায়িত ছিলেন। এটি তাদের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ ছিল এবং তারা এর মাধ্যমেই পরিচিত ছিলেন।
আবু আল-কাসিম ইবনে আসাকির ৫২০ হিজরিতে (২) বাগদাদে সফর করেন এবং ৫২১ হিজরিতে বাগদাদ থেকে হজে যান। তিনি মক্কা, মিনা এবং মদিনায় হাদিস শ্রবণ করেন। মক্কায় যাদের থেকে তিনি হাদিস শুনেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: মক্কায় গাজ্জাল উপাধিতে ভূষিত আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-মিসরি এবং মক্কায় আবদুল খালেক বিন আবদুল ওয়াসি আল-হিরাভি। তিনি মক্কায় হাদিস বর্ণনা করেন এবং সেখান থেকে বাগদাদে ফিরে আসেন।
যখন তিনি বাগদাদে প্রবেশ করেন, তখন ইরাকীরা তাকে দেখে অভিভূত হন এবং বলেন: "আমরা তার মতো কাউকে দেখিনি।" তার উস্তাদ আবু আল-ফাতহ আল-মুখতার বিন আবদুল হামিদ বলেন: "তিনি আমাদের কাছে এসেছেন, আমরা তার মতো আর কাউকে দেখিনি।" (৪)
তিনি জ্ঞান অর্জনের জন্য পাঁচ বছর বাগদাদে অবস্থান করেন। এ সময় তিনি হিবাতুল্লাহ বিন আল-হুসাইন, আলী বিন আবদুল ওয়াহিদ আদ-দিনাওয়ারি, কুরাতাকিন বিন আসআদ, আবু গালিব বিন আল-বান্না, হিবাতুল্লাহ বিন আহমদ বিন আত-তাবার, আবু আল-হাসান আল-বারি', আহমদ বিন মুলুক আল-ওয়াররাক এবং কাজি আবু বকরের (৫) কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।
তিনি কুফায় আশ-শরিফ আবু আল-বারাকাত ওমর বিন ইবরাহিম আজ-জাইদির নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেন এবং বহু শায়েখের সাথে সাক্ষাৎ করেন। অতঃপর তিনি পুনরায় বাগদাদে ফিরে আসেন এবং সেখানে অবস্থান করে হাদিস শ্রবণ করতে থাকেন। (৬)
এবং তিনি সেখানে ফিকহ চর্চায় মনোনিবেশ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ١٦)
وسماع الدرس بالنظامية وقرأ الخلاف والنحو (1)
وكان ببغداد يسمى شعلة نار من توقده وذكائه وحسن إدراكه لم يجتمع في شيوخه ما اجتمع فيثه (2)
وعلى هذا النحو لازم ابن عساكر بغداد متتبعا العلماء والفقهاء وكبار المحدثين مستمعا إليهم قارئا عليهم مكثرا في ملازمتهم حتى سنة خمس وعشرين وخمسمئة وقد استنفذ ما عند الشيوخ من أحاديث بالغ في طلبها منهم فأتقن حفظها وتلقى متونها وأسانيدها فقرر العودة إلى دمشق وفعلا عاد إلى دمشق سنة 525 هـ ليسمع على شيوخها
رحلته الثانية: إلى بلاد العجم: وبقي أبو القاسم بن عساكر في دمشق مدة ملازما علمائها وفقهائها وكبار محدثيها مكثفا الطلب منهم متعشقا لرواية الحديث عليهم حتى غدا حافظا فهما متقنا بصيرا بهذا الشأن لا يلحق شأوه ولا يشق غباره ولا كان له نظير في زمانه وهو بعد شاب في مقتبل العمر وبقي إلى سنة تسع وعشرين وخمسمئة حيث عزم على التوجه إلى مراكز ازدهر فيها علم الحديث وانتشر فيها الفقهاء والعلماء والمحدثون فكانت رحلته نحو الشرق نحو بلاد العجم فارتحل إليها وطاف في مراكزها ومدنها وبالغ في طلب الحديث فيها على كبار شيوخها ومحدثيها فسمع بأصبهان ونيسابور ومرو وتبريز وميهنة وبيهق وخسروجرد وبسطام ودامغان والري وزنجان وهمذان وأسداباذ وجي وهراة وبون وبغ وبوشنج وسرخس ونوقان وسمنان وأبهر ومرند وخوي وجرباذقان ومشكان وروذراور وحلوان وأرجيش (3)
وكان توجهه إلى بلاد خراسان على طريق أذربيجان والتقى بنيسابور بالسمعاني وفيه يقول: أبو القاسم كثير العلم غزير الفضل حافظ متقن دين خير حسن السمت
--------------------------------------------
নিযামিয়া মাদ্রাসায় পাঠ গ্রহণ করেন এবং মতপার্থক্য শাস্ত্র ও ব্যাকরণ অধ্যয়ন করেন (১)।
তিনি বাগদাদে তাঁর প্রখর মেধা, বুদ্ধিমত্তা ও সূক্ষ্ম অনুধাবন ক্ষমতার কারণে 'অগ্নস্ফুলিঙ্গ' নামে অভিহিত হতেন। তাঁর শিক্ষকদের মাঝে যা যা গুণাবলি পৃথকভাবে ছিল, তা এককভাবে তাঁর মধ্যেই পুঞ্জীভূত হয়েছিল (২)।
এভাবেই ইবনে আসাকির বাগদাদে অবস্থান করে আলেম, ফকিহ এবং বড় বড় মুহাদ্দিসদের অনুগামী হয়ে তাঁদের নিকট থেকে পাঠ গ্রহণ করতে থাকেন, তাঁদের সামনে কিতাব পাঠ করেন এবং দীর্ঘ সময় তাঁদের সাহচর্যে অতিবাহিত করেন। ৫২৫ হিজরি সাল পর্যন্ত তিনি শিক্ষকদের নিকট থাকা হাদিসসমূহ যা তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অন্বেষণ করছিলেন তা সমাপ্ত করেন। তিনি হাদিসসমূহ মুখস্থকরণে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং সেগুলোর মূল পাঠ (মতন) ও বর্ণনাসূত্র (সনদ) আয়ত্ত করেন। এরপর তিনি দামেস্কে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রকৃতপক্ষে ৫২৫ হিজরি সালেই দামেস্কে ফিরে আসেন সেখানকার শায়খদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণের জন্য।
দ্বিতীয় সফর: অনারব ভূখণ্ডের দিকে: আবু আল-কাসিম ইবনে আসাকির দামেস্কে একটি দীর্ঘ সময় সেখানকার আলেম, ফকিহ ও প্রখ্যাত মুহাদ্দিসদের সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেন। তিনি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তাঁদের নিকট ইলম অন্বেষণ করেন এবং তাঁদের নিকট হাদিস বর্ণনার প্রতি অনুরাগী হন। এমনকি তিনি একজন হাফেজ, বিজ্ঞ, পারদর্শী এবং এই বিষয়ে প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিতে পরিণত হন। তাঁর সমকক্ষ হওয়া বা তাঁর উচ্চতায় পৌঁছানো কারো পক্ষে সম্ভব ছিল না এবং সমসাময়িককালে তাঁর কোনো নজির ছিল না, অথচ তখনও তিনি ছিলেন এক নবীন যুবক। তিনি ৫২৯ হিজরি সাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি এমন সব ইলমি মারকাজ বা কেন্দ্রের দিকে যাত্রার সংকল্প করেন যেখানে হাদিস শাস্ত্রের বিকাশ ঘটেছিল এবং যেখানে ফকিহ, আলেম ও মুহাদ্দিসগণ বিস্তৃত ছিলেন। তাঁর এই সফর ছিল পূর্ব দিকে অর্থাৎ অনারব ভূখণ্ডের দিকে। তিনি সেখানে সফর করেন এবং সেখানকার বিভিন্ন কেন্দ্র ও শহরে পরিভ্রমণ করেন। তিনি সেখানকার প্রখ্যাত শায়খ ও মুহাদ্দিসদের নিকট হাদিস অন্বেষণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেন। তিনি ইসফাহান, নিশাপুর, মার্ভ, তাবরিজ, মাইহানা, বাইহাক, খুসরুজিরদ, বিস্তাম, দামগান, রাই, জানজান, হামাদান, আসাদাবাদ, জায়ি, হেরাত, বুন, বাগ, বুশাঞ্জ, সারাখস, নুকাান, সেমনান, আবহার, মারান্দ, খুই, জারবাদাকান, মিশকান, রূজরাওয়ার, হুলওয়ান এবং আরজিশে হাদিস শ্রবণ করেন (৩)।
খোরাসান অঞ্চলের দিকে তাঁর যাত্রা ছিল আজারবাইজান হয়ে। তিনি নিশাপুরে সামআনির সাথে সাক্ষাৎ করেন। সামআনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "আবু আল-কাসিম অগাধ ইলম ও অঢেল ফযিলতের অধিকারী, একজন সুনিপুণ হাফেজ, ধর্মপ্রাণ, নেককার এবং উত্তম আচরণের অধিকারী।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ١٧)
جمع بين معرفة المتون والاسانيد صحيح القراءة متثبت محتاط
إلى أن قال: جمع ما لم يجمعه غيره وأربى على أقرانه دخل نيسابور قبلي بشهر سمعت منه وسمع مني
وكان قد شرع في التاريخ الكبير لدمشق ثم كانت كتبه تصل إلى وأنفد جوابها (1)
وسمع بنيسابور أبا عبد الله الفراوي ولازمه فترة وفي ذلك يقول الفراوي: قدم ابن عساكر فقرأ علي ثلاثة فأكثر وأضجرني وآليت على نفسي أن أغلق بابي فلما أصبحنا قدم علي شخض فقال: أنا رسول الله صلى الله عليه وسلم قلت: مرحبا بك فقال قال لي في النوم: امض إلى الفراوي وقل له: قدم بلدكم رجل شامي أسمر اللون يطلب حديثي فلا تمل منه (2)
قال القزويني: فوالله ما كان الفراوي يقوم حتى يقوم الحافظ
ولم تقتصر رحلته وطوافه في بلاد خراسان على الدرس والتلقي والسماع إنما حدث في أصبهان ونيسابور وسمع منه جماعة من الحفاظ ممن هو أسن منه (3)
ودامت رحلته في بلاد العجم أربع سنوات (4) قضاها في ملازمة العلماء والفقهاء والمحدثين متتبعا الحديث معتنيا بطرقه ورواته ورواياته وأسانيده فتعب في جمعه وبالغ في طلبه حتى أنه جمع ما لم يجمعه أحد
وعاد إلى بغداد ومنها قفل إلى دمشق ويلخص أبو القاسم مشواره مع طلبه الحثيث للحديث بقوله: وأنا الذي سافرت في طلب الهدى سفرين بين فدافد وتنائف وأنا الذي طوفت غير مدينة من أصبهان إلى حدود الطائف والشرق قد عاينت أكثر منه بعد العراق وشامنا المتعارف وجمعت في الاسفار كل نفيسة ولقيت كل مخالف وموالف (5)
--------------------------------------------
তিনি মূলপাঠ (মতন) ও সনদসমূহের জ্ঞানের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন, তাঁর পাঠ ছিল শুদ্ধ এবং তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সতর্ক।
তিনি আরও বলেন: তিনি এমন সব সংকলন করেছিলেন যা অন্য কেউ করেনি এবং তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আমার এক মাস আগে নিশাপুরে প্রবেশ করেছিলেন; আমি তাঁর কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছি এবং তিনিও আমার থেকে শুনেছেন।
তিনি দামেস্কের বৃহৎ ইতিহাস (তারিখুল কাবির) রচনা শুরু করেছিলেন, এরপর তাঁর কিতাবগুলো আমার কাছে পৌঁছাত এবং আমি সেগুলোর উত্তর পাঠাতাম। (১)
তিনি নিশাপুরে আবু আব্দুল্লাহ আল-ফারাউয়ীর নিকট হাদিস শ্রবণ করেন এবং দীর্ঘকাল তাঁর সান্নিধ্যে থাকেন। এ সম্পর্কে আল-ফারাউয়ী বলেন: ইবনে আসাকির আসলেন এবং আমার নিকট তিনবার বা তার বেশি পাঠ করলেন, যা আমাকে বিরক্ত করে তুলল। আমি মনে মনে শপথ করলাম যে, আমি আমার দরজা বন্ধ করে রাখব। যখন সকাল হলো, এক ব্যক্তি আমার কাছে এসে বললেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আমি বললাম: আপনাকে স্বাগতম। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে স্বপ্নে বলেছেন: ফারাউয়ীর কাছে যাও এবং তাকে বলো: তোমাদের শহরে সিরীয় অঞ্চলের একজন শ্যামলা বর্ণের লোক এসেছেন যিনি আমার হাদিস অন্বেষণ করছেন, সুতরাং তুমি তাঁর প্রতি বিরক্ত হয়ো না। (২)
আল-কাযউইনী বলেন: আল্লাহর কসম, হাফেজ (ইবনে আসাকির) না ওঠা পর্যন্ত ফারাউয়ী উঠতেন না।
খোরাসান অঞ্চলে তাঁর সফর ও পরিভ্রমণ কেবল পাঠ গ্রহণ ও শ্রবণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তিনি ইসফাহান ও নিশাপুরে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর চেয়ে বয়সে বড় একদল হাফেজ তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। (৩)
অনারব দেশগুলোতে তাঁর সফর চার বছর স্থায়ী হয়েছিল (৪), যা তিনি আলেম, ফকিহ ও মুহাদ্দিসদের সান্নিধ্যে অতিবাহিত করেন। তিনি হাদিসের অন্বেষণ করেন এবং এর বিভিন্ন সূত্র, বর্ণনাকারী, বর্ণনা ও সনদসমূহের প্রতি বিশেষ যত্ন নেন। তিনি হাদিস সংগ্রহে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং এর অন্বেষণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন, এমনকি তিনি এমন সব বিষয় সংগ্রহ করেন যা অন্য কেউ করতে পারেনি।
তিনি বাগদাদে ফিরে আসেন এবং সেখান থেকে দামেস্কে প্রত্যাবর্তন করেন। আবু আল-কাসিম হাদিস অন্বেষণে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টাকে এভাবে সারসংক্ষেপ করেছেন: "আমিই সেই ব্যক্তি যে হেদায়াতের সন্ধানে মরুভূমি ও প্রান্তর পেরিয়ে দুবার সফর করেছি। আমিই সেই ব্যক্তি যে ইসফাহান থেকে তায়েফের সীমান্ত পর্যন্ত বহু শহর পরিভ্রমণ করেছি। ইরাক এবং আমাদের পরিচিত সিরিয়ার পর আমি প্রাচ্যের অধিকাংশ অঞ্চল প্রত্যক্ষ করেছি। আমি আমার সফরে প্রতিটি মূল্যবান বিষয় সংগ্রহ করেছি এবং প্রতিটি বিরোধী ও অনুসারীর সাথে সাক্ষাৎ করেছি।" (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ١٨)
هاتان الرحلتان إلى بلاد العجم وخراسان ومراكزها العلمية الكبيرة وإلى العراق وبلاد الحجاز سمحتا له بلقاء كبار الشيوخ وأعيان العلماء والفقهاء والمحدثين حيث سعى في التحصيل عليهم والافادة منهم فحفظ وكتب الكثير وقد التقى بأكثر من ألف وثلاثمائة شيخ ومن النساء بضع وثمانين امرأة (1)
يقول الذهبي في سير الاعلام (2) : وعدد شيوخه في معجمه ألف وثلاثمائة شيخ بالسماع وستة وأربعون شيخا أنشدوه وعن مئتين وتسعين شيخا بالاجازة الكل في معجمه وبضع وثمانون امرأة لهن معجم صغير سمعناه
عودته إلى دمشق: مرحلة جديدة: كان ابن أربع وثلاثين سنة لما عاد إلى دمشق وقرر الاستقرار فيها وذلك بعد أن حقق قدرا عاليا من بناء شخصيته العلمية والفقهية وبعد أن ذاع صيته وانتشرت أخباره وتناقل العلماء أخبار فطنته وسعة حفظه وإتقانه وتردد اسمه في مختلف الافاق
قال أبو المواهب (2) : لم أر مثله ولا من اجتمع فيه ما اجتمع فيه من لزوم طريقة واحدة مدة أربعين سنة من لزوم الصلوات في الصف الاول إلا من عذر والاعتكاف في شهر رمضان وعشر ذي الحجة وعدم التطلع إلى تحصيل الاملاك وبناء الدور قد أسقط ذلك عن نفسه وأعرض عن طلب المناصب من الامامة والخطابة وأباها بعد أن عرضت عليه وأخذ نفسه بالامر بالمعروف والنهي عن المنكر لا تأخذه في الله لومة لائم
قال لي: لما عزمت على التحديث والله المطلع أني ما حملني على ذلك حب الرياسة والتقدم بل قلت: متى أروي كل ما سمعت؟ وأي فائدة من كوني أخلفه صحائف؟ فاستخرت الله واستأذنت أعيان شيوخي ورؤساء البلد وطفت عليهم فكلهم قالوا: من أحق بهذا منك؟ فشرعت منذ ثلاث وثلاثين وخمسمئة
--------------------------------------------
অনারব দেশ (আজাম), খুরাসান ও এর প্রধান ইলমি কেন্দ্রসমূহ এবং ইরাক ও হিজাজ অঞ্চলে এই দুই সফর তাঁকে বড় বড় শায়খ এবং বিশিষ্ট আলিম, ফকিহ ও মুহাদ্দিসগণের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ করে দিয়েছিল। তিনি তাঁদের নিকট থেকে ইলম অর্জন ও উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করেন, ফলে তিনি অনেক কিছু মুখস্থ করেন এবং লিখে রাখেন। তিনি এক হাজার তিনশ’রও বেশি শায়খের সাথে এবং আশি জনেরও বেশি নারীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন (১)।
আয-যাহাবি ‘সিয়ারু আ’লাম’ গ্রন্থে (২) বলেন: তাঁর ‘মু’জাম’ গ্রন্থে শ্রবণ সূত্রে তাঁর শায়খের সংখ্যা এক হাজার তিনশ জন, ছিচল্লিশজন শায়খ তাঁকে কবিতা শুনিয়েছেন এবং দুইশ নব্বইজন শায়খ থেকে ইজাজত লাভ করেছেন—এঁদের সকলের বর্ণনা তাঁর মু’জাম গ্রন্থে রয়েছে। এছাড়া আশি জনেরও বেশি নারী রয়েছেন যাঁদের জন্য একটি ছোট মু’জাম রয়েছে যা আমরা শ্রবণ করেছি।
দামেস্কে প্রত্যাবর্তন: এক নতুন পর্যায়: যখন তিনি দামেস্কে ফিরে আসেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁর বয়স ছিল চৌত্রিশ বছর। এটি ছিল তাঁর ইলমি ও ফিকহি ব্যক্তিত্ব গঠনের উচ্চতর শিখরে পৌঁছানোর পর এবং যখন তাঁর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল, তাঁর খবর চারদিকে বিস্তৃত হয়েছিল, আলিমগণ তাঁর প্রখর মেধা, মুখস্থ শক্তির বিশালতা ও পারদর্শিতার খবর আদান-প্রদান করছিলেন এবং বিভিন্ন দিগন্তে তাঁর নাম প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।
আবুল মাওয়াহিব (২) বলেন: আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি, কিংবা এমন কাউকে দেখিনি যাঁর মধ্যে সেই সব গুণাবলি একত্রে ছিল যা তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। যেমন দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবত একনিষ্ঠভাবে একই পদ্ধতিতে অবিচল থাকা—অপারগতা ব্যতীত সর্বদা প্রথম কাতারে নামাজ আদায় করা, রমজান মাস ও জিলহজ মাসের দশ দিন ইতিকাফ করা এবং সম্পদ অর্জন বা ঘরবাড়ি নির্মাণের আকাঙ্ক্ষা না রাখা। তিনি নিজেকে এসব থেকে মুক্ত রেখেছিলেন। তিনি ইমামতি বা খতিবের পদের মতো কোনো পদমর্যাদা লাভের আকাঙ্ক্ষা থেকেও বিমুখ ছিলেন এবং প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি নিজেকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের কাজে নিয়োজিত করেছিলেন এবং আল্লাহর পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া করতেন না।
তিনি আমাকে বলেছিলেন: যখন আমি হাদিস বর্ণনার সংকল্প করলাম—আর আল্লাহ অবগত আছেন যে, নেতৃত্ব বা শ্রেষ্ঠত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষা আমাকে এ কাজে প্ররোচিত করেনি—বরং আমি নিজেকে বললাম: আমি যা কিছু শুনেছি তা কবে বর্ণনা করব? এগুলো কেবল পাণ্ডুলিপি হিসেবে রেখে যাওয়ার কী সার্থকতা? অতঃপর আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম এবং আমার প্রধান শায়খ ও শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনুমতি প্রার্থনা করলাম। আমি তাঁদের সবার কাছে গেলাম এবং তাঁরা সকলেই বললেন: ‘তোমার চেয়ে এই কাজের অধিক হকদার আর কে আছে?’ ফলে আমি ৫৩৩ হিজরি থেকে (হাদিস বর্ণনা) শুরু করি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ١٩)
هذه المرحلة في حياة ابن عساكر هي الاكثر سعة ورحابة وقد امتدت على مدى عمره وفيها انتهت إليه رياسة المذهب وبات - كما يقول عنه ابن النجار: إمام المحدثين في وقته ومن انتهت إليه الرياسة في الحفظ والاتقان والمعرفة التامة بعلم الحديث والثقة والنبل وحسن التصنيف والتجويد وأخذ بعدما ملاته الثقة والاعتزاز بما حمله وحفظه أخذ يملي ويحدث ويصنف حيث كان بارعا في معرفة الحديث ومعرفة رجاله وهذا ما جعله ينصرف بكليته الى الالتزام بما قرره من التحديث والرواية
فانتهت إليه الرياسة كما أشرنا الى ذلك قريبا
يقول ولده بهاء الدين الحافظ أبو محمد القاسم: قال لي أبي: لما حملت بي أمي رأت في منامها قائلا يقول لها: تلدين غلاما يكون له شأن
فإن الله تعالى يبارك لك والمسلمين فيه
وصدقت اليقظة منامها ونبهه السعد فأسهره الليالي في طلب العلم وغيره سهرها في الشهوات أو نامها وكان له الشأن العظيم والشأو الذي يجل عن التعظيم
ثم انصرف إلى جمع والتصنيف والرواية والتأليف وهذا يتطلب إلى جانب التزامه بالقيام بواجباته العبادية تخليا عن العمل لتحصيل الأملاك والمنافع وبناء الدور إلى المواظبة على طاعة الله وعدم التطلع إلى أسباب الدنيا وإعراضه عن المناصب الدينية كالإمامة والخطابة بعد أن عرضتا عليه وانكب على التصنيف فصنف التصانيف المفيدة وخرج التخاريج وكان حسن الكلام على الاحاديث محظوظا في الجمع والتأليف
آثاره ومؤلفاته: 1 - إتحاف الزائر
2 - الاجتهاد في إقامة فرض الجهاد وهو أربعون حديثا
--------------------------------------------
ইবনে আসাকিরের জীবনের এই পর্যায়টি ছিল সবচেয়ে বিস্তৃত ও ব্যাপ্ত এবং এটি তার সারা জীবন জুড়ে দীর্ঘায়িত ছিল। এতেই তার কাছে মাযহাবের নেতৃত্ব এসে পৌঁছেছিল এবং তিনি—যেমনটি ইবনুন নাজ্জার তার সম্পর্কে বলেছেন—হয়ে উঠেছিলেন: তার সময়ের মুহাদ্দিসগণের ইমাম এবং যার কাছে মুখস্থশক্তি, নির্ভুলতা, ইলমে হাদিসের পূর্ণ জ্ঞান, বিশ্বস্ততা, আভিজাত্য, সুন্দর বিন্যাস ও মানসম্মত সংকলনের নেতৃত্ব পর্যবসিত হয়েছিল। তার অর্জিত ও সংরক্ষিত বিষয়ের প্রতি গভীর আস্থা ও আত্মমর্যাদাবোধ তৈরি হওয়ার পর তিনি হাদিস বর্ণনা, শ্রুতিলিপি প্রদান এবং গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন। তিনি হাদিসের জ্ঞান এবং বর্ণনাকারীদের পরিচিতিতে অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। এই পারদর্শিতাই তাকে হাদিস বর্ণনা ও বর্ণনাসূত্র রক্ষার ক্ষেত্রে তার নির্ধারিত বিষয়ের প্রতি সম্পূর্ণ নিবিষ্ট হতে চালিত করেছিল।
ফলে তার কাছেই নেতৃত্ব এসে পৌঁছেছিল, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি।
তার পুত্র বাহাউদ্দীন হাফেজ আবু মুহাম্মদ আল-কাসেম বলেন: আমার বাবা আমাকে বলেছিলেন: যখন আমার মা আমাকে গর্ভে ধারণ করেছিলেন, তখন তিনি স্বপ্নে একজনকে তাকে বলতে দেখেছিলেন যে: আপনি একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেবেন যার বিশেষ মর্যাদা থাকবে।
কারণ মহান আল্লাহ তার মাধ্যমে আপনাকে এবং মুসলিমদের বরকত দান করবেন।
আর তার সেই স্বপ্ন বাস্তবে সত্য প্রমাণিত হলো এবং সৌভাগ্য তাকে সচেতন করল, ফলে তিনি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য রাত জেগে কাটিয়ে দিতেন, যেখানে অন্যরা কামনাবাসনা বা ঘুমের মধ্যে রাত কাটাত। তার মর্যাদা ছিল অতি মহান এবং তার শ্রেষ্ঠত্ব ছিল বর্ণনাতীত।
এরপর তিনি সংগ্রহ, সংকলন, বর্ণনা ও গ্রন্থ রচনার প্রতি মনোনিবেশ করেন। ইবাদতের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এর জন্য প্রয়োজন ছিল সম্পদ অর্জন, মুনাফা ও ঘরবাড়ি তৈরির কাজ ত্যাগ করা এবং সর্বদা আল্লাহর আনুগত্যে রত থাকা, দুনিয়াবি ধন-সম্পদের দিকে দৃষ্টি না দেওয়া এবং ইমামতি ও খতিবের পদের মতো ধর্মীয় পদগুলো প্রস্তাব করা সত্ত্বেও তা থেকে বিমুখ হওয়া। তিনি গ্রন্থ রচনার কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং অত্যন্ত উপকারী সব গ্রন্থ সংকলন করেন ও হাদিসের তখরিজ সম্পন্ন করেন। তিনি হাদিসের ওপর আলোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন এবং গ্রন্থ সংকলন ও বিন্যাসে বিশেষ তাওফিকপ্রাপ্ত ছিলেন।
তার নিদর্শন ও গ্রন্থসমূহ: ১ - ইতহাফুয যায়ির।
২ - আল-ইজতিহাদু ফি ইকামতি ফারদিল জিহাদ, এটি চল্লিশটি হাদিসের সংকলন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
3 - أربعون البلدان
4 - أربعون حديثا من أربعين شيخا من أربعين مدينة
5 - الاربعون الطوال في ثلاثة أجزاء
6 - أربعون المساواة
7 - اربعون المصافحات
8 - الاحاديث الخماسيات واخبار ابن أبي الدنيا
9 - الاحاديث المتخيرة في فضائل العشرة في جزءين
10 - أخبار ابي عمرو الاوزاعي (وفضائله عن معجم الادباء)
11 - الاشراف على معرفة الاطراف في الحديث أربعة مجلدات
12 - أمالي في الحديث
13 - التاريخ الكبير لدمشق مشهور في مجلدات (وهو كتابنا)
14 - تاريخ المزة
15 - التالي لحديث مالك العالي (19 جزءا)
16 - تبيان الوهم والتخليط الواقع في حديث الاطيط
17 - تبيين الامتان بالامر بالختان
18 - تبيين كذب المفتري فيما نسب إلى أبي الحسن الاشعري
19 - ثواب الصبر على المصاب بالولد
20 - جزء حديث الهبوط
21 - جزء كفر سوسية (أحاديث جماعة من كفر سوسية)
22 - الزهادة في بذل الشهادة في مجلد
23 - سباعيات في الحديث
24 - عوالي شعبة في مجلد (إجابة السؤال في أحاديث شعبة)
25 - عوالي الثوري في مجلد
26 - عوالي مالك في الحديث خمسين جزءا
27 - غرائب مالك عشرة أجزاء
28 - فضل أصحاب الحديث
29 - فضل الجمرتين
3 - চল্লিশটি দেশের চল্লিশটি হাদীস
4 - চল্লিশটি শহরের চল্লিশ জন শায়খের নিকট থেকে বর্ণিত চল্লিশটি হাদীস
5 - তিন খণ্ডে চল্লিশটি দীর্ঘ হাদীস
6 - সমতা বিষয়ক চল্লিশটি হাদীস
7 - মুসাফাহা সম্পর্কিত চল্লিশটি হাদীস
8 - পঞ্চ-সূত্রের (খুমাছিয়াত) হাদীসসমূহ এবং ইবন আবিদ দুনিয়ার সংবাদসমূহ
9 - দুই খণ্ডে দশজন জান্নাতী সাহাবীর ফযীলত বিষয়ক নির্বাচিত হাদীসসমূহ
10 - আবু আমর আল-আওযায়ীর সংবাদসমূহ (এবং মু’জামুল উদাবা থেকে সংগৃহীত তাঁর ফযীলতসমূহ)
11 - চার খণ্ডে হাদীসের আতরাফ (সূচনাংশ) পরিচিতি বিষয়ক 'আল-ইশরাফ'
12 - হাদীস বিষয়ক আমালি (শ্রুতলিপি)
13 - দামেস্কের ইতিহাসগ্রন্থ 'তারিখে দামেস্ক' যা বহু খণ্ডে সুপ্রসিদ্ধ (এটি আমাদেরই কিতাব)
14 - আল-মিযযার ইতিহাস
15 - ইমাম মালিকের উচ্চস্তরের হাদীসসমূহের পরিশিষ্ট (১৯ খণ্ড)
16 - আতীত (আরশের শব্দ) সংক্রান্ত হাদীসে বিদ্যমান বিভ্রান্তি ও সংশয়ের স্পষ্টিকরণ
17 - খতনা করার নির্দেশের মাধ্যমে অনুগ্রহের বর্ণনা
18 - আবুল হাসান আল-আশআরীর প্রতি যা আরোপ করা হয়েছে সে বিষয়ে মিথ্যাবাদীর মিথ্যার উন্মোচন
19 - সন্তান হারানোয় ধৈর্য ধারণের সওয়াব
20 - হুবুত (অবতরণ) সংক্রান্ত হাদীসের অংশ
21 - কাফর সুসিয়ার অংশ (কাফর সুসিয়ার একদল রাবীর বর্ণিত হাদীসসমূহ)
22 - এক খণ্ডে সাক্ষ্য প্রদানের ক্ষেত্রে সংযম
23 - হাদীসের সুবায়িয়াত (সপ্ত-সূত্রের হাদীসসমূহ)
24 - এক খণ্ডে শু’বাহর উচ্চস্তরের হাদীসসমূহ (শু’বাহর হাদীস বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর)
25 - এক খণ্ডে সাওরী-র উচ্চস্তরের হাদীসসমূহ
26 - হাদীস শাস্ত্রে ইমাম মালিকের উচ্চস্তরের হাদীসসমূহ (পঞ্চাশ খণ্ড)
27 - ইমাম মালিকের গারাইব (ব্যতিক্রমী) হাদীসসমূহ (দশ খণ্ড)
28 - হাদীস বিশারদদের (আসহাবুল হাদীস) মর্যাদা
29 - দুই জামরাতের মর্যাদা
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢١)
30 - فضل الربوة
31 - فضل عسقلان
32 - فضل مقام إبراهيم
33 - القول في جملة الاسانيد في حديث المؤيد
34 - كتاب الاعتزاز بالهجرة - إعزاز بالهجرة (إعزاز الهجرة عند إعواز النصرة
سير الاعلام)
35 - كتاب السداسيات
36 - كتاب طرق حديث عبد الله بن عمر
37 - كتاب فضل مكة
38 - كتاب فضل المدينة لا 39 - كتاب فضل قريش والانصار والاشعريين وذم الرافضة
41 - كتاب ذم قرناء السوء
42 - كتاب ذم من لا يعمل بعلمه
43 - كتاب أحاديث أهل صنعاء الشام
44 - كتاب أحاديث أبي الاشعث الصنعاني
45 - كتاب حنش والمطعم وحفص الصنعانيين
46 - كتاب يوم المزيد
47 - كتاب الخضاب
48 - كتاب المسلسلات
49 - كتاب المعجم لمن سمع منه وأجاز له
50 - فضل الكرام على أهل الحرم
51 - كتاب أخبار أبي محمد سعيد بن عبد العزيز وعواليه
52 - كتاب في الصفات
53 - كتاب طرق قبض العلم
54 - كتاب فضائل الصديق
55 - كتاب ما وقع للاوزاعي في العوالي جزء
56 - كتاب الأبدال لم يتم
30 - রাবওয়ার মর্যাদা
31 - আসকালানের মর্যাদা
32 - মাকামে ইবরাহীমের মর্যাদা
33 - হাদিসে মুআইয়্যাদের সকল সনদের পর্যালোচনা
34 - হিজরতের মাধ্যমে সম্মান লাভ সংক্রান্ত কিতাব - হিজরতের মর্যাদা (সাহায্যের অভাবে হিজরতের মাধ্যমে সম্মান লাভ
সিয়ারু আলামিন নুবালা)
35 - সুদাসিয়্যাত (ছয় রাবী বিশিষ্ট হাদিস) গ্রন্থ
36 - আবদুল্লাহ ইবনে উমরের বর্ণিত হাদিসের সূত্রসমূহ সংক্রান্ত কিতাব
37 - মক্কার মর্যাদা সংক্রান্ত কিতাব
38 - মদীনার মর্যাদা সংক্রান্ত কিতাব না ৩৯ - কুরাইশ, আনসার ও আশআরীগণের মর্যাদা এবং রাফেযীদের নিন্দা সংক্রান্ত কিতাব
41 - অসৎ সঙ্গীদের নিন্দা সংক্রান্ত কিতাব
42 - নিজ জ্ঞান অনুযায়ী আমল না কারীদের নিন্দা সংক্রান্ত কিতাব
43 - শামের সানআ অধিবাসীদের হাদিসসমূহ সংক্রান্ত কিতাব
44 - আবু আশআস আস-সানআনীর হাদিসসমূহ সংক্রান্ত কিতাব
45 - হানাশ, মুতঈম ও হাফস আস-সানআনীত্রয় সংক্রান্ত কিতাব
46 - ইয়াওমুল মাজীদ (জান্নাতে আল্লাহর দর্শন ও অতিরিক্ত নিয়ামতের দিন) সংক্রান্ত কিতাব
47 - খেযাব (চুলে রঙ লাগানো) সংক্রান্ত কিতাব
48 - মুসালসালাত (ধারাবাহিক সূত্রবিশিষ্ট হাদিস) সংক্রান্ত কিতাব
49 - যাদের নিকট থেকে শুনেছেন এবং যারা তাকে ইজাজত দিয়েছেন তাদের জীবনবৃত্তান্ত (আল-মুজাম)
50 - হারামবাসীদের উপর সম্মানিত ব্যক্তিদের মর্যাদা
51 - আবু মুহাম্মদ সাঈদ ইবনে আব্দুল আযীযের সংবাদ ও তার উচ্চসনদের হাদিসসমূহ সংক্রান্ত কিতাব
52 - আল্লাহর গুণাবলী সংক্রান্ত কিতাব
53 - ইলম বা জ্ঞান উঠে যাওয়ার পদ্ধতিসমূহ সংক্রান্ত কিতাব
54 - সিদ্দীক (আবু বকর রা.)-এর ফযিলতসমূহ সংক্রান্ত কিতাব
55 - ইমাম আওযায়ীর উচ্চসনদের হাদিসসমূহের সংকলন
56 - আবদাল সংক্রান্ত কিতাব (অসমাপ্ত)
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
57 - كتاب العزلة
58 - كتاب كشف المغطى في فضل الموطا
59 - كتاب حديث أهل قرية الحميريين وقبيبات
60 - كتاب حديث أهل فذايا وبيت أرانس وبيت قوفا
61 - حديث أهل قرية البلاط
62 - كتاب حديث سلمة بن علي الحسني البلاطي
63 - كتاب حديث يسرة بن صفوان وابنه وابن ابنه
64 - كتاب حديث سعد بن عبادة
65 - كتاب حديث أهل رندين وجبرين
66 - كتاب حديث أهل بيت سواي
67 - كتاب حديث رومة ومسرابا والقصر
68 - كتاب حديث جماعة من أهل حرستا
69 - كتاب حديث أهل كفربطنا
70 - كتاب حديث أهل دقانيا وحجراء وعين توما وجديا وطرميس
71 - كتاب حديث جماعة من أهل جوير
72 - كتاب حديث يحيى بن حمزة البتلهي وعواليه
73 - كتاب مجموع حديث محمد بن يحيى بن حمزة الحضرمي البتلهي
74 - كتاب حديث أبي بكر بن محمد بن رزق الله المنيني
75 - كتاب مجموع أحاديث جماعة من أهل بعلبك
76 - كتاب تكميل الانصاف والعدل بتعجيل الاسعاف بالعزل
77 - كتاب الملتمس من عوالي مالك بن أنس 31 جزءا
78 - كتاب رفع التخليط عن حديث الاطيط
79 - كتاب ذكر البيان في فضائل كتابة القرآن
80 - كتاب دفع التثريب على من فسر معنى التثريب
81 - كتاب حلول المحنة بحصول الابنة
82 - كتاب الجواهر واللآلئ في الابدال العوالي
83 - كتاب الجواهر المبسوط لما ذكر حديث الهبوط
57 - নির্জনবাসের কিতাব
58 - মুয়াত্তার ফযীলত বর্ণনায় গোপন বিষয় উন্মোচনের কিতাব
59 - হিমইয়ারী ও কুবায়বাত গ্রামবাসীর হাদীসের কিতাব
60 - ফাযায়া, বাইতে আরানিস ও বাইতে কুফাবাসীদের হাদীসের কিতাব
61 - বালাত গ্রামবাসীর হাদীস
62 - সালামাহ বিন আলী আল-হাসানী আল-বালাতীর হাদীসের কিতাব
63 - ইউসরা বিন সাফওয়ান, তাঁর পুত্র ও পৌত্রের হাদীসের কিতাব
64 - সা'দ বিন উবাদাহর হাদীসের কিতাব
65 - রিন্দিন ও জাবরিনবাসীদের হাদীসের কিতাব
66 - বাইতে সাওয়াইবাসীদের হাদীসের কিতাব
67 - রুমা, মাসরাবা ও কাসরবাসীদের হাদীসের কিতাব
68 - হারাসতার একদল অধিবাসীর হাদীসের কিতাব
69 - কাফরবাতনাবাসীদের হাদীসের কিতাব
70 - দাকানিয়া, হাজরা, আইন তুমা, জিদয়া ও তারমিসবাসীদের হাদীসের কিতাব
71 - জুওয়ায়র-এর একদল অধিবাসীর হাদীসের কিতাব
72 - ইয়াহইয়া বিন হামযাহ আল-বাতলাহী ও তাঁর আউয়ালী (উচ্চ সনদ সংবলিত) হাদীসের কিতাব
73 - মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন হামযাহ আল-হাযরামী আল-বাতলাহীর হাদীস সংকলনের কিতাব
74 - আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন রিযকুল্লাহ আল-মানীনীর হাদীসের কিতাব
75 - বালবাকের একদল অধিবাসীর হাদীস সংকলনের কিতাব
76 - পদচ্যুতির মাধ্যমে দ্রুত প্রতিকার করে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার পূর্ণ করার কিতাব
77 - মালিক বিন আনাসের আউয়ালী হাদীসসমূহ থেকে চয়নকৃত কিতাব, ৩১ খণ্ড
78 - আতিত (আরশের শব্দ) সংক্রান্ত হাদীস থেকে বিভ্রান্তি দূরীকরণের কিতাব
79 - কুরআন লিপিবদ্ধ করার ফযীলত বর্ণনার কিতাব
80 - যারা 'তাসরীব' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন তাদের ওপর তিরস্কার খণ্ডনের কিতাব
81 - কন্যা সন্তান লাভের মাধ্যমে বিপদ আসার কিতাব
82 - উচ্চপর্যায়ের আবদালগণের বর্ণনায় মণি-মুক্তার কিতাব
83 - অবতরণ সংক্রান্ত হাদীসে যা বর্ণিত হয়েছে তার বিস্তারিত মণিরত্নের কিতাব
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
84 - كتاب مسلسل العيدين
85 - كتاب الإنذار بحدوث الزلازل
86 - كتاب ترتيب الصحابة في مسند أبي يعلي
87 - مسند أبي حنيفة
88 - مسند أهل داريا
89 - مسند مكحول
90 - معجم الصحابة
91 - ترتيب الصحابة في مسند أحمد
92 - معجم النسوان (كتاب من سمع منه من النسوان)
93 - مناقب الشبان خمسة عشر جزءا
94 - من وافقت كنيته كنية زوجته في مجلد
95 - الموافقات على الائمة الثلاثة الثقات في الحديث في ستة مجلدات (كتاب الموافقات على شيوخ الائمة الثقات 72 جزء)
96 - تشريف يوم الجمعة 7 أجزاء 97 - تقوية السنة على إنشاء دور السنة
98 - الاقتداء بالصادق في حفر الخندق
99 - المستفيد في الاحاديث السباعية الاسانيد
100 - مجموع الرغائب مما وقع من حديث مالك الغرائب (10 أجزاء)
101 - مجعم أسماء القرى والامصار
102 - معجم الشيوخ النبلاء (النبل)
103 - معنى قول عثمان: ما تعنيت ولا تمنيت
104 - المقالة الفاضحة للرسالة الواضحة
105 - من لا يكون مؤتمنا لا يكون مؤذنا
106 - هذا الجهد أمضى أبو القاسم طيلة حياته في بذله حيث اشتهر اسمه في الارض
84 - দুই ঈদের মুসালসাল বিষয়ক গ্রন্থ
85 - ভূমিকম্পের সংকেত বিষয়ক গ্রন্থ
86 - মুসনাদে আবু ইয়া'লায় সাহাবীদের বিন্যাস বিষয়ক গ্রন্থ
87 - মুসনাদে আবু হানিফা
88 - দারিয়াবাসীদের মুসনাদ
89 - মুসনাদে মাকহুল
90 - সাহাবীদের অভিধান
91 - মুসনাদে আহমদে সাহাবীদের বিন্যাস
92 - নারীদের অভিধান (যাদের নিকট থেকে তিনি হাদীস শ্রবণ করেছেন সেই সকল নারীদের জীবনীগ্রন্থ)
93 - যুবকদের গুণাবলী ও মর্যাদা (পনেরো খণ্ড)
94 - যার উপনাম তার স্ত্রীর উপনামের সাথে মিলে যায় (এক খণ্ডে)
95 - হাদীস শাস্ত্রে তিনজন নির্ভরযোগ্য ইমামের বর্ণনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বর্ণনাসমূহ, ছয় খণ্ডে (নির্ভরযোগ্য ইমামদের শায়খদের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বর্ণনার কিতাব, ৭২ খণ্ড)
96 - জুমার দিনের মর্যাদা, ৭ খণ্ড ৯৭ - সুন্নাহ শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুন্নাহকে শক্তিশালীকরণ
98 - খন্দক খননের ক্ষেত্রে সত্যবাদীর অনুসরণ
99 - সাত স্তরবিশিষ্ট সনদযুক্ত হাদীসসমূহ হতে ফায়দা গ্রহণ
100 - ইমাম মালিকের বর্ণিত বিরল হাদীসসমূহ থেকে সংগৃহীত আকাঙ্ক্ষিত বিষয়সমূহ (১০ খণ্ড)
101 - গ্রাম ও শহরসমূহের নামের অভিধান
102 - শ্রেষ্ঠ শায়খদের অভিধান (মর্যাদাবানদের মুজাম)
103 - উসমানের বাণীর অর্থ: আমি অনর্থক কষ্ট করিনি এবং মন্দ কামনাও করিনি
104 - 'আর-রিসালা আল-ওয়াদিহা'র অসারতা উন্মোচনকারী প্রবন্ধ
105 - যে ব্যক্তি আমানতদার নয়, সে মুয়াজ্জিন হতে পারে না
106 - আবুল কাসিম তাঁর সারা জীবন এই শ্রম ও প্রচেষ্টায় অতিবাহিত করেছেন, যার ফলে পৃথিবীতে তাঁর নাম সুখ্যাতি লাভ করেছে।
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
ولم يكن له نظير في زمانه من حيث سعة علمه ودأبه على العمل
ولم يزل طول عمره مواظبا على صلاة الجماعة ملازما لقراءة القران مكثرا من النوافل والاذكار والتسبيح أناء الليل وأطراف النهار وكان يختم كل جمعة ولم ير إلا في اشتغال يحاسب نفسه على ساعة تذهب في غير طاعة (1)
وبقي منكبا على التأليف والتصنيف والتدريس وكان الملك العادل محمود بن زنكي نور الدين قد بنى له دار الحديث النورية فدرس بها إلى حين وفاته غير وفاته ملتفت إلى غيرها ولا متطلع إلى زخرف الدنيا ولا ناظر إلى محاسن دمشق ونزهها بل لم يزل مواظبا على خدمة السنة والتعبد باختلاف أنواعه: صلاة وصياما واعتكافا وصدقة ونشر علم وتشييع جنائز وصلات رحم إلى حين قبض (2)
توفي في رجب سنة احدى وسبعين وخمسمئة ليلة الاثنين حادي عشر الشهر وصلى عليه القطب النيسابوري وحضره صلاح الدين ودفن عند أبيه بمقبرة باب الصغير (3)
قال العماد (4) : وكان الغيث قد احتبس في هذه السنة فدر وسح عند ارتفاع نعشه فكأن السماء بكت عليه بدمع وبله وطشه
وقال الحسين بن عبد الله بن رواحة يرثي أبا القاسم بن عساكر (5) : ذرا السعي في نيل العلى والفضائل * مضى من إليه كان شد الرواحل وقولا لساري البرق إني نعيته * بنار أسى أو دمع سحب هو اطل وما كان إلا البحر غار ومن يرد * سواحله لم يلق غير جداول وهبكم رويتم علمه عن رواته * وليس عوالي صحبه بنوازل فقد فاتكم نور الهدى بوفاته * وعز التقى منه ونجح الوسائل خلت سنة المختار من ذب ناصر * فأقرب ما نخشاه بدعة خاذل
--------------------------------------------
তাঁর জ্ঞানের বিশালতা এবং নিরলস কর্মনিষ্ঠার ক্ষেত্রে তাঁর যুগে তাঁর কোনো সমকক্ষ ছিল না।
তিনি আজীবন জামাতে সালাত আদায়ে সচেষ্ট ছিলেন এবং সর্বদা কুরআন তিলাওয়াতে নিমগ্ন থাকতেন। রাত ও দিনের বিভিন্ন অংশে তিনি অধিক পরিমাণে নফল ইবাদত, জিকির ও তাসবিহ পাঠ করতেন। তিনি প্রতি জুমুয়াহতে একবার কুরআন খতম করতেন। ইবাদত ব্যতীত অন্য কোনো কাজে তাঁকে লিপ্ত থাকতে দেখা যেত না; তিনি তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব নিতেন যেন কোনো সময় আল্লাহর আনুগত্যহীন কাজে ব্যয় না হয়। (১)
তিনি গ্রন্থ রচনা, সংকলন এবং অধ্যাপনায় গভীরভাবে নিবিষ্ট ছিলেন। ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ মাহমুদ বিন জাঙ্গি নূরুদ্দীন তাঁর জন্য 'দারুল হাদিস আন-নুরিয়া' নির্মাণ করেছিলেন, সেখানে তিনি আমৃত্যু পাঠদান করেছেন। তিনি অন্য কোনো বিষয়ের দিকে ভ্রূক্ষেপ করতেন না, দুনিয়ার চাকচিক্যের প্রতি লালায়িত ছিলেন না এবং দামেস্কের জাঁকজমক ও মনোরম দৃশ্য দেখার প্রতিও আগ্রহী ছিলেন না। বরং তিনি সর্বদা সুন্নাহর খিদমত এবং বিভিন্ন প্রকার ইবাদতে—যেমন সালাত, সিয়াম, ইতিকাফ, সদকা, ইলম প্রচার, জানাজায় অংশগ্রহণ এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষায়—সতত মগ্ন ছিলেন। (২)
তিনি ৫৭১ হিজরির রজব মাসের এগারো তারিখ সোমবার রাতে ইন্তেকাল করেন। কুতুব আন-নাইসাবুরি তাঁর জানাজার নামাজ পড়ান এবং সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবি তাতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে 'বাব আস-সগির' গোরস্থানে তাঁর পিতার পাশে দাফন করা হয়। (৩)
আল-ইমাদ (৪) বলেন: সেই বছর অনাবৃষ্টি দেখা দিয়েছিল, কিন্তু যখন তাঁর কফিন বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো; যেন আকাশ তাঁর শোকে অশ্রু বিসর্জন দিচ্ছিল।
আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা আবুল কাসিম ইবনে আসাকিরের শোকগাথায় বলেন (৫): উচ্চমর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের প্রচেষ্টা ত্যাগ করো, কারণ যাঁর কাছে জ্ঞানপিপাসুরা ভিড় জমাতেন তিনি আজ বিদায় নিয়েছেন। সান্ধ্য বিদ্যুৎকে বলো যে, আমি তাঁর মৃত্যু সংবাদ দিচ্ছি বিষাদময় আগুনের মাধ্যমে অথবা বর্ষণমুখর মেঘের অশ্রুজলের মাধ্যমে। তিনি ছিলেন এক বিশাল সমুদ্র যা আজ শুকিয়ে গেছে, এখন যে কেউ তাঁর তীরে আসবে সে ক্ষুদ্র নালা ব্যতীত আর কিছুই পাবে না। যদিও তোমরা বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে তাঁর ইলম বর্ণনা করবে, কিন্তু তাঁর উচ্চমর্যাদার সাহচর্য তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। তাঁর ইন্তেকালে তোমাদের হেদায়াতের নূর হারিয়ে গেছে, তাঁর বিদায়ের মাধ্যমে তাকওয়া ও সফলতার মাধ্যমসমূহ বিলীন হয়েছে। রাসুলের সুন্নাহ আজ প্রতিরক্ষা প্রদানকারী সাহায্যকারী শূন্য হয়ে পড়েছে, এখন আমরা যা সবচেয়ে বেশি ভয় করছি তা হলো লাঞ্ছনাকারী বিদআতপন্থীদের উত্থান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
نحا للإمام الشافعي مقالة * فأصبح شافي عي كل مجادل وسد من التجسيم باب ضلالة * ورد من التشبيه شبهة باطل مكانة أبي القاسم بن عساكر وما قيل فيه: يقول السبكي (1) : هو الشيخ الامام: ناصر السنة وخادمها وقامع جند الشيطان بعساكر اجتهاده وهادمها إمام اهل الحديث في زمانه وختام الجهابذة الحفاظ ولا ينكر احد منه مكانة مكانه محط رحال الطالبين وموئل ذوي المهم من الراغبين الواحد الذي أجمعت عليه الامة والبحر الذي لا ساحل له
ويقول ابن خلكان (2) : كان محدث الشام في وقته ومن اعيان الفقهاء الشافعية غلب عليه الحديث فاشتهر به وبالغ في طلبه إلى أن جمع منه ما لم يتفق لغيره
قال سعد الخير: ما رأيت في سن ابن عساكر مثله (3)
قال القاسم بن عساكر: سمعت التاج المسعودي يقول: سمعت أبا العلاء الهمذاني يقول لرجل استأذنه في الرحلة قال: إن عرفت أحدا أفضل مني حينئذ آذن لك ان تسافر إليه إلا ان تسافر الى ابن عساكر فإنه حافط كما يحب (4)
وقال شيخه الخطيب أبو الفضل الطوسي: ما نعرف من يستحق هذا القلب سواه - يعني لفظة الحافظ
ومن ألقابه: ثقة الدولة وصدر الحفاظ وناصر السنة وجمال السنة والثقة
وجميعها تؤكد مكانته وعلمه وثقة العلماء والناس بحديثه وروايته
أما لقبه: " ابن عساكر " فيقول السبكي (5) : ولا نعلم أحدا من جدوده يسمى عساكر وإنما هو اشتهر بذلك يقول الذهبي في السير (6) : فعساكر لا أدري لقب من هو
--------------------------------------------
ইমাম শাফেঈর একটি অভিমতের পথ তিনি অনুসরণ করেছেন, ফলে তিনি প্রত্যেক বিবাদকারীর অক্ষমতার আরোগ্যকারীতে পরিণত হয়েছেন। তিনি দেহবাদিতার ভ্রষ্টতার দ্বার রুদ্ধ করেছেন এবং সাদৃশ্য প্রদানের বাতিল সংশয়কে খণ্ডন করেছেন।
আবুল কাসিম ইবনে আসাকিরের মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে যা বলা হয়েছে:
সুবকী (১) বলেন: তিনি হলেন শাইখুল ইমাম: সুন্নাহর সাহায্যকারী ও খাদেম, এবং তাঁর ইজতিহাদের সৈন্যবাহিনী দ্বারা শয়তানের বাহিনীকে দমনকারী ও ধ্বংসকারী। তিনি তাঁর সময়ের আহলে হাদীসের ইমাম এবং বিচক্ষণ হাফেজদের ধারার পরিসমাপ্তি। তাঁর সুউচ্চ অবস্থানের বিষয়টি কেউ অস্বীকার করে না; তিনি জ্ঞানান্বেষীদের গন্তব্যস্থল এবং আগ্রহী মহৎ ব্যক্তিদের আশ্রয়স্থল। তিনি এমন এক অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব যার ওপর উম্মাহ ঐক্যমত পোষণ করেছে এবং এমন এক সমুদ্র যার কোনো তট নেই।
ইবনে খাল্লিকান (২) বলেন: তিনি তাঁর সময়ে শামের মুহাদ্দিস ছিলেন এবং শাফেঈ ফকিহগণের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর ওপর হাদীসের চর্চা প্রবল ছিল, ফলে তিনি এর মাধ্যমেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং হাদীস অন্বেষণে এতটাই চরম প্রচেষ্টা ব্যয় করেন যে, তিনি এমন পরিমাণ সংগ্রহ করেন যা অন্য কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি।
সাদ আল-খাইর বলেন: ইবনে আসাকিরের বয়সের মধ্যে আমি তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি (৩)।
কাসিম ইবনে আসাকির বলেন: আমি তাজ আল-মাসউদীকে বলতে শুনেছি: আমি আবুল আলা আল-হামদানিকে এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি যে তাঁর কাছে (জ্ঞানের সন্ধানে) সফরের অনুমতি চাচ্ছিল। তিনি বললেন: যদি তুমি এমন কাউকে চেনো যে আমার চেয়ে উত্তম, তবে আমি তোমাকে তাঁর কাছে সফরের অনুমতি দেব, তবে তুমি যদি ইবনে আসাকিরের কাছে সফর করো (তবে সেটি স্বতন্ত্র কথা), কেননা তিনি কাঙ্ক্ষিত মানের একজন হাফেজ (৪)।
তাঁর উস্তাদ খতীব আবুল ফজল আত-তুসী বলেছেন: আমরা তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে চিনি না যে এই উপাধির যোগ্য—অর্থাৎ 'হাফেজ' শব্দটির।
তাঁর উপাধিগুলোর মধ্যে রয়েছে: সিক্বাতুদ্দৌলা, সদরুল হুফফাজ, নাসিরুস সুন্নাহ, জামালুস সুন্নাহ এবং আস-সিক্বাহ।
এই সবগুলোই তাঁর মর্যাদা, ইলম এবং তাঁর হাদীস ও বর্ণনার ওপর আলেমগণ ও সাধারণ মানুষের আস্থার প্রমাণ দেয়।
তাঁর উপাধি "ইবনে আসাকির" সম্পর্কে সুবকী (৫) বলেন: আমরা তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্যে কাউকে 'আসাকির' নামে ডাকার কথা জানি না, বরং তিনি এর মাধ্যমেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। আয-যাহাবী 'আস-সিয়ার' (৬) গ্রন্থে বলেন: আসাকির কার উপাধি তা আমার জানা নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
من أجداده أو لعله اسم لاحدهم
وأول من أثبت هذا اللقب ابن الجوزي (1) قال: علي بن الحسن بن هبة الله أبو القاسم الدمشقي المعروف بابن عساكر
وقال فيه الشيخ النووي: هو حافظ الشام بل هو حافظ الدنيا الامام مطلقا الثقة الثبت (2)
وقال ابن الدبيثي (3) : أحد من اشتهر ذكره وشاع علمه وعرف حفظه وإتقانه
وقال: أبو القاسم ختم به هذا الشأن ولم يخلف بعده في الحديث مثله ولا أرى مثل نفسه في معرفة الحديث ومعرفة رجاله
وقال الذهبي في السير (4) : وبلغنا أن الحافظ عبد الغني المقدسي بعد موت ابن عساكر نفذ من استعار له شيئا من تاريخ دمشق فلما طالعه انبهر لسعة حفظ ابن عساكر ويقال: ندم على تفويت السماع منه فقد كان بين ابن عساكر وبين المقادسة واقع رحم الله الجميع
شعره: وللحافظ أبي القاسم بن عساكر شعر كثير قلما أملى مجلسا إلا ختمه بشئ من شعره
ومن أبيات بعثها إلى أبي سعد بن السمعاني يعاتبه على كتاب كان أبو سعد قد بعثه إليه: ما كنت أحسب أن حاجاتي إلي * - ك وإن نأت داري مضاعه أنسيت ثدي مودتي * بيني وبينك وارتضاعه ولقد عهدتك في الوقا * ءأخا تميم لا قضاعة (5)
--------------------------------------------
তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্য থেকে অথবা সম্ভবত এটি তাঁদের একজনের নাম।
এবং সর্বপ্রথম যিনি এই উপাধিটি সাব্যস্ত করেছেন তিনি হলেন ইবনুল জাওজি (১), তিনি বলেছেন: আলী বিন হাসান বিন হিবাতুল্লাহ আবুল কাসিম আদ-দিমাশকি, যিনি ইবনে আসাকির নামে পরিচিত।
শায়খ আন-নববী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি শামের হাফিজ, বরং তিনি দুনিয়ার হাফিজ, নিরঙ্কুশ ইমাম, নির্ভরযোগ্য এবং সুদৃঢ় বর্ণনাকারী (২)।
ইবনুল দুবাইসি (৩) বলেছেন: তিনি তাঁদের একজন যাঁদের আলোচনা প্রসিদ্ধ হয়েছে, যাঁর জ্ঞান ছড়িয়ে পড়েছে এবং যাঁর মুখস্থশক্তি ও পারদর্শিতা সুপরিচিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেছেন: আবুল কাসিমের মাধ্যমেই এই শাস্ত্রের সমাপ্তি ঘটেছে, এবং তাঁর পরে হাদীস শাস্ত্রে তাঁর মতো কাউকে তিনি রেখে যাননি। আর হাদীস এবং হাদীসের বর্ণনাকারীদের (রিজাল) জ্ঞান অর্জনে আমি তাঁর নিজের মতো কাউকে দেখিনি।
আয-যাহাবি আস-সিয়ার (৪) গ্রন্থে বলেছেন: আমাদের কাছে পৌঁছেছে যে, হাফিজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসি ইবনে আসাকিরের মৃত্যুর পর 'তারিখে দিমাশক'-এর কিছু অংশ ধার নেওয়ার জন্য কাউকে পাঠিয়েছিলেন। যখন তিনি এটি পাঠ করলেন, তখন ইবনে আসাকিরের মুখস্থশক্তির বিশালতা দেখে অভিভূত হয়ে পড়লেন। বলা হয়ে থাকে: তিনি তাঁর নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করার সুযোগ হারানোর জন্য অনুতপ্ত হয়েছিলেন; কেননা ইবনে আসাকির এবং মাকদিসিদের মধ্যে কিছু মনোমালিন্য ছিল। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন।
তাঁর কবিতা: হাফিজ আবুল কাসিম ইবনে আসাকিরের অনেক কবিতা রয়েছে। তিনি খুব কম মজলিসই এমনভাবে শেষ করতেন যেখানে তাঁর কবিতার কিছু অংশ পাঠ করতেন না।
তাঁর কবিতাগুলোর মধ্যে কিছু পঙক্তি যা তিনি আবু সাদ বিন আস-সাময়ানিকে পাঠিয়েছিলেন, আবু সাদ কর্তৃক প্রেরিত একটি চিঠির ব্যাপারে অনুযোগ করে: আমি কখনো ভাবিনি যে আমার প্রয়োজনগুলো তোমার কাছে তুচ্ছ হবে, যদিও আমার আবাসস্থল দূরে। তুমি কি আমাদের মধ্যকার ভালোবাসার সেই নিবিড় বন্ধন ও ঘনিষ্ঠতা ভুলে গেলে? আমি তো তোমাকে বিশ্বস্ততায় তামিম বংশের ভাইয়ের মতো জানতাম, কুদাআ বংশের মতো নয় (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
ومن شعره (1) : ألا إن الحديث أجل علم * وأشرفه الاحاديث العوالي وأنفع كل نوع منه عندي * وأحسنه الفوائد والامالي فإنك لن ترى للعلم شيئا * تحققه كأفواه الرجال فكن يا صاح ذا حرص عليه * وخذه عن الشيوخ بلا ملال ولا تأخذه من صحف فترمى * من التصحيف بالداء العضال ومن شعر الحافظ أبي القاسم بن عساكر أيضا (2) : أيا نفس ويحك جاء المشيب * فماذا التصابي وماذا الغزل تولى شبابي كأن لم يكن * وجاء مشيبي كأن لم يزل كأني بنفسي على غرة * وخطب المنون بها قد نزل فياليت شعري ممن أكون * وما قدر الله لي بالأزل قال السمعاني: وأنشدني لنفسه ببغداد (3) : وصاحب خان ما استودعته وأتى * ما لا يليق بأرباب الديانات وأظهر السر مختار بلا سبب * وذاك والله من أوفى الجنايات أما أتاه عن المختار في خبر * أن المجالس تغشى بالامانات قال السمعاني: وأنشدني لنفسه بنيسابور (4) : لا قدس الله نيسابور من بلد * ما فيه من صاحب يسلي ولا سكن لولا الجحيم الذي في القلب من حرق * لفرقة الأهل والأحباب والوطن يا قوم دوموا على عهد الهوى وثقوا * أني على العهد لم أغدر ولم أخن ولا تدبرت عيشي بعد بعدكم * إلا تمثلت بيتا قيل من زمن فإن أعش فلعل الله يجمعنا * وإن أمت فقتيل الهم والحزن
--------------------------------------------
ومن তাঁর কবিতা থেকে (১):
জেনে রেখো, হাদীস হলো সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান * এবং এর মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ হলো উচ্চ সনদ সংবলিত হাদীসসমূহ।
আমার নিকট এর প্রতিটি প্রকারের মধ্যে অধিক উপকারী * এবং এর মধ্যে উত্তম হলো 'ফাওয়ায়েদ' ও 'আমালী'।
নিশ্চয়ই তুমি জ্ঞানের এমন কোনো বিষয় পাবে না * যা উস্তাদদের মুখনিঃসৃত বাণীর মতো সুনিশ্চিত।
অতএব হে বন্ধু, এর প্রতি আগ্রহী হও * এবং কোনো ক্লান্তি ছাড়াই শাইখদের নিকট থেকে তা গ্রহণ করো।
কেবল পাণ্ডুলিপি থেকে তা গ্রহণ করো না, অন্যথায় তুমি * ভুল পাঠের দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে।
এবং হাফিয আবু কাসিম ইবনে আসাকিরের আরও কিছু কবিতা (২):
হে নফস, তোমার ধিক্কার! বার্ধক্য এসে গেছে * তবে কেন এই শিশুসুলভ চপলতা আর প্রেমের কবিতা?
আমার যৌবন এমনভাবে বিদায় নিয়েছে যেন তার অস্তিত্বই ছিল না * আর বার্ধক্য এমনভাবে এসেছে যেন তা কখনো যাবে না।
মনে হচ্ছে অসতর্ক অবস্থায় আমি আমার প্রাণের মুখোমুখি * আর মৃত্যুর মহাবিপদ তার ওপর অবতীর্ণ হয়েছে।
হায়, আমি যদি জানতে পারতাম আমি কাদের অন্তর্ভুক্ত হব * আর আল্লাহ অনাদিকাল থেকে আমার জন্য কী নির্ধারণ করে রেখেছেন।
সামআনী বলেন: তিনি বাগদাদে আমাকে নিজের রচিত এই কবিতাটি শুনিয়েছেন (৩):
এমন এক সাথী যাকে আমি আমানত দিয়েছিলাম, কিন্তু সে খেয়ানত করেছে * এবং এমন কাজ করেছে যা ধার্মিক ব্যক্তিদের শোভা পায় না।
সে কোনো কারণ ছাড়াই স্বেচ্ছায় গোপন কথা প্রকাশ করে দিয়েছে * আর আল্লাহর কসম, এটি অতি বড় অপরাধসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত সেই সংবাদ কি তার কাছে পৌঁছেনি * যে, মজলিসের কথাগুলো আমানত স্বরূপ?
সামআনী বলেন: তিনি নিশাপুরে আমাকে নিজের রচিত এই কবিতাটি শুনিয়েছেন (৪):
আল্লাহ যেন নিশাপুর শহরকে বরকতময় না করেন * যেখানে এমন কোনো বন্ধু নেই যে সান্ত্বনা দেবে, নেই কোনো স্বস্তি।
যদি হৃদয়ের মাঝে সেই দহনকারী আগুন না থাকত * যা পরিবার, প্রিয়জন ও স্বদেশ বিচ্ছেদের কারণে সৃষ্টি হয়েছে।
হে লোকসকল, তোমরা ভালোবাসার অঙ্গীকারে অটল থাকো এবং বিশ্বাস রাখো * যে আমি অঙ্গীকার ভঙ্গ করিনি এবং খেয়ানতও করিনি।
তোমাদের থেকে দূরে যাওয়ার পর আমি যখনই আমার জীবনের কথা ভেবেছি * তখনই অনেক আগে বলা একটি কবিতা আমার স্মৃতিতে ভেসে উঠেছে:
"যদি আমি বেঁচে থাকি, তবে সম্ভবত আল্লাহ আমাদের একত্রিত করবেন * আর যদি মারা যাই, তবে আমি চিন্তা ও শোকের আঘাতেই মৃত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
(تاريخ مدينة دمشق) : سمى أبو القاسم الحافظ ابن عساكر تاريخه: تاريخ مدينة دمشق وذكر فضلها وتسمية من حلها من الاماثل أو اجتاز بنواحيها من وارديها وأهلها
يفهم من تمسيته أنه أرخ لمدينة دمشق في مرحلة ما أو في عصره والذي يعرض للكتاب يرى أن ابن عساكر لم يخص دمشق أو نواحيها فقط بل تعداها في الكلام فكتب لبلاد الشام كلها ويصبح التخصيص في التسمية قاصار عن الاحاطة بمضمون شمولية الكتابة والمواضيع والتراجم التي تطرأ إليها
يقول د. شكري فيصل في مقدمة المطبوعة عاصم - عائذ (1) : إن المؤلف لا يقدم لنا تاريخا دمشقيا ولا تاريخا شاميا فسحب وإنما يقدم تاريخا حضاريا لهذه البلاد كلها التي انتشر فيها الاسلام وسادت فيها العربية وانساحت فيها مهاجرة العرب المسلمين بين أقصى الشرق فيما وراء النهر وبين أطراف المحيط
ولقد خص الحافظ المجلدة الاولى بفضائل الشام وفتوح الشام عامة وبعض المجلدة بخطط دمشق وذكر مساجدها وكنائسها وأبوابها ودورها وأنهارها وقنواتها ثم بدأ بالترجمة لكل من دخلها أو اجتاز بنواحيها من أنبيائها وهداتها وخلفائها وولاتها وفقهائها وقضاتها وعلمائها ورواتها وقرائها ونحاتها وشعرائها ورواتها
ولم يكن تاريخه أول تاريخ لدمشق والشام ولم يكن تاريخ دمشق الاول من نوعه بين كتب تاريخ المدن
فقبله ألف " تاريخ لدمشق والشام ولم يكن تاريخ دمشق الاول من نوعه بين كتب تاريخ المدن
فقبله ألف " تاريخ الرقة " للقشيري وتاريخ أصبهان لابي نعيم وتاريخ نيسابور للحاكم وتاريخ بغداد للخطيب وهو أهم ما أنتج قبله
ويمتاز تاريخ دمشق عن التواريخ التي سبقته أنه أوسعها مادة وأشملها توجها وفي قيمته ومكانته يقول: د
المنجد (2) : لم تشهد دمشق في تاريخها محدثا فاق الحافظ في الحديث ولم تعرف في تاريخها ثمانين مجلدة غيره فيكفيها فخرا أنها أوتيت أوسع
--------------------------------------------
(তারিখ মদিনাতু দিমাশক) : আবুল কাসিম আল-হাফিয ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাস গ্রন্থটির নাম রেখেছেন: তারিখ মদিনাতু দিমাশক (দামেস্ক শহরের ইতিহাস) এবং এতে তিনি এর ফজিলত উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে অবস্থানকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অথবা এর আশপাশ দিয়ে যাতায়াতকারী ও সেখানকার অধিবাসীদের নাম উল্লেখ করেছেন।
তাঁর দেওয়া নামকরণ থেকে বোঝা যায় যে, তিনি একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত অথবা তাঁর নিজের সময়ের দামেস্ক শহরের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন। কিন্তু যে ব্যক্তি এই কিতাবটি পর্যবেক্ষণ করবে সে দেখতে পাবে যে, ইবনে আসাকির কেবল দামেস্ক বা তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তিনি তাঁর আলোচনায় পুরো শাম (সিরিয়া) দেশ নিয়ে লিখেছেন। ফলে নামকরণের এই সীমাবদ্ধতা এই গ্রন্থের লেখার ব্যাপকতা, বিষয়বস্তু এবং এতে আলোচিত জীবনীগুলোর অন্তর্ভুক্তির তুলনায় সংকুচিত হয়ে পড়ে।
মুদ্রিত সংস্করণের আসিম-আইজ (১) খণ্ডের ভূমিকায় ড. শুকরি ফয়সাল বলেন: লেখক আমাদের সামনে কেবল দামেস্কের বা কেবল শামের ইতিহাস পেশ করেননি, বরং তিনি এই পুরো ভূখণ্ডের একটি সভ্যতাগত ইতিহাস তুলে ধরেছেন যেখানে ইসলাম প্রসারিত হয়েছিল, আরবি ভাষা প্রাধান্য পেয়েছিল এবং যেখানে আরব মুসলিম অভিবাসীরা দূর প্রাচ্যের মাওয়ারাননহর থেকে শুরু করে আটলান্টিক মহাসাগরের প্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।
হাফিয (ইবনে আসাকির) প্রথম খণ্ডটি শামের ফজিলত এবং সাধারণভাবে শাম বিজয়ের বর্ণনায় নির্দিষ্ট করেছেন, আর খণ্ডের কিছু অংশ দামেস্কের মানচিত্র এবং এর মসজিদ, গির্জা, প্রবেশদ্বার, ঘরবাড়ি, নদ-নদী ও নালাগুলোর বিবরণে সাজিয়েছেন। এরপর তিনি সেখানে প্রবেশকারী অথবা এর আশপাশ দিয়ে অতিক্রমকারী প্রত্যেক নবী, পথপ্রদর্শক, খলিফা, গভর্নর, ফকিহ, বিচারক, আলিম, বর্ণনাকারী, ক্বারি, ভাষাবিদ, কবি ও হাদিস বর্ণনাকারীদের জীবনী আলোচনা শুরু করেছেন।
তাঁর এই ইতিহাস গ্রন্থটি দামেস্ক বা শামের জন্য লিখিত প্রথম ইতিহাস ছিল না, এমনকি নগর ইতিহাসের গ্রন্থগুলোর মধ্যেও এটি প্রথম ছিল না।
তাঁর পূর্বে দামেস্ক ও শামের ইতিহাস রচিত হয়েছিল এবং নগর ইতিহাসের গ্রন্থগুলোর মধ্যে দামেস্কের ইতিহাসই প্রথম ছিল না।
তাঁর পূর্বে কুশাইরি কর্তৃক "তারিখুর রাক্কা", আবু নুআইম কর্তৃক "তারিখু আসবাহান", আল-হাকিম কর্তৃক "তারিখু নিসাবুর" এবং খতিব (আল-বাগদাদি) কর্তৃক "তারিখু বাগদাদ" রচিত হয়েছিল, যা ছিল তাঁর আগে রচিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
তারিখ মদিনাতু দিমাশক পূর্ববর্তী ইতিহাস গ্রন্থগুলো থেকে আলাদা হওয়ার বৈশিষ্ট্য হলো এটি বিষয়বস্তুতে অধিকতর বিস্তৃত এবং দৃষ্টিভঙ্গিতে অধিকতর ব্যাপক। এর মূল্য ও মর্যাদা সম্পর্কে ড.
আল-মুনজিদ (২) বলেন: দামেস্ক তার ইতিহাসে এমন কোনো মুহাদ্দিস দেখেনি যিনি হাদিস শাস্ত্রে এই হাফিযকে অতিক্রম করতে পেরেছেন, এবং তার ইতিহাসে এই ৮০ খণ্ডের বিশাল গ্রন্থটি ছাড়া আর কোনো গ্রন্থ পরিচিতি পায়নি। দামেস্কের গর্বের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে তাকে দেওয়া হয়েছে সবচেয়ে বিস্তৃত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
تاريخ كتب عن مدينة إسلامية كتبه مؤلف من أعظم العلماء في صدر الاسلام
وفي قيمته صدر الاستاذ محمد كر علي المجلدة الاولى بقوله (1) : ما حظيت مدينة في الاسلام بتاريخ لها يضاهي تاريخ دمشق هذا
ويقول: وقد يكون تاريخ دمشق أوسع تواريخ المدن وهو أيضا من أوسع المصادر في تراجم الرجال
حتى ليجرد منه كتب على حدة في موضوعات مختلفة كولاة دمشق مثلا وقضاتها وشعرائها
ومنه يستخرج أحسن تاريخ لبني أمية سكتت معظم التواريخ عنه
وهو إلى ذلك حوى عدة كتب مستقلة فكل طالب يظفر فيه بطلبته ويجد فيه ما لا يجده في كتاب غيره لان ابن عساكر يمتاز بالتحري والبسط والاستقصاء وتتبع النوادر في سير المترجم لهم وأخبارهم
ومن المؤكد أن الحافظ كان قد وضع تصوره العام لموضوع كتابه في وقت مبكر ولعله وضع النهج والمخطط التفصيلي لمضمون الموضوعات التي سيتناولها بالبحث ولعل هذا التصور المبدئي هو الذي دفع به إلى رحلتيه الاولى والثانية إلى بغداد ومنها إلى مكة وبلاد الحجاز ثم توجهه إلى بلاد العجم
فقد تأكد بشهادة رفيقه وصديقه أبي سعد السمعاني أنه بدأ بكتابه قبل رحلته إلى بلاد العجم يقول السمعاني (2) : " دخل نيسابور قبلي بشهر سمعت منه وسمع مني وسمعت منه معجمه وحصل لي بدمشق نسخة منه وكان قد شرع في التاريخ الكبير لدمشق "
وقد مضى فيما كتبناه أن رحلته إلى بلاد العجم كانت في سنة تسع وعشرين وخمسمئة
وذكرنا أن عودته إلى دمشق كانت في سنة ثلاث وثلاثين وخمسمئة وأنه استقر فيها منصرفا الى التدريس والتصنيف والتاليف وكان نتاج رحلاته تحصيله علما كثيرا وحفظه وإتقانه حديثا واسعا ومعرفة طرقه وأسانيده ومتونه وهو ما ظهر في كتاب تاريخ دمشق
--------------------------------------------
একটি ইসলামি শহরের ইতিহাস সম্পর্কে রচিত গ্রন্থ যা ইসলামের প্রথম যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম কর্তৃক লিখিত।
এর গুরুত্ব সম্পর্কে অধ্যাপক মুহাম্মদ কুর্দ আলী প্রথম খণ্ডের মুখবন্ধে বলেছেন (১): "ইসলামের কোনো শহরই এমন কোনো ইতিহাসের সৌভাগ্য লাভ করেনি যা এই দামেশকের ইতিহাসের সমকক্ষ হতে পারে।"
তিনি আরও বলেন: "সম্ভবত 'তারিখে দামেশক' শহরকেন্দ্রিক ইতিহাসসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিস্তৃত, আর এটি ব্যক্তিদের জীবনী সংক্রান্ত উৎসগুলোর মধ্যেও অন্যতম বিশাল এক আকর।"
এমনকি এটি থেকে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্বতন্ত্র গ্রন্থ বের করা সম্ভব, যেমন উদাহরণস্বরূপ দামেশকের গভর্নরগণ, বিচারকগণ এবং কবিগণ।
আর এখান থেকেই বনু উমাইয়্যাদের শ্রেষ্ঠ ইতিহাস সংকলন করা যায়, যে বিষয়ে অধিকাংশ ইতিহাস গ্রন্থই নীরব থেকেছে।
তদুপরি, এটি বেশ কিছু স্বতন্ত্র বইয়ের সমষ্টি; ফলে প্রত্যেক জ্ঞানান্বেষী এতে তার উদ্দিষ্ট বিষয়টি খুঁজে পায় এবং এমন সব তথ্য পায় যা অন্য কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায় না। কেননা ইবনে আসাকির সূক্ষ্ম অনুসন্ধান, বিস্তারিত বর্ণনা, পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ এবং যাদের জীবনী আলোচিত হয়েছে তাদের জীবনচরিত ও সংবাদে দুর্লভ তথ্যাবলি তালাশ করার ক্ষেত্রে অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
এটি নিশ্চিত যে হাফেজ (ইবনে আসাকির) অনেক আগেই তাঁর গ্রন্থের মূল বিষয়ের একটি সাধারণ রূপরেখা তৈরি করেছিলেন। সম্ভবত তিনি সেই বিষয়গুলোর ওপর গবেষণার জন্য একটি পদ্ধতি ও বিস্তারিত নকশাও প্রণয়ন করেছিলেন যা তিনি আলোচনা করতে চেয়েছিলেন। সম্ভবত এই প্রাথমিক পরিকল্পনাই তাঁকে বাগদাদে প্রথম ও দ্বিতীয় সফরের দিকে ধাবিত করেছিল, যেখান থেকে তিনি মক্কা ও হিজাজ ভূমিতে এবং পরবর্তীতে পারস্যের দেশগুলোর দিকে যাত্রা করেছিলেন।
তাঁর সহকর্মী ও বন্ধু আবু সাদ আল-সামআনী-এর সাক্ষ্য দ্বারা এটি সুনিশ্চিত যে তিনি পারস্য ভ্রমণের আগেই তাঁর গ্রন্থটি শুরু করেছিলেন। সামআনী বলেন (২): "তিনি আমার এক মাস আগে নিশাপুরে প্রবেশ করেছিলেন। আমি তাঁর থেকে শুনেছি এবং তিনিও আমার থেকে শুনেছেন। আমি তাঁর থেকে তাঁর 'মুজাম' শুনেছি এবং দামেশকে তার একটি অনুলিপিও সংগ্রহ করেছিলাম। তিনি তখনই দামেশকের সেই বৃহৎ ইতিহাসের কাজ শুরু করেছিলেন।"
আমরা যা ইতিপূর্বে লিখেছি তাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে পারস্য অভিমুখে তাঁর সফর হয়েছিল পাঁচশত উনত্রিশ হিজরিতে।
আমরা উল্লেখ করেছি যে পাঁচশত তেত্রিশ হিজরিতে তিনি দামেশকে ফিরে আসেন এবং সেখানে থিতু হয়ে পাঠদান ও গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন। তাঁর সফরের ফসল ছিল প্রচুর জ্ঞান অর্জন এবং বিপুল সংখ্যক হাদিস মুখস্থকরণ ও আয়ত্ত করা, সেই সাথে হাদিসের বিভিন্ন ধারা, সনদ ও মতন সম্পর্কে গভীর পাণ্ডিত্য লাভ করা; যা তাঁর 'তারিখে দামেশক' গ্রন্থে ফুটে উঠেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
তারিখু দিমাস্ক লি ইবনু আসাকির
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
ويتحدث الحافظ في مقدمته عن كتابه وعمله ونهجه فيه فقال: أما بعد فإني كنت بدأت قديما بالاعتزام لسؤآل من قابلت سؤاله بالامتثال والالتزام على جمع تاريخ لمدينة دمشق أم الشام حمى الله ربوعها من الدثور والانفصام وسلم جرعها من كيد قاصديهم بالاختصام فيه ذكر من حلها من الاماثل والاعلام فبدأت به عازما على الانجاز له والاتمام فعاقت إنجازه واتمامه عوائق الايام من شدة الخاطر وكلال الناظر وتعاقب الآلام
فصدقت عن العمل به برهة من الاعوام حتى كثر علي في اهماله وتركته لوم اللوام وتحشيم من تحشيمه سبب لوجود الاحتشام وظهر ذكر شروعي فيه حتى خرج عن حد الاكتنام وانتشر الحديث فيه بين الخواص والعوام وتطلع الى مطالعته أولو النهى وذوو الاحكام ورقى خبر جمعي له إلى حضرة الملك القمقام (1) الكامل العادل الزاهد المجاهد المرابط الهمام أبي القاسم محمود بن زنكي بن آق سنقر ناصر الامام أدام الله ظل دولته على كافة الانام وأبقاه مسلما من الاسواء منصور الاعلام منتقما من عداة المسلمين الكفرة الطغام معظما لحملة الدين بإظهار الاكرام لهم والاحترام منغما عليهم بإدرار الاحسان إليهم والانعام عافيا عن ذنوب ذوي الإساءات والاجترام بانيا للمساجد والمدارس والاسوار ومكاتب الايتام راضيا بأخذ الحلال رافضا لاكتساب الحطام آمرا بالمعروف زاجرا على ارتكاب الحرام ناصرا للملهوف وقاهرا للظالم العسوف بالانتقام قامعا لأرباب البدع بالابعاد لهم والارغام خالعا لقلوب الكفرة بالجراة عليهم والاقدام وبلغني تشوقه الى الاستنجاز له والاستتمام ليلم بمطالعة ما تيسر منه بعض الإلمام فراجعت العمل فيه راجيا الظفر بالتمام شاكرا لما ظهر منه من حسن الاهتمام مبادرا ما يحول دون المراد من حلول الحمام مع كون الكبر مظنة العجز ومطية الاسقام وضعف البصر حائلا دون الاتقان له والاحكام والله المعين فيه بلطفه على بلوغ المرام
وانتهى من تصنيفه في مرحلته الاولى سنة 549 هـ وبلغ خمسمئة وسبعين جزءا ثم أخذ يزيد فيه ويضم إليه ما يستجد عنده حتى تمت نسخته الجديدة والمؤلفة من ثمانين مجلدا سنة 559 هـ
--------------------------------------------
হাফেজ (ইবনে আসাকির) তার ভূমিকায় তার গ্রন্থ, তার কর্মপদ্ধতি এবং এতে অনুসৃত নীতি সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন: অতঃপর, আমি অনেক আগে সেই ব্যক্তির অনুরোধ পালনের অঙ্গীকার ও বাধ্যবাধকতার কারণে দামেশক শহরের—যা শামের জননী—ইতিহাস সংকলনের সংকল্প নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম; আল্লাহ এর জনপদসমূহকে ধ্বংস ও বিভক্তি থেকে রক্ষা করুন এবং এর প্রান্তরসমূহকে বিরোধীদের চক্রান্ত ও বিবাদ থেকে নিরাপদ রাখুন। এতে এখানে বসবাসকারী বরেণ্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আলোচনা রয়েছে। আমি এটি সম্পন্ন ও পূর্ণ করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে শুরু করেছিলাম, কিন্তু মনের অস্থিরতা, দৃষ্টির ক্লান্তি এবং একের পর এক দুঃখ-কষ্টের মতো সময়ের নানা প্রতিবন্ধকতা এর সমাপ্তি ও পূর্ণতা লাভে বাধা হয়ে দাঁড়াল।
ফলে কয়েক বছর আমি এর কাজ থেকে বিমুখ ছিলাম, এমনকি এর অবহেলা ও পরিত্যাগের কারণে নিন্দুকের নিন্দা এবং এমন মর্যাদাবান ব্যক্তিদের পীড়াপীড়ি আমার উপর বেড়ে গেল যাদের সম্মান রক্ষা করা বিনয় ও লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমার এই কাজ শুরুর বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে গেল, এমনকি তা গোপনীয়তার সীমা ছাড়িয়ে গেল এবং সাধারণ ও বিশেষ সব মহলে এর আলোচনা ছড়িয়ে পড়ল। প্রজ্ঞাবান ও বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিরা এটি পড়ার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠলেন। আমার এই সংকলনের খবর মহান রাজা (১), পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব, ন্যায়পরায়ণ, দুনিয়াবিমুখ, মুজাহিদ, অতন্দ্র প্রহরী ও বীর আবু কাসিম মাহমুদ ইবনে জানকি ইবনে আক সানকার—যিনি ইমামের সাহায্যকারী—তাঁর দরবারে পৌঁছাল। আল্লাহ সকল সৃষ্টির ওপর তাঁর শাসনের ছায়া দীর্ঘস্থায়ী করুন, তাঁকে সকল অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখুন, তাঁর ঝাণ্ডাকে বিজয়ী রাখুন এবং নীচ ও অসার কাফিরদের মধ্য থেকে মুসলিমদের শত্রুদের বিরুদ্ধে তাঁকে প্রতিশোধ গ্রহণকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রাখুন। তিনি দ্বীনের ধারক-বাহকদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাঁদের মহিমান্বিত করেন এবং তাঁদের প্রতি ক্রমাগত ইহসান ও অনুগ্রহ বর্ষণের মাধ্যমে তাঁদের সুখী করেন। তিনি অপরাধী ও পাপীদের ক্ষমা করে দেন; তিনি মসজিদ, মাদরাসা, নগরপ্রাচীর ও এতিমখানা নির্মাণকারী। তিনি কেবল হালাল গ্রহণেই তুষ্ট, তুচ্ছ পার্থিব সম্পদ অর্জনে বিমুখ, সৎকাজের আদেশদাতা এবং হারাম কাজে লিপ্ত হতে বাধা প্রদানকারী। তিনি আর্তমানবতার সাহায্যকারী এবং জালিম ও অত্যাচারীদের প্রতিশোধের মাধ্যমে দমনকারী। তিনি বিদআতিদের দূরে সরিয়ে দিয়ে ও লাঞ্ছিত করে তাদের মূল উৎপাটনকারী এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে সাহসিকতা ও বীরত্বের সাথে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের অন্তরে ত্রাস সৃষ্টি করেন। আমার কাছে খবর পৌঁছাল যে, তিনি গ্রন্থটি সমাপ্ত ও পূর্ণ করার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী, যাতে তিনি এর যতটুকু সহজলভ্য হয়েছে তা কিছুটা পাঠ করতে পারেন। তাই আমি এটি সম্পন্ন করার আশায় পুনরায় কাজে ফিরে এলাম এবং তাঁর এই সুন্দর আগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম। বার্ধক্য অক্ষমতার জায়গা এবং অসুস্থতার বাহন হওয়া সত্ত্বেও এবং দৃষ্টির স্বল্পতা একে নিখুঁত ও সুদৃঢ় করার পথে অন্তরায় হওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুর আগমনের আগেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে আমি দ্রুত সচেষ্ট হলাম। আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে উদ্দেশ্য সফল করতে সহায়তাকারী।
এর রচনার প্রথম পর্যায় ৫৪৯ হিজরিতে শেষ হয় এবং তা পাঁচশত সত্তরটি খণ্ডে পৌঁছায়। এরপর তিনি এতে আরও বৃদ্ধি করতে থাকেন এবং নতুন যা কিছু পেতেন তা যুক্ত করতে থাকেন, অবশেষে ৫৫৯ হিজরিতে আশিটি বড় খণ্ডে এর নতুন পাণ্ডুলিপি সমাপ্ত হয়।
--------------------------------------------