(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: -)
المختصر في المنطق   (ابن عرفة)

القسم: المنطق


الكتاب: المختصر في المنطق

المؤلف: محمد بن محمد ابن عرفة الورغمي التونسي المالكي، أبو عبد الله (ت 803هـ)

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 29

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মুখতাসার ফিল মানতিক   (ইবন আরাফাহ)

বিভাগ: মানতিক (যুক্তিবিদ্যা)


গ্রন্থ: আল-মুখতাসার ফিল মানতিক

লেখক: মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ ইবন আরাফাহ আল-ওয়ারগামি আত-তিউনিসি আল-মালিকি, আবু আব্দুল্লাহ (মৃত্যু ৮০৩ হিজরি)

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌صلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه كثيرا إلى يوم الدين.

قال الشيخ الفقيه العالم الصدر الشهير الخبر النبيل المتفنن الأصيل، نسيج وحده وفريد عصره، أبو عبد الله محمد بن الشيخ الصالح المجاور المقدس المرحوم أبي عبد الله محمد بن عرفة الورغمي نسبا إلى التونسي مولدا ومنشأ برد الله ضريحه واسكنه من أعلى الجنان فسيحه.

الحمد لله الذي لا مهدي إلا من هداه. ولا كائن إلا من قضاه. ونشهد أن لا اله إلا الله وإن كل كمال بالحقيقة له. وكل نقص ولو بالمجاز منفي عنه وان محمدا رسوله. المنحصر الأفضلية في شخصه المخصوص بجوامع الكلم ظاهر لفظه ونصه.

وبعد لما مزج اكثر متأخري علماء الأصليين بكلامهم كثيرا من القواعد المنطقية وفصولا من أحكامه التصورية والتصديقية حتى إن بعض من أدركناه من أشياخ الزمان كان يلمع ببعض ألفاظ مبادئ الفن في المسائل الفقهية فيما يدعيه ويفسره فيسكت بذلك عن مراجعته غير المشارك فيه سكوت الأخرس عما يتيقنه ويستبصره فأوجب ذلك المشاركة فيه علما وتعليما واتباع الحق فيه ردا وتسليما وربما كان يجري في الإلقاء لطلبة من تحقيق وتحصيل وتدقيق وتأصيل ما لا يجدونه مسطورا مقررا ولا منقولا ولا محررا.

فرأيت أن اجمع لهم قواعد الفن بوسط الاختصار مع زيادة عرية عن الإكثار منبها على ما قيل من مشهور رأى مضعف وبرهان مزيف. فالله أسال ان يجعل ذلك للنصيحة الدينية خالصا ولخير الدنيا والآخرة جالبا قانصا كاملا لا ناكصا ولا ناقصا.

العلم الذي هو مطلق الإدراك: تصور ان كان إدراكا لغير مطابقة النسبة الحكمية لما في نفس الأمر، وتصديق إن كان إدراكا لها. ويشمل التصديق علما واعتقادا وظنا ووهما وشكا لانا المطابقة اعم من كونها جزما لدليل أو دونه أو راجحة أو مرجوحة مساوية ومن ثم شمل تصديق الممكنة عامة وخاصة.

الفخز: التصديق تصور أمر مع الحكم عليه بإيجاب أو سلب. الأقدمون: هو نفس الحكم. والمشهور إن العلم أما تصور أو تصديق.

ورد على الثالث بعدم اندراجه وعلى الثاني بلزوم كون قسم الشيء قسيما له. وأجاب الأثير والسراج بان المقسم مطلق للإدراك والقسيم المقيد بعد الحكم. ورده ابن البديع بأنه إن أريد بالتصديق مجموع الإدراك والحكم لما يندرج لعدم صدق الجزء على الكل وان أريد به الإدراك المقيد بالحكم كان الحكم خارجا عن التصديق وهو نفسه أو جزءه وبأن العلم انفعال والحكم فعل.

قلت: إن أرادوا بالتصديق إدراك مطابقة النسبة الحكمية استقام التقسيم والجزء المعقول يصدق على الكل كالحيوان الناطق على الإنسان والممنوع المحسوس كالسقف أو الجدار على البيت فلعله من الأول. وليس كل منهما ضروريا لا يتوقف على نظر وهو استحضار ما يفيد إدراكه إدراك غيره فيدخل مفيد التصور ولو بالخاصة على المشهور.

وقول الفخر: ترتيب تصديقات يتوصل بها لعلم أو ظن لا ينعكس لخروج مفيد التصور ولا نظريا يتوقف عليه وإلا لما احتجنا التحصيل ولا قدرنا عليه فبعض كل منهما نظري يمكن تحصيله من بعضه الضروري.

وللفخر مذهب يأتي في المعرف.

ولما غلط الفكر كثيرا احتيج لقانون تعصم مراعاته الفكر من غلطه وهو المنطق. قيل: إن كان ضروريا فلا يتعلم وإن كان نظريا تسلسل.

قيل: منقسم يكتسب نظرية من ضرورية. قيل: إن كفي ضرورية فلا حاجة لنظرية وإلا تسلسل.

قلت: ضرورية كاف في بعض الطرق الموصل لباقيه لا في كلها ثم رأيته في بيان حق السراج. وجواب الخونجي والأثير بكفايته وان الإحاطة بكل الطرق أولى ضعيف لاقتضائه اولية تحصيله لا وجوبه. وجواب مطالع السراج بأن نظرية يكتسب من ضرورية بطريق بين حسن.

وموضوع كل علم ما يبحث فيه عن عارضة الذاتي وهو ما لحقه كذاته أو مساويا أو أعمها الذاتي لا عن عارضة الغريب، ما لحقه لاخصه أو أعمه العرضي.

فموضوع المنطق التصورات والتصديقات وفي كونها الثواني أي هي من حيث الحكم لبعضها على بعض تقييدا وخبريا موصلة لعلم مجهول نوعا توصلا قريبا أو من حيث مطلق توصيلها وان بعد قولا الاثير مع الفخر والشيخ والكاتبي مع السراج والخونجي محتجا لهما في التصور من حيث كونه جزئيا وكليا واحد الخمسة والتصديق من حيث كونه عدولا وتحصيلا وعكسا ونقيضا.
‌‌পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের উপর বিচার দিবস পর্যন্ত অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।.

প্রখ্যাত ফকিহ, বিজ্ঞ আলেম, সুপরিচিত নেতা, মহৎ সংবাদ বহনকারী, বহুমুখী প্রতিভাধর মৌলিক গবেষক, আপন ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় ও স্বীয় যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ—যিনি পুণ্যবান শেখ, পবিত্র মাকামে অবস্থানকারী, মরহুম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আরাফা আল-ওয়ারগামি-এর পুত্র। বংশগতভাবে ওয়ারগামি এবং জন্ম ও বেড়ে ওঠার দিক থেকে তিউনিশীয়। আল্লাহ তাঁর সমাধিস্থলকে শীতল করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের প্রশস্ত স্থানে স্থান দান করুন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর হেদায়েত ব্যতীত আর কেউ সুপথপ্রাপ্ত হয় না। তিনি যা ফয়সালা করেন, তা ব্যতীত আর কিছুই অস্তিত্ব লাভ করে না। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং প্রকৃত অর্থে সকল পূর্ণতা তাঁরই। সকল প্রকার অপূর্ণতা—তা রূপক অর্থেই হোক না কেন—তাঁর থেকে অপসারিত। এবং (সাক্ষ্য দিচ্ছি যে) মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। তাঁর সুনির্দিষ্ট সত্তার মধ্যেই শ্রেষ্ঠত্ব সীমাবদ্ধ, যিনি 'জাওয়ামিউল কালিম' (সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর অর্থবোধক বাণী) দ্বারা বিশিষ্ট এবং যাঁর বাণীর বাহ্যিক শব্দ ও বর্ণনা সুস্পষ্ট।

অতঃপর, যেহেতু পরবর্তী যুগের অধিকাংশ মূলনীতিবিদ আলেমগণ তাঁদের আলোচনার সাথে যুক্তিবাদ বা মানতিকের বহু নিয়ম এবং এর ধারণাগত (তাসাউয়ুর) ও সত্যায়নমূলক (তাসদিক) আহকামের বিভিন্ন অধ্যায়কে সংমিশ্রিত করেছেন, এমনকি আমাদের সমকালীন কোনো কোনো শিক্ষক ফিকহি মাসআলাসমূহের আলোচনায় এই শিল্পের পরিভাষাগুলোর মাধ্যমে তাঁর দাবি ও ব্যাখ্যায় আলোকপাত করতেন, যার ফলে এই শাস্ত্রে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরা বাকরুদ্ধ হয়ে যেত—ঠিক যেমন একজন বোবা ব্যক্তি তার সুনিশ্চিত জ্ঞান সম্পর্কে কিছু বলতে না পেরে চুপ হয়ে যায়—তাই জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে এই শাস্ত্রে অংশগ্রহণ এবং সত্য অনুসরণের উদ্দেশ্যে এর প্রতিবাদ বা স্বীকৃতি প্রদান আবশ্যক হয়ে পড়েছে। সম্ভবত ছাত্রদের কাছে পাঠদানের সময় এমন কিছু তাহকিক, অর্জন, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং মূলনীতি উপস্থাপিত হত যা তারা কোথাও লিখিত, নির্ধারিত, বর্ণিত বা সংকলিত অবস্থায় পেত না।

তাই আমি তাদের জন্য এই শিল্পের নিয়মাবলিকে অতি সংক্ষিপ্ত নয় বরং মধ্যমপন্থায় সংকলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সাথে সাথে অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য বর্জন করে কিছু পরিবর্ধনও করেছি। এখানে আমি কোনো দুর্বল মতবাদ বা ত্রুটিযুক্ত প্রমাণের কথা উল্লেখ করে সতর্ক করে দিয়েছি। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এটিকে দ্বীনি নসিহতের জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভের মাধ্যম বানান, যা হবে পূর্ণাঙ্গ এবং কোনোভাবেই পশ্চাৎমুখী বা অসম্পূর্ণ নয়।

ইলম বা জ্ঞান, যা হলো নিরঙ্কুশ উপলদ্ধি (ইদতরাক): যদি তা বাস্তবতার সাথে হুকুম সংক্রান্ত সম্পর্কের (নিসবাহ হুকমিয়্যাহ) মিল থাকা ব্যতীত কেবল উপলদ্ধি হয়, তবে তা হলো তাসাউয়ুর (ধারণা)। আর যদি তা সেই সম্পর্কের বাস্তবতা অনুযায়ী উপলদ্ধি হয়, তবে তা হলো তাসদিক (সত্যায়ন)। তাসদিকের অন্তর্ভুক্ত হলো ইলম (নিশ্চিত জ্ঞান), ইতিকাদ (বিশ্বাস), জান্ন (প্রবল ধারণা), ওয়াহম (ক্ষীণ ধারণা) এবং শাক (সন্দেহ)। কারণ, সত্যের সাথে মিল থাকা বিষয়টি সাধারণ; চাই তা দলিলের ভিত্তিতে সুনিশ্চিত হোক বা দলিল ব্যতীত হোক, অথবা তা প্রবল হোক কিংবা ক্ষীণ অথবা সমান। এখান থেকেই তাসদিক বিষয়টি 'মুমকিনাহ আম্মাহ' এবং 'খাসসাহ'কে শামিল করে।

ফখরুদ্দীন রাজি-এর মতে: তাসদিক হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে ধারণার সাথে সাথে তার উপর হ্যাঁ-সূচক বা না-সূচক হুকুম আরোপ করা। প্রাচীনদের (আকদামুন) মতে: তাসদিক হলো স্বয়ং হুকুমটি। আর প্রসিদ্ধ মত হলো—ইলম হয় তাসাউয়ুর নতুবা তাসদিক।

তৃতীয় মতের উপর আপত্তি করা হয়েছে যে, এতে অন্যটি অন্তর্ভুক্ত হয় না। আর দ্বিতীয় মতের উপর আপত্তি হলো যে, এতে কোনো জিনিসের অংশ স্বয়ং সেই জিনিসের সমকক্ষ হয়ে যাওয়ার আবশ্যকতা দেখা দেয়। আসির এবং সিরাজ এর উত্তর দিয়েছেন যে, এখানে বিভাজিত মূল বিষয়টি হলো নিরঙ্কুশ উপলদ্ধি, আর এর শাখা বা পরিপূরক হলো হুকুম আরোপের পর তা দ্বারা শর্তযুক্ত হওয়া। ইবনুল বাদি' এর প্রতিবাদ করে বলেছেন যে, তাসদিক দ্বারা যদি উপলদ্ধি ও হুকুমের সমষ্টি উদ্দেশ্য হয়, তবে তা অন্তর্ভুক্ত হবে না, কারণ সমষ্টির ওপর অংশের প্রয়োগ সঠিক নয়। আর যদি তা হুকুম দ্বারা শর্তযুক্ত উপলদ্ধি হয়, তবে হুকুমটি তাসদিকের বহির্ভূত থাকবে, অথচ হুকুম নিজেই তাসদিক বা তার অংশ। তাছাড়া জ্ঞান হলো একটি অর্জিত অবস্থা (ইনফিয়াল) এবং হুকুম হলো একটি কাজ (ফেল)।

আমি বলি: যদি তারা তাসদিক দ্বারা হুকুম সংক্রান্ত সম্পর্কের বাস্তবতার সাথে মিল থাকার উপলদ্ধিকে বুঝিয়ে থাকেন, তবে এই বিভাজন সঠিক হবে। বুদ্ধিবৃত্তিক অংশ (জুয মাকুল) পূর্ণাঙ্গের (কুল) ওপর প্রযোজ্য হয়, যেমন 'হাইওয়ানে নাতিক' (বাকশক্তি সম্পন্ন প্রাণী) মানুষের ওপর প্রযোজ্য হয়। আর যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যভাবে নিষিদ্ধ, যেমন ছাদ বা দেয়াল ঘরের ওপর প্রযোজ্য হওয়া, সম্ভবত এটি প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। এদের প্রত্যেকটিই সপ্রমাণ (জরুরি) নয় যে তার জন্য চিন্তার প্রয়োজন হবে না। চিন্তা বলতে এমন বিষয়কে উপস্থিত করা যা উপলদ্ধি করলে অন্য বিষয়ের উপলদ্ধি অর্জিত হয়। এতে তাসাউয়ুর দানকারী বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হবে, যদিও প্রসিদ্ধ মতানুসারে তা গুণের (খাসসাহ) মাধ্যমেই হোক না কেন।

ফখরুদ্দীন রাজির বক্তব্য: এমন তাসদিকসমূহ বিন্যস্ত করা যার মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান বা প্রবল ধারণা অর্জন করা যায়—এর বিপরীতটি সঠিক নয়। কারণ তাসাউয়ুর দানকারী বিষয়টি এর বাইরে থেকে যায় এবং এটি এমন কোনো তাত্ত্বিক বিষয় (নাজারি) নয় যার ওপর এটি নির্ভরশীল। অন্যথায় আমরা জ্ঞান অর্জনের প্রয়োজন বোধ করতাম না এবং তা করতে সক্ষমও হতাম না। সুতরাং এদের প্রত্যেকটির কিছু অংশ তাত্ত্বিক, যা এর কিছু স্বতঃসিদ্ধ (জরুরি) অংশ থেকে অর্জন করা সম্ভব।

মুয়াররিফ বা সংজ্ঞাদানকারীর আলোচনায় ফখরুদ্দীন রাজির একটি ভিন্ন মত আসবে।

যেহেতু মানুষের চিন্তা অনেক সময় ভুল করে, তাই এমন একটি নিয়মের প্রয়োজন অনুভূত হয়েছে যা পরিপালন করলে চিন্তা ভুল থেকে রক্ষা পায়; আর তা-ই হলো মানতিক বা যুক্তিবিদ্যা। বলা হয়েছে: যদি এটি স্বতঃসিদ্ধ (জরুরি) হয়, তবে তা শেখার প্রয়োজন নেই; আর যদি তাত্ত্বিক (নাজারি) হয়, তবে তা অসীম অনুক্রমের (তাসালসুল) দিকে নিয়ে যাবে।

বলা হয়েছে: এটি বিভক্ত; এর তাত্ত্বিক অংশটি স্বতঃসিদ্ধ অংশ থেকে অর্জিত হয়। আবার বলা হয়েছে: যদি এর স্বতঃসিদ্ধ অংশ যথেষ্ট হয়, তবে তাত্ত্বিক অংশের প্রয়োজন নেই; অন্যথায় তা অসীম অনুক্রমের দিকে যাবে।

আমি বলি: স্বতঃসিদ্ধ বিষয়টি অবশিষ্ট বিষয়সমূহে পৌঁছানোর কোনো কোনো পথের জন্য যথেষ্ট, সব পথের জন্য নয়। পরবর্তীতে আমি এটি সিরাজের 'বায়ানুল হক'-এ পেয়েছি। আর খুনাজি ও আসিরের উত্তর—যেখানে তারা বলেছেন যে এটি যথেষ্ট এবং সকল পথ সম্পর্কে পরিবেষ্টনমূলক জ্ঞান থাকা উত্তম—তা দুর্বল; কারণ এর দ্বারা তা অর্জন করা অগ্রগণ্য হওয়া প্রমাণিত হয়, আবশ্যক হওয়া নয়। আর 'মাতালিউস সিরাজ'-এর উত্তর—যে তাত্ত্বিক বিষয়টি স্পষ্ট নিয়মে স্বতঃসিদ্ধ বিষয় থেকে অর্জিত হয়—তা চমৎকার।

প্রত্যেক ইলমের আলোচ্য বিষয় (মাওদু) হলো তা-ই, যেখানে তার মৌলিক আপতিক বিষয়সমূহ (আরিদে জাতি) নিয়ে আলোচনা করা হয়। এটি এমন বিষয় যা তার সত্তাগতভাবে অথবা সমপর্যায়ের কিংবা তার চেয়ে সাধারণ মৌলিক গুণের সাথে সম্পৃক্ত হয়। এখানে বহিরাগত আপতিক বিষয় (আরিদে গারিব) নিয়ে আলোচনা করা হয় না, যা তার চেয়ে বিশেষ অথবা সাধারণ কোনো বাহ্যিক গুণের সাথে সম্পৃক্ত হয়।

সুতরাং মানতিকের আলোচ্য বিষয় হলো তাসাউয়ুরাত (ধারণাসমূহ) ও তাসদিকাত (সত্যায়নসমূহ)। এগুলোকে 'মা'কুলাত সানিয়াহ' বা দ্বিতীয় পর্যায়ের বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে—অর্থাৎ একে অন্যের ওপর হুকুম আরোপের মাধ্যমে সীমাবদ্ধকারী (তাকয়িদি) অথবা বর্ণনামূলক (খাবারি) হওয়ার দিক থেকে তা নিকটবর্তী উপায়ে কোনো অজ্ঞাত জ্ঞানের দিকে নিয়ে যায় কি না, অথবা সাধারণভাবে তা সেদিকে ধাবিত করে কি না (চাই তা দূরবর্তী উপায়েই হোক)—এই বিষয়ে আসির, ফখরুদ্দীন রাজি, শেখ (ইবনে সিনা) এবং কাতিবি একমত। পক্ষান্তরে সিরাজ ও খুনাজি তাদের সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন যে, তাসাউয়ুরকে আংশিক (জুজি), সামগ্রিক (কুল্লি) এবং পাঁচটি মৌলিক বিষয় (কুল্লিয়াতে খামসা) হওয়ার দিক থেকে এবং তাসদিককে পরিবর্তন (আদুল), অর্জন (তাহসিল), বিপরীত (আকস) ও বিরোধী (নাকিদ) হওয়ার দিক থেকে আলোচনা করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ২)
وموصل الأول قريبا يسمى قولا شارحا والثاني كذلك حجة، وقدم الأول وضعا لتقدم التصور التصديق طبعا ضرورة إن الحكم والمحكوم به وعليه إن لم يتصور امتنع الحكم. ولا يلزم تصور حقيقة المحكوم عليه بل بوجه ما. قيل: لو استدعى الحكم على الشيء تصوره بوجه ما صدق المجهول مطلقا يمتنع الحكم عليه وهو كاذب لآن المحكوم عليه فيه إن كان مجهولا مطلقا تناقض كذبه وإن كان معلوما من وجه أمكن الحكم عليه فالحكم بامتناعه تناقض.

قلت: الحكم عليه باعتبار الشعور به من حيث ذاته ولا تناقض بينهما كاختلاف كيف: حينية، ومطلقة، وجواب الخونجي والسراج بان هذه القضية. يمتنع صدقها خارجية لامتناع موضوعها في الخارج فان كل خارجي معلوم من وجه فيمتنع لزومها لمقدمها وصدقها حقيقية يمكن من غير تناقض فيه نظر لان كذب التالي في نفسه لا يمنع لزومه المقدم وإلا لما صدقت لزومية استثنى فيها نقيض تاليها ولمنع كل خارجي معلوم من وجه. دلالة اللفظ.

وقول الخونجي والأثير والسراج هي فهم في المعنى من اللفظ رده الكاتبي بان الفهم ثان عن الدلالة باللفظ الثانية عن الدلالة فلو كان إياها ما لزم تأخر الشيء عن نفسه بمرتبتين. وابن واصل بثبوتها للفظ قبل الفهم منه وبصحة تعليله بها فيلزم تعليل الشيء بنفسه ورده بمنعه لان المعرف غير المعرف به ولذا لم يقبح هذا إنسان لأنه حيوان ناطق.

والحق إن الحيثية كالمادية والفهم كالغائية فهي مشتركة لقول الشيخ أولا هي ارتسام معنى في النفس لارتسام لفظ في الخيال تعرف النفس إن المسموع للمفهوم. وثانيا لا يدل لفظ بذاته وإلا كان لكل لفظ معنى بل الواضع جعله دالا أي بحيث إذا أطلق فهم منه المعنى. وهي على أمر لوضعه له مطابقة ولكله تضمن ولملزومه الذهني التزام. ولازمه التزام من حيث هو كذلك فيهما احترازا من المشترك بين المعنى وجزئه أو لازمه. فألزموه ذلك في الأولى. وابطل ابن التلمسانى عكس الأولى بالمسمى البسيط.

الفخر: هي على تمام مسماه مطابقة وجزءه تضمن.

قلت: وبقصوره على بعض صور نقض طرده وهي دلالته على آخر أجزاء مسماه. والمعتبر اللازم البين وهو ما يلزم من فهم المسمى فهمه. والمعروف كونه ذهنيا إذ لا فهم دونه لا نقل ابن الحاجب انه خارجي لحصول الفهم دونه كما في العدم والملكة. وفي كونه شرطا أو سببا قولا الأكثر وشيخنا ابن الحباب بناء على إن دلالة الفهم أو الحيثية.

والمشهور دخول دلالة المركب فيها. قالوا لان دلالة الهيئة التركيب بالوضع. وما دل بالأخيرتين دل بالأولى دون عكس لجواز بساطة المسمى وعدم لازمه البين. وزعم الفخر عكس الأخيرة لأن لكل لازما اقله ليس غيره. رد بمنع كونه بينا لأنه ما لزم من فهم المعنى فهمه لا ما إن فهم لزومه. ولفظ الأولى حقيقية وغيرها مجاز. والأولى لفظية والثانية عقليه. وفي كون الثانية مثلها أو كالأولى قولا ابن التلمساني مع الفخر والامدى. والأخيرة قيل مهجورة وفسره الكاتبي بعدم استعمالها في جواب ما هو، ورده الأثير بان التضمن كذلك. وفسره بمنعها في ذكر أجزاء المحدود كحساس ناطق في إنسان. والدال على مركب إن قصد بجزئه جزء معناه وهو المؤلف وإلا فمفرد.

وقيل المركب ما دل جزءه على غير جزء معناه دون جزئه.

وخص الفخر تقسيمه بالدال بالمطابقة فقال ابن التلمساني لا معنى له لانقسام الأخيرين إليهما. ووجهه القرافي بان تخصيصه بإحداهما يخرج البسيط وغير ذي اللازم البين. ويرد بان المتعقب تخصيصه به دونه أعمه المقرون بال لا الأخيرين وغيره بأنه اعم منهما فاستلزم تقسيمه. ورد بان مقسم الأعم لا يقسم الأخص. والمفرد مشترك إن عدد الوضع معناه وإلا فمنفرد علم إن تشخص بالوضع وإلا فمتواطئ استوت أفراده فيه وإلا فمشكك، فعل إن استقل بمعناه دالا بهيئته على زمنه، اسم إن لم يدل بها، حرف إن لم يستقل.
প্রথমটির (تصور) নিকটবর্তী মাধ্যমকে 'ব্যাখ্যামূলক উক্তি' বলা হয় এবং দ্বিতীয়টির (تصديق) মাধ্যমকে অনুরূপভাবে 'দলিল' বলা হয়। বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রথমটিকে অগ্রগণ্য করা হয়েছে, কারণ প্রকৃতিগতভাবেই 'তাসদিক' (সত্যায়ন)-এর পূর্বে 'তাসাওয়ুর' (ধারণা)-এর অবস্থান অপরিহার্য; যেহেতু বিধান, যার অনুকূলে বিধান এবং যার প্রতিকূলে বিধান প্রদান করা হয়, তা কল্পনা বা ধারণা করা না গেলে বিধান প্রদান অসম্ভব হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে যার ওপর বিধান দেওয়া হচ্ছে তার প্রকৃত সত্তা অনুধাবন করা আবশ্যক নয়, বরং কোনো এক দিক থেকে ধারণা লাভ করাই যথেষ্ট। বলা হয়েছে: যদি কোনো বিষয়ের ওপর বিধান প্রদানের জন্য কোনো এক দিক থেকে তার ধারণা থাকা আবশ্যক হয়, তবে 'নিরঙ্কুশ অজ্ঞাত বিষয়ের ওপর বিধান দেওয়া অসম্ভব'—এই উক্তিটি সত্য বলে গণ্য হবে। অথচ এটি মিথ্যা; কারণ এর আলোচ্য বিষয় যদি সত্যই নিরঙ্কুশ অজ্ঞাত হয়, তবে তার অসম্ভব হওয়া স্ববিরোধী। আর যদি তা কোনো এক দিক থেকে জ্ঞাত হয়, তবে তার ওপর বিধান দেওয়া সম্ভব, ফলে এর অসম্ভব হওয়ার দাবি করাও স্ববিরোধী।

আমি বলি: তার ওপর বিধান দেওয়া হয় তার সত্তার দিক থেকে তাকে উপলব্ধির বিচারে, এবং এ দুয়ের মাঝে কোনো স্ববিরোধিতা নেই; যেমন গুণের ভিন্নতা: কখনো তা সাময়িক হয়, আবার কখনো তা নিরঙ্কুশ হয়। খুঞ্জি এবং সিরাজ-এর উত্তর হলো যে, এই প্রতিজ্ঞার সত্যতা বাহ্যিক জগতের ক্ষেত্রে অসম্ভব, কারণ বাহ্যিক জগতে এর উদ্দেশ্য বিদ্যমান থাকা অসম্ভব। কেননা প্রত্যেক বাহ্যিক বিষয়ই কোনো না কোনো দিক থেকে জ্ঞাত, ফলে তার পূর্ববর্তী বিষয়ের জন্য তা আবশ্যক হওয়া অসম্ভব। তবে প্রকৃতগতভাবে স্ববিরোধিতা ছাড়াই এর সত্যতা সম্ভব—এই মতটি পর্যালোচনার দাবি রাখে। কারণ পরবর্তী অংশ নিজের মধ্যে মিথ্যা হওয়া তার পূর্ববর্তী অংশের জন্য আবশ্যকতাকে বাধাগ্রস্ত করে না। অন্যথায় এমন কোনো আবশ্যিক প্রতিজ্ঞা সত্য হতো না যেখানে তার পরবর্তী অংশের বিপরীত বিষয়কে ব্যতিক্রম হিসেবে ধরা হয়েছে। আর প্রত্যেক বাহ্যিক বিষয় কোনো এক দিক থেকে জ্ঞাত হওয়ার দাবিকেও অস্বীকার করা হয়েছে। শব্দের দ্যোতনা।

খুঞ্জি, আসির এবং সিরাজ-এর অভিমত হলো—শব্দ থেকে অর্থ অনুধাবন করাই হলো দ্যোতনা। কাতিবি একে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে, অনুধাবন হলো শব্দ দ্বারা দ্যোতনার পরবর্তী বিষয়, যা আবার দ্যোতনার পরবর্তী স্তর। সুতরাং দ্যোতনা ও অনুধাবন যদি একই হতো, তবে একটি বিষয় নিজের থেকে দুই স্তর পিছিয়ে থাকা আবশ্যক হতো। ইবনে ওয়াসিল একে প্রত্যাখ্যান করেছেন এই যুক্তিতে যে, শব্দ থেকে অর্থ বোঝার আগেই শব্দের মধ্যে দ্যোতনা বিদ্যমান থাকে এবং একে কারণ হিসেবে দর্শানো সঠিক হয়। অন্যথায় একটি বিষয়কে নিজের মাধ্যমেই সংজ্ঞায়িত করা আবশ্যক হয়ে পড়বে। তবে একে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এই বলে যে, সংজ্ঞাদানকারী এবং যাকে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে তারা এক নয়। একারণেই 'এই ব্যক্তিটি একজন মানুষ কারণ সে বাকশক্তি সম্পন্ন জীব'—এমন বলা অশোভন নয়।

সত্য এই যে, 'দিক' বিষয়টি উপাদানগত গুণের মতো এবং 'অনুধাবন' বিষয়টি উদ্দেশ্যগত গুণের মতো; ফলে এটি উভয়ের মাঝে সাধারণ। যেমনটি শায়খ প্রথমে বলেছিলেন যে, এটি হলো কল্পনায় শব্দের উপস্থিতির কারণে মনে অর্থের চিত্রায়ন, যেখানে মন জানতে পারে যে শ্রুত বিষয়টিই অনুধাবিত বিষয়। দ্বিতীয়ত, শব্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো অর্থের প্রমাণ দেয় না, অন্যথায় প্রতিটি শব্দেরই একটি অর্থ থাকত। বরং শব্দ নির্মাতা একে দ্যোতক হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যেন এটি উচ্চারণ করলে তা থেকে অর্থ বোঝা যায়। আর এটি যে অর্থের জন্য নির্ধারিত, তার পূর্ণাঙ্গ অর্থের ওপর প্রয়োগ হলে তাকে 'মুতাবাকাহ', তার অংশের ওপর হলে 'তাদামমুন' এবং তার সাথে যুক্ত মানসিক অপরিহার্যতা বা অনুষঙ্গের ওপর হলে 'ইলতিজাম' বলা হয়। শেষোক্ত ক্ষেত্রে 'ইলতিজাম' হওয়ার শর্ত হলো তা উভয় ক্ষেত্রেই সেই দিক থেকেই অনুষঙ্গ হওয়া, যাতে অর্থ এবং তার অংশ বা অনুষঙ্গের মধ্যকার সাধারণ বিষয় থেকে বেঁচে থাকা যায়। ফলে তারা প্রথম ক্ষেত্রে সেটিকে আবশ্যক করেছেন। ইবনে তিলমিসানি 'সরল নাম' দ্বারা প্রথমটির বিপরীতমুখী হওয়াকে বাতিল করেছেন।

ফখরুদ্দিন আল-রাজি বলেন: পূর্ণ নামীয় অর্থের ওপর দ্যোতনা হলো 'মুতাবাকাহ' এবং তার অংশের ওপর দ্যোতনা হলো 'তাদামমুন'।

আমি বলি: তার এই সংজ্ঞা কিছু ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়ার কারণে তার ব্যাপকতা ক্ষুণ্ণ হয়, যেমন নামীয় অর্থের শেষ অংশের ওপর দ্যোতনা করা। আর গ্রহণযোগ্য অনুষঙ্গ হলো 'সুস্পষ্ট অনুষঙ্গ', যা হলো এমন বিষয় যে নামীয় অর্থ বোঝার সাথে সাথেই তা বোঝা যায়। এটি মানসিক হওয়া সুপরিচিত, কারণ এটি ছাড়া অনুধাবন সম্ভব নয়। ইবনুল হাজিব বর্ণিত এটি 'বাহ্যিক হওয়া'-র মতটি সঠিক নয়, কারণ এটি ছাড়াও অনুধাবন ঘটে থাকে, যেমন 'অস্তিত্বহীনতা' এবং 'যোগ্যতা'-র ক্ষেত্রে। এটি শর্ত নাকি কারণ—এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে; অধিকাংশের মত এবং আমাদের শায়খ ইবনুল হুবাব-এর মত হলো এটি অনুধাবন বা বৈশিষ্ট্যের দ্যোতনার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

প্রসিদ্ধ মতে, যৌগিক শব্দের দ্যোতনাও এর অন্তর্ভুক্ত। তারা বলেন, কারণ বিন্যাসগত কাঠামোর দ্যোতনা নির্ধারণের মাধ্যমে হয়। শেষোক্ত দুটি যার ওপর প্রমাণ দেয়, প্রথমটি অবশ্যই তার ওপর প্রমাণ দেয়; কিন্তু এর বিপরীতটি জরুরি নয়। কারণ নামীয় অর্থটি সরল হতে পারে এবং তার কোনো স্পষ্ট অনুষঙ্গ না-ও থাকতে পারে। ফখরুদ্দিন আল-রাজি শেষোক্তটির বিপরীত দাবি করেছেন, কারণ প্রতিটি বিষয়েরই অন্তত এমন একটি অনুষঙ্গ থাকে যা তার ভিন্ন কিছু নয়। একে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এই বলে যে, এটি 'সুস্পষ্ট' হওয়াকে অস্বীকার করে। কেননা 'সুস্পষ্ট' হলো যা অর্থ বোঝার সাথে সাথেই বোঝা যায়, তা নয় যা বোঝার পর তার আবশ্যকতা বোঝা যায়। প্রথম প্রকারের শব্দ হলো 'প্রকৃত' এবং অন্যগুলো 'রূপক'। প্রথমটি শাব্দিক এবং দ্বিতীয়টি যৌক্তিক। দ্বিতীয় প্রকারটি প্রথমটির মতো কি না—এ বিষয়ে ইবনে তিলমিসানির সাথে ফখরুদ্দিন আল-রাজি ও আমেদি-র দুটি মত রয়েছে। শেষোক্ত প্রকারটি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তা পরিত্যক্ত। কাতিবি এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, এটি 'এটি কী'-এর উত্তরে ব্যবহৃত হয় না। আসির একে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে 'তাদামমুন'-এর ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন এই বলে যে, সংজ্ঞার অংশসমূহ বর্ণনায় এটি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ, যেমন মানুষের ক্ষেত্রে 'সংবেদনশীল বাকশক্তি সম্পন্ন' বলা। যে শব্দ কোনো যৌগিকের ওপর প্রমাণ দেয়, যদি তার অংশ দ্বারা অর্থের অংশ উদ্দেশ্য হয় তবে তাকে 'যৌগিক' বলা হয়, অন্যথায় তা 'একক'।

বলা হয়েছে, যৌগিক হলো তা যার অংশ তার অর্থের অংশ ব্যতিরেকে অন্য কিছুর ওপর প্রমাণ দেয়।

ফখরুদ্দিন আল-রাজি তার বিভাজনকে কেবল 'মুতাবাকাহ' দ্যোতনার সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন। ইবনে তিলমিসানি বলেন, এর কোনো অর্থ হয় না, কারণ শেষোক্ত দুটিও এগুলোতে বিভক্ত হয়। কারাফি এর কারণ দর্শিয়েছেন যে, একে কোনো একটির সাথে সুনির্দিষ্ট করলে 'সরল' এবং 'সুস্পষ্ট অনুষঙ্গহীন' বিষয়গুলো বাদ পড়ে যাবে। এর উত্তরে বলা হয় যে, এর পরবর্তী বিষয়টি এর সাথে সুনির্দিষ্ট করা, অন্যটির সাথে নয়—তা ব্যাপক শব্দের অনুগামী, শেষোক্ত দুটির নয়। অন্যটির ক্ষেত্রে বলা হয় যে, তা উভয়ের চেয়ে ব্যাপক, ফলে এর বিভাজন আবশ্যক। এর জবাবে বলা হয় যে, যা ব্যাপক তার বিভাজনকারী বিষয় সংকীর্ণ বিষয়ের বিভাজন করে না। একক শব্দ যদি নির্ধারণের কারণে একাধিক অর্থ প্রদান করে তবে তা 'মুশতারাক' (যৌগিক অর্থবহ), অন্যথায় তা 'মুনফারিদ' (একক অর্থবহ)। যদি তা নির্ধারণের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট হয় তবে তা 'আলাম' (নামবাচক বিশেষ্য), অন্যথায় তা 'মুতাওয়াত্বি' (সমরূপ), যদি তার ব্যক্তিসমূহ তাতে সমান হয়; অন্যথায় তা 'মুশাক্কিক' (তারতম্যমূলক)। যদি শব্দটি তার অর্থের ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় এবং তার কাঠামোর মাধ্যমে কালের ওপর প্রমাণ দেয় তবে তা 'ক্রিয়া'; যদি কালের ওপর প্রমাণ না দেয় তবে তা 'বিশেষ্য'; আর যদি স্বয়ংসম্পূর্ণ না হয় তবে তা 'অব্যয়'।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৩)
وتصويب ابن واصل إبطال الخونجي عكس رسم الفعل فما يرادفه في لغة العجم لأنه فيها يدل على الزمان بذاته، ونظر المنطقي عام في اللغات، يرد بان عموم نظره فيها باعتبار أحكامها العلمية وهذه لفظية تختلف بحسب اللغات. وشد الفخر في قولهم الفعل والحرث لا يخبر عنه بان المخبر عنه فيه إن كان اسما كذب وان كان فعلا أو حرفا تناقض. وأجيب بان المراد لا يخبر عن معناه معبرا به عنه. واللفظ مرادف إن وافق غيره في المسمى وإلا مباين، كلي إن لم يمنع تصور معناه شركه فيه.

الأثير: امتنع وجود إفراده أو أمكن وما وجد أو وجد واحد وامتنع غيره أو أمكن أو وجد وزيادة غيره غير متناهية غير خفية، جزئي إن منعها أخص من الجزئي الإضافي المندرج تحت كلي، وليس جنسا له لتصوره دونه. والإضافي اعم من الكلي من وجه والمفهومان إن لم يصدقا على واحد تباينا وإلا. لزم صدق كل منهما صدق الآخر تساويا. وإن لزم صدق أحدهما الآخر فالملزوم أخص مطلقا وإلا فكل اعم من الآخر من وجه. ونقيضا المتساويين مثلهما ونقيض الأخص مطلقا اعم من نقيض الأعم مطلقا ونقيض الأعم من وجه لا يلزم كونه اعم من نقيض الآخر أو أخص. لان نقيض الأخص اعم من عين الأعم من وجه مع المباينة الكلية بين نقيض الأعم وعين الأخص وبين نقيضي المتباينين مباينة جزئية لصدق نقيض كل منهما مع الآخر فان صدق مع نقيضه أيضا تباين نقيضاهما تباينا جزئيا وإلا فكليا والمحقق الجزئية. والكلي إن اعتبر من حيث هو طبيعي موجود لان جزء الموجود ومن حيث كونه كليا منطقي ومن حيث مجموعهما عقلي.

الأثير: وفي وجودهما خلاف. وخص التلمساني الخلاف بالثالث. والمقول في جواب ما بجملة أجزاء وفي طريقة كل جزء منهما دل عليه مطابقة والداخل في جوانبه كل جزء منها دل عليه تضمنا. والكلي أقسام: الأول. الجنس المقول على كثيرين مختلفين بالحققة في جواب " ما هو؟ " فيخرج العرض العام. وأورد إن القول على كثيرين اعم من الجنس المطلق لأنه مقول عليه وعلى غيره لكنه أخص منه لأنه جنس للخمسة.

وأجيب بأن الأول باعتبار ذاته. والثاني من حيث كونه جنس للخمسة. ومن هنا تعقب شيخنا ابن الحباب قول ابن اندارس المقول على كثيرين عرض عام للجنس. وفي لزوم كون الجنس ذا نوعين طريقا الأثير والكاتبي. وعلى الأول في لزوم كونهما خارجين نقل الأثير عن المشهور ورأيه. والجنس إن كان تحته جنس لا فوقه فعال وعكسه سافل، وما فوقه وتحته متوسط ومقابله مفرد. ومنع الفخر كون الجنس جنسا لها لامتياز ثلاثتها بعدمي ومجموع وجدودي وعدمي لا يكون نوع وجدودي. والجنس لا يكون ذا نوع واحد. ورده السراج والكاتبي باحتمال كون العدمي عارضا لمقوم وجدودي ومنع وحدة نوع الجنس كوحدة شخص النوع.

قلت غي الأول نظر إذ الماهيات العقلية لا تثبت بالأمور الاحتمالية. الثاني النوع الحقيقي المقول على كثيرين متفقين بالحقيقة في جواب " ما هو؟ " فخرج الفص والخاصة. والإضافي في الإشارات المقول عليه وعلى غيره الجنس قولا أوليا. الفخر: لأنه لا يكون نوعا إلا بنسبته لقريب جنسه والحقيقي لكل ما فوقه. الأثير والخونجي: احتراز من الصنف لأنه بواسطة النوع. وبينهما عموم من وجه الانفراد الحقيقي في البسطة والإضافي في الجنس المتوسط واجتماعها في السافل. ومراتب الإضافي كالجنس. الأثير: الجنس وإن علا والفصل وإن أخذا مجردين كانا نوعين حقيقين. الفخر أحد الخمسة الحقيقي لأنها محمولات والإضافي موضوع.

ورده السراج والخونجي والأثير بأن كونه موضوعا لا يمنع كونه محمولا. يرد بأن كونه إضافيا إنما هو من حيث كونه موضوعا فقط. الثالث: الفصل في الإشارات المقول على الشيء في جواب " ايما هو " في جوهره. زاد في الشفا من جنسه. الفخر: كمال المميز عما يشارك في الجنس. الأثير: فلو تركبت ماهية من امرين يساوينها كان كل منهما فصلا على الأول لا الأخيرين ولو تركبت منهما مع جنس فكذلك على غير الأخير ومجموعهما فصل عليه. ونسبته للجنس بالتقسيم والنوع بالتقويم. ومقوم العالي مقوم السافل دون عكس والمقسم عكسه.
ইবনে ওয়াসিলের আল-খুনজীর সেই খণ্ডনকে সঠিক বলে গণ্য করা যা অনারব ভাষায় ক্রিয়া (ফেল)-এর সংজ্ঞার বিপরীত বিষয়কে বাতিল করে দেয়; কারণ সেখানে এটি স্বয়ং সত্তাগতভাবে সময়ের নির্দেশ করে। আর যুক্তিবিদের (মানতিকীর) দৃষ্টি সকল ভাষার ক্ষেত্রে সাধারণ; যার প্রত্যুত্তরে বলা হয় যে, ভাষার ক্ষেত্রে তার সাধারণ দৃষ্টি এর ইলমী হুকুমসমূহের বিচারে, আর এগুলো হচ্ছে শব্দগত যা ভাষার বিভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। আল-ফখরু (রাজি) তাদের এই বক্তব্যের ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন যে, ক্রিয়া (ফেল) ও অব্যয় (হরফ) সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া যায় না; কারণ যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয় তা যদি বিশেষ্য (ইসম) হয় তবে তা মিথ্যা হবে, আর যদি ক্রিয়া বা অব্যয় হয় তবে তা স্ববিরোধী হবে। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, উদ্দেশ্য হলো তার অর্থ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া যাবে না যখন সেটি দ্বারা তাকে ব্যক্ত করা হয়। আর শব্দটি যদি নামীয় বস্তুর ক্ষেত্রে অন্য শব্দের সাথে মিলে যায় তবে তা সমার্থক (মুরাদিফ), অন্যথায় তা ভিন্নার্থক (মুবায়িন)। যদি এর অর্থের কল্পনা এতে অংশীদারিত্বকে বাধা না দেয় তবে তা সার্বিক (কুল্লি)।

আল-আছীর: এর একক অস্তিত্ব অসম্ভব হতে পারে, অথবা সম্ভব কিন্তু বিদ্যমান নেই, অথবা একটি বিদ্যমান কিন্তু অন্যটি অসম্ভব, অথবা সম্ভব, অথবা বিদ্যমান এবং অন্যদের আধিক্য অসীম ও প্রকাশ্য। এটি বিশেষ (জুযয়ী) যদি তা অংশীদারিত্বকে বাধা প্রদান করে, যা একটি সার্বিকের (কুল্লি) অধীনে অন্তর্ভুক্ত আপেক্ষিক বিশেষের (জুযয়ী ইদাফী) চেয়েও সুনির্দিষ্ট। আর এটি তার লিঙ্গ (জিনস) নয় কারণ তাকে ছাড়া এর কল্পনা করা যায়। আপেক্ষিক (ইদাফী) একদিক থেকে সার্বিকের (কুল্লি) চেয়ে অধিক সাধারণ। আর দু’টি ধারণা (মাফহুম) যদি কোনো একক বস্তুর ওপর প্রযোজ্য না হয় তবে তারা পরস্পর ভিন্ন (তুবায়িন)। অন্যথায়, যদি তাদের একটির সত্যতা অন্যটির সত্যতাকে আবশ্যক করে তবে তারা সমান (তাসাউয়ী)। আর যদি তাদের একটির সত্যতা অন্যটিকে আবশ্যক করে তবে যা আবশ্যক করে তা নিঃশর্তভাবে বিশেষ (আখাসস মুতলাক), অন্যথায় প্রত্যেকে অন্যটির থেকে একদিক থেকে সাধারণ (আ'ম মিন ওয়াজহ)। দু’টি সমান বিষয়ের বিপরীতদ্বয় তাদের মতোই সমান। আর নিঃশর্তভাবে বিশেষের (আখাসস মুতলাক) বিপরীতটি নিঃশর্তভাবে সাধারণের (আ'ম মুতলাক) বিপরীতের চেয়ে নিঃশর্তভাবে সাধারণ। আর একদিক থেকে সাধারণের (আ'ম মিন ওয়াজহ) বিপরীতটি অন্যটির বিপরীতের চেয়ে সাধারণ বা বিশেষ হওয়া আবশ্যক নয়। কারণ বিশেষের বিপরীতটি একদিক থেকে সাধারণের মূল সত্তার চেয়ে অধিক সাধারণ, যেখানে সাধারণের বিপরীত ও বিশেষের মূল সত্তার মধ্যে পূর্ণ ভিন্নতা বিদ্যমান। আর দু’টি ভিন্ন বিষয়ের বিপরীতদ্বয়ের মধ্যে আংশিক ভিন্নতা (মুবায়ানাত জুযয়ীয়াহ) থাকে; কারণ তাদের প্রত্যেকের বিপরীত অন্যটির সাথে সত্য হয়। যদি তা তার বিপরীতের সাথেও সত্য হয় তবে তাদের বিপরীতদ্বয় আংশিকভাবে ভিন্ন হবে, অন্যথায় পূর্ণভাবে ভিন্ন। আর মুহাক্কিকদের মতে তা আংশিক। আর সার্বিক (কুল্লি) যদি বিদ্যমান সত্তা (তাবিয়ী) হিসেবে বিবেচিত হয় তবে তা বিদ্যমান, কারণ এটি বিদ্যমান বস্তুর অংশ; আর সার্বিক হওয়ার দিক থেকে এটি যৌক্তিক (মানতিকী); আর তাদের সমষ্টির দিক থেকে এটি বুদ্ধিগত (আকলী)।

আল-আছীর: তাদের অস্তিত্বের ব্যাপারে মতভেদ আছে। আত-তিলিমসানী এই মতভেদকে কেবল তৃতীয়টির সাথে খাস করেছেন। যা ‘তা কী?’ (মা হুয়া)-এর উত্তরে পূর্ণ অংশের মাধ্যমে বলা হয় এবং যার প্রতিটি অংশ নির্দেশিত পথের ক্ষেত্রে তার ওপর পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখে (মুতাবাকাতান) দালালত করে এবং যার পার্শ্ববর্তী বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি অংশ তার ওপর অন্তর্নিহিতভাবে (তাদাম্মুনান) দালালত করে। সার্বিক (কুল্লি)-এর প্রকারভেদ: প্রথমত: লিঙ্গ বা বর্গ (জিনস), যা ‘তা কী?’ (মা হুয়া)-এর উত্তরে বিভিন্ন হাকীকত বিশিষ্ট বহু বিষয়ের ওপর বলা হয়; ফলে এর থেকে সাধারণ আপতিত গুণ (আরায-এ আম) বের হয়ে যায়। আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, বহু বিষয়ের ওপর বলা হওয়াটি নিঃশর্ত বর্গের (জিনস মুতলাক) চেয়ে অধিক সাধারণ, কারণ এটি তার ওপর এবং অন্য বিষয়ের ওপরও বলা হয়, কিন্তু এটি তার থেকে অধিক বিশেষ কারণ এটি পঞ্চক-এর একটি বর্গ (জিনস)।

উত্তরে বলা হয়েছে যে, প্রথমটি তার সত্তার বিচারে, আর দ্বিতীয়টি পঞ্চক-এর বর্গ হওয়ার বিচারে। এখান থেকেই আমাদের শায়খ ইবনুল হাবাব, ইবনে আন্দারাসের এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন যে, ‘বহু বিষয়ের ওপর বলা হওয়া’ বর্গের (জিনস) জন্য একটি সাধারণ আপতিত গুণ। বর্গের (জিনস) জন্য দু’টি প্রজাতি থাকা আবশ্যক কি না সে ব্যাপারে আল-আছীর ও আল-কাতিবীর দু’টি পথ রয়েছে। প্রথমটির ওপর ভিত্তি করে, সে দু’টি বহির্ভূত হওয়া আবশ্যক কি না সে বিষয়ে আল-আছীর প্রসিদ্ধ মত এবং তার নিজের মত বর্ণনা করেছেন। বর্গের (জিনস) নিচে যদি অন্য বর্গ থাকে কিন্তু উপরে না থাকে তবে তা উচ্চ (আ’লা), আর এর বিপরীতটি নিম্ন (সাফিল); যার উপরে ও নিচে বর্গ থাকে তা মধ্যবর্তী (মুতাওয়াসসিত) এবং এর বিপরীত হলো একক (মুফরাদ)। আল-ফখরু সেগুলোকে বর্গ (জিনস) হিসেবে অস্বীকার করেছেন কারণ সেগুলোর তিনটির বৈশিষ্ট্য অভাবমূলক (আদামী), সমষ্টিগত ও অস্তিত্বমূলক; আর অভাবমূলক কোনো প্রজাতি বা অস্তিত্বমূলক হতে পারে না। আর বর্গ (জিনস) একটি মাত্র প্রজাতি বিশিষ্ট হয় না। আস-সিরাজ ও আল-কাতিবী এর প্রত্যুত্তর দিয়েছেন এই সম্ভাবনার মাধ্যমে যে, অভাবমূলক বিষয়টি একটি অস্তিত্বমূলক উপাদানের জন্য আপতিত হতে পারে এবং বর্গের প্রজাতির একতাকে প্রজাতির ব্যক্তির একতার মতো অসম্ভব বলেছেন।

আমি বলি, প্রথমটিতে আপত্তি আছে, কারণ বুদ্ধিগত হাকীকতসমূহ সম্ভাব্য বিষয়ের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় না। দ্বিতীয়ত: প্রকৃত প্রজাতি (নাউ-এ হাকীকী), যা ‘তা কী?’ (মা হুয়া)-এর উত্তরে সম-হাকীকত বিশিষ্ট বহু বিষয়ের ওপর বলা হয়; ফলে বিভেদক (ফাসল) ও বিশেষ গুণ (খাসসাহ) বের হয়ে যায়। আর ‘আল-ইশারাত’-এ আপেক্ষিক প্রজাতি (নাউ-এ ইদাফী) হলো যার ওপর এবং অন্যকিছুর ওপর বর্গ (জিনস) প্রাথমিকভাবে প্রযোজ্য হয়। আল-ফখরু বলেন: কারণ এটি তার নিকটবর্তী বর্গের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া ছাড়া প্রজাতি হয় না, আর প্রকৃত প্রজাতি তার উপরের সকলের জন্য। আল-আছীর ও আল-খুনজী বলেন: এটি শ্রেণী (সিনফ) থেকে সতর্ক করার জন্য, কারণ তা প্রজাতির মাধ্যমেই হয়। আর এ দু’টির (প্রকৃত ও আপেক্ষিক) মধ্যে একদিক থেকে সাধারণের (আ'ম মিন ওয়াজহ) সম্পর্ক বিদ্যমান; প্রকৃত প্রজাতির একক অস্তিত্ব সরলতার ক্ষেত্রে এবং আপেক্ষিকটি মধ্যবর্তী বর্গের ক্ষেত্রে, আর তাদের একত্র হওয়া ঘটে নিম্নতম বর্গের (সাফিল) ক্ষেত্রে। আপেক্ষিক প্রজাতির স্তরসমূহ বর্গের স্তরের মতো। আল-আছীর বলেন: বর্গ উচ্চ হলেও এবং বিভেদক (ফাসল) পৃথকভাবে নেওয়া হলেও তারা উভয়ই প্রকৃত প্রজাতি। আল-ফখরু বলেন: পঞ্চকের মধ্যে একটিই প্রকৃত, কারণ সেগুলো বিধেয় (মাহমুল) আর আপেক্ষিকটি হলো উদ্দেশ্য (মাওজু)।

আস-সিরাজ, আল-খুনজী ও আল-আছীর এর প্রত্যুত্তর দিয়েছেন যে, উদ্দেশ্য হওয়া বিধেয় হওয়াকে বাধা দেয় না। এর উত্তর দেওয়া হয় যে, তার আপেক্ষিক হওয়া কেবল তার উদ্দেশ্য হওয়ার দিক থেকেই। তৃতীয়ত: বিভেদক (ফাসল), ‘আল-ইশারাত’-এ বর্ণিত সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে তার সারসত্তার (জাওহার) বিচারে ‘সেটি কোনটি’ (আইয়্যামা হুয়া)-এর জবাবে বলা হয়। ‘আশ-শিফা’ গ্রন্থে ‘তার বর্গের মধ্য থেকে’ কথাটি যোগ করা হয়েছে। আল-ফখরু বলেন: এটি সেই গুণের পূর্ণতা যা বর্গের অংশীদার থেকে পৃথক করে। আল-আছীর বলেন: যদি কোনো হাকীকত তার সমান দু’টি বিষয় দ্বারা গঠিত হয়, তবে প্রথম মতানুসারে তার প্রতিটিই বিভেদক হবে, শেষ দু’টি মতানুসারে নয়। আর যদি তারা বর্গের সাথে মিলে গঠিত হয়, তবে শেষ মতটি ছাড়া অন্যদের নিকট তা-ই হবে এবং তাদের সমষ্টি তার নিকট বিভেদক হবে। বর্গের সাথে এর সম্পর্ক হলো বিভাজনকারী (তাকসীম) হিসেবে এবং প্রজাতির সাথে ভিত্তিদানকারী (তাকভীম) হিসেবে। উচ্চের ভিত্তিদানকারী নীচেরটিরও ভিত্তিদানকারী, তবে বিপরীতটি নয়; আর বিভাজনকারীর ক্ষেত্রে বিষয়টি এর উল্টো।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৪)
وأوجب الشيخ كونه علة لوجود حصة النوع من الجنس لان أحدهما إن لم يكن علة الآخر استغنى كل منهما عن الآخر. وليس الجنس علة له إلا استلزمه فتعين العكس. وأجابوه بأنه لا يلزم من عدم العلية التامة الاستغناء ولا من العلية غير التامة الاستلزام.

ومنع الفخر وجوبه بان الفصل قد يكون صفة والصفة لا تكون علة للموصوف. ورده الأثير والسراج والخونجي بان ذلك في الماهية الحقيقية ممنوع.

قلت: القول بالعليه عندنا باطل بين في الكلام وليس كل جزء جنسا أو فصلا كأجزاء العشرة بل الجزء المحمول أحدهما. قالوا فصل الإنسان الناطق لا النطق الذي لا يحمل عليه إلا بالاشتقاق وكذلك البواقي وحيث يطلق ذلك فهو مجاز.

الرابع: الخاصة: في الشفاء: الكلي المقول على أشخاص نوع واحد ما تحت طبيعة في جواب أي شيء هو قول غير ذاتي، وفي الإشارات بدل أشخاص نوع واحد ما تحت طبيعة واحدة. قالوا: على الأول تدخل خاصة النوِع وان علا أو توسط أو سفل لا خاصة الجنس العالي وعلى الثاني تدخل. وربما كان خاصة العالي عرضا عاما للسافل. وتكون لازمة وشاملة. السراج: وتخصيص قوم الخاصة بالأولى يبطل التقسيم المخمس. وقد تكون مركبة من أمور كل منها اعم منها.

الخامس: العرض العام المقول على ما تحت اكثر من طبيعة واحدة قولا عرضيا. وظنه بعض الناس قسيم الجوهر. ورده الخونجي والسراج بان هذا قد يكون جوهرا ومحمولا على الجوهر حملا حقيقيا دون ذلك. وذلك قد يكون جنسا دون هذا.

فالكلي تمام ماهية أفراده نوع وجزءها جنس أو فصل وخارجا عنها خاصة أو عرض عام. والثاني يسمى ذاتيا. والشيخ قد يفسر الذاتي بما ليس بعرضي فالماهية عليه ذاتية. والذاتي جنس أو فصل لأنه إن 1 صان مقولا في جواب " ما هو؟ " كان جنسا وإلا فأن اختص بالماهية كان فصلا لتمييزه الذاتي اياها فان كان تمام مميزها بقريب وإلا ففصل. فصل وان لم يختص بها امتنع كونه تمام مشترك بينها وبين ما يخالفها وألان مقولا عليها في جواب " ما هو؟ " والفرض خلافة فوجب كونه جزءا من تمام المشترك لا مباينا له ولا أخص ولو من وجه لوجود المباين والأعم ولو من وجه دون مباينة وأخصه وامتناع وجود الكل دون جزئه ولا اعم وإلا وجد دونه مشتركا بينها وبين ماهية ما.

وامتنع كونه تمام المشترك لفرض كونه غير تام فكان جزءا من تمام المشترك بينهما وعاد الكلام وتسلسل فوجب كونه مساويا لتمام المشترك فهو جنس وفصل للماهية عما يشار لَها في ذلك الجنس. والخارج غير لازم إن لم يمتنع رفعه عن الماهية وإلا فلازم للوجود أو للماهية بوسط وهو البعيد أم هو القريب والوسط ما يقرن " بلانه " كذا وإلا لما جهل حمل أمر على غيره وتسلست اللوازم.

معرف الشيء ما أوجب تصوره أو تمييزه عما سواه. فشرطه كونه أجلى منه ومتصورا قبله ومساويا له في الصدق، وحد تام إن كان بالجنس القريب والفصل، ناقص إن كان به فقط أو به وبالجنس البعيد. ورسم تام إن كان بالقريب والخاصة وناقص إن كان بها فقط أو بها وبالبعيد.

وقول نصير الدين السمرقندي: زعم بعض المحدثين إن مجرد الفصل أو الخاصة يفيد تعريفا ناقصا خلاف قول المحققين لا يفيد شيئا غريب. التعريف بالمثل تعريف بمحض المشابهة. رسم وخلل كل بعدم شرطه. ويقدم الأعم لكونه اعرف. وفي كونه أوجب أو أولى قولا السراج والأثير مع الخواجي وخلل لفظه عدم ظهور دلالته. وللفخر في بعض كتبه: لا شيء من التصور أما بمكتسب لان التصور أما مشعور به أو غير مشعور وكل مشعور به يمتنع طلبه لأنه تحصيل حاصل وكل غير مشعور به كذلك للغفلة عنه.

ورده الخونجي والأثير والسراج بان المعلوم ببعض اعتباراته يمكن طلب حقيقته وطلب ماهية الجن. والمراغي بكذب القياس لان العكس المستوي لعكس نقيض كل من الحمليتين ينافي الأخرى. ورد الثلاثة بان موضوع الحمليتين تصور مشعور به وتصور غير مشعور به لا مشعور به ولا غير مشعور به والعكس المذكور لكل من القضيتين لا ينافي الأخرى.

والخونجي والسراج بمنع انعكاسه عكس النقيض إلى الموجب المنعكس عكس الاستقامة إلى منافي الثاني. وشك في التعريف بأنه يمتنع تعريف الشيء بنفسه أو بكل أجزائه لأنها وببعضها لان معرف المركب معرف كل جزء منه وبالخارج لتوقفه على اختصاصه بها الموقوف على معرفتها وعلى العلم بما سواها مفصلا.
শায়খ সাব্যস্ত করেছেন যে, জিনের (জাতীয় সাধারণ সত্তার) মধ্যে যে প্রজাতিগত অংশ থাকে, তার অস্তিত্বের জন্য এটি একটি কারণ হওয়া আবশ্যক। কারণ, একটি যদি অন্যটির কারণ না হয়, তবে উভয়টি একে অপরের থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে পড়বে। আর জিন্স তার কারণ নয়, যদি না তা একে অপরিহার্য করে তোলে; ফলে এর বিপরীতটিই নির্দিষ্ট হলো। তাঁরা এর উত্তরে বলেছেন যে, পূর্ণ কারণের অনুপস্থিতি থেকে অমুখাপেক্ষিতা আবশ্যক হয় না, আর অপূর্ণ কারণ থেকেও অপরিহার্যতা (ইস্তিলযাম) আবশ্যক হয় না।

ফখর এর আবশ্যকতাকে অস্বীকার করেছেন এই যুক্তিতে যে, বিভেদক (ফসল) কখনো গুণ হতে পারে, আর গুণ গুণী বা বিশেষ্যের জন্য কারণ হতে পারে না। আছীর, সিরাজ এবং খুনাজী একে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে, প্রকৃত মাহিয়াত বা সারসত্তার ক্ষেত্রে এটি অগ্রহণযোগ্য।

আমি বলছি: আমাদের নিকট ইলমুল কালামের দৃষ্টিতে কারণতত্ত্বের (ইলালিয়্যাহ) এই মতটি স্পষ্টতই বাতিল। দশে-র (দশ সংখ্যার) অংশগুলোর মতো প্রতিটি অংশই জিন্স (জাতি) বা ফছল (বিভেদক) নয়; বরং শুধুমাত্র যা ‘মাহমূল’ বা বিধেয় হয় সেটিই এগুলোর কোনো একটি হয়। তাঁরা বলেন: মানুষের বিভেদক হলো ‘নাতিক’ (বিবেচক), ‘নুতক’ (বাকশক্তি) নয়; কারণ ‘নুতক’ কেবল ইসতিশফাক বা বুৎপত্তির মাধ্যমেই বিধেয় হতে পারে। অবশিষ্টগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। যেখানে এর ব্যতিক্রম হয়, তা মূলত রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়।

চতুর্থ: খাসসাহ (বিশেষত্ব): ‘শিফা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে—এটি এমন একটি কুল্লি বা সার্বিক বিষয় যা একই প্রকৃতির অধীনস্থ একক প্রজাতিগুলোর ওপর ব্যক্ত করা হয় এবং ‘এটি কী জাতীয় জিনিস?’—এই প্রশ্নের উত্তরে যা ব্যবহৃত হয় তা সত্তাগত নয়। ‘ইশারাত’ গ্রন্থে ‘একই প্রকৃতির অধীনস্থ প্রজাতিগুলোর ব্যক্তিবর্গের’ পরিবর্তে ‘একই প্রকৃতির অধীনস্থ একটি মাত্র প্রকৃতির ব্যক্তিবর্গের’ কথা বলা হয়েছে। তাঁরা বলেন: প্রথম সংজ্ঞা অনুযায়ী উচ্চতর, মধ্যম বা নিম্নতর—সব ধরনের প্রজাতির ‘খাসসাহ’ বা বিশেষত্ব এর অন্তর্ভুক্ত হবে, কিন্তু উচ্চতর জাতির (জিনসে আলি) খাসসাহ অন্তর্ভুক্ত হবে না। দ্বিতীয় সংজ্ঞা অনুযায়ী তা অন্তর্ভুক্ত হবে। কখনো উচ্চতর সত্তার বিশেষত্ব নিম্নতর সত্তার জন্য ‘আরাজে আম’ বা সাধারণ আপতিক গুণ হিসেবে গণ্য হয়। এটি অপরিহার্য (লাজিম) এবং ব্যাপক হয়ে থাকে। সিরাজ বলেন: একদল আলিমের পক্ষ থেকে খাসসাহকে শুধুমাত্র প্রথম প্রকারের সাথে সুনির্দিষ্ট করা এই পঞ্চ-বিভাগকে (খামসা) বাতিল করে দেয়। কখনো কখনো এটি এমন কিছু বিষয়ের সমষ্টি হতে পারে যার প্রতিটিই তার চেয়ে ব্যাপক।

পঞ্চম: আরাজে আম (সাধারণ আপতিক গুণ), যা একাধিক প্রকৃতির অধীনস্থ বিষয়ের ওপর আপতিকভাবে ব্যক্ত করা হয়। কেউ কেউ একে ‘জওহর’ বা সারসত্তার সমান্তরাল বিভাগ বলে মনে করেছেন। কিন্তু খুনাজী ও সিরাজ তা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে, এটি কখনো জওহর হতে পারে এবং জওহরের ওপর রূপক নয় বরং প্রকৃত অর্থে বিধেয় (মাহমূল) হতে পারে। পক্ষান্তরে জওহর কখনো জিন্স হতে পারে কিন্তু এটি তা নয়।

সুতরাং যে কুল্লি (সার্বিক ধারণা) তার ব্যক্তিবর্গের পূর্ণ সারসত্তা (মাহিয়াত), তা হলো ‘নও’ (প্রজাতি); আর যা তার অংশ, তা ‘জিন্স’ (জাতি) বা ‘ফছল’ (বিভেদক); আর যা সারসত্তার বহির্ভূত, তা ‘খাসসাহ’ বা ‘আরাজে আম’। দ্বিতীয় প্রকারকে ‘যাতি’ (সত্তাগত) বলা হয়। শায়খ কখনো ‘যাতি’র ব্যাখ্যায় এমন বিষয়কে বুঝিয়েছেন যা ‘আরাজি’ (আপতিক) নয়; এমতাবস্থায় মাহিয়াত বা সারসত্তা নিজেই যাতি হিসেবে গণ্য হবে। যাতি হয় জিন্স হবে অথবা ফছল। কারণ যদি তা ‘এটি কী?’ প্রশ্নের উত্তরে ব্যক্ত হয়, তবে তা জিন্স। অন্যথায়, যদি তা উক্ত মাহিয়াতের সাথে সুনির্দিষ্ট হয়, তবে তাকে সত্তাগতভাবে পৃথক করার কারণে ‘ফছল’ বলা হবে। যদি এটি তার পূর্ণ পৃথককারী হয় তবে তা ‘ফছলে ক্বরিব’ (নিকটবর্তী বিভেদক), অন্যথায় শুধু ‘ফছল’। যদি এটি উক্ত মাহিয়াতের সাথে সুনির্দিষ্ট না হয়, তবে এটি অন্যান্য ভিন্নধর্মী বিষয়ের মাঝে সাধারণ বিষয়ের পূর্ণ রূপ হওয়া অসম্ভব। এখন যদি এটি ‘এটি কী?’ প্রশ্নের উত্তরে ব্যক্ত হয়, তবে তা আমাদের অনুমানের বিপরীত। সুতরাং এটি সাধারণ বিষয়ের পূর্ণ অংশের একটি অংশ হওয়া আবশ্যক, তার থেকে ভিন্ন বা কোনো দিক থেকে বিশেষ হওয়া যাবে না, এমনকি একদিক থেকেও নয়; কারণ ভিন্নতর বা বিশেষ বিষয়ের অস্তিত্ব তার অংশের অস্তিত্ব ছাড়া অসম্ভব, আর তা ব্যাপকতর হওয়াও অসম্ভব, অন্যথায় কোনো মাহিয়াতের সাথে এটি সাধারণ বিষয় হিসেবে থাকত না।

আর এর পূর্ণ সাধারণ বিষয় হওয়া অসম্ভব কারণ একে অপূর্ণ ধরা হয়েছে। ফলে এটি উভয়ের মধ্যে সাধারণ বিষয়ের একটি অংশ হবে এবং বিষয়টি চক্রাকার বা পরম্পরাগত হবে। সুতরাং এটি সাধারণ বিষয়ের সমান হওয়া আবশ্যক; আর এটিই হলো মাহিয়াতের জন্য জিন্স এবং ফছল যা ঐ জিন্সে বিদ্যমান অন্যান্য বিষয় থেকে তাকে পৃথক করে। বহির্ভূত বিষয় যদি মাহিয়াত থেকে দূর করা অসম্ভব না হয় তবে তা অনপরিহার্য, অন্যথায় অস্তিত্বের জন্য বা মাহিয়াতের জন্য তা অপরিহার্য (লাজিম); যা কোনো মাধ্যমের সাহায্যে হয়—তা দূরবর্তী হোক বা নিকটবর্তী। আর মাধ্যম হলো যা ‘কেননা এটি এমন’ এর সাথে যুক্ত হয়। অন্যথায় এক বস্তুকে অন্য বস্তুর ওপর বিধেয় করা অজ্ঞাত থাকত না এবং অপরিহার্য বিষয়গুলোর পরম্পরা চলতে থাকত।

কোনো বস্তুর সংজ্ঞায়নকারী (মুআরিফ) হলো তা, যা বস্তুটির তাসাউর (উপলব্ধি) বা তাকে অন্য বস্তু থেকে পৃথক করতে সাহায্য করে। এর শর্ত হলো—এটি সংজ্ঞায়িত বস্তু অপেক্ষা অধিক স্পষ্ট হতে হবে, তার পূর্বে উপলব্ধ হতে হবে এবং সত্যতার ক্ষেত্রে তার সমান হতে হবে। যদি সংজ্ঞাটি জিনসে ক্বরিব (নিকটবর্তী জাতি) ও ফছল (বিভেদক) দ্বারা হয়, তবে তাকে ‘হাদ্দে তাম’ (পূর্ণ সংজ্ঞা) বলা হয়। যদি শুধু ফছল দ্বারা কিংবা ফছল ও জিনসে বাঈদ (দূরবর্তী জাতি) দ্বারা হয়, তবে তা ‘হাদ্দে নাকিছ’ (অপূর্ণ সংজ্ঞা)। আর যদি জিনসে ক্বরিব ও খাসসাহ দ্বারা হয় তবে তা ‘রাসমে তাম’ (পূর্ণ বর্ণনা), আর শুধু খাসসাহ বা খাসসাহ ও জিনসে বাঈদ দ্বারা হলে তাকে ‘রাসমে নাকিছ’ (অপূর্ণ বর্ণনা) বলা হয়।

নাসিরুদ্দীন সমরকন্দীর উক্তি হলো: পরবর্তীকালের কিছু আলিম মনে করেন যে, কেবল ফছল বা খাসসাহ দ্বারা অপূর্ণ সংজ্ঞা (তারিফে নাকিছ) অর্জিত হয়; কিন্তু গবেষক আলেমদের (মুহাক্বিক্কিন) মতে এতে কিছুই অর্জিত হয় না—যা একটি অদ্ভুত কথা। সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সংজ্ঞা প্রদান করা নিছক উপমা মাত্র। সংজ্ঞা ও তার ত্রুটিগুলো এর শর্তের অনুপস্থিতির কারণে ঘটে থাকে। ব্যাপকতর বিষয়কে আগে উল্লেখ করা হয় কারণ তা অধিক পরিচিত। এটি কি আবশ্যক নাকি অগ্রাধিকারযোগ্য—এ বিষয়ে খুনাজীর সাথে সিরাজ ও আছীরের মতভেদ রয়েছে। এর শব্দের ত্রুটি হলো তার অর্থের অস্পষ্টতা। ফখর (রাযী) তাঁর কোনো এক গ্রন্থে বলেছেন: কোনো ধারণাই (তাসাউর) অর্জিত বা লব্ধ নয়; কারণ তাসাউর হয় অনুভূত হবে নতুবা অনুভূত হবে না। যা অনুভূত তা সন্ধান করা অসম্ভব কারণ তা অর্জন করাই আছে। আর যা অনুভূত নয় তাও অসম্ভব কারণ সে সম্পর্কে মানুষ গাফেল বা বেখবর।

খুনাজী, আছীর ও সিরাজ একে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে, কোনো বিষয় কিছু দিক থেকে জানা থাকলেও তার প্রকৃত রূপ বা হাক্বিকত অনুসন্ধান করা সম্ভব, যেমন জিনের (এক প্রকার সত্তা) মাহিয়াত অনুসন্ধান করা। মারাগী একে দলিলের ভ্রান্তি বলে অভিহিত করেছেন; কারণ দুটি হামলিয়া (বর্ণনামূলক) বাক্যের মধ্য থেকে প্রত্যেকটির ‘আকসে নাকিজ’ (বিপরীত প্রতিজ্ঞা) এর ‘আকসে মুস্তাওয়ী’ অন্যটির পরিপন্থী। এই তিনজনের উত্তর হলো: বাক্য দুটির বিষয়বস্তু এমন তাসাউর যা অনুভূত এবং এমন তাসাউর যা অনুভূত নয়; তা এমন নয় যা অনুভূত নয় এবং অনুভূতও নয়। উক্ত বাক্য দুটির ‘আকস’ (বিপরীত রূপ) অন্যটির পরিপন্থী নয়।

খুনাজী ও সিরাজ ‘আকসে নাকিজ’কে ‘মুজিবা’ (ইতিবাচক) তে রূপান্তর করাকে অস্বীকার করেছেন, যা সরাসরি বিপরীতের মাধ্যমে দ্বিতীয়টির পরিপন্থী হয়। সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে যে, কোনো বস্তুর সংজ্ঞা সেই বস্তুর মাধ্যমে অথবা তার সমস্ত অংশের মাধ্যমে দেওয়া অসম্ভব। কারণ বস্তু এবং তার অংশ একই। আবার কিছু অংশ দ্বারা সংজ্ঞা দেওয়াও অসম্ভব কারণ যৌগের সংজ্ঞায়নকারী তার প্রতিটি অংশেরও সংজ্ঞায়নকারী। তদ্রূপ বহির্ভূত বিষয় দ্বারা সংজ্ঞা দেওয়াও অসম্ভব; কারণ এটি উক্ত বিষয়ের সাথে সুনির্দিষ্ট হওয়ার ওপর নির্ভরশীল, যা আবার সেই বহির্ভূত বিষয়টি এবং তা বাদে অন্যান্য বিষয় বিস্তারিতভাবে জানার ওপর নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৫)
وأجاب الخونجي والسراج بأن معرفة الكل قد لا يعرف جزءه لكونه معروفا ومنع توقف التعريف بالخارج على معرفة الاختصاص. سلمناه لكن توقف الاختصاص على العلم بها من وجه.

قلت: اقتصارهما على جواب الأول يلزمهما الشك في الحد التام. ويجاب بأن إجابة الأثير بأن أراد بكل أجزائه ما سوى الهيئة الاجتماعية منعنا أنها هو وإلا سلمناه بكلها وادعيناه ببعضها وهو هي غير الهيئة الاجتماعية تفيد كونه بالبعض فشمل جواب الأول.

والمركب إن لم يستقل معناه تقييدي وإلا فأن دل بذاته على طلب فعل فأمر مع الاستعلاء. وسؤال مع الخضوع. والتماس مع التساوي. وعلى طلب كفه نهى مع الاستعلاء. ومع الأخيرين الأخيران. وعد الابياري ما دل على الطلب مفردا وإلا فان لم يحتمل الصدق والكذب فتنبيه منه التمني والترجي والقسم والنداء وان احتملكما فيخبر وقضية مقدمة إن جعل جزء قياس فان تحلل طرفا القضيتين إلى مفردين أو ما قوتهما قوتهما فحمليه وإلا فشرطية.

والحملية مركبة من محكوم عليه هو الموضوع وما صدق عليه تصورا هو العنوان كان تمام ماهيته أو جزها أو خارجا وما حكم بصدقه عليه أو سلبه عنه موجبه أو سالبة هو المحمول أو نسبة صدقه أو سلبه فان صرح بلفظها وهي الرابطة زمانية كانت أو غير زمانية ك " كان " وفثلاثية وإلا فثنائية.

وتعقب ابن واصل قولهم " هو رابطة " بأنه اسم لطرف قضية أو لمنع كون ما بعده نعتا للاسم لا للنسبة حسن. وفي اعتبار صدق العنوان بالفعل وقتا ما أو بالإمكان قولا الشيخ والفارابي. والتشكيك في الحمل بأن المحمول أن كان نفس الموضوع فلا حمل وان كان غيره امتنع لامتناع كون الشيء عين غيره مردود بأن معناه الحكم بصدق أمر على أمر بواسطة صدق ثالث ولا امتناع فيه. وما موضوعها جزئي مخصوصة وكلي دون سور. الشيخ: وهو ما دل على كمية الموضوع لا أجزائه مهمله مساوية للجزئية وبه محصورة. وسورها موجبة كلية " كل " ومرادفة. وجزئية " بعض " و " واحد ". وسالبة كلية لا شيء ولا " واحد ". وجزئية " ليس كل " و " ليس بعض " و " بعض ليس ". والأولى للسلب عن الكل مطابقة وعن البعض التزام عكس الأخيرين.

والثاني قد يذكر للسلب الكلي ولا يذكر للإيجاب بوجه عكس الثالث. فمعنى كل ج كل أفراده لا الكلي ولا الكل وإلا لم يتعد الحكم من الأوسط الأصغر لا ما حقيقته ج ولا ما هو موصوف به بل الأعم منهما لمنع الأول اندراج الأصغر تحت االأوسط الثاني يوجب لكل موضوع موضوعا وما اعتبر في صدق عنوانها وجود موضوعها في الخارج خارجية وما اعتبر فيه تقدير وجوده حقيقية. وقيدها الأثير بتقدير الإمكان العام. قال وربما استعملت القضية بمعنى الوجود الرهني.

وحق السور اقترانه بالموضوع لأنه ذو الأفراد فان قرن بالمحمول سميت منحرفة كلية الموضوع أو جزئيه، ومحمولها كذلك. فأقسامها أربعة كلما كان أحد طرفيها شخصا مسورا أو محمولها إيجابا كليا أو سلبا جزئيا أو مادتها امتناعا أو موافقة من الإمكان لزم صدقها اختلاف طرفيها في مقارنة حرف السلب وإلا لزمه امتناعه.

والمعدولة ما السلب جزء طرفيها وغيرها محصلة. فالأقسام أربعة والمعتبر حال المحمول فأن توافقت القضيتان في أحدهما لا كيفهما تناقضتا بشرطه وعلى العكس تعاند صدقهما إيجابا لا كذبهما لجواز عدم موضوعهما وكذبهما سلبا وإلا صدقت الموجبتان وان اختلفتا فيهما فالسالبة اعم من الموجبة لتوقفها على وجود الموضوع مقررا أو مقدرا. وأورد منع لزوم وإلا صدقت الموجبتان بل اللازم وإلا كذبتا أخص وكذب الأعم يوجب كذب اخصه.

وجواب ابن واصل بأن كذبهما معا لما كان محمالا استلزم المحال مصادرة والصواب وإلا صدقتا وكذبتا معا. السلب إن تأخر عن الرابطة جزء من المحمول وان تقدم فسالب فلا لبس بين الموجبة المعدولة والسالبة المحصلة ثلاثيتين وتمييزهما ثنائيتين بالنية أو تخصيص بعض الألفاظ بالإيجاب ك " غير " وبعض بالسلب ل " يس ".

الفخر في الملخص: لا يشترط وجود موضوع المعدولة عدم البصر إن صدق على الموضوع المعدوم فذلك والأصدق عليه البصر فلم يجب وجوده لإيجاب المحصل بأولى المعدول. ورد بأن الصادق حينئذ السالبة المعدولة وهي اعم من الموجبة المحصلة.
আল-খুনজি এবং আস-সিরাজ উত্তর দিয়েছেন যে, সামগ্রিক বিষয়ের জ্ঞান অনেক সময় তার অংশকে জানার ওপর নির্ভর করে না, কারণ তা ইতিপূর্বেই পরিচিত। আর তারা বহির্ভূত বিষয়ের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করাকে নির্দিষ্টকরণের (ইখতিসাস) জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল হওয়াকে অস্বীকার করেছেন। আমরা যদি এটি মেনেও নিই, তবে নির্দিষ্টকরণ একটি দিক থেকে তার জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল।

আমি বলি: প্রথম উত্তরের ওপর তাদের সীমাবদ্ধ থাকা পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞার (হাদ্দ-ই তাম) ক্ষেত্রে সংশয় সৃষ্টি করে। এর উত্তরে বলা হয় যে, আল-আসিরের উত্তর হলো—তিনি ‘সমস্ত অংশ’ দ্বারা সামাজিক কাঠামো (হাইআতে ইজতিমাইয়্যাহ) ব্যতীত বাকি সব বুঝিয়েছেন। আমরা অস্বীকার করি যে এটিই সেটি (অর্থাৎ সামগ্রিকতা); অন্যথায় আমরা একে সামগ্রিকতার সাথে মেনে নিতাম এবং এর কিয়দাংশের দাবি করতাম, যা সামাজিক কাঠামো ভিন্ন অন্য কিছু। এটি কিয়দাংশের মাধ্যমে হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করে, ফলে তা প্রথম উত্তরকে অন্তর্ভুক্ত করে।

যৌগিক শব্দ (মুরাক্কাব) যদি স্বতন্ত্র অর্থ প্রদান না করে তবে তা ‘তাকয়িদি’ (সীমাবদ্ধকারী); অন্যথায় যদি তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো কাজের তলব বা দাবি বোঝায়, তবে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি কর্তৃক হলে তা ‘আমর’ (আদেশ)। বিনয়সহকারে হলে তা ‘সুয়াল’ (অনুরোধ), আর সমপর্যায়ের হলে তা ‘ইলতিমাস’। আর যদি কোনো কাজ থেকে বিরত থাকার দাবি বোঝায়, তবে উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি কর্তৃক হলে তা ‘নাহি’ (নিষেধ); আর শেষোক্ত দুটির ক্ষেত্রে (বিনয় ও সমতা) শেষোক্ত দুটি নামই হবে। আল-আবিয়ারি যা কোনো তলব বোঝায় তাকে একক হিসেবে গণ্য করেছেন। অন্যথায় যদি বাক্যটি সত্য বা মিথ্যার সম্ভাবনা না রাখে, তবে তা ‘তানবিহ’ (সতর্ককারী); যার অন্তর্ভুক্ত হলো আকাঙ্ক্ষা (তামান্নি), আশা (তারাজ্জি), শপথ (কাসাম) এবং আহ্বান (নিদা)। আর যদি সত্য-মিথ্যার সম্ভাবনা থাকে, তবে তা ‘খবর’, ‘কাদিয়া’ (বচন) এবং ‘মুকাদ্দামা’ (যুক্তি-বাক্য) যদি তা কিয়াসের (অনুমান) অংশ হয়। যদি বচনের দুই প্রান্ত দুটি একক শব্দ বা একক শব্দের সমতুল্য অর্থে বিশ্লিষ্ট হয়, তবে তা ‘হামলিয়া’ (বর্ণনামূলক); অন্যথায় তা ‘শারতিয়া’ (শর্তাধীন)।

হামলিয়া বচন এমন বিষয় দ্বারা গঠিত যার ওপর বিধানারোপ করা হয়, যাকে ‘মাওদু’ (উদ্দেশ্য) বলা হয়। আর যার ওপর এই ধারণাটি সত্য হয় তাকে ‘উনওয়ান’ (শিরোনাম) বলা হয়, চাই তা পূর্ণ সত্তা (মাহিয়াত) হোক, তার অংশ হোক বা বহির্ভূত বিষয় হোক। আর যার সত্যতা বা নেতিবাচকতা তার ওপর সাব্যস্ত করা হয়—হ্যাঁ-বোধক বা না-বোধক হিসেবে—তাকে ‘মাহমুল’ (বিধেয়) বা তার সত্যতা বা নেতির সম্বন্ধ বলা হয়। যদি এই সম্বন্ধের শব্দ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে—যাকে ‘রাবিতা’ (যোজক) বলা হয়, চাই তা কালবাচক হোক বা অ-কালবাচক যেমন ‘হয়’ বা ‘ছিল’—তবে তাকে ‘সুলাসিয়া’ (ত্রিপদী) বলা হয়, অন্যথায় ‘সুনাইয়া’ (দ্বিপদী)।

ইবনে ওয়াসিল তাদের এই বক্তব্য—‘সেটি একটি রাবিতা বা যোজক’—এর সমালোচনা করে বলেছেন যে, এটি বচনের এক প্রান্তের নাম অথবা এর পরবর্তী অংশটি যে নামের বিশেষণ (সিফাত) হবে না বরং সম্বন্ধের বিশেষণ হবে তা প্রতিরোধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়; এই বিষয়টি চমৎকার। কোনো উনওয়ান বা শিরোনাম বাস্তবে কোনো এক সময়ে সত্য হওয়া অথবা কেবল সম্ভাবনার ভিত্তিতে হওয়া নিয়ে শেখ (ইবনে সিনা) ও আল-ফারাবির দুটি অভিমত রয়েছে। আরোপের (হামল) ক্ষেত্রে এই সংশয় যে—বিধেয় যদি উদ্দেশ্যের হুবহু এক হয় তবে কোনো আরোপ থাকে না, আর যদি ভিন্ন হয় তবে তা অসম্ভব, কারণ একটি বস্তু অন্যটির অবিকল হওয়া অসম্ভব—এটি প্রত্যাখ্যাত। কারণ এর অর্থ হলো একটি তৃতীয় বিষয়ের মাধ্যমে এক বস্তুর ওপর অন্য বস্তুর সত্যতার বিধান দেওয়া, আর এতে কোনো অসম্ভবতা নেই। যার উদ্দেশ্য হলো বিশেষ (জুজি), তাকে ‘মাখসুসা’ (নির্দিষ্ট) বলা হয়। আর যা সাধারণ (কুল্লি) কিন্তু তাতে কোনো পরিমাণ-নির্দেশক (সুর) নেই, শেখের মতে তা ‘মুহমালা’ (অনির্দিষ্ট); যা উদ্দেশ্যের পরিমাণ নির্দেশ করে, তার অংশ নয়। এটি আংশিক বচনের (জুজিয়্যাহ) সমতুল্য এবং এর মাধ্যমেই তা সীমাবদ্ধ (মাহসুরা)। এর সুর বা পরিমাপক হলো: হ্যাঁ-বোধক সার্বিক (মুজিবা কুল্লিয়া)—‘প্রত্যেক’ (কুল্ল) এবং এর সমার্থক শব্দ। হ্যাঁ-বোধক আংশিক (মুজিবা জুজিয়্যাহ)—‘কিছু’ (বাদ) এবং ‘এক’। না-বোধক সার্বিক (সালিবা কুল্লিয়া)—‘কিছুই না’ (লা শাই) এবং ‘এক নয়’। না-বোধক আংশিক (সালিবা জুজিয়্যাহ)—‘সব নয়’, ‘কিছু নয়’ এবং ‘কিছু... নয়’। প্রথমটি (না-বোধক সার্বিক) আভিধানিক অর্থে সকলের থেকে নেতিবাচকতা বোঝায় এবং আবশ্যিকভাবে কিয়দাংশের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য, যা শেষোক্ত দুই প্রকারের বিপরীত।

দ্বিতীয়টি (সালিবা কুল্লিয়া) কখনও সার্বিক নেতিবাচকতার জন্য ব্যবহৃত হয় কিন্তু হ্যাঁ-বোধকতার জন্য কোনোভাবেই ব্যবহৃত হয় না, যা তৃতীয়টির বিপরীত। সুতরাং ‘প্রত্যেক জ’ (কুল্লু জিম) এর অর্থ হলো তার প্রতিটি সদস্য বা ব্যক্তি, সমষ্টিগত সাধারণ অর্থ (কুল্লি) নয় এবং সমষ্টি (কুল্ল) নয়; অন্যথায় বিধানটি মধ্যপদ থেকে ক্ষুদ্রতর পদে পৌঁছাত না। এর অর্থ কেবল তা নয় যার হাকিকত বা সত্তা হলো ‘জ’, আর কেবল তাও নয় যা তার দ্বারা বিশেষিত, বরং উভয়ের চেয়ে যা ব্যাপকতর তা-ই উদ্দেশ্য। কারণ প্রথমটি ক্ষুদ্রতর পদকে মধ্যপদের অন্তর্ভুক্ত হতে বাধা দেয় এবং দ্বিতীয়টি প্রতিটি উদ্দেশ্যের জন্য একটি করে উদ্দেশ্য অনিবার্য করে। যার শিরোনাম বা উনওয়ান সত্য হওয়ার জন্য বহির্বিশ্বে উদ্দেশ্যের অস্তিত্ব বিবেচনা করা হয়, তাকে ‘খারিজিয়া’ (বাহ্যিক বচন) বলা হয়। আর যাতে অস্তিত্বকে কেবল সম্ভাব্য ধরে নেওয়া হয়, তাকে ‘হাকিকিয়া’ (প্রকৃত বচন) বলা হয়। আল-আসির একে সাধারণ সম্ভাবনার শর্তে আবদ্ধ করেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, কখনও বচনটি মানসিক অস্তিত্বের অর্থে ব্যবহৃত হয়।

সুর বা পরিমাপকের নিয়ম হলো তা উদ্দেশ্যের (মাওদু) সাথে যুক্ত হওয়া, কারণ উদ্দেশ্যই সদস্যবিশিষ্ট হয়ে থাকে। যদি তা বিধেয়ের (মাহমুল) সাথে যুক্ত হয় তবে তাকে ‘মুনহারিফা’ (বিচ্যুত বচন) বলা হয়, তা উদ্দেশ্যের সার্বিকতা বা আংশিকতা ভেদে এবং বিধেয়ের অবস্থা ভেদে চার প্রকার। যখনই এর কোনো এক প্রান্ত পরিমাপযুক্ত ব্যক্তি হয় অথবা এর বিধেয়টি হ্যাঁ-বোধক সার্বিক বা না-বোধক আংশিক হয়, অথবা এর মূল উপাদান (মাদ্দা) অসম্ভবতা বা সম্ভাবনার অনুকূল হয়, তখন তার সত্যতার জন্য এর দুই প্রান্তের একটিতে নেতিবাচক অব্যয় যুক্ত হওয়া আবশ্যক; অন্যথায় তা সত্য হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

‘মাদূলা’ হলো সেই বচন যার কোনো এক প্রান্তের অংশ হিসেবে নেতিবাচক অব্যয় থাকে, আর অন্যগুলো হলো ‘মুহাসসালা’। এর প্রকারভেদ চারটি এবং বিধেয়ের অবস্থাই এতে বিবেচ্য। যদি দুটি বচন কোনো এক প্রান্তের ক্ষেত্রে এক হয় কিন্তু গুণাগুণের (কাইফ) ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়, তবে শর্তসাপেক্ষে তারা পরস্পরবিরোধী (তানাফুজ) হবে। এর বিপরীতে, হ্যাঁ-বোধক ক্ষেত্রে তাদের উভয়ের সত্য হওয়া অসম্ভব হবে কিন্তু মিথ্যা হওয়া অসম্ভব নয়, কারণ তাদের উদ্দেশ্য অনুপস্থিত থাকতে পারে। আর না-বোধক ক্ষেত্রে উভয়ের মিথ্যা হওয়া অসম্ভব, অন্যথায় দুটি হ্যাঁ-বোধক বচন সত্য হয়ে যাবে। আর যদি উভয়ের মধ্যেই পার্থক্য থাকে, তবে না-বোধক বচনটি হ্যাঁ-বোধক বচনের চেয়ে ব্যাপকতর হবে, কারণ হ্যাঁ-বোধক বচন সত্য হওয়ার জন্য উদ্দেশ্যের বাস্তব বা সম্ভাব্য অস্তিত্ব প্রয়োজন। এই আপত্তিতে বলা হয়েছে যে, ‘অন্যথায় দুটি হ্যাঁ-বোধক সত্য হয়ে যাবে’—এই অনিবার্যতার কোনো প্রয়োজন নেই, বরং অনিবার্য হলো ‘অন্যথায় উভয়েই মিথ্যা হবে’, যা আরও বিশিষ্ট। আর সাধারণের মিথ্যা হওয়া বিশেষের মিথ্যা হওয়াকে অনিবার্য করে তোলে।

ইবনে ওয়াসিলের উত্তর হলো—উভয়টির একসাথে মিথ্যা হওয়া যেহেতু অসম্ভব, তাই তা অসম্ভাব্যতাকে অনিবার্য করে তোলে, যা মূলত চক্রক যুক্তি। তবে সঠিক কথা হলো: অন্যথায় তারা একই সাথে সত্য ও মিথ্যা হবে। নেতিবাচক অব্যয় যদি যোজক বা রাবিতার পরে আসে তবে তা বিধেয়ের অংশ হিসেবে গণ্য হয়, আর আগে আসলে তা বচনটিকে নেতিবাচক করে তোলে। সুতরাং ত্রিপদী বচনের ক্ষেত্রে হ্যাঁ-বোধক মাদূলা এবং না-বোধক মুহাসসালার মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা নেই। দ্বিপদী বচনের ক্ষেত্রে এদের পার্থক্য করা হয় নিয়তের মাধ্যমে অথবা কিছু শব্দকে হ্যাঁ-বোধকতার জন্য নির্দিষ্ট করে (যেমন ‘গাইর’) এবং কিছুকে না-বোধকতার জন্য নির্দিষ্ট করে (যেমন ‘লাইসা’)।

ফখরউদ্দীন আল-রাজি তাঁর ‘আল-মুলাখখাস’ গ্রন্থে বলেছেন: ‘অ-দৃষ্টিসম্পন্ন’ জাতীয় মাদূলা বচনের উদ্দেশ্যের অস্তিত্ব শর্ত নয়। যদি তা অবর্তমান উদ্দেশ্যের ওপর সত্য হয় তবে তো কথাই নেই, আর যদি তার ওপর দৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া সত্য হয়, তবে মুহাসসালা বচনের হ্যাঁ-বোধকতার জন্য উদ্দেশ্যের অস্তিত্ব আবশ্যক হওয়া মাদূলা বচনের চেয়ে অধিক যুক্তিযুক্ত। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এমতাবস্থায় যা সত্য হয় তা হলো না-বোধক মাদূলা (সালিবা মাদূলা), যা হ্যাঁ-বোধক মুহাসসালা (মুজিবা মুহাসসালা) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৬)
وقال في شرح الإشارات: ثبوت الشيء لغيره فرع ثبوته في نفسه فلا تكون المعدولة موجبة. ورد بأن المعتبر في الموجبة وجود ذات الموضوع لا وصفه ولا محمولة وقد يصدق عدمي على وجودي. وعدول الموضوع قليل الفائدة ويفرق بينه وبين السلب تقدم حرف السلب على السور وتأخره كالرابطة وان اقترن به لفظ ما أو ما في معناه جعله إيجابا.

وفي الموجبة المعدولة أقوال: الأول: ذات عدم الشيء عما من شأنه نه له في ذلك الوقت. الثاني: أو قبله أو بعده. الثالث: أو من شأنه أو نوعه أو جنسه القريب. الرابع: أو البعيد.

فأبطل الشيخ الكل بإنتاج الجوهر ليس بعرض غني عن الموضوع. الجوهر غني عن الموضوع ولا ينتج إلا بإيجاب صغراه مع إن ليس من شأن الجوهر ولا بحسب نوعه ولا جنسه.

ورده الخونجي والسراج بإلزامه عدم وجود الموضوع في الموجبة لإنتاج الخلاء ليس بموجود وكل ما ليس بموجود ليس بمحسوس وبان الصغرى السالبة في الأول إنما لا تنتج إذا لم تتكرر النسبة السلبية وان تكررت أنتجت والبديهية تشهد به.

وكيفية النسبة الحكمية في الواقع تسمى مادة وفي الذهن أو اللفظ جهة لإن ذكرت فالقضية موجبة وإلا فمطلقة. والضرورة وجوب ثبوت المحمول للموضوع أو سلبه عنه فأن كانت لذاته فضرورية وما دام موصوفا بالعنوان فقط مشروطة عامة ومع لا دوام ذاتيا مشروطة ولوقعت معين مدخل في الضرورة فهي اعم من الذاتية من وجه وال مطلقا. وفي كونها حقيقة في الأولى أو الثانية قولا السراج مع ابن البديع والخونجي.

والدوام دوام ثبوت المحمول كما مر فبالثلاثة الأول دائمة مطلقة وعرفية عامة وخاصة. والإمكان قديما سلب ضرورة الطرف المخالف فيشمل الواجب ويناقص الامتناع، وحديثا سلب ضرورتهما فيخرج ويثلث المواد وعليه الأول عام والثاني باعتبار الذات خاص وباعتبارها في المستقبل استقبالي وبأعتبار الذات والوصف والوقت أخص.

والمعتبر من قضاياه الخاصة والعامة. وفي كون محمولها حاصلا بالفعل والقوة ثالثها بالأعم منهما. للفخر والكشي والمحققين.

ورد فيه السراح الأول بأنه يصيرها وجودية لا ضرورية وهي غيرها وقدح فيه بأنه لو ثبت لحمل هو أو نقيضه على الواجب مع صدق كل ممكن إلا يكون وما ليس بممكن ممتنع فيلزم الواجب ممكن إلا يكون أو ممتنع وبأن وجد الأمر أو سببه امتنع عدمه والاقارن وجوده عدمه فوجب وإلا امتنع وجوده فلا إمكان.

ورد الأول بأن أريد العام منعت الكبرى وإلا منعت الصغرى والثاني بأن المدعي ثبوته باعتبار الذات من حيث هي هي. وما حكم فيها بالنسبة الفعلية مع لا دوام أولا ضرورية وجودية لا دائمة أولا ضرورية ودونه مطلقة. وخص الاسكندر المطلقة بالأولين. وما تضمن منها إيجابا وسلبا مركبة وما تضمن احمهما فقط بسيط. فالممكنة الخاصة مركبة ايجابها كسلبها.

وهذه الثلاث عشرة اصطلحوا على اعتبارها في أحكام التناقض العكسي والاختلاطات. ومعرفة نسبة كل منها للأخرى بأن تنافي جزءاهما تباينا وإلا فأن زادت أجزاء احمهما على الأخرى فذات الزيادة أخص مطلقا وإلا فمن وجه. والموضع الطبيعي للسور مجاورة الموضوع وللرابطة مجاورة المحمول وهي بها ثلاثية وللجهة مجاورة الرابطة وهي بها رباعية وليست بالسور خماسية لعدم لزوم القضية في الواقع كالمخصوصة والرابطة والجهة تلزمانها.

ونقلوا عن الشيخ قد تكون للسور جهة في كيفية العموم والخصوص خلاف جهة الحمل. فان قولنا " كل إنسان كاتب بالإمكان " لا نشك فيه ونشك في قولنا " عموم الكتابة للكل ممكن ".

قال الشيخ: ويصدق " كل إنسان يشبعه رغيف " بالإمكان والجهة للحمل أي كل واحد يشبعه ذلك بدلا عن الآخر ولا يصدق والجهة للسور أي جمعهم يشبعه ذلك بالإمكان. والأول اعم من الثاني والتغاير في القضايا الخارجية ظاهر إذ لو فرض زمن لا حيوان فيه إلا الإنسان صدق " كل حيوان إنسان " بالضرورة جهة للحمل دون السور لإمكان حيوان لا يكون إنسانا وصدق " كل حيوان يمكن إلا يكون إنسانا " بجهة " السور دون الحمل. وجزئيتا الممكنتين والضرورتين يتلازمان وان تغاير مفهومهما.
এবং তিনি 'শারহুল ইশারাত'-এ বলেছেন: কোনো কিছুর অস্তিত্ব অন্যের জন্য সাব্যস্ত হওয়া নিজের মধ্যে তা সাব্যস্ত হওয়ারই একটি শাখা; সুতরাং 'মা'দুলা' (পরিবর্তিত পদযুক্ত) বচন ইতিবাচক (মুজিবা) হবে না। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, ইতিবাচক বচনের ক্ষেত্রে বিষয়বস্তুর (মাওজু) সত্তার অস্তিত্বই বিবেচ্য, তার বিশেষণ বা বিধেয় (মাহমুল) নয়; আর কখনও অস্তিত্বশীল বিষয়ের ওপর অভাবাত্মক বিষয় সত্য হতে পারে। বিষয়বস্তুর পরিবর্তন (আদাল) খুব সামান্যই ফলপ্রসূ হয় এবং এর ও নেতিবাচকতার (সালব) মধ্যে পার্থক্য হলো মানদণ্ডের (সূর) আগে নেতিবাচক অব্যয় আসা এবং সংযোজকের (রাবিতা) মতো পরে আসা; আর যদি এর সাথে কোনো শব্দ বা সমার্থবোধক কিছু যুক্ত হয় তবে তা একে ইতিবাচক করে দেয়।

ইতিবাচক মা'দুলা বচনের ক্ষেত্রে কয়েকটি অভিমত রয়েছে: প্রথমত: সেই সময়ে যার মধ্যে কোনো গুণ থাকার যোগ্যতা রাখে তার সত্তা থেকে সেই গুণের অনুপস্থিতি থাকা। দ্বিতীয়ত: অথবা তার পূর্বে বা পরে। তৃতীয়ত: অথবা তার স্বভাব, বা তার প্রজাতি বা তার নিকটবর্তী গণ (জিনস)-এর দিক থেকে। চতুর্থত: অথবা দূরবর্তী গণ।

অতপর শায়খ (ইবনে সিনা) সবগুলোকে বাতিল করে দিয়েছেন এই যুক্তিতে যে, 'জওহর (মৌলিক সত্তা) আরজ (গুণ) নয়' এটি 'বিষয়বস্তু (মাওজু) থেকে অমুখাপেক্ষী' হওয়ার ফলাফল প্রদান করে। জওহর মাওজু থেকে অমুখাপেক্ষী এবং এটি কেবল তখনই ফলাফল দেয় যখন এর ক্ষুদ্রতর বাক্যটি (সুগরা) ইতিবাচক হয়, যদিও এটি জওহরের স্বভাবজাত নয় এবং তার প্রজাতি বা গণের অন্তর্ভুক্তও নয়।

এবং আল-খুনজি ও আল-সাররাজ একে খণ্ডন করেছেন এই বাধ্যবাধকতার মাধ্যমে যে, ইতিবাচক বচনে মাওজুর অস্তিত্ব না থাকাই হলো শূন্যতার ফলাফল যা বিদ্যমান নয়, আর যা কিছু বিদ্যমান নয় তা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যও নয়। এবং প্রথম প্রকারে নেতিবাচক ক্ষুদ্রতর বাক্যটি (সুগরা) কেবল তখনই ফলাফল দেয় না যখন নেতিবাচক অনুপাত পুনরাবৃত্ত না হয়, আর যদি তা পুনরাবৃত্ত হয় তবে ফলাফল প্রদান করে এবং স্বতঃসিদ্ধ জ্ঞান এর সাক্ষ্য দেয়।

বাস্তবে বিচারিক সম্পর্কের ধরনকে 'মাদ্দাহ' (উপাদান) বলা হয় এবং মনে বা শব্দে একে 'জিহা' (দিক) বলা হয়; কারণ এটি উল্লিখিত হলে বচনটি ইতিবাচক, অন্যথায় তা শর্তহীন (মুতলাকা)। আর আবশ্যকতা (জরুরাত) হলো উদ্দেশ্যের (মাওজু) জন্য বিধেয়ের (মাহমুল) সাব্যস্ত হওয়া বা তা থেকে অপসারিত হওয়া ওয়াজিব হওয়া। যদি তা তার সত্তার কারণে হয় তবে তা 'জরুরিয়া' (আবশ্যকীয়), আর যতক্ষণ কেবল উপাধি দ্বারা বিশেষিত থাকে ততক্ষণ তা 'মাশরুতা আম্মাহ' (সাধারণ শর্তযুক্ত), এবং যদি সত্তাগত স্থায়িত্ব না থাকে তবে তা 'মাশরুতা'। আর কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার উপস্থিতি আবশ্যকতার অন্তর্ভুক্ত হলে তা একদিক থেকে 'জাতীয়াহ' (সত্তাগত) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক এবং শর্তহীনভাবেও। এটি প্রথমটিতে নাকি দ্বিতীয়টিতে প্রকৃত অর্থে ব্যবহৃত হয় সে সম্পর্কে ইবনুল বাদী ও আল-খুনজির সাথে আল-সাররাজের দুটি মত রয়েছে।

আর স্থায়িত্ব (দাওয়াম) হলো বিধেয় সাব্যস্ত হওয়ার স্থায়িত্ব যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে; সুতরাং প্রথম তিনটির মাধ্যমে তা 'দায়েমা মুতলাকা', 'উরফিয়া আম্মাহ' এবং 'খাসসা' হয়। আর প্রাচীন পরিভাষায় সম্ভাবনা (ইমকান) হলো বিপরীত দিকের আবশ্যকতাকে অস্বীকার করা, ফলে তা ওয়াজিবকেও অন্তর্ভুক্ত করে এবং অসম্ভাব্যতাকে (ইমতিনা) বাতিল করে। আর আধুনিক পরিভাষায় এটি উভয়ের আবশ্যকতাকে অস্বীকার করা, ফলে তা বের হয়ে যায় এবং উপাদানসমূহকে তিনভাগে বিভক্ত করে। সেই অনুসারে প্রথমটি হলো 'আম' (সাধারণ), দ্বিতীয়টি সত্তার বিবেচনায় 'খাস' (বিশেষ), ভবিষ্যতের বিবেচনায় 'ইস্তিকবালি' (ভবিষ্যৎকালীন), এবং সত্তা, বিশেষণ ও সময়ের বিবেচনায় 'আখাস' (বিশেষতর)।

আর এর বিশেষ ও সাধারণ বচনগুলোই নির্ভরযোগ্য। এর বিধেয় (মাহমুল) বাস্তবে নাকি শক্তিতে অর্জিত হওয়া সম্পর্কে তৃতীয় মতটি হলো—উভয়ের চেয়ে যা অধিক ব্যাপক তার দ্বারা অর্জিত হওয়া। এটি আল-ফখর, আল-কাশি এবং গবেষকগণের (মুহাক্কিকীন) মত।

আল-সাররাজ প্রথম মতটিকে এই বলে খণ্ডন করেছেন যে, এটি একে 'উজুদীয়াহ' (অস্তিত্বশীল) করে তোলে, 'জরুরিয়া' (আবশ্যকীয়) নয়, অথচ উভয়টি ভিন্ন। আর এতে এই বলে দোষারোপ করা হয়েছে যে, যদি এটি সাব্যস্ত হয় তবে এটি বা এর বিপরীতটি 'ওয়াজিব'-এর ওপর প্রযোজ্য হবে, অথচ প্রতিটি 'মুমকিন' (সম্ভব) এর ক্ষেত্রে এটি সত্য যে তা অস্তিত্বশীল না-ও হতে পারে। আর যা সম্ভব নয় তা অসম্ভব, ফলে ওয়াজিব অস্তিত্বশীল না হওয়া সম্ভব অথবা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আর কোনো বিষয় বা তার কারণ পাওয়া গেলে তার অনুপস্থিতি অসম্ভব হয়ে যায়, অন্যথায় তার অস্তিত্ব তার অনুপস্থিতির সাথে মিলিত হবে, ফলে তা ওয়াজিব হবে, অন্যথায় তার অস্তিত্ব অসম্ভব হবে, ফলে কোনো সম্ভাবনা থাকবে না।

প্রথম আপত্তিটি এভাবে খণ্ডন করা হয়েছে যে, যদি 'আম' (সাধারণ) উদ্দেশ্য হয় তবে প্রধান বাক্য (কুবরা) অস্বীকার করা হবে, অন্যথায় ক্ষুদ্রতর বাক্য (সুগরা) অস্বীকার করা হবে। আর দ্বিতীয়টির উত্তর হলো—দাবিটি কেবল সত্তার বিবেচনায় সাব্যস্ত হওয়া যা তার নিজস্ব রূপেই বিদ্যমান। আর যাতে কোনো স্থায়ীত্ব বা আবশ্যকতা ছাড়াই প্রকৃত সম্পর্কের ভিত্তিতে বিচার করা হয়, তা হলো 'উজুদীয়াহ লা-দায়েমাহ' (অস্থায়ী অস্তিত্বশীল) বা 'লা-জরুরীয়াহ' (অ-আবশ্যকীয়), আর এর চেয়ে কমটি হলো 'মুতলাকা' (শর্তহীন)। ইস্কান্দার 'মুতলাকা' বচনকে প্রথম দুই প্রকারের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। যার মধ্যে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক অন্তর্ভুক্ত থাকে তা হলো যৌগিক (মুরাক্কাব), আর যার মধ্যে কেবল একটি থাকে তা হলো সরল (বাসীত)। সুতরাং 'মুমকিনা খাসসা' হলো যৌগিক, এর ইতিবাচক দিকটি এর নেতিবাচক দিকের মতোই।

এই তেরটি প্রকারকে তারা বৈপরীত্য (তানাখুজ), আবর্তন (আকস) এবং মিশ্রণ (ইখতিলাত)-এর বিধানে বিবেচ্য হিসেবে পরিভাষায় স্থির করেছেন। এগুলোর একটির সাথে অন্যটির সম্পর্কের পরিচয় হলো এই যে, যদি তাদের অংশদ্বয় পরস্পর বিরোধী হয় তবে তাদের মধ্যে বৈপরীত্য (তাবায়ুন) থাকবে, অন্যথায় যদি একটির অংশ অন্যটির চেয়ে বেশি হয় তবে সেই অতিরিক্ত অংশধারীটি শর্তহীনভাবে বিশেষ (আখাস মুতলাকান) হবে, অন্যথায় তা একদিক থেকে হবে। মানদণ্ডের (সূর) স্বাভাবিক স্থান হলো উদ্দেশ্যের (মাওজু) পাশে, আর সংযোজকের (রাবিতা) স্থান হলো বিধেয়ের (মাহমুল) পাশে, এবং এর মাধ্যমে বচনটি ত্রিপদবিশিষ্ট (সুলাসিয়াহ) হয়। আর 'জিহা' বা দিকের স্থান হলো সংযোজকের পাশে, যার ফলে বচনটি চতুষ্পদবিশিষ্ট (রুবাইয়াহ) হয়। তবে সূরের কারণে তা পঞ্চপদবিশিষ্ট হয় না, কারণ বাস্তবে এর আবশ্যকতা নেই, যেমন সুনির্দিষ্ট বচন (মাকসুসাহ), সংযোজক এবং দিক এর জন্য আবশ্যক।

তারা শায়খ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কখনও কখনও সূর-এর জন্য একটি দিক (জিহা) থাকে যা ব্যাপকতা ও বিশেষত্বের গুণের ক্ষেত্রে বিধেয়ের (হামল) দিকের বিপরীত। যেমন আমাদের কথা "প্রত্যেক মানুষ সম্ভাবনার ভিত্তিতে লেখক" এতে আমরা সন্দেহ করি না, কিন্তু আমাদের কথা "সবার জন্য লেখার ব্যাপকতা সম্ভব" এতে আমরা সন্দেহ করি।

শায়খ বলেছেন: "প্রত্যেক মানুষকে একটি রুটি তৃপ্ত করে" এটি সম্ভাবনার ভিত্তিতে সত্য এবং এর দিক হলো বিধেয়ের জন্য, অর্থাৎ একেকজন একেকটির বদলে তৃপ্ত হয়। কিন্তু এটি সত্য নয় যখন এর দিক হবে সূর-এর জন্য, অর্থাৎ তাদের সকলের সমষ্টিকে একটি রুটি তৃপ্ত করা সম্ভব। প্রথমটি দ্বিতীয়টি অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। আর বাহ্যিক বচনসমূহের ক্ষেত্রে বৈসাদৃশ্য স্পষ্ট; কারণ যদি এমন কোনো সময়ের কল্পনা করা হয় যখন মানুষ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী নেই, তবে "প্রত্যেক প্রাণীই মানুষ" এটি আবশ্যকতা (জরুরাত) হিসেবে সত্য হবে বিধেয়ের দিক থেকে, সূর-এর দিক থেকে নয়; কারণ মানুষ নয় এমন প্রাণীর সম্ভাবনা বিদ্যমান। আবার "প্রত্যেক প্রাণী মানুষ না হওয়া সম্ভব" এটি সূর-এর দিক থেকে সত্য হবে, বিধেয়ের দিক থেকে নয়। আর দুই সম্ভাবনাময় (মুমকিন) ও দুই আবশ্যকীয় (জরুরি) বচনের আংশিক রূপগুলো (জুজিয়্যাহ) একে অপরের জন্য অপরিহার্য, যদিও তাদের ধারণা ভিন্ন ভিন্ন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৭)
قلت: حاصل جهة السور معية أفراده في ثبوت المحمول لها أو سلبه وذلك يوجب كون الجزئية ذات جهة السور أخص من الجزئية غير ذات جهته لاقتضائها معنى المعية الملزوم للتعدد وعدم اقتضاء الأخرى ذلك فتصق حين لا تعود إلا إن يكون معنى جهة السور عدم افتراق أفراده في ثبوت المحمول له فيتم أمر الجزئيتين.

الشيخ: موضع جهة السور الطبيعي إن تقرن به وموضع جهة الحمل تقدم وذلك في الكليتين الموجبتين ظاهر " ككل إنسان يمكن إن يكون كاتبا " جهة للحمل " ويمكن إن يكون كل إنسان كاتبا " جهة للسور. وإذا قلنا في السلب الكلي " يمكن ألا يكون شيء من الناس كاتبا " كان ذلك بالحقيقة دالا على إمكان عموم السلب لا على عموم الإمكان وكانت الجهة للسور واطلاقة في عموم السلب مجاز والدال عليه حقيقة قولنا " لا واحد من الناس إلا ويمكن ألا يكون كاتبا " و " كل إنسان يمكن ألا يكون كاتبا ".

وتعدد معنى أحد طرفي القضية وتركبه من أجزاء تحمل على كلها يوجب تعددها بجهتها وكيفها وكمها إلا تعددها لتركب موضوعها لا يحفظ كمها لجواز إن يكون بجهتها الجزء أعم من كله وغيره المحمولة لا يعددها " كالبيت سقف وجدار " وعكسه.

وقال المعلم: قد يصدق المحمول جملة الافرادي " كهذه سفينة من الحجر " " والخفاش طير لا طير " العنقاء موجودة في الوهم ولا يصدق الجزء الأول وحده وعكسه كزيد طبيب وزيد ماهر أي في البناء ولا يصدق طبيب ماهر. ورده الشيخ بصدقهما ثانيا بمعناهما أولا وإنما يكذبان بغير معناهما أولا. فقيل قصد المعلم إن الإفراد والجمع يقتضي غير معناهما أولا.

التناقض: اختلاف أمرين يوجب لذاته ثبوت أحدهما فقط. فيدخل تناقض التصورات والمركبات. وقولهم اختلاف قضيتين بالسلب والإيجاب بحيث يقتضي لذاته صدق إحداهما وكذب الأخرى يخرج الأول. وتناقض المركبات الموجبات وان أريد إخراج الأول فاختلاف تصديقين. وشرطه في التصديقات على المشهور ثماني وحدات: وحدة الطرفين والزمان والمكان والشرط والإضافة والكل والجزء والقوة والفعل.

وردها الفارابي والفخر للثلاثة الأول. الفارابي مرة والأثير لوحده النسبة الحكمية. قال وفي قول الفخر وحدة الزمان غير وحدة الطرفين نظر لأن المنخسف وقت التربيع في السالبة ووقت الحيلولة في الموجبة هو المحمول بغير وقته في المكان. فغلطه ابن اندراس بأن وقت الخسوف جهة خارجة عن المحمول تمنع ردها إليه.

قلت: إن جعل الوقت ظرفا للمحمول فكالمكان وان جعل للضرورة امتنع رده إليه واختلاف الجهة وكم المحصورات شرط لكذب الضروريتين وصدق المطلقتين والجزءيتين.

وناقض نصير الدين السمرقندي قول الأثير: اختلاف الجهة شرط، بقوله بتناقض المطلقتين الوقتيتين في وقت معين. فنقيض الضرورية ممكنة عامة، والدائمة مطلقة، والمشروطة العامة ممكنة حينية وهي الممكنة العامة حين وصفها، والعرفية العامة مطلقة حينية وهي المطلقة حين وصفها، والوقتية دون الدوام ممكنة ت، عامة في الوقت المعين والمنتشرة كذلك ممكنة عامة دائمة.

ابن الاندراس: لا تناقض المطلقة الدائمة الأزلية وهي الدائمة كل زمان لصدق " بعض ألوان الإجرام السماوية سواد " ما دامت ذاته موجودة، وهو لون الكسوف صدق " لا شيء من ألوان الأجرام السماوية بسواد " وقت ما سلبا بالفعل.

شيخنا ابن الحباب: هذه هفوة شنعاء وخرق لإجماع العقلاء ومكابرة في بديهي وذكر الزمان في الأزلية باطل عند الاشعري والحكيم. وموضوع القضيتين يختلف إذ لا منافاة بين ثبوت السواد دائما بحسب ذاته وبين سلب ألوان الأجرام السماوية حتى عن لون الجرم الذي يعرض له الكسوف فأنه يصدق عليه انه ليس بسواد بالإطلاق.

قلت: ليس فيما أتى به دليل على تغايرهما اكثر من اجتماعهما على الصدق وهذه دعوى الخصم بل التغاير إن موضوع الأولى من حيث ذاته والثانية ممن حيث كونه مضافا. والمثال المذكور من قول الخونجي في اختلاط الشكل الثاني ومنه انتنرع هذه المقالة.
আমি বললাম: পরিমাণের দিকের (জিহাতুস সূর) সারকথা হলো, বিধেয় সাব্যস্ত হওয়া বা তা নাকচ হওয়ার ক্ষেত্রে এর ব্যক্তিবর্গের একত্র হওয়া। আর এটি এই বিষয়টিকে আবশ্যক করে যে, পরিমাণের দিকসম্পন্ন আংশিক বচনটি পরিমাণের দিকহীন আংশিক বচন অপেক্ষা অধিক বিশিষ্ট হবে; কারণ এটি বহুত্বের জন্য অপরিহার্য এমন 'একত্র হওয়া'র অর্থকে দাবি করে, যা অন্যটি করে না। সুতরাং এটি তখনই সত্য হবে যখন এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না, যদি না পরিমাণের দিকের অর্থ হয় বিধেয় সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এর ব্যক্তিবর্গের বিচ্ছিন্ন না হওয়া, তবেই আংশিক বচনদ্বয়ের বিষয়টি পূর্ণতা পায়।

শাইখ বলেন: পরিমাণের দিকের স্বাভাবিক অবস্থান হলো তার সাথে যুক্ত থাকা এবং বিধেয়ের দিকের অবস্থান হলো আগে আসা। এটি দুটি সার্বিক সদর্থক বচনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট— যেমন "প্রত্যেক মানুষ লেখক হওয়া সম্ভব" এখানে 'সম্ভব' বিধেয়ের দিক। আর "সম্ভব যে প্রত্যেক মানুষ লেখক হবে" এখানে এটি পরিমাণের দিক। যখন আমরা সার্বিক নেতিবাচক বচনের ক্ষেত্রে বলি "সম্ভব নয় যে কোনো মানুষ লেখক হবে", তখন এটি প্রকৃতপক্ষে নেতিবাচকতার ব্যাপকতার সম্ভাব্যতা নির্দেশ করে, সম্ভাবনার ব্যাপকতাকে নয়। এখানে দিকটি পরিমাণের জন্য এবং নেতিবাচকতার ব্যাপকতায় এর প্রয়োগ রূপক অর্থে। এর প্রকৃত নির্দেশক হলো আমাদের এই কথা— "এমন কোনো মানুষ নেই যার লেখক না হওয়া সম্ভব নয়" এবং "প্রত্যেক মানুষের লেখক না হওয়া সম্ভব"।

বচনের যেকোনো এক প্রান্তের অর্থের বহুত্ব এবং এর এমন অংশসমূহ দ্বারা গঠিত হওয়া যা সবকিছুর ওপর প্রযুক্ত হয়, তার দিক, গুণ ও পরিমাণ অনুযায়ী তার বহুত্বকে আবশ্যক করে; তবে এর উদ্দেশ্যের (মওজু) গঠনের কারণে বহুত্ব তার পরিমাণকে রক্ষা করে না। কারণ এমনটি হওয়া জায়েয যে, দিকের বিচারে অংশটি তার পূর্ণতা থেকে অধিক ব্যাপক হবে। এবং অন্যান্য বিধেয়সমূহ একে বহুত্ব দান করে না, যেমন "ঘর হলো ছাদ ও দেয়াল" এবং এর বিপরীতটি।

শিক্ষক (আল-মুয়াল্লিম) বলেন: বিধেয়টি কখনো একক ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি হিসেবে সত্য হয়, যেমন "এটি পাথরের তৈরি একটি জাহাজ", "বাদুড় এমন এক পাখি যা পাখি নয়", "আনকা (কাল্পনিক পাখি) কল্পনায় বিদ্যমান"। এক্ষেত্রে প্রথম অংশটি একা সত্য হয় না। আবার এর বিপরীতটিও হয়, যেমন "জায়িদ একজন চিকিৎসক" এবং "জায়িদ দক্ষ" (অর্থাৎ নির্মাণ কাজে), কিন্তু "দক্ষ চিকিৎসক" কথাটি সত্য হয় না। শাইখ একে খণ্ডন করেছেন এই বলে যে, শব্দ দুটি দ্বিতীয়বার তাদের প্রথম অর্থের ভিত্তিতে সত্য হয়, আর তারা কেবল তখনই মিথ্যা হয় যখন তাদের প্রথম অর্থ ভিন্ন অন্য কোনো অর্থে ব্যবহৃত হয়। বলা হয়ে থাকে যে, শিক্ষকের উদ্দেশ্য ছিল— একক বা সমষ্টিগত ব্যবহার তাদের প্রথম অর্থ ভিন্ন অন্য অর্থকে দাবি করে।

বিরোধ (তানা কুদ): দুটি বিষয়ের এমন পার্থক্য যা স্বভাবগতভাবেই কেবল একটির সত্য হওয়াকে আবশ্যক করে। এতে ধারণা (তাসাউর) এবং যৌগিক বিষয়ের বিরোধও অন্তর্ভুক্ত হয়। আর তাদের এই উক্তি— "নেতিবাচক ও ইতিবাচকতার ভিত্তিতে দুটি বচনের এমন পার্থক্য যা স্বভাবগতভাবে একটির সত্যতা ও অন্যটির মিথ্যা হওয়াকে দাবি করে"— এটি প্রথম প্রকারকে (ধারণার বিরোধ) বের করে দেয়। আর যৌগিক সদর্থক বচনের বিরোধের ক্ষেত্রে যদি প্রথম প্রকারকে বের করে দেওয়া উদ্দেশ্য হয়, তবে এটি দুটি বিশ্বাসের (তাসদিক) পার্থক্য। প্রচলিত মতে, বিশ্বাসের ক্ষেত্রে বিরোধের শর্ত আটটি একত্ব: উভয় প্রান্তের একত্ব, সময়, স্থান, শর্ত, সম্বন্ধ (ইযাফাত), কুল (সমষ্টি) ও জুয (অংশ), এবং শক্তি (কুওয়াত) ও কর্মের (ফেল) একত্ব।

আল-ফারাবি এবং ফখরুদ্দীন রাজি এগুলোকে প্রথম তিনটিতে ফিরিয়ে নিয়েছেন। আল-ফারাবি একবার এবং আসির কেবল বিধানগত সম্পর্কের একত্বের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ফখরুদ্দীন রাজির মতে সময়ের একত্ব এবং উভয় প্রান্তের একত্বের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা বিবেচ্য, কারণ নেতিবাচক বচনে চন্দ্রগ্রহণের সময়টি যখন চতুর্থাংশ অবস্থানে থাকে এবং সদর্থক বচনে যখন প্রতিবন্ধকতার সময় থাকে, তখন তা স্থানভেদে ভিন্ন সময়ের বিধেয় হিসেবে গণ্য হয়। ইবনুল আন্দরাস একে ভুল আখ্যা দিয়ে বলেছেন যে, চন্দ্রগ্রহণের সময়টি বিধেয়ের বাইরের একটি দিক (জিহাত), যা একে বিধেয়ের দিকে ফিরিয়ে নিতে বাধা দেয়।

আমি বললাম: যদি সময়কে বিধেয়ের পাত্র (জরফ) হিসেবে ধরা হয় তবে তা স্থানের মতোই। আর যদি একে আবশ্যিকতার জন্য ধরা হয় তবে তাকে সেদিকে ফিরিয়ে নেয়া অসম্ভব। আর সীমাবদ্ধ বচনগুলোর (মাহসূরাতের) দিক ও পরিমাণের ভিন্নতা হলো দুটি আবশ্যিক বচনের মিথ্যা হওয়া এবং দুটি সাধারণ (মুতলাকাহ) ও আংশিক বচনের সত্য হওয়ার শর্ত।

নাসিরুদ্দীন সমরকন্দি আসিরের এই উক্তির বিরোধিতা করেছেন যে— "দিকের পার্থক্য একটি শর্ত"; তার যুক্তি হলো নির্দিষ্ট সময়ে দুটি সাময়িক সাধারণ বচনের (মুতলাকাহ ওয়াক্তিয়্যাহ) মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়া। সুতরাং আবশ্যিক বচনের বিপরীত হলো সাধারণ সম্ভাব্য বচন, চিরন্তন বচনের বিপরীত হলো সাধারণ বচন, শর্তযুক্ত সাধারণ বচনের বিপরীত হলো সাময়িক সম্ভাব্য বচন— যা তার গুণ বর্ণনা করার সময়ের সাধারণ সম্ভাব্য বচন। আর সাধারণ প্রথাগত বচনের বিপরীত হলো সাময়িক সাধারণ বচন— যা তার গুণ বর্ণনা করার সময়ের সাধারণ বচন। স্থায়িত্বহীন সাময়িক বচনের বিপরীত হলো নির্দিষ্ট সময়ের সাধারণ সম্ভাব্য বচন, এবং ব্যাপ্ত বচনের বিপরীত হলো চিরন্তন সাধারণ সম্ভাব্য বচন।

ইবনুল আন্দরাস বলেন: সাধারণ বচন চিরন্তন আজলি বচনের (যা সর্বসময়ের জন্য স্থায়ী) সাথে বিরোধপূর্ণ হয় না। কারণ "আসমানি বস্তুসমূহের কিছু রং কালো" এটি সত্য যতক্ষণ পর্যন্ত তার অস্তিত্ব থাকে— যা গ্রহণের সময়ের রং। আবার কার্যক্ষেত্রে নেতিবাচকতার সময় "আসমানি বস্তুসমূহের কোনো রং কালো নয়" এটিও সত্য হয়।

আমাদের শাইখ ইবনুল হুবাব বলেন: এটি একটি জঘন্য বিচ্যুতি, বুদ্ধিমানদের ঐকমত্যের লঙ্ঘন এবং স্বতঃসিদ্ধ বিষয়ে হঠকারিতা। আশআরি এবং দার্শনিকদের মতে আজলি বা চিরন্তনতার ক্ষেত্রে সময়ের উল্লেখ করা বাতিল। বচন দুটির উদ্দেশ্য (মওজু) ভিন্ন, কারণ স্বীয় সত্তার বিচারে কালো রঙ সর্বদা সাব্যস্ত হওয়া এবং আসমানি বস্তুসমূহের রঙের নেতিবাচকতার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, এমনকি যে বস্তুতে গ্রহণ লাগে তার ক্ষেত্রেও; কারণ ঢালাওভাবে সেটি কালো নয় বলা সত্য।

আমি বললাম: তিনি যা উপস্থাপন করেছেন তাতে সত্যের ওপর উভয়ের একত্রিত হওয়া ছাড়া তাদের ভিন্নতার অন্য কোনো প্রমাণ নেই, আর এটিই হলো প্রতিপক্ষের দাবি। বরং ভিন্নতা হলো এই যে, প্রথমটির উদ্দেশ্য তার সত্তার দিক থেকে এবং দ্বিতীয়টির উদ্দেশ্য তার সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার দিক থেকে। উল্লিখিত উদাহরণটি আল-খুনজি-র 'দ্বিতীয় আকৃতি'র মিশ্রণ সংক্রান্ত আলোচনা থেকে নেওয়া এবং সেখান থেকেই এই বক্তব্যের উৎপত্তি।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৮)
ونقيض المركبة الكلية مانعة خلو من نقيضي جزءيها وفي كون جزئيتها كذلك أو بشرط تقييد الموضوع بالمحمول في الموجبة وفي نقيضه في السالبة أو مانعة خلو من نقيضي جزءيها ومن ثالث هو جزئيتا الكليتين بكيفهما وجهتهما مستغرقتين أفراد الكليتين. رابعها حمل الترديد بين المحمول ونقيضه على واحد من أفراد الموضوع للموجز مع الجملين وابن واصل ونقل ابن البديع والأثير معبرا عن الأول بالمشهور مع الخونجي ناقلا عن بعضهم إن الثاني مساو لنقيضهما وابطلا الأول بجواز انقسام الموضوع لما المحمول له دائما وليس له دائما فيكذب الأصل ومانعة الخلو من نقيضي جزءيه.

قلت: فيجب الثاني لأن ملزومية كذب المركب صدق نقيض أحد أجزائه بديهي. العكس المستوي اسما قضية تركبت بتبديل كل من طرفي أخرى بالآخر مع بقاء الكيف والصدق لزوما ومصدرا. تبديل كل من طرفي قضية إلى آخره.

الشيخ: هو جعل المحمول موضوعا والموضوع محمولا مع بقاء الكيف والصدق والكذب. ورده الفخر بخروج عكس الشرطيات فقال: هو تصيير المحكوم عليه محكوما به والمحكوم عليه مع بقاء إلى آخره، ورده الأثير بخروج الحمليات لأن المبدل فيها العنوان بالمحمول والمحمول به. وقال هو تبديل العنوان أو المقدم بالمحكوم به والمحكوم به بما بدل به مع بقاء الكيف والصدق.

وفي شرط بقاء الكذب قولا الفخر مع الشيخ والمتأخرين، فالموجبات مطلقا تنعكس جزئية بجواز اعمية المحمول وأما الجهة فالوجوديتان والمطلقة مطلقات بفرض الموضوع د فهو ب بجهته وهو ج بالإطلاق فبعض ب ج بالإطلاق من الثالث وبإنتاج نقيض العكس مع الأصل سلب الشيء عن نفسه دائما وبانعكاس نقيض العكس المنافي للأصل لمن آخر عكسها عن السوالب. وفي انعكاس الدائمتين والعامتين لها أو حينيه قولا الأقدمين والسراج مع الخونجي بما تقدم.

وفي انعكاس الخاصتين لها أو كعامتهما ثالثها مع الدوام للمتقدمين والأثير قائل بأن السالبة المطلقة لا تنعكس. والسراج مع الخونجي قائلين لما في العامتين ولا دوام لأن ذلك البعض من ب الذي هو ج حين هو ب ليس ج دائما فكان ب دائما هذا خلف.

ابن واصل: نقل الفخر عن الشيخ إن عكس الفعليات ممكنة عامة غير صحيح لأن مراده الإمكان الفعلي لوضحة.

قلت: قال الأثير: في الإشارات: عكس الضرورة ممكنة عامة لأنها تنعكس مرة ومرة ممكنة خاصة فيلزمها الإمكان العام وفيه نظر لأنها أخص من المطقة وعكسها مطلقة. وفي انعكاس الممكنتين عامة قولا المتقدمين والمتأخرين احتجوا بالوجوه المذكورة. ورد المتأخرون الأول والثاني بمنع إنتاج الممكنة صغرى في الأول والثالث. والثالث بمنع انعكاس السالبة الضرورية ضرورية.

واحتج السراج والخونجي بإمكان صفة لنوعين تثبت لأحدهما فقط فتحمل تلك الصفة على النوع الثاني بالإمكان مع امتناع حمله على ماله تلك الصفة على النوع الثاني بالإمكان مع امتناع حمله على ماله تلك الصفة أما السوالب كلية فالدائمة وعامتها كأنفسها لأستلزام نقيض العكس مع الأصل سلب الشيء حين ثبوته ولانعكاس نقيض العكس لما في الأصل من حيث بيان الموجبة بغير السالبة وإلا دار. وتبيينه: السراج بالأول مشكل لأن السلب لا ينتج في الثالث. وفي انعكاس الضرورية دائمة أو كنفسها قولا المتأخرين والفخر مع الشيخ بما تقدم للفريقين في الموجبات. واحتج الفخر بأن المنافاة لنما تتحقق من الجانبين. وردوه بأن منافاة الأصل بين ذات الموضوع والمحمول والمطلوب في العكس المنافاة بين ذات المحمول ووصف الموضوع وأين أحدهما من الآخر. وفي العكس المشروط عامة قولا السراج مع الخونجي وابن واصل وهو الحق لما تقدم من عدم انعكاس الممكنة.

والخاصتان كعامتيهما على القولين بلا دوام في البعض.

الأثير: للزوم عكس الأعم الأخص وانعكاس الجزء الآخر جزئيا لأنه موجب كلي.

السراج: بلا دوام وإلا ثبت في الكل وانعكس دائما إلى منافي الأصل في البعض لا الكل لصدق شيء من الكاتب بساكن ما دام كاتبا لا دائما مع كذب لا شيء من الساكن بكاتب ما دام ساكنا لا دائما في الكل لأن بعض الساكن ساكن دائما كالأرض وان أريد بلا دوام في الكل لا في كل واحد انعكستا كأنفسهما ولعله مراد الأقدمين بقولهم ينعكسان كأنفسهما.
সার্বিক যৌগিক বচনের বিপরীত হলো তার দুই অংশের বিপরীতদ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত ‘মানেআতুল খুলু’ (খালি হওয়া অসম্ভব এমন বচন)। এবং এর আংশিক বচনও কি তদ্রূপ হবে, নাকি ইতিবাচক বচনের ক্ষেত্রে বিধেয় দ্বারা উদ্দেশ্যকে শর্তযুক্ত করার মাধ্যমে এবং নেতিবাচক বচনের ক্ষেত্রে তার বিপরীত দ্বারা শর্তযুক্ত করার মাধ্যমে হবে, অথবা তার দুই অংশের বিপরীতদ্বয় এবং তৃতীয় একটি বিষয়—যা তাদের গুণ ও মেজাজসহ দুই সার্বিক বচনের আংশিক রূপ এবং যা দুই সার্বিক বচনের ব্যক্তিবর্গকে পরিবেষ্টনকারী—তাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘মানেআতুল খুলু’ হবে। চতুর্থত: উদ্দেশ্যর ব্যক্তিবর্গের মধ্য থেকে কোনো একজনের ওপর বিধেয় ও তার বিপরীতের মধ্যে আবর্তনকে আরোপ করা; যেমনটি মুজায-এর সাথে জুমলাইন ও ইবনুল ওয়াসিল উল্লেখ করেছেন। ইবনুল বাদী এবং আসিরুদ্দীন বর্ণনা করেছেন এবং খুনাজীর সাথে প্রথমটিকে ‘মাশহুর’ (সুপরিচিত) বলে অভিহিত করেছেন। তারা কারো কারো থেকে বর্ণনা করেছেন যে, দ্বিতীয়টি তাদের বিপরীতের সমান। তারা প্রথমটিকে বাতিল করে দিয়েছেন এই যুক্তিতে যে, উদ্দেশ্য এমনভাবে বিভক্ত হতে পারে যেখানে বিধেয়টি তার জন্য সর্বদা বিদ্যমান এবং সর্বদা বিদ্যমান নয়, ফলে মূল বচনটি মিথ্যা প্রতিপন্ন হয় এবং তার দুই অংশের বিপরীতদ্বয় থেকে ‘মানেআতুল খুলু’ তৈরি হয়।

আমি বলি: দ্বিতীয়টি অপরিহার্য, কারণ যৌগিক বচন মিথ্যা হওয়ার আবশ্যিক ফলাফল হলো তার কোনো একটি অংশের বিপরীত সত্য হওয়া, যা স্বতসিদ্ধ। পারিভাষিক অর্থে ‘আকসে মুস্তাবী’ (সম-পরিবর্তন) হলো এমন একটি বচন যা অপর একটি বচনের উভয় প্রান্তকে (উদ্দেশ্য ও বিধেয়) পরস্পরের সাথে স্থান বিনিময়ের মাধ্যমে গঠিত হয়, যেখানে গুণ (ইতিবাচকতা বা নেতিবাচকতা) এবং সত্যতা আবশ্যিকভাবে ও উৎসগতভাবে অপরিবর্তিত থাকে। বচনের উভয় প্রান্তের পরিবর্তন ইত্যাদি।

শায়খ (ইবনে সিনা) বলেন: এটি হলো বিধেয়কে উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্যকে বিধেয় বানানো, যেখানে গুণ, সত্যতা ও মিথ্যা অপরিবর্তিত থাকবে। ফখরুদ্দীন আল-রাযী শর্তবাচক বচনের সম-পরিবর্তন বহির্ভূত হয়ে যাওয়ার কারণে একে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন: এটি হলো যার ওপর বিধান দেওয়া হয়েছে তাকে বিধানে পরিণত করা এবং বিধানকে যার ওপর বিধান দেওয়া হয়েছে তাতে পরিণত করা এবং গুণ অপরিবর্তিত রাখা ইত্যাদি। আসিরুদ্দীন আল-আভহারী একে প্রত্যাখ্যান করেছেন কারণ এতে বর্ণনামূলক বচন (হামলিইয়াহ) বহির্ভূত হয়ে যায়, কেননা সেখানে শিরোনামকে বিধেয় দ্বারা এবং বিধেয়কে শিরোনাম দ্বারা পরিবর্তন করা হয়। তিনি বলেন: এটি হলো শিরোনাম বা المقدم (পূর্বপদ)-কে যার মাধ্যমে বিধান দেওয়া হয়েছে তা দ্বারা পরিবর্তন করা এবং যার মাধ্যমে বিধান দেওয়া হয়েছে তাকে পূর্বপদ দ্বারা পরিবর্তন করা, যেখানে গুণ ও সত্যতা অপরিবর্তিত থাকবে।

মিথ্যা অপরিবর্তিত থাকার শর্তের ক্ষেত্রে শায়খ ও পরবর্তী আলেমদের সাথে ফখরুদ্দীন আল-রাযীর দুটি মত রয়েছে। সুতরাং ইতিবাচক বচনসমূহ সাধারণভাবে আংশিক বচনে পরিবর্তিত হয়, কারণ বিধেয়টি উদ্দেশ্য অপেক্ষা অধিক ব্যাপক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর মেজাজ বা প্রকৃতির (জিহাত) ক্ষেত্রে, অস্তিত্বশীল ও সাধারণ বচনসমূহ সাধারণ হিসেবেই থাকে; উদ্দেশ্যকে ‘দ’ ধরে নিলে তা তার মেজাজ অনুযায়ী ‘ব’ হয় এবং সাধারণভাবে ‘জ’ হয়, ফলে তৃতীয় প্রকার থেকে সাধারণভাবে কিছু ‘ব’ হয় ‘জ’। আর মূল বচনের সাথে বিপরীতের বিপরীতের সমন্বয়ে কোনো বস্তু থেকে তার নিজের গুণ সর্বদা নেতিবাচক হওয়ার ফলাফল তৈরি হয়। আবার মূল বচনের বিরোধী বিপরীতের সম-পরিবর্তনের মাধ্যমেও এটি প্রমাণিত হয় যারা নেতিবাচক বচন থেকে এর সম-পরিবর্তন ঘটান। আর নিত্য ও সাধারণ বচনদ্বয়ের সম-পরিবর্তন কি নিত্য হবে নাকি তাৎক্ষণিক হবে—এ বিষয়ে প্রাচীন আলেমগণ এবং সিরাজুদ্দীন ও খুনাজীর দুটি মত রয়েছে যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

বিশেষ বচনদ্বয়ের সম-পরিবর্তন কি বিশেষ হবে নাকি সাধারণ বচনের মতো হবে—এ বিষয়ে তৃতীয় একটি মত হলো পূর্বসূরিদের নিকট স্থায়িত্বসহ এবং আসিরুদ্দীন মনে করেন যে, নেতিবাচক সাধারণ বচন সম-পরিবর্তিত হয় না। সিরাজুদ্দীন ও খুনাজী সাধারণ বচনদ্বয়ের মতো মত দিয়েছেন এবং স্থায়িত্ব না থাকার কথা বলেছেন; কারণ ‘ব’-এর সেই অংশ যা ‘জ’, যতক্ষণ সে ‘ব’ ততক্ষণ সে সর্বদা ‘জ’ নয়, ফলে ‘ব’ সর্বদা বিদ্যমান—এটি একটি বৈপরীত্য।

ইবনুল ওয়াসিল: ফখরুদ্দীন আল-রাযী শায়খ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ক্রিয়াবাচক বচনের সম-পরিবর্তন ‘মুমকিনাহ আম্মাহ’ হওয়া সঠিক নয়, কারণ তার স্পষ্টতার কারণে তার উদ্দেশ্য হলো বাস্তবিক সম্ভাবনা (ইমকানে ফিলি)।

আমি বলি: আসিরুদ্দীন আল-আভহারী ‘ইশারাত’ গ্রন্থে বলেছেন: আবশ্যিকতার (দারুরাত) সম-পরিবর্তন হলো ‘মুমকিনাহ আম্মাহ’, কারণ এটি কখনো পরিবর্তিত হয় এবং কখনো ‘মুমকিনাহ খাসসাহ’ হিসেবে আসে, ফলে এটি সাধারণ সম্ভাবনাকে আবশ্যক করে। তবে এতে আপত্তির অবকাশ আছে, কারণ এটি সাধারণ বচন থেকে অধিক বিশিষ্ট এবং এর সম-পরিবর্তন হলো সাধারণ (মুতলাকাহ)। আর সাধারণ সম্ভবপর বচনদ্বয়ের সম-পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রাচীন ও আধুনিক আলেমদের দুটি মত রয়েছে এবং তারা উল্লেখিত কারণগুলো দ্বারা দলিল দিয়েছেন। পরবর্তী আলেমরা প্রথম ও দ্বিতীয় যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এই বলে যে, প্রথম ও তৃতীয় প্রকারে সম্ভবপর বচন ছোট হিসেবে ফলাফল দান করে না। আর তৃতীয় যুক্তিকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন নেতিবাচক আবশ্যিক বচনের আবশ্যিকভাবে সম-পরিবর্তিত হওয়াকে অস্বীকার করে।

সিরাজুদ্দীন ও খুনাজী যুক্তি দিয়েছেন যে, একটি গুণ দুটি প্রজাতির জন্য সম্ভব হতে পারে যা কেবল তাদের একটির জন্য সাব্যস্ত হয়, তখন সেই গুণটিকে দ্বিতীয় প্রজাতির ওপর সম্ভবপর হিসেবে আরোপ করা হয় এবং যার জন্য সেই গুণটি বিদ্যমান তার ওপর আরোপ করা অসম্ভব হয়। আর নেতিবাচক সার্বিক বচনের ক্ষেত্রে, নিত্য ও সাধারণ বচনগুলো নিজেদের মতোই থাকে; কারণ মূল বচনের সাথে বিপরীতের বিপরীতের সমন্বয় কোনো বিষয় সাব্যস্ত হওয়ার সময় তাকে নেতিবাচক করার আবশ্যক করে এবং যেহেতু মূল বচনে যা আছে তার জন্য বিপরীতের বিপরীত সম-পরিবর্তিত হয়, তাই ইতিবাচক বচনটি নেতিবাচক বচন ছাড়া অন্যভাবে বর্ণনা করা হয়, অন্যথায় চক্র তৈরি হবে। এর ব্যাখ্যা: প্রথমটির ক্ষেত্রে সিরাজুদ্দীনের ব্যাখ্যা জটিল, কারণ তৃতীয় প্রকারে নেতিবাচক বচন ফলাফল দেয় না। আর আবশ্যিক বচনের সম-পরিবর্তন নিত্য হবে নাকি তার নিজের মতো হবে—এ বিষয়ে পরবর্তী আলেমগণ এবং শায়খের সাথে ফখরুদ্দীন আল-রাযীর দুটি মত রয়েছে যা ইতিবাচক বচনের ক্ষেত্রে উভয় দলের জন্য পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। ফখরুদ্দীন আল-রাযী যুক্তি দিয়েছেন যে, বৈপরীত্য উভয় দিক থেকে বাস্তবায়িত হয়। তারা এটিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে, মূল বচনের বৈপরীত্য হলো উদ্দেশ্যের সত্তা ও বিধেয়ের মধ্যে, আর সম-পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত বৈপরীত্য হলো বিধেয়ের সত্তা ও উদ্দেশ্যের গুণের মধ্যে; এই দুইয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। আর সাধারণ শর্তযুক্ত বচনের সম-পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সিরাজুদ্দীন, খুনাজী ও ইবনুল ওয়াসিলের মত হলো (যেটি সত্য), যা সম্ভবপর বচনের সম-পরিবর্তন না হওয়ার কারণ থেকে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আর দুই বিশেষ বচন তাদের সাধারণ বচনদ্বয়ের মতোই, উভয় মত অনুযায়ী কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থায়িত্ব থাকবে না।

আসিরুদ্দীন বলেন: কারণ অধিক ব্যাপক বিষয়ের সম-পরিবর্তন অধিকতর খাস (নির্দিষ্ট) হওয়া আবশ্যক হয় এবং অন্য অংশটির আংশিক পরিবর্তন ঘটে, কারণ সেটি ইতিবাচক সার্বিক বচন।

সিরাজুদ্দীন বলেন: স্থায়িত্ব ছাড়া, অন্যথায় তা সবকিছুর ক্ষেত্রে সাব্যস্ত হবে এবং সর্বদা মূল বচনের বিপরীতে পরিবর্তিত হবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে, সব ক্ষেত্রে নয়। কারণ ‘যতক্ষণ লেখক ততক্ষণ কোনো লেখকই স্থির নয়’—এটি স্থায়িত্ব ছাড়া সত্য হলেও, ‘কোনো স্থির বস্তু লেখক নয় যতক্ষণ সে স্থির’—এটি সব ক্ষেত্রে স্থায়িত্ব ছাড়া মিথ্যা। কারণ স্থির বস্তুর কোনো কোনোটি সর্বদা স্থির যেমন পৃথিবী। আর যদি সবার ক্ষেত্রে স্থায়িত্বহীনতা উদ্দেশ্য হয়, প্রতিটি ব্যক্তির ক্ষেত্রে নয়, তবে তারা নিজেদের মতোই সম-পরিবর্তিত হবে। সম্ভবত প্রাচীনদের ‘তারা নিজেদের মতোই সম-পরিবর্তিত হয়’ বলার উদ্দেশ্য এটাই।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ৯)
واحتج الفخر على إن الدائمة الحقيقية لا تنعكس كنفسها بأن " الكتابة ممكنة للإنسان " فأمكن سلبها عنه دائما فلو وقع هذا الممكن مع انعكاس الدائمة دائمة صدق " لا شيء من الكاتب بإنسان " هذا محال ولم يلزم من فرض الممكن محال فهو من الانعكاس.

ورده الخونجي والسراج والأثير بأنه قد يلزم من اجتماعهما فان الممكنتين قد يمتنع اجتماعها.

قلت: فيه نظر لأن صرف المحال لاجتماعها مع حقيقتها يقدح في برهان إنتاج نقيض العكس مع الأصل المحال لتوجهه قوله: قد يازم من اجتماعهما وفي مطلق برهان الخلف والحق رده بمنع إحالة " لا شيء من الكاتب بإنسان " على ذلك التقدير وبيان سنده انه لو كذب على التقدير لصدق " بعض الكاتب إنسان " بالإطلاق وعلى ذلك التقدير وهو محال على ذلك التقدير لمناقضة عكسه ما فرض وأخص باقيها الوقتية لا تنعكس لصدق " لا شيء من القمر بمنخسف وقت التربيع لا دائما " وكذب عكسه بأعم جهة فلا ينعكس الشيء وإلا انعكست إليه لأن لازم الأعم لازم الأخص.

السراج والخونجي: إن آخذت القضية حقيقية انعكست السبع جزئية دائمة لأنه حينئذ يصدق حقيقة " لا شيء من ب دائما ج دائما " وإلا " فبعض ب دائما ج بالإطلاق " وهذا خلف وإذا صدق هذا جعل كبري " لكل ب دائما ب بالإطلاق " الصادق وينتج من الثالث " بعض ب ليس ج دائما " وهو المطلوب. والقض بهذا الاعتبار غير وارد لانا نمنع كذلك العكس بهذا الاعتبار فأن المنخسف الذي ليس بقمر وان كان ممتنعا ليس بقمر بهذا الاعتبار ولو أعتبر في الحقيقة إمكان الموضوع لم تنعكس كالخارجية.

قلت: الحق قول الأثير: تقيد بالإمكان لأنها دونه، برهن على عدم صدقها سالبة قال: ولا يقوم برهان على صدقها موجبة. وزيادة الكشف على المطالع: يجب في الممكنتين تقييد الأوسط بالضرورة لعدم إنتاج الخلف كل لازمة وإلا عمت الدعوة وخص دليلها. والجزئيات لا تنعكس لجواز كون الموضوع اعم إلا الخاصتان فالأقدمون كغيرهما الخونجي والسراج كأنفسها إذ لا بد من اجتماع الوصفين في ذات واحدة للا دوام سلب الباء لبعض أفراد الجيم ومن تباينهما فيهما وهو عين العكس ولا يلزم في العامتين لجواز ضرورة العنوان للموضوع أو عدم وجوده. ابن واصل: المشروطة كالعرفية وهو الحق لما مر.

عكس النقيض أسماء قضية ركبت بجعل نقيض الطرف الآخر من أخرى أولها ونقيض الأول منها آخرها مع بقاء الكيف. أو الأول منها آخرها مع مخالفة الكيف وبقاء الصدق فيهما لزوما ومصدرا. قال ابن واصل: تبديل كل من الطرفين بنقيض الآخر مع بقاء الكيف أو الأول بنقيض الثاني والثاني بالأول مع مخالفة الكيف وبقاء الصدق فيهما لزوما.

السراج والخونجي: جعل نقيض المحمول موضوعا وعين الموضوع محمولا مخالف كيف الأصل أو جعل نقيضه محمولا موافق كيف الأصل فيرد عدم اعتبار بقاء الصدق ولزومه وخروج الشرطيات واتفقوا على أرادتها.

أما الموجبات كلية ففي انعكاس الدائمتين والعامتين بالموافق كأنفسهما أو بالمخالف دائمة في الأولين وكأنفسهما في الأخيرين. ثالثها عرفية عامة فيهما للموجز مع الجمل والكشى محتجين بملزومية نقيض العكس حمل عنوان الأصل على نقيض محمولة وينعكس مستقيما لمنافي الأصل والخونجي والسراج راديه بان نقيض العكس سالبة معدولة وما ادعيت مزوميته له موجبة محصلة والأولى اعم فلا لزوم محتجين بإنتاج نقيض العكس مع الأصل حمل الشيء على نقيضه دائما.

وابن واصل بذلك كما هو له ولهما في مستقيهما وفي انعكاس الخاصتين كأنفسهما أو بما تنعكس اليه عامتهما مع الدوام في البعض في ثالثها الثاني وبالموافق للجمل والسراج مع الخونجي والموجز والكشى. وابن واصل محتجا بانعكاس لازم نقيض عكسها بالموافق لصحة ملزوميته نقيض العكس ما تقدم لوجود الموضوع صادقا عليه نقيض المحمول للا دوام في الأصل ولزوم لا دوام وإلا انعكس مستويا للدائم لوجود الموضوع بموجبة تنافي الأصل وللدوام في البعض لصدق كل كاتب غير ساكن ما دام كاتبا لا دائما مع كذب كل ساكن غير كاتب ما دام ساكنا لا دائما في الكل لان بعض الساكن غير كاتب دائما كالأرض وكذا، في المخالف.
ফখর এই মর্মে যুক্তি প্রদান করেছেন যে, হাকিকি দায়েমাহ (প্রকৃত স্থায়ী) তার সমরূপ আবর্তিত হয় না। কারণ, "মানুষের জন্য লিখন সম্ভব" - সুতরাং এটি সর্বদা তার থেকে নেতিবাচক হওয়াও সম্ভব। এখন যদি এই সম্ভবটি দায়েমাহ হিসেবে আবর্তিত হওয়ার সাথে সাথে ঘটে, তবে সত্য হবে যে "লেখক শ্রেণীর কেউই মানুষ নয়"। এটি অসম্ভব। আর সম্ভবকে সত্য ধরে নেওয়া থেকে অসম্ভব অনিবার্য হয় না, তাই এটি আবর্তন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত।

আল-খুনজি, আস-সিরাজ এবং আল-আসির একে এই বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন যে, তাদের উভয়ের একত্র হওয়া থেকে তা অনিবার্য হতে পারে, কারণ দুটি সম্ভব বিষয়ের একত্র হওয়া অসম্ভব হতে পারে।

আমি বলি: এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ অসম্ভবকে কেবল তার হাকিকতের সাথে একত্র হওয়ার কারণে সাব্যস্ত করা আবর্তনের নকিজ (বিপরীত) এবং আসলের (মূল) মাধ্যমে অসম্ভব ফলাফল বের করার প্রমাণকে ত্রুটিযুক্ত করে। কারণ এতে তাঁর উক্তি: "তাদের উভয়ের একত্র হওয়া থেকে অনিবার্য হতে পারে" এবং সামগ্রিকভাবে ‘বুরহানে খুলফ’ (বিপরীত প্রমাণের পদ্ধতি)-এর দিকে ইঙ্গিত রয়েছে। সঠিক উত্তর হলো, সেই অনুমানের ভিত্তিতে "লেখক শ্রেণীর কেউই মানুষ নয়" কথাটির অসম্ভবতাকে অস্বীকার করার মাধ্যমে একে প্রত্যাখ্যান করা এবং এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করা যে, যদি ওই অনুমানের ভিত্তিতে এটি মিথ্যা হতো, তবে সাধারণভাবে "কোনো কোনো লেখক মানুষ" কথাটি সত্য হতো। আর ওই অনুমানের ভিত্তিতে এটি অসম্ভব, কারণ এর আবর্তন যা ধরা হয়েছে তার পরিপন্থী। আর অবশিষ্টগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশেষ হলো ওয়াকতিয়াহ (কালিক), যা আবর্তিত হয় না। কারণ "চাঁদ পূর্ণিমার সময় গ্রহণযুক্ত নয়, সর্বদা নয়" কথাটি সত্য হলেও এর আবর্তন সবচেয়ে সাধারণ দিক থেকেও মিথ্যা হয়। সুতরাং কোনো বিষয় আবর্তিত হবে না, অন্যথায় সেটি তার দিকেই আবর্তিত হতো, কারণ সাধারণের জন্য যা অনিবার্য, বিশেষের জন্যও তা অনিবার্য।

আস-সিরাজ এবং আল-খুনজি বলেন: যদি কাজিয়াটিকে (প্রতিজ্ঞা) হাকিকি হিসেবে গ্রহণ করা হয়, তবে সাতটি জুইয়্যাহ (বিশেষ) দায়েমাহ হিসেবে আবর্তিত হবে। কারণ তখন হাকিকত অনুযায়ী সত্য হবে যে, "কোনো 'ব' সর্বদা 'জ' নয়"। অন্যথায় সত্য হতো "কোনো কোনো 'ব' সাধারণভাবে সর্বদা 'জ'"। এটি একটি বৈপরীত্য। আর যখন এটি সত্য প্রমাণিত হলো, তখন একে কুবরা (প্রধান আশ্রয়বাক্য) হিসেবে স্থাপন করা হলো "প্রত্যেক 'ব' সাধারণভাবে সর্বদা 'ব'" এর জন্য যা সত্য। এর ফলে তৃতীয় প্রকার থেকে উত্তর আসবে "কোনো কোনো 'ব' সর্বদা 'জ' নয়" এবং এটাই উদ্দেশ্য। এই বিচারে আপত্তি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ আমরা একইভাবে এই বিচারে আবর্তনকে অস্বীকার করি। কেননা যে গ্রহণযুক্ত বিষয় চাঁদ নয়, তা অসম্ভব হলেও এই বিচারে চাঁদ নয়। আর যদি হাকিকতের ক্ষেত্রে মওজু (উদ্দেশ্য)-এর সম্ভাবনাকে বিবেচনা করা হতো, তবে তা খারিজিয়ার মতো আবর্তিত হতো না।

আমি বলি: আল-আসিরের বক্তব্যই সঠিক। তা হলো ‘ইমকান’ (সম্ভাবনা) দ্বারা শর্তযুক্ত হওয়া, কারণ এটি ছাড়া তা অপূর্ণ। তিনি এটি সালিবা (নঞর্থক) হিসেবে সত্য না হওয়ার প্রমাণ দিয়েছেন এবং বলেছেন: এটি মুজিবা (সদর্থক) হিসেবে সত্য হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। 'আল-মাতালি' গ্রন্থের উপর ‘আল-কাশফ’-এর সংযোজনী হলো: মুমকিনাতাইন (দুটি সম্ভাব্য)-এর ক্ষেত্রে আওসাত (মধ্যপদ)-কে জরুরি হওয়ার শর্তযুক্ত করা আবশ্যক, যাতে ‘খুলফ’ (বিপরীত প্রমাণ) প্রতিটি অনিবার্য ফলাফলকে উৎপন্ন করতে ব্যর্থ না হয়; অন্যথায় দাবিটি ব্যাপক হয়ে যাবে এবং এর প্রমাণ বিশেষ হয়ে পড়বে। আর জুইয়্যাহ (বিশেষ) আবর্তিত হয় না কারণ মওজু (উদ্দেশ্য) সাধারণ হওয়ার অবকাশ থাকে, তবে দুটি বিশেষ ক্ষেত্র ব্যতীত। প্রাচীনগণ এবং অন্যান্যরা, যেমন আল-খুনজি ও আস-সিরাজ একে তাদের নিজেদের মতই গণ্য করেছেন। কারণ ‘জ’ এর কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘বা’ এর নেতিবাচকতা স্থায়ী না হওয়ার জন্য একই সত্তায় দুটি গুণের একত্র হওয়া আবশ্যক। আর এটিই আবর্তন। আম্মাতাইন (দুটি সাধারণ)-এর ক্ষেত্রে এটি অনিবার্য নয়, কারণ মওজু-এর জন্য শিরোনামটি জরুরি হওয়া বা এর অস্তিত্ব না থাকা সম্ভব। ইবনে ওয়াসিল বলেন: মাশরুতাহ (শর্তযুক্ত) ওরফিয়্যাহ (প্রচলিত)-এর মতো, আর এটিই সঠিক যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আকসে নকিজ (বিপরীত আবর্তন) হলো এমন একটি কাজিয়ার নাম যা অন্য একটি কাজিয়ার এক প্রান্তের নকিজকে প্রথম এবং প্রথম প্রান্তের নকিজকে শেষ করে গঠিত হয়, যেখানে গুণের (কাইফ) স্থায়িত্ব বজায় থাকে। অথবা প্রথমটিকে শেষ করে গুণের পরিবর্তন ঘটিয়ে এবং উভয় ক্ষেত্রে অনিবার্য ও উৎসগতভাবে সত্যতা বজায় রেখে। ইবনে ওয়াসিল বলেন: গুণের স্থায়িত্ব বজায় রেখে এক প্রান্তকে অপর প্রান্তের নকিজ দ্বারা পরিবর্তন করা, অথবা গুণের পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রথমটিকে দ্বিতীয়টির নকিজ দ্বারা এবং দ্বিতীয়টিকে প্রথমটি দ্বারা পরিবর্তন করা এবং উভয় ক্ষেত্রে সত্যতা বজায় রাখা।

আস-সিরাজ এবং আল-খুনজি বলেন: মাহমুল (বিধেয়)-এর নকিজকে মওজু (উদ্দেশ্য) বানানো এবং মওজু-এর আইনকে (সত্তা) মাহমুল বানানো যা আসলের গুণের বিপরীত হবে, অথবা তার নকিজকে মাহমুল বানানো যা আসলের গুণের অনুকূল হবে। এতে সত্যতা এবং অনিবার্যতার স্থায়িত্ব বিবেচনা না করার এবং শর্তমূলক বাক্যগুলো বাদ পড়ার আপত্তি আসে, যদিও তারা এটিই ইচ্ছা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন।

আর কুল্লিয়াহ মুজিবার (সার্বিক সদর্থক) ক্ষেত্রে, দায়েমাতাইন এবং আম্মাতাইন-এর আবর্তন মোয়াফিকের (অনুরূপ) দিক থেকে তাদের নিজেদের মতই, অথবা মুখালিফের (বিপরীত) দিক থেকে প্রথম দুটিতে দায়েমাহ এবং শেষ দুটিতে তাদের নিজেদের মতই। তৃতীয় মতটি হলো, আল-মুজিজ ও আল-জুমাল এবং আল-কাশি-এর মতে এগুলোতে ওরফিয়্যাহ আম্মাহ হবে। তারা যুক্তি দিয়েছেন যে, আবর্তনের নকিজ হলো আসলের শিরোনামকে তার মাহমুলের নকিজের উপর আরোপ করা অনিবার্য হওয়া। এটি আসলের পরিপন্থীর সাথে সরাসরি আবর্তিত হয়। আল-খুনজি ও আস-সিরাজ একে প্রত্যাখ্যান করেছেন এই বলে যে, আবর্তনের নকিজ হলো সালিবা মুয়াদ্দাল্লাহ, আর আপনি যা অনিবার্য বলে দাবি করেছেন তা হলো মুজিবা মুহাসসালাহ। প্রথমটি বেশি সাধারণ, তাই তা অনিবার্য নয়। তারা যুক্তি দিয়েছেন যে, আসলের সাথে আবর্তনের নকিজ যুক্ত হয়ে কোনো বস্তুকে সর্বদা তার নকিজের উপর আরোপ করার ফলাফল দেয়।

ইবনে ওয়াসিলও একই মত পোষণ করেন যা তার এবং তাদের উভয়ের জন্য প্রযোজ্য তাদের সরাসরি আবর্তনের ক্ষেত্রে। আর খাসাতাইন (দুটি বিশেষ)-এর আবর্তনের ক্ষেত্রে তাদের নিজেদের মতই, অথবা যা তাদের আম্মাতাইন-এর দিকে আবর্তিত হয় তার মতই, যেখানে কারো কারো মতে স্থায়িত্বের সাথে তৃতীয় প্রকারের দ্বিতীয়টিতে এবং আল-জুমাল ও আস-সিরাজের সাথে আল-খুনজি, আল-মুজিজ ও আল-কাশি-র মতে মোয়াফিকের সাথে। ইবনে ওয়াসিল যুক্তি দিয়েছেন যে, তার আবর্তনের নকিজের যা অনিবার্য তার আবর্তন মোয়াফিকের সাথে সত্য হওয়ার মাধ্যমে আবর্তনের নকিজ হওয়ার জন্য যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। কারণ মওজু-এর অস্তিত্বে মাহমুলের নকিজ সত্য হয় আসলের স্থায়িত্ব না থাকার কারণে এবং স্থায়িত্ব না থাকা অনিবার্য হওয়ার কারণে। অন্যথায় তা দায়েমাহ-এর জন্য সরাসরি আবর্তিত হতো মওজু-এর অস্তিত্বের কারণে এমন এক মুজিবার মাধ্যমে যা আসলের পরিপন্থী। আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থায়িত্বের জন্য যেমন "প্রত্যেক লেখক যতক্ষণ লেখক ততক্ষণ শান্ত নয়, সর্বদা নয়" সত্য হওয়ার সাথে সাথে "প্রত্যেক শান্ত ব্যক্তি যতক্ষণ শান্ত ততক্ষণ লেখক নয়, সর্বদা নয়" কথাটি সকলের ক্ষেত্রে মিথ্যা হয়। কারণ শান্ত ব্যক্তির কেউ কেউ সর্বদা অ-লেখক, যেমন পৃথিবী এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে, মুখালিফের (বিপরীত) ক্ষেত্রেও তাই।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ১০)
والسبع الباقية عقيمة لعقم أخصها الوقتية ككل قمر غير منخسف. ضرورة وقت التربيع وتكلفهم في المطولات انعكاسها خروج عن المعروف من حقيقة عكس النقيض إلى لوازم غيره. وفي انعكاس جزئيات الست كنفسها وعقمها ثالثها الخاصتان ورابعها المشروطة عرفية خاصة. للجمل مع ظاهر الكشف عن الشيخ والموجز والسراج مع الكشف وابن واصل والكشى مرة تنعكس محصلة لا معدولة ومرة إن كان محمولها مساويا أو اعم مطلقا اواخص مطلقا نعكس وان كان اعم من وجه لم تنعكس.

والحق الرابع لما مر في المستوى والسوالب جزئية وكلية في انعكاسها جزئية إن كانت فعلية وإلا فممكنة وعقمها إلا المركبة من فعليتين قولا الجمل مع الموجز والكشى محتجين بانعكاس نقيض العكس عكس النقيض إلى منافي الأصل وابن واصل راده بمنع انعكاس الدائمة بالموافق مصححة في المركبة لانعكاسها فيهما لأجل وجود الموضوع.

الأثير: ويلزم بشبه عكس النقيض على رأى الشيخ في كل ج ب فالإمكان العام لا شيء مما ليس ب بالضرورة ج دائما وفي سائر الممكنات وبالإطلاق العام ذلك دائما في الطرفين وفي سائر المطلقات والوقتية. والوجوديتين وبالضرورة ذلك بالإمكان العام في الأول ودائما في الثاني، وعلى رأى الفارابي في الأول بالضرورة في الطرفين وفى الأخير بالإمكان في الأول وبالضرورة في الثاني وبرهانه بالخلف.

القياس: تصديقان متى سلما لزم لذاتهما آخر يسمى قبله مطلوبا وبعده نتيجة. فيخرج ما لازمهما لثالث أجنبي كأمساو لب وب مساو لج يلزمهما أمسا ولج بواسطة كل مساو لب مساو لكل ما يساويه ب لأنه إذا ضم للأول انتج أمساو لكل ما يساويه ب ويلزمه كل ما يساويه ب فأمساو له. وقولنا مساو لج يلزمه ج يساوى ب فيضم صغرى لكل ما يساويه ب فأمساو له وينتج ج مساو له فيلزم أمسا ولج.

قال السراج والخونجي: وجعل بعضهم الثالث: مساوي المساوي مساو لا يتم لعدم إنتاجه بالذات لعدم تكرار الوسط.

قلت: فجعل ابن واصل إياه قصورا وقولا بمضعف أو كمذكور كالإنسان حيوان وما ليس بجسم غير حيوان يلزمه الإنسان جسم بعكس نقيض الكبرى وليس كما بين بعكس مستقيم لحفظه حدود القياس وتغيير عكس النقيض إياها.

قالوا: وهذا استثنائي إن ذكرت فيه نتيجته أو نقيضها ويناقض الأول احترازهم بأخر عن لزوم إحداهما لهما. وأجيب بأنه مقدمة من حيث كونها لازمة ونتيجة من حيث كونها لازمة ونتيجة من حيث كونها واقعة ولفظها واحد فيهما. وألا اقتراني طرف إحدى مقدمتيه اصغر المطلوب، أعنى موضوعه وهي الصغرى وطرف الأخرى أكبره أعنى محموله وهي الكبرى، بشتر كان في ثالث يسمى الوسط. هما باعتبار حال وضعه فيهما شكل إن حمل في الصغرى ووضع في الكبرى فالأول لبيانه وعكسه الرابع لبعده ولذا أنكر قديما وإن حمل فيهما فالثاني لشركته الأول في اشرف مقدمتيه وعكسه الثالث وباعتبار كميهما وكيفهما ضرب. وشرطه وضعه لهما ولو بالقوة عاما لأحدهما ثابتا للأصغر أو لكل الأكبر منفيا عن الأصغر. وإيجاب النتيجة بإيجاب مقدمتيها وعمومها بعموم وضع الأصغر وقول الجمل مع كلية حشو لاقتضاء ضابط لإنتاج إياه.

فشرط الأول إيجاب صغراه ليندرج الأصغر تحت الأوسط وكلية كبراه وإلا جاز كون ما ثبت له الأكبر غير الأصغر. فضروبه أربعة: الصغرى موجبة كلية مع مثلها تنتج كلية أو سالبة تنتج سالبة كلية. وجزئية مع موجبة تنتج موجبة جزئة. أو سالبة تنتج سالبة جزئية.

وشرط الثاني اختلاف كيف مقدمتيه لاشتراك المتوافقتين والمتباينتين في لازم إيجابي وسلبي وكلية كبراه لاختلاف إيجاب النتيجة مرة وسلبها أخرى.

فضرورية أربعة: الصغرى موجبة كلية مع كلية وعكسه ينتجان. سالبة كلية والصغرى جزئية موجبة أو سالبة ينتجان سالبة جزنية. وفي لزوم بيان الثاني والثالث بالأول وبيانهما بذاتيهما قولاً الأكثر وحكمة إشراق السهروردي مع شرح عيون الحكمة للفخر وآخذه شيخنا ابن الحباب من قول الغزالي الثلاثة في القرآن وصوبه. وعلى الأول أول الثاني وثالثة بعكس الكبرى والثانية بتبديل مقدمتيه مع عكس الصغرى بعكس النتيجة. ورابعة بينوه حتى الخونجي بالفرض وهو فرض موضوع الجزئية معينا بوصف يجعل موضوع صغرى القياس كلية تنتج مع كبراه بضرب منه برهن نتيجة تجعل كبرى لعنوان الصغرى محمولا عليه الوصف المفروض بنتج من الأول المطلوب.
অবশিষ্টাংশ সাতটি অনুর্বর, কারণ সেগুলোর সবচেয়ে নির্দিষ্ট রূপগুলো সাময়িক, যেমন চন্দ্রগ্রহণহীন প্রতিটি চাঁদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। চতুর্থাংশের সময়ের আবশ্যকতা এবং দীর্ঘ কিতাবসমূহে সেগুলোর প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টা হলো বিপরীত বৈপরীত্যের (Contraposition) প্রকৃত হাকিকত থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্যান্য অপরিহার্য বিষয়ের দিকে চলে যাওয়া। আর ছয়টি আংশিক বিষয়ের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে সেগুলো নিজের মতোই থাকে এবং সেগুলোর অনুর্বরতা প্রকাশ পায়; এর মধ্যে তৃতীয়টি হলো দুটি বিশেষ বিষয় এবং চতুর্থটি হলো সাধারণ শর্তযুক্ত প্রথাগত বিষয়। আল-জুমাল-এর ভাষ্য অনুযায়ী—শেখ-এর কাশফ, আল-মুজায এবং আস-সিরাজ-এর সাথে কাশফ, ইবনে ওয়াসিল এবং আল-কাশী-এর বর্ণনায়—কখনও এটি অর্জিত রূপে রূপান্তরিত হয় (পরিবর্তিত রূপে নয়), আবার কখনও যদি তার বিধেয় সমান হয়, অথবা সাধারণভাবে ব্যাপকতর হয়, অথবা সাধারণভাবে সংকীর্ণতর হয়, তবে তা রূপান্তরিত হয়; আর যদি তা কোনো দিক থেকে ব্যাপকতর হয়, তবে তা রূপান্তরিত হয় না।

আর চতুর্থ মতটিই সত্য, যেমনটি সহজ রূপান্তরের (Simple Conversion) ক্ষেত্রে অতিক্রান্ত হয়েছে। নেতিবাচক আংশিক ও সার্বিক বাক্যগুলো তাদের রূপান্তরের ক্ষেত্রে আংশিক হয়ে থাকে যদি সেগুলো বাস্তবিক হয়, অন্যথায় সেগুলো সম্ভাব্য হয় এবং সেগুলো অনুর্বর হয়; তবে দুটি বাস্তবিক বাক্য দ্বারা গঠিত উক্তি ব্যতীত। আল-জুমাল, আল-মুজায ও আল-কাশী যুক্তিসহকারে বলেছেন যে, রূপান্তরের বিপরীতের রূপান্তর হলো বিপরীত বৈপরীত্য যা মূলের পরিপন্থী হয়। ইবনে ওয়াসিল এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এই যুক্তিতে যে, বিষয়ের অস্তিত্বের কারণে উভয় ক্ষেত্রে তার রূপান্তরের জন্য অনুকূল স্থায়ী রূপান্তরকে তিনি বাধা প্রদান করেছেন।

আল-আসির বলেন: শেখ-এর মতে বিপরীত বৈপরীত্যের সাদৃশ্যে এটি অপরিহার্য যে—প্রত্যেক ‘জ’ যদি ‘ব’ হয়, তবে সাধারণ সম্ভাবনার ক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে কোনো কিছুই ‘জ’ নয় যা ‘ব’ নয়—এটি সর্বদা এবং অন্যান্য সম্ভাব্যতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর সাধারণ নিরঙ্কুশতার ক্ষেত্রে তা উভয় দিকে এবং অন্যান্য নিরঙ্কুশ ও সাময়িক বিষয়ের ক্ষেত্রে সর্বদা প্রযোজ্য। অস্তিত্বশীল এবং আবশ্যিকতার ক্ষেত্রে প্রথমটিতে সাধারণ সম্ভাবনা এবং দ্বিতীয়টিতে সর্বদা প্রযোজ্য। আল-ফারাবির মতে, প্রথমটিতে উভয় দিকে আবশ্যকতা প্রযোজ্য এবং শেষোক্তটিতে প্রথমটিতে সম্ভাবনা ও দ্বিতীয়টিতে আবশ্যকতা প্রযোজ্য। এর প্রমাণ হলো বিরোধাভাস পদ্ধতি।

কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান): এটি এমন দুটি সত্যায়ন যা যখন স্বীকৃত হয়, তখন সেগুলোর সত্তাগত কারণে অন্য একটি বিষয় অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যা (স্বীকৃত হওয়ার) পূর্বে ‘অন্বিষ্ট’ এবং পরে ‘সিদ্ধান্ত’ নামে অভিহিত হয়। এর ফলে এমন বিষয়গুলো বাদ পড়ে যায় যা তৃতীয় কোনো বাহ্যিক বিষয়ের কারণে অপরিহার্য হয়; যেমন: ‘অ’ যদি ‘ব’-এর সমান হয় এবং ‘ব’ যদি ‘জ’-এর সমান হয়, তবে ‘অ’ ও ‘জ’-এর সাম্য অপরিহার্য হয় এই মধ্যস্থতায় যে, ‘প্রত্যেক যা ব-এর সমান, তা ব-এর সমান সবকিছুরই সমান’। কারণ এটি যখন প্রথমটির সাথে যুক্ত হয়, তখন সিদ্ধান্ত দেয় যে ‘অ’ হলো সেই সবকিছুর সমান যা ‘ব’-এর সমান, আর যা ‘ব’-এর সমান তা তার জন্য অপরিহার্য, সুতরাং ‘অ’ তার সমান। আর আমাদের কথা ‘জ’-এর সমান—এটি অপরিহার্য করে যে ‘জ’ হবে ‘ব’-এর সমান; ফলে এটি ক্ষুদ্রতর বাক্য হিসেবে যুক্ত হয় ‘প্রত্যেক যা ব-এর সমান’ এর সাথে, সুতরাং ‘অ’ তার সমান হয় এবং সিদ্ধান্ত প্রদান করে যে ‘জ’ তার সমান, ফলে ‘অ’ ও ‘জ’-এর সাম্য অপরিহার্য হয়।

আস-সিরাজ এবং আল-খুনাজি বলেছেন: কেউ কেউ তৃতীয় বিষয়টিকে এভাবে নির্ধারণ করেছেন: ‘সমানের সমানও সমান’—এটি পূর্ণাঙ্গ নয় কারণ মধ্যপদটির পুনরাবৃত্তি না হওয়ায় এটি সত্তাগতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেয় না।

আমি বলি: ইবনে ওয়াসিল একে অপূর্ণতা এবং দুর্বল মত হিসেবে গণ্য করেছেন; অথবা এটি উল্লিখিত বিষয়ের মতো যেমন—‘মানুষ হলো প্রাণী’ এবং ‘যা দেহ নয় তা প্রাণী নয়’—এর থেকে বিপরীত বৈপরীত্যের মাধ্যমে অপরিহার্য হয় যে ‘মানুষ হলো দেহ’। এটি কিয়াসের সীমাবদ্ধতা রক্ষার জন্য সহজ রূপান্তরের মাধ্যমে স্পষ্ট করা বিষয়ের মতো নয়, কারণ বিপরীত বৈপরীত্য একে পরিবর্তন করে দেয়।

তারা বলেন: এটি হলো ব্যতিক্রমী (Disjunctive) কিয়াস যদি এতে সিদ্ধান্ত বা তার বিপরীতটি উল্লেখ থাকে। প্রথম সংজ্ঞার সাথে তাদের ‘অন্য একটি বিষয়’ কথাটি সিদ্ধান্তের একটির আবশ্যকতা থেকে বাঁচার জন্য বৈপরীত্য তৈরি করে। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি একটি مقدمة বা ভূমিকা যেহেতু এটি অপরিহার্য, আবার এটি একটি সিদ্ধান্ত যেহেতু এটি বাস্তবায়িত হয়; অথচ উভয় ক্ষেত্রে এর শব্দ একই থাকে। অন্যথায় এটি হবে সংযোজক (Conjunctive) কিয়াস, যার একটি ভূমিকার এক প্রান্ত হবে অন্বিষ্টের ক্ষুদ্রতর পদ (অর্থাৎ তার উদ্দেশ্য বা Subject), যা হলো ক্ষুদ্রতর বাক্য (Minor Premise); এবং অন্য ভূমিকার এক প্রান্ত হবে তার বৃহত্তর পদ (অর্থাৎ তার বিধেয় বা Predicate), যা হলো বৃহত্তর বাক্য (Major Premise)। তারা উভয়ই একটি তৃতীয় পদে অংশগ্রহণ করবে যাকে মধ্যপদ বলা হয়। মধ্যপদে অবস্থানের বিচারে সেগুলো বিভিন্ন সংস্থান (Figure) গঠন করে; যদি তা ক্ষুদ্রতর বাক্যে বিধেয় এবং বৃহত্তর বাক্যে উদ্দেশ্য হয়, তবে তা প্রথম সংস্থান—তার স্পষ্টতার কারণে। এর বিপরীতটি চতুর্থ সংস্থান—তার দূরবর্তিতার কারণে, এজন্যই প্রাচীনকালে একে অস্বীকার করা হতো। যদি উভয় বাক্যে বিধেয় হয়, তবে তা দ্বিতীয় সংস্থান—প্রথমটির সাথে তার শ্রেষ্ঠ ভূমিকার অংশীদারিত্বের কারণে। এর বিপরীতটি হলো তৃতীয় সংস্থান। আর তাদের পরিমাণ (Quantity) ও গুণ (Quality) অনুযায়ী তা প্রকার (Mood) হিসেবে গণ্য হয়। এর শর্ত হলো মধ্যপদটি তাদের জন্য অবস্থিত হওয়া, যদিও তা উহ্যভাবে হয়; যেন তা উভয়ের একটির জন্য সাধারণ হয় এবং ক্ষুদ্রতর পদের জন্য সাব্যস্ত হয় অথবা বৃহত্তর পদের প্রত্যেকের জন্য হয় এবং ক্ষুদ্রতর পদ থেকে নেতিবাচক হয়। সিদ্ধান্তের ইতিবাচকতা আসে তার উভয় ভূমিকার ইতিবাচকতা থেকে এবং তার সার্বিকতা আসে ক্ষুদ্রতর পদের অবস্থানের সার্বিকতা থেকে। আল-জুমাল-এর ‘সার্বিকতার সাথে’ কথাটি অতিরিক্ত, কারণ সিদ্ধান্তের জন্য নির্ধারিত নিয়মই এটি দাবি করে।

প্রথম সংস্থানের শর্ত হলো তার ক্ষুদ্রতর বাক্যটি ইতিবাচক হওয়া যেন ক্ষুদ্রতর পদটি মধ্যপদের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং তার বৃহত্তর বাক্যটি সার্বিক হওয়া, অন্যথায় এমন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যে যার জন্য বৃহত্তর পদটি সাব্যস্ত তা ক্ষুদ্রতর পদ নয়। এর প্রকারভেদ চারটি: ক্ষুদ্রতর বাক্য সার্বিক ইতিবাচক এবং অনুরূপ বৃহত্তর বাক্যের সাথে যুক্ত হয়ে সার্বিক সিদ্ধান্ত দেয়, অথবা নেতিবাচক বাক্যের সাথে যুক্ত হয়ে সার্বিক নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দেয়। আর আংশিক বাক্য ইতিবাচক বাক্যের সাথে যুক্ত হয়ে আংশিক ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেয়, অথবা নেতিবাচক বাক্যের সাথে যুক্ত হয়ে আংশিক নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দেয়।

দ্বিতীয় সংস্থানের শর্ত হলো তার প্রাঙ্গণদ্বয়ের গুণগত ভিন্নতা হওয়া, কারণ সমজাতীয় ও বিজাতীয় উভয়ই ইতিবাচক ও নেতিবাচক পরিণতির ক্ষেত্রে অংশীদার হতে পারে; এবং তার বৃহত্তর বাক্যটি সার্বিক হওয়া, কারণ এর অভাবে কখনও সিদ্ধান্ত ইতিবাচক আবার কখনও নেতিবাচক হতে পারে।

এর আবশ্যিক প্রকারভেদ চারটি: ক্ষুদ্রতর বাক্য সার্বিক ইতিবাচক হলে সার্বিক নেতিবাচক বৃহত্তর বাক্যের সাথে এবং এর বিপরীতক্রমে তারা সার্বিক নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দেয়। আর ক্ষুদ্রতর বাক্য আংশিক ইতিবাচক বা নেতিবাচক হলে তারা আংশিক নেতিবাচক সিদ্ধান্ত দেয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংস্থানকে প্রথমটির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা এবং সেগুলোকে তাদের নিজস্ব সত্তার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার বিষয়ে দুটি মত রয়েছে; অধিকতর মতটি হলো প্রথমটি এবং সোহরাওয়ার্দীর ইশরাকি হিকমত ও ফখরুদ্দীন রাজীর ‘উয়ুনুল হিকমত’-এর ব্যাখ্যায় এটিই গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের শেখ ইবনে আল-হাব্বাব এটি আল-গাজালির কথা থেকে গ্রহণ করেছেন যে, কোরআনে এই তিনটি রয়েছে এবং একে সঠিক বলেছেন। প্রথম মত অনুযায়ী, দ্বিতীয় সংস্থানের প্রথমটি এবং তৃতীয় সংস্থানটি বৃহত্তর বাক্যের রূপান্তরের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়; আর দ্বিতীয়টি তার ভূমিকা দুটির স্থান পরিবর্তনের সাথে ক্ষুদ্রতর বাক্যের রূপান্তর ও সিদ্ধান্তের রূপান্তরের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। চতুর্থ সংস্থানটি আল-খুনাজি পর্যন্ত সবাই ‘فرض’ বা অনুমানের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন; আর তা হলো আংশিক বাক্যের উদ্দেশ্যকে এমন একটি গুণের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা যা কিয়াসের ক্ষুদ্রতর বাক্যকে সার্বিক করে তোলে, যা তার বৃহত্তর বাক্যের সাথে একটি প্রকারের মাধ্যমে এমন এক সিদ্ধান্ত দেয় যা ক্ষুদ্রতর বাক্যের শিরোনামের জন্য বৃহত্তর পদ হিসেবে নির্ধারিত হয় এবং অনুমিত গুণের ওপর বিধেয় হয়; ফলে প্রথম সংস্থান থেকে অন্বিষ্ট সিদ্ধান্তটি বেরিয়ে আসে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ১১)
ورده الأثير بأنه بناء على وجود موضوع الصغرى وهي سالبة لا تستلزمه. وأجاب ابن واصل بأنه إن كان معدوما صدق سلب الأكبر عن الأصغر كلية تستلزم جزءيها وهو المطلوب في وان لم تصدق الكلية صدق نقيضها فيلزم وجود الموضوع.

ويرد بمنع صدق سلب الأكبر عن الأصغر المعدوم لجواز كون الأكبر اعتباريا كلا شيء من المعدوم بممتنع إلا عادة وبان القياس ما استلزم النتيجة بمقدمتيه لا بخارج عنهما وغيره بان كل سالبة مقدمة موضوعها موجود لاستلزام القياس عدم بداهة سلب الأكبر عن الأصغر إذ لا قياس لتحصيل بديهي وكل معدوم بديهي سلب كل موجود عنه.

ويرد بمنع كون الأكبر وبرديا كما تقدم. وبينه ابن الحاجب بعكس الكبرى بنقيض مفردها. ورده يعضهم بعدم انعكاسها بالموافق كما مر وبان الصغرى السالبة في الأول لا تنتج.

والشيرازي بعدم تكرر الوسط. رد الجميع بقول الايكي موضوع الصغرى موجود لأنها مقدمة فتقتضي وجود موضوع نقيض العكس يستلزم موجبة معدولة.

قلت: تقدم سند منع استلزام المقدمة السالبة وجود الموضوع وجواب الأصبهاني بان الصغرى. تستلزم موجبة سالبة المحمول لعدم شرط وجود موضوعها خلاف عموم قولهم شريط الموجبة وجود الموضوع.

وشرط الثالث أيجاب صغراه للاختلاف وكلية احديهما وإلا جاز عدم التقاء الأكبر بتلاصغر. ضروبه ستة: الصغرى مع مثلها أو مع سالبة كلية بعكس صغراهما نتيجتهما جزيئة لجواز كزن الأوسط اخطر من الصغر ومساويا للأكبر وفي الثاني مشاركا إياه في اندراج تحت جنس. أو جزئية مع كلية موجبة بعكس الصغرى وفرض موضوع الصغرى د يحمل على كله عنوانها يضم صغرى الصغرى ينتج ما يضم صغرى لحمل محمول محمول الصغرى على كله ينتج منه المطلوب أو كلية مع موجبة جزئية بعكس الكبرى وجعلها صغرى ثم عكس النتيجة وبفرض الكبرى د يحمل على كله عنوانها يضم صغرى الصغرى ينتج ما يضم صغرى لحمل محمول الكبرى عليه ينتج منه المطلوب. أو جزئية مع سالبة كلية بعكس الصغرى والفرض أو كلية مع سالبة جزئية بفرض موضوعها ويضم كبرى للصغرى ينتج منه ما يضم صغرى لعموم سلب محمول الكبرى عنه ينتج من الأول المطلوب ولتمامه منه جزئي الكبرى.

رد ابن واصل شرط الجمل كون قياس الشكل الأول من كليتين. وعد الأثير خامسا وإياه رابعا. وابن واصل الثالث ثانيا والرابع ثالثا. وشرط الرابع تعدد خسم الكم والكيف ولو في مقدمة وجزئية الصغرى إلا مع السالبة الكلية لاختلاف أخص قرائن ذي الخستين كلا شيء من الإنسان بفرس ولا من الصاهل والحمار بإنسان. ولا شيء من الحيوان بجماد. وبعض الجسم أو المتحرك بالإرادة حيوان وبعض الحيوان إنسان. وبعض الناطق والصاهل حيوان. وكل إنسان حيوان وليس كل متحرك بالإرادة إنسانا. أو كل ناطق إنسان وليس كل فرس ناطقا وليس كل جسم حيوانا وكل متحرك بالإرادة جسم وليس كل حيوان إنسانا وكل فرس حيوان.

ضروبه خمسة: الصغرى موجبة كلية مع مثلها مع جزئية تنتج موجبة جزئية لجواز كون الأصغر اعم من الأوسط المساوي للأكبر بتبديل المقدمتين ثم عكس النتيجة من الأول أو عكس الكبرى من الثالث وسالبة كلية مع كلية تنتج سالبة بتبديل المقدمتين ثم عكس النتيجة من الأول وبعكس الصغرى من الثاني وعكسه ينتج سالبة جزئية لجواز كون الأصغر اعم من الأوسط المندرج مع الأكبر تحته بعكس المقدمتين من الأول والصغرى من الثاني والكبرى من الثالث وموجبة جزئية مع سالبة بعكسهما.

السراج: إنما عقم ذو الكلية الموجبة أو السالبة الجزئية حيث لا تعكس ولو انعكست كالخاصتين انتج للرد بعكسها صغرى للثاني وكبرى للثالث.

وفي رسالة الكاتبي: " ثامن سالبة كلية صغرى وموجبة كبرى ينتج سالبة جزئية " بعكس الترتيب ثم عكس النتيجة زاد في الإيضاح الصغرى السالبة الكلية من إحدى الخاصتين مع الكبرى الموجبة الجزئية من الست المنعكسة النتيجة وهذا مما لم اسبق إليه.

قلت: إن قيل هذا بَيّن في الكبرى الوصفية لا الدائمة والضرورية لأن النتيجة فيهما بعد الرد للأول فيهما بعد الرد الأول ليست بخاصة بحال بل دائمة لما تعرفه في اختلاط الشكل الأول.
আল-আছির একে প্রত্যাখ্যান করেছেন এই যুক্তিতে যে, এটি ক্ষুদ্রতর ভূমিকার (সুগরা) বিষয়ের অস্তিত্বের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, অথচ এটি একটি নর্থক বাক্য যা বিষয়ের অস্তিত্বকে অনিবার্য করে না। ইবনে ওয়াসিল উত্তর দিয়েছেন যে, যদি বিষয়টি অবিদ্যমান হয়, তবে ক্ষুদ্রতর পদ থেকে বৃহত্তর পদের সার্বিক নেতিবাচকতা সত্য হবে যা তার অংশসমূহকে অনিবার্য করে, আর এটিই উদ্দিষ্ট। আর যদি সার্বিক নেতিবাচকতা সত্য না হয়, তবে তার বিপরীতটি সত্য হবে, ফলে বিষয়ের অস্তিত্ব অনিবার্য হয়ে পড়বে।

এটি প্রত্যাখ্যাত হয় এই বলে যে, অবিদ্যমান ক্ষুদ্রতর পদ থেকে বৃহত্তর পদের নেতিবাচক হওয়া সত্য হওয়াকে মেনে নেওয়া যায় না; কারণ বৃহত্তর পদটি একটি কাল্পনিক বিষয় হতে পারে, যেমন 'অবিদ্যমান বস্তু মাত্রই অসম্ভব' হওয়া (স্বাভাবিক ক্ষেত্র ব্যতীত)। আরও যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, সহানুমান বা কিয়াস তার দুটি ভূমিকার মাধ্যমেই সিদ্ধান্তকে অনিবার্য করে, তার বহির্ভূত কোনো বিষয়ের মাধ্যমে নয়। অন্যরা বলেছেন যে, প্রতিটি নর্থক ভূমিকা—যার বিষয় বিদ্যমান—তা সহানুমানের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রতর পদ থেকে বৃহত্তর পদের নেতিবাচক হওয়ার বিষয়টি স্বতঃসিদ্ধ না হওয়াকে অনিবার্য করে; কারণ স্বতঃসিদ্ধ বিষয় অর্জনের জন্য সহানুমানের প্রয়োজন নেই। আর প্রতিটি অবিদ্যমান বস্তু থেকে প্রতিটি বিদ্যমান বস্তুর নেতিবাচক হওয়া একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়।

এটি প্রত্যাখ্যান করা হয় বৃহত্তর পদটির অস্তিত্ব ও অবস্থা সম্পর্কে যা পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে তার ভিত্তিতে। ইবনে হাজিব একে ব্যাখ্যা করেছেন বৃহত্তর ভূমিকার (কুবরা) একক পদের বিপরীত করার (আকস) মাধ্যমে। কেউ কেউ একে প্রত্যাখ্যান করেছেন এই বলে যে, ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, এটি সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে আবর্তিত হয় না এবং প্রথম প্রকারের নর্থক ক্ষুদ্রতর ভূমিকা কোনো সিদ্ধান্ত দেয় না।

আশ-শিরাজী একে প্রত্যাখ্যান করেছেন মধ্যপদটি পুনরাবৃত্ত না হওয়ার কারণে। আল-আইকী এই সবকটি মতকে এই বলে খণ্ডন করেছেন যে, ক্ষুদ্রতর ভূমিকার বিষয়টি বিদ্যমান, কারণ এটি একটি প্রস্তাবনা (মুকাদ্দিমা), ফলে এটি আবর্তনের বিপরীত বিষয়ের অস্তিত্বকে দাবি করে যা একটি নেতিবাচক বিধেয় সম্বলিত সদর্থক বাক্যকে অনিবার্য করে।

আমি বলি: নর্থক ভূমিকা বিষয়ের অস্তিত্বকে অনিবার্য করে না—এই দাবির ভিত্তি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আল-আসফাহানী এর উত্তরে বলেছেন যে, ক্ষুদ্রতর ভূমিকাটি একটি নেতিবাচক বিধেয় সম্বলিত সদর্থক বাক্যকে অনিবার্য করে, কারণ তার বিষয়ের অস্তিত্বের শর্ত অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাদের এই সাধারণ উক্তিটি বিদ্যমান যে, সদর্থক বাক্যের শর্ত হলো বিষয়ের অস্তিত্ব থাকা।

তৃতীয় প্রকারের (আশ-শকলুছ ছালিছ) শর্ত হলো ভিন্নতার কারণে এর ক্ষুদ্রতর ভূমিকা সদর্থক হওয়া এবং দুই ভূমিকার যেকোনো একটি সার্বিক হওয়া, অন্যথায় ক্ষুদ্রতর ও বৃহত্তর পদের মিলন না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর রূপ (দর্ব) ছয়টি: ক্ষুদ্রতর ভূমিকা তার সদৃশ বিষয়ের সাথে অথবা সার্বিক নর্থক ভূমিকার সাথে মিলে ক্ষুদ্রতর ভূমিকার আবর্তনের মাধ্যমে আংশিক সিদ্ধান্ত প্রদান করে। কারণ মধ্যপদটি ক্ষুদ্রতর পদের চেয়ে বিশেষ এবং বৃহত্তর পদের সমান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, অথবা দ্বিতীয় ক্ষেত্রে এটি একটি সাধারণ শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমে তার অংশীদার হতে পারে। অথবা আংশিক ভূমিকা সার্বিক সদর্থক ভূমিকার সাথে ক্ষুদ্রতর ভূমিকার আবর্তনের মাধ্যমে; এখানে ক্ষুদ্রতর ভূমিকার বিষয় 'দ' ধরা হয় যা তার সমস্ত শিরোনামের ওপর প্রযোজ্য হয়, যা ক্ষুদ্রতর ভূমিকার ক্ষুদ্রতম অংশকে যুক্ত করে এবং এমন সিদ্ধান্ত দেয় যা ক্ষুদ্রতর ভূমিকার ক্ষুদ্রতম অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ ক্ষুদ্রতর ভূমিকার বিধেয়ের বিধেয়টি তার সবটুকুর ওপর প্রযোজ্য হয়, যা থেকে অভীষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়। অথবা সার্বিক ভূমিকা আংশিক সদর্থক ভূমিকার সাথে বৃহত্তর ভূমিকার আবর্তনের মাধ্যমে এবং একে ক্ষুদ্রতর ভূমিকা হিসেবে গণ্য করে সিদ্ধান্তের আবর্তন ঘটানোর মাধ্যমে; এখানে বৃহত্তর ভূমিকাকে 'দ' ধরা হয় যা তার সমস্ত শিরোনামের ওপর প্রযোজ্য হয় এবং ক্ষুদ্রতর ভূমিকার ক্ষুদ্রতম অংশকে যুক্ত করে, ফলে এমন সিদ্ধান্ত দেয় যা ক্ষুদ্রতর ভূমিকার ক্ষুদ্রতম অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে, কারণ বৃহত্তর ভূমিকার বিধেয় এর ওপর প্রযোজ্য হওয়ায় অভীষ্ট ফল পাওয়া যায়। অথবা আংশিক ভূমিকা সার্বিক নর্থক ভূমিকার সাথে ক্ষুদ্রতর ভূমিকার আবর্তন ও অনুমানের মাধ্যমে। অথবা সার্বিক ভূমিকা আংশিক নর্থক ভূমিকার সাথে তার বিষয়ের অনুমানের মাধ্যমে; এখানে ক্ষুদ্রতর ভূমিকার সাথে একটি বৃহত্তর ভূমিকা যুক্ত করা হয়, যা থেকে এমন সিদ্ধান্ত আসে যা ক্ষুদ্রতর অংশকে যুক্ত করে, কারণ বৃহত্তর ভূমিকার বিধেয়টি তা থেকে সার্বিকভাবে নেতিবাচক হওয়ার ফলে প্রথমটি থেকে অভীষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় এবং বৃহত্তর ভূমিকার আংশিক অংশ থেকে তা পূর্ণতা পায়।

ইবনে ওয়াসিল সকল সহানুমানের শর্ত হিসেবে প্রথম প্রকারের কিয়াসটি দুটি সার্বিক ভূমিকার সমন্বয়ে গঠিত হওয়াকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। আল-আছির একে পঞ্চম এবং চতুর্থ হিসেবে গণ্য করেছেন। আর ইবনে ওয়াসিল তৃতীয়টিকে দ্বিতীয় এবং চতুর্থটিকে তৃতীয় হিসেবে গণ্য করেছেন। চতুর্থ প্রকারের শর্ত হলো পরিমাণ (কম্ম) এবং গুণ (কাইফ) এর বিভিন্নতা থাকা, এমনকি একটি ভূমিকার ক্ষেত্রেও এবং ক্ষুদ্রতর ভূমিকার আংশিক হওয়া—তবে সার্বিক নর্থক বাক্য ব্যতীত, কারণ এর নিকটবর্তী লক্ষণগুলোর ভিন্নতার কারণে যেমন: 'মানুষের কোনো কিছুই ঘোড়া নয়', 'এবং হ্রেষারবকারী ও গাধার কোনো কিছুই মানুষ নয়'। আবার 'প্রাণীর কোনো কিছুই জড় পদার্থ নয়'। 'এবং কিছু শরীর অথবা স্বেচ্ছায় নড়াচড়া করতে সক্ষম বস্তু হলো প্রাণী', 'এবং কিছু প্রাণী হলো মানুষ'। 'এবং কিছু বাকশক্তি সম্পন্ন প্রাণী ও হ্রেষারবকারী প্রাণী হলো জীব'। 'এবং প্রত্যেক মানুষ হলো জীব', 'কিন্তু প্রত্যেক স্বেচ্ছায় নড়াচড়া করতে সক্ষম বস্তু মানুষ নয়'। অথবা 'প্রত্যেক বাকশক্তি সম্পন্ন প্রাণী হলো মানুষ', 'কিন্তু প্রত্যেক ঘোড়া বাকশক্তি সম্পন্ন নয়', 'এবং প্রত্যেক শরীর জীব নয়', 'এবং প্রত্যেক স্বেচ্ছায় নড়াচড়া করতে সক্ষম বস্তু হলো শরীর', 'এবং প্রত্যেক জীব মানুষ নয়', 'এবং প্রত্যেক ঘোড়া হলো জীব'।

এর রূপ পাঁচটি: ক্ষুদ্রতর সদর্থক সার্বিক ভূমিকা তার সদৃশ ভূমিকার সাথে এবং আংশিক ভূমিকার সাথে মিলে আংশিক সদর্থক সিদ্ধান্ত দেয়; কারণ ক্ষুদ্রতর পদটি মধ্যপদের চেয়ে অধিক ব্যাপক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা বৃহত্তর পদের সমান, ভূমিকা দুটির স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে এবং এরপর প্রথম প্রকার থেকে প্রাপ্ত সিদ্ধান্তের আবর্তনের মাধ্যমে, অথবা তৃতীয় প্রকার থেকে বৃহত্তর ভূমিকার আবর্তনের মাধ্যমে। এবং সার্বিক নর্থক ভূমিকা সার্বিক ভূমিকার সাথে মিলে নর্থক সিদ্ধান্ত দেয় ভূমিকা দুটির স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে এবং এরপর প্রথম প্রকার থেকে প্রাপ্ত সিদ্ধান্তের আবর্তনের মাধ্যমে এবং দ্বিতীয় প্রকার থেকে ক্ষুদ্রতর ভূমিকার আবর্তনের মাধ্যমে। এর বিপরীতটি আংশিক নর্থক সিদ্ধান্ত দেয়, কারণ ক্ষুদ্রতর পদটি মধ্যপদের চেয়ে অধিক ব্যাপক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা বৃহত্তর পদের সাথে একই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত, প্রথম প্রকার থেকে ভূমিকা দুটির আবর্তনের মাধ্যমে, দ্বিতীয় প্রকার থেকে ক্ষুদ্রতর ভূমিকার আবর্তনের মাধ্যমে এবং তৃতীয় প্রকার থেকে বৃহত্তর ভূমিকার আবর্তনের মাধ্যমে। আর আংশিক সদর্থক ভূমিকা নর্থক ভূমিকার সাথে মিলে উভয়ের আবর্তনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দেয়।

আস-সিরাজ বলেছেন: সার্বিক সদর্থক বা আংশিক নর্থক বিশিষ্ট বিষয়টি তখনই বন্ধ্যা বা ফলাফলহীন হয় যখন তা আবর্তিত হয় না। আর যদি তা আবর্তিত হয়—যেমন বিশেষ দুই গুণের ক্ষেত্রে—তবে ক্ষুদ্রতর ভূমিকার আবর্তনের মাধ্যমে দ্বিতীয় প্রকারের জন্য এবং বৃহত্তর ভূমিকার আবর্তনের মাধ্যমে তৃতীয় প্রকারের জন্য তা সিদ্ধান্ত প্রদান করবে।

কাতেবীর রিসালায় বলা হয়েছে: "অষ্টমটি হলো সার্বিক নর্থক ক্ষুদ্রতর ভূমিকা এবং সদর্থক বৃহত্তর ভূমিকা যা আংশিক নর্থক সিদ্ধান্ত দেয়", এটি ক্রম পরিবর্তনের মাধ্যমে এবং এরপর সিদ্ধান্তের আবর্তনের মাধ্যমে। 'আল-ঈযাহ' গ্রন্থে আরও যুক্ত করা হয়েছে যে, বিশেষ দুই গুণের একটি থেকে প্রাপ্ত সার্বিক নর্থক ক্ষুদ্রতর ভূমিকা এবং আবর্তিত ছয়টি থেকে প্রাপ্ত আংশিক সদর্থক বৃহত্তর ভূমিকা থেকে সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়, যা এমন একটি বিষয় যেক্ষেত্রে আমার পূর্বে কেউ অগ্রসর হয়নি।

আমি বলি: যদি বলা হয় যে এটি বর্ণনামূলক (ওয়াসফিয়্যাহ) বৃহত্তর ভূমিকার ক্ষেত্রে স্পষ্ট, স্থায়ী (দা’ইমাহ) বা অনিবার্য (দাওরুরিয়্যাহ) ভূমিকার ক্ষেত্রে নয়; কারণ প্রথম প্রকারে রূপান্তরের পর এই দুটির সিদ্ধান্ত কোনো অবস্থাতেই বিশেষ কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং স্থায়ী সিদ্ধান্ত—যেমনটি আপনি প্রথম প্রকারের মিশ্রণের ক্ষেত্রে জানতে পারবেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ১২)
قلت: على منع ما ركب من متنافتين يجب إلغاء اختلاط الدائمتين مع الخاصتين للتنافي وعليه خصص الكاتبي في رسالته إنتاج هذا الضرب الثامن بكون الكبرى وصفية وعلى صحة قياس من متنافتيين ينتج الخاصة المذكورة ويتم قوله لأن كلما صدق بعض ج ليس ب دائما صدق بعض ج ليس ب ما دام ج لا دائما لأن الدوام الذاتي يستلزم الوصفي وانعكاس هذه الجزيئة السالبة واضح لوجود موضوعها لذاتها وللقضية الموجبة في اصل القياس.

واختلاط الأول إنتاجه ومطلقا على رأي الفارابي في العنوان وعلى رأي الشيخ في كونه كذلك وبفعليه صغراه ثالثها الثاني في خارجي الكبرى والوقف في حقيقتها للأمام مع الشيخ والسراج وابن واصل مع الكشف. احتج الأولون على إنتاج الممكنة مع الضرورية ضرورية ومع إلا ضرورية ممكنة خاصة ومع محتملها عامة بضم نقيض النتيجة مطلقا أو بعد فرضها بالفعل للكبرى لينتج من الثاني نقيض الصغرى لو وقعت بالفعل لزمت النتيجة ضرورة فلتكن كذلك لأن الضروري على تقدير وقوع ممكن ضروري في الواقع لامتناع الإقلاب من عدم الضرورة إليها لان الضروري ضروري ما دامت ذاته موجودة وزاد في الأخير إن الكبرى أما ضرورية أو ممكنة خاصة ولازمها عامة.

ورد الخونجي والسراج الأول بمنع إنتاج الضرورية كبرى في الثاني ضرورية. والثاني بمنع إنتاج الممكنة صغرى في الثالث. والثالث بمنع صدق الكبرى بتقدير وقوع الصغرى بالفعل لتكثر أفراد الكبرى حينئذ.

وتعجب ابن اندراس من الشيخ بأن إنتاج الممكنة في الثاني والثالث إن كان بينا ففي الأول أبين وان كان مبرهنا فليس إلا بما يرجع إليه فيدور.

واحتج السراج بجواز خروج الأصغر عن الأوسط وبعقم الممكنة الخاصة مع الضرورية وخاصتها الجواز صفة ممكنة لنوعين تثبت لأحدهما فقط أكركوب زيد الحمار والفرس الثابت له فيصدق كل حمار مركوب له ممكنة خاصة وكل مركوب له فرس ضرورية. وكل مركوب له فرس هو مركوب له بالضرورة لا دائما. وإلا شيء من مركوبه بحمار بالضرورة. ولا شيء من مركوب له غير فرس هو غير مركوب له بالضرورة لا دائما مع كذب أيجاب الأولين وسلب الأخيرين وصدق الكبرى موجبة مع امتناع السلب وسالبة مع امتناع الإيجاب أثبت لاختلاف دليل العقم في أخص إختلاطاتها. وخص الكشف وابن واصل هذا النقض بالخارجية لعدم تمامه في الحقيقة.

وعلل ابن واصل الوقف فيها بجواز أن تزيد أفراد الكبرى على تقدير فعلية الصغرى فان رد بان عموم موضوعها في كل مقدر ممكن يوجبه اندراج الأصغر فيه على تقدير فعلية الصغرى أجيب بان عموم موضوعها في الصادق عليه الأوسط بالفعل على تقدير وجود لا في الصادق عليه الأوسط تقديرا.

الخونجي: ما في اده في الأخير مردود لأنبائه على ما رد بما تقدم. الشيخ: وإنتاج ممكنتيه ممكنة عامة بين بذاته لأنه إذا ثبت الأكبر بالقوة للأوسط الثابت للأصغر بها ثبت للأكبر له بها.

ورد الخونجي الأول بأن الأكبر بالقوة إنما هو لما ثبت له الأوسط بالفعل. والأوسط إنما ثبت للأصغر بالقوة والثاني بأن الأكبر ممكن للذات التي ثبت بما الأوسط بالفعل بالوصف للأوسط الممكن لذات الأصغر نتيجة كالكبرى في غير دوام الوصفيات وفيها كالصغرى في غير الضرورة ولا دوام وضرورتها إن انفردت بها.

أما الأول فالاندراج البين والثاني لأن دوام الأكبر ضرورته إنما كانا بشرط وصف الأوسط والثالث لجواز لزوم الأكبر لما الوسط منفك منه. والرابع لأن إستلزامية الأوسط للأكبر إن لم تكن ضرورية جاز انتفاء الأكبر وان ثبت له الأوسط بالضرورة. وفي كون ما ركب من مقدمتين متنافيتين قولا الكاتبي عن الأكثر والأقل بنا على إن المعتبر في القياس صحة إنتاجه ولو محال كالخلف أو عدم كون النتيجة محالا وزعم الكشي إن الصغرى ضرورية مع الكبرى السالبة دائمة أو عرفية تنتج ضرورية الإنتاج نقيض النتيجة مع الكبرى من الثاني ومع عكسها من الأول منافي الصغرى.
আমি বলি: দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয় দ্বারা গঠিত হওয়ার নিষেধাজ্ঞার ভিত্তিতে, বৈপরীত্যের কারণে বিশেষ দুটির সাথে স্থায়ী দুটির মিশ্রণকে বাতিল করা আবশ্যক। এর ভিত্তিতেই আল-কাতীবি তার রিসালায় এই অষ্টম প্রকারের ফলাফল প্রদানের বিষয়টিকে বড় পদটি বর্ণনামূলক হওয়ার সাথে নির্দিষ্ট করেছেন। দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের কিয়াসের শুদ্ধতার ভিত্তিতে এটি উক্ত বিশেষ ফলাফল প্রদান করে এবং তার বক্তব্য পূর্ণ হয়। কারণ, যখনই কিছু ‘জ’ স্থায়ীভাবে ‘ব’ নয়—এটি সত্য হয়, তখন কিছু ‘জ’ যতক্ষণ ‘জ’ থাকবে ততক্ষণ ‘ব’ নয়—সর্বদা নয়—এটিও সত্য হবে। কেননা সত্তাগত স্থায়িত্ব বর্ণনামূলক স্থায়িত্বকে আবশ্যক করে। আর এই বিশেষ নেতিবাচক বিষয়টির বিপরীতকরণ স্পষ্ট; কারণ এর উদ্দেশ্য পদটি তার নিজের সত্তার জন্য এবং কিয়াসের মূলের ইতিবাচক প্রতিজ্ঞার জন্য বিদ্যমান।

প্রথমটির মিশ্রণ এবং এর ফলাফল প্রদান আল-ফারাবীর মতে ‘উনওয়ান’ গ্রন্থে এবং শায়খের মতে নিরঙ্কুশভাবে। শায়খের মতে এটি এরূপই এবং এর ছোট পদের সক্রিয়তার মাধ্যমে। তৃতীয় বিষয়টি হলো দ্বিতীয় প্রকারের বড় পদের বাহ্যিক দিক এবং এর প্রকৃত রূপের ক্ষেত্রে ইমাম (রাযী), শায়খ, সাররাজ এবং ইবনে ওয়াসিল ‘আল-কাশফ’ গ্রন্থসহ বিরতি গ্রহণ করেছেন। পূর্ববর্তীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, আবশ্যিক বিষয়ের সাথে সম্ভাব্য বিষয় যুক্ত হলে ফলাফল আবশ্যিক হবে; আর যা আবশ্যিক নয় তার সাথে বিশেষ সম্ভাব্য যুক্ত হলে তা বিশেষ সম্ভাব্য হবে এবং সাধারণ সম্ভাব্য যুক্ত হলে তা সাধারণ সম্ভাব্য হবে। এটি ফলাফলের বিপরীতকে নিরঙ্কুশভাবে যুক্ত করার মাধ্যমে অথবা বড় পদের ক্ষেত্রে একে বাস্তবে ধরে নেওয়ার পর হবে, যাতে দ্বিতীয় প্রকার থেকে ছোট পদের বিপরীত ফলাফল আসে। যদি তা বাস্তবে ঘটে তবে ফলাফলটি আবশ্যিকভাবে অবধারিত হবে। সুতরাং ফলাফলটি তেমনই হওয়া উচিত। কেননা কোনো সম্ভাব্য বিষয় ঘটার অনুমানে সেটি বাস্তবে আবশ্যিক হয়ে যায়; কারণ অনাবশ্যকতা থেকে আবশ্যিকতায় রূপান্তর অসম্ভব। কেননা আবশ্যিক বিষয় ততক্ষণই আবশ্যিক যতক্ষণ তার সত্তা বিদ্যমান থাকে। তিনি শেষোক্ত বিষয়ে আরও যোগ করেছেন যে, বড় পদটি হয় আবশ্যিক হবে অথবা বিশেষ সম্ভাব্য হবে এবং এর অনিবার্য ফলাফল হবে সাধারণ সম্ভাব্য।

আল-খুনজি এবং সাররাজ প্রথম যুক্তিটি খণ্ডন করেছেন এই বলে যে, দ্বিতীয় প্রকারে বড় পদ আবশ্যিক হলে ফলাফল আবশ্যিক হওয়া নিষিদ্ধ। দ্বিতীয় যুক্তিটি খণ্ডন করেছেন তৃতীয় প্রকারে ছোট পদ সম্ভাব্য হওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে। আর তৃতীয়টি খণ্ডন করেছেন ছোট পদটি বাস্তবে ঘটার অনুমানে বড় পদের সত্যতাকে অস্বীকার করার মাধ্যমে, কারণ তখন বড় পদের ব্যক্তিসমষ্টি বৃদ্ধি পাবে।

ইবনে আনদ্রাস শায়খের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রকারে সম্ভাব্য পদের ফলাফল প্রদান যদি স্বতঃসিদ্ধ হয়, তবে প্রথম প্রকারে তা আরও বেশি স্পষ্ট। আর যদি তা প্রমাণিত হয়, তবে তা কেবল যা তার দিকে ফিরে যায় তার মাধ্যমেই হবে, ফলে চক্রক দোষ তৈরি হবে।

সাররাজ যুক্তি দিয়েছেন মধ্যম পদ থেকে ছোট পদের বেরিয়ে যাওয়া জায়েজ হওয়ার মাধ্যমে এবং আবশ্যিক ও বিশেষ সম্ভাব্যর ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের মাধ্যমে। ‘সম্ভাব্যতা’ হলো দুটি প্রকারের জন্য একটি সম্ভাব্য গুণ, যা কেবল তাদের একটির জন্য সাব্যস্ত হয়। যেমন যায়েদের গাধা ও ঘোড়ায় চড়া যা তার জন্য সাব্যস্ত। ফলে এটি সত্য হয় যে, ‘প্রত্যেক গাধা যা তার জন্য আরোহণকৃত—তা বিশেষ সম্ভাব্য’ এবং ‘প্রত্যেক আরোহণকৃত যা তার জন্য—তা ঘোড়া হওয়া আবশ্যিক’। আবার ‘প্রত্যেক আরোহণকৃত তার জন্য ঘোড়া, তা আবশ্যিকভাবে তার আরোহণকৃত—সর্বদা নয়’। অন্যথায় ‘তার আরোহণকৃত কোনো কিছুই গাধা নয়—আবশ্যিকভাবে’। এবং ‘তার আরোহণকৃত যা ঘোড়া নয় এমন কোনো কিছুই তার আরোহণকৃত হওয়া থেকে মুক্ত নয়—আবশ্যিকভাবে সর্বদা নয়’। অথচ প্রথম দুটির ইতিবাচকতা এবং শেষ দুটির নেতিবাচকতা মিথ্যা হওয়ার সাথে সাথে বড় পদের ইতিবাচক সত্যতা বিদ্যমান, যেখানে নেতিবাচকতা অসম্ভব; আবার বড় পদের নেতিবাচক সত্যতা বিদ্যমান যেখানে ইতিবাচকতা অসম্ভব। এটি তার সবচেয়ে বিশেষ মিশ্রণের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের প্রমাণের পার্থক্যের কারণে প্রমাণিত হয়েছে। ‘আল-কাশফ’ ও ইবনে ওয়াসিল এই খণ্ডনটিকে বাহ্যিক বিষয়ের সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন, কারণ প্রকৃত রূপের ক্ষেত্রে এটি পূর্ণ হয় না।

ইবনে ওয়াসিল সেখানে বিরতি নেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, ছোট পদের সক্রিয়তার অনুমানে বড় পদের ব্যক্তিরা বৃদ্ধি পেতে পারে। যদি এর বিপরীতে বলা হয় যে, প্রতিটি সম্ভাব্য অনুমিত বিষয়ে এর উদ্দেশ্য পদের ব্যাপকতা ছোট পদের সক্রিয়তার অনুমানে তার অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে আবশ্যক করে, তবে উত্তর দেওয়া হবে যে, এর উদ্দেশ্য পদের ব্যাপকতা কেবল তার ক্ষেত্রেই সত্য যার জন্য মধ্যম পদটি বাস্তবে বিদ্যমান, তার জন্য নয় যার জন্য মধ্যম পদটি কেবল অনুমিত।

আল-খুনজি: শেষোক্ত বিষয়ে যা আছে তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য, কারণ এটি পূর্বে যা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে। শায়খ: তার দুটি সম্ভাব্য বিষয়ের ফলাফল একটি সাধারণ সম্ভাব্য হওয়া তার সত্তাগতভাবেই স্পষ্ট। কারণ যখন বড় পদটি সম্ভাব্যতার মাধ্যমে মধ্যম পদের জন্য সাব্যস্ত হয়, যা ছোট পদের জন্য সাব্যস্ত, তখন বড় পদটি ছোট পদের জন্য সাব্যস্ত হয়।

আল-খুনজি প্রথমটি খণ্ডন করেছেন এই বলে যে, বড় পদটি সম্ভাব্যতার মাধ্যমে কেবল তারই জন্য যা বাস্তবে মধ্যম পদের জন্য সাব্যস্ত। আর মধ্যম পদটি ছোট পদের জন্য কেবল সম্ভাব্যতার মাধ্যমেই সাব্যস্ত। দ্বিতীয়ত, বড় পদটি সেই সত্তার জন্য সম্ভব যার জন্য মধ্যম পদটি বাস্তবে সাব্যস্ত হয়েছে মধ্যম পদের গুণের মাধ্যমে, যা ছোট পদের সত্তার জন্য সম্ভব। এর ফলাফল বর্ণনামূলক বিষয়ের স্থায়িত্বহীনতার ক্ষেত্রে বড় পদের মতো এবং আবশ্যকতা ও স্থায়িত্বহীনতা ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে ছোট পদের মতো হবে, আর যদি তা এককভাবে থাকে তবে তার আবশ্যকতা বজায় থাকবে।

প্রথমত, এটি স্পষ্ট অন্তর্ভুক্তি। দ্বিতীয়ত, কারণ বড় পদের স্থায়িত্ব ও এর আবশ্যকতা কেবল মধ্যম পদের গুণের শর্তেই ছিল। তৃতীয়ত, কারণ মধ্যম পদ যা থেকে বিচ্ছিন্ন, বড় পদটি তার জন্য অপরিহার্য হওয়া জায়েজ। চতুর্থত, কারণ বড় পদের জন্য মধ্যম পদের আবশ্যকতা যদি জরুরি না হয়, তবে বড় পদটি বিলুপ্ত হওয়া জায়েজ হবে যদিও মধ্যম পদটি তার জন্য আবশ্যিকভাবে সাব্যস্ত হয়। দুটি পরস্পরবিরোধী ভূমিকা দ্বারা যা গঠিত হয় সে সম্পর্কে কাতীবি অধিকাংশ এবং অল্প সংখ্যক লোকের মত থেকে দুটি বক্তব্য উল্লেখ করেছেন এই ভিত্তির ওপর যে, কিয়াসের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয় হলো এর ফলাফল প্রদানের শুদ্ধতা—তা যদি অসম্ভবও হয় যেমন বিপরীত প্রমাণ—অথবা ফলাফলটি অসম্ভব না হওয়া। আল-কাশশি ধারণা করেছেন যে, ছোট পদ যদি আবশ্যিক হয় এবং বড় পদটি নেতিবাচক স্থায়ী বা প্রথাগত হয়, তবে তা আবশ্যিক ফলাফল প্রদান করবে। ফলাফলের বিপরীতটি বড় পদের সাথে দ্বিতীয় প্রকার থেকে এবং এর বিপরীতের সাথে প্রথম প্রকার থেকে ছোট পদের পরিপন্থী হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ১৩)
ورد منع إنتاجهما وتمام بيان النتيجة إلغاء الزائد بالنقض في المواد فالنتيجة والصغرى فعلية مع الكبرى غير وصفية واضحة وهي والصغرى مطلقة أو وجودية مع الوصفيتين عامة مطلقة عامة ومع الخاصيتين وجودية لا دائمة وهي والصغرى الوقتيتين مع المشروطة الخاصة كالصغرى ومع المشروطة العامة الصغرى دون الدوام ومع العرفية، الخاصة كالصغرى دون وصف الضرورة ومع العرفية العامة دون قيد الضرورة في ولا دوام وهي الصغرى دائمة مع العامتين دائمة ومع الخاصتين دائمة خافا لشرح الموجز وهي والصغرى ضرورية مع المشروطة العامة ضرورية ومع الخاصة ضرورية لا دائمة ومع العرفية العامة دائمة ومع الخاصة دائمة لا دائمة.

وفي كون ما نتيجته محال قياسا - القولان وعى في الممكنة الصغرى على رأي مع الضرورية ضرورية ومع السبع الوقتيتين والوجودتين والخاصتين والمكنة الخاصة ممكنة خاصة ومع المطلقة والدائمة والعامتين والممكنة العامة ممكنة عامة.

واختلاف الثاني شرطه دوام الصغرى أو انعكاس سالبة لعقم صغراه وقتية أو مشروطة خاصة مع كبراه وقتية لحمل المضي على المنخسف بالخسوف القمري بالجهتين سلبا وعلى القمر والشمس بالتوقيت إيجابا مع امتناع السلب في الأول والإيجاب في الثاني وان جعل المحمول معدولا صارت الصغرى مجيبة والكبرى سالبة. وعقم الأخص يوجه للأعم لكن لو اتحد وقت الوقتيتين انتج دائمة لإنتاج نقيضها مع الكبرى منافي الصغرى لكنه شرط زائد. وكون الممكنة مع ذي ضرورة لعقم الممكنة مع الدائمة لجواز كون المسلوب عن الشيء دائما ممكن الثبوت له وبالعكس في مع امتناع سلب الشىء عن نفسه ولا مكان ثبوت الشيء لأحد المتباينين مع نفيه عن الآخر دائما واستلزام عقمه عقم اعمه. وشرط الكشف في الممكنة معيتها للضرورة الدائمة غفلة لعدم استلزام عقم الدوام عقم الضرورة والإنتاج الممكنة مع المشروطة العامة ممكنة لإنتاج نقيضها، مع الكبرى منافي الصغرى.

وزعم الفخر إن الصغرى الممكنة تنتج مع الكبريات الست ممكنة. والكشي إنها لا تنتج إلا مع سوالبها بالعكس والخلف وقد عرفت جوابهما.

قلت: هذا نص السراج في مطالعه وظاهره عموم خلافهما لما تقدم في ذات الضرورة وليس كذلك إنما هو في ذات الدوام.

واستدل الإمام في الملخص على ذلك في ذات الدوام بقوله إن كانت سالبة دلت على عدم إنفكاك الأكبر عن الأوسط والصغرى على جواز اتصاف الأصغر بالأوسط فيجب الحكم بجواز خلوه عن الأكبر في تلك الحالة استدلالا بإمكان المنافي على إمكان المنافاة والانتفاء يحتمل إن يكون ضروريا وإلا والمشترك الإمكان العام.

وان كانت موجبة دلت على عدم إنفكاك الأكبر عن الأوسط والصغرى على جواز إنفكاك الأصغر عن الأوسط فيجب الحكم بجواز خلو الأصغر عن الأكبر استدلالا بجواز الخلو عن اللازم على الخلو عن الملزوم والخلو يحتمل إن يكون ضروريا وإلا والمشترك الإمكان.

ورد بمنع دوام دلالة دوام السلب على المنافاة إذ لا يلزم من عدم اجتماع أمر أخر مع منافاته له لجواز ثبوت الشيء للشيء بالإمكان مع سلبه عنه دائما وبمنع دلالة عدم الإنفكاك دائما على اللزوم لجواز كونه اتفاقا.

واحتج الكشي بالعكس والخلف ورد العكس بمنع إنتاج الصغرى ممكنة في الأول والخلف بمنع إنتاج الصغرى ضرورية مع الكبرى ذات دوام منافي الصغرى لأنها الدائمة والعرفية العامة إنما تنتج في الأول دائمة ومع العرفية الخاصة دائما لا دائمة والدائمة لا تنافي الممكنة.

وفي الكشف وبيان حق السراج الضرورية مع السبع غير المنعكسة عقيمة لعقمها مع أخصها الوقتية لجواز دوام الأوسط والأكبر للأصغر وضرورتهما مما له دامت ذاته موجودة فمع عدم ذات الأصغر في وقت معين فينتظم القياس مع كذب سلب الأكبر عن بعض الأصغر بالإطلاق والإمكان لثبوته له دائما أو ضرورة ما دامت ذاته.
তাদের উৎপাদন নিষিদ্ধ হওয়া এবং ফলাফলের পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা হলো ক্ষেত্রসমূহে খণ্ডনের মাধ্যমে অতিরিক্তকে বাতিল করা। সুতরাং সিদ্ধান্ত এবং অপ্রধান বাক্যটি (সুগরা) বাস্তবায়িত (ফেলিয়া), আর প্রধান বাক্যটি (কুবরা) বর্ণনাধর্মী (ওয়াসফিয়া) নয় এবং এটি স্পষ্ট। আর এটি এবং অপ্রধান বাক্যটি যদি নিঃশর্ত (মুতলাকাহ) বা অস্তিত্বশীল (উজুদিয়া) হয়, তবে উভয় বর্ণনাধর্মী বাক্যের সাথে সিদ্ধান্তটি হবে সাধারণ নিঃশর্ত (আম্মাহ মুতলাকাহ)। আর উভয় বিশেষ বাক্যের সাথে সেটি হবে অনিরন্তর অস্তিত্বশীল (উজুদিয়া লা দাইমাহ)। আর এটি এবং অপ্রধান বাক্যটি উভয় সাময়িক (ওয়াক্তিয়্যাহ) হলে বিশেষ শর্তযুক্ত (মাশরুতাহ খাসসাহ) বাক্যের সাথে সিদ্ধান্তটি অপ্রধান বাক্যের মতো হবে। আর সাধারণ শর্তযুক্ত (মাশরুতাহ আম্মাহ) বাক্যের সাথে সেটি স্থায়িত্ব (দাওয়াম) বিহীন অপ্রধান বাক্যের মতো হবে। আর বিশেষ প্রচলিত (উরফিয়্যাহ খাসসাহ) বাক্যের সাথে সেটি আবশ্যিকতার (দারুরাত) বর্ণনা বিহীন অপ্রধান বাক্যের মতো হবে। আর সাধারণ প্রচলিত (উরফিয়্যাহ আম্মাহ) বাক্যের সাথে সেটি আবশ্যিকতা ও অনিরন্তরতার শর্তহীন হবে। আর এটি এবং অপ্রধান বাক্যটি চিরন্তন (দাইমাহ) হলে উভয় সাধারণের সাথে সিদ্ধান্ত চিরন্তন হবে এবং উভয় বিশেষের সাথেও চিরন্তন হবে, যা 'শারহুল মুজায'-এর বিপরীত। আর এটি এবং অপ্রধান বাক্যটি আবশ্যিক (দারুরিয়া) হলে সাধারণ শর্তযুক্ত বাক্যের সাথে সিদ্ধান্ত আবশ্যিক হবে, বিশেষ শর্তযুক্ত বাক্যের সাথে অনিরন্তর আবশ্যিক হবে, সাধারণ প্রচলিত বাক্যের সাথে চিরন্তন হবে এবং বিশেষ প্রচলিত বাক্যের সাথে অনিরন্তর চিরন্তন হবে।

আর যার সিদ্ধান্ত অসম্ভব, তা কিয়াস হওয়ার ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে। এক মতানুসারে আবশ্যিক বাক্যের সাথে সম্ভাব্য (মুমকিনা) অপ্রধান বাক্যের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত আবশ্যিক হবে। আর সাতটি সাময়িক (ওয়াক্তিয়্যাহ), অস্তিত্বশীল (উজুদিয়া), বিশেষ (খাসসাহ) এবং বিশেষ সম্ভাব্য (মুমকিনা খাসসাহ) বাক্যের সাথে সিদ্ধান্ত বিশেষ সম্ভাব্য হবে। আর নিঃশর্ত (মুতলাকাহ), চিরন্তন (দাইমাহ), সাধারণদ্বয় (আম্মাতাইন) এবং সাধারণ সম্ভাব্য (মুমকিনা আম্মাহ) বাক্যের সাথে সিদ্ধান্ত সাধারণ সম্ভাব্য হবে।

দ্বিতীয় প্রকারের (আশ-শাকলুস সানি) পার্থক্যের শর্ত হলো অপ্রধান বাক্যের চিরন্তনতা অথবা নেতিবাচক বাক্যের আবর্তন; কারণ তার অপ্রধান বাক্যটি সাময়িক বা বিশেষ শর্তযুক্ত হলে এবং প্রধান বাক্যটি সাময়িক হলে তা অকার্যকর (বন্ধ্যা) হয়। এর কারণ চন্দ্রগ্রহণের মাধ্যমে যা অপসৃত হয় তার উপর অতীত কালকে উভয় দিক থেকে নেতিবাচকভাবে প্রয়োগ করা এবং চন্দ্র ও সূর্যের উপর সময়ের হিসেবে ইতিবাচকভাবে প্রয়োগ করা; যেখানে প্রথমটিতে নেতিবাচকতা এবং দ্বিতীয়টিতে ইতিবাচকতা অসম্ভব। আর যদি বিধেয়কে পরিবর্তিত (মাদুল) করা হয়, তবে অপ্রধান বাক্যটি ইতিবাচক এবং প্রধান বাক্যটি নেতিবাচক হয়ে যায়। আর বিশেষের অকার্যকারিতা সাধারণের দিকে ধাবিত হয়, কিন্তু উভয় সাময়িক বাক্যের সময় যদি এক হয় তবে তা চিরন্তন সিদ্ধান্ত দেবে; কারণ তার বিপরীতটি প্রধান বাক্যের সাথে অপ্রধান বাক্যের পরিপন্থী সিদ্ধান্ত দেয়, তবে এটি একটি অতিরিক্ত শর্ত। আর আবশ্যিকতার অধিকারীর সাথে সম্ভাব্য বাক্যের অবস্থান; কারণ চিরন্তন বাক্যের সাথে সম্ভাব্য বাক্যের অকার্যকারিতা রয়েছে। কেননা যা কোনো বস্তু থেকে চিরতরে অপসৃত হয়, তার জন্য তা সম্ভাব্য হওয়া জায়েজ এবং এর বিপরীতটিও জায়েজ, অথচ কোনো বস্তু থেকে স্বয়ং তার অপসরণ অসম্ভব। আর দুটি পরস্পর বিরোধী বিষয়ের একটির জন্য কোনো বিষয়ের সাব্যস্ত হওয়া সম্ভব নয় যখন অন্যটি থেকে তা চিরতরে নেতিবাচক হয়; আর এর অকার্যকারিতা তার চেয়ে সাধারণ বিষয়ের অকার্যকারিতাকে আবশ্যক করে। সম্ভাব্য বাক্যের ক্ষেত্রে প্রকাশের (কাশফ) শর্ত হলো চিরন্তন আবশ্যিকতার সাথে তার সহাবস্থান, যা একটি অসতর্কতা; কারণ চিরন্তনতার অভাব আবশ্যিকতার অভাবকে আবশ্যক করে না। আর সাধারণ শর্তযুক্ত বাক্যের সাথে সম্ভাব্য বাক্যের উৎপাদন সম্ভাব্যই হবে; কারণ তার বিপরীতটি প্রধান বাক্যের সাথে অপ্রধান বাক্যের পরিপন্থী সিদ্ধান্ত দেয়।

ফখর (আল-রাজি) মনে করেন যে, সম্ভাব্য অপ্রধান বাক্যটি ছয়টি প্রধান বাক্যের সাথে সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত প্রদান করে। আর কাশি মনে করেন যে, এটি আবর্তন (আক্স) ও বৈপরীত্যের (খলফ) মাধ্যমে কেবল তার নেতিবাচকগুলোর সাথেই সিদ্ধান্ত প্রদান করে। আপনি তাদের উভয়ের জবাব জেনেছেন।

আমি বলি: এটি সিরাজের 'মাতালি' গ্রন্থের পাঠ্য এবং এর বাহ্যিক রূপ তাদের উভয়ের বিরোধকে আবশ্যিক বিষয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ হিসেবে প্রকাশ করে, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়, বরং তা কেবল চিরন্তনতার ক্ষেত্রে।

ইমাম (রাজি) 'মুলখখাস' গ্রন্থে চিরন্তনতার ক্ষেত্রে দলিল দিয়েছেন এই বলে যে: যদি এটি নেতিবাচক হয় তবে তা মধ্যপদ থেকে প্রধান পদের অবিচ্ছেদ্যতার অভাবকে নির্দেশ করে, আর অপ্রধান বাক্যটি মধ্যপদের সাথে অপ্রধান পদের বিশেষিত হওয়ার বৈধতাকে নির্দেশ করে; সুতরাং সেই অবস্থায় প্রধান পদ থেকে তার মুক্ত থাকার বৈধতার বিধান দেয়া আবশ্যক। এটি পরিপন্থীর সম্ভাবনা দিয়ে বৈপরীত্য ও বিলুপ্তির সম্ভাবনার ওপর দলিল পেশ করার অন্তর্ভুক্ত। আর এই বিলুপ্তি আবশ্যিক হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, অন্যথায় সাধারণ সম্ভাবনাই হবে সাধারণ ভিত্তি।

আর যদি তা ইতিবাচক হয়, তবে তা মধ্যপদ থেকে প্রধান পদের অবিচ্ছেদ্যতাকে নির্দেশ করে, আর অপ্রধান বাক্যটি মধ্যপদ থেকে অপ্রধান পদের পৃথক হওয়ার বৈধতাকে নির্দেশ করে। সুতরাং প্রধান পদ থেকে অপ্রধান পদের মুক্ত থাকার বৈধতার বিধান দেয়া আবশ্যক। এটি আবশ্যকীয় (লাযেম) থেকে মুক্ত থাকার বৈধতা দিয়ে যা থেকে মুক্ত হওয়া আবশ্যক (মালযুম) তা থেকে মুক্ত থাকার ওপর দলিল পেশ করার অন্তর্ভুক্ত। আর এই মুক্ত থাকা আবশ্যিক হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, অন্যথায় সাধারণ সম্ভাবনাই হবে ভিত্তি।

একে খণ্ডন করা হয়েছে এই বলে যে, নেতিবাচকতার চিরন্তনতা সর্বদা বৈপরীত্যের ওপর দালালত করা নিষিদ্ধ; কারণ কোনো বিষয় কোনো বিষয়ের জন্য সম্ভাবনার ভিত্তিতে সাব্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও তা থেকে চিরতরে নেতিবাচক হওয়া সম্ভব। আরও খণ্ডন করা হয়েছে এই বলে যে, সর্বদা অবিচ্ছেদ্য না থাকার বিষয়টি লযুম বা আবশ্যিকতার ওপর দালালত করা নিষিদ্ধ; কারণ এটি আকস্মিক (ইত্তিফাকি) হওয়ারও সম্ভাবনা রাখে।

কাশি আবর্তন ও বৈপরীত্যের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। আবর্তনকে খণ্ডন করা হয়েছে প্রথম প্রকারে সম্ভাব্য অপ্রধান বাক্যের উৎপাদন নিষিদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে। আর বৈপরীত্যকে খণ্ডন করা হয়েছে এই বলে যে, চিরন্তন প্রধান পদের সাথে আবশ্যিক অপ্রধান বাক্যটি অপ্রধান বাক্যের পরিপন্থী সিদ্ধান্ত দেয় না; কারণ চিরন্তন এবং সাধারণ প্রচলিত বাক্য প্রথম প্রকারে চিরন্তন সিদ্ধান্ত দেয়, আর বিশেষ প্রচলিত বাক্যের সাথে চিরন্তন কিন্তু অনিরন্তর সিদ্ধান্ত দেয়, আর চিরন্তন বাক্যটি সম্ভাব্য বাক্যের পরিপন্থী নয়।

'কাশফ' গ্রন্থে এবং সিরাজের প্রকৃত বক্তব্য বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, সাতটি আবর্তনহীন বাক্যের সাথে আবশ্যিক বাক্যটি অকার্যকর। এর কারণ তার চেয়ে বিশেষ সাময়িক বাক্যের সাথে তার অকার্যকারিতা; যেহেতু অপ্রধান পদের জন্য মধ্যপদ ও প্রধান পদের চিরন্তনতা এবং তাদের আবশ্যিকতা ততক্ষণ পর্যন্ত জায়েজ যতক্ষণ তার সত্তা বিদ্যমান থাকে। সুতরাং একটি নির্দিষ্ট সময়ে অপ্রধান পদের সত্তা না থাকলে নিঃশর্ত বা সম্ভাব্যভাবে অপ্রধান পদের কিছু অংশ থেকে প্রধান পদের নেতিবাচকতা মিথ্যা হওয়া সত্ত্বেও কিয়াসটি সুসংগঠিত হয়; কারণ তা তার সত্তা বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত সর্বদা বা আবশ্যিকভাবে তার জন্য সাব্যস্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ১৪)
وذكر الشيخ ما يصلح مثاله كل لون كسوف سواد ضرورة لا دائما ولا شيء منم ألوان الأجرام السماو ية بسود ضرورة وقت التربيع لا دائما مع صدق كل لون كسوفلون جرم سماوي ضرورة. قال: والحق ان قسم الدوام والضرورة بالازليين انتجت الدائمة والضرورية مع الوقتية فموجبة وسالبة والوقت من أوقات الذات أولى لتمام البرهان والنقض المذكور ممتنع لأن الصغرى فيه حينئذ كاذبة وان فسر بالذاتي لا الأزلي وهو المشهور فان تم تقيد الوقتية بوقت وجود ذات الموضوع وهو المشهور وكانت سالبة لم تنتج معها دائمة لأنه لا يكون حينئذ بين الحكم بالأوسط على الأصغر دائما والحكم بع على الأكبر في وقت معين سلبا منافاة بل وقتية بحسب ذلك الوقت لأن الأصغر إن وجد فيه لم يثبت له الأكبر فيه والأثبت له الأوسط في ذلك الوقت لثبوته لكل ما ثبت له الأكبر دائما.

قلت: يريد إن: والوقتية صغرى والبيان وهي كبرى واضح إذ لو ثبت الأكبر للأصغر لإنسلب عنه الأوسط بالكبرى لكنه ثابت له بالصغرى. قالا: وان لم يوجد الأصغر فيه لم يثبت له الأكبر لتوقف الإيجاب على وجود الموضوع ولا يرد المثال المذكور لصدق هذه النتيجة في ذلك الوقت لعدم الموضوع ولامتناع صدق الموجبة ولا ينتج مطلقة عامة ولا ممكنة لأنهما يقابلان الدوام والضرورة المأخوذين باعتبار الذات فيكونان هما كذلك وعلى هذا لا تكون السالبة الوقتية أخص من المطلقة العامة لجواز سلب المحمول عن الموضوع في وقت مطلق فتصدق الوقتية ولم يسلب في شيء من آويات الذات بل يثبت ما دامت الضرورة أو دواما فتكذب المطلقة أو الدائمة الممكنة العامتان والمثال المذكور يحققه. وان كانت الوقتية موجبة أنتجت دائمة لآن الثبوت في بعض أوقات الذات ينافي السلب الدائم بحسبهما فثبت المنافاة بين الأصغر والأكبر يتم فيه الخلف وان قيدت بوقت وجود ذات الموضوع أنتجت الدائمة مطلقا دائما.

قالا: ولما أطلق كل القوم إن النتيجة دائمة مع إن المشهور تفسيرهم الضرورة والدوام والوقت بالاعتبار الأعم اطلنا الكلام تنبيها على الحق.

قلت: الاعتبار الأعم في الوقتية وان كان عدم تقييدها بوجود الموضوع فمرادهم به كون الوقف غير مناف للذات وقف الوقتية في المثال مناف لعموم ذات الموضوع لمنافاته بعض أفراده فحينئذ لا تصدق كلية ويتم قول القوم باصطلاحهم في الضرورية والدائمة والوقتية.

ومن قولهما قال ابن اندارس بعدم تناقض الدائمة الذاتية والمطلقة لأنه ابتكره كما ظنه شيخنا. نتيجته فيها فيه دائمة أو ضرورية بالفرض والخلف والعكس إن كانتا سالبتين كليتين والأخرى فعلية.

وقول الشيخ والأقدمين هي فيها فيه ضرورية. رده الخونجي والسراج وان كانتا ضروريتين بإمكان صفة لنوعين ثبت لأحدهما فقط فيسلب هو عن الثاني ضرورة ويحمل على ماله تلك الصفقة ضرورة مع إمكان تلك الصفة للثاني.

ورداه والصغرى موجبة بثبوت خاصة للنوع الثاني، ممكنة للأول فيحمل الثاني على خاصته ضرورة ويسلب عماله تلك الصفة ضرورة مع إمكان تلك الصفة للثاني.

واحتجوا بات إحدى مقدمتيه إن كانت ضرورية فان كانت الأخرى كذلك كان ثبوت الأوسط لأحد الطرفين ضروريا وسلبه عن الآخر ضروريا فوجب مباينة الطرفين فصورة وان كانت غير ضرورية كانت ضرورة الأوسط ضرورية لأحدهما وضرورة السلب عن الآخر لوجوب كون الضرورة ضرورية الثبوت للضروريات وضرورية السلب عن غيرها فصار كالقسم الأول وان كانت محتملة فكذلك لأستلزامه إحدى ملزومي الضرورة.

أجاب الخونجي والسراج بأن الأوسط في الضروريتين ضروري لذات الأصغر وضروري السلب عن ذات الأكبر لا عن العنوان والمدعى سلب! لعنوان عن الأصغر دون ذات الأكبر فلم تجب المباينة الضرورية الآبين ذات الأصغر ذات الأكبر وذلك غير المدعى.
শায়খ এমন একটি উদাহরণ উল্লেখ করেছেন যা এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: প্রতিটি গ্রহণের রঙ আবশ্যিকভাবে কালো হয়, তবে তা স্থায়ীভাবে নয়। আকাশমন্ডলীর পিন্ডসমূহের কোনো রঙই চতুর্ভুজ হওয়ার সময় আবশ্যিকভাবে কালো হয় না, তবে তা স্থায়ীভাবে নয়। এর সাথে প্রতিটি গ্রহণের রঙ আবশ্যিকভাবে আকাশমন্ডলীর পিন্ডের রঙ হওয়ার বিষয়টি সত্য হয়। তিনি বলেন: সত্য এই যে, স্থায়িত্ব এবং আবশ্যিকতাকে যদি অনাদি অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে তা স্থায়ী ও আবশ্যিক সিদ্ধান্ত প্রদান করে, যার সাথে সাময়িক বিষয়টিও যুক্ত থাকে—তা ইতিবাচক হোক বা নেতিবাচক। সত্তাগত সময়ের মধ্য থেকে একটি সময়কে গ্রহণ করাই পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ ও উল্লিখিত খণ্ডনের জন্য অধিকতর শ্রেয়। এমতাবস্থায় উল্লিখিত খণ্ডনটি অসম্ভব, কারণ সেক্ষেত্রে অপ্রধান অবয়বটি (Sughra) মিথ্যা প্রতিপন্ন হয়। আর যদি একে অনাদি না ধরে সত্তাগত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়—যা প্রসিদ্ধ মত—তবে যদি সাময়িক বিষয়টিকে উদ্দেশ্যের সত্তার অস্তিত্বের সময়ের সাথে শর্তযুক্ত করা হয় (যা প্রসিদ্ধ) এবং তা যদি নেতিবাচক হয়, তবে তা কোনো স্থায়ী সিদ্ধান্ত প্রদান করবে না। কারণ তখন অপ্রধান পদের ওপর মধ্যম পদের স্থায়ী বিধান এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ে প্রধান পদের নেতিবাচক বিধানের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য থাকে না। বরং সেই নির্দিষ্ট সময়ের নিরিখে তা সাময়িক হবে। কেননা অপ্রধান পদটি যদি সেখানে বিদ্যমান থাকে, তবে তার জন্য প্রধান পদটি সেখানে সাব্যস্ত হবে না। অথচ সেই সময়ে মধ্যম পদটি তার জন্য সাব্যস্ত হয়, কারণ যা কিছুর জন্য প্রধান পদটি স্থায়ীভাবে সাব্যস্ত হয়, তার সবকিছুর জন্যই মধ্যম পদটি সাব্যস্ত হয়।

আমি বলি: তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে: সাময়িক বাক্যটি যখন অপ্রধান অবয়ব হয় এবং বর্ণনাটি যখন প্রধান অবয়ব হয়, তখন তা স্পষ্ট। কারণ যদি প্রধান পদটি অপ্রধান পদের জন্য সাব্যস্ত হতো, তবে প্রধান অবয়বের কারণে তার থেকে মধ্যম পদটি নেতিবাচক হয়ে যেত। কিন্তু অপ্রধান অবয়বের মাধ্যমে তা তার জন্য সাব্যস্ত হয়েছে। তাঁরা বলেন: যদি সেখানে অপ্রধান পদটি বিদ্যমান না থাকে, তবে তার জন্য প্রধান পদটি সাব্যস্ত হবে না; কারণ ইতিবাচক বিধান উদ্দেশ্যের অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল। আর উল্লিখিত উদাহরণটি এ ক্ষেত্রে আপত্তিকর নয়, কারণ উদ্দেশ্য বিদ্যমান না থাকায় সেই সময়ে এই সিদ্ধান্তটি সত্য হয় এবং ইতিবাচক সত্য হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এটি সাধারণ নিঃশর্ত (Mutlaqah Ammah) বা সম্ভাব্য (Mumkinah) সিদ্ধান্ত প্রদান করে না। কারণ তারা সত্তার বিবেচনায় গৃহীত স্থায়িত্ব এবং আবশ্যিকতার পরিপন্থী। এমতাবস্থায় নেতিবাচক সাময়িক বাক্যটি সাধারণ নিঃশর্ত বাক্যের চেয়ে অধিক বিশিষ্ট হবে না। কেননা একটি সাধারণ সময়ে উদ্দেশ্য থেকে বিধেয়কে নাকচ করা বৈধ। ফলে সাময়িক বাক্যটি সত্য হয় কিন্তু সত্তার কোনো অবস্থায় তা নাকচ হয় না; বরং যতক্ষণ আবশ্যকতা বা স্থায়িত্ব বিদ্যমান থাকে ততক্ষণ তা সাব্যস্ত হয়। ফলে সাধারণ নিঃশর্ত বা সাধারণ সম্ভাব্য স্থায়ী বাক্যটি মিথ্যা হয়ে যায় এবং উল্লিখিত উদাহরণটি তা প্রমাণ করে। আর সাময়িক বাক্যটি যদি ইতিবাচক হয়, তবে তা স্থায়ী সিদ্ধান্ত প্রদান করবে। কারণ সত্তার কিছু সময়ে সাব্যস্ত হওয়া তাদের উভয়ের নিরিখে স্থায়ী নেতিবাচকতার পরিপন্থী। সুতরাং অপ্রধান ও প্রধান পদের মধ্যে বৈপরীত্য সাব্যস্ত হলো এবং তাতে অসম্ভাব্যতা (Khulf) পূর্ণ হলো। আর যদি তা উদ্দেশ্যের সত্তার অস্তিত্বের সময়ের সাথে শর্তযুক্ত হয়, তবে তা নিরঙ্কুশভাবে স্থায়ী সিদ্ধান্ত প্রদান করবে।

তাঁরা বলেন: যেহেতু সকল বিশেষজ্ঞই সাধারণভাবে বলেছেন যে সিদ্ধান্তটি স্থায়ী হবে, অথচ তাদের প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যা অনুযায়ী আবশ্যকতা, স্থায়িত্ব এবং সময়কে অধিকতর ব্যাপক অর্থে গ্রহণ করা হয়, তাই আমরা সত্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আলোচনা দীর্ঘায়িত করেছি।

আমি বলি: সাময়িক বাক্যের ক্ষেত্রে ব্যাপকতর বিবেচনা যদিও তাকে উদ্দেশ্যের অস্তিত্বের সাথে শর্তযুক্ত না করা, কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য হলো সময়টি যেন সত্তার সাথে সাংঘর্ষিক না হয়। উদাহরণের সাময়িক সময়টি উদ্দেশ্যের সাধারণ সত্তার পরিপন্থী, কারণ তা তার কিছু ব্যক্তির (افراد) পরিপন্থী। এমতাবস্থায় সার্বিকতা সত্য হয় না এবং আবশ্যিক, স্থায়ী ও সাময়িক বাক্যের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের নিজস্ব পরিভাষা অনুযায়ী তাদের বক্তব্য সঠিক সাব্যস্ত হয়।

তাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ইবনে আন্দারাস সত্তাগত স্থায়ী ও নিঃশর্ত বাক্যের মধ্যে বৈপরীত্য না থাকার কথা বলেছেন। কারণ তিনি এটি উদ্ভাবন করেছেন যেমনটি আমাদের শায়খ মনে করেছেন। এর সিদ্ধান্ত হলো সেখানে তা অনুমিতভাবে স্থায়ী বা আবশ্যিক হবে এবং বিপরীতভাবেও (Khulf/Aks) যদি উভয়টি নেতিবাচক সার্বিক হয় এবং অন্যটি বাস্তবসম্মত (Fi'liyah) হয়।

শায়খ এবং প্রাচীনদের বক্তব্য হলো এটি সেখানে আবশ্যিক। খুনাজি এবং সিরাজ এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও তারা উভয়ই আবশ্যিক হয়, তবে দুটি প্রকারের জন্য একটি বৈশিষ্ট্যের সম্ভাবনার কারণে যা কেবল একটির জন্য সাব্যস্ত হয়, ফলে তা দ্বিতীয়টি থেকে আবশ্যিকভাবে নাকচ হয়ে যায় এবং যার সেই বৈশিষ্ট্য রয়েছে তার জন্য আবশ্যিকভাবে সাব্যস্ত হয়, যদিও দ্বিতীয়টির জন্য সেই বৈশিষ্ট্য থাকা সম্ভব।

তাঁরা একে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং অপ্রধান অবয়বটি ইতিবাচক, যেখানে দ্বিতীয় প্রকারের জন্য একটি বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত হয় যা প্রথমটির জন্য সম্ভাব্য। ফলে দ্বিতীয়টি তার বৈশিষ্ট্যের ওপর আবশ্যিকভাবে প্রযোজ্য হয় এবং যার সেই বৈশিষ্ট্য রয়েছে তার থেকে তা আবশ্যিকভাবে নাকচ হয়, যদিও দ্বিতীয়টির জন্য সেই বৈশিষ্ট্য থাকা সম্ভব।

তাঁরা যুক্তি দিয়েছেন যে, এর একটি ভূমিকা যদি আবশ্যিক হয় এবং অন্যটিও যদি অনুরূপ হয়, তবে মধ্যম পদটি এক পক্ষের জন্য সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যিক হবে এবং অন্য পক্ষ থেকে তা নাকচ হওয়া আবশ্যিক হবে। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে ভিন্নতা আসা আবশ্যক। আর যদি তা আবশ্যিক না হয়, তবে মধ্যম পদের আবশ্যকতা এক পক্ষের জন্য আবশ্যিক হবে এবং অন্য পক্ষের জন্য নাকচ হওয়া আবশ্যিক হবে। কারণ আবশ্যিক বিষয়গুলোর জন্য আবশ্যকতা সাব্যস্ত হওয়া এবং অন্যগুলো থেকে নাকচ হওয়া আবশ্যক। ফলে এটি প্রথম প্রকারের মতোই হয়ে গেল। আর যদি এটি সম্ভাব্য হয় তবে সেটিও একই রূপ হবে, কারণ তা আবশ্যকতার একটি অনিবার্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

খুনাজি এবং সিরাজ উত্তর দিয়েছেন যে, দুটি আবশ্যিক বাক্যের ক্ষেত্রে মধ্যম পদটি অপ্রধান পদের সত্তার জন্য আবশ্যিক এবং প্রধান পদের সত্তা থেকে আবশ্যিকভাবে নাকচযোগ্য, তার সংজ্ঞার্থ (Inwan) থেকে নয়। আর দাবিকৃত বিষয়টি হলো অপ্রধান পদ থেকে সংজ্ঞার্থটি নাকচ হওয়া, প্রধান পদের সত্তা থেকে নয়। সুতরাং অপ্রধান পদের সত্তা এবং প্রধান পদের সত্তার মধ্যে আবশ্যিক ভিন্নতা আবশ্যক হয়নি। আর তা দাবিকৃত বিষয় নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ১৫)
وفيما صغراه إحدى الوجوديتين أو المطلقة مع الوصفيات كبريات مطلقة لإنتاجها اعمتها وهي الصغرى مطلقة مع الكبرى عرفية عامة بالعكس إن كانت العرفية سالبة كلية وبإنتاج نقيض النتيجة مع الكبرى منافي الصغرى وبإلغاء الزائد في أخصها وهي الصغرى الوجودية اللادائمة مع الكبرى مشروطة خاصة ككل إنسان نائم لا دائما ولا شيء من الحمار اليقضان بنائم ضرورة ما دام حمارا يقضان لا دائما مع صدق لا شيء من الإنسان بحمار يقضان مع الإطلاق العري عن مطلق الدوام. وأخرى كقولنا لنا في الكبرى لا شيء من اليقضان بنائم ضرورة ما دام يقضان لا دائما مع صدق لا شيء من الإنسان بيقضان بالإطلاق عريا عن الدوام.

ومن توهم إنتاج الصغريين ممكنتين مع الكبريين خاصتين مطلقة عامة لانتظام نقيضها مع الكبرى منتجا من الأول بعض ج ب دائما. لا دائما إن كانت الكبرى موجبة وبعض ج ليس ب دائما. لا دائما أم كانت سالبة، وهو محال لم يفرق بين اللازم من القياس وبين اللازم من بعض مقدماته.

والنتيجة ما لزم من جميع المقدمات لا من بعضها واللازم هنا إنما لزم من مجرد الكبرى لأنه إذا ضاق لا شيء من أب ما دام امتنع أن يكون أدائما لموضوع ما وإلا لزم المجال المذكور فامتنع دوامه للجيم فرض صدق الصغرى معها اولا بل لو فرض كذب الصغرى معها كان لازما وبهذا يرد قول من بين لزوم المطلق من الصغريات الثلاث مع الكبريين خاصتين بلزوم المحال من نقيض النتيجة مع الكبرى الخاصة لعدم اقتضاء هذا البيان كون المطلقة نتيجة القياس.

وفي صغراه وقتية مع المشروطتين قال الخونجي السراج وقتية مطلقة محتملة الدوام. وفي ما صغراه منتشرة معها منتشرة محتملة الدوام مع العرفيتين مطلقة عامة بما مر. والصغرى وقتية مع المشروطة لا تنتج وقتية والخلف فيها لا يتم لأنه يؤدي إلى الصغرى الممكنة في الأول وهو عقيم ولا العكس لان المشروطة لا تنعكس كنفسها بل عرفية عامة.

وبذا يتبين عدم اعتبار شيء من اختلاط هذا الشكل ضروريا وفيما يكون من المشروطتين مشروطة عامة لان الاوسط إذا كان ضروري الثبوت لأحد الطرفين ضروري السلب عن الآخر لزمت المباينة الضرورية بين الوصفين بخلف ما مر في الضروريتين الذاتيين والزائد ملغى وان كان القياس من خاصتين لعدم لزومه مع الضرورة مرة ككل إنسان، نائم ضرورة ما دام إنسانا نائما لا دائما ولا شيء من الحمار اليقضان بنائم ضرورة ما دام حمارا يقضان لا دائما مع صدق لا شيء من الإنسان النائم بحمار يقضان ضرورة ومع المشروطة الخاصة أخرى إذا بدلنا الكبرى بلا شيء من اليقضان بنائم ضرورة ما دام يقضان لا دائما فان الصادق لم لا شيء من الإنسان النائم بيقضان ضرورة ما دام إنسانا نائما لا دائما به يعرف عدم تعدي قيد اللادوام.

قالا: هذا إن كان المحمول ضروريا لوصف الموضوع لا ضروريا للذات بشرط الوصف وان كان ضروريا لها بشرطه ففي إنتاجه عرفية أو مشروطة نظر، السراج لعدم الوقوف على ما يقتضي الضرورة أو نفيها وفيما يكون من العرفيتين أو من أحديهما مع إحدى المشروطتين عرفية عامة لعكس الخلف وإلغاء الزائد وضبطه في الكشف بأنها كدائمته إن كانت وإلا فكالصغرى إلا في الضرورة ولا دوام لا تتبع فيها شيئا وفي باقي الضرورات كالمشترك بما مر. واختلاط الثالث شرطه كالأول وفي كونه نتيجة مثله مطلقا أو إلا فيما تتبع فيه الصغرى فهي فيه مطلقة عامة أو بقيد لا دوام ثالثها كعكس الصغرى فقد تكون حينية مطلقة أو بقيد آلا دوام بحسب العكس لنقلى الخونجي والسراج ورأيهما ولبعض شيوخ بلدنا نتيجة الكبرى ممكنة عامة والصغرى منافي الكبرى.

واختلاط الرابع في إنتاج موجبه مطلقا أو بشرط فعلية مقدمتيها كما في ضرورية قول الأقدمين في الجميع شارطين كون لم الممكنة مع ذي ضرورة في غير الأولين أو المتأخرين محتجين على عقم الممكنة فيه أما سلبا فلما يأتي من وجوب انعكاس سالبته وأما إيجابا وهي كبرى فيما مر في امتناعها في الأول صغرى موجبة كانت صغراها أو سالبة.
যে ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞাটি (সুগরা) দুটি অস্তিত্বমূলক (উজুদিয়া) প্রকারের একটি অথবা নিরঙ্কুশ (মুতলাক) হয় এবং গুণবাচক (ওয়াসফিয়া) প্রতিজ্ঞাসমূহ বৃহত্তর প্রতিজ্ঞা (কুবরা) হিসেবে নিরঙ্কুশ হয়, তখন সিদ্ধান্ত হিসেবে তাদের মধ্যে অধিকতর সাধারণটি নির্গত হবে। আর তা হলো ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞাটি নিরঙ্কুশ এবং বৃহত্তর প্রতিজ্ঞাটি সাধারণ প্রথাগত (উরফিয়া আম্মা)। এর বিপরীত হবে যদি প্রথাগতটি সার্বিক নঞর্থক হয় এবং সিদ্ধান্তের বিপরীতটি বৃহত্তর প্রতিজ্ঞার সাথে বিন্যস্ত হয়ে ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞার পরিপন্থী হয়। আর এর বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অংশটি বাদ পড়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত আসবে, যা হলো অনিত্য অস্তিত্বমূলক ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞা এবং বিশেষ শর্তযুক্ত (মাশরুতা খাসসা) বৃহত্তর প্রতিজ্ঞা। যেমন: 'প্রত্যেক মানুষ ঘুমন্ত, নিরন্তর নয়' এবং 'কোনো জাগ্রত গাধা ঘুমন্ত নয় যতক্ষণ সে জাগ্রত গাধা থাকে, নিরন্তর নয়'। এর সাথে এ কথা সত্য যে, 'কোনো মানুষ জাগ্রত গাধা নয়', নিরঙ্কুশভাবে স্থায়িত্ব বর্জিত হয়ে। অন্য একটি উদাহরণ যেমন আমাদের কথা বৃহত্তর প্রতিজ্ঞায়: 'কোনো জাগ্রত ব্যক্তি ঘুমন্ত নয় যতক্ষণ সে জাগ্রত থাকে, নিরন্তর নয়'। এর সাথে এ কথা সত্য যে, 'কোনো মানুষ জাগ্রত নয়', নিরঙ্কুশভাবে স্থায়িত্ব বর্জিত হয়ে।

যে ব্যক্তি দুটি সম্ভাব্য (মুমকিন) ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞার সাথে দুটি বিশেষ (খাসসা) বৃহত্তর প্রতিজ্ঞা থেকে সাধারণ নিরঙ্কুশ সিদ্ধান্ত আসার ধারণা করে—এই যুক্তিতে যে, সিদ্ধান্তের বিপরীতটি বৃহত্তর প্রতিজ্ঞার সাথে বিন্যস্ত হয়ে প্রথম আকারের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দেয় যে 'কিছু জ সর্বদাই ব', যদি বৃহত্তর প্রতিজ্ঞা সদর্থক হয়; এবং 'কিছু জ সর্বদাই ব নয়', যদি তা নঞর্থক হয়—সেটি অসম্ভব। কারণ সে অনুমিতির (কিয়াস) জন্য যা অনিবার্য এবং প্রতিজ্ঞার কোনো একটি অংশের জন্য যা অনিবার্য, তার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেনি।

সিদ্ধান্ত হলো তা-ই যা সমস্ত প্রতিজ্ঞা থেকে অনিবার্যভাবে নির্গত হয়, কেবল তার কোনো অংশ থেকে নয়। এখানে যা অনিবার্য হয়েছে তা কেবল বৃহত্তর প্রতিজ্ঞা থেকেই অনিবার্য হয়েছে। কারণ যখন 'কোনো অ ব নয় যতক্ষণ তা অ থাকে' সংকুচিত হয়ে যায়, তখন কোনো উদ্দেশ্যের জন্য তা স্থায়ী হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে; অন্যথায় উল্লিখিত অসম্ভবটি দেখা দিবে। সুতরাং 'জ'-এর জন্য তার স্থায়িত্ব অসম্ভব হয়ে যায়, চাই তার সাথে ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞার সত্যতা প্রথমে ধরে নেওয়া হোক বা না হোক। বরং ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞাকে মিথ্যা ধরে নিলেও তা অনিবার্য হবে। এর মাধ্যমেই তাদের বক্তব্য খণ্ডন করা হয় যারা তিনটি ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞা এবং দুটি বিশেষ বৃহত্তর প্রতিজ্ঞা থেকে নিরঙ্কুশ সিদ্ধান্ত আসার বিষয়টি প্রমাণ করতে চান এই যুক্তিতে যে, সিদ্ধান্তের বিপরীতটি বিশেষ বৃহত্তর প্রতিজ্ঞার সাথে মিলে অসম্ভবকে অনিবার্য করে। কারণ এই বর্ণনাটি নিরঙ্কুশ সিদ্ধান্তকে অনুমিতির (কিয়াস) ফল হিসেবে সাব্যস্ত করে না।

যে ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞাটি সময়ভিত্তিক (ওয়াকতিয়া) এবং দুটি শর্তযুক্ত প্রতিজ্ঞার সাথে থাকে, সে সম্পর্কে খুনাজি ও সিরাজ বলেছেন: এটি নিরঙ্কুশ সময়ভিত্তিক যা স্থায়িত্বের সম্ভাবনা রাখে। আর যেখানে ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞাটি ব্যাপ্ত (মুনতাশিরা) এবং তার সাথে ব্যাপ্ত প্রতিজ্ঞা থাকে, সেখানে স্থায়িত্বের সম্ভাবনাসহ ব্যাপ্ত সিদ্ধান্ত আসে; আর উরফিয়া প্রতিজ্ঞাদ্বয়ের সাথে থাকলে পূর্বোক্ত নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ নিরঙ্কুশ সিদ্ধান্ত আসে। সময়ভিত্তিক ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞা যখন শর্তযুক্ত প্রতিজ্ঞার সাথে থাকে তখন তা সময়ভিত্তিক সিদ্ধান্ত দেয় না। এক্ষেত্রে 'খলফ' (বিপরীত প্রমাণ পদ্ধতি) পূর্ণ হয় না কারণ তা প্রথম আকারের সম্ভাব্য ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞার দিকে নিয়ে যায়, যা ফলপ্রসূ নয়। আর আবর্তনের (আকস) মাধ্যমেও নয়, কারণ শর্তযুক্ত প্রতিজ্ঞা নিজে আবর্তিত হয় না বরং সাধারণ উরফিয়া হিসেবে আবর্তিত হয়।

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, এই আকারের সংমিশ্রণের কোনোটিই অপরিহার্য (দরুরী) হিসেবে গণ্য নয়। যখন দুটি শর্তযুক্ত প্রতিজ্ঞার একটি সাধারণ শর্তযুক্ত হয়, তখন মধ্যপদটি যদি এক পক্ষের জন্য অপরিহার্যভাবে সাব্যস্ত হয় এবং অন্য পক্ষ থেকে অপরিহার্যভাবে নাকচ হয়, তখন উভয় গুণের মধ্যে অপরিহার্য বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়, যা দুটি স্বকীয় অপরিহার্য প্রতিজ্ঞার ক্ষেত্রে পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে। আর অতিরিক্ত অংশটি বর্জনীয়। যদি অনুমিতিটি দুটি বিশেষ (খাসসা) প্রতিজ্ঞা থেকে হয়, তবে তা অপরিহার্যতাকে অনিবার্য করে না। যেমন: 'প্রত্যেক মানুষ ঘুমন্ত যতক্ষণ সে ঘুমন্ত মানুষ থাকে, নিরন্তর নয়' এবং 'কোনো জাগ্রত গাধা ঘুমন্ত নয় যতক্ষণ সে জাগ্রত গাধা থাকে, নিরন্তর নয়'। এর সাথে এ কথা সত্য যে, 'কোনো ঘুমন্ত মানুষ অপরিহার্যভাবে জাগ্রত গাধা নয়'। বিশেষ শর্তযুক্তের সাথে অন্য ক্ষেত্রে যদি আমরা বৃহত্তর প্রতিজ্ঞাটিকে বদলে বলি: 'কোনো জাগ্রত ব্যক্তি ঘুমন্ত নয় যতক্ষণ সে জাগ্রত থাকে, নিরন্তর নয়', তবে সত্য হলো এই যে 'কোনো ঘুমন্ত মানুষ অপরিহার্যভাবে জাগ্রত নয় যতক্ষণ সে ঘুমন্ত মানুষ থাকে, নিরন্তর নয়'। এর মাধ্যমেই জানা যায় যে অনিত্যতার (লা-দাওয়াম) শর্তটি অতিক্রম করে না।

তাঁরা বলেন: এটি তখনই হয় যখন বিধেয়টি উদ্দেশ্যের গুণের জন্য অপরিহার্য হয়, কিন্তু গুণের শর্তে সত্তার জন্য অপরিহার্য না হয়। আর যদি গুণের শর্তে সত্তার জন্য অপরিহার্য হয়, তবে এর সিদ্ধান্তে উরফিয়া হবে নাকি মাশরুতা হবে সে বিষয়ে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। সিরাজ বলেন, অপরিহার্যতা থাকা বা না থাকার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় এটি অমীমাংসিত। আর যেখানে দুটি উরফিয়া থেকে বা তাদের একটির সাথে কোনো মাশরুতা থাকে, সেখানে উরফিয়া আম্মা সিদ্ধান্ত হয়—বিপরীত প্রমাণ এবং অতিরিক্ত অংশ বর্জনের কারণে। 'কাশফ' গ্রন্থে এটি এভাবে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে যে, সেটি তার স্থায়িত্বের মতোই হবে যদি স্থায়িত্ব থাকে, অন্যথায় তা ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞার মতো হবে। তবে অপরিহার্যতা এবং অনিত্যতার ক্ষেত্রে এটি কোনো কিছুর অনুসরণ করে না। অবশিষ্ট অপরিহার্য বিষয়গুলোতে এটি পূর্বোক্ত অভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করবে। তৃতীয় আকারের সংমিশ্রণের শর্ত প্রথমটির মতোই। এর সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এটি কি সর্বাবস্থায় প্রথমটির মতো হবে, নাকি ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞাকে অনুসরণ করার ক্ষেত্রে তা সাধারণ নিরঙ্কুশ হবে অথবা অনিত্যতার শর্তযুক্ত হবে—এ নিয়ে তিনটি মত রয়েছে। তৃতীয় মতটি হলো ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞার আবর্তনের মতো; ফলে আবর্তন অনুযায়ী এটি কখনো তাৎক্ষণিক নিরঙ্কুশ (হিনিয়্যা মুতলাকা) হবে অথবা অনিত্যতার শর্তযুক্ত হবে। এটি খুনাজি ও সিরাজের বর্ণনা এবং তাঁদের অভিমত। আমাদের শহরের কিছু শাইখের মতে, বৃহত্তর প্রতিজ্ঞাটি সম্ভাব্য সাধারণ হলে এবং ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞাটি বৃহত্তর প্রতিজ্ঞার পরিপন্থী হলে এমন সিদ্ধান্ত আসে।

চতুর্থ আকারের সংমিশ্রণ সদর্থক সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরঙ্কুশভাবে হোক বা তার উভয় প্রতিজ্ঞা বাস্তব হওয়ার শর্তে হোক; যেমনটি প্রাচীনদের মতে সব ক্ষেত্রেই অপরিহার্যতা বজায় রাখার জন্য শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, প্রথম দুই আকার ব্যতীত অন্যগুলোতে সম্ভাব্য প্রতিজ্ঞাটি অপরিহার্য প্রতিজ্ঞার সাথে থাকতে হবে। তাঁরা এতে সম্ভাব্য প্রতিজ্ঞার নিষ্ফল হওয়ার স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন—নঞর্থক হওয়ার ক্ষেত্রে এর নঞর্থক আবর্তনের আবশ্যকতা যা সামনে আসবে, আর সদর্থক হওয়ার ক্ষেত্রে এটি বৃহত্তর প্রতিজ্ঞা হিসেবে আসবে যা ইতিপূর্বে প্রথম আকারে ক্ষুদ্রতর প্রতিজ্ঞা সদর্থক বা নঞর্থক হওয়ার ক্ষেত্রে অসম্ভব হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ১৬)
وبينوه وهي صغرى بجواز حصول عرض عام لنوعين لأحدهما بالفعل فيحمل العرض العام على فصل النوع الآخر بالإمكان العام ويحمل عليه فصله في الكبرى ضرورة في والحق السلب أو يسلب فيها عن النوع الأول فصل الآخر ضرورة والحق الإيجاب وانعكاس السالبة لعقم أخص غيرها وفي الوقتية مع الضرورية المشروطة الخاصة أما الصغرى وقتية مع الكبرى ضرورية فان خاصة الشيء المفارقة إذا سلبت عنه وقتا ما ضرورة لا دائمة. ثم حمل ذلك الشيء على فصله ضرورة لم يكن سلب فصل الشيء عن خاصته كلا شيء من القمر بمنخسف وقت التربيع بالضرورة لا دائما وكل كوكب ذي محق قمر بالضرورة ولا يصدق بعض المنخسف وقت التربيع ليس بكوكب ذي محق بجهه ما. الخونجي: وبه يعرف عقمها مع المشروطة الخاصة. الكاتبي لان الضرورية أخص من العامة وزيادة الخاصة عليها بسالبة فلا تنتج مع السالبة هذا قول الأكثر.

قال في الكشف والسراج في بيان الحق: ينتج هذا الاختلاط موجبة. جزئية مطلقة عامة لإنتاج الكبرى مع الموجبة المطلقة جزء الصغرى مطلقة عامة كلية تنعكس جزئية ولا امتناع ذي أيجاب عن سالبة. قاله الشيخ. وسالبة كلية مطلقة وإلا لزم من نقيضها مع الكبرى من الأول ما نتج موجبة دائمة ولزوم ذلك من الكبرى وجزء الصغرى ومن نقيض النتيجة وجزء الكبرى لا يضر كالقياس الذي صغراه. وجودية لا دائمة نتيجة حاصلة من مجرد قيد إثبات صغراه دون لا دوامهما.

قلت: أما النتيجة الأولى فلعل اعتبار الجزء الموافق في الإنتاج إلغاء المخالف بخلاف العكس عندهم. والثانية لزومها عن مجرد الكبرى يمنع كونها نتيجة كما قالوه في اختلاط الثاني. وعقم الوقتية سالبة كبرى مع الصغرى ضرورية بحمل الشيء على خاصرته ضرورة وسلب تلك الخاصة عنه وقتية مع امتناع سلب الشيء عن ننسه ومعها مشروطة خاصة بحمل إحدى خاصتي النوع المتلازمتين على الأخرى مشروطة خاصة وسلب الخاصة الأولى على النوع سلبا وقتيا مع امتناع سلب النوع عن الخاصة الأولى ككل متعجب بالفعل مشروطة خاصة ولا شيء من الإنسان بمتعجب وقت خوفه ولا يصدق بعض الضاحك ليس بإنسان بجهة ما وكون الصغرى السالبة دائمة أو انعكاس سالبة كبرها لعقم أخص غير ذلك وهو الصغرى مشروطة خاصة مع الكبرى وقتية لآن خاصتي النوع المتنافيتين يصح سلب أولاهما على الأخرى مشروطة خاصة وحمل أخرهما على النوع توقيتا مع امتناع سلب النوع عن الخاصة الأخرى كلا شيء من الضاحك بباك مشروطة وكل إنسان ضاحك ضرورة وقت كونه متعجبا ولا يصدق بعض الباكي ليس بإنسان بجه ما.

وفي الرسالة: شرط الثامن كون صغرى إحدى الخاصيتين وانعكاس سالبه كبراه وجهة نتيجة أول ضروبه إن كانا فعليتين أو ضروري الصغرى مطلقة وإلا فممكنة عامة. وفي ثالثة كضروريته أو دائمة فأن لم تكن له فعكس الصغرى وفي اخرييه ككبرى ضرورية أو دائمة فأن لم تكن له فعكس الصغرى.

هذا رأي الأقدمين والموجز والجمل وفي الكشف وبيان الحق جهة عكس نتيجة بعد رده للأول على رأيهما في الأول والعكس واليه يرجع قول ابن واصل الحق في الأولين كجهة عكس الصغرى إن لم تكن وصفية والافكجهة عكس الكبرى إلا في دوام فهي فيه كالصغرى.

وضابطه في الكشف بأن الموجبة تتبع عكس الصغرى إن لم تكن وصفية وإلا تبعث عكس الكبرى إلا في لا دوام. والسالبة تتبع عكس الصغرى إلا في لا دوام وفي الضرورية فأنها تتبع المشترك من عكس الصغرى والكبرى. وفي قيد الدوام تتبع الدائمة ومثله في المطالع. والشرطية متصلة إن استصحبت احدى قضيتيها وتسمى مقدما تاليا لعلاقة وهي اللزومية أو دونها وهي الاتفاقية ومنفصلة إن تعاندتا حقيقية إن كانت من قضية ونقيضها أو مساوية ومانعة جمع إن كانت منها والأخص من نقيضها ومانعة خلو إن كانت منها والأعم منه.

ولا تتركب الحقيقة من ثلاثة اجزاء إذ لو تركبت منها كان ج مستلزما لنقيض ب فأن لم يكن نقيض ب مستلازما ل ألم يكن ب وأ انفصال حقيقي وإلا كان ج مستلزما فلم يكن بينهما انفصال حقيقي وقد تركبت من جملة ومنفصلة فيظن تركيبها من ثلاثة أجزاء.

الأثير: قد يكون المساوي للنقيض منفصلة فتسمى القضية ذات أجزاء: إن يكون الفرد فردا أو زوج الزوج أو زوج الفرد أو زوج الزوج والفرد وتتركب مانعة الجمع من اكثر من جزءين لجواز تعدد اخصات نقيض الشيء مع تباينها.

তারা একে বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি ক্ষুদ্রতর যুক্তি (সুগরা), যেখানে দুটি ভিন্ন প্রকারের (নও) জন্য একটি সাধারণ গুণের (আরজে আম) বাস্তবিক (বিল-ফেল) ঘটা সম্ভব। ফলে সাধারণ গুণটিকে অন্য প্রকারের অপরিহার্য গুণের (ফসল) ওপর 'সাধারণ সম্ভাবনা' (ইমকান আম) হিসেবে আরোপ করা হয় এবং বৃহত্তর যুক্তিতে (কুবরা) অপরিহার্যতা হিসেবে তার অপরিহার্য গুণটি তার ওপর আরোপিত হয়। আর সত্য হলো নেতিবাচকতা (সালব), অথবা সেখানে প্রথম প্রকার থেকে অন্যটির অপরিহার্য গুণটিকে অপরিহার্যতা হিসেবে অস্বীকার করা হয় এবং সত্য হলো ইতিবাচকতা (ইজাব)। আর নেতিবাচক যুক্তির বিপরীত করা অসম্ভব, কারণ এটি অন্যান্যের চেয়ে অধিকতর বিশিষ্ট। আর সাময়িক যুক্তির (ওয়াকতিয়া) সাথে যখন আবশ্যিক বিশেষ শর্তযুক্ত (মাশরুতা খাসসা) যুক্তি থাকে, তখন ক্ষুদ্রতর যুক্তিটি যদি সাময়িক হয় এবং বৃহত্তর যুক্তিটি আবশ্যিক হয়, তবে কোনো বস্তুর বিশেষ বিচ্ছিন্নকারী গুণটি যখন তার থেকে কোনো এক সময় আবশ্যিকভাবে অস্বীকার করা হয়, অথচ তা স্থায়ী নয়। এরপর সেই বস্তুকে তার অপরিহার্য গুণের ওপর আবশ্যিকভাবে আরোপ করা হয়, তখন সেই বস্তুর অপরিহার্য গুণটিকে তার বিশেষ গুণের থেকে মোটেও অস্বীকার করা সম্ভব নয়। যেমন চন্দ্রগ্রহণের সময় চতুর্থাংশ সময়ে আবশ্যিকভাবে চন্দ্রগ্রহণ হয় না এবং প্রতিটি জ্যোতিষ্ক যার জ্যোতি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় তা আবশ্যিকভাবে চাঁদ। কিন্তু এটি সত্য নয় যে, চতুর্থাংশ সময়ে গ্রহণ হওয়া কিছু বস্তু কোনোভাবেই জ্যোতি ক্ষয়প্রাপ্ত জ্যোতিষ্ক নয়। আল-খুনজি বলেন: এর মাধ্যমেই বিশেষ শর্তযুক্ত যুক্তির ক্ষেত্রে এর নিষ্ফলতা জানা যায়। আল-কাতিবি বলেন: কারণ আবশ্যিকতা সাধারণের চেয়ে অধিকতর বিশিষ্ট এবং বিশেষের আধিক্য তার ওপর নেতিবাচকতার মাধ্যমে ঘটে, তাই এটি নেতিবাচকতার সাথে কোনো ফলাফল প্রদান করে না। এটিই অধিকাংশের মত।

আল-কাশফ এবং আস-সিরাজ গ্রন্থে 'বায়ানুল হক'-এ সত্য বর্ণনায় বলা হয়েছে: এই সংমিশ্রণটি একটি ইতিবাচক আংশিক সাধারণ নিরঙ্কুশ (মুতলাক আম্মা) ফলাফল প্রদান করে। কারণ ইতিবাচক সাধারণ নিরঙ্কুশ যুক্তির সাথে বৃহত্তর যুক্তির ফলাফল হলো ক্ষুদ্রতর যুক্তির অংশ, যা একটি সামগ্রিক সাধারণ নিরঙ্কুশ যুক্তি, যা আংশিকভাবে প্রতিফলিত হয়। আর নেতিবাচক যুক্তি থেকে ইতিবাচক যুক্তি অসম্ভব নয়। এটি শায়খ (ইবনে সিনা) বলেছেন। এবং এটি একটি সামগ্রিক সাধারণ নিরঙ্কুশ নেতিবাচক যুক্তি, অন্যথায় এর বিপরীত থেকে বৃহত্তর যুক্তির সাথে প্রথম প্রকারের এমন ফলাফল আসত যা একটি স্থায়ী ইতিবাচক ফলাফল প্রদান করত। আর বৃহত্তর যুক্তি ও ক্ষুদ্রতর যুক্তির অংশ এবং ফলাফলের বিপরীত ও বৃহত্তর যুক্তির অংশ থেকে এমনটি হওয়া কোনো ক্ষতি করে না, যেমন সেই অনুমান যার ক্ষুদ্রতর যুক্তিটি অস্তিত্বশীল কিন্তু স্থায়ী নয়; এর ফলাফল কেবল ক্ষুদ্রতর যুক্তির ইতিবাচকতার শর্ত থেকে অর্জিত হয়, উভয়ের স্থায়িত্বহীনতা থেকে নয়।

আমি বলি: প্রথম ফলাফলের ক্ষেত্রে সম্ভবত উৎপাদনের অনুকূল অংশের বিবেচনা প্রতিকূল অংশকে বাতিল করে দেয়, যা তাদের মতে বিপরীতের ক্ষেত্র থেকে ভিন্ন। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে বৃহত্তর যুক্তি থেকে এর অপরিহার্যতা একে ফলাফল হতে বাধা দেয়, যেমনটি তারা দ্বিতীয় সংমিশ্রণের ক্ষেত্রে বলেছেন। আর যখন বৃহত্তর যুক্তিটি নেতিবাচক সাময়িক হয় এবং ক্ষুদ্রতর যুক্তিটি আবশ্যিক হয়, তখন বস্তুকে তার বিশেষত্বের ওপর আবশ্যিকভাবে আরোপ করা এবং সেই বিশেষত্বকে তার থেকে সাময়িকভাবে অস্বীকার করা নিষ্ফল হয়, কারণ বস্তুকে নিজের থেকে অস্বীকার করা অসম্ভব। আর এর সাথে বিশেষ শর্তযুক্ত যুক্তি থাকলে, প্রকারের (নও) দুটি পরস্পর অবিচ্ছেদ্য বিশেষত্বের একটিকে অন্যটির ওপর বিশেষ শর্তযুক্ত হিসেবে আরোপ করা এবং প্রথম বিশেষত্বটিকে প্রকার (নও) থেকে সাময়িকভাবে অস্বীকার করাও নিষ্ফল, কারণ প্রকারকে (নও) তার প্রথম বিশেষত্ব থেকে অস্বীকার করা অসম্ভব। যেমন প্রতিটি বিস্ময় প্রকাশকারী ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে বিশেষ শর্তযুক্ত এবং কোনো মানুষ তার ভয়ের সময় বিস্ময় প্রকাশকারী নয়, কিন্তু এটি সত্য নয় যে হাস্যকারী ব্যক্তিদের কেউ কেউ কোনোভাবেই মানুষ নয়। আর ক্ষুদ্রতর নেতিবাচক যুক্তিটি স্থায়ী হওয়া অথবা তার বৃহত্তর নেতিবাচক যুক্তির বিপরীত হওয়া নিষ্ফলতার কারণ, যা অন্যান্যের চেয়ে অধিকতর বিশিষ্ট। আর তা হলো ক্ষুদ্রতর যুক্তিটি বিশেষ শর্তযুক্ত এবং বৃহত্তর যুক্তিটি সাময়িক হওয়া। কারণ প্রকারের (নও) দুটি পরস্পর বিরোধী বিশেষত্বের প্রথমটিকে দ্বিতীয়টি থেকে বিশেষ শর্তযুক্ত হিসেবে অস্বীকার করা সঠিক এবং দ্বিতীয়টিকে প্রকারের (নও) ওপর সাময়িকভাবে আরোপ করা সঠিক, যদিও প্রকারকে অন্য বিশেষত্ব থেকে অস্বীকার করা অসম্ভব। যেমন কোনো হাস্যকারী ব্যক্তি বিশেষ শর্ত অনুযায়ী ক্রন্দনকারী নয় এবং প্রতিটি মানুষ আবশ্যিকভাবে হাস্যকারী যখন সে বিস্ময় প্রকাশ করে, কিন্তু এটি সত্য নয় যে ক্রন্দনকারী ব্যক্তিদের কেউ কেউ কোনোভাবেই মানুষ নয়।

আর রিসালাহ গ্রন্থে আছে: অষ্টম শর্ত হলো দুটি বিশেষত্বের একটির ক্ষুদ্রতর হওয়া এবং তার বৃহত্তর নেতিবাচক যুক্তির প্রতিফলিত হওয়া এবং প্রথম প্রকারের ফলাফলের দিকটি। যদি উভয়টি বাস্তবিক (ফেলিয়া) হয় অথবা ক্ষুদ্রতরটি আবশ্যিক ও নিরঙ্কুশ (মুতলাক) হয়, অন্যথায় তা সাধারণ সম্ভাব্য (মুমকিন আম্মা)। তৃতীয়টির ক্ষেত্রে তার আবশ্যিকতা বা স্থায়িত্বের মতো, যদি তা না থাকে তবে ক্ষুদ্রতর যুক্তির বিপরীত। শেষ দুটির ক্ষেত্রে বৃহত্তর আবশ্যিকতা বা স্থায়িত্বের মতো, যদি তা না থাকে তবে ক্ষুদ্রতর যুক্তির বিপরীত।

এটি প্রাচীনদের এবং আল-মুজিজ ও আল-জুমাল গ্রন্থের অভিমত। আল-কাশফ এবং বায়ানুল হক গ্রন্থে প্রথম প্রকার ও বিপরীতের ক্ষেত্রে তাদের মতানুসারে প্রথমটিতে ফিরিয়ে নেয়ার পর ফলাফলের বিপরীতের দিকটি বর্ণিত হয়েছে। এর দিকেই ইবনে ওয়াসিল-এর কথা ফিরে যায় যে, প্রথম দুটির ক্ষেত্রে সত্য হলো ক্ষুদ্রতর যুক্তির বিপরীতের দিকের মতো যদি তা গুণবাচক (ওয়াশফিয়া) না হয়, অন্যথায় তা বৃহত্তর যুক্তির বিপরীতের দিকের মতো, কেবল স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে তা ক্ষুদ্রতর যুক্তির মতো।

আল-কাশফ গ্রন্থে এর নিয়ম হলো, ইতিবাচক যুক্তি ক্ষুদ্রতর যুক্তির বিপরীতকে অনুসরণ করে যদি তা গুণবাচক না হয়, অন্যথায় তা বৃহত্তর যুক্তির বিপরীতকে অনুসরণ করে কেবল স্থায়িত্বহীনতার ক্ষেত্র ব্যতীত। আর নেতিবাচক যুক্তি ক্ষুদ্রতর যুক্তির বিপরীতকে অনুসরণ করে কেবল স্থায়িত্বহীনতা ও আবশ্যিকতার ক্ষেত্র ব্যতীত, কারণ তা ক্ষুদ্রতর ও বৃহত্তর যুক্তির বিপরীতের সাধারণ বিষয়কে অনুসরণ করে। আর স্থায়িত্বের শর্তের ক্ষেত্রে তা স্থায়ী যুক্তিকে অনুসরণ করে, আর আল-মাতালি গ্রন্থেও অনুরূপ রয়েছে। আর শর্তযুক্ত যুক্তি সংযুক্ত (মুত্তাসিলা) হবে যদি তার একটি বাক্য অন্যটির অনুগামী হয় এবং তাকে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার কারণে পূর্বপদ (মুকাদ্দাম) ও পরপদ (তালি) বলা হয়, আর তা হয় আবশ্যিক (লুজুমিয়া) অথবা তার চেয়ে কম যা আপতিক (ইত্তিফাকিয়া)। আর তা বিচ্ছিন্ন (মুনফাসিলা) হবে যদি তারা পরস্পর বিরোধী হয়; যদি তা একটি বাক্য ও তার বিপরীতের মধ্যে হয় অথবা সমমানের হয় তবে তা প্রকৃত (হাকিকিয়া); যদি তা বাক্য ও তার বিপরীতের চেয়ে বিশেষ কিছুর মধ্যে হয় তবে তা একত্র হওয়া প্রতিরোধকারী (মানিয়াত জাম); আর যদি তা বাক্য ও তার বিপরীতের চেয়ে সাধারণ কিছুর মধ্যে হয় তবে তা শূন্যতা প্রতিরোধকারী (মানিয়াত খুলু)।

আর প্রকৃত (হাকিকিয়া) যুক্তি তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত হয় না, কারণ যদি তা গঠিত হতো তবে 'গ' হতো 'খ' এর বিপরীতের জন্য অপরিহার্য। সুতরাং যদি 'খ' এর বিপরীত 'ক' এর জন্য অপরিহার্য না হয়, তবে 'খ' ও 'ক' এর মধ্যে প্রকৃত বিচ্ছিন্নতা থাকত না। অন্যথায় 'গ' অপরিহার্য হতো ফলে তাদের মধ্যে কোনো প্রকৃত বিচ্ছিন্নতা থাকত না। আর কখনো এটি পূর্ণ বাক্য ও বিচ্ছিন্ন বাক্য থেকে গঠিত হয়, ফলে মনে হয় যে এটি তিনটি অংশ থেকে গঠিত হয়েছে।

আল-আসির বলেন: কখনো বিপরীতের সমমানটি বিচ্ছিন্ন হতে পারে, তখন বাক্যটিকে বহু অংশ বিশিষ্ট বলা হয়: যেমন কোনো সংখ্যা বিজোড় হবে, অথবা জোড়ের জোড় হবে, অথবা জোড়ের বিজোড় হবে, অথবা জোড়ের জোড় ও বিজোড় উভয়টি হবে। আর একত্র হওয়া প্রতিরোধকারী (মানিয়াত জাম) যুক্তি দুইয়ের অধিক অংশ থেকে গঠিত হতে পারে, কারণ কোনো বস্তুর বিপরীতের বিশেষত্বগুলো ভিন্ন ভিন্ন হওয়াসহ একাধিক হওয়া সম্ভব।

(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ১৭)
قال في الملخص بخلاف مانعة الخلو وجوب ذكر لازم الشيء الأعم في مقابلة نقيضه فإذا كانت لوازم امتنع إدخاله حرف الانفصال عليهما لمنع الجمع.

قلت: يريد باللوازم لوازم الشيء فيمتنع حرف انفصال منع الجمع بينهما لأنها لوازم أمر قال وجد وجدت معا وحرف انفصال مع الخلو لجواز رفع لوازم أمر بارتفاعه بثبوت نقيضه وجوزه الخونجي قال كقولنا أما إن لا يكون هذا الشيء إنسانا أو لا يكون فرسا أو لا يكون ثورا أو لا يكون عنقاء.

قال: وقد يفرق بان منع الجمع في ما نعته بين كل جزء بعينه وبين كل ما سواه بعينه وبين أحد ما سواء وفي مانعته الخلو بين كل جزء بعينه وبين كل ما سواه بعينه بينه وبين أحد وما سواه كأنه أخص من أحد ما سواه مطلقا ولا عناد بين الاعم والاخص جمعا ولا خلوا.

وسالبة كل منها ذات سلب. ذلك عنها موجبة لأجزاء أولا لا باثباته لزوم السلب والعناد. وجهتها واطلاقها بجهة اللزوم والعناد واطلاقهما وكل منها ياتلف من حملية أو متصلة أو منفصلة مع مماثلة أو غيره.

فلترتيب أجزاء المتصلة طبعا كانت أقسامها تسعة ولعدمه في المنفصلة كانت ستة.

وتعدد اللزومية بتعدد تاليها لا مقدمها للزوم الجزء ملزوم كله وعدم ملزومة الجزء لازم كله. والاتفاقية بتعددهما لعدم التوقف على العلاقة. والمنفصلة كذلك بحسب منع الخلو لملزومية عدم كذب الكل عدم كذب الجزء لا الجمع لعدم ملزومية عدم صدق الكل عدم صدق الجزء.

وسوالبها على العكس في ذلك، السراج: قد يؤخر حرف الاتصال الانفصال عن موضوع المقدم فتصير كحملية لكنهما يتلازمان في المتصلة دون المنفصلة لآن الحقيقية المركبة من كليتين مشتركتين في الموضوع إذا قدم حرف الانفصال عليه صارت مانعة جمع دون خلو.

الأثير: إن أريد بكل ج أما ب وأما د إن كل واحد منهم موصوف بإحداهما فهي حملية. وان أريد الانفصال بين ب ود فمانعة جمع. وتتألف صادقة المتصلة لزومية من غير مقدم صادق مع تال كاذب واتفاقية من صادقتين وكاذبتهما مها سوى ما هما عنه صادقتان وصادقة المنفصلة حقيقية من صادق وكاذب ومانعة جمع من كاذبين أو صادق وكاذب وكاذبة كل منهما خصها الحمل بما سوى ما هي منه صادقة.

وقيده ابن واصل بالاتفاقية لجواز كذب إهمال عناديتهما بما هي منه صادقة حيث لا عناد.

وكلية المتصلة والمنفصلة اللزوميتين بعموم اللزوم والعناد في الفروض والأزمنة والأحوال غير المنافية استلزام المقدم للتالي أو عناده اياه وجزئيتهما بجزئيتهما وخصوصها بتعيين بعض منها.

وشرط كلية الاتفاقية كون طرفيها بحسب الحقيقة إذ يجوز كذبهما في الخارج في بعض الأزمنة.

وسور المتصلة الكلية موجبة مرادفة والمنفصلة دائما. وسار السالبة الكلية فيهما " ليس البتة ".

وسور الإيجاب الجزئي فيهما " قد يكون ".

وسور السلب الجزئي في المتصلة " ليس كلما ". وفي المنفصلة " ليس دائما " وإطلاق " إن " و " إذا " و " لو " في المتصلة و " أما " في المنفصلة إهمال. والمشهور إن عكسها كالحمليات. ورد السراج عكسها، المستوى بأنه لا يلزم من استصحاب المقدم التالي إن يكون فيه استصحاب للمقدم.

وبرهان الحمليات لا يتم لان سلب الشيء عن نفسه محال. وسلب لزوم الشيء عن نفسه ليس كذلك لان اللزوم نسبة تستدعي كونها بين أمرين وعكسها عكس النقيض بان برهان خلف عكسه في الحمليات المخالف ينتج بضم نقيض العكس إلى الأصل من الأول ثبوت الشيء لنقيضه وهو محال.

وفي الشرطيات ينتج ثبوت التالي على تقدير نفيه وليس بمحال لجواز كون نقيض التالي محالا قد يستلزم محالا. وبرهان عكسه تم الموافق في الشرطيات لا يتم لان نقيض العكس فيه سالب لا يصلح صغرى في الأول فاورد لزوم عقم الاستثناء المستثنى فيه نقيض التالي.

أجاب بأنه واقع لا مقدر والمحال يقدر ولا يقع. ويرد الأول بان الحملية ذات نسبة فان لزوم النسبة المغايرة المذكورة ففيهما سلمناه مطلق المغايرة في الزمن كافية. وهي حاصلة لان كون الشيء حاصلا ملزوما أو موضوعا غير كونه لازما أو محمولا.

والثاني في المخالف بان المحال إنما يستلزم محالا إذ كان ذا علاقة تقتضيه وهو هنا ذو علاقة تنافيه بل إذا كان ذا علاقة تقتضيه وذا علاقة تنافيه فعدم ملزوميته له من حيت كونه ذا علاقة تنافيه واضح.
'আল-মুলাখ্খাস' গ্রন্থে বলা হয়েছে, রিক্ততা-নিবারক (মানিআতুল খুলু) বচনের বিপরীত হলো, কোনো বিষয়ের অধিকতর ব্যাপক অনুষঙ্গের সাথে তার বিরোধীর উল্লেখ থাকা আবশ্যক হওয়া। সুতরাং যদি সেগুলো অনুষঙ্গ হয়, তবে একত্রীকরণ নিবারণের লক্ষ্যে সেগুলোর ওপর বিয়োগসূচক অব্যয় প্রবেশ করানো অসম্ভব হবে।

আমি বলি: 'অনুষঙ্গসমূহ' দ্বারা তিনি বিষয়ের আবশ্যিক অনুষঙ্গসমূহকে বুঝিয়েছেন। ফলে এগুলোর মাঝে একত্রীকরণ-নিবারক বিয়োগসূচক অব্যয় ব্যবহার করা অসম্ভব; কারণ সেগুলো একই বিষয়ের আবশ্যিক অনুষঙ্গ। তিনি বলেন: সেগুলো একত্রে পাওয়া যায়। আর রিক্ততা-নিবারক বিয়োগসূচক অব্যয়টি এক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, কারণ কোনো বিষয় উঠে যাওয়ার মাধ্যমে তার আবশ্যিক অনুষঙ্গসমূহও উঠে যাওয়া এবং তার বিপরীতটি সাব্যস্ত হওয়া সম্ভব। আল-খুনাজী একে বৈধ বলেছেন। তিনি বলেন: যেমন আমাদের কথা— হয় এই বিষয়টি মানুষ হবে না, অথবা ঘোড়া হবে না, অথবা ষাঁড় হবে না, অথবা ফিনিক্স হবে না।

তিনি বলেন: এদের মধ্যে এভাবে পার্থক্য করা যায় যে, একত্রীকরণ-নিবারক বচনের ক্ষেত্রে প্রতিটি নির্দিষ্ট অংশ এবং তার অবশিষ্ট অংশের মধ্যে, কিংবা তার অবশিষ্ট অংশগুলোর কোনো একটির মধ্যে একত্রীকরণ নিবারণ করা হয়। আর রিক্ততা-নিবারক বচনের ক্ষেত্রে প্রতিটি নির্দিষ্ট অংশ এবং তার অবশিষ্ট অংশের মধ্যে, কিংবা তার অবশিষ্ট অংশগুলোর কোনো একটির মধ্যে রিক্ততা নিবারণ করা হয়; যেন এটি অবশিষ্ট অংশের কোনো একটি থেকে সাধারণভাবে অধিকতর বিশেষ। আর সাধারণভাবে অধিকতর সাধারণ এবং বিশেষের মধ্যে একত্রীকরণ বা রিক্ততা— কোনো ক্ষেত্রেই কোনো বৈরিতা নেই।

এগুলোর প্রতিটির নঞর্থক রূপ নেতিবাচক সত্তাবিশিষ্ট। সেগুলো থেকে বিষয়টি নঞর্থক হওয়া প্রথমে অংশগুলোর জন্য আবশ্যক হয়, কিন্তু তা নেতিবাচকতা ও বৈরিতার আবশ্যকতা সাব্যস্ত করার মাধ্যমে নয়। এগুলোর দিক (জিহাহ) এবং নিঃশর্ততা নির্ধারিত হয় আবশ্যকতা ও বৈরিতার দিক এবং তাদের নিঃশর্ততার মাধ্যমে। এগুলোর প্রতিটি গঠিত হয় অনপেক্ষ (হামলিয়া), প্রাকল্পিক (মুত্তাসিলা) অথবা বৈকল্পিক (মানফাসিলা) বচন থেকে, যা সমজাতীয় অথবা ভিন্নজাতীয় হতে পারে।

প্রাকল্পিক বচনের অংশগুলোর বিন্যাস স্বাভাবিক হওয়ার কারণে এর প্রকার নয়টি, আর বৈকল্পিক বচনে এমন বিন্যাস না থাকার কারণে এর প্রকার ছয়টি।

অনিবার্য প্রাকল্পিক বচনের বহুত্ব নির্ধারিত হয় তার অনুগের (তালি) বহুত্বের মাধ্যমে, পূর্বগের (মুকাদ্দাম) মাধ্যমে নয়; কারণ অংশের অনিবার্যতা সমগ্রের জন্য আবশ্যক, কিন্তু অংশের আবশ্যকতা সমগ্রের জন্য অনিবার্য নয়। আর আপতিক প্রাকল্পিক বচনের বহুত্ব নির্ধারিত হয় উভয় পদের বহুত্বের মাধ্যমে, কারণ এটি কোনো সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না। বৈকল্পিক বচনের ক্ষেত্রেও রিক্ততা-নিবারণের বিচারে অনুরূপ হয়; কারণ সমগ্রের মিথ্যা না হওয়া অংশের মিথ্যা না হওয়ার জন্য আবশ্যিক। কিন্তু একত্রীকরণ-নিবারণের ক্ষেত্রে এমন হয় না; কারণ সমগ্রের সত্য না হওয়া অংশের সত্য না হওয়ার জন্য আবশ্যিক নয়।

এগুলোর নঞর্থক রূপগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি এর বিপরীত। আস-সিরাজ বলেন: কখনও সংযোগ বা বিয়োগসূচক অব্যয়টি পূর্বগের উদ্দেশ্য পদ থেকে পিছিয়ে যেতে পারে, ফলে তা অনপেক্ষ বচনের মতো হয়ে যায়। তবে প্রাকল্পিক বচনের ক্ষেত্রে উভয় রূপ পরস্পরকে অপরিহার্য করে নিলেও বৈকল্পিক বচনের ক্ষেত্রে তা হয় না। কারণ উদ্দেশ্য পদে অংশীদারী দুটি সার্বিক বচনের সমন্বয়ে গঠিত প্রকৃত বৈকল্পিক বচনের শুরুতে যদি বিয়োগসূচক অব্যয়টি বসানো হয়, তবে সেটি একত্রীকরণ-নিবারক হয়, রিক্ততা-নিবারক নয়।

আল-আসীর বলেন: যদি উদ্দেশ্য হয় যে প্রতিটি 'জ' হয় 'ব' অথবা 'দ' হবে—অর্থাৎ তাদের প্রত্যেকেই কোনো একটি গুণের অধিকারী, তবে সেটি অনপেক্ষ বচন। আর যদি উদ্দেশ্য হয় 'ব' ও 'দ'-এর মধ্যে বিযুক্তি বা বিচ্ছিন্নতা, তবে সেটি একত্রীকরণ-নিবারক বচন। অনিবার্য সত্য প্রাকল্পিক বচন গঠিত হয় সত্য পূর্বগ ও মিথ্যা অনুগ ব্যতীত অন্য যে কোনো উপায়ে। আর আপতিক প্রাকল্পিক বচন গঠিত হয় দুটি সত্য পদ থেকে। এই দুটি যে পদ্ধতিতে সত্য হয়, তার ব্যতিক্রম হলে বচনটি মিথ্যা হবে। সত্য প্রকৃত বৈকল্পিক বচন গঠিত হয় একটি সত্য ও একটি মিথ্যা পদ থেকে। একত্রীকরণ-নিবারক সত্য বচন গঠিত হয় দুটি মিথ্যা পদ থেকে অথবা একটি সত্য ও একটি মিথ্যা পদ থেকে। এগুলোর প্রতিটির মিথ্যা রূপটি অনপেক্ষ বচনের মতোই নির্দিষ্ট করা হয়, যে পদ্ধতিতে সেটি সত্য হয় তার ব্যতিক্রম পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে।

ইবনে ওয়াসিল একে আপতিক বচনের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন; কারণ যেখানে কোনো বৈরিতা নেই, সেখানে বৈরিতার অবর্তমানে সেগুলোর মিথ্যা হওয়া সম্ভব, যদিও সেই পদ্ধতিতেই তা সত্য হওয়ার কথা ছিল।

অনিবার্য প্রাকল্পিক ও বৈকল্পিক বচনের সার্বিকতা নির্ধারিত হয় অনুমিতি, কাল এবং অবস্থার ব্যাপকতার ভিত্তিতে, যা পূর্বগ ও অনুগের পারস্পরিক অনিবার্যতা বা বৈরিতার পরিপন্থী নয়। আর এগুলোর আংশিকতা ও বিশেষত্ব নির্ধারিত হয় অংশবিশেষের ভিত্তিতে এবং নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে।

আপতিক বচনের সার্বিক হওয়ার শর্ত হলো এর উভয় প্রান্ত বাস্তবিকভাবে সত্য হওয়া; কারণ বাহ্যিক জগতে কোনো কোনো সময়ে এগুলোর মিথ্যা হওয়া সম্ভব।

সদর্থক সার্বিক প্রাকল্পিক বচনের মানক হলো 'সর্বদা', এবং বৈকল্পিক বচনের ক্ষেত্রেও তাই। আর উভয় ক্ষেত্রে নঞর্থক সার্বিক মানক হলো 'কখনোই নয়'।

উভয় ক্ষেত্রে আংশিক সদর্থক মানক হলো 'কখনও কখনও হতে পারে'।

প্রাকল্পিক বচনে আংশিক নঞর্থক মানক হলো 'সব সময় এমন নয় যে'। আর বৈকল্পিক বচনে এটি হলো 'সর্বদা নয়'। প্রাকল্পিক বচনে 'যদি', 'যখন' ও 'যদি এমন হতো' এবং বৈকল্পিক বচনে 'হয়' শব্দের নিঃশর্ত ব্যবহার অবহেলা বা অস্পষ্টতা হিসেবে গণ্য। প্রসিদ্ধ মতে, এগুলোর আবর্তন অনপেক্ষ বচনের মতোই। তবে আস-সিরাজ এর আবর্তনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং একে সমান্তরাল বলেছেন; কারণ পূর্বগের সাথে অনুগের সহাবস্থান থেকে এটি আবশ্যক হয় না যে, সেখানে পূর্বগের জন্যও সহাবস্থান থাকবে।

অনপেক্ষ বচনের প্রমাণ এখানে সম্পন্ন হয় না; কারণ কোনো বিষয় থেকে নিজের নেতিবাচকতা অসম্ভব। কিন্তু কোনো বিষয় থেকে নিজের অনিবার্যতার নেতিবাচকতা তেমন নয়; কারণ অনিবার্যতা হলো একটি সম্বন্ধ যা দুটি বিষয়ের উপস্থিতি দাবি করে। আর এর আবর্তন হলো বিপরীত আবর্তন (আকসে নাকিয)। কারণ অনপেক্ষ বচনের ক্ষেত্রে আবর্তনের বিপরীত প্রমাণটি প্রথম প্রকারের সাথে আবর্তনের বিপরীতের বিরোধী যুক্ত করলে ফলাফল আসে—নিজের বিরোধীর জন্য কোনো বিষয় সাব্যস্ত হওয়া, যা অসম্ভব।

শর্তমূলক বচনের ক্ষেত্রে ফলাফল আসে— অনুগকে অস্বীকার করার অনুমানে অনুগ সাব্যস্ত হওয়া। এটি অসম্ভব নয়; কারণ অনুগের বিপরীতটি অসম্ভব হতে পারে যা অন্য একটি অসম্ভবকে অনিবার্য করে। আর শর্তমূলক বচনের ক্ষেত্রে সমান্তরাল আবর্তনের প্রমাণটি সম্পন্ন হয় না; কারণ এর আবর্তনের বিপরীতটি হলো নঞর্থক, যা প্রথম প্রকারে অপ্রধান পদ (সুগরা) হওয়ার যোগ্য নয়। তাই এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী অনুমানের (ইস্তিসনা) বন্ধ্যাত্ব বা অসারতা উঠে আসে যেখানে অনুগের বিপরীতকে ব্যতিক্রম হিসেবে ধরা হয়।

তিনি উত্তর দিয়েছেন যে, এটি বাস্তব ঘটনা, কোনো আনুমানিক বিষয় নয়। আর অসম্ভব বিষয় অনুমান করা যায় কিন্তু বাস্তবে ঘটে না। প্রথমটির উত্তরে বলা হয়: অনপেক্ষ বচনেরও সম্বন্ধ রয়েছে। যদি উক্ত ভিন্নধর্মী সম্বন্ধের অনিবার্যতা সেখানেও মেনে নেওয়া হয়, তবে সময়ের দিক থেকে সামান্য ভিন্নতাই যথেষ্ট। আর তা অর্জিত হয়; কারণ কোনো বিষয়ের অনিবার্য বা উদ্দেশ্য হওয়া আর তার অনুগ বা বিধেয় হওয়া এক কথা নয়।

দ্বিতীয়টির উত্তরে বলা হয়: অসম্ভব বিষয় কেবল তখনই অসম্ভবকে অনিবার্য করে যখন তাদের মধ্যে এমন কোনো সম্পর্ক থাকে যা তাকে দাবি করে। আর এখানে এমন সম্পর্ক রয়েছে যা তার পরিপন্থী। বরং যখন এমন সম্পর্ক থাকে যা তাকে দাবি করে এবং একই সাথে এমন সম্পর্ক থাকে যা তার পরিপন্থী, তখন পরিপন্থী সম্পর্কের দিক থেকে তার অনিবার্য না হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ১৮)
واستلزام المتصلة مثلها في المقدم. والكم متناقضتي التالي والكيف قول الجمل والموجز والشيخ محتجا في استلزام الموجبة بأن ملزومية أمر الآخر ملزوم لسلب ملزوميته لنقيضه وإلا لزم النقيضان وقرر بإنتاج نقيض السالبة مع الأصل من الثالث لزم سلب لثبوته وفي السالبة بأنه إذا صدق سلب التالي لزم ثبوت نقينه.

ورد في الكشف الأول بعدم امتناع لزوم النقيضين ملزوما محالا وجاز كون. المقدم محالا لقياس الخلف إذ معناه لزم النقيضين مع النقيض المطلوب.

وابن واصل: الثاني بعدم امتناع لزوم سلب الشيء لنفسه لجواز كون المقدم محالا والكاتبي: بعدم استحالة حالة لزوم الشيء لنقيضه لزوما جزئيا بل وجب ببرهان الثالث والوسط مجموع النقيضين. ورد الثاني بأنه لا يلزم من سلب لزوم أمر لزوم سلب نقيضه.

ويرد ردهم الأول بان صدق الموجبة يدل على كون المقدم ولو كان محالا ذا علاقة تقتضي لزوم التالي له في كل اوضاعه غير المنافية له أو بعضها وكل ما كان ذلك امتنع كونه حينئذ ذا علاقة تقتضي نقيض التالي لأنها منافية له من حيث أنه ذا العلاقة المقتضية لزوم التالي وكلما كان كذلك امتنع كونه ملزوما لنقيض التالي.

وزعمه ثبوت ذلك في قياس الخلف يرد بران حاصله إن نقيض المطلوب ملزوم لمحال وهو نقيض ما علم صدقه وهو. إحدى المقدمتين وإنما يتم زعمه إن لو كان حاصله مجموع نقيض المطلوب والمقدمتين فيكون ذلك المجموع ملزوما لإحدى المقدمتين ونقيضهما وهو نتيجة وتستلزم مانعة جمع من غير مقدمها ونقيض تاليها ومانعة خلو من نقيض مقدمها وعين تاليها ويستلزمها.

ورد ابن واصل الأخير بجواز كون أحد جزئي الأولى ونقيض أحد جزئي الثانية محالا يستلزم كذب المتصلة فلا يتم الاستلزام.

قلت: استحالته لا توجب كذبة كما إلا تدفع عناده الآخر فكلما ثبت ارتفع الآخر وكلما ارتفع ثبت الآخر ضرورة عنادهما. والحقيقة متصلة من أحد جزئيها. ونقيض الآخر وكل موجبة من المتصلة والمنفصلات غيرها مركبة من جزيئها دون عكس وكلا بسيطتي المنفصلة إحداهما الأخرى من نقيضي جزئيها. وقياسها اقتراني واستثنائي والأول منها أو منها ومن حملي خمسة أقسام: الأول من متصلتين ووسطه جزء تام تتعقد فيه الأشكال الأربعة حكمها فيه كالحملي شكك في الشيخ فكذب نتيجة كلما كان الاثنان فردا كان عددا وكلما كان عددا منقسما بمتساويين والنتيجة كاذبة.

وأجاب بمنع الصغرى لأن مقدمها محال فجاز إن يستلزم المحال. والخونجي بمنع صدق كلية الكبرى. وقدح فيه الأثير وغيره بجواز كون مقدم الصغرى محالا فجاز إلا يصدق مع فرض وقوعه الكبرى الصادقة.

وأجاب ابن واصل بعد صوبه بأن عموم صدق الكبرى في كل أوضاع مقدمها غير المنافية له يوجب صدقها على تقدير صدق مقدم الصغرى لأنه بعض أوضاع مقدم الكبرى غير المنافية له لأنه ملزومه في الصغرى والملزوم لا ينافي لازمه.

وان كان وسطه غير تام فيهما فضابطه كلية إحدى مقدمتيه مع اشتمال متشاركيه على تأليف منتج أو إنتاج أحدهما ولو بكليته مع نتيجة التأليف بصورتها وعكسها كليا لمقدم كلية هي إحدى مقدمتيه ولازمتها.

وفي الكشف وبيان الحق أو إنتاج نتيجة التأليف مع تالي إحدى المقدمتين المتفقتي الكيف تالي الأخرى أو مع أحد طرفي كلية موجبة تالي سالبة شارطين إيجاب مشاركة التالي في الأمر الأول وتؤخذ نتيجة التأليف ولو في غير هذا كلية ما ينتج ما يحتاج إليه سالبة إن كانت من مختلفي الكيف وإلا فموجبة نتيجة متصلة جزئية موجبة مقدمها متصلة من نتيجة التأليف وغير المشارك من الصغرى كيفها ككيفها وتاليها كذلك من الكبرى أو نتيجة التأليف منها فيما، انتج بالأمر الأول ولو في غير هذا كم نتيجة قياسه وفيما انتج بالأمر الثاني كليه إن كان المنتج عينه، جزئية إن كان عكسها وضعها فيها وضع المتشاركين من المقدمتين.

الخونجي والسراج: المتصلة موجبة كلة جزئية المقدم تستلزم مثلها كليته وكلية التالي مثلها عكس جزئية السالبة وجزئية كلية أحد طرفيها مثلها جزئيته عكس كلية برهانه بضمنها لما تاليها جزء مقدمها مركبة من الجزء المطلوب كمه.
অবিচ্ছিন্ন শর্তমূলক বচনের আবশ্যিকতা তার পূর্বপদের ক্ষেত্রে অনুরূপ হওয়া। অনুপদের পরস্পরবিরোধী বিষয়ের ক্ষেত্রে পরিমাণগত সামঞ্জস্য এবং আল-জুমাল, আল-মুজায ও শেখের উক্তি অনুসারে গুণগত সামঞ্জস্য বজায় থাকে। শেখ (ইবনে সিনা) সদর্থক বচনের আবশ্যিকতার স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন যে, একটি বিষয় অন্যটির অনিবার্য হওয়া মানে তার বিরোধীর অনিবার্যতার অভাবকে আবশ্যক করা, অন্যথায় দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয় আবশ্যক হয়ে পড়বে। তিনি তৃতীয় প্রকারের ন্যায়ানুমান থেকে নঞর্থক বচনের বিরোধী ও মূল বচনের সমন্বয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রমাণ করেছেন যে, কোনো কিছুর অস্তিত্বের জন্য তার অভাব আবশ্যক হয়। আর নঞর্থক বচনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হলো যে, যখন অনুপদের অভাব সত্য হবে তখন তার বিরোধীর অস্তিত্ব আবশ্যক হবে।

কাশফ-এ প্রথমত এই বলে উত্তর দেওয়া হয়েছে যে, অসম্ভব কোনো বিষয়ের জন্য দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয় অনিবার্য হওয়া অসম্ভব নয়। আর অসম্ভাব্যতা প্রদর্শনকারী যুক্তির (ক্বিয়াস আল-খালাফ) খাতিরে পূর্বপদ অসম্ভব হওয়া বৈধ; কারণ এর অর্থ হলো অভীষ্ট বিষয়ের বিরোধীর সাথে দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের উপস্থিতি।

ইবনে ওয়াসিল বলেন: দ্বিতীয়ত, কোনো বস্তু নিজের অভাবকে আবশ্যক করা অসম্ভব নয়, কারণ পূর্বপদটি অসম্ভব হতে পারে। আল-কাতিবি বলেন: কোনো বস্তুর তার বিরোধীকে আংশিকভাবে আবশ্যক করা অসম্ভব নয়, বরং তৃতীয় প্রমাণের ভিত্তিতে তা অপরিহার্য এবং মধ্যপদ হলো পরস্পরবিরোধী দুটির সমষ্টি। দ্বিতীয়টির উত্তরে বলা হয়েছে যে, কোনো বিষয়ের আবশ্যকতা অস্বীকার করা মানেই তার বিরোধীর আবশ্যকতাকে স্বীকার করে নেওয়া নয়।

তাদের প্রথম আপত্তির উত্তরে বলা যায় যে, সদর্থক বচনের সত্যতা প্রমাণ করে যে পূর্বপদটি—যদিও তা অসম্ভব হয়—এমন একটি সম্পর্কের অধিকারী যা তার সমস্ত অ-বিরোধী অবস্থায় বা তার কিছু অবস্থায় অনুপদকে আবশ্যক করে। আর যখনই এমনটি ঘটে, তখন এমন সম্পর্কের অধিকারী হওয়া অসম্ভব যা অনুপদের বিরোধীকে আবশ্যক করে। কারণ এটি অনুপদকে আবশ্যক করার সম্পর্কের পরিপন্থী। আর যখনই এমনটি হয়, তখন অনুপদের বিরোধীর জন্য আবশ্যিক হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।

অসম্ভাব্যতা প্রদর্শনকারী যুক্তিতে (ক্বিয়াস আল-খালাফ) এর অস্তিত্বের যে দাবি তিনি করেছেন, তার উত্তরে একটি প্রমাণ দেওয়া যায় যার সারসংক্ষেপ হলো: অভীষ্ট বিষয়ের বিরোধী পক্ষ একটি অসম্ভব বিষয়কে আবশ্যক করে, যা মূলত এমন একটি বিষয়ের বিরোধী যার সত্যতা প্রমাণিত—আর তা হলো আশ্রয়বাক্যদ্বয়ের একটি। তার দাবি কেবল তখনই পূর্ণ হবে যদি এর ফলাফল অভীষ্ট বিষয়ের বিরোধী এবং আশ্রয়বাক্যদ্বয়ের সমষ্টি হয়। ফলে সেই সমষ্টি আশ্রয়বাক্যদ্বয়ের একটি এবং তাদের বিরোধীর আবশ্যকতা তৈরি করবে। এটি এমন একটি ফলাফল যা তার পূর্বপদ এবং অনুপদের বিরোধীর মধ্যে 'মানিআত আল-জাম' (একত্রীকরণ অসম্ভব) সম্পর্ক এবং তার পূর্বপদের বিরোধী ও অনুপদের মূলের মধ্যে 'মানিআত আল-খুলু' (একযোগে বর্জন অসম্ভব) সম্পর্ক আবশ্যক করে।

ইবনে ওয়াসিল শেষোক্ত যুক্তিটি খণ্ডন করেছেন এই বলে যে, প্রথমটির একাংশ এবং দ্বিতীয়টির একাংশের বিরোধী অসম্ভব হওয়া সম্ভব, যা অবিচ্ছিন্ন বচনের মিথ্যা হওয়াকে আবশ্যক করে; ফলে আবশ্যিকতা আর পূর্ণ হয় না।

আমি বলি: এর অসম্ভবতা তার মিথ্যা হওয়াকে আবশ্যক করে না, যেমনটি এটি অন্য বিরোধিতাকে প্রতিহত করে না। সুতরাং যখনই একটি প্রমাণিত হবে অন্যটি অপসারিত হবে, আর যখনই একটি অপসারিত হবে অন্যটি প্রমাণিত হবে—তাদের বিরোধের অনিবার্যতার কারণে। প্রকৃত সত্য হলো, এর একটি অংশ এবং অন্যটির বিরোধীর সমন্বয়ে অবিচ্ছিন্ন বচন গঠিত হয়। অবিচ্ছিন্ন বচনের প্রতিটি সদর্থক রূপ এবং অন্যান্য বিচ্ছিন্ন বচনগুলো তার অংশসমূহ দ্বারা গঠিত হয়, এর বিপরীতটি নয়। বিচ্ছিন্ন বচনের সরল রূপ দুটির প্রতিটি অন্যটির অংশের বিরোধীর সমান। এর ন্যায়ানুমান হলো সংযোজক ও বিয়োজক। প্রথমটি অথবা সেটি এবং বর্ণনামূলক বচন থেকে গঠিত ন্যায়ানুমান পাঁচ প্রকার: প্রথমটি দুটি অবিচ্ছিন্ন বচন থেকে গঠিত এবং এর মধ্যপদটি একটি পূর্ণ অংশ, যেখানে চারটি রূপ গঠিত হয়। এর বিধান বর্ণনামূলক বচনের ন্যায়। শেখ (ইবনে সিনা) এতে সন্দেহ পোষণ করেছেন, ফলে এর ফলাফল মিথ্যা প্রতিপন্ন হয়: "যখনই দুই বিজোড় হবে তখন তা সংখ্যা হবে, আর যখনই তা সংখ্যা হবে তখন তা দুটি সমান ভাগে বিভক্ত হবে।" অথচ এর ফলাফল মিথ্যা।

তিনি ক্ষুদ্রতর আশ্রয়বাক্যকে অস্বীকার করে উত্তর দিয়েছেন যে, এর পূর্বপদ অসম্ভব, তাই অসম্ভব বিষয় অসম্ভবকে আবশ্যক করা বৈধ। আল-খুনজি সার্বিক বৃহত্তর আশ্রয়বাক্যের সত্যতাকে অস্বীকার করেছেন। আল-আছির ও অন্যান্যরা এতে আপত্তি তুলেছেন এই বলে যে, ক্ষুদ্রতর আশ্রয়বাক্যের পূর্বপদ অসম্ভব হওয়া সম্ভব, ফলে তা ঘটার অনুমিতির সাথে সত্য বৃহত্তর আশ্রয়বাক্যটি সত্য নাও হতে পারে।

ইবনে ওয়াসিল এটিকে সঠিক গণ্য করার পর উত্তর দিয়েছেন যে, বৃহত্তর আশ্রয়বাক্যের পূর্বপদের সমস্ত অ-বিরোধী অবস্থায় তার সত্যতা সত্য হওয়াকে আবশ্যক করে, ক্ষুদ্রতর আশ্রয়বাক্যের পূর্বপদ সত্য হওয়ার অনুমিতিতে। কারণ এটি বৃহত্তর আশ্রয়বাক্যের পূর্বপদের এমন কিছু অবস্থা যা তার বিরোধী নয়, কেননা ক্ষুদ্রতর আশ্রয়বাক্যে এটি তার আবশ্যিক বিষয়, আর আবশ্যিক বিষয় তার মূলের পরিপন্থী হয় না।

যদি উভয় ক্ষেত্রে মধ্যপদটি পূর্ণ না হয়, তবে এর নিয়ম হলো আশ্রয়বাক্যদ্বয়ের একটির সার্বিক হওয়া এবং তার অংশীদারদের এমন বিন্যাস থাকা যা ফলাফল প্রদান করে, অথবা কোনো একটির—এমনকি তার সার্বিক রূপের—ফলাফলের বিন্যাস ও তার বিপরীতের সাথে সার্বিক পূর্বপদের জন্য ফলাফল দেওয়া। সেই সার্বিক বচনটি আশ্রয়বাক্যদ্বয়ের একটি এবং তার অনুগামী।

আল-কাশফ এবং বায়ানুল হক-এ বলা হয়েছে: অথবা বিন্যাসের ফলাফলকে গুণগতভাবে একজাতীয় দুটি আশ্রয়বাক্যের একটির অনুপদের সাথে অন্যটির অনুপদ হিসেবে যুক্ত করা। অথবা একটি সদর্থক সার্বিক বচনের এক প্রান্তের সাথে একটি নঞর্থক বচনের অনুপদ যুক্ত করা। এতে শর্ত হলো প্রথম ক্ষেত্রে অনুপদের অংশীদারিত্ব সদর্থক হতে হবে। বিন্যাসের ফলাফল নেওয়া হবে—এমনকি এটি ছাড়াও—সেই সার্বিক বচন হিসেবে যা প্রয়োজনীয় ফলাফল দেয়; যদি গুণগতভাবে ভিন্ন হয় তবে নঞর্থক, অন্যথায় সদর্থক। এর ফলাফল হবে একটি সদর্থক বিশেষ অবিচ্ছিন্ন বচন, যার পূর্বপদ হবে বিন্যাসের ফলাফল এবং ক্ষুদ্রতর আশ্রয়বাক্যের অংশীদারহীন অংশ থেকে গঠিত একটি অবিচ্ছিন্ন বচন। এর গুণ ক্ষুদ্রতর আশ্রয়বাক্যের গুণের মতো হবে এবং অনুপদটি বৃহত্তর আশ্রয়বাক্য থেকে একইভাবে গঠিত হবে। অথবা বিন্যাসের ফলাফল থেকে যা প্রথম নিয়মে অর্জিত হয়, এমনকি এটি ছাড়া অন্য ক্ষেত্রেও যেমন তার ন্যায়ানুমানের ফলাফল। আর যা দ্বিতীয় নিয়মে অর্জিত হয়, যদি উৎপাদিত বিষয়টি হুবহু হয় তবে তা সার্বিক হবে, আর যদি তার বিপরীত হয় তবে তা বিশেষ হবে। এর বিন্যাস হবে আশ্রয়বাক্যদ্বয়ের অংশীদারদের বিন্যাসের মতো।

আল-খুনজি ও আল-সিরাজ বলেন: অবিচ্ছিন্ন সদর্থক সার্বিক বচন, যার পূর্বপদ বিশেষ, সেটি তার সার্বিকত্বের অনুরূপ বিষয়কে এবং অনুপদের সার্বিকত্বের অনুরূপ বিষয়কে আবশ্যক করে। এটি নঞর্থক বিশেষ বচনের বিপরীতের মতো। আর যার এক প্রান্ত সার্বিক বিশেষ, তার বিশেষত্ব তার বিপরীত সার্বিকত্বের মতো। এর প্রমাণ এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের মাধ্যমে; কারণ যখন এর অনুপদ তার পূর্বপদের অংশ হয়, তখন তা অভীষ্ট অংশ ও তার পরিমাণের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ১৯)
قلت: لا يقال وجزئيته موجبة جزئية المقدم مثلها كلية الاستلزام الكل جزء الملزوم للتالي المذكور لجواز كون عنوان الجزئية جنسا فتصدق ملزومة لسلب كليتها وتكذب ومقدمها كلية ملزومة له " كقد يكون إذا كان بعض الحيوان إنسانا ليس كل الحيوان إنسانا " ولا يصدق " قد يكون إذا كان الحيوان إنسانا ليس كل الحيوان إنسانا ".

أقسامه أربعة: ما الشركة فيه بمقدمها ضروبه مسطح المحصورات صغريات وكبريات ومسطح المقدمين كذلك عقم ضروب المتصلتين جزئيتين بين وغيرها ان كان المتشاركان على تأليف الأول فأربع ضروب المتصلتين كايتين ينتج في كل ضرب منه ضروبه وما يستلزم الكبرى الموجبة الجزئية المقدم كليته بالأمر الأول من الضابط وسط قياس برهانه من الثالث ملزومية أحد المتشاركين الآخر فيلزمها نتيجة التأليف وتالي الصغرى فيلزمها لزوما جزئيا ويلزمها أيضا نتيجة وتالي الكبرى فيلزمها لزوما جزئيا فهو اذن ملزوم للجزئيتين فتلزم إحداهما الأخرى جزئيا.

ونافيها بالأمر الثاني من الضابط. وسط قياس برهانه إن جعل الملزوم احد المتشاركين من الثالث فيلزمه نتيجة التأليف وتالي الصغرى بذاته أو بوسط نتاجه مقدمها إن جعل الملزوم مقدم الكبرى فيلزم تالي الصغرى لنتيجة التأليف جزئيا ويلزمه أيضا نتيجة التأليف وتالي الكبرى كذلك فيلزمه جزئيا ويتم كما مر وإن جعل نتيجة التأليف فالقياسان الأولان من الأول لأن على ذلك التقدير لمقدمة كذلك وأيضا تالي المشارك الآخر كذلك بوسط ملزوميتها لمقدمه كذلك وأيضا تلي المشارك الآخر كذلك بوسط ملزوميتها لها والمشارك المنتج معها المشارك الآخر لزوما كليا فملزوميتها أذن للمشارك المنتج معها ملزومة الكليتين ويتم كما مر والخلف عام بأن تضم نقيض النتيجة لآحدى مقدمي المطلوب لينتج منافي الاخرى.

وأربع ضروب المتصلتين والصغرى جزئية ينتج في كل ضرب منها ضروبه وثمانية من مقدم الصغرى موجبة مع مقدم الكبرى جزئية ومن مقدم الصغرى سالبة مع مقدم الكبرى كذلك بعض لازم لضروبه وكلها بالأمر الناتج والبرهان بما مر.

واربع ضروبها والكبرى جزيئة في كل ضرب منها ضروبه وتسعة من مقدم الصغرى سالبة مع مقدم الكبرى كذلك المحصورات ومنه موجبا جزئيا مع مثله مر.

وبرهن منه السراج وابن واصل ما مقدم صغراه موجبة جزئية ومقدم كبرى مثله بالثالث ووسطه ملزومية مقدم الكبرى النتيجة: التأليف ملزوميته لملزومية ما تقدم الكبرى عكسه لنتيجة التأليف فيلزم ملزوميته لنفسه ولنتيجة التأليف المنتجين اخص مقدم الصغرى فيلزم ملزومية ما مقدم الكبرى وعكسه لتالي الصغرى لملزوميته لمقدم الكبرى ينتجان من الثالث ملزومية نتيجة التأليف لتالي الصغرى ويلزمه أيضا ملزومية نتيجة التأليف لتالي الكبرى لزوما جزئيا من الثالث والوسط مقدم الكبرىَ ينتج من الثالث المطلوب وبما مر اخص وان كان على الثاني فضروبه أربعة: الأولى والثانية منتجة. ومن ضروب الثالثة ضروبه وثمانية الموجبتان مع مثلهما السالبتان مع مثلهما بما تقدم.

وان كانا على الثالث فضروب الأولى والثانية منتجة ومن الثانية ضروبه وستة السالبتان مع مثلهما والموجبة جزئية صغرى مع الجزئيتين بما تقدم. وان كانا على الرابع فالمنتج ضروب الأولى من الثانية ثمانية: الصغرى موجبة كلية مع السالبة جزئية أو موجبة جزئية مع الكبرى جزئية أو سالبة كلية مع الكبرى غير كوجبة كلية أو سالبة جزئية مع الكبرى سالبة ومن الثالثة ثمانية، الصغرى موجبة مع سالبة جزئية أو سالبة جزئية مع المحصورات أو سالبة كلية مع سالبة وما شركتها بتاليها منتجة ما شمله الامر الأول ضروب كل شكل ولو بالقوة لاستلزام الكلية كلية مقدمها في انثى عشر. ضروب المتصلتين من غير الجزئيتين على ضابط الجمل وتلازم المتصلتين على رأى أيجاب مشاركة التالي في ثلاثة اضرب: الصغرى موجبة في الكبرى كذلك غير ضرب الجزئيتين.
আমি বলছি: এটি বলা যাবে না যে, এর আংশিকতা (জুজইয়্যাহ) পূর্বপদের আংশিকতাকে আবশ্যক করে, যেমনটি আবশ্যিকতার সার্বিকতার (কুল্লিয়্যাহ) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে যে—সমুদয় হলো উক্ত পরপদের জন্য আবশ্যকীয় বিষয়ের অংশ; কেননা আংশিকতা শিরোনামটি একটি সাধারণ শ্রেণী (জিনস) হওয়া সম্ভব, ফলে তার সার্বিকতা নেতিবাচক হওয়ার ক্ষেত্রে তার আবশ্যকীয় বিষয়টি সত্য হতে পারে এবং তা মিথ্যা হতে পারে, যেখানে তার পূর্বপদটি তার জন্য একটি সার্বিক আবশ্যক বিষয়। যেমন: "কখনো এমন হতে পারে যে যদি কিছু জীব মানুষ হয়, তবে সকল জীব মানুষ নয়"—এটি সত্য। কিন্তু "কখনো এমন হতে পারে যে যদি জীব মানুষ হয়, তবে সকল জীব মানুষ নয়"—এটি সত্য নয়।

এর প্রকারভেদ চারটি: যার অংশীদারিত্ব তার পূর্বপদের মাধ্যমে হয়, তার পদ্ধতিগুলো হলো সীমাবদ্ধ বচনসমূহের (মাহসুরাত) সমতল ক্ষেত্র, ক্ষুদ্রতর (সুগরা) ও বৃহত্তর (কুবরা) হিসেবে। এবং দুটি পূর্বপদের সমতল ক্ষেত্রও তদ্রূপ। দুটি আংশিক মুত্তাসিলাহর (সংযুক্ত শর্তমূলক বচন) পদ্ধতিগুলোর অনুর্বরতা তাদের এবং অন্যান্যদের মাঝে যদি অংশীদারিত্ব প্রথম বিন্যাসের ওপর হয়, তবে দুটি মুত্তাসিলাহর চারটি পদ্ধতি রয়েছে যা তার প্রতিটি পদ্ধতির মধ্যে ফলাফল প্রদান করে। এবং যা বৃহত্তর সদর্থক আংশিকতাকে (আল-কুবরা আল-মুজিবা আল-জুজইয়্যাহ) অনিবার্য করে তোলে, তার পূর্বপদের সার্বিকতা হলো মূলনীতির প্রথম বিষয় অনুযায়ী। তার প্রমাণের যুক্তির মধ্যপদটি হলো তৃতীয় বিন্যাস থেকে; যা অংশীদারী দুটির একটির অপরটির প্রতি আবশ্যক হওয়া। ফলে বিন্যাসের ফলাফলটি তার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে এবং ক্ষুদ্রতরের পরপদটি তার জন্য আংশিকভাবে অপরিহার্য হয়। আবার ফলাফল এবং বৃহত্তরের পরপদটিও তার জন্য আংশিকভাবে অপরিহার্য হয়। সুতরাং তখন সেটি দুটি আংশিক বিষয়ের জন্য আবশ্যকীয় বিষয় হয়, ফলে তাদের একটি অপরটির জন্য আংশিকভাবে অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

এবং তার নেতিবাচক দিকটি মূলনীতির দ্বিতীয় বিষয় অনুযায়ী। তার প্রমাণের যুক্তির মধ্যপদটি হলো—যদি আবশ্যকীয় বিষয়টি অংশীদারী দুটির একটিকে তৃতীয় বিন্যাস থেকে ধরা হয়, তবে বিন্যাসের ফলাফল এবং ক্ষুদ্রতরের পরপদটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার জন্য অপরিহার্য হবে অথবা তার ফলাফলের মধ্যস্থতায় হবে। তার পূর্বপদটি—যদি আবশ্যকীয় বিষয়টি বৃহত্তরের পূর্বপদকে ধরা হয়, তবে বিন্যাসের ফলাফলের কারণে ক্ষুদ্রতরের পরপদটি আংশিকভাবে অপরিহার্য হবে। আবার বিন্যাসের ফলাফল এবং বৃহত্তরের পরপদটিও একইভাবে তার জন্য আংশিকভাবে অপরিহার্য হবে এবং তা আংশিকভাবে তার জন্য আবশ্যক হবে এবং পূর্বে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবে সম্পন্ন হবে। আর যদি বিন্যাসের ফলাফলকে ধরা হয়, তবে প্রথম দুটি যুক্তি প্রথম বিন্যাস থেকে হবে; কারণ সেই প্রাক্কলন অনুযায়ী একটি ভূমিকাও তদ্রূপ হবে। আর একইভাবে অপর অংশীদারের পরপদটিও তদ্রূপ হবে তার পূর্বপদের প্রতি আবশ্যক হওয়ার মধ্যস্থতায়। একইভাবে অপর অংশীদারের পরপদটিও তার সাথে আবশ্যক হওয়ার মধ্যস্থতায়। এবং অংশীদারটি যা অপর অংশীদারের সাথে ফলাফল প্রদান করে তা সার্বিকভাবে অপরিহার্য। অতএব, যা অপর অংশীদারের সাথে ফলাফল প্রদান করে তার জন্য তার আবশ্যক হওয়া হলো দুটি সার্বিক বিষয়ের আবশ্যক হওয়া এবং তা পূর্বে বর্ণিত নিয়মেই সম্পন্ন হবে। আর বিপরীত প্রমাণ পদ্ধতি (আল-খলফ) সার্বজনীন, যা হলো—ফলাফলের বিপরীতকে কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের অন্যতম ভূমিকার সাথে যুক্ত করা যাতে অপরটির বিরোধী ফলাফল পাওয়া যায়।

এবং দুটি মুত্তাসিলাহর চারটি পদ্ধতি যেখানে ক্ষুদ্রতর পদটি আংশিক, তার প্রতিটি পদ্ধতিতে ফলাফল প্রদান করে। আর ক্ষুদ্রতরের পূর্বপদ থেকে আটটি সদর্থক এবং বৃহত্তরের পূর্বপদের সাথে আংশিক; এবং ক্ষুদ্রতরের পূর্বপদ থেকে নঞর্থক এবং বৃহত্তরের পূর্বপদের সাথে একইভাবে—ফলাফলকৃত বিষয়ের ক্ষেত্রে কিছু অপরিহার্য বিষয় এবং তা প্রমাণের ক্ষেত্রে পূর্বে বর্ণিত নিয়মে হবে।

এবং এর চারটি পদ্ধতি যেখানে বৃহত্তর পদটি আংশিক, তার প্রতিটি পদ্ধতিতে ফলাফল প্রদান করে। আর ক্ষুদ্রতরের পূর্বপদ থেকে নয়টি নঞর্থক এবং বৃহত্তরের পূর্বপদের সাথে একইভাবে সীমাবদ্ধ বচনসমূহ; এবং তা থেকে সদর্থক আংশিক আর তার অনুরূপের কথা পূর্বে গত হয়েছে।

আস-সিরাজ এবং ইবনুল ওয়াসিল এ থেকে প্রমাণ করেছেন যে—যার ক্ষুদ্রতর পদের পূর্বপদ সদর্থক আংশিক এবং বৃহত্তরের পূর্বপদও তার অনুরূপ, তা তৃতীয় বিন্যাসের মাধ্যমে। তার মধ্যপদটি হলো বৃহত্তরের পূর্বপদের আবশ্যকতা। ফলাফলটি হলো: বিন্যাসটি যা বৃহত্তরের পূর্বে ছিল তার আবশ্যকতার জন্য আবশ্যক হওয়া, বিন্যাসের ফলাফলের বিপরীতে। ফলে সেটি নিজের জন্য এবং বিন্যাসের ফলাফলের জন্য আবশ্যক হওয়া অপরিহার্য হয় যা ক্ষুদ্রতরের পূর্বপদের অধিক বিশিষ্টতা প্রদান করে। ফলে বৃহত্তরের পূর্বপদ যা এবং তার বিপরীতটি ক্ষুদ্রতরের পরপদের জন্য আবশ্যক হওয়া অপরিহার্য হয়, যেহেতু তা বৃহত্তরের পূর্বপদের জন্য আবশ্যক। তারা দুজন তৃতীয় বিন্যাস থেকে বিন্যাসের ফলাফলের ক্ষুদ্রতরের পরপদের প্রতি আবশ্যক হওয়াকে ফলাফল হিসেবে গ্রহণ করেন। এবং তৃতীয় বিন্যাস থেকে বিন্যাসের ফলাফলের বৃহত্তরের পরপদের প্রতি আংশিকভাবে আবশ্যক হওয়াও তার জন্য অপরিহার্য হয়। আর মধ্যপদটি হলো বৃহত্তরের পূর্বপদ, যা তৃতীয় বিন্যাস থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রদান করে। আর যা গত হয়েছে তা অধিকতর বিশিষ্ট। আর যদি তা দ্বিতীয় বিন্যাসের ওপর হয় তবে তার পদ্ধতি চারটি: প্রথম ও দ্বিতীয়টি ফলাফল প্রদানকারী। আর তৃতীয় বিন্যাসের পদ্ধতিগুলো থেকে তার পদ্ধতিসমূহ হলো আটটি: দুটি সদর্থক তাদের অনুরুপগুলোর সাথে এবং দুটি নঞর্থক তাদের অনুরুপগুলোর সাথে পূর্বে বর্ণিত নিয়মে।

আর যদি তারা তৃতীয় বিন্যাসের ওপর হয় তবে প্রথম ও দ্বিতীয় পদ্ধতির প্রকারগুলো ফলাফল প্রদানকারী। আর দ্বিতীয়টি থেকে তার পদ্ধতিসমূহ হলো ছয়টি: দুটি নঞর্থক তাদের অনুরুপগুলোর সাথে এবং ক্ষুদ্রতর আংশিক সদর্থক দুটি আংশিকের সাথে পূর্বে বর্ণিত নিয়মে। আর যদি তারা চতুর্থ বিন্যাসের ওপর হয় তবে ফলাফল প্রদানকারী হলো দ্বিতীয়টি থেকে প্রথমের পদ্ধতিসমূহ যা আটটি: ক্ষুদ্রতরটি সার্বিক সদর্থক আর বৃহত্তরটি আংশিক নঞর্থক, অথবা আংশিক সদর্থক আর বৃহত্তরটি আংশিক, অথবা সার্বিক নঞর্থক আর বৃহত্তরটি সার্বিক সদর্থক নয় এমন, অথবা আংশিক নঞর্থক আর বৃহত্তরটি নঞর্থক। এবং তৃতীয়টি থেকে আটটি: ক্ষুদ্রতরটি সদর্থক আর বৃহত্তরটি আংশিক নঞর্থক, অথবা আংশিক নঞর্থক সীমাবদ্ধ বচনগুলোর সাথে, অথবা সার্বিক নঞর্থক নঞর্থকের সাথে। আর যার অংশীদারিত্ব তার পরপদের মাধ্যমে তা ফলাফল প্রদান করে যা প্রথম বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করেছে অর্থাৎ প্রতিটি আকৃতির পদ্ধতিসমূহ, যদিও তা শক্তিগতভাবে হয়, কারণ সার্বিকতা তার পূর্বপদের সার্বিকতাকে বারোটি ক্ষেত্রে আবশ্যক করে। দুটি মুত্তাসিলাহর পদ্ধতিসমূহ—দুটি আংশিক ব্যতীত—সাধারণ নিয়মের ওপর এবং পরপদের অংশীদারিত্বের সদর্থক হওয়ার মতানুসারে দুটি মুত্তাসিলাহর আবশ্যকতা তিনটি পদ্ধতিতে হয়: ক্ষুদ্রতরটি সদর্থক আর বৃহত্তরটিও তদ্রূপ, দুটি আংশিকের পদ্ধতিটি ব্যতীত।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ২০)
ووهم شيخنا الابلي ابن واصل في عدم استثنائه منها ضرب الجزئيتين ووسط برهانه ملزومية أحد المقدمين فان جعل الملزوم مقدم الصغرى فبالأول مقدم الصغرى ملزوم الملزومية لمقدم الكبرى وملزوميته له ملزومة لنتيجة التأليف فمقدم الصغرى ملزوم لها لزوما كليا فيضم ملزومية الوسط لملزومية مقدم الصغرى. النتيجة: التأليف كليا صغرى من الثالث لملزومية الوسط لنتيجة ملزوميته مقدم الكبرى وملزوميته لنتيجة التأليف من الثالث ينتج جزئية مقدمها متصلة كلية وتاليها متصلة جزئية وان جعل مقدم الكبرى كان كم المقدم وللتالي بالعكس والمعتبر من تالي السالبة في تأليف المنتج منه حاله بعد ردها موجبة وترد النتيجة سالبة.

وما شمله الثالث ينتج في موجبتي الكليتين موجبة جزئية مقدمها سالبة كلية وتاليها كذلك. برهانه من الثالث وسطه سلب استلزم نتيجة التأليف المشارك النتيجة ويلزمه سلب ملزومية نتيجة التأليف للمشارك المنتج معها لان نقيضه ملزوم لنقيض الوسط لان مقدم النقيض ملزوم للمجموع منه وتأليف المنتجين نقيض الوسط فضم الوسط للمنتج تاليها ينتج من الثاني مقدم النتيجة إن كانت الصغرى وتاليها إن كانت الكبرى وضم لازمه للأخرى ينتج الآخر من النتيجة فالوسط ملزوم للأصغر واللاكبر ينتج من الثالث المطلوب وكذلك في الموجبتين وأحدهما جزئية. والوسط في صورة اشتمالتها على تأليف منتج ملزومية مقدم الجزئية لمقدم الكلية وضروب الموجبتين جزئيتين بالحمل عقيمة وبالثالث منتجة بما مر وطرفا نتيجتهما جزئيتان ضروب السالبتين على رأى الجمل كلا زمتيهما الموجبتين وعلى الثالث منتجة باى كم كانتا ونتيجتهما موجبة جزئية سالبة الطرفين سلبا كليا وسط برهانه ملزومية نتيجة التأليف للمنتج معها منهما فهو مع المنتج تاليها معه ينتج من الثاني للأصغر ان كانت الصغرى الأكبر إن كانت الكبرى. ولازمه هو ملزومية نتيجة التأليف المشارك النتيجة من الأخرى ينتج معها من الثاني الأكبر والأصغر.

وضروب مختلفتي الكيف على رأى الجمل باعتبار لازم السالبة وعلى الثالث ان كانت الموجبة كلية منتجة بإنتاج نتيجة التأليف مع مشارك الموجبة مشارك السالبة والوسط ملزومية نتيجة التأليف لمقدم الموجبة فعكسه الأصغر إن كانت الموجبة الصغرى والأكبر إن كانت الكبرى ولازمة المتقدم ينتج مع الأخرى من الثاني الأكبر أو الأصغر وان كانت جزئية فعقيمة لانه لا ينتج إلا بملزومية نتيجة التأليف مشاركة السالبة وانما تستلزمه باستلزامها القياس المنتج وإنما تستلزم قياسة باستلزام غير المشارك من الموجبة بالشكل الأول والكبرى الجزئية فيه تعقمه وما شركتهما بتالي الصغرى ومقدم الكبرى منتجة ما شمله الامر الأول على ضابط الجمل وراية كالقسم الثاني وعلى رأى إيجاب مشاركة التالي في ستة اضرب المتصلتين موجبة الصغرى جزئيتة مع الكلمتين وكليته مع المحصورات.

وقول ابن واصل مع ما يزداد بإعطاء الوجبة الكلية كلية مقدمها والسالبة الكلية كلية تاليها إن أراد كلية السالبة كبرى فغير محتاج أليه وان أراد صغرى كما صرح به الكشف فوهم لأن شرطه أيجاد الصغرى.

ووسط برهانه من الثالث ملزومية مقدم الصغرى لمقدم الكبرى كالقسم الأول وما شمله الامر الثاني اضرب كليتي الكبرى مع محصورات الصغرى واعتبار المشاركين كالقسم الأول.

ووسط برهانه من الثالث ملزومية تالي الصغرى بعينه أو كليته لنتيجة التأليف أو عكسها كليا ما إنتاج تالي صغراه مع نتيجة التأليف ذو المشاركين بالشكل الأول من موجبتين والكبرى جزئية فيكون اصغر النتيجة كليا وأكبرها وإنتاجه مع عكس النتيجة هما به من سالبتين فالتالي مع عكس النتيجة ينتجان من ثالث الرابع مقدم الكبرى وسط برهانه ملزوميته في لها.

ونتيجته كالذي قبله ونتيجة التأليف فيه جزئية وما إنتاجه بالتالي كليا مع عكس النتيجة هما به من سالبتين والصغرى جزئية من ثالث الرابع والوسط ملزوميته كليا لعكس النتيجة وما شركتهما بقدم الصغرى وتالي الكبرى منتجة فالامر الأول على راى الجمل في المتصلتين وحال المشاركين كالثالث وعلى راى أيجاب مشاركة التالي ستة اضرب محصورات: الصغرى مع موجبة كلية الكبرى وكليتي الكبرى مع موجبة جزئي الكبرى. وسط برهانها من الثالث ملزومية مقدم الصغرى لمقدم الكبرى كما مر.
আমাদের শাইখ আল-আবিলি এবং ইবনে ওয়াসিল এই ক্ষেত্রে দুটি আংশিক বচনের বিন্যাসকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য না করে ভ্রম করেছেন। তাঁর প্রমাণের মধ্যপদ হলো দুটি মুখবন্ধের যেকোনো একটির আবশ্যকতা। যদি আবশ্যিককে ক্ষুদ্রতর বচনের পূর্বপদ করা হয়, তবে প্রথম সংস্থানের মাধ্যমে ক্ষুদ্রতর বচনের পূর্বপদটি বৃহত্তর বচনের পূর্বপদের আবশ্যকতার আবশ্যিক হয়ে দাঁড়ায়। আর এর আবশ্যকতা হলো বিন্যাসের সিদ্ধান্তের আবশ্যিক। ফলে ক্ষুদ্রতর বচনের পূর্বপদটি তার জন্য সার্বিকভাবে আবশ্যিক হয়। সুতরাং মধ্যপদের আবশ্যকতাকে ক্ষুদ্রতর বচনের পূর্বপদের আবশ্যকতার সাথে যুক্ত করা হয়। সিদ্ধান্ত: মধ্যপদের আবশ্যকতার কারণে তৃতীয় সংস্থান থেকে সার্বিকভাবে একটি বিন্যাস পাওয়া যায়, যা বৃহত্তর বচনের পূর্বপদের সিদ্ধান্তের আবশ্যিক এবং তৃতীয় সংস্থান থেকে বিন্যাসের সিদ্ধান্তের আবশ্যিক। এটি এমন একটি আংশিক সিদ্ধান্ত প্রদান করে যার পূর্বপদটি সার্বিক প্রাকল্পিক এবং অনুপদটি আংশিক প্রাকল্পিক। আর যদি বৃহত্তর বচনের পূর্বপদকে ধরা হয়, তবে পূর্বপদের পরিমাণ তার বিপরীত হবে। নঞর্থক অনুপদের ক্ষেত্রে যা গ্রহণযোগ্য তা হলো তাকে সদর্থকে রূপান্তরিত করার পরের অবস্থা, এবং সিদ্ধান্তটি নঞর্থক হিসেবেই আসবে।

তৃতীয় সংস্থান যা অন্তর্ভুক্ত করে তা দুটি সার্বিক সদর্থক বচনের ক্ষেত্রে একটি আংশিক সদর্থক সিদ্ধান্ত প্রদান করে, যার পূর্বপদ সার্বিক নঞর্থক এবং অনুপদও তদ্রূপ। তৃতীয় সংস্থান থেকে এর প্রমাণ হলো: এর মধ্যপদ হলো একটি নেতিবাচকতা যা সংশ্লিষ্ট বিন্যাসের সিদ্ধান্তের আবশ্যকতা দাবি করে। আর এটি বিন্যাসের সিদ্ধান্তের আবশ্যকতার নেতিবাচকতাকে তার সাথে উৎপাদনশীল অংশীদারের জন্য আবশ্যক করে তোলে। কারণ এর বিপরীতটি মধ্যপদের বিপরীতের জন্য আবশ্যক। যেহেতু বিপরীতের পূর্বপদটি তার সমষ্টির জন্য আবশ্যক এবং দুটি উৎপাদনশীল বচনের বিন্যাস হলো মধ্যপদের বিপরীত। সুতরাং মধ্যপদকে সিদ্ধান্তের অনুপদের সাথে যুক্ত করলে দ্বিতীয় সংস্থান থেকে সিদ্ধান্তের পূর্বপদ পাওয়া যায় যদি তা ক্ষুদ্রতর বচন হয়, আর অনুপদ পাওয়া যায় যদি তা বৃহত্তর বচন হয়। এর আবশ্যিকতাকে অন্যটির সাথে যুক্ত করলে সিদ্ধান্তের অন্য অংশটি পাওয়া যায়। ফলে মধ্যপদটি ক্ষুদ্রতর এবং বৃহত্তর পদের জন্য আবশ্যিক হয়, যা তৃতীয় সংস্থান থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রদান করে। একইভাবে দুটি সদর্থক বচনের ক্ষেত্রেও যেখানে একটি আংশিক। যে বিন্যাসে উৎপাদনশীল সংযোগ বিদ্যমান সেখানে মধ্যপদ হলো আংশিক বচনের পূর্বপদের বৃহত্তর বচনের পূর্বপদের প্রতি আবশ্যকতা। দুটি আংশিক সদর্থক বচনের বিন্যাস বর্ণনামূলক যুক্তিতে অফলপ্রসূ, কিন্তু তৃতীয় সংস্থানের মাধ্যমে পূর্বে বর্ণিত পদ্ধতিতে ফলপ্রসূ হয় এবং এর সিদ্ধান্তের উভয় প্রান্ত আংশিক হয়। জুমালের মতে দুটি নঞর্থক বচনের বিন্যাস তাদের দুটি সদর্থক আবশ্যকতার ন্যায়। আর তৃতীয় সংস্থানের ভিত্তিতে তারা যে পরিমাণই হোক ফলপ্রসূ এবং তাদের সিদ্ধান্ত হবে আংশিক সদর্থক যার উভয় প্রান্ত সার্বিকভাবে নঞর্থক। এর প্রমাণের মধ্যপদ হলো বিন্যাসের সিদ্ধান্তের আবশ্যকতা যা তাদের থেকে তার সাথে উৎপাদনশীল বচনের প্রতি। সুতরাং সেটি সিদ্ধান্তের অনুপদের সাথে মিলিত হয়ে দ্বিতীয় সংস্থান থেকে ক্ষুদ্রতর পদের জন্য ফল দেয় যদি তা ক্ষুদ্রতর বচন হয়, আর বৃহত্তর পদের জন্য দেয় যদি তা বৃহত্তর বচন হয়। আর এর আবশ্যিকতা হলো অন্য বচন থেকে সিদ্ধান্তের অংশীদার বিন্যাসের সিদ্ধান্তের আবশ্যকতা, যা অন্যটির সাথে দ্বিতীয় সংস্থান থেকে বৃহত্তর ও ক্ষুদ্রতর পদ প্রদান করে।

গুণের দিক থেকে ভিন্ন বিন্যাসসমূহ জুমালের মতে নঞর্থক বচনের আবশ্যকতার বিচারে বিবেচিত হয়। আর তৃতীয় সংস্থানের বিচারে যদি সদর্থক বচনটি সার্বিক হয়, তবে তা সদর্থক বচনের অংশীদারের সাথে নঞর্থক বচনের অংশীদারের বিন্যাসের সিদ্ধান্ত প্রদানের মাধ্যমে ফলপ্রসূ হয়। এখানে মধ্যপদ হলো বিন্যাসের সিদ্ধান্তের সদর্থক বচনের পূর্বপদের প্রতি আবশ্যকতা। এর বিপরীতটি হবে ক্ষুদ্রতর পদ যদি সদর্থক বচনটি ক্ষুদ্রতর হয়, আর বৃহত্তর পদ যদি তা বৃহত্তর হয়। আর পূর্ববর্তী আবশ্যকতাটি অন্যটির সাথে দ্বিতীয় সংস্থান থেকে বৃহত্তর বা ক্ষুদ্রতর পদ প্রদান করে। আর যদি তা আংশিক হয় তবে তা অফলপ্রসূ। কারণ এটি কেবল বিন্যাসের সিদ্ধান্তের নঞর্থক অংশীদারের আবশ্যকতা ছাড়া ফল দেয় না। আর এটি তখনই আবশ্যক হয় যখন তা উৎপাদনশীল যুক্তির আবশ্যকতা দাবি করে। আর এটি যুক্তির আবশ্যকতা দাবি করে কেবল তখনই যখন প্রথম সংস্থানের মাধ্যমে সদর্থক বচনের অ-অংশীদারকে আবশ্যক করে। কিন্তু সেখানে আংশিক বৃহত্তর বচন তাকে অফলপ্রসূ করে দেয়। আর ক্ষুদ্রতর বচনের অনুপদ এবং বৃহত্তর বচনের পূর্বপদের সাথে যা অংশীদারিত্ব করে তা ফলপ্রসূ হয় জুমালের নিয়মানুসারে এবং দ্বিতীয় প্রকারের মত বর্ণনায়। আর অনুপদের অংশীদারিত্ব আবশ্যক হওয়ার মতে প্রাকল্পিক বচনদ্বয়ের ছয়টি বিন্যাসে: ক্ষুদ্রতর সদর্থক বচনটি আংশিক হবে উভয় প্রকারের সাথে, এবং তা সার্বিক হবে সীমাবদ্ধ বচনগুলোর সাথে।

ইবনে ওয়াসিলের বক্তব্য এবং তার সাথে যা যুক্ত হয় সার্বিক সদর্থক বচনকে তার পূর্বপদের সার্বিকতা প্রদান এবং সার্বিক নঞর্থক বচনকে তার অনুপদের সার্বিকতা প্রদানের মাধ্যমে; তিনি যদি সার্বিক নঞর্থক বচনকে বৃহত্তর বচন হিসেবে ইচ্ছা করেন তবে তার প্রয়োজন নেই। আর যদি তিনি একে ক্ষুদ্রতর বচন হিসেবে ইচ্ছা করেন, যেমনটি কাশফ গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তবে তা ভ্রম। কারণ এর শর্ত হলো ক্ষুদ্রতর বচনটি পাওয়া।

তৃতীয় সংস্থান থেকে এর প্রমাণের মধ্যপদ হলো ক্ষুদ্রতর বচনের পূর্বপদের বৃহত্তর বচনের পূর্বপদের প্রতি আবশ্যকতা, যেমনটি প্রথম প্রকারে ছিল। আর দ্বিতীয় বিষয়টি যা অন্তর্ভুক্ত করে তা হলো বৃহত্তর বচনের দুটি সার্বিক বিন্যাস ক্ষুদ্রতর বচনের সীমাবদ্ধ বচনগুলোর সাথে। আর অংশীদারদ্বয়ের বিবেচনা প্রথম প্রকারের ন্যায়।

তৃতীয় সংস্থান থেকে এর প্রমাণের মধ্যপদ হলো স্বয়ং ক্ষুদ্রতর বচনের অনুপদের অথবা তার সার্বিকতার বিন্যাসের সিদ্ধান্তের প্রতি আবশ্যকতা অথবা তার বিপরীতের প্রতি সার্বিক আবশ্যকতা। ক্ষুদ্রতর বচনের অনুপদের ফল বিন্যাসের সিদ্ধান্তের সাথে প্রথম সংস্থানের মাধ্যমে দুটি সদর্থক বচন থেকে অংশীদারযুক্ত হয়ে যা দেয় তাতে বৃহত্তর বচনটি আংশিক হয়। ফলে সিদ্ধান্তের ক্ষুদ্রতর পদটি সার্বিক হয় এবং তার বৃহত্তর পদটিও। আর বিপরীত সিদ্ধান্তের সাথে এর উৎপাদন দুটি নঞর্থক বচন থেকে হয়। সুতরাং অনুপদ এবং বিপরীত সিদ্ধান্ত চতুর্থ সংস্থানের তৃতীয় প্রকার থেকে বৃহত্তর বচনের পূর্বপদ প্রদান করে। এর প্রমাণের মধ্যপদ হলো তার প্রতি এর আবশ্যকতা।

এর সিদ্ধান্ত পূর্ববর্তীর ন্যায় এবং এতে বিন্যাসের সিদ্ধান্ত আংশিক। অনুপদের মাধ্যমে সিদ্ধান্তের বিপরীতের সাথে যা সার্বিকভাবে ফল দেয় তা দুটি নঞর্থক বচন থেকে উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে ক্ষুদ্রতর বচনটি চতুর্থ সংস্থানের তৃতীয় প্রকার থেকে আংশিক হয়। এর মধ্যপদ হলো সিদ্ধান্তের বিপরীতের প্রতি সার্বিক আবশ্যকতা। ক্ষুদ্রতর বচনের পূর্বপদ এবং বৃহত্তর বচনের অনুপদের সাথে যা অংশীদারিত্ব করে তা ফলপ্রসূ হয়। প্রাকল্পিক বচনদ্বয়ের ক্ষেত্রে জুমালের মতে প্রথম বিষয়টি এবং অংশীদারদ্বয়ের অবস্থা তৃতীয় সংস্থানের ন্যায়। আর অনুপদের অংশীদারিত্ব আবশ্যক হওয়ার মতে সীমাবদ্ধ বিন্যাস ছয়টি: ক্ষুদ্রতর বচনটি সার্বিক সদর্থক বৃহত্তর বচনের সাথে এবং বৃহত্তর বচনের দুটি সার্বিক বিন্যাস আংশিক সদর্থক ক্ষুদ্রতর বচনের সাথে। তৃতীয় সংস্থান থেকে এর প্রমাণের মধ্যপদ হলো ক্ষুদ্রতর বচনের পূর্বপদের বৃহত্তর বচনের পূর্বপদের প্রতি আবশ্যকতা, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ২১)
وبالثاني ثمانية اضرب الصغرى احدى الممكنتين مع المحصورات الكبرى فأربعة موجبة الكبرى يجب فيها كون المنتج من الكبرى ونتيجتها كلية ولو كانت الكبرى جزئية وكيف مقدمها خلاف كيف - الصغرى وتاليها سالب ابدا برهان ضربي موجبة الصغرى من الأول وسط قياسه. الأول سلب ملزومية المنتج من نتيجة التأليف أو عكسها كليا لنتيجهتا في أحد المشاركين لإنتاج نقيضه مع الأصغر منافي الصغرى. أو لإنتاج الأصغر والصغرى اياه. وهذا الوسط ملزوم لسلب ملزومية المنتج المذكور للمشارك المنتج معه. فهدا أذن لازم للأصغر وهو ملزوم للأكبر لإنتاجه مع الكبرى اياه. من الثاني.

وأربعة سالبه الكبرى يصح كون مقدم صغراها منتجا لتالي كبراها كيف اصغر نتيجتها وأكبرها ككيف الصغرى والكبرى فحكم صغرى هذا القسم ككبرى الثالث وكبراه كصغراه.

وسط برهانه من الثالث ملازمه منتج المتشاركين مع نتيجة التأليف لها فيلزمه ملازمه المنتج عنهما لها بالوسط مع الكرى ان كان المنتج تاليها ينتج من الثلث الأكبر ومع الصغرى ان كان المنتج مقدمها ينتج من الأول الأصغر ولازمه الأخرى ينتج الآخر.

فالوسط ملزوم الأصغر والأكبر وما وسطه تام من أحدهما فقط ذو متصلة أحد طرفيها متصلة أو منفصلة تشارك بأحد طرفي طرفيها مقارنتها في جزء تام حكمه حكم المركب من حملي ومتصل ذات تامة كالحملية ككلما كان ج د فكلما كان أب فوز وكلما كان وز فك هـ ينتج كلما كان ج د فكلما كان أب فوز فكه. وقد تشترك المتصلتان بأكثر من جزء واحد.

وأقسامه باعتبار إبهام المشارك أربعة اذ شركة لحديهما بطرفيها اما طرف لطرف أو كل طرف لطرفين أو طرف لطرف والآخر للآخرين أو الطرفين لطرف.

ويتعين كونه مقدما أو تاليا سبعة لأقسام الثاني إلى شركة مقدم مثله وتال مثله وعكسه والثالث والرابع إلى كون المشارك للطرفين مقدما أو تاليا ولكل قسم نتيجة باعتبار إحدى الشركتين والغاء الأخرى كما مر وثالثة باعتبارهما أصغرها نتيجة أحديهما وتاليا نتيجة الأخرى وسط برهانها من الثالث مجموع وسط برهان النتيجتين. ابن واصل: ولجواز تركيب المقدمتين أو أحديهما من تسعة أقسام مادة المتصلة يبلغ تأليفها واحدا وثمانين تأليفا ويبلغ ذلك باعتبار شركة الأطراف كثرة لا تحصى.

الثاني من منفصلتين والوسط جزء تام من كل منها: قال الشيخ والموجز: عقيم لقم أخصه المركب من حقيقتين لان طرفيهما ان تغايرا كذبتا والا لزم الشيء نفسه.

ورد الكشف والسراج بمنع الأول لجواز تغايرهما وتساويهما في العموم لنقيض الوسط ونتيجته متصلتان من الطرفين وأخريان من نقيضها ومنفصلان وشرط كلية أحديهما. وفي شرط ايجابها قولا ابن واصل مع الجمل والسراج مع الكشف فالحقيقتان نتائجهما موجبتان كليتان متصلتان كليتان من الطرفين غير المتشاركين مقدم أحديهما عكس الأخرى كليا واخريان كليتان من نقيضهما كذلك.

فان كانت أحدهما جزئية فالتان مقدمها من الجزئية فقط بمقتضى اقتصار ابن واصل على برهنته بالأول ومقتضى قوله هذه النتائج كلية ان كانت المقدمتان كليتين والا فهي جزئية بوهم ان عدد النتائج في كل واحد وهو الحق حسب ما صرج به غير واحد وسط برهانه من الأول نقيض المتشارك في الأولين وعيته في الأخيرين. فان سلبت إحدى الكليتين فسالبة جزئية من الطرفين وعكسها والا تساوى الطرفان ولزم عناد حقيقي ينافي السالبة والحقيقة وما نعة الحلو متصلة من الطرفين والمقدم من الحقيقة واخرى من نقيضها. والمقدم من الأخرى.

فان كانت إحداهما جزئية فالتي من مقدمها فقط على البرهان بالأول ومطلقا على الثالث والوسط فيهما نقيض المشارك فإن سلبت الحقيقة عقم للاختلاف دائما اما إن يكون هذا انسانا واما الا يكون فرسا مانعة خلو وليست البتة اما إلا ت يكون فرسا أو يكون ناطقا أو غير ناطق حقيقية. والحق في الأول العناد وفي الثاني اللزوم.

وان سلبت الأخرى لزمت سالبة جزئية مقدمها من الحقيقية والا صدقت موجبة كلية واستلزمت مانعة خلو منافية للأخرى والحقيقية ومانعة الجمع كذلك المقدم منها ومانعه الخلو والجمع متصلة من الطرفين.
দ্বিতীয় প্রকারের মাধ্যমে আটটি রূপ তৈরি হয়। ক্ষুদ্রতর অবয়বটি (সুঘরা) দুটি সম্ভাব্য বিষয়ের একটি এবং বৃহত্তরটি (কুবরা) পরিবেষ্টিত। বৃহত্তর ইতিবাচক হলে চারটি রূপ হয়; এতে সিদ্ধান্ত বৃহত্তর অবয়ব থেকে আসা এবং সিদ্ধান্ত সার্বিক হওয়া আবশ্যক, যদিও বৃহত্তরটি বিশেষ হয়। এর পূর্বগের গুণ ক্ষুদ্রতরের গুণের বিপরীত হবে এবং এর অনুগ সর্বদা নেতিবাচক হবে। ইতিবাচক ক্ষুদ্রতরের রূপের প্রমাণের ভিত্তি হলো প্রথম প্রকার থেকে আসা মধ্যপদের কিয়াস। প্রথমটি হলো বিন্যাসের ফল থেকে সিদ্ধান্তের আবশ্যকতাকে অস্বীকার করা বা তার বিপরীতকে সার্বিকভাবে সিদ্ধান্তের অংশীদারদের একটির জন্য সাব্যস্ত করা, যাতে তার বিপরীতের উৎপাদন ক্ষুদ্রতরের পরিপন্থী না হয়। অথবা ক্ষুদ্রতর ও ক্ষুদ্রতরের উৎপাদনকে প্রমাণের জন্য। এই মধ্যপদটি উক্ত উৎপাদনের সেই অংশগ্রহীতার জন্য আবশ্যকতা অস্বীকার করার নামান্তর যার সাথে এটি ফল উৎপাদন করে। সুতরাং এটি ক্ষুদ্রতরের জন্য আবশ্যক এবং বৃহত্তরের জন্য অপরিহার্য, কারণ এটি বৃহত্তরের সাথে মিলে ফল দান করে। এটি দ্বিতীয় প্রকার থেকে।

এবং বৃহত্তর নেতিবাচক হলে চারটি রূপ হয়। ক্ষুদ্রতরের পূর্বগ বৃহত্তরের অনুগের ফল প্রদানের জন্য শুদ্ধ হওয়া সম্ভব। সিদ্ধান্তের ক্ষুদ্রতর ও বৃহত্তর পদের গুণ হবে ক্ষুদ্রতর ও বৃহত্তরের গুণের ন্যায়। এই অংশের ক্ষুদ্রতরের বিধান তৃতীয় প্রকারের বৃহত্তরের ন্যায় এবং এর বৃহত্তর ক্ষুদ্রতরের ন্যায়।

এর প্রমাণের মধ্যপদ তৃতীয় প্রকার থেকে আসে; অংশগ্রহণকারী দুটির আবশ্যকতা তাদের সমন্বয়ের ফলের সাথে সম্পর্কিত। ফলে মধ্যপদের মাধ্যমে তাদের থেকে প্রাপ্ত ফলের আবশ্যকতা বৃহত্তরের সাথে অবধারিত হবে। যদি ফলটি অনুগ হয় তবে তা বৃহত্তম তৃতীয়টি থেকে আসবে, আর যদি ফলটি পূর্বগ হয় তবে তা ক্ষুদ্রতম প্রথমটি থেকে আসবে। আর অন্যটির আবশ্যকতা অপরটি উৎপাদন করবে।

অতএব, মধ্যপদটি ক্ষুদ্রতর ও বৃহত্তরের জন্য অবধারিত। যার মধ্যপদ কেবল একটি দিক থেকে পূর্ণাঙ্গ, তা এমন একটি নিরবচ্ছিন্ন বাক্য যার এক প্রান্ত নিরবচ্ছিন্ন বা বৈকল্পিক। এর এক প্রান্তের প্রান্তীয় অংশ তার পার্শ্ববর্তী অংশের সাথে পূর্ণাঙ্গ অংশে অংশীদার হয়। এর বিধান বর্ণনামূলক ও পূর্ণাঙ্গ নিরবচ্ছিন্ন বাক্য থেকে গঠিত যৌক্তিক বাক্যের বিধানের ন্যায়, যেমন: যখনই জ দ হয়, তখনই যদি অ ব হয় তবে ও য হবে; এবং যখনই ও য হয় তখনই ক হ হবে। এর সিদ্ধান্ত হবে: যখনই জ দ হয়, তখনই যদি অ ব হয় তবে ও য হয় তবে ক হ হবে। কখনও কখনও দুটি নিরবচ্ছিন্ন বাক্য একাধিক অংশে অংশীদার হতে পারে।

অংশগ্রহণকারী পদের অস্পষ্টতার বিচারে এর প্রকার চারটি। কারণ এর দুই প্রান্তের অংশীদারিত্ব হয় এক প্রান্তের সাথে অন্য প্রান্তের, অথবা প্রতিটি প্রান্তের সাথে দুই প্রান্তের, অথবা এক প্রান্তের সাথে অন্য প্রান্তের এবং অপর প্রান্তের সাথে বাকি দুই প্রান্তের, অথবা দুই প্রান্তের সাথে এক প্রান্তের।

এর পূর্বগ বা অনুগ হওয়া সাতটি ক্ষেত্রে নির্ধারিত হয়; দ্বিতীয় প্রকারের বিভাগসমূহ থেকে শুরু করে অনুরূপ পূর্বগ ও অনুরূপ অনুগের অংশীদারিত্ব এবং তার বিপরীত পর্যন্ত। আর তৃতীয় ও চতুর্থ প্রকার থেকে শুরু করে উভয় প্রান্তের অংশগ্রহণকারী পদটি পূর্বগ বা অনুগ হওয়া পর্যন্ত। প্রতিটি প্রকারের সিদ্ধান্ত একটি অংশীদারিত্বের বিচারে হয় এবং অপরটি বাতিল করা হয় যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে। তৃতীয়ত উভয়টির বিচারে; তার ক্ষুদ্রতম হলো একটির সিদ্ধান্ত এবং অনুগ হলো অন্যটির সিদ্ধান্ত। এর প্রমাণের মধ্যপদ তৃতীয় প্রকার থেকে আসে যা উভয় সিদ্ধান্তের প্রমাণের মধ্যপদের সমষ্টি। ইবনুল ওয়াসিল বলেন: দুটি প্রস্তাবনা বা তাদের কোনো একটি নিরবচ্ছিন্ন পদার্থের নয়টি প্রকার থেকে গঠিত হওয়া বৈধ হওয়ার কারণে তাদের বিন্যাস একাশিটি বিন্যাস পর্যন্ত পৌঁছায়। প্রান্তসমূহের অংশীদারিত্বের বিচারে এর সংখ্যা অগণিত হতে পারে।

দ্বিতীয় প্রকারটি দুটি বৈকল্পিক বাক্য থেকে গঠিত এবং মধ্যপদটি উভয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ অংশ। শেখ ও মুজিজ প্রণেতা বলেন: এটি বন্ধ্যা; এর সবচেয়ে বিশেষ রূপ হলো দুটি প্রকৃত বৈকল্পিক বাক্য থেকে গঠিত হওয়া। কারণ তাদের উভয় প্রান্ত যদি ভিন্ন হয় তবে উভয়ই মিথ্যা হবে, অন্যথায় বিষয়টি স্বয়ং নিজের জন্য আবশ্যক হয়ে পড়বে।

কাশফ ও সিরাজ এর রচয়িতাগণ একে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা প্রথম দাবিটি অস্বীকার করেছেন কারণ মধ্যপদের বিপরীতের ক্ষেত্রে তাদের ভিন্ন হওয়া বা ব্যাপকতায় সমান হওয়া সম্ভব। এর সিদ্ধান্ত হলো উভয় প্রান্ত থেকে দুটি নিরবচ্ছিন্ন বাক্য এবং তাদের বিপরীত থেকে আরও দুটি, এবং দুটি বৈকল্পিক বাক্য; আর শর্ত হলো তাদের একটিকে সার্বিক হতে হবে। এর ইতিবাচক হওয়ার শর্তে ইবনুল ওয়াসিল ও জুমাল প্রণেতার একটি মত রয়েছে এবং সিরাজ ও কাশফ প্রণেতার আরেকটি মত। সুতরাং দুটি প্রকৃত বৈকল্পিক বাক্যের সিদ্ধান্ত হবে দুটি সার্বিক ইতিবাচক নিরবচ্ছিন্ন বাক্য যা অংশগ্রহণহীন দুই প্রান্ত থেকে গঠিত; যার একটির পূর্বগ অপরটির সার্বিক বিপরীত। এবং তাদের বিপরীত থেকে একইভাবে আরও দুটি সার্বিক সিদ্ধান্ত আসবে।

যদি তাদের একটি বিশেষ হয়, তবে সেই দুটি সিদ্ধান্তের পূর্বগ কেবল বিশেষ প্রস্তাবনাটি থেকেই হবে। এটি ইবনুল ওয়াসিলের সেই সীমাবদ্ধতার দাবি অনুযায়ী যা তিনি প্রথম প্রকারের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন। এবং তার এই বক্তব্য যে 'এই সিদ্ধান্তগুলো সার্বিক হবে যদি উভয় প্রস্তাবনা সার্বিক হয়, নতুবা তা বিশেষ হবে'—এটি এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যে সিদ্ধান্তের সংখ্যা সব ক্ষেত্রে সমান। আর এটিই সঠিক যা একাধিক পণ্ডিত স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। এর প্রমাণের মধ্যপদ প্রথম প্রকার থেকে আসে যা প্রথম দুটির ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীর বিপরীত এবং শেষ দুটির ক্ষেত্রে তার সদৃশ। যদি সার্বিক দুটির একটি নেতিবাচক হয়, তবে উভয় প্রান্ত থেকে বিশেষ নেতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে এবং তার বিপরীত হবে। অন্যথায় উভয় প্রান্ত সমান হবে এবং এমন প্রকৃত বৈরিতা আবশ্যক হবে যা নেতিবাচক ও প্রকৃত বৈকল্পিক বাক্যের পরিপন্থী। আর রিক্ততা-নিবারক হলো উভয় প্রান্ত থেকে গঠিত নিরবচ্ছিন্ন বাক্য, যার পূর্বগ আসবে প্রকৃত বৈকল্পিক বাক্য থেকে এবং অন্যটি তার বিপরীত থেকে; এবং পূর্বগ আসবে অন্যটি থেকে।

যদি তাদের একটি বিশেষ হয়, তবে যা তার পূর্বগ থেকে আসবে তা কেবল প্রথম প্রকারের প্রমাণের ভিত্তিতে এবং সাধারণভাবে তৃতীয় প্রকারের ভিত্তিতে। উভয় ক্ষেত্রে মধ্যপদ হলো অংশগ্রহণকারীর বিপরীত। যদি প্রকৃত বৈকল্পিক বাক্যটি নেতিবাচক হয় তবে তা সর্বদা পার্থক্যের কারণে বন্ধ্যা হবে। যেমন: হয় এটি মানুষ হবে অথবা এটি ঘোড়া হবে না—এটি রিক্ততা-নিবারক। আর এটি কখনোই এমন নয় যে: হয় এটি ঘোড়া হবে না অথবা এটি কথা বলা প্রাণী হবে বা হবে না—এটি প্রকৃত বৈকল্পিক। প্রথম ক্ষেত্রে সত্য হলো বৈরিতা এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সত্য হলো আবশ্যকতা।

আর যদি অন্যটি নেতিবাচক হয়, তবে বিশেষ নেতিবাচক সিদ্ধান্ত আবশ্যক হবে যার পূর্বগ প্রকৃত বৈকল্পিক বাক্য থেকে আসবে। অন্যথায় সার্বিক ইতিবাচক বাক্যটি সত্য হতো এবং তা এমন রিক্ততা-নিবারক বাক্যকে আবশ্যক করত যা অন্যটি এবং প্রকৃত বৈকল্পিক বাক্যের পরিপন্থী। সমাবেশ-নিবারক বাক্যটিও তদ্রূপ, যা থেকে পূর্বগ গঠিত হয়; আর রিক্ততা-নিবারক ও সমাবেশ-নিবারক বাক্যটি উভয় প্রান্ত থেকে গঠিত একটি নিরবচ্ছিন্ন বাক্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ২২)
والمقدم من مانعه الجمع والأخرى من نقيضهما والمقدم من مانعة الخلو فإن كانت إحداهما جزئية فكما مر. سلبت إحداهما فقال السراج وعقم الاختلاف كدائما اما إن في كون هذا انسانا أو فرسا. وليس البتة اما إن انسانا هذا انسانا أو فرسا وليس البتة اما ان يكون فرسا أو ناطقا أو غير ناطق.

والسالبة مانعة خلو وكدائما إن لا يكون هذا انسانا واما إن لا يكون فرسا. وليس البتة اما إن لا يكون فرسا واما إن لا يكون ناطقا أو ناطقا والسالبة مانعه جمع الحق اللزوم في الأول والعناد في الثاني فيهما.

وقال غيره: إن كانت السالبة جزئية وكلية ما ينتج سالبة جزئية وعكسها في الأول من الطرفين لإنتاج العكس المستوى لنقيض النتيجة صغرى من الأول مع المتصلة لازمة مانعة الجمع موجبة جزئية من طرف السالبة ونقيض الوسط فيلزم عكسها موجبة جزئية مانعة خلو من الوسط وطرف السالبة خلف.

وفى الثانية من نقيض الطرفين لانتاج العكس المذكور كما هو مع المتصلة لازمة مانعة الخلو موجبة مقدمها. نقيض طرف السالبة وتاليها عين الوسط فيلزم عكسها موجبة جزئية مانعة جمع من الوسط وطرف السالبة هذا خلف.

وفي الكشف: إن كانت إحداهما سالبة جزئية عقم لان الاخص من نقيض الشيء قد يكذب مع نقيضه ولازمه المساوي والأعم من نقضه قد يصدق معهما يريد إن مانعة الجمع الموجبة مع مانعة الخلو الموجبة لما كان إنتاجهما بلمزومية كذب جزء مانعة الجمع المشارك وهو صدق نقيضه اللازم معين وهو طرف الأخرى لمنع خولوها عقم في سلب منع الخلو لجواز كذب جزئها المشارك وحينئذ مع نقيض جزئها الآخر مرة ومع مساويه أخرى فلم يحصل له ملزومية ولا عناد أو إن مانعة الخلو الموجبة مع الأخرى لما كان إنتاجهما الملزومية صدق جزئها المشارك للازم معين وهو نقيض طرف الأخرى لمنع جميعها عقم في سلب مانعة الجمع لجواز صدق جزئها المشارك مع نقيض جزئها الآخر مرة ومع مساويه اخرى فلم يحصل لنقيض طرفها عناد ولا لزوم ومانعتا الجمع بالجهل عقيمة.

وفى الكشف ينتج الأوليان موجبتين ولو إحداهما جزئية متصلة جزئية من الطرفين. وسط برهانه من الثالث نقيض الوسط لا كلية لاحتمال كون كل من الطرفين اعم من الآخر من وجه كلا حجر ولا شجر بتوسط لا حيوان فان سلبت إحداهما ولو والموجبة جزئية فسالبة جزئية من الطرفين ومقدمها من الموجبة الملزومية نقيضها نقيض السالبة لأنه حينئذ إن لزم صدق الوسط صدق دائها اما الوسط واما الآخر من السالبة هذا خلف والا الآخر من الموجبة وهو ملزوم للآخر من السالبة فدائها اما الوسط أو الآخر من السالبة لا ومقدمها من السالبة لجواز كون طرف المركبة اعم من طرف السالبة كحيوان أو فرس فتوسط الإنسان والأخريان كذلك متصلة جزئية من نقيضي الطرفين.

وسط برهانه من الثالث الوسط لا كلية لاحتمال كون كل من نقيضي الطرفين اعم من الآخر من وجه كلا حجر ولا شجر بتوسط حيوان لنقيضهما.

وإن سلبت إحداهما ولو الموجبة في جزئية فسالبة جزئية الطرفين ومقدمها من السالبة الملزومية نقيضها نقيض السالبة لان نقيضها هو ملزومية طرف السالبة طرف الموجبة والوسط مناف بالموجبة وهنا في اللازم مناف للمزومه هذا خلف لا ومقدمها من الموجبة لجواز كون طرف الموجبة اخص من طرف السالبة كانسان ولا حمار بتوسط فرس.

وان كان وسطه غير تام فيهما فضابطة أيجاب مقدمتيه ومنع خلوهما وكلية أحديهما وانتاج تأليف مشاركهما وضابط الجمل دون إيجاب مقدمتيه قاصر نتيجة منفصلة من كل غير مشارك منهما ونتيجة تأليف كل مشارك منهما مانعة خلو لا جمع وات كانتا حقيقيتين لجواز كون لازم المتشاركين أعنى نتيجتهما اعم منهما واجتماع اعم الشيء مع نقيضه جائز برهانه خلو الواقع عن جزء من كل واحدة منهما فان كان المتشاركين لزمت نتيجتهما وإلا لزم الآخران أو أحدهما مع أحد المتشاركين الخونجي والسراج: أقسامه خمسة: الأول إن يشارك جزء أحديهما جزء الأخرى اشترك جزء الكل مقدمة في جزء كجزئي الأولى في موضوع والثانية في مجهول وأحدهما أولى فيشارك أحد أجزاء النتيجة جزء منها من طرفيها المتغايرين في الأول وحدهما في الثاني وإلا شركة في الثالث كسائر الأقسام.
এবং মানিআতুল জাম থেকে পূর্বপদ এবং অন্যটি তাদের বিপরীত থেকে, এবং মানিআতুল খুলু থেকে পূর্বপদ; সুতরাং যদি তাদের একটি আংশিক হয়, তবে তা পূর্বে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী হবে। তাদের একটিকে নেতিবাচক করা হলে আস-সিরাজ বলেন যে, এই বৈচিত্র্যটি বন্ধ্যা, যেমন সর্বদা হয়: হয় এটি মানুষ অথবা ঘোড়া। এবং কখনোই এমন নয় যে হয় এটি মানুষ অথবা ঘোড়া; এবং কখনোই এমন নয় যে হয় এটি ঘোড়া অথবা বাকশক্তি সম্পন্ন অথবা বাকশক্তিহীন।

এবং নেতিবাচকটি হলো মানিআতুল খুলু; এবং সর্বদা এটি মানুষ না হওয়া অথবা ঘোড়া না হওয়া। এবং কখনোই এমন নয় যে হয় এটি ঘোড়া হবে না অথবা এটি বাকশক্তি সম্পন্ন হবে না অথবা বাকশক্তি সম্পন্ন হবে; এবং নেতিবাচকটি হলো মানিআতুল জাম। এ দুটির ক্ষেত্রে প্রথমটিতে অনিবার্য লুজুম এবং দ্বিতীয়টিতে পরস্পর বিরোধিতা থাকাই সঠিক।

অন্যজন বলেছেন: যদি নেতিবাচকটি আংশিক হয় এবং সার্বিক হয়, তবে তা একটি আংশিক নেতিবাচক ফলাফল দেবে এবং প্রথম সুরতে উভয় প্রান্তের বিপরীতটি আসবে। কারণ ফলাফলের বিপরীতের জন্য যে আবর্তন প্রয়োজন, তা প্রথম সুরতের ক্ষুদ্রতর বাক্য হিসেবে সংযুক্ত বাক্যের সাথে কাজ করে যা একটি ইতিবাচক আংশিক মানিআতুল জাম হিসেবে নেতিবাচক বাক্যের প্রান্ত এবং মধ্যপদের বিপরীতের মধ্যে অনিবার্য সম্পর্ক সৃষ্টি করে। ফলে এর বিপরীতে একটি ইতিবাচক আংশিক মানিআতুল খুলু মধ্যপদ এবং নেতিবাচক প্রান্তের মধ্যে আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা একটি বৈপরীত্য।

এবং দ্বিতীয় সুরতে উভয় প্রান্তের বিপরীত থেকে উল্লিখিত আবর্তন উৎপন্ন হয়, যেমনটি সংযুক্ত বাক্যের ক্ষেত্রে দেখা যায় যা একটি ইতিবাচক মানিআতুল খুলু হিসেবে আবশ্যক হয় যার পূর্বপদ হলো নেতিবাচক প্রান্তের বিপরীত এবং পরপদ হলো হুবহু মধ্যপদ। ফলে এর বিপরীতে একটি ইতিবাচক আংশিক মানিআতুল জাম মধ্যপদ এবং নেতিবাচক প্রান্তের মধ্যে আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা একটি বৈপরীত্য।

'আল-কাশফ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: যদি তাদের একটি নেতিবাচক আংশিক হয়, তবে তা বন্ধ্যা হবে। কারণ কোনো কিছুর বিপরীতের চেয়ে যা বেশি বিশেষ, তা কখনও কখনও তার বিপরীত এবং তার সমতুল্য অনিবার্য বিষয়ের সাথে মিথ্যা হতে পারে। আর তার বিপরীতের চেয়ে যা বেশি সাধারণ, তা উভয়ের সাথেই সত্য হতে পারে। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইতিবাচক মানিআতুল জাম যখন ইতিবাচক মানিআতুল খুলুর সাথে থাকে, তখন তাদের ফলাফল যেহেতু মানিআতুল জামের অংশীদার অংশের মিথ্যা হওয়ার অনিবার্যতার মাধ্যমে ঘটে—যা মূলত তার বিপরীতের সত্য হওয়াকে আবশ্যক করে এবং তা অন্যটির প্রান্ত হওয়ার কারণে তার খালি হওয়াকে প্রতিরোধ করে—তাই মানিআতুল খুলু নেতিবাচক করার ক্ষেত্রে তা বন্ধ্যা হয়ে যায়। কারণ তার অংশীদার অংশের মিথ্যা হওয়া সম্ভব, এবং তখন তা কখনও তার অন্য অংশের বিপরীতের সাথে এবং কখনও তার সমতুল্যের সাথে থাকে; ফলে এর জন্য কোনো অনিবার্য সম্বন্ধ বা বিরোধিতা অর্জিত হয় না। অথবা ইতিবাচক মানিআতুল খুলু যখন অন্যটির সাথে থাকে এবং তাদের ফলাফল যেহেতু নির্দিষ্ট অনিবার্যতার জন্য তার অংশীদার অংশের সত্য হওয়াকে আবশ্যক করে—যা অন্য প্রান্তের বিপরীত হওয়ার কারণে তাদের একত্র হওয়াকে প্রতিরোধ করে—তাই মানিআতুল জাম নেতিবাচক করার ক্ষেত্রে তা বন্ধ্যা হয়ে যায়। কারণ তার অংশীদার অংশের সত্য হওয়া তার অন্য অংশের বিপরীতের সাথে কখনও সম্ভব এবং কখনও তার সমতুল্যের সাথে সম্ভব; ফলে তার প্রান্তের বিপরীতের জন্য কোনো বিরোধিতা বা অনিবার্যতা অর্জিত হয় না। আর অজ্ঞতার ভিত্তিতে দুটি মানিআতুল জাম বন্ধ্যা হয়ে থাকে।

'আল-কাশফ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, প্রথম দুটি ইতিবাচক ফলাফল দেয়, যদিও তাদের একটি আংশিক হয়; এটি উভয় প্রান্ত থেকে একটি আংশিক সংযুক্ত ফলাফল দেয়। এর প্রমাণের মধ্যপদটি তৃতীয় সুরত থেকে নেওয়া হয়েছে যা মধ্যপদের বিপরীত। এটি সার্বিক নয়, কারণ উভয় প্রান্তের প্রতিটি অন্যটির চেয়ে একদিক থেকে সাধারণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেমন 'পাথর নয়' এবং 'গাছ নয়'—এর মধ্যে 'প্রাণী নয়' মধ্যপদ হিসেবে কাজ করে। সুতরাং যদি তাদের একটি নেতিবাচক হয়, এমনকি ইতিবাচকটি আংশিক হলেও, তবে উভয় প্রান্ত থেকে একটি আংশিক নেতিবাচক ফলাফল আসবে। এবং ইতিবাচক অনিবার্য বাক্যটি থেকে তার পূর্বপদ হবে নেতিবাচকের বিপরীতের বিপরীত। কারণ এমতাবস্থায় যদি মধ্যপদের সত্য হওয়া আবশ্যক হয়, তবে তার পরিধি সত্য হবে—হয় মধ্যপদটি অথবা নেতিবাচকের অন্যটি; এটি একটি বৈপরীত্য। অন্যথায় ইতিবাচকটির অন্য পদটি যা নেতিবাচকের অন্য পদের জন্য আবশ্যক, তবে তার পরিধি হবে হয় মধ্যপদ অথবা নেতিবাচকের অন্যটি। না, নেতিবাচক থেকে তার পূর্বপদটি এমন নয়, কারণ যৌগিক পদের প্রান্ত নেতিবাচকের প্রান্তের চেয়ে সাধারণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেমন 'প্রাণী' অথবা 'ঘোড়া', যেখানে 'মানুষ' মধ্যপদ হিসেবে থাকে। আর শেষোক্ত দুটিও একইভাবে উভয় প্রান্তের বিপরীত থেকে আংশিক সংযুক্ত বাক্য গঠন করে।

এর প্রমাণের মধ্যপদটি তৃতীয় সুরত থেকে আসা মধ্যপদটিই। এটি সার্বিক নয়, কারণ উভয় প্রান্তের বিপরীতের প্রতিটি অন্যটির চেয়ে একদিক থেকে সাধারণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেমন 'পাথর নয়' এবং 'গাছ নয়', যা তাদের বিপরীত 'প্রাণী'র মধ্যস্থতায় গঠিত হয়।

এবং যদি তাদের একটি নেতিবাচক হয়, এমনকি আংশিক বাক্যে ইতিবাচকটি থাকলেও, তবে উভয় প্রান্তের ক্ষেত্রে একটি আংশিক নেতিবাচক ফলাফল আসবে। অনিবার্য নেতিবাচক থেকে এর পূর্বপদ হবে নেতিবাচকের বিপরীতের বিপরীত। কারণ নেতিবাচকের বিপরীত হওয়া মানে হলো নেতিবাচক প্রান্তের সাথে ইতিবাচক প্রান্তের অনিবার্য সম্পর্ক থাকা; অথচ মধ্যপদটি ইতিবাচক বাক্যে একটি প্রতিবন্ধক, আর এখানে ফলাফলের ক্ষেত্রে তা তার অনিবার্য বিষয়ের জন্য প্রতিবন্ধক, যা একটি বৈপরীত্য। না, ইতিবাচকটি থেকে এর পূর্বপদটি এমন নয়, কারণ ইতিবাচক প্রান্তটি নেতিবাচক প্রান্তের চেয়ে বিশেষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেমন 'মানুষ' এবং 'গাধা নয়', যেখানে 'ঘোড়া' মধ্যপদ হিসেবে থাকে।

এবং যদি তাদের মধ্যপদটি উভয়ের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ না হয়, তবে এর নিয়ম হলো তার উভয় পূর্ববাক্য ইতিবাচক হওয়া, তাদের খালি হওয়া অসম্ভব হওয়া এবং তাদের একটি সার্বিক হওয়া এবং তাদের অংশীদারদের সমন্বয়ে ফলাফল প্রদান করা। আর সার্বিক বাক্যের নিয়ম—তার পূর্ববাক্য দুটি ইতিবাচক হওয়া ছাড়া—ত্রুটিপূর্ণ। এটি তাদের প্রত্যেকের অ-অংশীদার অংশ থেকে একটি বিয়োজক ফলাফল দেয় এবং তাদের প্রতিটি অংশীদার অংশের সমন্বিত ফলাফল হয় মানিআতুল খুলু, মানিআতুল জাম নয়; যদিও তারা প্রকৃত বিয়োজক হয়। কারণ অংশীদার দুটির অনিবার্য ফলাফল তাদের উভয়ের চেয়ে সাধারণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, আর কোনো কিছুর সাধারণ রূপের সাথে তার বিপরীতের একত্র হওয়া সম্ভব। এর প্রমাণ হলো বাস্তব ক্ষেত্রে তাদের প্রত্যেকের কোনো একটি অংশ থেকে খালি হওয়া। সুতরাং যদি তারা অংশীদার হয় তবে তাদের ফলাফল আবশ্যক হবে, অন্যথায় অন্য দুটি অথবা অংশীদার দুটির একটির সাথে অন্য একটি আবশ্যক হবে। আল-খুনাজি এবং আস-সিরাজ বলেন: এর প্রকারভেদ পাঁচটি: প্রথমত, যদি তাদের একটির অংশ অন্যটির অংশের সাথে অংশীদার হয়, তবে পূর্ণাঙ্গ বাক্যের অংশটি পূর্বপদ হিসেবে একটি অংশে অংশীদার হবে, যেমন প্রথমটির দুটি অংশ উদ্দেশ্য হিসেবে এবং দ্বিতীয়টি অজ্ঞাত হিসেবে থাকে; এবং তাদের একটি অধিকতর যোগ্য। ফলে ফলাফলের অংশগুলোর একটি তার এক অংশের সাথে অংশীদার হবে—প্রথম সুরতে তার ভিন্ন ভিন্ন দুই প্রান্ত থেকে এবং দ্বিতীয় সুরতে কেবল তাদের থেকে। অন্যথায় তৃতীয় সুরতে অংশীদারিত্ব হবে অন্যান্য প্রকারের ন্যায়।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ২৩)
الثاني: إن يشارك أحد جزئ الأخرى وينقسم إلى ثلاثة فيشترك في الأول أجزاء نتيجته في جزء وفي الثاني جزءا نتيجته وهما نتيجتا التأليفين ويجب كون تآلفي الثالث من شكلين.

ثالث: إن يشارك أحد جزئ الأخرى والآخر ينقسم إلى الثلاثة له نتيجتان نتيجة أحد المتشاركين مغلي حال الآخر ونتيجة عكسه يجوز كون تأليفه من شكل.

الرابع إن يشارك كل واحد من أحديهما كل واحد من الأخرى وينقسم إلى الثلاثة نتيجته من أربعة أجزاء نتائج اقيسة الأربعة يجب كون تأليفي الأخيرين من شكلين.

الخامس: إن يشارك جزء من أحديهما جزئ الأخرى والآخر أحدهما وينقسم اليها له نتيجتان نتيجة المشارك للجزئين ملغي حال الآخر ونتيجة عكسه ضروب كل قسم ثلاثة أمثال ضروب الحمليات لان المتصلتين كليتان أو الصغرى أو الكبرى.

ابن واصل: ذكر هذا النوع لا كالحمليات أصوب من ذكره الموجز كالحمليات فبالأول حمل أحد الآمرين على موضوع وحمل أحد أخريين على أحدهما وكليين ينتج حمل كل جزء حمل كل جزء حمل ولم يحمل عليه على الأول مفصولا حمل كل منهما باما.

وبالثاني حمل أحد أمرين على موضوع إيجابا وعلى آخر سلبا كليتين ينتج سلب الموضوع الثاني عن الأول.

وبالثالث: حمل أمرين على موضوع وحمل واحد من آخرين عليه ينتج بعض ما هو أحد الآمرين الأولين أحد الآمرين الأخيرين.

وبالرابع: حمل آمرين على موضوع وحمله عل آمرين مفصولا حمله باما كليتين ينتج حمل أحد الموضوعين الأخيرين على كل من المحمولين الأولين مفصولا الحمل عليهما باما.

وما وسطه تام من أحديهما فقط كما مر في المتصلتين نتيجة هنا مانعة خلو من الجزء غير المشارك ومن نتيجة التأليف بين الشرطيتين لعدم الخلو عن ذلك الجزء وعن نتيجة قياس المشارك.

الثالث من متصل ومنفصل والوسط جزء تام من كل منهما ولعدم تميز مقدم المنفصلة من تاليها كان الشكل الأول كالثاني والثالث كالرابع إن كانت المتصلة صغرى وإلا فالأول كثالث والثاني كالرابع.

ضابطة ايجاب احديهما وكلية وكون المتصلة الموجبة تشارك بتاليها مانعة الجمع وبمقدمها الخلو ايجابا وبالعكس سلبا نتيجته كمنفصلته وكيفا لأن ما لا يقارن لازما لا يقارن ملزومه وما لا يكذب مع لازمه. وكون سالبتها كلية أو متشاركة مقدمها مانعة جمع أو تاليها مانعة خلو نتيجتهما مع مانعة الخلو الكلية مانعة جمع كالمتصلة كما وكيفا ومانعة خلو كذلك وفي ما سواه سالبة جزئية مانعة الخلو وإلا كذبت المتصلة.

وضابط الجمل اشتمال المتشاركين بعد رد المنفصلة متصلة على تأليف منتج فأن شاركت المتصلة صغرى بتاليها وكانت موجبة أنتجت موجبة مانعة الجمع مثلها كلية أو جزئية إن كانت أحدهما لازما نافي لازما صدقا مطلقا نافي ملزومه كذلك لا مع موجبة مانعة الخلو لآن ما نافي لازما كذبا قد لا ينافي ملزومه وينتج معها جزئية مقدمها نقيض الأصغر وتاليها الأكبر لأستلزامها نقيض الأوسط مع سالبة مانعة الخلو مثلها كما مر لأن ما أمكن كذبه مع لازم أمكن كذبه مع كذب ملزومه لا مع سالبة الأولى ولا الجزئية لإمكان تساوي الطرفين.

وثانيهما كإنسان وناطق أو فرس بتوسط حيوان فأن كانت سالبة كلية أنتجت مع كلية مانعة الخلو سالبة مانعة جمع وإلا أستلزم الأصغر الأوسط لأستلزمه نقيض الأكبر المستلزمة هذا خلف ومانعة خلو وإلا استلزم نقيض الأكبر للأوسط والأصغر ة انتج من الثالث نقيض المتصلة ومع جزئيتها مثلها فقط مع جزئية المتصلة جزئية مانعة جمع فقط لما مر من الدليلين. والأولى مع مانعة الجمع ولو جزئية سالبة جزئية مانعة خلو وإلا استلزم الأوسط نقيض الأكبر أو نقيض الأكبر بنقيض النتيجة.

الخونجي: وانتج مع الصغرى المحال. السراج في بيان الحق. وانعكس إلى منافي الصغرى. وفي مطالع السراج: المتصلة السالبة الكلية المشاركة بتاليها لمانعة الجمع كلية وإلا ففي الجملة وفيه نظر لانا بينا إن الشيء لا يلزم نقيضه مطلقا.
দ্বিতীয়: যদি একটির এক অংশ অপরটির কোনো এক অংশের সাথে অংশীদার হয় এবং তা তিন ভাগে বিভক্ত হয়। প্রথমটিতে এর ফলাফলের অংশগুলো একটি অংশে শরিক হয়, আর দ্বিতীয়টিতে এর ফলাফলের দুটি অংশ শরিক হয়—যা দুটি বিন্যাসের ফলাফল। তৃতীয়টির দুটি বিন্যাস অবশ্যই দুটি গঠন বা আকৃতির (শাকল) হতে হবে।

তৃতীয়: যদি একটির এক অংশ অপরটির সাথে অংশীদার হয় এবং অপরটি তিন ভাগে বিভক্ত হয়, তবে এর দুটি ফলাফল থাকবে। অংশীদার হওয়া দুটির একটির ফলাফল অন্যটির অবস্থাকে বাতিলকারী হবে এবং এর বিপরীতটির ফলাফল একটি গঠন থেকে বিন্যাস হওয়া বৈধ করবে।

চতুর্থ: যদি উভয়ের প্রত্যেকটি অপরটির প্রত্যেকের সাথে অংশীদার হয় এবং তা তিন ভাগে বিভক্ত হয়, তবে এর ফলাফল চারটি অংশ থেকে গঠিত হবে যা চারটি ন্যায়ানুমানের ফলাফল। শেষোক্ত বিন্যাস দুটি অবশ্যই দুটি ভিন্ন গঠনের হতে হবে।

পঞ্চম: যদি একটির এক অংশ অপরটির দুই অংশের সাথে অংশীদার হয় এবং অপরটি কোনো একটির সাথে শরিক হয় এবং সেদিকেই বিভক্ত হয়, তবে এর দুটি ফলাফল থাকবে। দুই অংশের সাথে অংশীদার হওয়া অংশের ফলাফল অন্যটির অবস্থাকে বাতিল করবে এবং এর বিপরীত ফলাফলটি হবে। প্রতিটি ভাগের প্রকারগুলো বর্ণনামূলক (হামলিয়াত) বচনের প্রকারের তিন গুণ হবে। কারণ, দুটি প্রাকল্পিক (মুত্তাসিল) বচনই হয় সার্বিক (কুল্লি), অথবা ক্ষুদ্রতর (সুগরা) অথবা বৃহত্তর (কুবরা) বচন হবে।

ইবনে ওয়াসিল বলেন: এই প্রকারটিকে বর্ণনামূলক ন্যায়ানুমানের মতো না বলে স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করাই অধিক সঠিক। প্রথমটির ক্ষেত্রে, একটি বিষয়কে একটি উদ্দেশ্যের (মাওজু) ওপর আরোপ করা এবং অপর দুটির একটিকে তাদের কোনো একটির ওপর আরোপ করা এবং উভয়টি সার্বিক হওয়া এই ফলাফল দেয় যে, প্রতিটি অংশের আরোপই একটি আরোপ হবে। প্রথমটির ক্ষেত্রে যা আরোপ করা হয়নি তাকে 'অথবা' (ইম্মা) শব্দযোগে পৃথকভাবে প্রত্যেকের ওপর আরোপ করা হবে।

দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে, দুটি বিষয়ের একটিকে কোনো একটি উদ্দেশ্যের ওপর ইতিবাচকভাবে এবং অন্যটির ওপর নেতিবাচকভাবে আরোপ করা, যেখানে উভয়ই সার্বিক—এর ফলাফল হলো দ্বিতীয় উদ্দেশ্যটি থেকে প্রথম উদ্দেশ্যটিকে নেতিবাচকভাবে পৃথক করা।

তৃতীয়টির ক্ষেত্রে, দুটি বিষয়কে একটি উদ্দেশ্যের ওপর আরোপ করা এবং অন্য দুটির একটিকে তার ওপর আরোপ করার ফলাফল হলো—প্রথম দুটির একটি যা হবে, শেষোক্ত দুটির একটিও তা-ই হবে।

চতুর্থটির ক্ষেত্রে, দুটি বিষয়কে একটি উদ্দেশ্যের ওপর আরোপ করা এবং সেই উদ্দেশ্যটিকে অন্য দুটি বিষয়ের ওপর পৃথকভাবে 'অথবা' শব্দযোগে আরোপ করা, যেখানে উভয়ই সার্বিক—এর ফলাফল হবে শেষোক্ত উদ্দেশ্য দুটির একটিকে প্রথমোক্ত বিধেয় (মাহমুল) দুটির প্রত্যেকের ওপর পৃথকভাবে 'অথবা' শব্দযোগে আরোপ করা।

যার মধ্যপদ কেবল একটি থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে আসে, যেমনটি দুটি প্রাকল্পিক বচনের ক্ষেত্রে গত হয়েছে, তার ফলাফল এখানে হবে শরিক না হওয়া অংশ এবং দুটি শর্তযুক্ত বচনের বিন্যাসের ফলাফল থেকে 'শূন্যতা নিরোধক' (মানিআতুল খুলু)। কারণ, সেই অংশটি এবং অংশীদার হওয়া ন্যায়ানুমানের ফলাফল থেকে এটি শূন্য হওয়া অসম্ভব।

তৃতীয়টি হলো প্রাকল্পিক (মুত্তাসিল) এবং বিয়োজক (মুনফাসিল) বচনের সমন্বয়ে গঠিত, যেখানে মধ্যপদটি উভয়েরই একটি পূর্ণ অংশ। বিয়োজক বচনের পূর্বপদ (মুকাদ্দাম) ও পরপদের (তালি) মধ্যে পার্থক্য না থাকার কারণে, প্রাকল্পিক বচনটি ক্ষুদ্রতর (সুগরা) হলে প্রথম গঠনটি দ্বিতীয়টির মতো এবং তৃতীয় গঠনটি চতুর্থটির মতো হবে; অন্যথায় প্রথমটি তৃতীয়টির মতো এবং দ্বিতীয়টি চতুর্থটির মতো হবে।

এর মূলনীতি হলো কোনো একটির ইতিবাচক হওয়া এবং সার্বিক হওয়া। ইতিবাচক প্রাকল্পিক বচনটি তার পরপদের মাধ্যমে 'একত্রিকরণ নিরোধক' (মানিআতুল জাম) বচনের সাথে এবং তার পূর্বপদের মাধ্যমে 'শূন্যতা নিরোধক' (মানিআতুল খুলু) বচনের সাথে ইতিবাচকভাবে শরিক হয় এবং নেতিবাচকভাবে এর বিপরীত হয়। এর ফলাফল তার বিয়োজক বচনের মতো গুণ (কিফ) ও পরিমাণের দিক থেকে হবে। কারণ, যা কোনো আবশ্যিক বিষয়ের (লাজিম) সাথে সহাবস্থান করে না, তা তার মূল বিষয়ের (মালজুম) সাথেও সহাবস্থান করে না; এবং যা তার আবশ্যিক বিষয়ের সাথে মিথ্যা হয় না, তাও তদ্রূপ। আর যখন তার নেতিবাচক বচনটি সার্বিক হয় অথবা তার পূর্বপদ 'একত্রিকরণ নিরোধক' বা পরপদ 'শূন্যতা নিরোধক' হিসেবে শরিক হয়, তখন সার্বিক 'শূন্যতা নিরোধক' বচনের সাথে তাদের ফলাফল গুণ ও পরিমাণের দিক থেকে প্রাকল্পিক বচনের মতো 'একত্রিকরণ নিরোধক' হবে এবং একইভাবে 'শূন্যতা নিরোধক' হবে। এছাড়া অন্য ক্ষেত্রে এটি আংশিক নেতিবাচক 'শূন্যতা নিরোধক' হবে, নতুবা প্রাকল্পিক বচনটি মিথ্যা প্রমাণিত হবে।

আর সারসংক্ষেপ হলো—বিয়োজক বচনকে প্রাকল্পিকে রূপান্তর করার পর অংশীদার দুটির এমন এক বিন্যাসের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যা ফলাফল প্রদান করে। যদি প্রাকল্পিক বচনটি ক্ষুদ্রতর (সুগরা) হয়ে তার পরপদের মাধ্যমে শরিক হয় এবং তা ইতিবাচক হয়, তবে তা নিজের মতোই ইতিবাচক 'একত্রিকরণ নিরোধক' ফলাফল দেবে, চাই তা সার্বিক হোক বা আংশিক। যদি তাদের কোনো একটি এমন আবশ্যিক বিষয় হয় যা অপর আবশ্যিক বিষয়কে সত্তাগতভাবে ও নিরঙ্কুশভাবে অস্বীকার করে, তবে তা তার মূল বিষয়কেও একইভাবে অস্বীকার করবে। এটি ইতিবাচক 'শূন্যতা নিরোধক' বচনের সাথে হবে না; কারণ যা তার আবশ্যিক বিষয়কে মিথ্যা হওয়ার দিক থেকে অস্বীকার করে, তা কখনও তার মূল বিষয়কে অস্বীকার নাও করতে পারে। এমতাবস্থায় এটি এমন এক আংশিক ফলাফল দেবে যার পূর্বপদ হবে ক্ষুদ্রতর বচনের বিপরীত এবং পরপদ হবে বৃহত্তর বচন; কারণ তা মধ্যপদের বিপরীতকে আবশ্যক করে। একইভাবে নেতিবাচক 'শূন্যতা নিরোধক' বচনের সাথেও হবে যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। কারণ যা আবশ্যিক বিষয়ের সাথে মিথ্যা হওয়া সম্ভব, তা মূল বিষয়ের মিথ্যার সাথেও মিথ্যা হওয়া সম্ভব। এটি প্রথমটির নেতিবাচক বা আংশিক বচনের সাথে হবে না, কারণ উভয় প্রান্ত সমান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তাদের দ্বিতীয়টি যেমন মানুষ ও বাকশক্তি সম্পন্ন হওয়া, অথবা পশুর মধ্যস্থতায় ঘোড়া হওয়া। যদি তা সার্বিক নেতিবাচক হয়, তবে সার্বিক 'শূন্যতা নিরোধক' বচনের সাথে তা নেতিবাচক 'একত্রিকরণ নিরোধক' ফলাফল দেবে। অন্যথায় ক্ষুদ্রতর বচনটি মধ্যপদকে আবশ্যক করবে, যেহেতু তা বৃহত্তর বচনের বিপরীতকে আবশ্যক করে—যা একটি বৈপরীত্য। আর এটি 'শূন্যতা নিরোধক' হবে, অন্যথায় বৃহত্তর বচনের বিপরীতটি মধ্যপদ ও ক্ষুদ্রতর বচনকে আবশ্যক করবে এবং তৃতীয় গঠন থেকে প্রাকল্পিক বচনের বিপরীত ফলাফল দেবে। আর এর আংশিকের সাথে কেবল তার অনুরূপ ফলাফলই দেবে। প্রাকল্পিক বচনের আংশিকের সাথে কেবল আংশিক 'একত্রিকরণ নিরোধক' ফলাফল দেবে—পূর্বে বর্ণিত দুটি প্রমাণের কারণে। আর প্রথমটি 'একত্রিকরণ নিরোধক' বচনের সাথে—যদিও তা আংশিক নেতিবাচক হয়—আংশিক নেতিবাচক 'শূন্যতা নিরোধক' ফলাফল দেবে; অন্যথায় মধ্যপদটি বৃহত্তর বচনের বিপরীতকে অথবা বৃহত্তর বচনের বিপরীতটি ফলাফলের বিপরীতকে আবশ্যক করবে।

আল-খুনাজি বলেন: এটি ক্ষুদ্রতর বচনের (সুগরা) সাথে অসম্ভব ফলাফল প্রদান করে। আস-সিরাজ 'বায়ানুল হক' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তা ক্ষুদ্রতর বচনের পরিপন্থী ফলাফলে পর্যবসিত হয়েছে। সিরাজের 'মাতালি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: যে সার্বিক নেতিবাচক প্রাকল্পিক বচন তার পরপদের মাধ্যমে 'একত্রিকরণ নিরোধক' বচনের সাথে শরিক হয়, তা সার্বিক ফলাফল দেয়, অন্যথায় তা সামগ্রিকভাবে হয়। এতে আপত্তির অবকাশ আছে; কারণ আমরা স্পষ্ট করেছি যে, কোনো বস্তু নিরঙ্কুশভাবে তার নিজের বিপরীতকে আবশ্যক করে না।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ২৪)
قلت: قدم الجواب عنه وإن شاركنا بمقدمها وكانت موجبة أنتجت مع موجبة مانعة الخلو مثلها كلية أو جزئية وإن كأنتها أحدهما لأن ما لا يكذب مع كذب لازمه كذلك لا مع مانعة الجمع لآن ما نافي ملزوما صدقا قد لا ينافي لازمه فيه وتنتج معها جزئية من الأصغر ونقيض الأكبر لأستلزامها الوسط ومع سالبة مانعة الجمع مثلها لآن ما قارن ملزوما في الصدق قارن لازمه لا مع مانعة الخلو بوجه لاحتمال تساوي الطرفين كحيوان وحساس بتوسط إنسان. فأن كانت كلية أنتجت مع كلية مانعة الخلو مانعة جمع ومانعة خلو لما مر. ومع جزئيتهما مثلها وإلا كذب الصغرى من الثالث ولذلك لو كانت المتصلة جزئية عقم لاحتمال تساوي الطرفين كلا إنسان ولا ناطق بتوسط لا فرس وتباينها كإنسان ولا إنسان بتوسط حيوان.

والأولى مع مانعة الجمع ولو أحدهما جزئيا سالبة مانعة الخلو وإلا كان الأوسط مستلزما للأصغر هذا خلف. وإن شاركت كبرى بتاليها فكالاول وبمقدمها فكالثاني إلا في المتصلة التي من أحد الطرفين ونقيض الآخر فهي في الثالث كما هي في الثاني وفي الرابع كما هي في الأول.

وفي مطالع السراج: الاختلاف في الشرطيات إنما يتبين ببيان صدق القياس مع التلازم والتعاند وإذا كان الشيء قد يستلزم نقيضه كان الاختلاف ممنوعا فأمتنع الاستدلال به على العقم.

والحقيقة تنتج إنتاج كل واحدة من المنفصلتين موجبة لا سالبة بوجه لأنها لو أنتجت في هذه الاقيسة أنتجت المنفصلتان سالبتين في كل منهما أخص منها.

قال الشيخ: إن كانت موجبة جزئية كبى لم تنتج مع جزئية المتصلة الكلية المشاركة التالي. ورده الخونجي والسراج بإنتاجه موجبة جزئية مانعة جمع لأن منافي اللازم مطلقا منافي الملزوم كذلك ولإنتاجه موجبة جزئية مقدمها نقض الأصغر وتاليها الأكبر من الثالث والوسط نقيض الوسط. وهو لم يراع مواقف النتيجة للقياس في الحدود.

وقال المتصلة الموجبة سالبة كلية مانعة الخلو وإلا كذبت الكبرى لأن ما لا يخلو الواقع عنه أو عن ملزوم لا يخلو الواقع عنه عن لازمه.

وإن كان وسطه غير تام فيهما فضابط الجمل له الأمر الأول ومنع خلو منفصلته في الكشف: وإيجاب المتصلة ودلالة قول ابن واصل احد الأمرين الأولين على صحة تناول الثاني إياه مشكل لاتفاقهم على إن نتيجة متصلة مقدمها مقدم المتصلة وتاليها مانعة خلو من نتيجة التأليف وغير مشارك المنفصلة ومانعة خلو من غير مشارك المنفصلة وملزومية مقدم المتصلة لنتيجة التالف.

فقول الحمل في المتصلة وتاليها التأليف وفي المنفصلة من كل ما لا يشارك ونتيجة التأليف من كل ما شارك قاصر والبرهان في الأولى إن مقدم المتصلة ملزوم لتاليها فأن صدق معه المشارك لزمت نتيجة التأليف وإلا الآخر. وفي الثانية إن صدق غير مشارك المنفصلة صدقت النتيجة وإلا صدق المشارك ولزم ملزومية مقدم المتصلة لنتيجة التأليف وشركة المتصلة صغرى وكبرى بمقدمها أو تاليها لأحد جزئي المنفصلة كالمركب من حملي ومتصل أو منفصل في الضروب وبراهينها.

وما وسطه غير تام في أحدهما كما مر في المركب من متصلين.

الرابع من حملي متصل ضروبه بحسب كم الحملية ومشاركها والمتصلة مسطح محصورات الثلاثة وضابطه للكشف وبيان الحق الأمر الأول مع أيجاب مشاركة التالي دون شركة كلية إحدى المقدمتين أو الثاني أو الثالث.

وللجمل وابن واصل: الأول بشرط كلية أحدهما دون شرط إيجاب مشاركة التالي أو الثاني وعليهما تعقب يأتي في الشكل الثاني.

قلت: فما عقم بشرط ايجاب التالي انتج بالثالث فان شاركت حملية التالي صغرى أو كبرى لمنتجة على رأي الجمل ذو التأليف المنتج على إن الحملية صغرى أو كبرى ولو بالقوة في السالبة فيجب كون تاليها نقيض ما ينتج مع الحملية وعلى غيره بالفعل وما بالقوة ينتج بالثالث والنتيجة متصلة من نتيجة التأليف وغير مشارك المتصلة وضع نتيجة التأليف منها كالمشارك وكيفها كالمتصلة في كل قسم وكمها ككمها هنا وفي غيره ما برهن بإنتاج نتيجة التأليف كلية وغيره جزئية.

وكم نتيجة التأليف في المنتج بالأمر الأول بمقتضى منتجها وفى المنتج نتيجة التأليف بحسب حالها في إنتاجها وفي المنتج بعكسها كليا جزئية برهنة الأكثر بالأول وسطه مجموع التالي والحملية.
আমি বলি: এর উত্তর পূর্বে প্রদান করা হয়েছে। যদিও আমরা এর মুকাদ্দাম (পূর্বপদ) দ্বারা অংশীদার করি এবং তা যদি মুজিবা (ইতিবাচক) হয়, তবে তা মুজিবা মানিআতুল খুলু-র সাথে অনুরূপ কুল্লিয়াহ (সামগ্রিক) বা জুজইয়াহ (আংশিক) ফলাফল প্রদান করবে, যদিও তাদের একটি তা-ই হয়। কারণ, যা তার লাজিম (অনিবার্য অনুষঙ্গ) মিথ্যা হওয়ার সাথে মিথ্যা হয় না, তা তেমনিভাবে মানিআতুল জাম-এর সাথেও নয়। কারণ যা সত্যতার দিক থেকে মলযুমের (অনিবার্য বিষয়) পরিপন্থী হয়, তা অনেক সময় তার লাজিমের পরিপন্থী হয় না। এটি তার সাথে আসগার (ক্ষুদ্রতর পদ) এবং আকবার (বৃহত্তর পদ)-এর নকীজ (বিপরীত) থেকে জুজইয়াহ ফলাফল দেয়, কারণ এতে ওয়াসাত (মধ্যপদ) অনিবার্য হয়। আর সালিবা (নেতিবাচক) মানিআতুল জাম-এর সাথেও অনুরূপ ফলাফল দেয়, কারণ যা সত্যের ক্ষেত্রে মলযুমের সাথে মিলে যায়, তা তার লাজিমের সাথেও মিলে যায়। তবে মানিআতুল খুলু-র সাথে কোনোভাবেই নয়, কারণ উভয় প্রান্ত সমান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেমন মানুষের মধ্যস্থতায় প্রাণী ও সংবেদনশীল। যদি তা কুল্লিয়াহ হয়, তবে কুল্লিয়াহ মানিআতুল খুলু-র সাথে মানিআতুল জাম এবং মানিআতুল খুলু ফলাফল দেবে, যা পূর্বে গত হয়েছে। আর তাদের জুজইয়াহ-র সাথেও অনুরূপ। অন্যথায় তৃতীয় প্রকার থেকে সুগরা (ক্ষুদ্রতর ভূমিকা) মিথ্যা হবে। এ কারণেই মুত্তাসিলা যদি জুজইয়াহ হয়, তবে তা বন্ধ্যা (ফলাফলহীন) হবে, কারণ উভয় প্রান্ত সমান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যেমন 'মানুষ নয়' এবং 'বাকশক্তি সম্পন্ন নয়', যা 'ঘোড়া নয়' এর মধ্যস্থতায়; আবার তাদের মধ্যে বৈপরীত্যের কারণেও, যেমন 'মানুষ' এবং 'মানুষ নয়', যা 'প্রাণী'র মধ্যস্থতায়।

প্রথমটি মানিআতুল জাম-এর সাথে সালিবা মানিআতুল খুলু ফলাফল দেয়, যদিও তাদের একটি জুজইয়াহ হয়। অন্যথায় আওসাত (মধ্যপদ) আসগারের লাজিম হবে, যা অসম্ভব। আর যদি কুবরা (বৃহত্তর ভূমিকা) তার তালী (উত্তরপদ) দ্বারা অংশীদার হয়, তবে তা প্রথমটির মতো। আর যদি মুকাদ্দাম দ্বারা হয়, তবে তা দ্বিতীয়টির মতো; তবে সেই মুত্তাসিলা ব্যতীত যা এক প্রান্ত থেকে এবং অন্যটির নকীজ থেকে গঠিত। সেটি তৃতীয় প্রকারে তেমনই যেমন দ্বিতীয়টিতে ছিল, আর চতুর্থ প্রকারে তেমনই যেমন প্রথমটিতে ছিল।

মাতালিউস সিরাজ-এ বলা হয়েছে: শর্তমূলক বাক্যসমূহের মধ্যে পার্থক্য কেবল তিলাযুম (অনিবার্য ব্যাপ্তি) এবং তা'আনুন্দ (পারস্পরিক বিরোধিতা)-এর সাথে কিয়াসের সত্যতা বর্ণনার মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়। আর যখন কোনো বস্তু কখনও তার স্বীয় নকীজকে অনিবার্য করে তোলে, তখন পার্থক্য নিষিদ্ধ হয়ে যায়, ফলে তার মাধ্যমে কিয়াসের বন্ধ্যাত্বের ওপর দলিল পেশ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

হাকিকিয়্যাহ (প্রকৃত বিযুক্ত বাক্য) ফলাফল প্রদান করে উভয় মুনফাসিলা-র প্রত্যেকটির ফলাফল প্রদানের ন্যায়, যা মুজিবা হবে, কোনোভাবেই সালিবা হবে না। কারণ এটি যদি এই কিয়াসগুলোতে ফলাফল দিত, তবে উভয় মুনফাসিলা প্রতিটিতে তাদের চেয়ে আরও খাস (বিশিষ্ট) দুটি সালিবা ফলাফল প্রদান করত।

শাইখ বলেন: যদি মুজিবা জুজইয়াহ কুবরা হয়, তবে তা মুত্তাসিলা কুল্লিয়াহ-র জুজইয়াহ-র সাথে তালী-তে অংশীদার হয়ে ফলাফল দেবে না। আল-খুনজি এবং আস-সিরাজ একে খণ্ডন করেছেন এই বলে যে, এটি মুজিবা জুজইয়াহ মানিআতুল জাম ফলাফল দেয়। কারণ যা লাজিমের জন্য নিরঙ্কুশভাবে পরিপন্থী, তা মলযুমের জন্যও তেমনই পরিপন্থী। এছাড়া এটি এমন মুজিবা জুজইয়াহ ফলাফল দেয় যার মুকাদ্দাম আসগারের নকীজ এবং তালী আকবার থেকে হয়, যা তৃতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত এবং ওয়াসাত হলো ওয়াসাতের নকীজ। তিনি কিয়াসের সীমানায় ফলাফলের অবস্থানগুলো লক্ষ্য করেননি।

তিনি বলেন, মুজিবা মুত্তাসিলা হলো সালিবা কুল্লিয়াহ মানিআতুল খুলু, অন্যথায় কুবরা মিথ্যা হবে। কারণ বাস্তব পরিস্থিতি যা থেকে বা তার মলযুম থেকে শূন্য হয় না, তা তার লাজিম থেকেও শূন্য হয় না।

যদি উভয়ের মধ্যে মধ্যপদটি অপূর্ণ হয়, তবে 'আল-জুমাল'-এর মূলনীতি হলো প্রথম বিষয়টি। আর 'আল-কাশফ'-এ তার মুনফাসিলা-র মানিআতুল খুলু নির্ধারণ করা হয়েছে। মুত্তাসিলা-র ইজাব এবং ইবনে ওয়াসিল-এর উক্তি—যে প্রথম দুটির একটি দ্বিতীয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিশুদ্ধতার ওপর দালালত করে—তা জটিল। কারণ তারা একমত যে, মুত্তাসিলা-র ফলাফল হলো এমন যার মুকাদ্দাম হলো মুত্তাসিলা-র মুকাদ্দাম এবং তালী হলো তালীফ-এর ফলাফলের মানিআতুল খুলু, যা মুনফাসিলা-র সাথে অংশীদার নয় এবং মুনফাসিলা-র অ-অংশীদার থেকে মানিআতুল খুলু, আর তালীফ-এর ফলাফলের প্রতি মুত্তাসিলা-র মুকাদ্দামের মলযুম হওয়া।

সুতরাং মুত্তাসিলা-র ক্ষেত্রে 'হামল' (আরোপ) বলা এবং তার তালী হলো তালীফ, আর মুনফাসিলা-র ক্ষেত্রে সেই সব কিছু থেকে যা অংশীদার নয় এবং প্রত্যেক অংশীদার থেকে তালীফ-এর ফলাফল হওয়া—এটি ত্রুটিপূর্ণ। প্রথমটির প্রমাণ হলো এই যে, মুত্তাসিলা-র মুকাদ্দাম তার তালী-এর জন্য মলযুম। সুতরাং যদি তার সাথে অংশীদারটি সত্য হয়, তবে তালীফ-এর ফলাফল অনিবার্য হবে, অন্যথায় অপরটি। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে প্রমাণ হলো, যদি মুনফাসিলা-র অ-অংশীদার সত্য হয়, তবে ফলাফল সত্য হবে, অন্যথায় অংশীদারটি সত্য হবে এবং তালীফ-এর ফলাফলের প্রতি মুত্তাসিলা-র মুকাদ্দামের মলযুম হওয়া অনিবার্য হবে। মুত্তাসিলা-র সুগরা ও কুবরা হওয়া তার মুকাদ্দাম বা তালী-এর মাধ্যমে মুনফাসিলা-র কোনো একটি অংশের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া, যেমনটি হামলি ও মুত্তাসিলা অথবা মুনফাসিলা দ্বারা গঠিত যৌগিক কিয়াসের প্রকারভেদ ও প্রমাণসমূহের ক্ষেত্রে হয়।

আর যেটির মধ্যপদ কোনো একটিতে অপূর্ণ, তা দুই মুত্তাসিলা দ্বারা গঠিত যৌগের ক্ষেত্রে যেমন গত হয়েছে তেমনই।

চতুর্থ প্রকার হলো হামলি ও মুত্তাসিলা থেকে গঠিত; এর প্রকারভেদগুলো হামলি-র পরিমাণ এবং তার অংশীদার অনুযায়ী হয়। আর মুত্তাসিলা হলো তিনটি সীমাবদ্ধ ক্ষেত্রের সমতল। 'আল-কাশফ' এবং সত্য বর্ণনার ক্ষেত্রে এর মূলনীতি হলো প্রথম বিষয়টি, সাথে তালী-র অংশীদারিত্বের ইজাব, তবে উভয় মুকাদ্দামা-র কোনো একটির কুল্লিয়াত অথবা দ্বিতীয় বা তৃতীয়টির অংশীদারিত্বের শর্ত ছাড়াই।

'আল-জুমাল' এবং ইবনে ওয়াসিল-এর মতে: প্রথমটি, তবে শর্ত হলো যেকোনো একটির কুল্লিয়াত হওয়া, তালী-র অংশীদারিত্বের ইজাব বা দ্বিতীয়টির শর্ত ছাড়াই। এই মত দুটির ওপর আপত্তি রয়েছে যা দ্বিতীয় আকৃতিতে আসবে।

আমি বলি: সুতরাং তালী-এর ইজাবের শর্তে যা বন্ধ্যা হয়েছিল, তা তৃতীয়টির মাধ্যমে ফলাফল দেবে। যদি হামলিটি সুগরা বা কুবরা হিসেবে তালী-র সাথে অংশীদার হয়, তবে 'আল-জুমাল'-এর মতে সেটি ফলাফল প্রদানকারী তালীফ-এর অধিকারী হবে। এই ভিত্তিতে যে, হামলিটি সুগরা বা কুবরা হবে, যদিও সালিবার ক্ষেত্রে তা 'বিল-কুওয়াহ' (সুপ্তভাবে) হয়। সুতরাং তার তালী-কে অবশ্যই সেই বিষয়ের নকীজ হতে হবে যা হামলির সাথে ফলাফল দেয়। আর অন্যান্যের মতে তা হবে 'বিল-ফেল' (সক্রিয়ভাবে)। যা 'বিল-কুওয়াহ' তা তৃতীয় প্রকারের মাধ্যমে ফলাফল দেয়। ফলাফলটি হবে মুত্তাসিলা, যা তালীফ-এর ফলাফল এবং মুত্তাসিলা-র অ-অংশীদার থেকে গঠিত। তালীফ-এর ফলাফলের অবস্থান সেখান থেকে অংশীদারের মতো এবং এর গুণগত অবস্থা প্রতি বিভাগে মুত্তাসিলা-র মতো হবে। আর এর পরিমাণ এখানে তার পরিমাণের মতো হবে। আর অন্য ক্ষেত্রে যা প্রমাণ করা হয়েছে তা হলো তালীফ-এর ফলাফলের কুল্লিয়াহ হওয়া এবং অন্যটি জুজইয়াহ হওয়া। তালীফ-এর ফলাফলের পরিমাণ প্রথম মূলনীতিতে ফলাফল প্রদানকারী কিয়াসে তার উৎপাদনকারীর দাবি অনুযায়ী হবে। আর যেক্ষেত্রে তালীফ-এর ফলাফল তৈরি হয়, সেখানে তার উৎপাদনের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হবে। আর যেক্ষেত্রে এর বিপরীত কুল্লিয়াহ থেকে জুজইয়াহ ফলাফল আসে, সেখানে অধিকাংশের প্রমাণ হলো প্রথমটির মাধ্যমে, যার মধ্যপদ হলো তালী ও হামলির সমষ্টি।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ২৫)
وتعقبه الشيخ بمنع مقارنة صدق الحملية فرض صدق المقدم بجواز كونه محالا. وأجاب بشرط عدم منافاتها. ورده الخونجي والسراج بأن عدم المنافاة لا يقتضي ملزومية المقدم للحملية.

وأجاب ابن واصل بأن البرهان لا يتوقف على ملزومية المقدم للحملية بل على مقارنة صدقها صدق التالي وشرط عدم المنافاة بقتضيه.

والخونجي بصدق مانعة الخلو من نقيض المقدم ونتيجة التأليف لان الحملية إن قارنها صدق التالي صدقت نتيجة التأليف وإلا صدق نقيض المقدم وهي هل ملزومية النتيجة.

ورده السراج بان هذه المنفصلة إنما لزمت في الواقع فتكون جزئية فلا يمكن دعوى لزومها كلية. رد بوضوح عموم لزومها للمقدمتين.

وبرهان ما انتج بالثالث من الثاني والوسط نتيجة التأليف يجب سلب لزوم نتيجة التأليف للمقدم كليا لملزومية نقيضه مع الحملية نقيض المتصلة بواسطة نتيجة التأليف مع الحملية تالي المتصلة فبضم صغرى للزومية نتيجة التأليف لها. ينتج من الثاني المطلوب. وان شاركت مقدمة صغرى بالشكل الأول فضابطه شرف الحملية وكلية الكبرى ومقدمها وإلا مع المقدم السالب منتجه ثمانية وعشرون الصغرى موجبة مع كلية مقدم الكلية بالامر الأول برهانه في المتصلة الموجبة بعكس المتصلة فيرجع إلى القسم الأول ويضم نتيجة ملزومية المقدم له وللحملية وعموم ملزوميتها لنتيجة التأليف صغرى للكبرى ينتج من الثالث المطلوب وبضم عكسها صغرى للكبرى من الأول المطلوب وبإنتاج نقض النتيجة مع الكبرى من الثاني منافي النتيجة الأولى وفي السالبة برها موجبة على رأي الاقدمين.

ابن واصل: والحق كالموجبة لبطلان رأى الاقدمين مقدم موجبها بالاولى بالقوة وبإنتاج نتيجة التأليف ولو جزئية مع الحملية المقدم مع جزئية مقدم سالبتها. هذا ومع مقدم الجزئيتين الكلي بالأول وسالبة كلية مع مقدم السالب بإنتاج عكس نتيجة التأليف وبرهان ما انتج نتيجة التأليف بالشكل الأول وسط قياسه الأول ملزومية نتيجة التأليف للحملية ووسط قياسة الثاني مقدم المتصلة وما انتج بإنتاج عكس نتيجة التأليف كليا بالثالث والوسط ملزومية العكس للحملية بضم لزوم نتيجة التأليف للمزومية عكسها كليا للحملية صغرى بوسط إنتاجهما المقدم.

وتعقب ابن واصل الأول بمنعه انعكاس المتصلة. قال ودليله في الحمليات بالخلف لا يتم لجواز كون المفرد محالا فجاز إن يستلزم المحال وان سلم فانما يدل على صدق العكس بمطلق الاتصل الأعم من اللزوم ورد الاخيرين بصنع مقرنة صدق نتيجة التأليف أو عكسها لملزومية أحدهما للحملية لجواز كون نتيجة التأليف أو عكسها محالا فجاز إن يستلزم المحال.

قلت: عدم انعكاس المتصلة مر جوابه. ومنع لزوم اتصاله بعد تسلمه يرد بان برهانه دليل علاقته الموجبة كون اتصاله لزوميا. ويرد لاخيران بفرض عدم منافاة نتيجة التأليف أو عكسها كليا لملزومية أحدهما للحملية وان شاركته بالثاني فضابطه كلية متصلة أو مقدمها. واختلاف كيف الحملية والمقدم أو موافقة كيف مقدم الحملية وليس اشرف منها منتجه ستة وثلاثون الصغرى كلية مع مقدم الكلية موجبتها مع المقدم السالب بالأول في كليته وبه بالقوة في جزئيته ومع كلية موجبة بإنتاج عكس نتيجة التأليف كليا وع جزئيتة بإنتاج نتيجة التأليف وسالبتها مع المقدم الموجب كموجبتها مع السالب كموجبتها مع الموجب وموجبتها مع كلية مقدم الجزئية السالب وسالبتها مع كلية مقدم الجزئية الموجب بالأول فيهما وموجبة جزئيته مع كليته مقدم الجزئية السالب بالأول مع كلية مقدم الكلية السالبة به ومع جزئيته مقدم الكلية الموجب بإنتاج نتيجة التأليف وسالبة جزئية مع كلية مقدم الجزئية الموجب بالأول ومع مقدم الكلية الموجب بالأول في كليته وفي جزئيتة به بالقوة. ومع السالب الجزئي بإنتاج نتيجة التأليف.

قلت: تقدم مثله في المشاركة بالشكل الأول وياتي في غيره. ونص الكشف وبيان الحق والمطالع على الإنتاج دون كلية احدى المقدمتين لبرهان إنتاجهما وسطه من الثالث مقدم الكبرى يضم ملزوميته لنتيجة التأليف بواسطة ملزوميته له وللحماية صغرى للكبرى ولا يتم في المتصلتين لان ملزومية امر لآخر لا توجب كونه كذلك لملزومه كليا.
শেখ এই মতের সমালোচনা করেছেন এই যুক্তিতে যে, পূর্বগ বা মুকাদ্দামটি অসম্ভব হওয়ার সম্ভাবনার কারণে বর্ণনামূলক বচন বা হামলিয়ার সত্যতার সাথে এর সত্যতার সহাবস্থান অসম্ভব হতে পারে। তিনি এর উত্তর দিয়েছেন বচনসমূহের মধ্যে বিরোধ না থাকার শর্তারোপ করে। তবে আল-খুনজি ও আল-সিরাজ একে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে, বিরোধের অনুপস্থিতি মানেই এই নয় যে মুকাদ্দামটি হামলিয়াকে অনিবার্য করে তুলবে।

ইবনে ওয়াসিল উত্তর দিয়েছেন যে, প্রমাণটি হামলিয়ার জন্য মুকাদ্দামের অনিবার্যতার ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি নির্ভর করে অনুগ বা তালির সত্যতার সাথে হামলিয়ার সত্যতার সহাবস্থানের ওপর, এবং বিরোধ না থাকার শর্তটি এটিই দাবি করে।

আল-খুনজি মুকাদ্দামের বিপরীত এবং বিন্যাসফলের মধ্যে 'মানিয়াতুল খুলু' (যাতে উভয়ই মিথ্যা হওয়া অসম্ভব) সত্য হওয়ার মাধ্যমে উত্তর দিয়েছেন। কারণ হামলিয়া যদি তালির সত্যতার সাথে সহাবস্থান করে, তবে বিন্যাসফলটি সত্য হবে, অন্যথায় মুকাদ্দামের বিপরীতটি সত্য হবে, যা মূলত বিন্যাসফলেরই অনিবার্যতার রূপ।

আল-সিরাজ একে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে, এই বিচ্ছিন্ন বচনটি বা মুনফাসিলাটি কেবল বাস্তবে অনিবার্য হয়, ফলে এটি আংশিক বা জুজউয়্যাহ হবে; সুতরাং একে সার্বিক বা কুল্লিয়াহ হিসেবে দাবি করা সম্ভব নয়। তবে উভয় হেতুবাক্যের ক্ষেত্রে এর অনিবার্যতার ব্যাপকতা স্পষ্ট হওয়ার মাধ্যমে এই আপত্তি খণ্ডন করা হয়েছে।

দ্বিতীয় চিত্র থেকে তৃতীয় চিত্রের মাধ্যমে যা ফলিত হয় এবং এর মধ্যপদ যদি বিন্যাসফল হয়, তবে মুকাদ্দামের জন্য বিন্যাসফলের অনিবার্যতাকে সার্বিকভাবে অস্বীকার করা আবশ্যক। কারণ বিন্যাসফলের মাধ্যমে মুকাদ্দামের বিপরীত ও হামলিয়া মিলে শর্তমূলক বচন বা মুত্তাসিলার বিপরীতকে অনিবার্য করে; যেখানে বিন্যাসফল ও হামলিয়া মিলে মুত্তাসিলার তালি গঠন করে। অতঃপর বিন্যাসফলের অনিবার্যতার জন্য একটি অপ্রধান হেতুবাক্য বা সুগরা যুক্ত করলে দ্বিতীয় চিত্র থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায়। যদি প্রথম চিত্রের সাথে অপ্রধান হেতুবাক্যটি অংশীদার হয়, তবে তার মানদণ্ড হলো হামলিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব এবং প্রধান হেতুবাক্য বা কুবরা ও তার মুকাদ্দামের সার্বিকতা। অন্যথায়, নঞর্থক বা সালিবা মুকাদ্দামের ক্ষেত্রে এর ফলাফল হবে আঠাশটি। প্রথম বিষয়ের মাধ্যমে কুবরা বা প্রধান হেতুবাক্যের মুকাদ্দামের সার্বিকতার সাথে সুগরা বা অপ্রধান হেতুবাক্যটি সদর্থক বা মুজিবা হবে। সদর্থক মুত্তাসিলার ক্ষেত্রে এর প্রমাণ হলো মুত্তাসিলার আবর্তন বা আকসের মাধ্যমে, যা প্রথম প্রকারে ফিরে যায়। এর সাথে মুকাদ্দামটি হামলিয়াকে অনিবার্য করার ফলাফল এবং বিন্যাসফলের জন্য এর অনিবার্যতার ব্যাপকতাকে কুবরার জন্য সুগরা হিসেবে যুক্ত করলে তৃতীয় চিত্র থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায়। এর আবর্তনকে কুবরার জন্য সুগরা হিসেবে যুক্ত করলে প্রথম চিত্র থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায়। ফলাফলের বিপরীতের সাথে কুবরাকে দ্বিতীয় চিত্রে বিন্যস্ত করলে তা প্রথম ফলাফলের বিরোধী হবে। আর সালিবা বা নঞর্থক বচনের ক্ষেত্রে প্রাচীনদের মতে এটি মুজিবা বা সদর্থক হিসেবে প্রমাণিত হবে।

ইবনে ওয়াসিল বলেন: সত্য হলো এটি মুজিবা বা সদর্থকের মতোই, কারণ প্রাচীনদের মতবাদ বাতিল। এর মুজিবা বা সদর্থক মুকাদ্দামটি প্রথম চিত্রের মাধ্যমে কার্যত বিদ্যমান থাকে। বিন্যাসফলের সাথে হামলিয়া এবং আংশিক নঞর্থক মুকাদ্দামের সাথে হামলিয়া মিলে বিন্যাসফল উৎপাদন করে, যদিও তা আংশিক হয়। এর সাথে দুটি আংশিক বচনের মুকাদ্দাম প্রথম চিত্রের মাধ্যমে সার্বিক হবে। নঞর্থক মুকাদ্দামের সাথে সার্বিক সালিবা বচনটি বিন্যাসফলের আবর্তিত রূপ উৎপাদন করবে। প্রথম চিত্রের মাধ্যমে বিন্যাসফল উৎপন্ন হওয়ার প্রমাণ হলো, এর প্রথম পর্যায়ের মধ্যপদ হলো হামলিয়ার জন্য বিন্যাসফলের অনিবার্যতা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের মধ্যপদ হলো মুত্তাসিলার মুকাদ্দাম। আর যা তৃতীয় চিত্রের মাধ্যমে সার্বিকভাবে বিন্যাসফলের আবর্তিত রূপ উৎপাদন করে এবং এর মধ্যপদ হলো হামলিয়ার জন্য আবর্তিত রূপের অনিবার্যতা, সেখানে বিন্যাসফলের অনিবার্যতার সাথে তার আবর্তিত রূপের সার্বিক অনিবার্যতাকে হামলিয়ার জন্য সুগরা হিসেবে যুক্ত করলে তাদের মধ্যপদ হবে মুকাদ্দাম।

ইবনে ওয়াসিল প্রথম বিষয়ের সমালোচনা করেছেন মুত্তাসিলা বা শর্তমূলক বচনের আবর্তন বা আকস অস্বীকার করার মাধ্যমে। তিনি বলেছেন যে, হামলিয়া বচনের ক্ষেত্রে 'বিপরীতের মাধ্যমে প্রমাণ' (বুরহানে খুলাফ) পূর্ণ হয় না, কারণ একক পদটি অসম্ভব হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; ফলে অসম্ভব কিছু থেকে অন্য কিছু অনিবার্য হওয়া সম্ভব। যদি তা মেনেও নেওয়া হয়, তবে তা কেবল লুজুম বা অনিবার্যতার চেয়েও ব্যাপকতর কোনো সাধারণ সম্পর্কের ভিত্তিতে আবর্তনের সত্যতা প্রমাণ করবে। তিনি শেষোক্ত দুটি বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিন্যাসফল বা তার আবর্তিত রূপের সত্যতার সহাবস্থানকে হামলিয়ার অনিবার্যতার জন্য অস্বীকার করার মাধ্যমে। কারণ বিন্যাসফল বা তার আবর্তন অসম্ভব হতে পারে, আর অসম্ভব থেকে অন্য কিছু অনিবার্য হওয়া সম্ভব।

আমি বলি: মুত্তাসিলা বচনের আবর্তন না হওয়ার উত্তর পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর এর সংযোগের অনিবার্যতা অস্বীকার করার বিষয়ে বলা যায় যে, এর প্রমাণের মাধ্যমেই তার সদর্থক সম্পর্কের প্রমাণ মেলে, যা তার সংযোগকে অনিবার্য করে তোলে। শেষোক্ত দুটি আপত্তির উত্তর দেওয়া যায় বিন্যাসফল বা তার আবর্তিত রূপের মধ্যে কোনো বিরোধ না থাকার শর্তারোপ করে। যদি দ্বিতীয় চিত্রের সাথে অংশীদার হয়, তবে তার মানদণ্ড হলো মুত্তাসিলা বা তার মুকাদ্দামের সার্বিকতা। হামলিয়া ও মুকাদ্দামের গুণের (সদর্থক/নঞর্থক) ভিন্নতা অথবা হামলিয়ার মুকাদ্দামের গুণের মিল থাকা—যদি তা হামলিয়ার চেয়ে শ্রেষ্ঠ না হয়—তবে এর ফলাফল হবে ছত্রিশটি। কুবরার মুকাদ্দামের সার্বিকতার সাথে সুগরা সার্বিক হবে। সালিবা মুকাদ্দামের সাথে এর মুজিবা বচনটি প্রথম চিত্রের মাধ্যমে সার্বিক হবে এবং আংশিকের ক্ষেত্রে তা শক্তিগতভাবে (বিল কুওয়াহ) হবে। সার্বিক মুজিবার সাথে এটি সার্বিকভাবে বিন্যাসফলের আবর্তন উৎপাদন করবে। আংশিকের সাথে এটি বিন্যাসফল উৎপাদন করবে। মুজিবা মুকাদ্দামের সাথে এর সালিবা বচনটি ঠিক তেমনি হবে যেমন সালিবার সাথে মুজিবা এবং মুজিবার সাথে মুজিবা হয়েছিল। আংশিক সালিবা মুকাদ্দামের সার্বিকতার সাথে মুজিবা বচন এবং আংশিক মুজিবা মুকাদ্দামের সার্বিকতার সাথে সালিবা বচন—উভয় ক্ষেত্রেই প্রথম চিত্রের মাধ্যমে ফলাফল আসবে। আংশিক সালিবা মুকাদ্দামের সার্বিকতার সাথে তার আংশিক মুজিবা বচনটি প্রথম চিত্রের মাধ্যমে হবে। সার্বিক সালিবা কুবরার মুকাদ্দামের সার্বিকতার সাথে এটি কার্যকর হবে। সার্বিক মুজিবা কুবরার মুকাদ্দামের আংশিকতার ক্ষেত্রে এটি বিন্যাসফল উৎপাদন করবে। আংশিক মুজিবা মুকাদ্দামের সার্বিকতার সাথে আংশিক সালিবা বচনটি প্রথম চিত্রের মাধ্যমে হবে। সার্বিক মুজিবা কুবরার মুকাদ্দামের ক্ষেত্রে এটি সার্বিকভাবে প্রথম চিত্রের মাধ্যমে এবং আংশিকভাবে শক্তিগতভাবে (বিল কুওয়াহ) হবে। আংশিক সালিবার সাথে এটি বিন্যাসফল উৎপাদন করবে।

আমি বলি: প্রথম চিত্রের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এই ধরনের উদাহরণ আগে গত হয়েছে এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও সামনে আসবে। 'আল-কাশফ', 'বায়ানুল হক' এবং 'আল-মাতালি' গ্রন্থে কোনো একটি হেতুবাক্যের সার্বিকতা ছাড়াই ফলাফল আসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ তাদের উৎপাদনের প্রমাণ হলো তৃতীয় চিত্র থেকে গৃহীত মধ্যপদ, যা কুবরার মুকাদ্দাম। এটি বিন্যাসফলের অনিবার্যতার সাথে যুক্ত হয় এবং হামলিয়ার অনিবার্যতার মাধ্যমে কুবরার জন্য সুগরা হয়। তবে মুত্তাসিলা বচনদ্বয়ের ক্ষেত্রে এটি পূর্ণ হয় না, কারণ একটি বিষয়ের জন্য অন্য বিষয়ের অনিবার্যতা এটি আবশ্যক করে না যে তার অনিবার্য বিষয়ের জন্যও তা সার্বিকভাবে অনিবার্য হবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ২৬)
واذا عقم الشكل الأول كلي الصغرى جزئي الكبرى في الشرطي الاقتراني وان شاركته بالثالث فضابطة كلية المتصلة أو مقدمها أو الحملية وكلية الكبرى عند سلب الحملية ومقدمها حينئذ ليس اشرف منها منتجه أربعة وثلاثون. الصغرى موجبة كلية مع مقدم الكبرى وجزئية مع مقدم الكلية ومع كلية مقدم الجزئية بالأول في الثمانية والعشرين بعضها بالقوة منها ثمانية للصغرى كلية مع مقدم الكبرى كلية واربعة جزئيتها مع جزئية مقدم الكلية بإنتاج نتيجة التأليف أيضا.

وتعجب ابن واصل من وهم الموجز وشارحيه في قوله: ضروب نتائجه الكلية ستة عشر منها ضروب مواجبة الصغرى كلية الكبرى لأنه بجزئيتها مع كلية مقدم الكلية لا ينتج كلية ولا يتم لها برهان إذ عين مقدم النتيجة كليا لا ينتج مع الحملية المقدم الكلي وجزئيا لا ينتج معها بجزئيتهما وسالبة كلية مع مقدم الكلية السالب وجزئية مع جزئية مقدم الكلية السالب بإنتاج عكس نتيجة التأليف كليا.

وان شاركته بالرابع فضابطة اشتمال الحملية ومقدم الجزئية على شرف ولا تكون جزئية إلا ومقدمها كلي مخالف كيفه كيف الحملية أو تكون الحملية موجبة كلية وان لا يكون المقدم موجبا كليا والحملية جزئية منتجه اثنان وثلاثون.

الصغرى موجب كلية مع مقدم الكلية بالأول بعضها بالقوة وستتها غير كلية المقدم الموجب بإنتاج نتيجة التأليف ومع مقدم الجزئية غير السالب الجزئي بالأول وجزئيته مع مقدم الكلية غير الموجب الكلي بالأول مع السالب الكلي وبه بالقوة مع الجزئي ومع الموجب الجزئي بإنتاج نتيجة التأليف ومع مقدم الجزئية السالب الكلي بالأول وسالبة كلية مع مقدم الكلية بالأول مع المقدم الموجب الكلي وبه بالقوة مع الموجب الجزئي ومع السالب الجزئي بإنتاج نتيجة التأليف كليا ومع كلية مقدم الجزئية الموجب بالأول.

وان شاركته كبرى بالأول فضابطة كلية الحملية أو ايجابها موافقة لكم المقدم وكيفه وكلية المتصلة أو إيجاب مقدمها. متجه ستة وعشرون. الكبرى كلية مع مقدم الصغرى الموجب بالأول ومع مقدم الكلية السالب بإنتاج نتيجة التأليف وموجبة جزئية مع مقدم الكلية الموجب الجزئي بإنتاج نتيجة التأليف كليا وتوهم دخول إنتاجهما جزئيتين على الضابط فيما نفيه سابق الضابط الكلي وما به الإنتاج هنا ولذا اقتصر ابن واصل والموجز على ما ذكر هنا وإلا زيد مع عدم جزئيتي المقدمتين معا.

وان شاركته بالثاني فضابطة كلية الحملية أو موافقتها كيف المقدم وكمه. وكلية المتصلة أو مخالفة كيف مقدما الكبرى منتج ثمانية وعشرون الكبرى كلية مع مقدم الكلية موجبتها مع السالب بالأول ومع الموجب بإنتاج نتيجة التأليف وسالبتها على العكس وموجبتها مع مقدم الجزئية السالب وسالبتها مع مقدمها الموجب بالأمر الأول فيهما وجزئية مع مقدم الموافق لكم الكبرى وكيفية بإنتاج عكس التأليف كليا.

وإن شاركته بالثالث فضابطة عدم المقدم إلا ومتصلة كلية ولا يكون حينئذ اشرف من الحمليتين كما وكلية إحدى المقدمتين أو المقدم وعبارة ابن واصل عن الأول بأن لا يكون المقدم اشرف من الحملية قاصرة منتجة أربعون الكبرى مع كلية مقدم الصغرى الموجب بالأول مع جزئية مقدم الكلية الموجب أربعة كلية الكبرى بالأول وأربع جزئيتها به بالقوة وكليتها مع جزئية مقدم الجزئية الموجب بالأمر الأول وكليتها مع كلية مقدم الكلية السالب والكبرى مع جزئية مقدم الكلية السالب بإنتاج نتيجة التأليف.

وان شاركته بالرابح فضابطه إلا تكون السالبة الجزئية حملية ولا مقدم جزئية وكلية الحملية حين سلب المقدم وكون مقدم الجزئية موجبا كليا أو مخالفا لكيف الحملية. منتجه اثنان وثلاثون الكبرى غير سالبتها الجزئية مع كلية مقدم الصغرى الموجب بالأول وسالبتها مع جزئية مقدم الكلية الموجب بالأول وموجبتها الجزئية معه به بالقوة وموجبتها الكلية معه به بالقوة وبإنتاج نتيجة التأليف وسالبة كلية مع جزئية مقدم الجزئية الموجب بالأول والكبرى غير سالبها الجزئية مع جزئية مقدم الكلية السالب ضربا الموجبة الكلية بالأول بالقوة وبالثاني بالفعل كالأربعة الباقية وموجبة مع كلية مقدم الجزئية السالب بالأول. وسالبة كلية معه بإنتاج نتيجة التأليف وموجبة كلية مع كلية مقدم الجزئية السالب.
এবং যখন শর্তসাপেক্ষ অন্বয়ী (ইকতিরানি) যুক্তিতে প্রথম আকারের ক্ষুদ্র অবয়ব সার্বিক এবং বৃহৎ অবয়ব বিশেষ হওয়ার কারণে তা অনুৎপাদক হয়, আর যদি তা তৃতীয় আকারের সাথে অংশীদার হয়, তবে তার নিয়ম হলো অবিচ্ছিন্ন শর্তমূলক বাক্য অথবা তার পূর্বগ অথবা গুণবাচক বাক্যটি সার্বিক হওয়া; এবং যখন গুণবাচক বাক্য ও তার পূর্বগ নঞর্থক হয় তখন বৃহৎ অবয়ব সার্বিক হওয়া—সেক্ষেত্রে তা পূর্বগের চেয়ে অধিক শ্রেষ্ঠ হবে না এবং এর উৎপাদক প্রকার হবে চৌত্রিশটি। ক্ষুদ্র অবয়ব সদর্থক সার্বিক হওয়ার সাথে বৃহৎ অবয়বের পূর্বগ এবং বিশেষ হওয়ার সাথে সার্বিকের পূর্বগ এবং বিশেষের পূর্বগ সার্বিক হওয়ার সাথে প্রথমটির মাধ্যমে আঠাশটি প্রকারে, যার কিছু সুপ্তভাবে; এর মধ্যে আটটি ক্ষুদ্র অবয়ব সার্বিক হওয়ার সাথে বৃহৎ অবয়বের পূর্বগ সার্বিক হওয়ার ক্ষেত্রে এবং চারটি এর বিশেষত্বের সাথে সার্বিক পূর্বগের বিশেষত্বের ক্ষেত্রে, যা সংমিশ্রণের ফলাফলও প্রদান করে।

ইবনে ওয়াসিল আল-মুজিজ এবং এর ব্যাখ্যাকারীদের এই ধারণায় বিস্মিত হয়েছেন যে, এর সার্বিক ফলাফলের প্রকার হলো ষোলোটি, যার মধ্যে ক্ষুদ্র অবয়ব সদর্থক এবং বৃহৎ অবয়ব সার্বিক হওয়ার প্রকারগুলো রয়েছে। কারণ, বিশেষ হওয়ার সাথে সার্বিক পূর্বগের সার্বিকত্ব কোনো সার্বিক ফলাফল দেয় না এবং এর কোনো প্রমাণও প্রতিষ্ঠিত হয় না; কেননা ফলাফলের পূর্বগের মূল যখন সার্বিক হয় তখন তা গুণবাচক বাক্যের সাথে সার্বিক পূর্বগ প্রদান করে না, আর যখন তা বিশেষ হয় তখন তা উভয় বিশেষ হওয়ার কারণে ফলাফল দেয় না। আর নঞর্থক সার্বিক হওয়ার সাথে নঞর্থক সার্বিক পূর্বগ এবং বিশেষ হওয়ার সাথে নঞর্থক বিশেষ পূর্বগ সংমিশ্রণের বিপরীত ফলাফল সার্বিকভাবে প্রদান করে।

আর যদি তা চতুর্থ আকারের সাথে অংশীদার হয়, তবে তার নিয়ম হলো গুণবাচক বাক্য ও বিশেষের পূর্বগ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হওয়া এবং তা বিশেষ হবে না যদি না তার পূর্বগ সার্বিক হয় এবং তার গুণ গুণবাচক বাক্যের গুণের বিপরীত হয়, অথবা গুণবাচক বাক্যটি সদর্থক সার্বিক হয় এবং পূর্বগটি সদর্থক সার্বিক না হয় এবং গুণবাচক বাক্যটি বিশেষ না হয়; এর উৎপাদক প্রকার বত্রিশটি।

ক্ষুদ্র অবয়ব সদর্থক সার্বিক হওয়ার সাথে সার্বিক পূর্বগের সাথে প্রথমটির মাধ্যমে, যার কিছু সুপ্তভাবে; এবং তার মধ্যে ছয়টি সদর্থক সার্বিক পূর্বগ না হওয়ার মাধ্যমে সংমিশ্রণের ফলাফল প্রদান করে। আর বিশেষের পূর্বগের সাথে যা প্রথমটির মাধ্যমে নঞর্থক বিশেষ নয়; এবং তার বিশেষত্বের সাথে সার্বিক পূর্বগের সাথে যা প্রথমটির মাধ্যমে সদর্থক সার্বিক নয়, সাথে সার্বিক নঞর্থক এবং এর মাধ্যমে সুপ্তভাবে বিশেষের সাথে এবং সদর্থক বিশেষের সাথে সংমিশ্রণের ফলাফল প্রদান করে। আর নঞর্থক সার্বিক বিশেষের পূর্বগের সাথে প্রথমটির মাধ্যমে; এবং নঞর্থক সার্বিক হওয়ার সাথে সার্বিক পূর্বগের সাথে প্রথমটির মাধ্যমে সদর্থক সার্বিক পূর্বগের সাথে এবং এর মাধ্যমে সুপ্তভাবে সদর্থক বিশেষের সাথে এবং নঞর্থক বিশেষের সাথে সার্বিকভাবে সংমিশ্রণের ফলাফল প্রদান করে; এবং সদর্থক বিশেষ পূর্বগের সার্বিকত্বের সাথে প্রথমটির মাধ্যমে।

আর যদি তার বৃহৎ অবয়ব প্রথম আকারের সাথে অংশীদার হয়, তবে তার নিয়ম হলো গুণবাচক বাক্যটি সার্বিক হওয়া অথবা তার সদর্থক হওয়া যা পূর্বগের পরিমাণ ও গুণের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়, এবং অবিচ্ছিন্ন শর্তমূলক বাক্যটি সার্বিক হওয়া অথবা তার পূর্বগ সদর্থক হওয়া। এর উৎপাদক প্রকার ছাব্বিশটি। বৃহৎ অবয়ব সার্বিক হওয়ার সাথে ক্ষুদ্র অবয়বের পূর্বগ সদর্থক হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমটির মাধ্যমে এবং নঞর্থক সার্বিক পূর্বগের সাথে সংমিশ্রণের ফলাফল প্রদানের মাধ্যমে; এবং সদর্থক বিশেষ হওয়ার সাথে সদর্থক বিশেষ সার্বিক পূর্বগের সাথে সার্বিকভাবে সংমিশ্রণের ফলাফল প্রদানের মাধ্যমে। আর নিয়মের মধ্যে এই ভ্রান্ত ধারণা হয়েছে যে দু’টি বিশেষের উৎপাদনও এর অন্তর্ভুক্ত, যা সার্বিক নিয়মের পূর্বে নেতিবাচক ছিল এবং যা দ্বারা এখানে উৎপাদন হয়; এজন্য ইবনে ওয়াসিল ও আল-মুজিজ এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন, নতুবা উভয় পূর্বগ বিশেষ না হওয়ার শর্তে আরও বৃদ্ধি পেত।

আর যদি তা দ্বিতীয় আকারের সাথে অংশীদার হয়, তবে তার নিয়ম হলো গুণবাচক বাক্যটি সার্বিক হওয়া অথবা গুনে ও পরিমাণে পূর্বগের সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়া; এবং অবিচ্ছিন্ন বাক্যটি সার্বিক হওয়া অথবা বৃহৎ অবয়বের পূর্বগের গুণের বিপরীত হওয়া। এর উৎপাদক প্রকার আটাশটি। বৃহৎ অবয়ব সার্বিক হওয়ার সাথে সার্বিক পূর্বগের সাথে তার সদর্থক নঞর্থকের সাথে প্রথমটির মাধ্যমে এবং সদর্থকের সাথে সংমিশ্রণের ফলাফল প্রদানের মাধ্যমে; এবং তার নঞর্থকটি এর বিপরীত। আর তার সদর্থকটি নঞর্থক বিশেষ পূর্বগের সাথে এবং তার নঞর্থকটি সদর্থক পূর্বগের সাথে—উভয় ক্ষেত্রে প্রথম বিষয়ের মাধ্যমে। আর বিশেষ হওয়ার সাথে বৃহৎ অবয়বের পরিমাণ ও গুণের সাথে সংগতিপূর্ণ পূর্বগের সাথে সার্বিকভাবে সংমিশ্রণের বিপরীত ফলাফল প্রদানের মাধ্যমে।

আর যদি তা তৃতীয় আকারের সাথে অংশীদার হয়, তবে তার নিয়ম হলো পূর্বগ না থাকা, তবে শর্ত হলো অবিচ্ছিন্ন বাক্যটি সার্বিক হতে হবে এবং তখন তা উভয় গুণবাচক বাক্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হবে না পরিমাণে এবং উভয় অবয়বের একটির সার্বিক হওয়া অথবা পূর্বগের সার্বিক হওয়া। ইবনে ওয়াসিল প্রথমটি সম্পর্কে যে অভিব্যক্তি দিয়েছেন যে পূর্বগ যেন গুণবাচক বাক্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ না হয়, তা অসম্পূর্ণ। এর উৎপাদক প্রকার চল্লিশটি। বৃহৎ অবয়ব ক্ষুদ্র অবয়বের সদর্থক সার্বিক পূর্বগের সাথে প্রথমটির মাধ্যমে এবং সদর্থক সার্বিক পূর্বগের বিশেষত্বের সাথে চারটি বৃহৎ অবয়ব সার্বিক হওয়ার মাধ্যমে প্রথমটির প্রকারে এবং চারটি তার বিশেষত্বের মাধ্যমে সুপ্তভাবে; এবং তার সার্বিকত্ব সদর্থক বিশেষ পূর্বগের বিশেষত্বের সাথে প্রথম বিষয়ের মাধ্যমে এবং তার সার্বিকত্ব নঞর্থক সার্বিক পূর্বগের সার্বিকত্বের সাথে এবং বৃহৎ অবয়ব নঞর্থক সার্বিক পূর্বগের বিশেষত্বের সাথে সংমিশ্রণের ফলাফল প্রদানের মাধ্যমে।

আর যদি তা চতুর্থ আকারের সাথে অংশীদার হয়, তবে তার নিয়ম হলো নঞর্থক বিশেষটি গুণবাচক বাক্য না হওয়া এবং বিশেষের পূর্বগ না হওয়া, এবং পূর্বগ নঞর্থক হওয়ার সময় গুণবাচক বাক্যটি সার্বিক হওয়া এবং বিশেষের পূর্বগ সদর্থক সার্বিক হওয়া অথবা গুণবাচক বাক্যের গুণের বিপরীত হওয়া। এর উৎপাদক প্রকার বত্রিশটি। বৃহৎ অবয়ব তার নঞর্থক বিশেষটি ছাড়া ক্ষুদ্র অবয়বের সদর্থক সার্বিক পূর্বগের সাথে প্রথমটির মাধ্যমে এবং তার নঞর্থক বিশেষটি সদর্থক সার্বিক পূর্বগের বিশেষত্বের সাথে প্রথমটির মাধ্যমে এবং তার সদর্থক বিশেষটি তার সাথে সুপ্তভাবে এবং তার সদর্থক সার্বিকটি তার সাথে সুপ্তভাবে এবং সংমিশ্রণের ফলাফল প্রদানের মাধ্যমে; এবং নঞর্থক সার্বিক সদর্থক বিশেষ পূর্বগের বিশেষত্বের সাথে প্রথমটির মাধ্যমে। আর বৃহৎ অবয়ব তার নঞর্থক বিশেষটি ছাড়া নঞর্থক সার্বিক পূর্বগের বিশেষত্বের সাথে এমন প্রকারে যেখানে সদর্থক সার্বিকটি প্রথমটির মাধ্যমে সুপ্তভাবে এবং দ্বিতীয়টির মাধ্যমে বাস্তবে, যেমন অবশিষ্ট চারটি; এবং সদর্থকটি নঞর্থক বিশেষ পূর্বগের সার্বিকত্বের সাথে প্রথমটির মাধ্যমে; এবং নঞর্থক সার্বিক তার সাথে সংমিশ্রণের ফলাফল প্রদানের মাধ্যমে এবং সদর্থক সার্বিক নঞর্থক বিশেষ পূর্বগের সার্বিকত্বের সাথে।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ২৭)
الخامس من حملي ومنفصل: ضابطه بالحمل الأمر الأول ومع منع حلو منفصلته. وفي الكشف وبيان الحق أو إنتاج الحملية ونتيجة تأليفها مع مشاركها إياه فأن أوجبت المنفصلة وهي مانعة خلو أنتجت بالأمر الأول إن شارك كل جزء منهما حمليه واشتركت أجزائها في غير المشارك منها. والحمليات فيه كذلك نتيجته حملية كأن كل التأليفات من شكل واحد أم لا وإلا فمانعة خلو من نتيجة التأليف وما لا يشارك أو من نتيجتي تأليفين مطلقا عند الأكثر.

وفي كون المسمى مقسما الأول أو ما أنتجت منفصلتها الصغرى المشاركة بجزئها المتشاركين في غير المتشاركين منهما حمليتين مختلفتي الأكبر أو مطلق منتج المنفصلة رابعها مطلق القسمين للسراج مع الكشف والأثير. ونقل ابن واصل والموجز.

وتعقب الأثير على الأمام عده المقسم عنده من بسيد القياس بأنه مركب مفصول لان ضم إحدى الحمليتين إلى المنفصلة ينتج منفصلة من نتيجة متشارك الحملية والجزء الآخر تم ضم هذه إلى الحملية الأخرى ينتج منفصلة من نتيجتي التأليفين.

السراج: نتيجة ما يشارك أحد جزئي منفصلته حملية والآخر نتيجة تأليفها حملية كدائمة أما أب أو أد وكل دب وأورد كون نتيجته مذكورة فيه بالفعل توجب كونه استثنائيا.

وأجاب بأن ذلك لا يمنع كونه مقيسا. قال والحق تركيبه من اقتراني واستثنائي لأنه بكذب المشارك استثنائي وبصدقه اقتراني.

وزعم الشيخ عقم والحملية صغرى. رده السراج والكشف بوضوح إنتاجه والحملية مشاركة أحد جزئي المنفصلة بتأليف منتج مانعة خلو من نتيجة التأليف وغير المشارك ولا تنتجهما وهي مانعة جمع بالأمر الأول لأن ملزومية عدم الخلو صدق أحد جزئي المنفصلة يوجب نتيجة تأليفه مع الحملية ومنافاة أمر آخر كذبا توجيها بين لازميها وبين أحدهما ولازم الآخر.

ونتيجة تأليف كل مشارك لازمته وملزومية عدم الجمع لا توجب صدق أحد جزئيها ولا نتيتهما وهي مانعة جمع بالآمر لآن منافاة أمر أخر صدقا لا توجبه بين لازميها ولا بين أحدهما ولازم الأخرى وتنتج به سالبة جزئية مقدمها نتيجة تأليف المتشاركين وتاليها غير المشارك لإنتاج نقضها مع ملزومية المشارك لنتيجة التأليف بوسط ملزوميته له وللحملية جزئي المنفصلة الآخر ولا تنتج عكسها لجواز لزوم أحد المتعاندين صدقا الآخر كدائما كل إنسان ناطق أو كل إنسان حجر وكل حجر فيصدق ليس كلما كان كل إنسان جسما كان إنسان حجرا لا عكسه ولا من نتيجتي التأليفين لجواز تلازم لازم المتعاندين صدقا كدائما أما " كل إنسان ناطق " و " كل ناطق حيوان " و " كل صاهل حساس " مع تلازم " كل إنسان حيوان " و " كل إنسان حساس " وينتج بالأمر الثاني مانعة جمع من نتيجة التأليف.

وما لا يشارك إن شاركت بأحد جزئيها ومن نتيجة التأليفين إن شاركت بهما لاستلزام نتيجة التأليف المشارك بواسطة الحملية ومنافي اللازم صدقا مناف ملزومه كذلك. وان سلبت وهي مانعة جمع أنتجت بالأمر الأول جزئية مثلها مما تقدم لا تنتجها وهي مانعة خلو لآن عدم تنافي الملزومين صدقا يوجبه بين أحدهما ولازم الآخر وبين لازميها وكذب لا يوجبه لعدم كذب الأعم اكذب أخصه. ولا تنتج السالبة الجزئية موجبة مانعة ومانعة الجمع لعدم منافاة لزوم أحد جزئيها الآخر.

وبرهان غيره وكيفية استنتاج الحملية من القياسات الشرطية الاقترانية مذكور في المطولات.

الثاني الاستثنائي وهو متصلة استثنى عين مقدمها لينتج تاليها أو نقيض تاليها لينتج نقيض مقدمها. قالوا والأكثر في الأول وفي الثاني لو قلت هذا في المهملة لا غيرها المتصلة كبراه والاستثنائية صغراه قاله الفارابي. فقول بعض الباحثين العكس تابعا ابن الحباب وهم منهما شرطه أيجاب لزوم الكبرى أو دوام الصغرى. الأثير: واتحاد وقت اللزوم والاستثناء ونتيجة اجتماع الأولين دائمة وإلا فمطلقة.

وشرط ابن واصل الكلية بدل الدوام وذكره الجزئي بدل المطلق مجاز لا يحتاج له واستثناء نقيض ما ذكر عقيم لعدم ثبوت الشيء لثبوت لازمه وعدمه لعدم ملزومه ولا ينعقد من اتفاقية لكذب استثناء نقيض التالي وعدم فائدة استثناء المقدم أو منفصلة استثنى أحد جزئيها أو نقيضه كبراه وصغراه وضابطه كالأول فالحقيقة تنتج بإثبات كل من جزئيها بدل الآخر نقيضه وينفيه عينه ومانعة الجمع بالأول لا الثاني لجواز الخلو ومانعة الخلو بالثاني لجواز بالأول لجواز الجمع.
পঞ্চম প্রকারটি হলো বর্ণনামূলক (হামলি) এবং বিয়োজক (মুনফাসিল) বাক্যের সমন্বয়ে গঠিত: এর মূল নিয়ম হলো বর্ণনামূলক বাক্যের মাধ্যমে প্রথম পদ্ধতির প্রয়োগ এবং বিয়োজক অংশের শূন্যতা রোধ করা। 'আল-কাশফ' এবং 'বায়ানুল হক'-এ বর্ণিত হয়েছে যে, বর্ণনামূলক বাক্য বা এর বিন্যাসের ফলাফল যদি তার অন্য কোনো সাধারণ অংশের সাথে যুক্ত হয়, তবে বিয়োজক বাক্যটি যদি সদর্থক হয় এবং সেটি যদি শূন্যতা-প্রতিরোধক (মানিআতুল খুলু) হয়, তবে তা প্রথম পদ্ধতির মাধ্যমে ফলাফল প্রদান করবে; যদি বিয়োজকের প্রতিটি অংশ বর্ণনামূলক অংশের সাথে সাধারণ হয় এবং এর অংশগুলো অ-অংশগ্রহণকারী অংশে যুক্ত থাকে। এতে বর্ণনামূলক বাক্যগুলোও একইভাবে ফলাফল হিসেবে বর্ণনামূলক বাক্যই প্রদান করে, যেন সমস্ত বিন্যাস একই আকারের অথবা ভিন্ন। অন্যথায়, এটি বিন্যাসের ফলাফল এবং যা অংশগ্রহণ করছে না তার সমন্বয় থেকে একটি শূন্যতা-প্রতিরোধক ফলাফল প্রদান করবে, অথবা অধিকাংশের মতে সাধারণভাবে দুটি বিন্যাসের ফলাফল থেকে তা আসবে।

সংজ্ঞায়িত বিষয়টি কি প্রথম বিভাজক নাকি এমন কিছু যা তার ক্ষুদ্রতর বিয়োজক অংশ থেকে উৎপন্ন হয়েছে যা তার সাধারণ অংশের মাধ্যমে বর্ণনামূলক বাক্য দুটির সেই অংশে অংশগ্রহণ করে যা তাদের সাধারণ নয়, অথচ তাদের বিধেয় ভিন্ন অথবা সাধারণভাবে বিয়োজক উৎপাদনকারী, সে বিষয়ে চারটি মত রয়েছে। চতুর্থটি হলো সিরাজের মতে এটি উভয় প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করে, যার সাথে 'কাশফ' এবং 'আসির' গ্রন্থকার একমত। ইবনে ওয়াসিল এবং 'আল-মুজিজ' থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে।

আল-আসির ইমামের (ফখরুদ্দিন রাজি) ওপর আপত্তি করেছেন এই বলে যে, ইমাম এটিকে সরল অনুমানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অথচ এটি একটি পৃথক যৌগিক অনুমান। কারণ একটি বর্ণনামূলক বাক্যকে বিয়োজক বাক্যের সাথে যুক্ত করলে তা বর্ণনামূলক এবং অন্য অংশের সাধারণ ফলাফলের একটি বিয়োজক প্রদান করে। অতঃপর এটিকে অন্য বর্ণনামূলক বাক্যের সাথে যুক্ত করলে তা উভয় বিন্যাসের ফলাফল থেকে একটি বিয়োজক প্রদান করে।

সিরাজ বলেন: বিয়োজক বাক্যের একটি অংশের সাথে যা অংশগ্রহণ করে তার ফলাফল বর্ণনামূলক হয় এবং অন্যটি তার বিন্যাসের ফলাফল হিসেবে বর্ণনামূলক হয়। যেমন সর্বদা 'ক' হয় 'খ' অথবা 'গ' এবং 'ঘ', আর প্রতিটি 'খ' হলো 'ব'। এতে আপত্তি তোলা হয়েছে যে, ফলাফলটি তার মধ্যে সরাসরি উল্লেখ থাকায় এটি একটি ব্যতিক্রমী (ইস্তিসনাঈ) অনুমানে পরিণত হয়।

তিনি উত্তর দিয়েছেন যে, এটি তাকে অনুমানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বাধা দেয় না। তিনি বলেন, সত্য হলো এটি সমন্ধসূচক (ইকরানি) এবং ব্যতিক্রমী (ইস্তিসনাঈ) অনুমানের সমন্বয়ে গঠিত; কারণ অংশগ্রহণকারী অংশের মিথ্যা হওয়ার ক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রমী এবং সত্য হওয়ার ক্ষেত্রে এটি সমন্ধসূচক।

শেখ (ইবনে সিনা) মনে করেন এটি নিষ্ফল এবং বর্ণনামূলক বাক্যটি এখানে অপ্রধান। সিরাজ এবং কাশফ গ্রন্থকার এর ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার কারণে একে খণ্ডন করেছেন। বর্ণনামূলক বাক্যটি বিয়োজক বাক্যের একটি অংশের সাথে এমন এক বিন্যাসে অংশগ্রহণ করে যা বিন্যাসের ফলাফল এবং অ-অংশগ্রহণকারী অংশের সমন্বয়ে একটি শূন্যতা-প্রতিরোধক (মানিআতুল খুলু) ফলাফল প্রদান করে। এটি একত্রিকরণ-প্রতিরোধক (মানিআতুল জাম) হিসেবে প্রথম পদ্ধতিতে ফলাফল দেয় না; কারণ শূন্যতা না থাকার আবশ্যকতা বিয়োজকের একটি অংশের সত্যতাকে নিশ্চিত করে যা বর্ণনামূলক বাক্যের সাথে তার বিন্যাসের ফলাফলকে আবশ্যক করে। অন্য একটি বিষয়ের বৈপরীত্য মিথ্যা হওয়ার ক্ষেত্রে তার দুটি আবশ্যকীয় বিষয়ের মধ্যে অথবা একটি এবং অন্যটির আবশ্যকীয় বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে।

প্রতিটি অংশগ্রহণকারী অংশের বিন্যাসের ফলাফল তার আবশ্যকীয় বিষয়। একত্রিকরণ-প্রতিরোধের আবশ্যকতা তার কোনো অংশের সত্যতা বা ফলাফলকে আবশ্যক করে না। এটি প্রথম পদ্ধতিতে একত্রিকরণ-প্রতিরোধক; কারণ সত্যের ক্ষেত্রে অন্য একটি বিষয়ের বৈপরীত্য তার দুই আবশ্যকের মধ্যে বা একটি ও অন্যটির আবশ্যকের মধ্যে তা আবশ্যক করে না। এর মাধ্যমে এটি একটি আংশিক নঞর্থক ফলাফল প্রদান করে যার পূর্বগ হলো অংশগ্রহণকারী দুটির বিন্যাসের ফলাফল এবং অনুগ হলো অ-অংশগ্রহণকারী অংশ। কারণ এর বিরোধিতার ফলাফল অংশগ্রহণকারী অংশের আবশ্যকীয়তার সাথে থাকে। এটি এর বিপরীত ফলাফল দেয় না কারণ সত্যের ক্ষেত্রে দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের একটি অন্যটির আবশ্যক হওয়া সম্ভব। যেমন সর্বদা প্রতিটি মানুষ কথা বলে অথবা প্রতিটি মানুষ পাথর, এবং প্রতিটি পাথর [একটি শরীর]। ফলে এটি সত্য হয় যে, "যখনই প্রতিটি মানুষ শরীর হয় তখনই মানুষ পাথর হয়" এমনটি নয়। একইভাবে এটি দুটি বিন্যাসের ফলাফল থেকেও আসে না, কারণ সত্যের ক্ষেত্রে দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের আবশ্যকীয় বিষয়গুলো পরস্পর যুক্ত হওয়া সম্ভব। যেমন সর্বদা "হয় প্রতিটি মানুষ কথা বলে" এবং "প্রতিটি কথা বলা প্রাণী" এবং "প্রতিটি হ্রেষাধ্বনি প্রদানকারী অনুভূতিশীল" - এখানে "প্রতিটি মানুষ প্রাণী" এবং "প্রতিটি মানুষ অনুভূতিশীল" এর মধ্যে পারস্পরিক আবশ্যকতা রয়েছে। দ্বিতীয় পদ্ধতির মাধ্যমে এটি বিন্যাসের ফলাফল থেকে একটি একত্রিকরণ-প্রতিরোধক ফলাফল প্রদান করে।

যদি একটি অংশের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে তবে যা অংশগ্রহণ করছে না তা এবং যদি উভয় অংশের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে তবে দুটি বিন্যাসের ফলাফল থেকে তা আসে। কারণ বর্ণনামূলক বাক্যের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী অংশের ফলাফলের আবশ্যকতা এবং সত্যের ক্ষেত্রে আবশ্যকের বিরোধিতার বিষয়টি তার মূলের ক্ষেত্রেও বিরোধী। আর যদি এটি নঞর্থক এবং একত্রিকরণ-প্রতিরোধক হয়, তবে তা প্রথম পদ্ধতির মাধ্যমে পূর্বে বর্ণিত অনুরূপ আংশিক ফলাফল প্রদান করে। এটি শূন্যতা-প্রতিরোধক হিসেবে ফলাফল দেয় না কারণ সত্যের ক্ষেত্রে দুটি আবশ্যকের বিরোধিতার অভাব তাদের একটি এবং অন্যটির আবশ্যকের মধ্যে বা তাদের উভয় আবশ্যকের মধ্যে তা আবশ্যক করে না। মিথ্যা হওয়াও একে আবশ্যক করে না কারণ সাধারণের মিথ্যা হওয়া বিশেষের মিথ্যা হওয়াকে আবশ্যক করে না। আংশিক নঞর্থক বাক্য সদর্থক বিয়োজক এবং একত্রিকরণ-প্রতিরোধক ফলাফল দেয় না কারণ এর একটি অংশের অন্যটির সাথে আবশ্যিক সম্পর্কের কোনো বিরোধ নেই।

অন্য বিষয়ের প্রমাণ এবং শর্তমূলক সমন্ধসূচক অনুমান থেকে বর্ণনামূলক ফলাফল আহরণের পদ্ধতি দীর্ঘ গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রকার হলো ব্যতিক্রমী (ইস্তিসনাঈ) অনুমান। এটি একটি শর্তমূলক বাক্য যেখানে এর পূর্বগের সত্তাকে গ্রহণ করা হয় তার অনুগ প্রমাণের জন্য, অথবা অনুগের বিপরীতকে গ্রহণ করা হয় পূর্বগের বিপরীত প্রমাণের জন্য। তাঁরা বলেছেন, প্রথমটি অধিক প্রচলিত এবং দ্বিতীয়টিও প্রচলিত। আল-ফারাবি বলেন, যদি তুমি এটি অনির্দিষ্ট বাক্যে বলো তবে তা শর্তমূলক বাক্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, যেখানে শর্তমূলক বাক্যটি প্রধান এবং ব্যতিক্রমী অংশটি অপ্রধান। কোনো কোনো গবেষকের বিপরীত মতটি ইবনুল হাব্বাবের অনুসরণে একটি ভ্রম মাত্র। এর শর্ত হলো প্রধান বাক্যের আবশ্যকতা সদর্থক হওয়া বা অপ্রধান বাক্যের স্থায়িত্ব। আল-আসির বলেন: আবশ্যকতা এবং ব্যতিক্রমের সময় অভিন্ন হতে হবে। প্রথম দুইটির মিলনের ফলাফল স্থায়ী হবে, অন্যথায় তা সাধারণ হবে।

ইবনে ওয়াসিল স্থায়িত্বের পরিবর্তে সার্বিকতাকে শর্ত করেছেন। 'সাধারণ'-এর পরিবর্তে 'আংশিক' উল্লেখ করা রূপক মাত্র যার প্রয়োজন নেই। যা উল্লেখ করা হয়েছে তার বিপরীতের ব্যতিক্রম নিষ্ফল; কারণ কোনো কিছুর বিদ্যমানতা তার আবশ্যকের বিদ্যমানতাকে প্রমাণ করে না, এবং কোনো কিছুর অনুপস্থিতি তার মূলের অনুপস্থিতিকে প্রমাণ করে না। এটি আকস্মিক (ইত্তিফাকিয়া) বাক্য থেকে গঠিত হয় না কারণ অনুগের বিপরীতের ব্যতিক্রমটি মিথ্যা এবং পূর্বগের ব্যতিক্রমটি ফলহীন। অথবা এটি একটি বিয়োজক বাক্য হতে পারে যার একটি অংশ বা তার বিপরীতটি প্রধান ও অপ্রধান বাক্য হিসেবে গৃহীত হয়। এর নিয়ম প্রথমটির মতোই। সুতরাং প্রকৃত বিয়োজক (হাকিকিয়া) তার প্রতিটি অংশের প্রমাণের মাধ্যমে অন্যটির বিপরীতকে এবং অস্বীকারের মাধ্যমে অন্যটির সত্তাকে প্রমাণ করে। একত্রিকরণ-প্রতিরোধক (মানিআতুল জাম) প্রথম পদ্ধতিতে ফলাফল দেয়, দ্বিতীয়টিতে নয় কারণ এতে শূন্যতা সম্ভব। আর শূন্যতা-প্রতিরোধক (মানিআতুল খুলু) দ্বিতীয় পদ্ধতিতে ফলাফল দেয়, প্রথমটিতে নয় কারণ এতে একত্রিকরণ সম্ভব।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ২৮)
الأثير: قد تكون الحقيقة ذات أجزاء فاستثناء أحدهما منتج نقيض سائرها واستثناء نقيضه منتج منفصلة من سائر الأجزاء ك " أما إن يكون هذا العدد زائدا أو ناقصا أو مساويا ".

تتمة: قال ابن واصل: أنواع الحجج ثلاثة القياس أتشرفها حاصلة الاستدلال بكلي على جزئي. والاستقراء عكسه: الحكم على كلي بأمر لثبوته لجزئياته تامة يوقن ويرجع لمنتج الحملية من المقسم وناقصة ما لم تتصفح كل جزئياته غايته الظن والتمثيل قياس الفقها.

قلت: ما نقل عن عز الدين عبد السلام أو ابن الحاجب من إفادة الاستقراء في العربية العلم بعيد لأنه إن أريد في الناقص فواضح وإن أريد في التام فمعتذر وجدوده. قياس متقدمي المتكلمين. وقياس الخلف المشهور تركيبه من اقتران مقدم صغراه فرض كذب المطلوب وتاليها نقيضه وكبراه إحدى مقدمتي القياس المشاركة للتالي بتأليف منتج ينتج مثلة مقدمها مقدم الصغرى وتاليها نتيجة تأليف تالي الصغرى والمقدمة المشاركة والاستثنائي كبراه هذه النتيجة وصغراه استثناء نقيض تاليها.

ورد ابن واصل بمنع مقارنة صدق كبرى الأول مقدم صغراه قائلا لا يقيد شرط الشيخ عدم المنافاة بينهما إذ قيام برهان على ذلك متعذر والأولى جعله من استثنائيات منفصلة فندعي صدق مانعة خلو من المطلوب ونتيجة التأليف من نقيضه والمقدمة المشاركة له وهي نقيض الأخرى بواسطة إن المقدمة المشاركة صادقة في الواقع فأن صدق معها المطلوب صدقت مانعة الخلو وإلا صدق نقيضها وهو مع المقدمة المشاركة له ينتج نقيض الأخرى ونقيض الأخرى باطل فيلزم صدق المطلوب.

قلت: هذا قول الأثير وزاد في تقريره إن نوعي صدق مانعة الجمع من نقيض المطلوب والمقدمة المشاركة له وإلا لزممت نتيجة تأليفهما وهي باطلة لانتا نقيض الأخرى والمقدمة المشاركة صادقة فيكذب نقيض المطلوب.

قلت: الأظهر الجمهور ورده بالمنع المذكور غير متصور لأنه لا يتقدر إلا بواسطة إن مقدم المتصلة محال حسب ما مر. ودعواه هنا يوجب صحة المطلوب ضرورة. والقياس لي حسب مادته خمسة أقسام: البرهان أشرفها عظم نفعه للخاصة. الفارابي: غرضه العلم الموصل للسعادة القصوى. مقدماته يقينه واليقين قال الفارابي: اعتقاد كون الشيء كذا مع إنه لا يمكن إن يكون إلا كذا.

السمرقندي: في الرهن والواقع ليخرج المقلد.

ومبادئ مقدماته سبعة: البديهيات: القضايا التي تصور طرفيها كاف في ايقاع نسبتها كالواحد نصف الاثنين.

والمحسومات كذلك بوسط حس ظاهر غير السمع " كالنار حارة " والوجدانيات كذلك بوسط حس باطن ك " أنا جائع " والتجريبيات كذلك بوسط تكرر مشاهدة لازم فعلنا ك " السقمونيا مسهلة الصفراء " والحدسيات كذلك بوسط نظر ومشاهدة أمر غير فعلنا ك " القمر نوره مستفاد من الشمس ".

والمتواترات كذلك بسبب خبر من امتنع كذبه عادة من محسوس القضايا التي قياساتها معها كالأربعة زوج بوسط لا يغيب وهو إنها منقسمة بمتساويين لمائة ما وسطه علة وجود الأكبر في الأصغر خارجا وذهنا كهذه الخشبة ممسوسة النار وكل ممسوسها محترق اشرف من آنية ما هو كذلك خارجا لا ذهنا محترقة وكل محترق ممسوسة نار.

ثم الخطابة: قالوا نفعها للعوام. الفارابي: الغرض من الخطابة الاقتناع والقناعة ظن ما مقدمتها ومباديها المقبولة وهي المأخوذة من معتقد فيه نبي أو إمام أو المظنونة قضايا طرفيها الموافق راجح على المخالف. وقول الأثير: لا يستعمل الحجاج يريد يقيني.

ثم الجدل قيل فائدة رد المعاند للحق لتزل رتبته عن البرهان وعلوها عم تأثير الخطابة. الفارابي: غرضه توطئة الذهن نحو البرهان مقدماته المسلمات قضايا تتسلم من الخصم ليلزم منها ما يفهمه.

والمشهورات: قال الأثير هي مبدأ حكمها تعلق مصلحة أو رقة وعادة أو حمية إلى غير ذلك من الأسباب كالعدل حسن والظلم قبيح ورعي الضعفاء محمود وكشف العورة مذموم.

ولكل أمة قضايا مشهورة. الفارابي: هي التي مقدما تها كلية أو مهملة تقبل وتعتقد لأن رأى من سوانا فيها كذلك.

ثم الشعري: وهي أقوال إرغام النفس بالترغيب والتنفير وإن علم كذبها روجها اليونانيون بالنغم الموسيقية والضرب بأوزان مخصوصة قيل بالأصوات الحسنة مباديها المخيلات.

الفارابي: منها مل يخيل الشيء نفسه كالقول العلمي المعروف للشيء في أخر البرهان.
আল-আছীর বলেন: কখনও সত্য বা হাকীকত একাধিক অংশের অধিকারী হয়। ফলে একটির ব্যতিক্রম (ব্যতিরেক) বাকিগুলোর বিপরীত ফলাফল প্রদান করে, আর তার বিপরীতের ব্যতিক্রম বাকি অংশগুলো থেকে বিযুক্ত ফলাফল প্রদান করে। যেমন: "হয় এই সংখ্যাটি বেশি হবে, অথবা কম হবে, অথবা সমান হবে।"

পরিশিষ্ট: ইবনুল ওয়াসিল বলেন: প্রমাণের ধরণ তিনটি। কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান) এগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ, যা একটি সার্বিক বিষয়ের মাধ্যমে বিশেষ বিষয়ের ওপর দলিল প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত হয়। ইসতিখরা বা আরোহ পদ্ধতি এর বিপরীত: অর্থাৎ বিশেষ অংশগুলোর মধ্যে প্রমাণিত হওয়ার কারণে সার্বিক বিষয়ের ওপর কোনো বিধান আরোপ করা। এটি পূর্ণাঙ্গ হলে নিশ্চিত জ্ঞান দান করে এবং বিভাজন থেকে প্রাপ্ত বর্ণনামূলক ফলাফলের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আর অপূর্ণাঙ্গ হলো সেটি যার সমস্ত বিশেষ দিকগুলো অনুসন্ধান করা হয়নি, যার সর্বোচ্চ সীমা হলো ধারণা। আর তামসীল (উপমা) হলো ফকীহগণের কিয়াস।

আমি বলি: ইযউদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম অথবা ইবনুল হাজিব থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, আরবি ভাষায় ইসতিখরা বা আরোহ পদ্ধতি নিশ্চিত জ্ঞান দান করে—তা সুদূরপরাহত। কারণ যদি এর দ্বারা অপূর্ণাঙ্গ আরোহ উদ্দেশ্য হয় তবে তা স্পষ্ট, আর যদি পূর্ণাঙ্গ উদ্দেশ্য হয় তবে তা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এটি পূর্ববর্তী কালাম শাস্ত্রবিদদের কিয়াস। আর কিয়াসে খালাফ (বিপরীত যুক্তি) হলো এমন একটি পরিচিত বিন্যাস যা এমন একটি অনুমানের সংযোগ থেকে গঠিত যার ছোট প্রস্তাবনাটি উদ্দিষ্ট বিষয়ের মিথ্যায়নকে ধরে নেয় এবং তার অনুবর্তী বিষয়টি হয় তার বিপরীত। এর বড় প্রস্তাবনাটি কিয়াসের এমন একটি প্রস্তাবনা যা অনুবর্তী বিষয়ের সাথে একটি ফলপ্রসূ সংমিশ্রণের মাধ্যমে যুক্ত হয়, যা এমন একটি ফলাফল দেয় যার পূর্ববর্তী অংশটি ছোট প্রস্তাবনার পূর্ববর্তী অংশ এবং যার অনুবর্তী অংশটি ছোট প্রস্তাবনার অনুবর্তী অংশ ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনার সংমিশ্রণের ফলাফল। আর ইস্তিসনাই বা ব্যতিক্রমমূলক কিয়াসের বড় প্রস্তাবনা হলো এই ফলাফলটি এবং ছোট প্রস্তাবনাটি হলো এর অনুবর্তী বিষয়ের বিপরীতের ব্যতিক্রম।

ইবনুল ওয়াসিল প্রথমটির বড় প্রস্তাবনার সত্যতাকে তার ছোট প্রস্তাবনার পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে তুলনার অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, শাইখের শর্ত (উভয়ের মধ্যে বৈপরীত্য না থাকা) এখানে কোনো বাধ্যবাধকতা তৈরি করে না, কারণ এর ওপর প্রমাণ উপস্থাপন করা অসম্ভব। বরং একে বিযুক্ত ব্যতিক্রমধর্মী কিয়াসের অন্তর্ভুক্ত করাই উত্তম। ফলে আমরা উদ্দিষ্ট বিষয়ের অভাবের প্রতিবন্ধকতা এবং এর বিপরীত ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনার সংমিশ্রণের ফলাফলের সত্যতা দাবি করি। সেই সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনাটি হলো অন্যটির বিপরীত, কারণ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনাটি বাস্তবে সত্য। সুতরাং যদি তার সাথে উদ্দিষ্ট বিষয়টি সত্য হয়, তবে অভাবের প্রতিবন্ধকতাটি সত্য হবে; অন্যথায় তার বিপরীতটি সত্য হবে, যা সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনার সাথে মিলে অন্যটির বিপরীত ফলাফল প্রদান করবে। আর অন্যটির বিপরীত হওয়া যেহেতু বাতিল বা অসম্ভব, তাই উদ্দিষ্ট বিষয়টি সত্য হওয়া আবশ্যক।

আমি বলি: এটি আল-আছীরের বক্তব্য। তিনি তার বর্ণনায় আরও যোগ করেছেন যে, উদ্দিষ্ট বিষয়ের বিপরীত এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনার সত্যতার ধরনটি হলো 'একত্রিকরণের প্রতিবন্ধকতা', অন্যথায় তাদের সংমিশ্রণের ফলাফলটি অবধারিত হবে, যা বাতিল; কারণ তা অন্যটির বিপরীত ফলাফল দেয়। যেহেতু সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনাটি সত্য, তাই উদ্দিষ্ট বিষয়ের বিপরীতটি মিথ্যা প্রতিপন্ন হবে।

আমি বলি: জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতটিই অধিকতর স্পষ্ট। উল্লিখিত আপত্তির মাধ্যমে একে প্রত্যাখ্যান করা অকল্পনীয়, কারণ সংযোগকারী প্রস্তাবনার পূর্ববর্তী অংশটি অসম্ভব হওয়া ছাড়া এটি নির্ধারিত হয় না, যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর এখানে তার দাবিটি অপরিহার্যভাবে উদ্দিষ্ট বিষয়ের সঠিকতাকে আবশ্যক করে। বিষয়বস্তু অনুযায়ী কিয়াস আমার নিকট পাঁচ প্রকার: বুরহান (সুনিশ্চিত প্রমাণ) এগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ, যা বিশিষ্টজনদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আল-ফারাবী বলেন: এর উদ্দেশ্য হলো এমন জ্ঞান অর্জন করা যা পরম সৌভাগ্যের দিকে নিয়ে যায়। এর প্রস্তাবনাগুলো হলো নিশ্চিত, আর ইয়াকিন বা নিশ্চিত বিশ্বাস সম্পর্কে আল-ফারাবী বলেন: কোনো বিষয় এমন হওয়ার বিশ্বাস রাখা, যার অন্যরকম হওয়া সম্ভব নয়।

আস-সামারকান্দী বলেন: তা বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে যাতে অন্ধ অনুসারী বহির্ভূত থাকে।

এর প্রস্তাবনার মূলনীতি সাতটি: স্বতঃসিদ্ধ বিষয়: এমন বিষয় যা তার দুই প্রান্তকে কল্পনা করাই এর সম্পর্ক স্থাপনের জন্য যথেষ্ট, যেমন এক হলো দুইয়ের অর্ধেক।

ইন্দ্রিয়লব্ধ বিষয়গুলোও একইভাবে শ্রবণ ব্যতীত বাহ্যিক ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়, যেমন "আগুন গরম"। উপলব্ধিগত বিষয়গুলো একইভাবে অভ্যন্তরীণ অনুভূতির মাধ্যমে হয়, যেমন "আমি ক্ষুধার্ত"। পরীক্ষালব্ধ বিষয়গুলো একইভাবে আমাদের কাজের আবশ্যিক ফলের বারবার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হয়, যেমন "সাকমুনিয়া পিত্ত নিবারক"। অনুমানলব্ধ বিষয়গুলো একইভাবে চিন্তা এবং আমাদের কাজ নয় এমন বিষয়ের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হয়, যেমন "চাঁদের আলো সূর্য থেকে প্রাপ্ত" ।

জনশ্রুতি বা মুতাওয়াতির বিষয়গুলো এমন সংবাদের কারণে হয় যার মিথ্যা হওয়া অভ্যাসগতভাবে অসম্ভব। এমন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় যার কিয়াস তার সাথেই থাকে, যেমন "চার হলো জোড় সংখ্যা", এমন একটি মধ্যবর্তী সূত্রের মাধ্যমে যা অনুপস্থিত হয় না—আর তা হলো একে দুটি সমান অংশে ভাগ করা যায়। আর যার মধ্যবর্তী বিষয়টি বাহ্যিক ও মানসিক উভয় ক্ষেত্রে ছোট বিষয়ের মাঝে বড় বিষয়ের অস্তিত্বের কারণ হয়, যেমন "এই কাঠটি আগুনের স্পর্শ পেয়েছে, আর যা কিছু আগুনের স্পর্শ পায় তা দগ্ধ হয়"—এটি এমন বিষয়ের চেয়ে শ্রেষ্ঠ যার কারণ কেবল বাহ্যিকভাবে বিদ্যমান, মানসিকভাবে নয়, যেমন "এটি দগ্ধ, আর যা কিছু দগ্ধ তা আগুনের স্পর্শ পেয়েছে।"

এরপর বাগ্মিতা: তারা বলেন এটি সাধারণ মানুষের জন্য উপকারী। আল-ফারাবী বলেন: বাগ্মিতার উদ্দেশ্য হলো সন্তুষ্টি অর্জন করা, আর সন্তুষ্টি হলো এক ধরণের ধারণা। এর প্রস্তাবনা ও মূলনীতিসমূহ হলো 'গৃহীত বিষয়', যা কোনো নবী বা ইমামের মতো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির বিশ্বাস থেকে নেওয়া হয়, অথবা তা হলো 'ধারণাপ্রসূ'—এমন বিষয় যার দুই পক্ষের মধ্যে সম্মত দিকটি ভিন্নমতের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। আল-আছীরের বক্তব্য: "তর্কযুদ্ধে এটি ব্যবহৃত হয় না"—এর অর্থ হলো এটি সুনিশ্চিত প্রমাণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না।

এরপর তর্কশাস্ত্র: বলা হয়েছে এর উপকারিতা হলো সত্যের বিরোধীকে প্রত্যাখ্যান করা, যাতে তার মর্যাদা সুনিশ্চিত প্রমাণের চেয়ে নিচে নেমে যায় এবং বাগ্মিতার প্রভাবের চেয়ে উঁচুতে থাকে। আল-ফারাবী বলেন: এর উদ্দেশ্য হলো মনকে সুনিশ্চিত প্রমাণের দিকে প্রস্তুত করা। এর প্রস্তাবনাগুলো হলো 'স্বীকৃত বিষয়'—এমন কিছু বিষয় যা প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মেনে নেওয়া হয় যাতে তার মাধ্যমে তাকে বোঝানো যায়।

আর প্রসিদ্ধ বিষয়গুলো: আল-আছীর বলেন, এগুলোর বিধানের উৎস হলো জনস্বার্থ, কোমলতা, অভ্যাস বা আত্মমর্যাদাবোধের মতো কারণসমূহ। যেমন "ন্যায়বিচার ভালো", "অবিচার মন্দ", "দুর্বলদের দেখাশোনা করা প্রশংসনীয়" এবং "লজ্জাভ্রম করা নিন্দনীয়" ।

প্রতিটি জাতিরই কিছু প্রসিদ্ধ বিষয় থাকে। আল-ফারাবী বলেন: এগুলো এমন বিষয় যার প্রস্তাবনাগুলো সার্বিক বা অনির্দিষ্ট, যা গ্রহণ করা হয় এবং বিশ্বাস করা হয় কারণ আমাদের বাদে অন্যদের অভিমতও তেমনই। এরপর হলো কাব্যিক যুক্তি: এগুলো হলো এমন কথা যা উৎসাহ বা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নফসের ওপর প্রভাব বিস্তার করে, যদিও তার মিথ্যা হওয়া জানা থাকে। গ্রীকরা একে সংগীতের সুর এবং বিশেষ ছন্দের তালের মাধ্যমে প্রচার করত। বলা হয়, সুন্দর সুরের মাধ্যমে এর মূল ভিত্তি হলো কল্পনাপ্রসূ বিষয়।

আল-ফারাবী বলেন: এর মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা খোদ বিষয়টিকে কল্পনা করায়, যেমন প্রমাণের শেষে কোনো বিষয়ের জন্য পরিচিত বৈজ্ঞানিক বক্তব্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুখতাসার ফিল মানতিক (পৃষ্ঠা: ২৯)
والسفسطائي: يعلم ليحذر. الفارابي: غرضه ايهام الحكمة ممن غرضه حصول مال أو كرامة ونحهما من الخيرات الجاهية.

الأثير: هو المؤلف من القضايا الوهمية. هي قضايا كاذبة يقضي بها الوهم في أمور غير محسوسة فأن الوهم تابع للحس فحكمه في غيره كذب ككل موجود في جهة يعرف كذبه بأنه يساعد العقل في المقدمات المنتجة نقيض حكمه فإذا تعديا إلى النتيجة رجع الوهم عن قبول مل حكم به العقل.

الفارابي: هو ثلاثة أنواع مشاكله قياسي ومقدمته مشهورة في ظاهر الظن لا بالحقيقة وما شاكله غير قياسه ومقدماته مشهورة بالحقيقة وما تركب من قبيح للأولين يسمى الأول قياسا والأخيران مراءا وقولا مرائيا.

وغلط القياس يفوت ما يجب له في صورته ومادته وهو إن تألف من مقدمتين فقط بسيط ومن مقدمات بعضها نتيجة سائرها ويلزم من تأليفها مع مقدمة نتيجة كذلك إلى المطلوب مركب عدة أقيسه كعدة نتائجه إن صرح بها فهو موصول وإلا فمفصول.

وتكثر القياس كون جمع مقدمات واحدة. من شهير أنواعه قياس الضمير ما أضمرت كبراه بوضوحها ك " هذان خطان خرجا من المركز للمحيط فهما متساويان ". أو لإخفاء كذبها ك " زيد يطوف بالليل فهو سارق ". وقياس ما أنتجت نتيجته مع عكس إحدى مقدمتيه الأخرى " ككل إنسان ضاحك وكل ضاحك متفكر ". ثم ضم النتيجة صغرى لعكس الكبرى ينتج الصغرى. فيستدل على النتيجة بإحدى المقدمتين وعلى أحديهما بها فيدور.

وعكس القياس يسميه الجدليون غضب منصب التعليل. هو ضم منافي النتيجة لإحدى مقدمتي القياس لينتج منافي الأخرى ككل ج ب وكل ب أفيعارض القياس بضم النتيجة كبرى للصغرى ينتج من الثالث نقض الكبرى.

والمصادرة جعل الوسط نفس الأصغر بتبديل لفظ بمرادفه فتكون الكبرى عين النتيجة " ككل إنسان وكل بشر متفكر ".

وفي مل ذكرناه كفاية. وبالله التوفيق وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم تسليما كثيرا طيبا.

نجز التصنيف وتم بحمد الله وحسن عونه. وكان الفراغ من نسخه ليلة السبت الثاني من المحرم فاتح عام 849 هـ عرفنا الله خيره على يد العبد الفقير إلى مولاه، الراجي من سعة جوده ونعماه إن يحسن في الآخرة مثواه، بلقاسم بن محمد المغراوي ختمه الله له ولوالديه ولجميع المسلمين وللداعي له بذلك بالسعادة وذلك ببجاية المحروسة بزواية سيدي عبد الهادي منها: وصلى الله على سيدنا محمد وآله افتتاحا وختما ورضي في جميع أصحابه.
এবং সফেস্তায়ী (কুতর্কবাদী): একে জানা প্রয়োজন যেন তা থেকে সতর্ক থাকা যায়। আল-ফারাবী বলেন: এর লক্ষ্য হলো এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রজ্ঞার বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ধন-সম্পদ বা সম্মান অর্জন এবং অনুরূপ জাগতিক পদমর্যাদাজনিত সুযোগ-সুবিধা লাভ করা।

আল-আছির: এটি অলীক বা কাল্পনিক বিষয়াদি দ্বারা গঠিত। এগুলো এমন সব মিথ্যা সিদ্ধান্ত যা কল্পনা বা ধারণা ইন্দ্রিয়বহির্ভূত বিষয়ে প্রদান করে। কেননা কল্পনা ইন্দ্রিয়জাত অনুভূতির অনুসারী, ফলে ইন্দ্রিয়বহির্ভূত বিষয়ে এর সিদ্ধান্ত মিথ্যা হয়ে থাকে; যেমন দিক বা স্থানে বিদ্যমান প্রতিটি বস্তুর ক্ষেত্রে ঘটে। এর মিথ্যা হওয়ার বিষয়টি এভাবে জানা যায় যে, এটি বুদ্ধিকে এমন সব ভূমিকা প্রদানে সহায়তা করে যা তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিপরীত ফলাফল উৎপন্ন করে। অতঃপর যখন তারা ফলাফলের দিকে অগ্রসর হয়, তখন বুদ্ধি যা ফয়সালা করেছে তা গ্রহণে কল্পনা বিরত থাকে।

আল-ফারাবী বলেন: এটি তিন প্রকার। যার অবয়ব যৌক্তিক প্রমাণের (কিয়াস) মতো এবং এর ভূমিকাগুলো কেবল বাহ্যিক ধারণায় প্রসিদ্ধ, বাস্তবে নয়। আর যা অবয়বে কিয়াসের মতো নয় কিন্তু এর ভূমিকাগুলো বাস্তবে প্রসিদ্ধ। আর যা প্রথমোক্ত দুইটির মন্দ দিক থেকে গঠিত। প্রথমটিকে কিয়াস বলা হয় এবং শেষ দুইটিকে বিতণ্ডা ও বিতর্কিত উক্তি বলা হয়।

কিয়াসের ভুল তার রূপ এবং বিষয়ের জন্য যা আবশ্যক তা বিনষ্ট করে দেয়। যদি এটি কেবল দুটি ভূমিকা দ্বারা গঠিত হয় তবে তা সরল। আর যে কিয়াসের কিছু ভূমিকা অন্যগুলোর ফলাফল এবং সেগুলোর সাথে অন্য একটি ভূমিকা যুক্ত করার ফলে উদ্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছানো পর্যন্ত এমনটি চলতে থাকে, তবে তা যৌগিক—যা ফলাফলের সংখ্যার সমান একাধিক কিয়াসের সমষ্টি। যদি ফলাফলগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে তবে তাকে সংযুক্ত বলা হয়, অন্যথায় তা বিচ্ছিন্ন।

কিয়াসের আধিক্য হলো একটি বিষয়ের জন্য একাধিক ভূমিকা একত্রিত করা। এর প্রসিদ্ধ প্রকারসমূহের মধ্যে একটি হলো ঊহ্য কিয়াস, যার প্রধান ভূমিকা স্পষ্ট হওয়ার কারণে ঊহ্য রাখা হয়, যেমন: "এই দুটি রেখা কেন্দ্র থেকে পরিধি পর্যন্ত বিস্তৃত, সুতরাং তারা সমান"। অথবা তার মিথ্যা গোপন করার জন্য ঊহ্য রাখা হয়, যেমন: "যায়েদ রাতে ঘোরে, সুতরাং সে চোর"। আর এমন কিয়াস যার ফলাফলের সাথে তার একটি ভূমিকার বিপরীতকে যুক্ত করলে অপর ভূমিকাটি অর্জিত হয়, যেমন: "প্রত্যেক মানুষ হাস্যময় এবং প্রত্যেক হাস্যময় চিন্তাশীল"। অতঃপর ফলাফলটিকে অপ্রধান ভূমিকা বানিয়ে প্রধান ভূমিকার বিপরীতের সাথে যুক্ত করলে অপ্রধান ভূমিকাটি উৎপন্ন হয়। এভাবে একটি ভূমিকা দ্বারা ফলাফলের ওপর এবং ফলাফলের সাহায্যে একটি ভূমিকার ওপর প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়, যা একটি চক্র।

কিয়াসের বিপরীত প্রক্রিয়াকে তার্কিকগণ ‘যুক্তিপ্রদানের অবস্থানের ক্রোধ’ বলে অভিহিত করেন। এটি হলো কিয়াসের ফলাফলের বিপরীতকে তার কোনো একটি ভূমিকার সাথে যুক্ত করা যেন অন্য ভূমিকার বিপরীত ফলাফল পাওয়া যায়। যেমন—প্রত্যেক ‘জ’ হলো ‘ব’ এবং প্রত্যেক ‘ব’ হলো ‘অ’। অতঃপর ফলাফলের বিপরীতকে প্রধান ভূমিকা হিসেবে অপ্রধান ভূমিকার সাথে যুক্ত করে কিয়াসের বিরোধিতা করা হয়, যা তৃতীয় প্রকার বিন্যাস থেকে প্রধান ভূমিকার খণ্ডন উৎপন্ন করে।

সাধ্য সমলক্ষণ হলো শব্দ পরিবর্তনের মাধ্যমে মধ্য পদকে ক্ষুদ্র পদের অনুরূপ করা, যার ফলে প্রধান ভূমিকাটিই ফলাফলের হুবহু অনুরূপ হয়ে যায়। যেমন: "প্রত্যেক মানুষ এবং প্রত্যেক মানব চিন্তাশীল"।

আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট। আল্লাহর তাওফিকেই কাজ সম্পন্ন হয়। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও অনেক অনেক পবিত্র ও উত্তম শান্তি বর্ষিত হোক।

প্রশংসা ও আল্লাহর সুনিপুণ সহায়তায় গ্রন্থটির বিন্যাস সমাপ্ত হলো। এর অনুলিপি সম্পন্ন করার কাজ শেষ হয়েছে ৮৪৯ হিজরি সালের মুহাররম মাসের শুরুতে দ্বিতীয় শনিবার রাতে। আল্লাহ আমাদের এর কল্যাণ দান করুন। এটি সম্পন্ন হয়েছে তাঁর মাওলার মুখাপেক্ষী বান্দা, তাঁর মহানুভবতা ও নেয়ামতের প্রশস্ততা থেকে পরকালে উত্তম আবাস প্রত্যাশী বলকাসেম বিন মুহাম্মদ আল-মাগরাভী-এর হাতে—আল্লাহ তাঁর জন্য, তাঁর পিতা-মাতার জন্য, সকল মুসলিমের জন্য এবং যে ব্যক্তি তার জন্য সৌভাগ্যের দোয়া করে তাদের জন্য এর সমাপ্তি মঙ্গলময় করুন। এটি সম্পন্ন হয়েছে সংরক্ষিত শহর বেজায়ার সিদি আব্দুল হাদির জাভিয়ায়। আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর শুরুতে ও শেষে আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক এবং তিনি তাঁর সকল সঙ্গীদের ওপর সন্তুষ্ট হোন।