(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإشارة في أصول الفقه - ط التونسية   (أبو الوليد الباجي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: الإشارات في أصول المالكية (مطبوع بهامش حاشية محمد الهدة السوسي على قرة العين شرح ورقات إمام الحرمين الجويني)

المؤلف: أبو الوليد الباجي

الناشر: المطبعة التونسية، نهج سوق البلاط- تونس

الطبعة: الثالثة، 1351 هـ

عدد الصفحات: 162

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو الحجة 1442

আল-ইশারা ফী উসুলিল ফিকহ - তিউনিসীয় সংস্করণ   (আবূ আল-ওয়ালীদ আল-বাজী)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الفقه)


গ্রন্থ: আল-ইশারাত ফী উসুলিল মালিকিয়্যাহ (ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনীর ওরাকাত-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) ‘কুররাতুল আইন’-এর ওপর মুহাম্মাদ আল-হাদ্দাহ আস-সুসীর টীকাগ্রন্থের (حاشية) পার্শ্বটীকায় মুদ্রিত)

লেখক: আবূ আল-ওয়ালীদ আল-বাজী

প্রকাশক: আল-মাতবাআহ আত-তিউনিসিয়্যাহ, নাহজু সুকিল বালাইত- তিউনিস

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৩৫১ হিজরী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ জিলহজ ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

كتاب الإشارات لأبي الوليد الباجي

 

‌‌باب أقسام أدلة الشرع

أدلة الشرع على ثلاثة أضرب: أصل، ومعقول أصل، واستصحاب حال.

فأما الأصل فهو الكتاب والسنة وإجماع الأمة.

وأما معقول الأصل: فهو لحن الخطاب، وفحوى الخطاب، ومعنى الخطاب والحصر.
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি রচিত কিতাবুল ইশারাত

 

‌‌শরীয়তের দলীলসমূহের প্রকারভেদ সংক্রান্ত অধ্যায়

শরীয়তের দলীলসমূহ তিন প্রকার: মূল (أصل), মূলের যৌক্তিক নির্যাস (معقول أصل) এবং অবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষা (استصحاب حال)।

আর মূল (أصل) বলতে বুঝায় কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং উম্মতের ঐক্যমত (إجماع)।

আর মূলের যৌক্তিক নির্যাস (معقول أصل) হলো: ভাষ্যের ইঙ্গিত (لحن الخطاب), ভাষ্যের মর্মার্থ (فحوى الخطاب), ভাষ্যের অর্থ (معنى الخطاب) এবং সীমাবদ্ধকরণ (حصر)।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وأما استصحاب الحال، فهو استصحاب حال الأصل.

(فصل)

إذا ثبت ذلك فالكتاب على ضربين: مجاز وحقيقة.

فأما المجاز فهو لفظ تجوُّز به عن موضوعه، فعلى أربعة أضرب:

زيادة، كقوله تعالى: {فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ}.

ونقصان، كقوله تعالى: {وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ}.

وتقديم وتأخير، كقوله تعالى: {وَالَّذِي أَخْرَجَ الْمَرْعَى فَجَعَلَهُ غُثَاءً أَحْوَى}.

واستعارة، كقوله تعالى: {بِئْسَمَا يَأْمُرُكُمْ بِهِ إِيمَانُكُمْ}، وقوله عز وجل: {وَاخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ}.

وقال محمد بن خويز منداد من أصحابنا وداود الأصبهاني: إنه لا يصح وجود المجاز في القرآن، وقد بينا ذلك.

(فصل)

وأما الحقيقة فهو كل لفظ بقي على موضوعه، وهو على ضربين:
আর পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা রক্ষা (استصحاب الحال) হলো আদি অবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষা (استصحاب حال الأصل)।

(পরিচ্ছেদ)

যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন কিতাব দুই প্রকার: রূপক (مجاز) এবং প্রকৃত (حقيقة)।

আর রূপক (مجاز) হলো এমন শব্দ যা তার মূল অর্থকে অতিক্রম করে ব্যবহৃত হয়, এটি চার প্রকার:

বৃদ্ধি (زيادة), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে।"

হ্রাস (نقصان), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এবং জনপদকে জিজ্ঞাসা করো।"

আগে-পিছে করা (تقديم وتأخير), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "যিনি চারণভূমি উৎপন্ন করেন, অতঃপর তাকে কালচে আবর্জনায় পরিণত করেন।"

উপমা বা শব্দ ধার করা (استعارة), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের ঈমান তোমাদের যা আদেশ করে তা কতই না নিকৃষ্ট", এবং মহান আল্লাহর বাণী: "মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার ডানা অবনমিত করো।"

আমাদের সহকর্মীদের মধ্যে মুহাম্মদ বিন খুওয়াইজ মিনদাদ এবং দাউদ আল-আসফাহানি বলেছেন: কুরআনে রূপকের (مجاز) অস্তিত্ব থাকা সঠিক নয়; আর আমরা বিষয়টি স্পষ্ট করেছি।

(পরিচ্ছেদ)

আর প্রকৃত (حقيقة) অর্থ হলো এমন প্রতিটি শব্দ যা তার মূল অর্থেই বহাল থাকে। এটিও দুই প্রকার:
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
مفصل ومجمل:

فأما المفصل: فهو ما فهم المراد به من لفظه، ولم يفتقر في بيانه إلى غيره، وهو على ضربين: غير محتمل ومحتمل.

فأما غير المحتمل فهو النص، وحده: ما رفع في بيانه إلى أبعد غاياته، نحو قوله تعالى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ}، فهذا نص في الثلاثة، لا يحتمل غير ذلك، فإذا ورد وجب المصير إليه والعمل به إلا أن يرد ناسخ أو معارض.

(فصل)

وأما المحتمل فهو ما احتمل معنيين فزائداً، وهو على ضربين:

أحدهما أن لا يكون في أحد محتملاته أظهر منه في سائرها، نحو
বিস্তারিত (مفصل) ও সংক্ষিপ্ত (مجمل):

বিস্তারিত (مفصل) বলতে এমন বিষয়কে বোঝায়, যার উদ্দিষ্ট অর্থ তার শব্দ থেকেই অনুধাবন করা যায় এবং এর ব্যাখ্যার জন্য অন্য কোনো বিষয়ের প্রয়োজন হয় না। এটি দুই প্রকার: অসম্ভাব্যতাযুক্ত (غير محتمل) এবং সম্ভাব্যতাযুক্ত (محتمل)।

অসম্ভাব্যতাযুক্ত (غير محتمل) বিষয়টি হলো দ্ব্যর্থহীন পাঠ (نص); এর সংজ্ঞা হলো: যা স্পষ্টতার দিক দিয়ে তার চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত উন্নীত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "এবং তালাকপ্রাপ্তা মহিলারা তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে।" এটি 'তিন' সংখ্যার ক্ষেত্রে একটি দ্ব্যর্থহীন পাঠ (نص), যা অন্য কোনো অর্থ গ্রহণের অবকাশ রাখে না। সুতরাং যখন এটি বর্ণিত হবে, তখন সেটিরই অনুসরণ করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক হবে, যদি না কোনো রহিতকারী (ناسخ) বা বৈপরীত্যকারী (معارض) দলীল উপস্থিত হয়।

(পরিচ্ছেদ)

আর সম্ভাব্যতাযুক্ত (محتمل) হলো এমন শব্দ যা দুই বা ততোধিক অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে। এটি দুই প্রকার:

প্রথমটি হলো, যার সম্ভাব্য অর্থগুলোর মধ্যে কোনো একটি অর্থ বাকিগুলোর চেয়ে অধিক সুস্পষ্ট নয়, যেমন—
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
قولك: لون، للذي يقع على البياض والسواد وغيرهما من الألوان وقوعاً واحداً، ليس هو في واحدٍ منهما أظهر منه في سائرها.

فإذا قال لك من يلزمك أمره: اصبغ هذا الثوب لوناً، فإن كان ذلك على معنى التخيير فأي لون صبغت الثوب كنت ممتثلاً لأمره، وإن أراد بذلك لوناً بعينه لم يمكنك امتثال أمره إلا بعد أن يبين اللون الذي أراد.

ولا يجوز أن يتأخر البيان عن وقت الحاجة إلى امتثال الفعل.

والثاني: أن يكون اللفظ في أحد محتملاته أظهر منه في سائرها، كألفاظ الظاهر والعموم وغير ذلك.

(فصل)

فأما الظاهر فهو المعنى الذي يسبق فهم السامع من المعاني التي يحتملها اللفظ، كألفاظ الأوامر نحو قوله تعالى: (وأقيموا الصلاة وآتوا الزكاة)، (فاقتلوا المشركين) فهذا
আপনার উক্তি: 'রঙ' (لون) শব্দটি সাদা, কালো এবং অন্যান্য রঙের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য; এটি তাদের কোনোটির ক্ষেত্রে অন্যটির তুলনায় অধিক স্পষ্ট নয়।

সুতরাং, যার আদেশ পালন করা আপনার জন্য আবশ্যক, তিনি যদি আপনাকে বলেন: 'এই কাপড়টি কোনো একটি রঙে রঞ্জিত করো', তবে তা যদি পছন্দ করার অবকাশ (تخيير) প্রদানের অর্থে হয়, তবে যেকোনো রঙে কাপড়টি রঞ্জিত করলেই আপনি তাঁর আদেশ পালনকারী হিসেবে গণ্য হবেন। আর যদি তিনি এর দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো রঙ উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে তিনি কোন রঙটি উদ্দেশ্য করেছেন তা স্পষ্ট (بيان) না করা পর্যন্ত আপনার পক্ষে তাঁর আদেশ পালন করা সম্ভব নয়।

আর কর্ম সম্পাদনের প্রয়োজনের সময় থেকে ব্যাখ্যাকরণ (بيان) বিলম্বিত হওয়া বৈধ নয়।

দ্বিতীয় প্রকার হলো: শব্দটি তার সম্ভাব্য অর্থসমূহের কোনো একটিতে অন্যগুলোর তুলনায় অধিক স্পষ্ট হওয়া; যেমন: প্রকাশ্য (ظاهر) ও ব্যাপক (عموم) অর্থবোধক শব্দাবলি এবং এই জাতীয় অন্যান্য।

(পরিচ্ছেদ)

প্রকাশ্য (ظاهر) বলতে সেই অর্থকে বোঝায় যা শব্দের সম্ভাব্য অর্থসমূহের মধ্য থেকে শ্রোতার উপলব্ধিতে সবার আগে আসে; যেমন: আদেশসূচক (الأوامر) শব্দাবলি, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (তোমরা সালাত কায়েম করো ও জাকাত প্রদান করো), (অতঃপর তোমরা মুশরিকদের হত্যা করো)। সুতরাং এটি
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
اللفظ إذا ورد وجب حمله على الأمر، وإن كان يجوز أن يراد به الإباحة نحو قوله تعالى: {وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا}، والتعجيز نحو قوله تعالى: {قُلْ كُونُوا حِجَارَةً أَوْ حَدِيدًا}، والتهديد نحو قوله تعالى: {اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ}، والتعجب نحو قولك: أحسن بزيد، وقد قيل ذلك في قوله تعالى: {أَسْمِعْ بِهِمْ وَأَبْصِرْ يَوْمَ يَأْتُونَنَا} الآية، في الأمر أظهر منه في سائر محتملاته، فيجب أن يحمل على أنه أمر إلا أن ترد قرينة تدل على أن المراد به غير الأمر، فيعدل عن ظاهره إلى ما يدل الدليل عليه.

(فصل)

إذا ثبت ذلك فالأمر اقتضاء الفعل بالقول على وجه الاستعلاء والقهر.

وهو على ضربين: وجوب
যখন কোনো শব্দ বর্ণিত হয়, তখন তাকে আদেশ (أمر) হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক, যদিও এর দ্বারা বৈধতা (إباحة) উদ্দেশ্য হওয়া জায়েজ। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর যখন তোমরা ইহরামমুক্ত হবে, তখন শিকার করো।" এবং অক্ষমতা প্রকাশ (تعجيز) অর্থে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "বলুন, তোমরা পাথর বা লোহা হয়ে যাও।" এবং ভীতিপ্রদর্শন (تهديد) অর্থে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা যা চাও করো, নিশ্চয় তিনি তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।" এবং বিস্ময় (تعجب) প্রকাশে, যেমন তোমার উক্তি: "যায়েদ কতই না উত্তম!", আর তা মহান আল্লাহর এই বাণীতেও বলা হয়েছে: "যেদিন তারা আমার কাছে আসবে সেদিন তারা কত চমৎকার শুনবে ও দেখবে" (আয়াতটি)। এটি অন্যান্য সম্ভাব্য অর্থের চেয়ে আদেশ (أمر) হিসেবে অধিক প্রকাশ্য। সুতরাং একে আদেশ (أمر) হিসেবেই গণ্য করা আবশ্যক, যতক্ষণ না এমন কোনো পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (قرينة) পাওয়া যায় যা নির্দেশ করে যে এর দ্বারা আদেশ (أمر) ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে এর প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থ থেকে সরে গিয়ে সেই অর্থের দিকে ফিরে যেতে হবে যার স্বপক্ষে দলিল বিদ্যমান।

(পরিচ্ছেদ (فصل))

যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন আদেশ (أمر) বলতে উচ্চমর্যাদা ও কর্তৃত্বের সাথে কথার মাধ্যমে কোনো কাজ সম্পাদনের দাবি করাকে বোঝায়।

আর এটি দুই প্রকার: আবশ্যকতা (وجوب)
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
وندب فالواجب ما كان في تركه عقاب من حيث هو ترك له على وجهٍ ما، نحو قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ}.

والندب ما كان في فعله ثواب، ولم يكن في تركه عقاب من حيث هو ترك له على وجه ما، نحو قوله تعالى: {فَكَاتِبُوهُمْ إِنْ عَلِمْتُمْ فِيهِمْ خَيْرًا
এবং পছন্দনীয় (ندب)। সুতরাং আবশ্যক (واجب) হলো এমন বিষয় যা নির্দিষ্ট পন্থায় বর্জন করার কারণে শাস্তির বিধান রয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো}।

আর পছন্দনীয় (ندب) হলো এমন বিষয় যার সম্পাদনে সওয়াব রয়েছে এবং নির্দিষ্ট পন্থায় তা বর্জন করার কারণে কোনো শাস্তির বিধান নেই, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তাদের সাথে মুক্তিচুক্তি সম্পাদন করো, যদি তোমরা তাদের মধ্যে কল্যাণের সন্ধান পাও}।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وَآتُوهُمْ مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي آتَاكُمْ}.

إِلَّا أن لفظ الأمر في الوجوب أظهر منه في الندب، فإذا ورد لفظ الأمر عارياً من القرائن وجب حمله على الوجوب، إِلَّا أن يدل دليل على أن الندب مراد به، فيحمل عليه.

وقال القاضي أبو بكر: يتوقف فيه ولا يحمل على وجوب ولا ندب حتى يدل الدليل على المراد به.

وقال أبو الحسن بن المنتاب يحمل على الندب ولا يعدل الوجوب إِلَّا بدليل.
{এবং আল্লাহ তোমাদেরকে যে সম্পদ দান করেছেন, তা থেকে তোমরা তাদেরকে প্রদান করো।}

তবে আদেশের (أمر) শব্দ পছন্দনীয়তার (ندب) চেয়ে আবশ্যকতার (وجوب) ক্ষেত্রে অধিক প্রকাশমান। সুতরাং যখন আদেশের (أمر) শব্দ কোনো পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (قرينة) ছাড়াই বর্ণিত হয়, তখন তাকে আবশ্যকতার (وجوب) ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক, যতক্ষণ না এমন কোনো প্রমাণ (دليل) পাওয়া যায় যা নির্দেশ করে যে এখানে পছন্দনীয়তা (ندب) উদ্দেশ্য, তখন একে তার ওপরই প্রয়োগ করা হবে।

এবং আল-কাযী আবু বকর বলেছেন: এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত (توقف) রাখা হবে এবং একে আবশ্যকতা (وجوب) বা পছন্দনীয়তা (ندب) কোনোটির ওপরই প্রয়োগ করা হবে না যতক্ষণ না এর দ্বারা উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর কোনো প্রমাণ (دليل) পাওয়া যায়।

এবং আবু হাসান ইবনুল মুনতাব বলেছেন: একে পছন্দনীয়তার (ندب) ওপর প্রয়োগ করা হবে এবং কোনো প্রমাণ (دليل) ব্যতিরেকে আবশ্যকতার (وجوب) দিকে পরিবর্তন করা হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
والدليل على ما نقوله: قوله عز وجل لإبليس: {مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ}، فوبخه وعاقبه لما لم يمتثل أمره بالسجود لآدم، ولو لم يكن مقتضاه الوجوب لما عاقبه ولا وبخه على ترك ما لا يجب عليه فعله.

فصل

إذا وردت لفظة أفعل بعد الحظر
আমরা যা বলছি তার প্রমাণ হলো ইবলিসের প্রতি মহান আল্লাহর বাণী: {আমি যখন তোমাকে নির্দেশ প্রদান করেছি, তখন কিসে তোমাকে সিজদা করতে বাধা দিল?}, সুতরাং আদমকে সিজদা করার নির্দেশ পালন না করার কারণে তিনি তাকে তিরস্কার করেছেন এবং শাস্তি প্রদান করেছেন। আর যদি এর দাবি আবশ্যকতা (الوجوب) না হতো, তবে যা পালন করা তার জন্য আবশ্যক ছিল না তা বর্জন করার কারণে তিনি তাকে শাস্তি প্রদান করতেন না এবং তিরস্কারও করতেন না।

পরিচ্ছেদ

যখন নিষেধাজ্ঞার (الحظر) পর ‘আফআল’ (أفعل) বা আদেশসূচক শব্দ বর্ণিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
اقتضت الوجوب أيضاً، على أصلها.

وقال جماعة من أصحابنا: إنها تقتضي الإباحة، وبه قال بعض أصحاب الشافعي.

والدليل على ما نقوله: أنا إذا أجمعنا على أن لفظ الأمر بمجرده يقتضي الوجوب، وهذا لفظ الأمر مجرداً، فوجب أن يقتضي الوجوب، وتقدم الحظر على الأمر لا يخرجه عن مقتضاه، كما أن تقدم الأمر على الحظر لا يخرجه عن مقتضاه.

 

‌‌فصل

الأمر المطلق لا يقتضي الفور
، وإليه ذهب القاضي أبو بكر، وذكر محمد بن خويز منداد أنه مذهب المغاربة من المالكيين، وقال المالكيون من البغداديين: إنه يقتضي الفور.

والدليل على ما نقوله: أن لفظة افعل لا تتضمن الزمان إِلَّا
এটিও তার মূলনীতি অনুযায়ী ওয়াজিব (وجوب) হওয়াকে আবশ্যক করে।

আমাদের একদল সঙ্গী (আলেম) বলেছেন: এটি বৈধতা (إباحة) দাবি করে, এবং শাফিঈর কিছু অনুসারীও এই কথা বলেছেন।

আমরা যা বলছি তার দলীল হলো: যখন আমরা এই বিষয়ে একমত হয়েছি যে, আদেশের (أمر) শব্দ এককভাবে ওয়াজিব (وجوب) হওয়াকে আবশ্যক করে, আর এটি আদেশেরই একটি শব্দ, তাই এটি ওয়াজিব (وجوب) হওয়াকে দাবি করা আবশ্যক। আদেশের পূর্বে নিষেধাজ্ঞার (حظر) উপস্থিতি তাকে তার দাবি থেকে বিচ্যুত করে না, যেমন নিষেধাজ্ঞার পূর্বে আদেশের উপস্থিতি তাকে তার দাবি থেকে বিচ্যুত করে না।

 

‌‌পরিচ্ছেদ

নিঃশর্ত আদেশ (أمر مطلق) অবিলম্বে পালন (فور) করার দাবি রাখে না
, কাজী আবু বকর এই মতই গ্রহণ করেছেন এবং মুহাম্মদ ইবনে খুওয়াইজ মানদাদ উল্লেখ করেছেন যে এটি মালেকীগণের মধ্যে মাগরেববাসীদের মাযহাব। আর বাগদাদের মালেকীগণ বলেছেন: এটি অবিলম্বে পালন (فور) করাকে দাবি করে।

আমরা যা বলছি তার দলীল হলো: 'ইফআল' (افعل) শব্দটি সময়কে অন্তর্ভুক্ত করে না কেবল...
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
كتضمن الإخبار عن الفعل للزمان، ولو أن مخبراً يخبر أنه يقوم لم يكن كاذباً إذا وجد قيامه متأخراً، فإذا ثبت ذلك فإن للواجب على التراخي حالة يتعين وجوب الفعل فيها وهو إذا غلب على ظن المكلف فوات الفعل.

ويجري إباحة تأخير المكلف الفعل مجرى إباحة تعزير الإمام الجاني وتأديب المعلم الصبي إذا لم يغلب على الظن هلاكه، فإذا غلب على الظن هلاكه حرم ذلك.

فصل

إذا نسخ وجوب الأمر جاز أن يحتج به على الجواز.

وقال بعض أصحابنا: لا يجوز ذلك.

والدليل على جوازه: أن الأمر الواجب يقتضي وجوب الفعل ومحال أن يكون واجباً ويكون مع ذلك محظورًا، فثبت أن الوجوب يتضمن الجواز ومعنى الجائز في هذا الوجه ما وافق الشرع.

فإذا نسخ

কাজের সংবাদ প্রদান যেমন সময়কে অন্তর্ভুক্ত করে, তেমনি কোনো সংবাদ দাতা যদি সংবাদ দেয় যে সে দণ্ডায়মান হবে, তবে তার দণ্ডায়মান হওয়া বিলম্বে ঘটলে সে মিথ্যাবাদী হবে না। যদি এটি সাব্যস্ত হয়, তবে বিলম্বযোগ্য ওয়াজিব (الواجب على التراخي)-এর এমন একটি অবস্থা রয়েছে যেখানে কাজটি করা নির্ধারিত বা আবশ্যক হয়ে পড়ে, আর তা হলো যখন মুকাল্লাফ (المكلف) বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির প্রবল ধারণা (غلب على ظن) হয় যে কাজটির সময় অতিক্রান্ত হয়ে যাবে।

মুকাল্লাফ (المكلف)-এর জন্য কাজ সম্পাদনে বিলম্ব করার বৈধতা (إباحة) ঠিক তেমনি যেমন ইমাম বা শাসকের জন্য অপরাধীকে তা'যির (تعزير) বা দণ্ড প্রদান এবং শিক্ষকের জন্য বালককে আদব শিক্ষা দেওয়ার বৈধতা, যতক্ষণ না তার ধ্বংস বা মৃত্যুর প্রবল ধারণা (غلب على الظن) জন্মে। কিন্তু যদি তার ধ্বংস হওয়ার প্রবল ধারণা তৈরি হয়, তবে তা হারাম বা নিষিদ্ধ (حرم) হয়ে যায়।

পরিচ্ছেদ

যখন কোনো আদেশের আবশ্যকতা (وجوب) রহিত (نسخ) হয়ে যায়, তখন সেই কাজের বৈধতার (الجواز) সপক্ষে তা দলিল হিসেবে পেশ করা জায়েজ বা বৈধ (جاز) হতে পারে।

আমাদের কতিপয় সাথী (মাযহাবের আলিমগণ) বলেছেন: তা জায়েজ বা বৈধ (يجوز) নয়।

এর বৈধতার (الجواز) দলিল হলো: ওয়াজিব বা আবশ্যক (الواجب) আদেশ কাজের আবশ্যকতাকে (وجوب) দাবি করে, আর কোনো বিষয় একই সাথে ওয়াজিব (واجب) এবং নিষিদ্ধ (محظور) হওয়া অসম্ভব। সুতরাং সাব্যস্ত হলো যে, আবশ্যকতা (وجوب) বৈধতাকে (الجواز) অন্তর্ভুক্ত করে; আর এই প্রেক্ষাপটে জায়েজ বা বৈধ (الجائز) বলতে তাই বোঝায় যা শরয়ি বিধানের অনুকূল।

অতঃএব যখন রহিত (نسخ) করা হয়...

(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
وجوبه خاصة، بقي على حكمه في الجواز؛ لأن النسخ لم يتعلق بالجواز وبالله التوفيق.

فصل

المسافر والمريض مأموران بالصوم مخيران بينه وبين صوم غيره.

وقال بعض أصحابنا: المسافر مخاطب بالصوم دون المريض.

وقال الكرخي: المسافر
এর আবশ্যকতা (وجوب) বিশেষভাবে রহিত হলেও তা বৈধতার (جواز) বিধানের ওপর বহাল রয়েছে; কারণ রহিতকরণ (نسخ) বৈধতার (جواز) সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।

পরিচ্ছেদ (فصل)

মুসাফির এবং অসুস্থ ব্যক্তি রোজা রাখার নির্দেশপ্রাপ্ত, তবে তারা রোজা রাখা এবং অন্য সময়ে রোজা পালনের মধ্যে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত।

আমাদের কতিপয় সাথী (মাযহাবের আলিমগণ) বলেছেন: মুসাফির রোজা পালনের জন্য সম্বোধিত (مخاطب), তবে অসুস্থ ব্যক্তি নয়।

ইমাম কারখি বলেছেন: মুসাফির
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
والمريض غير مخاطبين بالصوم.

والدليل على ما نقوله أن المسافر لو صام أثيب على فعله، وناب صومه عن فرضه،
এবং অসুস্থ ব্যক্তি সিয়াম পালনের আদিষ্ট নয়।

আমরা যা বলছি তার প্রমাণ হলো, মুসাফির যদি সিয়াম পালন করে তবে সে তার কাজের জন্য সওয়াব পাবে এবং তার এই সিয়াম ফরজের স্থলাভিষিক্ত হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
فلو كان غير مخاطب بصومه لما أثيب عليه كالحائض لما لم

সুতরাং তিনি যদি তাঁর রোজার ব্যাপারে আদিষ্ট (مخاطب) না হতেন, তবে এর জন্য তিনি সওয়াবপ্রাপ্ত (أثيب) হতেন না; যেমন ঋতুবতী (حائض) নারী যখন আদিষ্ট হন না...

(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
تخاطب بالصوم لم تثبت عليه في حال حيضها.

(فصل)

لا خلاف بين الأمة أن الكفار مخاطبون بالإيمان، والظاهر من مذهب مالك رحمه
তিনি সওম পালনের জন্য আদিষ্ট (تخاطب), তবে ঋতুকালীন অবস্থায় তা তার ওপর সাব্যস্ত (تثبت) হয় না।

(পরিচ্ছেদ (فصل))

উম্মাহর মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ (خلاف) নেই যে, কাফিররা ঈমান আনয়নের জন্য আদিষ্ট (مخاطبون); এবং ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবের প্রকাশ্য (الظاهر) মতানুসারে...
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الله أنهم مخاطبون بالصوم والصلاة والزكاة وغير ذلك من شرائع الإيمان.

قال محمد بن خويز منداد: ليسوا مخاطبين بشيء من ذلك.

والدليل على ما نقوله: قوله عز وجل {مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ} الآية، فأخبر الله تعالى أن العذاب حق بترك الإيمان والصدقة والصلاة.

 

(فصل)

إذا قال الصحابي: أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بكذا ونهى عن ذا، وجب حمله على الوجوب.

وحكي عن أبي بكر بن داود أنه قال: لا يحمل على الوجوب حتى ينقل إلينا لفظ الرسول
...আল্লাহ যে, তারা রোজা, নামাজ, জাকাত এবং ঈমানের অন্যান্য বিধানের মাধ্যমে আদিষ্ট (مخاطبون)।

মুহাম্মদ বিন খুওয়াইজ মানদাদ বলেন: তারা এগুলোর কোনোটির মাধ্যমেই আদিষ্ট (مخاطبون) নন।

আমরা যা বলছি তার দলীল (دليل) হলো মহান আল্লাহর বাণী: {কী তোমাদেরকে সাকারে (জাহান্নামে) প্রবেশ করালো?} (আয়াত), আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, ঈমান, দান-সদকা ও নামাজ ত্যাগের কারণেই আজাব সাব্যস্ত হয়েছে।

 

(পরিচ্ছেদ)

যখন কোনো সাহাবি (صحابي) বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এই কাজের আদেশ করেছেন এবং ওই কাজ থেকে নিষেধ করেছেন, তখন একে আবশ্যকতা (وجوب)-এর ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক (واجب)।

আবু বকর বিন দাউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শব্দ (لفظ) আমাদের নিকট বর্ণিত না হওয়া পর্যন্ত তা আবশ্যকতা (وجوب)-এর ওপর প্রয়োগ করা হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
عليه السلام.

وما قاله ليس بصحيح؛ لأن معرفة الأمر من غيره طريقته اللغة، وإذا كنا نحتج في اللغة والتمييز بين الأمر وغيره بقول امرئ القيس والنابغة، فلأن يحتج بقول أبي بكر وعمر أولى وأحرى؛ لكونهما
তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

এবং তিনি যা বলেছেন তা সঠিক (صحيح) নয়; কারণ ভাষা হলো অন্য বিষয় থেকে নির্দেশ (أمر)-কে চেনার পদ্ধতি, আর যদি আমরা ভাষা এবং নির্দেশ (أمر) ও অন্য বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে ইমরুল কায়েস ও নাবিগার উক্তি দ্বারা দলিল পেশ (احتجاج) করি, তবে আবু বকর ও উমরের উক্তি দ্বারা দলিল পেশ (احتجاج) করা অধিকতর উত্তম ও সংগত; যেহেতু তাঁরা...
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
من أفصح العرب، ولما يقترن بذلك من الدين والفضل.

 

‌‌مسائل النهي

الذي ذهب إليه أهل السنة أن الأمر بالشيء نهي عن أضداده، والنهي عن الشيء أمر بإباحة أضداده.

والنهي ينقسم قسمين: نهي على وجه الكراهة، ونهي على وجه التحريم.

إِلَّا أن النهي إذا ورد وجب حمله على
তিনি আরবদের মাঝে অন্যতম প্রাঞ্জলভাষী এবং এর সাথে দ্বীনদারিতা ও ফযীলতের সমন্বয় ঘটেছে।

 

‌‌নিষেধাজ্ঞার মাসআলাসমূহ (مسائل النهي)

আহলে সুন্নাত যে মত পোষণ করেছেন তা হলো, কোনো বিষয়ে আদেশ (أمر) প্রদান করা তার বিপরীত বিষয়সমূহকে নিষেধ করার নামান্তর এবং কোনো বিষয়ে নিষেধ (نهي) করা তার বিপরীত বিষয়সমূহকে বৈধতা (إباحة) দানের আদেশ (أمر) দেওয়ার শামিল।

আর নিষেধাজ্ঞা (نهي) দুই ভাগে বিভক্ত: অপছন্দনীয়তা (كراهة) পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা এবং হারাম (تحريم) পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা।

তবে নিষেধাজ্ঞা (نهي) যখন বর্ণিত হয়, তখন তাকে আবশ্যকভাবে (وجب) এই মর্মে গণ্য করা যে—
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
التحريم، إِلَّا أن تقترن به قرينة تصرفه عن ذلك إلى الكراهية.

والنهي إذا ورد دلَّ على فساد المنهي عنه، وبهذا قال جمهور أصحابنا، وقال
নিষিদ্ধতা (التحريم), তবে যদি এর সাথে এমন কোনো পারিপার্শ্বিক প্রমাণ (قرينة) যুক্ত হয় যা একে অপছন্দনীয়তার (الكراهية) দিকে সরিয়ে নেয়।

আর নিষেধাজ্ঞা (النهي) যখন বর্ণিত হয়, তখন তা নিষিদ্ধ বিষয়টি অসার বা বাতিল (فساد) হওয়ার প্রমাণ বহন করে। আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) ফকীহগণ এই মতই পোষণ করেছেন, এবং বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
القاضي أبو بكر: لا يدل على ذلك.

والدليل على ما نقوله: اتفاق الأمة من الصحابة فمن بعدهم على الاستدلال بمجرد النهي في القرآن والسنة على فساد عقد المنهي عنه، كاستدلالهم على فساد عقد الربا بقوله تعالى: {وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا}، ونهي النبي صلى الله عليه وسلم عن بيع الذهب بالذهب متفاضلاً، واحتجاج ابن عمر في تحريم نكاح المشركات وفساده بقوله تعالى: {وَلَا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ}، وغير ذلك مما لا يحصى كثرة.

 

‌‌أبواب العموم وأقسامه

قد ذكرنا أن المحتمل الظاهر في أحد محتملاته منه على ضربين: أوامر وعموم، وقد تكلمنا في الأوامر، والكلام هنا في العموم.

و له خمسة ألفاظ: الجمع، كالمسلمين، والمؤمنين، والأبرار، والفجار.

وألفاظ الجنس، كالحيوان، والإبل.

وألفاظ النهي، كقوله: ما جاءني من أحد.

والألفاظ المبهمة، كـ (من) في من يعقل، و (ما) في ما لا يعقل،
আল-কাজী আবু বকর বলেন: এটি তার ওপর প্রমাণ বহন করে না।

আর আমরা যা বলছি তার প্রমাণ হলো: কুরআন ও সুন্নাহর নিছক নিষেধ (النهي) দ্বারা নিষিদ্ধ বিষয়ের চুক্তির অসারতা (فساد)-এর ওপর সাহাবী এবং তাদের পরবর্তী উম্মতের ঐকমত্য। যেমন সুদের চুক্তির অসারতা (فساد)-এর ওপর তাদের দলিল পেশ করা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর সুদের যা অবশিষ্ট আছে তা বর্জন করো}, এবং স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণের কম-বেশি কেনাবেচার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধ (النهي)। এছাড়াও মুশরিক নারীদের বিবাহ হারাম ও অসার (فساد) হওয়ার ব্যাপারে ইবনে উমরের দলিল পেশ করা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ করো না যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে}, এবং এ জাতীয় অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে যা গণনা করা সম্ভব নয়।

 

‌‌সাধারণত্ব (العموم) এবং এর প্রকারভেদের পরিচ্ছেদসমূহ

আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, যার একাধিক সম্ভাব্য অর্থের মধ্যে একটি অর্থ সুস্পষ্ট (الظاهر), তা দুই প্রকার: আদেশ (الأوامر) এবং সাধারণত্ব (العموم)। আমরা আদেশ (الأوامر) সম্পর্কে আলোচনা করেছি, আর এখানে আলোচনা হবে সাধারণত্ব (العموم) নিয়ে।

এর পাঁচটি শব্দরীতি রয়েছে: বহুবচন (الجمع), যেমন: আল-মুসলিমুন, আল-মুমিনুন, আল-আবরার এবং আল-ফুজ্জার।

শ্রেণিবাচক শব্দ (الجنس), যেমন: প্রাণী এবং উট।

না-বোধক শব্দ (النهي), যেমন কারও কথা: আমার কাছে কেউ আসেনি।

অস্পষ্ট শব্দ (المبهمة), যেমন বুদ্ধিমানদের ক্ষেত্রে ‘মান’ এবং অবোধ বা বস্তুর ক্ষেত্রে ‘মা’,
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
و (أي) فيهما، و (متى) في الزمان، و (أين) في المكان.

والاسم المفرد إذا دخل عليه الألف واللام، نحو: الرجل والإنسان والمشرك، فهذا إذا ورد شيء من ألفاظ العموم المذكورة وجب حملها على عمومها إِلَّا أن يدل دليل على تخصيص شيء منها فيصار إلى ما يقتضيه الدليل وقال القاضي أبو بكر يتوقف فيها ولا تحمل على عموم ولا خصوص حتى يدل الدليل على المراد بها وقال أبو الحسن بن المنتاب يحمل على أقل ما تقتضيه الألفاظ والدليل على ما نقوله ما قدمناه من كونها معرفة

وإنما تكون معرفة إذا اقتضت استغراق الجنس فيتميز ما يقع تحتها من غيره ولو لم يرد
এবং 'কোনটি' (أي) এই উভয় ক্ষেত্রে, এবং 'কখন' (متى) সময়ের ক্ষেত্রে, এবং 'কোথায়' (أين) স্থানের ক্ষেত্রে।

এবং একবচন বিশেষ্য (اسم مفرد) যখন তাতে আলিফ ও লাম যুক্ত হয়, যেমন: পুরুষ, মানুষ এবং মুশরিক; সুতরাং এজাতীয় উল্লিখিত ব্যাপকতাবোধক শব্দসমূহ (ألفاظ العموم) যখন বর্ণিত হয়, তখন সেগুলোকে তাদের ব্যাপকতার (عموم) ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক (واجب), যতক্ষণ না এর কোনো অংশকে বিশেষিত (تخصيص) করার কোনো দলিল (دليل) পাওয়া যায়; তখন দলিলের (دليل) দাবি অনুযায়ী আমল করা হবে। কাজী আবু বকর বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত (توقف) রাখা হবে এবং ব্যাপকতা (عموم) বা বিশেষত্ব (خصوص) কোনোটির ওপরই প্রয়োগ করা হবে না, যতক্ষণ না এর দ্বারা উদ্দেশ্য কী তা নির্দেশ করতে কোনো দলিল (دليل) পাওয়া যায়। এবং আবু হাসান ইবনুল মুন্তাব বলেন, শব্দগুলোর মাধ্যমে ন্যূনতম যা বুঝায় তার ওপর প্রয়োগ করা হবে। আর আমরা যা বলেছি তার স্বপক্ষে দলিল (دليل) হলো যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, এগুলো নির্দিষ্ট (معرفة) হওয়া।

আর এগুলো নির্দিষ্ট (معرفة) তখনই হয় যখন তা শ্রেণির সামগ্রিকতাকে (استغراق الجنس) দাবি করে, ফলে এর অধীনে যা রয়েছে তা অন্যান্য বিষয় থেকে পৃথক হয়ে যায়, যদিও তা বর্ণিত না হতো।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
بها جميع الجنس لكانت نكرة؛ لأنه لا يتميز المراد بها من غيره، إذ قد بقي من جنسه ما يقع عليه هذا اللفظ، ولذلك قلنا: إن لفظ الجمع إذا تكرر لا يقتضي استغراق الجنس؛ لأنه لو اقتضى استغراق الجنس لكان معرفة.

(فصل)

فإذا دل الدليل على تخصيص ألفاظ العموم بقي ما تناوله اللفظ العام بعد التخصيص على عمومه أيضاً يحتج به كما كان يحتج به لو لم يخص شيء منه.

وذلك نحو قوله تعالى: {فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ} فإن هذا اللفظ يقتضي قتل كل مشرك، ثم قد خص ذلك بأن منع من قتل من أدى الجزية من أهل الكتاب، فبقي الباقي على ما كان عليه من وجوب القتل يحتج به في وجوب قتل المشركين غير من قد خرج بالتخصيص المذكور.

وكذلك لو ورد تخصيص آخر لبقي باقي اللفظ
যদি এর দ্বারা সমগ্র শ্রেণিকে বোঝানো হতো, তবে তা অনির্দিষ্ট (نكرة) হতো; কারণ এর দ্বারা উদ্দিষ্ট বিষয়টি অন্যদের থেকে আলাদা করা সম্ভব হতো না, যেহেতু উক্ত শ্রেণির মাঝে এমন কিছু অবশিষ্ট থেকে যেত যার ওপর এই শব্দটি প্রয়োগ করা সম্ভব। এই কারণেই আমরা বলেছি যে, বহুবচনবাচক শব্দ (لفظ الجمع) যখন পুনরাবৃত্তি করা হয়, তখন তা সমগ্র শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করা (استغراق الجنس) অপরিহার্য করে না; কারণ যদি তা সমগ্র শ্রেণিকে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য করত, তবে তা নির্দিষ্ট (معرفة) হয়ে যেত।

(পরিচ্ছেদ)

সুতরাং যখন ব্যাপকবোধক শব্দাবলির (ألفاظ العموم) বিশেষায়নের (تخصيص) ওপর কোনো দলিল পাওয়া যায়, তখন বিশেষায়নের পর সাধারণ (عام) শব্দটির অন্তর্ভুক্ত অবশিষ্ট অংশ তার ব্যাপকতা (عموم)-এর ওপরই বহাল থাকে; এর দ্বারা দলিল পেশ করা যাবে ঠিক সেভাবেই, যেভাবে এর কোনো অংশ বিশেষায়িত হওয়ার আগে দলিল পেশ করা যেত।

আর এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: "তোমরা মুশরিকদের হত্যা করো।" এই শব্দটি প্রত্যেক মুশরিককে হত্যা করা আবশ্যক করে। অতঃপর একে বিশেষায়িত (خص) করা হয়েছে আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা জিজিয়া প্রদান করে তাদের হত্যা করা নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে। ফলে হত্যার আবশ্যকতা বিষয়ক মূল হুকুমের ওপর বাকি অংশটুকু বহাল থাকল, যা দ্বারা উল্লিখিত বিশেষায়নের (تخصيص) মাধ্যমে যারা সাধারণ বিধান থেকে বের হয়ে গেছে তারা ছাড়া অন্য মুশরিকদের হত্যার আবশ্যকতা বিষয়ে দলিল পেশ করা যাবে।

একইভাবে যদি অন্য কোনো বিশেষায়ন (تخصيص)-ও বর্ণিত হয়, তবে শব্দের বাকি অংশটি বহাল থাকবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
العام على ما كان عليه قبل التخصيص.

ويجوز أن يرد التخصيص والبيان مع اللفظ العام، ويجوز تأخيره عنه إلى وقت فعل العبادة، ولا يجوز أن يتأخر عن ذلك الوقت.

 

‌‌(فصل)

أقل الجمع اثنان
عند جماعة من أصحاب مالك رحمه الله، وحكى القاضي أبو بكر بن الطيب: إنه مذهب مالك.

وقال بعض أصحابنا وأصحاب الشافعي ثلاثة والدليل على
সাধারণ (عام) বিধানটি সুনির্দিষ্টকরণের (تخصيص) পূর্বে যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থাতেই বহাল থাকবে।

সাধারণ শব্দের (عام) সাথে সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) ও ব্যাখ্যা (بيান) আসা বৈধ, এবং ইবাদত পালনের সময় পর্যন্ত তা বিলম্বিত করাও বৈধ, তবে সেই সময়ের পরে আর বিলম্বিত করা বৈধ নয়।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ (فصل))

বহুবচনের (جمع) সর্বনিম্ন সংখ্যা হলো দুই
ইমাম মালিক (রহ.)-এর একদল অনুসারীর মতে, এবং কাজী আবু বকর ইবনুল তৈয়িব বর্ণনা করেছেন যে, এটিই ইমাম মালিকের মাযহাব।

আমাদের কিছু অনুসারী এবং শাফেয়ী অনুসারীদের মতে এটি হলো তিন এবং এর দলিল হলো
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ما ذهبنا إليه قوله تعالى: {وَدَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ إِذْ يَحْكُمَانِ فِي الْحَرْثِ إِذْ نَفَشَتْ فِيهِ غَنَمُ الْقَوْمِ وَكُنَّا لِحُكْمِهِمْ شَاهِدِينَ}، وقوله تعالى: {فَاذْهَبَا بِآيَاتِنَا إِنَّا مَعَكُمْ مُسْتَمِعُونَ}، وذكر أنه مذهب الخليل وسيبويه، وأنشد في ذلك:

مهمين يممتهما مرتين … ظهراهما مثل ظهور الترسين

(فصل)

إذا ورد لفظ الجمع المذكر لم تدخل جماعة المؤنث إِلَّا بدليل؛ لأن لكل طائفة لفظاً تختص به في مقتضى اللغة.

قال الله تعالى: {إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ}.

وقال أهل اللغة: الواو في الجمع السالم تدل على خمسة أشياء على التذكير والسلامة والرفع والجمع ومن يعقل، ولا يجوز أن يقع تحته المؤنث إِلَّا بدليل، كما لا يقع
আমরা যে মতটি গ্রহণ করেছি তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর দাউদ ও সুলায়মান, যখন তারা শস্যক্ষেত সম্পর্কে বিচার করছিলেন, যখন তাতে রাতের বেলা কোনো সম্প্রদায়ের মেষপাল চরে বেড়াল; আর আমি তাদের বিচার পর্যবেক্ষণ করছিলাম।} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা দু’জন আমাদের নিদর্শনাবলী নিয়ে যাও, নিশ্চয় আমি তোমাদের সাথে শ্রবণকারী হিসেবে আছি।} তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি খলীল ও সিবওয়াইহ-এর অভিমত, এবং এ বিষয়ে তিনি এই কবিতাটি আবৃত্তি করেছেন:

দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেদিকে আমি দুবার অগ্রসর হয়েছি … তাদের পৃষ্ঠদেশ যেন দুটি ঢালের পৃষ্ঠদেশের ন্যায়

(পরিচ্ছেদ)

যখন পুংলিঙ্গবাচক বহুবচন (الجمع المذكر) শব্দ ব্যবহৃত হয়, তখন প্রমাণ (دليل) ব্যতিরেকে তাতে নারীবাচক গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত হবে না; কারণ ভাষার দাবি অনুযায়ী প্রতিটি দলের জন্য স্বতন্ত্র শব্দ নির্দিষ্ট রয়েছে।

মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, এবং মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী}।

ভাষাবিদগণ বলেছেন: জমউস সালিম (الجمع السالم)-এর মধ্যস্থিত 'ওয়াও' পাঁচটি বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে: পুংলিঙ্গ হওয়া (التذكير), অবিকৃতি (السلامة), রাফউ (الرفع), বহুবচন (الجمع) এবং বিবেকসম্পন্ন হওয়া; আর প্রমাণ (دليل) ছাড়া এর অধীনে স্ত্রীলিঙ্গ দাখিল হওয়া বৈধ নয়, যেমনটি দাখিল হয় না...
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
تحته ما لا يعقل إِلَّا بدليل.

(فصل)

إذا ثبت ذلك فقد يرد أول الخبر عاماً، وآخره خاصاً، ويرد آخره عاماً وأوله خاصاً، فيجب أن يحمل كل لفظ على مقتضاه، ولا يعتبر بسواه، وذلك نحو قوله تعالى: {وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ}، وهذا عام في كل مطلقة مدخول بها ثم قال بعد ذلك: {وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَلِكَ} خاص في الرجعية.

ومما خص أوله وعم آخره قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ}.
এর অধীনে এমন বিষয় রয়েছে যা প্রমাণ (دليل) ব্যতীত অনুধাবন করা সম্ভব নয়।

(পরিচ্ছেদ)

যখন এটি সাব্যস্ত হয়েছে, তখন বর্ণনার (الخبر) প্রথমাংশ সাধারণ (عام) এবং শেষাংশ বিশেষ (خاص) হিসেবে আসতে পারে; আবার শেষাংশ সাধারণ (عام) এবং প্রথমাংশ বিশেষ (خاص) হিসেবে আসতে পারে। এমতাবস্থায় প্রতিটি শব্দকে তার নিজস্ব অর্থের দাবি অনুযায়ী প্রয়োগ করা আবশ্যক এবং অন্য কিছুর বিবেচনা করা যাবে না। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তালাকপ্রাপ্তা নারীরা তিন ঋতু পর্যন্ত নিজেদের প্রতীক্ষায় রাখবে}। এটি সহবাস করা হয়েছে এমন সকল তালাকপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে সাধারণ (عام)। অতঃপর তিনি এর পরে বলেছেন: {এবং এই সময়ের মধ্যে তাদের স্বামীরা তাদের ফিরিয়ে নিতে অধিক হকদার}, যা রাজঈ (رجعية) তালাকের ক্ষেত্রে বিশেষ (خاص)।

আর যার প্রথমাংশ বিশেষ (خاص) এবং শেষাংশ সাধারণ (عام) হয়েছে, তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে নবী! যখন আপনারা স্ত্রীদের তালাক দেবেন}।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌(فصل)

إذا تعارض لفظان خاص وعام، بني العام على الخاص
، مثل: ما روي عنه صلى الله عليه وسلم قوله: (لا صلاة بعد العصر حتى تغرب الشمس)، فاقتضى نفى كل صلاة بعد العصر، ثم قال: (من نام عن صلاة أن نسيها فليصلها إذا ذكرها)، فأخرج بهذا اللفظ الخاص الصلاة المنسية من جملة الصلوات المنهي عنها بعد العصر، وسواء كان الخاص متأخراً أو متقدماً.

وقال أبو حنيفة: إذا كان الخاص متقدماً نسخه العام المتأخر، وإن كان العام متفقاً عليه والخاص مختلفاً فيه، قدم العام على الخاص.

والدليل على ما نقوله: أن الخاص يتناول الحكم على وجهٍ لا يحتمل التأويل، والعام يحتمله على وجهٍ يتناول التأويل، فكان الخاص أولى.

(فصل)

فإذا تعارض اللفظان لا وجهٍ لا يمكن الجمع بينهما فإن علمنا التاريخ فيهما نسخ المتقدم بالمتأخر،
(পরিচ্ছেদ)

যদি বিশেষ (خاص) এবং সাধারণ (عام) দুটি ভাষ্য পরস্পর বিরোধী হয়, তবে সাধারণকে (عام) বিশেষের (خاص) ভিত্তিতে প্রয়োগ করা হবে
, যেমন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত তাঁর এই বাণী: (আছরের নামাজের পর সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত কোনো নামাজ নেই), যা আছরের পর সকল প্রকার নামাজ নিষেধ হওয়াকে আবশ্যক করে। অতঃপর তিনি বলেছেন: (যে ব্যক্তি নামাজের কথা ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে থাকে, সে যেন তা স্মরণে আসার সাথে সাথে আদায় করে নেয়)। সুতরাং তিনি এই বিশেষ (خاص) ভাষ্যের মাধ্যমে আছরের পর নিষিদ্ধ নামাজের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বিস্মৃত নামাজকে পৃথক করেছেন; চাই বিশেষ (خاص) ভাষ্যটি পরবর্তী (متأخر) সময়ের হোক অথবা পূর্ববর্তী (متقدم) সময়ের।

ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: যদি বিশেষ (خاص) ভাষ্যটি পূর্ববর্তী (متقدم) হয়, তবে পরবর্তী (متأخر) সাধারণ (عام) ভাষ্য তাকে রহিত (نسخ) করে দেবে। আর যদি সাধারণ (عام) ভাষ্যটি সর্বসম্মত (متفق عليه) হয় এবং বিশেষ (خاص) ভাষ্যটি মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه) হয়, তবে সাধারণকে (عام) বিশেষের (خاص) ওপর অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।

আমাদের বক্তব্যের দলিল হলো: বিশেষ (خاص) ভাষ্য বিধানকে এমনভাবে নির্দেশ করে যেখানে ব্যাখ্যার (تأويل) কোনো অবকাশ থাকে না, কিন্তু সাধারণ (عام) ভাষ্য ব্যাখ্যার (تأويل) অবকাশ রাখে; তাই বিশেষ (خاص) ভাষ্যই অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য।

(পরিচ্ছেদ)

যদি দুটি ভাষ্য এমনভাবে পরস্পর বিরোধী হয় যে তাদের মধ্যে কোনোভাবেই সমন্বয় করা সম্ভব না হয়, তবে যদি আমাদের নিকট সেগুলোর ইতিহাস জানা থাকে, তবে পরবর্তী (متأخر) ভাষ্য দ্বারা পূর্ববর্তী (متقدم) ভাষ্যকে রহিত (نسخ) করা হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وإن جهل نظر في ترجيح أحدهما على الآخر بوجهٍ من وجوه الترجيح التي تأتي بعد هذا، فإن أمكن ذلك وجب المصير إلى ما ترجح، فإن تعذر الترجيح بينهما ترك النظر فيهما وعدل إلى سائر أدلة الشرع، فما دلَّ عليه الدليل أخذ به، فإن تعذر في الشرع دليل على حكم تلك الحادثة كان الناظر مخيراً في أن يأخذ بأي اللفظين شاء الحاظر أو المبيح؛ إذ ليس في العقل حظر ولا إباحة.

 

‌‌(فصل)

يجوز تخصيص عموم القرآن بخبر الواحد
، وعليه جمهور الفقهاء.

ويجوز تخصيص عموم
আর যদি (তারিখ বা অগ্রাধিকার) অজ্ঞাত থাকে, তবে এরপর আসা প্রাধান্যদানের (ترجيح) পদ্ধতিগুলোর মাধ্যমে একটির ওপর অপরটিকে প্রাধান্যদানের (ترجيح) বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। যদি তা সম্ভব হয়, তবে যা প্রাধান্যপ্রাপ্ত (ترجيح) হয়েছে তার দিকে প্রত্যাবর্তন করা ওয়াজিব। আর যদি তাদের মধ্যে প্রাধান্যদান (ترجيح) অসম্ভব হয়, তবে সে দুটির বিষয়ে বিচার-বিশ্লেষণ বর্জন করতে হবে এবং শরয়ি অন্যান্য দলিলের দিকে ফিরে যেতে হবে। এরপর দলিল যেটির ওপর নির্দেশ করবে সেটিই গ্রহণ করা হবে। আর যদি উক্ত ঘটনার বিধানের ব্যাপারে শরয়ি কোনো দলিল পাওয়া অসম্ভব হয়, তবে অনুসন্ধানকারী ব্যক্তি এই দুই শব্দের মধ্য হতে যেটি ইচ্ছা সেটি গ্রহণ করার ব্যাপারে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত হবেন—চাই তা নিষিদ্ধকারী হোক বা বৈধকারী; কেননা আকল বা বিবেকের মধ্যে (স্বয়ংক্রিয়ভাবে) কোনো কিছুকে নিষিদ্ধ বা বৈধ করার বিধান নেই।

 

‌‌(পরিচ্ছেদ)

একক বর্ণনার (خبر الواحد) মাধ্যমে কুরআনের সাধারণ অর্থের (عموم) বিশেষায়ন (تخصيص) করা বৈধ, আর অধিকাংশ (جمهور) ফকিহগণের (فقهاء) অভিমত এটাই।

আর সাধারণ অর্থের (عموم) বিশেষায়ন (تخصيص) করা বৈধ...
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
السنة بالقرآن، وتخصيص عموم القرآن وأخبار الآحاد بالقياس الجلي والخفي؛ لأن ذلك بين دليلين، وإذا أمكن الجمع بين دليلين كان أولى من اطراح أحدهما والأخذ بالآخر؛ لأن الأدلة إنما نصبت للأخذ بها والحكم بمقتضاها، فلا يجوز اطراح شيء منها ما أمكن استعماله.

(فصل)

وقد يقع التخصيص أيضاً بمعانٍ من أفعال الرسول صلى الله عليه وسلم، وإقراره على الحكم وما جرى مجرى ذلك.

ولا يقع التخصيص بمذهب الراوي وذلك مثل ما روي عن ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: (المتبايعان بالخيار ما لم يتفرقا)،
কুরআনের মাধ্যমে সুন্নাহর নির্দিষ্টকরণ (تخصيص), এবং স্পষ্ট কিয়াস (القياس الجلي) ও অস্পষ্ট কিয়াসের (القياس الخفي) মাধ্যমে কুরআনের সাধারণ (عموم) বিধান ও একক বর্ণনাকে (أخبار الآحاد) নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) করা সম্ভব; কারণ এটি দুটি দলিলের মধ্যবর্তী বিষয়। আর যখন দুটি দলিলের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা সম্ভব হয়, তখন একটিকে বর্জন করে অন্যটি গ্রহণ করার চেয়ে উভয়টির মধ্যে সমন্বয় করাই উত্তম; কারণ দলিলসমূহ মূলত তা গ্রহণ করার জন্য এবং সেগুলোর দাবি অনুযায়ী বিধান প্রদানের জন্যই সাব্যস্ত করা হয়েছে। তাই যতক্ষণ পর্যন্ত ব্যবহার করা সম্ভব, ততক্ষণ পর্যন্ত সেগুলোর কোনোটিকেই বর্জন করা বৈধ নয়।

(পরিচ্ছেদ)

আবার কখনো কখনো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কার্যাবলি, কোনো বিধানের ওপর তাঁর মৌনসম্মতি (إقرار) এবং এ জাতীয় বিষয়ের মাধ্যমেও নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) সংঘটিত হয়।

আর বর্ণনাকারীর (الراوي) ব্যক্তিগত মাযহাব বা মতামতের মাধ্যমে নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) হয় না। এর উদাহরণ হলো যা ইবনে উমর থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "ক্রেতা ও বিক্রেতা যতক্ষণ একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের ক্রয়-বিক্রয় বহাল রাখা বা বাতিলের ইখতিয়ার (خيار) থাকে।"
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وقال ابن عمر التفرق بالأبدان، مذهب بعض أصحابنا الشافعية إلى أنه يقع التخصيص به، وذهب مالك رحمه الله إلى أنه لا يقع به التخصيص به وهو الصحيح؛ لأن الأحكام إنما تؤخذ من قول صاحب الشرع، ولا يجوز أن يطرح قول صاحب الشرع لقول غيره.

(فصل)

هذا الكلام في اللفظ العام الوارد ابتداء، فأما الوارد على سبب فإنه على ضربين: مستقل بنفسه، وغير مستقل بنفسه:

فأما المستقل بنفسه فما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه سئل عن بئر بضاعة فقال: (الماء الطهور لا ينجسه شيء)،
ইবনে উমর বলেন যে, (তা হলো) শারীরিক বিচ্ছেদ। আমাদের শাফিঈ মাযহাবের কিছু অনুসারীর অভিমত এই যে, এর মাধ্যমে বিশেষায়ন (تخصيص) সংঘটিত হয়। ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই মত পোষণ করেছেন যে, এর দ্বারা বিশেষায়ন (تخصيص) ঘটে না এবং এটিই সঠিক (صحيح) মত; কারণ বিধি-বিধান কেবল শারী‘আতের প্রবর্তকের বাণী থেকেই গ্রহণ করা হয় এবং অন্য কারো কথার প্রেক্ষিতে শারী‘আতের প্রবর্তকের বাণী বর্জন করা বৈধ নয়।

পরিচ্ছেদ (فصل)

এই আলোচনাটি প্রারম্ভিকভাবে বর্ণিত সাধারণ শব্দ (لفظ عام) সম্পর্কে। আর যা কোনো কারণ (سبب) উপলক্ষে বর্ণিত হয়েছে তা দুই প্রকার: স্বয়ংসম্পূর্ণ (مستقل بنفسه) এবং যা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়:

আর স্বয়ংসম্পূর্ণ (مستقل بنفسه) হলো যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (روي) হয়েছে যে, তাঁকে বুদা‘আহ কূপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: "পানি পবিত্র (طهور), কোনো কিছুই একে অপবিত্র (ينجسه) করে না।"
(খণ্ড: ১) আল-ইশারাহ ফী উসুলিল ফিকহ - ত তিউনিসিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
فمثل هذا اللفظ العام اختلف أصحابنا فيه، فروي عن مالك رحمه الله أنه يقصر على سببه ولا يحمل على عمومه، وروي عنه أيضاً أنه يحمل على عمومه ولا يقصر على سببه، وإليه ذهب إسماعيل القاضي وأكثر أصحابنا.

والدليل على ذلك أن الأحكام متعلقة بلفظ صاحب الشرع دون السبب؛ لأن لفظ صاحب الشرع لو انفرد لتعلق به الحكم، والسبب لو انفرد لم يتعلق به حكم، فيجب أن يكون الاعتبار بما تعلق به دون ما لا يتعلق به الحكم.

وأما ما لا يستقل بنفسه فمثل ما سئل النبي صلى الله عليه وسلم عن بيع الرطب بالتمر فقال: (أينقص الرطب إذا جف؟) قالوا: نعم، قال: (فلا). إذا فمثل هذا
আর এরূপ সাধারণ শব্দের (اللفظ العام) ক্ষেত্রে আমাদের আলেমগণ মতপার্থক্য করেছেন। ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি তার সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটের (سببه) মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং এর সাধারণ ব্যাপকতার (عمومه) ওপর প্রয়োগ করা হবে না। আবার তাঁর থেকে এও বর্ণিত হয়েছে যে, এটি এর ব্যাপকতার (عمومه) ওপরই প্রয়োগ করা হবে এবং শুধুমাত্র তার প্রেক্ষাপটের (سببه) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। ইসমাইল আল-কাজী এবং আমাদের অধিকাংশ আলেম এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।

এর প্রমাণ হলো এই যে, বিধানসমূহ (الأحكام) শরিয়ত প্রণেতার (صاحب الشرع) বাণীর সাথে সংশ্লিষ্ট, প্রেক্ষাপটের (السبب) সাথে নয়। কারণ শরিয়ত প্রণেতার (صاحب الشرع) বাণীটি যদি এককভাবে বর্ণিত হতো, তবে তার সাথে বিধান (الحكم) সংশ্লিষ্ট হতো। কিন্তু প্রেক্ষাপট (السبب) যদি এককভাবে থাকতো, তবে তার সাথে কোনো বিধান (الحكم) সংশ্লিষ্ট হতো না। অতএব, যার সাথে বিধান সংশ্লিষ্ট হয় সেটিকে মানদণ্ড ধরা আবশ্যক, যার সাথে বিধান সংশ্লিষ্ট হয় না সেটিকে নয়।

আর যা স্বতন্ত্রভাবে অর্থ প্রকাশে সক্ষম নয় (ما لا يستقل بنفسه), তার উদাহরণ হলো যেমন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে শুকনা খেজুরের বিনিময়ে কাঁচা খেজুর বিক্রয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বললেন: "কাঁচা খেজুর শুকিয়ে গেলে কি এর ওজন কমে যায়?" তারা বললেন: "হ্যাঁ"। তিনি বললেন: "তবে না (অর্থাৎ এভাবে বিনিময় করা যাবে না)"। সুতরাং যখন এই প্রকারের...