(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: -)
القول الفصل في حكم تارك الصلاة عمدا حتى يخرج وقتها   (محمد تقي الدين الهلالي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: القول الفصل في حُكم تارك الصلاة عمدا حتى يخرج وقتها

المؤلف: محمد تقي الدين الهلالي الحسيني

عام النشر: 1402 هـ - 1982 م

عدد الصفحات: 37

خرّج أحاديث هذه النسخة الإلكترونية وعلّق عليها: أبو سامي العبدان حُسن التَمام

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 18 رجب 1443

আল-কাওলুল ফাসল ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজু ওয়াকতুহা (ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বর্জনকারীর বিধানের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা)   (মুহাম্মদ তাকিউদ্দীন আল-হিলালী)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: আল-কাওলুল ফাসল ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজু ওয়াকতুহা (ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বর্জনকারীর বিধানের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা)

গ্রন্থকার: মুহাম্মদ তাকিউদ্দীন আল-হিলালী আল-হুসাইনী

প্রকাশকাল: ১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭

এই ইলেকট্রনিক সংস্করণের হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) ও টীকা প্রদান করেছেন: আবু সামি আল-আবদান হুসনুত তামাম

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ রজব ১৪৪৩ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১)
القولُ الفصل في حُكم تارك الصّلاة عمدًا حتّى يخرجَ وقتُها

تأليف: الشيخ محمّد تقي الدين الهلالي الحُسيني

--------------------------------------------

خرّج أحاديث هذه النسخة الإلكترونية، وعلّق عليها: أبو سامي العبدان حُسن التَمام

 

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1]

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا. يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70، 71]

أما بعد:

فإن أصدق الحديث كتاب الله، وأحسن الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل بدعة ضلالة.

كلفني أحد إخواننا في الله تعالى الاعتناء بهذه الرسالة لنفاستها في موضوعها، وهذا من حسن ظنه بالعبد الفقير إلى ربه، فأجبته إلى طلبه على وجل، فقمت بتخريجها مع الحكم على الأحاديث والآثار التي تضمنتها هذه الرسالة القيّمة، التي تطرقت إلى موضوع خطير ألا وهو ترك الصلاة حتى يخرج وقتها، فتجد العلماء دائمًا يحملون هموم هذه الأمة، وعندهم الحرص على النصح، فيبذلون النفس والنفيس في التحذير من الشر، وإن مما ابتلي به أكثر الناس - إلا من رحم الله تعالى - التهاون في أداء الصلاة في أوقاتها، وهو أمر عظيم قد بيّن المؤلف خطورته في هذه الرسالة المباركة، فجزاه الله تعالى خير ما جزى عالِمًا عن الإسلام وأهله، قال ابن حزم في "المحلى" 2/ 242:

"وقد جاء عن عمر، وعبد الرحمن بن عوف، ومعاذ بن جبل، وأبي هريرة، وغيرهم من الصحابة رضي الله عنهم أن من ترك صلاة فرض واحدة متعمدا حتى يخرج وقتها فهو كافر مرتد".

وقال الحافظ المنذري في "الترغيب والترهيب" 1/ 394:

"وقد ذهب جماعة من الصحابة، ومن بعدهم، إلى تكفير من ترك الصلاة متعمدا لتركها حتى يخرج جميع وقتها، منهم عمر بن الخطاب، وعبد الله بن مسعود، وعبد الله بن عباس، ومعاذ بن جبل، وجابر بن عبد الله، وأبو الدرداء رضي الله عنهم، ومن غير الصحابة أحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهويه، وعبد الله بن المبارك، والنخعي، والحكم بن عتيبة، وأيوب السختياني، وأبو داود الطيالسي، وأبو بكر بن أبي شيبة، وزهير بن حرب وغيرهم".

والمؤلف رحمه الله تعالى منهجه في هذه الرسالة منهج العالم السلفي، الذي يستدل بالكتاب والسنة ويكون فهمه لهما من معين السلف الصالح، فبدأ بالنقل من كتاب "الصلاة" لابن القيم ذاكرًا أدلة كفر تارك الصلاة من الكتاب العزيز، ثم دلائل السنة على كفر تارك الصلاة، ثم ما جاء عن الصحابة رضي الله عنهم في حكم تارك الصلاة، ثم يذكر أن قبولَ الأعمال من العبد متوقفٌ على فعل الصلاة، ثم يسوق أقوال العلماء من التابعين ومن بعدهم في كفر تارك الصلاة، وينقل عنهم من حكى الإجماع على ذلك، ثم يبيّن بالأدلة أن من نام عن صلاة أو نسيها فهو معذور وإن خرجت الصلاة عن وقتها، وأن وقتها في حقه حين يذكرها أو يستيقظ من نومه، ثم يبيّن أن من ترك صلاة عمدًا حتى يخرجَ وقتُها لا ينفعه قضاؤها، وفيه فوائد عظيمة جليلة غير ما ذكرتُ، فأترككم مع هذه الرسالة القيّمة، والله الموفق.

 

كتبه الفقير إلى الله تعالى

أبو سامي العبدان

حسن التمام

(17 - رجب - 1439 هجري)
ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াক্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সালাত ত্যাগকারীর বিধান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

রচনায়: শায়খ মুহাম্মদ তাকিউদ্দিন আল-হিলালী আল-হুসাইনী

--------------------------------------------

এই ইলেকট্রনিক সংস্করণের হাদিসগুলোর উৎস অনুসন্ধান (تخريج) এবং এতে টীকা যুক্ত করেছেন: আবু সামি আল-আবদান হাসান আল-তামাম

 

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের মন্দ কাজ এবং আমাদের আমলের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসুল।

{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]

{হে মানুষ! তোমাদের রব্বকে ভয় করো যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং যিনি তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন; আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তা বন্ধনকেও (ভয় করো)। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [নিসা: ১]

{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে।} [আহযাব: ৭০, ৭১]

অতঃপর:

নিশ্চয়ই সবচাইতে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নতুন উদ্ভাবিত বিষয় এবং প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা।

আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমাদের এক ভাই আমাকে এই পুস্তিকাটির প্রতি মনোনিবেশ করার দায়িত্ব দিয়েছেন এর বিষয়বস্তুর গুরুত্বের কারণে। এটি সেই ভাইয়ের আমার প্রতি সুধারণার বহিঃপ্রকাশ। আমি কিছুটা শঙ্কার সাথে তাঁর অনুরোধে সাড়া দিয়েছি। আমি এই মূল্যবান পুস্তিকাটির হাদিসগুলোর উৎস অনুসন্ধান (تخريج) করার পাশাপাশি এতে বর্ণিত হাদিস এবং আছার (الآثار)-গুলোর হুকুম বা মান নির্ধারণ (الحكم) করার কাজ সম্পন্ন করেছি। এই পুস্তিকাটিতে একটি ভয়াবহ বিষয় আলোচনা করা হয়েছে, আর তা হলো সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত ত্যাগ করা। আপনি আলেমদের সবসময়ই দেখবেন যে তারা উম্মতের চিন্তায় মগ্ন থাকেন এবং নসিহত করার ব্যাপারে আগ্রহী হন। তারা অনিষ্ট থেকে সতর্ক করতে নিজেদের প্রাণ ও মূল্যবান সম্পদ বিলিয়ে দেন। অধিকাংশ মানুষ—যাদের ওপর আল্লাহ দয়া করেছেন তারা ছাড়া—যে বিপদে পতিত হয়েছে তা হলো সময়মতো সালাত আদায়ের ক্ষেত্রে অবহেলা করা। এটি একটি গুরুতর বিষয় যার ভয়াবহতা লেখক এই বরকতময় পুস্তিকায় বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে এই আলেমকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। ইবনে হাজম "আল-মুহাল্লা" ২/২৪২-তে বলেছেন:

"উমর, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, মুয়াজ ইবনে জাবাল, আবু হুরায়রা এবং অন্যান্য সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ফরজ সালাত ত্যাগ করবে যতক্ষণ না তার সময় শেষ হয়ে যায়, সে কাফির (كافر) ও মুরতাদ (مرتد)।"

وقال الحافظ المنذري في "الترغيب والترهيب" 1/ 394:

"সাহাবীদের একটি দল এবং তাঁদের পরবর্তীগণ সেই ব্যক্তিকে কাফির (كافر) আখ্যা দেওয়ার মত পোষণ করেছেন যে ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করে যতক্ষণ না তার পুরো সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উমর ইবনুল খাত্তাব, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, মুয়াজ ইবনে জাবাল, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ, আবুদ্দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। আর সাহাবীদের বাইরে রয়েছেন আহমদ ইবনে হাম্বল, ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আন-নাখায়ী, আল-হাকাম ইবনে উতাইবাহ, আইয়ুব আস-সাখতিয়ানি, আবু দাউদ আত-তায়ালিসি, আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ, জুহাইর ইবনে হারব এবং আরও অনেকে।"

এই পুস্তিকায় লেখক (রহিমাহুল্লাহ)-এর মানহাজ হলো একজন সালাফি (سلفي) আলেমের মানহাজ, যিনি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে দলিল গ্রহণ করেন এবং এ দুটির উপলব্ধি অর্জন করেন পূর্বসূরি পুণ্যবান (السلف الصالح)-দের উৎস থেকে। তিনি ইবনুল কাইয়ুমের কিতাব "আস-সালাত" থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে শুরু করেছেন, যেখানে পবিত্র কুরআন থেকে সালাত ত্যাগকারীর কুফরির দলিল উল্লেখ করেছেন। এরপর সুন্নাহ থেকে সালাত ত্যাগকারীর কুফরির প্রমাণসমূহ, অতঃপর সালাত ত্যাগকারীর বিধান সম্পর্কে সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) পক্ষ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বান্দার আমল কবুল হওয়া সালাত আদায়ের ওপর নির্ভরশীল। অতঃপর তিনি তাবেয়ী (التابعين) এবং তাদের পরবর্তী আলেমদের উক্তিগুলো বর্ণনা করেছেন যারা সালাত ত্যাগকারীকে কাফির (كافر) মনে করেন এবং তাদের থেকে এই বিষয়ের ওপর ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি দলিলের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, যে ব্যক্তি ঘুমিয়ে থাকার কারণে বা ভুলে যাওয়ার কারণে সালাত আদায় করতে পারেনি সে ওজরগ্রস্ত বলে গণ্য হবে, যদিও সালাতের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়। তার ক্ষেত্রে সালাতের ওয়াক্ত হলো যখনই তার মনে পড়বে বা ঘুম থেকে জাগবে। এরপর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করেছে যতক্ষণ না তার সময় পার হয়ে গেছে, তার জন্য সেই সালাত কাজা (قضاء) করা কোনো উপকারে আসবে না। এতে আমি যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও আরও অনেক মহান ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে। তাই আপনাদের এই মূল্যবান পুস্তিকাটির সাথে ছেড়ে দিচ্ছি, আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।

 

আল্লাহ তায়ালার মুখাপেক্ষী বান্দা:

আবু সামি আল-আবদান

হাসান আল-তামাম

(১৭ রজব ১৪৩৯ হিজরি)
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المقدمة

الحمد لله وبه أستعين، وصلِّ اللهمّ على خير خلقك محمد، وعلى آله وأصحابه أجمعين، الذين كانوا على صلاتهم يحافظون، أما بعد:

فيقول العبد الفقير إلى رحمة ربِّه، الوالي محمد تقي الدين بن عبد القادر الهلالي، سألني جماعة من إخواننا الموحِّدين لربِّ العالمين، المتمسكين بسنة النبيّ الأميّ عن حكم تارك الصلاة عمدًا أهو كافر أم هو من عصاة المسلمين؟ وما هو عقابه في شريعة ربّ العالمين؟

فوجب عليّ أن أجيبهم بما يروي الغليل، ويشفي العليل، فأقول وبالله التوفيق.

 

الفصل الأول

أدلة كفر تارك الصلاة

أنقله من "كتاب الصلاة" لابن القيم، وربّما أضيف إلى كلامه زيادة إن شاء الله تعالى، قال الحافظ شمس الدين محمد بن أبي بكر المشهور بابن القيم(1):

أدلة الكتاب العزيز:

قال الله تعالى: {أَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِينَ كَالْمُجْرِمِينَ. مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ. أَمْ لَكُمْ كِتَابٌ فِيهِ تَدْرُسُونَ. إِنَّ لَكُمْ فِيهِ لَمَا تَخَيَّرُونَ. أَمْ لَكُمْ أَيْمَانٌ عَلَيْنَا بَالِغَةٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِنَّ لَكُمْ لَمَا تَحْكُمُونَ. سَلْهُمْ أَيُّهُمْ بِذَلِكَ زَعِيمٌ. أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ فَلْيَأْتُوا بِشُرَكَائِهِمْ إِنْ كَانُوا صَادِقِينَ. يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ. خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ وَقَدْ كَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ وَهُمْ سَالِمُونَ} [القلم: 35 - 43]، فوجه الدلالة من الآية أنه سبحانه أخبر أنه لا يجعل المسلمين كالمجرمين وأن هذا الأمر لا يليق بحكمته ولا بحكمه ثم ذكر أحوال المجرمين الذين هم ضد المسلمين، فقال: {يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ}، وأنهم يدعون إلى

--------------------------------------------

(1) في كتابه "الصلاة وأحكام تاركها" (ص 49 - 50)
‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আমি তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ বর্ষণ করুন, যাঁরা নিজেদের সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করতেন। অত:পর:

তাঁর রবের রহমতের মুখাপেক্ষী বান্দা, ওয়ালী মুহাম্মদ তকিউদ্দীন ইবন আব্দুল কাদির আল-হিলালী বলছেন: বিশ্বজগতের প্রতিপালকের একত্ববাদে বিশ্বাসী এবং নিরক্ষর নবীর সুন্নাহর অনুসারী আমাদের একদল ভাই আমাকে প্রশ্ন করেছেন—ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগকারীর বিধান কী? সে কি অবিশ্বাসকারী (كافر) নাকি সে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত কোনো পাপাচারী (عاص) ব্যক্তি? আর বিশ্বজগতের প্রতিপালকের শরিয়তে তার শাস্তিই বা কী?

তাই আমার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে এমনভাবে তাদের উত্তর প্রদান করা যা জ্ঞানপিপাসা নিবারণ করবে এবং অসুস্থকে আরোগ্য দান করবে। আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করে বলছি।

 

প্রথম পরিচ্ছেদ

সালাত পরিত্যাগকারীর কুফরের (كفر) দলিলসমূহ

আমি এটি ইবনুল কাইয়্যিমের "কিতাবুস সালাত" থেকে উদ্ধৃত করছি এবং ইনশাআল্লাহ তাঁর বক্তব্যের সাথে সম্ভবত কিছু সংযোজনও করব। হাফেজ (حافظ) শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবন আবি বকর, যিনি ইবনুল কাইয়্যিম(১) নামে সমধিক পরিচিত, তিনি বলেছেন:

মহাগ্রন্থের (আল-কুরআনের) দলিলসমূহ:

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আমি কি আত্মসমর্পণকারীদেরকে অপরাধীদের সমান করে দেব? তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কেমন ফয়সালা করছ? নাকি তোমাদের কোনো কিতাব আছে যাতে তোমরা অধ্যয়ন করো? যাতে তোমাদের জন্য তাই আছে যা তোমরা পছন্দ করো? নাকি তোমাদের জন্য আমার ওপর কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ কোনো শপথ রয়েছে যে, তোমরা যা ফয়সালা করবে তা-ই তোমাদের জন্য হবে? তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, তাদের মধ্যে কে এর জিম্মাদার? নাকি তাদের কোনো শরিক রয়েছে? তবে তারা যদি সত্যবাদী হয় তবে যেন তাদের শরিকদের নিয়ে আসে। যেদিন পায়ের নলা উন্মোচিত করা হবে এবং তাদেরকে সিজদার জন্য আহ্বান জানানো হবে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না। তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে, অপমান তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ যখন তারা সুস্থ ও নিরাপদ ছিল, তখন তাদেরকে সিজদার জন্য আহ্বান জানানো হতো।} [সূরা আল-কলম: ৩৫ - ৪৩]। এই আয়াত থেকে দলিলের দিকটি হলো, মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুসলিমদেরকে অপরাধীদের সমতুল্য করবেন না এবং এই বিষয়টি তাঁর প্রজ্ঞা ও বিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অত:পর তিনি অপরাধীদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন যারা মুসলিমদের বিপরীত পক্ষ, তিনি বলেছেন: {যেদিন পায়ের নলা উন্মোচিত করা হবে}, এবং তাদেরকে আহ্বান জানানো হবে...

--------------------------------------------

(১) তাঁর রচিত কিতাব "আস-সালাতু ওয়া আহকামু তারিকিহা" (পৃ. ৪৯ - ৫০)
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ৪)
السجود لربهم تبارك وتعالى، فيحال بينهم وبينه فلا يستطيعون السجود مع المسلمين، عقوبة لهم على ترك السجود له مع المصلين في دار الدنيا، وهذا يدل على أنهم مع الكفار والمنافقين، الذين تبقى ظهورهم إذا سجد المسلمون كصياصي(1) البقر، ولو كانوا من المسلمين لأذن لهم بالسجود كما أذن للمسلمين.

 

الدليل الثاني: قوله تعالى: {كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ. إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِينِ. فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ. عَنِ الْمُجْرِمِينَ. مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ. قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ. وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ. وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ. وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ. حَتَّى أَتَانَا الْيَقِينُ} [المدثر: 38 - 47]، فلا يخلو إما أن يكون كل واحد من هذه الخصال هو الذي سلكهم في سقر وجعلهم من المجرمين، أو مجموعها: فإن كان كل واحد منها مستقلا بذلك فالدلالة ظاهرة، وإن كان مجموع الأمور الأربعة فهذا إنما هو لتغليظ كفرهم وعقوبتهم، وإلا فكل واحد منها مقتض للعقوبة إذ لا يجوز أن يضم ما لا تأثير له إلى ما هو مستقل بها.

ومن المعلوم أن ترك الصلاة وما ذكر معه ليس شرطًا على التكذيب بيوم الدين، بل هو وحده كاف في العقوبة، فدل على أن كل وصف ذكر معه كذلك، إذ لا يمكن لقائل أن يقول: لا يعذب إلا من جمع هذه الأوصاف الأربعة! فإذا كان كل واحد منها موجبا للإجرام، وقد جعل الله سبحانه المجرمين ضد المسلمين كان تارك الصلاة من المجرمين السالكين في سقر، وقد قال: {إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِي ضَلَالٍ وَسُعُرٍ (47) يَوْمَ يُسْحَبُونَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ ذُوقُوا مَسَّ سَقَرَ} [القمر: 47، 48]، وقال تعالى:

{إِنَّ الَّذِينَ أَجْرَمُوا كَانُوا مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا يَضْحَكُونَ} [المطففين: 29]، فجعل المجرمين ضد المؤمنين المسلمين.

 

الدليل الثالث: قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [النور: 56]، فوجه الدلالة أنه سبحانه علق حصول الرحمة لهم بفعل هذه الأمور، فلو كان ترك الصلاة لا يوجب تكفيرهم وخلودهم في النار لكانوا مرحومين بدون فعل الصلاة، والرب تعالى إنما جعلهم على رجاء الرحمة إذا فعلوها.

--------------------------------------------

(1) في المطبوع من هذه الرسالة النافعة، وأيضا في "الصلاة" لابن القيم (كميامن البقر)، والصواب ما أثبته، ويشير إلى الحديث الصحيح الذي أخرجه إسحاق بن راهويه كما في "المطالب العالية" (4539)، و "إتحاف الخيرة" (7684)، وعبد الله بن أحمد في "السنة" (1203)، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (278) و (281)، وابن خزيمة في "التوحيد" 2/ 583 - 584، والطبراني 9/ (9763)، والآجري في "الشريعة" (610)، والدارقطني في "الرؤية" (161) و (162)، والحاكم في "المستدرك" 2/ 376 و 4/ 589 - 592، وصححه، واللالكائي في "شرح أصول الاعتقاد" (842)، وابن أبي الدنيا في "صفة الجنة" (29)، والبيهقي في البعث والنشور (434) من حديث ابن مسعود الطويل في حشر الخلائق يوم القيامة، وفيه "ويبقى أهل الِإسلام جثوما، فيقول لهم: ما لكم لا تنطلقون كما انطلق الناس؟ فيقولون: إن لنا ربا ما رأيناه بعد، قال: فيقول: فبم تعرفون ربكم إن رأيتموه؟ قالوا: بيننا وبينه علامة، إن رأيناه عرفناه، قال: وما هي؟ قالوا: الساق، فيكشف عن ساق، قال: فيحني كل من كان لظهر طبق ساجدا ويبقى قوم ظهورهم كصياصي البقر، يريدون السجود فلا يستطيعون … الحديث".

ومعنى (صياصي البقر) أي قرونها، واحدتها صيصية. قاله ابن الأثير في "النهاية" 3/ 67.
তাদের মহান প্রতিপালক তাবারাকা ওয়া তায়ালার সামনে সিজদা করা; তখন তাদের ও তাঁর মাঝে অন্তরাল তৈরি করা হবে, ফলে তারা মুসলিমদের সাথে সিজদা করতে সক্ষম হবে না। এটি দুনিয়াতে সালাত আদায়কারীদের সাথে তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদা ত্যাগ করার শাস্তি স্বরূপ। এটি প্রমাণ করে যে, তারা কাফের ও মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত, মুসলিমরা যখন সিজদা করবে তখন যাদের পিঠ গরুর শিংয়ের মতো(১) শক্ত হয়ে থাকবে। তারা যদি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে তাদের সিজদা করার অনুমতি দেওয়া হতো যেমনটি মুসলিমদের দেওয়া হয়েছে।

 

দ্বিতীয় দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ। কিন্তু ডানদিকের লোকেরা ব্যতীত। তারা জান্নাতে থাকবে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করবে— অপরাধীদের সম্পর্কে যে, 'কিসে তোমাদের জাহান্নামে (সাকার) নিক্ষেপ করল?' তারা বলবে, 'আমরা নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা অভাবগ্রস্তদের অন্নদান করতাম না, আমরা অনর্থক আলোচনাকারীদের সাথে লিপ্ত হতাম এবং আমরা বিচার দিবসকে অস্বীকার করতাম, যে পর্যন্ত না আমাদের মৃত্যু এসে উপস্থিত হলো।'} [আল-মুদ্দাসসির: ৩৮ - ৪৭]। এখন বিষয়টি দুটি অবস্থার বাইরে নয়; হয় এই বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতিটিই তাদের সাকারে (জাহান্নামে) প্রবেশ করিয়েছে ও তাদের অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, অথবা এগুলোর সমষ্টি। যদি এর প্রতিটি স্বতন্ত্রভাবে এর কারণ হয়ে থাকে, তবে দলিলটি সুস্পষ্ট। আর যদি এই চারটি বিষয়ের সমষ্টির কারণে হয়, তবে তা তাদের কুফর ও শাস্তিকে আরও কঠোর করার জন্য; অন্যথায় এর প্রতিটিই শাস্তির দাবি রাখে। কেননা যার কোনো প্রভাব নেই তাকে এমন বিষয়ের সাথে যুক্ত করা বৈধ নয় যা নিজে নিজেই (শাস্তির কারণ হিসেবে) স্বতন্ত্র।

এটি সুবিদিত যে, নামাজ ত্যাগ করা ও এর সাথে যা যা উল্লেখ করা হয়েছে তা বিচার দিবসকে অস্বীকার করার জন্য শর্ত নয়; বরং এটি (নামাজ ত্যাগ) একাই শাস্তির জন্য যথেষ্ট। এটি প্রমাণ করে যে, এর সাথে উল্লিখিত প্রতিটি বৈশিষ্ট্যই অনুরূপ। কারণ কোনো বক্তার পক্ষে এমনটি বলা সম্ভব নয় যে: 'যে ব্যক্তি এই চারটি বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটাবে কেবল তাকেই শাস্তি দেওয়া হবে!' সুতরাং যখন এর প্রতিটিই অপরাধী হওয়ার কারণ হয়, আর মহান আল্লাহ অপরাধীদের মুসলিমদের বিপরীত সত্তা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, তখন নামাজ ত্যাগকারীও সেই অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত যারা সাকারে (জাহান্নামে) প্রবেশ করবে। তিনি বলেছেন: {নিশ্চয় অপরাধীরা বিভ্রান্তিতে ও প্রজ্বলিত অগ্নিতে রয়েছে। যেদিন তাদের উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে (এবং বলা হবে), 'আস্বাদন করো আগুনের ছোঁয়া।'} [আল-ক্বামার: ৪৭, ৪৮]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন:

{নিশ্চয় যারা অপরাধী ছিল তারা মুমিনদের উপহাস করত।} [আল-মুতাফফিফিন: ২৯]। এখানে তিনি অপরাধীদের মুমিন মুসলিমদের বিপরীত সত্তা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

 

তৃতীয় দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমত প্রাপ্ত হও।} [আন-নূর: ৫৬]। এখানে দলিল পেশ করার পদ্ধতি হলো, মহান আল্লাহ রহমত লাভকে এই বিষয়গুলো পালনের সাথে শর্তযুক্ত করেছেন। যদি নামাজ ত্যাগ করা তাদের কাফের সাব্যস্ত না করত এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামের কারণ না হতো, তবে তারা নামাজ না পড়লেও রহমত প্রাপ্ত হতো। অথচ মহান প্রতিপালক তাদের রহমতের আশা কেবল তা পালনের সাথেই সংশ্লিষ্ট করেছেন।

--------------------------------------------

(১) এই উপকারী রিসালার মুদ্রিত কপিতে এবং ইবনুল কাইয়্যিম-এর 'আস-সালাত' কিতাবে (کمیمن البقر) রয়েছে। তবে আমি যা উল্লেখ করেছি সেটিই সঠিক। এটি সেই সহিহ (صحيح) হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করছে যা ইসহাক বিন রাহওয়াইহ বর্ণনা করেছেন, যেমনটি রয়েছে 'মাতালিবুল আলিয়া' (৪৫৩৯), 'ইত্তিহাফুল খিরাহ' (৭৬৮৪), আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ 'আস-সুন্নাহ' (১২০৩), আল-মারওয়াযী 'তা’যীমু ক্বাদরিস সালাহ' (২৭৮) ও (২৮১), ইবনে খুযায়মাহ 'আত-তাওহীদ' ২/৫৮৩-৫৮৪, তাবারানি ৯/(৯৭৬৩), আল-আজুরী 'আশ-শারী’আহ' (৬১০), আদ-দারাকুতনী 'আর-রু’ইয়াহ' (১৬১) ও (১৬২), আল-হাকিম 'আল-মুসতাদরাক' ২/৩৭৬ ও ৪/৫৮৯-৫৯২-এ এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন; আল-লালকাঈ 'শারহু উসুলিল ই’তিক্বদ' (৮৪২), ইবনে আবুদ দুনিয়া 'সিফাতুল জান্নাহ' (২৯), বায়হাকী 'আল-বা’সু ওয়ান নুশুর' (৪৩৪)-এ কিয়ামতের দিন সৃষ্টির হাশর সম্পর্কে ইবনে মাসউদের দীর্ঘ হাদিসে বর্ণনা করেছেন। তাতে রয়েছে: 'এবং ইসলামপন্থীগণ হাঁটু গেড়ে বসে থাকবে, তখন তাদের বলা হবে: তোমাদের কী হয়েছে যে মানুষেরা যেভাবে চলে গিয়েছে তোমরা সেভাবে যাচ্ছ না? তারা বলবে: আমাদের একজন প্রতিপালক আছেন যাকে আমরা এখনও দেখিনি। তিনি বলবেন: তোমরা যদি তোমাদের প্রতিপালককে দেখো তবে কিসের মাধ্যমে চিনতে পারবে? তারা বলবে: আমাদের ও তাঁর মাঝে একটি চিহ্ন রয়েছে, যদি আমরা তা দেখি তবে তাঁকে চিনতে পারব। তিনি বলবেন: তা কী? তারা বলবে: পায়ের নলা (সাক)। তখন পায়ের নলা উন্মোচন করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন: তখন যাদের পিঠ বাঁকানো সম্ভব হবে তারা সকলেই সিজদায় লুটিয়ে পড়বে। আর একদল লোক অবশিষ্ট থাকবে যাদের পিঠ গরুর শিংয়ের মতো শক্ত হয়ে যাবে, তারা সিজদা করতে চাইবে কিন্তু সক্ষম হবে না... (হাদিস)'।

আর (সিয়াসিল বাকার) এর অর্থ হলো গরুর শিং, এর একবচন হলো 'সিসিয়াহ'। ইবনুল আসীর এটি 'আন-নিহায়াহ' ৩/৬৭-এ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ৫)
الدليل الرابع: قوله تعالى: {فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ. الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ} [الماعون: 4، 5] وقد اختلف السلف في معنى السهو عنها، فقال سعد بن أبي وقاص، ومسروق بن الأجدع، وغيرهما: هو تركها حتى يخرج وقتها.

روي في ذلك حديث مرفوع، قال محمد بن نصر المروزي: حدثنا

سفيان(1) بن أبي شيبة، حدثنا عكرمة بن إبراهيم، حدثنا عبد الملك بن عمير، عن مصعب بن سعد، عن أبيه: "أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الذين هم عن الصلاة ساهون، قال: هم الذين يؤخرون الصلاة عن وقتها"(2).

وقال حماد بن زيد: حدثنا عاصم، عن مصعب بن سعد، قال: "قلت: لأبي يا أبتا أرأيت قول الله: {الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلاتِهِمْ سَاهُونَ} أينا لا يسهو؟ أينا لا يحدث نفسه؟ قال: إنه ليس ذاك ولكنه إضاعة الوقت" سنن البيهقي(3).

وقال حيوة بن شريح: أخبرني أبو صخر، أنه سأل محمد بن كعب القرظي عن قوله: {الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلاتِهِمْ سَاهُونَ} قال: هو تاركها. ثم سأله عن الماعون قال: منع المال عن حقه.

إذا عرف هذا، فالوعيد بالويل اطَّرد في القرآن للكفار، كقوله: {وَوَيْلٌ لِلْمُشْرِكِينَ. الَّذِينَ لَا يُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ} [فصلت: 6، 7] وقوله: {وَيْلٌ لِكُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ. يَسْمَعُ آيَاتِ اللَّهِ تُتْلَى عَلَيْهِ ثُمَّ يُصِرُّ مُسْتَكْبِرًا كَأَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا - إلى قوله - مُهِينٌ} [الجاثية: 7، 8]، وقوله: {وَوَيْلٌ لِلْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ شَدِيدٍ} [إبراهيم: 2]، إلا في موضعين وهما {وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ} [المطففين: 1] و {وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ} [الهمزة: 1]، فعلق الويل بالتطفيف وبالهمز واللمز، وهذا لا يكفر به بمجرده، فويل تارك الصلاة إما أن يكون ملحقا بويل الكفار أو بويل الفساق، فإلحاقه بويل الكفار أولى لوجهين:

الأول: أنه قد صح عن سعد بن أبي وقاص في هذه الآية أنه قال: "لو تركوها لكانوا كفارا ولكن ضيعوا وقتها"(4).

الثاني: ما سنذكر من الأدلة على كفره يوضّحه:

 

الدليل الخامس: وهو قوله سبحانه: {فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا} [مريم: 59].

قال عبد الله بن مسعود:

"غي: واد في جهنم بعيد القعر"(5).

فوجه الدلالة من الآية أن الله سبحانه جعل هذا المكان من النار لمن أضاع الصلاة واتبع الشهوات، ولو كان مع عصاة المسلمين لكانوا في الطبقة العليا من طبقات النار، ولم

--------------------------------------------

(1) كذا في المطبوع من هذه الرسالة النافعة، وأيضا في "الصلاة" لابن القيم، وهو تصحيف، وصوابه: شيبان بن أبي شيبة، وهو ابن فروخ: وثّقه الإمام أحمد، وغيره، وقال أبو زرعة: صدوق.

(2) ضعيف مرفوعا - أخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (42)، وأبو يعلى (822)، وابن أبي حاتم في "العلل" (536)، والدولابي في "الكنى" (1445)، وابن المنذر في "الأوسط والاجماع" (1081)، والطبراني في "المعجم الأوسط" (2276)، والبيهقي 2/ 214 عن شيبان بن أبي شيبة، والبزار (1145) من طريق يحيى بن حسان، والعقيلي في "الضعفاء" 3/ 377، والطبري في "التفسير" 24/ 632 - 633 من طريق عمرو بن الربيع بن طارق، والبيهقي 2/ 214 من طريق حرمي بن حفص القسملي، أربعتهم عن عكرمة بن إبراهيم به.

وقال أبو زرعة:

"هذا خطأ، والصحيح موقوف".

وقال البزار:

"وهذا الحديث قد رواه الثقات الحفاظ، عن عبد الملك بن عمير، عن مصعب بن سعد، عن أبيه موقوفا، ولا نعلم أسنده إلا عكرمة بن إبراهيم، عن عبد الملك بن عمير، وعكرمة لين الحديث" وقال العقيلي:

"وقال الثوري وحماد بن زيد وأبو عوانة وقيس بن الربيع عن عاصم بن بهدلة، عن مصعب ابن سعد، عن أبيه موقوفا.

وروى الأعمش عن مصعب بن سعد، عن أبيه موقوفا أيضا.

ورواه حاتم بن أبي صغيرة عن سماك بن حرب، عن مصعب بن سعد، عن أبيه موقوفا أيضا، والموقوف أولى.

ورواه ابن عيينة عن موسى الجهني، عن مصعب بن سعد، عن أبيه موقوفا أيضا".

وصوّب وقفه الدارقطني في "العلل" (592).

(3) إسناده حسن - أخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (43)، وأبو يعلى (704) من طريق حماد بن زيد، وابن أبي شيبة 1/ 316 من طريق سفيان، والطبري 24/ 630 - 631 من طريق هشام الدستوائي، والبيهقي 2/ 214 من طريق أبان بن يزيد، أربعتهم تاما ومختصرا عن عاصم بن بهدلة به. وانظر التعليق الذي قبله حاشية رقم (4).

(4) لم أجده - وهذا إنما ذكروه عن عبد الله بن مسعود:

أخرجه العدني في "الإيمان" (26)، وعبد الله بن أحمد في "السنة" (773)، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (62) و (938)، والخلال في "السنة" (1385) و (1390)، والطبري في "التفسير" 18/ 216، وأبو القاسم البغوي في "الجعديات" (1924)، وابن المنذر في "الأوسط" (1079)، والطبراني 9/ (8938) و (8939) و (8940)، وابن بطة في "الإبانة الكبرى" (886)، واللالكائي في "شرح أصول الاعتقاد" (1532) و (1533) و (1534)، وابن عبد البر في "التمهيد" 4/ 230 بإسناد منقطع.

(5) إسناده ضعيف - أخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (35)، والطبري في "التفسير" 18/ 218، والطبراني 9/ (9111)، والحاكم 2/ 374، وأبو نعيم في "الحلية" 4/ 206، والبيهقي في "البعث والنشور" (470) من طريق شعبة، وأسد بن موسى في "الزهد" (11)، والطبراني (9106) عن إسرائيل، وأسد بن موسى في "الزهد" (12)، والطبراني (9107) عن قيس بن الربيع، وهناد في "الزهد" (276)، والطبري في "التفسير" 18/ 218، والطبراني (9110) من طريق سفيان، أربعتهم عن أبي إسحاق، عن أبي عبيدة، عن عبد الله، في هذه الآية " {فسوف يلقون غيا} [مريم: 59] قال: نهر في جهنم خبيث الطعم، بعيد القعر".

وقال الحاكم:

"هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه" وأقره الذهبي!

قلت: إسناده منقطع، أبو عبيدة لم يسمع من أبيه.

وأخرجه المعافى بن عمران في "الزهد" (176)، وأسد بن موسى في "الزهد" (14)، وابن أبي الدنيا في "صفة النار" (38)، والطبري في "التفسير" 18/ 218، والطبراني 9/ (9108)، والبيهقي في "البعث والنشور" (471) عن أبي الأحوص، عن أبي إسحاق، عن أبي عبيدة، عن أبيه، قال: "الغي نهر في جهنم يقذف فيه الذين اتبعوا الشهوات".

وأخرجه الطبراني (9109) من طريق شريك، عن أبي إسحاق به، وفيه "واد في جهنم من قيح".

وله طريق أخرى عن أبي عبيدة:

أخرجه أسد بن موسى في "الزهد" (13)، ومن طريقه الطبراني 19/ (1112) حدثنا مروان ابن معاوية، عن العلاء بن المسيب، عن أبي عبيدة، عن عبد الله، قال: "هو نهر في النار يقال له غي".

وأخرجه الطبراني (9113) من طريق خلف بن خليفة، عن العلاء بن المسيب، عن أبيه، عن أبي عبيدة به.
চতুর্থ দলীল: মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব দুর্ভোগ সেই মুসাল্লিদের (সালাত আদায়কারী) জন্য, যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন} [মাউন: ৪, ৫]। সালাত সম্পর্কে উদাসীনতার অর্থ কী, এ বিষয়ে সালাফগণ (পূর্বসূরীগণ) মতভেদ করেছেন। সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, মাসরুক ইবনুল আজদা এবং অন্যান্যরা বলেছেন: এর অর্থ হলো সালাত বর্জন করা বা দেরি করা যতক্ষণ না তার সময় অতিবাহিত হয়ে যায়।

এ বিষয়ে একটি রাসুল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হাদিস বর্ণিত হয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াজি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন

সুফিয়ান(১) ইবনে আবি শায়বা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইকরিমা ইবনে ইব্রাহিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন: "তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঐ সমস্ত লোক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তারা হলো ঐসব লোক যারা সালাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে দেরি করে আদায় করে"(২)।

হাম্মাদ ইবনে যায়েদ বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আমার পিতাকে বললাম, হে আব্বা! আপনি কি আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে ভেবেছেন: {যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন} আমাদের মধ্যে কে আছে যে উদাসীন হয় না? কে আছে যে নিজের মনের সাথে কথা বলে না (চিন্তাগ্রস্ত হয় না)? তিনি বললেন: বিষয়টি তা নয়, বরং এর অর্থ হলো সময় নষ্ট করা (সময় পার করে সালাত পড়া)" সুনান আল-বায়হাকি(৩)।

হাইওয়াহ ইবনে শুরাইহ বলেছেন: আবু সাখর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজিকে আল্লাহর বাণী: {যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন} এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: সে হলো সালাত পরিত্যাগকারী। এরপর তিনি তাকে 'মাউন' সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: সম্পদের হক (যাকাত) প্রদান না করা।

যখন এটি জানা গেল, তখন দেখা যায় যে কুরআনে 'ওয়াইল' বা ধ্বংসের ধমকি কাফিরদের ক্ষেত্রেই বারবার এসেছে, যেমন আল্লাহর বাণী: {দুর্ভোগ মুশরিকদের জন্য, যারা যাকাত দেয় না এবং পরকালকে অস্বীকার করে} [ফুসসিলাত: ৬, ৭] এবং তাঁর বাণী: {দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী ও পাপীর জন্য, যে আল্লাহর আয়াতসমূহ তার কাছে পঠিত হতে শোনে, অথচ অহংকারে অটল থাকে যেন সে তা শুনতেই পায়নি - অপমানজনক শাস্তি পর্যন্ত} [জাছিয়া: ৭, ৮], এবং তাঁর বাণী: {আর কাফিরদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাবের দুর্ভোগ} [ইব্রাহিম: ২]। তবে কেবল দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত, আর তা হলো {দুর্ভোগ সেইসব মাপে কম প্রদানকারীদের জন্য} [মুতাফফিফিন: ১] এবং {দুর্ভোগ প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য} [হুমাজাহ: ১]। এখানে ধ্বংসের ধমকিকে মাপে কম দেওয়া এবং পরনিন্দার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যা কেবল একারণেই কাউকে কাফির করে দেয় না। সুতরাং সালাত বর্জনকারীর জন্য ধ্বংসের ধমকিটি কি কাফিরদের জন্য নির্ধারিত ধ্বংসের সাথে যুক্ত হবে নাকি ফাসিকদের ধ্বংসের সাথে? দুটি কারণে এটি কাফিরদের জন্য নির্ধারিত ধ্বংসের সাথে যুক্ত করাই অধিক যুক্তিযুক্ত:

প্রথমত: এই আয়াতের তাফসিরে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বিশুদ্ধভাবে (صح) বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যদি তারা সালাত পুরোপুরি ছেড়ে দিত তবে তারা কাফির হয়ে যেত, কিন্তু তারা এর সময় নষ্ট করেছে"(৪)।

দ্বিতীয়ত: তার কুফরি সম্পর্কে আমরা সামনে যে দলীলগুলো উল্লেখ করব তা বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়:

 

পঞ্চম দলীল: আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের পরে আসলো এমন এক অপদার্থ উত্তরসূরী, যারা সালাত নষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করল, সুতরাং শীঘ্রই তারা 'গাই' (ধ্বংস বা জাহান্নামের উপত্যকা) এর সম্মুখীন হবে} [মারইয়াম: ৫৯]।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন:

"গাই হলো জাহান্নামের একটি উপত্যকা যার তলদেশ অত্যন্ত গভীর"(৫)।

আয়াতটি থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি হলো, মহান আল্লাহ এই জাহান্নামের স্থানটি তাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন যারা সালাত নষ্ট করে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। যদি তারা কেবল অবাধ্য মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে তারা জাহান্নামের সর্বোচ্চ স্তরে থাকতো, তারা জাহান্নামের গভীরে

--------------------------------------------

(১) এই উপকারী রিসালাহর মুদ্রিত কপিতে এভাবেই এসেছে এবং ইবনুল কাইয়্যিমের "আস-সালাত" গ্রন্থেও তাই আছে, তবে এটি একটি লিখনপ্রমাদ (تصحيف), এর সঠিক রূপ হলো: শায়বান ইবনে আবি শায়বা, যিনি ইবনে ফাররুখ নামে পরিচিত। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা তাকে নির্ভরযোগ্য (وثّقه) বলেছেন, এবং আবু জুরআ বলেছেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق)।

(২) রাসুল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوعا) হিসেবে এটি দুর্বল (ضعيف)। মারওয়াজি তার 'তাযিমু কাদরিস সালাত' (৪২), আবু ইয়ালা (৮২২), ইবনে আবি হাতিম 'আল-ইলাল' (৫৩৬), দুলাবি 'আল-কুনা' (১৪৪৫), ইবনুল মুনজির 'আল-আওসাত ওয়াল ইজমা' (১০৮১), তাবারানি 'আল-মুজাম আল-আওসাত' (২২৭৬), বায়হাকি ২/২১৪-তে শায়বান ইবনে আবি শায়বা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া বাজ্জার (১১৪৫) ইয়াহইয়া ইবনে হাসসানের সূত্রে, উকাইলি 'আদ-দুয়াফা' ৩/৩৭৭-তে, তাবারানি 'আত-তাফসীর' ২৪/৬৩২-৬৩৩-তে আমর ইবনুল রবি ইবনে তারিকের সূত্রে এবং বায়হাকি ২/২১৪-তে হারামি ইবনে হাফস আল-কাসমালির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তারা চারজনই ইকরিমা ইবনে ইব্রাহিম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আবু জুরআ বলেছেন:

"এটি ভুল, সঠিক হলো এটি সাহাবীর বক্তব্য (موقوف)"।

বাজজার বলেছেন:

"এই হাদিসটি নির্ভরযোগ্য ও হাফেজগণ (الثقات الحفاظ) আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে সাহাবীর বক্তব্য (موقوفا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইকরিমা ইবনে ইব্রাহিম ব্যতীত অন্য কেউ আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে এটি রাসুল পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন বলে আমাদের জানা নেই, আর ইকরিমা হাদিস বর্ণনায় শিথিল (لين الحديث)"। উকাইলি বলেছেন:

"সাওরি, হাম্মাদ ইবনে যায়েদ, আবু আওয়ানা এবং কাইস ইবনুল রবি আসিম ইবনে বাহদালার সূত্রে মুসআব ইবনে সাদ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে সাহাবীর বক্তব্য (موقوفا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আমাশও মুসআব ইবনে সাদ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে সাহাবীর বক্তব্য (موقوفا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

হাতেম ইবনে আবি সাগিরা সিমাক ইবনে হারবের সূত্রে মুসআব ইবনে সাদ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে সাহাবীর বক্তব্য (موقوفا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর সাহাবীর বক্তব্য (الموقوف) হওয়াটাই অধিকতর সঠিক।

ইবনে উইয়াইনা মুসা আল-জুহানি থেকে, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে সাহাবীর বক্তব্য (موقوفا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন"।

দারাকুতনি তার 'আল-ইলাল' (৫৯২) গ্রন্থে এর সাহাবীর বক্তব্য (وقفه) হওয়াটাকেই সঠিক বলেছেন।

(৩) এর সনদ উত্তম (حسن)। মারওয়াজি 'তাযিমু কাদরিস সালাত' (৪৩), আবু ইয়ালা (৭০৪) হাম্মাদ ইবনে যায়েদ এর সূত্রে, ইবনে আবি শায়বা ১/৩১৬ সুফিয়ানের সূত্রে, তাবারানি ২৪/৬৩০-৬৩১ হিশাম আদ-দাওসতুওয়াই-এর সূত্রে এবং বায়হাকি ২/২১৪ আবান ইবনে ইয়াযিদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তারা চারজনই আসিম ইবনে বাহদালা থেকে পূর্ণাঙ্গ ও সংক্ষিপ্ত উভয়ভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। পূর্বের ৪ নম্বর টীকাটি দেখুন।

(৪) আমি এটি খুঁজে পাইনি—এটি মূলত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে:

আদনি 'আল-ইমান' (২৬), আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ 'আস-সুন্নাহ' (৭৭৩), মারওয়াজি 'তাযিমু কাদরিস সালাত' (৬২) ও (৯৩৮), খাল্লাল 'আস-সুন্নাহ' (১৩৮৫) ও (১৩৯০), তাবারানি 'আত-তাফসীর' ১৮/২১৬, আবু কাসিম আল-বাগাবি 'আল-জাদিয়্যাত' (১৯২৪), ইবনুল মুনজির 'আল-আওসাত' (১০৭৯), তাবারানি ৯/(৮৯৩৮), (৮৯৩৯) ও (৮৯৪০), ইবনে বাত্তাহ 'আল-ইবানাহ আল-কুবরা' (৮৮৬), লালাকায়ি 'শারহু উসুলিল ইতিকাদ' (১৫৩২), (১৫৩৩) ও (১৫৩৪), ইবনে আব্দুল বার 'আত-তামহিদ' ৪/২৩০ গ্রন্থে একটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

(৫) এর সনদ দুর্বল (ضعيف)। মারওয়াজি 'তাযিমু কাদরিস সালাত' (৩৫), তাবারানি 'আত-তাফসীর' ১৮/২১৮, তাবারানি ৯/(৯১১১), হাকিম ২/৩৭৪, আবু নুয়াইম 'আল-হিলয়াহ' ৪/২০৬, বায়হাকি 'আল-বাস ওয়াল নুশুর' (৪৭০) শু'বার সূত্রে; আসাদ ইবনে মুসা 'আয-যুহদ' (১১) ও তাবারানি (৯১০৬) ইসরাঈলের সূত্রে; আসাদ ইবনে মুসা 'আয-যুহদ' (১২) ও তাবারানি (৯১০৭) কাইস ইবনুল রবির সূত্রে; হান্নাদ 'আয-যুহদ' (২৭৬), তাবারানি 'আত-তাফসীর' ১৮/২১৮ ও তাবারানি (৯১১০) সুফিয়ানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তারা চারজনই আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে এই আয়াত {শীঘ্রই তারা গাই-এর সম্মুখীন হবে} [মারইয়াম: ৫৯] প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: "এটি জাহান্নামের একটি নদী যার স্বাদ অত্যন্ত কুরুচিকর এবং তলদেশ অত্যন্ত গভীর"।

হাকিম বলেছেন:

"এই হাদিসের সনদ বিশুদ্ধ (صحيح الإسناد) যদিও তারা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি" এবং আয-যাহাবি একে সমর্থন করেছেন!

আমি বলছি: এর সনদ বিচ্ছিন্ন (منقطع), আবু উবাইদাহ তার পিতা থেকে কিছু শোনেননি।

মুয়াফা ইবনে ইমরান 'আয-যুহদ' (১৭৬), আসাদ ইবনে মুসা 'আয-যুহদ' (১৪), ইবনে আবিদ দুনিয়া 'সিফাতুন নার' (৩৮), তাবারানি 'আত-তাফসীর' ১৮/২১৮, তাবারানি ৯/(৯১০৮) এবং বায়হাকি 'আল-বাস ওয়াল নুশুর' (৪৭১) আবু আহওয়াস এর সূত্রে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "'গাই' হলো জাহান্নামের একটি নদী যেখানে তাদের নিক্ষেপ করা হবে যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে"।

তাবারানি (৯১০৯) শারিকের সূত্রে আবু ইসহাক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যেখানে আছে "জাহান্নামের একটি উপত্যকা যা পুঁজ দ্বারা গঠিত"।

আবু উবাইদাহ থেকে এর আরেকটি সূত্র (طريق) রয়েছে:

আসাদ ইবনে মুসা 'আয-যুহদ' (১৩) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার সূত্র ধরে তাবারানি ১৯/(১১১২) বর্ণনা করেছেন যে, মারওয়ান ইবনে মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আলা ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আবু উবাইদাহ থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "এটি জাহান্নামের একটি নদী যাকে 'গাই' বলা হয়"।

তাবারানি (৯১১৩) খালাফ ইবনে খলিফার সূত্রে, তিনি আলা ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু উবাইদাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ৬)
يكونوا في هذا المكان الذي هو أسفلها، فإن هذا ليس من أمكنة أهل الإسلام، بل من أمكنه الكفار، ومن الآية دليل آخر وهو قوله تعالى: {فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا. إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا} [مريم: 59، 60]، فلو كان مضيع الصلاة مؤمنا لم يشترط في توبته الإيمان وأنه يكون تحصيلا للحاصل.

 

الدليل السادس: قوله تعالى: {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ} [التوبة: 11]، فعلّق أخوتهم للمؤمنين(1) بفعل الصلاة، فإذا لم يفعلوا، لم يكونوا إخوة للمؤمنين فلا يكونوا مؤمنين، لقوله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ} [الحجرات: 10].

 

الدليل السابع: قوله تعالى: {فَلَا صَدَّقَ وَلَا صَلَّى. وَلَكِنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى} [القيامة: 31، 32]، فلما كان الإسلام تصديق الخبر، والانقياد للأمر جعل سبحانه له ضدين: عدم التصديق، وعدم الصلاة، وقابل التصديق بالتكذيب والصلاة بالتولي، فقال: {وَلَكِنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى} فكما أن المكذِّب كافر، فالمتولِّي عن الصلاة كافر، فكما يزول الإسلام بالتكذيب، يزول بالتولّي عن الصلاة.

قال سعيد: عن قتادة {فَلا صَدَّقَ وَلا صَلَّى}: لا صدق بكتاب الله ولا صلى لله، ولكن كذب بآيات الله، وتولّى عن طاعته {أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى. ثُمَّ أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى} [القيامة: 34، 35]، وعيد على إثر وعيد.

 

الدليل الثامن: قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ} [المنافقون: 9].

قال ابن جريج: سمعت عطاء بن أبي رباح، يقول: هي الصلاة المكتوبة.

ووجه الاستدلال بالآية أن الله حكم بالخسران المطلق لمن ألهاه ماله وولده عن الصلاة، والخسران المطلق لا يحصل إلا للكفار، فإن المسلم ولو خسر بذنوبه ومعاصيه فآخر أمره إلى الربح، يوضّحه أنه سبحانه وتعالى أكّد خسران تارك الصلاة في هذه الآية بأنواع من التأكيد:

الأول: إتيانه بلفظ الاسم الدال على ثبوت الخسران ولزومه دون الفعل الدال على التجدد والحدوث.

الثاني: تعريف(2) الاسم بالألف

--------------------------------------------

(1) تمام الكلام كتب في الحاشية، فأثبته في الأصل إذ هو نفسه كلام ابن القيم إلا أن يكون الشيخ اختصره، فألحقه غيرُه بالحاشية!

(2) كذا في "المطبوع"، وفي "الصلاة" لابن القيم (تصدير).
তারা এই স্থানে অবস্থান করবে যা জাহান্নামের সর্বনিম্ন অংশ; কেননা এটি মুসলিমদের স্থান নয়, বরং কাফেরদের স্থান। কুরআনের আয়াতে আরেকটি দলিল রয়েছে, তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তাদের পরে এমন এক অপদার্থ প্রজন্ম আসলো যারা নামাজ নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল; শীঘ্রই তারা জাহান্নামের গর্তের (গাইয়্যা) সম্মুখীন হবে। তবে যারা তওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তারা ব্যতীত} [মারইয়াম: ৫৯, ৬০]। যদি নামাজ পরিত্যাগকারী মুমিন হতো, তবে তার তওবার শর্ত হিসেবে ঈমান আনার কথা বলা হতো না, কারণ সেক্ষেত্রে তা অর্জিত বিষয়েরই পুনরাবৃত্তি (তাহসিলুল হাসিল) হতো।

 

ষষ্ঠ দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তারা দ্বীনি ভ্রাতৃত্বে তোমাদের ভাই} [আত-তাওবাহ: ১১]। এখানে মুমিনদের সাথে তাদের ভ্রাতৃত্বের বিষয়টিকে নামাজ আদায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে(১); সুতরাং তারা যদি নামাজ আদায় না করে, তবে তারা মুমিনদের ভাই হিসেবে গণ্য হবে না। আর তারা যদি মুমিনদের ভাই না হয়, তবে তারা মুমিনও হতে পারবে না। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই} [আল-হুজুরাত: ১০]।

 

সপ্তম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {সে সত্য বলে বিশ্বাস করেনি এবং নামাজও পড়েনি। বরং সে মিথ্যারোপ করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে} [আল-কিয়ামাহ: ৩১, ৩২]। যেহেতু ইসলাম হলো সংবাদের সত্যতা স্বীকার করা (তাসদিক) এবং আদেশের আনুগত্য করা, তাই মহান আল্লাহ এর বিপরীতে দুটি বিষয় নির্ধারণ করেছেন: সত্যতা স্বীকার না করা এবং নামাজ না পড়া। তিনি সত্যতা স্বীকারের বিপরীতে মিথ্যারোপকে এবং নামাজের বিপরীতে বিমুখতাকে স্থাপন করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: {বরণ সে মিথ্যারোপ করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে}। অতএব, মিথ্যারোপকারী যেমন কাফের, তেমনি নামাজ থেকে বিমুখ ব্যক্তিও কাফের। যেভাবে মিথ্যারোপের মাধ্যমে ইসলাম বিলুপ্ত হয়ে যায়, ঠিক একইভাবে নামাজ থেকে বিমুখ হওয়ার মাধ্যমেও ইসলাম বিলুপ্ত হয়ে যায়।

সাঈদ বলেন: কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, {সে সত্য বলে বিশ্বাস করেনি এবং নামাজও পড়েনি}: সে আল্লাহর কিতাবকে সত্য বলে বিশ্বাস করেনি এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে নামাজ পড়েনি। বরং সে আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তাঁর আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। {দুর্ভোগ তোমার জন্য, দুর্ভোগের ওপর দুর্ভোগ। আবারও দুর্ভোগ তোমার জন্য, দুর্ভোগের ওপর দুর্ভোগ} [আল-কিয়ামাহ: ৩৪, ৩৫]। এটি এক সতর্কবাণীর পর অন্য সতর্কবাণী।

 

অষ্টম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এমনটি করবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত} [আল-মুনাফিকুন: ৯]।

ইবনে জুরাইজ বলেন: আমি আতা ইবনে আবি রাবাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: এটি হলো ফরজ নামাজ।

এই আয়াত থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি হলো—আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির জন্য নিরঙ্কুশ ক্ষতির ফয়সালা করেছেন যার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাকে নামাজ থেকে বিমুখ করে রেখেছে। আর নিরঙ্কুশ ক্ষতি কেবল কাফেরদের জন্যই প্রযোজ্য। কারণ একজন মুসলিম তার পাপ ও অবাধ্যতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তার শেষ পরিণাম তো সফলতার দিকে। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যে, মহান আল্লাহ এই আয়াতে নামাজ ত্যাগকারীর ক্ষতিকে বিভিন্নভাবে তাকিদ বা গুরুত্ব দিয়ে বর্ণনা করেছেন:

প্রথমত: তিনি বিশেষ্যবাচক শব্দ (ইসম) ব্যবহার করেছেন যা ক্ষতির স্থায়িত্ব ও অপরিহার্যতা নির্দেশ করে; ক্রিয়াবাচক শব্দ (ফেল) ব্যবহার করেননি যা নতুন করে ঘটা বা সাময়িক হওয়া নির্দেশ করে।

দ্বিতীয়ত: বিশেষ্যটিকে আলিফ-লাম যোগে নির্দিষ্ট(২) করা

--------------------------------------------

(১) সম্পূর্ণ বক্তব্যটি টীকায় লেখা হয়েছিল, তাই আমি তা মূল পাঠে অন্তর্ভুক্ত করেছি; কারণ এটি ইবনে কাইয়্যিমের নিজস্ব বক্তব্য, অথবা এমন হতে পারে যে শেখ এটি সংক্ষেপ করেছেন এবং অন্য কেউ তা টীকায় যুক্ত করেছেন!

(২) মুদ্রিত কপিতে এভাবেই রয়েছে, এবং ইবনে কাইয়্যিমের 'আস-সালাত' গ্রন্থের মুখবন্ধে অনুরূপ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ৭)
واللام المؤدية لحصول كمال المسمى لهم، فإنك إذا قلت: زيد العالم الصالح أفاد ذلك إثبات كمال ذلك له بخلاف قولك عالم صالح.

الثالث: إتيانه سبحانه بالمبتدأ والخبر معرفتين وذلك من علامات انحصار الخبر في المبتدأ كما في قوله تعالى: {وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [البقرة: 5] و [آل عمران: 104] و [التوبة: 88] و [النور: 51] و [الروم: 38] و [لقمان: 5]، وقوله تعالى: {وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ} [البقرة: 254]، وقوله {أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا} [الأنفال: 4، 74]، ونظائره.

الرابع: إدخال ضمير الفصل بين المبتدأ والخبر وهو يفيد مع الفصل فائدتين أخريين: قوة الاسناد، واختصاص المسنَد إليه بالمسند، كقوله: {وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ} [الحج: 64]، وقوله: {وَاللَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [المائدة: 76]، وقوله: {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} [الشورى: 5]، ونظائر ذلك.

 

الدليل التاسع: قوله سبحانه: {إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ} [السجدة: 15]،

ومن أعظم التذكير بآيات الله: التذكير بآيات الصلاة، فمن ذُكِّر بها ولم يتذكر، ولم يصلِّ لم يؤمن بها، لأنه سبحانه خصّ المؤمنين بها بأنهم أهل السجود، وهذا من أحسن الاستدلال وأقربه، فلم يؤمن بقوله تعالى:

{وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} إلا من التزم إقامتها.

 

الدليل العاشر: قوله تعالى: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ارْكَعُوا لَا يَرْكَعُونَ. وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ} [المرسلات: 48، 49]، ذكر هذا بعد قوله: {كُلُوا وَتَمَتَّعُوا قَلِيلاً إِنَّكُمْ مُجْرِمُونَ}، ثم توعدهم على ترك الركوع: وهو الصلاة إذا دعوا إليها، ولا يقال: إنما توعدهم على التكذيب، فإنه سبحانه وتعالى إنما أخبر عن تركهم لها وعليه وقع الوعيد.

على أنا نقول لا يصر على ترك الصلاة إصرارا مستمرا من يصدق بأن الله أمر بها أصلا، فإنه يستحيل في العادة والطبيعة أن يكون الرجل مصدقًا تصديقًا جازمًا أن الله فرض عليه كل يوم وليلة خمس صلوات، وأنه يعاقبه على تركها أشدّ العقاب، وهو مع ذلك مصرٌ على تركها، هذا من المستحيل قطعًا، فلا يحافظ على تركها مصدقٌ بفرضها أبدًا فإن الايمانَ يأمر صاحبَه بها، فحيث لم يكن في قلبه ما يأمر بها،
এবং সেই 'লাম' যা তাদের জন্য নামকৃত গুণের পূর্ণতা অর্জনের পথ নির্দেশ করে। কেননা যখন আপনি বলেন: ‘জায়েদ হলেন সেই আলেম, সেই সৎকর্মশীল’, তখন তা তার জন্য ঐ গুণের পূর্ণতা সাব্যস্ত হওয়াকে বুঝায়; যা আপনার ‘একজন আলেম, একজন সৎকর্মশীল’ বলার বিপরীত।

তৃতীয়ত: মহান আল্লাহ কর্তৃক উদ্দেশ্য ও বিধেয় (خبر) উভয়কে নির্দিষ্ট হিসেবে নিয়ে আসা। এটি মূলত উদ্দেশ্যের মধ্যে বিধেয়কে (خبر) সীমাবদ্ধ করার অন্যতম আলামত; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: “আর তারাই সফলকাম” [আল-বাকারাহ: ৫, আলে ইমরান: ১০৪, আত-তাওবাহ: ৮৮, আন-নূর: ৫১, আর-রূম: ৩৮, লোকমান: ৫], এবং তাঁর বাণী: “আর কাফেররাই জালেম” [আল-বাকারাহ: ২৫৪], এবং তাঁর বাণী: “তারাই প্রকৃত মুমিন” [আল-আনফাল: ৪, ৭৪], এবং এর সদৃশ আয়াতসমূহ।

চতুর্থত: উদ্দেশ্য ও বিধেয় (خبر)-এর মাঝে ‘দমিরে ফাসল’ (পৃথককারী সর্বনাম) যুক্ত করা। এটি পৃথক করার পাশাপাশি আরও দুটি উপকারিতা প্রদান করে: সম্বন্ধের (إسناد) শক্তি এবং যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তাকে মূল সম্বন্ধকৃত বিষয়ের (مسند) সাথে সুনির্দিষ্ট করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “আর আল্লাহ, নিশ্চয়ই তিনিই অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত” [আল-হাজ্জ: ৬৪], এবং তাঁর বাণী: “আর আল্লাহ, তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ” [আল-মায়িদাহ: ৭৬], এবং তাঁর বাণী: “নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনিই পরম ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু” [আশ-শুরা: ৫], এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াত।

 

নবম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: “কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে, যাদেরকে যখন তা দ্বারা উপদেশ দেওয়া হয়, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা অহংকার করে না” [আস-সাজদাহ: ১৫]।

আর আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে উপদেশ প্রদানের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র হলো: নামাজের আয়াতসমূহের মাধ্যমে উপদেশ প্রদান। সুতরাং যাকে তা দ্বারা উপদেশ দেওয়া হলো অথচ সে উপদেশ গ্রহণ করল না এবং নামাজ আদায় করল না, সে মূলত সেগুলোর ওপর ঈমান আনেনি। কারণ মহান আল্লাহ মুমিনদের এই বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত করেছেন যে, তারা সিজদাকারী। এটি অত্যন্ত চমৎকার ও নিকটতর একটি দলিল। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: “তোমরা নামাজ কায়েম করো”—এর ওপর কেবল সেই ব্যক্তিই ঈমান এনেছে যে তা কায়েম করার আবশ্যকতাকে গ্রহণ করেছে।

 

দশম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: “আর যখন তাদেরকে বলা হয় রুকু করো, তখন তারা রুকু করে না। সেদিন মিথ্যারোপকারীদের জন্য দুর্ভোগ” [আল-মুরসালাত: ৪৮, ৪৯]। এটি তাঁর এই বাণীর পরে উল্লেখ করা হয়েছে: “তোমরা আহার করো এবং অল্পকাল ভোগ করো, নিশ্চয়ই তোমরা অপরাধী”। অতঃপর তিনি তাদেরকে রুকু বর্জন করার কারণে ধমক দিয়েছেন: আর তা হলো নামাজ, যখন তাদেরকে এর দিকে আহ্বান জানানো হয়। এ কথা বলা যাবে না যে: “তাদেরকে কেবল মিথ্যারোপ করার কারণেই ধমক দেওয়া হয়েছে”; কারণ মহান আল্লাহ এখানে তাদের সেটি বর্জন করার সংবাদ দিয়েছেন এবং তার ওপরই ধমক বা শাস্তি আপতিত হয়েছে।

তদুপরি আমরা বলি যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন বলে মূলত বিশ্বাস করে, সে কখনোই অবিরামভাবে নামাজ বর্জনের ওপর অটল থাকতে পারে না। কারণ মানুষের স্বভাব ও প্রকৃতির ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব যে, একজন ব্যক্তি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে যে আল্লাহ তার ওপর প্রতিদিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন এবং তিনি তা বর্জন করার কারণে তাকে কঠোরতম শাস্তি দেবেন, অথচ এরপরও সে তা বর্জনের ওপর অটল থাকবে; এটি অকাট্যভাবেই অসম্ভব। সুতরাং এর আবশ্যকতাকে বিশ্বাসকারী কোনো ব্যক্তি কখনোই নামাজ বর্জনের ওপর স্থায়ী হতে পারে না। কেননা ঈমান তার অধিকারীকে নামাজের নির্দেশ দেয়। সুতরাং যখন তার অন্তরে এমন কিছু অবশিষ্ট নেই যা তাকে নামাজের নির্দেশ দেয়...
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ৮)
فليس في قلبه شيء من الإيمان،

ولا تُصغ إلى كلام من ليس له خبرة ولا علم بأحكام القلوب وأعمالها، وتأمل في الطبيعة بأن يقوم بقلب العبد إيمان بالوعد والوعيد والجنة والنار وأن الله فرض عليه الصلاة وأن الله يعاقبه معاقبة على تركها، وهو محافظ على الترك في صحته وعافيته وعدم الموانع المانعة له من الفعل.

وهذا القدر هو الذي خفي على من جعل الإيمان مجرد التصديق، وإن لم يقارنه فعل واجب ولا ترك محرم، وهذا من أمحل المحال أن يقوم بقلب العبد إيمانٌ جازمٌ لا يتقاضاه فعلُ طاعةٍ ولا ترك معصيةٍ، ونحن نقول: الإيمان هو التصديق، ولكن ليس التصديق مجرد اعتقاد صدق المخبر دون الانقياد له، ولو كان مجرد اعتقاد التصديق إيمانا لكان إبليس وفرعون وقومه وقوم صالح واليهود الذين عرفوا أن محمدا رسول الله كما يعرفون أبناءهم مؤمنين مصدقين.

وقد قال تعالى: {فَإِنَّهُمْ لَا يُكَذِّبُونَكَ} [الأنعام: 33]، أي: يعتقدون أنك صادق {وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ} [الأنعام: 33]، والجحود لا يكون إلا بعد معرفة الحق قال تعالى: {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا} [النمل: 14]، وقال موسى لفرعون: {لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنْزَلَ هَؤُلَاءِ إِلَّا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ} [الإسراء: 102]، وقال تعالى في اليهود: {يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ وَإِنَّ فَرِيقًا مِنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} [البقرة: 146]، وأبلغ من هذا قول النفرين اليهوديين لما جاءا إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وسألاه عما دلهما على نبوته فقالا نشهد أنك نبي فقال: "ما يمنعكما من اتباعي" قالا إن داود دعا أن لا يزال في ذريته نبي وإنا نخاف إن اتبعناك أن تقتلنا اليهود.(1)، فهؤلاء قد أقروا بألسنتهم إقرارا مطابقًا لمعتقدهم أنه نبيٌ، ولم يدخلوا بهذا التصديق والإقرار في الإيمان، لأنهم لم يلتزموا الطاعةَ والانقياد لأمره.

ومن هذا كفرُ أبي طالب فإنه عرف حقيقةَ المعرفة أنه صادقٌ وأقرّ بذلك بلسانه وصرّح به في شعره، ولم يدخل بذلك في الإسلام، فالتصديقُ إنما يتم بأمرين:

أحدهما: اعتقاد الصدق.

والثاني: محبة القلب وانقياده.

ولهذا قال تعالى لإبراهيم: {يَا إِبْرَاهِيمُ. قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا} [الصافات: 104، 105]، وإبراهيم كان معتقدًا لصدق رؤياه من حين رآها، فإن رؤيا

--------------------------------------------

(1) ضعيف - أخرجه الترمذي (2733) و (3144)، والنسائي (4078)، وفي "الكبرى" (3527) و (8602)، وابن ماجه (3705)، وأحمد 4/ 239 و 240، والطيالسي (1260)، وابن أبي شيبة 8/ 562 و 14/ 289، وفي "المسند" (880)، وفي "الأدب" (3)، وابن أبي حاتم في "التفسير" (6212) و (16161)، والعقيلي في "الضعفاء" 2/ 261، وابن أبي عاصم في "الآحاد والمثاني" (2465)، والطحاوي 3/ 215، وفي "شرح مشكل الآثار" (63) و (64) و (65)، وابن قانع في "معجم الصحابة" 2/ 11، والطبراني 8/ (7396)، وابن المقرئ في "تقبيل اليد" (4)، والحاكم 1/ 9، وأبو نعيم في "الحلية" 5/ 97، والبيهقي 8/ 166، وفي "دلائل النبوة" 6/ 268 من طرق عن شعبة، عن عمرو بن مرة، عن عبد الله بن سلمة، عن صفوان بن عسال، قال: "قال يهودي لصاحبه: اذهب بنا إلى هذا النبي فقال صاحبه: لا تقل نبي، إنه لو سمعك كان له أربعة

أعين، فأتيا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فسألاه عن تسع آيات بينات؟ فقال لهم: لا تشركوا بالله شيئا، ولا تسرقوا، ولا تزنوا، ولا تقتلوا النفس التي حرم الله إلا بالحق، ولا تمشوا ببريء إلى ذي سلطان ليقتله، ولا تسحروا، ولا تأكلوا الربا، ولا تقذفوا محصنة، ولا تولوا الفرار يوم الزحف، وعليكم خاصة اليهود أن لا تعتدوا في السبت. قال: فقبلوا يديه ورجليه، فقالا: نشهد أنك نبي، قال: فما يمنعكم أن تتبعوني؟ قالوا: إن داود دعا ربه أن لا يزال من ذريته نبي، وإنا نخاف إن تبعناك أن تقتلنا اليهود".

وقال الترمذي:

"حديث حسن صحيح".

وقال الحاكم:

"صحيح لا نعرف له علة" وأقره الذهبي!

قلت: إسناده ضعيف، قال النسائي:

هذا حديث منكر، حكي عن شعبة قال: سألت عمرو بن مرة عن عبد الله بن سلمة، فقال: تعرف وتنكر.

وقال البخاري: لا يتابع في حديثه.

وقال أبو حاتم: تعرف وتنكر.

وقال شعبة: روى عبد الله بن سلمة هذا الحديث بعد ما كبر - أي بعد تغير حفظه.
সুতরাং তার অন্তরে ঈমানের কিছুই অবশিষ্ট নেই। আর যার অন্তরের অবস্থা ও কার্যাবলি সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান নেই, তার কথায় কর্ণপাত করবেন না। প্রকৃতির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, যখন বান্দার অন্তরে পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি, শাস্তির ভয়, জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি ঈমান বদ্ধমূল হয় এবং সে অনুধাবন করে যে আল্লাহ তার ওপর সালাত ফরজ করেছেন এবং তা বর্জনের কারণে আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন, এমতাবস্থায় সুস্থতা ও সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এবং কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকা সত্ত্বেও তার পক্ষে ধারাবাহিকভাবে সালাত বর্জন করে যাওয়া অসম্ভব।

আর এই বিষয়টিই তাদের নিকট অস্পষ্ট রয়ে গেছে যারা ঈমানকে কেবল সত্যায়ন (تصديق) মনে করে, যদিও তার সাথে কোনো ওয়াজিব কাজ সম্পাদন বা হারাম বর্জন যুক্ত না থাকে। এটি একেবারেই অসম্ভব যে, বান্দার অন্তরে এমন এক দৃঢ় ঈমান বিদ্যমান থাকবে যা তাকে কোনো আনুগত্যের কাজে প্রবৃত্ত করবে না কিংবা পাপাচার বর্জনে বাধ্য করবে না। আমরা বলি: ঈমান হলো সত্যায়ন (تصديق), তবে এই সত্যায়ন কেবল সংবাদদাতার সত্যতাকে অন্তরে বিশ্বাস করা নয় বরং তার প্রতি অনুগত (انقياد) হওয়াও এর শর্ত। যদি কেবল সত্যতা বিশ্বাস করাই ঈমান হতো, তবে ইবলিস, ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়, সালেহ (আ.)-এর জাতি এবং সেই ইহুদিরা যারা মুহাম্মদ (সা.)-কে নিজেদের সন্তানের মতো চিনত, তারা সকলেই মুমিন ও সত্যায়নকারী (تصديق) হিসেবে গণ্য হতো।

অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই তারা আপনাকে মিথ্যাবাদী বলছে না} [আল-আনআম: ৩৩], অর্থাৎ: তারা বিশ্বাস করে যে আপনি সত্যবাদী {কিন্তু জালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে} [আল-আনআম: ৩৩]। আর সত্য জানার পরেই কেবল অস্বীকার করা সম্ভব। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা অন্যায় ও উদ্ধতভাবে নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো সত্য বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিল} [আন-নামল: ১৪]। মুসা (আ.) ফেরাউনকে বলেছিলেন: {তুমি অবশ্যই জানো যে, এই চাক্ষুষ নিদর্শনসমূহ আসমান ও জমিনের রব ছাড়া আর কেউ নাজিল করেননি} [আল-ইসরা: ১০২]। ইহুদিদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন: {যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে (রাসূলকে) তেমনভাবেই চেনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে। আর তাদের একটি দল জেনে-বুঝে সত্য গোপন করে} [আল-বাকারা: ১৪৬]। এর চেয়েও স্পষ্ট হলো সেই দুই ইহুদির বক্তব্য, যারা নবী (সা.)-এর নিকট এসে তাঁর নবুওয়তের প্রমাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। এরপর তারা বলল, 'আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি একজন নবী'। তিনি বললেন: "আমার অনুসরণ করতে তোমাদের কিসে বাধা দিচ্ছে?" তারা বলল, 'দাউদ (আ.) দোয়া করেছিলেন যেন তাঁর বংশধরের মধ্যে সর্বদা নবী থাকে, আর আমরা ভয় পাচ্ছি যে যদি আপনার অনুসরণ করি তবে ইহুদিরা আমাদের হত্যা করবে।'(১) এই ব্যক্তিরা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী মুখে নবী হওয়ার স্বীকৃতি (إقرار) দিয়েছিল, কিন্তু এই সত্যায়ন (تصديق) ও স্বীকৃতির (إقرار) মাধ্যমে তারা ঈমানে দাখিল হতে পারেনি; কারণ তারা তাঁর নির্দেশের আনুগত্য (طاعة) ও আত্মসমর্পণ (انقياد) স্বীকার করে নেয়নি।

একই কারণে আবু তালিব কাফের হিসেবে গণ্য হয়েছে; কারণ সে নিশ্চিতভাবে জানত যে রাসূল (সা.) সত্যবাদী এবং সে নিজের মুখে তার স্বীকৃতি (إقرار) দিয়েছিল এবং কবিতায় তা ব্যক্তও করেছিল, কিন্তু এর মাধ্যমে সে ইসলামে প্রবেশ করতে পারেনি। সুতরাং সত্যায়ন (تصديق) কেবল দুটি বিষয়ের সমন্বয়ে পূর্ণতা পায়:

প্রথমটি: সত্য বলে বিশ্বাস করা।

দ্বিতীয়টি: অন্তরের ভালোবাসা ও আনুগত্য (انقياد)।

এই কারণেই আল্লাহ তায়ালা ইব্রাহিম (আ.)-কে বলেছিলেন: {হে ইব্রাহিম! তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ (সত্যায়ন করেছ)} [আস-সাফফাত: ১০৪, ১০৫]। অথচ ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্ন দেখার মুহূর্ত থেকেই তা সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন। কারণ নবীদের স্বপ্ন

--------------------------------------------

(১) দুর্বল (ضعيف) - এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি (২৭৩৩) ও (৩১৪৪), নাসায়ি (৪০৭৮) এবং 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (৩৫২৭) ও (৮৬০২), ইবনে মাজাহ (৩৭০৫), আহমদ ৪/২৩৯ ও ২৪০, তায়ালিসি (১২৬০), ইবনে আবি শায়বা ৮/৫৬২ ও ১৪/২৮৯, 'আল-মুসনাদ' গ্রন্থে (৮৮০), 'আল-আদাব' গ্রন্থে (৩), ইবনে আবি হাতিম 'তাফসির' গ্রন্থে (৬২১১২) ও (১৬১৬১), উকাইলি 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে ২/২৬১, ইবনে আবি আসিম 'আল-আহাদ ওয়াল মাসানি' গ্রন্থে (২৪৬৫), ত্বহাবি ৩/২১৫ এবং 'শারহু মুশকিলিল আসার' গ্রন্থে (৬৩), (৬৪) ও (৬৫), ইবনে কানে 'মুজামুস সাহাবা' গ্রন্থে ২/১১, তাবারানি ৮/(৭৩৯৬), ইবনে মুকরি 'তাকবিলুল ইয়াদ' গ্রন্থে (৪), হাকেম ১/৯, আবু নুয়াইম 'আল-হিলয়াহ' গ্রন্থে ৫/৯৭ এবং বায়হাকি ৮/১৬৬ ও 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থে ৬/২৬৮-তে শু'বার সূত্রে, আমর বিন মুররাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন সালামাহ থেকে, তিনি সাফওয়ান বিন আসসাল থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: "এক ইহুদি তার সঙ্গীকে বলল: চলো আমরা এই নবীর কাছে যাই। তার সঙ্গী বলল: তাকে নবী বলো না, যদি সে শুনে ফেলে তবে তার চারটি

চোখ হয়ে যাবে (অর্থাৎ খুশিতে আত্মহারা হবে)। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে নয়টি স্পষ্ট নিদর্শন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি তাদের বললেন: আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না, চুরি করো না, ব্যভিচার করো না, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করো না যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন, নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে শাসকের কাছে নিয়ে যেও না, জাদু করো না, সুদ খেয়ো না, সতী নারীকে অপবাদ দিয়ো না এবং যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করো না। আর বিশেষ করে হে ইহুদিরা, তোমরা শনিবারের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করো না। বর্ণনাকারী বলেন: তারা তাঁর হাত ও পা চুম্বন করল এবং বলল: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি একজন নবী। তিনি বললেন: তবে আমার অনুসরণ করতে তোমাদের কিসে বাধা দিচ্ছে? তারা বলল: দাউদ (আ.) তাঁর রবের কাছে দোয়া করেছিলেন যেন তাঁর বংশে সর্বদা নবী থাকে, আর আমরা ভয় পাচ্ছি যে আপনার অনুসরণ করলে ইহুদিরা আমাদের হত্যা করবে।"

ইমাম তিরমিজি বলেছেন:

"হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস।"

ইমাম হাকেম বলেছেন:

"এটি সহিহ (صحيح), আমরা এর কোনো ত্রুটি (علة) জানি না" এবং ইমাম জাহাবি তাতে ঐকমত্য পোষণ করেছেন!

আমি বলছি: এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)। ইমাম নাসায়ি বলেছেন:

এটি একটি মুনকার (منكر) হাদিস। শু'বা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি আমর বিন মুররাহকে আবদুল্লাহ বিন সালামাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: তার বর্ণনা পরিচিত ও অপরিচিত (تعرف وتنكر)।

ইমাম বুখারি বলেছেন: তার হাদিস সমর্থিত নয় (لا يتابع)।

আবু হাতিম বলেছেন: তার বর্ণনা পরিচিত ও অপরিচিত (تعرف وتنكر)।

শু'বা বলেন: আবদুল্লাহ বিন সালামাহ এই হাদিসটি বৃদ্ধ বয়সে বর্ণনা করেছেন - অর্থাৎ তার মুখস্থশক্তির পরিবর্তন (تغير حفظه) ঘটার পর।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ৯)
الأنبياء وحي(1) وإنما جعله مصدقا لها بعد أن فعل ما أُمر به.

وكذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "والفرج يصدق ذلك كله أو يكذبه"(2).

فجعل التصديق عمل الفرج لا ما يتمنى القلب، والتكذيب تركه لذلك وهذا صريح في أن التصديق لا يصح إلا بالعمل.

وقال الحسن: ليس الإيمان بالتمني ولا بالتحلي ولكن ما وقر في القلب وصدقه العمل.

وقد روي هذا مرفوعا(3) والمقصود أنه يمتنع مع التصديق الجازم بوجوب الصلاة والوعد على فعلها، والوعيد على تركها، وبالله التوفيق.

 

توضيح هذه الأدلة العشرة:

قال محمد تقي الدين: قد أقام الحافظ ابن القيم رحمه الله عشرة أدلة من كتاب الله على كفر تارك الصلاة كسلا مع اعترافه بوجوبها، وسأحاول أن أعيد ذكر هذه الأدلة بعبارة، أرجو أن تكون أسهل على فهم أهل هذا الزمان، وخصوصا العامة، وسألتزم الاختصار.

 

الدليل الأول: قال تعالى في سورة القلم من الآية 35 إلى الآية 43

{أَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِينَ كَالْمُجْرِمِينَ} [القلم: 35]، حاصل معنى ما ذكره أن الله قسم الناس إلى مسلمين ومجرمين، وأخبر أن عدله وحكمته يقتضيان إكرام المسلمين في الدنيا والآخرة، وأخبر أن تارك الصلاة ولو صلاة واحدة حتى يخرج وقتها من المجرمين، وأنه يدعى يوم القيامة إلى السجود فإذا أراد أن يسجد صار ظهره طبقة واحدة فعجز عن السجود، وسقط على ظهره، لأنه يدعى إلى السجود في الدنيا فيمتنع منه، ومن كان من المجرمين لا يكون من المسلمين، وليس هناك قِسْم ثالث، فهذا وجه استدلاله رحمه الله.

 

الدليل الثاني: قوله تعالى في سور المدثر الآية 38 إلى الآية 47، حاصل هذا الدليل أن الله تعالى أخبرنا أن أهل النار يُقال لهم ما الذي أدخلكم جهنم؟

فيخبرون بارتكابهم أربعة ذنوب:

الأول: أنهم لم يكونوا من المصلين.

الثاني: أنهم لم يكونوا يطعمون المسكين.

الثالث: أنهم كانوا يخوضون مع

--------------------------------------------

(1) صحيح موقوفًا - أخرجه ابن أبي حاتم كما في "تفسير ابن كثير" 7/ 24 حدثنا علي بن الحسين بن الجنيد، حدثنا أبو عبد الملك الكرندي، حدثنا سفيان بن عيينة، عن إسرائيل بن يونس، عن سماك، عن عكرمة، عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"رؤيا الأنبياء في المنام وحي".

وهذا إسناد ضعيف، أبو عبد الملك الكرندي: لم أجده، ورواية سماك عن عكرمة: مضطربة، وقد رواه عن سعيد بن جبير موقوفا:

أخرجه ابن أبي عاصم في "السنة" (463)، وأحمد بن منيع كما في "المطالب العالية" (2851)، والطبري في "التفسير" (18778) و (18779)، وابن أبي حاتم في "التفسير" (11328)، والطحاوي في "شرح مشكل الآثار" (5761)، والطبراني 12/ (12302)، والحاكم 2/ 431 و 4/ 396 من طريق الثوري، عن سماك بن حرب، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس موقوفًا.

وقال الحاكم:

"صحيح على شرط الشيخين" وأقره الذهبي!

وقال في موضع آخر على شرط مسلم، وهو كما قال، فلم يحتج البخاري بسماك.

(2) متفق عليه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

(3) ضعيف جدا - أخرجه السلمي في "الأربعين" (7) من طريق محمد بن إسماعيل الصائغ، وابن بشران في "الأمالي" (1224) من طريق أبي علي الحسن بن أحمد بن الليث الرازي، وابن النجار في "ذيل تاريخ بغداد" 2/ 34 من طريق السري بن إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، ثلاثتهم عن عبد السلام بن صالح، حدثنا يوسف بن عطية، عن قتادة، عن الحسن، عن أنس رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"ليس الإيمان بالتمني ولا بالتحلي ولكن ما وقر في القلب وصدقه العمل، والعلم علمان: علم باللسان، وعلم بالقلب، فعلم القلب النافع، وعلم اللسان حجة الله على ابن آدم".

وأخرجه أبو نعيم في "الأربعين على مذهب المتحققين" (43) حدثنا أبو الحسن سهل بن عبد الله التستري، حدثنا الحسين بن إسحاق، حدثنا عبد السلام بن صالح بمكة، حدثنا يوسف بن عطية، حدثنا قتادة، عن أنس به.

ليس فيه الحسن، والحديث مداره بإسناديه على يوسف بن عطية وهو الصفار: متروك الحديث.

وعبد السلام بن صالح هو أبو الصلت الهروي: قال الذهبي: واه شيعي، متهم مع صلاحه.

وأخرجه أحمد في "الزهد" (1483)، وابن أبي شيبة 11/ 22 و 13/ 504، وفي "الإيمان" (93) من طريق جعفر بن سليمان، قال: حدثنا زكريا، قال: سمعت الحسن، يقول:

"إن الإيمان ليس بالتحلي، ولا بالتمني، إن الإيمان ما وقر في القلب وصدقه العمل".

وهذا إسناد تالف، زكريا هو ابن حكيم الحبطي البصري، قال الذهبي في "الميزان" 2/ 72:

"قال علي بن المديني: هالك".

وقال ابن حبان: يروي عن الأثبات ما لا يشبه أحاديثهم حتى يسبق إلى القلب أنه المتعمد.

وأخرجه ابن بطة في "الإبانة الكبرى" (1094) من طريق عباس الدوري، قال: حدثنا حجاج، قال: حدثنا أبو عبيدة الناجي، عن الحسن به.

وهذا إسناد ضعيف جدا، أبو عبيدة الناجي: متروك.

وأخرجه ابن بطة في "الإبانة الكبرى" (1093)، والبيهقي في "الشعب" (65)، والخطيب في "اقتضاء العلم العمل" (56)، وابن العديم في "بغية الطلب" 10/ 4336 من طريق عبيد الله ابن موسى، أخبرنا أبو بشر الحلبي، عن الحسن بأتم منه.

وهذا إسناد جيد، أبو بشر الحلبي: قال الإمام أحمد: ليس به بأس.

وقال أبو حاتم كما في "الجرح والتعديل" 6/ 294: صالح.

وذكره ابن حبان في "الثقات" 7/ 239.

وعبيد الله بن موسى هو باذام: ثقة.

فهذه الجملة ثابتة عن الحسن البصري، ولا تصحّ نسبتها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد أشار إلى هذا ابن القيم إذ صدرّه بصيغة التمريض.
নবীদের স্বপ্ন হলো ওহী(১); আর তিনি (ইব্রাহিম আ.) যা আদিষ্ট হয়েছিলেন তা করার পরেই আল্লাহ একে সত্যয়নকারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "আর লজ্জাস্থান এই সব কিছুকে সত্য প্রমাণিত করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে"(২)।

এখানে সত্যয়নকে লজ্জাস্থানের কর্ম সাব্যস্ত করা হয়েছে, অন্তরের আকাঙ্ক্ষা নয়; আর মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হলো সেই কর্ম বর্জন করা। এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আমল ব্যতীত সত্যয়ন সঠিক হয় না।

হাসান আল-বাসরী বলেন: ঈমান কেবল আকাঙ্ক্ষা বা বাহ্যিক অলঙ্করণ নয়, বরং ঈমান হলো যা অন্তরে প্রোথিত থাকে এবং আমল যার সত্যতা প্রমাণ করে।

এটি রাসুল পর্যন্ত পৌছানো বা মারফু (مرفوعا)(৩) সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, সালাত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে এবং তা আদায় করার প্রতিশ্রুতি ও পরিত্যাগের শাস্তির ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সালাত ত্যাগ করা অসম্ভব। আল্লাহর কাছেই তাওফীক কাম্য।

 

এই দশটি দলিলের ব্যাখ্যা:

মুহাম্মদ তাকি উদ্দিন বলেন: হাফিজ ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) আল্লাহর কিতাব থেকে অলসতাবশত সালাত ত্যাগকারীর কুফরির সপক্ষে দশটি দলিল পেশ করেছেন, যদিও সে সালাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে। আমি এই দলিলগুলো এমন শব্দে পুনরায় উল্লেখ করার চেষ্টা করব যা বর্তমান সময়ের মানুষের জন্য, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা সহজ হয় এবং আমি সংক্ষেপ করার চেষ্টা করব।

 

প্রথম দলিল: আল্লাহ তায়ালা সূরা আল-কলমের ৩৫ থেকে ৪৩ আয়াতে বলেছেন:

{তবে কি আমি মুসলিমদের অপরাধীদের ন্যায় গণ্য করব?} [আল-কলম: ৩৫], তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার সারমর্ম হলো, আল্লাহ মানুষকে মুসলিম ও অপরাধী—এই দুই ভাগে ভাগ করেছেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর ন্যায়বিচার ও হিকমত দুনিয়া ও আখেরাতে মুসলিমদের সম্মানিত করার দাবি রাখে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, সালাত ত্যাগকারী অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত, এমনকি সে যদি একটি সালাতও তার নির্ধারিত সময়ের বাইরে নিয়ে যায়। কিয়ামতের দিন তাকে সিজদা করার জন্য ডাকা হবে, কিন্তু সে যখন সিজদা করতে চাইবে, তখন তার পিঠ একটি তক্তার মতো শক্ত হয়ে যাবে; ফলে সে সিজদা করতে অক্ষম হবে এবং পিঠের ওপর পড়ে যাবে। কারণ তাকে দুনিয়াতে সিজদার জন্য ডাকা হয়েছিল কিন্তু সে তা করেনি। আর যে ব্যক্তি অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত, সে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না, কারণ এখানে তৃতীয় কোনো ভাগ নেই। এটিই হাফিজ ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)-এর ইস্তিদলাল বা দলিল উপস্থাপনের ভঙ্গি।

 

দ্বিতীয় দলিল: সূরা আল-মুদ্দাসসিরের ৩৮ থেকে ৪৭ আয়াতে আল্লাহ তায়ালার বাণী। এই দলিলের সারমর্ম হলো, আল্লাহ তায়ালা আমাদের জানিয়েছেন যে, জাহান্নামীদের জিজ্ঞাসা করা হবে—কোন জিনিস তোমাদের জাহান্নামে প্রবেশ করিয়েছে?

তখন তারা চারটি অপরাধের কথা স্বীকার করবে:

প্রথম: তারা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

দ্বিতীয়: তারা মিসকিনদের খাবার দিত না।

তৃতীয়: তারা অনর্থক চর্চাকারীদের সাথে

--------------------------------------------

(১) সাহিহ (صحيح) এবং মাকুফ (موقوفًا) হিসেবে—ইবনে আবি হাতিম এটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি তাফসির ইবনে কাসীর ৭/২৪-এ রয়েছে। আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনুল হুসাইন ইবনুল জুনাইদ, তিনি আবু আব্দুল মালিক আল-কারান্দি থেকে, তিনি সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ থেকে, তিনি ইসরাঈল ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি সিমাক থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"নিদ্রাবস্থায় নবীদের দেখা স্বপ্ন হলো ওহী।"

এই সনদটি দুর্বল (ضعيف); আবু আব্দুল মালিক আল-কারান্দি: আমি তাকে (জীবনীতে) পাইনি। আর ইকরিমা থেকে সিমাকের বর্ণনাটি অস্থিতিশীল (مضطربة)। এটি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে মাকুফ (موقوفا) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে:

ইবনে আবি আসিম আস-সুন্নাহ (৪৬৩)-এ, আহমদ ইবনে মানি' আল-মাতালিবুল আলিয়া (২৮৫১)-তে, আত-তবারী তাফসির (১৮৭৭৮) ও (১৮৭৭৯)-তে, ইবনে আবি হাতিম তাফসির (১১৩২৮)-এ, আত-তহাবী শারহু মুশকিলিল আসার (৫৭৬১)-এ, আত-তবারানি ১২/ (১২৩০২)-এ এবং আল-হাকিম ২/৪৩১ ও ৪/৩৯৬-এ সাওরী-সিমাক ইবনে হারব-সাঈদ ইবনে জুবায়ের-ইবনে আব্বাস সূত্রে মাকুফ (موقوفًا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আল-হাকিম বলেন:

"এটি শাইখাইনের শর্তানুসারে সাহিহ (صحيح)" এবং ইমাম জাহাবি তা সমর্থন করেছেন!

অন্য স্থানে তিনি বলেছেন এটি মুসলিমের শর্তানুসারে, আর বিষয়টি তেমনই। তবে ইমাম বুখারি সিমাককে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেননি।

(২) আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (متفق عليه)।

(৩) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا) — আস-সুলামী আল-আরবাঈন (৭)-এ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আস-সায়িগ সূত্রে, ইবনে বিশরান আল-আমালি (১২২৪)-তে আবু আলী আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনুল লাইস আর-রাজি সূত্রে এবং ইবনে নাজ্জার জাইলু তারিখি বাগদাদ ২/৩৪-এ সারী ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালি সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তারা তিনজনই আব্দুস সালাম ইবনে সালিহ থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"ঈমান কেবল আকাঙ্ক্ষা বা বাহ্যিক অলঙ্করণ নয়, বরং ঈমান হলো যা অন্তরে প্রোথিত থাকে এবং আমল যার সত্যতা প্রমাণ করে। আর ইলম বা জ্ঞান দুই প্রকার: রসনার জ্ঞান এবং অন্তরের জ্ঞান। অন্তরের জ্ঞান হলো উপকারী জ্ঞান, আর রসনার জ্ঞান হলো আদমসন্তানের বিরুদ্ধে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রমাণ।"

আবু নুয়াইম আল-আরবাঈন আলা মাজহাবিল মুতাহাক্কিকীন (৪৩)-এ বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের কাছে আবুুল হাসান সাহল ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তুস্তারি বর্ণনা করেছেন, তিনি হুসাইন ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি মক্কায় আব্দুস সালাম ইবনে সালিহ থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে আতিয়্যাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এতে হাসানের উল্লেখ নেই। এই হাদিসটির উভয় সনদের কেন্দ্রবিন্দু হলো ইউসুফ ইবনে আতিয়্যাহ আস-সাফফার: তিনি মাতরুকুল হাদিস (متروك الحديث)।

আর আব্দুস সালাম ইবনে সালিহ হলেন আবুস সালত আল-হারাভি: ইমাম জাহাবি বলেন, তিনি অত্যন্ত দুর্বল (واه) শিয়া এবং নেককার হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত (متهم)।

ইমাম আহমদ এটি কিতাবুয যুহদ (১৪৮৩)-এ, ইবনে আবি শাইবাহ ১১/২২ ও ১৩/৫০৪ এবং কিতাবুল ঈমান (৯৩)-এ জাফর ইবনে সুলাইমান সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে জাকারিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি হাসানকে বলতে শুনেছি:

"নিশ্চয়ই ঈমান বাহ্যিক অলঙ্করণ বা কেবল আকাঙ্ক্ষা নয়, ঈমান হলো যা অন্তরে প্রোথিত থাকে এবং আমল যার সত্যতা প্রমাণ করে।"

এই সনদটি ধ্বংসপ্রাপ্ত (تالف); জাকারিয়া হলেন ইবনে হাকিম আল-হাবাতি আল-বাসরি। ইমাম জাহাবি আল-মিজান ২/৭২-এ বলেন:

"আলী ইবনুল মাদিনি বলেছেন: তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত (هالك)।"

ইবনে হিব্বান বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (الأثبات) উদ্ধৃতি দিয়ে এমন সব কথা বর্ণনা করেন যা তাদের হাদিসের সাথে মেলে না, এমনকি হৃদয়ে এই ধারণা জন্মে যে এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ইবনে বাত্তাহ আল-ইবানাতুল কুবরা (১০৯৪)-তে আব্বাস আদ-দুরি সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাজ্জাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আবু উবাইদাহ আন-নাজি হাসান সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

এটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا) সনদ; আবু উবাইদাহ আন-নাজি হলেন মাতরুক (متروك)।

ইবনে বাত্তাহ আল-ইবানাতুল কুবরা (১০৯৩)-তে, আল-বাইহাকী আশ-শুআব (৬৫)-এ, আল-খতিব ইকতাদাউল ইলমিল আমাল (৫৬)-এ এবং ইবনুল আদিম বুগইয়াতুত তলাব ১০/৪৩৩৬-এ উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু বিশর আল-হালাবি থেকে হাসান সূত্রে এর চেয়ে পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করেছেন।

এই সনদটি উত্তম (جيد); আবু বিশর আল-হালাবি সম্পর্কে ইমাম আহমদ বলেছেন: তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)।

আবু হাতিম যেমনটি আল-জারহু ওয়াত তা'দীল ৬/২৯৪-এ বলেছেন: তিনি সৎ ও গ্রহণযোগ্য (صالح)।

ইবনে হিব্বান তাকে আস-সিকাত ৭/২৩৯-এ উল্লেখ করেছেন।

আর উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা হলেন বাজাম: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)।

সুতরাং এই বাক্যটি হাসান আল-বাসরী থেকে প্রমাণিত, তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দিকে এর নিসবত বা সম্পৃক্ততা সঠিক নয়। ইবনুল কাইয়্যিম এদিকে ইঙ্গিত করেছেন কারণ তিনি এটি দুর্বলতাসূচক শব্দ (صيغة التمريض) দিয়ে শুরু করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১০)
الخائضين، والخوض هو الكفر بآيات الله، والاستهزاء بها.

الرابع: أنهم كانوا يكذّبون بالبعث. ولا يمكن أن يكون دخولهم النار متوقفًا على هذه السيئات كلها، بل كل واحد منها موجب لدخول النار، وأوّلها ترك الصلاة، وقوله تعالى {فما تنفعهم شفاعة الشافعين} يدل على خلودهم في النار، ولا يخلد في النار إلا كافر ترك الصلاة كفرا.

 

الدليل الثالث: قوله تعالى في سورة النور رقم 56، حاصله أن الله تعالى شرط لرحمته ثلاثة أمور:

الأول: إقامة الصلاة.

الثاني: إعطاء الزكاة.

الثالث: طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم. فمن ترك واحدا منها لا تناله رحمة الله، ومن لم تنله رحمة الله فهو كافر.

 

الدليل الرابع: قوله تعالى في سورة الماعون {فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ. الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ} [الماعون: 4، 5]، استدل به ابن القيم رحمه الله على كفر تارك الصلاة بحديث سعد بن أبي وقاص مرفوعًا إلى النبي صلى الله عليه وسلم في بعض الروايات وموقوفها عليه في بعضها(1) أن السهو عنها ترْكها حتى يخرج وقتها.

 

الدليل الخامس: قوله تعالى في سورة مريم رقم 59 و 60 {فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا. إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا} [مريم: 59، 60]، وبيان ذلك من وجهين:

الوجه الأول: أن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: إن غيا واد في جهنم بعيد القعر(2)، يعني في أسفل جهنم، والمؤمن لا يكون في الطبقة السفلى من جهنم.

والوجه الثاني: أن الله تعالى قال: {إلا من تاب وآمن} وهو دليل أنه ليس بمؤمن، لأن المؤمن لا يطلب منه أن يؤمن فدلّ ذلك على أنه كافر، وطلب الإيمان من المؤمن من تحصيل الحاصل، وهو محال،

--------------------------------------------

(1) تقدّم في الحاشية رقم (4) أنه لا يصح مرفوعًا، وبيّنت في الحاشية رقم (5) أن إسناده حسن موقوفا على سعد بن أبي وقاص.

(2) إسناده ضعيف - وانظر بيان ضعفه في الحاشية رقم (7).
অনর্থক আলোচনায় মগ্ন ব্যক্তিরা; আর অনর্থক আলোচনা হলো আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরি করা এবং সেগুলোকে বিদ্রূপ করা।

চতুর্থত: তারা পুনরুত্থানকে অস্বীকার করত। তাদের জাহান্নামে প্রবেশ এই সকল পাপের ওপর নির্ভরশীল হওয়া সম্ভব নয়, বরং এগুলোর প্রতিটিই জাহান্নামে প্রবেশের কারণ। আর এগুলোর প্রথমটি হলো সালাত ত্যাগ করা। মহান আল্লাহর বাণী: {সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো উপকারে আসবে না} তাদের জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার প্রমাণ বহন করে। আর জাহান্নামে সেই কাফির ব্যতীত কেউ চিরস্থায়ী হবে না, যে কুফরি বশত সালাত ত্যাগ করেছে।

 

তৃতীয় দলিল: সূরা আন-নূরের ৫৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী। এর সারসংক্ষেপ হলো, মহান আল্লাহ তাঁর রহমত প্রাপ্তির জন্য তিনটি বিষয় শর্ত করেছেন:

প্রথমত: সালাত কায়েম করা।

দ্বিতীয়ত: জাকাত প্রদান করা।

তৃতীয়ত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য করা। সুতরাং যে ব্যক্তি এর একটি ত্যাগ করবে, সে আল্লাহর রহমত পাবে না। আর যে আল্লাহর রহমত পাবে না, সে কাফির।

 

চতুর্থ দলিল: সূরা আল-মাউনে মহান আল্লাহর বাণী {ধ্বংস সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য, যারা তাদের সালাত সম্বন্ধে উদাসীন} [মাউন: ৪, ৫]। ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) সালাত ত্যাগকারীর কুফরির স্বপক্ষে সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যা কিছু বর্ণনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوعًا) এবং কিছু বর্ণনায় সাহাবীর বক্তব্য (موقوفًا) হিসেবে এসেছে(১) যে, সালাত সম্বন্ধে উদাসীনতা হলো তা ত্যাগ করা যতক্ষণ না তার ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়।

 

পঞ্চম দলিল: সূরা মারইয়ামের ৫৯ ও ৬০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী {তাদের পরে আসলো এমন এক অপদার্থ উত্তরসূরি যারা সালাত নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল; সুতরাং তারা অচিরেই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে। কিন্তু তারা নয়, যারা তওবা করেছে, ইমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে; তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না} [মারইয়াম: ৫৯, ৬০]। এর ব্যাখ্যা দুটি দিক থেকে হতে পারে:

প্রথম দিক: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: ‘গাই’ হলো জাহান্নামের একটি সুগভীর উপত্যকা(২), অর্থাৎ জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। আর মুমিন জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে না।

দ্বিতীয় দিক: মহান আল্লাহ বলেছেন: {কিন্তু তারা নয় যারা তওবা করেছে এবং ইমান এনেছে}। এটি প্রমাণ করে যে সে মুমিন নয়। কেননা মুমিনের কাছে নতুন করে ইমান আনার দাবি করা হয় না; সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে সে কাফির। আর মুমিনের কাছে ইমান দাবি করা ‘অর্জিত বিষয়কে পুনরায় অর্জন’ করার নামান্তর, যা অসম্ভব।

--------------------------------------------

(১) ৪ নম্বর টীকায় ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, এটি উন্নীত (مرفوعًا) হিসেবে বিশুদ্ধ (صحيح) নয়। আমি ৫ নম্বর টীকায় স্পষ্ট করেছি যে, সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের ওপর এর সূত্র (إسناد) হাসান (حسن) পর্যায়ে সাহাবীর বক্তব্য (موقوفًا) হিসেবে।

(২) এর সূত্র (إسناد) দুর্বল (ضعيف) - আর এর দুর্বলতার বর্ণনা ৭ নম্বর টীকায় দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১১)
وبيانه أن كل شيء موجود لا يطلب وجوده.

 

الدليل السادس: قوله تعالى في سورة التوبة رقم 11 {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَنُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} [التوبة: 11]، وبيانه أن الله شرط لأخوّة المشركين للمؤمنين، ثلاثة شروط:

الأول: التوبة من الشرك.

الثاني: إقامة الصلاة، أي: أدائها بشروطها، ومن أخرجها عن وقتها لا يكون مقيمًا لها، ومن لم تثبت له أخوة المؤمنين فهو من الكافرين.(1)

 

الدليل السابع: قوله تعالى في سورة القيامة رقم 31 و 32 {فَلَا صَدَّقَ وَلَا صَلَّى. وَلَكِنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى} [القيامة: 31، 32]، قال ابن القيم رحمه الله: الإسلام أمر أن تصديق النبي صلى الله عليه وسلم فيما جاء به والانقياد لأمره، فمن لم يصدقه فهو كافر، وكذبك من امتنع من الانقياد لأمره بترك الصلاة فهو كافر، وقد جمعهما الله تعالى، فلا سبيل إلى التفرقة بينهما.

 

الدليل الثامن: قوله تعالى في سورة المنافقين رقم 9 {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ} [المنافقون: 9]، قال عطاء بن أبي رباح المراد بذكر الله هنا الصلوات المكتوبة، وقد حكم الله على من شغله ماله وولده وغير ذلك من شواغل الدنيا بالخسران المطلق، والخسران المطلق لا يكون إلا للكافر، قال تعالى في سورة الزمر: {قُلْ إِنَّ الْخَاسِرِينَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَلَا ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ} [الزمر: 15]، وقد أكّد الله تعالى خسرانهم بالتعريف بالألف واللام، وبالجملة الإسمية، وصيغة الحصر، وضمير الفصل وهو (هم)، فتمّ لهم الخسران المطلق، ولا يتم إلا للكافر.

الدليل التاسع: قوله تعالى في سورة السجدة رقم 15 {إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا

--------------------------------------------

(1) ترك المصنف ذكر الشرط الثالث لأنه واضح، وهو إيتاء الزكاة.
এর ব্যাখ্যা হলো, যা বিদ্যমান তা নতুন করে অর্জনের প্রয়োজনীয়তা থাকে না।

 

ষষ্ঠ দলিল: সূরা আত-তাওবাহ্-এর ১১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তারা যদি তওবা করে, নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে, তবে দ্বীনের মধ্যে তারা তোমাদের ভাই। আর আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি} [আত-তাওবাহ্: ১১]। এর ব্যাখ্যা হলো, আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের সাথে মুমিনদের ভ্রাতৃত্বের জন্য তিনটি শর্তারোপ করেছেন:

প্রথম: শিরক থেকে তওবা করা।

দ্বিতীয়: নামাজ কায়েম করা। অর্থাৎ, নামাজের সকল শর্ত মেনে তা আদায় করা। আর যে ব্যক্তি নামাজকে তার নির্ধারিত সময়ের বাইরে নিয়ে যায়, সে তা কায়েমকারী বলে গণ্য হবে না। আর যার জন্য মুমিনদের ভ্রাতৃত্ব সাব্যস্ত হলো না, সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত।(১)

 

সপ্তম দলিল: সূরা আল-কিয়ামাহ্-এর ৩১ ও ৩২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {সে তো বিশ্বাস করেনি এবং নামাজও পড়েনি। বরং সে অস্বীকার করেছে ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে} [আল-কিয়ামাহ্: ৩১, ৩২]। ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইসলাম হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা বিশ্বাস করা এবং তাঁর আদেশের আনুগত্য করার নির্দেশের নাম। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁকে বিশ্বাস করল না, সে কাফের; আর একইভাবে যে ব্যক্তি নামাজ বর্জনের মাধ্যমে তাঁর আদেশের আনুগত্য থেকে বিরত থাকল, সেও কাফের। আল্লাহ তাআলা এ দুটি বিষয়কে একত্রে উল্লেখ করেছেন, তাই এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করার কোনো অবকাশ নেই।

 

অষ্টম দলিল: সূরা আল-মুনাফিকুন-এর ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ না করে। আর যারা এরূপ করবে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত} [আল-মুনাফিকুন: ৯]। আতা ইবনে আবি রাবাহ বলেন, এখানে ‘আল্লাহর স্মরণ’ বলতে ফরয নামাজসমূহকে বোঝানো হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে চূড়ান্ত ক্ষতির ফয়সালা দিয়েছেন, যাকে তার সম্পদ, সন্তান বা দুনিয়ার অন্যান্য ব্যস্ততা আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করে রেখেছে। আর এই চূড়ান্ত ক্ষতি কেবল কাফেরদের জন্যই প্রযোজ্য। মহান আল্লাহ সূরা আয-যুমার-এ বলেন: {বলুন, ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের ও নিজেদের পরিবার-পরিজনের ক্ষতিসাধন করেছে। জেনে রেখো, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি} [আয-যুমার: ১৫]। আল্লাহ তাআলা এখানে (الخاسرون শব্দে) ‘আলিফ-লাম’ যোগ করে শব্দটিকে নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে, নামবাচক বাক্য (الجملة الإسمية), সীমাবদ্ধকরণ পদ্ধতি (صيغة الحصر) এবং পৃথককারী সর্বনাম (ضمير الفصل) অর্থাৎ (هم) ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত ক্ষতিকে সুনিশ্চিত করেছেন। ফলে তাদের জন্য চূড়ান্ত ক্ষতি সাব্যস্ত হয়েছে, যা কেবল কাফের ব্যতীত আর কারো ক্ষেত্রে হয় না।

নবম দলিল: সূরা আস-সাজদাহ্-এর ১৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে, যারা যখন...

--------------------------------------------

(১) লেখক এখানে তৃতীয় শর্তটির কথা উল্লেখ করেননি কারণ তা সুস্পষ্ট, আর তা হলো জাকাত প্রদান করা।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১২)
ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ} [السجدة: 15]، وبيان الاستدلال بهذه الآية أن الله تعالى حصر الإيمان بآياته في الذين إذا ذُكِّروا بالصلاة صلوا، فمن ذُكِّر بها ولم يسجد ولم يصلِّ فليس بمؤمن، وهذا من أحسن الاستدلال.

 

الدليل العاشر: قوله تعالى في سورة المرسلات رقم 48 و 49 {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ارْكَعُوا لَا يَرْكَعُونَ. وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ} [المرسلات: 48، 49]، قد شرحه الإمام ابن القيم بما لا يحتاج إلى مزيد.

* * *
{যাদেরকে যখন তা (আয়াতসমূহ) দ্বারা উপদেশ প্রদান করা হয়, তখন তারা সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে পবিত্রতা বর্ণনা করে আর তারা অহংকার করে না} [আস-সাজদাহ: ১৫]। এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনের (استدلال) ব্যাখ্যা হলো এই যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর নিদর্শনসমূহের ওপর ঈমান আনাকে কেবল ঐসব লোকেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন, যাদেরকে সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তারা সালাত আদায় করে। সুতরাং যাকে তা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও সে সিজদা করল না এবং সালাত আদায় করল না, সে মুমিন নয়; এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার দলিল উপস্থাপন (استدلال)।

 

দশম দলিল: সূরা আল-মুরসালাত-এর ৪৮ ও ৪৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তাদেরকে বলা হয় রুকু করো, তখন তারা রুকু করে না। সেই দিন সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য দুর্ভোগ} [আল-মুরসালাত: ৪৮, ৪৯]। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম এটি এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যার পর আর কোনো আলোচনার প্রয়োজন নেই।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الفصل الثاني

دلائل السنة على كفر تارك الصلاة

الدليل الأول: ما رواه مسلم في "صحيحه" عن جابر بن عبد الله، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ" رواه أهل السنن، وصححه الترمذي(1).

--------------------------------------------

(1) هذا حديث صحيح، وله طرق عن جابر:

الطريق الأول - أخرجه مسلم (82)، والترمذي (2618)، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (886)، وابن منده في "الإيمان" (219)، والبيهقي 3/ 365 - 366،

وفي "الشعب" (2536) من طريق جرير، والترمذي (2618) من طريق أبي معاوية، والترمذي (2619)، وأبو عوانة (173) من طريق أسباط بن محمد، وأحمد 3/ 370، والخلال في "السنة" (1376)، وأبو نعيم في "الحلية" 8/ 256 من طريق أبي إسحاق الفزاري، وابن أبي شيبة 11/ 33، وفي "الإيمان" (45)، وابن الأعرابي في "المعجم" (507) عن عبيدة بن حميد، وعبد الله بن أحمد في "السنة" (767)، والخلال في "السنة" (1375)، وأبو يعلى (2102)، والطحاوي في "شرح مشكل الآثار" (3175)، وأبو عوانة (174)،

وابن حبان (1453)، وإبراهيم بن عبد الصمد في "أماليه" (16)، وابن منده في "الإيمان" (219)، وابن بطة في "الإبانة الكبرى" (869)، واللالكائي في "شرح أصول الاعتقاد" (1515)، والخطيب في "تاريخ بغداد" 10/ 178 من طريق سفيان الثوري، وأبو يعلى (1953) من طريق إسماعيل بن زكريا، وأبو عوانة (173)، وابن منده في "الإيمان" (219) من طريق أبي عوانة، وأبو عوانة (177) من طريق محمد بن فضيل، وأبو نعيم في "الحلية" 8/ 121 من طريق فضيل بن عياض، والطبراني في "الأوسط" (5289)، وفي "الصغير" (799)، ومن طريقه الخطيب في "تاريخ بغداد" 3/ 377 من طريق هدبة بن المنهال، كلهم جميعا عن الأعمش، عن أبي سفيان، قال: سمعت جابرا، يقول: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول:

"إن بين الرجل وبين الشرك والكفر ترك الصلاة".

وفي لفظ "بين العبد وبين الكفر ترك الصلاة".

وفي لفظ "بين الكفر والإيمان ترك الصلاة".

وقال الترمذي:

"حديث حسن صحيح، وأبو سفيان اسمه: طلحة بن نافع".

الطريق الثاني - أخرجه مسلم (82)، والنسائي (464)، وفي "الكبرى" (328)، والدارمي (1233)، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (888)، والطحاوي في "شرح مشكل الآثار" (3178)، وأبو عوانة (171)، والآجري في "الشريعة" (266)، وابن الأعرابي (1465)، وابن منده في "الإيمان" (217)، والبيهقي 3/ 366، وفي "السنن الصغير" (560)، واللالكائي في "شرح أصول الاعتقاد" (1516) و (1517) من طريق ابن جريج،

وأبو داود (4678)، والترمذي (2620)، وابن ماجه (1078)، وعبد الرزاق (5009)، وابن أبي شيبة 11/ 33، وفي "الإيمان" (44)، وعبد بن حميد (1022) -المنتخب،

وعبد الله بن أحمد في "السنة" (768)، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (887)، والخلال في "السنة" (1373)، وأبو عوانة (172)، والطحاوي في "شرح مشكل الآثار" (3176)، وإبراهيم بن عبد الصمد في "أماليه" (15)، وابن منده في "الإيمان" (218)، وابن بطة في "الإبانة الكبرى" (868) و (870)، والقضاعي في "مسند الشهاب" (267)، وتمام في "الفوائد" (1292)، والدارقطني 2/ 396 و 398، والبغوي في "شرح السنة" (347) من طريق سفيان الثوري، وأحمد 3/ 389، واللالكائي في "شرح أصول الاعتقاد" (1513) من طريق موسى بن عقبة، وعبد الرزاق (5007)، وعنه عبد بن حميد (1043)، والمروزي (890) عن عمر بن زيد، والطحاوي في "شرح مشكل الآثار" (3177) من طرق ابن لهيعة، والآجري في "الشريعة" (267) من طريق ليث،

ستتهم عن أبي الزبير، أنه سمع جابر بن عبد الله يقول: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول:

"بين الرجل وبين الشرك والكفر ترك الصلاة".

الطريق الثالث - أخرجه أبو يعلى (1783)، وفي "المعجم" (179)، والمروزي (892)، والآجري في "الشريعة" (265)، والطبراني في "الصغير" (374)، والقضاعي في "مسند الشهاب" (266)، والبيهقي 3/ 366 عن أبي الربيع سليمان بن داود الزهراني قال: حدثنا حماد بن زيد، قال: حدثنا عمرو بن دينار، عن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"بين العبد وبين الكفر ترك الصلاة".

رجاله رجال الصحيحين، وإسناده على شرط مسلم، وقال الطبراني: تفرد به أبو الربيع. وليس كما قال رحمه الله تعالى، فقد قال البيهقي: وكذلك رواه محمد بن عبد الله

الرقاشي عن حماد بن زيد.

الطريق الرابع - أخرجه المروزي (893)، والخلال في "السنة" (1379)، وابن بطة في "الإبانة الكبرى" (876)، واللالكائي في "شرح أصول الاعتقاد" (1538) من طريق ابن إسحاق، قال: حدثني أبان بن صالح، عن مجاهد بن جبر أبي الحجاج، عن جابر بن عبد الله الأنصاري رضي الله عنه صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: قلت له: "ما كان يفرق بين الكفر والإيمان عندكم من الأعمال في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قال: الصلاة".

وهذا إسناد حسن.

الطريق الخامس - أخرجه عبد الرزاق في "المصنف" (5006) عن معمر، عن قتادة، أن جابر بن عبد الله قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم:

"ليس بين أحدكم وبين أن يكفر إلا أن يدع صلاة مكتوبة".

وهذا إسناد منقطع، قتادة لم يسمع من جابر رضي الله عنه.

وأخرجه الطبراني في "الأوسط" (4126)، وفي "مسند الشاميين" (2744) من طريق سعيد ابن بشير، عن قتادة، عن سليمان بن يسار، عن جابر بن عبد الله قال:

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"ما بين الرجل والشرك والكفر إلا ترك الصلاة".

وهذا إسناد ضعيف، قتادة مدلس، ونفى ابن معين سماعه من سليمان بن يسار.

وسعيد بن بشير: ضعيف.

الطريق السادس - أخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (889) حدثنا محمد بن يحيى، قال: حدثنا إسماعيل بن عبد الكريم الصنعاني، قال: حدثني إبراهيم بن عقيل بن معقل بن منبه، عن أبيه عقيل، عن وهب بن منبه، قال:

"هذا ما سألت عنه جابر بن عبد الله الأنصاري رضي الله عنهما فأخبرني سألته في المصلين من طواغيت؟ قال: لا وسألته: هل فيهم من مشرك؟ قال: لا، وأخبرني أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: بين الشرك والكفر ترك الصلاة. وسألته: أكانوا يدعون الذنوب شركا؟ قال: معاذ الله ولم يكن يدعون في المصلين مشركا".

وهب بن منبه: قال ابن معين: لم يلق جابر بن عبد الله إنما هو كتاب. وقال في موضع آخر: هو صحيفة ليست بشيء.

الطريق السابع - أخرجه أبو يعلى (2191) من طريق أبي أسامة، وأبو نعيم في "الحلية" 6/ 276 من طريق عبد الله بن رجاء البصري، كلاهما عن هشام بن حسان، عن الحسن، عن جابر، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"بين الرجل والكفر ترك الصلاة".

هشام بن حسان: في روايته عن الحسن وعطاء مقال لأنه قيل: كان يرسل عنهما كما في "التقريب"، وينظر "طبقات المدلسين" (110).

الطريق الثامن - أخرجه عبد الله بن أحمد في "السنة" (770) من طريق شيبان، والطبراني في "الأوسط" (7683) من طريق مندل بن علي، كلاهما عن ليث، عن عطاء، عن جابر،

عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:

"بين الرجل وبين الشرك أن يترك الصلاة وبين الرجل وبين الكفر أن يترك الصلاة".

وقال الطبراني:

"لم يرو هذا الحديث عن ليث، عن عطاء إلا مندل بن علي".

قلت: وليس كما قال رحمه الله تعالى، فقد توبع مندل عليه، تابعه شيبان بن عبد الرحمن، وليث هو ابن أبي سليم: ضعيف.

وله شاهد من حديث أنس بن مالك:

أخرجه ابن ماجه (1080)، وعبد الله بن أحمد في "السنة" (732)، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (897) و (898)، من طريق عمرو بن سعد، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (899) و (900)، وأبو يعلى (4100)، وابن بطة في "الإبانة الكبرى" (882) من طريق عكرمة بن عمار، كلاهما عن يزيد الرقاشي، عن أنس بن مالك، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: "ليس بين العبد والشرك إلا ترك الصلاة، فإذا تركها فقد أشرك".

وفي إسناده يزيد الرقاشي: ضعيف.

وله طريقان آخران عن أنس:

الطريق الأول - أخرجه ابن الأعرابي في "المعجم" (270) حدثنا محمد، حدثنا محمد بن عبد الرحمن العنبري، حدثنا أمية بن خالد، حدثنا همام، عن قتادة، عن أنس، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:

"ليس بين العبد والكفر إلا ترك الصلاة".

فيه عنعنة قتادة.

الطريق الثاني - أخرجه الطبراني في "الأوسط" (3348) حدثنا جعفر قال: حدثنا محمد بن أبي داود الأنباري قال: حدثنا هاشم بن القاسم، عن أبي جعفر الرازي، عن الربيع بن أنس،

عن أنس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"من ترك الصلاة متعمدا فقد كفر جهارا".

وقال الطبراني:

"لم يروه عن أبي جعفر الرازي إلا هاشم بن القاسم، تفرد به محمد بن أبي داود".

وقال الهيثمي في "المجمع" 1/ 295:

"رجاله موثقون، إلا محمد بن أبي داود، فإني لم أجد من ترجمه، وقد ذكر ابن حبان في الثقات محمد بن أبي داود البغدادي، فلا أدري هو هذا أم لا".

قلت: أبو جعفر الرازي عيسى بن ماهان: سيء الحفظ، وأما محمد بن أبي داود فهو أبو هارون محمد بن سليمان الأنباري من رجال أبي داود: صدوق.

وأبو النضر هاشم بن القاسم: خالفه ابن الجعد فرواه عن أبي جعفر، عن الربيع مرسلا كما في "العلل" (2446) للدارقطني، وقال:

"والمرسل أشبه بالصواب".
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

সালাত ত্যাগকারীর কুফরির বিষয়ে সুন্নাহর দলীলসমূহ

প্রথম দলীল: যা ইমাম মুসলিম তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:

"ব্যক্তি ও কুফরির মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো সালাত ত্যাগ করা।" এটি সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে সহীহ (صحيح) বলেছেন(১).

--------------------------------------------

(১) এটি একটি সহীহ (صحيح) হাদিস এবং জাবির (রা.) হতে এর একাধিক সূত্র (طرق) রয়েছে:

প্রথম সূত্র - এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (৮২), তিরমিজি (২৬১৮), মারওয়াযী তাঁর "তাযিমু কদরিস সালাত" (৮৮৬) গ্রন্থে, ইবনে মান্দাহ "আল-ইমান" (২১৯) গ্রন্থে, বায়হাকি ৩/৩৬৫-৩৬৬,

এবং "আশ-শুআব" (২৫৩৬) গ্রন্থে জারিরের সূত্রে, তিরমিজি (২৬১৮) আবু মুয়াবিয়ার সূত্রে, তিরমিজি (২৬১৯) ও আবু আওয়ানাহ (১৭৩) আসবাত বিন মুহাম্মদের সূত্রে, আহমাদ ৩/৩৭০, খাল্লাল "আস-সুন্নাহ" (১৩৭৬) গ্রন্থে, আবু নুয়াইম "আল-হিলয়াহ" ৮/২৫৬ গ্রন্থে আবু ইসহাক আল-ফাযারীর সূত্রে, ইবনে আবি শায়বাহ ১১/৩৩ এবং "আল-ইমান" (৪৫) গ্রন্থে, ইবনুল আরাবী "আল-মুজাম" (৫০৭) গ্রন্থে উবাইদাহ বিন হুমাইদের সূত্রে, আবদুল্লাহ বিন আহমাদ "আস-সুন্নাহ" (৭৬৭) গ্রন্থে, খাল্লাল "আস-সুন্নাহ" (১৩৭৫) গ্রন্থে, আবু ইয়ালা (২১০২), তহবি "শারহু মুশকিলিল আসার" (৩১৭৫) গ্রন্থে, আবু আওয়ানাহ (১৭৪),

ইবনে হিব্বান (১৪৫৩), ইব্রাহিম বিন আবদুস সামাদ তাঁর "আমালি" (১৬) গ্রন্থে, ইবনে মান্দাহ "আল-ইমান" (২১৯) গ্রন্থে, ইবনে বাত্তাহ "আল-ইবানাতুল কুবরা" (৮৬৯) গ্রন্থে, লালকায়ী "শারহু উসুলিল ইতিকাদ" (১৫১৫) গ্রন্থে, খতিব বাগদাদি "তারিখে বাগদাদ" ১০/১৭৮ গ্রন্থে সুফিয়ান সাওরির সূত্রে, আবু ইয়ালা (১৯৫৩) ইসমাইল বিন জাকারিয়ার সূত্রে, আবু আওয়ানাহ (১৭৩) ও ইবনে মান্দাহ "আল-ইমান" (২১৯) গ্রন্থে আবু আওয়ানাহর সূত্রে, আবু আওয়ানাহ (১৭৭) মুহাম্মদ বিন ফুদাইলের সূত্রে, আবু নুয়াইম "আল-হিলয়াহ" ৮/১২১ গ্রন্থে ফুদাইল বিন ইয়াদ-এর সূত্রে, তাবারানি "আল-আওসাত" (৫২৮৯) ও "আস-সগির" (৭৯৯) গ্রন্থে এবং তাঁর সূত্রে খতিব বাগদাদি "তারিখে বাগদাদ" ৩/৩৭৭ গ্রন্থে হুদবাহ বিন আল-মিনহালের সূত্রে; তাঁরা সকলেই আমাশ হতে, তিনি আবু সুফিয়ান হতে, তিনি বলেন: আমি জাবিরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি:

"নিশ্চয়ই ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরির মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো সালাত ত্যাগ করা।"

অন্য শব্দে রয়েছে: "বান্দা ও কুফরির মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো সালাত ত্যাগ করা।"

অন্য শব্দে রয়েছে: "কুফর ও ইমানের মাঝে ব্যবধান হলো সালাত ত্যাগ করা।"

ইমাম তিরমিজি বলেন:

"হাদিসটি হাসান (حسن) সহীহ (صحيح); আর আবু সুফিয়ানের নাম হলো তালহা বিন নাফে।"

দ্বিতীয় সূত্র - এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (৮২), নাসায়ি (৪৬৪) এবং "আল-কুবরা" (৩২৮) গ্রন্থে, দারেমি (১২৩৩), মারওয়াযী "তাযিমু কদরিস সালাত" (৮৮৮) গ্রন্থে, তহবি "শারহু মুশকিলিল আসার" (৩১৭৮) গ্রন্থে, আবু আওয়ানাহ (১৭১), আজুররি "আশ-শারিয়াহ" (২৬৬) গ্রন্থে, ইবনুল আরাবী (১৪৬৫), ইবনে মান্দাহ "আল-ইমান" (২১৭) গ্রন্থে, বায়হাকি ৩/৩৬৬ এবং "আস-সুনানুস সাগির" (৫৬০) গ্রন্থে, লালকায়ী "শারহু উসুলিল ইতিকাদ" (১৫১৬) ও (১৫১৭) গ্রন্থে ইবনে জুরাইজের সূত্রে,

আবু দাউদ (৪৬৭৮), তিরমিজি (২৬২০), ইবনে মাজাহ (১০৭৮), আবদুর রাজ্জাক (৫০০৯), ইবনে আবি শায়বাহ ১১/৩৩ এবং "আল-ইমান" (৪৪) গ্রন্থে, আবদ বিন হুমাইদ (১০২২) -আল-মুন্তাখাব,

আবদুল্লাহ বিন আহমাদ "আস-সুন্নাহ" (৭৬৮) গ্রন্থে, মারওয়াযী "তাযিমু কদরিস সালাত" (৮৮৭) গ্রন্থে, খাল্লাল "আস-সুন্নাহ" (১৩৭৩) গ্রন্থে, আবু আওয়ানাহ (১৭২), তহবি "শারহু মুশকিলিল আসার" (৩১৭৬) গ্রন্থে, ইব্রাহিম বিন আবদুস সামাদ "আমালি" (১৫) গ্রন্থে, ইবনে মান্দাহ "আল-ইমান" (২১৮) গ্রন্থে, ইবনে বাত্তাহ "আল-ইবানাতুল কুবরা" (৮৬৮) ও (৮৭০) গ্রন্থে, কুদায়ী "মুসনাদুশ শিহাব" (২৬৭) গ্রন্থে, তাম্মাম "আল-ফাওয়ায়িদ" (১২৯২) গ্রন্থে, দারেকুতনি ২/৩৯৬ ও ৩৯৮ এবং বাগাভী "শারহুস সুন্নাহ" (৩৪৭) গ্রন্থে সুফিয়ান সাওরির সূত্রে, আহমাদ ৩/৩৮৯, লালকায়ী "শারহু উসুলিল ইতিকাদ" (১৫১৩) গ্রন্থে মুসা বিন উকবার সূত্রে, আবদুর রাজ্জাক (৫০০৭) ও তাঁর সূত্রে আবদ বিন হুমাইদ (১০৪৩), মারওয়াযী (৮৯০) উমর বিন যায়েদ হতে, তহবি "শারহু মুশকিলিল আসার" (৩১৭৭) গ্রন্থে ইবনে লাহিয়াহর সূত্রে, আজুররি "আশ-শারিয়াহ" (২৬৭) গ্রন্থে লাইস-এর সূত্রে,

তাঁরা ছয়জনই আবু জুবায়ের হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি:

"ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরির মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো সালাত ত্যাগ করা।"

তৃতীয় সূত্র - এটি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা (১৭৮৩) এবং "আল-মুজাম" (১৭৯) গ্রন্থে, মারওয়াযী (৮৯২), আজুররি "আশ-শারিয়াহ" (২৬৫) গ্রন্থে, তাবারানি "আস-সগির" (৩৭৪) গ্রন্থে, কুদায়ী "মুসনাদুশ শিহাব" (২৬৬) গ্রন্থে, বায়হাকি ৩/৩৬৬ আবু রাবি সুলাইমান বিন দাউদ আল-যাহরানী হতে; তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন যায়েদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমর বিন দিনার বর্ণনা করেছেন জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) হতে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:

"বান্দা ও কুফরির মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো সালাত ত্যাগ করা।"

এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমের বর্ণনাকারী, আর এর সনদ (إسناد) মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী। তাবারানি বলেন: আবু রাবি একে এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে বিষয়টি তাঁর (রহ.) বক্তব্যের মতো নয়, কারণ বায়হাকি বলেছেন: একইভাবে মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-রাকাশীও হাম্মাদ বিন যায়েদ হতে এটি বর্ণনা করেছেন।

চতুর্থ সূত্র - এটি বর্ণনা করেছেন মারওয়াযী (৮৯৩), খাল্লাল "আস-সুন্নাহ" (১৩৭৯) গ্রন্থে, ইবনে বাত্তাহ "আল-ইবানাতুল কুবরা" (৮৭৬) গ্রন্থে, লালকায়ী "শারহু উসুলিল ইতিকাদ" (১৫৩৮) গ্রন্থে ইবনে ইসহাকের সূত্রে; তিনি বলেন: আমার নিকট আবান বিন সালিহ বর্ণনা করেছেন মুজাহিদ বিন জাবর আবু হাজ্জাজ হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবী জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারী (রা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: "রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে আমলসমূহের মধ্যে কোনটি আপনাদের নিকট কুফর ও ইমানের মাঝে পার্থক্যকারী হিসেবে বিবেচিত হতো? তিনি বললেন: সালাত।"

এই সনদটি (إسناد) হাসান (حسن)।

পঞ্চম সূত্র - আবদুর রাজ্জাক তাঁর "মুসান্নাফ" গ্রন্থে (৫০০৬) মা'মার হতে, তিনি কাতাদাহ হতে বর্ণনা করেন যে, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ বলেন: নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন:

"তোমাদের কারো কুফরিতে লিপ্ত হওয়ার মাঝে কেবল ফরজ সালাত ত্যাগ করাই অবশিষ্ট থাকে।"

এই সনদটি (إسناد) বিচ্ছিন্ন (منقطع); কাতাদাহ জাবির (রা.) হতে শোনেননি।

এবং তাবারানি এটি "আল-আওসাত" (৪১২৬) ও "মুসনাদুশ শামিয়্যিন" (২৭৪৪) গ্রন্থে সাঈদ বিন বাশীরের সূত্রে, তিনি কাতাদাহ হতে, তিনি সুলাইমান বিন ইয়াসার হতে, তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন:

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:

"মা বিন আর-রাজুলি ওয়াশ-শিরকি ওয়াল-কুফরি ইল্লা তারকুস সালাহ (ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরির মাঝে কেবল সালাত ত্যাগ করাই রয়েছে)।"

এই সনদটি (إسناد) দুর্বল (ضعيف); কাতাদাহ একজন মুদাল্লিস (مدلس), আর ইবনে মাঈন সুলাইমান বিন ইয়াসার হতে তাঁর শ্রবণকে অস্বীকার করেছেন।

আর সাঈদ বিন বাশীর: দুর্বল (ضعيف)।

ষষ্ঠ সূত্র - এটি বর্ণনা করেছেন মারওয়াযী "তাযিমু কদরিস সালাত" (৮৮৯) গ্রন্থে; আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাইল বিন আবদুল কারিম আস-সানআনী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট ইব্রাহিম বিন আকীল বিন মা'কিল বিন মুনাব্বিহ তাঁর পিতা আকীল হতে, তিনি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

"এটিই সেই বিষয় যা আমি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আল-আনসারী (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম এবং তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন। আমি তাঁকে মূর্তিপূজারীদের সাথে সালাত আদায়কারীদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তারা কি মুশরিক? তিনি বললেন: না। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: তাদের মধ্যে কি কেউ শিরককারী রয়েছে? তিনি বললেন: না। এবং তিনি আমাকে জানালেন যে, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: শিরক ও কুফরির মাঝে ব্যবধান হলো সালাত ত্যাগ করা। আমি তাঁকে আরও জিজ্ঞেস করলাম: তাঁরা কি গুনাহসমূহকে শিরক বলতেন? তিনি বললেন: আল্লাহর পানাহ! তাঁরা সালাত আদায়কারীদের মধ্যে কাউকে শিরককারী বলতেন না।"

ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ: ইবনে মাঈন বলেন: তিনি জাবির ইবনে আবদুল্লাহর সাক্ষাৎ পাননি, এটি কেবল কিতাব (লিখিত পাণ্ডুলিপি)। অন্য স্থানে তিনি বলেন: এটি একটি সহীফা (صحيفة), যা ধর্তব্য নয়।

সপ্তম সূত্র - এটি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা (২১৯১) আবু উসামার সূত্রে এবং আবু নুয়াইম "আল-হিলয়াহ" ৬/২৭৬ গ্রন্থে আবদুল্লাহ বিন রাজা আল-বসরীর সূত্রে; তাঁরা উভয়ই হিশাম বিন হাসসান হতে, তিনি হাসান (বসরী) হতে, তিনি জাবির হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:

"ব্যক্তি ও কুফরির মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো সালাত ত্যাগ করা।"

হিশাম বিন হাসসান: হাসান ও আতা হতে তাঁর বর্ণনার ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে, কেননা বলা হয়েছে যে, তিনি তাঁদের থেকে মুরসাল (يرسل) হিসেবে বর্ণনা করতেন, যেমনটি "তাকريب" গ্রন্থে এসেছে; বিস্তারিত দেখুন "তাবাকাতুল মুদাল্লিসীন" (১১০)।

অষ্টম সূত্র - এটি বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ "আস-সুন্নাহ" (৭৭০) গ্রন্থে শাইবান-এর সূত্রে এবং তাবারানি "আল-আওসাত" (৭৬৮৩) গ্রন্থে মানদাল বিন আলীর সূত্রে; তাঁরা উভয়ই লাইস হতে, তিনি আতা হতে, তিনি জাবির হতে,

নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেছেন:

"ব্যক্তি এবং শিরকের মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো সালাত ত্যাগ করা, আর ব্যক্তি ও কুফরির মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো সালাত ত্যাগ করা।"

তাবারানি বলেন:

"লাইস হতে, তিনি আতা হতে এই হাদিসটি কেবল মানদাল বিন আলী বর্ণনা করেছেন।"

আমি বলি: বিষয়টি তাঁর (রহ.) বক্তব্যের মতো নয়, কেননা মানদালের অনুসরণ (تابعه) করা হয়েছে; শাইবান বিন আবদুর রহমান তাঁর অনুসরণ করেছেন। আর লাইস হলেন ইবনে আবি সুলাইম: তিনি দুর্বল (ضعيف)।

আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর হাদিস হতে এর স্বপক্ষীয় বর্ণনা (شاهد) রয়েছে:

এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ (১০৮০), আবদুল্লাহ বিন আহমাদ "আস-সুন্নাহ" (৭৩২) গ্রন্থে, মারওয়াযী "তাযিমু কদরিস সালাত" (৮৯৭) ও (৮৯৮) গ্রন্থে আমর বিন সা'দের সূত্রে, মারওয়াযী "তাযিমু কদরিস সালাত" (৮৯৯) ও (৯০০) গ্রন্থে, আবু ইয়ালা (৪১০০), ইবনে বাত্তাহ "আল-ইবানাতুল কুবরা" (৮৮২) গ্রন্থে ইকরিমা বিন আম্মারের সূত্রে; তাঁরা উভয়ই ইয়াজিদ আল-রাকাশী হতে, তিনি আনাস ইবনে মালিক হতে, তিনি নবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি ইরশাদ করেছেন: "বান্দা ও শিরকের মাঝে কেবল সালাত ত্যাগ করাই রয়েছে; সুতরাং যখন সে তা ত্যাগ করল, সে শিরক করল।"

এর সনদে (إسناد) ইয়াজিদ আল-রাকাশী রয়েছেন: তিনি দুর্বল (ضعيف)।

আনাস (রা.) হতে এর আরও দুটি সূত্র (طريقان) রয়েছে:

প্রথম সূত্র - এটি বর্ণনা করেছেন ইবনুল আরাবী "আল-মুজাম" (২৭০) গ্রন্থে; আমাদের নিকট মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-আনবারি বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট উমাইয়াহ বিন খালিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট হাম্মাম বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ হতে, তিনি আনাস হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন:

"বান্দা ও কুফরির মাঝে কেবল সালাত ত্যাগ করাই রয়েছে।"

এতে কাতাদাহ-র আনাআনা (عنعنة) রয়েছে।

দ্বিতীয় সূত্র - এটি বর্ণনা করেছেন তাবারানি "আল-আওসাত" (৩৩৪৮) গ্রন্থে; আমাদের নিকট জাফর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আবি দাউদ আল-আনবারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাশিম বিন আল-কাসিম বর্ণনা করেছেন আবু জাফর আল-রাজি হতে, তিনি রবী বিন আনাস হতে,

তিনি আনাস ইবনে মালিক হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:

"যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করল, সে প্রকাশ্যে কুফরি করল।"

তাবারানি বলেন:

"আবু জাফর আল-রাজি হতে হাশিম বিন আল-কাসিম ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি, আর মুহাম্মদ বিন আবি দাউদ একে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।"

হায়সামি "আল-মাজমা" ১/২৯৫ গ্রন্থে বলেন:

"এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচিত (موثقون), তবে মুহাম্মদ বিন আবি দাউদ ব্যতীত; কেননা আমি তাঁর জীবনী খুঁজে পাইনি। অবশ্য ইবনে হিব্বান সিকাহ (الثقات) বর্ণনাকারীদের তালিকায় মুহাম্মদ বিন আবি দাউদ আল-বাগদাদির কথা উল্লেখ করেছেন; তবে আমি জানি না তিনি এই ব্যক্তি কি না।"

আমি বলি: আবু জাফর আল-রাজি ঈসা বিন মাহান: তিনি মন্দ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (سيء الحفظ); আর মুহাম্মদ বিন আবি দাউদ হলেন আবু হারুন মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-আনবারি, যিনি আবু দাউদের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত: তিনি সত্যবাদী (صدوق)।

আর আবুল নাদর হাশিম বিন আল-কাসিম: ইবনুল জা'দ তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং একে আবু জাফর হতে, তিনি রবী হতে মুরসাল (مرسلا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি দারেকুতনির "আল-ইলাল" (২৪৪৬) গ্রন্থে রয়েছে। তিনি বলেন:

"মুরসাল (المرسل) হওয়াই সঠিক হওয়ার অধিক নিকটবর্তী।"
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১২)
الدليل الثاني: ما رواه [بريدة بن الحصيب](1) الأسلمي، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقول: "الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ، فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ" رواه الإمام أحمد، وأهل السنن(2)، وقال الترمذي: "حديث صحيح".

إسناده على شرط مسلم.

--------------------------------------------

(1) في المطبوع (يزيد بن الحبيب) وهو تحريف.

(2) صحيح - أخرجه الترمذي (2621)، وابن ماجه (1079)، وأحمد 6/ 346، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (895) و (896)، والدارقطني 2/ 395، وابن المقرئ في "المعجم" (1046)، واللالكائي في "شرح أصول الاعتقاد" (1519) و (1520)، والحاكم 1/ 6 - 7، والبيهقي 3/ 366 عن علي بن الحسن بن شقيق، وابن أبي شيبة 11/ 34، وفي "الإيمان" (46)، واللالكائي في "شرح أصول الاعتقاد" (1518) عن يحيى بن واضح، والترمذي (2621)، والمروزي (894)، والنسائي (463)، وفي "الكبرى" (326)، وابن حبان (1454)، والحاكم 1/ 6 - 7، واللالكائي في "شرح أصول الاعتقاد" (1518)، وابن عبد البر في "التمهيد" 4/ 230 من طريق الفضل بن موسى، والترمذي (2621) من طريق علي بن الحسين بن واقد، وأحمد 5/ 355، وعنه ابنه عبد الله في "السنة" (769)، والخلال في "السنة" (1374)، والآجري في "الشريعة" (268)، وابن بطة في "الإبانة الكبرى" (874)، واللالكائي (1518)، والبيهقي 3/ 366، وفي "الشعب" (2538) عن زيد بن الحباب، خمستُهم عن الحسين بن واقد، حدثنا عبد الله بن بريدة، عن أبيه به.

وقال الترمذي: "حديث حسن صحيح غريب".

وقال الحاكم: "هذا حديث صحيح الإسناد لا تعرف له علة بوجه من الوجوه، فقد احتجا جميعا بعبد الله بن بريدة، عن أبيه، واحتج مسلم بالحسين بن واقد ولم يخرجاه بهذا اللفظ" وأقره الذهبي.

قلت: لم يحتج الإمام مسلم بالحسين بن واقد وهو أحد الثقات إنما أخرج له متابعة، وله طريق أخرى عن عبد الله بن بريدة:

أخرجه ابن عدي في "الكامل" 3/ 448، والدارقطني 2/ 395 من طريق العلاء بن عمران أبي عبد الرحمن، حدثنا خالد بن عبيد العتكي، حدثنا عبد الله بن بريدة، عن أبيه، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم، مثله سواء.

وإسناده ضعيف جدا، خالد بن عبيد العتكي: متروك.

ولم أجد للعلاء بن عمران ترجمة، وذكره ابن حبان في "المجروحين" 1/ 279 فيمن يروي عن خالد بن عبيد، وكذا المزي في "تهذيب الكمال" 8/ 125، والذهبي في "تاريخ الإسلام" 9/ 77.

تنبيه: قوله رواه أصحاب السنن، يوهم أن أبا داود أخرجه، ولم أجده في "سننه"، ولم يعزه المزي إليه في "تحفة الأشراف" (1960).
দ্বিতীয় দলিল: [বুরায়দাহ ইবনুল হাসিব](1) আল-আসলামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আমাদের ও তাদের মধ্যে যে অঙ্গীকার রয়েছে তা হলো সালাত; সুতরাং যে ব্যক্তি তা ত্যাগ করল, সে কুফরি করল।" ইমাম আহমাদ ও সুনান গ্রন্থকারগণ(2) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি বলেছেন: "সহিহ (صحيح) হাদিস।"

এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী।

--------------------------------------------

(1) মুদ্রিত কপিতে (ইয়াজিদ ইবনুল হাবিব) রয়েছে, যা একটি বিকৃতি।

(2) সহিহ (صحيح) - এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি (২৬২১), ইবনে মাজাহ (১০৭৯), আহমাদ ৬/৩৪৬, আল-মারওয়াজি 'তাযিমু কদরিস সালাত' (৮৯৫) ও (৮৯৬) গ্রন্থে, আদ-দারাকুতনি ২/৩৯৫, ইবনুল মুকরি 'আল-মু'জাম' (১০৪৬) গ্রন্থে, আল-লালকায়ি 'শারহু উসুলিল ই'তিকদ' (১৫১৯) ও (১৫২০) গ্রন্থে, আল-হাকিম ১/৬-৭, আল-বাইহাকি ৩/৩৬৬ আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকিক-এর সূত্রে, ইবনে আবি শাইবা ১১/৩৪ এবং 'আল-ইমান' (৪৬) গ্রন্থে, আল-লালকায়ি 'শারহু উসুলিল ই'তিকদ' (১৫১৮) ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াদিহ-এর সূত্রে, তিরমিজি (২৬২১), আল-মারওয়াজি (৮৯৪), আন-নাসাঈ (৪৬৩) এবং 'আল-কুবরা' (৩২৬) গ্রন্থে, ইবনে হিব্বান (১৪৫৪), আল-হাকিম ১/৬-৭, আল-লালকায়ি 'শারহু উসুলিল ই'তিকদ' (১৫১৮), ইবনে আব্দুল বার 'আত-তামহিদ' ৪/২৩০ গ্রন্থে আল-ফাদল ইবনে মুসা-এর সূত্রে, তিরমিজি (২৬২১) আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ-এর সূত্রে, আহমাদ ৫/৩৫৫ এবং তার থেকে তার পুত্র আব্দুল্লাহ 'আস-সুন্নাহ' (৭৬৯) গ্রন্থে, আল-খাল্লাল 'আস-সুন্নাহ' (১৩৭৪) গ্রন্থে, আল-আজুরি 'আশ-শারিয়াহ' (২৬৮) গ্রন্থে, ইবনে বাত্তাহ 'আল-ইবানাতুল কুবরা' (৮৭৪) গ্রন্থে, আল-লালকায়ি (১৫১৮), আল-বাইহাকি ৩/৩৬৬ এবং 'আশ-শুআব' (২৫৩৮) গ্রন্থে যাইদ ইবনুল হুবাব-এর সূত্রে; তাঁরা পাঁচজনই আল-হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দাহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

তিরমিজি বলেছেন: "হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) গারিব (غريب) হাদিস।"

আল-হাকিম বলেছেন: "এই হাদিসের সনদ সহিহ (صحيح الإسناد), এর কোনো ত্রুটি (علة) কোনোভাবেই জানা যায় না। তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) উভয়েই আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দাহ-এর সূত্রে তার পিতা থেকে দলিল গ্রহণ করেছেন এবং মুসলিম হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ-এর সূত্রে দলিল গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তাঁরা এই শব্দে হাদিসটি বর্ণনা করেননি।" আয-যাহাবি একে সমর্থন করেছেন।

আমি বলব: ইমাম মুসলিম হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ-এর সূত্রে দলিল গ্রহণ করেননি, যদিও তিনি নির্ভরযোগ্য (الثقات) রাবিদের অন্তর্ভুক্ত; বরং তিনি তার বর্ণনা কেবল মুতাবাআত (متابعة) হিসেবে এনেছেন। আর আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দাহ থেকে এর অন্য একটি সূত্র রয়েছে:

ইবনে আদি 'আল-কামিল' ৩/৪৪৮ গ্রন্থে এবং আদ-দারাকুতনি ২/৩৯৫ গ্রন্থে আল-আলা ইবনে ইমরান আবু আব্দুর রহমান-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালিদ ইবনে উবাইদ আল-আতাকি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে বুরায়দাহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুনেছি—অনুরূপ।

এবং এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا), খালিদ ইবনে উবাইদ আল-আতাকি: বর্জনীয় (متروك)।

আমি আল-আলা ইবনে ইমরানের কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি। ইবনে হিব্বান 'আল-মাজরুহিন' ১/২৭৯ গ্রন্থে খালিদ ইবনে উবাইদ থেকে বর্ণনাকারীদের তালিকায় তার উল্লেখ করেছেন; অনুরূপভাবে আল-মিযযি 'তাহযিবুল কামাল' ৮/১২৫ গ্রন্থে এবং আয-যাহাবি 'তারিখুল ইসলাম' ৯/৭৭ গ্রন্থে তার কথা উল্লেখ করেছেন।

সতর্কবার্তা: তাঁর উক্তি "সুনান গ্রন্থকারগণ এটি বর্ণনা করেছেন" দ্বারা বোঝা যায় যে আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন; কিন্তু আমি তার 'সুনান'-এ এটি খুঁজে পাইনি এবং আল-মিযযি 'তুহফাতুল আশরাফ' (১৯৬০)-এ এটি তার দিকে সম্বন্ধ করেননি।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১২)
الدليل الثالث: ما رواه ثوبان مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقول: "بين العبد وبين الكفر والإيمان الصلاة فإذا تركها فقد أشرك" رواه هبة الله الطبري، وقال: "إسناده صحيح على شرط مسلم"(1).

--------------------------------------------

(1) إسناده ضعيف - أخرجه اللالكائي في "شرح أصول الاعتقاد" (1521) أخبرنا محمد بن الحسين الفارسي، قال: حدثنا محمد بن بكار بن إسحاق الدمشقي السكسكي، قال: أخبرنا شعيب بن إسحاق الدمشقي، قال: حدثنا أبو المغيرة، قال: حدثنا الأوزاعي، قال: حدثنا الوليد بن هشام، قال: حدثنا معدان بن أبي طلحة، قال: قلت لثوبان مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم: حدثنا حديثا ينفعنا الله به فسكت فقلت: حدثنا حديثا ينفعنا الله به قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقول: فذكره.

وقال العجلوني في " كشف الخفاء" 1/ 337:

"إسناد صحيح".

قلت: بل إسناده ضعيف، محمد بن الحسين الفارسي: ترجمه ابن عساكر في "تاريخ دمشق" 52/ 359 - 360، ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا.

ومحمد بن بكار بن يزيد السكسكي: قاضي بيت لِهْيا، هذا كل ما ذكره ابن عساكر في ترجمته من "تاريخ دمشق" 52/ 157 - 159، وكذا الذهبي في "تاريخ الإسلام" 7/ 663.
তৃতীয় প্রমাণ: যা বর্ণনা করেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস সাওবান (রা.), তিনি বলেছেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "বান্দা এবং কুফর ও ইমানের মাঝে পার্থক্য হলো সালাত; সুতরাং যদি সে তা ত্যাগ করে তবে সে শিরক করল।" এটি হিবাতুল্লাহ আত-তাবারী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এর সনদ (إسناد) মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيح)"(1).

--------------------------------------------

(1) এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف) - আল-লালকাঈ এটি 'শারহু উসুলিল ইতিকাদ' (১৫২১) গ্রন্থে সংকলন করেছেন; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আল-ফারিসি, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন বাক্কার বিন ইসহাক আদ-দিমাশকি আস-সাকসাকি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: শুআইব বিন ইসহাক আদ-দিমাশকি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আল-মুগিরা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-আওজাই আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-ওয়ালিদ বিন হিশাম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মা'দান বিন আবি তালহা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস সাওবানকে বললাম: আমাদের কাছে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করুন যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের উপকৃত করবেন। তিনি চুপ থাকলেন, আমি আবার বললাম: আমাদের কাছে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করুন যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের উপকৃত করবেন। তিনি বললেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি... অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করেন।

আল-আজলুনি 'কাশফুল খাফা' (১/৩৩৭) গ্রন্থে বলেছেন:

"সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)"।

আমি বলছি: বরং এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)। মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আল-ফারিসি: ইবনে আসাকির 'তারিখ দামেশক' (৫২/৩৫৯-৩৬০)-এ তার জীবনী আলোচনা করেছেন, কিন্তু তার ব্যাপারে কোনো সমালোচনা (جرح) বা প্রশংসা (تعديل) উল্লেখ করেননি।

এবং মুহাম্মাদ বিন বাক্কার বিন ইয়াজিদ আস-সাকসাকি: তিনি বায়ত লিহ্ইয়ার বিচারক ছিলেন; ইবনে আসাকির 'তারিখ দামেশক' (৫২/১৫৭-১৫৯)-এ তার জীবনীতে শুধু এটুকুই উল্লেখ করেছেন। একইভাবে আজ-জাহাবি 'তারিখুল ইসলাম' (৭/৬৬৩)-এ এটিই উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
الدليل الرابع: ما رواه عبد الله بن عمرو بن العاص، عن النبي صلى الله عليه وسلم، أنه ذكر الصلاة يوما، فقال: "مَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا؟ كَانَتْ لَهُ نُورًا، وَبُرْهَانًا، وَنَجَاةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ نُورٌ، وَلَا بُرْهَانٌ، وَلَا نَجَاةٌ، وَكَانَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ قَارُونَ، وَفِرْعَوْنَ، وَهَامَانَ، وَأُبَيِّ بْنِ خَلَفٍ"(1) رواه الإمام أحمد في "مسنده"، وأبو حاتم بن حبان في "صحيحه"، وإنما خصّ هؤلاء الأربعة بالذكر لأنهم من رؤوس الكفرة.

وفيه نكتة بديعة وهو أن تارك المحافظة على الصلاة إما أن يشغله ماله أو ملكه أو رياسته أو تجارته، فمن شغله عنها ماله فهو مع قارون، ومن شغله عنها ملكه فهو مع فرعون، ومن شغله عنها رياسته، ووزارته فهو مع هامان، ومن شغله عنها تجارته فهو مع أبيّ بن خلف.

--------------------------------------------

(1) إسناده حسن - أخرجه أحمد 2/ 169، وعنه ابنه عبد الله في "السنة" (782)، والخلال في "السنة" (1196)، وأبو يعلى كما في "إتحاف الخيرة" (766)، وعبد بن حميد (353) - المنتخب، والدارمي (2721)، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (58)، والطحاوي في "شرح مشكل الآثار" (3180) و (3181)، وابن حبان (1467)، والطبراني 13/ (163)، وفي "الأوسط" (1767)، وفي "مسند الشاميين" (245)، والآجري في "الشريعة" (275) و (276)، وابن بطة في "الإبانة الكبرى" (895)، وابن شاهين في "فضائل الأعمال" (59)، والبيهقي في "الشعب" (2565)، والضياء في "حديث ابن المقرئ" (26) من طرق عن سعيد بن أبي أيوب، حدثني كعب بن علقمة، عن عيسى بن هلال الصدفي، عن عبد الله بن عمرو به.

وفي "شرح مشكل الآثار" (3180) ابن لهيعة مقرونا بسعيد بن أبي أيوب، وإسناده حسن، عيسى بن هلال الصدفي: روى عنه جمع، وذكره البخاري في "التاريخ الكبير" 6/ 385 - 386، وابن أبي حاتم في "الجرح والتعديل" 6/ 290، ولم يذكرا فيه جرحا ولا تعديلا، وذكره يعقوب بن سفيان في ثقات التابعين من أهل مصر من "المعرفة والتاريخ" 2/ 515، ووثقه ابن حبان 5/ 213، وحسّن الترمذي إسناد حديث هو أحد رجاله، وباقي رجاله ثقات.
চতুর্থ দলিল: আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা তিনি নামাজের আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "যে ব্যক্তি নামাজের পাবন্দি করবে, কেয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর, দলিল ও নাজাতের মাধ্যম হবে। আর যে ব্যক্তি নামাজের পাবন্দি করবে না, তার জন্য কোনো নূর, দলিল ও নাজাত থাকবে না; বরং কেয়ামতের দিন সে কারুন, ফেরাউন, হামান ও উবাই বিন খালাফের সঙ্গী হবে।"(১) ইমাম আহমদ এটি তাঁর মুসনাদ-এ এবং আবু হাতেম ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ-তে বর্ণনা করেছেন। বিশেষভাবে এই চারজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে কারণ তারা কুফরের হোতাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এতে একটি চমৎকার সূক্ষ্ম রহস্য রয়েছে; আর তা হলো, নামাজ ত্যাগের কারণ সাধারণত কারও সম্পদ, রাজত্ব, নেতৃত্ব অথবা ব্যবসা হয়ে থাকে। সুতরাং যার সম্পদ তাকে নামাজ থেকে বিমুখ রাখবে, সে কারুনের সাথে থাকবে। যার রাজত্ব তাকে বিরত রাখবে, সে ফেরাউনের সাথে থাকবে। যার নেতৃত্ব ও মন্ত্রিত্ব তাকে ব্যস্ত রাখবে, সে হামানের সাথে থাকবে। আর যার ব্যবসা তাকে বিরত রাখবে, সে উবাই বিন খালাফের সাথে থাকবে।

--------------------------------------------

(১) এর সনদটি হাসান (حسن) - এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ ২/১৬৯; তাঁর থেকে তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ 'আস-সুন্নাহ' (৭৮২)-এ, আল-খাল্লাল 'আস-সুন্নাহ' (১১৯৬)-এ, আবু ইয়ালা যেমনটি 'ইতহাফুল খিয়ারা' (৭৬৬)-এ রয়েছে, আবদ বিন হুমাইদ (৩৫৩) - আল-মুনতাখাব, আদ-দারিমি (২৭২১), আল-মারওয়াজি 'তা’জিমু কদরিস সালাত' (৫৮)-এ, আত-তহাবি 'শারহু মুশকিলিল আসার' (৩১৮০) ও (৩১৮১)-এ, ইবনে হিব্বান (1467), আত-তাবারানি ১৩/ (১৬৩), 'আল-আওসাত' (১৭৬৭) ও 'মুসনাদুশ শামিয়্যিন' (২৪৫)-এ, আল-আজুরি 'আশ-শারিয়াহ' (২৭৫) ও (২৭৬)-এ, ইবনে বাত্তাহ 'আল-ইবানাতুল কুবরা' (৮৯৫)-এ, ইবনে শাহীন 'ফাদায়িলুল আমাল' (৫৯)-এ, আল-বাইহাকি 'আশ-শুআব' (২৫৬৫)-এ এবং আদ-দিয়া 'হাদিসু ইবনিল মুকরী' (২৬)-এ সাঈদ বিন আবি আইয়ুব থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি (সাঈদ) বলেন: আমাকে কাব বিন আলকামা বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন হিলাল আস-সাদাফি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে।

'শারহু মুশকিলিল আসার' (৩১৮০)-এ ইবনে লাহিয়া-এর বর্ণনা সাঈদ বিন আবি আইয়ুব-এর সাথে যুক্ত অবস্থায় এসেছে এবং এর সনদ হাসান (حسن)। ঈসা বিন হিলাল আস-সাদাফি: একদল বর্ণনাকারী তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন; ইমাম বুখারি 'আত-তারিখুল কাবীর' ৬/৩৮৫-৩৮৬ গ্রন্থে এবং ইবনে আবি হাতেম 'আল-জারহ ওয়াত তা’দিল' ৬/২৯০ গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন, তবে তাঁরা সেখানে কোনো সমালোচনা (جرح) কিংবা প্রশংসা (تعديل) উল্লেখ করেননি। ইয়াকুব বিন সুফিয়ান 'আল-মারিফাত ওয়াত তারিখ' ২/৫১৫ গ্রন্থে তাঁকে মিসরের নির্ভরযোগ্য (ثقات) তাবেয়িদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইবনে হিব্বান ৫/২১৩ গ্রন্থে তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন এবং ইমাম তিরমিজি এমন একটি হাদিসের সনদকে হাসান (حسن) বলেছেন যার একজন বর্ণনাকারী তিনি; আর ওই সনদের বাকি বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য (ثقات)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
الدليل الخامس: ما رواه عبادة بن الصامت قال: أوصانا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: "لا تشركوا بالله شيئا، ولا تتركوا الصلاة عمدا، فمن تركها عمدا متعمدا، فقد خرج من الملة"(1) رواه عبد الرحمن بن أبي حاتم في "سننه".

--------------------------------------------

(1) إسناده ضعيف - أخرجه البخاري في "التاريخ الكبير" 4/ 75، وابن عبد الحكم في "فتوح مصر" (ص 300)، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (920)، والطبري في "تهذيب الآثار" (686) - مسند عمر، والشاشي في "مسنده" (1309)، وابن أبي حاتم في "التفسير" (5290) و (8058)، ومن طريقه اللالكائي في "شرح أصول الاعتقاد" (1522)، والطبراني كما في "جامع المسانيد والسنن" (4867)، و"مجمع الزوائد" 4/ 216، والخطيب البغدادي في "تلخيص المتشابه" 2/ 661، والضياء في "المختارة" (350) و (351) تاما ومختصرا من طريق سعيد بن أبي مريم، أخبرنا نافع بن يزيد، حدثني سيار بن عبد الرحمن، عن يزيد بن قوذر، عن سلمة بن شريح، عن عبادة بن الصامت، قال:

"أوصانا رسول الله صلى الله عليه وسلم بسبع خلال فقال: لا تشركوا بالله شيئا وإن قطعتم وصلبتم، ولا تتركوا الصلاة متعمدين فمن تركها متعمدا فقد خرج من الملة، ولا تركبوا المعصية فإنها سخط الله، ولا تقربوا الخمر فإنها رأس الخطايا، ولا تفروا من الموت والقتل وإن كنتم في فيه، ولا تعص والديك وإن أمراك أن تخرج من الدنيا كلها فاخرج، ولا تضع عصاك عن أهلك وأنصفهم من نفسك" والسياق للشاشي، وعند ابن الحكم ابن لهيعة مقرونا بسعيد بن أبي مريم.

وقال البخاري:

"لا يعرف إسناده".

فتعقبه ابن ماكولا في "تهذيب مستمر الأوهام" (ص 278)، بقوله:

"ابن يونس أعرف بأهل بلده وكان قوله الأشبه وعليه التعويل فيما يورد عن تلك الأعمال".

قلت: يصحّ هذا لو كان البخاري قاله في ترجمة يزيد بن قوذر، أمَا إنه قاله في ترجمة سلمة بن شريح فله وجهه كما لا يخفى، ولهذا قال الذهبي في "الميزان" 2/ 190:

"سلمة بن شريح، عن عبادة بن الصامت: لا يعرف".

وأما ابن حبان فعلى عادته ذكره في "الثقات" 4/ 318!
পঞ্চম দলীল: উবাদাহ ইবন সামিত (রাযি.) বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের অসিয়ত করেছেন এবং বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না এবং ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বর্জন করো না। কেননা যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বর্জন করল, সে মিল্লাত (দ্বীন) থেকে বের হয়ে গেল।" এটি আবদুর রহমান ইবন আবি হাতিম তার 'সুনান' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف) - এটি বুখারী 'আত-তারিখ আল-কাবির' (৪/৭৫), ইবন আবদিল হাকাম 'ফুতুহ মিসর' (পৃ. ৩০০), মারওয়াযি 'তা'জিমু কদরিস সালাহ' (৯২০), তাবারী 'তাহজিবুল আসার' (৬৮৬) - মুসনাদে উমর, শাশী তার 'মুসনাদ' (১৩০৯), ইবন আবি হাতিম তার 'আত-তাফসির' (৫২৯০) ও (৮০৫৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তার সূত্রে লালকায়ি 'শারহু উসুলিল ই'তিকাদ' (১৫২২), তাবারানি 'জামি'ুল মাসানিদ ওয়াস সুনান' (৪৮৬৭) ও 'মাজমাউয যাওয়াইদ' (৪/২১৬), খতিব বাগদাদী 'তালখিসুল মুতাশাবিহ' (২/৬৬১) এবং যিয়া আল-মাকদিসি 'আল-মখতারা' (৩৫০) ও (৩৫১) গ্রন্থে পূর্ণাঙ্গ ও সংক্ষিপ্ত আকারে সাঈদ ইবন আবি মারিয়াম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নাফে' ইবন ইয়াযিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাইয়্যার ইবন আবদুর রহমান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবন কুজার থেকে, তিনি সালামাহ ইবন শুরাইহ থেকে, তিনি উবাদাহ ইবন সামিত (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেন:

"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সাতটি বৈশিষ্ট্যের অসিয়ত করেছেন। তিনি বলেছেন: তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না, যদিও তোমাদের কেটে টুকরো করা হয় অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। আর তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বর্জন করো না, কারণ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তা বর্জন করবে সে মিল্লাত (দ্বীন) থেকে বের হয়ে যাবে। আর কোনো পাপে লিপ্ত হয়ো না, কারণ তা আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ। আর মদ্যপানের নিকটবর্তী হয়ো না, কারণ তা সকল পাপাচারের মূল। আর মৃত্যু ও যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হওয়ার ভয় থেকে পলায়ন করো না যদিও তোমরা ধ্বংসের মুখে থাক। আর তোমার পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ো না যদিও তারা তোমাকে তোমার যাবতীয় পার্থিব সম্পদ ত্যাগ করে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, তবুও তুমি বেরিয়ে যাও। আর তোমার পরিবারের শাসনের ক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শন করো না এবং তাদের প্রতি ইনসাফ করো।" এই বর্ণনাশৈলীটি শাশী-এর। ইবন আবদিল হাকামের বর্ণনায় ইবন লাহিয়া-এর নাম সাঈদ ইবন আবি মারিয়ামের সাথে একত্রে বর্ণিত হয়েছে।

বুখারী বলেছেন:

"এর সনদ (إسناد) অপরিচিত (لا يعرف)।"

ইবন মাকুলা 'তাহজিবু মুস্তামিররিল আওহাম' (পৃ. ২৭৮) গ্রন্থে এর সমালোচনা করে বলেছেন:

"ইবন ইউনুস তার নিজ দেশের অধিবাসীদের সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন এবং তার বক্তব্যই অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ, আর ওই অঞ্চলের বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে তারই ওপর নির্ভর করা হয়।"

আমি বলছি: এটি সঠিক হতো যদি বুখারী এটি ইয়াজিদ ইবন কুজারের জীবনীতে বলতেন। কিন্তু তিনি এটি সালামাহ ইবন শুরাইহের জীবনীতে বলেছেন, যার একটি সুনির্দিষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে যা অস্পষ্ট নয়। এজন্যই যাহাবি 'আল-মিজান' (২/১৯০) গ্রন্থে বলেছেন:

"সালামাহ ইবন শুরাইহ, উবাদাহ ইবন সামিত থেকে: তিনি অপরিচিত (لا يعرف)।"

আর ইবন হিব্বান তার চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী তাকে 'নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী (الثقات)' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (৪/৩১৮)!
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
الدليل السادس: ما رواه معاذ بن جبل قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من ترك صلاة مكتوبة متعمدا فقد برئت منه ذمة الله"(1) رواه الإمام أحمد، ولو كان باقيا على إسلامه لكانت له ذمة الإسلام.

--------------------------------------------

(1) حسن - أخرجه أحمد 5/ 238 حدثنا أبو اليمان، أخبرنا إسماعيل بن عياش، عن صفوان بن عمرو، عن عبد الرحمن بن جبير بن نفير الحضرمي، عن معاذ، قال:

"أوصاني رسول الله صلى الله عليه وسلم بعشر كلمات قال: "لا تشرك بالله شيئا وإن قتلت وحرقت، ولا تعقن والديك، وإن أمراك أن تخرج من أهلك ومالك، ولا تتركن صلاة مكتوبة متعمدا، فإن من ترك صلاة مكتوبة متعمدا فقد برئت منه ذمة الله، ولا تشربن خمرا، فإنه رأس كل فاحشة، وإياك والمعصية فإن بالمعصية حل سخط الله عز وجل، وإياك والفرار من الزحف وإن هلك الناس، وإذا أصاب الناس موتان وأنت فيهم فاثبت، وأنفق على عيالك من طولك، ولا ترفع عنهم عصاك أدبا وأخفهم في الله".

وقال الهيثمي في "المجمع" 4/ 215:

"عبد الرحمن بن جبير بن نفير لم يسمع من معاذ".

وأخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (921)، والطبراني 20/ (156)، وفي "الأوسط" (7956)، وفي "مسند الشاميين" (2204)، وعنه أبو نعيم في "الحلية" 9/ 306 من طريق عمرو بن واقد، عن يونس بن حلبس، عن أبي إدريس الخولاني، عن معاذ.

وإسناده ضعيف جدا، عمرو بن واقد: متروك، وتحرّف في مطبوع الحلية إلى هارون بن واقد!

وأخرجه الطبراني 20/ (233) و (234) من طريق بقية بن الوليد، حدثني أبو بكر بن أبي مريم قال: سمعت حريث بن عمرو الحضرمي يحدث، عن معاذ بن جبل، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له: "يا معاذ بن جبل، من ترك الصلاة فقد برئت منه الذمة".

وفي لفظ "من ترك الصلاة متعمدا".

وإسناده ضعيف جدا، أبو بكر بن عبد الله بن أبي مريم: قال الدارقطني: متروك.

وله شواهد من حديث أميمة مولاة النبي صلى الله عليه وسلم، وأم أيمن، وعمر بن الخطاب، وأبي الدرداء.

أما حديث أميمة مولاة النبي صلى الله عليه وسلم:

فأخرجه ابن أبي عاصم في "الآحاد والمثاني" (3447)، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (912)، والطبراني 24/ (479)، والحاكم 4/ 41، وأبو نعيم في "معرفة الصحابة" (7518) تاما ومختصرا من طريق يزيد بن سنان، عن سليم بن عامر أبي يحيى، عن جبير بن نفير، عن أميمة مولاة رسول الله صلى الله عليه وسلم، قالت:

"كنت أصب على رسول الله صلى الله عليه وسلم وضوءه فدخل رجل فقال: أوصني، فقال: لا تشرك بالله شيئا، وإن قطعت وحرقت بالنار، ولا تعصين والديك وإن أمراك أن تخلي عن أهلك ودنياك فتخله، ولا تشربن خمرا فإنها رأس كل شر، ولا تتركن صلاة متعمدا، فمن فعل ذلك برئت منه ذمة الله وذمة رسوله، ولا تفرن يوم الزحف، فمن فعل ذلك باء بسخط من الله، ومأواه جهنم وبئس المصير، ولا تزدادن في تخوم أرضك فمن فعل ذلك يأتي به على رقبته يوم القيامة

من مقدار سبع أرضين، وأنفق على أهلك من طولك، ولا ترفع عصاك عنهم، وأخفهم في الله".

وقال الذهبي:

"سنده واه".

قلت: يزيد بن سنان الرهاوي: ضعيف.

وأما حديث أم أيمن:

فأخرجه أحمد 6/ 421 عن الوليد بن مسلم، وعبد بن حميد (1594) - المنتخب: عن عمر بن سعيد الدمشقي، والبيهقي 7/ 304، وفي "الشعب" (7481) من طريق بشر بن بكر، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (913)، وأبو يعلى كما في "المطالب العالية" (2533)، وابن عساكر في "تاريخ دمشق" 35/ 325 - 326 و 60/ 199 من طريق أبي مسهر عبد الأعلى بن مسهر الغساني، والخطيب البغدادي في "الجامع لأخلاق الراوي" (1700) من طريق يحيى بن صالح الوحاظي، خمستُهم تاما ومختصرا عن سعيد بن عبد العزيز التنوخي، عن مكحول، عن أم أيمن، أنها سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يوصي بعض أهله، فقال:

"لا تشرك بالله شيئا وإن قطعت أو حرقت بالنار، ولا تفر يوم الزحف فإن أصاب الناس موت وأنت فيهم فاثبت، وأطع والديك، وإن أمراك أن تخرج من مالك، ولا تترك الصلاة متعمدا، فإنه من ترك الصلاة متعمدا، فقد برئت منه ذمة الله، إياك والخمر فإنها مفتاح كل شر، وإياك والمعصية فإنها تسخط الله، لا تنازع الأمر أهله، وإن رأيت أن لك، أنفق على أهلك من طولك، ولا ترفع عصاك عنهم، وأخفهم في الله عز وجل".

وهذا إسناد منقطع، قال البيهقي: "في هذا إرسال بين مكحول وأم أيمن".

وأخرجه ابن عساكر في "تاريخ دمشق" 62/ 224 من طريق إبراهيم بن زبريق، عن إسماعيل ابن عياش، حدثنا عبيد الله بن عبيد الكلاعي، عن مكحول وسليمان بن موسى، عن أم أيمن به.

وقال الألباني في "الإرواء" 7/ 90:

"وإبراهيم هذا لم أجد له ترجمة".

قلت: إبراهيم بن العلاء بن الضحاك بن زبريق: مستقيم الحديث، مترجم في "تهذيب الكمال" 2/ 161، وسليمان بن موسى هو الدمشقي، الأشدق: قال العلائي في

"جامع التحصيل" (ص 190):

"قال البخاري: لم يدرك سليمان أحدا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم ذكره الترمذي عنه في العلل".

وقال ابن عساكر:

"وقد روي عن مكحول من وجه آخر مرسلا".

ثم أخرجه في "تاريخه" 60/ 199 - 200 من طريق الحسين المروزي (وهو في زياداته على "البر والصلة" لابن المبارك (106)) حدثنا سفيان بن عيينة، عن يزيد بن يزيد بن جابر، قال: سمعت مكحولا، يقول: أوصى رسول الله صلى الله عليه وسلم بعض أهله فقال: فذكره مرسلا.

وأخرجه العدني في "الإيمان" (33) حدثنا سفيان، عن ابن عجلان، ويزيد بن يزيد بن جابر، سمعا مكحولا، يقول:

"أوصى النبي صلى الله عليه وسلم بعض أهله، فقال: ولا تتركن صلاة متعمدا، فإنه من ترك صلاة مكتوبة متعمدا فقد برئت منه ذمة الله".

وله طرق عن مكحول يرويه مرسلا:

أ - أخرجه عبد الرزاق في "المصنف" (5008) عن محمد بن راشد، أنه سمع مكحولا، يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"من ترك الصلاة متعمدا فقد برئت منه ذمة الله".

وهذا مرسل جيد، محمد بن راشد هو الخزاعي: صدوق.

ب - أخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (917) من طريق محمد بن إسحاق، عن مكحول، قال:

"أوصى رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما أوصى فقال: لا تشرك بالله شيئا وإن قتلت أو حرقت، ولا تترك الصلاة عمدا فإنه من تركها عمدا برئت منه ذمة الله تعالى".

وأخرجه الخلال في "السنة" (1396) من طريق ابن إسحاق، وفيه "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال للفضل بن العباس وهو يعظه".

وإسناده ضعيف فيه عنعنة محمد بن إسحاق.

جـ - أخرجه هناد في "الزهد" 2/ 483 حدثنا حاتم بن إسماعيل، عن محمد بن عجلان، عن مكحول أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أوصى بعض أهله، فقال: فذكره مرسلا.

حاتم بن إسماعيل: صدوق، وتابعه ابن عيينة عند العدني في "الإيمان" (33).

وأما حديث أبي الدرداء فهو الذي يأتي بعده.

وأما حديث عمر بن الخطاب:

فأخرجه قوام السنة في "الترغيب والترهيب" (1927) من طريق أبي عبد الرحمن محمد بن مأمون المروزي، حدثنا عون بن منصور المروزي، حدثنا موسى بن بحر الكوفي، حدثنا عمرو ابن الغفار الفقيمي، عن الحسن بن عمرو الفقيمي، حدثنا سعد بن سعيد الأنصاري،

عن عبد الله بن عبد الرحمن بن معمر أبي طوالة الأنصاري، عن سالم بن عبد الله بن عمر، عن أبيه، عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"من ترك صلاة عمدا متعمدا أحبط الله عمله وبرئت منه ذمة الله حتى يراجع لله عز وجل توبة".

وإسناده ضعيف جدا، عمرو بن عبد الغفار بن عمرو الفقيمي: قال ابن المديني: " كان رافضيا، رميت بحديثه، وقد كتبت عنه شيئا".

وقال أبو حاتم: "ضعيف الحديث، متروك الحديث".

وقال العجلي: "الفقيمي كوفي نزل بغداد متروك وقد رأيته".

وقال العقيلي: منكر الحديث.

وقال ابن عدي: هو متهم إذا روى شيئا في الفضائل، وكان السلف يتهمونه بأنه يضع في فضائل أهل البيت، وفي مثالب غيرهم.

وموسى بن بحر الكوفي: قال الحافظ في "التقريب": "مقبول" يعني حيث يتابع وإلا فلين الحديث كما نصّ عليه في المقدمة.

وعون بن منصور المروزي: لم أجده.
ষষ্ঠ প্রমাণ: মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ফরজ নামাজ ছেড়ে দিল, তার থেকে আল্লাহর জিম্মা (নিরাপত্তা) উঠে গেল।"(1) ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন। যদি সে ইসলামের ওপর অবশিষ্ট থাকত, তবে তার জন্য ইসলামের জিম্মা (নিরাপত্তা) বহাল থাকত।

--------------------------------------------

(1) হাসান (حسن) - আহমাদ ৫/২৩৮; আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ামান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আইয়াশ, সাফওয়ান ইবনে আমর থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে জুবায়ের ইবনে নুফাইর আল-হাদরামি থেকে, তিনি মুয়াজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে দশটি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না, যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় কিংবা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তোমার পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ো না, যদিও তারা তোমাকে তোমার পরিবার ও সম্পদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ ছেড়ো না; কারণ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ ছেড়ে দিল, তার থেকে আল্লাহর জিম্মা (নিরাপত্তা) উঠে গেল। কখনো মদ পান করো না; কারণ তা হলো সকল অশ্লীলতার মূল। গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো; কারণ গুনাহের কারণেই মহান আল্লাহর ক্রোধ আপতিত হয়। রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করো না, যদিও মানুষ ধ্বংস হয়ে যায়। যখন মানুষের মাঝে মহামারি ছড়িয়ে পড়ে আর তুমি সেখানে থাকো, তবে তুমি সেখানে ধৈর্য ধরে অবস্থান করো। তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করো। আদব শেখানোর জন্য তাদের ওপর থেকে শাসনের লাঠি তুলে নিও না এবং আল্লাহর ব্যাপারে তাদের মনে ভয় জাগ্রত রাখো।"

আল-হায়সামি 'আল-মাজমা' ৪/২১৫ গ্রন্থে বলেছেন:

"আবদুর রহমান ইবনে জুবায়ের ইবনে নুফাইর মুয়াজ থেকে শোনেননি।"

আল-মারওয়াজি 'তা’জিমু কাদরিস সালাত' (৯২১), তাবারানি ২০/ (১৫৬), 'আল-আওসাত' (৭৯৫৬), 'মুসনাদুশ শামিয়্যিন' (২২০৪) গ্রন্থে এবং তাঁর থেকে আবু নুয়াইম 'আল-হিলয়াহ' ৯/৩০৬ গ্রন্থে আমর ইবনে ওয়াকিদ-এর সূত্রে, তিনি ইউনুস ইবনে হালাবাস থেকে, তিনি আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি থেকে, তিনি মুয়াজ থেকে এটি বের করেছেন।

এর সনদ (إسناد) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا); আমর ইবনে ওয়াকিদ: পরিত্যক্ত (متروك)। আর 'আল-হিলয়াহ' এর মুদ্রিত কপিতে নামটির বিকৃতি ঘটে হারুন ইবনে ওয়াকিদ হয়েছে!

তাবারানি ২০/ (২৩৩) ও (২৩৪) বা্যাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ-এর সূত্রে বের করেছেন, আবু বকর ইবনে আবি মারিয়াম আমাকে বলেছেন: আমি হুরাইস ইবনে আমর আল-হাদরামিকে মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বলেছেন: "হে মুয়াজ ইবনে জাবাল, যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল তার থেকে (আল্লাহর) জিম্মা উঠে গেল।"

অন্য শব্দে রয়েছে: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিল।"

এর সনদ (إسناد) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا); আবু বকর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি মারিয়াম: আদ-দারাকুতনি বলেছেন, তিনি পরিত্যক্ত (متروك)।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুক্তদাসী উমাইমাহ, উম্মে আইমান, উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আবু দারদা (রা.)-এর হাদিস থেকে এর সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুক্তদাসী উমাইমাহ-এর হাদিসের ক্ষেত্রে:

ইবনে আবি আসিম 'আল-আহাদ ওয়াল মাসানি' (৩৪৭৭), আল-মারওয়াজি 'তা’জিমু কাদরিস সালাত' (৯১২), তাবারানি ২৪/ (৪৭৯), আল-হাকিম ৪/৪১ এবং আবু নুয়াইম 'মা’রিফাতুস সাহাবাহ' (৭৫১৮) গ্রন্থে পূর্ণাঙ্গ ও সংক্ষিপ্তভাবে ইয়াজিদ ইবনে সিনান-এর সূত্রে, তিনি সুলাইম ইবনে আমির আবু ইয়াহইয়া থেকে, তিনি জুবায়ের ইবনে নুফাইর থেকে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুক্তদাসী উমাইমাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

"আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ওজুর পানি ঢেলে দিচ্ছিলাম, এমতাবস্থায় একজন লোক প্রবেশ করে বলল: আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন: আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না, যদিও তোমাকে টুকরো টুকরো করা হয় অথবা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। তোমার পিতা-মাতার অবাধ্য হয়ো না, যদিও তারা তোমাকে তোমার পরিবার ও দুনিয়া ত্যাগ করার নির্দেশ দেন, তবে তুমি তা-ই করো। মদ পান করো না, কারণ তা সকল মন্দের মূল। ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ো না, কেননা যে ব্যক্তি তা করবে তার থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জিম্মা (নিরাপত্তা) উঠে যাবে। রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করো না, কেননা যে ব্যক্তি তা করবে সে আল্লাহর ক্রোধ নিয়ে ফিরবে এবং তার আবাস হবে জাহান্নাম, আর তা কতই না নিকৃষ্ট গন্তব্য। তোমার জমির সীমানা পরিবর্তন করো না, যে ব্যক্তি তা করবে কিয়ামতের দিন সাত তবক জমিন তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করো, তাদের ওপর থেকে শাসনের লাঠি তুলে নিও না এবং আল্লাহর ব্যাপারে তাদের মনে ভয় জাগ্রত রাখো।"

আয-যাহাবি বলেছেন:

"এর সনদ (سنده) অত্যন্ত দুর্বল (واه)।"

আমি বলছি: ইয়াজিদ ইবনে সিনান আর-রুহাউয়ি: দুর্বল (ضعيف)।

উম্মে আইমান (রা.)-এর হাদিসের ক্ষেত্রে:

ইমাম আহমাদ ৬/৪২১ ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে, আবদ ইবনে হুমাইদ (১৫৯৪) - আল-মুনতাখাব: উমর ইবনে সাঈদ আদ-দিমাশকি থেকে, বায়হাকি ৭/৩০৪ এবং 'আশ-শুআব' (৭৪৮১) গ্রন্থে বিশর ইবনে বকর-এর সূত্রে, আল-মারওয়াজি 'তা’জিমু কাদরিস সালাত' (৯১৩), আবু ইয়া’লা 'আল-মাতালিবুল আলিয়া' (২৫৩৩) গ্রন্থে যেমনটি রয়েছে, ইবনে আসাকির 'তারিখু দিমাশক' ৩৫/৩২৫-৩২৬ ও ৬০/১৯৯ গ্রন্থে আবু মুসহির আব্দুল আলা ইবনে মুসহির আল-গাসসানি-এর সূত্রে, এবং খতিব বাগদাদি 'আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি' (১৭০০) গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে সালিহ আল-উহাজি-এর সূত্রে বের করেছেন; তাঁরা পাঁচজনই পূর্ণাঙ্গ ও সংক্ষিপ্তভাবে সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ আত-তানুখি থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি উম্মে আইমান (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর পরিবারের কাউকে অসিয়ত করতে শুনেছেন, তিনি বলছিলেন:

"আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না, যদিও তোমাকে টুকরো টুকরো করা হয় অথবা আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করো না, যদিও মানুষ মৃত্যু বরণ করে আর তুমি তাদের মধ্যে থাকো, তবে তুমি অটল থাকো। তোমার পিতা-মাতার আনুগত্য করো, যদিও তারা তোমাকে তোমার সম্পদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ো না, কেননা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিল, তার থেকে আল্লাহর জিম্মা (নিরাপত্তা) উঠে গেল। মদ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা সকল মন্দের চাবিকাঠি। গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা আল্লাহকে রাগান্বিত করে। ক্ষমতাসীনদের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ো না, যদিও তুমি মনে করো যে তুমিই হকের ওপর আছো। তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করো, তাদের ওপর থেকে শাসনের লাঠি তুলে নিও না এবং মহান আল্লাহর ব্যাপারে তাদের মনে ভয় জাগ্রত রাখো।"

এটি একটি বিচ্ছিন্ন সনদ (إسناد منقطع); বায়হাকি বলেছেন: "এতে মাকহুল এবং উম্মে আইমানের মধ্যে ইরসাল (إرسال) বা বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।"

ইবনে আসাকির 'তারিখু দিমাশক' ৬২/২২৪ গ্রন্থে ইব্রাহিম ইবনে জাবরিক-এর সূত্রে, তিনি ইসমাইল ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে উবাইদ আল-কালা’ই থেকে, তিনি মাকহুল ও সুলাইমান ইবনে মুসা থেকে, তিনি উম্মে আইমান থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আলবানি 'আল-ইরওয়া' ৭/৯০ গ্রন্থে বলেছেন:

"এই ইব্রাহিমের কোনো জীবনী আমি পাইনি।"

আমি বলছি: ইব্রাহিম ইবনুল আলা ইবনুল দাহহাক ইবনে জাবরিক: তাঁর হাদিস সঠিক (مستقيم الحديث), 'তাহজিবুল কামাল' ২/১৬১ গ্রন্থে তাঁর জীবনী রয়েছে। আর সুলাইমান ইবনে মুসা হলেন আদ-দিমাশকি আল-আশদাক। আল-আলাই 'জামি’উত তাহসিল' (পৃ. ১৯০) গ্রন্থে বলেছেন:

"বুখারি বলেছেন: সুলাইমান নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো সাহাবীকে পাননি। তিরমিজি তাঁর থেকে 'আল-ইলাল' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।"

ইবনে আসাকির বলেছেন:

"মাকহুল থেকে অন্য সূত্রে মুরসাল (مرسل) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে।"

অতঃপর তিনি তাঁর 'তারিখ' ৬০/১৯৯-২০০ গ্রন্থে হুসাইন আল-মারওয়াজি (যা ইবনুল মুবারকের 'আল-বিরর ওয়াস সিলাহ' এর পরিশিষ্ট (১০৬) এ রয়েছে)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ আমাদের বলেছেন, তিনি ইয়াজিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির থেকে, তিনি বলেন: আমি মাকহুলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরিবারের কাউকে অসিয়ত করে বলেছেন... অতঃপর তিনি এটি মুরসাল (مرسل) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আল-আদানি 'আল-ইমান' (৩৩) গ্রন্থে সুফিয়ান থেকে, তিনি ইবনে আজলান ও ইয়াজিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা মাকহুলকে বলতে শুনেছেন:

"নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরিবারের কাউকে অসিয়ত করে বলেছেন: কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ো না, কেননা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ ছেড়ে দিল, তার থেকে আল্লাহর জিম্মা (নিরাপত্তা) উঠে গেল।"

মাকহুল থেকে এটি মুরসাল (مرسل) হিসেবে বর্ণনা করার আরও কিছু সূত্র রয়েছে:

ক - আব্দুর রাজ্জাক 'আল-মুসান্নাফ' (৫০০৮) গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে রাশিদ থেকে বের করেছেন, তিনি মাকহুলকে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিল, তার থেকে আল্লাহর জিম্মা (নিরাপত্তা) উঠে গেল।"

আর এটি উত্তম মুরসাল (مرسل جيد); মুহাম্মদ ইবনে রাশিদ আল-খুজায়ি হলেন সত্যবাদী (صدوق)।

খ - আল-মারওয়াজি 'তা’জিমু কাদরিস সালাত' (৯১৭) গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক-এর সূত্রে মাকহুল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেসব অসিয়ত করেছেন তার মধ্যে ছিল: আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না, যদিও তোমাকে হত্যা করা হয় বা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ো না, কেননা যে ব্যক্তি তা ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগ করবে তার থেকে মহান আল্লাহর জিম্মা (নিরাপত্তা) উঠে যাবে।"

আল-খাল্লাল 'আস-সুন্নাহ' (১৩৯৬) গ্রন্থে ইবনে ইসহাক-এর সূত্রে এটি বের করেছেন এবং এতে রয়েছে: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফজল ইবনুল আব্বাসকে নসিহত করার সময় এটি বলেছিলেন।"

এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف), এতে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের 'আনআনা' (عنعنة) রয়েছে।

গ - হান্নাদ 'আয-জুহদ' ২/৪৮৩ গ্রন্থে হাতেম ইবনে ইসমাইল-এর সূত্রে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি মাকহুল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরিবারের কাউকে অসিয়ত করে বলেছেন... অতঃপর তিনি এটি মুরসাল (مرسل) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হাতেম ইবনে ইসমাইল: সত্যবাদী (صدوق), এবং আল-আদানির 'আল-ইমান' (৩৩) গ্রন্থে ইবনে উয়াইনাহ তাঁর অনুসরণ (تابعه) করেছেন।

আর আবু দারদা (রা.)-এর হাদিসটি এর পরেই আসবে।

আর উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর হাদিসের ক্ষেত্রে:

কাওয়ামুস সুন্নাহ 'আত-তারগিব ওয়াত তারহিব' (১৯২৭) গ্রন্থে আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ ইবনে মামুন আল-মারওয়াজি-এর সূত্রে বের করেছেন, আউন ইবনে মনসুর আল-মারওয়াজি আমাদের বলেছেন, মুসা ইবনে বাহর আল-কুফি আমাদের বলেছেন, আমর ইবনে আব্দুল গাফফার আল-ফুকাইমি আমাদের বলেছেন, হাসান ইবনে আমর আল-ফুকাইমি থেকে, সাদ ইবনে সাঈদ আল-আনসারি আমাদের বলেছেন,

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মামার আবু তাওয়ালা আল-আনসারি থেকে, তিনি সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে জেনেশুনে নামাজ ছেড়ে দিল, আল্লাহ তার আমল নষ্ট করে দেন এবং তার থেকে আল্লাহর জিম্মা (নিরাপত্তা) উঠে যায়, যতক্ষণ না সে আল্লাহর কাছে তওবা করে ফিরে আসে।"

এর সনদ (إسناد) অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا); আমর ইবনে আব্দুল গাফফার ইবনে আমর আল-ফুকাইমি: ইবনুল মাদিনি বলেছেন: "তিনি রাফেজি ছিলেন, তাঁর হাদিস আমি ছুড়ে ফেলেছি, যদিও আমি তাঁর থেকে কিছু লিখেছিলাম।"

আবু হাতেম বলেছেন: "দুর্বল হাদিসধারী (ضعيف الحديث), পরিত্যক্ত হাদিসধারী (متروك الحديث)।"

আল-ইজলি বলেছেন: "আল-ফুকাইমি কুফি, বাগদাদে এসেছিলেন, তিনি পরিত্যক্ত (متروك), আমি তাঁকে দেখেছি।"

আল-উকাইলি বলেছেন: প্রত্যাখ্যাত হাদিসধারী (منكر الحديث)।

ইবনে আদি বলেছেন: তিনি অভিযুক্ত (متهم), যখন তিনি ফজিলত সম্পর্কে কিছু বর্ণনা করেন। পূর্বসূরিগণ তাঁকে এই মর্মে অভিযুক্ত করতেন যে, তিনি আহলে বাইতের ফজিলত এবং অন্যদের কুৎসা রটনায় হাদিস জাল করতেন।

আর মুসা ইবনে বাহর আল-কুফি: হাফেজ (ইবনে হাজার) 'আত-তাকরিব' গ্রন্থে বলেছেন: "গ্রহণযোগ্য (مقبول)"। অর্থাৎ যখন তাঁর অনুসরণকারী (يتابع) থাকে, নতুবা তিনি শিথিল হাদিসধারী (لين الحديث) যেমনটি তিনি মুখবন্ধে উল্লেখ করেছেন।

আর আউন ইবনে মনসুর আল-মারওয়াজি: তাঁকে আমি পাইনি।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
الدليل السابع: ما رواه أبو الدرداء، قال: "أوصاني أبو القاسم صلى الله عليه وسلم أن لا أترك الصلاة متعمدا فمن تركها متعمدا فقد برئت منه الذمة"(1) رواه عبد الرحمن ابن أبي حاتم في سننه.

--------------------------------------------

(1) حسن - أخرجه ابن ماجه (3371) و (4034)، والبخاري في "الأدب المفرد" (18)، وابن أبي عاصم في "الجهاد" (276)، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (911)،

والطبري في "تهذيب اللآثار" (684) - مسند عمر، والطبراني كما في "المجمع" 4/ 216 - 217، وتمام في "الفوائد" (1791)، واللالكائي في "شرح أصول الاعتقاد" (1524)، والبيهقي في "الشعب" (5200) تاما ومختصرا من طريق راشد أبي محمد الحماني، عن شهر ابن حوشب، عن أم الدرداء، عن أبي الدرداء، قال:

"أوصاني رسول الله صلى الله عليه وسلم بتسع: لا تشرك بالله شيئا؛ وإن قطعت أو حرقت، ولا تتركن الصلاة المكتوبة متعمدا، ومن تركها متعمدا برئت منه الذمة، ولا تشربن الخمر، فإنها مفتاح كل شر، وأطع والديك، وإن أمراك أن تخرج من دنياك فاخرج لهما، ولا تنازعن ولاة الأمر وإن رأيت أنك أنت، ولا تفرر من الزحف، وإن هلكت وفر أصحابك، وأنفق من طولك على أهلك، ولا ترفع عصاك عن أهلك، وأخفهم في الله عز وجل".

وإسناده ضعيف من أجل شهر بن حوشب: صدوق كثير الإرسال والأوهام كما في "التقريب"، لكن الحديث له شواهد تقدّم الكلام عليها في الحاشية رقم (23) يصير بها الحديث حسنا، والله أعلم.
সপ্তম দলিল: আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ওসিয়ত করেছেন যে, আমি যেন ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বর্জন না করি। কেননা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বর্জন করে, তার থেকে (আল্লাহর) নিরাপত্তার জিম্মাদারি চলে যায়"(১) আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম এটি তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) হাসান (حسن) - এটি সংকলন করেছেন ইবনে মাজাহ (৩৩৭১) ও (৪০৩৪), আল-বুখারি 'আল-আদাবুল মুফরাদ' (১৮)-এ, ইবনে আবি আসিম 'আল-জিহাদ' (২৭৬)-এ, আল-মারওয়াজি 'তাজিম কদরিস সালাহ' (৯১১)-এ, তাবারানি 'তাহজিবুল আসার' (৬৮৪) - মুসনাদে ওমর-এ, তাবারানি যেমনটি 'আল-মাজমা' ৪/ ২১৬ - ২১৭-এ বর্ণিত হয়েছে, তাম্মাম 'আল-ফাওয়াইদ' (১৭৯১)-এ, আল-লালকাঈ 'শারহু উসুলিল ইতিকাদ' (১৫২৪)-এ এবং আল-বায়হাকি 'আশ-শুআব' (৫২০০)-এ পূর্ণাঙ্গ ও সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন রাশেদ আবু মুহাম্মদ আল-হিমানীর সূত্রে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি উম্মুদ দারদা থেকে, তিনি আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:

"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নয়টি বিষয়ের অসিয়ত করেছেন: আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না, যদিও তোমাকে টুকরো টুকরো করে কাটা হয় কিংবা পুড়িয়ে ফেলা হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে ফরজ নামাজ ছেড়ে দিও না, কারণ যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তা ছেড়ে দেয় তার থেকে (আল্লাহর) জিম্মাদারি উঠে যায়। মদ্যপান করো না, কারণ তা সকল অনিষ্টের চাবিকাঠি। তোমার পিতা-মাতার আনুগত্য করো; যদি তারা তোমাকে তোমার দুনিয়া থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় তবে তাদের খাতিরে বের হয়ে যাও। শাসনকর্তাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, যদিও তুমি মনে করো যে তুমিই হকের ওপর আছো। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করো না, যদিও তুমি ধ্বংস হয়ে যাও এবং তোমার সাথীরা পলায়ন করে। তোমার সামর্থ্য অনুযায়ী তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করো। তোমার পরিবারের শাসন থেকে লাঠি সরিয়ে নিও না এবং মহান আল্লাহ সম্পর্কে তাদের মনে ভীতি বজায় রাখো।"

আর এর সনদ (إسناد) শাহর ইবনে হাওশাবের কারণে দুর্বল (ضعيف); তিনি সত্যবাদী (صدوق) হলেও অধিক বিচ্ছিন্নভাবে বর্ণনা করার প্রবণতা (إرسال) এবং অধিক ভ্রান্তি (أوهام) এর শিকার, যেমনটি 'তাকরিবুত তাহজিব'-এ বর্ণিত হয়েছে। তবে এই হাদিসটির কিছু সমর্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে যা ইতিপূর্বে ২৩ নম্বর টীকায় আলোচিত হয়েছে, যার মাধ্যমে হাদিসটি হাসান (حسن) পর্যায়ে উন্নীত হয়। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
الدليل الثامن: ما رواه معاذ بن جبل، عن النبي صلى الله عليه وسلم، أنه قال: "رأس الأمر الإسلام وعموده الصلاة"(1) وهو حديث صحيح مختصر ووجه الاستدلال به أنه أخبر أن الصلاة من الإسلام بمنزلة العمود الذي تقوم عليه الخيمة، فكما تسقط الخيمة بسقوط عمودها، فهكذا يذهب الإسلام بذهاب الصلاة، وقد احتج أحمد بهذا بعينه.

--------------------------------------------

(1) صحيح - أخرجه الترمذي (2616)، وابن ماجه (3973) من طريق عبد الله بن معاذ الصنعاني، والنسائي في "الكبرى" (11330)، والقضاعي في "مسند الشهاب" (104) مختصرا، وكذا البيهقي في "الشعب" (3079) من طريق محمد بن ثور، وعبد الرزاق كما في "الجامع لمعمر" (20303)، ومن طريقه أحمد 5/ 231، وعبد بن حميد (112 - المنتخب)، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (196)، والطبراني 20/ (266)، والبيهقي في "الآداب" (399)، والبغوي في "شرح السنة" (11) ثلاثتهم (عبد الله بن معاذ، ومحمد بن ثور، وعبد الرزاق) عن معمر، عن عاصم بن أبي النجود، عن أبي وائل، عن معاذ بن جبل رضي الله عنه قال:

"قلت يا رسول الله أخبرني بعمل يدخلني الجنة ويباعدني عن النار، قال: لقد سألت عن عظيم وإنه ليسير على من يسره الله تعالى عليه: تعبد الله لا تشرك به شيئا، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة، وتصوم رمضان، وتحج البيت. ثم قال: ألا أدلك على أبواب الخير؟: الصوم جنة، والصدقة تطفئ الخطيئة كما يطفئ الماء النار، وصلاة الرجل في جوف الليل ثم تلا: {تتجافى جنوبهم عن المضاجع} {حتى إذا بلغ} {يعملون} ثم قال ألا أخبرك برأس الأمر وعموده وذروة سنامه؟ قلت: بلى يا رسول الله، قال: رأس الأمر الإسلام، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد. ثم قال: ألا أخبرك بملاك ذلك كله؟ قلت: بلى يا رسول الله، فأخذ بلسانه وقال: كف عليك هذا. قلت: يا نبي الله، وإنا لمؤاخذون بما نتكلم به؟ فقال: ثكلتك أمك، وهل يكب الناس في النار على وجوههم - أو قال على مناخرهم - إلا حصائد ألسنتهم؟ ".

وقال الترمذي:

"حديث حسن صحيح".

فتعقبه الحافظ ابن رجب في "جامع العلوم والحكم" 2/ 135، بقوله: "وفيما قاله رحمه الله نظر من وجهين:

أحدهما: أنه لم يثبت سماع أبي وائل من معاذ، وإن كان قد أدركه بالسن، وكان معاذ بالشام، وأبو وائل بالكوفة، وما زال الأئمة - كأحمد وغيره - يستدلون على انتفاء السماع بمثل هذا، وقد قال أبو حاتم الرازي في سماع أبي وائل من أبي الدرداء: قد أدركه، وكان بالكوفة، وأبو الدرداء بالشام، يعني: أنه لم يصح له سماع منه، وقد حكى أبو زرعة الدمشقي عن قوم أنهم توقفوا في سماع أبي وائل من عمر، أو نفوه، فسماعه من معاذ أبعد.

والثاني: أنه قد رواه حماد بن سلمة، عن عاصم بن أبي النجود، عن شهر بن حوشب، عن معاذ، خرجه الإمام أحمد مختصرا، قال الدارقطني: وهو أشبه بالصواب، لأن الحديث معروف من رواية شهر على اختلاف عليه فيه".

قلت: قد جاء بإسناد موصول:

أخرجه أبو القاسم البغوي في "الجعديات" (3403)، ومن طريق ابن الجعد أخرجه ابن حبان (214)، والطبراني 20/ (122)، وفي "مسند الشاميين" (222) حدثنا عبد الرحمن بن ثابت بن ثوبان، عن أبيه، عن مكحول، عن معاذ بن جبل، وعن عمير بن هانئ، سمع عبد الرحمن بن غنم يحدث، أنه سمع معاذ بن جبل يحدث، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال له: حدثني بعمل يدخل الجنة إذا هو عمله؟ قال:

"بخ بخ، سألت عن عظيم، وهو يسير لمن يسره الله له، تقيم الصلاة المكتوبة، وتؤدي الزكاة المفروضة، ولا تشرك بالله شيئا".

وأخرجه البزار (27 - كشف) وتحرّف في المطبوع (أبيه) إلى (أمه)! وإسناده جيد.

وأخرجه هناد في "الزهد" 2/ 530 حدثنا حاتم بن إسماعيل، عن محمد بن عجلان، عن مكحول، عن معاذ بن جبل، وفيه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له:

"ألا أنبئك برأس هذا الأمر وعموده وذروة سنامه؟ قال: رأسه الإسلام، فمن أسلم سلم، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد في سبيل الله، ألا أنبئك بأبواب الخير:

الصيام جنة، والصدقة تمحو الخطيئة، وقيام العبد في جوف الليل لله، قال: ثم تلا هذه الآية (تتجافى جنوبهم عن المضاجع) حتى فرغ منها، ألا أنبئك بأملك الناس

من ذلك. فأشار إلى لسانه ثلاثا. قال: فقلت: وإنا لنؤاخذ بما نتكلم به؟ فضرب منكبي، ثم قال: ثكلتك أمك يا معاذ، وهل يكب الناس في النار على وجوههم إلا هذا اللسان، إنك ما سكت سلمت، وإذا تكلمت فلك أو عليك".

وإسناده منقطع، مكحول لم يسمع من معاذ، وهو مدلس أيضا.

وله طرق أخرى عن عبد الرحمن بن غنم:

أخرجه ابن ماجه (72)، وأحمد 5/ 236 و 245، وابن المبارك في "الجهاد" (31)، وعبد ابن حميد (113 - المنتخب)، والبزار (2669) و (2670)، والطبراني 20/ (115) و (117)، والدارقطني 1/ 434، وابن عبد البر في "التمهيد" 5/ 65 - 66 مطولا ومختصرا من طريق شهر بن حوشب، عن عبد الرحمن بن غنم، عن معاذ بن جبل، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج بالناس قبل غزوة تبوك … وفيه "ثم قال نبي الله صلى الله عليه وسلم: إن شئت حدثتك يا معاذ برأس هذا الأمر، وقوام هذا الأمر و ذروة السنام. فقال معاذ: بلى بأبي وأمي أنت يا نبي الله فحدثني. فقال نبي الله صلى الله عليه وسلم: إن رأس هذا الأمر أن تشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدا عبده ورسوله، وإن قوام هذا الأمر إقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وإن ذروة السنام منه الجهاد في سبيل الله، إنما أمرت أن أقاتل الناس حتى يقيموا الصلاة ويؤتوا الزكاة، ويشهدوا أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله، فإذا فعلوا ذلك فقد اعتصموا وعصموا دماءهم وأموالهم إلا بحقها، وحسابهم على الله، وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: والذي نفس محمد بيده ما شحب وجه، ولا اغبرت قدم في عمل تبتغي فيه درجات الجنة بعد الصلاة المفروضة كجهاد في سبيل الله، ولا ثقل ميزان عبد كدابة تنفق له في سبيل الله أو يحمل عليها في سبيل الله".

وشهر بن حوشب: مختلف فيه، ولم يتفرّد به فقد توبع عليه:

أخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (195)، والبخاري في "التاريخ الكبير" 7/ 426، والطبراني 20/ (137)، وابن بشران في "الأمالي" (818) من طريق سعيد بن مسروق، عن أيوب بن كريز، عن عبد الرحمن بن غنم، عن معاذ مطولا، وفيه "أما رأس الأمر فالإسلام، وأما عموده فالصلاة، وأما ذروته فالجهاد".

وأخرجه الطحاوي في "شرح مشكل الآثار" (1478) من طريق سعيد بن مسروق، عن أيوب - قال الطحاوي وهو ابن عبد الله بن مكرز - عن شهر بن حوشب، عن عبد الرحمن ابن غنم، عن معاذ بن جبل.

وليس الأمر كما قال الطحاوي رحمه الله تعالى، فإن أيوب هذا هو ابن كريز، وهو الذي يروي عن ابن غنم، ويروي عنه سعيد بن مسروق كما في "التاريخ الكبير" 1/ 421 للبخاري، و"الجرح والتعديل" 2/ 256 لابن أبي حاتم، و"الثقات" 6/ 54 لابن حبان، وقد وضّح ذلك يقينا رواية المروزي والبخاري والطبراني، وهو مجهول، وأما أيوب بن عبد الله بن مكرز فهو أعلى طبقة من ابن كريز فهو من الوسطى من التابعين يروي عن عبد الله بن مسعود، ووابصة بن معبد رضي الله عنهما، ويروي عنه شريح بن عبيد الحضرمي، والزبير أبو عبد السلام.

وأخرجه الطبراني 20/ (141) من طريق عبد الرحمن بن يزيد بن تميم، حدثني الزهري، عن عبد الرحمن بن غنم الأشعري، حدثني معاذ بن جبل.

وعبد الرحمن بن يزيد بن تميم: ضعيف.

ومن طريق شهر (وحده):

أخرجه أحمد 5/ 232 و 242 و 248، وفي "الزهد" (164) مختصرا، والطبراني 20/ (200).

وإسناده منقطع شهر لم يلق معاذا.

وله طرق أخرى عن معاذ:

الطريق الأول - أخرجه النسائي (2226)، وفي "الكبرى" (2547)، وأحمد 5/ 233 و 237، وابن أبي شيبة 5/ 286 و 9/ 64 و 11/ 6، وفي "الإيمان" (1)، وفي "الأدب" (220)، والطيالسي (561)، والحارث بن أبي أسامة (12 - بغية الباحث)، وابن أبي عاصم في "الجهاد" (16)، وفي "ذكر الدنيا" (7)، والطبراني 20/ (304) و (305)، والقضاعي في "مسند الشهاب" (48)، والبيهقي في "الشعب" (2549) و (3078) و (3921) مطولا ومختصرا من طرق عن شعبة، عن الحكم، قال: سمعت عروة بن النزال،

يحدث عن معاذ بن جبل، قال: قلت: يا رسول الله أخبرني بعمل يدخلني الجنة قال:

"بخ بخ لقد سألت عن عظيم وإنه ليسير على من يسره الله: صل الصلاة المكتوبة وأد الزكاة المفروضة أفلا أخبرك برأس الأمر وعموده وذروة سنامه؟ أما رأس الأمر فالإسلام من أسلم سلم، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد في سبيل الله … الحديث".

وعروة بن النزال لم يسمعه من معاذ وهو مجهول.

الطريق الثاني- أخرجه النسائي (2224) و (2225) و (2227)، وفي "الكبرى" (2545) و (2546) و (2548)، وأحمد 5/ 233 و 237، وابن أبي شيبة 9/ 64 و 11/ 7، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (197)، وهناد في "الزهد" 2/ 529، وابن أبي الدنيا في "الصمت" (6)، والطبراني 20/ (292) و (293) و (294)، والشاشي في "مسنده" (1366)، والحاكم 2/ 76 و 412 - 413، وأبو نعيم في "الحلية" 4/ 376،

والواحدي في "الوسيط" (734)، والبيهقي 9/ 20، وفي "الشعب" (4607) من طريق ميمون بن أبى شبيب، عن معاذ بن جبل، وفيه "رأس الأمر الإسلام، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد في سبيل الله".

وقال الحاكم:

"هذا حديث صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه" وأقره الذهبي!

قلت: ميمون بن أبي شبيب لم يخرج له البخاري في الصحيح شيئا إنما أخرج له في "الأدب المفرد"، وكذا مسلم إنما خرج له في "المقدمة" 1/ 8، وإسناده منقطع بينه وبين معاذ.

الطريق الثالث - أخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (198) حدثنا أحمد بن محمد ابن أبي بكر المقدمي، حدثنا إسحاق بن محمد الفروي، حدثنا عبد الله بن عمر، عن نعيم ابن وهب، عن معاذ بن جبل مختصرا.

وإسناده ضعيف، فيه عبد الله بن عمر العمري وهو ضعيف، وإسحاق بن محمد الفروي مختلف فيه، ونعيم بن وهب لم أجد له ترجمة.

الطريق الرابع - أخرجه هناد في "الزهد" 2/ 531 حدثنا عبدة، وابن أبي الدنيا في "الصمت" (22)، والشاشي في "مسنده" (1400) من طريق يزيد بن هارون، والطبراني 2/ (374) من طريق عبد العزيز بن محمد، ثلاثتهم عن محمد بن عمرو، حدثنا أبو سلمة قال: قال معاذ بن جبل: يا رسول الله، أوصني، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"اعبد الله كأنك تراه، واعدد نفسك مع الموتى واذكر الله عند كل حجر وشجر، وإذا عملت السيئة فاعمل بجنبها حسنة، السر بالسر، والعلانية بالعلانية، وأخبرك بما هو أملك بك من ذلك؟ قال: يا رسول الله، وما هو؟ قال: "هذا"، وأشار إلى لسانه، قال معاذ: يا رسول الله، هو ذا، وأشار إلى لسانه. قال: "وهل يكب الناس على مناخرهم في النار إلا هذا".

وإسناده منقطع بين أبي سلمة ومعاذ.

الطريق الخامس - أخرجه البزار (2643)، والطبراني 20/ (258)، وابن البناء في "السكوت ولزوم البيوت" (5) من طريقين عن محمد بن عبد الله بن الزبير، حدثنا أبو معاوية عمرو بن عبد الله النخعي، حدثنا أبو عمرو الشيباني، عن معاذ بن جبل، قال:

"قلت يا رسول الله، أنؤاخذ بكل ما نتكلم به؟ فقال: ثكلتك أمك يا معاذ بن جبل، وهل يكب الناس على مناخرهم في جهنم إلا حصائد ألسنتهم؟ ".

وهذا إسناد رجاله ثقات، أبو عمرو الشيباني الكوفي سعد بن إياس: مخضرم.

تنبيه: لقد توهّم المعلقون على "مسند الإمام أحمد" 36/ 346 - طبعة الرسالة أن أبا معاوية عمرو بن عبد الله النخعي: هو عمرو بن عبد الله السبيعي، وقد جاء التصريح بكنيته في "المعجم الكبير".

الطريق السادس- أخرجه أحمد 5/ 234، والبزار (2651)، والطبراني في "الشاميين" (1492)، وأبو نعيم في "الحلية" 5/ 154 من طريق أبي بكر بن مريم، عن عطية بن قيس،

عن معاذ بن جبل رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "الجهاد عمود الإسلام، وذروة سنامه".

وهذا منكر، الحديث معروف بلفظ "الصلاة عمود الإسلام، والجهاد ذروة سنامه"، وأبو بكر ابن عبد الله بن أبى مريم الغساني: ضعيف وكان قد سرق بيته فاختلط، وإسناده منقطع عطية ابن قيس لم يسمع من معاذ.

الطريق السابع - أخرجه الطبراني 20/ (96)، وابن شاهين في "فضائل الأعمال" (435) من طريق الوليد بن مسلم، حدثنا عثمان بن أبي العاتكة، عن علي بن يزيد، عن القاسم،

عن أبي أمامة، عن معاذ بن جبل، أنه قال: "يا رسول الله، ما رأس ما بعثت به؟ قال: الإسلام، من أسلم سلم، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد في سبيل الله".

وإسناده ضعيف، علي بن يزيد الألهاني: ضعيف.

وعثمان بن أبي عاتكة: ضعفوه في روايته عنه.

وجاء من مسند عبادة بن الصامت:

أخرجه الحاكم 4/ 286 - 287 حدثنا أبو العباس محمد بن يعقوب، حدثنا الربيع بن سليمان، حدثنا عبد الله بن وهب، أخبرني أبو هانئ، عن عمرو بن مالك الجنبي، عن

فضالة بن عبيد، عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: خرج ذات يوم على راحلته وأصحابه معه بين يديه، فقال معاذ بن جبل:

يا نبي الله أتأذن لي في أن أتقدم إليك على طيبة نفس؟ قال: نعم فاقترب معاذ إليه فسارا جميعا، فقال معاذ: بأبي أنت يا رسول الله، أن يجعل يومنا قبل يومك أرأيت إن كان شيء ولا نرى شيئا إن شاء الله تعالى فأي الأعمال نعملها بعدك؟ فصمت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: الجهاد في سبيل الله ثم، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: نعم الشيء الجهاد، والذي بالناس أملك من ذلك فالصيام والصدقة قال: نعم الشيء الصيام والصدقة فذكر معاذ كل خير يعمله ابن آدم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: وعاد بالناس خير من ذلك قال: فماذا بأبي أنت وأمي عاد بالناس خير من ذلك؟ قال: فأشار رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى فيه قال: الصمت إلا من خير قال: وهل نؤاخذ بما تكلمت به ألسنتنا؟ قال: فضرب رسول الله صلى الله عليه وسلم فخذ معاذ، ثم قال: يا معاذ ثكلتك أمك - أو ما شاء الله أن يقول له من ذلك - وهل يكب الناس على مناخرهم في جهنم إلا ما نطقت به ألسنتهم فمن كان يؤمن بالله واليوم الآخر فليقل خيرا أو ليسكت عن شر، قولوا خيرا تغنموا واسكتوا عن شر تسلموا".

وقال الحاكم:

"هذا حديث صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه" وأقره الذهبي!

قلت: رجاله ثقات، وليس هو على شرط الشيخين أو أحدهما، فلم يخرجا شيئا للربيع بن سليمان المرادي، وأبو هانئ هو حميد بن هانئ الخولاني المصري لم يخرج له البخاري إنما أخرج له في "الأدب المفرد"، ومسلم في "الصحيح"، وكذا عمرو بن مالك الهمداني الجنبي لم يخرجا له شيئا إنما أخرج له البخاري في "الأدب المفرد".

وله شواهد من حديث أبي هريرة، وعمر، وعلي:

أما حديث أبي هريرة:

فأخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (199) حدثنا المقدمي، حدثنا الفروي، حدثنا عبد الله، عن سهيل بن أبي صالح، عن أبيه، عن أبي هريرة، مثل حديث نعيم.

يعني نعيم بن وهب، عن معاذ بن جبل، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له:

"وسأنبئك برأس الأمر وعموده، رأسه الإسلام، وعموده الصلاة".

وإسناده ضعيف، فيه عبد الله بن عمر العمري وهو ضعيف، وإسحاق بن محمد الفروي مختلف فيه، ونعيم بن وهب لم أجد له ترجمة.

وأما حديث عمر:

فأخرجه البيهقي في "الشعب" (2550) أخبرنا أبو عبد الله الحافظ، أخبرنا أبو حامد أحمد ابن محمد بن أحمد بن شعيب بن هارون بن موسى الفقيه، حدثنا زكريا بن يحيى بن موسى ابن إبراهيم النيسابوري، أخبرنا وهب بن جرير، حدثنا شعبة، عن قتادة، عن عكرمة، عن عمر، قال:

"جاء رجل، فقال: يا رسول الله أي شيء أحب عند الله في الإسلام؟ قال: الصلاة لوقتها، ومن ترك الصلاة فلا دين له، والصلاة عماد الدين".

وقال البيهقي: "قال أبو عبد الله - يعني الحاكم -: عكرمة لم يسمع من عمر وأظنه أراد، عن ابن عمر".

قال الزيلعي في "تخريج الكشاف" 1/ 42:

"الظاهر أن عكرمة هذا هو عكرمة بن خالد بن سعيد بن العاص لا عكرمة مولى ابن عباس، وهو أوثق من مولى ابن عباس، وروى ابن أبي حاتم في "مراسيله" عن أحمد بن حنبل، أنه قال: لم يسمع عكرمة بن خالد من عمر، إنما سمع من ابن عمر. بل قال أبو زرعة: عكرمة ابن خالد عن عثمان مرسل فضلا عن عمر انتهى.

وقال ابن القطان في كتابه الوهم والإيهام: عكرمة بن خالد رجلان وكلاهما مخزوميان:

أحدهما عكرمة بن خالد بن سعيد بن العاص، وهو تابعي يروي عن ابن عمر وابن عباس، وروى عنه عمرو بن دينار وإبراهيم بن مهاجر وابن جريج وعامر الأحول وحنظلة بن أبي سفيان، وثقه النسائي وابن معين وأبو زرعة، ولم يسمع فيه بتضعيف قط وقد أخرج له البخاري ومسلم.

والآخر عكرمة بن خالد بن سلمة يروي عن أبيه، وعنه مسلم بن إبراهيم ونصر بن علي ذكره إلياس في الضعفاء، قال البخاري وأبو حاتم هو منكر الحديث".

وأخرج أبو نعيم الفضل بن دكين في كتاب الصلاة كما في "تلخيص الحبير" 1/ 308 عن حبيب بن سليم، عن بلال بن يحيى، قال:

"جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم يسأل عن الصلاة؟ فقال: الصلاة عمود الدين".

وقال الحافظ:

"وهو مرسل ورجاله ثقات".

وأما حديث علي:

فأخرجه ابن شاهين في "فضائل الأعمال" (444)، وقوام السنة في "الترغيب" (2016) من طريق محمد بن عثمان العبسي، حدثنا أحمد بن طارق، حدثنا حبيب، عن أبي إسحاق، عن الحارث، عن علي، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال:

"الصلاة عماد الإسلام، والجهاد سنام العمل".

وإسناده ضعيف جدا، الحارث الأعور: في حديثه ضعف، كذبه الشعبي في رأيه، ورمي بالرفض كما في "التقريب". وحبيب هو أخو حمزة كما جاء مصرّحا به في "الغرائب الملتقطة"، وهو ابن حبيب الزيات: قال الذهبي في "الميزان" 1/ 457:

"وهاه أبو زرعة، وتركه ابن المبارك".

وأحمد بن طارق الوابشي: لم أجده، وقد تفرّد بالرواية عنه محمد بن عثمان العبسي: وهذا الآخر قد اختلف فيه، ودافع عنه العلّامة المعلمي في "التنكيل" 2/ 694 - 696.

قوله (رأس الأمر الإسلام، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد) قال ابن رجب:

"أخبر النبي صلى الله عليه وسلم عن ثلاثة أشياء: رأس الأمر، وعموده، وذروة سنامه.

فأما رأس الأمر، ويعني بالأمر: الدين الذي بعث به وهو الإسلام، وقد جاء تفسيره في الرواية الأخرى بالشهادتين، فمن لم يقر بهما ظاهرا وباطنا، فليس من الإسلام في شيء.

وأما قوام الدين الذي يقوم به الدين كما يقوم الفسطاط على عموده فهو الصلاة، وفي الرواية الأخرى: "وإقام الصلاة وإيتاء الزكاة" وقد سبق القول في أركان الإسلام وارتباط بعضها ببعض.

وأما ذروة سنامه - وهو أعلى ما فيه وأرفعه - فهو الجهاد، وهذا يدل على أنه أفضل الأعمال بعد الفرائض، كما هو قول الإمام أحمد وغيره من العلماء.

وقوله في رواية الإمام أحمد: "والذي نفس محمد بيده ما شحب وجه ولا اغبرت قدم في عمل يبتغى به درجات الجنة بعد الصلاة المفروضة كجهاد في سبيل الله عز وجل" يدل على ذلك صريحا.

وفي " الصحيحين " عن أبي ذر، قال: قلت: يا رسول الله، أي العمل أفضل؟ قال: "إيمان بالله وجهاد في سبيله".
অষ্টম দলিল: মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সকল কাজের মূল হলো ইসলাম, তার স্তম্ভ হলো নামাজ।"(১) এটি একটি সহিহ (صحيح) ও সংক্ষিপ্ত হাদিস। এর মাধ্যমে দলিল পেশ করার পদ্ধতি হলো—তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, ইসলামের ক্ষেত্রে নামাজের মর্যাদা হলো তাঁবুর খুঁটির মতো যার ওপর তাঁবু দাঁড়িয়ে থাকে। সুতরাং, খুঁটি পড়ে গেলে যেমন তাঁবু পড়ে যায়, তেমনি নামাজ চলে গেলে ইসলামও চলে যায়। ইমাম আহমাদ (রহ.) এটি দিয়েই দলিল পেশ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) সহিহ (صحيح) - এটি তিরমিজি (২৬১৬) এবং ইবনে মাজাহ (৩৯৭৩) আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াজ আল-সানআনির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া নাসায়ি 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (১১৩৩০) এবং কুদায়ী 'মুসনাদুশ শিহাব' গ্রন্থে (১০৪) সংক্ষেপে এটি বর্ণনা করেছেন। একইভাবে বায়হাকি 'শুয়াবুল ইমান' গ্রন্থে (৩০৭৯) মুহাম্মদ ইবনে সাওর-এর সূত্রে, এবং আবদুর রাজ্জাক 'আল-জামি লি-মামার' গ্রন্থে (২০৩০৩) বর্ণনা করেছেন। তার সূত্রে ইমাম আহমাদ (৫/২৩১), আবদ ইবনে হুমাইদ (১১২ - আল-মুনতাখাব), মারওয়াজি 'তাযিমু কদরিস সালাত' গ্রন্থে (১৯৬), তাবারানি (২০/২৬৬) এবং বায়হাকি 'আল-আদাব' গ্রন্থে (৩৯৯) বর্ণনা করেছেন। আর বাগাউয়ি 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে (১১) তাদের তিনজন (আবদুল্লাহ ইবনে মুয়াজ, মুহাম্মদ ইবনে সাওর এবং আবদুর রাজ্জাক) থেকে; তারা মামার থেকে, তিনি আসিম ইবনে আবি আল-নাজুদ থেকে, তিনি আবু ওয়াইল থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:

"আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি কাজ সম্পর্কে বলুন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি বললেন: তুমি এক মহান বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ, তবে আল্লাহ যার জন্য সহজ করে দেন তার জন্য এটি সহজ: তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, নামাজ কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, রমজানের রোজা রাখবে এবং বায়তুল্লাহর হজ করবে। এরপর তিনি বললেন: আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাগুলোর কথা বলে দেব না? রোজা হলো ঢাল স্বরূপ, সদকা গুনাহ মিটিয়ে দেয় যেমন পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়, আর গভীর রাতে কোনো ব্যক্তির নামাজ। এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে আলাদা থাকে} {পর্যন্ত যখন তিনি পৌঁছালেন} {যা তারা আমল করত}। এরপর তিনি বললেন: আমি কি তোমাকে সকল কাজের মূল, তার স্তম্ভ এবং তার সর্বোচ্চ শিখর সম্পর্কে বলব না? আমি বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: সকল কাজের মূল হলো ইসলাম, তার স্তম্ভ হলো নামাজ এবং তার সর্বোচ্চ শিখর হলো জিহাদ। এরপর তিনি বললেন: আমি কি তোমাকে এই সবকিছুর চাবিকাঠি সম্পর্কে বলব না? আমি বললাম: অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসূল! তখন তিনি নিজের জিহ্বা ধরলেন এবং বললেন: একে সংযত রাখো। আমি বললাম: হে আল্লাহর নবী! আমরা যা কথা বলি তার জন্যও কি পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন: তোমার মা তোমাকে হারাক, মানুষের জিহ্বার উপার্জিত ফসলই কি তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবে না?"

ইমাম তিরমিজি বলেছেন:

"এটি হাসান সহিহ (حسن صحيح) হাদিস।"

হাফেজ ইবনে রজব 'জামি-উল উলুম ওয়াল হিকাম' গ্রন্থে (২/১৩৫) এর সমালোচনা করে বলেছেন: "ইমাম তিরমিজি যা বলেছেন তা দুই দিক থেকে বিবেচ্য:

প্রথমত: আবু ওয়াইল মুয়াজ (রা.) থেকে হাদিস শুনেছেন বলে প্রমাণিত নয়, যদিও তিনি বয়সে তার সমসাময়িক ছিলেন। মুয়াজ (রা.) ছিলেন সিরিয়ায় আর আবু ওয়াইল ছিলেন কুফায়। ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য ইমামগণ এ ধরনের ক্ষেত্রে হাদিস শ্রবণ না করার (انتفاء السماع) দলিল পেশ করেন। আবু হাতেম আল-রাজি, আবু দারদা থেকে আবু ওয়াইলের হাদিস শোনার ব্যাপারে বলেছেন: তিনি তার সমসাময়িক ছিলেন, কিন্তু তিনি ছিলেন কুফায় আর আবু দারদা ছিলেন সিরিয়ায়; অর্থাৎ তার থেকে হাদিস শোনা সহিহ (صح) নয়। আবু জুরআ আল-দিমাশকি একদল আলিমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তারা উমর (রা.) থেকে আবু ওয়াইলের হাদিস শোনার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন বা নাকচ করেছেন। সুতরাং মুয়াজ (রা.) থেকে শোনার বিষয়টি আরও দূরহ।

দ্বিতীয়ত: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ এটি আসিম ইবনে আবি আল-নাজুদ থেকে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি মুয়াজ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। দারা কুতনি বলেছেন: এটিই সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি; কারণ শাহর ইবনে হাওশাবের বর্ণনা হিসেবে হাদিসটি পরিচিত, যদিও তার সূত্রে বর্ণনায় মতভেদ রয়েছে।"

আমি (লেখক) বলছি: এটি একটি সংযুক্ত (موصول) সনদেও বর্ণিত হয়েছে:

আবু কাসিম আল-বাগাউয়ি 'আল-জাদিয়াত' গ্রন্থে (৩৪০৩) এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাদ-এর সূত্রে এটি ইবনে হিব্বান (২১৪), তাবারানি (২০/১২২) এবং 'মুসনাদুশ শামিয়্যিন' গ্রন্থে (২২২) বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে আবদুর রহমান ইবনে সাবিত ইবনে সাওবান বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে। এছাড়া উমায়ের ইবনে হানি বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে গানমকে বলতে শুনেছেন যে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবালকে (রা.) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন। নবীজি তাকে বললেন: আমাকে এমন আমল সম্পর্কে বলো যা করলে জান্নাতে প্রবেশ করা যায়। তিনি বললেন:

"বাখ বাখ, তুমি এক মহান বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ, তবে আল্লাহ যার জন্য সহজ করে দেন তার জন্য এটি সহজ। তুমি ফরজ নামাজ কায়েম করবে, নির্ধারিত জাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না।"

এটি বাজার (২৭ - কাশফ) বর্ণনা করেছেন, তবে মুদ্রিত কপিতে ভুলবশত 'তার পিতা' এর জায়গায় 'তার মা' ছাপা হয়েছে! এর সনদটি উত্তম (جيد)।

হান্নাদ 'আল-জুহদ' গ্রন্থে (২/৫৩০) বর্ণনা করেছেন, আমাদের হাতে হাতেম ইবনে ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে। তাতে বর্ণিত হয়েছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন:

"আমি কি তোমাকে এই বিষয়ের মূল, তার স্তম্ভ এবং তার সর্বোচ্চ শিখর সম্পর্কে জানাব না? তিনি বললেন: এর মূল হলো ইসলাম, সুতরাং যে ইসলাম গ্রহণ করল সে নিরাপদ হলো। তার স্তম্ভ হলো নামাজ এবং তার সর্বোচ্চ শিখর হলো আল্লাহর পথে জিহাদ। আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাগুলো সম্পর্কে জানাব না:

রোজা হলো ঢাল স্বরূপ, সদকা পাপ মিটিয়ে দেয় এবং আল্লাহর জন্য গভীর রাতে বান্দার দণ্ডায়মান হওয়া। বর্ণনাকারী বলেন: তারপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন (তাদের পার্শ্বদেশ শয্যা থেকে আলাদা থাকে) শেষ পর্যন্ত। এরপর বললেন: আমি কি তোমাকে মানুষের জন্য এই সবকিছুর চেয়েও অধিক মালিকানাধীন বিষয় সম্পর্কে জানাব না? এরপর তিনি তার জিহ্বার দিকে তিনবার ইঙ্গিত করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমি বললাম, আমরা যা বলি তার জন্যও কি পাকড়াও করা হবে? তখন তিনি আমার কাঁধে আঘাত করলেন এবং বললেন: হে মুয়াজ, তোমার মা তোমাকে হারাক, এই জিহ্বা ছাড়া আর কী মানুষকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে? তুমি যতক্ষণ চুপ থাকবে ততক্ষণ নিরাপদ থাকবে, আর যখন কথা বলবে তখন তা তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে যাবে।"

এর সনদটি বিচ্ছিন্ন (منقطع), কারণ মাকহুল মুয়াজ (রা.) থেকে হাদিস শোনেননি এবং তিনি একজন মুদাল্লিস (مدلس)-ও।

আবদুর রহমান ইবনে গানম-এর সূত্রে এর আরও কিছু পথ রয়েছে:

ইবনে মাজাহ (৭২), আহমাদ (৫/২৩৬ ও ২৪৫), ইবনুল মুবারক 'আল-জিহাদ' গ্রন্থে (৩১), আবদ ইবনে হুমাইদ (১১৩ - আল-মুনতাখাব), বাজার (২৬৬৯ ও ২৬৭০), তাবারানি (২০/১১৫ ও ১১৭), দারা কুতনি (১/৪৩৪), ইবনে আবদিল বার 'আত-তামহিদ' গ্রন্থে (৫/৬৫-৬৬) বিস্তারিত ও সংক্ষেপে শাহর ইবনে হাওশাব-এর সূত্রে আবদুর রহমান ইবনে গানম থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবুক যুদ্ধের আগে লোকদের নিয়ে বের হলেন... তাতে আছে "অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে মুয়াজ, আমি চাইলে তোমাকে এই বিষয়ের মূল, তার ভিত্তি এবং তার সর্বোচ্চ শিখর সম্পর্কে বলতে পারি। মুয়াজ বললেন: অবশ্যই, হে আল্লাহর নবী, আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আপনি আমাকে বলুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: এই বিষয়ের মূল হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। এই বিষয়ের ভিত্তি হলো নামাজ কায়েম করা ও জাকাত দেওয়া। আর এর সর্বোচ্চ শিখর হলো আল্লাহর পথে জিহাদ। আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করব যতক্ষণ না তারা নামাজ কায়েম করে, জাকাত দেয় এবং সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। যখন তারা তা করবে, তখন তারা তাদের রক্ত ও সম্পদকে রক্ষা করে নিল, তবে তার হক ব্যতীত; আর তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বললেন: যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, তাঁর কসম! ফরজ নামাজের পর আল্লাহর পথে জিহাদের মতো এমন কোনো আমল নেই যা চেহারাকে বিবর্ণ করে দেয় বা পদযুগলকে ধূলিধূসরিত করে এবং জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা লাভের কারণ হয়। আর কোনো বান্দার মিজানে আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করা কোনো পশুর চেয়ে ভারী আর কিছুই হবে না।"

শাহর ইবনে হাওশাব: তার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, তবে তিনি এই বর্ণনায় একাকী নন, অন্যরাও তাকে সমর্থন করেছেন:

মারওয়াজি 'তাযিমু কদরিস সালাত' গ্রন্থে (১৯৫), বুখারি 'আত-তারিখুল কাবির' গ্রন্থে (৭/৪২৬), তাবারানি (২০/১৩৭), ইবনে বিশরান 'আল-আমালি' গ্রন্থে (৮১৮) সাঈদ ইবনে মাসরুক-এর সূত্রে আইয়ুব ইবনে কুরাইয থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে গানম থেকে, তিনি মুয়াজ থেকে দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন। তাতে আছে: "মৌলিক বিষয় হলো ইসলাম, তার স্তম্ভ হলো নামাজ এবং তার শিখর হলো জিহাদ।"

তহাউয়ি 'শারহু মুশকিলিল আসার' গ্রন্থে (১৪৭৮) সাঈদ ইবনে মাসরুক-এর সূত্রে আইয়ুব থেকে—তহাউয়ি বলেন তিনি হলেন ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মিকরান—তিনি শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে গানম থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন।

তহাউয়ি (রহ.) যা বলেছেন বিষয়টি তেমন নয়। কারণ এই আইয়ুব হলেন ইবনে কুরাইয, যিনি ইবনে গানম থেকে বর্ণনা করেন। তার থেকে সাঈদ ইবনে মাসরুক বর্ণনা করেন, যেমনটি বুখারি 'আত-তারিখুল কাবির' গ্রন্থে (১/৪২১), ইবনে আবি হাতেম 'আল-জারহু ওয়াত তাদিল' গ্রন্থে (২/২৫৬) এবং ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' গ্রন্থে (৬/৫৪) উল্লেখ করেছেন। মারওয়াজি, বুখারি ও তাবারানির বর্ণনা এটি নিশ্চিতভাবে স্পষ্ট করেছে। আর তিনি একজন অপরিচিত (مجهول) বর্ণনাকারী। অন্যদিকে আইয়ুব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মিকরান ইবনে কুরাইযের চেয়েও উচ্চ স্তরের; তিনি তাবেয়িদের মধ্যম স্তরের অন্তর্ভুক্ত এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও ওয়াবিসাহ ইবনে মাবাদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তার থেকে শুরাইহ ইবনে উবাইদ আল-হাদরামি ও জুবায়ের আবু আবদুস সালাম বর্ণনা করেন।

তাবারানি (২০/১৪১) আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে তামিম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আমার কাছে জুহরি বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে গানম আল-আশআরি থেকে, আমার কাছে মুয়াজ ইবনে জাবাল বর্ণনা করেছেন।

আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে তামিম: তিনি দুর্বল (ضعيف)।

শাহর-এর সূত্রে (এককভাবে):

আহমাদ (৫/২৩২, ২৪২ ও ২৪৮) এবং 'আল-জুহদ' গ্রন্থে (১৬৪) সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। তাবারানি (২০/২০০) এটি বর্ণনা করেছেন।

এর সনদটি বিচ্ছিন্ন (منقطع), কারণ শাহর মুয়াজ (রা.)-এর সাক্ষাৎ পাননি।

মুয়াজ (রা.) থেকে এর আরও কিছু পথ রয়েছে:

প্রথম পথ - নাসায়ি (২২২৬) এবং 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (২৫৪৭), আহমাদ (৫/২৩৩ ও ২৩৭), ইবনে আবি শাইবাহ (৫/২৮৬, ৯/৬৪ ও ১১/৬), 'আল-ইমান' গ্রন্থে (১), 'আল-আদাব' গ্রন্থে (২২০), তায়ালিসি (৫৬১), হারিস ইবনে আবি উসামাহ (১২ - বুগইয়াতুল বাহিস), ইবনে আবি আসিম 'আল-জিহাদ' গ্রন্থে (১৬) ও 'জিকরুদ দুনিয়া' গ্রন্থে (৭), তাবারানি (২০/৩০৪ ও ৩০৫), কুদায়ী 'মুসনাদুশ শিহাব' গ্রন্থে (৪৮), বায়হাকি 'শুয়াবুল ইমান' গ্রন্থে (২৫৪৯, ৩০৭৮ ও ৩৯২১) বিস্তারিত ও সংক্ষেপে শুবা-এর সূত্রে হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি উরওয়াহ ইবনে নাযযালকে বলতে শুনেছি,

তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল সম্পর্কে বলুন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তিনি বললেন:

"বাখ বাখ, তুমি এক মহান বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছ, তবে আল্লাহ যার জন্য সহজ করে দেন তার জন্য এটি সহজ: তুমি ফরজ নামাজ আদায় করবে এবং নির্ধারিত জাকাত প্রদান করবে। আমি কি তোমাকে সকল কাজের মূল, তার স্তম্ভ এবং তার সর্বোচ্চ শিখর সম্পর্কে বলব না? সকল কাজের মূল হলো ইসলাম, যে ইসলাম গ্রহণ করল সে নিরাপদ হলো। তার স্তম্ভ হলো নামাজ এবং তার সর্বোচ্চ শিখর হলো আল্লাহর পথে জিহাদ... (হাদিসটির শেষ পর্যন্ত)।"

উরওয়াহ ইবনে নাযযাল এটি মুয়াজ (রা.) থেকে শোনেননি এবং তিনি একজন অপরিচিত (مجهول) বর্ণনাকারী।

দ্বিতীয় পথ - নাসায়ি (২২২৪, ২২২৫ ও ২২২৭) এবং 'আল-কুবরা' গ্রন্থে (২৫৪৫, ২৫৪৬ ও ২৫৪৮), আহমাদ (৫/২৩৩ ও ২৩৭), ইবনে আবি শাইবাহ (৯/৬৪ ও ১১/৭), মারওয়াজি 'তাযিমু কদরিস সালাত' গ্রন্থে (১৯৭), হান্নাদ 'আল-জুহদ' গ্রন্থে (২/৫২৯), ইবনে আবিদ দুনিয়া 'আস-সামত' গ্রন্থে (৬), তাবারানি (২০/২৯২, ২৯৩ ও ২৯৪), শাশী তার 'মুসনাদ' গ্রন্থে (১৩৬৬), হাকেম (২/৭৬ ও ৪১২-৪১৩), আবু নুয়াইম 'আল-হিলইয়াহ' গ্রন্থে (৪/৩৭৬),

ওয়াহিদি 'আল-ওয়াসিত' গ্রন্থে (৭৩৪) এবং বায়হাকি (৯/২০) ও 'শুয়াবুল ইমান' গ্রন্থে (৪৬০৭) মায়মুন ইবনে আবি শাবিব-এর সূত্রে মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন। তাতে আছে: "সকল কাজের মূল হলো ইসলাম, তার স্তম্ভ হলো নামাজ এবং তার সর্বোচ্চ শিখর হলো আল্লাহর পথে জিহাদ।"

হাকেম বলেছেন:

"এটি বুখারি ও মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح) হাদিস কিন্তু তারা এটি বর্ণনা করেননি।" জাহাবিও এটি সমর্থন করেছেন!

আমি বলছি: মায়মুন ইবনে আবি শাবিব থেকে ইমাম বুখারি তার সহিহ গ্রন্থে কোনো বর্ণনা করেননি, বরং 'আল-আদাবুল মুফরাদ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে ইমাম মুসলিম কেবল 'মুকাদ্দিমাহ' (১/৮) অংশে তার বর্ণনা এনেছেন। আর তার এবং মুয়াজ (রা.)-এর মধ্যবর্তী সনদটি বিচ্ছিন্ন (منقطع)।

তৃতীয় পথ - মারওয়াজি 'তাযিমু কদরিস সালাত' গ্রন্থে (১৯৮) বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আল-মুকাদ্দামি বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারওয়ি বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে উমর বর্ণনা করেছেন, তিনি নুয়াইম ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

এর সনদটি দুর্বল (ضعيف); এতে আবদুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমরি রয়েছেন যিনি দুর্বল (ضعيف)। ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারওয়ি-এর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে এবং নুয়াইম ইবনে ওয়াহাব-এর কোনো জীবনী আমি খুঁজে পাইনি।

চতুর্থ পথ - হান্নাদ 'আল-জুহদ' গ্রন্থে (২/৫৩১) বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবদাহ বর্ণনা করেছেন; ইবনে আবিদ দুনিয়া 'আস-সামত' গ্রন্থে (২২); শাশী তার 'মুসনাদ' গ্রন্থে (১৪০০) ইয়াজিদ ইবনে হারুন-এর সূত্রে; এবং তাবারানি (২/৩৭৪) আবদুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ-এর সূত্রে—তারা তিনজনই মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে। আমাদের কাছে আবু সালামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে অসিয়ত করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:

"আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করো যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ, নিজেকে মৃতদের অন্তর্ভুক্ত মনে করো, প্রতিটি পাথর ও গাছের কাছে আল্লাহকে স্মরণ করো। যখন তুমি কোনো মন্দ কাজ করবে তখন তার পাশাপাশি একটি ভালো কাজ করো—গোপন গুনাাহর বদলে গোপন নেক কাজ আর প্রকাশ্য গুনাাহর বদলে প্রকাশ্য নেক কাজ। আমি কি তোমাকে এমন বিষয় সম্পর্কে বলব না যা তোমার জন্য এই সবকিছুর চেয়েও অধিক কার্যকর? মুয়াজ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তা কী? তিনি বললেন: "এটি", এবং নিজের জিহ্বার দিকে ইঙ্গিত করলেন। মুয়াজ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, এটিই কি তা? এবং তিনি নিজের জিহ্বার দিকে ইশারা করলেন। নবীজি বললেন: "মানুষকে তাদের নাকের ওপর উপুড় করে কি জিহ্বা ছাড়া আর কিছু জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে?"

এর সনদটি আবু সালামাহ ও মুয়াজ (রা.)-এর মধ্যে বিচ্ছিন্ন (منقطع)।

পঞ্চম পথ - বাজার (২৬৪৩), তাবারানি (২০/২৫৮) এবং ইবনুল বান্না 'আস-সুকুত ও লুযুমুল বুয়ুত' গ্রন্থে (৫) মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের-এর সূত্রে দুটি পথে বর্ণনা করেছেন। আমাদের কাছে আবু মুয়াবিয়া আমর ইবনে আবদুল্লাহ আল-নাখয়ি বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবু আমর আল-শায়বানি বর্ণনা করেছেন, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে। তিনি বলেন:

"আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা যা বলি তার প্রতিটি বিষয়ের জন্য কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? তিনি বললেন: হে মুয়াজ ইবনে জাবাল, তোমার মা তোমাকে হারাক, মানুষের জিহ্বার উপার্জিত ফসলই কি তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবে না?"

এই সনদের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)। আবু আমর আল-শায়বানি আল-কুফি সাদ ইবনে ইয়াস একজন মুখাদরাম (مخضرم)।

সতর্কতা: 'মুসনাদে ইমাম আহমাদ'-এর টিকাদানকারীগণ (৩৬/৩৪৬ - আল-রিসালাহ সংস্করণ) ধারণা করেছেন যে, আবু মুয়াবিয়া আমর ইবনে আবদুল্লাহ আল-নাখয়ি হলেন আমর ইবনে আবদুল্লাহ আল-সাবিঈ; অথচ 'আল-মুজামুল কাবির' গ্রন্থে তার উপনামের সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে।

ষষ্ঠ পথ - আহমাদ (৫/২৩৪), বাজার (২৬৫১), তাবারানি 'শামিয়্যিন' গ্রন্থে (১৪৯২) এবং আবু নুয়াইম 'আল-হিলইয়াহ' গ্রন্থে (৫/১৫৪) আবু বকর ইবনে মারইয়াম-এর সূত্রে আতিয়্যাহ ইবনে কাইস থেকে বর্ণনা করেছেন,

তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জিহাদ হলো ইসলামের স্তম্ভ এবং তার সর্বোচ্চ শিখর।"

এটি একটি প্রত্যাখ্যাত (منكر) বর্ণনা। হাদিসটি মূলত এই শব্দে সুপরিচিত: "নামাজ হলো ইসলামের স্তম্ভ এবং জিহাদ হলো তার সর্বোচ্চ শিখর।" আবু বকর ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবি মারইয়াম আল-গাসানি হলেন দুর্বল (ضعيف)। তার ঘর চুরি হওয়ার পর থেকে তিনি স্মৃতিভ্রমে আক্রান্ত হন। এছাড়া এর সনদটি বিচ্ছিন্ন (منقطع), কারণ আতিয়্যাহ ইবনে কাইস মুয়াজ (রা.) থেকে হাদিস শোনেননি।

সপ্তম পথ - তাবারানি (২০/৯৬) এবং ইবনে শাহিন 'ফাযাইলুল আমাল' গ্রন্থে (৪৩৫) ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে উসমান ইবনে আবি আল-আতিকাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি আলি ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি কাসিম থেকে,

তিনি আবু উমামাহ থেকে, তিনি মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে। তিনি বলেন: "হে আল্লাহর রাসূল, আপনি যে দ্বীন নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন তার মূল কী? তিনি বললেন: ইসলাম, যে ইসলাম গ্রহণ করল সে নিরাপদ হলো; তার স্তম্ভ হলো নামাজ এবং তার সর্বোচ্চ শিখর হলো আল্লাহর পথে জিহাদ।"

এর সনদটি দুর্বল (ضعيف)। আলি ইবনে ইয়াজিদ আল-আলহানি হলেন দুর্বল (ضعيف)।

আর উসমান ইবনে আবি আল-আতিকাহ: আলি ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণ তাকে দুর্বল (ضعفوه) সাব্যস্ত করেছেন।

উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.)-এর মুসনাদ থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে:

হাকেম (৪/২৮৬-২৮৭) বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবু আব্বাস মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে রাবি ইবনে সুলাইমান বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, আমাকে আবু হানি জানিয়েছেন, তিনি আমর ইবনে মালিক আল-জানবি থেকে, তিনি ফাদালাহ ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.) থেকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তাঁর উটে চড়ে বের হলেন এবং সাহাবীগণ তাঁর আগে আগে যাচ্ছিলেন। তখন মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বললেন:

"হে আল্লাহর নবী, আপনি কি আমাকে সন্তুষ্টচিত্তে আপনার কাছে আসার অনুমতি দেবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন মুয়াজ তাঁর কাছে আসলেন এবং তারা দুজনে একসাথে চলতে লাগলেন। মুয়াজ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আল্লাহ যেন আমাদের মৃত্যু আপনার মৃত্যুর আগেই করেন; তবে আল্লাহ না করুন যদি কোনো ঘটনা ঘটে তবে আপনার পরে আমরা কোন আমল করব? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকলেন। মুয়াজ বললেন: আল্লাহর পথে জিহাদ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: জিহাদ একটি উত্তম কাজ, তবে মানুষের জন্য তার চেয়েও অধিক কার্যকর হলো রোজা ও সদকা। মুয়াজ বললেন: রোজা ও সদকাও তো উত্তম কাজ। এরপর মুয়াজ আদমসন্তানের প্রতিটি ভালো কাজের কথা উল্লেখ করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: মানুষের জন্য তার চেয়েও ভালো কিছু আছে। মুয়াজ বললেন: আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, মানুষের জন্য তার চেয়েও ভালো আর কী হতে পারে? বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুখের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন: ভালো কথা ছাড়া অন্য সময় নীরবতা অবলম্বন করা। মুয়াজ বললেন: আমাদের জিহ্বা যা বলে তার জন্য কি আমাদের পাকড়াও করা হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়াজের উরুতে আঘাত করে বললেন: হে মুয়াজ, তোমার মা তোমাকে হারাক—অথবা আল্লাহ যা চাইলেন তা বললেন—জিহ্বার উপার্জিত ফসল ছাড়া আর কী মানুষকে জাহান্নামে উপুড় করে নিক্ষেপ করবে? সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখে সে যেন ভালো কথা বলে অথবা মন্দ থেকে চুপ থাকে। তোমরা ভালো কথা বলো—লাভবান হবে; আর মন্দ থেকে চুপ থাকো—নিরাপদ থাকবে।"

ইমাম হাকেম বলেছেন:

"এটি বুখারি ও মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح) হাদিস কিন্তু তারা এটি বর্ণনা করেননি।" জাহাবিও এটি সমর্থন করেছেন!

আমি বলছি: এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে এটি বুখারি ও মুসলিম-এর শর্তানুযায়ী বা তাদের কারো শর্তানুযায়ী নয়। কারণ তারা রাবি ইবনে সুলাইমান আল-মুরাদি থেকে কোনো বর্ণনা করেননি। আর আবু হানি হলেন হুমাইদ ইবনে হানি আল-খাওলানি আল-মিসরি, ইমাম বুখারি তার থেকে কোনো বর্ণনা করেননি; তবে তিনি 'আল-আদাবুল মুফরাদ' গ্রন্থে এবং ইমাম মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে আমর ইবনে মালিক আল-হামদানি আল-জানবি থেকে তারা কোনো বর্ণনা করেননি, তবে বুখারি 'আল-আদাবুল মুফরাদ' গ্রন্থে তার বর্ণনা এনেছেন।

আবু হুরায়রা, উমর এবং আলি (রা.)-এর হাদিস থেকে এর সাক্ষ্যমূলক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে:

আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস সম্পর্কে:

মারওয়াজি 'তাযিমু কদরিস সালাত' গ্রন্থে (১৯৯) মুকাদ্দামি ও ফারওয়ি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে নুয়াইমের হাদিসের মতো বর্ণনা করেছেন।

অর্থাৎ নুয়াইম ইবনে ওয়াহাব-এর সূত্রে মুয়াজ ইবনে জাবাল থেকে বর্ণিত যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন:

"আমি তোমাকে সকল কাজের মূল ও তার স্তম্ভ সম্পর্কে জানাব। তার মূল হলো ইসলাম এবং স্তম্ভ হলো নামাজ।"

এর সনদটি দুর্বল (ضعيف); এতে আবদুল্লাহ ইবনে উমর আল-উমরি রয়েছেন যিনি দুর্বল (ضعيف)। ইসহাক ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারওয়ি-এর ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে এবং নুয়াইম ইবনে ওয়াহাব-এর কোনো জীবনী আমি পাইনি।

উমর (রা.)-এর হাদিস সম্পর্কে:

বায়হাকি 'শুয়াবুল ইমান' গ্রন্থে (২৫৫০) বর্ণনা করেছেন, আমাদের আবু আবদুল্লাহ আল-হাফেজ জানিয়েছেন, আমাদের আবু হামিদ আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে শুয়াইব ইবনে হারুন ইবনে মুসা আল-ফকিহ জানিয়েছেন, আমাদের কাছে জাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মুসা ইবনে ইবরাহিম আল-নিশাপুরি বর্ণনা করেছেন, আমাদের ওয়াহাব ইবনে জারির জানিয়েছেন, আমাদের শুবা বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন:

"এক ব্যক্তি আসলো এবং বলল: হে আল্লাহর রাসূল, ইসলামের কোন বিষয়টি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন: সময়মতো নামাজ আদায় করা; আর যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দিল তার কোনো দ্বীন নেই। নামাজ হলো দ্বীনের খুঁটি।"

বায়হাকি বলেছেন: "আবু আবদুল্লাহ (অর্থাৎ হাকেম) বলেছেন: ইকরিমাহ উমর (রা.) থেকে হাদিস শোনেননি। আমার ধারণা তিনি ইবনে উমর (রা.) বোঝাতে চেয়েছেন।"

যাইলায়ি 'তাখরিজুল কাশশাফ' গ্রন্থে (১/৪২) বলেছেন:

"প্রকাশ্যত এই ইকরিমাহ হলেন ইকরিমাহ ইবনে খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে আল-আস, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমাহ নন। তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাসের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق)। ইবনে আবি হাতেম তার 'মারাসিল' গ্রন্থে আহমাদ ইবনে হাম্বাল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: ইকরিমাহ ইবনে খালিদ উমর (রা.) থেকে কিছু শোনেননি, তিনি কেবল ইবনে উমর থেকে শুনেছেন। বরং আবু জুরআ বলেছেন: উসমান (রা.) থেকে ইকরিমাহ ইবনে খালিদের বর্ণনা বিচ্ছিন্ন (مرسل), তাহলে উমর (রা.) থেকে তো আরও আগেই।"

ইবনুল কাত্তান তার 'আল-ওয়াহমু ওয়াল ইহোম' গ্রন্থে বলেছেন: "ইকরিমাহ ইবনে খালিদ নামে দুজন ব্যক্তি রয়েছেন এবং তারা উভয়ই মাখজুমি গোত্রের:

একজন হলেন ইকরিমাহ ইবনে খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে আল-আস, তিনি একজন তাবেয়ি এবং ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন। তার থেকে আমর ইবনে দিনার, ইবরাহিম ইবনে মুহাজির, ইবনে জুরাইজ, আমির আল-আহওয়াল ও হানজালাহ ইবনে আবি সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন। ইমাম নাসায়ি, ইবনে মাঈন ও আবু জুরআ তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন এবং তার দুর্বলতার ব্যাপারে কোনো কথা শোনা যায়নি। বুখারি ও মুসলিম তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

অন্যজন হলেন ইকরিমাহ ইবনে খালিদ ইবনে সালামাহ, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তার থেকে মুসলিম ইবনে ইবরাহিম ও নাসর ইবনে আলি বর্ণনা করেছেন। ইলিয়াস তাকে দুর্বলদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারি ও আবু হাতেম বলেছেন: তিনি প্রত্যাখ্যাত (منكر) হাদিস বর্ণনাকারী।"

আবু নুয়াইম ফাযল ইবনে দুকাইন 'কিতাবুস সালাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—যেমনটি 'তালখিসুল হাবির' গ্রন্থে (১/৩০৮) এসেছে—হাবিব ইবনে সালিম থেকে, তিনি বিলাল ইবনে ইয়াহইয়া থেকে। তিনি বলেন:

"এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন: নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ।"

হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন:

"এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) কিন্তু এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।"

আলি (রা.)-এর হাদিস সম্পর্কে:

ইবনে শাহিন 'ফাযাইলুল আমাল' গ্রন্থে (৪৪৪) এবং কাওয়ামুস সুন্নাহ 'আত-তারগিব' গ্রন্থে (২০১৬) মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-আবসি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে আহমাদ ইবনে তারিক বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে হাবিব বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি হারিস থেকে, তিনি আলি (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। নবীজি বলেছেন:

"নামাজ হলো ইসলামের খুঁটি এবং জিহাদ হলো আমলের শিখর।"

এর সনদটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا)। হারিস আল-আওয়ার: তার বর্ণিত হাদিসে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে। শাবি তাকে ব্যক্তিগত মতামতের ক্ষেত্রে মিথ্যাবাদী বলেছেন এবং 'আত-তাকবিব' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে তার বিরুদ্ধে রাফেজি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর হাবিব হলেন হামজার ভাই, যেমনটি 'আল-গুরাইবুল মুলতাকাতাহ' গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে এসেছে; তিনি হলেন ইবনে হাবিব আল-যাইয়াত। জাহাবি 'আল-মিজান' গ্রন্থে (১/৪৫৭) বলেছেন:

"আবু জুরআ তাকে দুর্বল বলেছেন এবং ইবনুল মুবারক তার বর্ণনা ত্যাগ করেছেন।"

আর আহমাদ ইবনে তারিক আল-ওয়াবশি: তাকে আমি খুঁজে পাইনি। তার থেকে একাকী মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-আবসি বর্ণনা করেছেন। এই শেষোক্ত ব্যক্তির ব্যাপারেও মতভেদ রয়েছে, তবে আল্লামা মুয়াল্লিমি 'আত-তানকিল' গ্রন্থে (২/৬৯৪-৬৯৬) তার পক্ষ সমর্থন করেছেন।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী (সকল কাজের মূল হলো ইসলাম, তার স্তম্ভ হলো নামাজ এবং তার সর্বোচ্চ শিখর হলো জিহাদ) সম্পর্কে ইবনে রজব বলেছেন:

"নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি জিনিস সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন: কাজের মূল, তার স্তম্ভ এবং তার সর্বোচ্চ শিখর।

কাজের মূল বলতে তিনি সেই দ্বীনকে বুঝিয়েছেন যা নিয়ে তিনি প্রেরিত হয়েছেন, আর তা হলো ইসলাম। অন্য বর্ণনায় এর ব্যাখ্যা 'শাহাদাতাইন' বা দুই সাক্ষ্যবাণীর মাধ্যমে এসেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি প্রকাশ্য ও গোপনে এই দুই সাক্ষ্য প্রদান করল না, তার ইসলামের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।

আর দ্বীনের স্থায়িত্ব যা দিয়ে দ্বীন দাঁড়িয়ে থাকে—যেমন তাঁবু তার খুঁটির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে—তা হলো নামাজ। অন্য বর্ণনায় এসেছে: "নামাজ কায়েম করা ও জাকাত প্রদান করা।" ইসলামের রোকনসমূহ এবং একটির সাথে অন্যটির বন্ধন সম্পর্কে আগেই আলোচনা হয়েছে।

আর তার সর্বোচ্চ শিখর—যা তার সবচেয়ে উপরের এবং সর্বোচ্চ অংশ—তা হলো জিহাদ। এটি প্রমাণ করে যে, ফরজ ইবাদতসমূহের পর এটিই শ্রেষ্ঠ আমল, যেমনটি ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য আলিমদের অভিমত।

ইমাম আহমাদের বর্ণনায় নবীজির এই কথাটি: "যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তাঁর কসম! ফরজ নামাজের পর আল্লাহর পথে জিহাদের মতো এমন কোনো আমল নেই যা চেহারাকে বিবর্ণ করে দেয় বা পদযুগলকে ধূলিধূসরিত করে এবং জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা লাভের কারণ হয়"—এটি এর স্পষ্ট প্রমাণ।

'সহিহাইন' (বুখারি ও মুসলিম) গ্রন্থে আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, কোন আমলটি শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন: "আল্লাহর প্রতি ইমান এবং তাঁর পথে জিহাদ।""
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
الدليل التاسع: في "الصحيحين" و"السنن" و"المسانيد" من حديث عبد الله بن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة وحج البيت، وصوم رمضان"(1) رواه الإمام أحمد، وفي بعض ألفاظه: "الإسلام خمس" فذكره.

ووجه الاستدلال به من وجوه:

أحدها: أنه جعل الإسلام كالقبة المبنية على خمسة أركان، فإذا وقع ركنها الأعظم وقعت قبة الإسلام.

الثاني: أنه جعل هذه الاركان في كونها أركانا لقبة الإسلام قرينة الشهادتين، فهما ركن، والصلاة ركن، والزكاة ركن، فما بال قبة الإسلام تبقى بعد سقوط أحد أركانها، دون بقية أركانها.

الثالث: أنه جعل هذه الأركان نفس الإسلام، وداخلة في مسمى اسمه، وما كان اسما لمجموع أمور، إذا ذهب بعضها ذهب ذلك المسمى، ولا سيما إذا كان من أركانه لا من اجزائه التي ليست بركن له، كالحائظ للبيت فإنه إذا سقط، سقط البيت بخلاف العود والخشبة واللبنة ونحوها.

--------------------------------------------

(1) متفق عليه من حديث عبد الله بن عمر، وقد استوفيت طرقه في كتابي "الأربعون النووية بين الرواية والدراية" (3).
নবম দলিল: "সহীহাইন", "সুনান" এবং "মুসনাদ" গ্রন্থসমূহে আবদুল্লাহ ইবনে উমর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা।"(1) ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর কোনো কোনো বর্ণনার শব্দে এসেছে: "ইসলাম পাঁচটি বিষয়ের নাম", অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের পদ্ধতিটি নিম্নোক্ত কয়েকটি দিক থেকে বিচার্য:

প্রথমত: তিনি ইসলামকে পাঁচটি স্তম্ভের (أركان) ওপর নির্মিত একটি গম্বুজের ন্যায় সাব্যস্ত করেছেন; সুতরাং যদি এর প্রধান স্তম্ভটি পড়ে যায়, তবে ইসলামের গম্বুজটিও ধসে পড়বে।

দ্বিতীয়ত: তিনি এই স্তম্ভগুলোকে ইসলামের গম্বুজের স্তম্ভ হিসেবে শাহাদাতাইনের সমান্তরাল করেছেন। সুতরাং শাহাদাতাইন একটি স্তম্ভ (ركن), সালাত একটি স্তম্ভ (ركن) এবং জাকাতও একটি স্তম্ভ (ركن)। অতএব, ইসলামের গম্বুজটি কীভাবে তার একটি স্তম্ভ ধসে পড়ার পরেও টিকে থাকতে পারে, যেখানে অন্য স্তম্ভগুলোর ক্ষেত্রে এমনটি হয় না?

তৃতীয়ত: তিনি এই স্তম্ভগুলোকে (أركان) খোদ ইসলাম হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং এগুলো এর নামকরণের অন্তর্ভুক্ত। আর যা কিছু কতগুলো বিষয়ের সমষ্টির নাম হয়, তার কোনো একটি অংশ বিলুপ্ত হলে সেই মূল নামটি আর অবশিষ্ট থাকে না। বিশেষ করে যখন সেটি তার স্তম্ভগুলোর (أركان) অন্তর্ভুক্ত হয়, এমন কোনো সাধারণ অংশের অন্তর্ভুক্ত না হয় যা তার স্তম্ভ (ركن) নয়। যেমন—ঘরের দেয়াল; এটি ধসে পড়লে ঘরও ধসে পড়ে। কিন্তু লাঠি, কাঠ বা ইটের মতো উপাদানের বিষয়টি এমন নয়।

--------------------------------------------

(1) আবদুল্লাহ ইবনে উমর বর্ণিত হাদিস থেকে এটি সর্বসম্মত (متفق عليه)। আমি আমার গ্রন্থ "আল-আরবাউন আন-নাওয়াবিয়াহ বাইনার রিওয়ায়াতি ওয়াদ দিরায়াহ"-তে এর সকল সূত্র (طرق) সবিস্তারে আলোচনা করেছি (৩)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
الدليل العاشر: قول الرسول صلى الله عليه وسلم: "من صلى صلاتنا، واستقبل قبلتنا، وأكل ذبيحتنا فهو المسلم، له ما لنا وعليه ما علينا"(1).

ووجه الدلالة فيه من وجهين:

أحدهما: أنه إنما جعله مسلما بهذه الثلاثة، فلا يكون مسلما بدونها.

الثاني: أنه إذا صلى إلى الشرق لم يكن مسلما حتى يصلي إلى قبلة المسلمين، فكيف إذا ترك الصلاة بالكلية؟!

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (391)، والنسائي (4997)، وابن عدي في "الكامل" 8/ 158، وابن منده في "الإيمان" (195)، والبيهقي 2/ 3 من طريق منصور بن سعد، عن ميمون بن سياه، عن أنس به.

وأخرجه البخاري (392)، وأبو داود (2641)، والترمذي (2608)، والنسائي (3967) و (5003)، وفي "الكبرى" (3415)، وأحمد 3/ 199 و 224 - 225، وابن أبي شيبة 12/ 380 مختصرا، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (9)، وابن حبان (5895)، والدارقطني 1/ 433، وابن منده في "الإيمان" (31) و (192)، وأبو نعيم في "الحلية" 8/ 173، والبيهقي 2/ 3، والخطيب في "تاريخ بغداد" 10/ 464، والبغوي (34) عن ابن المبارك (وهو في "مسنده" (240))، والبخاري (393) معلقا، وأبو داود (2642)، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (10)، والطحاوي في "شرح المعاني" 3/ 215، والدارقطني 1/ 433، وابن منده في "الإيمان" (191)، والبيهقي 3/ 92، وفي "السنن الصغير" (348) من طريق يحيى بن أيوب، والنسائي (3966)، وفي "الكبرى" (3414)، والدارقطني 1/ 433، وابن منده في "الإيمان" (193) من طريق محمد بن عيسى بن القاسم بن سميع، ثلاثتهم (ابن المبارك، ويحيى بن أيوب، ومحمد بن عيسى) عن حميد الطويل، حدثنا أنس بن مالك، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"أمرت أن أقاتل الناس حتى يشهدوا أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله، فإذا شهدوا أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله، واستقبلوا قبلتنا، وأكلوا ذبيحتنا، وصلوا صلاتنا، فقد حرمت علينا دماؤهم وأموالهم إلا بحقها، لهم ما للمسلمين، وعليهم ما عليهم".

وقال الترمذي:

"هذا حديث حسن صحيح غريب من هذا الوجه".
দশম দলিল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি আমাদের মতো নামাজ আদায় করল, আমাদের কিবলার দিকে মুখ করল এবং আমাদের জবেহ করা পশু ভক্ষণ করল, সে-ই মুসলিম; আমাদের জন্য যা (প্রাপ্য), তার জন্যও তা-ই এবং আমাদের ওপর যা (অর্পিত), তার ওপরও তা-ই।"(১).

এখানে দলিল উপস্থাপনের দুটি দিক রয়েছে:

প্রথমটি: তিনি এই তিনটি বিষয়ের মাধ্যমেই তাকে মুসলিম হিসেবে গণ্য করেছেন, সুতরাং এগুলো ছাড়া কেউ মুসলিম হতে পারবে না।

দ্বিতীয়টি: সে যদি পূর্ব দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে তবে যতক্ষণ না সে মুসলিমদের কিবলার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ছে ততক্ষণ সে মুসলিম হতে পারে না, তাহলে যে ব্যক্তি নামাজই পুরোপুরি ত্যাগ করল তার অবস্থা কী হবে?!

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৩৯১), নাসায়ি (৪৯৯৭), ইবন আদি তাঁর 'আল-কামিল' ৮/১৫৮-তে, ইবন মানদাহ 'আল-ইমান' (১৯৫) গ্রন্থে এবং বায়হাকি ২/৩-তে মানসুর ইবন সাদ-এর সূত্রে, তিনি মাইমুন ইবন সিয়াহ থেকে এবং তিনি আনাস (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এছাড়াও বুখারি (৩৯২), আবু দাউদ (২৬৪১), তিরমিজি (২৬০৮), নাসায়ি (৩৯৬৭) ও (৫০০৩) এবং 'আল-কুবরা' (৩৪১৫)-তে, আহমাদ ৩/১৯৯ ও ২২৪-২২৫, ইবন আবি শাইবাহ ১২/৩৮০-তে সংক্ষেপে, মারওয়াজি 'তাযিম কদর আস-সালাত' (৯), ইবন হিব্বান (৫৮৯৫), দারাকুতনি ১/৪৩৩, ইবন মানদাহ 'আল-ইমান' (৩১) ও (১৯২), আবু নুয়াইম 'আল-হিলইয়াহ' ৮/১৭৩, বায়হাকি ২/৩, খতিব 'তারিখ বাগদাদ' ১০/৪৬৪ এবং বাগাবি (৩৪) ইবনুল মুবারক-এর সূত্রে (এটি তাঁর 'মুসনাদ' (২৪০)-এ রয়েছে) বর্ণনা করেছেন। বুখারি (৩৯৩) এটি মুয়াল্লাক (معلق) হিসেবে, আবু দাউদ (২৬৪২), মারওয়াজি 'তাযিম কদর আস-সালাত' (১০), ত্বহাবি 'শারহুল মাআনি' ৩/২১৫, দারাকুতনি ১/৪৩৩, ইবন মানদাহ 'আল-ইমান' (১৯১), বায়হাকি ৩/৯২ এবং 'আস-সুনান আস-সগির' (৩৪৮)-এ ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। নাসায়ি (৩৯৬৬), 'আল-কুবরা' (৩৪১৪), দারাকুতনি ১/৪৩৩ এবং ইবন মানদাহ 'আল-ইমান' (১৯৩)-এ মুহাম্মদ ইবন ঈসা ইবনুল কাসিম ইবন সামি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তিনজনই (ইবনুল মুবারক, ইয়াহইয়া ইবন আইয়ুব এবং মুহাম্মদ ইবন ঈসা) হুমাইদ আত-তবিল থেকে, তিনি আনাস ইবন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য নির্দেশিত হয়েছি যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। যখন তারা সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আমাদের কিবলার দিকে মুখ করবে, আমাদের জবেহ করা পশু ভক্ষণ করবে এবং আমাদের মতো নামাজ পড়বে, তখন আমাদের জন্য তাদের রক্ত ও সম্পদ হারাম হয়ে যাবে—হক পাওনা ব্যতীত। মুসলিমদের জন্য যা (অধিকার), তাদের জন্যও তা-ই এবং মুসলিমদের ওপর যা (দায়িত্ব), তাদের ওপরও তা-ই।"

ইমাম তিরমিজি বলেন:

"এই হাদিসটি হাসান (حسن) সহিহ (صحيح) এবং এই সূত্রে গরিব (غريب)।"
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
الدليل الحادي عشر: ما رواه الدارمي بسنده عن [جابر بن](1) عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "مفتاح الجنة الصلاة"(2) وهذا يدل على أن من لم يكن من أهل الصلاة لم تفتح له الجنة، وهي تفتح لكل مسلم فليس تاركها مسلما، ولا تناقض بين هذا وبين الحديث الآخر وهو قوله: "مفتاح الجنة شهادة أن لا إله إلا الله"(3). فإن الشهادة أصل المفتاح، والصلاة وبقية الأركان أسنانه التي لا يحصل الفتح إلا بها، إذ دخول الجنة موقوف على المفتاح وأسنانه، وقال البخاري: وقيل لوهب بن منبه أليس مفتاح الجنة لا إله إلا الله؟ قال: بلى، ولكن ليس مفتاح إلا وله أسنان، فإن جئت بمفتاح له أسنان فتح لك وإلا لم يفتح لك.

--------------------------------------------

(1) ما بين المعكوفين ليس في المطبوع

(2) ضعيف - أخرجه الترمذي (4)، وأحمد 3/ 340، والعقيلي في "الضعفاء" 2/ 136، والطبراني في "الأوسط" (4364)، وفي "الصغير" (596)، والبيهقي في "الشعب" (2455) من طريق حسين بن محمد المروذي، والمروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (175) من طريق يحيى بن حسان، وابن عدي في "الكامل" 4/ 241 من طريق عبد الصمد بن النعمان، ثلاثتُهم عن سليمان بن قرم، عن أبي يحيى القتات، عن مجاهد، عن جابر بن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"مفتاح الجنة الصلاة، ومفتاح الصلاة الطهور".

وقال ابن عدي:

"ولا أعلم يرويه، عن أبي يحيى غير سليمان بن قرم".

وقال الطبراني:

"لم يروه عن أبي يحيى القتات واسمه زاذان إلا سليمان بن قرم تفرد به الحسين".

وأخرجه الطيالسي (1899)، ومن طريقه أبو الشيخ في "الطبقات" 2/ 280، وعنه أبو نعيم في "أخبار أصبهان" 1/ 176، والبيهقي في "الشعب" (2456)، والخطيب في "موضح أوهام الجمع والتفريق" 1/ 350 - 351 حدثنا سليمان بن معاذ الضبي، عن أبي يحيى القتات به.

وهذا إسناد ضعيف، أبو يحيى القتات: ليّن الحديث، وسليمان بن قرم هو نفسه سليمان بن معاذ الضبي: وهو سيء الحفظ، قال ابن أبي حاتم في "الجرح والتعديل" 4/ 136: "سليمان بن قرم الضبي وهو ابن قرم بن معاذ، روى عن سماك، وأبي إسحاق، والأعمش، وواقد مولى زيد بن خليدة، وسنان أبي حبيب، روى عنه الثوري، وأبو الأحوص، ويحيى بن آدم، وأبو الجواب، وسلمة بن الفضل، وأبو داود الطيالسي، ونسبه أبو داود إلى جده كي لا يفطن له، سمعت أبي يقول ذلك".

ثم نقل تضعيفه عن ابن معين وأبي حاتم وأبي زرعة، ونقل الخطيب في "الموضح" 1/ 350 هذا الكلام ثم قال: "قوله إن أبا دود نسبه إلى جده لئلا يفطن له بعيد لأن يعقوب بن إسحاق الحضرمي قد حدث عن سليمان بن معاذ، أفترى يعقوب أيضا قصد ألا يفطن له أنه سليمان بن قرم؟! هذا بعيد في نفسي والله أعلم، وموضع الشبهة في أمر هذين الرجلين أنهما في طبقة واحدة، وأنهما ضبيان، على أن سليمان بن معاذ قد نسب في رواية يعقوب ابن إسحاق الحضرمي عنه إلى بني تيم أو تميم فأما نسبه إلى بني ضبة فقد ذكر عن أبي داود في عدة أحاديث".

وقال الحافظ في "تهذيب التهذيب" 4/ 214:

"وممن فرّق بينهما ابن حبان تبعا للبخاري، ثم ابن القطان، وذكر عبد الغني بن سعيد في "إيضاح الإشكال" أن من فرق بينهما فقد أخطأ.

وكذا قال الدارقطني، وأبو القاسم الطبراني.

وقال ابن حبان: كان رافضيا غاليا في الرفض، ويقلب الأخبار مع ذلك.

وقال في "الثقات": سليمان بن معاذ يروي عن سماك، وعنه أبو داود.

وجزم ابن عقدة بأنه سليمان بن قرم، وأن أبا داود الطيالسي أخطأ في قوله سليمان بن معاذ".

(3) ضعيف - أخرجه أحمد 5/ 242، والبزار (2660)، والطبراني في "الدعاء" (1479)، وابن عدي في "الكامل" 5/ 60، وأبو نعيم في "صفة الجنة" (189)

من طرق عن إسماعيل بن عياش، عن عبد الله بن عبد الرحمن بن أبي حسين، عن شهر بن حوشب، عن معاذ بن جبل به.

وهذا إسناد ضعيف، فيه ثلاث علل:

الأولى: الانقطاع، قال البزار: "شهر بن حوشب لم يسمع من معاذ بن جبل".

الثانية: شهر بن حوشب ضعيف.

الثالثة: إسماعيل بن عياش ضعيف في روايته عن أهل الحجاز.

وأخرجه المحاملي في "الأمالي" - رواية الفارسي (361) حدثنا محمد بن خلف المقرئ، قال: حدثنا حسين بن محمد، قال: حدثنا جرير بن حازم، عن محمد بن إسحاق، عن أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم، عن رجل، عن معاذ: أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال له حين بعثه إلى اليمن:

"إنك ستأتي أهل الكتاب، ويسألونك عن مفتاح أهل الجنة؟ فقل شهادة أن لا إله إلا الله".

وأخرجه البيهقي في "الأسماء والصفات" 1/ 259 من طريق أبي أمية، حدثنا الحسين بن محمد، أخبرنا جرير بن حازم، عن محمد بن أبي بكر، عن رجل، عن معاذ بن جبل رضي الله عنه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، أنه قال له حين بعثه إلى اليمن:

"إنك ستأتي أهل الكتاب فيسألونك عن مفاتيح الجنة فقل: شهادة أن لا إله إلا الله".

ليس فيه ابن إسحاق، وإسناده ضعيف، فيه من أبهم، وأبو أمية هو محمد بن إبراهيم بن مسلم: قال الحاكم: صدوق كثير الوهم.

وقد خالفه محمد بن خلف المقرئ فذكر ابن إسحاق في إسناده، وروايته أولى بالصواب.

وأخرجه ابن شاهين في "فضائل الأعمال" (7)، والديلمي (8475)، وكما في "الغرائب الملتقطة" - مخطوط: عن جعفر بن أحمد بن محمد المروزي، قال: حدثنا السري بن يحيى، أخبرنا شعيب بن إبراهيم التيمي، أخبرنا سيف بن عمر، حدثنا سهل بن يوسف، عن أبيه، عن عبيد بن صخر بن لوذان الأنصاري - وكان فيمن بعثه رسول الله صلى الله عليه وسلم مع عمال اليمن - قال:

"فرق رسول الله صلى الله عليه وسلم عماله، وبعث معاذ بن جبل معلما إلى اليمن وحضرموت، وقال: يا معاذ إنك تقدم على أهل الكتاب وإنهم سائلوك عن مفاتيح الجنة فأخبرهم أن مفاتيح الجنة لا إله إلا الله وأنها تخرق كل شيء حتى تنتهي إلى الله عز وجل، لا يحجب دونه. فمن جاء بها يوم القيامة مخلصا رجحت بكل ذنب".

وإسناده تالف، سيف بن عمر الضبي: قال ابن حبان: "يروي الموضوعات عن الأثبات. قال: وقالوا: إنه كان يضع الحديث".

وشعيب بن إبراهيم الكوفي: قال ابن عدي: "له أحاديث وأخبار، وهو ليس بذلك المعروف، ومقدار ما يروي من الحديث والأخبار ليست بالكثيرة، وفيه بعض النكرة، لأن في أخباره وأحاديثه ما فيه تحامل على السلف".

وقال الذهبي في "الميزان" 2/ 275: "فيه جهالة".

وسهل ين يوسف وأبوه: مجهولان، قال ابن عبد البر: لا يعرف، ولا أبوه.

وأخرجه ابن عساكر في "تاريخ دمشق" 58/ 410 من طريق عبد الله بن محمد البغوي، حدثني السري بن يحيى أبو عبيدة التميمي، حدثنا سهل بن يوسف، عن أبيه عن عبيد بن صخر مطولا.

فسقط منه شعيب بن إبراهيم التيمي، وسيف بن عمر!

وجاء من حديث أنس، ومعقل بن يسار المزني:

أما حديث أنس:

فأخرجه أبو نعيم في "صفة الجنة" (190) حدثنا أبو عبد الله جعفر بن محمد الحزار الكوفي، حدثنا أبي، حدثنا أبو عمرو الأودي، حدثنا أبي، عن طعمة بن عمرو، عن أبان، عن أنس، قال: "قال أعرابي: يا رسول الله، ما مفاتيح الجنة؟ قال: لا إله إلا الله".

إسناده ضعيف جدا، أبان بن أبي عياش: فيروز، ويقال: دينار: متروك.

وشيخ أبي نعيم، وأبوه: لم أجدهما، وفي "حلية الأولياء" 4/ 376 أبو عبد الله جعفر بن محمد بن الحسين الخراز الكوفي.

وأما حديث معقل:

فأخرجه الطبراني 20/ (497) من طريق داود بن بكر التستري، حدثنا حبان بن أغلب بن تميم، عن أبيه، عن المعلى بن زياد، عن معاوية بن قرة، عن معقل بن يسار، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:

"لكل شيء مفتاح، ومفتاح السماوات قول لا إله إلا الله".

وهذا إسناد ضعيف جدا، أغلب بن تميم: قال المعلمي: في تعليقه على "الفوائد المجموعة" (ص 303): "تالف".

وابنه حَبان بن أغلب السعدي: قال الذهبي في "الميزان" 1/ 448: " شيخ لأبي حاتم، وهاه أبو حفص الفلاس.

وقال أبو حاتم: ضعيف الحديث".

وداود بن بكر التستري: لم أجد له ترجمة، وعند البزار (10080) حديث داود بن بكر التستري قال: حدثنا حبان بن أغلب، حدثنا أبي، عن هشام، عن محمد، عن أبي هريرة رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال:

"من قال لا إله إلا الله دخل الجنة".
একাদশ প্রমাণ: আদ-দারিমি তার সনদে [জাবির বিন](১) আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জান্নাতের চাবিকাঠি হলো নামাজ"(২)। এটি প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত নয়, তার জন্য জান্নাত খোলা হবে না। অথচ জান্নাত প্রত্যেক মুসলিমের জন্য খোলা হবে; সুতরাং নামাজ পরিত্যাগকারী মুসলিম নয়। এই হাদিস এবং অন্য হাদিস—যাতে বলা হয়েছে: "জান্নাতের চাবিকাঠি হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই"(৩)—এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কারণ 'শাহাদাহ' বা সাক্ষ্য প্রদান হলো চাবিকাঠির মূল অংশ, আর নামাজ ও অন্যান্য রুকনগুলো হলো এর দাঁত, যা ছাড়া তালা খোলা সম্ভব নয়। কেননা জান্নাতে প্রবেশ চাবিকাঠি ও তার দাঁত থাকার ওপর নির্ভরশীল। বুখারি বলেছেন: ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কি জান্নাতের চাবিকাঠি নয়?" তিনি বললেন, "অবশ্যই, তবে এমন কোনো চাবিকাঠি নেই যার দাঁত নেই। সুতরাং আপনি যদি দাঁতবিশিষ্ট চাবিকাঠি নিয়ে আসেন তবে আপনার জন্য দরজা খোলা হবে, অন্যথায় খোলা হবে না।"

--------------------------------------------

(১) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু মুদ্রিত কপিতে নেই।

(২) দুর্বল (ضعيف) - এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি (৪), আহমদ ৩/৩৪০, উকায়লি 'আদ-দুয়াফা' ২/১৩৬-এ, তাবারানি 'আল-আওসাত' (৪৩৬৪) ও 'আস-সাগির' (৫৯৬)-এ, বায়হাকি 'আশ-শুয়াব' (২৪৫৫)-এ হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াজি-এর সূত্রে; মারওয়াজি 'তা'জিমু কাদরিস সালাত' (১৭৫)-এ ইয়াহইয়া বিন হাসসান-এর সূত্রে; এবং ইবনে আদি 'আল-কামিল' ৪/২৪১-এ আবদুস সামাদ বিন নুমান-এর সূত্রে; তাঁরা তিনজনই সুলাইমান বিন কারম থেকে, তিনি আবু ইয়াহইয়া আল-কাত্তাত থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"জান্নাতের চাবিকাঠি হলো নামাজ এবং নামাজের চাবিকাঠি হলো পবিত্রতা।"

ইবনে আদি বলেছেন:

"আমি জানি না আবু ইয়াহইয়া থেকে সুলাইমান বিন কারম ছাড়া অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেছেন কি না।"

তাবারানি বলেছেন:

"আবু ইয়াহইয়া আল-কাত্তাত—যার নাম জাযান—থেকে সুলাইমান বিন কারম ছাড়া আর কেউ এটি বর্ণনা করেননি; হুসাইন এটি এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন।"

এটি আরও বর্ণনা করেছেন তায়ালিসি (১৮৯৯), এবং তাঁর সূত্রে আবুশ শাইখ 'আত-তাবাকাত' ২/২৮০-এ, তাঁর থেকে আবু নুয়াইম 'আখবারু আসবাহান' ১/১৭৬-এ, বায়হাকি 'আশ-শুয়াব' (২৪৫৬)-এ এবং খাতিব 'মুদিহু আওহামিল জাময়ি ওয়াত তাফরিক' ১/৩৫০-৩৫১-এ; আমাদের নিকট সুলাইমান বিন মুয়ায আদ-দাব্বি আবু ইয়াহইয়া আল-কাত্তাত-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এটি একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ। আবু ইয়াহইয়া আল-কাত্তাত: হাদিস বর্ণনায় শিথিল (ليّن الحديث)। আর সুলাইমান বিন কারম এবং সুলাইমান বিন মুয়ায আদ-দাব্বি একই ব্যক্তি: তিনি মুখস্থশক্তিতে দুর্বল (سيء الحفظ)। ইবনে আবি হাতিম 'আল-জারহ ওয়াত তাদিল' ৪/১৩৬-এ বলেছেন: "সুলাইমান বিন কারম আদ-দাব্বি, তিনি কারম বিন মুয়ায-এর পুত্র। তিনি সিমাক, আবু ইসহাক, আমাশ, ওয়াকিদ মাওলা যায়েদ বিন খালিদ এবং সিনান আবু হাবিব থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে সাওরি, আবু আহওয়াস, ইয়াহইয়া বিন আদম, আবুল জওয়াব, সালামাহ বিন ফাদল এবং আবু দাউদ আল-তায়ালিসি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ তাঁকে তাঁর দাদার দিকে সম্বন্ধ করেছেন যাতে তাঁকে চেনা না যায়; আমি আমার পিতাকে এটি বলতে শুনেছি।"

অতঃপর তিনি ইবনে মাঈন, আবু হাতিম এবং আবু যুরআহ থেকে তাঁর দুর্বলতার (تضعيف) কথা উল্লেখ করেছেন। খাতিব 'আল-মুদিহ' ১/৩৫০-এ এই কথাটি উল্লেখ করে বলেছেন: "আবু দাউদ তাঁকে চেনা না যাওয়ার উদ্দেশ্যে দাদার দিকে সম্বন্ধ করেছেন—এই কথাটি দূরহ মনে হয়, কারণ ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-হাদরামিও সুলাইমান বিন মুয়ায থেকে বর্ণনা করেছেন। আপনি কি মনে করেন ইয়াকুবও চেয়েছিলেন যাতে তাঁকে সুলাইমান বিন কারম হিসেবে চেনা না যায়?! এটি আমার কাছে অসম্ভব মনে হয়, আল্লাহই ভালো জানেন। এই দুই ব্যক্তির ব্যাপারে সন্দেহের কারণ হলো তারা একই স্তরের (তাবাকা) এবং উভয়ই দাব্বি গোত্রের। তবে ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-হাদরামি-এর বর্ণনায় সুলাইমান বিন মুয়াযকে বনু তায়িম বা তামিম গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে। আর বনু দাব্বাহ গোত্রের দিকে তাঁর সম্বন্ধের কথা আবু দাউদ থেকে একাধিক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।"

হাফিজ ইবনে হাজার 'তাহজিবুত তাহজিব' ৪/২১৪-এ বলেছেন:

"যাঁরা এই দুই সুলাইমানকে পৃথক ব্যক্তি মনে করেছেন, তাঁদের মধ্যে ইবনে হিব্বান রয়েছেন যিনি বুখারিকে অনুসরণ করেছেন। এরপর ইবনুল কাত্তানও তাই করেছেন। তবে আবদুল গনি বিন সাইদ 'ইদাহুল ইশকাল'-এ উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি তাঁদের মাঝে পার্থক্য করেছেন তিনি ভুল করেছেন।

অনুরূপ কথা দারাকুতনি এবং আবু কাসিম তাবারানিও বলেছেন।

ইবনে হিব্বান বলেছেন: তিনি একজন চরমপন্থী রাফিযি ছিলেন এবং সেই সাথে তিনি বর্ণনাগুলো ওলটপালট (يقلب الأخبار) করতেন।

তিনিই আবার 'আস-সিকাত'-এ বলেছেন: সুলাইমান বিন মুয়ায সিমাক থেকে বর্ণনা করেন এবং তাঁর থেকে আবু দাউদ বর্ণনা করেন।

ইবনে উকদাহ নিশ্চিতভাবে বলেছেন যে, তিনি সুলাইমান বিন কারম-ই ছিলেন এবং সুলাইমান বিন মুয়ায বলার ক্ষেত্রে আবু দাউদ আল-তায়ালিসি ভুল করেছেন।"

(৩) দুর্বল (ضعيف) - এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ ৫/২৪২, বাজার (২৬৬০), তাবারানি 'আদ-দুয়া' (১৪৭৯)-এ, ইবনে আদি 'আল-কামিল' ৫/৬০-এ এবং আবু নুয়াইম 'সিফাতুল জান্নাহ' (১৮৯)-এ।

তাঁরা ইসমাঈল বিন আইয়্যাশ-এর সূত্রে, তিনি আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন আবি হুসাইন থেকে, তিনি শাহর বিন হাওশাব থেকে, তিনি মুয়ায বিন জাবাল থেকে বর্ণনা করেছেন।

এটি একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ, এতে তিনটি ত্রুটি (علل) রয়েছে:

প্রথমত: বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع), আল-বাজার বলেছেন: "শাহর বিন হাওশাব মুয়ায বিন জাবাল থেকে শোনেননি।"

দ্বিতীয়ত: শাহর বিন হাওশাব দুর্বল (ضعيف)।

তৃতীয়ত: ইসমাঈল বিন আইয়্যাশ হিজাজীদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف)।

মুহামিলি 'আল-আমালি' (ফারসির বর্ণনা নং ৩৬১)-এ বর্ণনা করেছেন: মুহাম্মদ বিন খালাফ আল-মুকারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারির বিন হাযিম মুহাম্মদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আমর বিন হাযম থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে, তিনি মুয়ায থেকে বর্ণনা করেছেন যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যখন ইয়ামেনে পাঠাচ্ছিলেন তখন বলেছিলেন:

"নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের কাছে যাচ্ছ। তারা তোমাকে জান্নাতের চাবিকাঠি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে; তুমি বলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সাক্ষ্য দেওয়া।"

বায়হাকি 'আল-আসমা ওয়াস সিফাত' ১/২৫৯-এ আবু উমাইয়াহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; হুসাইন বিন মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জারির বিন হাযিম আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আবু বকর থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে, তিনি মুয়ায বিন জাবাল (রা.) থেকে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাকে ইয়ামেনে পাঠানোর সময় বলেছিলেন:

"নিশ্চয়ই তুমি আহলে কিতাবদের কাছে যাচ্ছ। তারা তোমাকে জান্নাতের চাবিকাঠিগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে; তুমি বলো: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর সাক্ষ্য দেওয়া।"

এই বর্ণনায় ইবনে ইসহাক নেই এবং এর সনদ দুর্বল (ضعيف); এতে এমন বর্ণনাকারী আছেন যাঁকে নামহীন রাখা (أبهم) হয়েছে। আর আবু উমাইয়াহ হলেন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম বিন মুসলিম: আল-হাকিম বলেছেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু অধিক ভুলকারী (صدوق كثير الوهم)।

মুহাম্মদ বিন খালাফ আল-মুকারি তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং সনদে ইবনে ইসহাকের কথা উল্লেখ করেছেন, আর তাঁর বর্ণনাটিই সঠিক হওয়ার অধিক নিকটবর্তী।

ইবনে শাহিন 'ফাদায়িলুল আমাল' (৭)-এ, দাইলামি (৮৪৭৫) এবং 'আল-গরাইবুল মুলতাকাতাহ' (পাণ্ডুলিপি)-এ জাফর বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মারওয়াজি-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: সাররি বিন ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শুয়াইব বিন ইব্রাহিম আত-তাইমি আমাদের জানিয়েছেন, সাইফ বিন উমর আমাদের জানিয়েছেন, সাহল বিন ইউসুফ আমাদের নিকট তাঁর পিতা থেকে, তিনি উবাইদ বিন সাখর বিন লাওযান আল-আনসারি—যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ইয়ামেনের গভর্নরদের সাথে প্রেরিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

"রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর গভর্নরদের বণ্টন করে দিলেন এবং মুয়ায বিন জাবালকে শিক্ষক হিসেবে ইয়ামেন ও হাদরামাউতে পাঠালেন। তিনি বললেন: হে মুয়ায, তুমি আহলে কিতাবদের কাছে যাচ্ছ, তারা তোমাকে জান্নাতের চাবিকাঠিগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে। তুমি তাদের জানিয়ে দিও যে জান্নাতের চাবিকাঠি হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। এটি সবকিছু ভেদ করে মহান আল্লাহর দরবার পর্যন্ত পৌঁছে যায়, কোনো কিছুই একে বাধা দিতে পারে না। কিয়ামতের দিন যে ব্যক্তি নিষ্ঠার সাথে এটি নিয়ে আসবে, তার সমস্ত পাপের বিপরীতে এটিই ভারী হবে।"

এর সনদটি অগ্রহণযোগ্য (تالف)। সাইফ বিন উমর আদ-দাব্বি সম্পর্কে ইবনে হিব্বান বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের বরাতে জাল হাদিসসমূহ (موضوعات) বর্ণনা করেন।" তিনি আরও বলেছেন: "মুহাদ্দিসগণ বলেছেন যে তিনি হাদিস জাল (يضع الحديث) করতেন।"

শুয়াইব বিন ইব্রাহিম আল-কুফি সম্পর্কে ইবনে আদি বলেছেন: "তাঁর বর্ণিত কিছু হাদিস ও সংবাদ রয়েছে, তবে তিনি তেমন পরিচিত নন। তাঁর বর্ণিত হাদিস ও সংবাদের পরিমাণও খুব বেশি নয়। তাঁর বর্ণনায় কিছু অস্বীকৃতি (نكرة) রয়েছে, কারণ তাঁর বর্ণনায় সালাফদের প্রতি বিদ্বেষ বা পক্ষপাতিত্ব পরিলক্ষিত হয়।"

জাহাবি 'আল-মিজান' ২/২৭৫-এ বলেছেন: "তাঁর মধ্যে পরিচয়হীনতা (جهالة) রয়েছে।"

সাহল বিন ইউসুফ এবং তাঁর পিতা উভয়েই অপরিচিত (مجهولان)। ইবনে আবদিল বার বলেছেন: "তাঁকে এবং তাঁর পিতাকে চেনা যায় না।"

ইবনে আসাকির 'তারিখে দামেশক' ৫৮/৪১০-এ আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-বাগাওয়ির সূত্রে বর্ণনা করেছেন; সাররি বিন ইয়াহইয়া আবু উবাইদাহ আত-তামিমি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, সাহল বিন ইউসুফ আমাদের নিকট তাঁর পিতা থেকে, তিনি উবাইদ বিন সাখর থেকে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।

এতে শুয়াইব বিন ইব্রাহিম আত-তাইমি এবং সাইফ বিন উমর সনদে বাদ পড়েছেন!

অনুরূপ বর্ণনা আনাস এবং মাকিল বিন ইয়াসার আল-মুযানি থেকেও এসেছে:

আনাস (রা.)-এর হাদিস:

এটি আবু নুয়াইম 'সিফাতুল জান্নাহ' (১৯০)-এ বর্ণনা করেছেন; আবু আবদুল্লাহ জাফর বিন মুহাম্মদ আল-খাযযার আল-কুফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আমর আল-আউদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা তু'মাহ বিন আমর থেকে, তিনি আবান থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এক গ্রাম্য ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসুল, জান্নাতের চাবিকাঠি কী? তিনি বললেন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।"

এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا), আবান বিন আবি আইয়্যাশ: ফিরোজ, মতান্তরে দিনার; তিনি একজন পরিত্যক্ত (متروك) বর্ণনাকারী।

আবু নুয়াইমের শিক্ষক ও তাঁর পিতাকে আমি খুঁজে পাইনি। তবে 'হিলয়াতুল আউলিয়া' ৪/৩৭৬-এ আবু আবদুল্লাহ জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-খাযরায আল-কুফি নাম পাওয়া যায়।

মাকিল (রা.)-এর হাদিস:

তাবারানি ২০/(৪৯৭)-এ দাউদ বিন বকর আত-তুসতারির সূত্রে বর্ণনা করেছেন; হাব্বান বিন আগলাব বিন তামিম আমাদের নিকট তাঁর পিতা থেকে, তিনি মুয়াল্লা বিন যিয়াদ থেকে, তিনি মুয়াবিয়া বিন কুররাহ থেকে, তিনি মাকিল বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"প্রত্যেক জিনিসের চাবিকাঠি আছে, আর আসমানসমূহের চাবিকাঠি হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা।"

এটি একটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جدا) সনদ। আগলাব বিন তামিম সম্পর্কে আল-মুয়াল্লিমি 'আল-ফাওয়ায়িদুল মাজমুয়াহ' (পৃ. ৩০৩)-এর টীকায় বলেছেন: "অগ্রহণযোগ্য (تالف)।"

তাঁর পুত্র হাব্বান বিন আগলাব আস-সাদি সম্পর্কে জাহাবি 'আল-মিজান' ১/৪৪৮-এ বলেছেন: "তিনি আবু হাতিমের শিক্ষক, আবু হাফস আল-ফালাস তাঁকে দুর্বল (واه) বলেছেন।"

আবু হাতিম বলেছেন: "হাদিস বর্ণনায় দুর্বল (ضعيف الحديث)।"

দাউদ বিন বকর আত-তুসতারি: আমি তাঁর কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি। আল-বাজার (১০০৮০)-এ দাউদ বিন বকর আত-তুসতারির একটি হাদিস রয়েছে; তিনি বলেন: হাব্বান বিন আগলাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা হিশাম থেকে, তিনি মুহাম্মদ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:

"যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
الدليل الثاني عشر: ما رواه محجن بن الأدرع الأسلمي: "أنه كان في مجلس مع النبي صلى الله عليه وسلم، فأُذّن بالصلاة فقام النبي صلى الله عليه وسلم ثم رجع، ومحجن في مجلسه، فقال له: ما منعك أن تصلي ألست برجل مسلم؟ قال: بلى ولكني صليت في أهلي، فقال له: إذا جئت فصل مع الناس وإن كنت قد صليت"(1) رواه الإمام أحمد، والنسائي.

فجعل الفارق بين المسلم والكافر الصلاة، وأنت تجد تحت ألفاظ الحديث أنك لو كنت مسلما لصليت، وهذا كما تقول: مالك لا تتكلم ألست بناطق؟ وما لك لا تتحرك ألست بحي؟ ولو كان الإسلام يثبت مع عدم الصلاة لما قال لمن رآه لا يصلي ألست برجل مسلم؟

--------------------------------------------

(1) حديث حسن - أخرجه النسائي (857)، وفي "الكبرى" (932)، وأحمد 4/ 34، والشافعي 1/ 102، وفي "السنن المأثورة" (6)، والبخاري في "التاريخ الكبير" 8/ 4،

وابن وهب في "الموطأ" (440)، وفي "الجامع" (444)، ومن طريقه الدارقطني 2/ 283، وابن حبان (2405)، والطحاوي في "شرح المعاني" 1/ 363، والطبراني 20/ (697)، والحاكم 1/ 244، وأبو نعيم في "معرفة الصحابة" (6203)، والبيهقي 2/ 300، وفي "المعرفة" (4307)، والبغوي في "شرح السنة" (856)، وابن الأثير في "أسد الغابة" 4/ 294 - 295، والمزي في "تهذيب الكمال" 27/ 270 عن مالك (وهو في "الموطأ" 1/ 132)، وأحمد 4/ 34، والطبراني (699) عن عبد الرزاق (وهو في "المصنف"

(3933)) عن معمر، وابن أبي عاصم في "الآحاد والمثاني" (958)، وابن قانع في "معجم الصحابة" 2/ 68، والدارقطني 2/ 283، والحاكم 1/ 244 من طريق عبد العزيز بن محمد، والطحاوي في "شرح المعاني" 1/ 362، وابن قانع في "معجم الصحابة" 3/ 68

من طريق ابن جريج، وابن شاهين في "ناسخ الحديث" (ص 243) من طريق مسلم بن خالد الزنجي، خمستهم عن زيد بن أسلم، عن بسر بن محجن، عن أبيه به.

ووقع الشك في رواية الطحاوي (وحده) في "شرح المعاني" 1/ 363 من طريق مالك (عن بسر بن محجن، عن أبيه، أو عن عمه).

وأخرجه أحمد 4/ 34 حدثنا عبد الرحمن، وأحمد 4/ 34، والبخاري في "التاريخ الكبير" 8/ 4، والطحاوي في "شرح المعاني" 1/ 363، والطبراني 20/ (696) عن أبي نعيم الفضل ابن دكين، والطحاوي في "شرح المعاني" 1/ 363 من طريق الفريابي، وابن شاهين في "ناسخ الحديث" (ص 244) من طريق أبي داود الحفري، أربعتهم عن سفيان الثوري، عن زيد بن أسلم، عن بسر بن محجن الديلي، عن أبيه.

وأخرجه أحمد 4/ 338، ومن طريقه أبو نعيم في "معرفة الصحابة" (1232) حدثنا وكيع، حدثنا سفيان، عن زيد بن أسلم، - قال سفيان، مرة: عن بسر، أو بشر بن محجن، ثم كان يقول بعد عن ابن محجن الديلي، عن أبيه به.

وأخرجه ابن شاهين في "ناسخ الحديث" (ص 244) من طريق وكيع، قال: حدثنا سفيان، عن زيد بن أسلم، عن بسر بن محجن، عن أبيه به.

وزاد أحمد "واجعلها نافلة".

وقال الإمام أحمد:

"ولم يقل أبو نعيم، ولا عبد الرحمن: واجعلها نافلة".

وقال الطبراني:

"كذا رواه سفيان، عن زيد بن أسلم، عن بشر بن محجن، ووهم فيه إنما هو بسر بن محجن، هكذا رواه مالك، وأصحاب زيد بن أسلم".

وقال البخاري:

"قال أبو نعيم وهم سفيان وإنما هو بسر".

وقال البيهقي:

"قال البخاري: حدثنا أبو نعيم قال: قال سفيان: قال بشر: قال أبو نعيم: بلغني أنه رجع عنه".

وأخرجه عبد الرزاق (3932) عن ابن جريج، عن داود بن قيس، عن زيد بن أسلم، عن ابن محجن الدئلي، عن أبيه، قال: "صليت الظهر والعصر في بيتي، ثم جئت … الحديث".

وعند الطبراني 20/ (698) عن عبد الرزاق، عن ابن جريج، وداود بن قيس، عن زيد بن أسلم به.

وأخرجه ابن قانع في "معجم الصحابة" 3/ 68 من طريق يحيى بن عبد الله، حدثنا داود بن قيس، عن زيد بن أسلم، عن بشر بن محجن، عن أبيه.

وأخرجه الطحاوي في "شرح المعاني" 1/ 363، والطبراني (700) من طريق سليمان بن بلال، عن زيد بن أسلم به.

وقال الحاكم:

"هذا حديث صحيح، ومالك بن أنس الحكم في حديث المدنيين، وقد احتج به في الموطأ".

فتعقبه الذهبي بقوله "محجن تفرد عنه ابنه".

وقال ابن القطان في "بيان الوهم والإيهام" 5/ 22:

"بسر لا يعرف بغير رواية زيد بن أسلم عنه، ولا تعرف حاله".

قلت: وتفرّد ابن حبان 4/ 79 بتوثيقه، ومن هذا يعرف ما في قول الحافظ أنه صدوق!

تنبيه: سقط من مطبوع "معرفة الصحابة" صحابيّ الحديث!

وأخرجه ابن أبي عاصم في "الآحاد والمثاني" (968) حدثنا محمد بن منصور بن إسحاق، حدثنا الليث بن سعد، عن عمران بن أبي أنس، عن أبي قتادة، عن ابن الدئلي رضي الله عنه، قال:

"جئت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يصلي فلم أصل معه، فلما فرغ قال: ما منعك أن تصلي معنا؟ قلت: قد صليت في بيتي، قال: وإن صليت في بيتك فصل معنا".

أبو قتادة تحريف، وصوابه قتادة كما يأتي، ولم أجد محمد بن منصور بن إسحاق، ولا يوجد لابن أبي عاصم شيخ بهذا الاسم سوى محمد بن منصور الطوسي فأخشى أن يكون في السند سقط فيكون ابن اسحاق هو السيلحيني فقد أخرجه ابن أبي عاصم في "الآحاد والمثاني" (2813) حدثنا الحسن بن البزار، حدثنا يحيى بن إسحاق، حدثنا الليث بن سعد، عن عمران بن أبي أنس، عن قتادة، عن ابن أبي الديل، رضي الله عنه قال: فذكره.

وهذا إسناد منقطع، قال الإمام أحمد: "ما أعلم قتادة سمع من أحد من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم إلا من أنس بن مالك".

وأخرجه ابن قانع في "معجم الصحابة" 1/ 86 من طريق ابن حميد، حدثنا سلمة، عن محمد ابن إسحاق، عن عمران بن أبي أنس، عن حنظلة بن علي، عن بشر بن محجن،

قال: "صليت الظهر في منزلي ثم خرجت بإبل لأصدرها فمررت برسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يصلي بالناس الظهر في مسجده، فلم أصل وذكرت ذلك له، فقال: ما منعك أن تصلي معنا؟ قلت: كنت قد صليت في منزلي قال: وإن".

وهذا إسناد ضعيف، ابن حميد: قال الذهبي: وثقه جماعة والأولى تركه.

وسلمة إن كان هو ابن الفضل الأبرش فإنه ضعيف.

وهذا الحديث إنما يرويه بسر بن محجن عن أبيه كما تقدّم.

ويشهد له حديث يزيد بن الأسود الخزاعي:

أخرجه أبو داود (614) - مختصرا، والنسائي (1334)، وفي "الكبرى" (1258) - مختصرا، وأحمد 4/ 161، وعبد الرزاق (3934)، وابن خزيمة (1638)، وأبو بكر النجاد في "حديثه" - مخطوط، والدارقطني 2/ 281 و 282، والحاكم 1/ 244 - 245، والبيهقي 2/ 230 و 301، وفي "السنن الصغير" (551) عن سفيان الثوري، وأحمد 4/ 161، وعبد الرزاق (3934)، وابن سعد في "الطبقات الكبرى" 5/ 517، وابن خزيمة (1638)، وأبو بكر النجاد في "حديثه" - مخطوط، والطبراني 22/ (608) و (609)، والدارقطني 2/ 280 عن هشام بن حسان، وأبو داود (575) و (576)، وأحمد 4/ 161، والطيالسي (1343)، والدارمي (1367)، وابن خزيمة (1638)، والطحاوي في "شرح المعاني" 1/ 363، وأبو بكر النجاد في "حديثه" - مخطوط، وابن قانع في "معجم الصحابة" 3/ 221 و 222، 5/ 2775، وابن حبان (1564)، والطبراني 22/ (610) و (611) و (618)، وفي "الأوسط" (8650)، والغطريفي في "حديثه" (87)، والدارقطني 2/ 280، والبيهقي 2/ 300، وفي "دلائل النبوة" 1/ 258 عن شعبة، وأحمد 4/ 161، وابن خزيمة (1638)، وأبو بكر النجاد في "حديثه" - مخطوط، والطبراني 22/ (615)، والدارقطني 2/ 280 من طريق شريك، والترمذي (219)، والنسائي (858)، وفي "الكبرى" (933)، وأحمد 4/ 160 - 161، ولوين في "حديثه" (102)، وابن أبي شيبة 2/ 274 - 275 و 14/ 186، وابن أبي عاصم في "الآحاد والمثاني" (1462)، وابن خزيمة (1279) و (1638) و (1713)، وابن حبان (1565) و (2395)، والطبراني 22/ (614)، والدارقطني 2/ 280، والبيهقي 2/ 301، وفي "المعرفة" (4311) عن هشيم، والطبراني 22/ (616) و (619)، وفي "الأوسط" (4398)، وفي "الصغير" (603)، وفي "مسند الشاميين" (2483)، والدارقطني 2/ 282 من طريق غيلان بن جامع، وأبو بكر النجاد في "حديثه"، والطبراني 22/ (612) من طريق حماد بن سلمة، وابن المنذر في "الأوسط" (1116)، والطبراني 22/ (614)، والدارقطني 2/ 282 من طريق مبارك بن فضالة، وأبو بكر النجاد في "حديثه" - مخطوط: من طريق سعيد بن زيد، تسعتهم عن يعلى بن عطاء،

عن جابر بن يزيد بن الأسود، عن أبيه، قال:

"شهدت مع النبي صلى الله عليه وسلم حجته، فصليت معه صلاة الفجر في مسجد الخيف، قال: فلما قضى صلاته وانحرف، فإذا هو برجلين في أخريات القوم، لم يصليا معه، قال: علي بهما. فأتي بهما ترعد فرائصهما قال: ما منعكما أن تصليا معنا؟ قالا: يا رسول الله، كنا قد صلينا في رحالنا قال: فلا تفعلا إذا صليتما في رحالكما، ثم أتيتما مسجد جماعة فصليا معهم فإنهما لكما نافلة".

وفي لفظ "صلينا مع النبي صلى الله عليه وسلم الفجر بمنى فجاء رجلان حتى وقفا على رواحلهما، فأمر بهما النبي صلى الله عليه وسلم فجيء بهما ترعد فرائصهما، فقال لهما: ما منعكما أن تصليا مع الناس؟ ألستما مسلمين؟ قالا: بلى يا رسول الله، إنا كنا صلينا في رحالنا، فقال لهما: إذا صليتما في رحالكما ثم أتيتما الإمام فصليا معه فإنهما لكما نافلة".

وزاد بعضهم "فقال أحدهما: يا رسول الله استغفر لي، فقال: غفر الله لك".

وفي رواية أبي عاصم، عن سفيان "وليجعل التي صلى في بيته نافلة".

قال الدارقطني:

"خالفه أصحاب الثوري، ومعه أصحاب يعلى بن عطاء منهم، شعبة، وهشام بن حسان، وشريك، وغيلان بن جامع، وأبو خالد الدالاني، ومبارك بن فضالة، وأبو عوانة، وهشيم، وغيرهم، رووه عن يعلى بن عطاء، مثل قول وكيع، وابن مهدي. ورواه حجاج بن أرطأة، عن يعلى بن عطاء، عن أبيه، عن عبد الله بن عمرو، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحوه، وقال: فتكون لكما نافلة والتي في رحالكما فريضة".

وأخرجه أحمد 4/ 161، وابن أبي عاصم في "الآحاد والمثاني" (1463)، وابن قانع في "معجم الصحابة" 3/ 222 - مختصرا، والطبراني 22/ (613)، والدارقطني 2/ 282 من طريق أبي عوانة الوضاح بن عبد الله، عن يعلى به مطولا.

وأخرجه الدارقطني 2/ 282 من طريق بقية: حدثني إبراهيم بن ذي حماية، حدثني عبد الملك ابن عمير، عن جابر بن يزيد، عن أبيه، عن النبي صلى الله عليه وسلم نحو حديث شعبة.

وقال الترمذي:

"حديث حسن صحيح".

قال الحافظ في "تلخيص الحبير" 2/ 62:

"قال الشافعي في القديم: إسناده مجهول. قال البيهقي: لأن يزيد بن الأسود ليس له راو غير ابنه، ولا لابنه جابر راو غير يعلى.

قلت: يعلى من رجال مسلم، وجابر وثقه النسائي وغيره، وقد وجدنا لجابر بن يزيد راويا غير يعلى، أخرجه ابن منده في "المعرفة" من طريق بقية، عن إبراهيم بن ذي حماية،

عن عبد الملك بن عمير، عن جابر".
দ্বাদশ দলিল: মিহজান ইবনে আদরা আল-আসলামি থেকে বর্ণিত: "তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক মজলিসে ছিলেন, এমতাবস্থায় নামাজের আজান দেওয়া হলো। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে গেলেন এবং পরে ফিরে এলেন, তখন মিহজান তার আসনেই বসা ছিলেন। তিনি তাকে বললেন: তোমাকে নামাজ আদায় করতে কিসে বাধা দিল? তুমি কি একজন মুসলিম নও? তিনি বললেন: অবশ্যই, কিন্তু আমি আমার পরিবারে নামাজ পড়েছি। তখন তিনি তাকে বললেন: যখন তুমি আসবে তখন মানুষের সাথে নামাজ আদায় করো, যদিও তুমি নামাজ পড়ে থাকো।"(১) এটি ইমাম আহমাদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।

এখানে তিনি নামাজকে মুসলিম ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্যকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। হাদিসের শব্দাবলির ভেতরে আপনি লক্ষ্য করবেন যে, (বোঝানো হচ্ছে) যদি তুমি মুসলিম হতে তবে নামাজ পড়তে। এটি অনেকটা এমন বলার মতো: "তোমার কী হলো যে কথা বলছো না, তুমি কি বাকশক্তি সম্পন্ন নও?" অথবা "তোমার কী হলো যে নড়াচড়া করছো না, তুমি কি জীবিত নও?" যদি নামাজ ত্যাগ করা সত্ত্বেও ইসলাম সাব্যস্ত হতো, তবে যাকে তিনি নামাজ না পড়তে দেখলেন তাকে এ কথা বলতেন না যে: "তুমি কি একজন মুসলিম নও?"

--------------------------------------------

(১) হাসান (حسن) হাদিস - এটি নাসাঈ (৮৫৭), এবং ‘আল-কুবরা’ (৯৩২), আহমাদ ৪/৩৪, শাফিঈ ১/১০২, ‘আস-সুনান আল-মা’সূরা’ (৬), বুখারি ‘আত-তারিখ আল-কাবির’ ৮/৪-এ সংকলন করেছেন।

ইবনে ওয়াহাব ‘আল-মুয়াত্তা’ (৪৪০) ও ‘আল-জামি’ (৪৪৪)-এ, এবং তার সূত্রে দারাকুতনি ২/২৮৩, ইবনে হিব্বান (২৪০৫), তাহাবি ‘শারহু মাআনিল আসার’ ১/৩৬৩, তাবারানি ২০/(৬৯৭), হাকেম ১/২৪৪, আবু নুআইম ‘মা’রিফাতুস সাহাবা’ (৬২০৩), বায়হাকি ২/৩০০ ও ‘আল-মা’রিফা’ (৪৩০৭), বাগাবি ‘শারহুস সুন্নাহ’ (৮৫৬), ইবনে আসির ‘উসদুল গাবাহ’ ৪/২৯৪-২৯৫, মিজ্জি ‘তাহজিবুল কামাল’ ২৭/২৭০-এ মালিক থেকে (যা ‘আল-মুয়াত্তা’ ১/১৩২-এ রয়েছে), আহমাদ ৪/৩৪, তাবারানি (৬৯৯) আবদুর রাজ্জাক থেকে (যা ‘আল-মুসান্নাফ’

(৩৯৩৩))-এ মা’মার থেকে, ইবনে আবি আসিম ‘আল-আহাদ ওয়াল-মাসানি’ (৯৫৮), ইবনে কানে’ ‘মু’জামুস সাহাবা’ ২/৬৮, দারাকুতনি ২/২৮৩, হাকেম ১/২৪৪ আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ-এর সূত্রে, তাহাবি ‘শারহু মাআনিল আসার’ ১/৩৬২, ইবনে কানে’ ‘মু’জামুস সাহাবা’ ৩/৬৮

ইবনে জুরাইজের সূত্রে, ইবনে শাহিন ‘নাসিখুল হাদিস’ (পৃ. ২৪৩) মুসলিম ইবনে খালিদ আজ-জাঞ্জির সূত্রে; তারা পাঁচজনই জাইদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি বুসর ইবনে মিহজান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

তাহাবির বর্ণনায় (এককভাবে) ‘শারহু মাআনিল আসার’ ১/৩৬৩-এ মালিকের সূত্রে সন্দেহ (شك) তৈরি হয়েছে (বুসর ইবনে মিহজান থেকে, তার পিতা থেকে, অথবা তার চাচা থেকে)।

এটি আহমাদ ৪/৩৪-এ আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন; আহমাদ ৪/৩৪, বুখারি ‘আত-তারিখ আল-কাবির’ ৮/৪, তাহাবি ‘শারহু মাআনিল আসার’ ১/৩৬৩, তাবারানি ২০/(৬৯৬) আবু নুআইম আল-ফাদল ইবনে দুকাইনের সূত্রে, তাহাবি ‘শারহু মাআনিল আসার’ ১/৩৬৩ ফিরইয়াবির সূত্রে, ইবনে শাহিন ‘নাসিখুল হাদিস’ (পৃ. ২৪৪) আবু দাউদ আল-হাফারি থেকে; তারা চারজনই সুফিয়ান সাওরি থেকে, তিনি জাইদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি বুসর ইবনে মিহজান আদ-দাইলি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ ৪/৩৩৮ এটি সংকলন করেছেন এবং তার সূত্রে আবু নুআইম ‘মা’রিফাতুস সাহাবা’ (১২৩২)-এ আমাদের নিকট ওয়াকি বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি জাইদ ইবনে আসলাম থেকে —সুফিয়ান একবার বলেছেন: বুসর অথবা বিশর ইবনে মিহজান থেকে, অতঃপর তিনি বলতেন ইবনে মিহজান আদ-দাইলি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে।

ইবনে শাহিন এটি ‘নাসিখুল হাদিস’ (পৃ. ২৪৪) গ্রন্থে ওয়াকির সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন জাইদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি বুসর ইবনে মিহজান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে।

আহমাদ আরও অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "এবং ইহাকে নফল (نافلة) হিসেবে গণ্য করো।"

ইমাম আহমাদ বলেছেন:

"আবু নুআইম এবং আব্দুর রহমান ‘ইহাকে নফল (نافلة) হিসেবে গণ্য করো’ অংশটি বলেননি।"

তাবারানি বলেছেন:

"সুফিয়ান এভাবেই জাইদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি বিশর ইবনে মিহজান থেকে বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি এতে ভুল (وهم) করেছেন, মূলত তিনি হবেন বুসর ইবনে মিহজান। মালিক এবং জাইদ ইবনে আসলামের ছাত্ররা এভাবেই বর্ণনা করেছেন।"

বুখারি বলেছেন:

"আবু নুআইম বলেছেন সুফিয়ান ভুল (وهم) করেছেন, তিনি মূলত বুসর।"

বায়হাকি বলেছেন:

"বুখারি বলেছেন: আমাদের নিকট আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান বলেছেন: বিশর বলেছেন: আবু নুআইম বলেন: আমার নিকট পৌঁছেছে যে তিনি এটি থেকে ফিরে এসেছেন।"

আবদুর রাজ্জাক (৩৯৩২) ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি দাউদ ইবনে কায়েস থেকে, তিনি জাইদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি ইবনে মিহজান আদ-দাইলি থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "আমি আমার বাড়িতে জোহর ও আসর পড়েছিলাম, অতঃপর আমি এলাম... হাদিস।"

তাবারানি ২০/(৬৯৮)-এ আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি ইবনে জুরাইজ ও দাউদ ইবনে কায়েস থেকে, তারা জাইদ ইবনে আসলাম থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে কানে’ ‘মু’জামুস সাহাবা’ ৩/৬৮-এ ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে সংকলন করেছেন, তিনি বলেন দাউদ ইবনে কায়েস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাইদ ইবনে আসলাম থেকে, তিনি বিশর ইবনে মিহজান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে।

তাহাবি ‘শারহু মাআনিল আসার’ ১/৩৬৩ এবং তাবারানি (৭০০) সুলাইমান ইবনে বিলাল-এর সূত্রে জাইদ ইবনে আসলাম থেকে এটি সংকলন করেছেন।

হাকেম বলেছেন:

"এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস, আর মদিনাবাসীদের হাদিসের ক্ষেত্রে মালিক ইবনে আনাস হলেন প্রামাণ্য ব্যক্তিত্ব (الحكم), এবং তিনি এটি মুয়াত্তা-তে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন।"

যাহাবি এর সমালোচনা করে বলেছেন: "মিহজান থেকে কেবল তার পুত্রই এককভাবে বর্ণনা (تفرد) করেছেন।"

ইবনুল কাত্তান ‘বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহাম’ ৫/২২-এ বলেছেন:

"বুসরকে জাইদ ইবনে আসলামের বর্ণনা ব্যতিরেকে চেনা যায় না এবং তার অবস্থা অজ্ঞাত (لا تعرف حاله)।"

আমি (লেখক) বলছি: ইবনে হিব্বান ৪/৭৯ এককভাবে তাকে নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيق) করেছেন; আর এ থেকেই হাফিজের এই বক্তব্যের হাকিকত বোঝা যায় যে তিনি সত্যবাদী (صدوق)!

সতর্কবার্তা: ‘মা’রিফাতুস সাহাবা’-এর মুদ্রিত কপি থেকে হাদিসের বর্ণনাকারী সাহাবির নাম বাদ পড়েছে!

ইবনে আবি আসিম ‘আল-আহাদ ওয়াল-মাসানি’ (৯৬৮)-এ সংকলন করেছেন আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে মনসুর ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি ইমরান ইবনে আবি আনাস থেকে, তিনি আবু কাতাদাহ থেকে, তিনি ইবনে আদ-দাইলি রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

"আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এলাম যখন তিনি নামাজ পড়ছিলেন, কিন্তু আমি তার সাথে নামাজ পড়িনি। যখন তিনি শেষ করলেন, তখন বললেন: আমাদের সাথে নামাজ পড়তে তোমাকে কিসে বাধা দিল? আমি বললাম: আমি আমার বাড়িতে নামাজ পড়ে নিয়েছি। তিনি বললেন: যদিও তুমি বাড়িতে নামাজ পড়ে থাকো, তবুও আমাদের সাথে নামাজ পড়ো।"

আবু কাতাদাহ নামটি একটি বিকৃতি (تحريف), এর সঠিক রূপ হলো কাতাদাহ যেমনটি সামনে আসছে। আমি মুহাম্মদ ইবনে মনসুর ইবনে ইসহাক নামে কাউকে পাইনি, এবং ইবনে আবি আসিমের মুহাম্মদ ইবনে মনসুর তুসি ব্যতীত এই নামের আর কোনো উস্তাদ নেই। তাই আমি আশঙ্কা করছি যে সনদে কোনো বিচ্যুতি রয়েছে, ফলে ইবনে ইসহাক হয়তো আল-সায়লাহিনি হবেন। কেননা ইবনে আবি আসিম ‘আল-আহাদ ওয়াল-মাসানি’ (২৮১৩)-এ এটি সংকলন করেছেন হাসান ইবনুল বাজ্জারের সূত্রে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি লাইস ইবনে সাদ থেকে, তিনি ইমরান ইবনে আবি আনাস থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি ইবনে আবি দাইল রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।

এটি একটি বিচ্ছিন্ন (منقطع) সনদ। ইমাম আহমাদ বলেছেন: "আমার জানা মতে কাতাদাহ আনাস ইবনে মালিক ব্যতীত নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আর কোনো সাহাবি থেকে কিছু শোনেননি।"

ইবনে কানে’ ‘মু’জামুস সাহাবা’ ১/৮৬-এ ইবনে হুমাইদের সূত্রে সংকলন করেছেন, তিনি সালামাহ থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি ইমরান ইবনে আবি আনাস থেকে, তিনি হানজালা ইবনে আলি থেকে, তিনি বিশর ইবনে মিহজান থেকে বর্ণনা করেছেন,

তিনি বলেন: "আমি আমার আবাসে জোহর নামাজ পড়লাম, অতঃপর আমার উটগুলোকে পানি পান করিয়ে ফেরত আনার জন্য বের হলাম। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম যখন তিনি তার মসজিদে মানুষের সাথে জোহর নামাজ পড়ছিলেন। আমি নামাজ পড়িনি এবং পরে তার নিকট তা উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন: আমাদের সাথে নামাজ পড়তে তোমাকে কিসে বাধা দিল? আমি বললাম: আমি আমার আবাসে নামাজ পড়ে নিয়েছিলাম। তিনি বললেন: যদিও (পড়ে থাকো)।"

এটি একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ। ইবনে হুমাইদ সম্পর্কে যাহাবি বলেছেন: একদল আলেম তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন, তবে তাকে বর্জন করাই শ্রেয়।

আর সালামাহ যদি ইবনুল ফাদল আল-আবরাশ হন, তবে তিনি দুর্বল (ضعيف)।

প্রকৃতপক্ষে এই হাদিসটি বুসর ইবনে মিহজান তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আর এর সপক্ষে ইয়াজিদ ইবনে আসওয়াদ আল-খুজায়ি বর্ণিত হাদিসটি সাক্ষ্য দেয়:

এটি আবু দাউদ (৬১৪)-সংক্ষিপ্তভাবে, নাসাঈ (১৩৩৪) এবং ‘আল-কুবরা’ (১২৫৮)-সংক্ষিপ্তভাবে, আহমাদ ৪/১৬১, আবদুর রাজ্জাক (৩৯৩৪), ইবনে খুজাইমা (১৬৩৮), আবু বকর আল-নাজ্জাদ তার হাদিস সংকলনে (পাণ্ডুলিপি), দারাকুতনি ২/২৮১ ও ২৮২, হাকেম ১/২৪৪-২৪৫, বায়হাকি ২/২৩০ ও ৩০১, এবং ‘আস-সুনান আস-সাগির’ (৫৫১)-এ সুফিয়ান সাওরি থেকে সংকলন করেছেন। এছাড়াও আহমাদ ৪/১৬১, আবদুর রাজ্জাক (৩৯৩৪), ইবনে সাদ ‘আত-তবাকাত আল-কুবরা’ ৫/৫১৭, ইবনে খুজাইমা (১৬৩৮), আবু বকর আল-নাজ্জাদ তার হাদিস সংকলনে (পাণ্ডুলিপি), তাবারানি ২২/(৬০৮) ও (৬০৯), দারাকুতনি ২/২৮০ হিশাম ইবনে হাসসান থেকে। আবু দাউদ (৫৭৫) ও (৫৭৬), আহমাদ ৪/১৬১, তায়ালিসি (১৩৪৩), দারেমি (১৩৬৭), ইবনে খুজাইমা (১৬৩৮), তাহাবি ‘শারহু মাআনিল আসার’ ১/৩৬৩, আবু বকর আল-নাজ্জাদ, ইবনে কানে’ ‘মু’জামুস সাহাবা’ ৩/২২১ ও ২২২, ৫/২৭৭৫, ইবনে হিব্বান (১৫৬৪), তাবারানি ২২/(৬১০) ও (৬১১) ও (৬১৮), এবং ‘আল-আওসাত’ (৮৬৫০), আল-গাতরিফি (৮৭), দারাকুতনি ২/২৮০, বায়হাকি ২/৩০০ এবং ‘দালাইলুন নুবুওয়াহ’ ১/২৫৮-এ শু’বাহ থেকে। আহমাদ ৪/১৬১, ইবনে খুজাইমা (১৬৩৮), আবু বকর আল-নাজ্জাদ, তাবারানি ২২/(৬১৫), দারাকুতনি ২/২৮০ শারিকের সূত্রে। তিরমিজি (২১৯), নাসাঈ (৮৫৮), এবং ‘আল-কুবরা’ (৯৩৩), আহমাদ ৪/১৬০-১৬১, লুওয়াইন (১০২), ইবনে আবি শাইবা ২/২৭৪-২৭৫ ও ১৪/১৮৬, ইবনে আবি আসিম ‘আল-আহাদ ওয়াল-মাসানি’ (১৪৬২), ইবনে খুজাইমা (১২৭৯) ও (১৬৩৮) ও (১৭১৩), ইবনে হিব্বান (১৫৬৫) ও (২৩৯৫), তাবারানি ২২/(৬১৪), দারাকুতনি ২/২৮০, বায়হাকি ২/৩০১ এবং ‘আল-মা’রিফা’ (৪৩১১) হুশাইম থেকে। তাবারানি ২২/(৬১৬) ও (৬১৯), এবং ‘আল-আওসাত’ (৪৩৯৮), ‘আস-সাগির’ (৬০৩), ‘মুসনাদুশ শামিয়্যিন’ (২৪৮৩), দারাকুতনি ২/২৮২ গাইলান ইবনে জামে-এর সূত্রে। আবু বকর আল-নাজ্জাদ এবং তাবারানি ২২/(৬১২) হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-র সূত্রে। ইবনুল মুনজির ‘আল-আওসাত’ (১১১৬), তাবারানি ২২/(৬১৪), দারাকুতনি ২/২৮২ মুবারক ইবনে ফাদালার সূত্রে। আবু বকর আল-নাজ্জাদ সাঈদ ইবনে জাইদের সূত্রে; তারা নয়জনই ইয়ালা ইবনে আতা থেকে,

তিনি জাবির ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আসওয়াদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:

"আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তার বিদায় হজে উপস্থিত ছিলাম। আমি তার সাথে মসজিদে খাইফে ফজরের নামাজ আদায় করলাম। তিনি বলেন: যখন তিনি নামাজ শেষ করে ফিরলেন, তখন দেখলেন একদল মানুষের পেছনে দুজন লোক রয়েছে যারা তার সাথে নামাজ পড়েনি। তিনি বললেন: ওদের দুজনকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তাদের আনা হলো এমতাবস্থায় যে (ভয়ে) তাদের শরীরের মাংসপেশি কাঁপছিল। তিনি বললেন: আমাদের সাথে নামাজ পড়তে তোমাদের কিসে বাধা দিল? তারা বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আমরা আমাদের আবাসস্থলে নামাজ পড়ে নিয়েছিলাম। তিনি বললেন: এমনটি করো না; যখন তোমরা তোমাদের আবাসস্থলে নামাজ পড়বে, অতঃপর জামাত হচ্ছে এমন মসজিদে আসবে, তখন তাদের সাথেও নামাজ পড়বে, কারণ তা তোমাদের জন্য নফল (نافلة) হিসেবে গণ্য হবে।"

অন্য শব্দে রয়েছে: "আমরা মিনায় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ফজরের নামাজ পড়লাম। অতঃপর দুজন লোক এল এবং তাদের সওয়ারির ওপর অবস্থান করল। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাদের আনা হলো এমতাবস্থায় যে তাদের শরীরের মাংসপেশি কাঁপছিল। তিনি তাদের বললেন: মানুষের সাথে নামাজ পড়তে তোমাদের কিসে বাধা দিল? তোমরা কি মুসলিম নও? তারা বলল: অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল, আমরা আমাদের আবাসস্থলে নামাজ পড়ে নিয়েছিলাম। তিনি তাদের বললেন: যখন তোমরা তোমাদের আবাসস্থলে নামাজ পড়বে, অতঃপর ইমামের নিকট আসবে, তখন তার সাথে নামাজ পড়ো, কারণ তা তোমাদের জন্য নফল (نافلة) হিসেবে গণ্য হবে।"

তাদের কেউ কেউ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: "তাদের একজন বলল: হে আল্লাহর রাসুল, আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তিনি বললেন: আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন।"

আবু আসিমের বর্ণনায় সুফিয়ান থেকে এসেছে: "এবং সে যেন ওই নামাজটিকে নফল (نافلة) হিসেবে গণ্য করে যা সে তার বাড়িতে পড়েছে।"

দারাকুতনি বলেছেন:

"সুফিয়ান সাওরীর ছাত্ররা তার বিরোধিতা করেছেন, অথচ তাদের সাথে ইয়ালা ইবনে আতার অন্যান্য ছাত্ররাও রয়েছেন যেমন: শু’বাহ, হিশাম ইবনে হাসসান, শারিক, গাইলান ইবনে জামে, আবু খালিদ আদ-দালানি, মুবারক ইবনে ফাদালা, আবু আওয়ানা, হুশাইম এবং অন্যরা। তারা ইয়ালা ইবনে আতা থেকে ওয়াকি ও ইবনে মাহদির বক্তব্যের মতো বর্ণনা করেছেন। আর হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ ইয়ালা ইবনে আতা থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে, তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: তবে সেটি তোমাদের জন্য নফল (نافلة) হবে আর যা তোমরা আবাসস্থলে পড়েছ তা ফরজ হিসেবে গণ্য হবে।"

আহমাদ ৪/১৬১, ইবনে আবি আসিম ‘আল-আহাদ ওয়াল-মাসানি’ (১৪৬৩), ইবনে কানে’ ‘মু’জামুস সাহাবা’ ৩/২২২-সংক্ষিপ্তভাবে, তাবারানি ২২/(৬১৩), দারাকুতনি ২/২৮২ আবু আওয়ানা আল-ওয়াদদাহ ইবনে আবদুল্লাহর সূত্রে ইয়ালা থেকে এটি বিস্তারিতভাবে সংকলন করেছেন।

দারাকুতনি ২/২৮২ বাকিয়্যাহর সূত্রে সংকলন করেছেন: ইবরাহিম ইবনে জি-হামায়াহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি জাবির ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শু’বাহর হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

তিরমিজি বলেছেন:

"হাদিসটি হাসান সহিহ (حسن صحيح)।"

হাফিজ ইবনে হাজার ‘তালখিসুল হাবির’ ২/৬২-এ বলেছেন:

"শাফিঈ তার পুরাতন (কাদিম) মতে বলেছেন: এর সনদ অজ্ঞাত (مجهول)। বায়হাকি বলেছেন: কারণ ইয়াজিদ ইবনে আসওয়াদের তার পুত্র ব্যতীত অন্য কোনো বর্ণনাকারী নেই, আর তার পুত্র জাবিরের ইয়ালা ব্যতীত কোনো বর্ণনাকারী নেই।

আমি (ইবনে হাজার) বলছি: ইয়ালা হলেন মুসলিম-এর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত, আর জাবিরকে নাসাঈ ও অন্যরা নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলেছেন। এছাড়াও আমরা জাবির ইবনে ইয়াজিদের জন্য ইয়ালা ব্যতীত অন্য বর্ণনাকারীও পেয়েছি, যা ইবনে মানদাহ ‘আল-মা’রিফা’-তে বাকিয়্যাহর সূত্রে, তিনি ইবরাহিম ইবনে জি-হামায়াহ থেকে,

তিনি আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
فصل

قال محمد تقي الدين: إن بعض علماء أهل السنة تأوّلوا ما جاء في الأحاديث من كفر تارك الصلاة بأنه من باب كفر دون كفر، كقول النبي صلى الله عليه وسلم، "من أتى امرأة في دبرها فقد كفر"، فهذا الكفر لا يخرجه من الملة عند أهل السنة، لكن ماذا يصنع هؤلاء بقول النبي صلى الله عليه وسلم "فقد برئت منه ذمة الله"(1)، وبقوله عليه الصلاة والسلام "فقد خرج من الملة"(2)، وسيأتي إجماع الصحابة.

--------------------------------------------

(1) حسن - وقد تقدم، انظر الحاشية (23).

(2) ضعيف - تقدّم الكلام عليه انظر الحاشية رقم (22).
পরিচ্ছেদ

মুহাম্মদ তাকিউদ্দীন বলেন: আহলে সুন্নাতের কিছু আলেম সালাত ত্যাগকারীর কুফর সম্পর্কে হাদিসগুলোতে যা এসেছে, সেগুলোকে কুফরের চেয়ে নিম্নপর্যায়ের কুফর (كفر دون كفر) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন; যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো নারীর সাথে তার পশ্চাৎপথে সঙ্গম করল, সে কুফর করল।" আহলে সুন্নাতের মতে এই কুফর তাকে মিল্লাত থেকে বের করে দেয় না। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী সম্পর্কে তারা কী করবেন— "তার থেকে আল্লাহর জিম্মাদারি উঠে গেছে"(১) এবং তাঁর এই বাণী— "সে মিল্লাত থেকে বের হয়ে গেছে"(২); আর অচিরেই সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমত (إجماع) আলোচিত হবে।

--------------------------------------------

(১) হাসান (حسن) - এটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, দেখুন পাদটীকা (২৩)।

(২) দুর্বল (ضعيف) - এ বিষয়ে পূর্বে আলোচনা হয়েছে, দেখুন পাদটীকা নং (২২)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الفصل الثالث

فيما جاء عن الصحابة رضي الله عنهم في حكم تارك الصلاة

قال ابن القيم في "كتاب الصلاة":

وأما إجماع الصحابة، فقال ابن زنجويه بسنده المتصل عن ابن عباس: "أنه جاء عمر بن الخطاب حين طعن في المسجد، قال: فاحتملته أنا ورهط كانوا معي في المسجد حتى أدخلناه بيته، قال: فأمر عبد الرحمن بن عوف أن يصلي بالناس، قال: فلما دخلنا على عمر بيته غشي عليه من الموت فلم يزل في غشيته حتى أسفر، ثم أفاق، فقال: هل صلى الناس؟ قال: فقلنا نعم، فقال: لا إسلام لمن ترك الصلاة. وفي سياق آخر: لا حظ في الإسلام لمن ترك الصلاة، ثم دعا بوضوء فتوضأ وصلى … وذكر القصة(1).

فقال هذا بمحضر من الصحابة ولم ينكروه عليه، وقد تقدم مثل ذلك عن معاذ بن جبل، وعبد الرحمن بن عوف، وأبي هريرة، ولا يعلم عن صحابي خلافهم.

 

وقال الحافظ عبد الحق الاشبيلي رحمه الله في كتابه في "الصلاة": ذهب جملة من الصحابة رضي الله عنهم ومن بعدهم إلى تكفير تارك الصلاة متعمدا لتركها حتى يخرج جميع وقتها، منهم عمر بن الخطاب، ومعاذ بن جبل، وعبد الله بن مسعود، وابن عباس، وجابر، وأبو الدرداء، وكذلك روي عن علي بن أبي طالب هؤلاء من الصحابة. ومن غيرهم: أحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهويه، وعبد الله بن المبارك، وإبراهيم النخعي، والحكم بن عيينة، وأيوب السختياني، وأبو داود الطيالسي، وأبو بكر بن أبي شيبة،

وأبو خيثمة زهير بن حرب.

--------------------------------------------

(1) صحيح - أخرجه المحاملي في "أماليه" (10) - رواية الفارسي، ومن طريقه ابن عساكر في "تاريخ دمشق" 44/ 423 من طريق يحيى بن أيوب الغافقي، وابن شبة في "تاريخ المدينة" 3/ 902 من طريق عبد الله بن وهب، كلاهما عن يونس، عن ابن شهاب، قال: حدثني عبيد الله بن عبد الله: أن عبد الله بن عباس، أخبره:

"أنه جاء عمر بن الخطاب حين طعن في غلس السحر، قال: فاحتملته أنا ورهط كانوا معي في المسجد حتى أدخلناه بيته، قال: وأمر عبد الرحمن بن عوف أن يصلي بالناس، قال: فلما أدخلنا عمر بيته غشي عليه من النزف، فلم يزل في غشيته حتى أسفر، ثم أفاق، فقال: هل صلى الناس؟ قلنا: نعم، قال: لا إسلام لمن ترك الصلاة.

قال: ثم دعا بوضوء فتوضأ وصلى، وقال عمر رضي الله عنه حين أخبر أن أبا لؤلؤة هو الذي طعنه، قال: الحمد لله الذي قتلني من لا يحاجني عند الله بصلاة صلاها - وكان مجوسيا -".

يونس بن يزيد الأيلي: ثقة إلا أن في روايته عن الزهري وهما قليلا، وتابعه معمر:

أخرجه عبد الرزاق في "المصنف" (581) و (5010)، ومن طريقه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (924)، واللالكائي في "شرح أصول الاعتقاد" (1529) عن معمر، عن الزهري بإسناده، بلفظ "أما إنه لا حظ في الإسلام لأحد ترك الصلاة".

وأخرجه أحمد في "الزهد" (656)، واللالكائي في "شرح أصول الاعتقاد" (1528) من طريق عبد الرحمن بن أبي الزناد، حدثنا عن أبيه، عن عروة، وسليمان بن يسار، عن المسور ابن مخرمة:

"أنه دخل هو وابن عباس على عمر بن الخطاب فقالا: الصلاة يا أمير المؤمنين بعدما أسفر، فقال: نعم، ولا حظ في الإسلام لمن ترك الصلاة فصلى والجرح يثغب دما".

وأخرجه ابن أبي شيبة 11/ 25، وفي "الإيمان" (103) عن ابن نمير، عن هشام بن عروة، عن أبيه، عن المسور بن مخرمة، وابن عباس به.

وأخرجه مالك في "الموطأ" 1/ 39، ومن طريقه البيهقي 1/ 357، وفي "المعرفة" (2287)، والبغوي في "شرح السنة" (330) عن هشام بن عروة، عن أبيه:

"أن المسور بن مخرمة أخبره، أنه دخل على عمر بن الخطاب من الليلة التي طعن فيها، فأيقظ عمر لصلاة الصبح، فقال: عمر: نعم، ولا حظ في الإسلام لمن ترك الصلاة، فصلى عمر، وجرحه يثعب دما".

وأخرجه عبد الرزاق (579)، ومن طريقه الخلال في "السنة" (1371) عن الثوري، وابن أبي شيبة 14/ 582 حدثنا أبو أسامة، والمروزي (925)، والدارقطني 2/ 395 من طريق عبدة ابن سليمان، والمروزي (927) من طريق ابن إسحاق، والخلال (1381) من طريق وكيع، والدارقطني 2/ 266 من طريق أبي معاوية، ستتهم عن هشام بن عروة، عن أبيه قال: حدثني سليمان بن يسار: أن المسور نحوه.

وأخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (923)، وابن الأعرابي في "المعجم" (1941)، والآجري في "الشريعة" (271)، والدارقطني 1/ 417 من طريق يونس، عن ابن شهاب،

أن سليمان بن يسار نحوه.

وأخرجه ابن سعد في "الطبقات الكبرى" 3/ 351 من طريق ابن شهاب: أخبرنا سليمان بن يسار، عن حديث المسور بن مخرمة، عن عمر ليلة طعن: " دخل هو وابن عباس … فذكره.

وأخرجه عبد الرزاق (580) عن ابن جريج قال: سمعت ابن أبي مليكة، دخل ابن عباس، والمسور بن مخرمة … مرسلا.

وأخرجه العدني في "الإيمان" (32)، وابن سعد في "الطبقات الكبرى" 3/ 350، والمرزوي (926)، والخلال (1388)، وابن الأعرابي في "المعجم" (1942)، وابن بطة في "الإبانة الكبرى" (872) و (873)، والدارقطني 1/ 417 من طريق أيوب السختياني، عن ابن أبي مليكة، عن المسور بن مخرمة رضي الله عنه قال: فذكره.

وأخرجه المروزي (928)، وابن الأعرابي في "المعجم" (407)، والآجري في "الشريعة" (272)، والطبراني في "الأوسط" (8181)، وأبو نعيم في "المعرفة" (191) من طريق وهب ابن جرير، قال: حدثنا قرة بن خالد، عن عبد الملك بن عمير، عن جابر بن سمرة، عن المسور بن مخرمة به.

وهذا إسناد صحيح.

وأخرجه ابن سعد 3/ 350، والمروزي (929) من طريق عبد الله بن جعفر بن عبد الرحمن ابن المسور بن مخرمة الزهري، عن عمته أم بكر بنت المسور بن مخرمة، عن المسور بن مخرمة، قال: "دخلت مع عبد الله بن عباس … فذكره.
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ

সালাত পরিত্যাগকারীর বিধান সম্পর্কে সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে

ইবনুল কাইয়্যিম তার "কিতাবুস সালাত" গ্রন্থে বলেন:

আর সাহাবীগণের ঐকমত্যের (ইজমা) বিষয়ে ইবনে জানজুওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে তার সংযুক্ত সনদ (إسناد متصل) এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: "উমর ইবনুল খাত্তাব যখন মসজিদে ছুরিকাহত হলেন, তখন ইবনে আব্বাস বলেন: আমি এবং আমার সাথে মসজিদে উপস্থিত একদল লোক তাকে বহন করে তার ঘরে নিয়ে এলাম। তখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আবদুর রহমান বিন আউফকে লোকদের নিয়ে সালাত পড়ার নির্দেশ দিলেন। যখন আমরা উমরকে তার ঘরে নিয়ে এলাম, মৃত্যুর যন্ত্রণায় তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। ভোর হওয়া পর্যন্ত তিনি মূর্ছিত অবস্থায় থাকলেন। এরপর যখন তার জ্ঞান ফিরল, তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে?' আমরা বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন: 'যে সালাত ত্যাগ করে, ইসলামে তার কোনো স্থান নেই।' অন্য বর্ণনায় এসেছে: 'যে সালাত ত্যাগ করে, ইসলামে তার কোনো অংশ নেই।' এরপর তিনি ওজুর পানি চাইলেন এবং ওজু করে সালাত আদায় করলেন..." এভাবে তিনি পূর্ণ ঘটনা উল্লেখ করেছেন(১)।

তিনি সাহাবীগণের উপস্থিতিতে এ কথা বলেছিলেন এবং কেউ তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেননি। মুয়ায বিন জাবাল, আবদুর রহমান বিন আউফ এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকেও অনুরূপ বর্ণনা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর কোনো সাহাবী থেকে এর বিপরীত কোনো মত জানা যায় না।

 

হাফিজ আব্দুল হক আল-ইশবিলি (রাহিমাহুল্লাহ) তার "সালাত" বিষয়ক গ্রন্থে বলেন: সাহাবীগণের এক বিশাল জামাত এবং তাদের পরবর্তীগণ ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগকারীকে কাফির সাব্যস্ত করার (تكفير) দিকে গিয়েছেন, এমনকি সালাতের সম্পূর্ণ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও। তাদের মধ্যে রয়েছেন উমর ইবনুল খাত্তাব, মুয়ায বিন জাবাল, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, ইবনে আব্বাস, জাবির এবং আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)। অনুরুপভাবে আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে। আর সাহাবীগণ ব্যতীত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন: আহমাদ বিন হাম্বল, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, ইব্রাহিম নাখয়ি, হাকাম বিন উয়াইনা, আইয়ুব সাখতিয়ানি, আবু দাউদ তায়ালিসি, আবু বকর বিন আবি শাইবা এবং আবু খাইসামা জুহাইর বিন হারব।

--------------------------------------------

(১) সহিহ (صحيح) - আল-মাহামিলি তার "আমালি" (১০) গ্রন্থে আল-ফারিসির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তার মাধ্যমে ইবনে আসাকির "তারিখে দামেশক" (৪৪/৪২৩) গ্রন্থে ইয়াহইয়া বিন আইয়ুব আল-গাফেকির সূত্রে, এবং ইবনে শাব্বাহ "তারিখে মাদিনা" (৩/৯০২) গ্রন্থে আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়েই ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ তাকে জানিয়েছেন যে, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস তাকে সংবাদ দিয়েছেন:

"উমর ইবনুল খাত্তাব যখন শেষ রাতের অন্ধকারে ছুরিকাহত হলেন, ইবনে আব্বাস বলেন: আমি এবং আমার সাথে থাকা একদল লোক তাকে বহন করে তার ঘরে নিয়ে এলাম। তখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আবদুর রহমান বিন আউফকে লোকদের নিয়ে সালাত পড়ার নির্দেশ দিলেন। যখন আমরা উমরকে তার ঘরে নিয়ে এলাম, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। ভোর হওয়া পর্যন্ত তিনি মূর্ছিত অবস্থায় থাকলেন। এরপর যখন তার জ্ঞান ফিরল, তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে?' আমরা বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন: 'যে সালাত ত্যাগ করে, ইসলামে তার কোনো স্থান নেই।'

বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি ওজুর পানি চাইলেন এবং ওজু করে সালাত আদায় করলেন। যখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে জানানো হলো যে আবু লুলু তাকে ছুরিকাঘাত করেছে, তখন তিনি বললেন: 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি এমন ব্যক্তির হাতে আমার মৃত্যু রেখেছেন যে আল্লাহর কাছে আমার বিরুদ্ধে কোনো দিন একটি সিজদাহ করার দাবি তুলতে পারবে না'—উক্ত ব্যক্তি ছিল একজন অগ্নিপূজক।"

ইউনুস বিন ইয়াজিদ আল-আইলি: নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে জুহরি থেকে তার বর্ণনায় সামান্য ভ্রান্তি (وهم) রয়েছে। তবে মামার তাকে এ বর্ণনায় অনুসরণ (تابعه) করেছেন:

আব্দুর রাজ্জাক তার "মুসান্নাফ" (৫৮১ ও ৫০১০) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তার সূত্রে আল-মারওয়াযি "তাযিমু কাদরিস সালাত" (৯২৪) গ্রন্থে এবং আল-লালকাঈ "শারহু উসূলিল ইতিকাদ" (১৫২৯) গ্রন্থে মামারের সূত্রে জুহরি থেকে তার সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেছেন, যার শব্দ হলো: "সাবধান! যে সালাত ত্যাগ করে, ইসলামে তার কোনো অংশ নেই।"

ইমাম আহমাদ "আয-যুহদ" (৬৫৬) গ্রন্থে এবং আল-লালকাঈ "শারহু উসূলিল ইতিকাদ" (১৫২৮) গ্রন্থে আব্দুর রহমান বিন আবিয যিনাদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি উরওয়াহ এবং সুলাইমান বিন ইয়াসার থেকে, তারা মিসওয়ার বিন মাখরামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন:

"তিনি এবং ইবনে আব্বাস উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে প্রবেশ করলেন। ভোর হয়ে যাওয়ার পর তারা দুজনে বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, সালাত! উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হ্যাঁ, যে সালাত ত্যাগ করে ইসলামে তার কোনো অংশ নেই। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন এমতাবস্থায় যে তার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত ঝরছিল।"

ইবনে আবি শাইবা (১১/২৫) এবং "আল-ঈমান" (১০৩) গ্রন্থে ইবনে নুমাইরের সূত্রে, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মিসওয়ার বিন মাখরামাহ এবং ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

মালিক তার "মুয়াত্তা" (১/৩৯) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। তার সূত্রে বায়হাকি (১/৩৫৭) ও "আল-মা'রিফাহ" (২২৮৭) গ্রন্থে এবং আল-বাগাভি "শারহুস সুন্নাহ" (৩৩০) গ্রন্থে হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন:

"মিসওয়ার বিন মাখরামাহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব যে রাতে ছুরিকাহত হয়েছিলেন, সে রাতে তিনি তার কাছে প্রবেশ করলেন এবং উমরকে ফজরের সালাতের জন্য জাগালেন। উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হ্যাঁ, যে সালাত ত্যাগ করে ইসলামে তার কোনো অংশ নেই। অতঃপর উমর সালাত আদায় করলেন এমতাবস্থায় যে তার ক্ষতস্থান থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছিল।"

আব্দুর রাজ্জাক (৫৭৯) এবং তার সূত্রে আল-খাল্লাল "আস-সুন্নাহ" (১৩৭১) গ্রন্থে সাওরি থেকে; ইবনে আবি শাইবা (১৪/৫৮২) আবু উসামা থেকে; আল-মারওয়াযি (৯২৫) ও আদ-দারাকুতনি (২/৩৯৫) আবদাহ বিন সুলাইমানের সূত্রে; আল-মারওয়াযি (৯২৭) ইবনে ইসহাকের সূত্রে; আল-খাল্লাল (১৩৮১) ওয়াকির সূত্রে এবং আদ-দারাকুতনি (২/২৬৬) আবু মুয়াবিয়ার সূত্রে বর্ণনা করেছেন—তারা ছয়জনই হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সুলাইমান বিন ইয়াসার তাকে বলেছেন: মিসওয়ার থেকে অনুরুপ বর্ণিত।

আল-মারওয়াযি "তাযিমু কাদরিস সালাত" (৯২৩) গ্রন্থে, ইবনুল আরাবি "আল-মু'জাম" (১৯৪১) গ্রন্থে, আল-আজুররি "আশ-শারিআহ" (২৭১) গ্রন্থে এবং আদ-দারাকুতনি (১/৪১৭) ইউনুসের সূত্রে ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন,

যে সুলাইমান বিন ইয়াসার থেকে অনুরুপ বর্ণিত।

ইবনে সাদ "আত-তাবাকাতুল কুবরা" (৩/৩৫১) গ্রন্থে ইবনে শিহাবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন: সুলাইমান বিন ইয়াসার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মিসওয়ার বিন মাখরামাহ-এর হাদিস থেকে, উমরের ছুরিকাহত হওয়ার রাত সম্পর্কে: "তিনি এবং ইবনে আব্বাস প্রবেশ করলেন..." অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

আব্দুর রাজ্জাক (৫৮০) ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আবি মুলাইকাকে বলতে শুনেছি, ইবনে আব্বাস এবং মিসওয়ার বিন মাখরামাহ প্রবেশ করলেন... এটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) ভাবে বর্ণিত।

আল-আদানি "আল-ঈমান" (৩২) গ্রন্থে, ইবনে সাদ "আত-তাবাকাতুল কুবরা" (৩/৩৫০) গ্রন্থে, আল-মারওয়াযি (৯২৬), আল-খাল্লাল (১৩৮৮), ইবনুল আরাবি "আল-মু'জাম" (১৯৪২), ইবনে বাত্তাহ "আল-ইবানাতুল কুবরা" (৮৭২ ও ৮৭৩) এবং আদ-দারাকুতনি (১/৪১৭) আইয়ুব সাখতিয়ানির সূত্রে ইবনে আবি মুলাইকা থেকে, তিনি মিসওয়ার বিন মাখরামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

আল-মারওয়াযি (৯২৮), ইবনুল আরাবি "আল-মু'জাম" (৪০৭), আল-আজুররি "আশ-শারিআহ" (২৭২), তাবারানি "আল-আওসাত" (৮১৮১) এবং আবু নুয়াইম "আল-মা'রিফাহ" (১৯১) গ্রন্থে ওয়াহাব বিন জারিরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কুররাহ বিন খালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক বিন উমাইর থেকে, তিনি জাবির বিন সামুরাহ থেকে, তিনি মিসওয়ার বিন মাখরামাহ থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন।

আর এটি একটি সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد)।

ইবনে সাদ (৩/৩৫০) এবং আল-মারওয়াযি (৯২৯) আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন আব্দুর রহমান বিন মিসওয়ার বিন মাখরামাহ আল-জুহরির সূত্রে, তিনি তার ফুফু উম্মু বাকর বিনতে মিসওয়ার বিন মাখরামাহ থেকে, তিনি মিসওয়ার বিন মাখরামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আব্দুল্লাহ বিন আব্বাসের সাথে প্রবেশ করলাম..." অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
(فصل)

ثم ذكر ابن القيم كلاما طويلا في الذنوب التي لا تخرج من الملة، وإن سميت كفرا أو فسقا أو نفاقا، وانتهى إلى النتيجة التالية في (ص 523) من مجموعة الحديث النجدية(1) والأدلة التي ذكرناها وغيرها تدل على أنه لا يقبل من العبد شيء من أعماله إلا بفعل الصلاة، فهي مفتاح ديوانه ورأس مال ربحه، ومحال بقاء الربح بلا رأس مال، فإذا خسرها خسر أعماله كلها، وإن أتى بها صورة، وقد أشار إلى هذا في قوله: "فإن ضيعها فهو لما سواها أضيع"(2).

 

وفي قوله: "أول ما ينظر من أعماله الصلاة، فإن

--------------------------------------------

(1) وفي مطبوع دار عالم الفوائد (ص 104).

(2) صحيح - أخرجه مالك في "الموطأ" 1/ 6، وعنه عبد الرزاق في "المصنف" (2038)، والطحاوي في "شرح المعاني" 1/ 193، والبيهقي 1/ 445 عن مالك، عن نافع: "أن عمر بن الخطاب كتب إلى عماله: إن أهم أموركم عندي الصلاة، من حفظها وحافظ عليها حفظ دينه، ومن ضيعها فهو لسواها أضيع … ".

وإسناده منقطع، لأن نافعا لم يلق عمر لكن أخرجه عبد الرزاق (2039) عن معمر، عن أيوب، عن نافع، عن ابن عمر مثله.

وهذا إسناد صحيح على شرط الشيخين.
(পরিচ্ছেদ)

এরপর ইবনুল কাইয়্যিম এমন সব পাপ সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন যা মিল্লাত (ধর্ম) থেকে বের করে দেয় না, যদিও সেগুলোকে কুফর (كفر), ফিসক (فسق) অথবা নিফাক (নفاق) নামে অভিহিত করা হয়েছে। তিনি মাজমুআতুল হাদিস আন-নাজদিয়্যাহ এর (৫২৩ পৃষ্ঠায়) নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে:(১) "আমরা যে সকল দলিল উল্লেখ করেছি এবং অন্যান্য প্রমাণাদি একথাই নির্দেশ করে যে, সালাত আদায় করা ব্যতীত বান্দার কোনো আমলই কবুল করা হবে না। সুতরাং সালাত হলো তার আমলনামার চাবিকাঠি এবং তার মুনাফার মূলধন। আর মূলধন ব্যতীত মুনাফা অবশিষ্ট থাকা অসম্ভব। অতএব, সে যদি সালাত হারায় তবে তার সকল আমলই হারালো, যদিও সে বাহ্যিকভাবে তা সম্পাদন করে থাকে। তিনি একথার প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই উক্তিতে: 'যে ব্যক্তি তা নষ্ট করল, সে অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি ধ্বংসকারী হবে'।"(২).

 

এবং তাঁর এই উক্তিতে: "আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেয়া হবে, যদি...

--------------------------------------------

(১) এবং দারু আলমিল ফাওয়াইদ সংস্করণে (১০৪ পৃষ্ঠা)।

(২) সহিহ (صحيح) - মালেক এটি মুয়াত্তা-এ বর্ণনা করেছেন ১/৬, এবং তাঁর থেকে আব্দুর রাজ্জাক আল-মুসান্নাফ-এ (২০৩৮), তহাবি শরহু মাআনিল আসার-এ ১/১৯৩, এবং বায়হাকি ১/৪৪৫ গ্রন্থে মালেক থেকে, তিনি নাফে’র সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে: "উমর ইবনুল খাত্তাব তাঁর গভর্নরদের নিকট লিখেছিলেন: আমার নিকট তোমাদের বিষয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সালাত। যে ব্যক্তি একে সংরক্ষণ করল এবং এর যথাযথ যত্ন নিল, সে তার দ্বীনকে রক্ষা করল। আর যে একে নষ্ট করল, সে অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি ধ্বংসকারী হবে...।"

এর সনদটি বিচ্ছিন্ন (منقطع), কারণ নাফে’ উমর (রা.)-এর সাক্ষাৎ পাননি। কিন্তু আব্দুর রাজ্জাক (২০৩৯) মা’মার থেকে, তিনি আইয়ুব থেকে, তিনি নাফে’র থেকে এবং তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আর এই সনদটি শায়খাইনের শর্তানুসারে সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
جازت له نظر في سائر أعماله، وإن لم تجز له لم ينظر في شيء من أعماله بعد"(1) ومن العجب أن يقع الشك في كفر من أصر على تركها، ودعي إلى فعلها على رؤوس الملأ وهو يرى بارقة السيف على رأسه ويشد للقتل وعصبت عيناه وقيل له: تصلي وإلا قتلناك، فيقول اقتلوني ولا أصلي أبدا! ومن لا يكفر تارك الصلاة، يقول هذا مؤمن مسلم يغسل يصلى عليه ويدفن في مقابر المسلمين، وبعضهم يقول إنه مؤمن كامل الإيمان، إيمانه كإيمانه جبريل وميكائيل، فلا يستحي من هذا قوله من إنكاره تكفير من شهد بكفره الكتاب والسنة واتفاق الصحابة والله الموفق.

* * *

--------------------------------------------

(1) ضعيف - أخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (194) حدثنا أحمد بن منصور، حدثنا ابن أبي مريم، أخبرنا يحيى بن أيوب، قال: حدثني ابن عجلان، عن عون بن عبد الملك، قال: يقال: "إن العبد إذا دخل قبره سئل عن صلاته، أول شيء يسأل عنه، فإن جازت له نظر فيما سوى ذلك من عمله، وإن لم تجز له لم ينظر في شيء من عمله بعد".

وهذا إسناد منقطع، ومثله ما أخرجه الإمام مالك في "الموطأ" 1/ 173 عن يحيى بن سعيد، أنه قال: بلغني "أن أول ما ينظر فيه من عمل العبد الصلاة، فإن قبلت منه، نظر فيما بقي من عمله، وإن لم تقبل منه، لم ينظر في شيء من عمله".

والحديث صحيح بلفظ "إن أول ما يحاسب به العبد يوم القيامة من عمله صلاته، فإن صلحت فقد أفلح وأنجح، وإن فسدت فقد خاب وخسر، فإن انتقص من فريضته شيء، قال الرب عز وجل: انظروا هل لعبدي من تطوع فيكمل بها ما انتقص من الفريضة، ثم يكون سائر عمله على ذلك".

أخرجه أبو داود (864) و (865)، والترمذي (413) وحسنه، والنسائي (465) و (466)، وفي "الكبرى" (321) و (322)، وابن ماجه (1425)، وأحمد 2/ 290 و 425، وابن أبي شيبة 14/ 123 و 146، والحاكم 1/ 262 وصححه من حديث

أبي هريرة.

وله شاهد من حديث أبي الدرداء عند أبي داود (866)، وابن ماجه (1426)، وأحمد 4/ 103، وابن أبي شيبة 11/ 41 و 14/ 108، والحاكم 1/ 262، ورجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم عند الإمام أحمد 4/ 65 و 103 و 5/ 377، وابن أبي شيبة 14/ 133.
"যদি তার (সালাত) গৃহীত হয় তবে তার অন্যান্য আমল বিবেচনা করা হবে, আর যদি তা গৃহীত না হয় তবে এরপর তার কোনো আমলই আর বিবেচনা করা হবে না।"(১) এটি বিস্ময়কর যে, যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগের ওপর অবিচল থাকে তার কুফর নিয়ে সন্দেহ করা হয়; যাকে জনসম্মুখে সালাত আদায়ের জন্য আহ্বান জানানো হয় এমতাবস্থায় যে সে তার মাথার ওপর তলোয়ারের ঝিলিক দেখছে, তাকে হত্যার জন্য বেঁধে ফেলা হয়েছে, তার চোখ বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং তাকে বলা হচ্ছে: "সালাত আদায় করো নতুবা আমরা তোমাকে হত্যা করব", এরপরও সে বলে: "আমাকে হত্যা করো কিন্তু আমি কখনোই সালাত আদায় করব না!" যারা সালাত ত্যাগকারীকে কাফির মনে করে না, তারা বলে যে এ ব্যক্তি একজন মুমিন মুসলিম যাকে গোসল করানো হবে, যার জানাযার সালাত পড়া হবে এবং যাকে মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা হবে। তাদের কেউ কেউ তো বলে যে সে পূর্ণ ঈমানের অধিকারী মুমিন, তার ঈমান জিবরাঈল ও মিকাইলের ঈমানের মতো। যার কুফরের ব্যাপারে কিতাব, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কিরামের ঐকমত্য সাক্ষ্য দিয়েছে, তাকে কাফির বলতে অস্বীকার করে এ ধরনের কথা বলতে সে কি লজ্জাবোধ করে না? আল্লাহই তাওফিকদাতা।

* * *

--------------------------------------------

(১) দুর্বল (ضعيف) - আল-মারওয়াযি 'তাযিমু কাদরিস সালাত' (১৯৪) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। আমাদের নিকট আহমাদ ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবনে আবি মারইয়াম বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে আজলান আমার কাছে আওন ইবনে আব্দুল মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বলা হয়ে থাকে: "নিশ্চয়ই বান্দা যখন তার কবরে প্রবেশ করে, তখন তাকে তার সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়। এটিই প্রথম বিষয় যা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে। যদি তা তার জন্য গ্রহণযোগ্য হয় তবে তার অন্যান্য আমল বিবেচনা করা হবে, আর যদি তা গ্রহণযোগ্য না হয় তবে এরপর তার কোনো আমলই আর বিবেচনা করা হবে না।"

এই সনদ (إسناد) টি বিচ্ছিন্ন (منقطع)। অনুরূপ বর্ণনা ইমাম মালিক তার 'মুওয়াত্তা' (১/১৭৩) গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে (بلغني) যে, "বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম যেটির দিকে লক্ষ্য করা হবে তা হলো সালাত। যদি তা কবুল হয় তবে তার অবশিষ্ট আমলগুলো দেখা হবে, আর যদি তা কবুল না হয় তবে তার কোনো আমলই আর দেখা হবে না।"

তবে হাদিসটি নিম্নোক্ত শব্দে বিশুদ্ধ (صحيح): "কিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম যেটির হিসাব নেওয়া হবে তা হলো তার সালাত। যদি তা সঠিক হয় তবে সে সফল ও কামিয়াব হলো, আর যদি তা নষ্ট হয়ে যায় তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হলো। যদি তার ফরয ইবাদতে কোনো ঘাটতি থাকে তবে মহান রব বলবেন: 'দেখো, আমার বান্দার কোনো নফল (تطوع) আমল আছে কি না যা দিয়ে ফরযের ঘাটতি পূরণ করা যায়?' এরপর তার বাকি আমলগুলোও এভাবেই বিবেচনা করা হবে।"

এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৮৬৪) ও (৮৬৫), তিরমিযি (৪১৩) এবং তিনি একে হাসান (حسن) বলেছেন, নাসায়ি (৪৬৫) ও (৪৬৬) এবং 'আল-কুবরা' (৩২১) ও (৩২২) গ্রন্থে, ইবনে মাজাহ (১৪২৫), আহমাদ (২/২৯০ ও ৪২৫), ইবনে আবি শাইবাহ (১৪/১২৩ ও ১৪৬), এবং হাকেম (১/২৬২) ও তিনি একে আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর হাদিস থেকে বিশুদ্ধ (صحيح) বলেছেন।

এর একটি সাক্ষী (شاهد) রয়েছে আবু দাউদ (৮৬৬), ইবনে মাজাহ (১৪২৬), আহমাদ (৪/১০৩), ইবনে আবি শাইবাহ (১১/৪১ ও ১৪/১০৮), এবং হাকেম (১/২৬২) এর নিকট আবু দারদা (রাযি.)-এর বর্ণিত হাদিসে। এছাড়া ইমাম আহমাদ (৪/৬৫ ও ১০৩ এবং ৫/৩৭৭) ও ইবনে আবি শাইবাহ (১৪/১৩৩) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জনৈক সাহাবি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
فصل

في سياق أقوال العلماء من التابعين ومن بعدهم في كفر تارك الصلاة ومن حكى الإجماع على ذلك

وقال محمد بن نصر بسنده عن أيوب، قال: "ترك الصلاة كفر لا يختلف فيه"(1).

وحكى محمد(2) بن نصر عن ابن المبارك قال: "من أخر صلاة حتى يفوت وقتها متعمدا من غير عذر فقد كفر"(3).

وقال علي بن الحسن بن شقيق: سمعت عبد الله بن المبارك، يقول: "من قال إني لا أصلي المكتوبة اليوم فهو أكفر من حمار"(4).

وقال يحيى بن معين: قيل لعبد الله بن المبارك: إن هؤلاء يقولون: من لم يصم ولم يصل بعد أن يقر به فهو مؤمن مستكمل الإيمان؟ فقال عبد الله: "لا نقول نحن ما يقول هؤلاء من ترك الصلاة متعمدا من غير علة حتى أدخل وقتا في وقت فهو كافر"(5).

وقال ابن أبي شيبة: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "من ترك الصلاة فقد كفر. فيقال له ارجع عن الكفر فإن فعل وإلا قتل بعد أن يؤجله الوالي ثلاثة أيام"(6).

وقال أحمد بن يسار: سمعت صدقة بن الفضل وسئل عن تارك الصلاة؟ فقال: كافر(7).

 

(فصل)

من نام عن صلاة أو نسيها حتى خرج وقتها فليصلها ولا إثم عليه

روى البخاري ومسلم، واللفظ له عن أنس، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: "من نسي صلاة، أو نام عنها، فكفارتها أن يصليها إذا ذكرها"(8) وروى مسلم عنه أيضا، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا رقد أحدكم عن الصلاة، أو غفل عنها، فليصلها إذا ذكرها، فإن الله

--------------------------------------------

(1) أخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (978) حدثنا محمد بن يحيى، قال: حدثنا أبو النعمان، قال: حدثنا حماد بن زيد، عن أيوب، قال: فذكره.

وهذا إسناد صحيح، أبو النعمان هو محمد بن الفضل السدوسي المعروف بـ عارم.

(2) جاء في المطبوع (وحكى محمد بن المبارك، قال: من أخر الصلاة) وهو خطأ بيّن، إنما هو محمد بن نصر المروزي، نقله عن المبارك.

(3) أخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (979) حدثنا محمد بن عبدة، قال: سمعت يعمر بن بشر أبا عمرو، قال: سمعت عبد الله بن المبارك رضي الله عنه قال: فذكره.

ورجاله ثقات.

(4) أخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (980) حدثنا أحمد بن سيار، قال: سمعت علي بن الحسن بن شقيق، يقول: سمعت عبد الله، يقول: فذكره.

وإسناده صحيح.

(5) أخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (981) حدثنا أحمد، قال: حدثنا أحمد بن حكيم، قال: أخبرنا يحيى بن معين به.

وقال محقق "الصلاة للمروزي" تصحّف (يحيى بن معين) إلى (يحيى بن موسى)، وقام بتصحيحه من كتاب "الصلاة" لابن القيم!!، وليته لم يفعل وأثبت ما وجد في أصل الكتاب، فهو الصواب، قال الحافظ مغلطاي في "تهذيب الكمال" 12/ 371:

"يحيى بن موسى: ذكره البستي في "تاريخ المراوزة"، وزعم أنه يروي عن عبد الله بن المبارك قال: وكان من العباد، يكنى أبا محمد، روى عنه أحمد بن حكيم، ونضر بن صاحب، وعمير ابن أفلح".

وأحمد بن حكيم: لم أجده، وليس هو الذي يروي عن ابن عيينة، فهذا أعلى طبقة منه.

(6) ذكره عنه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (988).

(7) أخرجه المروزي في "تعظيم قدر الصلاة" (989).

(8) متفق عليه من حديث أنس، وقد استوفيت طرقه، وشواهده في كتابي "أحاديث الأحكام رواية ودراية" برقم (86).
পরিচ্ছেদ

তাবেয়ি এবং তাদের পরবর্তী যুগের আলেমগণের সালাত ত্যাগকারীর কুফর সম্পর্কিত বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং এ বিষয়ে যারা ঐকমত্য বা ইজমা বর্ণনা করেছেন তাদের আলোচনা প্রসঙ্গে

মুহাম্মদ ইবনে নাসর তার সনদ (إسناد) সহকারে আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "সালাত ত্যাগ করা কুফর, এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই"(১)।

মুহাম্মদ(২) ইবনে নাসর ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি কোনো ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বিলম্বিত করে, এমনকি তার ওয়াক্ত পার হয়ে যায়, সে কুফরি করল"(৩)।

আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকিক বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি বলে যে আমি আজকের ফরজ সালাত আদায় করব না, সে গাধার চেয়েও বড় কাফের"(৪)।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলা হলো: এই লোকেরা (মুরজিয়ারা) বলে—যে ব্যক্তি স্বীকার করার পরও রোজা রাখল না এবং সালাত আদায় করল না সে পূর্ণাঙ্গ ইমানদার মুমিন? আবদুল্লাহ বলেন: "এরা যা বলে আমরা তা বলি না। যে ব্যক্তি কোনো কারণ ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ছেড়ে দিল, এমনকি এক ওয়াক্তের সময় অন্য ওয়াক্তে প্রবেশ করাল, সে কাফের"(৫)।

ইবনে আবি শায়বা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাত ছেড়ে দিল সে কুফরি করল। তাকে বলা হবে কুফর থেকে ফিরে এসো। যদি সে ফিরে আসে তবে ভালো, অন্যথায় শাসক তাকে তিন দিন সময় দেওয়ার পর হত্যা করবেন"(৬)।

আহমদ ইবনে ইয়াসার বলেন: আমি সাদাকা ইবনুল ফজলকে সালাত ত্যাগকারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি? তিনি বললেন: কাফের(৭)।

 

(পরিচ্ছেদ)

যে ব্যক্তি সালাত থেকে ঘুমিয়ে পড়ে বা ভুলে যায়, ফলে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়, সে যেন তা আদায় করে নেয় এবং এতে তার কোনো গুনাহ নেই

বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন, আর শব্দসমূহ মুসলিমের—আনাস থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "যে ব্যক্তি কোনো সালাত ভুলে যায় অথবা তা থেকে ঘুমিয়ে পড়ে, তবে তার কাফফারা হলো যখনই স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নেওয়া"(৮)। মুসলিম তার থেকে আরও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ সালাত থেকে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা তা থেকে গাফেল হয়ে যায়, তখন সে যেন তা স্মরণ হওয়া মাত্রই পড়ে নেয়, কেননা আল্লাহ...

--------------------------------------------

(১) মারওয়াজি এটি "তাযিমু কাদরিস সালাত" (৯৭৮) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন; মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু নুমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আইয়ুব থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন... অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন।

আর এটি একটি সহিহ (صحيح) সনদ (إسناد); আবু নুমান হলেন মুহাম্মদ ইবনুল ফজল আস-সাদুসি, যিনি 'আরিম' নামে পরিচিত।

(২) মুদ্রিত কপিতে এসেছে (মুহাম্মদ ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে ব্যক্তি সালাত বিলম্বিত করল), যা একটি স্পষ্ট ভুল। মূলত এটি হবে মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াজি, তিনি এটি ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেছেন।

(৩) মারওয়াজি এটি "তাযিমu কাদরিস সালাত" (৯৭৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন; মুহাম্মদ ইবনে আবদাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ইয়া'মুর ইবনে বিশর আবু আমরকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কে বলতে শুনেছি... অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন।

এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات)।

(৪) মারওয়াজি এটি "তাযিমু কাদরিস সালাত" (৯৮০) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন; আহমদ ইবনে সাইয়ার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকিককে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি... অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন।

এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح)।

(৫) মারওয়াজি এটি "তাযিমু কাদরিস সালাত" (৯৮১) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন; আহমদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে হাকিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।

মারওয়াজির "আস-সালাত" গ্রন্থের মুহাক্কিক বলেন, (ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন) নামটি (ইয়াহইয়া ইবনে মুসা) হিসেবে বিকৃত (تصحف) হয়েছে, এবং তিনি ইবনুল কাইয়্যিমের "আস-সালাত" গ্রন্থ থেকে এটি সংশোধন করেছেন!! আফসোস যদি তিনি তা না করে মূল পাণ্ডুলিপিতে যা ছিল তা-ই বহাল রাখতেন, কারণ সেটিই সঠিক। হাফেজ মুগলতাই "তাহযিবুল কামাল" (১২/৩৭১) গ্রন্থে বলেন:

"ইয়াহইয়া ইবনে মুসা: আল-বুস্তি তাকে 'তারিখুল মারাউইযাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: তিনি ইবাদতগুজারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তার উপনাম আবু মুহাম্মদ; তার থেকে আহমদ ইবনে হাকিম, নজর ইবনে সাহেব এবং উমায়ের ইবনে আফলাহ বর্ণনা করেছেন।"

আর আহমদ ইবনে হাকিম: তাকে আমি খুঁজে পাইনি; তিনি সেই ব্যক্তি নন যিনি ইবনে উইয়াইনাহ থেকে বর্ণনা করেন, বরং ইনি তার চেয়ে উচ্চস্তরের বর্ণনাকারী।

(৬) মারওয়াজি তার থেকে "তাযিমু কাদরিস সালাত" (৯৮৮) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

(৭) মারওয়াজি এটি "তাযিমু কাদরিস সালাত" (৯৮৯) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।

(৮) আনাস বর্ণিত এই হাদিসটি ঐক্যমত পোষণকৃত (متفق عليه)। আমি আমার "আহাদিসুল আহকাম রিওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান" গ্রন্থের ৮৬ নম্বর হাদিসে এর সকল সূত্র ও সমর্থক বর্ণনাগুলো বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা (পৃষ্ঠা: ১৮)
يقول: {أقم الصلاة لذكري} [طه: 14] ".

وفي "صحيح مسلم" عن أبي هريرة: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حين قفل من غزوة خيبر، سار ليله حتى إذا أدركه الكرى عرس، وقال لبلال: اكلأ لنا الليل. فصلى بلال ما قدر له، ونام رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، فلما تقارب الفجر استند بلال إلى راحلته مواجه الفجر، فغلبت بلالا عيناه وهو مستند إلى راحلته، فلم يستيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا بلال، ولا أحد من أصحابه حتى ضربتهم الشمس، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم أولهم استيقاظا، ففزع رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: أي بلال؟ فقال بلال: أخذ بنفسي الذي أخذ - بأبي أنت وأمي يا رسول الله - بنفسك، قال: اقتادوا. فاقتادوا رواحلهم شيئا، ثم توضأ رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأمر بلالا فأقام الصلاة، فصلى بهم الصبح، فلما قضى الصلاة قال: من نسي الصلاة فليصلها إذا ذكرها. فإن الله قال: {أقم الصلاة لذكري} [طه: 14] "(1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم (680)، وغيره، وقد استوفيت تخريجه في كتابي "أحاديث الأحكام رواية ودراية" عند شواهد الحديث رقم (86).
তিনি বলেন: {আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো} [ত্বহা: ১৪]।

এবং "সহীহ মুসলিম"-এ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত: "আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন খয়বার যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, তিনি সারা রাত পথ চললেন। অবশেষে যখন তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন, তখন বিশ্রামের জন্য যাত্রাবিরতি করলেন এবং বিলালকে বললেন: 'আমাদের জন্য রাতের পাহারার দায়িত্ব পালন করো।' অতঃপর বিলাল তাঁর ভাগ্যে যতটুকু নির্ধারিত ছিল ততটুকু সালাত আদায় করলেন, আর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ ঘুমিয়ে পড়লেন। যখন ফজর ঘনিয়ে এল, বিলাল তাঁর সওয়ারির ওপর হেলান দিয়ে ফজরের দিকে মুখ করে বসলেন। এমতাবস্থায় বিলালের দু’চোখ ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল যখন তিনি তাঁর সওয়ারির ওপর হেলান দিয়ে ছিলেন। ফলে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), বিলাল কিংবা তাঁদের কোনো সাহাবীই জাগ্রত হতে পারেননি, যতক্ষণ না রোদ তাঁদের গায়ে লাগল। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম জাগ্রত হলেন এবং তিনি বিচলিত হয়ে ডাকলেন: 'হে বিলাল!' তখন বিলাল বললেন: 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনার ওপর আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোন, আমার প্রাণকেও সেই সত্তাই আচ্ছন্ন করেছিল যা আপনার প্রাণকে আচ্ছন্ন করেছিল (অর্থাৎ ঘুম)।' তিনি বললেন: 'সওয়ারিগুলো নিয়ে চলো।' অতঃপর তাঁরা তাঁদের সওয়ারিগুলো কিছুটা এগিয়ে নিয়ে গেলেন। এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অজু করলেন এবং বিলালকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি সালাতের ইকামত দিলেন। তিনি তাঁদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন: 'যে ব্যক্তি সালাতের কথা ভুলে যায়, সে যেন তা মনে হওয়ামাত্র আদায় করে নেয়। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো} [ত্বহা: ১৪]'।"(১).

--------------------------------------------

(১) এটি উদ্ধৃত করেছেন (أخرجه) মুসলিম (৬৮০) ও অন্যান্যরা। আমি আমার গ্রন্থ 'আহাদিসুল আহকাম রিওয়ায়াতান ওয়া দিরায়াতান'-এ ৮৬ নম্বর হাদিসের সমর্থক বর্ণনাসমূহ (شواهد) উল্লেখ করার সময় এর পূর্ণাঙ্গ উৎস নির্দেশ (تخريج) সম্পন্ন করেছি।