(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: -)
القول الفصل في حكم تارك الصلاة عمدا حتى يخرج وقتها القسم: مسائل فقهية
الكتاب: القول الفصل في حُكم تارك الصلاة عمدا حتى يخرج وقتها
المؤلف: محمد تقي الدين الهلالي الحسيني
عام النشر: 1402 هـ - 1982 م
عدد الصفحات: 37
خرّج أحاديث هذه النسخة الإلكترونية وعلّق عليها: أبو سامي العبدان حُسن التَمام
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 18 رجب 1443
আল-কাওলুল ফাসল ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজু ওয়াকতুহা (ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বর্জনকারীর বিধানের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা) বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: আল-কাওলুল ফাসল ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজু ওয়াকতুহা (ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বর্জনকারীর বিধানের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা)
গ্রন্থকার: মুহাম্মদ তাকিউদ্দীন আল-হিলালী আল-হুসাইনী
প্রকাশকাল: ১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭
এই ইলেকট্রনিক সংস্করণের হাদিসসমূহের তাখরিজ (تخريج) ও টীকা প্রদান করেছেন: আবু সামি আল-আবদান হুসনুত তামাম
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৮ রজব ১৪৪৩ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১)
القولُ الفصل في حُكم تارك الصّلاة عمدًا حتّى يخرجَ وقتُها
تأليف: الشيخ محمّد تقي الدين الهلالي الحُسيني
--------------------------------------------
ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াক্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সালাত ত্যাগকারীর বিধান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
রচনায়: শায়খ মুহাম্মদ তাকিউদ্দিন আল-হিলালী আল-হুসাইনী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
المقدمةالحمد لله وبه أستعين، وصلِّ اللهمّ على خير خلقك محمد، وعلى آله وأصحابه أجمعين، الذين كانوا على صلاتهم يحافظون، أما بعد:
فيقول العبد الفقير إلى رحمة ربِّه، الوالي محمد تقي الدين بن عبد القادر الهلالي، سألني جماعة من إخواننا الموحِّدين لربِّ العالمين، المتمسكين بسنة النبيّ الأميّ عن حكم تارك الصلاة عمدًا أهو كافر أم هو من عصاة المسلمين؟ وما هو عقابه في شريعة ربّ العالمين؟
فوجب عليّ أن أجيبهم بما يروي الغليل، ويشفي العليل، فأقول وبالله التوفيق.
الفصل الأول
أدلة كفر تارك الصلاة
أنقله من "كتاب الصلاة" لابن القيم، وربّما أضيف إلى كلامه زيادة إن شاء الله تعالى، قال الحافظ شمس الدين محمد بن أبي بكر المشهور بابن القيم
(1):
أدلة الكتاب العزيز:
قال الله تعالى: {أَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِينَ كَالْمُجْرِمِينَ. مَا لَكُمْ كَيْفَ تَحْكُمُونَ. أَمْ لَكُمْ كِتَابٌ فِيهِ تَدْرُسُونَ. إِنَّ لَكُمْ فِيهِ لَمَا تَخَيَّرُونَ. أَمْ لَكُمْ أَيْمَانٌ عَلَيْنَا بَالِغَةٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِنَّ لَكُمْ لَمَا تَحْكُمُونَ. سَلْهُمْ أَيُّهُمْ بِذَلِكَ زَعِيمٌ. أَمْ لَهُمْ شُرَكَاءُ فَلْيَأْتُوا بِشُرَكَائِهِمْ إِنْ كَانُوا صَادِقِينَ. يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ. خَاشِعَةً أَبْصَارُهُمْ تَرْهَقُهُمْ ذِلَّةٌ وَقَدْ كَانُوا يُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ وَهُمْ سَالِمُونَ} [القلم: 35 - 43]، فوجه الدلالة من الآية أنه سبحانه أخبر أنه لا يجعل المسلمين كالمجرمين وأن هذا الأمر لا يليق بحكمته ولا بحكمه ثم ذكر أحوال المجرمين الذين هم ضد المسلمين، فقال: {يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ}، وأنهم يدعون إلى
--------------------------------------------
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আমি তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আপনার সৃষ্টির সেরা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ বর্ষণ করুন, যাঁরা নিজেদের সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করতেন। অত:পর:
তাঁর রবের রহমতের মুখাপেক্ষী বান্দা, ওয়ালী মুহাম্মদ তকিউদ্দীন ইবন আব্দুল কাদির আল-হিলালী বলছেন: বিশ্বজগতের প্রতিপালকের একত্ববাদে বিশ্বাসী এবং নিরক্ষর নবীর সুন্নাহর অনুসারী আমাদের একদল ভাই আমাকে প্রশ্ন করেছেন—ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগকারীর বিধান কী? সে কি অবিশ্বাসকারী (كافر) নাকি সে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত কোনো পাপাচারী (عاص) ব্যক্তি? আর বিশ্বজগতের প্রতিপালকের শরিয়তে তার শাস্তিই বা কী?
তাই আমার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়েছে এমনভাবে তাদের উত্তর প্রদান করা যা জ্ঞানপিপাসা নিবারণ করবে এবং অসুস্থকে আরোগ্য দান করবে। আমি আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করে বলছি।
প্রথম পরিচ্ছেদ
সালাত পরিত্যাগকারীর কুফরের (كفر) দলিলসমূহ
আমি এটি ইবনুল কাইয়্যিমের "কিতাবুস সালাত" থেকে উদ্ধৃত করছি এবং ইনশাআল্লাহ তাঁর বক্তব্যের সাথে সম্ভবত কিছু সংযোজনও করব। হাফেজ (حافظ) শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবন আবি বকর, যিনি ইবনুল কাইয়্যিম
(১) নামে সমধিক পরিচিত, তিনি বলেছেন:
মহাগ্রন্থের (আল-কুরআনের) দলিলসমূহ:
মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আমি কি আত্মসমর্পণকারীদেরকে অপরাধীদের সমান করে দেব? তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কেমন ফয়সালা করছ? নাকি তোমাদের কোনো কিতাব আছে যাতে তোমরা অধ্যয়ন করো? যাতে তোমাদের জন্য তাই আছে যা তোমরা পছন্দ করো? নাকি তোমাদের জন্য আমার ওপর কিয়ামত পর্যন্ত বলবৎ কোনো শপথ রয়েছে যে, তোমরা যা ফয়সালা করবে তা-ই তোমাদের জন্য হবে? তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, তাদের মধ্যে কে এর জিম্মাদার? নাকি তাদের কোনো শরিক রয়েছে? তবে তারা যদি সত্যবাদী হয় তবে যেন তাদের শরিকদের নিয়ে আসে। যেদিন পায়ের নলা উন্মোচিত করা হবে এবং তাদেরকে সিজদার জন্য আহ্বান জানানো হবে, কিন্তু তারা সক্ষম হবে না। তাদের দৃষ্টি অবনত থাকবে, অপমান তাদেরকে আচ্ছন্ন করবে। অথচ যখন তারা সুস্থ ও নিরাপদ ছিল, তখন তাদেরকে সিজদার জন্য আহ্বান জানানো হতো।} [সূরা আল-কলম: ৩৫ - ৪৩]। এই আয়াত থেকে দলিলের দিকটি হলো, মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুসলিমদেরকে অপরাধীদের সমতুল্য করবেন না এবং এই বিষয়টি তাঁর প্রজ্ঞা ও বিধানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। অত:পর তিনি অপরাধীদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন যারা মুসলিমদের বিপরীত পক্ষ, তিনি বলেছেন: {যেদিন পায়ের নলা উন্মোচিত করা হবে}, এবং তাদেরকে আহ্বান জানানো হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
السجود لربهم تبارك وتعالى، فيحال بينهم وبينه فلا يستطيعون السجود مع المسلمين، عقوبة لهم على ترك السجود له مع المصلين في دار الدنيا، وهذا يدل على أنهم مع الكفار والمنافقين، الذين تبقى ظهورهم إذا سجد المسلمون كصياصي
(1) البقر، ولو كانوا من المسلمين لأذن لهم بالسجود كما أذن للمسلمين.
الدليل الثاني: قوله تعالى: {كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ رَهِينَةٌ. إِلَّا أَصْحَابَ الْيَمِينِ. فِي جَنَّاتٍ يَتَسَاءَلُونَ. عَنِ الْمُجْرِمِينَ. مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ. قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ. وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ. وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ. وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ. حَتَّى أَتَانَا الْيَقِينُ} [المدثر: 38 - 47]، فلا يخلو إما أن يكون كل واحد من هذه الخصال هو الذي سلكهم في سقر وجعلهم من المجرمين، أو مجموعها: فإن كان كل واحد منها مستقلا بذلك فالدلالة ظاهرة، وإن كان مجموع الأمور الأربعة فهذا إنما هو لتغليظ كفرهم وعقوبتهم، وإلا فكل واحد منها مقتض للعقوبة إذ لا يجوز أن يضم ما لا تأثير له إلى ما هو مستقل بها.
ومن المعلوم أن ترك الصلاة وما ذكر معه ليس شرطًا على التكذيب بيوم الدين، بل هو وحده كاف في العقوبة، فدل على أن كل وصف ذكر معه كذلك، إذ لا يمكن لقائل أن يقول: لا يعذب إلا من جمع هذه الأوصاف الأربعة! فإذا كان كل واحد منها موجبا للإجرام، وقد جعل الله سبحانه المجرمين ضد المسلمين كان تارك الصلاة من المجرمين السالكين في سقر، وقد قال: {إِنَّ الْمُجْرِمِينَ فِي ضَلَالٍ وَسُعُرٍ (47) يَوْمَ يُسْحَبُونَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ ذُوقُوا مَسَّ سَقَرَ} [القمر: 47، 48]، وقال تعالى:
{إِنَّ الَّذِينَ أَجْرَمُوا كَانُوا مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا يَضْحَكُونَ} [المطففين: 29]، فجعل المجرمين ضد المؤمنين المسلمين.
الدليل الثالث: قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [النور: 56]، فوجه الدلالة أنه سبحانه علق حصول الرحمة لهم بفعل هذه الأمور، فلو كان ترك الصلاة لا يوجب تكفيرهم وخلودهم في النار لكانوا مرحومين بدون فعل الصلاة، والرب تعالى إنما جعلهم على رجاء الرحمة إذا فعلوها.
--------------------------------------------
তাদের মহান প্রতিপালক তাবারাকা ওয়া তায়ালার সামনে সিজদা করা; তখন তাদের ও তাঁর মাঝে অন্তরাল তৈরি করা হবে, ফলে তারা মুসলিমদের সাথে সিজদা করতে সক্ষম হবে না। এটি দুনিয়াতে সালাত আদায়কারীদের সাথে তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদা ত্যাগ করার শাস্তি স্বরূপ। এটি প্রমাণ করে যে, তারা কাফের ও মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত, মুসলিমরা যখন সিজদা করবে তখন যাদের পিঠ গরুর শিংয়ের মতো
(১) শক্ত হয়ে থাকবে। তারা যদি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে তাদের সিজদা করার অনুমতি দেওয়া হতো যেমনটি মুসলিমদের দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {প্রত্যেক ব্যক্তি তার কৃতকর্মের দায়ে আবদ্ধ। কিন্তু ডানদিকের লোকেরা ব্যতীত। তারা জান্নাতে থাকবে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করবে— অপরাধীদের সম্পর্কে যে, 'কিসে তোমাদের জাহান্নামে (সাকার) নিক্ষেপ করল?' তারা বলবে, 'আমরা নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না, আমরা অভাবগ্রস্তদের অন্নদান করতাম না, আমরা অনর্থক আলোচনাকারীদের সাথে লিপ্ত হতাম এবং আমরা বিচার দিবসকে অস্বীকার করতাম, যে পর্যন্ত না আমাদের মৃত্যু এসে উপস্থিত হলো।'} [আল-মুদ্দাসসির: ৩৮ - ৪৭]। এখন বিষয়টি দুটি অবস্থার বাইরে নয়; হয় এই বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতিটিই তাদের সাকারে (জাহান্নামে) প্রবেশ করিয়েছে ও তাদের অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত করেছে, অথবা এগুলোর সমষ্টি। যদি এর প্রতিটি স্বতন্ত্রভাবে এর কারণ হয়ে থাকে, তবে দলিলটি সুস্পষ্ট। আর যদি এই চারটি বিষয়ের সমষ্টির কারণে হয়, তবে তা তাদের কুফর ও শাস্তিকে আরও কঠোর করার জন্য; অন্যথায় এর প্রতিটিই শাস্তির দাবি রাখে। কেননা যার কোনো প্রভাব নেই তাকে এমন বিষয়ের সাথে যুক্ত করা বৈধ নয় যা নিজে নিজেই (শাস্তির কারণ হিসেবে) স্বতন্ত্র।
এটি সুবিদিত যে, নামাজ ত্যাগ করা ও এর সাথে যা যা উল্লেখ করা হয়েছে তা বিচার দিবসকে অস্বীকার করার জন্য শর্ত নয়; বরং এটি (নামাজ ত্যাগ) একাই শাস্তির জন্য যথেষ্ট। এটি প্রমাণ করে যে, এর সাথে উল্লিখিত প্রতিটি বৈশিষ্ট্যই অনুরূপ। কারণ কোনো বক্তার পক্ষে এমনটি বলা সম্ভব নয় যে: 'যে ব্যক্তি এই চারটি বৈশিষ্ট্যের সমন্বয় ঘটাবে কেবল তাকেই শাস্তি দেওয়া হবে!' সুতরাং যখন এর প্রতিটিই অপরাধী হওয়ার কারণ হয়, আর মহান আল্লাহ অপরাধীদের মুসলিমদের বিপরীত সত্তা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন, তখন নামাজ ত্যাগকারীও সেই অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত যারা সাকারে (জাহান্নামে) প্রবেশ করবে। তিনি বলেছেন: {নিশ্চয় অপরাধীরা বিভ্রান্তিতে ও প্রজ্বলিত অগ্নিতে রয়েছে। যেদিন তাদের উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের আগুনের দিকে (এবং বলা হবে), 'আস্বাদন করো আগুনের ছোঁয়া।'} [আল-ক্বামার: ৪৭, ৪৮]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন:
{নিশ্চয় যারা অপরাধী ছিল তারা মুমিনদের উপহাস করত।} [আল-মুতাফফিফিন: ২৯]। এখানে তিনি অপরাধীদের মুমিন মুসলিমদের বিপরীত সত্তা হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
তৃতীয় দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমত প্রাপ্ত হও।} [আন-নূর: ৫৬]। এখানে দলিল পেশ করার পদ্ধতি হলো, মহান আল্লাহ রহমত লাভকে এই বিষয়গুলো পালনের সাথে শর্তযুক্ত করেছেন। যদি নামাজ ত্যাগ করা তাদের কাফের সাব্যস্ত না করত এবং চিরস্থায়ী জাহান্নামের কারণ না হতো, তবে তারা নামাজ না পড়লেও রহমত প্রাপ্ত হতো। অথচ মহান প্রতিপালক তাদের রহমতের আশা কেবল তা পালনের সাথেই সংশ্লিষ্ট করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
الدليل الرابع: قوله تعالى: {فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ. الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ} [الماعون: 4، 5] وقد اختلف السلف في معنى السهو عنها، فقال سعد بن أبي وقاص، ومسروق بن الأجدع، وغيرهما: هو تركها حتى يخرج وقتها.
روي في ذلك حديث مرفوع، قال محمد بن نصر المروزي: حدثنا
سفيان
(1) بن أبي شيبة، حدثنا عكرمة بن إبراهيم، حدثنا عبد الملك بن عمير، عن مصعب بن سعد، عن أبيه: "أنه سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن الذين هم عن الصلاة ساهون، قال: هم الذين يؤخرون الصلاة عن وقتها"
(2).
وقال حماد بن زيد: حدثنا عاصم، عن مصعب بن سعد، قال: "قلت: لأبي يا أبتا أرأيت قول الله: {الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلاتِهِمْ سَاهُونَ} أينا لا يسهو؟ أينا لا يحدث نفسه؟ قال: إنه ليس ذاك ولكنه إضاعة الوقت" سنن البيهقي
(3).
وقال حيوة بن شريح: أخبرني أبو صخر، أنه سأل محمد بن كعب القرظي عن قوله: {الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلاتِهِمْ سَاهُونَ} قال: هو تاركها. ثم سأله عن الماعون قال: منع المال عن حقه.
إذا عرف هذا، فالوعيد بالويل اطَّرد في القرآن للكفار، كقوله: {وَوَيْلٌ لِلْمُشْرِكِينَ. الَّذِينَ لَا يُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ} [فصلت: 6، 7] وقوله: {وَيْلٌ لِكُلِّ أَفَّاكٍ أَثِيمٍ. يَسْمَعُ آيَاتِ اللَّهِ تُتْلَى عَلَيْهِ ثُمَّ يُصِرُّ مُسْتَكْبِرًا كَأَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا - إلى قوله - مُهِينٌ} [الجاثية: 7، 8]، وقوله: {وَوَيْلٌ لِلْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ شَدِيدٍ} [إبراهيم: 2]، إلا في موضعين وهما {وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ} [المطففين: 1] و {وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ} [الهمزة: 1]، فعلق الويل بالتطفيف وبالهمز واللمز، وهذا لا يكفر به بمجرده، فويل تارك الصلاة إما أن يكون ملحقا بويل الكفار أو بويل الفساق، فإلحاقه بويل الكفار أولى لوجهين:
الأول: أنه قد صح عن سعد بن أبي وقاص في هذه الآية أنه قال: "لو تركوها لكانوا كفارا ولكن ضيعوا وقتها"
(4).
الثاني: ما سنذكر من الأدلة على كفره يوضّحه:
الدليل الخامس: وهو قوله سبحانه: {فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا} [مريم: 59].
قال عبد الله بن مسعود:
"غي: واد في جهنم بعيد القعر"
(5).
فوجه الدلالة من الآية أن الله سبحانه جعل هذا المكان من النار لمن أضاع الصلاة واتبع الشهوات، ولو كان مع عصاة المسلمين لكانوا في الطبقة العليا من طبقات النار، ولم
--------------------------------------------
চতুর্থ দলীল: মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব দুর্ভোগ সেই মুসাল্লিদের (সালাত আদায়কারী) জন্য, যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন} [মাউন: ৪, ৫]। সালাত সম্পর্কে উদাসীনতার অর্থ কী, এ বিষয়ে সালাফগণ (পূর্বসূরীগণ) মতভেদ করেছেন। সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, মাসরুক ইবনুল আজদা এবং অন্যান্যরা বলেছেন: এর অর্থ হলো সালাত বর্জন করা বা দেরি করা যতক্ষণ না তার সময় অতিবাহিত হয়ে যায়।
এ বিষয়ে একটি রাসুল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) হাদিস বর্ণিত হয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াজি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন
সুফিয়ান
(১) ইবনে আবি শায়বা, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইকরিমা ইবনে ইব্রাহিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল মালিক ইবনে উমাইর, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন: "তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঐ সমস্ত লোক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তারা হলো ঐসব লোক যারা সালাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে দেরি করে আদায় করে"
(২)।
হাম্মাদ ইবনে যায়েদ বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আসিম, তিনি মুসআব ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আমার পিতাকে বললাম, হে আব্বা! আপনি কি আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে ভেবেছেন: {যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন} আমাদের মধ্যে কে আছে যে উদাসীন হয় না? কে আছে যে নিজের মনের সাথে কথা বলে না (চিন্তাগ্রস্ত হয় না)? তিনি বললেন: বিষয়টি তা নয়, বরং এর অর্থ হলো সময় নষ্ট করা (সময় পার করে সালাত পড়া)" সুনান আল-বায়হাকি
(৩)।
হাইওয়াহ ইবনে শুরাইহ বলেছেন: আবু সাখর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজিকে আল্লাহর বাণী: {যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন} এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: সে হলো সালাত পরিত্যাগকারী। এরপর তিনি তাকে 'মাউন' সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: সম্পদের হক (যাকাত) প্রদান না করা।
যখন এটি জানা গেল, তখন দেখা যায় যে কুরআনে 'ওয়াইল' বা ধ্বংসের ধমকি কাফিরদের ক্ষেত্রেই বারবার এসেছে, যেমন আল্লাহর বাণী: {দুর্ভোগ মুশরিকদের জন্য, যারা যাকাত দেয় না এবং পরকালকে অস্বীকার করে} [ফুসসিলাত: ৬, ৭] এবং তাঁর বাণী: {দুর্ভোগ প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী ও পাপীর জন্য, যে আল্লাহর আয়াতসমূহ তার কাছে পঠিত হতে শোনে, অথচ অহংকারে অটল থাকে যেন সে তা শুনতেই পায়নি - অপমানজনক শাস্তি পর্যন্ত} [জাছিয়া: ৭, ৮], এবং তাঁর বাণী: {আর কাফিরদের জন্য রয়েছে কঠিন আজাবের দুর্ভোগ} [ইব্রাহিম: ২]। তবে কেবল দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত, আর তা হলো {দুর্ভোগ সেইসব মাপে কম প্রদানকারীদের জন্য} [মুতাফফিফিন: ১] এবং {দুর্ভোগ প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর জন্য} [হুমাজাহ: ১]। এখানে ধ্বংসের ধমকিকে মাপে কম দেওয়া এবং পরনিন্দার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যা কেবল একারণেই কাউকে কাফির করে দেয় না। সুতরাং সালাত বর্জনকারীর জন্য ধ্বংসের ধমকিটি কি কাফিরদের জন্য নির্ধারিত ধ্বংসের সাথে যুক্ত হবে নাকি ফাসিকদের ধ্বংসের সাথে? দুটি কারণে এটি কাফিরদের জন্য নির্ধারিত ধ্বংসের সাথে যুক্ত করাই অধিক যুক্তিযুক্ত:
প্রথমত: এই আয়াতের তাফসিরে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বিশুদ্ধভাবে (صح) বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যদি তারা সালাত পুরোপুরি ছেড়ে দিত তবে তারা কাফির হয়ে যেত, কিন্তু তারা এর সময় নষ্ট করেছে"
(৪)।
দ্বিতীয়ত: তার কুফরি সম্পর্কে আমরা সামনে যে দলীলগুলো উল্লেখ করব তা বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়:
পঞ্চম দলীল: আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের পরে আসলো এমন এক অপদার্থ উত্তরসূরী, যারা সালাত নষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করল, সুতরাং শীঘ্রই তারা 'গাই' (ধ্বংস বা জাহান্নামের উপত্যকা) এর সম্মুখীন হবে} [মারইয়াম: ৫৯]।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন:
"গাই হলো জাহান্নামের একটি উপত্যকা যার তলদেশ অত্যন্ত গভীর"
(৫)।
আয়াতটি থেকে দলীল গ্রহণের পদ্ধতি হলো, মহান আল্লাহ এই জাহান্নামের স্থানটি তাদের জন্য নির্ধারিত করেছেন যারা সালাত নষ্ট করে এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করে। যদি তারা কেবল অবাধ্য মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে তারা জাহান্নামের সর্বোচ্চ স্তরে থাকতো, তারা জাহান্নামের গভীরে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
يكونوا في هذا المكان الذي هو أسفلها، فإن هذا ليس من أمكنة أهل الإسلام، بل من أمكنه الكفار، ومن الآية دليل آخر وهو قوله تعالى: {فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا. إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا} [مريم: 59، 60]، فلو كان مضيع الصلاة مؤمنا لم يشترط في توبته الإيمان وأنه يكون تحصيلا للحاصل.
الدليل السادس: قوله تعالى: {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ} [التوبة: 11]، فعلّق أخوتهم للمؤمنين
(1) بفعل الصلاة، فإذا لم يفعلوا، لم يكونوا إخوة للمؤمنين فلا يكونوا مؤمنين، لقوله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ} [الحجرات: 10].
الدليل السابع: قوله تعالى: {فَلَا صَدَّقَ وَلَا صَلَّى. وَلَكِنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى} [القيامة: 31، 32]، فلما كان الإسلام تصديق الخبر، والانقياد للأمر جعل سبحانه له ضدين: عدم التصديق، وعدم الصلاة، وقابل التصديق بالتكذيب والصلاة بالتولي، فقال: {وَلَكِنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى} فكما أن المكذِّب كافر، فالمتولِّي عن الصلاة كافر، فكما يزول الإسلام بالتكذيب، يزول بالتولّي عن الصلاة.
قال سعيد: عن قتادة {فَلا صَدَّقَ وَلا صَلَّى}: لا صدق بكتاب الله ولا صلى لله، ولكن كذب بآيات الله، وتولّى عن طاعته {أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى. ثُمَّ أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى} [القيامة: 34، 35]، وعيد على إثر وعيد.
الدليل الثامن: قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ} [المنافقون: 9].
قال ابن جريج: سمعت عطاء بن أبي رباح، يقول: هي الصلاة المكتوبة.
ووجه الاستدلال بالآية أن الله حكم بالخسران المطلق لمن ألهاه ماله وولده عن الصلاة، والخسران المطلق لا يحصل إلا للكفار، فإن المسلم ولو خسر بذنوبه ومعاصيه فآخر أمره إلى الربح، يوضّحه أنه سبحانه وتعالى أكّد خسران تارك الصلاة في هذه الآية بأنواع من التأكيد:
الأول: إتيانه بلفظ الاسم الدال على ثبوت الخسران ولزومه دون الفعل الدال على التجدد والحدوث.
الثاني: تعريف
(2) الاسم بالألف
--------------------------------------------
তারা এই স্থানে অবস্থান করবে যা জাহান্নামের সর্বনিম্ন অংশ; কেননা এটি মুসলিমদের স্থান নয়, বরং কাফেরদের স্থান। কুরআনের আয়াতে আরেকটি দলিল রয়েছে, তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তাদের পরে এমন এক অপদার্থ প্রজন্ম আসলো যারা নামাজ নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল; শীঘ্রই তারা জাহান্নামের গর্তের (গাইয়্যা) সম্মুখীন হবে। তবে যারা তওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তারা ব্যতীত} [মারইয়াম: ৫৯, ৬০]। যদি নামাজ পরিত্যাগকারী মুমিন হতো, তবে তার তওবার শর্ত হিসেবে ঈমান আনার কথা বলা হতো না, কারণ সেক্ষেত্রে তা অর্জিত বিষয়েরই পুনরাবৃত্তি (তাহসিলুল হাসিল) হতো।
ষষ্ঠ দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তারা দ্বীনি ভ্রাতৃত্বে তোমাদের ভাই} [আত-তাওবাহ: ১১]। এখানে মুমিনদের সাথে তাদের ভ্রাতৃত্বের বিষয়টিকে নামাজ আদায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে
(১); সুতরাং তারা যদি নামাজ আদায় না করে, তবে তারা মুমিনদের ভাই হিসেবে গণ্য হবে না। আর তারা যদি মুমিনদের ভাই না হয়, তবে তারা মুমিনও হতে পারবে না। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই} [আল-হুজুরাত: ১০]।
সপ্তম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {সে সত্য বলে বিশ্বাস করেনি এবং নামাজও পড়েনি। বরং সে মিথ্যারোপ করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে} [আল-কিয়ামাহ: ৩১, ৩২]। যেহেতু ইসলাম হলো সংবাদের সত্যতা স্বীকার করা (তাসদিক) এবং আদেশের আনুগত্য করা, তাই মহান আল্লাহ এর বিপরীতে দুটি বিষয় নির্ধারণ করেছেন: সত্যতা স্বীকার না করা এবং নামাজ না পড়া। তিনি সত্যতা স্বীকারের বিপরীতে মিথ্যারোপকে এবং নামাজের বিপরীতে বিমুখতাকে স্থাপন করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: {বরণ সে মিথ্যারোপ করেছে এবং মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে}। অতএব, মিথ্যারোপকারী যেমন কাফের, তেমনি নামাজ থেকে বিমুখ ব্যক্তিও কাফের। যেভাবে মিথ্যারোপের মাধ্যমে ইসলাম বিলুপ্ত হয়ে যায়, ঠিক একইভাবে নামাজ থেকে বিমুখ হওয়ার মাধ্যমেও ইসলাম বিলুপ্ত হয়ে যায়।
সাঈদ বলেন: কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, {সে সত্য বলে বিশ্বাস করেনি এবং নামাজও পড়েনি}: সে আল্লাহর কিতাবকে সত্য বলে বিশ্বাস করেনি এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে নামাজ পড়েনি। বরং সে আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তাঁর আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। {দুর্ভোগ তোমার জন্য, দুর্ভোগের ওপর দুর্ভোগ। আবারও দুর্ভোগ তোমার জন্য, দুর্ভোগের ওপর দুর্ভোগ} [আল-কিয়ামাহ: ৩৪, ৩৫]। এটি এক সতর্কবাণীর পর অন্য সতর্কবাণী।
অষ্টম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে। যারা এমনটি করবে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত} [আল-মুনাফিকুন: ৯]।
ইবনে জুরাইজ বলেন: আমি আতা ইবনে আবি রাবাহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: এটি হলো ফরজ নামাজ।
এই আয়াত থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি হলো—আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির জন্য নিরঙ্কুশ ক্ষতির ফয়সালা করেছেন যার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তাকে নামাজ থেকে বিমুখ করে রেখেছে। আর নিরঙ্কুশ ক্ষতি কেবল কাফেরদের জন্যই প্রযোজ্য। কারণ একজন মুসলিম তার পাপ ও অবাধ্যতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তার শেষ পরিণাম তো সফলতার দিকে। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যে, মহান আল্লাহ এই আয়াতে নামাজ ত্যাগকারীর ক্ষতিকে বিভিন্নভাবে তাকিদ বা গুরুত্ব দিয়ে বর্ণনা করেছেন:
প্রথমত: তিনি বিশেষ্যবাচক শব্দ (ইসম) ব্যবহার করেছেন যা ক্ষতির স্থায়িত্ব ও অপরিহার্যতা নির্দেশ করে; ক্রিয়াবাচক শব্দ (ফেল) ব্যবহার করেননি যা নতুন করে ঘটা বা সাময়িক হওয়া নির্দেশ করে।
দ্বিতীয়ত: বিশেষ্যটিকে আলিফ-লাম যোগে নির্দিষ্ট
(২) করা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
واللام المؤدية لحصول كمال المسمى لهم، فإنك إذا قلت: زيد العالم الصالح أفاد ذلك إثبات كمال ذلك له بخلاف قولك عالم صالح.
الثالث: إتيانه سبحانه بالمبتدأ والخبر معرفتين وذلك من علامات انحصار الخبر في المبتدأ كما في قوله تعالى: {وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} [البقرة: 5] و [آل عمران: 104] و [التوبة: 88] و [النور: 51] و [الروم: 38] و [لقمان: 5]، وقوله تعالى: {وَالْكَافِرُونَ هُمُ الظَّالِمُونَ} [البقرة: 254]، وقوله {أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا} [الأنفال: 4، 74]، ونظائره.
الرابع: إدخال ضمير الفصل بين المبتدأ والخبر وهو يفيد مع الفصل فائدتين أخريين: قوة الاسناد، واختصاص المسنَد إليه بالمسند، كقوله: {وَإِنَّ اللَّهَ لَهُوَ الْغَنِيُّ الْحَمِيدُ} [الحج: 64]، وقوله: {وَاللَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [المائدة: 76]، وقوله: {إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ} [الشورى: 5]، ونظائر ذلك.
الدليل التاسع: قوله سبحانه: {إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ} [السجدة: 15]،
ومن أعظم التذكير بآيات الله: التذكير بآيات الصلاة، فمن ذُكِّر بها ولم يتذكر، ولم يصلِّ لم يؤمن بها، لأنه سبحانه خصّ المؤمنين بها بأنهم أهل السجود، وهذا من أحسن الاستدلال وأقربه، فلم يؤمن بقوله تعالى:
{وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} إلا من التزم إقامتها.
الدليل العاشر: قوله تعالى: {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ارْكَعُوا لَا يَرْكَعُونَ. وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ} [المرسلات: 48، 49]، ذكر هذا بعد قوله: {كُلُوا وَتَمَتَّعُوا قَلِيلاً إِنَّكُمْ مُجْرِمُونَ}، ثم توعدهم على ترك الركوع: وهو الصلاة إذا دعوا إليها، ولا يقال: إنما توعدهم على التكذيب، فإنه سبحانه وتعالى إنما أخبر عن تركهم لها وعليه وقع الوعيد.
على أنا نقول لا يصر على ترك الصلاة إصرارا مستمرا من يصدق بأن الله أمر بها أصلا، فإنه يستحيل في العادة والطبيعة أن يكون الرجل مصدقًا تصديقًا جازمًا أن الله فرض عليه كل يوم وليلة خمس صلوات، وأنه يعاقبه على تركها أشدّ العقاب، وهو مع ذلك مصرٌ على تركها، هذا من المستحيل قطعًا، فلا يحافظ على تركها مصدقٌ بفرضها أبدًا فإن الايمانَ يأمر صاحبَه بها، فحيث لم يكن في قلبه ما يأمر بها،
এবং সেই 'লাম' যা তাদের জন্য নামকৃত গুণের পূর্ণতা অর্জনের পথ নির্দেশ করে। কেননা যখন আপনি বলেন: ‘জায়েদ হলেন সেই আলেম, সেই সৎকর্মশীল’, তখন তা তার জন্য ঐ গুণের পূর্ণতা সাব্যস্ত হওয়াকে বুঝায়; যা আপনার ‘একজন আলেম, একজন সৎকর্মশীল’ বলার বিপরীত।
তৃতীয়ত: মহান আল্লাহ কর্তৃক উদ্দেশ্য ও বিধেয় (خبر) উভয়কে নির্দিষ্ট হিসেবে নিয়ে আসা। এটি মূলত উদ্দেশ্যের মধ্যে বিধেয়কে (خبر) সীমাবদ্ধ করার অন্যতম আলামত; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: “আর তারাই সফলকাম” [আল-বাকারাহ: ৫, আলে ইমরান: ১০৪, আত-তাওবাহ: ৮৮, আন-নূর: ৫১, আর-রূম: ৩৮, লোকমান: ৫], এবং তাঁর বাণী: “আর কাফেররাই জালেম” [আল-বাকারাহ: ২৫৪], এবং তাঁর বাণী: “তারাই প্রকৃত মুমিন” [আল-আনফাল: ৪, ৭৪], এবং এর সদৃশ আয়াতসমূহ।
চতুর্থত: উদ্দেশ্য ও বিধেয় (خبر)-এর মাঝে ‘দমিরে ফাসল’ (পৃথককারী সর্বনাম) যুক্ত করা। এটি পৃথক করার পাশাপাশি আরও দুটি উপকারিতা প্রদান করে: সম্বন্ধের (إسناد) শক্তি এবং যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তাকে মূল সম্বন্ধকৃত বিষয়ের (مسند) সাথে সুনির্দিষ্ট করা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “আর আল্লাহ, নিশ্চয়ই তিনিই অভাবমুক্ত ও প্রশংসিত” [আল-হাজ্জ: ৬৪], এবং তাঁর বাণী: “আর আল্লাহ, তিনিই সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ” [আল-মায়িদাহ: ৭৬], এবং তাঁর বাণী: “নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনিই পরম ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু” [আশ-শুরা: ৫], এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াত।
নবম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: “কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে, যাদেরকে যখন তা দ্বারা উপদেশ দেওয়া হয়, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের রবের প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তারা অহংকার করে না” [আস-সাজদাহ: ১৫]।
আর আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে উপদেশ প্রদানের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র হলো: নামাজের আয়াতসমূহের মাধ্যমে উপদেশ প্রদান। সুতরাং যাকে তা দ্বারা উপদেশ দেওয়া হলো অথচ সে উপদেশ গ্রহণ করল না এবং নামাজ আদায় করল না, সে মূলত সেগুলোর ওপর ঈমান আনেনি। কারণ মহান আল্লাহ মুমিনদের এই বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত করেছেন যে, তারা সিজদাকারী। এটি অত্যন্ত চমৎকার ও নিকটতর একটি দলিল। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: “তোমরা নামাজ কায়েম করো”—এর ওপর কেবল সেই ব্যক্তিই ঈমান এনেছে যে তা কায়েম করার আবশ্যকতাকে গ্রহণ করেছে।
দশম দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: “আর যখন তাদেরকে বলা হয় রুকু করো, তখন তারা রুকু করে না। সেদিন মিথ্যারোপকারীদের জন্য দুর্ভোগ” [আল-মুরসালাত: ৪৮, ৪৯]। এটি তাঁর এই বাণীর পরে উল্লেখ করা হয়েছে: “তোমরা আহার করো এবং অল্পকাল ভোগ করো, নিশ্চয়ই তোমরা অপরাধী”। অতঃপর তিনি তাদেরকে রুকু বর্জন করার কারণে ধমক দিয়েছেন: আর তা হলো নামাজ, যখন তাদেরকে এর দিকে আহ্বান জানানো হয়। এ কথা বলা যাবে না যে: “তাদেরকে কেবল মিথ্যারোপ করার কারণেই ধমক দেওয়া হয়েছে”; কারণ মহান আল্লাহ এখানে তাদের সেটি বর্জন করার সংবাদ দিয়েছেন এবং তার ওপরই ধমক বা শাস্তি আপতিত হয়েছে।
তদুপরি আমরা বলি যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন বলে মূলত বিশ্বাস করে, সে কখনোই অবিরামভাবে নামাজ বর্জনের ওপর অটল থাকতে পারে না। কারণ মানুষের স্বভাব ও প্রকৃতির ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব যে, একজন ব্যক্তি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করবে যে আল্লাহ তার ওপর প্রতিদিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন এবং তিনি তা বর্জন করার কারণে তাকে কঠোরতম শাস্তি দেবেন, অথচ এরপরও সে তা বর্জনের ওপর অটল থাকবে; এটি অকাট্যভাবেই অসম্ভব। সুতরাং এর আবশ্যকতাকে বিশ্বাসকারী কোনো ব্যক্তি কখনোই নামাজ বর্জনের ওপর স্থায়ী হতে পারে না। কেননা ঈমান তার অধিকারীকে নামাজের নির্দেশ দেয়। সুতরাং যখন তার অন্তরে এমন কিছু অবশিষ্ট নেই যা তাকে নামাজের নির্দেশ দেয়...
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
فليس في قلبه شيء من الإيمان،
ولا تُصغ إلى كلام من ليس له خبرة ولا علم بأحكام القلوب وأعمالها، وتأمل في الطبيعة بأن يقوم بقلب العبد إيمان بالوعد والوعيد والجنة والنار وأن الله فرض عليه الصلاة وأن الله يعاقبه معاقبة على تركها، وهو محافظ على الترك في صحته وعافيته وعدم الموانع المانعة له من الفعل.
وهذا القدر هو الذي خفي على من جعل الإيمان مجرد التصديق، وإن لم يقارنه فعل واجب ولا ترك محرم، وهذا من أمحل المحال أن يقوم بقلب العبد إيمانٌ جازمٌ لا يتقاضاه فعلُ طاعةٍ ولا ترك معصيةٍ، ونحن نقول: الإيمان هو التصديق، ولكن ليس التصديق مجرد اعتقاد صدق المخبر دون الانقياد له، ولو كان مجرد اعتقاد التصديق إيمانا لكان إبليس وفرعون وقومه وقوم صالح واليهود الذين عرفوا أن محمدا رسول الله كما يعرفون أبناءهم مؤمنين مصدقين.
وقد قال تعالى: {فَإِنَّهُمْ لَا يُكَذِّبُونَكَ} [الأنعام: 33]، أي: يعتقدون أنك صادق {وَلَكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ} [الأنعام: 33]، والجحود لا يكون إلا بعد معرفة الحق قال تعالى: {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا} [النمل: 14]، وقال موسى لفرعون: {لَقَدْ عَلِمْتَ مَا أَنْزَلَ هَؤُلَاءِ إِلَّا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ بَصَائِرَ} [الإسراء: 102]، وقال تعالى في اليهود: {يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ وَإِنَّ فَرِيقًا مِنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} [البقرة: 146]، وأبلغ من هذا قول النفرين اليهوديين لما جاءا إلى النبي صلى الله عليه وسلم، وسألاه عما دلهما على نبوته فقالا نشهد أنك نبي فقال: "ما يمنعكما من اتباعي" قالا إن داود دعا أن لا يزال في ذريته نبي وإنا نخاف إن اتبعناك أن تقتلنا اليهود.
(1)، فهؤلاء قد أقروا بألسنتهم إقرارا مطابقًا لمعتقدهم أنه نبيٌ، ولم يدخلوا بهذا التصديق والإقرار في الإيمان، لأنهم لم يلتزموا الطاعةَ والانقياد لأمره.
ومن هذا كفرُ أبي طالب فإنه عرف حقيقةَ المعرفة أنه صادقٌ وأقرّ بذلك بلسانه وصرّح به في شعره، ولم يدخل بذلك في الإسلام، فالتصديقُ إنما يتم بأمرين:
أحدهما: اعتقاد الصدق.
والثاني: محبة القلب وانقياده.
ولهذا قال تعالى لإبراهيم: {يَا إِبْرَاهِيمُ. قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا} [الصافات: 104، 105]، وإبراهيم كان معتقدًا لصدق رؤياه من حين رآها، فإن رؤيا
--------------------------------------------
সুতরাং তার অন্তরে ঈমানের কিছুই অবশিষ্ট নেই। আর যার অন্তরের অবস্থা ও কার্যাবলি সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান নেই, তার কথায় কর্ণপাত করবেন না। প্রকৃতির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, যখন বান্দার অন্তরে পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি, শাস্তির ভয়, জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি ঈমান বদ্ধমূল হয় এবং সে অনুধাবন করে যে আল্লাহ তার ওপর সালাত ফরজ করেছেন এবং তা বর্জনের কারণে আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন, এমতাবস্থায় সুস্থতা ও সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এবং কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকা সত্ত্বেও তার পক্ষে ধারাবাহিকভাবে সালাত বর্জন করে যাওয়া অসম্ভব।
আর এই বিষয়টিই তাদের নিকট অস্পষ্ট রয়ে গেছে যারা ঈমানকে কেবল সত্যায়ন (تصديق) মনে করে, যদিও তার সাথে কোনো ওয়াজিব কাজ সম্পাদন বা হারাম বর্জন যুক্ত না থাকে। এটি একেবারেই অসম্ভব যে, বান্দার অন্তরে এমন এক দৃঢ় ঈমান বিদ্যমান থাকবে যা তাকে কোনো আনুগত্যের কাজে প্রবৃত্ত করবে না কিংবা পাপাচার বর্জনে বাধ্য করবে না। আমরা বলি: ঈমান হলো সত্যায়ন (تصديق), তবে এই সত্যায়ন কেবল সংবাদদাতার সত্যতাকে অন্তরে বিশ্বাস করা নয় বরং তার প্রতি অনুগত (انقياد) হওয়াও এর শর্ত। যদি কেবল সত্যতা বিশ্বাস করাই ঈমান হতো, তবে ইবলিস, ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়, সালেহ (আ.)-এর জাতি এবং সেই ইহুদিরা যারা মুহাম্মদ (সা.)-কে নিজেদের সন্তানের মতো চিনত, তারা সকলেই মুমিন ও সত্যায়নকারী (تصديق) হিসেবে গণ্য হতো।
অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই তারা আপনাকে মিথ্যাবাদী বলছে না} [আল-আনআম: ৩৩], অর্থাৎ: তারা বিশ্বাস করে যে আপনি সত্যবাদী {কিন্তু জালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে} [আল-আনআম: ৩৩]। আর সত্য জানার পরেই কেবল অস্বীকার করা সম্ভব। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা অন্যায় ও উদ্ধতভাবে নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর সেগুলো সত্য বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিল} [আন-নামল: ১৪]। মুসা (আ.) ফেরাউনকে বলেছিলেন: {তুমি অবশ্যই জানো যে, এই চাক্ষুষ নিদর্শনসমূহ আসমান ও জমিনের রব ছাড়া আর কেউ নাজিল করেননি} [আল-ইসরা: ১০২]। ইহুদিদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন: {যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা তাকে (রাসূলকে) তেমনভাবেই চেনে যেমন তারা তাদের সন্তানদের চেনে। আর তাদের একটি দল জেনে-বুঝে সত্য গোপন করে} [আল-বাকারা: ১৪৬]। এর চেয়েও স্পষ্ট হলো সেই দুই ইহুদির বক্তব্য, যারা নবী (সা.)-এর নিকট এসে তাঁর নবুওয়তের প্রমাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল। এরপর তারা বলল, 'আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি একজন নবী'। তিনি বললেন: "আমার অনুসরণ করতে তোমাদের কিসে বাধা দিচ্ছে?" তারা বলল, 'দাউদ (আ.) দোয়া করেছিলেন যেন তাঁর বংশধরের মধ্যে সর্বদা নবী থাকে, আর আমরা ভয় পাচ্ছি যে যদি আপনার অনুসরণ করি তবে ইহুদিরা আমাদের হত্যা করবে।'
(১) এই ব্যক্তিরা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী মুখে নবী হওয়ার স্বীকৃতি (إقرار) দিয়েছিল, কিন্তু এই সত্যায়ন (تصديق) ও স্বীকৃতির (إقرار) মাধ্যমে তারা ঈমানে দাখিল হতে পারেনি; কারণ তারা তাঁর নির্দেশের আনুগত্য (طاعة) ও আত্মসমর্পণ (انقياد) স্বীকার করে নেয়নি।
একই কারণে আবু তালিব কাফের হিসেবে গণ্য হয়েছে; কারণ সে নিশ্চিতভাবে জানত যে রাসূল (সা.) সত্যবাদী এবং সে নিজের মুখে তার স্বীকৃতি (إقرار) দিয়েছিল এবং কবিতায় তা ব্যক্তও করেছিল, কিন্তু এর মাধ্যমে সে ইসলামে প্রবেশ করতে পারেনি। সুতরাং সত্যায়ন (تصديق) কেবল দুটি বিষয়ের সমন্বয়ে পূর্ণতা পায়:
প্রথমটি: সত্য বলে বিশ্বাস করা।
দ্বিতীয়টি: অন্তরের ভালোবাসা ও আনুগত্য (انقياد)।
এই কারণেই আল্লাহ তায়ালা ইব্রাহিম (আ.)-কে বলেছিলেন: {হে ইব্রাহিম! তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ (সত্যায়ন করেছ)} [আস-সাফফাত: ১০৪, ১০৫]। অথচ ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্ন দেখার মুহূর্ত থেকেই তা সত্য বলে বিশ্বাস করেছিলেন। কারণ নবীদের স্বপ্ন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
الأنبياء وحي
(1) وإنما جعله مصدقا لها بعد أن فعل ما أُمر به.
وكذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "والفرج يصدق ذلك كله أو يكذبه"
(2).
فجعل التصديق عمل الفرج لا ما يتمنى القلب، والتكذيب تركه لذلك وهذا صريح في أن التصديق لا يصح إلا بالعمل.
وقال الحسن: ليس الإيمان بالتمني ولا بالتحلي ولكن ما وقر في القلب وصدقه العمل.
وقد روي هذا مرفوعا
(3) والمقصود أنه يمتنع مع التصديق الجازم بوجوب الصلاة والوعد على فعلها، والوعيد على تركها، وبالله التوفيق.
توضيح هذه الأدلة العشرة:
قال محمد تقي الدين: قد أقام الحافظ ابن القيم رحمه الله عشرة أدلة من كتاب الله على كفر تارك الصلاة كسلا مع اعترافه بوجوبها، وسأحاول أن أعيد ذكر هذه الأدلة بعبارة، أرجو أن تكون أسهل على فهم أهل هذا الزمان، وخصوصا العامة، وسألتزم الاختصار.
الدليل الأول: قال تعالى في سورة القلم من الآية 35 إلى الآية 43
{أَفَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِينَ كَالْمُجْرِمِينَ} [القلم: 35]، حاصل معنى ما ذكره أن الله قسم الناس إلى مسلمين ومجرمين، وأخبر أن عدله وحكمته يقتضيان إكرام المسلمين في الدنيا والآخرة، وأخبر أن تارك الصلاة ولو صلاة واحدة حتى يخرج وقتها من المجرمين، وأنه يدعى يوم القيامة إلى السجود فإذا أراد أن يسجد صار ظهره طبقة واحدة فعجز عن السجود، وسقط على ظهره، لأنه يدعى إلى السجود في الدنيا فيمتنع منه، ومن كان من المجرمين لا يكون من المسلمين، وليس هناك قِسْم ثالث، فهذا وجه استدلاله رحمه الله.
الدليل الثاني: قوله تعالى في سور المدثر الآية 38 إلى الآية 47، حاصل هذا الدليل أن الله تعالى أخبرنا أن أهل النار يُقال لهم ما الذي أدخلكم جهنم؟
فيخبرون بارتكابهم أربعة ذنوب:
الأول: أنهم لم يكونوا من المصلين.
الثاني: أنهم لم يكونوا يطعمون المسكين.
الثالث: أنهم كانوا يخوضون مع
--------------------------------------------
নবীদের স্বপ্ন হলো ওহী
(১); আর তিনি (ইব্রাহিম আ.) যা আদিষ্ট হয়েছিলেন তা করার পরেই আল্লাহ একে সত্যয়নকারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "আর লজ্জাস্থান এই সব কিছুকে সত্য প্রমাণিত করে অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে"
(২)।
এখানে সত্যয়নকে লজ্জাস্থানের কর্ম সাব্যস্ত করা হয়েছে, অন্তরের আকাঙ্ক্ষা নয়; আর মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হলো সেই কর্ম বর্জন করা। এটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আমল ব্যতীত সত্যয়ন সঠিক হয় না।
হাসান আল-বাসরী বলেন: ঈমান কেবল আকাঙ্ক্ষা বা বাহ্যিক অলঙ্করণ নয়, বরং ঈমান হলো যা অন্তরে প্রোথিত থাকে এবং আমল যার সত্যতা প্রমাণ করে।
এটি রাসুল পর্যন্ত পৌছানো বা মারফু (مرفوعا)
(৩) সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো, সালাত ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে এবং তা আদায় করার প্রতিশ্রুতি ও পরিত্যাগের শাস্তির ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে সালাত ত্যাগ করা অসম্ভব। আল্লাহর কাছেই তাওফীক কাম্য।
এই দশটি দলিলের ব্যাখ্যা:
মুহাম্মদ তাকি উদ্দিন বলেন: হাফিজ ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) আল্লাহর কিতাব থেকে অলসতাবশত সালাত ত্যাগকারীর কুফরির সপক্ষে দশটি দলিল পেশ করেছেন, যদিও সে সালাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে। আমি এই দলিলগুলো এমন শব্দে পুনরায় উল্লেখ করার চেষ্টা করব যা বর্তমান সময়ের মানুষের জন্য, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা সহজ হয় এবং আমি সংক্ষেপ করার চেষ্টা করব।
প্রথম দলিল: আল্লাহ তায়ালা সূরা আল-কলমের ৩৫ থেকে ৪৩ আয়াতে বলেছেন:
{তবে কি আমি মুসলিমদের অপরাধীদের ন্যায় গণ্য করব?} [আল-কলম: ৩৫], তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার সারমর্ম হলো, আল্লাহ মানুষকে মুসলিম ও অপরাধী—এই দুই ভাগে ভাগ করেছেন। তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর ন্যায়বিচার ও হিকমত দুনিয়া ও আখেরাতে মুসলিমদের সম্মানিত করার দাবি রাখে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, সালাত ত্যাগকারী অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত, এমনকি সে যদি একটি সালাতও তার নির্ধারিত সময়ের বাইরে নিয়ে যায়। কিয়ামতের দিন তাকে সিজদা করার জন্য ডাকা হবে, কিন্তু সে যখন সিজদা করতে চাইবে, তখন তার পিঠ একটি তক্তার মতো শক্ত হয়ে যাবে; ফলে সে সিজদা করতে অক্ষম হবে এবং পিঠের ওপর পড়ে যাবে। কারণ তাকে দুনিয়াতে সিজদার জন্য ডাকা হয়েছিল কিন্তু সে তা করেনি। আর যে ব্যক্তি অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত, সে মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না, কারণ এখানে তৃতীয় কোনো ভাগ নেই। এটিই হাফিজ ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)-এর ইস্তিদলাল বা দলিল উপস্থাপনের ভঙ্গি।
দ্বিতীয় দলিল: সূরা আল-মুদ্দাসসিরের ৩৮ থেকে ৪৭ আয়াতে আল্লাহ তায়ালার বাণী। এই দলিলের সারমর্ম হলো, আল্লাহ তায়ালা আমাদের জানিয়েছেন যে, জাহান্নামীদের জিজ্ঞাসা করা হবে—কোন জিনিস তোমাদের জাহান্নামে প্রবেশ করিয়েছে?
তখন তারা চারটি অপরাধের কথা স্বীকার করবে:
প্রথম: তারা সালাত আদায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
দ্বিতীয়: তারা মিসকিনদের খাবার দিত না।
তৃতীয়: তারা অনর্থক চর্চাকারীদের সাথে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
الخائضين، والخوض هو الكفر بآيات الله، والاستهزاء بها.
الرابع: أنهم كانوا يكذّبون بالبعث. ولا يمكن أن يكون دخولهم النار متوقفًا على هذه السيئات كلها، بل كل واحد منها موجب لدخول النار، وأوّلها ترك الصلاة، وقوله تعالى {فما تنفعهم شفاعة الشافعين} يدل على خلودهم في النار، ولا يخلد في النار إلا كافر ترك الصلاة كفرا.
الدليل الثالث: قوله تعالى في سورة النور رقم 56، حاصله أن الله تعالى شرط لرحمته ثلاثة أمور:
الأول: إقامة الصلاة.
الثاني: إعطاء الزكاة.
الثالث: طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم. فمن ترك واحدا منها لا تناله رحمة الله، ومن لم تنله رحمة الله فهو كافر.
الدليل الرابع: قوله تعالى في سورة الماعون {فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ. الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ} [الماعون: 4، 5]، استدل به ابن القيم رحمه الله على كفر تارك الصلاة بحديث سعد بن أبي وقاص مرفوعًا إلى النبي صلى الله عليه وسلم في بعض الروايات وموقوفها عليه في بعضها
(1) أن السهو عنها ترْكها حتى يخرج وقتها.
الدليل الخامس: قوله تعالى في سورة مريم رقم 59 و 60 {فَخَلَفَ مِنْ بَعْدِهِمْ خَلْفٌ أَضَاعُوا الصَّلَاةَ وَاتَّبَعُوا الشَّهَوَاتِ فَسَوْفَ يَلْقَوْنَ غَيًّا. إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا} [مريم: 59، 60]، وبيان ذلك من وجهين:
الوجه الأول: أن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: إن غيا واد في جهنم بعيد القعر
(2)، يعني في أسفل جهنم، والمؤمن لا يكون في الطبقة السفلى من جهنم.
والوجه الثاني: أن الله تعالى قال: {إلا من تاب وآمن} وهو دليل أنه ليس بمؤمن، لأن المؤمن لا يطلب منه أن يؤمن فدلّ ذلك على أنه كافر، وطلب الإيمان من المؤمن من تحصيل الحاصل، وهو محال،
--------------------------------------------
অনর্থক আলোচনায় মগ্ন ব্যক্তিরা; আর অনর্থক আলোচনা হলো আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরি করা এবং সেগুলোকে বিদ্রূপ করা।
চতুর্থত: তারা পুনরুত্থানকে অস্বীকার করত। তাদের জাহান্নামে প্রবেশ এই সকল পাপের ওপর নির্ভরশীল হওয়া সম্ভব নয়, বরং এগুলোর প্রতিটিই জাহান্নামে প্রবেশের কারণ। আর এগুলোর প্রথমটি হলো সালাত ত্যাগ করা। মহান আল্লাহর বাণী: {সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো উপকারে আসবে না} তাদের জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়ার প্রমাণ বহন করে। আর জাহান্নামে সেই কাফির ব্যতীত কেউ চিরস্থায়ী হবে না, যে কুফরি বশত সালাত ত্যাগ করেছে।
তৃতীয় দলিল: সূরা আন-নূরের ৫৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী। এর সারসংক্ষেপ হলো, মহান আল্লাহ তাঁর রহমত প্রাপ্তির জন্য তিনটি বিষয় শর্ত করেছেন:
প্রথমত: সালাত কায়েম করা।
দ্বিতীয়ত: জাকাত প্রদান করা।
তৃতীয়ত: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য করা। সুতরাং যে ব্যক্তি এর একটি ত্যাগ করবে, সে আল্লাহর রহমত পাবে না। আর যে আল্লাহর রহমত পাবে না, সে কাফির।
চতুর্থ দলিল: সূরা আল-মাউনে মহান আল্লাহর বাণী {ধ্বংস সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য, যারা তাদের সালাত সম্বন্ধে উদাসীন} [মাউন: ৪, ৫]। ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) সালাত ত্যাগকারীর কুফরির স্বপক্ষে সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যা কিছু বর্ণনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত উন্নীত (مرفوعًا) এবং কিছু বর্ণনায় সাহাবীর বক্তব্য (موقوفًا) হিসেবে এসেছে
(১) যে, সালাত সম্বন্ধে উদাসীনতা হলো তা ত্যাগ করা যতক্ষণ না তার ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়।
পঞ্চম দলিল: সূরা মারইয়ামের ৫৯ ও ৬০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী {তাদের পরে আসলো এমন এক অপদার্থ উত্তরসূরি যারা সালাত নষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল; সুতরাং তারা অচিরেই ধ্বংসের সম্মুখীন হবে। কিন্তু তারা নয়, যারা তওবা করেছে, ইমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে; তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না} [মারইয়াম: ৫৯, ৬০]। এর ব্যাখ্যা দুটি দিক থেকে হতে পারে:
প্রথম দিক: আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: ‘গাই’ হলো জাহান্নামের একটি সুগভীর উপত্যকা
(২), অর্থাৎ জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। আর মুমিন জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকবে না।
দ্বিতীয় দিক: মহান আল্লাহ বলেছেন: {কিন্তু তারা নয় যারা তওবা করেছে এবং ইমান এনেছে}। এটি প্রমাণ করে যে সে মুমিন নয়। কেননা মুমিনের কাছে নতুন করে ইমান আনার দাবি করা হয় না; সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে সে কাফির। আর মুমিনের কাছে ইমান দাবি করা ‘অর্জিত বিষয়কে পুনরায় অর্জন’ করার নামান্তর, যা অসম্ভব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
وبيانه أن كل شيء موجود لا يطلب وجوده.
الدليل السادس: قوله تعالى في سورة التوبة رقم 11 {فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَنُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ} [التوبة: 11]، وبيانه أن الله شرط لأخوّة المشركين للمؤمنين، ثلاثة شروط:
الأول: التوبة من الشرك.
الثاني: إقامة الصلاة، أي: أدائها بشروطها، ومن أخرجها عن وقتها لا يكون مقيمًا لها، ومن لم تثبت له أخوة المؤمنين فهو من الكافرين.
(1) الدليل السابع: قوله تعالى في سورة القيامة رقم 31 و 32 {فَلَا صَدَّقَ وَلَا صَلَّى. وَلَكِنْ كَذَّبَ وَتَوَلَّى} [القيامة: 31، 32]، قال ابن القيم رحمه الله: الإسلام أمر أن تصديق النبي صلى الله عليه وسلم فيما جاء به والانقياد لأمره، فمن لم يصدقه فهو كافر، وكذبك من امتنع من الانقياد لأمره بترك الصلاة فهو كافر، وقد جمعهما الله تعالى، فلا سبيل إلى التفرقة بينهما.
الدليل الثامن: قوله تعالى في سورة المنافقين رقم 9 {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ وَلَا أَوْلَادُكُمْ عَنْ ذِكْرِ اللَّهِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ} [المنافقون: 9]، قال عطاء بن أبي رباح المراد بذكر الله هنا الصلوات المكتوبة، وقد حكم الله على من شغله ماله وولده وغير ذلك من شواغل الدنيا بالخسران المطلق، والخسران المطلق لا يكون إلا للكافر، قال تعالى في سورة الزمر: {قُلْ إِنَّ الْخَاسِرِينَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَلَا ذَلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ} [الزمر: 15]، وقد أكّد الله تعالى خسرانهم بالتعريف بالألف واللام، وبالجملة الإسمية، وصيغة الحصر، وضمير الفصل وهو (هم)، فتمّ لهم الخسران المطلق، ولا يتم إلا للكافر.
الدليل التاسع: قوله تعالى في سورة السجدة رقم 15 {إِنَّمَا يُؤْمِنُ بِآيَاتِنَا الَّذِينَ إِذَا
--------------------------------------------
এর ব্যাখ্যা হলো, যা বিদ্যমান তা নতুন করে অর্জনের প্রয়োজনীয়তা থাকে না।
ষষ্ঠ দলিল: সূরা আত-তাওবাহ্-এর ১১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তারা যদি তওবা করে, নামাজ কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে, তবে দ্বীনের মধ্যে তারা তোমাদের ভাই। আর আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি} [আত-তাওবাহ্: ১১]। এর ব্যাখ্যা হলো, আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের সাথে মুমিনদের ভ্রাতৃত্বের জন্য তিনটি শর্তারোপ করেছেন:
প্রথম: শিরক থেকে তওবা করা।
দ্বিতীয়: নামাজ কায়েম করা। অর্থাৎ, নামাজের সকল শর্ত মেনে তা আদায় করা। আর যে ব্যক্তি নামাজকে তার নির্ধারিত সময়ের বাইরে নিয়ে যায়, সে তা কায়েমকারী বলে গণ্য হবে না। আর যার জন্য মুমিনদের ভ্রাতৃত্ব সাব্যস্ত হলো না, সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত।
(১) সপ্তম দলিল: সূরা আল-কিয়ামাহ্-এর ৩১ ও ৩২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {সে তো বিশ্বাস করেনি এবং নামাজও পড়েনি। বরং সে অস্বীকার করেছে ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে} [আল-কিয়ামাহ্: ৩১, ৩২]। ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: ইসলাম হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তা বিশ্বাস করা এবং তাঁর আদেশের আনুগত্য করার নির্দেশের নাম। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁকে বিশ্বাস করল না, সে কাফের; আর একইভাবে যে ব্যক্তি নামাজ বর্জনের মাধ্যমে তাঁর আদেশের আনুগত্য থেকে বিরত থাকল, সেও কাফের। আল্লাহ তাআলা এ দুটি বিষয়কে একত্রে উল্লেখ করেছেন, তাই এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করার কোনো অবকাশ নেই।
অষ্টম দলিল: সূরা আল-মুনাফিকুন-এর ৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ না করে। আর যারা এরূপ করবে, তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত} [আল-মুনাফিকুন: ৯]। আতা ইবনে আবি রাবাহ বলেন, এখানে ‘আল্লাহর স্মরণ’ বলতে ফরয নামাজসমূহকে বোঝানো হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলা ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে চূড়ান্ত ক্ষতির ফয়সালা দিয়েছেন, যাকে তার সম্পদ, সন্তান বা দুনিয়ার অন্যান্য ব্যস্ততা আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করে রেখেছে। আর এই চূড়ান্ত ক্ষতি কেবল কাফেরদের জন্যই প্রযোজ্য। মহান আল্লাহ সূরা আয-যুমার-এ বলেন: {বলুন, ক্ষতিগ্রস্ত তারাই যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের ও নিজেদের পরিবার-পরিজনের ক্ষতিসাধন করেছে। জেনে রেখো, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি} [আয-যুমার: ১৫]। আল্লাহ তাআলা এখানে (الخاسرون শব্দে) ‘আলিফ-লাম’ যোগ করে শব্দটিকে নির্দিষ্ট করার মাধ্যমে, নামবাচক বাক্য (الجملة الإسمية), সীমাবদ্ধকরণ পদ্ধতি (صيغة الحصر) এবং পৃথককারী সর্বনাম (ضمير الفصل) অর্থাৎ (هم) ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত ক্ষতিকে সুনিশ্চিত করেছেন। ফলে তাদের জন্য চূড়ান্ত ক্ষতি সাব্যস্ত হয়েছে, যা কেবল কাফের ব্যতীত আর কারো ক্ষেত্রে হয় না।
নবম দলিল: সূরা আস-সাজদাহ্-এর ১৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {কেবল তারাই আমার আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে, যারা যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
ذُكِّرُوا بِهَا خَرُّوا سُجَّدًا وَسَبَّحُوا بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ} [السجدة: 15]، وبيان الاستدلال بهذه الآية أن الله تعالى حصر الإيمان بآياته في الذين إذا ذُكِّروا بالصلاة صلوا، فمن ذُكِّر بها ولم يسجد ولم يصلِّ فليس بمؤمن، وهذا من أحسن الاستدلال.
الدليل العاشر: قوله تعالى في سورة المرسلات رقم 48 و 49 {وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ ارْكَعُوا لَا يَرْكَعُونَ. وَيْلٌ يَوْمَئِذٍ لِلْمُكَذِّبِينَ} [المرسلات: 48، 49]، قد شرحه الإمام ابن القيم بما لا يحتاج إلى مزيد.
* * *
{যাদেরকে যখন তা (আয়াতসমূহ) দ্বারা উপদেশ প্রদান করা হয়, তখন তারা সিজদাবনত হয়ে লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে পবিত্রতা বর্ণনা করে আর তারা অহংকার করে না} [আস-সাজদাহ: ১৫]। এই আয়াতের মাধ্যমে দলিল উপস্থাপনের (استدلال) ব্যাখ্যা হলো এই যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর নিদর্শনসমূহের ওপর ঈমান আনাকে কেবল ঐসব লোকেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন, যাদেরকে সালাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তারা সালাত আদায় করে। সুতরাং যাকে তা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও সে সিজদা করল না এবং সালাত আদায় করল না, সে মুমিন নয়; এটি একটি অত্যন্ত চমৎকার দলিল উপস্থাপন (استدلال)।
দশম দলিল: সূরা আল-মুরসালাত-এর ৪৮ ও ৪৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তাদেরকে বলা হয় রুকু করো, তখন তারা রুকু করে না। সেই দিন সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য দুর্ভোগ} [আল-মুরসালাত: ৪৮, ৪৯]। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম এটি এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যার পর আর কোনো আলোচনার প্রয়োজন নেই।
* * *
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفصل الثانيدلائل السنة على كفر تارك الصلاةالدليل الأول: ما رواه مسلم في "صحيحه" عن جابر بن عبد الله، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ" رواه أهل السنن، وصححه الترمذي
(1).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদসালাত ত্যাগকারীর কুফরির বিষয়ে সুন্নাহর দলীলসমূহপ্রথম দলীল: যা ইমাম মুসলিম তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে জাবির ইবনে আবদুল্লাহ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
"ব্যক্তি ও কুফরির মধ্যবর্তী ব্যবধান হলো সালাত ত্যাগ করা।" এটি সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে সহীহ (صحيح) বলেছেন
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
الدليل الثاني: ما رواه [بريدة بن الحصيب]
(1) الأسلمي، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقول: "الْعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ، فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ" رواه الإمام أحمد، وأهل السنن
(2)، وقال الترمذي: "حديث صحيح".
إسناده على شرط مسلم.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় দলিল: [বুরায়দাহ ইবনুল হাসিব]
(1) আল-আসলামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আমাদের ও তাদের মধ্যে যে অঙ্গীকার রয়েছে তা হলো সালাত; সুতরাং যে ব্যক্তি তা ত্যাগ করল, সে কুফরি করল।" ইমাম আহমাদ ও সুনান গ্রন্থকারগণ
(2) এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি বলেছেন: "সহিহ (صحيح) হাদিস।"
এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
الدليل الثالث: ما رواه ثوبان مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقول: "بين العبد وبين الكفر والإيمان الصلاة فإذا تركها فقد أشرك" رواه هبة الله الطبري، وقال: "إسناده صحيح على شرط مسلم"
(1).
--------------------------------------------
তৃতীয় প্রমাণ: যা বর্ণনা করেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুক্তদাস সাওবান (রা.), তিনি বলেছেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: "বান্দা এবং কুফর ও ইমানের মাঝে পার্থক্য হলো সালাত; সুতরাং যদি সে তা ত্যাগ করে তবে সে শিরক করল।" এটি হিবাতুল্লাহ আত-তাবারী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "এর সনদ (إسناد) মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী সহিহ (صحيح)"
(1).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الدليل الرابع: ما رواه عبد الله بن عمرو بن العاص، عن النبي صلى الله عليه وسلم، أنه ذكر الصلاة يوما، فقال: "مَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا؟ كَانَتْ لَهُ نُورًا، وَبُرْهَانًا، وَنَجَاةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهَا لَمْ يَكُنْ لَهُ نُورٌ، وَلَا بُرْهَانٌ، وَلَا نَجَاةٌ، وَكَانَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ قَارُونَ، وَفِرْعَوْنَ، وَهَامَانَ، وَأُبَيِّ بْنِ خَلَفٍ"
(1) رواه الإمام أحمد في "مسنده"، وأبو حاتم بن حبان في "صحيحه"، وإنما خصّ هؤلاء الأربعة بالذكر لأنهم من رؤوس الكفرة.
وفيه نكتة بديعة وهو أن تارك المحافظة على الصلاة إما أن يشغله ماله أو ملكه أو رياسته أو تجارته، فمن شغله عنها ماله فهو مع قارون، ومن شغله عنها ملكه فهو مع فرعون، ومن شغله عنها رياسته، ووزارته فهو مع هامان، ومن شغله عنها تجارته فهو مع أبيّ بن خلف.
--------------------------------------------
চতুর্থ দলিল: আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, একদা তিনি নামাজের আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "যে ব্যক্তি নামাজের পাবন্দি করবে, কেয়ামতের দিন তা তার জন্য নূর, দলিল ও নাজাতের মাধ্যম হবে। আর যে ব্যক্তি নামাজের পাবন্দি করবে না, তার জন্য কোনো নূর, দলিল ও নাজাত থাকবে না; বরং কেয়ামতের দিন সে কারুন, ফেরাউন, হামান ও উবাই বিন খালাফের সঙ্গী হবে।"
(১) ইমাম আহমদ এটি তাঁর মুসনাদ-এ এবং আবু হাতেম ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ-তে বর্ণনা করেছেন। বিশেষভাবে এই চারজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে কারণ তারা কুফরের হোতাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এতে একটি চমৎকার সূক্ষ্ম রহস্য রয়েছে; আর তা হলো, নামাজ ত্যাগের কারণ সাধারণত কারও সম্পদ, রাজত্ব, নেতৃত্ব অথবা ব্যবসা হয়ে থাকে। সুতরাং যার সম্পদ তাকে নামাজ থেকে বিমুখ রাখবে, সে কারুনের সাথে থাকবে। যার রাজত্ব তাকে বিরত রাখবে, সে ফেরাউনের সাথে থাকবে। যার নেতৃত্ব ও মন্ত্রিত্ব তাকে ব্যস্ত রাখবে, সে হামানের সাথে থাকবে। আর যার ব্যবসা তাকে বিরত রাখবে, সে উবাই বিন খালাফের সাথে থাকবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الدليل الخامس: ما رواه عبادة بن الصامت قال: أوصانا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: "لا تشركوا بالله شيئا، ولا تتركوا الصلاة عمدا، فمن تركها عمدا متعمدا، فقد خرج من الملة"
(1) رواه عبد الرحمن بن أبي حاتم في "سننه".
--------------------------------------------
পঞ্চম দলীল: উবাদাহ ইবন সামিত (রাযি.) বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের অসিয়ত করেছেন এবং বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করো না এবং ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বর্জন করো না। কেননা যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বর্জন করল, সে মিল্লাত (দ্বীন) থেকে বের হয়ে গেল।" এটি আবদুর রহমান ইবন আবি হাতিম তার 'সুনান' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الدليل السادس: ما رواه معاذ بن جبل قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من ترك صلاة مكتوبة متعمدا فقد برئت منه ذمة الله"
(1) رواه الإمام أحمد، ولو كان باقيا على إسلامه لكانت له ذمة الإسلام.
--------------------------------------------
ষষ্ঠ প্রমাণ: মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ফরজ নামাজ ছেড়ে দিল, তার থেকে আল্লাহর জিম্মা (নিরাপত্তা) উঠে গেল।"
(1) ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন। যদি সে ইসলামের ওপর অবশিষ্ট থাকত, তবে তার জন্য ইসলামের জিম্মা (নিরাপত্তা) বহাল থাকত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الدليل السابع: ما رواه أبو الدرداء، قال: "أوصاني أبو القاسم صلى الله عليه وسلم أن لا أترك الصلاة متعمدا فمن تركها متعمدا فقد برئت منه الذمة"
(1) رواه عبد الرحمن ابن أبي حاتم في سننه.
--------------------------------------------
সপ্তম দলিল: আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ওসিয়ত করেছেন যে, আমি যেন ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বর্জন না করি। কেননা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বর্জন করে, তার থেকে (আল্লাহর) নিরাপত্তার জিম্মাদারি চলে যায়"
(১) আবদুর রহমান ইবনে আবি হাতিম এটি তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الدليل الثامن: ما رواه معاذ بن جبل، عن النبي صلى الله عليه وسلم، أنه قال: "رأس الأمر الإسلام وعموده الصلاة"
(1) وهو حديث صحيح مختصر ووجه الاستدلال به أنه أخبر أن الصلاة من الإسلام بمنزلة العمود الذي تقوم عليه الخيمة، فكما تسقط الخيمة بسقوط عمودها، فهكذا يذهب الإسلام بذهاب الصلاة، وقد احتج أحمد بهذا بعينه.
--------------------------------------------
অষ্টম দলিল: মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সকল কাজের মূল হলো ইসলাম, তার স্তম্ভ হলো নামাজ।"
(১) এটি একটি সহিহ (صحيح) ও সংক্ষিপ্ত হাদিস। এর মাধ্যমে দলিল পেশ করার পদ্ধতি হলো—তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, ইসলামের ক্ষেত্রে নামাজের মর্যাদা হলো তাঁবুর খুঁটির মতো যার ওপর তাঁবু দাঁড়িয়ে থাকে। সুতরাং, খুঁটি পড়ে গেলে যেমন তাঁবু পড়ে যায়, তেমনি নামাজ চলে গেলে ইসলামও চলে যায়। ইমাম আহমাদ (রহ.) এটি দিয়েই দলিল পেশ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الدليل التاسع: في "الصحيحين" و"السنن" و"المسانيد" من حديث عبد الله بن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "بني الإسلام على خمس: شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة وحج البيت، وصوم رمضان"
(1) رواه الإمام أحمد، وفي بعض ألفاظه: "الإسلام خمس" فذكره.
ووجه الاستدلال به من وجوه:
أحدها: أنه جعل الإسلام كالقبة المبنية على خمسة أركان، فإذا وقع ركنها الأعظم وقعت قبة الإسلام.
الثاني: أنه جعل هذه الاركان في كونها أركانا لقبة الإسلام قرينة الشهادتين، فهما ركن، والصلاة ركن، والزكاة ركن، فما بال قبة الإسلام تبقى بعد سقوط أحد أركانها، دون بقية أركانها.
الثالث: أنه جعل هذه الأركان نفس الإسلام، وداخلة في مسمى اسمه، وما كان اسما لمجموع أمور، إذا ذهب بعضها ذهب ذلك المسمى، ولا سيما إذا كان من أركانه لا من اجزائه التي ليست بركن له، كالحائظ للبيت فإنه إذا سقط، سقط البيت بخلاف العود والخشبة واللبنة ونحوها.
--------------------------------------------
নবম দলিল: "সহীহাইন", "সুনান" এবং "মুসনাদ" গ্রন্থসমূহে আবদুল্লাহ ইবনে উমর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ করা এবং রমজানের রোজা রাখা।"
(1) ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর কোনো কোনো বর্ণনার শব্দে এসেছে: "ইসলাম পাঁচটি বিষয়ের নাম", অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।
এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণের পদ্ধতিটি নিম্নোক্ত কয়েকটি দিক থেকে বিচার্য:
প্রথমত: তিনি ইসলামকে পাঁচটি স্তম্ভের (أركان) ওপর নির্মিত একটি গম্বুজের ন্যায় সাব্যস্ত করেছেন; সুতরাং যদি এর প্রধান স্তম্ভটি পড়ে যায়, তবে ইসলামের গম্বুজটিও ধসে পড়বে।
দ্বিতীয়ত: তিনি এই স্তম্ভগুলোকে ইসলামের গম্বুজের স্তম্ভ হিসেবে শাহাদাতাইনের সমান্তরাল করেছেন। সুতরাং শাহাদাতাইন একটি স্তম্ভ (ركن), সালাত একটি স্তম্ভ (ركن) এবং জাকাতও একটি স্তম্ভ (ركن)। অতএব, ইসলামের গম্বুজটি কীভাবে তার একটি স্তম্ভ ধসে পড়ার পরেও টিকে থাকতে পারে, যেখানে অন্য স্তম্ভগুলোর ক্ষেত্রে এমনটি হয় না?
তৃতীয়ত: তিনি এই স্তম্ভগুলোকে (أركان) খোদ ইসলাম হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন এবং এগুলো এর নামকরণের অন্তর্ভুক্ত। আর যা কিছু কতগুলো বিষয়ের সমষ্টির নাম হয়, তার কোনো একটি অংশ বিলুপ্ত হলে সেই মূল নামটি আর অবশিষ্ট থাকে না। বিশেষ করে যখন সেটি তার স্তম্ভগুলোর (أركان) অন্তর্ভুক্ত হয়, এমন কোনো সাধারণ অংশের অন্তর্ভুক্ত না হয় যা তার স্তম্ভ (ركن) নয়। যেমন—ঘরের দেয়াল; এটি ধসে পড়লে ঘরও ধসে পড়ে। কিন্তু লাঠি, কাঠ বা ইটের মতো উপাদানের বিষয়টি এমন নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الدليل العاشر: قول الرسول صلى الله عليه وسلم: "من صلى صلاتنا، واستقبل قبلتنا، وأكل ذبيحتنا فهو المسلم، له ما لنا وعليه ما علينا"
(1).
ووجه الدلالة فيه من وجهين:
أحدهما: أنه إنما جعله مسلما بهذه الثلاثة، فلا يكون مسلما بدونها.
الثاني: أنه إذا صلى إلى الشرق لم يكن مسلما حتى يصلي إلى قبلة المسلمين، فكيف إذا ترك الصلاة بالكلية؟!
--------------------------------------------
দশম দলিল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি আমাদের মতো নামাজ আদায় করল, আমাদের কিবলার দিকে মুখ করল এবং আমাদের জবেহ করা পশু ভক্ষণ করল, সে-ই মুসলিম; আমাদের জন্য যা (প্রাপ্য), তার জন্যও তা-ই এবং আমাদের ওপর যা (অর্পিত), তার ওপরও তা-ই।"
(১).
এখানে দলিল উপস্থাপনের দুটি দিক রয়েছে:
প্রথমটি: তিনি এই তিনটি বিষয়ের মাধ্যমেই তাকে মুসলিম হিসেবে গণ্য করেছেন, সুতরাং এগুলো ছাড়া কেউ মুসলিম হতে পারবে না।
দ্বিতীয়টি: সে যদি পূর্ব দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে তবে যতক্ষণ না সে মুসলিমদের কিবলার দিকে মুখ করে নামাজ পড়ছে ততক্ষণ সে মুসলিম হতে পারে না, তাহলে যে ব্যক্তি নামাজই পুরোপুরি ত্যাগ করল তার অবস্থা কী হবে?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الدليل الحادي عشر: ما رواه الدارمي بسنده عن [جابر بن]
(1) عبد الله، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "مفتاح الجنة الصلاة"
(2) وهذا يدل على أن من لم يكن من أهل الصلاة لم تفتح له الجنة، وهي تفتح لكل مسلم فليس تاركها مسلما، ولا تناقض بين هذا وبين الحديث الآخر وهو قوله: "مفتاح الجنة شهادة أن لا إله إلا الله"
(3). فإن الشهادة أصل المفتاح، والصلاة وبقية الأركان أسنانه التي لا يحصل الفتح إلا بها، إذ دخول الجنة موقوف على المفتاح وأسنانه، وقال البخاري: وقيل لوهب بن منبه أليس مفتاح الجنة لا إله إلا الله؟ قال: بلى، ولكن ليس مفتاح إلا وله أسنان، فإن جئت بمفتاح له أسنان فتح لك وإلا لم يفتح لك.
--------------------------------------------
একাদশ প্রমাণ: আদ-দারিমি তার সনদে [জাবির বিন]
(১) আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জান্নাতের চাবিকাঠি হলো নামাজ"
(২)। এটি প্রমাণ করে যে, যে ব্যক্তি নামাজিদের অন্তর্ভুক্ত নয়, তার জন্য জান্নাত খোলা হবে না। অথচ জান্নাত প্রত্যেক মুসলিমের জন্য খোলা হবে; সুতরাং নামাজ পরিত্যাগকারী মুসলিম নয়। এই হাদিস এবং অন্য হাদিস—যাতে বলা হয়েছে: "জান্নাতের চাবিকাঠি হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই"
(৩)—এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কারণ 'শাহাদাহ' বা সাক্ষ্য প্রদান হলো চাবিকাঠির মূল অংশ, আর নামাজ ও অন্যান্য রুকনগুলো হলো এর দাঁত, যা ছাড়া তালা খোলা সম্ভব নয়। কেননা জান্নাতে প্রবেশ চাবিকাঠি ও তার দাঁত থাকার ওপর নির্ভরশীল। বুখারি বলেছেন: ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ কি জান্নাতের চাবিকাঠি নয়?" তিনি বললেন, "অবশ্যই, তবে এমন কোনো চাবিকাঠি নেই যার দাঁত নেই। সুতরাং আপনি যদি দাঁতবিশিষ্ট চাবিকাঠি নিয়ে আসেন তবে আপনার জন্য দরজা খোলা হবে, অন্যথায় খোলা হবে না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الدليل الثاني عشر: ما رواه محجن بن الأدرع الأسلمي: "أنه كان في مجلس مع النبي صلى الله عليه وسلم، فأُذّن بالصلاة فقام النبي صلى الله عليه وسلم ثم رجع، ومحجن في مجلسه، فقال له: ما منعك أن تصلي ألست برجل مسلم؟ قال: بلى ولكني صليت في أهلي، فقال له: إذا جئت فصل مع الناس وإن كنت قد صليت"
(1) رواه الإمام أحمد، والنسائي.
فجعل الفارق بين المسلم والكافر الصلاة، وأنت تجد تحت ألفاظ الحديث أنك لو كنت مسلما لصليت، وهذا كما تقول: مالك لا تتكلم ألست بناطق؟ وما لك لا تتحرك ألست بحي؟ ولو كان الإسلام يثبت مع عدم الصلاة لما قال لمن رآه لا يصلي ألست برجل مسلم؟
--------------------------------------------
দ্বাদশ দলিল: মিহজান ইবনে আদরা আল-আসলামি থেকে বর্ণিত: "তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক মজলিসে ছিলেন, এমতাবস্থায় নামাজের আজান দেওয়া হলো। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে গেলেন এবং পরে ফিরে এলেন, তখন মিহজান তার আসনেই বসা ছিলেন। তিনি তাকে বললেন: তোমাকে নামাজ আদায় করতে কিসে বাধা দিল? তুমি কি একজন মুসলিম নও? তিনি বললেন: অবশ্যই, কিন্তু আমি আমার পরিবারে নামাজ পড়েছি। তখন তিনি তাকে বললেন: যখন তুমি আসবে তখন মানুষের সাথে নামাজ আদায় করো, যদিও তুমি নামাজ পড়ে থাকো।"
(১) এটি ইমাম আহমাদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।
এখানে তিনি নামাজকে মুসলিম ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্যকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। হাদিসের শব্দাবলির ভেতরে আপনি লক্ষ্য করবেন যে, (বোঝানো হচ্ছে) যদি তুমি মুসলিম হতে তবে নামাজ পড়তে। এটি অনেকটা এমন বলার মতো: "তোমার কী হলো যে কথা বলছো না, তুমি কি বাকশক্তি সম্পন্ন নও?" অথবা "তোমার কী হলো যে নড়াচড়া করছো না, তুমি কি জীবিত নও?" যদি নামাজ ত্যাগ করা সত্ত্বেও ইসলাম সাব্যস্ত হতো, তবে যাকে তিনি নামাজ না পড়তে দেখলেন তাকে এ কথা বলতেন না যে: "তুমি কি একজন মুসলিম নও?"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فصل
قال محمد تقي الدين: إن بعض علماء أهل السنة تأوّلوا ما جاء في الأحاديث من كفر تارك الصلاة بأنه من باب كفر دون كفر، كقول النبي صلى الله عليه وسلم، "من أتى امرأة في دبرها فقد كفر"، فهذا الكفر لا يخرجه من الملة عند أهل السنة، لكن ماذا يصنع هؤلاء بقول النبي صلى الله عليه وسلم "فقد برئت منه ذمة الله"
(1)، وبقوله عليه الصلاة والسلام "فقد خرج من الملة"
(2)، وسيأتي إجماع الصحابة.
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ
মুহাম্মদ তাকিউদ্দীন বলেন: আহলে সুন্নাতের কিছু আলেম সালাত ত্যাগকারীর কুফর সম্পর্কে হাদিসগুলোতে যা এসেছে, সেগুলোকে কুফরের চেয়ে নিম্নপর্যায়ের কুফর (كفر دون كفر) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন; যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যে ব্যক্তি কোনো নারীর সাথে তার পশ্চাৎপথে সঙ্গম করল, সে কুফর করল।" আহলে সুন্নাতের মতে এই কুফর তাকে মিল্লাত থেকে বের করে দেয় না। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী সম্পর্কে তারা কী করবেন— "তার থেকে আল্লাহর জিম্মাদারি উঠে গেছে"
(১) এবং তাঁর এই বাণী— "সে মিল্লাত থেকে বের হয়ে গেছে"
(২); আর অচিরেই সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমত (إجماع) আলোচিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الفصل الثالثفيما جاء عن الصحابة رضي الله عنهم في حكم تارك الصلاةقال ابن القيم في "كتاب الصلاة":
وأما إجماع الصحابة، فقال ابن زنجويه بسنده المتصل عن ابن عباس: "أنه جاء عمر بن الخطاب حين طعن في المسجد، قال: فاحتملته أنا ورهط كانوا معي في المسجد حتى أدخلناه بيته، قال: فأمر عبد الرحمن بن عوف أن يصلي بالناس، قال: فلما دخلنا على عمر بيته غشي عليه من الموت فلم يزل في غشيته حتى أسفر، ثم أفاق، فقال: هل صلى الناس؟ قال: فقلنا نعم، فقال: لا إسلام لمن ترك الصلاة. وفي سياق آخر: لا حظ في الإسلام لمن ترك الصلاة، ثم دعا بوضوء فتوضأ وصلى
… وذكر القصة
(1).
فقال هذا بمحضر من الصحابة ولم ينكروه عليه، وقد تقدم مثل ذلك عن معاذ بن جبل، وعبد الرحمن بن عوف، وأبي هريرة، ولا يعلم عن صحابي خلافهم.
وقال الحافظ عبد الحق الاشبيلي رحمه الله في كتابه في "الصلاة": ذهب جملة من الصحابة رضي الله عنهم ومن بعدهم إلى تكفير تارك الصلاة متعمدا لتركها حتى يخرج جميع وقتها، منهم عمر بن الخطاب، ومعاذ بن جبل، وعبد الله بن مسعود، وابن عباس، وجابر، وأبو الدرداء، وكذلك روي عن علي بن أبي طالب هؤلاء من الصحابة. ومن غيرهم: أحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهويه، وعبد الله بن المبارك، وإبراهيم النخعي، والحكم بن عيينة، وأيوب السختياني، وأبو داود الطيالسي، وأبو بكر بن أبي شيبة،
وأبو خيثمة زهير بن حرب.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদসালাত পরিত্যাগকারীর বিধান সম্পর্কে সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছেইবনুল কাইয়্যিম তার "কিতাবুস সালাত" গ্রন্থে বলেন:
আর সাহাবীগণের ঐকমত্যের (ইজমা) বিষয়ে ইবনে জানজুওয়াইহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে তার সংযুক্ত সনদ (إسناد متصل) এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন: "উমর ইবনুল খাত্তাব যখন মসজিদে ছুরিকাহত হলেন, তখন ইবনে আব্বাস বলেন: আমি এবং আমার সাথে মসজিদে উপস্থিত একদল লোক তাকে বহন করে তার ঘরে নিয়ে এলাম। তখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আবদুর রহমান বিন আউফকে লোকদের নিয়ে সালাত পড়ার নির্দেশ দিলেন। যখন আমরা উমরকে তার ঘরে নিয়ে এলাম, মৃত্যুর যন্ত্রণায় তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়লেন। ভোর হওয়া পর্যন্ত তিনি মূর্ছিত অবস্থায় থাকলেন। এরপর যখন তার জ্ঞান ফিরল, তিনি জিজ্ঞেস করলেন: 'লোকেরা কি সালাত আদায় করেছে?' আমরা বললাম, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন: 'যে সালাত ত্যাগ করে, ইসলামে তার কোনো স্থান নেই।' অন্য বর্ণনায় এসেছে: 'যে সালাত ত্যাগ করে, ইসলামে তার কোনো অংশ নেই।' এরপর তিনি ওজুর পানি চাইলেন এবং ওজু করে সালাত আদায় করলেন..." এভাবে তিনি পূর্ণ ঘটনা উল্লেখ করেছেন
(১)।
তিনি সাহাবীগণের উপস্থিতিতে এ কথা বলেছিলেন এবং কেউ তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেননি। মুয়ায বিন জাবাল, আবদুর রহমান বিন আউফ এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকেও অনুরূপ বর্ণনা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর কোনো সাহাবী থেকে এর বিপরীত কোনো মত জানা যায় না।
হাফিজ আব্দুল হক আল-ইশবিলি (রাহিমাহুল্লাহ) তার "সালাত" বিষয়ক গ্রন্থে বলেন: সাহাবীগণের এক বিশাল জামাত এবং তাদের পরবর্তীগণ ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগকারীকে কাফির সাব্যস্ত করার (تكفير) দিকে গিয়েছেন, এমনকি সালাতের সম্পূর্ণ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও। তাদের মধ্যে রয়েছেন উমর ইবনুল খাত্তাব, মুয়ায বিন জাবাল, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ, ইবনে আব্বাস, জাবির এবং আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)। অনুরুপভাবে আলী বিন আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে। আর সাহাবীগণ ব্যতীত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন: আহমাদ বিন হাম্বল, ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, আব্দুল্লাহ বিন মুবারক, ইব্রাহিম নাখয়ি, হাকাম বিন উয়াইনা, আইয়ুব সাখতিয়ানি, আবু দাউদ তায়ালিসি, আবু বকর বিন আবি শাইবা এবং আবু খাইসামা জুহাইর বিন হারব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
(فصل)
ثم ذكر ابن القيم كلاما طويلا في الذنوب التي لا تخرج من الملة، وإن سميت كفرا أو فسقا أو نفاقا، وانتهى إلى النتيجة التالية في (ص 523) من مجموعة الحديث النجدية
(1) والأدلة التي ذكرناها وغيرها تدل على أنه لا يقبل من العبد شيء من أعماله إلا بفعل الصلاة، فهي مفتاح ديوانه ورأس مال ربحه، ومحال بقاء الربح بلا رأس مال، فإذا خسرها خسر أعماله كلها، وإن أتى بها صورة، وقد أشار إلى هذا في قوله: "فإن ضيعها فهو لما سواها أضيع"
(2).
وفي قوله: "أول ما ينظر من أعماله الصلاة، فإن
--------------------------------------------
(পরিচ্ছেদ)
এরপর ইবনুল কাইয়্যিম এমন সব পাপ সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন যা মিল্লাত (ধর্ম) থেকে বের করে দেয় না, যদিও সেগুলোকে কুফর (كفر), ফিসক (فسق) অথবা নিফাক (নفاق) নামে অভিহিত করা হয়েছে। তিনি মাজমুআতুল হাদিস আন-নাজদিয়্যাহ এর (৫২৩ পৃষ্ঠায়) নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে:
(১) "আমরা যে সকল দলিল উল্লেখ করেছি এবং অন্যান্য প্রমাণাদি একথাই নির্দেশ করে যে, সালাত আদায় করা ব্যতীত বান্দার কোনো আমলই কবুল করা হবে না। সুতরাং সালাত হলো তার আমলনামার চাবিকাঠি এবং তার মুনাফার মূলধন। আর মূলধন ব্যতীত মুনাফা অবশিষ্ট থাকা অসম্ভব। অতএব, সে যদি সালাত হারায় তবে তার সকল আমলই হারালো, যদিও সে বাহ্যিকভাবে তা সম্পাদন করে থাকে। তিনি একথার প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন তাঁর এই উক্তিতে: 'যে ব্যক্তি তা নষ্ট করল, সে অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে আরও বেশি ধ্বংসকারী হবে'।"
(২).
এবং তাঁর এই উক্তিতে: "আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেয়া হবে, যদি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
جازت له نظر في سائر أعماله، وإن لم تجز له لم ينظر في شيء من أعماله بعد"
(1) ومن العجب أن يقع الشك في كفر من أصر على تركها، ودعي إلى فعلها على رؤوس الملأ وهو يرى بارقة السيف على رأسه ويشد للقتل وعصبت عيناه وقيل له: تصلي وإلا قتلناك، فيقول اقتلوني ولا أصلي أبدا! ومن لا يكفر تارك الصلاة، يقول هذا مؤمن مسلم يغسل يصلى عليه ويدفن في مقابر المسلمين، وبعضهم يقول إنه مؤمن كامل الإيمان، إيمانه كإيمانه جبريل وميكائيل، فلا يستحي من هذا قوله من إنكاره تكفير من شهد بكفره الكتاب والسنة واتفاق الصحابة والله الموفق.
* * *
--------------------------------------------
"যদি তার (সালাত) গৃহীত হয় তবে তার অন্যান্য আমল বিবেচনা করা হবে, আর যদি তা গৃহীত না হয় তবে এরপর তার কোনো আমলই আর বিবেচনা করা হবে না।"
(১) এটি বিস্ময়কর যে, যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগের ওপর অবিচল থাকে তার কুফর নিয়ে সন্দেহ করা হয়; যাকে জনসম্মুখে সালাত আদায়ের জন্য আহ্বান জানানো হয় এমতাবস্থায় যে সে তার মাথার ওপর তলোয়ারের ঝিলিক দেখছে, তাকে হত্যার জন্য বেঁধে ফেলা হয়েছে, তার চোখ বেঁধে দেওয়া হয়েছে এবং তাকে বলা হচ্ছে: "সালাত আদায় করো নতুবা আমরা তোমাকে হত্যা করব", এরপরও সে বলে: "আমাকে হত্যা করো কিন্তু আমি কখনোই সালাত আদায় করব না!" যারা সালাত ত্যাগকারীকে কাফির মনে করে না, তারা বলে যে এ ব্যক্তি একজন মুমিন মুসলিম যাকে গোসল করানো হবে, যার জানাযার সালাত পড়া হবে এবং যাকে মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা হবে। তাদের কেউ কেউ তো বলে যে সে পূর্ণ ঈমানের অধিকারী মুমিন, তার ঈমান জিবরাঈল ও মিকাইলের ঈমানের মতো। যার কুফরের ব্যাপারে কিতাব, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কিরামের ঐকমত্য সাক্ষ্য দিয়েছে, তাকে কাফির বলতে অস্বীকার করে এ ধরনের কথা বলতে সে কি লজ্জাবোধ করে না? আল্লাহই তাওফিকদাতা।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فصل
في سياق أقوال العلماء من التابعين ومن بعدهم في كفر تارك الصلاة ومن حكى الإجماع على ذلك
وقال محمد بن نصر بسنده عن أيوب، قال: "ترك الصلاة كفر لا يختلف فيه"
(1).
وحكى محمد
(2) بن نصر عن ابن المبارك قال: "من أخر صلاة حتى يفوت وقتها متعمدا من غير عذر فقد كفر"
(3).
وقال علي بن الحسن بن شقيق: سمعت عبد الله بن المبارك، يقول: "من قال إني لا أصلي المكتوبة اليوم فهو أكفر من حمار"
(4).
وقال يحيى بن معين: قيل لعبد الله بن المبارك: إن هؤلاء يقولون: من لم يصم ولم يصل بعد أن يقر به فهو مؤمن مستكمل الإيمان؟ فقال عبد الله: "لا نقول نحن ما يقول هؤلاء من ترك الصلاة متعمدا من غير علة حتى أدخل وقتا في وقت فهو كافر"
(5).
وقال ابن أبي شيبة: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "من ترك الصلاة فقد كفر. فيقال له ارجع عن الكفر فإن فعل وإلا قتل بعد أن يؤجله الوالي ثلاثة أيام"
(6).
وقال أحمد بن يسار: سمعت صدقة بن الفضل وسئل عن تارك الصلاة؟ فقال: كافر
(7).
(فصل)
من نام عن صلاة أو نسيها حتى خرج وقتها فليصلها ولا إثم عليه
روى البخاري ومسلم، واللفظ له عن أنس، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: "من نسي صلاة، أو نام عنها، فكفارتها أن يصليها إذا ذكرها"
(8) وروى مسلم عنه أيضا، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا رقد أحدكم عن الصلاة، أو غفل عنها، فليصلها إذا ذكرها، فإن الله
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ
তাবেয়ি এবং তাদের পরবর্তী যুগের আলেমগণের সালাত ত্যাগকারীর কুফর সম্পর্কিত বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং এ বিষয়ে যারা ঐকমত্য বা ইজমা বর্ণনা করেছেন তাদের আলোচনা প্রসঙ্গে
মুহাম্মদ ইবনে নাসর তার সনদ (إسناد) সহকারে আইয়ুব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "সালাত ত্যাগ করা কুফর, এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই"
(১)।
মুহাম্মদ
(২) ইবনে নাসর ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি কোনো ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত বিলম্বিত করে, এমনকি তার ওয়াক্ত পার হয়ে যায়, সে কুফরি করল"
(৩)।
আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকিক বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলতে শুনেছি: "যে ব্যক্তি বলে যে আমি আজকের ফরজ সালাত আদায় করব না, সে গাধার চেয়েও বড় কাফের"
(৪)।
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলা হলো: এই লোকেরা (মুরজিয়ারা) বলে—যে ব্যক্তি স্বীকার করার পরও রোজা রাখল না এবং সালাত আদায় করল না সে পূর্ণাঙ্গ ইমানদার মুমিন? আবদুল্লাহ বলেন: "এরা যা বলে আমরা তা বলি না। যে ব্যক্তি কোনো কারণ ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ছেড়ে দিল, এমনকি এক ওয়াক্তের সময় অন্য ওয়াক্তে প্রবেশ করাল, সে কাফের"
(৫)।
ইবনে আবি শায়বা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাত ছেড়ে দিল সে কুফরি করল। তাকে বলা হবে কুফর থেকে ফিরে এসো। যদি সে ফিরে আসে তবে ভালো, অন্যথায় শাসক তাকে তিন দিন সময় দেওয়ার পর হত্যা করবেন"
(৬)।
আহমদ ইবনে ইয়াসার বলেন: আমি সাদাকা ইবনুল ফজলকে সালাত ত্যাগকারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি? তিনি বললেন: কাফের
(৭)।
(পরিচ্ছেদ)
যে ব্যক্তি সালাত থেকে ঘুমিয়ে পড়ে বা ভুলে যায়, ফলে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়, সে যেন তা আদায় করে নেয় এবং এতে তার কোনো গুনাহ নেই
বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন, আর শব্দসমূহ মুসলিমের—আনাস থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "যে ব্যক্তি কোনো সালাত ভুলে যায় অথবা তা থেকে ঘুমিয়ে পড়ে, তবে তার কাফফারা হলো যখনই স্মরণ হবে তখনই তা আদায় করে নেওয়া"
(৮)। মুসলিম তার থেকে আরও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমাদের কেউ সালাত থেকে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা তা থেকে গাফেল হয়ে যায়, তখন সে যেন তা স্মরণ হওয়া মাত্রই পড়ে নেয়, কেননা আল্লাহ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-কাওলুল ফাসলু ফী হুকমি তারিকিস সালাতি আমদান হাত্তা ইয়াখরুজা ওয়াক্তুহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يقول: {أقم الصلاة لذكري} [طه: 14] ".
وفي "صحيح مسلم" عن أبي هريرة: "أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حين قفل من غزوة خيبر، سار ليله حتى إذا أدركه الكرى عرس، وقال لبلال: اكلأ لنا الليل. فصلى بلال ما قدر له، ونام رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، فلما تقارب الفجر استند بلال إلى راحلته مواجه الفجر، فغلبت بلالا عيناه وهو مستند إلى راحلته، فلم يستيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا بلال، ولا أحد من أصحابه حتى ضربتهم الشمس، فكان رسول الله صلى الله عليه وسلم أولهم استيقاظا، ففزع رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: أي بلال؟ فقال بلال: أخذ بنفسي الذي أخذ - بأبي أنت وأمي يا رسول الله - بنفسك، قال: اقتادوا. فاقتادوا رواحلهم شيئا، ثم توضأ رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأمر بلالا فأقام الصلاة، فصلى بهم الصبح، فلما قضى الصلاة قال: من نسي الصلاة فليصلها إذا ذكرها. فإن الله قال: {أقم الصلاة لذكري} [طه: 14] "
(1).
--------------------------------------------
তিনি বলেন: {আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো} [ত্বহা: ১৪]।
এবং "সহীহ মুসলিম"-এ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত: "আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন খয়বার যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, তিনি সারা রাত পথ চললেন। অবশেষে যখন তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লেন, তখন বিশ্রামের জন্য যাত্রাবিরতি করলেন এবং বিলালকে বললেন: 'আমাদের জন্য রাতের পাহারার দায়িত্ব পালন করো।' অতঃপর বিলাল তাঁর ভাগ্যে যতটুকু নির্ধারিত ছিল ততটুকু সালাত আদায় করলেন, আর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ ঘুমিয়ে পড়লেন। যখন ফজর ঘনিয়ে এল, বিলাল তাঁর সওয়ারির ওপর হেলান দিয়ে ফজরের দিকে মুখ করে বসলেন। এমতাবস্থায় বিলালের দু’চোখ ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল যখন তিনি তাঁর সওয়ারির ওপর হেলান দিয়ে ছিলেন। ফলে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), বিলাল কিংবা তাঁদের কোনো সাহাবীই জাগ্রত হতে পারেননি, যতক্ষণ না রোদ তাঁদের গায়ে লাগল। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের মধ্যে সর্বপ্রথম জাগ্রত হলেন এবং তিনি বিচলিত হয়ে ডাকলেন: 'হে বিলাল!' তখন বিলাল বললেন: 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনার ওপর আমার পিতা-মাতা উৎসর্গিত হোন, আমার প্রাণকেও সেই সত্তাই আচ্ছন্ন করেছিল যা আপনার প্রাণকে আচ্ছন্ন করেছিল (অর্থাৎ ঘুম)।' তিনি বললেন: 'সওয়ারিগুলো নিয়ে চলো।' অতঃপর তাঁরা তাঁদের সওয়ারিগুলো কিছুটা এগিয়ে নিয়ে গেলেন। এরপর আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অজু করলেন এবং বিলালকে নির্দেশ দিলেন, ফলে তিনি সালাতের ইকামত দিলেন। তিনি তাঁদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন বললেন: 'যে ব্যক্তি সালাতের কথা ভুলে যায়, সে যেন তা মনে হওয়ামাত্র আদায় করে নেয়। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আমার স্মরণে সালাত কায়েম করো} [ত্বহা: ১৪]'।"
(১).
--------------------------------------------