القسم: التخريج والأطراف
الكتاب: نظم المتناثر من الحديث المتواتر
المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أبي الفيض جعفر بن إدريس الحسني الإدريسي الشهير بـ الكتاني (ت 1345هـ)
المحقق: شرف حجازي
الناشر: دار الكتب السلفية - مصر
الطبعة: الثانية المصححة ذات الفهارس العلمية
عدد الصفحات: 244
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ
গ্রন্থ: নাযমুল মুতানাসির মিনাল হাদিসিল মুতাওয়াতির
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি আল-ফায়দ জাফর বিন ইদ্রিস আল-হাসানি আল-ইদ্রিসি, যিনি আল-কাত্তানি নামে পরিচিত (মৃ. ১৩৪৫ হিজরি)
সম্পাদক: শরফ হিজাজি
প্রকাশক: দারুল কুতুব আস-সালাফিয়্যাহ - মিশর
সংস্করণ: দ্বিতীয় সংশোধিত সংস্করণ, ইলমি সূচিপত্র সম্বলিত
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
(আমরা বলি) এটি নিষিদ্ধ, বরং অভ্যস্ততা, অনুশীলন, স্মৃতিতে জাগ্রত হওয়া এবং হুকুমের প্রান্তিক বিষয়সমূহের উপলব্ধির তারতম্যের কারণে 'জরুরি' (আবশ্যকীয়) জ্ঞানের প্রকারভেদ হতে পারে। কখনো কখনো হঠকারিতা ও একগুঁয়েমিবশত এতে মতভেদ দেখা দেয়, যেমনটি সফেস্তাবাদীরা সমস্ত জরুরি বিষয়ের ক্ষেত্রে করে থাকে। তারা যা বলেছে সে ক্ষেত্রে বিরোধটি শাব্দিক, প্রকৃত নয়। কারণ ইমামুল হারামাইন — যেমনটি তাঁর অনুসারী ইমাম গাজালি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন — আল-কাব্বীর বক্তব্য থেকে গ্রহণ করে এর মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানকে 'নজরি' (তাত্ত্বিক) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এই হিসেবে যে, এটি শ্রোতার কাছে উপস্থিত কিছু ভূমিকার ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, মনের সেদিকে নিবিষ্ট হওয়া, তা পর্যবেক্ষণ করা এবং সে সম্পর্কে তার পূর্বজ্ঞান থাকার ওপর এটি নির্ভরশীল। আর সেই ভূমিকাগুলো হলো: এটি একটি বড় জনসমষ্টির সংবাদ হওয়া, এবং তাদের অবস্থা এমন হওয়া যাতে সাধারণভাবে তাদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব হয়, এবং তারা এমন কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া যাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। আর এটি বিষয়টি 'জরুরি' হওয়ার পরিপন্থী নয়। যা এর পরিপন্থী তা হলো এর পরপরই চিন্তা-গবেষণার (নজর) প্রয়োজনীয়তা দ্বারা একে ব্যাখ্যা করা। তারা এভাবেই বলেছেন, তবে এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। সত্য কথা হলো যে, বিরোধটি প্রকৃত। কারণ যারা এটিকে 'নজরি' বলেন, তারা এটি অর্জিত হওয়ার জন্য ভূমিকার পূর্বজ্ঞান থাকাকে শর্ত করেন। আর যারা এটিকে 'জরুরি' বলেন, তারা একে শর্ত করেন না; বরং তাদের নিকট শর্ত হলো বাস্তব ক্ষেত্রে সেগুলোর অস্তিত্ব থাকা, চাই তা মনে অর্জিত থাকুক বা তা থেকে উদাসীন থাকুক। এজন্যই তারা জ্ঞান অর্জিত হওয়াকে সেই ভূমিকাগুলো অর্জিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন। শাফেয়িগণের মধ্যে আল-আমেদি এবং রাফেজিদের মধ্যে মুরতজা 'জরুরি' বা 'নজরি' কোনো একটির প্রবক্তা হওয়া থেকে বিরত থেকেছেন (তাওয়াক্কুফ করেছেন)। কারণ তাদের নিকট দলীলদ্বয় পরস্পর বিরোধী মনে হয়েছে; একদিকে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এই জ্ঞান অর্জিত হয় যার পক্ষে চিন্তা-গবেষণা করা সম্ভব নয়, আবার অন্যদিকে এটি এমন কিছু সুনিশ্চিত ভূমিকার ওপর নির্ভরশীল যা একে বাস্তবায়ন করে। তাদের এই বিরত থাকা প্রমাণ করে যে তারা বুঝেছিলেন বিরোধটি প্রকৃত, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আর এই বিরত থাকাই 'আল-মাসাদির' গ্রন্থের লেখক সঠিক বলে গণ্য করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। অতঃপর উক্ত ঐকমত্য যদি সেই জনসমষ্টির মধ্যে শব্দ ও অর্থ উভয় ক্ষেত্রে ঘটে — ইবনে কাসিম আল-আব্বাদির ব্যাখ্যার অনুসরণে কেউ কেউ এটি যুক্ত করেছেন — অথবা শব্দের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও কেবল অর্থের ক্ষেত্রে ঘটে, কারণ অর্থের ঐক্যের কারণে শব্দের ভিন্নতা থাকলেও তা অভিন্ন বিষয়ের হুকুম রাখে, তবে তাকে শাব্দিক তওয়াতুর বলা হয়। আর যদি তারা উভয় ক্ষেত্রেই ভিন্নতা পোষণ করেন, অর্থাৎ শব্দ ও অর্থ উভয় ক্ষেত্রেই, তবে একটি সামগ্রিক অর্থের ক্ষেত্রে একমত হন — যদিও তা নিহিতার্থ বা অপরিহার্যভাবে হয় — তাকে অর্থগত তওয়াতুর বলা হয়। যেমন হাতেমের দানশীলতার ঘটনাবলি, আলীর যুদ্ধসমূহের বীরত্ব, ওমরের ন্যায়বিচার ও দৃঢ়তা এবং আবু জারের দুনিয়াবিমুখতার ঘটনাবলি। এবং শেখ আব্দুল কাদের জিলানির কারামতের ঘটনাবলি; কারণ সেগুলো একটি সামগ্রিক অর্থের ওপর একমত হয়েছে, যা সেই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর মধ্যকার একটি সাধারণ অংশ। আর তা হলো এর দানশীলতা, এর বীরত্ব, এর ন্যায়বিচার, এর দুনিয়াবিমুখতা এবং এর কারামতসমূহ। সুতরাং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সেই সাধারণ অংশটি অর্থগতভাবে তওয়াতুর হিসেবে গণ্য হবে, যদিও প্রতিটি ঘটনা এককভাবে তওয়াতুর পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে সেগুলোর কিছু সামান্য অংশ ব্যতীত।
আলকামা থেকে মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম ছাড়া আরও বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং ইবন উমরের মুক্তদাস নাফি। আর মুহাম্মদ থেকে ইয়াহইয়া ছাড়া আরও বর্ণনা করেছেন তার ভাই আবদুর রব্বিহি ইবন সাঈদ, হাজ্জাজ ইবন আরতাহ, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক, দাউদ ইবন আবিল ফুরাত এবং মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন আলকামা আল-লাইসি। আর এই ইবন মানদাহ-ই এর তাওয়াতুর (নিরবচ্ছিন্নতা) দাবি করেছিলেন, আর সে কারণেই তিনি উল্লিখিত এই কষ্টসাধ্য ব্যাখ্যার আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি যদি এর দ্বারা অর্থগত তাওয়াতুর বুঝিয়ে থাকেন তবে তা আলাদা কথা, অন্যথায় তা অগ্রহণযোগ্য; কারণ উমরের সূত্র ছাড়া অন্য কোনো সূত্রে এটি সহীহ সাব্যস্ত হয়নি। আর উমরের হাদিসের শব্দাবলীতে আবু সাঈদের হাদিস ছাড়া অন্য কিছু বর্ণিত হয়নি, আর উলামাগণ এর বর্ণনাকারীর ব্যাপারে কঠোরতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আলীর হাদিস—যাতে এমন বর্ণনাকারী রয়েছে যাকে চেনা যায় না; আনাসের হাদিস—যা অত্যন্ত বিরল; এবং আবু হুরাইরার হাদিস—যা দুর্বল। আর উল্লিখিত অন্যান্য সাহাবীদের হাদিসসমূহ মূলত কেবল নিয়তের সাধারণ গুরুত্ব প্রসঙ্গে, যেমন: "তাদেরকে তাদের নিয়তের ওপর পুনরুত্থিত করা হবে" হাদিসটি, "যার নিয়ত নেই তার কোনো আমল নেই" হাদিসটি, "মানুষের জন্য তার আমল থেকে সেটুকুই রয়েছে যা সে নিয়ত করেছে" হাদিসটি, "মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম" হাদিসটি, এবং হাদিস "তার যুদ্ধের প্রতিদান কেবল সেটুকুই যা সে নিয়ত করেছে", হাদিস "তবে জিহাদ ও নিয়ত (বাকি রয়েছে)", হাদিস "দুই কাতারের মাঝে নিহত অনেকের ব্যাপারে আল্লাহ তাদের নিয়ত সম্পর্কে অধিক অবগত", হাদিস "হে ইয়াযিদ, তুমি যা নিয়ত করেছ তাই তোমার জন্য", এবং এই জাতীয় অন্যান্য হাদিসসমূহ। সুয়ূতী 'মুনতাহাল আমাল ফী শারহি হাদিসি ইন্নামাল আমাল'-এ বলেছেন: নিয়তের সাধারণ গুরুত্ব বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা তাওয়াতুর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়। অতঃপর তিনি আনাস, ইবন আব্বাস, রাফি ইবন খাদীজ, যায়িদ ইবন সাবিত, আবু সাঈদ আল-খুদরী, গাযিয়্যাহ ইবনুল হারিস, সা’দ ইবন আবী ওয়াক্কাস, মুয়াবিয়া, উকবাহ ইবন আমির, আবু যার এবং আবুদ্দারদা-এর বর্ণিত কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন। সুতরাং আপনি এটি দেখুন এবং হাফিজ ইবন হাজারের 'আমালী' যা 'মুখতাসার ইবনুল হাজিব আল-আসলী'-এর ওপর ভিত্তি করে সংকলিত, সুয়ূতীর 'শারহুত তাকরীব'-এ 'শায' বর্ণনার আলোচনায়, 'ইরশাদুস সারী' এবং অন্যান্য কিতাবসমূহ দেখুন। আর এই সবকিছুর মাধ্যমে আপনি আশ-শা'রানীর 'আল-বাদরুল মুনীর' কিতাবের এই বক্তব্যের স্বরূপ বুঝতে পারবেন যেখানে তিনি বলেছেন: "আমাল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি শাইখাইন বর্ণনা করেছেন, তবে "নিশ্চয়ই আমলসমূহ..." অতিরিক্ত শব্দসহ এটি ত্রিশজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি মুতাওয়াতির হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।