(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: -)
نظم المتناثر   (محمد بن جعفر الكتاني)

القسم: التخريج والأطراف


الكتاب: نظم المتناثر من الحديث المتواتر

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أبي الفيض جعفر بن إدريس الحسني الإدريسي الشهير بـ الكتاني (ت 1345هـ)

المحقق: شرف حجازي

الناشر: دار الكتب السلفية - مصر

الطبعة: الثانية المصححة ذات الفهارس العلمية

عدد الصفحات: 244

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নাযমুল মুতানাসির   (মুহাম্মদ বিন জাফর আল-কাত্তানি)

বিভাগ: তাখরিজ ও আতরাফ


গ্রন্থ: নাযমুল মুতানাসির মিনাল হাদিসিল মুতাওয়াতির

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি আল-ফায়দ জাফর বিন ইদ্রিস আল-হাসানি আল-ইদ্রিসি, যিনি আল-কাত্তানি নামে পরিচিত (মৃ. ১৩৪৫ হিজরি)

সম্পাদক: শরফ হিজাজি

প্রকাশক: দারুল কুতুব আস-সালাফিয়্যাহ - মিশর

সংস্করণ: দ্বিতীয় সংশোধিত সংস্করণ, ইলমি সূচিপত্র সম্বলিত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ২)
-تأليف الشيخ الإمام علامة الأعلام قدوة أهل التحقيق وعمدة ذوي النظر والتدقيق الفقيه المحدث الصوفي أبي عبد الله سيدي محمد بن شيخ الإسلام ومصباح الظلام أبي الفيض مولانا جعفر الحسني الإدريسي الشهير بالكتاني مما اعتنى بنشره وإشراق بدره سلطاننا الأعظم وإمامنا الأفخم جامع كلمة الإسلام بعد شتاتها ومحي رسوم الخلافة بعد مواتها حتى امتدت على الرعية طنب أمانه فلبسوا من حميد ظلها برداً سابغاً وسحت عليهم سحب إحسانه فوردوا من جزيل فضلها ورداً سائغاً أمير المؤمنين المتوكل على رب العالمين سيدنا ومولانا (عبد الحفيظ) بن مولانا الحسن أدام الله نصره وأشاد في سماء المكارم ذكره

آمين

هاك نظم المتناثر … من حديث متواتر

فاق في حسن نظام … عقد در وجواهر

وبدا في أفق كتب … بدر تم وهو زاهر

أو كروض يانع قد … ضم أصناف الأزاهر

فهو للعين ضياء … وهو للسمع مزاهر
বিখ্যাত আলিমদের বিদগ্ধ পণ্ডিত, গবেষকদের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব, বিচার ও সূক্ষ্মদর্শীদের আশ্রয়স্থল, ফকিহ, মুহাদ্দিস ও সুফি শায়খ আল-ইমাম আবু আব্দুল্লাহ সিদি মুহাম্মদ-এর রচনা; যিনি শায়খুল ইসলাম ও অন্ধকারের প্রদীপ আবু আল-ফায়জ মাওলানা জাফর আল-হাসানি আল-ইদ্রিসি আল-কাত্তানি হিসেবে সুপরিচিত এর পুত্র। যার প্রকাশনা এবং তার পূর্ণিমার আলোর বিকাশে যত্ন নিয়েছেন আমাদের মহান সুলতান ও সুউচ্চ ইমাম, যিনি ইসলামের বিক্ষিপ্ত বাক্যসমূহকে একত্রিতকারী এবং খিলাফতের বিলুপ্ত চিহ্নসমূহের পুনর্জাগরণকারী; যার ফলে প্রজাদের ওপর তাঁর নিরাপত্তার রশি বিস্তৃত হয়েছে এবং তারা তাঁর প্রশংসিত ছায়ার নিচে পূর্ণাঙ্গ চাদর পরিধান করেছে, আর তাদের ওপর তাঁর ইহসানের মেঘমালা বর্ষিত হয়েছে যাতে তারা তাঁর সুমহান অনুগ্রহের সুমিষ্ট সলিলে অবগাহন করেছে; তিনি হলেন আমিরুল মুমিনিন, বিশ্বজগতের রবের ওপর ভরসাকারী আমাদের নেতা ও অভিভাবক (আব্দুল হাফিজ) বিন মাওলানা আল-হাসান। আল্লাহ তাঁর বিজয় অব্যাহত রাখুন এবং মর্যাদার আকাশে তাঁর সুখ্যাতি সুউচ্চ করুন।

আমিন

এই নাও 'আল-মুতানাছির' এর কাব্যমালা … যা মুতাওয়াতির হাদিসসমূহ থেকে সংকলিত

সৌন্দর্যের বিন্যাসে যা ছাড়িয়ে গেছে … মুক্তা ও জহরতের হারকে

আর কিতাবসমূহের দিগন্তে উদিত হয়েছে … এক উজ্জ্বল পূর্ণিমার চাঁদ হিসেবে

অথবা এক সজীব উদ্যানের মতো যা … ধারণ করে আছে বিচিত্র সব ফুলকে

তা চোখের জন্য জ্যোতি … আর কানের জন্য সুমধুর ঝংকার।
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[مقدمة الناشر]

 

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادى له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102]

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1]

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71) } [الأحزاب: 70، 71] (1)

أما بعد: فإن أولى ما صرفت فيه نفائس الأيام، وأعلى ما خص بمزيد الاهتمام، الاشتغال بالعلوم الشرعية، المتلقاة عن خير البرية، ولا يرتاب عاقل في أن مدارها على كتاب الله المقتفى، وسنة نبيه المصطفى، وأن باقي العلوم إما آلات لفهمها وهى الضالة المطلوبة، أو أجنبية عنها وهى الضارة المغلوبة (2) .

ولما كان واقع المسلمين في عصرنا هذا يحتاج إلى مزيد عناية من مفكري المسلمين وعلمائهم، لأن هناك جفوة أليمة تقوم بين هدى النبي صلى الله عليه وسلم، وبين حياة المسلمين العملية والفكرية والمعاشية والاجتماعية.

وإنما الكارثة ألا يشعر الواعون من المسلمين وهم الآن يحاولون أن ينهضوا بأبناء أمهاتهم من واقع مرير بضرورة قيام طائفة من المسلمين في كل بلد لمتابعة تلك الجهود العظيمة.

--------------------------------------------

(1) هذه الخطبة التي كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمها أصحابه في كل شأن.

وانظر طبعتها المفردة للمحدث الألباني المكتب الإسلامي.

(2) هدى الساري مقدمة فتح الباري للحافظ ابن حجر العسقلاني صفحة 3
‌[প্রকাশকের ভূমিকা]

 

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২]

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর মাধ্যমে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।} [নিসা: ১]

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তবে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল। (৭১)} [আহযাব: ৭০, ৭১] (১)

অতঃপর: নিশ্চয়ই মূল্যবান সময় ব্যয় করার সর্বোত্তম বিষয় এবং অধিক গুরুত্ব দেওয়ার মতো সর্বোচ্চ কাজ হলো শরয়ি জ্ঞান চর্চা করা, যা সৃষ্টির সেরা মানবের নিকট থেকে প্রাপ্ত। কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এতে সন্দেহ পোষণ করেন না যে, এর মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর কিতাব যা অনুসরণীয় এবং তাঁর মনোনীত নবীর সুন্নাত। আর অবশিষ্ট জ্ঞানসমূহ হয় এগুলো অনুধাবনের হাতিয়ার যা কাঙ্ক্ষিত বিষয়, অথবা এগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন যা ক্ষতিকারক ও বর্জিত। (২)

যেহেতু বর্তমান যুগে মুসলিমদের বাস্তব অবস্থা মুসলিম চিন্তাবিদ ও আলিমদের পক্ষ থেকে অধিক যত্নের দাবি রাখে; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিদায়াত এবং মুসলিমদের ব্যবহারিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, জীবিকা ও সামাজিক জীবনের মধ্যে এক বেদনাদায়ক দূরত্ব বিদ্যমান।

মূল বিপর্যয় হলো সচেতন মুসলিমদের এটা অনুভব না করা—অথচ তারা এখন তাদের স্বজাতিকে এক তিক্ত বাস্তবতা থেকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন—যে প্রতিটি জনপদে একদল মুসলিমের এই মহান প্রচেষ্টাসমূহ অব্যাহত রাখা অপরিহার্য।

--------------------------------------------

(১) এটি সেই খুতবা যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি বিষয়ে তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দিতেন।

দেখুন এর স্বতন্ত্র মুদ্রণ, মুহাদ্দিস আলবানী, আল-মাকতাবুল ইসলামী।

(২) হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী রচিত ফাতহুল বারীর ভূমিকা হুদাস সারী, পৃষ্ঠা ৩।
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ৪)
التي بدأها الأسلاف في مجال السنة واتفقوا في سبيلها زهرات حياتهم، حتى تركوا لنا كنوزا من المؤلفات ما أشد حاجتنا إلى الانتفاع منها وإتمامها (1) .

ولما أن عزمت دار الكتب السلفية للطباعة والنشر بمصر (بتوفيق الله) على إصدار سلسلتها من هدى الحديث النبوي " مشاركة منها في تصحيح عقائد المسلمين وأعمالهم، وتجديد دعوة السلف، وحفز همم طلبة العلم: خاصة منهم طلبة علم الحديث كثر الله سوادهم، رأينا أن نبدأها بكتاب " نظم المتناثر من الحديث المتواتر " فانه كتاب عظيم الشأن، جليل القدر، وهو من أحسن وأجمع ما صنف في بابه (2) ، وذلك بعد تصحيح الأخطاء الكثيرة التي كانت في الطبعة الأولى (3) ، وترتيبه ترتيبا علميا (4) بما يتناسب وأهمية موضوع الكتاب، وقمنا أيضا بعمل الفهارس العلمية في نهاية الكتاب.

والله أسأل أن يجعله خالصا لوجه، وأن ينفع به المسلمين عامة، وأهل العلم والتحقيق منهم خاصة، أنه خير مسؤول.

وسبحانك اللهم أو بحمدك، أشهد أن لا إله إلا أنت، أستغفرك وأتوب إليك.

--------------------------------------------

(1) الحديث النبوي: دكتور محمد بن لطفي الصباغ، صفحه 11، الطبعة الرابعة المكتب الإسلامي.

(2) أنظر مقدمة المؤلف.

(3) كانت الطبعة الأولى سنة 1318 بفاس المغرب بعناية السلطان عبد الحفظ، ثم صورت بطريقة الأوفست في دار المعارف بحلب ثم دار الكتب العلمية بيروت وبها نفس الأخطاء.

(4) بالنسبة إلى العمل المطبعي وليس إلى أصل الكتاب.

(*)
যেই কাজের সূচনা পূর্বসূরিগণ সুন্নাহর ময়দানে করেছিলেন এবং যার জন্য তারা তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো ব্যয় করেছিলেন, এমনকি তারা আমাদের জন্য রচনাবলির এমন সব জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গেছেন যা থেকে উপকৃত হওয়া এবং সেগুলোর কাজ সম্পন্ন করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি (১)।

যখন মিসরের ‘দারুল কুতুব আস-সালাফিয়্যাহ’ মুদ্রণ ও প্রকাশনা সংস্থা (আল্লাহর তাওফিকে) ‘হাদিসে নববীর হিদায়াত’ নামক তাদের ধারাবাহিক সিরিজ প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিল—যার উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের আকিদা ও আমল সংশোধন করা, সালাফদের দাওয়াতকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জ্ঞান অন্বেষণকারীদের হিম্মতকে জাগ্রত করা: বিশেষ করে ইলমে হাদিসের শিক্ষার্থীদের (আল্লাহ তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন); তখন আমরা সমীচীন মনে করলাম যে এই সিরিজটি ‘নাযমুল মুতানাসির মিনাল হাদিসিল মুতাওয়াতির’ কিতাবটির মাধ্যমে শুরু করি। কারণ এটি অত্যন্ত উচ্চমর্যাদা ও শানসম্পন্ন একটি কিতাব এবং নিজ বিষয়ের শ্রেষ্ঠ ও ব্যাপক সংকলনগুলোর অন্তর্ভুক্ত (২)। আর এটি করা হয়েছে প্রথম সংস্করণে থাকা প্রচুর ভুল সংশোধনের পর (৩), এবং কিতাবের বিষয়ের গুরুত্বের সাথে সামঞ্জস্য রেখে একে একটি ইলমি পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করার পর (৪)। এছাড়াও আমরা কিতাবের শেষে ইলমি সূচিপত্র সংযোজন করেছি।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মুসলমানদের ও বিশেষ করে তাদের মধ্যকার আহলে ইলম ও গবেষকদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রেষ্ঠ সাহায্য প্রার্থনার স্থল।

হে আল্লাহ, আপনি পবিত্র এবং আপনার সকল প্রশংসা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি।

--------------------------------------------

(১) আল-হাদিসুন নববী: ডক্টর মুহাম্মদ বিন লুতফি আস-সাববাগ, পৃষ্ঠা ১১, চতুর্থ সংস্করণ, আল-মাকতাবুল ইসলামি।

(২) গ্রন্থকারের ভূমিকা দেখুন।

(৩) প্রথম সংস্করণটি ১৩১৮ হিজরিতে মরক্কোর ফেজে সুলতান আব্দুল হাফিজের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর এটি আলেপ্পোর ‘দারুল মাআরিফ’ এবং বৈরুতের ‘দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ’ থেকে অফসেট পদ্ধতিতে মুদ্রণ করা হয়, যাতে পূর্বের ভুলগুলোই বিদ্যমান ছিল।

(৪) এটি মুদ্রণ সংশ্লিষ্ট বিন্যাস, মূল কিতাবের ক্ষেত্রে নয়।

(*)
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[مقدمة المؤلف]

- بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على سيدنا محمد النبي الكريم.

الحمد لله الذي تواترت ألسنة الذاكرين بذكره وتمجيده، وتواطأت قلوب المحبين على حبه وتعظيمه وتوحيده. والصلاة والسلام الأتمان الأكملان على إنسان عين الوجود الباهر. المخصوصة أمته السعيدة بإسناد ما هو صحيح عنه وحسن ومتواتر. وعلى آله السادة. وصحابته النجوم البررة القادة.

(أما بعد) فإن علم الحديث الشريف أجل العلوم قدراً. وأكملها مزية وأعظمها خطراً. ومن حازه فقد حاز فضلاً كبيراً. ومن أوتيه فقد أوتي خيراً كثيراً. ومن ظفر به ظفر بإكسير السعادة. ونال كل المنى ورزق خاتمة الحسنى والزيادة.

وقد روي عن سفيان الثوري كما ذكره ابن الصلاح في مقدمة علوم الحديث له قال ما أعلم عملاً أفضل من طلب الحديث لمن أراد به الله عز وجل قال ابن الصلاح وروينا نحوه عن ابن المبارك اهـ وعن المعلفي بن عمران قال كتابة حديث واحد أحب إلي من صلاة ليلة وأخرج ابن عساكر في تاريخه عن أبي العباس المرادي قال رأيت أبا زرعة في النوم فقلت ما فعل الله بك فقال لقيت ربي فقال لي يا أبا زرعة أني أوتي بالطفل فآمر به إلى الجنة فكف بمن حفظ السنن على عبادي تبوأ من الجنة حيث شئت.

وفي فهرسة الإمام أبي عبد الله القصار ما نصه بشارة عظيمة قال محمد بن عبد العظيم المنذري لرائيه يعني في النوم دخلنا الجنة وقبلنا يد رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال أبشروا كل من كتب بيده قال رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو معه في الجنة اهـ.
[লেখকের ভূমিকা]

- পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং মহানবী আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর যিকির ও মহিমা বর্ণনায় স্মরণকারীদের রসনা অবিরাম সচল, এবং যাঁর মহব্বত, সম্মান ও তাওহীদের ওপর প্রেমাসক্তদের অন্তরসমূহ ঐক্যবদ্ধ। আর পূর্ণাঙ্গতম ও সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক অস্তিত্ব-জগতের উজ্জ্বল নয়নমণি স্বরূপ সেই মানবের ওপর, যাঁর সৌভাগ্যবান উম্মতকে তাঁর থেকে বর্ণিত সহীহ, হাসান ও মুতাওয়াতির বর্ণনাগুলোর ইসনাদ বা পরম্পরা রক্ষার বিশেষ মর্যাদা দান করা হয়েছে। এবং তাঁর মহান বংশধর ও পুণ্যবান নক্ষত্রসম পথপ্রদর্শক সাহাবীদের ওপর।

(অতঃপর) নিশ্চয়ই হাদীস শাস্ত্র ইলমসমূহের মধ্যে মর্যাদায় সুমহান, বৈশিষ্ট্যে পূর্ণাঙ্গ এবং গুরুত্বে সুউচ্চ। যে ব্যক্তি এটি অর্জন করল, সে এক বিশাল মর্যাদা লাভ করল। আর যাকে এটি দান করা হয়েছে, তাকে প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়েছে। যে এটি লাভ করল, সে সৌভাগ্যের পরশপাথর জয় করল; সে তার সকল আশা পূরণ করল এবং তাকে উত্তম পরিণতি ও অতিরিক্ত পুরস্কার (আল্লাহর দিদার) নসীব করা হলো।

সুফিয়ান সাওরী থেকে বর্ণিত হয়েছে—যেমনটি ইবনুল সালাহ তাঁর হাদীস শাস্ত্রের মুকাদ্দিমায় উল্লেখ করেছেন—তিনি বলেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হাদীস অন্বেষণ করে, তার জন্য এর চেয়ে উত্তম কোনো আমল আমার জানা নেই।" ইবনুল সালাহ বলেন: "আমরা ইবনুল মুবারক থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছি।" (সমাপ্ত) মুআল্লা ইবনে ইমরান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "একটি হাদীস লিপিবদ্ধ করা আমার নিকট সারা রাত সালাত আদায় করার চেয়েও বেশি প্রিয়।" ইবনে আসাকির তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে আবুল আব্বাস আল-মুরাদী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আবু যুরআকে স্বপ্নে দেখে জিজ্ঞাসা করলাম, আল্লাহ আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন? তিনি বললেন, আমি আমার রবের সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: 'হে আবু যুরআ! আমার কাছে যখন কোনো শিশুকে আনা হয়, আমি তাকে জান্নাতে যাওয়ার নির্দেশ দিই; তাহলে যে ব্যক্তি আমার বান্দাদের জন্য সুন্নাহসমূহ সংরক্ষণ করেছে, তার মর্যাদা কেমন হবে! জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা তুমি তোমার স্থান গ্রহণ করো'।"

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-কাসসারের 'ফিহরিসত' গ্রন্থে একটি মহান সুসংবাদ বর্ণিত হয়েছে: মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আযীম আল-মুনযিরী তাঁর স্বপ্নদ্রষ্টাকে (অর্থাৎ যিনি তাঁকে স্বপ্নে দেখেছেন) বললেন: "আমরা জান্নাতে প্রবেশ করেছি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে চুম্বন করেছি। তিনি (নবীজি) বললেন: 'তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো, যে ব্যক্তি নিজ হাতে 'আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন' কথাটি লিখেছে, সে জান্নাতে তাঁর সাথেই থাকবে'।" (সমাপ্ত)
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ৬)
وفي أذكار النووي عن سهل بن عبد الله التستري أحد أفراد هذه الأمة وعبادها أنه كان يأتي أبا داود السجستاني صاحب السنن ويقول أخرج لي لسانك الذي تحدث به حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم لأقبله فيقبله.

وعن إبراهيم بن أدهم قال إن الله ليدفع البلاء عن هذه الأمة برحلة أصحاب الحديث وأخرج الشيخ أبو الفتح نصر بن إبراهيم المقدسي في كتاب الحجة على تارك المحجة بسنده إلى أحمد بن حنبل أنه قيل له هل لله في الأرض أبدال فقال نعم قيل من هم قال إن لم يكن أصحاب الحديث هم الأبدال فما أعرف لله أبدالاً.

وفي العهود المحمدية كان سفيان الثوري وابن عيينة وعبد الله بن سنان يقولون لو كان أحدنا قاضياً لضربنا بالجريد فقيهاً لا يتعلم الحديث ومحدثاً لا يتعلم الفقه اهـ.

وفي الفتوحات المكية لابن العربي الحاتمي رحمه الله أن العالم لا يطلق يوم القيامة إلا على المحدث وأما غيره فيتميز بعمله إن كان له عمل ويحشر في عموم الناس وأما أهل الحديث فيحشرون مع الرسل وهم ورثة الأنبياء وأطال في ذلك فانظره ويروى مرفوعاً: "اللهم ارحم خلفائي قيل ومن هم قال الذين يأتون من بعدي يروون أحاديثي وسنتي".

وفي الحديث المتواتر كما يأتي نضر الله امرأً سمع مقالتي فوعاها فأداها كما سمعها دعا بالنضرة وهي البهجة والحسن قال ابن عيينة ليس أحد من أهل الحديث إلا في وجهه نضرة لهذا الحديث.

وقد كان بعض الأئمة الكبار إذا رأى أصحاب الحديث ينشد ويقول:

أهلاً وسهلاً بالذين أحبهم … وأودهم في الله ذي الآلاء
ইমাম নববীর ‘আযকার’ গ্রন্থে এই উম্মতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও আবিদ সাহল বিন আব্দুল্লাহ আত-তুস্তারি থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি সুনান গ্রন্থকার আবু দাউদ আস-সিজিস্তানির নিকট আসতেন এবং বলতেন, ‘আপনার সেই জিহ্বাটি বের করুন যা দিয়ে আপনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস বর্ণনা করেন, যাতে আমি তাতে চুমু খেতে পারি।’ অতঃপর তিনি তাতে চুমু খেতেন।

ইব্রাহিম বিন আদহাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ হাদিস অন্বেষণকারীদের সফরের বরকতে এই উম্মত থেকে বিপদ-আপদ দূর করেন।’ শায়খ আবুল ফাতহ নাসর বিন ইব্রাহিম আল-মাকদিসি ‘কিতাবুল হুজ্জাহ আলা তারিকিল মাহাজ্জাহ’ গ্রন্থে নিজ সনদে আহমদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘জমিনে কি আল্লাহর কোনো আবদাল (বিশিষ্ট অলি) আছেন?’ তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ।’ জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তাঁরা কারা?’ তিনি বললেন, ‘যদি হাদিস বিশারদগণই আবদাল না হন, তবে আল্লাহর আর কোনো আবদাল আছে বলে আমার জানা নেই।’

‘আল-উহুদ আল-মুহাম্মাদিয়্যাহ’ গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, সুফিয়ান আস-সাওরি, ইবনে উইয়াইনাহ এবং আব্দুল্লাহ বিন সিনান বলতেন, ‘আমাদের কেউ যদি বিচারক হতেন, তবে আমরা সেই ফকিহকে খেজুরের ডাল দিয়ে পিটাতাম যে হাদিস শিক্ষা করে না, এবং সেই মুহাদ্দিসকেও পিটাতাম যে ফিকহ শিক্ষা করে না।’ সমাপ্ত।

ইবনুল আরাবি আল-হাতিমি রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ‘আল-ফুতুহাত আল-মাক্কিয়্যাহ’ গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, কিয়ামতের দিন ‘আলিম’ শব্দটি কেবল মুহাদ্দিসগণের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। আর অন্যরা যদি কোনো আমল করে থাকে তবে তার মাধ্যমেই তারা স্বতন্ত্র হবে এবং সাধারণ মানুষের সাথে তাদের হাশর হবে। পক্ষান্তরে আহলে হাদিস বা হাদিস বিশারদগণের হাশর হবে রাসূলগণের সাথে এবং তারাই হলেন নবীদের উত্তরসূরি। তিনি এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, যা সেখানে দেখা যেতে পারে। মারফু সূত্রে বর্ণিত আছে: “হে আল্লাহ! আমার খলিফাদের ওপর দয়া করুন।” জিজ্ঞেস করা হলো, “তাঁরা কারা?” তিনি বললেন, “যারা আমার পরে আসবে এবং আমার হাদিস ও সুন্নাহ বর্ণনা করবে।”

পরবর্তী অনুচ্ছেদে বর্ণিত মুতাওয়াতির হাদিসে আছে: “আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সতেজ ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমার কথা শুনল, তা স্মরণ রাখল এবং ঠিক যেভাবে শুনেছে সেভাবেই পৌঁছে দিল।” এখানে তিনি ‘নদরাহ’ বা সজীবতা ও সৌন্দর্যের দোয়া করেছেন। ইবনে উইয়াইনাহ বলেন, “এই হাদিসের বরকতে প্রত্যেক আহলে হাদিসের চেহারাতেই এক বিশেষ সজীবতা ও উজ্জ্বলতা বিদ্যমান থাকে।”

কোনো কোনো মহান ইমাম যখন হাদিস অন্বেষণকারীদের দেখতেন, তখন এই কবিতা আবৃত্তি করতেন:

স্বাগতম ও সুস্বাগতম তাঁদের প্রতি যাঁদের আমি ভালোবাসি … এবং যাঁদের আমি নেয়ামতসমূহের মালিক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মহব্বত করি।
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ৭)
أهلاً بقوم صالحين ذوي تقى … غر الوجوه وزين كل ملاء

يا طالبي علم النبي محمد … ما أنتم وسواكم بسواء.

وللحافظ أبي طاهر السلفي:

دين النبي وشرعه إخبار … وأجل علم يقتفي آثاره

من كان مشتغلاً بها وبنشرها … بين البرية لا عفت آثاره

وروى ابن عبد البر بسنده إلى عبد الله بن الإمام أحمد بن حنبل عن أبيه قال:

دين النبي محمد آثار … نعم المطية للفتى الإخبار

لا تعد عن علم الحديث وأهله … فالرأي ليل والحديث نهار

ولربما جهل الفتى طرق الهدي … والشمس طالعة لها أنوار

وإن أهل هذا الفن قد قسموه أنواعاً: ووضعوا في كل نوع منه أوضاعاً: ومن أنواعه المذكورة: الأحاديث المتواترة المشهورة: وقد نهضت قبل هذا الأوان: لجمع ما وقفت عليه منها في بطون الدفاتر ومقيدات الإخوان: حتى جمعت منها جملة وافرة: وعدة جليلة متكاثرة: ولما خفت عليها من الدروس والضياع: جمعتها مقيد للانتفاع (وسمته بنظم المتناثر من الحديث المتواتر) وكان ذلك قبل وقوفي للسيوطي على أزهاره المتناثرة، الذي لخصه في فوائده المتكاثرة ثم بعد وقوفي عليه: أضفت ما فيه إليه ولم أدع حديثاً من أحاديثه إلا ذكرته: وبقولي عند ذكره "أورده في الأزهار من حديث فلان" ميزته ثم أذكر ما عده فيه من الصحابة أو التابعين: مسقطاً لما ذكره من المخرجين: فإن تيسرت زيادة نبهت عليها: وبلفظة قلت بعد كلامه أشرت إليها وما لم يذكر أتيت فيه بما يسره الله على من غير تعرض إليه: فيعلم من ذلك أني لم أجد ذلك الحديث لديه
হে পুণ্যবান ও মুত্তাকী সম্প্রদায়, তোমাদের স্বাগতম … উজ্জ্বল চেহারার অধিকারী এবং প্রতিটি মজলিসের শোভা।

হে নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইলম অন্বেষণকারীগণ … তোমরা এবং অন্যেরা সমান নও।

এবং হাফেজ আবু তাহের আস-সিলাফী বলেন:

নবীজির দ্বীন ও তাঁর শরীয়ত হলো বর্ণনা … আর সবচেয়ে মহান ইলম হলো যাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করা হয়।

যে ব্যক্তি তা নিয়ে এবং সৃষ্টির মাঝে তা প্রচারে লিপ্ত থাকে … তার স্মৃতি কখনও মুছে যাবে না।

ইবনে আব্দুল বার তাঁর সনদে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল-এর পুত্র আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দ্বীন হলো আসার (নির্ভরযোগ্য বর্ণনা) … একজন যুবকের জন্য বর্ণনাসমূহ কতই না উত্তম সওয়ারি।

হাদীসের ইলম এবং এর ধারক-বাহকদের থেকে বিমুখ হয়ো না … কারণ নিজস্ব রায় বা মত হলো অন্ধকার রাত আর হাদীস হলো আলোকিত দিন।

কখনও কখনও একজন যুবক হেদায়াতের পথ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে … অথচ সূর্য তার সমস্ত আলো নিয়ে উদিত হয়।

আর নিশ্চয়ই এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞরা একে বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত করেছেন এবং প্রতিটি প্রকারের জন্য মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন। আর এর উল্লেখযোগ্য প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: মুতাওয়াতির ও মশহুর হাদীসসমূহ। আমি বর্তমান সময়ের পূর্বেই পাণ্ডুলিপি এবং ভাইদের সংকলনসমূহ হতে প্রাপ্ত এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংগ্রহে ব্রতী হয়েছিলাম; ফলে আমি সেখান থেকে এক বিশাল অংশ এবং এক মহান ও অজস্র সংখ্যা সংগ্রহ করেছি। যখন আমি এগুলোর বিলুপ্তি ও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করলাম, তখন আমি উপকারের লক্ষ্যে তা লিপিবদ্ধ করে একত্রিত করলাম (এবং এর নামকরণ করলাম 'নাজমুল মুতানাসির মিনাল হাদীসিল মুতাওয়াতির')। আর এটি সুয়ূতী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর 'আল-আযহারুল মুতানাসিরা' গ্রন্থটি দেখার পূর্বের কথা, যা তিনি তাঁর 'আল-ফাওয়াইদুল মুতাকাসিরা' গ্রন্থে সংক্ষেপ করেছেন। অতঃপর তা দেখার পর, তাঁর গ্রন্থে যা ছিল আমি এতে তা সংযোজন করেছি এবং তাঁর বর্ণিত কোনো হাদীসই আমি উল্লেখ করা থেকে বাদ দিইনি। আমি তাঁর উল্লেখিত হাদীসের ক্ষেত্রে "তিনি এটি 'আযহার' গ্রন্থে অমুকের হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন" বলার মাধ্যমে সেটিকে পৃথক করেছি। এরপর তিনি সেখানে সাহাবী বা তাবিঈগণের মধ্য থেকে যাদেরকে গণ্য করেছেন আমি তা উল্লেখ করি এবং তিনি যে সকল হাদীস বর্ণনাকারীদের (মুখাররিজীন) কথা উল্লেখ করেছেন তা বাদ দিয়েছি। যদি কোনো অতিরিক্ত তথ্য সহজলভ্য হয় তবে আমি সেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি এবং তাঁর বক্তব্যের পর "আমি বলছি" শব্দের মাধ্যমে তা ইঙ্গিত করেছি। আর তিনি যা উল্লেখ করেননি, আমি সেখানে তাঁর দিকে কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ না করেই আল্লাহ যা সহজ করে দিয়েছেন তা নিয়ে এসেছি; যাতে এর দ্বারা বুঝা যায় যে, আমি তাঁর কাছে সেই হাদীসটি পাইনি।
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ৮)
وقد قال السخاوي في مبحث المتواتر من شرح الألفية ما نصه وقد أفرد ما وصف بذلك: يعني بالتواتر في تأليف أما للزركشي أو غيره اهـ.

(قلت) إفراده بالتأليف بعد السخاوي جماعة منهم الشيخ الإمام الحافظ جلال الدين أبو الفضل عبد الرحمان بن أبي بكر السيوطي المتوفى سنة إحدى عشرة وتسعمائة وسماه الفوائد المتكاثرة في الأخبار المتواترة رتبه على الأبواب وجمع فيه ما رواه من الصحابة عشرة فصاعداً مستوعباً فيه كل حديث بأسانيده وطرقه وألفاظه فجاء كتاباً حافلاً لم يسبق كما قال إلى مثله ثم جرد مقاصده في جزء لطيف سماه الأزهار المتناثرة في الأخبار المتواترة اقتصر فيه على ذكر الحديث وعدة من رواه من الصحابة مقروناً بالعزو إلى من خرجه من الأئمة المشهورين.

وعدة أحاديثه فيه ما ذكره هو في آخره مائة لكني عددتها فوجدتها تزيد على ذلك باثني عشر: وإلى الله تعالى حقيقة الخبر ومنهم الشيخ الإمام الحافظ خاتمة المسندين ذو التصانيف العديدة شمس الدين أبو عبد الله محمد بن محمد بن علي بن طولون الحنفي الدمشقي الصالحي المتوفى سنة ثلاث وخمسين وتسعمائة وسماه اللآلئ المتناثرة في الأحاديث المتواترة ومنهم الشيخ أبو الفيض محمد مرتضى الحسيني الزبيدي المصري المتوفى عام خمسة ومائتين وألف وسماه لقط اللآلئ المتناثرة في الأحاديث المتواترة ومنه أخذ السيد النواب صديق بن حسن بن علي القنوجي البخاري الحسيني الأربعين التي جمعها مما بلغ حد التواتر وسماها بالحرز المكنون من لفظ المعصوم المأمون.

وقد قال في شرح النخبة للعلامة أبي الحسن محمد صادق السندي المدني ما نصه "وقد تساهل السيوطي في الحكم بالتواتر فحكم على عدة من الأحاديث بذلك وأوردها في كتاب سماه الأزهار المتناثرة في الأحاديث المتواترة اهـ"
সাখাভী শারহুল আলফিয়্যাহ-এর মুতাওয়াতির সংক্রান্ত আলোচনায় নিম্নোক্ত বক্তব্য প্রদান করেছেন: "যাকে এই গুণ (মুতাওয়াতির) দ্বারা বিশেষায়িত করা হয়েছে, তা নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ যারকাশী অথবা অন্য কারো দ্বারা এটি স্বতন্ত্রভাবে সংকলিত হয়েছে।"

(আমি বলছি) সাখাভীর পরে একদল আলেম মুতাওয়াতির হাদিস নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম হাফিজ জালালুদ্দিন আবু আল-ফাদল আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর আল-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)। তিনি এর নাম রেখেছেন ‘আল-ফাওয়াইদুল মুতাকাসিরাহ ফিল আখবারিল মুতাওয়াতিরাহ’। তিনি এটি অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যস্ত করেছেন এবং এতে এমন সব হাদিস জমা করেছেন যা দশজন বা তার বেশি সাহাবী বর্ণনা করেছেন। তিনি এতে প্রতিটি হাদিস তার সনদ, সূত্র ও শব্দসহ বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। ফলে এটি একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থে পরিণত হয়েছে, যার সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেছেন যে, এর আগে এমন কাজ আর করা হয়নি। এরপর তিনি এর মূল উদ্দেশ্যসমূহ একটি সংক্ষিপ্ত অংশে সারসংক্ষেপ করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন ‘আল-আযহারুল মুতানাসিরাহ ফিল আখবারিল মুতাওয়াতিরাহ’। এতে তিনি কেবল হাদিসটি এবং তা বর্ণনাকারী সাহাবীদের সংখ্যা উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, সাথে সাথে প্রসিদ্ধ ইমামদের মধ্য থেকে যারা এটি বর্ণনা করেছেন তাদের উদ্ধৃতিও প্রদান করেছেন।

এই গ্রন্থে হাদিসের সংখ্যা সম্পর্কে তিনি এর শেষে একশটির কথা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু আমি যখন তা গণনা করলাম তখন সেগুলোকে এর চেয়ে বারোটি বেশি পেলাম। প্রকৃত সংবাদ মহান আল্লাহর নিকট। তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন শেখ ইমাম হাফিজ, মুসনিদদের শেষ প্রতিনিধি এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে তুলুন আল-হানাফি আদ-দিমাশকি আস-সালিহি (মৃত্যু ৯৫৩ হিজরি)। তিনি এর নাম রেখেছেন ‘আল-লাআলিল মুতানাসিরাহ ফিল আহাদিসিল মুতাওয়াতিরাহ’। তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন শেখ আবুল ফায়জ মুহাম্মদ মুরতাজা আল-হুসাইনি আল-জাবিদি আল-মিসরি (মৃত্যু ১২০৫ হিজরি)। তিনি এর নাম রেখেছেন ‘লাকতুল লাআলিল মুতানাসিরাহ ফিল আহাদিসিল মুতাওয়াতিরাহ’। আর এই গ্রন্থ থেকেই সাইয়্যেদ নওয়াব সিদ্দিক বিন হাসান বিন আলী আল-কান্নৌজি আল-বুখারি আল-হুসাইনি সেই চল্লিশটি হাদিস গ্রহণ করেছেন যা মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তিনি এর নাম রেখেছেন ‘আল-হিরজুল মাকনুন মিন লাফজিল মাসুমিল মামুন’।

আল্লামা আবুল হাসান মুহাম্মদ সাদিক আস-সিন্ধি আল-মাদানি শারহুন নুখবাহ-তে বলেছেন: "সুয়ূতী হাদিসকে মুতাওয়াতির হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন। তিনি বেশ কিছু হাদিসের ওপর এই হুকুম দিয়েছেন এবং সেগুলোকে ‘আল-আযহারুল মুতানাসিরাহ ফিল আহাদিসিল মুতাওয়াতিরাহ’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।"
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ৯)
وهو كذلك فإنه ذكر عدة أحاديث ربما يقطع الحديثي بعدم تواترها ويظهر أيضاً من كلامه أنه قصد جمع المتواتر اللفظي ثم أنه كثيراً ما يورد أحاديث صرح هو أو غيره في بعض الكتب بأن تواترها معنوي.

وهذا قبل الشروع في المقصود بياناً وإيضاحاً وأتى بمقدمة في بيان معنى التواتر لغة واصطلاحاً. فأقول

 

‌‌(مقدمة [عن الحديث المتواتر] ) التواتر بمثناتين

- وهو في اللغة قال في المحصول مجيء الواحد أثر الواحد بفترة بينهما ومثله للقرافي في التنقيح ومنه قوله تعالى {ثم أرسلنا رسلنا تتراً} أي متتابعين رسولاً بعد رسول بينهما فترة.

وحكى عن ابن بري أنه مجيء الشيء بعد الشيء بعضه في أثر بعض وتراً وتراً أو فرداً فرداً يعني من غير فترة بينهما وحكى القولين في القاموس فقال والتواتر التتابع أو مع فترات واقتصر في الصحاح على الثاني في كلامه فقال والمتواترة المتابعة ولا تكون المواترة بين الأشياء إلا إذا وقعت بينهما فترة وإلا فهي مداركة ومواصلة اهـ.

وفي شرح القاموس نقلاً عن الحياني قال المتواتر الشيء يكون هنيهة ثم يجئ الآخر فإذا تتابعت فليست متواترة إنما هي متداركة ومتتابعة قال وقال ابن الأعرابي ترى يترا إذا تراخى في العمل فعمل شيئاً بعد شيء وقال الأصمعي واترت الخبر اتبعت وبين الخبرين هنيهة اهـ.

فعلم أن الأول في كلامنا وهو الثاني في كلام المجد أرجح والله أعلم

- وفي الاصطلاح قال ابن الصلاح في مقدمة علوم الحديث له عبارة عن الخبر الذي ينقله من يحصل العلم بصدقه ضرورة قال ولابد في إسناده من استمرار هذا الشرط في رواته من أوله إلى منتهاه
বিষয়টি তেমনই, কারণ তিনি বেশ কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন যেগুলোর ব্যাপারে একজন হাদিস বিশারদ হয়তো নিশ্চিতভাবে বলবেন যে সেগুলো মুতাওয়াতির নয়। তার বক্তব্য থেকেও এটি স্পষ্ট হয় যে, তিনি শাব্দিক মুতাওয়াতির হাদিসগুলো একত্রিত করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। এরপর তিনি প্রায়শই এমন সব হাদিস উল্লেখ করেন যেগুলোর ব্যাপারে তিনি নিজেই অথবা অন্য কেউ কোনো কোনো কিতাবে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে সেগুলোর মুতাওয়াতির হওয়াটা অর্থগত।

আর মূল বিষয়ে প্রবেশের আগে এটি একটি ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ। তিনি লভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে 'তাওয়াতুর'-এর অর্থ বর্ণনায় একটি ভূমিকা পেশ করেছেন। অতএব আমি বলছি:

 

‌‌(ভূমিকা [মুতাওয়াতির হাদিস প্রসঙ্গে]) 'তাওয়াতুর' শব্দটি দুটি 'তা' যোগে গঠিত

- এটি আভিধানিক অর্থে: 'আল-মাহসুল' গ্রন্থে বলা হয়েছে, এটি হলো বিরতি দিয়ে একের পর এক আসা। 'আত-তানকীহ' গ্রন্থে কারাফিও একই কথা বলেছেন। আর এখান থেকেই আল্লাহ তাআলার বাণী: {তারপর আমি আমার রাসুলদের পাঠিয়েছি একের পর এক}, অর্থাৎ একের পর এক ধারাবাহিকভাবে, যাদের প্রত্যেকের মাঝে বিরতি ছিল।

ইবনে বাররী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি হলো একটি জিনিসের পর আরেকটি আসা, একের পেছনে অন্যটি একে একে বা পৃথক পৃথকভাবে, অর্থাৎ তাদের মাঝে কোনো বিরতি ছাড়াই। 'আল-কামুস' গ্রন্থে দুটি অভিমতই উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন: 'আত-তাওয়াতুর' মানে ধারাবাহিকতা অথবা বিরতিসহ ধারাবাহিকতা। আর 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে শুধুমাত্র দ্বিতীয় অর্থের ওপর সীমাবদ্ধ থেকে বলা হয়েছে: 'আল-মুতাওয়াতুরা' অর্থ ধারাবাহিকতা; আর কোনো জিনিসের মাঝে 'মুওয়াতারা' তখনই হয় যখন তাদের মাঝে বিরতি থাকে, অন্যথায় তা হবে 'মুদারাকা' (তড়িৎ অনুগমন) এবং 'মুওয়াসালা' (সংযুক্তি)। সমাপ্ত।

'শারহুল কামুস'-এ হাইয়ানি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: 'মুতাওয়াতির' হলো কোনো জিনিস আসা, তারপর কিছুক্ষণ থামা এবং এরপর অন্যটি আসা। আর যদি সেগুলো একটানা আসে তবে তা মুতাওয়াতির নয়, বরং তা 'মুদারাকা' এবং 'মুতাতাবি'। তিনি আরও বলেছেন যে, ইবনুল আরাবি বলেছেন: 'তাতা-রাত' শব্দটির অর্থ হলো কাজে শৈথিল্য বা বিরতি দেওয়া, অর্থাৎ একটির পর অন্যটি করা। আসমায়ী বলেছেন: 'আমি খবরের তাওয়াতুর করেছি' অর্থ হলো আমি একের পর এক খবর দিয়েছি এবং দুটি খবরের মাঝে সামান্য বিরতি ছিল। সমাপ্ত।

সুতরাং জানা গেল যে, আমাদের আলোচনায় যেটি প্রথম এবং আল-মাজদ-এর বক্তব্যে যেটি দ্বিতীয়, সেটিই অধিক গ্রহণযোগ্য। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

- আর পরিভাষায়: ইবনুস সালাহ তার 'মুকাদ্দিমা উলুমিল হাদিস'-এ বলেছেন: এটি এমন সংবাদ যা এমন এক দল লোক বর্ণনা করে যাদের সত্যবাদিতার কারণে আবশ্যিকভাবে জ্ঞান বা নিশ্চয়তা অর্জিত হয়। তিনি আরও বলেছেন: এর সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের মধ্যে এই শর্তের নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা থাকা আবশ্যক।
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ১০)
ومن سئل عن إبراز مثال لذلك فيما يروي من الحديث أعياه تطلبه اهـ.

وقال النووي في التقريب هو ما نقله من يحصل العلم بصدقهم ضرورة عن مثلهم من أول الإسناد إلى آخره قال وهو قليل لا يكاد يوجد في روايتهم اهـ.

وقال الجرجاني في مختصره والخبر المتواتر ما بلغت رواته في الكثرة مبلغاً أحالت العادة تواطئهم على الكذب ويدوم هذا فيكون أوله آخره ووسطه كطرفيه كالقرآن والصلوات الخمس اهـ.

وعبارة التاج في جمع الجوامع هو خبر جمع يمتنع زاد شارحه المحلي وغيره عادة تواطئهم على الكذب عن محسوس فقوله خبر الخبر ما قابل الإنشاء وهو ما يحتمل الصدق الذي هو المطابقة للواقع والكذب الذي هو عدم المطابقة بالنظر لذاته والإنشاء ما لا يحتملهما وقوله جمع خرج به خبر الواحد والاثنين فإنه لا يكون متواتراً ولا يسمى بذلك وقوله يمتنع خرج به خبر الجماعة الذين لا يمتنع عليهم التواطؤ أو التوافق كقوم فساق أو كفار أمكن بحسب العادة تواطؤهم أو اتفاقهم على خبر فلا يسمى متواتراً فإن لم يمكن تواطؤهم على الكذب وهم فساق أو كفار سمي متواتراً وهذا بالنظر إلى اصطلاح الأصوليين لأن كلامهم في الخبر المتواتر من الناس.

وأما المحدثون فالظاهر أنه لابد عندهم من الإسلام في رواته لأن كلامهم في التواتر من الحديث على أنه لم يوجد حديث نبوي تواتر بكفار فقط أو فساق حتى يكون للمحدثين نظر إليه كذا قال بعضهم ويخدش فيه أن المحدثين صرحوا أيضا بعدم اشتراط الإسلام والعدالة في رواته كما صرح بذلك الأصوليون فليراجع كلامهم
আর যাকে বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে এর কোনো উদাহরণ পেশ করতে বলা হবে, তা অনুসন্ধান তাকে ক্লান্ত করে দেবে। ইতি।

আর ইমাম নববী তাঁর 'তাক্বরীব' গ্রন্থে বলেছেন: এটি এমন বিষয় যা এমন একদল লোক বর্ণনা করেছেন যাদের সত্যবাদিতা সম্পর্কে স্বত:সিদ্ধভাবে জ্ঞান অর্জিত হয়, তারা অনুরূপ দলের কাছ থেকেই বর্ণনা করেন সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। তিনি বলেছেন, এটি অত্যন্ত কম এবং তাদের বর্ণনায় এর অস্তিত্ব পাওয়াই দুষ্কর। ইতি।

আর জুরজানী তাঁর 'মুখতাসার' গ্রন্থে বলেছেন: মুতাওয়াতির খবর হচ্ছে এমন সংবাদ যার বর্ণনাকারীদের সংখ্যা আধিক্যের দিক থেকে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা অভ্যাসগতভাবে তাদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়াকে অসম্ভব করে দেয় এবং এটি স্থায়ী থাকে, ফলে এর শুরু এর শেষের মতো এবং এর মধ্যভাগ এর উভয় প্রান্তের মতোই হয়, যেমন কুরআন এবং পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। ইতি।

আর 'জামউল জাওয়ামি' গ্রন্থে তাজ (তাজউদ্দীন আস-সুবকী)-এর বক্তব্য হলো: এটি এমন এক জনসমষ্টির সংবাদ যাদের ক্ষেত্রে (তার ব্যাখ্যাকার আল-মাহাল্লী ও অন্যান্যরা অতিরিক্ত যোগ করেছেন: অভ্যাসগতভাবে) কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব। সুতরাং তাঁর উক্তি 'সংবাদ' (খবর) বলতে এমন বিষয় যা ইনশা-এর বিপরীত, আর এটি এমন বিষয় যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সত্য (যা বাস্তবের সাথে মিল থাকা) এবং মিথ্যা (যা বাস্তবের সাথে মিল না থাকা) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। পক্ষান্তরে ইনশা এই দুটির সম্ভাবনা রাখে না। তাঁর উক্তি 'জনসমষ্টি' (জমউন) দ্বারা এক বা দুই ব্যক্তির সংবাদ বাদ পড়েছে, কারণ তা মুতাওয়াতির হয় না এবং সেই নামে অভিহিতও হয় না। তাঁর উক্তি 'অসম্ভব' দ্বারা এমন এক দলের সংবাদ বাদ পড়েছে যাদের পক্ষে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া বা মিলে যাওয়া অসম্ভব নয়, যেমন ফাসেক বা কাফেরদের একটি দল যাদের ক্ষেত্রে অভ্যাস অনুযায়ী কোনো সংবাদের ওপর একমত হওয়া বা মিলে যাওয়া সম্ভব; সুতরাং একে মুতাওয়াতির বলা হবে না। তবে যদি তাদের জন্য মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব হয় যদিও তারা ফাসেক বা কাফের হয়, তবে তাকে মুতাওয়াতির বলা হবে। আর এটি উসুলবিদদের পরিভাষা অনুযায়ী, কারণ তাদের আলোচনা হলো মানুষের পক্ষ থেকে আসা মুতাওয়াতির সংবাদ নিয়ে।

আর মুহাদ্দিসগণের নিকট প্রকাশ্যত এটিই প্রতীয়মান হয় যে, এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে ইসলাম থাকা আবশ্যক। কারণ হাদিসের ক্ষেত্রে তাওয়াতুর নিয়ে তাদের বক্তব্য হলো এই যে, এমন কোনো নবীজির হাদিস পাওয়া যায়নি যা কেবল কাফের বা ফাসেকদের মাধ্যমে মুতাওয়াতির হয়েছে যাতে মুহাদ্দিসগণ সেদিকে দৃষ্টিপাত করতে পারেন। কেউ কেউ এমনটিই বলেছেন। তবে এতে আপত্তি এই যে, মুহাদ্দিসগণও স্পষ্টভাবে এর বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে ইসলাম ও বিশ্বস্ততা (আদালাত) শর্তহীন হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, যেমনটি উসুলবিদগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন। সুতরাং তাদের বক্তব্যগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করা উচিত।
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ১১)
وقولهم لا يقبل ويحتج به من الحديث إلا ما رواه العدل الضابط بأن يكون مسلماً بالغاً إلى آخره ما قالوا في خبر الآحاد لا في المتواتر والله أعلم.

وقوله عادة خرج به التجويز العقلي دون نظر إلى العادة أي مجرداً عنها فإنه لا يمتنع ولا يرتفع ولو بلغ الجمع ما عسى أن يبلغ وقوله تواطئهم على الكذب أي لا عمداً ولا غلطاً ولا نسياناً وقوله عن محسوس أي أمر يدرك بالحس أي بإحدى الحواس الخمس الظاهرة كسمع أو بصر وخرج به ما كان عن أمر معقول أي يدرك بالعقل فإنه يجوز الغلط فيه بل قد يتيقن الغلط كخبر الفلاسفة بقدم العالم أو بانتفاء الحشر للأجساد فلا يسمى متواتراً ولو بلغوا في الكثرة ما عسى أن يبلغوا بل لا يسمى بذلك ولو تيقن صوابه كإخبار أهل مصر من الأمصار بحدوث العالم أو بوجود الصانع وقد استفيد من هذا أنه لابد من إفادته للعلم والمتبادر من كلامهم وصرح به غير واحد اشتراط إفادته له بنفسه أو بقرائن لازمة له إما من أحواله المتعلقة به كان يكون لفظاً واحداً وتركيباً واحداً أو المتعلقة بالخبر عنه كأن يكون موسوماً بالصدق أو بالمخبر به كان يكون من عادته أن يقع أي أمراً مستقرب الوقوع احترازاً عما إذا أفاده بقرائن منفصلة عنه زائدة على ما لا ينفك الخبر عنه كالتفجع وشق الجيب في الخبر بموت الولد أو الوالد مثلاً فلا يسمى متواتراً وبه يعلم أن ما يأتي عن ابن الصلاح وغيره من أن ما اتفق عليه الشيخان أو أخرجه أحدهما بالإسناد المتصل كالمتواتر معنا كهو في إفادة العلم لا في التسمية فإنه لا يسمى متواتراً اصطلاحاً لأن إفادته للعلم ليست بنفسه بل بقرائن خارجية كتلقي الأمة لكتابيهما بالقبول وما أشبه ذلك.

وعلى هذا فقول التاج عقب التعريف السابق وحصول العلم آية اجتماع شرائطه
তাদের কথা যে, হাদিস কেবল তখনই গ্রহণযোগ্য এবং দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য হয় যখন তা একজন ন্যায়পরায়ণ ও প্রখর হেফজ শক্তির অধিকারী (আদিল ও জাবিত) ব্যক্তি বর্ণনা করেন—যার মুসলিম হওয়া, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া ইত্যাদি শর্তাবলি রয়েছে—এই সবকিছুই তারা ‘খবরে ওয়াহিদ’ বা একক সংবাদ সম্পর্কে বলেছেন, ‘মুতাওয়াতির’ বা জনশ্রুত সংবাদের ক্ষেত্রে নয়। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

এবং তার উক্তি ‘স্বাভাবিকভাবে’ (আদাতান) দ্বারা আকলি বা যুক্তিনির্ভর সম্ভাবনাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অভ্যাসের তোয়াক্কা করে না; অর্থাৎ যা অভ্যাস থেকে বিমুক্ত। কারণ এমতাবস্থায় মিথ্যা হওয়া অসম্ভব নয় এবং তা অপসারিতও হয় না, যদিও বর্ণনাকারীদের সংখ্যা যত বেশিই হোক না কেন। আর তার উক্তি ‘তাদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া’ অর্থাৎ—ইচ্ছাকৃতভাবে নয়, ভুলবশত নয় এবং বিস্মৃতিবশতও নয়। আর তার উক্তি ‘ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় থেকে’ অর্থাৎ এমন বিষয় যা পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের কোনো একটির মাধ্যমে অনুভূত হয়, যেমন শ্রবণ বা দর্শন। এর মাধ্যমে আকলি বা বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়সমূহ বাদ পড়েছে যা বিবেকের মাধ্যমে উপলব্ধ হয়; কারণ সেখানে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, এমনকি ভুল নিশ্চিতও হতে পারে। যেমন—বিশ্বজগতের অনাদিত্ব কিংবা মৃতদেহের হাশর বা পুনরুত্থান অস্বীকার করার ব্যাপারে দার্শনিকদের সংবাদ। বর্ণনাকারীদের সংখ্যা যত বেশিই হোক না কেন, একে ‘মুতাওয়াতির’ বলা হবে না। বরং সত্যতা নিশ্চিত হলেও তাকে এই নামে অভিহিত করা হবে না, যেমন কোনো এক জনপদের অধিবাসীদের বিশ্বজগতের সৃষ্টি হওয়া বা স্রষ্টার অস্তিত্ব সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা। এখান থেকে এটিও জানা গেল যে, মুতাওয়াতির হওয়ার জন্য তা থেকে ইলম বা অকাট্য জ্ঞান লাভ হওয়া জরুরি। আলেমদের আলোচনা থেকে যা প্রতীয়মান হয় এবং একাধিক ব্যক্তি যা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন তা হলো—মুতাওয়াতির হওয়ার জন্য শর্ত হলো তা থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা তার সাথে অবিচ্ছেদ্য কোনো অনুষঙ্গের (কারাইন) মাধ্যমে জ্ঞান অর্জিত হওয়া। এই অনুষঙ্গগুলো হয় সংবাদের অবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে—যেমন একই শব্দ বা একই বাক্য গঠন হওয়া; অথবা সংবাদের বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে—যেমন তা সত্যবাদিতার চিহ্নে চিহ্নিত হওয়া; অথবা সংবাদদাতার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে—যেমন ঘটনাটি ঘটা স্বাভাবিক হওয়া। এটি ওইসব ক্ষেত্র থেকে সতর্ক করার জন্য যেখানে বিচ্ছিন্ন কোনো অনুষঙ্গের মাধ্যমে জ্ঞান লাভ হয়, যা সংবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ নয়; যেমন সন্তান বা পিতার মৃত্যু সংবাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিলাপ করা বা জামার কলার ছিঁড়ে ফেলা। এরূপ সংবাদকে মুতাওয়াতির বলা হয় না। এর মাধ্যমেই জানা যায় যে, ইবনুল সালাহ এবং অন্যদের পক্ষ থেকে বর্ণিত এই বক্তব্য—যে বিষয়ে শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) একমত হয়েছেন অথবা তাদের কেউ একজন নিরবচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন তা আমাদের নিকট মুতাওয়াতিরের মতো—এর অর্থ হলো তা জ্ঞান প্রদানের ক্ষেত্রে মুতাওয়াতিরের সমতুল্য, নামকরণের ক্ষেত্রে নয়। কেননা পরিভাষায় একে মুতাওয়াতির বলা হয় না, কারণ এর মাধ্যমে জ্ঞান লাভ হওয়াটা তার নিজস্ব সত্তার কারণে নয়, বরং কিছু বাহ্যিক অনুষঙ্গের কারণে—যেমন উম্মাহ কর্তৃক তাদের কিতাবদ্বয়কে গ্রহণ করে নেওয়া এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।

এর ওপর ভিত্তি করেই পূর্ববর্তী সংজ্ঞার পর আল-তাজের উক্তি হলো: “আর জ্ঞান অর্জিত হওয়াটাই হলো এর শর্তাবলি পূর্ণ হওয়ার নিদর্শন।”
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ১২)
معناه حصول العلم منه بنفسه أو بقرائن لازمة فقط أو مع القرائن المنفصلة وأما منها وحدها فلا يكفي لأن خبر الآحاد قد يفيد العلم بواسطة ما ينضم إليه من القرائن كما يأتي ثم في عبارته على ما قيل قلب والأصل واجتماع شرائطه أي الأمور المحققة له وهي أجزاء ماهيته من كونه جمع الخ آية علامة حصول العلم منه والظاهر هذا إنما يتمشى على القول بأن العلم الحاصل منه نظري لأنه يشترط ح في حصول العلم منه تقدم العلم بالشرائط أي ملاحظتها والالتفات إليها قبل ولا يتمشى على مقابله الراجح من أنه ضروري لأن ذلك لا يشترط بل الشرط عليه وجود الشرائط في نفس الأمر كانت ملحوظة للسامع ملتفتاً إليها أو غير ملحوظة ولا ملتفت إليها وحصول العلم آية اجتماعها والتاج ذهب على هذا الثاني فلا قلب عبارته والنصوص الموافقة له كثيرة.

قال ابن أمير الحاج في شرح التحرير ما نصه الضابط للخبر المتواتر حصول العلم فمتى أفاد الخبر بمجرده العلم تحققنا أنه متواتر وأن جميع شرائطه موجودة وإن لم يفده ظهر عدم تواتره بفقد شرط من شروطه اهـ وانظر حاشية ابن القاسم العبادي على المحلى ولا بد.

ثم إن كانوا طبقة واحدة فواضح أنه يحصل التواتر بخبرهم لوجود قيوده المذكورة وإلا بأن كانوا طبقات ولم يخبر عن محسوس إلا الطبقة الأولى اشترط كونهم جميعاً يمتنع تواطؤهم على الكذب في جميع الطبقات من أول السند إلى انتهائه كما أشار إليه السبكي بعد وكما تقدم عن ابن الصلاح والنووي وخرج به ما إذا لم يوجد الجمع في جميعاً
এর অর্থ হলো তা থেকে সরাসরি জ্ঞান অর্জিত হওয়া, অথবা কেবল অবিচ্ছেদ্য আলামতের মাধ্যমে, অথবা বিচ্ছেদ্য আলামতসহ। তবে কেবল আলামত থেকে জ্ঞান অর্জন যথেষ্ট নয়, কারণ একক সংবাদও (খবরে ওয়াহেদ) তার সাথে যুক্ত হওয়া আলামতের মাধ্যমে জ্ঞান প্রদান করতে পারে, যেমনটি সামনে আসবে। অতঃপর বলা হয়ে থাকে যে, তার বক্তব্যে শব্দবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটেছে; মূল বিষয়টি হলো শর্তাবলির সমষ্টি—অর্থাৎ যা একে বাস্তবে রূপ দেয় এবং যা এর মূল সত্তার অংশ যেমন একটি বড় দল হওয়া ইত্যাদি—তা হলো তা থেকে জ্ঞান অর্জনের নিদর্শন। স্পষ্টতই এই বিষয়টি সেই মতের ভিত্তিতে সঙ্গতিপূর্ণ যা বলে যে, মুতাওয়াতির থেকে অর্জিত জ্ঞান হলো গবেষণালব্ধ (নজরি)। কারণ সেক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জনের জন্য আগে থেকে শর্তাবলি সম্পর্কে জানা অর্থাৎ সেগুলো লক্ষ্য করা এবং সেদিকে মনোযোগ দেওয়া শর্ত। কিন্তু এর বিপরীত প্রবল মতানুযায়ী এটি সঙ্গতিপূর্ণ নয়, যা বলে যে এই জ্ঞান হলো স্বতঃসিদ্ধ (জরুরি)। কেননা সেক্ষেত্রে এমন শর্তারোপ করা হয় না, বরং শর্ত হলো বাস্তবে সেই শর্তাবলি বিদ্যমান থাকা; শ্রোতা সেগুলো লক্ষ্য করুক বা না করুক, সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করুক বা না করুক। আর জ্ঞান অর্জিত হওয়াই হলো শর্তাবলি একত্রিত হওয়ার নিদর্শন। তাজউদ্দীন আস-সুবকী এই দ্বিতীয় মতটি গ্রহণ করেছেন, তাই তার বক্তব্যে কোনো শব্দবিন্যাসের পরিবর্তন নেই এবং এর স্বপক্ষে অসংখ্য পাঠ্যপ্রমাণ বিদ্যমান।

ইবনে আমির আল-হাজ্জ 'শরহুত তাহরীর'-এ উল্লেখ করেছেন, যার ভাষ্য হলো: মুতাওয়াতির সংবাদের মানদণ্ড হলো জ্ঞান অর্জিত হওয়া। সুতরাং যখনই কোনো সংবাদ কেবল তার নিজ সত্তার দ্বারাই জ্ঞান প্রদান করবে, তখনই আমরা নিশ্চিত হব যে এটি মুতাওয়াতির এবং এর সকল শর্ত বিদ্যমান রয়েছে। আর যদি তা জ্ঞান প্রদান না করে, তবে কোনো একটি শর্তের অনুপস্থিতির কারণে এর মুতাওয়াতির না হওয়া স্পষ্ট হয়ে যাবে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত) আর আল-মহাল্লীর ওপর ইবনে কাসিম আল-আবাদীর টীকা অবশ্যই দেখা উচিত।

অতঃপর বর্ণনাকারীগণ যদি কেবল একটি স্তরের হয়, তবে উল্লিখিত শর্তাবলি বিদ্যমান থাকায় তাদের সংবাদের মাধ্যমে মুতাওয়াতির সাব্যস্ত হওয়া স্পষ্ট। আর যদি তারা একাধিক স্তরের হয় এবং কেবল প্রথম স্তর কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের সংবাদ দেয়, তবে শর্ত হলো সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই তাদের সংখ্যা এমন হওয়া যেন মিথ্যার ওপর তাদের একমত হওয়া অসম্ভব হয়; যেমনটি পরবর্তীতে সুবকী ইঙ্গিত করেছেন এবং পূর্বে ইবনুস সালাহ ও নববী বর্ণনা করেছেন। এর মাধ্যমে ওই পরিস্থিতি বর্জিত হলো যেখানে সকল স্তরে সেই প্রয়োজনীয় জনসমষ্টি বিদ্যমান নেই।
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ১৩)
ووجد في بعضها فقط فإنه لا يسمى متواتراً لأن الحكم في مثله للأقل غريباً أو عزيزاً حتى يوجد الجمع في كل طبقة ابتداء ووسطاً وانتهاء وخرج أيضاً ما إذا وجد الجمع ولم يوجد العلم في جميع الطبقات أو في بعضها ولو في واحدة منها فإنه لا يسمى متواتراً بل مشهوراً أو مستفيضاً.

قال الشهاب ابن حجر المكي في فتاويه ولا يكفي احتمال التواتر ولا ظنه كما هو معلوم لأن المشكوك والمظنون لا ينتج القطع اهـ ثم هذا الذي ذكروه من إفادته للعلم هو الحق ومذهب الجمهور معناه في الماضيات والحاضرات وأنكره جماعة من العقلاء كالسمانية والبراهمة وقالوا إنه لا يفيد إلا الظن فيهما معاً ومنهم من أنكره في الماضيات واعترف به في الحاضرات وإنكارهم المذكور مكابرة فإنا نجد من أنفسنا العلم بالبلاد النائية كمكة والمدينة وبغداد وبالأمم الخالية كقوم موسى وعيسى وليس هو إلا بالإخبار.

قال السعد في شرح النسفية فإن قيل خبر كل واحد لا يفيد إلا الظن وضم الظن إلى الظن لا يوجب اليقين وأيضاً جواز كذب كل واحد يوجب كذب المجموع لأنه نفس الآحاد قلنا ربما يكون مع الاجتماع ما لا يكون مع الانفراد كقوة الحبل المؤلف من الشعرات اهـ والعلم الحاصل به ضروري على الأصح وهو مذهب الجمهور من المحدثين والأصوليين لحصوله لمن لا يتأتى منه النظر كالبله والصبيان ومعنى كونه ضرورياً أنه يضطر الإنسان إليه عند اجتماع الشرائط بحيث لا يمكنه دفعه لا نظري خلافاً للكعبي وأبي الحسن البصري من المعتزلة وإمام الحرمين والغزالي من أهل السنة.

(فإن قيل) الضروريات لا يقع فيها التفاوت ولا الاختلاف ونحن نجد العلم بكون الواحد نصف الاثنين أقوى من العلم بوجود اسكندر مثلاً والمتواتر قد أنكر إفادة العلم به طوائف كما تقدم (
এবং যদি এটি শুধুমাত্র কোন কোন স্তরে পাওয়া যায়, তবে তাকে মুতাওয়াতির বলা হবে না; কারণ এই ধরনের ক্ষেত্রে হুকুম বা বিধানটি সর্বনিম্ন সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়—অর্থাৎ তা ‘গরীব’ বা ‘আযীয’ হিসেবে গণ্য হয়—যতক্ষণ না প্রতিটি স্তরে (শুরুতে, মাঝে এবং শেষে) জনসমষ্টির উপস্থিতি পাওয়া যায়। আরও বর্জিত হয়েছে সেই অবস্থা যখন জনসমষ্টির সমাবেশ বিদ্যমান কিন্তু সকল স্তরে বা কোন কোন স্তরে (এমনকি একটি স্তরেও) নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয়নি; কারণ সেক্ষেত্রে একে মুতাওয়াতির বলা হবে না, বরং তা ‘মাশহুর’ বা ‘মুস্তাফীদ্ব’ হিসেবে অভিহিত হবে।

শিহাব ইবনে হাজার মক্কী তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে বলেছেন: "মুতাওয়াতির হওয়ার সম্ভাবনা কিংবা সে বিষয়ে কেবল ধারণা যথেষ্ট নয়, যেমনটি সুপরিচিত; কারণ সংশয়পূর্ণ বা ধারণাপ্রসূত বিষয় নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না।" সমাপ্ত। অতঃপর তারা এর মাধ্যমে নিশ্চিত জ্ঞান লাভের যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তাই সত্য এবং এটিই জমহুর বা সংখ্যাগুরু আলিমদের অভিমত; যার অর্থ হলো অতীত ও বর্তমান উভয় ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। একদল যুক্তিবাদী যেমন সামানিয়্যাহ ও ব্রাহ্মণরা একে অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে, উভয় ক্ষেত্রেই এটি কেবল ধারণা প্রদান করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অতীতের ক্ষেত্রে একে অস্বীকার করেছেন কিন্তু বর্তমানের ক্ষেত্রে স্বীকার করেছেন। তাদের উক্ত অস্বীকৃতি মূলত হঠকারিতা; কারণ আমরা আমাদের নিজেদের মধ্যেই দূরবর্তী দেশসমূহ যেমন মক্কা, মদিনা ও বাগদাদ সম্পর্কে এবং বিগত উম্মতসমূহ যেমন মুসা ও ঈসা—আলাইহিমাস সালাম—এর কওম সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করি, আর তা কেবল সংবাদ বা খবরের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে।

আল-সা’দ শারহুন নাসাফিয়্যাহ-তে বলেছেন: "যদি বলা হয় যে, প্রত্যেক ব্যক্তির একক খবর কেবল ধারণা প্রদান করে, আর ধারণার সাথে ধারণা যোগ করলে তা নিশ্চিত বিশ্বাস আবশ্যক করে না; তদুপরি প্রত্যেক ব্যক্তির মিথ্যা বলার সম্ভাবনা সমষ্টির মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনাকে আবশ্যক করে, কারণ সমষ্টি মূলত এককেরই সমন্বয়। আমরা বলি: সম্ভবত একত্রিত অবস্থায় এমন কিছু শক্তির উদ্ভব ঘটে যা পৃথক অবস্থায় থাকে না, যেমন চুলের তন্তু দিয়ে তৈরি রশির শক্তি।" সমাপ্ত। এর মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ‘অধিকতর সঠিক’ মতানুসারে ‘জরুরি’ বা স্বতঃসিদ্ধ; আর এটিই মুহাদ্দিস ও উসূলবিদগণের জমহুর বা অধিকাংশের অভিমত। কারণ এই জ্ঞান তাদেরও অর্জিত হয় যাদের পক্ষে তাত্ত্বিক গবেষণা করা সম্ভব নয়, যেমন নির্বোধ ব্যক্তি বা শিশু। ‘জরুরি’ হওয়ার অর্থ হলো, শর্তাবলি পূরণ হলে মানুষ তা গ্রহণ করতে বাধ্য হয় এবং তা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তার থাকে না। এটি ‘নযরি’ বা তাত্ত্বিক নয়; যা আল-কা’বী ও মুতাযিলাদের আবুল হাসান আল-বাসরী এবং আহলে সুন্নাতের ইমামুল হারামাইন ও আল-গাযালীর মতের পরিপন্থী।

(যদি বলা হয়) ‘জরুরি’ বা স্বতঃসিদ্ধ বিষয়সমূহে কোনো তারতম্য বা মতভেদ ঘটে না; অথচ আমরা দেখতে পাই যে, ‘এক হলো দুইয়ের অর্ধেক’—এই বিষয়ের জ্ঞান আলেকজান্ডারের অস্তিত্বের জ্ঞানের চেয়ে অধিক শক্তিশালী। তদুপরি মুতাওয়াতির যে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে, তা ইতিপূর্বে উল্লেখিত বিভিন্ন গোষ্ঠী অস্বীকার করেছে (
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ১৪)
قلنا) هذا ممنوع بل قد تتفاوت أنواع الضروري بواسطة التفاوت في الألف والممارسة والإخطار بالبال وتصورات أطراف الأحكام وقد يختلف فيه مكابرة وعناداً كالسوفسطائية في جميع الضروريات والخلاف فيما قالوه لفظي لا حقيقي لأن إمام الحرمين كما أفصح به الغزالي التابع له فسر كون العلم الحاصل به نظرياً أخذاً من كلام الكعبي بتوقفه على مقدمات حاصلة عند السامع أي على التفات نفسه إليها وملاحظته لها وتقدم علمه بها وهي كونه خبر جمع وكونهم بحيث يمتنع عادة تواطؤهم على الكذب وكونهم أخبروا عن شيء محسوس لا يشتبه وهذا لا ينافي كونه ضرورياً والمنافي لذلك تفسيره بالاحتياج إلى النظر عقبه هكذا قالوا وفيه نظر والحق أنه حقيقي لأن القائل بأنه نظري يشترط في حصوله تقدم العلم بالمقدمات والقائل بأنه ضروري لا يشترط ذلك بل الشرط عنده وجودها في نفس الأمر أعم من أن تكون حاصلة في النفس أو مغفولاً عنها ولذا يستدلون بحصول العلم على حصولها وتوقف إلا مدى من الشافعية والمرتضي الرافضي عن القول بواحد من الضروري والنظري لتعارض دليلهما عندهما من حصوله لمن لا يتأتى منه النظر وتوقفه على تلك المقدمات المحققة له وتوقفهما يدل على أنهما فهما أن الخلاف حقيقي كما ذكرنا والتوقف هو الذي صححه صاحب المصادر أيضاً والله أعلم ثم التواطؤ المذكور إن وقع بين ذلك الجمع في اللفظ والمعنى زاد بعضهم تبعاً لاستظهار ابن قاسم العبادي أو في المعنى فقط مع اختلاف اللفظ لأنه وإن اختلف في حكم المتحد لاتحاد معنى سمى التواتر اللفظي وإن اختلفوا فيهما أعني في اللفظ والمعنى معا مع الاتفاق على معنى كلي ولو تضميناً أو التزامياً سمى التواتر المعنوي كوقائع حاتم في عطاياه وعلي في حروبه وعمر في عدله وجلادته وأبي ذر في زهده وكوقائع الشيخ عبد القادر الجيلاني في كراماته فإنها اتفقت على معنى كلي وهو القدر المشترك بين آحاد تلك الوقائع وهو جود هذا وشجاعة هذا وعدل هذا وزهد هذا وكرامات هذا فيكون ذلك القدر المشترك بينهما بقطع النظر عن متعلقه متواتراً تواتراً معنوياً وإن كانت كل واقعة بانفرادها غير متواترة إلا شيئاً قليلاً من بعض تلك

(আমরা বলি) এটি নিষিদ্ধ, বরং অভ্যস্ততা, অনুশীলন, স্মৃতিতে জাগ্রত হওয়া এবং হুকুমের প্রান্তিক বিষয়সমূহের উপলব্ধির তারতম্যের কারণে 'জরুরি' (আবশ্যকীয়) জ্ঞানের প্রকারভেদ হতে পারে। কখনো কখনো হঠকারিতা ও একগুঁয়েমিবশত এতে মতভেদ দেখা দেয়, যেমনটি সফেস্তাবাদীরা সমস্ত জরুরি বিষয়ের ক্ষেত্রে করে থাকে। তারা যা বলেছে সে ক্ষেত্রে বিরোধটি শাব্দিক, প্রকৃত নয়। কারণ ইমামুল হারামাইন — যেমনটি তাঁর অনুসারী ইমাম গাজালি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন — আল-কাব্বীর বক্তব্য থেকে গ্রহণ করে এর মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানকে 'নজরি' (তাত্ত্বিক) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এই হিসেবে যে, এটি শ্রোতার কাছে উপস্থিত কিছু ভূমিকার ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ, মনের সেদিকে নিবিষ্ট হওয়া, তা পর্যবেক্ষণ করা এবং সে সম্পর্কে তার পূর্বজ্ঞান থাকার ওপর এটি নির্ভরশীল। আর সেই ভূমিকাগুলো হলো: এটি একটি বড় জনসমষ্টির সংবাদ হওয়া, এবং তাদের অবস্থা এমন হওয়া যাতে সাধারণভাবে তাদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব হয়, এবং তারা এমন কোনো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া যাতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। আর এটি বিষয়টি 'জরুরি' হওয়ার পরিপন্থী নয়। যা এর পরিপন্থী তা হলো এর পরপরই চিন্তা-গবেষণার (নজর) প্রয়োজনীয়তা দ্বারা একে ব্যাখ্যা করা। তারা এভাবেই বলেছেন, তবে এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। সত্য কথা হলো যে, বিরোধটি প্রকৃত। কারণ যারা এটিকে 'নজরি' বলেন, তারা এটি অর্জিত হওয়ার জন্য ভূমিকার পূর্বজ্ঞান থাকাকে শর্ত করেন। আর যারা এটিকে 'জরুরি' বলেন, তারা একে শর্ত করেন না; বরং তাদের নিকট শর্ত হলো বাস্তব ক্ষেত্রে সেগুলোর অস্তিত্ব থাকা, চাই তা মনে অর্জিত থাকুক বা তা থেকে উদাসীন থাকুক। এজন্যই তারা জ্ঞান অর্জিত হওয়াকে সেই ভূমিকাগুলো অর্জিত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন। শাফেয়িগণের মধ্যে আল-আমেদি এবং রাফেজিদের মধ্যে মুরতজা 'জরুরি' বা 'নজরি' কোনো একটির প্রবক্তা হওয়া থেকে বিরত থেকেছেন (তাওয়াক্কুফ করেছেন)। কারণ তাদের নিকট দলীলদ্বয় পরস্পর বিরোধী মনে হয়েছে; একদিকে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রেও এই জ্ঞান অর্জিত হয় যার পক্ষে চিন্তা-গবেষণা করা সম্ভব নয়, আবার অন্যদিকে এটি এমন কিছু সুনিশ্চিত ভূমিকার ওপর নির্ভরশীল যা একে বাস্তবায়ন করে। তাদের এই বিরত থাকা প্রমাণ করে যে তারা বুঝেছিলেন বিরোধটি প্রকৃত, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। আর এই বিরত থাকাই 'আল-মাসাদির' গ্রন্থের লেখক সঠিক বলে গণ্য করেছেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। অতঃপর উক্ত ঐকমত্য যদি সেই জনসমষ্টির মধ্যে শব্দ ও অর্থ উভয় ক্ষেত্রে ঘটে — ইবনে কাসিম আল-আব্বাদির ব্যাখ্যার অনুসরণে কেউ কেউ এটি যুক্ত করেছেন — অথবা শব্দের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও কেবল অর্থের ক্ষেত্রে ঘটে, কারণ অর্থের ঐক্যের কারণে শব্দের ভিন্নতা থাকলেও তা অভিন্ন বিষয়ের হুকুম রাখে, তবে তাকে শাব্দিক তওয়াতুর বলা হয়। আর যদি তারা উভয় ক্ষেত্রেই ভিন্নতা পোষণ করেন, অর্থাৎ শব্দ ও অর্থ উভয় ক্ষেত্রেই, তবে একটি সামগ্রিক অর্থের ক্ষেত্রে একমত হন — যদিও তা নিহিতার্থ বা অপরিহার্যভাবে হয় — তাকে অর্থগত তওয়াতুর বলা হয়। যেমন হাতেমের দানশীলতার ঘটনাবলি, আলীর যুদ্ধসমূহের বীরত্ব, ওমরের ন্যায়বিচার ও দৃঢ়তা এবং আবু জারের দুনিয়াবিমুখতার ঘটনাবলি। এবং শেখ আব্দুল কাদের জিলানির কারামতের ঘটনাবলি; কারণ সেগুলো একটি সামগ্রিক অর্থের ওপর একমত হয়েছে, যা সেই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর মধ্যকার একটি সাধারণ অংশ। আর তা হলো এর দানশীলতা, এর বীরত্ব, এর ন্যায়বিচার, এর দুনিয়াবিমুখতা এবং এর কারামতসমূহ। সুতরাং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সেই সাধারণ অংশটি অর্থগতভাবে তওয়াতুর হিসেবে গণ্য হবে, যদিও প্রতিটি ঘটনা এককভাবে তওয়াতুর পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে সেগুলোর কিছু সামান্য অংশ ব্যতীত।

(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ১৫)
الوقائع فإنه وجد متواتر اللفظ أيضاً وتردد بعض المتأخرين في الاختلاف في الألفاظ أو بعضها مع تقارب المعنى كحديث حنين الجذع فإنه روى فيه صاح وخار وجعل يئن وحن وبكى.

هل يضر فيكون التواتر معنوياً أو لا يضر فيكون لفظياً والظاهر أنه لا يضر أيضاً وإلا لما صح عد كثير من الأحاديث التي هذا سبيلها من المتواتر اللفظي وقد عدها منه جماعة من الأئمة وقول التاج السابق خبر جمع الخ شامل لقسمي اللفظي والمعنوي وفاقاً للمحلي والشيخ حلولوا وخلافاً للعراقي لأن حمله عليها أكثر فائدة والأصح أنه لا يشترط في رواته إسلام ولا عدالة ولا بلوغ ولا عدم احتواء بلدة واحدة عليهم فيجوز أن يكونوا كفاراً أو فساقاً أو صبياناً وأن تحويهم بلدة واحدة وكذا لا يشترط فيهم عدد محصور ولا صفة معينة بل البلوغ إلى حد وحالة تحيل العادة معهما تواطئهم على الكذب في جميع الطبقات ولو كان العدد في بعضها قليلاً وفي بعضها كثيراً والصفات العلية في الرواة تقوم مقام العدد أو تزيد عليه كما قرره ابن حجر في نكت علوم الحديث وشرح النخبة وعلى اشتراط العدد اختلف في أقل العدد المشروط بعد اتفاقهم على عدم الاكتفاء بالواحد والاثنين فقيل أربعة قياساً على شهود الزنى وقال القاضي أبو بكر الباقلاني أقطع بأن أقول الأربعة لا يفيدون وأتوقف في الخمسة وجرى عليه في جمع الجوامع فقال ولا تكفي الأربعة وفاقاً للقاضي والشافعية وما زاد عليها صالح من غير ضبط يعني بعدد معين وتوقف القاضي في الخمسة اهـ.

وهو يفيد أنه لو اتفق الأئمة الأربعة بل الخلفاء الأربعة على رواية حديث لا يفيد خبرهم العلم وليس كذلك فالصواب ح القول بأنها قد تكفي وقيل خمسة قياساً على اللعان وقيل سبعة لاشتمالها على أنصباء الشهادة الثلاثة وهي الأربعة والاثنان والواحد وقيل عشرة لقوله تعالى {تلك عشرة كاملة} لأنها أول جموع الكثرة وهذا قاله الأصطخري قال السيوطي في شرح التقريب وهو المختار وكتابه في المتواترات مبني عليه لأنه جمع فيه ما رواه عشرة من الصحابة فصاعداً كما تقدم التنبيه عليه وفي الإغارة المصبحة على مانع الإشارة بالمسبحة للعلامة السيد محمد رسول البرزنجي الحسيني أثناء كلام
ঘটনাপ্রবাহের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, শব্দগত মুতাওয়াতিরও পাওয়া যায়। তবে কোনো কোনো পরবর্তী যুগের আলেম শব্দের ভিন্নতা অথবা কাছাকাছি অর্থের শব্দ ব্যবহারের কারণে একে শব্দগত মুতাওয়াতির বলার ক্ষেত্রে দ্বিধাবোধ করেছেন, যেমন খেজুর গাছের কাণ্ডের আকুল হয়ে কাঁদার হাদীসটি। কারণ এতে বিভিন্ন শব্দ বর্ণিত হয়েছে যেমন: সেটি চিৎকার করেছে, গোঙানি দিয়েছে, আর্তনাদ করতে শুরু করেছে, ব্যাকুল হয়েছে এবং কেঁদেছে।

এতে কি কোনো ক্ষতি হবে যার ফলে এটি অর্থগত মুতাওয়াতির হয়ে যাবে, নাকি এতে কোনো ক্ষতি হবে না বরং এটি শব্দগত মুতাওয়াতিরই থাকবে? প্রকাশ্য মত হলো এতে কোনো ক্ষতি হবে না। অন্যথায় এমন অনেক হাদীসকে শব্দগত মুতাওয়াতির হিসেবে গণ্য করা সঠিক হতো না যেগুলোর অবস্থা এর অনুরূপ। অথচ একদল ইমাম সেগুলোকে শব্দগত মুতাওয়াতির হিসেবেই গণ্য করেছেন। আল্লামা তাজউদ্দীন আস-সুবকীর পূর্বোক্ত উক্তি ‘একটি দলের সংবাদ...’ ইত্যাদি শব্দগত ও অর্থগত উভয় প্রকার মুতাওয়াতিরকেই অন্তর্ভুক্ত করে। এটি ইমাম মাহাল্লী এবং শায়খ হালুলুর মতের অনুকূলে এবং ইমাম ইরাকির মতের পরিপন্থী; কারণ এর ওপর প্রয়োগ করা অধিক অর্থবহ। সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত হলো, এর বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে ইসলাম, ন্যায়পরায়ণতা, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া বা কোনো নির্দিষ্ট শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকা শর্ত নয়। সুতরাং তারা কাফের, ফাসেক বা শিশু হতে পারে এবং একটি শহরও তাদের ধারণ করতে পারে। অনুরূপভাবে তাদের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা নির্দিষ্ট কোনো গুণ থাকাও শর্ত নয়, বরং এমন একটি সংখ্যা ও অবস্থায় পৌঁছানোই যথেষ্ট যার ফলে সাধারণ অভ্যাসের ভিত্তিতে সকল স্তরে তাদের মিথ্যা বলার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব মনে হয়, যদিও কোনো স্তরে সংখ্যা কম এবং কোনো স্তরে বেশি হয়। বর্ণনাকারীদের উচ্চতর গুণাবলি সংখ্যার স্থলাভিষিক্ত হয় অথবা সংখ্যার চেয়েও বেশি গুরুত্ব বহন করে, যেমনটি ইবনে হাজার ‘নুকাত উলূমিল হাদীস’ এবং ‘শারহু নাখবা’ গ্রন্থে নির্ধারণ করেছেন। সংখ্যার শর্তারোপের ক্ষেত্রে, এক এবং দুই জনের বর্ণনায় জ্ঞান অর্জিত না হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যের পর সর্বনিম্ন সংখ্যার বিষয়ে মতভেদ হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন চার জন হতে হবে, ব্যভিচারের সাক্ষীর ওপর কিয়াস করে। কাজী আবু বকর আল-বাকিল্লানি বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে বলছি যে চার জন নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না এবং পাঁচ জনের ক্ষেত্রে আমি সিদ্ধান্তহীন’। ‘জামউল জাওয়ামি’ গ্রন্থেও এই মতটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, কাজী এবং শাফেয়ীদের সাথে একমত হয়ে চার জন যথেষ্ট নয়। তবে এর চেয়ে বেশি হলে তা নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নির্ধারণ করা ছাড়াই গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কাজী পাঁচ জনের ব্যাপারে সিদ্ধান্তহীন ছিলেন—উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

এর দ্বারা বোঝা যায় যে, যদি চার ইমাম, এমনকি চার খলীফাও কোনো হাদীস বর্ণনার ওপর ঐক্যবদ্ধ হন, তবে তাঁদের সংবাদ নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করবে না। বিষয়টি আসলে তেমন নয়। বরং সঠিক কথা হলো, এই সংখ্যাও কখনো যথেষ্ট হতে পারে। কারো মতে পাঁচ জন, লিআনের ওপর কিয়াস করে। কারো মতে সাত জন, কারণ এটি সাক্ষ্যের তিনটি অংশ অর্থাৎ চার, দুই এবং এককে অন্তর্ভুক্ত করে। কারো মতে দশ জন, আল্লাহর বাণী {এটি পূর্ণ দশ} এর কারণে, কারণ এটি বহুবচনের প্রথম সংখ্যা। এটি ইমাম ইসতাখরী বলেছেন। ইমাম সুয়ূতী ‘শারহুত তাকরীব’ গ্রন্থে বলেছেন যে এটিই পছন্দনীয় মত। মুতাওয়াতির বিষয়ক তাঁর গ্রন্থটি এই ভিত্তির ওপরই রচিত, কারণ তিনি সেখানে দশ জন বা তার বেশি সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত হাদীসগুলোই সংগ্রহ করেছেন, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লামা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ রাসূল আল-বারজানজি আল-হুসাইনির ‘আল-ইগারা আল-মুসবাহা আলা মানি’ আল-ইশারা বিল মুসাব্বিহা’ গ্রন্থে আলোচনার এক পর্যায়ে...
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ১৬)
له ما نصه وقد قال الحافظ السيوطي في الأزهار المتناثرة في الأخبار المتواترة أن كل حديث رواه عشرة من الصحابة فهو متواتر عندنا معشر أهل الحديث اهـ.

وقيل اثنا عشر عدد نقباء بني إسرائيل وقيل عشرون لقوله {إن يكن منكم عشرون صابرون يغلبوا مائتين} وقيل أربعون لقوله عليه السلام خير السرايا أربعون وقيل خمسون قياساً على القسامة وقيل سبعون لاختيار موسى سبعين رجلاً لميقاته حتى يسمعوا كلام الله ويخبروا من وراءهم وقيل ثلاثمائة وبضعة عشر عدة أصحاب طالوت وأهل بدر وقيل ألف وأربعمائة أو خمسمائة عدة أهل بيعة الرضوان قال بعضهم وهذه المذاهب كلها باطلة لا تستحق أن يلتفت إليها وشبهاتهم واهية لا حاجة إلى التصريح بدفعها اهـ.

وقال في ظفر الأماني في شرح مختصر الجرجاني وهذه كلها وأمثالها أقوال فاسدة والتحقيق الذي ذهب إليه جمع من المحدثين هو أنه لا يشترط للتواتر عدد إنما العبرة بحصول العلم القطعي فإن رواه جمع غفير ولم يحصل العلم به لا يكون متواتراً وإن رواه جمع قليل وحصل العلم الضروري يكون متواترا البتة اهـ.

والصحيح أن العلم الحاصل منه إن كان عن كثرة العدد وجب حصوله لجميع السامعين وإن كان عن القرائن اللازمة له لم يجب ذلك بل قد يحصل لزيد دون عمرو ولقوم دون آخرين لأن القرائن قد تقوم عند البعض دون البعض وقيل يجب حصوله للكل مطلقاً وقيل لا يجب مطلقاً وفيهما نظر وقد يحصل التواتر عند قوم ولا يحصل عند آخرين لبلوغ طرقه المفيدة له إلى من حصل عنده دون الآخرين كما أنه قد يصح الخبر عند قوم ولا يصح عند آخرين لوصوله إلى الأولين من طريق صحيحة أو طرق أو عدم وصوله إلى الآخرين منها بل من طريق أخرى فيها ضعيف أو كذاب هذا وذكر ابن الصلاح والنووي ومن تبعهما أن مثال المتواتر على
তাঁর বক্তব্য হলো, হাফেজ সুয়ূতী ‘আল-আযহার আল-মুতানাসিরা ফিল আখবার আল-মুতাওয়াতিরা’ গ্রন্থে বলেছেন যে, যে হাদিস দশজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন, তা আমাদের নিকট তথা হাদিস বিশারদদের নিকট মুতাওয়াতির। সমাপ্ত।

আর কেউ কেউ বলেছেন বারোজন, যা বনী ইসরাঈলের প্রতিনিধিদের সংখ্যা। কেউ বলেছেন বিশজন, আল্লাহর এই বাণীর কারণে— “যদি তোমাদের মধ্যে বিশজন ধৈর্যশীল থাকে, তবে তারা দুইশ জনের ওপর বিজয় লাভ করবে”। কেউ বলেছেন চল্লিশজন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে— “সর্বোত্তম ক্ষুদ্র সেনাদল হলো চল্লিশজন”। কেউ বলেছেন পঞ্চাশজন, ‘কাসামাহ’ বা গণশপথের ওপর কিয়াস করে। কেউ বলেছেন সত্তরজন, মূসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর নির্ধারিত সময়ে সত্তরজন লোককে বাছাই করেছিলেন যাতে তারা আল্লাহর কালাম শুনতে পায় এবং তাদের পশ্চাতে থাকা লোকদের সংবাদ দিতে পারে। কেউ বলেছেন তিনশ দশের কিছু অধিক, যা তালূতের সাথী ও বদরবাসীদের সংখ্যা। কেউ বলেছেন চৌদ্দশ বা পনেরোশ, যা বাইয়াতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা। তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এই সমস্ত মতবাদ বাতিল, এগুলো কোনো ভ্রূক্ষেপ করার যোগ্য নয় এবং তাদের সংশয়গুলো এতই দুর্বল যে তা খণ্ডন করার স্পষ্ট প্রয়োজনীয়তা নেই। সমাপ্ত।

তিনি ‘যুফরুল আমানি ফী শারহি মুখতাসারিল জুরজানি’ গ্রন্থে বলেছেন: এ সব এবং এর সদৃশ বিষয়গুলো ভ্রান্ত উক্তি। একদল মুহাদ্দিস যে তাহকীক বা বিশ্লেষণ গ্রহণ করেছেন তা হলো— মুতাওয়াতিরের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার শর্ত নেই, বরং বিবেচ্য বিষয় হলো নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হওয়া। সুতরাং যদি একটি বিশাল গোষ্ঠী তা বর্ণনা করে কিন্তু তার দ্বারা নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত না হয়, তবে তা মুতাওয়াতির হবে না। আর যদি অল্প সংখ্যক লোকও তা বর্ণনা করে এবং তার দ্বারা অকাট্য জ্ঞান অর্জিত হয়, তবে তা অবশ্যই মুতাওয়াতির হবে। সমাপ্ত।

আর সঠিক মত হলো, এর মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান যদি বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারীর কারণে হয়, তবে সকল শ্রোতার নিকট সেই জ্ঞান অর্জিত হওয়া আবশ্যক। আর যদি তা এর সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক প্রমাণের কারণে হয়, তবে তা সবার ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়; বরং তা যায়েদের নিকট অর্জিত হতে পারে কিন্তু আমরের নিকট নয়, এবং এক সম্প্রদায়ের নিকট হতে পারে কিন্তু অন্যদের নিকট নয়। কারণ, আনুষঙ্গিক প্রমাণাদি কারো কারো নিকট উপস্থিত থাকতে পারে আবার অন্যদের নিকট নাও থাকতে পারে। কেউ কেউ বলেছেন, শর্তহীনভাবে সবার নিকট জ্ঞান অর্জিত হওয়া আবশ্যক। আবার কেউ বলেছেন, শর্তহীনভাবে আবশ্যক নয়। এ উভয় মতের ব্যাপারেই আপত্তির অবকাশ রয়েছে। কখনও এক সম্প্রদায়ের নিকট তা মুতাওয়াতির হিসেবে গণ্য হতে পারে কিন্তু অন্যদের নিকট নয়; কারণ সেই জ্ঞান দানকারী সূত্রগুলো একজনের নিকট পৌঁছেছে কিন্তু অন্যজনের নিকট পৌঁছায়নি। যেমন কোনো সংবাদ এক সম্প্রদায়ের নিকট সহীহ হতে পারে কিন্তু অন্যদের নিকট নয়, কারণ তা প্রথমোক্তদের নিকট সহীহ সূত্র বা সূত্রাবলির মাধ্যমে পৌঁছেছে, অথবা শেষোক্তদের নিকট সেই সূত্রগুলোর মাধ্যমে না পৌঁছে বরং এমন অন্য সূত্রের মাধ্যমে পৌঁছেছে যাতে কোনো দুর্বল বর্ণনাকারী বা মিথ্যাবাদী রয়েছে। এটি একটি বিষয়, আর ইবনুস সালাহ, নববী এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছেন তারা উল্লেখ করেছেন যে, মুতাওয়াতিরের উদাহরণ...
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ১৭)
التفسير السابق يعز وجوده وزعم ابن حبان والحازمي أنه معدوم بالكلية لا يوجد له مثال قال ابن الصلاح إلا أن يدعي ذلك في حديث من كذب علي الخ فإنه رواه عن النبي صلى الله عليه وسلم أكثر من ستين نفساً من الصحابة منهم العشرة وليس في الدنيا أجمع على روايته العشرة غيره وتعقب عليه الحافظ أبو الفضل العراقي بحديث مسح الخف فقد رواه أكثر من ستين صحابياً ومنهم العشرة وحديث رفع اليدين في الصلاة فقد رواه نحو خمسين منهم ومنهم العشرة أيضاً قال السخاوي في فتح المغيث وكذا الوضوء من مس الذكر قيل إن رواته زادت على ستين وكذا الوضوء مما مست النار وعدمه اهـ ويأتي في الكلام على هذا الحديث أعني حديث من كذب علي الجواب عن هذا التعقب وقال الحافظ ابن حجر في توضيح النخبة ما ادعاه ابن الصلاح من العزة ممنوع وكذا ما ادعاه غيره من العدم لأن ذلك نشأ عن قلة الإطلاع على كثرة الطرق وأحوال الرجال وصفاتهم المقتضية لإبعاد العادة أن يتواطئوا على الكذب أو يحصل منهم اتفاقاً قال ومن أحسن ما يقرر به كون المتواتر موجوداً وجود كثرة في الأحاديث أن الكتب المشهورة المتداولة بأيدي أهل العلم شرقاً وغرباً المقطوع عندهم بصحة نسبتها إلى مصنفيها إذا اجتمعت على إخراج حديث وتعددت طرقه تعدداً تحيل العادة تواطئهم على الكذب إلى آخر الشروط أفاد العلم اليقيني بصحة نسبته إلى قائله ومثل ذلك في الكتب المشهورة كثير اهـ وقد نقله جماعة منهم السيوطي في إتمام الدراية بشرح النقاية وقال عقبه قلت صدق شيخ الإسلام وبر وما قاله هو الصواب الذي لا يمتري فيه من له ممارسة بالحديث وإطلاع على طرقه فقد وصف جماعة من المتقدمين والمتأخرين أحاديث كثيرة بالتواتر منها حديث أنزل هذا القرآن على سبعة أحرف وحديث الحوض وانشقاق القمر وأحاديث الهرج والفتن في آخر الزمان.

وقد جمعت جزءاً في حديث رفع اليدين في الدعاء فوقع لي من طرق
পূর্বোক্ত ব্যাখ্যা অনুযায়ী এর অস্তিত্ব পাওয়া দুষ্কর। ইবনে হিব্বান ও আল-হাজিমি দাবি করেছেন যে, এটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত এবং এর কোনো উদাহরণ পাওয়া যায় না। ইবনুস সালাহ বলেন, তবে 'যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল...' শীর্ষক হাদিসটির ক্ষেত্রে এটি দাবি করা যেতে পারে। কেননা, দশজন সাহাবিসহ ষাটেরও অধিক সাহাবি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। সমগ্র পৃথিবীতে দশজন সাহাবি কর্তৃক বর্ণিত এছাড়া আর কোনো হাদিস নেই। হাফিজ আবু ফজল আল-ইরাকি এর ওপর আপত্তি তুলে 'মোজার ওপর মাসেহ করা' সংক্রান্ত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন; এটিও দশজন সাহাবিসহ ষাটেরও অধিক সাহাবি বর্ণনা করেছেন। এছাড়া 'সালাতে হাত তোলা' সংক্রান্ত হাদিসটিও দশজন সাহাবিসহ প্রায় পঞ্চাশ জন সাহাবি বর্ণনা করেছেন। আল-সাখাবি 'ফাতহুল মুগিস' গ্রন্থে বলেছেন, তেমনি 'লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে ওজু' করার হাদিসটির বর্ণনাকারী সংখ্যা ষাটের অধিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আগুনের ছোঁয়া লাগা খাদ্য ভক্ষণে ওজু করা এবং না করার হাদিসটিও তদ্রূপ। 'যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করল...' হাদিসের আলোচনায় এই আপত্তির উত্তর সামনে আসবে। হাফিজ ইবনে হাজার 'তাওজিহুন নুখবাহ' গ্রন্থে বলেছেন, ইবনুস সালাহ দুষ্প্রাপ্য হওয়ার যে দাবি করেছেন তা অগ্রহণযোগ্য। তেমনি অন্যদের বিলুপ্ত হওয়ার দাবিটিও সঠিক নয়। কেননা, এটি সূত্রগুলোর আধিক্য, বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অপর্যাপ্ত অবগতির কারণে সৃষ্টি হয়েছে। অথচ সেই অবস্থা ও বৈশিষ্ট্যগুলো স্বাভাবিকভাবে তাদের মিথ্যাচারে একমত হওয়া বা কাকতালীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে অসম্ভব করে তোলে। তিনি আরও বলেন, হাদিসের মধ্যে মুতাওয়াতির বিদ্যমান থাকার স্বপক্ষে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট দলিল হলো এই যে, পূর্ব ও পশ্চিমের আলেমদের হাতে প্রচলিত ও সুপ্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ—যেগুলো তাদের লেখকদের দিকে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি সুনিশ্চিত—সেগুলো যদি কোনো একটি হাদিস সংকলনের ক্ষেত্রে একমত হয় এবং এর সূত্রগুলো এত অধিক হয় যে স্বাভাবিকভাবে তাদের মিথ্যায় একমত হওয়া অসম্ভব বলে মনে হয় (অন্যান্য শর্তাবলি পূরণসহ), তবে তা বক্তার দিকে হাদিসটির সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। আর প্রসিদ্ধ কিতাবগুলোতে এমন উদাহরণ প্রচুর রয়েছে। সুয়ুতির মতো একদল আলেম 'ইতমামুদ দিরায়া বি-শারহিন নুকায়া' গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এরপর বলেছেন, "আমি বলছি, শায়খুল ইসলাম সত্য বলেছেন এবং সঠিক কাজ করেছেন। তিনি যা বলেছেন তাই সঠিক এবং হাদিস নিয়ে যাদের চর্চা আছে ও হাদিসের সূত্র সম্পর্কে যাদের জ্ঞান আছে, তারা এতে সন্দেহ পোষণ করবে না।" পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের একদল অনেক হাদিসকে মুতাওয়াতির বলে অভিহিত করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে 'কুরআন সাত পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়েছে' শীর্ষক হাদিস, হাওজের হাদিস, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার হাদিস এবং শেষ জামানার বিশৃঙ্খলা ও ফিতনা সংক্রান্ত হাদিসসমূহ।

আর আমি দোয়ার সময় হাত তোলা সংক্রান্ত হাদিস নিয়ে একটি পুস্তিকা সংকলন করেছি, যেখানে অনেকগুলো সূত্র আমার নিকট সংগৃহীত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ১৮)
تبلغ المائة وعزمت على جمع كتاب في الأحاديث المتواترة يسر الله ذلك بمنه آمين اهـ.

وقال في شرح التقريب عقب نقل كلام ابن حجر أيضاً ما نصه قلت قد ألفت في هذا النوع كتابا لم أسبق إلى مثله سميته الأزهار المتناثرة في الأخبار المتواترة مرتباً على الأبواب أوردت فيه كل حديث بأسانيد من خرجه وطرقه ثم لخصته في جزء لطيف سميته قطف الأزهار اقتصرت فيه على عزو كل طريق لمن أخرجها من الأئمة وأوردت فيه أحاديث كثيرة منها حديث الحوض من رواية نيف وخمسين صحابياً وحديث المسح على الخفين من رواية سبعين صحابياً وحديث رفع اليدين في الصلاة من رواية خمسين وحديث نضر الله أمراء سمع مقالتي من رواية نحو ثلاثين وحديث نزل القرآن على سبعة أحرف من رواية سبع وعشرين وحديث من بنى مسجداً بنى الله له بيتاً في الجنة من رواية عشرين وكذا حديث كل مسكر حرام وحديث بدا الإسلام غريباً وحديث سؤال منكر ونكير وحديث كل ميسر لما خلق له وحديث المرء مع من أحب وحديث إن أحدكم ليعمل بعمل أهل الجنة وحديث بشر المشاءين في الظلم إلى المساجد بالنور التام يوم القيامة كلها متواترة في أحاديث جمة أودعناها كتابنا المذكور ولله الحمد.

ثم ذكر أن أهل الأصول قسموا المتواتر إلى لفظي ومعنوي ثم قال قلت وذلك أيضاً يتأتى في الحديث فمنه ما تواتر لفظه كالأمثلة السابقة ومنه ما تواتر معناه كأحاديث رفع اليدين في الدعاء فقد روى عنه صلى الله عليه وسلم نحو مائة حديث فيها رفع اليدين في الدعاء وقد جمعتها في جزء لكنها في قضايا مختلفة فكل قضية منها لم تتواتر والقدر المشترك فيها وهو الرفع عند الدعاء تواتر باعتبار المجموع اهـ.

وفي الفتح الباري أمثلته يعني المتواتر كثيرة منها حديث من بنى لله مسجداً والمسح على الخفين ورفع اليدين والشفاعة والحوض ورؤية الله في الآخرة والأئمة من قريش وغير ذلك اهـ.

قال الشيخ التاودي في حواشيه على الصحيح وقد نظمت ذلك فقلت.

مما تواتر حديث من كذب … ومن بنى الله بيتاً واحتسب
(এটি) একশত পর্যন্ত পৌঁছায় এবং আমি মুতাওয়াতির হাদীসসমূহের উপর একটি গ্রন্থ সংকলন করার সংকল্প করেছি, আল্লাহ যেন তাঁর অনুগ্রহে তা সহজ করে দেন, আমীন। ইতি।

এবং তিনি 'শারহুত তাকরীব'-এ ইবনে হাজার-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর আরও বলেছেন যে, আমি বলেছি: আমি এই বিষয়ে এমন একটি কিতাব রচনা করেছি যার কোনো পূর্বসূরি নেই, আমি এর নাম দিয়েছি 'আল-আযহারুল মুতানাসিরাহ ফিল আখবারিল মুতাওয়াতিরাহ', যা অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত। আমি সেখানে প্রতিটি হাদীস তার সংকলনকারী এবং সূত্রের সনদসহ উল্লেখ করেছি। এরপর আমি তা 'কাতফুল আযহার' নামক একটি সংক্ষিপ্ত খণ্ডে সারসংক্ষেপ করেছি, যেখানে আমি প্রতিটি সূত্রকে সেই সব ইমামদের দিকে সম্পৃক্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছি যারা তা বর্ণনা করেছেন। এবং আমি এতে অনেক হাদীস উল্লেখ করেছি, তার মধ্যে রয়েছে: পঞ্চাশের অধিক সাহাবীর বর্ণনায় হাওয সম্পর্কিত হাদীস, সত্তর জন সাহাবীর বর্ণনায় মোজার উপর মাসেহ করার হাদীস, পঞ্চাশ জন সাহাবীর বর্ণনায় নামাযে হাত তোলার হাদীস, প্রায় ত্রিশ জন সাহাবীর বর্ণনায় 'আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব রাখুন যে আমার কথা শুনেছে' শীর্ষক হাদীস, সাতাশ জন সাহাবীর বর্ণনায় 'কুরআন সাত হারফে অবতীর্ণ হয়েছে' শীর্ষক হাদীস এবং বিশ জন সাহাবীর বর্ণনায় 'যে ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণ করল, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন' শীর্ষক হাদীস। একইভাবে 'প্রত্যেক নেশাজাতীয় দ্রব্য হারাম' শীর্ষক হাদীস, 'ইসলামের যাত্রা শুরু হয়েছিল অপরিচিত অবস্থায়' শীর্ষক হাদীস, 'মুনকার ও নাকিরের সওয়াল-জওয়াব' সম্পর্কিত হাদীস, 'প্রত্যেকের জন্য সেটিই সহজ যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে' শীর্ষক হাদীস, 'মানুষ তারই সাথে থাকবে যাকে সে ভালোবাসে' শীর্ষক হাদীস, 'তোমাদের কেউ জান্নাতবাসীদের আমল করে' শীর্ষক হাদীস এবং 'অন্ধকারে মসজিদের দিকে গমনকারীদের কিয়ামতের দিন পূর্ণ নূরের সুসংবাদ দাও' শীর্ষক হাদীস। এর সবই মুতাওয়াতির এবং এমন বহু হাদীস আমরা আমাদের উল্লিখিত কিতাবে সংকলিত করেছি, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে উসুলবিদগণ মুতাওয়াতিরকে শাব্দিক ও অর্থগত—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। এরপর তিনি বলেন, আমি বলেছি যে এটি হাদীসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কিছু হাদীস শাব্দিকভাবে মুতাওয়াতির, যেমন পূর্বোক্ত উদাহরণগুলো। আর কিছু অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির, যেমন দুআর সময় হাত তোলার হাদীসসমূহ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ বিষয়ে প্রায় একশত হাদীস বর্ণিত হয়েছে যেখানে দুআর সময় হাত তোলার কথা আছে, যা আমি একটি খণ্ডে সংকলন করেছি; তবে সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বর্ণিত। তাই প্রতিটি প্রেক্ষাপট এককভাবে মুতাওয়াতির না হলেও, সবগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ দুআর সময় 'হাত তোলা' বিষয়টি সমষ্টিগতভাবে মুতাওয়াতির। ইতি।

এবং ফাতহুল বারীতে আছে যে, এর (অর্থাৎ মুতাওয়াতিরের) উদাহরণ অনেক। তার মধ্যে রয়েছে: যে আল্লাহর জন্য মসজিদ নির্মাণ করে তার হাদীস, মোজার উপর মাসেহ করা, হাত তোলা, শাফায়াত, হাওয, আখিরাতে আল্লাহর দর্শন, এবং 'নেতৃবৃন্দ কুরাইশ থেকে হবে' শীর্ষক হাদীস ইত্যাদি। ইতি।

শেখ তাউদী 'সহীহ' (বুখারী)-এর উপর তাঁর টীকায় বলেছেন, আমি তা কাব্য আকারে গেঁথেছি এবং বলেছি:

মুতাওয়াতির হাদীসসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো 'যে ব্যক্তি (আমার ওপর) মিথ্যা আরোপ করল' সম্পর্কিত হাদীস... এবং 'যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ঘর নির্মাণ করল এবং সওয়াবের আশা করল' সম্পর্কিত হাদীস।
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ১৯)
ورؤية شفاعة والحوض … ومسح خفين وهاذي بعض

وقال السخاوي في فتح المغيث ما نصه وذكر شيخنا يعني ابن حجر من الأحاديث التي وصفت بالتواتر حديث الشفاعة والحوض فإن عدد رواتهما من الصحابة زاد على أربعين وممن وصفهما بذلك عياض في الشفاء وحديث من بني لله مسجداً ورؤية الله في الآخرة والأئمة من قريش وكذا ذكر عياض في الشفا حديث حنين الجذع وابن حزم حديث النهي عن الصلاة في معاطن الإبل وعن اتخاذ القبور مساجد والقول عند الرفع من الركوع والابري في مناقب الشافعي حديث المهدي وابن عبد البر حديث اهتزاز العرش لموت سعد والحاكم حديث خطبة عمر بالجابية والإسراء وأن إدريس في الرابعة وغيره حديث انشقاق القمر والنزول وابن بطال حديث النهي عن الصلاة بعد الصبح وبعد العصر والشيخ أبو إسحاق الشيرازي قال بعد ذكر الأحاديث المروية عن النبي صلى الله عليه وسلم في غسل الرجلين لا يقال أنها أخبار آحاد لأن مجموعها تواتر معناه وكذا ذكره غيره في التواتر المعنوي كشجاعة على وجود حاتم وإخبار الدجال وشيخنا حديث خير الناس قرني وقد أفرد ما وصف بذلك في تأليف أم للزركشي أو غيره اهـ.

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية في رسالة الفرقان بين الحق والباطل لما تكلم على الخوارج ما نصه فلهذا جاءت الأحاديث الصحيحة بقتالهم والأحاديث في ذمهم والأمر بقتالهم كثيرة جداً وهي متواترة عند أهل الحديث مثل أحاديث الرؤية وعذاب القبر وفتنته وأحاديث الشفاعة والحوض اهـ.

وفي كتاب مسلم الثبوت في أصول الفقه للشيخ محب الله بن عبد الشكور في الكلام على المتواتر ما نصه المتواتر من الحديث قيل لا يوجد وقال ابن الصلاح إلا أن يدعي في حديث من كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار فإن رواته أزيد من مائة صحابي وفيهم العشرة المبشرة وقد يقال مراده التواتر لفظاً وإلا فحديث المسح على الخفين متواتر رواه سبعون صحابياً وقيل حديث أنزل القرآن على سبعة أحرف متواتر رواه عشرون من الأصحاب
এবং (আল্লাহর) দিদার, শাফায়াত এবং হাউয … এবং মোজার ওপর মাসহ করা, আর এগুলো হলো কতিপয়—

আল-সাখাভী 'ফাতহুল মুগীস' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যার ভাষ্য নিম্নরূপ: আমাদের শায়খ অর্থাৎ ইবনে হাজার মুতাওয়াতির হিসেবে অভিহিত হাদীসগুলোর মধ্যে শাফায়াত এবং হাউযের হাদীস উল্লেখ করেছেন; কেননা সাহাবীদের মধ্য থেকে এ দুটির বর্ণনাকারীর সংখ্যা চল্লিশের অধিক। আর যারা এই দুটিকে উক্ত বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন তাদের মধ্যে 'আশ-শিফা' গ্রন্থে ইয়ায রয়েছেন। এছাড়া 'যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে' সম্পর্কিত হাদীস, আখেরাতে আল্লাহকে দেখার হাদীস এবং 'ইমামগণ কুরাইশ থেকে হবেন' সম্পর্কিত হাদীসও এর অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে ইয়ায 'আশ-শিফা' গ্রন্থে খেজুর গাছের কাণ্ডের ক্রন্দনের হাদীস এবং ইবনে হাজম উটের আস্তাবলে সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞা, কবরকে মসজিদে রূপান্তর করার নিষেধাজ্ঞা এবং রুকু থেকে মাথা তোলার সময় যা বলতে হয় সেই সম্পর্কিত হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছেন। আল-আবুরী 'মানাকিবুশ শাফিয়ী' গ্রন্থে মাহদীর হাদীস এবং ইবনে আব্দুল বার সা'দের মৃত্যুতে আরশ কেঁপে ওঠার হাদীস উল্লেখ করেছেন। আল-হাকিম জাবিয়ায় উমরের খুতবা, ইসরা এবং ইদরীস চতুর্থ আসমানে থাকা সম্পর্কিত হাদীস উল্লেখ করেছেন। অন্যরা চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়া এবং (আল্লাহর) নেমে আসার হাদীস উল্লেখ করেছেন। ইবনে বাত্তাল ফজর ও আসরের পর সালাত আদায়ের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত হাদীস এবং শায়খ আবু ইসহাক আশ-শিরাজি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে দুই পা ধোয়ার বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলো উল্লেখ করার পর বলেছেন: এগুলোকে আখবারে আহাদ বলা যাবে না, কারণ এর সমষ্টিগত অর্থ মুতাওয়াতির। তওয়াতুরে মা'নভী হিসেবে অন্যরা আলীর বীরত্ব, হাতিমের দানশীলতা এবং দাজ্জালের সংবাদের কথা উল্লেখ করেছেন। আমাদের শায়খ 'সর্বোত্তম মানুষ আমার প্রজন্মের' সম্পর্কিত হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। এই বিশেষণে বিশেষায়িত হাদীসগুলোকে নিয়ে সম্ভবত আল-যারকাশী বা অন্য কেউ একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন। সমাপ্ত।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ 'রিসালাতুল ফুরকান বাইনাল হাক্কি ওয়াল বাতিলে' খাওয়ারিজদের নিয়ে আলোচনার সময় বলেন, যার ভাষ্য নিম্নরূপ: এই কারণেই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার বিষয়ে সহীহ হাদীসসমূহ এসেছে। তাদের নিন্দা এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ সম্বলিত হাদীস অনেক বেশি এবং সেগুলো হাদীস বিশারদদের নিকট মুতাওয়াতির; যেমন (আল্লাহকে) দেখার হাদীসসমূহ, কবরের আযাব ও ফিতনার হাদীস এবং শাফায়াত ও হাউযের হাদীসসমূহ। সমাপ্ত।

এবং শায়খ মুহিব্বুল্লাহ বিন আব্দুশ শাকুর রচিত উসূলে ফিকহের কিতাব 'মুসলিমুস সাবুত'-এ মুতাওয়াতির সম্পর্কে আলোচনার ভাষ্য নিম্নরূপ: হাদীসের ক্ষেত্রে মুতাওয়াতির সম্পর্কে বলা হয়েছে যে এটি পাওয়া যায় না। ইবনে সালাহ বলেন: তবে 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়' হাদীসটির ক্ষেত্রে এটি দাবি করা যেতে পারে, কারণ এর বর্ণনাকারী একশতেরও বেশি সাহাবী এবং তাদের মধ্যে আশারায়ে মুবাশশারাও রয়েছেন। সম্ভবত তার উদ্দেশ্য ছিল শব্দগত মুতাওয়াতির, অন্যথায় মোজার ওপর মাসহ করার হাদীসটি মুতাওয়াতির যা সত্তরজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন। এবং বলা হয়েছে 'কুরআন সাত উপভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে' হাদীসটি মুতাওয়াতির যা বিশজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ২০)
وقال ابن الجوزي تتبعت الأحاديث المتواترة فبلغت جملة منها حديث الشفاعة وحديث الحساب وحديث النظر إلى الله تعالى في الآخرة وحديث غسل الرجلين في الوضوء وحديث عذاب القبر وحديث المسح على الخفين اهـ.

وفي تأويله لكلام ابن الصلاح شيء مع ما تقدم عن السيوطي من الأمثلة الكثيرة لما تواتر لفظا.

بل الظاهر أنه ما قصد في كتابه في المتواترات إلا جمع المتواتر اللفظي وإن كان لا يسلم له في كثير من أحاديثه وقد اعترض شارح مسلم الثبوت الشيخ عبد العلي محمد بن نظام الدين الأنصاري تأويله المذكور قائلا ما نصه ثم في هذا التأويل أيضاً شيء فإنه قد تواتر قوله صلى الله عليه وسلم ويل للأعقاب من النار رواه اثنا عشر صحابياً مقطوع بعدالتهم أكثرهم من أصحاب بيعة الرضوان.

وقد تقدم تواتر لا نورث ما تركناه صدقة ولعل تأويل قوله أنه مبالغة في القلة اهـ وفيه أيضاً نظر على ما تقدم عن الحافظ وغيره من كثرة أمثلته إلا أنه اعترض ذلك بعضهم بأن الذي له أمثلة كثيرة هو المتواتر تواتراً معنوياً وأما المتواتر اللفظي فلا وكثير مما قيل فيه أنه لفظي يظهر عند النظر فيه أنه معنوي.

وفي ظفر الأماني ما نصه ما ذكره في شرح النخبة من الاستدلال على وجود المتواتر ووجود كثرة ضعيف جداً تعقبه من تكلم عليه اهـ.

ثم قال شارح مسلم الثبوت عقب ما نقلناه عن أصله في مثال المتواتر ولم يرد يعني مؤلفه الحصر فيه أي فيما ذكر في كلامه فإن أعداد الركعات وذهاب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى بدر واحد وسائر الغزوات والأذان والإقامة والجماعة وفضائل الخلفاء الراشدين وفضل أصحاب بدر بعمومهم متواترة من غير ريبة وسيجيء إن شاء الله تعالى حديث لن تجتمع أمتي على ضلالة بمعناه متواتر
ইবনুল জাওযী বলেন, আমি মুতাওয়াতির হাদীসসমূহ অনুসন্ধান করেছি এবং সেগুলোর একটি সংখ্যায় উপনীত হয়েছি; যার মধ্যে রয়েছে শাফাআতের (সুপারিশ) হাদীস, হিসাব-নিকাশের হাদীস, আখিরাতে আল্লাহ তাআলার দিদারের (প্রতি দৃষ্টিপাতের) হাদীস, ওযুতে দুই পা ধোয়ার হাদীস, কবরের আযাবের হাদীস এবং মোজার ওপর মাসহ করার হাদীস। সমাপ্ত।

ইবনুস সালাহর বক্তব্যের বিষয়ে তার ব্যাখ্যার মধ্যে কিছু কথা রয়েছে, যা ইতিপূর্বে সুয়ূতী কর্তৃক শব্দগতভাবে মুতাওয়াতির হওয়ার বিষয়ে বর্ণিত অসংখ্য উদাহরণের পরিপন্থী।

বরং স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, তিনি মুতাওয়াতির বিষয়ে তাঁর গ্রন্থে কেবল শব্দগত মুতাওয়াতির হাদীসসমূহ সংগ্রহ করতেই চেয়েছিলেন, যদিও তাঁর বর্ণিত অনেক হাদীসের ক্ষেত্রে তা স্বীকৃত নয়। মুসলিমুস সুবুত-এর ব্যাখ্যাকার শায়খ আবদুল আলী মুহাম্মদ বিন নিযামুদ্দীন আনসারী তাঁর উল্লিখিত ব্যাখ্যার ওপর আপত্তি জানিয়ে বলেন: "অতঃপর এই ব্যাখ্যার মধ্যেও কথা আছে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: 'আগুনের কারণে গোড়ালিগুলোর জন্য ধ্বংস' মুতাওয়াতির হিসেবে প্রমাণিত। এটি বারোজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন যাদের ন্যায়পরায়ণতা অকাট্যভাবে প্রমাণিত, এবং তাদের অধিকাংশই বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণকারী ছিলেন।"

ইতিপূর্বে 'আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী নেই, আমরা যা রেখে যাই তা সাদাকা' হাদীসটির মুতাওয়াতির হওয়ার বিষয়টি অতিক্রান্ত হয়েছে। সম্ভবত তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা এই যে, এটি মুতাওয়াতির হাদীসের স্বল্পতার বিষয়ে অতিরঞ্জন মাত্র। সমাপ্ত। হাফেজ ও অন্যদের বর্ণিত প্রচুর উদাহরণ অনুসারে এতেও আপত্তির অবকাশ রয়েছে। তবে কেউ কেউ এর ওপর আপত্তি তুলেছেন যে, যার অনেক উদাহরণ রয়েছে তা হলো অর্থগত মুতাওয়াতির, কিন্তু শব্দগত মুতাওয়াতির তেমন নয়। আর শব্দগত মুতাওয়াতির হিসেবে যা কিছু বলা হয়েছে, সূক্ষ্মভাবে দেখলে তার অনেকগুলোই অর্থগত মুতাওয়াতির বলে প্রতিভাত হয়।

যফরুল আমানী গ্রন্থে উল্লেখ আছে: "শরহু নুখবাহ-তে মুতাওয়াতির হাদীসের অস্তিত্ব এবং এর আধিক্যের বিষয়ে যে দলিল উপস্থাপন করা হয়েছে তা অত্যন্ত দুর্বল, যারা এর ওপর আলোচনা করেছেন তারা এর সমালোচনা করেছেন।" সমাপ্ত।

এরপর মুসলিমুস সুবুত-এর ব্যাখ্যাকার মুতাওয়াতিরের উদাহরণের বিষয়ে আমাদের উদ্ধৃত অংশের পর বলেন: লেখক এর মাধ্যমে সীমাবদ্ধতা বোঝাতে চাননি, অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যে যা উল্লেখ করা হয়েছে তাতেই এটি সীমাবদ্ধ নয়। কেননা রাকাতের সংখ্যা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বদর, উহুদ ও অন্যান্য যুদ্ধে গমন, আযান, ইকামত, জামাত, খুলাফায়ে রাশেদীনের ফযীলত এবং সামগ্রিকভাবে বদরী সাহাবীদের ফযীলত কোনো সন্দেহ ছাড়াই মুতাওয়াতির। ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে যে, 'আমার উম্মত কখনো ভ্রষ্টতার ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না' হাদীসটি অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির।
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ২১)
وكذا حديث الحوض والمغفرة والشفاعة وغيرها فافهم اهـ.

وبالجملة فالمتواتر من الحديث كثير جداً إلا أن أغلبه تواتره معنوي وأكثر الأمور المعلومة من الدين ضرورة متواترة معنى ومراد العلماء حصر اللفظي لأن الثاني لا يكاد ينحصر ولكن نحن نشير في هذا المجموع الذي لا يخلو بحول الله تعالى عن نكات جمة زائدة إلى كثير من المتواترات معنى مما وقفت على النص بتواتره تكميلاً للفائدة ثم الغالب أني لا أذكر من روى الحديث من الأئمة المخرجين وإنما أعدد رواته من الصحابة فقط أو مع بعض التابعين وتارة استوعب وتارة لا بحسب التيسير ثم اذكر من نص على تواتره من أئمة التحرير لأن القصد بيان المتواتر. لا تتبع الطرق ولا بيان من خرجها من ذوي البصائر، ورتبته على الأبواب الفقهية، وبدأت فيه بحديث الأعمال بالنية. لاستحباب السلف وغيرهم البداءة به والتصدير. في جميع الأمور المهمة من غير تقصير؛ مع أنه متواتر المعنى، صحيح الأصل والمبنى.

وقد قال النووي في أذكاره كان السلف وتابعوهم من الخلف يستحبون افتتاح المصنفات بحديث الأعمال بالنيات تنبيها للمطالع على حسن النية واهتمامه بذلك واعتنائه به روينا عن الإمام أبي سعيد عبد الرحمان بن مهدي قال من أراد أن يصنف كتاباً فليبدأ بهذا الحديث وقال الإمام أبو سليمان الخطابي كان المتقدمون من شيوخنا يستحبون تقديم حديث الأعمال بالنية أمام كل شيء ينشأ ويبتدأ من أمور الدين لعموم الحاجة إليه في جميع أنواعها اهـ وقال في بستانه استحب العلماء أن تفتتح المصنفات بهذا الحديث وممن ابتدأ به البخاري في صحيحه اهـ.

(تنبيه) اختلفوا في خبر الواحد المحتف بالقرائن المصدقة له هل يفيد العلم وهو ما عليه الامدى وابن الحاجب وغيرهما واختاره السبكي في جمع
অনুরূপভাবে হাওয, ক্ষমা, শাফাআত এবং অন্যান্য বিষয়ের হাদিসসমূহও; সুতরাং বুঝে নিন। সমাপ্ত।

সারকথা হলো, হাদিসের মধ্যে মুতাওয়াতির (বর্ণনার প্রাচুর্যের কারণে সুনিশ্চিত) সংখ্যা অনেক বেশি, তবে এর অধিকাংশই হচ্ছে অর্থগত মুতাওয়াতির। দ্বীনের অত্যাবশ্যকীয় জ্ঞাত বিষয়গুলোর অধিকাংশও অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির। আর আলেমদের উদ্দেশ্য কেবল শব্দগত মুতাওয়াতিরকে সীমাবদ্ধ করা, কারণ দ্বিতীয় প্রকারের (অর্থগত) কোনো সীমা নেই বললেই চলে। তবে আমরা এই সংকলনে—যা আল্লাহর শক্তিতে অনেক সূক্ষ্ম ও অতিরিক্ত তাত্ত্বিক আলোচনায় পূর্ণ—সেই সব অর্থগত মুতাওয়াতির হাদিসের অনেকগুলো উল্লেখ করব যেগুলোর মুতাওয়াতির হওয়ার ব্যাপারে আমি স্পষ্ট বক্তব্য পেয়েছি, যাতে করে এর উপযোগিতা পূর্ণতা পায়। এরপর সাধারণত আমি সেই সকল ইমামদের কথা উল্লেখ করব না যারা হাদিসটি বর্ণনা করেছেন (তথা হাদিস সংকলকগণ), বরং আমি কেবল সেই সকল সাহাবী বর্ণনাকারীদের সংখ্যা উল্লেখ করব যারা হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, অথবা তাদের সাথে কিছু তাবিঈর কথা উল্লেখ করব। কখনও আমি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করব আবার কখনও সহজসাধ্যতা অনুযায়ী সংক্ষেপে করব। এরপর আমি সেই সকল পারদর্শী ইমামদের কথা উল্লেখ করব যারা হাদিসটি মুতাওয়াতির হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট মতামত দিয়েছেন। কারণ আমার উদ্দেশ্য হলো মুতাওয়াতির হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করা, সনদের সূত্রগুলো অনুসন্ধান করা নয়, কিংবা প্রজ্ঞাবান হাদিস বিশারদগণের মধ্যে কারা এটি বর্ণনা করেছেন তা বিস্তারিত জানানো নয়। আমি একে ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি এবং এতে 'নিয়তের দ্বারা আমল' সম্পর্কিত হাদিসটি দিয়ে শুরু করেছি। কারণ সালাফ ও অন্যান্যগণ সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শুরুতে এবং ভূমিকায় কোনো ত্রুটি ছাড়াই এই হাদিস দিয়ে প্রারম্ভ করা মুস্তাহাব মনে করতেন; যদিও এটি অর্থগতভাবে মুতাওয়াতির এবং এর মূল ভিত্তি ও কাঠামো সহিহ।

ইমাম নববী তাঁর 'আযকার' গ্রন্থে বলেছেন, সালাফ ও তাদের পরবর্তী উত্তরসূরিগণ কিতাবসমূহ নিয়ত বিষয়ক হাদিস দ্বারা শুরু করা মুস্তাহাব মনে করতেন, যাতে পাঠককে নিয়তের পরিশুদ্ধি এবং এর প্রতি গুরুত্ব ও যত্নের বিষয়ে সতর্ক করা যায়। আমরা ইমাম আবু সাঈদ আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো কিতাব রচনা করতে চায়, সে যেন এই হাদিসটি দিয়ে শুরু করে।" ইমাম আবু সুলায়মান খাত্তাবী বলেছেন, আমাদের পূর্ববর্তী উস্তাদগণ দ্বীনের যা কিছু নতুন করে শুরু করা হতো, তার সবকিছুর আগে নিয়তের হাদিসটি উপস্থাপন করা পছন্দ করতেন, কারণ সকল ক্ষেত্রে এর ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সমাপ্ত। তিনি তাঁর 'বুস্তান' গ্রন্থে বলেছেন, উলামাগণ এই হাদিসটি দিয়ে গ্রন্থসমূহ শুরু করা মুস্তাহাব মনে করেছেন এবং যারা এটি দিয়ে শুরু করেছেন তাদের মধ্যে ইমাম বুখারী তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে অন্যতম। সমাপ্ত।

(সতর্কতা) যে খবরে ওয়াহিদ (একক বর্ণনা) এমন কিছু পারিপার্শ্বিক আলামত দ্বারা পরিবেষ্টিত যা তাকে সত্যায়ন করে, তা নিশ্চিত জ্ঞান দান করে কি না—এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। আমেদী, ইবনুল হাজিব এবং অন্যান্যগণ এর পক্ষেই মত দিয়েছেন এবং সুবকী তাঁর 'জামউল জাওয়ামি' গ্রন্থে এটিই গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ২২)
الجوامع أو لا يفيده مطلقاً ولو وجدت القرائن وهو ما عليه الأكثرون.

وقال التاج السبكي في شرح المختصر أنه الحق أو يفيده مطلقاً ولو عدمت القرائن بشرط العدالة وعزي إلى الإمام أحمد واستشكل وقال الأستاذ أبو إسحاق الاسفرايني وابن فورك يفيد المستفيض الذي هو من خبر الآحاد عندهما علماً نظرياً فهي أقوال أربعة حكاها في جمع الجوامع ورجح غير واحد من أئمة الحديث أن خبر الآحاد المحتف بالقرائن أي التي تسكن النفس إليها ولا يبقى معها احتمال البتة تفيد العلم النظري ومن ثم ذهب الحافظ أبو عمرو بن الصلاح في مقدمة علوم الحديث له في جماعة من الأئمة منهم من الشافعية أبو إسحاق وأبو حامد الاسفرائنيين والقاضي أبو الطيب والشيخ أبو إسحاق الشيرازي ومن الحنفية الإمام السرخسي ومن المالكية القاضي عبد الوهاب ومن الحنابلة أبو يعلى وأبو الخطاب وابن الزغواني وابن تيمية إلى أن ما اتفق على إخراجه الشيخان أو أخرجه أحدهما بالإسناد المتصل إلى النبي صلى الله عليه وسلم مما لم يبلغ التواتر كالحديث المتواتر في حصول العلم به والقطع بصحته وكان من يسمعه فيهما أو في أحدهما سمعه من في رسول الله صلى الله عليه وسلم لسموهما وجلالتهما وشفوف تحريهما وتلقي الأمة المعصومة في إجماعها عن الخطأ لكتابيهما بالقبول تصديقاً وعملاً وتلقي الأمة للخبر المنحط عن درجة المتواتر بالقبول يوجب العلم النظري وعزى النووي في التقريب للمحققين والأكثرين خلافه وأن إخراجهما أو أحدهما للحديث لا يفيد إلا الظن يعني القوى وقال في شرحه لمسلم قد اشتد إنكار ابن برهان على من قال بما قاله الشيخ يعني ابن الصلاح وبالغ في تغليظه قال السيوطي في شرح التقريب وكذا عاب ابن عبد السلام على ابن الصلاح هذا القول وقال إن بعض المعتزلة يرون أن الأمة إذا عملت بحديث اقتضى ذلك القطع بصحته قال وهو مذهب رديء اهـ.

وقال الحافظ ابن حجر ما ذكره النووي مسلم من جهة الأكثرين أما المحققون فلا فقد وافق ابن الصلاح أيضاً محققون وقال في شرح النخبة
জামউল জাওয়ামি' অথবা এটি (খবর আল-আহাদ) আদৌ জ্ঞান প্রদান করে না, এমনকি যদি পারিপার্শ্বিক আলামত (ক্বারাইন) বিদ্যমান থাকে তবুও; এবং অধিকাংশ আলিম এই মতটিই পোষণ করেন।

তাজ আল-সুবকি শারহুল মুখতাসার-এ বলেছেন যে, এটিই সঠিক মত; অথবা তা (খবর আল-আহাদ) নিঃশর্তভাবে জ্ঞান প্রদান করে এমনকি পারিপার্শ্বিক আলামত অনুপস্থিত থাকলেও, তবে বর্ণনাকারীর বিশ্বস্ততা (আদালাত) শর্তযুক্ত। এই মতটি ইমাম আহমাদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে এবং এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে। উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফারাইনি এবং ইবনু ফুরাক বলেন যে, 'মুস্তাফিদ' হাদিস—যা তাদের মতে খবর আল-আহাদের অন্তর্ভুক্ত—তা তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করে। সুতরাং এগুলো হচ্ছে চারটি মত যা জামউল জাওয়ামি'-তে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসের ইমামগণের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, পারিপার্শ্বিক আলামত দ্বারা পরিবেষ্টিত খবর আল-আহাদ—অর্থাৎ এমন আলামত যার দ্বারা অন্তর প্রশান্ত হয় এবং কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকে না—তা তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করে। এরই ভিত্তিতে হাফেজ আবু আমর ইবনুস সালাহ তাঁর মুকাদ্দিমা উলুমুল হাদিস-এ একদল ইমামের অনুবর্তী হয়ে এই মত পোষণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে শাফেয়িগণের মধ্য হতে রয়েছেন আবু ইসহাক ও আবু হামিদ আল-ইসফারাইনিদ্বয়, কাযী আবু তয়্যিব এবং শেখ আবু ইসহাক আল-শিরাজি; হানাফিগণের মধ্য হতে রয়েছেন ইমাম আল-সারখাসি; মালিকিগণের মধ্য হতে রয়েছেন কাযী আব্দুল ওয়াহহাব; এবং হাম্বলিগণের মধ্য হতে রয়েছেন আবু ইয়ালা, আবু আল-খাত্তাব, ইবনু আল-যাগুয়ানি এবং ইবনু তাইমিয়া। তাঁদের মতে, যে হাদিস বর্ণনার ব্যাপারে শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) একমত হয়েছেন অথবা তাঁদের কোনো একজন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি নিরবচ্ছিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন—যা মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেনি—তা জ্ঞান লাভ এবং এর বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তার ক্ষেত্রে মুতাওয়াতির হাদিসের মতোই। এবং যে ব্যক্তি এই দুই কিতাবে বা এর কোনো একটিতে তা শোনে, সে যেন তা স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পবিত্র মুখ থেকেই শুনল। এটি তাঁদের উচ্চমর্যাদা, মহিমা এবং অতি সূক্ষ্ম সতর্কতার কারণে, এবং ভ্রান্তি থেকে সুরক্ষিত উম্মতের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তাঁদের কিতাবদ্বয়কে সত্যয়ন ও আমলের মাধ্যমে কবুল করে নেওয়ার কারণে। আর মুতাওয়াতির স্তরের নিচের কোনো সংবাদকে উম্মতের গ্রহণ করে নেওয়া তাত্ত্বিক জ্ঞানকে আবশ্যক করে। ইমাম নববী আত-তাকরীব-এ মুহাক্কিকগণ এবং অধিকাংশের পক্ষ থেকে এর বিপরীত মতটি উল্লেখ করেছেন যে, শায়খাইন বা তাঁদের কোনো একজনের হাদিস বর্ণনা করা কেবল প্রবল ধারণা (যন) প্রদান করে। তিনি তাঁর শারহু মুসলিম-এ বলেছেন যে, ইবনু বুরহান শেখ ইবনুস সালাহর মতের প্রবক্তাদের ওপর কঠোর আপত্তি জানিয়েছেন এবং এর কঠোর নিন্দা করেছেন। সুয়ূতি শারহুত তাকরীব-এ বলেছেন, অনুরূপভাবে ইবনু আব্দুস সালামও ইবনুস সালাহর এই মতের সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে, কিছু মুতাযিলা মনে করে উম্মত যখন কোনো হাদিসের ওপর আমল করে, তখন তা এর বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা দাবি করে। তিনি বলেন, এটি একটি নিকৃষ্ট মত। সমাপ্ত।

হাফেজ ইবনু হাজার বলেন, ইমাম নববী যা উল্লেখ করেছেন তা অধিকাংশের দিক থেকে স্বীকৃত, কিন্তু মুহাক্কিকগণের ক্ষেত্রে তা নয়; কেননা অনেক মুহাক্কিক ইবনুস সালাহর সাথে একমত হয়েছেন। এবং তিনি শারহুন নুখবা-তে বলেছেন—
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ২৩)
بعد ذكره لخبر الآحاد المحتف بالقرائن وأنه يفيد العلم النظري على المختار خلافاً لمن أبى ذلك ما نصه والخبر المحتف بالقرائن أنواع منها ما أخرجه الشيخان في صحيحهما مما لم يبلغ التواتر فإنه احتف به قرائن منها جلالتهما في هذا الشأن وتقدمهما في تمييز الصحيح على غيرهما وتلقي العلماء لكتابيهما بالقبول وهذا التلقي وحده أقوى في إفادة العلم من مجرد كثرة الطرق القاصرة عن التواتر إلا أن هذا مختص بما لم ينتقده أحد من الحفاظ مما في الكتابين وبما لم يقع التجاذب بين مدلوليه مما وقع في الكتابين حيث لا ترجيح لاستحالة أن يفيد المتناقضان العلم بصدقهما من غير ترجيح لأحدهما على الآخر وما عدى ذلك فالإجماع حاصل على تسليم صحته فإن قيل إنما اتفقوا على وجوب العمل به لا على صحته أي القطع بها منعناه وسند المنع أنهم متفقون على وجوب العمل بكل ما صح ولم يخرجه الشيخان فلم يبق للصحيحين في هذا مزية والإجماع حاصل على أن لهما مزية فيما يرجع إلى نفس الصحة وممن صرح بإفادة ما خرجه الشيخان العلم النظري الأستاذ أبو إسحاق الاسفرايني ومن أئمة الحديث أبو عبد الله الحميدي وأبو الفضل ابن طاهر وغيرهما ويحتمل أن يقال المزية المذكورة كون أحاديثهما أصح الحديث ومنها أي أنواع المحتف المشهور إذا كانت له طرق متباينة سالمة من ضعف الرواة والعلل وممن صرح بإفادته العلم النظري الأستاذ أبو منصور البغدادي والاستاذ أبو بكر بن فورك وغيرهما.

ومنها المسلسل بالأئمة الحفاظ المتقنين حيث لا يكون غريبا كالحديث الذي يرويه أحمد بن حنبل ويشاركه فيه غيره عن الشافعي ويشاركه فيه غيره عن مالك بن أنس فإنه يفيد العلم عند سامعه بالاستدلال من جهة جلالة رواته وأن فيهم من الصفات اللائقة الموجبة للقبول ما يقوم مقام العدد الكثير من غيرهم انظر بقية كلامه.

وممن انتصر لابن الصلاح سراج الدين البلقيني وقال ابن كثير أنا مع ابن الصلاح فيما عول عليه وأشار إليه قال السيوطي في شرح التقريب هو الذي اختاره ولا أعتقد سواه
পারিপার্শ্বিক আলামত দ্বারা পরিবেষ্টিত একক বর্ণনা (খবর-ই-আহাদ) এবং মনোনীত মত অনুযায়ী এটি যে তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করে—যারা এটি অস্বীকার করেন তাদের বক্তব্যের বিপরীতে তার পাঠ নিম্নরূপ: আলামত দ্বারা পরিবেষ্টিত বর্ণনা কয়েক প্রকার। তার মধ্যে একটি হলো যা শায়খাইন তাঁদের সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং যা মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এটি কিছু আলামত দ্বারা পরিবেষ্টিত, যার মধ্যে রয়েছে: এই শাস্ত্রে তাঁদের উভয়ের সুউচ্চ মর্যাদা, সহীহ হাদিসকে অন্যদের থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রগামিতা এবং আলেমদের নিকট তাঁদের গ্রন্থদ্বয়ের গ্রহণযোগ্যতা। এই গ্রহণযোগ্যতা একাই মুতাওয়াতিরের চেয়ে কম সংখ্যক বর্ণনাসূত্রের আধিক্যের তুলনায় জ্ঞান লাভের ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী। তবে এটি সেই বর্ণনাগুলোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যেগুলোর ওপর হাফেজগণের মধ্য থেকে কেউ কোনো সমালোচনা করেননি এবং এই দুই কিতাবের এমন বিষয়ের ক্ষেত্রে যেখানে দুটি অর্থের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়নি যে ক্ষেত্রে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়া ছাড়া দুটি পরস্পরবিরোধী বিষয়ের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা অসম্ভব। এছাড়া বাকি সব বর্ণনার ক্ষেত্রে এর বিশুদ্ধতা মেনে নেওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য (ইজমা) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যদি বলা হয় যে, তাঁরা কেবল এর ওপর আমল ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, এর বিশুদ্ধতা বা অকাট্যতার ব্যাপারে নয়, তবে আমরা তা প্রত্যাখ্যান করব। এই প্রত্যাখ্যানের ভিত্তি হলো—তাঁরা এমন প্রতিটি সহীহ হাদিসের ওপর আমল ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে একমত যা শায়খাইন বর্ণনা করেননি; এমতাবস্থায় সহীহাইন-এর আর কোনো বিশেষত্ব অবশিষ্ট থাকে না। অথচ বিশুদ্ধতার দিক থেকে এই গ্রন্থদ্বয়ের যে বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, সে ব্যাপারে ইজমা প্রতিষ্ঠিত। শায়খাইন যা বর্ণনা করেছেন তা তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করে—একথা যারা স্পষ্টভাবে বলেছেন তাদের মধ্যে উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনী এবং হাদিসের ইমামগণের মধ্যে আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমায়দী, আবু আল-ফজল ইবনে তাহের ও অন্যান্যরা অন্যতম। আর এটি বলাও সম্ভব যে, উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যটি হলো তাঁদের হাদিসসমূহ সবচেয়ে বিশুদ্ধ হওয়া। আলামত পরিবেষ্টিত প্রকারসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে ‘মাশহুর’ হাদিস, যখন এর বিভিন্ন বর্ণনাসূত্র থাকবে এবং যা বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা ও দোষ-ত্রুটি থেকে মুক্ত হবে। এটি তাত্ত্বিক জ্ঞান প্রদান করে বলে যারা স্পষ্টভাবে বলেছেন তাদের মধ্যে উস্তাদ আবু মনসুর আল-বাগদাদী, উস্তাদ আবু বকর বিন ফুরাক ও অন্যান্যরা রয়েছেন।

আরেকটি হলো নির্ভরযোগ্য ও দক্ষ হাফেজ ইমামদের মাধ্যমে পরম্পরাযুক্ত (মুসালসাল) বর্ণনা, যেখানে এটি একক বা গারীব নয়; যেমন সেই হাদিস যা আহমদ বিন হাম্বল এবং তাঁর সাথে অন্যরাও বর্ণনা করেছেন শাফেয়ী থেকে, এবং শাফেয়ী থেকে তাঁর সাথে অন্যরাও বর্ণনা করেছেন মালিক বিন আনাস থেকে। এটি শ্রবণকারীর নিকট বর্ণনাকারীদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে এবং তাঁদের মাঝে কবুল করার উপযুক্ত গুণাবলী বিদ্যমান থাকার কারণে দলীলভিত্তিক নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে, যা অন্যদের বিপুল সংখ্যার স্থলাভিষিক্ত হয়। তাঁর বাকি কথা দেখুন।

ইবনে আস-সালাহ-এর পক্ষ যারা সমর্থন করেছেন তাদের মধ্যে সিরাজুদ্দীন আল-বুলকিনী অন্যতম। ইবনে কাসীর বলেন: "আমি ইবনে আস-সালাহ-এর সেই বিষয়ের সাথেই আছি যার ওপর তিনি নির্ভর করেছেন এবং ইঙ্গিত করেছেন।" সুয়ূতী শারহুত তাকরীব-এ বলেন: "এটিই আমার মনোনীত মত এবং আমি এটি ছাড়া অন্য কিছু বিশ্বাস করি না।"
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ২৪)
قال السخاوي في فتح المغيث على أن شيخنا قد ذكر في توضيح النخبة أن الخلاف في التحقيق لفظي قال لأن من جوز إطلاق العلم قيده بكونه نظرياً وهو الحاصل عن الاستدلال ومن أبي الإطلاق خص لفظ العلم بالمتواتر وما عداه عنده ظني لكنه لا ينفي أن ما احتف بالقرائن أرجح مما خلا عنها اهـ وفيه أن أرجحيته لا توجب العلم وإنما توجب الظن القوي فهذا التوفيق فيه نظر وقد انتصر جماعة من المتأخرين في هذه المسألة للنووي ومن وافقه وبالغوا في رد ما لابن الصلاح وابن حجر ومن ذكر معهما وقالوا أن جلالة شأن البخاري ومسلم وتلقي الأمة لكتابيهما بالقبول والإجماع على المزية لا يستلزم القطع والعلم غاية ما يلزم أن أحاديثهما أصح الصحيح لاشتمالها على الشروط المعتبرة عند الجمهور على الكمال وهذا لا يفيد إلا الظن القوي أي المزاحم لليقين ولا يفيد اليقين قالوا وهذا هو الحق الذي يجب أن يعول عليه.

(قلت) ويؤيده حكم جماعة من أهل الكشف على بعض أحاديثهما بعدم الوقوع كحديث شق الصدر الشريف ليلة الإسراء الواقع في الصحيحين وأنكره صاحب الإبريز كشفاً وراجع شروح توضيح النخبة للحافظ ابن حجر تستفد وهذا أوان الشروع في المقصود بعون الله الملك المعبود.

 

‌‌[حديث الافتتاح: إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى]

1- (إنما

الأعمال

بالنيات

وإنما

لكل

امرئ

ما

نوى

) .

- جعله بعضهم مثالاً للمتواتر ورده ابن الصلاح في مقدمة علوم الحديث له فقال وحديث الأعمال بالنيات ليس من ذلك السبيل أي سبيل المتواتر وأن نقله عدد المتواتر وزيادة لأن ذلك طرأ عليه في وسط إسناده ولم يوجد في أوائله على ما سبق ذكره اهـ.

وفي التقريب للنووي ما نصه وحديث من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار متواتر لا حديث إنما الأعمال بالنيات اهـ
সখাভী ফাতহুল মুগীস-এ বলেছেন যে, আমাদের শাইখ তাওদীহুন নুখবা-তে উল্লেখ করেছেন যে, প্রকৃতগতভাবে এই মতভেদটি শাব্দিক। তিনি বলেছেন, কারণ যারা ইলম (নিশ্চিত জ্ঞান) শব্দটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন, তারা একে 'নযরী' (যুক্তি ও দলিল ভিত্তিক) হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করেছেন—যা দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত হয়। আর যারা ইলম শব্দের ব্যবহার অস্বীকার করেছেন, তারা ইলম শব্দটিকে কেবল মুতাওয়াতির হাদিসের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং তাদের মতে তা ছাড়া বাকি সব ধারণা-নির্ভর (যন্নী)। তবে এটি অস্বীকার করে না যে, যেসব হাদিস আনুষঙ্গিক আলামত দ্বারা পরিবেষ্টিত, তা সেসব হাদিস থেকে অধিকতর অগ্রগণ্য যা এ থেকে মুক্ত। (উদ্ধৃতি শেষ)। এতে কথা হলো যে, এর প্রাধান্য পাওয়া 'ইলম' বা নিশ্চিত জ্ঞান সাব্যস্ত করে না, বরং কেবল প্রবল ধারণা সৃষ্টি করে। সুতরাং এই সমন্বয়ের বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। পরবর্তী যুগের একদল আলিম এই মাসআলায় নববী এবং তাঁর অনুসারীদের পক্ষাবলম্বন করেছেন। তারা ইবনে সালাহ, ইবনে হাজার এবং তাঁদের সাথে উল্লিখিত ব্যক্তিদের মতামত খণ্ডন করার ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন। তাঁরা বলেছেন যে, বুখারী ও মুসলিমের সুউচ্চ মর্যাদা, উম্মাহর পক্ষ থেকে তাঁদের কিতাবদ্বয়কে গ্রহণের মাধ্যমে সমাদৃত হওয়া এবং এর শ্রেষ্ঠত্বের ওপর ইজমা হওয়া—এসবই অকাট্য নিশ্চয়তা বা ইলম (নিশ্চিত জ্ঞান) হওয়াকে আবশ্যক করে না। বড়জোর এর দ্বারা যা সাব্যস্ত হয় তা হলো, তাঁদের হাদিসগুলো বিশুদ্ধতম হাদিস; কারণ এগুলো জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের নিকট গ্রহণযোগ্য শর্তাবলি পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করে। আর এটি প্রবল ধারণা ব্যতীত আর কিছু দেয় না—যা নিশ্চিত জ্ঞানের সমকক্ষ হতে চায় বটে, কিন্তু তা ইয়াকিন বা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে না। তাঁরা বলেছেন, এটিই হলো সত্য যার ওপর নির্ভর করা উচিত।

(আমি বলছি) একে সমর্থন করে একদল আহলে কাশফ-এর (আধ্যাত্মিক উন্মোচনকারী) সিদ্ধান্ত, যা তাঁদের কিতাবের কোনো কোনো হাদিস বাস্তব না হওয়ার বিষয়ে। যেমন মিরাজের রাতে বক্ষ বিদারণের হাদিসটি যা বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু ইবরীজ গ্রন্থের লেখক কাশফের মাধ্যমে তা অস্বীকার করেছেন। আপনি হাফেজ ইবনে হাজারের তাওদীহুন নুখবা-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো দেখে নিতে পারেন, উপকৃত হবেন। আর এখন রাজাধিরাজ মাবুদ আল্লাহর সাহায্যে মূল উদ্দেশ্য শুরু করার সময়।

 

‌‌[উদ্বোধনী হাদিস: নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করবে]

১- (নিশ্চয়ই

সকল কাজ

নিয়তের ওপর নির্ভরশীল

এবং নিশ্চয়ই

প্রত্যেক

ব্যক্তির জন্য

তা-ই রয়েছে

যা সে নিয়ত করেছে

) ।

- তাঁদের কেউ কেউ একে মুতাওয়াতির হাদিসের উদাহরণ হিসেবে গণ্য করেছেন, কিন্তু ইবনে সালাহ তাঁর উলূমুল হাদিস গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় তা খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেছেন: নিয়তের হাদিসটি সেই পথের (অর্থাৎ মুতাওয়াতিরের পথের) অন্তর্ভুক্ত নয়, যদিও একে মুতাওয়াতির হওয়ার মতো বিপুল সংখ্যক বা তার চেয়েও বেশি রাবী বর্ণনা করেছেন; কারণ এই আধিক্য ঘটেছে সনদের মাঝখানের পর্যায়ে, যা সনদের শুরুতে ছিল না, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। (উদ্ধৃতি শেষ)।

ইমাম নববীর 'তাকরীব' গ্রন্থে এর পাঠ্য এরূপ: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নেয়" - এই হাদিসটি মুতাওয়াতির, 'নিশ্চয়ই আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল' হাদিসটি নয়। (উদ্ধৃতি শেষ)।
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ২৫)
أي فليس بمتواتر لأن شرطه وجود عدة التواتر في جميع طبقاته بأن يرويه جمع يؤمن تواطؤهم على الكذب عن جمع كذلك إلى أن ينتهي إلى المخبر عنه صلى الله عليه وسلم وليس ذلك بموجود هنا إلا أن يراد التواتر المعنوي فيصح لأنه متواتر معنى لكونه ورد في طلب النية في العمل أحاديث كثيرة كما يأتي وقال المنذري في الترغيب زعم بعض المتأخرين أن هذا الحديث بلغ التواتر وليس كذلك فإنه مما انفرد به يحيى بن سعيد الأنصاري عن محمد ابن إبراهيم التيمي ثم رواه عن الأنصاري خلق كثير نحو مائتين وقيل سبعمائة وقيل أكثر وقد روي من طرق كثيرة غير طريق الأنصاري ولا يصح منها شيء كذا قال الحافظ علي بن المديني وغيره من الأئمة وقال الخطابي لا أعلم في ذلك خلافاً بين أهل الحديث والله أعلم اهـ.

وقال العراقي أطلق بعضهم على الحديث اسم الشهرة وبعضهم اسم التواتر ولا كذلك وإنما هو فرد ومن أطلق ذلك أراد الاشتهار والتواتر في آخر السند فقد قال ابن المديني رواه عن يحيى بن سعيد سبعمائة رجل اهـ.

وفي شرح التقريب للسخاوي أنه لا يصح التمثيل به للمشهور فضلاً عن المتواتر وإنما يمثل به للغريب قال لأن الحكم في مثله للأقل اهـ.

وحاصل ما للأئمة فيه أنه حديث فرد غريب باعتبار أوله بل تكررت الغرابة فيه أربع مرات باعتبار آخره لأنه لم يصح عن النبي صلى الله عليه وسلم كما قاله غير واحد من الحفاظ إلا من حديث عمرو لا عن عمر إلا من رواية علقمة ولا عن علقمة إلا من رواية محمد بن إبراهيم التيمي ولا عن التيمي إلا من رواية يحيى بن سعيد الأنصاري ومداره عليه وأما بعد يحيى فقد رواه عنه أكثر من مائتي إنسان أكثرهم أئمة وفي كلام الحافظ أبي عبد الله محمد بن علي الخشاب أنه رواه عنه مائتان وخمسون نفراً وذكر ابن منده أسماءهم مرتبة على حروف المعجم فبلغت ثلاثمائة أو أربعة قال الحافظ ابن حجر في أماليه المخرجة على مختصر ابن الحاجب الأصلي وقد وقع لي من رواية ثلاثة غير من سمى وذكر الحافظ أبو موسى المديني أن الحافظ أبا إسماعيل الهروي المعروف بشيخ الإسلام
অর্থাৎ, এটি মুতাওয়াতির নয়। কারণ মুতাওয়াতিরের শর্ত হলো এর সনদের সকল স্তরে এমন সংখ্যক বর্ণনাকারী থাকা, যাদের মিথ্যার ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া অসম্ভব বলে মনে করা হয়, এবং তারা অনুরূপ এক দল থেকে বর্ণনা করবেন এভাবে বিষয়টি সংবাদদাতার (আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছাবে। এখানে বিষয়টি তেমন নয়। তবে যদি অর্থগত মুতাওয়াতির (মুতাওয়াতির মানাভি) উদ্দেশ্য হয়, তবে তা সঠিক হতে পারে; কারণ আমলে নিয়তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যা সামনে আসবে। আল-মুনযিরি 'আত-তারগীব' গ্রন্থে বলেন, কোনো কোনো পরবর্তী আলেম দাবি করেছেন যে এই হাদিসটি মুতাওয়াতির পর্যায়ে পৌঁছেছে, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। কেননা এটি এমন হাদিস যা মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এরপর আল-আনসারি থেকে এক বিশাল গোষ্ঠী এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের সংখ্যা প্রায় দুইশ, কারো মতে সাতশ, আবার কারো মতে এর চেয়েও বেশি। আনসারির পথ ব্যতিরেকে অন্য অনেক সূত্রেও এটি বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তার কোনটিই বিশুদ্ধ নয়। হাফেজ আলী ইবনুল মাদিনি ও অন্যান্য ইমামগণ এরূপই বলেছেন। আল-খাত্তাবি বলেন, এ বিষয়ে হাদিস বিশারদগণের মধ্যে কোনো মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই। আল্লাহই ভালো জানেন। সমাপ্ত।

আল-ইরাকি বলেন, কেউ কেউ এই হাদিসের ওপর 'মাশহুর' (প্রসিদ্ধ) পরিভাষাটি প্রয়োগ করেছেন, আবার কেউ 'মুতাওয়াতির' বলেছেন। বিষয়টি আসলে তেমন নয়, বরং এটি 'ফারদ' (একক) হাদিস। যারা এমনটি বলেছেন, তারা সনদের শেষ ভাগের প্রসিদ্ধি ও মুতাওয়াতির হওয়া বুঝিয়েছেন। কারণ ইবনুল মাদিনি বলেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে সাতশ ব্যক্তি এটি বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।

সাখাবির 'শারহুত তাকরীব' গ্রন্থে আছে যে, মাশহুর হিসেবে এর উদাহরণ দেওয়া সঠিক নয়, মুতাওয়াতির হওয়া তো দূরের কথা। বরং এটি 'গারীব' হাদিসের উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়। তিনি বলেন, কারণ এ জাতীয় ক্ষেত্রে হুকুম বা বিচার হয় স্তরের সর্বনিম্ন সংখ্যা অনুযায়ী। সমাপ্ত।

এই হাদিস সম্পর্কে ইমামগণের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলো, এটি সনদের শুরুর দিক বিবেচনা করলে একটি 'ফারদ গারীব' হাদিস। বরং এর শেষ দিক বিবেচনা করলে এতে চারবার 'গারাবাহ' (এককত্ব) পুনরাবৃত্তি হয়েছে। কেননা অনেক হাফেজে হাদিস যেমনটি বলেছেন, এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উমর ব্যতীত কারো মাধ্যমে বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত নয়, উমর থেকে আলকামাহ ছাড়া কেউ বর্ণনা করেননি, আলকামাহ থেকে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আত-তাইমি ছাড়া কেউ বর্ণনা করেননি, এবং আত-তাইমি থেকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারি ছাড়া কেউ বর্ণনা করেননি। সনদের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলেন তিনি (ইয়াহইয়া)। তবে ইয়াহইয়ার পর দুইশরও বেশি মানুষ তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের অধিকাংশ ছিলেন ইমাম। হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-খাশ্শাব এর বক্তব্যে আছে যে, এটি তার থেকে দুইশ পঞ্চাশ জন বর্ণনা করেছেন। ইবনে মানদাহ বর্ণনাকারীদের নাম অভিধানের বর্ণক্রম অনুযায়ী উল্লেখ করেছেন এবং তা তিনশ বা চারশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। হাফেজ ইবনে হাজার তার 'আমানি' (যা ইবনুল হাজিবের 'আল-মুখতাসার'-এর ওপর ভিত্তি করে রচিত) গ্রন্থে বলেন, আমি উল্লেখিত ব্যক্তিগণ ছাড়াও আরও তিনজনের বর্ণনার সন্ধান পেয়েছি। হাফেজ আবু মুসা আল-মাদিনি উল্লেখ করেছেন যে, শায়খুল ইসলাম নামে পরিচিত হাফেজ আবু ইসমাইল আল-হারাউই...
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ২৬)
ذكر أنه كتبه عن سبعمائة رجل من أصحاب يحيى قال الحافظ وهذا يمكن تأويله بأن يكون له عن كل نفس من أصحاب يحيى أكثر من طريق فلا تزيد العدة على ما سمي ابن منده فإن الرواة عن يحيى لا يبلغون هذه العدة فيما نعلم وأكثر من سمي ابن منده ما وقفنا على رواياتهم اهـ. وقال في تخريج أحاديث الرافعي تتبعته من الكتب والأجزاء حتى مررت على أكثر من ثلاثة آلاف جزء فما استطعت أن أكمل له سبعين طريقاً اهـ.

وذكر أبو القاسم عبد الرحمان ابن منده في كتاب التذكرة له أنه رواه عن النبي صلى الله عليه وسلم مع عمر علي بن أبي طالب وسعد بن أبي وقاص وابن مسعود وأبو ذر وعبادة ابن الصامت وأبو هريرة وأبو سعيد الخدري وابن عمر وابن عباس ومعاوية وعقبة بن عامر وعتبة بن عبد السلمي وجابر وأنس وعتبة ابن الندر وعتبة بن مسلم وهلال بن سويد وذكر الحافظ عماد الدين ابن كثير أنه سأل المزي عن كلام ابن منده هذا فاستبعده ووجهه الحافظ أبو الفضل العراقي في كلامه على ابن الصلاح بأن مراده أن هؤلاء رووا أحاديث في مطلق اعتبار النية لا خصوص هذا اللفظ ونبه على أن الأخيرين ليسا بصحابيين قال الحافظ وقد ورد بلفظه من حديث أربعة من المذكورين وهم أبو سعيد وأنس وأبو هريرة وعمر اهـ.

وذكر الحافظ أبو الفضل العراقي أنه رواه ثلاث وثلاثون صحابياً أي وهم من تقدم ويزاد عليهم أبو الدرداء وسهل بن سعد والنواس بن سمعان وأبو موسى الأشعري وصهيب بن سنان أبو أمامة الباهلي وزيد بن ثابت ورافع بن خديج وصفوان ابن أمية وغزية بن الحارث والحارث بن غزية وعائشة وأم سلمة وأم حبيبة وصفية بنت حيي ويعني أنهم رووا أحاديث في مطلق النية لقول ولده الولد العراقي هو منحصر في رواية عمر وما عداه ضعيف أو في مطلق النية اهـ.

وذكر ابن منده أيضاً أنه رواه عن عمر غير علقمة جماهير منهم ابنه عبد الله وجابر وأبو جحيفة وعبد الله بن عامر بن ربيعة وذو الكلاع وعطاء ابن يسار وناشرة بن سمي وواصل ابن عمرو الجذامي ومحمد بن المنكدر وأنه
উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি এটি ইয়াহইয়ার সাথীদের মধ্যে সাতশত ব্যক্তির নিকট থেকে লিপিবদ্ধ করেছেন। আল-হাফিয (ইবনে হাজার) বলেন, এর ব্যাখ্যা এভাবে করা যেতে পারে যে, ইয়াহইয়ার সাথীদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তির পক্ষ থেকে তাঁর নিকট একাধিক সূত্র ছিল, ফলে সংখ্যাটি ইবনে মান্দাহর নামোল্লিখিত সংখ্যার চেয়ে বেশি হবে না। কেননা আমাদের জানামতে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনাকারীদের সংখ্যা এই পর্যন্ত পৌঁছায় না, আর ইবনে মান্দাহ যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের অধিকাংশের বর্ণনাই আমরা পাইনি। তিনি ‘তাখরিজ আহাদিসুর রাফেয়ি’ গ্রন্থে বলেছেন: আমি বিভিন্ন কিতাব ও খণ্ড তালাশ করেছি, এমনকি তিন হাজারেরও বেশি খণ্ড দেখেছি, কিন্তু এর জন্য সত্তরটি সূত্রও পূর্ণ করতে সক্ষম হইনি।

আবুল কাসেম আব্দুর রহমান ইবনে মান্দাহ তাঁর ‘আত-তাযকিরাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে উমর (রা.)-এর সাথে আলী বিন আবি তালিব, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, ইবনে মাসউদ, আবু যার, উবাদাহ ইবনুস সামিত, আবু হুরায়রা, আবু সাঈদ আল-খুদরী, ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস, মুয়াবিয়া, উকবাহ বিন আমির, উতবাহ বিন আব্দুস সুলামী, জাবির, আনাস, উতবাহ ইবনুন নাদর, উতবাহ বিন মুসলিম এবং হিলাল বিন সুওয়াইদ এটি বর্ণনা করেছেন। হাফিয ইমাদুদ্দীন ইবনে কাসীর উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবনে মান্দাহর এই বক্তব্য সম্পর্কে আল-মিযযীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, আর তিনি এটিকে সুদূরপরাহত মনে করেছেন। হাফিয আবুল ফজল আল-ইরাকী ‘ইবনুস সালাহ’-এর ওপর তাঁর মন্তব্যে এর কারণ দর্শিয়েছেন যে, তাঁর উদ্দেশ্য হলো—এঁরা সাধারণভাবে নিয়তের গুরুত্ব বিবেচনায় হাদিস বর্ণনা করেছেন, বিশেষ করে এই শব্দে নয়। তিনি সতর্ক করেছেন যে, শেষোক্ত দুইজন সাহাবী নন। হাফিয (ইবনে হাজার) বলেছেন, এই শব্দে উল্লেখিত চারজন ব্যক্তির হাদিস থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে, তারা হলেন: আবু সাঈদ, আনাস, আবু হুরায়রা এবং উমর।

হাফিয আবুল ফজল আল-ইরাকী উল্লেখ করেছেন যে, তেত্রিশজন সাহাবী এটি বর্ণনা করেছেন; অর্থাৎ পূর্বে যাদের কথা বলা হয়েছে তারা এবং তাদের সাথে আরও যুক্ত হবেন আবু দারদা, সাহল বিন সাদ, আন-নাওয়াস বিন সামআন, আবু মুসা আল-আশআরী, সুহাইব বিন সিনান, আবু উমামাহ আল-বাহিলী, যায়েদ বিন সাবিত, রাফে বিন খাদীজ, সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া, গাযিয়্যাহ বিন আল-হারিস, আল-হারিস বিন গাযিয়্যাহ, আয়েশা, উম্মে সালামাহ, উম্মে হাবীবা এবং সাফিয়্যাহ বিনতে হুয়াই। তাঁর উদ্দেশ্য হলো যে, তাঁরা সাধারণভাবে নিয়ত সম্পর্কে হাদিস বর্ণনা করেছেন; কারণ তাঁর পুত্র আল-ওয়ালীদ আল-ইরাকী বলেছেন: এটি উমরের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ, আর অন্যগুলো হয় দুর্বল অথবা সাধারণভাবে নিয়তের বর্ণনায়।

ইবনে মান্দাহ আরও উল্লেখ করেছেন যে, আলকামা ছাড়াও এক বিশাল জনসমষ্টি উমর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ, জাবির, আবু জুহাইফা, আব্দুল্লাহ বিন আমির বিন রাবিয়া, যু আল-কালা’, আতা বিন ইয়াসার, নাশিরাহ বিন সুমাই, ওয়াসিল বিন আমর আল-জুযামী, মুহাম্মদ বিন আল-মুনকাদির এবং এই যে...
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ২৭)
رواه عن علقمة غير محمد بن إبراهيم سعيد بن المسيب ونافع مولى ابن عمر وأنه رواه عن محمد غير يحي أخوه عبد ربه بن سعيد وحجاج بن أرطأة ومحمد بن إسحاق وداود بن أبي الفرات ومحمد ابن عمرو ابن علقمة الليثي وكان ابن منده هذا هو الذي ادعى تواتره فلذلك احتاج إلى هذا التكلف الذي ذكره فإن أراد التواتر المعنوي فذاك وإلا فممنوع لأنه لم يصح له طريق غير طريق عمر ولم يرد بلفظ حديث عمر إلا من حديث أبي سعيد وقد صرحوا بتغليظ راويه فيه وحديث علي وفيه من لا يعرف وحديث أنس وهو غريب جداً وحديث أبي هريرة وهو ضعيف وسائر أحاديث الصحابة المذكورين إنما هي في مطلق النية كحديث يبعثون على نياتهم وحديث لا عمل لمن لا نية له وحديث ليس للمرء من عمله إلا ما نواه وحديث نية المؤمن خير من عمله وحديث ليس له من غزاته إلا ما نوى وحديث ولكن جهاد ونية وحديث رب قتيل بين الصفين الله أعلم بنيته وحديث لك ما نويت يا يزيد وما أشبه ذلك وقد قال السيوطي في منتهى الآمال في شرح حديث إنما الأعمال ورد في مطلق النية أحاديث كثيرة جداً تزيد على عدد التواتر ثم ذكر بعضها من حديث أنس وابن عباس ورافع بن خديج وزيد بن ثابت وأبي سعيد الخدري وغزية بن الحارث وسعد بن أبي وقاص ومعاوية وعقبة بن عامر وأبي ذر وأبي الدرداء فانظره وانظر أيضاً أمالي الحافظ ابن حجر المخرجة على مختصر ابن الحاجب الأصلي وشرح التقريب للسيوطي في الكلام على الشاذ وإرشاد الساري وغير ذلك وبهذا كله تعلم ما في قول الشعراني في البدر المنير حديث الأعمال بالنيات رواه الشيخان لكن بزيادة إنما الأعمال رواه ثلاثون صحابياً فهو من الأحاديث المتواترة اهـ.

আলকামা থেকে মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম ছাড়া আরও বর্ণনা করেছেন সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং ইবন উমরের মুক্তদাস নাফি। আর মুহাম্মদ থেকে ইয়াহইয়া ছাড়া আরও বর্ণনা করেছেন তার ভাই আবদুর রব্বিহি ইবন সাঈদ, হাজ্জাজ ইবন আরতাহ, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক, দাউদ ইবন আবিল ফুরাত এবং মুহাম্মদ ইবন আমর ইবন আলকামা আল-লাইসি। আর এই ইবন মানদাহ-ই এর তাওয়াতুর (নিরবচ্ছিন্নতা) দাবি করেছিলেন, আর সে কারণেই তিনি উল্লিখিত এই কষ্টসাধ্য ব্যাখ্যার আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি যদি এর দ্বারা অর্থগত তাওয়াতুর বুঝিয়ে থাকেন তবে তা আলাদা কথা, অন্যথায় তা অগ্রহণযোগ্য; কারণ উমরের সূত্র ছাড়া অন্য কোনো সূত্রে এটি সহীহ সাব্যস্ত হয়নি। আর উমরের হাদিসের শব্দাবলীতে আবু সাঈদের হাদিস ছাড়া অন্য কিছু বর্ণিত হয়নি, আর উলামাগণ এর বর্ণনাকারীর ব্যাপারে কঠোরতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আলীর হাদিস—যাতে এমন বর্ণনাকারী রয়েছে যাকে চেনা যায় না; আনাসের হাদিস—যা অত্যন্ত বিরল; এবং আবু হুরাইরার হাদিস—যা দুর্বল। আর উল্লিখিত অন্যান্য সাহাবীদের হাদিসসমূহ মূলত কেবল নিয়তের সাধারণ গুরুত্ব প্রসঙ্গে, যেমন: "তাদেরকে তাদের নিয়তের ওপর পুনরুত্থিত করা হবে" হাদিসটি, "যার নিয়ত নেই তার কোনো আমল নেই" হাদিসটি, "মানুষের জন্য তার আমল থেকে সেটুকুই রয়েছে যা সে নিয়ত করেছে" হাদিসটি, "মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়ে উত্তম" হাদিসটি, এবং হাদিস "তার যুদ্ধের প্রতিদান কেবল সেটুকুই যা সে নিয়ত করেছে", হাদিস "তবে জিহাদ ও নিয়ত (বাকি রয়েছে)", হাদিস "দুই কাতারের মাঝে নিহত অনেকের ব্যাপারে আল্লাহ তাদের নিয়ত সম্পর্কে অধিক অবগত", হাদিস "হে ইয়াযিদ, তুমি যা নিয়ত করেছ তাই তোমার জন্য", এবং এই জাতীয় অন্যান্য হাদিসসমূহ। সুয়ূতী 'মুনতাহাল আমাল ফী শারহি হাদিসি ইন্নামাল আমাল'-এ বলেছেন: নিয়তের সাধারণ গুরুত্ব বিষয়ে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা তাওয়াতুর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে যায়। অতঃপর তিনি আনাস, ইবন আব্বাস, রাফি ইবন খাদীজ, যায়িদ ইবন সাবিত, আবু সাঈদ আল-খুদরী, গাযিয়্যাহ ইবনুল হারিস, সা’দ ইবন আবী ওয়াক্কাস, মুয়াবিয়া, উকবাহ ইবন আমির, আবু যার এবং আবুদ্দারদা-এর বর্ণিত কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন। সুতরাং আপনি এটি দেখুন এবং হাফিজ ইবন হাজারের 'আমালী' যা 'মুখতাসার ইবনুল হাজিব আল-আসলী'-এর ওপর ভিত্তি করে সংকলিত, সুয়ূতীর 'শারহুত তাকরীব'-এ 'শায' বর্ণনার আলোচনায়, 'ইরশাদুস সারী' এবং অন্যান্য কিতাবসমূহ দেখুন। আর এই সবকিছুর মাধ্যমে আপনি আশ-শা'রানীর 'আল-বাদরুল মুনীর' কিতাবের এই বক্তব্যের স্বরূপ বুঝতে পারবেন যেখানে তিনি বলেছেন: "আমাল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটি শাইখাইন বর্ণনা করেছেন, তবে "নিশ্চয়ই আমলসমূহ..." অতিরিক্ত শব্দসহ এটি ত্রিশজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন, ফলে এটি মুতাওয়াতির হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ২৮)
ثم هذا الحديث من الأحاديث التي لم يذكرها السيوطي في الأزهار لأن مراده فيه والله أعلم بيان المتواتر اللفظي لا المعنوي وإن أورد فيه الكثير مما هو معنوي أيضاً والله المرشد.

 

‌‌(كتاب

العلم

) .

2- (من كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار) .

- أورده في الأزهار مصدراً به من حديث علي بن أبي طالب وأنس بن مالك والمغيرة بن شعبة والزبير بن العوام وسلمة بن الأكوع وابن عمر وابن مسعود وجابر بن عبد الله وأبي قتادة وأبي سعيد الخدري وعفان بن حبيب وعمر بن الخطاب وعثمان بن عفان وخالد بن عرفطة وزيد بن أرقم وابن عمر وعقبة بن عامر وقيس بن سعد بن عبادة ومعاوية بن أبي سفيان وأبي موسى الغافقي وأبي بكر الصديق وطلحة بن عبيد الله وأوس بن أوس والبراء ابن عازب وحذيفة ابن اليمان ورافع بن خديج والسائب بن يزيد وسعد بن المدحاس وسلمان الفارسي وصهيب وابن عباس وعتبة بن غزوان والعرس بن عميرة وعمار بن ياسر وعمرو بن حريث وعمرو بن عبسة وعمرو بن مرة ومعاذ بن جبل ونبيط بن شريط ويعلى ابن مرة وأبي أمامة وأبي موسى الأشعري وأبي ميمون الكردي وأبي قرصافة ووالد أبي مالك الأشجعي واسمه طارق بن أشيم وسعيد بن زيد وعمران بن حصين وابن الزبير ويزيد ابن أسد وأبي رمثة وأبي رافع وأم أيمن وجابر بن حابس وسلمان بن خالد وعبد الله بن زغب وأسامة بن زيد وعبد الله بن أبي أوفى وبريدة وسفينة وواثلة بن الأسقع وأبي عبيدة ابن الجراح وسعد بن أبي وقاص وحذيفة بن أسيد وزيد بن ثابت وكعب بن قطبة ومعاوية ابن حيدة والمنقع التميمي وأبي كبشة الأنماري ووالد أبي العشراء وأبي ذر وعائشة اثنين وسبعين صحابياً قال وممن ذكر من رواته عبد الرحمان بن عوف قال ابن الجوزي ولم يقع لي حديثه وعمرو بن عوف وأبو الحمراء اهـ.
অতঃপর এই হাদিসটি সেই সকল হাদিসের অন্তর্ভুক্ত যা সুয়ূতী ‘আল-আযহার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেননি; কারণ সেখানে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল—আল্লাহই ভালো জানেন—শব্দগত মুতাওয়াতির (মুতাওয়াতির লাফযি) বর্ণনা করা, অর্থগত মুতাওয়াতির (মানাউয়ি) নয়, যদিও তিনি সেখানে অর্থগত মুতাওয়াতির হিসেবেও অনেক বর্ণনা উল্লেখ করেছেন। আর আল্লাহই সঠিক পথপ্রদর্শক।

 

‌‌(ইলম

অধ্যায়

) ।

২- (যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়) ।

- তিনি এটি ‘আল-আযহার’ গ্রন্থে উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে আবি তালিব, আনাস ইবনে মালিক, মুগীরা ইবনে শুবা, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, সালামাহ ইবনুল আকওয়া, ইবনে ওমর, ইবনে মাসউদ, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ, আবু কাতাদাহ, আবু সাঈদ আল-খুদরি, আফফান ইবনে হাবিব, ওমর ইবনুল খাত্তাব, ওসমান ইবনে আফফান, খালিদ ইবনে আরফাতাহ, যায়েদ ইবনে আরকাম, ইবনে ওমর, উকবা ইবনে আমির, কায়স ইবনে সাদ ইবনে উবাদাহ, মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান, আবু মুসা আল-গাফেকি, আবু বকর আস-সিদ্দিক, তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ, আওস ইবনে আওস, বারা ইবনে আযিব, হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান, রাফে ইবনে খাদীজ, সায়িব ইবনে ইয়াযিদ, সাদ ইবনুল মাদহাস, সালমান আল-ফারিসি, সুহাইব, ইবনে আব্বাস, উতবা ইবনে গাযওয়ান, আল-উরস ইবনে আমিরাহ, আম্মার ইবনে ইয়াসির, আমর ইবনে হুরয়াইস, আমর ইবনে আবাসা, আমর ইবনে মুররাহ, মুয়াজ ইবনে জাবাল, নাবিত ইবনে শারিত, ইয়ালা ইবনে মুররাহ, আবু উমামাহ, আবু মুসা আল-আশআরি, আবু মাইমুন আল-কুর্দি, আবু কুরাসফাহ, আবু মালিক আল-আশজায়ির পিতা—যার নাম তারিক ইবনে আশয়াম, সাঈদ ইবনে যায়েদ, ইমরান ইবনে হুসাইন, ইবনে যুবাইর, ইয়াযিদ ইবনে আসাদ, আবু রিমসা, আবু রাফে, উম্মে আয়মান, জাবির ইবনে হাবিস, সালমান ইবনে খালিদ, আব্দুল্লাহ ইবনে যাগাব, উসামা ইবনে যায়েদ, আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা, বুরাইদাহ, সাফিনাহ, ওয়াসিলা ইবনুল আসকা, আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, হুজাইফা ইবনে আসিদ, যায়েদ ইবনে সাবিত, কাব ইবনে কুতবাহ, মুয়াবিয়া ইবনে হাইদাহ, আল-মুনকা আল-তামিমি, আবু কাবশাহ আল-আনমারি, আবু আল-আশরার পিতা, আবু যার এবং আয়েশা—মোট বাহাত্তর জন সাহাবীর বর্ণিত হাদিস থেকে। তিনি বলেছেন, বর্ণনাকারীদের মধ্যে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাঁদের একজন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ; ইবনুল জাওযি বলেছেন: ‘আমি তাঁর বর্ণিত হাদিসটি পাইনি’। এছাড়াও আমর ইবনে আউফ এবং আবু আল-হামরা। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ২৯)
وبهؤلاء الثلاثة تبلغ رواته خمساً وسبعين.

… ... … ... … ... SPعليه الصلاة والسلامLL رحمه اللهHعليه الصلاة والسلامرحمه اللهK TILL Hعليه الصلاة والسلامRعليه الصلاة والسلام … ... … ... … ... …

(قلت) وعلى هذا جرى أيضاً في شرح التقريب فإنه عدله من الرواة مرتبين على حروف المعجم خمساً وستين بدون العشرة المبشرين وبهم يصل العدد إلى ما ذكرناه وقد زاد غيره ممن رواه جماعة آخرين انظر شرح الأحياء وقد قالوا أن البخاري أخرجه في العلم من حديث علي والزبير بن العوام وأنس بن مالك وسلمة ابن الأكوع وأبي هريرة وفي الجنائز من حديث المغيرة بن شعبة وفي أخبار بني إسرائيل من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص وفي مناقب قريش من حديث واثلة بن الأسقع لكن ليس هو بلفظ الوعيد بالنار صريحاً واتفق مسلم معه على تخريج حديث علي وأنس وأبي هريرة والمغيرة أخرجه مسلم من حديث أبي سعيد الخدري أيضاً وصح أيضاً في غيرهما من حديث عثمان بن عفان وابن مسعود وابن عمر وأبي قتادة وجابر وزيد بن أرقم وورد بأسانيد حسان من حديث طلحة ابن عبيد الله وسعيد بن زيد وأبي عبيدة بن الجراح وسعد بن أبي وقاص ومعاذ بن جبل وعقبة بن عامر وعمران بن حصين وابن عباس وسلمان الفارسي ومعاوية بن أبي سفيان ورافع بن خديج وطارق الأشجعي والسائب بن يزيد وخالد بن عرفطة وأبي أمامة وأبي قرصافة وأبي موسى الغافقي وعائشة فهؤلاء ثلاث وثلاثون نفساً من الصحابة وورد أيضاً على نحو من خمسين غيرهم بأسانيد ضعيفة متماسكة وعن نحو من عشرين آخرين بأسانيد ساقطة وقد جمع الحافظ ابن حجر طرقه في جزء ضخم واعتنى جماعة من الحفاظ قبله بجمع طرقه أولهم علي بن المديني وتبعه يعقوب بن شيبة فقال روى هذا الحديث من عشرين وجهاً عن الصحابة من الحجازيين وغيرهم ثم إبراهيم الحربي وأبو بكر الرازي فقال كل منهما أنه ورد من حديث أربعين من الصحابة وجمع طرقه في ذلك العصر أبو محمد يحيى بن محمد بن صاعد فزاد قليلاً وقال أبو بكر الصيرفي في شارح رسالة الشافعي رواه ستون نفساً من الصحابة وجمع طرقه الطبراني فزاد قليلاً وقال أبو القاسم ابن منده رواه أكثر من ثمانين نفساً وقد خرجها بعض النيسابوريين فزادت قليلاً وجمع طرقه ابن الجوزي في مقدمة كتاب الموضوعات في
এবং এই তিনজনের মাধ্যমে এর বর্ণনাকারীর সংখ্যা পঁচাত্তরে পৌঁছেছে।

… ... … ... … ... SPতাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোকLL আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুনHতাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোকআল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুনK TILL Hতাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোকRতাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক … ... … ... … ... …

(আমি বলছি) এবং ‘শারহুত তাকরীব’-এও এভাবেই বর্ণিত হয়েছে; কেননা সেখানে বর্ণনাকারীদের অভিধানিক বর্ণানুক্রম অনুযায়ী পঁয়ষট্টিজন গণ্য করা হয়েছে ‘আশারা মুবাশশারা’ (সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন) ব্যতীত, আর তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করলে সংখ্যাটি আমাদের উল্লিখিত সংখ্যায় পৌঁছায়। অন্যান্যরা এর সাথে আরও একদল বর্ণনাকারীর কথা বৃদ্ধি করেছেন, দেখুন ‘শারহুল ইহয়া’। তাঁরা বলেছেন যে, ইমাম বুখারী এটি ‘ইলম’ (জ্ঞান) অধ্যায়ে আলী, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, আনাস ইবনে মালিক, সালামাহ ইবনুল আকওয়া এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন। ‘জানায়েয’ অধ্যায়ে মুগীরাহ ইবনে শু’বাহ-এর হাদীস থেকে, ‘বনী ইসরাঈলের সংবাদ’ অধ্যায়ে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস-এর হাদীস থেকে এবং ‘কুরাইশদের মর্যাদা’ অধ্যায়ে ওয়াসিলা ইবনুল আসকা-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে এতে জাহান্নামের আগুনের শাস্তির কথা স্পষ্টভাবে নেই। ইমাম মুসলিম আলী, আনাস, আবু হুরায়রা এবং মুগীরাহ-এর হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর (বুখারীর) সাথে একমত হয়েছেন। ইমাম মুসলিম এটি আবু সাঈদ খুদরী থেকেও বর্ণনা করেছেন। এই দুজন ছাড়াও উসমান ইবনে আফফান, ইবনে মাসউদ, ইবনে উমর, আবু কাতাদাহ, জাবির এবং যায়েদ ইবনে আরকাম-এর বর্ণনায় এটি সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। এবং তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ, সাঈদ ইবনে যায়েদ, আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, মুয়ায ইবনে জাবাল, উকবাহ ইবনে আমির, ইমরান ইবনে হুসাইন, ইবনে আব্বাস, সালমান আল-ফারিসী, মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, রাফি ইবনে খাদীজ, তারিক আল-আশজাঈ, সায়িব ইবনে ইয়াযীদ, খালিদ ইবনে আরফাতাহ, আবু উমামাহ, আবু কুরসাফাহ, আবু মুসা আল-গাফিকী এবং আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সূত্রে এটি হাসান সনদে বর্ণিত হয়েছে। এঁরা সাহাবীদের মধ্য থেকে মোট তেত্রিশজন ব্যক্তি। এছাড়া আরও প্রায় পঞ্চাশজনের সূত্রে গ্রহণযোগ্য দুর্বল সনদে এবং অন্য প্রায় বিশজনের সূত্রে অত্যন্ত দুর্বল বা পরিত্যক্ত সনদে এটি বর্ণিত হয়েছে। হাফিয ইবনে হাজার একটি বিশাল খণ্ডে এর সকল সূত্র একত্রিত করেছেন। তাঁর পূর্ববর্তী হাফিযদের একটি দলও এর সূত্রসমূহ সংকলনের প্রতি যত্নবান হয়েছিলেন, যাঁদের মধ্যে প্রথম হলেন আলী ইবনুল মাদীনী এবং তাঁর অনুসরণ করেছেন ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ। তিনি বলেন: হিজাযী ও অন্যান্য অঞ্চলের সাহাবীদের থেকে বিশটি সূত্রে এই হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর ইবরাহীম আল-হারবী এবং আবু বকর আর-রাযী উভয়েই বলেছেন যে, এটি চল্লিশজন সাহাবীর বর্ণনায় এসেছে। সেই যুগে আবু মুহাম্মদ ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সায়িদ এর সূত্রগুলো সংকলন করেন এবং সংখ্যাটি কিছুটা বৃদ্ধি করেন। ইমাম শাফিঈর ‘রিসালাহ’-এর ব্যাখ্যাকার আবু বকর আস-সায়রাফী বলেন: এটি ষাটজন সাহাবী বর্ণনা করেছেন। তাবারানী এর সূত্রগুলো সংকলন করেন এবং এর চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি করেন। আবু আল-কাসিম ইবনে মানদাহ বলেন: এটি আশিজনেরও বেশি ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন। নিশাপুরের জনৈক আলিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং সংখ্যায় কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছেন। ইবনে আল-জাওযী তাঁর ‘আল-মাওযুআত’ গ্রন্থের ভূমিকায় এর সূত্রগুলো একত্রিত করেছেন...
(খণ্ড: ১) নাযমুল মুতানাছির (পৃষ্ঠা: ৩০)
النسخة الأولى فأوصل رواته إلى أحد وستين صحابياً في النسخة الثانية وهي أطول من الأولى فجاوز التسعين وبذلك جزم ابن دحية فيما نقله عنه في فتح الباري وتبعه السخاوي وفي نقل المناوي عنه أنه جاء من نحو أربعمائة طريق ولابد من تأويله وقال أبو موسى المديني يرويه نحو مائة من الصحابة وجمعها بعده الحافظان أبو الحجاج يوسف بن خليل الدمشقي المعروف بالمزي وأبو علي البكري وهما متعاصران فوقع لكل ما ليس عند الآخر وتحصل من مجموع ذلك كله رواية مائة من الصحابة على ما فصلناه من صحيح وحسن وضعيف وساقط مع أن فيها ما هو في مطلق ذم الكذب عليه من غير تقييد بهذا الوعيد الخاص وذكر العراقي في الفيته أن رواته من الصحابة نيفوا أي زادوا على مائة قال في فتح المغيث باثنين قال وذلك بالنظر لمجموع ما عندهم اهـ.

ونقل النووي في مقدمة شرح مسلم عن بعضهم أنه رواه مائتان من الصحابة قال في فتح المغيث واستبعد المصنف يعني العراقي ذلك ووجهه غيره بأنه في مطلق الكذب كحديث من حدث عني بحديث يرى أنه كذب فهو أحد الكاذبين ونحوه ولعله كما قال شيخنا سبق قلم من مائة اهـ.

وقال الحافظ برهان الدين الحلبي في الكشف الحثيث عمن رمى بوضع الحديث قال شيخنا الحافظ العراقي القول بأنه روى هذا الحديث مائتان من الصحابة أستبعد أنا وقوعه قال وذكر شيخنا أيضاً الصحابة الذين رووه على حروف المعجم في كتاب النكت على ابن الصلاح فيما قرأته عليه وقال فهؤلاء خمسة وسبعون ويصح من نحو عشرين واتفق الشيخان على حديث أربعة منهم اهـ.

وقال السيوطي في شرحه للألفية المصطلح للعراقي قال جماعة أنه رواه أكثر من مائة من الصحابة قال العراقي وليس في هذا المتن بعينه ولكنه في مطلق الكذب والخاص بهذا المتن رواية بضع وسبعين قال أعني السيوطي وقد سقت أسماءهم في شرح التقريب والتأليف الذي جمعته في الأحاديث المتواترة اهـ.
প্রথম সংস্করণে তিনি এর বর্ণনাকারীদের সংখ্যা একষট্টি জন সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। দ্বিতীয় সংস্করণে—যা প্রথমটির চেয়ে দীর্ঘতর—তা নব্বই অতিক্রম করেছে। ইবনে দাহিয়্যাহ ফাতহুল বারীতে উদ্ধৃত বর্ণনায় এ ব্যাপারে দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন এবং সাখাবী তাঁর অনুসরণ করেছেন। মুনাবীর বর্ণনায় তাঁর থেকে এসেছে যে, এটি প্রায় চারশত সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তবে এর অবশ্যই ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। আবু মুসা আল-মাদীনী বলেছেন, এটি প্রায় একশত জন সাহাবী বর্ণনা করেছেন। তাঁর পরে হাফেজ আবু হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলিল আদ-দামেশকী—যিনি আল-মিযযী নামে পরিচিত—এবং আবু আলী আল-বাকরী তা সংকলন করেছেন; তাঁরা সমসাময়িক ছিলেন। ফলে একজনের নিকট যা ছিল না, তা অন্যের নিকট পাওয়া গেছে। আমরা সহীহ, হাসান, যয়ীফ ও সাকেত যেভাবে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি, সে অনুযায়ী সব মিলিয়ে মোট একশত জন সাহাবীর বর্ণনা সংগৃহীত হয়েছে। যদিও এর মধ্যে এমন বর্ণনাও রয়েছে যা কোনো বিশেষ শাস্তির উল্লেখ ছাড়াই সাধারণভাবে তাঁর ওপর মিথ্যারোপের নিন্দা জ্ঞাপন করে। ইরাকী তাঁর আলফিয়্যাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এর বর্ণনাকারী সাহাবীদের সংখ্যা একশতের অধিক হয়েছে। ফাতহুল মুগীস গ্রন্থে বলা হয়েছে, তা দুই জন বেশি (অর্থাৎ ১০২ জন)। তিনি বলেন, এটি তাঁদের নিকট বিদ্যমান বর্ণনার সমষ্টির নিরিখে। সমাপ্ত।

ইমাম নববী শারহ মুসলিম-এর মুকাদ্দামায় কারো কারো থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি দুইশত জন সাহাবী বর্ণনা করেছেন। ফাতহুল মুগীস গ্রন্থে বলা হয়েছে, গ্রন্থকার—অর্থাৎ ইরাকী—একে অসম্ভব মনে করেছেন। অন্য কেউ এর কারণ হিসেবে বলেছেন যে, এটি সাধারণভাবে মিথ্যা বলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেমন—'যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করল যা সে মিথ্যা বলে মনে করে, তবে সে মিথ্যাবাদীদের একজন' এবং এই জাতীয় হাদীস। সম্ভবত আমাদের শায়খ যেমনটি বলেছেন, এটি 'একশত' লিখতে গিয়ে কলমের ভুলবশত 'দুইশত' হয়ে থাকতে পারে। সমাপ্ত।

হাফেজ বুরহানউদ্দিন আল-হালাবী আল-কাশফ আল-হাথীস আম্মান রামা বি-ওয়াদয়িল হাদীস গ্রন্থে বলেছেন, আমাদের শায়খ হাফেজ ইরাকী বলেছেন: এই হাদীসটি দুইশত জন সাহাবী বর্ণনা করেছেন—এ কথাটি ঘটা আমি অসম্ভব মনে করি। তিনি আরও বলেন, আমাদের শায়খ বর্ণনাকারী সাহাবীদের নাম বর্ণানুক্রমে আন-নুকাত আলা ইবনুস সালাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, যা আমি তাঁর নিকট পাঠ করেছি। তিনি সেখানে বলেছেন, এরা সংখ্যায় পঁচাত্তর জন এবং প্রায় বিশ জনের সূত্র বিশুদ্ধ। আর শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) তাঁদের মধ্যে চারজনের হাদীসের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সমাপ্ত।

সুয়ূতী ইরাকীর আলফিয়্যাতুল মুসতালাহ-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, একদল আলেম বলেছেন যে, এটি একশতেরও বেশি সাহাবী বর্ণনা করেছেন। ইরাকী বলেছেন, এটি নির্দিষ্টভাবে এই পাঠের ক্ষেত্রে নয়, বরং সাধারণভাবে মিথ্যারোপের ক্ষেত্রে। আর এই নির্দিষ্ট পাঠের জন্য বর্ণনা সত্তরোর্ধ্ব। সুয়ূতী বলেন, আমি তাঁদের নাম শারহুত তাকরীব এবং মুতাওয়াতির হাদীস বিষয়ক আমার সংকলিত গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। সমাপ্ত।