(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: -)
علل النحو   (ابن الوراق)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: علل النحو

المؤلف: محمد بن عبد الله بن العباس، أبو الحسن، ابن الوراق (ت 381هـ)

المحقق: محمود جاسم محمد الدرويش

الناشر: مكتبة الرشد - الرياض / السعودية

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 1999م

عدد الصفحات: 568

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইল্লালুন নাহু   (ইবনুল ওয়াররাক)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: ইল্লালুন নাহু

লেখক: মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-আব্বাস, আবুল হাসান, ইবনুল ওয়াররাক (মৃত্যু ৩৮১ হিজরি)

সম্পাদক: মাহমুদ জাসিম মুহাম্মদ আদ-দারউইশ

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ / সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৩৭)
‌‌(بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم)

 

وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه وَسلم تَسْلِيمًا.

قَالَ أَبُو الْحسن مُحَمَّد بن عبد الله الْوراق، رحمه الله، وَغفر لَهُ:

إِن قَالَ قَائِل: من أَيْن علمْتُم أَن الْكَلَام يَنْقَسِم ثَلَاثَة أَقسَام؟

قيل: لِأَن الْمعَانِي الَّتِي يحْتَاج إِلَيْهَا الْكَلَام ثَلَاثَة، وَذَلِكَ أَن من الْكَلَام مَا يكون خَبرا ويخبر عَنهُ، فَسمى النحويون هَذَا النَّوْع اسْما.

وَمن الْكَلَام مَا لَا يكون خَبرا وَلَا يخبر عَنهُ، فَسمى النحويون هَذَا النَّوْع فعلا.

وَمن الْكَلَام مَا لَا يكون خَبرا وَلَا يخبر عَنهُ، فَسمى النحويون هَذَا النَّوْع حرفا.

وَلَيْسَ هَاهُنَا معنى يتَوَهَّم سوى هَذِه الْأَقْسَام الثَّلَاثَة، فَلهَذَا لَا إِشْكَال فِيمَا عدا هَذِه الْأَقْسَام، إِذْ لَا معنى يتَوَهَّم سواهَا.

وَوجه آخر: أَن الْمعَانِي قد أحطنا بِعلم جَمِيعهَا، والألفاظ يحْتَاج إِلَيْهَا من أجل الْمعَانِي، فَإِذا كَانَ كل معنى لَا يُمكن أَن يعبر عَنهُ إِلَّا بِأحد هَذِه الْأَقْسَام الثَّلَاثَة، دلّ ذَلِك على أَن جَمِيع الْأَقْسَام ثَلَاثَة.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم خصصتم الْقسم الأول بتلقيبه بِالِاسْمِ، وَالثَّانِي بِالْفِعْلِ، وَالثَّالِث بالحرف؟

فَالْجَوَاب فِي ذَلِك من وَجْهَيْن:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)

 

আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত এবং অগণিত শান্তি বর্ষিত হোক।

আবু আল-হাসান মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-ওয়াররাক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেছেন:

যদি কেউ প্রশ্ন করেন: আপনারা কীভাবে জানলেন যে বাক্য (কালাম) তিন ভাগে বিভক্ত?

বলা হবে: কারণ বাক্যের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের প্রকারভেদ তিনটি। আর তা হলো, বাক্যের কিছু অংশ এমন যা স্বয়ং সংবাদ (খবর) হয় এবং যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া যায়; ব্যাকরণবিদগণ এই প্রকারের নাম দিয়েছেন ‘বিশেষ্য’ (ইসম)।

আবার বাক্যের কিছু অংশ এমন যা সংবাদ হয় না এবং যার সম্পর্কে সংবাদও দেওয়া যায় না; ব্যাকরণবিদগণ এই প্রকারের নাম দিয়েছেন ‘ক্রিয়া’ (ফেল)।

আর বাক্যের কিছু অংশ এমন যা সংবাদ হয় না এবং যার সম্পর্কে সংবাদও দেওয়া যায় না; ব্যাকরণবিদগণ এই প্রকারের নাম দিয়েছেন ‘অব্যয়’ (হরফ)।

এখানে এই তিনটি বিভাগ ছাড়া অন্য কোনো অর্থ কল্পনা করা যায় না। তাই এই বিভাগগুলোর বাইরে অন্য কিছুর ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা নেই, কারণ এগুলো ছাড়া অন্য কোনো অর্থ ভাবাই যায় না।

অন্য একটি দিক হলো: আমরা সমস্ত অর্থের জ্ঞান পুরোপুরি অর্জন করেছি, আর অর্থের খাতিরেই শব্দের প্রয়োজন হয়। সুতরাং যখন প্রতিটি অর্থ এই তিনটি বিভাগের কোনো একটির মাধ্যম ছাড়া প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তখন তা প্রমাণ করে যে মোট বিভাগ তিনটিই।

যদি কেউ প্রশ্ন করেন: তবে আপনারা প্রথম বিভাগকে ‘বিশেষ্য’ (ইসম), দ্বিতীয়টিকে ‘ক্রিয়া’ (ফেল) এবং তৃতীয়টিকে ‘অব্যয়’ (হরফ) নামে কেন নির্দিষ্ট করলেন?

এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৩৮)
أَحدهمَا: أَن غَرَض النَّحْوِيين بِهَذَا التلقيب الْفَصْل بَين هَذِه الْأَقْسَام، إِذْ كَانَت مَعَانِيهَا مُخْتَلفَة، فَإِذا كَانَ الْقَصْد باللقب إِلَى الْفَصْل، فَلَيْسَ لأحد أَن يَقُول: لم لقبتم هَذَا الْقسم بِهَذَا اللقب دون غَيره؟ إِذْ لَا لقب يلقب بِهِ إِلَّا وَيُمكن أَن يعْتَرض بِهَذَا السُّؤَال، وَقد وَجب بِحَالَة أَن يخص بلقب، فَإِذا وَجب الشَّيْء لم يجب الإعتراض عَلَيْهِ.

وَالْوَجْه الثَّانِي: أَنه يُمكن أَن يَجْعَل لكل لقب معنى من أَجله لقب بِهِ.

وَالْوَجْه فِي تلقيب مَا صَحَّ أَن يكون خَبرا ويخبر عَنهُ ب (الِاسْم) ، لِأَن الِاسْم مُشْتَقّ من سما يسمو، أَي: ارْتَفع، فَلَمَّا كَانَ هَذَا لَهُ مزية على النَّوْعَيْنِ الآخرين، من أجل أَنه شَارك النَّوْع الَّذِي يكون خَبرا فِي هَذَا الْمَعْنى، ويفضله فِي أَن الْخَبَر يَصح عَنهُ، وَجب أَن يلقب بِمَا يُنبئ عَن هَذِه المزية، فلقب بِالِاسْمِ، ليدل بذلك على علوه وارتفاعه على النَّوْعَيْنِ الآخرين.

وَأما النَّوْع الثَّانِي فلقب ب (الْفِعْل) ، وَذَلِكَ أَن قَوْلك: ضرب، يدل على الضَّرْب وَالزَّمَان، وَالضَّرْب هُوَ فعل فِي الْحَقِيقَة، فَلَمَّا كَانَ (ضرب) يدل عَلَيْهِ لقب بِمَا دلّ عَلَيْهِ.

فَإِن قيل: فَلم صَار تلقيبه بِالْفِعْلِ الدَّال عَلَيْهِ دون الزَّمَان، وَهُوَ أَيْضا دَال عَلَيْهِ؟

قيل: لِأَنَّهُ مُشْتَقّ من لفظ الْمصدر، وَلَيْسَ مشتقا من لفظ الزَّمَان، فَلَمَّا اجْتمع فِيهِ الدّلَالَة على الْمصدر واشتقاق اللَّفْظ كَانَ أخص بِهِ من الزَّمَان، لوُجُود لَفظه فِيهِ.
প্রথমটি হলো: এই নামকরণের মাধ্যমে ব্যাকরণবিদদের উদ্দেশ্য হলো এই বিভাগগুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা, যেহেতু এগুলোর অর্থ ভিন্ন ভিন্ন। সুতরাং নামকরণের উদ্দেশ্য যখন পার্থক্য করা, তখন কারো জন্য এই প্রশ্ন করা সাজে না যে, 'আপনারা কেন এই বিভাগকে এই নামে অভিহিত করলেন, অন্য নামে নয়?' কেননা যে নামেই নামকরণ করা হোক না কেন, এই প্রশ্ন উত্থাপন করা সম্ভব। আর যেহেতু কোনো একটি নির্দিষ্ট নামে একে বিশেষায়িত করা আবশ্যক ছিল, তাই যখন কোনো বিষয় নির্ধারণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, তখন তার ওপর আপত্তি তোলার অবকাশ থাকে না।

দ্বিতীয় দিকটি হলো: প্রতিটি নামের পেছনে এমন একটি অর্থ নিহিত থাকা সম্ভব যার কারণে সেটিকে সেই নামে নামকরণ করা হয়েছে।

যা স্বয়ং সংবাদ হওয়ার যোগ্য এবং যার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা যায়, তাকে 'বিশেষ্য' (ইসম) নামকরণের কারণ হলো, বিশেষ্য শব্দটি উচ্চ হওয়া বা সমুন্নত হওয়া অর্থ থেকে উদ্ভূত। যেহেতু অপর দুই প্রকারের তুলনায় এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে—কারণ এটি সংবাদ হওয়ার ক্ষেত্রে অপর প্রকারের (ক্রিয়া) সাথে সমতা রাখে এবং যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া যায় সেই যোগ্যতার কারণে তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে—তাই এমন নামে একে অভিহিত করা আবশ্যক ছিল যা এই বিশেষত্বকে ফুটিয়ে তোলে। তাই একে বিশেষ্য নামে নামকরণ করা হয়েছে, যাতে এর মাধ্যমে অপর দুই প্রকারের ওপর এর উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়।

আর দ্বিতীয় প্রকারকে 'ক্রিয়া' (ফেল) নামে নামকরণ করা হয়েছে। এর কারণ হলো, আপনার উক্তি: 'সে প্রহার করেছে', শব্দটি প্রহার এবং সময়—উভয়ের ওপর নির্দেশ করে। আর প্রহার প্রকৃতপক্ষে একটি কাজ বা ক্রিয়া। যেহেতু এই শব্দটি কাজের ওপর নির্দেশ করে, তাই একে তার নির্দেশিত বিষয়ের নামেই নামকরণ করা হয়েছে।

যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন একে সময়ের নামে নামকরণ না করে তার নির্দেশিত ক্রিয়ার নামে নামকরণ করা হলো, অথচ এটি তো সময়ের ওপরও নির্দেশ করে?

উত্তরে বলা হবে: কারণ এটি ক্রিয়ামূল (মাসদার) থেকে উদ্ভূত, সময়ের শব্দ থেকে নয়। সুতরাং যখন এতে ক্রিয়ামূলের অর্থ এবং শব্দগত ব্যুৎপত্তি—উভয়ই বিদ্যমান থাকল, তখন এটি সময়ের তুলনায় ক্রিয়ামূলের সাথেই অধিক সম্পৃক্ত হলো, কারণ এতে ক্রিয়ামূলের মূল শব্দটিই বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৩৯)
فَإِن قيل: فَلم اشتق الْفِعْل من الْمصدر دون الزَّمَان؟

قيل: لِأَن الزَّمَان دَائِم الْوُجُود، والمصادر أَفعَال تَنْقَضِي، وَإِنَّمَا الْغَرَض فِي اشتقاق الْفِعْل من أَحدهمَا ليدل عَلَيْهِمَا، فَلَمَّا كَانَت الْأَفْعَال منقضية، وَالزَّمَان مَوْجُودا، وَجب أَن يَقع الِاشْتِقَاق من المصادر، ليدل لفظ (2 / أ) الْفِعْل عَلَيْهِمَا من غير تذكار، وَلم يحْتَج فِي الزَّمَان إِلَى ذَلِك لوُجُوده، فَلهَذَا وَجب الِاشْتِقَاق من الْمصدر دون الزَّمَان.

وَوجه آخر: أَن أَسمَاء الْأَزْمِنَة قَليلَة، وَأَسْمَاء الْأَنْفس كَثِيرَة، فَلَو اشتق من الزَّمَان لفظ الْفِعْل ضَاقَ الْكَلَام، وَلم يكن فِيهِ مَعَ ذَلِك دلَالَة على الْمصدر، فاشتق من لفظ الْأَفْعَال الْمصدر، لِأَنَّهَا لَا تُفَارِقهُ، وَإِن لم يكن لَهَا اسْم يحصرها.

وَأما تَسْمِيَة النَّوْع الثَّالِث بالحرف فِي اللُّغَة، فموضوع لطرف الشَّيْء، وَكَانَ هَذَا النَّوْع إِنَّمَا يَقع طرفا للاسم وَالْفِعْل مَعًا، خص بِهَذَا اللقب، لِقَوْلِك: أَزِيد ترى فِي الدَّار؟ فالألف إِنَّمَا دخلت للاستفهام عَن كَون زيد، وَلم تدخل هِيَ لِمَعْنى يختصها، وَهِي فِي اللَّفْظ طرف مَعَ ذَلِك، فاعرفه.

وَاعْلَم أَن للاسم حدا وخواص، فحده: كل مَا دلّ على معنى مُفْرد تَحْتَهُ، غير مقترن بِزَمَان مُحَصل فَهُوَ اسْم، كَقَوْلِه: رجل، وَفرس، وَمَا أشبه ذَلِك، أَلا ترى أَن هَذِه اللَّفْظَة دَالَّة على شخص مُجَرّد من شَيْء سواهُ!
যদি প্রশ্ন করা হয়: কেন ক্রিয়াপদ সময় থেকে নয় বরং ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত হয়েছে?

বলা হয়: কারণ সময় সর্বদা বিদ্যমান, আর ক্রিয়ামূলসমূহ হলো এমন কাজ যা সমাপ্ত হয়ে যায়। মূলত যে কোনো একটি থেকে ক্রিয়াপদ গঠনের উদ্দেশ্য হলো যেন তা উভয়ের (কাজ ও সময়) ওপর নির্দেশ করে। যেহেতু কাজসমূহ সমাপ্ত হয়ে যায় এবং সময় বিদ্যমান থাকে, তাই ক্রিয়ামূল থেকেই শব্দ গঠন করা আবশ্যক হয়েছে, যাতে ক্রিয়াপদের শব্দ (২/অ) কোনো আলাদা স্মরণিকা ছাড়াই উভয়ের ওপর নির্দেশ করতে পারে। আর সময়ের ক্ষেত্রে তার উপস্থিতির কারণে এর প্রয়োজন হয়নি। এই কারণেই সময় থেকে নয় বরং ক্রিয়ামূল থেকেই শব্দ গঠন করা আবশ্যক হয়েছে।

অন্য একটি দিক হলো: সময়ের নামগুলো সংখ্যায় অল্প, আর সত্তাসমূহের নাম অনেক বেশি। সুতরাং যদি সময় থেকে ক্রিয়াপদ গঠন করা হতো, তবে বাক্যালাপ সংকীর্ণ হয়ে যেত এবং এর মাধ্যমে ক্রিয়ামূলের প্রতি কোনো নির্দেশনাও থাকত না। তাই ক্রিয়ামূলের শব্দ থেকেই শব্দ গঠন করা হয়েছে, কারণ ক্রিয়া তাকে ছেড়ে পৃথক হয় না, যদিও তাকে সীমাবদ্ধ করার মতো কোনো নাম না থাকে।

আর তৃতীয় প্রকারকে ভাষায় 'হরফ' নামে অভিহিত করার কারণ হলো, এটি কোনো বস্তুর প্রান্তের জন্য নির্ধারিত। যেহেতু এই প্রকারটি বিশেষ্য ও ক্রিয়াপদ উভয়েরই প্রান্তে অবস্থান করে, তাই একে এই উপাধিতে বিশিষ্ট করা হয়েছে। যেমন আপনার কথা: "তুমি কি জায়েদকে ঘরের মধ্যে দেখছ?" এখানে আলিফটি জায়েদের অবস্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসার জন্য প্রবেশ করেছে, এটি তার নিজস্ব কোনো অর্থের জন্য আসেনি। তা সত্ত্বেও শব্দগতভাবে এটি প্রান্তে অবস্থান করছে, সুতরাং বিষয়টি জেনে রাখুন।

জেনে রাখুন যে, বিশেষ্যের একটি সংজ্ঞা ও কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর সংজ্ঞা হলো: যা তার অধীনে থাকা কোনো একক অর্থের ওপর নির্দেশ করে এবং কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সাথে যুক্ত হয় না, তাই বিশেষ্য। যেমন বলা হয়: মানুষ, ঘোড়া এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। আপনি কি দেখছেন না যে, এই শব্দটি অন্য কিছু ছাড়াই কেবল একটি সত্তার ওপর নির্দেশ করছে!
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৪০)
وَأما الْخَواص: فجواز دُخُول الْألف وَاللَّام عَلَيْهِ، والتنوين، وحرف من حُرُوف الْجَرّ، ووقوعه فَاعِلا ومفعولا، وَالْإِضَافَة، والإضمار وَمَا أشبه ذَلِك، وَأَن يحسن مَعَه ضرّ ونفع.

وَبَعض النَّحْوِيين لَا يَجْعَل عَلامَة الِاسْم جَوَاز دُخُول هَذِه الْأَشْيَاء، فِرَارًا من أَن تلزمهم مُعَارضَة، لقَولهم: (أَتَت النَّاقة على مضربها) ، أَي على الزَّمَان الَّذِي يضْربهَا فِيهِ الْفَحْل، وَذَلِكَ أَنه يَقُول: إِن المضرب قد دلّ على زمَان وَضرب، وَهُوَ مَعَ ذَلِك اسْم، وَهَذَا ينْقض حد الِاسْم.

فَالْجَوَاب عَن هَذَا السُّؤَال أَن يُقَال: إِن المضرب وضع لدلَالَة على زمَان فَقَط، وَإِن كُنَّا نفهم مَعَ ذَلِك الضَّرْب، لاشتقاق اللَّفْظ من الضَّرْب، وَإِذا كَانَ الْمَفْهُوم من دلَالَة وضع الِاسْم معنى وَاحِدًا، فقد سلم لفظ الْحَد. وَنَظِير مَا ذكرنَا أَن الْأَفْعَال إِنَّمَا وضعت للدلالة على الزَّمَان، وَإِن كُنَّا نفهم أَن الْفَاعِل مِنْهَا يحْتَاج إِلَى مَكَان، إِلَّا أَن ذَلِك نفهمه بِالتَّأَمُّلِ دون اللَّفْظ، فَكَذَلِك (المضرب) يجْرِي فِي هَذَا المجرى، يدل على صِحَة ذَلِك أَن الْعَرَب إِذا أَرَادَت الدّلَالَة على الْمصدر فَقَط قَالَت: (المضرب) ، ففتحوا الرَّاء، فَلَو كَانَ (المضرب) يدل على الْمصدر، لم يَحْتَاجُونَ إِلَى بِنَاء آخر؟

فَإِن قيل: فَمَا قَوْلكُم فِي (ضَارب) وَمَا أشبهه من أَسمَاء الفاعلين؟
আর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ হলো: এর শুরুতে আলিফ-লাম যুক্ত হওয়ার যোগ্যতা, তানভীন গ্রহণ করা, হারফে জার (অব্যয়) যুক্ত হওয়া, ফায়েল (কর্তা) ও মাফউল (কর্ম) হওয়া, ইজাফাত (সম্বন্ধ) হওয়া, ইদমার (সর্বনাম হওয়া) এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো; আর এর সাথে ক্ষতি ও উপকার হওয়া সঙ্গত হওয়া।

কিছু ব্যাকরণবিদ এই বিষয়গুলোর প্রবেশের যোগ্যতাকে ইসিমের (বিশেষ্য) চিহ্ন হিসেবে গণ্য করেন না, যাতে করে কোনো বিরোধের সম্মুখীন হতে না হয়; যেমনটি তাদের উক্তিতে রয়েছে: (উটনিটি তার প্রজনন সময়ে এসেছে), অর্থাৎ সেই সময় যাতে পুরুষ উট তার সাথে প্রজনন কার্যে লিপ্ত হয়। এর কারণ এই যে, তিনি বলেন: 'মাদরিব' শব্দটি এখানে সময় এবং আঘাত (ক্রিয়া) উভয়কেই নির্দেশ করেছে, অথচ তা সত্ত্বেও এটি একটি ইসিম। আর এটি ইসিমের সংজ্ঞাকে খণ্ডন করে।

এই প্রশ্নের উত্তর এই যে: 'মাদরিব' শব্দটি কেবল সময়ের ওপর অর্থ প্রদানের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যদিও আমরা শব্দের ব্যুৎপত্তিগত কারণে এর সাথে 'আঘাত' বা ক্রিয়ার অর্থটিও বুঝতে পারি। আর যখন ইসিমের শাব্দিক গঠন থেকে অনুধাবিত অর্থ একটিই হয়, তখন সংজ্ঞার ভাষ্যটি সঠিক থাকে। আমাদের বর্ণিত বিষয়ের উদাহরণ হলো যে, ফেল (ক্রিয়া) মূলত সময়ের ওপর অর্থ প্রদানের জন্যই গঠিত হয়েছে, যদিও আমরা বুঝি যে এর কর্তার একটি স্থানের প্রয়োজন হয়; তবে আমরা তা চিন্তা-ভাবনার মাধ্যমে বুঝি, সরাসরি শব্দের দ্বারা নয়। একইভাবে 'মাদরিব' শব্দটিও এই ধারায় চলে। এর সঠিকতার প্রমাণ হলো, আরবরা যখন কেবল মাসদার (ক্রিয়ামূল) বোঝাতে চায়, তখন তারা 'মাদরাব' বলে এবং 'রা' বর্ণে ফাতহা (যবর) প্রদান করে। সুতরাং যদি 'মাদরিব' মাসদারের অর্থ প্রদান করত, তবে তারা কেন অন্য কোনো গঠনের মুখাপেক্ষী হতো?

যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে 'দারিব' এবং এই জাতীয় ইসমে ফায়েল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) গুলোর ব্যাপারে আপনাদের মতামত কী?
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৪১)
قيل: دَالَّة على الْفَاعِل للضرب من جِهَة اللَّفْظ، وَإِنَّمَا يفهم معنى الزَّمَان فِيهَا بِالنِّيَّةِ. وَجَاز ذَلِك لِأَن اسْم الْفَاعِل مُشْتَقّ من الْفِعْل، فَجَاز أَن ينوى بِهِ الزَّمَان، لاشتقاقه من لفظ يدل على الزَّمَان.

فَإِن قيل: أَلَيْسَ (كَانَ وَأَخَوَاتهَا) تدل على الزَّمَان فَقَط، فَهَلا جعلت اسْما، لدلالتها على معنى مُفْرد، كدلالة (يَوْم وَلَيْلَة) وَمَا أشبههما؟

قيل: إِنَّهَا وَإِن كَانَت تدل على الزَّمَان فَقَط، فقد صرفت تصريف الْأَفْعَال، وَمَعَ ذَلِك فالغرض فِي ذكرهَا الْعبارَة عَن الْمعَانِي الَّتِي تقع فِي خبر المبتدإ، فَصَارَت كَأَنَّهَا دَالَّة على ذَلِك الْمَعْنى وَالزَّمَان جَمِيعًا. أَلا ترى أَنَّك إِذا قلت: كَانَ زيد قَائِما، دللت ب (كَانَ) على قيام فِي زمَان مَاض، فَلذَلِك وَجب أَن تجْعَل أفعالا.

وَأما الْفِعْل: فحده أَن يُقَال: (2 / ب) كل كلمة تدل على معنى وزمان مُحَصل فَهُوَ فعل، كَقَوْلِك: ضرب، وَانْطَلق، يدل على انطلاق فِي زمَان.

وَله أَيْضا خَواص، فَمن خواصه التَّصَرُّف، نَحْو: ضرب يضْرب، وَذهب يذهب، وَمَا أشبهه. وَمِنْه صِحَة الْأَمر، نَحْو: اضْرِب، واقتل، وَمَا أشبهه.
বলা হয়েছে: এটি শব্দের দিক থেকে প্রহারের কর্তার ওপর নির্দেশক, আর এতে সময়ের অর্থ কেবল সংকল্প বা নিয়তের মাধ্যমে বোঝা যায়। এটি বৈধ হয়েছে কারণ কর্তৃবাচক বিশেষ্য (ইসমুল ফায়েল) ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত, ফলে এর দ্বারা সময়ের নিয়ত করা জায়েয হয়েছে, কারণ এটি এমন শব্দ থেকে উদ্ভূত যা সময়ের ওপর নির্দেশ করে।

যদি প্রশ্ন করা হয়: 'কানা ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ' কি কেবল সময়ের ওপরই নির্দেশ করে না? তাহলে কেন সেগুলোকে বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করা হলো না, যেভাবে 'দিন ও রাত' এবং এই জাতীয় শব্দগুলো একক অর্থের ওপর নির্দেশ করার কারণে বিশেষ্য হয়েছে?

উত্তরে বলা হয়েছে: যদিও সেগুলো কেবল সময়ের ওপর নির্দেশ করে, তবুও সেগুলোর রূপান্তর ক্রিয়ার রূপান্তরের ন্যায় হয়ে থাকে। তাছাড়া, সেগুলো উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো মুক্তাদার (উদ্দেশ্য) খবরে (বিধেয়) সংঘটিত অর্থসমূহ প্রকাশ করা। ফলে সেগুলো যেন সেই অর্থ এবং সময় উভয়ের ওপরই নির্দেশক হয়ে ওঠে। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, যখন আপনি বলেন: 'যায়েদ দণ্ডায়মান ছিল', তখন আপনি 'ছিল' শব্দটির মাধ্যমে অতীতকালে দণ্ডায়মান হওয়ার ওপর নির্দেশ করছেন? এ কারণেই সেগুলোকে ক্রিয়া হিসেবে গণ্য করা আবশ্যক হয়েছে।

আর ক্রিয়ার (ফেল) সংজ্ঞা হলো: (২ / খ) প্রতিটি শব্দ যা একটি অর্থ এবং একটি নির্দিষ্ট সময়ের ওপর নির্দেশ করে, তা-ই ক্রিয়া। যেমন আপনার উক্তি: 'সে প্রহার করেছে', 'সে চলে গিয়েছে'; যা একটি নির্দিষ্ট সময়ে চলে যাওয়ার ওপর নির্দেশ করে।

এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো রূপান্তরযোগ্যতা, যেমন: 'সে প্রহার করেছে—সে প্রহার করছে', 'সে গিয়েছে—সে যাচ্ছে' এবং এই জাতীয় শব্দগুলো। এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি থেকে আদেশসূচক বাক্য গঠন করা সম্ভব হওয়া, যেমন: 'প্রহার করো', 'হত্যা করো' এবং এই জাতীয় শব্দগুলো।
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৪২)
وَأما الْحَرْف: فحده: مَا دلّ على معنى فِي غَيره، نَحْو قَوْلك: أخذت درهما من مَال زيد، ف (من) تدخل للتَّبْعِيض لِلْمَالِ، وَالْبَعْض هُوَ الدِّرْهَم من المَال. وَإِن شِئْت اعتبرته بامتناع حد الِاسْم وَالْفِعْل مِنْهُ، أَو بامتناع خواصهما مِنْهُ.

وَأما إِدْخَال الْهَاء فِي الْعَرَبيَّة، فَلِأَن المُرَاد بِالْعَرَبِيَّةِ اللُّغَة الْعَرَبيَّة، واللغة مُؤَنّثَة، فَدخلت الْهَاء على هَذَا المُرَاد.

وَإِنَّمَا قسمت الْعَرَبيَّة على أَرْبَعَة أضْرب، لِأَن أصل الْإِعْرَاب هُوَ الْإِبَانَة، وَالْإِعْرَاب إِنَّمَا يدْخل فِي الْكَلَام للإبانة عَن الْمعَانِي، فكأنا أردنَا أَن نقسم الْعَرَبيَّة من حَيْثُ كَانَت مَبْنِيَّة عَلَيْهِ، لَا من وُجُوه تصاريفها، وَإِذا كَانَ كَذَلِك فالإعراب إِنَّمَا هُوَ بحركة وَسُكُون، وَالْحَرَكَة إِمَّا أَن تكون ضمة أَو فَتْحة أَو كسرة، لَا يُمكن أَن تُوجد حَرَكَة مُخَالفَة لهَذِهِ الثَّلَاثَة، والسكون الرَّابِع، فَلهَذَا انقسمت أَرْبَعَة أَقسَام.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم صَار الرّفْع وَالنّصب يدخلَانِ على الْأَسْمَاء وَالْأَفْعَال، واختص الْجَرّ بالأسماء، والجزم بالأفعال؟

قيل: لِأَن أصل الْإِعْرَاب إِنَّمَا هُوَ فِي الْأَسْمَاء دون الْأَفْعَال، وَالدّلَالَة على ذَلِك أَن الْأَسْمَاء لَو لم تعرب لأشكل مَعْنَاهَا، أَلا ترى أَنَّك لَو قلت: مَا أحسن
আর হরফ (অব্যয়): এর সংজ্ঞা হলো: যা অন্য কোনো শব্দের মাধ্যমে অর্থ প্রকাশ করে, যেমন তোমার উক্তি: ‘আমি জায়েদের সম্পদ থেকে একটি দিরহাম নিয়েছি’। এখানে ‘মিন’ (থেকে) শব্দটি সম্পদের আংশিকতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, আর দিরহাম হলো সেই সম্পদের অংশ। আর তুমি চাইলে বিশেষ্য ও ক্রিয়ার সংজ্ঞা গ্রহণে এর অসমর্থতা অথবা তাদের বৈশিষ্ট্যসমূহ গ্রহণে এর অসমর্থতা দ্বারাও একে সংজ্ঞায়িত করতে পারো।

আর ‘আরবিয়্যাহ’ শব্দে ‘হা’ (গোল তা) যুক্ত করার কারণ হলো, আরবিয়্যাহ দ্বারা এখানে ‘আরবি ভাষা’ উদ্দেশ্য, আর ‘ভাষা’ শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ, তাই এই উদ্দেশ্য অনুযায়ী তাতে ‘হা’ যুক্ত হয়েছে।

আর আরবিকে (ই’রাবকে) কেবল চারটি প্রকারে বিভক্ত করা হয়েছে, কারণ ই’রাবের মূল উদ্দেশ্য হলো সুস্পষ্ট করা। মূলত অর্থসমূহ সুস্পষ্ট করার জন্যই বাক্যে ই’রাব প্রবেশ করে। আমরা আরবিকে সেভাবেই বিভক্ত করতে চেয়েছি যার ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত, এর রূপান্তরের দিক থেকে নয়। আর বিষয়টি যখন এমনই, তখন ই’রাব মূলত হরকত (স্বরচিহ্ন) এবং সুকুনের মাধ্যমেই হয়। আর হরকত হয় যম্মাহ (পেশ), ফাতহাহ (যবর) অথবা কাসরাহ (যের); এই তিনটি ভিন্ন অন্য কোনো হরকত পাওয়া সম্ভব নয়। আর চতুর্থটি হলো সুকুন। এই কারণেই এটি চার ভাগে বিভক্ত হয়েছে।

যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: রফ এবং নসব কেন বিশেষ্য ও ক্রিয়া উভয়ের মধ্যে প্রবেশ করে, অথচ জর কেন কেবল বিশেষ্যের সাথে এবং জজম কেন কেবল ক্রিয়ার সাথে নির্দিষ্ট হলো?

উত্তরে বলা হবে: কারণ ই’রাব মূলত বিশেষ্যের মধ্যে কার্যকর হয়, ক্রিয়ার মধ্যে নয়। এর প্রমাণ হলো, বিশেষ্যসমূহ যদি ই’রাব গ্রহণ না করত তবে সেগুলোর অর্থ অস্পষ্ট হয়ে যেত। তুমি কি দেখছ না যে, তুমি যদি বলো: “মা আহসান” (কী চমৎকার)...
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৪৩)
زيد. لَكُنْت ذاما لَهُ. وَلَو قلت: مَا احسن زيد؟ لَكُنْت مستفهما عَن أَبْعَاضه أَيهَا أحسن. وَلَو قلت: مَا أحسن زيدا! لَكُنْت مُتَعَجِّبا.

فَلَو أسقط الْإِعْرَاب فِي هَذِه الْوُجُوه، لاختلطت هَذِه الْمعَانِي، فَوَجَبَ أَن تعرب الْأَسْمَاء ليزول الْإِشْكَال.

وَأما الْأَفْعَال فَإِنَّهَا لَو لم تعرب لم يشكل مَعْنَاهَا، لِأَنَّهَا بنيت لأزمنة مَخْصُوصَة، فإعرابها أَو تَركهَا لَا يخل بمعناها، وَالْإِعْرَاب زِيَادَة، وَمن شَرط الْحَكِيم أَلا يزِيد لغير فَائِدَة، فَكَانَ حق الْأَفْعَال كلهَا أَن تكون سواكن، إِلَّا أَن الْفِعْل الَّذِي فِي أَوله الزَّوَائِد الْأَرْبَع أشبه الِاسْم من أَربع جِهَات:

أَحدهَا: أَن يكون صفة كَمَا يكون الِاسْم، كَقَوْلِك: مَرَرْت بِرَجُل يضْرب، كَمَا تَقول: مَرَرْت بِرَجُل ضَارب.

وَالثَّانِي: أَنه يصلح لزمانين، أَحدهمَا الْحَال، وَالْآخر الِاسْتِقْبَال، ثمَّ تدخل (السِّين وسوف) فتبينه إِلَى الِاسْتِقْبَال، كَمَا أَن قَوْلك: ضَارب، لَا يدل على شخص بِعَيْنِه، كَمَا اخْتصَّ الْفِعْل بِزَمَان بِعَيْنِه.

وَالثَّالِث: أَن اللَّام الَّتِي تدخل فِي خبر (إِن) تدخل على الِاسْم، وعَلى هَذَا الْفِعْل، كَقَوْلِك: إِن زيدا لقائم، وَإِن زيدا ليقوم، ويقبح دُخُولهَا على
জায়েদ। তবে আপনি তার নিন্দা জ্ঞাপনকারী হতেন। আর আপনি যদি বলতেন: ‘জায়েদের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে সুন্দর?’ তবে আপনি তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সমূহের কোনটি বেশি সুন্দর তা জানতে জিজ্ঞাসাকারী হতেন। আর আপনি যদি বলতেন: ‘জায়েদ কতই না সুন্দর!’ তবে আপনি বিস্ময় প্রকাশকারী হতেন।

সুতরাং যদি এই ক্ষেত্রগুলোতে ই’রাব (স্বরচিহ্ন বা বিভক্তি) বাদ দেওয়া হতো, তবে এই অর্থসমূহ একে অপরের সাথে মিশে যেত। তাই দ্ব্যর্থতা দূর করার লক্ষ্যে বিশেষ্যগুলোর ই’রাব প্রদান করা আবশ্যক হয়েছে।

আর ক্রিয়াপদগুলোর ক্ষেত্রে বিষয় হলো, যদি সেগুলোতে ই’রাব প্রদান না করা হতো, তবে তাদের অর্থ অস্পষ্ট হতো না। কারণ সেগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গঠিত হয়েছে। সুতরাং এগুলোতে ই’রাব প্রদান করা বা বর্জন করা অর্থের কোনো ব্যাঘাত ঘটায় না। আর ই’রাব হলো একটি অতিরিক্ত বিষয়, আর প্রজ্ঞাবানের শর্ত হলো কোনো উপকার ছাড়া অতিরিক্ত কিছু যোগ না করা। তাই সমস্ত ক্রিয়াপদ সাকিন বা স্থির হওয়াই ছিল সংগত। কিন্তু যে ক্রিয়ার শুরুতে অতিরিক্ত চারটি অক্ষর থাকে, তা চারটি দিক থেকে বিশেষ্যের সাদৃশ্য রাখে:

প্রথমত: এটি বিশেষণের ভূমিকা পালন করে যেমনটি বিশেষ্য করে থাকে। যেমন আপনার উক্তি: ‘আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যে প্রহার করছে’, যেমনটি আপনি বলে থাকেন: ‘আমি একজন প্রহারকারী ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম’।

দ্বিতীয়ত: এটি দুই সময়ের জন্য উপযুক্ত হয়, যার একটি হলো বর্তমান এবং অন্যটি ভবিষ্যৎ। অতঃপর এতে (সীন এবং সাওফা) যুক্ত হয় যা একে ভবিষ্যতের জন্য সুনির্দিষ্ট করে দেয়। যেমন আপনার উক্তি: ‘প্রহারকারী’, এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দেশ করে না, ঠিক তেমনি ক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের সাথে বিশিষ্ট হয়ে যায়।

তৃতীয়ত: ‘ইন্না’ এর খবরের শুরুতে যে ‘লাম’ যুক্ত হয়, তা বিশেষ্যের ওপরও প্রবেশ করে এবং এই ক্রিয়ার ওপরও প্রবেশ করে। যেমন আপনার উক্তি: ‘নিশ্চয়ই জায়েদ দণ্ডায়মান’ এবং ‘নিশ্চয়ই জায়েদ দণ্ডায়মান হচ্ছে’। আর এটি প্রবেশ করা অশোভন...
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৪৪)
الْمَاضِي، نَحْو: إِن زيدا لقام. فَلَمَّا شرك الْفِعْل الْمُضَارع الِاسْم فِي حسن دُخُول اللَّام عَلَيْهِ، علمنَا أَن بَينهمَا مشابهة.

وَإِنَّمَا قبح دُخُول اللَّام على الْمَاضِي، لِأَن هَذِه اللَّام أصل دُخُولهَا على المبتدإ، ونقلت عَن موضعهَا لدُخُول (إِن) عَلَيْهَا، وَحقّ خبر الْمُبْتَدَأ أَن يكون هُوَ الْمُبْتَدَأ فِي الْمَعْنى، فَلَمَّا كَانَ الْفِعْل الْمُضَارع مشبها للاسم حسن دُخُول اللَّام عَلَيْهِ، وَلما بعد الْمَاضِي من شبه الِاسْم، قبح دُخُولهَا عَلَيْهِ.

وَالرَّابِع: أَن قَوْلك: ضَارب، يصلح لزمانين، وَكَذَلِكَ: يضْرب، يصلح لزمانين. وَإِنَّمَا صَارَت هَذِه (3 / أ) المشابهة لَهَا تَأْثِير، لِأَن الِاسْم الْوَاحِد قد يَقع لمسميات كَثِيرَة، فَلَمَّا وَقع الْمُضَارع لزمانين، صَار كالاسم الْوَاقِع لمسميين، فَلذَلِك صَار هَذَا الْوَجْه معتدا بِهِ فِي شبهه للاسم، وَلم يجز أَن يعْتد بِكَوْن (ضرب) دَالا على الزَّمَان الْمَاضِي، فَيجْعَل الْمَاضِي مشبها لَهُ فِي هَذِه الْوُجُوه، لِأَن دلَالَة الْفِعْل على معنى وَاحِد لَا يُوجب شبها بالأسماء، لِأَن الاتساع إِنَّمَا وَقع فِي الْأَسْمَاء، لكَون الِاسْم الْوَاحِد لمسميات، لضيق الْأَسْمَاء، وَكَثْرَة المسمين بهَا، فَمَا أشبههَا من هَذَا الْوَجْه يجْرِي مجْراهَا، وَمَا دلّ على معنى وَاحِد فَهُوَ على أَصله، فَلَمَّا أشبه الْفِعْل الْمُضَارع الِاسْم من هَذِه الْجِهَات، وَجب أَن يحمل على الِاسْم فِيمَا يسْتَحقّهُ الِاسْم، وَهُوَ الْإِعْرَاب.

وَإِنَّمَا حمل على الِاسْم فِي الْإِعْرَاب دون مَا يسْتَحقّهُ الِاسْم من الْجمع
অতীতকাল, যেমন: 'নিশ্চয়ই জায়েদ দাঁড়িয়েছে'। যখন বর্তমানকালীন ক্রিয়া নামের সাথে 'লাম' প্রবেশের যোগ্যতায় অংশীদার হলো, তখন আমরা বুঝতে পারলাম যে তাদের উভয়ের মাঝে সাদৃশ্য রয়েছে।

আর অতীতকালীন ক্রিয়ার ওপর 'লাম' প্রবেশ করাটা অশোভন হয়েছে, কারণ এই 'লাম'-এর মূল ভিত্তি হলো মুবতাদার (উদ্দেশ্য) ওপর প্রবেশ করা। আর 'ইন্না' প্রবেশের কারণে এটি তার মূল স্থান থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। আর মুবতাদার খবরের হক হলো সেটি অর্থগতভাবে মুবতাদাই হবে। সুতরাং যখন বর্তমানকালীন ক্রিয়া নামের সদৃশ হলো, তখন তার ওপর 'লাম' প্রবেশ করাটা সুন্দর হলো। আর নামের সাদৃশ্য থেকে অতীতকালীন ক্রিয়া দূরে হওয়ার কারণে তার ওপর এর প্রবেশ অশোভন হয়েছে।

চতুর্থত: আপনার বক্তব্য: 'আঘাতকারী', এটি দুটি সময়ের জন্য উপযোগী, অনুরূপভাবে: 'সে আঘাত করছে বা করবে', এটিও দুটি সময়ের জন্য উপযোগী। আর এই সাদৃশ্যটি কার্যকর হওয়ার কারণ হলো, একটি নাম কখনো অনেকগুলো নামীয় সত্তার জন্য প্রযোজ্য হয়। সুতরাং যখন বর্তমানকালীন ক্রিয়াটি দুটি সময়ের জন্য প্রযোজ্য হলো, তখন এটি এমন নামের মতো হয়ে গেল যা দুটি নামীয় সত্তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এই কারণেই নামের সাথে সাদৃশ্যের ক্ষেত্রে এই দিকটি গণ্য হয়েছে। কিন্তু 'সে আঘাত করেছে' (অতীতকাল) ক্রিয়াটি অতীতকালের ওপর নির্দেশ করার কারণে একে এসব দিক থেকে নামের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করা বৈধ হয়নি। কারণ ক্রিয়ার একটিমাত্র অর্থের ওপর নির্দেশ করা নামের সাথে সাদৃশ্যকে আবশ্যক করে না। কেননা নামের ক্ষেত্রে প্রশস্ততা এসেছে একটি নাম অনেকগুলো নামীয় সত্তার জন্য হওয়ার কারণে, যেহেতু নামের সংখ্যা কম এবং নামধারীর সংখ্যা অনেক বেশি। সুতরাং এই দিক থেকে যা নামের সদৃশ হবে তা নামের হুকুমেই পরিচালিত হবে। আর যা কেবল একটি অর্থের ওপর নির্দেশ করবে তা তার মূল অবস্থার ওপরই থাকবে। সুতরাং যখন বর্তমানকালীন ক্রিয়া এই দিকগুলো থেকে নামের সাদৃশ্য লাভ করল, তখন তাকে নামের সেই প্রাপ্য অধিকারের ওপর প্রয়োগ করা ওয়াজিব হয়ে গেল যা নামের বৈশিষ্ট্য, আর তা হলো ই'রাব (শব্দরূপের পরিবর্তন)।

আর একে ই'রাবের ক্ষেত্রে নামের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, নামের অন্যান্য প্রাপ্য বিষয় যেমন বহুবচন ইত্যাদির ক্ষেত্রে নয়।
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৪৫)
والتصغير، وَغير ذَلِك مِمَّا يخْتَص بالأسماء دون الْأَفْعَال، لِأَن الْإِعْرَاب لَا يُغير معنى الْفِعْل بِدُخُولِهِ عَلَيْهِ، وَصَارَ مَا ذكرته يُوجب تَغْيِير معنى الْفِعْل وإخراجه إِلَى أَن يكون اسْما، إِذْ كَانَت الْمعَانِي الَّتِي اخْتصَّ بهَا الِاسْم مِمَّا لَا يَصح دُخُولهَا على الْفِعْل، وَإِنَّمَا اخْتصَّ بهَا من حَيْثُ كَانَ اسْما، فَلذَلِك وَجب أَن يحمل الْفِعْل على الِاسْم من أجل مَا أشبهه فِي حكم لَا يُغير مَعْنَاهُ، ويلحقه بِمَعْنى الْأَسْمَاء، وَهُوَ الْإِعْرَاب، إِلَّا أَن الْجَزْم لم يجز دُخُوله على الِاسْم، لِأَنَّهُ لَو دخل عَلَيْهِ لأوجب حذف شَيْئَيْنِ، وهما: التَّنْوِين وَالْحَرَكَة، وَالِاسْم فِي نِهَايَة الخفة، فَكَانَ ذَلِك يُؤَدِّي إِلَى الإجحاف بِهِ، فَسقط الْجَزْم من الْأَسْمَاء، وَأدْخل فِي الْأَفْعَال، إِذْ كَانَ الْفِعْل ثقيلا يحْتَمل الْحَذف وَالتَّخْفِيف، فاستقر الْجَزْم للْفِعْل لما ذكرنَا.

وَبَقِي من الْإِعْرَاب ثَلَاثَة أضْرب، وَهُوَ: الرّفْع وَالنّصب والجر، فالجر امْتنع من الْفِعْل، لِأَن الْجَرّ إِنَّمَا يكون بِالْإِضَافَة، وَالْفضل بِالْإِضَافَة تَخْصِيص الْمُضَاف، وَالْفِعْل لَو أضفت إِلَيْهِ لم تخص مَا قبله، أَلا ترى أَنَّك لَو قلت: هَذَا غُلَام، لَكِن مُبْهما، فَإِذا قلت: غُلَام زيد، اخْتصَّ بِملك زيد، فَلَو قلت: جَاءَنِي غُلَام يقوم، لم يخْتَص الْغُلَام بإضافته إِلَى (يقوم) لِأَن الْقيام يكون من زيد، وَمن عَمْرو، وَسَائِر النَّاس، فَلهَذَا أسقط الْجَرّ من الْفِعْل.

وَوجه آخر: وَهُوَ أَن الْمَجْرُور يقوم مقَام التَّنْوِين، وَالْفِعْل لَا يَخْلُو من
এবং ক্ষুদ্রতাবাচক রূপান্তর (তাসগির) ও অন্যান্য বিষয়গুলো বিশেষ্যের (ইসম) জন্য নির্দিষ্ট, ক্রিয়ার (ফেল) জন্য নয়। কারণ শব্দরূপান্তর (ইরাব) ক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করে তার মৌলিক অর্থ পরিবর্তন করে না। আর আমি যা উল্লেখ করেছি তা ক্রিয়ার অর্থ পরিবর্তন করা এবং একে বিশেষ্যের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াকে আবশ্যক করে তোলে। যেহেতু বিশেষ্যের জন্য নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যসমূহ ক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করা শুদ্ধ নয়, বরং সেগুলো বিশেষ্য হওয়ার কারণেই তার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে। তাই ক্রিয়াকে বিশেষ্যের বিধানের অনুগামী করা আবশ্যক হয়েছে এমন একটি বিষয়ের কারণে যা বিশেষ্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও অর্থের পরিবর্তন ঘটায় না এবং একে বিশেষ্যের অর্থের সাথে যুক্ত করে, আর তা হলো ইরাব। তবে বিশেষ্যের মধ্যে জজম (সুজুন) প্রবেশ করা বৈধ নয়। কারণ এটি যদি বিশেষ্যের ওপর আপতিত হতো, তবে তা দুটি বিষয় বিলোপ করাকে আবশ্যক করত: তানউইন এবং হরকত। অথচ বিশেষ্য কাঠামোগতভাবে অত্যন্ত লঘু বা হালকা, ফলে এটি তার জন্য ক্ষতিকর বা ভারসাম্যহীনতার কারণ হতো। তাই বিশেষ্য থেকে জজমকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তা ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; যেহেতু ক্রিয়া ভারি এবং তা বিলোপ ও লাঘব বা সহজীকরণ সহ্য করার সক্ষমতা রাখে। সুতরাং আমরা যা উল্লেখ করেছি তার পরিপ্রেক্ষিতে জজম ক্রিয়ার জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

আর ইরাবের তিনটি প্রকার অবশিষ্ট থাকে, সেগুলো হলো: রফ, নসব এবং জর। ক্রিয়ার ক্ষেত্রে জর হওয়া নিষিদ্ধ। কারণ জর কেবল সম্বন্ধের (ইজাফত) মাধ্যমেই হয়ে থাকে। আর সম্বন্ধের উদ্দেশ্য হলো সম্বন্ধিত পদকে (মুদাফ) নির্দিষ্ট বা বিশেষায়িত করা। আপনি যদি ক্রিয়ার দিকে সম্বন্ধ করেন, তবে তা তার পূর্ববর্তী শব্দকে নির্দিষ্ট করে না। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আপনি যখন বলেন: 'এটি একজন দাস', তখন এটি অস্পষ্ট থাকে। কিন্তু যখন আপনি বলেন: 'যায়েদের দাস', তখন তা যায়েদের মালিকানার সাথে নির্দিষ্ট হয়ে যায়। পক্ষান্তরে আপনি যদি বলেন: 'আমার নিকট এমন দাস এসেছে যে দাঁড়াচ্ছে', তবে 'দাঁড়ানো' ক্রিয়ার দিকে সম্বন্ধ করার কারণে দাসটি নির্দিষ্ট হয় না। কারণ দাঁড়ানো বিষয়টি যায়েদ, আমর বা অন্য যেকোনো মানুষের পক্ষ থেকেও হতে পারে। এই কারণেই ক্রিয়া থেকে জর-কে বাদ দেওয়া হয়েছে।

অন্য একটি কারণ হলো: জেরযুক্ত শব্দ (মাজরুর) তানউইনের স্থলাভিষিক্ত হয়। আর ক্রিয়া এমন নয় যে তা...
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৪৬)
فَاعل، فَكَانَ يُؤَدِّي إِلَى أَن يقوم مقَام التَّنْوِين - وَهُوَ وَجه وَاحِد ضَعِيف - شَيْئَانِ قويان، وهما الْفِعْل وَالْفَاعِل، فَسقط الْجَرّ من الْفِعْل، وَجعل فِي الِاسْم، إِذْ كَانَ محلا للإعراب.

وَبَقِي من الْإِعْرَاب الرّفْع وَالنّصب، وَلم يعرض فِيهَا مَا يُوجب اختصاصهما أَو أَحدهمَا بِالْفِعْلِ وَالِاسْم، فَوَجَبَ أَن يدخلا عَلَيْهِمَا.

وَجَازَت إِضَافَة أَسمَاء الزَّمَان إِلَى الْأَفْعَال لِأَنَّهَا تُضَاف إِلَى المصادر، وَالْفِعْل يدل على مصدره، كَقَوْلِك: (من كذب كَانَ شرا لَهُ) ، أَي: كَانَ الْكَذِب شرا لَهُ، فَلَمَّا جَازَ أَن نقُول: أعجبني يَوْم خُرُوجك. جَازَ أَن تَقول: أعجبني يَوْم تخرج.

وَوجه آخر: أَن الْفِعْل يدل على مصدر وزمان، وَالزَّمَان جُزْء من الْفِعْل، فَلَمَّا جَازَت إِضَافَة الْبَعْض إِلَى الْكل (3 / ب) جَازَت إِضَافَة الزَّمَان إِلَى الْفِعْل، كَمَا يجوز أَن تَقول: (ثوب خَز) .

وَقَالَ الْأَخْفَش فِي ذَلِك: إِن جَمِيع ظروف الزَّمَان يتَعَدَّى الْفِعْل إِلَيْهَا بِغَيْر
কর্তা, ফলশ্রুতিতে এটি তানভীনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দিকে পরিচালিত করছিল - যা একটি দুর্বল অভিমত - দুটি শক্তিশালী বিষয়, আর তা হলো ক্রিয়া ও কর্তা। ফলে ক্রিয়া থেকে জার (জের) বিলুপ্ত হয়েছে এবং তা বিশেষ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেহেতু বিশেষ্যই হলো ই’রাবের উপযুক্ত স্থান।

আর ই’রাবের প্রকারভেদ থেকে রাফ’ ও নাসব অবশিষ্ট থাকল এবং এমন কোনো কারণ ঘটেনি যা এই দুটিকে অথবা এর কোনো একটিকে ক্রিয়া বা বিশেষ্যের সাথে সুনির্দিষ্ট করা আবশ্যক করে। তাই এই উভয়টি ক্রিয়া ও বিশেষ্য উভয়ের ওপর প্রবেশ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।

আর ক্রিয়াগুলোর দিকে কালবাচক বিশেষ্যসমূহের (আসমায়ুয যামান) সম্বন্ধ করা বৈধ হয়েছে, কারণ সেগুলো মাসদারের (ক্রিয়ামূল) দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, আর ক্রিয়া তার মাসদারের অর্থ প্রকাশ করে। যেমন আপনার উক্তি: (যে মিথ্যা বলল তা তার জন্য মন্দ হলো), অর্থাৎ: মিথ্যা বলা তার জন্য মন্দ হলো। সুতরাং যখন আমাদের জন্য এটি বলা বৈধ হয়েছে: ‘তোমার বের হওয়ার দিনটি আমাকে মুগ্ধ করেছে’, তখন এটি বলাও বৈধ হয়েছে: ‘তুমি যখন বের হও সেই দিনটি আমাকে মুগ্ধ করেছে’।

অন্য একটি কারণ হলো: ক্রিয়া মাসদার ও সময়—উভয়টিকেই নির্দেশ করে, আর সময় হলো ক্রিয়ার একটি অংশ। সুতরাং যখন কোনো বিষয়ের সমষ্টির দিকে তার অংশের সম্বন্ধ করা বৈধ হয়েছে (৩/খ), তখন ক্রিয়ার দিকে সময়ের সম্বন্ধ করাও বৈধ হয়েছে, যেমন আপনি বলতে পারেন: (রেশমি কাপড়)।

এ বিষয়ে আখফাশ বলেছেন: নিশ্চয়ই ক্রিয়া সময়ের সকল আধারের (যুরুফুয যামান) দিকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি ক্রিয়াশীল হয়।
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৪৭)
توَسط حرف الْجَرّ.

وظروف الْمَكَان إِنَّمَا يتَعَدَّى الْفِعْل إِلَى الْمُبْهم مِنْهَا بِغَيْر توَسط حرف الْجَرّ، فَجعلت إِضَافَة ظروف الزَّمَان إِلَى الْفِعْل عوضا من ذَلِك.

فَأَما (حَيْثُ) من ظروف الْمَكَان فَيجوز إضافتها إِلَى الْفِعْل، تَشْبِيها ب (حِين) ، لِأَنَّهَا مُبْهمَة فِي الْمَكَان كإبهام (حِين) فِي الزَّمَان، فَلذَلِك جَازَ إضافتها إِلَى الْفِعْل.

فاستقر بِمَا ذكرنَا أَن الْجَرّ للأسماء، والجزم للأفعال، وَبَقِي الرّفْع وَالنّصب مشتركين للأسماء وَالْأَفْعَال.

فَإِن قَالَ قَائِل: قد قُلْتُمْ إِن أصل الْأَفْعَال السّكُون، ثمَّ بينتم وجوب الْإِعْرَاب للمضارع، فَمن أَيْن اخْتلف فعل الْأَمر وَالْفِعْل الْمَاضِي، فبنيتم الْمَاضِي على الْفَتْح، وَالْأَمر على السّكُون؟ فَالْجَوَاب فِي ذَلِك: أَن الْفِعْل الْمَاضِي قد حصلت لَهُ مشابهة بِالِاسْمِ من وَجه، وَذَلِكَ فِي الصّفة، نَحْو قَوْلك: مَرَرْت بِرَجُل قَامَ، كَمَا تَقول: مَرَرْت
অব্যয়ের মধ্যস্থতা।

এবং স্থানবাচক বিশেষ্যগুলোর মধ্যে কেবল অস্পষ্ট শব্দগুলোই অব্যয়ের মধ্যস্থতা ব্যতিরেকে ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হতে পারে। তাই এর পরিবর্তে কালবাচক বিশেষ্যগুলোকে ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করাকে এরই স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।

আর স্থানবাচক বিশেষ্যগুলোর মধ্যে 'হাইসু' (যেখানে) শব্দটিকে ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা জায়েয, কারণ একে 'হীন' (যখন) শব্দের সাথে তুলনা করা হয়; যেহেতু 'হীন' যেমন সময়ের ক্ষেত্রে অস্পষ্ট, 'হাইসু' শব্দটিও স্থানের ক্ষেত্রে তেমনি অস্পষ্ট। এই কারণেই একে ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা জায়েয হয়েছে।

সুতরাং আমরা যা উল্লেখ করেছি তার মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হলো যে, 'জর' কেবল বিশেষ্যের জন্য এবং 'জযম' কেবল ক্রিয়ার জন্য নির্ধারিত। আর 'রাফ' ও 'নাসব' বিশেষ্য ও ক্রিয়া উভয়ের জন্য সাধারণ হিসেবে রয়ে গেল।

যদি কোনো প্রশ্নকারী বলেন: আপনারা বলেছেন যে ক্রিয়ার মূল অবস্থা হলো সুকুন, অতঃপর আপনারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার জন্য ই'রাব বা বিভক্তির আবশ্যকতা বর্ণনা করেছেন; তাহলে আদেশবাচক ক্রিয়া এবং অতীতকালীন ক্রিয়ার মধ্যে কেন পার্থক্য হলো, যার ফলে আপনারা অতীতকালীন ক্রিয়াকে 'ফাতাহ'-এর ওপর এবং আদেশবাচক ক্রিয়াকে 'সুকুন'-এর ওপর ভিত্তি করেছেন? এর উত্তর হলো: অতীতকালীন ক্রিয়ার সাথে একদিক থেকে বিশেষ্যের সাদৃশ্য তৈরি হয়েছে, আর তা হলো গুণ বা বৈশিষ্ট্য বর্ণনার ক্ষেত্রে। যেমন আপনার উক্তি: "আমি এমন একজন ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম যে দাঁড়িয়েছে", ঠিক যেমন আপনি বলেন: "আমি অতিক্রম করলাম..."
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৪৮)
بِرَجُل قَائِم، وَيَقَع موقع الْمُضَارع فِي الشَّرْط، كَقَوْلِك: إِن ضربت ضربت، فَهُوَ بِمَنْزِلَة: إِن تضرب أضْرب. وَفعل الْأَمر لَا يَقع هَذَا الْموقع، فَجعل للماضي مزية على فعل الْأَمر، وَلم تبلغ هَذِه المزية أَن توجب لَهُ الْإِعْرَاب، فَوَجَبَ أَن يَجْعَل الْمَاضِي حكمه بَين حكم الْمُضَارع وَبَين فعل الْأَمر، فَمنع الْإِعْرَاب، لنقصه عَن الْمُضَارع، وَفضل بحركة لمزيته على فعل الْأَمر.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم جعلت تِلْكَ الْحَرَكَة الفتحة؟

قيل: لِأَن الْغَرَض بتحريكه أَن تحصل لَهُ مزية على فعل الْأَمر، وبالفتح نصل إِلَى غرضنا، كَمَا نصل بِالضَّمِّ وَالْكَسْر، إِلَّا ان الْفَتْح أخف الحركات، فَوَجَبَ اسْتِعْمَاله لخفته.

وَوجه آخر: وَهُوَ أَن الْجَرّ لما منع الْفِعْل، وَهُوَ كسر عَارض، وَالْكَسْر اللَّازِم أولى أَن يمْنَع الْفِعْل، فَلهَذَا لم يجز أَن يبْنى على الْكسر، وَلم يجز أَن يبْنى على الضَّم، لِأَن بعض الْعَرَب تجتزئ بالضمة عَن الْوَاو، فَتَقول فِي قَامُوا: قَامَ، قَالَ الشَّاعِر:
...একজন দণ্ডায়মান ব্যক্তির মতো, এবং এটি শর্তযুক্ত বাক্যে মুযারি (বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল)-এর স্থলে আসে, যেমন আপনার উক্তি: "যদি তুমি প্রহার করতে, তবে আমি প্রহার করতাম", যা "যদি তুমি প্রহার করো, তবে আমি প্রহার করব"-এর স্থলাভিষিক্ত। আর আমর (আদেশসূচক ক্রিয়া) এই স্থলে ব্যবহৃত হয় না। ফলে মাযী (অতীতকাল)-কে আমরের ওপর একটি শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই শ্রেষ্ঠত্ব তাকে ই'রাব (পরিবর্তনশীলতা) দান করার পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাই মাযীর বিধানকে মুযারি এবং আমরের বিধানের মাঝামাঝি রাখা আবশ্যক হয়েছে। মুযারির তুলনায় অপূর্ণতার কারণে একে ই'রাব থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, আর আমরের ওপর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে একে হরকত (স্বরচিহ্ন) দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: তবে সেই হরকতটি ফাতহাহ (যবর) কেন করা হলো?

উত্তরে বলা হবে: কারণ তাকে হরকতযুক্ত করার উদ্দেশ্য ছিল আমরের ওপর তার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা। আর ফাতহাহর মাধ্যমে আমাদের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়, যেমনটা যম্মাহ (পেশ) বা কাসরাহ (জের) দ্বারাও সফল হতো; তবে ফাতহাহ হলো সকল হরকতের মধ্যে সবচেয়ে হালকা। তাই হালকা হওয়ার কারণে এটি ব্যবহার করা আবশ্যক হয়েছে।

অন্য একটি কারণ হলো: যেহেতু 'জার' (জের হওয়া) ক্রিয়ার জন্য নিষিদ্ধ, যা কি না একটি আপতিক কাসরাহ; তাই স্থায়ী কাসরাহ ক্রিয়ার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। এই কারণেই একে কাসরাহর ওপর ভিত্তি (মাবনি) করা বৈধ হয়নি। আর একে যম্মাহর ওপর ভিত্তি করাও বৈধ হয়নি, কারণ কোনো কোনো আরব 'ওয়াও' বর্ণের পরিবর্তে যম্মাহর ওপর তুষ্ট থাকে; ফলে তারা 'কামূ' (তারা দাঁড়িয়েছে)-এর স্থলে 'কামু' বলে। জনৈক কবি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৪৯)
(فَلَو أَن الأطبا كَانَ حَولي … وَكَانَ مَعَ الْأَطِبَّاء الأساة)

 

فَلَو بني على الضَّم لالتبس بِالْجمعِ فِي بعض اللُّغَات، فأسقط للالتباس، وَأسْقط الْكسر لما ذَكرْنَاهُ، فَلم يبْق إِلَّا الْفَتْح فَبنِي عَلَيْهِ.

فَإِن قَالَ قَائِل: مَا تنكرون أَن يكون الْأَمر مَجْزُومًا بلام محذوفة، لِأَن الأَصْل فِي قُم: لتقم، وَالدّلَالَة فِي ذَلِك قِرَاءَة النَّبِي صلى الله عليه وسلم َ -: "‌‌ فبذلك فلتفرحوا "، فحذفت اللَّام وَالتَّاء، وَبَقِي الْفِعْل مَجْزُومًا كَمَا كَانَ؟

قيل لَهُ: هَذَا يُفَسر من وُجُوه:

أَحدهَا: أَن حُرُوف الْجَزْم أَضْعَف من حُرُوف الْجَرّ، لِأَن الْفِعْل أَضْعَف من الِاسْم، والجر على هَذَا يجوز أَن يكون أقوى من الْجَزْم، وعوامل الْجَرّ يجوز حذفهَا
، وَمَا هُوَ أَضْعَف مِنْهَا أولى أَلا يحذف.

وَوجه آخر: وَهُوَ أَن هَذِه الزَّوَائِد أوجبت للْفِعْل المضارعة للاسم، فَوَجَبَ أَن يَزُول الْإِعْرَاب الَّذِي وَجب من أجلهَا.

وَوجه آخر: وَهُوَ أَن شَرط المعرب أَن تعتقب فِي آخِره الحركات باخْتلَاف العوامل، وَشرط الْمَبْنِيّ أَن يلْزم طَريقَة وَاحِدَة. فَلَمَّا وجدنَا فعل الْأَمر لَا يَزُول عَن السّكُون (4 / أ) وَجب أَن يلْحق بِحكم المبنيات دون المعرب، وَلَيْسَ معني دُخُول (اللَّام) معنى الْأَمر. والأسماء لَا يَصح دُخُول الْجَزْم عَلَيْهَا، نَحْو:
(যদি চিকিৎসকরা আমার চারপাশে থাকত … এবং চিকিৎসকদের সাথে উপশমকারীগণ থাকত)

 

যদি একে যম্মাহ (পেশ) দিয়ে গঠন করা হতো, তবে কিছু উপভাষায় তা বহুবচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যেত; ফলে বিভ্রান্তি এড়াতে তা বর্জন করা হয়েছে। আর কাসরাহ (যের)-কে বর্জন করা হয়েছে যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি তার কারণে। সুতরাং ফাতহা (জবর) ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না, তাই তার উপরেই এটি গঠন করা হয়েছে।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: আপনারা কেন অস্বীকার করছেন যে, নির্দেশবাচক ক্রিয়াটি (আমর) একটি ঊহ্য 'লাম'-এর মাধ্যমে জযমযুক্ত হবে? কেননা 'ক্বুম' (দাঁড়াও) এর মূল রূপ হলো 'লিতাক্বুম'। এর প্রমাণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কিরাত: "এতেই যেন তারা আনন্দিত হয়", এখানে 'লাম' এবং 'তা' বিলুপ্ত করা হয়েছে, আর ক্রিয়াটি পূর্বের ন্যায় জযমযুক্ত রয়ে গেছে।

এর উত্তরে বলা হবে: এটি কয়েকটি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যায়:

প্রথমত: জযম প্রদানকারী হরফসমূহ জর (যের) প্রদানকারী হরফসমূহের চেয়ে দুর্বল, কারণ বিশেষ্যের (ইসম) তুলনায় ক্রিয়া (ফেল) দুর্বল। এ হিসেবে জর প্রদান করা জযমের তুলনায় শক্তিশালী হতে পারে, এবং জর প্রদানকারী আমলসমূহ বিলুপ্ত করা বৈধ হতে পারে; কিন্তু যা তার চেয়ে দুর্বল, তা বিলুপ্ত না হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত।

অন্য একটি দিক: আর তা হলো, এই অতিরিক্ত অংশগুলো ক্রিয়াটিকে বিশেষ্যের সাথে সদৃশ হওয়ার আবশ্যকতা তৈরি করে। ফলে যে ইরাব (বিভক্তি) এগুলোর কারণে আবশ্যক হয়েছিল, তা দূরীভূত হওয়া আবশ্যক।

আরেকটি দিক: আর তা হলো, মু'রাব (পরিবর্তনশীল শব্দ) হওয়ার শর্ত হলো আমল পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে শব্দের শেষে হরকতসমূহেরও পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন হবে। আর মাবনি (অপরিবর্তনীয় শব্দ) হওয়ার শর্ত হলো এটি একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় স্থির থাকবে। যেহেতু আমরা দেখতে পাই যে নির্দেশবাচক ক্রিয়াটি (আমর) সুকুন থেকে বিচ্যুত হয় না (৪ / আ), তাই একে মু'রাব-এর পরিবর্তে মাবনি-এর হুকুমের অন্তর্ভুক্ত করা ওয়াজিব। আর 'লাম' যুক্ত হওয়ার অর্থ আমরের (সরাসরি নির্দেশের) অর্থের অনুরূপ নয়। আর বিশেষ্যসমূহের উপর জযম প্রবেশ করা শুদ্ধ নয়, যেমন:
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৫০)
صه ومه، وَمَا أشبه ذَلِك، فقد بَان بِمَا ذكرنَا أَن فعل الْأَمر يُوجب أَن يكون مَبْنِيا على السّكُون.

فَإِن قَالَ قَائِل: لم صَارَت هَذِه الْأَسْمَاء السِّتَّة تخْتَلف أواخرها، نَحْو قَوْلك: جَاءَنِي أَخُوك، وَرَأَيْت أَخَاك، ومررت بأخيك، وَغَيرهَا من الْأَسْمَاء إِنَّمَا تخْتَلف أواخرها بالحركات؟

فَالْجَوَاب فِي ذَلِك من وَجْهَيْن:

أَحدهمَا: أَن يكون جعلُوا هَذِه الْأَسْمَاء مُخْتَلفَة الْأَوَاخِر، تَوْطِئَة لما يَأْتِي من التَّثْنِيَة وَالْجمع، وَصَارَت هَذِه الْأَسْمَاء أولى بالتوطئة من غَيرهَا، لِأَنَّهَا أَسمَاء لَا تنفك من إِضَافَة الْمَعْنى، وَالْإِضَافَة فرع على الأَصْل، كَمَا أَن التَّثْنِيَة وَالْجمع فرع على الْوَاحِد، فَلَمَّا شابهت هَذِه الْأَسْمَاء التَّثْنِيَة وَالْجمع فِي هَذَا الحكم، كَانَت أولى من غَيرهَا الَّتِي لَا مُشَاركَة بَينهَا وَبَين التَّثْنِيَة وَالْجمع فِي هَذَا الحكم.

وَالْوَجْه الثَّانِي: أَن هَذِه الْأَسْمَاء تفرد فِي اللَّفْظ، فَيصير إعرابها بالحركات، نَحْو قَوْلك: هَذَا أَب، وَرَأَيْت أَبَا، ومررت بأب. فقد لَزِمت أوساطها الحركات، فَلَمَّا ردوهَا إِلَى أَصْلهَا فِي الْإِضَافَة، وَقد كَانَت أوساطها تدْخلهَا
'সাহ' এবং 'মাহ', এবং এ জাতীয় শব্দাবলী; আমরা যা উল্লেখ করেছি তা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, আমর ক্রিয়া (আদেশসূচক ক্রিয়া) সুকুন-এর ওপর মাবনি (ভিত্তিপ্রাপ্ত) হওয়া আবশ্যক।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: কেন এই ছয়টি বিশেষ্যের (আসমাউস সিত্তাহ) শেষাংশ (অক্ষর দ্বারা) ভিন্ন ভিন্ন হয়, যেমন আপনার উক্তি: "তোমার ভাই আমার নিকট এসেছে", "আমি তোমার ভাইকে দেখেছি", এবং "আমি তোমার ভাইয়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি"; অথচ অন্যান্য বিশেষ্যগুলোর শেষাংশ কেবল হরকত (স্বরচিহ্ন) দ্বারা পরিবর্তিত হয়?

এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়:

প্রথমত: তাঁরা এই বিশেষ্যগুলোর শেষাংশকে পরিবর্তনশীল করেছেন দ্বিবচন এবং বহুবচনের জন্য প্রস্তুতিস্বরূপ। আর এই বিশেষ্যগুলো অন্যান্যের তুলনায় এই প্রস্তুতির অধিক উপযোগী হয়েছে, কারণ এগুলো এমন বিশেষ্য যা অর্থের দিক থেকে ইদাফাত (সম্বন্ধ) থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। আর ইদাফাত হলো মূলের একটি শাখা, যেমনটি দ্বিবচন ও বহুবচন হলো একবচনের শাখা। সুতরাং যখন এই বিশেষ্যগুলো এই বিধানের ক্ষেত্রে দ্বিবচন ও বহুবচনের সদৃশ হলো, তখন এগুলো অন্যান্যের তুলনায় অধিক উপযোগী সাব্যস্ত হলো, যাদের সাথে এই বিধানে দ্বিবচন ও বহুবচনের কোনো অংশীদারিত্ব নেই।

দ্বিতীয়ত: এই বিশেষ্যগুলো যখন শব্দে এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন এদের ইরাব (বিভক্তি) হরকত দ্বারা হয়। যেমন আপনার উক্তি: "ইনি একজন পিতা", "আমি একজন পিতাকে দেখেছি", এবং "আমি একজন পিতার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি"। এক্ষেত্রে এগুলোর মধ্যাক্ষরে হরকত অপরিহার্য হয়েছে। অতঃপর যখন তারা এগুলোকে ইদাফাতের ক্ষেত্রে তাদের মূল রূপের দিকে ফিরিয়ে নিল, অথচ এগুলোর মধ্যাক্ষরে প্রবেশ করত...
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৫১)
حركات الْإِعْرَاب، أَرَادوا أَن يبقوا هَذَا الحكم فِيهَا، ليدل بذلك على أَنَّهَا مِمَّا يَصح أَن يعرب بالحركات فِي حَال الِانْفِرَاد، فَوَجَبَ أَن يضموا أوساطها فِي الرّفْع، فَلَمَّا ضمُّوا وَسطهَا انْقَلب آخرهَا واوا، لِأَن أَصْلهَا (فعل) ، فَحق أواخرها أَن تقلب ألفا، لتحركها وانفتاح مَا قبلهَا، وَالْألف مَتى انْضَمَّ مَا قبلهَا صَارَت واوا، وَكَذَلِكَ إِذا انْكَسَرَ مَا قبلهَا صَارَت ياءا، فَلهَذَا وَجب أَن تخْتَلف أَوَاخِر هَذِه الْأَسْمَاء بالحروف.

وَاعْلَم أَن الْإِعْرَاب فِي الْحَقِيقَة مُقَدّر فِي هَذِه الْحُرُوف، إِذْ شَرط الْإِعْرَاب أَن يكون زِيَادَة على بِنَاء الِاسْم، وَلَا يجوز أَن يكون مَا تفْتَقر إِلَيْهِ الْكَلِمَة من بنائها إعرابا، وَإِذا كَانَ كَذَلِك، فالإعراب مُقَدّر كَمَا يقدر فِي الْأَسْمَاء الْمَقْصُورَة وسنبين لم وَجب تَقْدِيره، وَلم يسْتَحق اللَّفْظ، فِي مَوْضِعه.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم وَجب أَن يكون الْإِعْرَاب فِي آخر الْكَلِمَة دون أَولهَا ووسطها؟

فَالْجَوَاب فِي ذَلِك: أَن الْأَوَائِل لَا يَصح أَن تكون مَوَاضِع الْإِعْرَاب لوَجْهَيْنِ:

أَحدهمَا: أَن بعض الْإِعْرَاب سُكُون، فَلَو أعربت الْأَوَائِل لَأَدَّى ذَلِك أَن يبتدأ بالساكن، وَهَذَا محَال، لِأَن الِابْتِدَاء مهيج للنطق، فَلَا يجوز أَن يثير تهيجه حَرَكَة مَعَ الْحَرْف، وَلَو جَازَ الِابْتِدَاء بالساكن، لَكَانَ ذَلِك شَائِعا فِي
ই'রাবের হরকতসমূহ; তারা এতে এই বিধানটি বজায় রাখতে চেয়েছিলেন, যাতে এর মাধ্যমে এটি নির্দেশিত হয় যে, একক অবস্থায় এগুলো হরকতের মাধ্যমে ই'রাব হওয়া সহীহ। তাই রাফ-এর অবস্থায় এগুলোর মধ্যাক্ষরে যম্মাহ প্রদান করা ওয়াজিব হয়েছে। ফলে যখন এগুলোর মধ্যাক্ষরে যম্মাহ প্রদান করা হলো, তখন এগুলোর শেষাক্ষরটি ওয়াও-এ রূপান্তরিত হলো। কারণ এগুলোর মূল রূপ হলো (ফালুন), তাই শেষাক্ষরগুলো হরকতবিশিষ্ট হওয়া এবং তার পূর্বের অক্ষরটি যবরযুক্ত হওয়ার কারণে আলিফে রূপান্তরিত হওয়া আবশ্যক ছিল। আর আলিফের পূর্বের অক্ষর যখন পেশযুক্ত হয়, তখন তা ওয়াও হয়ে যায়। অনুরূপভাবে যখন তার পূর্বের অক্ষর যেরযুক্ত হয়, তখন তা ইয়া হয়ে যায়। এ কারণেই এই বিশেষ্যগুলোর শেষভাগে হরফের পরিবর্তনের মাধ্যমে ভিন্নতা হওয়া ওয়াজিব হয়েছে।

জেনে রাখুন যে, প্রকৃতপক্ষে এই হরফগুলোতে ই'রাব উহ্য বা প্রাক্কলিত। কেননা ই'রাবের শর্ত হলো তা শব্দের মূল কাঠামোর অতিরিক্ত হতে হবে। আর শব্দের কাঠামোর জন্য যা অপরিহার্য তা ই'রাব হওয়া জায়েজ নয়। বিষয়টি যখন এরূপ, তখন ই'রাব এখানে উহ্য হিসেবে গণ্য, যেমনটি আসমা-এ মাকসুরাহ-এর ক্ষেত্রে উহ্য ধরা হয়। কেন এটি উহ্য হওয়া ওয়াজিব হয়েছে এবং কেন এটি উচ্চারিত হওয়ার উপযুক্ত নয়, তা আমরা যথাস্থানে বর্ণনা করব।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: শব্দের শুরু বা মাঝখানে না হয়ে কেন শেষাক্ষরে ই'রাব হওয়া ওয়াজিব হলো?

এর উত্তর হলো: শব্দের শুরু ই'রাবের স্থান হওয়া দুটি কারণে সহীহ নয়:

প্রথমত: কিছু ই'রাব হলো সুকুন (স্থিরতা)। সুতরাং যদি শব্দের শুরুতে ই'রাব প্রদান করা হতো, তবে তা সাকিন হরফ দিয়ে শুরু করার দিকে নিয়ে যেত, আর এটি অসম্ভব। কারণ প্রারম্ভিকতা হলো উচ্চারণের উদ্দীপক, তাই বর্ণের সাথে হরকত ব্যতীত এই উদ্দীপনা সৃষ্টি করা জায়েজ নয়। আর যদি সাকিন দিয়ে শুরু করা জায়েজ হতো, তবে তা সচরাচর দেখা যেত...
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৫২)
أَكثر الْحُرُوف، لِأَن الْحَرَكَة غير الْحُرُوف، فَإِذا جَازَ أَن يجرد بعض الْحُرُوف من الْحَرَكَة، جَازَ ذَلِك فِي سَائِر الْحُرُوف، فَلَمَّا امْتنع هَذَا الحكم عِنْد من يُخَالف فِي هَذَا الْموضع - إِلَّا فِي حرف أَو حرفين يقدر أَنَّهَا سَاكِنة، وَإِنَّمَا هُوَ اختلاس الْحَرَكَة - صَحَّ مَا ذَكرْنَاهُ، لِأَن الِابْتِدَاء بالساكن مُمْتَنع.

وَالْوَجْه الثَّانِي: أَن الِابْتِدَاء لَا بُد لَهُ من حَرَكَة تختصه، لما ذَكرْنَاهُ، فَلَو أعرب الأول لم تعرف حَرَكَة الْإِعْرَاب من حَرَكَة الْبناء، فَلهَذَا لم يجز أَن تدخل فِي الأول، وَلم يجز أَن تدخل فِي الْأَوْسَط لوَجْهَيْنِ:

أَحدهمَا: أَن الْوسط بِهِ (4 / ب) يعرف وزن الْكَلِمَة، هَل هُوَ على (فعل) أَو (فعل) أَو (فعِل) فَلَو أعرب الْوسط اخْتلطت أَيْضا حَرَكَة الْإِعْرَاب بحركة الْبناء.

وَالْوَجْه الثَّانِي: أَن من الْأَسْمَاء مَا لَا وسط لَهُ، وَهُوَ مَا كَانَ عدده زوجا، نَحْو مَا كَانَ على حرفين، ك (يَد، وَدم) ، وَمَا كَانَ على أَرْبَعَة أحرف، نَحْو: جَعْفَر، وَمَا كَانَ على سِتَّة أحرف، نَحْو: عضرفوط، فَلَو أعرب الْوسط لَأَدَّى ذَلِك إِلَى أَن يخْتَلف مَوضِع الْإِعْرَاب، إِذا كَانَ مَا ذَكرْنَاهُ من الْأَسْمَاء لَا وسط لَهُ، فَسقط أَن تعرب الأوساط، فَلم يبْق إِلَّا الْأَوَاخِر، فَلهَذَا صَارَت محلا للإعراب.
অধিকাংশ অক্ষর, কেননা হরকত (স্বরধ্বনি) অক্ষর থেকে ভিন্ন। যদি কিছু অক্ষরকে হরকত থেকে মুক্ত করা বৈধ হয়, তবে বাকি সমস্ত অক্ষরের ক্ষেত্রেও তা বৈধ হবে। যখন এই নিয়মটি এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণকারীদের নিকট অসম্ভব বলে গণ্য হলো—কেবল একটি বা দুটি অক্ষর ব্যতীত যেগুলোকে সাকিন (স্বরহীন) মনে করা হয়, যদিও তা মূলত হরকতের অতি দ্রুত উচ্চারণ মাত্র—তখন আমরা যা উল্লেখ করেছি তা-ই সঠিক প্রমাণিত হলো; কেননা সাকিন বা স্বরহীন অক্ষর দিয়ে শব্দ শুরু করা অসম্ভব।

দ্বিতীয় দিকটি হলো: আমরা যা উল্লেখ করেছি তার কারণে শব্দের সূচনা অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট হরকতের মাধ্যমে হতে হবে। এখন যদি প্রথম অক্ষরেই ইরাব (ব্যাকরণিক পরিবর্তন) প্রদান করা হতো, তবে ইরাবের হরকত এবং বিনার (গঠনমূলক) হরকতের মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব হতো না। এই কারণেই প্রথম অক্ষরে ইরাব আসা বৈধ নয়, এবং দুটি কারণে মধ্যবর্তী অক্ষরেও তা আসা বৈধ নয়:

প্রথমত: মধ্যবর্তী অক্ষরের মাধ্যমেই (৪/খ) শব্দের ওজন বা গঠন জানা যায়—তা কি ‘ফা-আ-লা’, ‘ফা-উ-লা’ নাকি ‘ফা-ই-লা’ গঠনের ওপর। সুতরাং মধ্যবর্তী অক্ষরে যদি ইরাব দেওয়া হতো, তবে এক্ষেত্রেও ইরাবের হরকত বিনার হরকতের সাথে মিশে যেত।

দ্বিতীয় দিকটি হলো: এমন কিছু বিশেষ্য রয়েছে যেগুলোর কোনো মধ্যবর্তী অক্ষর নেই; আর তা হলো সেই শব্দগুলো যেগুলোর অক্ষর সংখ্যা জোড়। যেমন দুই অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ: ‘হাত’ এবং ‘রক্ত’; অথবা চার অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ, যেমন: ‘জা’ফর’; কিংবা ছয় অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ, যেমন: ‘আদ্বরফুত’। সুতরাং যদি মধ্যবর্তী অক্ষরে ইরাব দেওয়া হতো, তবে তা ইরাবের স্থান পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেত, যেহেতু আমরা যে বিশেষ্যগুলোর কথা উল্লেখ করেছি সেগুলোর কোনো মধ্যভাগ নেই। অতএব মধ্যবর্তী অক্ষরগুলোতে ইরাব দেওয়ার বিষয়টি বাতিল হয়ে গেল এবং কেবল শেষ অক্ষরটিই অবশিষ্ট থাকল। আর এই কারণেই শব্দের শেষ ভাগই ইরাবের স্থানে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
وَوجه آخر فِي الأَصْل: وَهُوَ أَن الْإِعْرَاب قد بَينا أَنه دخل لإِفَادَة الْمَعْنى، وَهُوَ زِيَادَة على الِاسْم، وَإِنَّمَا يعرف الشَّخْص عِنْد الْفَرَاغ من ذكر اسْمه، فَيجب أَن يكون إِذا فهم معنى الشَّخْص أَن يزْدَاد عَلَيْهِ معنى الْإِعْرَاب، فَإِذا كَانَت مَعْرفَته إِنَّمَا تقع عِنْد الْفَرَاغ من الِاسْم، فَلَا سَبِيل أَن يكون الْإِعْرَاب فهم الشَّخْص وَمَعْنَاهُ، وَلَو كَانَ على غير هَذَا لأشكل مَعْنَاهُ.

فَإِن قَالَ قَائِل: لم خصوا التَّنْوِين من بَين سَائِر الْحُرُوف فجعلوه عَلامَة للانصراف؟

فَالْجَوَاب فِي ذَلِك: أَن أولى مَا يُزَاد من الْحُرُوف للعلامة حُرُوف الْمَدّ أَو اللين، وَإِنَّمَا صَارَت أولى لِكَثْرَة دورها فِي الْكَلَام، إِذْ لَا كلمة تَخْلُو مِنْهَا أَو من بَعْضهَا، فكرهوا أَن يزِيدُوا حرفا مِنْهَا عَلامَة للانصراف، إِذْ كَانَت هَذِه الْحُرُوف تدل على التَّثْنِيَة وَالْجمع، فَكَانَت زيادتها تُؤدِّي إِلَى أحد أَمريْن: إِمَّا اللّبْس بالتثنية وَالْجمع، أَو يُؤَدِّي ذَلِك إِلَى ثقل اللَّفْظ، فَسَقَطت زيادتها، وَلم يكن للحروف شَيْء أقرب إِلَيْهَا من التَّنْوِين، لِأَن التَّنْوِين نون خَفِيفَة، وَإِنَّمَا لقب بِهَذَا اللقب ليفصل بَين النُّون الَّتِي يُوقف عَلَيْهَا وَبَين هَذِه النُّون - أَعنِي التَّنْوِين الَّذِي لَا يُوقف عَلَيْهِ - وشبهت بحروف الْمَدّ واللين أَنَّهَا غنة فِي الخيشوم، فَلَيْسَ على الْمُتَكَلّم فِيهِ كلفة، إِذْ لَا يعْتَمد لَهُ فِي الْفَم فَجرى مجْرى الْألف فِي الخفة، إِذْ كَانَت هَوَاء فِي الْحلق، فَلهَذَا وَجب أَن يزْدَاد التَّنْوِين عَلامَة للانصراف.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَمَا الَّذِي أحْوج إِلَى إِدْخَال التَّنْوِين إِلَى الْفَصْل
মূলনীতির ক্ষেত্রে অন্য একটি দিক হলো: আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি যে, ইরাব (শব্দ-রূপান্তর) অর্থের পূর্ণতা প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে এবং এটি বিশেষ্যের মূল গঠনের অতিরিক্ত একটি বিষয়। মূলত কোনো ব্যক্তি বা সত্তাকে তখনই চেনা যায় যখন তার নাম উল্লেখ করা শেষ হয়। সুতরাং নিয়ম হলো যে, যখন সত্তার অর্থ অনুধাবন করা হবে, তখন তার ওপর অতিরিক্ত হিসেবে ইরাবের অর্থ যুক্ত হবে। যেহেতু সত্তার পরিচয় বিশেষ্যের সমাপ্তিতেই ঘটে থাকে, সেহেতু ইরাব নিজেই সত্তার পরিচয় ও অর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি বিষয়টি এর বিপরীত হতো, তবে তার অর্থ জটিল হয়ে পড়ত।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: কেন তারা সকল বর্ণের মধ্য থেকে তানভীনকে নির্দিষ্ট করেছেন এবং একে ইনসারাফ বা শব্দ-রূপান্তরের চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন?

এর উত্তর হলো: চিহ্নের জন্য অতিরিক্ত বর্ণ হিসেবে হরফে মাদ্দ (দীর্ঘ স্বরবর্ণ) অথবা হরফে লীন (কোমল বর্ণ) যুক্ত হওয়াই ছিল সর্বাধিক উপযুক্ত। এগুলো অধিক উপযুক্ত হওয়ার কারণ হলো ভাষার ব্যবহারে এগুলোর ব্যাপক উপস্থিতি; কারণ এমন কোনো শব্দ নেই যা এই বর্ণগুলো বা এগুলোর অংশ থেকে মুক্ত। কিন্তু তারা শব্দ-রূপান্তরের চিহ্ন হিসেবে এগুলো থেকে কোনো বর্ণ বৃদ্ধি করা অপছন্দ করেছেন, কারণ এই বর্ণগুলো দ্বিবচন ও বহুবচন নির্দেশ করে। ফলে এগুলো যুক্ত করলে দুটি সমস্যার যেকোনো একটি দেখা দিত: হয় দ্বিবচন ও বহুবচনের সাথে অর্থের সংশয় তৈরি হতো, অথবা তা উচ্চারণে গুরুভার বা জটিলতার সৃষ্টি করত। একারণে এগুলো যুক্ত করার বিষয়টি পরিত্যক্ত হয়েছে। আর বর্ণগুলোর মধ্যে তানভীন অপেক্ষা মাদ্দ বা লীনের নিকটতর আর কিছু ছিল না, কারণ তানভীন হলো একটি লঘু ‘নুন’। আর একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে যেন যে ‘নুন’-এর ওপর ওয়াকফ বা বিরতি করা হয় এবং যে ‘নুন’-এর ওপর (অর্থাৎ তানভীন) বিরতি করা হয় না—এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করা যায়। একে হরফে মাদ্দ ও লীনের সাথে এই দিক থেকে সাদৃশ্য দেওয়া হয়েছে যে, এটি নাসিকাগহ্বর থেকে নির্গত একটি নাসিক্য ধ্বনি (গুন্নাহ)। ফলে বক্তার জন্য এটি উচ্চারণে কোনো কষ্ট নেই, যেহেতু এর জন্য মুখের অভ্যন্তরে কোনো নির্দিষ্ট মাখরাজ বা উচ্চারণস্থলের ওপর নির্ভর করতে হয় না। সুতরাং সহজবোধ্যতার ক্ষেত্রে এটি ‘আলিফ’-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, কারণ আলিফ হলো কণ্ঠনালীর মধ্যস্থিত বায়ুপ্রবাহ মাত্র। এই কারণেই ইনসারাফের চিহ্ন হিসেবে তানভীন যুক্ত করা আবশ্যক হয়েছে।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: তবে কোন বিষয়টি তানভীনকে পৃথকীকরণের জন্য অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে?
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
الَّذِي ذكرتموه؟

قيل لَهُ: لِأَن الْأَسْمَاء كلهَا نوع وَاحِد، ثمَّ دخل على بَعْضهَا مَا أوجب لَهُ الشّبَه بالحروف، فَهَذَا الْقسم يبْنى على حَرَكَة أَو سُكُون، لِأَنَّهُ أشبه الْمَبْنِيّ، وَهُوَ الْحَرْف، وَذَلِكَ نَحْو: أَيْن، وَكَيف، وَمَا أشبه ذَلِك.

وَوجه شبهه بالحروف أَنه نَاب عَنْهَا، وَذَلِكَ قَول الْقَائِل: أَيْن زيد؟ يَنُوب عَنهُ قَوْله: أَفِي الدَّار زيد؟ وَمَا أشبه ذَلِك من الْأَمَاكِن، نَحْو: السُّوق وَغَيره، فَلَمَّا نَاب عَن حرف الِاسْتِفْهَام وَجب أَن يبْنى لبنائه. وَمن الْأَسْمَاء مَا دخلت عَلَيْهِ أوجبت لَهُ الشّبَه بِالْفِعْلِ، فَهَذَا الْقسم يعرب، إِلَّا أَنه لَا يدْخلهُ الْجَرّ والتنوين، كَمَا لَا يدْخل الْفِعْل الَّذِي أشبهه.

وَمن الْأَسْمَاء لم تعرض لَهُ عِلّة تخرجه عَن أَصله، وَهُوَ الْإِعْرَاب، فَلَو لم يدْخل التَّنْوِين عَلَيْهِ لالتبس بالمعرب الَّذِي يشبه الْفِعْل، فَلم يكن بُد من عَلامَة تفصل بَينهمَا، فَهَذَا الَّذِي أوجب أَن يفصل بِالتَّنْوِينِ بَين المنصرف وَغَيره.

(5 / أ) فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم أسقطتم التَّنْوِين فِي الْوَقْف؟

قيل لَهُ: لِأَن التَّنْوِين تَابع للإعراب، أَلا ترى أَنه يدْخل فِي الْمَرْفُوع والمنصوب وَالْمَجْرُور، فَلَمَّا كَانَ تَابعا لَهُ، وَالْإِعْرَاب لَا يُوقف عَلَيْهِ، وَجب أَن يسْقط فِي اللَّفْظ، إِذْ كَانَ تبعه من جِهَة اللَّفْظ، أَلا ترى أَن التَّنْوِين لَا يُوجد إِلَّا بعد حَرَكَة، فَإِذا وَجب إِسْقَاط حَرَكَة مَا قبلهَا تبعه فِي السُّقُوط.
যা আপনারা উল্লেখ করেছেন?

এর উত্তরে বলা হয়েছে: যেহেতু সকল বিশেষ্য মূলত একই প্রকারের, অতঃপর এগুলোর কয়েকটির ওপর এমন বিষয় আপতিত হয়েছে যা সেগুলোর মাঝে হরফের সাথে সাদৃশ্য সৃষ্টি করে। সুতরাং এই অংশটি হরকত বা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় হয়, কারণ এটি একটি অপরিবর্তনীয় বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়েছে, আর তা হলো হরফ। উদাহরণস্বরূপ: কোথায়, কীভাবে এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ।

হরফের সাথে এর সাদৃশ্যের স্বরূপ হলো এটি হরফের স্থলাভিষিক্ত হয়। যেমন কোনো বক্তার উক্তি: 'যায়েদ কোথায়?' এখানে এই শব্দটি তার 'যায়েদ কি ঘরে আছে?' এবং এই জাতীয় অন্যান্য স্থানের ক্ষেত্রে—যেমন বাজার বা অন্য কিছু—উক্তির স্থলাভিষিক্ত হয়। সুতরাং যখন এটি প্রশ্নবোধক হরফের স্থলাভিষিক্ত হলো, তখন তার অপরিবর্তনীয়তার কারণে এটিকেও অপরিবর্তনীয় করা আবশ্যক হয়ে পড়ল। আবার বিশেষ্যগুলোর মধ্যে এমন কিছু আছে যার ওপর এমন বিষয় আপতিত হয়েছে যা ক্রিয়ার সাথে সাদৃশ্য সৃষ্টি করে। ফলে এই অংশটি রূপান্তরযোগ্য বা পরিবর্তনশীল হয়, তবে এতে 'যার' (জের) এবং তানভীন প্রবেশ করে না, যেমনটি সেই ক্রিয়াতেও প্রবেশ করে না যার সাথে এটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

আবার বিশেষ্যগুলোর মধ্যে এমন কিছু আছে যার ক্ষেত্রে এমন কোনো কারণ ঘটেনি যা তাকে তার মূল অবস্থা অর্থাৎ ই'রাব থেকে বিচ্যুত করে। সুতরাং যদি এতে তানভীন যুক্ত না হতো, তবে এটি সেই রূপান্তরযোগ্য শব্দের সাথে মিশে যেত যা ক্রিয়ার সদৃশ। ফলে এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য একটি চিহ্নের প্রয়োজন ছিল। আর এটাই হলো সেই কারণ যা তানভীনের মাধ্যমে পূর্ণ-রূপান্তরযোগ্য এবং অন্যান্য শব্দের মধ্যে পার্থক্য করা আবশ্যক করেছে।

(৫ / অ) যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: তবে আপনারা বিরতিকালে তানভীনকে বিলুপ্ত করেন কেন?

উত্তরে বলা হয়েছে: কারণ তানভীন হলো ই'রাবের অনুসারী। আপনি কি দেখছেন না যে এটি রফ, নাসব এবং যার—সব অবস্থাতেই প্রবেশ করে? সুতরাং যখন এটি ই'রাবের অনুসারী হলো, আর ই'রাবের ওপর বিরতি প্রদান করা হয় না, তখন উচ্চারণে একে বিলুপ্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ল; যেহেতু এটি উচ্চারণের দিক থেকে ই'রাবের অনুগামী ছিল। আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, তানভীন কেবল হরকতের পরেই উচ্চারিত হয়? সুতরাং যখন তার পূর্ববর্তী হরকতকে বিলুপ্ত করা আবশ্যক হলো, তখন তানভীনও বিলুপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তার অনুসারী হলো।
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৫৫)
وَوجه آخر قد ذَكرْنَاهُ، وَهُوَ _ أَي التَّنْوِين _ قد بَينا أَنه زِيَادَة على الْكَلِمَة، وَحكم الزَّائِد أنقص من حكم الْأَصْلِيّ، فأسقطوه فِي الْوَقْف ليدلوا بذلك على نَقصه.

فَإِن قيل لَك: هلا أسقط فِي الدرج، وَأثبت فِي الْوَقْف؟ فَالْجَوَاب فِي ذَلِك من وَجْهَيْن:

أَحدهمَا: أَن السُّؤَال يرجع على السَّائِل لَو صرنا إِلَى مَا قَالَ، فَلَمَّا لم يفدنا إِلَّا مَا نَحن عَلَيْهِ من الْفرق، لم يكن لأحد أَن يعْتَرض بِهَذَا الِاعْتِرَاض، إِذْ لَو فعلوا مَا سَأَلنَا السَّائِل لَكَانَ جَائِزا.

وَالْوَجْه الثَّانِي: أَن مَا فَعَلُوهُ أولى مِمَّا سألناه، وَذَلِكَ أَن الْإِعْرَاب قد اسْتَقر أَن ثَبت حكمه فِي درج الْكَلَام، وَهُوَ زِيَادَة على الِاسْم، وَيسْقط فِي الْوَقْف، فَحمل التَّنْوِين عَلَيْهِ، لاشْتِرَاكهمَا فِي أَنَّهُمَا علامتان زائدتان على الِاسْم، فَلَمَّا وَجب فِي الْإِعْرَاب كَانَ مَا ذَكرْنَاهُ، لِأَنَّهُ عِنْد الْفَرَاغ من الْكَلِمَة يجب أَن تقع رَاحَة الْمُتَكَلّم، إِذْ كَانَ آخر نشاطه آخر كَلَامه، فأرادوا أَن يكون لَفظه فِي هَذِه الْحَال أخف من لَفظه فِي حَال النشاط، فَجعل حَال الدرج بالحركة والتنوين، لِأَنَّهُ مَوضِع لاستراحته. /

فَإِن قيل لكم: فَلم أبدلتم من التَّنْوِين ألفا فِي الْوَقْف، وَهَذَا قد أدّى إِلَى التَّسْوِيَة بَين الزَّائِد والأصلي على مَا عللتم لِأَنَّهُ قد ثَبت فِي الْوَقْف والوصل؟

[قيل] : لِأَن الْقَصْد فِي الْفَصْل بَين الزَّائِد والأصلي أَن يحصل للزِّيَادَة حَال نقص فِي حَال الْوَقْف والدرج، وَلَا يثبت فِي حَال وَاحِدَة، كثبات الْأَصْلِيّ، وَالْألف الَّتِي هِيَ بدل من التَّنْوِين تسْقط فِي الدرج، كَمَا يسْقط التَّنْوِين فِي الْوَقْف، فقد فَارق حكم الْحَرْف الْأَصْلِيّ، وَإِنَّمَا أبدلوا من التَّنْوِين ألفا لِأَن الْألف خَفِيفَة،
এবং আরেকটি দিক যা আমরা উল্লেখ করেছি—আর তা হলো তানউইন—আমরা স্পষ্ট করেছি যে এটি শব্দের ওপর একটি অতিরিক্ত অংশ, আর অতিরিক্তের বিধান মৌলিকের বিধানের চেয়ে কমতর। তাই তারা বিরতির সময় একে বিলুপ্ত করেছেন যাতে এর মাধ্যমে তার ন্যূনতা প্রমাণ করা যায়।

যদি আপনাকে প্রশ্ন করা হয়: কেন একে প্রবাহের সময় বিলুপ্ত করা হলো না এবং বিরতির সময় বহাল রাখা হলো না? এর উত্তরে দুটি দিক রয়েছে:

প্রথমত: যদি আমরা প্রশ্নকারীর কথা অনুযায়ী চলতাম, তবে সেই প্রশ্নটি প্রশ্নকারীর দিকেই ফিরে আসত। যেহেতু এটি আমাদের বর্তমান পার্থক্যের অতিরিক্ত কোনো উপকার দিচ্ছে না, তাই কারো জন্য এই আপত্তি তোলা সংগত নয়। কেননা তারা যদি প্রশ্নকারীর চাহিদা অনুযায়ী কাজ করতেন, তবে তাও জায়েজ হতো।

দ্বিতীয়ত: তারা যা করেছেন তা প্রশ্নকারীর দাবির চেয়ে বেশি অগ্রগণ্য। কারণ এটি প্রতিষ্ঠিত যে, ইরাব (বিভক্তি)-এর বিধান বাক্যের প্রবাহে বহাল থাকে এবং এটি বিশেষ্যের ওপর একটি অতিরিক্ত বিষয়, আর বিরতির সময় তা বিলুপ্ত হয়। সুতরাং তানউইনকেও এর ওপর কিয়াস করা হয়েছে, যেহেতু উভয়ই বিশেষ্যের ওপর অতিরিক্ত দুটি চিহ্ন হওয়ার ক্ষেত্রে সমান। যখন এটি ইরাবের ক্ষেত্রে আবশ্যক হলো, তখন বিষয়টি তেমনই হলো যা আমরা উল্লেখ করেছি। কারণ শব্দ শেষ করার সময় বক্তার জন্য স্বস্তি পাওয়া প্রয়োজন, যেহেতু তার বাক্যের শেষই হলো তার কর্মতৎপরতার শেষ। তাই তারা চেয়েছিলেন যেন এই অবস্থায় তার উচ্চারণ কর্মতৎপরতার অবস্থার চেয়ে হালকা হয়। ফলে প্রবাহের অবস্থাকে হরকত ও তানউইন যুক্ত রাখা হয়েছে, কারণ বিরতির স্থানটি হলো তার বিশ্রামের জন্য।

যদি আপনাদের প্রশ্ন করা হয়: কেন আপনারা বিরতির সময় তানউইনের পরিবর্তে আলিফ নিয়ে এসেছেন? আপনাদের দেওয়া যুক্তি অনুযায়ী তো এটি অতিরিক্ত ও মৌলিকের মধ্যে সমতা সৃষ্টি করে দিচ্ছে, কারণ এটি বিরতি ও মিলন—উভয় ক্ষেত্রেই বহাল থাকছে?

[বলা হবে]: কারণ অতিরিক্ত ও মৌলিকের মধ্যে পার্থক্যের উদ্দেশ্য হলো অতিরিক্তের জন্য বিরতি এবং প্রবাহের অবস্থায় যেন কোনো এক পর্যায়ে ন্যূনতা প্রকাশ পায় এবং তা কোনো অবস্থাতেই মৌলিকের মতো স্থায়ী না থাকে। আর যে আলিফটি তানউইনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, তা প্রবাহের সময় বিলুপ্ত হয়ে যায়, ঠিক যেমন বিরতির সময় তানউইন বিলুপ্ত হয়। ফলে এটি মৌলিক বর্ণের বিধান থেকে পৃথক হয়ে গেল। আর তারা তানউইনের পরিবর্তে আলিফ স্থলাভিষিক্ত করেছেন কারণ আলিফ হলো হালকা।
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
وَأَن الْإِشَارَة إِلَى الْفَتْح متعذرة لخفائه، فَكَانَ الْبَدَل من التَّنْوِين ألفا يجْتَمع فِيهِ أَمْرَانِ:

أَحدهمَا: بَيَان الْإِعْرَاب فِيمَا قبله.

وَالْآخر: أَن تكون هَذِه الْعَلامَة لَهَا حَال تثبت فِي الْوَصْل وَالْوَقْف حَتَّى لَا يسْقط حكمهَا فِي الْوَقْف بِحَال. وَإِنَّمَا احْتِيجَ إِلَى ذَلِك لِأَن شَرط الْعَلامَة أَن تثبت فِي كل حَال.

فَلَمَّا عرض فِي ثباتها فِي جَمِيع الْأَحْوَال اللّبْس بالحرف الْأَصْلِيّ، والتسوية بَينهَا وَبَينه، أسقط التَّنْوِين فِيمَا ذَكرْنَاهُ، وَأثبت هَا هُنَا لِئَلَّا يخل بِحكمِهِ.

فَإِن قَالَ قَائِل: لم يجب الْوَقْف على السّكُون وعَلى الْإِشَارَة إِلَى الضَّم وَالْكَسْر؟

قيل لَهُ: قد بَينا أَن الأَصْل إِنَّمَا يجب أَن يكون بِالسُّكُونِ، وَالَّذِي يُشِير إِلَى الضَّم وَالْكَسْر فَإِنَّمَا غَرَضه أَن يبين أَن لهَذَا الْحَرْف حَال حَرَكَة فِي الدرج، وَبَعْضهمْ يروم الْحَرَكَة. والفصل بَين الرّوم والإشمام أَن الإشمام إِنَّمَا يفهمهُ الْبَصِير دون الضَّرِير، لِأَنَّهُ عمل بالشفة بعد الْفَرَاغ من الْحَرْف. فَأَما الرّوم فَهُوَ الاختلاس للحركة، وَهُوَ (5 / ب) مِمَّا يُدْرِكهُ الْبَصِير والضرير.

وَهَذِه الثَّلَاثَة الْوُجُوه تجوز فِي كل اسْم قبل آخِره سَاكن، فَإِن كَانَ قبل آخِره متحرك جَازَت الْوُجُوه الثَّلَاثَة فِيهِ.
আর ফাতহাহর (জবরের) দিকে ইঙ্গিত করা তার সূক্ষ্মতার কারণে অসম্ভব, তাই তানউইনের পরিবর্তে আলিফকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে যাতে তাতে দুটি বিষয় একত্রিত হয়:

প্রথমটি হলো: তার পূর্ববর্তী বর্ণের ইরাব (কারক চিহ্ন) স্পষ্ট করা।

দ্বিতীয়টি হলো: এই চিহ্নটির এমন একটি অবস্থা থাকা যা সংলগ্ন অবস্থায় (ওয়াসল) এবং বিরতিকালে (ওয়াকফ) উভয় ক্ষেত্রেই বহাল থাকে, যাতে কোনো অবস্থাতেই বিরতিকালে তার বিধান বিলুপ্ত না হয়। এর প্রয়োজনীয়তা এই জন্য যে, চিহ্নের শর্ত হলো তা সর্বাবস্থায় বিদ্যমান থাকা।

অতঃপর যখন সর্বাবস্থায় এর স্থায়িত্বের কারণে মূল বর্ণের সাথে সংশয় বা সাদৃশ্য ঘটার সম্ভাবনা দেখা দিল, তখন আমরা যা উল্লেখ করেছি সেক্ষেত্রে তানউইনকে বিলুপ্ত করা হয়েছে, কিন্তু এখানে একে বহাল রাখা হয়েছে যাতে তার বিধানে কোনো ত্রুটি না ঘটে।

যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন: কেন সুকুন এবং যম্মাহ (পেশ) ও কাসরাহ (জের)-এর দিকে ইঙ্গিত করার মাধ্যমে বিরতি দেওয়া আবশ্যক হলো?

তাকে বলা হবে: আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি যে, বিরতির মূল ভিত্তি সুকুন হওয়াই আবশ্যক। আর যে ব্যক্তি যম্মাহ ও কাসরাহর দিকে ইঙ্গিত করে, তার উদ্দেশ্য হলো কেবল এটি স্পষ্ট করা যে, পঠন প্রবাহে (দারজ) এই বর্ণের একটি স্বরচিহ্নের (হরকত) অবস্থা রয়েছে; আর তাদের কেউ কেউ হরকতের ঘ্রাণ নিতে চান (রাউম করেন)। রাউম এবং ইশমামের মধ্যে পার্থক্য হলো, ইশমাম কেবল চক্ষুষ্মান ব্যক্তিই বুঝতে পারেন, দৃষ্টিহীন ব্যক্তি নয়; কারণ এটি হলো বর্ণ উচ্চারণ শেষ হওয়ার পর ঠোঁটের একটি কার্যপ্রক্রিয়া। পক্ষান্তরে রাউম হলো স্বরচিহ্নের আংশিক উচ্চারণ (ইখতিলাস), যা (৫ / খ) চক্ষুষ্মান এবং দৃষ্টিহীন উভয় ব্যক্তিই উপলব্ধি করতে পারেন।

এই তিনটি পদ্ধতি এমন প্রত্যেক বিশেষ্যের (ইসম) ক্ষেত্রে বৈধ যেগুলোর শেষ অক্ষরের পূর্ববর্তী বর্ণটি সাকিন; আর যদি শেষ অক্ষরের পূর্ববর্তী বর্ণটি হরকতযুক্ত হয়, তবে সেক্ষেত্রেও এই তিনটি পদ্ধতি জায়েজ।
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
وَجَاز وَجه رَابِع: وَهُوَ تَشْدِيد آخِره، كَقَوْلِهِم فِي عمر عمر. وَفِي خَالِد: خَالِد. وَإِنَّمَا شَدَّدُوا لِأَن الْحَرْف المدغم لَا يكون إِلَّا سَاكِنا، وَقد علمُوا أَن الْجمع بَين ساكنين لَا يجوز فِي درج الْكَلَام، فَإِذا شَدَّدُوا علم بِالتَّشْدِيدِ أَن الْحَرْف الآخر لَا بُد أَن يَتَحَرَّك فِي الْوَصْل، لسكون مَا قبله، وَهُوَ التَّشْدِيد، وَالتَّشْدِيد أبين من روم الْحَرَكَة، فَإِذا وصلت سقط التَّشْدِيد، وَهُوَ إِنَّمَا يجوز فِي الْمَرْفُوع، وَيجوز أَيْضا فِي الْمَجْرُور، إِلَّا الإشمام فَأَنَّهُ لَا يسْتَعْمل فِي الْمَجْرُور، لِأَن ذَلِك لَا يُؤَدِّي إِلَى التَّسْوِيَة فِي الصُّورَة، فَلهَذَا رفض. وَأما الْمَنْصُوب فَإِنَّهُ لَا يسْتَعْمل فِي شَيْء من هَذَا، لِأَنَّهُ يُبدل فِيهِ من التَّنْوِين ألف، فتظهر حَرَكَة الْإِعْرَاب فِي الْوَقْف، وَيصير هَذَا المعني عوضا مِمَّا تدخله الْألف من التَّنْوِين، وَذَلِكَ إِذا كَانَ فِي الْمَنْصُوب ألف وَلَام، أَو كَانَ لَا ينْصَرف.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم وَقع الْجَزْم فِي الْأَفْعَال على ضَرْبَيْنِ: مرّة بِحَذْف حرف، وَمرَّة بِحَذْف حَرَكَة؟

قيل لَهُ: أصل الْجَزْم الْقطع، وَلَا بُد للمجزوم أَن يحذف من آخِره عَلامَة الرّفْع. وَإِذا كَانَ الْفِعْل مُعْتَلًّا سكن آخِره عَلامَة للرفع، وَلَا بُد أَن يكون للجزم عَلامَة وتأثير، فَلَمَّا لم يُصَادف فِي آخر الْفِعْل إِلَّا حرفا سَاكِنا حذفه، ليَكُون بَينه وَبَين الْمَرْفُوع فصل، وَجَاز حذف الْحَرْف لضَعْفه، إِذْ كَانَ سَاكِنا، فَجرى مجْرى الْحَرَكَة فِي جَوَاز الْحَذف عَلَيْهِ.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم وَجب حذف الْوَاو من قَوْلك: لم يقم، دون حذف الْمِيم، وَلم وَجب الْحَذف فِي الْجُمْلَة؟
চতুর্থ আরেকটি পদ্ধতিও অনুমোদিত: আর তা হলো শব্দের শেষ বর্ণে তাশদীদ প্রদান করা, যেমন তাদের উমর-কে 'উম্মার' এবং খালিদ-কে 'খালিদ্দ' বলা। তারা তাশদীদ এই জন্য দিয়েছেন যে, ইদগামকৃত বর্ণ সর্বদা সাকিন হয়, আর তারা জানতেন যে বাক্য প্রবাহের মধ্যে দুই সাকিনের একত্র হওয়া জায়েজ নেই। ফলে তারা যখন তাশদীদ দেন, তখন তাশদীদের মাধ্যমে এটি জানা যায় যে, পরবর্তী বর্ণটি মেলানোর সময় অবশ্যই হরকতবিশিষ্ট হতে হবে, কারণ তার পূর্বের বর্ণটি সাকিন—যা হলো তাশদীদ। আর তাশদীদ 'রূম' (হরকতের আংশিক উচ্চারণ) অপেক্ষা অধিক স্পষ্ট। যখন আপনি মিলিয়ে পড়বেন, তখন তাশদীদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এটি কেবল মারফু (পেশযুক্ত) শব্দের ক্ষেত্রে জায়েজ, এবং মাজরুর (জেরযুক্ত) শব্দের ক্ষেত্রেও জায়েজ। তবে 'ইশমাম' মাজরুরের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না, কারণ তা বাহ্যিক আকৃতিতে সমতা আনয়ন করে না, তাই একে বর্জন করা হয়েছে। আর মানসুব (যবরযুক্ত) শব্দের ক্ষেত্রে এর কোনোটিই ব্যবহৃত হয় না, কারণ সেখানে তানভীনের পরিবর্তে আলিফ স্থলাভিষিক্ত হয়। ফলে থামার অবস্থায় ই’রাবের হরকত প্রকাশ পায় এবং এই বিষয়টি সেই তানভীনের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয় যেখানে আলিফ যুক্ত হয়। আর এটি তখন হয় যখন মানসুব শব্দে আলিফ-লাম থাকে অথবা শব্দটি গায়রে মুনসারিফ (অপরিবর্তনশীল) হয়।

যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন: ক্রিয়াপদসমূহে 'জজম' কেন দুই প্রকারের হয়: কখনো বর্ণ বিলুপ্ত করার মাধ্যমে, আবার কখনো হরকত বিলুপ্ত করার মাধ্যমে?

তাকে বলা হবে: 'জজম'-এর মূল অর্থ হলো কর্তন করা। আর মাজজুম শব্দের শেষ থেকে রাফ-এর চিহ্ন বিলুপ্ত করা আবশ্যক। যখন ক্রিয়াটি 'মু'তাল' (দুর্বল বর্ণযুক্ত) হয়, তখন রাফ-এর চিহ্ন হিসেবে এর শেষ বর্ণটি সাকিন থাকে। আর জজমের জন্য একটি চিহ্ন ও প্রভাব থাকা জরুরি। সুতরাং যখন ক্রিয়ার শেষে কেবল একটি সাকিন বর্ণ পাওয়া গেল, তখন তা বিলুপ্ত করে দেওয়া হলো যেন মারফু ও মাজজুমের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়। আর বর্ণটি দুর্বল হওয়ার কারণে এবং সাকিন হওয়ার কারণে তা বিলুপ্ত করা বৈধ হয়েছে; ফলে বিলুপ্ত হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে তা হরকতের সমপর্যায়ভুক্ত হয়েছে।

যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন: আপনার উক্তি 'লাম ইয়াকুম'-এ কেন মীম বিলুপ্ত না করে 'ওয়াও' বিলুপ্ত করা আবশ্যক হলো, এবং কেন সামগ্রিকভাবে এই বিলুপ্তি আবশ্যক হলো?
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৫৮)
فَالْجَوَاب فِي ذَلِك: أَنه لَيْسَ من كَلَام الْعَرَب الْجمع بَين ساكنين فِي الْوَصْل، لِأَن الْجمع بَينهمَا فِي الْوَصْل محَال، وَلكنه لَيْسَ بموجود، فَلم يكن بُد من حذف أحد الساكنين، أَو تحريكه، ليخرج إِلَى كَلَامهم.

وَقد يُمكن تَعْلِيل امْتنَاع الْجمع بَين ساكنين، بِأَن يُقَال: إِن الْحَرْف السَّاكِن إِذا تكلم بِهِ، أَن الْمُتَكَلّم فِي حكم الْوَاقِف عَلَيْهِ والمبتدئ بِمَا بعده، وَقد بَينا أَن الِابْتِدَاء بالساكن محَال، فَكَانَ الْجمع بَينهمَا يشبه الِابْتِدَاء بالساكن، فَلهَذَا امْتَنعُوا، وَإِنَّمَا وَجب الْحَذف فِي الْوَاو دون الْمِيم لوَجْهَيْنِ:

أَحدهمَا: أَن الْمِيم لَو حذفت وَبقيت الْوَاو لجَاز أَن يلقاها سَاكن، وَلَا بُد من حذف الْوَاو أَو تحريكها، فَلَو حذفت أدّى ذَلِك إِلَى الإجحاف بِالْفِعْلِ، وَلَو حركتها لَأَدَّى إِلَى الاستثقال، إِذْ كَانَت الحركات على حُرُوف مستثقلة، فَوَجَبَ أَن تحذف الْوَاو، وَتبقى الْمِيم الَّتِي لَا يستثقل عَلَيْهَا الْحَرَكَة، وَلَا يجب حذفهَا.

وَالْوَجْه الثَّانِي: أَن حُرُوف الْمَدّ أَضْعَف من غَيرهَا، فَلَمَّا وَجب حذف أحد الحرفين، وَجب حذف الأضعف، وَهُوَ الْوَاو.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم لم يحركوا أَحدهمَا؟

قيل: لَو حركنا الآخر، وَجب تحريكه بِالْفَتْح أَو الضَّم، إِذْ الْكسر مَمْنُوع من الْفِعْل، وَأَن الأَصْل فِي التحريك لالتقاء الساكنين الْكسر، وَلَو حركنا الآخر بِالضَّمِّ أَو بِالْفَتْح لم تعلم عَلامَة الْجَزْم، لِأَنَّهُ أدّى اللَّفْظ إِلَى لفظ النصب وَالرَّفْع. وَلَو حركنا الأول لَأَدَّى (6 / أ) إِلَى الاستثقال، إِذْ الحركات فِي هَذِه الْحُرُوف مستثقلة.

فَإِن قَالَ: أَلَيْسَ قد حركتم إِذا لقيها سَاكن من كلمة أُخْرَى بِالْكَسْرِ، لسكونها وَسُكُون الْوَاو؟
এর উত্তর হলো: সংযুক্ত অবস্থায় (ওয়াসল) দুটি সাকিনকে একত্রিত করা আরবদের বাকরীতি নয়। কারণ সংযুক্ত অবস্থায় তাদের একত্র করা অসম্ভব, বরং এটি বাস্তবসম্মত নয়। তাই তাদের ভাষার রীতি অনুযায়ী করার জন্য দুটি সাকিনের একটিকে বিলুপ্ত করা অথবা তাকে হরকত প্রদান করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

দুটি সাকিন একত্রিত হওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ এভাবেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে যে: যখন একটি সাকিন বর্ণের উচ্চারণ করা হয়, তখন বক্তা ওই বর্ণের ওপর থামা (ওয়াকফ) এবং পরবর্তী অংশ থেকে শুরু করার পর্যায়ে থাকেন। আমরা ইতিপূর্বেই বর্ণনা করেছি যে, সাকিন দিয়ে শুরু করা অসম্ভব। তাই দুটি সাকিনকে একত্রিত করা সাকিন দিয়ে শুরু করার সদৃশ হয়ে যায়, একারণেই তারা এটি বর্জন করেছেন। আর মীমের পরিবর্তে ওয়াও-কে বিলুপ্ত করা কেন আবশ্যক হয়েছে, তার দুটি কারণ রয়েছে:

প্রথমত: যদি মীম বিলুপ্ত করা হতো এবং ওয়াও অবশিষ্ট থাকত, তবে তার সাথে অন্য কোনো সাকিন মিলিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। তখন ওয়াও-কেও বিলুপ্ত করা অথবা হরকত প্রদান করা অনিবার্য হয়ে পড়ত। যদি ওয়াও বিলুপ্ত করা হতো তবে তা ক্রিয়াটির অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করত, আর যদি একে হরকত প্রদান করা হতো তবে তা উচ্চারণে কষ্টসাধ্য হতো; যেহেতু এই বর্ণগুলোর ওপর হরকত প্রদান ভারী বা কষ্টসাধ্য মনে করা হয়। ফলে ওয়াও-কে বিলুপ্ত করা এবং মীম-কে অবশিষ্ট রাখা আবশ্যক হয়েছে, কারণ মীমের ওপর হরকত প্রদান কষ্টসাধ্য নয় এবং একে বিলুপ্ত করাও আবশ্যক নয়।

দ্বিতীয় কারণ: মদ্দ বা দীর্ঘস্বর বর্ণসমূহ অন্যান্য বর্ণের তুলনায় দুর্বল। ফলে যখন দুটি বর্ণের একটিকে বিলুপ্ত করা আবশ্যক হয়, তখন অপেক্ষাকৃত দুর্বলটিকেই বিলুপ্ত করা বিধেয়, আর সেটি হলো ওয়াও।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: কেন তারা তাদের কোনো একটিকে হরকত প্রদান করলেন না?

উত্তরে বলা হবে: যদি আমরা পরবর্তী বর্ণটিকে হরকত দিতাম, তবে তাকে ফাতহ বা যবর অথবা যম্ম বা পেশ দিয়ে হরকত দিতে হতো; যেহেতু ক্রিয়ার ক্ষেত্রে কাসরা বা যের বর্জনীয় এবং দুটি সাকিন একত্রিত হওয়ার ক্ষেত্রে হরকত প্রদানের মূল নিয়ম হলো কাসরা। আর যদি আমরা পরবর্তী বর্ণটিকে যম্ম বা ফাতহ দিয়ে হরকত দিতাম, তবে জযমের চিহ্ন জানা যেত না, কারণ এর উচ্চারণ নসব বা রফ্ অবস্থার উচ্চারণের মতো হয়ে যেত। আর যদি আমরা প্রথম বর্ণটিকে হরকত দিতাম, তবে তা উচ্চারণে ভারী বা কষ্টসাধ্য হতো, কারণ এই বর্ণগুলোতে হরকত প্রদান কষ্টসাধ্য মনে করা হয়।

যদি সে বলে: অন্য কোনো শব্দের সাকিনের সাথে মিলিত হওয়ার সময় কি আপনারা কাসরা দিয়ে হরকত প্রদান করেননি? তার সাকিন হওয়ার কারণে এবং ওয়াও-এর সাকিন হওয়ার কারণে?
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
فَالْجَوَاب فِي ذَلِك: أَنَّهَا لَو حركت بِالْكَسْرِ من أجل الْوَاو الَّتِي قبلهَا، لصار الْكسر لَازِما لَهَا، إِذْ كَانَت الْوَاو لَازِمَة، فَلَمَّا صَار الْكسر لَازِما، والجر عَارض لَا يدْخل الْفِعْل، كَانَ الْكسر اللَّازِم أولى بِالْمَنْعِ.

وَأما الْكسر لأجل السَّاكِن من كلمة أُخْرَى، فَجَاز لأجل أَن الْكسر لَا يلْزم الْحَرْف، لِأَن الْكَلِمَة الثَّانِيَة لَا تلْزم الْفِعْل، فَلَمَّا كَانَ الْكسر عارضا استعملوه، لِأَنَّهُ الأَصْل، وَلَيْسَ مِمَّا يلْزم وَأما اللَّازِم فتجنبوه، فَهَذَا الْفَصْل بَينهمَا.

وَوجه آخر فِي أصل الْمَسْأَلَة: وَهُوَ أَن تَقول: إِن أصل الساكنين إِذا التقيا أَن يحذف أَحدهمَا، إِلَّا أَن يكون الْحَذف يُوجب لبسا أَو إجحافا بِالْكَلِمَةِ، فَحِينَئِذٍ تحركه.

فَأَما إِذا خلا من هذَيْن الْوَجْهَيْنِ، فالحذف أولى بِهِ، لِأَنَّهُ إِذا كَانَ الْجمع بَينهمَا مُمْتَنعا، وَلَيْسَ فِي حذف أَحدهمَا ضَرَر، كَانَ الْحَذف أولى من زِيَادَة حَرَكَة مُسْتَغْنى عَنْهَا.

فَإِن قَالَ قَائِل: قد قلت: إِن الْوَاو لَا ترجع عِنْد تحرّك الْمِيم، إِذا قلت: لم يقم الْقَاسِم. لِأَن حَرَكَة الْمِيم عارضة. فَلم رجعت فِي قَوْلك: لم يقوما. والتثنية عارضة؟

فَالْجَوَاب فِي ذَلِك: أَن الْجَزْم إِنَّمَا هُوَ دَاخل على الرّفْع، وَإِذا كَانَ كَذَلِك فالتثنية إِنَّمَا يجب أَن تعْتَبر حَالهَا فِي الرّفْع قبل الْجَزْم، فَلَمَّا وَجب أَن تَقول: فَلَمَّا يقومان، فتظهر الْوَاو، لِأَنَّهُ لَا شَيْء يُوجب إِسْقَاطهَا، وَدخل الْجَزْم، حذفت النُّون، وَبَقِي الْفِعْل على صورته فِي حَال الرّفْع.

وَأما قَوْلهم: لم يقم الْقَاسِم، فالواو قد وَجب إِسْقَاطهَا قبل مَجِيء مَا يُوجب
এর উত্তর হলো: যদি একে তার পূর্ববর্তী ‘ওয়াও’-এর কারণে কাসরা (জের) দ্বারা হরকতযুক্ত করা হতো, তবে এই কাসরা তার জন্য অবিচ্ছেদ্য হয়ে যেত, যেহেতু ‘ওয়াও’ সেখানে অবিচ্ছেদ্য ছিল। সুতরাং যখন কাসরা অবিচ্ছেদ্য হয়ে গেল, অথচ ‘জার’ (জের হওয়া) একটি আগন্তুক বিষয় যা ক্রিয়ার (ফেল) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, তখন এই অবিচ্ছেদ্য কাসরা পরিহার করাই ছিল অধিকতর যুক্তিযুক্ত।

আর অন্য শব্দের সাকিনের কারণে যে কাসরা হয়, তা জায়েয; কারণ এক্ষেত্রে কাসরা বর্ণটির জন্য অপরিহার্য নয়, যেহেতু দ্বিতীয় শব্দটি ক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য নয়। সুতরাং কাসরা যখন আগন্তুক হলো তখন তারা তা ব্যবহার করেছেন, কারণ এটিই মূল, এবং এটি অপরিহার্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে যা অপরিহার্য তা তারা পরিহার করেছেন; এটিই হলো উভয়ের মধ্যকার পার্থক্য।

এই মাসআলার মূল প্রসঙ্গে অন্য একটি দিক হলো: আপনি বলবেন, দুটি সাকিন যখন একত্রিত হয় তখন তাদের একটিকে বিলুপ্ত করে দেওয়াই হলো মূল নিয়ম, যদি না সেই বিলুপ্তি শব্দের মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা বা সংকীর্ণতা সৃষ্টি করে; এমতাবস্থায় আপনি তাকে হরকত প্রদান করবেন।

আর যদি এই দুটি দিক থেকে মুক্ত হয়, তবে বিলুপ্তিই তার জন্য অধিকতর শ্রেয়। কারণ যখন উভয়ের একত্র হওয়া অসম্ভব হয় এবং একটির বিলুপ্তিতে কোনো ক্ষতি না থাকে, তখন অপ্রয়োজনীয় হরকত বৃদ্ধি করার চেয়ে বিলুপ্ত করাই উত্তম।

যদি কোনো প্রশ্নকারী বলেন: আপনি বলেছেন যে, ‘মীম’ হরকতযুক্ত হওয়ার সময় ‘ওয়াও’ ফিরে আসে না—যেমন যখন আপনি বলেন: ‘লাম ইয়াকুমিল কাসিম’—কেননা ‘মীম’-এর হরকতটি আগন্তুক। তাহলে আপনার উক্তি ‘লাম ইয়াকুমা’-তে কেন তা ফিরে এলো, অথচ দ্বিবচনও তো আগন্তুক?

এর উত্তর হলো: জজম মূলত রফ-এর অবস্থার ওপর আপতিত হয়। আর যখন বিষয়টি এমন হয়, তখন দ্বিবচনের ক্ষেত্রে জজম আসার পূর্বের রফ-এর অবস্থাকেই বিবেচনায় নিতে হবে। যখন আপনাকে বলতে হয়েছে ‘ইয়াকুমানি’, তখন সেখানে ‘ওয়াও’ প্রকাশ পেয়েছে, কারণ তখন তাকে বিলুপ্ত করার মতো কোনো কারণ ছিল না। এরপর যখন জজম প্রবেশ করল, তখন ‘নূন’ বিলুপ্ত হলো এবং ক্রিয়াটি রফ-এর অবস্থার আকৃতিতেই বহাল থাকল।

আর তাদের উক্তি: ‘লাম ইয়াকুমিল কাসিম’, এক্ষেত্রে যা আবশ্যক করে তা আসার পূর্বেই ‘ওয়াও’ বিলুপ্ত করা আবশ্যক হয়ে গিয়েছিল...
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৬০)
تحرّك الْمِيم، لِأَن مَا يدْخل على أول الْكَلِمَة أسبق مِمَّا يَجِيء بعد الْفَرَاغ مِنْهَا، وَإِذا كَانَ كَذَلِك صَارَت حَرَكَة الْمِيم عارضة، إِذْ دخلت على مَا اسْتَقر لَهُ السّكُون والحذف، وَلَيْسَ حكم التَّثْنِيَة كَذَلِك لما ذَكرْنَاهُ.

فَإِن قَالَ قَائِل: لم اخْتلفت التَّثْنِيَة وَالْجمع هَذَا الِاخْتِلَاف؟

فَالْجَوَاب فِي ذَلِك: أَنه لضَرُورَة أدَّت إِلَيْهِ، وَذَلِكَ أَن الِاسْم الْمَرْفُوع كَانَ حَقه أَن يثنى بِالْوَاو، لِأَن الضَّمِير بِالْوَاو، فَيُقَال: جَاءَنِي الزيدون، بِفَتْح مَا قبل الْوَاو، وَفِي الْجمع: الزيدون، بِضَم مَا قبل الْوَاو، وَكَانَ يجب فِي الْجَرّ أَن يُقَال مَرَرْت بالزيدين، بِفَتْح مَا قبل الْيَاء فِي التَّثْنِيَة، وبكسره فِي الْجمع، فَيَقَع الْفَصْل بَين تَثْنِيَة الْمَرْفُوع وَجمعه، وَبَين تَثْنِيَة الْمَجْرُور وَجمعه، باخْتلَاف الحركات. فَإِذا بنينَا الْمَنْصُوب على هَذَا الْقيَاس لزم أَن نقُول: رَأَيْت الزيدان، لِأَن الفتحة من الْألف، وَلَو فعلنَا هَذَا وأردنا الْجمع، لزم أَن ترجع الْألف فِي الْجمع، كَمَا رجعت الْوَاو وَالْيَاء فِي جمع الْمَرْفُوع وَالْمَجْرُور، وَلَو فعلنَا هَذَا لم يَقع فصل بَين تَثْنِيَة الْمَنْصُوب وَجمعه، لِأَن الْألف لَا يكون مَا قبلهَا إِلَّا مَفْتُوحًا، فَلَمَّا كَانَ هَذَا يُؤَدِّي إِلَى اللّبْس بَين التَّثْنِيَة وَالْجمع أسقطت عَلامَة الْمَنْصُوب، وَلم يكن بُد من حمله - إِذا ثني أَو جمع - على الْمَرْفُوع أَو الْمَجْرُور، فَكَانَ حمله على الْمَجْرُور أولى من أَربع جِهَات: أَحدهَا: أَن (6 / ب) الْمَنْصُوب وَالْمَجْرُور قد يَشْتَرِكَانِ فِي الْمَعْنى، كَقَوْلِك: مَرَرْت بزيد، مَعْنَاهُ: جزت زيدا، فلاشتراكهما فِي الْمَعْنى حمل النصب على الْجَرّ.

والجهة الثَّانِيَة: أَنَّهُمَا يَشْتَرِكَانِ فِي الْكِنَايَة، نَحْو قَوْلك: مَرَرْت بك، ورأيتك.

والجهة الثَّالِثَة: أَن الْجَرّ ألزم للأسماء من الرّفْع، لِأَن الرّفْع ينْتَقل إِلَى الْفِعْل،
মীম হরফটি হরকতযুক্ত হয়েছে, কারণ শব্দের শুরুতে যা প্রবেশ করে তা শব্দের শেষে যা আসে তার চেয়ে অগ্রগণ্য। এমতাবস্থায় মীমের হরকতটি আগন্তুক হিসেবে গণ্য হয়, যেহেতু এটি এমন বিষয়ের ওপর প্রবেশ করেছে যার জন্য সুকুন (স্থিরতা) এবং বিলোপ নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। আমাদের ইতিপূর্বে বর্ণিত কারণে দ্বিবচনের বিধানটি এর অনুরূপ নয়।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: দ্বিবচন ও বহুবচনের মধ্যে এই পার্থক্য কেন হলো?

এর উত্তর হলো: এটি একটি প্রয়োজনের খাতিরে করা হয়েছে। কারণ হলো, মারফু (পেশযুক্ত) বিশেষ্যের ক্ষেত্রে নিয়ম ছিল যে এর দ্বিবচন ‘ওয়াও’ দ্বারা হবে, যেহেতু সর্বনাম ‘ওয়াও’ দ্বারা গঠিত হয়। সেক্ষেত্রে বলা হতো: ‘জায়ানি আল-যাইদওনা’ (যাইদদ্বয় আমার কাছে এসেছে), যেখানে ‘ওয়াও’-এর পূর্বের হরফে ফাতহা (যবর) হতো। আর বহুবচনের ক্ষেত্রে: ‘যাইদওনা’, যেখানে ‘ওয়াও’-এর পূর্বে যম্মাহ (পেশ) হতো। আবার মাজরুর (জেরযুক্ত) অবস্থায় বলা আবশ্যক ছিল: ‘মারারতু বিয-যাইদাইনা’, যেখানে দ্বিবচনের ক্ষেত্রে ‘ইয়া’-এর পূর্বে ফাতহা এবং বহুবচনের ক্ষেত্রে কাসরা (জের) হতো। এর ফলে হরকতের পার্থক্যের মাধ্যমে মারফু অবস্থার দ্বিবচন ও বহুবচন এবং মাজরুর অবস্থার দ্বিবচন ও বহুবচনের মধ্যে পার্থক্য নিরূপিত হতো। এখন আমরা যদি মানসুব (যবরযুক্ত) অবস্থাকে এই নিয়ম অনুযায়ী গঠন করতাম, তবে আমাদের বলতে হতো: ‘রায়াইতু আল-যাইদানি’, কারণ ফাতহা আলিফেরই অংশ। যদি আমরা এরূপ করতাম এবং বহুবচন গঠন করতে চাইতাম, তবে বহুবচনে আলিফ ফিরে আসা আবশ্যক হতো, যেমনটি মারফু ও মাজরুর অবস্থার বহুবচনে ‘ওয়াও’ এবং ‘ইয়া’ ফিরে এসেছিল। কিন্তু এরূপ করলে মানসুব অবস্থার দ্বিবচন ও বহুবচনের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকত না, কারণ আলিফের পূর্ববর্তী হরফ সর্বদা ফাতহা বিশিষ্টই হয়ে থাকে। যখন এটি দ্বিবচন ও বহুবচনের মধ্যে অস্পষ্টতার সৃষ্টি করছিল, তখন মানসুবের আলামতটি বাদ দেওয়া হলো। এমতাবস্থায় দ্বিবচন বা বহুবচন গঠনের সময় এটিকে মারফু অথবা মাজরুর অবস্থার অনুরূপ করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। চারটি কারণে একে মাজরুর অবস্থার অনুরূপ করা অধিকতর যুক্তিসঙ্গত ছিল: প্রথমত: (৬/খ) মানসুব ও মাজরুর অনেক সময় অর্থের দিক থেকে অংশীদার হয়; যেমন আপনার উক্তি: ‘মারারতু বি-যাইদিন’ (আমি যাইদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম), যার অর্থ হলো: ‘জুযতু যাইদান’। এই অর্থগত সাদৃশ্যের কারণে নসবকে জর-এর অনুগামী করা হয়েছে।

দ্বিতীয় কারণ: তারা উভয়ে সর্বনামের (কিনায়াহ) ক্ষেত্রে অংশীদার, যেমন আপনার উক্তি: ‘মারারতু বিকা’ এবং ‘রায়াইতুকা’।

তৃতীয় কারণ: ‘জর’ বা মাজরুর অবস্থাটি বিশেষ্যের জন্য ‘রফ’ বা পেশ অবস্থার তুলনায় অধিক ঘনিষ্ঠ, কারণ ‘রফ’ ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও স্থানান্তরিত হয়।
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৬১)
فَكَانَ حمل النصب على الألزم أولى من حمله على الْمُنْتَقل.

والجهة الرَّابِعَة: أَن الْجَرّ أخف من الرّفْع، فَلَمَّا أردنَا حمل الْمَنْصُوب، وَهُوَ خَفِيف، كَانَ حمله على المخفوض أولى.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم أدخلتم فِي تَثْنِيَة الْمَرْفُوع الْألف، وَلم تبقوه على أَصله؟ قيل لَهُ: لأَنهم أَرَادوا أَن يستعملوا الْحُرُوف الثَّلَاثَة فِي التَّثْنِيَة وَالْجمع، كَمَا استعملوا حركاتها فِي الْوَاحِد، فَلَمَّا وَجب إِسْقَاط الْألف من الْمَنْصُوب، لما ذَكرْنَاهُ، لم يبْق مَوضِع يدْخل عَلَيْهِ سوى الْمَرْفُوع وَالْمَجْرُور، فأدخلوها فِي تَثْنِيَة الْمَرْفُوع، لما ذَكرْنَاهُ.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَهَلا أدخلوها فِي تَثْنِيَة الْمَجْرُور؟

قيل لَهُ: إدخالها فِي تَثْنِيَة الْمَرْفُوع أولى، لِأَن الْوَاو أثقل من الْيَاء، فَلَمَّا كَانَ لَا بُد من إِسْقَاط الْوَاو وَالْيَاء، وَجب إِسْقَاط الأثقل.

فَإِن قَالَ قَائِل: لم وَجب فتح وَاو التَّثْنِيَة، وياء التَّثْنِيَة فِي الأَصْل؟

قيل لَهُ: لِأَن الْألف لَا يكون مَا قبلهَا إِلَّا مَفْتُوحًا، والتثنية قبل الْجمع، فقد اسْتحقَّت التَّثْنِيَة الْفَتْح فِي النصب لأصل الْألف، وحملت الْيَاء وَالْوَاو على الْألف وَضم مَا قبل الْوَاو فِي الْجمع وَكسر مَا قبل الْيَاء لوَجْهَيْنِ:

أَحدهمَا: أَن الْكسر من الْيَاء، وَالضَّم من الْوَاو، فَكَانَ أولى مَا يجر بِهِ مَا هُوَ من جِنْسهَا.

وَالْوَجْه الثَّانِي: أَن الْفَتْح قد فَاتَ بِاسْتِحْقَاق التَّثْنِيَة لَهُ، فَلم يبْق إِلَّا الضَّم، وَكَذَلِكَ لَو ضم مَا قبل يَاء الْجمع انقلبت واوا، فَكَانَ يخْتَلط الْجَرّ بِالرَّفْع، وَالرَّفْع بِالْجَرِّ وَلم يبْق إِلَّا الْكسر.
সুতরাং নাসবকে অপরিবর্তনীয় অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা, পরিবর্তনশীল অবস্থার ওপর প্রয়োগ করার চেয়ে অধিক উত্তম ছিল।

চতুর্থ দিকটি হলো: জার হচ্ছে রাফ এর চেয়ে হালকা। ফলে যখন আমরা মানসুবকে (যা হালকা) কোনো কিছুর ওপর প্রয়োগ করার সংকল্প করলাম, তখন তাকে মাখফুজ বা মাজরুর এর ওপর প্রয়োগ করাই অধিক সমীচীন ছিল।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: তবে কেন আপনারা মারফু দ্বিবচনের মধ্যে আলিফ যুক্ত করলেন এবং তাকে তার মূল অবস্থার ওপর বহাল রাখলেন না? তাকে উত্তরে বলা হবে: কারণ তারা দ্বিবচন ও বহুবচনে তিনটি বর্ণ (আলিফ, ওয়াও, ইয়া) ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, যেভাবে তারা একবচনে সেগুলোর হরকতসমূহ ব্যবহার করেছেন। অতঃপর যখন আমাদের উল্লিখিত কারণে মানসুব থেকে আলিফ বিলুপ্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ল, তখন মারফু এবং মাজরুর ব্যতীত অন্য কোনো স্থান বাকি থাকল না যেখানে তা প্রয়োগ করা যায়। ফলে আমাদের উল্লিখিত কারণে তারা সেটিকে মারফু দ্বিবচনের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: তবে কেন তারা এটিকে মাজরুর দ্বিবচনের অন্তর্ভুক্ত করলেন না?

তাকে উত্তরে বলা হবে: এটিকে মারফু দ্বিবচনের অন্তর্ভুক্ত করাই অধিক উত্তম ছিল, কারণ ওয়াও হচ্ছে ইয়া এর চেয়ে অধিক ভারী। ফলে যখন ওয়াও এবং ইয়া উভয়কে বিলুপ্ত করা আবশ্যক হলো, তখন অধিক ভারীটিকেই বিলুপ্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ল।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: কেন মূলত দ্বিবচনের ওয়াও এবং দ্বিবচনের ইয়া এর পূর্ববর্ণে ফাতহা হওয়া আবশ্যক হলো?

তাকে উত্তরে বলা হবে: কারণ আলিফ এর পূর্বের বর্ণ সর্বদা ফাতহা-বিশিষ্ট হয়ে থাকে। আর দ্বিবচন বহুবচনের পূর্ববর্তী বিষয়। সুতরাং আলিফ এর মূল বৈশিষ্ট্যের কারণে দ্বিবচন নাসব অবস্থায় ফাতহা পাওয়ার অধিকারী ছিল। আর ইয়া এবং ওয়াও-কে আলিফ এর অনুগামী করা হয়েছে। আর বহুবচনে ওয়াও এর পূর্ববর্তী বর্ণে পেশ এবং ইয়া এর পূর্ববর্তী বর্ণে জের দেওয়া হয়েছে দুটি কারণে:

প্রথমটি হলো: জের হচ্ছে ইয়া এর সাথে সংশ্লিষ্ট এবং পেশ হচ্ছে ওয়াও এর সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং যে বর্ণটি যার সগোত্রীয়, তাকে সেটি দ্বারাই পরিচালনা করা অধিক সঙ্গত।

দ্বিতীয় দিকটি হলো: ফাতহা ব্যবহারের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে যেহেতু দ্বিবচন সেটির হকদার হয়ে গিয়েছিল। ফলে পেশ ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট ছিল না। অনুরূপভাবে যদি বহুবচনের ইয়া এর পূর্বে পেশ দেওয়া হতো, তবে তা ওয়াও-এ রূপান্তরিত হয়ে যেত। ফলে জার অবস্থা রাফ অবস্থার সাথে এবং রাফ অবস্থা জার অবস্থার সাথে সংমিশ্রিত হয়ে যেত। তাই জের ছাড়া আর কোনো বিকল্প বাকি ছিল না।
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৬২)
‌‌(بَاب)

 

وَاعْلَم أَن الْألف فِي التَّثْنِيَة، وَالْوَاو فِي الْجمع، وَالْيَاء فِي [التَّثْنِيَة] وَالْجمع من حُرُوف الْإِعْرَاب عِنْد سِيبَوَيْهٍ بِمَنْزِلَة الدَّال فِي زيد، وَالْإِعْرَاب فِيهَا مُقَدّر، كَمَا يقدر فِي أَوَاخِر الْمَقْصُور، نَحْو: عَصا ورحى.

وَإِنَّمَا وَجب أَن تكون هَذِه الْحُرُوف حُرُوف إِعْرَاب، لِأَن معنى الْكَلِمَة إِنَّمَا يكمل بهَا، وَصَارَت آخر حرف فِي الِاسْم، وَقد بَينا أَن حكم الْإِعْرَاب، إِنَّمَا يكون زِيَادَة على بِنَاء الِاسْم، فَلهَذَا وَجب أَن تكون حُرُوف الْإِعْرَاب، وَإِنَّمَا امْتنع من الْإِعْرَاب استثقالا للحركات، فَحذف اسْتِخْفَافًا، وَقدر فِي النِّيَّة.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَهَلا لَزِمت التَّثْنِيَة وَالْجمع لقبا وَاحِدًا وَلم تَتَغَيَّر هَذَا التَّغْيِير، كَمَا أَن الْمَقْصُور لما قدر فِي آخِره لزم وَجها وَاحِدًا فَلم يتَغَيَّر؟

فَالْجَوَاب فِي ذَلِك: أَن التَّغْيِير إِنَّمَا لزم فِي التَّثْنِيَة وَالْجمع، وَلم يلْزم فِي الْمَقْصُور، وَإِن اسْتَويَا فِيمَا ذكره السَّائِل، لِأَن الْمَقْصُور يسْتَدلّ على إعرابه بنظيره من الصَّحِيح وبنعته، فَصَارَ مَا فِي النَّعْت والنظير من عَلامَة الْإِعْرَاب يُغني عَن تغير آخر الْمَقْصُور، أَلا ترى أَنَّك إِذا قلت: هَذِه عَصا معوجة، بَان الرّفْع فِي (معوجة) وَكَذَلِكَ لَو وضعت فِي مَكَانهَا اسْما غير معتل، لبان الْإِعْرَاب فِيهِ،
(অধ্যায়)

 

জেনে রাখুন যে, সিবওয়াইহ-এর মতে দ্বিবচনে আলিফ, বহুবচনে ওয়াও এবং [দ্বিবচন] ও বহুবচনে ইয়া হলো ই’রাবের বর্ণ, যা 'যাইদ' শব্দের 'দাল' বর্ণের সমতুল্য। আর এগুলোতে ই’রাব প্রচ্ছন্ন বা উহ্য থাকে, যেমনটি মাকসুর শব্দের শেষে উহ্য থাকে, যেমন: ‘আসা’ (লাঠি) এবং ‘রাহা’ (যাঁতা)।

এই বর্ণগুলোকে ই’রাবের বর্ণ হওয়া এ কারণেই আবশ্যক হয়েছে যে, শব্দের অর্থ কেবল এগুলোর মাধ্যমেই পূর্ণতা পায় এবং এগুলো ইসিমের শেষ বর্ণে পরিণত হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই বর্ণনা করেছি যে, ই’রাবের বিধান হলো তা ইসিমের মূল কাঠামোর অতিরিক্ত হিসেবে আসে। এজন্যই এগুলো ই’রাবের বর্ণ হওয়া আবশ্যক হয়েছে। তবে স্বরচিহ্ন উচ্চারণে গুরুভার অনুভূত হওয়ার কারণে এতে ই’রাব প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ফলে উচ্চারণের লঘুতার উদ্দেশ্যে তা বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং মনে মনে তা উহ্য রাখা হয়েছে।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: তবে কেন দ্বিবচন ও বহুবচন একটি নির্দিষ্ট রূপেই স্থির থাকল না এবং এই পরিবর্তনগুলো ঘটল না? যেমনটি মাকসুর শব্দের শেষে ই’রাব উহ্য থাকার কারণে তা একটি রূপেই স্থির থাকে এবং পরিবর্তিত হয় না।

এর উত্তর হলো: দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে পরিবর্তন হওয়া আবশ্যক হয়েছে, কিন্তু মাকসুরের ক্ষেত্রে তা আবশ্যক হয়নি—যদিও প্রশ্নকারীর উল্লেখ করা বিষয়ে উভয়ই সমান। কারণ, মাকসুর শব্দের ই’রাব তার সমজাতীয় সুস্থ (সহীহ) শব্দ এবং তার গুণবাচক শব্দ (সিফাত) দ্বারা নির্দেশিত হয়। ফলে সিফাত এবং সমজাতীয় শব্দের মাঝে বিদ্যমান ই’রাবের চিহ্নটি মাকসুর শব্দের শেষাক্ষর পরিবর্তন করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে দেয়। আপনি কি দেখছেন না যে, যখন আপনি বলেন: "এটি একটি বাঁকা লাঠি", তখন ‘বাঁকা’ শব্দটিতে রাফ (পেশ) স্পষ্ট হয়ে যায়। একইভাবে যদি আপনি সেই স্থানে কোন ত্রুটিমুক্ত বিশেষ্য স্থাপন করতেন, তবে তাতেও ই’রাব স্পষ্ট হয়ে যেত।
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
نَحْو: هَذَا جمل (7 / أ) وَأما التَّثْنِيَة وَالْجمع فَلَا نعت لَهما إِلَّا بتثنية أَو جمع، وَلَا نَظِير لَهما إِلَّا كَذَلِك، فَلَو لَزِمت وَجها وَاحِدًا، لم يكن على إعرابها دَلِيل، فَجعل بغَيْرهَا عوضا من عدم النظير.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم دخلت النُّون فِي التَّثْنِيَة وَالْجمع؟ قيل لَهُ: عوضا من الْحَرَكَة والتنوين.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم وَجب أَن يعوض من الْحَرَكَة والتنوين؟ قيل لَهُ: لِأَن من شَرط التَّثْنِيَة وَهَذَا الْجمع أَن يكون لَهُ عَلامَة مزيدة على لفظ الْوَاحِد، فَكَانَ يجب أَن تلْحقهُ الْحَرَكَة والتنوين، فَلَمَّا وَجب أَن يدْخل التَّنْوِين وَالْحَرَكَة التَّثْنِيَة وَالْجمع، وَعوض مَا يمْتَنع من دخولهما، وَجب أَن يعوض مِنْهُمَا، لِئَلَّا يخل بِمَا يُوجِبهُ تَرْتِيب اللَّفْظ، وَقد بَينا أَن الْحَرَكَة إِنَّمَا سَقَطت استثقالا.

وَأما التَّنْوِين فَوَجَبَ إِسْقَاطه لِأَنَّهُ سَاكن، وَهَذِه الْحُرُوف سواكن، فَلم يكن يَخْلُو من أحد أَمريْن: أما إِسْقَاط هَذِه الْحُرُوف لسكونها وَسُكُون التَّنْوِين، فتزول عَلامَة التَّثْنِيَة وَالْجمع، فيؤول إِلَى الاستثقال، أَو تحرّك التَّنْوِين، فَيصير نونا لَازِمَة، وَتخرج عَن حكم الْعَلامَة الَّتِي وضع لَهَا، فَلم يبْق غير حذفهَا، فَلهَذَا وَجب إِسْقَاط التَّنْوِين، فَلَمَّا دخلت النُّون - عوضا لما ذَكرْنَاهُ - دخلت سَاكِنة لِأَن الْحَرْف إِنَّمَا تحرّك لزِيَادَة الْحَرَكَة عَلَيْهِ، وَهِي غَيره، فَإِذا زدناه مُجَردا من الْحَرَكَة بَقِي سَاكِنا، وَقَبله عَلامَة التَّثْنِيَة وَالْجمع، وَهِي سَاكِنة، فَالتقى ساكنان، فحركت النُّون لالتقاء الساكنين.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم كسرت فِي التَّثْنِيَة، وَفتحت فِي الْجمع؟
উদাহরণস্বরূপ: এটি একটি উট (৭ / ক)। পক্ষান্তরে দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে দ্বিবচন বা বহুবচন ব্যতীত কোনো বিশেষণ (না’ত) হয় না, এবং সেগুলোর অনুরূপ নজিরও কেবল অনুরূপভাবেই হয়। সুতরাং যদি সেগুলো কেবল এক রূপেই অপরিবর্তিত থাকত, তবে তাদের ইরাবের (বিভক্তি) কোনো প্রমাণ থাকত না। তাই সমজাতীয় নজিরের অভাবের পরিবর্তে অন্য কিছুকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: কেন দ্বিবচন ও বহুবচনে নূন যুক্ত হয়েছে? তাকে বলা হবে: হারাকাত (স্বরচিহ্ন) এবং তানভীনের পরিবর্তে।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: হারাকাত এবং তানভীনের পরিবর্তে কেন বিনিময় দেওয়া আবশ্যক হলো? তাকে বলা হবে: কারণ দ্বিবচন এবং এই বহুবচনের শর্ত হলো একবচন শব্দের ওপর একটি অতিরিক্ত চিহ্ন থাকা। ফলে এতে হারাকাত এবং তানভীন যুক্ত হওয়া আবশ্যক ছিল। কিন্তু যখন দ্বিবচন ও বহুবচনে তানভীন ও হারাকাত যুক্ত হওয়া আবশ্যক হলো, আর যা তাদের প্রবেশে বাধা দেয় তার পরিবর্তে কিছু যুক্ত করা জরুরি হলো, যেন শব্দের বিন্যাসগত শৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়। আর আমরা ইতিপূর্বেই স্পষ্ট করেছি যে, মূলত উচ্চারণের ভারাক্রান্ততা পরিহারের জন্যই হারাকাত বিলুপ্ত করা হয়েছে।

আর তানভীনের ক্ষেত্রে তা বিলুপ্ত করা আবশ্যক হয়েছে কারণ তা সাকিন (স্বরহীন), আর এই বর্ণগুলোও সাকিন। ফলে বিষয়টি দুটি অবস্থার বাইরে হতে পারে না: হয় এই বর্ণগুলোকে তাদের সাকিন হওয়ার কারণে এবং তানভীনের সাকিন হওয়ার কারণে বিলুপ্ত করে দেওয়া, যার ফলে দ্বিবচন ও বহুবচনের চিহ্ন বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং বিষয়টি পুনরায় উচ্চারণের ভারাক্রান্ততার দিকেই ফিরে যাবে; অথবা তানভীনকে হারাকাত প্রদান করা, যার ফলে এটি একটি অপরিহার্য নূন-এ পরিণত হবে এবং যে চিহ্নের উদ্দেশ্যে এটি নির্ধারণ করা হয়েছিল তার বিধান থেকে বিচ্যুত হবে। ফলে একে বিলুপ্ত করা ছাড়া আর কোনো পথ অবশিষ্ট থাকল না। একারণেই তানভীনকে বিলুপ্ত করা আবশ্যক হয়েছে। অতঃপর যখন নূন প্রবেশ করল—যা আমরা উল্লেখ করেছি তার বিনিময় হিসেবে—তখন তা সাকিন অবস্থায় প্রবেশ করেছিল। কারণ কোনো বর্ণ কেবল তখনই হারাকাতযুক্ত হয় যখন তার ওপর হারাকাত যুক্ত করা হয়, যা তার অতিরিক্ত সত্তা। সুতরাং যখন আমরা একে হারাকাত বিহীনভাবে যুক্ত করলাম, তখন তা সাকিন হিসেবেই থাকল। আর তার পূর্বেই দ্বিবচন ও বহুবচনের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল যা সাকিন। ফলে দুটি সাকিন একত্রে মিলিত হলো, আর দুই সাকিনের মিলনজনিত কারণে নূন-কে হারাকাত দেওয়া হলো।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: কেন দ্বিবচনের ক্ষেত্রে নূন-এ কাসরা দেওয়া হলো এবং বহুবচনের ক্ষেত্রে ফাতহা দেওয়া হলো?
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
فَفِي ذَلِك وُجُوه:

أَحدهَا: أَن التَّثْنِيَة قبل الْجمع، وَحقّ السَّاكِن إِذا حرك حرك بِالْكَسْرِ، فقد اسْتحقَّت نون التَّثْنِيَة الْكسر على الأَصْل، لِأَنَّهَا سَابِقَة للْجمع، وَجَازَت نون الْجمع، وَقد فَاتَ كسرهَا، ففتحت لِئَلَّا تَلْتَبِس بنُون التَّثْنِيَة، فَلم يبْق لَهَا من الحركات إِلَّا الضَّم وَالْفَتْح، وَالضَّم مستثقل، فَسقط وَبَقِي الْفَتْح.

وَوجه ثَان: وَهُوَ أَن الْجمع يَقع قبل النُّون فِيهِ وَاو قبلهَا ضمة، أَو يَاء قبلهَا كسرة، فكرهوا كسرة النُّون، لِئَلَّا يثقل بتوالي الكسرات، أَو يخرجُوا من ضم إِلَى كسر، فَسقط الْكسر، وَهُوَ بالإسقاط أولى، فَلم يبْق إِلَّا الْفَتْح، فَجعل الْكسر للأخف، وَالْفَتْح للأثقل ليعتدلا ،

فَإِن قَالَ قَائِل: فَمَا الَّذِي أحْوج إِلَى الْفَصْل بَين نون التَّثْنِيَة وَنون الْجمع، وَصِيغَة التَّثْنِيَة مباينة لصيغة الْجمع، وَإِن سَقَطت النُّون، فَمَا الْحَاجة إِلَى الْفَصْل؟

قيل: قد يشكل جمع الْمَقْصُور فِي النصب والجر بتثنية الصَّحِيح، كَقَوْلِك:

رَأَيْت المصطفين، فَيَقَع مَا قبل يَاء الْجمع مَفْتُوحًا، كَمَا تَقول فِي تَثْنِيَة زيد: رَأَيْت الزيدين، ومررت بالزيدين، فَلَو لم يكسروا نون التَّثْنِيَة، ويفتحوا نون الْجمع، لالتبس جمع الْمَقْصُور بتثنية الصَّحِيح، فَلَمَّا وَجب الْفَصْل بَين هذَيْن أجروا كل تَثْنِيَة وكل جمع على هَذَا، لِئَلَّا تخْتَلف طريقتهما.

فَإِن قَالَ قَائِل: لم كَانَت النُّون بِالزِّيَادَةِ أولى من سَائِر الْحُرُوف؟

قيل لَهُ: لم يُمكن زِيَادَة بعض حُرُوف الْمَدّ فِي التَّثْنِيَة وَالْجمع استثقالا (7 / ب) لاجتماعهما، وَمَعَ هَذَا فَكَانَ يجب إِذا وَقع حرف الْمَدّ بعد ألف التَّثْنِيَة أَن يهمز وَلِأَن كل حرف مد وَقع طرفا قبله ألف زَائِدَة، فَلَا بُد من همزه، فَكَانَ ذَلِك يُؤَدِّي إِلَى
এক্ষেত্রে কয়েকটি দিক রয়েছে:

প্রথমত: বহুবচনের পূর্বে দ্বিবচন আসে। আর সাকিন বর্ণকে যখন হরকত (স্বরচিহ্ন) প্রদান করা হয়, তখন সাধারণত কাসরা (যের) দিয়েই হরকত প্রদান করা হয়। সেই মূলনীতির ভিত্তিতে দ্বিবচনের 'নুন' কাসরা পাওয়ার দাবি রাখে, কারণ এটি বহুবচনের পূর্বে অবস্থিত। এরপর যখন বহুবচনের 'নুন' আসার সুযোগ হলো, তখন দেখা গেল কাসরা ব্যবহারের সুযোগ অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। ফলে সেটিকে ফাতহা (যবর) প্রদান করা হলো যাতে দ্বিবচনের 'নুন'-এর সাথে এটি অস্পষ্ট না হয়ে যায়। এমতাবস্থায় ফাতহা ও দাম্মা (পেশ) ব্যতীত আর কোনো হরকত অবশিষ্ট ছিল না। কিন্তু দাম্মা উচ্চারণে ভারী হওয়ার কারণে তা বর্জন করা হয়েছে এবং ফাতহা অবশিষ্ট রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় দিক: বহুবচনের 'নুন'-এর পূর্বে হয় এমন 'ওয়াও' থাকে যার আগে দাম্মা রয়েছে, অথবা এমন 'ইয়া' থাকে যার আগে কাসরা রয়েছে। ফলে তারা 'নুন'-এর নিচে কাসরা দেওয়া অপছন্দ করেছেন, যাতে পর পর কয়েকটি কাসরার কারণে উচ্চারণে ভারী না হয়, অথবা দাম্মা থেকে কাসরার দিকে স্থানান্তরের জটিলতা তৈরি না হয়। সুতরাং কাসরা বর্জন করা হলো এবং বর্জন করার ক্ষেত্রে এটিই ছিল অধিকতর যুক্তিযুক্ত। ফলে ফাতহা ব্যতীত আর কিছু অবশিষ্ট রইল না। এভাবে অপেক্ষাকৃত হালকা শব্দের (দ্বিবচন) জন্য কাসরা এবং অপেক্ষাকৃত ভারী শব্দের (বহুবচন) জন্য ফাতহা নির্ধারণ করা হলো, যাতে উভয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: দ্বিবচনের 'নুন' এবং বহুবচনের 'নুন'-এর মধ্যে পার্থক্য করার প্রয়োজন কী ছিল? অথচ দ্বিবচনের গঠন ও বহুবচনের গঠন একে অপরের থেকে ভিন্ন; এমনকি 'নুন' বিলুপ্ত হয়ে গেলেও তো উভয়ের মধ্যে পার্থক্যের কোনো প্রয়োজন ছিল না?

উত্তরে বলা হবে: নসব (কর্মকারক) ও জর (সম্বন্ধ পদ) অবস্থায় 'মাকসুর' শব্দের বহুবচন এবং 'সহীহ' শব্দের দ্বিবচনের মধ্যে অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে। যেমন আপনার উক্তি: "আমি নির্বাচিত ব্যক্তিদের দেখেছি"। এখানে বহুবচনের 'ইয়া'-এর পূর্ববর্ণে ফাতহা (যবর) রয়েছে, যেমনটি আপনি যায়েদ শব্দের দ্বিবচনের ক্ষেত্রে বলে থাকেন: "আমি দুইজন যায়েদকে দেখেছি" এবং "আমি দুইজন যায়েদকে অতিক্রম করেছি"। এখন তারা যদি দ্বিবচনের 'নুন'-কে কাসরা এবং বহুবচনের 'নুন'-কে ফাতহা না দিতেন, তবে মাকসুর শব্দের বহুবচন এবং সহীহ শব্দের দ্বিবচন একাকার হয়ে যেত। যেহেতু এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা আবশ্যক ছিল, তাই তারা সকল দ্বিবচন ও সকল বহুবচনকে এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাতে তাদের পদ্ধতিতে ভিন্নতা না আসে।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: অন্যান্য বর্ণের তুলনায় 'নুন' বর্ণটিই কেন অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অধিক যোগ্য হলো?

তাকে বলা হবে: দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে কিছু মাদ্দ-এর বর্ণ (স্বরবর্ণ) অতিরিক্ত হিসেবে বৃদ্ধি করা সম্ভব ছিল না, কারণ সেগুলোর একত্র হওয়া উচ্চারণে অত্যন্ত ভারী মনে হতো [৭/খ]। এর পাশাপাশি, দ্বিবচনের আলিফ-এর পর যদি কোনো মাদ্দ-এর বর্ণ আসত তবে সেটিকে হামযাহতে রূপান্তরিত করা আবশ্যক হয়ে পড়ত। কেননা শব্দের শেষে অবস্থিত প্রতিটি মাদ্দ-এর বর্ণ, যার পূর্বে অতিরিক্ত আলিফ থাকে, তাকে অবশ্যই হামযাহতে রূপান্তরিত করতে হয়। আর এটি এমন পরিণতির দিকে নিয়ে যেত যে...
(খণ্ড: ১) ইলালুন নাহু (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
تَغْيِير الْحَرْف عَن أَصله، فَوَجَبَ أَن تزاد النُّون من بَين سَائِر الْحُرُوف، لما ذَكرْنَاهُ فِي الْجمع من مَذْهَب سِيبَوَيْهٍ، وَهُوَ الصَّحِيح عندنَا، وَأما أَبُو الْحسن الْأَخْفَش وَأَبُو الْعَبَّاس الْمبرد، وَمن تابعهما، فَيَقُولُونَ: هَذِه الْحُرُوف دَلَائِل على الْإِعْرَاب، وَلَيْسَت بإعراب، وَلَا حُرُوف إِعْرَاب، وَهَذَا القَوْل فَاسد، لِأَنَّهُ يُقَال لقائله: خبرنَا عَن قَوْلك: إِن هَذِه الْحُرُوف دَلَائِل إِعْرَاب، وَلَيْسَت بإعراب، وَلَا حُرُوف إِعْرَاب، هَل يدل على إِعْرَاب فِي الْكَلِمَة، أَو فِي غَيرهَا؟

فَإِن قَالَ قَائِل: تدل على إِعْرَاب فِي الْكَلِمَة، فَلَا بُد لَهُ من أَن يقدر الْإِعْرَاب فِيهَا، إِذْ كَانَت هِيَ أَوَاخِر الْكَلم، فَيرجع قَوْله إِلَى سِيبَوَيْهٍ، وَتسقط هَذِه الْعبارَة. أَو يَقُول: تدل على إِعْرَاب فِي غير الْكَلِمَة.

فَيُقَال لَهُ: فَإِذا الْإِعْرَاب لَا فِي الْكَلِمَة، وَمَا عدم إعرابه فَهُوَ مَبْنِيّ. وَمن مذْهبه أَن التَّثْنِيَة وَالْجمع معربان، فيناقض قَوْله، وَلَو لم يعْتَرف بإعراب التَّثْنِيَة وَالْجمع، لَكَانَ لقَوْله مساغ، وَهُوَ مَذْهَب أبي إِسْحَاق الزّجاج.
মূল অক্ষরকে তার আসল অবস্থা থেকে পরিবর্তন হওয়া রোধকল্পে অন্যান্য বর্ণের মধ্য হতে 'নুন' বর্ণটিকে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত করা আবশ্যক হয়েছে, যেমনটি আমরা সিবওয়াইহ-এর মাযহাব অনুযায়ী বহুবচনের ক্ষেত্রে আলোচনা করেছি; আর এটিই আমাদের নিকট সঠিক সিদ্ধান্ত। পক্ষান্তরে আবু হাসান আল-আখফাশ ও আবু আব্বাস আল-মুবররাদ এবং যারা তাঁদের অনুসারী, তাঁরা বলেন: এই বর্ণগুলো ইরাবের (শব্দ বিভক্তি) নিদর্শন মাত্র, এগুলো স্বয়ং ইরাব নয় এবং ইরাবের বর্ণও নয়। এই বক্তব্যটি ভ্রান্ত; কারণ এই মতের প্রবক্তাকে বলা হবে: আপনার কথা—"এই বর্ণগুলো ইরাবের নিদর্শন, কিন্তু এগুলো ইরাব নয় এবং ইরাবের বর্ণও নয়"—এ বিষয়ে আমাদের বলুন যে, এগুলো কি সংশ্লিষ্ট শব্দের ভেতরের কোনো ইরাবকে নির্দেশ করে নাকি অন্য কিছুর?

যদি কেউ বলেন: এগুলো শব্দের অভ্যন্তরীণ ইরাবকে নির্দেশ করে, তবে তাকে অবশ্যই সেই শব্দের মধ্যে ইরাবকে প্রাক্কলিত বা উহ্য ধরে নিতে হবে, যেহেতু এগুলোই হলো শব্দের শেষাংশ; এমতাবস্থায় তাঁর এই বক্তব্য মূলত সিবওয়াইহ-এর মতের দিকেই ফিরে যাবে এবং তাঁর পৃথক এই পরিভাষাটি অসার হয়ে পড়বে। অথবা তিনি হয়তো বলবেন: এগুলো শব্দ বহির্ভূত অন্য কিছুর ইরাবকে নির্দেশ করে।

তখন তাকে বলা হবে: যদি ইরাব শব্দের মধ্যেই না থাকে, তবে যে শব্দের ইরাব নেই তা তো 'মাবনি' (অপরিবর্তনীয়)। অথচ তাঁর মাযহাব অনুযায়ী দ্বিবচন ও বহুবচন উভয়ই 'মু'রাব' (পরিবর্তনশীল শব্দ); ফলে তাঁর এই দাবি স্ববিরোধী হয়ে যায়। যদি তিনি দ্বিবচন ও বহুবচনের ইরাব হওয়ার বিষয়টি স্বীকার না করতেন, তবে তাঁর বক্তব্যের কোনো অবকাশ থাকত; আর এটিই হলো আবু ইসহাক আয-যাজ্জাজ-এর মাযহাব।