(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: -)
إعراب ما يشكل من ألفاظ الحديث القسم: النحو والصرف
الكتاب: إعراب ما يشكل من ألفاظ الحديث النبوي
المؤلف: أبو البقاء عبد الله بن الحسين بن عبد الله العكبري البغدادي محب الدين (ت 616هـ)
المحقق: حققه وخرج أحاديثه وعلق عليه د. عبد الحميد هنداوي
الناشر: مؤسسة المختار للنشر والتوزيع - مصر/ القاهرة
الطبعة: الأولى، 1420هـ - 1999م
عدد الصفحات: 212
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হাদীসের জটিল শব্দসমূহের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ বিভাগ: ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব
গ্রন্থ: নবী করীম (সা.)-এর হাদীসের জটিল শব্দসমূহের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ
লেখক: আবু আল-বাকা আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আবদুল্লাহ আল-উকবারী আল-বাগদাদী মুহিব্বুদ্দীন (মৃত্যু ৬১৬ হি.সম্পাদক: গবেষণা, হাদীস যাচাই ও টীকা প্রদান করেছেন ড. আবদুল হামিদ হিন্দাবী
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল মুখতার প্রকাশনা ও বিতরণী - মিশর/কায়রো
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হি. - ১৯৯৯ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১২
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الْقسم الأول
مسانيد الرِّجَال مرتبَة على الْحُرُوف الأبجدية
بَاب الْألف
[1]
مُسْند أبي بن كَعْب الْأنْصَارِيّ.
[2]
مُسْند أُسَامَة بن زيد بن حَارِثَة.
[3]
مُسْند أُسَامَة بن شريك العامري.
[4]
مُسْند أُسَامَة بن عُمَيْر الْهُذلِيّ.
[5]
مُسْند أبي رَافع مولى رَسُول الله " واسْمه " " أسلم ".
[6]
مُسْند أسيد بن حضير.
[7]
مُسْند الْأَشْعَث بن قيس الْكِنْدِيّ.
[8]
مُسْند أُميَّة بن مخشي الْخُزَاعِيّ.
[9]
مُسْند أنس بن مَالك.
প্রথম অংশ বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত পুরুষ সাহাবীদের মুসনাদসমূহ আলিফ অধ্যায় [১] উবাই ইবন কা’ব আল-আনসারীর মুসনাদ.
[২] উসামা ইবন যায়দ ইবন হারিসার মুসনাদ.
[৩] উসামা ইবন শারীক আল-আমিরীর মুসনাদ.
[৪] উসামা ইবন উমায়ের আল-হুযালীর মুসনাদ.
[৫] আল্লাহর রাসূলের মুক্তদাস আবু রাফের মুসনাদ, তাঁর নাম ছিল আসলাম.
[৬] উসাইদ ইবন হুযায়েরের মুসনাদ.
[৭] আল-আশআছ ইবন কায়স আল-কিনদীর মুসনাদ.
[৮] উমাইয়া ইবন মাখশী আল-খুযায়ীর মুসনাদ.
[৯] আনাস ইবন মালিকের মুসনাদ.
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
[مُسْند (أبي بن كَعْب الْأنْصَارِيّ) (ذكر مَا فِي الصَّحِيحَيْنِ مِنْهُ) .
مجئ " مَا " بِمَعْنى الَّذِي.
(1) الأول: روى أبي بن كَعْب أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " يغسل مَا مس الْمَرْأَة ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " مَا بِمَعْنى: الَّذِي " وصلتها " مس " و " الْمَرْأَة " مفعول مس.
وَلَا يجوز أَن ترفع الْمَرْأَة بِمَسّ على معنى مَا مست الْمَرْأَة لوَجْهَيْنِ:
أَحدهمَا: أَن تَأْنِيث الْمَرْأَة حَقِيقِيّ وَلم يفصل بَينهَا وَبَين الْفِعْل، فَلَا وَجه لحذف التَّاء.
وَالثَّانِي: أَن إِضَافَة اللَّمْس إِلَى الرجل وَإِلَى أَبْعَاضه حَقِيقَة ".
قَالَ: وَلذَلِك قَالَ تَعَالَى: {أَو لامستم النِّسَاء} وَإِضَافَة اللَّمْس إِلَيْهَا فِي الْجِمَاع تجوز.
مَجِيء أَنى بِمَعْنى: " من أَيْن؟ " وَبِمَعْنى: " كَيفَ؟ "
(2) الحَدِيث الثَّانِي: حَدِيث مُوسَى مَعَ الْخضر عليهما السلام:
(أ) فَمِنْهُ قَوْله: " أَنى بأرضك السَّلَام ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " أَنى " هَهُنَا فِيهَا وَجْهَان:
أَحدهمَا: بِمَعْنى " من أَيْن " كَقَوْلِه تَعَالَى: {أَنى لَك هَذَا} .
فَهِيَ ظرف مَكَان، " وَالسَّلَام " مُبْتَدأ، والظرف خبر عَنهُ.
تَوْجِيه مجئ أَنى بِمَعْنى كَيفَ وَالثَّانِي: بِمَعْنى " كَيفَ " أَي: كَيفَ بأرضك السَّلَام؟
وَوجه هَذَا الِاسْتِفْهَام: أَنه لما رأى ذَلِك الرجل فِي قَعْر من الأَرْض استبعد علمه بكيفية السَّلَام {} .
[মুসনাদ (উবাই ইবনে কা’ব আল-আনসারী) (সহীহায়নে তার মধ্য থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার আলোচনা) ।
'মা' শব্দটি 'আল্লাজি' অর্থে আসা প্রসঙ্গে(১) প্রথম: উবাই ইবনে কা’ব বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "যা নারীর শরীর স্পর্শ করেছে তা ধৌত করো।"
শায়খ (রহ.) বলেন: "মা" এখানে "আল্লাজি" (যা) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর সিলাহ (সংযুক্ত বাক্য) হলো "মাসসা", আর "নারী" শব্দটি "মাসসা" ক্রিয়ার মাফউল (কর্ম)।
আর "নারী" শব্দটিকে পেশ (রাফা) প্রদান করে 'মাসসা' ক্রিয়ার ফায়েল (কর্তা) হিসেবে গ্রহণ করা এবং "যা নারী স্পর্শ করেছে" এমন অর্থ গ্রহণ করা দুটি কারণে বৈধ নয়:
প্রথমত: নারীর নারীত্ব প্রকৃত এবং ক্রিয়া ও তার মধ্যে কোনো ব্যবধান ঘটেনি, সুতরাং (ক্রিয়ার শেষে) স্ত্রীলিঙ্গ বোধক চিহ্ন বিলুপ্ত করার কোনো কারণ নেই।
দ্বিতীয়ত: স্পর্শ করার বিষয়টি পুরুষের দিকে এবং তার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দিকে সম্বন্ধ করাটাই বাস্তবসম্মত বা প্রকৃত অর্থবহ।
তিনি বলেন: এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অথবা তোমরা নারীদের স্পর্শ করেছো}। আর মিলনের ক্ষেত্রে নারীর দিকে স্পর্শকে সম্বন্ধ করা রূপক হিসেবে অনুমোদিত।
'আন্না' শব্দটি "কোথা থেকে?" এবং "কিভাবে?" অর্থে আসা প্রসঙ্গে (২) দ্বিতীয় হাদিস: মূসা ও খিজির (আলাইহিমাস সালাম)-এর হাদিস:
(ক) তার মধ্য থেকে তাঁর উক্তি: "তোমার এই জমিনে সালাম (অভিবাদন) কোথা থেকে আসলো?"
শায়খ (রহ.) বলেন: এখানে "আন্না" শব্দটিতে দুটি সম্ভাব্য দিক রয়েছে:
প্রথমত: "কোথা থেকে" অর্থে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমার জন্য এটি কোথা থেকে আসলো?}।
এমতাবস্থায় এটি স্থানবাচক অব্যয় (জরফে মাকান), আর "সালাম" হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য), এবং এই অব্যয়টি তার খবর (বিধেয়)।
'আন্না' শব্দটি "কিভাবে" অর্থে আসার ব্যাখ্যা দ্বিতীয়ত: "কিভাবে" অর্থে, অর্থাৎ: তোমার জমিনে সালাম কিভাবে সম্ভব?
এই জিজ্ঞাসার প্রেক্ষাপট হলো: যখন তিনি সেই ব্যক্তিকে ভূখণ্ডের এক নিভৃত প্রান্তে দেখলেন, তখন সালাম প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁর অবগত থাকাকে তিনি অভাবনীয় মনে করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
تَقْدِيم الْحَال على صَاحبهَا (ب) فَأَما قَوْله: " بأرضك السَّلَام " فموضعه نصب على الْحَال من السَّلَام. وَالتَّقْدِير: من أَيْن اسْتَقر السَّلَام كَائِنا بأرضك؟ .
وجوب تَقْدِيم المبتدإ إِن تساوى هُوَ وَالْخَبَر فِي التَّعْرِيف.(ج) أما قَوْله: " أَنْت مُوسَى بني إِسْرَائِيل " فَأَنت مُبْتَدأ ومُوسَى خَبره.
جَوَاز التَّثْنِيَة بعد الْجمع، والتوحيد بعد التَّثْنِيَة
(د) وَقَوله: " فَكَلمُوهُمْ أَن يحملوهم فعرفوا الْخضر فحملوهما " فَالْمَعْنى: أَن مُوسَى وَالْخضر ويوشع قَالُوا لأَصْحَاب السَّفِينَة: " هَل تحملوننا؟ فعرفوا الْخضر فحملوهم " فَجمعُوا الضميرين فِي " كلموهم " على الأَصْل، وثنوا " حملوهما " على اعْتِبَار أَنَّهُمَا المتبوعان، ويوشع تبع لَهما، وَمثله قَوْله تَعَالَى: {إِن هَذَا عَدو لَك ولزوجك فَلَا يخرجنكما من الْجنَّة فتشقى} فَثنى ثمَّ وحد لما ذكرنَا.
تَوْجِيه رِوَايَة " فَأخذ الْخضر بِرَأْسِهِ فاقتلعه بِيَدِهِ "
(هـ) وَفِي قَوْله: " فَأخذ الْخضر بِرَأْسِهِ فاقتلعه بِيَدِهِ " وَجْهَان:أَحدهمَا: هِيَ زَائِدَة أَي: أَخذ رَأسه.وَالثَّانِي: لَيست زَائِدَة؛ لِأَنَّهُ لَيْسَ الْمَعْنى أَنه تنَاول رَأسه ابْتِدَاء، وَإِنَّمَا الْمَعْنى أَنه جَرّه إِلَيْهِ بِرَأْسِهِ، ثمَّ اقتلعه وَلَو كَانَت زَائِدَة لم يكن لقَوْله: " فاقتلعه " معنى.
مَجِيء لَو بِمَعْنى أَن الناصبة بعد " ود "
(و) وَقَوله: " لَوَدِدْنَا لَو صَبر " لَو هَهُنَا بِمَعْنى أَن الناصبة للْفِعْل كَقَوْلِه تَعَالَى: {ودوا لَو تدهن} ، و {ودوا لَو تكفرون} ، وَقد جَاءَ بِأَن فِي قَوْله تَعَالَى: {أيود أحدكُم أَن تكون} و " لَو صَبر " بِمَعْنى: أَي وَدِدْنَا أَن يصبر. .
تَعْلِيق الْفِعْل عَن الْعَمَل فِي الِاسْتِفْهَام بعده
(3) وَمَا انْفَرد بِهِ مُسلم قَوْله [صلى الله عليه وسلم] لأبي:
সাহিবুল হালের পূর্বে হালের অবস্থান (খ) তাঁর উক্তি: "আপনার ভূমিতে শান্তি বর্ষিত হোক" - এখানে 'আপনার ভূমিতে' অংশটি 'শান্তি' শব্দ থেকে 'হাল' হিসেবে নসবের স্থানে রয়েছে। এর বিশ্লেষণ হলো: "শান্তি কোথা থেকে আপনার ভূমিতে বিদ্যমান হয়ে স্থির হয়েছে?"
মুবতাদা এবং খবর উভয়ই নির্দিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে মুবতাদাকে পূর্বে আনা আবশ্যক।(গ) তাঁর উক্তি: "আপনি বনী ইসরাঈলের মূসা" - এখানে 'আপনি' হলো মুবতাদা এবং 'মূসা' হলো খবর।বহুবচনের পর দ্বিবচন এবং দ্বিবচনের পর একবচন ব্যবহারের বৈধতা
(ঘ) তাঁর উক্তি: "অতঃপর তারা তাদের সাথে কথা বলল যেন তারা তাদের বহন করে, তখন তারা খিদরকে চিনতে পারল এবং তাদের দুজনকে আরোহণ করাল" - এর অর্থ হলো: মূসা, খিদর এবং ইউশা নৌকার আরোহীদের বললেন: "আপনারা কি আমাদের বহন করবেন? অতঃপর তারা খিদরকে চিনতে পারল এবং তাদের বহন করল।" এখানে 'তারা তাদের সাথে কথা বলল' বাক্যে মূল নিয়ম অনুযায়ী বহুবচনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু 'তাদের দুজনকে আরোহণ করাল' অংশে দ্বিবচন ব্যবহার করা হয়েছে এই বিবেচনায় যে, তাঁরা দুজনই ছিলেন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, আর ইউশা ছিলেন তাঁদের অনুসারী। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় এই ব্যক্তি তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু, সুতরাং সে যেন তোমাদের উভয়কে জান্নাত থেকে বের করে না দেয়, তাহলে তুমি কষ্টে পড়বে।" এখানে দ্বিবচন ব্যবহারের পর একবচন ব্যবহার করা হয়েছে সেই কারণে যা আমরা উল্লেখ করেছি।"অতঃপর খিদর তাঁর মাথা ধরলেন এবং নিজ হাত দিয়ে তা উপড়ে ফেললেন" - এই বর্ণনার ব্যাখ্যা
(ঙ) তাঁর উক্তি: "অতঃপর খিদর তাঁর মাথা ধরলেন এবং নিজ হাত দিয়ে তা উপড়ে ফেললেন" - এর দুটি দিক রয়েছে:প্রথমটি: এখানে 'বা' অক্ষরটি অতিরিক্ত, অর্থাৎ তিনি তাঁর মাথা ধরেছিলেন।দ্বিতীয়টি: এটি অতিরিক্ত নয়; কারণ এর অর্থ এই নয় যে তিনি সরাসরি তাঁর মাথা স্পর্শ করেছিলেন, বরং এর অর্থ হলো তিনি তাঁকে মাথার দিক দিয়ে নিজের দিকে টেনে আনলেন, তারপর তা উপড়ে ফেললেন। যদি এটি অতিরিক্ত হতো তবে "অতঃপর তা উপড়ে ফেললেন" কথাটির কোনো অর্থ থাকত না।
'ওয়াদা' (ইচ্ছা করা) ক্রিয়ার পর 'আন' এর অর্থে 'লাও' এর ব্যবহার
(চ) তাঁর উক্তি: "আমরা অবশ্যই কামনা করতাম যদি তিনি ধৈর্য ধরতেন" - এখানে 'যদি' শব্দটি ক্রিয়াকে নসব প্রদানকারী 'যে' (আন) অব্যয়ের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "তারা কামনা করে যদি তুমি নমনীয় হতে", এবং "তারা কামনা করে যদি তোমরা কুফরি করতে"। মহান আল্লাহর এই বাণীতে 'যে' (আন) অব্যয়টি স্পষ্টভাবে এসেছে: "তোমাদের কেউ কি পছন্দ করে যে তার হবে..."। আর "যদি তিনি ধৈর্য ধরতেন" এর অর্থ হলো: আমরা কামনা করতাম যে তিনি ধৈর্য ধারণ করুন।
পরবর্তী প্রশ্নে ক্রিয়ার কার্যকারিতা স্থগিত হওয়া
(৩) এবং ইমাম মুসলিম এককভাবে যা বর্ণনা করেছেন, তা হলো উবাইয়ের প্রতি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী:
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(أ) " يَا أَبَا الْمُنْذر أَتَدْرِي أَي آيَة من كتاب الله تَعَالَى مَعَك أعظم؟ ! ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " لَا يجوز فِي أَي هَهُنَا النصب وَهِي مَرْفُوعَة
… بِالِابْتِدَاءِ، و " أعظم " خَبره، و " تَدْرِي " مُعَلّق عَن الْعَمَل؛ لِأَن الِاسْتِفْهَام لَا يعْمل فِيهِ الْفِعْل الَّذِي قبله وَهُوَ كَقَوْلِه تَعَالَى: {أَي الحزبين أحصى} .
(ب) وَمثله فِي الحَدِيث الآخر، وَهُوَ قَوْله فِي لَيْلَة الْقدر: " أَنا وَالَّذِي لَا إِلَه غَيره أعلم أَي لَيْلَة هِيَ "، فَهِيَ: الْخَبَر.
تَوْجِيه قَوْله: " وَلَا إِذا كنت ".
(ج) وَقَوله أبي: " كبر عَليّ وَلَا إِذْ كنت فِي الْجَاهِلِيَّة "، تَقْدِيره: وَلَا أشكل عَليّ حَال الْقُرْآن؛ إِذْ أَنا فِي الْجَاهِلِيَّة كإشكال الْقِصَّة عَليّ.
تَوْجِيه الرِّوَايَة بِنصب كلمة " السُّورَة " فِي حَدِيث أبي
(4) وَفِي رِوَايَة عبد الله فِي حَدِيث أبي أَنه سَأَلَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] عَن سُورَة وعده أَن يُعلمهُ إِيَّاهَا، فَقَالَ أبي: فَقلت: " السُّورَة الَّتِي قلت لي ".
(অ) "হে আবুল মুনজির! তুমি কি জানো আল্লাহর কিতাবের তোমার কাছে থাকা কোন আয়াতটি সবচেয়ে মহান?!"
শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এখানে 'আইয়ু' শব্দটি জবরযুক্ত (মানসুব) হওয়া বৈধ নয়; বরং এটি পেশযুক্ত (মারফু)
… ইবতিদা (প্রারম্ভিকতা) হওয়ার কারণে, এবং 'আ'জামু' তার খবর (বিধেয়), আর 'তাদরি' ক্রিয়াটির আমল (প্রভাব) এখানে স্থগিত; কারণ প্রশ্নবোধক পদের ওপর তার পূর্ববর্তী ক্রিয়া কোনো প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। এটি মহান আল্লাহর বাণীর মতোই: {দুই দলের মধ্যে কোনটি অধিক নিখুঁতভাবে গণনা করেছে}।"
(খ) অন্য একটি হাদিসেও অনুরূপ উদাহরণ রয়েছে, যা লাইলাতুল কদর সম্পর্কে তাঁর উক্তি: "আমি এবং সেই সত্তা যার কোনো ইলাহ নেই, ভালোভাবেই জানি তা কোন রাত", এখানে 'হিয়া' শব্দটি হলো খবর (বিধেয়)।
তাঁর উক্তি: "আর যখন আমি ছিলাম না" -এর ব্যাখ্যা (গ) উবাই-এর উক্তি: "আমার কাছে এটি বড় (কঠিন) মনে হয়েছে এবং জাহেলিয়াতের যুগেও এমনটি হয়নি", এর ব্যাখ্যা হলো: কুরআনের বিষয়টি আমার কাছে জটিল মনে হয়নি; এমনকি যখন আমি জাহেলিয়াতে ছিলাম তখনও এই কাহিনীর মতো জটিলতা আমার কাছে তৈরি হয়নি।
উবাই-এর হাদিসে "সুরা" শব্দটিকে জবর (নসব) দিয়ে পড়ার বর্ণনার ব্যাখ্যা
(৪) উবাই-এর হাদিসে আবদুল্লাহর বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি আল্লাহর রাসুল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-কে এমন একটি সূরা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যা তাঁকে শেখানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। উবাই বলেন: আমি বললাম: "সেই সূরাটি যা শেখানোর কথা আপনি আমাকে বলেছিলেন।"
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " الْوَجْه النصب، أَي: اذكر لي السُّورَة أَو عَلمنِي. وَالرَّفْع غير جَائِز؛ إِذْ لَا معنى للابتداء هَهُنَا ".
مَجِيء الْحَال من النكرَة إِذا وصفت بِمَا يقربهَا من الْمعرفَة.
(5) وَمن رِوَايَة عبد الله فِي حَدِيث أبي: " فَفرج صَدره ثمَّ جَاءَ بطست من ذهب مملوءا حِكْمَة وإيمانا ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " مملوءا " بِالنّصب على الْحَال، وَصَاحب الْحَال " طست "؛ لِأَنَّهُ - وَإِن كَانَ نكرَة - فقد وصف بقوله: " من ذهب " فَقرب من الْمعرفَة.
مَجِيء الْحَال من الضَّمِير فِي الْجَار.
وَيجوز أَن يكون حَالا من الضَّمِير فِي الْجَار؛ لِأَن تَقْدِيره: بطست كَائِن من ذهب، أَو مَصْنُوع من ذهب فَنقل الضَّمِير من اسْم الْفَاعِل إِلَى الْجَار.
وَلَو رُوِيَ بِالْجَرِّ على الصّفة جَازَ، وَأما حِكْمَة وإيمانا فمنصوبان على التَّمْيِيز.
حذف القَوْل للْعلم بِهِ
(6) وَفِي رِوَايَة عبد الله فِي حَدِيث أبي: " كَانَ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] يعلمنَا إِذا أَصْبَحْنَا: أَصْبَحْنَا على فطْرَة الْإِسْلَام
… " وَذكر الحَدِيث.
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " تَقْدِيره يعلمنَا إِذا أَصْبَحْنَا أَن نقُول: " أَصْبَحْنَا على كَذَا " فَحذف " القَوْل " للْعلم بِهِ كَمَا قَالَ تَعَالَى: (وَالْمَلَائِكَة يدْخلُونَ عَلَيْهِم من كل بَاب سَلام
শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সঠিক রূপটি হলো নসব (জবর), অর্থাৎ: আমাকে সূরাটি উল্লেখ করে দিন অথবা আমাকে শিক্ষা দিন। আর রফ' (পেশ) জায়েয নয়; কেননা এখানে ইবতিদা (আরম্ভ) করার কোনো অর্থ হয় না।"
নাকেরা (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য) থেকে হালের আগমন যখন তা এমন কিছুর মাধ্যমে বিশেষিত হয় যা একে মারেফার (নির্দিষ্ট বিশেষ্য) নিকটবর্তী করে.
(৫) উবাই-এর হাদীসে আবদুল্লাহর বর্ণনা থেকে: "অতঃপর তিনি তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করলেন, এরপর হিকমত ও ঈমান দ্বারা পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের পাত্র নিয়ে আসলেন।"
শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মামলুআন" (পরিপূর্ণ) শব্দটি হালের কারণে নসব হয়েছে, আর হালের অধিকারী হলো "তসত" (পাত্র); কারণ এটি নাকেরা হওয়া সত্ত্বেও "মিন যাহাবিন" (স্বর্ণের তৈরি) কথাটি দ্বারা বিশেষিত হওয়ায় তা মারেফার নিকটবর্তী হয়েছে।
জার-এর অন্তর্ভুক্ত যমীর (সর্বনাম) থেকে হালের আগমন.
আর এটি জার-এর মধ্যে থাকা যমীর থেকেও হাল হওয়া জায়েয; কেননা এর অন্তর্নিহিত রূপ হলো: স্বর্ণের বিদ্যমান বা স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত একটি পাত্র, ফলে ইসমু ফায়েল থেকে যমীরটি জার-এর দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে।
যদি সিফাত (গুণ) হিসেবে জার (জের) দিয়ে বর্ণিত হতো তবে তাও জায়েয হতো, আর "হিকমাতান ওয়া ঈমানান" শব্দ দুটি তাময়িয হিসেবে নসব হয়েছে।
জানা থাকার কারণে 'কওল' (উক্তি) উহ্য থাকা
(৬) উবাই-এর হাদীসে আবদুল্লাহর বর্ণনায় আছে: "রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আমাদের শিক্ষা দিতেন যখন আমরা ভোরে উপনীত হতাম: 'আমরা ইসলামের ফিতরাতের ওপর ভোরে উপনীত হয়েছি...'" এবং তিনি হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।
শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এর অন্তর্নিহিত রূপ হলো—তিনি আমাদের শিক্ষা দিতেন যখন আমরা ভোরে উপনীত হতাম এটি বলতে: 'আমরা অমুক বিষয়ের ওপর ভোরে উপনীত হয়েছি'। সুতরাং বিষয়টি জানা থাকার কারণে 'আল-কওল' (উক্তিটি) উহ্য রাখা হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: (আর ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা দিয়ে তাদের নিকট প্রবেশ করবে এবং বলবে: শান্তি...)
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
عَلَيْكُم} أَي يَقُولُونَ: سَلام عَلَيْكُم ".
مَجِيء كَائِن بِمَعْنى كم
(7) وَفِي حَدِيث عبد الله: قَول أبي: (كَائِن تقْرَأ سُورَة الْأَحْزَاب؟ أَو كَائِن تعد سُورَة الْأَحْزَاب؟ قَالَ: قلت: ثَلَاثًا وَسبعين، فَقَالَ: قطّ) .
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله:
(أ) أما " كَائِن " فاسم فَاعل بِمَعْنى " كم " وموضعها: نصب بتقرأ أَو تعد.
(ب) وَأما قَوْله: " ثَلَاثًا وَسبعين " فَهُوَ مفعول ثَان.
قطّ للزمان الْمَاضِي خَاصَّة (ج) وَأما قطّ فاسم مَبْنِيّ على الضَّم وَهُوَ للزمان الْمَاضِي خَاصَّة.
وَمِنْهُم من يضم الْقَاف، وَمِنْهُم من يفتح الْقَاف ويخفض الطَّاء أَو يضمها، وَلَا وَجه لتسكينها هَهُنَا وَتَقْدِيره: مَا كَانَت كَذَا قطّ.
مضارع أمل يمل بِضَم الْيَاء لَا غير
(8) وَمن رِوَايَة أَحْمد رضي الله عنه فِي جمع الْقُرْآن: " أَنه كَانَ يمل عَلَيْهِم الْقُرْآن ".
তোমাদের উপর} অর্থাৎ তারা বলে: তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
‘কা-ইন’ শব্দটি ‘কাম’ (কত) অর্থে ব্যবহৃত হওয়া (৭) এবং আবদুল্লাহর বর্ণিত হাদিসে উবাই-এর উক্তি রয়েছে: (তুমি সূরা আল-আহযাব কতটুকু পড়ো? অথবা তুমি সূরা আল-আহযাব কত আয়াত গণনা করো? তিনি বললেন: আমি বললাম: তিয়াত্তরটি। তখন তিনি বললেন: কেবল এতটুকুই?)।
শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
(ক) ‘কা-ইন’ এর ব্যাপারে কথা হলো, এটি ‘কাম’ (কত) অর্থবোধক একটি কর্তৃবাচক বিশেষ্য (ইসমু ফায়িল) এবং এর ব্যাকরণিক অবস্থান হলো: ‘তাকরাউ’ অথবা ‘তাউদ্দু’ ক্রিয়া দ্বারা নসব (কর্মকারক) হওয়া।
(খ) আর তাঁর উক্তি "তিয়াত্তর" হলো দ্বিতীয় কর্ম (মাফউল সানি)।
‘কাত্তু’ শব্দটি বিশেষভাবে অতীত কালের জন্য (গ) আর ‘কাত্তু’ হলো পেশ (দম্মাহ) এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি অপরিবর্তনীয় শব্দ (মাবনি) এবং এটি বিশেষভাবে অতীত কালের জন্য ব্যবহৃত হয়।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ ‘কাফ’ বর্ণে পেশ (দম্মাহ) প্রদান করেন, আবার কেউ কেউ ‘কাফ’ বর্ণে যবর (ফাতহাহ) এবং ‘ত’ বর্ণে যের (কাসরাহ) অথবা পেশ প্রদান করেন। আর এখানে একে সাকিন (হসন্ত) করার কোনো অবকাশ নেই। এর প্রচ্ছন্ন অর্থ হলো: এটি আগে কখনোই এমন ছিল না।
‘আমালা-ইউমিলু’ ক্রিয়ার বর্তমান রূপটি কেবল ‘ইয়া’ বর্ণে পেশ যোগেই হবে (৮) এবং ইমাম আহমাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত কুরআন সংকলন বিষয়ক বর্ণনায় রয়েছে: "নিশ্চয়ই তিনি তাদের নিকট কুরআন পাঠ করে লেখাতেন।"
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২০)
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله " يمل بِضَم الْيَاء لَا غير، وَأما ماضيه: فَهُوَ أمل وَفِي الْقُرْآن: {أَو لَا يَسْتَطِيع أَن يمل هُوَ} . وَفِيه لُغَة أُخْرَى " أملي " يملى
… {فَهِيَ تملى عَلَيْهِ} ". " أَي " الندائية.
(9) وَفِي رِوَايَة أَحْمد من رِوَايَة أبي قَوْله تَعَالَى للنَّبِي [صلى الله عليه وسلم] : " أَي رَسُول الله ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " وَهُوَ بِفَتْح الْهمزَة وَتَخْفِيف الْيَاء مقلوب (يَاء) . وَهُوَ حرف نِدَاء ".
حذف الْمُضَاف وَنصب الْمُضَاف إِلَيْهِ على أَنه خبر أغدو.
(10) وَمن حَدِيث عبد الله بن أَحْمد فِي رِوَايَة أبي عَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] حَدِيث: " شرح صدر رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] " قَوْله: " فَرَجَعت بهَا أغدو رقة على الْكَبِير، وَرَحْمَة للصَّغِير ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " تَقْدِيره: " ذَا رقة وَذَا رَحْمَة " وَهُوَ مَنْصُوب على أَنه خبر " أغدو " وَهِي من أَخَوَات كَانَ، فَحذف الْمُضَاف وَنصب الْمُضَاف إِلَيْهِ ".
حذف همزَة الِاسْتِفْهَام للْعلم بهَا
(11) وَفِي رِوَايَة أَحْمد من حَدِيث أبي قَوْله: " شَاهد فلَان؟ " يُرِيد: " الْهمزَة " فحذفها للْعلم بهَا وَهُوَ مَرْفُوع بِأَنَّهُ خبر مقدم، و " فلَان " مُبْتَدأ. وَيجوز أَن يكون " شَاهد " مُبْتَدأ؛ لِأَن همزَة الِاسْتِفْهَام فِيهِ مُرَاده، وَلَو ظَهرت لَكَانَ مُبْتَدأ الْبَتَّةَ، و " فلَان " فَاعل سد مسد الْخَبَر ".
শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "'ইউমিল্লা' কেবল 'ইয়া' বর্ণের পেশ (যম্মাহ) যোগেই পঠিত হবে। আর এর অতীতকাল হলো 'আমাল্লা'। পবিত্র কুরআনে রয়েছে: 'অথবা সে নিজে তা বলতে (লিখাতে) সক্ষম নয়'। এর অন্য একটি ভাষাগত রূপ হলো 'আমলা'-'ইউমলি'... 'তা তার নিকট পাঠ করা হয়'। 'আই' হলো সম্বোধনসূচক অব্যয়।"
(৯) আহমাদ-এর বর্ণনায় উবাই-এর সূত্রে মহান আল্লাহর বাণী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি: "হে আল্লাহর রাসুল"।
শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এটি হামযাহর যবর (ফাতহাহ) এবং ইয়া-এর তাশদিদহীন উচ্চারণে গঠিত, যা 'ইয়া' থেকে রূপান্তরিত। এটি একটি সম্বোধনসূচক অব্যয়।"
মুদাফ বিলুপ্ত হওয়া এবং 'আগদু' এর খবর হিসেবে মুদাফ ইলাইহি-কে মানসুব (যবরযুক্ত) করা.
(১০) আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদের বর্ণনায় উবাই-এর সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিস: "রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বক্ষ বিদীর্ণ হওয়া" প্রসঙ্গে উক্তি: "আমি তা নিয়ে ফিরে আসলাম এমতাবস্থায় যে, আমি বড়দের প্রতি কোমলতা এবং ছোটদের প্রতি দয়া পোষণ করছিলাম।"
শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এর বাক্যরীতি হলো: 'কোমলতা বিশিষ্ট এবং দয়া বিশিষ্ট'। এটি 'আগদু' এর খবর হিসেবে মানসুব হয়েছে। আর 'আগদু' হলো 'কানা' এর সমগোত্রীয় ক্রিয়া। এখানে মুদাফ বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং মুদাফ ইলাইহি-কে মানসুব করা হয়েছে।"
জানা থাকার কারণে প্রশ্নবোধক হামযাহ বিলুপ্ত করা
(১১) আহমাদ-এর বর্ণনায় উবাই-এর হাদিসে রয়েছে: "অমুক কি উপস্থিত?" এখানে তিনি "হামযাহ" (প্রশ্নবোধক চিহ্ন) বুঝিয়েছেন, যা জানা থাকার কারণে বিলুপ্ত করেছেন। এটি খবরে মুকাদ্দাম হওয়ার কারণে মারফু (পেশযুক্ত) হয়েছে এবং "ফুলান" (অমুক) হলো মুবতাদা। আবার "শাহিদ" (উপস্থিত)-কে মুবতাদা হিসেবে ধরাও বৈধ; কারণ এতে প্রশ্নবোধক হামযাহ নিহিত রয়েছে। যদি তা প্রকাশ করা হতো তবে এটি অবশ্যই মুবতাদা হতো, আর "ফুলান" হতো ফায়েল যা খবরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২১)
[2]
مُسْند أُسَامَة بن زيد بن حَارِثَة
تَوْجِيه روايتي النصب وَالرَّفْع فِي قَوْله: " أَي يَوْمَيْنِ ".
(12) من مُسْند أَحْمد رضي الله عنه وَفِي صَوْم النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] : " فَقلت: يَا رَسُول الله، إِنَّك تَصُوم لَا تكَاد تفطر إِلَّا يَوْمَيْنِ فَقَالَ: " أَي يَوْمَيْنِ؟ ".
قَالَ الشَّيْخ - رَحمَه الله تَعَالَى - " تَقْدِيره: أَي يَوْمَيْنِ أَصوم كَذَا، أَو أَي يَوْمَيْنِ
… وَالرَّفْع أقوى ".
حذف اسْم لَا.
(13) وَفِي الصَّحِيحَيْنِ: " أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] قَرَأَ على مجْلِس فِيهِ أخلاط من النَّاس الْقُرْآن، فَقَالَ عبد الله بن أبي: لَا أحسن من هَذَا إِن كَانَ مَا تَقول حَقًا؛ فَلَا تؤذنا فِي مجالسنا وارجع إِلَى رحلك فَمن جَاءَك منا فاقصص عَلَيْهِ ".
تَوْجِيه رفع أحسن ونصبها (أ) قَالَ - رَحمَه الله تَعَالَى -: فِي قَوْله: " لَا أحسن من هَذَا " وَجْهَان:
أَحدهمَا: الرّفْع أَي أَنه خبر لَا، وَالِاسْم مَحْذُوف تَقْدِيره: " لَا شَيْء أحسن من هَذَا ". وَهَذَا اعْتِرَاف مِنْهُ بفصاحة الْقُرْآن وَحسنه.
وَالثَّانِي: النصب وَفِيه وَجْهَان:
أَحدهمَا: أَنه صفة لاسم لَا المحذوفة، و " من هَذَا " خبر لَا.
[২] উসামাহ ইবনে যাইদ ইবনে হারিসাহ-র মুসনাদ "আই ইয়ামাইনি" (কোন দুই দিন) কথাটির মধ্যে নাসব এবং রাফ' এর দুই প্রকার বর্ণনার ব্যাখ্যা। (১২) মুসনাদে আহমাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর রোজা সম্পর্কে: "আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এমনভাবে রোজা রাখেন যে মনে হয় আপনি কেবল দুই দিন ছাড়া রোজা ভাঙেন না। তিনি বললেন: 'কোন দুই দিন?'"।
শায়খ -রহিমাহুল্লাহু তাআলা- বলেন - "এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: কোন দুই দিন আমি এভাবে রোজা রাখি, অথবা কোন দুই দিন … এবং রাফ' (পেশ) হওয়াই অধিক শক্তিশালী।"
'লা' (না-বোধক অব্যয়) এর ইসিম বিলুপ্ত হওয়া। (১৩) এবং সহীহাইন-এ বর্ণিত হয়েছে: "রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এমন এক মজলিসে কুরআন তিলাওয়াত করলেন যেখানে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ উপস্থিত ছিল, তখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই বলল: এর চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই যদি আপনার কথা সত্য হয়; সুতরাং আমাদের মজলিসগুলোতে আমাদের কষ্ট দেবেন না এবং আপনার বাসস্থানে ফিরে যান, আর আমাদের মধ্য থেকে যারা আপনার কাছে আসবে তাদের কাছে আপনি বর্ণনা করুন।"
'আহসান' শব্দের রাফ' এবং নাসব হওয়ার ব্যাখ্যা (ক) তিনি -রহিমাহুল্লাহু তাআলা- বলেন: "লা আহসান মিন হাযা" (এর চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই) কথাটিতে দুইটি দিক রয়েছে:
প্রথমত: রাফ' হওয়া, অর্থাৎ এটি 'লা'-এর খবর, আর এর ইসিমটি বিলুপ্ত যার প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: "কোনো কিছুই এর চেয়ে সুন্দর নয়"। এটি কুরআনের সাবলীলতা ও সৌন্দর্যের প্রতি তার একটি স্বীকৃতি।
দ্বিতীয়ত: নাসব হওয়া, এবং এতে দুইটি দিক রয়েছে:
একটি হলো: এটি 'লা'-এর বিলুপ্ত ইসিমের সিফাত (গুণবাচক শব্দ), এবং "এর চেয়ে" অংশটি 'লা'-এর খবর।
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২২)
حذف خبر لَا وَيجوز أَن يكون الْخَبَر محذوفا، وَتَكون " من " مُتَعَلقَة بِأَحْسَن، أَي: لَا شَيْء أحسن من كَلَام هَذَا فِي الْكَلَام، أَو فِي الدُّنْيَا.
وَالثَّانِي: أَن يكون مَنْصُوبًا بِفعل مَحْذُوف تَقْدِيره أَلا فعلت أحسن من هَذَا؟ ! وَحذف همزَة الِاسْتِفْهَام لظُهُور مَعْنَاهَا.
تَوْجِيه رِوَايَة حذف النُّون (ب) وَفِيه: " وَلَقَد اصْطلحَ أهل هَذِه الْبحيرَة أَن يُتَوِّجُوهُ. فَيعصبُونَهُ بِالْعِصَابَةِ ".
قَالَ يرحمه الله تَعَالَى: الْوَجْه فِي رفع " يعصبونه بِالْعِصَابَةِ ". وَلَو روى فيعصبوه بِحَذْف النُّون لَكَانَ مَعْطُوفًا على يُتَوِّجُوهُ وَهُوَ صَحِيح الْمَعْنى.
النصب على الإغراء
(14) وَفِي مُسْند أَحْمد رحمه الله (فَلَمَّا سمع النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] جلبة النَّاس خَلفه قَالَ: " السكينَة رويدا أَيهَا النَّاس ".
قَالَ رحمه الله: " الْوَجْه: أَن تنصب " السكينَة " على الإغراء. الزموا السكينَة كَقَوْلِه: {عَلَيْكُم أَنفسكُم} . وَلَا يجوز الرّفْع؛ لِأَنَّهُ يصير خَبرا وَعند ذَلِك لَا يحسن أَن يَقُول: " رويدا أَيهَا النَّاس " لِأَنَّهُ لَا فَائِدَة فِيهِ أَيْضا ".
حذف الْفِعْل مَعَ بَقَاء الْمَفْعُول مَنْصُوبًا بِهِ
(15) وَفِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث أُسَامَة أَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] تَوَضَّأ فِي الشّعب فَقلت: يَا رَسُول الله، الصَّلَاة. قَالَ: (الصَّلَاة أمامك) .
'লা'-এর খবর উহ্য থাকা এবং খবরটি উহ্য থাকা বৈধ হতে পারে, আর "মিন" শব্দটি "আহসান" (অধিক উত্তম)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট হবে। অর্থাৎ: এই কথার চেয়ে উত্তম কোনো কিছু এই কথায় বা দুনিয়াতে নেই।
দ্বিতীয়ত: এটি একটি উহ্য ক্রিয়া দ্বারা মানসুব হতে পারে, যার সম্ভাব্য রূপ হলো: "তুমি কি এর চেয়ে উত্তম কিছু করোনি?!" আর অর্থ স্পষ্ট হওয়ার কারণে এখানে প্রশ্নবোধক হামযাহ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
'নুন' বিলুপ্ত হওয়ার বর্ণনার ব্যাখ্যা (খ) এতে রয়েছে: "এই জনপদের অধিবাসীরা তাকে মুকুট পরানোর ব্যাপারে একমত হয়েছিল। অতঃপর তারা তাকে পাগড়ি পরিয়ে দিয়েছিল।"
তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন: "ইউআস্সিবুনাহু বিল ইসাবাহ" শব্দটিতে রফ' (পেশ) হওয়ার নিয়মটি স্পষ্ট। আর যদি 'নুন' বিলুপ্ত করে "ফায়ুআস্সিবুহু" বর্ণিত হতো, তবে তা "ইউতাওয়্যিজুহু" শব্দটির ওপর আতফ বা সংযুক্ত হতো এবং এটি অর্থগতভাবে সঠিক হতো।
ইগরা বা উৎসাহিত করার কারণে মানসুব হওয়া
(১৪) মুসনাদে আহমাদে (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণিত হয়েছে: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পেছনে মানুষের শোরগোল শুনতে পেলেন, তখন তিনি বললেন: "ধীরস্থিরতা অবলম্বন করো, হে লোকসকল!"
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "নিয়ম হলো 'আস-সাকিনাহ' শব্দটিকে ইগরা (উৎসাহিতকরণ) হিসেবে মানসুব (যবর) পড়া। অর্থাৎ: তোমরা ধীরস্থিরতা অবলম্বন করো; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তোমাদের নিজেদের সংশোধন করো}। এখানে রফ' (পেশ) পড়া জায়েয নয়; কারণ তখন এটি খবর বা সংবাদ হয়ে যাবে, আর এমতাবস্থায় 'হে লোকসকল, ধীরে' বলাটি সঙ্গত হবে না, কারণ তখন এতে কোনো (বিশেষ) ফায়দাও থাকবে না।"
ক্রিয়া উহ্য থাকা সত্ত্বেও কর্মটি মানসুব থাকা
(১৫) বুখারি ও মুসলিম উভয় গ্রন্থে উসামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গিরিপথে অজু করলেন। তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, সালাত। তিনি বললেন: "সালাত তোমার সামনে (পরবর্তীতে) রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قَالَ رحمه الله: الْوَجْه النصب على تَقْدِير أُرِيد الصَّلَاة، أَو تصلى الصَّلَاة فَقَالَ لَهُ: مَا مَعْنَاهُ " الْآن لَا. بل نؤخرها إِلَى أَن نأتي بهَا مَعَ الْعشَاء الْأَخِيرَة بِالْمُزْدَلِفَةِ ". تَوْجِيه قَوْله [صلى الله عليه وسلم] : " إِن كَانَ لذَلِك فَلَا
… "
(16) وَفِي حَدِيثه أَن رجلا سَأَلَهُ عَن الْعَزْل فَقَالَ: لماذا؟ قَالَ إشفاقا على وَلَدهَا فَقَالَ: " إِن كَانَ لذَلِك فَلَا. مَا ضار ذَلِك فَارس وَلَا الرّوم ".
قَالَ الشَّيْخ رَحمَه الله تَعَالَى: التَّقْدِير: " لَا " يعْزل لهَذَا الْغَرَض؛ فَإِن فَارس وَالروم يطئون نِسَاءَهُمْ وَمن يرضعن، فَلَا يضيرهم ذَلِك ف " لَا " من تَمام الْجَواب، ثمَّ قَالَ: " مَا ضرّ ذَلِك فَارس ".
ضم ذال مُنْذُ لَا غير
(17) وَفِي حَدِيثه فِي حَدِيث جِبْرِيل: " لم يأتني مُنْذُ ثَلَاث "
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " هُوَ بِضَم الذَّال لَا غير. وَأما ثَلَاث فبالرفع لَا غير؛ لِأَنَّهُ ذكر ذَلِك يقدر مُدَّة الِانْقِطَاع أَي أمد ذَلِك ثَلَاث لَيَال، و " مُنْذُ " لَهَا موضعان:
مَجِيء " مُنْذُ " جَارة بِمَعْنى فِي للحاضر
أَحدهمَا: أَن تكون للحاضر بِمَعْنى فِي فَتكون حرف جر وتجر مَا بعْدهَا كَقَوْلِك: أَنْت عندنَا مُنْذُ الْيَوْم أَي فِي الْيَوْم.
مَجِيء مُنْذُ لبَيَان الْمدَّة
وَالثَّانِي: أَن تذكر لبَيَان الْمدَّة ثمَّ ينظر فِيهِ فَإِن ذكر بعْدهَا الْمدَّة من أَولهَا إِلَى آخرهَا رفعت
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) বলেছেন: ব্যাকরণগত দিক থেকে এখানে 'নসব' (ফাতহা) হওয়া সঠিক, এই উহ্য অর্থের ভিত্তিতে যে 'আমি সালাত আদায় করতে চাচ্ছি' অথবা 'সালাত আদায় করা হবে'। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: এর অর্থ হলো "এখন নয়, বরং আমরা একে বিলম্বিত করব যতক্ষণ না আমরা মুজদালিফায় পৌঁছে ইশার শেষ সময়ে তা আদায় করি।" তাঁর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বাণীর ব্যাখ্যা: "যদি তা সেই কারণে হয়, তবে না..."
(১৬) এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসে আছে যে, এক ব্যক্তি তাঁকে 'আজল' (সহবাসের সময় বীর্য বাইরে ফেলা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি বললেন: কেন? সে বলল: তার (স্ত্রীর) সন্তানের প্রতি মমতাবশত। তখন তিনি বললেন: "যদি তা সেই কারণে হয়, তবে না। এটি পারস্য বা রোমকদের কোনো ক্ষতি করেনি।"
শায়খ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর দয়া করুন) বলেছেন: উহ্য বিষয়টি হলো: এই উদ্দেশ্যে 'আজল' করা যাবে "না"; কারণ পারস্য ও রোমকরা তাদের স্ত্রীদের সাথে এবং যারা দুগ্ধদান করাচ্ছে তাদের সাথে সহবাস করে, অথচ তা তাদের কোনো ক্ষতি করে না। সুতরাং "না" শব্দটি উত্তরের পূর্ণতাদানকারী। অতঃপর তিনি বললেন: "তা পারস্যের কোনো ক্ষতি করেনি।"
'মুনজু' শব্দের যাল বর্ণে কেবল পেশ হওয়া
(১৭) এবং তাঁর বর্ণিত জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর হাদিসে রয়েছে: "তিনি তিন দিন যাবত আমার কাছে আসেননি।"
শায়খ (আল্লাহ তাঁর ওপর দয়া করুন) বলেছেন: "এটি কেবল 'যাল' বর্ণের 'জম্মাহ' (পেশ) যোগেই পড়তে হবে। আর 'সালাস' (তিন) শব্দটি কেবল 'রাফ' (পেশ) অবস্থায় হবে; কারণ তিনি বিচ্ছিন্ন থাকার সময়কাল উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ সেই সময়কাল হলো তিন রাত। আর 'মুনজু' (مُنْذُ) শব্দটির ব্যবহারের দুটি প্রেক্ষিত রয়েছে:
বর্তমান সময়ের ক্ষেত্রে 'ফী' (মধ্যে) অর্থে 'মুনজু' শব্দটির 'জার' হিসেবে আসা
প্রথমটি: এটি বর্তমান সময়ের জন্য 'ফী' অর্থে ব্যবহৃত হবে, তখন এটি হরফে জার হবে এবং তার পরবর্তী শব্দকে 'জার' (জের) প্রদান করবে। যেমন আপনার উক্তি: "তুমি আজ (মুনজুল ইয়াওম) থেকে আমাদের কাছে আছ", অর্থাৎ "আজকের দিনে"।সময়কাল বর্ণনার জন্য 'মুনজু' শব্দটির ব্যবহার
দ্বিতীয়টি: এটি সময়কাল বর্ণনার জন্য উল্লিখিত হবে। অতঃপর এতে লক্ষ্য করা হবে যে, যদি এর পরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ সময়কাল উল্লেখ করা হয়, তবে তা 'রাফ' (পেশ) হবে।
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الْمدَّة لَا غير كَقَوْلِك: مَا رَأَيْته مُنْذُ يَوْمَانِ ومنذ شهر؛ وَإِن ذكرتها لابتداء مُدَّة الِانْقِطَاع كَقَوْلِك: مَا رَأَيْته مُنْذُ يَوْم الْجُمُعَة، رفعت ذَلِك أَيْضا على تَقْدِير رَأَيْت ذَلِك يَوْم الْجُمُعَة. وَيجوز الْجَرّ على ضعف بِمَعْنى من ".
مَجِيء إِذا للمفاجأة وَتَكون ظرف مَكَان
(18) وَفِي حَدِيثه قَوْله [صلى الله عليه وسلم] : " قُمْت على بَاب الْجنَّة فَإِذا عَامَّة من دَخلهَا الْمَسَاكِين وَإِذا أَصْحَاب الْجد محبوسون ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: إِذا هَهُنَا للمفاجأة وَهِي ظرف مَكَان. والجيد هَهُنَا أَن ترفع الْمَسَاكِين على أَنه خبر " عَامَّة من يدخلهَا " وَكَذَلِكَ يرفع " محبوسون " على أَنه الْخَبَر " وَإِذا " ظرف للْخَبَر، وَيجوز أَن تنصب " محبوسين " على الْحَال، وَتجْعَل " إِذا " خَبرا، وَالتَّقْدِير: فبالحضرة أَصْحَاب الْجد. فَيكون " محبوسين " حَالا، وَالرَّفْع أَجود، وَالْعَامِل فِي الْحَال إِذا مَا يتَعَلَّق بِهِ من الِاسْتِقْرَار. وَأَصْحَاب صَاحب الْحَال.
إِعْرَاب مَا بعد إِنَّمَا
(19) وَفِي حَدِيثه فِي حَدِيث وَفَاة إِبْرَاهِيم: " إِنَّمَا يرحم الله من عباده الرُّحَمَاء ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: يجوز فِي " الرُّحَمَاء " النصب على أَن تكون مَا كَافَّة كَقَوْلِه تَعَالَى: {إِنَّمَا حرم عَلَيْكُم الْميتَة وَالدَّم} .
وَالرَّفْع على تَقْدِير: إِن الَّذِي يرحمه الله، وأفرد على معنى الْجِنْس كَقَوْلِه تَعَالَى: {كَمثل الَّذِي استوقد نَارا} ثمَّ قَالَ: {ذهب الله بنورهم} . وَقد أفردت هَذِه الْمَسْأَلَة بالْكلَام وَذكرت [فِي مَا] وُجُوهًا كَثِيرَة فِي جُزْء مُفْرد.
শুধুমাত্র সময়কাল বোঝাতে, যেমন আপনার বক্তব্য: 'আমি তাকে দুই দিন কিংবা এক মাস যাবৎ দেখিনি'; আর যদি বিচ্ছিন্নতার সময়কালের সূচনা বুঝাতে এটি উল্লেখ করেন, যেমন আপনার বক্তব্য: 'আমি তাকে জুমার দিন থেকে দেখিনি', তবে সেক্ষেত্রেও এটি রফ' হবে এই অনুমানে যে, 'আমি তাকে জুমার দিনে দেখেছি'। আর 'মিন' (থেকে) অর্থে যর (জের) হওয়াও জায়েজ আছে, যদিও তা ব্যাকরণগতভাবে দুর্বল।
আকস্মিকতা প্রকাশার্থে 'ইযা' (إِذا) এর ব্যবহার এবং এটি স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ হওয়া
(১৮) তাঁর বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "আমি জান্নাতের দরজায় দাঁড়ালাম, হঠাৎ দেখলাম যারা সেখানে প্রবেশ করেছে তাদের অধিকাংশই দরিদ্র, আর বিত্তবানরা তখনো অবরুদ্ধ ছিল।"
শাইখ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: এখানে 'ইযা' আকস্মিকতা প্রকাশের জন্য এসেছে এবং এটি একটি স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ। এখানে উত্তম হলো 'আল-মাসাকিন' শব্দটিকে 'জান্নাতে প্রবেশকারীদের অধিকাংশই'—এর খবর (বিধেয়) হিসেবে রফ' করা। একইভাবে 'মাহবুসুন' শব্দটিকেও খবর হিসেবে রফ' করা হবে এবং 'ইযা' খবরের জন্য জরফ (আধার) হবে। 'মাহবুসিন' শব্দটিকে হাল (অবস্থা) হিসেবে নসব করাও জায়েজ, সেক্ষেত্রে 'ইযা'-কে খবর ধরা হবে এবং এর প্রচ্ছন্ন রূপ হবে: তখন উপস্থিত ছিল বিত্তবানরা। এমতাবস্থায় 'মাহবুসিন' হাল হবে, তবে রফ' করা অধিকতর উত্তম। হালের আমিল (প্রভাবক) হবে 'ইযা'-র সাথে সংশ্লিষ্ট স্থিতিশীলতা। আর 'আসহাব' হলো হালের অধিকারী (সাহিবুল হাল)।
'ইন্নামা' (إِنَّمَا)-এর পরবর্তী শব্দের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ
(১৯) ইব্রাহিমের ইন্তেকাল বিষয়ক হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে কেবল দয়ালুদের প্রতিই দয়া করেন।"
শাইখ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: 'আর-রুহামা' শব্দটিতে নসব হওয়া জায়েজ এই ভিত্তিতে যে, এখানে 'মা' হবে আমল-প্রতিরোধক, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের ওপর মৃত জন্তু ও রক্ত হারাম করেছেন}।
আর রফ' হওয়া জায়েজ এই অনুমানে যে: 'নিশ্চয়ই যাকে আল্লাহ দয়া করেন...', এবং এখানে জাতিবাচক অর্থের কারণে একবচন ব্যবহার করা হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তার উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো যে আগুন জ্বালিয়েছে}, এরপর তিনি বলেছেন: {আল্লাহ তাদের জ্যোতি কেড়ে নিয়েছেন}। আমি এই মাসয়ালাটি আলোচনার জন্য আলাদা করেছি এবং একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকায় এর অনেকগুলো দিক উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
[3]
مُسْند أُسَامَة بن شريك العامري
إِعْرَاب مَا بعد كَأَنَّمَا
(20) وَفِي حَدِيث أُسَامَة بن شريك العامري: " كَأَنَّمَا على رُءُوسهم الطير ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " يجوز أَن تجْعَل " مَا " كَافَّة فَترفع " الطير " بِالِابْتِدَاءِ و " على رُءُوسهم " الْخَبَر وَبَطل عمل كَأَن بالكف. وَيجوز أَن تجْعَل مَا " زَائِدَة " وتنصب " الطير " بكأن. و " على رُءُوسهم " خَبَرهَا ".
إِعْرَاب غير وَمَا بعْدهَا
(21) وَفِيه قَوْله عليه السلام: " فَإِن الله لم يضع دَاء إِلَّا وضع لَهُ دَوَاء غير دَاء وَاحِد الْهَرم ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " لَا يجوز فِي " غير " هَهُنَا إِلَّا النصب على الِاسْتِثْنَاء من دَاء.
تَوْجِيه ضبط الْهَرم مُثَلّثَة الْمِيم وَأما " الْهَرم " فَيجوز فِيهِ الرّفْع على تَقْدِير: " هُوَ الْهَرم " والجر على الْبَدَل من دَاء الْمَجْرُور بِغَيْر، وَالنّصب على إِضْمَار أَعنِي.
حذف همزَة الِاسْتِفْهَام لظُهُور مَعْنَاهُ.
فَكَانَ أُسَامَة يَقُول - حِين كبر -: " ترَوْنَ لي من دَوَاء؟ ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: يجوز فِي " ترَوْنَ " فتح التَّاء وَضمّهَا. وَالتَّقْدِير: أَتَرَوْنَ؟ وَلكنه حذف همزَة الِاسْتِفْهَام لظُهُور مَعْنَاهَا. وَلَا بُد من تَقْدِيره؛ لأمرين:
أَحدهمَا: أَنه لم [يُحَقّق] أَنهم لم يعرفوا لَهُ دَوَاء.
وَالثَّانِي: أَنه زَاد فِيهِ: " من " وَمن لَا تزاد فِي الْوُجُوب وَإِنَّمَا تزاد فِي النَّفْي والاستفهام وَالنَّهْي ".
[৩]উসামাহ ইবনে শারীক আল-আমিরীর মুসনাদ কাআন্নামা-এর পরবর্তী শব্দের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (২০) উসামাহ ইবনে শারীক আল-আমিরীর বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "তাদের মাথার উপরে যেন পাখি বসে আছে।"
শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এখানে ‘মা’-কে ‘কাফফাহ’ (কার্যকারিতা রহিতকারী) হিসেবে গণ্য করা জায়েয, এমতাবস্থায় ‘আত-তায়র’ শব্দটি মুবতাদা হওয়ার কারণে রাফা (পেশ) প্রাপ্ত হবে এবং ‘আলা রুউসিহিম’ অংশটি খবর হবে। এমতাবস্থায় ‘মা’ এর কারণে ‘কাআন্না’-এর ব্যাকরণিক কার্যকারিতা বাতিল হয়ে যাবে। আবার ‘মা’-কে ‘জাইদাহ’ (অতিরিক্ত) ধরাও জায়েয, এমতাবস্থায় ‘কাআন্না’-এর প্রভাবে ‘আত-তায়র’ শব্দটি নসব (জবর) প্রাপ্ত হবে এবং ‘আলা রুউসিহিম’ অংশটি এর খবর হবে।"
গাইরু এবং এর পরবর্তী শব্দের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (২১) এতে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী রয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন কোনো রোগ দেননি যার প্রতিকার তিনি দেননি, তবে একটি রোগ ব্যতীত—আর তা হলো বার্ধক্য।"
শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এখানে ‘দাউন’ থেকে ‘ইসতিসনা’ (ব্যতিক্রম) হওয়ার ভিত্তিতে ‘গাইরু’ শব্দটিতে নসব (জবর) পড়া ব্যতীত অন্য কিছু জায়েয নেই।"
‘আল-হারাম’ শব্দের শেষাক্ষরের হরকতের বিশ্লেষণ আর ‘আল-হারাম’ শব্দটির ক্ষেত্রে ‘হুওয়াল হারাম’ (সেটি হলো বার্ধক্য) উহ্য ধরে নিয়ে রাফা (পেশ) পড়া জায়েয। আবার ‘গাইরু’-এর পরবর্তী শব্দ হিসেবে মাজরুর (জেরযুক্ত) হওয়া ‘দাউন’ থেকে ‘বদল’ হিসেবে যার (জের) পড়াও জায়েয। এছাড়া ‘আ’নী’ (আমি উদ্দেশ্য করছি) ক্রিয়াটিকে উহ্য ধরে নিয়ে নসব (জবর) পড়াও জায়েয।
অর্থ স্পষ্ট হওয়ার কারণে প্রশ্নবোধক হামজা বিলুপ্ত করা উসামাহ যখন বৃদ্ধ হলেন তখন বলতেন: "তোমরা কি আমার জন্য কোনো ঔষধ দেখছ?"
শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ‘তারাওনা’ শব্দটিতে প্রারম্ভিক বর্ণের উপর জবর অথবা পেশ উভয়ই জায়েয। এর মূল গঠন ছিল ‘আ-তারাওনা’। কিন্তু অর্থ স্পষ্ট হওয়ার কারণে এখানে প্রশ্নবোধক হামজাটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। দুইটি কারণে এখানে হামজা উহ্য ধরা আবশ্যক: প্রথমত, এটি নিশ্চিত নয় যে তারা তার কোনো ঔষধ জানতেন না। দ্বিতীয়ত, এখানে ‘মিন’ অতিরিক্ত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে; আর ‘মিন’ কেবল নেতিবাচক, প্রশ্নবোধক এবং নিষেধবাচক বাক্যে অতিরিক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়, ইতিবাচক বা সাধারণ বর্ণনামূলক বাক্যে নয়।
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
مُسْند أُسَامَة بن عُمَيْر الْهُذلِيّ
جَوَاز فتح همزَة أَن وَكسرهَا بعد " يُنَادي "
(22) [وَفِي حَدِيث أُسَامَة بن عُمَيْر الْهُذلِيّ فَأمر النَّبِي مناديه] : " إِن الصَّلَاة فِي الرّحال ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " يجوز فِي " إِن " الْفَتْح على تَقْدِير يُنَادي بِالصَّلَاةِ فِي الرّحال، أَي نَادَى بذلك. وَالْكَسْر على تَقْدِير: فَقَالَ: إِن الصَّلَاة؛ لِأَن النداء قَول، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: {فنادته الْمَلَائِكَة} . ثمَّ قَالَ: {أَن الله يبشرك} قرئَ بِالْفَتْح وَالْكَسْر، وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى: {نُودي يَا مُوسَى إِنِّي} . بِالْوَجْهَيْنِ، وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى: {فَدَعَا ربه أَنِّي مغلوب فانتصر} ".
[5]
مُسْند أبي رَافع مولى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] واسْمه " أسلم "
مَا ينصب على الِاخْتِصَاص
(23) وَفِي حَدِيث أبي رَافع مولى رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ، وَقَوله [صلى الله عليه وسلم] : " إِنَّا - آل مُحَمَّد - لَا تحل لنا الصَّدَقَة ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " آل " بإضمار أَعنِي، وأخص، وَلَيْسَ بمرفوع على أَنه خبر إِن [لِأَن ذَلِك مَعْلُوم لَا يحْتَاج إِلَى ذكره وَخبر إِن:] " لَا تحل لنا الصَّدَقَة ".
উসামা ইবনে উমাইর আল-হুযালী (রা.)-এর মুসনাদ 'ইউনাদি' (ঘোষণা করা) ক্রিয়ার পর 'আন্না'-এর হামযাহ-কে ফাতহাহ ও কাসরাহ দিয়ে পড়ার বৈধতা (২২) [উসামা ইবনে উমাইর আল-হুযালী (রা.)-এর হাদিসে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ঘোষণাকারীকে আদেশ করলেন]: "নিশ্চয়ই সালাত আবাসস্থলেই আদায় করো।"
শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এখানে 'ইন্না' (إِن)-এর হামযাহ-কে ফাতহাহ (যবর) দিয়ে পড়া জায়েয, এই অর্থে যে—আবাসস্থলে সালাত আদায়ের ঘোষণা দেয়া হয়েছে; অর্থাৎ তিনি এই ঘোষণা দিয়েছেন। আবার একে কাসরাহ (যের) দিয়ে পড়াও জায়েয এই অর্থে যে—অতঃপর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই সালাত...; কারণ 'নিদা' (আহ্বান বা ঘোষণা) এক প্রকারের বক্তব্য। এর প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর ফেরেশতারা তাঁকে ডেকে বললেন}। এরপর পাঠ করা হয়েছে: {আল্লাহ তোমাকে সুসংবাদ দিচ্ছেন}—এটি ফাতহাহ ও কাসরাহ উভয়ভাবেই পাঠ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {তাঁকে ডাকা হলো—হে মূসা, নিশ্চয়ই আমি...}—এখানেও উভয় পদ্ধতি (ফাতহাহ ও কাসরাহ) প্রয়োগযোগ্য। তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি তাঁর রবকে ডাকলেন যে, নিশ্চয়ই আমি পরাজিত, অতএব আপনি সাহায্য করুন}।"
[৫] রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুক্তদাস আবু রাফে' (রা.)-এর মুসনাদ, তাঁর নাম হলো "আসলাম" যা 'ইখতিসাস' (বিশেষত্ব আরোপ) হিসেবে মানসুব (যবরযুক্ত) হয় (২৩) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মুক্তদাস আবু রাফে' (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমরা—মুহাম্মাদের পরিজন—আমাদের জন্য সদকা হালাল নয়।"
শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এখানে 'আল' (পরিজন) শব্দটি 'আ'নী' (অর্থাৎ) অথবা 'আখাসসু' (আমি বিশেষভাবে বুঝাচ্ছি) ক্রিয়া উহ্য থাকার কারণে মানসুব হয়েছে। এটি 'ইন্না'-এর খবর (বিধেয়) হিসেবে মারফু (পেশযুক্ত) নয়; [কেননা তা সুপরিচিত হওয়ায় উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই, আর 'ইন্না'-এর মূল খবর হলো:] 'আমাদের জন্য সদকা হালাল নয়'।"
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وَمِنْه قَول الشَّاعِر:
(نَحن - بني ضبة - أَصْحَاب الْجمل
… )
وَهُوَ // (كثير فِي الشّعْر) //
[6]
مُسْند أسيد بن نصير
مَا يصرف وَلَا يصرف
(24) وَفِي حَدِيث أسيد بن حضير: عَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] أَنه قَالَ: " الصَّلَاة فِي مَسْجِد قبَاء كعمرة ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " الْجيد فِي قبَاء الصّرْف ووزنه فعال [وَهُوَ على هَذَا مُذَكّر وَمِنْهُم] . من لَا " يصرفهُ " يَجعله اسْما للبقعة مؤنثا.
[7]
مُسْند الْأَشْعَث بن قيس الْكِنْدِيّ
لَا يجوز غير الرّفْع
(25) وَفِي حَدِيث الْأَشْعَث بن قيس الْكِنْدِيّ: أَن النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] قَالَ: " لَا يشْكر الله من لَا يشْكر النَّاس ".
এর অন্তর্ভুক্ত হলো কবির উক্তি:
(আমরা - বনু দ্বাব্বাহ - উষ্ট্রারোহী
… )
এবং এটি // (কবিতায় প্রচুর) //
[৬]
উসাইদ ইবনে নুদাইরের মুসনাদ
যা তানভীন গ্রহণ করে এবং যা করে না
(২৪) এবং উসাইদ ইবনে হুদাইরের হাদিসে বর্ণিত: নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "কুবা মসজিদে সালাত আদায় করা একটি উমরার সমতুল্য।"
শাইখ (রহ.) বলেন: "'কুবা' শব্দে তানভীন প্রদান করাই উত্তম এবং এর ওজন হলো 'ফুয়াল' [এই হিসেবে এটি পুংলিঙ্গ]। আর তাদের মধ্যে এমনও আছেন যারা এতে তানভীন প্রদান করেন না (গায়রে মুনসারিফ পড়েন), তারা একে নির্দিষ্ট স্থানের নাম হিসেবে গণ্য করে স্ত্রীলিঙ্গ সাব্যস্ত করেন।"
[৭]
আশ'আস ইবনে কায়স আল-কিন্দীর মুসনাদ
রফ’ (পেশ) ব্যতীত অন্য কিছু জায়েজ নয়
(২৫) এবং আশ'াস ইবনে কায়স আল-কিন্দীর হাদিসে বর্ণিত: নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।"
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " الرّفْع فِي الشُّكْر فِي الْمَوْضِعَيْنِ لَا يجوز غَيره؛ لِأَنَّهُ خبر وَلَيْسَ بنهي وَلَا شَرط، وَمن بِمَعْنى الَّذِي ".
إِضْمَار الْفِعْل، وإضمار الْمُبْتَدَأ
(26) وَفِي حَدِيثه: أَنه خَاصم رجلا فِي بِئْر فَقَالَ لَهُ رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] : " بينتك أَنَّهَا بئرك وَإِلَّا فيمينه ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: الْوَجْه " بينتك " بِالنّصب على تَقْدِير هَات، أَو أحضر، وَأَنَّهَا بِالْفَتْح لَا غير، وَالْكَسْر خطأ فَاحش.
جَوَاز النصب وَالرَّفْع فِي كلمة " فيمينه "
وَقَوله: " وَإِلَّا فيمينه " يجوز فِيهِ النصب على تَقْدِير: وَإِلَّا فاستوف يَمِينه، وَالرَّفْع على تَقْدِير: وَإِلَّا ذَلِك يَمِينه على الِابْتِدَاء وَالْخَبَر ".
[8]
مُسْند أُميَّة بن مخشي الْخُزَاعِيّ
حذف الْمُضَاف وَإِقَامَة الْمُضَاف إِلَيْهِ مقَامه
(27) وَفِي حَدِيث أُميَّة بن مخشي الْخُزَاعِيّ: قَوْله فِي أكل الطَّعَام: " باسم الله أَوله وَآخره ".
قَالَ الشَّيْخ رَحمَه الله تَعَالَى: " الْجيد " النصب " فيهمَا وَالتَّقْدِير: عِنْد أَوله وَعند آخِره. فَحذف عِنْد وَأقَام الْمُضَاف إِلَيْهِ مقَامه، وَيجوز أَن يكون التَّقْدِير: الْآتِي بِالتَّسْمِيَةِ أَوله وَآخره.
وَيجوز الْجَرّ على تَقْدِير: فِي، أَي: فِي أَوله وَآخره.
শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "উভয় স্থানেই 'আশ-শুকর' শব্দে রফ (পেশ) হওয়া ছাড়া অন্য কিছু জায়েজ নয়; কারণ এটি একটি সংবাদ (খবর), কোনো নিষেধ (নাহি) বা শর্ত নয়, আর এখানে 'মান' শব্দটি 'আল্লাজি' (যে/যিনি) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।"
ক্রিয়া এবং মুক্তাদা উহ্য রাখা
(২৬) এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: তিনি একটি কূপ নিয়ে এক ব্যক্তির সাথে বিবাদে লিপ্ত হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাকে বললেন: "তোমার প্রমাণ উপস্থাপন করো যে এটি তোমার কূপ, অন্যথায় তার শপথ (বিবেচ্য হবে)।"
শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: বিশুদ্ধ ভাষ্য হলো "বাইনাতাকা" শব্দটিতে নসব (যবর) হওয়া, যা 'নিয়ে এসো' বা 'উপস্থিত করো' ক্রিয়া উহ্য থাকার ভিত্তিতে হয়। আর "আন্নাহা" শব্দটিতে কেবল ফাতহা (যবর) হবে, এখানে কাসরা (জের) দেওয়া মারাত্মক ভুল।
"ফাইয়ামিনুহু" শব্দটিতে নসব ও রফ পড়ার বৈধতা এবং তাঁর উক্তি: "ওয়া ইল্লা ফাইয়ামিনুহু" (অন্যথায় তার শপথ) - এতে নসব (যবর) পড়া জায়েজ, যা "অন্যথায় তুমি তার শপথ গ্রহণ করো" উহ্য থাকার ভিত্তিতে হয়। আর রফ (পেশ) পড়া জায়েজ "অন্যথায় সেটি তার শপথ" উহ্য থাকার ভিত্তিতে, যা মুক্তাদা ও খবর হিসেবে গণ্য হবে।
[৮]
উমাইয়া বিন মাখশি আল-খুজাই-এর মুসনাদ
মুদাফ বিলুপ্ত করা এবং তার পরিবর্তে মুদাফ ইলাইহিকে স্থলাভিষিক্ত করা
(২৭) এবং উমাইয়া বিন মাখশি আল-খুজাই বর্ণিত হাদিসে খাবার খাওয়ার বিষয়ে তাঁর উক্তি: "বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু" (আল্লাহর নামে এর শুরুতে ও শেষে)।
শাইখ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: "উভয় শব্দে 'নসব' (যবর) পড়াই উত্তম। এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: 'এর শুরুর সময়ে এবং এর শেষ সময়ে'। এখানে 'সময়ে' (ইন্দা) শব্দটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং 'মুদাফ ইলাইহি'-কে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। আবার এর প্রচ্ছন্ন রূপ এমন হওয়াও সম্ভব: 'শুরুতে ও শেষে বিসমিল্লাহ পাঠকারী'।"
এবং 'মধ্যে' (ফি) প্রচ্ছন্ন থাকার ভিত্তিতে 'জার' (জের) পড়াও জায়েজ; অর্থাৎ: এর শুরুতে ও শেষে।
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
[9]
مُسْند أنس بن مَالك
تسع قضايا نحوية فِي حَدِيث الشَّفَاعَة
(28) وَفِي حَدِيث أنس بن مَالك أَنه قَالَ: " يجمع النَّاس يَوْم الْقِيَامَة فيلهمون ذَلِك فَيَقُولُونَ: لَو اسْتَشْفَعْنَا على رَبنَا ".
(أ) قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " ذَلِك " إِشَارَة إِلَى الْمَذْكُور بعده وَهُوَ حَدِيث الشَّفَاعَة، وَيجوز أَن يكون قد جرى ذكره قبل، فَأَشَارَ بذلك إِلَيْهِ ثمَّ ذكر " بعده " مِنْهُ طَائِفَة.
تَعديَة اسْتَشْفَعْنَا بعلى (ب) وَأما قَوْله: " على رَبنَا " فَهُوَ عدي " اسْتَشْفَعْنَا " بعلى، وَهِي فِي الْأَكْثَر تتعدى بإلى لِأَن معنى استشفعت: توسلت فيتعدى بإلى، وَمَعْنَاهَا أَيْضا استعنت وَهَذَا الْفِعْل يتَعَدَّى بعلى [وَمَعْنَاهَا أَيْضا تحملت] ، يُقَال: استشفعت إِلَيْهِ، واستعنت، وتحملت: عَلَيْهِ، بِمَعْنى وَاحِد، وَمن هَذَا قَول الشَّاعِر:
(إِذا رضيت على بَنو قُشَيْر
… - لعمر أَبِيك - أعجبني رِضَاهَا)
[৯] আনাস বিন মালিকের মুসনাদ শাফায়াতের হাদিসে নয়টি ব্যাকরণিক মাসআলা (২৮) আনাস বিন মালিকের বর্ণিত হাদিসে রয়েছে যে তিনি বলেন: "কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্রিত করা হবে, তখন তাদের অন্তরে এই ইলহাম (প্রেরণা) দেওয়া হবে। অতঃপর তারা বলবে: যদি আমরা আমাদের রবের নিকট শাফায়াত বা সুপারিশের আবেদন করতাম।"
(ক) শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যালিকা" (ঐটি) শব্দটি পরবর্তী আলোচনার দিকে ইঙ্গিত করছে এবং তা হলো শাফায়াতের হাদিস। আবার এটিও হতে পারে যে এর উল্লেখ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তাই তিনি এর মাধ্যমে সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং এরপর তার একটি অংশ উল্লেখ করেছেন।
‘আলা’ অব্যয়ের মাধ্যমে ‘ইস্তাশফানা’ ক্রিয়ার সকর্মক হওয়া (খ) আর তাঁর উক্তি: "আমাদের রবের নিকট" (আলা রব্বিনা), এখানে 'ইস্তাশফানা' (আমরা শাফায়াত চাই) ক্রিয়াটিকে ‘আলা’ অব্যয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ‘ইলা’ অব্যয়ের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়। কারণ ‘ইস্তাশফাতু’ (আমি সুপারিশ চেয়েছি) এর অর্থ হলো ‘তাওয়াসসালতু’ (আমি মাধ্যম গ্রহণ করেছি), যা ‘ইলা’ অব্যয় গ্রহণ করে। আবার এর অর্থ ‘ইস্তাআনতু’ (আমি সাহায্য চেয়েছি)-ও হয়, আর এই ক্রিয়াটি ‘আলা’ অব্যয় গ্রহণ করে [এর অর্থ ‘তাহাম্মালতু’ (আমি ভার বহন করেছি)-ও হয়]। বলা হয়: ‘ইস্তাশফাতু ইলাইহি’, ‘ইস্তাআনতু আলাইহি’ এবং ‘তাহাম্মালতু আলাইহি’ — সবকটি একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ থেকেই কবির উক্তিটি এসেছে:
(যখন বনু কুশাইর গোত্র আমার ওপর সন্তুষ্ট হয় —তোমার পিতার জীবনের শপথ— তখন তাদের সন্তুষ্টি আমাকে মুগ্ধ করে।)
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
اسْتِعْمَال هُنَا للزمان وَالْمَكَان فعداه بعلى. قَالَ أَبُو عُبَيْدَة: إِنَّمَا سَاغَ ذَلِك لِأَن مَعْنَاهُ: أَقبلت عَليّ.
(ج) قَوْله وَفِيه: " لست هُنَاكُم ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: " هُنَا " فِي الأَصْل ظرف مَكَان، وَقد اسْتعْملت للزمان، وَمَعْنَاهَا هَهُنَا: عِنْدِي، لست عِنْد حَاجَتكُمْ أمنعكم، وَالْكَاف وَالْمِيم " لخطاب " الْجَمَاعَة.
حذف حرف الْجَرّ للْعلم بِهِ (د) وَقَوله: " فيستحي ربه عز وجل من ذَلِك ".
قَالَ الشَّيْخ رَحمَه الله تَعَالَى: الأَصْل: من ربه. فَحذف " من " للْعلم بهَا كَقَوْلِه تَعَالَى: {وَاخْتَارَ مُوسَى قومه سبعين رجلا} . وَيجوز أَلا يكون فِيهِ حذف وَيكون الْمَعْنى يخْشَى ربه، أَو يخَاف ربه؛ لِأَن الاستحياء والخشية بِمَعْنى ".
حذف الْمُبْتَدَأ (هـ) قَوْله: " ائْتُوا مُوسَى عبد الله " تَقْدِيره: " هُوَ عبد الله " وَلَو نصب جَازَ على الْبَدَل، وعَلى الْحَال. وَالرَّفْع أفخم ".
(و) وَقَوله: " " ائْتُوا عِيسَى عبد الله " الرّفْع فِيهِ أَجود كَمَا رفع فِيمَا قبله على التَّعْظِيم، وَيجوز النصب على الْبَدَل أَو الصّفة ".
(ز) وَفِيه: " " ائْتُوا مُحَمَّدًا -[صلى الله عليه وسلم]- عبدا غفر الله لَهُ " فنصب هَهُنَا على الْبَدَل، أَو الْحَال على إِضْمَار أعنى، وَلَو رفع كَمَا رفع " عبد كَلمه الله " لجَاز ".
وُقُوع الْمصدر المؤول بدل اشْتِمَال (ح) وَقَوله: " أنْتَظر أمتِي تعبر الصِّرَاط ".
التَّقْدِير: أنْتَظر أمتِي أَن تعبر [على الصِّرَاط] فَأن وَالْفِعْل فِي تَقْدِير مصدر مَوْضِعه نصب بَدَلا من الْأمة بدل الاشتمال وَلما حذف أَن رفع أنْتَظر. ونصبه جَائِز.
تعدد الْخَبَر (ط) وَفِيه: " فالخلق ملجمون فِي الْعرق " يجوز أَن يكون الْمَعْنى أَنهم فِي الْعرق ملجمون
স্থান ও কালের ক্ষেত্রে ‘হুনা’ শব্দের ব্যবহার ফলে তিনি একে ‘আলা’ অব্যয় দ্বারা সকর্মক করেছেন। আবু উবাইদাহ বলেন: এটি করা সংগত হয়েছে কারণ এর অর্থ হলো: তুমি আমার দিকে অগ্রসর হয়েছ।
(জ) তাঁর কথা এবং এতে রয়েছে: “আমি তোমাদের সেই অবস্থানে নেই।”
শাইখ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ‘হুনা’ মূলত স্থানের বিশেষ্য, তবে এটি সময়ের জন্যও ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে এর অর্থ হলো: আমার নিকট; আমি তোমাদের প্রয়োজনে তোমাদেরকে রক্ষা করার জন্য সেখানে নেই। আর ‘কাফ’ ও ‘মিম’ বহুবচনকে সম্বোধনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
স্পষ্ট হওয়ার কারণে অব্যয় বিলুপ্ত হওয়া (দ) তাঁর কথা: “এতে তাঁর প্রতিপালক মহামহিম ও মহিমান্বিত লজ্জা বোধ করেন।”
শাইখ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: মূল বাক্যটি ছিল: ‘তাঁর প্রতিপালক হতে’। এখানে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কারণে ‘হতে’ অব্যয়টি বিলুপ্ত করা হয়েছে, যেমন আল্লাহ তায়ালার বাণী: {আর মূসা তাঁর কওম (হতে) সত্তর জন লোক বেছে নিলেন}। এটাও বৈধ যে, এখানে কোনো কিছু বিলুপ্ত হয়নি এবং এর অর্থ হবে: সে তার প্রতিপালককে ভয় পায় বা শঙ্কা করে; কারণ লজ্জা ও ভয় এখানে একই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
মুক্তাদা বা উদ্দেশ্য বিলুপ্ত হওয়া (হ) তাঁর কথা: “তোমরা আল্লাহর বান্দা মূসার নিকট যাও।” এর উহ্য রূপ হলো: “তিনি আল্লাহর বান্দা।” যদি এটি নসব বা যবর যুক্ত হতো, তবে তা ‘বদল’ বা ‘হাল’ হিসেবে বৈধ হতো। তবে রফ বা পেশ হওয়া অধিক মহিমান্বিত।
(ও) তাঁর কথা: “তোমরা আল্লাহর বান্দা ঈসার নিকট যাও।” এতেও রফ হওয়া উত্তম, যেমনটি সম্মান প্রদর্শনার্থে পূর্বের বাক্যে রফ করা হয়েছে। এছাড়া বদল বা গুণবাচক শব্দ হিসেবে নসব হওয়াও জায়েজ।
(য) এতে রয়েছে: “তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট যাও, এমন একজন বান্দা যার গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।” এখানে ‘বান্দা’ শব্দটি বদল অথবা ‘আমি উদ্দেশ্য করছি’ এমন ক্রিয়া উহ্য থাকার ভিত্তিতে ‘হাল’ হিসেবে নসব হয়েছে। যদি এটি ‘আল্লাহর সাথে কথা বলা বান্দা’ বাক্যের ন্যায় রফ বা পেশ যুক্ত হতো, তবে তাও জায়েজ হতো।
ব্যাখ্যাকৃত ক্রিয়ামূল বা মাসদারে মুআউওয়াল ‘বদলে ইশতিমাল’ হিসেবে হওয়া (হ) তাঁর কথা: “আমি আমার উম্মতের জন্য অপেক্ষা করছি যে তারা সিরাত পার হবে।”
উহ্য রূপ হলো: “আমি আমার উম্মতকে সিরাত পার হওয়ার প্রতীক্ষা করছি।” এখানে ‘যে’ এবং পরবর্তী ক্রিয়াটি মিলে মাসদারের অর্থে ‘উম্মত’ শব্দের ‘বদলে ইশতিমাল’ হিসেবে নসবের স্থানে রয়েছে। যখন ‘যে’ (আন) বিলুপ্ত করা হলো, তখন ‘আমি প্রতীক্ষা করছি’ শব্দটি রফ বা পেশ যুক্ত হলো। তবে একে নসব করাও জায়েজ।
একাধিক খবর বা বিধেয় হওয়া (ত) এতে রয়েছে: “সৃষ্টিজগত ঘামে লাগামবদ্ধ হবে।” এর অর্থ এমন হওয়াও সম্ভব যে, তারা ঘামের মধ্যে থাকা অবস্থায় লাগামবদ্ধ হবে।
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بِغَيْرِهِ. فَيكون " فِي الْعرق " خَبرا عَن الْخلق، وملجمون خَبرا آخر. وَيجوز أَن تكون فِي بِمَعْنى الْبَاء وَيكون الْعرق ألجمهم.
إِثْبَات النُّون مَعَ حَتَّى ضَرُورَة
(29) وَفِي حَدِيث أنس [من] حَدِيث الْغَار:
(أ) قَوْله: " إِنَّه كَانَ لي والدان فَكنت أحلب لَهما فِي إنائهما، فآتيهما فَإِذا وجدتهما راقدين قُمْت على رءوسهما كَرَاهِيَة أَن أرد سنتهما حَتَّى يستيقظان مَتى استيقظا " هَكَذَا وَقع فِي هَذِه الرِّوَايَة حَتَّى يستيقظان بالنُّون وَفِيه عدَّة أوجه:
أَحدهمَا: أَن يكون ذَلِك سَهوا من الروَاة، وَقد وَقع ذَلِك مِنْهُم كثيرا. وَالْوَجْه حذفهَا بحتى؛ لِأَن مَعْنَاهَا إِلَى أَن، وَيتَعَلَّق بقمت.
وَالْوَجْه الثَّانِي: أَن يكون ذَلِك على مَا فِي شذوذ الشّعْر.
قَالَ الشَّاعِر:
(يَا صَاحِبي فدت نَفسِي نفوسكما
… وحيثما كُنْتُم لقيتما رشدا)
(تحملا حَاجَة لي خف محملها
… تستوجبا نعْمَة مني بهَا ويدا)
(أَن تقرآن على أَسمَاء - ويحكما -
… مني السَّلَام وَأَن لَا تخبرا أحدا)
فَأثْبت النُّون فِي مَوضِع النصب، وَكَذَلِكَ هُوَ فِي الحَدِيث؛ لِأَن الْمَعْنى إِلَى أَن يستيقظا.
وَالْوَجْه الثَّالِث: أَن يكون على حذف مُبْتَدأ أَي حَتَّى هما يستيقظان.
অন্য কিছুর দ্বারা নয়। ফলে "ঘামের মধ্যে" কথাটি সৃষ্টি সম্পর্কে একটি সংবাদ হবে, আর "লাগামবদ্ধ হওয়া" হবে অন্য একটি সংবাদ। আর এটিও সম্ভব যে 'ফী' অক্ষরটি 'বা' অক্ষরের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং ঘামই তাদের লাগামবদ্ধ করেছে।
'হাত্তা'-এর সাথে 'নুন' অক্ষরের স্থিতি একটি কাব্যিক প্রয়োজনীয়তা
(২৯) আনাস (রা.)-এর বর্ণিত গুহা বিষয়ক হাদিসে এসেছে:
(ক) তাঁর কথা: "আমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা ছিলেন, আমি তাঁদের জন্য তাঁদের পাত্রে দুধ দোহন করতাম। অতঃপর আমি তাঁদের কাছে আসতাম, আর যখনই তাঁদের ঘুমন্ত পেতাম, তখন তাঁদের নিয়মিত অভ্যাসের ব্যাঘাত ঘটানো অপছন্দ করে আমি তাঁদের মাথার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতাম যতক্ষণ না তাঁরা জাগ্রত হতেন, যখনই তাঁরা জাগতেন।" এই বর্ণনায় এভাবেই 'হাত্তা ইয়াসতাইকিজানি' শব্দে 'নুন' অক্ষরের উপস্থিতিসহ বর্ণিত হয়েছে। এর ব্যাখ্যায় কয়েকটি দিক রয়েছে:
প্রথমত: এটি বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে কোনো ভুল হতে পারে, আর তাঁদের থেকে এমন ভুল অনেক ক্ষেত্রে ঘটেছে। ভাষাগত নিয়ম হলো 'হাত্তা'-এর কারণে 'নুন' বিলুপ্ত হওয়া; কারণ এখানে এর অর্থ হলো 'পর্যন্ত', এবং এটি 'কুমতু' (আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট।
দ্বিতীয় দিক: এটি কবিতার দুর্লভ বা ব্যতিক্রমী প্রয়োগের অনুরূপ হওয়া।
কবি বলেছেন:
(হে আমার দুই বন্ধু! তোমাদের প্রাণের বিনিময়ে আমার প্রাণ উৎসর্গ হোক... যেখানেই তোমরা থাকো, তোমরা যেন সঠিক পথের দিশা পাও।)
(আমার একটি সামান্য প্রয়োজনে ভার বহন করো যার বোঝা হবে হালকা... এর মাধ্যমে তোমরা আমার পক্ষ থেকে নিয়ামত ও অনুগ্রহের অধিকারী হবে।)
(তোমরা আসমার কাছে—তোমাদের জন্য আক্ষেপ—আমার সালাম পৌঁছে দিও এবং কাউকে এই সংবাদ দিও না।)
এখানে নসব (জবর)-এর স্থানে 'নুন' অক্ষরটিকে বহাল রাখা হয়েছে। হাদিসের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ; কারণ এর অর্থ হলো 'যতক্ষণ না তারা জাগ্রত হয়'।
তৃতীয় দিক: এটি একটি উহ্য মুবতাদা বা উদ্দেশ্য-এর ভিত্তিতে হওয়া, অর্থাৎ: 'হাত্তা হুমা ইয়াসতাইকিজানি' (যতক্ষণ না তারা উভয়ে জাগ্রত হয়)।
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
حذف جَوَاب مَتى للْعلم بِهِ (ب) وَقَوله: " مَتى استيقظا " تَقْدِيره: " سقيتهما "، وَيجوز أَن يكون الْمَعْنى: أؤخر وأنتظر أَي وَقت استيقظا.
الرّفْع على الْحِكَايَة
(30) وَفِي حَدِيث أنس: " وَلَا تنقشوا فِي خواتيمكم عَرَبِيّ " إِنَّمَا رفع عَرَبِيّ لِأَنَّهُ حِكَايَة لقَوْله: " مُحَمَّد رَسُول الله " فَهُوَ على الْحِكَايَة أَي: لَا تنقشوا مَا صورته عَرَبِيّ.
تَوْجِيه رِوَايَة يتبع الْمَيِّت ثَلَاث
(31) وَفِي حَدِيث أنس: " يتبع الْمَيِّت ثَلَاث: أَهله وَمَاله وَعَمله، فَيرجع اثْنَان وَيبقى وَاحِد. يرجع أَهله، وَمَاله، وَيبقى عمله ".
الْوَجْه أَن يُقَال: ثَلَاثَة؛ لِأَن الْأَشْيَاء الْمَذْكُورَة مذكرات كلهَا، وَلذَلِك قَالَ: " يرجع اثْنَان، وَيبقى وَاحِد " فَذكر. وَالْأَشْبَه أَنه من تَغْيِير الروَاة من هَذَا الطَّرِيق.
وَيحْتَمل أَن يكون الْوَجْه ثَلَاث علق. والواحدة علقَة؛ لِأَن كلا من هَذِه الْمَذْكُورَات علقَة، ثمَّ إِنَّه ذكر بعد ذَلِك حملا على اللَّفْظ بعد أَن حمل الأول على الْمَعْنى، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: {وَمن يقنت مِنْكُن لله وَرَسُوله وتعمل صَالحا} بتأنيث الأول وتذكير الثَّانِي.
مَجِيء اسْم " مَا " نكرَة مَعَ تقدمه. وَحمل " مَا " على " لَا ".
32 - وَفِي حَدِيثه: أَنه سُئِلَ عَن الشّرْب فِي الأوعية ثمَّ قيل لَهُ: فالرصاص والقارورة فَقَالَ: " مَا بَأْس بهما "، جعل اسْم " مَا " نكرَة، وَالْخَبَر جَار ومجرور.
জানা থাকার কারণে 'কখন' শব্দের উত্তরের বিলোপ (খ) এবং তাঁর উক্তি: "যখন তারা দুজনে জাগ্রত হয়", এর উহ্য রূপ হলো: "আমি তাদের পান করাবো"; আর এটাও জায়েয যে এর অর্থ হতে পারে: "আমি বিলম্ব করব এবং অপেক্ষা করব তারা কখন জাগ্রত হয়"।
অনুকরণ বা বর্ণনা হিসেবে পেশ প্রদান
(৩০) আনাস (রা.)-এর হাদিসে এসেছে: "তোমরা তোমাদের আংটিতে আরবি খোদাই করো না"। এখানে 'আরবি' শব্দটি পেশযুক্ত হয়েছে কারণ এটি "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল" এই বাক্যের হিকায়াহ বা অনুকরণ। সুতরাং এটি হিকায়াহ-এর ভিত্তিতে হয়েছে, অর্থাৎ: তোমরা এমন কিছু খোদাই করো না যার অবয়ব হলো আরবি।
'মৃত ব্যক্তিকে তিনটি বিষয় অনুসরণ করে' - এই বর্ণনার বিশ্লেষণ
(৩১) আনাস (রা.)-এর হাদিসে এসেছে: "মৃত ব্যক্তিকে তিনটি বিষয় অনুসরণ করে: তার পরিবার, তার সম্পদ এবং তার আমল। অতঃপর দুটি ফিরে আসে এবং একটি থেকে যায়। তার পরিবার ও সম্পদ ফিরে আসে, আর তার আমল থেকে যায়।"
ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী 'তিনটি' শব্দটি পুংলিঙ্গ হওয়া উচিত ছিল; কারণ এখানে উল্লিখিত বিষয়সমূহ সবই পুংলিঙ্গ। এই কারণেই তিনি পরবর্তী অংশে বলেছেন: "দুটি ফিরে আসে এবং একটি থেকে যায়" - যেখানে তিনি পুংলিঙ্গ শব্দ ব্যবহার করেছেন। আর অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাখ্যা হলো, এটি বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে এই সূত্রের শব্দগত পরিবর্তন।
আর এর সম্ভাবনাও রয়েছে যে, এখানে 'তিনটি' শব্দ দ্বারা 'তিনটি সম্পর্ক' উদ্দেশ্য। যেহেতু 'সম্পর্ক' শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ, তাই সংখ্যাটি স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে এসেছে। অতঃপর তিনি প্রথম অংশকে অর্থের বিবেচনায় এবং পরবর্তী অংশকে শব্দের বিবেচনায় পুংলিঙ্গ উল্লেখ করেছেন। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূলের প্রতি অনুগত হবে এবং সৎকাজ করবে" - এখানে প্রথম ক্রিয়াটি স্ত্রীলিঙ্গ এবং দ্বিতীয়টি পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
'মা' (না-বোধক অব্যয়) এর বিশেষ্য অগ্রবর্তী হওয়া সত্ত্বেও অনির্দিষ্ট হিসেবে আসা এবং 'মা'-কে 'লা'-এর মতো গণ্য করা
৩২ - তাঁর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে: তাঁকে বিভিন্ন পাত্রে পান করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, অতঃপর তাঁকে সীসা ও কাঁচের পাত্র সম্পর্কে বলা হলে তিনি বললেন: "এ দুটিতে কোনো সমস্যা নেই"। এখানে তিনি 'মা'-এর বিশেষ্যকে অনির্দিষ্ট করেছেন এবং খবরটি যার-মাজরুর হিসেবে এসেছে।
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَالْأَكْثَر فِي كَلَامهم أَن يقدم هَهُنَا الْخَبَر فَيُقَال: مَا بهما بَأْس، وَتَقْدِيم الْمُبْتَدَأ غير جَائِز؛ لِأَن الْبَأْس مصدر، وتعريف الْمصدر وتنكيره متقاربان. وَقد قَالُوا: لَا رجل فِي الدَّار، فَرفعُوا بِلَا النكرَة. و " مَا " قربت مِنْهَا.
تَوْجِيه فأصلي لكم
(33) وَفِي حَدِيثه: " قومُوا فلأصلي لكم " وَلم يقل: " بكم "؛ لِأَنَّهُ أَرَادَ من أجلكم لتقتدوا بِي.
حذف الْألف وَجعل الْهَاء بَدَلا مِنْهَا،
(34) وَفِي حَدِيثه حَدِيث الْوَلِيمَة فَقلت: فَمه؟ .
তাদের ভাষা প্রয়োগের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় খবরকে এখানে অগ্রবর্তী করা হয়, তখন বলা হয়: 'তাদের উভয়ের কোনো অসুবিধা নেই'। এখানে মুবতাদাকে অগ্রবর্তী করা বৈধ নয়; কারণ 'বা’স' (অসুবিধা/ক্ষতি) একটি মাসদার, আর মাসদারের নির্দিষ্টতা ও অনির্দিষ্টতা প্রায় সমপর্যায়ভুক্ত। তারা বলেন: 'বাড়িতে কোনো লোক নেই', এখানে তারা 'লা' দ্বারা অনির্দিষ্ট বিশেষ্যকে রাফা প্রদান করেছেন। আর 'মা' এর ব্যবহারও এর সদৃশ।
তোমাদের জন্য সালাত আদায়ের প্রেক্ষাপট
(৩৩) এবং তাঁর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা দাড়াও যাতে আমি তোমাদের জন্য সালাত আদায় করি।" তিনি 'তোমাদের নিয়ে' বলেননি; কারণ তিনি তোমাদের নিমিত্তে এটি করতে চেয়েছিলেন যাতে তোমরা আমাকে অনুসরণ করতে পারো।
আলিফ বিলুপ্ত করা এবং তার পরিবর্তে 'হা' অক্ষরকে স্থলাভিষিক্ত করা,
(৩৪) এবং তাঁর হাদীসে—যা ওলীমা সংক্রান্ত হাদীস—তাতে আছে: "অতঃপর আমি বললাম: তারপর কী?"।
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
قَالَ الْحسن: أَرَادَ فَمَا، وَلكنه حذف الْألف وَجعل الْهَاء بَدَلا مِنْهَا، كَمَا قَالُوا: هنه فِي هُنَا. وَلَا يُقَال: إِنَّه حذف الْألف لكَونه استفهاما كَمَا حذفت فِي قَوْله " تَعَالَى ": {مِم خلق} ؛ لِأَن ذَلِك إِنَّمَا يَجِيء فِي الْمَجْرُور، فَأَما الْمَنْصُوب وَالْمَرْفُوع فَلَا.
إِعْرَاب أَيّمَا إِنْسَان دَعَوْت عَلَيْهِ
(35) وَفِي حَدِيثه: " إيما إِنْسَان دَعَوْت عَلَيْهِ " يجوز النصب على معنى سببته، وَمَا بعده تَفْسِير لَهُ، وَالرَّفْع على الِابْتِدَاء وَمَا بعده الْخَبَر.
نصب مَعْمُول الْفِعْل الْمَحْذُوف
(36) وَفِي حَدِيثه: " لبيْك عمْرَة وحجا " النصب بِفعل مَحْذُوف تَقْدِيره: أُرِيد عمْرَة أَو نَوَيْت عمْرَة.
مَا تدل عَلَيْهِ كلمة " مَهيم "
(37) وَفِي حَدِيثه: " مَهيم " هُوَ اسْم للْفِعْل وَالْمعْنَى مَا يممت أَي قصدت، وَقيل: تَقْدِيره: مَا وَرَاءَك؟
حذف الْمُضَاف وَإِقَامَة الْمُضَاف إِلَيْهِ مقَامه
(38) وَفِي حَدِيثه: " نزل على رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] مرجعه من الْمَدِينَة " بِالنّصب. الْمرجع مصدر مثل الرُّجُوع، وَالتَّقْدِير: نزل عَلَيْهِ وَقت رُجُوعه [ليغفر لَك الله] فَحذف الْمُضَاف وَأقَام الْمُضَاف إِلَيْهِ مقَامه.
হাসান বলেছেন: তিনি 'ফামা' বোঝাতে চেয়েছেন, কিন্তু তিনি আলিফ বিলুপ্ত করেছেন এবং এর পরিবর্তে 'হা' বর্ণকে তার স্থলাভিষিক্ত করেছেন, যেমনটি তারা 'হুনা'-র পরিবর্তে 'হুনা-হা' বলে থাকে। আর এ কথা বলা যাবে না যে, প্রশ্নবোধক হওয়ার কারণে তিনি আলিফ বিলুপ্ত করেছেন যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {কিসে হতে সৃষ্টি করা হয়েছে}-তে বিলুপ্ত হয়েছে; কারণ তা কেবল 'মাজরুর' (জেরযুক্ত) শব্দের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে, পক্ষান্তরে 'মানসুব' (যবরযুক্ত) ও 'মারফু' (পেশযুক্ত) শব্দের ক্ষেত্রে তা হয় না।
'আইয়্যামা ইনসানিন দাওয়াতু আলাইহি'-এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ
(৩৫) এবং তাঁর হাদিসে: "আইয়্যামা ইনসানিন দাওয়াতু আলাইহি" (যে মানুষের বিরুদ্ধে আমি বদদোয়া করেছি) বাক্যটিতে 'নসব' হওয়া জায়েজ—'সাবাবতুহু' (আমি তাকে গালি দিয়েছি) অর্থে এবং এর পরের অংশটি হবে তার ব্যাখ্যা। আবার 'রাফা' হওয়াও জায়েজ 'ইবতিদা' (উদ্দেশ্য) হিসেবে এবং এর পরের অংশটি হবে 'খবর' (বিধেয়)।
উহ্য ক্রিয়ার কর্মের নসব হওয়া
(৩৬) এবং তাঁর হাদিসে: "লাব্বাইকা উমরাতান ওয়া হাজ্জান" (উমরা ও হজের জন্য আমি উপস্থিত) বাক্যটিতে 'নসব' হয়েছে একটি উহ্য ক্রিয়ার কারণে, যার প্রাক্কলিত রূপ হলো: 'উরিদু উমরাতান' (আমি উমরার সংকল্প করছি) অথবা 'নাওয়াইতু উমরাতান' (আমি উমরার নিয়ত করেছি)।
'মাহাইম' শব্দটি যা নির্দেশ করে
(৩৭) এবং তাঁর হাদিসে: "মাহাইম" এটি একটি ক্রিয়া-বিশেষ্য (ইসমুল ফিল), যার অর্থ হলো 'মা ইয়াম্মামতা' অর্থাৎ 'তুমি কী সংকল্প করেছ'। কেউ কেউ বলেছেন এর প্রাক্কলিত অর্থ হলো: 'তোমার সংবাদ কী?'
মুদাফ বিলুপ্ত করা এবং মুদাফ ইলাইহি-কে তার স্থলাভিষিক্ত করা
(৩৮) এবং তাঁর হাদিসে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর তাঁর মদিনায় ফেরার পথে (মারজিআহু) অবতীর্ণ হয়েছে"—এখানে 'মারজিআহু' শব্দটি নসব সহকারে। 'মারজি' শব্দটি 'রুজু' এর ন্যায় একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), আর এর প্রাক্কলিত রূপ হলো: 'তাঁর ফেরার সময়ে' (ওয়াকতা রুজুয়িহি) অবতীর্ণ হয়েছে [যাতে আল্লাহ আপনার পাপ ক্ষমা করেন]। এখানে মুদাফ-কে (ওয়াকতা) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং মুদাফ ইলাইহি-কে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
كسر همزَة إِن وَفتحهَا
(39) وَفِي حَدِيثه: " عجبت لِلْمُؤمنِ؛ إِن الله لم يقْض لَهُ قَضَاء إِلَّا كَانَ خيرا لَهُ ".
الْجيد " إِن " بِالْكَسْرِ على الِاسْتِئْنَاف. وَيجوز [الْفَتْح] على معنى " فِي أَن " أَو " من أَن الله ".
رفع الصّفة على الْموضع وجرها على اللَّفْظ
(40) وَفِي حَدِيثه: " مَا من أحد يَوْم الْقِيَامَة غَنِي وَلَا فَقير " من زَائِدَة، وغني بِالرَّفْع صفة لأحد على الْموضع؛ لِأَن الْجَار وَالْمَجْرُور فِي مَوضِع رفع. وَنَظِيره قَوْله تَعَالَى: {مَا لكم من إِلَه غَيره} . بِالرَّفْع على الْموضع، وبالجر على اللَّفْظ، وَيجوز فِي الحَدِيث غَنِي وَلَا فَقير بِالْجَرِّ على اللَّفْظ أَيْضا.
لُغَة " أكلوني البراغيث " ومجيء النُّون حرفا يدل على جمع الْمُؤَنَّث
(41) وَفِي حَدِيثه: " فَكُن أمهاتي يحثثنني ".
(أ) النُّون فِي " كن " حرف يدل على جمع الْمُؤَنَّث وَلَيْسَت اسْما مضمرا؛ لِأَن أمهاتي هُوَ اسْم كَانَ فَلَا يكون لَهَا اسمان. . وَنَظِير النُّون هَهُنَا الْوَاو فِي لُغَة " أكلوني البراغيث "، وكقول الشَّاعِر:
(وَلَكِن ديافي أَبوهُ وَأمه
… بحوران يعصرن السليط أَقَاربه)
'ইন্না'-এর হামযাহকে কাসরাহ এবং ফাতহাহ প্রদান
(৩৯) এবং তাঁর হাদীসে রয়েছে: "আমি মুমিনের বিষয়ে আশ্চর্যান্বিত; নিশ্চয়ই আল্লাহ তার জন্য এমন কোনো ফয়সালা করেন না, যা তার জন্য কল্যাণকর হয় না।"
এখানে প্রারম্ভিক বাক্য হিসেবে কাসরাহ যোগে 'ইন্না' পড়াই উত্তম। তবে 'ফি আন্না' বা 'মিন আন্না আল্লাহ'—এই অর্থে ফাতহাহ দিয়ে পড়াও বৈধ।
অবস্থানের ভিত্তিতে গুণের রফ’ এবং শব্দের উচ্চারণের ভিত্তিতে জর প্রদান
(৪০) এবং তাঁর হাদীসে রয়েছে: "কিয়ামতের দিন এমন কোনো ব্যক্তি থাকবে না—ধনী হোক বা দরিদ্র—..."। এখানে 'মিন' বর্ণটি অতিরিক্ত, এবং 'ধনী' শব্দটি 'ব্যক্তি' শব্দের গুণ বা সিফাত হিসেবে রফ’ (পেশ) প্রাপ্ত হয়েছে অবস্থানের ভিত্তিতে; কারণ এখানে অব্যয় ও পরবর্তী শব্দটি রফ’-এর স্থানে অবস্থিত। এর অনুরূপ উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই}। এখানে 'গাইরুহু' শব্দটি অবস্থানের ভিত্তিতে রফ’ এবং শব্দের উচ্চারণের ভিত্তিতে জর—উভয় পদ্ধতিতেই পঠিত হয়েছে। এই হাদীসেও শব্দের উচ্চারণের অনুকরণে 'ধনী ও দরিদ্র' শব্দদ্বয়কে জর (জের) দিয়ে পড়াও বৈধ।
"আকালুনি আল-বারাগীস" রীতি এবং স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন নির্দেশক বর্ণ হিসেবে 'নুন'-এর ব্যবহার
(৪১) এবং তাঁর হাদীসে রয়েছে: "অতঃপর আমার মায়েরা আমাকে উৎসাহিত করতে লাগলেন।"
(ক) 'কুন্না' শব্দের 'নুন' বর্ণটি স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন নির্দেশক একটি বর্ণ মাত্র, এটি কোনো সর্বনাম নয়; কারণ 'আমার মায়েরা' শব্দটি হলো 'কানা'-এর ইসম, আর একটির জন্য দুটি ইসম হতে পারে না। এখানে এই 'নুন'-এর উদাহরণ হলো "আকালুনি আল-বারাগীস" (উকুনেরা আমাকে খেয়ে ফেলেছে) উপভাষার 'ওয়াও' বর্ণের মতো, এবং কবির বাণীর মতো:
(কিন্তু দিয়াফী হলো তার পিতা ও মাতা... হাওরান অঞ্চলে তার আত্মীয়রা যায়তুনের তেল নিংড়াচ্ছে)
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَيجوز أَن تجْعَل النُّون اسْما مضمرا وَيكون أمهاتي بَدَلا مِنْهُ.
نصب الْمَفْعُول بِفعل مَحْذُوف (ب) وَقَوله فِي الحَدِيث: " الْأَيْمن فالأيمن " مَنْصُوب بِفعل مَحْذُوف تَقْدِيره قدمُوا الْأَيْمن فالأيمن.
حذف الظّرْف وَإِقَامَة الْمصدر مقَامه
(42) وَفِي حَدِيثه: " ليصل أحدكُم نشاطه " أَي مُدَّة نشاطه، فَحذف الظّرْف وَأقَام الْمصدر مقَامه.
وجوب النصب على الْمَعِيَّة
(43) وَفِي حَدِيثه: " بعثت أَنا والساعة " لَا يجوز فِيهِ إِلَّا النصب. وَالْوَاو فِيهِ بِمَعْنى
আর 'নূন'কে একটি প্রচ্ছন্ন সর্বনাম করা এবং 'উম্মাহাতি' শব্দটিকে তা থেকে 'বদল' হিসেবে গণ্য করা বৈধ।
উজ্জ্হ্য ক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মকে 'নসব' প্রদান (খ) এবং হাদিসের বাণী: "ডান দিকের জন, তারপর তার পরের ডান দিকের জন" এখানে শব্দটি একটি উজ্জ্হ্য ক্রিয়ার কারণে 'মনসুব' (নসবপ্রাপ্ত) হয়েছে, যার প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: "তোমরা ডান দিকের জনকে আগে দাও, তারপর তার পরের ডান দিকের জনকে।"
'জরফ' বিলুপ্ত করা এবং তার স্থলে 'মসদার'কে স্থলাভিষিক্ত করা
(৪২) এবং তাঁর হাদিসে: "তোমাদের প্রত্যেকের উচিত স্বীয় উদ্যমের সময়ে সালাত আদায় করা" অর্থাৎ তার উদ্যমের সময়কাল পর্যন্ত। এখানে 'জরফ' (সময়কাল) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার স্থলে 'মসদার'কে (ক্রিয়ামূল) স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।
'মাঈয়্যাহ'র ভিত্তিতে 'নসব' হওয়া আবশ্যক হওয়া
(৪৩) এবং তাঁর হাদিসে: "আমি এবং কিয়ামত প্রেরিত হয়েছি" - এখানে 'নসব' ব্যতীত অন্য কিছু বৈধ নয়। আর এখানে 'ওয়াও' অক্ষরটি অর্থ প্রকাশ করছে...
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
مَعَ، وَالْمرَاد بِهِ الْمُقدر.
وَلَو رفع لفسد الْمَعْنى؛ لِأَنَّهُ يكون تَقْدِيره: بعثت أَنا، وَبعثت السَّاعَة. وَهَذَا فَاسد إِذْ لَا يُقَال: بعثت السَّاعَة إِلَّا فِي الْوُقُوع؛ لِأَنَّهَا لم تُوجد بعد.
حذف حرف الْجَرّ وتعدية الْفِعْل بِنَفسِهِ
(44) وَفِي حَدِيثه: " وليقض مَا سبقه " هَكَذَا ضبطوه، على مَا لم يسم فَاعله. وَالْوَجْه فِيهِ: أَنه أَرَادَ مَا سبق بِهِ، فَحذف حرف الْجَرّ، وعدى الْفِعْل بِنَفسِهِ وَهُوَ كثير فِي اللُّغَة.
تَوْجِيه رِوَايَة
(45) وَفِي حَدِيثه: " مَا أَعدَدْت لَهَا من كَبِير عمل صِيَام وَلَا صَلَاة " يرْوى بِالْجَرِّ على الْبَدَل من عمل أَو من كَبِير.
رويدك يتَعَدَّى لمفعول وَاحِد
(46) وَفِي حَدِيثه قَوْله لأنجشة: " رويدك سوقك بِالْقَوَارِيرِ " الْوَجْه النصب برويد
সাথে; এবং এর দ্বারা উহ্য অর্থটিই উদ্দেশ্য।
যদি পেশ (রাফ') যুক্ত করা হতো তবে অর্থ বিকৃত হয়ে যেত; কারণ তখন এর তকদির (উহ্য রূপ) হতো: 'আমি প্রেরিত হয়েছি এবং কিয়ামতও প্রেরিত হয়েছে।' আর এটি অসংগত, কারণ কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্র ব্যতীত 'কিয়ামত প্রেরিত হয়েছে' বলা হয় না; কেননা তা এখনও অস্তিত্বে আসেনি।
অব্যয় (হারফে জার) বিলোপ এবং ক্রিয়াকে সরাসরি সকর্মক করা
(৪৪) এবং তাঁর হাদিসে রয়েছে: "যা তার থেকে ছুটে গেছে তা যেন সে পূর্ণ করে।" এটি এভাবেই কর্মবাচ্যের বিন্যাসে (মাজহুল হিসেবে) লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা হলো: তিনি মূলত 'যা অগ্রবর্তী হয়েছে' তা বুঝিয়েছেন, অতঃপর অব্যয়টি বিলোপ করা হয়েছে এবং ক্রিয়াটি সরাসরি কর্ম গ্রহণ করেছে; ভাষাবিজ্ঞানে এটি বহুল প্রচলিত।
একটি বর্ণনার বিন্যাসগত ব্যাখ্যা
(৪৫) এবং তাঁর হাদিসে রয়েছে: "আমি এর জন্য বড় কোনো আমল—না রোজা, না নামাজ—প্রস্তুত করতে পারিনি।" এটি 'জের' (কাসরা) যোগে বর্ণিত হয়েছে, যা 'আমল' অথবা 'কাবীর' শব্দ থেকে বদল (অনুপ্রতীক) হিসেবে এসেছে।
'রুয়াইদাকা' শব্দটির একটি কর্ম গ্রহণ করা
(৪৬) এবং তাঁর হাদিসে আনজাশার প্রতি তাঁর উক্তি: "কাঁচের পাত্রগুলোর সাথে তোমার চালনায় সংযত হও।" এখানে 'রুয়াইদা' শব্দের কারণে নসব হওয়াটাই নিয়মসিদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَالتَّقْدِير: " أمْهل سوقك " وَالْكَاف حرف خطاب وَلَيْسَت اسْما، ورويد يتَعَدَّى إِلَى مفعول وَاحِد.
وضع الظَّاهِر مَوضِع الْمُضمر فِي جملَة الْخَبَر لغَرَض
(47) وَفِي حَدِيثه: " مَا من رجل مُسلم يَمُوت لَهُ ثَلَاثَة من الْوَلَد لم يبلغُوا الْحِنْث إِلَّا أَدخل الله عز وجل أبويهم الْجنَّة بِفضل رَحمته إيَّاهُم " فَمن زَائِدَة وَرجل مُبْتَدأ، وَقَوله: " لم يبلغُوا الْحِنْث " صفة للمبتدأ، وَالْخَبَر قَوْله: " إِلَّا أَدخل الله أبويهم الْجنَّة:. فَإِن قيل: الْخَبَر هُنَا جملَة وَلَيْسَ فِيهَا ضمير يعود مِنْهَا إِلَى الْمُبْتَدَأ؟ فَالْجَوَاب: أَن الرجل الْمُسلم الَّذِي هُوَ الْمُبْتَدَأ هُوَ أحد أَبَوي الْمَوْلُود وَهُوَ الْمَذْكُور فِي خبر الْمُبْتَدَأ فقد وضع الظَّاهِر مَوضِع الْمُضمر لغَرَض وَهُوَ إِضَافَة الْأُم إِلَيْهِ فَهُوَ كَقَوْل الله تَعَالَى: {إِنَّه من يتق ويصبر فَإِن الله لَا يضيع أجر الْمُحْسِنِينَ} . وكقول الشَّاعِر:
(لَا أرى الْمَوْت يسْبق الْمَوْت شَيْء
… ينقص الْمَوْت ذَا الْغنى والفقيرا)
এবং উহ্য অর্থ হলো: "তোমার চালনা মন্থর করো।" আর 'কাফ' সম্বোধনসূচক বর্ণ, এটি বিশেষ্য নয়। এবং 'রুওয়াইদ' একটি মাত্র কর্মপদের দিকে ধাবিত হয়।
বিশেষ উদ্দেশ্যে খবরের বাক্যে সর্বনামের স্থলে প্রকাশ্য বিশেষ্য ব্যবহার
(৪৭) এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "এমন কোনো মুসলিম ব্যক্তি নেই যার তিনটি সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পূর্বেই মারা যায়, তবে মহান আল্লাহ তাদের প্রতি তাঁর রহমতের অনুগ্রহে তাদের পিতামাতাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।" এখানে 'মিন' অতিরিক্ত এবং 'ব্যক্তি' (রজুল) হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য)। আর তাঁর কথা: "যারা প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি" এটি মুবতাদার বিশেষণ (সিফাত)। এবং খবর (বিধেয়) হলো তাঁর এই কথা: "তবে আল্লাহ তাদের পিতামাতাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।" এখন যদি প্রশ্ন করা হয়: এখানে খবরটি একটি বাক্য এবং এতে কি এমন কোনো সর্বনাম (জমির) নেই যা মুবতাদার দিকে ফিরে যায়? উত্তর হলো: সেই মুসলিম ব্যক্তি যিনি মুবতাদা, তিনি মৃত সন্তানদের পিতামাতার একজন এবং তিনিই মুবতাদার খবরের মধ্যে উল্লিখিত হয়েছেন। সুতরাং এখানে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে সর্বনামের পরিবর্তে প্রকাশ্য বিশেষ্য ব্যবহার করা হয়েছে, আর সেই উদ্দেশ্য হলো মায়ের বিষয়টিকে তাঁর সাথে যুক্ত করা। এটি মহান আল্লাহর বাণীর মতো: "নিশ্চয় যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে এবং ধৈর্য ধারণ করে, তবে নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের প্রতিদান বিনষ্ট করেন না।" এবং কবির বাণীর মতো:
(আমি মৃত্যুকে দেখি না যে মৃত্যুকে কোনো কিছু ছাড়িয়ে যেতে পারে
… মৃত্যু ধনী ও দরিদ্র উভয়কেই নিঃশেষ করে দেয়)
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
حذف الْفِعْل مَعَ أحد مفعوليه وَبَقَاء الْمَفْعُول الثَّانِي
(48) وَفِي حَدِيثه: " كَيفَ وجدت مَنْزِلك؟ فَيَقُول: أَي رب خير منزل " النصب هُوَ الْوَجْه أَي: وجدته خير منزل.
حذف الْخَبَر
(49) إِن حَدِيثه: إِن حراء رجف وَعَلِيهِ النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] ، وَأَبُو بكر، وَعمر، وَعُثْمَان، فَقَالَ: " اسكن، نَبِي، وصديق، وشهيدان " تَقْدِيره: عَلَيْك نَبِي، وَقد جَاءَ مُفَسرًا فِي حَدِيث آخر.
ضمير الشَّأْن
(50) وَفِي حَدِيث آخر: " إِنَّه الْإِيمَان حب الْأَنْصَار، وَإنَّهُ النِّفَاق بغضهم " الْهَاء فيهمَا ضمير الشَّأْن. مثل قَوْله تَعَالَى: {فَإِنَّهَا لَا تعمى الْأَبْصَار} . وَلَيْسَت ضميرا أَو عَائِدًا على مَذْكُور قبله؛ إِذْ لَيْسَ فِي الْكَلَام ذكر ذَلِك.
و" الْإِيمَان حب الْأَنْصَار " مُبْتَدأ وَخبر وَهُوَ خبر إِن؛ كَأَنَّهُ قَالَ: إِن الْأَمر والشأن " الْإِيمَان حب الْأَنْصَار " [ويروى: " إِن الْإِيمَان " وَهُوَ ظَاهر] .
مَا المصدرية والزمانية
(51) وَفِي حَدِيثه: " اقرئ قَوْمك السَّلَام فَإِنَّهُم - مَا علمت - أعفة صَبر " [" أعفة " مَرْفُوع خبر إِن وَفِي " مَا " وَجْهَان:
أَحدهمَا: هِيَ مَصْدَرِيَّة وَالتَّقْدِير: فِي علمي أعفة] .
ক্রিয়ার একটি কর্মকে রেখে অন্য কর্মসহ ক্রিয়াটি বিলুপ্ত হওয়া
(৪৮) এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "তুমি তোমার আবাসস্থলকে কেমন পেয়েছ? তখন তিনি বলেন: হে আমার প্রতিপালক, উত্তম আবাসস্থল।" এখানে নসব (জবর) হওয়াই ব্যাকরণিক নিয়ম, অর্থাৎ: আমি একে উত্তম আবাসস্থল হিসেবে পেয়েছি।
খবর (বিধেয়) বিলুপ্ত হওয়া
(৪৯) তাঁর বর্ণিত হাদিস: হেরা পর্বত কেঁপে উঠল অথচ তার ওপর নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম], আবু বকর, উমর এবং উসমান ছিলেন। তখন তিনি বললেন: "স্থির হও, (তোমার ওপর) একজন নবী, একজন সিদ্দিক এবং দুইজন শহীদ রয়েছেন।" এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: তোমার ওপর একজন নবী আছেন; অন্য একটি হাদিসে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
বিষয়সূচক সর্বনাম (দমিরে শান)
(৫০) অন্য এক হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই বিষয়টি এমন যে, আনসারদের ভালোবাসা হলো ঈমান এবং তাদের প্রতি বিদ্বেষ হলো নিফাক।" উভয় ক্ষেত্রে 'হা' (সর্বনামটি) হলো বিষয়সূচক সর্বনাম (দমিরে শান)। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {বস্তুত চোখ তো অন্ধ হয় না}। এটি কোনো সাধারণ সর্বনাম নয় বা পূর্বে উল্লেখিত কোনো বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী নয়; কারণ আলোচনায় পূর্বে তার কোনো উল্লেখ নেই।
"আনসারদের ভালোবাসা হলো ঈমান" অংশটি মুক্তাদা (উদ্দেশ্য) ও খবর (বিধেয়) এবং এটি 'ইন্না'-এর খবর; যেন তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই বিষয়টি এই যে, "আনসারদের ভালোবাসা হলো ঈমান" [এবং এটিও বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই ঈমান...", যা সুস্পষ্ট]।
মাসদারিয়া (ক্রিয়াবাচক) ও জামানিয়া (কালবাচক) 'মা'
(৫১) এবং তাঁর হাদিসে আছে: "তোমার সম্প্রদায়কে সালাম জানাও, কারণ তারা—যতদূর আমি জানি—পবিত্র ও ধৈর্যশীল।" ["পবিত্র" শব্দটি 'ইন্না'-এর খবর হিসেবে মারফু (পেশযুক্ত) হয়েছে এবং এখানে 'মা' এর ক্ষেত্রে দুটি দিক রয়েছে:
তার একটি হলো: এটি মাসদারিয়া (ক্রিয়াবাচক) এবং এর প্রচ্ছন্ন অর্থ হলো: আমার জানামতে তারা পবিত্র।]
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وَالثَّانِي: زمانية تَقْدِيره: أَنهم مُدَّة علمي فهم أعفة. وَلَا يجوز النصب بعلمت؛ لِأَنَّهُ لَا يبْقى ل " إِن " خبر.
بطلَان عمل مَا بالتقديم
(52) وَفِي حَدِيثه قَالَ: " مَا بَأْس ذَلِك " ذَلِك مُبْتَدأ وبأس خَبره مقدم وَبَطل عمل " مَا " بالتقديم.
دُخُول " من " على الزَّمَان لابتداء غَايَته
(53) وَفِي حَدِيثه فِي قَوْله لفاطمة عليها السلام: " هَذَا أول طَعَام أكله أَبوك من ثَلَاثَة أَيَّام " هَكَذَا فِي هَذِه الرِّوَايَة. وَدخُول من لابتداء غَايَة الزَّمَان جَائِز عِنْد الْكُوفِيّين وَمنعه أَكثر الْبَصرِيين والأقوى عِنْدِي مَذْهَب الْكُوفِيّين. وَقد ذكرت هَذَا بأدلته فِي مَوضِع آخر. وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: {أسس على التَّقْوَى من أول يَوْم} . وَفِي بعض الرِّوَايَات " مُنْذُ ثَلَاث " وَهَذَا لَا خلاف فِي جَوَازه.
تَوْجِيه حَدِيث تَزْوِيج النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] زَيْنَب
(54) وَفِي حَدِيثه فِي تَزْوِيج النَّبِي [صلى الله عليه وسلم] زَيْنَب، قَالَ: " فَلَمَّا رَأَيْتهَا عظمت فِي صَدْرِي حَتَّى مَا أَسْتَطِيع أَن أنظر إِلَيْهَا أَن رَسُول الله ذكرهَا " أَن بِالْفَتْح وَتَقْدِيره: لِأَن رَسُول الله [صلى الله عليه وسلم] ذكرهَا.
এবং দ্বিতীয়টি: সময়গত, এর বিশ্লেষণ হলো: তারা যতক্ষণ আমার জানাশোনায় ছিল ততক্ষণ তারা পবিত্র ছিল। আর ‘আলামতু’ (আমি জানলাম) শব্দ দ্বারা নসব (যবর) দেয়া জায়েজ নয়; কারণ সেক্ষেত্রে ‘ইন্না’ এর কোনো খবর অবশিষ্ট থাকে না।
আগে আসার কারণে ‘মা’ এর আমল বাতিল হওয়া
(৫২) তাঁর বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেছেন: "তাতে কোনো সমস্যা নেই।" এখানে ‘যালিকা’ (তা) হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং ‘বা’সা’ (সমস্যা) হলো এর আগে আসা খবর (বিধেয়), আর আগে আসার কারণে ‘মা’ এর আমল বাতিল হয়ে গেছে।
সময়ের শুরুর সীমা বোঝাতে সময়ের পূর্বে ‘মিন’ এর ব্যবহার
(৫৩) ফাতিমা (আলাইহাস সালাম)-এর প্রতি নবীজীর উক্তি সম্বলিত হাদিসে এসেছে: "তিন দিনের মধ্যে এটিই প্রথম খাবার যা তোমার পিতা আহার করলেন।" এই বর্ণনায় এভাবেই এসেছে। সময়ের শুরুর সীমা বোঝাতে ‘মিন’ এর ব্যবহার কুফাবাসীদের নিকট জায়েজ, তবে অধিকাংশ বসরবাসীরা একে নিষেধ করেছেন। আমার নিকট কুফাবাসীদের মতটিই অধিক শক্তিশালী। আমি অন্য এক স্থানে এটি সবিস্তারে দলীলসহ উল্লেখ করেছি। এর সপক্ষে মহান আল্লাহর বাণী: {যা প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে}। কোনো কোনো বর্ণনায় ‘মুনযু সালাস’ (তিন দিন হতে) এসেছে, আর এটি জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক যায়নাবকে বিবাহের হাদিসের ব্যাখ্যা
(৫৪) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যায়নাবকে বিবাহের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "আমি যখন তাকে দেখলাম, সে আমার অন্তরে এতোটাই মহিমান্বিত হয়ে উঠল যে, আমি তার দিকে তাকাতে পারছিলাম না, কারণ আল্লাহর রাসূল তাকে স্মরণ (বিয়ের আলোচনার জন্য) করেছিলেন।" এখানে ‘আন্না’ যবরযুক্ত এবং এর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো: যেহেতু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে স্মরণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৪১)
تَوْجِيه رِوَايَة
(55) وَفِي حَدِيثه: " أَنه [صلى الله عليه وسلم] حلق أحد شقيه الْأَيْمن " بِالنّصب بدل من أحد أَو على إِضْمَار أَعنِي، وَالرَّفْع جَائِز على تَقْدِير: هُوَ الْأَيْمن.
اسْتِعْمَال " هَا " التنبيهية بَدَلا من حرف الْقسم
(56) وَفِي حَدِيثه فِي قصَّة جليبيب فَقَالَ: " لَا هَا الله إِذن " وَالتَّقْدِير: هَذَا وَالله، فَأخر ذَا.
وَمِنْهُم من يَقُول: هَا بدل من همزَة الْقسم المبدلة من الْوَاو، وَذَا مُبْتَدأ وَالْخَبَر مَحْذُوف أَي هَذَا مَا أَحْلف بِهِ وَقد رُوِيَ فِي الحَدِيث إِذن وَهُوَ بعيد وَيُمكن أَن يُوجد لَهُ وَجه تَقْدِيره: لَا وَالله لَا أزوجها إِذن.
বর্ণনার ভাষাগত বিশ্লেষণ (৫৫) এবং তাঁর বর্ণিত হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাঁর মস্তকের দুই পার্শ্বের একটি—ডান পার্শ্ব—মুণ্ডন করেছিলেন।" এখানে ‘ডান পার্শ্ব’ শব্দটি ‘নসব’ (জবর) অবস্থায় পড়া হয়েছে ‘একটি’ শব্দের ‘বদল’ (বিকল্প) হিসেবে অথবা ‘আমি উদ্দেশ্য করছি’ ক্রিয়াটি উহ্য থাকার ভিত্তিতে। আর ‘রফা’ (পেশ) যোগে পাঠ করাও বৈধ, সেক্ষেত্রে বিশ্লেষণ হবে: ‘তা হলো ডান পার্শ্ব’।
শপথের অব্যয়ের পরিবর্তে সতর্কতামূলক ‘হা’-এর ব্যবহার (৫৬) এবং জুলাইবিবের ঘটনার বর্ণনায় তাঁর একটি হাদিসে আছে যে, তিনি বললেন: "না, আল্লাহর শপথ, তবে তো নয়।" এর মূল রূপ বিশ্লেষণ হলো: "এটি আল্লাহর শপথ", যেখানে ‘এটি’ (যা) শব্দটিকে পরে আনা হয়েছে। আলিমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: ‘হা’ শব্দটি শপথের ‘হামজা’র পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়েছে যা মূলত ‘ওয়াও’ থেকে পরিবর্তিত। আর ‘যা’ শব্দটি এখানে ‘মুবতাদা’ (উদ্দেশ্য) এবং এর ‘খবর’ (বিধেয়) উহ্য রয়েছে; অর্থাৎ: "এটিই সেই বিষয় যার শপথ আমি করছি।" হাদিসে ‘ইদান’ (তবে তো) শব্দটিও বর্ণিত হয়েছে, যদিও তা ব্যাকরণগতভাবে কিছুটা দূরবর্তী। তবে এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে: "না, আল্লাহর শপথ, তবে তো আমি তাকে বিয়ে দেব না।"
(খণ্ড: ১)
ইরাবু মা ইউশকিলু মিন আলফাজিল হাদিস
(পৃষ্ঠা: ৪২)
بَاب الْبَاء
فِي إِعْرَاب مَا يشكل من الحَدِيث
[10]
فِي حَدِيث الْبَراء بن عَازِب
تَوْجِيه رِوَايَة مد صَوته. وَالْفرق بَين مد ومدى
(57) فِي حَدِيث الْبَراء: " يغْفر للمؤذن مد صَوته ".
قَالَ الشَّيْخ رحمه الله: الْجيد عِنْد أهل اللُّغَة: " مدى صَوته " وَهُوَ ظرف مَكَان.
وَأما مد صَوته فَلهُ وَجه وَهُوَ يحْتَمل شَيْئَيْنِ:
أَحدهمَا: أَن يكون تَقْدِيره: مَسَافَة مد صَوته.
وَالثَّانِي: أَن يكون الْمصدر بِمَعْنى الْمَكَان، أَي ممتد صَوته، وَهُوَ مَنْصُوب لَا غير.
وَفِي الْمَعْنى على هَذَا وَجْهَان:
أَحدهمَا: لَو كَانَت ذنُوبه تملأ هَذَا الْمَكَان لغفرت لَهُ. وَهُوَ نَظِير قَوْله عليه السلام إِخْبَارًا عَن الله عز وجل: " لَو جئتني بقراب الأَرْض خَطَايَا " أَي: مَا يملؤها من الذُّنُوب.
وَالثَّانِي: مَعْنَاهُ يغْفر لَهُ من الذُّنُوب مَا فعله فِي زمَان مُقَدّر بِهَذِهِ الْمسَافَة.
حذف الْمُضَاف وَإِقَامَة الْمُضَاف إِلَيْهِ مقَامه
(58) وَفِي حَدِيثه: " فَمَا فرحوا بِشَيْء فَرَحهمْ بِهِ " مَنْصُوب لَا غير. وَالتَّقْدِير: فرحوا فَرحا مثل فَرَحهمْ فَحذف الْمصدر، وأقيم الْمُضَاف إِلَيْهِ مقَامه.
'বা' অধ্যায়
হাদিসের জটিল শব্দসমূহের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে
[১০]
বারা ইবনে আযিব বর্ণিত হাদিস প্রসঙ্গে
'মাদ-দা সাওতিহি' (কণ্ঠের প্রসারণ) বর্ণনার ব্যাখ্যা এবং 'মাদ' ও 'মাদা'-এর মধ্যকার পার্থক্য
(৫৭) বারা বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "মুয়াজ্জিনকে তার কণ্ঠের প্রসারণ (মাদ-দা সাওতিহি) পর্যন্ত ক্ষমা করা হয়।"
শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ভাষা বিশেষজ্ঞদের মতে উত্তম পাঠ হলো "মাদা সাওতিহি" (তার কণ্ঠের সীমা পর্যন্ত), যা একটি স্থানবাচক ক্রিয়া-বিশেষণ (জরফে মাকান)।
আর "মাদ-দা সাওতিহি" (তার কণ্ঠের প্রসারণ) পাঠটিরও একটি ব্যকরণিক ভিত্তি রয়েছে এবং এটি দুটি অর্থ বহন করতে পারে:
প্রথমত: এর প্রচ্ছন্ন রূপ হবে—তার কণ্ঠের প্রসারণের দূরত্ব পরিমাণ (মাসাফাতা মাদ-দি সাওতিহি)।
দ্বিতীয়ত: এখানে মূল ক্রিয়ামূলটি (মাসদার) স্থান অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ তার কণ্ঠের প্রসারণের সীমানা। এটি কেবল 'মানসুব' (নসব বা জবরযুক্ত) হিসেবেই পঠিত হবে।
এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে অর্থের দিক থেকে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে:
প্রথমত: যদি তার গুনাহসমূহ এই স্থানটি পূর্ণ করে দিত, তবে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হতো। এটি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মহান আল্লাহ সম্পর্কে প্রদত্ত খবরের সদৃশ, যেখানে আল্লাহ বলেন: "তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে আস," অর্থাৎ যা পৃথিবীকে পরিপূর্ণ করে দেয় এমন গুনাহ।
দ্বিতীয়ত: এর অর্থ হলো—এই দূরত্ব দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সে যে গুনাহ করেছে, তা তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে।
মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত পদ) বিলুপ্ত করা এবং মুদাফ ইলাইহি-কে (সম্বন্ধী পদ) তার স্থলাভিষিক্ত করা
(৫৮) তাঁর বর্ণিত হাদিসে আছে: "তারা কোনো কিছুতেই এতটা আনন্দিত হয়নি, যতটা তাঁর আগমনে আনন্দিত হয়েছিল (ফারাহাহুম বিহি)।" এটি কেবল 'মানসুব' হিসেবেই হবে। এর প্রচ্ছন্ন বাক্যটি ছিল: "তারা তাদের আনন্দের মতো আনন্দিত হয়েছিল" (ফারাহু ফারাহান মিসলা ফারাহিহিম), অতঃপর ক্রিয়ামূলটি (মাসদার) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং মুদাফ ইলাইহি-কে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।