(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: -)
الفوائد العجيبة في إعراب الكلمات الغريبة - ت حاتم الضامن القسم: النحو والصرف
الكتاب: الفوائد العجيبة في إعراب الكلمات الغريبة
المؤلف: ابن عابدين، محمد أمين بن عمر بن عبد العزيز عابدين الدمشقي الحنفي (ت 1252 هـ)
المحقق: د. حاتم صالح الضامن [ت 1434 هـ]
الناشر: دار الرائد العربي - بيروت، لبنان
الطبعة: الأولى، 1410 هـ - 1990 م
عدد الصفحات: 68
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ফাওয়াইদ আল-আজিবা ফি ই'রাবিল কালিমাত আল-গারিবা - তাহকিক: হাতিম আদ-দামিন বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
গ্রন্থ: আল-ফাওয়াইদ আল-আজিবা ফি ই'রাবিল কালিমাত আল-গারিবা
লেখক: ইবনে আবিদিন، মুহাম্মদ আমিন বিন উমর বিন আব্দুল আজিজ আবিদিন আদ-দিমাশকি আল-হানাফি (মৃত্যু ১২৫২ হি.)
সম্পাদক: ড. হাতিম সালিহ আদ-দামিন [মৃত্যু ১৪৩৪ হি.]
প্রকাশক: দারুর রাইদ আল-আরাবি - বৈরুত، লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১০ হি. - ১৯৯০ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بِسْمِ اللهِ الرَّحمن الرَّحِيمالحمدُ لله وحده، وصلّى الله على من لا نبي بعده، وآله الطاهرين، وصحابته أجمعين. وبعدُ فيقول فقيرُ رحمةِ ربِّهِ، وأسيرُ وَصْمَةِ ذَهْبِهِ، محمد أمين بن عابدين: قد عَنَّ لي الكلامُ على بعضِ ألفاظٍ شاعَ استعمالُها بينَ العلماء، وهي مما في (1) إعرابه أو معناه إشكالٌ، أو خَفَاءٌ، تحلُّ العقال وتوضّح المقال، وسمَّيْتُها: الفوائد العجيبة في إعراب الكلمات الغريبة والله تعالى المُستعان وعليه التكلان.
منها قولهم: هَلُمَّ جَرّا فهَلُمَّ بمعنى تعالَ، وهو مركَّب من هاء التنبيه ومن (لُمَّ) ، أي: ضُمَّ نَفسَكَ إلينا، واستُعملَ استعمال البسيط، يستوي فيه الواحد والجمع، والتذكير والتأنيث عند الحجازيين، كذا في القاموس (2) ، وسبقه إلى ذكره (3) صاحب
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যাঁর পরে কোনো নবী নেই, এবং তাঁর পবিত্র পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর, তাঁর প্রতিপালকের রহমতের ভিখারি এবং নিজের পাপের গ্লানিতে বন্দি, মুহাম্মদ আমিন ইবনে আবিদিন বলছেন: আলেমদের মাঝে প্রচলিত এমন কিছু শব্দ নিয়ে আলোচনা করার ইচ্ছা আমার মনে জেগেছে, যেগুলোর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ অথবা অর্থের ক্ষেত্রে জটিলতা বা অস্পষ্টতা রয়েছে; যা বুদ্ধির জড়তা দূর করবে এবং বক্তব্যকে স্পষ্ট করবে। আমি এই সংকলনের নাম দিয়েছি: 'আল-ফাওয়ায়িদ আল-আজিবা ফি ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা' (অপরিচিত শব্দরাজির ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে বিস্ময়কর উপকারিতা)। মহান আল্লাহই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ ভরসা।
তন্মধ্যে একটি হলো তাঁদের এই উক্তি: হালুম্মা জাররাএখানে 'হালুম্মা' শব্দটি 'এসো' অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি সতর্কীকরণ সূচক 'হা' এবং 'লুম্মা' এর সমন্বয়ে গঠিত, যার অর্থ: নিজেকে আমাদের সাথে যুক্ত করো। এটি একটি একক শব্দের ন্যায় ব্যবহৃত হয়। হিজাজীদের রীতি অনুযায়ী একবচন ও বহুবচন এবং পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ—উভয় ক্ষেত্রেই এটি সমানভাবে প্রযোজ্য। 'আল-কামুস' গ্রন্থে এমনই বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর পূর্বে এর লেখকও এটি উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الصحاح (4) ، وتبعه الصغاني (5) فقالا: تقولُ: كانَ ذلكَ عامَ كذا وهَلُمَّ جرّا، أي: إلى اليومِ. انتهى. ولا يخفى عدم جريان ما قاله في القاموس في مثل هذا. وتوقّف الجمال بن هشام (6) في كون هذا التركيب عربياً مَحْضاً، وساق وجوه (7) توقفه في رسالةٍ له (8) ، وأجاب عن ذكره في الصحاح ونحوه، وذكر ما للعلماء في إعرابه ومعناه وما يردّ عليه، ثم قال: (فلنذكر ما ظهرَ لنا في توجيه هذا (9) الكلام (10) بتقدير كونه عربياً فنقول: (هَلُمَّ) هذه هي القاصرة التي بمعنى: اِئتِ وتعالَ، إلا أنَّ فيها تجوَّزَين: أحدهما: أنّه ليس المراد (2) بالإتيان هنا المجيء الحسي بل الاستمرار على المشي والمُداومة عليه، كما تقول: امشِ [على هذا الأمر، وسِرْ] (11) على هذا المنوال، ومنه قوله تعالى: (وانطلقَ الملأُ منهم أنِ امشُوا واصبروا على آلهتِكُم) (12) . فإنّ (13) المرادَ بالانطلاق ليس الذهاب الحسي بل انطلاق الألسنة بالكلام، ولهذا أعربوا (أنْ) تفسيرية (14) ، وهي إنّما تأتي
--------------------------------------------
আস-সিহাহ (৪) গ্রন্থে এবং আস-সাগানি (৫) তাকে অনুসরণ করে বলেছেন: তুমি বলবে: 'তা অমুক বছর থেকে হয়ে আসছে এবং এভাবেই চলছে (হালুম্মা জাররা)', অর্থাৎ: আজ পর্যন্ত। সমাপ্ত। আর 'আল-কামুস' গ্রন্থে যা বলা হয়েছে, তা এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হওয়াটা গোপন নয়। আর জামাল ইবনে হিশাম (৬) এই বাক্যরীতিটি খাঁটি আরবি হওয়ার ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং তার একটি রিসালায় (৮) এই সংশয়ের কারণসমূহ (৭) বর্ণনা করেছেন। তিনি 'আস-সিহাহ' এবং সমজাতীয় গ্রন্থগুলোতে এর উল্লেখের জবাব দিয়েছেন এবং এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ, অর্থ এবং এর ওপর কী কী আপত্তি আসে তা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেন: (এই (৯) বক্তব্যটির (১০) ব্যাখ্যায় আমাদের কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে, তা আরবি হওয়ার সম্ভাবনা ধরে নিয়ে উল্লেখ করছি। আমরা বলি: এখানে 'হালুম্মা' শব্দটি হলো অকর্মক (কাসিরা), যা 'এসো' বা 'আসো' অর্থে ব্যবহৃত হয়; তবে এতে দুটি রূপক প্রয়োগ রয়েছে: প্রথমটি হলো: এখানে 'আসা' বলতে বাহ্যিক বা শারীরিক আসা উদ্দেশ্য নয়, বরং কোনো বিষয়ের ওপর অবিচল থাকা এবং তা চালিয়ে যাওয়া উদ্দেশ্য। যেমন তুমি বলে থাকো: [এই বিষয়ের ওপর] চলো [এবং এই পন্থায়] অগ্রসর হও (১১)। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: (তাদের প্রধানরা এ কথা বলে প্রস্থান করল যে, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের উপাস্যদের ওপর অবিচল থাকো) (১২)। কেননা (১৩) এখানে 'প্রস্থান করা' বলতে বাহ্যিক চলে যাওয়া উদ্দেশ্য নয়, বরং কথার মাধ্যমে জিহ্বার সচল হওয়া উদ্দেশ্য। এই কারণেই ব্যাকরণবিদগণ এখানে 'আন' (أن) শব্দটিকে ব্যাখ্যামূলক হিসেবে গণ্য করেছেন, আর এটি মূলত তখনই আসে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بعد جملة فيها معنى القول، كقوله تعالى: (فأوْحَينا إليه أَنِ اصنعَ الفُلْكَ) (15) . والمراد بالمشي ليس المشي على الأقدام (16) بل الاستمرار والدوام، أي: دوموا على عبادةِ أصنامِكم واحبسوا أنفسكم على ذلك. الثاني: أنّه ليس المرادُ الطلبَ حقيقةً، وإنما المُرادُ الخبرُ (17) ، وعبَّرَ عنه بصيغة الطلب، كما في قوله تعالى: (ولنَحْمِلْ خَطَاياكم) (18) ، (فليمدُدْ له الرحمنُ مدّاً) (19) . وجرّاً: مصدر جَرَّهُ يجُرُّهُ، إذا سحبه، ولكن ليسَ المرادُ الجَرّ الحسّي بل المرادُ التعميم كما استُملَ السَّحْب بهذا المعنى، أَلا ترى أنّه (20) يُقال: هذا الحكمُ مُنسحبٌ على كذا، أي: شامِلٌ لهُ. فإذا قِيلَ: (كانَ ذلكَ عام كذا وهَلُمَّ جَرّا) ، فكأَنَّه قيلَ: واستمرَّ ذلك في بقيةِ الأعوام استمراراً، [فهو مصدرٌ] (21) . أو: استمرَّ مستمِرّاً، على الحال المؤكدة (22) . وذلك ماشٍ في جميع الصورِ، وهذا هو الذي يفهمه الناسُ من هذا الكلام. وبهذا التأويل ارتفع إشكالُ العطف فإنّ (هَلُمَّ) حينئذٍ خبرٌ، وإشكالُ التزامِ إفرادِ الضمير إذْ فاعل (هَلُمَّ) هذه مفردٌ أبداً، كما تقولُ: واستمرَّ ذلك، أو (23) : استمرّ ما ذكرته) (24) .
--------------------------------------------
এমন একটি বাক্যের পরে যাতে বলার (قول) অর্থ নিহিত রয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর আমি তার প্রতি প্রত্যাদেশ করলাম যে, তুমি নৌকা তৈরি করো) (১৫)। আর এখানে ‘চলা’ দ্বারা উদ্দেশ্য পদব্রজে হাঁটা নয় (১৬), বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিরবচ্ছিন্নতা ও স্থায়িত্ব; অর্থাৎ: তোমরা তোমাদের মূর্তিপূজার ওপর অটল থাকো এবং নিজেদেরকে তার ওপর আবদ্ধ রাখো। দ্বিতীয়ত: এর দ্বারা উদ্দেশ্য প্রকৃতপক্ষে ‘আদেশ বা তলব’ (طلب) নয়, বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘সংবাদ বা বর্ণনা’ (خبر) (১৭), যা আদেশের ছাঁচে ব্যক্ত করা হয়েছে; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: (এবং আমরা তোমাদের পাপসমূহ বহন করব) (১৮), (দয়াময় আল্লাহ তাকে দীর্ঘ অবকাশ দেবেন) (১৯)। আর ‘জাররান’ শব্দটি ‘জাররা-ইয়াজুররু’ থেকে নির্গত ‘ক্রিয়ামূল’ (مصدر), যার অর্থ হলো কোনো কিছুকে টেনে নেওয়া। তবে এখানে ‘টানা’ দ্বারা দৃশ্যমান কোনো কিছু টানা উদ্দেশ্য নয়, বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘ব্যাপকতা’ (تعميم), যেভাবে এই অর্থে ‘টানা’ (سحب) শব্দটি ব্যবহৃত হয়। আপনি কি দেখছেন না যে (২০), বলা হয়ে থাকে: এই বিধানটি অমুক বিষয়ের ওপর ‘প্রসারিত’ (مُنسحب), অর্থাৎ এটি তাকে শামিল বা অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং যখন বলা হয়: ‘সেটি অমুক বছর থেকে শুরু হয়েছিল এবং এভাবেই চলতে থাকল (هَلُمَّ جَرّا)’, তখন বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যেন বলা হলো: এবং সেটি পরবর্তী বছরগুলোতেও একইভাবে অব্যাহত ছিল; সুতরাং এটি একটি ‘ক্রিয়ামূল’ (مصدر) (২১)। অথবা: এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত ছিল—এমন ‘তাকিদদানকারী অবস্থা’ (حال مؤكدة) (২২) হিসেবে গণ্য। আর এটি সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, এবং মানুষ এই কথা থেকে এটিই বুঝে থাকে। এই ব্যাখ্যার মাধ্যমেই ‘সংযোজক অব্যয়ের জটিলতা’ নিরসন হয়, কারণ সেক্ষেত্রে ‘হালুম্মা’ শব্দটি ‘সংবাদ’ (خبر) হিসেবে গণ্য হবে। সেইসাথে ‘সর্বনামকে একবচন রাখার আবশ্যকতা’ জনিত জটিলতাও দূর হয়, কারণ এই ‘হালুম্মা’-এর ‘কর্তা’ (فاعل) সর্বদা একবচন হয়ে থাকে; যেমনটি আপনি বলে থাকেন: ‘সেটি অব্যাহত ছিল’ অথবা (২৩): ‘আমি যা উল্লেখ করেছি তা অব্যাহত ছিল’ (২৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ومنها قولهم: ومِنْ ثَمَّ وهي في الأصل موضوعة للمكان البعيد، وإذا وقعت في كلامهم (25) يقولون أي (26) : ومِن هناك، أو مِن هنا، أي: ومِنْ أَجْلِ ذلكَ كانَ كذا. فإذا فَسَّروها ب (هناك) ففيه تجوّزٌ من جهة واحدة وهي استعمالها في المكان المجازي، وإذا فسَّروها ب (هنا) ففيه تجوّزان: الأول: ما ذُكر. والثاني (27) : كونها في القريب. ولكنّ الجمعَ بينَ تفسيرها ب (هنا) التي للقريب (28) ، وبين قولهم: أي من أجل ذلك، كما وقع للعلاّمة الجلال المحليّ (29) في شرح جمع الجوامع (30) ، فيه منافاةٌ، لأنّ ذلك من إشارات البعيد، اللهُمَّ إلاّ أنْ يُقال: استُعمِلَ (هنا) في البعيد مجازاً، و (ذلك) في القريب (3) كذلك. أو يُقالُ كما قالَ بعضُهم أشارَ أولاً ب (هنا) إلى قُرْبِ المشارِ إليه لُقرْبِ محلِّه وما فُهِمَ منه، وثانياً ب (ذلك) إلى بُعْدِهِ باعتبارِ أنّ المعنى غير مُدْرَك حِسّاً فكأنّه بعيدٌ. وفي شرح التسهيل للدماميني (31) ما نَصُّهُ: (وانظر في قول العلماء: (ومن ثَمَّ كانَ كذا) هل معناه [معنى] (32) : (هنالك) ، أي التي للبُعْد، أو معنى (هنا) التي للقُرب، والظاهر هو الثاني) . انتهى.
--------------------------------------------
তাদের বক্তব্যের অন্যতম হলো: 'ওয়া মিন ছাম্মা' (ومِنْ ثَمَّ) যা মূলত দূরবর্তী স্থানের জন্য নির্ধারিত। যখন তাদের বক্তব্যে এটি ব্যবহৃত হয় (২৫), তখন তারা বলেন অর্থাৎ (২৬): 'সেখান থেকে', অথবা 'এখান থেকে', অর্থাৎ: 'এ কারণেই এমনটি হয়েছে'। তারা যদি একে 'হুনাকা' (هناك - সেখানে) দ্বারা ব্যাখ্যা করেন, তবে তাতে এক দিক থেকে রূপক প্রয়োগ (تجوّز) রয়েছে, আর তা হলো একে রূপক অর্থে (مجازاً) স্থানে ব্যবহার করা। আর যদি তারা একে 'হুনা' (هنا - এখানে) দ্বারা ব্যাখ্যা করেন, তবে তাতে দুইভাবে রূপক প্রয়োগ (تجوّز) রয়েছে: প্রথমটি উপরে উল্লিখিত হয়েছে। আর দ্বিতীয়টি (২৭) হলো: একে নিকটবর্তী অর্থে ব্যবহার করা। তবে নিকটবর্তী অর্থে ব্যবহৃত 'হুনা' (هنا) এবং তাদের বক্তব্য: 'অর্থাৎ এ কারণে' (যেখানে 'ذلك' শব্দটি দূরবর্তী নির্দেশক)—এই দুইটির মধ্যে সমন্বয় করা, যেমনটি আল্লামা জালাল আল-মহল্লী (২৯) 'জামউল জাওয়ামি' (৩০) এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে করেছেন, তাতে বৈপরীত্য রয়েছে। কারণ 'যালিকা' (ذلك) শব্দটি দূরবর্তী নির্দেশক। অবশ্য যদি বলা হয় যে, 'হুনা' (هنا) শব্দটিকে রূপক অর্থে (مجازاً) দূরবর্তী স্থানে এবং 'যালিকা' (ذلك) শব্দটিকে একইভাবে নিকটবর্তী অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। অথবা বলা যায়, যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন যে, তিনি প্রথমে 'হুনা' (هنا) দ্বারা নির্দেশিত বিষয়ের নৈকট্যের দিকে ইশারা করেছেন তার অবস্থানগত নৈকট্য ও তা থেকে যা অনুধাবন করা হয় তার কারণে; আর দ্বিতীয়ত 'যালিকা' (ذلك) দ্বারা এর দূরত্বের দিকে ইশারা করেছেন এই বিবেচনায় যে, অর্থটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, ফলে সেটি যেন দূরবর্তী কিছু। দামামিনির 'শারহুত তাসহিল' (৩১) গ্রন্থে হুবহু যা বর্ণিত হয়েছে: (আলেমগণের বক্তব্য—'ومن ثَمَّ كانَ كذا' (এবং এখান থেকে এমনটি হয়েছে)—এর ব্যাপারে লক্ষ্য করুন যে, এর অর্থ কি 'হুনালিকা' (هنالك), যা দূরবর্তী নির্দেশক; নাকি এর অর্থ 'হুনা' (هنا), যা নিকটবর্তী নির্দেশক? আর স্পষ্টত দ্বিতীয়টিই সঠিক)। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ثمّ ينبغي التأمل في علاقة هذا المجاز وفي قرينته، ويمكن أنْ نجعل العلاقة المشابهة، فإنّ المعنى محلٌّ للفكر [وحده] (33) ، وتردده (34) إليه بملاحظته المرَّة بعدَ الأخرى، كما أنّ المكانَ محلُّ الجسم (25) ، والقرينة استحالة كون المعنى والألفاظ مكاناً حقيقياً. وقال بعضهم في قول ابن الحاجب (36) : (ومن ثَمَّ اختلف في رحمن) : قوله: (ومن ثَمَّ) إشارةٌ إلى المكان الاعتباري، كأنّه شَبَّه الاختلافَ المذكور في شرط تأثير الألف والنون أنّه انتفاء (فعلانة) ، أو وجود (فَعْلى) بالمكان في أنّ كلاًّ منهما منشأ أَمر، إذِ المكان منشأ النباتات (37) والاختلاف المذكور يُنشئ اختلافاً آخر، وهو الاختلاف في صرف رحمن، فجعل الاختلاف المذكور من إفراد المكان إدعاءً ثم شبَّهَ المكان الاعتباري بالمكان الحقيقي لاشتراكهما في المكانية فذكر اللفظ الموضوع للمكان. انتهى.
ومنها قولهم: أَيْضاً هو مصدرُ آضَ يئيضُ، واصل آضَ: أَيَضَ، ك (بَيَعَ) ، تحرّكت الياء وانفتح ما قبلها، قُلبتْ ألفاً. وأصل يئيضُ: يَئْيِضُ، بزنة يَفْعِل، نُقلت حركة الياء إلى الهمزة.
--------------------------------------------
অতঃপর এই রূপক (مجاز) ব্যবহারের সম্পর্ক ও এর নির্দেশক (قرينة) নিয়ে চিন্তা করা উচিত। আমরা একে সাদৃশ্যপূর্ণ সম্পর্ক হিসেবে গণ্য করতে পারি; কেননা অর্থ হলো [একমাত্র] চিন্তার ক্ষেত্র (৩৩), এবং বারবার পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিন্তা সেখানে যাতায়াত করে, যেমন স্থান হলো দেহের আধার (৩৫)। আর নির্দেশক (قرينة) হলো অর্থ ও শব্দসমূহ প্রকৃত অর্থে কোনো স্থান হওয়া অসম্ভব হওয়া। ইবনে হাজিব (৩৬)-এর উক্তি— “(ومن ثَمَّ) ‘আর এ কারণেই’ রহমান শব্দের ব্যাপারে মতভেদ হয়েছে”—প্রসঙ্গে কেউ কেউ বলেন: তাঁর এই উক্তি ‘এ কারণেই’ (ومن ثَمَّ) দ্বারা একটি ধারণাগত স্থানের (المكان الاعتباري) দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যেন তিনি আলিফ ও নুন-এর প্রভাবের শর্তে উল্লিখিত মতভেদকে—যা হলো (فعلانة) এর অনুপস্থিতি অথবা (فَعْلى) এর উপস্থিতি—একটি স্থানের সাথে তুলনা করেছেন এই দিক থেকে যে, তাদের প্রতিটিই কোনো কিছুর উৎপত্তিস্থল। কারণ, স্থান হলো উদ্ভিদের উৎপত্তিস্থল (৩৭), আর উল্লিখিত মতভেদটি অন্য একটি মতভেদ সৃষ্টি করে, যা হলো ‘রহমান’ শব্দের রূপান্তরের (صرف) ক্ষেত্রে মতভেদ। সুতরাং তিনি দাবির মাধ্যমে উল্লিখিত মতভেদকে স্থানের পর্যায়ভুক্ত করেছেন, অতঃপর ধারণাগত স্থানকে প্রকৃত স্থানের সাথে তুলনা করেছেন তাদের উভয়ের মধ্যে ‘স্থানিকতা’ গুণের সাধারণত্বের কারণে। ফলে তিনি স্থানের জন্য নির্ধারিত শব্দটি ব্যবহার করেছেন। সমাপ্ত।
তাদের ব্যবহৃত শব্দাবলির মধ্যে একটি হলো: ‘আইদান’ (أَيْضاً) এটি ‘আদা-ইয়াইদু’ (آضَ يئيضُ) এর মূলক্রিয়া (مصدر)। ‘আদা’ (آضَ) এর মূল রূপ হলো: ‘আইয়াদা’ (أَيَضَ), যেমন: ‘বায়া’আ’ (بَيَعَ)। এখানে ‘ইয়া’ বর্ণটি হরকতবিশিষ্ট হয়েছে এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণটি জবরযুক্ত হওয়ায় একে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে। আর ‘ইয়াইদু’ (يئيضُ) এর মূল রূপ হলো: ‘ইয়াইয়িদু’ (يَئْيِضُ), ‘ইয়াফ’ইলু’ (يَفْعِل) এর ওজনে। এখানে ‘ইয়া’ বর্ণের হরকত হামজার দিকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأمّا إعرابُهُ فذكر ابن هشام في رسالة تعرض فيها للمسألة (38) : أنّ جماعةً توهموا أَنَّهُ منصوبٌ على الحال من ضمير (قال) ، وأنّ التقدير: وقال أيضاً، أي: راجعاً إلى القول، وهذا لا يحسنُ تقديره إلاّ إذا كان هذا القولُ صدر من القائل بعد صدور القول السابق (39) وليس [ذلك] (40) بشرط، بل تقول: قلتُ اليومَ كذا، وقلت (44) أمسِ أيضاً، وكتبتُ اليومَ، وكتبتُ أمسِ أيضاً. قال (42) : والذي يظهر لي أَنَّهُ مفعول مطلق حُذِف عامِلُه، أو حال حُذِفَ عاملها وصاحبها، أي: ارجعُ إلى الأخبار رجوعاً ولا اقتصرُ على ما قدَّمت، أو أخبر راجعاً، فهذا هو الذي يستمرُّ في جميع المواضع. ومما يؤنسك [بأنّ العامل محذوف] (42) أنّكَ تقولُ: (عِنْدَهُ (4) مالٌ وأيضاً علمٌ) . فلا يكون قبلها ما يصلحُ للعمل فيها، فلا بُدّ حينئذٍ من التقدير. واعلم أنّها إنّما تُستعمل في شيئين بينهما توافق، ويغني كلٌّ منهما عن الآخر، فلا يجوز: (جاءَ زيدٌ أيضاً) ولا (جاء زيدٌ ومضى عمرٌ وأيضاً) ولا (اختصم زيدٌ وعمرٌ وأيضاً) . انتهى ملخصاً.
--------------------------------------------
আর এর ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (إعراب) সম্পর্কে ইবনে হিশাম এমন একটি পুস্তিকায় উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি এই বিষয়টি (৩৮) নিয়ে আলোচনা করেছেন: নিশ্চয়ই একদল বিশেষজ্ঞ ধারণা করেছেন যে, এটি (قال) ক্রিয়ার সর্বনাম থেকে অবস্থা (حال) হিসেবে নসবযুক্ত (منصوب) হয়েছে এবং এর উহ্য রূপ (تقدير) হলো: "তিনি আরও বলেছেন", অর্থাৎ: পূর্বের কথার দিকে ফিরে আসার মাধ্যমে। আর এর এই ধরনের উহ্য রূপ (تقدير) ধরা তখনই সংগত হয় যখন বক্তার এই কথাটি তার পূর্ববর্তী কথা বলার পর প্রকাশ পায় (৩৯); তবে [তা] (৪০) কোনো শর্ত নয়। বরং আপনি বলতে পারেন: "আমি আজ এমন বলেছি এবং গতকালও (৪৪) এমন বলেছি", এবং "আমি আজ লিখেছি এবং গতকালও লিখেছি"। তিনি (৪২) বলেন: আমার নিকট যা স্পষ্ট তা হলো, এটি এমন একটি মাফউলে মুতলাক (مفعول مطلق) যার আমিল (عامل) বিলুপ্ত হয়েছে, অথবা এটি একটি অবস্থা (حال) যার আমিল (عامل) এবং অবস্থার অধিকারী (صاحب الحال) উভয়ই বিলুপ্ত হয়েছে; অর্থাৎ: "আমি সংবাদের দিকে পুনরায় ফিরে আসছি এবং যা আগে পেশ করেছি তাতেই সীমাবদ্ধ থাকছি না", অথবা "আমি ফিরে আসার অবস্থায় সংবাদ দিচ্ছি"। আর এটিই সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। এবং [আমিল (عامل) বিলুপ্ত হওয়ার বিষয়ে] (৪২) যা আপনাকে আশ্বস্ত করবে তা হলো আপনার এই উক্তি: "(তার নিকট (৪) সম্পদ আছে এবং জ্ঞানও আছে)"। সেক্ষেত্রে এর পূর্বে এমন কিছু নেই যা এর ওপর আমল (عمل) করার যোগ্য, তাই তখন উহ্য রূপ (تقدير) ধরা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। জেনে রাখুন যে, এটি কেবল এমন দুটি বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যাদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে এবং যাদের প্রতিটি অন্যটির বিকল্প হতে পারে। তাই এরূপ বলা বৈধ (جائز) নয়: "(জায়েদও এসেছে)" অথবা "(জায়েদ এসেছে এবং আমর চলে গেছেও)" অথবা "(জায়েদ ও আমর বিবাদ করেছেও)"। সংক্ষেপে সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ومنها قولهم: اللهُمَّ إلاّ أَنْ يكونَ كذا، ونحوه أقول: أصله: يا الله، حُذِفَ حرف النداء وعُوِّضَ عنه الميم للتعظيم والتفخيم، ولا تدخل عليها (يا) ، فلا يُقالُ: (يا اللهُمَّ) إلاّ شذوذاً في الشعر، كما قالَ ابن مالك (44) : والأكثرُ اللهُمَّ بالتعويضِ وشَذَّ يا اللهُمَّ في قريضِ ثُمّ الشائعُ استعمالها (45) في الدعاء، ولذا قال السلف (46) : اللهُمَّ مجمعُ الدعاء. وقال بعضهم: الميم في قول (اللهم) فيه تسعة وتسعون اسماً من أسماءِ الله تعالى. وأوضحه بعضهم بأنّ الميم تكون علامة للجمع، لأنّك تقول: (عليه) للواحد، و (عليهم) للجمع، فصارت الميم في هذا الموضع بمنزلة الواو الدالة على الجمع في قولك: (ضربوا) و (قاموا) فلمّا كانت كذلك زيدت في آخر اسم الله تعالى لتشعر (47) وتؤذن بأنّ هذا الاسم قد جُمعت (48) فيه أسماء الله تعالى كلّها. فإذا قالَ الداعي: اللهُمّ، فكأَنّه (49) قال: يا الله الذي له الأسماءُ الحُسنى. قال: ولاستغراقه أيضاً لجميع أسماء الله تعالى الحسنى وصفاته لا يجوز أنْ يوصف لأنها قد اجتمعت فيه، وهو حجّةٌ لما قالَ سيبويه (50) في منعِهِ وَصْفَهُ. انتهى.
--------------------------------------------
তাদের বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত হলো: 'আল্লাহুম্মা (হে আল্লাহ), যদি না বিষয়টি এমন হয়', এবং এই জাতীয় ক্ষেত্রে আমি বলি: এর মূল হলো: 'ইয়া আল্লাহ', যেখানে সম্বোধনসূচক অব্যয় (حرف النداء) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং মহিমা ও গাম্ভীর্য প্রকাশের জন্য তার পরিবর্তে 'মীম' যুক্ত করা হয়েছে। এর শুরুতে 'ইয়া' প্রবেশ করে না, তাই কাব্যের বিরল বা ব্যতিক্রম (شذوذ) ক্ষেত্র ছাড়া 'ইয়া আল্লাহুম্মা' বলা হয় না। যেমন ইবনে মালিক (৪৪) বলেছেন: বিনিময় (تعويض) হিসেবে 'আল্লাহুম্মা' বলাই অধিক প্রচলিত, আর কাব্যে 'ইয়া আল্লাহুম্মা' বলা বিরল বা ব্যতিক্রম (شذوذ)। এরপর দোয়ার ক্ষেত্রে এর ব্যবহারই বহুল প্রচলিত (৪৫), একারণেই পূর্বসূরি (سلف) (৪৬) গণ বলেছেন: 'আল্লাহুম্মা' হলো দোয়ার সমষ্টি। কেউ কেউ বলেছেন: 'আল্লাহুম্মা' শব্দে যে 'মীম' রয়েছে তাতে মহান আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম নিহিত আছে। কেউ কেউ এটি এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, 'মীম' হলো সমষ্টির চিহ্ন, কারণ আপনি একজনের ক্ষেত্রে বলেন 'আলাইহি' এবং বহুবচনের ক্ষেত্রে বলেন 'আলাইহিম'। ফলে এই স্থানে 'মীম' সমষ্টি নির্দেশক 'ওয়াও' এর সমতুল্য হয়েছে যেমন আপনার কথা: 'দারাবু' এবং 'কামু' এর ক্ষেত্রে। যখন বিষয়টি এমন হলো, তখন এটি মহান আল্লাহর নামের শেষে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে যাতে এটি ইঙ্গিত দেয় এবং জানিয়ে দেয় যে, এই নামের মধ্যে মহান আল্লাহর সকল নাম একত্রিত হয়েছে। সুতরাং যখন দোয়াকারী 'আল্লাহুম্মা' বলে, তখন সে যেন (৪৯) বলল: হে আল্লাহ! যাঁর জন্য সকল সুন্দর নামসমূহ রয়েছে। তিনি বলেন: মহান আল্লাহর সকল সুন্দর নাম ও গুণাবলিকে শামিল করার কারণেও একে আর বিশেষিত করা বৈধ নয়, কারণ সমস্ত গুণ এতে একত্রিত হয়েছে। সিবাওয়াইহ (৫০) একে বিশেষিত করতে যে নিষেধ করেছেন, এটি তার স্বপক্ষে একটি দলিল বা প্রমাণ (حجة)। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ثمّ أنّهم قد يأتون بها قبل الاستثناء إذا كانَ الاستثناءُ نادراً غريباً، كأنّهم لندوره استظهروا بالله تعالى في إثبات وجوده. قال بعض الفضلاء: وهو كثيرٌ في كلام الفصحاء كما قالَ المطرّزيّ (51) نَبَّهَ على ذلك الطِّيبي (52) في سورة المُدّثر في الكشف (53) بعد كلام: وأمّا نحو قولهم: (اللهُمّ إلاّ أنْ يكونَ كذا) فالفرض أنّ المستثنى مستعان بالله تعالى في تحقيقه تنبيهاً على ندرته وأنّه (54) لم يأت بالاستثناء إلاّ بعد التفويض لله تعالى. انتهى. وذكر العلاّمةُ المحقِّقُ صَدْرُ الشريعة (55) في أوائل كتابه: (التوضيح شرح التنقيح) : أنّ الاستثناءَ المذكورَ مُفَرَّغٌ من أعمّ الظروف لأنّ (5) المصادر قد تقع ظروفاً، نحو: آتيك طلوعَ الفجرِ، أي: وقتَ طلوعِهِ. انتهى. وأوضح ذلك العلامة بدر الدين الدمامينيّ في شرحه على المغني عند الكلام على (عسى) ، عند قول المصنّف: (ولكنْ يكونُ الإضمارُ في (يقوم) لا في (عسى) ، اللهُمّ إلاّ أنْ تقدّر العاملين تنازعا زيداً) (56) ، فقال (57) : الاستثناء في كلام المصنّف مُفَرَّغٌ من الظرف، والتقدير: ولكن يكون الإضمارُ في (يقوم) لا في (عسى) كلّ وقت إلاّ وقت أنْ تُقَدِّرَ
--------------------------------------------
অতঃপর, তারা ব্যতিক্রম (استثناء) উল্লেখ করার পূর্বেই এটি নিয়ে আসেন যখন সেই ব্যতিক্রম (استثناء) বিরল ও অদ্ভুত হয়; যেন তারা এর বিরলতার কারণে এর অস্তিত্ব সাব্যস্ত করতে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। জনৈক পণ্ডিত ব্যক্তি বলেছেন: বাগ্মীদের বক্তব্যে এটি প্রচুর দেখা যায়, যেমনটি আল-মুতাররিজি (৫১) বলেছেন। আল-তিবি (৫২) সূরা আল-মুদ্দাসসিরের আলোচনায় 'আল-কাশাফ' (৫৩) এর ব্যাখ্যায় এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন: আর তাদের বক্তব্য (হে আল্লাহ, তবে যদি এমন হয়) এর ক্ষেত্রে ধারণা হলো যে, ব্যতিক্রমকৃত বিষয়টি (مستثنى) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার সাহায্য নেওয়া হয়েছে এর বিরলতা সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য, এবং এটি কেবল আল্লাহ তায়ালার নিকট সোপর্দ করার পরেই সেই ব্যতিক্রম (استثناء) নিয়ে আসা হয়েছে। সমাপ্ত। আল্লামা মুহাক্কিক সদরুশ শরীয়াহ (৫৫) তার গ্রন্থ 'আত-তাওদিহ শারহুত তানকিহ'-এর শুরুতে উল্লেখ করেছেন: উল্লিখিত ব্যতিক্রমটি (استثناء) ব্যাপকতম সময়বাচক শব্দ (ظروف) থেকে শূন্য (مفرغ); কারণ ক্রিয়ামূলগুলো (مصادر) কখনো কখনো সময়বাচক শব্দ (ظروف) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন: 'আমি তোমার কাছে আসব ফজর উদয়কালে', অর্থাৎ: তার উদয় হওয়ার সময়ে। সমাপ্ত। আল্লামা বদরুদ্দিন আদ-দামামিনি 'আল-মুগনি'র ব্যাখ্যাগ্রন্থে 'আসা' সংক্রান্ত আলোচনার সময় গ্রন্থকারের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তা স্পষ্ট করেছেন: 'তবে উহ্য রাখা (إضمار) হবে 'ইয়াকুমু' ক্রিয়ার মধ্যে, 'আসা'র মধ্যে নয়; হে আল্লাহ, তবে যদি আপনি ধরে নেন যে দুটি আমল দানকারী শব্দই 'জায়েদ' শব্দটিকে নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে' (৫৬)। তিনি (৫৭) বলেন: গ্রন্থকারের বক্তব্যে এই ব্যতিক্রমটি (استثناء) সময়বাচক শব্দ (ظرف) থেকে শূন্য (مفرغ), আর এর বিশ্লেষণ হলো: তবে উহ্য রাখা (إضمار) হবে 'ইয়াকুমু' ক্রিয়ার মধ্যে, 'আসা'র মধ্যে নয় প্রতিটি সময়ে, কেবল সেই সময়টি ব্যতীত যখন আপনি ধরে নেবেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
العاملين تنازعا، ووقع (58) التفريغ في الإيجاب لاستقامة المعنى، نحو: (قرأتُ إلاّ يومَ كذا) ، ثم حذف الظرف بعد إلاّ وأُنيبَ المصدر عنه كما في: (أَجِيئُكَ يومَ قدومِ الحاج) . واللهُمّ معترضٌ، وانظر موقعها (59) هنا، فقد وقع في النهاية (60) أنّها تستعمل على ثلاثة أنحاء: أحدها: أنْ يراد بها النداء المحضن كقولهم (61) : (اللهُمَّ ارْحَمْنا) . الثاني: أنْ يذكره المُجيبُ تمكيناً للجواب في نفس السامع، يقول [لك] (62) القائل: (أقامَ زيدٌ؟) فتقولُ أنتَ: (اللُهمّ لا) . والثالث: أنْ يُستعملَ دليلاً على النّدْرة وقِلّة وقوع المذكور، كقولك: (أنا لا أزورك اللهُمَّ إذا لم تدعُني) . ألا ترى أنّ وقوع الزيارة مقرونة بعدم الدعاء. وظاهر أنّ معنى الأول والثاني لا يتأتيان (63) هنا، وفي تأتي الثالث في (649 هذا المحلّ نظر. انتهى كلام الدماميني. ولعلّ وجه النظر أنّ قول ابن الأثير (65) في النهاية: (ألا ترى
… الخ) يفيد أنّه لا بُدَّ أنْ يكون ما بعدها نادراً في نفسه، وقد يُقالُ: لا يلزم ذلك بقرينة قوله: (يستعمل دليلاً على الندرة
… الخ) (66) ، فأفادَ أنّها تدلّ
--------------------------------------------
দুই আমিলের মধ্যে তানাযু (পারস্পরিক দ্বন্দ্ব) হয়েছে এবং (৫৮) অর্থের সঠিকতার জন্য ইতিবাচক বাক্যে তাফরীগ (শূন্যকরণ) সংঘটিত হয়েছে, যেমন: ("আমি অমুক দিন ছাড়া পড়েছি"), এরপর 'ইল্লা' এর পরবর্তী যরফ (আধারবাচক শব্দ) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে মাসদার (ক্রিয়ামূল) স্থলাভিষিক্ত হয়েছে যেমনটি: ("আমি হাজীদের আগমনের দিন তোমার নিকট আসব") বাক্যে হয়েছে। আর আল্লাহুম্মা শব্দটি এখানে মুতারিযাহ (বাক্যের মাঝে ব্যবধানকারী) হিসেবে এসেছে, এখানে এর অবস্থানটি (৫৯) দেখুন; কেননা আন-নিহায়াহ গ্রন্থে (৬০) বর্ণিত হয়েছে যে এটি তিনটি পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়: প্রথমটি: এর দ্বারা নিছক আহ্বান উদ্দেশ্য হয় যেমন তাদের উক্তি (৬১): ("হে আল্লাহ, আমাদের প্রতি রহম করুন")। দ্বিতীয়টি: উত্তরদাতা শ্রোতার হৃদয়ে উত্তরটি সুদৃঢ় করার জন্য এটি উল্লেখ করেন, বক্তা [আপনাকে] (৬২) বলল: ("জায়েদ কি দাঁড়িয়েছে?") তখন আপনি বললেন: ("হে আল্লাহ, না")। এবং তৃতীয়টি: উল্লিখিত বিষয়টি বিরল হওয়া এবং তার ঘটার স্বল্পতা বুঝানোর দলিল হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনার উক্তি: ("আমি আপনার সাথে দেখা করতে আসব না, আল্লাহুম্মা যদি না আপনি আমাকে দাওয়াত দেন")। আপনি কি দেখছেন না যে, এখানে সাক্ষাত হওয়ার বিষয়টি দাওয়াত না দেওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে। এবং এটি স্পষ্ট যে প্রথম ও দ্বিতীয় অর্থ দুটি এখানে প্রযোজ্য নয়, আর এই স্থানে তৃতীয় অর্থটি আসার ব্যাপারেও পর্যালোচনা (نظر) (৬৪) রয়েছে। আদ-দামামিনীর বক্তব্য এখানেই শেষ। সম্ভবত পর্যালোচনার (نظر) কারণ এই যে, আন-নিহায়াহ গ্রন্থে ইবনুল আসিরের (৬৫) উক্তি: ("আপনি কি দেখছেন না
… ইত্যাদি") এটি বুঝায় যে এর পরে যা আসবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিরল হওয়া আবশ্যক, আবার বলা হয়ে থাকে যে: তাঁর উক্তি ("এটি বিরলতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়
… ইত্যাদি") (৬৬) এর প্রেক্ষিতে এটি আবশ্যক নয়। ফলে তিনি বুঝিয়েছেন যে এটি নির্দেশ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
على أنّ ما بعدها نادِرٌ بالنظر إلى ما قبلها وإنْ كان في نفسه غير نادر فليُتَأمَّل. ثم اعلم أنّ قوله: (ووقع (67) التفريغ في الإِيجاب) فيه نظرٌ، لأنّ قول المغني: يكون الإِضمار في (يقوم) (68) لا في (عسى) ، معناه: لا يكون الإِضمار في (عسى) في وقت من الأوقات إلاّ في كذا. فالوقت المقدّر نكرة في سياق النفي، فالاستثناء بعدها استثناء من النفي، كما في قولك: (لا يأتينا زيدٌ إلاّ يومَ كذا) ، نَعَمْ قد يعبرون بنحو قولك: (هذا ضعيفٌ إلاّ إذا حُمِلَ على كذا) فهو استثناء (69) مفرّغ في الإِثبات صورة، ولكنّه في المعنى نفيٌ، لأنّ معنى ضعيف (6) أنّه لا يُعتدُّ (70) أو لا يصحُّ. وقال في المغني (71) في أول الباب الثامن ما نَصُّهُ: (السادسة: وقوع الاستثناء المفرّغ في الإِيجاب نحو: (وإنَّها لكبيرةً إلاّ على الخاشعين) (72) و (يأبى اللهُ إلاّ أنْ يُتِمَّ نورَهُ) (73) [لمّا كانَ المعنى: وإنّها لا تسهل إلاّ على الخاشعين، ولا يريدُ اللهُ إلاّ أنْ يُتمَّ نورَه] (74) . انتهى.
--------------------------------------------
তা সত্ত্বেও এর পরবর্তী বিষয়টি তার পূর্ববর্তী বিষয়ের তুলনায় বিরল (نادر), যদিও তা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে বিরল (نادر) নয়, তাই এ ব্যাপারে চিন্তা করা প্রয়োজন। অতঃপর জেনে রাখুন যে, তাঁর বক্তব্য: (এবং ইতিবাচকতার (الإيجاب) ক্ষেত্রে শূন্যগর্ভকরণ (التفريغ) ঘটেছে) এর মধ্যে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে (فيه نظر)। কেননা মুগনী-র বক্তব্য: প্রচ্ছন্নতা (الإضمار) ‘ইয়াকুমু’ ক্রিয়াতে রয়েছে, ‘আসা’ ক্রিয়াতে নয়—এর অর্থ হলো: কোনো নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত অন্য কোনো সময়ে ‘আসা’-এর মধ্যে প্রচ্ছন্নতা (الإضمار) থাকবে না। সুতরাং অনুমিত সময়টি নেতিবাচকতা (النفي) এর প্রেক্ষাপটে একটি অনির্দিষ্ট (نكرة) শব্দ, ফলে এর পরবর্তী ব্যতিক্রমটি (الاستثناء) হবে নেতিবাচকতা (النفي) থেকে ব্যতিক্রম (الاستثناء); যেমনটি আপনার এই উক্তিতে রয়েছে: (জায়েদ আমাদের নিকট অমুক দিন ব্যতীত আসে না)। হ্যাঁ, তারা হয়তো আপনার এই কথার ন্যায় ব্যক্ত করেন: (এটি দুর্বল (ضعيف) কেবল তখনই যখন একে অমুক বিষয়ের উপর প্রয়োগ করা হয়), সুতরাং এটি দৃশ্যত সাব্যস্তকরণের (الإثبات) ক্ষেত্রে একটি শূন্যগর্ভ (مفرغ) ব্যতিক্রম (الاستثناء), কিন্তু অর্থের দিক থেকে এটি নেতিবাচকতা (النفي)। কারণ দুর্বল (ضعيف) হওয়ার অর্থ হলো যে এটি গণ্য করা হয় না (لا يعتد) অথবা তা সঠিক নয় (لا يصح)। এবং মুগনী আল-লাবীব-এ অষ্টম অধ্যায়ের শুরুতে তাঁর পাঠটি নিম্নরূপ: (ষষ্ঠ: ইতিবাচকতার (الإيجاب) ক্ষেত্রে শূন্যগর্ভ (مفرغ) ব্যতিক্রমের (الاستثناء) ব্যবহার, যেমন: {নিশ্চয়ই এটি অত্যন্ত কঠিন কাজ, তবে বিনয়ীদের জন্য নয়} এবং {আল্লাহ তাঁর নূর পূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু চান না} [যেহেতু এর অর্থ হলো: এটি বিনয়ীদের জন্য ব্যতীত সহজ হয় না এবং আল্লাহ তাঁর নূর পূর্ণ করা ব্যতীত অন্য ইচ্ছা করেন না])। সমাপ্ত。
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومنها قولهم: لا بُدَّ من كذا أي: لا مُفارقة، وقد يُفَسَّرُ ب (وَجَبَ) ، وذلك لأنَّ أصله في الإِثبات: بَدُّ الأمرَ: فرَّقَ، وتبدَّدَ: تفرَّقَ، وجاءتَ الخيلُ بَدداً (75) ، أي: متفرّقةً. فإذا نُفي التفرّقُ والمُفارقة بينَ شيئينِ حصلَ تلازمٌ بينهما دائماً فصارَ أحدهما واجباً للآخر، من ثمَّ فسّروه ب (وَجَبَ) . وبُدَّ: اسم مبني على الفتح مع (لا) النافية، لأنّه اسمها والخبر محذوف، أي: (لنا) أو نحوه، وقد يُصرَّحُ به (76) . وذكر الفَنَرِيّ (77) في حواشي المطوّل (78) : أنّ الجار والمجرور متعلّق بالمنفي، أعني بُدَّ، على قول البغداديين حيث أجازوا (79) : (لا طالعَ جبلاً) [بترك] (80) تنوين الاسم المطول إجراءً له مجرى المضاف، والبصريون أوجبوا في مثله تنوين الاسم، وجعلوا متعلّق الظرف فيما بني الاسم فيه على الفتح كما فيما نحن فيه محذوفاً هو خبر المبتدأ، أي: لا بُدَّ ثابت لنا (81) . وقوله: (من كذا) خبر مبتدأ محذوف، أي: البدُّ المنفي من كذا. وهذه الجملة الاسمية المنفية لا محلَّ لها من الإِعراب، لأنّها جملة مستأنفة لفظاً. ويجوز أنْ يكون (من كذا) متعلّقاً بما دلّ عليه (لا بُدّ) ، أي: لا بُدَّ من كذا.
--------------------------------------------
তাদের একটি উক্তি হলো: ‘লা বুদ্দা মিন কাজা’ (এর কোনো বিকল্প নেই) অর্থাৎ: কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই। একে ‘আবশ্যক হওয়া’ (وجب) দ্বারাও ব্যাখ্যা করা হয়। এর কারণ হলো, ইতিবাচক অর্থে এর মূল শব্দ: ‘বাদদা’ অর্থ পৃথক করা; আর ‘তাবাদ্দাদা’ অর্থ বিচ্ছিন্ন হওয়া। যেমন বলা হয়, ‘ঘোড়াগুলো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় (بدداً) এসেছে’। সুতরাং যখন দুটি বিষয়ের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা ও পৃথকীকরণকে নাকচ করা হয়, তখন তাদের মধ্যে সর্বদা একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তৈরি হয়, ফলে একটি অপরটির জন্য আবশ্যক (واجب) হয়ে যায়। এই কারণেই তারা একে ‘আবশ্যক হওয়া’ (وجب) দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। ‘বুদ্দা’ (بُدَّ) শব্দটি ‘লা’ (لا) এর সাথে ফাতহাযুক্ত মাবনি ইসম, কারণ এটি তার ইসম এবং এর বিধেয় (الخبر) উহ্য রয়েছে; অর্থাৎ: ‘লানা’ (আমাদের জন্য) বা এই জাতীয় কিছু। কখনও কখনও এটি স্পষ্টভাবেও উল্লেখ করা হয় (৭৬)। আল-ফানারারি (৭৭) ‘আল-মুতাউওয়াল’ এর হাশিয়াতে (৭৮) উল্লেখ করেছেন যে: জার এবং মাজরুর ‘মানফি’ (المنفي) তথা ‘বুদ্দা’ এর সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلق); এটি বাগদাদি বৈয়াকরণদের মতানুসারে, যারা দীর্ঘ ইসমটিকে সম্বন্ধযুক্ত পদের (المضاف) স্থলাভিষিক্ত করার মাধ্যমে এর তানউইন বিলুপ্ত করে ‘লা তালিআ জাবালান’ (পাহাড় আরোহণকারী নেই) বলা বৈধ (৭৯) মনে করেন। অন্যদিকে বসরাবাসী বৈয়াকরণগণ এই জাতীয় ক্ষেত্রে ইসমের তানউইন হওয়াকে আবশ্যক (أوجب) করেছেন। যেখানে ইসমটি ফাতহার ওপর মাবনি হয়, সেখানে তারা যারফের সংশ্লিষ্ট বিষয়টি (المتعلق) উহ্য রেখেছেন যা মূলত উদ্দেশ্যের বিধেয় (خبر المبتدأ); অর্থাৎ: ‘লা বুদ্দা সাবিতুন লানা’ (৮১)। আর তার উক্তি: ‘মিন কাজা’ (অমুক বিষয় থেকে) হলো একটি উহ্য উদ্দেশ্যের (مبتدأ) বিধেয় (خبر), অর্থাৎ: ‘অস্বীকৃত বিকল্পটি হলো অমুক বিষয় থেকে’। এই নেতিবাচক নামবাচক বাক্যটির (الجملة الاسمية المنفية) কোনো ইরাবগত স্থান নেই, কারণ এটি শাব্দিকভাবে একটি প্রারম্ভিক বাক্য (جملة مستأنفة)। আবার এটিও জায়েয যে, ‘মিন কাজা’ অংশটি ‘লা বুদ্দা’ দ্বারা যা নির্দেশ করা হয়েছে তার সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلق) হবে; অর্থাৎ: অমুক বিষয় ছাড়া কোনো উপায় নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقد أشار الشريفُ (82) في أواخر (بيان المفتاح) إلى أنّ الظرف في مثله خبر ل (لا) حيث قال: (في قوله: (لا تَلَقّيَ لإِشارته) أنّ (لإِشارته) ليس معمولاً للتلقي (83) وإلاّ لوجب نصبه على التشبيه بالمضاف بل هو خبر (لا) فتأمّل وقسْ على ما ذُكِرَ نظائر هذا التركيب) (84) . انتهى. وأقولُ: هذا ظاهرٌ فيما إذا قِيلَ: (لا بُدَّ من كذا) . أمّا إذا قيل: (لا بُدَّ لكذا من كذا) فالخبر هو الظرف الأول، إلاّ أنْ يُقال من تعدد الأخبار تأمّل. ثُم في قوله: (ويجوز أنْ يكونَ متعلِّقاً بما دلَّ عليه (لا بُدَّ) ، أي: لا بُدَّ من كذا) فيه نظرٌ إذْ لا فرقَ بينَ هذا المُقَدَّر والمذكور، فلا حاجة إلى تقديره تأمّل هذا (85) . ووقع في بعض العبارات: (لا بُدَّ وأَنْ يكونَ) واستعمله السَّعْدُ (86) في كتبه أيضاً. وقال الفَنَريّ (7) : إنّ الواوَ مَزيدةٌ في الخبر. وقالَ بعضُ المُحَشِّين: هذه الواو للّصوق، أي: لزيادة لصوق (لا) بالخبر. انتهى. وفيه بحثٌ، فإنّ الكون المنسبك من (أَنْ) والفعل لا يصلحُ أنْ يكونَ خبراً معنى (87) . فإنْ قِيلَ: حَذْفُ الجارِّ بَعْدَ (أَنَّ) و (أنْ) مطّردٌ.
--------------------------------------------
শরীফ (৮২) 'বায়ানুল মিফতাহ'-এর শেষভাগে ইঙ্গিত করেছেন যে, এই ধরনের বাক্যে যরফ হলো 'লা'-এর খবর। তিনি বলেছেন: "(তাঁর উক্তি: 'লা তালাক্কিয়া লি-ইশারতিহি'-তে) 'লি-ইশারতিহি' শব্দটি 'তালাক্কি'-এর মামুল (৮৩) নয়। অন্যথায় 'মুশাব্বাহ বিল মুদাফ' হিসেবে একে নসব প্রদান করা ওয়াজিব হতো; বরং এটি 'লা'-এর খবর। সুতরাং বিষয়টি অনুধাবন করো এবং এই কাঠামোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ উদাহরণগুলোকে এর ওপর কিয়াস করো।" (৮৪)। সমাপ্ত। আমি বলছি: এটি তখন সুস্পষ্ট যখন বলা হয়: (লা বুদ্দা মিন কাযা)। কিন্তু যখন বলা হয়: (লা বুদ্দা লি-কাযা মিন কাযা), তখন খবর হলো প্রথম যরফটি। তবে যদি একাধিক খবর থাকার কথা বলা হয়, তবে তা ভিন্ন কথা; বিষয়টি ভেবে দেখো। এরপর তাঁর উক্তি: (এবং এটি 'লা বুদ্দা' যা নির্দেশ করে তার সাথে মুতাআল্লিকা হওয়া বৈধ, অর্থাৎ: লা বুদ্দা মিন কাযা)—এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। কারণ এই উহ্য এবং উল্লিখিত শব্দের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, তাই এটি উহ্য ধরার কোনো প্রয়োজন নেই। এটি অনুধাবন করো (৮৫)। কিছু বর্ণনায় এসেছে: (লা বুদ্দা ওয়া আন ইয়াকুনা) এবং আল্লামা সাদ (৮৬) তাঁর কিতাবসমূহেও এটি ব্যবহার করেছেন। আল-ফানারী (৭) বলেন: খবরে 'ওয়াও' অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে। কোনো কোনো টীকাকার বলেছেন: এই 'ওয়াও' হলো 'লুসুক'-এর জন্য, অর্থাৎ 'লা'-এর সাথে খবরের অধিকতর সংশ্লিষ্টতা বোঝাতে। সমাপ্ত। তবে এ নিয়ে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে, কেননা 'আন' এবং ক্রিয়া থেকে গঠিত সত্তা অর্থগতভাবে খবর হওয়ার যোগ্যতা রাখে না (৮৭)। যদি বলা হয়: 'আন্না' এবং 'আন'-এর পর হরফে জার বিলোপ হওয়া একটি স্বীকৃত ব্যাকরণিক নিয়ম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
قُلنا: إذا قُدِّرَ الجار يكون لغواً متعلقاً بقوله (بُدَّ) ، والخبر محذوف كما مرَّ. على أنّ صاحب المغني (88) لا يثبت واواً (89) للّصوق، كما ذكره بعضُ الفضلاء، ورجّح أنّ الواو هنا زائدة، وهي التي دخولها في الكلام كخروجها. ورأيت في بعض الهوامش أَنَّه رُوِيَ عن أبي سعيد السِّيرافيّ (90) في كتاب س (91) أنّه قالَ: تجيء الواو بمعنى (مِنْ) ، فإنْ ثبتَ ذلك يكونُ حَمل الواو هنا عليه أَوْلى من دعوى زيادتها فليُراجع.
ومنها قولهم: كذا لغةً واصطلاحاً قال ابنُ الحاجبِ: إنَّهُ منصوب على المفعولية المُطلقة، وإنّه من المصدر المؤكّد لغيره. صرّح به في أماليه (92) . وفيه نَظَرٌ من وجهين: الأول: أنّ اللغةَ ليستْ اسماً للحدثِ. الثاني: أنّها لو كانت مصدراً مؤكّداً لغيره لكانتْ إنّما تأتي بعدَ الجملةِ، فإنّه لا يجوزُ أنْ يتقدَّمَ ولا يتوسط، فلا يُقال: (حقًّا زيدٌ ابني) ولا (زيدٌ حقًّا ابني) ، وإنْ كانَ الزَّجّاجُ (93) يجيزُ ذلك.
--------------------------------------------
আমরা বলেছি: যখন হারফে জার (الجار) উহ্য ধরা হয়, তখন তা 'বুদ্দা' (بُدَّ) শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হিসেবে গৌণ বা অনর্থক (لغواً) হবে, আর এর খবর (الخبر) হবে বিলুপ্ত (محذوف), যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, মুগনি আল-লাবিব প্রণেতা (৮৮) সংযুক্তির জন্য কোনো 'ওয়াও' (الواو للّصوق) সাব্যস্ত করেননি (৮৯), যেমনটি কিছু বিদগ্ধ আলেম উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন যে এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি অতিরিক্ত (زائدة), যা বাক্যে থাকা আর না থাকা সমান। আমি কোনো কোনো পার্শ্বটীকায় দেখেছি যে, আবু সাইদ আস-সিরাফি (৯০) থেকে কিতাব সিবাওয়াইহ-এ (৯১) বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: 'ওয়াও' বর্ণটি 'মিন' (مِنْ) এর অর্থে আসে। যদি এটি প্রমাণিত হয়, তবে এখানে 'ওয়াও' কে সেই অর্থের ওপর প্রয়োগ করা একে অতিরিক্ত দাবি করার চেয়ে অধিকতর শ্রেয়; সুতরাং বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য।
তার মধ্যে একটি হলো তাদের উক্তি: অমুক বিষয়টি শাব্দিক (لغةً) এবং পারিভাষিক (اصطلاحاً) দিক থেকে। ইবনুল হাজিব বলেন: এটি মাফউলে মুতলাক (المفعولية المُطلقة) হিসেবে মানসুব (منصوب) হয়েছে এবং এটি এমন মাসদার যা অন্য পদের তাকীদ বা গুরুত্ব (المصدر المؤكّد لغيره) প্রদান করে। তিনি তার আমালি (৯২) গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে দুই দিক থেকে আপত্তির অবকাশ (نظَر) রয়েছে: প্রথমত: 'লুগাত' (ভাষা) কোনো ক্রিয়া বা ঘটনার (الحدث) নাম নয়। দ্বিতীয়ত: এটি যদি অন্যের তাকীদ প্রদানকারী মাসদার হতো, তবে তা কেবল পূর্ণাঙ্গ বাক্যের পরেই আসত। কারণ এটি বাক্যের শুরুতে বা মাঝখানে আসা বৈধ নয়। সুতরাং 'হাক্কান যাইদুন ইবনি' কিংবা 'যাইদুন হাক্কান ইবনি' বলা যাবে না, যদিও আজ-জাজ্জাজ (৯৩) এটি জায়েজ মনে করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فإنْ قلتَ: هل يجوزُ أنْ يكونَ مفعولاً لأجله، أو منصوباً على نزع الخافض، أو تمييزاً؟ قلتُ: لا يجوز الأوّلُ لأنّ المنصوب على التعليل لا يكون إلاّ مصدراً، ولا الثاني لوجهين: الأول: أنّ إسقاط الخافض سماعي، واستعمال مثل هذا التركيب مستمرٌّ شائعٌ في كلام العلماء. الثاني: أنّهم التزموا في مثل هذه الألفاظ التنكير ولو كانت على إسقاط الخافض لبقيت على تعريفها الذي كان (94) مع وجود الخافض، كما بقي التعريف في قوله (95) : تَمُرُّونَ الديارَ ولم تَعُوجُوا كلامُكُمُ عليَّ إذاً حَرامُ وأصله: تمرّون على الديار، أو بالديار. ولا الثالث لأنّ التمييز إمّا تفسيرٌ للمفرد ك (رطل زيتاً) أو تفسير للنسبة ك (طابَ زيدٌ نفساً) ، وهذا ليس شيئاً منهما. أمّا أنّه ليس تفسيراً للمفرد فلأنّه لم يتقدّمْ مبهمٌ وضعاً (96) فيميّز. وأمّا أنّه ليس تفسيراً (8) للنسبة فلأنّه لم تتقدّم (97) نسبةٌ. فإنْ قلتَ: يمكن أنّه من تمييز النسبة بأنْ يُقدَّرَ مضاف، أي: تفسيرها لغةً، فيكون من باب (أعجبني [طيبُهُ] (98) أباً) .
--------------------------------------------
فإنْ قلتَ: هل يجوزُ أنْ يكونَ مفعولاً لأجله، أو منصوباً على نزع الخافض، أو تمييزاً؟ قلتُ: لا يجوز الأوّلُ لأنّ المنصوب على التعليل لا يكون إلاّ مصدراً، ولا الثاني لوجهين: الأول: أنّ إسقاط الخافض سماعي، واستعمال مثل هذا التركিব مستمرٌّ شائعٌ في كلام العلماء. الثاني: أنّهم التزموا في مثل هذه الألفاظ التنكير ولو كانت على إسقاط الخافض لبقيت على تعريفها الذي كان (94) مع وجود الخافض، كما بقي التعريف في قوله (95) : تَمُرُّونَ الديارَ ولم تَعُوجُوا كلامُكُمُ عليَّ إذاً حَرامُ وأصله: تمرّون على الديار، أو بالديار. ولا الثالث لأنّ التمييز إمّا تفسيرٌ للمفرد ك (رطل زيتاً) أو تفسير للنسبة ك (طابَ زيدٌ نفساً) ، وهذا ليس شيئاً منهما. أمّا أنّه ليس تفسيراً للمفرد فلأنّه لم يتقدّمْ مبهمٌ وضعاً (96) فيميّز. وأمّا أنّه ليس تفسيراً (8) للنسبة فلأنّه لم تتقدّم (97) نسبةٌ. فإنْ قلتَ: يمكن أنّه من تمييز النسبة بأنْ يُقدَّرَ مضاف، أي: تفسيرها لغةً، فيكون من باب (أعجبني [طيبُهُ] (98) أباً) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
قلتُ: تمييز النسبة الواقع (99) بين المتضايفين (100) لا يكون إلاّ فاعلاً في المعنى. ثمّ قد يكون مع ذلك فاعلاً في الصناعة (101) باعتبار الأصل فيكون محوّلاً عن المضاف، نحو: (أعجبني طِيبُ زيدٍ أباً) ، إذا كان المراد الثناء على أبي زيد، وقد لا يكون كذلك فيكون صالحاً لدخول (من) نحو: (للهِ درُّهُ فارساً) و (وَيْحَهُ رَجُلاً) ، فإنّ الدرّ بمعنى الخير، وويح بمعنى الهلاك، ونسبتهما إلى الرجل كنسبة الفعل إلى فاعله، وتعلّق التفسير بالكلمة إنّما هو تعلّق الفعل بالمفعول لا بالفاعل. فإنْ قلتَ: ما وجهُ نصبِهِ؟ قلتُ: الظاهر أنْ يكونَ حالاً على تقدير مضاف من المجرور (102) ومضافين من المنصوب. والأصل تفسيرها: موضوع أهل اللغة، ثم حُذِفَ المتضايفان (103) على حدَّ حذفهما في قوله تعالى: (فَقَبَضْتُ قَبْضَةً من أَثَرِ الرسولِ) (104) أي: أثر حافر فرس الرسول. ولمّا أُنيبَ الثالث عماّ هو الحالُ بالحقيقة التزم تنكيره لنيابته عن لازم التنكير. ولكَ أن تقول: الأصل موضوع اللغة، بتقدير مضاف واحد، ونسبة الوضع إلى اللغة مجازٌ. وهذا أحسنُ الوجوه، كذا حرَّرَه بعض المحققين 0105) ، وهو خلاصة ما ذكره ابن هشام في رسالته الموضوعة في هذه المسألة، ومَنْ أراد الاطلاع على أزيد من ذلك فعليه بها (106) .
--------------------------------------------
আমি বললাম: পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত পদের (মুদাফ ও মুদাফুন ইলাইহি) মধ্যে অবস্থিত সম্পর্কের বিশেষত্বকারী পদ কেবল অর্থগতভাবে কর্তা (ফায়েল) হিসেবেই গণ্য হয়। অতঃপর তা মূলের বিচারে ব্যাকরণগত প্রয়োগের ক্ষেত্রেও ফায়েল হতে পারে, ফলে তা মুদাফ থেকে রূপান্তরিত হয়; যেমন: 'পিতা হিসেবে যায়িদের সুগন্ধি আমাকে মুগ্ধ করেছে', যদি উদ্দেশ্য হয় যায়িদের পিতার প্রশংসা করা। আবার কখনও বিষয়টি এমন হয় না, বরং তা 'মিন' (من) অব্যয় প্রবেশের যোগ্য হয়; যেমন: 'ঘোড়সওয়ার হিসেবে তার কতই না চমৎকার নৈপুণ্য!' এবং 'ব্যক্তি হিসেবে তার প্রতি আক্ষেপ'। কারণ 'দার' অর্থ হলো কল্যাণ এবং 'ওয়াইহ' অর্থ হলো ধ্বংস। আর ব্যক্তির সাথে এগুলোর সম্বন্ধ হলো ক্রিয়ার (ফেল) সম্বন্ধ কর্তার (ফায়েল) দিকে করার মতো। আর শব্দের সাথে ব্যাখ্যার (তফসির) সম্পর্ক হলো ক্রিয়ার সাথে কর্মের (মাফউল) সম্পর্কের মতো, কর্তার সাথে নয়। যদি আপনি বলেন: এটি 'নসব' হওয়ার কারণ কী? আমি বলব: স্পষ্টত এটি 'হাল' (অবস্থা) হবে, এই হিসেবে যে মাজরুর পদ থেকে একটি এবং মানসুব পদ থেকে দুটি মুদাফ উহ্য রয়েছে। আর এর মূল হলো: 'ভাষাবিদদের পরিভাষা', অতঃপর পরস্পর সম্বন্ধযুক্ত পদ দুটিকে বিলোপ করা হয়েছে যেভাবে মহান আল্লাহর বাণীতে বিলোপ করা হয়েছে: 'অতঃপর আমি রাসূলের পদচিহ্নের এক মুষ্টি গ্রহণ করলাম' (ত্বহা: ৯৬); অর্থাৎ: রাসূলের ঘোড়ার ক্ষুরের চিহ্ন। যখন তৃতীয় পদটিকে প্রকৃত হালের স্থলাভিষিক্ত করা হলো, তখন তা 'নাকেরা' (অনির্দিষ্ট) হওয়া আবশ্যক করা হয়েছে, কারণ তা এমন পদের স্থলাভিষিক্ত যা সর্বদা নাকেরা হয়ে থাকে। আপনি এটিও বলতে পারেন: মূল হলো 'ভাষার পরিভাষা', যেখানে একটি মুদাফ উহ্য রয়েছে এবং ভাষার প্রতি পরিভাষার সম্বন্ধটি রূপক। এটিই সর্বোত্তম পদ্ধতি, যা কোনো কোনো গবেষক বিশ্লেষণ করেছেন। এটি ইবনে হিশাম এই মাসআলা সম্পর্কে তাঁর রচিত পুস্তিকায় যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ। আর যে ব্যক্তি এর চেয়ে বেশি জানতে আগ্রহী, তার উচিত উক্ত পুস্তিকাটি অধ্যয়ন করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
ومنها قولهم: هو أكثرُ مِنْ أَنْ يُحْصَى ونحو قولهم: زيدٌ أَعْقَلُ مِن أنْ يكذبَ وهو من مشكل التراكيب، فإنّ ظاهِرَهُ تفضيلُ الشيء في الأكثرية على الإِحصاء، وتفضيلُ زيدٍ في العقل على الكذب، وهذا لا معنى له، ونظائِرُهُ كثيرةٌ مشهورةٌ، وقَلَّ مَنْ تَنبَّهَ (107) لإِشكالها. وقد حَمَلَهُ بعضُهم (108) على أنّ (أنْ) المصدرية بمعنى (الذي) ، وردّه في المغني (109) في الجهة الثالثة من الباب الخامس من الكتاب من أنّه (110) لا يُعرَفُ قائل به، ووجّهه بتوجيهين نظر في كلٍّ منهما الدماميني في شرحه عليه (111) ، ونقل عن الرضي (112) (9) وجهاً استحسنه فقال: قال الرَّضِيُّ: (وأَمّا نحو قولهم: (أنا أكبرُ مِنْ أَنْ أشعر) و (أَنْتَ أعظمُ مِنْ أنْ تقولَ كذا) ، فليس المقصود تفضيل المتكلّم على الشِّعْر، والمخاطب على القول، بل المُراد: بُعدُهما عن الشعر والقول، و (أَفْعَلُ) التفضيل يُفيد بُعْدَ الفاضل من المفضول وتجاوزَه عنه، ف (مِنْ) في مثله ليست تفضيلية بل هي مثلها (113) في قولك: (بِنتُ منه) (114) ، تعلّقت ب (أَفْعَل) التفضيل (115) بمعنى: متجاوز، وبائن، بلا تفضيل. فمعنى [قولك] (116) : (أنتَ أَعَزُّ عليَّ
--------------------------------------------
এর মধ্যে একটি হলো তাঁদের উক্তি: "এটি গণনার অতীত (أكثر من أن يحصى)" এবং তাঁদের উক্তির ন্যায়: "জায়েদ মিথ্যা বলার ঊর্ধ্বে জ্ঞানবান (أعقل من أن يكذب)"। আর এটি জটিল বাক্যগঠনসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ এর বাহ্যিক দিকটি কোনো বিষয়কে আধিক্যের দিক থেকে গণনার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান (تفضيل) করা এবং জায়েদকে তার বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থায় মিথ্যার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান (تفضيل) করাকে বুঝায়। অথচ এর কোনো অর্থ হয় না। এই ধরণের উদাহরণ অনেক ও প্রসিদ্ধ, তবে খুব কম লোকই (১০৭) এর জটিলতার প্রতি লক্ষ্য করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ (১০৮) মাসদারীয়া 'আন' (أن المصدرية)-কে 'আল্লাযী' (الذي) অর্থে গ্রহণ করেছেন। তবে মুগনী (১০৯) কিতাবের পঞ্চম অধ্যায়ের তৃতীয় দিকে এটি খণ্ডন করা হয়েছে যে, (১১০) এমন মতের কোনো প্রবক্তা জানা নেই। এবং তিনি এর দুটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন যা দামামিনী তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (১১১) পর্যালোচনা করেছেন। তিনি রাযী (১১২) থেকে একটি অভিমত উদ্ধৃত করেছেন যা তিনি পছন্দ করেছেন। রাযী বলেন: "আর তাঁদের উক্তি যেমন: 'আমি কাব্য চর্চার ঊর্ধ্বে' (أنا أكبر من أن أشعر) এবং 'আপনি অমুক কথা বলার ঊর্ধ্বে মহান' (أنت أعظم من أن تقول كذا); এখানে উদ্দেশ্য বক্তাকে কবিতার ওপর বা সম্বোধিত ব্যক্তিকে উক্তির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান (تفضيل) করা নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো: কবিতা ও উক্তি থেকে তাঁদের উভয়ের দূরত্ব। এবং আতিশয্যবাচক বিশেষ্য (أفعل التفضيل) শ্রেষ্ঠ বস্তুর অনুত্তম বস্তু থেকে দূরত্ব ও তা অতিক্রম করাকে বুঝায়। সুতরাং এমন বাক্যে 'মিন' (من) আতিশয্যমূলক নয়, বরং এটি আপনার উক্তি 'আমি তার থেকে পৃথক হয়েছি' (بنت منه) (১১৪)-এর 'মিন'-এর মতো (১১৩); যা শ্রেষ্ঠত্ব দান (تفضيل) ছাড়াই 'অতিক্রমকারী' ও 'পৃথক' অর্থে আতিশয্যবাচক (أفعل) (১১৫) পদের সাথে যুক্ত হয়েছে। সুতরাং [আপনার উক্তির] (১১৬) অর্থ: 'আপনি আমার নিকট অধিক প্রিয়...'
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
مِن أنْ أضربَكَ) ، [أي: بائِنٌ مِن أنْ أضربَكَ] (117) من فرط عِزَّتِكَ عليَّ. وإنّما جازَ ذلكَ، لأنّ (مِنْ) التفضيلية متعلقة (118) ب (أَفْعَل) التفضيل بقريب من هذا المعنى، ألا ترى أنَّكَ إذا قلتَ: (زيدٌ أفضلُ من عَمْرو) ، فمعناه: زيدٌ (119) متجاوزٌ في الفضل عن مرتبة عمرو (120) ، ف (مِنْ) فيما نحنُ فيه كالتفضيلية، إلاّ (121) في معنى التفضيل) (122) . قال: ولا مزيد عليه في الحُسْنِ (123) .
ومنها قولهم: سواءٌ كانَ كذا أَمْ كذا فسواءٌ اسم بمعنى الاستواء، يُوصف به كما يُوصف بالمصادر، ومنه قوله تعالى: (إلى كلمةٍ سَواءٍ بيننا وبينَكم) (124) ، هو هنا خبرٌ، والفعلُ بعدَه، أعني (كان كذا) في تأويل المصدر مبتدأ، كما صرّح بمثله الزمخشريّ (125) في قوله تعالى: (سواءٌ عليهم أَأَنذرتَهُم أمْ لم تُنْذِرْهم) (126) ، والتقدير: كونه كذا وكونه كذا سيّان.
--------------------------------------------
তোমাকে প্রহার করা থেকে), [অর্থাৎ: তোমাকে প্রহার করা থেকে তা স্বতন্ত্র] (১১৭) আমার প্রতি তোমার অত্যধিক সম্মানের কারণে। আর এটি জায়েজ হয়েছে কারণ আতিশয্যবাচক 'মিন' আতিশয্যবাচক 'আফয়ালু' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট (১১৮), যা এই অর্থের কাছাকাছি। তুমি কি দেখছ না যে, যখন তুমি বলো: (জায়েদ আমরের চেয়ে শ্রেষ্ঠ), তখন এর অর্থ হয়: জায়েদ (১১৯) শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে আমরের মর্যাদাকে (১২০) অতিক্রমকারী। সুতরাং আমরা এখানে যে বিষয়ে আলোচনা করছি সেখানে 'মিন' শব্দটি আতিশয্যবাচক শব্দের মতো, তবে (১২১) আতিশয্যের অর্থের ক্ষেত্রে ভিন্ন (১২২)। তিনি বলেন: এর চেয়ে উত্তম (حسن) আর কিছু হতে পারে না (১২৩)।
আর তাদের একটি কথা হলো: চাই তা এমন হোক অথবা তেমন হোক। এখানে 'সাওয়াহ' শব্দটি সমতা অর্থে একটি বিশেষ্য, যা দ্বারা গুণ বর্ণনা করা হয় যেমনটি ক্রিয়ামূল দ্বারা করা হয়। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: (এমন একটি কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান) (১২৪)। এটি এখানে বিধেয়, আর এর পরবর্তী ক্রিয়াটি অর্থাৎ (এমন হওয়া) শব্দটি ক্রিয়ামূলের ব্যাখায় উদ্দেশ্য হিসেবে রয়েছে, যেমনটি যামাখশারী (১২৫) মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে স্পষ্ট করেছেন: (তাদের জন্য সমান যে আপনি তাদের সতর্ক করলেন কি করলেন না) (১২৬)। এর বিশ্লেষণ হলো: এর রূপ এবং ওর রূপ উভয়ই সমান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وسواءٌ لا يُثنّى ولا يُجمعُ على الصحيح. ثمّ الجملة إمّا استئناف أو حال بلا واو أو اعتراض، بقي هنا شبهة وهي أنّ (أمْ) لأحد المتعدِّد، والتسوية إنّما تكونُ بينَ المتعدِّد لا بينَ أحده، فالصواب الواو بدل (أَمْ) أو لفظ (أَمْ) بمعنى الواو، وكون (أَمْ) بمعنى الواو غير معهود. وقد أشارَ الرَّضِيّ (127) إلى تصحيح التركيب بما ملخصه: أنّ (سواء) في مثله خبر مبتدأ محذوف، أي: الأمران سواءٌ. ثمّ الجملة الاسمية دالة على جواب الشرط المقدّر إنْ لم تذكر الهمزة بعدَ (سواء) صريحاً كما في مثالنا، أو الهمزة و (أَمْ) مجردتان عن معنى الاستفهام مستعملتان للشرط بمعنى إنْ وأو، بعلاقة أنّ (إنْ) والهمزة يُستعملان فيما لم يتعيّن حصوله عند المتكلّم. و (أَمْ) و (أو) لأحد الشيئين أو الأشياء، والتقدير: إنْ كانَ كذا أو كذا فالأمرُ (10) سواءٌ، والشبهة إنّما تُرَدّ إذا جُعل (سواء) خبراً مقدماً وما بعده مبتدأ، كذا في حواشي المطوّل (128) لحسن جلبي الفناري، وما عزاه إلى الرضيّ ذكره الدماميني (129) عن السيرافي أيضاً. وفي حواشي الكشاف (130) للسيد الشريف: (وحكى بعضُ المحقَّقين عن أبي عليّ (131 أنّ الفعلين مع الحرفين في تأويل اسمين بينهما واو العطف، لأنّ ما بعد كلمتي الاستفهام في مثل قولك: (أَقمتَ أم قَعَدْتَ) متساويان في عِلم المستفهِم، فإذا قِيلَ: (سواءٌ عليّ أَقمتَ أمْ قعدتَ) ، فقد أُقيمتا مع ما بعدهما مقام المستويين، وهما قيامُك وقعودُك، كما أُقيم
--------------------------------------------
এবং সহিহ (الصحيح) মতানুসারে ‘সওয়া’ (سواء) শব্দটি দ্বিবচন বা বহুবচন হয় না। অতঃপর বাক্যটি হয় প্রারম্ভিক (استئناف) অথবা ‘ওয়াও’ (و) বিহীন অবস্থা (حال) কিংবা মধ্যবর্তী বাক্য (اعتراض)। এখানে একটি সংশয় অবশিষ্ট থাকে, আর তা হলো—‘আম’ (أم) শব্দটি একাধিক বিষয়ের মধ্যে কোনো একটি নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়, অথচ সমতা বিধান (تسوية) কেবল একাধিক বিষয়ের মধ্যেই হয়ে থাকে, কোনো একটির মাঝে নয়। সুতরাং সঠিক হলো ‘আম’ (أم)-এর পরিবর্তে ‘ওয়াও’ (و) হওয়া অথবা ‘আম’ (أم) শব্দটি ‘ওয়াও’-এর অর্থে ব্যবহৃত হওয়া; যদিও ‘আম’ (أم) শব্দটি ‘ওয়াও’-এর অর্থে ব্যবহৃত হওয়া সুপরিচিত নয়। আল-রাদি (১২৭) বাক্যটির গঠন শুদ্ধ করার ক্ষেত্রে একটি সংক্ষেপিত ইঙ্গিত দিয়েছেন যা হলো: এই জাতীয় বাক্যে ‘সওয়া’ (سواء) শব্দটি একটি উহ্য উদ্দেশ্যের (مبتدأ محذوف) বিধেয় (خبر), অর্থাৎ: ‘উভয় বিষয় সমান’। অতঃপর যদি ‘সওয়া’ (سواء)-এর পরে স্পষ্টত প্রশ্নবোধক হামজা উল্লেখ করা না হয়, তবে এই নামবাচক বাক্যটি আমাদের উদাহরণের ন্যায় একটি উহ্য শর্তের উত্তর (جواب الشرط المقدّر) নির্দেশ করে। অথবা হামজা এবং ‘আম’ (أم) প্রশ্নবোধক অর্থ হতে মুক্ত হয়ে ‘ইন’ (إن) এবং ‘আও’ (أو)-এর অর্থে শর্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; যার সূত্র হলো—‘ইন’ (إن) এবং হামজা এমন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা বক্তার নিকট নিশ্চিতভাবে ঘটেনি। আর ‘আম’ (أم) ও ‘আও’ (أو) দুই বা ততোধিক বস্তুর কোনো একটির জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মূল ভাষ্য হলো: ‘যদি এমন বা এমন হয়, তবে বিষয়টি সমান’। আর এই সংশয় কেবল তখনই নিরসন হয় যখন ‘সওয়া’ (سواء)-কে অগ্রবর্তী বিধেয় (خبر مقدم) এবং তার পরবর্তী অংশকে উদ্দেশ্য (مبتدأ) হিসেবে গণ্য করা হয়; যেমনটি হাসান চালাবি আল-ফানারির হাশিয়াতুল মুতাওয়্যাল (১২৮)-এ বর্ণিত হয়েছে। আর তিনি যা আল-রাদি-র দিকে নেসবত করেছেন, তা দামামিনি (১২৯) আল-সিরাফি থেকেও বর্ণনা করেছেন। সাইয়্যিদ শরীফের হাশিয়াতুল কাশশাফ (১৩০)-এ বর্ণিত আছে: “কতিপয় গবেষক (محققين) আবু আলীর (১৩১) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, দুটি হরফসহ দুটি ক্রিয়া এমন দুটি বিশেষ্যের ব্যাখ্যায় (تأويل) রয়েছে যাদের মাঝে সংযোজক অব্যয় ‘ওয়াও’ (واو العطف) রয়েছে। কেননা, আপনার কথা: ‘আপনি কি দাঁড়িয়েছিলেন নাকি বসেছিলেন’—এক্ষেত্রে প্রশ্নবোধক শব্দদ্বয়ের পরবর্তী অংশসমূহ প্রশ্নকর্তার জ্ঞানে সমান। সুতরাং যখন বলা হয়: ‘আমার নিকট সমান আপনি দাঁড়িয়েছেন বা বসেছেন’, তখন এই শব্দ দুটিকে তাদের পরবর্তী অংশসহ দুটি সমান বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, আর তা হলো আপনার দাঁড়ানো এবং আপনার বসা; যেমনটি স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে...”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৪১)
لفظ النداء مقام الاختصاص) (132) في: أنا أفعلُ كذا أيُّها الرجلُ، بجامع الاختصاص، ثمّ ذكر ما حقّقه الرضيّ وما استدلّ به عليه، ومنه قوله (133) : (ويرشدك إلى أنّ (سواء) سادٌّ مسدَّ جواب الشرط لا خبر مقدّم أنّ معنى: (سواء عليّ أقمتَ أم قعدتَ) و (لا أبالي أقمتَ أمْ قعدتَ) واحد في الحقيقة. و (لا أبالي) ليس خبراً للمبتدأ بلِ المعنى: إنْ قمتَ أَوْ قعدتَ فلا أبالي بهما) . انتهى. وقد يأتون ب (أو) بدل (أمْ) . وفي (شرح القَطْر) (134) للعلامة الفاكهي (135) من باب العطف: (لا يعطف بأو بعد همزة التسوية للتنافي بينهما، لأنّ (أو) تقتضي أحد الشيئين أو الأشياء، والتسوية تقتضي شيئين لا أحدهما، فإن لم توجد الهمزة جاز العطف بها، نصَّ عليه السيرافي في شرح الكتاب، نحو: (سواءٌ عليّ قمتَ أو قعدتَ) ، ومنه قول الفقهاء: (سواءٌ كان كذا أو كذا) ، وقراءة ابن محيصن (136) : " أوَ لم تُنذرْهم ". وأمّا تخطئة المنصف لهم في ذلك فقد ناقشه فيها الدماميني) . انتهى. وذلك حيث قال (137) في شرحه المغني: (اعلمْ أن السيرافي قال في شرح الكتاب ما هذا نصُّهُ: و (سواء) إذا دخلت بعدها ألف الاستفهام لزمت (أمْ) بعدها، كقولك: (سواءٌ عليّ أقمتَ أمْ قعدتَ) ، وإذا كان بعد (سواء) فِعلان بغير استفهام كانَ عطف أحدهما على الآخر ب (أو) ، كقولك: (سواءٌ عليّ قمتَ أو قعدتَ) . انتهى كلامه. وهو نصٌّ صريحٌ
--------------------------------------------
বিশেষায়িত করার ক্ষেত্রে আহ্বানের শব্দ (لفظ النداء مقام الاختصاص) (১৩২): 'হে ব্যক্তি, আমি এরূপ করছি' বাক্যে যেমনটি দেখা যায়, বিশেষায়নের (الاختصاص) সমাহারের কারণে। অতঃপর তিনি আর-রাদি যা বিশ্লেষণ করেছেন এবং এর সপক্ষে যা দলিল (استدل) পেশ করেছেন তা উল্লেখ করেছেন। এবং তাঁর বক্তব্য (১৩৩) এর অন্তর্ভুক্ত: (আর এটি আপনাকে এই বিষয়ের দিকে পথপ্রদর্শন করবে যে, 'সাওয়াহ' (سواء) শব্দটি এখানে শর্তের জওয়াবের (جواب الشرط) স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, অগ্রগামী খবর (خبر مقدم) হিসেবে নয়। কারণ: 'আমার নিকট সমান, তুমি দাড়াও অথবা বসো' এবং 'আমি পরোয়া করি না তুমি দাড়াও অথবা বসো'—এর অর্থ মূলত এক। আর 'আমি পরোয়া করি না' বাক্যটি মুক্তাদার (مبتدأ) খবর (خبر) নয়, বরং এর অর্থ হলো: যদি তুমি দাড়াও অথবা বসো, তবে আমি সে দুটির কোনোটিরই পরোয়া করি না)। সমাপ্ত। আর কখনো কখনো তারা 'আম' (أم) এর পরিবর্তে 'আও' (أو) ব্যবহার করেন। আল্লামা আল-ফাকিহী (১৩৫)-র রচিত শরহুল ক্বতর (১৩৪)-এ সংযোজন অধ্যায়ে (باب العطف) উল্লেখ আছে: (সমতাসূচক হামজাহর (همزة التسوية) পরে 'আও' (أو) দ্বারা সংযোজন করা যায় না, কারণ উভয়ের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে। কেননা 'আও' শব্দটি দুটি বা একাধিক বিষয়ের মধ্য হতে একটিকে নির্দিষ্ট করে, আর সমতা (التسوية) দুটি বিষয়কেই দাবি করে, কোনো একটিকে নয়। যদি হামজাহ না থাকে, তবে তা দ্বারা সংযোজন বৈধ। আস-সিরাফী কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থে (شرح الكتاب) এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যেমন: 'আমার কাছে সমান, তুমি দাড়াও অথবা বসো'। ফকিহগণের (الفقهاء) বক্তব্যও এরই অন্তর্ভুক্ত: 'উভয়টি সমান, তা এমন হোক অথবা এমন হোক'। ইবনে মুহাইসিন (১৩৬) এর কিরাত (قراءة) হলো: "অথবা আপনি তাদের সতর্ক করুন বা না করুন"। আর এই বিষয়ে মুসান্নিফ কর্তৃক তাঁদের ভুল ধরার ব্যাপারে আদ-দামামিনি তাঁর সাথে আলোচনা করেছেন)। সমাপ্ত। আর এটি সেখানে যেখানে তিনি (১৩৭) তাঁর শরহুল মুগনি-তে বলেছেন: (জেনে রাখুন যে, আস-সিরাফী কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থে (شرح الكتاب) যা বলেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: এবং 'সাওয়াহ' (سواء) শব্দের পরে যদি প্রশ্নবোধক আলিফ (ألف الاستفهام) আসে, তবে তারপরে 'আম' (أم) থাকা আবশ্যক, যেমন আপনার উক্তি: 'আমার নিকট সমান, তুমি দাড়াও কিংবা বসো'। আর যদি 'সাওয়াহ' (سواء) এর পরে প্রশ্নবোধক চিহ্ন ছাড়া দুটি ক্রিয়া (فعلان) থাকে, তবে একটিকে অন্যটির ওপর 'আও' (أو) দ্বারা সংযোজন করা হবে, যেমন আপনার উক্তি: 'আমার নিকট সমান, তুমি দাড়ালে অথবা বসলে')। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত। এটি একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৪২)
يقضي (138) بصحة قول الفقهاء وغيرهم: (سواء كان كذا أو كذا) (139) إلى أنْ قال: وحُكي (140) أنّ أبا عليّ الفارسيّ قال: لا يجوز (أو) بعد (سواء) ، فلا يُقال: (سواءٌ علي قمتَ أو قعدتَ) ، قال: لأنّه يكون المعنى: سواءٌ عليّ أحدهما، ولا يجوز (141) (11) . قلتُ: ولعلّ (142) هذا مستند (143) المصنّف في تخطئة الفقهاء وغيرهم في هذه التراكيب (144)) (145) . وقد ردّ الرضي كلام الفارسيّ بما هو مذكور في شرحه للحاجبية (146) فراجِعْهُ إنْ شئتَ.
ومنها قولهم في معرض الجواب ونحوه: على أنّا نقولُ فيذكرون ذلك حيث يكو ما بعد (على) (147) قامعاً للشبهة وأقوى مما قبلها، ويسمّونه علاوة وتقرياً على ما تُشعر به (على) . ولكنْ يُقال: (على) من حروف الجر، فما معناها هاهنا (148) ؟ وما متعلقُها؟
--------------------------------------------
(১৩৮) ফকিহগণ ও অন্যদের এই বক্তব্যটির সঠিকতা (صحة) সাব্যস্ত করে যে: (চাই এমন হোক বা তেমন হোক) (১৩৯) এই পর্যন্ত যে, তিনি বলেছেন: এবং বর্ণিত হয়েছে (১৪০) যে, আবু আলি আল-ফারিসি বলেছেন: 'সাওয়া' (سواء) শব্দের পর 'আও' (أو) ব্যবহার করা বৈধ নয়। সুতরাং বলা যাবে না: (সাওয়াউন আলাইয়া কুমতা আও কায়াদতা), তিনি বলেন: কারণ এর অর্থ দাঁড়ায়: আমার নিকট উভয়ের মধ্যে একটি সমান, আর তা বৈধ নয় (১৪১)। আমি বলি: সম্ভবত (১৪২) এটিই এই ধরণের বাক্য গঠনে (১৪৪) ফকিহগণ ও অন্যদের ভুল ধরার ক্ষেত্রে গ্রন্থকারের ভিত্তি (১৪৩) (১৪৫)। আল-রাজি আল-ফারিসির বক্তব্যকে খণ্ডন করেছেন যা তার হাজিবিয়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থে (১৪৬) বর্ণিত হয়েছে, আপনি চাইলে তা দেখে নিতে পারেন।
তন্মধ্যে একটি হলো উত্তর প্রদান বা অনুরূপ ক্ষেত্রে তাদের ব্যবহার করা বাক্য: ‘আলা আন্না নাকুলু’ (আমরা একথার ভিত্তিতে বলছি যে) তারা এটি সেখানে উল্লেখ করেন যেখানে 'আলা' (على) এর পরবর্তী অংশটি (১৪৭) সংশয় নিরসনকারী এবং তার পূর্ববর্তী অংশের তুলনায় অধিক শক্তিশালী হয়। একে তারা 'আলা' (على) শব্দের অর্থের দিকে লক্ষ্য রেখে অতিরিক্ত সংযোজন ও দৃঢ়করণ হিসেবে অভিহিত করেন। কিন্তু প্রশ্ন করা হয়: 'আলা' (على) তো অব্যয় সমূহের অন্তর্ভুক্ত, তাহলে এখানে (১৪৮) এর অর্থ কী? এবং এর সংশ্লিষ্টতা কার সাথে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
ويظهر المُراد مما ذكره في المغني (149) حيث قال: (التاسع: أنْ تكون للاستدراك والإِضراب، كقولك: (فلانٌ لا يدخلُ الجنّة لسوءِ صنيعِهِ على أنّه لا ييأسُ من رحمة الله تعالى) ، وقوله (150) : فواللهِ لا أَنسى قتيلاً رُزِئتُهُ بجانبِ قَوْسَى ما بقيتُ على الأرضِ على أَنّها تعفو الكُلُومُ وإنّما نُوَكَّلُ بالأَدْنى وإنْ جلُّ ما يمضي أي: على أنّ العادة نسيان المصائب البعيدة العهد. وقوله (151) : بكلِّ تداوَيْنا فلم يُشْفَ ما بنا على أنّ قُرْبَ الدارِ خَيْرٌ من البُعْدِ ثمّ قال: على أنّ قُرْبَ الدار ليسَ بنافعٍ إذا كانَ مَنْ تهواهُ ليسَ بذي وُدِّ ثمّ قال (152) : أبطل ب (على) الأولى عمومَ قوله: (لم يشف ما بنا) فقالَ: على (153) أنّ فيه شفاءً ما، ثم أبطلَ بالثانية قوله: (على أنّ قربَ الدار خيرٌ من البعد) . وتعلّق (على) هذه بما قبلها كتعلّق (حاشا) بما قبلها عندَ مَنْ قالَ به، فإنّها (154) أوصلت معناه إلى ما بعدها على وجه الإِضراب والإِخراج، أو هي خبرٌ لمبتدأ محذوف، أي: والتحقيقُ على كذا. وهذا الوجه اختاره
--------------------------------------------
‘মুগনি’ (১৪৯)-তে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়, যেখানে তিনি বলেছেন: (নবম: এটি সংশোধন (استدراك) এবং প্রসঙ্গ পরিবর্তন (إضراب)-এর জন্য ব্যবহৃত হওয়া। যেমন আপনার উক্তি: ‘অমুক ব্যক্তি তার মন্দ কর্মের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করবে না, তবে (على) সে মহান আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না’)। এবং তাঁর উক্তি (১৫০): ‘আল্লাহর কসম, আমি সেই নিহত ব্যক্তিকে ভুলব না যার শোকে আমি কওসার পার্শ্বে কাতর হয়েছিলাম যতদিন আমি পৃথিবীতে বেঁচে থাকব; যদিও (على) ক্ষতসমূহ শুকিয়ে যায়, আর আমরা কেবল নিকটবর্তী বিষয়ের ওপরই নির্ভরশীল হই, যদিও যা অতিবাহিত হয় তা অনেক বড়।’ অর্থাৎ: সাধারণ নিয়ম হলো সুদীর্ঘ কালের পুরনো বিপদসমূহ ভুলে যাওয়া। এবং তাঁর উক্তি (১৫১): ‘আমরা সবকিছুর মাধ্যমেই চিকিৎসা করেছি কিন্তু আমাদের রোগ নিরাময় হয়নি, যদিও (على) ঘরের নৈকট্য দূরত্বের চেয়ে উত্তম।’ অতঃপর তিনি বলেন: ‘তবে (على) ঘরের নৈকট্য কোনো উপকারে আসে না যদি আপনার প্রিয়জন ভালোবাসা পোষণ না করে।’ অতঃপর তিনি বলেন (১৫২): তিনি প্রথম ‘আলা’ (على) দ্বারা তাঁর উক্তি ‘আমাদের নিরাময় হয়নি’-এর ব্যাপকতাকে বাতিল করেছেন। ফলে তিনি বলেছেন: ‘আলা’ (على) অর্থাৎ এতে কিছুটা নিরাময় আছে। অতঃপর দ্বিতীয়টি দ্বারা তাঁর উক্তি ‘নিশ্চয়ই ঘরের নৈকট্য দূরত্বের চেয়ে উত্তম’-কে বাতিল করেছেন। আর এই ‘আলা’ (على)-এর তার পূর্ববর্তী শব্দের সাথে সম্পর্ক ঠিক তেমন, যেমন ‘হাশা’ (حاشا)-এর সম্পর্ক তার পূর্ববর্তী শব্দের সাথে হয়ে থাকে—যাঁরা এটি বলেন তাঁদের নিকট। কেননা এটি (১৫৪) তার অর্থকে পরবর্তী অংশের সাথে প্রসঙ্গ পরিবর্তন (إضراب) এবং বিয়োজন (إخراج)-এর ভিত্তিতে যুক্ত করেছে। অথবা এটি একটি উহ্য মুবতাদা (مبتدأ)-এর খবর (خبر); অর্থাৎ: গবেষণালব্ধ সত্য (التحقيق) হলো এমন। আর এই অভিমতটি পছন্দ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
ابن الحاجب (155) ، قالَ: ودلَّ على ذلك أنّ الجملة الأولى وقعت على غير التحقيق ثمّ جيء بما هو التحقيق فيها) . انتهى كلام المغني.
ومنها قولهم: كلّ فَرْدٍ فَرْدٍ. كقول المطوّل (156) : (معرفة كلِّ فَرْدٍ فَرْدٍ من جزئيات الأحوال) . قال المحقّقُ الفَنَريّ: الأقربُ أنّه من التوكيد اللفظي، وقد يُجعل من قبيل وصف الشيء بنفسه قصداً إلى الكمال، أو (157) المراد: كلّ فرد منفرد عن الآخر، وحاصله معرفة (12) كلّ فرد على سبيل التفصيل والانفراد دون الاقتران، وقد يُترك لفظ (كلّ) في مثله، مع أنّ العمومَ مرادٌ، كما يُقال: (معرفة فَرْدٍ فَرْدٍ) ، والظاهر أنّ العمومَ مستفادٌ من قريته المقام، فإنّ النكرة في الإِثبات قد تعمُّ، ويحتملُ أنْ يُحملَ على حذف المضاف، وهو (كلّ) بتلك القرينة. ومنها قولهم: ولا سِيَّما كذا قالَ المحقّق الفَنَري (158) : (لا) لنفي الجنس، و (سِيّ) ، مثل (مِثْل) وزناً ومعنى، اسمُها عند الجمهور. وأصله: (سِوْيٌ) أو (سِيْوٌ) ، والواقع
--------------------------------------------
ইবনে আল-হাজিব (১৫৫) বলেন: "এটি এ কথারই প্রমাণ দেয় যে, প্রথম বাক্যটি যথাযথ যাচাই (تحقيق) ব্যতিরেকেই উল্লেখ করা হয়েছিল, অতঃপর যা যাচাইকৃত (تحقيق) ছিল তা নিয়ে আসা হয়েছে।" আল-মুগনি’র বক্তব্য এখানেই শেষ।
এর মধ্যে রয়েছে তাদের এই উক্তি: "প্রত্যেক ব্যক্তি-ব্যক্তি" (কুল্লু ফারদিন ফারদিন)। যেমন আল-মুতাউওয়াল (১৫৬) গ্রন্থে বলা হয়েছে: (অবস্থার খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর মধ্য থেকে প্রত্যেক পৃথক পৃথক ব্যক্তির পরিচয় জানা)। মুহাক্কিক আল-ফানারারি বলেন: এর নিকটতর সম্ভাবনা হলো এটি শাব্দিক তাকিদ (توكيد لفظي) এর অন্তর্ভুক্ত। আবার কখনো একে পূর্ণতা বুঝানোর উদ্দেশ্যে কোনো বস্তুকে সেটির মাধ্যমেই বিশেষিত করার পর্যায়ভুক্ত করা হয়। অথবা (১৫৭) উদ্দেশ্য হলো: প্রতিটি ব্যক্তি অপর থেকে পৃথক। আর এর সারমর্ম হলো মিলিত অবস্থা ব্যতিরেকে বিস্তারিত ও এককভাবে প্রতিটি ব্যক্তিকে জানা। কখনো কখনো এই জাতীয় শব্দে ‘কুল্লু’ (كل) শব্দটি বাদ দেওয়া হয়, যদিও ব্যাপকতা (عموم) বুঝানোই উদ্দেশ্য থাকে; যেমন বলা হয়: (ব্যক্তি-ব্যক্তিকে জানা)। প্রকাশ্য বিষয় হলো, ব্যাপকতা (عموم) এর বিষয়টি প্রসঙ্গ থেকে বোঝা যায়, কেননা ইতিবাচক বাক্যে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة) কখনো কখনো ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশ করে। আর এটিও সম্ভব যে, মضاف বা সম্বন্ধ পদ উজ্জ্য রাখার ওপর ভিত্তি করা হয়েছে, যা উক্ত অনুষঙ্গ অনুযায়ী ‘কুল্লু’ (كل) শব্দটি। এবং তাদের উক্তির মধ্যে রয়েছে: "বিশেষ করে এমন" (ওয়া লা সিয়্যামা কাযা)। মুহাক্কিক আল-ফানারারি (১৫৮) বলেন: ‘লা’ (لا) বর্ণটি জাতিবাচক না-বোধক (لنفي الجنس) এর জন্য ব্যবহৃত হয়, এবং ‘সিয়্যুন’ (سيّ) শব্দটি ওজন ও অর্থের দিক থেকে ‘মিছলুন’ (مثل) এর মতো, যা জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলিমদের মতে এর বিশেষ্য (اسم)। আর এর মূল রূপ হলো: ‘সিওয়ুন’ বা ‘সিইউন’। আর বাস্তবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
بعدها إذا كانَ معرّفاً، إمّا مجرور (159) على أنّه مضاف (160) إليه (161) ، و (ما) زائدة، كما في قوله تعالى: (أيّما الأَجَلَيْنِ قَضَيْتُ) (162) ، أو بدل من (ما) ، وهي نكرة غير موصوفة، أي: لا مِثلَ شيءٍ علم البيان. وإمّا مرفوع خبر مبتدأ محذوف، والجملة صلة إنْ جُعلت (ما) موصولة، أو صفة إنْ جُعلت موصوفة. والجرُّ (163) أَوْلى من هذا (164) الوجه لقِلّة حذف صدر الجملة الواقعة صلة أو صفة، صرّح به الرضيّ (165) ، على أنّه يقدح في اطّراده لزوم إطلاق (ما) على ذات مَنْ يعقلُ وهم يأبونه، وعلى الوجهين فحركة (سِيّ) إعراب لأنّه مضافٌ. وإمّا منصوبٌ على تقدير: (أعني) ، أو على أنّه تمييز إنْ كانَ نكرةً لأنّ (ما) بتقدير التنوين، وهي (166) كافة عن الإِضافة، والفتحة بنائية مثلها في: (رجلَ) ، وقيل على الاستثناء في الوجهين فعدم تجويز النصب، إذا كان معرفة، وَهْمٌ من الأندلسي (167) . وعلى التقادير خبر (لا) محذوف عند غير الأخفش (168) ، أي: لا مِثْلَ علم البيان موجود من العلوم فإنّ التحلّي بحقائقه أحقُّ بالتقدير من
--------------------------------------------
এরপর এটি যদি নির্দিষ্ট (معرفة) হয়, তবে তা মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হওয়ার ভিত্তিতে মাজরুর (مجرور) হবে এবং ‘মা’ (ما) হবে অতিরিক্ত (زائدة), যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: “দুই মেয়াদের মধ্য থেকে আমি যেটিই পূর্ণ করি না কেন” (সুরা কাসাস: ২৮)। অথবা এটি ‘মা’ (ما) থেকে বদল (بدل) হিসেবে গণ্য হবে, আর ‘মা’ শব্দটি হবে একটি অ-বিশেষায়িত (غير موصوفة) অনির্দিষ্ট (نكرة) শব্দ; অর্থাৎ: ইলমুল বয়ান-এর সদৃশ কোনো কিছু নেই। অথবা এটি একটি উহ্য মুবতাদা (مبتدأ محذوف)-এর খবর (خبر) হওয়ার কারণে মারফু (مرفوع) হবে; এমতাবস্থায় যদি ‘মা’-কে মউসুলাহ (موصولة) ধরা হয় তবে বাক্যটি সিলাহ (صلة) হবে, আর যদি মাউসুফাহ (موصوفة) ধরা হয় তবে তা সিফাত (صفة) হবে। সিলাহ (صلة) বা সিফাত (صفة) হিসেবে ব্যবহৃত বাক্যের প্রথমাংশ উহ্য থাকার বিষয়টি বিরল হওয়ায় এই সুরতের চেয়ে মাজরুর (جر) হওয়া অধিক উত্তম; আল-রাদি এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তদুপরি, এই সুরতটি একটি সর্বজনীন নিয়মের পরিপন্থী যে, এর ফলে ‘মা’ শব্দটিকে বিবেকসম্পন্ন সত্তার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা ভাষাবিদগণ অস্বীকার করেন। আর উভয় সুরতেই ‘সিয়্যি’ (سِيّ) শব্দের হরকত হবে ইরাব (إعراب) অনুযায়ী, কারণ তা তখন মুদাফ (مضاف) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অথবা এটি ‘আ’নী’ (অর্থাৎ আমি উদ্দেশ্য করছি) ক্রিয়া উহ্য থাকার ভিত্তিতে মানসুব (منصوب) হবে, অথবা এটি তামিইজ (تمييز) হিসেবে মানসুব হবে যদি তা অনির্দিষ্ট (نكرة) হয়; কারণ তখন ‘মা’ শব্দটি তানভীন (تنوين) হিসেবে গণ্য হবে এবং তা ইদাফাত (إضافة) হওয়া থেকে প্রতিবন্ধক (كافة) হিসেবে কাজ করবে। এমতাবস্থায় এর ফাতহা (فتحة) হবে গঠনমূলক (بنائية), যেমনটি ‘রাজুলা’ (رجلَ) শব্দে দেখা যায়। বলা হয়ে থাকে যে, উভয় সুরতেই এটি ইস্তিসনা (استثناء)-এর ভিত্তিতে হয়; সুতরাং এটি নির্দিষ্ট (معرفة) হওয়ার অবস্থায় মানসুব (منصوب) হওয়াকে অবৈধ মনে করাটা আন্দালুসির একটি ভুল ধারণা। আর সকল সুরতেই আখফাশ ব্যতীত অন্যদের মতে ‘লা’ (لا)-এর খবর (خبر) উহ্য থাকবে; অর্থাৎ: ইলমুল বয়ান-এর সদৃশ কোনো জ্ঞান বিদ্যমান নেই, কেননা এর গূঢ় সত্যগুলোকে ধারণ করা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অধিক যোগ্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
التحلّي بحقائق غيره. وعنده (ما) خبر لا، ويلزمه قطع (سيّ) عن الإِضافة من غير عوض. قيل: وكون خبر (لا) معرفة، وجوابه أنّه يقدّر (ما) نكرة موصوفة، وأمّا الجوابُ باحتمال أنْ يكون قد رجع إلى قول س (169) في: (لا رجلَ قائمٌ) مِن أنّ ارتفاع الخبر بما كان مرتفعاً به لا ب (لا) النافية، فلا يفيدُ فيما نحن فيه كما لا يخفى. وقد يحذفُ منه كلمة (لا) تخفيفاً مع أنّها مرادة، ولهذا لا يتفاوتُ المعنى، كما في قوله تعالى: (تَفْتَؤُ تذكرُ) (170) أي: لا تَفْتَؤُ، لكن ذكر البلياني (171) في شرح تلخيص (13) الجامع الكبير أنَّ استعمال (سِيّما) بلا [لا] (172) لا نظير له في كلام العرب. وقد تخفّف الياء مع وجود (لا) وحذفها. وقد يُقال: لا سواءَ [ما] (173) مقام (لا سِيّما) . والواو التي تدخل علياه في بعض المواضع كما في قوله (174) : ولا سِيَّما يوماً بدارةِ جلجلِ اعتراضية، ذكره الرضيّ (175) . [وقيل: حاليّة] (176) . وقيل: عاطفة. ثم عدّها
--------------------------------------------
অন্যের হাকিকতে ভূষিত হওয়া। তাঁর মতে, (মা) হলো 'লা'-এর সংবাদ (خبر), এবং এর ফলে কোনো বিনিময় ছাড়াই (সিয়্য)-কে সম্বন্ধ (إضافة) হতে বিচ্ছিন্ন করা আবশ্যক হয়। বলা হয়ে থাকে যে: 'লা'-এর সংবাদ (خبر) নির্দিষ্টবাচক (معرفة) হওয়া; এর উত্তর হলো যে, (মা)-কে এখানে গুণান্বিত অনির্দিষ্টবাচক (نكرة) হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আর ইমাম সিবাওয়াইহ (১৬৯)-এর উক্তির দিকে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্যতা দ্বারা যে উত্তর দেওয়া হয়েছে: (লা রাজুলা ক্বয়িমুন) বাক্যে বিধেয় বা সংবাদের রফা বা পেশ যুক্ত হওয়া 'লা' নাফিয়ার কারণে নয় বরং সেটি পূর্ব থেকেই রফা প্রাপ্ত ছিল—তা আমাদের আলোচ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে কোনো উপকারে আসবে না, যা সুস্পষ্ট। কখনো কখনো সহজকরণের (تخفيف) উদ্দেশ্যে 'লা' শব্দটিকে বিলুপ্ত করা হয় যদিও তা অর্থগতভাবে উদ্দেশ্য থাকে, আর একারণেই অর্থের কোনো তারতম্য ঘটে না, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: (তাফতাউ তাযকুরু) (১৭০) অর্থাৎ: (লা তাফতাউ)। তবে আল-বালিইয়ানি (১৭১) 'তালখিসুল জামিউল কাবির'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (১৩) উল্লেখ করেছেন যে, 'লা' ব্যতীত (সিয়্যামা)-এর ব্যবহার আরবদের বাকরীতিতে নজিরবিহীন (نظير)। কখনো কখনো 'লা' থাকা বা না থাকা অবস্থায় 'ইয়া' অক্ষরটিকে হালকা (تخفيف) করে পড়া হয়। আবার কখনো কখনো (লা সিয়্যামা)-এর স্থলে 'লা সাওয়াআ মা' (১৭৩) বলা হয়। আর কিছু স্থানে এর শুরুতে যে 'ওয়াও' যুক্ত হয়, যেমনটি তাঁর উক্তিতে (১৭৪): (ওয়া লা সিয়্যামা ইয়াওমান বি-দারাতিল জুলজুলি), সেটি হলো মধ্যবর্তী বাক্য (اعتراضية); এটি আল-রাযি (১৭৫) উল্লেখ করেছেন। [কারো মতে: এটি অবস্থাজ্ঞাপক (حالية)] (১৭৬)। আবার কারো মতে: এটি সংযোজক (عاطفة)। অতঃপর তিনি তা গণনা করলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
من كلمات الاستثناء لكونِ ما بعدها مُخْرَجاً عمّا قبلها من حيث أَوَّليته بالحكم المتقدّم وإلاّ (177) فليس فيها حقيقته. صرّح به الرضي (178) . وقد يُحذفُ ما بعد (لا سيّما) ، وقد تُنقل من معناها الأصلي إلى معنى (خصوصاً) فيكون منصوب المحلّ على أنّه مفعول مطلق. فإذا قلت: (زيدٌ شجاعٌ ولا سيّما راكباً) ، فراكباً حال من مفعول الفعل المقدّر، أي: وأخصُّهُ بزيادة الشجاعة خصوصاً راكباً. وكذا في: (زيدٌ شجاعٌ ولا سيّما وهو راكبٌ) ، والواو التي بعده للحال، وقيلَ: عاطفة على مقدّر، كأنّه قيل: ولا سيّما وهو لابسٌ السلاحَ وهو راكبٌ. وعدم مجيء الواو قبله حينئذٍ كثير، إلاّ أنّ المجيء أكثر. انتهى.
ومنها قولهم: فَقَطْ كقول صاحب (التلخيص) (179) : (الفصاحةُ [يُوصَفُ بها المفردُ والكلامُ والمتكلّمُ. والبلاغةُ] (180) يُوصَفُ بها الأخيرانِ فَقَطْ) . قال المحقّق التفتازاني في المطوّل (181) : (وقوله: (فَقَط) من أسماء الأفعال بمعنى: اِنْتَهِ، وكثيراً ما يُصَدَّرُ بالفاء تزييناً للّفظ، وكأنّه جزاء شرط محذوف، أي: إذا وَصَفْتَ بها الأخيرين، أي: فانْتَهِ عن وصف الأوّل بها) .
--------------------------------------------
এটি ব্যতিক্রমসূচক শব্দের (كلمات الاستثناء) অন্তর্ভুক্ত, যেহেতু এর পরবর্তী অংশটি তার পূর্ববর্তী অংশের জন্য নির্ধারিত প্রাথমিক বিধান থেকে বহির্ভূত থাকে, অন্যথায় (১৭৭) এর মধ্যে এর প্রকৃত অর্থ (حقيقة) বিদ্যমান থাকে না। আল-রাদি (১৭৮) এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। অনেক সময় 'লা সিয়াম্মা' (لا سيّما)-র পরবর্তী অংশটি বিলুপ্ত (محذوف) থাকে, আবার কখনও কখনও এটি তার মূল অর্থ থেকে 'বিশেষভাবে' (خصوصاً) অর্থে রূপান্তরিত হয়; এমতাবস্থায় এটি কর্মবাচক বিশেষ্য (مفعول مطلق) হিসেবে নসবের স্থলাভিষিক্ত হয়। সুতরাং আপনি যখন বলেন: (জায়েদ সাহসী, বিশেষ করে সে যখন আরোহী), তখন 'আরোহী' শব্দটি একটি উহ্য ক্রিয়ার কর্ম থেকে অবস্থা (حال) হিসেবে গণ্য হয়েছে। অর্থাৎ: আমি তাকে সাহসিকতার আধিক্যের দ্বারা বিশিষ্ট করছি, বিশেষ করে (خصوصاً) আরোহী অবস্থায়। অনুরূপভাবে: (জায়েদ সাহসী, বিশেষ করে সে যখন আরোহী), এখানে এর পরবর্তী 'ওয়াও' বর্ণটি অবস্থা (حال) বোঝানোর জন্য এসেছে। কেউ কেউ বলেছেন: এটি একটি উহ্য বিষয়ের ওপর সংযোজক অব্যয় (عاطفة), যেন বলা হয়েছে: বিশেষ করে সে যখন বর্ম পরিহিত এবং সে যখন আরোহী। এমতাবস্থায় এর পূর্বে 'ওয়াও' না আসাটাই অধিক প্রচলিত, যদিও আসাটাই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সমাপ্ত।
অন্যতম হলো তাদের উক্তি: ফাকাত (فَقَطْ) যেমন আল-তালখিস (১৭৯) গ্রন্থের লেখকের উক্তি: (বিশুদ্ধতা [এর মাধ্যমে একক শব্দ, বাক্য এবং বক্তাকে বিশেষিত করা যায়। আর অলঙ্কারশাস্ত্রের] (১৮০) মাধ্যমে কেবল শেষোক্ত দু’টিকে বিশেষিত করা হয় (فَقَطْ))। মুহাক্কিক আল-তাফতাজানি আল-মুতাবওয়াল (১৮১) গ্রন্থে বলেছেন: (তাঁর উক্তি: 'ফাকাত' (فَقَط) এটি ক্রিয়াবাচক বিশেষ্যের (اسم فعل) অন্তর্ভুক্ত যার অর্থ: সমাপ্ত করো (اِنْتَهِ)। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শব্দের শোভাবর্ধনের জন্য এর শুরুতে 'ফা' যুক্ত করা হয়, এবং এটি যেন একটি উহ্য শর্তের প্রতিদান (جزاء شرط), অর্থাৎ: যখন আপনি শেষোক্ত দু’টিকে এর মাধ্যমে বিশেষিত করবেন, তখন প্রথমটিকে এর মাধ্যমে বিশেষিত করা থেকে বিরত হোন (اِنْتَهِ))।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
قال بعضُ المُحشين: (وقال ابن هشام في حواشي التسهيل: لم يُسمع منهم إلاّ مقروناً بالفاء، وهي زائدة لازمة عندي) . وقال الدّمامينيّ (182) نقلا عن ابن السِّيد (183) في نحو: (أَخذتُ درهماً فقط) : أخذتُ درهماً فاكتفيتُ به، فجعلها عاطفة. قال: وهو خيرٌ من قول التفتازاني وابن هشام. بقي أنّه يُرَدُّ على كلام (المطوّل) أنّ الفاء في جواب الشرط ليس للتزيين بل من حروف المعاني، ففيه منافاة، ويُجابُ بأنّ الشرط المحذوف إنّما يُعتبرُ لإِصلاح الفاء المذكور للتزيين، وليس في المعنى داعٍ إلى (184) اعتبار الشرط المحذوف، فذكر الفاء لتزيين اللفظ فيه تقوية لجانب المعنى لرعاية جانب اللفظ. هذا (14) والأظهر أنّ قوله (185) : وكأنّه توجيه ثانٍ (186) ، ثمّ إنّه قدّر أداة الشرط المحذوفة (إذا) ، وكذا وقع لغيره. والحقُّ أنّه لا يُحذف من أدوات الشرط إلاّ (إنْ) . وأورد عليه ابنُ كمال باشا (187) بعد أنْ نقل عن المغني (188) أنّها تكون بمعنى (حَسْب) ك (قَدْ) ، واسم فعلٍ بمعنى (يكفي) : أنّ المناسب
--------------------------------------------
জনৈক ব্যাখ্যাকার বলেন: (ইবনে হিশাম আত-তাসহীল-এর টীকায় বলেছেন: তাদের থেকে এটি কেবল 'ফা' যুক্ত হিসেবেই শোনা গিয়েছে, আর এটি আমার মতে একটি অপরিহার্য অতিরিক্ত (زائدة لازمة) বর্ণ)। এবং আদ-দামামিনী (১৮২) ইবনে আস-সীদ (১৮৩) থেকে উদ্ধৃত করে 'আমি কেবল একটি দিরহাম নিয়েছি' (أخذت درهماً فقط) এর ন্যায় বাক্যের ক্ষেত্রে বলেন: আমি একটি দিরহাম নিয়েছি এবং তাতেই সন্তুষ্ট হয়েছি; ফলে তিনি একে সংযোজক অব্যয় (عاطفة) হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি বলেন: এটি আত-তাফতাজানি এবং ইবনে হিশামের বক্তব্যের চেয়ে উত্তম। তবে (আল-মুতাউওয়াল) গ্রন্থের বক্তব্যের ওপর এই আপত্তি থেকে যায় যে, শর্তের জওয়াবে 'ফা' অলংকরণের জন্য নয় বরং তা অর্থবোধক হরফসমূহ (حروف المعاني)-এর অন্তর্ভুক্ত; সুতরাং এতে বৈপরীত্য বিদ্যমান। এর উত্তরে বলা হয় যে, উহ্য শর্তটি কেবল অলংকরণের জন্য উল্লিখিত 'ফা'-কে ব্যাকরণগতভাবে সঠিক করার জন্য বিবেচনা করা হয়, অথচ অর্থের দিক থেকে উহ্য শর্তটি বিবেচনার কোনো আবশ্যকতা (১৮৪) নেই। সুতরাং শব্দের অলংকরণের জন্য 'ফা' উল্লেখ করা শব্দগত দিক বজায় রাখার মাধ্যমে অর্থগত দিককেও শক্তিশালী করে। এটি (১৪) এবং অধিক স্পষ্ট বিষয় হলো যে, তাঁর বক্তব্য (১৮৫) যেন একটি দ্বিতীয় ব্যাখ্যা (১৮৬)। অতঃপর তিনি উহ্য শর্তের অব্যয় (أداة الشرط) হিসেবে 'ইযা' (إذا) নির্ধারণ করেছেন এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও এরূপ ঘটেছে। আর সঠিক মত হলো এই যে, শর্তের অব্যয় (أداة الشرط) সমূহের মধ্যে কেবল 'ইন' (إن) ব্যতীত অন্য কিছু উহ্য হয় না। আর ইবনে কামাল পাশা (১৮৭) আল-মুগনী (১৮৮) থেকে এটি উদ্ধৃত করার পর আপত্তি উত্থাপন করেছেন যে, এটি 'ক্বাদ' (قد)-এর ন্যায় 'হাসব' (حسب) বা পর্যাপ্ত অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং 'ইয়াকফী' (يكفي) বা যথেষ্ট হওয়া অর্থে এটি ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য (اسم فعل): নিশ্চয়ই সমীচীন হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
للمقام [جعلها بمعنى حَسْب وعلى تقدير] (189) جعلها اسم فعل فهي بمعنى (يكفي) . قالَ: فجعلها هنا اسم فعل وأنّها بمعنى (انْتَهِ) غلط مرتين.
ومنها قولهم: كائناً ما كانَ قال بعضُ المحققين: (جعل الفارسي (ما) في: (لأضربنّه كائناً ما كان) مصدرية، و (كان) صلتها، وهما في محل رفع ب (كائن) ، وكلاهما على التمام، أي: كائناً كونُهُ. وقيل: (كائن) من الناقصة أيضاً، و (ما) موصولة استعملت لمَنْ يعقلُ ك (ما) في: (لا سيّما زيد) وفي (كائن) ضمير هو اسمها، و (ما) خبرها. وفي (كان) ضمير (ما) اسمها، وخبرها محذوف، أي: كائناً الشخص الذي هو إيّاه. ويجوز كون (ما) نكرة موصوفة ب (كان) وهي تامة، والتقدير: لأضربنّه كائناً شيئاً كانَ، أي: شيئاً (190) وُجِدَ، والمعنى: لأضربنّه كائناً بصفة الوجود، من غير نظر إلى حال دون حال، مفرداً كان أو مركباً، كُلاُّ أو جزءاً، ولعلّ هذا أولى من الذي قبله) . انتهى. أقول: ويخطر لي وجه آخر وهو: أنّ (ما) صلة للتوكيد، و (كائناً) (191) و (كان) تامتان، والمعنى: لأضربنّه موجوداً وُجِد، أي: أيّ شخصٍ وُجِدَ صغيراً أو كبيراً، جليلاً أو حقيراً.
--------------------------------------------
প্রসঙ্গের জন্য [একে যথেষ্ট (حَسْب) অর্থে ধরা হয়েছে এবং অনুমিত হিসেবে] (১৮৯) একে ক্রিয়া-বিশেষ্য (اسم فعل) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যার অর্থ হলো 'যথেষ্ট হওয়া' (يكفي)। তিনি বলেন: এখানে একে ক্রিয়া-বিশেষ্য (اسم فعل) হিসেবে গণ্য করা এবং একে 'বিরত হওয়া' (انْتَهِ) অর্থে ধরা—উভয় দিক থেকেই ভুল হয়েছে।
এবং তাদের উক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো: সে যাই হোক না কেন (كائناً ما كانَ) জনৈক গবেষক (المحققين) বলেছেন: (ফারসি 'আমি তাকে অবশ্যই প্রহার করব সে যাই হোক না কেন' (لأضربنّه كائناً ما كان) বাক্যে 'মা' (ما)-কে ক্রিয়ামূলীয় (مصدرية) গণ্য করেছেন এবং 'কানা' (كان)-কে এর সিল্লাহ (صلة) হিসেবে ধরেছেন। তারা উভয়ই 'কায়িন' (كائن)-এর দ্বারা রাফ' বা পেশের স্থলে (في محل رفع) রয়েছে এবং উভয়ই পূর্ণক্রিয়া (التمام), অর্থাৎ: 'তার অস্তিত্ব যাই হোক না কেন' (كائناً كونُهُ)। এবং বলা হয়েছে: 'কায়িন' (كائن) শব্দটি অপূর্ণক্রিয়া (الناقصة) থেকেও হতে পারে এবং 'মা' (ما) হলো একটি সংযোজক অব্যয় (موصولة) যা বুদ্ধিমান সত্তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি 'লা সিয়াম্মা যাইদ' (لا سيّما زيد) বাক্যে 'মা' (ما) ব্যবহৃত হয়। 'কায়িন' (كائن)-এর মধ্যে একটি সর্বনাম রয়েছে যা তার ইসিম (اسم) এবং 'মা' (ما) হলো তার খবর (خبر)। আর 'কানা' (كان)-এর মধ্যে 'মা'-এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী একটি সর্বনাম রয়েছে যা তার ইসিম (اسم) এবং তার খবর (خبر) উহ্য (محذوف) রয়েছে। অর্থাৎ: 'সেই ব্যক্তি যে সে নিজেই'। এটিও বৈধ যে, 'মা' (ما) শব্দটি 'কানা' (كان) দ্বারা বর্ণিত অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة موصوفة) হবে এবং 'কানা' (كان) এখানে পূর্ণক্রিয়া (تامة)। তখন এর তাকদির বা আনুমানিক রূপ হবে: 'আমি তাকে অবশ্যই প্রহার করব সে কোনো অস্তিত্ববান জিনিস হওয়া অবস্থায়', অর্থাৎ: এমন কিছু যা বিদ্যমান (وُجِدَ)। এর অর্থ হলো: আমি তাকে অস্তিত্বের গুণসহ প্রহার করব, তার কোনো বিশেষ অবস্থার দিকে লক্ষ না করেই; সে একক (مفرداً) হোক বা যৌগিক (مركباً), পূর্ণ হোক বা আংশিক। সম্ভবত এটিই আগেরটির চেয়ে উত্তম।) সমাপ্ত। আমি বলছি: আমার মনে অন্য একটি দিক উদয় হচ্ছে, আর তা হলো: 'মা' (ما) শব্দটি দৃঢ়তার জন্য অতিরিক্ত পদ (صلة للتوكيد) এবং 'কায়িন' (كائناً) ও 'কানা' (كان) উভয়ই পূর্ণক্রিয়া (تامتان)। এর অর্থ হলো: 'আমি তাকে বিদ্যমান অবস্থায় প্রহার করব', অর্থাৎ: যেকোনো ব্যক্তিই পাওয়া যাক না কেন, সে ছোট হোক বা বড়, সম্মানিত হোক বা তুচ্ছ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৫০)
ووجهٌ آخرُ: وهو أنْ تكون (ما) نكرة صفة لكائن أو بدلاً منه، فإذا قلتَ: (لأضربنّ رجلاً كائنا ما كان) ، فالمعنى: لأضربنّ رجلاً موجوداً شخصاً وُجِدَ. والمعنى على التعميم كالأول (192) ، أي: أيّ شخصٍ. وقد خرَّجوا على هذين الوجهين قوله تعالى: (مثلاً ما بعوضةً) (193) . ووقع في عبارة (المطوّل) : كائناً مَنْ كانَ أنا أو غيري. فقال الفاضل الفَنَري: (كائناً: حال، و (مَنْ) موصوفة في محل نصب خبراً ل (كائناً) ، والعائد محذوف، أي: كانَه، واعترض بامتناع حذف خبر كان. نصّ عليه ابن هشام وصاحب اللباب (194) وغيرهما. وأُجيبَ بأنّه هاهنا سماعي ثَبَت على خلاف القياس، ولو قيل: (15) كان تامة، وفاعله راجع إلى (مَنْ) لم يحتج إلى ما ذكره. و (أنا) خبر مبتدأ محذوف، أي: هو أنا أو غيري، أو بدل مِن (مَنْ كان) ، على أنْ يكون من قبيل استعارة الضمير المرفوع للمنصوب، كما استعير للمجرور في: [ما] (195) أنا كانت] . انتهى.
ومنها قولهم: بعد اللَّتَيّا والَّتي قال محقّقُ الروم حسن جلبي الفناري: (اللَّتيّا) تصغير (التي) على خلاف القياس، لأنّ قياس التصغير أنْ يُضمَّ أولُ المُصَغّر، وهذا بقي على
--------------------------------------------
আরেকটি দিক হলো: তা এই যে, (ما) শব্দটি অনির্দিষ্ট (نكرة) হিসেবে 'কায়িন' (বিদ্যমান)-এর বিশেষণ (صفة) অথবা তার স্থলাভিষিক্ত (بدل) হবে। সুতরাং আপনি যখন বলেন: (আমি অবশ্যই এমন একজন ব্যক্তিকে প্রহার করব যে-ই হোক না কেন), তখন এর অর্থ দাঁড়ায়: আমি অবশ্যই এমন একজন ব্যক্তিকে প্রহার করব যে বর্তমানে বিদ্যমান। এর অর্থ প্রথমটির ন্যায় ব্যাপকতার (تعميم) ভিত্তিতে হবে (১৯২), অর্থাৎ: যেকোনো ব্যক্তি। আর উলামায়ে কেরাম আল্লাহ তাআলার বাণী: (مثلاً ما بعوضةً) (১৯৩)-কে এই দুটি পদ্ধতির ভিত্তিতেই বিশ্লেষণ করেছেন। 'আল-মুতাউওয়াল' গ্রন্থের ইবারতে এসেছে: "যে-ই হোক না কেন, আমি অথবা অন্য কেউ।" এ প্রসঙ্গে বিজ্ঞ আলিম আল-ফ্যানারি বলেন: "(كائناً) শব্দটি অবস্থা (حال) হিসেবে প্রযুক্ত, এবং (مَنْ) হলো মাউসুফ (موصوفة) যা (كائناً)-এর খবর (خبر) হিসেবে মানসুব (نصب) অবস্থায় রয়েছে। আর এখানে সম্পর্ককারী সর্বনাম (العائد) বিলুপ্ত রয়েছে, অর্থাৎ: 'কানাহু' (كانَه)"। এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, 'কানা' (كان)-এর খবর বিলুপ্ত করা নিষিদ্ধ। ইবনে হিশাম, 'আল-লুবাব' (১৯৪) গ্রন্থের প্রণেতা এবং অন্যান্যরা এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি এখানে শ্রুতিসিদ্ধ (سماعي) যা নিয়মের (قياس) পরিপন্থী হিসেবে প্রমাণিত। আর যদি বলা হতো যে: (১৫) এখানে 'কানা' হলো পূর্ণ ক্রিয়া (تامة) এবং এর কর্তা (فاعل) 'মান' (مَنْ)-এর দিকে ফিরবে, তবে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার প্রয়োজন হতো না। আর 'আনা' (أنا) শব্দটি একটি উহ্য মুবতাদা (مبتدأ)-এর খবর (خبر), অর্থাৎ: 'সে আমি অথবা অন্য কেউ'। অথবা এটি 'মান কানা' (مَنْ كان) থেকে স্থলাভিষিক্ত (بدل) হওয়া হিসেবে গণ্য হবে। এটি মারফু (مرفوع) সর্বনামকে মানসুব (منصوب) এর স্থলে রূপক হিসেবে ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত হবে, যেমনটি মাজরুর (مجرور)-এর স্থলে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে: [মা] (১৯৫) আনা কানাত]। সমাপ্ত।
তন্মধ্যে তাদের একটি প্রবাদ হলো: বহু চড়াই-উৎরাইয়ের পর (بعد اللَّتَيّا والَّتي)قال রুমের গবেষক হাসান চেলেবি আল-ফ্যানারি বলেন: (اللَّتيّا) শব্দটি (التي)-এর ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ (تصغير) যা নিয়মের (قياس) পরিপন্থী। কারণ ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দের (تصغير) নিয়ম হলো শব্দের প্রথম বর্ণে পেশ (যম্মা) হওয়া, অথচ এটি অপরিবর্তিত রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফী ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা - তাহকীক হাতিম আদ-দামেন
(পৃষ্ঠা: ৫১)
فتحته الأصلية، لكنّهم عوضوا عن ضمّ أوّله بزيادة الألف في آخره كما فعلوا ذلك في نظائره من (اللذيّا) و (ذيّاك) و (ذيّا) . والمعنى: بعد اللحظة الصغيرة والكبيرة التي من فضاحة (196) شأنها كَيْتَ وكَيْتَ، حُذِفت الصلة إيهاماً لقصور العبارة عن الإِحاطة بوصف الأمر الذي كُني بهما عنه، وفي ذلك من تفخيم أمره ما لا يخفى. انتهى. وأصله أنّ العرب تقول ذلك في الأمر الصعب الذي لا يُراد فعله (197) ، والتزموا عدم ذكر صلة لهما لا لفظاً ولا تقديراً لِمَا مرَّ، فيُلغز ويُقال: أيّ موصول وليس له صلة ولا عائد (198) ؟ وقد نظم ذلك بعضُ مشايخ مشايخنا فقالَ: يا أيّها النحويّ ذا العرفان ومَنْ حوى لطائفَ البيان ما اسمانُ موصولان مبنيان ولم يكونا قطُّ يوصلان
ومنها قولهم: أوَّلاً وبالذات قال الفَنَريّ في حواشي المطوّل (199) : (أوّلاً) : منصوب على الظرفية بمعنى (قبل) ، وهو ح (200) منصرفٌ لا وصفية (201) [له] (202) ولذا دخله التنوين مع أنّه (أفعل) التفضيل في الأصل بدليل الأولى والأوائل كالفُضلى
--------------------------------------------
তার মূল ফাতহা (فتحة), কিন্তু তারা শুরুতে যম্মাহ (ضمة) প্রদানের পরিবর্তে শেষে আলিফ (ألف) বৃদ্ধি করে এর ক্ষতিপূরণ করেছে, যেমনটি তারা এর সদৃশ শব্দ যেমন 'আল-লায্যা', 'যিয়্যাকা' এবং 'যিয়্যা'-র ক্ষেত্রে করেছে। এর অর্থ হলো: সেই ছোট ও বড় মুহূর্তের পর, যার ভয়াবহতার বিবরণ হলো এই এই; এখানে সম্বন্ধ বাক্য (صلة) টি বিলুপ্ত করা হয়েছে এটা বোঝাতে যে, শব্দ দ্বারা সেই বিষয়টিকে পূর্ণাঙ্গভাবে বেষ্টন করা অসম্ভব যার পরিবর্তে এই দুটিকে পরোক্ষ শব্দ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে; আর এর মধ্যে বিষয়টির গুরুত্ব মহিমান্বিত করার যে বিষয়টি রয়েছে তা গোপন নয়। সমাপ্ত। এর মূল ভিত্তি হলো, আরবরা এটি এমন কঠিন বিষয়ের ক্ষেত্রে বলে যা করার ইচ্ছা করা হয় না, এবং তারা পূর্বে বর্ণিত কারণে এ দুটির কোনো সম্বন্ধ বাক্য (صلة) শব্দত বা অর্থগত কোনোভাবেই উল্লেখ না করার নীতি অবলম্বন করেছে। ফলে একে ধাঁধা হিসেবে পেশ করে বলা হয়: কোন সংযুক্ত বিশেষ্য (موصول) যার কোনো সম্বন্ধ বাক্য (صلة) নেই এবং কোনো প্রত্যাবর্তক সর্বনাম (عائد) নেই? আমাদের কোনো কোনো উস্তাদের উস্তাদ এ বিষয়টি কবিতায় ব্যক্ত করে বলেছেন:
হে গভীর জ্ঞানের অধিকারী নাহুবিদ (نحوي), এবং যিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ আয়ত্ত করেছেন; এমন দুটি সংযুক্ত বিশেষ্য (موصول) কী যা অপরিবর্তনীয় (مبني) এবং যে দুটি কখনোই যুক্ত করা হয় না?
তাদের অন্যতম একটি উক্তি হলো: প্রাথমিকভাবে এবং সত্তাগতভাবে
আল-ফানারানি হাশিয়া আল-মুতাউওয়াল গ্রন্থে বলেছেন: 'আউয়ালান' শব্দটি স্থান-কাল নির্দেশক (ظرفية) হিসেবে নসবপ্রাপ্ত (منصوب), যার অর্থ 'পূর্বে'; এবং এমতাবস্থায় এটি রূপান্তরযোগ্য (منصرف), এতে কোনো বিশেষণীয় গুণ (وصفية) নেই। আর এই কারণেই এতে তানউইন (تنوين) যুক্ত হয়েছে, যদিও এটি মূলত আধিক্যবোধক (أفعل) এর ওজনে ছিল; যার প্রমাণ হলো 'আল-উলা' এবং 'আল-আওয়াইল', যেমন 'আল-ফুযলা'।
--------------------------------------------