(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: -)
مختصر الشمائل   (الترمذي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: مختصر الشمائل المحمدية

المؤلف: محمد بن عيسى بن سَوْرة بن موسى بن الضحاك، الترمذي، أبو عيسى (ت 279هـ)

الناشر: المكتبة الإسلامية - عمان - الأردن

تحقيق: اختصره وحققه محمد ناصر الدين الألباني

عدد الصفحات: 211

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুখতাসারুশ শামায়িল   (তিরমিযী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: মুখতাসারুশ শামায়িলিল মুহাম্মাদিয়াহ

লেখক: মুহাম্মাদ বিন ঈসা বিন সাওরাহ বিন মুসা বিন আদ-দাহহাক, আত-তিরমিযী, আবু ঈসা (মৃত্যু ২৭৯ হিজরী)

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়াহ - আম্মান - জর্ডান

তাহকীক: এটি সংক্ষেপণ ও তাহকীক করেছেন মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১১

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌مختصر الشمائل المحمدية

للإمام أبي عيسى محمد بن سورة الترمذي صاحب السنن

ولد سنة: 209 هـ

وتوفي سنة: 279 هـ

اختصره وحققه

محمد ناصر الدين الألباني

المكتبة الإسلامية

عمان - الأردن
সংক্ষেপিত শামায়েলে মুহাম্মাদিয়া

সুনান গ্রন্থকার ইমাম আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনে সাওরা আত-তিরমিযী কর্তৃক রচিত

জন্ম সাল: ২০৯ হিজরী

মৃত্যু সাল: ২৭৯ হিজরী

সংক্ষেপন ও তাহকীক করেছেন

মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী

আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ

আম্মান - জর্ডান
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١)
قَالَ الْحَافِظُ أَبُو عِيسَى مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ سورة الترمذي:

হাফেজ আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবন ঈসা ইবন সাওরা আত-তিরমিযী বলেছেন:

(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١)
‌‌1 - بَابُ مَا جَاءَ فِي خلق رسول الله صلى الله عليه وسلم َ
১ - আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক গঠন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিচ্ছেদ
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١٣)
1 - (صحيح)

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ: (كَانَ رسول الله صلى الله عليه وسلم َ لَيْسَ بِالطَّوِيلِ الْبَائِنِ وَلَا بِالْقَصِيرِ وَلَا بِالْأَبْيَضِ الْأَمْهَقِ وَلَا بِالْآدَمِ وَلَا بِالْجَعْدِ الْقَطَطِ وَلَا بِالسَّبْطِ بَعَثَهُ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى رَأْسِ أَرْبَعِينَ سَنَةً فَأَقَامَ بِمَكَّةَ عَشْرَ سِنِينَ

[13]
১ - (সহীহ)

আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত যে, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অত্যধিক দীর্ঘাকৃতির ছিলেন না এবং একদম খাটোও ছিলেন না। তিনি ধবধবে সাদা (বিবর্ণ সাদা) ছিলেন না এবং একদম কালোও ছিলেন না। তাঁর চুল অত্যধিক কোঁকড়ানো ছিল না এবং একেবারে সোজাও ছিল না। আল্লাহ তাআলা তাঁকে চল্লিশ বছর পূর্ণ হওয়ার পর (নবুওয়াত দিয়ে) প্রেরণ করেন। অতঃপর তিনি মক্কায় দশ বছর অবস্থান করেন।

[১৩]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١٤)
وَبِالْمَدِينَةِ عَشْرَ سِنِينَ وَتَوَفَّاهُ اللَّهُ عَلَى رَأْسِ سِتِّينَ سَنَةً وَلَيْسَ فِي رَأْسِهِ وَلِحْيَتِهِ عِشْرُونَ شَعْرَةً بَيْضَاءَ)
এবং মদীনায় দশ বছর (অবস্থান করেন)। আল্লাহ তাঁকে ষাট বছর পূর্ণ হওয়ার সময় ওফাত দান করেন এবং তাঁর মস্তক ও দাড়িতে বিশটি সাদা চুলও ছিল না।)
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١٣)
2 - (صحيح)

وعنه قال: (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم َ رَبْعَةً لَيْسَ بِالطَّوِيلِ وَلَا بِالْقَصِيرِ حَسَنَ الْجِسْمِ وَكَانَ شَعْرُهُ لَيْسَ بِجَعْدٍ وَلَا سَبْطٍ أَسْمَرَ اللَّوْنِ إِذَا مشى يتكفأ)
২ - (সহীহ)

তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মাঝারি গড়নের; তিনি দীর্ঘকায় ছিলেন না এবং খাটোও ছিলেন না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুন্দর শারীরিক গঠনের অধিকারী। তাঁর চুল খুব বেশি কোঁকড়ানো ছিল না এবং একেবারে সোজাও ছিল না। তাঁর দেহের বর্ণ ছিল উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ। তিনি যখন হাঁটতেন, তখন সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে চলতেন।"
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١٤)
3 - (صحيح)

الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ يَقُولُ: (كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ رَجُلًا مَرْبُوعًا بَعِيدَ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ عَظِيمَ الْجُمَّةِ إلى شحمة أذنيه عَلَيْهِ حُلَّةٌ حَمْرَاءُ مَا رَأَيْتُ شَيْئًا قَطُّ أَحْسَنَ منه

[14]
৩ - (সহীহ)

বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মাঝারি গড়নের মানুষ, তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিল এবং তাঁর মাথার প্রচুর চুল কানের লতি পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। তাঁর পরনে লাল বর্ণের পোশাক ছিল। আমি কখনো তাঁর চেয়ে সুন্দর কোনো কিছু দেখিনি।

[১৪]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١٤)
وفي رواية عنه قَالَ: (مَا رَأَيْتُ مِنْ ذِي لِمَّةٍ فِي حُلَّةٍ حَمْرَاءَ أَحْسَنَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ لَهُ شَعْرٌ يَضْرِبُ مَنْكِبَيْهِ بَعِيدُ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ لَمْ يَكُنْ بِالْقَصِيرِ ولا بالطويل)
এবং তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন: (আমি লাল পোশাক পরিহিত এবং বাবরি চুলবিশিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেয়ে অধিক সুন্দর দেখিনি। তাঁর চুল তাঁর দুই কাঁধ স্পর্শ করত, তিনি প্রশস্ত কাঁধবিশিষ্ট ছিলেন এবং তিনি অত্যধিক দীর্ঘকায় কিংবা খাটো ছিলেন না।)
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١٥)
4 - (صحيح)

عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: (لَمْ يَكُنِ النبي صلى الله عليه وسلم َ بِالطَّوِيلِ وَلَا بِالْقَصِيرِ شَثْنُ الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ ضَخْمُ الرَّأْسِ ضَخْمُ الْكَرَادِيسِ طَوِيلُ الْمَسْرُبَةِ إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ تَكَفُّؤًا كَأَنَّمَا يَنْحَطُّ مِنْ صَبَبٍ لَمْ أَرَ قَبْلَهُ وَلَا بعده مثله صلى الله عليه وسلم َ)

[15]
৪ - (সহিহ)

আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যধিক লম্বা ছিলেন না এবং একেবারে খাটোও ছিলেন না। তাঁর উভয় হাতের তালু এবং উভয় পা ছিল মাংসল। তাঁর মাথা ছিল বড় এবং হাড়ের জোড়াগুলো ছিল স্থুল। তাঁর বুকের পশম নাভি পর্যন্ত লম্বা ও চিকন রেখার মতো ছিল। যখন তিনি হাঁটতেন, তখন সামনের দিকে ঝুঁকে এমনভাবে হাঁটতেন যেন তিনি কোনো ঢালু জায়গা থেকে নিচের দিকে নামছেন। আমি তাঁর পূর্বে এবং তাঁর পরে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।)

[১৫]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١٦)
5 - (ضعيف)

إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ مِنْ وَلَدِ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طالب رضي الله عنه قَالَ: كَانَ عَلِيٌّ إِذَا وَصَفَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ قَالَ: (لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ بِالطَّوِيلِ الْمُمَّغِطِ وَلَا بِالْقَصِيرِ الْمُتَرَدِّدِ وَكَانَ رَبْعَةً مِنَ الْقَوْمِ لَمْ يَكُنْ بِالْجَعْدِ الْقَطَطِ وَلَا بِالسَّبْطِ كَانَ جَعْدًا رَجِلًا وَلَمْ يَكُنْ بِالْمُطَهَّمِ وَلَا بِالْمُكَلْثَمِ وَكَانَ فِي وَجْهِهِ تَدْوِيرٌ أَبْيَضُ مُشَرَبٌ أَدْعَجُ الْعَيْنَيْنِ أَهْدَبُ الْأَشْفَارِ جَلِيلُ الْمُشَاشِ وَالْكَتَدِ أَجْرَدُ ذُو مَسْرُبَةٍ شَثْنُ الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ إِذَا مَشَى تَقَلَّعَ كَأَنَّمَا يَنْحَطُّ مِنْ صَبَبٍ وَإِذَا الْتَفَتَ الْتَفَتَ مَعًا بَيْنَ كَتِفَيْهِ خَاتَمُ النُّبُوَّةِ وَهُوَ خَاتَمُ النَّبِيِّينَ أَجْوَدُ النَّاسِ صَدْرًا وَأَصْدَقُ النَّاسِ لَهْجَةً وَأَلْيَنُهُمْ عَرِيكَةً وَأَكْرَمُهُمْ عِشْرَةً مَنْ رَآهُ بَدِيهَةً هَابَهُ وَمَنْ خَالَطَهُ مَعْرِفَةً أَحَبَّهُ يَقُولُ نَاعِتُهُ: لَمْ أَرَ قَبْلَهُ ولا بعده مثله صلى الله عليه وسلم َ)

[16]
৫ - (দুর্বল)

ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মাদ, যিনি আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর বংশধর, তিনি বলেন: আলী যখনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনা দিতেন, তখন বলতেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতি দীর্ঘকায় ছিলেন না এবং অতি খর্বকায়ও ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন মাঝারি উচ্চতার। তাঁর চুল খুব বেশি কোঁকড়ানো ছিল না এবং পুরোপুরি সোজা বা ঝুলে থাকাও ছিল না, বরং তা ছিল সামান্য ঢেউ খেলানো। তিনি অতিরিক্ত স্থূলকায় ছিলেন না এবং তাঁর চেহারাও পুরোপুরি গোল ছিল না, তবে তাতে সামান্য গোলাকার ভাব ছিল। তাঁর গায়ের রঙ ছিল লালচে আভা মিশ্রিত সাদা। তাঁর চোখ দুটি ছিল কুচকুচে কালো এবং চোখের পাপড়ি ছিল দীর্ঘ। তাঁর অস্থিসন্ধি এবং দুই কাঁধের মাঝখান ছিল সুগঠিত ও প্রশস্ত। তাঁর শরীর ছিল লোমহীন, তবে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি সরু রেখা ছিল। তাঁর হাত ও পায়ের তালু ছিল মাংসল। তিনি যখন হাঁটতেন, তখন তেজের সাথে পা ফেলতেন যেন কোনো উঁচু ভূমি থেকে ঢালুর দিকে নামছেন। তিনি যখন কারো দিকে ফিরে তাকাতেন, তখন পুরো শরীর ঘুরিয়ে তাকাতেন। তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে নবুওয়াতের মোহর ছিল এবং তিনি ছিলেন শেষ নবী। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দানশীল হৃদয়ের অধিকারী, সর্বাধিক সত্যবাদী, সবচেয়ে কোমল স্বভাবের এবং সাহচর্যের দিক থেকে সর্বোত্তম। যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত, সে তাঁকে সমীহ করত; আর যে ব্যক্তি পরিচয়ের ভিত্তিতে তাঁর সাথে মিশত, সে তাঁকে ভালোবেসে ফেলত। তাঁর গুণাবলী বর্ণনাকারী বলতেন: আমি তাঁর আগে বা পরে তাঁর মতো কাউকে দেখিনি, সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।)

[১৬]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١٧)
قَالَ أَبُو عِيسَى: سَمِعْتُ أَبَا جَعْفَرٍ مُحَمَّدَ بْنَ الْحُسَيْنِ يَقُولُ:

سَمِعْتُ الْأَصْمَعِيَّ يَقُولُ فِي تَفْسِيرِ صِفَةِ النبي صلى الله عليه وسلم َ: (الْمُمَّغِطُ)

: الذَّاهِبُ طُولًا وَقَالَ: سَمِعْتُ أَعْرَابِيًّا يَقُولُ فِي كَلَامِهِ: تَمَغَّطَ فِي نَشَّابَتِهِ. أَيْ مَدَّهَا مَدًّا شَدِيدًا

و (المتردد) : الدَّاخِلُ بَعْضُهُ فِي بَعْضٍ قِصَرًا

وَأَمَّا (الْقَطَطُ) : فَالشَّدِيدُ الجعودة

و (الرجل) : الَّذِي فِي شَعْرِهِ حُجُونَةٌ أَيْ تَثَنٍّ قَلِيلٌ

وَأَمَّا (الْمُطَهَّمُ) : فَالْبَادِنُ الْكَثِيرُ اللَّحْمِ

و (المكلثم) : المدور الوجه

و (المشرب) : الَّذِي فِي بَيَاضِهِ حُمْرَةٌ

و (الأدعج) : الشديد سواد العين

و (الأهدب) : الطويل الأشفار

و (الكتد) : مُجْتَمِعُ الْكَتِفَيْنِ وَهُوَ الْكَاهِلُ

و (المسربة) : هُوَ الشَّعْرُ الدَّقِيقُ الَّذِي كَأَنَّهُ قَضِيبٌ مِنَ الصَّدْرِ إلى السرة

و (الشثن) : الْغَلِيظُ الْأَصَابِعِ مِنَ الْكَفَّيْنِ والقدمين

و (التقلع) : أن يمشي بقوة

[17]
আবু ঈসা বলেন: আমি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইনকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন:

আমি আসমায়ীকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলির বর্ণনার ব্যাখ্যায় বলতে শুনেছি: (মুম্মাগিত)

: অর্থাৎ লম্বায় অত্যন্ত দীর্ঘ। তিনি আরও বলেন: আমি এক বেদুইনকে তার কথোপকথনে বলতে শুনেছি: সে তার তিরে টান দিল, অর্থাৎ সে সেটিকে অত্যন্ত সজোরে টেনে ধরল।

এবং (মুতারাদ্দিদ): খাটো হওয়ার কারণে যার শরীরের একাংশ অন্য অংশের ভেতর প্রবিষ্ট (অর্থাৎ অত্যন্ত খাটো ব্যক্তি)।

আর (কাতাত): অর্থাৎ যার চুল অত্যন্ত কোঁকড়ানো।

এবং (রাজুল): যার চুলে সামান্য ঢেউ বা ভাঁজ আছে।

আর (মুতাহহাম): অর্থাৎ স্থূলকায় এবং মাংসল দেহবিশিষ্ট।

এবং (মুকালসাম): অর্থাৎ গোলাকার মুখমণ্ডল বিশিষ্ট।

এবং (মুশরাব): যার শুভ্র বর্ণের মাঝে লালিমা মিশ্রিত।

এবং (আদআজ): চোখের মণি অত্যন্ত কালো।

এবং (আহদাব): দীর্ঘ চোখের পাপড়ি বিশিষ্ট।

এবং (কাতাদ): দুই কাঁধের মিলনস্থল, যা মূলত ঘাড়ের উপরিভাগ।

এবং (মাসরুবাহ): এটি হলো পশমের একটি সূক্ষ্ম রেখা, যা বুক থেকে নাভি পর্যন্ত একটি সরু দণ্ডের ন্যায় প্রলম্বিত।

এবং (শাস্ন): হাতের তালু এবং পায়ের পাতার মোটা ও মাংসল আঙুল।

এবং (তাকাল্লু'): অর্থাৎ শক্তিমত্তার সাথে সজোরে চলা।

[১৭]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١٧)
و (الصبب)

: الحدور يقال انْحَدَرْنَا فِي صَبُوبٍ وَصَبَبٍ

وَقَوْلُهُ: (جَلِيلُ الْمُشَاشِ) يُرِيدُ رؤوس المناكب

و (العشرة) : الصحبة

و (العشير) : الصاحب

و (البديهة) : الْمُفَاجَأَةُ يُقَالُ: بَدَهْتُهُ بِأَمْرٍ أي فجأته
এবং (আস-সাবাব)

: ঢালু স্থান বা নিম্নভূমি। বলা হয়ে থাকে যে, আমরা ঢালু পথে বা নিম্নভূমিতে অবতরণ করেছি।

এবং তাঁর বাণী: (অস্থিসন্ধির বিশালতা), তিনি এর দ্বারা কাঁধের হাড়ের অগ্রভাগসমূহকে উদ্দেশ্য করেছেন।

এবং (আল-ইশরাহ): সাহচর্য বা মেলামেশা।

এবং (আল-আশির): সঙ্গী বা বন্ধু।

এবং (আল-বাদিহাহ): আকস্মিকতা। বলা হয়ে থাকে: আমি তাকে কোনো বিষয়ে অতর্কিতে পেয়েছি, অর্থাৎ আমি হঠাৎ তার নিকট উপস্থিত হয়েছি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١٨)
6 - (ضعيف جدا)

عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ رضي الله عنهما قال: سألت خالي هند بن أبي هالة وكان وَصَّافًا عَنْ حِلْيَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم َ وَأَنَا أَشْتَهِي أَنْ يَصِفَ لِي مِنْهَا شَيْئًا أَتَعَلَّقُ بِهِ فَقَالَ:

(كَانَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم َ فَخْمًا مُفَخَّمًا يَتَلَأْلَأُ وَجْهُهُ تَلَأْلُؤَ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ أَطْوَلُ مِنَ الْمَرْبُوعِ وَأَقْصَرُ مِنَ الْمُشَذَّبِ عَظِيمُ الْهَامَةِ رَجِلُ الشَّعْرِ إِنِ انْفَرَقَتْ عَقِيقَتُهُ فَرَّقَهَا وَإِلَّا فَلَا يُجَاوِزُ شَعْرُهُ شَحْمَةَ أُذُنَيْهِ

[18]
৬ - (অত্যন্ত দুর্বল)

হাসান ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার মামা হিন্দ ইবনে আবি হালাহকে—যিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে অন্যের গুণাবলী ও অবয়ব বর্ণনা করতে পারতেন—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শারীরিক গঠন ও অবয়ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। আমি চাচ্ছিলাম তিনি আমার সামনে তাঁর গুণাবলীর কিছু অংশ এমনভাবে বর্ণনা করুন যা আমি ধারণ করতে পারি। তখন তিনি বললেন:

(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাবান ও মহিমান্বিত। তাঁর চেহারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বলতা ছড়াত। তিনি মধ্যমাকৃতির চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ছিলেন, তবে অত্যধিক দীর্ঘ ও লিকলিকে ছিলেন না। তাঁর মস্তক ছিল বড়। তাঁর চুল ছিল সামান্য ঢেউ খেলানো। যদি তাঁর চুলের সিঁথি আপনা-আপনি বিভক্ত হয়ে যেত, তবে তিনি তা বিভক্ত রাখতেন; অন্যথায় তাঁর চুল তাঁর কানের লতি অতিক্রম করত না।

[১৮]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١٩)
إِذَا هُوَ وَفَّرَهُ أَزْهَرُ اللَّوْنِ وَاسِعُ الْجَبِينِ أَزَجُّ الْحَوَاجِبِ سَوَابِغَ فِي غَيْرِ قَرَنٍ بَيْنَهُمَا عِرْقٌ يُدِرُّهُ الْغَضَبُ أَقْنَى الْعِرْنَيْنِ لَهُ نُورٌ يَعْلُوهُ يَحْسَبُهُ مَنْ لَمْ يَتَأَمَّلْهُ أَشَمَّ كَثُّ اللِّحْيَةِ سَهْلُ الْخدَّيْنِ ضَلِيعُ الْفَمِ مُفْلَجُ الْأَسْنَانِ دَقِيقُ الْمَسْرُبَةِ كَأَنَّ عُنُقَهُ جِيدُ دُمْيَةٍ فِي صَفَاءِ الْفِضَّةِ مُعْتَدِلُ الْخَلْقِ بَادِنٌ مُتَمَاسِكٌ سَوَاءُ الْبَطْنِ وَالصَّدْرِ عَرِيضُ الصَّدْرِ بَعِيدُ مَا بَيْنَ الْمَنْكِبَيْنِ ضَخْمُ الْكَرَادِيسِ أَنْوَرُ الْمُتَجَرَّدِ مَوْصُولُ مَا بَيْنَ اللَّبَّةِ وَالسُّرَّةِ بِشَعْرٍ يَجْرِي كَالْخَطِّ عَارِي الثَّدْيَيْنِ وَالْبَطْنِ مِمَّا سِوَى ذَلِكَ أَشْعَرُ

[19]
তিনি যখন চুল পূর্ণ রাখতেন (তখন তা অত্যন্ত সুদৃশ্য হতো), তাঁর গায়ের রঙ ছিল উজ্জ্বল ও শ্বেতশুভ্র, কপাল ছিল প্রশস্ত, ভ্রুদ্বয় ছিল ঘন ও ধনুকাকৃতি এবং তা একে অপরের সাথে মিলিত ছিল না। তাঁর দুই ভ্রুর মাঝে একটি শিরা ছিল যা রাগের সময় ফুটে উঠত। তাঁর নাক ছিল উন্নত ও খাড়া, তার ওপর একটি বিশেষ আভা ছিল; কেউ গভীরভাবে লক্ষ্য না করলে মনে করত তাঁর নাকটি অনেক উঁচু। তাঁর দাড়ি ছিল ঘন, গাল ছিল মসৃণ, মুখ ছিল প্রশস্ত, দাঁতগুলো ছিল অগ্রভাগে কিছুটা ফাঁকা ও সুন্দর। তাঁর বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি সরু রেখা ছিল। তাঁর ঘাড় ছিল রূপার শুভ্রতার ন্যায় স্বচ্ছ এবং সুন্দর। তাঁর শারীরিক গঠন ছিল সুঠাম, দেহ ছিল সুসংহত ও মজবুত, পেট ও বুক ছিল সমান। তিনি প্রশস্ত বক্ষবিশিষ্ট ছিলেন এবং তাঁর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল বিস্তৃত। তাঁর হাড়ের জোড়াগুলো ছিল বড়। শরীরের অনাবৃত অংশ ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। তাঁর কণ্ঠনালীর উপরিভাগ থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি রেখা লম্বালম্বিভাবে বহমান ছিল। স্তনদ্বয় ও পেটের উপরিভাগ এই পশমের রেখা ব্যতীত পশমহীন ছিল এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ (যেমন হাত ও কাঁধ) পশমযুক্ত ছিল।

[১৯]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ١٩)
الذِّرَاعَيْنِ وَالْمَنْكِبَيْنِ وَأَعَالِي الصَّدْرِ طَوِيلُ الزَّنْدَيْنِ رَحْبُ الرَّاحَةِ شَثْنُ الْكَفَّيْنِ وَالْقَدَمَيْنِ سَائِلُ الْأَطْرَافِ أَوْ قَالَ: شَائِلُ الْأَطْرَافِ خَمْصَانُ الْأَخْمَصَيْنِ مَسِيحُ الْقَدَمَيْنِ يَنْبُو عَنْهُمَا الْمَاءُ إِذَا زَالَ زَالَ قَلِعًا يَخْطُو تَكَفِّيًا وَيَمْشِي هَوْنًا ذَرِيعُ الْمِشْيَةِ إِذَا مَشَى كَأَنَّمَا يَنْحَطُّ مِنْ صَبَبٍ وَإِذَا الْتَفَتَ الْتَفَتَ جَمِيعًا خَافِضُ الطَّرْفِ نَظَرُهُ إِلَى الْأَرْضِ أَطْوَلُ مِنْ نَظَرِهِ إِلَى السَّمَاءِ جُلُّ نَظَرِهِ الملاحظة يسوق أصحابه ويبدر من لقي بالسلام)

[قال: فَقُلْتُ: صِفْ لِي مَنْطِقَ رسول اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ قَالَ:
তাঁর বাহুদ্বয়, কাঁধদ্বয় এবং বক্ষদেশের উপরিভাগ ছিল সুগঠিত। তাঁর কবজিদ্বয় ছিল সুদীর্ঘ, হাতের তালু ছিল প্রশস্ত এবং উভয় হাতের তালু ও পদদ্বয় ছিল মাংসল। তাঁর হাত ও পায়ের আঙুলগুলো ছিল দীর্ঘ। তাঁর পায়ের তালুর মধ্যভাগ ছিল অধিক ফাঁকা এবং পদদ্বয় ছিল মসৃণ, যা থেকে পানি দ্রুত গড়িয়ে পড়ত। যখন তিনি পথ চলতেন, তখন কদমগুলো ভূমি থেকে বেশ শক্তিশালীভাবে উত্তোলন করতেন, সামনের দিকে ঝুঁকে চলতেন এবং অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সাথে পথ চলতেন। তিনি দ্রুত ও দীর্ঘ পদক্ষেপে চলতেন; যখন তিনি চলতেন তখন মনে হতো যেন তিনি কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচের দিকে নামছেন। যখন তিনি কোনো দিকে ফিরতেন, তখন পূর্ণাঙ্গভাবে সেদিকে ফিরতেন। তিনি সচরাচর দৃষ্টি অবনত রাখতেন। আসমানের তুলনায় জমিনের দিকেই তাঁর দৃষ্টি দীর্ঘতর হতো। তাঁর অধিকাংশ দৃষ্টি ছিল পর্যবেক্ষণমূলক। তিনি তাঁর সাহাবীদের আগে আগে চলতে দিতেন এবং যার সাথেই দেখা হতো তাকে আগে সালাম দিতেন।)

[তিনি বললেন: অতঃপর আমি বললাম: আমার নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাক্যালাপের ধরন বর্ণনা করুন। তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ٢٠)
(كان رسول الله صلى الله عليه وسلم َ مُتَوَاصِلَ الْأَحْزَانِ دَائِمَ الْفِكْرَةِ لَيْسَتْ لَهُ رَاحَةٌ طَوِيلُ السَّكْتِ لَا يَتَكَلَّمُ فِي غَيْرِ حَاجَةٍ يَفْتَتِحُ الْكَلَامَ وَيَخْتِمُهُ بِاسْمِ اللَّهِ تَعَالَى وَيَتَكَلَّمُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ كَلَامُهُ فَصْلٌ لَا فُضُولَ وَلَا تَقْصِيرَ

[20]
(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরন্তর চিন্তামগ্ন ও সর্বদা গবেষণারত ছিলেন। তাঁর কোনো দীর্ঘ বিশ্রাম ছিল না। তিনি দীর্ঘ সময় নীরব থাকতেন; প্রয়োজন ব্যতীত কথা বলতেন না। তিনি মহান আল্লাহর নাম দ্বারা কথা শুরু ও শেষ করতেন। তিনি অত্যন্ত অর্থগর্ভ ও সংক্ষিপ্ত বাক্যে কথা বলতেন; তাঁর বক্তব্য ছিল সুস্পষ্ট ও মীমাংসাকারী, যাতে কোনো অনর্থক আধিক্য ছিল না এবং কোনো অসম্পূর্ণতাও ছিল না।

[২০]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ٢٠)
لَيْسَ بِالْجَافِي وَلَا الْمُهِينِ يُعَظِّمُ النِّعْمَةَ وَإِنْ دَقَّتْ لَا يَذُمُّ مِنْهَا شَيْئًا غَيْرَ أَنَّهُ لَمْ يَكُنْ يَذُمُّ ذَوَّاقًا وَلَا يَمْدَحُهُ

وَلَا تُغْضِبُهُ الدُّنْيَا وَلَا مَا كَانَ لَهَا فَإِذَا تُعُدِّيَ الْحَقُّ لَمْ يَقُمْ لِغَضَبِهِ شَيْءٌ حَتَّى يَنْتَصِرَ له ولا يَغْضَبُ لِنَفْسِهِ وَلَا يَنْتَصِرُ لَهَا

إِذَا أَشَارَ أَشَارَ بِكَفِّهِ كُلِّهَا وَإِذَا تَعَجَّبَ قَلَبَهَا وَإِذَا تَحَدَّثَ اتَّصَلَ بِهَا وَضَرَبَ بِرَاحَتِهِ الْيُمْنَى بَطْنَ إِبْهَامِهِ الْيُسْرَى

وَإِذَا غَضِبَ أَعْرَضَ وَأَشَاحَ وَإِذَا فَرِحَ غَضَّ طَرْفَهُ

جُلُّ ضَحِكِهِ التَّبَسُّمُ يَفْتَرُّ عَنْ مثل حب الغمام) ]

[قَالَ الْحَسَنُ: فَكَتَّمْتُهَا الْحُسَيْنَ زَمَانًا ثُمَّ حَدَّثْتُهُ فَوَجَدْتُهُ قَدْ سَبَقَنِي إِلَيْهِ فَسَأَلَهُ عَمَّا سَأَلْتُهُ عَنْهُ وَوَجَدْتُهُ قد سأل أباه عَنْ مَدْخَلِهِ وَمَخْرَجِهِ وَشَكْلِهِ فَلَمْ يَدَعْ مِنْهُ شَيْئًا
তিনি কঠোর প্রকৃতির ছিলেন না এবং কাউকে তুচ্ছকারীও ছিলেন না। তিনি নিয়ামতকে সম্মান করতেন যদিও তা সামান্য হতো, তার কোনো কিছুরই নিন্দা করতেন না। তবে তিনি খাবারের স্বাদের নিন্দা করতেন না এবং এর প্রশংসাও করতেন না।

দুনিয়া এবং দুনিয়াবী কোনো বিষয় তাঁকে রাগান্বিত করত না। তবে যখন সত্য লঙ্ঘিত হতো, তখন তাঁর ক্রোধের সামনে কোনো কিছুই দাঁড়াতে পারত না যতক্ষণ না তিনি সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতেন। তিনি নিজের ব্যক্তিগত কারণে রাগান্বিত হতেন না এবং নিজের জন্য প্রতিশোধ নিতেন না।

যখন তিনি ইশারা করতেন, তখন তাঁর পূর্ণ হাতের তালু দিয়ে ইশারা করতেন। যখন বিস্মিত হতেন, তখন হাত উল্টে দিতেন। যখন কথা বলতেন, তখন হাতের অঙ্গভঙ্গি ব্যবহার করতেন এবং তাঁর ডান হাতের তালু দিয়ে বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির পেটে আঘাত করতেন।

যখন রাগান্বিত হতেন, মুখ ফিরিয়ে নিতেন এবং বিমুখ হতেন। আর যখন আনন্দিত হতেন, তখন দৃষ্টি অবনত রাখতেন।

তাঁর হাসির সিংহভাগই ছিল মুচকি হাসি। তিনি যখন হাসতেন, তখন মেঘের মুক্তা সদৃশ (শিলাবৃষ্টির দানার মতো) শুভ্র দাঁত প্রকাশিত হতো।

[হাসান (রা.) বলেন: আমি এই বিষয়টি হুসাইন (রা.)-এর কাছে দীর্ঘ সময় গোপন রেখেছিলাম। অতঃপর আমি যখন তাঁকে এটি বললাম, তখন দেখলাম যে তিনি এ বিষয়ে আমার চেয়ে অগ্রগামী হয়ে আছেন। তিনি তাঁকে সেই বিষয়েই জিজ্ঞাসা করেছিলেন যা আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম। আমি আরও দেখলাম যে, তিনি তাঁর পিতার কাছে তাঁর (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) ঘরে প্রবেশ, বের হওয়া এবং তাঁর অবয়ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং এ বিষয়ে কোনো কিছুই বাদ দেননি।]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ٢١)
قَالَ الْحُسَيْنُ: فَسَأَلْتُ أَبِي عَنْ دُخُولِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ فَقَالَ:

(كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى مَنْزلِهِ جَزَّأَ دُخُولَهُ ثَلَاثَةَ أَجْزَاءٍ جُزْءًا لِلَّهِ وجزءا لِأَهْلِهِ وَجُزْءًا لِنَفْسِهِ ثُمَّ جَزَّأَ جُزْأَهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّاسِ فَيَرُدُّ ذَلِكَ

[21]
হুসাইন বলেন: আমি আমার পিতাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের (গৃহে) প্রবেশ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন:

(তিনি যখন নিজ গৃহে অবস্থান নিতেন, তখন তাঁর অবস্থানের সময়কে তিন ভাগে বিভক্ত করতেন: এক ভাগ আল্লাহর জন্য, এক ভাগ তাঁর পরিবারের জন্য এবং এক ভাগ নিজের জন্য। অতঃপর তিনি নিজের জন্য নির্ধারিত অংশটিকে নিজের ও মানুষের মধ্যে বণ্টন করে দিতেন এবং তিনি সেই সময়ের দ্বারা (সাধারণ মানুষের প্রয়োজন পূরণ করতেন)।

[২১]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ٢٢)
بِالْخَاصَّةِ عَلَى الْعَامَّةِ وَلَا يدخرعنهم شَيْئًا

وَكَانَ مِنْ سِيرَتِهِ فِي جُزْءِ الْأُمَّةِ إِيثَارُ أهل الفضل بإذنه وقسمه عَلَى قَدْرِ فَضْلِهِمْ فِي الدِّينِ فَمِنْهُمْ ذُو الْحَاجَةِ وَمِنْهُمْ ذُو الْحَاجَتَيْنِ وَمِنْهُمْ ذُو الْحَوَائِجِ فَيَتَشَاغَلُ بِهِمْ وَيَشْغَلُهُمْ فِيمَا يُصْلِحُهُمْ وَالْأُمَّةَ مِنْ مساءلتهم عنه

وإخبارهم بالذي ينبغي لهم ويقول: (لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الْغَائِبَ وَأَبْلِغُونِي حَاجَةَ مَنْ لَا يَسْتَطِيعُ إِبْلَاغَهَا فَإِنَّهُ مَنْ أَبْلَغَ سُلطَانًا حَاجَةَ مَنْ لَا يَسْتَطِيعُ إِبْلَاغَهَا ثَبَّتَ اللَّهُ قَدمَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ)

لايذكر عِنْدَهُ إِلَا ذَلِكَ وَلَا يُقْبَلُ مِنْ أَحَدٍ غَيْرِهِ يَدْخُلُونَ رُوَّادًا وَلَا يَفْتَرِقُونَ إِلَا عَنْ ذَوَاقٍ وَيُخْرِجُونَ أَدِلَّةً يَعْنِي عَلَى الْخَيْرِ

قَالَ: فَسَأَلْتُهُ عَنْ مَخْرَجِهِ كيف كان يَصْنَعُ فِيهِ؟ قَالَ:

[22]
বিশেষ করে সাধারণের ওপর এবং তাদের থেকে কোনো কিছুই তিনি গোপন রাখতেন না।

উম্মতের জন্য নির্ধারিত সময়ে তাঁর রীতি ছিল তাঁর অনুমতি ও বণ্টনের ক্ষেত্রে দ্বীনি মর্যাদার ভিত্তিতে গুণীজনদের অগ্রাধিকার দেওয়া। তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন এক অভাবী, কেউ দুই অভাবী এবং কেউবা বহু অভাবগ্রস্ত। তিনি তাদের নিয়ে নিবিষ্ট থাকতেন এবং যা তাদের ও উম্মতের সংশোধনের জন্য কল্যাণকর সেই কাজে তাদেরও ব্যাপৃত রাখতেন, যেমন তাদের তাঁকে প্রশ্ন করা

এবং তাদের যা উপযুক্ত সে সম্পর্কে তাদের অবহিত করা। তিনি বলতেন: "তোমাদের মধ্যে যারা উপস্থিত আছে তারা যেন অনুপস্থিতদের নিকট সংবাদ পৌঁছে দেয়। আর তোমরা আমার নিকট এমন ব্যক্তির প্রয়োজনের কথা পৌঁছে দাও যে নিজে তা পৌঁছাতে সক্ষম নয়। কেননা যে ব্যক্তি কোনো শাসনকর্তার নিকট এমন ব্যক্তির প্রয়োজন পৌঁছে দেয় যে তা পৌঁছাতে অক্ষম, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁর দুই পা স্থির রাখবেন।"

তাঁর কাছে এ ছাড়া অন্য কিছুর আলোচনা হতো না এবং এ ছাড়া অন্য কিছু কারও কাছ থেকে গ্রহণ করা হতো না। তাঁরা জ্ঞানান্বেষী হয়ে প্রবেশ করতেন এবং (উপকারের) স্বাদ আস্বাদন করা ছাড়া বের হতেন না, আর তাঁরা কল্যাণের পথপ্রদর্শক হয়ে বের হয়ে আসতেন।

তিনি বললেন: অতঃপর আমি তাঁকে তাঁর বাইরে গমনের সময়কাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তিনি তখন কী করতেন? তিনি বললেন:

[22]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ٢٣)
كان رسول الله صلى الله عليه وسلم َ يخزن لِسَانُهُ إِلَا فِيمَا يَعْنِيهِ وَيُؤَلِّفُهُمْ وَلَا يُنَفِّرُهُمْ وَيُكْرِمُ كَرَيمَ كُلِّ قَوْمٍ وَيُوَلِّيهِ عَلَيْهِمْ وَيُحَذِّرُ النَّاسَ وَيَحْتَرِسُ مِنْهُمْ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَطْوِيَ عَنْ أَحَدٍ مِنْهُمْ بِشْرَهُ وَخُلُقَهُ

وَيَتَفَقَّدُ أَصْحَابَهُ وَيَسْأَلُ النَّاسَ عَمَّا فِي النَّاسِ وَيُحَسِّنُ الْحَسَنَ وَيُقَوِّيهِ وَيُقَبِّحُ الْقَبِيحَ وَيُوَهِّيهِ

مُعْتَدِلُ الْأَمْرِ غَيْرُ مُخْتَلِفٍ لَا يَغْفُلُ مَخَافَةَ أَنْ يَغْفُلُوا أَوْ يَمِيلُوا لِكُلِّ حَالٍ عِنْدَهُ عَتَادٌ لَا يُقَصِّرُ عَنِ الْحَقِّ وَلَا يُجَاوِزُهُ

[الَّذِينَ] يَلُونَهُ مِنَ النَّاسِ خِيَارُهُمْ أَفْضَلُهُمْ عِنْدَهُ أَعَمُّهُمْ نَصِيحَةً وَأَعْظَمُهُمْ عِنْدَهُ مَنْزِلَةً أَحْسَنُهُمْ مُوَاسَاةً وَمُؤَازَرَةً

قَالَ: فَسَأَلْتُهُ عَنْ مَجْلِسِهِ. فَقَالَ:

كان رسول الله صلى الله عليه وسلم َ لَا يَقُومُ وَلَا يَجَلِسُ إِلَا عَلَى ذِكْرٍ وَإِذَا انْتَهَى إِلَى قَوْمٍ جَلَسَ حَيْثُ يَنْتَهِي بِهِ الْمَجْلِسُ وَيَأْمُرُ بِذَلِكَ

يُعْطِي كُلَّ جُلَسَائِهِ بِنَصِيبِهِ لَا يَحْسَبُ جَلِيسُهُ أَنَّ أَحَدًا أَكْرَمُ عَلَيْهِ مِنْهُ مَنْ جَالَسَهُ أَوْ فَاوَضَهُ فِي حَاجَةٍ صَابَرَهُ حَتَّى يَكُونَ هُوَ الْمُنْصَرِفُ عَنْهُ وَمَنْ سَأَلَهُ حَاجَةً لَمْ يَرُدَّهُ إِلَا بِهَا أَوْ بِمَيْسُورٍ مِنَ الْقَوْلِ قَدْ وَسِعَ النَّاسَ بسطه وخلقة فَصَارَ لَهُمْ أَبًا وَصَارُوا عِنْدَهُ فِي الْحَقِّ سَوَاءً

[23]
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রয়োজনীয় কথা ব্যতীত তাঁর জিহ্বাকে সংযত রাখতেন। তিনি তাদের (লোকদের) মাঝে সম্প্রীতি সৃষ্টি করতেন এবং তাদের দূরে ঠেলে দিতেন না। তিনি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের সম্মানিত ব্যক্তিকে সম্মান করতেন এবং তাদের ওপর তাকে দায়িত্ব প্রদান করতেন। তিনি মানুষকে সতর্ক করতেন এবং তাদের থেকে সাবধানতা অবলম্বন করতেন, তবে তাদের কারো থেকে তাঁর প্রসন্নতা ও সুন্দর চরিত্র সংকুচিত করতেন না।

তিনি তাঁর সাথীদের খোঁজখবর নিতেন এবং মানুষের মাঝে যা ঘটছে সে সম্পর্কে মানুষের নিকট জিজ্ঞাসা করতেন। তিনি ভালোকে ভালো বলতেন ও তা শক্তিশালী করতেন এবং মন্দকে মন্দ বলতেন ও তা দুর্বল করতেন।

তিনি সকল বিষয়ে পরিমিত ছিলেন, কোনো বিষয়ে অনৈক্য করতেন না। তিনি উদাসীনতা অবলম্বন করতেন না এই আশঙ্কায় যে, পাছে তারাও উদাসীন হয়ে পড়ে বা তারা সত্যচ্যুত হয়ে যায়। তাঁর কাছে প্রত্যেক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি ছিল। তিনি সত্যের ব্যাপারে ত্রুটি করতেন না এবং তা অতিক্রমও করতেন না।

লোকেদের মধ্য থেকে যারা তাঁর নিকটবর্তী থাকত, তারা ছিল তাদের মধ্যে সর্বোত্তম। তাঁর নিকট সেই ব্যক্তি অধিক মর্যাদাবান ছিল যে মানুষের কল্যাণে সবচেয়ে বেশি উপদেশমূলক ছিল এবং তাঁর নিকট সবচেয়ে মহান স্তরের ব্যক্তি ছিল সেই যে সান্ত্বনা ও সহযোগিতার দিক দিয়ে সর্বোত্তম ছিল।

তিনি বললেন: আমি তাঁকে তাঁর মজলিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন:

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর যিকির ব্যতীত উঠতেন না এবং বসতেন না। তিনি যখন কোনো সম্প্রদায়ের নিকট পৌঁছাতেন, তখন মজলিস যেখানে গিয়ে শেষ হতো সেখানেই বসতেন এবং তিনি এরূপ করার নির্দেশ দিতেন।

তিনি তাঁর সাথে বসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার প্রাপ্য অংশ দান করতেন, ফলে তাঁর সাথে বসা কোনো ব্যক্তি এমনটি মনে করত না যে তাঁর নিকট অন্য কেউ তার চেয়ে অধিক সম্মানিত। যে কেউ তাঁর সাথে বসত বা কোনো প্রয়োজনে তাঁর সাথে আলাপ করত, তিনি তার প্রতি ধৈর্য ধারণ করতেন যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি নিজেই প্রস্থান করত। আর যে কেউ তাঁর নিকট কোনো প্রয়োজনে আবেদন করত, তিনি তাকে তার কাঙ্ক্ষিত বস্তু প্রদান করে অথবা অত্যন্ত কোমল কথার মাধ্যমেই কেবল বিদায় দিতেন। তাঁর সদাচার ও উত্তম চরিত্র সকল মানুষকে পরিবেষ্টন করেছিল। ফলে তিনি তাদের জন্য পিতার ন্যায় হয়ে গিয়েছিলেন এবং হকের ব্যাপারে তারা সবাই তাঁর নিকট সমান ছিল।

[23]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ٢٣)
مَجْلِسُهُ مَجْلِسُ عِلْمٍ وَحِلْمٍ وحياء وأمانة وَصَبْرٍ لَا تُرْفَعُ فِيهِ الْأَصْوَاتُ وَلَا تُؤْبَنُ فِيهِ الحرم ولا تنثى فَلَتَاتُهُ مُتَعَادِلِينَ بَلْ كَانُوا يَتَفَاضَلُونَ فِيهِ بِالتَّقْوَى مُتَوَاضِعِينَ يُوقِّرُونَ فِيهِ الْكَبِيرَ وَيَرْحَمُونَ فِيهِ الصَّغِيرَ وَيُؤْثِرُونَ ذَا الحاجة ويحفظون الغريب) ]

[قَالَ الْحُسَيْنُ: سَأَلْتُ أَبِي عَنْ سِيرَةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم َ فِي جُلَسَائِهِ؟
তাঁর মজলিস ছিল জ্ঞান, সহিষ্ণুতা, লজ্জা, আমানতদারি এবং ধৈর্যের মজলিস; সেখানে উচ্চস্বরে কথা বলা হতো না, পবিত্র ও সম্মানজনক বিষয়সমূহের অবমাননা করা হতো না এবং সেখানকার কোনো বিচ্যুতি বা ভুলত্রুটি বাইরে ছড়িয়ে দেওয়া হতো না। তারা সকলে সমান ছিলেন, বরং তারা তাকওয়ার ভিত্তিতে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করতেন। তারা ছিলেন বিনয়ী; তারা বড়দের সম্মান করতেন, ছোটদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করতেন, অভাবীদের অগ্রাধিকার দিতেন এবং অপরিচিত বা মুসাফিরদের দেখাশোনা করতেন। ]

[ হোসাইন বলেন: আমি আমার পিতাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিসে উপবিষ্টদের সাথে তাঁর আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ٢٤)
فَقَالَ:

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ دَائِمَ الْبِشْرِ سَهْلَ الْخُلُقِ لَيِّنَ الْجَانِبِ لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غَلِيظٍ وَلَا صَخَّابٍ وَلَا فَحَّاشٍ وَلَا عَيَّابٍ وَلَا مُشَاحٍ

يَتَغَافَلُ عَمَّا لَا يَشْتَهِي وَلَا يُؤْيِسُ مِنْهُ رَاجِيهِ وَلَا يُخَيَّبُ فِيهِ

قَدْ تَرَكَ نَفْسَهُ مِنْ ثَلَاثٍ: الْمِرَاءِ وَالْإِكْثَارِ وَمَا لَا

[24]
অতঃপর তিনি বললেন:

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল, কোমল চরিত্রের এবং নম্র স্বভাবের ছিলেন। তিনি কর্কশভাষী, কঠোর হৃদয়ের, শোরগোলকারী, অশ্লীলভাষী, দোষ অন্বেষণকারী কিংবা সংকীর্ণমনা ছিলেন না।

যা তিনি পছন্দ করতেন না সে ব্যাপারে তিনি উদাসীনতা অবলম্বন করতেন। তাঁর নিকট কোনো প্রত্যাশী নিরাশ হতো না এবং তাকে বঞ্চিত করা হতো না।

তিনি নিজেকে তিনটি বিষয় থেকে মুক্ত রেখেছিলেন: ঝগড়া-বিবাদ, অনর্থক আধিক্য এবং যা তাঁর জন্য প্রয়োজনহীন...

[২৪]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ٢٥)
يَعْنِيهِ. وَتَرَكَ النَّاسَ مِنْ ثَلَاثٍ: كَانَ لَا يَذُمُّ أَحَدًا وَلَا يَعِيبُهُ وَلَا يَطْلُبُ عَوْرتَهُ وَلَا يَتَكَلَّمُ إِلَّا فِيمَا رَجَا ثَوَابَهُ

وَإِذَا تَكَلَّمَ أَطْرَقَ جُلَسَاؤُهُ كأنما على رؤوسهم الطَّيْرُ فَإِذَا سَكَتَ تَكَلَّمُوا لَا يَتَنَازَعُونَ عِنْدَهُ الْحَدِيثَ وَمَنْ تَكَلَّمَ عِنْدَهُ أَنْصَتُوا لَهُ حَتَّى يَفْرُغَ حَدِيثُهُمْ عِنْدَهُ حَدِيثُ أَوَّلِهِمْ

يَضْحَكُ مِمَّا يَضْحَكُونَ مِنْهُ وَيَتَعَجَّبُ مِمَّا يَتَعَجَّبُونَ مِنْهُ وَيَصْبِرُ لِلْغَرِيبِ عَلَى الْجَفْوَةِ فِي مَنْطِقِهِ وَمَسْأَلَتِهِ حَتَّى إِنْ كَانَ أَصْحَابُهُ لَيَسْتَجْلِبُونَهُمْ وَيَقُولُ:

[25]
যা তাকে উদ্দেশ্য করে। আর তিনি মানুষকে তিনটি বিষয় হতে মুক্ত রেখেছিলেন: তিনি কাউকে নিন্দা করতেন না, কাউকে দোষারোপ করতেন না এবং কারো গোপন দোষ-ত্রুটি তালাশ করতেন না। আর তিনি কেবল সেই বিষয়েই কথা বলতেন যাতে তিনি সওয়াবের আশা রাখতেন।

যখন তিনি কথা বলতেন, তখন তার মজলিসে উপবিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এমনভাবে মস্তক অবনত রাখতেন যেন তাদের মাথার ওপর পাখি বসে আছে। অতঃপর যখন তিনি নীরব হতেন তখন তারা কথা বলতেন। তারা তার নিকটে কোনো বিষয়ে বাদানুবাদ করতেন না। আর যে ব্যক্তি তার সম্মুখে কথা বলতেন, তারা তার প্রতি মনোযোগ দিয়ে চুপ থাকতেন যতক্ষণ না সে তার কথা সমাপ্ত করত। তাদের নিকটে তাদের সকলের কথা ছিল প্রথমজনের কথার ন্যায় (গুরুত্বপূর্ণ)।

তারা যে বিষয়ে হাসতেন তিনিও তাতে হাসতেন এবং তারা যে বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করতেন তিনিও তাতে বিস্ময় প্রকাশ করতেন। তিনি আগন্তুক মুসাফিরের কথাবার্তা ও প্রশ্নের রূঢ়তায় ধৈর্য ধারণ করতেন, এমনকি তার সাহাবীগণ তাদেরকে ডেকে নিয়ে আসতেন। তিনি বলতেন:

[25]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ٢٥)
(إِذَا رَأَيْتُمْ طَالِبَ حَاجَةٍ يِطْلُبُهَا فَأَرْفِدُوهُ)

وَلَا يَقْبَلُ الثَّنَاءَ إِلَّا مِنْ مُكَافِئٍ وَلَا يَقْطَعُ عَلَى أَحَدٍ حَدِيثَهُ حَتَّى يَجُوزَ فَيَقْطَعُهُ بِنَهْيٍ أو قيام) ]
(যখন তোমরা কোনো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তিকে তার প্রয়োজন পূরণের প্রার্থনা করতে দেখবে, তখন তোমরা তাকে সাহায্য করো।)

এবং তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী ব্যতীত অন্য কারো নিকট থেকে প্রশংসা গ্রহণ করতেন না। তিনি কারো কথা বলা শেষ হওয়ার আগে তা বিচ্ছিন্ন করতেন না, যতক্ষণ না সে সীমা অতিক্রম করত; এমতাবস্থায় তিনি তাকে নিষেধ করার মাধ্যমে অথবা উঠে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তা বন্ধ করে দিতেন। ]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ٢٦)
7 - (صحيح) جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ يَقُولُ:

(كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ ضَلِيعَ الْفَمِ أَشْكَلَ الْعَيْنِ مَنْهُوسَ الْعَقِبِ) . قَالَ شُعْبَةُ: قُلْتُ لِسِمَاكٍ: مَا (ضَلِيعُ الْفَمِ) ؟ قَالَ: عَظِيمُ الْفَمِ. قُلْتُ: مَا (أَشْكَلُ الْعَيْنِ) ؟ قَالَ: طَوِيلُ شِقِّ الْعَيْنِ. قُلْتُ: مَا (مَنْهُوسُ الْعَقِبِ) ؟ قَالَ: قَلِيلُ لَحْمِ الْعَقِبِ

[26]
৭ - (সহিহ) জাবির ইবনে সামুরা বলেন:

(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রশস্ত মুখবিশিষ্ট, দীর্ঘ আঁখিবিশিষ্ট এবং মাংসহীন গোড়ালিবিশিষ্ট ছিলেন)। শু'বা বলেন: আমি সিমাককে বললাম: ‘প্রশস্ত মুখ’ বলতে কী বুঝায়? তিনি বললেন: বড় মুখ। আমি বললাম: ‘দীর্ঘ আঁখি’ বলতে কী বুঝায়? তিনি বললেন: চোখের লম্বা চেরা অংশ। আমি বললাম: ‘মাংসহীন গোড়ালি’ বলতে কী বুঝায়? তিনি বললেন: গোড়ালিতে মাংস কম থাকা।

[২৬]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ٢٦)
8 - (صحيح)

وعنه قَالَ: (رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم َ في

ليلة إضحيان (مضيئة مقمرة) وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ حَمْرَاءُ فَجَعَلْتُ أَنْظُرُ إِلَيْهِ وَإِلَى الْقَمَرِ فَلَهُوَ عِنْدِي أَحْسَنُ مِنَ القمر)
৮ - (সহিহ)

তাঁর থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন: (আমি এক উজ্জ্বল চাঁদনি রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম। এমতাবস্থায় তাঁর পরিধানে ছিল একটি লাল পোশাক। আমি একবার তাঁর দিকে এবং একবার চাঁদের দিকে তাকাতে লাগলাম। পরিশেষে তিনি আমার নিকট চাঁদের চেয়েও অধিক সুন্দর বলে গণ্য হলেন।)
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ٢٦)
9 - (صحيح)

عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ قَالَ: سَأَلَ رَجُلٌ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ:

أَكَانَ وَجْهُ رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم َ مِثْلَ السَّيْفِ؟ قَالَ: (لَا بَلْ مِثْلَ الْقَمَرِ)
৯ - (সহীহ)

আবু ইসহাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বারা ইবনে আযিব (রা)-কে জিজ্ঞাসা করলেন:

আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেহারা কি তরবারির মতো ছিল? তিনি বললেন: (না, বরং চাঁদের মতো)
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ٢٧)
10 - (صحيح)

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال:

[27]
১০ - (সহিহ)

আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

[২৭]
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুশ শামায়িল (পৃষ্ঠা: ٢٧)
(كان رسول الله صلى الله عليه وسلم َ أَبْيَضَ كَأَنَّمَا صِيغَ مِنْ فِضَّةٍ رَجِلَ الشَّعْرِ)
(আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন ধবধবে শুভ্র, যেন তাঁকে রূপা দ্বারা ঢালাই করা হয়েছে; তিনি ছিলেন ঢেউ খেলানো চুলের অধিকারী।)