(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: -)
عقيدة الإيمان بالقضاء والقدر عند السلف وأثرها على المؤمن   (عبد المجيد بن محمد الوعلان)

القسم: العقيدة


الكتاب: عقيدة الإيمان بالقضاء والقدر عند السلف وأثرها على المؤمن

المؤلف: د. عبد المجيد بن محمد الوعلان

عدد الصفحات: 52

[الكتاب غير مطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 صفر 1442

সালাফদের নিকট ক্বাযা ও ক্বদরের প্রতি ঈমানের আক্বীদা এবং মুমিনের ওপর এর প্রভাব   (আব্দুল মাজিদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়ায়লান)

বিভাগ: আক্বীদা


গ্রন্থ: সালাফদের নিকট ক্বাযা ও ক্বদরের প্রতি ঈমানের আক্বীদা এবং মুমিনের ওপর এর প্রভাব

লেখক: ড. আব্দুল মাজিদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়ায়লান

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২

[বইটি মুদ্রিত নয়]

শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ২৫ সফর ১৪৪২

(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: -)
عقيدة الإيمان بالقضاء والقدر عند السلف وأثرها على المؤمن

 

د: عبد المجيد بن محمد الوعلان
সালাফগণের নিকট ক্বাযা ও ক্বদরের (ভাগ্যের) প্রতি ঈমানের আকিদা এবং মুমিনের ওপর এর প্রভাব

 

ডঃ আব্দুল মাজীদ বিন মুহাম্মাদ আল-ওয়ালান
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المقدمة

 

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران: 102]، {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء: 1]، {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب: 70 - 71].

أما بعد:

فإن الإيمان أمره عظيم، إذ هو الأساس الذي تبنى عليه السعادة في الدنيا والآخرة، فهو من أعظم مراتب الدين، فإن جبريل لما جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم في حضرة الصحابة، سأله عن الإيمان فقال: فأخبرني عن الإيمان، قال: «الإيمان أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله وأن تؤمن بالقدر خيره وشره» … ثم قال النبي صلى الله عليه وسلم في أخر الحديث: «هذا جبريل أتاكم يعلمكم دينكم»(1).

ففسر الإيمان على أنه الإيمان بهذه الأركان الستة. وركن الشيء: جانبه الذي يقوم عليه، فركن البيت، هو جانبه الذي يقوم عليه، فالإيمان يقوم على هذه الأركان الستة، فإذا سقط منها ركن لم يكن الإنسان مؤمناً به لأنه فقد ركناً من أركان الإيمان.

ولذلك كان لزاماً على كل مسلم أن يتعلم حقائق الدين ليتعرف على الطريقة الصحيحة لعبادة الله عز وجل القائل: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (56)} [الذاريات: 56].

وتأتي أهمية هذا البحث لأنه دعوة للإيمان بالله تعالى وبقضائه وقدره، لأن الإيمان بقضاء الله وقدره، إيمان بالله تعالى وربوبيته، وملكه وتصرفه وخلقه، وإيمان بأن ما شاء الله كان وما لم يشاء لم يكن، وإيمان بسعة علم الله، وإحاطته بكل شيء، وتقديره للأشياء في الأزل وكتابته لها.

ومن أجل توضيح عقيدة أهل السنة والجماعة في قضية الإيمان بالقضاء والقدر جاء هذا البحث المختصر؛ حتى يعبد المسلمُ اللهَ على بصيرة وعلم، وحتى يتحقق له ثمرة هذا الإيمان في الدنيا والآخرة.

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم، كتاب الإيمان، باب إثبات القدر، ص (1/ 155 - شرح النووي)، دار الكتاب العربي، بيروت، 1407 هـ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

 

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২)} [আল-ইমরান: ১০২], {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দু’জন থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। (১)} [আন-নিসা: ১], {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল। (৭১)} [আল-আহজাব: ৭০ - ৭১]।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই ঈমানের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটিই সেই ভিত্তি যার ওপর দুনিয়া ও আখেরাতের সুখ-সৌভাগ্য নির্মিত হয়। এটি দ্বীনের অন্যতম মহান স্তর। জিবরীল (আলাইহিস সালাম) যখন সাহাবীদের উপস্থিতিতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসেছিলেন, তখন তিনি তাঁকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং বললেন: আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন: «ঈমান হলো এই যে, আপনি বিশ্বাস করবেন আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি এবং আপনি বিশ্বাস করবেন ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি» … অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিসের শেষে বললেন: «তিনি ছিলেন জিবরীল, তিনি তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন»(১)।

সুতরাং তিনি ঈমানকে এই ছয়টি রোকনের (স্তম্ভের) ওপর বিশ্বাস হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। কোনো জিনিসের 'রোকন' বলতে তার সেই ভিত্তি বা দিককে বোঝায় যার ওপর সেটি দাঁড়িয়ে থাকে। যেমন ঘরের রোকন বা খুঁটি হলো তার সেই অংশ যার ওপর ঘরটি দণ্ডায়মান। সুতরাং ঈমান এই ছয়টি রোকনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যদি এর মধ্য থেকে কোনো একটি রোকন বাদ পড়ে যায়, তবে সেই ব্যক্তি মুমিন হিসেবে গণ্য হবে না, কারণ সে ঈমানের রোকনসমূহের মধ্য থেকে একটি রোকন হারিয়েছে।

এজন্য প্রত্যেক মুসলিমের ওপর দ্বীনের প্রকৃত বিষয়গুলো শেখা আবশ্যক যাতে সে মহান আল্লাহকে ইবাদত করার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারে, যিনি বলেছেন: {আমি জীন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি। (৫৬)} [আয-যারিয়াত: ৫৬]।

আর এই গবেষণার গুরুত্ব এখানে যে, এটি মহান আল্লাহ এবং তাঁর ফয়সালা ও তকদীরের প্রতি বিশ্বাসের এক আহ্বান। কেননা আল্লাহর ফয়সালা ও তকদীরে বিশ্বাস করা মূলত মহান আল্লাহ, তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব), তাঁর রাজত্ব, কর্তৃত্ব ও তাঁর সৃষ্টির প্রতিই বিশ্বাস স্থাপন করা। এটি এই বিশ্বাস যে, আল্লাহ যা চান তা হয় আর যা তিনি চান না তা হয় না। এটি আল্লাহর প্রশস্ত জ্ঞান, সবকিছুর ওপর তাঁর পরিব্যাপ্তি এবং অনাদিকাল থেকে সবকিছুর নির্ধারণ ও তা লিপিবদ্ধ করার প্রতি বিশ্বাস।

ক্বাযা ও ক্বদরের (তকদীরের) প্রতি ঈমানের বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা স্পষ্ট করার লক্ষ্যেই এই সংক্ষিপ্ত গবেষণাটি প্রস্তুত করা হয়েছে; যাতে একজন মুসলিম সুস্পষ্ট জ্ঞান ও প্রজ্ঞার সাথে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তার জন্য এই ঈমানের ফল অর্জিত হয়।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ঈমান, বাব ইসবাতুল কদর, পৃষ্ঠা (১/ ১৫৫ - শরহে নববী), দারুল কিতাব আল-আরাবি, বৈরুত, ১৪০৭ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌خطة البحث:

يشتمل هذا البحث على مقدمة، وخمسة فصول، وخاتمة.

أما المقدمة فتشتمل على أهمية هذا الموضوع وخطة البحث.

أما الفصل الأول فيشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تحدثت فيه عن تعريف القضاء والقدر لغة وشرعاً.

المبحث الثاني: تحدثت فيه عن أهمية الإيمان بالقضاء والقدر ومنزلته من العقيدة.

المبحث الثالث: ذكرت فيه الأدلة على الإيمان بالقضاء والقدر من الكتاب والسنة.

أما الفصل الثاني:

تحدثت فيه عن مراتب القدر بالتفصيل والأدلة على كل مرتبة، وذكرت فيه أقسام التقدير.

أما الفصل الثالث: فيشتمل على فصلين:

المبحث الأول: تحدثت فيه على الأمور التي يدور عليها الخلاف في القدر، وسبب ذلك الخلاف.

المبحث الثاني: تحدثت فيه عن مذاهب الناس في القدر، فذكرت عقيدة الجهمية والمعتزلة والأشاعرة. ثم ذكرت عقيدة أهل السنة والجماعة.

أما الفصل الرابع:

تحدثت فيه عن ثمرات الإيمان بالقضاء والقدر على الوجه الصحيح.

أما الفصل الخامس:

وتحدثت فيه عن العلمانية وصلتها بالانحراف في مفهوم القدر، وذكرت فيه تعريف العلمانية. وعقيدة الصوفية في القدر وكيف استغلت العلمانية المفهوم الخاطئ عند الصوفية لعقيدة القدر في الغزو الفكري للأمة الإسلامية.

الخاتمة: تحدثت فيها عن أهم النتائج التي توصلت إليها.

أما عملي في البحث فهو كالتالي:

1 - عزو الآيات إلى أماكنها في القران، وذلك ببيان اسم السورة ورقم الآية ووضعها بين قوسين {}.

2 - تخريج الأحاديث والآثار وذكر مصادرها ووضعها بين معكوفين «».

3 - ترجمة للفرق الواردة في البحث.

4 - عمل قائمة بالمراجع.

5 - فهرس الموضوعات.

هذا وأسال الله سبحانه وتعالى أن يجعل هذا الجهد القليل خالصاً لوجه الكريم، وأن ينفعنا به في الدنيا والآخرة، إنه ولي ذلك والقادر عليه.

 

والله أعلم وصلى الله وسلم على نبينا محمد

 

د: عبد المجيد بن محمد الوعلان

awalaan@gmail.com
গবেষণা পরিকল্পনা:

এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, পাঁচটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।

ভূমিকাটিতে এই বিষয়ের গুরুত্ব এবং গবেষণা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রথম অধ্যায়টি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি কাজা ও কদরের আভিধানিক ও শরয়ি সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি কাজা ও কদরের ওপর ঈমান আনার গুরুত্ব এবং আকিদায় এর স্থান নিয়ে আলোচনা করেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি কিতাব ও সুন্নাহ থেকে কাজা ও কদরের ওপর ঈমান আনার দলিলসমূহ উল্লেখ করেছি।

দ্বিতীয় অধ্যায়:

এতে আমি কদরের স্তরসমূহ বিস্তারিতভাবে এবং প্রতিটি স্তরের দলিলসহ আলোচনা করেছি, আর তাকদিরের প্রকারভেদসমূহ উল্লেখ করেছি।

তৃতীয় অধ্যায়: এটি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি কদর বা তকদির নিয়ে মতবিরোধের কেন্দ্রবিন্দু এবং সেই মতবিরোধের কারণ নিয়ে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি তকদিরের বিষয়ে মানুষের বিভিন্ন মতবাদ নিয়ে আলোচনা করেছি, যেখানে আমি জাহমিয়াহ, মুতাজিলা এবং আশায়েরা সম্প্রদায়ের আকিদা উল্লেখ করেছি। এরপর আমি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা উল্লেখ করেছি।

চতুর্থ অধ্যায়:

এতে আমি সঠিক পদ্ধতিতে কাজা ও কদরের ওপর ঈমান আনার ফলাফল বা সুফল নিয়ে আলোচনা করেছি।

পঞ্চম অধ্যায়:

এতে আমি ধর্মনিরপেক্ষতা (সেকুলারিজম) এবং তকদিরের ধারণায় বিচ্যুতির সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি এবং ধর্মনিরপেক্ষতার সংজ্ঞা উল্লেখ করেছি। সেই সাথে তকদিরের বিষয়ে সুফিদের আকিদা এবং মুসলিম উম্মাহর ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনের ক্ষেত্রে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা সুফিদের মাঝে বিদ্যমান তকদির সংক্রান্ত ভুল ধারণাকে কীভাবে কাজে লাগিয়েছে, তা উল্লেখ করেছি।

উপসংহার: এতে আমি গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি।

গবেষণায় আমার কার্যপদ্ধতি নিম্নরূপ:

১ - আয়াতের উদ্ধৃতিসমূহ কুরআনের মূল স্থানে বিন্যস্ত করা, অর্থাৎ সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করে তা {} বন্ধনীর মধ্যে রাখা।

২ - হাদিস ও আসার (সাহাবি ও তাবেয়িদের বাণী) সমূহের সূত্র নির্দেশ (তাখরিজ) করা এবং উৎস উল্লেখ করে তা «» বন্ধনীর মধ্যে রাখা।

৩ - গবেষণায় উল্লেখিত ফিরকা বা দলসমূহের সংক্ষিপ্ত পরিচয় প্রদান।

৪ - তথ্যসূত্র ও সহায়ক গ্রন্থের তালিকা প্রস্তুত করা।

৫ - বিষয়সূচি বা সূচিপত্র।

পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই সামান্য প্রচেষ্টাকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে এর মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান।

 

আল্লাহই ভালো জানেন। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

ড. আব্দুল মাজিদ বিন মুহাম্মাদ আল-ওয়ালান

awalaan@gmail.com
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الفصل الأول

‌‌المبحث الأول: تعريف القضاء و‌‌القدر لغة وشرعاً

 

القدر لغة: بفتح الدال وسكونها القضاء والحكم، وهو ما يقدره الله عز وجل من القضاء ويحكم به من الأمور. قال الله عز وجل: {أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ (1) وَمَا} [القدر: 1] يعني الحكم(1).

قال ابن فارس: القاف والدال والراء اصل صحيح يدل على مبلغ الشيء وكنهه ونهايته. وقدرت الشيء أقدره وأقدره -بسكون القاف وكسر الدال وضمها- من التقدير(2).

وفي القاموس القدر محركة: القضاء والحكم ومبلغ الشيء، والتقدير: التروية، والتفكير في تسوية أمر(3).

‌‌القضاء لغة: الفصل والحكم، وأصله القطع والفصل، وقضاء الشيء إحكامه وإمضاؤه والفراغ منه، فيكون بمعنى الخلق.

قال الزهري: القضاء في اللغة على وجوه مرجعها إلى انقطاع الشيء وتمامه. وكل ما أحكم عمله، أو أتم، أو ختم، أو أودي، أو أوجب، أو أعلم، أو أنفذ، أو أمضي، فقد قضي وقد جاءت هذه الوجوه كلها في الحديث(4).

والقضاء والقدر أمران متلازمان لا ينفك أحدهما عن الآخر، لأن أحدهما بمنزلة الأساس، وهو القدر، والآخر بمنزلة البناء، وهو القضاء فمن رام الفصل بينهما فقد رام هدم البناء ونقضه(5).

 

‌‌معنى القضاء والقدر شرعاً:

هو أن الله سبحانه وتعالى علم الأشياء كلها قبل وجودها وكتبها عنده وشاء ما وجد منها وخلق ما أراد خلقه(6).

--------------------------------------------

(1) ابن منظور، لسان العرب (6/ 3545)، تحقيق عبد الله الكبير وغيره، دار المعارف. القاموس المحيط، للفيروزآبادي، ص 414، ضبط وتوثيق يوسف الشيخ البقاعي، دار الفكر، بيروت، 1415 هـ.

(2) ابن فارس، معجم مقاييس اللغة، ص (5/ 62)، الطبعة الأولى، تحقيق عبد السلام هارون، دار الجيل، بيروت، 1411 هـ.

(3) القاموس المحيط، ص 414.

(4) لسان العرب (6/ 3665)، النهاية في غريب الحديث والأثر (4/ 69)، الطبعة الأولى، تعليق صلاح عويضة، دار الكتب العلمية، بيروت 1418 هـ.

(5) لسان العرب (6/ 3665).

(6) فتاوى اللجنة الدائمة للبحوث العلمية والإفتاء، ص (3/ 374)، رقم 4088، الطبعة الأولى، جمع أحمد الدويش، مكتبة المعارف، الرياض، 1412 هـ.
প্রথম অধ্যায়

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে কাজা ও কদরের সংজ্ঞা

 

আভিধানিকভাবে কদর: 'দাল' বর্ণে ফাতহা (যবর) ও সুকুন (জজম) উভয়যোগে এর অর্থ ফয়সালা ও নির্দেশ। আর তা হলো আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বিষয়াবলির মধ্য থেকে যা নির্ধারণ করেন এবং যার ফয়সালা প্রদান করেন। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি এটি অবতীর্ণ করেছি কদরের রাতে। (১) আর আপনি কি জানেন...} [আল-কদর: ১] অর্থাৎ ফয়সালার রাতে।(১)।

ইবনে ফারিস বলেন: 'কাফ', 'দাল' ও 'রা' একটি সহিহ মূল শব্দ যা কোনো জিনিসের পরিমাণ, সারবস্তু ও শেষ সীমানাকে নির্দেশ করে। "কাদাতুশ শাইয়া আকদিরুহু ওয়া আকদুরুহু" —'কাফ' বর্ণে সুকুন এবং 'দাল' বর্ণে কাসরা (যের) ও জাম্মা (পেশ) যোগে— এটি 'তাকদির' (নির্ধারণ করা) শব্দমূল থেকে এসেছে।(২)।

আর 'আল-কামুস'-এ রয়েছে, কদর (হরকতযুক্ত): ফয়সালা, নির্দেশ এবং কোনো জিনিসের পরিমাণ। আর তাকদির হলো: চিন্তা-ভাবনা করা এবং কোনো বিষয় সুবিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে চিন্তা করা।(৩)।

আভিধানিকভাবে কাজা: মীমাংসা ও ফয়সালা, আর এর মূল অর্থ হলো বিচ্ছিন্ন করা ও ফয়সালা করা। কোনো জিনিসের 'কাজা' করার অর্থ হলো তা সুদৃঢ় করা, বাস্তবায়ন করা এবং তা সম্পন্ন করা; যা সৃষ্টি করার অর্থেও ব্যবহৃত হয়।

জুহরি বলেন: আভিধানিক অর্থভেদে 'কাজা' কয়েকভাবে আসে যার মূল উৎস হলো কোনো জিনিসের পরিসমাপ্তি ও পূর্ণতা। যে কাজই সুদৃঢ় করা হয়েছে, বা পূর্ণ করা হয়েছে, বা সমাপ্ত করা হয়েছে, বা আদায় করা হয়েছে, বা আবশ্যক করা হয়েছে, বা অবগত করা হয়েছে, বা জারি করা হয়েছে, বা কার্যকর করা হয়েছে—তাকেই 'কুদিয়া' (সম্পন্ন বা ফয়সালা করা হয়েছে) বলা হয়। হাদিসে এই সবগুলো অর্থই বর্ণিত হয়েছে।(৪)।

কাজা ও কদর একে অপরের সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত, একটি অপরটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। কারণ এদের একটি হলো ভিত্তিস্বরূপ—আর তা হলো 'কদর', এবং অন্যটি হলো সেই ভিত্তির উপর নির্মিত ভবনস্বরূপ—আর তা হলো 'কাজা'। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দুইয়ের মাঝে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করতে চায়, সে মূলত ভবনটি ধ্বংস ও চূর্ণ করতে চায়।(৫)।

 

শরয়ি পরিভাষায় কাজা ও কদরের অর্থ:

তা হলো এই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সমস্ত বস্তু অস্তিত্বে আসার পূর্বেই সে সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন এবং তা নিজের কাছে লিখে রেখেছেন এবং যা অস্তিত্বে এসেছে তা তিনি ইচ্ছা করেছেন এবং যা সৃষ্টি করতে চেয়েছেন তা সৃষ্টি করেছেন।(৬)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে মনজুর, লিসানুল আরব (৬/৩৫৪৫), তাহকিক: আবদুল্লাহ আল-কাবির এবং অন্যান্য, দারুল মাআরিফ। আল-কামুসুল মুহিত, ফিরোজাবাদি, পৃ. ৪১৪, সম্পাদনা ও প্রমাণীকরণ: ইউসুফ আশ-শাইখ আল-বিকাঈ, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৪১৫ হিজরি।

(২) ইবনে ফারিস, মুজামু মাকায়িসিল লুগাহ, পৃ. (৫/৬২), প্রথম প্রকাশ, তাহকিক: আবদুস সালাম হারুন, দারুল জিল, বৈরুত, ১৪১১ হিজরি।

(৩) আল-কামুসুল মুহিত, পৃ. ৪১৪।

(৪) লিসানুল আরব (৬/৩৬৬৫), আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিসি ওয়াল আসার (৪/৬৯), প্রথম প্রকাশ, টীকা: সালাহ উইদাহ, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১৪১৮ হিজরি।

(৫) লিসানুল আরব (৬/৩৬৬৫)।

(৬) ফাতাওয়া আল-লাজনাতুদ দায়িমাহ লিল বুহুসিল ইলমিয়্যাহ ওয়াল ইফতা, পৃ. (৩/৩৭৪), নম্বর ৪০৮৮, প্রথম প্রকাশ, সংকলন: আহমদ আদ-দুইশ, মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ, ১৪১২ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ৪)
تعريف أخر: هو التصديق الجازم بأن كل خير وشر فهو بقضاء الله وقدره وأنه الفعال لما يريد، لا يكون في ملكه شيء إلا بإرادته، ولا يخرج عن مشيئته، وليس في العالم شيء يخرج عن تقديره، ولا يصدر إلا عن تدبيره، ولا محيد لأحد عن القدر، ولا يتجاوز ما خط في اللوح المحفوظ، وأنه خالق أفعال العباد من الطاعات والمعاصي(1).

تعريف أخر: هو تقدير الله تعالى الأشياء في القدم، وعلمه سبحانه أنها ستقع في أوقات معلومة عنده، وعلى صفات مخصوصة، وكتابته سبحانه لذلك ومشيئته له، ووقوعها على حسب ما قدرها وخلقه لها(2).

وكل هذه التعاريف متقاربة وتشتمل على مراتب القدر الأربعة: العلم والكتابة والمشيئة والخلق.

 

‌‌الفرق بين القضاء والقدر:

قال الشيخ ابن عثيمين رحمه الله: " القدر في اللغة؛ بمعنى: التقدير؛ قال تعالى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ (49)} [القمر: 49]، وقال تعالى: {فَقَدَرْنَا فَنِعْمَ الْقَادِرُونَ (23)} [المرسلات: 23]. - وأما القضاء؛ فهو في اللغة: الحكم.

ولهذا نقول: إن القضاء والقدر متباينان إن اجتمعا، ومترادفان إن تفرقا؛ على حد قول العلماء: هما كلمتان: إن اجتمعتا افترقتا، وإن افترقتا اجتمعتا.

فإذا قيل: هذا قدر الله؛ فهو شامل للقضاء، أما إذا ذكرا جميعًا؛ فلكل واحد منهما معنى.

- فالتقدير: هو ما قدره الله تعالى في الأزل أن يكون في خلقه.

- وأما القضاء؛ فهو ما قضى به الله سبحانه وتعالى في خلقه من إيجاد أو إعدام أو تغيير، وعلى هذا يكون التقدير سابقًا"(3).

--------------------------------------------

(1) عبد العزيز السلمان، الكواشف الجلية عن معاني الواسطية، ص 84، الطبعة التاسعة عشرة.

(2) عبد الرحمن المحمود، القضاء والقدر في ضوء الكتاب والسنة ومذاهب الناس فيه، ص 39، الطبعة الثانية، دار الوطن، الرياض، 1418 هـ.

(3) شرح العقيدة الواسطية: 2/ 189. وانظر: فتح الباري: 11/ 149، 477، والقضاء والقدر للأشقر: 24، والقضاء والقدر للمحمود: 44.
অন্য একটি সংজ্ঞা: এটি হলো এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে, প্রতিটি কল্যাণ ও অকল্যাণ আল্লাহর ফয়সালা (কাযা) ও নির্ধারণের (কদর) মাধ্যমেই ঘটে এবং তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন। তাঁর রাজত্বে তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত কিছুই ঘটে না এবং তাঁর ইচ্ছার বাইরে কিছুই যায় না। পৃথিবীতে এমন কিছুই নেই যা তাঁর নির্ধারণের বাইরে থাকে এবং যা কিছু ঘটে তা তাঁরই ব্যবস্থাপনায় সম্পন্ন হয়। তাকদির থেকে কারো ফিরে যাওয়ার উপায় নেই এবং লাওহে মাহফুজে যা লেখা আছে তা কেউ অতিক্রম করতে পারে না। নিশ্চয়ই তিনি বান্দাদের আমলসমূহের স্রষ্টা, চাই তা আনুগত্যের কাজ হোক বা পাপাচার(১)।

অন্য একটি সংজ্ঞা: এটি হলো অনাদিকাল থেকে আল্লাহ তাআলার বস্তুসমূহের পরিমাপ নির্ধারণ, তাঁর এই জ্ঞান রাখা যে সেগুলো তাঁর নিকট নির্ধারিত সময়ে এবং নির্দিষ্ট গুণাবলিতে সংঘটিত হবে, এবং তাঁর পক্ষ থেকে তা লিপিবদ্ধ করা ও সেটির প্রতি তাঁর ইচ্ছা থাকা, এবং তিনি যেভাবে তা নির্ধারণ করেছেন ও সৃষ্টি করেছেন সে অনুযায়ী তা সংঘটিত হওয়া(২)।

এই সকল সংজ্ঞাই কাছাকাছি এবং এগুলো তাকদিরের চারটি স্তরকে অন্তর্ভুক্ত করে: জ্ঞান (ইলম), লিখন (কিতাবাত), ইচ্ছা (মাশিয়াহ) এবং সৃষ্টি (খালক)।

 

‌‌কাযা ও কদরের মধ্যে পার্থক্য:

শেখ ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আভিধানিক অর্থে 'কদর' হলো: নির্ধারণ বা পরিমাপ করা; আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক বস্তু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে (৪৯)} [সূরা আল-ক্বামার: ৪৯], এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {অতঃপর আমি নির্ধারণ করেছি, আর আমি কতই না উত্তম নির্ধারণকারী (২৩)} [সূরা আল-মুরসালাত: ২৩]। আর 'কাযা' হলো আভিধানিক অর্থে: ফয়সালা বা বিচার।

একারণেই আমরা বলি: কাযা ও কদর যখন একত্রে ব্যবহৃত হয় তখন তারা ভিন্ন অর্থ প্রদান করে, আর যখন পৃথকভাবে ব্যবহৃত হয় তখন সমার্থক হয়ে যায়; আলেমদের উক্তি অনুযায়ী: এ দুটি এমন শব্দ যা একত্রে বসলে পৃথক অর্থ দেয় এবং পৃথকভাবে বসলে একই অর্থ দেয়।

সুতরাং যখন বলা হয়: এটি আল্লাহর কদর; তখন তা কাযা-কেও অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু যখন উভয়টি একসাথে উল্লেখ করা হয়, তখন প্রত্যেকটির আলাদা অর্থ থাকে।

- নির্ধারণ (তাকদির): এটি হলো অনাদিকাল থেকে আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যা কিছু ঘটবে বলে নির্ধারণ করেছেন।

- আর ফয়সালা (কাযা): এটি হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সৃষ্টির মধ্যে অস্তিত্ব প্রদান, বিলুপ্তি বা পরিবর্তনের যে ফয়সালা বাস্তবায়ন করেছেন। সেই হিসেবে নির্ধারণ (তাকদির) অগ্রবর্তী"(৩)।

--------------------------------------------

(১) আবদুল আজিজ আস-সালমান, আল-কাওয়াশিফুল জালিয়াহ আন মাআনিল ওয়াসিতিয়্যাহ, পৃ. ৮৪, উনবিংশ সংস্করণ।

(২) আবদুর রহমান আল-মাহমুদ, আল-ক্বাযা ওয়াল কদর ফী দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাতি ওয়া মাযাহিবিন নাসি ফীহি, পৃ. ৩৯, দ্বিতীয় সংস্করণ, দারুল ওয়াতান, রিয়াদ, ১৪১৮ হিজরি।

(৩) শারহুল আকিদাতিল ওয়াসিতিয়্যাহ: ২/ ১৮৯। আরও দেখুন: ফাতহুল বারী: ১১/ ১৪৯, ৪৭৭, এবং আল-আশকার প্রণীত আল-ক্বাযা ওয়াল কদর: ২৪, এবং আল-মাহমুদ প্রণীত আল-ক্বাযা ওয়াল কদর: ৪৪।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المبحث الثاني أهمية الإيمان بالقضاء والقدر ومنزلته من العقيدة

 

الإيمان بالقدر من أصول الإيمان التي لا يتم إيمان العبد إلا بها، وهو داخل في الإيمان بالله عز وجل وبروبيته وأسمائه وصفاته، فمن صفاته سبحانه وتعالى صفة العلم، والقدرة، والإرادة، والخلق، ومعلوم أن القدر إنما يقوم على هذه الأسس.

ولاشك أن الإقرار بتوحيد الله وربوبيته لا يتم إلا بالإيمان بصفاته تعالى، فمن زعم أن هناك خالقاً غير الله تعالى فقد أشرك، والله تعالى، خالق كل شئ، ومن ذلك أفعال العباد(1).

ولم يرد في القران التنصيص على وجوب الإيمان بالقدر، وإنما وردت أدلة مجملة تدل على تقدير الله للأشياء(2)، كقوله تعالى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ (49)} [القمر: 49]، وقوله تعالى: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا (2)} [الفرقان: 1 - 2]، وقوله تعالى: {سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَقْدُورًا (38)} [الأحزاب: 38]، وقوله تعالى: {فَجَعَلْنَاهُ فِي قَرَارٍ مَكِينٍ (21) إِلَى قَدَرٍ مَعْلُومٍ (22) فَقَدَرْنَا فَنِعْمَ الْقَادِرُونَ (23)} [المرسلات: 21 - 23].

وقد ورد التنصيص على الإيمان بالقدر في السنة، في حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه في سؤال جبريل عليه السلام الرسول صلى الله عليه وسلم عن الإيمان قال: «أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خير وشره. قال: -يعني جبريل- صدقت»(3). وعن جابر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يؤمن عبد حتى يؤمن بالقدر خيره وشره من الله، وحتى يعلم أن ما أصابه لم يكن ليخطئه، وأن ما أخطأه لم يكن ليصيبه»(4).

--------------------------------------------

(1) شرح العقيدة الطحاوية ص (2/ 356). الطبعة الأولى، تحقيق عبد الله التركي، شعيب الأرناؤط، مؤسسة الرسالة، بيروت، 1408 هـ.

(2) انظر: القضاء والقدر، عبد الرحمن المحمود، ص 86، وشريط عقيدة أهل السنة والجماعة في القضاء والقدر، صالح آل الشيخ، تسجيلات النداء الإسلامية، الرياض.

(3) سبق تخريجه ص 1 حاشية رقم 1.

(4) رواه الترمذي: كتاب القدر، باب ما جاء في الإيمان بالقدر خيره وشره، ص (6/ 356 - شرح تحفة الأحوذي)، رقم 2231، الطبعة الثالثة، ضبط عبدالرحمن عثمان، مكتبة ابن تيمية، 1407 هـ، وقد صححه الألباني في صحيح سنن الترمذي رقم 1743، الطبعة الأولى، مكتب التربية العربي لدول الخليج، الرياض، 1408 هـ. وفي سلسلة الأحاديث الصحيحة رقم 2439، الطبعة الأولى، مكتبة المعارف، الرياض، 1412 هـ.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কাজা ও কদরের ওপর ঈমান আনার গুরুত্ব এবং আকিদায় এর অবস্থান

 

কদরের ওপর ঈমান আনা ঈমানের এমন এক মূলনীতি, যা ছাড়া বান্দার ঈমান পূর্ণ হয় না। এটি মহান আল্লাহর ওপর ঈমান এবং তাঁর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব), নাম ও গুণাবলির ওপর ঈমান আনার অন্তর্ভুক্ত। কেননা তাঁর গুণাবলির মধ্যে অন্যতম হলো জ্ঞান, ক্ষমতা, ইচ্ছা এবং সৃষ্টির গুণ; আর এটি সুবিদিত যে, কদর মূলত এই ভিত্তিগুলোর ওপরই প্রতিষ্ঠিত।

নিঃসন্দেহে আল্লাহর তাওহিদ ও রুবুবিয়্যাতের স্বীকৃতি তাঁর গুণাবলির ওপর ঈমান আনা ছাড়া পূর্ণতা পায় না। সুতরাং যে ব্যক্তি দাবি করে যে আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কোনো সৃষ্টিকর্তা রয়েছে, সে শিরক করল। আর আল্লাহ তাআলাই প্রতিটি জিনিসের সৃষ্টিকর্তা, যার মধ্যে বান্দার কর্মসমূহও অন্তর্ভুক্ত(১)।

কোরআনে কদরের ওপর ঈমান আনার আবশ্যকতা সম্পর্কে সরাসরি শব্দে নির্দেশ আসেনি, বরং এমন কিছু সাধারণ দলিল এসেছে যা বস্তুসমূহের ওপর আল্লাহর নির্ধারণকে প্রমাণ করে(২)। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক কিছু সৃষ্টি করেছি এক নির্ধারিত পরিমাপে।} [আল-কামার: ৪৯], এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তিনি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন এবং সেটিকে যথাযথভাবে পরিমিত করেছেন।} [আল-ফুরকান: ১-২], এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {যাঁরা পূর্বে গত হয়েছেন তাঁদের ব্যাপারে এটিই ছিল আল্লাহর বিধান; আর আল্লাহর আদেশ হলো সুনির্ধারিত ফয়সালা।} [আল-আহজাব: ৩৮], এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতঃপর আমি ওটাকে রেখেছিলাম এক নিরাপদ আধারে, এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত। এরপর আমি সামর্থ্যবান হয়েছি; আমি কতই না নিপুণ সামর্থ্যবান।} [আল-মুরসালাত: ২১-২৩]।

সুন্নাহর মধ্যে কদরের ওপর ঈমান আনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে এসেছে। ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বর্ণিত হাদিসে, যেখানে জিবরাইল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন: «তা হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাদের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, তাঁর রাসূলগণের ওপর, পরকালের ওপর এবং বিশ্বাস স্থাপন করবে ভাগ্যের (কদর) ভালো ও মন্দের ওপর। তিনি (জিবরাইল) বললেন: আপনি সত্য বলেছেন»(৩)। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে কদরের ভালো ও মন্দের ওপর ঈমান আনে যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, এবং যতক্ষণ না সে এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে, যা তার কাছে পৌঁছেছে তা তাকে ছেড়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তাকে ছেড়ে গেছে তা তার কাছে পৌঁছানোর ছিল না»(৪)।

--------------------------------------------

(১) শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা (২/ ৩৫৬)। প্রথম সংস্করণ, তাহকিক: আবদুল্লাহ আত-তুর্কি, শুআইব আল-আরনাউত, মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, ১৪০৮ হিজরি।

(২) দেখুন: আল-কাজা ওয়াল কদর, আবদুর রহমান আল-মাহমুদ, পৃষ্ঠা ৮৬, এবং অডিও রেকর্ড: আকিদাহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফিল কাজা ওয়াল কদর, সালিহ আলুশ শাইখ, তাসজিলাতুন নিদাল ইসলামিয়্যাহ, রিয়াদ।

(৩) পূর্বে এর তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে ১ নং পৃষ্ঠার টীকা ১-এ।

(৪) তিরমিজি বর্ণনা করেছেন: কিতাবুল কদর, পরিচ্ছেদ: কদরের ভালো ও মন্দের ওপর ঈমান আনা প্রসঙ্গে যা এসেছে, পৃষ্ঠা (৬/ ৩৫৬ - শারহু তুহফাতিল আহওয়াজি), নম্বর ২২৩১, তৃতীয় সংস্করণ, সম্পাদনা: আবদুর রহমান উসমান, মাকতাবাতু ইবনু তাইমিয়্যাহ, ১৪০৭ হিজরি। আলবানি এটিকে সহিহ সুনানুত তিরমিজিতে (নম্বর ১৭4৩) সহিহ বলেছেন, প্রথম সংস্করণ, মাকতাবুত তারবিয়াহ আল-আরাবি লি-দুওয়ালিল খালিজ, রিয়াদ, ১৪০৮ হিজরি। এবং সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ-এ নম্বর ২৪৩৯, প্রথম সংস্করণ, মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ, ১৪১২ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ৬)
وعن طاوس قال: أدركت أناساً من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يقولون: كل شيء بقدر، قال: وسمعت عبد الله بن عمر رضي الله عنهما يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كل شيء بقدر حتى العجز والكيس(1)، أو الكيس والعجز»(2). وعن أبي الدرداء رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يدخل الجنة عاق، ولا مدمن خمر، ولا مكذب بالقدر»(3).

قال ابن عباس رضي الله عنهما: (القدر نظام التوحيد، فمن وحد الله وآمن بالقدر تم توحيده، ومن وحد الله وكذب بالقدر نقض تكذيبه توحيده)(4).

وقد قال ابن عمر رضي الله عنهما في الذين يزعمون أن لا قدر وأن الأمر أنف: (فإذا لقيت أولئك فأخبرهم أني بريء منهم وأنهم براء مني، والذي يحلف به عبد الله ابن عمر لو أن لأحدهم مثل أحد ذهباً فأنفقه ما قبل الله منه حتى يؤمن بالقدر)(5).

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: (إذا ثبت هذا - يعني تحقيق شهادة أن لا اله إلا الله وأن محمداً رسول الله- فمعلوم أنه يجب الإيمان بخلق الله وأمره، وبقضائه وشرعه)(6).

وقال ابن القيم: (قال الإمام أحمد: القدر قدرة الله، واستحسن ابن عقيل هذا الكلام جدا، وقال: هذا يدل على دقة علم أحمد وتبحره في معرفة أصول الدين، وهو كما قال أبو الوفاء؛ فإن إنكار القدر: إنكار لقدرة الرب على خلق أفعال العباد وكتابتها وتقديرها)(7).

--------------------------------------------

(1) العجز: هو عدم القدرة، وقيل هو ترك ما يجب فعله والتسويف به وتأخيره عن وقته، والكيس ضد العجز، وهو النشاط والحذق بالأمور، ومعناه أن العاجز قد قدر عجزه والكيس قد قدر كيسه. ص (16/ 205 - شرح النووي).

(2) رواه مسلم: كتاب القدر - باب كل شيء بقدر (16/ 205 - شرح النووي).

(3) حديث صحيح، رواه الإمام أحمد، انظر الجامع الصحيح في القدر، تأليف مقبل الو ادعي، ص 14، مكتبة ابن تيمية، القاهرة. وهو في السلسلة الصحيحة رقم (675)، الطبعة الرابعة، المكتب الإسلامي، بيروت، 1405 هـ.

(4) شرح العقيدة الطحاوية لابن أبي العز، ص (1/ 322)، شرح أصول اعتقاد آهل السنة والجماعة للالكائي، ص (4/ 622)، الطبعة الثانية، تحقيق أحمد حمدان، دار طيبة، الرياض، 1411 هـ.

(5) رواه مسلم: كتاب القدر - باب كل شيء بقدر (16/ 205 - شرح النووي).

(6) التدمرية، شيخ الإسلام ابن تيمية، ص 130، الطبعة الثانية، مطبوعات جامعة الإمام محمد بن سعود، الرياض، 1400 هـ.

(7) ابن القيم، شفاء العليل في مسائل القضاء والقدر والحكمة والتعليل، ص 28، الطبعة الأولى، تصحيح السيد محمد بدر الدين الحلبي، مكتبة الرياض الحديثة، الرياض.
তাউস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের মধ্যে এমন কিছু লোককে পেয়েছি যারা বলতেন: সবকিছুই তাকদির অনুযায়ী নির্ধারিত। তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সবকিছুই তাকদির অনুযায়ী নির্ধারিত, এমনকি অক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তা(১), অথবা বুদ্ধিমত্তা ও অক্ষমতাও»(২)। আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «জান্নাতে প্রবেশ করবে না পিতামাতার অবাধ্য ব্যক্তি, মদ্যপানে আসক্ত ব্যক্তি এবং তাকদির অস্বীকারকারী»(৩)।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন: (তাকদির হলো তাওহীদের মূল শৃঙ্খল। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করল এবং তাকদিরে বিশ্বাস করল, তার তাওহীদ পূর্ণ হলো। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করল কিন্তু তাকদিরকে অস্বীকার করল, তার সেই অস্বীকার করা তার তাওহীদকে বিনষ্ট করে দিল)(৪)।

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সেই সব লোকদের সম্পর্কে বলেছেন যারা দাবি করে যে তাকদির বলে কিছু নেই এবং সবকিছুই নতুনভাবে ঘটে: (যখন তুমি তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তাদের বলে দিও যে, আমি তাদের থেকে মুক্ত এবং তারাও আমার থেকে মুক্ত। যার নামে আবদুল্লাহ ইবনে উমর কসম করেন সেই সত্তার শপথ! যদি তাদের কারো নিকট উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণ থাকে এবং সে তা দান করে দেয়, তবে তাকদিরে ঈমান না আনা পর্যন্ত আল্লাহ তা কবুল করবেন না)(৫)।

শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: (যখন এটি সাব্যস্ত হলো—অর্থাৎ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং ‘মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’ সাক্ষ্যের বাস্তবায়ন—তখন এটি জানা কথা যে, আল্লাহর সৃষ্টি ও তাঁর আদেশ এবং তাঁর ফয়সালা ও শরীয়তের প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক)(৬)।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: (ইমাম আহমাদ বলেছেন: তাকদির হলো আল্লাহর কুদরত বা ক্ষমতা। ইবনে আকীল এই কথাটিকে অত্যন্ত চমৎকার বলেছেন এবং মন্তব্য করেছেন: এটি আহমাদের সুক্ষ্ম জ্ঞান এবং দ্বীনের মূলনীতি সম্পর্কে তাঁর গভীর পান্ডিত্যের পরিচয় দেয়। আর এটি তেমনই যেমনটি আবু আল-ওয়াফা বলেছেন; কারণ তাকদির অস্বীকার করা মানে হলো বান্দার কর্মসমূহ সৃষ্টি, সেগুলোর লিখন এবং নির্ধারণের বিষয়ে রবের ক্ষমতাকে অস্বীকার করা)(৭)।

--------------------------------------------

(১) অক্ষমতা: এটি হলো সামর্থ্যের অভাব, আবার বলা হয়েছে যে, যা করা ওয়াজিব তা ত্যাগ করা এবং তাতে গড়িমসি ও সময়ক্ষেপণ করা। আর বুদ্ধিমত্তা হলো অক্ষমতার বিপরীত, যার অর্থ হলো উদ্যম ও কাজে নিপুণতা। এর অর্থ হলো অক্ষম ব্যক্তি তার অক্ষমতার ব্যাপারে তাকদিরপ্রাপ্ত এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার বুদ্ধিমত্তার ব্যাপারে তাকদিরপ্রাপ্ত। পৃষ্ঠা (১৬/ ২০৫ - শরহুন নববী)।

(২) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত: কিতাবুল কাদার - অনুচ্ছেদ: সবকিছুই তাকদির অনুযায়ী (১৬/ ২০৫ - শরহুন নববী)।

(৩) হাদীসটি সহীহ, ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন, দেখুন: আল-জামেউস সহীহ ফিল কাদার, লেখক: মুকবিল আল-ওয়াদীয়ী, পৃষ্ঠা ১৪, মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ, কায়রো। এটি সিলসিলাতুস সহীহাহ এর নম্বর (৬৭৫) এ রয়েছে, চতুর্থ সংস্করণ, আল-মাকতাবুল ইসলামী, বৈরুত, ১৪০৫ হিজরি।

(৪) ইবনে আবিল ইযয প্রণীত শারহুল আকীদা আত-তাহাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা (১/ ৩২২), লালকায়ী প্রণীত শারহু উসূলি ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামাআহ, পৃষ্ঠা (৪/ ৬২২), দ্বিতীয় সংস্করণ, তাহকীক: আহমাদ হামদান, দারু তাইয়্যিবাহ, রিয়াদ, ১৪১১ হিজরি।

(৫) মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত: কিতাবুল কাদার - অনুচ্ছেদ: সবকিছুই তাকদির অনুযায়ী (১৬/ ২০৫ - শরহুন নববী)।

(৬) আত-তাদমুরিয়্যাহ, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৩০, দ্বিতীয় সংস্করণ, ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা, রিয়াদ, ১৪০০ হিজরি।

(৭) ইবনুল কাইয়্যিম, শিফাউল আলীল ফি মাসাইলিিল কাজা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তা'লীল, পৃষ্ঠা ২৮, প্রথম সংস্করণ, সংশোধন: আস-সৈয়দ মুহাম্মাদ বদরুদ্দীন আল-হালাবী, মাকতাবাতুর রিয়াদ আল-হাদীসাহ, রিয়াদ।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المبحث الثالث: الأدلة على الإيمان بالقضاء والقدر من الكتاب والسنة

 

‌‌أولاً: الأدلة من القرآن:

قال تعالى: {إِنَّا كُلَّ شَيْءٍ خَلَقْنَاهُ بِقَدَرٍ (49)} [القمر: 49]، وقال تعالى: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا (2)} [الفرقان: 1 - 2]، (أي كل شيء مما سواه مخلوق مربوب وهو خالق كل شيء وربه ومليكه وإلهه، وكل شيء تحت قهره وتدبيره وتسخيره وتقديره)(1).

وقال تعالى: {وَإِذْ تَقُولُ لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ وَاتَّقِ اللَّهَ وَتُخْفِي فِي نَفْسِكَ مَا اللَّهُ مُبْدِيهِ وَتَخْشَى النَّاسَ وَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَاهُ فَلَمَّا قَضَى زَيْدٌ مِنْهَا وَطَرًا زَوَّجْنَاكَهَا لِكَيْ لَا يَكُونَ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ حَرَجٌ فِي أَزْوَاجِ أَدْعِيَائِهِمْ إِذَا قَضَوْا مِنْهُنَّ وَطَرًا وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ مَفْعُولًا (37) مَا كَانَ عَلَى النَّبِيِّ مِنْ حَرَجٍ فِيمَا فَرَضَ اللَّهُ لَهُ سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَقْدُورًا (38)} [الأحزاب: 37 - 38]، (أي وكان أمره الذي يقدره كائناً لا محالة وواقعاً لا محيد عنه ولا معدل فما شاء كان وما لم يشاء لم يكن)(2).

وقال تعالى: {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَمَنْ يُؤْمِنْ بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ} [التغابن: 11]، (وهذا عام لجميع المصائب، في النفس والمال، والولد، والأحباب، ونحوهم. فجميع ما أصاب العباد، بقضاء الله وقدره، قد سبق بذلك علمه، وجرى به قلمه، ونفذت مشيئته، واقتضته حكمته)(3).

وقال تعالى: {فَجَعَلَهُ غُثَاءً أَحْوَى (5) سَنُقْرِئُكَ فَلَا تَنْسَى (6) إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ إِنَّهُ يَعْلَمُ الْجَهْرَ وَمَا يَخْفَى (7) وَنُيَسِّرُكَ لِلْيُسْرَى (8) فَذَكِّرْ إِنْ نَفَعَتِ الذِّكْرَى (9) سَيَذَّكَّرُ مَنْ يَخْشَى (10)} [الأعلى: 5 - 10]، قال ابن كثير: (والآيات في هذا المعنى كثيرة دالة على أن الله عز وجل يجازي من قصد الخير بالتوفيق له، ومن قصد الشر بالخذلان، وكل ذلك بقدر مقدر)(4).

--------------------------------------------

(1) ابن كثير، تفسير القران العظيم، ص (3/ 320)، الطبعة الثانية، تقديم الدكتور يوسف المرعشلي، دار المعرفة، بيروت، 1407 هـ.

(2) تفسير ابن كثير، (3/ 500).

(3) ابن سعدي، تيسير الكريم الرحمن في تفسير كلام المنان، ص (7/ 399)، مركز صالح بن صالح الثقافي، عنيزة، 1407 هـ.

(4) تفسير ابن كثير، (4/ 554).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কিতাব ও সুন্নাহ থেকে কাজা ও কদরের (ভাগ্য ও পূর্বনির্ধারণের) ওপর ঈমান আনার দলিলসমূহ

 

প্রথমত: কুরআন থেকে দলিলসমূহ:

মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছি এক নির্ধারিত পরিমাপে (৪৯)} [আল-ক্বামার: ৪৯], এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {এবং তিনি প্রতিটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন এবং সেটিকে যথাযথভাবে পরিমিত করেছেন (২)} [আল-ফুরক্বান: ১ - ২], (অর্থাৎ তিনি ব্যতীত প্রতিটি জিনিসই সৃষ্ট ও লালিত-পালিত। তিনি প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা, রব, মালিক ও ইলাহ; এবং প্রতিটি জিনিসই তাঁর ক্ষমতা, ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারণের অধীনে)(১).

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {স্মরণ করুন, যখন আপনি তাকে বলছিলেন যার ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও অনুগ্রহ করেছেন যে, ‘তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রাখো এবং আল্লাহকে ভয় করো’, আর আপনি আপনার মনে তা গোপন করছিলেন যা আল্লাহ প্রকাশ করতে যাচ্ছিলেন; আপনি মানুষকে ভয় করছিলেন, অথচ আল্লাহকেই ভয় করা আপনার জন্য অধিকতর সমীচীন। অতঃপর জায়েদ যখন তার (স্ত্রীর) সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল (তালাক দিল), তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম, যাতে মুমিনদের পোষ্যপুত্ররা তাদের স্ত্রীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে তাদের বিবাহ করার ব্যাপারে মুমিনদের কোনো অসুবিধা না থাকে। আর আল্লাহর আদেশ কার্যকর হয়েই থাকে। (৩৭) আল্লাহর পক্ষ থেকে নবীর জন্য যা নির্ধারিত করা হয়েছে তাতে তাঁর কোনো অসুবিধা নেই। এটিই আল্লাহর বিধান তাদের ক্ষেত্রে যারা পূর্বে গত হয়েছে। আর আল্লাহর আদেশ সুনির্ধারিত ও সুনির্দিষ্ট (৩৮)} [আল-আহযাব: ৩৭ - ৩৮], (অর্থাৎ তাঁর আদেশ যা তিনি নির্ধারণ করেন, তা অনিবার্যভাবে ঘটবেই এবং তা থেকে কোনো রেহাই বা পরিবর্তনের পথ নেই; সুতরাং তিনি যা চান তা হয়, আর যা চান না তা হয় না)(২).

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোনো বিপদই আপতিত হয় না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ঈমান আনে, তিনি তার অন্তরকে হেদায়েত দান করেন} [আত-তাগাবুন: ১১], (এটি জান-মাল, সন্তান-সন্ততি, প্রিয়জন এবং এই জাতীয় সকল বিপদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুতরাং বান্দাদের ওপর যা কিছু আপতিত হয়, তা আল্লাহর কাজা ও কদরের মাধ্যমেই ঘটে। তাঁর জ্ঞান পূর্বেই তা পরিবেষ্টন করে আছে, তাঁর কলম তা লিখে ফেলেছে, তাঁর ইচ্ছা বাস্তবায়িত হয়েছে এবং তাঁর হিকমত তা দাবি করেছে)(৩).

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {অতঃপর তিনি সেটিকে কালচে আবর্জনায় পরিণত করেন। (৫) আমি আপনাকে পাঠ করাব, ফলে আপনি বিস্মৃত হবেন না। (৬) তবে আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত; নিশ্চয়ই তিনি প্রকাশ্য ও গোপন সব কিছুই জানেন। (৭) আমি আপনার জন্য সহজ পথ সুগম করে দেব। (৮) অতএব আপনি উপদেশ দান করুন, যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়। (৯) যে ভয় করে সে উপদেশ গ্রহণ করবে (১০)} [আল-আ'লা: ৫ - ১০], ইবনে কাসির বলেন: (এই অর্থের আয়াতসমূহ অনেক, যা প্রমাণ করে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ভালো কাজের সংকল্পকারীকে তাওফিকের মাধ্যমে প্রতিদান দেন এবং মন্দ কাজের সংকল্পকারীকে লাঞ্ছনার মাধ্যমে; আর এ সব কিছুই এক সুনির্দিষ্ট কদরের মাধ্যমে নির্ধারিত)(৪).

--------------------------------------------

(১) ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, পৃষ্ঠা (৩/ ৩২০), দ্বিতীয় সংস্করণ, উপস্থাপনায়: ডক্টর ইউসুফ আল-মার'আশলি, দারুল মা'রিফাহ, বৈরুত, ১৪০৭ হিজরি।

(২) তাফসিরে ইবনে কাসির, (৩/ ৫০০)।

(৩) ইবনে সাদী, তাইসিরুল কারিমির রহমান ফি তাফসিরি কালামিল মান্নান, পৃষ্ঠা (৭/ ৩৯৯), সালিহ বিন সালিহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, উনাইজাহ, ১৪০৭ হিজরি।

(৪) তাফসিরে ইবনে কাসির, (৪/ ৫৫৪)।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌ثانيا: الأدلة من السنة:

عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه في سؤال جبريل عليه السلام الرسول صلى الله عليه وسلم عن الإيمان قال: «أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خير وشره. قال: -يعني جبريل- صدقت»(1). (في هذا الحديث أن الإيمان بالقدر من أصول الإيمان الستة المذكورة، فمن لم يؤمن بالقدر خيره وشره، فقد ترك أصلاً من أصول الدين وجحده، فيشبه من قال الله فيهم: {أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ} [البقرة: 85])(2).

وعن جابر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يؤمن عبد حتى يؤمن بالقدر خيره وشره من الله، وحتى يعلم أن ما أصابه لم يكن ليخطئه، وأن ما أخطأه لم يكن ليصيبه»(3). قال الشيخ ابن باز رحمه الله: (وجميع الآيات والأحاديث الواردة في هذا الباب تدعوا إلى إيمان العبد بأنه لن يصيبه إلا ما كتب الله له، وان ما أصابه لم يكن ليخطئه وما أخطاه لم يكن ليصيبه، كما تدعوه إلى أن يسارع في الخيرات، وينافس في الطاعات، ويحرص على أسباب الخير، ويبتعد عن أسباب الشر)(4).

وعن طاوس، قال: أدركت أناساً من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يقولون: كل شيء بقدر، قال: وسمعت عبد الله بن عمر رضي الله عنهما يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «كل شيء بقدر حتى العجز والكيس، أو الكيس والعجز»(5). وعن أبي الدرداء رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا يدخل الجنة عاق، ولا مدمن خمر، ولا مكذب بالقدر»(6).

وعن ابن الديلمي قال: أتيت أبي بن كعب فقلت له: وقع في نفسي شيء من القدر فحدثني بشيء لعل الله تعالى أن يذهبه من قلبي، فقال: لو أن الله تعالى عذب أهل سمواته وأهل أرضه عذبهم وهو غير ظالم لهم، ولو رحمهم كانت رحمته خيراً لهم من أعمالهم، ولو أنفقت مثل أحد ذهبا في سبيل الله تعالى ما قبله الله تعالى منك حتى تؤمن بالقدر، وتعلم أن ما أصابك لم يكن ليخطئك، وأن ما أخطأك لم يكن ليصيبك، ولو مت على غير هذا لدخلت النار. قال: ثم أتيت ابن مسعود فقال: مثل ذلك. قال: ثم أتيت حذيفة بن اليمان فقال: مثل ذلك. قال: ثم أتيت زيد بن ثابت فحدثني عن النبي صلى الله عليه وسلم مثل ذلك(7).

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه ص 1 حاشية رقم 1.

(2) عبد الرحمن بن حسن، فتح المجيد شرح كتاب التوحيد، ص 428، الطبعة الأولى، المكتبة التجارية، مكة، 1412 هـ.

(3) سبق تخريجه ص 6 حاشية رقم 4.

(4) مجموع الفتاوى للشيخ ابن باز، جمع عبد الله الطيار وأحمد بن باز، ص (3/ 491)، الطبعة الأولى، دار الوطن، الرياض، 1416 هـ.

(5) سبق تخريجه ص 8 حاشية رقم 2.

(6) سبق تخريجه ص 8 حاشية رقم 3.

(7) حديث حسن، رواه أبو داود، انظر الجامع الصحيح في القدر، ص 14.
দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ থেকে দলীলসমূহ:

উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, জিবরীল আলাইহিস সালাম কর্তৃক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈমান সম্পর্কে প্রশ্ন করার হাদীসে তিনি বলেন: «তুমি ঈমান আনবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি ও শেষ দিবসের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনবে। তিনি—অর্থাৎ জিবরীল—বললেন: আপনি সত্য বলেছেন»(১)। (এই হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, ভাগ্যের প্রতি ঈমান আনা উল্লেখিত ঈমানের ছয়টি মূল স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর ঈমান আনল না, সে দ্বীনের মৌলিক ভিত্তিগুলোর একটি ত্যাগ করল এবং তা অস্বীকার করল। ফলে সে তাদের সদৃশ হয়ে গেল যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: {তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে ঈমান আনো আর কিছু অংশ অস্বীকার করো?} [সূরা আল-বাকারা: ৮৫])(২)।

জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর ঈমান আনে যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, এবং যতক্ষণ না সে একীন করে যে, তার কাছে যা পৌঁছেছে তা তাকে ভুল করে অতিক্রম করে যাওয়ার ছিল না, আর যা তাকে ভুল করে অতিক্রম করে গেছে তা তাকে স্পর্শ করার ছিল না»(৩)। শাইখ ইবনে বায রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (এই অধ্যায়ে বর্ণিত সমস্ত আয়াত ও হাদীস বান্দাকে এই ঈমানের প্রতি আহ্বান জানায় যে, আল্লাহ তার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া আর কিছুই তাকে স্পর্শ করবে না। আর যা তাকে স্পর্শ করেছে তা তাকে ভুল করে অতিক্রম করে যাওয়ার ছিল না, এবং যা তাকে ভুল করে অতিক্রম করে গেছে তা তাকে স্পর্শ করার ছিল না। তদ্রূপ এটি তাকে নেক কাজের দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে, ইবাদতে প্রতিযোগিতা করতে, কল্যাণের উপকরণের প্রতি আগ্রহী হতে এবং অকল্যাণের উপকরণ থেকে দূরে থাকতে আহ্বান জানায়)(৪)।

তাউস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবীকে বলতে শুনেছি যে, সবকিছুই ভাগ্যের লিখন অনুযায়ী। তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সবকিছুই ভাগ্যের লিখন অনুযায়ী, এমনকি অক্ষমতা ও বুদ্ধিমত্তাও—অথবা বুদ্ধিমত্তা ও অক্ষমতাও»(৫)। আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «পিতামাতার অবাধ্য সন্তান, মদপানে আসক্ত ব্যক্তি এবং ভাগ্য অস্বীকারকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না»(৬)।

ইবনে দাইলামী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি উবাই ইবনে কা’বের কাছে গিয়ে বললাম: আমার মনে তাকদীর নিয়ে কিছু সংশয় তৈরি হয়েছে, সুতরাং আপনি আমাকে এমন কিছু বলুন যাতে সম্ভবত আল্লাহ তাআলা তা আমার অন্তর থেকে দূর করে দেন। তখন তিনি বললেন: যদি আল্লাহ তাআলা তাঁর আসমান ও জমিনবাসীদের শাস্তি দেন, তবে তিনি তাদের ওপর কোনো যুলুম না করেই শাস্তি দেবেন। আর যদি তিনি তাদের প্রতি দয়া করেন, তবে তাঁর সেই দয়া তাদের আমলসমূহের তুলনায় তাদের জন্য অনেক শ্রেষ্ঠ হবে। তুমি যদি আল্লাহর পথে উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও ব্যয় করো, তবে তুমি ভাগ্যের ওপর ঈমান না আনা পর্যন্ত আল্লাহ তা তোমার পক্ষ থেকে কবুল করবেন না। আর তুমি যেন জেনে রাখো যে, যা তোমাকে স্পর্শ করেছে তা তোমাকে ভুল করে অতিক্রম করে যাওয়ার ছিল না, এবং যা তাকে ভুল করে অতিক্রম করে গেছে তা তাকে স্পর্শ করার ছিল না। আর তুমি যদি এ বিশ্বাসের বিপরীত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো, তবে অবশ্যই তুমি জাহান্নামে প্রবেশ করবে। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের কাছে এলাম এবং তিনিও একই কথা বললেন। এরপর আমি হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান-এর কাছে এলাম এবং তিনিও একই কথা বললেন। এরপর আমি যায়দ ইবনে সাবিতের কাছে এলাম এবং তিনি আমার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করলেন(৭)।

--------------------------------------------

(১) ইতিপূর্বে ১ নং পৃষ্ঠার ১ নং টীকা অংশে এর উৎস উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) আবদুর রহমান বিন হাসান, ফাতহুল মাজীদ শারহু কিতাবিত তাওহীদ, পৃষ্ঠা ৪২৮, প্রথম সংস্করণ, আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়্যাহ, মক্কা, ১৪১২ হিজরী।

(৩) ইতিপূর্বে ৬ নং পৃষ্ঠার ৪ নং টীকা অংশে এর উৎস উল্লেখ করা হয়েছে।

(৪) শাইখ ইবনে বাযের মাজমুউল ফাতাওয়া, সংকলন: আবদুল্লাহ আত-তইয়্যার ও আহমদ বিন বায, পৃষ্ঠা (৩/৪৯১), প্রথম সংস্করণ, দারুল ওয়াতান, রিয়াদ, ১৪১৬ হিজরী।

(৫) ইতিপূর্বে ৮ নং পৃষ্ঠার ২ নং টীকা অংশে এর উৎস উল্লেখ করা হয়েছে।

(৬) ইতিপূর্বে ৮ নং পৃষ্ঠার ৩ নং টীকা অংশে এর উৎস উল্লেখ করা হয়েছে।

(৭) হাসান হাদীস, আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন, দেখুন: আল-জামি আস-সহীহ ফিল কদর, পৃষ্ঠা ১৪।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفصل الثاني: مراتب القدر والأدلة على كل مرتبة

 

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: (وتؤمن الفرقة الناجية - أهل السنة والجماعة- بالقدر خيره وشره. والإيمان بالقدر على درجتين، كل درجة تتضمن شيئين:

فالدرجة الأولى: الإيمان بأن الله تعالى عليم بما الخلق عاملون بعلمه القديم، الذي هو موصوف به أزلاً وأبداً، وعلم جميع أحوالهم من الطاعات والمعاصي والأرزاق والآجال، ثم كتب الله في اللوح المحفوظ مقادير الخلق … ثم قال

وأما الدرجة الثانية: فهو مشيئة الله النافذة وقدرته الشاملة، وهو الإيمان بأن ما شاء الله كان، وما لم يشاء لم يكن، وأنه ما في السموات وما في الأرض من حركة ولا سكون إلا بمشيئة الله سبحانه وتعالى، لا يكون في ملكه ما لا يريد، وأنه سبحانه على كل شيء قدير، من الموجودات والمعدومات، فما من مخلوق في الأرض ولا في السماء إلا الله خالقه سبحانه، ولا خالق غيره، ولا رب سواه)(1).

فعلى هذا مراتب القدر أربعة، هي:

‌‌المرتبة الأولى: العلم:

وهو أن الله سبحانه وتعالى علم الأشياء كلها قبل وجودها بعلمه الأزلي، وعلم مقاديرها، وأزمانها، وآجال العباد، وأرزاقهم وغير ذلك، كما قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ (62)} [العنكبوت: 62]، وقال تعالى: {لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا (12)} [الطلاق: 12]، (أي لتعلموا كمال قدرته وإحاطته بالأشياء، وهو معنى {وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا (12)}، فلا يخرج عن علمه شيء منها كائنا ما كان)(2).

وقال تعالى: {(58) وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ} [الأنعام: 59]، ومفاتح الغيب فسرها رسول الله صلى الله عليه وسلم بأنها خمس لا يعلمها إلا الله وهي المذكورة في قوله تعالى: {اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ (34)} [لقمان: 34](3).

--------------------------------------------

(1) ابن تيمية، العقيدة الواسطية، ص (22 - 23)، شرح الشيخ محمد بن مانع، مكتبة النهضة الحديثة.

(2) فتح القدير، للشوكاني، ص (5/ 248)، طبعة دار الفكر، بيروت، 1403 هـ.

(3) الحديث رواه البخاري: كتاب التفسير-سورة الأنعام، باب {وعنده مفاتح الغيب لا يعلمها إلا هو} وفي تفسير سورة لقمان، باب {إن الله عنده علم الساعة} (8/ 291، 8/ 513 - فتح الباري)، تصحيح الشيخ عبد العزيز بن باز، دار الفكر.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাকদীরের স্তরসমূহ এবং প্রত্যেক স্তরের দলীলসমূহ

 

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: (নাজাতপ্রাপ্ত দল—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত—তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান পোষণ করে। তাকদীরের প্রতি ঈমান আনার দুটি পর্যায় রয়েছে, প্রতিটি পর্যায় দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম পর্যায় হলো: এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সেই অনাদি জ্ঞানের মাধ্যমে মাখলূক বা সৃষ্টিরা যা কিছু করবে সে সম্পর্কে অবগত, যে জ্ঞান তাঁর অনাদি ও অনন্ত গুণ। তিনি তাদের আনুগত্য, নাফরমানি, রিযিক ও আয়ুসহ সকল অবস্থা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। অতঃপর আল্লাহ লওহে মাহফূযে সৃষ্টির সকল ভাগ্যলিপি লিখে রেখেছেন … এরপর তিনি বলেন:

আর দ্বিতীয় পর্যায় হলো: আল্লাহর কার্যকর ইচ্ছা এবং তাঁর ব্যাপক ক্ষমতা। তা হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ যা চান তা হয়, আর যা তিনি চান না তা হয় না। আসমান ও যমীনে যা কিছু নড়াচড়া করে বা স্থির থাকে, তা মহান আল্লাহর ইচ্ছাতেই ঘটে। তাঁর রাজত্বে এমন কিছু হয় না যা তিনি চান না। তিনি বিদ্যমান বা অবিদ্যমান সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাশালী। আসমান ও যমীনে এমন কোনো সৃষ্টি নেই যার স্রষ্টা মহান আল্লাহ নন। তিনি ছাড়া আর কোনো স্রষ্টা নেই এবং তিনি ছাড়া আর কোনো রব নেই)(১)।

এ অনুযায়ী তাকদীরের স্তর হলো চারটি, সেগুলো হলো:

‌প্রথম স্তর: ইলম (জ্ঞান):

আর তা হলো এই যে, মহান আল্লাহ প্রতিটি বস্তু অস্তিত্বে আসার পূর্বেই তাঁর অনাদি জ্ঞান দ্বারা সে সম্পর্কে জানতেন। তিনি সেগুলোর পরিমাণ, সময়কাল, বান্দাদের আয়ু, তাদের রিযিক এবং অন্যান্য সবকিছুই জানতেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ (৬২)} [আনকাবূত: ৬২]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান এবং আল্লাহর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে (১২)} [তালাক: ১২]। (অর্থাৎ যাতে তোমরা তাঁর ক্ষমতার পূর্ণতা এবং সকল বস্তুর ওপর তাঁর পরিবেষ্টন সম্পর্কে জানতে পার। আর এটিই ‘আল্লাহর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে’ বাণীর অর্থ। সুতরাং কোনো কিছুই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়, তা যা-ই হোক না কেন)(২)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আর তাঁর কাছেই অদৃশ্যের চাবিকাঠি রয়েছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে তা তিনি জানেন। তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও পড়ে না এবং মাটির অন্ধকার স্তরে এমন কোনো শস্যকণা কিংবা কোনো রসযুক্ত বা শুষ্ক বস্তু নেই যা একটি সুস্পষ্ট কিতাবে (লওহে মাহফূযে) লিপিবদ্ধ নেই} [আনআম: ৫৯]। অদৃশ্যের চাবিকাঠি সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাখ্যা করেছেন যে, এগুলো পাঁচটি যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। আর সেগুলো আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে: {নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জরায়ুতে যা আছে তা জানেন। কোনো ব্যক্তি জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং কোনো ব্যক্তি জানে না কোন স্থানে তার মৃত্যু হবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত (৩৪)} [লুকমান: ৩৪](৩)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহ, আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ, পৃষ্ঠা (২২ - ২৩), শাইখ মুহাম্মাদ বিন মানি'-এর ব্যাখ্যাসহ, মাকতাবাতুন নাহদাহ আল-হাদিসাহ।

(২) ফাতহুল কাদির, শাওকানী কৃত, পৃষ্ঠা (৫/ ২৪৮), দারুল ফিকর সংস্করণ, বৈরুত, ১৪০৩ হিজরি।

(৩) হাদীসটি বুখারী বর্ণনা করেছেন: কিতাবুত তাফসীর—সূরা আনআম, অনুচ্ছেদ: {আর তাঁর কাছেই অদৃশ্যের চাবিকাঠি রয়েছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না} এবং সূরা লুকমানের তাফসীর, অনুচ্ছেদ: {নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে} (৮/ ২৯১, ৮/ ৫১৩ - ফাতহুল বারী), শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বায কর্তৃক সত্যায়িত, দারুল ফিকর।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ১০)
وقال تعالى: {إِنَّمَا إِلَهُكُمُ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَسِعَ كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا (98)} [طه: 98] (أي هو عالم بكل شيء، أحاط بكل شيء علماً، وأحصى كل شيء عدداً، فلا يعزب عنه مثقال ذرة، في البر والبحر وما تسقط من ورقة إلا يعلمها ولا حبة في ظلمات الأرض ولا رطب ولا يابس إلا في كتاب مبين {وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُبِينٍ (6)} [هود: 6])(1).

وعن عمران بن حصين رضي الله عنه قال: قال رجل: يا رسول الله! أعلم أهل الجنة من أهل النار؟ قال: «نعم»، قال: ففيم يعمل العاملون؟ قال: «كل ميسر لما خلق له»(2). وقد ترجم عليه البخاري بقوله: بابٌ جفَ القلمُ على علم الله، وقوله: {وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ} (قال عياض: معنى جف القلم أي لم يكتب بعد ذلك شيئا، وكتاب الله ولوحه وقلمه من غيبه ومن علمه الذي يلزمنا الإيمان به)(3).

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما من مولود إلا يولد على الفطرة، فأبواه يهودانه أو ينصرانه، كما تنتجون البهيمة هل فيها من جدعاء، حتى تكونوا أنتم تجدعونها» قالوا: يا رسول الله: أفرأيت من يموت وهو صغير؟ قال: «الله أعلم بما كانوا عاملين»(4). والآيات والأحاديث في هذا المعنى كثيرة.

‌‌المرتبة الثانية: الكتابة:

وهو أن الله كتب جميع الأشياء من خير وشر، وطاعة ومعصية، وآجال وأرزاق، وغير ذلك، قال تعالى: {أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّ ذَلِكَ فِي كِتَابٍ إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ (70)} [الحج: 70]، (يخبر تعالى عن كمال علمه بخلقه وأنه محيط بما في السموات والأرض فلا يعزب مثقال ذرة في الأرض ولا في السماء ولا أصغر من ذلك ولا أكبر، وأنه تعالى علم الكائنات قبل وجودها وكتب ذلك في اللوح المحفوظ)(5).

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن كثير (3/ 172).

(2) رواه مسلم كتاب القدر: باب كيفية الخلق الآدمي في بطن أمه (16/ 198 - شرح النووي)، ورواه البخاري كتاب القدر، باب جف القلم على علم الله، (11/ 491 - فتح الباري).

(3) فتح الباري (11/ 491).

(4) رواه البخاري، كتاب القدر، باب الله أعلم بما كانوا عاملين، (11/ 493 - فتح الباري) ورواه مسلم، كتاب القدر، باب معنى كل مولود يولد على الفطرة، (16/ 210 - شرح النووي)

(5) تفسير ابن كثير (3/ 245).
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের ইলাহ তো কেবল আল্লাহই, তিনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নেই; তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। (৯৮)} [ত্বহা: ৯৮] (অর্থাৎ তিনি সর্বজ্ঞানী, জ্ঞানের মাধ্যমে সবকিছুকে বেষ্টন করে আছেন এবং সংখ্যাগতভাবে সবকিছু গণনা করে রেখেছেন। স্থলভাগে বা সমুদ্রতলে অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নেই, কোনো পাতা ঝরে না যা তিনি জানেন না, জমিনের অন্ধকার স্তরে কোনো শস্যদানা কিংবা কোনো আর্দ্র বা শুষ্ক বস্তু এমন নেই যা এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নয়। {আর জমিনে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই, আর তিনি জানেন তাদের অবস্থানস্থল ও আশ্রয়স্থল; সবকিছুই এক সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। (৬)} [হূদ: ৬])(১)।

ইমরান ইবন হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতী ও জাহান্নামীরা কি চিহ্নিত হয়ে গেছে? তিনি বললেন: «হ্যাঁ», সে বলল: তবে আমলকারীরা কেন আমল করে? তিনি বললেন: «প্রত্যেককে সেই কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে»(২)। ইমাম বুখারী এর ওপর পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন এভাবে: পরিচ্ছেদ: আল্লাহর জ্ঞানের ওপর কলম শুকিয়ে গেছে। আর মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ তাকে জেনে-শুনে পথভ্রষ্ট করেছেন} (কাযী ইয়াদ বলেন: কলম শুকিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো এরপর আর কিছুই লেখা হবে না। আল্লাহর কিতাব, তাঁর লাওহ (ফলক) এবং তাঁর কলম তাঁর অদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর এমন জ্ঞানের অংশ যার ওপর ঈমান আনা আমাদের জন্য আবশ্যক)(৩)।

আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাত (ইসলামী স্বভাব)-এর ওপর জন্মলাভ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজক বানায়; যেমন একটি চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা প্রসব করে, তোমরা কি সেখানে কোনো কান-কাটা দেখতে পাও—যতক্ষণ না তোমরা নিজেরা তার কান কেটে দাও?» তারা জিজ্ঞাসা করল: হে আল্লাহর রাসূল! যারা ছোট অবস্থায় মারা যায় তাদের ব্যাপারে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: «তারা কী আমল করত সে সম্পর্কে আল্লাহই সম্যক অবগত»(৪)। এই মর্মে আরও অনেক আয়াত ও হাদীস রয়েছে।

‌‌দ্বিতীয় স্তর: লিখন:

আর তা হলো এই যে, আল্লাহ ভালো-মন্দ, আনুগত্য-অবাধ্যতা, হায়াত-রিজিকসহ যাবতীয় বিষয় লিখে রেখেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি কি জান না যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? নিশ্চয়ই তা একটি কিতাবে সংরক্ষিত। নিশ্চয়ই এটা আল্লাহর জন্য সহজ। (৭০)} [হজ্জ: ৭০], (মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির ওপর তাঁর পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানের সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে তা পরিবেষ্টন করে আছেন। আসমান বা জমিনে অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নেই, এমনকি তার চেয়ে ছোট বা বড়ও কিছু নেই। আর মহান আল্লাহ মাখলুকাত অস্তিত্বে আসার পূর্বেই তা জানতেন এবং তা লাওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন)(৫)।

--------------------------------------------

(১) তাফসীর ইবন কাসীর (৩/ ১৭২)।

(২) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল কদর: অধ্যায়: মাতৃগর্ভে মানুষের সৃষ্টির পদ্ধতি (১৬/ ১৯৮ - শারহুন নববী), এবং বুখারী বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল কদর, পরিচ্ছেদ: আল্লাহর জ্ঞানের ওপর কলম শুকিয়ে গেছে, (১১/ ৪৯১ - ফাতহুল বারী)।

(৩) ফাতহুল বারী (১১/ ৪৯১)।

(৪) বুখারী বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল কদর, পরিচ্ছেদ: আল্লাহই ভালো জানেন তারা কী আমল করত, (১১/ ৪৯৩ - ফাতহুল বারী) এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল কদর, পরিচ্ছেদ: প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের ওপর জন্মলাভ করার অর্থ, (১৬/ ২১০ - শারহুন নববী)।

(৫) তাফসীর ইবন কাসীর (৩/ ২৪৫)।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ১১)
وقال تعالى: {مَا أَصَابَ مِنْ مُصِيبَةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي أَنْفُسِكُمْ إِلَّا فِي كِتَابٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ نَبْرَأَهَا إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ (22)} [الحديد: 22].

عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «كتب الله مقادير الخلائق، قبل أن يخلق السموات والأرض بخمسين ألف سنة، قال: وعرشه على الماء»(1). (قال العلماء المراد تحديد وقت الكتابة في اللوح المحفوظ أو غيره لا أصل التقدير فإن ذلك أزلي لا أول له)(2).

وفي الصحيحين من حديث علي رضي الله عنه قال: كنا جلوساً مع النبي صلى الله عليه وسلم، ومعه عود ينكت به في الأرض، فنكس وقال: «ما منكم من أحد إلا قد كتب مقعده من النار أومن الجنة» فقال رجل من القوم: ألا نتكل يا رسول الله؟ قال: «لا، اعملوا فكل ميسر ثم قرأ {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى (5)} الآية [الليل: 5]»(3) (وهذا الحديث أصل لأهل السنة في أن السعادة والشقاء بتقدير الله القديم، وفيه رد على الجبرية، لأن التيسير ضد الجبر، لأن الجبر لا يكون إلا عن كره ولا يأتي الإنسان الشيء بطريق التيسير إلا وهو غير كاره له)(4).

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم، كتاب القدر، باب حجاج آدم موسى، (16/ 203 - شرح النووي).

(2) شرح النووي على مسلم، (16/ 203).

(3) رواه البخاري: كتاب القدر، باب وكان أمر الله قدراً مقدوراً (11/ 494 - فتح الباري)، ورواه مسلم: كتاب القدر، باب كيفية خلق الآدمي في بطن أمه (16/ 195 - شرح النووي).

(4) فتح الباري، (11/ 498).
আর মহান আল্লাহ বলেছেন: {পৃথিবীতে কিংবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপদই আসে, তা আমি সংঘটিত করার পূর্বেই একটি কিতাবে (লিপিবদ্ধ) রয়েছে। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর জন্য সহজ (২২)} [আল-হাদিদ: ২২]।

আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহ তাআলা আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সৃষ্টির তাকদিরসমূহ লিখে রেখেছেন। তিনি বলেন: তখন তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে।"(১)। (উলামায়ে কেরাম বলেন যে, এখানে উদ্দেশ্য হলো লাওহে মাহফুজ বা অন্য কোনো স্থানে তা লিপিবদ্ধ করার সময় নির্ধারণ করা, মূল তাকদির নির্ধারণ নয়। কারণ সেটি অনাদি, যার কোনো শুরু নেই)(২)।

সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বসা ছিলাম, তাঁর হাতে একটি কাঠি ছিল যা দিয়ে তিনি মাটিতে আঁচড় কাটছিলেন। এরপর তিনি মাথা নিচু করলেন এবং বললেন: "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার জাহান্নাম বা জান্নাতের ঠিকানা লিখে রাখা হয়নি।" তখন এক ব্যক্তি আরজ করল: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি তবে (তাকদিরের ওপর) ভরসা করে আমল ছেড়ে দেব না? তিনি বললেন: "না, বরং তোমরা আমল করতে থাকো, কারণ প্রত্যেকের জন্য ওই কাজ সহজ করে দেওয়া হয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।" এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {সুতরাং যে দান করে এবং তাকওয়া অবলম্বন করে (৫)} শেষ আয়াত পর্যন্ত [আল-লাইল: ৫](৩)। (এই হাদিসটি আহলে সুন্নাতের জন্য একটি মূল দলিল যে, সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য আল্লাহর চিরন্তন নির্ধারণ অনুযায়ী হয়। আর এতে জাবারিয়া মতবাদের খণ্ডন রয়েছে, কারণ 'সহজসাধ্যতা' (তাকসীর) হলো 'জবরদস্তি' (জবর) এর বিপরীত। কেননা জবরদস্তি কেবল অপছন্দের সাথেই হয়, আর কোনো কাজ সহজ হওয়ার মাধ্যমে মানুষের নিকট আসে না যদি না সে তাতে সন্তুষ্ট থাকে)(৪)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল কদর, পরিচ্ছেদ: আদম ও মুসার বিতর্ক, (১৬/ ২০৩ - শারহু নববী)।

(২) মুসলিমের ওপর শারহে নববী, (১৬/ ২০৩)।

(৩) বুখারী বর্ণনা করেছেন: কিতাবুল কদর, পরিচ্ছেদ: আল্লাহর বিধান সুনির্ধারিত তাকদির (১১/ ৪৯৪ - ফাতহুল বারী), এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন: কিতাবুল কদর, পরিচ্ছেদ: মায়ের গর্ভে মানুষের সৃষ্টির প্রকৃতি (১৬/ ১৯৫ - শারহু নববী)।

(৪) ফাতহুল বারী, (১১/ ৪৯৮)।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌أقسام التقدير خمسة (1):

‌‌الأول: التقدير العام قبل خلق السموات والأرض:

وهو تقدير الرب لجميع الأشياء بمعنى علمه بها وكتابته لها ومشيئته وخلقه لما كان منها، ويدل على هذا النوع دلائل كثيرة منها قوله تعالى: {أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّ ذَلِكَ فِي كِتَابٍ إِنَّ ذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ (70)} [الحج: 70]، وقوله: {لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا (12)} [الطلاق: 12]، وقوله: {يَفْعَلُ مَا يَشَاءُ (18)} [الحج: 18]، وقوله: {الله خالق كل شيء} [الزمر: 62]، وفي صحيح مسلم عن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن الله قدر مقادير الخلائق قبل أن يخلق السماء والأرض بخمسين ألف سنة وكان عرشه على الماء»(2).

‌‌الثاني: كتابة الميثاق حين أخذ على بني آدم وهم على ظهر أبيهم آدم:

قال الله تعالى: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى شَهِدْنَا} الآية [الأعراف: 172]. وفي مسند الإمام أحمد عن أبي الدرداء رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «خلق الله آدم حين خلقه فضرب كتفه اليمنى فأخرج ذرية بيضاء كأنهم الذر، وضرب كتفه اليسرى فأخرج ذرية سوداء كأنهم الحمم، فقال للذي في يمينه: إلى الجنة ولا أبالي، وقال للذي في كفه اليسرى: إلى النار ولا أبالي»(3).

‌‌الثالث: التقدير العمري:

وهو تقدير كل ما يجري على العبد في حياته إلى نهاية أجله وكتابة شقاوته وسعادته، وقد دل عليه حديث ابن مسعود رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إن أحدكم يجمع خلقه في بطن أمه أربعين يوماً، ثم يكون علقة مثل ذلك، ثم يكون مضغة مثل ذلك، ثم يرسل الله الملك فينفخ فيه الروح ويؤمر بأربع كلمات: بكتابة رزقه وأجله وعمله وشقي أو سعيد … »(4) الحديث.

‌‌الرابع: التقدير السنوي:

--------------------------------------------

(1) التنبيهات اللطيفة على ما احتوت عليه العقيدة الواسطية من المباحث المنيفة، عبد الرحمن بن سعدي، ص 78 - 80، الطبعة الأولى، تعليق الشيخ ابن باز، ضبط علي حسن عبد الحميد، دار ابن القيم، الدمام، 1409 هـ. وانظر: شفاء العليل ص 6 - 23، معارج القبول بشرح سلم الوصول إلى علم الأصول للشيخ حافظ الحكمي (3/ 928 - 940)، الطبعة الثالثة، ضبط وتعليق عمر بن محمود، دار ابن القيم، الدمام، 1414 هـ، والقضاء والقدر للمحمود ص 66 - 69.

(2) سبق تخريجه ص 12 حاشية رقم 2.

(3) قال محقق الكتاب: رواه أحمد وابنه في الزوائد (6/ 441) وإسناده صحيح.

(4) رواه البخاري كتاب القدر (11/ 477 - فتح الباري)، ورواه مسلم في كتاب القدر، باب كيفية خلق الآدمي في بطن أمه (16/ 190 - شرح النووي).
তকদিরের প্রকারসমূহ পাঁচটি (১):

প্রথম: আসমান ও জমিন সৃষ্টির পূর্বের সাধারণ তকদির:

এটি হলো সমস্ত জিনিসের প্রতি রবের তকদির; যার অর্থ হলো সে সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান, তাঁর তা লিখে রাখা, তাঁর ইচ্ছা এবং যা সংঘটিত হয়েছে তা সৃষ্টি করা। এই প্রকারের ওপর অনেক দলিল রয়েছে, যার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি কি জানেন না যে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? নিশ্চয়ই তা একটি কিতাবে রয়েছে। নিশ্চয়ই এটি আল্লাহর জন্য সহজ (৭০)} [আল-হজ্জ: ৭০], এবং তাঁর বাণী: {যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান এবং আল্লাহ তাঁর জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে বেষ্টন করে আছেন (১২)} [আত-তালাক: ১২], এবং তাঁর বাণী: {তিনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন (১৮)} [আল-হজ্জ: ১৮], এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা} [আয-জুমার: ৬২]। আর সহীহ মুসলিমে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে সৃষ্টিজগতসমূহের তকদির নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর»(২)।

দ্বিতীয়: অঙ্গীকারের লিপি, যখন তা বনী আদমের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল যখন তারা তাদের পিতা আদমের পিঠে ছিল:

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যখন আপনার রব বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করলেন এবং তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষ্য রাখলেন যে, আমি কি তোমাদের রব নই? তারা বলল, অবশ্যই, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি} আয়াতের শেষ পর্যন্ত [আল-আরাফ: ১৭২]। আর ইমাম আহমদের মুসনাদে আবু দারদা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আল্লাহ যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন তখন তিনি তাঁর (আল্লাহর) ডান কাঁধে আঘাত করলেন এবং পিপীলিকার ন্যায় উজ্জ্বল শ্বেতবর্ণের একদল বংশধর বের করলেন। এরপর তিনি তাঁর (আল্লাহর) বাম কাঁধে আঘাত করলেন এবং কয়লার ন্যায় কৃষ্ণবর্ণের একদল বংশধর বের করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর ডান হাতের অধিকারভুক্তদের জন্য বললেন: জান্নাতের দিকে এবং আমি পরোয়া করি না। আর তিনি তাঁর বাম হাতের তালুর অধিকারভুক্তদের জন্য বললেন: আগুনের দিকে এবং আমি পরোয়া করি না»(৩)।

তৃতীয়: জীবনকালীন তকদির:

এটি হলো বান্দার জীবনে তার মৃত্যুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তার তকদির এবং তার দুর্ভাগ্য ও সৌভাগ্য লিখে রাখা। ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস এর ওপর দলিল পেশ করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন পর্যন্ত বীর্য হিসেবে জমা থাকে, এরপর তা অনুরূপ সময়ে জমাট রক্তে পরিণত হয়, এরপর তা অনুরূপ সময়ে গোশতপিণ্ডে পরিণত হয়। এরপর আল্লাহ একজন ফেরেশতা পাঠান এবং তিনি তাতে রূহ ফুঁকে দেন এবং তাকে চারটি বিষয় লিখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়: তার রিজিক, তার হায়াত, তার আমল এবং সে কি দুর্ভাগা না কি সৌভাগ্যবান...»(৪) হাদিস।

চতুর্থ: বার্ষিক তকদির:

--------------------------------------------

(১) আত-তানবিহাতুল লতিফা আলা মা ইহতাওয়াত আলাইহিল আকীদাতুল ওয়াসিতিয়া মিনাল মাবাহিসিল মুনিফা, আবদুর রহমান বিন সাদী, পৃ. ৭৮ - ৮০, প্রথম সংস্করণ, শেখ বিন বাযের টীকা সহ, আলী হাসান আব্দুল হামিদের সম্পাদনা, দার ইবনুল কাইয়্যিম, দাম্মাম, ১৪০৯ হিজরী। আরও দেখুন: শিফাউল আলীল পৃ. ৬ - ২৩, শেখ হাফেজ আল-হাকামী রচিত মাআরিজুল কবুল বি শারহি সুল্লামিল উসুল ইলা ইলমিল উসুল (৩/ ৯২৮ - ৯৪০), তৃতীয় সংস্করণ, ওমর বিন মাহমুদের সম্পাদনা ও টীকা সহ, দার ইবনুল কাইয়্যিম, দাম্মাম, ১৪১৪ হিজরী, এবং আল-মাহমুদ রচিত আল-কাদা ওয়াল কদর পৃ. ৬৬ - ৬৯।

(২) এর তাখরীজ পূর্বে ১২ পৃষ্ঠার ২ নম্বর টীকায় করা হয়েছে।

(৩) কিতাবের মুহাক্কিক বলেন: এটি আহমদ এবং তাঁর পুত্র যাওয়ায়েদ-এ (৬/ ৪৪১) বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ সহীহ।

(৪) বুখারী কিতাবুল কদর (১১/ ৪৭৭ - ফাতহুল বারী) বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিম কিতাবুল কদরে 'মায়ের পেটে মানুষের সৃষ্টির পদ্ধতি' অধ্যায়ে (১৬/ ১৯০ - শরহে নববী) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ১৩)
وذلك يكون في ليلة القدر ويدل عليه قوله تعالى: {فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ (4)} [الدخان: 4]، وقوله تعالى: {الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ (4) سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ (5) لَمْ} [القدر: 4 - 5]، قيل يكتب في هذه الليلة ما يحدث في السنة من موت وعز وذل وغير ذلك، روي هذا عن ابن عمر ومجاهد وأبي مالك والضحاك وغير وأحد من السلف(1).

‌‌الخامس: التقدير اليومي:

ويدل عليه قوله تعالى: {كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ} [الرحمن: 29]، عن أبي الدرداء رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم في تفسير {كُلَّ يَوْمٍ هُوَ فِي شَأْنٍ} قال: «من شأنه أن يغفر ذنباً ويفرج كرباً ويرفع قوماً ويضع آخرين»، علقه البخاري عن أبي الدرداء موقوفاً(2).

‌‌المرتبة الثالثة: المشيئة:

أي أن ما شاء الله كان وما لم يشأ لم يكن، وأن ليس في السموات والأرض من حركة ولا سكون إلا بمشيئته سبحانه ولا يكون في ملكه إلا ما يريد. كما قال تعالى: {لِمَنْ شَاءَ مِنْكُمْ أَنْ يَسْتَقِيمَ (28) وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ (29)} [التكوير: 28 - 29]، قال ابن كثير: (أي ليست المشيئة موكولة لكم فمن شاء اهتدى ومن شاء ضل بل ذلك كله تابع لمشيئته تعالى رب العالمين)(3).

وقال تعالى: {فَمَنْ شَاءَ ذَكَرَهُ (55) وَمَا يَذْكُرُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ (56)} [المدثر: 55 - 56]، (وما يذكرون إلا أن يشاء الله - فإن مشيئة الله، نافذة عامة، لا يخرج عنها حادث قليل ولا كثير. ففيها رد على القدرية، الذين لا يدخلون أفعال العباد تحت مشيئة الله، والجبرية الذين يزعمون أنه ليس للعبد مشيئة، ولا فعل حقيقة، وإنما هو مجبور على أفعاله. فأثبت تعالى للعباد مشيئة حقيقة وفعلاً، وجعل ذلك تابعاً لمشيئته)(4).

وقال تعالى: {وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ (137)} [الأنعام: 137]. قال ابن كثير: (أي كان هذا واقع بمشيئته تعالى وإرادته واختياره لذلك كوناً، وله الحكمة التامة في ذلك، فلا يسأل عما يفعل وهم يسألون)(5).

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن كثير (4/ 568 - 570).

(2) رواه البخاري في كتاب التفسير، سورة الرحمن (8/ 620 - فتح الباري).

(3) تفسير ابن كثير (4/ 512).

(4) تفسير ابن سعدي (7/ 520).

(5) تفسير ابن كثير (2/ 186).
এটি লাইলাতুল কদরে হয়ে থাকে এবং মহান আল্লাহর এই বাণী এর প্রমাণ দেয়: {এতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় ফয়সালা করা হয় (৪)} [আদ-দুখান: ৪], এবং মহান আল্লাহর এই বাণী: {ফেরেশতারা ও রূহ সে রাতে তাদের রবের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজের জন্য (অবতরণ করে) (৪) ঊষার উদয় পর্যন্ত তা শান্তিময় (৫)} [আল-কদর: ৪ - ৫]। বলা হয়েছে যে, এই রাতে বছরে যা কিছু ঘটবে—যেমন মৃত্যু, সম্মান, লাঞ্ছনা এবং অন্যান্য বিষয়—তা লেখা হয়। এটি ইবনে উমর, মুজাহিদ, আবু মালিক, দাহহাক এবং পূর্বসূরিদের (সালাফ) অনেকের থেকে বর্ণিত হয়েছে(১).

‌‌পঞ্চম: দৈনিক তাকদীর:

মহান আল্লাহর এই বাণী এর প্রমাণ দেয়: {প্রতিদিন তিনি কোনো না কোনো কাজে রত} [আর-রাহমান: ২৯]। আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম {প্রতিদিন তিনি কোনো না কোনো কাজে রত} আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: «তাঁর কাজের অন্তর্ভুক্ত হলো—গুনাহ ক্ষমা করা, বিপদ দূর করা, কোনো জাতিকে উন্নত করা এবং অন্যদের অবনমিত করা», ইমাম বুখারী এটি আবু দারদা থেকে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন(২).

‌‌তৃতীয় স্তর: ইচ্ছা (মাশিইয়াত):

অর্থাৎ আল্লাহ যা চান তা হয় এবং যা তিনি চান না তা হয় না। আসমান ও যমীনে কোনো গতি বা স্থিতি তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত সংঘটিত হয় না এবং তাঁর রাজত্বে তা-ই ঘটে যা তিনি ইচ্ছা করেন। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে যে সরল পথে চলতে চায় তার জন্য (২৮) আর তোমরা ইচ্ছা করতে পারো না যদি না জগতসমূহের রব আল্লাহ ইচ্ছা করেন (২৯)} [আত-তাকভীর: ২৮ - ২৯]। ইবনে কাসীর বলেন: (অর্থাৎ ইচ্ছা তোমাদের হাতে সোপর্দ করা হয়নি যে, যে চাইবে হিদায়াত পাবে আর যে চাইবে পথভ্রষ্ট হবে, বরং তা সবই জগতসমূহের রব মহান আল্লাহর ইচ্ছার অনুগামী)(৩).

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {সুতরাং যার ইচ্ছা সে তা স্মরণ রাখুক (৫৫) আর তারা স্মরণ রাখবে না যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন। তিনিই তাকওয়ার যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী (৫৬)} [আল-মুদ্দাসসির: ৫৫ - ৫৬]। (আর তারা স্মরণ রাখবে না যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন - কারণ আল্লাহর ইচ্ছা কার্যকরী ও সর্বব্যাপী, কোনো ছোট বা বড় ঘটনা এর বাইরে নয়। এতে কাদারিয়াদের প্রতিবাদ রয়েছে, যারা বান্দার কাজকে আল্লাহর ইচ্ছার অন্তর্ভুক্ত করে না, এবং জাবরিয়াদেরও প্রতিবাদ রয়েছে, যারা দাবি করে যে বান্দার কোনো ইচ্ছা নেই এবং বাস্তবে কোনো কাজও নেই, বরং সে তার কাজের ওপর বাধ্য। অথচ আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য বাস্তব ইচ্ছা ও কাজ সাব্যস্ত করেছেন এবং সেটিকে তাঁর ইচ্ছার অনুগামী করেছেন)(৪).

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তবে তারা তা করত না; সুতরাং আপনি তাদেরকে ও তাদের মিথ্যা রটনাকে বর্জন করুন (১৩৭)} [আল-আনআম: ১৩৭]। ইবনে কাসীর বলেন: (অর্থাৎ এটি মহান আল্লাহর ইচ্ছা, অভিপ্রায় এবং মহাজাগতিকভাবে তা নির্বাচনের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়েছে, আর এতে তাঁর পূর্ণ হিকমত রয়েছে। তিনি যা করেন সে সম্পর্কে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে)(৫).

--------------------------------------------

(১) তাফসীর ইবনে কাসীর (৪/ ৫৬৮ - ৫৭০)।

(২) বুখারী এটি তাফসীর অধ্যায়, সূরা আর-রাহমান-এ বর্ণনা করেছেন (৮/ ৬২০ - ফাতহুল বারী)।

(৩) তাফসীর ইবনে কাসীর (৪/ ৫১২)।

(৪) তাফসীর ইবনে সাদী (৭/ ৫২০)।

(৫) তাফসীর ইবনে কাসীর (২/ ১৮৬)।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ১৪)
وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «إن قلوب بني آدم كلها بين أصبعين من أصابع الرحمن، كقلب واحد يصرفه حيث يشاء» ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «اللهم مصرف القلوب صرف قلوبنا على طاعتك»(1)، (معنى الحديث أنه سبحانه وتعالى متصرف في قلوب عباده وغيرها كيف شاء، لا يمتنع عليه منها شيء ولا يفوته ما أراده)(2).

 

‌‌المرتبة الرابعة: الخلق والتكوين:

وهو أن الله سبحانه وتعالى هو الخالق الموجد لجميع الأشياء، من ذوات وصفات وأفعال، ومن ذلك أفعال العباد. والأدلة على هذه المرتبة كثيرة منها قوله تعالى: {وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ (96)} [الصافات: 96]، (أي خلقكم وخلق أعمالكم)(3).

وقال تعالى: {خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ (16) أَنْزَلَ مِنَ} [الرعد: 16]، (قال الزجاج: والمعنى أنه خالق كل شيء مما يصح أن يكون مخلوقاً)(4).

وقال تعالى: {اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ (62)} [الزمر: 62]، (هذه العبارة وما أشبهها، مما هو كثير في القرآن، تدل على أن جميع الأشياء - غير الله وأسمائه وصفاته- مخلوقة)(5).

عن حذيفة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن الله يصنع كل صانع وصنعته»(6)، (وتلا بعضهم عند ذلك {وَاللَّهُ خَلَقَكُمْ وَمَا تَعْمَلُونَ (96)} [الصافات: 96]، فأخبر أن الصناعات وأهلها مخلوقة)(7).(8)

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم: كتاب القدر، باب تصريف الله القلوب كيف يشاء (16/ 203 - شرح النووي).

(2) شرح النووي على مسلم (16/ 203).

(3) فتح القدير (4/ 402).

(4) فتح القدير (2/ 74).

(5) تفسير ابن سعدي (6/ 489).

(6) حديث صحيح، أخرجه البخاري، في كتاب خلق أفعال العباد ص 39، الطبعة الثانية، تحقيق د. عبد الرحمن عميرة، دار عكاظ، جدة، وابن أبي عاصم في السنة بلفظ «إن الله خالق كل صانع وصنعته»، انظر الجامع الصحيح في القدر، ص 125.وقال الألباني حديث صحيح، كتاب السنة لابن أبي عاصم ص (1/ 158)، الطبعة الثانية، تحقيق الألباني، المكتب الإسلامي، بيروت، 1405 هـ. وهو مخرج في الصحيحة رقم (1637).

(7) خلق أفعال العباد للبخاري، ص 46.

(8) انظر: مجموع فتاوى الشيخ عبد العزيز بن باز، (3/ 476 - 480)، معارج القبول (3/ 920 - 940)، شفاء العليل (29 - 39).
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "আদম সন্তানদের সমস্ত অন্তর রহমানের আঙ্গুলসমূহের মধ্য থেকে দু’টি আঙ্গুলের মাঝে একটি হৃদপিণ্ডের মতো; তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা পরিচালনা করেন।" অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে অন্তরসমূহ পরিচালনাকারী! আমাদের অন্তরসমূহকে আপনার আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দিন"(১)। (হাদিসটির অর্থ হলো, তিনি সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর বান্দাদের অন্তর এবং অন্যান্য বিষয় যেভাবে ইচ্ছা পরিচালনা করেন। কোনো কিছুই তাঁর কাছে অসম্ভব নয় এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন তার কিছুই তাঁর নাগালের বাইরে নয়)(২)।

 

‌‌চতুর্থ স্তর: সৃষ্টি ও অস্তিত্বদান:

এটি হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা হলেন সমস্ত কিছুর স্রষ্টা ও অস্তিত্বদানকারী; চাই তা সত্তা হোক, গুণাবলি হোক কিংবা কর্ম হোক। আর বান্দার কর্মসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত। এই স্তরের সপক্ষে প্রমাণাদি অনেক, তার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীটি অন্যতম: {আর আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা করো তা সৃষ্টি করেছেন (৯৬)} [আস-সাফফাত: ৯৬], (অর্থাৎ তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আমলসমূহ সৃষ্টি করেছেন)(৩)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি এক, মহাশক্তিধর (১৬)} [আর-রাদ: ১৬], (আজ-জাজ্জাজ বলেন: এর অর্থ হলো যে সমস্ত বিষয় সৃষ্টি হওয়া সম্ভব, তিনি সেগুলোর সবকিছুরই স্রষ্টা)(৪)।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আল্লাহ সকল বস্তুর স্রষ্টা এবং তিনি সকল বস্তুর কর্মবিধায়ক (৬২)} [আয-যুমার: ৬২], (এই উক্তি এবং কুরআনে এর মতো আরও যা আছে, তা প্রমাণ করে যে—আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ এবং তাঁর গুণাবলি ব্যতিরেকে—সমস্ত কিছুই সৃষ্টি)(৫)।

হুযাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক কারিগর এবং তার কারিগরিকে সৃষ্টি করেন»(৬), (তাদের মধ্যে কেউ কেউ তখন তেলাওয়াত করেছেন: {আর আল্লাহ তোমাদেরকে এবং তোমরা যা করো তা সৃষ্টি করেছেন (৯৬)} [আস-সাফফাত: ৯৬]। ফলে তিনি সংবাদ দিলেন যে কারুশিল্পসমূহ এবং এর কারিগররা সবাই সৃষ্টি)(৭)।(৮)

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন: কিতাবুল কদর, পরিচ্ছেদ: আল্লাহ যেভাবে ইচ্ছা অন্তরসমূহ পরিচালনা করেন (১৬/ ২০৩ - শরহুন নববী)।

(২) মুসলিমের উপর ইমাম নববীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (১৬/ ২০৩)।

(৩) ফাতহুল কাদির (৪/ ৪০২)।

(৪) ফাতহুল কাদির (২/ ৭৪)।

(৫) তাফসিরে ইবনে সাদী (৬/ ৪৮৯)।

(৬) হাদিসটি সহীহ, ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন 'খালকু আফআলিল ইবাদ' কিতাবে, পৃষ্ঠা ৩৯, দ্বিতীয় সংস্করণ, তাহকীক: ড. আব্দুর রহমান উমাইরা, দার উকাজ, জেদ্দা; এবং ইবনে আবি আসিম 'আস-সুন্নাহ' গ্রন্থে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক কারিগর এবং তার কারিগরিকে সৃষ্টি করেন।" দেখুন: আল-জামি আস-সহীহ ফিল কদর, পৃষ্ঠা ১২৫। আলবানী বলেন হাদিসটি সহীহ, ইবনে আবি আসিম কৃত কিতাবুস সুন্নাহ, পৃষ্ঠা (১/ ১৫৮), দ্বিতীয় সংস্করণ, তাহকীক: আলবানী, আল-মাকতাব আল-ইসলামী, বৈরুত, ১৪০৫ হিজরি। এটি সহীহাহ এর ১৬৩৭ নং হাদিসে উদ্ধৃত হয়েছে।

(৭) বুখারী কৃত 'খালকু আফআলিল ইবাদ', পৃষ্ঠা ৪৬।

(৮) দেখুন: মাজমু ফাতাওয়া শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (৩/ ৪৭৬ - ৪৮০), মাআরিজুল কবুল (৩/ ৯২০ - ৯৪০), শিফাউল আলীল (২৯ - ৩৯)।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌الفصل الثالث: مذاهب الناس في القدر

‌‌المبحث الأول: سبب الخلاف في القدر

 

(الخلاف في القدر يدور حول أمرين:

أحدهما: ما يتعلق بالله تعالى، وذلك في مراتب القدر الأربع: العلم، والكتابة، والمشية، والخلق التي يثبتها أهل السنة والجماعة لله تعالى.

الثاني: ما يتعلق بالعبد، هل له إرادة ومشية أم لا، وهل له قدرة أم لا؟ وهل هو فاعل لفعله حقيقة أم لا؟ )(1).

وسبب ضلال الفرق، هو عدولهم عن الصراط المستقيم، الذي أمرنا الله باتباعه، فقال تعالى {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} [الأنعام: 153]، والخوض في فعل الرب، قال شيخ الإسلام:

وأصل ضلال الخلق في كل فرقة هو الخوض في فعل الإله بعلة(2)

(فالقدرية النفاة الذين نفوا القدر قالوا: إن الله لا يريد الكفر والذنوب والمعاصي ولا يحبها ولا يرضاها، فكيف نقول إنه خلق أفعال العباد، وفيها الكفر والذنوب والمعاصي.

والقدرية المجبرة آمنوا بأن الله خالق كل شيء، وزعموا أن كل شيء خلقه وأوجده فقد أحبه ورضيه.

وأهل السنة والجماعة أبصروا الحقيقة كلها، فآمنوا بالحق الذي عند كل واحد من الفريقين، ونفوا الباطل الذي تلبس به كل واحد منهما.

فهم يقولون: إن الله وإن كان يريد المعاصي قدراً، فهو لا يحبها، ولا يرضاها، ولا يأمر بها بل يبغضها، وينهى عنها)(3).

--------------------------------------------

(1) عبد الرحمن المحمود، القضاء والقدر، ص 301.

(2) الدرة البهية شرح القصية التائية في حل المشكلة القدرية لشيخ الإسلام، تأليف عبد الرحمن بن سعدي، ص 25، مكتبة المعارف، الرياض، 1406 هـ.

(3) عمر الأشقر، القضاء والقدر، ص 103، الطبعة الثالثة، دار النفائس، الأردن، 1415 هـ.
‌‌তৃতীয় অধ্যায়: তাকদীর বিষয়ে মানুষের মতবাদসমূহ

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: তাকদীর বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণ

 

(তাকদীর বিষয়ে মতপার্থক্য দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়:

প্রথমটি: যা আল্লাহ তাআলার সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো তাকদীরের চারটি স্তর: ইলম (জ্ঞান), কিতাবাত (লিখন), মাশিয়্যাত (ইচ্ছা) এবং খালক (সৃষ্টি), যা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত আল্লাহ তাআলার জন্য সাব্যস্ত করে থাকে।

দ্বিতীয়টি: যা বান্দার সাথে সংশ্লিষ্ট; তার কি কোনো ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষা আছে কি নেই, এবং তার কি কোনো সক্ষমতা আছে কি নেই? আর সে কি প্রকৃতপক্ষে তার নিজের কাজের কর্তা কি না?)(১)।

আর বিভিন্ন দলের পথভ্রষ্ট হওয়ার কারণ হলো সিরাতে মুস্তাকিম (সরল পথ) থেকে তাদের বিচ্যুতি, যা অনুসরণ করার জন্য আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে} [আল-আন'আম: ১৫৩], এবং রবের কার্যাবলী নিয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়া। শায়খুল ইসলাম বলেন:

সৃষ্টির প্রতিটি দলের পথভ্রষ্টতার মূল কারণ হলো কোনো কারণ বা যুক্তির মাধ্যমে ইলাহের কার্যাবলী নিয়ে তর্কে লিপ্ত হওয়া।(২)

(ক্বাদারিয়্যাহ নফি-কারী (অস্বীকারকারী) যারা তাকদীরকে অস্বীকার করেছে, তারা বলেছে: আল্লাহ কুফরি, পাপ এবং নাফরমানি চান না, এগুলোকে ভালোবাসেন না এবং এতে সন্তুষ্টও নন; অতএব আমরা কীভাবে বলতে পারি যে তিনি বান্দার কাজসমূহ সৃষ্টি করেছেন, অথচ তাতে কুফরি, পাপ এবং নাফরমানি রয়েছে?

আর ক্বাদারিয়্যাহ মুজবিরাহ (জাবরিয়াহ) বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তারা দাবি করে যে, তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন ও অস্তিত্ব দান করেছেন, তার সবকিছুকেই তিনি ভালোবাসেন এবং তাতে সন্তুষ্ট।

আর আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত পূর্ণ সত্য প্রত্যক্ষ করেছে; ফলে তারা উভয় দলের কাছে থাকা সত্যের ওপর ঈমান এনেছে এবং উভয়ের সাথে সংমিশ্রিত বাতিলকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তারা বলেন: আল্লাহ যদিও তাকদীরগতভাবে নাফরমানি হওয়ার ইচ্ছা করেন, তবুও তিনি তা ভালোবাসেন না, তাতে সন্তুষ্ট হন না এবং তার নির্দেশ দেন না; বরং তিনি তা অপছন্দ করেন এবং তা থেকে নিষেধ করেন।)(৩)।

--------------------------------------------

(১) আবদুর রহমান আল-মাহমুদ, আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদার, পৃ. ৩০১।

(২) আদ-দুররাতুল বাহিয়্যাহ শারহুল কাসিদাতিত তায়িয়্যাহ ফী হাল্লিল মুশকিলাতিল ক্বাদারিয়্যাহ লি-শায়খিল ইসলাম, লেখক: আবদুর রহমান বিন সাদী, পৃ. ২৫, মাকতাবাতুল মাআরিফ, রিয়াদ, ১৪০৬ হিজরী।

(৩) উমর আল-আশকার, আল-ক্বাযা ওয়াল ক্বাদার, পৃ. ১০৩, তৃতীয় সংস্করণ, দারুন নাফায়েস, জর্ডান, ১৪১৫ হিজরী।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌المبحث الثاني: مذاهب الناس في القدر

 

‌‌أولاً: الجهمية (1):

(زعموا أن عموم مشيئة الله، وعموم إرادته يقتضي: أن العبد مجبور على أفعاله، مقسور مقهور على أقواله وأفعاله: لا قدرة له على شيء من الطاعات، ولا على ترك المعاصي)(2).

(فهم يقولون أن العباد مجبورون على أعمالهم، لا قدرة لهم ولا إرادة ولا اختيار، والله وحده خالق أفعال العباد، وأعمالهم إنما تنسب إليهم مجازاً)(3).

‌‌ثانياً: المعتزلة (4):

وهم قدرية في باب القدر. والقدرية(5) ينقسمون إلى قسمين:

‌‌القدرية الأولى:

وهؤلاء هم الغلاة الذين أنكروا القدر وأنكروا علم الله السابق بالأمور، (فيقولون إن الله لا يعلم أعمال العباد قبل أن يعملوها، ولا تعلقت بها مشيئة الله، فلما شنع عليهم المسلمون، وكفروهم بذلك: تحولوا عن قولهم الأول فأثبتوا العلم، وأنكروا القدر.

ولهذا كان الأئمة كالإمام أحمد وغيره، يقولون: ناظروا القدرية بالعلم فإن أنكروا العلم كفروا، وإن اعترفوا به خصموا)(6).

--------------------------------------------

(1) الجهمية: أصحاب الجهم بن صفوان، وهو من الجبرية الخالصة. ظهرت بدعته بترمذ، وقتله مسلم بن أحوز بمرو في آخر ملك بني أمية، وافق المعتزلة في نفي الصفات الأزلية وزاد عليهم بأشياء. وزعم أن الجنة والنار تبيدان وتفنيان، وأن الإيمان هو المعرفة بالله فقط. انظر: الملل والنحل للشهرستاني، ص 36، الطبعة الثانية، دار مكتبة المتنبي، بيروت 1992 م. والفرق بين الفرق للبغدادي، ص 194، الطبعة الأولى، تعليق إبراهيم رمضان، دار المعرفة، بيروت، 1415 هـ. ومعجم ألفاظ العقيدة، تصنيف عامر فالح، ص 128، الطبعة الأولى، مكتبة العبيكان، الرياض، 1417 هـ.

(2) الدرة البهية شرح القصيدة التائية، ص 22.

(3) القضاء والقدر لعبد الرحمن المحمود ص 302.

(4) المعتزلة: هم أتباع واصل بن عطاء وعمرو بن عبيد، وسموا بذلك لما اعتزلوا مجلس الحسن البصري رحمه الله، وأصول اعتقادهم خمسة، العدل، والتوحيد، والوعد والوعيد، والمنزلة بين المنزلتين، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر. انظر: الفرق بين الفرق ص 112، الملل والنحل ص 21، ومعجم ألفاظ العقيدة ص 377.

(5) سموا بالقدرية لإنكارهم القدر، وكذلك تسمى الجبرية المحتجون بالقدر قدرية أيضاً، والتسمية على الطائفة الأولى أغلب. شرح العقيدة الطحاوية لابن أبي العز ص (1/ 79)، و (2/ 797)، معجم ألفاظ العقيدة ص 316.

(6) الدرة البهية شرح القصيدة التائية ص 20، مجموع الفتاوى (8/ 450)، جمع عبد الرحمن ابن قاسم، مكتبة ابن تيمية، القاهرة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাকদীরের বিষয়ে মানুষের বিভিন্ন মতবাদ

 

প্রথমত: জাহমিয়া (১):

(তারা দাবি করে যে, আল্লাহর সার্বিক ইচ্ছা ও অভিপ্রায় একথাই দাবি করে যে: বান্দা তার কর্মে বাধ্য, তার কথা ও কাজে সে জবরদস্তিকৃত ও পরাভূত; আনুগত্যের কোনো কাজে কিংবা পাপ বর্জনের ক্ষেত্রে তার কোনো ক্ষমতা নেই)(২)।

(সুতরাং তারা বলে যে, বান্দারা তাদের আমলের ক্ষেত্রে বাধ্য, তাদের কোনো ক্ষমতা, ইচ্ছা বা চয়ন করার সুযোগ নেই; আল্লাহ একাই বান্দার কর্মের স্রষ্টা, আর তাদের আমলসমূহ কেবল রূপকভাবে তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়)(৩)।

দ্বিতীয়ত: মুতাজিলা (৪):

তারা তাকদীরের মাসআলায় কাদারিয়া। আর কাদারিয়াগণ(৫) দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার কাদারিয়া:

এরা হলো সেই চরমপন্থী যারা তাকদীর অস্বীকার করে এবং বিষয়সমূহ ঘটার ব্যাপারে আল্লাহর পূর্বজ্ঞানকেও অস্বীকার করে। (তারা বলে যে, বান্দারা আমল করার আগে আল্লাহ তাদের আমল সম্পর্কে জানেন না এবং সেগুলোর সাথে আল্লাহর ইচ্ছার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অতঃপর যখন মুসলিমগণ তাদের কঠোর সমালোচনা করলেন এবং এই কারণে তাদের কাফির সাব্যস্ত করলেন, তখন তারা তাদের পূর্বের বক্তব্য থেকে সরে এসে আল্লাহর জ্ঞানকে স্বীকার করে নিল, তবে তাকদীরকে অস্বীকার করল।

এই কারণেই ইমাম আহমদ এবং অন্যান্য ইমামগণ বলতেন: তোমরা কাদারিয়াদের সাথে আল্লাহর জ্ঞান (ইলম) নিয়ে বিতর্ক করো; যদি তারা আল্লাহর জ্ঞানকে অস্বীকার করে তবে তারা কাফির হয়ে যাবে, আর যদি তারা তা স্বীকার করে তবে তারা তর্কে পরাস্ত হবে)(৬)।

--------------------------------------------

(১) জাহমিয়া: এরা জহম বিন সাফওয়ানের অনুসারী, সে ছিল খাটি জাবরিয়া মতাবলম্বীদের অন্তর্ভুক্ত। তার এই বিদআত তিরমিযে প্রকাশ পায় এবং বনু উমাইয়াদের শাসনের শেষ দিকে মার্ভে মুসলিম বিন আহওয়ায তাকে হত্যা করেন। সে আল্লাহর চিরন্তন গুণাবলি অস্বীকার করার ক্ষেত্রে মুতাজিলাদের সাথে একমত পোষণ করেছিল এবং অতিরিক্ত আরও কিছু বিষয় যুক্ত করেছিল। সে দাবি করত যে, জান্নাত ও জাহান্নাম ধ্বংস ও নিঃশেষ হয়ে যাবে এবং ঈমান হলো কেবল আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান রাখা। দেখুন: আশ-শাহরাস্তানি প্রণীত আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, পৃষ্ঠা ৩৬, দ্বিতীয় সংস্করণ, দারু মাকতাবাতিল মুতানাব্বি, বৈরুত ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ। আল-বাগদাদি প্রণীত আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃষ্ঠা ১৯৪, প্রথম সংস্করণ, ইব্রাহিম রমজানের টীকা সম্বলিত, দাউরুল মা'রিফা, বৈরুত, ১৪১৫ হিজরি। আমের ফালিহ সংকলিত মু'জামু আলফাযিল আকিদাহ, পৃষ্ঠা ১২৮, প্রথম সংস্করণ, মাকতাবাতুল ওবাইকান, রিয়াদ, ১৪১৭ হিজরি।

(২) আদ-দুররাতুল বাহিয়্যাহ শারহুল কাসিদাতিত তায়িয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২২।

(৩) আবদুর রহমান আল-মাহমুদ প্রণীত আল-কাদা ওয়াল কাদার, পৃষ্ঠা ৩০২।

(৪) মুতাজিলা: তারা হলো ওয়াসিল বিন আতা এবং আমর বিন উবাইদের অনুসারী। হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মজলিস থেকে পৃথক (ই'তিযাল) হওয়ার কারণে তাদের এই নামকরণ করা হয়েছে। তাদের আকিদার মূলনীতি পাঁচটি: ন্যায়বিচার (আদল), তাওহীদ, প্রতিশ্রুতি ও ধমক (ওয়াদ ও ওয়াইদ), দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী অবস্থান (আল-মানযিলাতু বাইনাল মানযিলাতাইন) এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ। দেখুন: আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক, পৃষ্ঠা ১১২; আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, পৃষ্ঠা ২১ এবং মু'জামু আলফাযিল আকিদাহ, পৃষ্ঠা ৩৭৭।

(৫) তাকদীর অস্বীকার করার কারণে তাদের কাদারিয়া বলা হয়। একইভাবে জাবরিয়া যারা তাকদীরকে দোহাই হিসেবে পেশ করে, তাদেরকেও কাদারিয়া বলা হয়; তবে প্রথমোক্ত দলের ক্ষেত্রেই এই নামের প্রয়োগ অধিক। ইবনুল আবিল ইযয প্রণীত শারহুল আকিদাতিত তাহাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা (১/৭৯) এবং (২/৭৯৭); মু'জামু আলফাযিল আকিদাহ, পৃষ্ঠা ৩১৬।

(৬) আদ-দুররাতুল বাহিয়্যাহ শারহুল কাসিদাতিত তায়িয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২০; মাজমুউল ফাতাওয়া (৮/৪৫০), আবদুর রহমান ইবনে কাসেম কর্তৃক সংগৃহীত, মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ, কায়রো।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ১৭)
(وقد تلاشت هذه الطائفة التي تكذب بعلم الله السابق أو كادت، يقول السفاريني: قال العلماء المنكرون لهذا انقرضوا، وهم الذين كفرهم عليه الإمام مالك، والشافعي، واحمد ،غيرهم من الأئمة)(1).

‌‌القدرية الثانية:

زعموا (أن أفعال العباد وطاعاتهم ومعاصيهم، لم تدخل تحت قضاء الله وقدره، فأثبتوا قدرة الله على أعيان المخلوقات، وأوصافها، ونفوا قدرته على أفعال المكلفين، وقالوا: إن الله لم يردها ولم يشأها منهم، بل: هم الذين أرادوها وشاءوها، وفعلوها، استقلالاً بدون مشيئة الله)(2).

(فهؤلاء يقولون أن أفعال العباد ليست مخلوقة لله، وإنما العباد هم الخالقون لها، وهذا هو مذهب المعتزلة ومن وافقهم، فهم ينكرون مرتبتي المشيئة والخلق، فينفونها عن الله تعالى، ويثبتونها للإنسان)(3).

‌‌ثالثاً الأشاعرة (4):

وهؤلاء يقولون: (إن الله سبحانه وتعالى خالق أفعال العباد، فيثبتون مرتبتي المشيئة والخلق، ولكن يقولون: إن أفعال العباد الاختيارية واقعة بقدرة الله تعالى وحدها، وليس لقدرتهم تأثير فيها، بل الله سبحانه وتعالى أجرى عادته بأن يوجد في العبد قدرة واختياراً، فإذا لم يكن هناك مانع أوجد فيه فعله المقدور مقارناً لهما، فيكون الفعل مخلوقاً لله، إبداعاً وإحداثاً، ومكسوباً للعبد، والمرء بكسبه إياه: مقارنته لقدرته وإرادته من غير أن يكون هناك منه تأثير أو مدخل في وجوده سوى كونه محلاً له)(5).

وبهذا خالفوا المعتزلة القائلين بأن الله لا يخلق أفعال العباد بل هم الخالقون لها. ولكنهم قالوا هي كسب للعباد. (فأرادوا أن يوفقوا بين الجبرية والقدرية، فجاءوا بنظرية الكسب، وهي في مآلها جبرية خالصة، لأنها تنفي أي قدرة للعبد أو تأثير، أما حقيقتها النظرية الفلسفية فقد عجز الأشاعرة أنفسهم عن فهمها فضلاً عن إفهامها لغيرهم ولهذا قيل:

مما يقال ولا حقيقة تحته معقولة تدنوا إلى الأفهام

الكسب عند الأشعري والحال عند البهشمي وطفرة النظام)(6).

--------------------------------------------

(1) القضاء والقدر لعمر الأشقر، ص 57.

(2) الدرة البهية شرح القصيدة التائية ص 17.

(3) القضاء والقدر لعبد الرحمن المحمود ص 305.

(4) الأشاعرة: أصحاب أبي الحسن علي بن إسماعيل الأشعري، ويثبتون لله سبع صفات، ويقولون بتقديم العقل على النقل عند التعارض، ويؤولون آيات الصفات، ولا يحتجون بأحاديث الآحاد في العقيدة. معجم ألفاظ العقيدة ص 42، الملل والنحل ص 40، وانظر للفائدة: موقف ابن تيمية من الأشاعرة لعبد الرحمن المحمود، مكتبة الرشد، الرياض.

(5) القضاء والقدر لعبد الرحمن المحمود ص 311.

(6) منهج الأشاعرة في العقيدة، للشيخ سفر الحوالي، ص 43، الطبعة الأولى، الدار السلفية، الكويت، 1407 هـ. وانظر: شفاء العليل ص 121.
(আর এই দলটি যারা আল্লাহর পূর্বজ্ঞানকে অস্বীকার করে, তারা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে বা প্রায় বিলুপ্তির পথে। আস-সাফফারিনি বলেন: ওলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, একে অস্বীকারকারীরা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, আর তারা তারাই যাদেরকে ইমাম মালিক, শাফেয়ি, আহমাদ এবং অন্যান্য ইমামগণ কাফির সাব্যস্ত করেছেন)(১)।

‌‌দ্বিতীয় কাদারিয়া সম্প্রদায়:

তারা দাবি করে যে (বান্দার কাজ, তাদের আনুগত্য এবং তাদের পাপাচার আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদিরের অধীনে অন্তর্ভুক্ত নয়। তারা মাখলুকাতের সত্তা ও বৈশিষ্ট্যের ওপর আল্লাহর কুদরত বা ক্ষমতাকে সাব্যস্ত করে, কিন্তু দায়িত্বশীল বান্দাদের কার্যাবলীর ওপর আল্লাহর ক্ষমতাকে অস্বীকার করে। তারা বলে: আল্লাহ তাদের থেকে এগুলো চাননি এবং ইচ্ছাও করেননি, বরং তারাই সেগুলো ইচ্ছা করেছে এবং আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতিরেকে স্বাধীনভাবে সম্পাদন করেছে)(২)।

(সুতরাং এরা বলে যে বান্দার কাজ আল্লাহর সৃষ্টি নয়, বরং বান্দারাই সেগুলোর স্রষ্টা। আর এটাই হলো মুতাজিলা এবং তাদের অনুসারীদের মাযহাব। তারা ইচ্ছা (মশিয়্যাত) এবং সৃষ্টি (খালক) —এই দুই স্তরকে অস্বীকার করে, ফলে তারা এগুলোকে আল্লাহ তাআলা থেকে নাকচ করে এবং মানুষের জন্য সাব্যস্ত করে)(৩)।

‌‌তৃতীয়ত আশআরিয়া সম্প্রদায় (৪):

তারা বলে: (নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বান্দার কার্যাবলীর স্রষ্টা। ফলে তারা ইচ্ছা ও সৃষ্টির স্তর দুটি সাব্যস্ত করে। কিন্তু তারা বলে: বান্দার ঐচ্ছিক কাজগুলো কেবল আল্লাহ তাআলার কুদরতেই সংঘটিত হয়, সেগুলোতে তাদের কুদরতের কোনো প্রভাব নেই। বরং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রীতি এভাবে চালু রেখেছেন যে, তিনি বান্দার মধ্যে ক্ষমতা ও ইচ্ছা তৈরি করেন; এরপর যদি কোনো বাধা না থাকে, তবে তিনি তাদের মধ্যে সেই ক্ষমতার সাথে সংগতিপূর্ণ কাজ সৃষ্টি করেন। ফলে কাজটি আল্লাহর সৃষ্টি, উদ্ভাবন ও অস্তিত্বদানের দিক থেকে, আর বান্দার জন্য তা ‘কাসব’ বা অর্জন হিসেবে গণ্য হয়। আর ব্যক্তির কাসব করার অর্থ হলো: কাজটির অস্তিত্বে বান্দার কোনো প্রভাব বা ভূমিকা ছাড়াই কেবল তার কুদরত ও ইচ্ছার সাথে কাজটির সংশ্লিষ্টতা হওয়া, কেবল সেটির আধার হওয়া ব্যতীত)(৫)।

এর মাধ্যমে তারা মুতাজিলাদের বিরোধিতা করেছে যারা বলে যে আল্লাহ বান্দার কাজ সৃষ্টি করেন না বরং বান্দারাই সেগুলোর স্রষ্টা। কিন্তু তারা বলেছে যে এগুলো বান্দার জন্য ‘কাসব’ বা অর্জন। (তারা জাবরিয়া এবং কাদারিয়াদের মধ্যে সমন্বয় করতে চেয়েছিল, তাই তারা কাসব-এর তত্ত্ব নিয়ে এসেছে। কিন্তু এর চূড়ান্ত রূপ হলো বিশুদ্ধ জাবরবাদ (অসহায়ত্ব), কারণ এটি বান্দার কোনো ক্ষমতা বা প্রভাবকে অস্বীকার করে। আর এর দার্শনিক তত্ত্বের প্রকৃত রূপ খোদ আশআরিয়াগণই বুঝতে অক্ষম হয়েছেন, অন্যদের বোঝানো তো দূরের কথা। এজন্য বলা হয়ে থাকে:

এমন সব কথা যার নিচে কোনো বোধগম্য বাস্তবতা নেই যা বোধশক্তির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে

আশআরির নিকট ‘কাসব’, বাহশামির নিকট ‘হাল’ এবং নাজ্জামের ‘তাফরাহ’ বা উল্লম্ফন)(৬)।

--------------------------------------------

(১) আল-কাদা ওয়াল কাদার, উমর আল-আশকার, পৃষ্ঠা ৫৭।

(২) আদ-দুররাতুল বাহিয়্যাহ শারহুল কাসিদাতিত তায়িয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৭।

(৩) আল-কাদা ওয়াল কাদার, আব্দুর রহমান আল-মাহমুদ, পৃষ্ঠা ৩০৫।

(৪) আশআরিয়া: আবু আল-হাসান আলি বিন ইসমাইল আল-আশআরির অনুসারী। তারা আল্লাহর জন্য সাতটি সিফাত বা বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত করে, দলিলের ক্ষেত্রে আকল বা বুদ্ধিকে নকল বা ওহীর ওপর প্রাধান্য দেয় যখন উভয়ের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়, সিফাতের আয়াতসমূহের অপব্যাখ্যা করে এবং আকিদার ক্ষেত্রে ‘আহাদ’ হাদিস (একক সূত্রে বর্ণিত) দ্বারা দলিল পেশ করে না। মুজামু আলফাজিল আকিদাহ পৃষ্ঠা ৪২, আল-মিলাল ওয়ান নিহাল পৃষ্ঠা ৪০, এবং উপকারের জন্য দেখুন: মাওকিফু ইবনে তাইমিয়্যাহ মিনাল আশআরিয়া, আব্দুর রহমান আল-মাহমুদ, মাকতাবাতুর রুশদ, রিয়াদ।

(৫) আল-কাদা ওয়াল কাদার, আব্দুর রহমান আল-মাহমুদ, পৃষ্ঠা ৩১১।

(৬) মানহাজুল আশআরিয়া ফিল আকিদাহ, শায়খ সাফার আল-হাওয়ালি, পৃষ্ঠা ৪৩, প্রথম সংস্করণ, আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ, কুয়েত, ১৪০৭ হিজরি। আরও দেখুন: শিফাউল আলীল পৃষ্ঠা ১২১।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌رابعاً: عقيدة أهل السنة والجماعة:

قال الطحاوي رحمه الله مبيناً عقيدة أهل السنة: (خلق الخلق بعلمه، وقدر لهم أقداراً، وضرب لهم آجالاً، ولم يخف عليه شيء قبل أن يخلقهم، وعلم ما هم عاملون قبل أن يخلقهم، وأمرهم بطاعته، ونهاهم عن معصيته، وكل شيء يجري بتقديره ومشيئته، ومشيئته تنفذ، لا مشيئة للعباد إلا ما شاء لهم، فما شاء لهم كان، وما لم يشأ لم يكن، يهدي من يشاء ويعصم ويعافي فضلاً، ويضل من يشاء، ويخذل ويبتلي عدلاً، وكلهم يتقلبون في مشيئته، بين فضله وعدله، وهو متعال عن الأضداد والأنداد، لا راد لقضائه، ولا معقب لحكمه، ولا غالب لأمره، آمنا بذلك كله، وأيقنا أن كلاً من عنده)(1).

ثم قال: (والميثاق الذي أخذه الله تعالى من آدم وذريته حق. وقد علم الله فيما لم يزل عدد من يدخل الجنة، وعدد من يدخل النار جملةً واحدة، فلا يزاد في ذلك العدد، ولا ينقص منه. وكذلك أفعالهم فيما علم منهم أن يفعلوه، وكل ميسر لما خلق له، والأعمال بالخواتيم، والسعيد من سعد بقضاء الله، والشقي من شقي بقضاء الله.

وأصل القدر سر الله تعالى في خلقه، لم يطلع على ذلك ملك مقرب ولا نبي مرسل، والتعمق والنظر في ذلك ذريعة الخذلان، وسلم الحرمان، ودرجة الطغيان، فالحذر كل الحذر من ذلك نظراً وفكراً ووسوسةً، فإن الله تعالى طوى علم القدر عن أنامه، ونهاهم عن مرامه، كما قال تعالى في كتابه: {لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ (23)} [الأنبياء: 23]، فمن سأل: لم فعل؟ فقد رد حكم الكتاب، ومن رد حكم الكتاب كان من الكافرين)(2).

ثم قال أيضاً: (ونؤمن باللوح والقلم، وبجميع ما فيه قد رقم، فلو اجتمع الخلق كلهم على شيء كتبه الله تعالى فيه أنه كائن، ليجعلوه غير كائن لم يقدروا عليه، ولو اجتمعوا على شيء لم يكتبه الله تعالى فيه، ليجعلوه كائناً لم يقدروا عليه، جف القلم بما هو كائن إلى يوم القيامة، وما أخطأ العبد لم يكن ليصيبه، وما أصابه لم يكن ليخطئه.

وعلى العبد أن يعلم أن الله قد سبق علمه في كل كائن من خلقه، فقدر ذلك تقديراً محكماً مبرماً، ليس فيه ناقض، ولا معقب، ولا مزيل، ولا مغير، ولا ناقص، ولا زائد من خلقه في سماواته وأرضه، وذلك من عقد الإيمان، وأصول المعرفة، والاعتراف بتوحيد الله تعالى وربوبيته، كما قال تعالى في كتابه: {وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيرًا (2)} [الفرقان: 2]، وقال تعالى: {وَكَانَ أَمْرُ اللَّهِ قَدَرًا مَقْدُورًا (38)} [الأحزاب: 38]، فويل لمن صار لله تعالى في القدر خصيماً، أحضر للنظر فيه قلباً سقيماً، لقد التمس بوهمه في فحص الغيب سراً كتيماً، وعاد بما قال أفاكاً أثيماً)(3).

--------------------------------------------

(1) العقيدة الطحاوية للإمام أبي جعفر أحمد بن محمد الطحاوي، ص 12 - 13، الطبعة الأولى، تعليق الشيخ عبد العزيز بن باز، مكتبة ابن تيمية، القاهرة، 1415 هـ.

(2) العقيدة الطحاوية ص 22 - 23.

(3) العقيدة الطحاوية ص 26 - 28.
চতুর্থ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাহ:

ইমাম তহাবী (রহিমাহুল্লাহ) আহলুস সুন্নাহর আকিদাহ বর্ণনা করে বলেছেন: (তিনি তাঁর ইলম দ্বারা সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন, তাদের জন্য তকদির নির্ধারণ করেছেন এবং তাদের হায়াত বা সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তাদের সৃষ্টি করার পূর্বে তাঁর কাছে কোনো কিছুই গোপন ছিল না। তারা কী আমল করবে তা তিনি তাদের সৃষ্টি করার পূর্বেই জানতেন। তিনি তাদের তাঁর আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর অবাধ্য হতে নিষেধ করেছেন। প্রতিটি বিষয় তাঁর তকদির ও ইচ্ছানুযায়ী পরিচালিত হয়। তাঁর ইচ্ছাই বাস্তবায়িত হয়। তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত বান্দাদের কোনো ইচ্ছা নেই। তিনি তাদের জন্য যা ইচ্ছা করেন তা-ই হয়, আর যা তিনি ইচ্ছা করেন না তা হয় না। তিনি যাকে ইচ্ছা স্বীয় অনুগ্রহে হিদায়াত দান করেন, হিফাজত করেন এবং ক্ষমা করেন। আর যাকে ইচ্ছা স্বীয় ইনসাফে গোমরাহ করেন, অপদস্থ করেন এবং পরীক্ষায় ফেলেন। তারা সকলেই তাঁর ইচ্ছার অধীনে তাঁর অনুগ্রহ ও ইনসাফের মাঝে আবর্তিত হয়। তিনি প্রতিপক্ষ ও সমকক্ষ থেকে ঊর্ধ্বে। তাঁর ফয়সালা কেউ রদ করতে পারে না, তাঁর হুকুম কেউ পিছিয়ে দিতে পারে না এবং তাঁর নির্দেশের ওপর কেউ জয়ী হতে পারে না। আমরা এ সবকিছুর ওপর ঈমান এনেছি এবং দৃঢ় বিশ্বাস করেছি যে, সবকিছুই তাঁর পক্ষ থেকে।)(১)।

এরপর তিনি বলেন: (আল্লাহ তাআলা আদম ও তাঁর সন্তানদের থেকে যে অঙ্গীকার নিয়েছেন তা সত্য। আল্লাহ তাআলা অনাদিকাল থেকেই জানেন যে কতজন জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং কতজন জাহান্নামে প্রবেশ করবে, তা একসাথেই তিনি জানেন। সেই সংখ্যায় কোনো বৃদ্ধি হবে না এবং তা থেকে কোনো ঘাটতিও হবে না। একইভাবে তাদের কর্মসমূহ সম্পর্কেও তিনি জানেন যা তারা করবে। প্রত্যেকে সেই কাজের জন্যই সহজ হবে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আমলসমূহ শেষ অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর ফয়সালায় ভাগ্যবান হয়েছে, আর হতভাগ্য সেই ব্যক্তি যে আল্লাহর ফয়সালায় হতভাগ্য হয়েছে।

তকদিরের মূল রহস্য হচ্ছে সৃষ্টিজগতে আল্লাহ তাআলার এক গোপন বিষয়। কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা বা প্রেরিত নবীও এ সম্পর্কে অবগত নন। এ বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও গবেষণা করা অপদস্থ হওয়ার মাধ্যম, বঞ্চিত হওয়ার সোপান এবং অবাধ্যতার স্তর। সুতরাং এ বিষয়ে চিন্তা, গবেষণা ও কুমন্ত্রণা থেকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। কারণ আল্লাহ তাআলা তকদিরের ইলম তাঁর সৃষ্টির কাছ থেকে গোপন রেখেছেন এবং এ বিষয়ে আগ্রহী হতে নিষেধ করেছেন। যেমন আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেছেন: {তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা যাবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে।} [আম্বিয়া: ২৩]। সুতরাং যে ব্যক্তি প্রশ্ন করল: কেন তিনি তা করলেন? সে মূলত কিতাবের হুকুমকে প্রত্যাখ্যান করল। আর যে কিতাবের হুকুম প্রত্যাখ্যান করল, সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো।)(২)।

এরপর তিনি আরও বলেন: (আমরা লৌহ ও কলমের ওপর ঈমান রাখি এবং তাতে যা কিছু লিখিত হয়েছে তার ওপর ঈমান রাখি। আল্লাহ তাআলা লৌহ মাহফুজে যা কিছু ঘটবে বলে লিখে রেখেছেন, তা যদি সমগ্র সৃষ্টিজগত একত্রিত হয়ে না হওয়ার জন্য চেষ্টা করে, তবে তারা সক্ষম হবে না। আর যা আল্লাহ সেখানে ঘটবে বলে লিখেননি, তা ঘটানোর জন্য যদি তারা সকলে একত্রিত হয়, তবে তারা সক্ষম হবে না। কিয়ামত পর্যন্ত যা ঘটবে তা লিখে কলম শুকিয়ে গেছে। বান্দার কাছে যা পৌঁছার ছিল না তা তার কাছে পৌঁছাবে না, আর যা তার কাছে পৌঁছেছে তা তাকে ভুল করে অতিক্রম করে যেত না।

বান্দার জানা উচিত যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে পূর্ব থেকেই জানেন। তিনি তা অত্যন্ত সুদৃঢ় ও অটলভাবে নির্ধারণ করেছেন। তাঁর আসমান ও জমিনের সৃষ্টির মধ্যে এমন কেউ নেই যে একে বাতিল করতে পারে, পিছিয়ে দিতে পারে, দূর করতে পারে, পরিবর্তন করতে পারে, কমাতে পারে কিংবা বাড়াতে পারে। এটি ঈমানের বন্ধন, মারেফাতের মূলনীতি এবং আল্লাহ তাআলার তাওহিদ ও রুবুবিয়্যাতের স্বীকৃতির অন্তর্ভুক্ত। যেমন আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেছেন: {তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তা যথাযথ অনুপাতে নির্ধারণ করেছেন।} [ফুরকান: ২]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {আল্লাহর আদেশ সুনির্ধারিত তকদির।} [আহযাব: ৩৮]। সুতরাং ধ্বংস সেই ব্যক্তির জন্য যে তকদিরের বিষয়ে আল্লাহ তাআলার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয় এবং এ বিষয়ে অসুস্থ হৃদয় নিয়ে হাজির হয়। সে তার কাল্পনিক ধারণার মাধ্যমে অদৃশ্যের রহস্য অনুসন্ধানে এক গোপন বিষয় তালাশ করেছে এবং নিজের কথার মাধ্যমে সে চরম মিথ্যাবাদী ও পাপিষ্ঠে পরিণত হয়েছে।)(৩)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আত-তহাবী রচিত আল-আকিদাহ আত-তহাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১২ - ১৩, প্রথম সংস্করণ, শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ-এর টীকা সহ, মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ, কায়রো, ১৪১৫ হিজরি।

(২) আল-আকিদাহ আত-তহাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২২ - ২৩।

(৩) আল-আকিদাহ আত-তহাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৬ - ২৮।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: (مذهب أهل السنة والجماعة في هذا الباب وغيره، ما دل عليه الكتاب والسنة، وكان عليه السابقون الأولون من المهاجرين والأنصار، والذين اتبعوهم بإحسان، وهو أن الله خالق كل شيء، وربه، ومليكه، وقد دخل في ذلك جميع الأعيان القائمة بأنفسها، وصفاتها القائمة بها، من أفعال العباد، وغير أفعال العباد وأنه سبحانه ما شاء كان، وما لم يشأ لم يكن، فلا يكون في الوجود شيء إلا بمشيئته، وقدرته، لا يمتنع عليه شيء شاءه، بل هو قادر على كل شيء، ولا يشاء شيئا إلا وهو قادر عليه، وأنه - سبحانه - يعلم ما كان، وما يكون، وما لم يكن لو كان كيف يكون، وقد دخل في ذلك أفعال العباد، وغيرها، وقد قدر الله مقادير الخلائق قبل أن يخلقهم، قدر آجالهم، وأرزاقهم، وأعمالهم، وكتب ذلك، وكتب ما يصيرون إليه من سعادة، وشقاوة، فهم يؤمنون بخلقه لكل شيء، وقدرته على كل شيء، ومشيئته لكل ما كان، وعلمه بالأشياء قبل أن تكون، وتقديره لها، وكتابته إياها قبل أن تكون)(1).

إلى أن قال: (وسلف الأمة وأئمتها متفقون أيضا على أن العباد مأمورون بما أمرهم الله به، منهيون عما نهاهم عنه، ومتفقون على الإيمان بوعده، ووعيده الذي نطق به الكتاب والسنة، ومتفقون على أنه لا حجة لأحد على الله في واجب تركه، ولا محرم فعله، بل لله الحجة البالغة على عباده)(2).

وقال: (ومما اتفق عليه سلف الأمة وأئمتها مع إيمانهم بالقضاء والقدر، وأن الله خالق كل شيء، وأنه ما شاء كان، وما لم يشأ لم يكن، وأنه يضل من يشاء، ويهدي من يشاء أن العباد لهم مشيئة وقدرة، يفعلون بمشيئتهم، وقدرتهم ما أقدرهم الله عليه، مع قولهم: إن العباد لا يشاؤون إلا أن يشاء الله، كما قال الله تعالى: {كَلَّا إِنَّهُ تَذْكِرَةٌ (54) فَمَنْ شَاءَ ذَكَرَهُ (55) وَمَا يَذْكُرُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ هُوَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ (56)} [المدثر: 54 - 56])(3).

وقال أيضا: (مذهب أهل السنة والجماعة أن الله تعالى خالق كل شيء ومليكه، لا رب غيره ولا خالق سواه، ما شاء كان وما لم يشاء لم يكن، وهو على كل شيء قدير، وبكل شيء عليم، والعبد مأمور بطاعة الله، وطاعة رسوله، ومنهي عن معصية الله، ومعصية رسوله، فمن أطاع كان ذلك نعمة ومن عصى كان مستحقاً للذم والعقاب، وكان لله عليه الحجة البالغة، ولا حجة لأحد على الله تعالى، وكل ذلك كان بقضاء الله وقدره ومشيئته وقدرته، لكن يحب الطاعة ويأمر بها، ويثيب أهلها على فعلها ويكرمهم، ويبغض المعصية وينهى عنها، ويعاقب أهلها ويهينهم.

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى شيخ الإسلام (8/ 449 - 450).

(2) المرجع السابق (8/ 452).

(3) المرجع السابق (8/ 459).
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (এই বিষয় এবং অন্যান্য বিষয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব হলো তা-ই, কুরআন ও সুন্নাহ যা নির্দেশ করে এবং প্রথম পর্যায়ের অগ্রগামী মুহাজির ও আনসারগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন তারা যার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আর তা হলো আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা, রব এবং অধিপতি। এর অন্তর্ভুক্ত হলো স্বয়ং বিদ্যমান সকল সত্তা এবং সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট গুণাবলি, তা বান্দাদের কাজ হোক বা অন্য কিছু। তিনি যা চান তা-ই হয়, আর যা তিনি চান না তা হয় না। ফলে তাঁর ইচ্ছা ও ক্ষমতা ব্যতীত অস্তিত্বে কোনো কিছুই ঘটে না। তিনি যা ইচ্ছা করেন কোনো কিছুই তাঁকে তা থেকে বিরত রাখতে পারে না, বরং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান; তিনি এমন কিছুর ইচ্ছা করেন না যার ওপর তিনি সক্ষম নন। তিনি জানেন যা হয়েছে, যা হবে এবং যা হয়নি তা যদি হতো তবে কেমন হতো। বান্দাদের কাজ এবং অন্যান্য বিষয়ও এর অন্তর্ভুক্ত। সৃষ্টির পূর্বেই আল্লাহ সৃষ্টির তকদির নির্ধারণ করেছেন; তাদের আয়ু, রিজিক ও আমল নির্ধারণ করেছেন এবং তা লিখে রেখেছেন। আরও লিখেছেন তারা সৌভাগ্যবান হবে নাকি দুর্ভাগ্যবান। সুতরাং তারা বিশ্বাস করে যে, তিনি সবকিছুর স্রষ্টা, সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান, যা কিছু ঘটে তার সবকিছুর তিনি ইচ্ছাকারী এবং যা কিছু ঘটার আগেই তিনি সে সম্পর্কে অবগত, তার নির্ধারক এবং তা ঘটার পূর্বেই তিনি তা লিপিবদ্ধকারী)(১).

তিনি আরও বলেন: (উম্মতের সালাফ এবং ইমামগণ এ বিষয়েও একমত যে, বান্দাগণ আল্লাহ কর্তৃক আদিষ্ট বিষয়সমূহ পালনে আদিষ্ট এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকতে আদিষ্ট। তারা তাঁর প্রতিশ্রুতি এবং ধমকির ওপর ঈমান রাখার ব্যাপারে একমত যা কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে। তারা এ বিষয়েও একমত যে, কোনো ওয়াজিব বর্জন করা বা কোনো হারাম কাজ করার ক্ষেত্রে আল্লাহর বিরুদ্ধে কারো কোনো অজুহাত নেই; বরং বান্দাদের ওপর আল্লাহরই চূড়ান্ত প্রমাণ বিদ্যমান)(২).

তিনি বলেন: (উম্মতের সালাফ ও ইমামগণ ফয়সালা ও ভাগ্যের (কাজা ও কদর) ওপর ঈমান রাখার পাশাপাশি—অর্থাৎ আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা, তিনি যা চান তা হয় এবং যা তিনি চান না তা হয় না এবং তিনি যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন ও যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন—এ বিষয়েও একমত যে, বান্দাদের ইচ্ছা ও ক্ষমতা রয়েছে; আল্লাহ তাদেরকে যে সক্ষমতা দিয়েছেন তার মাধ্যমে তারা নিজস্ব ইচ্ছা ও ক্ষমতার দ্বারা কাজ করে। তবে তাদের বক্তব্য হলো: আল্লাহ না চাইলে বান্দারা কোনো ইচ্ছা করতে পারে না, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {কখনোই নয়, নিশ্চয় এটি একটি উপদেশ। (৫৪) অতএব যার ইচ্ছা সে তা স্মরণ রাখুক। (৫৫) আর আল্লাহ না চাইলে তারা তা স্মরণ রাখবে না। তিনিই তাকওয়ার অধিকারী এবং ক্ষমার অধিকারী (৫৬)} [আল-মুদ্দাসসির: ৫৪ - ৫৬])(৩).

তিনি আরও বলেন: (আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব হলো, আল্লাহ তাআলা সবকিছুর স্রষ্টা ও অধিপতি, তিনি ছাড়া কোনো রব নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো স্রষ্টা নেই। তিনি যা চান তা-ই হয় এবং যা তিনি চান না তা হয় না। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান এবং সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত। বান্দা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করতে আদিষ্ট এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা থেকে নিষিদ্ধ। সুতরাং যে আনুগত্য করে তা একটি অনুগ্রহ, আর যে অবাধ্য হয় সে নিন্দা ও শাস্তির যোগ্য এবং তার ওপর আল্লাহর চূড়ান্ত প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহ তাআলার বিরুদ্ধে কারো কোনো অজুহাত নেই। এসবই আল্লাহর ফয়সালা, কদর, ইচ্ছা ও ক্ষমতার মাধ্যমেই ঘটে। তবে তিনি আনুগত্য পছন্দ করেন এবং এর আদেশ দেন, আর আনুগত্যকারীদের তাদের কর্মের জন্য সওয়াব দেন ও সম্মানিত করেন। পক্ষান্তরে তিনি অবাধ্যতা ঘৃণা করেন এবং তা থেকে নিষেধ করেন, আর অবাধ্যদের শাস্তি দেন ও লাঞ্ছিত করেন।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম (৮/ ৪৪৯ - ৪৫০)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (৮/ ৪৫২)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (৮/ ৪৫৯)।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ২০)
وما يصيب العبد من النعم فالله أنعم بها عليه، وما يصيبه من الشر فبذنوبه ومعاصيه كما قال تعالى: {وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ} [الشورى: 30] وقال تعالى: {مَا أَصَابَكَ مِنْ حَسَنَةٍ فَمِنَ اللَّهِ وَمَا أَصَابَكَ مِنْ سَيِّئَةٍ فَمِنْ نَفْسِكَ} [النساء: 79]، أي ما أصابك من خصب ونصر وهدى فالله أنعم به عليك، وما أصابك من حزن وذل وشر فبذنوبك وخطاياك، وكل الأشياء كائنة بمشيئة الله، وقدرته وخلقه، فلا بد أن يؤمن العبد بقضاء الله وقدره، وأن يوقن العبد بشرع الله وأمره.

فمن نظر إلى الحقيقة القدرية وأعرض عن الأمر والنهي والوعد والوعيد كان مشابهاً للمشركين، ومن نظر إلى الأمر والنهي، وكذب بالقضاء والقدر كان مشابهاً للمجوسيين، ومن آمن بهذا وبهذا، فإذا أحسن حمد الله تعالى، وإذا أساء استغفر الله تعالى، وعلم أن ذلك بقضاء الله وقدره، فهو من المؤمنين)(1).

 

قال القحطاني رحمه الله في نونيته:

 

ركن الديانة أن تصدق بالقضا لا خير في بيت بلا أركان

الله قد علم السعادة والشقا وهما ومنزلتهما ضدان

لا يملك العبد الضعيف لنفسه رشداً ولا يقدر على خذلان

سبحان من يجري الأمور بحكمة في الخلق بالأرزاق والحرمان

نفذت مشيئته بسابق علمه في خلقه عدلاً بلا عدوان

والكل في أم الكتاب مسطر من غير إغفال ولا نقصان

فاقصد هديت ولا تكن متغالياً إن القدور تفور بالغليان(2)

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق (8/ 63 - 64).

(2) نونية القحطاني، لأبي محمد عبد الله بن محمد الأندلسي، ص 15، الطبعة الثالثة، تصحيح وتعليق محمد بن أحمد، مكتبة السوادي، جدة، 1415 هـ.
বান্দার কাছে যে নিয়ামতই আসুক না কেন, আল্লাহই তা তাকে দান করেছেন। আর তার কাছে যে অনিষ্ট পৌঁছে, তা তার নিজের পাপ ও অবাধ্যতার কারণেই পৌঁছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের উপর যে বিপদই আসুক না কেন, তা তোমাদের নিজেদের হাতের অর্জিত কাজের কারণেই} [আশ-শুরা: ৩০] এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমার কাছে যে কল্যাণ পৌঁছে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তোমার কাছে যে অকল্যাণ পৌঁছে তা তোমার নিজের পক্ষ থেকে} [আন-নিসা: ৭৯], অর্থাৎ তোমার কাছে যে প্রাচুর্য, বিজয় ও হিদায়াত পৌঁছে, আল্লাহই তা তোমাকে নিয়ামত হিসেবে দিয়েছেন; আর তোমার কাছে যে দুঃখ, লাঞ্ছনা ও অনিষ্ট পৌঁছে, তা তোমার পাপ ও ত্রুটির কারণেই। আর সব কিছুই আল্লাহর ইচ্ছা, তাঁর ক্ষমতা ও তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমেই হয়ে থাকে। সুতরাং বান্দার জন্য আল্লাহর ফয়সালা ও নির্ধারণের (তাকদীরের) উপর ঈমান আনা অপরিহার্য, এবং বান্দার জন্য আল্লাহর শরীয়ত ও তাঁর নির্দেশের উপর দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা আবশ্যক।

অতএব, যে ব্যক্তি কেবল তাকদীরের হাকীকতের দিকে তাকায় এবং আদেশ-নিষেধ ও পুরস্কার-শাস্তির প্রতিশ্রুতি থেকে বিমুখ হয়, সে মুশরিকদের সদৃশ হলো। আর যে ব্যক্তি আদেশ ও নিষেধের দিকে তাকায় এবং আল্লাহর ফয়সালা ও নির্ধারণকে অস্বীকার করে, সে অগ্নিপূজকদের (মাজুসি) সদৃশ হলো। আর যে ব্যক্তি এই উভয় বিষয়ের উপর ঈমান আনে, সে যদি ভালো কাজ করে তবে আল্লাহর প্রশংসা করে, আর যদি মন্দ কাজ করে তবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং সে বিশ্বাস করে যে তা আল্লাহর ফয়সালা ও নির্ধারণ অনুসারেই হয়েছে; তবে সে মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত।(১).

 

কাহ্তানী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর নূনিয়া কবিতায় বলেছেন:

 

দ্বীনের রুকন হলো তুমি তাকদীরের ফয়সালাকে সত্য বলে মানবে, খুঁটিহীন ঘরে কোনো কল্যাণ নেই তা তুমি জানবে।

আল্লাহ সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত আছেন, আর এ দুটি বিষয় ও এদের গন্তব্য পরস্পর বিপরীত অবস্থানে।

দুর্বল বান্দা নিজের জন্য হিদায়াতের মালিক হতে পারে না, আর না সে লাঞ্ছনা ও সাহায্যহীনতা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখে।

পবিত্র সেই সত্তা, যিনি মাখলুকের মাঝে রিযিক দান ও বঞ্চিত করার মাধ্যমে সব বিষয় প্রজ্ঞার সাথে পরিচালনা করেন।

তাঁর অনাদি জ্ঞানের ভিত্তিতে তাঁর ইচ্ছা সৃষ্টির মাঝে বাস্তবায়িত হয়, যা ইনসাফপূর্ণ এবং কোনো যুলুম তাতে নেই।

সব কিছুই ‘উম্মুল কিতাব’ তথা মূল কিতাবে লিখে রাখা হয়েছে, কোনো কিছু বাদ দেওয়া হয়নি এবং কোনো ঘাটতিও নেই।

সুতরাং তুমি মধ্যপন্থা অবলম্বন করো ও হিদায়াতপ্রাপ্ত হও, চরমপন্থা অবলম্বন করো না, নিশ্চয়ই তাকদীর ফুটন্ত পানির মতো টগবগ করে।(২)

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত সূত্র (৮/ ৬৩ - ৬৪)।

(২) নূনিয়া আল-কাহ্তানী, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-আন্দালুসি রচিত, পৃষ্ঠা ১৫, তৃতীয় সংস্করণ, সংশোধন ও টীকা: মুহাম্মদ বিন আহমদ, মাকতাবাতুস সাওয়াদি, জেদ্দা, ১৪১৫ হিজরী।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الفصل الرابع: ثمرات الإيمان بالقضاء والقدر

 

الإيمان بالقدر على الوجه الصحيح يثمر ثمرات جليلة تعود على الأفراد والمجتمعات، في الدنيا والآخرة، فمن تلك الثمرات ما يلي:

1 - أن الإيمان لا يتم إلا بالإيمان بالقدر:

وهذه الثمرة هي أعظم الثمار فالعبد لا يكون مؤمن حتى يؤمن بأركان الإيمان الستة ومنها الإيمان بالقضاء والقدر، عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه في سؤال جبريل عليه السلام الرسول صلى الله عليه وسلم عن الإيمان قال: «أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وتؤمن بالقدر خير وشره. قال: -يعني جبريل- صدقت»(1).

وعن جابر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا يؤمن عبد حتى يؤمن بالقدر خيره وشره من الله، وحتى يعلم أن ما أصابه لم يكن ليخطئه، وأن ما أخطأه لم يكن ليصيبه»(2).

2 - من ثمرات الإيمان بالقدر: أن الإيمان الكامل يمنع من دخول النار والإيمان ولو قليلاً يمنع من الخلود فيها(3):

وهذا متعلق بالثمرة التي قبله، فإذا حقق الإيمان - ولا يمكن أن يحققه إلا بالإيمان بالقدر- كان ذلك مانعا له من دخول النار، أما إذا كان الإيمان ناقصا بسب ضعف إيمانه بالقدر فإنه قد يكون ذلك ذلك النقص سببا لدخوله للنار؛ ولكنه لا يخلد فيها. قال الله تعالى: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ (82)} [الأنعام: 82].

3 - من ثمرات الإيمان بالقدر: حصول طعم الإيمان ومغفرة الذنوب ودخول الجنة:

لن يذوق أحد طعم الإيمان إلا من رضي بقدر الله عليه، ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: «ذاق طعم الإيمان من رضي بالله رباً، وبالإسلام ديناً، وبمحمد رسولاً»(4). والرضى بذلك يقتضي الفرح بذلك، والسرور بربوبية الله وحسن تدبيره واقضيته عليه(5).

--------------------------------------------

(1) سبق تخريجه ص 1 حاشية رقم 1.

(2) سبق تخريجه ص 6 حاشية رقم 4.

(3) التوضيح لشجرة الإيمان ص 73، الطبعة الأولى، اعتنى به أشرف عبد المقصود، أضواء السلف، الرياض، 1419 هـ ..

(4) رواه مسلم، كتاب الإيمان، باب ذاق طعم الإيمان (2/ 2 - شرح النووي).

(5) ابن سعدي، التوضيح والبيان لشجرة الإيمان ص 30.
চতুর্থ অধ্যায়: ক্বাযা ও ক্বদরের প্রতি ঈমানের ফলসমূহ

 

সঠিক পন্থায় ক্বদরের প্রতি ঈমান আনয়ন দুনিয়া ও আখিরাতে ব্যক্তি ও সমাজের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ফল বয়ে আনে। সেই ফলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - ক্বদরের প্রতি ঈমান ব্যতীত ঈমান পূর্ণ হয় না:

এটি হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ঠ ফল। কারণ, একজন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারে না যতক্ষণ না সে ঈমানের ছয়টি রুকনের প্রতি ঈমান আনবে, যার অন্যতম হলো ক্বাযা ও ক্বদরের প্রতি ঈমান। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, জিবরাঈল আলাইহিস সালাম যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: «তা হলো— তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনবে এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনবে। তিনি (অর্থাৎ জিবরাঈল) বললেন: আপনি সত্য বলেছেন»(১)।

জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনবে যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে, এবং যতক্ষণ না সে নিশ্চিতভাবে জানবে যে, তার কাছে যা পৌঁছেছে তা তাকে ভুল করে এড়িয়ে যাওয়ার ছিল না, আর যা তাকে এড়িয়ে গেছে তা তার কাছে পৌঁছানোর ছিল না»(২)।

২ - ক্বদরের প্রতি ঈমানের ফলসমূহের মধ্যে একটি হলো: পূর্ণ ঈমান জাহান্নামে প্রবেশ থেকে রক্ষা করে এবং ঈমান সামান্য হলেও তা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়া থেকে বিরত রাখে(৩):

এটি পূর্ববর্তী ফলের সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং যখন ঈমান বাস্তবায়িত হয় —আর ক্বদরের প্রতি ঈমান ব্যতিরেকে তা পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়— তখন তা ব্যক্তিকে জাহান্নামে প্রবেশ থেকে বাধা দান করে। আর যদি ক্বদরের প্রতি ঈমানের দুর্বলতার কারণে ঈমান ত্রুটিপূর্ণ হয়, তবে সেই ত্রুটি তার জাহান্নামে প্রবেশের কারণ হতে পারে; কিন্তু সে সেখানে চিরকাল থাকবে না। মহান আল্লাহ বলেন: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলমের (শির্কের) সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত (৮২)} [আল-আনআম: ৮২]।

৩ - ক্বদরের প্রতি ঈমানের অন্যতম ফল: ঈমানের স্বাদ আস্বাদন, গুনাহ মাফ এবং জান্নাতে প্রবেশ:

যে ব্যক্তি তার উপর আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট নয়, সে কখনোই ঈমানের স্বাদ পাবে না। এজন্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সেই ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করেছে, যে আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদকে রাসূল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছে»(৪)। আর এসবে সন্তুষ্ট থাকার দাবি হলো এতে আনন্দিত হওয়া এবং আল্লাহর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব), তাঁর উত্তম পরিচালনা ও বান্দার প্রতি তাঁর ফয়সালাসমূহে খুশি থাকা(৫)।

--------------------------------------------

(১) ইতিপূর্বে পৃষ্ঠা ১, টীকা নং ১-এ এর তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।

(২) ইতিপূর্বে পৃষ্ঠা ৬, টীকা নং ৪-এ এর তথ্যসূত্র উল্লেখ করা হয়েছে।

(৩) আত-তাওদীহ লি-শাজারাতিল ঈমান, পৃষ্ঠা ৭৩, প্রথম সংস্করণ, সম্পাদনায় আশরাফ আব্দুল মাকসূদ, আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ, ১৪১৯ হিজরি।

(৪) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল ঈমান, ঈমানের স্বাদ আস্বাদন পরিচ্ছেদ (২/২ - শরহে নববী)।

(৫) ইবনে সাদী, আত-তাওদীহ ওয়াল বয়ান লি-শাজারাতিল ঈমান, পৃষ্ঠা ৩০।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ২২)
والإيمان بربوبية الله يقتضي أيضاً الإيمان والتسليم لتدبيره لكل شيء من شؤون العبد، بل ولشؤون الكون كله.

ومن وصل إلى هذه المنزلة من الرضا فإنه يستحق المغفرة، إذ يقول النبي صلى الله عليه وسلم: «من قال حين يسمع المؤذن: وأنا أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، رضيت بالله رباً، وبمحمد رسولاً، وبالإسلام ديناً، غفر له ذنبه»(1).

بل إن هذا يمتد أثره إلى يوم القيامة، حتى يكون حقاً على الله أن يرضيه ويدخله الجنة. يقول النبي صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه: «ما لعبدي عندي جزاء إذا قبضت صفيه من أهل الدنيا، ثم احتسبه إلا الجنة»(2).

4 - من ثمرات الإيمان بالقدر: تحقيق العبودية لله عز وجل:

وهو الغاية التي شمر إليها السالكون، وأمها القاصدون، ولحظ إليها العاملون، فتقر عينه بربه، ويسكن إليه قلبه، وتطمئن إليه جوارحه ويستولي ذكره على لسان محبه وقلبه، وتنقاد الجوارح لطاعته(3)، وذلك لأنه عبد لله، مربوب له يتصرف به كيف شاء، فيرض ويسلم بقضاء الله وقدره، فيعلم أن منع الله سبحانه وتعالى لعبده المؤمن المحب عطاء، وابتلاءه إياه عافية. قال سفيان الثوري: منعه عطاء، وذلك: أنه لم يمنع عن بخل ولا عدم، وإنما نظر في خير عبده المؤمن فمنعه اختياراً وحسن نظر، وهذا كما قال؛ فإنه سبحانه لا يقضى لعبده المؤمن قضاء إلا كان خيراً له، ساءه ذلك القضاء أو سره. فقضاؤه لعبده المؤمن المنع عطاء؛ وإن كان في صورة المنع. ونعمة وإن كانت في صورة محنه. وبلاؤه عافية؛ وإن كان في صورة بلية. ولكن لجهل العبد وظلمه لا يعد العطاء والنعمة والعافية إلا ما التذ به في العاجل، وكان ملائماً لطبعه، ولو رزق من المعرفة حظاً وافراً لعد المنع نعمة، والبلاء رحمة، وتلذذ بالبلاء أكثر منه لذته بالعافية، وتلذذ بالفقر أكثر من لذته بالغنى، وكان في حال القلة أعظم شكراً من حال الكثرة(4).

ويكون كالأعرابي الذي أصبح وقد مات له أباعر كثيرة فقال:

لا والذي أنا عبد في عبادته لولا شماتة أعداء ذوي إحن

ما سرني أن إبلي في مباركها وأن شيئاً قضاه الله لم يكن(5)

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم، كتاب الصلاة، باب استحباب القول مثل قول المؤذن (4/ 86 - شرح النووي).

(2) رواه البخاري، كتاب الرقاق، باب العمل الذي يبتغى به وجه الله (11/ 241 - فتح الباري).

(3) مدارج السالكين ص (1/ 430 - 431)، تحقيق محمد حامد الفقي، دار الرشاد الحديثة، الدار البيضاء، المغرب.

(4) المرجع السابق (2/ 215 - 216).

(5) مختصر منهج القاصدين للمقدسي، ص 338، الطبعة الثانية، تعليق عبد الله الأنصاري، دار المعرفة، بيروت، 1416 هـ.
আল্লাহর রুবুবিয়্যাতের ওপর ঈমান আনা বান্দার যাবতীয় বিষয়, এমনকি সমগ্র মহাবিশ্বের সকল বিষয় পরিচালনায় তাঁর তদ্বির বা ব্যবস্থাপনার প্রতি ঈমান ও আত্মসমর্পণের দাবি রাখে।

আর যে ব্যক্তি সন্তুষ্টির এই স্তরে পৌঁছাতে পারে, সে ক্ষমার যোগ্য হয়ে যায়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আযান শোনার সময় বলে: আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, মুহাম্মাদকে রাসূল হিসেবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হয়েছি, তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়»(১)।

বরং এর প্রভাব কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, এমনকি আল্লাহর ওপর তাঁকে সন্তুষ্ট করা এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো একটি পাওনা হয়ে দাঁড়ায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রব থেকে বর্ণনা করে বলেন: «আমার মুমিন বান্দার জন্য আমার কাছে জান্নাত ছাড়া আর কোনো প্রতিদান নেই, যখন আমি দুনিয়াবাসীদের মধ্য থেকে তার কোনো প্রিয়জনকে কবজ করে নিই, আর সে সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করে»(২)।

৪ - তাকদীরের ওপর ঈমান আনার অন্যতম ফল হলো: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পূর্ণ দাসত্ব (উবুদিয়্যাত) অর্জন করা:

এটিই সেই লক্ষ্য যার দিকে লক্ষ্যস্থিরকারীরা দ্রুত অগ্রসর হয়েছে, এটিই সেই গন্তব্য যার দিকে অভিপ্রায়ীরা মনোনিবেশ করেছে এবং কর্মীরা তাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। ফলে বান্দার চোখ তার রবকে পেয়ে শীতল হয়, তার অন্তর তাঁর কাছে প্রশান্তি পায়, তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাঁর অনুগত হয় এবং তাঁর প্রেমিকের জবান ও অন্তরে তাঁরই জিকির আধিপত্য বিস্তার করে; আর তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাঁর আনুগত্যের প্রতি অনুগত হয়ে পড়ে(৩)। এটি এ কারণে যে, সে আল্লাহর বান্দা, তাঁর দ্বারা প্রতিপালিত; তিনি তাকে যেভাবে ইচ্ছে পরিচালনা করেন। ফলে সে আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের সামনে সন্তুষ্ট থাকে ও আত্মসমর্পণ করে। সে জানে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর প্রিয় মুমিন বান্দাকে কোনো কিছু প্রদান না করাটাও এক প্রকার দান, এবং তাঁর পক্ষ থেকে আপতিত পরীক্ষা মূলত এক প্রকার নিরাপত্তা। সুফয়ান আস-সাওরী বলেন: তাঁর প্রদান না করাটাও একটি দান। আর তা এ কারণে যে: তিনি কার্পণ্য বা সামর্থ্যের অভাবে প্রদান করা থেকে বিরত থাকেন না, বরং তিনি তাঁর মুমিন বান্দার কল্যাণের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন; ফলে তিনি উত্তম বিবেচনা ও সদিচ্ছার ভিত্তিতেই কিছু প্রদান করা থেকে বিরত থাকেন। তিনি যেমনটি বলেছেন বিষয়টি তেমনই; কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর মুমিন বান্দার জন্য যে ফয়সালাই করুন না কেন, তা তার জন্য কল্যাণকর হয়—চাই সেই ফয়সালা তাকে ব্যথিত করুক কিংবা আনন্দিত করুক। সুতরাং তাঁর মুমিন বান্দার প্রতি কোনো কিছু না দেওয়ার ফয়সালা মূলত একটি দান, যদিও বাহ্যিকভাবে তা না দেওয়ার সুরতে প্রকাশ পায়। আর এটি একটি নেয়ামত, যদিও তা পরীক্ষার সুরতে আসে। তাঁর পক্ষ থেকে আসা বিপদ মূলত নিরাপত্তা, যদিও তা সংকটের সুরতে দেখা যায়। কিন্তু বান্দার মূর্খতা ও অন্যায়ের কারণে সে কেবল সেই বস্তুকেই দান, নেয়ামত ও নিরাপত্তা মনে করে যা সে তৎক্ষণাৎ ভোগ করতে পারে এবং যা তার স্বভাবের অনুকূল হয়। যদি তাকে মারেফাত বা আল্লাহর পরিচয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান দান করা হতো, তবে সে দান না করাকেও নেয়ামত মনে করত এবং বিপদকে রহমত গণ্য করত। তখন সে বিপদে ততটা স্বাদ পেত যতটা সে সুস্থতায় পায়, এবং দারিদ্র্যে তার স্বাদ সচ্ছলতার চেয়ে বেশি হতো। আর অল্প প্রাপ্তির অবস্থায় তার শুকরিয়া প্রাচুর্যের অবস্থার চেয়েও মহত্তর হতো(৪)।

সে তখন সেই বেদুইন আরবের মতো হয়ে যায়, যার অনেকগুলো উট মারা যাওয়ার পর সে বলেছিল:

না, যাঁর ইবাদতে আমি মগ্ন তাঁর শপথ! যদি হিংসুক শত্রুদের বিদ্রূপের ভয় না থাকত—

তবে আমার উটগুলো তাদের আস্তাবলে বহাল তবিয়তে থাকা এবং আল্লাহর ফয়সালাকৃত কোনো বিষয় সংঘটিত না হওয়া আমাকে বিন্দুমাত্র আনন্দিত করত না(৫)

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন, সালাত অধ্যায়, মুয়াযযিনের অনুরূপ বলা মুস্তাহাব অনুচ্ছেদ (৪/৮৬ - শরহে নববী)।

(২) বুখারী বর্ণনা করেছেন, রিকাক অধ্যায়, যে আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয় অনুচ্ছেদ (১১/২৪১ - ফাতহুল বারী)।

(৩) মাদারিজুস সালিকিন, পৃষ্ঠা (১/৪৩০ - ৪৩১), সম্পাদনা: মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফাকী, দারুর রাশাদ আল-হাদিসা, কাসাব্লাঙ্কা, মরক্কো।

(৪) প্রাগুক্ত উৎস (২/২১৫ - ২১৬)।

(৫) মাকদিসী রচিত মুখতাসার মিনহাজুল কাসিদিন, পৃষ্ঠা ৩৩৮, দ্বিতীয় সংস্করণ, আব্দুল্লাহ আল-আনসারীর টীকা সহ, দারুল মা'রিফা, বৈরুত, ১৪১৬ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ২৩)
قال ابن القيم: (لله سبحانه على عبده أمر أمره به، وقضاء يقضيه عليه، ونعمة ينعم بها عليه، فلا ينفك من هذه الثلاثة.

والقضاء نوعان: إما مصائب وإما معايب. وله عليه عبودية في هذه المراتب كلها.

فأحب الخلق إليه من عرف عبوديته في هذه المراتب ووفاها حقها فهذا أقرب الخلق إليه. وأبعدهم منه من جهل عبوديته في هذه المراتب كلها.

فعبوديته في الأمر: امتثاله، إخلاصاً واقتداءً برسول الله صلى الله عليه وسلم، وفي النهي: اجتنابه، خوفاً منه وإجلالاً ومحبة.

وعبوديته في قضاء المصائب: الصبر عليها، ثم الرضا بها، وهو أعلى منه، ثم الشكر عليها، وهو أعلى من الرضا، وهذا إنما يتأتى منه إذا تمكن حبه من قلبه، وعلم حسن اختياره له وبره به، ولطفه به، وإحسانه إليه بالمصيبة، وإن كره المصيبة.

وعبوديته في قضاء المعائب: المبادرة إلى التوبة منها، والتنصل والوقوف في مقام الاعتذار والانكسار، عالماً بأنه لا يرفعها إلا هو، ولا يقيه شرها سواه، وأنها إن استمرت أبعدته من قربه، وطردته من بابه، فيراها من الضر الذي لا يكشفه غيره، حتى إنه ليراها أعظم من ضر البدن …

وأما عبودية النعم فمعرفتها والاعتراف بها أولا، ثم العياذ به أن يقع في قلبه نسبتها وإضافتها إلى سواه وإن كان سببا من الأسباب فهو مسببه ومقيمه، فالنعمة منه وحده بكل وجه واعتبار، ثم الثناء بها عليه ومحبته عليها وشكره بأن يستعملها في طاعته)(1).

وفي الإيمان بالقدر: الاعتراف بأنه مربوب مدبر مأمور منهي، إنما يتصرف بحكم العبودية، لا بحكم الاختيار لنفسه.

والله سبحانه وتعالى هو المتصرف فيه، فنفسه بيد ربه وسيده، وناصيته بيده وقلبه بين أصبعين من أصابعه، وموته وحياته، وسعادته وشقاوته، وعافيته وبلاؤه كله إليه سبحانه، ليس إلى العبد منه شيء. فهو عبد لله من جميع الوجوه، صغيراً وكبيراً، حياً وميتاً، مطيعاً وعاصياً، معافى ومبتلى، بالروح والقلب واللسان والجوارح(2).

--------------------------------------------

(1) الفوائد ص 46 - 47، ترتيب وتعليق علي حسن عبد الحميد، دار ابن الجو زي، الدمام، 1417 هـ ..

(2) الفوائد ص 50 - 52.
ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: (আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার তাঁর বান্দার উপর একটি নির্দেশ রয়েছে যা তিনি তাকে দিয়েছেন, একটি ফয়সালা রয়েছে যা তিনি তার উপর কার্যকর করেন এবং একটি নিয়ামত রয়েছে যা তিনি তাকে দান করেন। সুতরাং বান্দা এই তিনটি অবস্থা থেকে মুক্ত নয়।

আর ফয়সালা দুই প্রকার: হয় তা বিপদ-আপদ, অথবা তা ত্রুটি-বিচ্যুতি। আর এই প্রতিটি স্তরেই তাঁর জন্য বান্দার উপর বন্দেগি বা দাসত্ব রয়েছে।

সুতরাং তাঁর নিকট সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে এই সকল স্তরে তার বন্দেগি বা দাসত্ব সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং তার হক যথাযথভাবে আদায় করেছে; আর সে-ই সৃষ্টির মধ্যে তাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তী। আর তাঁর থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী সেই ব্যক্তি, যে এই সকল স্তরে নিজের বন্দেগি বা দাসত্ব সম্পর্কে অজ্ঞ।

নির্দেশের ক্ষেত্রে বন্দেগি হলো: ইখলাস বা নিষ্ঠার সাথে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণে তা পালন করা। আর নিষেধের ক্ষেত্রে বন্দেগি হলো: তাঁর ভয়, মহিমা ও ভালোবাসার কারণে তা পরিহার করা।

বিপদ-আপদের ফয়সালার ক্ষেত্রে বন্দেগি হলো: তার ওপর সবর বা ধৈর্য ধারণ করা, অতঃপর তাতে সন্তুষ্ট থাকা (যা সবরের চেয়েও উচ্চতর স্তর), তারপর তার ওপর শোকর বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা (যা সন্তুষ্টির চেয়েও উচ্চতর স্তর)। আর এটি তখনই সম্ভব হয় যখন তাঁর প্রতি ভালোবাসা বান্দার অন্তরে বদ্ধমূল হয় এবং সে জানতে পারে যে, আল্লাহ তার জন্য যা পছন্দ করেছেন তা উত্তম এবং তাঁর মহানুভবতা, দয়া, করুণা ও এই বিপদের মাধ্যমেই তার প্রতি করা অনুগ্রহ সম্পর্কে অবগত হয়, যদিও সে বিপদকে অপছন্দ করে।

ত্রুটি-বিচ্যুতির ফয়সালার ক্ষেত্রে বন্দেগি হলো: দ্রুত তওবা করা, দায়মুক্ত হওয়া এবং ক্ষমা প্রার্থনা ও বিনয়ের সাথে আল্লাহর দরবারে দাঁড়ানো। সে বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ তা দূর করতে পারে না এবং তিনি ছাড়া কেউ তাকে এর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতে পারে না। আর এই ত্রুটি যদি অব্যাহত থাকে তবে তা তাকে আল্লাহর নৈকট্য থেকে দূরে সরিয়ে দেবে এবং তাঁর দরবার থেকে বিতাড়িত করবে। তাই সে এই ত্রুটিকে এমন ক্ষতি হিসেবে দেখে যা আল্লাহ ছাড়া কেউ দূর করতে পারে না, এমনকি সেটিকে শারীরিক ক্ষতির চেয়েও বড় মনে করে... …

আর নিয়ামতের বন্দেগি হলো: প্রথমত তা চেনা এবং স্বীকার করা। অতঃপর তাঁর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা যাতে তার অন্তরে নিয়ামতকে অন্য কারও দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার খেয়াল না আসে—যদিও বাহ্যিক কোনো কারণ বা মাধ্যম থাকে, তবুও আল্লাহই সেই কারণের স্রষ্টা ও পরিচালক। সুতরাং নিয়ামত সর্বদিক থেকে ও সকল বিবেচনায় কেবল তাঁর পক্ষ থেকেই। এরপর সেই নিয়ামতের মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করা, এর জন্য তাঁকে ভালোবাসা এবং তাঁর আনুগত্যের কাজে নিয়ামতকে ব্যয় করার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা আদায় করা)(১)।

আর তাকদিরের ওপর ঈমান আনার ক্ষেত্রে বন্দেগি হলো: এই স্বীকারোক্তি দেওয়া যে, সে (বান্দা) লালিত-পালিত, পরিচালিত, আদিষ্ট ও নিষিদ্ধ। সে কেবল বন্দেগির বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়, নিজের ইচ্ছানুযায়ী নয়।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাই তার সকল বিষয়ের নিয়ন্ত্রক। সুতরাং তার সত্তা তার রব ও মালিকের হাতে, তার কপালের চুল আল্লাহর হাতে এবং তার অন্তর আল্লাহর আঙুলসমূহের মধ্য থেকে দুটি আঙুলের মাঝে। তার মৃত্যু ও জীবন, তার সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য, তার সুস্থতা ও বিপদ—সবই সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অধিকারে; এতে বান্দার কোনো কিছু করার নেই। সুতরাং সে সকল দিক থেকেই আল্লাহর গোলাম—ছোট হোক বা বড়, জীবিত হোক বা মৃত, অনুগত হোক বা অবাধ্য, সুস্থ হোক বা বিপদে নিপতিত, তার রুহ, অন্তর, জিহ্বা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সবই আল্লাহর মালিকানাধীন(২)।

--------------------------------------------

(১) আল-ফাওয়ায়িদ, পৃ. ৪৬ - ৪৭, বিন্যাস ও টীকা: আলী হাসান আব্দুল হামিদ, দার ইবনুল জাওজি, দাম্মাম, ১৪১৭ হিজরি।

(২) আল-ফাওয়ায়িদ, পৃ. ৫০ - ৫২।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ২৪)
5 - من ثمرات الإيمان بالقدر: أن الإيمان بالقدر طريق إلى توحيد الله:

(وهو أن يشهد انفراد الرب تبارك وتعالى بالخلق والحكم، وأنه ما شاء كان وما لم يشأ لم يكن، وأنه لا تتحرك ذرة إلا بإذنه. وأن الخلق مقهورون تحت قبضته، وأنه ما من قلب إلا وهو بين إصبعين من أصابعه. إن شاء أن يقيمه أقامه، وإن شاء يزيغه أزاغه. فالقلوب بيده. وهو مقلبها ومصرفها كيف شاء وكيف أراد، وأنه هو الذي آتى نفوس المؤمنين تقواها، وهو الذي هداها وزكاها وألهم نفوس الفجار وأشقاها، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، يهدي من يشاء بفضله ورحمته، ويضل من يشاء بعدله وحكمته. هذا فضله وعطاؤه، وما فضل الكريم بمنون. وهذا عدله وقضاؤه {لَا يُسْأَلُ عَمَّا يَفْعَلُ وَهُمْ يُسْأَلُونَ (23)} [الأنبياء: 23](1).

(وبهذا يتحقق للعبد مقام {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (5)} علماً وحالا، فيثبت قدم العبد في توحيد الربوبية، ثم يرقى منه صاعداً إلى توحيد الإلهية. فإنه إذا تيقن أن الضر والنفع، والعطاء والمنع، والهدى والضلال، والسعادة والشقاء: كل ذلك بيد الله لا بيد غيره، وأنه الذي يقلب القلوب، ويصرفها كيف يشاء وأنه لا موفق إلا من وفقه وأعانه، ولا مخذول إلا من خذله وأهانه وتخلى عنه. وأن أصح القلوب وأسلمها وأقومها، وأرقها وأصفاها، وأشدها وألينها: من اتخذه وحده إلهاً ومعبوداً. فكان أحب إليه من كل ما سواه، وأخوف عنده من كل ما سواه، وأرجى له من كل سواه. فتتقدم محبته في قلبه جميع المحاب، فتنساق المحاب تبعاً لها كما ينساق الجيش تبعاً للسلطان. ويتقدم خوفه في قلبه جميع المخوفات، فتنساق المخاوف كلها تبعاً لخوفه. ويتقدم رجاؤه في قلبه جميع الرجاء، فينساق كل رجاء تبعاً لرجائه.

فهذا علامة توحيد الإلهية في هذا القلب، والباب الذي دخل إليه منه توحيد الربوبية، أي باب توحيد الإلهية: هو توحيد الربوبية)(2).

6 - من ثمرات الإيمان بالقدر: التعبد لله بأسمائه وصفاته: وهو معرفة تعلق الوجود خلقاً وأمراً بالأسماء الحسنى، والصفات العلا، وارتباطه بها، وإن كان العالم - بما فيه - من بعض آثارها ومقتضياتها(3).

فمن أسمائه سبحانه " الغفار، التواب، العفوّ " فلا بد لهذه الأسماء من متعلقات، ولابد من جناية تغفر، وتوبة تقبل، وجرائم يعفى عنها. ولا بد لاسمه " الحكيم " من متعلق يظهر في حكمه. إذ اقتضاء هذه الأسماء لآثارها كاقتضاء اسم " الخالق، الرازق، المعطى، المانع " للمخلوق والمرزوق والمعطى والممنوع. وهذه الأسماء كلها حسنى.

--------------------------------------------

(1) مدارج السالكين (1/ 410).

(2) المرجع السابق (1/ 411).

(3) المرجع السابق (1/ 417).
৫ - তকদীরের ওপর ঈমানের অন্যতম ফলাফল: তকদীরের ওপর ঈমান আনা আল্লাহর তাওহিদের একটি পথ:

(আর তা হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, বরকতময় ও সুউচ্চ রব সৃষ্টি ও ফয়সালার ক্ষেত্রে একক। তিনি যা চান তা-ই হয়, আর তিনি যা চান না তা হয় না। তাঁর অনুমতি ব্যতীত একটি অণুও নড়াচড়া করে না। সমস্ত সৃষ্টি তাঁর হাতের মুঠোয় বশীভূত। এমন কোনো অন্তর নেই যা তাঁর আঙুলসমূহের মধ্য থেকে দুই আঙুলের মাঝে অবস্থিত নয়। তিনি যদি চান তবে তাকে সোজা রাখেন, আর যদি চান তবে তাকে বিপথগামী করেন। সুতরাং অন্তরসমূহ তাঁর হাতে। তিনি যেভাবে ইচ্ছা এবং যেভাবে চান তা পরিবর্তন করেন ও ফিরিয়ে দেন। তিনিই মুমিনদের আত্মাকে তাকওয়া দান করেছেন, তিনিই একে হেদায়েত দিয়েছেন ও পবিত্র করেছেন। আর পাপাচারীদের আত্মাকে পাপাচারের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন ও দুর্ভাগা করেছেন। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। তিনি তাঁর অনুগ্রহ ও রহমতে যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দেন, আর তাঁর ন্যায়বিচার ও প্রজ্ঞায় যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন। এটি তাঁর অনুগ্রহ ও দান, আর মহান দাতার অনুগ্রহ অফুরন্ত। এটি তাঁর ন্যায়বিচার ও ফয়সালা: {তিনি যা করেন সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না, বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে (২৩)} [আল-আম্বিয়া: ২৩](১)।

(এর মাধ্যমেই বান্দার জন্য জ্ঞান ও অবস্থা অনুযায়ী {আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি এবং কেবল তোমারই সাহায্য চাই (৫)} এই মাকাম অর্জিত হয়। ফলে রুবুবিয়্যাতের তাওহিদের ক্ষেত্রে বান্দার পদযুগল দৃঢ় হয়, অতঃপর তা থেকে সে উলুহিয়্যাতের তাওহিদে উন্নীত হয়। কেননা যখন সে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে ক্ষতি ও লাভ, দান ও বারণ, হেদায়েত ও পথভ্রষ্টতা, সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য—এই সবই আল্লাহর হাতে, অন্য কারো হাতে নয়; এবং তিনিই অন্তরসমূহ পরিবর্তন করেন ও যেভাবে ইচ্ছা পরিচালনা করেন; আর যাকে তিনি তাওফিক দেন ও সাহায্য করেন সে ছাড়া অন্য কেউ সফল হয় না; আর যাকে তিনি লাঞ্ছিত করেন, অপমানিত করেন ও বর্জন করেন সে ছাড়া অন্য কেউ পরিত্যক্ত হয় না। আর সবচাইতে সুস্থ, নিরাপদ, সঠিক, কোমল, স্বচ্ছ, মজবুত ও নরম অন্তর হচ্ছে সেই ব্যক্তির, যে আল্লাহকেই একমাত্র ইলাহ ও মাবুদ হিসেবে গ্রহণ করেছে। ফলে আল্লাহ তার কাছে অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয়, অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক ভীতিপ্রদ এবং অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক আশার স্থল হন। তখন তাঁর মহব্বত তার হৃদয়ে অন্য সকল ভালোবাসার ওপর প্রাধান্য পায়, ফলে অন্য সকল ভালোবাসা এর অনুগামী হয় ঠিক যেভাবে সেনাবাহিনী সুলতানের অনুগামী হয়। তাঁর ভয় তার হৃদয়ে অন্য সকল ভয়ের ওপর প্রাধান্য পায়, ফলে অন্য সকল ভয় তাঁর ভয়ের অনুগামী হয়। তাঁর প্রতি আশা তার হৃদয়ে অন্য সকল আশার ওপর প্রাধান্য পায়, ফলে অন্য সকল আশা তাঁর প্রতি আশার অনুগামী হয়।

এটিই সেই হৃদয়ে উলুহিয়্যাতের তাওহিদের লক্ষণ। আর যে দরজা দিয়ে সে এতে প্রবেশ করেছে তা হলো রুবুবিয়্যাতের তাওহিদ; অর্থাৎ উলুহিয়্যাতের তাওহিদের দরজা হলো রুবুবিয়্যাতের তাওহিদ)(২)।

৬ - তকদীরের ওপর ঈমানের অন্যতম ফলাফল: আল্লাহর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করা: আর তা হলো সৃষ্টি ও নির্দেশনার ক্ষেত্রে অস্তিত্ব জগতের সাথে আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলির সংশ্লিষ্টতা ও সম্পর্কের জ্ঞান রাখা, যদিও মহাবিশ্ব ও এর ভেতরে যা কিছু আছে তা সেই গুণাবলিরই কিছু প্রভাব ও বহিঃপ্রকাশ মাত্র(৩)।

সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামসমূহের মধ্যে রয়েছে "আল-গাফফার" (অতি ক্ষমাশীল), "আত-তাওয়াব" (তওবা কবুলকারী), "আল-আফুউ" (মার্জনাকারী)। এই নামগুলোর জন্য অবশ্যই কিছু সংশ্লিষ্ট বিষয় থাকতে হবে; অর্থাৎ এমন অপরাধ থাকতে হবে যা ক্ষমা করা হবে, তওবা থাকতে হবে যা কবুল করা হবে এবং অপরাধ থাকতে হবে যা মার্জনা করা হবে। তেমনিভাবে তাঁর "আল-হাকিম" (প্রজ্ঞাময়) নামের জন্য এমন বিষয় থাকতে হবে যা তাঁর ফয়সালায় প্রকাশ পায়। কেননা এই নামসমূহ তাদের প্রভাব দাবি করে, ঠিক যেভাবে "আল-খালিক" (সৃষ্টিকর্তা), "আর-রাজ্জাক" (রিজিকদাতা), "আল-মু'তী" (দানকারী), "আল-মানি" (বঞ্চনাকারী) নামগুলো সৃষ্টি, রিজিকপ্রাপ্ত, দানপ্রাপ্ত ও বঞ্চিতের অস্তিত্বকে দাবি করে। আর এই সকল নামই অত্যন্ত সুন্দর।

--------------------------------------------

(১) মাদারিজুস সালিকিন (১/ ৪১০)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৪১১)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৪১৭)।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ২৫)
والرب تعالى يحب ذاته وأوصافه وأسماءه. فهو عفو يحب العفو، ويحب المغفرة. ويحب التوبة. ويفرح بتوبة عبده حين يتوب إليه أعظم فرح يخطر بالبال وكان تقدير ما يغفره ويعفو عن فاعله، ويحلم عنه، ويتوب عليه ويسامحه: من موجب أسمائه وصفاته، وحصول ما يحبه ويرضاه من ذلك. وما يحمد به نفسه ويحمده به أهل سمواته وأهل أرضه: ما هو من موجبات كماله ومقتضى حمده وهو سبحانه الحميد المجيد، وحمده ومجده يقتضيان آثارهما.

ومن آثارهما: مغفرة الزلات، وإقالة العثرات، والعفو عن السيئات، والمسامحة على الجنايات، مع كمال القدرة على استيفاء الحق، والعلم منه سبحانه بالجناية ومقدار عقوبتها. فحلمه بعد علمه وعفوه بعد قدرته، ومغفرته عن كمال عزته وحكمته. كما قال المسيح صلى الله عليه وسلم: {إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (118)} [المائدة: 118] أي فمغفرتك عن كمال قدرتك وحكمتك، لست كمن يغفر عجزاً، ويسامح جهلا بقدر الحق، بل أنت عليم بحقك. قادر على استيفائه، حكيم في الأخذ به.

ومن أسمائه الحكيم، فهو يشهد حكمة الله في تقديره على عبده ما يبغضه سبحانه ويكرهه، ويلوم ويعاقب عليه، وأنه لو شاء لعصمه منه، ولحال بينه وبينه. وأنه سبحانه لا يعصى قسراً. وأنه لا يكون في العالم شيء إلا بمشيئته {لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ (54) ادْعُوا} [الأعراف: 54].

وهؤلاء يشهدون أن الله سبحانه لم يخلق شيئاً عبثاً ولا سدى، وأن له الحكمة البالغة في كل ما قدره وقضاه من خير وشر، وطاعة ومعصية، وحكمة باهرة تعجز العقول عن الإحاطة بكنهها، وتكل الألسن عن التعبير عنها.

فمصدر قضائه وقدره، لما يبغضه ويسخطه: اسمه " الحكيم " الذي بهرت حكمته الألباب، وقد قال تعالى لملائكته - لما قالوا {أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ} فأجابهم سبحانه بقوله {إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ (30)} [البقرة: 30]، فلله سبحانه في ظهور المعاصي والذنوب والجرائم، وترتب آثارها من الآيات والحكم. وأنواع التعرفات إلى خلقه، وتنويع آياته، ودلائل ربوبيته ووحدانيته، وإلهيته، وحكمته، وعزته، وتمام ملكه، وكمال قدرته. وإحاطة علمه -: ما يشهده أولو البصائر عياناً ببصائر قلوبهم، فيقولون {رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ} [آل عمران: 191]، إن هي إلا حكمتك الباهرة، وآياتك الظاهرة.
মহান রব তাঁর সত্তা, তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর নামসমূহকে ভালোবাসেন। তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল এবং তিনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তিনি মার্জনা করতে পছন্দ করেন এবং তওবা বা অনুশোচনা ভালোবাসেন। তাঁর বান্দা যখন তাঁর কাছে তওবা করে, তখন তিনি এমন চরম মাত্রায় আনন্দিত হন যা কল্পনাও করা যায় না। তিনি যা মার্জনা করেন, যার অপরাধ ক্ষমা করেন, যার প্রতি ধৈর্যশীলতা প্রদর্শন করেন, যার তওবা কবুল করেন এবং যাকে অব্যাহতি দেন—এসবই তাঁর নাম ও গুণাবলির অনিবার্য দাবি এবং এর মাধ্যমে তিনি যা পছন্দ ও সন্তুষ্ট হন তা-ই অর্জিত হয়। তিনি যার মাধ্যমে নিজের প্রশংসা করেন এবং আসমান ও জমিনবাসী যার মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করে, তা তাঁর পূর্ণতার অনিবার্য দাবি এবং তাঁর প্রশংসার সারকথা। তিনি অত্যন্ত প্রশংসিত এবং মহিমান্বিত; আর তাঁর প্রশংসা ও মহিমা তাদের নিজস্ব প্রভাব দাবি করে।

সেই প্রভাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করা, পদস্খলন মার্জনা করা, মন্দ কাজসমূহ ক্ষমা করা এবং অপরাধসমূহ মাফ করে দেওয়া—অথচ তিনি পূর্ণ হক বা অধিকার আদায় করে নিতে পুরোপুরি সক্ষম এবং তিনি অপরাধ ও তার দণ্ডের পরিমাণ সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। সুতরাং তাঁর ধৈর্য তাঁর জ্ঞানের পরে এবং তাঁর ক্ষমা তাঁর ক্ষমতার পরে, আর তাঁর মাগফিরাত বা মার্জনা তাঁর পূর্ণ মর্যাদা ও প্রজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ। যেমন মসীহ (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: "যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা তো আপনারই বান্দা; আর যদি আপনি তাদের ক্ষমা করেন, তবে আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" [আল-মায়িদাহ: ১১৮]। অর্থাৎ, আপনার ক্ষমা আপনার পূর্ণ ক্ষমতা ও প্রজ্ঞার প্রতিফলন। আপনি এমন কারো মতো নন যে অক্ষমতার কারণে ক্ষমা করে কিংবা হকের পরিমাণ না জানার কারণে মাফ করে দেয়; বরং আপনি আপনার হক সম্পর্কে সম্যক অবগত, তা আদায় করতে পুরোপুরি সক্ষম এবং তা গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান।

আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে একটি হলো 'আল-হাকিম' (প্রজ্ঞাময়)। সুতরাং বান্দার জন্য এমন বিষয় নির্ধারণ করার ক্ষেত্রেও সে আল্লাহর প্রজ্ঞা প্রত্যক্ষ করে যা আল্লাহ অপছন্দ করেন ও ঘৃণা করেন এবং যার ওপর তিনি তিরস্কার ও শাস্তি প্রদান করেন। তিনি চাইলে বান্দাকে তা থেকে রক্ষা করতে পারতেন এবং বান্দা ও সেই পাপের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারতেন। আল্লাহকে বাধ্য করে তাঁর অবাধ্য হওয়া যায় না। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া বিশ্বে কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না। "জেনে রেখো, সৃষ্টি ও নির্দেশ তাঁরই। বিশ্বজগতের রব আল্লাহ কতই না বরকতময়।" [আল-আরাফ: ৫৪]।

তাঁরা সাক্ষ্য দেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা কোনো কিছুই নিরর্থক বা উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করেননি। ভালো-মন্দ এবং আনুগত্য ও অবাধ্যতার যা কিছু তিনি নির্ধারণ ও ফয়সালা করেছেন, তার প্রতিটিতে তাঁর সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞা নিহিত রয়েছে। এটি এমন এক বিস্ময়কর প্রজ্ঞা যা অনুধাবন করতে মানুষের বুদ্ধি অক্ষম এবং যা ভাষায় প্রকাশ করতে জিহ্বা ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

সুতরাং তিনি যা অপছন্দ করেন ও যাতে অসন্তুষ্ট হন, সেই বিষয়ের ফয়সালা ও তকদিরের উৎস হলো তাঁর 'আল-হাকিম' (প্রজ্ঞাময়) নাম, যাঁর প্রজ্ঞা জ্ঞানীদের অভিভূত করে। মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন—যখন তারা বলেছিল, "আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি।" তখন তিনি তাদের উত্তরে বললেন, "নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।" [আল-বাকারাহ: ৩০]। সুতরাং অবাধ্যতা, গুনাহ ও অপরাধের প্রকাশ এবং তার প্রভাবে যেসব নিদর্শন ও প্রজ্ঞা প্রকাশিত হয়, তাতে আল্লাহর গূঢ় রহস্য রয়েছে। তাঁর সৃষ্টির কাছে নিজেকে পরিচিত করার বিচিত্র পন্থা, তাঁর নিদর্শনের বৈচিত্র্য এবং তাঁর রবুবিয়্যাত, একত্ববাদ, উলুহিয়্যাত, প্রজ্ঞা, মর্যাদা, রাজত্বের পূর্ণতা, ক্ষমতার পরিপূর্ণতা এবং জ্ঞানের পরিব্যাপ্তির যেসব প্রমাণাদি রয়েছে—তা প্রজ্ঞাবানগণ তাঁদের অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। অতঃপর তাঁরা বলেন, "হে আমাদের রব! আপনি এসব নিরর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি অত্যন্ত পবিত্র।" [আলি ইমরান: ১৯১]। এগুলো তো কেবল আপনার বিস্ময়কর প্রজ্ঞা এবং সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ২৬)
ولله في كل تحريكة وتسكينه أبداً شاهد

وفي كل شيء له آية تدل على أنه واحد(1)

فمن تأمل سريان أثار الأسماء والصفات في العالم، وفي الأمر، تبين له أن مصدر قضاء هذه الجنايات من العبيد وتقديرها: هو من كمال الأسماء والصفات والأفعال. وغاياتها أيضاً: مقتضى حمده ومجده، كما هو مقتضى ربوبيته وإلهيته، فله في كل ما قضاه وقدره الحكمة البالغة، والآيات الباهرة، والتعرفات إلى عباده بأسمائه وصفاته، واستدعاء محبتهم له، وذكرهم له، وشكرهم له، وتعبدهم له بأسمائه الحسنى(2).

7 - من ثمرات الإيمان بالقدر: تحقق ولاية الله تعالى:

قال الله تعالى: {أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (62) الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ (63)} [يونس: 62 - 63](3)، ومن الأمور التي يجب الإيمان بها: الإيمان بالقدر؛ فإذا لم يؤمن بالقدر لم يكن من أولياء الله.

8 - من ثمرات الإيمان بالقدر: أن الله يدافع عن الذين آمنوا:

قال تعالى: {اللَّهَ يُدَافِعُ عَنِ الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ} [الحج: 38]، يدافع عنهم: المكاره قبل نزوله، ويرفعها أو يخففها بعد نزولها(4)، وهذا إنما يكون للمؤمنين، ومن جملة ما يؤمنون به الإيمان بالقدر.

9 - من ثمرات الإيمان بالقدر: رضا الله عنه، فمن رضي بالله ربا رضي الله عنه، ومن رضي عن ربه سبحانه وتعالى في جميع الحالات أثمر رضى ربه عنه: فإذا رضى عنه بالقليل من الرزق: رضى ربه عنه بالقليل من العمل. وإذا رضى عنه في جميع الحالات، واستوت عنده، وجده أسرع شيء إلى رضاه إذا ترضاه وتملقه(5).

10 - من ثمرات الإيمان بالقدر: أنه يورث محبة الله تعالى لعبده:

ولا شك أن هذه أعلى المطالب، وأعلى المنى أن يحظى العبد بمحبة الله تبارك وتعالى له، قال الله تعالى مخاطباً نبيه صلى الله عليه وسلم: {فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ (159)} [آل عمران: 159]، وهم الراضون بقضائه والمستسلمون لحكمه فيهم، وافق ذلك منهم هوى أو خالفه(6)، قال صلى الله عليه وسلم: «إذا احب الله قوماً ابتلاهم»(7).

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق (1/ 406 - 407).

(2) المرجع السابق (1/ 419 - 420).

(3) التوضيح لشجرة الإيمان ص 69.

(4) المرجع السابق ص 71 - 72.

(5) مدارج السالكين (2/ 206).

(6) التوكل على الله وعلاقته بالأسباب لعبد الله الدميجي، ص 118، الطبعة الأولى، دار الوطن، الرياض، 1417 هـ.

(7) رواه الترمذي، ورواه الطبراني في الأوسط. وهو في السلسلة الصحيحة رقم 146.
আর আল্লাহর জন্য প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতায় সর্বদা এক সাক্ষী বিদ্যমান

এবং প্রতিটি বস্তুতে তাঁর জন্য একটি নিদর্শন রয়েছে যা প্রমাণ করে যে তিনি এক(১)

সুতরাং যে ব্যক্তি মহাবিশ্বে এবং নির্দেশনাবলীতে নাম ও গুণাবলির প্রভাবের বিস্তৃতি নিয়ে চিন্তা করবে, তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে যে, বান্দাদের পক্ষ থেকে এসব অপরাধ সংঘটিত হওয়া এবং তা নির্ধারিত হওয়ার উৎস হলো: আল্লাহর নাম, গুণাবলি ও কার্যাবলির পরিপূর্ণতা। আর এগুলোর চূড়ান্ত লক্ষ্যও হলো: তাঁর প্রশংসা ও মহিমা প্রকাশ করা, যেমনটি তাঁর রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যাহর দাবি। সুতরাং তিনি যা কিছু ফয়সালা ও নির্ধারণ করেছেন, তার প্রতিটিতেই রয়েছে সুগভীর প্রজ্ঞা, উজ্জ্বল নিদর্শন এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে বান্দাদের কাছে তাঁর পরিচয় তুলে ধরা। আর এটি তাদের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর জিকির, তাঁর শুকরিয়া এবং তাঁর সুন্দর নামসমূহের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করার একটি আহ্বান(২)।

৭ - তাকদীরের ওপর ঈমান আনার অন্যতম ফল: মহান আল্লাহর বেলায়েত বা বন্ধুত্ব অর্জিত হওয়া:

আল্লাহ তাআলা বলেন: {জেনে রেখো, আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না (৬২) যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করত (৬৩)} [ইউনুস: ৬২ - ৬৩](৩)। আর যেসব বিষয়ের ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব, তার মধ্যে অন্যতম হলো তাকদীরের ওপর ঈমান আনা; সুতরাং কেউ যদি তাকদীরের ওপর ঈমান না আনে, তবে সে আল্লাহর বন্ধুদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না।

৮ - তাকদীরের ওপর ঈমান আনার ফল: আল্লাহ মুমিনদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করেন:

আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করেন} [হজ্জ: ৩৮]। তিনি তাদের থেকে অপছন্দনীয় বিষয়গুলো তা নাযিল হওয়ার আগেই প্রতিহত করেন, অথবা তা নাযিল হওয়ার পর তা দূর করে দেন কিংবা কমিয়ে দেন(৪)। আর এটি কেবল মুমিনদের জন্যই হয়ে থাকে, আর তারা যা কিছুর ওপর ঈমান আনে তার অন্যতম হলো তাকদীরের ওপর ঈমান।

৯ - তাকদীরের ওপর ঈমান আনার ফল: বান্দার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি। যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট থাকে, আল্লাহও তার ওপর সন্তুষ্ট হন। আর যে ব্যক্তি সকল অবস্থায় তার প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলার ওপর সন্তুষ্ট থাকে, তা তার প্রতি তার রবের সন্তুষ্টি বয়ে আনে। সুতরাং বান্দা যখন সামান্য রিজিকেই সন্তুষ্ট থাকে, তখন তার রবও তার সামান্য আমলে সন্তুষ্ট হন। আর যদি সে সকল অবস্থায় তাঁর ওপর সন্তুষ্ট থাকে এবং সবকিছু তার কাছে সমান হয়, তবে সে যখনই তাঁর সন্তুষ্টি চাইবে এবং তাঁর প্রশংসা করবে, তখনই তাঁকে অত্যন্ত দ্রুত সন্তুষ্ট হতে দেখবে(৫)।

১০ - তাকদীরের ওপর ঈমান আনার ফল: এটি বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর ভালোবাসা তৈরি করে:

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটিই শ্রেষ্ঠ চাওয়া এবং সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষা যে, বান্দা তার প্রতি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার ভালোবাসা লাভে ধন্য হবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্বোধন করে বলেন: {যখন তুমি কোনো সংকল্প করবে, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন (১৫৯)} [আল-ইমরান: ১৫৯]। আর তারা হলো ঐ সকল লোক যারা আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট এবং তাদের ব্যাপারে তাঁর বিধানের প্রতি আত্মসমর্পণকারী, চাই তা তাদের প্রবৃত্তির অনুকূলে হোক বা প্রতিকূলে(৬)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «আল্লাহ যখন কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসেন, তখন তাদের পরীক্ষায় ফেলেন»(৭)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৪০৬ - ৪০৭)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ৪১৯ - ৪২০)।

(৩) আত-তাওজিহ লি-শাজারাতিল ইমান, পৃষ্ঠা ৬৯।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৭১ - ৭২।

(৫) মাদারিজুস সালিকিন (২/ ২০৬)।

(৬) আত-তাওয়াক্কুল আলাল্লাহ ওয়া আলাকাতুহু বিল-আসবাব, আব্দুল্লাহ আদ-দামিজী, পৃষ্ঠা ১১৮, প্রথম সংস্করণ, দারুল ওয়াতান, রিয়াদ, ১৪১৭ হিজরি।

(৭) তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাবারানি আল-আওসাত গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি আস-সিলসিলাতুস সাহিহা-এর ১৪৬ নম্বর হাদিস।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ২৭)
11 - من ثمرات الإيمان بالقدر: الثقة بالله تعالى:

لأن المؤمن بقضاء الله وقدره يعلم أن تقدير الله له فيه الخير، قال الله تعالى لأم موسى: {فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي} [القصص: 7]، فإن فعلها هذا هو عين ثقتها بالله تعالى، إذ لولا كمال ثقتها بربها لما ألقت بولدها وفلذة كبدها في تيار الماء تتلاعب به أمواجه، وجرياته إلى حيث ينتهي أو يقف(1).

12 - من ثمرات الإيمان بالقدر: التسليم وهو نوعان:

تسليم لحكمه الديني الأمري. وتسليم لحكمه الكوني القدري. فأما الأول: فهو تسليم المؤمنين العارفين، قال تعالى: {وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا (65)} [النساء: 65].

وأما الثاني: فهو تسليم للحكم الكوني: وهي مسألة الرضى بالقضاء. فهو يحمد إذا لم يؤمر العبد بمنازعته ودفعه، ولم يقدر على ذلك، كالمصائب التي لا قدرة له على دفعها.

وأما الأحكام التي أمر بدفعها: فلا يجوز له التسليم إليها، بل العبودية: مدافعتها بأحكام أخر، أحب إلى الله منها(2).

ولقد تأثر رسول الله صلى الله عليه وسلم لفقد ولده إبراهيم، ولكنه قال: «إن العين تدمع والقلب يحزن ولا نقول إلا ما يرضي ربنا، وإنا بفراقك يا إبراهيم لمحزونون»(3).

فالتسليم هو الخلاص من شبهة تعارض الخبر، أو شهوة تعارض الأمر، أو إرادة تعارض الإخلاص، أو اعتراض يعارض القدر والشرع. وصاحب هذا التخلص: هو صاحب القلب السليم الذي لا ينجو يوم القيامة إلا من أتى الله به، فإن التسليم ضد المنازعة(4).

--------------------------------------------

(1) مدارج السالكين (2/ 143).

(2) مدارج السالكين (2/ 146).

(3) رواه البخاري، كتاب الجنائز، باب قول النبي صلى الله عليه وسلم «إنا بك لمحزونون» (3/ 172 - فتح الباري).

(4) مدارج السالكين (2/ 147).
১১ - তাকদীরের ওপর ঈমানের অন্যতম ফল হলো: মহান আল্লাহর ওপর ভরসা ও আস্থা:

কারণ আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের ওপর বিশ্বাসী মুমিন জানেন যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তাতে কল্যাণ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা মূসার জননীকে বলেছিলেন: {যখন তুমি তার ব্যাপারে আশঙ্কা করবে, তখন তাকে নদীতে নিক্ষেপ করো এবং ভয় পেয়ো না ও দুশ্চিন্তা করো না} [আল-কাসাস: ৭]। তাঁর এই কাজটি ছিল মূলত মহান আল্লাহর প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। কারণ, তাঁর রবের প্রতি পূর্ণ আস্থা না থাকলে তিনি তাঁর কলিজার টুকরা সন্তানকে পানির স্রোতে ভাসিয়ে দিতেন না, যেখানে ঢেউ এবং স্রোত তাকে খেলনা বানিয়ে যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যেতে পারত।(১)।

১২ - তাকদীরের ওপর ঈমানের অন্যতম ফল হলো: আত্মসমর্পণ (তাসলীম), যা দুই প্রকার:

তাঁর দ্বীনী ও আদেশমূলক বিধানের প্রতি আত্মসমর্পণ এবং তাঁর মহাজাগতিক ও তাকদীর সংক্রান্ত বিধানের প্রতি আত্মসমর্পণ। প্রথম প্রকারটি হলো: মারেফতপ্রাপ্ত মুমিনদের আত্মসমর্পণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনার রবের কসম, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে আপনাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নেয়, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেন সে ব্যাপারে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে এবং তারা পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে} [আন-নিসা: ৬৫]।

আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো: মহাজাগতিক বিধানের প্রতি আত্মসমর্পণ; আর এটি হলো তাকদীরের ওপর সন্তুষ্ট থাকার বিষয়। এটি তখনই প্রশংসনীয় হয় যখন বান্দাকে তা প্রতিরোধ বা রদ করার নির্দেশ দেওয়া হয় না এবং তার সেই সামর্থ্যও থাকে না, যেমন এমন সব বিপদ-আপদ যা প্রতিহত করার ক্ষমতা তার নেই।

পক্ষান্তরে যেসব বিধান রদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর সামনে আত্মসমর্পণ করা জায়েয নয়; বরং বন্দেগি হলো: অন্য এমন সব বিধানের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যা আল্লাহর নিকট সেগুলোর চেয়ে অধিক প্রিয়(২)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পুত্র ইব্রাহীমের বিয়োগে ব্যথিত হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি বলেছিলেন: «নিশ্চয়ই চোখ অশ্রু ঝরায় এবং হৃদয় ব্যথিত হয়, তবে আমরা তা-ই বলি যা আমাদের রব্বকে সন্তুষ্ট করে। আর হে ইব্রাহীম! আমরা তোমার বিচ্ছেদে অবশ্যই শোকাহত»(৩)।

সুতরাং আত্মসমর্পণ (তাসলীম) হলো এমন সংশয় থেকে মুক্তি যা খবরের (সংবাদের) বিরোধী, অথবা এমন প্রবৃত্তি থেকে মুক্তি যা আদেশের বিরোধী, অথবা এমন ইচ্ছা থেকে মুক্তি যা ইখলাসের বিরোধী, অথবা এমন আপত্তি থেকে মুক্তি যা তাকদীর ও শরীয়তের পরিপন্থী। আর এই মুক্তি লাভকারী ব্যক্তিই হলো 'কালবে সালীম' বা সুস্থ হৃদয়ের অধিকারী, কিয়ামতের দিন যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট এটি নিয়ে আসবে সে-ই কেবল মুক্তি পাবে। কেননা আত্মসমর্পণ হলো বিবাদের বিপরীত(৪)।

--------------------------------------------

(১) মাদারিজুস সালিকীন (২/ ১৪৩)।

(২) মাদারিজুস সালিকীন (২/ ১৪৬)।

(৩) বুখারী বর্ণনা করেছেন, জানাযা অধ্যায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী অনুচ্ছেদ: «আমরা তোমার বিচ্ছেদে শোকাহত» (৩/ ১৭২ - ফাতহুল বারী)।

(৪) মাদারিজুস সালিকীন (২/ ১৪৭)।
(খণ্ড: ১) আক্বীদাতুল ঈমানি বিল ক্বাযায়ি ওয়াল ক্বাদার ইন্দাস সালাফি ওয়া আছারুহা আলাল মুমিন (পৃষ্ঠা: ২৮)
13 - الإيمان بالقدر على وجه الحقيقي يكشف للإنسان حكمة الله عز وجل فيما يقدره من خير أو شر:

فيعرف الإنسان بذلك أن وراء تفكيره، وتخيلاته من هو أعظم وأعلم، ولهذا كثيراً ما يقع الشيء فنكرهه وهو خير لنا؟ كم من الناس من يتبرم ويضيق صدره لفوات محبوب أو نزول مكروب، وما أن ينكشف الأمر ويستبين سر القدر إلا وتجده جذلاً مسروراً، لأن العاقبة كانت حميدة بالنسبة له، وصدق الله تعالى إذ يقول: {وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُوَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ (216)} [البقرة: 216].

وما أجمل قول من قال:

كم نعمة لا تستقل بشكرها لله في طي المكاره كامنة

وقول الآخر:

تجري الأمور على حكم القضاء وفي طي الحوادث محبوب ومكروه

وربما سرني ما كنت أحذره وربما ساءني ما كنت أرجوه(1)

14 - من ثمرات الإيمان بالقدر: أن الإيمان بالقدر يفتح باب حسن الخلق مع الله تعالى ومع الناس:

فإن حسن الخلق من الرضى، وسوء الخلق من السخط. وحسن الخلق يبلغ بصاحبه درجة الصائم القائم، وسوء الخلق يأكل الحسنات كما تأكل النار الحطب(2).

15 - من ثمرات الإيمان بالقدر: إحسان الظن بالله، وقوة الرجاء:

فالمؤمن بالقدر حسن الظن بالله، قوي الرجاء به في كل أحواله، يصدق عليه قول القائل:

ما مسني قدر بضر أو رضا إلا وجدت به إليك طريقا.

(لأنه عارف بربه، حسن الظن به، لا يتهمه فيما يجريه عليه من أقضيته وأقداره، فحسن ظنه به يوجب له استواء الحالات عنده ورضاه بما يختاره له سيده سبحانه، وسوء الحال، والظن بالله خلاف ما هو أهله. والرضى يخلصه من ذلك كله ويفتح له باب جنة الدنيا قبل جنة الآخرة)(3).

--------------------------------------------

(1) انظر: جنة الرضا في التسليم لما قدر الله وقضى للغرناطي ص 3/ 52، نقلا عن القضاء والقدر للحمد ص 29.

(2) مدارج السالكين (2/ 220).

(3) المرجع السابق (2/ 206 - 207).
১৩ - তাকদীরের প্রতি প্রকৃত বিশ্বাস মানুষের নিকট তার জন্য নির্ধারিত ভালো বা মন্দের ক্ষেত্রে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার হিকমত বা প্রজ্ঞা উন্মোচন করে দেয়:

এর মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে যে, তার চিন্তা ও কল্পনার ঊর্ধ্বে এমন একজন সত্তা রয়েছেন যিনি মহান এবং সর্বজ্ঞ। এজন্যই প্রায়শই এমন কিছু ঘটে যা আমরা অপছন্দ করি অথচ তা আমাদের জন্য কল্যাণকর? কত মানুষ প্রিয় বস্তু হারিয়ে যাওয়া বা বিপদে পড়ার কারণে বিরক্ত হয় এবং তাদের অন্তর সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, কিন্তু যখন বিষয়টি উন্মোচিত হয় এবং তাকদীরের রহস্য স্পষ্ট হয়, তখন তাকে অত্যন্ত আনন্দিত ও সন্তুষ্ট দেখা যায়; কারণ তার জন্য এর পরিণাম ছিল প্রশংসনীয়। আর মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {হয়তো তোমরা কোনো কিছু অপছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর এবং হয়তো তোমরা কোনো কিছু পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর; আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না (২১৬)} [আল-বাকারা: ২১৬]।

কতই না সুন্দর সেই কথা যে বলেছে:

কতই না নিয়ামত যার শোকর আদায় করা যায় না, আল্লাহর পক্ষ থেকে যা দুঃখ-কষ্টের আড়ালে লুকিয়ে থাকে।

এবং অন্যের কথা:

তাকদীরের ফয়সালা অনুযায়ী সকল বিষয় পরিচালিত হয়, আর ঘটনাবলীর মাঝে লুক্কায়িত থাকে প্রিয় ও অপ্রিয় বিষয়।

কখনো কখনো সেই বিষয়টি আমাকে আনন্দিত করে যা আমি ভয় পেতাম, আবার কখনো সেই বিষয়টি আমাকে কষ্ট দেয় যা আমি আশা করতাম।(১)

১৪ - তাকদীরের প্রতি ঈমানের অন্যতম ফল: তাকদীরের প্রতি ঈমান আল্লাহ তাআলা এবং মানুষের সাথে উত্তম আচরণের দ্বার উন্মোচন করে দেয়:

নিশ্চয়ই উত্তম চরিত্র হলো সন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ, আর মন্দ চরিত্র হলো অসন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ। উত্তম চরিত্র তার অধিকারীকে রোজা পালনকারী ও রাত জেগে ইবাদতকারীর মর্যাদায় পৌঁছে দেয়, আর মন্দ চরিত্র নেক আমলসমূহকে সেভাবে খেয়ে ফেলে যেভাবে আগুন কাঠকে খেয়ে ফেলে।(২)

১৫ - তাকদীরের প্রতি ঈমানের অন্যতম ফল: আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ এবং প্রবল আশা রাখা:

তাকদীরের প্রতি বিশ্বাসী ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করে এবং সর্বাবস্থায় তাঁর প্রতি দৃঢ় আশা রাখে। তার ক্ষেত্রে কবির এই কথাটি প্রযোজ্য হয়:

তাকদীরের কোনো কষ্ট বা সন্তুষ্টি আমাকে স্পর্শ করেনি যা আমাকে আপনার দিকে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেয়নি।

(কারণ সে তার রব সম্পর্কে অবগত, তাঁর প্রতি সুধারণা পোষণকারী, তাঁর পক্ষ থেকে জারিকৃত ফয়সালা ও তাকদীরের বিষয়ে তাঁকে অভিযুক্ত করে না। সুতরাং তাঁর প্রতি এই সুধারণা তার নিকট সকল অবস্থাকে সমান করে দেয় এবং তার মুনিব সুবহানাহু ওয়া তাআলা তার জন্য যা পছন্দ করেন তাতে তাকে সন্তুষ্ট রাখে। আর দুরবস্থা ও আল্লাহর প্রতি কুধারণা তাঁর শানের পরিপন্থী। আর সন্তুষ্টি তাকে এই সব কিছু থেকে মুক্তি দেয় এবং আখেরাতের জান্নাতের আগে তার জন্য দুনিয়ার জান্নাতের দরজা খুলে দেয়)।(৩)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: জান্নাতুর রিদা ফিত তাসলীম লিমা কাদ্দারাল্লাহু ওয়া কাদা, আল-গুরনাতি, পৃষ্ঠা ৩/ ৫২, যা আল-কাদা ওয়াল কাদার লিল হামাদ, পৃষ্ঠা ২৯ থেকে উদ্ধৃত।

(২) মাদারিজুস সালিকিন (২/ ২২০)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (২/ ২০৬ - ২০৭)।