(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: -)
منازل الحروف (أبو الحسن الرماني)
القسم: النحو والصرف
الكتاب: رسالة منازل الحروف
المؤلف: علي بن عيسى بن علي بن عبد الله، أبو الحسن الرماني المعتزلي (ت 384هـ)
المحقق: إبراهيم السامرائي
الناشر: دار الفكر - عمان
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 85
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মানাজিলুল হুরুফ (আবু হাসান আল-রুম্মানি)
বিভাগ: নাহু ও সরফ
কিতাব: রিসালাহ মানাজিলুল হুরুফ
লেখক: আলী বিন ঈসা বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ, আবু হাসান আল-রুম্মানি আল-মু'তাযিলি (মৃত্যু ৩৮৪ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: ইব্রাহিম আল-সামাররাই
প্রকাশক: দার আল-ফিকর - আম্মান
[বইয়ের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৫
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم قَالَ أَبُو الْحسن عَليّ بن عِيسَى فِي كتاب منَازِل الْحُرُوفاللامات اللامات اثْنَتَا عشرَة وَهِي1 - لَام الِابْتِدَاء نَحْو قَوْلك لزيد خير مِنْك2 - وَلَام الْقسم نَحْو وَالله لآتينك3 - وَلَام الْإِضَافَة نَحْو لزيد مَال4 - وَلَام التَّعْرِيف نَحْو الرجل والغلام5 - وَاللَّام الْأَصْلِيَّة نَحْو لَهَا يلهو6 - وَاللَّام الزَّائِدَة الَّتِي دُخُولهَا كخروجها نَحْو قَول الشَّاعِر(لما أخلفت شكرك فاصطنعني … فَكيف وَمن عطائك جلّ مَالِي)7 - وَلَام الاستغاثة نَحْو قَول الشَّاعِر(يَا لبكر انشروا لي كليبا … يَا لبكر أَيْن أَيْن الْفِرَار)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আবুল হাসান আলী ইবনে ঈসা 'মানাজিল আল-হুরুফ' গ্রন্থে বলেন:লামসমূহ লাম বারো প্রকার এবং সেগুলো হলো:১ - প্রারম্ভিক লাম; যেমন আপনার উক্তি: 'লা-জায়দুন খাইরুন মিনকা' (অবশ্যই জায়েদ আপনার চেয়ে উত্তম)২ - শপথের লাম; যেমন: 'ওয়াল্লাহি লা-আতিয়ান্নাকা' (আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই আপনার নিকট আসব)৩ - সম্বন্ধসূচক লাম; যেমন: 'লি-জায়দিন মালুন' (জায়েদের সম্পদ রয়েছে)৪ - নির্দিষ্টকারী লাম; যেমন: 'আর-রাজুল' (ব্যক্তিটি) এবং 'আল-গুলাম' (বালকটি)৫ - মূলধাতুগত লাম; যেমন: 'লাহা ইয়ালহু' (ক্রীড়া করা) শব্দে৬ - অতিরিক্ত লাম যার উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি সমান; যেমন কবির উক্তি:(যেহেতু আমি আপনার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে ত্রুটি করেছি, তাই আপনি আমাকে আপনার অনুগ্রহভাজন করে নিন... কারণ তা কীভাবে সম্ভব [যে আমি অকৃতজ্ঞ হব], যখন আপনার দান থেকেই আমার অধিকাংশ সম্পদ অর্জিত হয়েছে?)৭ - আর্তনাদসূচক লাম; যেমন কবির উক্তি:(হে বকর গোত্র, আমার জন্য কুলাইবকে পুনর্জীবিত করো... হে বকর গোত্র, পলায়নের পথ কোথায়, আজ পলায়নের পথ কোথায়?)
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَمثل قَول الشَّاعِر(يَا للرِّجَال ليَوْم الْأَرْبَعَاء أما … يَنْفَكّ يحدث لي بعد النَّهْي طَربا)8 - وَلَام الْكِنَايَة نَحْو لَهُم وَله وَحكمهَا الْفَتْح وَأَصلهَا لَام الْإِضَافَة9 - وَلَام كي نَحْو قَوْله تَعَالَى {وليرضوه وليقترفوا مَا هم مقترفون} وَكَذَلِكَ {ليغفر لَك الله} أَي كي يغْفر10 - وَلَام الْجُحُود كَقَوْلِه تَعَالَى{مَا كَانَ الله ليذر الْمُؤمنِينَ على مَا أَنْتُم عَلَيْهِ}11 - وَمن لَام الْإِضَافَة لَام الْعَاقِبَة نَحْو قَوْله تَعَالَى{فالتقطه آل فِرْعَوْن ليَكُون لَهُم عدوا وحزنا} وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {إِلَّا من رحم رَبك وَلذَلِك خلقهمْ}وَمن كَلَامهم
যেমন কবির উক্তি
(হে পুরুষগণ! বুধবারের দিনের জন্য! নিষেধ করার পরও এটি আমার মনে আনন্দ সঞ্চার করা থেকে বিরত হয় না)
8 - এবং সর্বনামের লাম (لام الكناية), যেমন 'তাদের জন্য' ও 'তার জন্য'; এর বিধান হলো ফাতহ (الفتح) হওয়া এবং এর মূল হলো সম্বন্ধীয় লাম (لام الإضافة)।
9 - এবং উদ্দেশ্যজ্ঞাপক লাম (لام كي), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে তারা তাতে সন্তুষ্ট হয় এবং তারা যা অর্জন করছে তা যেন অর্জন করে} এবং তেমনিভাবে: {যাতে আল্লাহ আপনার জন্য ক্ষমা করেন} অর্থাৎ যাতে (كي) ক্ষমা করেন।
10 - এবং অস্বীকারবাচক লাম (لام الجحود), যেমন মহান আল্লাহর বাণী:
{আল্লাহ মুমিনদেরকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেওয়ার নন যে অবস্থায় তোমরা রয়েছ}
11 - এবং সম্বন্ধীয় লাম (لام الإضافة)-এর অন্তর্ভুক্ত হলো পরিণামবাচক লাম (لام العاقبة), যেমন মহান আল্লাহর বাণী:
{অতঃপর ফেরাউনের পরিবার তাকে কুড়িয়ে নিল, যাতে তিনি তাদের জন্য শত্রু ও দুঃখের কারণ হন} এবং তেমনিভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {তবে যাদের প্রতি আপনার রব দয়া করেছেন; আর সে জন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন}
এবং তাদের বক্তব্য থেকে:
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(لدوا للْمَوْت وَابْنُوا للخراب … فكلكم يصير إِلَى ذهَاب)12 - وَلَام الْأَمر كَقَوْلِه تَعَالَى {لينفق ذُو سَعَة من سعته}الألفات والألفات إِحْدَى عشرَة وَهِي1 - ألف الأَصْل نَحْو قَوْله تَعَالَى {أَتَى أَمر الله} وَقَوله {وَبَين حميم آن}2 - وَألف الْوَصْل نَحْو اذْهَبْ فِي الْأَمر وَاضْرِبْ واقتل وَنَحْو اقتدر واستخرج وَانْطَلق واحمار فَكل مَا كَانَ على هَذِه الْأَمْثِلَة من الْفِعْل فألفه ألف وصل والأبنية الثَّلَاثَة من الثلاثي فِي الْأَمر وَبَاقِي الْأَبْنِيَة3 - وَألف الْقطع نَحْو أكْرم يكرم وَأحسن يحسن وَأقَام يُقيم فألفه إِذا أمرت ألف قطع يبتدأ بهَا بِالْفَتْح نَحْو أحسن وَأكْرم وَأقَام وَإِنَّمَا سميت قطعا لِأَنَّهَا تقطع فِي الْأَمر وَفِي الِاسْتِئْنَاف وَفِي الْوَصْل وَلَيْسَ شَيْء من الألفات تقطع غَيرهَا
(মৃত্যুর জন্য জন্ম দাও এবং ধ্বংসের জন্য নির্মাণ করো … তোমাদের সকলেই নিঃশেষ হয়ে যাবে)১২ - এবং আদেশের লাম (لام الأمر), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সামর্থ্যবান ব্যক্তি যেন তার সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে}আলিফসমূহ (الألفات) আলিফসমূহ এগারো প্রকার, আর সেগুলো হলো:১ - মূলবর্ণের আলিফ (ألف الأصل), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর আদেশ এসে গেছে} এবং তাঁর বাণী: {এবং ফুটন্ত পানির মধ্যে}২ - এবং সংযুক্ত আলিফ (ألف الوصل), যেমন আদেশের ক্ষেত্রে (নির্দেশাত্মক ক্রিয়া) 'যাও', 'প্রহার করো', 'হত্যা করো' এবং 'ক্ষমতাবান হওয়া', 'বের করা', 'যাত্রা করা' ও 'লাল হওয়া' এর অনুরূপ। সুতরাং এই দৃষ্টান্তগুলোর ওপর ভিত্তি করে যে সকল ক্রিয়া গঠিত হয়, তার আলিফ হলো সংযুক্ত আলিফ (ألف وصل)। আর থ্রি-লেটার বা সুলাসি (الثلاثي) ক্রিয়ার তিনটি গঠন এবং অবশিষ্ট গঠনসমূহ আদেশের ক্ষেত্রে (এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত)।৩ - এবং বিচ্ছিন্নকারী আলিফ (ألف القطع), যেমন: 'সম্মান করা-সে সম্মান করে', 'উপকার করা-সে উপকার করে', 'প্রতিষ্ঠা করা-সে প্রতিষ্ঠা করে'। যখন এগুলো দ্বারা আদেশ করা হয়, তখন এর আলিফটি বিচ্ছিন্নকারী আলিফ (ألف قطع) হয় এবং তা জবর দিয়ে শুরু করতে হয়; যেমন: 'উপকার করো', 'সম্মান করো', 'প্রতিষ্ঠা করো'। একে বিচ্ছিন্নকারী (قطع) নাম দেওয়া হয়েছে কারণ এটি আদেশের ক্ষেত্রে, নতুন করে শুরু করার ক্ষেত্রে এবং শব্দের সংযোগের ক্ষেত্রেও উচ্চারিত হয়। এই আলিফটি ছাড়া অন্য কোনো আলিফ এভাবে উচ্চারণে বিচ্ছিন্নতা বজায় রাখে না।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
لِأَنَّك تثبتها فِي درج الْكَلَام نَحْو يَا زيد أكْرم عمرا وَأما غَيرهَا فَتسقط فِي درج الْكَلَام إِذا أمرت4 - وَألف الِاسْتِفْهَام نَحْو أَزِيد عنْدك أعمرو فِي الدَّار5 - وَألف التَّقْرِير نَحْو قولة الْحَاكِم أَله عَلَيْك كَذَا وَكَذَا يَعْنِي مَا يَدعِيهِ خصمك يقرره على ذَلِك6 - وَألف الْإِيجَاب نَحْو قَول الشَّاعِر(ألستم خير من ركب المطايا … وأندى الْعَالمين بطُون رَاح)وكقول الله جلّ وَعز {أَلَيْسَ ذَلِك بِقَادِر على أَن يحيي الْمَوْتَى} وَقَوله {أَلَيْسَ الله بكاف عَبده}7 - وَألف الأداة نَحْو إِن وأو وَأم وَمَا أشبه ذَلِك8 - وَألف الْجمع نَحْو أنفس وأكلب وكل مَا كَانَ على زنه أفعل9 - وَألف التَّخْيِير نَحْو قَول الله عز وجل {فإمَّا منا بعد وَإِمَّا فدَاء}
কারণ আপনি একে কথার প্রবাহে (درج الكلام) বজায় রাখেন, যেমন: "হে জায়েদ, আমরকে সম্মান করো।" পক্ষান্তরে এটি ছাড়া অন্যগুলো কথার প্রবাহে (درج الكلام) বিলুপ্ত হয়ে যায় যখন আপনি নির্দেশ (أمر) প্রদান করেন।4 - এবং প্রশ্নবোধক (استفهام) আলিফ, যেমন: "জায়েদ কি তোমার নিকট আছে?", "আমর কি বাড়িতে আছে?"5 - এবং স্বীকৃতিমূলক (تقرير) আলিফ, যেমন বিচারকের উক্তি: "তোমার নিকট কি তার পাওনা বাবদ এমন এমন আছে?" অর্থাৎ তোমার প্রতিপক্ষ যা দাবি করছে সে বিষয়ে তাকে স্বীকৃতি প্রদান করানো।6 - এবং ইতিবাচক (إيجاب) আলিফ, যেমন কবির উক্তি:(তোমরা কি আরোহীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নও... এবং বিশ্ববাসীর মধ্যে সবচেয়ে দানশীল নও?)এবং যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি কি মৃতদের জীবিত করতে সক্ষম নন?} এবং তাঁর বাণী: {আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন?}7 - এবং অব্যয়বাচক (أداة) আলিফ, যেমন: 'ইন' (إن), 'আউ' (أو), 'আম' (أم) এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ।8 - এবং বহুবচনবোধক (جمع) আলিফ, যেমন: 'আনফুস' (أنفس), 'আকলুব' (أكلب) এবং যা কিছু 'আফউল' (أفعل) ওজনে গঠিত হয়।9 - এবং পছন্দের (تخيير) আলিফ, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর হয় অনুগ্রহ করো, না হয় মুক্তিপণ নাও।}
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
10 - وَألف التَّفْضِيل نَحْو قَوْله تَعَالَى {وَأما ثَمُود فهديناهم فاستحبوا الْعَمى على الْهدى} وَنَحْو قَوْلهم أما بعد فقد كَانَ كَذَا …الهاءات والهاءات سبع وَهِي1 - هَاء الْإِضْمَار كَقَوْلِك زيد ضَربته وَعَمْرو مَرَرْت بِهِ فَهَذِهِ الْهَاء كِنَايَة عَن زيد وَعَمْرو فتسمى هَاء الْكِنَايَة وهاء الْإِضْمَار2 - وهاء التَّأْنِيث كَقَوْلِك طَلْحَة وَحَمْزَة فِي الْوَقْف فَإِذا وصلت صَارَت تَاء3 - وهاء الْعِمَاد كَقَوْل الله تَعَالَى {إِنَّه أَنا الله الْعَزِيز الْحَكِيم} وَالْهَاء فِي إِنَّه عماد ذكرت على شريطة التَّفْسِيروَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {يَا بني إِنَّهَا إِن تَكُ مِثْقَال حَبَّة من خَرْدَل} فالهاء لَيست بضمير يرجع إِلَى مَذْكُور مقدم وَإِنَّمَا هِيَ مُقَدّمَة على شريطة التَّفْسِير لتفخم الْكَلَام
10 - এবং আতিশয্যবোধক আলিফ (ألف التفضيل), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর সামুদ জাতি, আমি তাদেরকে পথ প্রদর্শন করেছিলাম, কিন্তু তারা হিদায়াতের বিপরীতে অন্ধত্বকেই বেছে নিয়েছিল} এবং তাদের কথা: "অতঃপর" (أما بعد), বিষয়টি এমন ছিল... …হা-সমূহ (الهاءات) আর 'হা' বর্ণসমূহ (الهاءات) হলো সাত প্রকার, যথা-1 - সর্বনামের হা (هاء الإضمار), যেমন আপনার উক্তি: ‘যায়েদ, আমি তাকে প্রহার করেছি’ এবং ‘আমর, আমি তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’। এখানে এই ‘হা’ বর্ণটি যায়েদ ও আমর থেকে ইঙ্গিতবহ (كناية), তাই একে ইঙ্গিতবহ হা (هاء الكناية) এবং সর্বনামের হা (هاء الإضمار) বলা হয়।2 - এবং স্ত্রীলিঙ্গবাচক হা (هاء التأنيث), যেমন বিরতিকালে (الوقف) আপনার উক্তি: ‘তালহা’ ও ‘হামযাহ’। তবে যখন মিলিয়ে পড়া হয় (وصلت), তখন তা ‘তা’ (تاء) বর্ণে পরিণত হয়।3 - এবং স্তম্ভবাচক হা (هاء العماد), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় আমিই আল্লাহ, মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়}। ‘ইন্নাহু’ (إنه) শব্দের মধ্যে অবস্থিত ‘হা’ বর্ণটি হলো স্তম্ভ (عماد), যা ব্যাখ্যার শর্তে (شريطة التفسير) উল্লেখ করা হয়েছে।তদ্রূপ মহান আল্লাহর বাণী: {হে বৎস, নিশ্চয় তা যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয়}। এখানে ‘হা’ বর্ণটি এমন কোনো সর্বনাম (ضمير) নয় যা পূর্বোল্লিখিত কোনো বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করে; বরং বক্তব্যকে গাম্ভীর্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে ব্যাখ্যার শর্তে (شريطة التفسير) একে অগ্রবর্তী করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
4 - وهاء الْوَقْف نَحْو قَوْله تَعَالَى {فبهداهم اقتده}وَقَوله تَعَالَى {وَمَا أَدْرَاك مَا هيه} و {هلك عني سلطانيه}وَتجب هَذِه الْهَاء فِيمَا يحذف من الْفِعْل حَتَّى يبْقى على كلمة وَاحِدَة نَحْو الْأَمر من وشيت ووقيت تَقول شه وقه وَكَذَلِكَ من وعيت تَقول عه فَأَنت فِي الأول فِي الْخِيَار وَفِي الثَّانِي فَلَا بُد مِنْهَا لِأَنَّهُ لَا يُوقف على كلمة وَاحِدَة قد ابتدئ بهَا5 - وهاء الندبة نَحْو وازيداه وواعمراه وَمَا أشبه ذَلِك فَإِذا وصلت سَقَطت وَإِذا وقفت ثبتَتْ لِأَنَّهَا لمد الصَّوْت فَإِذا نَاب عَنْهَا حرف غَيرهَا فِي الِاتِّصَال سَقَطت6 - وَالْهَاء الْأَصْلِيَّة نَحْو قَوْلك لَا تموه فالهاء فِيهِ أَصْلِيَّةوَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {إِلَهكُم إِلَه وَاحِد}7 - وهاء الْبَدَل نَحْو هرقت وأرقت فالهاء بدل من الْهمزَة وَكَذَلِكَ قَوْلهم هرق ماؤك وكما قَالَ الشَّاعِر
4 - এবং বিরতির হা (هاء الوقف), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব তাদের পথ অনুসরণ করো}এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আর কিসে তোমাকে জানাল তা কী?} এবং {আমার ক্ষমতা আমার থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে}এই ‘হা’ যুক্ত করা সেই সকল ক্রিয়ার (فعل) ক্ষেত্রে আবশ্যক হয়ে পড়ে যা বিলুপ্ত হতে হতে একটি মাত্র বর্ণে পরিণত হয়; যেমন: ‘ওয়াশাইতু’ (وشيت) ও ‘ওয়াকাইতু’ (وقيت) এর আদেশবাচক (أمر) রূপ। আপনি বলবেন: ‘শিহ’ (شه) এবং ‘কিহ’ (قه)। অনুরূপভাবে ‘ওয়াআইতু’ (وعيت) থেকে বলবেন ‘ই’হ’ (عه)। প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ইচ্ছাধিকার রয়েছে, কিন্তু দ্বিতীয় ক্ষেত্রে এটি অপরিহার্য; কারণ এমন কোনো একটি বর্ণের ওপর বিরতি (وقف) করা সম্ভব নয় যা দিয়ে শব্দ শুরু করা হয়েছে।5 - এবং বিলাপসূচক হা (هاء الندبة), যেমন: ‘ওয়া যায়দাহ’ ও ‘ওয়া ওমরাহ’ এবং এই জাতীয় শব্দ। যখন শব্দগুলো পরবর্তী শব্দের সাথে মিলিয়ে পড়া হয় তখন এটি বিলুপ্ত হয়ে যায়, কিন্তু বিরতি (وقف) করলে তা বহাল থাকে। কারণ এটি মূলত আওয়াযকে দীর্ঘ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। সুতরাং মিলিয়ে পড়ার সময় যখন অন্য কোনো বর্ণ এর স্থলাভিষিক্ত হয়, তখন এটি বিলুপ্ত হয়ে যায়।6 - এবং মূলগত হা (الهاء الأصلية), যেমন আপনার উক্তি: ‘লা তমুহ’ (لا تموه)। এখানে ‘হা’ বর্ণটি মূলগত (أصلية)।অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের ইলাহ তো এক ইলাহ}7 - এবং বিকল্প হা (هاء البدل), যেমন: ‘হারাকতু’ (هرقت) যা ‘আরাকতু’ (أرقت) এর স্থলবর্তী। এখানে ‘হা’ বর্ণটি হামযা (الهمزة) এর বিকল্প (بدل)। অনুরূপভাবে আরবের প্রবাদ: ‘হারাকা মাউকা’ (هرق ماؤك), যেমনটি কবি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(هرق لنا من قرقرى ذنوبا … إِن الذُّنُوب ينفع المغلوبا)الياءات والياءات عشر وَهِي1 - يَاء الْإِضَافَة تكون فِي الِاسْم وَالْفِعْل نَحْو ضاربي فِي الِاسْم وضربني فِي الْفِعْل وَلَا بُد قبلهَا من النُّون لِئَلَّا يَقع الْكسر فِي الْفِعْل فَأَما الِاسْم فَلَا يحْتَاج إِلَى النُّون مَعهَا فِيهِ لِأَنَّهُ يدْخلهُ الْجَرّ2 - وَالْيَاء الْأَصْلِيَّة نَحْو الْمهْدي والداعي فِي الِاسْم وَأما الْفِعْل فنحو يقْضِي وَيهْدِي فَهَذِهِ الْيَاء من نفس الْكَلِمَة لِأَنَّهَا تقع فِي مَوضِع لَام الْفِعْل من قَوْلك يفعل وفاعل3 - وَالْيَاء الملحقة نَحْو سلقى يسلقي ألحقته ب دحرج يدحرج وَهِي زَائِدَة تشبه الْأَصْلِيَّة4 - وياء التَّأْنِيث نَحْو اضربي وَلَا تذهبي فَهَذِهِ الْيَاء اسْم للمؤنث وَكَذَلِكَ هِيَ فِي قَوْله جلّ وَعز {فإمَّا تَرين من الْبشر أحدا}كَانَ الأَصْل تَرين من الْبشر فِي الِاسْتِعْمَال
(কারকারা থেকে আমাদের জন্য এক বালতি পানি ঢেলে দাও … নিশ্চয়ই বালতি পরাজিতকে সাহায্য করে)ইয়া-সমূহ (الياءات) ইয়া দশ প্রকার, আর সেগুলো হলো:1 - সম্বন্ধসূচক ইয়া (ياء الإضافة): এটি বিশেষ্য (الاسم) এবং ক্রিয়া (الفعل)-র মধ্যে হয়ে থাকে। যেমন- বিশেষ্যের ক্ষেত্রে 'দারিবী' (ضاربي) এবং ক্রিয়ার ক্ষেত্রে 'দারাবানী' (ضربني)। ক্রিয়ার ক্ষেত্রে এর পূর্বে অবশ্যই একটি নুন (النون) থাকতে হয় যাতে ক্রিয়াটিতে কাসরা (الكسر) না ঘটে। তবে বিশেষ্যের ক্ষেত্রে এর সাথে নুন-এর প্রয়োজন হয় না, কারণ বিশেষ্য জার (الجر) গ্রহণ করে থাকে।2 - মূলগত ইয়া (الياء الأصلية): যেমন- বিশেষ্যের ক্ষেত্রে 'আল-মাহদী' (المهدي) ও 'আদ-দায়ি' (الداعي)। আর ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যেমন 'ইয়াকদ্বি' (يقضي) ও 'ইয়াহদী' (يهدي)। এই ইয়া শব্দের মূল সত্তার অন্তর্ভুক্ত, কারণ এটি 'ইয়াফউলু' (يفعل) ও 'ফাইলুন' (فاعل) ওজনের লামুল ফিল (لام الفعل) এর স্থানে অবস্থিত।3 - অনুগামী ইয়া (الياء الملحقة): যেমন 'সালকা-ইয়াসলাকি' (سلقى يسلقي), যা 'দাহরাজা-ইউদাহরিজু' (دحرج يدحرج)-এর ওজনে যুক্ত করা হয়েছে। এটি অতিরিক্ত (زائدة) বর্ণ হলেও দেখতে মূলগত বর্ণের মতো।4 - স্ত্রীলিঙ্গবাচক ইয়া (ياء التأنيث): যেমন 'ইদ্বরিবী' (اضربي) এবং 'লা তাযহাবী' (لا تذهبي)। এই ইয়া-টি স্ত্রীলিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ্য (اسم)। একইভাবে এটি মহান আল্লাহর এই বাণীতেও এসেছে- {অতঃপর যদি তুমি মানুষের মধ্য থেকে কাউকে দেখ} (فإما ترين من البشر أحدا)। ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর মূল রূপ ছিল 'তারাঈনা' (ترين)।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَقد سَقَطت الْألف الَّتِي هِيَ لَام الْفِعْل من ترى لالتقاء الساكنين كَمَا تسْقط الْألف من مصطفى إِذا قلت مصطفين لالتقاء الساكنين فَتَصِير تَرين ثمَّ تلْحق النُّون الشَّدِيدَة فتذهب نون الرّفْع لِأَنَّهُ لَا تَجْتَمِع عَلامَة الرّفْع مَعَ النُّون الشَّدِيدَة وتحرك الْيَاء بِالْكَسْرِ لِأَن قبلهَا مَفْتُوحًا وَبعدهَا نون سَاكِنة فَتَصِير تَرين5 - وياء الْإِطْلَاق نَحْو قَول الشَّاعِر(أَمن أم أوفى دمنة لم تكلم … بحومانة الدراج فالمتثلم)فَهِيَ تقع فِي إِطْلَاق القافية فِي الشّعْر وَفِي الفواصل كَقَوْلِه تَعَالَى على قِرَاءَة يَعْقُوب {وإياي فارهبون} و {وإياي فاتقون}6 - وَالْيَاء المنقلبة فِي نَحْو يغزي انقلبت من وَاو غَزْو وَكَذَلِكَ الْمُعْطِي وَأَصله من عطا يعطو إِذا تنَاول هُوَ وَأعْطى يُعْطي إِذا ناول غَيره وَأنْشد(وتعطو برخص غير شثن كَأَنَّهُ … أساريع ظَبْي أَو مساويك إسحل)
‘তরা’ (ترى) শব্দ থেকে ‘লামুল ফিল’ (لام الفعل) হিসেবে থাকা ‘আলিফ’টি দুই স্থির বর্ণের মিলনের কারণে (لالتقاء الساكنين) বিলুপ্ত হয়েছে, যেমনটি ‘মুস্তফা’ (مصطفى) শব্দ থেকে ‘আলিফ’ বিলুপ্ত হয় যখন আপনি দুই স্থির বর্ণের মিলনের কারণে (لالتقاء الساكنين) ‘মুস্তফাইন’ (مصطفين) বলেন। ফলে এটি ‘তরাইন’ (ترين) হয়, এরপর এতে তাকিদ-এর নুন (النون الشديدة) যুক্ত হয় এবং রাফা-এর নুন (نون الرفع) বিলুপ্ত হয়ে যায়; কারণ রাফা-এর চিহ্ন এবং তাকিদ-এর নুন (النون الشديدة) একত্রে অবস্থান করতে পারে না। তখন ‘ইয়া’ বর্ণটিকে কাসরা (জের) দিয়ে হরকত প্রদান করা হয় কারণ তার পূর্বের বর্ণটি ফাতহাহ (জবর) যুক্ত এবং পরবর্তী বর্ণটি স্থির ‘নুন’। ফলে এটি ‘তরাইন্না’ (تَرَيِنَّ) রূপ ধারণ করে।৫ - প্রলম্বিত ইয়া (ياء الإطلاق), যেমন কবির উক্তি:(উম্মে আওফার কি কোনো স্মৃতিচিহ্ন এটি, যা বাকহীন হয়ে আছে... হাওমানাতুদ দাররাজ ও মুতাসাল্লামের প্রান্তরে?)এটি কবিতার অন্ত্যমিলের প্রলম্বন (إطلاق القافية) হিসেবে এবং আয়াতের বিরতিস্থলে (الفواصل) ব্যবহৃত হয়, যেমন ইয়াকুবের কিরাত অনুযায়ী মহান আল্লাহর বাণী: {এবং কেবল আমাকেই ভয় করো} এবং {এবং কেবল আমারই তাকওয়া অবলম্বন করো}।৬ - রূপান্তরিত ইয়া (الياء المنقلبة), যেমন ‘ইউগযা’ (يغزي) এর মতো শব্দে, যা ‘গাযওয়া’ (غزو) এর ‘ওয়াও’ থেকে রূপান্তরিত হয়েছে। অনুরূপভাবে ‘আল-মু’তী’ (المعطي), যার মূল শব্দ ‘আতা ইয়া’তু’ (عطا يعطو) থেকে এসেছে যখন সে নিজে গ্রহণ করে, এবং ‘আ’তা ইউ’তী’ (أعطى يعطي) যখন সে অন্যকে প্রদান করে। কবি গেয়েছেন:(সে এমন এক কোমল ও নমনীয় হস্ত দিয়ে গ্রহণ করে যা কর্কশ নয়, যেন তা হরিণের পায়ের রেখা কিংবা ‘ইসকিল’ গাছের মিসওয়াক)।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
7 - وياء التَّثْنِيَة نَحْو صاحبين وغلامين وَهِي تكون مَعَ النُّون إِلَّا فِي الْإِضَافَة نَحْو غلامي زيد فِي الْجَرّ وَالنّصب8 - وياء الْجمع نَحْو مُسلمين وصالحين وَمَا أشبه ذَلِك وَيجوز أَن تجمع هَذِه الْيَاء بِالْإِضَافَة فَتَقول مُسْلِمِي وصالحيفَأَما يَاء يَا بني فَإِنَّهَا لَيست من بَاب الْجمع وَلكنهَا أَصْلِيَّة بعْدهَا يَاء الْإِضَافَة قد حذفت واجتزئ بالكسرة مِنْهَا وَيجوز فِي الْعَرَبيَّة يَا بني على النداء الْمُفْرد مثل يَا زيد وَيجوز يَا بني على مَا بَيناهُ فِي لفظ الندبة كَمَا قَالَ الشَّاعِر(يَا بنت عَمَّا لَا تلومي واهجعي … )وَمَعْنَاهُ يَا بنت عمي على لفظ الندبة وَكَذَلِكَ يَا رَبًّا تجَاوز يُرِيد يَا رَبِّيفَفِي قَوْلك يَا بني ثَلَاث ياءات الْيَاء الأولى يَاء فعيل فِي التصغير وَالثَّانيَِة أَصْلِيَّة وَالثَّالِثَة يَاء الْإِضَافَة9 - وياء الْعِوَض كَقَوْلِك مَرَرْت بزيدي فِي قَول من عوض من التَّنْوِين فِي الْجَرّ وَالرَّفْع كَمَا يعوض فِي النصب إِذا قلت رَأَيْت زيدا
7 - দ্বিবচনের ইয়া (ياء التثنية), যেমন সাহিবাইনি এবং গুলামাইনি। এটি নুন (النون) সহ ব্যবহৃত হয়, তবে সম্বন্ধ (الإضافة) এর ক্ষেত্রে নুন বিলুপ্ত হয়; যেমন যর (الجر) ও নসব (النصب) এর অবস্থায় 'গুলামাই যাইদ'।8 - বহুবচনের ইয়া (ياء الجمع), যেমন মুসলিমিনা ও সলিহিনা এবং এই জাতীয় শব্দ। এই ইয়া-কে সম্বন্ধ (الإضافة) করে ব্যবহার করা বৈধ, তখন আপনি বলবেন মুসলিমি এবং সলিহি।আর 'ইয়া বুনাইয়া' এর ইয়া সম্পর্কে বক্তব্য হলো, এটি বহুবচনের অধ্যায় (باب الجمع) থেকে নয়, বরং এটি একটি মূল (أصلية) বর্ণ যার পরে সম্বন্ধসূচক ইয়া (ياء الإضافة) ছিল যা বিলুপ্ত (حذفت) করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে কাসরা (الكسرة) দ্বারা সন্তুষ্ট থাকা হয়েছে। আরবি ভাষায় একক সম্বোধন (النداء المفرد) হিসেবে 'ইয়া বুনাইয়া' বলা বৈধ যেমন 'ইয়া যাইদু', আবার বিলাপের শব্দ (لفظ الندبة) হিসেবেও এটি বলা বৈধ যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি; কবি যেমন বলেছেন:(হে চাচার কন্যা, তুমি তিরস্কার করো না এবং বিশ্রাম নাও … )এর অর্থ হলো বিলাপের শব্দ (لفظ الندبة) অনুযায়ী 'হে আমার চাচার কন্যা'। অনুরূপভাবে 'ইয়া রব্বা তাজাওয়ায' বলতে তিনি 'ইয়া রব্বি' বুঝিয়েছেন।সুতরাং আপনার উক্তি 'ইয়া বুনাইয়া' তে তিনটি ইয়া রয়েছে: প্রথমটি তাসগির (التصغير) এর 'ফুয়াইল' ওযনের ইয়া, দ্বিতীয়টি মূল (أصلية) বর্ণ এবং তৃতীয়টি হলো সম্বন্ধসূচক ইয়া (ياء الإضافة)।9 - বিনিময়সূচক ইয়া (ياء العوض), যেমন আপনার উক্তি 'মারারতু বি-যাইদি'; এটি তাদের মতানুসারে যারা যর (الجر) ও রফ (الرفع) এর অবস্থায় তানউইন (التنوين) এর পরিবর্তে বিনিময় নিয়ে আসে, যেমনটি নসব (النصب) এর অবস্থায় বিনিময় দেওয়া হয় যখন আপনি বলেন 'রাআইতু যাইদান'।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
10 - وياء الْخُرُوج تكون بعد هَاء الْإِطْلَاق فِي الشّعْر كَقَوْل الشَّاعِر(تخلج الْمَجْنُون من كسائهي … )فالهمزة رُوِيَ وَالْألف ردف وَالْهَاء وصل وَالْيَاء خُرُوجالنونات والنونات ثَمَان وَهِي1 - نون الرّفْع وَتَكون فِي ثَلَاثَة أَشْيَاء وَهِي يفْعَلَانِ ويفعلون وتفعلين وسقوطها عَلامَة النصب والجزم نَحْو لن يفعلا وَلنْ يَفْعَلُوا وَلنْ تفعليوَفِي الْجَزْم لم يفعلا وَلم يَفْعَلُوا وَلم تفعلي2 - وَنون التَّثْنِيَة نَحْو الزيدان والغلامان تسْقط فِي الْإِضَافَة وَتثبت مَعَ الْألف وَاللَّام مَكْسُورَة لالتقاء الساكنين فَتَقول غُلَاما زيد وصاحبا عَمْرو فتسقطهما للإضافة3 - وَنون الْجمع نَحْو الْمُسلمُونَ والصالحون والزيدون وَهِي مَفْتُوحَة أبدا لِأَن مَا قبلهَا وَاو مضموم مَا قبلهَا أَو يَاء مكسور مَا قبلهَا فتحوها استثقالا للكسر فِيهَا وَهِي تسْقط فِي الْإِضَافَة كَمَا تسْقط نون التَّثْنِيَة نَحْو مسلموك وصالحوك4 - وَنون التوكيد نَحْو اضربن زيدا مُخَفّفَة واضربن
10 - এবং 'ইয়া' আল-খুরুজ (ياء الخروج) কবিতায় হায়ে ইতলাক (هاء الإطلاق)-এর পরে আসে, যেমন কবির উক্তি:(তখলাজুল মাজনুনু মিন কিসায়িহী … )এখানে হামজা হলো রাবি (رُوِيَ), আলিফ হলো রিদফ (ردف), 'হা' হলো ওয়াসল (وصل) এবং 'ইয়া' হলো খুরুজ (خروج)।নুনসমূহ (النونات) নুনসমূহ আট প্রকার, সেগুলো হলো:1 - নুন আর-রাফ' (نون الرفع); এটি তিনটি ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, আর সেগুলো হলো: ইয়াফআলা-নি, ইয়াফআলূ-না এবং তাফআলী-না। এর বিলুপ্তি নাসব (نصب) ও জাজম (جزم)-এর চিহ্ন। যেমন: লান ইয়াফআলা, লান ইয়াফআলূ এবং লান তাফআলী।আর জাজম (جزم)-এর ক্ষেত্রে: লাম ইয়াফআলা, লাম ইয়াফআলূ এবং লাম তাফআলী।2 - নুন আত-তাসনিয়াহ (نون التثنية) বা দ্বিবচনের নুন; যেমন: আল-যাইদানি এবং আল-গুলামানি। ইদাফাত (إضافة) বা সম্বন্ধের সময় এটি বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং আলিফ ও লামের সাথে সাকিনদ্বয়ের মিলন (التقاء الساكنين)-এর কারণে কাসরা বা জের বিশিষ্ট হয়ে বহাল থাকে। সুতরাং আপনি বলবেন: গুলামা যাইদ এবং সাহিবা আমর; এখানে ইদাফাত (إضافة)-এর কারণে নুন দুটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।3 - নুন আল-জাম' (نون الجمع) বা বহুবচনের নুন; যেমন: আল-মুসলিমূনা, আস-সালিহূনা এবং আল-যাইদূনা। এটি সর্বদা ফাতহা বা জবর বিশিষ্ট হয়। কারণ এর পূর্বের বর্ণটি হয় 'ওয়াও' যার পূর্বে পেশ থাকে, অথবা 'ইয়া' যার পূর্বে জের থাকে। নুনের ওপর কাসরা বা জেরের উচ্চারণ কষ্টকর হওয়ার কারণে তারা একে ফাতহা প্রদান করেছে। এটিও ইদাফাত (إضافة)-এর সময় বিলুপ্ত হয়, যেমনটি নুন আত-তাসনিয়াহ (نون التثنية) বিলুপ্ত হয়ে থাকে। যেমন: মুসলিমূকা এবং সালিহূকা।4 - নুন আত-তাওকিদ (نون التوكيد) বা দৃঢ়তাসূচক নুন; যেমন: ইদরিবান যাইদান—লঘু বা মুখাফফাফাহ (مخففة) এবং ইদরিবান্না।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
زيدا مُشَدّدَة فَإِذا لَقِي المخففة سَاكن حذفت لالتقاء الساكنين وَلم تحرّك كَمَا يُحَرك التَّنْوِين كَمَا قَالَ الشَّاعِر(لَا تهين الْفَقِير علك أَن تركع … يَوْمًا والدهر قد رَفعه)وَتقول على هَذِه اضْرِب الرجل تُرِيدُ اضربن فتحذف لالتقاء الساكنين والمشددة تثبت على كل حَال لِأَنَّهَا متحركة5 - نون الصّرْف نَحْو قَوْلك رَأَيْت زيدا هَذَا وَتسَمى تنويناوَهِي نون خَفِيفَة فِي الْحَقِيقَة وتحرك إِذا لقيها سَاكن نَحْو جَاءَنِي زيد الْيَوْم فحركتها بِالْكَسْرِ لالتقاء الساكنين وتحسب فِي وزن الشّعْر حرفا كَسَائِر حُرُوف المعجم6 - وَالنُّون المضارعة لألفي التَّأْنِيث وَتَكون فِي شَيْئَيْنِ فِي فعلان وفعلى نَحْو غَضْبَان وغضبى وسكران وسكرى وعطشان وعطشى وَفِي التَّعْرِيف نَحْو عُثْمَان وَحسان وَمَا أشبه ذَلِك وَإِنَّمَا ضارعت ألفي التَّأْنِيث نَحْو حَمْرَاء وصفراء لِأَنَّهَا تمْتَنع عَلَيْهَا هَاء التَّأْنِيث كَمَا تمْتَنع على حَمْرَاء وصفراء فَلَا يجوز غضبانة وَلَا عثمانة فَأَما امْتنَاع غضبانة فَلِأَن مُؤَنّثَة غَضبى وَأما امْتنَاع عثمانة فَلِأَنَّهُ علم خَاص
দ্বিত্ব (مشددة), সুতরাং যখন লঘু (مخففة) নুন কোনো সুকুনযুক্ত (ساكن) বর্ণের সাক্ষাৎ পায়, তখন দুই সুকুন বা হসন্তের মিলনের (التقاء الساكنين) কারণে তা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং তানউইন (تنوين) যেভাবে হরকতবিশিষ্ট হয়, এটি সেভাবে হয় না। যেমন কবি বলেছেন:(দরিদ্রকে অবজ্ঞা করো না, সম্ভবত তুমি একদিন অবনত হবে... আর সময় তাকে উচ্চাসীন করেছে)আর এই নিয়ম অনুযায়ী আপনি বলবেন 'ইদরিবির রাজুলা' (লোকটিকে প্রহার করো), এখানে আপনার উদ্দেশ্য হলো 'ইদরিবান'; কিন্তু দুই সুকুন বা হসন্তের মিলনের (التقاء الساكنين) কারণে তা বিলুপ্ত হয়েছে। তবে দ্বিত্ব (مشددة) নুন সব অবস্থায় বহাল থাকে, কারণ সেটি হরকতবিশিষ্ট (متحركة)।৫ - রূপান্তরশীল নুন (نون الصرف), যেমন আপনার উক্তি 'রাআইতু জাইদান হাজা', আর একে তানউইন (تنوين) বলা হয়।এটি প্রকৃতপক্ষে একটি লঘু নুন এবং যখন এটি কোনো সুকুনযুক্ত (ساكن) বর্ণের সাক্ষাৎ পায় তখন এটি হরকতবিশিষ্ট হয়। যেমন 'জায়ানি জাইদুনিল ইয়াওমা'; এখানে দুই সুকুন বা হসন্তের মিলনের (التقاء الساكنين) কারণে একে কাসরা বা জের প্রদান করা হয়েছে। কবিতার ছন্দে একে বর্ণমালার অন্যান্য বর্ণের ন্যায় একটি স্বতন্ত্র বর্ণ হিসেবে গণনা করা হয়।৬ - সেই নুন যা স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক আলিফের (ألفي التأنيث) সদৃশ। এটি দুটি ক্ষেত্রে হয়ে থাকে: 'ফাউলান' (فعلان) ও 'ফাউলা' (فعلى) ওজনে, যেমন গদবান ও গদবা, সাকরান ও সাকরা, আতশান ও আতশা। এছাড়া সংজ্ঞাবাচক বা নির্দিষ্টকরণের (التعريف) ক্ষেত্রে, যেমন উসমান, হাসান এবং এই জাতীয় শব্দ। এটি স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক আলিফ (ألفي التأنيث) যেমন 'হামরা' ও 'সাফরা' এর সদৃশ হয়েছে এই কারণে যে, এতে স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞাপক 'হা' যুক্ত হওয়া নিষিদ্ধ, যেমনটি 'হামরা' ও 'সাফরা' এর ক্ষেত্রেও নিষিদ্ধ। তাই 'গদবানাহ' বা 'উসমানাহ' বলা বৈধ নয়। 'গদবানাহ' নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো এর স্ত্রীলিঙ্গ রূপ হলো 'গদবা', আর 'উসমানাহ' নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো এটি একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য (علم خاص)।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فَأَما ندمان فالألف وَالنُّون فِيهِ لَيست بمضارعة لِأَنَّهُ يجوز فِيهِ ندمانة وَكَذَلِكَ عُرْيَان وعريانةوَأَن سميت ب ندمان فَلم ينْصَرف لِأَن الْألف وَالنُّون حِينَئِذٍ يضارع التَّأْنِيث وَأما قبل ذَلِك فَيَنْصَرِف وَإِن كَانَ صفة لِأَن الْألف وَالنُّون لَا تضارعان التَّأْنِيث7 - وَالنُّون الْأَصْلِيَّة نَحْو حسن وقطن وعدن وَمَا أشبه ذَلِك وَيجْرِي عَلَيْهَا الْإِعْرَاب كَمَا يجْرِي على دَال زيد8 - وَالنُّون الزَّائِدَة فِي حَشْو الْكَلِمَة نَحْو رعشن من الرعشة وضيفن وَهُوَ الَّذِي يَجِيء مَعَ الضَّيْف فَهِيَ وَإِن كَانَت زَائِدَة يجْرِي عَلَيْهَا من الْإِعْرَاب كَمَا يجْرِي على الْأَصْلِيَّة لِأَنَّهَا مُلْحقَة ب جَعْفَرالتاءات والتاءات سبع وَهِي1 - تَاء الْجمع نَحْو مسلمات وصالحات فِي جمع الْمُؤَنَّث وَحكمهَا فِي النصب والجر أَن تكون مَكْسُورَة نَحْو رَأَيْت مسلمات
'নদমান' (Nadman) শব্দের ক্ষেত্রে আলিফ এবং নুন সাদৃশ্যপূর্ণ নয়, কারণ এতে 'নদমানাহ' (Nadmanah) বলা বৈধ। একইভাবে 'উরিয়ান' (Uryan) এবং 'উরিয়ানাহ' (Uryanah)।আর যদি কাউকে 'নদমান' নামকরণ করা হয়, তবে তা অ-পরিবর্তনশীল (غير منصرف) হবে; কারণ তখন আলিফ ও নুন স্ত্রীলিঙ্গের (تأنيث) সাদৃশ্য বহন করে। তবে নামকরণের পূর্বে তা পরিবর্তনশীল (منصرف) থাকে, যদিও তা বিশেষণ (صفة) হয়; কারণ তখন আলিফ ও নুন স্ত্রীলিঙ্গের (تأنيث) সাদৃশ্য রাখে না।৭ - মূল নুন (النون الأصلية), যেমন: হাসান, কুতুন, আদন এবং এর সদৃশ শব্দগুলো। এগুলোর ওপর ব্যাকরণিক বিভক্তি (الإعراب) একইভাবে কার্যকর হয় যেমনটি যায়েদ শব্দের 'দাল'-এর ওপর কার্যকর হয়।৮ - শব্দের মাঝখানে অতিরিক্ত নুন (النون الزائدة), যেমন: 'রা’শাহ' (Ra'shah) থেকে 'রা’শান' (Ra'shan) এবং 'দাইফান' (Dhaifan)—যে মেহমানের সাথে আসে। এটি অতিরিক্ত হওয়া সত্ত্বেও এর ওপর ব্যাকরণিক বিভক্তি (الإعراب) মূল বর্ণের মতোই কার্যকর হয়, কারণ এটি 'জা’ফর' (Ja'far) ওজনের সাথে সংশ্লিষ্ট (ملحقة)।'তা' (التاءات) সমূহ 'তা' সাত প্রকার, আর সেগুলো হলো:১ - বহুবচনের তা (تاء الجمع), যেমন: স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচনের (جمع المؤنث) ক্ষেত্রে মুসলিমাত ও সালিহাত। কর্মবাচক (النصب) ও সম্বন্ধবাচক (الجر) অবস্থায় এর বিধান হলো তা কাসরা বা জেরযুক্ত (مكسورة) হওয়া, যেমন: 'রাআইতু মুসলিমাত' (আমি মুসলিম নারীদের দেখেছি)।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومررت بمسلمات وَأما فِي الرّفْع فمضمومة على الأَصْل نَحْو هَؤُلَاءِ مسلماتوكل مَا فِيهِ هَاء التَّأْنِيث فقياسه إِذا جمعته بِأَلف وتاء هَذَا الْقيَاس نَحْو طَلْحَة وطلحات وعلامة وعلامات وَتَمْرَة وتمرات وَمَا أشبه ذَلِك2 - وتاء التَّأْنِيث فِي الْوَاحِد تكون تَاء فِي الْوَصْل وهاء فِي الْوَقْف نَحْو قَوْله تَعَالَى {وَإِن تعدوا نعْمَة الله لَا تحصوها}3 - وَالتَّاء الْأَصْلِيَّة نَحْو بَيت وأبيات وَتقول رَأَيْت أبياتك لِأَنَّهَا أَصْلِيَّة كَمَا تَقول رَأَيْت أخوالك لِأَنَّهَا بِمَنْزِلَة اللَّام من الأخوال وَالدَّال من الْأَوْتَاد وَكَذَلِكَ التَّاء فِي صلت وأصليت وَكَذَلِكَ فِي وَقت وأوقات تَقول علمت أوقاتك لِأَن التَّاء أَصْلِيَّة4 - وَالتَّاء الزَّائِدَة فِي الْوَاحِد نَحْو عنكبوت ورحموت ورهبوت لِأَنَّك تَقول عنكباء ورحم ورهب فتشف مِنْهُ مَا تذْهب فِيهِ الزِّيَادَةوَهَذِه التَّاء هِيَ حرف الْإِعْرَاب تجْرِي مجْرى الْحَرْف الْأَصْلِيّ فِي تعاقب حركات الْإِعْرَاب عَلَيْهَا5 - وتاء الْعِوَض نَحْو تَاء بنت وَأُخْت جعلت عوضا من
...এবং আমি মুসলিম নারীদের (مسلمات) পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। আর রফ তথা পেশযুক্ত (الرفع) অবস্থায় তা মূল (الأصل) নিয়ম অনুযায়ী পেশযুক্ত (مضمومة) হয়, যেমন: ‘এঁরা মুসলিম নারী’ (هؤلاء مسلمات)।এবং যে সকল শব্দে স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘হা’ (هاء التأنيث) রয়েছে, সেগুলোকে যখন আলিফ ও তা যোগে বহুবচন (جمع) করা হয়, তখন তার বিধান হলো এই নিয়ম (القياس) অনুসরণ করা; যেমন: তালহা ও তালহাত, আল্লামাহ ও আল্লামাত, তামরাহ ও তামরাত এবং এই জাতীয় অন্যান্য শব্দ।2 - আর একবচনের ক্ষেত্রে স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’ (تاء التأنيث) মিলিয়ে পড়ার (الوصل) সময় ‘তা’ হিসেবে উচ্চারিত হয় এবং থামার (الوقف) সময় ‘হা’ হয়ে যায়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ (نعمة) গণনা করো, তবে তা শেষ করতে পারবে না}।3 - আর মূলগত ‘তা’ (التاء الأصلية); যেমন: বায়ত ও আবয়াত। আপনি বলবেন, ‘আমি তোমার ঘরগুলো বা কবিতাগুলো (أبياتك) দেখেছি’; কারণ এটি মূলগত (أصلية), যেমনটি আপনি বলেন, ‘আমি তোমার মামাদের (أخوالك) দেখেছি’। কারণ এটি ‘আখওয়াল’ শব্দের ‘লাম’ এবং ‘আওতাদ’ শব্দের ‘দাল’ বর্ণের স্থলাভিষিক্ত। অনুরূপভাবে ‘সালত’ ও ‘আসলিত’ শব্দের ‘তা’, এবং ‘ওয়াক্ত’ ও ‘আওকাত’ শব্দের ‘তা’-ও একই রকম। আপনি বলবেন, ‘আমি তোমার সময়গুলো (أوقاتك) জেনেছি’; কারণ ‘তা’ বর্ণটি এখানে মূলগত (أصلية)।4 - আর একবচনে অতিরিক্ত ‘তা’ (التاء الزائدة); যেমন: আনকাবুত, রাহামুত এবং রাহাবুত। কেননা আপনি বলে থাকেন আনকাবা, রাহাম এবং রাহাব; ফলে আপনি এর থেকে অতিরিক্ত (الزيادة) অংশটি স্পষ্ট বুঝতে পারেন।আর এই ‘তা’-টি হলো ই’রাবের বর্ণ (حرف الإعراب), যা ই’রাবের হারাকাতসমূহের (حركات الإعراب) পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের ক্ষেত্রে মূল অক্ষরের মতোই ব্যবহৃত হয়।5 - আর বিনিময়ে আসা ‘তা’ (تاء العوض); যেমন: ‘বিনত’ ও ‘উখত’ শব্দের ‘তা’, যা মূলত ... এর পরিবর্তে বা বিনিময় (عوضا) হিসেবে রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
الْمَحْذُوف وبنيتا بِنَاء جذع وقفل فَإِذا جمعت حذفتها وَجئْت بتاء الْجمع فَجرى مجْرى تَاء مسلمات وَنَحْوه فَكل تَاء زيدت فِي الْوَاحِد فقياسها أَن تجْرِي مجْرى الدَّال من زيد فِي التَّصَرُّف بِوُجُوه الْإِعْرَاب إِلَّا أَن يكون لَا ينْصَرف فَيكون حكمهَا حكم عُثْمَان فِي أَنه لَا ينْصَرففَأَما الْجمع فَكل تَاء زيدت فِيهِ مَعَ الْألف على طَرِيق جمع السَّلامَة فالتاء فِيهِ بِالنّصب والجر على صُورَة وَاحِدَة كَمَا يكون الْمَذْكُور فِي جمع السَّلامَة نَحْو رَأَيْت الْمُسلمين ومررت بِالْمُسْلِمينفَأَما جمع التكسير فيختلف فِيهِ نَحْو بُسْتَان وبساتين تكون النُّون حرف الْأَعْرَاب لِأَنَّهُ جمع تكسير وَكَذَلِكَ وَقت وأوقات وَبَيت وأبيات فالتاء فِيهِ حرف الْإِعْرَاب لِأَنَّهُ جمع تكسير فَهَذَا فِي الأَصْل وَالزَّائِد سَوَاء إِذا كَانَ على جمع التكسير نَحْو: رَأَيْت قضاتك وأكرمت جماعتك وغزاتك وَمَا أشبه ذَلِك لِأَنَّهُ جمع تكسير6 - وتاء الْبَدَل مثل سِتّ أَصْلهَا سدس يدلك عَلَيْهِ الْجمع أَسْدَاس وَإِنَّمَا قلبت تَاء لِأَنَّهَا من مخرجها تقلب مِنْهَا السِّين لمقاربتها ثمَّ تُدْغَم التَّاء الأولى فِي الْأُخْرَى فَتَصِير سِتّ7 - وَالتَّاء الملحقة نَحْو عفريت وَزنه فعليت مَأْخُوذ من العفر وَهُوَ مُلْحق ب شمليل وقنديل
বিলুপ্ত (المحذوف) এবং এই দুটি শব্দ ‘জিযউন’ ও ‘কুফলুন’-এর গঠনের ন্যায় গঠিত। অতঃপর যখন আপনি এর বহুবচন (جمع) করবেন, তখন আপনি তাকে বিলুপ্ত করবেন এবং বহুবচনের তা (تاء الجمع) নিয়ে আসবেন। ফলে এটি ‘মুসলিমাত’ ও এর সমজাতীয় শব্দের ‘তা’-এর অনুরূপ হবে। সুতরাং একবচনে (واحد) অতিরিক্ত যে কোনো ‘তা’ যুক্ত হলে তার নিয়ম হলো ই’রাবের (إعراب) বিভিন্ন অবস্থায় তা ‘যায়দ’ শব্দের ‘দাল’-এর অনুরূপ হওয়া, যদি না শব্দটি রূপান্তরহীন (لا ينصرف) হয়। সে ক্ষেত্রে তার বিধান ‘উসমান’ শব্দের ন্যায় হবে যে, তা রূপান্তরহীন (لا ينصرف)।আর বহুবচনের (جمع) ক্ষেত্রে, নিরাপদ বহুবচনের (جمع السلامة) পদ্ধতি অনুযায়ী আলিফের সাথে যে ‘তা’ অতিরিক্ত যুক্ত হয়, তাতে নসব (النصب) ও জর (الجر) এর অবস্থায় ‘তা’ অভিন্ন রূপে থাকে; যেমনটি নিরাপদ বহুবচনের (جمع السلامة) ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন: ‘রাআইতুল মুসলিমীনা’ এবং ‘মারারতু বিল মুসলিমীনা’।পক্ষান্তরে ভগ্ন বহুবচনের (جمع التكسير) ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন হয়, যেমন: ‘বুস্তান’ ও ‘বাসাতীন’। এখানে ‘নুন’ হলো ই’রাবের বর্ণ (حرف الإعراب), কারণ এটি ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير)। একইভাবে ‘ওয়াকত’ ও ‘আওকাত’ এবং ‘বাইত’ ও ‘আবিয়াত’। এখানে ‘তা’ হলো ই’রাবের বর্ণ (حرف الإعراب), কারণ এটি ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير)। সুতরাং এটি মূল বর্ণ হোক বা অতিরিক্ত, যখন তা ভগ্ন বহুবচনের (جمع التكسير) ওজনে হবে তখন উভয়ই সমান। যেমন: ‘রাআইতু কুদাতাকা’, ‘আকরামতু জামা’আতাকা’, ‘গুযাতাকা’ এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ; কারণ এগুলো ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير)।৬ - এবং স্থলাভিষিক্ত তা (تاء البدل), যেমন: ‘সিত্তুন’। এর মূল হলো ‘সুদসুন’, যা আপনাকে এর বহুবচন (جمع) ‘আসদাসুন’ নির্দেশ করবে। এখানে মূলত ‘সিন’ বর্ণটিকে ‘তা’ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে কারণ এদের উচ্চারণস্থল কাছাকাছি। অতঃপর প্রথম ‘তা’ টিকে দ্বিতীয়টির সাথে সন্ধি (إدغام) করা হয়েছে, ফলে তা ‘সিত্তুন’ এ পরিণত হয়েছে।৭ - এবং সংযুক্ত তা (التاء الملحقة), যেমন: ‘ইফরীত’। এর ওজন হলো ‘ফিবলীত’। এটি ‘আফর’ শব্দ থেকে গৃহীত এবং এটি ‘শামলীল’ ও ‘কান্দীল’ শব্দের সাথে সংযুক্ত (ملحق)।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وُجُوه مَا وَمَا وَلها عشرَة أوجه خَمْسَة مِنْهَا أَسمَاء وَخَمْسَة أحرف فالخمسة الأول1 - إستفهام نَحْو مَا عنْدك فَتَقول طَعَام أَو شراب أَو رجل أَو غُلَام وَمَا أشبه ذَلِك من الْأَجْنَاس لِأَنَّهَا سُؤال عَن الْجِنْسوَكَذَلِكَ قَوْلك مَا تَقول فِي زيد فَتَقول مجيبا خيرا أَو شرا كَأَنَّهُ قَالَ أَي شَيْء تَقول أَي فَقلت خيرا فَهَذِهِ اسْتِفْهَام2 - وَجَزَاء نَحْو مَا تفعل تجز عَلَيْهِ وَمِنْه قَوْله جلّ وَعز {مَا يفتح الله للنَّاس من رَحْمَة فَلَا مُمْسك لَهَا} وَمَوْضِع يفتح جزم ب مَا وَالْجَوَاب الْفَاء فِي فَلَا مُمْسك3 - وموصولة بِمَعْنى الَّذِي نَحْو مَا عنْدك من الْمَتَاع أحب إِلَيّ وَمِنْه قَوْله جلّ وَعز {صَبَرُوا أجرهم بِأَحْسَن مَا كَانُوا يعْملُونَ} وَلذَلِك صرفت أحسن من أجل إِضَافَته إِلَى
মা (ما)-এর প্রকারভেদসমূহ আর ‘মা’ (ما)-এর দশটি রূপ রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি হলো বিশেষ্য (أسماء) এবং পাঁচটি হলো অব্যয় (أحرف)। প্রথম পাঁচটি হলো:১ - প্রশ্নবোধক (استفهام); যেমন: ‘তোমার কাছে কী আছে?’ তখন উত্তরে আপনি বলবেন—খাদ্য, পানীয়, ব্যক্তি অথবা বালক কিংবা এই জাতীয় অন্যান্য প্রকার (الجنس); কেননা এটি প্রকার সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা।অনুরূপভাবে আপনার উক্তি: ‘যায়েদ সম্পর্কে আপনি কী বলেন?’ তখন আপনি উত্তরে বলেন—ভালো অথবা মন্দ। এটি যেন এমন যে, তিনি জিজ্ঞেস করেছেন: ‘আপনি কোন বিষয়টি বলছেন?’ জবাবে আপনি বললেন—ভালো। সুতরাং এটি হলো প্রশ্নবোধক (استفهام)।২ - শর্তবাচক বা প্রতিদানমূলক (جزاء); যেমন: ‘তুমি যা করবে, তার প্রতিদান পাবে।’ এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ মানুষের জন্য রহমতের মধ্য থেকে যা উন্মুক্ত করে দেন, তা আটকানোর কেউ নেই}। এখানে ‘মা’ (ما) দ্বারা ‘ইফতাহ’ (يفتح) ক্রিয়াটি জজম (جزم) প্রাপ্ত হয়েছে এবং এর উত্তর হলো ‘ফা’ (ف) যুক্ত ‘ফালা মুমসিকা’ (فلا ممسك) অংশটি।৩ - সম্বন্ধসূচক (موصولة) যা ‘আল্লাযী’ (الذي) অর্থে ব্যবহৃত হয়; যেমন: ‘তোমার কাছে যে আসবাবপত্র রয়েছে, তা আমার নিকট অধিক প্রিয়।’ এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যা আমল করত, তার তুলনায় শ্রেষ্ঠতর পুরস্কার আমি তাদেরকে দান করব}। আর এই কারণেই ‘আহসান’ (أحسن) শব্দটিকে কাসরা বা পূর্ণ বিভক্তি প্রদান করা হয়েছে এর পরবর্তী শব্দের সাথে সম্বন্ধ (إضافة) হওয়ার কারণে।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
مَا الَّتِي بِمَعْنى الَّذِي4 - وَتَكون بِمَعْنى الْمصدر نَحْو أعجبني مَا صنعت أَي صنعك5 - وموصوفة نَحْو قَوْلك جِئْت بِمَا خير من ذَاك كَقَوْلِك بِشَيْء خير من ذَاك ونظيرها فِي ذَلِك من تُوصَف بالنكرة نَحْو مَرَرْت بِمن خير مِنْك كَأَنَّك قلت بِإِنْسَان خير مِنْك وَقَالَ الشَّاعِر(فَكفى بِنَا فضلا على من غَيرنَا … حب النَّبِي مُحَمَّد إنْسَانا)6 - وتجيء مَا للتعجب نَحْو مَا أحسن زيدا وَمَا أعلم بكرا وَهِي فِي تَقْدِير شَيْء كَأَنَّك قلت شَيْء حسن زيدا وموضعها رفع بِالِابْتِدَاءِ وخبرها فعل التَّعَجُّب وَهُوَ أحسن وعَلى ذَلِك قِيَاس الْبَابوالخمسة الْأُخَر1 - جحود نَحْو {مَا هَذَا بشرا} و {وَمَا أَنْت إِلَّا بشر مثلنَا} وَأهل الْحجاز ينصبون بهَا الْخَبَر إِذا كَانَ منفيا فِي مَوْضِعه وَبَنُو تَمِيم يَرْفَعُونَهُ على كل حَال فَيَقُولُونَ مَا زيد قَائِم وَتقول مَا قَائِم زيد فتجتمع اللغتان فِيهِ لتقديم الْخَبَر وَتقول مَا
সেই 'মা' (ما) যা 'আল্লাজি' (الذي) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়।4 - এবং এটি মাসদার (المصدر) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন: "তোমার কৃতকর্ম আমাকে মুগ্ধ করেছে", অর্থাৎ তোমার কাজ।5 - এবং এটি মাওসুফাহ (موصوفة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন তোমার উক্তি: "আমি এমন কিছু নিয়ে এসেছি যা তার চেয়ে উত্তম", যা "আমি এমন একটি বস্তু নিয়ে এসেছি যা তার চেয়ে উত্তম" বলার সমতুল্য। এর দৃষ্টান্ত হলো 'মান' (من), যা নাকিরাহ (النكرة) হিসেবে গুণান্বিত হয়, যেমন: "আমি তোমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম", যেন তুমি বললে: "আমি এমন একজন মানুষের পাশ দিয়ে গেলাম যে তোমার চেয়ে উত্তম"। কবি বলেছেন:(আমাদের জন্য অন্যদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব হিসেবে নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসাই একজন মানুষ হিসেবে যথেষ্ট...)6 - এবং 'মা' (ما) বিস্ময়সূচক (تعجب) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন: "জাইদ কতই না সুন্দর!" এবং "বাকর কতই না জ্ঞানী!"। এটি 'শাইয়ুন' (شيء) এর অর্থে হয়ে থাকে, যেন তুমি বললে: "এমন কোনো বিষয় যা জাইদকে সুন্দর করেছে"। বাক্যে এর অবস্থান হলো ইবতিদা (الابتداء) হিসেবে রাফা (رفع) হওয়া এবং এর খবর (خبر) হলো বিস্ময়সূচক ক্রিয়া, আর তা হলো 'আহসানা' (أحسن)। এই অধ্যায়ের অন্যান্য উদাহরণও এর ওপর কিয়াস (قياس) করা হবে।অপর পাঁচটি প্রকার:1 - অস্বীকৃতি জ্ঞাপক (جحود), যেমন: {এ তো মানুষ নয়} এবং {তুমি তো আমাদের মতোই একজন মানুষ বৈ নও}। হিজাজবাসীরা এর দ্বারা খবর (خبر) কে নাসব (نصب) প্রদান করেন যখন তা তার স্বস্থানে নেতিবাচক হিসেবে থাকে। পক্ষান্তরে বনু তামিম গোত্র একে সর্বাবস্থায় রাফা (رفع) প্রদান করেন; তারা বলেন: "জাইদ দণ্ডায়মান নয়"। আবার তুমি বলতে পারো "দণ্ডায়মান নয় জাইদ", এক্ষেত্রে খবর (خبر) আগে আসার কারণে উভয় ভাষারীতিই এখানে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এবং তুমি বলবে 'মা' (ما)...
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
زيد إِلَّا قَائِم فَترفع عِنْد الْجَمِيع لخُرُوج الْخَبَر إِلَى الْإِثْبَات بِقَوْلِك إِلَّاوَتقول مَا زيد قَائِما أَبوهُ فَإِن قلت مَا زيد قَائِم عَمْرو لم يجز لِأَنَّهُ لَيْسَ من سَببه وَكَذَلِكَ قَوْلك مَا أَبُو زَيْنَب قَائِمَة أمهَا لم يجز فَإِن قلت مَا أَبُو زَيْنَب قَائِمَة أمه جَازَ لِأَن السَّبَب لَهُ2 - وصلَة نَحْو قَوْله عز وجل {فبمَا نقضهم ميثاقهم} أَي بنقضهم وَكَذَلِكَ {فبمَا رَحْمَة من الله لنت لَهُم} أَي فبرحمة من الله وَكَذَلِكَ قَول الْأَعْشَى(فاذهبي مَا إِلَيْك أدركني الْجد … عداني عَن هيجكم أشغالي)وَكَذَلِكَ قَول عنترة(يَا شَاة مَا قيض لمن حلت لَهُ … حرمت عَليّ وليتها لم تحرم)أَي يَا شَاة قيض3 - وكافة كَقَوْل الله عز وجل {إِنَّمَا الله إِلَه وَاحِد} وَكَذَلِكَ قَوْله {إِنَّمَا أعظكم بِوَاحِدَة} و {رُبمَا}
জায়েদ দণ্ডায়মান ছাড়া কেউ নয়—এমন বাক্যে 'ইল্লা' শব্দটির মাধ্যমে সংবাদটি ইতিবাচক অর্থের দিকে ধাবিত হওয়ায় সবার মতেই খবরটি রফা (পেশ) যুক্ত হবে।আর আপনি বলবেন: 'জায়েদ এমন নয় যে তার পিতা দণ্ডায়মান'। কিন্তু আপনি যদি বলেন: 'জায়েদ এমন নয় যে আমর দণ্ডায়মান', তবে তা বৈধ হবে না; কারণ এটি তার সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। একইভাবে আপনার উক্তি: 'জয়নাবের পিতা এমন নয় যে তার মা দণ্ডায়মান' (স্ত্রীলিঙ্গ ক্রিয়াযোগে) শুদ্ধ নয়। তবে যদি আপনি বলেন: 'জয়নাবের পিতা এমন নয় যে তার মা দণ্ডায়মান', তবে তা বৈধ হবে; কারণ বিষয়টি তার সাথে সংশ্লিষ্ট।২ - সংযুক্ত বা অতিরিক্ত হিসেবে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের কারণে} অর্থাৎ তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের দরুন। তদ্রূপ {আল্লাহর রহমতের কারণেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন} অর্থাৎ আল্লাহর দয়ায়। আল-আ'শার কাব্যও অনুরূপ:(তুমি চলে যাও, তোমার প্রতি আমার কোনো দায় নেই, আমার প্রচেষ্টা আমায় সমৃদ্ধ করেছে … তোমাদের সংঘাত থেকে আমার কর্মব্যস্ততা আমায় বিমুখ রেখেছে।)অনুরূপভাবে আনতারা-এর উক্তি:(হে শিকার! যার জন্য সে নির্ধারিত হয়েছে সে কতই না সৌভাগ্যবান … সে আমার জন্য নিষিদ্ধ হয়েছে, হায়! যদি সে নিষিদ্ধ না হতো।)অর্থাৎ: হে নির্ধারিত শিকার।৩ - নিবৃত্তকারী হিসেবে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ একমাত্র ইলাহ}। তদ্রূপ তাঁর বাণী: {আমি তোমাদের কেবল একটি বিষয়ের নসিহত করছি} এবং 'রুব্বামা' শব্দের ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
يود الَّذين كفرُوا)وَنَحْو قَول الشَّاعِر(رُبمَا تجزع النُّفُوس من الْأَمر … لَهُ فُرْجَة كحل العقال)وَمِنْه قَول الشَّاعِر أَيْضا(أعلاقة أم الْوَلِيد بَعْدَمَا … أفنان رَأسك كالثغام المخلس)لما كف ب مَا اسْتَأْنف الْكَلَام بعد مَا فَقَالَ أفنان رَأسك بِالرَّفْع4 - ومسلطة نَحْو حَيْثُمَا تكن أكن وَلَوْلَا مَا لم يجز الْجَواب ب حَيْثُ وَكَذَلِكَ قَول الشَّاعِر(إِذا مَا تريني الْيَوْم أرخي ظعينتي … أصوب سيرا فِي الْبِلَاد وَأَرْفَع)(فَإِنِّي من قوم سواكم وَإِنَّمَا … رجالي قوم بالحجاز وَأَشْجَع)وَمثله قَول الآخر(إِذْ مَا أتيت على الرَّسُول فَقل لَهُ … حَقًا عَلَيْك إِذا اطْمَأَن الْمجْلس)
(যারা কুফরি করেছে তারা কামনা করে)এবং কবির উক্তির ন্যায়:(হয়তো কোনো বিষয়ে নফস বিচলিত হয় … যার মুক্তি উটের বন্ধন খোলার মতোই সহজ)এর অন্তর্ভুক্ত কবির এই উক্তিটিও:(উম্মে ওয়ালিদের প্রতি কি এখনো আসক্তি বিদ্যমান, অথচ … তোমার কেশগুচ্ছ সাকাছাম ঘাসের ন্যায় সাদা-কালো বর্ণ ধারণ করেছে?)যখন ‘মা’ (ما) দ্বারা আমল স্থগিত করা হলো, তখন তিনি ‘মা’ (ما)-এর পরে নতুন করে বাক্য শুরু করলেন এবং ‘আফনানু রাসিকা’ অংশটিকে রফ (رفع) অবস্থায় পাঠ করলেন।4 - এবং প্রভাব বিস্তারকারী (مسلطة), যেমন: ‘যেখানেই তুমি থাকবে, আমিও সেখানে থাকব’। যদি ‘মা’ (ما) না থাকত, তবে ‘হাইসু’ (حيث) দ্বারা জবাব প্রদান বৈধ হতো না। অনুরূপ কবির উক্তিটিও:(আজ যদি তুমি আমাকে দেখ যে আমি আমার বাহনের রশি শিথিল করে দিয়েছি … আমি দেশ-বিদেশে কখনো নিম্নে আবার কখনো ঊর্ধ্বে ভ্রমণ করি)(কেননা আমি তোমাদের ছাড়া অন্য এক গোত্রের অন্তর্ভুক্ত, আর … আমার লোকেরা হলো হিজাজ এবং আশজা’ গোত্রের অধিবাসী)অন্য একজনের উক্তিও অনুরূপ:(যখন তুমি রাসূলের নিকট পৌঁছাবে তখন তাঁকে বলো … যখন মজলিস থিতু হবে তখন এটি তোমার প্রতি একটি সত্য বাণী)
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَمَوْضِع أتيت جزم ب إذما وَالْجَوَاب بِالْفَاءِ فِي فَقل وَمَا المسلطة سلطت الْحَرْف على الْجَزْم وَلَو لم تكن لم يجْزم الْحَرْف5 - ومغيرة لِمَعْنى الْحَرْف نَحْو {لَو مَا تَأْتِينَا بِالْمَلَائِكَةِ} أَي هلا تَأْتِينَا لقد غيرت معنى لَو لِأَنَّهُ كَانَ مَعْنَاهَا فِي قَوْلك لَو كَانَ كَذَا لَكَانَ كَذَا وَهُوَ وجوب الشَّيْء لوُجُوب غَيره فَخرجت عَن هَذَا الْمَعْنى فِي قَوْلك لوما إِلَى معنى هلا فَصَارَت مَا مُغيرَة لِمَعْنى لَووَتَكون مَعَ الْفِعْل بِمَنْزِلَة الْمصدر نَحْو شَرّ مَا صنعت أَي صنيعك وَهِي هَهُنَا حرفوَتَكون الصِّلَة عوضا وَغير عوض نَحْو قَوْلك أما أَنْت مُنْطَلقًا انْطَلَقت مَعَك أَي إِذْ كنت مُنْطَلقًا انْطَلَقت مَعَك فَجعل مَا من كنت وَمِنْه(أَبَا خراشة أما أَنْت ذَا نفر … فَإِن قومِي لم تأكلهم الضبع)ف مَا مفصولة من أَن فِي الْحَقِيقَة وَإِن كَانَ بعض
এবং 'আতাইতা' এর স্থানটি 'ইজমা' এর মাধ্যমে জজম (جزم) প্রাপ্ত হয়েছে এবং 'ফাকুল' এর মধ্যে 'ফা' বর্ণটি জওয়াব হিসেবে এসেছে। এখানে প্রভাব বিস্তারকারী 'মা' মূলত অব্যয় (حرف) টিকে জজম (جزم) প্রদানের ক্ষমতা দিয়েছে; যদি এটি না থাকত, তবে অব্যয় (حرف) টি জজম (جزم) প্রদান করত না।৫ - এটি অব্যয় (حرف) এর অর্থ পরিবর্তনকারী; যেমন: {কেন আপনি আমাদের নিকট ফেরেশতা নিয়ে আসছেন না?} অর্থাৎ 'কেন নয়' (هلا)। এটি 'লউ' এর অর্থ পরিবর্তন করে দিয়েছে। কারণ, 'যদি এমন হতো তবে তেমন হতো'—এই জাতীয় বাক্যে এর অর্থ ছিল এক জিনিসের অস্তিত্বের কারণে অন্য জিনিসের আবশ্যকতা বুঝানো। কিন্তু 'লউমা' বলার ফলে এটি সেই অর্থ থেকে বিচ্যুত হয়ে 'কেন নয়' (هلا) অর্থে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে 'মা' এখানে 'লউ' এর অর্থ পরিবর্তনকারীতে পরিণত হয়েছে।এটি ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়ে ক্রিয়ামূল (مصدر) এর স্থলাভিষিক্ত হয়; যেমন: 'তোমার কৃতকর্মটি মন্দ', অর্থাৎ তোমার কর্ম। এখানে এটি একটি অব্যয় (حرف)।এবং সংযুক্ত অংশ (صلة) বিনিময় (عوض) হিসেবে অথবা বিনিময় ব্যতিরেকেও হতে পারে; যেমন আপনার উক্তি: 'যেহেতু তুমি প্রস্থানকারী, তাই আমিও তোমার সাথে প্রস্থান করলাম', অর্থাৎ যেহেতু তুমি প্রস্থান করছিলে, তাই আমি তোমার সাথে প্রস্থান করেছি। এখানে 'মা'-কে 'কুনতা' এর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো—(হে আবু খারাশাহ! যেহেতু তুমি জনবল সম্পন্ন … নিশ্চয়ই আমার গোত্রকে হায়েনারা গ্রাস করেনি)প্রকৃতপক্ষে 'মা' এখানে 'আন' থেকে বিচ্ছিন্ন (مفصولة), যদিও কারো কারো মতে...
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الْكتاب يَكْتُبهَا مَوْصُولَة للإدغام وَالْأولَى تفصل ليتبين أَنَّهُمَا حرفان وَلَا تَلْتَبِس بِقَوْلِك أما الَّتِي هِيَ حرف وَاحِد فِي قَوْلك أما زيد فمنطلقمن وَمن وَلها سَبْعَة أوجه1 - اسْتِفْهَام نَحْو قَوْلك من عنْدك فَتَقول مجيبا زيد أَو عَمْرو وَهِي نَظِير مَا إِلَّا أَنَّهَا لمن يعقل خَاصَّة وَمَا للأجناس كَائِنا مَا كَانَت وَمن ذَلِك قَوْله تَعَالَى {يَا ويلنا من بعثنَا من مرقدنا} فخرجه مخرج الِاسْتِفْهَام وَمَعْنَاهُ التَّنْبِيه على حَال لم يَكُونُوا متنبهين عَلَيْهَا2 - وَجَزَاء نَحْو من يأتني أكْرمه قَالَ الشَّاعِر(من يفعل الْحَسَنَات الله يشكرها … وَالشَّر بِالشَّرِّ عِنْد الله مثلان)3 - وموصولة نَحْو من يَأْتِيك أكْرمه وَإِن من فِي الدَّار يكرمك وَمن ذَلِك قَوْله تَعَالَى {وَمِنْهُم من يَقُول رَبنَا آتنا فِي الدُّنْيَا} أَي مِنْهُم الَّذِي يَقُول4 - وموصوفة نَحْو مَرَرْت بِمن خير مِنْك وَهِي نكرَة
লেখকরা একে ইদগামের (إدغام) কারণে সংযুক্ত করে লেখেন, তবে এগুলোকে পৃথক করে লেখাই উত্তম যাতে স্পষ্ট হয় যে এখানে দুটি বর্ণ রয়েছে এবং এটি যেন আপনার সেই উক্তির সাথে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে যেখানে ‘আম্মা’ (أما) একটি একক বর্ণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনার উক্তি: ‘আম্মা যাইদুন ফামুনতালিকুন’ (অতঃপর যাইদ প্রস্থানকারী)।মান (من) এবং ‘মান’ (من), এর সাতটি দিক রয়েছে:1 - প্রশ্নবোধক (استفهام): যেমন আপনার উক্তি: ‘আপনার নিকট কে আছে?’ অতঃপর আপনি উত্তর দিচ্ছেন: ‘যাইদ’ অথবা ‘আমর’। এটি ‘মা’ (ما) এর অনুরূপ, তবে এটি বিশেষভাবে বিবেকসম্পন্ন সত্তার জন্য নির্দিষ্ট, আর ‘মা’ (ما) ব্যবহৃত হয় সাধারণ শ্রেণির ক্ষেত্রে তা যা-ই হোক না কেন। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে পুনরুত্থিত করল?}। এখানে এটি প্রশ্নবোধক (استفهام) হিসেবে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং এর অর্থ হলো এমন এক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করা যা তারা আগে বুঝতে পারেনি।2 - শর্ত বা প্রতিদানমূলক (جزاء): যেমন: ‘যে আমার কাছে আসবে আমি তাকে সম্মান করব’। জনৈক কবি বলেছেন:(যে ব্যক্তি পুণ্যকর্ম করে আল্লাহ তার শুকরিয়া আদায় করেন... আর মন্দের বিনিময়ে মন্দ আল্লাহর নিকট সমান সমান)।3 - সম্বন্ধসূচক (موصولة): যেমন: ‘যে তোমার নিকট আসে আমি তাকে সম্মান করি’ এবং ‘নিশ্চয়ই যে ঘরের ভেতর আছে সে তোমাকে সম্মান করে’। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে বলে, হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন}। অর্থাৎ: তাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি (الذي) যে বলে।4 - গুণান্বিত (موصوفة): যেমন: ‘আমি এমন একজনের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম যে তোমার চেয়ে উত্তম’। আর এটি হলো অনির্দিষ্ট (نكرة)।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
قَالَ الشَّاعِر:(يَا رب من يبغض أذوادنا … رحن على بغضائه واغتدين) فدخول رب عَلَيْهَا دلّ على أَنَّهَا نكرَة وَكَذَلِكَ قَول الآخر(رب من أنضجت غيظا صَدره … قد تمنى لي موتا لم يطع)5 - ومحمولة على التَّأْوِيل فِي التَّثْنِيَة وَالْجمع والتأنيث نَحْو قَول الفرزدق(تَعَالَى فَإِن عاهدتني لَا تخونني … نَكُنْ مثل من يَا ذِئْب يصطلحان)فَثنى ضمير من على التَّأْوِيلوَمن ذَلِك قَوْله عز وجل {وَمِنْهُم من يَسْتَمِعُون إِلَيْك} فَجمع على التَّأْوِيلفَأَما قَوْله تَعَالَى {وَمِنْهُم من يستمع إِلَيْك} فِي مَوضِع آخر فعلى اللَّفْظ وَأما الْحمل على التَّأْوِيل فِي التَّأْنِيث فنحو قَوْله تَعَالَى {وَمن يقنت مِنْكُن لله وَرَسُوله} فَمن قَرَأَهُ
কবি বলেছেন:(হে প্রতিপালক! অনেক এমন ব্যক্তি যারা আমাদের উষ্ট্রপালকে ঘৃণা করে … তারা তার ঘৃণার মাঝেই সন্ধ্যা অতিবাহিত করেছে এবং সকালে উপনীত হয়েছে) অতঃপর ‘মান’ এর পূর্বে ‘রুব্বা’ এর প্রবেশ প্রমাণ করে যে এটি একটি নাকেরা বা অনির্দিষ্ট বিশেষ্য। অনুরূপভাবে অন্য এক কবির উক্তি:(অনেক এমন ব্যক্তি আছে যার বক্ষ আমি ক্রোধে দগ্ধ করেছি … সে আমার মৃত্যু কামনা করেছিল কিন্তু তা কবুল করা হয়নি)৫ - এবং দ্বিবচন, বহুবচন ও স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে এটি রূপক অর্থ বা ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল; যেমন ফারাজদাকের উক্তি:(কাছে এসো, যদি তুমি আমার সাথে অঙ্গীকার করো যে আমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না … তবে হে নেকড়ে! আমরা সেই দুই ব্যক্তির মতো হব যারা পরস্পর সন্ধি করে)এখানে রূপক অর্থ বা ব্যাখ্যার ভিত্তিতে ‘মান’ এর সর্বনামকে দ্বিবচন করা হয়েছে।এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তাদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যারা তোমার দিকে কান পাতে}, এখানে রূপক অর্থ বা ব্যাখ্যার ভিত্তিতে বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে।আর অন্য এক স্থানে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমার দিকে কান পাতে}, এটি মূল শব্দের ওপর ভিত্তি করে (একবচন) হয়েছে। আর স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে রূপক ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করার উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি অনুগত হবে}। অতঃপর যারা এটি পাঠ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
بِالْيَاءِ حمله على اللَّفْظ6 - وموسومة بعلامة نكرَة فِي مثل قَول الْقَائِل: رَأَيْت رجلا فَتَقول منا فَإِن قَالَ هَذَا رجل فَتَقول منو وَإِن قَالَ مَرَرْت بِرَجُل فَتَقول مني تسمها بعلامة تدل على أَنَّك مستفهم عَن نكرَة فَإِن قَالَ رَأَيْت رجلا قلت منن وَإِن قَالَ هَؤُلَاءِ رجال قلت منون كَمَا قَالَ(أَتَوا نَارِي فَقلت منون أَنْتُم … فَقَالُوا الْجِنّ قلت عموا ظلاما)7 - ومنقولة من اجل أم كَقَوْلِه تَعَالَى {من هُوَ قَانِت آنَاء اللَّيْل سَاجِدا وَقَائِمًا} نقلتها عَن الِاسْتِفْهَام من اجل أم لِأَنَّهُ لَا يدْخل اسْتِفْهَام على اسْتِفْهَام كَمَا نقلتها حِين أدخلت عَلَيْهَا أم فِي قَوْله(أم هَل كَبِير بَكَى لم يقْض عبرته … إِثْر الْأَحِبَّة يو 4 م الْبَين مشكوم)قَالَ أم قد كَبِير فنقلها عَن معنى الِاسْتِفْهَام إِلَى معنى قد
'ইয়া' (ياء) যোগে একে শাব্দিক (لفظ) কাঠামোর ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে।৬ - এবং কোনো অনির্দিষ্ট (نكرة) চিহ্নের মাধ্যমে চিহ্নিত করা; যেমন কোনো বক্তার উক্তি: "আমি একজন ব্যক্তিকে দেখেছি", তখন আপনি বলবেন 'মান্না'। যদি সে বলে "ইনি একজন ব্যক্তি", তবে আপনি বলবেন 'মান্নু'। আর যদি সে বলে "আমি একজন ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি", তবে আপনি বলবেন 'মান্নি'। আপনি একে এমন চিহ্নের মাধ্যমে চিহ্নিত করবেন যা নির্দেশ করে যে আপনি কোনো অনির্দিষ্ট (نكرة) বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ (استفهام) করছেন। যদি সে বলে "আমি একজন ব্যক্তিকে দেখেছি", তবে আপনি বলবেন 'মান্নান' (منن)। আর যদি সে বলে "এরা সব ব্যক্তি", তবে আপনি বলবেন 'মান্নুন' (منون), যেমন কবি বলেছেন:(তারা আমার আগুনের কাছে এল, তখন আমি বললাম: তোমরা কারা (منون)... তারা বলল: জিন। আমি বললাম: তোমাদের অন্ধকার সুখময় হোক।)৭ - এবং 'আম' (أم) অক্ষরের কারণে অর্থ পরিবর্তিত হওয়া; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে আনুগত্যে মশগুল থাকে, সিজদাবনত অবস্থায় ও দাঁড়িয়ে}, এখানে 'আম' এর কারণে একে প্রশ্নবোধক (استفهام) অর্থ থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে। কারণ একটি প্রশ্নবোধক (استفهام) অন্য একটি প্রশ্নবোধক (استفهام) শব্দের ওপর প্রবেশ করতে পারে না; যেমনটি একে সরিয়ে আনা হয়েছে যখন এর ওপর 'আম' প্রবেশ করেছে কবির এই উক্তিতে:(বার্ধক্য কি তাকে কাঁদিয়েছে যার অশ্রু বিসর্জন শেষ হয়নি... প্রিয়জনদের চলে যাওয়ার পর বিচ্ছেদের দিনে সে বিষাদগ্রস্ত।)তিনি বলেছেন 'আম ক্বাদ কাবীর', ফলে তিনি একে প্রশ্নবোধক (استفهام) অর্থ (معنى) থেকে 'ক্বাদ' (قد) এর অর্থে (معنى) রূপান্তরিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
أَي وَأي لَهَا سَبْعَة أوجه1 - اسْتِفْهَام نَحْو أَي الْقَوْم عنْدك وأيهم ضربت وبأيهم مَرَرْت فَإِن كَانَت استفهاما عمل فِيهَا مَا بعْدهَا وَلم يعْمل فِيهَا مَا قبلهَا وَمن ذَلِك قَوْله تَعَالَى {وَسَيعْلَمُ الَّذين ظلمُوا أَي مُنْقَلب يَنْقَلِبُون} تنصب أيا ب يَنْقَلِبُون وَلَا يجوز نصبها ب سَيعْلَمُ لِأَن الِاسْتِفْهَام لَا يعْمل فِيهِ مَا قبله لِأَن لَهُ صدر الْكَلَام وَيعْمل فِيهِ مَا بعده لِأَنَّهُ لَا يُخرجهُ عَن الْمصدر فِي اللَّفْظ2 - وَجَزَاء نَحْو قَوْلك أَيهمْ تَرَ يأتك. تنصبها ب تَرَ وتجزم تَرَ بهَا وَالْجَوَاب يأتك وَمن ذَلِك قَوْله تَعَالَى {قل ادعوا الله أَو ادعوا الرَّحْمَن أيا مَا تدعوا فَلهُ الْأَسْمَاء الْحسنى} تنصب أيا ب تدعوا وتجزم تدعوا ب أَي وَالْجَوَاب الْفَاء فِي فَلهُ.3 - وَبِمَعْنى الَّذِي نَحْو لَأَضرِبَن أَيهمْ فِي الدَّار بِمَعْنى لَأَضرِبَن الَّذِي فِي الدَّار وَهَذِه يعْمل فِيهَا مَا قبلهَا لِأَنَّهَا بِمَعْنى الَّذِيوَمن ذَلِك قَوْله جلّ وَعز فِي قِرَاءَة بعض الْقُرَّاء {ثمَّ لننزعن من كل شيعَة أَيهمْ أَشد على الرَّحْمَن عتيا}
'অয়্যি' (أَي) এবং 'অয়্যি' (أَي) শব্দটির ব্যবহারের সাতটি দিক বা প্রকার রয়েছে:১ - প্রশ্নবোধক (استفهام) হিসেবে; যেমন: "লোকদের মধ্যে কে তোমার কাছে আছে?", "তাদের মধ্যে কাকে তুমি প্রহার করেছ?" এবং "তাদের কার পাশ দিয়ে তুমি অতিক্রম করেছ?"। সুতরাং যদি এটি প্রশ্নবোধক (استفهام) হয়, তবে এর পরবর্তী অংশ এতে আমল (عمل) করে এবং এর পূর্ববর্তী অংশ এতে আমল করে না। এরই উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {وَسَيعْلَمُ الَّذين ظلمُوا أَي مُنْقَلب يَنْقَلِبُون} (আর যারা জুলুম করেছে তারা অচিরেই জানতে পারবে, তারা কোন প্রত্যাবর্তনস্থলে প্রত্যাবর্তন করবে)। এখানে 'অয়্যি' (أيا) শব্দটিকে 'ইয়ানকালিবুন' (يَنْقَلِبُون) দ্বারা নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে। 'সাইয়া’লামু' (سيعلم) দ্বারা এটিকে নসব (نصب) প্রদান করা বৈধ নয়; কারণ প্রশ্নবোধক (استفهام) শব্দের পূর্বে যা থাকে তা তাতে আমল (عمل) করতে পারে না, যেহেতু বাক্যের শুরুতে আসার অধিকার (صدر الكلام) এর রয়েছে। তবে এর পরবর্তী অংশ এতে আমল (عمل) করতে পারে, কারণ তা শব্দগতভাবে এটিকে মাসদার (مصدر) থেকে বিচ্যুত করে না।২ - শর্ত ও ফলাফল বা জাযা (جزاء) হিসেবে; যেমন আপনার উক্তি: "তাদের মধ্যে যাকে তুমি দেখবে, সে তোমার নিকট আসবে।" আপনি 'অয়্যি'কে 'তারা' (تَرَ) দ্বারা নসব (نصب) প্রদান করবেন এবং 'অয়্যি' এর মাধ্যমে 'তারা' (تَرَ) শব্দটিকে জযম (جزم) প্রদান করবেন, আর এর জওয়াব (جواب) বা ফলাফল হলো 'ইয়াতিক' (يأتك)। এরই উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {قل ادعوا الله أَو ادعوا الرَّحْمَن أيا مَا تدعوا فَلهُ الْأَسْمَاء الْحسنى} (বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রাহমান নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁরই জন্য তো সব সুন্দর নাম)। এখানে 'অয়্যি' (أيا) শব্দটিকে 'তাদউ' (تدعوا) দ্বারা নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে এবং 'অয়্যি' (أَي) দ্বারা 'তাদউ' (تدعوا) শব্দটিকে জযম (جزم) প্রদান করা হয়েছে, আর এর জওয়াব (جواب) হলো 'ফালাহু' (فله) এর সাথে থাকা 'ফা' (فاء) টি।৩ - 'আল্লাযি' (الذي) তথা 'যা বা যিনি' অর্থে; যেমন: "আমি অবশ্যই তাকে প্রহার করব যে ঘরে আছে", অর্থাৎ "আমি অবশ্যই তাকে (الذي) প্রহার করব যে ঘরে আছে।" এই প্রকারের ক্ষেত্রে এর পূর্ববর্তী শব্দ এতে আমল (عمل) করে, কারণ এটি 'আল্লাযি' (الذي) এর অর্থ প্রদান করে।এরই উদাহরণ মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র বাণী, যা কোনো কোনো ক্বারীর পাঠরীতিতে (قراءة) বর্ণিত হয়েছে: {ثمَّ لننزعن من كل شيعَة أَيهمْ أَشد على الرَّحْمَن عتيا} (অতঃপর আমি প্রত্যেক দল থেকে অবশ্যই তাকে টেনে বের করব যে পরম করুণাময়ের অবাধ্যতায় সবচেয়ে বেশি উগ্র ছিল)।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
) فَأَما من رفع أَيهمْ فَفِي ذَلِك للنحويين ثَلَاثَة أَقْوَالرَفعه على الْحِكَايَة كَأَنَّهُ قَالَ ثمَّ لننزعن قائلين أَيهمْ أَشد وَهَذَا وَجه حسن لِأَن فِي ننزع دَلِيلا على معنى القَوْل لِأَنَّهُ ينْزع بالْقَوْلوَالْوَجْه الثَّانِي قَول سِيبَوَيْهٍ إِنَّهَا بِمَعْنى الَّذِي إِلَّا أَن صلتها لما حذف مِنْهَا الْعَائِد بنيت على الضَّم فَيجوز على هَذَا لَأَضرِبَن أَيهمْ قَائِل لَك شَيْئا وَلَا يجوز على قَول الْخَلِيلوَالْوَجْه الثَّالِث قَول يُونُس إِن قَوْله تَعَالَى {لننزعن} معلقَة كَمَا يعلق الْعلم فِي قَوْلك قد علمت أَيهمْ فِي الدَّار4 - وَصفَة كَقَوْلِك مَرَرْت بِرَجُل أَي رجل وبكريم أَي كريم5 - وَحَال نَحْو مَرَرْت بزيد أَي رجل تنصب أَي رجل على الْحَال لِأَن الَّذِي قبلهَا معرفَة فَلَا يجوز أَن تجْرِي عَلَيْهِ الصّفة6 - ومتصرفة فِي الْإِفْرَاد وَالْإِضَافَة والتذكير والتأنيث نَحْو أَي الْقَوْم أَتَاك وَإِن شِئْت قلت أَي أَتَاك وَتقول أَيَّة امْرَأَة
) আর যারা ‘আইয়্যুহুম’ শব্দটিকে পেশযুক্ত (رفع) অবস্থায় পড়েছেন, সে সম্পর্কে ব্যাকরণবিদদের তিনটি অভিমত রয়েছে।একে পেশযুক্ত করা হয়েছে অনুকরণমূলক বর্ণনা হিসেবে, যেন তিনি বলেছেন: "অতঃপর আমি অবশ্যই টেনে বের করব এই কথা বলে যে, তাদের মধ্যে কে সবচেয়ে উদ্ধত"। এটি একটি উত্তম (حسن) দিক, কারণ 'নানযিউ' (আমরা টেনে বের করব) শব্দটির মধ্যে উক্তির অর্থের প্রমাণ রয়েছে, যেহেতু কোনো কিছু কথার মাধ্যমেও বিযুক্ত করা যায়।দ্বিতীয় অভিমতটি সিবওয়াইহ-এর; তাঁর মতে এটি 'আল্লাযী' (যিনি/যা)-এর অর্থে ব্যবহৃত। তবে এর সম্বন্ধ-বাক্য থেকে যখন প্রত্যাবর্তী সর্বনামটি বিলুপ্ত হয়, তখন এটি পেশের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় হয়ে যায়। এই নিয়ম অনুযায়ী "আমি অবশ্যই তাকে প্রহার করব, যে তোমাকে কিছু বলছে" বলা বৈধ, তবে খলীল-এর মতানুসারে এটি বৈধ নয়।তৃতীয় অভিমতটি ইউনুসের; তাঁর মতে মহান আল্লাহর বাণী {আমরা অবশ্যই টেনে বের করব} শব্দটি পরবর্তী আমল থেকে স্থগিত, যেমনটি "আমি জেনেছি তাদের মধ্যে কে বাড়িতে আছে" বাক্যে ‘জানা’ বিষয়ক ক্রিয়াটিকে স্থগিত রাখা হয়।4 - গুণবাচক বিশেষণ হিসেবে, যেমন আপনার উক্তি: "আমি এমন একজন ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম, সে কী চমৎকার ব্যক্তি!" এবং "এমন একজন উচ্চমর্যাদাশীলের পাশ দিয়ে গেলাম, সে কী চমৎকার মর্যাদাবান!"5 - এবং অবস্থা বর্ণনাকারী হিসেবে, যেমন: "আমি যায়দ-এর পাশ দিয়ে গেলাম, সে কী চমৎকার ব্যক্তি!" এখানে 'আইয়্যু রাজুলিন' অংশটিকে অবস্থা হিসেবে যবরযুক্ত (نصب) করা হবে; কারণ এর পূর্ববর্তী শব্দটি নির্দিষ্ট বিশেষ্য, তাই এর ওপর সরাসরি গুণবাচক বিশেষণ প্রয়োগ করা বৈধ নয়।6 - এবং এটি একবচন, সম্বন্ধ, পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গভেদে রূপান্তরযোগ্য; যেমন: "লোকদের মধ্যে কে তোমার কাছে এসেছে?", আপনি চাইলে বলতে পারেন "কে তোমার কাছে এসেছে?", আবার বলতে পারেন "কোন নারী?"
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
عنْدك وَأي رجل فِي الدَّار7 - ومنقولة إِلَى كم نَحْو قَوْله عز وجل {فكأين من قَرْيَة أهلكناها وَهِي ظالمة} بِمَعْنى وَكم من قَرْيَةوَتقول كأين رجلا قد لقِيت فتنصب رجلا كَمَا تنصبه إِذا قلت كم رجلا قد لقِيت على التَّفْسِيروالأجود أَن يكون مَعهَا من لِأَنَّهَا منقولة إِلَى بَاب كم للعدد فلزوم من أدل على معنى التَّفْسِير فِي النكرَة بعْدهَاأَن المخففة وَأَن المخففة وَلها أَرْبَعَة أوجه1 - مُخَفّفَة من الثَّقِيلَة مثل قَوْله عز وجل {وَآخر دَعوَاهُم أَن الْحَمد لله رب الْعَالمين} واصله أَن الْحَمد للهوَمِنْه قَوْله تَعَالَى {علم أَن سَيكون مِنْكُم مرضى} وَلَا تكون هَذِه إِلَّا المخففة من الثَّقِيلَة من جِهَة دُخُول السِّين فَأَما قَوْله تَعَالَى {وَحَسبُوا أَلا تكون فتْنَة} بِالرَّفْع فعلى
তোমার নিকট, এবং ঘরের মধ্যে কোন ব্যক্তি।৭ - এবং এটি 'কাম' এর অর্থে স্থানান্তরিত হয়েছে, যেমন মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {আর কত জনপদ আমি ধ্বংস করেছি যখন তারা ছিল জালেম}, যার অর্থ 'আর কত জনপদ'।আপনি বলবেন: "কত ব্যক্তির সাথে আমি সাক্ষাৎ করেছি", এখানে 'রাজুলান' শব্দটিতে নসব (نصب) প্রদান করবেন, ঠিক যেভাবে আপনি "কত ব্যক্তির সাথে আমি সাক্ষাৎ করেছি" বলার সময় ব্যাখ্যার (تفسير) ভিত্তিতে নসব প্রদান করে থাকেন।এবং সবচেয়ে উত্তম হলো এর সাথে 'মিন' থাকা; কারণ এটি সংখ্যার জন্য ব্যবহৃত 'কাম' পরিচ্ছেদে স্থানান্তরিত হয়েছে। তাই এর পরবর্তী অনির্দিষ্ট (نكرة) বিশেষ্যের ক্ষেত্রে 'মিন'-এর আবশ্যকতা ব্যাখ্যার (تفسير) অর্থকে অধিকতর সুস্পষ্ট করে।লঘু (أن المخففة) 'আন' লঘু (أن المخففة) 'আন'-এর চারটি ব্যবহার পদ্ধতি রয়েছে।১ - গুরু (الثقيلة) শব্দ থেকে লঘু হওয়া (مخففة), যেমন মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী: {আর তাদের শেষ আহ্বান হলো যে, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য}। এর মূল রূপ ছিল 'আন্নাল হামদা লিল্লাহ'।এরই উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি জানেন যে শীঘ্রই তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অসুস্থ হবে}। 'সীন' এর আগমনের কারণে এটি কেবল গুরু (الثقيلة) থেকে লঘু হওয়া (مخففة) রূপেই গণ্য হবে। আর মহান আল্লাহর বাণী: {তারা ধারণা করেছিল যে কোনো ফিতনা বা বিপর্যয় ঘটবে না}—এখানে রফ (رفع) পড়ার ক্ষেত্রে...
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
المخففة أَيْضا كَأَنَّهُ قَالَ إِنَّه لَا تكون فتْنَة وَبِالنَّصبِ فعلى أَن الناصبة للْفِعْل الَّتِي تنقله إِلَى معنى الِاسْتِقْبَال وَقَالَ الشَّاعِر فِي المخففة(فِي فتية كسيوف الْهِنْد قد علمُوا … أَن هَالك كل من يحفى وينتعل)وَإِذا خففت لم تعْمل وَيكون مَا بعْدهَا على الِابْتِدَاء وَالْخَبَر وَمِنْهُم من يعملها وَهِي مُخَفّفَة كَمَا يعملها وَهِي محذوفة وَالْأَكْثَر الرّفْع2 - وناصبة للْفِعْل تنقله إِلَى الِاسْتِقْبَال وَلَا تَجْتَمِع من السِّين وسوف وَهِي مَعَ الْفِعْل بِمَعْنى الْمصدر تَقول يسرني أَن تَأتِينِي بِمَعْنى يسرني إتيانك وأكره أَن تخرج بِمَعْنى أكره خُرُوجك وَمِنْه قَوْله عز وجل {وَيُرِيد الله أَن يحِق الْحق بكلماته وَيقطع دابر الْكَافرين} وَمِنْه قَوْله تَعَالَى {يُرِيد أَن يَتُوب عَلَيْكُم وَيُرِيد الَّذين يتبعُون الشَّهَوَات أَن تميلوا ميلًا عَظِيما} وَمَوْضِع تميلوا النصب ب أَن وَذَهَبت النُّون عَلامَة للنصب3 - وَبِمَعْنى أَي الْخَفِيفَة نَحْو قَوْله عز وجل (وَانْطَلق
একইভাবে এটি লঘু (مخففة) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যেন তিনি বলছেন যে কোনো ফিতনা হবে না। আর নসব (نصب) যোগে পাঠ করা হলে তা হবে ক্রিয়াকে নসব প্রদানকারী (ناصبة) অব্যয়, যা ক্রিয়াকে ভবিষ্যৎকালের (استقبال) অর্থে রূপান্তরিত করে। লঘু (مخففة) রূপ সম্পর্কে কবি বলেছেন:
(এমন একদল যুবকের মাঝে যারা ভারতীয় তরবারির মতো তীক্ষ্ণ, তারা জেনেছে... যে নগ্নপদ বা জুতা পরিহিত প্রত্যেক ব্যক্তিই ধ্বংসশীল)
এটি যখন লঘু (مخففة) হয় তখন আর আমল বা প্রভাব বিস্তার করে না এবং এর পরবর্তী অংশ মুক্তাদা (ابتداء) ও খবর (خبر) হিসেবে গঠিত হয়। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে লঘু (مخففة) অবস্থায়ও আমলযোগ্য বা কার্যকরী হিসেবে গণ্য করেন, যেমনটি তারা একে বিলুপ্ত (محذوفة) অবস্থায় কার্যকরী মনে করেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে রফ (رفع) হওয়াই নিয়ম।
2 - এটি ক্রিয়াকে নসব প্রদানকারী (ناصبة), যা ক্রিয়াকে ভবিষ্যৎকালের (استقبال) অর্থে নিয়ে যায় এবং এটি 'সীন' (سين) ও 'সাওফা' (سوف)-এর সাথে একত্রে আসে না। এটি ক্রিয়ার সাথে মিলে মাসদার বা ক্রিয়ামূল (مصدر) এর অর্থ প্রদান করে। যেমন আপনি বলেন: 'তোমার আসা আমাকে আনন্দিত করে', যার অর্থ হলো 'তোমার আগমন আমাকে আনন্দিত করে'। এবং 'আমি তোমার বের হওয়া অপছন্দ করি' যার অর্থ 'আমি তোমার নির্গমন অপছন্দ করি'। মহান আল্লাহর বাণীও এর অন্তর্ভুক্ত: {আর আল্লাহ চান যে, তিনি তাঁর বাণীসমূহের মাধ্যমে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং কাফিরদের মূল শিকড় কেটে দেবেন}। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তোমাদের তওবা কবুল করতে চান, আর যারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করে তারা চায় যে তোমরা ভীষণভাবে সত্যচ্যুত হও}। এখানে 'তামিলু' (تميلوا) শব্দটি 'আন' (أن) এর কারণে নসব (نصب) অবস্থায় রয়েছে এবং নুন (ن) বিলুপ্ত হওয়া এখানে নসব (نصب)-এর চিহ্ন।
3 - এবং এটি লঘু (خفيفة) বা ব্যাখ্যামূলক 'আই' (أي) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (এবং প্রস্থান করল...)
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
الْمَلأ مِنْهُم أَن امشوا واصبروا) أَي امشوا وَذَلِكَ أَن انطلاقهم قَائِم مقَام قَوْلهم امشوا واصبروا على آلِهَتكُم فَجَاءَت أَن بِمَعْنى أَي الَّتِي للتفسير نَحْو قَوْلك أُصَلِّي أَن أَنا رجل صَالح وَإِن شِئْت قلت أَنا رجل صَالح4 - وزائدة نَحْو لما أَن جئتني أكرمتك وَالْمعْنَى لما جئتني أكرمتك إِلَّا انك أتيت ب أَن للتوكيد وَمِنْه قَوْله تَعَالَى {وَلما أَن جَاءَت رسلنَا}إِن وَإِن المخففة الْمَكْسُورَة الْألف على أَرْبَعَة أوجه1 - الْجَزَاء نَحْو قَوْلك إِن تأتني أكرمك وَمِنْه قَوْله عز وجل {وَإِن أحد من الْمُشْركين استجارك فَأَجره} وَقَوله تَعَالَى أَيْضا {وَإِن يأتوكم أُسَارَى تفادوهم}2 - والجحد نَحْو قَوْله تَعَالَى {إِن الْكَافِرُونَ إِلَّا فِي غرور} بِمَعْنى مَا الْكَافِرُونَ إِلَّا فِي غرور وَتقول إِن
তাদের প্রধানরা যে (أَن) তোমরা প্রস্থান করো এবং ধৈর্য ধারণ করো) অর্থাৎ তোমরা চলে যাও; আর তা এই কারণে যে, তাদের প্রস্থান করাটা তাদের এই কথার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে যে, তোমরা প্রস্থান করো এবং তোমাদের উপাস্যদের উপাসনায় ধৈর্য ধারণ করো। সুতরাং এখানে 'আন' (أَن) শব্দটি 'আই' (أَي) অর্থে এসেছে যা ব্যাখ্যা প্রদানের (تفسير) জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন আপনার উক্তি: আমি সালাত আদায় করি, অর্থাৎ (أَن) আমি একজন সৎ ব্যক্তি। আপনি চাইলে এভাবেও বলতে পারেন: আমি একজন সৎ ব্যক্তি।4 - এবং অতিরিক্ত (زائدة) হিসেবে; যেমন: যখন (أَن) আপনি আমার কাছে আসলেন আমি আপনাকে সম্মান করলাম। এর অর্থ হলো: যখন আপনি আমার কাছে আসলেন তখন আমি আপনাকে সম্মান করলাম, তবে আপনি এখানে 'আন' (أَن) শব্দটি তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের (توكيد) জন্য নিয়ে এসেছেন। মহান আল্লাহর বাণীও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত: {আর যখন আমাদের প্রেরিত রাসূলগণ আসলেন}।ইন্ (إِن) এবং আলিফের নিচে কাসরা বিশিষ্ট লঘু (مخففة) 'ইন্' (إِن) চারটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:1 - বিনিময় বা শর্ত (جزاء) হিসেবে; যেমন আপনার উক্তি: যদি আপনি আমার কাছে আসেন তবে আমি আপনাকে সম্মান করব। মহান আল্লাহর বাণীও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত: {আর মুশরিকদের মধ্যে কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দাও} এবং আল্লাহর আরও একটি বাণী: {আর তারা যদি যুদ্ধবন্দী হিসেবে তোমাদের কাছে আসে, তবে তোমরা তাদের মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত করো}।2 - এবং অস্বীকৃতি বা না-বোধক (جحد) অর্থে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {কাফেররা তো কেবল বিভ্রান্তিতেই নিমজ্জিত} যার অর্থ হলো কাফেররা বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। এবং আপনি বলবেন 'ইন্' (إِن)...
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
أتيتني بِمَعْنى وَالله مَا أتيتني3 - ومخففة من الثَّقِيلَة نَحْو قَوْله تَعَالَى {وَإِن كل لما جَمِيع لدينا محضرون} تلزمها اللَّام فِي الْخَبَر لِئَلَّا تَلْتَبِس ب إِن الَّتِي للجحد فَتَقول إِن زيدا لقائم فَتكون إِيجَابا فَإِن قلت إِن زيد قَائِم كَانَ نفيا4 - وزائدة نَحْو قَول الشَّاعِر(وَمَا إِن طبنا جبن وَلَكِن … منايانا ودولة آخرينا)وَتقول مَا إِن فِي الدَّار أحد بِمَعْنى مَا فِي الدَّار أحد فَهَذِهِ زَائِدَة على التوكيدحَتَّى وَحَتَّى تَنْصَرِف على أَرْبَعَة اوجه1 - جَارة نَحْو قَوْلك قُمْت حَتَّى اللَّيْل وَمِنْه قَوْله تَعَالَى {سَلام هِيَ حَتَّى مطلع الْفجْر}2 - وعاطفة نَحْو قدم النَّاس حَتَّى المشاة وَخرج النَّاس حَتَّى الْأَمِير وَتقول إِن فلَانا ليصوم الْأَيَّام حَتَّى يَوْم الْفطر وَيجوز النصب لِأَنَّهُ لَا يدْخل فِي الصَّوْم فَتكون حَتَّى غَايَة
আপনি আমার কাছে এসেছেন অর্থাৎ আল্লাহর শপথ, আপনি আমার কাছে আসেননি।৩ - এবং গুরু (الثقيلة) বর্ণ থেকে লঘু (مخففة) করা হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা সবাই অবশ্যই একত্রিত হয়ে আমাদের নিকট উপস্থিত হবে}। এর বিধেয় (الخبر) অংশে লাম (لام) থাকা আবশ্যক হয় যাতে এটি অস্বীকারবোধক (الجحد) ‘ইন’ (إن) এর সাথে অস্পষ্ট না হয়ে যায়। সুতরাং আপনি বলবেন, ‘নিশ্চয়ই যায়েদ দণ্ডায়মান’, ফলে এটি ইতিবাচক (إيجاب) অর্থ প্রদান করবে। আর যদি আপনি বলেন, ‘ইন যায়েদুন ক্বায়িমুন’, তবে তা নেতিবাচক (نفي) হবে।৪ - এবং অতিরিক্ত (زائدة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন কবির উক্তি:(আমাদের স্বভাব ভীরুতা নয়, বরং আমাদের নির্ধারিত মৃত্যু এবং অন্যদের ভাগ্যবদল...)এবং আপনি বলবেন, ‘ঘরে কেউ নেই’, যার অর্থ হলো ‘ঘরে কেউ নেই’। এখানে এটি গুরুত্বারোপের (التوكيد) জন্য অতিরিক্ত (زائدة) হিসেবে এসেছে।হাত্তা (حَتَّى) হাত্তা (حتى) চারটি পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়:১ - অব্যয় (جارة) হিসেবে, যেমন আপনার কথা: ‘আমি রাত পর্যন্ত দাঁড়িয়েছিলাম’। মহান আল্লাহর বাণীও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত: {শান্তিময় সেই রাত, ঊষার আবির্ভাব পর্যন্ত}।২ - এবং সংযোজক (عاطفة) হিসেবে, যেমন: ‘পদাতিকগণসহ সব মানুষ এসেছে’ এবং ‘আমীরসহ সব মানুষ বের হয়েছে’। এবং আপনি বলেন: ‘নিশ্চয়ই অমুক ব্যক্তি দিনগুলোতে রোজা রাখে, এমনকি ঈদুল ফিতরের দিন পর্যন্ত (অর্থাৎ সেই দিন বাদে)’। এক্ষেত্রে নসব (النصب) হওয়া বৈধ কারণ এটি রোজার অন্তর্ভুক্ত হয় না, ফলে ‘হাত্তা’ (حتى) এখানে সীমা (غاية) নির্দেশক।
(খণ্ড: ১)
মানাযিলুল হুরুফ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
بِمَعْنى إِلَى وَلَا يكون عطفا فِي هَذِه الْمَسْأَلَة3 - وناصبة للْفِعْل نَحْو سرت حَتَّى أَدخل الْمَدِينَة بِمَعْنى سرت إِلَى أَن أَدخل الْمَدِينَة وَتقول صليت حَتَّى أَدخل الْجنَّة بِمَعْنى صليت كي أَدخل الْجنَّة فَهِيَ تنصب بِمَعْنى إِلَى أَن وكي4 - وحرف من حُرُوف الِابْتِدَاء نَحْو قَول الشَّاعِر(فواعجبا حَتَّى كُلَيْب تسبني … كَأَن أَبَاهَا نهشل أَو مجاشع) وكقولك كَلمته فِي الْأَمر حَتَّى يمِيل فِيهِ أَو حَتَّى يمِيل على الْحَال فَهَذِهِ ترفع الْفِعْل بعْدهَاوَكَذَلِكَ قَوْلك قد لج فِي أمره حَتَّى أَظُنهُ خَارِجا تخبر عَن ظن وَاقع فِي حَال كَلَامه فَترفعوَهَذِه الَّتِي هِيَ حرف من حُرُوف الِابْتِدَاء يَقع بعْدهَا الِاسْم وَالْفِعْل على الِاسْتِئْنَافمن وَمن على أَرْبَعَة أوجه1 - ابْتِدَاء الْغَايَة نَحْو خرجت من بَغْدَاد إِلَى الْكُوفَة عنيت أَن بَغْدَاد ابْتِدَاء الْخُرُوج والكوفة انتهاؤه وَكَذَلِكَ كتبت من الْعرَاق إِلَى مصر وَمن فلَان إِلَى فلَان فَمن لابتداء الْأَفْعَال والى لانتهائها
এটি ‘পর্যন্ত’ অর্থে ব্যবহৃত হয় এবং এই মাসআলায় এটি সংযোজক হিসেবে কাজ করে না।৩ - এটি ক্রিয়াকে নসব প্রদানকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন: "আমি ভ্রমণ করেছি যতক্ষণ না মদীনায় প্রবেশ করেছি", এখানে অর্থ হলো ‘আমি ভ্রমণ করেছি মদীনায় প্রবেশ করা পর্যন্ত’। আপনি বলবেন: "আমি সালাত আদায় করেছি যাতে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি", অর্থাৎ ‘আমি জান্নাতে প্রবেশের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করেছি’। সুতরাং এটি ‘পর্যন্ত’ এবং ‘যাতে’ অর্থে নসব প্রদান করে।৪ - এবং এটি প্রারম্ভিক অব্যয়সমূহের একটি, যেমন কবির উক্তি:(কী বিস্ময়! এমনকি কুলাইব গোত্রও আমাকে গালি দিচ্ছে … যেন তার পিতা নাহশাল কিংবা মুজাশে) এবং আপনার উক্তি: "আমি তাকে বিষয়টি নিয়ে বলেছি এমনকি সে তাতে ঝুঁকে পড়েছে" অথবা "এমনকি সে বর্তমান অবস্থায় ঝুঁকে পড়ছে", এমতাবস্থায় এটি পরবর্তী ক্রিয়াকে রফা প্রদান করে।অনুরূপভাবে আপনার উক্তি: "সে তার বিষয়ে এমনভাবে জেদ ধরেছে যে আমার মনে হয় সে তা থেকে বেরিয়ে যাবে", এখানে কথা বলার সময় সংঘটিত একটি ধারণা সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে, তাই এটি রফা প্রদান করবে।আর এই প্রারম্ভিক অব্যয়টির পরে ইসম (বিশেষ্য) ও ফে’ল (ক্রিয়া) নতুন বাক্য হিসেবে আসতে পারে।মিন এবং ‘মিন’ চারটি পন্থায় ব্যবহৃত হয়:১ - সীমানার সূচনা হিসেবে, যেমন: "আমি বাগদাদ থেকে কুফার উদ্দেশ্যে বের হয়েছি"; অর্থাৎ বাগদাদ হলো বের হওয়ার সূচনা এবং কুফা হলো তার সমাপ্তি। অনুরূপভাবে, "আমি ইরাক থেকে মিশরে লিখেছি" এবং "অমুক থেকে অমুকের নিকট"। সুতরাং ‘মিন’ ক্রিয়ার সূচনার জন্য এবং ‘ইলা’ তার সমাপ্তির জন্য ব্যবহৃত হয়।