(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: -)
مسائل خلافية في النحو القسم: النحو والصرف
الكتاب: مسائل خلافية في النحو
المؤلف: أبو البقاء عبد الله بن الحسين بن عبد الله العكبري البغدادي محب الدين (ت 616هـ)
المحقق: محمد خير الحلواني
الناشر: دار الشرق العربي - بيروت
الطبعة: الأولى، 1412هـ 1992م
عدد الصفحات: 124
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নাহু শাস্ত্রের মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহ বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: নাহু শাস্ত্রের মতপার্থক্যপূর্ণ মাসআলাসমূহ
লেখক: আবু আল-বাকা আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আবদুল্লাহ আল-উকবারী আল-বাগদাদী মুহিব্বুদ্দীন (মৃত্যু ৬১৬ হিজরী)
গবেষক: মুহাম্মদ খায়র আল-হালওয়ানি
প্রকাশক: দার আল-শারক আল-আরাবি - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১২ হিজরী ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
1 -
مَسْأَلَة (الْكَلَام وَالْجُمْلَة) الْكَلَام عبارَة عَن الْجُمْلَة المفيدة فَائِدَة تَامَّة، كَقَوْلِك: زيد منطلق، وَإِن تأتني أكرمك، وقم، وصه، وَمَا كَانَ نَحْو ذَلِك.
فَأَما اللَّفْظَة المفردة نَحْو (زيد) وَحده، وَنَحْو ذَلِك، فَلَا يُسمى كلَاما، بل كلمة.
هَذَا قَول الْجُمْهُور وَذهب شرذمة من النَّحْوِيين إِلَى ان
১ -
মাসআলা (কালাম ও জুমলাহ) কালাম হলো এমন অর্থবহ বাক্য (الجملة) যা পূর্ণাঙ্গ ও উপকারী অর্থ প্রদান করে; যেমন আপনার উক্তি: ‘যায়েদ প্রস্থানকারী’, ‘যদি তুমি আমার কাছে আসো তবে আমি তোমাকে সম্মানিত করব’, ‘দাঁড়াও’, ‘চুপ করো’ এবং এই জাতীয় উদাহরণসমূহ।
আর একক শব্দ যেমন শুধু ‘যায়েদ’ এবং এই জাতীয় শব্দকে ‘কালাম’ বলা হয় না, বরং একে ‘কালিমা’ বা শব্দ বলা হয়।
এটিই জুমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ আলিমের অভিমত এবং ব্যাকরণবিদদের একটি ক্ষুদ্র দল এই মত পোষণ করেছেন যে...
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الْكَلَام يُطلق على الْمُفِيد وَغير الْمُفِيد اطلاقا حَقِيقِيًّا.
وَالدَّلِيل على القَوْل الأول انه لفظ يعبر باطلاقه عَن الْجُمْلَة المفيدة، فَكَانَ حَقِيقَة فِيهَا كالشرط وَجَوَابه، وَالدَّلِيل على انه يعبر بِهِ عَنْهَا لَا إِشْكَال فِيهِ، إِذْ هُوَ مُتَّفق عَلَيْهِ، وَإِنَّمَا الْخلاف فِي تَخْصِيصه بذلك دون غَيره، وَبَيَان اخْتِصَاصه بهَا من سِتَّة أوجه:
احدها: انه يُطلق بازائها، فَيُقَال: هَذِه الْجُمْلَة كَلَام، والاصل فِي الاطلاق الْحَقِيقَة.
وَالثَّانِي: ان الْكَلَام تؤكد بِهِ الْجُمْلَة، كَقَوْلِك: تَكَلَّمت كلَاما، وكلمته كلَاما، والمصدر الْمُؤَكّد نَائِب عَن اعادة الْجُمْلَة، الا ترى ان قَوْلك قُمْت قيَاما وتكلمت كلَاما تَقْدِيره: قُمْت قُمْت، لَان الاصل فِي التوكيد اعادة الْجُمْلَة بِعَينهَا، وَلَكنهُمْ آثروا الا يُعِيدُوا الْجُمْلَة بِعَينهَا، فجاؤوا بمفرد فِي مَعْنَاهَا والنائب عَن الشَّيْء يُؤَدِّي عَن مَعْنَاهُ.
'কালাম' (الكلام) শব্দটি সার্থক (المفيد) এবং সার্থকতা-হীন (غير المفيد) উভয় প্রকারের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে (حقيقياً) ব্যবহৃত হয়।
প্রথম মতের স্বপক্ষে প্রমাণ হলো—এটি এমন একটি শব্দ যা এর সাধারণ প্রয়োগের দ্বারা সার্থক বাক্যকে (الجملة المفيدة) প্রকাশ করে। ফলে শর্ত (الشرط) ও তার উত্তর (الجواب)-এর ন্যায় এটি উক্ত অর্থেই হাকিকত বা প্রকৃত অর্থে (حقيقة) পরিগণিত হয়। আর এটি যে সার্থক বাক্যকে প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয় সে ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই, কেননা এটি একটি সর্বসম্মত বিষয়। মূলত বিরোধটি একে কেবল সার্থক বাক্যের জন্যই নির্দিষ্ট করা এবং অন্য ক্ষেত্রে প্রয়োগ না করার বিষয়ে। এর বিশেষত্ব ছয়টি দিক থেকে স্পষ্ট করা যায়:
প্রথমত: এটি সার্থক বাক্যের বিপরীতে প্রয়োগ করা হয়। যেমন বলা হয়: 'এই বাক্যটি একটি কালাম'। আর শব্দের প্রয়োগের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো তার হাকিকত বা প্রকৃত অর্থ (الحقيقة)।
দ্বিতীয়ত: 'কালাম' শব্দ দ্বারা বাক্যকে তাকিদ বা দৃঢ়তা প্রদান করা হয়। যেমন আপনার উক্তি: 'আমি কথা (কালাম) বললাম' এবং 'আমি তার সাথে কথা (কালাম) বললাম'। এই তাকিদ প্রদানকারী মাসদার (المصدر) মূলত বাক্যটি পুনরায় উল্লেখ করার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাজ করে। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আপনার উক্তি 'আমি দাঁড়ালাম' (قمت قياما) এবং 'আমি কথা বললাম' (تكلمت كلاما)-এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: 'আমি দাঁড়ালাম, আমি দাঁড়ালাম'। কেননা তাকিদের ক্ষেত্রে মূল নিয়ম হলো বাক্যটি হুবহু পুনরায় উল্লেখ করা, কিন্তু তারা (আরবগণ) বাক্যটি হুবহু পুনরায় উল্লেখ না করে তার অর্থবোধক একটি একক শব্দ নিয়ে এসেছেন। আর কোনো বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত (نائب) শব্দ মূলত মূল বিষয়ের অর্থই প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَالثَّالِث: ان قَوْلك (كَلمته) ، عبارَة عَن انك افهمته معنى بِلَفْظ وَالْمعْنَى الْمُسْتَفَاد بالافهام تَامّ فِي نَفسه، فَكَانَت الْعبارَة عَنهُ مَوْضُوعَة لَهُ لَا مبينَة عَنهُ، وَالْكَلَام هُوَ معنى: كَلمته.
وَالرَّابِع: ان مصدر (تَكَلَّمت) التَّكَلُّم، وَهُوَ مشدد الْعين، فِي الْفِعْل والمصدر، وَالتَّشْدِيد للتكثير وادنى التكثير الْجُمْلَة المفيدة، أما (كلمت) فمشدد أَيْضا، وَهُوَ دَلِيل الْكَثْرَة، ومصدره: التكليم. وَالتَّاء وَالْيَاء فِيهِ عوض عَن التَّشْدِيد.
وَالْخَامِس: ان الاحكام الْمُتَعَلّقَة بالْكلَام لَا تتحق إِلَّا بِالْجُمْلَةِ المفيدة، فَمن ذَلِك قَوْله تَعَالَى: {وَإِن أحد من الْمُشْركين استجارك فَأَجره حَتَّى يسمع كَلَام الله} ، وَمَعْلُوم ان الاستجارة لَا تحصل الا بعد سَماع الْكَلَام التَّام الْمَعْنى، والكلمة الْوَاحِدَة لَا يحصل بهَا ذَلِك، وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {يُرِيدُونَ أَن يبدلوا كَلَام الله} ، والتبديل صرف مَا يدل اللَّفْظ عَلَيْهِ إِلَى غير مَعْنَاهُ، وَلَا يحصل ذَلِك بتبديل الْكَلِمَة الْوَاحِدَة، لِأَن الْكَلِمَة الْوَاحِدَة إِذا بدلت بغَيْرهَا كَانَ ذَلِك نقل لُغَة إِلَى لُغَة أُخْرَى، وَقَالَ تَعَالَى {وَقد كَانَ فريق مِنْهُم}
তৃতীয়ত: আপনার উক্তি 'কাল্লামতুহু' (আমি তার সাথে কথা বলেছি), এটি একটি অভিব্যক্তি যে আপনি তাকে কোনো শব্দের (لفظ) মাধ্যমে একটি অর্থ (معنى) বুঝিয়েছেন এবং বোধগম্যতার মাধ্যমে অর্জিত সেই অর্থটি (معنى) স্বয়ংসম্পূর্ণ। সুতরাং এই অভিব্যক্তিটি সেই অর্থের জন্যই নির্ধারিত, তা কেবল প্রকাশকারী নয়; আর 'কালাম' (كلام) মূলত 'কাল্লামতুহু' এরই অর্থ।
চতুর্থত: 'তাকাল্লামতু' এর মাসদার (مصدر) হলো 'তাকাল্লাম', যা ক্রিয়া ও মাসদার (مصدر) উভয় ক্ষেত্রেই 'আইন' বর্ণে তাশদিদ (تشديد) যুক্ত। আর এই তাশদিদ (تشديد) আধিক্য (تكثير) বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, আর আধিক্যের সর্বনিম্ন পর্যায় হলো সার্থক বাক্য (جملة مفيدة)। অন্যদিকে 'কাল্লামতু' শব্দটিও তাশদিদ (تشديد) যুক্ত, যা আধিক্যের প্রমাণ বহন করে এবং এর মাসদার (مصدر) হলো 'তাকলিম'। এতে বিদ্যমান 'তা' এবং 'ইয়া' বর্ণ দুটি তাশদিদ (تشديد) এর স্থলাভিষিক্ত বা পরিবর্তে এসেছে।
পঞ্চমত: কালাম (كلام) সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি (أحكام) সার্থক বাক্য (جملة مفيدة) ব্যতীত বাস্তবায়িত হয় না। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর মুশরিকদের মধ্যে কেউ যদি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দিন যাতে সে আল্লাহর কালাম (كلام الله) শুনতে পায়}। এটি সুপরিচিত যে, আশ্রয় লাভের বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধক (تام المعنى) কালাম (كلام) শোনার পরেই সার্থকতা পায়, যা একটিমাত্র শব্দ (كلمة واحدة) দ্বারা সম্ভব নয়। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {তারা আল্লাহর কালাম (كلام الله) পরিবর্তন করতে চায়}। আর পরিবর্তন (تبديل) বলতে বুঝায় কোনো শব্দ (لفظ) যে অর্থের নির্দেশ দেয় তা পরিবর্তন করে অন্য অর্থে (معنى) সরিয়ে নেওয়া। এটি একটিমাত্র শব্দ (كلمة واحدة) পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্জিত হয় না; কারণ একটি শব্দকে (كلمة واحدة) অন্য শব্দ দিয়ে পরিবর্তন করা হলে তা এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তর হিসেবে গণ্য হয়। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই তাদের একদল ছিল...}
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
) وانما عقلوا الْمَعْنى التَّام، ثمَّ حرفوه عَن جِهَته. وَمثله قَوْله تَعَالَى {يحرفُونَ الْكَلم عَن موَاضعه} . وَمن ذَلِك تَعْلِيق الْيَمين بِسَمَاع الْكَلَام، فانه لَو قَالَ: وَالله لَا سَمِعت كلامك، فَنَطَقَ بِلَفْظَة وَاحِدَة لَيْسَ فِيهَا معنى تَامّ لم يَحْنَث.
وَالسَّادِس ان الْعَرَب قد تتجوز بالْقَوْل عَن العجماوات، كَقَوْل الشَّاعِر:
(امْتَلَأَ الْحَوْض وَقَالَ قطني
… سلا، رويدا قد مَلَأت بَطْني)
وَهُوَ كثير فِي استعمالهم، وَلَا ينْسب الْكَلَام إِلَى مثل ذَلِك، فَلَا يُقَال: تكلم الْحَوْض. وَلَا الْحَائِط وَلَا سَبَب لذَلِك الا (ان) الْكَلَام حَقِيقَة فِي الْفَائِدَة التَّامَّة، وَالْقَوْل لَا يشْتَرط فِيهِ ذَلِك
) বস্তুত তারা পূর্ণাঙ্গ অর্থ (المعنى التام) অনুধাবন করেছিল, অতঃপর তা এর প্রকৃত গতিপথ থেকে বিচ্যুত করেছে। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {তারা শব্দসমূহকে তাদের সঠিক স্থান থেকে বিচ্যুত করে}। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো কথা (الكلام) শোনার সাথে শপথকে সংশ্লিষ্ট করা; কারণ যদি কেউ বলে: আল্লাহর কসম, আমি তোমার কথা শুনব না, অতঃপর সে (অপরজন) কেবল একটি শব্দ উচ্চারণ করল যাতে কোনো পূর্ণাঙ্গ অর্থ (معنى تام) নেই, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী (يحنث) হবে না।
ষষ্ঠত, আরবরা অনেক সময় নির্বাক প্রাণীর ক্ষেত্রেও 'উক্তি' (القول) শব্দটি রূপকভাবে ব্যবহার করে থাকে, যেমন কবির পঙ্ক্তি:
(হাউসটি পূর্ণ হয়ে বলল: আমার জন্য যথেষ্ট
… ক্ষান্ত হও, ধীরে, তুমি আমার পেট পূর্ণ করে দিয়েছ)
তাদের ব্যবহারে এটি প্রচুর দেখা যায়, তবে এ জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে কথা বা কালাম (الكلام) শব্দটির সম্বন্ধ করা হয় না। তাই বলা হয় না যে: হাউসটি কথা বলেছে (تكلم), কিংবা দেওয়ালটি কথা বলেছে। এর কারণ এছাড়া আর কিছুই নয় যে, 'কালাম' (الكلام) শব্দটি প্রকৃত অর্থেই পূর্ণাঙ্গ উপযোগিতা বা অর্থ (الفائدة التامة) প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যেখানে 'কওল' (القول) এর ক্ষেত্রে এমন কোনো শর্ত নেই।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَإِذا ثَبت مَا ذَكرْنَاهُ بِأَن انه حَقِيقَة فِي الدّلَالَة على الْجُمْلَة التَّامَّة الْمَعْنى.
فان قيل: يتَوَجَّه عَلَيْهِ اسئلة:
احدها: ان اطلاق اللَّفْظ على الشَّيْء لَا يلْزم مِنْهُ الْحَقِيقَة، فان الْمجَاز يُطلق على الشَّيْء، كَمَا يُقَال للْعَالم بَحر، وللشجاع اسد، وَقَالَ الله تَعَالَى: {جدارا يُرِيد أَن ينْقض} و {واسأل الْقرْيَة} ، وكل ذَلِك مجَاز وَقد اطلق على هَذَا الْمَعْنى، فَلَا يلْزم من الاطلاق على مَا ذكرْتُمْ الْحَقِيقَة.
السُّؤَال الثَّانِي: ان الاطلاق يكون حَقِيقَة مُشْتَركَة، اَوْ جِنْسا تَحْتَهُ مُفْرَدَات، فالمشترك كَلَفْظِ الْعين، وَالْجِنْس مثل: الْحَيَوَان، فان الْحَيَوَان حَقِيقَة فِي الْجِنْس، وَالْوَاحد مِنْهُ حَقِيقَة ايضا، فَلم لَا يكون الْكَلَام والكلمة من هَاتين الحقيقتين
وَالسُّؤَال الثَّالِث: ان الْكَلَام مُشْتَقّ من (الْكَلم) ، وَهُوَ الْجرْح، وَالْجَامِع بَينهمَا التَّأْثِير، والكلمة كَذَلِك لَان الْحُرُوف
আমরা যা উল্লেখ করেছি তা যখন প্রমাণিত হলো যে, এটি পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধক বাক্যের ওপর নির্দেশ করার ক্ষেত্রে প্রকৃত (حقيقة) অর্থ।
যদি বলা হয়: এর ওপর কয়েকটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়:
প্রথমটি হলো: কোনো বস্তুর ওপর কোনো শব্দের প্রয়োগ হওয়া মানেই তা প্রকৃত (حقيقة) হওয়া আবশ্যক করে না। কারণ রূপক (مجاز) অর্থও কোনো বস্তুর ওপর প্রয়োগ হয়, যেমন আলেমকে 'সমুদ্র' এবং সাহসী ব্যক্তিকে 'সিংহ' বলা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {একটি প্রাচীর যা পড়ে যেতে চাচ্ছিল} এবং {জনপদকে জিজ্ঞেস করো}। এগুলোর সবই রূপক (مجاز) এবং তা এই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং আপনারা যা উল্লেখ করেছেন তার প্রয়োগ থেকে তা প্রকৃত (حقيقة) হওয়া আবশ্যক হয় না।
দ্বিতীয় প্রশ্ন: প্রয়োগটি অনেক সময় সমার্থবোধক প্রকৃত (حقيقة مشتركة) অর্থ হতে পারে, অথবা এমন একটি সাধারণ শ্রেণী (جنس) হতে পারে যার অধীনে একাধিক একক (مفردات) থাকে। সমার্থবোধক (مشترك) যেমন 'আইন' শব্দটি, আর সাধারণ শ্রেণী (جنس) যেমন: 'প্রাণী'। কেননা 'প্রাণী' শব্দটি যেমন শ্রেণীর ক্ষেত্রে প্রকৃত (حقيقة), তেমনি তার অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি এককের ক্ষেত্রেও তা প্রকৃত (حقيقة)। তবে কেন 'কালাম' এবং 'কালিমা' এই দুটি প্রকৃত (حقيقة) অর্থের অন্তর্ভুক্ত হবে না?
তৃতীয় প্রশ্ন: 'কালাম' শব্দটি 'কালম' (الكلم) থেকে ব্যুৎপন্ন (مشتق), যার অর্থ হলো ক্ষত (الجرح)। এই উভয়ের মধ্যে সাধারণ যোগসূত্র হলো প্রভাব (التأثير)। 'কালিমা'ও অনুরূপ, কারণ বর্ণসমূহ...
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الاصول مَوْجُودَة فِيهَا، وَهِي مُؤثرَة ايضا إِذا كَانَت تدل على معنى، وَهِي جُزْء الْجُمْلَة التَّامَّة الْفَائِدَة، والجزء يُشَارك الْكل فِي حَقِيقَة وَضعه. الا ترى ان الْحق يثبت بِشَاهِدين مثلا، وكل وَاحِد مِنْهُمَا شَاهد حَقِيقَة، واثبات الْحق بهما لَا يَنْفِي كَون كل وَاحِد مِنْهُمَا شَاهدا، كَذَلِك هَا هُنَا، أَلا ترى أَن قَوْلك: قَامَ زيد. يشْتَمل على جزأين، كل وَاحِد مِنْهُمَا يُسمى كلمة لدلالته على معنى، وَتوقف الْفَائِدَة التَّامَّة على حكم يَتَرَتَّب على الْمَجْمُوع، وَلَا يَنْفِي ذَلِك اشْتِرَاك الجزأين فِي الْحَقِيقَة، وعَلى هَذَا ترَتّب التحريف والتبديل، إِذْ كَانَ كُله حكما يُسْتَفَاد بِالْجُمْلَةِ، وَلَا يَنْفِي حَقِيقَة الْوَضع.
ثمَّ مَا ذكرتموه معَارض بقوله تَعَالَى: {كَبرت كلمة تخرج من أَفْوَاههم} وَبِقَوْلِهِ: {كلمة الَّذين كفرُوا السُّفْلى وَكلمَة الله هِيَ الْعليا} و {وتمت كلمة رَبك صدقا وعدلا} وَمَعْلُوم انه أَرَادَ بِالْكَلِمَةِ الْجُمْلَة المفيدة، واذا وَقعت الْكَلِمَة على الْمُفْرد جَازَ ان يَقع الْكَلَام على الْمُفْرد.
মূলনীতিসমূহ (الأصول) এতে বিদ্যমান রয়েছে এবং যখন এগুলো কোনো অর্থ নির্দেশ করে তখন তা কার্যকর হয়। এটি পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধক বাক্যের (الجملة التامة الفائدة) একটি অংশ, আর অংশটি তার মৌলিক গঠনগত সত্তার (حقيقة وضعه) ক্ষেত্রে সমগ্রের অংশীদার হয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, উদাহরণস্বরূপ সত্য দুইজন সাক্ষীর (شاهدين) মাধ্যমে প্রমাণিত হয় এবং তাদের প্রত্যেকেই প্রকৃত অর্থে একজন সাক্ষী (شاهد) হিসেবে গণ্য হয়? তাদের উভয়ের মাধ্যমে সত্য সাব্যস্ত হওয়া এই বিষয়টিকে অস্বীকার করে না যে তারা প্রত্যেকেই এক একজন সাক্ষী (شاهد)। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আপনার উক্তি: "যায়েদ দাঁড়িয়েছে" দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। এদের প্রত্যেকটিকেই শব্দ (كلمة) বলা হয় কারণ তা একটি অর্থ নির্দেশ করে। যদিও পূর্ণাঙ্গ অর্থের (الفائدة التامة) বিষয়টি এমন একটি বিধানের (حكم) ওপর স্থগিত থাকে যা সমষ্টির ওপর আপতিত হয়, তবুও তা এই দুই অংশের মৌলিক সত্তায় শরিক হওয়াকে অস্বীকার করে না। আর এর ওপর ভিত্তি করেই বিকৃতি (التحريف) এবং পরিবর্তন (التبديل) সাব্যস্ত হয়; কেননা এর পুরোটাই এমন একটি বিধান যা পূর্ণাঙ্গ বাক্য (الجملة) থেকে আহরিত হয়, যা এর ভাষাগত মৌলিক সংজ্ঞাকে (حقيقة الوضع) অস্বীকার করে না।
অতঃপর আপনারা যা উল্লেখ করেছেন তা মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে খণ্ডিত হয়: {তাদের মুখ থেকে বের হওয়া কথাটি (كلمة) কতই না জঘন্য!} এবং তাঁর বাণী: {অবিশ্বাসীদের কথা (كلمة) নিচু আর আল্লাহর কথাই (كلمة) সর্বোচ্চ} এবং {আপনার রবের বাণী (كلمة) সত্য ও ন্যায়ের সাথে পূর্ণ হয়েছে}। এটি সুপরিচিত যে, এখানে শব্দ (الكلمة) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অর্থবোধক বাক্য (الجملة المفيدة)। আর যখন শব্দটি (الكلمة) একক শব্দের (المفرد) ওপর প্রযুক্ত হয়, তখন বচন বা বাক্যও (الكلام) একক শব্দের (المفرد) ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হওয়া বৈধ।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وَالْجَوَاب:
اما الاطلاق فدليل الْحَقِيقَة، إِذْ كَانَ الْمجَاز على خلاف الاصل، وانما يُصَار اليه بِقَرِينَة صارفة عَن الأَصْل، والاصل عدم الْقَرَائِن، ثمَّ ان الْبَحْث عَن الْكَلَام الدَّال على الْجُمْلَة المفيدة لَا يُوجد لَهُ قرينَة، بل يُسَارع إِلَى هَذَا الْمَعْنى من غير توقف على وجود قرينَة، وَهَذَا مثل لفظ الْعُمُوم إِذا اطلق حمل على الْعُمُوم من غير ان يحْتَاج الى قرينَة تصرف إِلَيْهِ، بل ان وجد تَخْصِيص احْتَاجَ إِلَى قرينَة.
وَأما السُّؤَال الثَّانِي فَلَا يَصح على الْوَجْهَيْنِ الْمَذْكُورين، اما الِاشْتِرَاك فَفِيهِ جوابان احدهما انه على خلاف الاصل اذا كَانَ يخل بالتفاهم، الا ترى انه اذا اطلق لفظ: الْعين، لم يفهم مِنْهَا مَا يَصح بِنَاء الحكم عَلَيْهِ، وَالْكَلَام انما وضع للتفاهم، وانما عرض الِاشْتِرَاك من اخْتِلَاف اللُّغَات. وَالثَّانِي ان الِاشْتِرَاك هُنَا لَا يتَحَقَّق، لَان الْكَلَام والكلمة من حَقِيقَة وَاحِدَة، وَلَكِن الْكَلَام مَجْمُوع شَيْئَيْنِ فَصَاعِدا، والكلمة اللَّفْظَة المفردة وَلَا اشْتِرَاك بَينهمَا. وانما الْكَلَام مُسْتَفَاد بالاوصاف والاجتماع، وَلَيْسَ كَذَلِك الْمُشْتَرك، بل كل
এবং উত্তর হলো:
নিঃশর্ত ব্যবহারের (إطلاق) ক্ষেত্রে তা হলো প্রকৃত অর্থের (حقيقة) দলিল, কারণ রূপক অর্থ (مجاز) হলো মূলনীতির (أصل) পরিপন্থী। মূলত কোনো মূলনীতি (أصل) থেকে বিচ্যুত হওয়ার জন্য কেবল তখনই রূপক অর্থের দিকে যাওয়া হয় যখন সেখানে বিমুখকারী কোনো সূত্র বা প্রসঙ্গের (قرينة) উপস্থিতি থাকে; আর মূল নিয়ম হলো কোনো সূত্রের (قرائن) অনুপস্থিতি। অধিকন্তু, পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধক বাক্যের ওপর নির্দেশক আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো সূত্র (قرينة) পাওয়া যায় না, বরং কোনো প্রসঙ্গের (قرينة) উপস্থিতির ওপর নির্ভর না করেই সরাসরি এই অর্থের দিকে ধাবিত হওয়া যায়। এটি সাধারণ বা ব্যাপক অর্থের (عموم) শব্দের ন্যায়; যখন তা নিঃশর্তভাবে ব্যবহার (أطلق) করা হয়, তখন তা কোনো প্রকার পরিবর্তনকারী প্রসঙ্গের (قرينة) প্রয়োজন ছাড়াই ব্যাপক অর্থের (عموم) ওপর প্রয়োগ করা হয়। তবে যদি সেখানে নির্দিষ্টকরণ (تخصيص) পাওয়া যায়, তবে তার জন্য প্রসঙ্গের (قرينة) প্রয়োজন পড়ে।
আর দ্বিতীয় প্রশ্নের ক্ষেত্রে উল্লিখিত দুই দিক থেকেই তা সঠিক নয়। সমার্থকতা বা শব্দগত অংশীদারিত্বের (اشتراك) বিষয়ে দুটি উত্তর রয়েছে: প্রথমত, এটি মূলনীতির (أصل) পরিপন্থী যদি তা পারস্পরিক বোঝাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটায়। আপনি কি দেখেন না যে, যখন 'আইন' (عين) শব্দটি নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা থেকে এমন কিছু বোঝা যায় না যার ওপর ভিত্তি করে কোনো বিধান প্রদান করা সঠিক হতে পারে? অথচ কালাম (كلام) কেবল পারস্পরিক বোঝাপড়ার জন্যই নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ভাষার বিভিন্নতার কারণেই কেবল সমার্থকতা (اشتراك) প্রকাশ পেয়েছে। দ্বিতীয়ত, এখানে সমার্থকতা (اشتراك) বাস্তবায়িত হয় না, কারণ কালাম (كلام) এবং কালিমাহ (كلمة) একই মূল অর্থের (حقيقة) অন্তর্ভুক্ত। তবে কালাম (كلام) হলো দুই বা ততোধিক বিষয়ের সমষ্টি, আর কালিমাহ (كلمة) হলো একক শব্দ; এই দুইয়ের মাঝে কোনো সমার্থকতা (اشتراك) নেই। কালাম (كلام) কেবল বৈশিষ্ট্য এবং সম্মিলনের মাধ্যমেই অর্জিত হয়, যা সমার্থক শব্দের (مشترك) ক্ষেত্রে এমন নয়; বরং প্রতিটি...
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وَاحِدَة من الفاظه كالأخرى فِي كَونهَا مُفْردَة.
وَأما الْجِنْس فَغير مَوْجُود هُنَا، لَان الْجِنْس يفرق بَينه وَبَين واحده بتاء التَّأْنِيث، نَحْو: تَمْرَة وتمر، وَهَذَا غير مَوْجُود فِي الْكَلَام والكلمة، بل جنس الْكَلِمَة: كلم وَلَيْسَ وَاحِد الْكَلَام: كلامة فَبَان انه لَيْسَ بِجِنْس.
واما السُّؤَال الثَّالِث فخارج عَمَّا نَحن فِيهِ، وَبَيَانه ان اشتقاق الْكَلِمَة من (الْكَلم) وَهُوَ التَّأْثِير، وَالْكَلَام تَأْثِير مَخْصُوص لَا مُطلق التَّأْثِير، والخالص غير الْمُطلق، يدل عَلَيْهِ ان الْكَلم الَّذِي هُوَ الْجرْح مُؤثر فِي النَّفس معنى تَاما، وَهُوَ الْأَلَم مثلا. وَالْكَلَام اشبه بذلك، لانه يُؤثر تَأْثِيرا تَاما، واما الْكَلِمَة المفردة فتأثيرها قَاصِر لَا يتم مِنْهُ معنى الا بانضمام تَأْثِير الآخر اليه، فهما مشتركان فِي اصل التَّأْثِير لَا فِي مِقْدَاره
وَأما الْمُعَارضَة بقوله تَعَالَى: {كَبرت كلمة} فَلَا يتَوَجَّه، لَان اكثر مَا فِيهِ انه عبر بالجزء عَن الْكل، وَهَذَا مجَاز ظَاهر، اذا كَانَ الْوَاحِد لَيْسَ بِجمع وَلَا جنس، بل قد يعبر بِهِ عَن الْجمع وَالْجِنْس
এর প্রতিটি শব্দই একক (مفردة) হওয়ার দিক থেকে অন্যটির মতো।
আর জাতিবাচক (الجنس) হওয়ার বিষয়টি এখানে বিদ্যমান নেই; কারণ জাতিবাচক শব্দ এবং এর একবচনের মধ্যে পার্থক্য করা হয় তা-এ-তানিছ (تاء التأنيث) দিয়ে, যেমন: 'তামরাহ' ও 'তামর'। আর এটি 'কালাম' এবং 'কালিমা' এর ক্ষেত্রে বিদ্যমান নেই। বরং 'কালিমা'-এর জাতিবাচক রূপ হলো 'কালিম', আর 'কালাম'-এর একবচন 'কালামাহ' নয়; সুতরাং এটি স্পষ্ট হলো যে এটি জাতিবাচক (جنس) নয়।
তৃতীয় প্রশ্নের বিষয়টি আমাদের বর্তমান আলোচনার বহির্ভূত। এর ব্যাখ্যা হলো, 'কালিমা' শব্দটির ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) 'কালম' (الكلم) থেকে, যার অর্থ হলো প্রভাব (التأثير)। আর 'কালাম' হলো একটি বিশেষ (مخصوص) প্রভাব, সাধারণ (مطلق) কোনো প্রভাব নয়। আর নির্দিষ্ট বিশেষ রূপটি সাধারণ রূপের থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। এর প্রমাণ হলো, 'কালম'—যার অর্থ হলো আঘাত বা জরাহ (الجرح)—তা সত্তার ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থবহ প্রভাব ফেলে, যেমন ব্যথা (الألم)। আর 'কালাম' এর সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ, কারণ এটি পূর্ণাঙ্গভাবে প্রভাব বিস্তার করে। পক্ষান্তরে, একক শব্দ (الكلمة المفردة)-এর প্রভাব অপূর্ণাঙ্গ (قاصر); অন্য কোনো প্রভাব যুক্ত হওয়া ছাড়া এর দ্বারা পূর্ণাঙ্গ অর্থ সম্পন্ন হয় না। সুতরাং এই উভয়টি মূল প্রভাবের ক্ষেত্রে অংশীদার, কিন্তু প্রভাবের মাত্রার ক্ষেত্রে নয়।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {কতই না বড় কথা (كلمة)}—এর মাধ্যমে উত্থাপিত আপত্তিটি সংগত নয়; কারণ এখানে বড়জোর এটি বলা যায় যে, অংশ (الجزء) দ্বারা পূর্ণ (الكل) বিষয়কে বোঝানো হয়েছে। এটি একটি স্পষ্ট রূপক (مجاز), যখন কোনো একক (واحد) শব্দ সমষ্টি (جمع) বা জাতিবাচক (جنس) না হয়, বরং কখনো কখনো এর মাধ্যমে সমষ্টি (الجمع) ও জাতিবাচক (الجنس) অর্থ প্রকাশ করা হয়।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
مجَازًا، وَوجه الْمجَاز ان الْجُمْلَة تتألف بعض اجزائها إِلَى بعض، كَمَا تتألف حُرُوف الْكَلِمَة المفردة بَعْضهَا إِلَى بعض، فَلَمَّا اشْتَركَا فِي ذَلِك جَازَ الْمجَاز، وَلَيْسَ كَذَلِك التَّعْبِير بالْكلَام عَن الْكَلِمَة، لَان ذَلِك نقيض مَعْنَاهَا.
وَدَلِيل الْمجَاز فِي الْكَلِمَة ظَاهر، وَهُوَ قَوْله: {تخرج من أَفْوَاههم إِن يَقُولُونَ إِلَّا كذبا} وَالْكذب لَا يتَحَقَّق فِي الْكَلِمَة المفردة، وانما يتَصَوَّر فِيمَا هُوَ خبر، وَالْخَبَر لَا يكون مُفردا فِي الْمَعْنى.
وَاحْتج الْآخرُونَ بَان الِاشْتِقَاق مَوْجُود فِي الْكَلِمَة وَالْكَلَام بِمَعْنى وَاحِد، وَهُوَ التَّأْثِير، فَكَانَ اللَّفْظ شَامِلًا لَهما، يدل عَلَيْهِ انك تَقول: (اما) تَكَلَّمت كلمة، واما تَكَلَّمت بِكَلِمَة، فيؤكد باللفظة المفردة الْفِعْل كَمَا يُؤَكد بالْكلَام، فَيلْزم من ذَلِك اطلاق العبارتين على شَيْء وَاحِد.
وَالْجَوَاب عَن هَذَا مَا تقدم فِي جَوَاب السُّؤَال (الثَّالِث) .
وَالله اعْلَم بِالصَّوَابِ.
রূপকভাবে (مجازا); রূপক হওয়ার কারণ হলো, একটি বাক্য (جملة) তার বিভিন্ন অংশ নিয়ে যেভাবে গঠিত হয়, ঠিক তেমনি একটি একক শব্দের (كلمة مفردة) বর্ণগুলোও একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে গঠিত হয়। যেহেতু উভয়ই এই বিষয়ে সদৃশ, তাই এখানে রূপক (مجاز) প্রয়োগ বৈধ হয়েছে। কিন্তু 'শব্দ' বোঝাতে 'বাক্য' (كلام) ব্যবহার করা তেমন নয়, কারণ তা এর অর্থের বিপরীত।
'কালিমাহ' বা শব্দের মধ্যে রূপক (مجاز) ব্যবহারের প্রমাণ সুস্পষ্ট। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের মুখ থেকে যা নির্গত হয়; তারা কেবল মিথ্যাই বলে।" মিথ্যা কোনো একক শব্দের (كلمة مفردة) ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয় না, বরং তা কেবল সংবাদের (خبر) ক্ষেত্রেই কল্পনা করা যায়। আর সংবাদ (خبر) অর্থের দিক থেকে কখনো একক (مفرد) হয় না।
অন্যান্যরা যুক্তি দিয়েছেন যে, ব্যুৎপত্তিগত (اشتقاق) দিক থেকে 'কালিমাহ' ও 'কালাম' একই অর্থে বিদ্যমান, আর তা হলো 'প্রভাব বিস্তার'। সুতরাং শব্দ (لفظ) এই উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। এর প্রমাণ হলো আপনি বলেন: "আমি একটি কথা বলেছি" অথবা "আমি একটি কথার মাধ্যমে কথা বলেছি"। এখানে একক শব্দ (لفظة مفردة) দ্বারা ক্রিয়াকে (فعل) সেভাবেই সুনিশ্চিত করা হচ্ছে যেভাবে বাক্য (كلام) দ্বারা করা হয়। ফলে এর দ্বারা একই বিষয়ের ওপর উভয় পরিভাষার প্রয়োগ আবশ্যক হয়ে পড়ে।
এর উত্তর ইতিপূর্বে তৃতীয় প্রশ্নের উত্তরে অতিক্রান্ত হয়েছে।
আল্লাহই সঠিক উত্তর সম্পর্কে সম্যক অবগত।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
2 -
مَسْأَلَة (حد الِاسْم) اخْتلف عِبَارَات النَّحْوِيين فِي حد الِاسْم وسيبويه لم يُصَرح لَهُ بِحَدّ فَقَالَ بَعضهم: الِاسْم مَا اسْتحق الاعراب فِي اول وَضعه، وَقَالَ آخَرُونَ: مَا اسْتحق التَّنْوِين فِي اول وَضعه، وَقَالَ آخَرُونَ: حد الِاسْم مَا سما بمسماه فأوضحه وكشف مَعْنَاهُ. وَقَالَ آخَرُونَ: الِاسْم كل لفظ دلّ على معنى مُفْرد فِي نَفسه. وَلم يدل
2 -
মাসআলা (مسألة): বিশেষ্যের সংজ্ঞা (حد الاسم) বিশেষ্যের (الاسم) সংজ্ঞার (حد) বর্ণনায় ব্যাকরণবিদদের (النحويين) মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। আর সিবওয়াইহি এর কোনো সুস্পষ্ট সংজ্ঞা (حد) প্রদান করেননি। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: বিশেষ্য (الاسم) হলো তা-ই, যা তার প্রাথমিক শব্দগঠনেই ই'রাব (الاعراب) বা বিভক্তি পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। অন্যরা বলেছেন: যা তার প্রাথমিক শব্দগঠনেই তানভীন (التنوين) পাওয়ার যোগ্যতা রাখে। আবার কেউ কেউ বলেছেন: বিশেষ্যের (الاسم) সংজ্ঞা হলো যা তার নামধারী সত্তাকে উচ্চকিত করার মাধ্যমে তাকে সুস্পষ্ট করে এবং তার অর্থ উন্মোচিত করে। অন্যরা বলেছেন: বিশেষ্য (الاسم) হলো এমন প্রতিটি শব্দ যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে একটি একক অর্থের ওপর দلالত (دلّ) বা নির্দেশনা প্রদান করে এবং তা নির্দেশ করে না...
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
على زمَان ذَلِك الْمَعْنى، وَقَالَ ابْن السراج: هُوَ كل لفظ دلّ على معنى فِي نَفسه غير مقترن بِزَمَان مُحَصل، وَزَاد بَعضهم فِي هَذَا دلَالَة الْوَضع.
وَقبل الْخَوْض فِي الصَّحِيح من هَذِه الْعبارَات نبين حد الْحَد الصَّحِيح، والعبارات الصَّحِيحَة فِيهِ مُخْتَلفَة الالفاظ، متفقة الْمعَانِي، فَمِنْهَا: اللَّفْظ الدَّال على كَمَال مَاهِيَّة الشَّيْء، وَهَذَا حد صَحِيح لِأَن الْحَد هُوَ الكاشف عَن حَقِيقَة الْمَحْدُود، وَيُرَاد بالماهية مَا يُقَال فِي جَوَاب: مَا هُوَ واحترزوا بقَوْلهمْ: (كَمَال الْمَاهِيّة) من ان بعض مَا يدل على الْحَقِيقَة قد يحصل من طَرِيق الْمُلَازمَة لَا من طَرِيق الْمُطَابقَة، مِثَاله ان تَقول: حد الانسان هُوَ النَّاطِق، فَلفظ الْحَد يكْشف عَن حَقِيقَة النُّطْق، وَلَا يدل على جنس الْمَحْدُود، وان كَانَ لَا نَاطِق الا الْإِنْسَان، وَلَكِن ذَلِك مَعْلُوم من جِهَة الْمُلَازمَة لَا
...সেই অর্থের সময়ের ওপর। ইবন আল-সাররাজ বলেছেন: এটি এমন প্রতিটি শব্দ যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের সাথে যুক্ত না হয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে কোনো অর্থ প্রকাশ করে। কেউ কেউ এর সাথে সংস্থাপিত নির্দেশক (دلالة الوضع) হওয়ার বিষয়টি যোগ করেছেন।
এই উক্তিগুলোর মধ্য থেকে সঠিক (صحيح) বিষয়টি নিয়ে আলোচনার গভীরে যাওয়ার আগে আমরা সঠিক (صحيح) সংজ্ঞার (حد) সংজ্ঞা (حد) বর্ণনা করব। এ বিষয়ে সঠিক (صحيح) উক্তিগুলোর শব্দ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অর্থ অভিন্ন। তার মধ্যে একটি হলো: এমন শব্দ যা কোনো বস্তুর সত্তার (ماهية) পূর্ণতাকে নির্দেশ করে। আর এটি একটি সঠিক (صحيح) সংজ্ঞা (حد), কারণ সংজ্ঞা (حد) হলো সংজ্ঞায়িত বস্তুর প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচনকারী। সত্তা (ماهية) বলতে তাই বোঝায় যা 'তা কী?' প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়। তারা তাদের 'সত্তার (ماهية) পূর্ণতা' উক্তির মাধ্যমে এটি পরিহার করেছেন যে, প্রকৃত স্বরূপের নির্দেশক কিছু বিষয় সরাসরি অর্থগত সামঞ্জস্যের (مطابقة) পরিবর্তে আনুষঙ্গিকতার (ملازمة) মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি বলেন: মানুষের সংজ্ঞা (حد) হলো বাকশক্তিসম্পন্ন (ناطق), তবে সংজ্ঞা (حد) শব্দটি কেবল বাকশক্তির স্বরূপ উন্মোচন করে, কিন্তু তা সংজ্ঞায়িত বস্তুর শ্রেণীকে (جنس) নির্দেশ করে না। যদিও মানুষ ব্যতীত অন্য কোনো বাকশক্তিসম্পন্ন প্রাণী নেই, তবে তা কেবল আনুষঙ্গিকতার (ملازمة) মাধ্যমেই জানা যায়, সরাসরি নয়...
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
من جِهَة دلَالَة اللَّفْظ، ومثاله من النَّحْو: الْمصدر يدل على زمَان مَجْهُول، وَلَيْسَ كَذَلِك، فان لفظ الْمصدر لَا يدل على زمَان الْبَتَّةَ، وانما الزَّمَان من ملازماته، فَلَا يدْخل فِي حَده، وَلَو دخل ذَلِك فِي الْحَد لوَجَبَ أَن يُقَال: الرجل وَالْفرس يدلان على الزَّمَان وَالْمَكَان، اذ لَا يتَصَوَّر انفكاكهما عَنْهُمَا، وَلَكِن لما لم يكن اللَّفْظ دَالا عَلَيْهِمَا لم يدخلا فِي حَده.
وَقَالَ قوم: حد الْحَد هُوَ عبارَة عَن جملَة مَا فرقه التَّفْصِيل. وَقَالَ آخَرُونَ: حد الْحَد مَا اطرد وانعكس، وَهَذَا صَحِيح، لَان الْحَد كاشف عَن حَقِيقَة الشَّيْء، فاطراده يثبت حَقِيقَته اينما وجدت، وانعكاسه ينفيها حَيْثُمَا فقدت، وَهَذَا هُوَ التَّحْقِيق، بِخِلَاف الْعَلامَة، فان الْعَلامَة تطرد وَلَا تنعكس، الا ترى أَن كل اسْم دخل عَلَيْهِ حرف الْجَرّ والتنوين وَمَا اشبههما أَيْن وجد حكم بِكَوْن اللَّفْظ اسْما وَلَا يَنْتَفِي كَونه اسْما بامتناع حرف الْجَرّ، وَلَا بامتناع التَّنْوِين.
وَإِذ قدما حَقِيقَة الْحَد فنشرع فِي تَحْقِيق مَا ذكر من الْحُدُود وافساد الْفَاسِد مِنْهَا.
শব্দের নির্দেশনার (দালালাত) দিক থেকে এর উদাহরণ ব্যাকরণশাস্ত্র থেকে দেওয়া যেতে পারে: ক্রিয়ামূল (মাসদার) অজ্ঞাত সময়ের ওপর নির্দেশ করে। বিষয়টি আসলে তেমন নয়; কারণ ক্রিয়ামূলের শব্দগত রূপ মোটেই সময়ের ওপর নির্দেশ করে না। বরং সময় হলো এর একটি আবশ্যিক অনুষঙ্গ (মুলাযামাত), তাই এটি তার সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হবে না। যদি তা সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হতো, তবে বলতে হতো যে, 'মানুষ' ও 'ঘোড়া' সময় ও স্থানের ওপর নির্দেশ করে; কেননা এ দুটি ব্যতিরেকে এগুলোর অস্তিত্ব কল্পনা করা অসম্ভব। কিন্তু যেহেতু শব্দটি এ দুটির ওপর সরাসরি নির্দেশ করে না, তাই এগুলো সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
একদল আলিম বলেছেন: সংজ্ঞার সংজ্ঞা হলো বিস্তারিত বর্ণনার মাধ্যমে পৃথকীকৃত বিষয়গুলোর সামগ্রিক রূপের অভিব্যক্তি। অন্যেরা বলেছেন: সংজ্ঞার সংজ্ঞা হলো যা অন্তর্ভুক্তকারী (ইততিরাদ) ও বর্জনকারী (ইন-ইকাস); আর এটিই সঠিক (صحيح)। কারণ সংজ্ঞা কোনো বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচনকারী। ফলে এর অন্তর্ভুক্তিকরণ বৈশিষ্ট্যটি যেখানেই বিদ্যমান থাকবে সেখানেই তার স্বরূপকে সাব্যস্ত করবে, আর এর বর্জনকারী বৈশিষ্ট্যটি যেখানে অনুপস্থিত থাকবে সেখান থেকে তাকে নাকচ করে দেবে। এটিই হলো প্রকৃত বিশ্লেষণ, যা চিহ্নের (আলামত) বিপরীত। কেননা চিহ্ন অন্তর্ভুক্তকারী হয় কিন্তু বর্জনকারী হয় না। আপনি কি দেখেন না যে, প্রতিটি বিশেষ্য (ইসম) যার ওপর অব্যয় (হরফে জার) এবং তানভীন বা এই জাতীয় বিষয় দাখিল হয়, তা পাওয়া গেলেই শব্দটিকে বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করা হয়; কিন্তু অব্যয় বা তানভীন না থাকার কারণে তার বিশেষ্য হওয়া নাকচ হয়ে যায় না।
যেহেতু আমরা সংজ্ঞার প্রকৃত স্বরূপ অগ্রিম আলোচনা করেছি, তাই এখন আমরা উল্লিখিত সংজ্ঞাগুলোর পর্যালোচনা এবং এগুলোর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণগুলো বাতিল করার কাজ শুরু করব।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
أما قَوْلهم: الِاسْم كل لفظ دلّ على معنى مُفْرد فِي نَفسه، فحد صَحِيح، اذ الْحَد مَا جمع الْجِنْس والفصل، واستوعب جنس الْمَحْدُود، وَهُوَ كَذَلِك هَا هُنَا، الا ترى ان الْفِعْل يدل على مَعْنيين: حدث وزمان، و (امس) وَمَا اشبهه يدل على الزَّمَان وَحده، فَكَانَ الاول فعلا وَالثَّانِي اسْما، والحرف لَا يدل على معنى فِي نَفسه، فقد تحقق فِيمَا ذَكرْنَاهُ الْجِنْس والفصل والاستيعاب.
وَأما قَول ابْن السراج فَصَحِيح ايضا، فان الِاسْم يدل على معنى فِي نَفسه، فَفِيهِ احْتِرَاز من الْحَرْف وَقَوله: غير مقترن بِزَمَان مُحَصل. يخرج مِنْهُ الْفِعْل، فانه يدل على الزَّمَان المقترن بِهِ، واما المصادر فَلَا دلَالَة لَهَا على الزَّمَان، لَا الْمَجْهُول وَلَا الْمعِين، على مَا ذكرنَا. وَمن قَالَ مِنْهُم: يدل على الزَّمَان الْمَجْهُول فقد احْتَرز عَنهُ بقوله: مُحَصل. فان الْمصدر لَا يدل على زمَان معِين.
واما من زَاد فِيهِ (دلَالَة الْوَضع) ، فانه قصد بذلك دفع النَّقْض بقَوْلهمْ: اتيتك مقدم الْحَاج، وخفوق النَّجْم، واتت النَّاقة
তাদের বক্তব্য: "বিশেষ্য (اسم) হলো এমন প্রতিটি শব্দ যা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে একটি একক অর্থ প্রকাশ করে", এটি একটি সঠিক (صحيح) সংজ্ঞা। কারণ সংজ্ঞা হলো যা সাধারণ বৈশিষ্ট্য (جنس) এবং পরিচায়ক বৈশিষ্ট্যকে (فصل) একত্রিত করে এবং সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সাধারণ বৈশিষ্ট্যকে অন্তর্ভুক্ত করে। এখানেও বিষয়টি সেরূপ। আপনি কি দেখছেন না যে, ক্রিয়া (فعل) দুটি অর্থের প্রতি নির্দেশ করে: ঘটনা এবং কাল; আর 'গতকাল' (أمس) এবং এর সদৃশ শব্দগুলো কেবল কাল বা সময়ের প্রতি নির্দেশ করে। ফলে প্রথমটি ক্রিয়া (فعل) এবং দ্বিতীয়টি বিশেষ্য (اسم) হিসেবে গণ্য। আর অব্যয় (حرف) স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে কোনো অর্থ প্রকাশ করে না। সুতরাং আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে সাধারণ বৈশিষ্ট্য (جنس), পরিচায়ক বৈশিষ্ট্য (فصل) এবং অন্তর্ভুক্তিকরণ প্রমাণিত হয়েছে।
ইবনে সাররাজের বক্তব্যও সঠিক (صحيح)। কারণ বিশেষ্য (اسم) স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে একটি অর্থ প্রকাশ করে, যা অব্যয় (حرف) থেকে একে পৃথক করে। আর তার উক্তি: "কোনো নির্দিষ্ট কালের সাথে যুক্ত নয়", এর মাধ্যমে ক্রিয়া (فعل) বহির্ভূত হয়ে যায়; কেননা ক্রিয়া তার সাথে সংশ্লিষ্ট কালের প্রতি নির্দেশ করে। আর মূল বিশেষ্য বা ক্রিয়ামূলগুলোর (مصادر) ক্ষেত্রে কাল বা সময়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, তা অজ্ঞাত হোক বা নির্দিষ্ট হোক—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। তাদের মধ্যে যারা বলেন যে, এটি অজ্ঞাত কালের প্রতি নির্দেশ করে, তিনি 'নির্দিষ্ট' (محصل) শব্দটির মাধ্যমে তা থেকে সতর্ক করেছেন। কারণ ক্রিয়ামূল (مصدر) কোনো নির্দিষ্ট কালের প্রতি নির্দেশ করে না।
আর যারা এতে "ভাষাগত সংস্থাপনগত নির্দেশক (دلالة الوضع)" বৃদ্ধি করেছেন, তারা এর মাধ্যমে তাদের এই বক্তব্যে আপত্তি খণ্ডন করতে চেয়েছেন: "আমি তোমার কাছে হাজীদের আগমনের সময় এসেছি", "তারকা অস্তমিত হওয়ার সময়", এবং "উটটি এসেছে..."
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
على منتجها فان هَذِه مصَادر: وَقد دلّت على زمَان مُحَصل، فَعِنْدَ ذَلِك تخرج عَن الْحَد. واذا قَالَ: دلَالَة الْوَضع لم ينْتَقض الْحَد بهَا لانها دَالَّة على الزَّمَان لَا من طَرِيق الْوَضع، وَذَلِكَ ان مقدم الْحَاج يتَّفق فِي ازمنة مَعْلُومَة بَين النَّاس، لَا انها مَعْلُومَة من لفظ (الْمُقدم) وَالدَّلِيل على ذَلِك انك لَو قلت: اتيتك وَقت مقدم الْحَاج، صَحَّ الْكَلَام، وَظهر فِيهِ مَا كَانَ مُقَدرا قبله.
وَالتَّحْقِيق فِيهِ ان الْحُدُود تكشف عَن حَقِيقَة الشَّيْء الْمَوْضُوع اولا، فَإِذا جَاءَ مِنْهَا شَيْء على خلاف ذَلِك لعَارض، لم ينْتَقض الْحَد بِهِ، وَيَأْتِي نَظَائِر ذَلِك فِيمَا يمر بك من الْمسَائِل.
فَأَما من قَالَ هُوَ مَا اسْتحق الاعراب فِي اول وَضعه، اَوْ مَا اسْتحق التَّنْوِين، فَكَلَام سَاقِط جدا، وَذَلِكَ ان اسْتِحْقَاق الشَّيْء لحكم يَنْبَغِي ان يسْبق الْعلم بحقيقته، حَتَّى يرتب عَلَيْهِ الحكم، الا ترى انه لَو قَالَ فِي لَفْظَة (ضرب) : هَذَا اسْم، لانه يسْتَحق
এর উৎপন্নের ওপর, কারণ এগুলো হলো উৎস (مصدر): এগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের নির্দেশ দেয়, ফলে এগুলো সংজ্ঞার (حد) পরিধি থেকে বেরিয়ে যায়। আর যদি কেউ বলে: শাব্দিক প্রয়োগের (وضع) নির্দেশক, তবে এর দ্বারা সংজ্ঞাটি (حد) লঙ্ঘিত হবে না। কারণ এটি সময়ের নির্দেশক হিসেবে কাজ করে ঠিকই কিন্তু তা শাব্দিক প্রয়োগের (وضع) মাধ্যমে নয়। এর কারণ হলো হাজীদের আগমন মানুষের নিকট সুপরিচিত সময়ের সাথে মিলে যায়, শব্দগতভাবে ‘আগমন’ (مقدم) শব্দ থেকে তা পরিচিত নয়। এর প্রমাণ (دليل) হলো, আপনি যদি বলেন: ‘আমি তোমার নিকট হাজীদের আগমনের সময়ে এসেছি’, তবে বাক্যটি সঠিক (صحيح) হবে এবং এতে যা উহ্য (مقدر) ছিল তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تحقيق) হলো, সংজ্ঞাসমূহ (حدود) মূলত সেই বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপকে উন্মোচন করে যা প্রাথমিকভাবে প্রয়োগকৃত (موضوع)। সুতরাং যদি কোনো আকস্মিক কারণবশত (عارض) এর বিপরীত কিছু ঘটে, তবে তার দ্বারা মূল সংজ্ঞা (حد) নষ্ট হয় না। আপনার সামনে যেসব বিষয় আসবে, সেখানে এ জাতীয় আরও অনেক সাদৃশ্যপূর্ণ উদাহরণ (نظائر) দেখতে পাবেন।
আর যারা বলেন যে, এটি এমন কিছু যা এর আদি প্রয়োগের (وضع) ক্ষেত্রে বিশ্লেষণাত্মক স্বরচিহ্ন (إعراب) পাওয়ার যোগ্য ছিল অথবা যা তানউইন (تنوين) পাওয়ার যোগ্য ছিল, তবে তাদের এ বক্তব্যটি অত্যন্ত অসার (ساقط)। এর কারণ হলো, কোনো বিষয়ের বিধান (حكم) পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের পূর্বে তার প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক, যাতে তার ওপর ভিত্তি করে বিধানটি (حكم) বিন্যস্ত করা যায়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, যদি কেউ ‘দ্বরাবা’ (ضرب) শব্দের ক্ষেত্রে বলে: ‘এটি একটি বিশেষ্য (اسم)’, কারণ এটি পাওয়ার যোগ্য...
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫০)
الاعراب فِي أول وَضعه لاحتجت ان تبين أَنه لَيْسَ باسم، وَلَا يعْتَرض فِي ذَلِك بالاعراب وَعَدَمه، وَلَو قَالَ قَائِل: انا اعربه، اَوْ احكم باستحقاقه الاعراب، لقيل لَهُ: مَا الدَّلِيل على ذَلِك، فَقَالَ: لانه اسْم، فَيُقَال لَهُ: مَا الدَّلِيل على انه اسْم فان قَالَ بعد ذَلِك: لانه يسْتَحق الاعراب، ادى الى الدّور لانه لَا يثبت كَونه اسْما الا بِاسْتِحْقَاق الاعراب، وَلَا يسْتَحق الاعراب الا بِكَوْنِهِ اسْما، وَهَكَذَا سَبِيل التَّنْوِين وَغَيره.
واما قَول الآخر: مَا سما بمسماه، فحد مَدْخُول ايضا، وَذَلِكَ انه اراد مَا سمى مُسَمَّاهُ، وَلِهَذَا قَالَ: فأوضحه، فَجعل فِي الْحَد لفظ الْمَحْدُود، وَإِذا كُنَّا لَا نعلم معنى الِاسْم فَكيف يَجْعَل فِيمَا يُوضحهُ لفظا مشتقا مِنْهُ، وَذَلِكَ ان الِاشْتِقَاق يَسْتَدْعِي فهم الْمُشْتَقّ مِنْهُ اَوْ لَا، ثمَّ يُؤْخَذ مِنْهُ لفظ آخر يدل على معنى زَائِد.
বিভক্তি (الإعراب) এর প্রাথমিক বিন্যাসের ক্ষেত্রে, আপনাকে স্পষ্ট করতে হতো যে এটি কোনো বিশেষ্য (اسم) নয়। এক্ষেত্রে বিভক্তি (الإعراب) থাকা বা না থাকা দিয়ে কোনো আপত্তি উত্থাপন করা যায় না। যদি কেউ বলে: "আমি এতে বিভক্তি (الإعراب) আরোপ করব" অথবা "আমি এর বিভক্তি (الإعراب) প্রাপ্ত হওয়ার যোগ্যতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেব", তবে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে: "এর স্বপক্ষে দলিল কী?" সে যদি বলে: "কারণ এটি একটি বিশেষ্য (اسم)", তবে তাকে আবার বলা হবে: "এটি যে একটি বিশেষ্য (اسم) তার দলিল কী?" এরপর সে যদি বলে: "কারণ এটি বিভক্তি (الإعراب) প্রাপ্ত হওয়ার যোগ্য", তবে তা একটি বৃত্তাকার যুক্তিতে (الدور) পর্যবসিত হবে। কেননা, বিভক্তি (الإعراب) প্রাপ্ত হওয়ার যোগ্যতা ছাড়া তার বিশেষ্য (اسم) হওয়া প্রমাণিত হয় না, আবার বিশেষ্য (اسم) হওয়া ছাড়া সে বিভক্তি (الإعراب) পাওয়ার যোগ্য হয় না। তানউইন (تنوين) এবং অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
আর অন্যের উক্তি: "যা তার নামীয় বস্তু (মুসাম্মা) এর মাধ্যমে উচ্চ হয়", এটিও একটি ত্রুটিযুক্ত (مدخول) সংজ্ঞা। কারণ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যা তার নামীয় বস্তুকে নামকরণ করে। এই কারণেই তিনি বলেছেন: "অতঃপর তিনি তা স্পষ্ট করেছেন"। তিনি সংজ্ঞার (حد) মধ্যে সংজ্ঞায়িত (محدود) শব্দেরই একটি রূপ ব্যবহার করেছেন। অথচ আমরা যদি বিশেষ্য (اسم) শব্দের অর্থই না জানি, তবে যা দিয়ে সেই অর্থ স্পষ্ট করা হচ্ছে তাতে তার থেকে ব্যুৎপন্ন (مشتق) কোনো শব্দ কীভাবে ব্যবহার করা যায়? কারণ, ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) দাবি করে যে প্রথমে মূল শব্দটি (مشتق منه) বুঝতে হবে, অতঃপর তা থেকে অন্য একটি শব্দ গ্রহণ করতে হবে যা অতিরিক্ত কোনো অর্থের জানান দেবে।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫১)
قَالَ عبد القاهر فِي شرح (جمله) : حد الِاسْم مَا جَازَ الاخبار عَنهُ. قَالَ: وَالدَّلِيل على ذَلِك من وَجْهَيْن:
أَحدهمَا انه مطرد ومنعكس، وَهَذَا امارة صِحَة الْحَد، وَالثَّانِي ان الْفِعْل لَا يَصح الاخبار عَنهُ، والحرف لاحظ لَهُ فِي الاخبار، فعين ان يكون الِاسْم هُوَ الْمخبر عَنهُ، اذ لَا يجوز ان تَخْلُو الْكَلِمَة من اسناد الْخَبَر إِلَيْهَا. واذا (كَانَ) الْفِعْل والحرف وَالِاسْم لَا يسند إِلَيْهِ خبر ارْتَفع الْأَخْبَار عَن جملَة الْكَلَام.
وَالدَّلِيل على انه لَيْسَ بِحَدّ وانما هُوَ عَلامَة - وَقد اخْتَار ذَلِك عبد القاهر فِي شرح الايضاح - ان هَذَا اللَّفْظ يطرد وَلَا ينعكس، وَالدَّلِيل عَلَيْهِ قَوْلك: اذ، واذا، وايان، واين، وَغير ذَلِك، وانها
আবদুল কাহের (জুমাল)-এর ব্যাখ্যায় বলেন: বিশেষ্যের সংজ্ঞা (حد) হলো যা সম্পর্কে সংবাদ প্রদান (إخبار) করা বৈধ। তিনি বলেন: এর স্বপক্ষে প্রমাণ দুই দিক থেকে:
প্রথমটি হলো এটি ব্যাপক প্রযোজ্য (مطرد) এবং বিপরীতমুখী প্রযোজ্য (منعكس), আর এটি হলো সংজ্ঞার (حد) সঠিকতার (صحة) একটি নিদর্শন; দ্বিতীয়টি হলো ক্রিয়া সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা শুদ্ধ হয় না, এবং অব্যয়-এর সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো অংশ নেই; সুতরাং এটিই সুনির্ধারিত হলো যে, বিশেষ্যই হলো সংবাদ প্রদানকৃত বিষয়, যেহেতু কোনো শব্দ সংবাদের সম্বন্ধ (إسناد) করা থেকে মুক্ত থাকা বৈধ নয়। আর যদি ক্রিয়া, অব্যয় ও বিশেষ্যের প্রতি সংবাদ সম্বন্ধ করা না হয়, তবে সমগ্র বাক্য থেকে সংবাদ প্রদানের বিষয়টিই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
আর এটি যে সংজ্ঞা (حد) নয় বরং কেবল একটি চিহ্ন (علامة)—যা আবদুল কাহের ‘শরহুল ইযাহ’ গ্রন্থে পছন্দ করেছেন—তার প্রমাণ হলো এই যে, এই শব্দটি ব্যাপক প্রযোজ্য (يطرد) হলেও বিপরীতমুখী প্রযোজ্য (ينعكس) হয় না। এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো আপনার উক্তি: ইয, ইযা, আইয়ানা, আইনা এবং এ জাতীয় শব্দসমূহ, এবং নিশ্চয়ই সেগুলো...
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫২)
اسماء وَلَا يَصح الاخبار عَنْهَا، فَعِنْدَ ذَلِك يبطل كَونه حدا. وَالْوَجْه الثَّانِي: ان قَوْلك: مَا جَازَ الاخبار عَنهُ لَا يُنبئ عَن حَقِيقَة وَضعه، وانما هُوَ من احكامه، وَلذَلِك لَو ادّعى مُدع ان لَفْظَة (ضرب) يَصح الاخبار عَنْهَا بِأَن يَقُول: ضرب اشْتَدَّ، كَمَا تَقول: الضَّرْب مشتد، لم يَصح معارضته بِالْمَنْعِ الْمُجَرّد حَتَّى يبين وَجه الِامْتِنَاع، وَالْحَد لَا يحْتَاج إِلَى دَلِيل يُقَام عَلَيْهِ، لانه لفظ مَوْضُوع على الْمَعْنى، وَدلَالَة الالفاظ على الْمعَانِي لَا تثبت بالمناسبة وَالْقِيَاس.
فَإِن قيل: إِذا، وَإِذا، وَنَحْوهمَا، يَصح الاخبار عَنْهَا من حَيْثُ انها أَوْقَات وأمكنة، وَكِلَاهُمَا يَصح الاخبار عَنهُ، وانما عرض لَهَا انها لَا تقع إِلَّا ظروفا، فَمن حَيْثُ هِيَ ظروف لَا يخبر عَنْهَا، وَمن حَيْثُ هِيَ اوقات وأمكنة يَصح الْإِخْبَار عَنْهَا، أَلا ترى انك لَو قلت: طَابَ وقتنا واتسع مَكَاننَا. كَانَ خَبرا صَحِيحا.
وَالْجَوَاب ان كَونهَا ظروفا اوصاف انضمت إِلَى كَونهَا وقتا
নামসমূহ (اسماء) এবং তাদের সম্পর্কে সংবাদ প্রদান (الاخبار) সঠিক নয়, ফলে সেক্ষেত্রে এটি সংজ্ঞা (حد) হওয়ার যোগ্যতা হারায়। দ্বিতীয় দিকটি হলো: আপনার উক্তি: "যাঁর সম্পর্কে সংবাদ প্রদান (الاخبار) বৈধ," তা তাঁর ভাষাগত প্রয়োগের (وضعه) প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশ করে না, বরং এটি তার বিধানসমূহের (احكام) অন্তর্ভুক্ত; একারণেই যদি কোনো দাবিদার দাবি করে যে 'দারাবা' (ضرب) শব্দটির সম্পর্কে সংবাদ প্রদান (الاخبار) সঠিক, এভাবে যে সে বলবে: 'দারাবা ইশতাদ্দা' (প্রহার করা তীব্র হয়েছে), যেভাবে আপনি বলেন: 'আদ-দারবু মুশতাদদুন', তবে নিছক বিরোধিতার কারণে তা বাতিল হবে না যতক্ষণ না সে অসম্ভাব্যতার দিকটি স্পষ্ট করে। আর সংজ্ঞার (حد) ক্ষেত্রে কোনো দলিলের (دليل) প্রয়োজন হয় না যা তার ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে, কারণ এটি অর্থের ওপর প্রয়োগকৃত (موضوع) একটি শব্দ, আর অর্থের ওপর শব্দের নির্দেশনা (دلالة) উপযোগিতা (مناسبة) বা কিয়াসের (قياس) মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় না।
যদি বলা হয়: ‘ইযা’ (إِذا), ‘ইযান’ (إِذاً) এবং অনুরূপ শব্দসমূহ সম্পর্কে সংবাদ প্রদান (الاخبار) সঠিক এ কারণে যে সেগুলো সময় ও স্থান, আর উভয়ের সম্পর্কেই সংবাদ প্রদান (الاخبار) সঠিক; মূলত এগুলোর ক্ষেত্রে এটি আপতিত হয়েছে যে সেগুলো অধিকরণ (ظروف) হিসেবে ছাড়া ব্যবহৃত হয় না। সুতরাং অধিকরণ (ظروف) হওয়ার দিক থেকে সেগুলোর সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয় না, তবে সময় ও স্থান হওয়ার দিক থেকে সংবাদ প্রদান (الاخبار) সঠিক। আপনি কি দেখেন না যে আপনি যদি বলেন: ‘আমাদের সময় আনন্দদায়ক হয়েছে এবং আমাদের স্থান প্রশস্ত হয়েছে’, তবে তা একটি সঠিক (صحيح) সংবাদ (خبر) হবে।
উত্তর হলো, সেগুলোর অধিকরণ (ظروف) হওয়া এমন কিছু বৈশিষ্ট্য যা সময় হওয়ার সাথে যুক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
ومكانا، لم تسْتَعْمل الا بِهَذِهِ الصّفة، فَهِيَ كالخصوص من الْعُمُوم، وَالْخُصُوص لَا يحد بِحَدّ الْعُمُوم، الا ترى ان الانسان حَيَوَان مَخْصُوص وَلَا يحد بِحَدّ الْحَيَوَان الْعَام، لِأَن ذَلِك يسْقط الْفَصْل الَّذِي يُمَيّز بِهِ من بَقِيَّة انواع الْحَيَوَان، وَالْحَد مَا جمع الْجِنْس والفصل وَالْوَقْت الَّذِي يدل عَلَيْهِ (إِذا) هُوَ الْجِنْس، وَكَونه ظرفا بِمَنْزِلَة الْفَصْل كالنطق فِي الْإِنْسَان، وَبِهَذَا يحصل جَوَاب قَوْله: يطرد وينعكس، لأَنا قد بَينا انه لَا ينعكس.
وَالله أعلم بِالصَّوَابِ.
...এবং স্থানের ক্ষেত্রে, এটি এই বৈশিষ্ট্য ব্যতীত ব্যবহৃত হয়নি। সুতরাং এটি ব্যাপকতার (العموم) অন্তর্গত বিশেষত্বের (الخصوص) মতো। আর বিশেষত্বকে ব্যাপকতার (العموم) সংজ্ঞা দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যায় না। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, মানুষ একটি বিশেষ (مخصوص) জীব এবং তাকে সাধারণ জীবের সংজ্ঞা দ্বারা সংজ্ঞায়িত করা যায় না? কারণ তা সেই ব্যবচ্ছেদকারী বৈশিষ্ট্যকে (الفصل) বিলুপ্ত করে দেয় যার মাধ্যমে সে অন্যান্য প্রজাতির জীব থেকে পৃথক হয়। আর সংজ্ঞা (الحد) হলো যা মূল বর্গ (الجنس) এবং ব্যবচ্ছেদকারী বৈশিষ্ট্যকে (الفصل) একত্রিত করে। আর যে সময়কে ‘যখন’ (إِذا) নির্দেশ করে তা হলো মূল বর্গ (الجنس), এবং তার আধার হওয়াটা ব্যবচ্ছেদকারী বৈশিষ্ট্যের (الفصل) স্থলাভিষিক্ত, যেমন মানুষের ক্ষেত্রে বাকশক্তি। এর মাধ্যমেই তাঁর এই উক্তির উত্তর পাওয়া যায়: ‘তা কি সর্বব্যাপী (يطرد) এবং বিপরীতমুখী (ينعكس)?’ কারণ আমরা ইতিপূর্বেই স্পষ্ট করেছি যে তা বিপরীতমুখী (ينعكس) হয় না।
আর আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
3 -
مَسْأَلَة (ادلة اسمية كَيفَ) كَيفَ اسْم بِلَا خلاف، وانما ذَكرنَاهَا هَاهُنَا لخفاء الدَّلِيل على كَونهَا اسْما، وَالدَّلِيل على كَونهَا اسْما، من خَمْسَة أَشْيَاء.
احدها: انها دَاخِلَة تَحت حد الِاسْم، وَذَاكَ انها تدل على معنى فِي نَفسهَا، وَلَا تدل على زمَان ذَلِك الْمَعْنى.
وَالثَّانِي: انها تجاب بِالِاسْمِ، وَالْجَوَاب على وفْق السُّؤَال، وَذَلِكَ قَوْلهم: كَيفَ زيد فَيُقَال صَحِيح أَو مَرِيض اَوْ غَنِي اَوْ فَقير، وَذَلِكَ انها سُؤال عَن الْحَال، فجوابها مَا يكون حَالا.
3 -
মাসআলা (مسألة) ('কায়ফা'-এর বিশেষ্য (اسم) হওয়ার প্রমাণসমূহ) 'কায়ফা' কোনো মতভেদ ছাড়াই একটি বিশেষ্য (اسم)। আমরা এটি এখানে কেবল একারণেই উল্লেখ করেছি যে, এটি বিশেষ্য (اسم) হওয়ার প্রমাণ (دليل) অস্পষ্ট। এটি বিশেষ্য (اسم) হওয়ার প্রমাণ (دليل) পাঁচটি বিষয় থেকে পরিদৃষ্ট হয়।
প্রথমটি হলো: এটি বিশেষ্যের (اسم) সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। আর তা হলো, এটি নিজস্বভাবে একটি অর্থ প্রকাশ করে এবং সেই অর্থের কোনো কালের সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকে না।
দ্বিতীয়টি হলো: এর উত্তর বিশেষ্য (اسم) দ্বারা প্রদান করা হয় এবং উত্তরটি প্রশ্নের অনুরূপ হয়। যেমন তাদের উক্তি: "যায়েদ কেমন আছে?" উত্তরে বলা হয়: সুস্থ, অসুস্থ, ধনী অথবা দরিদ্র। আর তা এই কারণে যে, এটি অবস্থা (حال) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য ব্যবহৃত হয়, তাই এর উত্তরও অবস্থা (حال) প্রকাশক হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
وَالثَّالِث: انك تبدل مِنْهَا الِاسْم فَتَقول: كَيفَ زيد اصحيح ام مَرِيض. وَالْبدل هَاهُنَا مَعَ همزَة الِاسْتِفْهَام نَائِب عَن قَوْلك: اصحيح زيد أم مَرِيض وَالْبدل يُسَاوِي الْمُبدل (مِنْهُ) فِي جنسه.
وَالرَّابِع: ان من الْعَرَب من يدْخل عَلَيْهَا حرف الْجَرّ، قَالُوا على كَيفَ تبيع الاحمرين وَقَالَ بَعضهم: انْظُر إِلَى كَيفَ يصنع. وَهَذَا شَاذ فِي الِاسْتِعْمَال، وَلكنه يدل على الاسمية.
وَالْخَامِس: ان دَلِيل السبر والتقسيم اوجب كَونهَا اسْما، وَذَلِكَ ان يُقَال لَا تَخْلُو كَيفَ من ان تكون اسْما أَو فعلا أَو حرفا. فكونها حرفا بَاطِل، لِأَنَّهَا تفِيد مَعَ الِاسْم الْوَاحِد فَائِدَة تَامَّة كَقَوْلِك: كَيفَ زيد والحرف لَا ينْعَقد بِهِ وبالاسم جملَة مفيدة، فَأَما (يَا) فِي النداء، فَفِيهَا كَلَام يذكر فِي مَوْضِعه.
এবং তৃতীয়টি হলো: আপনি তা থেকে বিশেষ্যকে স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং বলবেন: যায়েদ কেমন, সে কি সুস্থ নাকি অসুস্থ? এখানে প্রশ্নবোধক হামযাহর সাথে স্থলাভিষিক্ত পদটি (বদল) আপনার এই উক্তির স্থলাভিষিক্ত হয়েছে: যায়েদ কি সুস্থ নাকি অসুস্থ? আর স্থলাভিষিক্ত পদটি (বদল) তার মূল পদের (মুবদাল মিনহু) সাথে প্রকৃতির দিক থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
এবং চতুর্থটি হলো: আরবদের মধ্যে কেউ কেউ এর পূর্বে অব্যয় (হরফে জার) যুক্ত করেন। তারা বলেন: "কত দরে (আলা কাইফা) তুমি লাল বস্তু দুটি বিক্রয় করবে?" এবং তাদের কেউ কেউ বলেন: "সে কীভাবে কাজ করে সেদিকে তাকাও।" এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিরল বা ব্যতিক্রমী (شاذ), তবে এটি শব্দটির বিশেষ্য হওয়ার প্রমাণ বহন করে।
এবং পঞ্চমটি হলো: পরীক্ষা ও বিভাজন (সাবর ওয়া তাকসিম) পদ্ধতি এটি বিশেষ্য হওয়ার বিষয়টিকে অবধারিত করে। আর তা এভাবে যে, বলা হবে— 'কাইফা' শব্দটি বিশেষ্য, ক্রিয়া অথবা অব্যয় হওয়ার সম্ভাবনা থেকে মুক্ত নয়। এর অব্যয় হওয়াটা বাতিল (باطل); কারণ এটি একটি মাত্র বিশেষ্যের সাথে মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদান করে, যেমন আপনার উক্তি: "যায়েদ কেমন?" অথচ অব্যয় এবং বিশেষ্য মিলে কোনো পূর্ণাঙ্গ বাক্য গঠিত হয় না। আর সম্বোধনের ক্ষেত্রে 'ইয়া'-এর ব্যাপারে এমন কিছু আলোচনা রয়েছে যা যথাস্থানে উল্লেখ করা হবে।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَكَونهَا فعلا بَاطِل أَيْضا لوَجْهَيْنِ: احدهما أَنَّهَا لَا تدل على حدث وزمان، وَلَا على الزَّمَان وَحده. وَالثَّانِي ان الْفِعْل يَليهَا بِلَا فصل، كَقَوْلِك: كَيفَ صنعت، وَلَا يكون ذَلِك فِي الافعال الا ان يكون فِي الْفِعْل الاول ضمير، كَقَوْلِك: اقبل يسْرع. أَي أقبل زيد أَو رجل.
وَإِذا بَطل القسمان ثَبت كَونهَا اسْما لِأَن الاسماء هِيَ الْأُصُول وَإِذا بطلت الْفُرُوع حكم بِالْأَصْلِ.
وَالله اعْلَم بِالصَّوَابِ.
এবং এটি ক্রিয়া (فعل) হওয়াও দুটি কারণে বাতিল (باطل): তার মধ্যে একটি হলো এটি কোনো ঘটনা বা কাল নির্দেশ করে না, এবং শুধুমাত্র কালকেও নির্দেশ করে না। দ্বিতীয়ত, ক্রিয়া (فعل) এর অব্যবহিত পরেই কোনো ব্যবধান ছাড়াই আসে, যেমন আপনার উক্তি: 'তুমি কীভাবে করলে' (Kaifa San'ata), আর ক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না যতক্ষণ না প্রথম ক্রিয়াটিতে কোনো সর্বনাম (ضمير) থাকে, যেমন আপনার উক্তি: 'সে দ্রুতগতিতে এগিয়ে এলো' (Aqbala Yusri'u)। অর্থাৎ যায়েদ বা কোনো ব্যক্তি এগিয়ে এলো।
আর যখন এই দুই প্রকারই বাতিল (باطل) প্রমাণিত হলো, তখন এটি বিশেষ্য (اسم) হওয়া সুসাব্যস্ত হলো; কেননা বিশেষ্যসমূহ হলো মূল (أصل), আর যখন শাখাগুলো (فرع) বাতিল হয়ে যায়, তখন মূলের (أصل) মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
আল্লাহই সঠিক বিষয়ে সর্বাধিক অবগত।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
4 -
مَسْأَلَة (اشتقاق لفظ اسْم) الِاسْم مُشْتَقّ من السمو عندنَا، وَقَالَ الْكُوفِيُّونَ: من الوسم، فالمحذوف عندنَا لامه، وَعِنْدهم فاؤه.
لنا فِيهِ ثَلَاثَة مسالك، الْمُعْتَمد مِنْهَا ان الْمَحْذُوف يعود فِي
4 -
মাসআলা (مسألة) ('ইসম' শব্দের ব্যুৎপত্তি (اشتقاق)) আমাদের মতে 'ইসম' (নাম) শব্দটি উচ্চতা (السمو) থেকে ব্যুৎপন্ন (مشتق); আর কুফাবাসীরা বলেন: এটি চিহ্ন (الوسম) থেকে। সুতরাং আমাদের মতে বিলুপ্ত অংশটি হলো এর 'লাম' (لام) বর্ণ, আর তাদের মতে তা হলো এর 'ফা' (فاء) বর্ণ।
এই বিষয়ে আমাদের নিকট তিনটি পদ্ধতি (مسالك) রয়েছে, যার মধ্যে নির্ভরযোগ্য (المعتمد) হলো এই যে, বিলুপ্ত বর্ণটি ফিরে আসে...
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬০)
التصريف إِلَى مَوضِع اللَّام، فَكَانَ الْمَحْذُوف هُوَ اللَّام كالمحذوف من: ابْن.
وَالدَّلِيل على عوده إِلَى مَوضِع اللَّام انك تَقول: سميت، واسميت. وَفِي التصغير: سمي. وَفِي الْجمع: أَسمَاء وأسام، وَفِي فعيل مِنْهُ (سمي) ، أَي: اسْمك مثل اسْمه.
وَلَو كَانَ الْمَحْذُوف من اوله لعاد فِي التصريف إِلَى أَوله وَكَانَ يُقَال: اوسمت، ووسمت، ووسيم، ووسيم، واوسام.
وَهَذَا التصريف قَاطع على أَن الْمَحْذُوف هُوَ اللَّام.
فان قيل: هَذَا اثبات اللُّغَة بِالْقِيَاسِ، وَهِي لَا تثبت بِهِ، وَالثَّانِي ان عود الْمَحْذُوف إِلَى الْأَخير لَا يلْزم مِنْهُ ان يكون الْمَحْذُوف من الْأَخير، بل يجوز ان يكون مقلوبا. وَقد جَاءَ الْقلب كثيرا عَنْهُم، كَمَا قَالُوا: لهي ابوك. فأخروا الْعين إِلَى مَوضِع اللَّام وَقَالُوا: الجاه، واصله: الْوَجْه وَقَالُوا اينق واصله انوق.
শব্দরূপান্তর 'লাম' পদের স্থানে ফিরে আসে, তাই বিলুপ্ত বর্ণটি হলো 'লাম', যেমনটি 'ইবন' শব্দ থেকে বিলুপ্ত হয়েছে।
এটি 'লাম' পদের স্থানে ফিরে আসার প্রমাণ হলো আপনার উক্তি: ‘সাম্মাইতু’ এবং ‘আস্সমাইতু’। আর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপে: ‘সুমাই’। আর বহুবচনে: ‘আসমা’ এবং ‘আসামী’। আর ‘ফাইয়িল’ ছন্দে তা হয় ‘সামিয়্যুন’, অর্থাৎ: তোমার নাম তার নামের মতো।
আর যদি বিলুপ্ত বর্ণটি শব্দের শুরু থেকে হতো, তবে রূপান্তরের সময় তা শুরুতেই ফিরে আসত এবং বলা হতো: ‘আওসামতু’, ‘ওয়াসসামতু’, ‘ওয়াসিম’, ‘ওয়াসিম’ এবং ‘আওসাম’।
আর এই রূপান্তরটি অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে বিলুপ্ত বর্ণটি হলো ‘লাম’।
যদি বলা হয়: প্রথমত, এটি কিয়াসের (قياس) মাধ্যমে ভাষাতাত্ত্বিক বিষয়ের প্রমাণ উপস্থাপন, অথচ ভাষা কিয়াসের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় না। দ্বিতীয়ত, বিলুপ্ত বর্ণটি শেষে ফিরে আসার দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে বিলুপ্ত বর্ণটি শেষ থেকেই ছিল, বরং এটি বর্ণ বিপর্যয় বা উল্টে যাওয়া (مقلوب) হওয়াও সম্ভব। আর তাদের (আরবদের) ব্যবহারে বর্ণ বিপর্যয় প্রচুর দেখা যায়, যেমন তারা বলে: ‘লাহী আবুক’। এখানে তারা ‘আইন’ বর্ণটিকে ‘লাম’ বর্ণের স্থানে পিছিয়ে নিয়েছে। তারা আরও বলে: ‘আল-জাহ’, যার মূল হলো ‘আল-ওয়াজহ’; এবং তারা বলে: ‘আইনুক’, যার মূল হলো ‘আনুক’।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وَقَالُوا قسى، واصله: قووس، وَقَالُوا فِي: الفوق. فقا والاصل: فَوق. وَإِذا كثر فِي كَلَامهم جَازَ ان يحمل مَا نَحن فِيهِ عَلَيْهِ.
وَالْجَوَاب:
أما الأول فَغير صَحِيح، فانا لَا نثبت اللُّغَة بِالْقِيَاسِ، بل يسْتَدلّ بِالظَّاهِرِ على الْخَفي، خُصُوصا فِي الِاشْتِقَاق، فان ثُبُوت الاصل وَالزَّائِد والمحذوف لَا طَرِيق لَهُ على التَّحْقِيق الا الِاشْتِقَاق، وَيدل عَلَيْهِ لفظ: ابْن، فانهم قَالُوا: بني، وَأَبْنَاء، وتبنيت، والبنوة علم ان الحذوف لامه.
وَأما دَعْوَى الْقلب فَلَا سَبِيل إِلَيْهِ، فان الْقلب مُخَالف للْأَصْل، فَلَا يُصَار إِلَيْهِ مَا وجدت عَنهُ مندوحة، وَلَا ضَرُورَة هُنَا تَدْعُو إِلَى دَعْوَى الْقلب. وَيدل على ذَلِك ان الْقلب لَا يطرد هَذَا الاطراد، الا ترى أَن جَمِيع مَا ذكر من المقلوبات يجوز اخراجه على الأَصْل.
তারা বলেছে 'কাসী' (قسى), যার মূল রূপ হলো 'কুউস' (قووس); আবার তারা 'ফাওক' (الفوق) এর ক্ষেত্রে বলেছে 'ফাকা' (فقا), অথচ এর মূল রূপ হলো 'ফাওক' (فوق)। যখন তাদের কথাবার্তায় এটি অধিক হারে পাওয়া যায়, তখন আমাদের আলোচিত বিষয়টিও এর ওপর প্রয়োগ করা বৈধ হতে পারে।
এবং উত্তর (الجواب):
প্রথমত, এটি সঠিক (صحيح) নয়; কারণ আমরা কিয়াসের (القياس) মাধ্যমে ভাষা সাব্যস্ত করি না, বরং যা স্পষ্ট (الظاهر) তা দ্বারা অস্পষ্ট (الخفي) বিষয়ের ওপর দলিল পেশ করা হয়, বিশেষ করে বুৎপত্তিগত বিশ্লেষণের (الاشتقاق) ক্ষেত্রে। কেননা মূল বর্ণ (الأصل), অতিরিক্ত বর্ণ (الزائد) এবং বিলুপ্ত বর্ণ (المحذوف) নিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত করার জন্য বুৎপত্তিগত বিশ্লেষণ (الاشتقاق) ব্যতীত অন্য কোনো পথ নেই। এর প্রমাণ হলো 'ইবন' (ابن) শব্দটি; তারা 'বানি' (بني), 'আবনা' (أبناء), 'তাবাননাইতু' (تبنيت) এবং 'বুনুওয়াহ' (البنوة) শব্দগুলো ব্যবহার করেছে, যা থেকে জানা যায় যে এর বিলুপ্ত বর্ণটি হলো তার শেষাক্ষর বা লাম-কালিমা (لامه)।
আর বর্ণবিপর্যয়ের (القلب) দাবির কোনো অবকাশ নেই, কারণ বর্ণবিপর্যয় (القلب) মূল নিয়মের (الأصل) পরিপন্থী। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত বিকল্প পথ পাওয়া যাবে ততক্ষণ এর আশ্রয় নেওয়া যাবে না, আর এখানে বর্ণবিপর্যয়ের (القلب) দাবি করার মতো কোনো আবশ্যকতা (ضرورة) নেই। এর প্রমাণ হলো যে, বর্ণবিপর্যয় (القلب) এভাবে ব্যাপকভাবে প্রচলিত (لا يطرد) নয়; আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, বর্ণবিপর্যয়প্রাপ্ত (المقلوبات) হিসেবে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে তার সবকটিকেই মূল নিয়মের (الأصل) ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬২)
المسلك الثَّانِي:
انا اجمعنا على ان الْمَحْذُوف قد عوض عَنهُ فِي اوله فَوَجَبَ ان يكون الْمَحْذُوف فِي آخِره، كَمَا ذكرنَا فِي: ابْن. وانما قُلْنَا ذَلِك لوَجْهَيْنِ: احدهما: انا عرفنَا من طَريقَة الْعَرَب انهم إِذا حذفوا من الأول عوضوا اخيرا مثل: عدَّة وزنة. وَإِذا حذفوا من آخِره، عوضوا من أَوله مثل: ابْن. وَهنا قد عوضوا فِي اوله فَكَانَ الْمَحْذُوف من آخِره.
দ্বিতীয় পদ্ধতি:
আমরা এ বিষয়ে একমত হয়েছি যে, যা বিলুপ্ত (محذوف) হয়েছে তার পরিবর্তে শব্দের শুরুতে বিনিময় (عوض) প্রদান করা হয়েছে; সুতরাং বিলুপ্ত (محذوف) অংশটি শব্দের শেষে থাকা আবশ্যক, যেমনটি আমরা 'ইবন' শব্দের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি। মূলত আমরা এটি দুটি কারণে বলেছি: প্রথমত, আমরা আরবদের ভাষাতাত্ত্বিক পদ্ধতি থেকে জেনেছি যে, তারা যখন শব্দের শুরু থেকে কোনো অংশ বিলোপ (حذف) করে, তখন তার শেষে বিনিময় (عوض) প্রদান করে; যেমন: 'ইদ্দাহ' ও 'যিনাহ'। আর যখন তারা শব্দের শেষ থেকে বিলোপ (حذف) করে, তখন তারা শুরুতে বিনিময় (عوض) প্রদান করে; যেমন: 'ইবন'। আর এখানে যেহেতু তারা শুরুতে বিনিময় (عوض) প্রদান করেছে, সেহেতু বিলুপ্ত (محذوف) অংশটি শব্দের শেষভাগেই ছিল।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
وَالثَّانِي: ان الْعِوَض مُخَالف للبدل، فبدل الشَّيْء يكون فِي مَوْضِعه، والعوض يكون فِي غير (مَوضِع) المعوض مِنْهُ فَلَو كَانَت الْهمزَة عوضا من الْوَاو فِي اوله لكَانَتْ بَدَلا من الْوَاو، وَلَا يجوز ذَلِك، إِذْ لَو كَانَت كَذَلِك لكَانَتْ همزَة مَقْطُوعَة، وَلما كَانَت الف وصل حكم بِأَنَّهَا عوض.
فَإِن قيل: التعويض فِي مَوضِع لَا يوثق بَان المعوض عَنهُ فِي غَيره، لَان الْغَرَض مِنْهُ تَكْمِيل الْكَلِمَة، وَأَيْنَ كملت حصل غَرَض التعويض، أَلا ترى أَن همزَة الْوَصْل فِي: اضْرِب وبابه، عوض من حَرَكَة أول الْكَلِمَة وَقد وَقعت فِي مَوضِع الْحَرَكَة.
فَالْجَوَاب
ان التعويض - على مَا ذكرنَا - يغلب على الظَّن ان مَوْضِعه
দ্বিতীয়ত: বিনিময় (عوض) হলো স্থলাভিষিক্ত (بدل) থেকে ভিন্ন। কারণ কোনো বস্তুর স্থলাভিষিক্ত (بدل) তার মূল স্থানেই হয়ে থাকে, কিন্তু বিনিময় (عوض) হয়ে থাকে মূল বস্তুর (المعوض منه) স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে। সুতরাং হামযা যদি শুরুতে ‘ওয়াও’-এর বিনিময় (عوض) হতো, তবে তা ‘ওয়াও’-এর স্থলাভিষিক্ত (بدل) হিসেবে গণ্য হতো; অথচ তা অনুমোদিত নয়। কারণ যদি তা-ই হতো, তবে সেটি বিচ্ছিন্ন হামযা (همزة مقطوعة) হতো; কিন্তু যেহেতু এটি সংযোগকারী আলিফ (الف وصل), তাই একে বিনিময় (عوض) হিসেবেই সাব্যস্ত করা হয়েছে।
যদি বলা হয়: কোনো নির্দিষ্ট স্থানে বিনিময় (التعويض) প্রদান করা এ বিষয়ের নিশ্চয়তা (لا يوثق) দেয় না যে, মূল বস্তুটি অন্য কোনো স্থানে ছিল। কারণ এর উদ্দেশ্য হলো শব্দটিকে পূর্ণতা দান করা; আর শব্দ যেখানেই পূর্ণতা লাভ করে, সেখানেই বিনিময়ের উদ্দেশ্য সফল হয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, ‘ইদ্বরিব’ (اضرب) ও এই জাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে সংযোগকারী হামযা (همزة الوصل) হলো শব্দের প্রারম্ভিক হরকতের বিনিময় (عوض), অথচ তা হরকতের স্থানেই আপতিত হয়েছে।
জবাব
নিশ্চয়ই বিনিময় (التعويض) —আমরা যা উল্লেখ করেছি সেই অনুযায়ী— এ বিষয়ে প্রবল ধারণা (يغلب على الظن) তৈরি করে যে, এর স্থান...
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
مُخَالف لموْضِع المعوض مِنْهُ، لما ذكرنَا من الْوَجْهَيْنِ. قَوْلهم: الْغَرَض تَكْمِيل الْكَلِمَة، لَيْسَ كَذَلِك، وانما الْغَرَض الْعُدُول عَن اصل إِلَى مَا هُوَ اخف مِنْهُ، والخفة تحصل بمخالفة الْموضع، فَأَما تعويضه فِي مَوضِع مَحْذُوف فَلَا تحصل مِنْهُ خفَّة، لَان الْحَرْف قد يثقل بموضعه، فَإِذا ازيل عَنهُ حصل التَّخْفِيف.
المسلك الثَّالِث:
ان اشتقاق الِاسْم من السمو مُطَابق للمعنى، فَكَانَ الْمَحْذُوف الْوَاو كَسَائِر الْمَوَاضِع، وَبَيَانه ان الِاسْم اُحْدُ اقسام الْكَلم، وَهُوَ اعلى من صَاحِبيهِ إِذْ كَانَ يخبر بِهِ وَعنهُ، وَلَيْسَ كَذَلِك صَاحِبَاه، فقد سما عَلَيْهِمَا، ولان الِاسْم يُنَوّه بِالْمُسَمّى، وَيَرْفَعهُ للاذهان بعد خفائه، وَهُوَ معنى السمو.
فَإِن قيل:
هَذَا معَارض باشتقاقه من الوسم، فان الْمَعْنى صَحِيح، كَمَا ان الْمَعْنى فِيمَا ذكرتموه صَحِيح. فبماذا يثبت التَّرْجِيح
এটি যা থেকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে তার অবস্থানের বিপরীত, যা আমরা পূর্বোক্ত দুই কারণে উল্লেখ করেছি। তাদের বক্তব্য: ‘উদ্দেশ্য হলো শব্দটিকে পূর্ণতা দান করা’, বিষয়টি আসলে তেমন নয়; বরং উদ্দেশ্য হলো মূল রূপ থেকে বিচ্যুত হয়ে এমন রূপ গ্রহণ করা যা তুলনামূলক হালকা, আর এই হালকাকরণ (تخفيف) অর্জিত হয় অবস্থানের পরিবর্তনের মাধ্যমে। পক্ষান্তরে, কোনো বিলুপ্ত (محذوف) স্থানে তার প্রতিস্থাপন করলে কোনো হালকাকরণ অর্জিত হয় না, কারণ কোনো বর্ণ তার অবস্থানের কারণে ভারী হতে পারে, তাই যখন তা অপসারিত হয় তখন হালকাকরণ (تخفيف) অর্জিত হয়।
তৃতীয় পন্থা:
নামের (اسم) ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) উচ্চতা (سمو) থেকে হওয়া অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাই অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন হয় এখানেও বিলুপ্ত (محذوف) বর্ণটি ছিল ‘ওয়াও’। এর ব্যাখ্যা হলো, নাম (اسم) হলো পদের প্রকারসমূহের একটি এবং এটি তার অপর দুই সাথীর চেয়ে উচ্চতর, কারণ এটি সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া যায় এবং এর মাধ্যমেও সংবাদ দেওয়া যায়, যা তার অপর দুই সাথীর ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। ফলে এটি তাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। এছাড়া নাম (اسم) নামধারী সত্তাকে পরিচিত করে এবং অস্পষ্টতার পর তা মানুষের মনে উচ্চাসনে আসীন করে, আর এটাই হলো উচ্চতার (سمو) অর্থ।
যদি বলা হয়:
এটি চিহ্ন (وسم) থেকে এর ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) হওয়ার দাবির মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ, কারণ এই অর্থটিও সঠিক, যেমনটি আপনারা যা উল্লেখ করেছেন তার অর্থও সঠিক। তাহলে কিসের ভিত্তিতে প্রাধান্য (ترجيح) প্রমাণিত হবে?
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
قيل:
التَّرْجِيح مَعنا لوَجْهَيْنِ: احدهما: ان تَسْمِيَة هَذَا اللَّفْظ اسْما اصْطِلَاح من ارباب هَذِه الصِّنَاعَة وَقد ثَبت من صناعتهم علو هَذَا اللَّفْظ على الآخرين، وَمثل هَذَا لَا يُوجد فِي اشتقاقه من الوسم.
وَالثَّانِي: انه يتَخَرَّج بِمَا ذكرنَا من المسالك الْمُتَقَدّمَة.
أما حجتهم فقد قَالُوا: الِاسْم عَلامَة الْمُسَمّى، والعلامة تؤذن بانه من الوسم وَهِي الْعَلامَة، فَيجب أَن يكون مشتقا مِنْهَا.
وَالْجَوَاب عَنهُ مَا تقدم من الْأَوْجه الثَّلَاثَة.
على ان اتِّفَاق الاصلين فِي الْمَعْنى، وَهُوَ الْعَلامَة، لَا يُوجب ان يكون احدهما مشتقا من الآخر، أَلا ترى ان: دمثا، ودمثرا، سَوَاء فِي الْمَعْنى، وَلَيْسَ أَحدهمَا مشتقا من الآخر، وَكَذَلِكَ: سبط، وسبطر. وابعد من ذَلِك: الْأسد، وَاللَّيْث، بِمَعْنى وَاحِد، وَلَا يجمعهما الِاشْتِقَاق.
বলা হয়েছে:
প্রাধান্যদান (ترجيح) আমাদের পক্ষেই রয়েছে, আর তা দুটি কারণে: প্রথমত: এই শব্দটিকে 'নাম' হিসেবে অভিহিত করা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের একটি পরিভাষা (اصطلاح)। আর তাদের শাস্ত্রীয় পদ্ধতি অনুযায়ী এটি প্রমাণিত যে, এই শব্দটি অন্যগুলোর তুলনায় উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন। আর এ ধরনের বৈশিষ্ট্য 'ওয়াসম' (চিহ্ন) থেকে বুৎপত্তি (اشتقاق) হওয়ার ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না।
দ্বিতীয়ত: ইতিপূর্বে বর্ণিত পদ্ধতিসমূহের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়।
তাদের দলিলের (حجة) ব্যাপারে তারা বলেন: নাম হলো নামধারী বস্তুর চিহ্ন (علامة), আর চিহ্ন নির্দেশ করে যে এটি 'ওয়াসম' (চিহ্ন) থেকে নির্গত, আর এটিই হলো আলামত বা চিহ্ন। সুতরাং এটি সেখান থেকেই বুৎপন্ন (مشتق) হওয়া আবশ্যক।
এর উত্তর হলো ইতিপূর্বে উল্লেখিত তিনটি দিক।
তদুপরি, অর্থের ক্ষেত্রে দুটি মূল শব্দের সংগতি থাকা—অর্থাৎ 'চিহ্ন' হওয়া—এটি আবশ্যিক করে না যে একটি অন্যটি থেকে বুৎপন্ন (مشتق) হবে। আপনি কি দেখেন না যে: 'দামছ' এবং 'দামছার' অর্থের দিক থেকে এক, কিন্তু একটি অন্যটি থেকে বুৎপন্ন (مشتق) নয়? তদ্রূপ: 'সাবত' এবং 'সাবতার'। এর চেয়েও দূরবর্তী উদাহরণ হলো: 'আসাদ' এবং 'লাইছ' একই অর্থ প্রকাশ করে, কিন্তু বুৎপত্তি (اشتقاق) তাদের উভয়কে এক করে না।
(খণ্ড: ১)
মাসাইলু খিলাফিয়্যাহ ফিন নাহু
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
5 -
مَسْأَلَة (حد الْفِعْل) اخْتلفت عِبَارَات النَّحْوِيين فِي حد الْفِعْل، فَقَالَ ابْن السراج وَغَيره: (حَده: كل لفظ دلّ على معنى فِي نَفسه، مقترن بِزَمَان مُحَصل) .
وَهَذَا هُوَ حد الِاسْم، الا انهم أضافوا إِلَيْهِ: لفظ (غير) ليدْخل فِيهِ الْمصدر، وَإِذا حذفت (غير) لم يدْخل فِيهِ الْمصدر، لِأَن الْفِعْل يدل على زمَان مُحَصل، ولان الْمصدر لَا يدل على تعْيين الزَّمَان.
وان شِئْت اضفت إِلَى ذَلِك دلَالَة الْوَضع، كَمَا قيدت حد
৫ -
মাসআলা (ক্রিয়ার সংজ্ঞা) ক্রিয়ার সংজ্ঞা নির্ধারণে ব্যাকরণবিদদের উক্তিগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। ইবনে সাররাজ ও অন্যান্যরা বলেছেন: (এর সংজ্ঞা হলো: এমন প্রত্যেক শব্দ যা আপন সত্তাগত অর্থের ওপর নির্দেশনা দেয় এবং যা একটি নির্দিষ্ট কালের সাথে সম্পৃক্ত থাকে)।
আর এটি হলো বিশেষ্যের সংজ্ঞা, তবে তারা এর সাথে ‘ব্যতীত’ শব্দটি যোগ করেছেন যাতে এর মধ্যে মাসদার (ক্রিয়ামূল) অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আর যদি ‘ব্যতীত’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়, তবে মাসদার এর অন্তর্ভুক্ত হবে না; কারণ ক্রিয়া নির্দিষ্ট কালের নির্দেশনা দেয়, কিন্তু মাসদার কোনো নির্দিষ্ট কাল নির্ধারণের নির্দেশনা দেয় না।
আর আপনি চাইলে এর সাথে শব্দপ্রয়োগের নির্দেশনাকেও যুক্ত করতে পারেন, যেমনটি আপনি সংজ্ঞাকে সীমাবদ্ধ করেছেন...