(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ইসমিল ফায়িল (পৃষ্ঠা: -)
رسالة في اسم الفاعل   (العبادي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: رسالة في اسم الفاعل، المراد به الاستمرار في جميع الأزمنة

المؤلف: أحمد بن قاسم الصباغ العبادي ثم المصري الشافعي الأزهري، شهاب الدين (ت 992هـ)

المحقق: الدكتور محمد حسن عواد

الناشر: دار الفرقان - عمان

الطبعة: الأولى، 1403هـ - 1983م

عدد الصفحات: 80

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রিসালা ফি ইসমিল ফায়েল   (আল-আব্বাদি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


বই: রিসালা ফি ইসমিল ফায়েল، যার দ্বারা সকল কালে নিরবচ্ছিন্নতা উদ্দেশ্য

লেখক: আহমাদ বিন কাসিম আস-সাব্বাগ আল-আব্বাদি আল-মিসরি আশ-শাফেয়ি আল-আজহারি، শিহাবুদ্দিন (মৃ. ৯৯২ হি.)

সম্পাদক: ডক্টর মুহাম্মদ হাসান আওয়াদ

প্রকাশক: দারুল ফুরকান - আম্মান

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৩ হি. - ১৯৮৩ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ইসমিল ফায়িল (পৃষ্ঠা: ৭১)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه وَسلم

سُؤال رفع للشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْعَلامَة أَحْمد بن قَاسم الْعَبَّادِيّ رَحْمَة الله عَلَيْهِ

صورته الْحَمد لله مَا قَوْلكُم رَضِي الله تَعَالَى عَنْكُم فِي‌‌ اسْم الْفَاعِل المُرَاد بِهِ الِاسْتِمْرَار فِي جَمِيع الْأَزْمِنَة إِذا أضيف إِلَى معرفَة هَل يتعرف بِالْإِضَافَة بِكُل اعْتِبَار أَو يجوز فِيهِ اعتباران كَمَا نَقله شَارِح التَّوْضِيح عَن اليمني شَارِح الْكَشَّاف أَحدهمَا أَن إِضَافَته غير مَحْضَة لصدقه بِالْحَال والاستقبال وَالثَّانِي أَنَّهَا مَحْضَة لصدقه بالماضي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

ইমাম, আলেম, মহাজ্ঞানী আহমদ বিন কাসিম আল-আব্বাদী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর নিকট উপস্থাপিত একটি প্রশ্ন।

এর বিষয়বস্তু নিম্নরূপ: সকল প্রশংসা আল্লাহর। হে বিজ্ঞগণ—আল্লাহ তাআলা আপনাদের ওপর সন্তুষ্ট হোন—সেই কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) যা দ্বারা সকল কালে নিরবচ্ছিন্নতা (استمرار) বোঝানো উদ্দেশ্য হয়, তা যদি কোনো নির্দিষ্ট বিশেষ্যের (معرفة) দিকে সম্বন্ধ (إضافة) করা হয়, তবে কি তা সকল বিবেচনায় সেই সম্বন্ধের মাধ্যমে নির্দিষ্টতা লাভ করবে? নাকি এতে দুটি দিক বিবেচনার সুযোগ রয়েছে, যেমনটি শারহুত তাওজিহ-এর লেখক আল-কাশশাফ-এর ব্যাখ্যাকার আল-ইয়ামানি থেকে বর্ণনা করেছেন? তার একটি হলো—এর সম্বন্ধটি অ-প্রকৃত (غير محضة), যেহেতু এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়; এবং দ্বিতীয়টি হলো—এটি প্রকৃত (محضة) সম্বন্ধ, যেহেতু এটি অতীত কালের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ইসমিল ফায়িল (পৃষ্ঠা: ৭২)
وَهل الثُّبُوت والدوام غير الِاسْتِمْرَار أَو لَا وَهل بَين قَول شَارِح التَّوْضِيح تَنْبِيه إِذا قصد باسم الْفَاعِل معنى الثُّبُوت عومل مُعَاملَة الصّفة المشبهة فِي رفع السببي الخ وَبَين قَول التَّوْضِيح تَنْبِيه جَمِيع هَذِه الصِّفَات صِفَات مشبهة إِلَّا فَاعِلا كضارب فانه اسْم فَاعل إِلَّا إِذا أضيف إِلَى مرفوعه وَذَلِكَ فِيمَا دلّ على الثُّبُوت كطاهر الْقلب وشاحط الدَّار أَي بعيدها فصفة مشبهة ايضا مُنَافَاة فَإِن قَول الأول عومل مُعَاملَة الصّفة المشبهة الخ يدل على أَنه حِينَئِذٍ لَيْسَ بِصفة مشبهة وَقَول الثَّانِي أَنه صفة مشبهة يدل على خلاف ذَلِك أَو لَا وَإِذا قُلْتُمْ بِأَن إِضَافَته حَال دلَالَته على الثُّبُوت معنوية فَمَا الْفرق بَينه وَبَين الصّفة المشبهة إِذا سلمتم أَنه غَيرهَا حِينَئِذٍ مَعَ اتحادهما فِي الدّلَالَة على الثُّبُوت وَهل يَصح الْفرق بَينهمَا بِأَن اسْم الْفَاعِل حِينَئِذٍ غير عَامل فَلَيْسَتْ إِضَافَته فِي نِيَّة الِانْفِصَال فافادته التَّعْرِيف أَو التَّخْصِيص بِخِلَاف الصّفة المشبهة فَإِنَّهَا مُضَافَة إِلَى معمولها فِي نِيَّة الِانْفِصَال فَلم تفدها الاضافة شَيْئا مِنْهُمَا وَهل يَصح تأييد هَذَا الْفرق بِأَن إِضَافَة اسْم الْفَاعِل إِذا كَانَ بِمَعْنى الْمَاضِي معنوية لبُطْلَان عمل اسْم الْفَاعِل حِينَئِذٍ فَلم تكن فِي نِيَّة الِانْفِصَال وَإِن كَانَ دَالا على الْحُدُوث وَيكون مدَار الْفرق على الْإِضَافَة إِلَى الْمَعْمُول وَعدمهَا وَهل

স্থায়িত্ব (الثبوت) ও নিরবচ্ছিন্নতা (الدوام) কি ধারাবাহিকতা (الاستمرار) থেকে ভিন্ন নাকি অভিন্ন? আর শারহে তাওদিহ-এর ব্যাখ্যাকারকের এই উক্তির মধ্যে— "সতর্কীকরণ: যখন ইসমে ফায়েল (اسم الفاعل) দ্বারা স্থায়িত্বের (الثبوت) অর্থ উদ্দেশ্য করা হয়, তখন তা পরোক্ষ কারণকে রফ প্রদানের (رفع السببي) ক্ষেত্রে সিফাত মুশাব্বাহ (الصفة المشبهة)-এর ন্যায় গণ্য হয়..." ইত্যাদি এবং তাওদিহ-এর এই উক্তির মধ্যে— "সতর্কীকরণ: এই সকল সিফাতই সিফাত মুশাব্বাহ (صِفَات مشبهة), তবে ফায়িল (فاعلا) ওজন ব্যতীত (যেমন: দ্বরিব [ضارب]), কারণ এটি ইসমে ফায়েল (اسم فاعل); তবে যখন তা তার মারফুর (مرفوعه) দিকে সম্বন্ধযুক্ত (أضيف) হয়—আর তা স্থায়িত্ব (الثبوت) বুঝানোর ক্ষেত্রে হয়, যেমন: 'পবিত্র অন্তরের অধিকারী' (طاهر القلب) এবং 'গৃহ থেকে দূরবর্তী' (شاحط الدار)—তখন সেটিও সিফাত মুশাব্বাহ (صفة مشبهة)"—এই দুই বক্তব্যের মধ্যে কি কোনো বৈপরীত্য রয়েছে? কেননা প্রথম উক্তি "সিফাত মুশাব্বাহ-র ন্যায় গণ্য হয়" দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, সে সময় সেটি প্রকৃতপক্ষে সিফাত মুশাব্বাহ নয়। আর দ্বিতীয় উক্তি "তা সিফাত মুশাব্বাহ" দ্বারা এর বিপরীত অর্থ প্রকাশ পায়। বিষয়টি কি এমন নাকি নয়? আর আপনারা যদি বলেন যে, স্থায়িত্ব (الثبوت) নির্দেশক অবস্থায় এর সম্বন্ধকরণ বা ইজাফাত (إضافته) হলো অর্থগত (معنوية), তবে সিফাত মুশাব্বাহ (الصفة المشبهة) এবং এর মধ্যে পার্থক্য কী রইল? যদি আপনারা স্বীকার করে নেন যে, স্থায়িত্বের অর্থের ক্ষেত্রে উভয়টি অভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও এটি সিফাত মুশাব্বাহ থেকে আলাদা। আর এই দুইয়ের মধ্যে কি এভাবে পার্থক্য করা সঠিক হবে যে, ইসমে ফায়েল (اسم الفاعل) সেই সময় আমলহীন (غير عامل) থাকে, ফলে এর ইজাফাত বিচ্ছেদের সংকল্পে (نية الانفصال) থাকে না, যার ফলে তা নির্দিষ্টকরণ (التعريف) বা বিশেষায়নের (التخصيص) ফায়দা দেয়? পক্ষান্তরে সিফাত মুশাব্বাহ (الصفة المشبهة) তার মামুলের (معمولها) দিকে বিচ্ছেদের সংকল্পে (نية الانفصال) সম্বন্ধযুক্ত হয়, ফলে ইজাফাত দ্বারা এটি ঐ দুটির কোনো ফায়দাই পায় না। আর এই পার্থক্যটিকে কি এভাবে সমর্থন করা সঠিক হবে যে, ইসমে ফায়েল (اسم الفاعل)-এর ইজাফাত যখন অতীত কালের (الماضي) অর্থে হয় তখন তা অর্থগত (معنوية) হয়? কারণ তখন ইসমে ফায়েল-এর আমল বাতিল হয়ে যায়, ফলে তা বিচ্ছেদের সংকল্পে (نية الانفصال) থাকে না, যদিও তা অনিত্যতা বা নতুনভাবে ঘটা (الحدوث) বুঝায়। এমতাবস্থায় পার্থক্যের মূল ভিত্তি হবে মামুলের (المعمول) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়া এবং না হওয়ার ওপর। আর কি...?

(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ইসমিল ফায়িল (পৃষ্ঠা: ৭৩)
قَول الْعَلامَة السُّيُوطِيّ فِي الْفرق بَينهمَا وَأما كَون الصّفة المشبهة لَا تتعرف مُطلقًا فَلِأَن إضافتها تقل عَن أصل وَهُوَ الرّفْع بِخِلَاف غَيرهَا فَإِنَّهُ نقل عَن فرع وَهُوَ النصب مَعْنَاهُ أَنه لما كَانَ الْمُضَاف إِلَيْهِ فِيهَا الرّفْع قوي الِانْفِصَال فِيهَا بِخِلَاف اسْم الْفَاعِل أوضحُوا لنا الْجَواب فقد اشكلت هَذِه الْمَسْأَلَة على الطلاب لَا زلتم بزمام الْحق ماسكين ولطريق النجاح سالكين

وَصُورَة الْجَواب للشَّيْخ أَحْمد بن قَاسم الْعَبَّادِيّ الْمَرْفُوع إِلَيْهِ السُّؤَال رَحْمَة الله عَلَيْهِ

الْحَمد لله وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه اجمعين ذكر فِي الْكَشَّاف فِي الْكَلَام على قَوْله تَعَالَى {مَالك يَوْم الدّين} أَن اسْم الْفَاعِل إِذا أُرِيد بِهِ زمَان مُسْتَمر كَانَت إِضَافَته حَقِيقِيَّة وَاعْترض عَلَيْهِ بِأَنَّهُ ذكر فِي الْكَلَام على قَوْله تَعَالَى {وَجعل اللَّيْل سكنا وَالشَّمْس وَالْقَمَر حسبانا}
আল্লামা সুয়ূতী-এর বক্তব্য এ দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্যের বিষয়ে: আর গুণবাচক বিশেষণের (الصفة المشبهة) ক্ষেত্রে তা মোটেও নির্দিষ্টতা (تعرف) লাভ করে না, কারণ এর সম্বন্ধ (إضافة) মূল অবস্থা অর্থাৎ 'রফ' (الرفع) থেকে বিচ্যুত হয়েছে, যা অন্যদের ক্ষেত্রে ভিন্ন; কারণ অন্যদের ক্ষেত্রে তা শাখা অর্থাৎ 'নসব' (النصب) থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। এর অর্থ হলো, যেহেতু এতে সম্বন্ধপদটি (المضاف إليه) 'রফ' (الرفع) অবস্থায় ছিল, তাই এতে বিচ্ছিন্নতার (الانفصال) শক্তি প্রবল হয়েছে, যা কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل)-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন। আমাদের কাছে উত্তরটি স্পষ্ট করুন, কারণ এই বিষয়টি ছাত্রদের জন্য জটিল হয়ে পড়েছে। আপনারা সর্বদা সত্যের দিশারী এবং সাফল্যের পথে বিচরণকারী হয়ে থাকুন।

শেখ আহমদ বিন কাসিম আল-আব্বাদী-এর উত্তরের অনুলিপি, যার নিকট এই প্রশ্নটি উত্থাপন করা হয়েছিল, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। 'আল-কাশশাফ' গ্রন্থে মহান আল্লাহর বাণী "বিচার দিবসের অধিপতি" প্রসঙ্গে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, যখন কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) দ্বারা নিরন্তর সময় উদ্দেশ্য হয়, তখন তার সম্বন্ধ (إضافة) প্রকৃত (حقيقية) হয়। এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে এই বলে যে, তিনি মহান আল্লাহর বাণী "তিনি রাতকে বিশ্রামের জন্য এবং সূর্য ও চন্দ্রকে হিসেবের জন্য নির্ধারণ করেছেন" প্রসঙ্গে আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ইসমিল ফায়িল (পৃষ্ঠা: ৭৪)
مَا حَاصله أَن اسْم الْفَاعِل إِذا أُرِيد بِهِ زمَان مُسْتَمر كَانَت إِضَافَته لفظية فقد تنَاقض كَلَامه قَالَ السَّيِّد كالسعد وَأجِيب بِأَن الزَّمَان المستمر يَشْمَل الْمَاضِي وَالْحَال والاستقبال فَجَاز أَن يعْتَبر جَانب الْمَاضِي فَلَا يكون الِاسْم عَاملا وَتَكون إِضَافَته حَقِيقِيَّة وَأَن يعْتَبر جَانب الْحَال أَو الِاسْتِقْبَال فَكَانَ الِاسْم عَاملا وإضافته غير حَقِيقِيَّة وكل وَاحِد من الاعتبارين يتَعَلَّق باقتضاء الْمقَام وقرائن الْأَحْوَال انْتهى

وَفِي هَذَا الْجَواب الَّذِي أقره السَّيِّد كالسعد تَصْرِيح بِجَوَاز الْأَمريْنِ بالاعتبارين وَقَالَ الرضي وَأما اسْما الْفَاعِل وَالْمَفْعُول فعملهما فِي مَرْفُوع هُوَ سَبَب جَائِز مُطلقًا سَوَاء كَانَ بِمَعْنى الْمَاضِي أَو بِمَعْنى الْحَال أَو الِاسْتِقْبَال أَو لم يَكُونَا لأحد الْأَزْمِنَة الثَّلَاثَة بل كَانَا للاطلاق الْمُسْتَفَاد مِنْهُ الِاسْتِمْرَار نَحْو زيد ضامر
এর সারকথা হলো, যদি কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) দ্বারা ধারাবাহিক সময় উদ্দেশ্য হয়, তবে তার সম্বন্ধকরণ (إضافة) হবে শাব্দিক (لفظية), ফলে তাঁর বক্তব্য স্ববিরোধী হয়ে যায়। আস-সাইয়্যেদ আল-সাদের ন্যায় বলেছেন যে, এর উত্তর এভাবে দেওয়া হয়েছে যে, ধারাবাহিক সময় অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে অন্তর্ভুক্ত করে। ফলে অতীতকাল বিবেচনা করা বৈধ, এমতাবস্থায় শব্দটি আমলকারী (عامل) হবে না এবং তার সম্বন্ধকরণ (إضافة) হবে প্রকৃত (حقيقية)। আবার বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালও বিবেচনা করা যেতে পারে, তখন শব্দটি আমলকারী (عامل) হবে এবং তার সম্বন্ধকরণ (إضافة) হবে অপ্রকৃত (غير حقيقية)। আর এই দুই প্রকার বিবেচনার প্রতিটিই প্রসঙ্গের চাহিদা এবং পারিপার্শ্বিক আলামতের ওপর নির্ভরশীল। সমাপ্ত।

আস-সাইয়্যেদ আল-সাদের ন্যায় যে উত্তরটি সমর্থন করেছেন, তাতে উভয় প্রকার বিবেচনার ভিত্তিতে দুটি বিষয়ই বৈধ হওয়ার সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। ইমাম রাযী বলেন: আর কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) ও কর্মবাচক বিশেষ্যের (اسم المفعول) ক্ষেত্রে তাদের পরবর্তী সম্বন্ধযুক্ত পেশযুক্ত (مرفوع) শব্দে আমল করা নিঃশর্তভাবে বৈধ; চাই তা অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ অর্থেই হোক, অথবা তা তিন কালের কোনোটির জন্যই নির্দিষ্ট না হয়ে বরং এমন ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হোক যা থেকে ধারাবাহিকতা বা স্থায়িত্বের অর্থ পাওয়া যায়। যেমন: যায়েদ কৃশকায়।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ইসমিল ফায়িল (পৃষ্ঠা: ৭৫)
بَطْنه أَو مسود وَجهه اَوْ مؤدب خُدَّامه وَإِذا كَانَ كَذَا فاضافتهما إِلَى سَبَب هُوَ فاعلهما معنى لفظية دَائِما وَيعْمل اسْما الْفَاعِل وَالْمَفْعُول الرّفْع فِي غير السَّبَب بِمَعْنى الْإِطْلَاق كَانَا أَو بِأحد الْأَزْمِنَة الثَّلَاثَة نَحْو مَرَرْت بِرَجُل نَائِم فِي دَاره عَمْرو ومضروب على بَابه بكر لَكِن لَا يضافان إِلَى مثل هَذَا الْمَرْفُوع إِذْ لَا ضمير فِيهِ يَصح انْتِقَاله إِلَى الصّفة وارتفاعه بهَا فَيبقى بِلَا مَرْفُوع فِي الظَّاهِر

وَأما عمل اسْم الْفَاعِل وَالْمَفْعُول فِي الْمَفْعُول بِهِ وَغَيره من المعمولات اللفظية فَيحْتَاج إِلَى شَرط لكَونهَا أَجْنَبِيَّة وَهُوَ مشابهتهما الْفِعْل معنى ووزنا وَيحصل هَذَا الشَّرْط لَهما إِذا كَانَا بِمَعْنى الْحَال أَو الِاسْتِقْبَال أَو الاطلاق الْمُفِيد للإستمرار فَإِذا ثَبت أَن اسْمِي الْفَاعِل وَالْمَفْعُول يعملان فِي الْأَجْنَبِيّ إِذا كَانَا بِأحد هَذِه الْمعَانِي الثَّلَاثَة فاضافتهما إِذن إِلَى ذَلِك الْأَجْنَبِيّ لفظية لِأَن ذَلِك
তার উদর অথবা যার মুখমণ্ডল কৃষ্ণবর্ণ কিংবা তার সেবকদের শিষ্টাচার দানকারী; আর যখন বিষয়টি এরূপ হবে, তখন তাদের সম্বন্ধকরণ এমন একটি সংশ্লিষ্ট কারণ বা সাবাবের দিকে হবে যা অর্থের বিচারে তাদের উভয়েরই কর্তা, আর তা সর্বদা শাব্দিক সম্বন্ধ হিসেবে গণ্য হবে। কর্তৃবাচক ও কর্মবাচক বিশেষ্য সংশ্লিষ্ট কারণ ব্যতীত অন্য শব্দের ক্ষেত্রে রফ প্রদান করে—চাই তা নিঃশর্তভাবে হোক অথবা তিনটি কালের যেকোনো একটির সাথে যুক্ত হোক। যেমন: "আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম যার ঘরে আমর ঘুমন্ত" এবং "যার দরজায় বকর প্রহৃত।" তবে তারা এই জাতীয় রফ-প্রাপ্ত শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় না; যেহেতু এতে এমন কোনো সর্বনাম নেই যা বিশেষণের দিকে স্থানান্তরিত হওয়া এবং তার মাধ্যমে রফ-প্রাপ্ত হওয়া বৈধ হতে পারে। ফলে তা বাহ্যত কোনো রফ-প্রাপ্ত শব্দ ছাড়াই থেকে যায়।

আর কর্মপদ এবং অন্যান্য শাব্দিক আমলযোগ্য পদের ক্ষেত্রে কর্তৃবাচক ও কর্মবাচক বিশেষ্যের আমল করার জন্য শর্ত প্রয়োজন; যেহেতু সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বহির্ভূত। আর সেই শর্তটি হলো—অর্থ ও ছন্দের দিক থেকে তাদের ক্রিয়ার সদৃশ হওয়া। তাদের জন্য এই শর্তটি তখন বাস্তবায়িত হয় যখন তারা বর্তমান, ভবিষ্যৎ অথবা স্থায়িত্ব নির্দেশক সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যখন এটি প্রমাণিত হলো যে, কর্তৃবাচক ও কর্মবাচক বিশেষ্যসমূহ বহির্ভূত শব্দের ওপর আমল করে যদি তারা এই তিনটি অর্থের কোনো একটিতে থাকে, তবে সেই বহির্ভূত শব্দের সাথে তাদের সম্বন্ধকরণ হবে শাব্দিক; কারণ তা...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ইসমিল ফায়িল (পৃষ্ঠা: ৭৬)
مَبْنِيّ على الْعَمَل كَمَا تقدم أَي فِي قَوْله وَغَيره كَون إِضَافَة الصّفة إِضَافَة لفظية مَبْنِيّ على كَونهَا عاملة فِي مَحل الْمُضَاف إِلَيْهِ إِمَّا رفعا أَو نصبا انْتهى الْمَقْصُود نَقله مفرقا فِي كَلَامه الطَّوِيل وَفِيه تَصْرِيح بِأَن إِضَافَة الْوَصْف إِلَى فَاعله لفظية وَإِن كَانَ بِمَعْنى الْمَاضِي بِخِلَاف إِضَافَته إِلَى غير فَاعله إِذا كَانَ بِمَعْنى الْمَاضِي وَفِيه أَيْضا التَّصْرِيح باطلاق أَن إِضَافَة الْوَصْف المُرَاد بِهِ الِاسْتِمْرَار لفظية خلاف لما تقدم عَن الْكَشَّاف وَأَتْبَاعه لكنه قَالَ بعد ذَلِك فاسم الْفَاعِل وَالْمَفْعُول المستمر يَصح أَن تكون إِضَافَته مَحْضَة كَمَا يَصح أَن لَا تكون كَذَلِك وَذَلِكَ لِأَنَّهُ وَإِن كَانَ بِمَعْنى الْمُضَارع إِلَّا أَن اسْتِمْرَار مُلَابسَة الْمُضَاف للمضاف إِلَيْهِ يَصح تعينه بِهِ أَو تخصصه قَالَ سِيبَوَيْهٍ تَقول مَرَرْت بِعَبْد الله ضاربك كَمَا

এটি ব্যাকরণিক প্রভাব বা আমলের (العمل) উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে; অর্থাৎ তাঁর এবং অন্যদের উক্তিতে বিশেষণ বা সিফাতের সম্বন্ধ শাব্দিক সম্বন্ধ (إضافة لفظية) হওয়া এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যে, সেটি মুদাফ ইলাইহি-এর স্থলে রফ্ (رفع) অথবা নসব (نصب) প্রদানের মাধ্যমে আমল বা ক্রিয়াশীল থাকে। তাঁর দীর্ঘ আলোচনার বিভিন্ন স্থান থেকে সংকলিত উদ্দিষ্ট অংশের উদ্ধৃতি এখানেই সমাপ্ত। এতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, বিশেষণের সম্বন্ধ যদি তার কর্তার সাথে হয় তবে তা শাব্দিক সম্বন্ধ (إضافة لفظية) হিসেবে গণ্য হবে, যদিও তা অতীতকালের অর্থ প্রদান করে। তবে অতীতকালের অর্থ প্রদানকারী বিশেষণকে তার কর্তা ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে সম্বন্ধ করার বিষয়টি এর বিপরীত। এতে আরও স্পষ্টভাবে বিধৃত হয়েছে যে, যে বিশেষণের দ্বারা ধারাবাহিকতা (استمرار) উদ্দেশ্য হয়, তার সম্বন্ধকেও সাধারণভাবে শাব্দিক সম্বন্ধ (إضافة لفظية) বলা হয়, যা ইতিপূর্বে আল-কাশশাফ ও তাঁর অনুসারীদের থেকে বর্ণিত মতের পরিপন্থী। কিন্তু তিনি এরপরে বলেছেন: যে কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) এবং কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول) ধারাবাহিকতার অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলোর সম্বন্ধ বিশুদ্ধ সম্বন্ধ (إضافة محضة) হওয়া যেমন সঠিক, তেমনি তা না হওয়াও সঠিক। এর কারণ হলো, যদিও তা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালের অর্থ প্রদান করে, তবে মুদাফ ও মুদাফ ইলাইহির মধ্যকার পারস্পরিক নিরবচ্ছিন্ন সম্পর্কের কারণে তার মাধ্যমে নির্দিষ্টকরণ বা মারিফা হওয়া অথবা বিশেষায়ন বা তাখসিস হওয়া বিশুদ্ধ হয়। ইমাম সিবওয়াইহ বলেন: তুমি বলবে, 'আমি আব্দুল্লাহর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি যে তোমার প্রহারকারী' যেমনটি...

(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ইসমিল ফায়িল (পৃষ্ঠা: ৭৭)
تَقول مَرَرْت بِعَبْد الله صَاحبك أَي الْمَعْرُوف بضربك كَمَا تَقول مَرَرْت بِرَجُل شبهك أَي الْمَعْرُوف بشبهك فَإِذا قصدت هَذَا الْمَعْنى لم يعْمل الْفَاعِل فِي مَحل الْمَجْرُور بِهِ نصبا كَمَا فِي صَاحبك وَإِن كَانَ أَصله اسْم فَاعل من صحب يصحب بل تقدره كَأَنَّهُ جامد انْتهى

فقد فصل فِي إِضَافَة الْوَصْف المُرَاد بِهِ الِاسْتِمْرَار لَكِن مدرك تَفْصِيله غير مدرك تَفْصِيل الْكَشَّاف وَأَتْبَاعه الْمُسْتَفَاد من الْجَواب السَّابِق كَمَا هُوَ ظَاهر فَهُوَ مُوَافق لَهُم فِي التَّفْصِيل مُخَالف لَهُم فِي الْمدْرك وَأما ابْن هِشَام فَكَلَامه فِي مغنيه صَرِيح فِي اعْتِمَاده أَن إِضَافَة الْوَصْف المُرَاد بِهِ الِاسْتِمْرَار حَقِيقَة أبدا فِي غير تَفْصِيل فَإِنَّهُ نقل كَلَام الْكَشَّاف الأول وَاسْتَحْسنهُ ثمَّ رد كَلَامه الثَّانِي بعد ادِّعَاء مناقضته للْأولِ ويتحصل من ذَلِك كُله أَن صَاحب الْكَشَّاف وَأَتْبَاعه كالسعد وَالسَّيِّد على التَّفْصِيل فِي إِضَافَة الْوَصْف المُرَاد بِهِ الِاسْتِمْرَار وَكَذَا الرضي لكنه مُخَالف لَهُم فِي مدرك التَّفْصِيل كَمَا تقرر وَأَن ابْن هِشَام على الاطلاق فِيهَا ثمَّ قَالَ السَّيِّد بعد مَا تقدم عَنهُ مَا نَصه وَيُمكن بِأَن يُقَال الِاسْتِمْرَار فِي
আপনি বলেন, 'আমি তোমার সঙ্গী আবদুল্লাহর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি', অর্থাৎ যে তোমার প্রহারের দ্বারা পরিচিত; যেমন আপনি বলেন, 'আমি তোমার সদৃশ এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি', অর্থাৎ যে তোমার সাদৃশ্যের মাধ্যমে পরিচিত। সুতরাং আপনি যখন এই অর্থটি উদ্দেশ্য করবেন, তখন ফায়েল (فاعل) বা কর্তা তার সম্বন্ধযুক্ত পদের স্থানে নসব (نصبا) বা কর্মকারকের বিভক্তি প্রদান করবে না—যেমনটি 'তোমার সঙ্গী' (صاحبك) শব্দটিতে দেখা যায়—যদিও এর মূল উৎস হচ্ছে 'সাহিবা-ইয়াসহাবু' ক্রিয়া হতে আগত ইসমে ফায়েল (اسم فاعل); বরং আপনি একে এমনভাবে বিবেচনা করবেন যেন তা একটি জামিদ (جامد) বা অ-উৎপন্ন শব্দ। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

অত্র বিবরণে নিরবচ্ছিন্নতা বা ইস্তিমরার (استمرار) অর্থে ব্যবহৃত সিফাত বা গুণের ইদাফাত (إضافة) বা সম্বন্ধের ক্ষেত্রে বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করা হয়েছে। তবে তার এই বিস্তারিত বর্ণনার মাদরাক (مدرك) বা উৎস আল-কাশশাফ এর রচয়িতা এবং তাঁর অনুসারীদের সেই বিস্তারিত বিবরণের মাদরাক (مدرك) থেকে ভিন্ন, যা পূর্ববর্তী উত্তর থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। সুতরাং তিনি বিস্তারিত বর্ণনার ক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত হলেও এর উৎসের ক্ষেত্রে তাদের থেকে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আর ইবনে হিশাম-এর কথা তাঁর মুগনি গ্রন্থে স্পষ্টভাবে এই মতের ওপর নির্ভরশীল যে, ইস্তিমরার (استمرار) বা স্থায়িত্বের অর্থে গুণের ইদাফাত (إضافة) সর্বদা কোনো বিস্তারিত বিভাজন ছাড়াই হাকিকাত (حقيقة) বা প্রকৃত অর্থ প্রকাশ করে। কেননা তিনি কাশশাফ এর প্রথম বক্তব্যটি উদ্ধৃত করেছেন এবং সেটিকে উত্তম বলেছেন, অতঃপর প্রথম বক্তব্যের সাথে দ্বিতীয়টির বৈপরীত্যের দাবি তুলে তিনি তাঁর দ্বিতীয় বক্তব্যটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই সবকিছুর সারকথা হলো—কাশশাফ এর রচয়িতা এবং তাঁর অনুসারীগণ যেমন সাদ এবং সায়্যিদ নিরবচ্ছিন্নতা বা ইস্তিমরার (استمرار) অর্থে গুণের ইদাফাত (إضافة) করার ক্ষেত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যার পথ অবলম্বন করেছেন। তেমনিভাবে রাজি-ও একই পথ অনুসরণ করেছেন, তবে যেমনটি সাব্যস্ত হয়েছে, বিস্তারিত বর্ণনার মাদরাক (مدرك) বা উৎসের ক্ষেত্রে তিনি তাদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। এবং ইবনে হিশাম এক্ষেত্রে ইতলাক (إطلاق) বা শর্তহীন সাধারণ অবস্থানের ওপর রয়েছেন। এরপর সায়্যিদ তাঁর পূর্বোক্ত আলোচনার পর যা বলেছেন তার মূল পাঠ হলো: এবং সম্ভবত বলা যেতে পারে যে, নিরবচ্ছিন্নতা বা ইস্তিমরার (استمرار) হলো...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ইসমিল ফায়িল (পৃষ্ঠা: ৭৮)
مَالك يَوْم الدّين ثبوتي وَفِي جَاعل تجددي بتعاقب أَفْرَاده فَكَانَ الثَّانِي عَاملا واضافته لفظية لوُرُود الْمُضَارع بِمَعْنَاهُ دون الأول انْتهى وَيُسْتَفَاد مِنْهُ أُمُور

الأول أَن الِاسْتِمْرَار أَعم من الثُّبُوت والدوام لِأَنَّهُ يكون تجدديا بتعاقب أَفْرَاده وثبوتيا بدوام الثَّابِت وَبِذَلِك يحصل الْجَواب عَن قَول السَّائِل وَهل الثُّبُوت والدوام غير الِاسْتِمْرَار

وَالثَّانِي ان اسْم الْفَاعِل إِذا كَانَ للثبوت كَانَ غير عَامل وَكَانَت إِضَافَته حَقِيقِيَّة وَحِينَئِذٍ يسْتَشْكل ذَلِك بِالصّفةِ المشبهة فَإِنَّهَا للثبوت وَمَعَ ذَلِك فَهِيَ عاملة وإضافتها لفظية وَجَوَابه أَن مدَار كَون الاضافة لفظية أَو حَقِيقِيَّة على عمل الْوَصْف وَعدم عمله كَمَا صرح بذلك الْأَئِمَّة وَتقدم فِي كَلَام الرضي وَالصّفة تعْمل وَإِن كَانَت للثبوت لِأَن عَملهَا بِسَبَب مشابهتها لاسم الْفَاعِل فِي أَنَّهَا تؤنث وتثنى وَتجمع وَهَذِه المشابهة متحققة فِيهَا دَائِما فَعمِلت دَائِما وَكَانَت إضافتها لفظية دَائِما لوُجُود سَبَب الْعَمَل دَائِما بِخِلَاف اسْم الْفَاعِل فان عمله لمشابهته الْفِعْل الْمُضَارع فاذا كَانَ بِمَعْنى الثُّبُوت فَأَتَتْهُ المشابهة لِأَن الْمُضَارع لَا يكون للثبوت فَلم يعْمل لانْتِفَاء سَبَب الْعَمَل وَكَانَت إِضَافَته حَقِيقِيَّة
"মালিকি ইয়াওমিদ দীন" (বিচার দিবসের মালিক) শব্দে 'মালিক' শব্দটি স্থায়িত্বসূচক (ثبوتي) এবং "জাঈলু" (সৃষ্টিকারী) শব্দে তা এর এককগুলোর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য (تجددي) অর্থে ব্যবহৃত। তাই দ্বিতীয় শব্দটি কর্মসম্পাদনকারী (عاملا) এবং এর সম্বন্ধকরণটি শাব্দিক (لفظية); কারণ এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (المضارع) এর অর্থ প্রদান করে, যা প্রথমটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সমাপ্ত। এটি থেকে কয়েকটি বিষয় অবগত হওয়া যায়:

প্রথমত: ধারাবাহিকতা (الاستمرار) শব্দটি স্থায়িত্ব (الثبوت) এবং চিরন্তনতা (الدوام) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। কারণ এটি কখনো এর এককগুলোর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য (تجدديا) হয়, আবার কখনো স্থির বস্তুর স্থায়িত্বের মাধ্যমে স্থায়ী (ثبوتيا) হয়। এর মাধ্যমেই প্রশ্নকারীর সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় যে, স্থায়িত্ব (الثبوت) ও চিরন্তনতা (الدوাম) কি ধারাবাহিকতা (الاستمرار) থেকে ভিন্ন কিছু?

দ্বিতীয়ত: কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) যখন স্থায়িত্বের (للثبوت) জন্য ব্যবহৃত হয়, তখন তা কর্মসম্পাদনহীন (غير عامل) থাকে এবং এর সম্বন্ধকরণ প্রকৃত (حقيقية) হয়। এমতাবস্থায় গুণবাচক বিশেষ্য (الصفة المشبهة) নিয়ে একটি জটিলতা সৃষ্টি হয়; কেননা তা স্থায়িত্বের (للثبوت) অর্থ প্রদান করা সত্ত্বেও কর্মসম্পাদনকারী (عاملة) হয় এবং এর সম্বন্ধকরণ শাব্দিক (لفظية) থাকে। এর উত্তর হলো: সম্বন্ধকরণ শাব্দিক বা প্রকৃত হওয়ার ভিত্তি হলো সেই বিশেষণের কর্মসম্পাদন (عمل) করা বা না করার ওপর, যেমনটি ইমামগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং আল্লামা রাযীর আলোচনায় ইতিপূর্বে গত হয়েছে। গুণবাচক বিশেষণ (الصفة) স্থায়িত্বের জন্য হওয়া সত্ত্বেও কর্মসম্পাদন করে, কারণ এর কর্মসম্পাদন মূলত কর্তৃবাচক বিশেষ্যের (اسم الفاعل) সাথে তার সাদৃশ্যের কারণে—স্ত্রীলিঙ্গ, দ্বিবচন এবং বহুবচন হওয়ার ক্ষেত্রে। এই সাদৃশ্যটি এতে সর্বদা বিদ্যমান থাকে, তাই এটি সর্বদা কর্মসম্পাদন করে এবং এর সম্বন্ধকরণ সর্বদা শাব্দিক (لفظية) হয়, যেহেতু কর্মসম্পাদনের কারণটি সর্বদা বিদ্যমান। এটি কর্তৃবাচক বিশেষ্যের (اسم الفاعل) বিপরীত, কারণ তার কর্মসম্পাদন মূলত বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (الفعل المضارع) সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে। সুতরাং যখন এটি স্থায়িত্বের (الثبوت) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন সেই সাদৃশ্যটি বিলুপ্ত হয়ে যায়, কারণ বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া স্থায়িত্বের অর্থ প্রদান করে না। ফলে কর্মসম্পাদনের কারণ না থাকায় এটি আর কর্মসম্পাদন করে না এবং এর সম্বন্ধকরণ তখন প্রকৃত (حقيقية) হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ইসমিল ফায়িল (পৃষ্ঠা: ৭৯)
وَالثَّالِث أَنه لَا يَصح إِطْلَاق أَن إِضَافَة الصّفة المشبهة لفظية إِن جعلنَا اسْم الْفَاعِل المُرَاد بِهِ الثُّبُوت صفة مشبهة حَقِيقَة على مَا سَيَأْتِي وَقد اخْتلف تعبيرهم فِيهِ مِنْهُم من يعبر بِأَنَّهُ صفة مشبهة وَمِنْهُم من يعبر بِنَحْوِ أَن لَهُ حكم الصّفة المشبهة وَأَنه يُعَامل معاملتها فَيحْتَمل أَن اخْتِلَاف هَذَا التَّعْبِير مَبْنِيّ على الِاخْتِلَاف فِي اسْم الْفَاعِل الْمَذْكُور هَل هُوَ صفة مشبهة حَقِيقَة أَو لَا وَيحْتَمل أَن المُرَاد مِنْهُمَا وَاحِد وَأَن فِي أَحدهمَا مُسَامَحَة إِمَّا بِأَن يُرَاد بِالْأولِ أَنه صفة مشبهة حكما وَإِمَّا بِأَن يُرَاد بِالثَّانِي أَنه صفة مشبهة حَقِيقَة وَالتَّعْبِير بِأَن لَهُ حكمهَا أَو أَنه يُعَامل معاملتها لَا يُنَافِي أَنه مِنْهَا حَقِيقَة وَإِنَّمَا عبروا بذلك لِأَن إِدْخَاله فِيهَا أَمر طارىء على أصل وَضعه وَقد قَالَ الْمرَادِي قلت وَلقَائِل أَن يَقُول إِن ضامرا ومنطلقا وَنَحْوهمَا مِمَّا يجْرِي على الْمُضَارع أَسمَاء فاعلين قصد بهَا الثُّبُوت فعوملت مُعَاملَة الصّفة المشبهة وَلَيْسَت بِصفة مشبهة فقد رد مَا ذهب إِلَيْهِ من قَالَ إِنَّهَا لَا تكون جَارِيَة لكَوْنهم متفقين على أَن شاحطا فِي قَوْله

(من صديق أَو أخي ثِقَة … أَو عَدو شاحط دَارا)
তৃতীয়ত কথাটি হলো, সিফাতে মুসাব্বাহা-এর ইযাফতকে নিঃশর্তভাবে শাব্দিক বলা সঠিক নয়, যদি আমরা সেই ইসমুল ফায়িলকে প্রকৃতপক্ষে সিফাতে মুসাব্বাহা হিসেবে গণ্য করি যা দ্বারা স্থায়িত্ব উদ্দেশ্য হয়—যেমনটি সামনে আলোচিত হবে। এ বিষয়ে তাঁদের (বিদ্বানদের) অভিব্যক্তিতে ভিন্নতা রয়েছে; তাঁদের মধ্যে কেউ একে সিফাতে মুসাব্বাহা হিসেবে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ এভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, এর বিধান সিফাতে মুসাব্বাহার মতো এবং এর সাথে সেরূপ আচরণই করা হবে। সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে, এই অভিব্যক্তির ভিন্নতা মূলত উল্লেখিত ইসমুল ফায়িলটি প্রকৃতপক্ষে সিফাতে মুসাব্বাহা কি না—সেই মতভেদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। আবার এটিও সম্ভব যে, উভয় দ্বারা উদ্দেশ্য একই এবং এদের কোনো একটি বর্ণনায় কিছুটা শিথিলতা রয়েছে; হয় প্রথমটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এটি বিধানগতভাবে সিফাতে মুসাব্বাহা, অথবা দ্বিতীয়টি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এটি প্রকৃতপক্ষে সিফাতে মুসাব্বাহা। আর 'এর বিধান সিফাতে মুসাব্বাহার অনুরূপ' বা 'এর সাথে সিফাতে মুসাব্বাহার ন্যায় আচরণ করা হবে'—এরূপ অভিব্যক্তি এটি প্রকৃতপক্ষে সিফাতে মুসাব্বাহা হওয়ার পরিপন্থী নয়; বরং তাঁরা এমনটি ব্যক্ত করেছেন কারণ একে সিফাতে মুসাব্বাহার অন্তর্ভুক্ত করা এর মূল গঠনের ওপর একটি অতিরিক্ত বিষয়। আল-মুরাদী বলেছেন: আমি বলি, কোনো আপত্তিকারী বলতে পারেন যে, ‘দুমির’ ও ‘মুনতালিক’ এবং এদের অনুরূপ শব্দগুলো যা মুজারে-এর ওজনে গঠিত হয়, সেগুলো মূলত ইসমুল ফায়িল যা দ্বারা স্থায়িত্ব উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে, ফলে সেগুলোর সাথে সিফাতে মুসাব্বাহার ন্যায় আচরণ করা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো সিফাতে মুসাব্বাহা নয়। ফলে যারা দাবি করেন যে এগুলো (সিফাতে মুসাব্বাহা) মুজারের ওজনে আসে না, তাদের অভিমতটি খণ্ডিত হয়েছে; কারণ তাঁরা এ বিষয়ে একমত যে, কবির এই উক্তিতে ‘শাহিাত’ সম্পর্কে—

(কোনো বন্ধু বা নির্ভরযোগ্য (ثقة) ভাই হতে … অথবা এমন শত্রু যার ঘর অনেক দূরে)
(খণ্ড: ১) রিসালাতুন ফী ইসমিল ফায়িল (পৃষ্ঠা: ৮০)
صفة مشبهة قلت إِن صَحَّ الِاتِّفَاق فَهُوَ مَحْمُول على أَن حكمه حكم الصّفة المشبهة لِأَنَّهُ قصد بِهِ الثُّبُوت كَمَا تقدم فَلذَلِك أطلق عَلَيْهِ صفة مشبهة انْتهى وَبِمَا تقرر يعلم أَن الْفرق الْمَذْكُور فِي السُّؤَال هُوَ نَص كَلَامهم حَيْثُ صَرَّحُوا بِأَن مدَار اللفظية والحقيقية على الْعَمَل وَعَدَمه فَلَا حَاجَة مَعَ ذَلِك إِلَى التأييد وَمَا ذكره السُّيُوطِيّ فِي الْفرق مُشكل وَفِيه نظر لِأَن نقل إِضَافَة الصّفة المشبهة عَن الرّفْع يلْزم مِنْهُ إِضَافَة الشَّيْء إِلَى نَفسه لِأَن المُرَاد من الصّفة ومرفوعها وَاحِد كَمَا هُوَ ظَاهر وَيُخَالِفهُ قَول التَّوْضِيح كَغَيْرِهِ لِأَن الصّفة المشبهة لَا تُضَاف لمرفوعها حَتَّى يقدر تَحْويل إسنادها عَنهُ إِلَى ضمير الْمَوْصُوف أَي وَحِينَئِذٍ ينصب الْمَرْفُوع فيتغاير مَعَ الصّفة ثمَّ تقع الْإِضَافَة فَلْيتَأَمَّل وَالله تَعَالَى أعلم بِالصَّوَابِ وَإِلَيْهِ الْمرجع والمآب

‌‌وَكتبه الْفَقِير أَحْمد بن قَاسم الْعَبَّادِيّ عُفيَ عَنْهُمَا

وَجَاء فِي آخر النُّسْخَة م وَهَذَا آخر مَا رَأَيْته من السُّؤَال وَالْجَوَاب ونقلته وَالله أعلم وَالْحَمْد لله وَحده وَصلى الله على من لَا نَبِي بعده آمين
গুণবাচক বিশেষণ (صفة مشبهة)। আমি বলি, যদি এই ঐক্যমত সঠিক হয়, তবে তা এই মর্মে গৃহীত হবে যে এর বিধান গুণবাচক বিশেষণের (صفة مشبهة) বিধানের অনুরূপ; কেননা এর দ্বারা স্থায়িত্ব (ثبوت) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। একারণেই একে গুণবাচক বিশেষণ (صفة مشبهة) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ইতি। আর যা নির্ধারিত হলো, তা থেকে জানা যায় যে প্রশ্নে বর্ণিত পার্থক্যটিই মূলত তাঁদের বক্তব্যের মূল পাঠ (نص), যেখানে তাঁরা স্পষ্ট করেছেন যে শাব্দিক (لفظية) ও প্রকৃত (حقيقية) হওয়ার বিষয়টি আমল (عمل) থাকা বা না থাকার ওপর নির্ভরশীল। এমতাবস্থায় এর স্বপক্ষে আর কোনো সমর্থনের প্রয়োজন নেই। সুয়ূতী পার্থক্যের ক্ষেত্রে যা উল্লেখ করেছেন তা জটিলতাপূর্ণ এবং তা পর্যালোচনার (نظر) দাবি রাখে; কারণ গুণবাচক বিশেষণের (صفة مشبهة) সম্বন্ধকে (إضافة) রফ (رفع) থেকে পরিবর্তন করার আবশ্যিক অর্থ দাঁড়ায় কোনো বস্তুকে তার নিজের দিকেই সম্বন্ধ করা। কারণ গুণবাচক বিশেষণ (صفة) এবং এর মারফু (مرفوع) পদটি দ্বারা উদ্দেশ্য মূলত একই, যেমনটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। আর আত-তাওদীহ ও অন্যান্য গ্রন্থের বক্তব্য এর পরিপন্থী; কারণ গুণবাচক বিশেষণ (صفة مشبهة) তার মারফু (مرفوع) পদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয় না যতক্ষণ না এর ইসনাদকে (إسناد) উক্ত পদ থেকে সরিয়ে মওসুফের (موصوف) দিকে ফিরানো হয়। অর্থাৎ, তখন মারফু (مرفوع) পদটি মানসুব (منصوب) হয়ে যায় এবং গুণবাচক বিশেষণের (صفة) সাথে তাতে ভিন্নতা তৈরি হয়, আর তখনই সম্বন্ধ (إضافة) সংঘটিত হয়। বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবনযোগ্য। আর মহান আল্লাহ তাআলাই সঠিক বিষয়ে সর্বাধিক পরিজ্ঞাত এবং তাঁরই নিকট সকলের প্রত্যাবর্তনস্থল।

‌‌এটি লিখেছেন নিঃস্ব আহমদ বিন কাসিম আল-আব্বাদী, আল্লাহ তাঁদের উভয়কে ক্ষমা করুন।

পাণ্ডুলিপির শেষে এসেছে: এটিই প্রশ্ন ও উত্তরের শেষাংশ যা আমি দেখেছি এবং তা নকল করেছি। আল্লাহই ভালো জানেন। সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যাঁর পরে কোনো নবী নেই। আমীন।