(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
رسالة المباحث المرضية   (ابن هشام النحوي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: المباحث المرضية المتعلقة بـ (من) الشرطية

المؤلف: عبد الله بن يوسف بن أحمد بن عبد الله ابن يوسف، أبو محمد، جمال الدين، ابن هشام (ت 761هـ)

المحقق: الدكتور مازن المبارك

الناشر: دار ابن كثير - دمشق / بيروت

الطبعة: الأولى، 1408هـ - 1987م

عدد الصفحات: 66

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ   (ইবনে হিশাম আন-নাহবি)

বিভাগ: ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব


কিতাব: শর্তবাচক (মান) সংক্রান্ত আল-মাবাহিছুল মারদিয়্যাহ

লেখক: আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আহমাদ বিন আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, আবু মুহাম্মদ, জামালুদ্দিন, ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৭৬১ হি.)

সম্পাদক: ডক্টর মাজেন আল-মুবারক

প্রকাশক: দার ইবনে কাসির - দামেস্ক / বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৮ হি. - ১৯৮৭ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بِسم الله الرَّحِم الرَّحِيم

 

هَذِه مسَائِل مُتَعَلقَة ب من الشّرطِيَّة وَغَيرهَا من أَسمَاء الشَّرْط وَقع الْبَحْث فِيهَا بيني وَبَين الْعَلامَة تَقِيّ الدّين أبي الْحسن السُّبْكِيّ الشَّافِعِي رَحمَه الله تَعَالَى

‌‌الْمَسْأَلَة الأولى

 

أَنه رحمه الله قَالَ أَجمعُوا على اسمية من الشّرطِيَّة وحرفية إِن الشّرطِيَّة فَكيف يخْتَلف نوعا الْكَلِمَة بالاسمية والحرفية مَعَ تساويهما فِي الْمَفْهُوم

فَقلت ليستا سَوَاء وَلَا ترادف بَينهمَا بل كلمة إِن دَالَّة على شَيْء وَاحِد وَهُوَ الشَّرْط أَعنِي عقد السَّبَبِيَّة والمسببية بَين الجملتين اللَّتَيْنِ بعْدهَا دَالَّة على معنى فِي غَيرهَا وَلَا دلَالَة فِيهَا على غير ذَلِك فَلذَلِك كَانَت حرفا وَأما من الشّرطِيَّة فَإِنَّهَا دَالَّة على شَيْئَيْنِ

أَحدهمَا الشَّخْص الْعَاقِل وَهَذَا هُوَ الْمَعْنى الَّذِي فِيهِ اسْم لِأَنَّهُ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

 

এগুলি শর্তবাচক ‘মান’ (من الشرطية) এবং অন্যান্য শর্তবাচক বিশেষ্য (أسماء الشرط) সংক্রান্ত কতিপয় মাসআলা, যা নিয়ে আমার এবং আল্লামা তাকিউদ্দীন আবুল হাসান আস-সুবকি আশ-শাফিয়ি (রহিমাহুল্লাহ তা’আলা)-এর মধ্যে আলোচনা (البحث) হয়েছে।

‌‌প্রথম মাসআলা (المسألة الأولى)

 

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: তারা শর্তবাচক ‘মান’-এর বিশেষ্য হওয়া (اسمية) এবং শর্তবাচক ‘ইন’-এর অব্যয় হওয়ার (حرفية) ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন; অথচ উভয়ের মূল অর্থ বা ধারণা (المفهوم) এক হওয়া সত্ত্বেও শব্দের প্রকারভেদ কেন বিশেষ্য হওয়া (اسمية) ও অব্যয় হওয়া (حرفية) হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন হলো?

আমি বললাম: তারা উভয়ে সমান নয় এবং তাদের মাঝে কোনো সমার্থকতা (ترادف) নেই। বরং ‘ইন’ (إن) শব্দটি কেবল একটি বিষয়ের ওপর নির্দেশক, আর তা হলো শর্ত (الشرط); অর্থাৎ এটি তার পরবর্তী বাক্যদ্বয়ের মাঝে কারণ ও কার্যকারণ সম্পর্ক স্থাপন (عقد السببية والمسببية) নির্দেশ করে যা অন্য শব্দের সাহায্যে অর্থ প্রকাশ করে এবং এর বাইরে অন্য কিছুর ওপর তার কোনো নির্দেশনা নেই। আর এ কারণেই এটি একটি অব্যয় (حرف) হিসেবে গণ্য। পক্ষান্তরে শর্তবাচক ‘মান’ (من الشرطية) দুটি বিষয়ের ওপর নির্দেশ প্রদান করে।

তার একটি হলো বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি (الشخص العاقل), আর এটিই সেই অর্থ যার কারণে সেটি বিশেষ্য (اسم), কেননা এটি...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
معنى فِي نَفسهَا كَمَا فِي قَوْلك إِنْسَان وَهُوَ مَعْنَاهَا الوضعي

الثَّانِي معنى الشّرطِيَّة الَّذِي شرحناه وَهُوَ معنى عرض لَهَا لتضمنها معنى إِن الشّرطِيَّة وَلِهَذَا تسمع النَّحْوِيين يَقُولُونَ إِن أَسمَاء الشَّرْط بنيت لتضمنها معنى الْحَرْف وَلم يلْزم من دلالتها على هَذَا الْمَعْنى أَن تكون حرفا لِأَن الْحَرْف مَا دلّ على معنى فِي غَيره وَلم يدل على معنى فِي نَفسه

وَأما قَول كثير من النَّحْوِيين الْحَرْف مَا دلّ على معنى فِي غَيره فمنتقض بأسماء الشَّرْط وَأَسْمَاء الِاسْتِفْهَام وَالصَّوَاب أَن يُقَال مَا دلّ على معنى فِي غَيره فَقَط كَمَا قَالَ الْجُزُولِيّ وَغَيره من الْمُحَقِّقين

وَالْحَاصِل أَن الِاسْم نَوْعَانِ دَال على معنى فِي نَفسه فَقَط ودال على معنى فِي غَيره وَأَن الْحَرْف نوع وَاحِد وَهُوَ الدَّال على معنى فِي غَيره فَقَط

وَلكَون أَسمَاء الشَّرْط فِي قُوَّة كَلِمَتَيْنِ بَطل الِاسْتِدْلَال بهَا على صِحَة دَعْوَى الترافع وَحَقِيقَة هَذِه الْمَسْأَلَة أَن الْكُوفِيّين زَعَمُوا أَن الْمُبْتَدَأ وَالْخَبَر ترافعا أَي كل مِنْهُمَا رفع صَاحبه وَأورد عَلَيْهِ أَصْحَابنَا باستلزامه أَن يكون كل مِنْهُمَا مُسْتَحقّا للتقديم وَالتَّأْخِير لما علم من أَن
এটির স্বীয় সত্তাগত অর্থ যেমন আপনার 'মানুষ' বলা, আর এটিই হলো এর আভিধানিক অর্থ।

দ্বিতীয়টি হলো শর্তীয় অর্থ যা আমরা ব্যাখ্যা করেছি; আর এটি এমন এক অর্থ যা এর ওপর আপতিত হয়েছে যেহেতু এটি শর্তবোধক 'ইন'-এর অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই কারণেই আপনি ব্যাকরণবিদদের বলতে শুনবেন যে, শর্তবোধক বিশেষ্যগুলো অব্যয়ের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করার কারণে অপরিবর্তনীয় হিসেবে গঠিত হয়েছে। তবে এই অর্থের ওপর নির্দেশ করার কারণে এটি অব্যয় হওয়া আবশ্যক হয় না; কারণ অব্যয় হলো তা যা অন্য কিছুর মাধ্যমে অর্থ প্রকাশ করে এবং নিজের মধ্যে কোনো স্বতন্ত্র অর্থ প্রকাশ করে না।

আর অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের এই উক্তি যে— "অব্যয় হলো তা যা অন্য কিছুর মধ্যে অর্থ প্রকাশ করে"—তা শর্তবোধক বিশেষ্য এবং প্রশ্নবোধক বিশেষ্যগুলোর মাধ্যমে খণ্ডিত হয়। সঠিক কথা হলো এটি বলা যে— "যা শুধুমাত্র অন্য কিছুর মধ্যে অর্থ প্রকাশ করে", যেমনটি আল-জুযুলি এবং অন্যান্য গবেষকগণ বলেছেন।

সারকথা হলো, বিশেষ্য দুই প্রকার: যা শুধুমাত্র নিজের সত্তাগত অর্থ প্রকাশ করে এবং যা অন্য কিছুর মধ্যে অর্থ প্রকাশ করে। আর অব্যয় হলো এক প্রকার, আর তা হলো যা শুধুমাত্র অন্য কিছুর মধ্যে অর্থ প্রকাশ করে।

শর্তবোধক বিশেষ্যসমূহ দুটি শব্দের শক্তিতে হওয়ার কারণে 'পারস্পরিক রাফ প্রদান'-এর দাবির শুদ্ধতার স্বপক্ষে এগুলো দিয়ে দলিল প্রদান করা বাতিল হয়ে যায়। এই মাসআলার প্রকৃত রূপ হলো এই যে, কুফাবাসীরা ধারণা করতেন যে, মুবতাদা ও খবর একে অপরকে রাফ প্রদান করে, অর্থাৎ তাদের প্রত্যেকেই তার সঙ্গীকে মারফু করে। আমাদের মতাবলম্বীগণ এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করেছেন এই যুক্তিতে যে, এটি এই বিষয়কে আবশ্যক করে যে তাদের প্রত্যেকেই আগে আসা এবং পরে আসার সমান অধিকার রাখবে, যেহেতু এটি জানা আছে যে
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
الْعَامِل رتبته التَّقْدِيم والمعمول رتبته التَّأْخِير فَأَجَابُوا بِأَن هَذَا مُشْتَرك الْإِلْزَام لاتفاقنا على أَن أيا فِي نَحْو {أيا مَا تدعوا} نصب ب تدعوا وَأَن تدعوا جزم بِهِ وكما تصور فِي غير هَذَا الْبَاب كَون كل من الشَّيْئَيْنِ عَاملا فِي الآخر ومعمولا لَهُ كَذَلِك يَسْتَقِيم هُنَا أَلا ترى أَنَّهَا دَالَّة على مَعْنَاهَا الوضعي الَّذِي هِيَ بِهِ اسْم وعَلى معنى آخر تضمنا وَهُوَ معنى الشَّرْط ف أيا جزمت بِمَا فِيهَا من معنى الشَّرْط وأيا نصبت بِمَا فِيهَا من معنى الِاسْم وَأما الْمُبْتَدَأ وَالْخَبَر فَكل مِنْهُمَا كلمة وَاحِدَة لفظا وتقديرا

‌‌الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة

 

قَالَ رَحمَه الله تَعَالَى احتجت الْحَنَفِيَّة على أَن لَا قِرَاءَة على الْمَأْمُوم بِالْحَدِيثِ من كَانَ لَهُ إِمَام فقراءة الإِمَام لَهُ قِرَاءَة وَأجِيب بِأَن الضَّمِير فِي لَهُ رَاجع إِلَى الإِمَام لَا إِلَى من الَّتِي هِيَ وَاقعَة على الْمَأْمُوم وَإِن الْمَعْنى من كَانَ لَهُ إِمَام فعلية أَن يقْرَأ لِأَن قِرَاءَة الإِمَام للْإِمَام لَا للْمَأْمُوم وَالْإِمَام وَهَذَا التَّأْوِيل بعيد جدا وَذَلِكَ ظَاهر لكل أحد وفاسد فِي الْعَرَبيَّة وَذَلِكَ لِأَن الضَّمِير إِذا لم يكن عَائِدًا إِلَى من لزم خلو الْجُمْلَة الْمخبر بهَا عَن ضمير يعود على الْمخبر عَنهُ

فَقلت الصَّحِيح أَن خبر اسْم الشَّرْط هُوَ جملَة الشَّرْط لَا جملَة
আমলদাতার (عامل) মর্যাদা হলো অগ্রবর্তী হওয়া এবং আমলপ্রাপ্তের (معمول) মর্যাদা হলো অনুবর্তী হওয়া। তাঁরা এর উত্তরে বলেছেন যে, এই বাধ্যবাধকতা সবার ক্ষেত্রে সমান; কারণ আমরা এ বিষয়ে একমত যে, {أيا ما تدعوا} (তোমরা যাকে খুশি ডাকো) এর মতো বাক্যে 'আয়্যা' শব্দটি 'তাদ'উ' (تدعوا) দ্বারা নসব (نصب) প্রাপ্ত হয়েছে এবং 'তাদ'উ' শব্দটি এর মাধ্যমে জযম (جزم) প্রাপ্ত হয়েছে। যেভাবে এই অধ্যায় ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে কল্পনা করা যায় যে, দুটি বিষয়ের প্রতিটি অন্যটির ওপর আমলদাতা (عامل) এবং একই সাথে অন্যটি দ্বারা আমলপ্রাপ্ত (معمول), তেমনি এখানেও বিষয়টি একইভাবে প্রযোজ্য। আপনি কি দেখছেন না যে, এটি (আয়্যা) তার আভিধানিক অর্থের ওপর দালালত করে যার কারণে এটি একটি ইসম (اسم) এবং এর অন্তর্ভুক্ত অন্য একটি অর্থের ওপরও তা দালালত করে যা হলো শর্তের (شرط) অর্থ। সুতরাং 'আয়্যা' তার মধ্যকার শর্তের অর্থের কারণে জযম (جزم) প্রদান করেছে এবং তার মধ্যকার ইসমের অর্থের কারণে নসব (نصب) প্রাপ্ত হয়েছে। পক্ষান্তরে মুবতাদা (مبتدأ) ও খবর (خبر) শব্দ ও অনুমানের দিক থেকে প্রতিটিই এক একটি একক শব্দ।

‌‌দ্বিতীয় মাসয়ালা

 

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: হানাফীগণ মুক্তাদির (مأموم) ওপর কিরাত না থাকার বিষয়ে এই হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যে, "যার ইমাম রয়েছে, ইমামের কিরাত তার জন্যই কিরাত।" এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, "লাহু" (له - তার জন্য) এর মধ্যকার সর্বনামটি ইমামের দিকে ফিরেছে, সেই "মান" (من - যে) এর দিকে নয় যা মুক্তাদির (مأموم) ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ এর অর্থ হলো: যার ইমাম রয়েছে, ইমামের ওপর দায়িত্ব হলো কিরাত পাঠ করা। কারণ ইমামের কিরাত ইমামের জন্যই, মুক্তাদির জন্য নয়। তবে এই ব্যাখ্যাটি অত্যন্ত দূরবর্তী ও দুর্বল (ضعيف), যা প্রত্যেকের কাছেই স্পষ্ট এবং আরবি ব্যাকরণের দিক থেকে অশুদ্ধ (فاسد)। কেননা সর্বনামটি যদি 'মান' (من) এর দিকে না ফিরে, তবে খবর (خبر) হিসেবে ব্যবহৃত বাক্যটি এমন একটি সর্বনাম থেকে খালি হয়ে পড়ে যা মুখবার আনহু (مخبر عنه - যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে) এর দিকে ফিরে যায়।

আমি বললাম: সঠিক (صحيح) মত হলো, শর্তবাচক বিশেষ্যের (اسم شرط) খবর (خبر) হলো শর্তযুক্ত বাক্যটি (جملة الشرط), সেটি নয়...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
الْجَواب وَهَذَا يتَبَادَر إِلَى ذهن من لَا يتَأَمَّل إِلَى دَفعه مُعْتَمدًا على أَن الْفَائِدَة إِنَّمَا تتمّ بِالْجَوَابِ الَّذِي هُوَ محط الْفَائِدَة وَجَوَاب هَذَا التَّوَهُّم أَن الْفَائِدَة إِنَّمَا توقفت على الْجَواب من حَيْثُ التَّعْلِيق لَا من حَيْثُ الخبرية لِأَن من اسْم للشَّخْص الْعَاقِل وضمنت معنى الشَّرْط كَمَا قدمنَا

فَإِذا قيل من يقم أقِم مَعَه كَانَ من يقم مَعَ قطع النّظر عَمَّا ضمنته من من معنى الشَّرْط بِمَنْزِلَة قَوْلك شخص عَاقل يقوم وَهَذَا لَا شكّ فِي تَمَامه فَلَمَّا ضمن معنى الشَّرْط توقف مَعْنَاهُ على ذَلِك الْجَواب فَمن هُنَا جَاءَ النَّقْص لَا من جِهَة الْمَعْنى الإسنادي

ويوضح أَنا نعلم أَن الْكَلَام يتألف من الْمسند والمسند إِلَيْهِ فَإِذا قيل قَامَ زيد كَانَ مُشْتَمِلًا على الْمسند والمسند إِلَيْهِ جَمِيعًا وَكَذَلِكَ يشْهد لما تقدم ذكره من أَن الْخَبَر هُوَ فعل الشَّرْط لَا فعل الْجَواب وَلَا تفْتَقر صِحَة الْكَلَام إِلَى ضمير يرجع من الْجَواب إِلَى الشَّرْط الحَدِيث الَّذِي أخرجه الإِمَام أَحْمد من ملك ذَا رحم محرم فَهُوَ حر فَإِن الضَّمِير من قَوْله هُوَ حر إِنَّمَا يعود على الْمَمْلُوك لَا إِلَى من الْوَاقِعَة على الْمَالِك
উত্তর: এটি তাদের মনে উদয় হয় যারা এর খণ্ডন সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করে না; তারা এই বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে যে, মূল ফায়দা বা অর্থ কেবল উত্তর (جواب)-এর মাধ্যমেই পূর্ণ হয়, যা মূলত ফায়দা অর্জনের মূল কেন্দ্র। এই সংশয়ের উত্তর হলো— অর্থের পূর্ণতা উত্তরের (جواب) ওপর নির্ভরশীল হওয়া কেবল শর্তযুক্তকরণের (تعليق) দিক থেকে, বর্ণনামূলক (خبرية) হওয়ার দিক থেকে নয়। কারণ ‘মান’ (যে কেউ) শব্দটি একজন বিবেকবান ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি বিশেষ্য এবং এটি শর্তের (شرط) অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।

সুতরাং যখন বলা হয়, ‘যে দাঁড়াবে, আমি তার সাথে দাঁড়াব’, তখন ‘যে দাঁড়াবে’ অংশটি—এর মধ্যে থাকা শর্তের (شرط) অর্থকে বিবেচনা না করলে—আপনার এই কথার মতোই যে, ‘একজন বিবেকবান ব্যক্তি দাঁড়াচ্ছে’। এই বাক্যের পূর্ণতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যখন এটি শর্তের (شرط) অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করল, তখন এর পূর্ণতা সেই উত্তরের (جواب) ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ল। সুতরাং অসম্পূর্ণতা এখান থেকেই এসেছে, ইসনাদগত অর্থের (معنى إسنادي) দিক থেকে নয়।

বিষয়টি এভাবেও স্পষ্ট হয় যে, আমরা জানি বাক্য গঠিত হয় মুসনাদ (مسند) এবং মুসনাদ ইলাইহ (مسند إليه)-এর সমন্বয়ে। সুতরাং যখন বলা হয় ‘যায়েদ দাঁড়িয়েছে’, তখন তা মুসনাদ (مسند) ও মুসনাদ ইলাইহ (مسند إليه) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। একইভাবে পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে—অর্থাৎ খবর (خبر) হলো শর্তের (شرط) ক্রিয়াটি, উত্তরের (جواب) ক্রিয়াটি নয়, এবং বাক্যের বিশুদ্ধতার জন্য উত্তর (جواب) থেকে শর্তের (شرط) দিকে প্রত্যাবর্তনকারী কোনো সর্বনামের (ضمير) প্রয়োজন নেই—তার প্রমাণ হলো ইমাম আহমাদ কর্তৃক বর্ণিত সেই হাদিস: ‘যে ব্যক্তি কোনো মাহরাম নিকটাত্মীয়ের মালিক হবে, সে (ক্রীতদাস) স্বাধীন হয়ে যাবে’। এখানে ‘সে স্বাধীন’ বাক্যাংশের সর্বনামটি (ضمير) মূলত মালিকানাধীন ক্রীতদাসের দিকে ফিরছে, ‘মান’ (যে কেউ) শব্দের দিকে নয় যা মালিকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌الْمَسْأَلَة الثَّالِثَة

 

قَالَ رَحمَه الله تَعَالَى وَقد جرى ذكر مُحَمَّد بن الْحسن الشَّيْبَانِيّ صَاحب أبي حنيفَة رضي الله عنه أَي عَبِيدِي ضربك فَهُوَ حر وَأي عَبِيدِي ضَربته فَهُوَ حر وَأَن فِي الْمَسْأَلَة الأولى إِذا ضرب الْجَمِيع عتق الْجَمِيع وَفِي الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة إِذا ضرب هُوَ الْجَمِيع لم يعْتق إِلَّا وَاحِد مِنْهُم وَجرى ذكر كَلَام أبي الْفَتْح بن جني فِي الْمَسْأَلَة وَأَنه وَجههَا بِأَن الْفِعْل وَالْفَاعِل كالكلمة الْوَاحِدَة لتلازمهما وَلَا كَذَلِك الْفِعْل وَالْمَفْعُول وَإِذا كَانَ كَذَلِك فيسري عُمُوم
তৃতীয় মাসআলা (المসألة)

 

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, ইমাম আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সহচর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী প্রসঙ্গে আলোচনা চলছিল। (বিষয়টি ছিল:) ‘আমার যে গোলামই তোমাকে প্রহার করবে সে স্বাধীন’ এবং ‘আমার যে গোলামকেই আমি প্রহার করব সে স্বাধীন’। প্রথম মাসআলায় (المসألة) যদি তারা সকলে প্রহার করে, তবে সকলেই স্বাধীন হয়ে যাবে। আর দ্বিতীয় মাসআলায় (المসألة) যদি তিনি সকলকে প্রহার করেন, তবে তাদের মধ্যে কেবল একজন ব্যতীত কেউ স্বাধীন হবে না। এই মাসআলায় (المসألة) আবুল ফাতহ ইবনু জিন্নি-র বক্তব্যের অবতারণা করা হয়েছে; তিনি এর কারণ দর্শিয়েছেন যে, ক্রিয়া ও কর্তা তাদের পারস্পরিক অবিচ্ছেদ্যতার কারণে একটি শব্দের ন্যায়, কিন্তু ক্রিয়া ও কর্মের বিষয়টি তেমন নয়। আর বিষয়টি যখন এমন হয়, তখন ব্যাপকতা (عموم) সঞ্চারিত হয়...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
الْفَاعِل إِلَى الْفِعْل وَلَا يلْزم أَن يسري عُمُوم الْمَفْعُول إِلَى الْفِعْل وَلَا شُبْهَة فِي أَن الْفَاعِل فِي الْمَسْأَلَة الأولى عَام وَهُوَ ضمير أَي وَإِنَّمَا كَانَت عَامَّة لإضافتها إِلَى العبيد وَهُوَ عَام وَإِنَّمَا كَانَ عَاما لِأَنَّهُ جمع مُضَاف وَأما الْفَاعِل فِي الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة فَإِنَّهُ خَاص وَهُوَ ضمير الْمُخَاطب فَلَا عُمُوم حِينَئِذٍ فِي الْفِعْل بل هُوَ مُطلق لِأَنَّهُ نكرَة فِي الْإِثْبَات وَفِي هَذِه الْمَسْأَلَة نظر لَكِن الْإِقْدَام على مُحَمَّد بن الْحسن من الْفُقَهَاء وَابْن جني من النَّحْوِيين لَيْسَ بالسهل

فَقلت قد اعْترض عَلَيْهِمَا أَبُو عبد الله مُحَمَّد بن مَالك فَقَالَ لَا فرق بَين الصُّورَتَيْنِ وَالْفِعْل فيهمَا عَام وَالضَّمِير للْفَاعِل وَالْمَفْعُول فِي ذَلِك على حد سَوَاء وَاسْتدلَّ بقول الْعَبَّاس بن مرداس السّلمِيّ رضي الله عنه يُخَاطب النَّبِي صلى الله عليه وسلم

(وَمَا كنت دون امرىء مِنْهُمَا … وَمن تخْفض الْيَوْم لَا يرفع)
কর্তা (الْفَاعِل) থেকে ক্রিয়ার (الْفِعْل) দিকে, আর কর্মের (الْمَفْعُول) ব্যাপকতা (عُمُوم) ক্রিয়ার (الْفِعْل) দিকে সঞ্চারিত হওয়া আবশ্যক নয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রথম মাসআলায় কর্তা (الْفَاعِل) হলো সাধারণ (عَام), আর তা হলো 'আই' (أَي) এর সর্বনাম (ضمير)। এটি 'আল-আবিদ' (العبيد)-এর দিকে সম্বন্ধ হওয়ার কারণেই সাধারণ (عَام) হয়েছে, যা নিজেই একটি সাধারণ (عَام) শব্দ; কারণ এটি একটি সম্বন্ধযুক্ত বহুবচন (جمع مُضَاف)। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় মাসআলার কর্তা (الْفَاعِل) হলো সুনির্দিষ্ট (خَاص), যা হলো সম্বোধিত ব্যক্তির সর্বনাম (ضمير الْمُخَاطب)। এমতাবস্থায় ক্রিয়ার (الْفِعْل) মধ্যে কোনো ব্যাপকতা (عُمُوم) থাকে না, বরং তা নিঃশর্ত (مُطلق); কারণ ইতিবাচক বাক্যে এটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرَة فِي الْإِثْبَات)। তবে এই মাসআলাটি পর্যালোচনার দাবি রাখে, কিন্তু ফকিহদের (الْفُقَهَاء) মধ্য থেকে মুহাম্মদ ইবনুল হাসান এবং ব্যাকরণবিদদের (النَّحْوِيين) মধ্য থেকে ইবনে জিন্নির বিরোধিতা করা সহজ নয়।

আমি বললাম, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মালিক তাদের উভয়ের উপর আপত্তি করেছেন। তিনি বলেছেন, এই দুই অবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং উভয় ক্ষেত্রেই ক্রিয়া (الْفِعْل) হলো সাধারণ (عَام)। এই ক্ষেত্রে কর্তা (الْفَاعِل) ও কর্মের (الْمَفْعُول) সর্বনাম (الضَّمِير) সমান পর্যায়ের। তিনি আব্বাস ইবনে মিরদাস আল-সুলামি রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উক্তি দিয়ে দলিল পেশ করেছেন, যেখানে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্বোধন করছিলেন:

(আমি তাদের দুজনের চেয়ে কোনো অংশে কম ছিলাম না … আর আপনি আজ যাকে অবনমিত করবেন সে উন্নত হবে না)
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
فَإِن من الشّرطِيَّة عَامَّة بالِاتِّفَاقِ مِمَّن يثبت للْعُمُوم صِيغَة

وَالْمرَاد عُمُوم الْفَاعِل قطعا مَعَ أَن الضَّمِير الْعَام إِنَّمَا هُوَ ضمير الْمَفْعُول الْمَحْذُوف إِذْ التَّقْدِير وَمن تخفضه الْيَوْم وَهَذِه الْهَاء عَائِدَة على من وَهُوَ الِاسْم الْعَام وَأما ضمير الْفَاعِل فخاص وَهُوَ ضمير النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَهُوَ وزان قَوْله أَي عَبِيدِي الَّتِى ادعِي فِيهَا عدم عُمُوم الْفِعْل وَالله تَعَالَى أعلم
কেননা যারা ব্যাপকতার (العموم) জন্য নির্দিষ্ট রূপ (صيغة) সাব্যস্ত করেন, তাদের নিকট শর্তবাচক (الشرطية) 'মান' শব্দটি সর্বসম্মতভাবে (بالاتفاق) ব্যাপক (عام)।

আর এখানে নিশ্চিতভাবে কর্তার (الفاعل) ব্যাপকতা (عموم) উদ্দেশ্য, যদিও ব্যাপক (عام) সর্বনামটি মূলত উহ্য (المحذوف) কর্মের (المفعول) সর্বনাম; কারণ বাক্যটির প্রাক্কলিত রূপ হলো 'যাকে আপনি আজ অবনমিত করবেন', আর এখানে 'হা' সর্বনামটি 'মান' শব্দের দিকে প্রত্যাবর্তন করছে যা একটি ব্যাপক (عام) বিশেষ্য (الاسم)। পক্ষান্তরে কর্তার (الفاعل) সর্বনামটি সুনির্দিষ্ট (خاص), যা মূলত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি নির্দেশিত সর্বনাম। এটি তাঁর 'আমার কোন গোলামটি' উক্তির সমপর্যায়ভুক্ত, যেখানে ক্রিয়ার (الفعل) ব্যাপকতা (عموم) বিদ্যমান না থাকার দাবি করা হয়েছে। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
مُلْحق فِي دراسة الْخلاف حول خبر اسْم الشَّرْط عرض ومناقشة ونتيجة
শর্তবাচক বিশেষ্যের (اسم الشرط) সংবাদ (خبر) সংক্রান্ত মতপার্থক্য (الخلاف) পর্যালোচনার একটি সংযোজনী: উপস্থাপন, আলোচনা ও ফলাফল।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
خبر اسْم الشَّرْط

1 - الْقَضِيَّة

إِذا وَقع اسْم الشَّرْط مُبْتَدأ فَهَل خَبره جملَة فعل الشَّرْط أَو جملَة الْجَواب أَو هما مَعًا 2 - الْعرض

رَأْي الْهَرَوِيّ 415 هـ

قَالَ الْهَرَوِيّ فِي كِتَابه الأزهية فِي علم الْحُرُوف ص 100 اعْلَم أَن من على أَرْبَعَة أوجه

تكون جَزَاء كَقَوْلِك من يكرمني أكْرمه وَمَا أشبه ذَلِك ف من مُبْتَدأ وَهُوَ شَرط ويكرمني جزم بِالشّرطِ وأكرمه جَوَابه وهما جَمِيعًا خبر من

رَأْي ابْن يعِيش 643 هـ

قَالَ ابْن يعِيش فِي شَرحه على الْمفصل للزمخشري 7 / 44 تَقول ايهم يأتني آته وأيهم يحسن إِلَيّ أحسن إِلَيْهِ ترفع ايا بِالِابْتِدَاءِ وَمَا بعْدهَا من الشَّرْط وَالْجَزَاء خبر

رَأْي ابْن هِشَام 761 هـ

أَشَارَ ابْن هِشَام إِلَى اخْتِلَاف النُّحَاة بَين كَون خبر اسْم الشَّرْط
শর্তবাচক বিশেষ্যের (اسم الشرط) বিধেয় (خبر)

১ - বিষয়টি (القضية)

যখন শর্তবাচক বিশেষ্য (اسم الشرط) উদ্দেশ্য (مبتدأ) হিসেবে আপতিত হয়, তখন তার বিধেয় (خبر) কি শর্তবাচক ক্রিয়ার বাক্য (جملة فعل الشرط), নাকি উত্তরবাচক বাক্য (جملة الجواب), অথবা উভয়ই একত্রে? ২ - উপস্থাপনা (العرض)

আল-হারাউই (৪১৫ হি.)-এর অভিমত

আল-হারাউই তাঁর আল-আযহিয়্যাহ ফি ইলমিল হুরুফ কিতাবের ১০০ পৃষ্ঠায় বলেন: "জেনে রেখো যে, 'মান' (من) চারটি পন্থায় ব্যবহৃত হয়:

তা প্রতিদান (جزاء) হিসেবে আসে; যেমন তোমার উক্তি: 'যে আমাকে সম্মান করবে, আমি তাকে সম্মান করব' এবং এর সদৃশ বাক্যগুলো। এখানে 'মান' (من) হলো উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং তা শর্ত (شرط), আর 'ইউকরিমনি' শব্দটি শর্তের কারণে জাযম (جزم) হয়েছে এবং 'উকরিমহু' হলো তার উত্তর (جواب)। আর এই উভয় অংশ মিলেই 'মান'-এর বিধেয় (خبر)।"

ইবনে ইয়াঈশ (৬৪৩ হি.)-এর অভিমত

ইবনে ইয়াঈশ যামাখশারির আল-মুফাসসাল-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (৭/৪৪) বলেন: "তুমি বলবে 'তাদের মধ্যে যে আমার কাছে আসবে, আমি তার নিকট আসব' এবং 'তাদের মধ্যে যে আমার প্রতি সদাচরণ করবে, আমি তার প্রতি সদাচরণ করব'। এখানে তুমি 'আইয়্যু' শব্দটিকে উদ্দেশ্য (ابتداء) হিসেবে পেশ (رفع) প্রদান করবে এবং এর পরবর্তী শর্ত (شرط) ও প্রতিদান (جزاء) অংশটি হলো বিধেয় (خبر)।"

ইবনে হিশাম (৭৬১ হি.)-এর অভিমত

ইবনে হিশাম শর্তবাচক বিশেষ্যের (اسم الشرط) বিধেয় (خبر) হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বৈয়াকরণদের মধ্যকার মতভেদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
الْوَاقِع مُبْتَدأ هُوَ جملَة الْجَواب وَكَونه جملَة الشَّرْط فَقَالَ فِي مَبْحَث من فِي كِتَابه مُغنِي اللبيب ص 433 تَقول من يكرمني أكْرمه فتحتمل من الْأَوْجه الْأَرْبَعَة فَإِن قدرتها شَرْطِيَّة جزمت الْفِعْلَيْنِ أَو مَوْصُولَة أَو مَوْصُوفَة رفعتهما أَو استفهامية رفعت الأول وجزمت الثَّانِي لِأَنَّهُ جَوَاب بِغَيْر الْفَاء وَمن فِيهِنَّ مُبْتَدأ وَخبر الاستفهامية الْجُمْلَة الأولى والموصولة أَو الموصوفة الْجُمْلَة الثَّانِيَة والشرطية الأولى أَو الثَّانِيَة على خلاف فِي ذَلِك

ثمَّ ذكر ابْن هِشَام رَأْيه صَرِيحًا فِي مَبْحَث إِعْرَاب أَسمَاء الشَّرْط والاستفهام فِي الْمُغنِي 607 فَقَالَ وَالأَصَح أَن الْخَبَر فعل الشَّرْط لَا فعل الْجَواب وَهُوَ يُرِيد جملَة فعل الشَّرْط

وَفصل الحَدِيث فِي تَنْبِيه مُسْتَقل الْمُغنِي 608 فَقَالَ وَإِذا وَقع اسْم الشَّرْط مُبْتَدأ فَهَل خَبره فعل الشَّرْط وَحده لِأَنَّهُ اسْم تَامّ وَفعل الشَّرْط مُشْتَمل على ضَمِيره فقولك من يقم لَو لم يكن فِيهِ معنى الشَّرْط لَكَانَ بِمَنْزِلَة قَوْلك كل من النَّاس يقوم أَو فعل الْجَواب لِأَن الْفَائِدَة بِهِ تمت ولالتزامهم عود الضَّمِير مِنْهُ إِلَيْهِ على الْأَصَح وَلِأَن نَظِيره هُوَ الْخَبَر فِي قَوْلك الَّذِي يأتيني فَلهُ دِرْهَم أَو مجموعهما لِأَن قَوْلك من يقم أقِم مَعَه بِمَنْزِلَة قَوْلك كل من النَّاس إِن يقم أقِم مَعَه وَالصَّحِيح الأول وَإِنَّمَا توقفت الْفَائِدَة على الْجَواب من حَيْثُ التَّعَلُّق فَقَط لَا من حَيْثُ الخبرية

وَقَالَ فِي المباحث المرضية انْظُر مَا سبق فِي ص 35 الصَّحِيح أَن خبر اسْم الشَّرْط هُوَ جملَة الشَّرْط لَا جملَة الْجَواب وَهَذَا يتَبَادَر إِلَى ذهن من لَا يتَأَمَّل إِلَى دَفعه مُعْتَمدًا على أَن الْفَائِدَة إِنَّمَا تتمّ بِالْجَوَابِ الَّذِي هُوَ محط الْفَائِدَة وَجَوَاب هَذَا التَّوَهُّم أَن الْفَائِدَة إِنَّمَا توقفت على الْجَواب من حَيْثُ التَّعْلِيق لَا من حَيْثُ الخبرية لِأَن من اسْم
উদ্দেশ্য (مبتدأ) হিসেবে যা আপতিত হয় তা হলো উত্তর বাক্য (جملة الجواب), আর এর শর্ত বাক্য (جملة الشرط) হওয়া প্রসঙ্গে তিনি তার গ্রন্থ ‘মুগনি আল-লাবিব’-এর ৪৩৩ পৃষ্ঠায় ‘মান’ (من) সংক্রান্ত আলোচনায় বলেছেন: আপনি বলবেন ‘মান ইউকরিমনি উকরিমহু’ (যে আমাকে সম্মান করবে আমি তাকে সম্মান করব), এখানে চারটি সম্ভাবনার অবকাশ রয়েছে। যদি আপনি এটিকে শর্তবাচক (شرطية) হিসেবে নির্ধারণ করেন তবে উভয় ক্রিয়াকে জযম (جزم) যুক্ত করবেন; অথবা যদি এটি সম্বন্ধবাচক (موصولة) বা গুণবাচক (موصوفة) হয় তবে উভয় ক্রিয়াকে রফ (رفع) যুক্ত করবেন; আর যদি প্রশ্নবাচক (استفهامية) হয় তবে প্রথমটিকে রফ (رفع) করবেন এবং দ্বিতীয়টিকে জযম (جزم) করবেন, কারণ সেটি ‘ফা’ ব্যতীত উত্তর হিসেবে এসেছে। এই সব কটি ক্ষেত্রে ‘মান’ শব্দটি উদ্দেশ্য (مبتدأ) হিসেবে গণ্য হবে। প্রশ্নবাচক (استفهامية) হওয়ার ক্ষেত্রে বিধেয় (خبر) হবে প্রথম বাক্যটি। সম্বন্ধবাচক (موصولة) বা গুণবাচক (موصوفة) হওয়ার ক্ষেত্রে বিধেয় (خبر) হবে দ্বিতীয় বাক্যটি। আর শর্তবাচক (شرطية) হওয়ার ক্ষেত্রে সেটি প্রথম অথবা দ্বিতীয় বাক্য হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

অতঃপর ইবনে হিশাম ‘মুগনি’ গ্রন্থের ৬০৭ পৃষ্ঠায় শর্তবাচক এবং প্রশ্নবাচক বিশেষ্যসমূহের বাক্যতাত্ত্বিক অবস্থান (إعراب) সংক্রান্ত আলোচনায় স্পষ্টভাবে তার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: অধিকতর সঠিক (أصح) মত হলো, বিধেয় (خبر) হচ্ছে শর্তবাচক ক্রিয়া (فعل الشرط), উত্তরবাচক ক্রিয়া নয়। এখানে তিনি শর্তবাচক ক্রিয়ার বাক্যটিকে বুঝিয়েছেন।

তিনি ‘মুগনি’র ৬০৮ পৃষ্ঠায় একটি স্বতন্ত্র সতর্কবার্তায় বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন: যখন কোনো শর্তবাচক বিশেষ্য (اسم الشرط) উদ্দেশ্য (مبتدأ) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তার বিধেয় (خبر) কি কেবল শর্তবাচক ক্রিয়া (فعل الشرط)? কারণ এটি একটি পূর্ণ বিশেষ্য এবং শর্তবাচক ক্রিয়াটি তার সর্বনামকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং আপনার কথা ‘মান ইয়াকুম’ (যে দাঁড়াবে) এর মধ্যে যদি শর্তের অর্থ না থাকত, তবে তা ‘মানুষদের প্রত্যেকে দাঁড়ায়’ কথাটির সমপর্যায়ের হতো। অথবা তার বিধেয় কি উত্তরবাচক ক্রিয়া? কারণ এর মাধ্যমেই বাক্য পূর্ণতা পায় এবং অধিকতর সঠিক (أصح) মতানুসারে সেখান থেকে একটি সর্বনামের প্রত্যাবর্তন আবশ্যক। আর যেহেতু এটি ‘যে আমার কাছে আসবে সে এক দিরহাম পাবে’ বাক্যের বিধেয় (خبر) এর সদৃশ। অথবা তার বিধেয় কি এই দুটির সমষ্টি? কেননা আপনার উক্তি ‘যে দাঁড়াবে আমি তার সাথে দাঁড়াব’ কথাটি ‘মানুষদের মধ্য থেকে যে দাঁড়াবে, আমি তার সাথে দাঁড়াব’ কথাটির সমপর্যায়ের। এক্ষেত্রে প্রথম মতটিই সঠিক (صحيح)। বাক্য পূর্ণ হওয়া উত্তরের ওপর কেবল সংশ্লিষ্টতার দিক থেকে নির্ভরশীল, বিধেয় (خبر) হওয়ার দিক থেকে নয়।

তিনি ‘আল-মাবাহিথ আল-মারদিয়্যাহ’র ৩৫ পৃষ্ঠায় যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে সেদিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: সঠিক (صحيح) মত হলো শর্তবাচক বিশেষ্যের বিধেয় (خبر) হলো শর্ত বাক্য (جملة الشرط), উত্তর বাক্য (جملة الجواب) নয়। যারা গভীরভাবে চিন্তা করেন না তারা এটি নাকচ করার দিকে ধাবিত হন এই যুক্তিতে যে, বাক্যটি তো উত্তর বা জাওয়াব প্রদানের মাধ্যমেই পূর্ণ হয়। এই বিভ্রমের উত্তর হলো, বাক্য পূর্ণ হওয়া কেবল সংশ্লিষ্টতার দিক থেকে উত্তরের ওপর নির্ভর করে, বিধেয় (خبر) হওয়ার দিক থেকে নয়। কারণ ‘মান’ (من) একটি বিশেষ্য...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
للشَّخْص الْعَاقِل وضمنت معنى الشَّرْط كَمَا قدمنَا فَإِذا قيل من يقم أقِم مَعَه كَانَ من يقم مَعَ قطع النّظر عَمَّا ضمنته من من معنى الشَّرْط بِمَنْزِلَة قَوْلك شخص عَاقل يقوم وَهَذَا لَا شكّ فِي تَمَامه فَلَمَّا ضمن معنى الشَّرْط توقف مَعْنَاهُ على ذَلِك الْجَواب فَمن هُنَا جَاءَ النَّقْص لَا من جِهَة الْمَعْنى الإسنادي

ويوضح أَنا نعلم أَن الْكَلَام يتألف من الْمسند والمسند إِلَيْهِ فَإِذا قيل قَامَ زيد كَانَ مُشْتَمِلًا على الْمسند والمسند إِلَيْهِ جَمِيعًا وَكَذَلِكَ يشْهد لما تقدم ذكره من أَن الْخَبَر هُوَ فعل الشَّرْط لَا فعل الْجَواب وَلَا تفْتَقر صِحَة الْكَلَام إِلَى ضمير يرجع من الْجَواب إِلَى الشَّرْط الحَدِيث الَّذِي أخرجه الإِمَام أَحْمد من ملك ذَا رحم محرم فَهُوَ حر فَإِن الضَّمِير من قَوْله هُوَ حر إِنَّمَا يعود على الْمَمْلُوك لَا إِلَى من الْوَاقِعَة على الْمَالِك

رَأْي السُّيُوطِيّ 911 هـ

ذكر السُّيُوطِيّ مَسْأَلَة فِي إِعْرَاب أَسمَاء الشَّرْط وَأَسْمَاء الِاسْتِفْهَام فِي كِتَابه همع الهوامع 2 / 64 قَالَ فِيهَا إِن اسْم الشَّرْط من فِي نَحْو من يقم أقِم مَعَه مُبْتَدأ خَبره فعل الشَّرْط وَفِيه ضميرها وَقيل هُوَ وَالْجَوَاب مَعًا لِأَن الْكَلَام لَا يتم إِلَّا بِالْجَوَابِ فَكَانَ دَاخِلا فِي الْخَبَر ورد بِأَنَّهُ أَجْنَبِي من الْمُبْتَدَأ

رَأْي الصبان 1209 هـ

قَالَ الصبان فِي حَاشِيَته على شرح الأشموني لألفية ابْن مَالك 3 / 50 إِن وَقع بعد اسْم الشَّرْط فعل لَازم نَحْو من يقم أقِم مَعَه فَهُوَ مُبْتَدأ خَبره فعل الشَّرْط لِأَن قَوْلك من يقم لَو خلا عَن معنى الشَّرْط بِمَنْزِلَة قَوْلك كل من النَّاس يقوم ثمَّ قَالَ وَقيل هُوَ وَالْجَوَاب لِأَن الْكَلَام لَا يتم إِلَّا بِالْجَوَابِ فَكَانَ دَاخِلا فِي الْخَبَر وَقيل الْجَواب لِأَن

বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য এবং এটি শর্তের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। সুতরাং যখন বলা হয় 'যে দাঁড়াবে আমি তার সাথে দাঁড়াবো', তখন 'যে দাঁড়াবে' অংশটি—এর অন্তর্ভুক্ত শর্তের অর্থের বিবেচনা বাদ দিলে—আপনার এই উক্তির সমতুল্য হয় যে, 'একজন বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তি দাঁড়ায়'। আর এর পূর্ণতা সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যখন এটি শর্তের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করল, তখন এর অর্থ সেই জাওয়াব বা জবাবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ল। অতএব, অসম্পূর্ণতা এখান থেকেই এসেছে, অন্বয়মূলক (الإسنادي) অর্থের দিক থেকে নয়।

বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যে, আমরা জানি বাক্য বিধেয় (مسند) ও উদ্দেশ্য (مسند إليه) দ্বারা গঠিত হয়। সুতরাং যখন বলা হয় 'যায়েদ দাঁড়িয়েছে', তখন এটি বিধেয় (مسند) ও উদ্দেশ্য (مسند إليه) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। একইভাবে ইতিপূর্বে যা আলোচিত হয়েছে যে—খবর (বিধেয়) হলো শর্তের ক্রিয়া, জাওয়াবের ক্রিয়া নয়, এবং বাক্যের শুদ্ধতার জন্য জাওয়াব থেকে শর্তের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী কোনো সর্বনামের প্রয়োজন নেই—তার সাক্ষ্য দেয় সেই হাদিস যা ইমাম আহমদ বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো নিকটাত্মীয় মাহরামের মালিক হবে, সে স্বাধীন হয়ে যাবে।" এখানে 'সে স্বাধীন' বাক্যাংশের সর্বনামটি কেবল দাসের দিকে ফিরেছে, মালিকের ওপর প্রযোজ্য 'যে' (من) শব্দের দিকে নয়।

আল-সুয়ূতী (৯১১ হি.)-এর অভিমত

আল-সুয়ূতী তাঁর 'হামউল হাওয়াামি' (২/৬৪) গ্রন্থে শর্তবাচক বিশেষ্য ও প্রশ্নবোধক বিশেষ্যের ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ (إعراب) সংক্রান্ত একটি মাসআলা উল্লেখ করেছেন। তিনি সেখানে বলেছেন, 'যে দাঁড়াবে আমি তার সাথে দাঁড়াবো' এর ন্যায় বাক্যে শর্তবাচক বিশেষ্য 'মান' (من) হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য), যার খবর (বিধেয়) হলো শর্তের ক্রিয়া এবং এতে সেই মুবতাদার সর্বনাম রয়েছে। আবার বলা হয়েছে, খবর হলো শর্ত ও জাওয়াব উভয়টি মিলে; কারণ জাওয়াব ব্যতীত বাক্য পূর্ণ হয় না, ফলে তা খবরের অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে এই মতটি এই যুক্তিতে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে যে, জাওয়াব হলো মুবতাদার জন্য একটি ভিন্ন বা অসম্পর্কিত বিষয়।

আস-সাব্বান (১২০৯ হি.)-এর অভিমত

আস-সাব্বান ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ-র আশমুনি শরহ-এর ওপর তাঁর হাশিয়া-তে (৩/৫০) বলেছেন: যদি শর্তবাচক বিশেষ্যের পরে কোনো অকর্মক (لازم) ক্রিয়া আসে, যেমন: 'যে দাঁড়াবে আমি তার সাথে দাঁড়াবো', তবে সেটি মুবতাদা এবং এর খবর হলো শর্তের ক্রিয়াটি। কারণ আপনার উক্তি 'যে দাঁড়াবে', যদি তা শর্তের অর্থ থেকে মুক্ত হয়, তবে তা 'মানুষের মধ্যে প্রত্যেকে দাঁড়ায়' উক্তির সমতুল্য। অতঃপর তিনি বলেন: বলা হয়েছে যে, খবর হলো শর্ত ও জাওয়াব উভয়টি, কারণ জাওয়াব ব্যতীত বাক্য পূর্ণ হয় না, তাই এটি খবরের অন্তর্ভুক্ত। আবার বলা হয়েছে, খবর হলো জাওয়াব, কারণ...

(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
الْفَائِدَة بِهِ تمت ورد بِأَنَّهُ أَجْنَبِي من الْخَبَر وَفِيه نظر وَبِأَن توقف الْفَائِدَة عَلَيْهِ من حَيْثُ التَّعْلِيق لَا من حَيْثُ الخبرية

رَأْي الخضري 1287 هـ

قَالَ الخضري فِي حَاشِيَته على شرح ابْن عقيل للألفية 2 / 121 إِن جَوَاب الشَّرْط إِن كَانَ مضارعا أَو مَاضِيا خَالِيا عَن الْفَاء فالفعل نَفسه مجزوم لفظا أَو محلا وَلَا مَحل لجملته كجملة الشَّرْط لأخذ الْجَازِم مُقْتَضَاهُ فَلَا يتسلط على مَحل الْجُمْلَة وَإِن كَانَ غير ذَلِك مِمَّا يقْتَرن بِالْفَاءِ اَوْ إِذا الفجائية فمجموع الْجُمْلَة مَعَ الْفَاء أَو إِذا فِي مَحل جزم لِأَنَّهُ لَو وَقع موقعه فعل يقبل الْجَزْم لجزم فَلَا يتسلط الْجَازِم على أَجزَاء الْجُمْلَة هَذَا مَا فِي الْمُغنِي والكشاف وَقَالَ الدماميني وَأقرهُ الشمني الْحق أَن جملَة الْجَواب لَا مَحل لَهَا مُطلقًا إِذْ كل جملَة لَا تقع موقع الْمُفْرد لَا مَحل لَهَا وَلَا يُقَال إِنَّهَا وَاقعَة موقع الْمُفْرد وَهُوَ الْفِعْل الْقَابِل للجزم لِأَنَّهَا لم تقع موقعه وَحده بل مَعَ فَاعله الَّذِي يتم الْكَلَام بِهِ كَمَا يتم بِهَذِهِ الْجُمْلَة فَتَأمل فعلى الأول لَو كَانَ اسْم الشَّرْط مُبْتَدأ كَانَت جملَة الْجَواب فِي نَحْو من يقم فَإِنِّي أكْرمه فِي مَحل جزم وَرفع باعتباري الشَّرْط والخبرية بِنَاء على أَن الْجَواب هُوَ الْخَبَر وعَلى الثَّانِي مَحل الخبرية فَقَط كهي كَذَا فِي نَحْو من يقم أكْرمه اتِّفَاقًا لظُهُور أثر الشَّرْط فِي الْفِعْل

ثمَّ قَالَ فَإِن كَانَ فعل الشَّرْط لَازِما نَحْو من يقم اضربه فَهِيَ مُبْتَدأ وَكَذَا إِن كَانَ مُتَعَدِّيا وَاقعا على أَجْنَبِي مِنْهَا نَحْو من يعْمل سوءا يجز بِهِ وَخَبره إِمَّا جملَة الشَّرْط أَو الْجَواب أَو هما مَعًا أَقْوَال

رَأْي الغلاييني 1364 هـ

قَالَ الغلاييني فِي كِتَابه جَامع الدُّرُوس الْعَرَبيَّة 2 / 209
উপকারিতা এর মাধ্যমেই পূর্ণ হয়। আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে যে, এটি সংবাদ (خبر) থেকে বিযুক্ত বিষয় এবং এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। বলা হয়েছে যে, উপকারিতা এর ওপর নির্ভর করাটা শর্তযুক্ত হওয়ার দিক থেকে, সংবাদমূলক (خبرية) হওয়ার দিক থেকে নয়।

আল-খুদরির মতামত ১২৮৭ হিজরি

আল-খুদরি আলফিয়্যাহ-র ওপর ইবনে আকীলের শরহ-এর টীকা বা হাশিয়াতে (২/১২১) বলেছেন যে, শর্তের উত্তর যদি মুদারি (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল) অথবা ‘ফা’ বিহীন মাদি (অতীতকাল) হয়, তবে ক্রিয়াটি নিজেই শব্দগতভাবে বা স্থানগতভাবে মাজজুম (জযমপ্রাপ্ত) হবে এবং এর বাক্যের কোনো ব্যাকরণিক স্থান থাকবে না, যেমনটা শর্তের বাক্যের ক্ষেত্রে হয়; কারণ জযম প্রদানকারী আমিল তার চাহিদা পূর্ণ করে নিয়েছে। ফলে তা পুরো বাক্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করে না। আর যদি তা এমন কিছু হয় যা ‘ফা’ অথবা ‘ইযা আল-ফুজা ইয়্যাহ’ এর সাথে যুক্ত হয়, তবে পুরো বাক্যটি ‘ফা’ অথবা ‘ইযা’ সহ জযম-এর স্থলাভিষিক্ত হবে। কারণ, যদি এর স্থলে জযম গ্রহণকারী কোনো ক্রিয়া বসানো হতো, তবে তা মাজজুম হতো। ফলে জযম প্রদানকারী আমিল বাক্যের অংশসমূহের ওপর প্রভাব বিস্তার করে না। এটিই মুগনি এবং কাশশাফ কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। আদ-দামামিনি বলেছেন এবং আশ-শুমনিও তাকে সমর্থন করেছেন যে, সঠিক মত হলো—শর্তের উত্তরসূচক বাক্যের কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই নিরঙ্কুশভাবে। কারণ যে বাক্য একক শব্দের স্থলাভিষিক্ত হয় না, তার কোনো স্থান থাকে না। এমনটা বলা যাবে না যে, এটি জযম গ্রহণকারী একক ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে; কারণ এটি কেবল তার স্থলে বসেনি, বরং তার ফায়িল বা কর্তার সাথে মিলে বসেছে যার মাধ্যমে বাক্য পূর্ণ হয়। বিষয়টি অনুধাবন করুন। সুতরাং প্রথম মতানুযায়ী, যদি শর্তের বিশেষ্যটি মুবতাদা হয়, তবে ‘মান ইয়াকুম ফাউন্নি উকরিমুহু’ এর মতো বাক্যে উত্তরসূচক বাক্যটি জযম এবং রাফা—উভয় স্থলাভিষিক্ত হবে; শর্ত এবং সংবাদ (خبر) হিসেবে গণ্য হওয়ার ভিত্তিতে। কারণ এই উত্তরই হলো সংবাদ (خبر)। আর দ্বিতীয় মতানুযায়ী, এটি কেবল সংবাদ (خبر) এর স্থলাভিষিক্ত হবে। যেমনটি ‘মান ইয়াকুম উকরিমহু’ বাক্যের ক্ষেত্রে সর্বসম্মতভাবে হয়ে থাকে, যেহেতু ক্রিয়ার ওপর শর্তের প্রভাব সুস্পষ্ট।

অতঃপর তিনি বলেন, যদি শর্তের ক্রিয়াটি অকর্মক হয়, যেমন: ‘মান ইয়াকুম আদরিবিহু’, তবে তা মুবতাদা হবে। তদ্রূপ যদি তা সকর্মক হয় এবং বাক্যের বাইরের কোনো বিষয়ের ওপর আপতিত হয়, যেমন: ‘মান ইয়ামাল সুআন ইউজযা বিহি’, তখন এর সংবাদ (خبر) হবে হয় শর্তের বাক্যটি, অথবা উত্তরের বাক্যটি, অথবা উভয়টি একত্রে—এ বিষয়ে একাধিক মত রয়েছে।

আল-গালায়িনির মতামত ১৩৬৪ হিজরি

আল-গালায়িনি তাঁর জামে উদ-দুরুস আল-আরাবিয়্যাহ কিতাবে (২/২০৯) বলেছেন
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَمن وَمَا وَمهما إِن كَانَ فعل الشَّرْط يطْلب مَفْعُولا بِهِ فَهِيَ مَنْصُوبَة محلا على أَنَّهَا مفعول بِهِ لَهُ وَإِن كَانَ لَازِما أَو مُتَعَدِّيا استوفى مَفْعُوله فَهِيَ مَرْفُوعَة محلا على أَنَّهَا مُبْتَدأ وَجُمْلَة الشَّرْط خَبره نَحْو مَا يجىء بِهِ الْقدر فَلَا مفر مِنْهُ

رَأْي مُحَمَّد مُحي الدّين عبد الحميد 1393 هـ

قَالَ فِي هِدَايَة السالك إِلَى تَحْقِيق أوضح المسالك فِي إعرابه للشَّاهِد 255 وَهُوَ

من أمكُم لرغبة فِيكُم جبر … وَمن تَكُونُوا ناصريه ينتصر

من اسْم شَرط جازم يجْزم فعلين وَهُوَ مُبْتَدأ مَبْنِيّ على السّكُون فِي مَحل رفع وجملتا الشَّرْط وَالْجَوَاب فِي العبارتين فِي مَحل رفع خبر الْمُبْتَدَأ الَّذِي هُوَ اسْم الشَّرْط فِي كل وَاحِدَة مِنْهُمَا

وَكَذَلِكَ قَالَ فِي إِعْرَاب الشَّاهِد 475 وَهُوَ

من تثقفن مِنْهُم فَلَيْسَ بآيب

وَجُمْلَة الشَّرْط وَجَوَابه فِي مَحل رفع خبر الْمُبْتَدَأ الَّذِي هُوَ اسْم الشَّرْط

رَأْي عَبَّاس حسن

قَالَ عَبَّاس حسن فِي كِتَابه النَّحْو الوافي 4 / 418 أما الْجُمْلَة الشّرطِيَّة كَامِلَة فَلَا مَحل لَهَا من الْإِعْرَاب إِلَّا فِي حالتين الأولى أَن تكون أَدَاة الشَّرْط هِيَ إِذا الثَّانِيَة أَن تكون أَدَاة الشَّرْط هِيَ الْمُبْتَدَأ وَالْجُمْلَة الشّرطِيَّة هِيَ الْخَبَر عِنْد من يَجْعَلهَا خَبرا وَهُوَ الْأَرْجَح وتابع قَوْله فِي الْحَاشِيَة وَتَكون من نوع الْخَبَر الَّذِي لَا يتمم الْمَعْنى بِنَفسِهِ مُبَاشرَة مَعَ الْمُبْتَدَأ وَإِنَّمَا يتممه بمساعدة شَيْء آخر يتَّصل بِهِ وَالْجُمْلَة الشّرطِيَّة لَا تتممه إِلَّا بملاحظة الْجُمْلَة الجوابية المترتبة عَلَيْهَا
‘মান’, ‘মা’ এবং ‘মাহমা’-র ক্ষেত্রে যদি শর্তের ক্রিয়াটি কোনো কর্মপদ দাবি করে, তবে সেগুলো উক্ত ক্রিয়ার কর্মপদ হিসেবে স্থলাভিষিক্ত নসব বা নসবের স্থানে গণ্য হবে। আর যদি ক্রিয়াটি অকর্মক হয় অথবা এমন সকর্মক হয় যা তার কর্মপদ পূর্ণভাবে গ্রহণ করেছে, তবে সেগুলো মুবতাদা হিসেবে রাফ-এর স্থানে গণ্য হবে এবং শর্তের বাক্যটি তার খবর হিসেবে বিবেচিত হবে। যেমন: ‘তকদিরে যা অবধারিত তা আসবেই, তা থেকে পলায়নের কোনো পথ নেই’।

মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদের (১৩৯৩ হিজরি) অভিমত

তিনি ‘হিদায়াতুস সালিক ইলা তাহকীক আওদাহুল মাসালিক’ গ্রন্থে ২৫৫ নম্বর কাব্য-প্রমাণের বিশ্লেষণে বলেছেন:

যে ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো আগ্রহ নিয়ে আসে তাকে অভাবমুক্ত করা হয়... আর তোমরা যার সাহায্যকারী হও সে বিজয়ী হয়।

এখানে ‘মান’ একটি যজম প্রদানকারী শর্তবাচক বিশেষ্য যা দুটি ক্রিয়াকে যজম প্রদান করে। এটি সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং রাফ-এর স্থলে মুবতাদা হিসেবে অবস্থিত। আর উভয় বাক্যাংশের ক্ষেত্রে শর্ত ও উত্তরের বাক্যটি প্রতিটি ক্ষেত্রে মুবতাদার খবর হিসেবে রাফ-এর স্থলে গণ্য হবে।

অনুরূপভাবে তিনি ৪৭৫ নম্বর কাব্য-প্রমাণের বিশ্লেষণে বলেছেন:

তাদের মধ্য থেকে যাকে তুমি পাবে, সে আর ফিরে আসবে না।

এখানে শর্ত ও উত্তরের বাক্যটি মুবতাদা বা শর্তবাচক বিশেষ্যটির খবর হিসেবে রাফ-এর স্থলে অবস্থিত।

আব্বাস হাসানের অভিমত

আব্বাস হাসান তাঁর ‘আন-নাহবুল ওয়াফি’ গ্রন্থে (৪/৪১৮) বলেন: পূর্ণাঙ্গ শর্তযুক্ত বাক্যটির ব্যাকরণগত কোনো স্থান নেই, কেবল দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত। প্রথমত: যখন শর্তের অব্যয়টি ‘ইযা’ হয়। দ্বিতীয়ত: যখন শর্তের অব্যয়টি মুবতাদা হয় এবং শর্তযুক্ত বাক্যটি তার খবর হিসেবে গণ্য হয়—যাদের মতে এটি খবর হওয়া অধিকতর গ্রহণযোগ্য। তিনি টীকায় আরও বলেন: এটি এমন এক ধরনের খবর যা মুবতাদার সাথে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করে না, বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য কিছুর সহায়তায় অর্থ পূর্ণ করে। আর শর্তযুক্ত বাক্যটি তার ওপর নির্ভরশীল উত্তরসূচক বাক্যের উপস্থিতি ছাড়া অর্থ পূর্ণ করতে পারে না।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
رَأْي سعيد الأفغاني

قَالَ فِي كِتَابه مذكرات فِي قَوَاعِد اللُّغَة الْعَرَبيَّة ص 43 وَهُوَ يتحدث عَن من مَا مهما وتعرب مَفْعُولا بهَا إِن كَانَ فعل الشَّرْط مُتَعَدِّيا لم يسْتَوْف مفعولاته وَإِلَّا أعربت مُبْتَدأ خَبره جملَة جَوَاب الشَّرْط

وَقَالَ فِي الْحَاشِيَة جُمْهُور النُّحَاة على غير هَذَا فأكثرهم يَجْعَل جملَة فعل الشَّرْط هِيَ الْخَبَر وَبَعْضهمْ يَجْعَل الشَّرْط وجزاءه هُوَ الْخَبَر لَكِن الْمَعْنى وَهُوَ الْمُحكم فِي كل خلاف ينصر مَا أَثْبَتْنَاهُ لِأَنَّك إِذا حولت صِيغَة الْجُمْلَة الشّرطِيَّة من يُسَافر يبتهج إِلَى جملَة اسمية قلت الْمُسَافِر مبتهج وَمَا اسْم الشَّرْط هُنَا إِلَّا اسْم مَوْصُول أضيف إِلَيْهِ معنى الشَّرْط ففك صلته بِفِعْلِهِ لفظا لَا معنى 3 - خُلَاصَة ومناقشة

خُلَاصَة مَا يتَحَصَّل مِمَّا عرضناه من أَقْوَال النُّحَاة وَمِمَّا لم نعرضه من أَقْوَال مشابهة أَنه إِذا وَقع اسْم الشَّرْط مُبْتَدأ فَفِي خَبره عِنْدهم ثَلَاثَة آراء

أَحدهَا أَن جملتي الشَّرْط وَالْجَوَاب مَعًا هما الْخَبَر

ثَانِيهَا أَن جملَة الْجَواب هِيَ الْخَبَر

ثَالِثهَا أَن جملَة الشَّرْط هِيَ الْخَبَر

وَلَا شكّ أَن لكل من هَذِه الآراء حجَّته وَدَلِيله وَنحن لن نبادر إِلَى مناقشة هَذِه الآراء لأننا لن نصل فِي موضوعها إِلَى رَأْي وَاضح نجزم بِهِ إِلَّا إِذا عرفنَا سَبَب الْخلاف الَّذِي أدّى بهم إِلَى تبَاين الآراء وَاخْتِلَاف النتائج

وَسبب الْخلاف فِيمَا نرى هُوَ اخْتِلَاف منطلقاتهم وتباين آرائهم
সাঈদ আল-আফগানীর অভিমত

তিনি তাঁর ‘মুজাক্কিরাত ফি কাওয়াইদিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ’ (পৃষ্ঠা ৪৩) গ্রন্থে ‘মান’, ‘মা’ ও ‘মাহমা’ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, শর্তসূচক ক্রিয়া যদি সকর্মক হয় এবং তা তার কর্মকে গ্রহণ না করে থাকে, তবে এগুলি ‘মাফউলে বিহি’ হিসেবে গণ্য হবে। অন্যথায় এগুলি ‘মুবতাদা’ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ‘খবর’ হবে শর্তের উত্তরসূচক বাক্যটি।

তিনি টীকায় বলেন: অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মত এর পরিপন্থী। তাঁদের অধিকাংশ শর্তসূচক ক্রিয়ার বাক্যটিকেই ‘খবর’ হিসেবে গণ্য করেন। আবার তাঁদের কেউ কেউ শর্ত এবং তার প্রতিদান—উভয়কে সম্মিলিতভাবে খবর গণ্য করেন। কিন্তু অর্থ—যা প্রতিটি মতভেদের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী—আমরা যা সাব্যস্ত করেছি তাকেই সমর্থন করে। কারণ, আপনি যদি শর্তযুক্ত বাক্যের গঠনকে ‘যে সফর করবে সে আনন্দিত হবে’ থেকে বিশেষ্যমূলক বাক্যে রূপান্তর করেন, তবে বলবেন ‘সফরকারী আনন্দিত’। এখানে শর্তসূচক বিশেষ্যটি মূলত একটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য ছাড়া আর কিছুই নয়, যার সাথে শর্তের অর্থ যুক্ত হয়েছে; ফলে শাব্দিক বিচারে এটি তার ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধ ছিন্ন করেছে, কিন্তু অর্থের বিচারে নয়। ৩ - সারসংক্ষেপ ও আলোচনা।

ব্যাকরণবিদদের উপস্থাপিত এবং অনুল্লিখিত সমজাতীয় অভিমতসমূহের সারকথা হলো: যদি শর্তসূচক বিশেষ্যটি ‘মুবতাদা’ হিসেবে গণ্য হয়, তবে এর ‘খবর’ সম্পর্কে তাঁদের নিকট তিনটি অভিমত রয়েছে।

প্রথমত: শর্ত এবং উত্তর—উভয় বাক্যই সম্মিলিতভাবে খবর।

দ্বিতীয়ত: উত্তরসূচক বাক্যটিই হলো খবর।

তৃতীয়ত: শর্তসূচক বাক্যটিই হলো খবর।

নিঃসন্দেহে এই প্রতিটি মতের সপক্ষে নিজস্ব যুক্তি ও প্রমাণ রয়েছে। আমরা এখনই এই মতগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাব না; কারণ এই বিষয়ে আমরা কোনো সুনিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব না, যতক্ষণ না আমরা সেই মতভেদের কারণ জানতে পারছি যা তাঁদেরকে বিভিন্ন অভিমত এবং ভিন্ন ভিন্ন ফলাফলের দিকে ধাবিত করেছে।

আমাদের দৃষ্টিতে এই মতভেদের কারণ হলো তাঁদের প্রারম্ভিক দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা এবং চিন্তাধারার বৈচিত্র্য।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
فِي تَحْدِيد معنى الْجُمْلَة فهم لم يحددوا مفهومها وَلم يتفقوا عَلَيْهِ وهم لَو فعلوا لزال الْخلاف فِيمَا بَينهم ولقاربوا الْإِجْمَاع أَو مَا يُشبههُ

لقد كَانَت دراسة الْجُمْلَة موزعة بَين علمي النَّحْو والمعاني وَكَانَ جلّ انصراف النَّحْوِيين إِلَى الْمُفْردَات وأحكامها والحروف ومعانيها والعوامل وَمَا يَتَرَتَّب عَلَيْهَا وَأما الْجُمْلَة فَلم يمسوها إِلَّا مسا رَفِيقًا وَمن نَاحيَة إعرابها وتأويلها بالمفرد أَو عَدمه وهم لَو درسوا الْجُمْلَة بالتفصيل الَّذِي بسطوه فِي دراسة الْمُفْردَات لَكَانَ للدراسة اللُّغَوِيَّة والنحوية من بحوثهم خير كثير

لقد كَانَ من النَّحْوِيين من نظر إِلَى الْكَلَام وَالْجُمْلَة على أَنَّهُمَا مُتَرَادِفَانِ وَقد صرح الزَّمَخْشَرِيّ بذلك فِي كِتَابه الْمفصل فَقَالَ وَالْكَلَام هُوَ الْمركب من كَلِمَتَيْنِ أسندت إِحْدَاهمَا إِلَى الْأُخْرَى وَيُسمى الْجُمْلَة

وعلق ابْن يعِيش فِي شَرحه للمفصل على كَلَام الزَّمَخْشَرِيّ فَقَالَ إِنَّه يُرِيد الْكَلَام الَّذِي تَنْعَقِد بِهِ الْفَائِدَة ثمَّ رَاح يفرق بَين الْكَلَام وَالْقَوْل والكلم وَالْجَوَاب وَقَالَ إِن الْكَلَام هُوَ عبارَة عَن الْجمل المفيدة

وَغير خَافَ أَن جعله الْجُمْلَة بِمَعْنى الْكَلَام وَكَون الْكَلَام عِنْدهم هُوَ الْمُفِيد هُوَ الَّذِي دَفعه وَغَيره إِلَى جعل فعل الشَّرْط وَجَوَابه مَعًا هما خبر اسْم الشَّرْط لِأَن الْمَعْنى لَا يتم إِلَّا بِالْجَوَابِ
বাক্য-এর অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁরা এর ধারণাকে সুনির্দিষ্ট করেননি এবং এ বিষয়ে একমত হতে পারেননি। তাঁরা যদি তা করতেন, তবে তাঁদের মধ্যকার মতপার্থক্য দূরীভূত হতো এবং তাঁরা ঐকমত্য (إجماع) অথবা তার কাছাকাছি পর্যায়ে উপনীত হতে পারতেন।

বাক্যের এই অধ্যয়ন মূলত নাহু ও মাআনি শাস্ত্রের মধ্যে বিভক্ত ছিল। নাহুবিদদের অধিকাংশ মনোযোগ নিবদ্ধ ছিল একক শব্দ ও তার বিধানাবলি, বর্ণ ও তার অর্থ এবং আমেল ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদির প্রতি। আর বাক্যের বিষয়টি তাঁরা অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে কেবল এর কারক বিশ্লেষণ এবং একে একক শব্দের স্থলাভিষিক্ত করা বা না করার দিক থেকে আলোচনা করেছেন। তাঁরা যদি একক শব্দ নিয়ে যে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, তেমনটি বাক্যের ক্ষেত্রেও করতেন, তবে তাঁদের গবেষণার মাধ্যমে ভাষাতাত্ত্বিক ও ব্যাকরণিক অধ্যয়নে প্রভূত কল্যাণ সাধিত হতো।

নাহুবিদদের মধ্যে এমন কেউ কেউ ছিলেন যাঁরা 'কালাম' ও 'জুমলা'-কে সমার্থক মনে করতেন। যামাখশারি তাঁর আল-মুফাসসাল গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: কালাম হলো দুই শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এমন রূপ, যেখানে একটিকে অন্যটির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় এবং একে জুমলা বলা হয়।

ইবনে ইয়াইশ আল-মুফাসসাল-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে যামাখশারির বক্তব্যের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন যে, তিনি এমন 'কালাম' বুঝিয়েছেন যার মাধ্যমে পূর্ণ অর্থ বা ফায়দা অর্জিত হয়। অতঃপর তিনি কালাম, কওল, কালিম ও জওয়াবের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেন এবং বলেন যে, কালাম হলো অর্থবোধক বাক্যসমূহের সমষ্টি।

এটি অস্পষ্ট নয় যে, জুমলাকে কালামের সমার্থক করা এবং তাঁদের নিকট কালাম অর্থবোধক হওয়া—এই বিষয়টিই যামাখশারি ও অন্যদেরকে শর্তবাচক ক্রিয়া ও তার উত্তরকে একত্রে শর্তবাচক বিশেষ্যের খবর হিসেবে গণ্য করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। কারণ, উত্তর ব্যতীত বাক্যের অর্থ পূর্ণতা পায় না।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫০)
وَلَكِن كثيرين من النُّحَاة لَا يرَوْنَ هَذَا الرَّأْي بل يفرقون بَين الْكَلَام وَالْجُمْلَة فَالْكَلَام هُوَ مَا تتمّ بِهِ الْفَائِدَة وَقد صرح بذلك ابْن مَالك فَقَالَ فِي ألفيته

كلامنا لفظ مُفِيد كاستقم

يَعْنِي بقوله كلامنا الْكَلَام عِنْد معاشر النَّحْوِيين وَإِلَى ذَلِك أَشَارَ ابْن عقيل عِنْد شَرحه بَيت ابْن مَالك فَقَالَ إِن ابْن مَالك قَالَ كلامنا لِأَن الْكَلَام عِنْد اللغويين هُوَ اسْم لكل مَا يتَكَلَّم بِهِ مُفِيدا كَانَ أَو غير مُفِيد وَبِذَلِك بَين ابْن مَالك وَابْن عقيل الْفرق بَين مَفْهُوم الْكَلَام عِنْد كل من النَّحْوِيين واللغويين وأوضحا أَن الْكَلَام فِي مصطلح النَّحْوِيين هُوَ الْمُفِيد

ويؤكد ذَلِك مَا نَقله الزبيدِيّ فِي تَاج الْعَرُوس كلم عَن شَيْخه من أَن الْكَلَام يُطلق على اللَّفْظ الْمركب أَفَادَ أم لَا مجَازًا على مَا صرح بِهِ سِيبَوَيْهٍ فِي مَوَاضِع من كِتَابه من أَنه لَا يُطلق حَقِيقَة إِلَّا على الْجمل المفيدة وَهُوَ مَذْهَب ابْن جني

وَأما الْجُمْلَة عِنْد جُمْهُور النُّحَاة فتعبير صناعي أَو مصطلح نحوي لعلاقة إسنادية بَين اسْمَيْنِ أَو اسْم وَفعل تمت الْفَائِدَة بهَا أم لم تتمّ وَلذَلِك فَهِيَ أَعم من الْكَلَام وَالْكَلَام أخص مِنْهَا قَالَ ابْن هِشَام الْكَلَام فِي اصْطِلَاح النَّحْوِيين عبارَة عَمَّا اجْتمع فِيهِ أَمْرَانِ اللَّفْظ والإفادة وَالْمرَاد بالمفيد مَا دلّ على معنى يحسن السُّكُوت عَلَيْهِ وَفصل ابْن هِشَام ذَلِك فِي الْجُزْء الثَّانِي من كِتَابه مُغنِي اللبيب فِي بَاب عقده للجملة عنوانه شرح الْجُمْلَة وَبَيَان أَن الْكَلَام أخص مِنْهَا لَا
কিন্তু বহু ব্যাকরণবিদ এই মত পোষণ করেন না, বরং তাঁরা কালাম এবং জুমলার মধ্যে পার্থক্য করেন। কালাম হলো তা-ই যার মাধ্যমে অর্থগত পূর্ণ উপযোগিতা অর্জিত হয়। ইবনে মালিক তাঁর আলফিয়্যাহ গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছেন:

আমাদের কালাম হলো এমন অর্থবোধক শব্দ যা ‘ইস্তাকিম’ (সোজা হয়ে দাঁড়াও)-এর মতো

তিনি ‘আমাদের কালাম’ বলতে ব্যাকরণবিদগণের নিকট কালামের যে সংজ্ঞা, তাকেই বুঝিয়েছেন। ইবনে আকিল ইবনে মালিকের পঙক্তিটি ব্যাখ্যা করার সময় এ দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেছেন যে, ইবনে মালিক ‘আমাদের কালাম’ বলেছেন কারণ ভাষাবিদগণের নিকট কালাম হলো এমন প্রতিটি বিষয়ের নাম যা উচ্চারিত হয়, চাই তা অর্থবোধক হোক বা না হোক। এর মাধ্যমে ইবনে মালিক এবং ইবনে আকিল ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদ—উভয় পক্ষের নিকট কালামের সংজ্ঞার মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন এবং তাঁরা ব্যাখ্যা করেছেন যে, ব্যাকরণবিদগণের পরিভাষায় কালাম হলো কেবল অর্থবোধক বাক্য।

এর সমর্থনে আয-যাবیدی ‘তাজুল আরুস’ গ্রন্থের ‘কাল্লামা’ (كلم) মূল ধাতুাধীনে তাঁর শাইখ থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, কালাম শব্দটি যৌগিক শব্দের ক্ষেত্রে রূপকভাবে ব্যবহৃত হয়, চাই তা অর্থ প্রদান করুক বা না করুক; যেমনটি সিবওয়াইহি তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, প্রকৃতার্থে কালাম কেবল অর্থবোধক জুমলা বা বাক্যের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। আর এটিই ইবনে জিন্নির অভিমত।

অন্যদিকে, অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের নিকট জুমলা হলো একটি যান্ত্রিক অভিব্যক্তি বা ব্যাকরণিক পরিভাষা যা দুটি বিশেষ্য অথবা একটি বিশেষ্য ও একটি ক্রিয়ার মধ্যকার ইসনাদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, চাই তার মাধ্যমে অর্থগত পূর্ণ উপযোগিতা অর্জিত হোক বা না হোক। এ কারণেই জুমলা শব্দটি কালামের চেয়ে ব্যাপক এবং কালাম জুমলার চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট। ইবনে হিশাম বলেন, ব্যাকরণবিদগণের পরিভাষায় কালাম হলো এমন বিষয় যেখানে দুটি বিষয়ের সংমিশ্রণ ঘটে: শব্দ এবং অর্থবোধকতা। আর অর্থবোধক বলতে এমন অর্থকে বোঝানো হয়েছে যার ওপর নীরব থাকা বা থামা সমীচীন হয়। ইবনে হিশাম তাঁর ‘মুগনি আল-লাবিব’ গ্রন্থের দ্বিতীয় খণ্ডে জুমলার জন্য নির্ধারিত একটি অধ্যায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যার শিরোনাম হলো ‘জুমলার ব্যাখ্যা এবং কালাম যে জুমলার চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট তার বর্ণনা’, না।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫১)
مرادف لَهَا قَالَ فِيهِ الْكَلَام هُوَ القَوْل الْمُفِيد بِالْقَصْدِ وَالْمرَاد بالمفيد مَا دلّ على معنى يحسن السُّكُوت عَلَيْهِ وَالْجُمْلَة عبارَة عَن الْفِعْل وفاعله والمبتدأ وَخَبره وَمَا كَانَ بِمَنْزِلَة أَحدهمَا وَبِهَذَا يظْهر لَك أَنَّهُمَا ليسَا مترادفين كَمَا يتَوَهَّم كثير من النَّاس وَهُوَ ظَاهر قَول صَاحب الْمفصل فَإِنَّهُ بعد أَن فرغ من حد الْكَلَام قَالَ وَيُسمى جملَة

وَالصَّوَاب أَنَّهَا أَعم مِنْهُ إِذْ شَرطه الإفادة بِخِلَافِهَا وَلِهَذَا تسمعهم يَقُولُونَ جملَة الشَّرْط جملَة الْجَواب جملَة الصِّلَة وكل ذَلِك لَيْسَ مُفِيدا فَلَيْسَ بِكَلَام

وَالْجُمْلَة لُغَة جمَاعَة الشَّيْء قَالَ الزبيدِيّ فِي تَاج الْعَرُوس جمل وَمِنْه أَخذ النحويون الْجُمْلَة لمركب من كَلِمَتَيْنِ أسندت إِحْدَاهمَا إِلَى الْأُخْرَى

وَقَالَ أَبُو الْبَقَاء فِي الكليات وَالْجُمْلَة أَعم من الْكَلَام على الِاصْطِلَاح الْمَشْهُور وَالْجُمْلَة الْوَاقِعَة خَبرا أَو وَصفا أَو حَالا أَو شرطا أَو صلَة أَو نَحْو ذَلِك هِيَ جملَة وَلَيْسَت بِكَلَام لِأَن إسنادها لَيْسَ مَقْصُودا لذاته

وَمن عدم التَّفْرِيق بَين معنى الْكَلَام عِنْد اللغويين وَمَعْنَاهُ عِنْد النَّحْوِيين يَتَّضِح لنا سَبَب النَّقْد الَّذِي وَجهه الدكتور المَخْزُومِي فِي غير حق لِابْنِ هِشَام
এর সমার্থক শব্দ হিসেবে তিনি তাতে বলেছেন: কালাম হলো এমন অর্থপূর্ণ উক্তি যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আর 'মফিদ' (অর্থপূর্ণ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা এমন অর্থের প্রতি নির্দেশ করে যার ওপর বিরতি প্রদান করা সমীচীন। আর জুমলাহ হলো ক্রিয়া ও তার কর্তা, এবং মুক্তাদা ও তার খবর অথবা যা এই দুইয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়। এর মাধ্যমেই আপনার নিকট স্পষ্ট হলো যে, এই দুটি সমার্থক নয়, যেমনটি অনেক মানুষ ধারণা করে থাকেন। আর এটিই আল-মুফাসসাল গ্রন্থের লেখকের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক; কারণ তিনি কালামের সংজ্ঞা প্রদান শেষ করার পর বলেছেন: এবং একে জুমলাহ বলা হয়।

তবে সঠিক (الصواب) কথা হলো এটি (জুমলাহ) তার (কালাম) চেয়ে অধিক ব্যাপক; কেননা কালামের শর্ত হলো পূর্ণ অর্থ প্রদান করা, যা জুমলার ক্ষেত্রে শর্ত নয়। একারণেই আপনি তাদের বলতে শোনেন: শর্তের জুমলাহ, জাওয়াবের জুমলাহ, সিলাহ এর জুমলাহ; অথচ এগুলোর কোনোটিই স্বতন্ত্রভাবে পূর্ণ অর্থবোধক নয়, তাই এগুলো কালাম নয়।

আভিধানিক অর্থে জুমলাহ হলো কোনো বস্তুর সমষ্টি। যাবিদী তাজুল আরূস গ্রন্থে 'জামাল' শব্দমূলের অধীনে এটি উল্লেখ করেছেন। এখান থেকেই ব্যাকরণবিদগণ দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত রূপকে 'জুমলাহ' হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যেখানে একটিকে অপরটির সাথে সম্বন্ধ (إسناد) করা হয়।

আবু আল-বাকা আল-কুল্লিয়াত গ্রন্থে বলেছেন: প্রসিদ্ধ পরিভাষা (اصطلاح) অনুযায়ী জুমলাহ কালামের চেয়ে ব্যাপক। আর খবর, সিফাত, হাল, শর্ত বা সিলাহ ইত্যাদি হিসেবে ব্যবহৃত বাক্যসমূহ মূলত জুমলাহ, কালাম নয়; কারণ সেগুলোর সম্বন্ধ (إسناد) নিজস্ব সত্তার কারণে উদ্দেশ্যমূলক নয়।

ভাষাবিদদের নিকট কালামের অর্থ এবং ব্যাকরণবিদদের নিকট এর অর্থের মধ্যে পার্থক্যের অভাব থেকেই আমাদের নিকট সেই সমালোচনার কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা ডক্টর মাখজুমী অন্যায়ভাবে ইবনে হিশামের ওপর করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫২)
وَإِذا لم يكن ثمَّة اتِّفَاق على المصطلح كَانَ طبيعيا أَن تخْتَلف النتائج وَلَا يَصح لنا الحكم على آراء النَّحْوِيين فِي تعْيين الْخَبَر مَا دَامَ جملَة مَا لم نَنْظُر إِلَيْهِ فِي ضوء مَا ذَهَبُوا إِلَيْهِ من معنى الْجُمْلَة

وَمن الْوَاضِح فِي ضوء مَا قرروه أَن الْجُمْلَة قد تكون مفيدة فتسمى كلَاما وَقد تكون غير مفيدة فَتكون إِذْ ذَاك عبارَة عَن علاقَة إسنادية بَين كَلِمَتَيْنِ وكل كَلِمَتَيْنِ أسندت إِحْدَاهمَا إِلَى الْأُخْرَى فَإِذا أفادتا معنى يحسن السُّكُوت عَلَيْهِ كَانَتَا جملَة وكلاما وَإِذا لم تفيدا كَانَتَا جملَة فَحسب

وَمِمَّا يجب التَّنْبِيه عَلَيْهِ فِي هَذَا المجال أَن كثيرا مِمَّا يُفِيد لَا تتمّ فَائِدَته إِلَّا بمتبوعه أَو بلازمه أَو باتصاله بِغَيْرِهِ وَإِلَّا فَهَل نقُول إِن قَوْلنَا جَاءَ الَّذِي قَرَأَ الصَّحِيفَة جملَة وَاحِدَة لِأَن الْفَائِدَة لَا تتمّ عِنْد قَوْلنَا الَّذِي وَهُوَ الْفَاعِل الَّذِي أسندنا الْمَجِيء إِلَيْهِ وَمن من النَّحْوِيين حَتَّى الَّذين جعلُوا الْكَلَام مرادفا للجملة يعرب مثالنا السَّابِق على أَنه جملَة
আর যখন পরিভাষার (المصطلح) ব্যাপারে কোনো ঐক্যমত থাকে না, তখন ফলাফলের ভিন্নতা হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমাদের জন্য ব্যাকরণবিদদের মতামতের ওপর বিচার করা সঠিক হবে না যখন খবর (الخبر) একটি বাক্য (الجملة) হিসেবে আসে, যতক্ষণ না আমরা একে বাক্যের (الجملة) অর্থ সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে পর্যবেক্ষণ করি।

তারা যা নির্ধারণ করেছেন তার আলোকে এটি স্পষ্ট যে, বাক্য (الجملة) কখনও অর্থবহ হতে পারে যাকে কালাম (كلام) বলা হয়, আবার কখনও অর্থবহ নাও হতে পারে, এমতাবস্থায় তা মূলত দুটি শব্দের মধ্যে একটি ইসনাদগত (إسناد) সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। যে কোনো দুটি শব্দের একটিকে যখন অন্যটির দিকে সম্বন্ধযুক্ত বা ইসনাদ (إسناد) করা হয়, তখন যদি তারা এমন অর্থ প্রদান করে যার ওপর নীরব থাকা বা থামা সঠিক হয়, তবে তা বাক্য (الجملة) এবং কালাম (كلام) উভয়ই হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তা পূর্ণ অর্থ প্রদান না করে, তবে তা কেবল বাক্য (الجملة) হিসেবে বিবেচিত হবে।

এই ক্ষেত্রে যা সর্তক করা জরুরি তা হলো, এমন অনেক বিষয় আছে যা অর্থ প্রদান করলেও এর পূর্ণতা পায় না তার অনুগামী, অপরিহার্য অংশ বা অন্য কিছুর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া ছাড়া। অন্যথায়, আমরা কি বলতে পারি যে আমাদের এই উক্তি— "যে পত্রিকাটি পড়েছে সে এসেছে"—একটি একক বাক্য (الجملة)? কারণ 'যে' (الذي) বলার দ্বারা অর্থ পূর্ণ হয় না, অথচ এটিই হলো সেই কর্তা (الفاعل) যার দিকে আসার বিষয়টিকে ইসনাদ (إسناد) করা হয়েছে। ব্যাকরণবিদদের মধ্যে এমনকি যারা কালামকে (كلام) বাক্যের (الجملة) সমার্থক মনে করেন, তাদের মধ্যে কে আমাদের পূর্বোক্ত উদাহরণটিকে একটি বাক্য (الجملة) হিসেবে বিশ্লেষণ করবেন?
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وَاحِدَة وَمن مِنْهُم لَا يرى فِيهِ جملتين هما الْجُمْلَة الابتدائية جَاءَ الَّذِي وَجُمْلَة الصِّلَة قَرَأَ الصَّحِيفَة

وَقس على هَذَا كل الْجمل الَّتِي يكون الِاسْم الْمَوْصُول فِيهَا فَاعِلا أَو خَبرا وَهِي جمل لَا تتمّ بهَا الْفَائِدَة إِلَّا إِذا أتبعت بجمل أُخْرَى هِيَ صلَاتهَا وهم يسمونها جملا

وَكَذَلِكَ الْأَمر فِي الْجُمْلَة الْوَاقِعَة صفة لخَبر نكرَة فِي مثل قَوْلنَا أَنا رجل أحب الْعلم وَنحن قوم نحب الْخَيْر أَلَيْسَ قَوْلنَا مؤلفا من جملتين وَأي فَائِدَة فِي الْجُمْلَة الأولى أَنا رجل وَنحن قوم وَإِذا أفادت إِحْدَى هَاتين الجملتين معنى مَا هُوَ أقرب إِلَى اللَّغْو مِنْهُ إِلَى الْكَلَام الْمُفِيد فَهَل هُوَ الْمَعْنى المُرَاد وَهل يكتمل معنى الْخَبَر إِلَّا بِصفتِهِ الَّتِي هِيَ الْجُمْلَة الثَّانِيَة أحب الْعلم ونحب الْخَيْر

فِي ضوء هَذَا الْفَهم لِمَعْنى الْكَلَام وَالْجُمْلَة نَنْظُر فِي آراء النَّحْوِيين السالفة فنرى 1 - أَن القَوْل الأول وَهُوَ أَن جملتي الشَّرْط وَالْجَوَاب مَعًا هما الْخَبَر قَول عَجِيب لِأَنَّهُ يَجْعَل من الجملتين جملَة وَاحِدَة وَهُوَ مُنَاقض لما اصْطلحَ جمهورهم عَلَيْهِ من كَون الْجُمْلَة مُسْندًا وَمُسْندًا إِلَيْهِ ثمَّ هُوَ مُنَاقض لأصولهم فِي أَن الْجُمْلَة ذَات الْمحل يجب أَن تكون صَالِحَة لإحلال الْمُفْرد محلهَا واي مُفْرد يصلح مَكَان الشَّرْط وَجَوَابه فِي وَقت وَاحِد

إننا إِذا قُلْنَا إِن قَوْله تَعَالَى {وَمن يقترف حَسَنَة نزد لَهُ فِيهَا حسنا} تَقْدِيره المقترف الْحَسَنَة مزِيد لَهُ فِيهَا وَإِن قَوْلنَا من يجْتَهد ينجح تَقْدِيره الْمُجْتَهد ناجح وَنحن لَا نرى هَذَا التَّقْدِير
একটি এবং তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যারা এখানে দুইটি বাক্য দেখেন না; যথা: প্রারম্ভিক বাক্য (الابتدائية) ‘যে এসেছে’ এবং সংযোগকারী বাক্য (الصلة) ‘সে পত্রিকাটি পড়েছে’।

এর ওপর ভিত্তি করে সেই সমস্ত বাক্যকে পরিমাপ করুন যেখানে সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (الاسم الموصول) কর্তা (فاعلا) অথবা বিধেয় (خبرا) হিসেবে থাকে। এগুলো এমন বাক্য যার অর্থ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না এর পরে অন্য কোনো বাক্য যুক্ত হয় যা এর সংযোগকারী বাক্য (الصلة) হিসেবে কাজ করে এবং তারা এগুলোকে বাক্য বলে অভিহিত করেন।

অনুরূপভাবে, কোনো অনির্দিষ্ট (نكرة) বিধেয় (خبر)-এর বিশেষণ (صفة) হিসেবে ব্যবহৃত বাক্যের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য; যেমন আমাদের কথা: ‘আমি এমন এক ব্যক্তি যে জ্ঞানকে ভালোবাসে’ এবং ‘আমরা এমন এক জাতি যারা কল্যাণকে পছন্দ করে’। আমাদের এই কথাটি কি দুটি বাক্য দ্বারা গঠিত নয়? প্রথম বাক্য ‘আমি একজন ব্যক্তি’ এবং ‘আমরা একটি জাতি’ থেকে কী ফায়দা পাওয়া যায়? যদি এই দুটি বাক্যের কোনো একটি এমন অর্থ প্রদান করে যা অর্থবহ কথার চেয়ে অনর্থক প্রলাপের নিকটবর্তী হয়, তবে কি সেটিই কাঙ্ক্ষিত অর্থ? আর বিধেয় (خبر)-এর অর্থ কি তার বিশেষণ (صفة) ব্যতীত পূর্ণ হতে পারে, যা হলো দ্বিতীয় বাক্য ‘জ্ঞানকে ভালোবাসি’ এবং ‘কল্যাণকে পছন্দ করি’?

কথা ও বাক্যের অর্থ সম্পর্কিত এই উপলব্ধির আলোকে আমরা পূর্ববর্তী বৈয়াকরণদের মতামতের দিকে দৃষ্টিপাত করি। আমরা দেখি যে: ১- প্রথম মতটি হলো—শর্ত এবং উত্তর বাক্যদ্বয় (جملتي الشرط والجواب) একত্রে বিধেয় (خبر) হিসেবে গণ্য হবে। এটি একটি আশ্চর্যজনক মত, কারণ এটি দুটি বাক্যকে একটি বাক্যে পরিণত করে। এটি অধিকাংশ ফকিহ ও ভাষাবিদদের পরিভাষার পরিপন্থী, যেখানে বাক্য বলতে সাব্যস্তকৃত (مسندا) এবং যার প্রতি সাব্যস্ত করা হয়েছে (مسندا إليه) তার সমষ্টিকে বোঝানো হয়। অধিকন্তু, এটি তাদের মূলনীতিরও বিরোধী যে, যে বাক্যের ব্যাকরণিক স্থান (محل) রয়েছে, সেখানে একটি একক শব্দ (المفرد) স্থলাভিষিক্ত হওয়া আবশ্যক। অথচ শর্ত ও উত্তরের স্থলে একসাথে কোন একক শব্দ (مفرد) স্থলাভিষিক্ত হতে পারে?

আমরা যদি বলি যে মহান আল্লাহর বাণী {যে ব্যক্তি কোনো সৎকাজ করবে, আমি তার জন্য তাতে কল্যাণ বৃদ্ধি করব}—এর বিশ্লেষণ বা অনুমান (تقديره) হলো: ‘সৎকর্ম সম্পাদনকারীর জন্য তাতে কল্যাণ বৃদ্ধি করা হবে’, এবং আমাদের কথা ‘যে পরিশ্রম করবে সে সফল হবে’—এর অনুমান (تقديره) হলো: ‘পরিশ্রমকারী সফল’; কিন্তু আমরা এই ধরনের অনুমান (التقدير) সঠিক বলে মনে করি না।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
صَحِيحا لِأَنَّهُ يلغي معنى الشَّرْط وَهُوَ مُرَاد أصلا فَأَي الْكَلِمَتَيْنِ مزِيد وناجح نابت مناب الجملتين

ثمَّ إِذا كَانَت جملَة جَوَاب الشَّرْط مقترنة بِالْفَاءِ أَو إِذا الفجائية فهم على أَنَّهَا فِي مَحل جزم فَكيف تكون كَذَلِك ثمَّ تكون فِي الْوَقْت نَفسه دَاخِلَة مَعَ أُخْتهَا جملَة الشَّرْط فِي مَحل الرّفْع على الخبرية

ولننظر أخيرا هَل بَين النَّحْوِيين من يعد جملتي الشَّرْط وَالْجَوَاب جملَة وَاحِدَة كَمَا يرى الدكتور المَخْزُومِي ليستقيم لأَصْحَاب هَذَا القَوْل حكمهم

لقد وقف النحويون عِنْد أبسط صُورَة من صور تركيب الْكَلِمَات فأطلقوا عَلَيْهَا لفظ الْجُمْلَة وعرفوها بِأَنَّهَا تركيب من كَلِمَتَيْنِ أسندت إِحْدَاهمَا إِلَى الْأُخْرَى

وَحين فصل ابْن هِشَام حَدِيثه عَن الْجُمْلَة فِي بَاب خَاص أفرده لَهَا وَتَنَاول فِيهِ الْجُمْلَة الصُّغْرَى وَالْجُمْلَة الْكُبْرَى وَذَات الْوَجْه وَذَات الْوَجْهَيْنِ لم يخرج عَمَّا اصلوه وَلم يُخَالف مَا اصْطلحَ جمهورهم عَلَيْهِ من مَعْنَاهَا وعد الْكُبْرَى مؤلفة من جملتين فَقَالَ هِيَ الاسمية الَّتِي خَبَرهَا جملَة وَلم نر أحدا من النَّحْوِيين يتحدث عَن جملَة مركبة بل جعلُوا الْكَلَام هُوَ الْمركب وعادوا بِهِ تحليلا وتبسيطا إِلَى جمل بسيطة وَلَعَلَّ أسلوب الشَّرْط أولى الْمَوَاضِع بِحَدِيثِهِمْ عَن الْجُمْلَة المركبة من جملتين لَو أَنَّهَا وجدت أَو جَاءَ ذكرهَا على ألسنتهم ولكننا نراهم يصرحون بِأَن أسلوب الشَّرْط جملتان لَا جملَة وَاحِدَة

قَالَ سِيبَوَيْهٍ 180 هـ وَاعْلَم أَن حُرُوف الْجَزَاء تجزم الْأَفْعَال وينجزم الْجَواب بِمَا قبله
সঠিক (صحيح) হিসেবে, কারণ এটি শর্তের অর্থকে বাতিল করে দেয়, অথচ মূলত তা-ই উদ্দেশ্য। সুতরাং শব্দদ্বয়ের কোনটি অতিরিক্ত? আর ‘নাজিহ’ শব্দটি দুটি বাক্যের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

অতঃপর যখন শর্তের জওয়াব বাক্যটি ‘ফা’ অথবা ‘ইযা আল-ফুজাঈয়্যাহ’ (আকস্মিকতা বোধক অব্যয়)-এর সাথে যুক্ত হয়, তখন ব্যাকরণবিদগণ একমত যে সেটি ‘জজম’-এর স্থলে থাকে। তাহলে তা কীভাবে একই সাথে তেমন হতে পারে এবং আবার একই সময়ে তার অপর অংশ শর্তের বাক্যের সাথে ‘খবর’ হিসেবে ‘রাফ’-এর স্থলে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?

পরিশেষে আমাদের দেখা উচিত, ব্যাকরণবিদদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি না যারা ডক্টর আল-মাখযুমির মতানুসারে শর্ত ও জওয়াব—এই উভয় বাক্যকে একটি বাক্য হিসেবে গণ্য করেন, যাতে এই মতাবলম্বীদের সিদ্ধান্তটি যুক্তিযুক্ত হয়।

ব্যাকরণবিদগণ শব্দ বিন্যাসের সরলতম রূপের ওপর স্থির থেকেছেন এবং তাকে ‘বাক্য’ (জুমলা) শব্দ দ্বারা অভিহিত করেছেন। তাঁরা এর সংজ্ঞায় বলেছেন যে, এটি দুটি শব্দের এমন একটি বিন্যাস যেখানে একটিকে অপরটির সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়।

ইবনে হিশাম যখন তাঁর আলোচনায় বাক্যের জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় বরাদ্দ করেন এবং সেখানে ছোট বাক্য (জুমলা সুগরা), বড় বাক্য (জুমলা কুবরা), একমুখী ও দ্বিমুখী বাক্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন, তখন তিনি পূর্বসূরীদের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হননি এবং জমহুর ব্যাকরণবিদগণ এর অর্থের ক্ষেত্রে যে পরিভাষার ওপর একমত হয়েছেন, তার বিরোধিতা করেননি। তিনি বড় বাক্যকে (কুবরা) দুটি বাক্যের সমন্বয়ে গঠিত হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বলেছেন: এটি এমন একটি বিশেষ্যমূলক বাক্য যার খবর একটি বাক্য। আমরা ব্যাকরণবিদদের কাউকেই ‘যৌগিক বাক্য’ (জুমলা মুরাক্কাবাহ) সম্পর্কে আলোচনা করতে দেখিনি; বরং তাঁরা ‘কালাম’ বা বক্তব্যকেই যৌগিক হিসেবে গণ্য করেছেন এবং বিশ্লেষণ ও সরলীকরণের মাধ্যমে সেটিকে সরল বাক্যে ফিরিয়ে নিয়েছেন। সম্ভবত শর্তের গঠনরীতিই ছিল দুটি বাক্যের সমন্বয়ে গঠিত ‘যৌগিক বাক্য’ নিয়ে আলোচনার উপযুক্ত স্থান, যদি তেমন কিছুর অস্তিত্ব থাকত বা তাদের বক্তব্যে তার উল্লেখ থাকত। কিন্তু আমরা দেখি যে, তাঁরা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করছেন যে, শর্তের গঠনরীতি মূলত দুটি বাক্যের সমষ্টি, একটি বাক্য নয়।

সিবওয়াইহ (১৮০ হিজরি) বলেছেন: জেনে রাখো, শর্তের অব্যয়সমূহ ক্রিয়াকে ‘জজম’ প্রদান করে এবং পূর্ববর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর (জওয়াব) অংশটি ‘মাজযুম’ হয়।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَلَيْسَ يعنينا هُنَا حَدِيثه عَن عَامل الْجَزْم وَلَكِن يعنينا أَنه عد الشَّرْط أَو الْجَزَاء كَمَا يلقبه مؤلفا من جملتين هما جملَة الْفِعْل الَّذِي ينجزم بِحرف الشَّرْط وَجُمْلَة الْجَواب الَّذِي ينجزم بِمَا قبله

وَعدد ابْن السراج 316 هـ الْمَوَاضِع الَّتِي لَا يَخْلُو مِنْهَا الْحَرْف وَذكر مِنْهَا الْحَرْف الَّذِي يدْخل ليربط جملَة بجملة ثمَّ قَالَ مفصلا وَأما ربطه جملَة بجملة فنحو قَوْلك إِن يقم زيد يقْعد عَمْرو وَكَانَ اصل الْكَلَام يقوم زيد يقْعد عَمْرو فَيقوم زيد لَيْسَ مُتَّصِلا ب يقْعد عَمْرو وَلَا مِنْهُ فِي شَيْء فَلَمَّا دخلت إِن جعلت إِحْدَى الجملتين شرطا وَالْأُخْرَى جَوَابا

وَبَين ابْن السراج تلازم الجملتين فَقَالَ إِن تأتني آتِك وَإِن تقم أقِم فقولك إِن تأتني شَرط وآتك جَوَابه وَلَا بُد للشّرط من جَوَاب وَإِلَّا لم يتم الْكَلَام وَهُوَ نَظِير الْمُبْتَدَأ الَّذِي لَا بُد لَهُ من خبر فقرر بذلك أَن جملَة الشَّرْط جملَة قَائِمَة بذاتها وَلكنهَا غير مفيدة إِذْ لَا يتم بهَا الْكَلَام كَمَا قَالَ إِلَّا بِالْجُمْلَةِ الثَّانِيَة لِأَنَّهُ لَا بُد للشّرط من جَوَاب وَإِلَّا لم يتم الْكَلَام وَهَذَا تَصْرِيح من صَاحب الْأُصُول بِمَا قدمْنَاهُ من أَن أسلوب الشَّرْط قَائِم على جملتين وَمن أَن الْجُمْلَة فِي اصطلاحهم لَيست مَشْرُوطَة بالإفادة

وَإِلَى ذَلِك ذهب أَيْضا شيخ فُقَهَاء الْعَرَبيَّة ابْن جني 392 هـ فَصرحَ أَن بعض الْجمل قد تحْتَاج إِلَى جملَة ثَانِيَة احْتِيَاج الْمُفْرد إِلَى الْمُفْرد وَذَلِكَ فِي الشَّرْط وجزائه وَالْقسم وَجَوَابه فَالشَّرْط نَحْو قَوْلك إِن قَامَ زيد قَامَ عَمْرو وَالْقسم نَحْو قَوْلك أقسم ليقومن زيد فحاجة
এখানে জজম প্রদানকারী আমল (عامل الجزم) সম্পর্কে তাঁর আলোচনা আমাদের মূল লক্ষ্য নয়, বরং আমাদের নিকট গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তিনি শর্ত বা জাজা —যেভাবে তিনি একে অভিহিত করেছেন— তাকে দুটি বাক্যের সমন্বয়ে গঠিত হিসেবে গণ্য করেছেন; যা মূলত শর্তসূচক অব্যয় দ্বারা জজমপ্রাপ্ত ক্রিয়াপদীয় বাক্য এবং তার পূর্ববর্তী অংশ দ্বারা জজমপ্রাপ্ত উত্তরসূচক বাক্যের সমষ্টি।

ইবনে আল-সাররাজ (৩১৬ হিজরি) এমন ক্ষেত্রসমূহ গণনা করেছেন যেখানে হরফ বা অব্যয় অবশ্যই বিদ্যমান থাকে এবং তিনি সেখানে এমন হরফের কথা উল্লেখ করেছেন যা একটি বাক্যকে অন্য একটি বাক্যের সাথে সংযুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এরপর তিনি বিস্তারিতভাবে বলেন: "আর একটি বাক্যকে অন্য বাক্যের সাথে সংযুক্ত করার বিষয়টি হলো আপনার এই উক্তির মতো— 'যদি জায়েদ দাঁড়ায় তবে আমর বসবে'। মূলত বাক্যটি ছিল 'জায়েদ দাঁড়ায়, আমর বসে'। এখানে 'জায়েদ দাঁড়ায়' বাক্যটি 'আমর বসে' বাক্যের সাথে সংযুক্ত নয় এবং এর কোনো অংশও নয়। যখন 'ইন' (যদি) প্রবেশ করল, তখন সে বাক্য দুটির একটিকে শর্ত এবং অন্যটিকে উত্তর হিসেবে নির্ধারণ করে দিল।"

ইবনে আল-সাররাজ বাক্য দুটির পারস্পরিক আবশ্যকতা স্পষ্ট করে বলেন: "যদি তুমি আমার কাছে আসো তবে আমি তোমার কাছে আসব" এবং "যদি তুমি দাঁড়াও তবে আমি দাঁড়াব।" এখানে আপনার উক্তি "যদি তুমি আমার কাছে আসো" হলো শর্ত এবং "আমি তোমার কাছে আসব" হলো তার উত্তর। শর্তের জন্য অবশ্যই একটি উত্তর থাকতে হয়, অন্যথায় বাক্য পূর্ণাঙ্গ হয় না। এটি মূলত মুক্তাদা বা উদ্দেশ্যের সদৃশ যার জন্য খবর বা বিধেয় থাকা অপরিহার্য। এর মাধ্যমে তিনি এটিই সাব্যস্ত করেছেন যে, শর্তযুক্ত বাক্যটি নিজেই একটি স্বতন্ত্র বাক্য, তবে তা তথ্যগতভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; কারণ তিনি যেমনটি বলেছেন— দ্বিতীয় বাক্যটি ছাড়া বাক্যটি পূর্ণ হয় না, যেহেতু শর্তের জন্য উত্তর থাকা আবশ্যক। এটি আল-উসুল গ্রন্থের রচয়িতার পক্ষ থেকে আমাদের পূর্বোল্লিখিত বক্তব্যেরই স্পষ্ট সমর্থন যে, শর্ত প্রদানের পদ্ধতিটি দুটি বাক্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তাদের পরিভাষায় বাক্য হওয়ার জন্য তা অর্থগতভাবে পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়।

আরবি ভাষাবিদগণের প্রধান ইবনে জিন্নি (৩৯২ হিজরি)-ও একই মত পোষণ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, কিছু বাক্য দ্বিতীয় একটি বাক্যের প্রতি ঠিক তেমনি মুখাপেক্ষী হতে পারে যেমন একটি একক শব্দ অন্য একটি একক শব্দের প্রতি মুখাপেক্ষী হয়। এটি শর্ত ও তার জাজা এবং কসম ও তার উত্তরের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। শর্তের উদাহরণ যেমন আপনার উক্তি— "যদি জায়েদ দাঁড়াত তবে আমর দাঁড়াত", আর কসমের উদাহরণ যেমন আপনার উক্তি— "আমি কসম করছি যে জায়েদ অবশ্যই দাঁড়াবে"। সুতরাং এই মুখাপেক্ষীতা...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫৬)
الْجُمْلَة الأولى إِلَى الْجُمْلَة الثَّانِيَة كحاجة الْجُزْء الأول من الْجُمْلَة إِلَى الْجُزْء الثَّانِي نَحْو زيد أَخُوك وَقَامَ أَبوك

وَهَكَذَا يَتَّضِح مِمَّا سبق أَن الَّذين جعلُوا الشَّرْط وَالْجَوَاب مَعًا هما الْخَبَر خالفوا مَا اصْطلحَ عَلَيْهِ جلة النَّحْوِيين وجمهورهم من معنى الْجُمْلَة وجاؤوا بِمَا لَا نَظِير لَهُ فِي النَّحْو وهم لم يذهبوا هَذَا الْمَذْهَب إِلَّا لِأَن الشَّرْط وَحده لَا يتم الْمَعْنى فشدوا إِلَيْهِ جَوَابه وَجعلُوا الْجَمِيع خَبرا مَعَ أَن كلا من الشَّرْط وَالْجَوَاب جملَة مُسْتَقلَّة قَائِمَة بِنَفسِهَا وَلَوْلَا أَدَاة الشَّرْط لما ترتبت إِحْدَاهمَا على الْأُخْرَى وَلما كَانَتَا متلازمتين وهما متلازمتان معنى وَلَيْسَ مَا يمْنَع أَن يكون لكل مِنْهُمَا مَحل من الْإِعْرَاب وتلازمهما كتلازم الْمُبْتَدَأ وَالْخَبَر وكتلازم الِاسْم الْمَوْصُول وصلته وَهُوَ تلازم معنوي لَا يَقْتَضِي التلازم فِي الْإِعْرَاب وَدخُول أَدَاة الشَّرْط لَا يفك العلاقة الإسنادية بَين المركبين فِي الْجُمْلَة الْوَاحِدَة وَإِنَّمَا يَجْعَل بَين الجملتين أَو الوحدتين علاقَة تلازم معنوي أَي أَن أَدَاة الشَّرْط تدخل لتدل على أَن معنى الْجَواب وَهُوَ معنى مُسْتَقل أصلا بِنَفسِهِ لَا يتَحَقَّق إِلَّا إِذا تحقق معنى آخر مُسْتَقل بِنَفسِهِ أَيْضا فِي الأَصْل وَهُوَ معنى الشَّرْط

وحسبنا أَن الزَّمَخْشَرِيّ نَفسه وَهُوَ الَّذِي جعل الْكَلَام مرادفا للجملة كَمَا سلف القَوْل وَالْكَلَام عِنْده هُوَ الْمُفِيد جعل للشّرط جملتين كَسَائِر النُّحَاة فَقَالَ وَمن أَصْنَاف الْحُرُوف حرفا الشَّرْط وهما إِن وَلَو يدخلَانِ على جملتين فيجعلان الأولى شرطا وَالثَّانيَِة جَزَاء
প্রথম বাক্যটি দ্বিতীয় বাক্যের প্রতি তেমন মুখাপেক্ষী, যেমন একটি বাক্যের (جملة) প্রথম অংশ দ্বিতীয় অংশের প্রতি মুখাপেক্ষী হয়ে থাকে; যেমন: 'জায়েদ তোমার ভাই' এবং 'তোমার পিতা দাঁড়িয়েছেন'।

এভাবেই পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, যারা শর্ত (شرط) ও জবাব (جواب)-কে একত্রে খবর (خبر) হিসেবে গণ্য করেছেন, তারা বাক্যের (جملة) সংজ্ঞার ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ ও জমহুর নাহুবিদদের (النحويين) প্রচলিত পরিভাষার বিরোধিতা করেছেন এবং নাহু শাস্ত্রে এমন এক অভিনব মত নিয়ে এসেছেন যার কোনো নজির নেই। তারা এই মতটি কেবল একারণেই গ্রহণ করেছেন যে, শর্ত (شرط) একা পূর্ণ অর্থ প্রদান করতে পারে না; তাই তারা এর সাথে এর জবাবকে (جواب) যুক্ত করেছেন এবং সবটুকুকে খবর (خبر) হিসেবে গণ্য করেছেন। অথচ শর্ত (شرط) ও জবাবের (جواب) প্রতিটিই এক একটি স্বতন্ত্র বাক্য (جملة مستقلة), যা স্বয়ংসম্পূর্ণ। যদি শর্তবোধক অব্যয় (أداة الشرط) না থাকত, তবে একটি অপরটির ওপর নির্ভরশীল হতো না এবং তারা পরস্পর অবিচ্ছেদ্য হতো না। মূলত তারা কেবল অর্থের দিক থেকে পরস্পর অবিচ্ছেদ্য। তাদের প্রত্যেকের আলাদা ইরাবগত (إعراب) অবস্থান থাকতে কোনো বাধা নেই। তাদের এই পারস্পরিক অবিচ্ছেদ্যতা মুবতাদা (مبتدأ) ও খবরের (خبر) সম্পর্কের মতো, কিংবা ইসম মাওসুল (الاسم الموصول) ও সিলার (صلة) সম্পর্কের মতো। এটি একটি অর্থগত আবশ্যকতা মাত্র, যা ইরাবগত (إعراب) আবশ্যকতাকে দাবি করে না। শর্তবোধক অব্যয়ের (أداة الشرط) অনুপ্রবেশ একটি বাক্যের অন্তর্ভুক্ত দুটি উপাদানের মধ্যকার ইসনাদগত (إسناد) সম্পর্ককে ছিন্ন করে না; বরং তা কেবল দুটি বাক্য বা এককের মধ্যে একটি অর্থগত অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তৈরি করে। অর্থাৎ, শর্তবোধক অব্যয়টি (أداة الشرط) একারণেই আসে যাতে এটি বুঝানো যায় যে, জবাবের (جواب) অর্থ—যা মূলত নিজেই স্বতন্ত্র—তা ততক্ষণ বাস্তবায়িত হবে না যতক্ষণ না শর্তের (شرط) অর্থ—যা মূলত স্বতন্ত্র—তা বাস্তবায়িত হয়।

আমাদের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, স্বয়ং যামাখশারী—যিনি ইতিপূর্বে উল্লিখিত আলোচনা অনুযায়ী 'কালাম' (كلام)-কে বাক্যের (جملة) সমার্থক গণ্য করেছেন এবং তার নিকট 'কালাম' হচ্ছে অর্থবহ বাক্য—তিনিও অন্যান্য নাহুবিদদের মতোই শর্তের জন্য দুটি বাক্য সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন: 'অব্যয়সমূহের প্রকারভেদের মধ্যে দুটি হলো শর্তবোধক অব্যয় (حرفا الشرط), যা হলো 'ইন' (إن) ও 'লাও' (لو); এগুলো দুটি বাক্যের শুরুতে আসে এবং প্রথমটিকে শর্ত (شرط) ও দ্বিতীয়টিকে জাযা (جزاء) হিসেবে নির্ধারণ করে।'
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫৭)
وَلنَا أخيرا أَن نسْأَل الْقَائِلين إِن الشَّرْط وَجَوَابه مَعًا هما الْخَبَر والزمخشري مِنْهُم مَا دَامَ الشَّرْط وَجَوَابه جملتين فَكيف تؤولان بمفرد وَاحِد وَإِذا أولنا هما بمفردين فَلَا بُد أَن يكون لكل مِنْهُمَا مَحل من الْإِعْرَاب فَكيف تكون الجملتان المؤولتان بهما فِي مَحل وَاحِد من الْإِعْرَاب 2 - وَأما القَوْل الثَّانِي وَهُوَ أَن جملَة الْجَواب وَحدهَا هِيَ الْخَبَر فلنا عَلَيْهِ مآخذ

أَولهَا أَن حجَّة الْقَائِلين بِهِ هِيَ أَن الْجَواب هُوَ الَّذِي بِهِ يتم الْمَعْنى وهم منطلقون من أَن الْجُمْلَة وحدة لغوية أَو تركيب مُفِيد فَائِدَة يحسن السُّكُوت عَلَيْهَا وَلما كَانَ جَوَاب الشَّرْط هُوَ الَّذِي يتم مَعْنَاهُ كَانَ هُوَ الْخَبَر وَقد رَأينَا أَن اصْطِلَاح النَّحْوِيين على غير ذَلِك وَأَنَّهُمْ فرقوا بَين الْكَلَام وَالْجُمْلَة فَجعلُوا الْكَلَام هُوَ الْمُفِيد وَلَيْسَت الْجُمْلَة مضى على ذَلِك متقدموهم وجمهورهم وَبَات الْكَلَام عِنْدهم مصطلحا تداولوه بِهَذَا الْمَعْنى حَتَّى تميزوا بِهِ من اللغويين كَمَا نصت الألفية ورأينا هَذَا الأَصْل مَعْرُوفا عِنْدهم وشائعا فِي أَمْثِلَة كَثِيرَة مَعْرُوفَة كجمل الصلات وَالصِّفَات وَالْقسم وَكَذَلِكَ جملَة الشَّرْط الَّتِي تحْتَاج من حَيْثُ الْمَعْنى إِلَى جملَة الْجَواب احْتِيَاج الِاسْم الْمَوْصُول إِلَى صلته واحتياج الْمَوْصُوف إِلَى صفته واحتياج الْقسم إِلَى جَوَابه لِأَن الشَّرْط مثلهَا من الأساليب اللُّغَوِيَّة الْقَائِمَة على التلازم بَين شَيْئَيْنِ

وَإِن الْجُمْلَة قد تتمّ تركيبا بركنيها وَلما يتم مَعْنَاهَا لاحتياج أحد ركنيها إِلَى مَا يكمل مَعْنَاهُ وَلَا أَظن أحدا من الْقَائِلين بِهَذَا الرَّأْي يعرب الِاسْم الْمَوْصُول وصلته جَمِيعًا خَبرا فِي مثل قَوْله هَذَا الَّذِي تعرف
পরিশেষে আমাদের সেই সকল ব্যক্তিবর্গের নিকট একটি প্রশ্ন যারা মনে করেন যে, শর্ত (شرط) ও তার জবাব (جواب) উভয়ই মিলে খবর (خبر) হয়—এবং যামাখশারী তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত—যতক্ষণ শর্ত (شرط) ও জবাব (جواب) দুটি পৃথক বাক্য (جملة) হিসেবে বিদ্যমান, ততক্ষণ কীভাবে সেগুলোকে একটিমাত্র একক শব্দ (مفرد) দ্বারা ব্যাখ্যা করা সম্ভব? আর যদি আমরা সেগুলোকে দুটি একক শব্দ (مفرد) হিসেবে ব্যাখ্যা করি, তবে সেগুলোর প্রত্যেকটির জন্য অবশ্যই একটি ব্যাকরণিক অবস্থান (إعراب) থাকা আবশ্যক। এমতাবস্থায় ব্যাখ্যাপ্রসূত বাক্য (جملة) দুটি ব্যাকরণিক অবস্থানের (إعرাব) দিক থেকে কীভাবে একই স্থানে থাকতে পারে? ২ - আর দ্বিতীয় মতটি হলো—কেবল জবাব (جواب) বাক্যটিই হলো খবর (خبر); এই মতের ব্যাপারে আমাদের কিছু আপত্তি রয়েছে।

প্রথমত, এই মতের প্রবক্তাদের প্রধান যুক্তি হলো যে, জবাব (جواب)-এর মাধ্যমেই অর্থের পূর্ণতা ঘটে। তাঁরা এই ধারণা থেকে অগ্রসর হয়েছেন যে, বাক্য (جملة) হলো একটি ভাষাগত একক বা এমন একটি অর্থবহ গঠন যার ওপর নীরব থাকা সমীচীন। যেহেতু শর্তের জবাব (جواب الشرط)-এর মাধ্যমেই এর অর্থ পূর্ণ হয়, তাই সেটিই খবর (خبر)। অথচ আমরা দেখেছি যে, ব্যাকরণবিদদের পরিভাষা এর পরিপন্থী। তাঁরা 'কালাম' (كلام) ও 'জুমলা' (جملة)-এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছেন। তাঁরা কালাম (كلام)-কে অর্থবহ সাব্যস্ত করেছেন, বাক্য (جملة)-কে নয়। তাঁদের পূর্বসূরী ও সংখ্যাধিক্য (جمهور) আলেমগণ এই পথেই চলেছেন এবং কালাম (كلام) তাঁদের নিকট এমন একটি পরিভাষা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে যা তাঁরা এই অর্থেই ব্যবহার করেছেন, এমনকি এর মাধ্যমে তাঁরা সাধারণ ভাষাবিদদের থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছেন, যেমনটি আলফিয়্যাহ-তে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আমরা এই মূলনীতিটি তাঁদের নিকট সুপরিচিত এবং বহু সুপ্রসিদ্ধ উদাহরণে বহুল প্রচলিত হিসেবে দেখেছি, যেমন—সিলাহ (صلة), সিফাত (صفات) ও কসম (قسم)-এর বাক্যসমূহ। অনুরূপভাবে শর্ত (شرط)-এর বাক্যও, যা অর্থের দিক থেকে জবাব (جواب)-এর বাক্যের প্রতি তেমন মুখাপেক্ষী, যেমনটি ইসমে মাওসুল (الاسم الموصول) তার সিলাহ (صلة)-এর প্রতি, মাওসুফ (موصوف) তার সিফাত (صفة)-এর প্রতি এবং কসম (قسم) তার জবাব (جواب)-এর প্রতি মুখাপেক্ষী। কারণ শর্ত (شرط) হলো এই জাতীয় ভাষাগত শৈলীগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা দুটি বিষয়ের পারস্পরিক অপরিহার্যতা (التلازم)-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত।

একটি বাক্য (جملة) তার রুকনদ্বয়ের মাধ্যমে গাঠনিকভাবে পূর্ণ হতে পারে, অথচ তখনও তার অর্থ পূর্ণ নাও হতে পারে যদি তার কোনো একটি রুকন অর্থ পূর্ণ করার জন্য অন্য কিছুর মুখাপেক্ষী থাকে। আমি মনে করি না যে, এই মতের প্রবক্তাদের কেউ 'হাযাল্লাযি তারিফু' (هذا الذي تعرف)-এর মতো উদাহরণে ইসমে মাওসুল (الاسم الموصول) এবং তার সিলাহ (صلة) উভয়কে একত্রে খবর (خبر) হিসেবে ব্যাকরণিক অবস্থান (إعراب) প্রদান করবেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫৮)
الْبَطْحَاء وطأته وَإِنَّمَا هم جَمِيعًا على أَن الَّذِي وَحدهَا هِيَ الْخَبَر وَلَو سألناهم عَن تَمام الْمَعْنى لقالوا إِن الْمَوْصُول يحْتَاج إِلَى صلته وَبهَا يكتمل الْمَعْنى وبمثل قَوْلهم فِي الْمَوْصُول وصلته نقُول فِي الشَّرْط وَجَوَابه وكما يتَوَقَّف تَمام الْمَعْنى على ذكر الصِّلَة كَذَلِك يتَوَقَّف تَمام الْمَعْنى فِي أسلوب الشَّرْط على مَا يلْزم عَن الشَّرْط وَهُوَ الْجَواب وَقد أَشَارَ إِلَى هَذَا ابْن بابشاد 469 هـ فَقَالَ وَالْجُمْلَة الشّرطِيَّة نَاقِصَة لافتقارها إِلَى جَوَاب وهم مِمَّا يسمون مَا يحْتَاج إِلَى غَيره نَاقِصا لذَلِك قَالُوا عَن مَا الموصولة إِنَّهَا نَاقِصَة لاحتياجها إِلَى الصِّلَة وَقَالُوا عَن مَا النكرَة الموصوفة الْمُجَرَّدَة عَن معنى الْحَرْف إِنَّهَا نَاقِصَة لاحتياجها إِلَى الصّفة

وَثَانِيها أَنهم يحتكمون إِلَى الْمَعْنى إِذْ هُوَ الحكم فِي كل خلاف كَمَا قَالَ أستاذنا الأفغاني وَنحن نَأْخُذ أَخذهم ونقول قَوْلهم ولكننا نخالفهم فِيمَا وصلوا إِلَيْهِ من أَن الْمَعْنى ينصر كَون الْجَواب خَبرا لاسم الشَّرْط لأننا نخالفهم فِي التَّقْدِير الَّذِي قدروه فقد قَالُوا إننا إِذا حولنا صِيغَة الْجُمْلَة الشّرطِيَّة من يُسَافر يبتهج إِلَى جملَة اسمية قُلْنَا الْمُسَافِر مبتهج وَمَا اسْم الشَّرْط هُنَا إِلَّا اسْم مَوْصُول أضيف إِلَيْهِ معنى الشَّرْط ففك صلته بِفِعْلِهِ لفظا لَا معنى

وَالْحق أَن تَحْويل الصِّيغَة الشّرطِيَّة من يُسَافر يبتهج إِلَى جملَة اسمية لَيْسَ هُوَ الْمُسَافِر مبتهج لِأَن هَذَا التَّقْدِير قد ألغى معنى الشَّرْط وَهُوَ الَّذِي بني عَلَيْهِ الْكَلَام أصلا وَالشّرط فِي هَذِه الصِّيغَة معنى لَا يجوز إغفاله وَلَو أغفلناه كَمَا قدرُوا لتساوى قَوْلنَا من يُسَافر
আল-বাতহা তার পদপিষ্ট হয়েছে; তারা সবাই এই বিষয়ে একমত যে, কেবলমাত্র সেই অংশটিই হলো খবর (الخبر)। আমরা যদি তাদের পূর্ণাঙ্গ অর্থের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি, তবে তারা বলবে যে, সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (الموصول) তার সংশ্লিষ্ট বাক্যের (صلته) মুখাপেক্ষী এবং এর মাধ্যমেই অর্থ পূর্ণতা পায়। সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য এবং তার সংশ্লিষ্ট বাক্য সম্পর্কে তাদের যে অভিমত, শর্ত (الشرط) এবং তার উত্তর (وجوابه) সম্পর্কেও আমাদের বক্তব্য একই। ঠিক যেমন সংশ্লিষ্ট বাক্য উল্লেখ করার ওপর অর্থের পূর্ণতা নির্ভর করে, তেমনি শর্তযুক্ত বাকরীতির ক্ষেত্রেও অর্থের পূর্ণতা শর্তের জন্য যা অপরিহার্য তার ওপর নির্ভর করে, আর তা হলো উত্তর (الجواب)। ইবনে বাবশাদ (৪৬৯ হি.) এই বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: শর্তযুক্ত বাক্য (الجملة الشرطية) তার উত্তরের মুখাপেক্ষী হওয়ার কারণে অপূর্ণ (ناقصة)। তারা যে বিষয়টি অন্য কোনো বিষয়ের মুখাপেক্ষী হয় তাকে 'অপূর্ণ' (ناقصة) বলে অভিহিত করেন। এই কারণেই তারা সম্বন্ধসূচক 'মা' (ما الموصولة) সম্পর্কে বলেছেন যে এটি অপূর্ণ (ناقصة), কারণ এটি সংশ্লিষ্ট বাক্যের (صلته) মুখাপেক্ষী। তেমনিভাবে হরফের অর্থ থেকে মুক্ত অনির্দিষ্ট গুণবাচক 'মা' (ما النكرة الموصوفة) সম্পর্কেও তারা বলেছেন যে এটি অপূর্ণ (ناقصة), কারণ এটি গুণের (الصفة) মুখাপেক্ষী।

দ্বিতীয়ত, তারা অর্থের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন, কারণ প্রতিটি মতবিরোধের ক্ষেত্রে অর্থই হলো চূড়ান্ত ফয়সালাকারী, যেমনটি আমাদের উস্তাদ আল-আফগানি বলেছেন। আমরা তাদের নীতিই গ্রহণ করি এবং তাদের কথাই বলি, তবে তারা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে—অর্থ উত্তরটিকে শর্তবাচক বিশেষ্যের (اسم الشرط) জন্য খবর (الخبر) হিসেবে সমর্থন করে—আমরা সে বিষয়ে তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করি। কারণ তারা যে বিশ্লেষণটি (التقدير) করেছেন, আমরা তার বিরোধী। তারা বলেছেন: আমরা যদি শর্তযুক্ত বাক্যের রূপকে (صيغة الجملة الشرطية) 'যে সফর করবে সে আনন্দিত হবে' থেকে নামবাচক বাক্যে (جملة اسمية) রূপান্তর করি, তবে আমরা বলি 'সফরকারী আনন্দিত'। এখানে শর্তবাচক বিশেষ্য (اسم الشرط) কেবলমাত্র একটি সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (اسم موصول) ছাড়া আর কিছু নয় যার সাথে শর্তের অর্থ যুক্ত হয়েছে; ফলে এর সংশ্লিষ্ট বাক্যটি অর্থগতভাবে নয় বরং শাব্দিক দিক থেকে তার ক্রিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

প্রকৃত সত্য হলো, 'যে সফর করবে সে আনন্দিত হবে' এই শর্তযুক্ত রূপকে (الصيغة الشرطية) নামবাচক বাক্যে (جملة اسمية) রূপান্তর করলে তা 'সফরকারী আনন্দিত' হয় না। কারণ এই বিশ্লেষণটি শর্তের সেই অর্থকে বাতিল করে দেয় যার ওপর ভিত্তি করে মূলত বাক্যটি তৈরি হয়েছে। এই রূপকাঠামোতে শর্ত এমন একটি অর্থ যা উপেক্ষা করা বৈধ নয়। তারা যেভাবে বিশ্লেষণ (التقدير) করেছেন, সেভাবে যদি আমরা শর্তকে উপেক্ষা করি, তবে আমাদের বলা 'যে সফর করবে' কথাটি সমান হয়ে যেত...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫৯)
يبتهج بِالْجَزْمِ على الشَّرْط وَقَوْلنَا من يُسَافر يبتهج بِالرَّفْع على أَن من اسْم مَوْصُول وَفِي هَذَا إخلال بِالْمَعْنَى الَّذِي قبلنَا بِحكمِهِ

وَلَو التزمنا الدقة فِي التَّقْدِير لقلنا من يُسَافر يبتهج تَقْدِيره الْمُسَافِر إِن يُسَافر يبتهج لنبقى محافظين على معنى الشَّرْط وَقد لاحظ الصبان ذَلِك فِي حَاشِيَته على الأشموني فَقَالَ إِن قَوْلك من يقم لَو خلا عَن معنى الشَّرْط بِمَنْزِلَة كل من النَّاس يقوم وَلكنه كَمَا نرى لَا يجوز أَن يَخْلُو عَنهُ لِأَن الْمَعْنى مَعْقُود عَلَيْهِ وَاسْتِعْمَال الصبان ل لَو يفتح بَاب الْإِخْلَال بِالْمَعْنَى

وَإِذا كَانَ التَّقْدِير الَّذِي قدروه صَحِيحا فَمَا الْفرق بَين من الشّرطِيَّة وَمن الموصولة

وَإِذا كَانَ اسْم الشَّرْط هُوَ الِاسْم الْمَوْصُول أضيف إِلَيْهِ معنى الشَّرْط فَهَل يفك صلته بِفِعْلِهِ لفظا لَا معنى بِحَيْثُ يصبح الشَّرْط وَفعله جُزْءا وَاحِدًا كالمسند وَيُصْبِح جَوَابه كالصلة بِالْإِضَافَة إِلَى الْمَوْصُول

إِن الشَّرْط يحْتَاج إِلَى الصلتين جَمِيعًا فعله وَجَوَابه وَهُوَ مُتَّصِل بهما لفظا لِأَنَّهُ مسلط عَلَيْهِمَا وجازم لَهما وَهُوَ رابطة مَا بَينهمَا من حَيْثُ الْمَعْنى إِذْ لولاه لما كَانَت بَينهمَا علاقَة الشّرطِيَّة أَو علاقَة الْمَلْزُوم باللازم أَو علاقَة الْمَعْلُول بِالْعِلَّةِ ولكانت كل جملَة من فعله وَجَوَابه جملَة مُسْتَقلَّة قَائِمَة بذاتها لِأَن الشَّرْط يدْخل على جملتين فيعلق حُصُول الثَّانِيَة على حُصُول الأولى وَالَّذين قَالُوا إِن قَوْلنَا من يقم أقِم مَعَه بِمَنْزِلَة قَوْلنَا كل النَّاس يقوم إِنَّمَا أهدروا معنى الشَّرْط وَهُوَ المُرَاد من الْكَلَام أصلا لذَلِك كَانَ تَقْدِير ابْن هِشَام أدق حِين قَالَ من
শর্ত (شرط) হিসেবে জজম (جزم) সহকারে "يبتهج" গঠিত। আর আমাদের কথা "যে সফর করে সে আনন্দিত হয়", এখানে রাফ (رفع) সহকারে "يبتهج" পড়া হয় এই ভিত্তিতে যে, "من" একটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (اسم موصول)। এতে সেই অর্থের হানি ঘটে যার হুকুম আমরা ইতিপূর্বে গ্রহণ করেছি।

যদি আমরা অনুমানের ক্ষেত্রে সূক্ষ্মতা বজায় রাখতাম, তবে আমরা বলতাম "যে সফর করে সে আনন্দিত হয়" এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: "সফরকারী যদি সফর করে তবে সে আনন্দিত হয়", যাতে আমরা শর্তের (شرط) অর্থ বজায় রাখতে পারি। সাব্বান তার আশমুনি-র টীকায় বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন। তিনি বলেছেন যে, আপনার বক্তব্য "যে দাঁড়াবে" যদি শর্তের (شرط) অর্থ থেকে মুক্ত হয়, তবে তা "প্রত্যেক ব্যক্তি দাঁড়ায়" এর সমতুল্য হয়ে যায়। কিন্তু আমরা যেমনটি দেখছি, একে শর্তের অর্থ থেকে মুক্ত করা বৈধ নয়; কারণ অর্থটি এর উপরেই নির্ভরশীল। সাব্বান কর্তৃক "যদি" (لو) শব্দের ব্যবহার অর্থের ক্ষতির দ্বার উন্মোচন করে।

যদি তাদের করা এই প্রাক্কলন সঠিক (صحيح) হয়, তবে শর্তবাচক (شرطية) "من" এবং সম্বন্ধবাচক (موصولة) "من" এর মধ্যে পার্থক্য কী?

আর যখন শর্তবাচক বিশেষ্য (اسم شرط) মূলত একটি সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য (اسم موصول) হয় যাতে শর্তের (شرط) অর্থ যুক্ত করা হয়েছে, তখন কি শাব্দিকভাবে তার ক্রিয়ার সাথে তার সম্বন্ধ ছিন্ন হয়ে যায়? অর্থে নয়, বরং এমনভাবে যে শর্ত (شرط) এবং তার ক্রিয়া মুসনাদ (مسند)-এর ন্যায় একটি অখণ্ড অংশে পরিণত হয় এবং এর উত্তরটি (جواب) সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হয়ে সিলাহ (صلة)-এর মতো হয়ে যায়?

নিশ্চয়ই শর্ত (شرط) তার উভয় সংযোগ তথা ক্রিয়া এবং উত্তর উভয়েরই মুখাপেক্ষী। এটি শাব্দিকভাবে উভয়ের সাথে যুক্ত, কারণ এটি উভয়ের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী এবং উভয়কে জজম প্রদানকারী (جازم)। এটি অর্থের দিক থেকে উভয়ের মধ্যে একটি বন্ধন; কারণ এটি না থাকলে তাদের মধ্যে শর্তযুক্ত হওয়ার সম্পর্ক বা অনিবার্য ও অনুষঙ্গের সম্পর্ক অথবা কারণ ও কার্যের সম্পর্ক থাকত না। সেক্ষেত্রে এর ক্রিয়া এবং উত্তরের প্রতিটি বাক্যই স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বতন্ত্র বাক্য হিসেবে গণ্য হতো। কেননা শর্ত (شرط) দুটি বাক্যের ওপর প্রবেশ করে এবং প্রথমটি ঘটার ওপর দ্বিতীয়টির ঘটা ঝুলিয়ে দেয়। যারা বলেন যে আমাদের কথা "যে দাঁড়াবে আমি তার সাথে দাঁড়াব" বাক্যটি "সকল মানুষ দাঁড়ায়" এর সমতুল্য, তারা মূলত শর্তের (شرط) অর্থটিকেই উপেক্ষা করেছেন, অথচ এটিই ছিল বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য। একারণেই ইবনে হিশামের প্রাক্কলন অধিকতর সূক্ষ্ম ছিল যখন তিনি বলেছিলেন "من" (যে)...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬০)
يقم أقِم مَعَه بِمَنْزِلَة كل من النَّاس إِن يقم أقِم مَعَه لِأَنَّهُ حَافظ بِهَذَا التَّقْدِير الدَّقِيق على معنى الشَّرْط وَهُوَ الَّذِي عقد الصِّلَة بَين جملتين كَانَتَا قبل دُخُوله مستقلتين لكل مِنْهُمَا تركيبها الإسنادي فَلَمَّا دخل أوجد التلازم بَينهمَا وعلق إِحْدَاهمَا على الْأُخْرَى الْأَمر الَّذِي يُوضح أَن الصِّلَة بَين جملَة الشَّرْط وَجُمْلَة الْجَواب صلَة تَعْلِيق أَو صلَة تَابع بمتبوع وَلَيْسَت صلَة مُبْتَدأ بِخَبَر وتوضيحا لذَلِك نقُول

لَو كَانَت عندنَا جملتان اسميتان أَو فعليتان نَحْو أَبُو بكر قَائِل وَأَبُو بكر صَادِق أَو قَالَ أَبُو بكر وَصدق أَبُو بكر ثمَّ أدخلنا عَلَيْهِمَا الشَّرْط فَقُلْنَا إِن كَانَ أَبُو بكر قَائِلا فَهُوَ صَادِق أَو إِن قَالَ أَبُو بكر صدق فَهَل يَعْنِي إِدْخَال الشَّرْط تَغْيِير العلاقات الإسنادية فِي كل من الجملتين وَجعل إِحْدَاهمَا بِتَمَامِهَا أحد الرُّكْنَيْنِ الإسناديين للجملة الْأُخْرَى أَي هَل معنى إِدْخَال الشَّرْط أننا جعلنَا الثَّانِيَة خَبرا للأولى أليست كل من الجملتين قَائِمَة بركنيها الإسناديين فِي كل من الصيغتين وكل مَا فعله الشَّرْط هُوَ أَنه علق وُقُوع الثَّانِيَة على وُقُوع الأولى

فَإِن قيل إِن أَدَاة الشَّرْط فِي المثالين السَّابِقين حرفية وَمَوْضِع خلافنا فِي الاسمية قُلْنَا إِن معنى الشَّرْط وَاحِد فِي الأداتين الحرفية والاسمية وَالْفرق بَينهمَا أننا نَبْنِي الْكَلَام على الاسمية للدلالة على الْعَاقِل أَو غَيره وَلما كَانَت الأداة اسمية وَكَانَت لَهَا الصدارة قدمناها فقولنا الْعَاقِل يجْتَهد يُسَاوِي قَوْلنَا من يجْتَهد والعاقل ينجح يُسَاوِي قَوْلنَا من ينجح وَلما كَانَ الشَّرْط مَبْنِيا مَعْنَاهُ
যদি সে দাঁড়ায় তবে আমি তার সাথে দাঁড়াব—এটি সাধারণ মানুষের অবস্থানের মতো। কারণ এটি এই সূক্ষ্ম মূল্যায়নের মাধ্যমে শর্তের (الشرط) অর্থকে সংরক্ষণকারী (حافظ) হিসেবে ভূমিকা পালন করে। আর এটিই সেই যোগসূত্র যা দুটি বাক্যের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে, যেগুলো শর্ত যুক্ত হওয়ার পূর্বে স্বতন্ত্র ছিল এবং প্রতিটির নিজস্ব কৃতিত্বমূলক বা ইসনাদ ভিত্তিক (الإسنادي) কাঠামো ছিল। যখন এটি প্রবেশ করল, তখন উভয়ের মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তৈরি করল এবং একটিকে অন্যটির ওপর নির্ভরশীল বা ঝুলন্ত করে দিল। এই বিষয়টি স্পষ্ট করে যে, শর্তবাচক বাক্য (جملة الشرط) এবং উত্তরসূচক বা জাযা বাক্যের (جملة الجواب) মধ্যকার সম্পর্কটি হলো একটি নির্ভরতার সম্পর্ক বা অনুগামী ও অনুসৃতের সম্পর্ক; এটি মুক্তাদা (مبتدأ) ও খবরের (خبر) মধ্যকার সম্পর্ক নয়। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আমরা বলি:

ধরা যাক আমাদের কাছে দুটি বিশেষ্যমূলক বা ক্রিয়ামূলক বাক্য রয়েছে, যেমন: 'আবু বকর একজন বক্তা' এবং 'আবু বকর সত্যবাদী', অথবা 'আবু বকর বলেছেন' এবং 'আবু বকর সত্য বলেছেন'। এরপর যদি আমরা সেগুলোর ওপর শর্ত (الشرط) যুক্ত করি এবং বলি: 'যদি আবু বকর বক্তা হন তবে তিনি সত্যবাদী' অথবা 'যদি আবু বকর বলেন তবে তিনি সত্য বলেছেন', তবে শর্ত (الشرط) যুক্ত করার অর্থ কি এই যে প্রতিটি বাক্যের কৃতিত্বমূলক বা ইসনাদ ভিত্তিক সম্পর্কের (العلاقات الإسنادية) পরিবর্তন ঘটানো এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্যকে অন্য বাক্যের ইসনাদ ভিত্তিক দুটি প্রধান স্তম্ভের একটিতে পরিণত করা? অর্থাৎ শর্ত (الشرط) যুক্ত করার অর্থ কি এই যে আমরা দ্বিতীয় বাক্যটিকে প্রথমটির খবর (خبر) হিসেবে নির্ধারণ করেছি? প্রতিটি বাক্য কি তার নিজ নিজ ইসনাদ ভিত্তিক স্তম্ভদ্বয়ের (بركنيها الإسناديين) ওপর উভয় কাঠামোতে সুপ্রতিষ্ঠিত নয়? শর্ত (الشرط) যা করেছে তা হলো কেবল দ্বিতীয়টির সংঘটনকে প্রথমটির সংঘটনের ওপর ঝুলিয়ে দেওয়া বা সম্পৃক্ত করা।

যদি বলা হয় যে, পূর্বোক্ত দুটি উদাহরণে শর্তের অব্যয়টি বর্ণভিত্তিক (حرفية), আর আমাদের মতভেদের বিষয়টি হলো বিশেষ্যভিত্তিক (الاسمية) অব্যয় নিয়ে; তবে আমরা বলব যে, বর্ণভিত্তিক এবং বিশেষ্যভিত্তিক উভয় প্রকার অব্যয়ের ক্ষেত্রে শর্তের (الشرط) অর্থ অভিন্ন। তাদের মধ্যকার পার্থক্য হলো আমরা কোনো বুদ্ধিমান সত্তা বা অন্য কিছু বুঝানোর জন্য বিশেষ্যভিত্তিক কাঠামোর ওপর বাক্য গঠন করি। যেহেতু অব্যয়টি বিশেষ্যবাচক এবং বাক্যের শুরুতে আসার অধিকার রাখে, তাই আমরা একে অগ্রে নিয়ে আসি। সুতরাং আমাদের এই কথা: 'বিচক্ষণ ব্যক্তি পরিশ্রম করে'—এটি 'যে পরিশ্রম করে' এর সমতুল্য। আর 'বিচক্ষণ ব্যক্তি সফল হয়'—এটি 'যে সফল হয়' এর সমতুল্য। আর যখন শর্তের (الشرط) বিষয়টি তার অর্থগত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়...
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬১)
على تلازم جملتين قُلْنَا من يجْتَهد ينجح واستغنينا عَن الْفَاعِل الظَّاهِر للْفِعْل الثَّانِي بضميره الْعَائِد على الِاسْم الأول فارتبطت الجملتان إِحْدَاهمَا بِالْأُخْرَى لفظا وتلازمتا معنى وَتلك هِيَ وَظِيفَة الشَّرْط وَلَكِن لم تَتَغَيَّر العلاقات الإسنادية فِي كل من الجملتين وَلم تصبح الثَّانِيَة خَبرا للأولى

ويتضح من هَذَا أَن جملَة الشَّرْط وَحدهَا هِيَ الْخَبَر للمبتدأ الَّذِي هُوَ اسْم الشَّرْط وَقد كَانَت خَبرا قبل دُخُول الشَّرْط للاسم الَّذِي كَانَ قبله غير مضمن معنى الشَّرْط وَكَون من مضمنة معنى الشَّرْط لَا يلغي خبرية مَا بعْدهَا كَمَا لم يلغ الِاسْتِفْهَام الَّذِي ضمناه ل من خبرية الْجُمْلَة الَّتِي بعْدهَا لَهُ فقولنا زيد قَامَ يُسَاوِي قَوْلنَا من قَامَ فِي كَون جملَة قَامَ خَبرا لما قبلهَا وَدخُول الأدوات الْحُرُوف أَو الْأَسْمَاء المضمنة مَعَاني الْحُرُوف لَا يخل بتركيب الْجمل وَلَا يَجْعَل من الجملتين جملَة وَاحِدَة لما فِي ذَلِك من خُرُوج عَمَّا أَصله النُّحَاة وَمُخَالفَة لما اصْطلحَ عَلَيْهِ جمهورهم من معنى الْجُمْلَة وَدخُول الشَّرْط على الجملتين لَا يخلخل العلاقة الإسنادية فِي كل مِنْهُمَا بل يبقيها وَلكنه يَجْعَل حُصُول الثَّانِيَة من حَيْثُ الْمَعْنى متوقفا على حُصُول الأولى لِأَن أسلوب الشَّرْط أصلا يَقْتَضِي ذكر جملَة ثَانِيَة تتمّ مَعْنَاهُ كَمَا أَن الِاسْم الْمَوْصُول الْوَاقِع فَاعِلا أَو خَبرا لَا يكتمل الْمَعْنى بِهِ لِأَنَّهُ يَقْتَضِي مَا يحْتَاج إِلَيْهِ من الصِّلَة والصلة فِي اتِّفَاق الْجَمِيع لَيست جُزْءا من الِاسْم الْمَوْصُول من حَيْثُ الْإِعْرَاب وَلكنهَا لَازِمَة لَهُ من حَيْثُ الْمَعْنى

وَثَالِثهَا أَنهم متفقون على أَن جملَة جَوَاب الشَّرْط الْجَازِم إِذا كَانَت مقترنة بِالْفَاءِ أَو إِذا الفجائية فَهِيَ فِي مَحل جزم فَكيف يَصح جعل الْجُمْلَة الْوَاحِدَة فِي محلين مُخْتَلفين من الْإِعْرَاب فِي وَقت
দুটি বাক্যের পারস্পরিক আবশ্যকতা প্রসঙ্গে আমরা বলি: "যে পরিশ্রম করবে, সে সফল হবে।" এখানে আমরা দ্বিতীয় ক্রিয়ার প্রকাশ্য কর্তার পরিবর্তে প্রথম বিশেষ্যের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম ব্যবহারের মাধ্যমে তা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়েছি। ফলে বাক্য দুটি শাব্দিকভাবে পরস্পর সংযুক্ত হয়েছে এবং অর্থগতভাবে একে অপরের পরিপূরক হয়েছে; আর এটিই হলো শর্তের কাজ। তবে এতে উভয় বাক্যের কোনোটিরই ইসনাদগত সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি এবং দ্বিতীয় বাক্যটি প্রথমটির খবর হিসেবে গণ্য হয়নি।

এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, কেবল শর্তমূলক বাক্যটিই সেই মুবতাদার খবর, যা মূলত শর্তবাচক বিশেষ্য। শর্তের অর্থ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পূর্বেও এটি তার পূর্ববর্তী বিশেষ্যের খবর ছিল। আর 'মান' শব্দটিতে শর্তের অর্থ নিহিত থাকা তার পরবর্তী অংশের খবর হওয়ার বিষয়টিকে বাতিল করে দেয় না, যেমনটি 'মান' শব্দের মধ্যে থাকা প্রশ্নবোধক অর্থ তার পরবর্তী বাক্যের খবর হওয়ার বিষয়টিকে বাতিল করে না। সুতরাং আমাদের বাক্য "জায়েদ দাঁড়িয়েছে" এবং "কে দাঁড়িয়েছে" — উভয় ক্ষেত্রে 'দাঁড়িয়েছে' বাক্যটি তার পূর্ববর্তী শব্দের খবর হওয়ার ক্ষেত্রে সমান। হরফ বা হরফের অর্থ সম্বলিত বিশেষ্যের ন্যায় অব্যয়সমূহের অনুপ্রবেশ বাক্যের কাঠামোতে কোনো বিঘ্ন ঘটায় না এবং দুটি বাক্যকে একটি বাক্যে পরিণত করে না; কারণ এমনটি করা ব্যাকরণবিদদের মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হওয়া এবং বাক্যের সংজ্ঞার বিষয়ে তাঁদের জমহুর বা সংখ্যাগুরু অংশের পরিভাষার পরিপন্থী হওয়ার শামিল। দুটি বাক্যের ওপর শর্তের অনুপ্রবেশ তাদের প্রত্যেকের ইসনাদগত সম্পর্ককে শিথিল করে না, বরং তা বহাল রাখে; কিন্তু এটি অর্থগতভাবে দ্বিতীয় বাক্যের সংঘটনকে প্রথম বাক্যের সংঘটনের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। কারণ শর্তের শৈলী মূলত তার অর্থ পূর্ণ করার জন্য দ্বিতীয় একটি বাক্য উল্লেখ করার দাবি রাখে। ঠিক যেমন ফায়িল বা খবর হিসেবে অবস্থিত সম্বন্ধবাচক বিশেষ্য তার অর্থ পূর্ণ করতে পারে না যতক্ষণ না তার সাথে সম্বন্ধসূচক বাক্য (সিলাহ) যুক্ত হয়। আর সকলের ঐকমত্য অনুযায়ী, সম্বন্ধসূচক বাক্যটি ব্যাকরণিক অবস্থানের দিক থেকে সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যের অংশ নয়, তবে অর্থের দিক থেকে এটি তার জন্য অপরিহার্য।

তৃতীয়ত, তাঁরা এই বিষয়ে একমত যে, জযম প্রদানকারী শর্তের উত্তর-বাক্য যদি 'ফা' অথবা আকস্মিকতা অর্থবোধক 'ইযা' এর সাথে যুক্ত হয়, তবে সেটি জযমের স্থলাভিষিক্ত হয়। এমতাবস্থায়, একই সময়ে একটি বাক্যকে দুটি ভিন্ন ব্যাকরণিক অবস্থানের মধ্যে রাখা কীভাবে সঠিক হতে পারে?
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬২)
وَاحِد وَكَيف نقُول فِي مثل قَوْله تَعَالَى {وَمن يَتَعَدَّ حُدُود الله فَأُولَئِك هم الظَّالِمُونَ} إِذا جعلنَا جملَة الْجَواب فِي مَحل جزم كَمَا هُوَ مُتَّفق عَلَيْهِ فِي عمل الشَّرْط فقد ألغينا الرّفْع وَإِذا جعلناها فِي مَحل رفع كَمَا يَقُولُونَ فقد ألغينا الْجَزْم وَإِذا جعلناها فِي المحلين فقد وقعنا فِي التَّنَاقُض وَالِاضْطِرَاب وَهُوَ اضْطِرَاب مشابه لما وَقع فِيهِ بعض الْقَائِلين بِالرَّأْيِ الأول وَهُوَ أَن جملتي الشَّرْط وَالْجَوَاب هما الْخَبَر لتصادم عَامِلِي الْجَزْم وَالرَّفْع فِي جملَة الْجَواب عِنْد كلا الْفَرِيقَيْنِ
এটি অভিন্ন; এবং মহান আল্লাহর বাণী—"আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সীমালঙ্ঘন করে, তারাই জালেম"—এর মতো ক্ষেত্রগুলোতে আমরা কী বলব? যদি আমরা জওয়াব বাক্যটিকে (جملة الجواب) জজমের (جزم) স্থলে ধরি, যেমনটি শর্তের (الشرط) আমলের ক্ষেত্রে সর্বসম্মত, তবে আমরা রফকে (الرفع) বাতিল করে দিলাম। আবার তারা যেমনটি বলেন, যদি আমরা একে রফের (الرفع) স্থলে ধরি, তবে আমরা জজমকে (جزم) বাতিল করে দিলাম। আর যদি আমরা উভয় অবস্থানেই একে গণ্য করি, তবে আমরা বৈপরীত্য ও বিভ্রান্তির (اضطراب) মধ্যে নিপতিত হব। এটি এমন এক বিভ্রান্তি (اضطراب) যা প্রথম মত পোষণকারী কারো কারো ক্ষেত্রে ঘটেছিল; আর তা হলো—শর্ত (الشرط) ও জওয়াব (الجواب) উভয় বাক্য মিলেই খবর (الخبر) গঠিত হয়। কারণ উভয় পক্ষের নিকট জওয়াব বাক্যের মধ্যে জজম (جزم) ও রফ (الرفع) প্রদানকারী আমেলদ্বয়ের (عاملي) মধ্যে পারস্পরিক সংঘাত সৃষ্টি হয়।
(খণ্ড: ১) রিসালাতুল মাবাহিছিল মারদিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬৩)
3 - وَأما الرَّأْي الْأَخير وَهُوَ كَون جملَة الشَّرْط وَحدهَا هِيَ الْخَبَر فَهُوَ مَا نؤيده وَنَذْهَب فِيهِ مَذْهَب الْجُمْهُور ونرى أَن جُمْهُور النُّحَاة لم يصطلحوا عَلَيْهِ وَأَن ابْن هِشَام لم يشرحه غير مَا مرّة إِلَّا لِأَنَّهُ الْمَذْهَب المطرد والمنهج الْأسد

أَولا لِأَن جملَة الشَّرْط الْجَازِم إِذا كَانَ مُبْتَدأ لَا مَحل لَهَا فِي أَي مَوضِع من الْمَوَاضِع وكيفما تقلبت بهَا الْحَال إِلَّا فِي هَذَا الْموضع الَّذِي تكون فِيهِ فِي مَحل رفع خَبرا للمبتدأ فَلَا تنَازع عَلَيْهَا بَين عَامِلِي الْجَزْم وَالرَّفْع شَأْن جملَة الْجَواب وَإِنَّمَا هِيَ فِي حَالَة وَاحِدَة من ثَلَاث حالات مطردَة

الأولى أَنَّهَا لَيست بِذَات مَحل إِذا كَانَت أَدَاة الشَّرْط حرفا

الثَّانِيَة أَنَّهَا فِي مَحل جر بِالْإِضَافَة إِذا كَانَ اسْم الشَّرْط ظرفا

الثَّالِثَة أَنَّهَا فِي مَحل رفع على الخبرية إِذا كَانَ اسْم الشَّرْط مُبْتَدأ

والاطراد وتجنب الشذوذ أولى بالاتباع

ثَانِيًا لِأَن الْجُمْلَة تبقى فِي إطار مَا اصْطلحَ جمهورهم عَلَيْهِ من كَونهَا مركبة من كَلِمَتَيْنِ أسندت إِحْدَاهمَا إِلَى الْأُخْرَى فَلَا نضطر إِلَى مخالفتهم بابتداع جملَة جَدِيدَة مركبة من جملتين تركيبا لَيْسَ شَأْنه شَأْن الْجُمْلَة الْكُبْرَى لِأَنَّهُمَا فِي الأَصْل جملتان مستقلتان لكل مِنْهُمَا علاقَة
3 - আর সর্বশেষ মতটি—যা হলো কেবল শর্তসূচক বাক্যটিই সংবাদ (খবর) হিসেবে গণ্য হওয়া—সেটিকেই আমরা সমর্থন করি এবং এ ক্ষেত্রে আমরা জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমদের মাযহাব অনুসরণ করি। আমরা মনে করি যে, অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ এই পরিভাষার ওপর একমত হননি এবং ইবনে হিশাম এটি একাধিকবার ব্যাখ্যা করেছেন কেবল এই কারণে যে, এটিই সুসংগত মত এবং সর্বাধিক সঠিক পদ্ধতি।

প্রথমত, কারণ জাযম প্রদানকারী শর্তসূচক বাক্যটি যখন উদ্দেশ্য (মুবতাদা) হয়, তখন অন্য কোনো ব্যাকরণিক অবস্থানে (মাহাল) তার কোনো স্থান থাকে না; পরিস্থিতির যেমনই পরিবর্তন হোক না কেন, কেবল এই একটি ক্ষেত্র ব্যতীত যেখানে তা উদ্দেশ্যের সংবাদ (খবর) হিসেবে ‘রাফা’র স্থলাভিষিক্ত হয়। ফলে জাযম এবং রাফা প্রদানকারী উভয় আমেলের মধ্যে কোনো বিরোধ সৃষ্টি হয় না, যেমনটি উত্তরসূচক বাক্যের (জুমলাতুল জাওয়াব) ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। বরং এটি তিনটি সুসংগত অবস্থার একটিতে অবস্থান করে।

প্রথমত: শর্তের অব্যয়টি হরফ বা বর্ণ হলে বাক্যটির কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান থাকে না।

দ্বিতীয়ত: যদি শর্তবাচক বিশেষ্যটি যরফ বা সময়/স্থানবাচক হয়, তবে তা ইদাফাত বা সম্বন্ধের কারণে ‘জার’ এর অবস্থানে থাকে।

তৃতীয়ত: যদি শর্তবাচক বিশেষ্যটি উদ্দেশ্য (মুবতাদা) হয়, তবে তা সংবাদ (খবর) হওয়ার কারণে ‘রাফা’ এর অবস্থানে থাকে।

আর সুসংগত নিয়ম অনুসরণ করা এবং বিরল বা ব্যতিক্রমী (شاذ) বিষয় পরিহার করাই অনুসরণের জন্য অধিক উত্তম।

দ্বিতীয়ত, কারণ বাক্যটি তখন জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিম কর্তৃক স্বীকৃত সংজ্ঞার কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, অর্থাৎ যা দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত যেখানে একটিকে অন্যটির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। ফলে নতুন কোনো বাক্য উদ্ভাবন করে তাঁদের বিরোধিতা করার প্রয়োজনীয়তা আমাদের থাকে না—এমন বাক্য যা দুটি পৃথক বাক্যের সমন্বয়ে গঠিত এবং যার গঠন জুমলায়ে কুবরা বা মহাবাক্যের মতো নয়; কেননা এগুলো মূলত দুটি স্বতন্ত্র বাক্য এবং এদের প্রত্যেকের পৃথক সম্বন্ধ রয়েছে।