(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: -)
رسالة أي المشددة   (ابن قائد)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: رسالة "أيَّ" المشددة

المؤلف: عثمان بن أحمد بن سعيد بن عثمان بن قائد النجدي الحنبلي (ت 1097هـ)

المحقق: د عبد الفتاح الحموز

الناشر: دار عمار / دار الفيحاء - الأردن

الطبعة: الأولى، 1406هـ 1986م

عدد الصفحات: 55

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রিসালাহ আয়্যি আল-মুশাদ্দাদাহ   (ইবনে কায়েদ)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


গ্রন্থ: রিসালাহ "আয়্যি" আল-মুশাদ্দাদাহ

লেখক: উসমান বিন আহমদ বিন সাঈদ বিন উসমান বিন কায়েদ আন-নাজদি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ১০৯৭ হিজরি)

সম্পাদক: ড. আবদুল ফাত্তাহ আল-হামুজ

প্রকাশক: দার আম্মার / দার আল-ফায়হা - জর্ডান

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরি ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌رِسَالَة أَي الْمُشَدّدَة

 

‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

وَبِه ثقتي ورجاي الْحَمد لله رَافع المشكلات عَن أولي الْأَلْبَاب وناصب العلامات على ذَلِك من سنة وَكتاب حَتَّى انخفض لَهُم وَسَهل مَا أرادوه فجزموا بِأَن الْفَاعِل حَقِيقَة من قصدوه وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على خير خلقه مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه

وَبعد فَيَقُول العَبْد الْفَقِير إِلَى رَحْمَة ربه الْعلي عُثْمَان بن أَحْمد النجدي الْحَنْبَلِيّ لطف الله تَعَالَى بهما وَالْمُسْلِمين هَذِه فَوَائِد تتَعَلَّق ب أَي الْمُشَدّدَة الْيَاء من كَلِمَات الْعَرَبيَّة توضح مَا فِيهَا من أَقسَام وَأَحْكَام حَتَّى تصير خفياتها جلية أسأَل الله تَعَالَى بفضله العميم أَن ينفع بهَا قَارِئهَا والناظر فِيهَا بقلب سليم وَقد رتبت الْكَلَام فِيهَا على ثَلَاثَة فُصُول وخاتمة نرجو حسنها وَالْقَبُول
দ্বিত্বযুক্ত (المشددة) ‘আই’ (أَي) সংক্রান্ত রিসালাহ

 

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

তাঁরই ওপর আমার ভরসা ও প্রত্যাশা। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রজ্ঞাবানদের নিকট থেকে জটিলতাসমূহ দূরকারী এবং সুন্নাহ (سنة) ও কিতাব (كتاب) থেকে এর ওপর নিদর্শনসমূহ স্থাপনকারী; এমনকি তাদের নিকট যা তারা উদ্দেশ্য করেছেন তা সহজ ও নমনীয় হয়ে গেছে, ফলে তারা দৃঢ়তার সাথে অবগত হয়েছেন যে প্রকৃত কর্তা তিনিই যাঁকে তারা অন্বেষণ করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সর্বোত্তম সৃষ্টি মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর।

অতঃপর, তাঁর মহান রবের করুণার ভিখারি বান্দা উসমান ইবনে আহমদ আন-নাজদী আল-হাম্বলী (আল্লাহ তাআলা তাদের উভয়ের প্রতি এবং মুসলিমদের প্রতি সদয় হোন) বলছেন: এগুলো আরবি শব্দমালার অন্তর্গত দ্বিত্বযুক্ত (المشددة) ‘ইয়া’ বিশিষ্ট ‘আই’ (أَي) সম্পর্কিত কিছু ফায়দা, যা এর অন্তর্ভুক্ত প্রকারভেদ (أقسام) ও বিধানসমূহ (أحكام) স্পষ্ট করে দেয়, যাতে এর সূক্ষ্ম বিষয়গুলোও সুষ্পষ্ট হয়ে ওঠে। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর ব্যাপক অনুগ্রহের উসিলায় প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর পাঠক এবং পরিচ্ছন্ন হৃদয়ে এর প্রতি দৃষ্টিপাতকারীকে উপকৃত করেন। আমি এই আলোচনাকে তিনটি পরিচ্ছেদ (فصول) এবং একটি উপসংহার (خاتمة) দ্বারা বিন্যস্ত করেছি, যার কল্যাণ ও কবুলিয়ত আমরা প্রত্যাশা করি।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الْفَصْل الأول فِي أقسامها

 

اعْلَم أَن أيا فِي الْعَرَبيَّة على سِتَّة أوجه

1 - أَحدهَا أَن تكون شَرْطِيَّة كَقَوْلِه تَعَالَى {أيا مَا تدعوا فَلهُ الْأَسْمَاء الْحسنى}
প্রথম পরিচ্ছেদ: এর প্রকারভেদ প্রসঙ্গে

 

জেনে রাখুন যে, আরবি ভাষায় 'আইয়ুন' শব্দটি ছয়টি পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়

১ - তার একটি হলো এটি শর্তবাচক (شرطية) হওয়া, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, সুন্দর নামসমূহ তো তাঁরই।}
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
2 - الثَّانِي أَن تكون استفهامية كَقَوْلِه تَعَالَى {فَأَي الْفَرِيقَيْنِ أَحَق بالأمن}
২ - দ্বিতীয়ত: তা প্রশ্নবোধক (استفهامية) হওয়া; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব দুই দলের মধ্যে নিরাপত্তা লাভের অধিক যোগ্য কে?}
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
3 - الثَّالِث أَن تكون صفة لنكرة نَحْو مَرَرْت بِفَارِس أَي فَارس
3 - তৃতীয়টি হলো, এটি কোনো অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (نكرة) বিশেষণ (صفة) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া; যেমন: "আমি একজন অশ্বারোহীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি, সে কী এক অশ্বারোহী!"
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
4 - الرَّابِع أَن تكون حَالا لمعْرِفَة نَحْو مَرَرْت بزيد أَي زيد وَهِي فِي الوصفية والحالية على معنى الْكَمَال

5 - الْخَامِس أَن تكون مَوْصُولَة كَقَوْلِه تَعَالَى {ثمَّ لننزعن من كل شيعَة أَيهمْ أَشد}
৪ - চতুর্থত, এটি নির্দিষ্ট বিশেষ্যের অবস্থা (حال) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া; যেমন: ‘আমি যায়িদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, অর্থাৎ (যোগ্যতায় পূর্ণ) যায়িদ’। এটি বিশেষণমূলক (وصفية) এবং অবস্থাবাচক (حالية) ব্যবহারের ক্ষেত্রে পূর্ণতা (كمال) অর্থ প্রদান করে।

৫ - পঞ্চমত, এটি সম্বন্ধসূচক (موصولة) হওয়া; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর প্রত্যেক দল থেকে আমি অবশ্যই তাদেরকে টেনে বের করব, যারা তাদের মধ্যে অধিক উদ্ধত ছিল}।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
6 - السَّادِس أَن تكون وصلَة لنداء مَا فِيهِ أل كَقَوْلِه تَعَالَى {يَا أَيهَا المزمل} وَمعنى كَونهَا وصلَة لنداء مَا فِيهِ أل أَنه لَا يجوز فِي الِاخْتِيَار جمع يَا وأل إِلَّا مَعَ الله ومحكي الْجمل فَلَا تَقول يَا المزمل وَلَا يَا الْقَائِم وَنَحْوهمَا فَمَتَى أَرَادوا نِدَاء مَا فِيهِ أل أَتَوا قبله ب أَي فأدخلوا عَلَيْهَا حرف النداء وَأتوا بعْدهَا بهاء التَّنْبِيه جبرا لما فاتها
6 - ষষ্ঠ হলো, এটি 'আলিফ-লাম' যুক্ত কোনো শব্দকে আহ্বান করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হে চাদরাবৃত (ইয়া আইয়্যুহাল মুয্যাম্মিল)}। 'আলিফ-লাম' যুক্ত শব্দকে আহ্বানের মাধ্যম হওয়ার অর্থ হলো, স্বাভাবিক অবস্থায় 'ইয়া' এবং 'আলিফ-লাম'-কে একত্রে ব্যবহার করা বৈধ নয়; কেবল 'আল্লাহ' শব্দ এবং উদ্ধৃত বাক্যের ক্ষেত্র ব্যতীত। সুতরাং আপনি 'ইয়া আল-মুয্যাম্মিল' কিংবা 'ইয়া আল-ক্বা-ইম' এবং তদ্রূপ কিছু বলতে পারবেন না। অতএব যখনই তারা 'আলিফ-লাম' যুক্ত কোনো শব্দকে আহ্বান করার ইচ্ছা করেন, তখন তারা তার পূর্বে 'আইয়্যু' নিয়ে আসেন, অতঃপর তারা এর শুরুতে আহ্বানসূচক অব্যয় যুক্ত করেন এবং যা কিছু বাদ পড়েছে তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে এর শেষে একটি সতর্কীকরণ সূচক 'হা' যুক্ত করেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
من الْإِضَافَة ثمَّ أَتَوا بِالْمَقْصُودِ بالنداء فِي صُورَة نعت ل أَي تَابع لَهَا على اللَّفْظ لَا على الْمحل فَإِن محلهَا نصب على المفعولية بِفعل مَحْذُوف وجوبا تَقْدِيره أَدْعُو أَو أنادي أَو أطلب وَنَحْو ذَلِك

فَمَتَى كَانَ الْمُنَادِي أيا وَجب وَصفه بمرفوع معرف بالأداة لما ذكرنَا كَمَا أَشَارَ إِلَى ذَلِك فِي الْخُلَاصَة بقوله
ইজাফাত (الإضافة) থেকে, অতঃপর তারা সম্বোধনের মূল উদ্দেশ্যকে 'আইয়ু' (أَي)-এর বিশেষণ (نعت) হিসেবে নিয়ে এসেছেন যা শাব্দিক রূপের (اللفظ) অনুসারী, ব্যাকরণিক অবস্থানের (المحل) নয়। কেননা এর ব্যাকরণিক অবস্থান হলো আবশ্যিকভাবে ঊহ্য ক্রিয়া (بفعل مَحْذُوف وجوبا) দ্বারা কর্মবাচকতার (المفعولية) ভিত্তিতে নসব (نصب) হওয়া; যার অনুমিত রূপ (تَقْدِيره) হলো 'আমি ডাকছি' (أَدْعُو), 'আমি আহ্বান করছি' (أنادي), 'আমি প্রার্থনা করছি' (أطلب) অথবা এই জাতীয় কিছু।

সুতরাং যখন সম্বোধিত পদটি (الْمُنَادِي) 'আইয়ু' (أَي) হয়, তখন আমাদের বর্ণিত কারণে হরফে তারিফ (الأداة) যুক্ত পেশযুক্ত শব্দ (مرفوع) দ্বারা তার বিশেষণ বর্ণনা করা আবশ্যক (وجب), যেমনটি আল-খুলাসাহ (الخلاصة) গ্রন্থে তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে:
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
وأيها مصحوب أل بعد صفه يلْزم بِالرَّفْع لَدَى ذِي الْمعرفَة وَإِنَّمَا جَازَ اتِّبَاع وصف أَي لَهَا فِي حَرَكَة بنائها لِأَنَّهُ عَارض وَالْحَرَكَة الْحَادِثَة بمجيء النداء شَبيهَة بحركة الْإِعْرَاب الْحَادِثَة بمجيء الْعَامِل وَنَظِير هَذَا نعت اسْم لَا الْمَبْنِيّ مَعهَا فَإِنَّهُ يجوز فِيهِ النصب إتباعا لفتح اسْم لَا عِنْد بَعضهم نَحْو لَا رجل صَالحا محروم وَقد أَشَارَ إِلَى ذَلِك الْعَلامَة ابْن هِشَام فِي مُغنِي اللبيب فَقَالَ فِي الْجِهَة السَّادِسَة من الْبَاب الْخَامِس مَا نَصه وَأما لَا رجل ظريفا فَإِنَّهُ عِنْد سِيبَوَيْهٍ مثل يَا زيد الْفَاضِل بِالرَّفْع انْتهى وَهَذَا بِخِلَاف حَرَكَة الْبناء فَإِنَّهُ لَا يجوز إتباعها لعدم الشّبَه الْمَذْكُور

ثمَّ اعْلَم أَنه يسْتَثْنى من نِدَاء مَا فِيهِ أل اسْم الله الْأَعْظَم كَقَوْلِنَا يَا الله اغْفِر لنا وَكَذَا يجوز دُخُول حرف النداء على مَا فِيهِ أل من جملَة جعلت علما كَمَا لَو سميت شخصا ب المنطلق زيد فَإِنَّهُ يجوز أَن تَقول فِي ندائه يَا المنطلق زيد وَالله أعلم
এবং 'আইয়্যুহা'-এর পর 'আল' যুক্ত পদটি যখন বিশেষণ (صفة) হিসেবে আসে, তখন বিজ্ঞ (ذي المعرفة) পণ্ডিতদের নিকট তাতে রফ (رفع) প্রদান করা আবশ্যক। 'আইয়্যু'-এর বিশেষণের ক্ষেত্রে এর বিনাশীল (بناء) হরকতের অনুসরণ করা বৈধ করা হয়েছে, কারণ তা একটি আগন্তুক (عارض) বিষয়; আর নিদা (نداء) বা আহ্বানের কারণে উদ্ভূত হরকতটি আমিল (عامل)-এর আগমনে সৃষ্ট ইরাব (إعراب)-এর হরকতের সদৃশ। এর সদৃশ উদাহরণ হলো 'লা'-এর সাথে যুক্ত বিনাশীল (مبني) ইসিমের বিশেষণ (نعت); কারণ কারো কারো মতে 'লা'-এর ইসিমের ফাতাহ্-কে অনুসরণ করে উক্ত বিশেষণে নসব (نصب) প্রদান করা বৈধ, যেমন: 'লা রাজুলা সালিহান মাহরুম'। আল্লামা ইবনে হিশাম মুগনি আল-লাবিব গ্রন্থের পঞ্চম অধ্যায়ের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে এ বিষয়ে ইঙ্গিত করে যা বলেছেন তার মূল পাঠ হলো: "আর 'লা রাজুলা জারিফান'-এর ক্ষেত্রে এটি সিবাহি-এর নিকট 'ইয়া যাইদুল ফাদিলু'-এর ন্যায় রফ (رفع) সহকারে পঠিত হবে।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এটি মূল গঠনগত বিনাশীল হরকত (حركة البناء)-এর বিপরীত, কারণ সেখানে উল্লিখিত সাদৃশ্য অনুপস্থিত থাকায় তার অনুসরণ করা বৈধ নয়।

অতঃপর জেনে রাখুন যে, 'আল' যুক্ত শব্দের নিদা (نداء)-এর ক্ষেত্রে আল্লাহর মহান নাম (اسم الله الأعظم) এর ব্যতিক্রম; যেমন আমাদের উক্তি: 'ইয়া আল্লাহু ইগফির লানা' (হে আল্লাহ, আমাদের ক্ষমা করুন)। অনুরূপভাবে, ওইসব 'আল' যুক্ত শব্দের ওপর নিদার হরফ (حرف النداء) প্রবেশ করা বৈধ যা কোনো পূর্ণ বাক্যের অংশ হওয়া সত্ত্বেও নাম (علم) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আপনি যদি কোনো ব্যক্তির নাম রাখেন 'আল-মুনতালিকু যাইদুন', তবে তাকে আহ্বানের ক্ষেত্রে 'ইয়া আল-মুনতালিকু যাইদুন' বলা বৈধ হবে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
تَنْبِيه

أَي فِي أقسامها الْأَرْبَعَة الأول معربة وَهِي الشّرطِيَّة والاستفهامية والوصفية والحالية لِأَنَّهَا وَإِن كَانَ فِيهَا شبه الحرفية فِي بعض الْأَحْوَال وَهُوَ تضمنها معنى الشَّرْط إِذا كَانَت شَرْطِيَّة وَمعنى الِاسْتِفْهَام إِلَّا أَن هَذَا الشّبَه قد عَارضه لُزُومهَا الْإِضَافَة إِلَى مُفْرد وَذَلِكَ من خَصَائِص الْأَسْمَاء فَرَجَعت إِلَى مَا هُوَ الأَصْل فِيهَا من الْإِعْرَاب وَالْأَصْل يرجع إِلَيْهِ بِأَدْنَى سَبَب وَأما الموصولة فَفِيهَا تَفْصِيل سَيَأْتِي فِي الْفَصْل الثَّالِث إِن شَاءَ الله تَعَالَى

وَأما الوصلة فتبنى بِلَا تَفْصِيل لِأَنَّهَا مُفْرد معرفَة وَالله أعلم
সতর্কবার্তা

‘আই’ (أَي) শব্দটির প্রথম চারটি প্রকার রূপান্তরযোগ্য (معربة); আর সেগুলো হলো: শর্তবোধক (الشّرطِيَّة), প্রশ্নবোধক (الاستفهامية), বিশেষণমূলক (الوصفية) এবং অবস্থাবোধক (الحالية)। কারণ, যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর মধ্যে অব্যয় সদৃশতা (شبه الحرفية) বিদ্যমান থাকে—আর তা হলো শর্তবোধক অবস্থায় শর্তের অর্থ (معنى الشَّرْط) এবং প্রশ্নের অর্থ শামিল থাকা—তথাপি এই সাদৃশ্যের বিপরীতে একটি বিষয় প্রবল হয়েছে, তা হলো একক শব্দের (مُفْرد) প্রতি এর সম্বন্ধ (الإِضَافَة) হওয়া আবশ্যক। আর এটি বিশেষ্য বা ইসমের (الأسماء) অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। ফলে এটি তার মূল অবস্থায় ফিরে গেছে, যা হলো রূপান্তরযোগ্যতা (الإِعْرَاب); আর সামান্যতম কারণেই মূল অবস্থার দিকে ফিরে যাওয়া হয়। আর সম্বন্ধবাচক (الموصولة) ‘আই’ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ ইনশাআল্লাহ তৃতীয় পরিচ্ছেদে আসবে।

পক্ষান্তরে সংযোগকারী (الوصلة) হিসেবে ব্যবহৃত ‘আই’ কোনো বিস্তারিত বিবরণ ছাড়াই অপরিবর্তনীয় (تبنى), কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট (معرفة) একক শব্দ। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
‌‌الْفَصْل الثَّانِي فِيمَا يلْزمهَا من الْإِضَافَة

 

أعلم أَن أيا فِي جَمِيع أقسامها وَاجِبَة الْإِضَافَة إِمَّا لفظا أَو تَقْديرا إِلَّا الْوَاقِعَة وصلَة فَإِنَّهَا لَيست مُضَافَة لَا لفظا وَلَا تَقْديرا وَلذَلِك ألزموها هَا التَّنْبِيه عوضا عَمَّا فاتها من الْإِضَافَة كَمَا تقدم التَّنْبِيه عَلَيْهِ وَهِي بِاعْتِبَار مَا تُضَاف إِلَيْهِ على ثَلَاثَة أَقسَام

أَحدهَا مَا يجب فِيهِ أَن تُضَاف إِلَى معرفَة وَهِي الْوَاقِعَة موصوله

الثَّانِي مَا يجب فِيهِ أَن تُضَاف إِلَى نكرَة وَهِي الْوَاقِعَة صفة لنكرة أَو حَالا لمعْرِفَة كَمَا تقدم من الْأَمْثِلَة

مَا تكون فِيهِ مُضَافَة إِلَى معرفَة تَارَة والى نكرَة أُخْرَى وَهِي الْوَاقِعَة شرطا أَو استفهاما فمثالهما معرفتين أَيهمْ يقم أقِم مَعَه وأيهم يقوم ومثالهما نكرتين أَي رجل يقم أقِم مَعَه وَأي رجل يقوم
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সম্বন্ধ (الإضافة) হিসেবে যা এর জন্য আবশ্যক

 

জেনে রাখুন যে, 'আইয়্যু' (أَيّ) শব্দটি তার সকল প্রকারভেদে শব্দগতভাবে (لفظا) অথবা উহ্যভাবে (تقديرا) সম্বন্ধ (الإضافة) হওয়া আবশ্যক (ওয়াজিব); তবে যখন এটি সংযোগকারী (وصلة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি শব্দগতভাবে বা উহ্যভাবে কোনোভাবেই সম্বন্ধযুক্ত (مضافة) হয় না। এই কারণেই (বৈয়াকরণগণ) এর সাথে সম্বন্ধের (الإضافة) বিকল্প হিসেবে একটি সতর্কতামূলক 'হা' (هَا التَّنْبِيه) যুক্ত করে দিয়েছেন, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এটি যার দিকে সম্বন্ধিত হয়, সেই বিবেচনায় এটি তিন প্রকার:

প্রথমত: যাতে নির্দিষ্ট (معرفة) বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধ (تُضَاف) করা আবশ্যক; আর এটি তখনই হয় যখন তা সংযোজক (موصولة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

দ্বিতীয়ত: যাতে অনির্দিষ্ট (نكرة) বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধ (تُضَاف) করা আবশ্যক; আর তা হলো যখন সেটি কোনো অনির্দিষ্ট (نكرة) বিশেষ্যের গুণবাচক (صفة) শব্দ হিসেবে অথবা কোনো নির্দিষ্ট (معرفة) বিশেষ্যের অবস্থা (حالا) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি পূর্বের উদাহরণগুলোতে অতিক্রান্ত হয়েছে।

তৃতীয়ত: যা কখনো নির্দিষ্ট (معرفة) বিশেষ্যের দিকে এবং কখনো অনির্দিষ্ট (نكرة) বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধিত (مضافة) হয়; আর তা হলো যখন সেটি শর্ত (شرطا) অথবা প্রশ্নবোধক (استفهاما) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নির্দিষ্ট বিশেষ্যের ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো: "তাদের মধ্যে যে-ই দাঁড়াবে, আমি তার সাথে দাঁড়াব" এবং "তাদের মধ্যে কে দাঁড়াচ্ছে?" আর অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো: "যে কোনো লোক দাঁড়াবে, আমি তার সাথে দাঁড়াব" এবং "কোন লোক দাঁড়াচ্ছে?"
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌الْفَصْل الثَّالِث فِي الموصولة

 

أعلم وفقنا الله وَإِيَّاك أَن أيا الموصلة على أَقسَام كبر وَذَلِكَ لِأَنَّهَا إِمَّا أَن تكون صلتها جملَة أَو شبهها وعَلى الأول إِمَّا أَن تكون الْجُمْلَة اسمية أَو فعلية وعَلى الأول إِمَّا أَن يكون الْخَبَر فِيهَا مُفردا أَو لَا وعَلى الأول أَعنِي مَا إِذا كَانَت الصِّلَة جملَة اسمية وَالْخَبَر فِيهَا مُفْرد لَهَا أَرْبَعَة أَحْوَال

أَحدهَا أَن تُضَاف لفظا وَيذكر صدر صلتها نَحْو يُعجبنِي أَيهمْ قَائِم

الثَّانِي عَكسه بِأَن لَا تُضَاف لفظا وَلَا يذكر صدر صلتها بل يحذف نَحْو يُعجبنِي أَي قَائِم فِي الدَّار

الثَّالِث أَن يذكر الصَّدْر وَلَا تُضَاف نَحْو يُعجبنِي أَي هُوَ قَائِم

الرَّابِع أَن تُضَاف لفظا ويحذف الصَّدْر نَحْو يُعجبنِي أَيهمْ قَائِم وَهَذَا الْقسم بِعَيْنِه هُوَ الَّذِي يجب فِيهِ بِنَاء أَي الموصولة من بَين أقسامها وَضَابِط هَذَا الْقسم الَّذِي يجب بناؤها فِيهِ فَقَط أَن يجْتَمع فِيهَا أَمْرَانِ أَحدهمَا أَن تُضَاف لفظا وَالثَّانِي أَن يحذف صدر صلتها فَلَو انْتَفَى الْأَمر الثَّانِي وَحده كَمَا فِي الْحَال الأول وانتفى الْأَمر الأول وَحده كَمَا فِي الْحَال الثَّالِث وانتفيا مَعًا كَمَا فِي الْحَال الثَّانِي فَإِنَّهَا تكون معربة

واما إِذا وصلت بجملة اسمية نَحْو يُعجبنِي أَيهمْ وَلم يكن الْخَبَر فِيهَا مُفردا فإمَّا أَن تكون جملَة اسمية نَحْو يُعجبنِي أَيهمْ هُوَ أَبوهُ قَائِم أَو فعلية نَحْو يُعجبنِي أَيهمْ هُوَ قَائِم أَبوهُ أَو شبه جملَة ظرفا أَو جارا أَو مجرورا نَحْو
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সম্বন্ধসূচক (الْمَوْصُولَة) বিশেষ্য প্রসঙ্গে

 

আল্লাহ আমাদের এবং আপনাকে তাওফিক দান করুন; জেনে রাখুন যে, সম্বন্ধসূচক (الْمَوْصُولَة) 'আইয়ুন' (أَيّ) কয়েকটি প্রধান প্রকারে বিভক্ত। আর তা এজন্য যে, এর সিলাহ (صِلَة) হয় বাক্য (جُمْلَة) হবে অথবা বাক্যের সদৃশ (شِبْه الْجُمْلَة) হবে। প্রথম সূরতে (বাক্য হলে), বাক্যটি হয় বিশেষ্যমূলক (اسْمِيَّة) হবে নতুবা ক্রিয়ামূলক (فِعْلِيَّة) হবে। আবার প্রথম সূরতে (বিশেষ্যমূলক বাক্য হলে), খবরটি হয় একক শব্দ (مُفْرَد) হবে নতুবা অন্য কিছু হবে। আর প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে—অর্থাৎ যখন সিলাহ (صِلَة) বিশেষ্যমূলক বাক্য (جُمْلَة اسْمِيَّة) হয় এবং খবরটি সেখানে একক শব্দ (مُفْرَد) হয়—তার চারটি অবস্থা রয়েছে।

প্রথমত: এটি শাব্দিকভাবে সম্বন্ধযুক্ত (تُضَاف لَفْظًا) হবে এবং এর সিলাহর প্রথমাংশ (صَدْر صِلَتِهَا) উল্লিখিত থাকবে; যেমন: ইউ’জিবুনি আইয়্যুহুম কায়িমুন (يُعجبنِي أَيهمْ قَائِم)।

দ্বিতীয়ত: প্রথমটির বিপরীত; অর্থাৎ এটি শাব্দিকভাবে সম্বন্ধযুক্ত হবে না এবং সিলাহর প্রথমাংশ উল্লিখিত থাকবে না বরং তা উহ্য (مَحْذُوف) থাকবে; যেমন: ইউ’জিবুনি আইয়্যুন কায়িমুন ফিদ-দারি (يُعجبنِي أَي قَائِم فِي الدَّار)।

তৃতীয়ত: সিলাহর প্রথমাংশ (صَدْر) উল্লিখিত থাকবে কিন্তু এটি সম্বন্ধযুক্ত হবে না; যেমন: ইউ’জিবুনি আইয়্যুন হুয়া কায়িমুন (يُعجبنِي أَي هُوَ قَائِم)।

চতুর্থত: এটি শাব্দিকভাবে সম্বন্ধযুক্ত (تُضَاف لَفْظًا) হবে এবং সিলাহর প্রথমাংশ উহ্য (مَحْذُوف) থাকবে; যেমন: ইউ’জিবুনি আইয়্যুহুম কায়িমুন (يُعجبنِي أَيهمْ قَائِم)। আর এই প্রকারটিই হলো সেই ক্ষেত্র যেখানে সম্বন্ধসূচক (الْمَوْصُولَة) 'আইয়ুন'-কে এর সকল প্রকারের মধ্যে অবশ্যই অপরিবর্তনীয় (بِنَاء) রাখতে হয়। আর এই প্রকারটির—যাতে এটি অপরিবর্তনীয় হওয়া ওয়াজিব—মূলনীতি (ضَابِط) হলো সেখানে দুটি বিষয়ের সমাবেশ ঘটবে; এক. এটি শাব্দিকভাবে সম্বন্ধযুক্ত (تُضَاف لَفْظًا) হবে, এবং দুই. এর সিলাহর প্রথমাংশ (صَدْر صِلَتِهَا) উহ্য থাকবে। সুতরাং যদি কেবল দ্বিতীয় বিষয়টি অনুপস্থিত থাকে যেমনটি প্রথম অবস্থায়, অথবা কেবল প্রথম বিষয়টি অনুপস্থিত থাকে যেমনটি তৃতীয় অবস্থায়, অথবা উভয়টিই অনুপস্থিত থাকে যেমনটি দ্বিতীয় অবস্থায়; তবে সেটি পরিবর্তনশীল (مُعْرَبَة) হবে।

আর যখন এটি বিশেষ্যমূলক বাক্য (جُمْلَة اسْمِيَّة) দ্বারা যুক্ত হয়, যেমন 'ইউ’জিবুনি আইয়্যুহুম...' এবং খবরটি সেখানে একক শব্দ (مُفْرَد) না হয়; তবে সেটি হয় বিশেষ্যমূলক বাক্য (جُمْلَة اسْمِيَّة) হবে যেমন: ইউ’জিবুনি আইয়্যুহুম হুয়া আবুহু কায়িমুন (يُعجبنِي أَيهمْ هُوَ أَبوهُ قَائِم), অথবা ক্রিয়ামূলক বাক্য (جُمْلَة فِعْلِيَّة) হবে যেমন: ইউ’জিবুনি আইয়্যুহুম হুয়া কায়িমুন আবুহু (يُعجبنِي أَيهمْ هُوَ قَائِم أَبوهُ), অথবা বাক্যের সদৃশ (شِبْه الْجُمْلَة) তথা যরফ (ظَرْف) বা যার-মাজরুর (جَارّ وَمَجْرُور) হবে; যেমন—
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
يُعجبنِي أَيهمْ هُوَ الدَّار أَو عنْدك

وَفِي كل هَذِه الْأَحْوَال الْأَرْبَعَة إِمَّا أَن تُضَاف أَولا فَتَصِير الْأَحْوَال فِيمَا إِذا كَانَ الْخَبَر لَيْسَ مُفردا ثَمَانِيَة وَهِي معربة فِيهَا كلهَا وَلَا يجوز فِي أحد مِنْهَا حذف الصَّدْر مَعَ إِرَادَته لِأَنَّهُ لَو حذف فِي وَاحِد مِنْهَا لم يكن فِي الْكَلَام مَا يدل عَلَيْهِ لعدم الْحَاجة إِلَيْهِ لِأَن الْبَاقِي بعد حذفه صَالح لِأَن يكون صلَة بل يكون صلَة تَامَّة فَلَا يَدعِي حذف شَيْء لِأَن الأَصْل عَدمه بل مَتى أُرِيد الْإِسْنَاد إِلَى الصَّدْر وَجب التَّصْرِيح بِهِ وَهَكَذَا بِخِلَافِهِ فِي أَرْبَعَة الْمُفْرد فَإِنَّهُ إِذا حذف هُنَاكَ لم يبْق إِلَّا الْمُفْرد وَهُوَ لَا يصلح لِأَن يكون صلَة فَيعلم أَن فِي الْكَلَام شَيْئا محذوفا

وَأما إِذا كَانَت الصِّلَة جملَة فعلية نَحْو يُعجبنِي أَيهمْ قَامَ أَبوهُ أَو شبه جملَة نَحْو يُعجبنِي أَيهمْ فِي الدَّار أَو عنْدك فإمَّا أَن يُضَاف لفظا أَو لَا وَهِي معربة فِي هَذِه السِّتَّة أَيْضا فمجموع أَحْوَال أَي الموصولة ثَمَانِيَة عشر حَالا وَإِذا ضممتها إِلَى بَقِيَّة الْأَقْسَام الْخَمْسَة الَّتِي فِي غير الموصولة حصل ثَلَاثَة وَعِشْرُونَ وَقد علم أَنَّهَا كلهَا معربة فِيهَا إِلَّا فِي قسمَيْنِ الوصلة والموصولة بالقيدين السَّابِقين أَعنِي الْإِضَافَة وَحذف الصَّدْر

وَإِذا نظرت إِلَى كَون الْجُمْلَة الفعلية تكون من فعل وفاعل تَارَة وَمن فعل ونائبه أُخْرَى زَادَت الْأَقْسَام على مَا ذكرنَا كَمَا لَا يخفي

تَنْبِيه

مَتى وَقعت الصِّلَة ظرفا أَو جارا ومجرورا فَلَا بُد من تعلقهما بِفعل مَحْذُوف وجوبا وَلَا يجوز تعلقهما بِالْوَصْفِ لِأَنَّهُ مَعَ معموله فِي حكم الْمُفْرد
তাদের মধ্যে যে ঘরে আছে বা তোমার কাছে আছে সে আমার নিকট পছন্দনীয়।

এই চারটি অবস্থার প্রত্যেকটিতেই হয় তা সম্বন্ধযুক্ত হবে নতুবা হবে না। সুতরাং যখন সংবাদ (خبر) একক শব্দ না হয়, তখন অবস্থাগুলো আটটি হয় এবং এগুলোর সবকটিতেই তা রূপান্তরযোগ্য (معرب)। এগুলোর কোনোটি থেকেই উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও শুরুর অংশ (صدر) বিলোপ করা বৈধ নয়; কারণ যদি এগুলোর কোনো একটি থেকে তা বিলোপ করা হয়, তবে বাক্যে এমন কিছু অবশিষ্ট থাকে না যা তার প্রতি নির্দেশ করে। যেহেতু এটি বিলোপ করার কোনো প্রয়োজন নেই; কারণ বিলোপ করার পর যা অবশিষ্ট থাকে তা সিলাহ হওয়ার যোগ্যতা রাখে, বরং তা একটি পূর্ণাঙ্গ সিলাহ হিসেবে গণ্য হয়। তাই কোনো কিছু বিলোপ করার দাবি করা যাবে না, কারণ মূলত বিলোপ না হওয়াই নিয়ম। বরং যখন শুরুর অংশের প্রতি সম্বন্ধ (إسناد) করার ইচ্ছা করা হবে, তখন তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আবশ্যক। আর একক শব্দের চারটি অবস্থার বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ সেখানে যদি বিলোপ করা হয়, তবে শুধু একক শব্দটিই অবশিষ্ট থাকে, যা সিলাহ হওয়ার যোগ্য নয়। ফলে তখন বোঝা যায় যে, বাক্যে কোনো কিছু বিলোপ করা হয়েছে।

আর যখন সিলাহ টি ক্রিয়াপদীয় বাক্য হয়, যেমন: ‘তাদের মধ্যে যে যার পিতা দাঁড়িয়েছে সে আমার নিকট পছন্দনীয়’, অথবা বাক্যসদৃশ হয়, যেমন: ‘তাদের মধ্যে যে ঘরে আছে বা তোমার কাছে আছে সে আমার নিকট পছন্দনীয়’, তখন তা শব্দগতভাবে সম্বন্ধযুক্ত হবে অথবা হবে না। এই ছয়টি অবস্থাতেও তা রূপান্তরযোগ্য (معرب)। সুতরাং সম্বন্ধসূচক (موصولة) ‘আইয়ু’-র মোট অবস্থার সমষ্টি হলো আঠারোটি। আর যখন আপনি একে অন্য পাঁচটি প্রকারের সাথে যুক্ত করবেন যা সম্বন্ধসূচক নয়, তখন মোট তেইশটি অবস্থা পাওয়া যায়। এটি ইতোমধ্যেই জানা গেছে যে, এগুলোর সবকটি অবস্থাতেই তা রূপান্তরযোগ্য (معرب), কেবল দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত: একটি হলো ‘ওয়াসলাহ’ এবং অপরটি পূর্বোক্ত শর্তদ্বয়সহ সম্বন্ধসূচক (موصولة) অবস্থায়—অর্থাৎ সম্বন্ধযুক্ত হওয়া এবং শুরুর অংশ বিলোপ হওয়া।

আপনি যদি লক্ষ্য করেন যে, ক্রিয়াপদীয় বাক্যটি কখনো ক্রিয়া ও কর্তা দ্বারা গঠিত হয়, আবার কখনো ক্রিয়া ও তার প্রতিনিধি দ্বারা গঠিত হয়, তবে প্রকারভেদগুলো আমাদের উল্লিখিত সংখ্যার চেয়েও বৃদ্ধি পাবে, যা অস্পষ্ট নয়।

সতর্কীকরণ

যখন সিলাহ কোনো যরফ অথবা জার-মাজরুর হয়, তখন সেগুলোর জন্য আবশ্যিকভাবে একটি উহ্য ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া জরুরি। কোনো বিশেষণের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া বৈধ নয়, কারণ বিশেষণ তার মা’মুলসহ একক শব্দের বিধানে থাকে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَهُوَ لَا يُوصل بِهِ

وَهَذَا بِخِلَاف بَقِيَّة الْمَوَاضِع الثَّلَاثَة التَّعَلُّق كَمَا فِي الْخَبَر وَالصّفة وَالْحَال فَإِنَّهُ يجوز تعلقهما فِي الْمَوَاضِع الثَّلَاثَة بِوَصْف وَيجوز تعلقهما بِفعل لعدم وجوب الْجُمْلَة فيهمَا

تَتِمَّة

قد يسْتَشْكل بِنَاء أَي الموصولة فِي الصُّورَة الْمَذْكُورَة مَعَ كَونهَا مُضَافَة حَتَّى قَالَ الزّجاج الَّذِي هُوَ من كبار النُّحَاة الْبَصرِيين مَا تبين لي أَن سِيبَوَيْهٍ غلط إِلَّا فِي موضِعين هَذَا أَحدهمَا أَي فَإِنَّهُ يسلم أَنَّهَا تعرب إِذا أفردت فَكيف يَقُول ببنائها إِذا أضيفت مَعَ أَن الْإِضَافَة مبعدة عَن شبه الْحَرْف الَّذِي هُوَ مُوجب للْبِنَاء وَالْجَوَاب أَن سَبَب بنائها إِذا أضيفت وَحذف صدر صلتها كَونهَا فِي هَذِه
এবং এর মাধ্যমে কোনো সম্বন্ধ স্থাপন করা যায় না।

আর এটি সংশ্লিষ্টতার বাকি তিনটি ক্ষেত্রের পরিপন্থী, যেমনটি সংবাদ বা বর্ণনা (الخبر), গুণ বা বৈশিষ্ট্য (الصفة) এবং অবস্থা (الحال) এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে; কেননা এই তিনটি ক্ষেত্রে সেগুলোর বিশেষণের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া বৈধ এবং ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়াও বৈধ, কারণ সেগুলোর ক্ষেত্রে বাক্য হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

পরিশিষ্ট

উল্লিখিত সুরতে সম্বন্ধসূচক 'আই' (Ay)-এর অপরিবর্তনীয়তা (البناء) নিয়ে আপত্তি উত্থাপিত হতে পারে, যদিও তা সম্বন্ধযুক্ত (المضاف) অবস্থায় থাকে। এমনকি বসরার প্রখ্যাত ব্যাকরণবিদদের অন্যতম আজ-জাজ্জাজ বলেছেন: “আমার কাছে এটি স্পষ্ট হয়নি যে সিবওয়াইহ দুটি ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোথাও ভুল করেছেন; আর এটি তার মধ্যে একটি। অর্থাৎ, তিনি স্বীকার করেন যে এটি যখন এককভাবে ব্যবহৃত হয় তখন তা পরিবর্তনশীল (المعرب) হয়; তাহলে সেটি যখন সম্বন্ধযুক্ত হয় তখন তিনি কীভাবে এর অপরিবর্তনীয় হওয়ার (البناء) কথা বলেন? অথচ সম্বন্ধযুক্ত হওয়া (الإضافة) একে অব্যয়ের (الحرف) সাদৃশ্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, যা মূলত অপরিবর্তনীয় হওয়ার কারণ।” এর উত্তর হলো—যখন এটি সম্বন্ধযুক্ত হয় এবং এর সম্বন্ধীয় বাক্যের প্রথমাংশ বিলুপ্ত থাকে তখন এর অপরিবর্তনীয় হওয়ার কারণ হলো এই যে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
الْحَالة قد نزل مَا أضيفت إِلَيْهِ منزله الصَّدْر وَلذَلِك لم يقبح حذف صدر صلتها حَيْثُ كَانَت مُضَافَة لطول الصِّلَة بتنزيل الْمُضَاف إِلَيْهِ منزلَة جُزْء مِنْهَا وَقد نَص الإمامان الجليلان الْخَلِيل وسيبويه رحمهمَا الله تَعَالَى على أَن نَحْو يُعجبنِي أَي قَائِم قَبِيح كَمَا فِي جَاءَ الَّذِي قَائِم وَذَلِكَ لقصر الصِّلَة بِحَذْف الصَّدْر مَعَ عدم مَا يقوم مقَامه بِخِلَاف أَيهمْ قَائِم فَإِن ذكر الْمُضَاف إِلَيْهِ حسن حذف صدر الصِّلَة وَحَيْثُ نزل الْمُضَاف إِلَيْهِ منزلَة الصَّدْر بقيت أَي كَأَنَّهَا غير مُضَافَة لَا لفظا وَلَا تَقْديرا أما الأول فلتنزيل الْمُضَاف إِلَيْهِ منزلَة الصَّدْر واما الثَّانِي فلوجود الْإِضَافَة لفظا وَالتَّقْدِير لَا يُجَامع اللَّفْظ فبنيت أَي فِي هَذِه الْحَالة لكَونهَا صَارَت بِمَنْزِلَة المقطوعة عَن الْإِضَافَة لفظا وتقديرا فَسلم شبه الْحَرْف فِيهَا من الْمعَارض بِخِلَاف بَقِيَّة أقسامها فَإِنَّهَا إِمَّا مُضَافَة لفظا من غير تَنْزِيل للمضاف إِلَيْهِ منزلَة الصَّدْر لوُجُود الصَّدْر أَو لعدم الْحَاجة إِلَيْهِ أصلا وَأما المضافة تَقْديرا كَمَا فِي صور قطعهَا عَن الْإِضَافَة وَحِينَئِذٍ لَا يَتَأَتَّى التَّنْزِيل لِأَن مَعْدُوما لَا يقوم مقَام مَعْدُوم وَهَذَا جَوَاب دَقِيق أَفَادَ مَعْنَاهُ أَبُو

এই অবস্থাটি এমন যেখানে যাকে সম্বন্ধিত করা হয়েছে তাকে সম্বন্ধযুক্ত বাক্যাংশের প্রারম্ভিক অংশ বা ‘সদর’-এর স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। একারণেই যখন এটি সম্বন্ধিত অবস্থায় থাকে, তখন এর সিলার শুরুর অংশটি বিলুপ্ত করা অশোভন হয়নি; কারণ মুদাফ ইলাইহি-কে সিলার অংশ হিসেবে গণ্য করার মাধ্যমে সিলাটি দীর্ঘ হয়েছে। দুই মহান ইমাম আল-খলীল এবং সিবাহওয়াই (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ‘ইউ’জিবুনি আইয়্যু কায়িম’ এর মতো বাক্য গঠন করা অশোভন, যেমনটি ‘জাআল্লাজি কায়িম’ এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এর কারণ হলো, শুরুর অংশ বিলুপ্ত করার ফলে সিলাটি সংক্ষিপ্ত হয়ে পড়া এবং সেখানে এমন কিছুর অভাব থাকা যা তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। পক্ষান্তরে ‘আইয়্যুহুম কায়িম’ এর বিষয়টি ভিন্ন; কেননা এখানে মুদাফ ইলাইহি-র উল্লেখ থাকার ফলে সিলার শুরুর অংশ বিলুপ্ত করা সুন্দর বা শুদ্ধ হয়েছে। আর যখন মুদাফ ইলাইহি-কে সদরের স্থলাভিষিক্ত করা হলো, তখন ‘আই’ শব্দটি এমন অবস্থায় রয়ে গেল যেন তা শাব্দিক বা অনুমেয় কোনোভাবেই সম্বন্ধিত নয়। প্রথমটির কারণ হলো মুদাফ ইলাইহি-কে সদরের স্থলাভিষিক্ত করা, আর দ্বিতীয়টির কারণ হলো শাব্দিকভাবে সম্বন্ধ বিদ্যমান থাকা, আর অনুমেয় বিষয় কখনো শাব্দিক বিষয়ের সাথে একত্রিত হয় না। সুতরাং এই বিশেষ অবস্থায় ‘আই’ মাবনি বা অপরিবর্তনীয় হয়েছে; কারণ এটি শাব্দিক ও অনুমেয় উভয় দিক থেকে সম্বন্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। ফলে এর মধ্যে বিদ্যমান হরফের সাদৃশ্য কোনো প্রতিবন্ধক ছাড়াই সংরক্ষিত হয়েছে। তবে এর অন্যান্য প্রকারগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন; কেননা সেগুলো হয় শাব্দিকভাবে সম্বন্ধিত—যেখানে সদরের উপস্থিতি বা তার আদৌ প্রয়োজন না থাকার কারণে মুদাফ ইলাইহি-কে সদরের স্থলাভিষিক্ত করা হয়নি—অথবা সেগুলো অনুমেয়ভাবে সম্বন্ধিত, যেমনটি সম্বন্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে দেখা যায়। এমতাবস্থায় স্থলাভিষিক্তকরণ সম্ভব নয়, কারণ কোনো অবিদ্যমান বস্তু অন্য কোনো অবিদ্যমান বস্তুর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। এটি একটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম উত্তর যার অর্থ আবু... প্রদান করেছেন।

(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
اسحق الشاطبي وَغَيره وَذكر حفيد الموضح فِي حَوَاشِي التَّوْضِيح أَن هَذَا الْجَواب مِمَّا يَنْبَغِي أَن يكْتب بِمَاء الذَّهَب

وَهَا هُنَا إِشْكَال آخر وَهُوَ أَن أيا الموصولة قد اجْتمع فِيهَا معرفان أَحدهمَا إضافتها إِلَى الْمعرفَة وَثَانِيهمَا عهد الصِّلَة الَّذِي بِهِ تعرفت جَمِيع الموصولات الاسمية على الْأَصَح فَكيف اجْتمع معرفان على معرف وَاحِد وَالْجَوَاب كَمَا أَفَادَهُ الْعَلامَة ابْن قَاسم الْعَبَّادِيّ وَغَيره أَن أيا الموصولة فِيهَا إبهامان إِبْهَام الْجِنْس فَإنَّك إِذا قلت يُعجبنِي أَي الرِّجَال فقد علم أَن جنس مَا صدقت عَلَيْهِ وإبهام الشَّخْص فاحتاجت إِلَى معرفين مزيلين لِذَيْنِك الإبهامين فبإضافتها إِلَى الْمعرفَة يَزُول إِبْهَام الْجِنْس أَي هُوَ جنس الرِّجَال وبقى شخصا لما صدق مُبْهما كَمَا فِي قَوْلك جَاءَنِي رجل فاحتيج إِلَى رفع إِبْهَام الشَّخْص بِذكر شَيْء
ইসহাক আশ-শাতিবি ও অন্যান্যরা এবং আল-মাওদিহ-এর পৌত্র ‘হাওয়াশি আত-তাওদিহ’-এ উল্লেখ করেছেন যে, এই উত্তরটি স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখার মতো।

এখানে আরেকটি জটিলতা (إشكال) রয়েছে, আর তা হলো—সম্বন্ধবাচক আইয়্যু (أيا الموصولة)-তে দু’টি নির্দিষ্টকারী প্রভাবক (معرف) একত্রিত হয়েছে; যার একটি হলো নির্দিষ্ট বিশেষ্যের দিকে এর সম্বন্ধ (إضافة) এবং দ্বিতীয়টি হলো সিলার পরিচিতি (عهد الصلة), যার মাধ্যমে বিশুদ্ধতম (الأصح) মতানুসারে সমস্ত বিশেষ্যবাচক সম্বন্ধপদ (الموصولات الاسمية) নির্দিষ্টতা লাভ করে। অতএব, একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর কীভাবে দু’টি নির্দিষ্টকারী প্রভাবক একত্রিত হলো? আল্লামা ইবনে কাসিম আল-আব্বাদি ও অন্যান্যরা এর যে উত্তর প্রদান করেছেন তা হলো—সম্বন্ধবাচক আইয়্যু (أيا الموصولة)-এর মধ্যে দু’টি অস্পষ্টতা রয়েছে; একটি হলো জাতিগত অস্পষ্টতা (إبهام الجنس)। কেননা আপনি যখন বলেন, "পুরুষদের মধ্যে যে ব্যক্তি আমার পছন্দ হয়", তখন এটি কোন জাতির ওপর প্রযুক্ত হচ্ছে তা জানা যায়। আর দ্বিতীয়টি হলো ব্যক্তিবাচক অস্পষ্টতা (إبهام الشخص)। ফলে এই দু’টি অস্পষ্টতা দূর করার জন্য দু’টি নির্দিষ্টকারী প্রভাবকের (معرف) প্রয়োজন হয়েছে। সুতরাং একে নির্দিষ্ট বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধ (إضافة) করার মাধ্যমে জাতিগত অস্পষ্টতা (إبهام الجنس) দূর হয়—অর্থাৎ এটি পুরুষ জাতিভুক্ত। কিন্তু ব্যক্তিবাচকভাবে কার ওপর প্রযুক্ত হবে সে ক্ষেত্রে এটি অস্পষ্ট (مبهم) থেকে যায়, যেমনটি আপনার উক্তি "আমার নিকট একজন ব্যক্তি এসেছে"-এর মধ্যে হয়ে থাকে। তাই কোনো বিষয়ের আলোচনার মাধ্যমে সেই ব্যক্তিবাচক অস্পষ্টতা (إبهام الشخص) দূর করার প্রয়োজন পড়ে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৫০)
من عوارضه الْمَعْهُودَة للسامع من قيام أَو قعُود أَو نَحْوهمَا فَإِذا قلت يُعجبنِي أَي الرِّجَال قَامَ فقد أزلت إِبْهَام الشَّخْص بِمَا قَامَ من الْعَهْد الَّذِي بَيْنك وَبَين السَّامع الْمُخَاطب انْتهى
শ্রোতার নিকট পরিচিত এর বিভিন্ন অবস্থা হতে যেমন দণ্ডায়মান হওয়া বা উপবিষ্ট থাকা অথবা অনুরূপ কিছু; সুতরাং যখন আপনি বলেন, "পুরুষদের মধ্যে যে দাঁড়িয়েছে সে আমাকে মুগ্ধ করেছে", তখন আপনি আপনার এবং সম্বোধিত শ্রোতার মাঝে বিদ্যমান পরিচিত প্রসঙ্গের (عهد) মাধ্যমে ওই ব্যক্তির অস্পষ্টতা (إبهام) দূর করে দিলেন। সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৫১)
خَاتِمَة

فِي فهم مَا يتَعَلَّق بالموصولة من كَلَام الإِمَام جمال الدّين مُحَمَّد بن مَالك فِي خلاصته قَالَ رَحمَه الله تَعَالَى فِي بَاب الْمَوْصُول

(أَي كَمَا وأعربت مَا لم تضف … وَصدر وَصلهَا ضمير انحذف)

فَنَقُول وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق

قَوْله أَي كَمَا يُرِيد رَحمَه الله تَعَالَى أَن أيا تكون اسْما مَوْصُولا للمفرد والمثنى وَالْجمع مذكرا أَو مؤنثا كَمَا أَن مَا تكون كَذَلِك تَقول يُعجبنِي أَيهمْ قَامَ وأيهم قاما وأيهم قَامُوا وأيهن قَامَت وأيهن قامتا وأيهن قمن

وَلَا تخْتَص فِي الأَصْل بِغَيْر الْعَاقِل بِخِلَاف مَا بل هِيَ بِحَسب مَا تُضَاف إِلَيْهِ من عَاقل وَغَيره والمشبه بالشَّيْء لَا يلْزم أَن يُسَاوِيه فِي خَصَائِصه كلهَا بل وَلَا فِي وَجه الشّبَه كَمَا هُوَ مُقَرر فِي مَحَله

قَوْله وأعربت الخ مالم تضف يُرِيد أَن أيا خَالَفت أخواتها فأعربت فِي غَالب أحوالها لما لزمتها الْإِضَافَة كَمَا تقدم

قَوْله مَا لم تضف مَا مَصْدَرِيَّة ظرفية فَمَعْنَى كَونهَا مَصْدَرِيَّة أَنَّهَا تؤول مَعَ مَا يَليهَا بمصدر كَمَا هُوَ شَأْن الموصولات الحرفية

وَمعنى كَونهَا ظرفية أَن الْمصدر المؤول نَائِب عَن ظرف مَحْذُوف مُضَاف إِلَى الْمصدر فَإِن حذف ظرف الزَّمَان وإنابة الْمصدر عَنهُ فِي النصب على الظَّرْفِيَّة كثير كَمَا فِي قَوْلك آتِيك طُلُوع
উপসংহার

ইমাম জামালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে মালিকের রচিত 'খুলাসা' (বা আলফিয়্যাহ)-তে বর্ণিত সম্বন্ধসূচক অব্যয় (الموصولة) সংক্রান্ত আলোচনার উপলব্ধির বিষয়ে। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) সম্বন্ধসূচক পদ (الموصول) পরিচ্ছেদে বলেছেন:

(আই (أَي) হলো মা (مَا)-এর মতো, এবং এটি রূপান্তরযোগ্য (أعربت) ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না এটি সম্বন্ধযুক্ত (تضف) হয়... এবং এর সম্বন্ধযুক্ত বাক্যের শুরু (صدر وصلها) থেকে একটি সর্বনাম (ضمير) বিলুপ্ত (انحذف) হয়।)

আমরা বলছি—আর আল্লাহর কাছেই তৌফিক কাম্য:

তাঁর বক্তব্য "আই (أَي) হলো মা (مَا)-এর মতো" দ্বারা তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বুঝিয়েছেন যে, 'আই' (أَي) শব্দটি একবচন (المفرد), দ্বিবচন (المثنى) এবং বহুবচন (الجمع) এবং পুংলিঙ্গ (مذكرا) বা স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنثا)-এর জন্য সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (اسما مَوْصُولا) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; ঠিক যেমনটি 'মা' (مَا) ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আপনি বলবেন: ‘ইউ’জিবুনি আইয়্যুহুম ক্বামা’ (তাদের মধ্যে যে দাঁড়িয়েছে সে আমাকে মুগ্ধ করে), ‘আইয়্যুহুম ক্বামা’, ‘আইয়্যুহুম ক্বামু’, ‘আইয়্যুহুন্না ক্বামাত’, ‘আইয়্যুহুন্না ক্বামাতা’ এবং ‘আইয়্যুহুন্না ক্বুমনা’।

এটি মূলত কেবল বিবেকহীন (بغير العاقল) সত্তার জন্য নির্দিষ্ট নয়, যা 'মা' (مَا)-এর বিপরীত। বরং এটি যার সাথে সম্বন্ধযুক্ত (تضاف) হয়—তা বিবেকসম্পন্ন (عاقل) হোক বা অন্য কিছু—তার ওপর নির্ভর করে। আর কোনো বিষয়কে অন্য কোনো বিষয়ের সাথে তুলনা করলে এটি আবশ্যক নয় যে, সেটি তার সমস্ত বৈশিষ্ট্যে সমান হতে হবে, এমনকি সাদৃশ্যের দিকটিতেও (وجه الشبه) পুরোপুরি সমান হওয়া জরুরি নয়, যেমনটি স্ব-স্ব স্থানে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।

তাঁর বক্তব্য "এবং এটি রূপান্তরযোগ্য (أعربت)... যতক্ষণ না সম্বন্ধযুক্ত (تضফ) হয়" দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, 'আই' (أَي) তার সমজাতীয় শব্দগুলোর থেকে ভিন্ন হয়েছে; ফলে অধিকাংশ অবস্থায় এটি রূপান্তরযোগ্য (أعربت) হয়, কারণ এর সাথে সম্বন্ধ (الإضافة) হওয়া অপরিহার্য, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য "ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না সম্বন্ধযুক্ত (تضف) হয়" এখানে 'মা' (مَا) শব্দটি ক্রিয়ামূলীয় (مصدرية) এবং আধারবাচক (ظرفية)। এর ক্রিয়ামূলীয় (مصدرية) হওয়ার অর্থ হলো, এটি তার পরবর্তী শব্দের সাথে মিলে একটি ক্রিয়ামূল বা মাসদারের (بمصدر) অর্থ প্রদান করে, যেমনটি হরফী সম্বন্ধসূচক অব্যয়গুলোর (الموصولات الحرفية) বৈশিষ্ট্য।

আর এর আধারবাচক (ظرفية) হওয়ার অর্থ হলো, রূপান্তরিত মাসদারটি একটি বিলুপ্ত আধারের (ظرف) স্থলাভিষিক্ত, যা মাসদারের সাথে সম্বন্ধযুক্ত। কেননা কালবাচক আধার (ظرف الزمان) বিলুপ্ত করা এবং তার পরিবর্তে মাসদারকে আধারের স্থলাভিষিক্ত করে নসব বা জবরযুক্ত অবস্থায় (النصب) রাখা একটি বহুল প্রচলিত নিয়ম; যেমন আপনার কথা: ‘আতিকা তুলুআ’ (আমি তোমার কাছে আসব সূর্যোদয়ের সময়)।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৫২)
الشَّمْس وأمكث نحر جزور والى هَذَا وَنَحْوه أَشَارَ الإِمَام ابْن مَالك فِي خلاصته بقوله

(وَقد يَنُوب عَن مَكَان مصدر … وَذَاكَ فِي ظرف الزَّمَان يكثر)

وَلَيْسَ هَذَا من خَصَائِص هَذَا الْبَاب بَاب الْمَفْعُول فِيهِ كَمَا يتَوَهَّم بل هَذَا بَاب وَاسع وَهُوَ حذف الْمُضَاف وَإِقَامَة الْمُضَاف إِلَيْهِ مقَامه الَّذِي قيل فِيهِ حدث عَن الْبَحْر وَلَا حرج وَقد ذكره الإِمَام ابْن مَالك أَيْضا بقوله

(وَمَا يَلِي الْمُضَاف يَأْتِي خلفا … عَنهُ فِي الْإِعْرَاب إِذا مَا حذفا)

فَظهر لَك من هَذَا أَن قَوْلهم مَا مَصْدَرِيَّة ظرفية مَعْنَاهُ أَنَّهَا مَصْدَرِيَّة أَصَالَة وتأويلا وظرفية نِيَابَة وتقديرا وَالتَّقْدِير فِيمَا نَحن فِيهِ وأعربت أَي مُدَّة عدم إضافتها الْمقيدَة بِحَذْف الصَّدْر وَإِنَّمَا قُلْنَا الْمقيدَة الخ لِأَن جملَة قَوْله وَصدر وَصلهَا ضمير انحدف حَال من نَائِب فَاعل تضف وَالْحَال وصف لصَاحِبهَا قيد فِي عاملها

فَقَوله وأعربت الخ منطوقه صَادِق بِجَمِيعِ أَقسَام الموصولة الَّتِي ذكرنَا أَنَّهَا معربة ومفهومة صَادِق بِصُورَة بنائها وَبَيَانه أَن صوره الْبناء فِيهَا قيدان الْإِضَافَة وَحذف الصَّدْر وكل صُورَة من صور إعرابها قد عدم مِنْهَا القيدان أَو أَحدهمَا
সূর্য এবং ‘আমি একটি উট জবাই করার সময় পর্যন্ত অবস্থান করব’ (نحر جزور); ইমাম ইবনে মালিক তাঁর খুলাসা-তে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে এই এবং এর অনুরূপ বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন:

(কখনও কখনও মাসদার (مصدر) স্থানের স্থলাভিষিক্ত হয় … আর সময়ের আধার (ظرف الزمان)-এর ক্ষেত্রে এটিই বেশি ঘটে থাকে)

এটি কেবল মাফউলে ফিহি (المفعول فيه) অধ্যায়েরই বিশেষ বৈশিষ্ট্য নয় যেমনটি কেউ কেউ ধারণা করতে পারে; বরং এটি একটি বিস্তৃত পরিচ্ছেদ। আর তা হলো মুদাফ (المضاف) বিলুপ্ত করা এবং মুদাফ ইলাইহকে (المضاف إليه) তার স্থলাভিষিক্ত করা, যার সম্পর্কে বলা হয়—‘সমুদ্র থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই।’ ইমাম ইবনে মালিক এটিকেও তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন:

(যা মুদাফ (المضاف)-এর অনুগামী হয়, তা-ই স্থলাভিষিক্ত হয় … মুদাফ বিলুপ্ত হলে ই’রাব (إعراب)-এর ক্ষেত্রে তার স্থলাভিষিক্ত হয়)

আপনার নিকট এ থেকে স্পষ্ট হলো যে, তাদের উক্তি ‘মা মাসদারিয়্যাহ যারফিয়্যাহ’ (ما مصدرية ظرفية)-এর অর্থ হলো—এটি মৌলিকতা (أصالة) ও ব্যাখ্যার (تأويلا) বিচারে মাসদারিয়্যাহ (مصدرية), আর স্থলাভিষিক্ত হওয়া (نيابة) ও অনুমানের (تقديرا) বিচারে এটি যারফিয়্যাহ (ظرفية)। আমাদের বর্তমান আলোচনার ক্ষেত্রে প্রচ্ছন্ন রূপটি হলো—‘ততক্ষণ এটি ই’রাব (إعرাব) গ্রহণ করবে যতক্ষণ এর ইদাফাত (إضافة) না হওয়া প্রথমাংশ (صدر) বিলুপ্তির শর্তযুক্ত থাকে’। আমরা ‘শর্তযুক্ত’ ইত্যাদি কথাটি এই জন্য বলেছি যে, তাঁর বাণী ‘এবং তার সম্বন্ধের প্রথমাংশ (صدر) এমন একটি সর্বনাম যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে’—এই বাক্যটি ‘তুদফ’ (تضف) ক্রিয়ার নায়েবে ফায়িল (نائب فاعل) থেকে হাল (حال) হয়েছে; আর হাল (حال) তার অধিপতির বিশেষণ হিসেবে তার আমিল (عامل)-এর ক্ষেত্রে একটি শর্ত হয়ে থাকে।

সুতরাং তাঁর বক্তব্য ‘এবং এটি ই’রাব গ্রহণ করবে’ ইত্যাদি কথার ব্যক্তার্থ (منطوق) সম্বন্ধসূচক (الموصولة) পদের সেই সকল প্রকারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা আমরা উল্লেখ করেছি যে সেগুলো মু’রাব (معربة); আর এর গূঢ়ার্থ (مفهوم) প্রযোজ্য হয় তার মাবনি (بناء) হওয়ার সুরতে। এর ব্যাখ্যা হলো—সেখানে মাবনি (بناء) হওয়ার সুরতে দুটি শর্ত রয়েছে: ইদাফাত (الإضافة) এবং প্রথমাংশ (صدر) বিলুপ্ত হওয়া। আর ই’রাব (إعراب) হওয়ার প্রতিটি সুরতে এই দুটি শর্তের উভয়টি অথবা যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৫৩)
وَإِذا تقرر هَذَا فَفِي قَول النَّاظِم رَحمَه الله تَعَالَى وأعربت مَا لم تضف الخ أَرْبَعَة تقارير

أَحدهَا أَن قَوْله وَصدر وَصلهَا الخ قيد فِي النَّفْي وَالْمعْنَى وأعربت أَي مُدَّة عدم انْتِفَاء الْإِضَافَة بِشَرْط أَن تكون أَي المقطوعة عَن الْإِضَافَة قد حذف صدر صلتها وَذَلِكَ صَادِق بِصُورَة وَاحِدَة دلّ على إعرابها الْمَنْطُوق وَهِي قَوْلك مثلا يُعجبنِي أَي قَائِم وَبَاقِي صورها مسكوت عَنهُ فَإِن قلت الْمَفْهُوم من الْكَلَام حِينَئِذٍ بِنَاء بَاقِي الصُّور وَلَيْسَ كَذَلِك قلت غَايَة مَا فِيهِ أَن الْمَفْهُوم فِيهِ تَفْصِيل وَذَلِكَ لَا يعْتَرض بِهِ بل التَّفْصِيل موكول إِلَى أَمر خَارج من وقف أَو غَيره

التَّقْرِير الثَّانِي

أَن قَوْله وَصدر وَصلهَا قيد فِي مَفْهُوم مَا لم تضف وَبَيَانه أَن قَوْله مَا لم تضف مَعْنَاهُ مُدَّة عدم إضافتها أَي فتعرب سَوَاء ذكر الصَّدْر أَو حذف وَهُوَ كَذَلِك

وَمَفْهُومه أَنَّهَا إِذا أضيفت تبنى سَوَاء ذكر الصَّدْر أم حذف وَلَيْسَ على إِطْلَاقه تَقْيِيد هَذَا الْمَفْهُوم بقوله وَصدر وَصلهَا ضمير الخ

وَمَفْهُوم الْقَيْد أَنه إِذا لم يحذف الصَّدْر تعرب وَهُوَ كَذَلِك وَبَعض صور الْإِعْرَاب أفادها بالمنطوق وَبَعضهَا بِالْمَفْهُومِ وَصُورَة الْبناء ملفقة من الْمَنْطُوق وَالْمَفْهُوم وَهَكَذَا جوز بَعضهم وَعَلِيهِ فالنفي للمقيد وَحده اعني الْإِضَافَة
যখন এটি সুসাব্যস্ত হলো, তখন নাযিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি 'এবং এটি বিভক্তিযুক্ত (معرب) হয় যতক্ষণ পর্যন্ত এটি সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) না হয়' ইত্যাদির ক্ষেত্রে চারটি ব্যাখ্যা রয়েছে।

প্রথমটি হলো— তাঁর উক্তি 'এবং এর সংযোগের প্রারম্ভিক অংশ (صدر صلتها)...' ইত্যাদি হলো নেতিবাচকতার ক্ষেত্রে একটি সীমাবদ্ধতা (قيد)। এর অর্থ হলো, এটি বিভক্তিযুক্ত (معرب) হবে ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ সম্বন্ধের (إضافة) অনুপস্থিতি বজায় থাকে, এই শর্তে যে সম্বন্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন শব্দটির সংযোগের প্রারম্ভিক অংশ (صدر صلتها) বিলুপ্ত (محذوف) থাকে। এটি একটি মাত্র সুরতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা শাব্দিক পাঠ (منطوق) থেকে এর ই'রাব (إعراب)-এর ওপর প্রমাণ পেশ করে; যেমন আপনার উক্তি: 'ইউ'জিবুনী আইয়্যু কায়িমুন'। আর এর বাকি সুরতগুলো সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে। আপনি যদি বলেন: এমতাবস্থায় বক্তব্য থেকে অনুমিত অর্থ (مفهوم) পাওয়া যায় যে বাকি সুরতগুলো অপরিবর্তনীয় (مبني) হবে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। আমি বলব: এর উত্তর হলো, এখানকার অনুমিত অর্থের (مفهوم) মধ্যে বিস্তারিত বিবরণ (تفصيل) রয়েছে, যা নিয়ে কোনো আপত্তি চলে না। বরং এই বিস্তারিত বিবরণটি কোনো বাহ্যিক বিষয় বা অন্য কিছুর ওপর ন্যস্ত।

দ্বিতীয় ব্যাখ্যা

তা হলো— তাঁর উক্তি 'এবং এর সংযোগের প্রারম্ভিক অংশ (صدر صلتها)' বাক্যটি 'যতক্ষণ সম্বন্ধযুক্ত না হয়' এর অনুমিত অর্থের (مفهوم) ক্ষেত্রে একটি সীমাবদ্ধতা (قيد)। এর ব্যাখ্যা হলো: 'যতক্ষণ সম্বন্ধযুক্ত না হয়' এর অর্থ হলো তার অ-সম্বন্ধযুক্ত থাকার সময়কাল; অর্থাৎ তখন সেটি বিভক্তিযুক্ত (معرب) হবে, চাই প্রারম্ভিক অংশটি (صدر) উল্লিখিত হোক বা বিলুপ্ত (محذوف) হোক, আর বিষয়টি এমনই।

এর অনুমিত অর্থ (مفهوم) হলো, যখন এটি সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) হয়, তখন এটি অপরিবর্তনীয় (مبني) হবে, চাই প্রারম্ভিক অংশটি (صدر) উল্লিখিত হোক বা বিলুপ্ত (محذوف) হোক। তবে এটি তার সাধারণ অবস্থার ওপর নয়; বরং এই অনুমিত অর্থটিকে (مفهوم) তাঁর উক্তি 'এবং এর সংযোগের প্রারম্ভিক অংশ (صدر صلتها)...' দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।

আর এই সীমাবদ্ধতার অনুমিত অর্থ (مفهوم) হলো, যখন প্রারম্ভিক অংশটি (صدر) বিলুপ্ত (محذوف) হবে না, তখন এটি বিভক্তিযুক্ত (معرب) হবে এবং বিষয়টি এমনই। বিভক্তির (إعراب) কিছু সুরত শাব্দিক পাঠ (منطوق) থেকে জানা যায় এবং কিছু অনুমিত অর্থ (مفهوم) থেকে। আর অপরিবর্তনীয় (بناء) হওয়ার বিষয়টি শাব্দিক পাঠ (منطوق) ও অনুমিত অর্থের (مفهوم) সংমিশ্রণে গঠিত। কেউ কেউ এভাবেই বৈধতা দিয়েছেন। আর সেই অনুযায়ী, নেতিবাচকতা কেবল সীমাবদ্ধ বিষয়ের ক্ষেত্রে অর্থাৎ কেবল সম্বন্ধের (إضافة) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৫৪)
التَّقْرِير الثَّالِث

أَن يكون قَوْله مَا لم بمعني إِلَّا وَالْمعْنَى وأعربت أَي فِي جَمِيع صورها إِلَّا أَن تُضَاف ويحذف الصَّدْر فتبنى فَجَمِيع صور الْإِعْرَاب مَنْطُوق وَصُورَة الْبناء مَفْهُوم وَهَذَا نَظِير مَا قيل فِي حَدِيث مَا خير رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بَين أَمريْن إِلَّا اخْتَار أيسرهما مَا لم يكن إِثْمًا أَي إِلَّا أَن يكون إِثْمًا فَلَا يُخَيّر وَلَا يخْتَار وَإِنَّمَا أول بذلك ليَكُون قَوْله مَا لم يكن إِثْمًا فِي معنى الِاسْتِثْنَاء الْمُنْقَطع

التَّقْرِير الرَّابِع

وَهُوَ التَّحْقِيق وَجرى عَلَيْهِ جُمْهُور الشُّرَّاح الْمرَادِي وَغَيره وَهُوَ الَّذِي أَشَرنَا إِلَيْهِ فِي أول الخاتمة أَن يكون النَّفْي منصبا على الْقَيْد والمقيد وَالتَّقْدِير وأعربت أَي مُدَّة عدم الْإِضَافَة الْمقيدَة بِحَذْف الصَّدْر فَإِنَّهَا لَا تعرب بل تبنى وَمَا سوى هَذِه الْعبارَة تعرب أَي فِيهَا فصورة الْبناء دلّ عَلَيْهَا مَفْهُوم الْكَلَام وصور الْأَعْرَاب دلّ عَلَيْهَا منطوقه
তৃতীয় উপস্থাপন (تقرير)

তা হলো, তার কথা ‘মা লাম’ (ما لم) শব্দটি ‘ইল্লা’ (إلا) এর অর্থে ব্যবহৃত হবে এবং এর মর্মার্থ হবে: ‘আইয়ু’ তার সকল অবস্থায় পরিবর্তনশীল (إعراب) হবে, কেবল যখন সেটি সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) হবে এবং তার প্রারম্ভিক অংশ (صدر) বিলুপ্ত হবে, তখন সেটি অপরিবর্তনীয় (بناء) হবে। সুতরাং পরিবর্তনের সকল রূপ হলো প্রত্যক্ষ উক্তিলব্ধ (منطوق) এবং অপরিবর্তনীয় হওয়ার রূপটি হলো অন্তর্নিহিত মর্মলব্ধ (مفهوم)। এটি সেই আলোচনার অনুরূপ যা এই হাদিস সম্পর্কে বলা হয়েছে: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখনই দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো, তিনি সহজটিই গ্রহণ করতেন যতক্ষণ না তা পাপের কাজ হতো।” অর্থাৎ যদি সেটি পাপের কাজ হতো, তবে তাঁকে আর ইখতিয়ার বা সুযোগ দেওয়া হতো না এবং তিনি তা গ্রহণও করতেন না। এটি এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যাতে তার উক্তি ‘মা লাম ইয়াকুন ইছমান’ (যতক্ষণ না পাপের কাজ হয়) অংশটি বিচ্ছিন্ন ব্যতিক্রম (استثناء منقطع) এর অর্থে গণ্য হয়।

চতুর্থ উপস্থাপন (تقرير)

এটিই হলো সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও সঠিক যাচাইকৃত মত (تحقيق) এবং আল-মুরাদীসহ অধিকাংশ (جمهور) ব্যাখ্যাকারক এই পথ অনুসরণ করেছেন। এটিই সেই বিষয় যা আমরা উপসংহারের শুরুতে ইঙ্গিত করেছি যে, না-বোধক অংশটি শর্ত (قيد) এবং শর্তযুক্ত (مقيد) উভয়ের ওপর বর্তাবে। এর বিশ্লেষণ হলো: ‘আইয়ু’ শব্দটির সাথে যখন প্রারম্ভিক অংশ বিলুপ্ত হওয়ার শর্তযুক্ত সম্বন্ধ (إضافة) অনুপস্থিত থাকে, কেবল ততক্ষণই তা পরিবর্তনশীল (إعراب) হবে; কেননা সেই বিশেষ অবস্থায় তা পরিবর্তনশীল (إعراب) হয় না বরং অপরিবর্তনীয় (بناء) থাকে। আর এই অবস্থা ব্যতীত অন্য সব ক্ষেত্রে ‘আইয়ু’ পরিবর্তনশীল (إعراب) হয়। সুতরাং অপরিবর্তনীয় হওয়ার রূপটি বক্তব্যের অন্তর্নিহিত মর্মলব্ধ (مفهوم) অর্থ দ্বারা প্রমাণিত এবং পরিবর্তনের রূপগুলো তার প্রত্যক্ষ উক্তিলব্ধ (منطوق) অর্থ দ্বারা প্রমাণিত।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু আইয়্যুল মুশাদ্দাদাহ (পৃষ্ঠা: ৫৫)
جعلنَا الله وَإِيَّاكُم بفضله من الناطقين بِالْخَيرِ الصامتين عَن الضير وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين وَصلى الله على سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه وَسلم

تمت هَذِه الرسَالَة بالتمام والكمال وَذَلِكَ على يَد أفقر الْعباد وأحوجهم إِلَى عَفْو ربه المنان حسن بن نصار بن مَنْصُور الْحَنْبَلِيّ البيتاوي وَذَلِكَ بالجامع الْأَزْهَر الْمَعْمُور بِذكر الله أدام الله عماره والنفع بِهِ إِلَى يَوْم الْقِيَامَة

وَذَلِكَ نَهَار الْخَمِيس الْمُبَارك نَهَار سَبْعَة وَعشْرين خلت من جماد الثَّانِي من شهور سنة ألف وَمِائَة وَأَرْبَعَة وَخمسين من الْهِجْرَة النَّبَوِيَّة على صَاحبهَا أفضل الصَّلَاة وَأتم التَّسْلِيم وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين آمين
আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে আমাদের ও আপনাদেরকে কল্যাণের বক্তা এবং অনিষ্ট থেকে নীরবতা অবলম্বনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

এই পুস্তিকাটি পূর্ণাঙ্গ ও সার্থকভাবে সমাপ্ত হয়েছে তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী ও নিঃস্বতম বান্দা হাসান বিন নাসসার বিন মানসুর আল-হানবালি আল-বাতাউয়ির হাতে। এটি আল্লাহর জিকিরে মুখরিত জামে আল-আযহারে সম্পন্ন হয়েছে। আল্লাহ এর আবাদি অবস্থা এবং এর মাধ্যমে উপকার সাধন কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত রাখুন।

আর এটি সম্পন্ন হয়েছে হিজরি এক হাজার একশত চুয়ান্ন সালের জমাদিউস সানি মাসের সাতাশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর, বরকতময় বৃহস্পতিবার। এই হিজরতের প্রবর্তকের ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমিন।