(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: -)
حروف المعاني والصفات   (أبو القاسم الزجاجي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: حروف المعاني والصفات

المؤلف: عبد الرحمن بن إسحاق البغدادي النهاوندي الزجاجي، أبو القاسم (ت 337هـ)

المحقق: علي توفيق الحمد

الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت

الطبعة: الأولى، 1984م

عدد الصفحات: 87

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হুরুফুল মাআনী ওয়াস সিফাত   (আবু আল-কাসিম আল-জাজ্জাজি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


বই: হুরুফুল মাআনী ওয়াস সিফাত

লেখক: আব্দুর রহমান বিন ইসহাক আল-বাগদাদী আল-নাহাওয়ান্দি আল-জাজ্জাজি, আবু আল-কাসিম (ওফাত ৩৩৭ হিজরী)

গবেষক/সম্পাদক: আলী তাওফিক আল-হামাদ

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৭

[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

‌‌قَالَ أَبُو الْقَاسِم عبد الرَّحْمَن بن إِسْحَق الزجاجي رَحْمَة الله عَلَيْهِ

أما بعد حفظك الله وهدانا وَإِيَّاك للسداد ووفقنا وَإِيَّاك فِي مَا نحاول دينا وَدُنْيا للرشاد فَإنَّك سَأَلتنِي أَن أَضَع لَك كتابا أشرح لَك فِيهِ جَمِيع مَعَاني الْحُرُوف وعَلى كم وَجه يتَصَرَّف الْحَرْف مِنْهَا فأجبتك إِلَيْهِ وأحسنت عونا عَلَيْهِ

فَمن ذَلِك

1 -) عِنْد أَدَاة لحضور الشَّيْء ودنوه كَقَوْلِك كنت عِنْد زيد أَي بِحَضْرَتِهِ وَكَانَ هَذَا عِنْد انتصاف النَّهَار فتحتمل الزَّمَان وَالْمَكَان

2 -) كل عُمُوم وَقيل لتوكيد الْمَعْنى وَقد يسْتَغْنى عَنهُ نَحْو قَوْلك مَرَرْت بالعشيرة كلهم وَلَو لم تقل كلهم كنت مستغنيا
‌বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

‌‌আবু আল-কাসিম আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক আল-জাজ্জাজি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন:

অতঃপর, আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুন এবং আমাদের ও আপনাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন। দ্বীন ও দুনিয়ার যে সকল কল্যাণের আমরা প্রয়াস চালাই, আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে তাতে তাওফিক দান করুন। আপনি আমার কাছে অনুরোধ করেছিলেন যেন আমি আপনার জন্য এমন একটি কিতাব রচনা করি, যেখানে আমি আপনার জন্য হরফসমূহের (অব্যয়) সকল অর্থ ব্যাখ্যা করব এবং প্রতিটি হরফ কতভাবে ব্যবহৃত হয় তা বর্ণনা করব। আমি আপনার সেই আহবানে সাড়া দিয়েছি এবং এ বিষয়ে সর্বোত্তম সহায়তা করার চেষ্টা করেছি।

তার মধ্য থেকে কিছু নিম্নরূপ:

1 -) 'ইন্দা' কোনো বস্তুর উপস্থিতি ও নৈকট্য বোঝানোর একটি উপকরণ। যেমন আপনার উক্তি: 'আমি জাইদের নিকট ছিলাম', অর্থাৎ তার উপস্থিতিতে। এবং 'এটি ছিল দ্বিপ্রহরের সময়', সুতরাং এটি কাল ও স্থান উভয় অর্থই বহন করতে পারে।

2 -) 'কুল্লু' ব্যাপকতা (عموم) প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। বলা হয়েছে যে, এটি অর্থের তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য আসে। অনেক সময় এটি ছাড়াও উদ্দেশ্য সাধিত হয়, যেমন আপনার উক্তি: 'আমি গোত্রের সবার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি'। আপনি যদি 'সবার' শব্দটি না-ও বলতেন, তবুও বাক্যটি অর্থ প্রকাশে যথেষ্ট হতো।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২)
3 -) بعض اخْتِصَاص هَل تكون استفهاما كَقَوْلِك هَل خرج زيد

وَتَكون بِمَعْنى قد كَقَوْل الله تَعَالَى {هَلْ أَتَى عَلَى الْإِنسَانِ حِينٌ من الدَّهْر} قَالُوا مَعْنَاهُ قد أَتَى

ويدخلها من معنى التَّقْرِير والتوبيخ مَا يدْخل الْألف الَّتِي يستفهم بهَا كَقَوْلِه تَعَالَى {هَل لَّكُم مِّن مَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُم مِّن شُرَكَاء} وَكَقَوْلِه تَعَالَى {هَلْ مِن شُرَكَآئِكُم مَّن يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ} فَهَذَا اسْتِفْهَام فِيهِ تَقْرِير وتوبيخ

ويجعلونها أَيْضا بِمَعْنى مَا فِي قَوْله تَعَالَى {هَلْ يَنظُرُونَ إِلَاّ أَن تَأْتِيَهُمُ الْمَلائِكَةُ} و {هَلْ ينظرُونَ إِلَّا تَأْوِيلُهُ} و {هَلْ يَنظُرُونَ إِلَاّ أَن يَأْتِيَهُمُ اللهُ} و {فَهَلْ عَلَى الرُّسُلِ إِلَّا الْبَلَاغ} كل هَذَا بِمَعْنى مَا

4 -) مثل تَسْوِيَة وَمَعْنَاهَا وَمعنى الْكَاف وَاحِد وَالْكَاف يدْخل
3 -) 'হাল' (هل)-এর কিছু বৈশিষ্ট্য হলো এটি প্রশ্নবোধক (استفهام) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনার উক্তি: "যাইদ কি বের হয়েছে?"

এবং এটি 'কদ' (قد) অর্থেও ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {মানুষের ওপর কি মহাকালের এমন এক সময় অতিবাহিত হয়নি?}। তাঁরা বলেন, এর অর্থ হলো—অবশ্যই (قد) অতিবাহিত হয়েছে।

এতে স্বীকৃতি আদায় (تقرير) এবং তিরস্কারের (توبيخ) সেই অর্থগুলোও অন্তর্ভুক্ত হয়, যা প্রশ্নবোধক (استفهام) আলিফের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যারা তোমাদের অংশীদার?} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের শরীকদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে সৃষ্টির সূচনা করে এবং পুনরায় তা সৃষ্টি করে?}। সুতরাং এটি এমন এক প্রশ্ন (استفهام), যার মধ্যে স্বীকৃতি আদায় (تقرير) ও তিরস্কার (توبيخ) নিহিত রয়েছে।

তাঁরা একে না-বোধক 'মা' (ما) অর্থেও ব্যবহার করেন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কি কেবল ফেরেশতাদের আসারই অপেক্ষা করছে?} এবং {তারা কি কেবল এর পরিণতিরই অপেক্ষা করছে?} এবং {তারা কি কেবল আল্লাহর আগমনেরই অপেক্ষা করছে?} এবং {রাসূলদের ওপর তো কেবল সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বই অর্পিত}। এ সবক্ষেত্রেই এটি না-বোধক 'মা' (ما) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

4 -) 'মিসলু' (مثل) সমতা বিধানের (تسوية) জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এর অর্থ ও 'কাফ' (كاف)-এর অর্থ অভিন্ন। আর 'কাফ' যুক্ত হয়...
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৩)
عَلَيْهَا يُقَال أَنْت كَمثل زيد أَي أَنْت كزيد سي وَلَيْسَ أَنه يَقع التَّشْبِيه على مثل لَهُ مَعْرُوف وَإِنَّمَا هُوَ تَأْكِيد فَكَأَنَّهُ رد الْكَلَام مرَّتَيْنِ

وَمثل ذَلِك قَوْله تَعَالَى {لَيْسَ كمثله شَيْء} أَي لَيْسَ كَهُوَ شَيْء

5 -) قبل لما ولي الشَّيْء وَقد تكون بِمَعْنى عِنْد كَقَوْلِك لي قِبَلَكَ شَيْء أَي عنْدك وَتقول ذهبت قبل السُّوق أَي نَحْو السُّوق

قَالَ سِيبَوَيْهٍ لي قبلك حق أَصله فِيمَا بَيْنك وَلكنه اتَّسع فِيهِ حَتَّى أجري مجْرى عَلَيْك

6 -) نولك أَن تفعل كَذَا وَكَذَا مَعْنَاهُ يَنْبَغِي لَك فعل كَذَا وَأَصله من التَّنَاوُل 1 ظ

كَأَنَّهُ قَالَ تناولك كَذَا وَإِذا قَالَ لَا نولك فَكَأَنَّهُ قَالَ أقصر

7 -) لَو يمْتَنع بهَا الشَّيْء لِامْتِنَاع غَيره كَقَوْلِك لَو جَاءَ زيد لأكرمته مَعْنَاهُ امْتنعت الْكَرَامَة لِامْتِنَاع الْمَجِيء

8 -) لَوْلَا لَهَا موضعان فأحدهما يمْتَنع بهَا الشَّيْء لوُجُود غَيره

وَالْآخر تكون تحضيضا كَقَوْلِك قصدت زيدا فلولا عمرا
এর ওপর ভিত্তি করে বলা হয়, "তুমি যায়িদের সদৃশের মতো," অর্থাৎ "তুমি যায়িদের মতো।" এটি মূলত কোনো নির্দিষ্ট পরিচিত সদৃশ বস্তুর সাথে উপমা দেওয়ার জন্য নয়, বরং এটি একটি জোরপ্রদানকারী (تأكيد) শব্দ; যেন কথাটিকে দুবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।

আর এর অনুরূপ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই}, অর্থাৎ তাঁর মতো কিছুই নেই।

৫ -) ‘কিবাল’ (قبل) শব্দটি কোনো বস্তুর সংলগ্ন বিষয় বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। কখনো এটি ‘নিকটে’ (عند) অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনার উক্তি: "তোমার কাছে (قبلك) আমার একটি বস্তু পাওনা আছে," অর্থাৎ তোমার নিকটে। আবার আপনি বলেন: "আমি বাজারের অভিমুখে (قبل) গিয়েছি," অর্থাৎ বাজারের দিকে।

সিবাহওয়াইহ বলেন: "তোমার কাছে আমার হক আছে"—এর মূল অর্থ হলো যা তোমাদের উভয়ের মাঝে বিদ্যমান, তবে এর অর্থের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেয়ে এটি "তোমার ওপর" অর্থে প্রচলিত হয়েছে।

৬ -) "তোমার অমুক অমুক কাজ করা উচিত (نولك)"-এর অর্থ হলো তোমার জন্য এমনটি করা সমীচীন। এর মূল উৎস হলো ‘তানাভুল’ (التناول) শব্দ থেকে। ১ ظ

যেন তিনি বললেন, তুমি এটি অর্জন করেছ। আর যখন বলা হয় "তোমার জন্য এটি অনুচিত (لا نولك)", তখন এর অর্থ দাঁড়ায় "বিরত থাকো"।

৭ -) ‘লাউ’ (لو) দ্বারা এক বিষয়ের অনুপস্থিতির কারণে অন্য বিষয়ের অনুপস্থিতি বুঝানো হয়। যেমন আপনার উক্তি: "যদি যায়িদ আসত, তবে আমি তাকে সম্মান করতাম।" এর অর্থ হলো: তার না আসার কারণে সম্মান প্রদর্শন করা হয়নি।

৮ -) ‘লাওলা’ (لولا)-এর দুটি প্রয়োগস্থল রয়েছে; তার একটি হলো কোনো কিছুর অস্তিত্বের কারণে অন্য কিছুর অনুপস্থিতি বা নিবৃত্তি বুঝানো।

আর অন্যটি হলো উৎসাহ প্রদান (تحضيض) অর্থে ব্যবহৃত হওয়া; যেমন আপনার উক্তি: "আমি যায়িদের সংকল্প করেছি, তবে উমর কেন নয়?"
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৪)
تَأْوِيله فَهَلا قصدت عمرا

قَالَ الشَّاعِر

(تَعُدّونَ عَقرَ النيب أفضل مجدكم … بني ضوطرى لَوْلَا الكمي المقنعا) // الطَّوِيل // الْمَعْنى فَهَلا تَعدونَ الكمي المقنعا

معنى امْتنَاع الشَّيْء لوُجُود غَيره قَوْله تَعَالَى {وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحمته مَا زكا} فَهَذَا من وجود الشَّيْء لوُجُود غَيره

وَمن الِامْتِنَاع قَوْله تَعَالَى {وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لهدمت صوامع وَبيع}

وَبِمَعْنى التحضيض {لَوْلا أُنزِلَ عَلَيْهِ مَلَكٌ} {لَوْلَا أَخَّرْتَنِي} {لَوْلَا يُكَلِّمُنَا اللهُ}
এর ব্যাখ্যা হলো: "তবে কেন তুমি উমরকে লক্ষ্য করলে না?"

কবি বলেছেন:

(হে দুতারার বংশধরেরা! তোমরা বয়স্ক উট যবাই করাকেই তোমাদের শ্রেষ্ঠ মর্যাদা মনে করো … যদি শিরস্ত্রাণ পরিহিত কোনো বীর যোদ্ধা না থাকত!) // আত-তাবীল (الطويل) ছন্দ // এর অর্থ হলো: কেন তোমরা শিরস্ত্রাণ পরিহিত বীর যোদ্ধার মোকাবিলা করলে না?

অন্য কিছুর অস্তিত্বের কারণে কোনো বিষয় সংঘটিত না হওয়া বা নিবৃত্তি (امتناع) অর্থে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত না থাকত, তবে তোমাদের কেউ কখনো পবিত্র হতে পারতে না}। সুতরাং এটি অন্য কিছুর উপস্থিতির কারণে কোনো বিষয়ের অস্তিত্ব হওয়া।

আর নিবৃত্তি (الامتناع) অর্থে মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ যদি মানুষের একদলকে অন্য দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে মঠ ও গির্জাগুলো ধ্বংস হয়ে যেত}।

এবং উদ্বুদ্ধকরণ (التحضيض) অর্থে: {কেন তার নিকট কোনো ফেরেশতা অবতীর্ণ করা হলো না?}, {কেন আপনি আমাকে অবকাশ দিলেন না?}, {আল্লাহ কেন আমাদের সাথে কথা বলেন না?}
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৫)
وَهِي تكون فِي بعض الْأَحْوَال بِمَعْنى هلا وَذَلِكَ إِذا رَأَيْتهَا بِغَيْر جَوَاب تَقول لَوْلَا فعلت كَذَا قَالَ الله تَعَالَى {فَلَوْلا إِذْ جَاءهُمْ بَأْسُنَا تَضَرَّعُواْ} وَقَالَ تَعَالَى {فَلَوْلَا إِن كُنتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ} أَي فَهَلا

فَإِذا كَانَ لَهَا جَوَاب فَلَيْسَتْ بِهَذَا الْمَعْنى كَقَوْلِه تَعَالَى {فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنْ الْمُسَبِّحِينَ لَلَبِثَ} فَهَذِهِ حكمهَا وُقُوع الْأَمر بِوُقُوع غَيره

وَبَعض الْمُفَسّرين جعل لَوْلَا فِي قَوْله تَعَالَى {فَلَوْلَا كَانَتْ قَرْيَةٌ آمَنت} بِمَعْنى لم أَي فَلم تكن قَرْيَة

9 -، 10، 11) وَكَذَلِكَ لوما وَألا وهلا وَهِي حُرُوف التحضيض

12 -) لَيْت تمن

13 -) قبل للْأولِ

14 -) بعد للْآخر

15 -) سَوف تَنْفِيس وعدة مِنْهُ قيل سوفته
এটি (لَوْلَا) কিছু ক্ষেত্রে ‘হাল্লা’ (هَلَّا) অর্থে ব্যবহৃত হয়; আর তা তখন হয় যখন আপনি একে কোনো উত্তর (جَوَاب) বিহীন অবস্থায় দেখবেন। আপনি বলবেন, ‘তুমি কেন এমন করলে না?’ আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {তবে কেন আমাদের শাস্তি যখন তাদের কাছে এল, তারা বিনীত হলো না?} এবং আল্লাহ তাআলা আরও এরশাদ করেছেন: {তবে কেন, যদি তোমরা প্রতিদানপ্রাপ্ত না হয়ে থাকো...} অর্থাৎ ‘তবে কেন নয়’।

কিন্তু যখন এর জন্য কোনো উত্তর (جَوَاب) থাকে, তখন এটি এই অর্থে ব্যবহৃত হয় না। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {যদি সে তসবিহ পাঠকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হতো, তবে সে অবশ্যই অবস্থান করত...}। এক্ষেত্রে এর বিধান হলো অন্য একটি বিষয়ের অস্তিত্বের কারণে একটি বিষয়ের সংঘটন।

কোনো কোনো মুফাসসির (ব্যাখ্যাকারী) আল্লাহ তাআলার বাণী— {তবে কেন এমন কোনো জনপদ হলো না যারা ঈমান এনেছে}—এ ‘লওলা’ (لَوْلَا) শব্দটিকে ‘লাম’ (لَمْ) অর্থে গ্রহণ করেছেন, অর্থাৎ ‘কোনো জনপদ ছিল না’।

9 -، 10، 11) তদ্রূপ ‘লওমা’, ‘আল্লা’ এবং ‘হাল্লা’; এগুলো হলো উৎসাহব্যঞ্জক অব্যয় (حروف التحضيض)।

12 -) ‘লায়তা’ আকাঙ্ক্ষা (تمني) প্রকাশের জন্য।

13 -) ‘কাবলা’ পূর্ববর্তিতার (الأول) জন্য।

14 -) ‘বাদা’ পরবর্তীতার (الآخر) জন্য।

15 -) ‘সাওফা’ ভবিষ্যতের অবকাশ (تنفيس) এবং প্রতিশ্রুতির জন্য; এ থেকেই বলা হয় ‘সাওওয়াফতুহু’।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৬)
16 -) حَيْثُ مَكَان

17 -) بلَى إِيجَاب للنَّفْي وَتَقَع جَوَابا للسؤال المحجوب كَقَوْلِك أما خرج زيد فَيُقَال بلَى

18 -) نعم عدَّة وتصديق وَهِي تقع جَوَابا للسؤال الْمَوْجُود كَقَوْلِك أخرج زيد فَيُقَال نعم وَلَا تقع جَوَابا للنَّفْي كَمَا أَن بلَى لَا تقع جَوَابا للْوَاجِب

19 -) إِذن جَوَاب وَجَزَاء كَقَوْلِك سأقصدك غَدا فَيُقَال إِذن أكرمك

20 -) كَانَ عبارَة عَن حُدُوث الْأَفْعَال المنقضية كَقَوْلِك خرج زيد فَتَقول قد كَانَ ذَلِك

وَتقول انْطلق عبد الله وَقدم مُحَمَّد وَسَار النَّاس فَتَقول فِي جَمِيع ذَلِك قد كَانَ ذَلِك
16 -) স্থান (مكان)

17 -) অবশ্যই (بلى) হলো নেতিবাচকতার ইতিবাচক উত্তর (إيجاب للنفي) এবং এটি নেতিবাচক প্রশ্নের উত্তর হিসেবে আসে; যেমন আপনার উক্তি: "যায়েদ কি বের হয়নি?" তখন বলা হয়, "অবশ্যই (بلى)"।

18 -) হ্যাঁ (نعم) হলো প্রতিশ্রুতি (عدة) ও সত্যায়ন (تصديق); এটি ইতিবাচক প্রশ্নের উত্তর হিসেবে আসে; যেমন আপনার উক্তি: "যায়েদ কি বের হয়েছে?" তখন বলা হয়, "হ্যাঁ (نعم)"। এটি নেতিবাচক প্রশ্নের উত্তর হিসেবে আসে না, যেমন 'অবশ্যই (بلى)' ইতিবাচক প্রশ্নের উত্তর হিসেবে আসে না।

19 -) অতএব (إِذن) হলো উত্তর (جواب) ও প্রতিদান (جزاء) স্বরূপ; যেমন আপনার উক্তি: "আমি আগামীকাল আপনার নিকট আসব", তখন উত্তরে বলা হয়: "তাহলে (إذن) আমি আপনাকে সম্মানিত করব"।

20 -) হয়েছিল (كَانَ) হলো অতীত বা সমাপ্ত কার্যাবলীর (الأفعال المنقضية) সঙ্ঘটন বুঝানোর একটি অভিব্যক্তি; যেমন আপনার উক্তি: "যায়েদ বের হয়েছে", তখন আপনি বলেন: "তা ইতিপূর্বে হয়েছিল (كان)"।

এবং আপনি বলেন: "আবদুল্লাহ রওয়ানা হয়েছে", "মুহাম্মদ এসেছে" এবং "লোকেরা পথ চলেছে"; এই সবগুলোর ক্ষেত্রেই আপনি বলেন: "তা ইতিপূর্বে হয়েছিল (كان)"।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৭)
21 -) أَمْسَى لَهَا وَجْهَان بِمَعْنى اسْتَيْقَظَ ونام فِي الِاكْتِفَاء باسم وَاحِد فَتَقول أَمْسَى زيد أَي صَار فِي وَقت الْمسَاء

وَالثَّانِي تطلب فِيهِ الْخَبَر كَقَوْلِك أَمْسَى زيد عَالما أَي أَتَى عَلَيْهِ الْمسَاء وَهُوَ عَالم

22 -، 23) أصبح وأضحى بِمَنْزِلَة أَمْسَى

24 -) ظلّ مَعْنَاهُ فعل الْفَاعِل نَهَارا

25 -) بَات فعله لَيْلًا

26 -، 27، 28) مَا انْفَكَّ وَمَا فتئ وَمَا برح معناهن الإقبال على الشَّيْء وملازمته وَترك الِانْفِصَال مِنْهُ

29 -) إِلَّا لَهَا وُجُوه

تكون تَحْقِيقا بعد النَّفْي ونفيا بعد التَّحْقِيق كَقَوْلِك سَار النَّاس إِلَّا زيدا فقد نفيت مسير زيد مَعَ النَّاس

وَتقول مَا سَار اخوتك إِلَّا زيدٌ فقد أثبت الْمسير لزيد من بَين الاخوة

وَتَقَع نفيا للنكرات الْعَامَّة كَقَوْلِه تَعَالَى {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا} مَعْنَاهُ لَو كَانَ فيهمَا آلِهَة غَيره
২১ -) ‘অ্যামসা’ এর দুটি প্রয়োগ রয়েছে। একটি হলো ‘জাগ্রত হওয়া’ বা ‘ঘুমানো’ ক্রিয়ার ন্যায় কেবল একটি বিশেষ্য বা নামপদের মাধ্যমেই অর্থ পূর্ণ হওয়া। যেমন আপনি বলবেন— ‘অ্যামসা যাইদুন’ (যাইদ সন্ধ্যায় উপনীত হলো), অর্থাৎ সে সন্ধ্যার সময়ে প্রবেশ করল।

দ্বিতীয় প্রয়োগটি এমন যেখানে খবর বা বিধেয় প্রয়োজন হয়। যেমন আপনার উক্তি— ‘অ্যামসা যাইদুন আলিমান’ (যাইদ আলেম হিসেবে সন্ধ্যা অতিবাহিত করল), অর্থাৎ তার ওপর সন্ধ্যা এমন অবস্থায় এল যে সে একজন আলেম ছিল।

২২ -, ২৩) ‘আস-বাহা’ এবং ‘আদ-হা’ এর বিধান ‘অ্যামসা’-এর অনুরূপ।

২৪ -) ‘জল্লা’ এর অর্থ হলো দিনের বেলায় কর্তার কোনো কাজ করা।

২৫ -) ‘বাতা’ হলো রাতে কাজ করা।

২৬ -, ২৭, ২৮) ‘মা ইনফাক্কা’, ‘মা ফাতায়া’ এবং ‘মা বারিহা’—এই শব্দগুলোর অর্থ হলো কোনো বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করা, তার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে লেগে থাকা এবং তা ত্যাগ না করা।

২৯ -) ‘ইল্লা’ শব্দটির কয়েকটি প্রয়োগ রয়েছে।

এটি নেতিবাচক বাক্যের পরে ইতিবাচক অর্থ প্রকাশে এবং ইতিবাচক বাক্যের পরে নেতিবাচক অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। যেমন আপনার উক্তি: ‘সারা আন-নাসু ইল্লা যাইদান’ (যাইদ ব্যতীত সব মানুষ চলে গেল); এখানে আপনি সাধারণ মানুষের সাথে যায়েদের যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

এবং আপনি যখন বলেন: ‘মা সারা ইখওয়াতুকা ইল্লা যাইদুন’ (তোমার ভাইয়েরা চলে যায়নি যায়েদ ছাড়া), তখন আপনি ভাইদের মধ্য থেকে কেবল যায়েদের যাওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন।

এটি সাধারণ অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের ক্ষেত্রে নেতিবাচক অর্থ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত}। এর অর্থ হলো, যদি আসমান ও জমিনে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য থাকত।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৮)
30 -) لن تَنْفِي الْمُسْتَقْبل كَقَوْلِك لن يخرج زيد غَدا

31 -) لم لنفي الْمَاضِي بِالْمَعْنَى كَقَوْلِك لم يخرج زيد

32 -) لَيْسَ نفي للْحَال والاستقبال

33 -) لَا نفي للمستقبل وَالْحَال وقبيح دُخُولهَا على الْمَاضِي لِئَلَّا تشبه الدُّعَاء أَلا ترى أَنَّك لَو قلت لَا قَامَ زيد جرت كَأَنَّك دَعَوْت عَلَيْهِ

وتزاد مَعَ الْيَمين وتطرح كَقَوْلِه تَعَالَى {لَا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ}

وَقد تدخل على الْمَاضِي بِمَعْنى لم كَقَوْلِه تَعَالَى {فَلَا صَدَّقَ وَلَا صَلَّى} مَعْنَاهُ لم يصدق وَلم يصل

وَقَالَ الشَّاعِر

(إنْ تغفرْ اللَّهُمَّ تغْفر جماً … وَأي عبد لَك لَا ألما) // الرجز //
30 -) ‘লান’ (لن) ভবিষ্যৎকালকে (المستقبل) নেতিবাচক (نفي) করার জন্য ব্যবহৃত হয়; যেমন আপনার উক্তি: ‘জায়েদ আগামীকাল বের হবে না’।

31 -) ‘লাম’ (لم) অর্থের দিক থেকে অতীতকালকে (الماضي) নেতিবাচক (نفي) করার জন্য ব্যবহৃত হয়; যেমন আপনার উক্তি: ‘জায়েদ বের হয়নি’।

32 -) ‘লাইসা’ (ليس) বর্তমান (الحال) ও ভবিষ্যৎকালকে (الاستقبال) নেতিবাচক (نفي) করার জন্য ব্যবহৃত হয়।

33 -) ‘লা’ (لا) ভবিষ্যৎকাল (المستقبل) ও বর্তমানকালকে (الحال) নেতিবাচক (نفي) করার জন্য ব্যবহৃত হয়। অতীতকালের (الماضي) ওপর এর প্রবেশ অশোভন (قبيح), যাতে তা দোয়ার (الدعاء) সদৃশ না হয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আপনি যদি বলেন ‘লা কমা জায়েদ’, তবে তা এমনভাবে প্রকাশ পায় যেন আপনি তার বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছেন।

এবং এটি শপথের সাথে অতিরিক্ত (تزاد) হিসেবে যুক্ত হয় এবং (অর্থের দিক থেকে) বর্জিত হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কিয়ামত দিবসের শপথ করছি}

কখনও কখনও এটি ‘লাম’ (لم)-এর অর্থে অতীতকালের (الماضي) ওপর প্রবেশ করে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সে বিশ্বাস করেনি এবং সালাতও আদায় করেনি}, এর অর্থ হলো—সে বিশ্বাস করেনি এবং সালাত আদায় করেনি।

কবি বলেছেন:

(হে আল্লাহ! আপনি যদি ক্ষমা করেন, তবে আপনি অনেককেই ক্ষমা করেন... আর আপনার এমন কোন বান্দা আছে যে পাপে লিপ্ত (ألم) হয়নি?) // রাজাজ (الرجز) ছন্দ //
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ৯)
34 -) ثَمَّ بِفَتْح الثَّاء وَتَشْديد الْمِيم إِشَارَة إِلَى مَكَان متراخ

35 -) رويداً تكون نعت مصدر مُضْمر كَقَوْلِك ضَعْهُ رويداً أَي وضعا رويدا أَي رَفِيقًا

وَتَكون وَاقعَة موقع الْحَال كَقَوْلِك سَارُوا رويداً

وَتَكون بِمَعْنى أمْهل قَالَ الله عز وجل {فَمَهِّلِ الْكَافِرِينَ أَمْهِلْهُمْ رُوَيْداً} أَي قَلِيلا وَلَا يتَكَلَّم بهَا إِلَّا مصغرة

وَقد جَاءَت فِي الشّعْر بِغَيْر تَصْغِير كَقَوْلِه

(يكَاد لَا تثلم الْبَطْحَاء وطأته … كَأَنَّهُ ثمل يمشي على رَود) // الْبَسِيط //

36 -) غير بدل
৩৪ -) 'থাম্মা' — এখানে 'ছা' বর্ণের ওপর ফাতহাহ এবং 'মীম' বর্ণের ওপর তাশদীদ প্রয়োগ করা হয়েছে, যা মূলত দূরবর্তী কোনো স্থানের প্রতি ইশারা বা নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৩৫ -) 'রুওয়াইদান' — এটি কখনো উহ্য ক্রিয়ামূলের (مصدر) বিশেষণ (নعت) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যেমন আপনার উক্তি: 'এটি ধীরে রাখো', অর্থাৎ ধীরস্থিরভাবে বা কোমলতার সাথে রাখা।

এটি কখনো অবস্থার বর্ণনা বা হাল (حال) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনার উক্তি: 'তারা ধীরগতিতে চলল'।

এটি 'অবকাশ দান' (أمهل) অর্থেও ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: {অতএব আপনি কাফিরদের অবকাশ দিন, তাদেরকে সামান্য সময়ের জন্য সুযোগ দিন}। অর্থাৎ সামান্য সময়। এই শব্দটি সর্বদা ক্ষুদ্রার্থবোধক (تصغير) রূপেই ব্যবহৃত হয়।

তবে কাব্যসাহিত্যে কখনো কখনো এটি ক্ষুদ্রার্থবোধক (تصغير) রূপ ছাড়াও ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন কবির উক্তি:

(তার পদভারে উপত্যকার কঙ্করময় ভূমি যেন সামান্যও ক্ষয়ে যায় না... যেন সে এক মাতাল যে অত্যন্ত ধীরলয়ে পথ চলছে) // আল-বাসীত ছন্দ //

৩৬ -) 'গাইর' শব্দটি স্থলাভিষিক্ত বা বদল (بدل) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১০)
37 -) سوى مَقْصُورَة بمعناها

38 -) سَوَاء الممدودة بِمَعْنى غير أَيْضا قَالَ ذُو الُّرمة

(وَماءٍ تَجافى الغَيثُ عَنهُ فَمَا لَهُ … سَواءَ الحَمامِ الحُضَّنِ الخُضرِ حَاضر) // الطَّوِيل //

39 -) وَسَوَاء مَفْتُوحَة الأول أَيْضا بِمَعْنى وسط قَالَ الله تَعَالَى {فَرَآهُ فِي سَوَاء الْجَحِيمِ}

وَقد جَاءَت أَيْضا مَكْسُورَة بِمَعْنى وسط كَقَوْلِه تَعَالَى {مَكَاناً سُوًى} أَي وسطا

40 -) بَلَه تكون بله زيدٍ بالخفض وبله زيدا بِالنّصب فَمن نصب أَرَادَ فدع زيدا وَمن خفض جعلهَا بِمَنْزِلَة مصدر مُضَاف
37 -) সুইয়া (سوى) যা মাকসুরা (مقصورة) হিসেবে তার অর্থের অনুরূপ ব্যবহৃত হয়

38 -) সাওয়া (سواء) যা মমদুদা (ممدودة) হিসেবে আসে, তাও 'ব্যতীত' অর্থে ব্যবহৃত হয়; যু-রুম্মাহ বলেছেন

(এবং এমন এক জলাশয় যা থেকে বৃষ্টি বিমুখ হয়েছে, ফলে সেখানে সবুজ বসা কবুতর ব্যতীত অন্য কোনো উপস্থিত নেই) // আত-তওয়ীল ছন্দ //

39 -) এবং সাওয়া (سواء) যখন প্রথম অক্ষরে ফাতহা (مفتوحة) বিশিষ্ট হয়, তখন তা মধ্যভাগ (وسط) অর্থেও ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {অতঃপর সে তাকে জাহান্নামের মধ্যস্থলে দেখতে পেল}

আবার এটি প্রথম অক্ষরে কাসরা (مكسورة) বিশিষ্ট হিসেবেও মধ্যভাগ (وسط) অর্থে এসেছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {একটি মধ্যবর্তী স্থানে}, অর্থাৎ মধ্যস্থলে

40 -) বালাহা (بله) শব্দটি 'বালাহা যাইদিন' রূপে জর (خفض) সহকারে এবং 'বালাহা যাইদান' রূপে নসব (নصب) সহকারে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি নসব (নصب) প্রদান করে, সে 'যাইদকে ছেড়ে দাও' অর্থ উদ্দেশ্য করে; আর যে ব্যক্তি জর (خفض) প্রদান করে, সে একে মুদাফ (مضاف) হওয়া মাসদার (مصدر) হিসেবে গণ্য করে
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১১)
مثل ضرب زيد

41 -) لما تكون بِمَعْنى لم فِي نفي الْفِعْل الْمُسْتَقْبل كَقَوْلِه تَعَالَى {بَلْ لَمَّا يَذُوقُوا عَذَابِ}

وَتَكون بِمَعْنى إِلَّا قَالَ الله تَعَالَى {إِن كُلُّ نَفْسٍ لَّمَّا عَلَيْهَا حَافِظٌ} أَي إِلَّا عَلَيْهَا

فَإِذا رَأَيْت لَهَا جَوَابا فَهِيَ لأمر يَقع بِوُقُوع غَيره بِمَعْنى حِين كَقَوْلِه تَعَالَى {فَلَمَّا آسَفُونَا انتَقَمْنَا مِنْهُمْ} أَي حِين آسفونا و {لِّمَّا جَاء أَمْرُ رَبِّكَ} أَي حِين جَاءَ

42 -) أَلا مَفْتُوحَة مُخَفّفَة تسْتَعْمل فِي افْتِتَاح الْكَلَام للتَّأْكِيد والتنبيه كَقَوْلِه تَعَالَى {أَلا إِنَّ عَاداً كَفَرُواْ رَبَّهُمْ أَلا بعدا لعاد}

43 -) وَكَذَلِكَ أما إِلَّا أَنَّهَا لَا تقع إِلَّا فِي افْتِتَاح قسم كَقَوْلِك أما وَالله لقد كَانَ كَذَا

44 -) كلا ردع وزجر قَالَ الله تَعَالَى {أَيَطْمَعُ كُلُّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ أَن يُدْخَلَ جنَّة نعيم كلا}
যেমন যায়েদকে প্রহার করার দৃষ্টান্ত

৪১ -) ‘লাম্মা’ যখন ভবিষ্যৎ ক্রিয়াকে না-বোধক করার ক্ষেত্রে ‘লাম’ এর অর্থে ব্যবহৃত হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {বরং তারা এখনও আমার শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করেনি।}

এবং এটি ‘ইল্লা’ বা ব্যতীত অর্থেও ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {এমন কোনো সত্তা নেই যার ওপর কোনো তত্ত্বাবধায়ক নেই।} অর্থাৎ তার ওপর ব্যতীত (তত্ত্বাবধায়ক নেই)।

অতঃপর যখন আপনি এর কোনো জওয়াব (শর্তের উত্তর) দেখতে পাবেন, তখন এটি এমন কোনো বিষয়ের জন্য হয় যা অন্য একটি বিষয় ঘটার কারণে ঘটে থাকে; যা ‘হীন’ বা ‘যখন’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন তারা আমাকে রাগান্বিত করল, তখন আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিলাম।} অর্থাৎ যখন তারা রাগান্বিত করল। এবং {যখন আপনার প্রতিপালকের নির্দেশ এল} অর্থাৎ যখন এল।

৪২ -) ‘আলা’ যা ফাতহাযুক্ত ও তাশদীদবিহীন; এটি বাক্যের শুরুতে তাকিদ (দৃঢ়তা) এবং সতর্কীকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আদ জাতি তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করেছিল। সাবধান! আদ জাতির জন্য ধ্বংস নির্ধারিত।}

৪৩ -) অনুরূপভাবে ‘আম্মা’ শব্দটিও; তবে এটি কেবল শপথের শুরুতে ব্যবহৃত হয়। যেমন আপনার উক্তি: ‘আল্লাহর কসম, অবশ্যই বিষয়টি এমন ছিল।’

৪৪ -) ‘কাল্লা’ শব্দটি ধমক এবং কোনো কাজ থেকে বিরত রাখার অর্থে ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {তাদের প্রত্যেকে কি এই আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে যে, তাকে নিআমতপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে? কখনোই নয়।}
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১২)
) وَقَالَ تَعَالَى {يَحْسَبُ أَنَّ مَاله أخلده كلا} أَي لَا يخلده

وَقَالَ تَعَالَى {ويل لِلْمُطَفِّفِينَ} إِلَى قَوْله {يقوم النَّاس لرب الْعَالمين كلا} يُرِيد انْتَهوا

45 -) أَيَّانَ مَعْنَاهُ مَتى كَقَوْلِه تَعَالَى {يَسْأَلُ أَيَّانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ}

46 -) أولى لَك تهديد ووعيد قَالَ الله تَعَالَى {أَوْلَى لَكَ فَأَوْلَى}

47 -) فِي مَعْنَاهُ الْوِعَاء الظَّرْفِيَّة

وَقد تَأتي مَكَان على كَقَوْلِه تَعَالَى {وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النّخل} أَي على

وَقَالَ الشَّاعِر

(همو صَلَبوا العَبديَّ فِي جَذعِ نَخلَةٍ … فَلا عَطَسَت شَيبانُ إِلَّا بأجدعا) // الطَّوِيل //
) এবং মহান আল্লাহ বলেন, {সে কি মনে করে যে তার ধন-সম্পদ তাকে অমর করে রাখবে? কক্ষনো নয়} অর্থাৎ তা তাকে অমর করবে না।

এবং মহান আল্লাহ বলেন, {ধ্বংস মাপে কমদানকারীদের জন্য} তাঁর এই বাণী পর্যন্ত {যেদিন মানুষ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে দণ্ডায়মান হবে। কক্ষনো নয়} এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তোমরা বিরত হও।

45 -) 'আইয়্যানা' এর অর্থ হলো কখন, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সে জিজ্ঞাসা করে কিয়ামত দিবস কখন হবে?}

46 -) 'আওলা লাকা' হলো ভীতি প্রদর্শন ও সতর্কবাণী (وعيد)। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমার জন্য দুর্ভোগের ওপর দুর্ভোগ!}

47 -) 'ফী' এর অর্থ হলো আধার বা আধেয়ত্ব (الظرفية)।

আর এটি কখনো কখনো 'আলা' এর স্থলে ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আমি অবশ্যই তোমাদের খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলে চড়াব} অর্থাৎ উপরে।

জনৈক কবি বলেছেন:

(তারা আবদীকে খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলে চড়িয়েছে … ফলে শায়বান গোত্র যেন কর্তিত নাসিকা ব্যতীত হাঁচি না দেয়) // আল-তাবীল (الطويل) ছন্দ //
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১৩)
48 -) أَو بِمَعْنى التَّخْيِير قَوْله تَعَالَى {فَفِدْيَةٌ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ}

وَتَكون بِمَعْنى بل {لَبِثْنَا يَوْماً أَوْ بَعْضَ يَوْم} وَمِنْه (إِلَاّ كَلَمْحِ الْبَصَرِ أَوْ هُوَ أَقْرَبُ)

وَتَكون بِمَعْنى الْإِبْهَام كَقَوْلِه تَعَالَى {أَوْ كَصَيِّبٍ مِّنَ السَّمَاء} {وَأَرْسَلْنَاهُ إِلَى مائَة ألف أَو يزِيدُونَ} {وَلَا تُطِع مِنْهُم آثِما أَوْ كَفُوراً}

49 -) قد مَعْنَاهُ التَّأْكِيد وَقيل التَّقْرِيب إِذا دخل على الْمَاضِي وَمَعْنَاهُ التَّحْقِيق مَعَ الْمُضَارع

قَالَ الْخَلِيل هِيَ لقوم يتوقعون أمرا فَيَقُول لَهُم قد كَانَ ذَلِك
৪৮ -) 'আও' (أو) শব্দটি নির্বাচনের (التخيير) অর্থে ব্যবহৃত হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তবে সিয়াম পালন, সদকা প্রদান কিংবা পশু জবাইয়ের মাধ্যমে ফিদইয়া দিতে হবে।}

এটি 'বাল' (بل) বা 'বরং' অর্থেও ব্যবহৃত হয়; যেমন: {আমরা একদিন অথবা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করেছি।} এর অন্তর্ভুক্ত হলো: {তা তো চোখের পলকের মতো অথবা তার চেয়েও নিকটবর্তী।}

এটি অস্পষ্টতা বা সংশয় (الإبهام) প্রকাশের অর্থেও আসে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা আকাশের বর্ষণমুখর মেঘের মতো।} {আর আমি তাকে এক লক্ষ বা তার বেশি মানুষের কাছে পাঠিয়েছিলাম।} {এবং আপনি তাদের মধ্য হতে কোনো পাপিষ্ঠ বা অকৃতজ্ঞের আনুগত্য করবেন না।}

৪৯ -) 'ক্বাদ' (قد) এর অর্থ হলো তাকিদ বা দৃঢ়তা প্রদান (التأكيد)। বলা হয়ে থাকে, এটি যখন অতীতকালীন ক্রিয়ার (الماضي) পূর্বে আসে তখন তা নিকটবর্তী হওয়ার (التقريب) অর্থ দেয়; আর যখন তা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার (المضارع) সাথে আসে তখন তা নিশ্চয়তা বা তাহক্বিক (التحقيق) অর্থ প্রকাশ করে।

আল-খলিল রহ. বলেন, এটি সেই সব লোকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যারা কোনো একটি বিষয়ের প্রত্যাশা করছিল, তখন তাদের বলা হয়—তা অবশ্যই সংঘটিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَتَكون بِمَعْنى حسب فِي الْكِفَايَة كَقَوْلِك قّدَنِي دِرْهَمَانِ وَتقول قدني بِالْفَتْح وَالْكَسْر

50 -) حسب اسْم يكون بِمَعْنى المصروف والمحسوب

51 -) رب للشَّيْء يَقع قَلِيلا وَلَا يَقع بعْدهَا إِلَّا مُنْكرا وَلَا يَقع إِلَّا فِي صدر الْكَلَام

52 -، 53) مُنْذُ ومذ أما مُنْذُ فحرف خافض لما بعده دَال على زمَان

ومذ اسْم يدل على زمَان يرفع مَا مضى ويخفض مَا أَنْت فِيهِ

54 -) بل تَأتي لتدارك كَلَام غلط فِيهِ تَقول رَأَيْت زيدا بل عمرا

وَتَكون لترك شَيْء من الْكَلَام وَأخذ فِي غَيره وَهِي فِي الْقُرْآن
এটি পর্যাপ্ততা অর্থে 'হাসব' এর ন্যায় ব্যবহৃত হয়, যেমন আপনার উক্তি: 'ক্বদনী দিরহামান' (দুই দিরহাম আমার জন্য যথেষ্ট)। আপনি 'ক্বদনী' শব্দটি দাল বর্ণে ফাতাহ ও কাসরা উভয় যোগে বলতে পারেন।

50 -) 'হাসব' একটি বিশেষ্য যা ব্যয়িত এবং গণনাকৃত অর্থে ব্যবহৃত হয়।

51 -) 'রুব্বা' এমন বিষয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় যা কদাচিৎ ঘটে। এর পরে কেবল অখ্যাত (منكر) শব্দ ব্যতীত অন্য কিছু আসে না এবং এটি কেবল বাক্যের শুরুতেই বসে।

52 -、 53) 'মুনযু' এবং 'মুয'; 'মুনযু' হলো তার পরবর্তী শব্দকে যার প্রদানকারী অব্যয় যা সময় নির্দেশক।

'মুয' হলো সময় নির্দেশক একটি বিশেষ্য যা অতীত বিষয়কে রফা প্রদান করে এবং বর্তমান বিষয়কে যার প্রদান করে।

54 -) 'বাল' ভুল সংশোধনকল্পে ব্যবহৃত হয়; যেমন আপনি বললেন: "আমি যায়িদকে দেখেছি, বরং আমরকে"।

এটি কোনো বক্তব্য পরিত্যাগ করে অন্য বিষয়ে শুরু করার জন্যও আসে এবং এটি কুরআনে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১৫)
بِهَذَا الْمَعْنى كثير

قَالَ الله تَعَالَى {ص وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي عِزَّةٍ} فَترك الأول وَأخذ ببل فِي كَلَام ثَان

ثمَّ قَالَ تَعَالَى حِكَايَة عَن الْمُشْركين {أَأُنزِلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ مِن بَيْنِنَا بَلْ هُمْ فِي شَكٍّ مِّن ذِكْرِي} فَترك وَأخذ ببل فِي كَلَام آخر

وَإِذا كَانَت مُبتَدأَة وَوليت اسْما شبهت بِرَبّ وبالواو وَبِأَيِّ وخفض بهَا قَالَ أَبُو النَّجْم

(بل منهلٍ ناءٍ من الغياض … ) // الرجز //

55 -) لكنْ اسْتِدْرَاك بعد الْجُحُود كَقَوْلِك مَا خرج زيد لَكِن عَمْرو وَلَا يُغني فِي الْوَاجِب لَو قلت خرج زيد لَكِن عَمْرو لم يَصح
এই অর্থে বহু দৃষ্টান্ত বিদ্যমান।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {সোয়াদ, উপদেশপূর্ণ কুরআনের শপথ; বরং যারা কুফরী করেছে তারা অহমিকা ও বিরোধিতায় লিপ্ত}। এখানে প্রথম প্রসঙ্গের অবতারণা ছেড়ে 'বাল' ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বিতীয় একটি বাক্যে নতুন কথা গ্রহণ করা হয়েছে।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের অবস্থা বর্ণনা করে ইরশাদ করেছেন: {আমাদের মধ্য থেকে কি কেবল তার ওপরই উপদেশ অবতীর্ণ হলো? বরং তারা আমার ওহি সম্পর্কে সন্দেহে নিপতিত}। এখানেও পূর্ববর্তী বক্তব্য বর্জন করে অন্য একটি বাক্যে 'বাল' গ্রহণ করা হয়েছে।

আর যখন এটি (বাল) প্রারম্ভিক অব্যয় হিসেবে আসে এবং এর পরে কোনো বিশেষ্য পদ যুক্ত হয়, তখন এটি ‘রুব্বা’, ‘ওয়াও’ ও ‘আই’-এর সদৃশ হয় এবং এর মাধ্যমে পরবর্তী শব্দকে ‘জার’ (নিম্নমুখী স্বরচিহ্ন) প্রদান করা হয়। আবু আন-নাজম বলেছেন:

(বরং বনঝোপ থেকে দূরবর্তী এক পানির ঘাট … ) // রাজায ছন্দ //

৫৫ - ‘লাকিন’ হলো অস্বীকৃতিমূলক বক্তব্যের পর সংশয় নিরসন বা সংশোধনের জন্য; যেমন আপনার উক্তি: ‘যায়েদ বের হয়নি, কিন্তু আমর (বের হয়েছে)’। এটি ইতিবাচক বাক্যের ক্ষেত্রে কার্যকর হয় না; যদি আপনি বলেন ‘যায়েদ বের হয়েছে কিন্তু আমর’, তবে তা শুদ্ধ হবে না।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১৬)
إِلَّا أَن تَأتي بعْدهَا بِكَلَام تَامّ وَكَذَلِكَ لكنَّ الْمُشَدّدَة إِلَّا أَنَّهَا تنصب الِاسْم وترفع الْخَبَر

56 -) ثمَّ بِالضَّمِّ حرف عطف يدل على أَن الثَّانِي بعد الأول وَبَينهمَا مهلة

57 -) نعم للحمد وَالثنَاء الْمُسْتَحق الشَّائِع فِي الْجِنْس كَقَوْلِك نعم الرجل زيد إِنَّمَا هُوَ مدح لَهُ بِالْحَمْد الْمُسْتَحق فِي جنس الرِّجَال

58 -) بئس للذم ومجراها فِيهِ مجْرى نعم فِي الْحَمد

59 -) حبذا مدح وَلكنهَا تقع على كل اسْم وَلَا تقع نعم وَبئسَ إِلَّا على معرفَة بِالْألف وَاللَّام أَو مَا أضيف إِلَى مَا فِيهِ ألف وَلَام أَو على الْمُضمر مِنْهُمَا وتنصب النكرَة بعْدهَا على التَّمْيِيز

60 -) صه مَعْنَاهُ اسْكُتْ

61 -) مَه مَعْنَاهُ اكفف

62 -، 63 لبيْك وَسَعْديك معنى لبيْك من ألب الرجل بِالْمَكَانِ إِذا أَقَامَ فِيهِ فَكَأَنَّهُ قَالَ أَنا مُقيم على طَاعَتك وأمرك
তবে শর্ত হলো এর পরে একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য আসতে হবে। অনুরূপভাবে দ্বিত্বযুক্ত (مشددة) 'লাকিন্না' (لكنَّ) এর বিধানও একই, তবে এটি বিশেষ্যকে (اسم) নসব প্রদান করে এবং খবরকে (خبر) রফ প্রদান করে।

56 -) অতঃপর পেশ (ضمة) যোগে 'সুম্মা' (ثُمَّ); এটি একটি সংযোজক অব্যয় (حرف عطف), যা নির্দেশ করে যে দ্বিতীয়টি প্রথমটির পরে সংঘটিত হয়েছে এবং উভয়ের মাঝে বিরতি রয়েছে।

57 -) 'নি’মা' (نِعْمَ) ঐ প্রশংসা ও গুণকীর্তনের জন্য যা কোনো বিশেষ শ্রেণীর ক্ষেত্রে সাধারণভাবে প্রাপ্য হিসেবে প্রচলিত; যেমন তোমার উক্তি: "যায়েদ কতই না চমৎকার ব্যক্তি!" এটি মূলত পুরুষ জাতির মধ্যে সাধারণভাবে বিদ্যমান প্রশংসার মাধ্যমে তার প্রশংসা করা।

58 -) 'বি’সা' (بِئْسَ) নিন্দা জ্ঞাপনের জন্য এবং এই ক্ষেত্রে এর ব্যবহার প্রশংসার ক্ষেত্রে 'নি’মা' (نِعْمَ)-এর ব্যবহারের অনুরূপ।

59 -) 'হাব্বাযা' (حَبَّذَا) প্রশংসাবাচক শব্দ, তবে এটি প্রতিটি বিশেষ্যের (اسم) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে। আর 'নি’মা' (نِعْمَ) ও 'বি’সা' (بِئْسَ) কেবল আলিফ-লাম যুক্ত নির্দিষ্ট বিশেষ্য (معرفة), অথবা আলিফ-লাম যুক্ত শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) শব্দ, অথবা এগুলোর প্রচ্ছন্ন সর্বনামের (مضمر) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর এগুলোর পরবর্তী অনির্দিষ্ট বিশেষ্যটি (نكرة) পার্থক্যকারী (تمييز) হিসেবে নসব প্রাপ্ত হয়।

60 -) 'সাহ' (صَهْ) এর অর্থ হলো: তুমি চুপ করো।

61 -) 'মাহ' (مَهْ) এর অর্থ হলো: তুমি বিরত থাকো।

62 -، 63 'লাব্বাইকা' (لَبَّيْكَ) ও 'সা’দাইকা' (سَعْدَيْكَ); 'লাব্বাইক' শব্দটি 'আল্লাবা আল-রাজুলু বিল মাকানি' (মানুষটি কোনো স্থানে অবস্থান করেছে) থেকে উদ্ভূত। যেন সে বলছে: "আমি আপনার আনুগত্য ও আদেশের ওপর অটল আছি।"
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১৭)
وَسَعْديك من أسعدت الرجل على أمره فَكَأَنَّهُ قَالَ أَنا مساعد لَك ومتابع إرادتك

64 -) معَاذ الله مَعْنَاهُ استعاذة بِاللَّه واستجارة بِهِ ثمَّ يَقع موقع الْإِنْكَار وَالِاعْتِرَاف بِهِ

65 -) ويل قَالَ سِيبَوَيْهٍ هِيَ كلمة تقال لكل من وَقع فِي هَلَكَةٍ وَفِي التَّفْسِير الويل وَاد فِي جَهَنَّم

قَالَ الْأَصْمَعِي تَقول الْعَرَب لَهُ الويل والأليل فالأليل هُوَ الأنين

وَقد تُوضَع مَوضِع التحسر والتفجع كَقَوْلِه تَعَالَى {يَا ويلتى أَعَجَزْتُ أَنْ أَكُونَ مِثْلَ هَذَا الْغُرَاب}

66 -، 67) وَكَذَلِكَ وَيْح وويس تَحْقِيق

68 -) وويب ترحم
'সা'দাইকা' শব্দটি কোনো ব্যক্তিকে তার কাজে সহায়তা করা থেকে উদ্ভূত। এর অর্থ যেন তিনি বলছেন, "আমি আপনার সাহায্যকারী এবং আপনার অভিপ্রায়ের অনুসারী।"

৬৪ -) 'মাআযাল্লাহ' এর অর্থ হলো আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা এবং তাঁর নিকট নিরাপত্তা চাওয়া। অতঃপর এটি কোনো বিষয় অস্বীকার কিংবা তা স্বীকার করে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

৬৫ -) 'ওয়াইল'। সিবওয়াইহ বলেছেন, এটি এমন প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয় যে ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। তাফসিরে বর্ণিত হয়েছে যে, 'ওয়াইল' হলো জাহান্নামের একটি উপত্যকা।

আসমায়ি বলেন, আরবরা বলে থাকে—"তার জন্য ওয়াইল (ধ্বংস) এবং আলীল (আর্তনাদ)"; এখানে 'আলীল' অর্থ হলো হাহাকার বা গোঙানি।

এটি কখনও আক্ষেপ এবং শোক প্রকাশের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হায় আক্ষেপ! আমি কি এই কাকটির মতো হতেও অক্ষম হলাম?}

৬৬ -, ৬৭) অনুরূপভাবে 'ওয়াইহা' ও 'ওয়াইসা' শব্দ দুটিও নিশ্চিতকরণ অর্থে ব্যবহৃত হয়।

৬৮ -) এবং 'ওয়াইবা' দ্বারা করুণা বা অনুকম্পা প্রকাশ করা হয়।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১৮)
69 -) ويله وعوله من الْعَوْل وَهُوَ الْبكاء

70 -) سُبْحَانَ الله مَعْنَاهُ بَرَاءَة الله من السوء تَنْزِيها لله مَعْنَاهُ أيعاذا لله من السوء

والنزهة الْبعد وَرجل نزيه أَي بعيد من السوء

71 -) تباُ لَهُ مَعْنَاهُ هَلَاكًا لَهُ والتب قصد الْهَلَاك والخسران قَالَ الله تَعَالَى {تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ} خسرت يَدَاهُ

72 -) صددك قَالَ سِيبَوَيْهٍ مَعْنَاهُ الْقَصْد تَقول زيد صددك كَأَنَّهُ قَالَ هُوَ يقصدك

73 -) قرابتك مَعْنَاهُ قربك

74 -) حيهل مَعْنَاهُ أيت وأسرع

قَالَ ابْن مَسْعُود رضي الله عنه إِذا ذكر الصالحون فحيهل بعمر أَي أَسْرعُوا بِذكرِهِ
69 -) তার পরিতাপ ও রোদন (ويله وعوله) শব্দটি আল-আউল (العول) শব্দ হতে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো রোদন বা বিলাপ (البكاء)।

70 -) সুবহানাল্লাহ (سُبْحَانَ الله) এর অর্থ হলো সকল মন্দ হতে আল্লাহর পবিত্রতা (بَرَاءَة) ঘোষণা করা। আল্লাহর মাহাত্ম্য ঘোষণা (تَنْزِيها) করার অর্থ হলো মন্দ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় বা পবিত্রতা প্রার্থনা (أيعاذا) করা।

আর নুযাহ (النزهة) অর্থ হলো দূরত্ব। ‘নাযীহ’ (نزيه) ব্যক্তি বলতে এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে মন্দ হতে দূরে অবস্থান করে।

71 -) তার জন্য ধ্বংস (تباُ له) এর অর্থ হলো তার বিনাশ হোক। তাব্ব (التب) বলতে ধ্বংস ও ক্ষতি (الخسران) উদ্দেশ্য করা হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আবু লাহাবের হস্তদ্বয় ধ্বংস হোক} অর্থাৎ তার হস্তদ্বয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

72 -) আপনার অভিমুখ (صددك); সিবওয়াইহ বলেন এর অর্থ হলো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য (الْقَصْد)। আপনি যখন বলেন ‘যায়েদ সদাদাকা’ (زيد صددك), তখন এর অর্থ দাঁড়ায় সে আপনার অভিমুখী হচ্ছে (يقصدك)।

73 -) আপনার আত্মীয়তা (قرابتك) অর্থ হলো আপনার নৈকট্য (قربك)।

74 -) এসো ও দ্রুত করো (حيهل) এর অর্থ হলো আসা (أيت) এবং ত্বরান্বিত করা (أسرع)।

ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: যখন পুণ্যবান ব্যক্তিদের স্মরণ করা হয়, তখন উমরের আলোচনার দিকে দ্রুত ধাবিত হও (حيهل بعمر) অর্থাৎ তার আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এগিয়ে যাও।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَحي على الصَّلَاة أَي إيتوا إِلَيْهَا

75 -) هَلُمَّ مَعْنَاهُ أقبل وللعرب فِيهِ لُغَتَانِ مِنْهُم من يَدعه موحدا على كل حَال للْوَاحِد والاثنين والجميع والمؤنث وَمِنْهُم من يجريه مجْرى الْفِعْل ويلحقه الضمائر

76 -) يَا حرف نِدَاء وتنبيه وَكَذَلِكَ أيا وهيا وَأي هَذِه حُرُوف نِدَاء وَقد تجْرِي الْهمزَة مجْراهَا كَقَوْلِك أَزِيد وَأَنت تُرِيدُ يَا زيد

77 -) ألف الِاسْتِفْهَام تدخل فِي الْكَلَام لمعان

تكون استفهاما مَحْضا كَقَوْلِك أَزِيد عنْدك أم عَمْرو

وَتَكون تقريرا وتوبيخا فالتقرير قَوْلك أَلَسْت كَرِيمًا ألم أحسن إِلَيْك كَقَوْلِه تَعَالَى {أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بني آدم}

قَالَ جرير

(ألستم خيْرَ مَنْ ركبَ المطايا … وأندى الْعَالمين بطُون رَاح) // الوافر //

والتوبيخ كَقَوْلِك ألم تذنب فَأغْفِر لَك ألم تسيء فَأحْسن إِلَيْك
নামাজের জন্য এসো (حي على الصلاة) অর্থাৎ তার দিকে আসো।

৭৫ -) ‘হালুম্মা’ (هلم) এর অর্থ হলো এগিয়ে এসো। আরবদের মধ্যে এর ব্যবহারে দুটি উপভাষা রয়েছে; তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে সব অবস্থায় অপরিবর্তিত একবচন (موحدا) হিসেবে ব্যবহার করেন—একবচন, দ্বিবচন, বহুবচন এবং স্ত্রীলিঙ্গ সবার জন্য। আবার কেউ কেউ একে ক্রিয়াপদের (فعل) মতো ব্যবহার করেন এবং এর সাথে সর্বনাম (ضمائر) যুক্ত করেন।

৭৬ -) ‘ইয়া’ (يا) হলো সম্বোধন (نداء) ও সতর্কীকরণের (تنبيه) বর্ণ। তদ্রূপ ‘আয়া’ (أيا), ‘হায়া’ (هيا) এবং ‘আই’ (أي) এগুলোও সম্বোধনের (نداء) বর্ণ। কখনো কখনো হামজা (الهمزة) এগুলোর স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমন আপনার উক্তি— ‘হে যাইদ’ (أزيد), যখন আপনি ‘হে যাইদ’ (يا زيد) বলতে চান।

৭৭ -) প্রশ্নবোধক (استفهام) আলিফ বাক্যে বিভিন্ন অর্থের জন্য ব্যবহৃত হয়।

এটি কখনো বিশুদ্ধ প্রশ্নবোধক (استفهام) হিসেবে আসে, যেমন আপনার উক্তি— ‘যাইদ কি তোমার কাছে আছে নাকি আমর?’

আবার এটি স্বীকৃতিমূলক (تقرير) এবং তিরস্কারমূলক (توبيخ) অর্থেও ব্যবহৃত হয়। স্বীকৃতিমূলক (تقرير) ব্যবহারের উদাহরণ হলো আপনার উক্তি— ‘তুমি কি দয়ালু নও?’, ‘আমি কি তোমার প্রতি অনুগ্রহ করিনি?’, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {হে বনী আদম, আমি কি তোমাদের নির্দেশ দেইনি?}

জরির বলেছেন:

(তোমরা কি আরোহীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নও এবং বিশ্ববাসীর মধ্যে কি তোমরা সবচেয়ে বড় দানশীল নও?) // আল-ওয়াফির ছন্দ //

আর তিরস্কারমূলক (توبيخ) ব্যবহারের উদাহরণ হলো আপনার উক্তি— ‘তুমি কি অপরাধ করোনি যে আমি তোমাকে ক্ষমা করব? তুমি কি মন্দ আচরণ করোনি যে আমি তোমার প্রতি সদাচরণ করব?’
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২০)
78 -) مهما بِمَنْزِلَة مَا فِي الْجَزَاء قَالَ الله عز وجل {مَهْمَا تَأْتِنَا بِهِ مِن آيَة لتسحرنا بهَا} أَي مَا تأتنا

قَالَ الْخَلِيل هِيَ مَا على مَا لَغوا كَمَا دخلت مَا مَعَ مَتى تَقول مَتى تأتني آتِك وَمَتى مَا تأتني آتِك وكما أدخلت مَا مَعَ أَي لَغوا كَقَوْلِه تَعَالَى {أَيّاً مَا تدعوا} فَمَعْنَاه أيا تدعوا قَالَ وَلَكنهُمْ استقبحوا أَن يكرروا لفظا وَاحِدًا فيقولوا ماما فأبدلوا الْهَاء من الْألف الَّتِي فِي الأول

وَقَالَ سِيبَوَيْهٍ قد يجوز أَن يكون مَه فضم إِلَيْهَا مَا

79 -) وَسَط محركة السِّين ظرف تَقول احْتجم وسط رَأسه
78 -) মাহমা (مهما) শব্দটি প্রতিদান বা শর্ত (الجزاء) প্রদানের ক্ষেত্রে 'মা' (ما) এর সমপর্যায়ের। মহান আল্লাহ বলেছেন: {আপনি আমাদের কাছে যাদুর উদ্দেশ্যে যে নিদর্শনই (مهما) নিয়ে আসুন না কেন}, অর্থাৎ 'যা-ই (ما) নিয়ে আসুন'।

খলিল (রহ.) বলেন, এটি মূলত একটি 'মা' (ما) এর ওপর অন্য একটি অতিরিক্ত (لغوا) 'মা' (ما) যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে। যেমনটি 'মাতা' (متى) শব্দের সাথে 'মা' (ما) যুক্ত হয়; আপনি বলেন: 'কখন তুমি আমার কাছে আসবে আমি আসব' এবং 'যখনই (متى ما) তুমি আমার কাছে আসবে আমি আসব'। এবং যেমনটি অতিরিক্ত (لغوا) হিসেবে 'আই' (أي) শব্দের সাথে 'মা' (ما) যুক্ত করা হয়েছে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা যে নামেই (أيّاً مَا) ডাকো না কেন}, যার অর্থ হলো 'যে নামে (أيا) ডাকো'। তিনি বলেন, কিন্তু তারা একই শব্দের পুনরাবৃত্তি করাকে শ্রুতিকটু মনে করেছেন যাতে তারা 'মা-মা' (ماما) না বলেন, তাই তারা প্রথমটির আলিফকে 'হা' (الهاء) বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করেছেন।

আর সিবওয়াইহ (রহ.) বলেন, এটি সম্ভবত 'মাহ' (مه) শব্দ ছিল যার সাথে 'মা' (ما) যুক্ত করা হয়েছে।

79 -) 'সীন' বর্ণে হরকত বিশিষ্ট 'ওয়াসাত' (وَسَط) শব্দটি একটি স্থানবাচক অব্যয় (ظرف); আপনি বলবেন: 'তিনি তাঁর মাথার মধ্যস্থলে (وسط) সিঙা লাগিয়েছেন'।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২১)
وَجلسَ وسط الْقَوْم مَبْنِيَّة على الْفَتْح

وَتقول وسط الدَّار بِئْر بِإِسْكَان السِّين فَالْمَعْنى أَنه حفر فِي وسط الدَّار بِئْرا

80 -، 81) شَبيه وَشبه الشّبَه المشابهة للشَّيْء من أَي وَجه كَانَ

والشبيه الْمَعْرُوف بمشابهته وَشبه لَا يتعرف وَإِن أضفته إِلَى معرفَة

والشبيه مَعْرُوف بِالْإِضَافَة إِلَى معرفَة

82 -) تعال مَعْنَاهُ أقبلْ وَأَصله أَن رجلا كَانَ فِي مَكَان عَال وَآخر فِي مَكَان مُسْتفل فصاح بِهِ تعال أَي اعْل من الْعُلُوّ ثمَّ كثر واتسع حَتَّى صَار بِمَنْزِلَة أقبل قَالَ الله تَعَالَى {فَقل تَعَالَوْا نَدع}

وَيُقَال للاثنين من الرِّجَال تعاليا وللنساء تعالين

83 -) حَنَانَيْك من الحنان وَهُوَ الرَّحْمَة
এবং তিনি লোকেদের মাঝখানে (وسط) বসলেন—এটি ফাত্হা (الفتح) বিশিষ্ট হয়।

আর আপনি বলবেন ‘ঘরের মাঝখানে (وسط) একটি কূপ আছে’—সিনের সাকিন (إسكان) সহকারে। এর অর্থ হলো, তিনি ঘরের মাঝখানে একটি কূপ খনন করেছেন।

৮০ - ৮১) সদৃশ (شبيه) এবং অনুরূপ (شبه)। কোনো কিছুর সাথে যেকোনো দিক থেকে সাদৃশ্য রাখাকেই ‘শাবাহ’ (الشبه) বলা হয়।

আর ‘শাবিহ’ (الشبيه) তার সাদৃশ্যের কারণে পরিচিত। কিন্তু ‘শিবহ’ (شبه) শব্দটি নির্দিষ্ট (معرفة) হয় না, যদিও আপনি একে কোনো নির্দিষ্ট (معرفة) শব্দের সাথে সম্বন্ধ (إضافة) করেন।

পক্ষান্তরে ‘শাবিহ’ (الشبيه) নির্দিষ্ট (معرفة) শব্দের সাথে সম্বন্ধ (إضافة) হওয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট (معرفة) হিসেবে পরিচিতি পায়।

৮২ -) ‘তাআলা’ (تعال) এর অর্থ হলো ‘এগিয়ে এসো’। এর মূল উৎস হলো যে, একজন ব্যক্তি উচ্চ স্থানে ছিল এবং অন্যজন নিচু স্থানে, তখন সে তাকে উচ্চৈঃস্বরে ডাকল ‘তাআলা’ (تعال) অর্থাৎ উচ্চতা (العلو) থেকে উপরে উঠে এসো। পরবর্তীতে এর প্রয়োগ বিস্তৃত হয় এবং এটি ‘এগিয়ে এসো’ অর্থে রূপান্তরিত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তোমরা এসো, আমরা আহ্বান করি...}।

দুইজন পুরুষের ক্ষেত্রে বলা হয় ‘তাআলায়া’ (تعاليا) এবং নারীদের ক্ষেত্রে ‘তাআলাইনা’ (تعالين)।

৮৩ -) ‘হানানাইকা’ (حنانيك) শব্দটি ‘হানান’ (الحنان) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো দয়া বা করুণা (الرحمة)।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২২)
84 -) التَّحِيَّات لله التَّحِيَّة الْملك تَأْوِيله الممالك لله كلهَا

85 -) غفرانك لَا كُفْرَانك تَأْوِيله اغْفِر لنا ذنوبنا من الغفر وَهُوَ السّتْر والكفران من الْكفْر وَهُوَ السّتْر أَيْضا لِأَن الْكَافِر سَاتِر لنعم الله عَلَيْهِ وَمَا يعرف من توحيده

وَيجوز أَن يكون مَعْنَاهُ نسئلك غفرانك ونأبى كُفْرَانك

86 -) دون تكون اسْما وظرفا

فَأَما كَونهَا اسْما فَإِذا أردْت جِهَة الدناءة والضعة كَقَوْلِك إِنَّه لَدُون من الرِّجَال

قَالَ الشَّاعِر

(وَإِذا مَا نسبتها لم تجدها … فِي نضاء من المكارم دون) // الْخَفِيف //
৮৪ -) অভিবাদন (التحيات) আল্লাহর জন্য; 'আত-তাহিইয়াহ' শব্দের অর্থ হলো রাজত্ব (الملك), এর ব্যাখ্যা হলো—সকল রাজত্ব ও মালিকানা একমাত্র আল্লাহর।

৮৫ -) 'আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আপনার প্রতি অকৃতজ্ঞতা নয়'; এর ব্যাখ্যা হলো—আমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করুন। এটি 'আল-গাফর' (الغفر) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো আড়াল করা বা ঢেকে রাখা (الستر)। আর 'আল-কুফরান' (الكفران) শব্দটি 'আল-কুফর' (الكفر) থেকে এসেছে, এর অর্থও হলো আড়াল করা বা ঢেকে রাখা (الستر); কেননা একজন কাফির (كافر) তার প্রতি আল্লাহর নেয়ামতসমূহ এবং তাওহীদ (توحيد) সম্পর্কে তার অর্জিত জ্ঞানকে আড়াল করে রাখে।

আর এর অর্থ এটাও হতে পারে যে—আমরা আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার প্রতি অকৃতজ্ঞ হওয়াকে প্রত্যাখ্যান করছি।

৮৬ -) 'দুন' (دون) শব্দটি বিশেষ্য (اسم) এবং অব্যয় বা স্থান-কালবাচক শব্দ (ظرف) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বিশেষ্য হিসেবে এর ব্যবহার হলো—যখন আপনি নীচতা বা হীনতার দিকটি বুঝাতে চান; যেমন আপনার উক্তি: 'নিশ্চয়ই সে পুরুষদের মধ্যে একজন হীন ব্যক্তি'।

কবি বলেছেন:

(যখন তুমি তাকে বংশমর্যাদায় বিচার করবে, তখন মহত্ত্বের সামান্যতম অংশেও তাকে তুমি হীন (دون) হিসেবে পাবে না)। // আল-খাফিফ (الخفيف) ছন্দ //
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَكَونهَا ظرفا كَقَوْلِك جَلَست دُونك فَهِيَ تَقْتَضِي التَّقْصِير عَن الْغَايَة إِمَّا فِي الْمنزلَة أَو فِي الْقرب والبعد

87 -، 88) أَعلَى وأسفل إِذا كَانَا فِي الْحسب فهما اسمان بِمَنْزِلَة زيد وَعَمْرو وَإِذا كَانَا فِي الْمنزلَة أَعلَى من منزلتك أَو أَسْفَل كَانَا ظرفين فَتَقول فِي الِاسْم أَنا فِي أسفلكم وَأَنا فِي أعلاكم وَرَأَيْت أسفلكم وَرَأَيْت أعلاكم وَزيد أَسْفَل مِنْكُم كَمَا تَقول زيد أَخُوك

والظرف قَوْلك عبد الله أَسْفَل من الْقَوْم

89 -) على لَهَا ثَلَاثَة مَوَاضِع تكون اسْما وفعلا وحرفا

فالفعل قَوْلك علا فلَان يَا زيد

والحرف قَوْلك على زيد مَال

وَالِاسْم قَوْلك جِئْت من عَلَيْهِ بِمَعْنى من فَوْقه

وتجيء فِي مَكَان من قَالَ الله تَعَالَى {إِذَا اكْتَالُواْ عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ} أَي من النَّاس

وَتَقَع بِمَعْنى عِنْد كَقَوْلِه تَعَالَى {وَلَهُمْ عَلَيَّ ذَنبٌ} أَي عِنْدِي

سوى لَهَا أَرْبَعَة مَوَاضِع تكون اسْما وظرفا وتحقيقا ومصدرا
এবং এর স্থানবাচক শব্দ (ظرف) হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া, যেমন আপনার উক্তি: "আমি আপনার নিচে বসলাম"; এটি লক্ষ্যবস্তু থেকে কম হওয়া বা পিছিয়ে থাকাকে নির্দেশ করে, চাই তা পদমর্যাদার ক্ষেত্রে হোক কিংবা দূরত্ব ও নৈকট্যের ক্ষেত্রে।

৮৭ - , ৮৮) 'আলা' এবং 'আসফাল' শব্দদ্বয় যখন বংশমর্যাদা বা আভিজাত্যের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তখন তারা জায়েদ ও আমরের ন্যায় বিশেষ্য (اسم) হিসেবে গণ্য হয়। আর যখন তারা মর্যাদার ক্ষেত্রে আপনার মর্তবার চেয়ে উচ্চতর বা নিম্নতর হওয়া বোঝায়, তখন তারা স্থানবাচক শব্দ (ظرف) হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং বিশেষ্য (اسم) হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনি বলবেন: "আমি তোমাদের মধ্যে নিম্নতম" এবং "আমি তোমাদের মধ্যে উচ্চতম", এবং "আমি তোমাদের নিম্নতম ব্যক্তিকে দেখেছি" ও "আমি তোমাদের উচ্চতম ব্যক্তিকে দেখেছি"; আর "জায়েদ তোমাদের চেয়ে নিচে" - ঠিক যেমন আপনি বলেন "জায়েদ তোমাদের ভাই"।

আর স্থানবাচক শব্দ (ظرف) হিসেবে ব্যবহারের উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: "আবদুল্লাহ কওমের নিচে অবস্থিত"।

৮৯ -) 'আলা' শব্দের তিনটি প্রয়োগক্ষেত্র রয়েছে; এটি বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ক্রিয়া (فعل) হিসেবে এর উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: "হে জায়েদ, অমুক ব্যক্তি উচ্চাসীন হয়েছে"।

অব্যয় (حرف) হিসেবে এর উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: "জায়েদের ওপর ঋণ রয়েছে"।

বিশেষ্য (اسم) হিসেবে এর উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: "আমি তার উপর থেকে এসেছি", যার অর্থ হলো তার উপর থেকে।

এটি 'মিন' অব্যয়ের স্থলাভিষিক্ত হয়েও ব্যবহৃত হয়; যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যখন তারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেয়, তখন তারা পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে} অর্থাৎ মানুষের কাছ থেকে।

এটি 'নিকট' অর্থেও ব্যবহৃত হয়; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাদের নিকট আমার একটি অপরাধের দায় রয়েছে} অর্থাৎ আমার নিকট।

'সুওয়া' শব্দের চারটি প্রয়োগস্থল রয়েছে; এটি বিশেষ্য (اسم), স্থানবাচক শব্দ (ظرف), নিশ্চয়তা জ্ঞাপক (تحقيق) এবং ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২৪)
فَإِذا كَانَت مصدرا كَانَت ممدودة

وَإِذا كَانَت اسْما مدت وَقصرت

وَإِذا كَانَت ظرفا كَانَت بِمَنْزِلَة وسط

وَإِذا كَانَت اسْما كَانَت بِمَعْنى غير قَالَ الْأَعْشَى

(تَجانَفُ عَن جُلِّ اليَمامَةِ ناقَتي … وَما قَصَدَت مِن أَهلهَا لسوائكا) // الطَّوِيل //

وَإِذا كَانَت تَحْقِيقا نصبت أبدا تَقول مَرَرْت بِرَجُل سواءَ مثلك كَمَا تَقول بِرَجُل مثلك
যখন এটি ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি মামদুদ (ممدودة) হয়।

যখন এটি বিশেষ্য (اسم) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি দীর্ঘ (مدت) এবং হ্রস্ব (قصرت) উভয়ই হতে পারে।

যখন এটি অব্যয় (ظرف) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি মধ্যবর্তী বা ওয়াসাত (وسط) এর স্থলাভিষিক্ত হয়।

আর যখন এটি বিশেষ্য (اسم) হিসেবে থাকে, তখন এটি 'ব্যতীত' (غير) অর্থে ব্যবহৃত হয়। আল-আ'শা বলেন:

(ইয়ামামার প্রধান জনপদ থেকে আমার উষ্ট্রীটি বিচ্যুত হয়েছে... আর তার অধিবাসীদের মাঝে সে আপনি ব্যতীত অন্য কাউকে লক্ষ্য করেনি) // আত-তাবিল (الطويل) ছন্দ //

আর যখন এটি নিশ্চিতকরণ (تحقيق) হিসেবে আসে, তখন এটি সর্বদা নসবযুক্ত (نصبت) হয়। আপনি বলবেন: 'আমি আপনার ন্যায় (সাওয়াইয়া) এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি', যেমনটি আপনি বলে থাকেন 'আপনার ন্যায় এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে'।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَإِن وَقعت مصدرا أخرت كَقَوْلِك مَرَرْت بِرَجُل سَوَاء عَلَيْهِ الْخَيْر وَالشَّر وَتقول رَأَيْت رجلا سَوَاء والمسكين وَالْفَقِير تُرِيدُ اسْتَوَى هُوَ والمسكين وَالْفَقِير

وَتَكون خالفة لحرف الِاسْتِفْهَام بِمَعْنى التَّسْوِيَة كَقَوْلِك سَوَاء عَليّ أَقمت أم قعدت

قَالَ الله تَعَالَى {سَوَاء عَلَيْهِمْ أَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تنذرهم} قَالَ الشَّاعِر

(سواءٌ علينا يَا جميلَ بنَ معمرٍ … إِذا غبت بأساءُ الْحَيَاة ولينها) // الطَّوِيل //

90 -) لَدَى لَا تجَاوز الظّرْف وَهِي مَعَ الظَّاهِر آخرهَا ألف وَمَعَ الْمُضمر تنْقَلب يَاء تَقول لَدَى زيد ولديك وَهِي تدل دلَالَة عِنْد

قَالَ الله تَعَالَى {وَأَلْفَيَا سَيِّدَهَا لَدَى الْبَابِ}
এবং এটি যখন মাসদার (مصدر) হিসেবে ব্যবহৃত হয় তখন তা পরে আসে, যেমন আপনার উক্তি: "আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম যার নিকট কল্যাণ ও অকল্যাণ সমান (سواء)"। এবং আপনি বলেন: "আমি একজন ব্যক্তি দেখলাম যে এবং মিসকিন ও ফকির সমান (سواء)", আপনি বুঝাতে চাচ্ছেন যে সে এবং মিসকিন ও ফকির সমান হয়েছে।

এবং এটি সমতা (تسوية) বুঝাতে প্রশ্নবোধক অক্ষরের স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমন আপনার উক্তি: "আমার নিকট সমান (سواء) যে আপনি দাঁড়ালেন নাকি বসলেন।"

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তাদের নিকট সমান (سواء) আপনি তাদের সতর্ক করুন বা না করুন} কবি বলেছেন:

(হে জামিল ইবনে মা’মার, আমাদের নিকট সমান (سواء)... যখন আপনি অনুপস্থিত থাকেন জীবনের কঠোরতা ও এর কোমলতা) // আত-তাবীল //

৯০ -) 'লাদা' (لدى) শব্দটি স্থানাঙ্ক বা সময়ের (ظرف) সীমা অতিক্রম করে না। এটি যখন স্পষ্ট বিশেষ্যের (ظاهر) সাথে ব্যবহৃত হয় তখন এর শেষে আলিফ থাকে, আর যখন এটি সর্বনামের (مضمر) সাথে যুক্ত হয় তখন তা ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়। আপনি বলবেন 'লাদা যায়েদ' এবং 'লাদাইকা'। এটি 'নিকট' (عند) এর অর্থ প্রদান করে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {এবং তারা দরজার নিকটে (لدى) তার স্বামীকে দেখতে পেল}
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২৬)
91 -) لدن بِمَنْزِلَة عِنْد وَإِذا استقبلتها الْألف وَاللَّام أسقطت نونها وَرجعت إِلَى لَدَى كَقَوْلِك لدن زيد ولد الرجل

وَمن الْعَرَب من ينصب بهَا

وَتَكون بِمَعْنى مُنْذُ كَقَوْلِك مَا لَقيته من لدن يَوْمَيْنِ تُرِيدُ مُنْذُ يَوْمَيْنِ وَمَا رَأَيْته من لدن غدْوَة قَالَ الشَّاعِر

(وَمَا زَالَ مُهري مَزْجَرَ الكلبِ مِنهمُ … لدنْ غدْوَة حتّى دنَتْ لغروب) // الطَّوِيل //

92 -، 93) تَحت وَفَوق يكونَانِ اسْمَيْنِ وظرفين
91 -) ‘লাদুন’ (لدن) শব্দটি ‘ইনদা’ (عند) এর সমপর্যায়ের। যখন এর পরে আলিফ ও লাম (ال) যুক্ত হয়, তখন এর ‘নুন’ বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং এটি ‘লাদা’ (لدى) রূপে ফিরে যায়; যেমন আপনার উক্তি: ‘লাদুন যাইদ’ এবং ‘লাদাল রাজুল’।

আর আরবদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা এর দ্বারা নসব (نصب) প্রদান করেন।

এটি ‘মুনযু’ (منذ) এর অর্থেও ব্যবহৃত হয়; যেমন আপনার উক্তি: ‘দুই দিন যাবৎ আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করিনি’, এর দ্বারা আপনি ‘দুই দিন হতে’ বুঝিয়েছেন। এবং ‘ভোর হতে আমি তাকে দেখিনি’। জনৈক কবি বলেছেন:

(আমার অশ্বশাবকটি তাদের নিকট থেকে কুকুর তাড়ানোর ন্যায় অবিরাম বিতাড়ন করছিল... সকাল থেকে সূর্যাস্ত ঘনিয়ে আসা পর্যন্ত) // আত-তাবীল //

92 - , 93) ‘তাহত’ (تحت) এবং ‘ফাওক’ (فوق) উভয়ই বিশেষ্য (اسم) এবং ক্রিয়াবিশেষণ (ظرف) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২৭)
فالاسم تَحْتك رجلاك ترفع لِأَن الرجل هِيَ التحت نَفسه وفوقك رَأسك لِأَن الفوق هُوَ الرَّأْس

والظرف قَوْلك تَحْتك بِسَاط وفوقك بِنَاء حسن

94 -، 95) خلف وأمام كَذَلِك أَيْضا تَقول خَلفك ظهرك وأمامك صدرك كَمَا تقدم

والظرف قَوْلك خَلفك زيد وأمامك عبد الله

96 -) بَين لَهَا أَرْبَعَة مَوَاضِع

تكون اسْما معربا بِمَا يُصِيبهُ من الْإِعْرَاب

وَتَكون بِمَعْنى الْوَصْل وَهِي اسْم أَيْضا

وَتَكون بِمَنْزِلَة مَعَ وَعند فَتكون ظرفا

وَيكون بِمَنْزِلَة الفوق فَتكون اسْما ومصدرا

فَأَما إِذا كَانَت اسْما معربا كَقَوْلِك مَرَرْت بِرَجُل احمر بينُ عَيْنَيْهِ رفعت الْبَين لِأَنَّهُ الْجلْدَة الَّتِي بَين عَيْنَيْهِ وَهُوَ مَوضِع كَمَا تَقول مَرَرْت بِرَجُل غلامُ أَبِيه ظريفٌ
বিশেষ্য (اسم) হিসেবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে উদাহরণ হলো: 'তোমার নিচে তোমার দু'টি পা', এখানে পা শব্দটি পেশযুক্ত (رفع) হবে; কারণ পা হলো নিচের অংশ। আর 'তোমার উপরে তোমার মাথা', কারণ মাথা হলো উপরের অংশ।

আর ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف) হিসেবে প্রয়োগের উদাহরণ হলো তোমার উক্তি: 'তোমার নিচে একটি গালিচা এবং তোমার উপরে একটি সুন্দর ছাদ রয়েছে'।

94 -، 95) 'পিছনে' (خلف) এবং 'সামনে' (أمام) শব্দ দুটির ক্ষেত্রেও অনুরূপ। তুমি বলবে: 'তোমার পিছনে তোমার পিঠ এবং তোমার সামনে তোমার বুক', যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

আর ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف) হিসেবে প্রয়োগ হলো তোমার কথা: 'তোমার পিছনে জায়েদ এবং তোমার সামনে আব্দুল্লাহ রয়েছে'।

96 -) 'মাঝে' (بين) শব্দটির ব্যবহারের চারটি ক্ষেত্র রয়েছে।

এটি পরিবর্তনশীল বিশেষ্য (اسم معرب) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা আমিল অনুযায়ী বিভিন্ন বিভক্তি (إعراب) গ্রহণ করে।

এটি সংযোগ (وصل) অর্থেও ব্যবহৃত হয় এবং সেক্ষেত্রেও এটি একটি বিশেষ্য (اسم)।

এটি 'সাথে' (مع) এবং 'নিকটে' (عند) এর স্থলাভিষিক্ত হয়, তখন এটি ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف) হিসেবে গণ্য হয়।

এটি 'উপরে' (فوق) এর স্থলাভিষিক্ত হয়, তখন এটি বিশেষ্য (اسم) এবং ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

যখন এটি পরিবর্তনশীল বিশেষ্য (اسم معرب) হয়, তখন উদাহরণ হলো তোমার কথা: 'আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যার দুই চোখের মধ্যবর্তী স্থানটি লাল'। এখানে 'বাইন' শব্দটি পেশযুক্ত (رفع) হয়েছে কারণ এটি দ্বারা দুই চোখের মধ্যবর্তী চামড়াকে বোঝানো হয়েছে এবং এটি একটি স্থান নির্দেশ করছে; যেমন তুমি বলে থাকো: 'আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যার পিতার গোলামটি মার্জিত'।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَإِذا كَانَت وصلا كَقَوْلِك بينَهم حسن تُرِيدُ وصلهم حسن كَمَا قَالَ عز وجل {لَقَد تَّقَطَّعَ بَيْنَكُمْ} مَعْنَاهُ لقد تقطع وصلكم قَالَ مهلهل

(كأنّ رماحهم أشطان بئرٍ … بعيدٌ بَين جاليها جرور) // الوافر //

وَقَالَ الْأَعْشَى

(وَإِن يَك قومِي قومه يَك بَيْننَا … قتالا وتكسار القنا ومداعصا) // الطَّوِيل // 97) كَأَن لَهَا ثَلَاثَة أوجه تكون تَشْبِيها وشكا وَتَكون مُخَفّفَة
আর যখন এটি মিলন (وصل) অর্থে হয়, যেমন তোমার উক্তি: ‘তাদের মধ্যকার সম্পর্ক সুন্দর’, এখানে তোমার উদ্দেশ্য হলো তাদের মিলন (وصل) সুন্দর হওয়া; যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে}, এর অর্থ হলো তোমাদের মিলন (وصل) ছিন্ন হয়ে গেছে। মুহালহিল বলেছেন:

(মনে হয় তাদের বর্শাগুলো যেন কূপের দীর্ঘ রশি … যার দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী দূরত্ব অনেক বেশি) // আল-ওয়াফির //

এবং আল-আশা বলেছেন:

(যদি আমার গোত্র ও তার গোত্র এক হতো, তবে আমাদের মাঝে … যুদ্ধ, বর্শা চূর্ণ করা এবং প্রচণ্ড লড়াই চলত) // আত-তওয়ীল // ৯৭) ‘কাআন্না’ (كَأَن) শব্দটির ব্যবহারের তিনটি ধরন রয়েছে; এটি উপমা (تشبيه), সন্দেহ (شك) হিসেবে এবং লঘুকরণ (مخففة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) হুরুফুল মাআনি ওয়াস সিফাত (পৃষ্ঠা: ২৯)
فَإِذا وَقعت على الْأَسْمَاء كَانَت تَشْبِيها كَقَوْلِك كَأَن زيدا أَخُوك

وَإِذا كَانَ خَبَرهَا مشتقا من الْفِعْل كَانَت شكا كَقَوْلِك كَأَن زيدا منطلق وَكَأَنِّي أَنطلق فَهَذَا شكّ وَذَلِكَ لِأَنَّهُ لَا يشبه بِالْفِعْلِ فَهَذِهِ لَا يتَقَدَّم خَبَرهَا لِأَن الْفِعْل لَا يَلِي كَأَن

والمخففة يجوز رفع اسْمهَا ونصبه قَالَ الشَّاعِر

(جموم الشد شَائِلَة الذنابي … وهاديها كَأَن جذع سحوق) // الوافر //

وَقَالَ آخر

(فيوما توافينا بِوَجْه مقسم … كأنْ ظَبْيَة تعطو إِلَى وارف السّلم) // الطَّوِيل //
যখন এটি বিশেষ্য পদের ওপর আপতিত হয়, তখন এটি তুলনা বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়; যেমন আপনার উক্তি: ‘যায়িদ যেন তোমার ভাই’

আর যখন এর বিধেয় ক্রিয়া থেকে নিষ্পন্ন হয়, তখন এটি সংশয় প্রকাশ করে; যেমন আপনার উক্তি: ‘যায়িদ যেন প্রস্থানকারী’ এবং ‘আমি যেন প্রস্থান করছি’। এটি মূলত সংশয়, কারণ ক্রিয়ার মাধ্যমে সাদৃশ্য প্রদান করা হয় না। এমতাবস্থায় এর বিধেয় অগ্রবর্তী হতে পারে না, কারণ ক্রিয়া সরাসরি ‘কা-আন্না’ শব্দের অনুগামী হয় না

আর যখন একে লঘু করা হয়, তখন এর বিশেষ্যকে রফ এবং নসব উভয়টি প্রদান করা বৈধ। কবি বলেছেন

(তীব্র গতিসম্পন্ন, লেজ উত্তোলনকারী … এবং তার অগ্রভাগ যেন এক দীর্ঘ ও পত্রহীন খেজুর কাণ্ড) // আল-ওয়াফির ছন্দ //

অন্য একজন কবি বলেছেন

(কোনো একদিন তুমি আমাদের সামনে এক সুশ্রী অবয়বে উপস্থিত হবে … যেন একটি হরিণী পল্লবিত সালাম বৃক্ষের দিকে ঘাড় বাড়িয়ে দিচ্ছে) // আত-তাবিল ছন্দ //