(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
المسائل السفرية القسم: النحو والصرف
الكتاب: المسائل السفرية في النحو
المؤلف: عبد الله بن يوسف بن أحمد بن عبد الله ابن يوسف، أبو محمد، جمال الدين، ابن هشام (ت 761 هـ)
المحقق: د. حاتم صالح الضامن [ت 1434 هـ]
الناشر: مؤسسة الرسالة - بيروت
الطبعة: الأولى، 1403 هـ - 1983 م
عدد الصفحات: 40
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মাসায়েল আস-সাফারিয়্যাহ বিভাগ: নাহব ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
গ্রন্থ: আল-মাসায়েল আস-সাফারিয়্যাহ ফিন নাহব
লেখক: আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, আবু মুহাম্মদ, জামালুদ্দিন, ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি)
সম্পাদক: ড. হাতিম সালিহ আদ-দাম্বিন [মৃত্যু ১৪৩৪ হিজরি]
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩ হিজরি - ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَصلى الله على سيدنَا وَنَبِينَا ومولانا مُحَمَّد وعَلى آله وَصَحبه وسلّم تَسْلِيمًا.
قَالَ الشَّيْخ جمال الدّين بن هِشَام رحمه الله:
سَأَلَني بعض الإخوان وَأَنا على جنَاح السّفر (1) عَن تَوْجِيه النصب فِي نَحْو قَول الْقَائِل: (فلانٌ لَا يملكُ درهما فضلا عَن دِينَار) ، وَقَوله: (الإعرابُ لُغَة: البيانُ، وَاصْطِلَاحا (2) : تغيُّرُ الآخرِ لعاملٍ، والدليلُ لُغَة: المرشد (3) ، والإجماعُ لُغَة: العزمُ، والسنّةُ لُغَة: الطريقةُ) ، وَقَوله: (يجوزُ كَذَا خِلافاً لفُلانٍ) ، وَقَوله: (وَقَالَ أَيْضا) ، وَقَوله: (هَلُمَّ جَرّا) . وكلُّ هَذِه التراكيب مُشْكِلَةٌ، ولَسْتُ (4) على ثِقَة من أنَّها عَرَبِيَّة وإنْ كَانَت مَشْهُورَة فِي عرْفِ النَّاس، وَبَعضهَا لم أقِفْ لأحد على تَفْسِير لَهُ، ووقفتُ لبعضها على تَفْسِير لَا يشفي عليلاً وَلَا يبردُ غليلاً. وَهَا أَنا موردٌ فِي هَذِه الأوراقِ مَا تيسَّرَ لي، مُعْتذِراً بضيقِ الوقتِ، وسقم الخاطر، وَمَا توفيقي إلاّ بِاللَّه عَلَيْهِ توكلت وَإِلَيْهِ أنيب. القَوْل فِي: فلانٌ لَا يملكُ درهما فَضْلاً عَن دِينَار. أمّا قَوْله: (فلانٌ لَا يملكُ درهما فضْلاً عَن دينارٍ) فَمَعْنَاه أنَّه لَا يملكُ درهما وَلَا دِينَارا، وأنَّ عَدَمَ مُلْكِهِ الدينارَ أولى من عَدَمِ مُلْكِهِ الدرهَم، وكأنَّه قَالَ: لَا يملك درهما فَكيف يملك دِينَارا، وَهَذَا التركيبُ زَعَمَ بَعضهم أنّه مسموع، وَأنْشد عَلَيْهِ: قلَّما يبْقى على هَذَا القَلَقْ صخرةٌ صمّاءُ فَضْلاً عَن رَمَقْ (5)
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এবং আমাদের নেতা, আমাদের নবী ও আমাদের অভিভাবক মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীদের প্রতি অজস্র সালাম ও দরুদ বর্ষিত হোক।
শাইখ জামালুদ্দিন ইবনে হিশাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন:
সফরকালীন মুহূর্তে (১) জনৈক ভাই আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কোনো ব্যক্তির এই উক্তির ন্যায় বক্তব্যগুলোতে 'নাসব' (জবর) হওয়ার কারণ সম্পর্কে: (অমুক ব্যক্তি একটি দিরহামের মালিক নয়, দ্বীনারের তো প্রশ্নই আসে না), এবং তার উক্তি: (শাব্দিক অর্থে 'ইরাব' হলো স্পষ্ট করা, আর পরিভাষায়: আমিল বা প্রভাবকের কারণে শব্দের শেষের পরিবর্তন; আর শাব্দিক অর্থে 'দালিল' হলো পথপ্রদর্শক; শাব্দিক অর্থে 'ইজমা' হলো দৃঢ় সংকল্প এবং শাব্দিক অর্থে 'সুন্নাহ' হলো পদ্ধতি), এবং তার উক্তি: (অমুকের মতের বিপরীতে এমনটি করা বৈধ), এবং তার উক্তি: (তিনি আরও বলেছেন), এবং তার উক্তি: (এভাবে চলতেই থাকল)। এই সব বাক্যগঠনই জটিল এবং আমি এ ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য (ثقة) (৪) কোনো অবস্থানে নেই যে এগুলো বিশুদ্ধ আরবি কি না, যদিও মানুষের প্রচলিত বুলিতে এগুলো প্রসিদ্ধ। এগুলোর কোনোটিরই আমি কারও করা কোনো ব্যাখ্যা পাইনি, আর কোনোটির এমন ব্যাখ্যা পেয়েছি যা কোনো রুগ্ন ব্যক্তিকে আরোগ্য দান করে না এবং কোনো তৃষ্ণার্তের পিপাসাও নিবারণ করে না। আর আমি এই পাতাগুলোতে যা আমার জন্য সহজ হয়েছে তা উপস্থাপন করছি, সময়ের সংকীর্ণতা ও চিন্তার অসুস্থতার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমার তৌফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই। 'অমুক ব্যক্তি একটি দিরহামের মালিক নয়, দ্বীনারের তো প্রশ্নই আসে না' প্রসঙ্গে আলোচনা। তার উক্তি: (অমুক ব্যক্তি একটি দিরহামের মালিক নয়, দ্বীনারের তো প্রশ্নই আসে না) এর অর্থ হলো সে দিরহামেরও মালিক নয়, দ্বীনারেরও নয়। আর তার দ্বীনারের মালিক না হওয়াটা দিরহামের মালিক না হওয়ার চেয়েও অধিক নিশ্চিত। যেন সে বলল: সে যখন দিরহামেরই মালিক নয়, তবে দ্বীনারের মালিক কীভাবে হবে? এই বাক্যগঠন সম্পর্কে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে এটি শ্রুত, এবং এর স্বপক্ষে এই পঙক্তিটি আবৃত্তি করেছেন: 'এই অস্থিরতায় খুব কমই কোনো নিরেট পাথর অবিচল থাকতে পারে, জীবনের অবশিষ্টাংশের তো প্রশ্নই আসে না।'
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
الرمق: بَقِيَّة الْحَيَاة. وَلَا تسْتَعْمل (فضلا) هَذِه إلاّ فِي النَّفْي، وَهُوَ مستفادٌ فِي (6) الْبَيْت من (قلَّما) . قَالَ بَعضهم: حَدَثَ لقَلّ حِين كُفَّتْ ب (مَا) إِفَادَة النَّفْي، كَمَا حَدَثَ ل (إنّ) الْمَكْسُورَة الْمُشَدّدَة حِين كُفَّتْ إِفَادَة الِاخْتِصَاص (7) . قلتُ: وَهَذَا خطأ فإنّ (قَلّ) (8) تسْتَعْمل للنَّفْي (9) قبل الكفّ، يُقال: قلّ أحَدٌ يعرفُ هَذَا إلاّ زيدٌ، وَلِهَذَا اسْتعْمل أحد (1) ، وَصَحَّ إِبْدَال الْمُسْتَثْنى وَهُوَ بدل إمّا من (أحد) أَو من ضَمِيره. و (على) فِي الْبَيْت للمعية، مثلهَا (2) فِي قَوْله تَعَالَى: (وإنّ ربَّكَ لذُو مغفرةٍ للناسِ على ظُلْمِهِم) (3) ، وَقَوله: (الحمدُ للهِ الَّذِي وَهَبَ لي على الْكبر إِسْمَاعِيل وَإِسْحَاق) (4) . وانتصاب (فضلا) على وَجْهَيْن محكيين عَن الْفَارِسِي (5) . أَحدهمَا
--------------------------------------------
আল-রামাক: প্রাণের অবশিষ্টাংশ। আর এই ‘ফাজলান’ শব্দটি কেবল না-বোধক অর্থেই ব্যবহৃত হয়, যা কবিতার চরণে (৬) ‘কাল্লামা’ থেকে প্রাপ্ত। কেউ কেউ বলেছেন: ‘কাল্লা’ যখন ‘মা’ যোগে আমল থেকে বিরত হয়, তখন তা না-বোধক অর্থ প্রদানের যোগ্যতা লাভ করে; যেমনটি কাসরাযুক্ত ও তাশদীদবিশিষ্ট ‘ইন্না’-র ক্ষেত্রে ঘটে যখন তা বিশেষায়িত হওয়ার অর্থ প্রদানে বাধাগ্রস্ত হয় (৭)। আমি বলি: এটি ভুল; কারণ ‘কাল্লা’ (৮) আমল থেকে বিরত হওয়ার পূর্বেই না-বোধক (৯) অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়: ‘জায়েদ ব্যতীত এটি কেউ জানে না বললেই চলে’, এই কারণেই ‘আহাদ’ (১) শব্দটির ব্যবহার হয়েছে এবং মুস্তাসনা বা ব্যতিক্রমী শব্দটির বদল হওয়া শুদ্ধ হয়েছে; আর এটি হয় ‘আহাদ’ থেকে অথবা তার প্রচ্ছন্ন সর্বনাম থেকে বদল হয়েছে। আর কবিতার চরণে ‘আলা’ শব্দটি সাহচর্য বা ‘মায়িয়্যাহ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি (২) আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: (আর নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক মানুষের প্রতি তাদের জুলুম সত্ত্বেও ক্ষমাশীল) (৩), এবং তাঁর বাণীতে: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে বার্ধক্য সত্ত্বেও ইসমাইল ও ইসহাককে দান করেছেন) (৪)। ‘ফাজলান’ শব্দটির মানসুব হওয়া আল-ফারিসি (৫) থেকে বর্ণিত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। তার একটি হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الْمَحْذُوف صفة ل (درهما) ، كَذَا حُكِيَ عَن الْفَارِسِي. وَلَا يتعيَّنُ كَون الْفِعْل صفة بل يجوز أنْ يكون حَالا كَمَا جَازَ فِي (فَضْلاً) (1) أنْ يكون حَالا على مَا سَيَأْتِي تَقْرِيره. نَعَمْ وَجه الصّفة أقوى لأنّ نعت النكرَة كيفَ كَانَ (2) أقْيَسُ من مَجِيء الْحَال مِنْهَا، وإنْ قدَّرته حَالا فصاحبها يحْتَمل وَجْهَيْن: أَحدهمَا: أنْ يكون ضمير الْمصدر محذوفاً، أَي: لَا يملكهُ، أَي: لَا يملك الْملك، على حدِّ قَوْله: هَذَا سُراقةُ للقرآنِ يدرُسُهُ (3) . أَي: يدرس (4) الدَّرْس، إذْ لَيْسَ الضَّمِير لِلْقُرْآنِ، لأنّ اللَّام مُتَعَلقَة بيدرس وَلَا يتَعَدَّى الْفِعْل إِلَى ضمير فعل وَإِلَى ظَاهره جَمِيعًا، وَلِهَذَا وَجب فِي: (زيدا ضَربته) تَقْدِير عَامل على الْأَصَح، وعَلى هَذَا خرَّج سِيبَوَيْهٍ (5) والمحققون نَحْو قَوْله: (سَارُوا سَرِيعا) أَي: ساروه، أَي: سَارُوا السّير سَرِيعا، وَلَيْسَ (سَرِيعا) عِنْدهم نعتاً لمصدر مَحْذُوف لالتزام الْعَرَب تنكيره، ولأنّ الْمَوْصُوف لَا يُحذف إلاّ إِن كَانَت الصّفة مُخْتَصَّة بِجِنْسِهِ، كَمَا فِي: (رأيتُ كَاتبا أَو حاسباً أَو مهندساً) فإنَّها مُخْتَصَّة بِجِنْس الْإِنْسَان، وَلَا يجوز: (رَأَيْت طَويلا) و (رَأَيْت (6) أحمرَ) ، وَفِي هَذَا الْموضع بحث لَيْسَ هَذَا مَوْضِعه (7) . وَالثَّانِي أنْ يكون (8) قَوْله (درهما) حَالا.
--------------------------------------------
বিলুপ্ত (অংশটি) হলো 'দিরহাম'-এর জন্য বিশেষণ (صفة), আল-ফারিসি থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। ক্রিয়াটি বিশেষণ (صفة) হওয়া নির্ধারিত নয়, বরং এটি অবস্থা (حال) হওয়াও জায়েজ, যেমনটি ‘ফাদলান’ (১)-এর ক্ষেত্রে অবস্থা (حال) হওয়া জায়েজ ছিল, যার ব্যাখ্যা সামনে আসবে। হ্যাঁ, বিশেষণের (صفة) দিকটিই অধিক শক্তিশালী, কারণ অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة)-এর বিশেষণ, তা যেভাবেই হোক (২), তা থেকে অবস্থা (حال) আসার চেয়ে অধিক নিয়মসিদ্ধ (أقيس)। আর যদি আপনি একে অবস্থা (حال) হিসেবে গণ্য করেন, তবে এর অধিকারী বা সাহেবুল হাল (صاحব الحال)-এর ক্ষেত্রে দুটি সম্ভাবনা থাকে: একটি হলো— মাসদার (مصدر)-এর সর্বনাম (ضمير) বিলুপ্ত থাকা, অর্থাৎ: ‘সে তার মালিক নয়’, মানে: ‘সে সেই মালিকানার (الملك) মালিক নয়’। যেমনটি এই কাব্যাংশে বলা হয়েছে: ‘এই হলো সুরাকাহ, সে কুরআন অধ্যয়ন করছে’ (৩)। অর্থাৎ: সে অধ্যয়ন (৪) করছে; কারণ এখানে সর্বনামটি কুরআনের দিকে ফিরছে না। যেহেতু ‘লাম’ অক্ষরটি ‘অধ্যয়ন করা’ (يدرس) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, আর ক্রিয়া একই সাথে কোনো ক্রিয়ার সর্বনাম (ضمير) এবং তার প্রকাশ্য (ظاهر) রূপ—উভয়ের দিকে ধাবিত হয় না। এই কারণেই ‘যাইদান দরাবতুহু’ বাক্যে বিশুদ্ধতম মতানুসারে একজন আমলকারী (عامل)-কে উহ্য ধরা ওয়াজিব। এর ওপর ভিত্তি করেই সিবওয়াইহ (৫) এবং গবেষকগণ ‘সারু সারীআন’-এর মতো বাক্যগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। অর্থাৎ: তারা দ্রুত পথ চলল (সারা আল-সাইরা সারীআন)। তাদের মতে ‘সারীআন’ শব্দটি বিলুপ্ত মাসদার (مصدر)-এর বিশেষণ (نعت) নয়; কারণ আরবরা একে অনির্দিষ্ট (نكرة) রাখাকেই আবশ্যক করেছে। এছাড়া মাওসুফ (موصوف) বা বিশেষ্যকে বিলুপ্ত করা যায় না, যতক্ষণ না বিশেষণ (صفة) তার স্বজাতীয় বিষয়ের সাথে সুনির্দিষ্ট হয়। যেমন: ‘আমি একজন লেখক বা গণনাকারী বা প্রকৌশলীকে দেখেছি’; কারণ এগুলো মানবজাতির সাথে সুনির্দিষ্ট। কিন্তু ‘আমি একজন দীর্ঘকায় ব্যক্তিকে দেখেছি’ বা ‘আমি একজন লাল বর্ণের ব্যক্তিকে দেখেছি’ (৬) বলা জায়েজ নেই। তবে এই বিষয়ে এমন এক আলোচনা রয়েছে যা এখানে অপ্রাসঙ্গিক (৭)। দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো (৮) ‘দিরহাম’ শব্দটি অবস্থা (حال) হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فإنْ قلتَ: كيفَ جَازَ مَجِيء الْحَال من النكرَة؟ قلتُ: أمّا على قَول سِيبَوَيْهٍ فَلَا إِشْكَال، لأنّه يجوز عِنْده مَجِيء الْحَال من النكرَة، وإنْ لم يكن الِابْتِدَاء بهَا، وَمن أمثلته: (فِيهَا رجلٌ قَائِما) (1) ، وَمن كَلَامهم: (عَلَيْهِ مائةٌ بيضًا) (2) . وَفِي الحَدِيث: (صلّى وَرَاءه قومٌ قيَاما) (3) . وأمّا على الْمَشْهُور من أنّ الْحَال لَا تَأتي من النكرَة إلاّ بمسوّغ فلهَا هُنَا مسوّغان: أَحدهمَا (4) : كَونهَا فِي سِيَاق النَّفْي وَالنَّفْي يخرج النكرَة من حيِّز الْإِبْهَام إِلَى حيِّز الْعُمُوم فَيجوز حِينَئِذٍ الْإِخْبَار عَنْهَا ومجيء الْحَال مِنْهَا. وَالثَّانِي: ضعف التوصف، وَمَتى امْتنع الْوَصْف بِالْحَال أَو ضعف سَاغَ مجيئها من النكرَة، فالأوَّلُ كَقَوْلِه تَعَالَى: (أَو كَالَّذي مرَّ على قريةٍ وَهِي خاويةٌ) (5) ، وَقَول الشَّاعِر (6) : مَضَى زَمَنٌ والناسُ يستشفعونَ بِي فَهَل لي إِلَى ليلى الغداةَ شَفيعُ (51 ب) فإنّ المقرونة بِالْوَاو لَا تكون صفة خلافًا للزمخشري (7) ، وكقولك: (هَذَا خاتمٌ حديداً) عِنْد مَنْ أعربه حَالا، لأنّ الجامدَ المحضَ لَا يوصَف بِهِ. وَالثَّانِي كَقَوْلِهِم: (مررتُ بماءٍ قِعْدَةَ رجلٍ) ، فإنّ الْوَصْف بِالْمَصْدَرِ خَارج عَن الْقيَاس. فإنْ قلتَ: هلا أجَاز الْفَارِسِي فِي (فضلا) كَونه صفة ل (درهما) .
--------------------------------------------
যদি আপনি বলেন: অনির্দিষ্ট বিশেষ্য থেকে অবস্থা আসা কীভাবে বৈধ হলো? আমি বলব: সিবওয়াইহ-এর মতানুসারে এতে কোনো সংশয় নেই; কারণ তাঁর মতে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য থেকে অবস্থা আসা বৈধ, যদিও তা দিয়ে বাক্য শুরু করা না হয়। এর উদাহরণ হলো: 'তাতে একজন ব্যক্তি দণ্ডায়মান (অবস্থায়) আছে' (১), এবং তাদের (আরবদের) কথা থেকে উদাহরণ: 'তার ওপর একশটি সাদা (মুদ্রা) রয়েছে' (২)। আর হাদিসে এসেছে: "তাঁর পেছনে একদল লোক দণ্ডায়মান অবস্থায় সালাত আদায় করলেন" (৩)। আর প্রসিদ্ধ মতানুসারে, কোনো বৈধতা প্রদানকারী কারণ ছাড়া অনির্দিষ্ট বিশেষ্য থেকে অবস্থা আসে না। এক্ষেত্রে দুটি বৈধতা প্রদানকারী কারণ রয়েছে: প্রথমটি (৪): সেটি না-বোধক প্রেক্ষাপটে হওয়া; আর না-বোধক প্রেক্ষাপট অনির্দিষ্ট বিশেষ্যকে অস্পষ্টতার গণ্ডি থেকে ব্যাপকতার গণ্ডিতে বের করে আনে, ফলে তখন সেটি সম্পর্কে সংবাদ প্রদান এবং তা থেকে অবস্থা আসা বৈধ হয়। দ্বিতীয়টি: বিশেষণের দুর্বলতা। যখন অবস্থা দ্বারা বিশেষণ হওয়া অসম্ভব হয় বা দুর্বল হয়, তখন অনির্দিষ্ট বিশেষ্য থেকে অবস্থা আসা বৈধ হয়। প্রথমটির উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: "অথবা সেই ব্যক্তির মতো যে এমন এক জনপদ দিয়ে অতিক্রম করছিল যা ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল" (৫)। এবং কবির উক্তি (৬):
সময় অতিবাহিত হয়েছে এবং মানুষ আমার মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করত,
তবে আজ সকালে লায়লার কাছে যাওয়ার জন্য আমার কি কোনো সুপারিশকারী আছে? (৫১ খ)
কেননা 'ওয়াও' যুক্ত বাক্য বিশেষণ হয় না—যামাখশারীর (৭) মতের বিপরীতে। যেমন আপনার উক্তি: "এটি একটি লোহার আংটি" (অবস্থা হিসেবে), যারা এটিকে অবস্থা হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন তাদের মতে; কারণ বিশুদ্ধ স্থির বিশেষ্য দ্বারা বিশেষণ করা যায় না। দ্বিতীয়টির উদাহরণ তাদের উক্তি: "আমি একজন ব্যক্তির বসার পরিমাণ পানির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম", কারণ ক্রিয়ামূল দ্বারা বিশেষণ করা নিয়মের পরিপন্থী। আপনি যদি বলেন: আল-ফারিসি কেন 'ফাদলান' শব্দটিকে 'দিরহামান'-এর বিশেষণ হওয়ার অনুমতি দেননি?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قلتُ: زعم أَبُو حيّان (1) أنّ ذَلِك لَا يجوز (2) لأنّه لَا يُوصف بِالْمَصْدَرِ إلاّ إِذا (3) أريدت الْمُبَالغَة لِكَثْرَة وُقُوع (4) ذَلِك الْحَدث من صَاحبه، وَلَيْسَ ذَلِك بمرادٍ هُنَا، قَالَ: وأمّا القَوْل بأنّه يُوصف بِالْمَصْدَرِ على تَأْوِيله بالمشتق أَو على تَقْدِير الْمُضَاف فَلَيْسَ قَول الْمُحَقِّقين. قلتُ: هَذَا كَلَام عَجِيب، فإنّ الْقَائِل بالتأويل الْكُوفِيُّونَ (5) ، ويأوِّلون عدلا بعادل ورضى بمرضي، وَهَكَذَا يَقُولُونَ فِي نظائرها. وَالْقَائِل بالتقدير البصريون، يَقُولُونَ: التَّقْدِير: ذُو عدل وَذُو رضى، وإنْ كَانَ (6) كَذَلِك فَمَن الْمُحَقِّقُونَ (7) ؟ ثمَّ (8) اخْتلف النَّقْل عَن الْفَرِيقَيْنِ، وَالْمَشْهُور أنّ الْخلاف مُطلق. قَالَ ابْن عُصْفُور (9) ، (وَهُوَ الظَّاهِر: إِنَّمَا الْخلاف حَيْثُ لَا يقْصد الْمُبَالغَة وإنْ قصدت فالاتفاق على أنّه لَا تَأْوِيل وَلَا تعدِي. وَهَذَا الَّذِي قَالَه ابْن عُصْفُور) (10) هُوَ الَّذِي فِي ذهن أبي حيَّان، وَلكنه نسي فَتوهم أنّ ابْن عُصْفُور قَالَ: لَا تَأْوِيل مُطلقًا (11) ، فَمن هُنَا - واللهُ أعلمُ - دخل عَلَيْهِ الْوَهم. وَالَّذِي ظهر لي أَن الْفَارِسِي إنّما لم يجز فِي (فضلا) الصّفة لأنّه رَآهُ مَنْصُوبًا أبدا سَوَاء كَانَ مَا قبله مَنْصُوبًا كَمَا فِي الْمِثَال أم مَرْفُوعا كَمَا فِي الْبَيْت أم مخفوضاً كَمَا فِي قَوْلك: (فلَان لَا يَهْتَدِي إِلَى ظواهر النَّحْو فضلا عَن دقائق الْبَيَان) . فَهَذَا مُنْتَهى القَوْل فِي تَوْجِيه إِعْرَاب الْفَارِسِي، وأمّا تَنْزِيله على الْمَعْنى
--------------------------------------------
আমি বলেছি: আবু হাইয়ান (১) দাবি করেছেন যে, তা জায়েজ নয় (২); কারণ কোনো মাসদার (مصدر) দ্বারা তখনই গুণ বর্ণনা করা যায়, যখন সংশ্লিষ্ট কাজের আধিক্যের কারণে অতিরঞ্জন (مبالغة) করা উদ্দেশ্য হয়। কিন্তু এখানে তা উদ্দেশ্য নয়। তিনি আরও বলেন: আর মাসদার (مصدر) দ্বারা গুণ বর্ণনা করার ক্ষেত্রে একে মুশতাক (مشتق) হিসেবে ব্যাখ্যা (تأويل) করা অথবা মুদাফ (مضاف) উহ্য মানার যে মত রয়েছে, তা বিজ্ঞ গবেষকদের (محققون) বক্তব্য নয়। আমি বলেছি: এটি একটি বিস্ময়কর কথা, কারণ ব্যাখ্যার (تأويل) প্রবক্তা হলেন কুফীগণ (৫); তারা 'আদল' শব্দটিকে ন্যায়পরায়ণ (عادل) এবং 'রিদা' শব্দটিকে পছন্দনীয় (مرضي) হিসেবে ব্যাখ্যা (تأويل) করেন। অনুরূপভাবে তারা এ জাতীয় অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রেও বলে থাকেন। আর উহ্য (تقدير) মানার প্রবক্তা হলেন বসরীগণ; তারা বলেন: এখানে উহ্য রূপ হলো— ন্যায়পরায়ণতার অধিকারী (ذو عدল) এবং সন্তুষ্টির অধিকারী (ذو رضى)। আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে বিজ্ঞ গবেষক (محققون) (৭) কারা? এরপর (৮) উভয় পক্ষ থেকে বর্ণিত মতামতে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে এবং প্রসিদ্ধ মত হলো এই মতভেদ নিঃশর্ত (مطلق)। ইবনে উসফুর (৯) বলেছেন, (এবং এটিই স্পষ্ট বিষয়: মতভেদ কেবল তখনই হয় যখন অতিরঞ্জন (مبالغة) উদ্দেশ্য থাকে না; তবে যদি তা উদ্দেশ্য হয়, তবে কোনো ব্যাখ্যা (تأويل) বা সীমা লঙ্ঘনের প্রয়োজন নেই—এ ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে। ইবনে উসফুর যা বলেছেন) (১০), আবু হাইয়ানের মনে সেটিই ছিল; কিন্তু তিনি বিস্মৃত হয়েছেন এবং ভুলবশত ধারণা করেছেন যে, ইবনে উসফুর বলেছেন: নিঃশর্তভাবে (مطلقًا) (১১) কোনো ব্যাখ্যা (تأويل) নেই। এ কারণেই—আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ—তাঁর মধ্যে এই বিভ্রান্তি জন্মেছে। আমার নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো, আল-ফারিসি 'ফাদলান' (فضلا) শব্দটিকে গুণ (صفة) হিসেবে এজন্য জায়েজ বলেননি যে, তিনি এটিকে সর্বদা মানসুব (منصوب) হিসেবে দেখেছেন; তার পূর্বের শব্দটি মানসুব (منصুব) হোক (যেমনটি উদাহরণে আছে), অথবা মারফু (مرفوع) হোক (যেমনটি কাব্যাংশে আছে), কিংবা মাজরুর (مجرور) হোক, যেমন আপনার উক্তি: (অমুক ব্যক্তি নাহুর সাধারণ বিষয়গুলোই বোঝে না, অলঙ্কারশাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো তো দূরের কথা [فضلا])। আল-ফারিসির ইরাব (إعراب) সংক্রান্ত বিশ্লেষণের সারকথা এখানেই শেষ, আর অর্থের দিকে এর প্রয়োগের বিষয়টি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المُرَاد فعسير (1) ، وَقد خرج على أنّه من بَاب قَوْله: على لاحبٍ لَا يُهْتَدَى بمنارِهِ (2) . وَلم يذكر أَبُو حَيَّان سوى ذَلِك، وَقَالَ: قد يسلطون النَّفْي على الْمَحْكُوم عَلَيْهِ بِانْتِفَاء صفته فَيَقُولُونَ: (مَا قامَ رجلٌ عاقلٌ) أَي: لَا رجلَ عاقلٌ فَيقوم، ثمَّ أنْشد بَيت امْرِئ الْقَيْس الْمَذْكُور، فَقَالَ: أَلا ترى أنّه لَا يُرِيد إِثْبَات منارٍ للطريق وينفي الاهتداء عَنهُ، إنَّما يُرِيد نفي الْمنَار فتنتفي الْهِدَايَة بِهِ أَي: لَا منار لهَذَا الطَّرِيق فيهتدي بِهِ. وَقَالَ الأفوه الأودي (3) : بمَهْمَهٍ مَا لأنيسٍ (4) بِهِ حِسٌ فَمَا فِيهِ لَهُ من رسيسْ لَا يُرِيد (5) أنّ بِهَذَا القفر أنيساً لَا حِسّ لَهُ، إِنَّمَا يُرِيد (6) : لَا أنيس بِهِ فَيكون لَهُ حسٌ. وعَلى هَذَا خرَّج: (فَمَا تنفعهم شفاعةُ الشافعين) (7) أَي: لَا شَافِع لَهُم فتنفعهم شَفَاعَته، و (لَا يسألونَ الناسَ إلحافاً) (8) أَي: لَا سُؤال فَيكون إلحافا، قَالَ: وعَلى هَذَا يتَخَرَّج الْمِثَال الْمَذْكُور، أَي: لَا يملك درهما فيفضل عَن دِينَار لَهُ، وَإِذا انْتَفَى ملكه لدرهم كَانَ انْتِفَاء ملكه للدينار أولى. قلت: وَهَذَا الْكَلَام الَّذِي ذكره لَا تَحْرِيف فِيهِ، فإنّ الْأَمْثِلَة الْمَذْكُورَة من بَابَيْنِ مُخْتَلفين وقاعدتين متباينتين أميِّز كلا مِنْهُمَا عَن الْأُخْرَى، ثمَّ أذكر أنّ التَّخْرِيج الْمَذْكُور (9) لَا يَتَأَتَّى (10) على شَيْء مِنْهُمَا:
--------------------------------------------
উদ্দেশ্যটি অনুধাবন করা দুঃসাধ্য (১), আর এটিকে এই বাণীর ভিত্তিতে বিশ্লেষণ (تخريج) করা হয়েছে: "এমন এক প্রশস্ত পথ যার দিকনির্দেশক চিহ্নের মাধ্যমে পথপ্রদর্শন লাভ করা যায় না" (২)। আবু হাইয়ান এটি ব্যতীত অন্য কিছু উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন: কখনও কখনও তারা কোনো বিষয়ের গুণাবলির (صفة) অনুপস্থিতির মাধ্যমে উক্ত বিচার্য বিষয়ের (محكوم عليه) ওপর না-বাচকতা (نفي) আরোপ করেন। ফলে তারা বলেন: "কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি দাঁড়ায়নি"; অর্থাৎ: কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি নেই যে সে দাঁড়াবে। অতঃপর তিনি ইমরুল কায়েসের উল্লিখিত কবিতাটি পাঠ করেন এবং বলেন: আপনি কি দেখছেন না যে, তিনি পথের জন্য কোনো দিকনির্দেশক চিহ্ন সাব্যস্ত করা (إثبات) এবং তা থেকে পথপ্রদর্শন লাভকে অস্বীকার করা উদ্দেশ্য নিচ্ছেন না? বরং তিনি দিকনির্দেশক চিহ্নের অস্তিত্বকেই নাকচ (نفي) করতে চাচ্ছেন, যার ফলে তার মাধ্যমে পথপ্রদর্শনও নাকচ হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ: এই পথের কোনো দিকনির্দেশক চিহ্নই নেই যে এর মাধ্যমে পথপ্রদর্শন লাভ করা যাবে। আল-আফওয়াহ আল-আওদি (৩) বলেছেন:
"এমন এক জনহীন প্রান্তরে যেখানে কোনো মানবের (৪) সাড়াশব্দ নেই, আর সেখানে তার কোনো চিহ্নও অবশিষ্ট নেই।"
তিনি এটি বুঝাতে চাননি (৫) যে, এই মরুপ্রান্তরে এমন কোনো মানব আছে যার কোনো সাড়াশব্দ নেই; বরং তিনি বুঝাতে চেয়েছেন (৬): সেখানে কোনো মানবই নেই যার সাড়াশব্দ থাকতে পারে। আর এর ভিত্তিতেই এই আয়াতের বিশ্লেষণ (تخريج) করা হয়েছে: "অতঃপর সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো উপকারে আসবে না" (৭); অর্থাৎ: তাদের কোনো সুপারিশকারীই নেই যার সুপারিশ তাদের উপকারে আসবে। এবং (৮) "তারা মানুষের কাছে করজোড়ে যাঞ্চা করে না"; অর্থাৎ: সেখানে কোনো যাঞ্চাই নেই যা করজোড়ে হতে পারে। তিনি বলেন: এই নিয়মের আলোকেই উল্লিখিত উদাহরণটির বিশ্লেষণ (تخريج) করা হয়; অর্থাৎ: সে এক দিরহামেরও মালিক নয় যে তা তার এক দীনারের অতিরিক্ত হবে। আর যখন তার এক দিরহামের মালিকানা নাকচ (نفي) হয়ে গেল, তখন তার দীনারের মালিকানা নাকচ হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত। আমি (গ্রন্থকার) বলি: তিনি যে কথা উল্লেখ করেছেন তাতে কোনো বিকৃতি নেই, তবে উল্লিখিত উদাহরণগুলো দুটি ভিন্ন অধ্যায় এবং দুটি পরস্পর বিপরীত মূলনীতির (قاعدة) অন্তর্ভুক্ত; আমি তাদের প্রত্যেকটিকে অন্যটি থেকে পৃথক করব। অতঃপর আমি উল্লেখ করব যে, উল্লিখিত বিশ্লেষণটি (تخريج) (৯) তাদের কোনোটির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয় (১০):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الْقَاعِدَة الأولى: إنّ الْقَضِيَّة السالبة لَا تَسْتَلْزِم وجود (1) الْمَوْضُوع بل كَمَا تصدق مَعَ وجوده تصدق مَعَ عَدمه. فَإِذا قيل: (مَا جَاءَنِي قَاضِي مكَّةَ وَلَا ابْن الْخَلِيفَة) صدقت الْقَضِيَّة وإنْ لم يكن بِمَكَّة قاضٍ وَلَا للخليفة ابْن. وَهَذِه الْقَاعِدَة هِيَ الَّتِي يخرج عَلَيْهَا: (فَمَا تنفعهم شَفَاعَة الشافعين) وَبَيت امْرِئ الْقَيْس، فإنّ شَفَاعَة الشافعين بِالنِّسْبَةِ إِلَى الْكَافرين غير مَوْجُودَة يَوْم الْقِيَامَة لأنّ الله تَعَالَى لَا يَأْذَن لأحد فِي (2) أنْ يشفع لَهُم لأنّه لَا يَأْذَن فِي مَا لَا ينفع لتعاليه عَن الْعَبَث، وَلَا يشفع أحد عِنْد الله إِذا لم يَأْذَن الله لَهُ (3) : (مَنْ ذَا الَّذِي يشفعُ عِنْده إلاّ بِإِذْنِهِ) (4) . وَكَذَلِكَ الْمنَار غير مَوْجُود فِي اللاحب الْمَذْكُور، لأنّ المُرَاد التمدح بأنّه (5) يقطع الأَرْض المجهولة من غَيرهَا ويهتدى بِهِ، فغرضه إنّما تعلَّق بِنَفْي وجود مَا يهتدى بِهِ فِي تِلْكَ الطَّرِيق الَّتِي سلكها لَا بِنَفْي وجود الْهِدَايَة عَن شَيْء نُصب (6) فِيهَا للاهتداء بِهِ. وأمّا قَول أبي حيّان وَغَيره: المُرَاد لَا شَافِع لَهُم فتنفعهم شَفَاعَته وَلَا منار فيهتدى بِهِ (7) فَلَيْسَ بِشَيْء، لأنّ النَّفْي إنّما يتسلط على الْمسند لَا على الْمسند إِلَيْهِ، وَلَكنهُمْ لمّا رَأَوْا الشَّفَاعَة والمنار غير موجودين توهموا أنّ ذَلِك من اللَّفْظ فزعموا مَا زَعَمُوا، وفَرْقٌ بَين قَوْلنَا: الكلامُ صادقٌ مَعَ عدم الْمسند إِلَيْهِ، وَقَوْلنَا: إنّ الْكَلَام اقْتضى عَدمه. الْقَاعِدَة الثَّانِيَة: أنّ الْقَضِيَّة السالبة الْمُشْتَملَة على مُقَيّد نَحْو: " مَا جَاءَنِي رجلٌ شاعرٌ " يحْتَمل وَجْهَيْن: الأول (8) : أنْ يكون نفي الْمسند بِاعْتِبَار المقيّد فَيَقْتَضِي الْمَفْهُوم فِي الْمِثَال الْمَذْكُور وجود مَجِيء رجلٍ مَا غير شَاعِر، وَهَذَا هُوَ الِاحْتِمَال الرَّاجِح المتبادل،
--------------------------------------------
প্রথম মূলনীতি: নেতিবাচক প্রস্তাবনা (القضية السالبة) উদ্দেশ্যের (الموضوع) অস্তিত্বকে (১) আবশ্যক করে না, বরং এটি যেমন উদ্দেশ্যের অস্তিত্বের সাথে সত্য হয়, তেমনি তার অনুপস্থিতির সাথেও সত্য হতে পারে। সুতরাং যদি বলা হয়: "মক্কার বিচারক কিংবা খলিফার পুত্র আমার কাছে আসেনি", তবে এই প্রস্তাবনাটি সত্য প্রতিপন্ন হবে যদিও মক্কায় কোনো বিচারক না থাকে কিংবা খলিফার কোনো পুত্র না থাকে। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই এগুলোর ব্যাখ্যা করা হয়: "সুপারিশকারীদের সুপারিশ তাদের কোনো উপকারে আসবে না" এবং ইমরুল কায়েসের কবিতার চরণ; কেননা কাফিরদের ক্ষেত্রে কিয়ামতের দিন সুপারিশকারীদের সুপারিশের কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। কারণ মহান আল্লাহ কাউকে তাদের জন্য (২) সুপারিশ করার অনুমতি দেবেন না; যেহেতু তিনি অনর্থক কাজ থেকে ঊর্ধ্বে, তাই যা কোনো উপকারে আসবে না সে বিষয়ে তিনি অনুমতি প্রদান করেন না। আর আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত কেউ তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারবে না (৩): "কে সে যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?" (৪)। অনুরূপভাবে উল্লিখিত প্রশস্ত পথে কোনো পথনির্দেশক চিহ্নের অস্তিত্ব নেই; কারণ এখানে উদ্দেশ্য হলো এই প্রশংসা করা যে, তিনি (৫) এমন এক অজানা ভূমি পাড়ি দেন যা অন্য কেউ পারে না এবং যার মাধ্যমে পথ চেনা যায়। সুতরাং তাঁর উদ্দেশ্য কেবল সেই পথে পথনির্দেশক চিহ্নের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা যা তিনি অতিক্রম করেছেন, সেই পথে পথনির্দেশের জন্য স্থাপিত (৬) কোনো বস্তুর অস্তিত্বকে অস্বীকার করা নয়। আর আবু হাইয়্যান এবং অন্যদের বক্তব্য: "এর অর্থ হলো তাদের কোনো সুপারিশকারী নেই যার সুপারিশ তাদের উপকারে আসবে, এবং কোনো পথপ্রদর্শক চিহ্ন নেই যা দ্বারা (৭) পথ পাওয়া যাবে"—এটি সঠিক নয়। কারণ নেতিবাচকতা কেবল বিধেয় (المسند)-এর ওপর বর্তায়, উদ্দেশ্য (المسند إليه)-এর ওপর নয়। কিন্তু যখন তারা সুপারিশ এবং পথনির্দেশক চিহ্নের অনুপস্থিতি দেখতে পেলেন, তখন তারা ধারণা করলেন যে এটি শব্দ থেকেই উৎসারিত, ফলে তারা এই দাবি করলেন। অথচ আমাদের এই কথার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে যে: "উদ্দেশ্য (المسند إليه)-এর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও কথাটি সত্য", আর আমাদের এই কথা যে: "কথাটি তার অনুপস্থিতিকে দাবি করে"। দ্বিতীয় মূলনীতি: বিশেষিত বা শর্তযুক্ত (مقيد) শব্দ সংবলিত নেতিবাচক প্রস্তাবনা (القضية السالبة), যেমন: "আমার কাছে কোনো কবি ব্যক্তি আসেনি"; এটি দুটি (৮) দিকের সম্ভাবনা রাখে: প্রথমটি: বিধেয় (المسند)-এর নেতিবাচকতা বিশেষণের (المقيد) বিবেচনায় হওয়া। ফলে উল্লিখিত উদাহরণে মর্মার্থ (المفهوم) এটিই দাবি করে যে, কোনো একজন ব্যক্তির আগমন ঘটেছে যে কবি নয়। আর এটিই হলো অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও স্বতঃস্ফূর্ত সম্ভাবনা,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أَلا ترى لَو كَانَ المُرَاد نَفْيه عَن الرجل مُطلقًا لَكَانَ ذكر الْوَصْف ضائعاً ولكان زِيَادَة فِي اللَّفْظ ونقصاً فِي الْمَعْنى المُرَاد. الثَّانِي: أنْ يكون نَفْيه بِاعْتِبَار المقيّد وَهُوَ الرجل، وَهَذَا احْتِمَال مَرْجُوح لَا يُصار إِلَيْهِ إلاّ بِدَلِيل (1) ، فَلَا مَفْهُوم حِينَئِذٍ للتَّقْيِيد، لأنّه لم يُذكر للتَّقْيِيد بل ذُكِرَ لغَرَض آخر، كأنْ يكون المُرَاد مناقضة مَنْ أثبتَ ذلكَ الْوَصْف فَقال: (جَاءَنِي (2) رجل شَاعِر) فَأَرَدْت التَّنْصِيص على نفي مَا أثْبته، أَو كَأَن يُراد التَّعْرِيض (3) ، إِذا (4) أردْت فِي الْمِثَال الْمَذْكُور أنْ تعرِّض بمَنْ جاءَهُ رجلٌ شاعرٌ. وَهَذِه هِيَ (5) الْقَاعِدَة الَّتِي يخرج عَلَيْهَا قَوْله تَعَالَى (6) : (لَا يسألونَ الناسَ إلحافاً) (7) فإنّ الإلحافَ قَيْدٌ فِي السُّؤَال الْمَنْفِيّ، وَالْمرَاد من الْآيَة - وَالله أعلم - نفي السُّؤَال الْبَتَّةَ بِدَلِيل: (يَحْسبهُم الْجَاهِل أغنياءَ من التعفُّفِ) (8) ، وَالتَّعَفُّف لَا يُجَامع الْمَسْأَلَة، وَلَكِن أُرِيد بِذكر الإلحاف - وَالله أعلم - التَّعْرِيض بِقوم ملحفين توبيخاً لَهُم على صنيعهم أَو التَّعْرِيض بجنسهم الملحفين وذمهم على الإلحاف، لأنّ نقيض الْوَصْف (9) الممدوح مَذْمُوم، والمثال المبحوث فِيهِ متخرج على هَذِه الْقَاعِدَة فِيمَا زَعَمُوا، فإنّ فضلا مقيِّدٌ للدرهم، فَلَو قدّر النَّفْي مسلطاً على الْقَيْد اقْتضى مَفْهُومه خلاف المُرَاد، وَهُوَ أنّه يملك الدِّرْهَم وَلكنه لَا يملك الدِّينَار، ولمّا امْتنع هَذَا تعيّن الْحمل على الْوَجْه الْمَرْجُوح، وَهُوَ تسليط النَّفْي على المقيّد، وَهُوَ الدِّرْهَم، فَيَنْتَفِي الدِّينَار، لأنّ الَّذِي لَا يملك الأقلَّ لَا يملك الأكثرَ فإنّ المُرَاد بالدرهم لَيْسَ الدِّرْهَم الْعرفِيّ، لأنّه يجوز أنْ يملك الدِّينَار من لَا يملكهُ، بل المُرَاد مَا يُسَاوِي من النُّقُود درهما، فَهَذَا تَوْجِيه التَّخْرِيج.
--------------------------------------------
আপনি কি দেখেন না যে, যদি উদ্দেশ্য হতো কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে তা নিরঙ্কুশভাবে অস্বীকার করা, তবে সেই গুণের (وصف) উল্লেখ করা নিরর্থক হয়ে যেত এবং তা হতো শব্দের বাহুল্যতা ও কাঙ্ক্ষিত অর্থের সংক্ষেপণ। দ্বিতীয়ত: বিষয়টিকে সীমাবদ্ধ বিষয়ের (مقيد) নিরিখে অস্বীকার করা, আর তা হলো ব্যক্তি; এটি একটি অগ্রাধিকারহীন (مرجوح) সম্ভাবনা যা কোনো প্রমাণ (دليل) ব্যতীত গ্রহণ করা হয় না (১)। এমতাবস্থায় সীমাবদ্ধকরণের (تقييد) কোনো অর্থ বা মাফহুম (مفهوم) থাকে না, কারণ এটি সীমাবদ্ধ করার জন্য উল্লেখ করা হয়নি বরং অন্য কোনো উদ্দেশ্যে করা হয়েছে; যেমন উদ্দেশ্য হতে পারে সেই ব্যক্তির বিরোধিতা করা যে উক্ত গুণটি সাব্যস্ত করেছে এবং বলেছে: "আমার কাছে একজন কবি ব্যক্তি এসেছে (২)", তখন আপনি তার সাব্যস্ত করা বিষয়টিকে সুনির্দিষ্টভাবে অস্বীকার করতে চাইলেন। অথবা হতে পারে উদ্দেশ্য হলো পরোক্ষ ইঙ্গিত (تعريض) (৩), যখন (৪) আপনি উল্লিখিত উদাহরণে এমন ব্যক্তির প্রতি পরোক্ষ ইঙ্গিত করতে চাইলেন যার কাছে একজন কবি ব্যক্তি এসেছে। আর এটিই (৫) সেই নিয়ম (قاعدة) যার ভিত্তিতে মহান আল্লাহর বাণী (৬) উৎসারিত হয়েছে: "তারা মানুষের কাছে নাছোড়বান্দা হয়ে (إلحافاً) যাচ্ঞা করে না" (৭)। এখানে 'নাছোড়বান্দা হওয়া' বিষয়টি হলো নেতিবাচক যাচ্ঞার ক্ষেত্রে একটি শর্ত বা কাইদ (قيد)। আয়াতের উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—যেকোনো প্রকার যাচ্ঞাকেই সমূলে অস্বীকার করা, যার প্রমাণ (دليل) হলো: "অজ্ঞ লোকেরা তাদের আত্মমর্যাদাবোধের কারণে তাদেরকে অভাবমুক্ত মনে করে" (৮)। আর আত্মমর্যাদাবোধ যাচ্ঞার সাথে একত্রিত হতে পারে না। তবে এখানে 'নাছোড়বান্দা' হওয়ার কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে—আল্লাহই ভালো জানেন—উদ্দেশ্য হলো নাছোড়বান্দা যাচ্ঞাকারীদের তাদের আচরণের জন্য ভর্ৎসনা স্বরূপ পরোক্ষ ইঙ্গিত (تعريض) করা অথবা তাদের শ্রেণির প্রতি ইঙ্গিত করা এবং নাছোড়বান্দা হওয়ার কারণে তাদের নিন্দা করা। কারণ প্রশংসিত গুণের (وصف) (৯) বিপরীত দিকটি নিন্দনীয়। আলোচ্য উদাহরণটি তাদের দাবি অনুযায়ী এই নিয়মের ওপর ভিত্তি করেই বিন্যস্ত হয়েছে। কেননা 'ফাদলান' শব্দটি দিরহামের জন্য একটি সীমাবদ্ধকারী শর্ত (مقيد)। এখন যদি এই অস্বীকৃতিকে শর্তের (قيد) ওপর প্রযুক্ত ধরা হয়, তবে এর অর্থ বা মাফহুম (مفهوم) কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যের বিপরীত হয়ে যাবে; আর তা হলো—সে দিরহামের মালিক কিন্তু দিনারের মালিক নয়। যখন এটি অসম্ভব প্রতিপন্ন হলো, তখন একে অগ্রাধিকারহীন (مرجوح) পন্থায় ব্যাখ্যা করা অবধারিত হয়ে পড়ল, আর তা হলো এই অস্বীকৃতিকে সীমাবদ্ধ বিষয়ের (مقيد) ওপর প্রয়োগ করা—যা হলো দিরহাম। ফলে দিনারও নাকচ হয়ে যায়, কারণ যে ব্যক্তি অল্পের মালিক নয় সে অধিকের মালিক হতে পারে না। কেননা এখানে দিরহাম দ্বারা আক্ষরিক দিরহাম উদ্দেশ্য নয়—কারণ এমন হতে পারে যে কেউ দিরহামের মালিক নয় কিন্তু দিনারের মালিক হতে পারে—বরং উদ্দেশ্য হলো অর্থের এমন পরিমাণ যা একটি দিরহামের সমতুল্য। এটিই হলো এই ব্যাখ্যার যৌক্তিকতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأمّا الِاعْتِرَاض عَلَيْهِ فَمن جِهَة أنّ الْقَيْد لَيْسَ نفس الدِّينَار حَتَّى يصير الْمَعْنى: لَا يملكُ درهما فيكفَ يملك (1) دِينَارا. وإنّما الْقَيْد قَوْله: (فضلا عَن دِينَار) . وَالْكَلَام لم يسق لنفي ملك الزَّائِد على (2) الدِّينَار بل لنفي ملك الدِّينَار نَفسه ثمَّ يلْزم عَن ذَلِك انْتِفَاء ملك مَا زَاد عَلَيْهِ. وَالَّذِي ظهر لي فِي تَوْجِيه هَذَا الْكَلَام أنْ يُقال: إنَّه فِي الأَصْل جملتان مستقلتان وَلَكِن الْجُمْلَة الثَّانِيَة دَخلهَا حذف كثير وتغيير حصل الْإِشْكَال بِسَبَبِهِ، وتوجيه ذَلِك أنْ يكون هَذَا الْكَلَام فِي اللَّفْظ أَو فِي التَّقْدِير جَوَابا لمستخبر قَالَ: " أيملك فلَان دِينَارا "، أَو ردًّا على مخبر قَالَ: (فلَان يملك دِينَارا) . فَقيل فِي الْجَواب: (فلَان لَا يملك درهما) ثمَّ استؤنف كَلَام آخر (3) . وَلَك فِي تَقْدِيره وَجْهَان: الأول: أنْ يُقال (4) : أَخْبَرتك بِهَذَا زِيَادَة على (5) الْأَخْبَار عَن دِينَار استفهمت عَنهُ. أَو أَخْبَرتك بِملك (6) لَهُ، ثمَّ حذفت جملَة (أَخْبَرتك بِهَذَا) وَبَقِي معمولها وَهُوَ (فضلا) ، كَمَا قَالُوا: (حِينَئِذٍ الآنَ) بِتَقْدِير: كَانَ ذَلِك حِينَئِذٍ واسمع الآنَ، فحذفوا الجملتين وأبقوا من كلٍّ مِنْهُمَا معمولهما، ثمَّ حُذف مجرور عَن وجارّ دِينَار، وأدخلت (عَن) الأولى على الدِّينَار كَمَا قَالُوا: (مَا رأيتُ رجلا أحسنَ فِي عينِهِ (7) الكحلُ مِن زيدٍ) . وَالْأَصْل: مِنْهُ فِي عين زيد، ثمَّ حذف مجرور (من) وَهُوَ الضَّمِير، وجارّ الْعين وَهُوَ (فِي) ، وَدخلت (من) على الْعين. الثَّانِي: أنْ يُقدر (8) : فضلا (9) انْتِفَاء الدِّرْهَم عَن فلَان عَن انْتِفَاء الدِّينَار.
--------------------------------------------
আর এর ওপর আপত্তিটি হলো এই দিক থেকে যে, সীমাবদ্ধতা (قيد) সরাসরি দিনার নয়, যাতে অর্থটি এমন হয়: সে এক দিরহামেরও মালিক নয়, তবে সে কীভাবে এক দিনারের মালিক (১) হবে? বরং সীমাবদ্ধতা (قيد) হলো তার এই উক্তি: (এক দিনার তো দূরের কথা/فضلا عن دينار)। আর কথাটি দিনারের অতিরিক্ত কিছুর মালিকানা অস্বীকার করার জন্য আনা হয়নি, বরং স্বয়ং দিনারের মালিকানা অস্বীকার করার জন্য আনা হয়েছে; অতঃপর তা থেকে তার অতিরিক্ত জিনিসের মালিকানা না থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ে। এই বক্তব্যের ব্যাখ্যার (توجيه) ক্ষেত্রে আমার কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো এই যে: এটি মূলত দুটি স্বতন্ত্র বাক্য ছিল, কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যটিতে প্রচুর বিলোপ (حذف) এবং পরিবর্তন ঘটেছে যার কারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। আর এর ব্যাখ্যা (توجيه) হলো এই যে, এই কথাটি শব্দত অথবা উহ্য মানের (تقدير) ক্ষেত্রে কোনো জিজ্ঞাসু ব্যক্তির উত্তরের পরিপ্রেক্ষিতে হয়েছে যে বলেছিল: "অমুক কি এক দিনারের মালিক?", অথবা কোনো সংবাদদাতার খণ্ডনস্বরূপ যে বলেছিল: (অমুক এক দিনারের মালিক)। অতঃপর উত্তরে বলা হলো: (অমুক এক দিরহামেরও মালিক নয়), এরপর অন্য একটি কথা শুরু করা হয়েছে (৩)। আর এর উহ্য রূপের (تقدير) ক্ষেত্রে আপনার সামনে দুটি পথ রয়েছে: প্রথমটি: বলা হবে (৪) যে, আমি তোমাকে এই সংবাদটি দিচ্ছি সেই দিনার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়ার অতিরিক্ত (৫) হিসেবে যে সম্পর্কে তুমি জানতে চেয়েছিলে। অথবা আমি তোমাকে তার মালিকানা (৬) সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছি, অতঃপর "আমি তোমাকে এই সংবাদটি দিচ্ছি" বাক্যটি বিলোপ (حذف) করা হয়েছে এবং এর আমলকৃত শব্দ (معمول) অর্থাৎ "অতিরিক্ত হিসেবে" (فضلا) অবশিষ্ট রয়েছে। যেমন তারা বলে থাকে: "তখন এখন" (حِينَئِذٍ الآنَ); যার উহ্য রূপ (تقدير) হলো: তা তখন ছিল এবং এখন শোনো। এখানে তারা উভয় বাক্য বিলোপ করেছে এবং প্রত্যেকের আমলকৃত শব্দ (معمول) অবশিষ্ট রেখেছে। অতঃপর 'আন' (عن) এর মাজরুর (مجرور) এবং 'দিনার' এর যার (جار) বিলোপ করা হয়েছে, এবং প্রথম 'আন'-কে (عن) দিনারের ওপর যুক্ত করা হয়েছে; যেমনটি তারা বলে থাকে: "আমি যায়িদের চেয়ে সুন্দর চোখে (৭) সুরমা লাগানো আর কোনো লোক দেখিনি" (مَا رأيتُ رجلا أحسنَ فِي عينِهِ الكحلُ مِن زيدٍ)। এর মূল রূপ হলো: তার চোখের চেয়ে যায়িদের চোখে; অতঃপর 'মিন' (من) এর মাজরুর (مجرور) অর্থাৎ সর্বনামটি (ضمير) এবং 'আইন' (চোখ) এর যার (جار) অর্থাৎ 'ফি' (في) বিলোপ করা হয়েছে, এবং 'মিন' (من) সরাসরি 'আইন' এর ওপর যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয়টি: উহ্য রূপ (تقدير) ধরা হবে (৮) এভাবে: অমুক ব্যক্তির থেকে দিরহামের অনুপস্থিতি হলো দিনারের অনুপস্থিতির অতিরিক্ত (৯)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
عَنهُ. وَمعنى ذَلِك أَن تكون حَال (1) هَذَا الْمَذْكُور فِي النَّفْي مَعْرُوفَة عِنْد النَّاس. وَالْفَقِير إنّما يَنْفِي عَنهُ فِي الْعَادة ملك الْأَشْيَاء الحقيرة لَا ملك الْأَمْوَال الْكَثِيرَة، فوقوع نفي ملك الدِّرْهَم عَنهُ فِي الْوُجُود فَاضل عَن وُقُوع نفي الدِّينَار عَنهُ، أيْ أَكثر مِنْهُ. وفضلاً على التَّقْدِير الأول حَال، وعَلى الثَّانِي مصدر، وهما الْوَجْهَانِ اللَّذَان ذكرهمَا الْفَارِسِي لكنّ تَوْجِيه الإعرابين مُخَالف لما ذكر (2) وتوجيه الْمَعْنى مُخَالف لما ذكرُوا، لأنّه إنّما يَتَّضِح تطابق اللَّفْظ وَالْمعْنَى على مَا وجهت لَا على مَا وجهوا، ولعلّ من لم يقو أنسه (3) بتجوزات الْعَرَب فِي كَلَامهَا يقْدَح فِيمَا ذكرت بِكَثْرَة الْحَذف، وَهُوَ كَمَا قيل: إِذا لم يكن إلاّ الأسنة مركبٌ فَلَا رَأْي للمحتاج إلاّ ركُوبهَا (4) وَقد بيَّنْت فِي التَّوْجِيه الأول (5) أنّ مثلَ هَذَا الْحَذف والتجوّز واقعٌ فِي كَلَامهم. قَالَ أَبُو الْفَتْح (6) : قَالَ أَبُو عَليّ (7) : مَنْ عُرِفَ أُلِفَ وَمن جُهِلَ استُوحِشَ.
--------------------------------------------
তার থেকে। আর এর অর্থ হলো, নেতিবাচকতার (نفي) ক্ষেত্রে উল্লিখিত এই ব্যক্তির অবস্থা (১) মানুষের কাছে পরিচিত হওয়া। সাধারণত দরিদ্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে তুচ্ছ জিনিসের মালিকানা অস্বীকার করা হয়, প্রচুর সম্পদের মালিকানা নয়। সুতরাং বাস্তবে তার ক্ষেত্রে দিরহামের মালিকানা অস্বীকার করার বিষয়টি দিনারের মালিকানা অস্বীকার করার চেয়ে বেশি (فاضل), অর্থাৎ তার চেয়ে অধিক। আর প্রথম বিশ্লেষণ অনুযায়ী 'ফাদলান' (فضلاً) শব্দটি অবস্থা (حال) হিসেবে এবং দ্বিতীয়টি উৎস বা মূলশব্দ (مصدر) হিসেবে গণ্য। এই দুটি অভিমত আল-ফারিসি উল্লেখ করেছেন, তবে দুটি রূপের ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার থেকে ভিন্ন (২) এবং অর্থের বিশ্লেষণও তাদের উল্লিখিত বিষয়ের বিপরীত। কারণ, আমি যেভাবে বিশ্লেষণ করেছি সে অনুযায়ী শব্দ ও অর্থের সামঞ্জস্য স্পষ্ট হয়, তারা যেভাবে করেছেন সেভাবে নয়। সম্ভবত আরবদের ভাষাগত অলঙ্কার ও রূপক ব্যবহারের (تجوزات) সাথে যাদের নিবিড় পরিচয় (৩) গড়ে ওঠেনি, তারা প্রচুর উহ্য রাখার (الحذف) কারণে আমার উল্লিখিত বিষয়ের সমালোচনা করতে পারেন। বিষয়টি অনেকটা সেই কবির কথার মতো: "যখন বর্শার অগ্রভাগ ছাড়া আর কোনো বাহন থাকে না, তখন অনন্যোপায় ব্যক্তির সেটি আরোহণ করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।" (৪) আর আমি প্রথম বিশ্লেষণে (৫) স্পষ্ট করেছি যে, তাদের কথাবার্তায় এ ধরনের উহ্য রাখা এবং রূপক ব্যবহার বিদ্যমান। আবুল ফাতহ (৬) বলেন: আবু আলী (৭) বলেছেন: "যাকে চেনা যায় তার সাথে হৃদ্যতা তৈরি হয়, আর যে অপরিচিত তাকে দেখে মানুষ সংকুচিত হয়।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
القَوْل فِي: الْإِعْرَاب لُغَة البيانُ وأمّا الإعرابُ لُغَة: البيانُ وَنَحْوه فيتبادر إِلَى الذِّهْن فِيهِ أوجه: الأول (1) : وَهُوَ (2) أقربها تبادراً أنْ يكون على نزع الْخَافِض، وَالْأَصْل: الْإِعْرَاب فِي اللغةِ البيانُ، وَيشْهد لهَذَا أنّهم قد يصرِّحون بذلك، أَعنِي بأنْ يَقُولُوا: الإعرابُ فِي اللغةِ البيانُ. وَفِي هَذَا الْوَجْه نظرٌ من وَجْهَيْن: أَحدهمَا (3) أنّ إِسْقَاط الْخَافِض من هَذَا وَنَحْوه لَيْسَ بِقِيَاس، وَاسْتِعْمَال مثل هَذَا التَّرْكِيب مُسْتَمر فِي كَلَام الْعَرَب (4) . الثَّانِي: أنَّهم قد التزموا فِي هَذِه الْأَلْفَاظ التنكير، وَلَو كَانَت على إِسْقَاط الْخَافِض لبقيت على تَعْرِيفهَا الَّذِي كَانَ عِنْد وجود الْخَافِض كَمَا بَقِي التَّعْرِيف فِي قَوْله: تَمُرُّونَ الديارَ وَلم تَعُوجُوا (5) وَأَصله: تمرون (6) على الديار أَو بالديار. وَقد يُزاد على هذَيْن الْوَجْهَيْنِ وَجْهَان آخرَانِ: الأول (7) : أنّه لَيْسَ فِي الكلامِ مَا يتَعَلَّق بِهِ هَذَا الْخَافِض. الثَّانِي: أنّ سُقُوط الْخَافِض لَا يَقْتَضِي النصب من حَيْثُ هُوَ سُقُوط خافض بل من حَيْثُ أنّ الْعَامِل الَّذِي كَانَ الْجَار مُتَعَلقا بِهِ لمّا زَالَ من اللَّفْظ ظُهُور (8) . أَثَره لزوَال مَا كَانَ الْخَافِض يُعَارضهُ نُصبَ (9) . فَإِذا لم يكن فِي الْكَلَام مَا
--------------------------------------------
আলোচনা: শাব্দিক অর্থে ই'রাব (الإعراب) হলো প্রকাশ করা (البيان)। আর শাব্দিক অর্থে ই'রাব (الإعراب) হলো প্রকাশ করা এবং তদ্রূপ বিষয়; এ ক্ষেত্রে মনে কয়েকটি সম্ভাবনা উদিত হয়: প্রথমত (১): এবং এটিই (২) অধিকতর স্পষ্ট সম্ভাবনা যে, এটি অব্যয় বিলোপের (نزع الخافض) ভিত্তিতে হয়েছে। এর মূল রূপ হলো: 'ভাষায় ই'রাব (الإعراب) হলো প্রকাশ করা'। এর সপক্ষে প্রমাণ হলো যে, তাঁরা (ভাষাবিদগণ) এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন; অর্থাৎ তাঁরা বলেন: 'ভাষায় ই'রাব (الإعراب) হলো প্রকাশ করা'। তবে এই মতটিতে দুটি দিক থেকে আপত্তি রয়েছে: প্রথমটি (৩) হলো, এ জাতীয় ক্ষেত্র থেকে অব্যয় বিলোপ (إسقاط الخافض) করা নিয়মানুগ (قياس) নয়, যদিও আরবদের (৪) কথাবার্তায় এ ধরনের বাক্যের ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। দ্বিতীয়ত: তাঁরা এই শব্দগুলোতে অনির্দিষ্টতা (التنكير) বজায় রেখেছেন। যদি এটি অব্যয় বিলোপের (إسقاط الخافض) ভিত্তিতে হতো, তবে অব্যয় থাকাকালীন যে নির্দিষ্টতা (تعريف) ছিল, তা অবশিষ্ট থাকত; যেমনটি এই পঙ্ক্তিতে নির্দিষ্টতা (تعريف) বজায় রয়েছে: "তোমরা জনপদসমূহ অতিক্রম করো অথচ থামো না" (৫)। এর মূল রূপ হলো: 'তামুররূনা আলাদ দিয়ার' বা 'বিদ দিয়ার' (৬)। এই দুটি আপত্তির সাথে আরও দুটি দিক যোগ করা যেতে পারে: প্রথমত (৭): বাক্যে এমন কিছু নেই যার সাথে এই অব্যয় (الخافض) সম্পৃক্ত হতে পারে। দ্বিতীয়ত: অব্যয় বিলোপ (سقوط الخافض) কেবল বিলোপ হওয়ার কারণেই নসব বা জবর (النصب) হওয়াকে আবশ্যক করে না; বরং তা এই কারণে যে, যে আমেল (العامل) বা ক্রিয়ার সাথে অব্যয়টি সম্পৃক্ত ছিল, শব্দ থেকে অব্যয়টি চলে যাওয়ার ফলে তার প্রভাব প্রকাশ (৮) পায়; কারণ বাধা দানকারী অব্যয়টি তখন অপসারিত হয়, ফলে তা মানসুব বা জবরযুক্ত (نصب) হয় (৯)। সুতরাং যখন বাক্যে এমন কিছু না থাকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
يَقْتَضِي النصب من فعل أَو شبهه لم يجز النصب. وَمن هُنَا كَانَ خطأ قَول الْكُوفِيّين فِي: (مَا زيدٌ قَائِما) إنّ (مَا) لم ترفع الِاسْم وَلم تنصب الْخَبَر بل ارْتِفَاع (زيد) على أنّه مُبْتَدأ، وَنصب (قَائِما) على إِسْقَاط الْبَاء (1) . وَهَذَانِ (2) الْوَجْهَانِ لَو صَحا لاقتضيا أنْ لَا يجوز: الإعرابُ فِي اللغةِ البيانُ، ولكنْ يُجِيزهُ على التَّعْلِيق بأعني مضمرة مُعْتَرضَة بَين الْمُبْتَدَأ وَالْخَبَر، والفصل بِالْجُمْلَةِ الاعتراضية جَائِز اتِّفَاقًا. فإنْ قلتَ: فَهَلا (3) قدرت الْجَار الْمَحْذُوف أَو الْمَذْكُور متعلِّقاً بالْخبر (4) الْمُؤخر عَنهُ فإنّ فِيهِ معنى الْفِعْل. قلتُ: لفساده معنى وصناعةً، أمّا معنى فلأنَّه (5) يصير الْمَعْنى: الْإِعْرَاب (6) الْبَيَان الْحَاصِل فِي اللُّغَة [لَا الْبَيَان الْحَاصِل فِي غير اللُّغَة وَلَيْسَ المُرَاد هَذَا] (7) . وأمّا صناعَة (8) فلأنّ (9) الْبَيَان وَنَحْوه مصَادر، وَلَا يتَقَدَّم على الْمصدر معموله، وَلَو كَانَ ظرفا، وَلِهَذَا قَالُوا فِي قَول الحماسي (10) . بعضُ الحِلْمِ عِندَ الجَهْلِ للذِّلَّةِ إذْعانُ إنَّ اللَّام مُتَعَلقَة بإذعان مَحْذُوف أُبدِل مِنْهُ الإذعان الْمَذْكُور، وَلَيْسَت مُتَعَلقَة بالإذعان الْمَذْكُور. فَإِذا امْتَنعُوا من ذَلِك حَيْثُ لم يظْهر تَأْثِير الْمصدر للنصب، وَلم يتجوزوا (11) فِي الْجَار بالحذف (12) ، مُهِمّ عَن (13) تَجْوِيز التَّقْدِيم
--------------------------------------------
ক্রিয়া (فعل) বা ক্রিয়া-সদৃশ এমন কিছু যা নসব (نصب) দাবি করে, তা বিদ্যমান না থাকলে নসব (نصب) করা জায়েজ হবে না। আর এখান থেকেই কুফাবাসীদের (كوفيون) এই বক্তব্যের ভুল প্রতীয়মান হয় যে, (মাজাইদুন কাইমান - مَا زيدٌ قَائِما) বাক্যে 'মা' (مَا) ইসিমকে রফ (رفع) প্রদান করেনি এবং খবরকে নসব (نصب) প্রদান করেনি; বরং 'জাইদ' (زيد) শব্দটির রফ (رفع) হয়েছে মুবতাদা (مبتدأ) হওয়ার কারণে এবং 'কাইমান' (قَائِما) শব্দটির নসব (نصب) হয়েছে 'বা' (باء) হরফটি উহ্য থাকার কারণে (১)। আর এই (২) দুটি অভিমত যদি সঠিক হতো, তবে 'ই'রাব হলো আভিধানিক অর্থে বর্ণনা করা' (الإعرابُ فِي اللغةِ البيانُ) - এই বাক্যটি বলা জায়েজ হতো না। কিন্তু তিনি একটি উহ্য 'আ'নি' (أعني) ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করার ভিত্তিতে এটিকে জায়েজ মনে করেন, যা মুবতাদা (مبتدأ) এবং খবর (خبر)-এর মাঝে মধ্যবর্তী (اعتراضية) হিসেবে এসেছে; আর জুমলা ই'তিরাযিয়্যাহ (الجملة الاعتراضية) বা মধ্যবর্তী বাক্য দ্বারা বিচ্ছেদ করা সর্বসম্মতভাবে জায়েজ। যদি আপনি বলেন: কেন (৩) আপনি উহ্য বা উল্লিখিত জার (جار) হরফটিকে তার পরবর্তী খবর (خبر) (৪)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلق) হিসেবে গণ্য করলেন না? কারণ খবরটির মধ্যে ক্রিয়ার (فعل) অর্থ বিদ্যমান। আমি বলব: অর্থগত এবং ব্যাকরণগত (صناعة) উভয় দিক থেকেই এটি অশুদ্ধ। অর্থগত দিক থেকে কারণ হলো (৫), তখন এর অর্থ দাঁড়ায়: ই'রাব (৬) হলো সেই বর্ণনা যা কেবল ভাষার ক্ষেত্রে অর্জিত হয় [অন্য কোনো ক্ষেত্রে নয়, অথচ এটি উদ্দেশ্য নয়] (৭)। আর ব্যাকরণগত (৮) কারণ হলো (৯), 'বয়ান' (البيان) এবং এ জাতীয় শব্দগুলো মাসদার (مصدر), আর মাসদারের আমলযোগ্য শব্দ (معمول) তার আগে আসতে পারে না, এমনকি যদি সেটি জরফ (ظرف) বা স্থান-কালবাচক শব্দও হয়। আর এই কারণেই হামাসাহর কবির (১০) উক্তিতে তাঁরা বলেছেন: "জ্ঞানের অভাবকালে কিছু সহনশীলতা হলো লাঞ্ছনার কাছে নতি স্বীকার করা..." এখানে 'লাম' (لام) হরফটি একটি উহ্য 'ইযআন' (إذعان) শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা থেকে উল্লিখিত 'ইযআন' শব্দটি স্থলাভিষিক্ত (بدل) হয়েছে; এটি সরাসরি উল্লিখিত 'ইযআন' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। সুতরাং তাঁরা যখন মাসদারের নসব (نصب) প্রদানের প্রভাব প্রকাশিত না হওয়ার ক্ষেত্রেও তা থেকে বিরত থাকেন, এবং হরফে জার উহ্য করার (১২) ক্ষেত্রেও শিথিলতা প্রদর্শন (১১) করেন না, তখন অগ্রবর্তী করার (১৩) অনুমতি না দেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عِنْد وجود هذَيْن (1) أبْعَدُ. فإنْ قلتَ: هَبْ أنَّ هَذَا امْتنع حيثُ الْعَامِل (2) مصدر لكنّه لَا يمْتَنع (3) حَيْثُ هُوَ وصف كَقَوْلِه: الدليلُ لُغَة المرشدُ. قلتُ: بل يمْتَنع لأنّ اسْم الْفَاعِل صلَة الْألف وَاللَّام أيْ: الدليلُ الَّذِي يرشد، وَلَا يتَقَدَّم مَعْمُول الصِّلَة على الْمَوْصُول، وَلَو كَانَ ظرفا، وَلِهَذَا يؤول قَول الله (4) سبحانه وتعالى: (وَكُونُوا فِيهِ من الزاهدين) (5) ، (إنِّي لَكمَا لمن الناصِحينَ) (6) ، (إنِّي لعملِكُم من القالِينَ) (7) . وَلَو قدَّرنا (أل) فِي (8) ذَلِك لمحض التَّعْرِيف، كَمَا يَقُول الْأَخْفَش (9) ، لم نخلص من الْإِشْكَال الثَّانِي، وَهُوَ فَسَاد الْمَعْنى، إِذْ الْمَعْنى حِينَئِذٍ: الدَّلِيل الَّذِي يرشد فِي اللُّغَة لَا الَّذِي يرشد فِي غير اللُّغَة. وَأَيْضًا فَإِذا امْتنع التَّعْلِيق بالْخبر حَيْثُ يكون الْخَبَر مصدرا امْتنع فِي الْبَاقِي، لأنّ هَذِه الْأَمْثِلَة بابٌ واحدٌ. فإنْ قلتَ: قُدِّر التَّعْلِيق بمضاف مَحْذُوف أَي: تَفْسِير الْإِعْرَاب فِي اللُّغَة الْبَيَان، كَمَا قَالُوا: (أَنْت مني فرسخان) على تَقْدِير: بعْدك مني فرسخان (10) وقُدِّر فِي مثلهَا فِي قَوْلهم: الِاسْم مَا دلَّ على معنى فِي نَفسه. أَي: مَا دلَّ على معنى بِاعْتِبَار نَفسه لَا بِاعْتِبَار أَمر خَارج عَنهُ، فإنّه إِذا لم يُحمل على هَذَا اقْتضى أنْ يكون معنى الِاسْم، وَهُوَ الْمُسَمّى (11) ، مَوْجُودا فِي لفظ الِاسْم، وَهُوَ
--------------------------------------------
এই দুইটির (১) উপস্থিতিতে বিষয়টি আরও অসম্ভব। যদি আপনি বলেন: ধরে নিন এটি সেখানে নিষিদ্ধ যেখানে আমিল (عامل) বা প্রভাবক হলো ক্রিয়ামূল (مصدر), কিন্তু এটি সেখানে নিষিদ্ধ (৩) নয় যেখানে এটি একটি বিশেষণ (وصف); যেমন কারো উক্তি: ‘দলিল (دليل) ভাষাগতভাবে হলো পথপ্রদর্শক’। আমি বলব: বরং এটি নিষিদ্ধ, কারণ কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) হলো আলিফ ও লামের সিলাহ (صلة) বা অনুবন্ধ; অর্থাৎ: দলিল (دليل) হলো যা পথপ্রদর্শন করে। আর সিলাহ (صلة)-এর মামুল (معمول) বা সংশ্লিষ্ট পদ মাওসুল (موصول) বা সম্বন্ধসূচক পদের আগে আসতে পারে না, এমনকি তা যরফ (ظرف) বা স্থান-কাল জ্ঞাপক পদ হলেও। আর এই কারণেই মহান আল্লাহর (৪) বাণীকে ব্যাখ্যা করা হয়: (৫) (এবং তারা তার ব্যাপারে অনাগ্রহীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল), (৬) (নিশ্চয় আমি তোমাদের উভয়ের জন্য হিতাকাঙ্ক্ষীদের একজন), (৭) (নিশ্চয় আমি তোমাদের কাজের প্রতি অত্যন্ত অসন্তুষ্ট)। আর আমরা যদি সেখানে (৮) ‘আল’ (ال)-কে কেবল সংজ্ঞায়িত করার উদ্দেশ্যে ধরি, যেমনটি আখফাশ (৯) বলেন, তবুও আমরা দ্বিতীয় জটিলতা অর্থাৎ অর্থের বিকৃতি থেকে নিষ্কৃতি পাব না; কারণ তখন অর্থ দাঁড়াবে: দলিল (دليل) হলো যা কেবল ভাষার ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শন করে, ভাষা বহির্ভূত ক্ষেত্রে নয়। তদুপরি, খবর বা সংবাদ যেখানে ক্রিয়ামূল (مصدر) হয় সেখানে যদি সংশ্লিষ্টতা (تعليق) নিষিদ্ধ হয়, তবে অবশিষ্ট ক্ষেত্রেও তা নিষিদ্ধ হবে, কারণ এই উদাহরণগুলো একই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। আপনি যদি বলেন: এখানে সংশ্লিষ্টতা (تعليق) একটি উহ্য মুদাফ (مضاف) বা সম্বন্ধযুক্ত পদের মাধ্যমে ধরে নেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ: ‘ভাষাগতভাবে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) ব্যাখ্যা হলো বর্ণনা (بيان)’; যেমন তারা বলে থাকেন: ‘তুমি আমার থেকে দুই ফারসাখ দূরে’, এখানে উহ্য মান হলো: ‘তোমার দূরত্ব আমার থেকে দুই ফারসাখ’ (১০)। এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তাদের এই উক্তিতেও উহ্য মান ধরা হয়: ‘বিশেষ্য (اسم) বা নাম হলো তা যা তার আপন সত্তার ওপর কোনো অর্থের নির্দেশ দেয়’; অর্থাৎ: যা আপন সত্তার নিরিখে কোনো অর্থের নির্দেশ দেয়, বহির্ভূত কোনো বিষয়ের নিরিখে নয়। কারণ এটি যদি এই অর্থের ওপর ভিত্তি করে না হয়, তবে তার অর্থ দাঁড়াবে যে বিশেষ্য (اسم)-এর অর্থ—অর্থাৎ যা নাম রাখা হয়েছে (১১)—তা বিশেষ্যের শব্দের মধ্যেই বিদ্যমান, অথচ সেটি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
محَال. وَكَذَا (1) يكون الْمَعْنى فِي تَقْدِير (2) الْإِعْرَاب لُغَة (3) بِاعْتِبَار اللُّغَة الْبَيَان. قلتُ: هَذَا تَقْدِير صَحِيح، ولكنْ يبْقى الإشكالان وهما: أنّ إِسْقَاط الْجَار لَيْسَ بمقياس، وأنّ الْتِزَام التنكير حِينَئِذٍ لَا وَجه لَهُ. الْوَجْه الثَّانِي: أنْ يكون تمييزاً، وَحِينَئِذٍ فَلَا إِشْكَال فِي الْتِزَام تنكيره ولكنّه مُمْتَنع من جِهَة أنّ التَّمْيِيز هُوَ (4) تَفْسِير للمفرد كرطل زيتاً، أَو تَفْسِير للنسبة كطابَ زيدٌ نفسا، وَهنا لم تتقدم نِسْبَة الْبَتَّةَ وَلَا اسْم (5) مُبْهَم (6) وضعا. فإنْ قلتَ: أليسَ الْإِعْرَاب فِي الحدِّ الْمَذْكُور يحْتَمل اللّغَوِيّ والاصطلاحي فَهُوَ مبهمٌ. قُلْنَا: الْأَلْفَاظ الْمُشْتَركَة لَا يَجِيء التَّمْيِيز (7) باعتبارها، لَا تقولُ: (رأيتُ عينا ذَهَبا) (8) على التَّمْيِيز. وسرُّ ذَلِك أنّ الْمُشْتَرك مَوْضُوع للدلالة على ذَات الْمُسَمّى بِاعْتِبَار حَقِيقَته، وإنّما يَجِيء الإلباس لعدم الْقَرِينَة أَو للْجَهْل (9) بهَا، وَأَسْمَاء الْعدَد وَنَحْوهَا مِمَّا يُميز لم تُوضَع للذات بِاعْتِبَار حَقِيقَتهَا الَّتِي تحصل بالتمييز، فإنّه لَا يُفهم من عشْرين إلاّ عشرتان (10) من أيّ مَعْدُود كَانَ، فَهُوَ مَوْضُوع على الْإِبْهَام فافتقر إِلَى التَّمْيِيز (11) ، والمشترك إنّما وضع لمُعين (12) والاشتراك إِنَّمَا حصل (13) عِنْد السَّامع. فإنْ قلتَ يُمكن أنْ يكون من تَمْيِيز النِّسْبَة بِأَن يُقَدَّر قبله مُضَاف أيْ:
--------------------------------------------
অসম্ভব। অনুরূপভাবে (১) ই’রাবের অনুমিত (২) অর্থ হবে আভিধানিক (৩) বিবেচনার ভিত্তিতে বর্ণনা করা। আমি বলি: এটি একটি সঠিক (صحيح) অনুমান, কিন্তু দুটি আপত্তি থেকে যায়, সেগুলো হলো: জার (অব্যয়) বিলুপ্ত করা কোনো মাপকাঠি নয়, এবং সেই অবস্থায় ‘নাকিরা’ বা অনির্দিষ্টবাচক হওয়ার বাধ্যবাধকতার কোনো ভিত্তি নেই। দ্বিতীয় দিক: এটি তাময়িয (تمييز) হওয়া; এমতাবস্থায় এটি অনির্দিষ্টবাচক রাখার বাধ্যবাধকতায় কোনো আপত্তি থাকে না, কিন্তু এটি এই দিক থেকে অসম্ভব যে, তাময়িয (تمييز) হলো কোনো একক শব্দের ব্যাখ্যা (৪), যেমন- এক রতল তেল; অথবা কোনো সম্পর্কের ব্যাখ্যা, যেমন- জায়েদ মনে সন্তুষ্ট হলো। অথচ এখানে কোনো প্রকার সম্পর্ক বা গঠনগতভাবে কোনো অস্পষ্ট (مبهم) বিশেষ্য (৫) (৬) অতিবাহিত হয়নি। যদি আপনি বলেন: উল্লিখিত সংজ্ঞায় ই’রাব শব্দটি কি আভিধানিক ও পরিভাষাগত (اصطلاحي) উভয় অর্থের সম্ভাবনা রাখে না? ফলে তা অস্পষ্ট (مبهم) হয়ে যায়। আমরা বলব: দ্ব্যর্থবোধক শব্দের ক্ষেত্রে তাময়িয (تمييز) (৭) আসে না। আপনি তাময়িয (تمييز) হিসেবে ‘আমি একটি স্বর্ণের চোখ দেখেছি’ (৮) বলতে পারেন না। এর রহস্য হলো, দ্ব্যর্থবোধক শব্দ তার প্রকৃত সত্তার বিবেচনার নাম বুঝানোর জন্য গঠিত হয়েছে, আর সংশয় মূলত কোনো লক্ষণ বা করিনা না থাকা অথবা সে সম্পর্কে অজ্ঞতার (৯) কারণে তৈরি হয়। পক্ষান্তরে সংখ্যার নাম এবং অনুরূপ শব্দসমূহ যেগুলোর তাময়িয (تمييز) বর্ণনা করা হয়, সেগুলো এমন কোনো সত্তার জন্য গঠিত হয়নি যা তাময়িয (تمييز) এর মাধ্যমে অর্জিত প্রকৃত সত্তার ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন হয়। কারণ ‘বিশ’ বলতে কেবল দুটি ‘দশ’ (১০) বোঝায়, তা যে গণনাকৃত বস্তুই হোক না কেন। সুতরাং এটি অস্পষ্টতার ওপর ভিত্তি করেই গঠিত, তাই এটি তাময়িয (تمييز) (১১) এর মুখাপেক্ষী। কিন্তু দ্ব্যর্থবোধক শব্দ মূলত নির্দিষ্ট (১২) বিষয়ের জন্য গঠিত হয়েছে, আর দ্ব্যর্থতা কেবল শ্রোতার নিকট সৃষ্টি (১৩) হয়েছে। যদি আপনি বলেন, এটি সম্পর্কের তাময়িয (تمييز) হওয়া সম্ভব এভাবে যে, তার পূর্বে একটি মুদাফ উহ্য ধরা হবে, অর্থাৎ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
شرح الْإِعْرَاب، فَيكون من بَاب: (أعجبني طيبُهُ أَبَا) ، فإنّ كَون (أَبَا) تمييزاً إنّما هُوَ بِاعْتِبَار قَوْلك (طيبُهُ) لَا (1) بِاعْتِبَار الْجُمْلَة كلهَا. قلتُ: تَمْيِيز النِّسْبَة الْوَاقِع بعد المتضايفين لَا يكون إلاّ فَاعِلا فِي الْمَعْنى، ثمَّ قد يكون مَعَ ذَلِك فَاعِلا فِي الصِّنَاعَة بِاعْتِبَار الأَصْل فَيكون محولاً عَن الْمُضَاف إِلَيْهِ نَحْو: (أعجبني طيبُ زيدٍ أَبَا) إِذا كَانَ المُرَاد الثَّنَاء على أبِ زيد، فإنّ أَصله: أعجبني طيبُ أبِ زيدٍ. وَقد لَا يكون كَذَلِك فَيكون صَالحا لدُخُول (من) نَحْو: (للهِ دره فَارِسًا) و (ويحه رجلا) و (ويله إنْسَانا) . فَإِن الدّرّ بِمَعْنى الْخَيْر، والويح وَالْوَيْل (2) بِمَعْنى الْهَلَاك، ونسبتهما إِلَى الرجل نِسْبَة الْفِعْل إِلَى فَاعله. وَمِنْه: (أعجبني طيبُ زيدٍ أَبَا) إِذا كَانَ الْأَب نفس زيد. وتعلُّقُ الشَّرْح بالإعراب وَنَحْوه إنّما هُوَ تعلُّقُ الْفِعْل بالمفعول لَا بالفاعل، ثمَّ إنّا لَا نعلم تمييزاً جَاءَ بِاعْتِبَار متضايفين (3) حُذِفَ المضافُ مِنْهُمَا. الْوَجْه الثَّالِث: أنّ يكون مَفْعُولا مُطلقًا. وأصل (4) الْإِعْرَاب: تَغْيِير الآخر لعامل. اصْطَلحُوا على ذَلِك اصْطِلَاحا، ثمَّ حُذِف الْعَامِل وَاعْترض بِالْمَصْدَرِ بَين الْمُبْتَدَأ وَالْخَبَر. وَهَذَا الْوَجْه مَرْدُود أَيْضا لأنَّه مُمْتَنع فِي قَوْلك: الْإِعْرَاب لُغَة الْبَيَان، فإنّ اللُّغَة لَيست مصدرا، لأنّها لَيست اسْما للْحَدَث (5) ، وَلِهَذَا تُوصَف بِمَا تُوصَف بِهِ الْأَلْفَاظ المسموعة، فيُقال: لُغَة فصيحة كَمَا يُقَال: كلمة فصيحة، اسْم (6) للفظ المسموع.
--------------------------------------------
ই'রাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ)-এর ব্যাখ্যা; এটি (أعجبني طيبُهُ أَبَا) ('তার পিতার সুঘ্রাণ আমাকে মুগ্ধ করেছে') পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত হবে। কেননা এখানে (أَبَا) শব্দটি তমিজ (تمييز) হিসেবে গণ্য হয়েছে আপনার বক্তব্য (طيبُهُ) (তার সুঘ্রাণ)-এর বিবেচনায়, পুরো বাক্যের বিবেচনায় নয়। আমি বলি: মুদাফ-মুদাফ ইলাইহ (المتضايفين)-এর পরে অবস্থিত সম্বন্ধসূচক তমিজ (تمييز) অর্থের দিক থেকে ফায়েল (فاعل) ছাড়া অন্য কিছু হয় না। অতঃপর কখনো তা মূল কাঠামোর বিবেচনায় ব্যাকরণগতভাবেও ফায়েল (فاعل) হতে পারে; সেক্ষেত্রে তা মুদাফ ইলাইহ (المضاف إليه) থেকে রূপান্তরিত হয়ে থাকে। যেমন: (أعجبني طيبُ زيدٍ أَبَا) যখন এর দ্বারা জায়েদ-এর পিতার প্রশংসা করা উদ্দেশ্য হয়; কারণ এর মূল রূপ ছিল: (أعجبني طيبُ أبِ زيدٍ)। আবার কখনো বিষয়টি এমন হয় না, বরং তা (من) অব্যয়টি প্রবেশের উপযোগী হয়; যেমন: (للهِ دره فَارِسًا), (ويحه رجلا) এবং (ويله إنْسَانا)। কারণ 'আদ-দার' কল্যাণের অর্থে এবং 'আল-ওয়াইহ' ও 'আল-ওয়াইল' ধ্বংসের অর্থে ব্যবহৃত হয়; আর এই শব্দদ্বয়ের ব্যক্তির সাথে সম্বন্ধ করাটা ফায়েল (فاعل)-এর সাথে ক্রিয়ার সম্বন্ধের ন্যায়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো: (أعجبني طيبُ زيدٍ أَبَا) যখন পিতা স্বয়ং জায়েদ হয়। আর ই'রাব ইত্যাদির সাথে 'শারহ' (ব্যাখ্যা)-এর সংশ্লিষ্টতা মূলত মাফউল (مفعول)-এর সাথে ক্রিয়ার সংশ্লিষ্টতার মতো, ফায়েল (فاعل)-এর সাথে নয়। তদুপরি, মুদাফ-মুদাফ ইলাইহ (المتضايفين) থেকে মুদাফ (مضاف) বিলুপ্ত হওয়ার পর তমিজ (تمييز) আসার কোনো উদাহরণ আমাদের জানা নেই। তৃতীয় দিক: এটি মাফউলে মুতলাক (مفعول مطلق) হতে পারে। আর ই'রাব-এর মূল অর্থ হলো: আমেল (عامل)-এর কারণে শব্দের শেষভাগের পরিবর্তন। ব্যাকরণবিদগণ এই পরিভাষাটি পারিভাষিকভাবে গ্রহণ করেছেন, অতঃপর আমেল (عامل) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং মুবতাদা (مبتدأ) ও খবর (خبر)-এর মাঝে মাসদার (مصدر) নিয়ে আসা হয়েছে। এই মতটিও প্রত্যাখ্যাত, কারণ আপনার উক্তি "ই'রাব হলো বর্ণনার ভাষা"-এর ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব। কারণ ভাষা বা 'লুগাত' কোনো মাসদার (مصدر) নয়, যেহেতু এটি কোনো ক্রিয়ামূল (حدث)-এর নাম নয়। এই কারণেই একে সেসব গুণেই গুণান্বিত করা হয় যা শ্রুত শব্দাবলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুতরাং বলা হয়: প্রাঞ্জল ভাষা, যেমন বলা হয়: প্রাঞ্জল শব্দ, যা মূলত শ্রুত শব্দের নাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَزعم أَبُو عَمْرو بن الْحَاجِب (1) فِي أَمَالِيهِ: أنّ ذَلِك على الْمَفْعُول الْمُطلق، وأنّه فِي الْمصدر الْمُؤَكّد لغيره. قَالَ: وَذَلِكَ (2) لأنّ معنى قَوْلنَا: (الإجماعُ لُغَة العزمُ) : مَدْلُول الْإِجْمَاع لُغَة العزمُ. وَالدّلَالَة تَنْقَسِم إِلَى دلَالَة شرع وَإِلَى دلَالَة لُغَة وَإِلَى دلَالَة عرف، فلمّا كَانَت مُحْتَملَة، وَذَلِكَ (3) أحد المحتملات، كَانَ مصدرا من بَاب الْمصدر الْمُؤَكّد لغيره. وَفِيمَا قَالَه نظر من وَجْهَيْن: أَحدهمَا: مَا ذكرنَا من أنّ اللُّغَة لَيست مصدرا لأنّها لَيست اسْما للْحَدَث. الثَّانِي: إنّ ذَلِك لَو كَانَ مصدرا مؤكداً لغيره لَكَانَ (4) إنّما يَأْتِي بعد الْجُمْلَة فإنّه لَا يجوز أنْ يتوسط وَلَا أنْ يتَقَدَّم، لأنّه لَا يُقَال: (زَيدٌ (5) حقًّا ابْني) وَلَا (حقًّا زيدٌ ابْني) وإنْ كَانَ الزجّاج (6) يُجيز ذَلِك، ولكنّ الْجُمْهُور على خِلَافه. الْوَجْه الرَّابِع: أنْ يكون مَفْعُولا لأَجله، وَالتَّقْدِير: تَفْسِير الْإِعْرَاب لأجل الِاصْطِلَاح، أَي: لأجل بَيَان الِاصْطِلَاح. وَهَذَا الْوَجْه أَيْضا لَا يَسْتَقِيم، لأنّ المنتصب (7) على الْمَفْعُول لأَجله (8) لَا يكون إِلَّا مصدرا ك (قمتُ إجلالاً لَهُ) ، وَلَا يجوز: (جئْتُك الماءَ والعشبَ) بِتَقْدِير مُضَاف، أَي: ابتغاءَ المَاء والعشب.
--------------------------------------------
আবু আমর ইবনুল হাজিব (১) তাঁর 'আমালি' গ্রন্থে দাবি করেছেন যে: এটি মফউল মুতলাক (مفعول مطلق) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এটি অন্য পদের অর্থকে তাকিদ প্রদানকারী মাসদার (المصدر المؤكد لغيره)। তিনি বলেন: এটি এ কারণে যে, আমাদের উক্তি "ইজমা আভিধানিকভাবে সংকল্প" এর অর্থ হলো: ইজমা-এর আভিধানিক অর্থ হলো সংকল্প। আর অর্থবোধকতা শরয়ী অর্থবোধকতা, আভিধানিক অর্থবোধকতা এবং প্রথাগত (عرف) অর্থবোধকতা—এই কয়েক ভাগে বিভক্ত। যেহেতু এখানে একাধিক অর্থের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি সেই সম্ভাব্য অর্থগুলোর একটি, তাই এটি অন্য পদের অর্থকে তাকিদ প্রদানকারী মাসদার (المصدر المؤكد لغيره)-এর অন্তর্ভুক্ত হবে। তাঁর এই বক্তব্যের ব্যাপারে দুই দিক থেকে আপত্তির অবকাশ রয়েছে: প্রথমত: আমরা যা উল্লেখ করেছি যে, 'লুগাহ' (আভিধানিক রূপ) শব্দটি কোনো মাসদার (مصدر) নয়, কারণ এটি কোনো ঘটনার (حدث) নাম নয়। দ্বিতীয়ত: এটি যদি অন্য পদের অর্থকে তাকিদ প্রদানকারী মাসদার (مصدر مؤكد لغيره) হতো, তবে তা অবশ্যই বাক্যের শেষে আসত। কারণ এটি বাক্যের মাঝখানে বা শুরুতে আসা বৈধ নয়। কেননা এভাবে বলা যায় না: (জায়েদ নিশ্চিতভাবে (৫) আমার পুত্র) অথবা (নিশ্চিতভাবে জায়েদ আমার পুত্র), যদিও আল-জাজ্জাজ (৬) এটি বৈধ বলেছেন, তবে জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণ এর বিপরীত মত পোষণ করেন। চতুর্থ দিক: এটি মফউল লি-আলিহি (مفعول لأجله) হতে পারে। এর মূল রূপ হবে: পরিভাষার খাতিরে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ বর্ণনা করা; অর্থাৎ পারিভাষিক অর্থ স্পষ্ট করার জন্য। এই দিকটিও সঠিক নয়; কারণ যা কিছু মফউল লি-আলিহি (مفعول لأجله) (৮) হিসেবে নসব বা জবরযুক্ত হয় (৭), তা মাসদার (مصدر) হওয়া আবশ্যক, যেমন: (আমি তাঁর সম্মানে দাঁড়িয়েছি)। আর কোনো উহ্য মুদাফ (مضاف) ধরে নিয়ে এমন বলা বৈধ নয়: (আমি তোমার কাছে পানি ও ঘাস এসেছি), অর্থাৎ পানি ও ঘাসের অন্বেষণে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الْوَجْه الْخَامِس: وَهُوَ الظَّاهِر (1) أنْ يكون حَالا على تَقْدِير مُضَاف إِلَيْهِ من الْمَجْرُور ومضافين من الْمَنْصُوب، وَالْأَصْل: تَفْسِير الْإِعْرَاب مَوْضُوع أهل اللُّغَة أَو مَوْضُوع أهل الِاصْطِلَاح. ثمَّ حُذف المتضايفان (2) على حدِّ حذفهما فِي قَوْله تَعَالَى: (فقبضتُ قَبْضَةً مِنْ أَثَرِ الرسولِ) (3) أيْ: من أَثَرِ حافرِ فرسِ الرسولِ. ولمّا أُنيب الثَّالِث عمّا هُوَ الْحَال بِالْحَقِيقَةِ الْتزم تنكيره لنيابته عَن لَازم التنكير كَمَا فِي قَوْلهم: (قَضِيَّةٌ وَلَا أَبَا حَسَنٍ لَهَا) (4) ، وَالْأَصْل: وَلَا مثل أبي الْحسن لَهَا، فلمّا أُنيب أَبُو الْحسن (5) عَن (مثل) جرد عَن أَدَاة التَّعْرِيف. وَلَك أنْ تَقول: الأَصْل مَوْضُوع اللُّغَة أَو مَوْضُوع الِاصْطِلَاح على نِسْبَة الْوَضع إِلَى اللُّغَة أَو إِلَى (6) الِاصْطِلَاح مجَازًا، وَحِينَئِذٍ فَلَا يكون فِيهِ إلاّ حذف مُضَاف وَاحِد، وَيصير نَظِير قَول الْعَرَب: (كنتُ أظنُّ العقربَ أشدَّ لسعةً من الزنبورِ فَإِذا هُوَ إيّاها) (7) ، على تَأْوِيل ابْن الْحَاجِب فإنّه أعرب (إيّاها) حَالا على أنّ الأَصْل: فَإِذا هُوَ مَوْجُود مثلهَا، فحُذِف الْخَبَر كَمَا حُذِف فِي: (خرجت فَإِذا الأسدُ) ثمَّ حُذِف الْمُضَاف، وَهُوَ (مثل) وَقَامَ (9) الْمُضَاف إِلَيْهِ مقَامه فتحوَّل (8) الضَّمِير الْمَجْرُور ضميراً مَنْصُوبًا بل تَخْرِيج مَا نَحن فِيهِ على ذَلِك أسهلُ لأنّ لفظ الضَّمِير معرفَة (10) فانتصابُهُ على الْحَال بعيدٌ. وَالظَّاهِر فِي الْمِثَال الْمَذْكُور أنّه مفعول لفعل مَحْذُوف هُوَ الْخَبَر، وَالتَّقْدِير: فَإِذا هُوَ يشبهها، ولمّا حُذِف الْفِعْل انْفَصل الضَّمِير، أَو أنّه الضَّمِير (11) ، أَو أنّه هُوَ الْخَبَر كَمَا فِي قَول الْأَكْثَرين: فَإِذا هُوَ هِيَ، ولكنْ أُنيب ضمير النصب عَن ضمير الرّفْع.
--------------------------------------------
পঞ্চম পদ্ধতি: আর এটিই সুস্পষ্ট (الظاهر) (১) যে, এটি একটি 'হাল' (অবস্থাসূচক পদ) হবে—সেই ভিত্তিতে যেখানে মাজরুর (সম্বন্ধযুক্ত পদ) থেকে একটি 'মুদাফ ইলাইহি' এবং মানসুব (কর্মবাচক পদ) থেকে দুটি 'মুদাফ' উহ্য ধরা হয়। এর মূল রূপ হলো: ব্যাকরণিক বিশ্লেষণটি ভাষাবিদদের প্রয়োগ অথবা পারিভাষিক ব্যক্তিবর্গের (أهل الاصطلاح) প্রায়োগিক পরিভাষা অনুযায়ী হওয়া। অতঃপর সম্বন্ধযুক্ত পদ দুটিকে (২) উহ্য করা হয়েছে, ঠিক যেভাবে মহান আল্লাহর এই বাণীতে উহ্য করা হয়েছে: (অতঃপর আমি রাসূলের পদচিহ্নের এক মুষ্টি গ্রহণ করলাম) (৩); অর্থাৎ: রাসূলের ঘোড়ার খুরের চিহ্নের অংশ থেকে। আর যখন তৃতীয় পদটিকে প্রকৃত 'হাল'-এর স্থলাভিষিক্ত করা হলো, তখন সেটিকে 'নাকিরাহ' (অনির্দিষ্ট) রাখা আবশ্যক হয়ে পড়ল; কারণ এটি এমন একটি পদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে যা প্রকৃতিগতভাবেই 'নাকিরাহ' হওয়া অপরিহার্য—যেমন তাদের প্রবাদ: (এটি এমন এক সমস্যা যার জন্য কোনো আবুল হাসান নেই) (৪)। এর মূল রূপ ছিল: তার জন্য আবুল হাসানের মতো কেউ নেই। সুতরাং যখন আবুল হাসান শব্দটিকে (৫) 'মিছল' (مثل) শব্দের স্থলাভিষিক্ত করা হলো, তখন তাকে নির্দিষ্টতাবাচক অব্যয় থেকে মুক্ত করা হলো। আপনি এটিও বলতে পারেন যে: মূল রূপটি হলো 'ভাষাগত প্রয়োগ' অথবা 'পারিভাষিক প্রয়োগ', যেখানে রূপকভাবে (مجازا) সম্বন্ধটি ভাষার দিকে অথবা পরিভাষার (৬) দিকে করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এখানে কেবল একটি 'মুদাফ' উহ্য থাকবে। আর এটি আরবদের এই বাণীর সদৃশ হবে: (আমি মনে করতাম বিচ্ছু বোলতার চেয়েও বেশি দংশনকারী, কিন্তু দেখা গেল যে এটি সেটিই) (৭)। এটি ইবনুল হাজিবের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কারণ তিনি (ইইয়াহা) শব্দটিকে 'হাল' হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন এই ভিত্তিতে যে, এর মূল রূপ হলো: সেটি তার সদৃশ হিসেবে বিদ্যমান। ফলে এখানে 'খবর' (বিধেয়) উহ্য করা হয়েছে যেমনটি (আমি বের হলাম এবং হঠাৎ বাঘটি উপস্থিত) বাক্যে উহ্য করা হয়। অতঃপর 'মুদাফ' তথা 'মিছল' (مثل) শব্দটি উহ্য করা হয়েছে এবং 'মুদাফ ইলাইহি' তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে (৯)। ফলে 'মাজরুর' সর্বনামটি 'মানসুব' সর্বনামে রূপান্তরিত হয়েছে (৮)। বরং আমাদের আলোচ্য বিষয়টি এর ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করা আরও সহজ, কারণ সর্বনাম শব্দটি 'মারেফা' (নির্দিষ্ট) (১০), তাই সেটিকে 'হাল' হিসেবে মানসুব করা দূরহ বিষয়। উক্ত উদাহরণে সুস্পষ্ট (الظاهر) বিষয়টি হলো, এটি একটি উহ্য ক্রিয়ার 'মাফউল' (কর্ম), যা মূলত 'খবর' ছিল। এর বিশ্লেষণ হবে: অতঃপর সেটি তার সদৃশ হচ্ছে। যখন ক্রিয়াটি উহ্য হলো, তখন সর্বনামটি পৃথক হয়ে গেল। অথবা এটিই সেই সর্বনাম (১১), অথবা এটিই 'খবর', যেমনটি অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মত: (অতঃপর সেটি সেটিই); তবে এখানে কর্তৃবাচক সর্বনামের স্থলে কর্মবাচক সর্বনামকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
القَوْل فِي: يجوز كَذَا خلافًا لفُلَان وأمّا قَوْله: (يجوز كَذَا خلافًا لفلانٍ) فقد يُقال: إنّه يجوز فِيهِ وَجْهَان: الأول: أنْ يكون مصدرا كَمَا أنّ قَوْلك: (يجوز كَذَا اتِّفَاقًا وإجماعاً) بِتَقْدِير: اتَّفقُوا على ذَلِك اتِّفَاقًا، وَأَجْمعُوا عَلَيْهِ إِجْمَاعًا. وَيشكل على هَذَا أنّ فعله المقدّر إمّا اخْتلفُوا أَو خالفوا أَو خَالَفت. فَإِن كَانَ (اخْتلفُوا) أشكل عَلَيْهِ أَمْرَانِ: أَحدهمَا (1) : أنّ مصدر اخْتلف إنّما هُوَ الِاخْتِلَاف لَا الْخلاف. الثَّانِي: أنّ ذَلِك يَأْبَى أَن يَقُول بعده: لفُلَان. وإنْ كَانَ (خالفوا) أَو (خَالَفت) أشكل عَلَيْهِ أنّ (خَالف) لَا يتَعَدَّى باللامِ بل بِنَفسِهِ. وَقد يخْتَار هَذَا الْقسم ويُجاب عَن هَذَا الِاعْتِرَاض بأنْ يُقال: تُقدر (2) اللَّام مثلهَا فِي: (سقيا لَهُ) (3) أَي مُتَعَلقَة بِمَحْذُوف تَقْدِيره: أَعنِي لَهُ أَو إرادتي لَهُ، أَلا ترى أنَّها لَا تتَعَلَّق ب (سقيا) لأنّ سقى يتَعَدَّى بِنَفسِهِ. الْوَجْه الثَّانِي: أنْ يكونَ حَالا، وَالتَّقْدِير: أَقُول خلافًا لفُلَان، أيْ: مُخَالفا لَهُ. وحذفُ القَوْل كثير جدًّا حَتَّى قَالَ أَبُو عَليّ (4) : (هُوَ من حَدِيث الْبَحْر قل وَلَا حرج) . ودلّ على هَذَا الْعَامِل أنّ كل (5) حكم ذكره المصنفون فهم قَائِلُونَ بِهِ. وكأنّ القَوْل مُقَدّر قبل كلّ مَسْأَلَة. وَهَذِه الْعلَّة قريبَة من الْعلَّة الَّتِي ذكروها (6) لاختصاصهم الظروف بالتوسع فِيهَا، وَذَلِكَ أنّهم (7) قَالُوا: إنّ الظروف منزلَة من الْأَشْيَاء منزلَة أَنْفسهَا لوقوعها فِيهَا وأنّها لَا تنفكّ عَنْهَا، وَالله تَعَالَى أعلمُ.
--------------------------------------------
আলোচনা: "অমুকের বিপরীতে এটি বৈধ" — এই উক্তিটি প্রসঙ্গে। আর তার বক্তব্য: "অমুকের বিপরীতে এটি বৈধ"; এ বিষয়ে বলা যেতে পারে যে, এতে দুটি দিক সম্ভব: প্রথমত: এটি ক্রিয়ামূল (مصدر) হওয়া। যেমন আপনার উক্তি: "ঐক্যমত্য (اتفاقا) ও ইজমা (إجماعا) অনুযায়ী এটি বৈধ"; এখানে উহ্য রূপ হলো: "তারা এ বিষয়ে ঐক্যমত্য পোষণ করেছে" এবং "তারা এ বিষয়ে ইজমা করেছে"। তবে এতে সমস্যা হলো যে, এর উহ্য ক্রিয়াটি হয় 'তারা মতভেদ করেছে', 'তারা বিরোধিতা করেছে' অথবা 'আমি বিরোধিতা করেছি'। যদি সেটি 'তারা মতভেদ করেছে' হয়, তবে এতে দুটি বিষয় আপত্তিকর: প্রথমত (১): 'ইখতালাফা' ক্রিয়ার ক্রিয়ামূল (مصدر) হলো 'ইখতিলাফ', 'খিলাফ' নয়। দ্বিতীয়ত: এটি এরপরে 'অমুকের জন্য' কথাটি যুক্ত করতে বাধা দেয়। আর যদি ক্রিয়াটি 'তারা বিরোধিতা করেছে' বা 'আমি বিরোধিতা করেছি' হয়, তবে আপত্তি হলো যে, 'খালাফা' ক্রিয়াটি 'লাম' বর্ণের মাধ্যমে কর্ম গ্রহণ করে না বরং সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে। তবে কেউ এই মতটি গ্রহণ করতে পারেন এবং এই আপত্তির জবাবে বলা যেতে পারে: এখানে 'লাম' বর্ণটিকে উহ্য ধরা হবে ঠিক তেমন, যেমনটি "তার জন্য সুপেয় পানীয় হোক" (৩) বাক্যে রয়েছে; অর্থাৎ এটি একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট যার সম্ভাব্য রূপ: "আমি তার উদ্দেশ্যে বলছি" বা "তার জন্য আমার ইচ্ছা"। আপনি কি দেখছেন না যে, এটি 'সুকিয়া' শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়? কারণ 'সাক্বাহ' ক্রিয়াটি সরাসরি কর্ম গ্রহণ করে। দ্বিতীয় দিক: এটি অবস্থা (حال) হওয়া। এর উহ্য রূপ হলো: "আমি অমুকের বিপরীতে বলছি", অর্থাৎ "তার বিরোধী হিসেবে"। 'বলা' বা উক্তি উহ্য রাখার বিষয়টি অত্যন্ত ব্যাপক, এমনকি আবু আলী (৪) বলেছেন: "এটি সমুদ্রের হাদিসের ন্যায়, যা ইচ্ছা বলো, তাতে কোনো অসুবিধা নেই"। এই কার্যকারক (عامل) এ বিষয়ের ওপর প্রমাণ দেয় যে, গ্রন্থকারগণ যে সকল বিধান উল্লেখ করেছেন, তারা সেগুলোর প্রবক্তা। যেন প্রতিটি মাসআলার পূর্বেই 'উক্তি' শব্দটি উহ্য রয়েছে। এই কারণটি সেই কারণের নিকটবর্তী যা তারা সময় বা স্থানবাচক অব্যয় (ظرف) এর প্রসারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করার জন্য উল্লেখ করেছেন (৬)। সেটি হলো, তারা (৭) বলেছেন: সময় বা স্থানবাচক অব্যয় (ظرف) বস্তুসমূহের ক্ষেত্রে খোদ বস্তুর স্থলাভিষিক্ত, কারণ বস্তুগুলো তার মধ্যেই ঘটে থাকে এবং তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
القَوْل فِي: قَالَ أَيْضا وأمّا قَوْله: (قَالَ أَيْضا) فَاعْلَم أنّ (أَيْضا) مصدر آض (1) . وآض فعل مُسْتَعْمل (2) ، وَله مَعْنيانِ: أَحدهمَا: رَجَعَ، فَيكون تَاما، قَالَ صَاحب الْمُحكم (3) : (وآض إِلَى أهل: رَجَعَ إِلَيْهِم) انْتهى. وَكَذَا قَالَ ابْن السِّكيِّت (4) وَغَيرهمَا (5) (وَهَكَذَا هُوَ الْمُسْتَعْمل مصدره هُنَا. الثَّانِي: صَار، فَيكون نَاقِصا عَاملا عمل كَانَ. ذكره ابْن مَالك (6) وَغَيره، وأنشدوا قَول الراجز (7) . رَبَّيْتُهُ حَتَّى إِذا تَمَعْدَدَا وآضَ نَهْداً كالحِصانِ أجْرَدا كانَ جزائي بالعصا أنْ أُجْلَدا وَرَوَاهُ الْجَوْهَرِي (8) : وَصَارَ نهداً. يُقَال: تمعدد الْغُلَام إِذا شبّ وَغلظ. والنهد: الْعَظِيم (9) الْجِسْم من الْخَيل، وإنّما يُوصف بِهِ الْإِنْسَان على وَجه التَّشْبِيه. والأجرد: الَّذِي لَا شعر عَلَيْهِ.
--------------------------------------------
নিম্নোক্ত উক্তিটি প্রসঙ্গে আলোচনা: "তিনি আরও বলেছেন" (قَالَ أَيْضا)
জেনে রাখুন যে, "আইদান" (أَيْضا) শব্দটি "আ-দা" (آض) এর মূলধাতু (مصدر)। আর "আ-দা" একটি ব্যবহৃত ক্রিয়া (فعل مستعمل), যার দুটি অর্থ রয়েছে:
প্রথমত: ফিরে আসা; এক্ষেত্রে এটি একটি পূর্ণ (تام) ক্রিয়া। 'আল-মুহকাম' গ্রন্থের প্রণেতা বলেন: "সে তার পরিবারের নিকট ফিরে এসেছে (আ-দা)", অর্থাৎ সে তাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করেছে। ইবনুল সিক্কিত এবং অন্যান্য ভাষাবিদগণও অনুরূপ বলেছেন। আর এখানে শব্দটির এই অর্থেই মূলধাতু (مصدر) হিসেবে প্রয়োগ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: হওয়া বা পরিণত হওয়া; এক্ষেত্রে এটি একটি অসম্পূর্ণ (ناقص) ক্রিয়া এবং 'কানা' (كَانَ) এর ন্যায় আমল (عمل) করে। ইবনে মালিক ও অন্যান্যরা এটি উল্লেখ করেছেন এবং জনৈক রাজজ (الراجز) কবির পঙ্ক্তি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
"আমি তাকে লালন-পালন করেছি যতক্ষণ না সে সুঠাম হয়েছে,
এবং ঘোড়ার ন্যায় লোমহীন বিশালদেহীতে পরিণত হয়েছে,
তার প্রতিদান লাঠির আঘাত ভিন্ন আর কী হতে পারে!"
আল-জাওহারী এটি এভাবে বর্ণনা করেছেন: "এবং সে পরিণত হয়েছে (صَارَ)"। বলা হয়: কিশোরটি যখন বেড়ে ওঠে ও স্থূলকায় হয় তখন তাকে 'তামাদদাদা' বলা হয়। আর 'নাহদ' হলো ঘোড়ার ক্ষেত্রে বিশালদেহী; মানুষের ক্ষেত্রে এটি কেবল উপমা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর 'আজরাদ' হলো যার শরীরে কোনো লোম নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وانتصاب (أَيْضا) فِي الْمِثَال الْمَذْكُور لَيْسَ على الْحَال من ضمير (قَالَ) كَمَا توهمه جمَاعَة من النَّاس فزعموا أنّ التَّقْدِير: وَقَالَ أَيْضا أَي: رَاجعا إِلَى القَوْل. وَهَذَا لَا يحسن تَقْدِيره إلاّ إِذا كَانَ هَذَا القَوْل إنّما صدر من الْقَائِل بعد صُدُور القَوْل السَّابِق حَتَّى يَصح أنْ يُقَال: إنّه قَالَ رَاجعا إِلَى القَوْل بَعْدَمَا فرغ مِنْهُ، وَلَيْسَ ذَلِك بِشَرْط فِي اسْتِعْمَال (أَيْضا) ، أَلا ترى أنّك تَقول: قلتُ اليومَ كَذَا، وَقلت أمسِ أَيْضا. وَكَذَلِكَ تَقول: كتبت اليومَ، وكتبت أمسِ أَيْضا. وَالَّذِي يظْهر لي أنّه مفعول مُطلق حُذِف عَامله أَو حَال حُذِف عاملها وصاحبها، وَذَلِكَ أنّك قلت: وَقَالَ فلَان، ثمَّ استأنفت جملَة فَقلت: ارْجع إِلَى الْأَخْبَار (1) رُجُوعا وَلَا اقْتصر على مَا قدَّمت، فَيكون مَفْعُولا مُطلقًا. أَو التَّقْدِير: أخبر أَيْضا أَو أحكي أَيْضا، فَيكون حَالا من ضمير الْمُتَكَلّم، فَهَذَا هُوَ الَّذِي يسْتَمر فِي جَمِيع الْمَوَاضِع. وَمِمَّا يؤنسك بِمَا (2) ذكرته من أنّ الْعَامِل مَحْذُوف أنّك تَقول: (عِنْده مالٌ وَأَيْضًا علمٌ) فَلَا يكون قبلهَا مَا يصلح للْعَمَل فِيهَا، فَلَا بُدَّ حِينَئِذٍ من التَّقْدِير. وعَلى ذَلِك قَالَ الشاطبي (3) رضي الله عنه وَقد ذكر أنّه لَا يدغِم الْحَرْف إِذا كَانَ (4) تَاء مُتَكَلم أَو مُخَاطب أَو منوَّناً أَو مشدَّداً: ككنتُ تُرَابا أنْتَ تُكْرِهُ واسعٌ عليمٌ وَأَيْضًا تَمَّ مِيقاتُ مُثِّلا (5) قَالَ أَبُو شامة (6) رحمه الله قَوْله: (أَيْضا) أيْ أمثل النَّوْع الرَّابِع وَلَا
--------------------------------------------
উল্লিখিত উদাহরণে 'আয়দান' শব্দের নসব (মানসুব হওয়া) 'কাল' (তিনি বলেছেন) ক্রিয়ার সর্বনাম থেকে হাল (অবস্থা) হিসেবে নয়, যেমনটি একদল লোক ধারণা করেছেন। তারা দাবি করেছেন যে এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: 'তিনি পুনরায় বলার দিকে ফিরে আসার মাধ্যমে বলেছেন'। আর এই রূপটি তখনই যথাযথ হয় যখন বর্তমান বক্তব্যটি বক্তার পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী বক্তব্যের পরে প্রকাশ পায়, যাতে এটি বলা সঠিক হয় যে—তিনি বক্তব্য সমাপ্ত করার পর পুনরায় বলার দিকে ফিরে আসার মাধ্যমে বলেছেন। অথচ 'আয়দান' ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি কোনো শর্ত নয়। আপনি কি দেখেন না যে আপনি বলেন: 'আজ আমি এটি বলেছি এবং গতকালও (আয়দান) বলেছি'। তদ্রূপ আপনি বলেন: 'আজ আমি লিখেছি এবং গতকালও লিখেছি (আয়দান)'। আমার কাছে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, এটি একটি মাফউলে মুতলাক যার আমিল (ক্রিয়া) উহ্য রয়েছে, অথবা এটি একটি হাল (অবস্থা) যার আমিল ও সাহিবুল হাল উহ্য রয়েছে। আর তা এভাবে যে, আপনি বললেন: 'অমুক বলেছেন', তারপর একটি নতুন বাক্য শুরু করে বললেন: 'আমি বর্ণনা (خبر) গুলোর দিকে পুনরায় ফিরে আসছি এবং আমি যা পেশ করেছি তার ওপর সীমাবদ্ধ থাকছি না'; এমতাবস্থায় এটি মাফউলে মুতলাক হবে। অথবা এর প্রচ্ছন্ন রূপ হবে: 'আমি আরও সংবাদ (خبر) দিচ্ছি' অথবা 'আমি আরও বর্ণনা করছি', এমতাবস্থায় এটি মুতাকাল্লিম বা বক্তার সর্বনাম থেকে হাল (অবস্থা) হবে। আর এটিই সেই নিয়ম যা সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। আমিলটি যে উহ্য থাকে সে ব্যাপারে আমি যা উল্লেখ করেছি তার সমর্থনে একটি উদাহরণ হলো আপনার এই কথা: 'তার নিকট সম্পদ আছে এবং জ্ঞানও (আয়দান) আছে'। এখানে 'আয়দান'-এর পূর্বে এমন কিছু নেই যা এতে আমল করার যোগ্য, তাই এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রচ্ছন্ন রূপ মানতে হবে। এর ওপর ভিত্তি করেই আল-শাতিবি (রহ.) বলেছেন—যখন তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মুতাকাল্লিম বা মুখাতব-এর 'তা' হলে কিংবা তানউইনযুক্ত বা তাশদীদযুক্ত হলে হরফ ইদগাম করা যাবে না: যেমন 'কুনতু তুরাবা', 'আন্তা তুহরিহু', 'ওয়াসিউন আলিমুন' এবং 'আয়দান তাম্মা মিকাতু মুত্থিলা' (উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে)। আবু শামাহ (রহ.) বলেছেন: তার কথা 'আয়দান'-এর অর্থ হলো—আমি চতুর্থ প্রকারের উদাহরণ দিচ্ছি এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
اقْتصر على تَمْثِيل الْأَنْوَاع الثَّلَاثَة، وَهُوَ مصدر آض إِذا رَجَعَ. انْتهى كَلَامه. فأيضاً على تَقْدِيره حَال من ضمير أمثل الَّذِي قدَّره. وَاعْلَم أنّ هَذِه الْكَلِمَة إنّما تسْتَعْمل مَعَ ذكر شَيْئَيْنِ بَينهمَا توَافق، وَيُمكن اسْتغْنَاء كل مِنْهُمَا عَن الآخر، فَلَا يجوز: (جَاءَ زيدٌ أَيْضا) إلاّ أنْ يتَقَدَّم ذكر شخص آخر (1) أَو تدلّ عَلَيْهِ قرينَة، وَلَا (جَاءَ زيدٌ وَمضى عَمْرو أَيْضا) لعدم التوافق، وَلَا (اخْتصم زيدٌ وعمروٌ أَيْضا) لأنّ أَحدهمَا لَا يَسْتَغْنِي عَن الآخر.
--------------------------------------------
তিনি কেবল তিন প্রকারের (الأنواع) উদাহরণ প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। এটি ‘আদ’ শব্দের মাসদার (ক্রিয়ামূল), যার অর্থ যখন সে ফিরে আসে। তাঁর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত। সুতরাং তাঁর বিশ্লেষণ অনুযায়ী ‘আইদান’ শব্দটি তাঁর উহ্যকৃত ‘আমছালা’ (আমি উদাহরণ দিচ্ছি) ক্রিয়ার সর্বনাম থেকে হাল (حال) হিসেবে প্রযুক্ত। জেনে রাখুন যে, এই শব্দটি কেবল এমন দুটি বিষয়ের বর্ণনায় ব্যবহৃত হয় যাদের মধ্যে সামঞ্জস্য বিদ্যমান এবং তাদের প্রত্যেকটি একে অপর থেকে অমুখাপেক্ষী বা স্বতন্ত্র হতে পারে। সুতরাং, ‘জায়েদও এসেছে’ বলা বৈধ নয়, যতক্ষণ না পূর্বে অন্য কোনো ব্যক্তির উল্লেখ থাকে অথবা কোনো আলামত (قرينة) সেদিকে ইঙ্গিত করে। আবার ‘জায়েদ এসেছে এবং আমরও চলে গেছে’ বলাও সঠিক নয় সামঞ্জস্যহীনতার কারণে। তদ্রূপ ‘জায়েদ ও আমরও বিবাদে লিপ্ত হয়েছে’ বলা যাবে না, কারণ তাদের একজন অন্যজন থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
القَوْل فِي: هَلُمَّ جَرّاً وأمّا قَوْله: (هَلُمَّ جَرّاً) (1) فكلامٌ مُسْتَعْمل فِي الْعرف كثيرا، وَذكره الْجَوْهَرِي فِي (صحاحه) ، فَقَالَ فِي فصل الْجِيم من بَاب الرَّاء (2) : (وَتقول: كَانَ ذَلِك عَام كَذَا وهَلُمَّ جرّاً إِلَى الْيَوْم) . هَذَا جَمِيع مَا ذكره (3) . وَذكر الصغاني (4) فِي (عبابه) مَا ذكره صَاحب (الصِّحَاح) ، وَلم يزدْ عَلَيْهِ. وَذكر أَبُو بكر بن الْأَنْبَارِي (5) (هَلُمَّ جرّاً) فِي كتاب (الزَّاهِر) (6) وَبسط القَوْل فِيهِ، وَقَالَ: (مَعْنَاهُ: سِيرُوا على هينَتكُمْ) أيْ تثبَّتوا فِي سيركم وَلَا تجهدوا أَنفسكُم، قَالَ: وَهُوَ مَأْخُوذ من الجرِّ، وَهُوَ أنْ تُتركَ الْإِبِل وَالْغنم ترعى فِي السّير، قَالَ الراجز: لطالما جَرَرْتَكُنَّ جرَّاً حَتَّى نَوَى الأعْجَفُ واستمرَّا فاليومَ لَا آلوا الركابَ شرَّا (7) قلتُ: الأعجف: الهزيل. وَنوى: صَار لَهُ نَيٌّ، بِفَتْح النُّون وَتَشْديد الْيَاء،
--------------------------------------------
আলোচনা: ‘হালুম্মা জাররান’ (هَلُمَّ جَرّاً) প্রসঙ্গে। আর তাঁর উক্তি: ‘হালুম্মা জাররান’ (هَلُمَّ جَرّاً), এটি প্রচলিত পরিভাষায় (العرف) বহুল ব্যবহৃত একটি বাক্য। জাওহারি তাঁর সিহাহ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি ‘রা’ অধ্যায়ের ‘জিম’ পরিচ্ছেদে বলেছেন: “তুমি বলবে: এটি অমুক বছর ছিল এবং আজ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে (هَلُمَّ جرّاً) তা চলছে।” এটিই তাঁর বর্ণিত পূর্ণ বক্তব্য। সাগানি তাঁর আল-উবাব গ্রন্থে সিহাহ গ্রন্থকারের উদ্ধৃতিই উল্লেখ করেছেন এবং তাতে অতিরিক্ত কিছু যোগ করেননি। আবু বকর ইবনুল আনবারি আল-যাহির গ্রন্থে ‘হালুম্মা জাররান’ (هَلُمَّ جرّاً) উল্লেখ করেছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন: “এর অর্থ হলো: তোমরা তোমাদের স্বাভাবিক ও মন্থর গতিতে চলতে থাকো,” অর্থাৎ তোমাদের চলায় ধীরস্থির হও এবং নিজেদের ওপর অতিরিক্ত কষ্ট দিও না। তিনি বলেন: এটি ‘আল-জার’ (الجَرّ) থেকে গৃহীত, আর তা হলো উট ও বকরিকে চলার পথে চরে খাওয়ার সুযোগ দিয়ে ধীরে চলতে দেওয়া। রাজজ ছন্দকার বলেন:
দীর্ঘকাল আমি তোমাদের মন্থর গতিতে পরিচালিত করেছি,
যতক্ষণ না শীর্ণ পশুটি হৃষ্টপুষ্ট ও শক্তিশালী হয়েছে।
সুতরাং আজ আমি উট চালনায় কোনো ত্রুটি করব না।
আমি বলি: ‘আল-আজআফ’ অর্থ শীর্ণ বা দুর্বল। আর ‘নাওয়া’ (নুন-এর জবর ও ইয়া-র তাশদিদ সহকারে) অর্থ হলো চর্বিযুক্ত বা মোটা হওয়া।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وَهُوَ الشَّحْم. وأمّا النِّيءُ، بِكَسْر النُّون وبالهمزة بعد يَاء سَاكِنة (1) فَهُوَ اللَّحْم الَّذِي لم ينضج، وَاسْتمرّ: كَأَنَّهُ من المِرّة، بِكَسْر الْمِيم، وَهُوَ القوّة، وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: " ذُو مِرَّةٍ " (2) . قَالَ (3) : وَفِي انتصاب (جرَّا) ثَلَاثَة أوجه: الأول: أنْ يكون مصدرا وضع مَوضِع الْحَال، وَالتَّقْدِير: هَلُمَّ جارين أَي: مُتَثبتين. الثَّانِي: أنْ يكون انتصابه (4) على الصَّدْر، لأنّ فِي (هَلُمَّ) معنى (جرَّ) ، فكأنّه قيل: جرّوا جرًّا. وَهَذَا على قِيَاس قَوْله: (جَاءَ زيدٌ مشياً) ، فإنّ الْبَصرِيين يَقُولُونَ تَقْدِيره: مَاشِيا، والكوفيون يَقُولُونَ: الْمَعْنى: يمشي (5) مشيا (6) . الثَّالِث: وَقَالَ بعض النَّحْوِيين (7) : جرَّا نصب على التَّفْسِير (8) . انْتهى كَلَام أبي بكر مُلَخصا. وَقَالَ أَبُو حيّان فِي (الارتشاف) (9) وهَلُمَّ جرًّا مَعْنَاهُ: تعال على هَيْنتك متثبتاً، وانتصاب (جرًّا) على أنّه مصدر فِي مَوضِع الْحَال، أيْ جارين، قَالَه البصريون. وَقَالَ الْكُوفِيُّونَ: مصدر، لأنّ معنى (هَلُمَّ) جرّ. وَقيل: انتصب على التَّمْيِيز.
--------------------------------------------
এটি হলো চর্বি। আর 'আন-নি' (النِّيءُ) শব্দটির ব্যাপারে—নুন বর্ণে কাসরা এবং সাকিন ইয়া-র পরে হামজা যোগে (১)—এর অর্থ হলো এমন গোশত যা সুসিদ্ধ হয়নি। তিনি আলোচনা চালিয়ে গিয়ে বলেন: এটি যেন 'আল-মিররাহ' (المِرّة) শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার মীম বর্ণে কাসরা রয়েছে; আর এর অর্থ হলো শক্তি। মহান আল্লাহর এই বাণীটি এ থেকেই এসেছে: "মহাসক্তিশালী" (ذُو مِرَّةٍ) (২)। তিনি (৩) বলেন: 'জাররান' (جرَّا) শব্দটির নসব (نصب) হওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি বিশ্লেষণ রয়েছে: প্রথমত: এটি একটি ক্রিয়ামূল (مصدر) যা অবস্থা (حال)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: 'হালুম্মা জাররাইন' অর্থাৎ ধীরস্থিরভাবে এসো। দ্বিতীয়ত: এর নসব (نصب) হওয়াটি ক্রিয়ামূলের (مصدر) ভিত্তিতে হয়েছে, কারণ 'হালুম্মা' (هَلُمَّ) শব্দের মাঝে 'জাররা' (جرَّ)-এর অর্থ নিহিত রয়েছে। ফলে এটি এমন হলো যেন বলা হয়েছে: 'জাররূ জাররান' (جرّوا جرًّا)। এটি ব্যাকরণবিদদের এই উক্তির সাথে তুলনীয়: "যাআ যাইদুন মাশইয়ান" (যায়েদ হেঁটে এল)। এক্ষেত্রে বসরার ব্যাকরণবিদগণ (البصريون) বলেন এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: 'মাশিয়ান' (অর্থাৎ অবস্থা), আর কুফার ব্যাকরণবিদগণ (الكوفيون) বলেন এর অর্থ হলো: সে হেঁটে আসল (৫) হেঁটে আসা (৬)। তৃতীয়ত: কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ (النحويون) (৭) বলেছেন: 'জাররান' শব্দটি ব্যাখ্যা (تفسير) (৮) হিসেবে নসব (نصب) হয়েছে। আবু বকরের বক্তব্যের সংক্ষিপ্তসার এখানেই শেষ হলো। আবু হাইয়্যান 'ইরতিশাফ' (৯) গ্রন্থে বলেন: 'হালুম্মা জাররান' এর অর্থ হলো: তোমার শান্ত মেজাজে ধীরস্থিরভাবে এগিয়ে এসো। বসরার ব্যাকরণবিদদের মতে 'জাররান' শব্দটি নসব (نصب) হয়েছে এ কারণে যে এটি অবস্থা (حال)-এর স্থলে ব্যবহৃত ক্রিয়ামূল (مصدر), অর্থাৎ 'জাররাইন'। কুফার ব্যাকরণবিদগণ বলেন: এটি একটি ক্রিয়ামূল (مصدر), কারণ 'হালুম্মা' শব্দের অর্থ হলো 'জাররা'। আবার বলা হয়েছে: এটি পার্থক্যকারী (تمييز) হিসেবে নসব (نصب) হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وأوّلُ مَنْ قَالَه عَائِذ (1) بن يزِيد، قَالَ (2) . فإنْ جاوَزْتُ مُقْفِرَةً رَمَتْ بِي إِلَى أُخرى كتلك هَلُمَّ جرَّا وَقَالَ آخر من تغلب (3) : المطعمين لَدَى الشتاءِ سدائفاً مل نيب (4) غرَّاً فِي الجاهليةِ كانَ سؤدد وائلٍ (5) فهَلُمَّ جرَّا انْتهى. وَبعد فعندي توقف فِي كَون هَذَا التَّرْكِيب عربيّا مَحْضا، وَالَّذِي رَابَنِي مِنْهُ أُمُور: الأوَل: إنّ إِجْمَاع (6) النَّحْوِيين واللغويين (7) مُنْعَقد على أنّ ل (هَلُمَّ) مَعْنيين: أَحدهمَا: تعالَ، فَتكون قَاصِرَة كَقَوْلِه تَعَالَى: (هَلُمَّ إِلَيْنَا) (8) أيْ: تَعَالَوْا إِلَيْنَا. وَالثَّانِي: احضر، فَتكون متعدية كَقَوْلِه تَعَالَى: (هَلُمَّ شهداءكم) (9) أيْ: احضروهم. وَلَا امْتنَاع (10) لأحد الْمَعْنيين هُنَا. الثَّانِي: إنّ إِجْمَاعهم مُنْعَقد على (11) أنّ فِيهَا لغتين: حجازية، وَهِي الْتِزَام استتار ضميرها، فَتكون اسْم فعل. وتميمية: وَهِي أنْ تتصل (12) بهَا ضمائر
--------------------------------------------
এবং এটি সর্বপ্রথম যিনি বলেছিলেন তিনি হলেন আইজ (১) ইবনে ইয়াজিদ; তিনি বলেছেন (২): "আমি যদি একটি নির্জন প্রান্তর অতিক্রম করি, তবে সেটি আমাকে অনুরূপ আরেকটির দিকে নিক্ষেপ করে, আর এভাবে চলতে থাকে (هلم جرا)।" তাগলিব (৩) গোত্রের অন্য একজন কবি বলেছেন: "শীতকালে চর্বিযুক্ত উটের কুঁজ ভক্ষণকারীরা... জাহেলি যুগে ওয়াইল (৫) গোত্রের নেতৃত্ব ছিল, আর তা এভাবে চলে আসছিল (هلم جرا)।" সমাপ্ত। অতঃপর, এই বাক্যরীতিটি বিশুদ্ধ আরবি হওয়ার ব্যাপারে আমার কিছুটা সংশয় (توقف) রয়েছে; আর যে বিষয়গুলো আমাকে সন্দিহান করেছে তা হলো: প্রথমত: ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদগণের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) (৬) (৭) এই যে, 'হালুম্মা' (هلم) শব্দের দুটি অর্থ রয়েছে: একটি হলো: 'এসো' (تعال), এক্ষেত্রে এটি অকর্মক (قاصرة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "আমাদের কাছে এসো" (هلم إلينا) (৮) অর্থাৎ: তোমরা আমাদের কাছে এসো। দ্বিতীয়টি হলো: 'উপস্থিত করো' (احضر), তখন এটি সকর্মক (متعدية) হয়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের সাক্ষীদের উপস্থিত করো" (هلم شهداءكم) (৯) অর্থাৎ: তাদের উপস্থিত করো। আর এখানে কোনো একটি অর্থ গ্রহণ করতে কোনো বাধা (إمتناع) (১০) নেই। দ্বিতীয়ত: তাদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) (১১) এই যে, এতে দুটি উপভাষা রয়েছে: হিজাজি উপভাষা, যাতে এর সর্বনাম উহ্য রাখা আবশ্যক, আর তখন এটি ক্রিয়া-বিশেষ্য (اسم فعل) হিসেবে গণ্য হয়। এবং তামিমি উপভাষা: যেখানে এর সাথে সর্বনামসমূহ যুক্ত (১২) হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الرّفْع البارزة فَيُقَال: هَلُمّا وهَلُمِّي وهَلُمُّوا، فَتكون فعلا (1) . وَلَا نَعْرِف لَهَا موضعا أَجمعُوا فِيهِ على الْتِزَام كَونهَا اسْم فعل، وَلم يقل أحدٌ إنّه سمع (2) : هَلُمّا جرًّا وَلَا: هَلُمِّي جرًّا وَلَا: هَلُمُّي جرًّا. الثَّالِث: إنّ تخَالف الجملتين المتعاطفتين بِالطَّلَبِ وَالْخَبَر مُمْتَنع أَو ضَعِيف، وَهُوَ لَازم هُنَا إِذا قلتَ: (كانَ ذلكَ عَام كَذَا وهَلُمَّ جرًّا) . الرَّابِع: إنّ أَئِمَّة اللُّغَة الْمُعْتَمد عَلَيْهِم لم يتَعَرَّضُوا لهَذَا التَّرْكِيب (3) ، حَتَّى صَاحب (الْمُحكم) (4) مَعَ كَثْرَة استيعابه وتتبعه. وإنّما ذكره صَاحب (الصِّحَاح) ، وَقد قَالَ أَبُو عَمْرو بن الصّلاح (5) فِي (شرح مشكلات الْوَسِيط) (6) : إنّه لَا يقبل مَا تفرد بِهِ. وكانَ عِلّة ذَلِك (7) مَا ذكره فِي أول كِتَابه من أنّه ينْقل عَن الْعَرَب الَّذين سمع مِنْهُم، فإنّ زَمَانه كَانَت اللُّغَة (8) فِيهِ فَسَدَت. وأمّا صَاحب (الْعباب) (9) فإنّه قلَّد صَاحب (الصِّحَاح) فنسخ كَلَامه. وأمّا ابْن الْأَنْبَارِي فَلَيْسَ كِتَابه مَوْضُوعا لتفسير الْأَلْفَاظ المسوعة من الْعَرَب بل وَضْعُهُ أنْ يتَكَلَّم على مَا يجْرِي من محاورات النَّاس، وَقد يكون تَفْسِيره لَهُ على تَقْدِير (10) أنْ يكون عربيًّا، فإنّه لم يُصَرح بأنّه عربيّ. وَكَذَلِكَ لَا أعلم أحدا من النُّحَاة تكلّم عَلَيْهَا غَيره. ولخص أَبُو حَيَّان فِي (الارتشاف) أَشْيَاء من كَلَامه، وَوهم فِيهَا (11) . فإنّه
--------------------------------------------
প্রকাশ্য মারফূ (الرفع) সর্বনাম যুক্ত হলে বলা হয়: 'হালুম্মা', 'হালুম্মী' এবং 'হালুম্মু'; তখন এটি ক্রিয়া (فعل) (১) হিসেবে গণ্য হয়। আমরা এমন কোনো স্থান জানি না যেখানে একে 'ক্রিয়াবিশেষ্য' (اسم فعل) হিসেবে ব্যবহারের ব্যাপারে সকলে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আর কেউ এমনটি বলেনি যে সে শুনেছে (২): 'হালুম্মা জাররান' কিংবা 'হালুম্মী জাররান' অথবা 'হালুম্মু জাররান'। তৃতীয়ত: আবেদনমূলক (তলব) ও বর্ণনামূলক (খবর) বাক্যের সমন্বয়ে গঠিত দুটি বাক্যের পরস্পর বিরোধিতা অসম্ভব কিংবা অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف); আর এটি এখানে আবশ্যক হয়ে পড়ে যখন আপনি বলেন: 'এটি অমুক সালে হয়েছিল এবং এর পরবর্তী সময় থেকে (হালুম্মা জাররান)'। চতুর্থত: নির্ভরযোগ্য (ثقة) ভাষাবিদগণ এই শব্দসমষ্টির (৩) ব্যাপারে কোনো আলোচনা করেননি, এমনকি 'আল-মুহকাম' (৪) গ্রন্থের প্রণেতাও এর ব্যাপকতা ও অনুসন্ধিৎসা সত্ত্বেও এটি উল্লেখ করেননি। কেবলমাত্র 'সিহাহ' গ্রন্থের লেখক এটি উল্লেখ করেছেন। অথচ আবু আমর ইবনুস সালাহ (৫) তাঁর 'শারহু মুশকিলাতিল ওয়াসীত' (৬) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি (সিহাহ-র লেখক) যে বিষয়ে একক (تفرد) হয়েছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। এর কারণ ছিল (৭) যা তিনি তাঁর কিতাবের শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সেই সব আরবদের থেকে বর্ণনা করেন যাদের থেকে তিনি শ্রবণ করেছেন; অথচ তাঁর সময়ে ভাষার (৮) বিকৃতি ঘটেছিল। আর 'আল-উবাব' (৯) গ্রন্থের লেখক 'সিহাহ' লেখকের অনুকরণ করেছেন এবং তাঁর বক্তব্যটিই প্রতিলিপি করেছেন। অন্যদিকে ইবনুল আম্বারী; তাঁর কিতাবটি আরবদের থেকে শ্রুত শব্দাবলির ব্যাখ্যার জন্য প্রণীত হয়নি, বরং সাধারণ মানুষের কথোপকথনে যা প্রচলিত তা নিয়ে আলোচনার জন্য রচিত। হতে পারে তাঁর ব্যাখ্যাটি এই অনুমানের (১০) ভিত্তিতে যে এটি বিশুদ্ধ আরবি, যদিও তিনি এটি আরবি হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্টভাবে কিছু বলেননি। অনুরূপভাবে, আমি ইবনুল আম্বারী ব্যতীত অন্য কোনো ব্যাকরণবিদকে এ বিষয়ে আলোচনা করতে দেখিনি। আবু হাইয়ান 'আল-ইরতিশাফ' গ্রন্থে তাঁর আলোচনার কিছু অংশ সারসংক্ষেপ করেছেন এবং তাতে ভ্রান্তি (وهم) করেছেন (১১)। কারণ তিনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ذكر أنّ الْكُوفِيّين قَالُوا: إنّ (جرّاً) مصدر، والبصريون قَالُوا: إنّه حَال. وَهَذَا يَقْتَضِي أنّ الْفَرِيقَيْنِ تكلمُوا فِي إِعْرَاب ذَلِك، وَلَيْسَ كَذَلِك، وإنّما قَالَ أَبُو بكر: إنّ قِيَاس إعرابه على قَوَاعِد الْبَصرِيين أنْ يُقال: إِنَّه حَال، وعَلى قَوَاعِد الْكُوفِيّين أنْ يُقال: إنّه مصدر. هَذَا معنى كَلَامه، وَهَذَا هُوَ الَّذِي فهمه أَبُو الْقَاسِم الزجّاجي (1) . وردَّ عَلَيْهِ فَقَالَ: البصريون لَا يوجبون فِي نَحْو: (ركضاً) من قَوْلك: (جَاءَ زيدٌ ركضاً) أنْ يكون مَفْعُولا مُطلقًا بل يجيزون أَن يكون التَّقْدِير: جَاءَ زيدٌ يرْكض ركضاً. فَلذَلِك (2) يجوز على قِيَاس قَوْلهم أَن يكون التَّقْدِير: هَلُمَّ تجرّوا (3) جرّاً. انْتهى. ثمَّ قَول أبي بكر: (مَعْنَاهُ: سِيرُوا على هَيْنتكم، أَي تَثَبَّتوا (4) فِي سيركم وَلَا تجهدوا أَنفسكُم) معترض من وَجْهَيْن: أَحدهمَا: أنّ فِيهِ إِثْبَات معنى (5) لم يُثبتهُ لَهَا أحد: الثَّانِي: أنّ هَذَا التَّفْسِير لَا ينطبق على المُرَاد بِهَذَا التَّرْكِيب، فإنّه إنّما يُرَاد بِهِ اسْتِمْرَار مَا ذكر قبله من الحكم، وَلِهَذَا (6) قَالَ صَاحب (الصِّحَاح) : (وهَلُمَّ جرّاً إِلَّا الْآن) . وَقَول أبي حيّان: (مَعْنَاهُ: تعال على هينتك) عَلَيْهِ أَيْضا اعتراضان: أَحدهمَا: أنّه تَفْسِير لَا ينطبق على المُرَاد. الثَّانِي: فِي إِفْرَاده (تعال) مَعَ أنّه خطاب للْجَمَاعَة، وكأنّه توهم (تعال) اسْم فعل (7) ، وَاسم الْفِعْل لَا تلْحقهُ ضمائر الرّفْع البارزة. وَقد توهم ذَلِك بعض
--------------------------------------------
ذكر উল্লেখ করা হয়েছে যে, কুফাবাসীরা বলেছেন: 'জাররান' একটি ক্রিয়ামূল, আর বসরাবাসীরা বলেছেন: এটি একটি অবস্থাজ্ঞাপক শব্দ। এর দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, উভয় দলই এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা করেছেন; কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। বরং আবু বকর বলেছেন: বসরাবাসীদের ব্যাকরণিক নিয়মানুয়ায়ী এর বিশ্লেষণ হলো একে অবস্থাজ্ঞাপক শব্দ বলা, আর কুফাবাসীদের নিয়মানুয়ায়ী একে ক্রিয়ামূল বলা। এটিই তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ, আর এটিই আবু আল-কাসিম আল-জাজ্জাজি (১) বুঝেছেন। তিনি এর ওপর আপত্তি জানিয়ে বলেছেন: বসরাবাসীরা 'রাকদান' (যেমন তোমার কথা: 'জায়েদ দৌড়ে আসল') এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে একে আবশ্যকীয়ভাবে পরম কর্ম হিসেবে গণ্য করেন না; বরং তাঁরা একে এভাবে বিশ্লেষণ করা বৈধ মনে করেন যে, এর মূল রূপ হলো: 'জায়েদ আসল এমতাবস্থায় যে সে দৌড়াচ্ছিল'। তাই (২) তাঁদের নিয়মানুয়ায়ী এটি বৈধ যে এর বিশ্লেষণ হবে: 'তোমরা আসো এবং টেনে নিয়ে আসো' (৩)। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। অতঃপর আবু বকরের এই বক্তব্য: (এর অর্থ: তোমরা তোমাদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলো, অর্থাৎ তোমাদের চলার পথে ধীরস্থির থাকো (৪) এবং নিজেদেরকে কষ্টে ফেলো না) — এটি দুই দিক থেকে আপত্তিকর: প্রথমত: এতে এমন এক অর্থ (৫) সাব্যস্ত করা হয়েছে যা অন্য কেউ করেননি। দ্বিতীয়ত: এই ব্যাখ্যাটি এই বাক্যকাঠামোর উদ্দিষ্ট অর্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়; কারণ এর দ্বারা মূলত এর আগে উল্লিখিত কোনো বিধানের ধারাবাহিকতা বুঝানো হয়। এই কারণেই (৬) 'সিহাহ' গ্রন্থের লেখক বলেছেন: (এখন পর্যন্ত একইভাবে চলো)। আর আবু হাইয়ানের বক্তব্য: (এর অর্থ: তুমি তোমার স্বাচ্ছন্দ্যে আসো) — এর ওপরও দুটি আপত্তি রয়েছে: প্রথমত: এটি এমন এক ব্যাখ্যা যা উদ্দিষ্ট অর্থের সাথে মেলে না। দ্বিতীয়ত: তিনি 'তাআলা' শব্দটি একবচনে ব্যবহার করেছেন অথচ এটি ছিল সমষ্টির প্রতি সম্বোধন। মনে হচ্ছে তিনি 'তাআলা' শব্দটিকে একটি ক্রিয়াজাত বিশেষ্য (৭) বলে বিভ্রান্ত হয়েছেন; অথচ ক্রিয়াজাত বিশেষ্যের সাথে কোনো প্রকাশ্য কর্তৃবাচক সর্বনাম যুক্ত হয় না। কেউ কেউ এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
النَّحْوِيين (1) فِيهَا وَفِي (هَات) ، وَالصَّوَاب أنّهما فعلان بِدَلِيل الْآيَة، وَهِي (2) قَوْله تَعَالَى: " قُلْ هاتوا برهانكم " (3) ، وَقَول الشَّاعِر: إِذا قلتُ هَاتِي نَوِّليني تمايَلَتْ (4) وَقَوله: (هَلُمَّ بِمَعْنى جرّوا) (5) مَنْقُول من كَلَام ابْن الْأَنْبَارِي، وَهُوَ خطأ مِنْهُ انتقده عَلَيْهِ الزجاجي فِي (مُخْتَصره) وَقَالَ: (لم يقلْ أحدٌ إنّ (هَلُمَّ) فِي معنى جرّوا) (6) . وَفِيه دَلِيل على مَا قدَّمته من أنّ الإعرابين الْمَذْكُورين لم يقلهما البصريون وَلَا الْكُوفِيُّونَ، وإنّما قالهما ابْن الْأَنْبَارِي قِيَاسا على قَوْلهمَا: (جَاءَ زيدٌ ركضاً) . وَتَقْدِير الْبَيْت الأَول: فإنْ تجاوزت أَرضًا (7) مقفرة، أيْ: لَيْسَ بهَا أنيس، رمت بِي تِلْكَ الأَرْض المقفرة إِلَى أُخْرَى مقفرة كتلك الأَرْض المقفرة. وَجَوَاب الشَّرْط إمّا (رمت بِي) أَو فِي الْبَيْت بعده إنْ كَانَت (رمت) صفة ل (مقفرة) (8) . وأمّا البيتان الْآخرَانِ فمعناهما الثَّنَاء على قوم بِالْكَرمِ والسيادة، وَالْعرب تمدح بِالْإِطْعَامِ فِي الشتَاء لأنّه زمنٌ يقلُّ فِيهِ الطَّعَام وَيكثر الْأكل لاحتباس الْحَرَارَة فِي الْبَاطِن. والسَدائف: جمع سديفة (9) وَهِي مفعول المطعمين (10) ، وَمَعْنَاهَا: شرائح (11)
--------------------------------------------
ব্যাকরণবিদদের (১) মতে এই শব্দটিতে এবং 'হাতে' শব্দটির ক্ষেত্রে [মতভেদ রয়েছে]; তবে সঠিক মত হলো এই যে, আয়াতের প্রমাণ অনুযায়ী এই শব্দ দুটি হলো ক্রিয়া। আর সেই দলিলটি হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: (২) "বলো, তোমরা তোমাদের প্রমাণ নিয়ে এসো।" (৩) এবং কবির উক্তি: "যখন আমি বলি, দাও আমাকে দান করো, সে হেলেদুলে ওঠে।" (৪) আর তাঁর উক্তি: "হালুম্মা শব্দটি টেনে আনা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে" (৫)—এটি ইবনুল আনবারীর বক্তব্য থেকে উদ্ধৃত; এটি তাঁর একটি ভুল যা যাজ্জাজী তাঁর 'মুখতাসার' গ্রন্থে সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন: "কেউ বলেনি যে 'হালুম্মা' শব্দটি টেনে আনা অর্থে ব্যবহৃত হয়।" (৬) এতে আমি পূর্বে যা উল্লেখ করেছি তার প্রমাণ রয়েছে যে, উল্লিখিত দুটি কারক-বিভক্তি বসরী বা কূফী—কোনো পন্থী ব্যাকরণবিদই বলেননি; বরং ইবনুল আনবারী তাঁদের উক্তি: "জায়েদ দৌড়ে এল"-এর ওপর কিয়াস বা অনুমান করে তা বলেছেন। আর প্রথম পঙ্ক্তিটির ব্যাখ্যা হলো: যদি আমি কোনো জনমানবহীন (৭) ভূমি অতিক্রম করি, অর্থাৎ যেখানে কোনো সঙ্গী নেই, তবে সেই জনমানবহীন ভূমি আমাকে অপর একটি জনমানবহীন ভূমিতে পৌঁছে দেবে যা সেই পূর্বের জনমানবহীন ভূমির মতোই। আর শর্তের জওয়াব হয় 'রামাত বী' অংশটি, অথবা যদি 'রামাত' শব্দটি 'মুকফিরাহ' এর বিশেষণ হয় তবে তা পরবর্তী চরণে আসবে। (৮) আর পরবর্তী দুটি চরণের অর্থ হলো কোনো গোত্রের দানশীলতা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রশংসা করা। আর আরবরা শীতকালে অন্নদান করার প্রশংসা করে থাকে, কারণ এটি এমন এক সময় যখন খাবারের স্বল্পতা দেখা দেয় এবং অভ্যন্তরীণ তাপ আটকে থাকার কারণে খাওয়ার চাহিদা বৃদ্ধি পায়। আর 'সাদাইফ' হলো 'সাদীফাহ'-এর বহুবচন (৯), যা 'মুতইমীন'-এর কর্ম (১০) হিসেবে এসেছে এবং এর অর্থ হলো: মাংসের ফালি। (১১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
سَنَام الْبَعِير المُقَطَّع وَغَيره مِمَّا غلب عَلَيْهِ السّمن. وَقَوله: (مل نيب) أَصله من النيب، جمع نَاب: وَهِي النَّاقة، سُمِّيت بذلك لأنّها (1) يسْتَدلّ على عمرها بنابها. وحُذِف نون (2) (من) لأنّه أَرَادَ التَّخْفِيف حِين التقى المتقاربان، وهما النُّون وَاللَّام، لتعذر (3) الْإِدْغَام لأنّ اللَّام سَاكِنة. وَنَظِيره قَوْلهم فِي بني الْحَارِث: بلحارث، وَهُوَ شَاذ (4) ، وَالَّذِي فِي الْبَيْت أشذُّ مِنْهُ لأنّ شَرط هَذَا الْحَذف أَن لَا تكون اللَّام مدغمة فِيمَا بعْدهَا فَلَا يُقال فِي بني النجار وَبني النَّضير (5) : بنجار وبنضير (6) . وعلَّل (7) ابْن جني ذَلِك بِكَرَاهَة توالي الإعلالين، فإنّ اللَّام قد أُعِلَّت بإدغامها فِيمَا بعْدهَا، فَمَتَى أُعِلَّت النُّون الَّتِي قبلهَا بالحذف توالى الإعلالان (8) . وَقد يُردّ بأنّ ذَلِك إنّما يُتجنب فِي الْكَلِمَة الْوَاحِدَة، ويُجابُ بأنَّ كلاًّ من المتضايفين وَالْجَار وَالْمَجْرُور كالكلمة الْوَاحِدَة وأُعطيا (9) حكمهمَا. وَقَوله: (غرّا) حَال من النيب، وَهُوَ جمع غرّاء كحمراء وحمر وسوداء
--------------------------------------------
উটের কাটা কুঁজ এবং চর্বিযুক্ত অন্যান্য অংশ। আর তাঁর উক্তি: (মাল নিব) এর মূল উৎস হলো ‘আন-নিব’ থেকে, যা ‘নাব’ এর বহুবচন: আর তা হলো মাদী উট; এর এরূপ নামকরণ করা হয়েছে কারণ এর দাঁত দেখে এর বয়স অনুমান করা হয়। এখানে ‘মান’ এর ‘নুন’ বিলুপ্ত (حذف) করা হয়েছে, কারণ যখন দুটি নিকটবর্তী মাখরাজের বর্ণ অর্থাৎ ‘নুন’ ও ‘লাম’ একত্রিত হয়েছে, তখন তিনি উচ্চারণ সহজ করতে চেয়েছিলেন; এখানে সন্ধি (إدغام) করা অসম্ভব ছিল কারণ ‘লাম’ বর্ণটি সুকুনযুক্ত। এর দৃষ্টান্ত হলো ‘বনু আল-হারিস’ এর ক্ষেত্রে তাদের উক্তি: ‘বাল-হারিস’, আর এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ) প্রয়োগ। আর কবিতার চরণে যা রয়েছে তা এর চাইতেও বেশি ব্যতিক্রমধর্মী (أشذّ); কারণ এই বিলুপ্তির (حذف) শর্ত হলো ‘লাম’ বর্ণটি তার পরবর্তী বর্ণের সাথে সন্ধিভুক্ত (مدغمة) থাকবে না। তাই ‘বনু আন-নাজ্জার’ এবং ‘বনু আন-নাযীর’ এর ক্ষেত্রে ‘বানাজ্জার’ এবং ‘বানাযীর’ বলা হয় না। ইবনে জিন্নি এর কারণ হিসেবে দুটি রূপান্তর (إعلال) এর ধারাবাহিকতাকে অপছন্দ করার কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ ‘লাম’ বর্ণটি তার পরবর্তী বর্ণের সাথে সন্ধি (إدغام) হওয়ার মাধ্যমে ইতিপূর্বেই রূপান্তরিত হয়েছে। এমতাবস্থায় যদি এর পূর্ববর্তী ‘নুন’ বর্ণটিকেও বিলুপ্তির (حذف) মাধ্যমে রূপান্তরিত করা হয়, তবে দুটি রূপান্তর (إعلال) এর ধারাবাহিকতা তৈরি হয়। এর প্রতিবাদে বলা হতে পারে যে, এটি কেবল একটি শব্দের মধ্যেই পরিহার করা হয়। এর উত্তরে বলা হয় যে, সম্বন্ধপদ ও সম্বন্ধী এবং জার ও মাজরুর উভয়ই একটি শব্দের ন্যায় এবং তাদের ক্ষেত্রে একই বিধান প্রযোজ্য। এবং তাঁর উক্তি: (গাররা), এটি ‘নিব’ এর অবস্থা বর্ণনা করছে। এটি ‘গাররা’ এর বহুবচন; যেমন ‘হামরা’ থেকে ‘হুমর’ এবং ‘সাওদা’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মাসাইলুস সাফারিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وسود و (فِي الْجَاهِلِيَّة) (1) خبر كَانَ إنْ قُدِّرت نَاقِصَة، أَو مُتَعَلق بهَا إنْ قُدِّرت تَامَّة بِمَعْنى وجد. وَقَوله: (فَهَلُمَّ جَرّا) مُتَعَلق بِالْمَعْنَى (2) بقوله (فِي الْجَاهِلِيَّة) إنْ كَانَ سؤدد وَائِل (3) فِي الْجَاهِلِيَّة فَمَا بعْدهَا. وإذْ (4) قد أَتَيْنَا على كَلَام النَّاس وَشَرحه وَبَيَان مَا فِيهِ من نقل فلنذكر مَا ظهر لنا فِي تَوْجِيه هَذَا الْكَلَام بِتَقْدِير كَونه عربيّاً فَنَقُول: (هَلُمَّ) هَذِه هِيَ القاصرة الَّتِي بِمَعْنى: أمت وتعال إلاّ أنّ فِيهَا تجوزين: الأول: أنّه لَيْسَ المُرَاد بالإتيان هُنَا الْمَجِيء الْحسي بل الِاسْتِمْرَار على الشَّيْء والمداومة عَلَيْهِ، كَمَا تَقول: امشِ على هَذَا الْأَمر، وسِرْ على هَذَا المنوال (5) . وَمِنْه قَوْله تَعَالَى: (وانطَلَقَ الملأُ مِنْهُم أنِ امشُوا واصبروا على آلِهَتكُم) (6) . المُرَاد بالانطلاق لَيْسَ الذّهاب الْحسي بل انطلاق الْأَلْسِنَة بالْكلَام. وَلِهَذَا أعربوا (أنْ) تفسيرية (7) ، وَهِي إنّما تَأتي بعد جملَة فِيهَا معنى القَوْل دون (8) خُرُوجه، كَقَوْلِه تَعَالَى: (فأوْحَيْنا إِلَيْهِ أنِ اصْنَعِ الفُلْكَ) (9) وَالْمرَاد بِالْمَشْيِ لَيْسَ الْمَشْي بالأقدام بل الِاسْتِمْرَار والدوام، أَي: دوموا على عبَادَة أصنامكم واحبسوا أَنفسكُم على ذَلِك. الثَّانِي: أنّه لَيْسَ المُرَاد الطّلب حَقِيقَة، وإنّما المُرَاد الْخَبَر، وعبرّ عَنهُ بِصِيغَة (10) الطّلب كَمَا فِي قَوْله تَعَالَى: (ولنحمل خطاياكم) (11) ، (فليمدد لَهُ
--------------------------------------------
এবং নেতৃত্ব ও (জাহেলি যুগে) (১) এটি ‘কানা’-এর সংবাদ হবে যদি তাকে অসম্পূর্ণ গণ্য করা হয়, অথবা তার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে যদি তাকে ‘পাওয়া যাওয়া’ অর্থে পূর্ণাঙ্গ গণ্য করা হয়। আর তাঁর উক্তি: (অতঃপর উত্তরোত্তর) শব্দটি অর্থগতভাবে (২) তাঁর উক্তি (জাহেলি যুগে) এর সাথে সংশ্লিষ্ট, যদি ওয়াইলের নেতৃত্ব (৩) জাহেলি যুগে এবং তার পরবর্তী সময়ে হয়ে থাকে। আর যেহেতু (৪) আমরা মানুষের বক্তব্য, তার ব্যাখ্যা এবং এর মধ্যে বিদ্যমান উদ্ধৃতির বিশদ বিবরণে উপনীত হয়েছি, তাই এই বক্তব্যটি আরবি হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করে এর বিন্যাসের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে তা উল্লেখ করছি। আমরা বলি: (হালুম্মা) শব্দটি এখানে অকর্মক যা ‘এগিয়ে এসো’ বা ‘উপস্থিত হও’ অর্থে ব্যবহৃত হয়; তবে এতে দুটি আলঙ্কারিক প্রয়োগ রয়েছে: প্রথমত: এখানে ‘আসা’ দ্বারা উদ্দেশ্য ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা বাহ্যিক আসা নয়, বরং কোনো বিষয়ের ওপর অবিচল থাকা এবং তাতে স্থায়িত্ব বজায় রাখা। যেমন আপনি বলে থাকেন: ‘এই বিষয়ের ওপর চলো’ বা ‘এই পদ্ধতিতে অগ্রসর হও’ (৫)। আল্লাহ তাআলার এই বাণীটিও এই পর্যায়ের: (এবং তাদের মধ্যকার প্রধানরা এই বলে প্রস্থান করল যে, তোমরা অবিচল থাকো এবং তোমাদের উপাস্যদের পূজায় ধৈর্য ধারণ করো) (৬)। এখানে ‘প্রস্থান’ দ্বারা উদ্দেশ্য বাহ্যিক চলে যাওয়া নয়, বরং কথা বলার মাধ্যমে জিহ্বার সক্রিয় হওয়া। এই কারণেই ব্যাকরণবিদগণ ‘আন’-কে ব্যাখ্যামূলক হিসেবে গণ্য করেছেন (৭), যা এমন বাক্যের পরে আসে যার মধ্যে ‘বলা’র অর্থ বিদ্যমান থাকে কিন্তু সরাসরি ‘বলা’ ক্রিয়াটির উল্লেখ থাকে না (৮)। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: (অতঃপর আমি তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করলাম যে, তুমি নৌকা তৈরি করো) (৯)। এখানে ‘চলা’ দ্বারা উদ্দেশ্য পদব্রজে চলা নয় বরং অবিচলতা ও স্থায়িত্ব বুঝানো হয়েছে; অর্থাৎ: তোমরা তোমাদের মূর্তিপূজার ওপর অটল থাকো এবং নিজেদেরকে তাতে নিবদ্ধ রাখো। দ্বিতীয়ত: এখানে উদ্দেশ্য প্রকৃত কোনো তলব বা প্রার্থনা নয়, বরং এটি সংবাদ প্রদান করা; আর তা প্রার্থনার ভঙ্গিতে (১০) ব্যক্ত করা হয়েছে যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: (এবং আমরা তোমাদের পাপভার বহন করব) (১১), (তবে সে যেন দীর্ঘায়িত করে...)
--------------------------------------------