(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: -)
اللمع في العربية لابن جني   (ابن جني)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: اللمع في العربية

المؤلف: أبو الفتح عثمان بن جني الموصلي (ت 392هـ)

المحقق: فائز فارس

الناشر: دار الكتب الثقافية - الكويت

عدد الصفحات: 238

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে জিন্নী রচিত আল-লুমা ফিল আরাবিয়্যাহ   (ইবনে জিন্নী)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


কিতাব: আল-লুমা ফিল আরাবিয়্যাহ

লেখক: আবুল ফাতহ উসমান বিন জিন্নী আল-মাওসিলী (মৃত্যু ৩৯২ হিজরি)

সম্পাদক: ফায়েজ ফারেস

প্রকাশক: দারুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ - কুয়েত

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ৭)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه نستعين

قَالَ أَبُو الْفَتْح عُثْمَان بن جني رحمه الله

‌‌أضْرب الْكَلَام

 

الْكَلَام كُله ثَلَاثَة أضْرب اسْم وَفعل وحرف جَاءَ لِمَعْنى

فالاسم مَا حسن فِيهِ حرف من حُرُوف الْجَرّ أَو كَانَ عبارَة عَن شخص فحرف الْجَرّ نَحْو قَوْلك من زيد وَإِلَى عَمْرو وَكَونه عبارَة عَن شخص نَحْو قَوْلك هَذَا رجل وَهَذِه امْرَأَة

وَالْفِعْل مَا حسن فِيهِ قد أَو كَانَ أمرا فَأَما قد فنحو
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁরই নিকট আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি।

আবু আল-ফাতহ উসমান ইবনে জিন্নি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) বলেছেন:

‌‌বাক্যের প্রকারভেদ

 

বাক্য বা কথা সর্বমোট তিন প্রকার: বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং এমন অব্যয় (حرف) যা কোনো অর্থ প্রকাশের জন্য আসে।

সুতরাং বিশেষ্য (اسم) হলো তা, যার সাথে কোনো পদান্বয়ী অব্যয় (حرف جر) ব্যবহার করা সংগত হয় অথবা যা কোনো ব্যক্তি বা সত্তার পরিচয় প্রদান করে। পদান্বয়ী অব্যয় (حرف جر)-এর উদাহরণ যেমন আপনার উক্তি— ‘যায়েদ হতে’ এবং ‘অমরের প্রতি’। আর ব্যক্তি বা সত্তার পরিচয় প্রদান করার উদাহরণ যেমন আপনার উক্তি— ‘ইনি একজন পুরুষ’ এবং ‘ইনি একজন নারী’।

আর ক্রিয়া (فعل) হলো তা, যার সাথে ‘ক্বাদ’ (قد) ব্যবহার করা সংগত হয় অথবা যা নির্দেশসূচক (أمر) হয়। অতঃপর ‘ক্বাদ’ (قد)-এর উদাহরণ যেমন:
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ৮)
قَوْلك قد قَامَ وَقد قعد وَقد يقوم وَقد يقْعد وَكَونه أمرا نَحْو قُم واقعد

والحرف مَا لم تحسن فِيهِ عَلامَة من عَلَامَات الْأَسْمَاء وَلَا عَلَامَات الْأَفْعَال وَإِنَّمَا جَاءَ لِمَعْنى فِي غَيره نَحْو هلْ وبلْ وَقد لَا تَقول من هلَ وَلَا قد هلَ وَلَا تَأمر بِهِ
আপনার বলা যেমন—ক্বাদ ক্বামা, ক্বাদ ক্বায়াদা, ক্বাদ ইয়াক্বুমু ও ক্বাদ ইয়াক্বউদু এবং এর নির্দেশসূচক (أمر) রূপ হওয়া, যেমন—ক্বুম ও ইক্বউদ।

আর অব্যয় (حرف) হলো এমন শব্দ যাতে বিশেষ্যের (اسم) কোনো আলামত কিংবা ক্রিয়ার (فعل) কোনো আলামত গ্রহণ করা শুদ্ধ নয়। এটি মূলত অন্য শব্দের সাথে মিলিত হয়ে অর্থ প্রদানের জন্য আসে, যেমন—হাল, বাল এবং ক্বাদ। আপনি ‘মিন হাল’ কিংবা ‘ক্বাদ হাল’ বলতে পারবেন না এবং এর মাধ্যমে কোনো নির্দেশ প্রদান করা যায় না।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ৯)
بَاب‌‌ المعرب والمبني

الْكَلَام فِي الْإِعْرَاب وَالْبناء على ضَرْبَيْنِ مُعرب ومبني

المعرب

 

فالمعرب على ضَرْبَيْنِ أَحدهمَا الِاسْم المتمكن وَالْآخر الْفِعْل الْمُضَارع وَمَا عداهما من سَائِر الْكَلَام فمبني غير مُعرب

فالاسم المتمكن مَا تغير آخِره لتغير الْعَامِل فِيهِ وَلم يشابه الْحَرْف نَحْو قَوْلك هَذَا زيد 2 ووَرَأَيْت زيدا ومررت بزيدٍ

وَالْفِعْل الْمُضَارع مَا كَانَ فِي أَوله إِحْدَى الزَّوَائِد الْأَرْبَع وَهِي الْهمزَة وَالنُّون وَالتَّاء وَالْيَاء فالهمزة للمتكلم وَحده نَحْو أقوم أَنا وَالنُّون للمتكلم إِذا كَانَ مَعَه غَيره نَحْو نقوم نَحن وَالتَّاء للمذكر الْحَاضِر نَحْو تقوم أَنْت وللمؤنث الغائبة نَحْو تقوم هِيَ وَالْيَاء للمذكر الْغَائِب نَحْو يقوم هُوَ

وحرف الْإِعْرَاب من كل مُعرب آخِره نَحْو الدَّال من زيدٍ وَالْمِيم من يقومُ
পরিচ্ছেদ: পরিবর্তনশীল (المعرب) এবং অপরিবর্তনশীল (المبني)

শব্দরূপ পরিবর্তন (الإعراب) এবং শব্দরূপের অপরিবর্তনীয়তা (البناء) সংক্রান্ত আলোচনায় বাক্য (الكلام) দুই প্রকার: পরিবর্তনশীল (معرب) এবং অপরিবর্তনশীল (مبني)।

পরিবর্তনশীল (المعرب)

 

পরিবর্তনশীল (المعرب) শব্দ দুই প্রকার; এর একটি হলো সুপ্রতিষ্ঠিত বিশেষ্য (الاسم المتمكن) এবং অন্যটি হলো বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع)। বাক্যের অবশিষ্ট অন্য সবকিছুই অপরিবর্তনশীল (مبني), পরিবর্তনশীল (معرب) নয়।

সুপ্রতিষ্ঠিত বিশেষ্য (الاسم المتمكن) হলো সেই শব্দ যার শেষাংশ আমলকারী বা প্রভাবকের (العامل) পরিবর্তনের কারণে পরিবর্তিত হয় এবং যা অব্যয়ের (الحرف) সাদৃশ্য গ্রহণ করে না। যেমন আপনার উক্তি: ‘হাজা যাইদুন’ (هذا زيد), ‘রাআইতু যাইদান’ (رأيت زيدا) এবং ‘মারারতু বিযাইদিন’ (مررت بزيد)।

আর বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع) হলো যার শুরুতে অতিরিক্ত চারটি বর্ণের (الزوائد الأربع) কোনো একটি থাকে; আর সেগুলো হলো: হামযা (الهمزة), নুন (النون), তা (التاء) এবং ইয়া (الياء)। হামযা হলো উত্তম পুরুষ একবচনের (للمتكلم وحده) জন্য, যেমন: ‘আকূমু আনা’ (أقوم أنا)। নুন হলো উত্তম পুরুষ বহুবচনের (للمتكلم إذا كان معه غيره) জন্য, যেমন: ‘নাকূমু নাহনু’ (نقوم نحن)। তা হলো মধ্যম পুরুষ একবচন পুংলিঙ্গের (للمذكر الحاضر) জন্য, যেমন: ‘তাকূমু আনতা’ (تقوم أنت), এবং নাম পুরুষ একবচন স্ত্রীলিঙ্গের (للمؤنث الغائبة) জন্য, যেমন: ‘তাকূমু হিয়া’ (تقوم هي)। আর ইয়া হলো নাম পুরুষ একবচন পুংলিঙ্গের (للمذكر الغائب) জন্য, যেমন: ‘ইয়াকূমু হুওয়া’ (يقوم هو)।

আর প্রতিটি পরিবর্তনশীল (معرب) শব্দের শেষ বর্ণটিই হলো ই'রাবের বর্ণ (حرف الإعراب), যেমন: ‘যাইদ’ (زيد) শব্দের ‘দাল’ (الدال) এবং ‘ইয়াকূমু’ (يقوم) শব্দের ‘মিম’ (الميم)।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ১০)
بَاب‌‌ الْإِعْرَاب وَ‌‌الْبناء

الْإِعْرَاب ضد الْبناء فِي الْمَعْنى وَمثله فِي اللَّفْظ وَالْفرق بَينهمَا زَوَال الْإِعْرَاب لتغير الْعَامِل وانتقاله وَلُزُوم الْبناء الْحَادِث عَن غير عَامل وثباته

الْإِعْرَاب

 

فالإعراب أَرْبَعَة أضْرب رفع وَنصب وجر وَجزم فالرفع وَالنّصب يشْتَرك فيهمَا الِاسْم وَالْفِعْل والجر يخْتَص بالأسماء وَلَا يدْخل الْأَفْعَال والجزم يخْتَص بالأفعال وَلَا يدْخل الْأَسْمَاء

الْبناء

 

وَالْبناء أَرْبَعَة أضْرب ضم وَفتح وَكسر ووقف

فالضم يكون فِي الِاسْم نَحْو حيثُ وَمن قبلُ وَمن بعدُ وَفِي الْحَرْف فِي مُنْذُ فِي لُغَة من جر بهَا وَلَا ضم 2 ظ فِي الْفِعْل
পরিচ্ছেদ ই’রাব (الإعراب) ও বিনা (البناء)

ই’রাব (الإعراب) অর্থের দিক থেকে বিনা (البناء)-এর বিপরীত এবং শাব্দিক দিক থেকেও এটি অনুরূপ। এদের মধ্যকার পার্থক্য হলো— আমিল (العامل)-এর পরিবর্তন ও স্থানান্তরের কারণে ই’রাব (الإعراب) অপসারিত হয়, আর কোনো আমিল (العامل) ছাড়াই বিনা (البناء)-এর স্থায়িত্ব ও অপরিহার্যতা বজায় থাকে।

ই’রাব (الإعراب)

 

ই’রাব (الإعراب) চার প্রকার: রাফা (رفع), নাসব (نصب), জার (جر) এবং জাযম (جزم)। রাফা (رفع) ও নাসব (نصب)-এর ক্ষেত্রে ইসম (الاسم) ও ফি’ল (الفعل) উভয়ই অংশীদার। জার (جر) কেবল ইসম (الاسم)-এর জন্য সুনির্দিষ্ট এবং তা ফি’ল (الفعل)-এর মধ্যে প্রবেশ করে না। আর জাযম (جزم) কেবল ফি’ল (الفعل)-এর জন্য সুনির্দিষ্ট এবং তা ইসম (الاسم)-এর মধ্যে প্রবেশ করে না।

বিনা (البناء)

 

বিনা (البناء) চার প্রকার: যাম (ضم), ফাতহ (فتح), কাসর (كسر) এবং ওয়াকফ (وقف)।

যাম (ضم) ইসম (الاسم)-এর মধ্যে হয়ে থাকে; যেমন: হাইসু (حيثُ), মিন কাবলু (من قبلُ) এবং মিন বা’দু (من بعدُ)। আর হারফ (الحرف)-এর ক্ষেত্রে এটি ‘মুনযু’ (مُنْذُ) শব্দে পরিলক্ষিত হয়—সেই সমস্ত ভাষাবিদদের রীতি অনুযায়ী যারা এটি দ্বারা জার (جر) প্রদান করেন। তবে ফি’ল (الفعل)-এর মধ্যে কোনো যাম (ضم) নেই।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ১১)
وَالْفَتْح يكون فِي الِاسْم نَحْو أينَ وكيفَ وَفِي الْفِعْل نَحْو قامَ وقعدَ وَفِي الْحَرْف نَحْو إنَّ وثمَّ

وَالْكَسْر يكون فِي الِاسْم نَحْو أمسِ وهؤلاءِ وَفِي الْحَرْف فِي جيرِ وَفِي لَام الْإِضَافَة وبائها نَحْو قَوْلك لزيد وبزيد وَلَا كسر فِي الْفِعْل

وَالْوَقْف يكون فِي الِاسْم نَحْو منْ وكمْ وَفِي الْفِعْل نَحْو خذْ وُكلْ وَفِي الْحَرْف نَحْو هلْ وبلْ
এবং ফাতাহ (الفتح) বিশেষ্য (الاسم)-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যেমন: আইনা ও কাইফা; এবং ক্রিয়া (الفعل)-এর ক্ষেত্রে, যেমন: কামা ও কা’আদা; এবং অব্যয় (الحرف)-এর ক্ষেত্রে, যেমন: ইন্না ও সুম্মা।

এবং কাসরা (الكسر) বিশেষ্য (الاسم)-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যেমন: আমসি ও হাউলাই; এবং অব্যয় (الحرف)-এর মধ্যে ‘জায়রি’-এর ক্ষেত্রে; এবং সম্বন্ধসূচক লাম (لام الإضافة) ও তার বা (الباء)-এর ক্ষেত্রে, যেমন আপনার উক্তি: লি-যাইদিন ও বি-যাইদিন। আর ক্রিয়া (الفعل)-এর মধ্যে কোনো কাসরা হয় না।

এবং ওয়াকফ (الوقف) বিশেষ্য (الاسم)-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যেমন: মান ও কাম; এবং ক্রিয়া (الفعل)-এর ক্ষেত্রে, যেমন: খুজ ও কুল; এবং অব্যয় (الحرف)-এর ক্ষেত্রে, যেমন: হাল ও বাল।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌بَاب إِعْرَاب الِاسْم الْوَاحِد

الِاسْم المعرب على ضَرْبَيْنِ صَحِيح ومعتل

‌‌الْأَسْمَاء الصَّحِيحَة

 

فَالصَّحِيح فِي هَذَا الْبَاب مَا لم يكن حرف إعرابه ألفا وَلَا يَاء قبلهَا كسرة نَحْو زيدٌ وعمٌرو وَهُوَ على ضَرْبَيْنِ منصرف وَغير منصرف

فالمنصرف مَا لم يشابه الْفِعْل من وَجْهَيْن وتدخله الحركات الثَّلَاث الضمة والفتحة والكسرة والتنوين وَيكون آخِره فِي الرّفْع مضموماً وَفِي النصب مَفْتُوحًا وَفِي الْجَرّ مكسوراً تَقول فِي الرّفْع قامَ زيدُ يَا فَتى وَفِي النصب رأيتُ زيدا يَا فَتى وَفِي الْجَرّ مررتُ بزيدِ يَا فَتى فضمة الدَّال علامةًُ الرّفْع وفتحتها عَلامَة النصب وكسرتها عَلامَة الْجَرّ وَدخل التَّنْوِين الْكَلَام عَلامَة للأخف عَلَيْهِم والأمكن عِنْدهم وَهُوَ الْوَاحِد النكرَة 3

ووالمضاف كالمفرد فِيمَا ذكرنَا يعرف الأول بِمَا يسْتَحقّهُ من الْإِعْرَاب إِلَّا أَنَّك تحذف مِنْهُ التَّنْوِين للإضافة وتجر الثَّانِي بِإِضَافَة الأول إِلَيْهِ
‌‌একবচন বিশেষ্যের ইরাব (বিভক্তি) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

রূপান্তরযোগ্য বিশেষ্য (معرب) দুই প্রকার: সহিহ (صحيح) এবং মু’তাল (معتل)।

‌‌সহিহ বিশেষ্যসমূহ

 

এই পরিচ্ছেদে সহিহ (صحيح) বলতে সেই শব্দকে বোঝানো হয়েছে, যার বিভক্তি গ্রহণের বর্ণটি (حرف إعراب) আলিফ নয় এবং এমন ‘ইয়া’ নয় যার পূর্বের বর্ণটি কাসরাহ (کسرة) যুক্ত; যেমন: যাইদ এবং আমর। এটি আবার দুই প্রকার: মুনসারিফ (منصرف) এবং গাইরে মুনসারিফ (غير منصرف)।

মুনসারিফ (منصرف) হলো সেই শব্দ যা দুই দিক থেকে ক্রিয়ার (فعل) সদৃশ নয় এবং যাতে তিনটি হরকত—দম্মাহ (ضمة), ফাতহাহ (فتحة) ও কাসরাহ (كسرة) এবং তানউইন (تنوين) প্রবেশ করে। রাফ’ (رفع) অবস্থায় এর শেষ বর্ণটি দম্মাহ-যুক্ত, নাসাব (نصب) অবস্থায় ফাতহাহ-যুক্ত এবং জার (جر) অবস্থায় কাসরাহ-যুক্ত হয়। আপনি রাফ’ (رفع) এর ক্ষেত্রে বলবেন: ‘হে যুবক, যাইদ দাঁড়িয়েছে’, নাসাব (نصب) এর ক্ষেত্রে বলবেন: ‘হে যুবক, আমি যাইদকে দেখেছি’ এবং জার (جر) এর ক্ষেত্রে বলবেন: ‘হে যুবক, আমি যাইদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’। এখানে ‘দাল’ বর্ণের দম্মাহ হলো রাফ’ (الرفع) এর আলামত, ফাতহাহ হলো নাসাব (النصب) এর আলামত এবং কাসরাহ হলো জার (الجر) এর আলামত। আরবি ভাষায় তানউইন (تنوين) শব্দে যুক্ত হয়েছে শব্দটি হালকা হওয়ার আলামত হিসেবে এবং তাদের নিকট অধিক সুদৃঢ় (الأمكن) হওয়ার প্রমাণ হিসেবে; আর এটি হলো একবচন অনির্দিষ্ট (نكرة) বিশেষ্য।

আর মুদাফ (المضاف) এর বিধান আমাদের উল্লিখিত একবচনের মতোই; এর প্রথম অংশটি তার প্রাপ্য অবস্থান অনুযায়ী ইরাব (إعراب) গ্রহণ করবে, তবে ইদাফাহ (إضافة) বা সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে আপনি প্রথম অংশ থেকে তানউইন (تنوين) বিলুপ্ত করবেন এবং প্রথম অংশটি দ্বিতীয় অংশের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে দ্বিতীয় অংশটিকে জার (جر) প্রদান করবেন।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ১৩)
على كل حَال تَقول هَذَا غلامُ زيدٍ وَرَأَيْت غلامَ زيدٍ ومررت بغلامِ زيدٍ

وَغير المنصرف مَا شابه الْفِعْل من وَجْهَيْن وتدخله الضمة والفتحة وَلَا يدْخلهُ جر وَلَا تَنْوِين وَيكون آخِره فِي الْجَرّ مَفْتُوحًا فَإِن أضيف أَو دَخلته الْألف وَاللَّام فأمن فِيهِ الثّقل دخله الْجَرّ فِي مَوضِع الْجَرّ تَقول فِي الرّفْع هَذَا أَحْمد وَعمر وَفِي النصب رَأَيْت أحمدَ وعمَر وَفِي الْجَرّ مَرَرْت بأحمدَ وعمرَ وَتقول مَعَ الْإِضَافَة عجبت من أحمدِكم وعمرِكم وَمَعَ الْألف وَاللَّام عجبت من الْفرس الأشقرِِ وَنظرت إِلَى الرجل الأسمرِِ

‌‌الْوَقْف على الصَّحِيح

 

فَإِن وقفت على الْمَرْفُوع وَالْمَجْرُور من هَذَا الْبَاب حذفت التَّنْوِين لِأَنَّهُ زَائِد لَا يُوقف عَلَيْهِ وأسكنت آخرهما لِأَن الْعَرَب إِنَّمَا تبتدئ بالمتحرك وتقف على السَّاكِن تَقول فِي الْوَقْف هَذَا زيدْ ومررت بزيدْ فَإِن وقفت على الْمَنْصُوب الْمنون أبدلت من تنوينه فِي الْوَقْف ألفا تَقول فِي الْوَقْف رَأَيْت زيدَا

فَإِن لم يكن الْمَنْصُوب منونا كَانَ الْوَقْف عَلَيْهِ سَاكِنا كالمرفوع 3 ظ وَالْمَجْرُور تَقول فِي الْوَقْف ضربت عمرْ وأكرمت الرجلْ
যাই হোক, আপনি বলবেন ‘হাযা গোলামু যায়িদিন’ (এটি যায়িদের গোলাম), ‘রাআইতু গোলামা যায়িদিন’ (আমি যায়িদের গোলামকে দেখেছি) এবং ‘মারারতু বি-গোলামি যায়িদিন’ (আমি যায়িদের গোলামের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি)।

আর গায়র-মুনসারিফ (অপরিবর্তনশীল শব্দ) হলো যা দুই দিক থেকে ক্রিয়ার (ফেল) সদৃশ হয়। এতে পেশ (যম্মাহ) এবং জবর (ফাতহাহ) প্রবেশ করে, কিন্তু তাতে জের (জার) বা তানবিন প্রবেশ করে না। এবং ‘জার’ অবস্থায় এর শেষাক্ষরে জবর (ফাতহাহ) হয়। তবে যদি তা মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত) হয় অথবা তাতে আলিফ ও লাম (ال) যুক্ত হয় এবং তাতে উচ্চারণের জড়তা বা ভারমুক্ত হওয়া যায়, তবে ‘জার’-এর স্থলে তাতে জের প্রবেশ করবে। রফ (পেশ) অবস্থায় আপনি বলবেন: ‘এটি আহমাদ ও উমার’, নসব (জবর) অবস্থায়: ‘আমি আহমাদ ও উমারকে দেখেছি’ এবং জার অবস্থায়: ‘আমি আহমাদ ও উমারের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’। ইজাফাত বা সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায় আপনি বলবেন: ‘আমি তোমাদের আহমাদ ও উমারকে দেখে বিস্মিত হয়েছি’ এবং আলিফ-লাম সহকারে বলবেন: ‘আমি লালচে ঘোড়াটি দেখে বিস্মিত হয়েছি’ এবং ‘আমি শ্যামলা লোকটির দিকে তাকিয়েছি’।

‌‌সহিহ (صحيح) শব্দের শেষে ওয়াকফ (থামা)

 

যদি আপনি এই পরিচ্ছেদের মারফু (পেশযুক্ত) এবং মাজরুর (জেরযুক্ত) শব্দের ওপর ওয়াকফ (বিরতি) করেন, তবে তানবিন বিলুপ্ত করবেন; কারণ এটি অতিরিক্ত এবং এর ওপর ওয়াকফ করা যায় না। আর আপনি উভয়ের শেষাক্ষরকে সাকিন করবেন, কারণ আরবরা সর্বদা হরকতবিশিষ্ট বর্ণ দিয়ে কথা শুরু করে এবং সাকিন বর্ণের ওপর থামে। ওয়াকফের ক্ষেত্রে আপনি বলবেন: ‘হাযা যায়িদ’ এবং ‘মারারতু বি-যায়িদ’। তবে যদি আপনি তানবিনযুক্ত মানসুব (জবরযুক্ত) শব্দের ওপর ওয়াকফ করেন, তবে ওয়াকফের সময় তার তানবিনের পরিবর্তে আলিফ পাঠ করবেন। যেমন আপনি ওয়াকফের সময় বলবেন: ‘রাআইতু যায়িদা’।

আর যদি মানসুব (জবরযুক্ত) শব্দটি তানবিনহীন হয়, তবে তার ওপর ওয়াকফ হবে সাকিন—যেমনটি মারফু ও মাজরুর শব্দের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আপনি ওয়াকফ করার সময় বলবেন: ‘আমি উমারকে প্রহার করেছি’ এবং ‘আমি লোকটিকে সম্মানিত করেছি’।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌إِعْرَاب الِاسْم المعتل

 

‌‌الْأَسْمَاء المعتلة

 

الِاسْم المعتل على ضَرْبَيْنِ مَنْقُوص ومقصور

‌‌المنقوص

 

فالمنقوص كل اسْم وَقع فِي آخِره يَاء قبلهَا كسرة نَحْو القَاضِي والداعي وَهَذِه الْيَاء لَا تدْخلهَا ضمة وَلَا كسرة وَإِن لقيها سَاكن بعْدهَا حذفت لالتقاء الساكنين تَقول فِي الرّفْع هَذَا قاضٍ يَا فَتى وَفِي الْجَرّ مَرَرْت بقاضٍ يَا فَتى وَكَانَ الأَصْل فِيهِ هَذَا قَاضِي ومررت بقاضي فأسكنت الْيَاء استثقالا للضمة والكسرة عَلَيْهَا وَكَانَ التَّنْوِين بعْدهَا سَاكِنا فحذفت الْيَاء لالتقاء الساكنين وَبقيت الكسرة قبلهَا تدل عَلَيْهَا فَإِن نصبت المنقوص جرى مجْرى الصَّحِيح لخفة الفتحة تَقول فِي النصب رَأَيْت قَاضِيا يَا فَتى ففتحة الْيَاء عَلامَة النصب

فَإِن وقفت على الْمَجْرُور وَالْمَرْفُوع من هَذَا الْبَاب حذفت
‌‌বিকারপ্রাপ্ত বিশেষ্যের রূপান্তর (إِعْرَاب الِاسْم المعتل)

 

‌‌বিকারপ্রাপ্ত বিশেষ্যসমূহ (الْأَسْمَاء المعتلة)

 

বিকারপ্রাপ্ত বিশেষ্য (الاسم المعتল) দুই প্রকার: অপূর্ণ (منقوص) এবং হ্রস্বায়িত (مقصور)।

‌‌অপূর্ণ (المنقوص)

 

অপূর্ণ (المنقوص) হলো সেই প্রতিটি বিশেষ্য যার শেষে একটি ‘ইয়া’ বর্ণ রয়েছে এবং তার পূর্বের বর্ণে যের (كسرة) রয়েছে; যেমন— আল-ক্বাদি এবং আদ-দায়ি। এই ‘ইয়া’ বর্ণে পেশ (ضمة) এবং যের (كسرة) যুক্ত হয় না। আর যদি এর পরে কোনো স্থির (ساكن) বর্ণ আসে, তবে দুই স্থির বর্ণের মিলনজনিত কারণে এটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। আপনি কর্তৃকারকীয় অবস্থায় (الرفع) বলবেন: "হে যুবক, ইনি একজন বিচারক (ক্বাদিন)" এবং সম্বন্ধবাচক অবস্থায় (الجر) বলবেন: "হে যুবক, আমি একজন বিচারকের (ক্বাদিন) পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম"। এর মূল রূপ ছিল "ক্বাদিইউন" এবং "ক্বাদিইন"; কিন্তু 'ইয়া' বর্ণের ওপর পেশ (ضمة) এবং যের (كسرة) উচ্চারণ করা কষ্টসাধ্য হওয়ার কারণে তাকে স্থির (سكون) করা হয়েছে। এমতাবস্থায় পরবর্তী তানউইন (تنوين) বর্ণটিও স্থির (ساكن) থাকায় দুই স্থির বর্ণের মিলনের ফলে ‘ইয়া’ বর্ণটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং তার পূর্বের যের (كسرة) টি অবশিষ্ট রয়েছে যা বিলুপ্ত বর্ণটির অস্তিত্ব নির্দেশ করে। তবে আপনি যদি অপূর্ণ (المنقوص) বিশেষ্যকে কর্মকারকীয় অবস্থায় (النصب) ব্যবহার করেন, তবে জবর (الفتحة) উচ্চারণ সহজ হওয়ার কারণে তা সুস্থ (الصحيح) শব্দের ন্যায় আচরণ করবে। আপনি কর্মকারকীয় অবস্থায় (النصب) বলবেন: "হে যুবক, আমি একজন বিচারককে (ক্বাদিয়ান) দেখেছি"; এখানে ‘ইয়া’ বর্ণের উপরের জবরটিই (فتحة) কর্মকারকীয় অবস্থার চিহ্ন।

যদি আপনি এই পরিচ্ছেদের সম্বন্ধবাচক (المجرور) এবং কর্তৃকারকীয় (المرفوع) শব্দের ওপর থামেন, তবে তা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ১৫)
الْيَاء ووقفت على مَا قبلهَا سَاكِنا تَقول فِي الْوَقْف هَذَا قاضْ ومررت بقاض وَيجوز أَن تقف بِالْيَاءِ فَتَقول هَذَا قَاضِي ومررت بقاضي وَتقول فِي النصب رَأَيْت قَاضِيا تقف بِالْألف كَمَا تَقول رَأَيْت زيدَا

فَإِن زَالَ التَّنْوِين عَن هَذِه الْأَسْمَاء بِالْألف وَاللَّام أَو الْإِضَافَة كَانَت الْيَاء سَاكِنة فِي الرّفْع والجر مَفْتُوحَة فِي النصب 4 وتَقول فِي الرّفْع هَذِه القَاضِي وَهَذَا قاضيك وَفِي الْجَرّ مَرَرْت بِالْقَاضِي ومررت بقاضيك وَكَانَ الأَصْل فِيهِ هَذَا القَاضِي ومررت بِالْقَاضِي وَهَذَا قاضيك ومررت بقاضيك فأسكنت الْيَاء استثقالا للضمة والكسرة عَلَيْهَا وَبقيت سَاكِنة وَتقول فِي النصب رَأَيْت القَاضِي وَرَأَيْت قاضيك ففتحة الْيَاء عَلامَة النصب

فَإِن وقفت على مَا لَا تَنْوِين فِيهِ وقفت بِالْيَاءِ سَاكِنة تَقول فِي الْوَقْف هَذَا القَاضِي ومررت بِالْقَاضِي وَيجوز أَن تقف بِلَا يَاء فَتَقول هَذَا القاض ومررت بالقاض وَتقول فِي النصب رَأَيْت القَاضِي تقف بِالْيَاءِ لَا غير
ইয়া (বর্ণটি); আপনি যদি এর পূর্ববর্তী বর্ণের ওপর সাকিন করে থামেন, তবে ওয়াকফ (থামা) এর ক্ষেত্রে বলবেন ‘হাযা কাদ’ এবং ‘মারারতু বি-কাদ’। তবে ইয়া উচ্চারণসহ থামাও জায়েয, তখন বলবেন ‘হাযা কাজি’ এবং ‘মারারতু বি-কাজি’। নসব এর অবস্থায় বলবেন ‘রাআইতু কাজিয়ান’, এক্ষেত্রে আপনি আলিফের সাথে থামবেন যেমনটি ‘রাআইতু যাইদান’ বলার সময় করে থাকেন।

যদি আলিফ-লাম অথবা ইযাফাত (সম্বন্ধ) যুক্ত হওয়ার কারণে এই ইসমগুলো থেকে তানভীন বিলুপ্ত হয়, তবে রফ’ এবং জর এর অবস্থায় ইয়া সাকিন থাকবে এবং নসব এর অবস্থায় তা ফাতহাযুক্ত হবে। 4 এবং আপনি রফ’ এর অবস্থায় বলবেন ‘হাযিহিল কাজি’ এবং ‘হাযা কাজিকা’। জর এর অবস্থায় বলবেন ‘মারারতু বিল কাজি’ এবং ‘মারারতু বি-কাজিকা’। এর মূল রূপ ছিল যথাক্রমে ‘হাযাল কাজিউ’, ‘মারারতু বিল কাজি-ই’, ‘হাযা কাজিউকা’ এবং ‘মারারতু বি-কাজিকা-ই’। কিন্তু ইয়া-র ওপর দম্মা (পেশ) ও কাসরা (জের) উচ্চারণ করা কষ্টসাধ্য হওয়ার কারণে ইয়া-কে সাকিন করা হয়েছে এবং তা সাকিন অবস্থাতেই বহাল রয়েছে। নসব এর অবস্থায় আপনি বলবেন ‘রাআইতুল কাজি’ এবং ‘রাআইতু কাজিয়াকা’; এখানে ইয়া-র ওপর ফাতহা হওয়াই হলো নসব এর আলামত।

যদি আপনি এমন শব্দের ওপর থামেন যাতে তানভীন নেই, তবে ইয়া সাকিন রেখে থামবেন; যেমন ওয়াকফের ক্ষেত্রে বলবেন ‘হাযাল কাজি’ এবং ‘মারারতু বিল কাজি’। আবার ইয়া ছাড়া থামাও জায়েয, তখন বলবেন ‘হাযাল কাদ’ এবং ‘মারারতু বিল কাদ’। নসব এর অবস্থায় বলবেন ‘রাআইতুল কাজি’, এক্ষেত্রে কেবল ইয়া-র সাথেই থামতে হবে।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الْمَقْصُور

 

أما الْمَقْصُور فَكل اسْم وَقعت فِي آخِره ألف مُفْردَة نَحْو عَصا ورحى والمقصور كُله لَا يدْخلهُ شَيْء من الْإِعْرَاب لِأَن فِي آخِره ألفا وَالْألف لَا تكون إِلَّا سَاكِنة تَقول فِي الرّفْع هَذِه عَصا يَا فَتى وَفِي النصب رَأَيْت عَصا يَا فَتى وَفِي الْجَرّ مَرَرْت بعصا يَا فَتى كُله بِلَفْظ وَاحِد وَسَقَطت الْألف من اللَّفْظ لسكونها وَسُكُون التَّنْوِين بعْدهَا وَبقيت الفتحة قبلهَا تدل على الْألف المحذوفة

فَإِن وقفت على الْمَرْفُوع من هَذَا وَالْمَجْرُور حذفت التَّنْوِين كَمَا فعلت فِي الصَّحِيح ووقفت على الْألف 4 ظ الَّتِي هِيَ حرف الْإِعْرَاب تَقول فِي الْوَقْف هَذِه عَصا ومررت بعصا

فَإِن وقفت على الْمَنْصُوب الْمنون أبدلت من تنوينه ألفا فِي الْوَقْف وحذفت الْألف الأولى الَّتِي هِيَ حرف الْإِعْرَاب لسكونها وَسُكُون الْألف الَّتِي هِيَ عوض من التَّنْوِين بعْدهَا تَقول فِي الْوَقْف رَأَيْت عَصا

فَإِن لم يكن الْمَقْصُور منونا كَانَت أَلفه ثَابِتَة على كل حَال مَا لم يلقها سَاكن من كلمة بعْدهَا تَقول هَذِه حُبْلَى وَرَأَيْت حُبْلَى ومررت بحبلى
মাকসুর (المقصور)

 

মাকসুর (المقصور) হলো সেই প্রতিটি বিশেষ্য (اسم), যার শেষে একটি একক আলিফ (ألف) যুক্ত হয়, যেমন লাঠি (عصا) এবং যাতাকল (رحى)। মাকসুর (المقصور) শব্দের ক্ষেত্রে বিভক্তির (الإعراب) কোনো পরিবর্তন দৃশ্যমান হয় না, কারণ এর শেষে আলিফ (ألف) থাকে এবং আলিফ (ألف) সর্বদা সাকিন বা স্থির (ساكنة) থাকে। আপনি রফ (الرفع) অবস্থায় বলবেন ‘হে যুবক, এটি একটি লাঠি (عصا)’, নসব (النصب) অবস্থায় ‘হে যুবক, আমি একটি লাঠি (عصا) দেখেছি’ এবং জর (الجر) অবস্থায় ‘হে যুবক, আমি একটি লাঠি (عصا) নিয়ে অতিক্রম করেছি’। সবক্ষেত্রেই উচ্চারণ (لفظ) একই হবে। উচ্চারণে আলিফ (ألف) বিলুপ্ত হয়েছে কারণ এটি সাকিন (سكون) এবং এর পরে থাকা তানউইন (التنوين)-ও সাকিন (سكون)। তবে এর পূর্বের ফাতহাহ (যবর) অবশিষ্ট থাকে যা বিলুপ্ত (المحذوفة) আলিফটিকে নির্দেশ করে।

যদি আপনি এই ধরনের শব্দের মারফু (المرفوع) অথবা মাজরুর (المجرুর) অবস্থায় থামেন বা ওয়াকফ (الوقف) করেন, তবে আপনি তানউইন (التنوين) বিলুপ্ত করবেন যেমনটি আপনি সহিহ (الصحيح) শব্দের ক্ষেত্রে করে থাকেন। আপনি তখন আলিফ (ألف)-এর ওপর ওয়াকফ (الوقف) করবেন যা মূলত ইরাবের বর্ণ (حرف الإعراب)। থামার সময় আপনি বলবেন ‘হাযিহি আসা’ এবং ‘মারারতু বি-আসা’।

আর যদি আপনি তানউইনযুক্ত (المنون) মানসুব (المنصوب) শব্দের ওপর ওয়াকফ (الوقف) করেন, তবে ওয়াকফ (الوقف)-এর সময় তানউইনের পরিবর্তে একটি আলিফ (ألف) যুক্ত করবেন এবং প্রথম আলিফ (ألف) টি বিলুপ্ত করবেন যা ইরাবের বর্ণ (حرف الإعراب) ছিল; কারণ সেটিও সাকিন (سكون) এবং তানউইনের বদলে আসা আলিফটিও সাকিন (سكون)। আপনি ওয়াকফ (الوقف) অবস্থায় বলবেন ‘রাআইতু আসা’।

যদি মাকসুর (المقصور) শব্দটি তানউইনযুক্ত (منونا) না হয়, তবে এর আলিফ (ألف) সকল অবস্থায় স্থির থাকবে, যতক্ষণ না পরবর্তী শব্দের কোনো সাকিন (ساكن) বর্ণের সাথে এর মিলন ঘটে। আপনি বলবেন ‘এটি গর্ভবতী (حبلى)’, ‘আমি গর্ভবতীকে (حبلى) দেখেছি’ এবং ‘আমি গর্ভবতীর (حبلى) পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الْمَمْدُود

 

وَأما الْمَمْدُود فَكل اسْم وَقعت فِي آخِره همزَة قبلهَا ألف نَحْو كسَاء ورداء وَالْإِعْرَاب جَار عَلَيْهِ تَقول هَذَا كسَاء ورداء وَرَأَيْت كسَاء ورداء ومررت بكساء ورداء

‌‌المهموز

 

والمهموز كُله يجْرِي عَلَيْهِ الْإِعْرَاب كَمَا يجْرِي على الصَّحِيح تَقول هَذَا قَارِئ ومنشئ ومبتدئ وَرَأَيْت قَارِئًا ومنشئا ومبتدئا ومررت بقارئ ومنشئ ومبتدئ

وَإِذا سكن مَا قبل الْيَاء جرت مجْرى الصَّحِيح تَقول هَذَا ظبيٌّ ونحيٌّ وَرَأَيْت ظَبْيًا ونحياً ومررت بظبيٍّ ونحيٍّ وَكَذَلِكَ الْيَاء الْمُشَدّدَة تَقول هَذَا كرسيٌّ وصبيٌّ وَرَأَيْت كرسيًّا وصبيًّا ومررت بكرسيٍّ وصبيٍّ
‌দীর্ঘস্বরবিশিষ্ট (الممدود)

 

আর দীর্ঘস্বরবিশিষ্ট (الممدود) হলো এমন প্রতিটি বিশেষ্য যার শেষে হামযা এবং তার পূর্বে আলিফ থাকে; যেমন: পোশাক ও চাদর। এর ওপর শব্দরূপান্তর (الإعراب) কার্যকর হয়। আপনি বলবেন: ‘এটি পোশাক ও চাদর’, ‘আমি পোশাক ও চাদর দেখেছি’ এবং ‘আমি পোশাক ও চাদরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’।

‌হামযাযুক্ত (المهموز)

 

হামযাযুক্ত (المهموز) সকল শব্দের ওপর শব্দরূপান্তর (الإعراب) একইভাবে পরিচালিত হয় যেভাবে সঠিক (الصحيح) শব্দের ওপর পরিচালিত হয়। আপনি বলবেন: ‘ইনি একজন পাঠক, রচয়িতা ও শিক্ষানবিশ’, ‘আমি একজন পাঠক, রচয়িতা ও শিক্ষানবিশকে দেখেছি’ এবং ‘আমি একজন পাঠক, রচয়িতা ও শিক্ষানবিশের পাশ দিয়ে গিয়েছি’।

আর যখন ‘ইয়া’ এর পূর্ববর্তী বর্ণটি সাকিন (سكن) হয়, তখন তা সঠিক (الصحيح) শব্দের ন্যায় গণ্য হয়। আপনি বলবেন: ‘এটি একটি হরিণ ও মশক’, ‘আমি একটি হরিণ ও মশক দেখেছি’ এবং ‘আমি একটি হরিণ ও মশকের পাশ দিয়ে গিয়েছি’। অনুরূপভাবে তাশদীদযুক্ত ইয়া (الياء المشددة) এর ক্ষেত্রেও; আপনি বলবেন: ‘এটি একটি চেয়ার ও বালক’, ‘আমি একটি চেয়ার ও বালক দেখেছি’ এবং ‘আমি একটি চেয়ার ও বালকের পাশ দিয়ে গিয়েছি’।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الْأَسْمَاء السِّتَّة

 

وَاعْلَم أَن فِي الْأَسْمَاء الْآحَاد سِتَّة أَسمَاء تكون فِي الرّفْع بِالْوَاو وَفِي النصب بِالْألف وَفِي الْجَرّ بِالْيَاءِ وَهِي أَبوك وأخوك وحموك 5 ووهنوك وفوك وَذُو مَال

تَقول فِي الرّفْع هَذَا أَبوك وأخوك وحموك وهنوك وفوك وَذُو مَال

وَفِي النصب رَأَيْت أَبَاك وأخاك وحماك وَهُنَاكَ وفاك وَذَا مَال

وَفِي الْجَرّ مَرَرْت بأبيك وأخيك وهمنيك وحميك وفيك وَذي مَال

وَالْوَاو حرف الْإِعْرَاب وَهِي عَلامَة الرّفْع وَالْألف حرف الْإِعْرَاب وَهِي عَلامَة النصب وَالْيَاء حرف الْإِعْرَاب وَهِي عَلامَة الْجَرّ
‌‌ছয়টি বিশেষ্য

 

জেনে রাখুন যে, একক (آحاد) বিশেষ্যগুলোর মধ্যে ছয়টি এমন বিশেষ্য রয়েছে যা রফ অবস্থায় ‘ওয়াও’ দ্বারা, নসব অবস্থায় ‘আলিফ’ দ্বারা এবং জর অবস্থায় ‘ইয়া’ দ্বারা গঠিত হয়। আর সেগুলো হলো: আবুকা, আখুকা, হামুকা, হানুকা, ফুকা এবং যু-মাল।

আপনি রফ অবস্থায় বলবেন: ‘হাযা আবুকা, আখুকা, হামুকা, হানুকা, ফুকা ওয়া যু-মাল’।

এবং নসব অবস্থায় বলবেন: ‘রায়াইতু আবাকা, আখাকা, হামাকা, হানাকা, ফাকা ওয়া যা-মাল’।

এবং জর অবস্থায় বলবেন: ‘মারারতু বি-আবিকা, আখিকা, হানিকা, হামিকা, ফিকা ওয়া যি-মাল’।

এখানে ‘ওয়াও’ হলো ই’রাব-এর হরফ এবং তা রফ-এর আলামত বা চিহ্ন, ‘আলিফ’ হলো ই’রাব-এর হরফ এবং তা নসব-এর আলামত এবং ‘ইয়া’ হলো ই’রাব-এর হরফ এবং তা জর-এর আলামত।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌بَاب التَّثْنِيَة

اعْلَم أَن التَّثْنِيَة للأسماء دون الْأَفْعَال والحروف فَإِذا ثنيت الِاسْم الْمَرْفُوع زِدْت فِي آخِره ألفا ونونا تَقول فِي الرّفْع قَامَ الزيدَانِ والعمران فالألف حرف الْإِعْرَاب وَهِي عَلامَة التَّثْنِيَة وعلامة الرّفْع وَدخلت النُّون عوضا مِمَّا مَعَ الِاسْم الْوَاحِد من الْحَرَكَة والتنوين اللَّذين كَانَا فِي الْوَاحِد وَكسرت لسكونها وَسُكُون الْألف قبلهَا فَإِن جررت أَو نصبت جعلت مَكَان الْألف يَاء مَفْتُوحًا مَا قبلهَا تَقول مَرَرْت بالزيدين وَضربت الزيدين فالياء حرف الْإِعْرَاب وَهِي عَلامَة التَّثْنِيَة وعلامة الْجَرّ وَالنّصب وَالنُّون مَكْسُورَة بِحَالِهَا فِي الرّفْع

والمؤنث كالمذكر فِي التَّثْنِيَة تَقول قَامَت الهندان 5 وومررت بالهندَين وَرَأَيْت الهندَين

فَإِن أضفت الْمثنى أسقطت نونه للإضافة تَقول قَامَ غُلَاما زيد مَرَرْت بغلامي زيد وَرَأَيْت غلامي زيد وَكَانَ الأَصْل فِيهِ غلامان وغلامين فَسَقَطت النُّون للإضافة
‌দ্বিবচন (التثنية) পরিচ্ছেদ

জেনে রাখুন যে, দ্বিবচন (التثنية) কেবল বিশেষ্যের (الأسماء) ক্ষেত্রে হয়, ক্রিয়া (الأفعال) বা অব্যয়ের (الحروف) ক্ষেত্রে নয়। সুতরাং আপনি যখন কোনো মারফু (مرفوع) বিশেষ্যকে দ্বিবচন করবেন, তখন তার শেষে একটি আলিফ ও নুন বৃদ্ধি করবেন। রাফ’ (الرفع) বা পেশের অবস্থায় আপনি বলবেন: ‘জায়েদদ্বয় ও আমরদ্বয় দাঁড়িয়েছে’। এখানে আলিফ হলো শব্দরূপ পরিবর্তনের বর্ণ (حرف الإعراب), যা দ্বিবচন (التثنية) ও রাফ’ (الرفع) এর চিহ্ন। আর নুনটি আনা হয়েছে একবচন বিশেষ্যের সেই হরকত ও তানভীনের পরিবর্তে যা একবচনে বিদ্যমান ছিল। নুনটি সাকিন হওয়ার কারণে এবং তার পূর্বের আলিফটি সাকিন হওয়ার কারণে (দুটি সাকিন একত্রিত হওয়ায়) নুনটিতে কাসরা বা জের দেওয়া হয়েছে।

আর যদি আপনি শব্দটিকে মাজরুর (مجرুর) অথবা মানসুব (منصুব) করেন, তবে আলিফের স্থলে এমন একটি ইয়া নিয়ে আসবেন যার পূর্বের বর্ণটি ফাতহাযুক্ত (জবরযুক্ত) হবে। আপনি বলবেন: ‘আমি জায়েদদ্বয়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম’ এবং ‘আমি জায়েদদ্বয়কে প্রহার করলাম’। এখানে ইয়া হলো শব্দরূপ পরিবর্তনের বর্ণ (حرف الإعراب), যা দ্বিবচন (التثنية) এবং জর (الجر) ও নাসব (النصب) এর চিহ্ন। আর নুনটি রাফ’ (الرفع) এর অবস্থার ন্যায় কাসরাযুক্তই থাকবে।

দ্বিবচনের (التثنية) ক্ষেত্রে স্ত্রীলিঙ্গও পুংলিঙ্গের অনুরূপ। আপনি বলবেন: ‘হিন্দাদ্বয় দাঁড়িয়েছে’, ‘আমি হিন্দাদ্বয়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম’ এবং ‘আমি হিন্দাদ্বয়কে দেখলাম’।

অতঃপর আপনি যদি দ্বিবচন (المثنى) শব্দটিকে ইদাফাত (إضافة) করেন, তবে ইদাফাতের (إضافة) কারণে তার নুনটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আপনি বলবেন: ‘জায়েদের দুই দাস দাঁড়িয়েছে’, ‘আমি জায়েদের দুই দাসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম’ এবং ‘আমি জায়েদের দুই দাসকে দেখলাম’। এর মূল রূপ ছিল ‘গুলামানি’ ও ‘গুলামাইনি’, যা ইদাফাতের (إضافة) কারণে নুন বিলুপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌ذكر الْجمع

 

اعْلَم أَن الْجمع للأسماء دون الْأَفْعَال والحروف وَهُوَ على ضَرْبَيْنِ جمع تَصْحِيح وَجمع تكسير

فَجمع التَّصْحِيح مَا سلم فِيهِ نظم الْوَاحِد وبناؤه وَهُوَ على ضَرْبَيْنِ جمع تذكير وَجمع تَأْنِيث

 

‌‌بَاب جمع التَّذْكِير

وَهُوَ الَّذِي يكون فِي الرّفْع بِالْوَاو وَالنُّون وَفِي الْجَرّ وَالنّصب بِالْيَاءِ وَالنُّون وَإِنَّمَا يكون هَذَا الْجمع للمذكرين مِمَّن يعقل نَحْو زيد وَعَمْرو تَقول فِي الرّفْع قَامَ الزيدون والعمرون فالواو حرف الْإِعْرَاب وَهِي عَلامَة الْجمع وعلامة الرّفْع وَفتحت النُّون لسكونها وَسُكُون الْوَاو قبلهَا فَإِن جررت أَو نصبت جعلت مَكَان الْوَاو يَاء مكسورا مَا قبلهَا تَقول مَرَرْت بالزيدين وَضربت الزيدين فالياء حرف الْإِعْرَاب وَهِي عَلامَة الْجمع وعلامة الْجَرّ وَالنّصب فَإِن أضفت هَذَا الْجمع أسقطت نونه للإضافة تَقول هَؤُلَاءِ مسلمو زيد ومررت بمسلمي زيد وَرَأَيْت مُسْلِمِي زيد وَكَانَ 6 والأَصْل فِيهِ
‌বহুবচন (الجمع) এর বর্ণনা

 

জেনে রাখুন যে, বহুবচন (الجمع) কেবল বিশেষ্যের (الأسماء) ক্ষেত্রে হয়, ক্রিয়া (الأفعال) বা অব্যয়ের (الحروف) ক্ষেত্রে নয়। এটি দুই প্রকার: সুসংগঠিত বহুবচন (جمع تصحيح) এবং ভগ্ন বহুবচন (جمع تكسير)।

সুসংগঠিত বহুবচন (جمع التصحيح) হলো তা, যাতে একবচনের (الواحد) বিন্যাস ও গঠন ঠিক থাকে। এটি আবার দুই প্রকার: পুংলিঙ্গবাচক বহুবচন (جمع تذكير) এবং স্ত্রীলিঙ্গবাচক বহুবচন (جمع تأنيث)।

 

‌‌পুংলিঙ্গবাচক বহুবচন (جمع التذكير) পরিচ্ছেদ

এটি এমন যা রফ (الرفع) অবস্থায় ওয়াও (الواو) ও নুন (النون) যোগে এবং জর (الجر) ও নসব (النصب) অবস্থায় ইয়া (الياء) ও নুন (النون) যোগে গঠিত হয়। এই বহুবচন (الجمع) কেবল জ্ঞানসম্পন্ন পুংলিঙ্গবাচক সত্তাদের জন্য হয়, যেমন যায়েদ ও আমর। আপনি রফ (الرفع) অবস্থায় বলবেন ‘ক্বামা যায়দুনা’ ও ‘আল-আমরুনা’। এখানে ওয়াও (الواو) হলো ই'রাবের বর্ণ (حرف الإعراب) এবং এটি বহুবচনের আলামত (علامة الجمع) ও রফ এর আলামত (علامة الرفع)। নুন (النون) বর্ণটিতে ফাতহা (الفتح) প্রদান করা হয়েছে কারণ এটি সাকিন এবং তার পূর্ববর্তী ওয়াও (الواو) বর্ণটিও সাকিন। আর যদি আপনি জর (الجر) অথবা নসব (النصب) করেন, তবে ওয়াও (الواو) এর স্থলে ইয়া (الياء) নিয়ে আসবেন যার পূর্ববর্তী বর্ণটি কাসরা (الكسر) যুক্ত হবে। আপনি বলবেন ‘মারারতু বিয-যায়দিনা’ এবং ‘দারাবতুয-যায়দিনা’। এখানে ইয়া (الياء) হলো ই'রাবের বর্ণ (حرف الإعراب) এবং এটি বহুবচনের আলামত (علامة الجمع) এবং জর (الجر) ও নসব (النصب) এর আলামত। আপনি যদি এই বহুবচনটিকে সম্বন্ধযুক্ত (الإضافة) করেন, তবে সম্বন্ধের (الإضافة) কারণে এর নুন (النون) বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আপনি বলবেন ‘হাউলা-ই মুসলিমু যায়দিন’, ‘মারারতু বিমুসলিমী যায়দিন’ এবং ‘রাআইতু মুসলিমী যায়দিন’। আর এতে ৬টি অবস্থা ছিল এবং এর মূল হলো...
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ২১)
مُسلمُونَ ومسلمين فَسَقَطت النُّون للإضافة

 

‌‌بَاب جمع التَّأْنِيث

إِذا جمعت الِاسْم الْمُؤَنَّث زِدْت فِي آخِره ألفا وتاء وَتَكون التَّاء مَضْمُومَة فِي الرّفْع مَكْسُورَة فِي النصب والجر تَقول فِي الرّفْع هَؤُلَاءِ الهنداتُ وَفِي الْجَرّ مَرَرْت بالهنداتِ وَفِي النصب رَأَيْت الهندات فالألف وَالتَّاء عَلامَة الْجمع والتأنيث وَالتَّاء حرف الْإِعْرَاب وضمتها عَلامَة الرّفْع وكسرتها عَلامَة الْجَرّ وَالنّصب

فَإِن كَانَ فِي الِاسْم الْمُؤَنَّث هَاء التَّأْنِيث حذفتها فِي الْجمع تَقول فِي جمع مسلمةٌ مسلماتٌ وَفِي جمع قائمةٌ قائماتٌ وَكَانَ الأَصْل مسلمتات وقائمتات فحذفت التَّاء الأولى لِئَلَّا تَجْتَمِع فِي الِاسْم الْوَاحِد علامتا تَأْنِيث

فَإِن كَانَت فِيهِ ألف التَّأْنِيث الْمَقْصُورَة قلبت فِي الْجمع يَاء تَقول فِي جمع سُعدَى سعديَاتٌ وَفِي جمع حبارى حباريات

فَإِن كَانَت فِيهِ ألف التَّأْنِيث الممدودة قلبت الْهمزَة فِي الْجمع واوا تَقول فِي جمع صحراء صحراوات وَفِي جمع ُخنفساء خُنْفساوات
মুসলিমুন এবং মুসলিমিন, অতঃপর ইদাফাত (الإضافة)-এর কারণে নূন বিলুপ্ত হয়েছে।

 

‌স্ত্রীবাচক বহুবচন (جمع التَّأْنِيث) পরিচ্ছেদ

যখন আপনি কোনো স্ত্রীবাচক বিশেষ্যকে বহুবচন করবেন, তখন তার শেষে একটি আলিফ এবং 'তা' বৃদ্ধি করবেন। রফা (الرّفْع) অবস্থায় 'তা' পেশযুক্ত হবে এবং নসব (النصب) ও জর (الجر) অবস্থায় যেরযুক্ত হবে। আপনি রফা (الرّفْع) অবস্থায় বলবেন 'হাওলায়িল হিন্দাতু', জর (الجر) অবস্থায় 'মারারতু বিল হিন্দাতি' এবং নসব (النصب) অবস্থায় 'রাআইতুল হিন্দাতি'। সুতরাং আলিফ ও 'তা' হলো বহুবচন ও স্ত্রীবাচকতার চিহ্ন এবং 'তা' হলো ইরাব (الْإِعْرَاب)-এর বর্ণ। এর পেশ হওয়া রফা (الرّفْع)-এর চিহ্ন এবং যের হওয়া জর (الجر) ও নসব (النصب)-এর চিহ্ন।

যদি স্ত্রীবাচক বিশেষ্যটিতে স্ত্রীবাচকতার হা (هاء التَّأْنِيث) থাকে, তবে বহুবচনের সময় আপনি তা বিলুপ্ত করে দেবেন। যেমন 'মুসলিমাতুন'-এর বহুবচনে বলবেন 'মুসলিমাতুন' এবং 'কায়েমাতুন'-এর বহুবচনে বলবেন 'কায়েমাতুন'। এর মূল রূপ ছিল 'মুসলিমতাতুন' এবং 'কায়েমতাতুন', কিন্তু প্রথম 'তা'-টি বিলুপ্ত করা হয়েছে যাতে একটি বিশেষ্যে দুটি স্ত্রীবাচকতার চিহ্ন একত্রিত না হয়।

যদি তাতে স্ত্রীবাচকতার আলিফ মাকসুরা (ألف التَّأْنِيث الْمَقْصُورَة) থাকে, তবে বহুবচনের ক্ষেত্রে তা 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হবে। যেমন 'সু’দা'-এর বহুবচনে বলবেন 'সু’দায়াতুন' এবং 'হুবারা'-এর বহুবচনে বলবেন 'হুবায়রায়াতুন'।

আর যদি তাতে স্ত্রীবাচকতার আলিফ মামদুদা (ألف التَّأْنِيث الممدودة) থাকে, তবে বহুবচনের ক্ষেত্রে হামযা-টি 'ওয়াও'-তে রূপান্তরিত হবে। যেমন 'সাহরা'-এর বহুবচনে বলবেন 'সাহরাওয়াতুন' এবং 'খুনফুসা'-এর বহুবচনে বলবেন 'খুনফুসাওয়াতুন'।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌بَاب جمع التكسير

وَهُوَ كل جمع تغير فِيهِ نظم الْوَاحِد وبناؤه وَإِعْرَابه جَار 6 ظ على آخِره كَمَا يجْرِي على الْوَاحِد تَقول هَذِه دور وقصور وَرَأَيْت دورا وقصورا ومررت بدور وقصور
ভগ্ন বহুবচন পরিচ্ছেদ

তা হলো এমন প্রত্যেক বহুবচন যাতে একবচনের বিন্যাস ও গঠন পরিবর্তিত হয়ে যায় এবং এর ই’রাব একবচনের ন্যায় শব্দটির শেষভাগে পরিলক্ষিত হয়। আপনি বলবেন: “এগুলো ঘরবাড়ি ও প্রাসাদসমূহ”, “আমি ঘরবাড়ি ও প্রাসাদসমূহ দেখেছি” এবং “আমি ঘরবাড়ি ও প্রাসাদসমূহের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি।”
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌بَاب الْأَفْعَال

وَهِي ثَلَاثَة أضْرب تَنْقَسِم بأقسام الزَّمَان مَاض وحاضر ومستقبل

فالماضي مَا قرن بِهِ الْمَاضِي من الْأَزْمِنَة نَحْو قَوْلك قَامَ أمس وَقعد أول من أمس

والحاضر مَا قرن بِهِ الْحَاضِر من الْأَزْمِنَة نَحْو قَوْلك هُوَ يقْرَأ الْآن وَهُوَ يُصَلِّي السَّاعَة وَهَذَا اللَّفْظ أَيْضا يصلح للمستقبل إِلَّا أَن الْحَال أولى بِهِ من الِاسْتِقْبَال تَقول هُوَ يقْرَأ غَدا وَيُصلي بعد غَد فَإِن أردْت إخلاصه للاستقبال أدخلت فِيهِ السِّين أَو سَوف قلت سيقرأ غَدا وسوف يُصَلِّي بعد غَد

والمستقبل مَا قرن بِهِ الْمُسْتَقْبل من الْأَزْمِنَة نَحْو قَوْلك سينطلق غَدا وسوف يقوم غَدا وسوف يُصَلِّي غَدا وَكَذَلِكَ جَمِيع أَفعَال الْأَمر وَالنَّهْي نَحْو قَوْلك قُم غَدا وَلَا تقعد غَدا
ক্রিয়াসমূহ পরিচ্ছেদ

ক্রিয়া তিনটি প্রকারে বিভক্ত যা সময়ের বিভাজন অনুযায়ী বিন্যস্ত: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ।

অতীত হলো তা-ই, যা অতীতকালের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন আপনার বক্তব্য: "সে গতকাল দাঁড়িয়েছিল" এবং "সে গত পরশু বসেছিল"।

বর্তমান হলো তা-ই, যা বর্তমান সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন আপনার বক্তব্য: "সে এখন পড়ছে" এবং "সে এই মুহূর্তে সালাত আদায় করছে"। এই শব্দরূপটি ভবিষ্যতের জন্যও উপযুক্ত, তবে ভবিষ্যতের তুলনায় বর্তমানের অর্থ প্রদান করাই এর জন্য অধিকতর সংগত। আপনি বলতে পারেন: "সে আগামীকাল পড়বে" এবং "সে আগামী পরশু সালাত আদায় করবে"। অতঃপর যদি আপনি একে ভবিষ্যতের জন্য নির্দিষ্ট করতে চান, তবে এতে 'সিন' অথবা 'সাওফা' যুক্ত করবেন; যেমন আপনি বলবেন: "সে শীঘ্রই আগামীকাল পড়বে" এবং "সে অচিরেই আগামী পরশু সালাত আদায় করবে"।

ভবিষ্যৎ হলো তা-ই, যা ভবিষ্যৎকালের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমন আপনার বক্তব্য: "সে আগামীকাল রওনা হবে", "সে আগামীকাল দাঁড়াবে" এবং "সে আগামীকাল সালাত আদায় করবে"। অনুরূপভাবে সকল আদেশসূচক ও নিষেধসূচক ক্রিয়া এই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত; যেমন আপনার বক্তব্য: "তুমি আগামীকাল দাঁড়াও" এবং "তুমি আগামীকাল বসো না"।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌بَاب معرفَة الْأَسْمَاء المرفوعة

وَهِي خَمْسَة أضْرب مُبْتَدأ وَخبر مُبْتَدأ وفاعل ومفعول 7 وجعل الْفِعْل حَدِيثا عَنهُ وَهُوَ مَا لم يسم فَاعله ومشبه بالفاعل فِي اللَّفْظ وَهُوَ قِسْمَانِ اسْم كَانَ وَأَخَوَاتهَا وأخبار إِن وَأَخَوَاتهَا
রফ‘যুক্ত বিশেষ্যসমূহ (الأسماء المرفوعة) চেনার পরিচ্ছেদ

আর এগুলো পাঁচ প্রকার: মুক্তাদা (مبتدأ), মুক্তাদার খবর (خبر مبتدأ), ফায়েল (فاعل), মাফউল (مفعول) যার প্রতি ক্রিয়াকে সংবাদ হিসেবে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং তা এমন বিষয় যার কর্তার নাম উল্লেখ করা হয়নি (ما لم يسم فاعله), এবং যা শব্দগতভাবে ফায়েল বা কর্তার সদৃশ। আর তা দুই প্রকার: 'কানা' ও তার সমগোত্রীয় শব্দাবলির ইসিম এবং 'ইন্না' ও তার সমগোত্রীয় শব্দাবলির খবরসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌بَاب الْمُبْتَدَأ

اعْلَم أَن الْمُبْتَدَأ كل اسْم ابتدأته وعريته من العوامل اللفظية وعرضته لَهَا وَجَعَلته أَولا لثان يكون الثَّانِي خَبرا عَن الأول وَمُسْندًا إِلَيْهِ وَهُوَ مَرْفُوع بِالِابْتِدَاءِ تَقول زيد قَائِم وَمُحَمّد منطلق ف زيد وَمُحَمّد مرفوعان بِالِابْتِدَاءِ وَمَا بعدهمَا خبر عَنْهُمَا
উদ্দেশ্য (مبتدأ) পরিচ্ছেদ

জেনে রাখুন যে, উদ্দেশ্য (مبتدأ) হলো এমন প্রতিটি বিশেষ্য (اسم), যা দ্বারা আপনি বাক্য শুরু করেছেন এবং যাকে শাব্দিক প্রভাবকসমূহ (عوامل لفظية) থেকে মুক্ত রেখেছেন অথচ সেগুলোর প্রভাব গ্রহণের উপযোগী রেখেছেন, এবং একে দ্বিতীয় একটি পদের জন্য প্রথম সাব্যস্ত করেছেন যেন সেই দ্বিতীয় পদটি প্রথমটি সম্পর্কে সংবাদ বা বিধেয় (خبر) হয় এবং তার প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (مسند إليه) হয়। আর এটি প্রারম্ভিকতার (ابتداء) কারণে রফ-যুক্ত (مرفوع) হয়। যেমন আপনি বলেন: ‘জায়েদ দণ্ডায়মান’ এবং ‘মুহাম্মদ প্রস্থানকারী’; এখানে ‘জায়েদ’ ও ‘মুহাম্মদ’ প্রারম্ভিকতার (ابتداء) কারণে রফ-যুক্ত (مرفوع) হয়েছে এবং তাদের পরবর্তী শব্দদ্বয় তাদের সম্পর্কে বিধেয় (خبر)।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌بَاب خبر الْمُبْتَدَأ

وَهُوَ كل مَا أسندته إِلَى الْمُبْتَدَأ وَحدثت بِهِ عَنهُ وَذَلِكَ على ضَرْبَيْنِ مُفْرد وَجُمْلَة

‌‌الْإِخْبَار بالمفرد

 

فَإِذا كَانَ الْخَبَر مُفردا فَهُوَ الْمُبْتَدَأ فِي الْمَعْنى وَهُوَ مَرْفُوع بالمبتدأ تَقول زيد أَخُوك وَمُحَمّد صَاحبك فزيد هُوَ الْأَخ وَمُحَمّد هُوَ الصاحب

فَإِن اجْتمع فِي الْكَلَام معرفَة ونكرة جعلت الْمُبْتَدَأ هُوَ الْمعرفَة وَالْخَبَر هُوَ النكرَة تَقول زيدٌ جالسٌ ف زيد هُوَ الْمُبْتَدَأ لِأَنَّهُ معرفَة وجالسٌ هُوَ الْخَبَر لِأَنَّهُ نكرَة

فَإِن كَانَا جَمِيعًا معرفتين كنت فيهمَا مُخَيّرا أَيهمَا شِئْت جعلته الْمُبْتَدَأ وَجعلت الآخر 7 ظ الْخَبَر تَقول زيدٌ أخوكَ وَإِن شِئْت قلت أَخُوك زيد

‌‌الْإِخْبَار بِالْجُمْلَةِ

 

وَأما الْجُمْلَة فَهِيَ كل كَلَام مُفِيد مُسْتَقل بِنَفسِهِ وَهِي على ضَرْبَيْنِ
উদ্দেশ্যের বিধেয় (خبر المبتدأ) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

উদ্দেশ্যের (مبتدأ) সাথে যা কিছুকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় এবং যার মাধ্যমে উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয় তাকেই বিধেয় (خبر) বলা হয়। আর এটি দুই প্রকার: একক (مفرد) এবং বাক্য (جملة)।

একক শব্দের মাধ্যমে সংবাদ প্রদান

 

বিধেয় (خبر) যখন একক (مفرد) শব্দ হয়, তখন তা অর্থের দিক থেকে উদ্দেশ্যই (مبتدأ) হয়ে থাকে এবং এটি উদ্দেশ্য (مبتدأ) দ্বারা রাফ’যুক্ত (مرفوع) হয়। যেমন আপনি বলেন: "জায়েদ আপনার ভাই" এবং "মুহাম্মাদ আপনার সাথী"। এখানে জায়েদই হলেন ভাই এবং মুহাম্মাদই হলেন সাথী।

যদি বাক্যে একটি নির্দিষ্ট (معرفة) বিশেষ্য এবং একটি অনির্দিষ্ট (نكرة) বিশেষ্য একত্রিত হয়, তবে নির্দিষ্ট (معرفة) শব্দটিকে উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং অনির্দিষ্ট (نكرة) শব্দটিকে বিধেয় (خبر) করতে হবে। যেমন আপনি বলেন: "জায়েদ উপবিষ্ট"। এখানে "জায়েদ" হলো উদ্দেশ্য (مبتدأ), কারণ এটি নির্দিষ্ট (معرفة); আর "উপবিষ্ট" হলো বিধেয় (خبر), কারণ এটি অনির্দিষ্ট (نكرة)।

যদি উভয় পদই নির্দিষ্ট (معرفة) হয়, তবে আপনার পছন্দমতো যেকোনো একটিকে উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং অন্যটিকে বিধেয় (خبر) হিসেবে গণ্য করতে পারেন। যেমন আপনি বলেন: "জায়েদ আপনার ভাই", আবার চাইলে বলতে পারেন: "আপনার ভাই জায়েদ"।

বাক্যের মাধ্যমে সংবাদ প্রদান

 

আর বাক্য (جملة) হলো এমন প্রতিটি অর্থবোধক কথা যা নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ। এটি দুই প্রকারের হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ২৭)
جملَة مركبة من مُبْتَدأ وَخبر وَجُمْلَة مركبة من فعل وفاعل وَلَا بُد لكل وَاحِدَة من هَاتين الجملتين إِذا وَقعت خَبرا عَن مُبْتَدأ من ضمير يعود إِلَيْهِ مِنْهَا تَقول زيد قَامَ أَخُوهُ ف زيد مَرْفُوع بِالِابْتِدَاءِ وَالْجُمْلَة بعده خبر عَنهُ وَهِي مركبة من فعل وفاعل فالفعل قَامَ وَالْفَاعِل أَخُوهُ وَالْهَاء عَائِدَة على زيد وَلَوْلَا هِيَ لما صحت الْمَسْأَلَة وَمَوْضِع الْجُمْلَة رفع بالمبتدأ وَتقول زيد أَخُوهُ منطلق ف زيد مَرْفُوع بِالِابْتِدَاءِ وَالْجُمْلَة بعده خبر عَنهُ وَهِي مركبة من مُبْتَدأ وَخبر والمبتدأ أَخُوهُ وَالْخَبَر منطلق وَالْهَاء عَائِدَة على زيد أَيْضا وَلَو قلت زيد قَامَ عَمْرو لم يجز لِأَنَّهُ لَيْسَ فِي الْجُمْلَة ضمير يعود على الْمُبْتَدَأ فَإِن قلت إِلَيْهِ أَو مَعَه أَو نَحْو ذَلِك صحت الْمَسْأَلَة لأجل الْهَاء العائدة

فَأَما قَوْلهم السّمن ِمنْوَانٌ بِدِرْهَمٍ فَإِنَّمَا تَقْدِيره السّمن منوان مِنْهُ بدرهم وَلَكنهُمْ حذفوا مِنْهُ للْعلم بِهِ وَكَذَلِكَ قَوْلهم الْبر 8 والْكر بستين أَي الْكر مِنْهُ بستين
উদ্দেশ্য (مبتدأ) ও বিধেয় (خبر) দ্বারা গঠিত বাক্য এবং ক্রিয়া (فعل) ও কর্তা (فاعل) দ্বারা গঠিত বাক্য; এই উভয় প্রকার বাক্যের প্রতিটি যখন কোনো উদ্দেশ্য (مبتدأ) এর সংবাদ বা বিধেয় (خبر) হিসেবে আসে, তখন তাতে অবশ্যই এমন একটি সর্বনাম (ضمير) থাকতে হয় যা সেই উদ্দেশ্যের দিকে ফিরে যায়। যেমন আপনি বলবেন: "জায়েদ তার ভাই দাঁড়িয়েছে", এখানে 'জায়েদ' শব্দটি প্রারম্ভিকতা বা উদ্দেশ্য হওয়ার কারণে পেশযুক্ত (مرفوع) এবং এর পরবর্তী বাক্যটি তার সংবাদ বা বিধেয় (خبر)। এই বাক্যটি ক্রিয়া (فعل) এবং কর্তা (فاعل) দ্বারা গঠিত; এখানে ক্রিয়া (فعل) হলো 'দাঁড়িয়েছে' এবং কর্তা (فاعل) হলো 'তার ভাই'। আর 'ভাই' শব্দের সাথে যুক্ত 'হা' (هاء) সর্বনামটি 'জায়েদ'-এর দিকে ফিরে যাচ্ছে। যদি এটি না থাকত, তবে বাক্যটি শুদ্ধ হতো না। আর পুরো বাক্যটির ব্যাকরণিক অবস্থান হলো উদ্দেশ্য (مبتدأ) এর বিধেয় হিসেবে পেশের (رفع) স্থানে। তেমনি আপনি বলবেন: "জায়েদ তার ভাই প্রস্থানকারী", এখানে 'জায়েদ' উদ্দেশ্য (مبتدأ) হওয়ার কারণে পেশযুক্ত (مرفوع) এবং এর পরবর্তী বাক্যটি তার বিধেয় (خبر)। এটি পুনরায় একটি উদ্দেশ্য (مبتدأ) ও বিধেয় (خبر) দ্বারা গঠিত বাক্য। এখানে দ্বিতীয় উদ্দেশ্য (مبتدأ) হলো 'তার ভাই' এবং বিধেয় (خبر) হলো 'প্রস্থানকারী'। এখানেও 'হা' (هاء) সর্বনামটি 'জায়েদ'-এর দিকে ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু আপনি যদি বলেন: "জায়েদ আমর দাঁড়িয়েছে", তবে তা বৈধ হবে না; কারণ এই বাক্যে এমন কোনো সর্বনাম (ضمير) নেই যা প্রথম উদ্দেশ্যের (مبتدأ) দিকে ফিরে যায়। তবে আপনি যদি বলেন: "তার দিকে" অথবা "তার সাথে" বা এই জাতীয় কিছু, তবে প্রত্যাবর্তিত 'হা' (هاء) সর্বনামের কারণে বাক্যটি শুদ্ধ হয়ে যাবে।

আর তাদের প্রবাদ: "ঘি দুই মান এক দিরহামে", এর মূল রূপ হলো: "ঘি তা থেকে (منه) দুই মান এক দিরহামে"। কিন্তু বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কারণে তারা "তা থেকে" অংশটি বিলুপ্ত করে দিয়েছে। অনুরূপভাবে তাদের কথা: "গম এক কুর ষাট দিরহামে", অর্থাৎ "তা থেকে এক কুর ষাট দিরহামে"।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌الْإِخْبَار بالظرف

 

وَاعْلَم أَن الظّرْف قد يَقع خَبرا عَن الْمُبْتَدَأ وَهُوَ على ضَرْبَيْنِ ظرف زمَان وظرف مَكَان

والمبتدأ على ضَرْبَيْنِ جثة وَحدث فالجثة مَا كَانَ عبارَة عَن شخص نَحْو زيد وَعَمْرو وَالْحَدَث هُوَ الْمصدر نَحْو الْقيام وَالْقعُود

فَإِذا كَانَ الْمُبْتَدَأ جثة وَوَقع الظّرْف خَبرا عَنهُ لم يكن ذَلِك الظّرْف إِلَّا من ظروف الْمَكَان تَقول زيد خَلفك ف زيد مَرْفُوع بِالِابْتِدَاءِ والظرف بعده خبر عَنهُ وَالتَّقْدِير زيد مُسْتَقر خَلفك فَحذف اسْم الْفَاعِل تَخْفِيفًا وللعلم بِهِ وأقيم الظّرْف مقَامه فانتقل الضَّمِير الَّذِي كَانَ فِي اسْم الْفَاعِل إِلَى الظّرْف وارتفع ذَلِك الضَّمِير بالظرف كَمَا كَانَ يرْتَفع باسم الْفَاعِل وَمَوْضِع الظّرْف رفع بالمبتدأ

وَلَو قلت زيد يومَ الْجُمُعَة أَو نَحْو ذَلِك لم يجز لِأَن ظروف الزَّمَان لَا تكون أَخْبَارًا عَن الجثث لِأَنَّهُ لَا فَائِدَة فِي ذَلِك فَأَما قَوْلهم الليلةَ الهلالُ فعلى معنى فَإِنَّمَا تَقْدِيره الليلةَ حدوثَ الْهلَال أَو طلوعَ الْهلَال فَحذف الْمُضَاف وأقيم الْمُضَاف إِلَيْهِ مقَامه قَالَ الله تَعَالَى {واسأل القريةَ الَّتِي كُنَّا فِيهَا} 8 ظ أَي أهلَ القريةِ وَمثله
‌ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف) দ্বারা সংবাদ প্রদান

 

জেনে রাখুন যে, ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف) কখনও উদ্দেশ্য (مبتدأ) সম্পর্কে বিধেয় (خبر) হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এবং তা দুই প্রকার: কালবাচক ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف زمان) এবং স্থানবাচক ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف مكان)।

উদ্দেশ্য (مبتدأ) আবার দুই প্রকার: স্থূল সত্তা (جثة) এবং ঘটনা (حدث)। স্থূল সত্তা (جثة) বলতে এমন কোনো শব্দকে বোঝায় যা কোনো ব্যক্তিকে নির্দেশ করে, যেমন: জায়েদ ও আমর। আর ঘটনা (حدث) বলতে ক্রিয়া-মূল (مصدر) বোঝায়, যেমন: দাঁড়ানো ও বসা।

সুতরাং যখন উদ্দেশ্য (مبتدأ) কোনো স্থূল সত্তা (جثة) হয় এবং ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف) তার বিধেয় (خبر) হিসেবে আসে, তখন সেই ক্রিয়া-বিশেষণটি অবশ্যই স্থানবাচক ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف مكان) হতে হয়। যেমন আপনি বলবেন: ‘জায়েদ তোমার পেছনে’। এখানে জায়েদ শব্দটি প্রারম্ভিকতার (ابتداء) কারণে রাফা-যুক্ত (مرفوع) হয়েছে এবং তার পরবর্তী ক্রিয়া-বিশেষণটি (ظرف) তার বিধেয় (خبر)। এর অন্তর্নিহিত বিশ্লেষণ হলো: ‘জায়েদ তোমার পেছনে অবস্থানরত’। এখানে সহজ করার জন্য এবং বিষয়টি জানা থাকার কারণে কর্তৃবাচক বিশেষ্যটি (اسم فاعل) উহ্য রাখা হয়েছে এবং ক্রিয়া-বিশেষণকে (ظرف) তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। ফলে কর্তৃবাচক বিশেষ্যের (اسم فاعل) মধ্যে থাকা সর্বনামটি (ضمير) ক্রিয়া-বিশেষণের (ظرف) দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সেই সর্বনামটি ক্রিয়া-বিশেষণের (ظرف) মাধ্যমেই রাফা (رفع) প্রাপ্ত হয়েছে, যেমনটি কর্তৃবাচক বিশেষ্যের (اسم فاعل) মাধ্যমে রাফা (رفع) প্রাপ্ত হতো। আর ক্রিয়া-বিশেষণের (ظرف) স্থানটি উদ্দেশ্যের (مبتدأ) কারণে রাফা (رفع) অবস্থায় রয়েছে।

আর আপনি যদি বলেন: ‘জায়েদ জুমার দিন’ বা অনুরূপ কিছু, তবে তা বৈধ হবে না। কারণ কালবাচক ক্রিয়া-বিশেষণ (ظرف زمان) স্থূল সত্তার (جثة) বিধেয় (خبر) হতে পারে না; কারণ এতে কোনো অর্থগত উপকারিতা নেই। তবে আরবদের উক্তি ‘আজ রাতে নতুন চাঁদ’ মূলত একটি বিশেষ অর্থের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়; এর প্রকৃত অর্থ হলো: ‘আজ রাতে নতুন চাঁদের আবির্ভাব’ বা ‘নতুন চাঁদের উদয়’। এখানে সম্বন্ধযুক্ত পদটি (مضاف) বিলুপ্ত করে সম্বন্ধী পদকে (مضاف إليه) তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন: {সেই জনপদকে জিজ্ঞাসা করো যাতে আমরা ছিলাম} অর্থাৎ ‘জনপদের অধিবাসীদের’ জিজ্ঞাসা করো; এবং এটিও অনুরূপ উদাহরণ।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ২৯)
قَول الشَّاعِر // من الرجز //

(أكل عَام نعم تحوونه … يلقحه قوم وتنتجونه)

أَي أكل عَام حُدُوث نعم أَو إِحْرَاز نعم

فَإِن كَانَ الْمُبْتَدَأ حَدثا جَازَ وُقُوع كل وَاحِد من الظرفين خَبرا عَنهُ تَقول قيامُك خلف زيد وقعودك يَوْم الْجُمُعَة وَالتَّقْدِير قيامك كَاِئنٌ خلف زيد وقعودك كَائِن يَوْم الْجُمُعَة فَحذف اسْما الفاعلين وأقيم الظرفان مقامهما فانتقل الضميران إِلَيْهِمَا

وتقام حُرُوف الْجَرّ مقَام الظروف وَذَلِكَ قَوْلك زيد من الْكِرَام وقفيز الْبر بِدِرْهَمَيْنِ وَالتَّقْدِير زيد كَائِن من الْكِرَام وقفيز الْبر كَائِن بِدِرْهَمَيْنِ ثمَّ عمل فيهمَا كَمَا عمل فِي الظروف

والظرف وَمَا أقيم مقَامه جاريان مجْرى الْمُفْرد الَّذِي تقدم ذكره
কবির উক্তি // রাজাজ ছন্দ থেকে //

(প্রতি বছরই কি তোমরা গবাদি পশু হস্তগত করবে … অথচ এক সম্প্রদায় তা প্রজনন করায় আর তোমরা তার ফল ভোগ করো)

অর্থাৎ প্রতি বছর গবাদি পশুর উদ্ভব হওয়া বা গবাদি পশু অর্জন করা।

সুতরাং যদি মুক্তাদা (উদ্দেশ্য) কোনো কর্ম বা ঘটনা নির্দেশক হয়, তবে উভয় প্রকার জরফ (অধিকরণ)-এর প্রতিটিই তার খবর হিসেবে আসা বৈধ। আপনি বলবেন: 'তোমার দণ্ডায়মান হওয়া জায়েদের পেছনে' এবং 'তোমার উপবেশন জুমার দিন'। এর উহ্য রূপ হলো: 'তোমার দণ্ডায়মান হওয়া জায়েদের পেছনে অবস্থিত' এবং 'তোমার উপবেশন জুমার দিন সংঘটিত'। অতঃপর ইসমে ফায়েল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) দুটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং জরফ দুটিকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, ফলে (উহ্য থাকা) সর্বনাম দুটি তাদের দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে।

আর হরফে জারসমূহকে জরফ-এর স্থলাভিষিক্ত করা হয়। যেমন আপনার উক্তি: 'জায়েদ সম্মানিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত' এবং 'এক কাফিজ গম দুই দিরহামের বিনিময়ে'। এর উহ্য রূপ হলো: 'জায়েদ সম্মানিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিদ্যমান' এবং 'এক কাফিজ গম দুই দিরহামের বিনিময়ে নির্ধারিত'। অতঃপর সেগুলোতে সেভাবেই আমল করা হয়েছে যেভাবে জরফসমূহে আমল করা হয়।

আর জরফ এবং যা তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, তা সেই একক শব্দের (মুফরাদ) পর্যায়ভুক্ত যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌جَوَاز تَقْدِيم الْخَبَر

 

وَيجوز تَقْدِيم خبر الْمُبْتَدَأ عَلَيْهِ تَقول قَائِم زيد وخلفك بكر وَالتَّقْدِير زيد قَائِم وَبكر خَلفك فَقدم الخبران اتساعا وَفِيهِمَا ضمير لِأَن النِّيَّة فيهمَا التَّأْخِير

‌‌حذف الْمُبْتَدَأ أَو الْخَبَر

 

وَاعْلَم أَن الْمُبْتَدَأ قد يحذف تَارَة ويحذف الْخَبَر أُخْرَى وَذَلِكَ إِذا كَانَ فِي الْكَلَام دلَالَة على الْمَحْذُوف فَإِذا قَالَ لَك الْقَائِل من عنْدك قلت زيدٌ أَي زيد عِنْدِي 9 وفحذفت عِنْدِي وَهُوَ الْخَبَر وَإِذا قَالَ لَك كَيفَ أَنْت قلت صالحٌ أَي أَنا صَالح فحذفت أَنا وَهُوَ الْمُبْتَدَأ قَالَ الله سُبْحَانَهُ {طَاعَة وَقَول مَعْرُوف} أَي طَاعَة وَقَول مَعْرُوف أمثل من غَيرهمَا وَإِن شِئْت كَانَ التَّقْدِير أمرنَا طَاعَة وَقَول مَعْرُوف قَالَ الشَّاعِر

(فَقَالَت: على اسْم الله أَمرك طَاعَة … وَإِن كنت قد كلفت مَا لم أَعُود) // الطَّوِيل //
‌বিধেয় (خبر) অগ্রবর্তী করার (تقديم) বৈধতা

 

উদ্দেশ্যের (مبتدأ) পূর্বে তার বিধেয়কে (خبر) নিয়ে আসা বৈধ। আপনি বলতে পারেন, 'দণ্ডায়মান জায়েদ' এবং 'তোমার পেছনে বকর'। অথচ এর মূল বিন্যাস হলো: 'জায়েদ দণ্ডায়মান' এবং 'বকর তোমার পেছনে'। এখানে ভাষাগত প্রশস্ততার (اتساعا) খাতিরে বিধেয় (خبر) দুটিকে আগে আনা হয়েছে। আর এই উভয় বিধেয়তে একটি করে সর্বনাম (ضمير) নিহিত আছে, কারণ এগুলোর ক্ষেত্রে মূলত পরে আসার সংকল্পই (النِّيَّة) রাখা হয়েছে।

‌‌উদ্দেশ্য (مبتدأ) অথবা বিধেয় (خبر) বিলোপ (حذف) করা

 

জেনে রাখুন যে, কখনো উদ্দেশ্য (مبتدأ) বিলোপ (حذف) করা হয়, আবার কখনো বিধেয় (خبر) বিলোপ (حذف) করা হয়। এটি তখন ঘটে যখন বাক্যে বিলুপ্ত (محذوف) বিষয়ের সপক্ষে কোনো সংকেত বা নির্দেশক (دلالة) থাকে। যেমন, কোনো বক্তা যদি আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, "আপনার নিকট কে?" তখন আপনি উত্তরে বলেন, "জায়েদ"; অর্থাৎ: "জায়েদ আমার নিকট আছে"। এখানে আপনি 'আমার নিকট আছে' কথাটি বিলোপ (حذف) করেছেন যা মূলত বিধেয় (خبر)। আবার যখন আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, "আপনি কেমন আছেন?" আপনি বলেন, "ভালো"; অর্থাৎ: "আমি ভালো আছি"। এখানে আপনি 'আমি' শব্দটি বিলোপ (حذف) করেছেন যা মূলত উদ্দেশ্য (مبتدأ)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অনুগত্য ও সংগত কথা}, অর্থাৎ: আনুগত্য ও সংগত কথা অন্য সবকিছুর চেয়ে উত্তম। আর আপনি চাইলে এর মূল বিন্যাস এভাবেও ধরতে পারেন: 'আমাদের কাজ হলো আনুগত্য ও সংগত কথা'। কবি বলেছেন:

(তিনি বললেন: আল্লাহর নামে, আপনার আদেশ পালন করাই আনুগত্য (طاعة) ... যদিও আপনি আমাকে এমন বিষয়ের ভার দিয়েছেন যাতে আমি অভ্যস্ত নই) // তবিল (الطويل) ছন্দ //
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌بَاب الْفَاعِل

اعْلَم أَن الْفَاعِل عِنْد أهل الْعَرَبيَّة كل اسْم ذكرته بعد فعل وأسندت ونسبت ذَلِك الْفِعْل إِلَى ذَلِك الِاسْم وَهُوَ مَرْفُوع بِفِعْلِهِ وَحَقِيقَة رفْعِهِ بِإِسْنَاد الْفِعْل إِلَيْهِ وَالْوَاجِب وَغير الْوَاجِب فِي ذَلِك سَوَاء تَقول فِي الْوَاجِب قَامَ زيد وَفِي غير الْوَاجِب مَا قَامَ زيد وَهل يقوم زيد

‌‌أَحْكَام الْفِعْل وفاعله

 

وَاعْلَم أَن الْفِعْل لَا بُد لَهُ من الْفَاعِل وَلَا يجوز تَقْدِيم الْفَاعِل على الْفِعْل فَإِن لم يكن مُظْهَرًا بعده فَهُوَ مُضْمَرٌ فِيهِ لَا محَالة تَقول زيد قَامَ ف زيد مَرْفُوع بِالِابْتِدَاءِ وَفِي قَامَ ضمير زيد وَهُوَ مَرْفُوع بِفِعْلِهِ

فَإِن خلا الْفِعْل من الضَّمِير لم تأت فِيهِ بعلامة تَثْنِيَة وَلَا جمع لِأَنَّهُ لَا ضمير فِيهِ تَقول قَامَ زيد وَقَامَ الزيدان وَقَامَ الزيدون كُله 9 ظ بِلَفْظ وَاحِد فِي قَامَ فَإِن كَانَ فِيهِ ضمير جِئْت بعلامة
‌‌কর্তার পরিচ্ছেদ

জেনে রাখুন যে, ভাষাবিদদের নিকট কর্তা হলো এমন প্রত্যেক বিশেষ্য যা আপনি কোনো ক্রিয়ার পরে উল্লেখ করেন এবং সেই ক্রিয়াটিকে উক্ত বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (إسناد) ও সম্পর্কিত করেন। আর তা স্বীয় ক্রিয়ার প্রভাবে মারফু (مرفوع) হয়। এর মারফু (مرفوع) হওয়ার প্রকৃত স্বরূপ হলো ক্রিয়াকে এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (إسناد) করা। এক্ষেত্রে বিষয়টি সদর্থক হোক কিংবা সদর্থক না হোক, উভয়ই সমান। আপনি সদর্থক বাক্যে বলবেন ‘যায়েদ দাঁড়িয়েছে’, এবং সদর্থক না হলে বলবেন ‘যায়েদ দাঁড়ায়নি’ এবং ‘যায়েদ কি দাঁড়াবে?’।

‌‌ক্রিয়া ও কর্তার বিধানাবলী

 

জেনে রাখুন যে, ক্রিয়ার জন্য অবশ্যই কর্তার প্রয়োজন রয়েছে এবং ক্রিয়ার আগে কর্তাকে নিয়ে আসা বৈধ নয়। সুতরাং যদি কর্তাকে ক্রিয়ার পরে প্রকাশ্য অবস্থায় পাওয়া না যায়, তবে তা অবশ্যই ক্রিয়ার মধ্যে উহ্য থাকবে। যেমন আপনি বলেন ‘যায়েদ দাঁড়িয়েছে’, এখানে ‘যায়েদ’ শব্দটি বাক্যের শুরুতে আসার কারণে মারফু (مرفوع) হয়েছে এবং ‘দাঁড়িয়েছে’ ক্রিয়ার মধ্যে যায়েদের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী একটি সর্বনাম রয়েছে যা স্বীয় ক্রিয়ার কারণে মারফু (مرفوع)।

অতঃপর ক্রিয়াটি যদি সর্বনাম থেকে মুক্ত থাকে, তবে তাতে দ্বিবচন বা বহুবচনের কোনো চিহ্ন যুক্ত করবেন না; কারণ তার মধ্যে কোনো সর্বনাম নেই। আপনি বলবেন ‘যায়েদ দাঁড়িয়েছে’, ‘দুই যায়েদ দাঁড়িয়েছে’ এবং ‘সকল যায়েদ দাঁড়িয়েছে’। এই সবগুলোতে ‘দাঁড়িয়েছে’ ক্রিয়াটি একই একবচন শব্দরূপে থাকবে। তবে যদি তার মধ্যে সর্বনাম থাকে, তখন আপনি চিহ্ন যুক্ত করবেন।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ৩২)
التَّثْنِيَة وَالْجمع تَقول الزيدان قاما والزيدون قَامُوا فالألف فِي قاما عَلامَة التَّثْنِيَة وَالضَّمِير وَالْوَاو فِي قَامُوا عَلامَة الْجمع وَالضَّمِير

فَإِن كَانَ الْفَاعِل مؤنثا جثت فِي الْفِعْل بعلامة التَّأْنِيث تَقول قَامَت هِنْد وَقَعَدت جُمْلٌ فالتاء عَلامَة التَّأْنِيث فَإِن كَانَ التَّأْنِيث غير حَقِيقِيّ كنت فِي إِلْحَاق التَّاء وَتركهَا مُخَيّرا تَقول حسنتْ دَارك واضطرمت نارك وَإِن شِئْت حَسُنَ واضطرمَ إِلَّا أَن إلحاقها أحسن من حذفهَا فَإِن فصلت بَين الْفِعْل وَالْفَاعِل ازْدَادَ ترك الْعَلامَة حسنا تَقول حَسُنَ اليومَ دارُك واضطرم اللَّيْلَة نارك وَقد يجوز مَعَ الْفَصْل تذكير الْفِعْل مَعَ التَّأْنِيث الْحَقِيقِيّ قَالَ الشَّاعِر

(إنَّ امْرأ غرًهُ مِنْكُن واحدةٌ … بعدِي وبعدِكَ فِي الدُّنْيَا لَمَغْرُورُ) // الْبَسِيط // وَلم يقل غرته

وَلَك فِي كل جمَاعَة تذكير فعلهَا وتأنيثه تَقول قامَ الرجالُ وقامتْ الرجالُ وقامَ النساءُ وقامتْ النِّسَاء فَمن ذكر أَرَادَ الجمعَ وَمن أنث أَرَادَ الجماعةَ
দ্বিবচন এবং বহুবচন; আপনি বলবেন ‘আয-যাইদানি ক-মা’ এবং ‘আয-যাইদুনা ক-মু’। এখানে ‘ক-মা’ শব্দে আলিফ হলো দ্বিবচনের আলামত ও সর্বনাম, এবং ‘ক-মু’ শব্দে ওয়াও হলো বহুবচনের আলামত ও সর্বনাম।

যদি কর্তা স্ত্রীলিঙ্গ হয়, তবে আপনি ক্রিয়ার সাথে স্ত্রীলিঙ্গবোধক আলামত যুক্ত করবেন। আপনি বলবেন ‘ক-মাত হিন্দুন’ এবং ‘ক-আদাত জুমলুন’। এখানে ‘তা’ বর্ণটি স্ত্রীলিঙ্গবোধক আলামত। তবে স্ত্রীলিঙ্গটি যদি অপ্রকৃত হয়, তবে আপনি ‘তা’ যুক্ত করা বা বর্জন করার ক্ষেত্রে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত। আপনি বলতে পারেন ‘হাসুনাত দারুকা’ এবং ‘ইজত-রামাত নারুকা’; আবার চাইলে ‘হাসুনা’ ও ‘ইজত-রামা’ও বলতে পারেন। তবে আলামত যুক্ত করাই তা বর্জন করার চেয়ে উত্তম। আর যদি ক্রিয়া এবং কর্তার মাঝে ব্যবধান তৈরি হয়, তবে আলামত বর্জন করা অধিকতর সুন্দর গণ্য হয়। আপনি বলবেন ‘হাসুনা আল-ইয়াওমা দারুকা’ এবং ‘ইজত-রামা আল-লাইলাতা নারুকা’। কখনো কখনো ব্যবধান থাকলে প্রকৃত স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রেও ক্রিয়াকে পুংলিঙ্গ করা বৈধ। জনৈক কবি বলেছেন:

(নিশ্চয় সেই ব্যক্তি প্রবঞ্চিত যাকে তোমাদের মধ্য হতে কোনো এক নারী ধোঁকা দিয়েছে... আমার এবং তোমার পরে এই পৃথিবীতে সে সত্যিই প্রবঞ্চিত ব্যক্তি) … // আল-বাসিত ছন্দ // এবং কবি এখানে ‘গ-রাত-হু’ (স্ত্রীলিঙ্গ রূপ) ব্যবহার করেননি।

যেকোনো সমষ্টির ক্ষেত্রে আপনার জন্য ক্রিয়াকে পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গ উভয়ভাবে ব্যবহার করার অবকাশ রয়েছে। আপনি বলতে পারেন ‘ক-মার রিজ-লু’ ও ‘ক-মাতির রিজ-লু’, এবং ‘ক-মান নিসা-উ’ ও ‘ক-মাতিন নিসা-উ’। সুতরাং যে ব্যক্তি পুংলিঙ্গ ব্যবহার করল সে বহুবচন উদ্দেশ্য করল, আর যে ব্যক্তি স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহার করল সে সমষ্টি উদ্দেশ্য করল।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌نَائِب الْفَاعِل

 

10 - واعْلَم أَن الْمَفْعُول بِهِ فِي هَذَا الْبَاب يَرْتَفِعُ من حَيْثُ يرْتَفع الْفَاعِل لِأَن الْفِعْل قبل كل وَاحِد مِنْهُمَا حَدِيث عَنهُ ومسند إِلَيْهِ وَذَلِكَ قَوْلك ُضرًبَ َزْيٌد وشُتٍمَ بكر

‌‌من الْمُتَعَدِّي إِلَى مفعولين

 

فَإِن كَانَ الْفِعْل يتَعَدَّى إِلَى مفعولين أَقمت الأول مِنْهُمَا مقَام الْفَاعِل فَرَفَعته وَتركت الثَّانِي مَنْصُوبًا بِحَالهِ تَقول أُعْطيتُ زيدا درهما فَإِن لم تسم الْفَاعِل قلت أُعْطٍيَ زيدٌ درهما

‌‌من الْمُتَعَدِّي إِلَى ثَلَاثَة مفعولين

 

فَإِن كَانَ الْفِعْل يتَعَدَّى إِلَى ثَلَاثَة مفعولين أَقمت الأول مِنْهُمَا مقَام الْفَاعِل فَرَفَعته ونصبت المفعولين بعده تَقول أعلم الله زيدا
‌কর্মবাচ্যের কর্তা (نائব الفاعل)

 

১০ - জেনে রাখুন যে, এই অধ্যায়ে কর্মপদ (مفعول به) সেভাবেই রফ-প্রাপ্ত (يرتفع) হয় যেভাবে কর্তাপদ (فاعل) রফ-প্রাপ্ত হয়; কেননা এদের প্রত্যেকের পূর্বে অবস্থিত ক্রিয়াটি মূলত তার সম্পর্কে একটি হাদিস এবং তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত (مسند إليه)। আর তা হলো আপনার উক্তি: ‘যায়েদ প্রহৃত হয়েছে’ এবং ‘বকর তিরস্কৃত হয়েছে’।

‌‌দুই কর্মপদবিশিষ্ট সকর্মক ক্রিয়া হতে

 

যদি ক্রিয়াটি দুই কর্মপদবিশিষ্ট (متعدي إلى مفعولين) হয়, তবে আপনি তাদের প্রথমটিকে কর্তার স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং তাকে রফ-যুক্ত (مرفوع) করবেন, আর দ্বিতীয়টিকে তার নিজ অবস্থায় নসব-যুক্ত (منصوب) রাখবেন। আপনি বলবেন: ‘আমি যায়েদকে একটি দিরহাম দিয়েছি’। অতঃপর যদি আপনি কর্তার নাম উল্লেখ না করেন, তবে বলবেন: ‘যায়েদকে একটি দিরহাম দেওয়া হয়েছে’।

‌‌তিন কর্মপদবিশিষ্ট সকর্মক ক্রিয়া হতে

 

যদি ক্রিয়াটি তিন কর্মপদবিশিষ্ট (متعدي إلى ثلاثة مفعولين) হয়, তবে আপনি তাদের প্রথমটিকে কর্তার স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং তাকে রফ-যুক্ত (مرفوع) করবেন, আর তার পরবর্তী কর্মপদ দুটিকে নসব-যুক্ত (منصوب) করবেন। আপনি বলবেন: ‘আল্লাহ যায়েদকে অবগত করেছেন...’
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
عمرا خيرَ الناسٍ فَإِن لم تسم الْفَاعِل قلت أعلم زيدٌ عمرا خيرَ النَّاس

‌‌من اللَّازِم

 

فَإِن لم يكن الْفِعْل مُتَعَدِّيا لم يجز إِلَّا أَن تذكر الْفَاعِل لِئَلَّا يكون الْفِعْل حَدِيثا عَن غير مُحدث عَنهُ وَذَلِكَ نَحْو قَامَ زيد وَقعد عَمْرو لَا تَقول قيم وَلَا قعد ِلما ذكرت لَك فَإِن اتَّصل بِهِ حرف جر أَو ظرف أَو مصدر جَازَ أَن تقيم كل وَاحِد مِنْهُمَا مقَام الْفَاعِل تَقول سرت بزيد فرسخين يَوْمَيْنِ سيرا شَدِيدا فَإِن أَقمت الْبَاء وَمَا عملت بِهِ مُقام الْفَاعِل قلت سير بزيد فرسخين يَوْمَيْنِ سيرا شَدِيدا فالباء وَمَا عملت فِيهِ فِي مَوضِع رفع فَإِن أَقمت الفرسخين 10 ظ مقَام الْفَاعِل قلت ِسيرَ بزيد فرسخان يَوْمَيْنِ سيرا شَدِيدا فَإِن أَقمت الْيَوْمَيْنِ مقَام الْفَاعِل قلت سير بزيد فرسخين يَوْمَانِ سيرا شَدِيدا فَإِن أَقمت الْمصدر مقَام الْفَاعِل قلت سير بزيد فرسخين يَوْمَيْنِ سيرٌ شديدٌ ترفع الَّذِي تُقِيمهُ مقَام الْفَاعِل لَا غير
আমর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; এমতাবস্থায় আপনি যদি কর্তা (فاعل) উল্লেখ না করেন, তবে বলবেন: 'জায়েদকে জানানো হয়েছে যে আমর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ'।

‌‌অকর্মক ক্রিয়া (لازم) প্রসঙ্গে

 

যদি ক্রিয়াটি সকর্মক (متعدي) না হয়, তবে কর্তা (فاعل) উল্লেখ করা ব্যতীত তা (প্যাসিভ করা) জায়েজ হবে না; যাতে ক্রিয়াটি এমন কোনো বিষয় সম্পর্কে হাদিস না হয়ে পড়ে যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হচ্ছে না। এটি 'কামা যাইদুন' (জায়েদ দাঁড়াল) এবং 'কাআদা আমরুন' (আমর বসল)-এর অনুরূপ; আমি আপনার নিকট যে কারণ বর্ণনা করেছি সে কারণে আপনি (এগুলোর প্যাসিভ রূপ) 'কিমা' বা 'কুয়িদা' বলবেন না। তবে যদি ক্রিয়ার সাথে কোনো অব্যয় (حرف جر), ক্রিয়ার আধার (ظرف) অথবা ক্রিয়া-মূল (مصدر) যুক্ত হয়, তবে সেগুলোর প্রত্যেকটিকে কর্তা (فاعل)-এর স্থলাভিষিক্ত করা জায়েজ। আপনি (সকর্মক হিসেবে) বলেন: 'সর্তু বি-যাইদিন ফারসাখাইনি ইয়াওমাইনি সাইরান শাদিদান' (আমি জায়েদের সাথে দুই ফারসাখ পথ দুই দিন ধরে দ্রুত ভ্রমণ করেছি)। এখন আপনি যদি 'বা' এবং তার সংশ্লিষ্ট শব্দকে কর্তা (فاعل)-এর স্থলাভিষিক্ত করেন, তবে বলবেন: 'সিরা বি-যাইদিন ফারসাখাইনি ইয়াওমাইনি সাইরান শাদিদান'। এক্ষেত্রে 'বা' এবং তার সংশ্লিষ্ট শব্দটি রফ (رفع)-এর স্থানে থাকবে। যদি আপনি 'ফারসাখাইন' (১০-খ) শব্দটিকে কর্তা (فاعل)-এর স্থলাভিষিক্ত করেন, তবে বলবেন: 'সিরা বি-যাইদিন ফারসাখানি ইয়াওমাইনি সাইরান শাদিদান'। যদি আপনি 'ইয়াওমাইন' (দুই দিন) শব্দটিকে কর্তা (فاعل)-এর স্থলাভিষিক্ত করেন, তবে বলবেন: 'সিরা বি-যাইদিন ফারসাখাইনি ইয়াওমানি সাইরান শাদিদান'। আর যদি আপনি ক্রিয়া-মূল (مصدر)-কে কর্তা (فاعل)-এর স্থলাভিষিক্ত করেন, তবে বলবেন: 'সিরা বি-যাইদিন ফারসাখাইনি ইয়াওমাইনি সাইরুন শাদিদুন'। আপনি যাকে কর্তা (فاعل)-এর স্থলাভিষিক্ত করবেন কেবল তাকেই রফ (رفع) প্রদান করবেন, অন্য কিছুকে নয়।
(খণ্ড: ১) আল-লুমাহ ফিল আরাবিয়্যাহ লিইবনি জিন্নি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فان كَانَ هُنَاكَ مفعول بِهِ صَحِيح لم يقم مقَام الْفَاعِل غَيره تَقول ضربت زيدا يَوْم الْجُمُعَة ضربا شَدِيدا فَإِن لم تسم الْفَاعِل قلت ضرب زيد يَوْم الْجُمُعَة ضربا شَدِيدا ترفع زيدا لَا غير
যদি সেখানে একটি সঠিক (صحيح) কর্ম (مفعول به) থাকে, তবে সেটি ব্যতীত অন্য কেউ কর্তা (فاعل)-এর স্থলাভিষিক্ত হবে না। আপনি বলবেন: ‘আমি জুমার দিনে জায়েদকে কঠোরভাবে প্রহার করেছি’। অতঃপর যদি আপনি কর্তা (فاعل)-এর নাম উল্লেখ না করেন, তবে আপনি বলবেন: ‘জুমার দিনে জায়েদকে কঠোরভাবে প্রহার করা হয়েছে’। এমতাবস্থায় আপনি কেবল জায়েদকেই রফ’ (رفع) প্রদান করবেন, অন্য কিছুকে নয়।