(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: -)
اللباب في علل البناء والإعراب   (أبو البقاء العكبري)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: اللباب في علل البناء والإعراب

المؤلف: أبو البقاء عبد الله بن الحسين بن عبد الله العكبري البغدادي محب الدين (ت 616هـ)

المحقق: د. عبد الإله النبهان

الناشر: دار الفكر - دمشق

الطبعة: الأولى، 1416هـ 1995م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-লুবাব ফি ইলালিল বিনা ওয়াল ইরাব   (আবু আল-বাকা আল-উকবারী)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


কিতাব: আল-লুবাব ফি ইলালিল বিনা ওয়াল ইরাব

লেখক: আবু আল-বাকা আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ আল-উকবারী আল-বাগদাদী মুহিবুদ্দীন (মৃ. ৬১৬ হিজরী)

সম্পাদক: ড. আব্দুল ইলাহ আন-নাবহন

প্রকাশক: দারুল ফিকর - দামেস্ক

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরী ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৩৯)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

عونك اللَّهُمَّ

الْحَمد لله أهل الْحَمد ومستحقه وَأشْهد أَن لَا إِلَه لَا الله وَحده لَا شريك لَهُ فِي إبداع خلقه وَأشْهد أَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم وعَلى اله أَصْحَابه والشاهدين بصدقه مَا سح سَحَاب بوابله وودقه

أما بعد فَإِن علم الْعَرَبيَّة من أجل الْعُلُوم وَفَائِدَة وأفضلها عَائِدَة وَحِكْمَة وافرة جمة ومعرفته تُفْضِي إِلَى معرفَة الْعُلُوم المهمة والكتب الْمُؤَلّفَة فِيهِ تفوت الإحصاء عدا وَتخرج عَن الضَّبْط جدا وأنفعها أوسطها حجما وأكثرها علما

وَهَذَا مُخْتَصر أذكر فِيهِ من أصُول النَّحْو مَا تمس الْحَاجة إِلَيْهِ وَمن علل كل بَاب مَا يعرفك أَكثر فروعه الْمرتبَة عَلَيْهِ وَقد بذلت الوسع فِي إيجاز أَلْفَاظه وإيضاح مَعَانِيه وَصِحَّة أقسامه وإحكام مبانيه وَمن الله سُبْحَانَهُ أَسْتَمدّ الْإِعَانَة على تَحْقِيق مَا ضمنت وإياه أسأَل الْإِصَابَة فِيمَا أبنت
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আল্লাহ! আপনার সাহায্যই কাম্য।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রশংসার যোগ্য এবং এর একমাত্র হকদার। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর সৃষ্টি সৃজনে তাঁর কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং তাঁর সত্যতার সাক্ষ্যদানকারীদের ওপর, যতক্ষণ মেঘমালা মুষলধারে বারিপাত ঘটায়।

অতঃপর, নিশ্চয়ই আরবি ভাষা ও ব্যাকরণের জ্ঞান অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান, যার উপকারিতা ও প্রজ্ঞা অত্যন্ত ব্যাপক। এর জ্ঞান অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্র এবং রচিত গ্রন্থাবলি অনুধাবনে সহায়তা করে। এ বিষয়ে প্রণীত গ্রন্থসমূহ গণনার অতীত এবং তা আয়ত্ত করাও অত্যন্ত দুঃসাধ্য। এগুলোর মধ্যে অধিকতর উপকারী হলো সেই গ্রন্থ যা কলেবরে মাঝারি কিন্তু জ্ঞানে সমৃদ্ধ।

এটি একটি সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থ, যাতে আমি নাহু শাস্ত্রের সেই সব মূলনীতি উল্লেখ করেছি যেগুলোর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। প্রতিটি অধ্যায়ের এমন সব তাৎপর্য বর্ণনা করেছি যা আপনাকে এর ওপর বিন্যস্ত শাখা-প্রশাখাগুলো সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞান দান করবে। আমি এর শব্দ চয়ন সংক্ষেপ করতে, অর্থসমূহ স্পষ্ট করতে, এর প্রকারভেদগুলোর সঠিকতা বজায় রাখতে এবং এর অবকাঠামো সুদৃঢ় করতে সাধ্যমতো প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নিকট আমার এই সংকলন বাস্তবায়নে সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং যা আমি বর্ণনা করেছি তাতে সঠিক হওয়ার তৌফিক কামনা করছি।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৪০)
بَاب بَيَان النَّحْو وأصل وَضعه

 

اعْلَم أَن النَّحْو فِي الأَصْل مصدر (نحا ينحو) إِذا قصد وَيُقَال نحا لَهُ وأنحى لَهُ وَإِنَّمَا سمي الْعلم بكيفية كَلَام الْعَرَب فِي أعرابه وبنائه (نَحوا) لِأَن الْغَرَض بِهِ أَن يتحَرَّى الْإِنْسَان فِي كَلَامه إعرابا وَبِنَاء طَريقَة الْعَرَب فِي ذَلِك

‌‌فصل

 

وَحده عِنْدهم أَنه علم مستنبط بِالْقِيَاسِ والاستقراء من كَلَام الْعَرَب وَالْقِيَاس أَلا يثنى وَلَا يجمع لِأَنَّهُ مصدر وَلكنه ثني وَجمع لما تقل وَسمي بِهِ وَيجمع على (أنحاء وَنَحْو)
নাহু (ব্যাকরণ) এর বর্ণনা এবং এর প্রবর্তনের মূল ভিত্তি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

 

জেনে রাখুন যে, নাহু শব্দটি মূলত একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), যা ‘নাহা ইয়ানহু’ থেকে উদ্ভূত; যখন এর দ্বারা ‘উদ্দেশ্য করা’ বুঝায়। আর বলা হয়ে থাকে ‘নাহা লাহু’ এবং ‘আনহা লাহু’। আরবদের কথাবার্তায় শব্দরূপান্তর ও শব্দগঠনের পদ্ধতি বিষয়ক জ্ঞানকে ‘নাহু’ নামকরণ করা হয়েছে; কারণ এর উদ্দেশ্য হলো, মানুষ যেন তার কথাবার্তায় শব্দরূপান্তর ও শব্দগঠনের ক্ষেত্রে আরবদের অনুসৃত পদ্ধতির অনুসরণ করতে পারে।

‌‌অনুচ্ছেদ

 

তাঁদের নিকট এর সংজ্ঞা হলো—এটি এমন এক শাস্ত্র যা আরবদের কথা থেকে অনুমান ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে উদ্ভাবিত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এই শব্দটির দ্বিবচন বা বহুবচন হওয়ার কথা নয়, কারণ এটি একটি মাসদার। কিন্তু যখন একে শাস্ত্রের নাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, তখন এর দ্বিবচন ও বহুবচন করা হয়েছে। এর বহুবচন হিসেবে ‘আনহা’ ও ‘নুহু’ শব্দ ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৪১)
بَاب القَوْل فِي الْكَلَام

 

الْكَلَام عبارَة عَن الْجُمْلَة المفيدة فَائِدَة يسوغ السُّكُوت عَلَيْهَا عِنْد الْمُحَقِّقين لثَلَاثَة أوجه

أَحدهَا أَنه مُشْتَقّ من (الْكَلم) وَهُوَ الْجرْح وَالْجرْح مُؤثر فِي نفس الْمَجْرُوح فليزم أَن يكون الْكَلَام مؤثرا فِي نفس السَّامع

وَالثَّانِي أَن الْكَلَام يُؤَكد بِهِ (تَكَلَّمت) كَقَوْلِك تَكَلَّمت كلَاما والمصدر الْمُؤَكّد نَائِب عَن الْفِعْل وَالْفَاعِل وكما أَن الْفِعْل وَالْفَاعِل جملَة مفيدة كَذَلِك مَا يَنُوب عَنهُ الْكَلَام
কালাম (বক্তব্য) বিষয়ক আলোচনা

 

মুহাক্কিকগণের মতে কালাম হলো এমন এক অর্থপূর্ণ বাক্য যা এমন এক ফায়দা বা অর্থ প্রদান করে যার ওপর নীরব থাকা সমীচীন (অর্থাৎ বাক্যটি পূর্ণতা পায়), আর তা তিনটি কারণে:

প্রথমটি হলো, এটি ‘কালম’ (ক্ষত) শব্দ থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো আঘাত বা ক্ষত। আর ক্ষত যেহেতু আহত ব্যক্তির ওপর প্রভাব ফেলে, তাই কালামকেও শ্রোতার ওপর প্রভাব বিস্তারকারী হতে হবে।

দ্বিতীয়টি হলো, কালামের মাধ্যমে ‘তাকাল্লামতু’ (আমি কথা বলেছি) ক্রিয়াকে তাকিদ বা দৃঢ়তা প্রদান করা হয়, যেমন আপনার উক্তি— ‘আমি একটি কথা বলেছি’। আর তাকিদ প্রদানকারী মাসদার (ক্রিয়ামূল) ক্রিয়া ও কর্তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে থাকে। আর ক্রিয়া ও কর্তা মিলে যেহেতু একটি অর্থপূর্ণ বাক্য হয়, তদ্রূপ কালামও যা তার স্থলাভিষিক্ত হয় তা অর্থপূর্ণ বাক্য।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৪২)
الثَّالِث أَن الْكَلَام يَنُوب عَن التكليم والتكلم وَكِلَاهُمَا مشدد الْعين وَالتَّشْدِيد للتكثير وَأدنى درجاته أَن يدل على جملَة تَامَّة

‌‌‌‌فصل

 

وَإِنَّمَا قَالَ الْمُحَقِّقُونَ إِن الْكَلَام اسْم للمصدر وَلَيْسَ بمصدر حَقِيقَة لِأَن المصادر تبنى على الْأَفْعَال الْمَأْخُوذَة مِنْهَا وَالْأَفْعَال الْمَأْخُوذَة من هَذَا الأَصْل (كلمت) ومصدره التكليم و (تَكَلَّمت) ومصدره (التَّكَلُّم) و (كالمت) ومصدره (المكالمة) و (الْكَلَام) وَالْكَلَام لَيْسَ بِوَاحِد مِنْهَا إِلَّا أَنه يعْمل عمل الْمصدر كَمَا عمل (الْعَطاء) عمل (الْإِعْطَاء)

فصل

 

وَأما القَوْل فَيَقَع على الْمُفِيد لِأَن مَعْنَاهُ التحرك والتقلقل فَكل مَا يمذل بِهِ اللِّسَان ويتحرك يُسمى (قولا) وَهَذَا مَا يتركب من (ق ول) فِي جَمِيع تصاريفها وتقلب حروفها نَحْو القَوْل والقلو والتوقل وَغير ذَلِك
তৃতীয়ত, 'কালাম' (কথা) শব্দটি 'তাকলিম' এবং 'তাকাল্লুম' এর স্থলাভিষিক্ত হয়। এই উভয় শব্দেই মধ্যম বর্ণটি তাশদীদযুক্ত, আর তাশদীদ আধিক্য বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এর সর্বনিম্ন স্তর হলো এটি একটি পূর্ণ বাক্যকে নির্দেশ করবে।

‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

 

গবেষকগণ বলেছেন যে, 'কালাম' হলো মাসদারের নাম (ইসমুল মাসদার), এটি প্রকৃতপক্ষে মাসদার নয়। কারণ মাসদারসমূহ গঠিত হয় সেসব ক্রিয়া থেকে যা থেকে সেগুলো গৃহীত হয়েছে। আর এই মূল ধাতু থেকে গৃহীত ক্রিয়াগুলো হলো: (কাল্লামতু) যার মাসদার হলো 'তাকলিম', (তাকাল্লামতু) যার মাসদার হলো 'তাকাল্লুম', এবং (কালামতু) যার মাসদার হলো 'মুকামালা' ও 'কালাম'। অথচ 'কালাম' এগুলোর কোনোটিই নয়, তবে এটি মাসদারের ন্যায় কাজ করে যেমন (আতা) শব্দটি (ইতা) এর ন্যায় কাজ করে।

পরিচ্ছেদ

 

আর 'কাওল' (কথা) শব্দটি অর্থবোধক বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, কারণ এর আভিধানিক অর্থ হলো নড়াচড়া ও স্পন্দন। সুতরাং জিহ্বা যা কিছু উচ্চারণ করে এবং যার দ্বারা নড়াচড়া করে তাকেই (কাওল) বলা হয়। এটি (কাফ, ওয়াও ও লাম) বর্ণত্রয়ের সমন্বয়ে গঠিত যা এর সকল রূপান্তর ও বর্ণবিন্যাসের ক্ষেত্রে বিদ্যমান থাকে, যেমন: 'কাওল', 'কালউ', 'তাওয়াক্কুল' এবং এই জাতীয় অন্যান্য শব্দসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৪৩)
بَاب أَقسَام الْكَلم

 

إِنَّمَا علم كَون الْكَلم ثَلَاثًا فَقَط من وَجْهَيْن

أَحدهمَا أَن الْكَلَام وضع للتعبير عَن الْمعَانِي والمعاني ثَلَاثَة معنى يخبر بِهِ وَمعنى يخبر عَنهُ وَمعنى يرْبط أَحدهمَا بِالْآخرِ فَكَانَت الْعبارَات عَنْهَا كَذَلِك

الثَّانِي أَنهم وجدوا هَذِه الْأَقْسَام تعبر عَن كل معنى يخْطر فِي النَّفس وَلَو كَانَ هُنَاكَ قسم آخر لم يُوقف عَلَيْهِ لَكَانَ لَهُ معنى لَا يُمكن التَّعْبِير عَنهُ
শব্দের প্রকারভেদ পরিচ্ছেদ

 

শব্দ যে কেবল তিনটি প্রকারের হয়, তা মূলত দুটি প্রেক্ষাপট থেকে জ্ঞাত হওয়া যায়।

প্রথমত, অর্থ প্রকাশের উদ্দেশ্যেই শব্দসমূহ প্রবর্তিত হয়েছে। আর অর্থ তিন প্রকার: যার দ্বারা সংবাদ দেওয়া হয়, যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয় এবং যা একটিকে অন্যটির সাথে অন্বিত করে। সুতরাং এগুলোর প্রকাশক শব্দগুলোও অনুরূপ হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ভাষাবিদগণ দেখতে পেয়েছেন যে, এই প্রকারগুলো মনে উদিত হওয়া প্রতিটি অর্থকেই ব্যক্ত করে। যদি অন্য কোনো প্রকার থাকত যা সম্পর্কে অবগত হওয়া সম্ভব হয়নি, তবে এমন কোনো অর্থের অস্তিত্ব থাকত যাকে ব্যক্ত করা সম্ভব হতো না।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌‌‌فصل

 

وَإِنَّمَا فرق بَين هَذِه الْعبارَات فِي التَّسْمِيَة لاخْتِلَاف الْمعبر عَنهُ

فصل

 

وَإِنَّمَا خص كل وَاحِد مِنْهُمَا بِالِاسْمِ الَّذِي وضعوعه لَهُ لوَجْهَيْنِ أَحدهمَا ان المُرَاد الْفرق بَين الاسماء ليحصل الْعلم بالمسميات وَأي لفظ حصل بِهَذَا الْمَعْنى جَازَ

وَالثَّانِي أَنهم خصوا الْمخبر عَنهُ وَبِه بِالِاسْمِ لِأَنَّهُ أَي علا الْقسمَيْنِ الآخرين إِذْ كَانَ أَحدهمَا يخبر بِهِ فَقَط وَالْآخر لَا يخبر بِهِ وَلَا عَنهُ وَسموا مَا يخبر بِهِ فعلا لِأَنَّهُ مُشْتَقّ من الْمصدر الَّذِي هُوَ فعل حَقِيقَة وَلم يسموه زَمَانا وَإِن دلّ على الزَّمَان لوَجْهَيْنِ

أَحدهمَا أَن دلَالَته على الْمصدر أقوى إِذْ دلَالَته على الزَّمَان تخْتَلف وَيصِح أَن تبطل دلَالَته عَلَيْهِ بِالْكُلِّيَّةِ وَأما دللاته على الْمصدر فَلَا يَصح ذَلِك فِيهَا

وَالثَّانِي أَنه لَو سمي زَمَانا لم يدل على الْحَدث بِحَال وَإِنَّمَا سمي فعلا لِأَنَّهُ دلّ على الْحَدث لفظا وعَلى الزَّمَان من طَرِيق الْمُلَازمَة إِذْ يَسْتَحِيل فعل الْمَخْلُوق إِلَّا فِي زمَان وَلم يسم عملا لِأَن الْفِعْل من الْعَمَل وَكَانَ يَقع على كل حَرَكَة
‌‌পরিচ্ছেদ

 

এই অভিব্যক্তিগুলোর নামকরণে পার্থক্য করা হয়েছে মূলত যা প্রকাশ করা হচ্ছে তার ভিন্নতার কারণে।

পরিচ্ছেদ

 

তাদের প্রত্যেকটিকে নির্দিষ্ট নামে বিশেষিত করার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমটি হলো, নামগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা উদ্দেশ্য যাতে নামধারী বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান অর্জিত হয়; আর যে শব্দ দ্বারাই এই অর্থ অর্জিত হবে, তা-ই বৈধ।

দ্বিতীয়টি হলো, তারা যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয় এবং যা দ্বারা সংবাদ দেওয়া হয় তাকে 'বিশেষ্য' নামে বিশেষিত করেছেন, কারণ এটি অন্য দুটি প্রকারের চেয়ে শ্রেষ্ঠ; যেহেতু অন্য দুটির মধ্যে একটি কেবল সংবাদ প্রদানের মাধ্যম হয়, আর অপরটি দ্বারা সংবাদ দেওয়াও যায় না এবং তার সম্পর্কেও সংবাদ দেওয়া যায় না। আর যা দ্বারা সংবাদ দেওয়া হয় তাকে তারা 'ক্রিয়া' নামকরণ করেছেন কারণ এটি মূলধাতু থেকে উদ্ভূত যা প্রকৃতপক্ষে একটি কাজ। তারা একে 'সময়' হিসেবে নামকরণ করেননি যদিও তা সময়ের ওপর নির্দেশ করে, এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে।

প্রথমত, মূলধাতুর ওপর এর নির্দেশনা অধিক শক্তিশালী, কেননা সময়ের ওপর এর নির্দেশনা পরিবর্তিত হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে সময়ের ওপর এর নির্দেশনা পুরোপুরি বিলুপ্ত হওয়া সম্ভব। কিন্তু মূলধাতুর ওপর নির্দেশনার বিষয়টি এমন নয়।

দ্বিতীয়ত, যদি একে 'সময়' নামকরণ করা হতো তবে তা কোনোভাবেই ঘটনার ওপর নির্দেশ করত না। একে 'ক্রিয়া' নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি শব্দগতভাবে ঘটনার ওপর নির্দেশ করে এবং অপরিহার্যতার সূত্রে সময়ের ওপর নির্দেশ করে; যেহেতু সৃষ্টির কোনো কাজ সময় ব্যতীত সংঘটিত হওয়া অসম্ভব। আর একে 'আমল' (কর্ম) বলা হয়নি কারণ 'ক্রিয়া' শব্দটি 'আমল' এর একটি অংশ এবং তা প্রতিটি নড়াচড়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وعزم وَلِهَذَا يَقُول من بنى حَائِطا قد عملت وَقد فعلت وَإِذا تكلم قَالَ قد فعلت وَلَا يُقَال عملت

وَسمي الْقسم الثَّالِث (حرفا) لِأَن حرف كل شَيْء طرفه والأدوات بِهَذِهِ الْمنزلَة لِأَن مَعَانِيهَا فِي غَيرهَا فَهِيَ طرف لما مَعْنَاهَا فِيهِ

‌‌‌‌فصل

 

وللاسم حد عِنْد الْمُحَقِّقين لِأَنَّهُ لفظ يَقع فِيهِ اشْتِرَاك وَالْقَصْد من الْحَد تَمْيِيز الْمَحْدُود عَمَّا يُشَارِكهُ

فصل

 

وَمن أقرب حد حد بِهِ أَنه كل لفظ دلّ على معنى مُفْرد فِي نَفسه وَقَالَ قوم هُوَ كل لفظ دلّ على معنى فِي نَفسه غير مقترن بِزَمَان مُحَصل دلَالَة الْوَضع
...এবং সংকল্প। এই কারণেই, যে ব্যক্তি কোনো প্রাচীর নির্মাণ করে সে বলে: 'আমি কাজ করেছি' এবং 'আমি করেছি'। কিন্তু যখন সে কথা বলে, তখন সে বলে: 'আমি করেছি', 'আমি কাজ করেছি' বলা হয় না।

আর তৃতীয় প্রকারকে 'অব্যয়' নামকরণ করা হয়েছে কারণ কোনো বস্তুর প্রান্তভাগকেই 'হরফ' (প্রান্ত) বলা হয়। আর ব্যাকরণিক অব্যয়গুলোও এই পর্যায়ভুক্ত কারণ এগুলোর অর্থ অন্য শব্দের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং এগুলো সেই অর্থের জন্য প্রান্তস্বরূপ যা এগুলোর মধ্যে নিহিত থাকে।

‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

 

গবেষকগণের নিকট বিশেষ্যের একটি সংজ্ঞা রয়েছে, কারণ এটি এমন একটি শব্দ যাতে অর্থের অংশীদারিত্ব ঘটে। আর সংজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো সংজ্ঞায়িত বিষয়টিকে তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ অন্যান্য বিষয় থেকে পৃথক করা।

পরিচ্ছেদ

 

সবচেয়ে নিকটবর্তী সংজ্ঞাগুলোর একটি হলো: এটি এমন প্রতিটি শব্দ যা স্বতন্ত্রভাবে একটি একক অর্থ প্রকাশ করে। আবার একদল পণ্ডিত বলেছেন: এটি এমন প্রতিটি শব্দ যা সংস্থাপনের অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সময়ের সাথে যুক্ত হওয়া ছাড়াই স্বতন্ত্রভাবে কোনো অর্থ প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌‌‌‌‌فصل

 

واشتقاقه عِنْد الْبَصرِيين من (سما يسمو) إِذا علا فالمحذوف مِنْهُ (لامه) لِأَن الْمَحْذُوف يرجع إِلَى مَوضِع اللَّام فِي جَمِيع تصاريفه نَحْو سميت وأسميت وسمى وَسمي وَأَسْمَاء وأسام وَلِأَن الْهمزَة فِيهِ عوض من الْمَحْذُوف وَقد ألف من عاداتهم أَن يعوضوا فِي غير مَوضِع الْحَذف

وَقَالَ الْكُوفِيُّونَ هُوَ من السمة فالمحذوف (فاؤه) وَهُوَ خطأ فِي الِاشْتِقَاق وَفِيه الْخلاف وَهُوَ صَحِيح فِي الْمَعْنى

فصل

 

وَإِنَّمَا سمي هَذَا اللَّفْظ (اسْما) من معنى الْعُلُوّ لوَجْهَيْنِ أَحدهمَا أَنه سما على صَاحِبيهِ فِي الْإِخْبَار كَمَا تقدم وَالثَّانِي أَنه يُنَوّه بِالْمُسَمّى لِأَن الشَّيْء قبل التَّسْمِيَة خَفِي عَن الذِّهْن فَهُوَ كالشيء المنخفض فَإِذا سمي ارْتَفع للأذهان كارتفاع المبصر للعين

فصل

 

وَالْألف وَاللَّام من خَصَائِص الْأَسْمَاء لِأَنَّهُمَا وضعا للتعريف والتخصيص بعد الشياع وَلَا يَصح هَذَا الْمَعْنى فِي الْفِعْل والحرف أَلا ترى أَن قَوْلك (ضرب
‌‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

 

বসরীয় ভাষাবিদদের মতে এর ব্যুৎপত্তি হলো ‘সামা ইয়াসমু’ থেকে, যখন কোনো কিছু উচ্চ হয়। সুতরাং এর থেকে বিলুপ্ত হওয়া অংশটি হলো এর ‘লাম বর্ণ’; কারণ এর সকল রূপান্তরের ক্ষেত্রে বিলুপ্ত অংশটি ‘লাম’ বর্ণের স্থানে ফিরে আসে, যেমন: সাম্মাইতু, আসমাইতু, সাম্মা, সামিই, আসমা এবং আসামি। তাছাড়া এর শুরুতে থাকা হামজাটি বিলুপ্ত বর্ণের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে এসেছে, আর তাদের রীতি হলো বিলুপ্তির স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে স্থলাভিষিক্ত করা।

কুফীয়গণ বলেন, এটি ‘সিমাহ’ (চিহ্ন) থেকে উদ্ভূত, ফলে এর বিলুপ্ত বর্ণটি হলো ‘ফা বর্ণ’; যা ব্যুৎপত্তির দিক থেকে ভুল এবং এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে অর্থের দিক থেকে তা সঠিক।

পরিচ্ছেদ

 

উচ্চতার অর্থ থেকে এই শব্দটিকে ‘ইসিম’ (নাম) নামকরণ করার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমটি হলো, সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে এটি তার অপর দুই সঙ্গীর (ক্রিয়া ও অব্যয়) ওপর সমুন্নত হয় যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো, এটি নামধারী সত্তাকে প্রসিদ্ধি ও পরিচিতি দান করে; কেননা নামকরণের পূর্বে বিষয়টি মানুষের স্মৃতিতে অস্পষ্ট থাকে, যা একটি নিচু বা অবনমিত বস্তুর মতো। অতঃপর যখন তার নামকরণ করা হয়, তখন তা মানুষের স্মৃতিতে সমুন্নত হয়, যেমন কোনো দৃশ্যমান বস্তু চোখের সামনে ভেসে ওঠে।

পরিচ্ছেদ

 

আলিফ এবং লাম হলো বিশেষ্যের (ইসিমের) অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ সাধারণ বা ব্যাপক অর্থের পর নির্দিষ্টকরণ ও পরিচিতি প্রদানের জন্য এই দুটিকে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ক্রিয়া (ফেল) এবং অব্যয়ের (হরফ) ক্ষেত্রে এই অর্থটি প্রযোজ্য হওয়া সঠিক নয়; আপনি কি দেখেন না যে, আপনার উক্তি ‘দ্বরাবা’ (প্রহার করল)...
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৪৭)
يضْرب) يقعان على كل نوع من أَنْوَاع الضَّرْب وَلَا يَصح تخصيصهما بضربة وَاحِدَة كَمَا يكون ذَلِك قَوْلك (الرجل) فَإِنَّهُ يصير بهما وَاحِدًا بِعَيْنِه

‌‌‌‌‌‌فصل

 

وحروف الْجَرّ تخْتَص بالأسماء لَان الْغَرَض مِنْهَا إِيصَال الْفِعْل الْقَاصِر عَن الْوُصُول إِلَى مَا يَقْتَضِيهِ وَالْفِعْل لَا يقتضى إِلَّا الِاسْم فَصَارَ الْحَرْف وصلَة بَين الْفِعْل وَمَا يتَعَدَّى إِلَيْهِ

فصل

 

وتنوين الصّرْف والتنوين الْفَارِق بَين الْمعرفَة والنكرة نَحْو (صه) من خَصَائِص الْأَسْمَاء لِأَن مَا دخلا لَهُ يخْتَص بالأسماء وَهُوَ الصّرْف وتمييز الْمعرفَة من النكرَة

فصل

 

وَمن خَصَائِص الِاسْم كَونه فَاعِلا أَو مَفْعُولا أَو مُضَافا أَو مثنى أَو مجموعا أَو مُصَغرًا أومنادى وَسَنذكر عِلّة تَخْصِيص الِاسْم بِكُل وَاحِد من ذَلِك فِي بَابه إِن شَاءَ الله
(আঘাত করা) এগুলো আঘাতের প্রতিটি প্রকারের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং এগুলোকে কোনো একটি নির্দিষ্ট আঘাতের সাথে সুনির্দিষ্ট করা সঠিক নয়, যেমনটি হয় আপনার কথা (ব্যক্তিটি) বলার ক্ষেত্রে; কারণ এ দুটির (আলিফ ও লাম) মাধ্যমে তা নির্দিষ্ট এক ব্যক্তিতে পরিণত হয়।

‌‌‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

 

এবং অব্যয়সমূহ (হরফে জার) বিশেষ্যের (ইসিম) জন্য নির্দিষ্ট; কারণ এগুলোর উদ্দেশ্য হলো এমন ক্রিয়াকে (ফেল) তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের সাথে সংযুক্ত করা যা সরাসরি পৌঁছাতে অক্ষম। আর ক্রিয়া কেবল বিশেষ্যকেই দাবি করে; ফলে অব্যয়টি ক্রিয়া এবং যার দিকে তা ধাবিত হয় তার মাঝে সংযোগকারী হয়ে ওঠে।

পরিচ্ছেদ

 

রূপান্তরযোগ্য তানউইন এবং নির্দিষ্ট ও অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের মাঝে পার্থক্যকারী তানউইন, যেমন: (চুপ করো), বিশেষ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ যে বিষয়ের জন্য এগুলো ব্যবহৃত হয় তা বিশেষ্যের সাথেই নির্দিষ্ট, আর তা হলো রূপান্তরযোগ্যতা এবং নির্দিষ্টতা থেকে অনির্দিষ্টতাকে পৃথক করা।

পরিচ্ছেদ

 

এবং বিশেষ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো তার কর্তা, কর্ম, সম্বন্ধযুক্ত পদ (মুদাফ), দ্বিবচন, বহুবচন, ক্ষুদ্রতাসূচক রূপ (তাসগীর) অথবা সম্বোধনকৃত পদ (মুনাদা) হওয়া। ইনশাআল্লাহ, আমরা এর প্রত্যেকটি বিষয়ের মাধ্যমে বিশেষ্যকে সুনির্দিষ্ট করার কারণসমূহ সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৪৮)
‌‌فصل

 

وحد الْفِعْل مَا اسند إِلَى غَيره وَلم يسند غَيره إِلَيْهِ وَذكر الْإِسْنَاد هَهُنَا أولى من الْإِخْبَار لَان الْإِسْنَاد أَعم إِذْ كَانَ يَقع على الِاسْتِفْهَام وَالْأَمر غَيرهمَا وَلَيْسَ الْإِخْبَار كَذَلِك بل هُوَ مَخْصُوص بِمَا صَحَّ أَن يُقَابل بالتصديق والتكذيب فَكل إِخْبَار إِسْنَاد وَلَيْسَ كل إِسْنَاد إِخْبَارًا

وَلَا ينْتَقض هَذَا الْحَد بقَوْلهمْ (تسمع بالمعيدي خير من أَن ترَاهُ) لِأَن (خيرا) هُنَا لَيْسَ بِخَبَر عَن (تسمع) بل عَن الْمصدر الَّذِي هُوَ (سماعك) وَتَقْدِيره (أَن تسمع) وَحذف (أَن) وَهِي مُرَاد جَائِز كَمَا قَالَ 1 -

(أَلا ايهذا الزاجرى أحضر الوغى … ) أَي عَن أَن أحضر وَدلّ على حذفه قَوْله وَأَن أشهد اللَّذَّات وَقيل حَده مَا دلّ على معنى فِي نَفسه مقترن بِزَمَان مُحَصل دلَالَة الْوَضع
অনুচ্ছেদ

 

ক্রিয়ার সংজ্ঞা হলো যা অন্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় এবং অন্য কোনো কিছুকে তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় না। এখানে 'সম্বন্ধ' (ইসনাদ) উল্লেখ করা 'সংবাদ দান' (ইখবার) উল্লেখ করার চেয়ে অধিকতর সমীচীন। কারণ 'সম্বন্ধ' বিষয়টি অধিক ব্যাপক; যেহেতু এটি প্রশ্নবোধক ও আদেশসূচক বাক্য এবং এ জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়। কিন্তু 'সংবাদ দান' বিষয়টি তেমন নয়, বরং এটি কেবল ঐসব বিষয়ের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট যা সত্য অথবা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। সুতরাং প্রতিটি 'সংবাদ দান'ই একটি 'সম্বন্ধ', কিন্তু প্রতিটি 'সম্বন্ধ' 'সংবাদ দান' নয়।

এই সংজ্ঞাটি আরবদের এই প্রবাদের মাধ্যমে খণ্ডিত হয় না যে— "মুআইদী সম্পর্কে শোনা তাকে দেখার চেয়ে উত্তম।" কারণ এখানে 'উত্তম' শব্দটি 'শোনা' ক্রিয়াটির সংবাদ বা বিধেয় নয়, বরং তা সেই ক্রিয়ামূল বা মাসদারের সংবাদ যা হলো 'তোমার শোনা'। এর মূল রূপ হলো 'যেন তুমি শোনো', আর 'আন' (যেন) অব্যয়টি উহ্য রেখে সেটি উদ্দেশ্য নেওয়া বৈধ, যেমন কবি বলেছেন—

(হে আমার তিরস্কারকারী! আমাকে যুদ্ধে উপস্থিত হওয়া থেকে [বাধা দিও না]...) অর্থাৎ 'উপস্থিত হওয়া থেকে'। এখানে 'আন' উহ্য থাকার বিষয়টি তার পরবর্তী উক্তি— "এবং যেন আমি আনন্দদায়ক বস্তুসমূহে উপস্থিত হতে পারি" দ্বারা প্রমাণিত হয়। কেউ কেউ বলেন, ক্রিয়ার সংজ্ঞা হলো যা নিজস্ব সত্তায় এমন অর্থ প্রকাশ করে যা গঠনগতভাবেই নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সম্পৃক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৪৯)
‌‌‌‌‌‌فصل

 

وَإِنَّمَا اخْتصّت (قد) بِالْفِعْلِ لِأَنَّهَا وضعت لِمَعْنى لَا يَصح إِلَّا فِيهِ وَهُوَ تقريب الْمَاضِي من الْحَال وتقليل الْمُسْتَقْبل كَقَوْلِك قد قَامَ زيد أَي عَن قريب وَزيد قد يُعْطي أَي يقل ذَلِك مِنْهُ فَأَما قَوْله تَعَالَى {قد نعلم إِنَّه ليحزنك الَّذِي يَقُولُونَ} فَمَعْنَاه قد علمنَا

فصل

 

وَإِنَّمَا اخْتصّت (السِّين) بِالْفِعْلِ لِأَن مَعْنَاهَا جَوَاب (لن يفعل) وَكَذَلِكَ (سَوف) إِلَّا أَن (سَوف) تدل على بعد الْمُسْتَقْبل من الْحَال و (السِّين) أقرب إِلَى ذَلِك مِنْهَا وَلما كَانَت (لن) لَا معنى إِلَّا فِي الْمُسْتَقْبل كَانَ جوابها كَذَلِك

فصل

 

إِنَّمَا دلّت تَاء التَّأْنِيث الساكنة على الْفِعْل لِأَن الْغَرَض مِنْهَا الدّلَالَة على تَأْنِيث الْفَاعِل فَقَط لَا الدّلَالَة على تَأْنِيث الْفِعْل إِذْ الْفِعْل لَا يؤنث وَلَا تَجِد تَاء تَأْنِيث
‌‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

 

‘কাদ’ অক্ষরটি শুধুমাত্র ক্রিয়ার সাথে বিশিষ্ট হয়েছে কারণ এটি এমন একটি অর্থের জন্য গঠিত হয়েছে যা ক্রিয়া ব্যতীত অন্য কিছুতে শুদ্ধ হয় না। আর তা হলো অতীতকালকে বর্তমানের নিকটবর্তী করা এবং ভবিষ্যৎকালের কার্যে স্বল্পতা বা বিরলতা প্রকাশ করা। যেমন আপনার উক্তি: ‘যাইদ দাঁড়িয়েছে’ অর্থাৎ সে এইমাত্র দাঁড়িয়েছে; এবং ‘যাইদ কদাচিৎ দান করে’ অর্থাৎ তার থেকে এই কাজ খুব অল্পই ঘটে। তবে মহান আল্লাহর বাণী: {আমি অবশ্যই জানি যে, তারা যা বলে তা আপনাকে ব্যথিত করে} এর অর্থ হলো: ‘আমি জেনেছি’ (অর্থাৎ এটি সুনিশ্চিত)।

পরিচ্ছেদ

 

‘সীন’ বর্ণটি শুধুমাত্র ক্রিয়ার সাথে বিশিষ্ট হয়েছে কারণ এর অর্থ হলো ‘সে কখনোই করবে না’-এর উত্তর। অনুরূপভাবে ‘সাওফা’ শব্দটিও। তবে পার্থক্য এই যে, ‘সাওফা’ বর্তমান থেকে সুদূর ভবিষ্যৎ নির্দেশ করে এবং ‘সীন’ সেটির তুলনায় নিকটতর ভবিষ্যৎ নির্দেশ করে। যেহেতু ‘লান’ শব্দটি ভবিষ্যৎকাল ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ প্রদান করে না, তাই তার উত্তরটিও তদ্রূপ (ভবিষ্যৎকালসূচক) হয়ে থাকে।

পরিচ্ছেদ

 

সুঁকুনযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’ শুধুমাত্র ক্রিয়ার ওপর দালালত করে (ক্রিয়ার অস্তিত্ব প্রমাণ করে)। কারণ এর উদ্দেশ্য হলো শুধুমাত্র কর্তার স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া নির্দেশ করা, ক্রিয়ার স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া নির্দেশ করা নয়। কেননা ক্রিয়া কখনো স্ত্রীলিঙ্গ হয় না এবং আপনি (বিশেষ্যের ক্ষেত্রে এমন সুঁকুনযুক্ত) স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’ পাবেন না।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৫০)
متحركة مُتَّصِلَة بآخر الْفِعْل وَإِنَّمَا ذَلِك فِي الْأَسْمَاء مثل (قَائِمَة) والحروف مثل (ربت) و (ثمت)

‌‌‌‌فصل

 

وَإِنَّمَا دلّ اتِّصَال الضَّمِير الْمَرْفُوع الْموضع بِالْكَلِمَةِ على أَنَّهَا فعل لِأَن الضَّمِير الْمُتَّصِل الْمَرْفُوع لَا يكون إِلَّا فَاعِلا وَالْفَاعِل لَا يتَّصل بِغَيْر الْفِعْل

فصل

 

وحدٌ الْحَرْف مَا دلّ على معنى فِي غَيره فَقَط وَلَفظ (دلّ) أوْلى من قَوْلك (جَاءَ) لِأَن الْحُدُود الْحَقِيقِيَّة دَالَّة على ذَات الْمَحْدُود بهَا وَقَوْلنَا (مَا جَاءَ لِمَعْنى) بَيَان الْعلَّة الَّتِى لأَجلهَا جَاءَ وَعلة الشَّيْء غيرُه وَلَا ينْتَقض ب (أَيْن) و (كَيفَ) لوَجْهَيْنِ أَحدهمَا أَنَّهُمَا - مَعَ دلالتهما على معنى فِي غَيرهمَا - دالان على معنى فِي أَنفسهمَا وَهُوَ الْمَكَان وَالْحَال وَقد حصل الِاحْتِرَاز عَن ذَلِك بقولنَا فَقَط

وَالثَّانِي أَن دلالتهما على معنى فِي غَيرهمَا من جِهَة تضمنها معنى الْحَرْف وَذَلِكَ عَارض فيهمَا
ক্রিয়ার শেষে যুক্ত হরকতবিশিষ্ট, আর এটি কেবল বিশেষ্য পদের ক্ষেত্রে হয় যেমন (কায়েমাহ) এবং অব্যয় পদের ক্ষেত্রে যেমন (রুব্বাত) ও (সুম্মাত)।

‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

 

শব্দের সাথে মারফু স্থানীয় সংযুক্ত সর্বনামের যুক্ত হওয়া এটিই প্রমাণ করে যে শব্দটি একটি ক্রিয়া; কারণ সংযুক্ত মারফু সর্বনাম কেবল কর্তা হিসেবেই ব্যবহৃত হয়, আর কর্তা ক্রিয়া ব্যতীত অন্য কিছুর সাথে যুক্ত হয় না।

পরিচ্ছেদ

 

অব্যয়ের সংজ্ঞা হলো যা কেবল অন্য কোনো শব্দের মাধ্যমে অর্থ প্রকাশ করে। এখানে (নির্দেশ করে) শব্দটি আপনার (এসেছে) বলার চেয়ে অধিক শ্রেয়; কারণ প্রকৃত সংজ্ঞা সংজ্ঞায়িত বস্তুর সত্তাকে নির্দেশ করে। আর আমাদের কথা (যা কোনো অর্থের জন্য এসেছে) হলো সেই কারণের বর্ণনা যার জন্য তা এসেছে, আর কোনো জিনিসের কারণ সেই জিনিস থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। এটি (কোথায়) এবং (কেমন) শব্দ দুটি দ্বারা দুটি কারণে খণ্ডিত হয় না। প্রথমত: শব্দ দুটি অন্যের মধ্যে অর্থ প্রকাশের পাশাপাশি নিজেদের মধ্যেও অর্থ প্রকাশ করে, যা হলো স্থান ও অবস্থা। আর (কেবল) শব্দটির মাধ্যমেই তা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: অন্যের মধ্যে এদের অর্থ প্রকাশের বিষয়টি হলো তাদের মধ্যে অব্যয়ের অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকার কারণে, আর এটি এ দুটির ক্ষেত্রে একটি আপতিত বিষয়।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৫১)
‌‌‌‌فصل

 

وَمن عَلَامَات الْحَرْف امتناعُه من دُخُول عَلَامَات صَاحِبيهِ لِأَن مَعَانِيهَا لَا تصُح فِيهِ

فصل

 

وَمن علاماته أَنه لاينعقد مِنْهُ وَمن الِاسْم وَحده وَلَا من الْفِعْل وَحده فَائِدَة وَهُوَ معنى قَوْلهم الْحَرْف مَا لم يكن أحد جزئي الْجُمْلَة فَأَما حُصُول الْفَائِدَة بِهِ وبالاسم فِي النداء فلنيابته عَن الْفِعْل وَلذَلِك دَلَائِل تذكر فِي بَاب النداء إِن شَاءَ الله
‌‌‌পরিচ্ছেদ

 

আর হরফের আলামত বা চিহ্নসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো তার অপর দুই সাথীর (ইসিম ও ফে’ল) আলামতসমূহ গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তার অসমর্থতা; কেননা সেগুলোর অর্থ তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না।

পরিচ্ছেদ

 

এবং তার আলামতসমূহের মধ্যে এটিও রয়েছে যে, কেবল তা থেকে এবং শুধু ইসিম থেকে, কিংবা কেবল তা থেকে এবং শুধু ফে’ল থেকে কোনো পূর্ণ অর্থ বা ফায়দা অর্জিত হয় না। আর এটিই তাদের এই উক্তির মর্মার্থ যে: "হরফ তা-ই যা বাক্যের প্রধান দুই অংশের কোনোটি হতে পারে না।" তবে ‘নিদা’ বা আহ্বানের ক্ষেত্রে হরফ এবং ইসিমের মাধ্যমে যে পূর্ণ অর্থ অর্জিত হয়, তা মূলত হরফ ফে’লের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে। আর এর সপক্ষে এমন অনেক প্রমাণ রয়েছে যা ‘নিদা’ অধ্যায়ে উল্লেখ করা হবে, যদি আল্লাহ চান।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৫২)
بَاب الْإِعْرَاب وَالْبناء

 

الْإِعْرَاب عِنْد النَّحْوِيين هُوَ اخْتِلَاف آخر الْكَلِمَة لاخْتِلَاف الْعَامِل فِيهَا لفظا أَو تَقْديرا وَيدخل فِي هَذَا إِعْرَاب الِاسْم الصَّحِيح والمعتل فالمقصور يقدر على أَلفه الْإِعْرَاب كاللفظ وَلَيْسَ كَذَلِك آخر الْمَبْنِيّ فَإِن آخِره إِذا كَانَ ألفا لَا تقدر عَلَيْهِ حَرَكَة إِلَّا أَن يكون مِمَّا يسْتَحق الْبناء على الْحَرَكَة

‌‌فصل

 

وَفِي أَصله الَّذِي نقل مِنْهُ أَرْبَعَة أوجه أَحدهَا أَنه من قَوْلهم أعرب الرجل إِذا أبان عَمَّا قي نَفسه والحركات فِي الْكَلَام كَذَلِك لِأَنَّهَا تبين الْفَاعِل من الْمَفْعُول وتفرق بَين الْمعَانِي كَمَا فِي قَوْلهم ماأحسن
ই’রাব (শব্দরূপ পরিবর্তন) ও বিনা (অপরিবর্তনীয়তা) পরিচ্ছেদ

 

ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় ই’রাব হলো শব্দে আমিল বা প্রভাবকের ভিন্নতার কারণে শব্দের শেষে উচ্চারণগতভাবে কিংবা উহ্যভাবে যে পরিবর্তন সাধিত হয়। সহীহ (সুস্থ) এবং মু’তাল (রুগ্ন) বিশেষ্যের ই’রাবও এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং মাকসূর শব্দের আলিফের ওপর ই’রাব উহ্য বা প্রাক্কলিত ধরা হয় যেমনটি উচ্চারিত শব্দের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কিন্তু মাবনী বা অপরিবর্তনীয় শব্দের শেষভাগ এমন নয়; কেননা মাবনী শব্দের শেষে আলিফ থাকলে তার ওপর কোনো হরকত বা স্বরচিহ্ন উহ্য ধরা হয় না, যদি না সেটি এমন শব্দ হয় যা হরকতের ওপর ভিত্তি করে গঠিত (মাবনী) হওয়া আবশ্যক করে।

‌‌পরিচ্ছেদ

 

যে মূল শব্দ থেকে এটি বুৎপন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে চারটি অভিমত রয়েছে। এর একটি হলো, এটি আরবদের এই উক্তি থেকে গৃহীত যে, 'আ’রাবার রাজুল' (ব্যক্তিটি ব্যক্ত করল)—যখন সে তার মনের কথা সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। বাক্যের মধ্যকার হরকত বা স্বরচিহ্নগুলোও ঠিক তদ্রূপ; কেননা এগুলো ফায়েল (কর্তা) ও মাফউল (কর্ম)-এর মাঝে পার্থক্য স্পষ্ট করে এবং অর্থের মাঝে বিভাজন তৈরি করে, যেমনটি তাদের এই উক্তিতে দেখা যায়: 'মা আহসানা' (কতই না সুন্দর)।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৫৩)
زيدا فَإِنَّهُ إِذا عري عَن الحركات احْتمل النَّفْي والاستفهام والتعجُب وَكَذَلِكَ قَوْلك ضرب زيدٌ عمرا لَو عرَيته من الْإِعْرَاب لم تعرف الْفَاعِل من الْمَفْعُول وَالثَّانِي أَنه من قَوْلك أعرب الرجل إِذا تكلم بالعربيَة كَقَوْلِهِم أعرب الرجل إِذا كَانَ لَهُ خيل عراب فالمتكلَم بِالرَّفْع وَالنّصب والجرَ متكلّم كَلَام الْعَرَب وَلَيْسَ الْبناء كَذَلِك لأنَّه لَا يخصَّ الْعَرَب دون غَيرهم وَالثَّالِث أنَّه من قَوْلهم أعْرَبْتُ مَعِدةَ الفصيل إِذا عربت أيْ فَسدتْ من شرب اللَّبن فأصْلحتها وازلت فَسَادهَا فالهمزةُ فِيهِ همزَة السَّلب كَقَوْلِك عتب عليَّ فأعتبته وشكا فأشكيته وَالرَّابِع أنُّه مَأْخُوذ من قَوْلهم امْرَأَة عروب أَي متحبّبة إِلَى زَوجهَا بتحسُّنها فالإعراب يجبّب الْكَلَام إِلَى المستمع

‌‌فصل

 

وَالْإِعْرَاب معنى لَا لفظ لأربعة أوجه
যাইদ-কে; কেননা এটি যখন স্বরচিহ্ন থেকে বিমুক্ত হয় তখন তা না-বোধক, প্রশ্নবোধক এবং বিস্ময়সূচক হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। অনুরূপভাবে আপনার উক্তি 'যাইদ আমরকে প্রহার করেছে'; যদি আপনি একে ব্যাকরণিক রূপান্তর (ইরাব) থেকে মুক্ত করেন, তবে আপনি কর্তা ও কর্মের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবেন না। দ্বিতীয়ত, এটি আপনার উক্তি 'ব্যক্তিটি শুদ্ধ আরবী ভাষায় কথা বলেছে' থেকে এসেছে, যেমন তারা বলে 'ব্যক্তিটি আ’রাবা হয়েছে' যখন তার উচ্চবংশীয় আরবীয় ঘোড়া থাকে। সুতরাং রফা, নাসাব এবং জার-এর মাধ্যমে কথা বলা ব্যক্তি আরবদের ন্যায় কথা বলে। আর 'বিনা' (অপরিবর্তনীয় অবস্থা) এমন নয়, কারণ তা কেবল আরবদের জন্য নির্দিষ্ট নয়। তৃতীয়ত, এটি তাদের উক্তি 'আমি উটের বাচ্চার পাকস্থলীকে সুস্থ করেছি' থেকে এসেছে যখন তা রোগাক্রান্ত হয়, অর্থাৎ দুধ পানের কারণে নষ্ট হয়ে যায় এবং আমি তা সংশোধন করি ও তার ত্রুটি দূর করি। এখানে হামযাহটি হলো অপনোদনকারী হামযাহ, যেমন আপনার উক্তি 'সে আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছিল, অতঃপর আমি তার অসন্তুষ্টি দূর করেছি' এবং 'সে অভিযোগ করেছিল, অতঃপর আমি তার অভিযোগের প্রতিকার করেছি'। চতুর্থত, এটি তাদের উক্তি 'অনুরাগিনী নারী' থেকে গৃহীত হয়েছে, অর্থাৎ যে নারী তার সৌন্দর্যের দ্বারা তার স্বামীর নিকট প্রিয় হয়ে ওঠে। অতএব, ইরাব বক্তব্যকে শ্রোতার নিকট প্রিয় করে তোলে।

‌‌পরিচ্ছেদ

 

ইরাব হলো একটি অর্থগত বিষয়, শব্দগত নয়; চারটি কারণে।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৫৪)
أحدُها أنَّ الْإِعْرَاب هُوَ الِاخْتِلَاف على مَا سبق فِي حدّه وَالِاخْتِلَاف معنى لالفظ والثانى أنَّه فاصل بَين الْمعَانِي وال‌‌فصل والتمييز معنى لالفظ وَالثَّالِث أنَّ الحركات تُضَاف إِلَى الْإِعْرَاب فَيُقَال حركات الْإِعْرَاب وضمَّه إِعْرَاب وَالشَّيْء لَا يُضَاف إِلَى نَفسه وَالرَّابِع أنَّ الْحَرَكَة والحرف يكونَانِ فِي المبنيّ وَقد تَزُول حَرَكَة المعرب بِالْوَقْفِ مَعَ الحكم بإعرابه وَقد يكون السّكُون إعراباً وَهَذَا كلّه دَلِيل على أنَّ الْإِعْرَاب معنى

فصل

 

وَالْأَصْل فِي عَلَامَات الْإِعْرَاب الحركات دون الْحُرُوف لثَلَاثَة أوجه أحدُها أنَّ الْإِعْرَاب دالٌّ على معنى عَارض فِي الْكَلِمَة فَكَانَت علامته حَرَكَة عارضة فِي الْكَلِمَة لما بَينهمَا من التناسب والثانى أنَّ الْحَرَكَة أيسر من الْحَرْف وَهِي كَافِيَة فِي الدّلَالَة على الْإِعْرَاب وَإِذا حصل الْغَرَض بالأخصر لم يصر إِلَى غَيره وَالثَّالِث أنَّ الْحَرْف من جملَة الصِّيغَة الداَّلة على معنى الْكَلِمَة اللَّازِم لَهَا فَلَو جعل
এর একটি হলো, ই'রাব হলো সেই বৈচিত্র্য যা এর সংজ্ঞায় পূর্বে বর্ণিত হয়েছে; আর বৈচিত্র্য বা পরিবর্তন একটি অর্থগত বিষয়, শব্দগত নয়। দ্বিতীয়ত, এটি বিভিন্ন অর্থের মধ্যে পার্থক্যকারী; আর পার্থক্যকরণ ও স্বাতন্ত্র্যবিধান হলো অর্থগত বিষয়, শব্দগত নয়। তৃতীয়ত, হরকতসমূহকে ই'রাবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, ফলে বলা হয় ই'রাবের হরকতসমূহ এবং ই'রাবের দম্মাহ। আর কোনো বস্তু তার নিজের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় না। চতুর্থত, হরকত এবং হরফ উভয়ই মাবনি শব্দে বিদ্যমান থাকে। আবার কখনও ওয়াকফ করার কারণে মু'রাব শব্দের হরকত বিলুপ্ত হয়ে যায়, যদিও শব্দটিকে মু'রাব হিসেবেই বিচার করা হয়। এমনকি কখনও সুকুনও ই'রাব হিসেবে গণ্য হয়। এই সবকিছুই প্রমাণ করে যে, ই'রাব হলো একটি অর্থগত বিষয়।

পরিচ্ছেদ

 

ই'রাবের চিহ্নের ক্ষেত্রে মূল হলো হরকতসমূহ, হরফসমূহ নয়; এর কারণ তিনটি। প্রথমটি হলো, ই'রাব শব্দের মধ্যে আগন্তুক কোনো অর্থের নির্দেশক। তাই তাদের উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকার কারণে এর চিহ্নটিও শব্দের মধ্যে আগন্তুক হরকত হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, হরকত হরফের চেয়ে সহজতর এবং ই'রাবের নির্দেশক হিসেবে এটিই যথেষ্ট। আর যখন সংক্ষিপ্ত উপায়ে উদ্দেশ্য হাসিল হয়, তখন অন্য কোনো পথের আশ্রয় নেওয়া হয় না। তৃতীয়ত, হরফ হলো শব্দের মূল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত যা শব্দের জন্য আবশ্যকীয় অর্থ প্রকাশ করে; সুতরাং একে যদি...
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৫৫)
الْحَرْف دَلِيلا على الْإِعْرَاب لادَّى ذَلِك إِلَى أَن يدلَّ الشَّيْء الْوَاحِد على معنيَيْن وَفِي ذَلِك اشْتِرَاك وَالْأَصْل أنْ يُخصَّ كلُّ معنى بِدَلِيل

‌‌‌‌‌‌فصل

 

فأمَّا الْإِعْرَاب بالحروف فلتعذُّر الْإِعْرَاب بالحركة وسترى ذَلِك فِي موَاضعه إِن شَاءَ الله تَعَالَى

فصل

 

وإنَّما كَانَت ألقاب الْإِعْرَاب أَرْبَعَة ضَرُورَة إِذْ لَا خَامِس لَهَا وَذَلِكَ أنَّ الْأَعْرَاض إمَّا حَرَكَة وإمَّا سُكُون والسكون نوع وَاحِد والحركات ثَلَاث فَمن هُنَا انقسمت إِلَى هَذِه العدَّة

فصل

 

وَالْإِعْرَاب دخل الْأَسْمَاء لمسيس الْحَاجة إِلَى الْفَصْل بَين الْمعَانِي على مَا سبق وَقَالَ قُطْرُب دخل الْكَلَام اسْتِحْسَانًا لأنَّ المتكلَّم يصل بعض كَلَامه بِبَعْض وَفِي
বর্ণ ই'রাবের নিদর্শন হলে তা একই বিষয়কে দুটি অর্থের নির্দেশক বানিয়ে দিত, যার ফলে এতে দ্ব্যর্থকতা সৃষ্টি হতো; অথচ মূল নীতি হলো প্রতিটি অর্থকে একটি সুনির্দিষ্ট নিদর্শনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা।

‌‌‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

 

আর বর্ণের মাধ্যমে ই'রাব হওয়ার বিষয়টি হারাকাতের মাধ্যমে ই'রাব হওয়া অসম্ভব হওয়ার কারণেই ঘটে থাকে। ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনি স্ব-স্ব স্থানে এটি দেখতে পাবেন।

পরিচ্ছেদ

 

ই'রাবের শিরোনাম বা পরিভাষাগুলো অনিবার্যভাবেই চারটি, কেননা এর কোনো পঞ্চম প্রকার নেই। আর তা এজন্য যে, শব্দের অবস্থা পরিবর্তনগুলো হয় হারাকাত হবে নয়তো সুকুন হবে। সুকুন কেবল এক প্রকার, আর হারাকাত হলো তিন প্রকার। এ কারণেই এগুলো এই নির্দিষ্ট সংখ্যায় বিভক্ত হয়েছে।

পরিচ্ছেদ

 

ই'রাব বিশেষ্য পদের (ইসম) অন্তর্ভুক্ত হয়েছে অর্থসমূহের মধ্যে পার্থক্য করার জরুরি প্রয়োজনের তাগিদে, যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। কুতরুব বলেন, এটি বাক্যে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য স্থান পেয়েছে, যাতে বক্তা তার বক্তব্যের একাংশকে অন্য অংশের সাথে সংযুক্ত করতে পারে এবং...
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৫৬)
تسكين أَوَاخِر الْكَلم فِي الْوَصْل كُلْفة فحرَّك تسهيلا على الْمُتَكَلّم وَلَو المكتلّم لَو كَانَ الْإِعْرَاب لحَاجَة الْفَصْل وللفرق لَا ستغني عَنهُ بِتَقْدِيم الْفَاعِل على الْمَفْعُول ولكان الَاّتفاق فِي الْإِعْرَاب يُوجب الأتفاق فِي الْمعَانِي وَلَيْسَ كَذَلِك أَلا ترى أنَّ قَوْلك زيد قَائِم مثل قَوْلك هَل زيدٌ قَائِم وقولك إنَّ زيدا قَائِم مثل قَوْلك زيد قَائِم فِي الْمَعْنى وَالْجَوَاب عَّما قَالَه من وَجْهَيْن أَحدهمَا أَن السّكُون أسهل على المتكلَّم من الْحَرَكَة والثانى أنَّ الْغَرَض لَو كَانَ مَا ذكر لَكَانَ المتكلَّم بِالْخِيَارِ إِن شَاءَ حرَّك بِأَيّ حَرَكَة شَاءَ وأنَّ شَاءَ سكَّن وَأما التَّقْدِيم فَجَوَابه من وَجْهَيْن أَحدهمَا أنَّه لَا يُمكن فِي كلَّ مَكَان أَلا ترى أنَّ التَّقْدِيم فِي قَوْلك ماأحسن زيدا غيرُ مُمكن والثانى أنَّ فِي لُزُوم التَّقْدِيم تضييقاً على المتكلَّم مَعَ حَاجته إِلَى التسجيع وَإِقَامَة القافية

বাক্য প্রবহমান অবস্থায় শব্দের শেষাক্ষরকে সাকিন করা বা স্বরহীন রাখা কষ্টসাধ্য, তাই বক্তার সুবিধার্থে এতে হরকত বা স্বরচিহ্ন প্রদান করা হয়েছে। যদি শব্দসমূহের মাঝে পার্থক্য নিরূপণ ও বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্যই ই'রাব বা বিভক্তির প্রয়োজন হতো, তবে কর্মের (মাফউল) পূর্বে কর্তাকে (ফায়েল) সংস্থাপন করার মাধ্যমেই তা থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া যেত। আর যদি ই'রাবের অভিন্নতা অর্থের অভিন্নতাকে আবশ্যক করত—অথচ বিষয়টি তেমন নয়। আপনি কি দেখছেন না যে, আপনার উক্তি 'যায়েদ দণ্ডায়মান' এবং 'যায়েদ কি দণ্ডায়মান?' অর্থগতভাবে প্রায় একই রকম? এবং আপনার উক্তি 'নিশ্চয়ই যায়েদ দণ্ডায়মান' অর্থগতভাবে 'যায়েদ দণ্ডায়মান' এর মতোই। তিনি যা বলেছেন তার উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়: প্রথমত, হরকত বা স্বরচিহ্নের তুলনায় সাকিন বা স্বরহীনতা বক্তার জন্য অধিকতর সহজ। দ্বিতীয়ত, উদ্দেশ্য যদি তাই হতো যা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে বক্তা ইচ্ছাধীন থাকতেন; তিনি চাইলে নিজের ইচ্ছামতো যেকোনো হরকত ব্যবহার করতেন অথবা চাইলে সাকিন করতেন। আর শব্দের অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাস (তাকদীম) সংক্রান্ত আপত্তির উত্তরও দুইভাবে দেওয়া যায়: প্রথমত, সব স্থানে এটি সম্ভব নয়। আপনি কি দেখছেন না যে, 'যায়েদ কতই না সুন্দর!'—এই উক্তিতে শব্দের অগ্রবর্তী করা সম্ভব নয়? দ্বিতীয়ত, শব্দ বিন্যাসকে অপরিহার্য করা বক্তার জন্য সংকীর্ণতার সৃষ্টি করে, অথচ তার গদ্যছন্দ (সাজ') ও অন্ত্যমিল (কাফিয়া) বজায় রাখার প্রয়োজন হতে পারে।

(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৫৭)
وأمَّا اخْتِلَاف الْإِعْرَاب مَعَ اتَّفاق الْمَعْنى وَعَكسه فشيء عَارض جَازَ لضرب من التَّشْبِيه بالأصول فَلَا يُنَاقض بِهِ

‌‌‌‌فصل

 

وَاخْتلفُوا هَل الْإِعْرَاب سَابق على الْبناء أم الْعَكْس فالمحقَّقون على أنَّ الْإِعْرَاب سَابق لأنَّ وَاضع اللُّغَة حَكِيم يعلم أنَّ الْكَلَام عِنْد التَّرْكِيب لَا بدّ أَن يعرض فِيهِ لَبْس فحكمته تَقْتَضِي أَن يضع الْإِعْرَاب مُقَارنًا للْكَلَام

وَقَالَ الْآخرُونَ تكلَّمت الْعَرَب بالْكلَام عَارِيا من الْإِعْرَاب فلمَّا عرض لَهُم اللبْس أزالوه بالإعراب وَهَذَا لَا يَلِيق بحكمتهم

فصل

 

وَاخْتلفُوا فِي حركات الْإِعْرَاب هَل هِيَ أصلٌ لحركات الْبناء أم بِالْعَكْسِ أم كلُّ وَاحِد مِنْهُمَا فِي مَوْضِعه أصل فَذهب قوم إِلَى الأوَّل وعلته أَن حركات الْإِعْرَاب دوالٌّ على معَان حَادِثَة بعلَّة بِخِلَاف حركات الْبناء وَمَا ثَبت بعلَّة أصل لغيره
আর অর্থ অভিন্ন থাকা সত্ত্বেও ইরাবের ভিন্নতা অথবা এর বিপরীত বিষয়টি একটি আগন্তুক বিষয়, যা মূলের সাথে এক প্রকার সাদৃশ্যের কারণে বৈধ হয়েছে, সুতরাং এর দ্বারা কোনো বৈপরীত্য সৃষ্টি হয় না।

‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

 

আর পণ্ডিতগণ মতভেদ করেছেন যে, ইরাব কি বিনার পূর্ববর্তী নাকি এর বিপরীত? গবেষকগণ এই মত পোষণ করেন যে, ইরাবই পূর্ববর্তী। কারণ ভাষা প্রণেতা প্রজ্ঞাবান, তিনি জানেন যে বাক্য গঠনের সময় অবশ্যই তাতে অস্পষ্টতা দেখা দেবে; সুতরাং তাঁর প্রজ্ঞা এটাই দাবি করে যে তিনি বাক্য গঠনের সাথেই ইরাব নির্ধারণ করবেন।

অন্যান্যরা বলেন যে, আরবরা ইরাব ছাড়াই কথা বলত, অতঃপর যখন তাদের নিকট অস্পষ্টতা পরিলক্ষিত হলো, তখন তারা ইরাবের মাধ্যমে তা দূর করল। আর এটি তাদের প্রজ্ঞার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

পরিচ্ছেদ

 

তারা ইরাবের হরকতসমূহ সম্পর্কেও মতভেদ করেছেন যে, এগুলো কি বিনার হরকতের মূল, নাকি এর বিপরীত, নাকি প্রতিটিই নিজ নিজ ক্ষেত্রে মূল? একদল প্রথম মতটি গ্রহণ করেছেন এবং এর কারণ হিসেবে বলেছেন যে, ইরাবের হরকতসমূহ এমন সব অর্থের পরিচায়ক যা কোনো কারণবশত সৃষ্টি হয়, যা বিনার হরকতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; আর যা কোনো কারণবশত সাব্যস্ত হয়, তা অন্যের জন্য মূল হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৫৮)
وَذهب قوم إِلَى الثَّانِي وعلَّته أَن حَرَكَة الْبناء لَازِمَة وحركة الْإِعْرَاب منتقلة وَاللَّازِم أصلٌ للمتزلزل إذْ كَانَ أقوى مِنْهُ وَهَذَا ضَعِيف لِأَن نقل حركات الْإِعْرَاب كَانَ لِمَعْنى وَلُزُوم حَرَكَة الْبناء لغيره معنى

وَذهب قوم إِلَى الثَّالِث لأنَّ الْعَرَب تكلًّمت بالإعراب وَالْبناء فِي أول وضع الْكَلَام وكلّ وَاحِد مِنْهُمَا لَهُ علَّة غير علَّة الآخر فَلَا معنى لبِنَاء أَحدهمَا على الآخر

‌‌فصل

 

وإنَّما كَانَ مَوضِع حَرَكَة الْإِعْرَاب آخر الْكَلِمَة لثَلَاثَة أوجه أَحدهَا أنَّ الْإِعْرَاب جِيءَ بِهِ لِمَعْنى طَارِئ على الْكَلِمَة بعد تَمام مَعْنَاهَا وَهُوَ الفاعلية والمفعوليَّة فَكَانَ مَوضِع الدالّ عَلَيْهِ بعد اسْتِيفَاء الصِّيغَة الداَّلة على الْمَعْنى اللَّازِم لَهَا وَلَيْسَ كَذَلِك لَام التَّعْرِيف وَألف التكسير وياء التصغير لأنَّ التَّعْرِيف والتكسير والتصغير كالأوصاف اللَّازِمَة للكلمة بِخِلَاف مَدْلُول الْإِعْرَاب
এক দল দ্বিতীয় মতের দিকে গিয়েছেন এবং এর কারণ হলো এই যে, অপরিবর্তনীয় অবস্থার হরকত স্থায়ী, আর রূপান্তরের হরকত পরিবর্তনশীল। আর স্থায়ী বিষয়টি পরিবর্তনশীলের জন্য মূল ভিত্তি, কারণ তা তার চেয়ে অধিক শক্তিশালী। তবে এটি দুর্বল যুক্তি, কারণ রূপান্তরের হরকত পরিবর্তিত হওয়ার পেছনে একটি অর্থ থাকে, আর অপরিবর্তনীয় হরকতের স্থায়িত্বের পেছনে থাকে অন্য অর্থ।

আর এক দল তৃতীয় মতের দিকে গিয়েছেন, কারণ আরবরা ভাষা গঠনের সূচনালগ্ন থেকেই রূপান্তরশীলতা ও অপরিবর্তনীয়তা উভয় পদ্ধতিতেই কথা বলেছে। আর এ দুটির প্রত্যেকটির কারণ একে অপরের থেকে ভিন্ন। সুতরাং একটিকে অন্যটির ওপর ভিত্তি করার কোনো অর্থ নেই।

‌‌পরিচ্ছেদ

 

শব্দের শেষভাগে রূপান্তরের হরকত হওয়ার পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে। তার একটি হলো, শব্দের অর্থ পূর্ণ হওয়ার পর তার ওপর আপতিত নতুন কোনো অর্থের (যেমন: কর্তা বা কর্ম হওয়া) জন্য রূপান্তর আনা হয়েছে। তাই এর নির্দেশক চিহ্নের স্থান নির্ধারিত হয়েছে শব্দের মূল অর্থজ্ঞাপক রূপটি পূর্ণ হওয়ার পর। কিন্তু নির্দিষ্টতাবোধক 'লাম', বহুবচনবোধক 'আলিফ' এবং ক্ষুদ্রতাবোধক 'ইয়া' এমন নয়; কারণ নির্দিষ্টতা, বহুবচন ও ক্ষুদ্রতা হলো শব্দের জন্য অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যের মতো, যা রূপান্তরের মাধ্যমে নির্দেশিত অর্থের বিপরীত।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৫৯)
والثانى أنَّ حَرَكَة الْإِعْرَاب تثبت وصلا وتحذف وَقفا وإنَّما يُمكن هَذَا فِي آخر الْكَلِمَة إِذْ هُوَ الْمَوْقُوف عَلَيْهِ وَالثَّالِث أنَّ أوَّل الْكَلِمَة لَا يُمكن إعرابُه لثَلَاثَة أوجه أَحدهَا أَن َّمن الْإِعْرَاب السّكُون والابتداُء بالساكن مُمْتَنع والثانى أنَّ أوَّل الْكَلِمَة متحرَّك ضَرُورَة وحركة الْإِعْرَاب تحدث بعامل والحرف الْوَاحِد لَا يحْتَمل حركتين وَالثَّالِث أنَّ تحرُّك الأوَّل بحركة الْإِعْرَاب فأمَّا يُفْضِي إِلَى اخْتِلَاط الْأَبْنِيَة وَلَا يُمكن أَن يجُعل الْإِعْرَاب فِي وسط الْكَلِمَة لأربعة أوجه أَحدهَا مَا تقدَّم من الْوَجْه الْأَخير فِي منع تَحْرِيك الأول وَالثَّانِي أنَّه يُفْضِي إِلَى الْجمع بَين ساكنين فِي بعض الْمَوَاضِع وَالثَّالِث أَنه يُفْضِي إِلَى توالي أَربع متحركات فِي كلمة وَاحِدَة ك (مدحرج) إِذا تحرَّكت الْحَاء إِذْ لَيْسَ مَعَك مَا يُمكن تحريكُهُ من الحشو غَيره

দ্বিতীয় কারণ হলো, ইরাবের হরকত পঠনকালে বহাল থাকে এবং বিরতিকালে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এটি কেবল শব্দের শেষেই সম্ভব, যেহেতু শেষ বর্ণটিই বিরতির স্থান। তৃতীয় কারণ হলো, তিনটি দিক বিবেচনায় শব্দের শুরুতে ইরাব হওয়া অসম্ভব: প্রথমত, ইরাবের অন্যতম একটি অবস্থা হলো সুকুন বা স্থিরতা, আর সাকিন দিয়ে শব্দ শুরু করা অসম্ভব। দ্বিতীয়ত, শব্দের প্রথম বর্ণটি আবশ্যিকভাবেই হরকতবিশিষ্ট হয়ে থাকে, আর ইরাবের হরকত আমিলের প্রভাবে সৃষ্টি হয়। কিন্তু একটি বর্ণের পক্ষে দুটি হরকত ধারণ করা সম্ভব নয়। তৃতীয়ত, শব্দের প্রথমাংশে ইরাবের হরকত প্রদান করলে তা শব্দের কাঠামোগত সংমিশ্রণ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। আর চারটি কারণে শব্দের মাঝখানে ইরাব নির্ধারণ করা সম্ভব নয়: প্রথমটি হলো শব্দের শুরুতে হরকত প্রদানের নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে পূর্বে উল্লিখিত শেষোক্ত কারণটি। দ্বিতীয়ত, এটি কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুটি সাকিন বর্ণ একত্রিত হওয়ার দিকে নিয়ে যাবে। তৃতীয়ত, এটি একটি শব্দের মধ্যে পরপর চারটি হরকতবিশিষ্ট বর্ণের সমাবেশ ঘটাবে; যেমন 'মুদাহরিজ' শব্দে যদি 'হা' বর্ণটি হরকতযুক্ত করা হয়, কারণ শব্দের মধ্যস্থ বর্ণগুলোর মধ্যে এটি ছাড়া অন্য কোনোটি হরকত গ্রহণের উপযোগী নয়।

(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৬০)
وَالرَّابِع أنَّ حَشْو الْكَلِمَة قد يكون حروفاً كَثِيرَة وَتَعْيِين وَاحِد مِنْهَا بحركة الْإِعْرَاب لَا دَلِيل عَلَيْهِ

‌‌فصل

 

وألقاب الْإِعْرَاب أَرْبَعَة رفع وَنصب وجرٌّ وَجزم وألقاب الْبناء ضمٌّ وفتحّ وَكسر ووقف وَتَسْمِيَة كلّ وَاحِد مِنْهَا باسم الآخر تجوز وإنَّما فرَّقوا بَينهَا فِي التَّسْمِيَة لافتراقها قي الْمَعْنى وَذَلِكَ أنَّ حَرَكَة الْإِعْرَاب تحدث عَن عَامل وحركة الْبناء لَا تحدث عَن عَامل وَإِذا اخْتلفت الْمعَانِي اخْتلفت الْأَسْمَاء الداَّلة عَلَيْهَا ليَكُون كلّ اسْم دالاًّ على معنى من غير اشْتِرَاك وَهُوَ أقرب إِلَى الأفهام
চতুর্থত, শব্দের অভ্যন্তরীণ অংশ অনেক সময় একাধিক বর্ণ নিয়ে গঠিত হতে পারে, আর সেগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটিকে ই’রাবের হরকতের জন্য নির্দিষ্ট করার স্বপক্ষে কোনো দলীল নেই।

‌‌পরিচ্ছেদ

 

ই’রাবের উপাধি চারটি: রফ‘, নসব, জর এবং জজম। আর বিনার উপাধিগুলো হলো: দম, ফাতহ, কসর এবং ওয়াকফ। এগুলোর প্রত্যেকটিকে অন্যটির নামে অভিহিত করা বৈধ। তবে তারা এগুলোর নামকরণের ক্ষেত্রে পার্থক্য করেছেন এদের অর্থগত ভিন্নতার কারণে। আর তা এই কারণে যে, ই’রাবের হরকত ‘আমিল’ (ক্রিয়ক) হতে উদ্ভূত হয়, কিন্তু বিনার হরকত কোনো ‘আমিল’ হতে উদ্ভূত হয় না। যখন অর্থসমূহ ভিন্ন হয়, তখন সেগুলোর নির্দেশক নামগুলোও ভিন্ন হয়ে থাকে, যাতে প্রতিটি নাম কোনো প্রকার দ্ব্যর্থতা ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট অর্থের পরিচায়ক হতে পারে; আর এটিই বোধগম্য হওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৬১)
‌‌‌‌فصل

 

وإنَّما خصّوا الْإِعْرَاب بِالرَّفْع لأنَّ الرّفْع ضمَّة مخصومة وَالنّصب فَتْحة مخصومة وَكَذَلِكَ الجرَّ والجزم وحركة الْبناء حَرَكَة مُطلقَة وَالْوَاحد الْمَخْصُوص من الْجِنْس لَا يُسمى باسم الْجِنْس كالواحد من الْآدَمِيّين إِذا أردْت تَعْرِيفه علَّقت عَلَيْهِ علما كزيد وَعَمْرو وَلَا تسمَّيه رجلا لَا اشْتِرَاك الْجِنْس فِي ذَلِك فضَّمة الْإِعْرَاب كالشخص الْمَخْصُوص وضمة الْبناء كالواحد الْمُطلق

فصل

 

وَالْحَرَكَة مَعَ الْحَرْف لَا بعده وَلَا قبله وَقَالَ قومٌ مِنْهُم ابْن جني هِيَ بعده وَالدَّلِيل على الأوَّل من وَجْهَيْن

أَحدهمَا أَن الْحَرْف يُوصف بالحركة فَكَانَت مَعَه كالمدَّ والجهر والشدَّة وَنَحْو ذَلِك وَإِنَّمَا كَانَ كَذَلِك لأنَّ صفة الشَّيْء كالعرض وَالصّفة العرضية لَا تتقدَّم الْمَوْصُوف وَلَا تتأخر عَنهُ إِذْ فِي ذَلِك قيامُها بِنَفسِهَا
‌‌পরিচ্ছেদ

 

মূলত তারা ই'রাবকে রাফা-এর সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন, কারণ রাফা হলো একটি নির্দিষ্ট পেশ (যম্মাহ), আর নাসব হলো একটি নির্দিষ্ট জবর (ফাতহাহ); অনুরুপভাবে যার (জের) এবং জাযম-এর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। পক্ষান্তরে বিনার হরকত হলো একটি সাধারণ বা নিঃশর্ত হরকত। কোনো শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত কোনো নির্দিষ্ট একককে ওই শ্রেণির সাধারণ নামে অভিহিত করা হয় না; যেমন মানুষের মধ্য থেকে কোনো এক ব্যক্তিকে যদি আপনি নির্দিষ্টভাবে পরিচিত করতে চান, তবে আপনি তার ওপর একটি সুনির্দিষ্ট নাম আরোপ করেন, যেমন যায়েদ কিংবা আমর; কিন্তু আপনি তাকে (সাধারণভাবে) 'মানুষ' বলে অভিহিত করেন না, কারণ ওই সাধারণ নামের মধ্যে পুরো শ্রেণির অংশীদারিত্ব রয়েছে। সুতরাং ই'রাব-এর পেশ হলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ন্যায় এবং বিনার পেশ হলো সাধারণ এককের ন্যায়।

পরিচ্ছেদ

 

হরকত অক্ষরের সাথেই অবস্থান করে, এর আগে কিংবা পরে নয়। ইবনে জিন্নি সহ একদল বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, এটি অক্ষরের পরে আসে। তবে প্রথম মতটির সপক্ষে দুটি প্রমাণ রয়েছে। তার একটি হলো, অক্ষরকে হরকত দ্বারা বিশেষিত করা হয়, তাই এটি অক্ষরের সাথেই বিদ্যমান থাকে; যেমন মাদ্দ (দীর্ঘস্বর), জাহর (স্পষ্টতা) এবং শিদ্দাহ (তীব্রতা) ইত্যাদি। আর বিষয়টি এমন হওয়ার কারণ হলো, কোনো বস্তুর গুণাবলি হলো তার আপতিত বৈশিষ্ট্যের (আরায) মতো; আর আপতিত বৈশিষ্ট্য তার মূল বিশেষ্যের (মাওসুফ) আগে বা পরে আসতে পারে না, কারণ তেমনটি হলে গুণের অস্তিত্ব তার নিজের ওপরই দণ্ডায়মান হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৬২)
وَالثَّانِي أنَّ الْحَرَكَة لَو لم تكن مَعَ الْحَرْف لم تقلب الْألف إِذا حرَّكتها همزَة وَلم تخرج النُّون من طرف اللِّسَان إِذا حركتها بل كنت تخرجها من الخيشوم وَفِي الْعُدُول عَن ذَلِك دَلِيل على أَن الْحَرَكَة مَعهَا

واحتجَّ من قَالَ هِيَ بعد الْحَرْف بِوَجْهَيْنِ

أحدُهما أنَّك لَمَّ لمْ تُدْغَم الْحَرْف المتحرك فِيمَا بعده نَحْو (طلل) دلّ على أَن بَينهمَا حاجزاً وَلَيْسَ إلَاّ الْحَرَكَة

وَالثَّانِي أنَّك إِذا أشبعت الْحَرَكَة نَشأ مِنْهَا حرف والحرف لَا ينشأ مِنْهُ حرف آخر فَكَذَلِك مَا قاربه
দ্বিতীয়টি হলো, হরকত যদি হরফের সাথে না থাকত, তবে আলিফকে হরকতযুক্ত করার সময় তা হামজায় রূপান্তরিত হতো না এবং নুন-কে হরকতযুক্ত করার সময় তা জিহ্বার অগ্রভাগ থেকে নির্গত হতো না; বরং আপনি তা নাসিকা (খায়শুম) থেকে নির্গত করতেন। আর এই বিচ্যুতি না ঘটাই প্রমাণ করে যে হরকত হরফের সাথেই থাকে।

যারা বলেছেন যে হরকত হরফের পরে আসে, তারা দুটি যুক্তি পেশ করেছেন।

তার একটি হলো, যেহেতু আপনি হরকতযুক্ত হরফকে তার পরবর্তী হরফের সাথে ইদগাম (সন্ধি) করেননি, যেমন (তালাল), এটি নির্দেশ করে যে তাদের উভয়ের মাঝে একটি প্রতিবন্ধক রয়েছে এবং তা হরকত ছাড়া আর কিছুই নয়।

দ্বিতীয়টি হলো, আপনি যখন হরকতকে প্রলম্বিত করেন তখন তা থেকে একটি হরফ সৃষ্টি হয়, আর একটি হরফ থেকে অন্য কোনো হরফ সৃষ্টি হয় না; তদ্রূপ যা এর কাছাকাছি (অর্থাৎ হরকত) তার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৬৩)
وَالْجَوَاب عَن الأوَّل أنَّ الْإِدْغَام امْتنع لتحصنُّ الأوَّل بتحرُّكه لَا لحاجز بينهماكما يتحصَّن بحركته عَن الْقلب نَحْو (عوض)

وَالْجَوَاب عَن الثَّانِي من وَجْهَيْن

أَحدهمَا أنَّ حُدُوث الْحَرْف عَن الْحَرَكَة كَانَ لأنَّها تجانس الْحَرْف الْحَادِث فهى شَرط لحدوثه وَلَيْسَت بَعْضًا لَهُ وَلِهَذَا إِذا حُذف الْحَرْف بقيت الْحَرَكَة بِحَالِهَا وَلَو كَانَ الْحَادِث تَمامًا للحركة لم تبْق الْحَرَكَة وَمن سمَّى الْحَرَكَة بعض الْحَرْف أَو حرفا صَغِيرا فقد تجوّز وَلِهَذَا لَا يصحُّ النُّطْق بالحركة وَحدهَا والثانى لَو قدَّرنا أنَّ الْحَرَكَة بعض الْحَرْف الْحَادِث لم يمْتَنع أَن يقارن الْحَرْف الأوَّل كَمَا أنَّه ينْطق بالحرف المشدَّد حرفا وَاحِدًا وَإِن كَانَا حرفين فِي التَّحْقِيق إلَاّ أنَّ الأوَّل لَمَّا ضعف عَن الثَّانِي أمكن أَن يصاحبه وَالْحَرَكَة أَضْعَف من الْحَرْف السَّاكِن فَلم يمْتَنع أَن يصاحب الْحَرْف

‌‌فصل

 

ويتعلَّق بِهَذَا الِاخْتِلَاف مَسْأَلَة أُخْرَى وَهِي أنَّ الْحَرْف غير مُجْتَمع من الحركات عِنْد الْمُحَقِّقين لوَجْهَيْنِ

أحدُهما أنَّ الْحَرْف أَصله السّكُون ومحالٌ اجْتِمَاع سَاكن من حركات وَالثَّانِي أنَّ الْحَرْف لَهُ مخرج مَخْصُوص وَالْحَرَكَة لَا تختصُّ بمخرج وَلَا معنى لقَوْل
প্রথমটির উত্তর হলো, ইদগাম (একীভূতকরণ) বাধাগ্রস্ত হয়েছে প্রথম বর্ণটি তার হারাকাতের (স্বরধ্বনি) মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকার কারণে, তাদের উভয়ের মাঝে কোনো আড়াল থাকার কারণে নয়। যেমনটি স্বীয় হারাকাত দ্বারা এটি 'কালব' (রূপান্তর) হওয়া থেকে সুরক্ষিত থাকে, যেমন: (আওয়াদ)।

দ্বিতীয়টির উত্তর দুটি দিক থেকে হতে পারে:

তন্মধ্যে একটি হলো, হারাকাত থেকে বর্ণের উৎপত্তি ঘটার কারণ এই যে, হারাকাত উৎপন্ন হওয়া বর্ণের সমগোত্রীয়। সুতরাং এটি বর্ণটি উৎপন্ন হওয়ার জন্য একটি শর্ত মাত্র, তার কোনো অংশ নয়। এ কারণেই যখন বর্ণটি বিলুপ্ত হয়, তখন হারাকাত তার নিজ অবস্থায় বহাল থাকে। যদি উৎপন্ন বিষয়টি হারাকাতের পূর্ণতা দানকারী অংশ হতো, তবে হারাকাত অবশিষ্ট থাকত না। আর যারা হারাকাতকে বর্ণের অংশ বা ছোট বর্ণ হিসেবে অভিহিত করেছেন, তারা মূলত রূপক অর্থেই তা করেছেন। একারণেই এককভাবে হারাকাত উচ্চারণ করা সঠিক নয়। দ্বিতীয়ত, যদি আমরা ধরেও নেই যে হারাকাত উৎপন্ন হওয়া বর্ণের অংশ, তবুও প্রথম বর্ণের সাথে সেটি যুক্ত হওয়া অসম্ভব নয়; যেমনটি তাশদীদযুক্ত বর্ণকে একটি বর্ণ হিসেবে উচ্চারণ করা হয়, যদিও বিশ্লেষণের দৃষ্টিতে তা মূলত দুটি বর্ণ। তবে প্রথমটি দ্বিতীয়টির চেয়ে দুর্বল হওয়ার কারণে সেটির সহগামী হওয়া সম্ভব হয়েছে। আর হারাকাত যেহেতু সাকিন বর্ণের চেয়েও অধিক দুর্বল, তাই বর্ণের সহগামী হওয়া এর জন্য অসম্ভব নয়।

পরিচ্ছেদ

 

এই মতভেদের সাথে অপর একটি মাসয়ালা বা বিষয় সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো— গবেষকগণের মতে বর্ণ হারাকাতসমূহের সমষ্টি নয়। এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে:

প্রথমত, বর্ণের মূল অবস্থা হলো সাকুন (স্থিরতা), আর হারাকাতসমূহের সমন্বয়ে সাকিন গঠিত হওয়া অসম্ভব। দ্বিতীয়ত, বর্ণের জন্য নির্দিষ্ট মাখরাজ (উচ্চারণস্থল) রয়েছে, কিন্তু হারাকাত কোনো নির্দিষ্ট মাখরাজভুক্ত নয়। আর এই কথার কোনো অর্থ নেই যে...
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৬৪)
من قَالَ إِنَّه يجْتَمع من حركتين لأنَّ الْحَرَكَة إِذا أشبعت نَشأ الْحَرْف المجانس لَهَا لوَجْهَيْنِ

أَحدهمَا مَا سبق من أنَّ الْحَرَكَة لَيست بعض الْحَرْف

وَالثَّانِي أنَّك إِذا أشبعت الْحَرَكَة نَشأ مِنْهَا حرف تامّ وَتبقى الْحَرَكَة قبله بكمالها فَلَو كَانَ الْحَرْف حركتين لم تبْق الْحَرَكَة قبل الْحَرْف
যারা বলেন যে এটি দুটি হরকতের সমন্বয়ে গঠিত, কারণ হরকতকে দীর্ঘায়িত করলে তা থেকে সমজাতীয় বর্ণ উৎপন্ন হয়, তাদের এই কথাটি দুটি কারণে গ্রহণযোগ্য নয়:

প্রথমত, যা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, হরকত বর্ণের কোনো অংশ নয়।

দ্বিতীয়ত, আপনি যখন হরকতকে দীর্ঘায়িত করবেন তখন তা থেকে একটি পূর্ণ বর্ণ উৎপন্ন হয় এবং সেই বর্ণের পূর্বে হরকতটি তার পূর্ণতাসহ অবশিষ্ট থাকে। অথচ যদি বর্ণটি দুটি হরকতের সমষ্টি হতো, তবে বর্ণের পূর্বে সেই হরকতটি অবশিষ্ট থাকত না।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৬৫)
‌‌‌‌‌‌فصل

 

وَقد سبق أنَّ المعرب بحقَّ الأَصْل الإسمُ المتمكَّن فأمَّا الْفِعْل الْمُضَارع فَفِيهِ اخْتِلَاف يُذكر فِي بَاب الْأَفْعَال

فصل

 

فِيمَا يستحقّه الإسم وَهُوَ الرّفْع وَالنّصب والجرّ لأنَّه يَقع على ثلاثةِ مَعان الفاعليَّة والمفعوليَّة وَالْإِضَافَة فَخُصَّ كل معنى مِنْهَا بإعراب يدلُّ عَلَيْهِ فأمَّا مَا يخصّص كلّ وَاحِد مِنْهَا بِمَا خُصَّ بِهِ فيذكر فِي بَابه

فصل

 

وَلم يدْخل الْجَزْم الْأَسْمَاء لستَّة أوجه

أَحدهَا أنَّ الْإِعْرَاب دخل الْأَسْمَاء لِمَعْنى على مَا سبق وَقد وفت الحركات بذلك الْمَعْنى وَهُوَ الْفرق بَين الْفَاعِل وَالْمَفْعُول والمضاف إِلَيْهِ وَلَيْسَ ثَمَّ معنى رَابِع يدلُّ عَلَيْهِ الْجَزْم

والثانى أنَّ الْجَزْم لَيْسَ بِأَصْل فِي الْإِعْرَاب لأنَّه سُكُون فِي الأَصْل والسكون عَلامَة المبنيّ اصلّ فِي الْبناء بِشَهَادَة الحسّ والوجدان إلَاّ أنَّه جُعل إعرابا فرعا فَخُصَّ بِمَا إعرابه فرع وَهُوَ الْفِعْل

وَالثَّالِث أنَّ الْجَزْم دخل عوضا من الجرَّ فِي الْأَسْمَاء فَلَو دخل الْأَسْمَاء لجمع لَهَا بَين الْعِوَض والمعَّوض
‌‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

 

ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, মূলত ইসমে মুতামাক্কিন (সুদৃঢ় বিশেষ্য)-ই হলো মু'রাব (বিভক্তি গ্রহণকারী)। তবে ফি'লে মুদারি (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে, যা ক্রিয়া অধ্যায়ে আলোচিত হবে।

পরিচ্ছেদ

 

ইসিম (বিশেষ্য) যে বিষয়গুলোর উপযোগী, অর্থাৎ রফ্, নাসব এবং জার; কারণ এটি তিনটি অর্থ প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়: ফায়িলিয়্যাত (কর্তৃপদ), মাফউলিয়্যাত (কর্মপদ) এবং ইযাফাত (সম্বন্ধ পদ)। তাই প্রতিটি অর্থের জন্য নির্দিষ্ট ই’রাব (বিভক্তি) নির্ধারণ করা হয়েছে যা সেই অর্থকে নির্দেশ করে। আর কেন প্রত্যেকটি বিষয়কে নির্দিষ্ট ই’রাব দ্বারা খাস করা হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে আলোচিত হবে।

পরিচ্ছেদ

 

ছয়টি কারণে ইসিমের মধ্যে জজম প্রবেশ করে না:

প্রথমত, পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্দিষ্ট অর্থের জন্যই ইসিমের মধ্যে ই’রাব প্রবেশ করেছে। আর হরকতসমূহ সেই অর্থগুলো পূর্ণরূপে আদায় করেছে, যা হলো ফায়িল (কর্তা), মাফউল (কর্ম) এবং মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধযুক্ত পদ)-এর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা। সেখানে চতুর্থ এমন কোনো অর্থ অবশিষ্ট নেই যা জজম দ্বারা প্রকাশ করার প্রয়োজন হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, জজম ই’রাবের মৌলিক কোনো রূপ নয়; কেননা এটি মূলত সুকুন, আর সুকুন হলো মাবনি (অপরিবর্তনীয়) হওয়ার চিহ্ন যা ইন্দ্রিয় ও অনুভূতির সাক্ষ্যে বিনার (অপরিবর্তনীয়তার) মূল ভিত্তি। তবে একে গৌণ বা শাখা ই’রাব হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, তাই একে এমন শব্দের জন্য সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে যার ই’রাব গৌণ বা শাখা স্বরূপ, আর তা হলো ফে’ল (ক্রিয়া)।

তৃতীয়ত, জজম মূলত ইসিমের ‘জার’-এর বিকল্প হিসেবে (ক্রিয়ার ক্ষেত্রে) প্রবেশ করেছে। সুতরাং যদি জজম ইসিমের মধ্যেও প্রবেশ করত, তবে এতে বিকল্প এবং যার বিকল্প—উভয়টিই একত্রিত হয়ে যেত।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৬৬)
بَاب الْبناء

 

حدُّ الْبناء لُزُوم آخر الْكَلِمَة سكوناً أَو حَرَكَة وَهُوَ ضدُّ الْإِعْرَاب وَالْبناء بأوَّل الْكَلِمَة وحشوها أشْبَه للزومه إلَاّ أنَّ آخر الْكَلِمَة إِذا لزم طَريقَة وَاحِدَة صَار كحشوها

‌‌‌‌فصل

 

وَالْبناء فِي الأَصْل وضع الشَّيْء على الشَّيْء على وصف يثبت كبناء الْحَائِط وَمِنْه سُمّي كلّ مُرْتَفع ثَابت بِنَاء كالسَّماء وَبِهَذَا الْمَعْنى اسْتَعْملهُ النحويُّون على مَا سبق

فصل

 

وَالْأَصْل فِي الْبناء السّكُون لوَجْهَيْنِ

أَحدهمَا أنَّه ضدُّ الْإِعْرَاب وَالْإِعْرَاب يكون بالحركات فضدَّه يكون بِالسُّكُونِ

وَالثَّانِي أنَّ الْحَرَكَة زيدت على المعرب للْحَاجة إِلَيْهَا وَلَا حَاجَة إِلَى الْحَرَكَة فِي المبنيّ إِذْ لَا تدل على معنى
বিনার (অব্যয়ত্বের) অধ্যায়

 

বিনার সংজ্ঞা হলো শব্দের শেষ অবস্থা সুকুন অথবা হরকতের ওপর অপরিহার্যভাবে স্থির থাকা, আর এটি ইরাবের (রূপান্তরশীলতার) বিপরীত। শব্দের প্রথম ও মধ্যভাগের সাথে বিনার সাদৃশ্য অধিক, কারণ সেগুলো অপরিবর্তনীয় থাকে; তবে শব্দের শেষ অংশ যখন একটি অবস্থায় স্থায়ী হয়ে যায়, তখন তা শব্দের মধ্যভাগের মতোই হয়ে যায়।

‌‌‌‌পরিচ্ছেদ

 

মূলগতভাবে বিনার অর্থ হলো একটি বস্তুকে অন্য একটি বস্তুর ওপর এমনভাবে স্থাপন করা যা স্থায়িত্ব দান করে, যেমন দেয়াল নির্মাণ। এর থেকেই প্রতিটি উচ্চ ও সুদৃঢ় বস্তুকে 'বিনা' বা নির্মাণ বলা হয়, যেমন আকাশ। এই অর্থেই ব্যাকরণবিদগণ ইতিপূর্বে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

পরিচ্ছেদ

 

বিনার মূল ভিত্তি হলো সুকুন, যার দুটি কারণ রয়েছে:

তার একটি হলো, এটি ইরাবের বিপরীত; আর ইরাব যেহেতু হরকতের (স্বরচিহ্নের) মাধ্যমে সাধিত হয়, তাই তার বিপরীতটি সুকুনের মাধ্যমেই হবে।

দ্বিতীয়টি হলো, মুরাব বা রূপান্তরশীল শব্দের প্রয়োজনেই তাতে হরকত বৃদ্ধি করা হয়েছে, কিন্তু মাবনি বা অপরিবর্তনীয় শব্দে হরকতের কোনো প্রয়োজন নেই, কারণ এটি কোনো (ব্যাকরণিক) অর্থ নির্দেশ করে না।
(খণ্ড: ১) আল-লুবাব ফী ইলালিল বিনা ওয়াল ই’রাব (পৃষ্ঠা: ৬৭)
بَاب المعرب والمبنيّ

إنَّما أُخَّرا عَن الْإِعْرَاب وَالْبناء لأنَّهما مشتقان مِنْهُ إِذْ كَانَ الْإِعْرَاب وَالْبناء مصدرين والمشتق مِنْهُ أصلُ للمشتق

‌‌فصل

 

وَلَيْسَ فِي الْكَلَام كلمة معربة لَا مُعْربه وَلَا مَبْنِيَّة هـ عِنْد المحَّققين لأنَّ حدَّ المعرب ضدّ حدّ الْمَبْنِيّ على مَا سبق وَلَيْسَ بَين الضّدَّين هُنَا وَاسِطَة

وَذهب قوم إِلَى أنَّ الْمُضَاف إِلَى يَاء المتكلَّم غير مبنيّ إِذْ لَا علَّة فِيهِ توجب الْبناء وَغير مُعرب إِذْ لَا يُمكن ظُهُور الْإِعْرَاب فِيهِ مَعَ صحَّة حرف إعرابه وسمَّوْه (خصيّاً) وَالَّذِي ذَهَبُوا إِلَيْهِ فَاسد لأنَّه مُعرب عِنْد قوم مبنيٌّ عِنْد آخَرين وسنبين ذَلِك على أنًّ تسميتهم إيَّاه (خصيّاً) خطأ لِأَن الخصيَّ ذكر حَقِيقَة وَأَحْكَام الذُّكُور ثَابِتَة لَهُ وَكَانَ الْأَشْبَه بِمَا ذَهَبُوا إِلَيْهِ أَن يسمُّوه (خُنْثَى مُشكلا)
মু'রাব এবং মাবনি পরিচ্ছেদ

এই দুইটিকে (মু'রাব ও মাবনি) ই'রাব ও বিনা-এর পরে আলোচনা করা হয়েছে কারণ এই দুটি শব্দ তা থেকে ব্যুৎপন্ন, যেহেতু ই'রাব ও বিনা হলো মূল রূপ (মাসদার) এবং যা থেকে ব্যুৎপন্ন হয় তা ব্যুৎপন্ন শব্দের মূল হয়ে থাকে।

‌‌অনুচ্ছেদ

 

মুহাক্কিকগণের (গবেষক) মতে কালাম বা বাক্যের মধ্যে এমন কোনো শব্দ নেই যা মু'রাবও নয় আবার মাবনিও নয়; কারণ পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে সেই অনুযায়ী মু'রাব-এর সংজ্ঞা মাবনি-এর সংজ্ঞার বিপরীত, আর এখানে দুই বিপরীতের মাঝে কোনো মধ্যবর্তী অবস্থা নেই।

একদল এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, ইয়ায়ে মুতাকাল্লিমের দিকে মুদাফ হওয়া শব্দটি মাবনি নয়, কারণ এতে মাবনি হওয়ার কোনো কারণ নেই; আবার তা মু'রাবও নয়, কারণ ই'রাবের বর্ণটি সহীহ হওয়া সত্ত্বেও তাতে ই'রাব প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব। তারা এর নাম দিয়েছেন 'খাসি' (নপুংসক সদৃশ)। তারা যে মত গ্রহণ করেছেন তা অসার, কারণ এটি একদলের নিকট মু'রাব এবং অন্যদলের নিকট মাবনি—যা আমরা অচিরেই বর্ণনা করব। অধিকন্তু তাদের একে 'খাসি' নামকরণ করা ভুল, কারণ 'খাসি' প্রকৃতপক্ষে পুরুষ এবং তার ক্ষেত্রে পুরুষদের বিধানই সাব্যস্ত থাকে। বরং তাদের মতানুসারে এর উপযুক্ত নাম হওয়া উচিত ছিল 'খুনসায়ে মুশকিল' (জটিল উভয়লিঙ্গ)।