(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الفصول المفيدة في الواو المزيدة القسم: النحو والصرف
الكتاب: الفصول المفيدة في الواو المزيدة
المؤلف: صلاح الدين أبو سعيد خليل بن كيكلدي بن عبد الله الدمشقي العلائي (ت 761هـ)
المحقق: حسن موسى الشاعر
الناشر: دار البشير - عمان
الطبعة: الأولى، 1410هـ 1990م
عدد الصفحات: 267
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
অতিরিক্ত ওয়াও বিষয়ক উপকারী পরিচ্ছেদসমূহ বিভাগ: ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব
বই: অতিরিক্ত ওয়াও বিষয়ক উপকারী পরিচ্ছেদসমূহ
লেখক: সালাহ উদ্দীন আবু সাঈদ খলীল ইবন কায়কালদী ইবন আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকী আল-আলাই (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি)
সম্পাদক: হাসান মুসা আশ-শা'য়ির
প্রকাশক: দারুল বাশীর - আম্মান
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১০ হিজরি ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم
صلى الله عليه وسلم وَآله وَصَحبه وَسلم تَسْلِيمًا أما بعد حمد الله على نعمه الَّتِي لَا ينسى ذكرهَا وَلَا يقدر قدرهَا وَلَا يُؤدى بِشَيْء من الْأَنْوَاع شكرها وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد الَّذِي أَضَاء بهداه فِي حنادس الضلال فجرها وَظَهَرت معجزاته فأربى على مَا عَداهَا فخرها وعَلى آله وَصَحبه الفئة الَّتِي فضل الْأَزْمَان عصرها وعطر بأخبارهم فِي كل نَاد نشرها
فَهَذِهِ فُصُول عديدة مباحثها مفيدة وعوائدها فريدة ومحاسنها فِي كل حِين جَدِيدَة تَتَضَمَّن الْكَلَام على الْوَاو المزيدة علقتها لأولي النَّهْي تذكرة عتيدة تجلو من أبكارها كل خريدة
وَالله تَعَالَى المسؤول أَن ينفع بهَا عَاجلا وآجلا وَيجْعَل التَّوْفِيق لما قصدت مِنْهَا شَامِلًا فَإِنَّهُ سُبْحَانَهُ لَا يرد سَائِلًا وَلَا يخيب آملا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর আল্লাহর রহমত ও অফুরন্ত শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর, আল্লাহর সেই সকল নিয়ামতের প্রশংসা করার পর, যা স্মরণ করা কখনও বিস্মৃত হয় না, যার পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব নয় এবং যার কৃতজ্ঞতা কোনো মাধ্যমেই পূর্ণরূপে আদায় করা যায় না; এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর উপর, যাঁর হিদায়াতের মাধ্যমে পথভ্রষ্টতার ঘুটঘুটে অন্ধকারে সুবহে সাদিক উদ্ভাসিত হয়েছে এবং যাঁর মুজিযাসমূহ প্রকাশ পেয়েছে, ফলে তার গৌরব অন্য সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের উপর, সেই দল যাঁদের যুগ সকল যুগের শ্রেষ্ঠ এবং যাঁদের সুসংবাদ প্রতিটি মজলিসের সুবাসকে সুগন্ধময় করেছে।
এগুলো অনেকগুলো পরিচ্ছেদ, যার আলোচ্য বিষয়সমূহ উপকারী, এর প্রাপ্তিসমূহ অনন্য এবং যার সৌন্দর্য সর্বদাই নতুন। এতে অতিরিক্ত 'ওয়াও' (আল-ওয়াও আল-মাজিদা) সংক্রান্ত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমি প্রজ্ঞাবানদের জন্য এটি একটি প্রস্তুত স্মারক হিসেবে সংকলন করেছি, যা এর অনন্য বিষয়বস্তুর মাঝ থেকে প্রতিটি শ্রেষ্ঠ রত্নকে উন্মোচিত করবে।
আর মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা এই যে, তিনি যেন এর মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ দান করেন এবং আমি যা উদ্দেশ্য করেছি তাতে যেন পূর্ণ তাওফীক দান করেন। কেননা তিনি পবিত্র সত্তা, তিনি কোনো প্রার্থনাকারীকে ফিরিয়ে দেন না এবং কোনো আশাকারীকে নিরাশ করেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
1 -
فصل أَقسَام الْوَاو الْوَاو على قسمَيْنِ أَصْلِيَّة وزائدة
والزائدة على ثَلَاثَة أضْرب
زَائِدَة فِي بِنَاء الْكَلِمَة تلْزم حروفها غَالِبا
وزائدة بِمَعْنى مَقْصُود تَزُول الْوَاو عَن حُرُوف الْكَلِمَة الْأُصُول بِزَوَال ذَلِك الْمَعْنى
وزائدة فِي أول الْكَلِمَة لَا تعد من حروفها كواو الْعَطف وواو الْحَال وَنَحْوهمَا مِمَّا سَيَأْتِي بَيَانه إِن شَاءَ الله تَعَالَى وَهُوَ الضَّرْب الَّذِي يتَصَدَّى لبسط الْكَلَام فِيهِ
১ - ‘ওয়াও’-এর প্রকারভেদ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ ‘ওয়াও’ দুই প্রকার: মৌলিক এবং অতিরিক্ত।
আর অতিরিক্ত ‘ওয়াও’ তিন প্রকারের হয়ে থাকে:
শব্দের গঠনের মধ্যে অতিরিক্ত, যা সাধারণত তার মূল অক্ষরগুলোর সাথে অপরিহার্যভাবে যুক্ত থাকে।
কোনো নির্দিষ্ট অর্থের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত, যা সেই অর্থটি অপসারিত হওয়ার সাথে সাথে শব্দের মূল অক্ষরসমূহ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
এবং শব্দের শুরুতে অতিরিক্ত যা তার অক্ষরসমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হয় না; যেমন সংযোজক ‘ওয়াও’, অবস্থা জ্ঞাপক ‘ওয়াও’ এবং এই জাতীয় অন্যান্য যা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে বর্ণনা করা হবে। এটিই সেই প্রকার যার বিস্তারিত আলোচনার এখানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
فَمن الضَّرْب الأول وَاو الْجمع فِي نَحْو ضربوا والمسلمون
وواو الاستنكار كَمَا إِذا قلت جَاءَ الْحسن فَيُقَال لَك الحسنوه على وَجه الاستنكار وَالْهَاء للْوَقْف
وواو الإشباع كالبرقوع فِي البرقع وَنَحْو ذَلِك
قَالَ الشَّاعِر
(وإنني حَيْثُ مَا يدني الْهوى بَصرِي
… من حَيْثُ مَا سلكوا أدنوا فأنظوا)
فأشبع أنظر بِزِيَادَة الْوَاو وَلَكِن هَذَا لَا يخْتَص بِالْوَاو بل يَجِيء فِي الحركات الثَّلَاث جَمِيعهَا فتشبع الفتحة بِالْألف والكسرة بِالْيَاءِ
وواو الْعِوَض كَمَا فِي ثبون فَإِن الْوَاو عوض عَن الْهَاء المحذوفة من
প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো বহুবচনের 'ওয়াও', যেমন 'দারাবু' এবং 'আল-মুসলিমুন' শব্দে।
এবং বিস্ময়সূচক 'ওয়াও', যেমন আপনি যখন বলেন 'হাসান এসেছে', তখন বিস্ময় প্রকাশের উদ্দেশ্যে আপনাকে বলা হয় 'আল-হাসানুহূ' এবং এখানে 'হা' অক্ষরটি বিরতি প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
এবং স্বর দীর্ঘায়নকারী 'ওয়াও', যেমন 'বুরকু' শব্দে 'ওয়াও' বৃদ্ধি করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য উদাহরণ।
কবি বলেছেন
(এবং আমি, প্রবৃত্তি যেখানেই আমার দৃষ্টিকে নিকটবর্তী করে
… তারা যে পথে চলেছে আমি সেদিকেই নিকটবর্তী হই এবং দেখি)
এখানে তিনি 'আনজুরু' শব্দটিকে অতিরিক্ত 'ওয়াও' যোগ করে দীর্ঘায়িত করেছেন। তবে এটি কেবল 'ওয়াও'-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নয়, বরং তিনটি স্বরচিহ্নের (হরকত) সবকটিতেই এটি ঘটে; ফলে 'ফাতহা'-কে 'আলিফ' দ্বারা এবং 'কাসরা'-কে 'ইয়া' দ্বারা দীর্ঘায়িত করা হয়।
এবং প্রতিস্থাপনকারী 'ওয়াও', যেমন 'থুবুন' শব্দের ক্ষেত্রে; এখানে 'ওয়াও' অক্ষরটি বিলুপ্ত হওয়া 'হা' অক্ষরের পরিবর্তে এসেছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ثبة
وواو النِّسْبَة كَقَوْلِهِم فِي النِّسْبَة إِلَى عَليّ علوي وَإِلَى ابْن بنوي وَنَحْو ذَلِك وَبَعضهَا من بَاب وَاو التعويض
ছুবাহ
আর সম্বন্ধবাচক ‘ওয়াও’, যেমন ‘আলী’ শব্দের সাথে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে তাদের উক্তি ‘আলাউয়ী’ এবং ‘ইবন’ শব্দের ক্ষেত্রে ‘বানায়ূয়ী’ বলা এবং এই জাতীয় অন্যান্য উদাহরণ। আর এগুলোর মধ্যে কিছু শব্দ বিনিময়সূচক ‘ওয়াও’-এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
2 -
فصل الْوَاو المزيدة فِي بِنَاء الْكَلِمَة
لَا تزاد أَولاأما المزيدة فِي بِنَاء الْكَلِمَة فَإِنَّهَا لَا تزاد أَولا إِذْ لَو زيدت أَولا لم تكن إِلَّا متحركة فَإِنَّهُ لَا يبتدأ بساكن وَحِينَئِذٍ فإمَّا أَن تكون مَفْتُوحَة أَو مَضْمُومَة أَو مَكْسُورَة فَلَو زيدت مَضْمُومَة لساغ قَلبهَا همزَة واطرد ذَلِك فِيهَا كَمَا قَالُوا أقتت فِي وقتت وأجوه فِي وُجُوه
২ -
শব্দ গঠনে অতিরিক্ত ওয়াও সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ
এটি শুরুতে অতিরিক্ত হিসেবে আসে নাশব্দ গঠনে যা অতিরিক্ত বর্ণ হিসেবে আসে, তা শব্দের শুরুতে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয় না। কারণ, এটি যদি শুরুতে অতিরিক্ত হিসেবে আসত, তবে তা অবশ্যই হরকতবিশিষ্ট হতো; কেননা সাকিন (স্থির বর্ণ) দিয়ে কোনো শব্দ শুরু করা যায় না। আর এমতাবস্থায় এটি হয় জবরযুক্ত, অথবা পেশযুক্ত, কিংবা যেরযুক্ত হতো। সুতরাং যদি তা পেশযুক্ত অবস্থায় অতিরিক্ত হিসেবে আসত, তবে তাকে হামযায় রূপান্তরিত করা বৈধ হতো এবং বিষয়টি তখন নিয়মিত নিয়মে পরিণত হতো; যেমন তারা 'ওক্কিতাত' এর স্থলে 'উক্কিতাত' এবং 'ওজুহ' এর স্থলে 'উজুহ' বলেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وَكَذَلِكَ لَو كَانَت مَكْسُورَة على حد وسَادَة وإسادة ووشاح وإشاح وَإِن كَانَ الأول أَعنِي فِي حَالَة الضَّم أَكثر وَقد قَرَأَ سعيد بن جُبَير {ثمَّ استخرجها من وعَاء أَخِيه}
وَلَو زيدت مَفْتُوحَة لجَاز ضمهَا إِن كَانَ اسْما فَفِي حَالَة التصغير وَإِن كَانَ فعلا فَفِيمَا إِذا بني للْمَفْعُول وَإِذا ضمت الْوَاو انقلبت همزَة وَحِينَئِذٍ فَيتَعَيَّن لَفظهَا وَيَقَع الْإِشْكَال فِيهَا هَل هِيَ أَصْلِيَّة أَو مبدلة من وَاو مَعَ أَن زِيَادَة الْحَرْف إِنَّمَا الْمَطْلُوب مِنْهُ نَفسه فَإِذا لم يسلم لم يحصل الْغَرَض
فَأَما ورنتل فِي قَوْلهم وَقع الْقَوْم فِي ورنتل وَهُوَ الشَّرّ فالواو فِيهِ من نفس الْكَلِمَة وَالنُّون زَائِدَة ووزنه فعنلل مثل سفرجل وأصل الْكَلِمَة ربَاعِية وَإِن كَانَت الْوَاو لَا تكون أصلا مَعَ بَنَات الثَّلَاثَة فَصَاعِدا وَلَكِن تعَارض هُنَا شَيْئَانِ كل مِنْهُمَا على خلاف الأَصْل
তেমনিভাবে যদি তা ‘কাসরা’ যুক্ত হয়, যেমন ‘উইসা-দাহ’ ও ‘ইসা-দাহ’ এবং ‘উইশাহ’ ও ‘ইশাহ’-এর উদাহরণে। যদিও প্রথম ক্ষেত্রটি অর্থাৎ ‘দাম্মা’ হওয়ার অবস্থাটিই অধিক প্রচলিত। সাঈদ ইবনে জুবায়ের পাঠ করেছেন: “অতঃপর তিনি তাঁর ভাইয়ের পাত্র থেকে তা বের করলেন।”
আর যদি তা ‘ফাতহা’ যুক্ত অবস্থায় অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়, তবে তা ‘দাম্মা’ যুক্ত করা বৈধ হবে যদি সেটি বিশেষ্য হয়—অর্থাৎ ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপান্তরের (তাসগির) ক্ষেত্রে। আর যদি সেটি ক্রিয়া হয়, তবে কর্মবাচ্যের (মাজহুল) রূপান্তরের ক্ষেত্রে। আর যখনই ‘ওয়াও’ বর্ণটি ‘দাম্মা’ যুক্ত হয়, তখন তা ‘হামজা’য় রূপান্তরিত হয়। এমতাবস্থায় এর উচ্চারণ সুনির্দিষ্ট হয়ে যায় এবং সেখানে এই সংশয় তৈরি হয় যে, এটি কি মূল বর্ণ নাকি ‘ওয়াও’ থেকে পরিবর্তিত? অথচ কোনো বর্ণ অতিরিক্ত করার মূল উদ্দেশ্য থাকে সেই বর্ণটি স্বয়ং বিদ্যমান থাকা; সুতরাং যদি তা অক্ষুণ্ণ না থাকে তবে উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না।
আর ‘ওয়ারান্তাল’ শব্দের ক্ষেত্রে—যেমন আরবদের প্রবাদে রয়েছে: “লোকেরা ‘ওয়ারান্তাল’ অর্থাৎ মন্দ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে”—এতে থাকা ‘ওয়াও’ বর্ণটি মূল শব্দেরই অংশ এবং ‘নুন’ বর্ণটি অতিরিক্ত। এর ওজন হলো ‘ফা’নলাল’ যেমন ‘সাফারজাল’। শব্দটির মূল রূপ হলো চর্তুবর্ণী, যদিও তিন বা ততোধিক মূলবর্ণ বিশিষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে ‘ওয়াও’ সাধারণত মূল বর্ণ হয় না। তবে এখানে এমন দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী হয়ে দাঁড়িয়েছে যার প্রতিটিই মূল নিয়মের পরিপন্থী।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
أَحدهمَا جعل الْوَاو مزيدة فِي أول الْكَلِمَة وَالثَّانِي جعلهَا أصلا فِي الرباعي والتزام الثَّانِي أولى لِأَن القَوْل بِالْأَصَالَةِ أولى من الزِّيَادَة
وَأَيْضًا فَإِن الْوَاو قد جَاءَت أصلا مَعَ الثَّلَاثَة إِذا كَانَ هُنَاكَ تَكْرِير للمضاعفة وَلم تقع زَائِدَة فِي أول الْكَلِمَة أصلا
وَأَيْضًا فَإِن جعلهَا زَائِدَة يُؤَدِّي إِلَى بِنَاء غير مَوْجُود وَهُوَ وفنعل وَجعلهَا أَصْلِيَّة يُؤَدِّي إِلَى بِنَاء مَوْجُود وَهُوَ فعنلل نَحْو جحنفل وَالله أعلم
তাদের মধ্যে একটি অভিমত হলো ‘ওয়াও’ বর্ণটিকে শব্দের শুরুতে অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করা এবং দ্বিতীয়টি হলো একে চতুরক্ষর বিশিষ্ট শব্দের মূল বর্ণ হিসেবে গণ্য করা। দ্বিতীয় মতটি অনুসরণ করাই অধিকতর শ্রেয়; কারণ কোনো বর্ণকে মূল হিসেবে গণ্য করার অভিমতটি একে অতিরিক্ত গণ্য করার চেয়ে অগ্রগণ্য।
তদুপরি, দ্বিত্বকরণের জন্য পুনরাবৃত্তি ঘটলে তিন অক্ষরের শব্দের সাথে ‘ওয়াও’ মূল বর্ণ হিসেবেই এসেছে, এবং শব্দের শুরুতে এটি কখনোই অতিরিক্ত বর্ণ হিসেবে আসেনি।
এছাড়া, একে অতিরিক্ত বর্ণ সাব্যস্ত করা এমন এক শব্দ-কাঠামোর দিকে নিয়ে যায় যার কোনো অস্তিত্ব নেই, আর তা হলো ‘ওয়াফ্নাল’। পক্ষান্তরে, একে মূল বর্ণ হিসেবে গণ্য করা একটি বিদ্যমান কাঠামোর দিকে নিয়ে যায়, যা হলো ‘ফা‘নলাল’, যেমন ‘জাহানফাল’। আর আল্লাহই সর্বাধিক জ্ঞাত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
3 -
فصل مَتى تكون الْوَاو أَصْلِيَّة وَمَتى تكون زَائِدَة إِذا كَانَ مَعَ الْوَاو حرفان فَقَط قضي عَلَيْهَا بِالْأَصَالَةِ إِذْ لَا بُد فِي الْكَلِمَة من ثَلَاثَة أحرف وَتَقَع حِينَئِذٍ فَاء وعينا ولاما نَحْو وعد وَمَوْت ودلو
وَإِن كَانَ مَعهَا أَزِيد من حرفين فإمَّا أَن يكون مَعهَا ثَلَاثَة أحرف مَقْطُوع بأصالتها أَو حرفان مَقْطُوع بأصالتهما وَمَا عداهما مَقْطُوع بِزِيَادَتِهِ أَو يكون مَا عداهما مُحْتملا للأصالة وَالزِّيَادَة
فَإِن كَانَ مَعهَا ثَلَاثَة أحرف فَصَاعِدا مَقْطُوع بأصالتها قضيت على الْوَاو بِأَنَّهَا مزيدة لِأَنَّهَا لَا تكون أصلا فِي بَنَات الْخَمْسَة وَلَا بَنَات الْأَرْبَعَة إِلَّا فِي المضاعف نَحْو قوقيت وضوضيت فَإِن الْوَاو فِيهِ أصل لقَوْل الْعَرَب
৩ -
পরিচ্ছেদ: কখন ‘ওয়াও’ মূল বর্ণ হয় এবং কখন তা অতিরিক্ত হয় যখন ‘ওয়াও’-এর সাথে কেবল দুটি বর্ণ থাকে, তখন সেটিকে মূল বর্ণ হিসেবে গণ্য করা হবে; যেহেতু শব্দে অবশ্যই তিনটি বর্ণ থাকতে হয়। এমতাবস্থায় তা ফা-মূল, আইন-মূল এবং লাম-মূল হিসেবে অবস্থান করে, যেমন: ওয়া’আদা, মাওত এবং দালওয়ুন।
আর যদি এর সাথে দুইটির অধিক বর্ণ থাকে, তবে হয় এর সাথে এমন তিনটি বর্ণ থাকবে যেগুলোর মূল হওয়া নিশ্চিত, অথবা এমন দুটি বর্ণ থাকবে যেগুলোর মূল হওয়া নিশ্চিত এবং অন্যটি অতিরিক্ত হওয়া নিশ্চিত, অথবা অবশিষ্ট বর্ণগুলো মূল বা অতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখবে।
যদি এর সাথে তিনটি বা তার অধিক এমন বর্ণ থাকে যেগুলোর মূল হওয়া নিশ্চিত, তবে ‘ওয়াও’-কে অতিরিক্ত বর্ণ হিসেবে বিচার করা হবে। কেননা এটি পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট কিংবা চার বর্ণবিশিষ্ট শব্দে মূল বর্ণ হিসেবে থাকে না—ব্যতিক্রম কেবল দ্বিত্বযুক্ত শব্দ, যেমন: কওকাইতু এবং দওদাইতু। কেননা আরবদের বক্তব্য অনুযায়ী এই শব্দগুলোতে ‘ওয়াও’ মূল বর্ণ।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
ضوضاء وغوغاء وَلَا يقْضِي لَهَا بِالْأَصَالَةِ إِلَّا أَن يقوم دَلِيل على ذَلِك كَمَا تقدم فِي ورنتل وَبَعْضهمْ يَجْعَلهَا اسْم بَلْدَة
وَإِن كَانَ مَعهَا حرفان مَقْطُوع بأصالتهما وَمَا عداهما مَقْطُوع بِزِيَادَتِهِ قضيت للواو بِالْأَصَالَةِ إِذْ لَا بُد من ثَلَاثَة أحرف كَمَا فِي وَاعد ووافد وشبههما
وَإِن كَانَ مَا عداهما مُحْتملا للأصالة وَالزِّيَادَة فَلَا يَخْلُو إِمَّا أَن يكون الْمِيم أَو الْهمزَة أَولا أَو غير ذَلِك من حُرُوف الزِّيَادَة فَإِن كَانَت الْمِيم أَولا أَو الْهمزَة كَذَلِك قضيت عَلَيْهِمَا بِالزِّيَادَةِ وعَلى الْوَاو بِالْأَصَالَةِ لِكَثْرَة زِيَادَة الْهمزَة وَالْمِيم فِي أول الْكَلِمَة إِلَّا أَن يقوم دَلِيل على أَصَالَة الْهمزَة من اشتقاق أَو تصريف أَو غير ذَلِك فَيقْضى على الْوَاو بِالزِّيَادَةِ كَمَا قيل فِي أولق وَهُوَ الْجُنُون قَالَه جمَاعَة
হৈচৈ এবং গোলমাল; আর এগুলোর ক্ষেত্রে বর্ণগুলো মৌলিক হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হবে না যতক্ষণ না এর ওপর কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, যেমনটি ইতিপূর্বে 'ওয়ারানতাল' শব্দের আলোচনায় অতিক্রান্ত হয়েছে। আর তাদের কেউ কেউ একে একটি শহরের নাম হিসেবে গণ্য করেন।
আর যদি এর সাথে এমন দুটি বর্ণ থাকে যেগুলোর মৌলিকত্ব নিশ্চিত এবং অন্যটির অতিরিক্ত হওয়া নিশ্চিত, তবে 'ওয়াও' বর্ণটিকে মৌলিক হিসেবে সাব্যস্ত করা হবে; যেহেতু তিনটি বর্ণ থাকা আবশ্যক, যেমন 'ওয়া-ইদ', 'ওয়া-ফিদ' এবং এ জাতীয় শব্দসমূহের ক্ষেত্রে।
আর যদি সেগুলো ছাড়া অন্য বর্ণটি মৌলিক বা অতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, তবে অবস্থাটি এমন হবে যে—হয় শুরুতে 'মিম' অথবা 'হামজাহ' থাকবে, অথবা বৃদ্ধির অন্য কোনো বর্ণ থাকবে। সুতরাং যদি শুরুতে 'মিম' বা 'হামজাহ' থাকে, তবে সেগুলোকে অতিরিক্ত এবং 'ওয়াও' বর্ণটিকে মৌলিক হিসেবে গণ্য করা হবে; কারণ শব্দের শুরুতে 'হামজাহ' ও 'মিম' অতিরিক্ত হিসেবে আসার আধিক্য রয়েছে। তবে যদি ব্যুৎপত্তি, শব্দরূপান্তর বা অন্য কোনো মাধ্যম থেকে 'হামজাহ' মৌলিক হওয়ার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে 'ওয়াও' বর্ণটিকে অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে, যেমনটি 'আওলাক' শব্দের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে—যার অর্থ উন্মাদনা; একদল বিশেষজ্ঞ এমনটিই বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَقَالَ ابْن سيدة الأولق الأحمق وَالْأول أصح لقَوْل الشَّاعِر
(ألم بهَا من طائف الْجِنّ أولق)
قَالَ أَبُو عَليّ الْفَارِسِي يحْتَمل أولق من الْوَزْن ضَرْبَيْنِ أَحدهمَا أَن يكون فوعل وهمزته أصل من قَوْلهم تألق الْبَرْق وَالْآخر أَنه أفعل وهمزته زَائِدَة من قَوْلهم ولق يلق إِذا أسْرع لِأَن ذَا الْجُنُون يُوصف بالسرعة
وَرجح ابْن عُصْفُور وَغَيره القَوْل الأول بِدَلِيل قَوْلهم مألوق وَلَو كَانَت الْوَاو أَصْلِيَّة لقالوا مولوق وَلَا يُقَال تقدر الْهمزَة فِي مألوق بَدَلا من الْوَاو لِأَن مثل هَذِه الْوَاو لَا تقلب همزَة وَإِن قلبت فَلَا تستمر فِي تصاريف الْكَلِمَة
ইবনে সিদাহ বলেছেন, 'আওলাক' অর্থ হলো নির্বোধ। তবে প্রথম মতটিই অধিক সঠিক, কবির এই উক্তির কারণে:
(তার কাছে জিনদের আবেশ থেকে এক উন্মাদনা এসেছে)
আবু আলী আল-ফারিসি বলেছেন, ওজনের দিক থেকে 'আওলাক' শব্দটির ক্ষেত্রে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে; একটি হলো এটি 'ফাউয়াল' ওজনের এবং এর হামযাটি মূল বর্ণ, যা তাদের 'তাআল্লাকাল বারকু' (বিদ্যুৎ চমকানো) উক্তি থেকে গৃহীত। অন্যটি হলো এটি 'আফআল' ওজনের এবং এর হামযাটি অতিরিক্ত, যা তাদের 'ওয়ালাকা-ইয়ালিকু' উক্তি থেকে এসেছে যখন কেউ দ্রুত চলে; কারণ উন্মাদ ব্যক্তিকে দ্রুততার সাথেই বিশেষায়িত করা হয়।
ইবনে উসফুর এবং অন্যান্যরা প্রথম মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন তাদের 'মা'লুক' বলার দলিলের ভিত্তিতে। যদি 'ওয়াও' বর্ণটি মূল হতো তবে তারা 'মাওলুক' বলত। আর এ কথা বলা যাবে না যে, 'মা'লুক' শব্দে হামযাটি 'ওয়াও'-এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গণ্য হয়েছে, কারণ এই ধরণের 'ওয়াও' হামযায় রূপান্তরিত হয় না, আর যদি রূপান্তরিত হয়ও তবে তা শব্দের বিভিন্ন রূপান্তরের ক্ষেত্রে অপরিবর্তিত থাকে না।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
وَيُمكن الْجَواب عَن ذَلِك بِأَنَّهُ إِنَّمَا قلبت الْوَاو همزَة عِنْدَمَا بني للْمَفْعُول وَأَصله ولق فقلبت حِينَئِذٍ الْوَاو همزَة قِيَاسا مطردا لانضمامها ثمَّ أجريت الْهمزَة مجْرى الْأَصْلِيَّة فالتزموها فِي تصاريف الْكَلِمَة كَمَا فِي عيد وأعياد فَإِن يَاء عيد منقلبة عَن وَاو لِأَنَّهُ من عَاد يعود ثمَّ التزموها فِي الْجمع فَقَالُوا أعياد وَكَذَلِكَ أرياح وَكَانَ قِيَاسه أَرْوَاح وأعواد فَكَذَلِك قاولوا مألوق وَالْقَوْلَان محتملان
وَأما إِذا كَانَ مَعَ الْوَاو والحرفين الأصليين غير الْمِيم والهمزة من حُرُوف الزِّيَادَة وَهُوَ مُحْتَمل لِأَن يكون أَصْلِيًّا وَأَن يكون زَائِدا فَإِنَّهُ يقْضى على الْوَاو بِالزِّيَادَةِ لِكَثْرَة مجيئها زَائِدَة وعَلى ذَلِك الْغَيْر بِالْأَصَالَةِ إِلَّا أَن يقوم دَلِيل على أَصَالَة الْوَاو نَحْو عزويت وَهُوَ اسْم بلد فَإِن الْوَاو فِيهِ أصل وَالْيَاء وَالتَّاء زائدتان ووزنه فعليت ك عفريت لِأَنَّهُ من العفر
এর উত্তর এভাবে দেওয়া সম্ভব যে, যখন শব্দটিকে কর্মবাচ্যের রূপে গঠন করা হয়েছিল তখন 'ওয়াও' বর্ণটিকে 'হামযা'য় রূপান্তর করা হয়েছিল। এর মূল রূপ ছিল 'উলিক'; তখন 'ওয়াও' বর্ণটি পেশযুক্ত হওয়ার কারণে একটি নিয়মিত নিয়ম অনুযায়ী সেটিকে 'হামযা'য় রূপান্তর করা হয়। অতঃপর এই 'হামযা'কে মূল বর্ণের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। ফলে শব্দের বিভিন্ন রূপান্তরের ক্ষেত্রে তারা এটিকে অপরিহার্য করে নিয়েছেন, যেমনটি 'ঈদ' এবং 'আইয়াদ' শব্দের ক্ষেত্রে দেখা যায়। কেননা 'ঈদ' শব্দের 'ইয়া' মূলত 'ওয়াও' থেকে পরিবর্তিত হয়েছে, কারণ এটি 'আদা-ইয়াউদু' থেকে আগত। পরবর্তীতে তারা বহুবচনের ক্ষেত্রেও এটিকে অপরিহার্য করে নিয়েছেন এবং 'আইয়াদ' বলেছেন। একইভাবে 'আরিয়াহ' শব্দের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে, যদিও নিয়ম অনুযায়ী তা 'আরওয়াহ' বা 'আওয়াদ' হওয়ার কথা ছিল। ঠিক তেমনিভাবে তারা 'মালুক' বলেছেন এবং উভয় মতেরই সম্ভাবনা রয়েছে।
আর যদি 'ওয়াও' এবং দুটি মূল অক্ষরের সাথে 'মীম' ও 'হামযা' ব্যতীত অন্য কোনো অতিরিক্ত অক্ষর থাকে, এবং সেটি মূল বা অতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে 'ওয়াও' বর্ণটি সচরাচর অতিরিক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কারণে সেটিকে অতিরিক্ত হিসেবেই গণ্য করা হবে এবং অন্য অক্ষরটিকে মূল হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে যদি 'ওয়াও' বর্ণটি মূল হওয়ার কোনো প্রমাণ বিদ্যমান থাকে, তবে ভিন্ন কথা; যেমন 'আযওয়িত', যা একটি শহরের নাম। এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি মূল এবং 'ইয়া' ও 'তা' বর্ণ দুটি অতিরিক্ত। এর শব্দমূলের ওজন হলো 'ফাল্লীত', যেমন 'ইফরিত' শব্দটির ওজন; কারণ এটি 'আফর' থেকে উদ্ভূত।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَبَيَان ذَلِك أَنه لَا يجوز أَن تكون الْيَاء من عزويت أصلا أَيْضا مَعَ الْوَاو لِأَنَّهُ يلْزم أَن يكون الْوَاو أصلا مَعَ بَنَات الْأَرْبَعَة وَقد تقدم أَنه غير جَائِز وَلَا أَن تكون التَّاء أصلا مَعَ الْوَاو وَيكون وَزنه فعليلا لما ذكرنَا أَيْضا وَلَا أَن تكون الْوَاو وَالْيَاء زائدتين وَالتَّاء أَصْلِيَّة لِأَنَّهُ يصير وَزنه فعويلا وَهُوَ بِنَاء غير مَعْرُوف فَلَا يحمل عَلَيْهِ فَتعين أَن تكون الْوَاو أَصْلِيَّة وَالْيَاء وَالتَّاء زائدتين كَمَا فِي عفريت وَالله أعلم
এবং এর ব্যাখ্যা হলো এই যে, ‘ইজওয়াইত’ শব্দের ‘ইয়া’ অক্ষরটি ‘ওয়াও’ অক্ষরের সাথে মূল অক্ষর হওয়াও বৈধ নয়। কেননা এতে ‘ওয়াও’ অক্ষরটিকে চার অক্ষরবিশিষ্ট মূলরূপের অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা ইতিপূর্বে অবৈধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আর ‘ওয়াও’ এর সাথে ‘তা’ অক্ষরটি মূল হওয়া এবং এর ওজন ‘ফু’লাইল’ হওয়াও সম্ভব নয়, যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। আবার ‘ওয়াও’ ও ‘ইয়া’ উভয়টি অতিরিক্ত হওয়া এবং ‘তা’ অক্ষরটি মূল হওয়াও সম্ভব নয়; কারণ সেক্ষেত্রে এর ওজন হবে ‘ফাউওয়াইল’, যা একটি অপরিচিত গঠনরীতি, তাই এর ওপর ভিত্তি করা যাবে না। সুতরাং এটিই নির্ধারিত হলো যে, ‘ওয়াও’ অক্ষরটি মূল এবং ‘ইয়া’ ও ‘তা’ অক্ষর দুটি অতিরিক্ত, যেমনটি ‘ইফরিত’ শব্দের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
4 -
فصل مواقع زِيَادَة الْوَاو تقرر أَن الْوَاو لَا تزاد أَولا وَإِنَّمَا تقع مزيدة بعد ذَلِك فَتكون ثَانِيَة كَمَا فِي جَوْهَر وكوثر وعوسج إِلْحَاقًا لَهَا بِجَعْفَر وأصل جَوْهَر من الجهارة وَهِي الْحسن والزينة قَالَ الشَّاعِر
(وَأرى الْبيَاض على النِّسَاء جهارة)
৪ -
ওয়াও অতিরিক্ত হওয়ার স্থানসমূহ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ এটি স্থির হয়েছে যে, ওয়াও শুরুতে অতিরিক্ত হয় না, বরং এটি এর পরে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়। ফলে তা দ্বিতীয় বর্ণ হিসেবে অবস্থান করে, যেমন— জাওহার, কাওসার এবং আওসাজ শব্দে; একে জা'ফার ছাঁচের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে। আর জাওহার শব্দের মূল উৎস হলো 'জাহারা', যার অর্থ সৌন্দর্য ও শোভা। কবি বলেছেন—
(আমি নারীদের শুভ্রতাকে সৌন্দর্য হিসেবে দেখি)
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَأَصله من الْجَهْر وَهُوَ إِظْهَار الشَّيْء
وَأما كوثر فَهُوَ من الْكَثْرَة قَالَ الشَّاعِر
(وَأَنت كثير يَابْنَ مَرْوَان طيب
… وَكَانَ أَبوك ابْن العقائل كوثرا)
وَأما العوسج فَهُوَ شجر لَهُ شوك وجناه أَحْمَر وقضوا على واوه بِأَنَّهَا مزيدة وَكَأن أَصله مَعَ العسج وَهُوَ مد الْعُنُق فِي الْمَشْي فَكَأَن الْإِبِل تمد أعناقها إِلَى هَذَا الشّجر عِنْدَمَا تَأْكُل مِنْهُ فَقيل فِيهِ عوسج وَيحْتَمل أَن يكون الْقَضَاء على واوه بِالزِّيَادَةِ بِنَاء على الْقَاعِدَة الْمُتَقَدّمَة أَنه إِذا كَانَ مَعَ الْوَاو ثَلَاثَة أحرف أصُول فَهِيَ مزيدة وَإِن لم يكن مأخوذا من العسج
وتزاد الْوَاو ثَالِثَة كَمَا فِي جهور وقسور وقرواح ودهور أما جهور فَهُوَ من الْجَهْر كَمَا تقدم وَكَذَلِكَ قسور من القسر وَهُوَ الْقَهْر وقرواح من القراح وَهُوَ الْموضع الَّذِي لَا شجر فِيهِ
এর মূল উৎস হলো ‘জহর’ থেকে, যার অর্থ কোনো কিছু প্রকাশ করা।
আর ‘কাওসার’ শব্দটি ‘কাসরাহ’ (প্রাচুর্য) থেকে উৎপন্ন। কবি বলেছেন—
(হে মারওয়ান-তনয়! আপনি মহান ও পবিত্র
… আর আপনার পিতা, যিনি সম্ভ্রান্ত নারীদের সন্তান, তিনি ছিলেন প্রাচুর্যের আধার।)
আর ‘আওসাজ’ হলো একটি কাঁটাযুক্ত গাছ যার ফল লাল বর্ণের। ভাষাবিদগণ এর ‘ওয়াও’ বর্ণটিকে অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করেছেন। যেন এর মূল উৎস ‘আসজ’ থেকে, যার অর্থ হাঁটার সময় ঘাড় লম্বা করা; মূলত উট যখন এই গাছ থেকে আহার করে তখন তার ঘাড় লম্বা করে, তাই একে ‘আওসাজ’ বলা হয়েছে। এটিও সম্ভব যে, এর ‘ওয়াও’ অতিরিক্ত হওয়ার বিষয়টি পূর্বোক্ত নিয়মের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়েছে—আর তা হলো, যদি ‘ওয়াও’-এর সাথে তিনটি মূল বর্ণ থাকে তবে তা অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হয়, যদিও তা ‘আসজ’ থেকে ব্যুৎপন্ন না হয়।
এবং ‘ওয়াও’ তৃতীয় বর্ণ হিসেবে অতিরিক্ত যুক্ত হয়, যেমনটি ‘জাহওয়ার’, ‘কাসওয়ার’, ‘কারওয়াহ’ এবং ‘দাহওয়ার’ শব্দগুলোতে দেখা যায়। ‘জাহওয়ার’ শব্দটি পূর্বোল্লিখিত ‘জহর’ থেকে আগত। অনুরূপভাবে, ‘কাসওয়ার’ শব্দটি ‘কাসর’ থেকে ব্যুৎপন্ন, যার অর্থ পরাভূত করা। আর ‘কারওয়াহ’ শব্দটি ‘কারাহ’ থেকে এসেছে, যার অর্থ এমন স্থান যেখানে কোনো গাছপালা নেই।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وَيُقَال دهور الرجل اللُّقْمَة يدهورها إِذا كبرها وَالْوَاو فِيهِ مزيدة بِنَاء على الْقَاعِدَة الْمَذْكُورَة أَيْضا
وَكَذَلِكَ تزاد ثَالِثَة فِي عَجُوز وعمود وَنَحْوهمَا وَوَجهه ظَاهر
وتزاد رَابِعَة فِي نَحْو ترقوة وعرقوة وعنفوان
فالترقوة الْعظم الَّذِي بَين ثغرة النَّحْر والعاتق وَالتَّاء فِيهِ أَصْلِيَّة قَالَ الْجَوْهَرِي حكى أَبُو يُوسُف ترقيت الرجل ترقاة إِذا أصبت ترقوته وَالْألف فِيهَا إلحاقية كَمَا فِي سلقيت
والعرقوة الصَّلِيب الَّذِي يكون فِي الدَّلْو يشد بِهِ الْحَبل وَالْوَاو فِيهَا مزيدة لوَجْهَيْنِ أَحدهمَا أَنَّهَا مَعَ ثَلَاثَة أصُول كَمَا تقدم وَالثَّانِي لَو كَانَت أصلا لكَانَتْ على فعللة وَلَا نَظِير لَهُ
وَأما عنفوان وَهُوَ الشَّبَاب فالواو فِيهِ مزِيد ة لِأَنَّهُ من العنف إِذْ لَا بُد فِي الشَّبَاب من العنف وإيضا فَلَيْسَ فِي كَلَامهم فعللان فَحكم بِالزِّيَادَةِ
বলা হয়ে থাকে, যখন কোনো ব্যক্তি লোকমা বড় করে তখন সে তা 'দাহওয়ারা' করে। উল্লিখিত নিয়ম অনুযায়ী এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি অতিরিক্ত।
একইভাবে 'আজুজ' (বৃদ্ধা), 'আমূদ' (স্তম্ভ) এবং এই জাতীয় শব্দগুলোতে এটি তৃতীয় বর্ণ হিসেবে অতিরিক্ত হয় এবং এর কারণ সুস্পষ্ট।
আর 'তারকুওয়াহ', 'উরকুওয়াহ' এবং 'উনফুওয়ান' এর মতো শব্দগুলোতে এটি চতুর্থ বর্ণ হিসেবে অতিরিক্ত হয়।
'তারকুওয়াহ' হলো সেই হাড় যা কণ্ঠনালীর উপরিভাগ ও কাঁধের মধ্যস্থলে অবস্থিত। এতে বিদ্যমান 'তা' বর্ণটি মূল। আল-জাওহারী বলেন, আবু ইউসুফ বর্ণনা করেছেন যে, যখন কেউ কারো কণ্ঠাস্থিতে আঘাত করে তখন বলা হয় 'তারকাইতু আর-রাজুলা তারকাতান' এবং এর 'আলিফ'টি সংযুক্ত হয়েছে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য (ইলহাক), যেমনটি 'সালকাইতু' শব্দের মধ্যে রয়েছে।
'উরকুওয়াহ' হলো বালতির আড়াআড়ি কাঠ যাতে দড়ি বাঁধা হয়। এতে 'ওয়াও' বর্ণটি দুটি কারণে অতিরিক্ত: প্রথমত, এটি তিনটি মূল বর্ণের সাথে যুক্ত হয়েছে যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে; দ্বিতীয়ত, এটি যদি মূল হতো তবে শব্দটির ওজন হতো 'ফাল্লাহ', অথচ আরবীতে এই ওজনের কোনো সদৃশ শব্দ নেই।
আর 'উনফুওয়ান'—যা দ্বারা যৌবনের প্রারম্ভ বোঝানো হয়—তাতে 'ওয়াও' বর্ণটি অতিরিক্ত। কারণ এটি 'উনফ' (তীব্রতা/কঠোরতা) থেকে ব্যুৎপন্ন, কেননা যৌবনে তীব্রতা থাকা অপরিহার্য। তদুপরি, আরবদের ভাষায় 'ফাল্লান' ওজনের কোনো শব্দ নেই, তাই এর অতিরিক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
وتزاد الْوَاو خَامِسَة فِي مثل قلنسوة وقمحدوة وَهِي أَعلَى الرَّأْس وَدَلِيل زيادتها مَعَ مَا تقدم من الْقَاعِدَة أَنه لَيْسَ فِي كَلَامهم فعنللة وَلَا فعللة
وَكَذَلِكَ هِيَ أَيْضا زَائِدَة فِي عضرفوط لِأَنَّهُ لَيْسَ فِي كَلَامهم سداسي حُرُوفه كلهَا أصُول
وَالله أعلم
এবং 'ওয়াও' পঞ্চম বর্ণ হিসেবে অতিরিক্ত হয় যেমন— 'কালানসুয়াহ' এবং 'কামহাদুয়াহ' (যার অর্থ মাথার উপরিভাগ); আর ইতিপূর্বে বর্ণিত নিয়মের পাশাপাশি এর অতিরিক্ত হওয়ার প্রমাণ হলো যে, আরবদের ভাষায় 'ফাউনলাল্লাহ' কিংবা 'ফাউলাল্লাহ' ওজনের কোনো শব্দ নেই।
তেমনিভাবে এটি 'ইদরিফুত' শব্দেও অতিরিক্ত, কারণ তাদের ভাষায় এমন কোনো ছয় বর্ণবিশিষ্ট শব্দ নেই যার প্রতিটি বর্ণই মূল।
আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
5 -
فصل الْوَاو الدَّاخِلَة على أول الْكَلِمَة أَنْوَاعهَا أما الْوَاو الَّتِي تدخل على أول الْكَلِمَة وَلَيْسَت مَعْدُودَة مِنْهَا وَهِي الْمَقْصُودَة بِهَذَا الْكتاب فَهِيَ على أَنْوَاع وَاو الْعَطف وواو الْحَال وواو الْقسم وواو رب وواو الْجمع مثل اسْتَوَى المَاء والخشبة وواو الصّرْف مثل قَوْلهم
(لَا تنه عَن خلق وَتَأْتِي مثله)
فَهَذِهِ السِّتَّة هِيَ الَّتِي يعْمل الْكَلَام عَلَيْهَا إِن شَاءَ الله
وتجيء أَيْضا زَائِدَة فِي الْجَواب بِحَيْثُ لَو حذفت لما اخْتَلَّ الْكَلَام كَمَا
৫ -
পরিচ্ছেদ: শব্দের শুরুতে যুক্ত 'ওয়াও' এবং এর প্রকারভেদ যে 'ওয়াও' শব্দের শুরুতে যুক্ত হয় এবং শব্দের মূল বর্ণমালার অন্তর্ভুক্ত নয়—যা এই কিতাবের মূল উদ্দেশ্য—তা কয়েক প্রকারের: আতিফাহ (সংযোজক) ওয়াও, হাল (অবস্থা জ্ঞাপক) ওয়াও, কাসাম (শপথের) ওয়াও, রুব্বা-এর ওয়াও, জাম্’ (একত্রীকরণ) এর ওয়াও—যেমন: 'পানি ও কাঠ সমান উচ্চতায় উঠল'—এবং সার্ফ-এর ওয়াও—যেমন তাদের উক্তি:
(তুমি কোনো স্বভাব থেকে বারণ করো না যখন তুমি নিজেই তার অনুরূপ আচরণ করো)
ইনশাআল্লাহ, এই ছয়টি প্রকারের ওপর ভিত্তি করেই আলোচনা পরিচালিত হবে।
এটি উত্তরের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত (যায়েদাহ) হিসেবেও আসে, এমনভাবে যে যদি একে বিলুপ্ত করা হয় তবে বাক্যের অর্থে কোনো ব্যাঘাত ঘটে না, যেমন—
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
أنْشد الْفراء
(حَتَّى إِذا قملت بطونكم
… ورأيتم أبناكم شبوا)
(وقلبتم ظهر الْمِجَن لنا
… إِن اللَّئِيم الْعَاجِز الخب)
قَالَ أَرَادَ قلبتم
وَقد تَجِيء كَذَلِك فِي غير الْجَواب أَيْضا قَالَ أَبُو كَبِير الْهُذلِيّ
আল-ফাররা আবৃত্তি করেছেন
(যতক্ষণ না তোমাদের উদরসমূহ পূর্ণ হলো
… এবং তোমরা তোমাদের সন্তানদের যুবক হতে দেখলে)
(এবং তোমরা আমাদের বিরুদ্ধে ঢালের উল্টো পিঠ প্রদর্শন করলে
… নিশ্চয়ই হীন ব্যক্তি হলো অক্ষম ও প্রবঞ্চক)
তিনি বলেছেন, তিনি ‘তোমরা উল্টে দিয়েছ’ অর্থ উদ্দেশ্য করেছেন।
এটি উত্তর (জওয়াব) ছাড়াও অন্য ক্ষেত্রেও একইভাবে আসতে পারে। আবু কাবীর আল-হুযালী বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
(فَإِذا وَذَلِكَ لَيْسَ إِلَّا حِينه
… وَإِذا مضى شَيْء كَأَن لم يفعل)
قَالَ الْأَزْهَرِي أَرَادَ فَإِذا ذَلِك يَعْنِي شبابه وَمَا مضى من أَيَّام تمتعه
وَالَّذِي ذهب إِلَيْهِ جُمْهُور الْبَصرِيين أَنَّهَا لَيست زَائِدَة وَإِنَّمَا هِيَ عاطفة على مَحْذُوف مُقَدّر
وَسَيَأْتِي تَتِمَّة الْكَلَام فِي ذَلِك إِن شَاءَ الله
(অতঃপর যখন এবং তা কেবল সেই সময়ের জন্য ছিল না
… আর যখন কোনো কিছু অতিবাহিত হয়, মনে হয় যেন তা ঘটেনি)
আল-আযহারী বলেন, তিনি ‘অতঃপর যখন তা’ বলতে তাঁর যৌবনকাল এবং তাঁর উপভোগের অতিবাহিত দিনসমূহ বুঝাতে চেয়েছেন।
বসরার ব্যাকরণবিদদের সংখ্যাগরিষ্ঠের অভিমত হলো, এটি অতিরিক্ত নয়; বরং এটি একটি উহ্য অনুমিত বিষয়ের ওপর সংযোজক।
আল্লাহ চাহেন তো এই বিষয়ে আলোচনার অবশিষ্টাংশ সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
6 -
فصل النَّوْع الأول
الْكَلَام على الْوَاو العاطفة وَهِي إِمَّا أَن تعطف مُفردا على مُفْرد أَو جملَة على جملَة فَإِذا عطفت جملَة على أُخْرَى اشْترط أَن يكون بَينهمَا تناسب يَقْتَضِي الْمُشَاركَة بالْعَطْف فَلَا يحسن أَن تَقول زيد قَائِم وَعَمْرو شَاعِر لعدم الْمُنَاسبَة بَينهمَا إِلَّا أَن يكون ذَلِك جَوَابا لمن أنكر هذَيْن الْحكمَيْنِ أَو شكّ فيهمَا فَتكون قرينَة كَلَامه الْمُتَقَدّم هِيَ الْمُقْتَضِيَة لجَوَاز الْعَطف بَين هَاتين الجملتين
وَقد عيب على أبي تَمام قَوْله
(لَا وَالَّذِي هُوَ عَالم أَن النَّوَى
… صَبر وَأَن أَبَا الْحُسَيْن كريم)
৬ - প্রথম প্রকারের পরিচ্ছেদ সংযোজক ওয়াও (Waw) সম্পর্কিত আলোচনা এটি হয় একটি একক শব্দকে অন্য একটি একক শব্দের সাথে অথবা একটি বাক্যকে অন্য একটি বাক্যের সাথে সংযুক্ত করে। সুতরাং যখন এটি এক বাক্যকে অন্য বাক্যের সাথে যুক্ত করে, তখন শর্ত হলো তাদের মধ্যে এমন সামঞ্জস্য থাকতে হবে যা সংযোগের মাধ্যমে অংশীদারিত্ব দাবি করে। ফলে 'যায়েদ দণ্ডায়মান এবং আমর একজন কবি' বলা সংগত নয়, কারণ তাদের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই; তবে যদি এটি এমন ব্যক্তির জবাব হিসেবে হয় যে এই দুটি বিষয়কে অস্বীকার করেছে বা এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে, তবে তার পূর্ববর্তী বক্তব্যের প্রেক্ষাপটই এই দুই বাক্যের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের বৈধতা প্রদান করবে।
আবু তামামের এই উক্তিটিকে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করা হয়েছে:
(না, সেই সত্তার কসম যিনি জানেন যে বিচ্ছেদ হলো তিক্ত সবর ... এবং আবুল হুসাইন অত্যন্ত দানশীল।)
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
إِذْ لَا مُنَاسبَة بَين هَاتين الجملتين
وَلِهَذَا قَالَ النُّحَاة فِي الْوَاو الَّتِي تعطف جملَة مُبتَدأَة على كَلَام مُتَقَدم تَامّ إِنَّهَا وَاو الِاسْتِئْنَاف كَمَا فِي قَوْله تَعَالَى {ويسألونك عَن الْجبَال فَقل ينسفها رَبِّي نسفا} وَإِن كَانَت صورتهَا صُورَة الْعَطف وَبَعْضهمْ يعدها مُغَايرَة للواوات الْمُتَقَدّم ذكرهَا
وَالصَّحِيح أَنَّهَا وَإِن كَانَت للاستئناف فَلم تخرج عَن معنى الْعَطف وَلَكِن لَا تشرك بَين مَا بعْدهَا وَمَا قبلهَا إِلَّا فِي أصل الْإِخْبَار دون شَيْء آخر فَكَأَن الْقَائِل بعد كَلَامه الْمُتَقَدّم قَالَ وأخبرك أَيْضا بِكَذَا
أما إِذا عطفت مُفردا على مُفْرد فَهِيَ على قسمَيْنِ جَامِعَة مُشركَة وجامعة غير مُشركَة
فَالْأول هُوَ الْأَكْثَر مثل قَامَ زيد وَعَمْرو لِأَنَّك لَو قلت قَامَ زيد وَقَامَ عَمْرو
যেহেতু এই বাক্যদ্বয়ের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্য নেই
আর এই কারণেই ব্যাকরণবিদগণ সেই 'ওয়াও' সম্পর্কে বলেছেন যা কোনো প্রারম্ভিক বাক্যকে পূর্ববর্তী পূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের সাথে সংযুক্ত করে যে, এটি হলো প্রারম্ভিক 'ওয়াও' (ওয়াও আল-ইস্তি'নাফ); যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা আপনাকে পাহাড়সমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তবে আপনি বলুন, আমার প্রতিপালক সেগুলোকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে উড়িয়ে দেবেন}। যদিও এর বাহ্যিক রূপটি সংযোজক অব্যয়ের মতো, তবুও তাঁদের কেউ কেউ একে পূর্বে উল্লিখিত 'ওয়াও'সমূহ থেকে ভিন্ন বলে গণ্য করেন।
সঠিক মত হলো, এটি প্রারম্ভিকতার জন্য হলেও সংযোজনের (আতফ) অর্থ থেকে বিচ্যুত হয় না; তবে এটি তার পরবর্তী এবং পূর্ববর্তী অংশের মধ্যে কেবল সংবাদ প্রদানের মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব তৈরি করে, অন্য কোনো কিছুতে নয়। ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়ায় যেন বক্তা তার পূর্ববর্তী বক্তব্যের পর বললেন: 'আমি আপনাকে এ বিষয়েও সংবাদ দিচ্ছি'।
পক্ষান্তরে যখন এটি কোনো একক শব্দকে অপর একক শব্দের সাথে যুক্ত করে, তখন তা দুই প্রকার হয়: একত্রকারী ও অংশীদারকারী এবং একত্রকারী কিন্তু অংশীদারকারী নয়।
প্রথম প্রকারটিই অধিক প্রচলিত, যেমন: 'যায়েদ ও আমর দাঁড়িয়েছে'। কারণ আপনি যদি বলতেন: 'যায়েদ দাঁড়িয়েছে এবং আমর দাঁড়িয়েছে'
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
جَازَ فشركت بِالْوَاو بَينهمَا فِي إِسْنَاد الْفِعْل إِلَيْهِمَا
وَمِثَال الثَّانِي قَول الْقَائِل اخْتصم زيد وَعَمْرو مِمَّا لَا يكون الْفِعْل فِيهِ إِلَّا للاثنين فَهِيَ جَامِعَة وَلم تشرك الْفِعْل فِي إِسْنَاده إِلَى كل وَاحِد مِنْهُمَا بمفرده إِذْ لَو قلت اخْتصم زيد واختصم عَمْرو لم يَصح وَكَذَلِكَ إِذا قلت هَذَانِ زيد وَعَمْرو فالواو فِيهِ جَامِعَة غير مُشركَة لِأَنَّهُ لَا يَصح هَذَانِ زيد هَذَانِ عمر إِذْ لَا يخبر عَن الِاثْنَيْنِ بِوَاحِد بِخِلَاف هَذَانِ ضاحكان وَهَذَانِ قائمان
الْعَامِل فِي الْمَعْطُوف وَهَذَا يَسْتَدْعِي الْكَلَام فِي شَيْء اخْتلف فِيهِ أَئِمَّة الْعَرَبيَّة وَهُوَ الْعَامِل فِي الْمَعْطُوف وَفِيه ثَلَاثَة أَقْوَال
أَحدهَا وَهُوَ قَول سِيبَوَيْهٍ وَجُمْهُور الْمُحَقِّقين أَن الْعَامِل فِيهِ الْعَامِل فِي الْمَعْطُوف عَلَيْهِ فاذا قلت ضربت زيدا وعمرا فقد انتصبا جَمِيعًا ب ضربت والحرف العاطف دخل بِمَعْنَاهُ وشرك بَينهمَا وَإِنَّمَا عمل الْفِعْل فيهمَا بِوَاسِطَة حرف الْعَطف
وَحجَّة هَذَا القَوْل اخْتِلَاف الْعَمَل لاخْتِلَاف الْعَامِل الْمُتَقَدّم من رفع وَنصب وخفض وَجزم
এটি বৈধ, ফলে 'ওয়াও' অক্ষরের মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে ক্রিয়াটির সম্পর্ক স্থাপনে অংশীদারিত্ব তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয়টির উদাহরণ হলো বক্তার উক্তি "জায়েদ ও আমর বিবাদে লিপ্ত হয়েছে", যা এমন একটি বিষয় যেখানে ক্রিয়াটি কেবল দুইজনের পক্ষেই হওয়া সম্ভব। সুতরাং এটি একত্রিতকারী হিসেবে কাজ করেছে, কিন্তু প্রতিটি পদের সাথে এককভাবে ক্রিয়াটির সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব ঘটায়নি। কারণ, আপনি যদি বলেন "জায়েদ বিবাদে লিপ্ত হয়েছে এবং আমর বিবাদে লিপ্ত হয়েছে", তবে তা শুদ্ধ হবে না। একইভাবে যদি আপনি বলেন "এই দুইজন হলো জায়েদ ও আমর", তবে এখানে 'ওয়াও' হলো একত্রিতকারী কিন্তু অংশীদারিত্বমূলক নয়। কারণ "এই দুইজন জায়েদ" বা "এই দুইজন আমর" বলা শুদ্ধ নয়; যেহেতু দ্বিবচন সম্পর্কে একবচন দিয়ে সংবাদ দেওয়া যায় না। এটি "এই দুইজন হাসছে" এবং "এই দুইজন দাঁড়িয়ে আছে" বাক্যদ্বয়ের বিপরীত।
মা'তুফ-এর আমেল আর এটি এমন একটি বিষয়ে আলোচনার দাবি রাখে যাতে আরবি ভাষার ইমামগণ মতভেদ করেছেন। বিষয়টি হলো মা'তুফ বা সমন্বিত পদের আমেল বা পরিচালক কে? এ বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে।
প্রথমটি—যা সিবওয়াইহি এবং অধিকাংশ গবেষক মুহাক্কিকগণের অভিমত—হলো: মা'তুফ-এর আমেল হলো সেটিই যা মা'তুফ আলাইহি-এর আমেল। সুতরাং আপনি যখন বলেন "আমি জায়েদ ও আমরকে প্রহার করেছি", তখন তারা উভয়েই 'আমি প্রহার করেছি' ক্রিয়াটির মাধ্যমে নসব প্রাপ্ত হয়েছে। আর অব্যয়টি তার নিজস্ব অর্থের সাথে যুক্ত হয়েছে এবং উভয়ের মাঝে অংশীদারিত্ব তৈরি করেছে। মূলত অব্যয়ের মাধ্যমেই ক্রিয়াটি উভয়ের মধ্যে কাজ করেছে।
এই মতের স্বপক্ষে দলিল হলো পূর্ববর্তী আমেলের পরিবর্তনের কারণে কার্যের পরিবর্তন হওয়া, যথা—রফা, নসব, খফদ এবং জজম।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
وَقَالَ أَبُو عَليّ الْفَارِسِي وَأَبُو الْفَتْح بن جني الْعَامِل فِي الْمَعْطُوف حرف الْعَطف لِأَنَّهُ إِنَّمَا وضع لينوب عَن الْعَامِل ويغني عَن إِعَادَته فَلَمَّا أغنت الْوَاو فِي مثل قَامَ زيد وَعَمْرو عَن إِعَادَة قَامَ مرّة أُخْرَى قَامَت مقَامه فَرفعت مَا بعْدهَا وَكَذَلِكَ فِي النصب والخفض والجزم وَهَذَا اخْتِيَار ابْن السراج أَيْضا
وَاعْترض الْجُمْهُور عَلَيْهِ بِأَن الْحَرْف لَا يعْمل عِنْد الْبَصرِيين حَتَّى يخْتَص وحروف الْعَطف غير مُخْتَصَّة فَلَا تصلح للْعَمَل لِأَنَّهَا تدخل على الْأَسْمَاء وَالْأَفْعَال
وَالْقَوْل الثَّالِث أَن الْعَامِل فِي الْمَعْطُوف فعل مَحْذُوف مُقَدّر بعد حرف
আবু আলী আল-ফারিসি এবং আবু আল-ফাতহ ইবনে জিন্নি বলেছেন যে, অনুগামী পদের (মাতুফ) মধ্যে আমিল (প্রভাবক) হলো আতফের হরফ (অব্যয়); কারণ এটি আমিলের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য এবং আমিলের পুনরাবৃত্তি থেকে অমুখাপেক্ষী করার জন্য গঠন করা হয়েছে। সুতরাং যখন 'যায়িদ এবং আমর দাঁড়িয়েছে' এর মতো বাক্যে 'ওয়াও' অব্যয়টি পুনরায় 'দাঁড়িয়েছে' শব্দটির উল্লেখ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিল, তখন এটি সেই আমিলের স্থলাভিষিক্ত হলো এবং তার পরবর্তী পদকে রফ (পেশ) প্রদান করল। তেমনিভাবে নাসব (যবর), খাফদ (যের) এবং জযমের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। এটি ইবনুস সাররাজেরও অভিমত।
জমহুর (অধিকাংশ আলেম) এর বিরোধিতা করে বলেছেন যে, বসরীগণের মতে কোনো হরফ বা অব্যয় ততক্ষণ পর্যন্ত আমল করতে পারে না যতক্ষণ না সেটি বিশেষায়িত (মুখতাস) হয়। আর আতফের হরফসমূহ বিশেষায়িত নয়, তাই এগুলো আমল করার যোগ্য নয়; কারণ এগুলো বিশেষ্য (ইসম) এবং ক্রিয়া (ফেল) উভয়ের পূর্বেই যুক্ত হতে পারে।
তৃতীয় মতটি হলো, অনুগামী পদের (মাতুফ) ক্ষেত্রে আমিল হলো একটি উহ্য (মাহযুফ) ক্রিয়া যা হরফের পরে বিদ্যমান বলে ধরে নেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
الْعَطف من جنس الْفِعْل الْعَامِل فِي الْمَعْطُوف عَلَيْهِ وحرف الْعَطف دَال على ذَلِك الْمُقدر
وَذكر ابْن يعِيش أَن هَذَا اخْتِيَار الْفَارِسِي وَابْن جني وَهُوَ الْأَصَح عَنْهُمَا وَاخْتَارَهُ أَيْضا أَبُو الْقَاسِم السُّهيْلي فِي نتائج الْفِكر وَاحْتج عَلَيْهِ بِالْقِيَاسِ وَالسَّمَاع أما الْقيَاس فَإِن مَا بعد حرف الْعَطف لَا يعْمل فِيهِ مَا قبله وَلَا يتَعَلَّق بِهِ إِلَّا فِي بَاب الْمَفْعُول مَعَه كَمَا سَيَأْتِي إِن شَاءَ الله تَعَالَى قَالَ وَأَيْضًا فَإِن النَّعْت هُوَ المنعوت فِي الْمَعْنى وَلَيْسَ بَينه وَبَين المنعوت وَاسِطَة وَمَعَ ذَلِك فَلَا يعْمل فِيهِ مَا يعْمل فِي المنعوت فِي أصح الْقَوْلَيْنِ فَكيف بالمعطوف الَّذِي هُوَ غير الْمَعْطُوف عَلَيْهِ وَبَينهمَا وَاسِطَة وَهُوَ الْحَرْف
وَأما السماع فالاتفاق على أَنه يجوز إِظْهَار الْفِعْل ثَانِيًا بعد حرف الْعَطف
'আতফ' (সংযোজন) হচ্ছে সেই ক্রিয়ার সমগোত্রীয় যা 'মাতুফ আলাইহি'-এর (পূর্ববর্তী পদ) উপর আমলকারী, এবং 'আতফ' হরফটি সেই ঊহ্য ক্রিয়ার প্রতি নির্দেশক।
ইবনে ইয়ায়িশ উল্লেখ করেছেন যে, এটি আল-ফারিসি ও ইবনে জিন্নির অভিমত এবং তাঁদের পক্ষ থেকে বর্ণিত সবচেয়ে সঠিক মত। আবু আল-কাসিম আল-সুহাইলি তাঁর 'নাতায়িজ আল-ফিকর' গ্রন্থেও এই মতটি গ্রহণ করেছেন এবং এর সপক্ষে কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা) ও সামা' (ভাষাগত প্রয়োগ)-এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। কিয়াসের বিষয়টি হলো, আতফ হরফের পরবর্তী পদের ওপর তার পূর্ববর্তী পদ আমল করে না এবং তার সাথে সংশ্লিষ্টও হয় না—কেবল 'মাফউল মাআহু'র পরিচ্ছেদ ব্যতীত, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তীতে আলোচিত হবে। তিনি বলেন, তদুপরি সিফাত বা বিশেষণ অর্থের দিক থেকে মাউসুফ বা বিশেষ্যের অভিন্ন সত্তা এবং সিফাত ও মাউসুফের মাঝে কোনো মাধ্যম নেই; তবুও সবচেয়ে সঠিক মতানুসারে মাউসুফের আমলকারী সিফাতের ওপর আমল করে না। তাহলে মাতুফ-এর (সংযোজিত পদ) অবস্থা কেমন হবে, যা মাতুফ আলাইহি থেকে ভিন্ন এবং এই দুইয়ের মাঝে 'হরফ' নামক একটি মাধ্যমও বিদ্যমান?
আর সামা' বা ভাষাগত প্রয়োগের বিষয়টি হলো, এ ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে যে, আতফ হরফের পর দ্বিতীয়বার ক্রিয়াকে প্রকাশ করা বৈধ।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
فَتَقول قَامَ زيد وَقَامَ عَمْرو وَضربت زيدا وَضربت عمرا وَمِنْه قَول الْأنْصَارِيّ
(بل بَنو النجار إِن لنا
… فيهم قَتْلَى وَإِن تره)
وَالْمرَاد قَتْلَى وتره ثمَّ أظهر إِن فَدلَّ على ذَلِك
وَاعْترض الْجُمْهُور على هَذَا القَوْل بِأَن الأَصْل عدم التَّقْدِير إِلَّا أَن يقوم دَلِيل وَلَا دَلِيل هُنَا وَبِأَن حذف الْفِعْل بعد الْحَرْف إِنَّمَا كَانَ لضرب من الإيجاز والاختصار وإعماله يُؤذن بإرادته وَذَلِكَ يُنَاقض الْغَرَض من حذفه
وَقَول السُّهيْلي إِن مَا بعد حرف الْعَطف لَا يعْمل فِيهِ مَا قبله هُوَ عين الْمُتَنَازع فِيهِ فَكيف يَجْعَل دَلِيلا
وَكَذَلِكَ قَوْله إِن الصّفة لَا يعْمل فِيهَا الْعَامِل فِي المنعوت مَمْنُوع بل الْأَظْهر أَنه الْعَامِل فِيهَا هُوَ أولى بِالْعَمَلِ فِيهَا من الْمَعْطُوف وَأما ظُهُور الْفِعْل بعد حرف الْعَطف فَهُوَ فِي حَالَة الظُّهُور غير النَّوْع الأول لِأَن حَالَة ظُهُوره يكون من بَاب عطف الْجُمْلَة على الْجُمْلَة وَالْأول من بَاب عطف الْمُفْرد على الْمُفْرد
وَالْفرق بَين المقامين أَنَّك إِذا قلت قَامَ زيد وَعَمْرو كَانَ ذَلِك مقتضيا تَثْنِيَة الدَّعْوَى بقيامهما لَا على وَجه التَّصْرِيح بذلك وَإِذا قلت قَامَ زيد وَقَامَ عَمْرو كَانَ فِيهِ التَّصْرِيح بتثنية الدَّعْوَى بقيامهما لقُوَّة التَّأْكِيد بِإِعَادَة الْفِعْل ثَانِيًا وَحِينَئِذٍ
সুতরাং আপনি বলবেন "যায়েদ দাঁড়িয়েছে এবং আমর দাঁড়িয়েছে" এবং "আমি যায়েদকে প্রহার করেছি এবং আমি আমরকে প্রহার করেছি"। আনসারী (কবি)-র কথাটিও এরই অন্তর্ভুক্ত—
(বরং বনু নাজ্জার, নিশ্চয়ই আমাদের
… তাদের মাঝে নিহত ব্যক্তি রয়েছে এবং প্রতিশোধের পাওনা রয়েছে)
আর উদ্দেশ্য হলো "নিহত ব্যক্তি ও প্রতিশোধের পাওনা", অতঃপর "নিশ্চয়ই" শব্দটি প্রকাশ করা হয়েছে, যা তার ওপর প্রমাণ বহন করে।
জমহুর (অধিকাংশ ভাষাবিদ) এই মতের ওপর আপত্তি জানিয়েছেন এই বলে যে, মূল নীতি হলো কোনো কিছু উহ্য না ধরা যতক্ষণ না কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়, অথচ এখানে কোনো প্রমাণ নেই। তাছাড়া অব্যয়ের পরে ক্রিয়া বিলুপ্ত করা হয় সংক্ষেপণ ও সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে; আর একে কার্যকর গণ্য করা তার উপস্থিতিরই ইঙ্গিত দেয়, যা তাকে বিলুপ্ত করার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
আর সুহাইলি-র বক্তব্য যে, সংযোজক অব্যয়ের পরবর্তী অংশে তার পূর্ববর্তী অংশ কার্যকর হতে পারে না—এটি তো বিবাদের মূল বিষয়; সুতরাং কীভাবে একে দলিল হিসেবে পেশ করা যেতে পারে?
একইভাবে তার এই কথা যে, বিশেষিত পদের আমেল (প্রভাবক) বিশেষণ পদের ওপর আমল করে না—তা অগ্রহণযোগ্য। বরং স্পষ্টতর মত হলো যে, এটিই সেখানে আমল করার ক্ষেত্রে সংযোজিত পদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য। আর সংযোজক অব্যয়ের পর ক্রিয়া প্রকাশ পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশের অবস্থায় প্রথম প্রকারের মতো নয়; কারণ প্রকাশের অবস্থাটি হলো বাক্যের ওপর বাক্য সংযোজনের পর্যায়ভুক্ত, আর প্রথমটি হলো শব্দের ওপর শব্দ সংযোজনের পর্যায়ভুক্ত।
আর এই দুই অবস্থানের পার্থক্য হলো এই যে, আপনি যখন বলেন "যায়েদ ও আমর দাঁড়িয়েছে", তখন তা তাদের উভয়ের দাঁড়ানোর দাবির দ্বিত্বতা দাবি করে, তবে তা স্পষ্টভাবে নয়। কিন্তু আপনি যখন বলেন "যায়েদ দাঁড়িয়েছে এবং আমর দাঁড়িয়েছে", তখন সেখানে তাদের উভয়ের দাঁড়ানোর দাবির দ্বিত্বতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়; কারণ দ্বিতীয়বার ক্রিয়াটি উল্লেখ করার মাধ্যমে তাকিদ বা নিশ্চয়তা শক্তিশালী হয়েছে। এমতাবস্থায়—
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
فليسا على السوَاء
وَمِمَّا احْتج بِهِ الْأَولونَ على عدم تَقْدِير الْفِعْل مَا تقدم فِي مثل اخْتصم زيد وَعَمْرو فَإِنَّهُ لَا يَصح أَن يكون فِيهِ الْفِعْل مُقَدرا بعد الْوَاو لِأَنَّهُ يفْسد الْمَعْنى كَمَا تقدم وَكَذَلِكَ جَلَست بَين زيد وَعَمْرو
والسهيلي رحمه الله اسْتثْنى هَذَا الْموضع من جملَة أَنْوَاع الْمَعْطُوف وَجعل الْوَاو فِيهِ تجمع بني الاسمين فِي الْعَامِل فكأنك قلت اخْتصم هَذَانِ وَاجْتمعَ الرّجلَانِ إِذا قلت اخْتصم زيد وَعَمْرو وطرد مَا اخْتَارَهُ من تَقْدِيره الْفِعْل بعد الْحَرْف العاطف فِيمَا عدا ذَلِك
فَيُقَال لَهُ الأَصْل عدم الِاخْتِصَاص وَإِذا تبين فِي هَذَا الْموضع أَن الْعَامِل فِي الْمَعْطُوف هُوَ الْعَامِل فِيمَا قبله فَكَذَلِك فِي سَائِر الْمَوَاضِع لِئَلَّا يخْتَلف الحكم فِي الْعَطف وَهُوَ ظَاهر
وَالْمَقْصُود أَن الْوَاو انْفَرَدت عَن جَمِيع حُرُوف الْعَطف بِهَذَا الْموضع فَإِنَّهُ لَا يَصح اخْتصم زيد فعمرو اَوْ ثمَّ عَمْرو وَلَا هَذَا المَال بَين زيد فعمرو وَكَذَلِكَ بَقِيَّة حُرُوف الْعَطف وَلَا يَجِيء فِي هَذَا الْموضع إِلَّا بِالْوَاو
فَأَما قَول امْرِئ الْقَيْس
(بَين الدُّخُول فحومل)
সুতরাং উভয়ই সমান নয়।
পূর্ববর্তীগণ ক্রিয়া উহ্য না থাকার পক্ষে যে দলিল পেশ করেছেন, তা ইতিপূর্বে 'যায়েদ ও আমর বিবাদ করেছে' এর মতো উদাহরণে অতিক্রান্ত হয়েছে। কেননা এখানে 'ওয়াও' অব্যয়ের পরে ক্রিয়া উহ্য থাকা সঠিক নয়; কারণ এতে অর্থের বিকৃতি ঘটে, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুরূপভাবে 'আমি যায়েদ ও আমরের মাঝে বসেছি' বাক্যটিও একইরূপ।
সুহাইলি (রহিমাহুল্লাহ) এই স্থানটিকে অব্যয়যুক্ত পদের (মাতুফ) প্রকারভেদ থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি এখানে 'ওয়াও' অব্যয়টিকে আমেলের (ক্রিয়ার) ক্ষেত্রে উভয় বিশেষ্যের মাঝে সমন্বয়কারী হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সুতরাং যখন আপনি বলেন 'যায়েদ ও আমর বিবাদ করেছে', তখন বিষয়টি যেন এমন যে আপনি বললেন 'এরা দুজন বিবাদ করেছে' বা 'লোক দুজন একত্রিত হয়েছে'। আর এটি ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে তিনি অব্যয় পদের পরে ক্রিয়া উহ্য রাখার যে মতটি গ্রহণ করেছেন, তা সেখানে অব্যাহত রেখেছেন।
এর উত্তরে বলা হয় যে, মূল নীতি হলো বৈশিষ্ট্যহীনতা বা সাধারণ হওয়া। যখন এই বিশেষ স্থানে এটি স্পষ্ট হলো যে, অব্যয়যুক্ত পদের আমেল (ক্রিয়া) তার পূর্ববর্তী পদের আমেলই, তখন অন্যান্য সকল স্থানের বিধানও অনুরূপ হবে, যাতে অব্যয়যুক্ত পদের (আতিফ-মাতুফ) বিধানে কোনো ভিন্নতা সৃষ্টি না হয়। আর বিষয়টি সুস্পষ্ট।
মূল উদ্দেশ্য হলো, 'ওয়াও' এই বিশেষ ক্ষেত্রে সকল অব্যয় (হরফে আতফ) থেকে স্বতন্ত্র। কেননা 'যায়েদ অতঃপর আমর বিবাদ করেছে' কিংবা 'অতঃপর আমর' বলা সঠিক নয়। অনুরূপভাবে 'এই সম্পদ যায়েদ অতঃপর আমরের মাঝে' বলাও শুদ্ধ নয়। অন্যান্য অব্যয়গুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এই জাতীয় প্রয়োগের ক্ষেত্রে 'ওয়াও' ব্যতীত অন্য কোনো অব্যয় ব্যবহৃত হয় না।
আর ইমরুল কায়েসের উক্তিটির বিষয়ে বলা যায়-
(আদ-দুখুল ও হাওমালের মধ্যস্থলে)
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৬২)
فَإِنَّمَا عطف بِالْفَاءِ فَإِن الْكَلَام على حذف مُضَاف تَقْدِيره بَين نواحي الدُّخُول
وَمثله قَول الآخر
(رُبمَا ضَرْبَة بِسيف صقيل
… بَين بصرى وطعنة نجلاء)
يُرِيد بَين نواحي بصرى
قَالَ السُّهيْلي وَمَعْرِفَة هَذِه الْوَاو الجامعة أصل تنبني عَلَيْهِ فروع كَثِيرَة مِنْهَا أَنَّك تَقول رَأَيْت الَّذِي قَامَ زيد وَأَخُوهُ على أَن تكون الْوَاو جَامِعَة وَإِن كَانَت عاطفة لم يجز لِأَن التَّقْدِير قَامَ زيد وَقَامَ أَخُوهُ فخلت الصِّلَة من عَائِد يعود على الْمَوْصُول وَمِنْه قَوْله تَعَالَى {وَجمع الشَّمْس وَالْقَمَر} غلب الْمُذكر على الْمُؤَنَّث لاجتماعهما وَلَو قلت طلع الشَّمْس وَالْقَمَر لقبح ذَلِك إِلَّا أَن تُرِيدُ الْوَاو الجامعة وَأما فِي الْآيَة فَلَا بُد أَن تكون جَامِعَة لِأَن لفظ جمع يدل عَلَيْهَا
কারণ এখানে 'ফা' অক্ষর দ্বারা সংযোজন (আতিফ) করা হয়েছে, কেননা এই বক্তব্যটি একটি উহ্য মুদাফ (সংযোজিত পদ)-এর ওপর নির্ভরশীল, যার অনুমিত রূপ হলো 'প্রবেশের দিকসমূহের মাঝে'।
এর অনুরূপ হলো অন্য এক কবির উক্তি:
(কতই না উজ্জ্বল তলোয়ারের আঘাত
… বসরা এবং একটি প্রশস্ত জখমের মাঝে)
তিনি এর দ্বারা 'বসরার দিকসমূহের মাঝে' বুঝিয়েছেন।
সুহায়লি বলেন, এই 'ওয়াও জামিআ' (সমষ্টিবাচক ওয়াও) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এমন এক মূলনীতি যার ওপর ভিত্তি করে অনেক শাখা-উপশাখা তৈরি হয়। তার মধ্যে একটি হলো আপনার এই উক্তি— "আমি তাকে দেখেছি যার জন্য জায়েদ এবং তার ভাই দাঁড়িয়েছে", যেখানে 'ওয়াও' অক্ষরটিকে সমষ্টিবাচক ধরা হয়েছে। যদি এটি কেবল সংযোজক (আতিফা) হতো, তবে তা বৈধ হতো না; কারণ তখন এর অনুমিত রূপ দাঁড়াত— "জায়েদ দাঁড়িয়েছে এবং তার ভাই দাঁড়িয়েছে", যার ফলে সিলাহ (সম্পর্কিত বাক্য) অংশটি মাউসুল (সংবন্ধবাচক পদ)-এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম (আইদ) থেকে শূন্য হয়ে যেত। আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং সূর্য ও চন্দ্রকে একত্রিত করা হবে}। এখানে একত্রে অবস্থানের কারণে স্ত্রীলিঙ্গের ওপর পুরুষলিঙ্গকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি বলেন, "সূর্য ও চন্দ্র উদিত হয়েছে" (পুরুষবাচক ক্রিয়া যোগে), তবে তা অশোভন হবে, যদি না আপনি 'ওয়াও জামিআ' উদ্দেশ্য করেন। আর আয়াতের ক্ষেত্রে এটি অবশ্যই সমষ্টিবাচক হতে হবে, কারণ 'একত্রিত করা' শব্দটি এরই প্রমাণ দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
7 -
فصل الْغَرَض من تكْرَار الْعَامِل فِي الْعَطف تقدم الْفرق بَين قَامَ زيد وَعَمْرو وَقَامَ زيد وَقَامَ عَمْرو وَقد يكون تكْرَار الْفِعْل لبَيَان أَن قيامهما لم يَقع فِي حَالَة وَاحِدَة أَو وَقت وَاحِد كَمَا ذهب إِلَيْهِ سِيبَوَيْهٍ فِي حَالَة النَّفْي فَإِن الْوَاو اخْتصّت عِنْده دون حُرُوف الْعَطف فِي حَالَة النَّفْي بخاصية أُخْرَى غير مَا تقدم فِي اخْتصم زيد وَعَمْرو وَنَحْوه وَذَلِكَ أَن الْكَلَام يكون بعد دُخُول حرف النَّفْي عَلَيْهِ كحاله قبل دُخُوله
فَإِذا قلت قَامَ زيد فعمرو ومررت بزيد ثمَّ عَمْرو كَانَ النَّفْي مَا قَامَ زيد فعمرو وَمَا مَرَرْت بزيد ثمَّ عَمْرو وَكَذَلِكَ الْبَقِيَّة
قَالَ سِيبَوَيْهٍ إِلَّا الْوَاو فَإِنَّهُ إِذا قَالَ الْقَائِل مَرَرْت بزيد وَعَمْرو فإمَّا أَن يكون بني الْكَلَام على فعل وَاحِد أَو على فعلين فَإِن كَانَ الْكَلَام مَبْنِيا على فعل وَاحِد أَي يكون مروره بهما وَاحِدًا فَتَقول فِي النَّفْي مَا مَرَرْت بزيد وَعَمْرو
وَإِن كَانَ الْكَلَام مَبْنِيا على فعلين أَي يكون مر بزيد على حِدته وبعمرو على حِدته لزم تَكْرِير الْعَامِل فَتَقول مَا مَرَرْت بزيد وَمَا مَرَرْت بِعَمْرو وليزول اللّبْس لِأَنَّهُ إِذا لم يُكَرر الْعَامِل احْتمل أَنه لم يمر بهما وَلَا بِوَاحِد مِنْهُمَا وَاحْتمل أَن يُرِيد أَنه لم يمر بهما مَعًا بل مر بِأَحَدِهِمَا فَلَمَّا كَانَ النَّفْي من غير
৭ -
পরিচ্ছেদ: আতফ (সংযোজন) এর ক্ষেত্রে আমিল (governor) পুনরাবৃত্তির উদ্দেশ্য ‘যায়েদ ও আমর দাঁড়িয়েছে’ এবং ‘যায়েদ দাঁড়িয়েছে ও আমর দাঁড়িয়েছে’ এর মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। কখনো ক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি এই বিষয় স্পষ্ট করার জন্য হয় যে, তাদের উভয়ের দাঁড়ানো একই অবস্থায় বা একই সময়ে সংঘটিত হয়নি, যেমনটি সিবওয়াই নাস্তিবোধক (negation) অবস্থার ক্ষেত্রে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কেননা তাঁর নিকট নাস্তিবোধক অবস্থায় ‘ওয়াও’ (এবং) বর্ণটি অন্যান্য আতফ বা সংযোজক হরফের তুলনায় একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে বিশেষিত, যা ‘যায়েদ ও আমর বিবাদ করেছে’ এবং এই জাতীয় উদাহরণসমূহের ক্ষেত্রে পূর্বে বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের অতিরিক্ত। আর তা এই জন্য যে, নাস্তিবোধক অব্যয় প্রবেশের পর বাক্যটি তেমনই থাকে যেমনটি তা উক্ত অব্যয় প্রবেশের পূর্বে ছিল।
অতএব আপনি যখন বলেন, ‘যায়েদ দাঁড়িয়েছে অতঃপর আমর’ এবং ‘আমি যায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি তারপর আমরের পাশ দিয়ে’, তখন এর নাস্তিবোধক রূপ হবে ‘যায়েদ দাঁড়ায়নি অতঃপর আমর’ এবং ‘আমি যায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করিনি তারপর আমরের পাশ দিয়ে’, অনুরূপভাবে অন্যান্যগুলোও।
সিবওয়াই বলেন: তবে ‘ওয়াও’ (এবং) এর বিষয়টি ভিন্ন। কেননা যখন বক্তা বলে, ‘আমি যায়েদ ও আমরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’, তখন বাক্যটি হয় একটি ক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে অথবা দুটি ক্রিয়ার ওপর। যদি বাক্যটি একটি ক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে হয়, অর্থাৎ তাদের উভয়ের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার কাজ যদি একই সাথে হয়ে থাকে, তবে নাস্তিবোধক বাক্যে আপনি বলবেন: ‘আমি যায়েদ ও আমরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করিনি’।
আর যদি বাক্যটি দুটি ক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে হয়, অর্থাৎ সে যায়েদের পাশ দিয়ে আলাদাভাবে এবং আমরের পাশ দিয়ে আলাদাভাবে অতিক্রম করে থাকে, তবে সেক্ষেত্রে আমিল (governor) পুনরাবৃত্তি করা আবশ্যক। এমতাবস্থায় আপনি বলবেন: ‘আমি যায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করিনি এবং আমি আমরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করিনি’। এটি করা হয় অস্পষ্টতা দূর করার জন্য; কারণ যদি আমিলের পুনরাবৃত্তি করা না হয়, তবে এই সম্ভাবনা থাকে যে সে তাদের উভয়ের এবং তাদের কোনো একজনের পাশ দিয়েও অতিক্রম করেনি, আবার এই সম্ভাবনাও থাকে যে সে বুঝাতে চাচ্ছে যে সে তাদের উভয়ের পাশ দিয়ে একত্রে অতিক্রম করেনি বরং তাদের কোনো একজনের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছে। যেহেতু নাস্তিবোধক বিষয়টি অন্য কোনো...
(খণ্ড: ১)
আল-ফুসুলুল মুফিদাহ ফিল ওয়াউল মাযীদাহ
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
إِعَادَة الْعَامِل مسببا إِلَى ذَلِك لم يجز حذفه وَلم يكن بُد من إِعَادَته
وَقد خَالفه الْمَازِني فِي ذَلِك وَقَالَ لَا يلْزم تَكْرِير الْعَامِل كَمَا فِي بَقِيَّة حُرُوف الْعَطف وَلِأَن حرف النَّفْي لَا يُغير مَا بعده عَمَّا كَانَ عَلَيْهِ قبل دُخُوله
وَضعف هَذَا ظَاهر مِمَّا ذَكرْنَاهُ من حُصُول اللّبْس وَأَيْضًا فقد وجد النَّفْي مغيرا لما دخل عَلَيْهِ عَن حَاله قبل ذَلِك أَلا ترى أَنَّك تَقول فِي نفي سيفعل لن يفعل وَفِي نفي قد فعل لما يفعل وَفِي نفي فعل لم يفعل فَإِذا كَانُوا يغيرون مَا بعد حرف النَّفْي عَمَّا كَانَ عَلَيْهِ مَعَ أَنه لم تدع إِلَيْهِ ضَرُورَة فالأحرى أَن يجوز ذَلِك إِذا دعت إِلَيْهِ ضَرُورَة وَهُوَ خوف اللّبْس
وَذكر ابْن مَالك أَنه لَا يتَعَيَّن إِعَادَة الْعَامِل فِي النَّفْي عِنْد بِنَاء الْكَلَام على فعلين بل يَكْتَفِي بِدُخُول لَا بَين الْوَاو وَمَا بعْدهَا فَتَقول مَا مَرَرْت بزيد وَلَا عَمْرو وَيَزُول بذلك اللّبْس الْمَحْذُور كَمَا يَزُول بتكرار الْعَامِل
আমেল পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তা বিলুপ্ত করা বৈধ নয় এবং তা পুনরায় উল্লেখ করা অপরিহার্য।
এ বিষয়ে আল-মাজিনী তার বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন যে, অবশিষ্ট অন্যান্য সংযোজক অব্যয়ের ন্যায় এখানেও আমেল-এর পুনরাবৃত্তি আবশ্যক নয়। কারণ, না-বোধক অব্যয় তার পরবর্তী শব্দের পূর্বাবস্থাকে পরিবর্তন করে না।
এই মতের দুর্বলতা আমাদের উল্লিখিত সংশয় সৃষ্টির সম্ভাবনা থেকেই স্পষ্ট। এছাড়া, না-বোধক অব্যয় যার ওপর প্রবেশ করে, তার পূর্বের অবস্থাকে পরিবর্তন করে দেয়—এমনটিও পরিলক্ষিত হয়েছে। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, ‘সে শীঘ্রই করবে’-এর নেতিবাচক রূপে আপনি বলেন ‘সে কখনোই করবে না’, ‘সে করেছে’-এর নেতিবাচক রূপে ‘সে এখনও করেনি’ এবং ‘সে করল’-এর নেতিবাচক রূপে ‘সে করেনি’ বলেন? সুতরাং যখন তারা কোনো বিশেষ আবশ্যকতা ছাড়াই না-বোধক হরফের পরবর্তী শব্দের অবস্থা পরিবর্তন করে থাকে, তবে সংশয় সৃষ্টির আশঙ্কার ন্যায় গুরুতর প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আমেল পুনরায় উল্লেখ করা আরও বেশি যুক্তিসঙ্গত।
ইবনে মালিক উল্লেখ করেছেন যে, বাক্য যখন দুটি ক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়, তখন নেতিবাচক অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে আমেল-এর পুনরাবৃত্তি আবশ্যক নয়; বরং ‘এবং’ ও তার পরবর্তী শব্দের মাঝে কেবল ‘না’ যুক্ত করাই যথেষ্ট। যেমন আপনি বলবেন, ‘আমি জায়েদের পাশ দিয়েও অতিক্রম করিনি এবং আমরের পাশ দিয়েও না’। এর মাধ্যমে উদ্ভূত সংশয়টি দূর হয়ে যায়, যেমনটি আমেল পুনরায় উল্লেখ করার মাধ্যমে দূর হতো।