(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: -)
العدد في اللغة   (ابن سيده)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: كتاب العدد في اللغة

المؤلف: أبو الحسن علي بن إسماعيل بن سيده المرسي (ت 458هـ)

المحقق: عبد الله بن الحسين الناصر / عدنان بن محمد الظاهر

الطبعة: الأولى، 1413هـ 1993م

عدد الصفحات: 80

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আদাদ ফিল লুগাহ   (ইবনে সিদাহ)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: কিতাবুল আদাদ ফিল লুগাহ

লেখক: আবু আল-হাসান আলী বিন ইসমাইল বিন সিদাহ আল-মুরসি (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি)

মুহাক্কিক: আবদুল্লাহ বিন আল-হুসাইন আল-নাসির / আদনান বিন মুহাম্মদ আল-জাহির

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৩ হিজরি ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

قَالَ أَبُو الْحسن عَليّ بن إِسْمَاعِيل بن سَيّده رحمه الله فِي بَاب الْعدَد: قَالَ صَاحب الْعين: الْعد: إحصاء الشَّيْء، عددته أعده عدا وتعدادا، وعددته. وَالْعدَد: مِقْدَار مَا يعد، وَالْجمع أعداد وَكَذَلِكَ الْعدة. وَقيل: الْعدة مصدر كالعد. وَالْعدة: الْجَمَاعَة قلت أَو كثرت.

والعديد: الْكَثْرَة. وَهَذِه الدَّرَاهِم عديد هَذِه: إِذا كَانَت فِي الْعدة مثلهَا. وهم عديد الْحَصَى وَالثَّرَى. أَي بِعَدَد هذَيْن الكثيرين. وهم يتعادون ويتعددون على كَذَا: أَي يزِيدُونَ عَلَيْهِ. أَبُو عبيد: عددتك وعددت لَك. غَيره: عادهم الشَّيْء: إِذا تساهموه بَينهم. وهم يتعادون: إِذا اشْتَركُوا فِيمَا يُعَاد بَعضهم بَعْضًا من مَكَارِم، أَو غير ذَلِك من الْأَشْيَاء كلهَا وَقَالَ أَبُو عبيد فِي قَول لبيد:

(تطير عدائد الأشراك … )

العدائد: من يعاده فِي الْمِيرَاث.

غَيره: عدادك فِي بني فلَان: أَي تعد مَعَهم فِي ديوانهم.

وَمَا أَلْقَاهُ إِلَّا عدَّة الثريا الْقَمَر، وَإِلَّا عداد الثريا الْقَمَر، وعداد الثريا من الْقَمَر: أَي إِلَّا مرّة فِي السّنة وَقيل: هِيَ لَيْلَة من الشَّهْر تلتقي فِيهَا الثريا وَالْقَمَر. وَبِه مرض عداد مِنْهُ،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আবু আল-হাসান আলী ইবনে ইসমাইল ইবনে সিদাহ (রহ.) সংখ্যা (العدد) অধ্যায়ে বলেছেন: কিতাব আল-আইন-এর লেখক বলেছেন: গণনা করা (العد) হলো কোনো বস্তুর সংখ্যা নিরূপণ করা (إحصاء الشَّيْء), আমি এটি গণনা করেছি, আমি এটি গণনা করি, আমি গণনা করলাম। আর 'আল-আদাদ' (العدد) হলো যা গণনা করা হয় তার পরিমাণ, এর বহুবচন হলো 'আদাদ' (أعداد) এবং একইভাবে 'ইদ্দাহ' (العدة)। বলা হয়েছে: 'ইদ্দাহ' (العدة) হলো 'আদ্দ' (العد)-এর ন্যায় একটি ক্রিয়ামূল (مصدر)। আর 'ইদ্দাহ' (العدة) হলো একটি দল বা গোষ্ঠী, তা পরিমাণে অল্প হোক বা অধিক।

'আল-আদিদ' (العديد) অর্থ আধিক্য। আর 'এই দিরহামগুলো ওইগুলোর সমপরিমাণ (عديد هَذِه)': যখন তা সংখ্যার দিক থেকে তার অনুরূপ হয়। তারা কণা ও মাটির সমসংখ্যক (عديد الْحَصَى وَالثَّرَى)। অর্থাৎ এই দুই অগণিত বস্তুর সংখ্যার ন্যায়। তারা অমুক বিষয়ের ওপর 'ইয়াতা'আদুন' (يتعادون) এবং 'ইয়াতাআদ্দাদুন' (يتعددون): অর্থাৎ তারা এর ওপর সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। আবু উবাইদ বলেছেন: আমি তোমাকে গণনা করেছি এবং আমি তোমার জন্য গণনা করেছি। অন্যজন বলেছেন: কোনো বিষয় তাদের মধ্যে আবর্তিত হওয়া (عادهم الشَّيْء): যখন তারা নিজেদের মধ্যে তা বণ্টন করে নেয়। তারা 'ইয়াতা'আদুন' (يتعادون): যখন তারা পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব বা অন্য যে কোনো বিষয়ে একে অপরের অংশীদার হয় যা তাদের মধ্যে আবর্তিত হয়। আবু উবাইদ লাবিদের উক্তি প্রসঙ্গে বলেছেন:

(তাতীরু আদাইদুল আশরাক … )

'আল-আদাইদ' (العدائد) বলতে তাকে বোঝায় যে উত্তরাধিকার (الميراث) পাওয়ার ক্ষেত্রে অংশীদার হয়।

অন্যজন বলেছেন: অমুক গোত্রে তোমার অন্তর্ভুক্তি (عدادك): অর্থাৎ তুমি তাদের নথিপত্রে (ديوان) তাদের সাথে গণনার অন্তর্ভুক্ত।

আমি তার সাথে বছরে কেবল একবার ছাড়া সাক্ষাৎ করি না (إِلَّا عدَّة الثريا الْقَمَر), অথবা (إِلَّا عداد الثريا الْقَمَر), অথবা (عداد الثريا من الْقَمَر): অর্থাৎ বছরে মাত্র একবার। বলা হয়েছে: এটি মাসের এমন একটি রাত যখন সুরাইয়া নক্ষত্র ও চাঁদের মিলন ঘটে। এটি এমন এক ব্যাধি যা নির্দিষ্ট সময় পর পর ফিরে আসে।
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وَقد قَدمته.

وَقَالَ صَاحب الْعين الْحساب: عدك الْأَشْيَاء، حسبت الشَّيْء أَحْسبهُ حسابا وحسابة وحسبة وحسبانا.

وحسبانك على الله: أَي حِسَابك. وَقَوله عز وجل: {يرْزق من يَشَاء بِغَيْر حِسَاب} . اخْتلفت فِي تَفْسِيره، فَقَالَ بَعضهم: بِغَيْر تَقْدِير على أحد بِالنُّقْصَانِ. وَقَالَ بَعضهم: بِغَيْر محاسبة، مَا يخَاف أحدا أَن يحاسبه عَلَيْهِ.

وَرجل حاسب من قوم حسب وحساب.

غَيره: الْوَاحِد: أول الْعدَد، وَكَذَلِكَ الوحد والأحد.

قَالَ أَبُو عَليّ: اعْلَم أَن قَوْلهم: وَاحِد جرى فِي كَلَامهم على ضَرْبَيْنِ: أَحدهمَا أَن يكون اسْما. وَالْآخر أَن يكون وَصفا. فالاسم الَّذِي لَيْسَ بِصفة قَوْلهم: وَاحِد الْمُسْتَعْمل فِي الْعدَد، نَحْو وَاحِد، اثْنَان، ثَلَاثَة، فَهَذَا اسْم لَيْسَ بِوَصْف.

كَمَا أَن سَائِر أَسمَاء الْعدَد كَذَلِك. فَلَا يجْرِي شَيْء مِنْهَا على مَوْصُوف، على حد جري الصّفة عَلَيْهِ. وَأما كَونه صفة، نَحْو قَوْله تَعَالَى: {إِنَّمَا يُوحى إِلَيّ أَنما إِلَهكُم إِلَه وَاحِد} ، وَلما جرى على الْمُؤَنَّث لحقته عَلامَة التَّأْنِيث، فَقَالَ تَعَالَى: {إِلَّا كَنَفس وَاحِدَة} ، كقائم وقائمة.

وَمن ذَلِك قَوْله:
আমি এটি ইতিপূর্বে উপস্থাপন করেছি।

‘আল-আইন’ গ্রন্থের রচয়িতা বলেন: হিসাব হলো আপনার বস্তুসমূহ গণনা করা। আমি কোনো কিছু গণনা করেছি, আমি তা গণনা করি—হিসাবান, হিসাবাতান, হিসবাতান এবং হুসবানান।

আর আল্লাহর ওপর আপনার ‘হুসবান’ অর্থ হলো আপনার হিসাব। মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি যাকে ইচ্ছা হিসাব ছাড়াই রিজিক দান করেন}। এর ব্যাখ্যায় মতভেদ রয়েছে; কেউ কেউ বলেছেন: কারো প্রতি ঘাটতি করার কোনো পরিমাপ ছাড়াই। আবার কেউ কেউ বলেছেন: কোনো হিসাব গ্রহণ ছাড়াই, তিনি কাউকে ভয় করেন না যে কেউ তাঁর নিকট হিসাব চাইবে।

আর গণনাকারী ব্যক্তি ওই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত যাদের বহুবচনে ‘হাসাব’ বা ‘হুসসাব’ বলা হয়।

অন্যান্যরা বলেন: এক (واحد) হলো গণনার শুরু, তেমনিভাবে ‘ওয়াহদ’ এবং একক (الأحد)।

আবু আলী বলেন: জেনে রাখুন যে, তাদের বক্তব্যে ‘এক’ (واحد) শব্দটি দুইভাবে ব্যবহৃত হয়: একটি হলো বিশেষ্য হিসেবে এবং অন্যটি বিশেষণ হিসেবে। যে বিশেষ্যটি বিশেষণ নয়, তা হলো গণনায় ব্যবহৃত তাদের শব্দ ‘এক’ (واحد); যেমন—এক, দুই, তিন। এটি একটি বিশেষ্য, কোনো বিশেষণ নয়।

যেমনটি অন্যান্য সকল সংখ্যাবাচক শব্দের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এগুলোর কোনোটিই কোনো বিশেষিত বস্তুর ওপর বিশেষণ হওয়ার নিয়মে প্রযুক্ত হয় না। তবে বিশেষণ হিসেবে এর ব্যবহার হলো মহান আল্লাহর বাণীর মতো: {নিশ্চয়ই আমার প্রতি ওহী করা হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক (واحد) ইলাহ}। আর যখন এটি স্ত্রীলিঙ্গ শব্দের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তখন তাতে স্ত্রীলিঙ্গবাচক চিহ্ন যুক্ত হয়; যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {কেবল একটি (واحدة) প্রাণের মতো}—যেমন ‘কায়েম’ ও ‘কায়েমাহ’।

আর এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর কথা:
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
(فقد رجعُوا كحي واحدينا … )

فَأَما تكسيرهم لَهُ على فعلان فِي قَوْله:

(أما النَّهَار فأحدان الرِّجَال لَهُ … صيد ومجترئ بِاللَّيْلِ هماس)

فَلِأَنَّهُ وَإِن كَانَ صفة، قد يسْتَعْمل اسْتِعْمَال الْأَسْمَاء، فكسروه على فعلان، كَمَا قَالُوا: [رَاع ورعيان، فجعلوه كحاجر وحجران، كَمَا جعلُوا] الأباطح بِمَنْزِلَة [الأفاكل] والأرامل.

وَقد استعملوا أحدا بِمَعْنى وَاحِد الَّذِي هُوَ اسْم، وَذَلِكَ قَوْلهم: أحد وَعِشْرُونَ.

وَفِي التَّنْزِيل: {قل هُوَ الله أحد} .

وَقد أنثوه على غير بنائِهِ، فَقَالُوا: إِحْدَى وَعِشْرُونَ، وَإِحْدَى عشرَة، فاستعملوه مضموما إِلَى غَيره.

قَالَ أَبُو عمر: وَلَا يَقُولُونَ: رَأَيْت إِحْدَى، وَلَا جَاءَنِي إِحْدَى حَتَّى يضم إِلَى غَيره.

وَقَالَ أَحْمد بن يحيى: وَاحِد، وَأحد، ووحد بِمَعْنى. وَالْحَادِي فِي الْحَادِي عشر كَأَنَّهُ
(তারা যেন একটি গোত্রের মতো ফিরে এলো … )

আর শব্দটিকে 'ফু'লান' (فعلان) ছাঁচে অনিয়মিত বহুবচন (جمع التكسير) করার বিষয়টি তাঁর এই উক্তি থেকে প্রতীয়মান হয়:

(দিনের বেলা পুরুষরা তার জন্য পৃথক পৃথক (أحدان) ... শিকারি এবং রাতে বিচরণকারী শক্তিশালী সাহসী)

কারণ এটি গুণবাচক শব্দ (صفة) হওয়া সত্ত্বেও কখনও কখনও বিশেষ্য (اسم) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই তারা একে 'ফু'লান' (فعلان) ওজনে বহুবচন করেছে, যেমন তারা বলে থাকে: [রাখাল ও রাখালগণ; এভাবে তারা একে 'হাজির' ও 'হিজরান' এর মতো গণ্য করেছে, যেমন তারা] উপত্যকাসমূহ শব্দটিকে কম্পনসমূহ এবং বিধবাসমূহ এর সমপর্যায়ে গণ্য করেছে।

তারা 'আহাদ' (أحد) শব্দটিকে 'এক' (واحد) এর অর্থে ব্যবহার করেছে যা একটি বিশেষ্য (اسم); যেমন তাদের উক্তি: একুশ।

মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এসেছে: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, এক (أحد)}।

তারা এর মূল কাঠামোর বাইরে গিয়েও একে স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث) হিসেবে ব্যবহার করেছে, যেমন তারা বলে: একুশ এবং এগারো। অর্থাৎ তারা একে অন্য শব্দের সাথে যুক্ত করে ব্যবহার করেছে।

আবু আমর বলেন: তারা 'আমি একজনকে দেখেছি' কিংবা 'আমার নিকট একজন এসেছে' বলে না, যতক্ষণ না একে অন্য শব্দের সাথে যুক্ত করা হয়।

আহমদ ইবনে ইয়াহইয়া বলেন: 'এক' (واحد), 'এক' (أحد) এবং 'এক' (وحد) সমার্থক। আর 'হাদি' (الحادي) শব্দটি 'একাদশ' এর ক্ষেত্রে যেন...
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
مقلوب الْفَاء إِلَى مَوضِع اللَّام. وَإِذا أجري هَذَا الِاسْم على الْقَدِيم سُبْحَانَهُ جَازَ أَن يكون الَّذِي [هُوَ وصف كالعالم والقادر، وَجَاز أَن يكون الَّذِي] هُوَ اسْم كَقَوْلِنَا: شَيْء. وَيُقَوِّي الأول قَوْله تَعَالَى: {وإلهكم إِلَه وَاحِد} . وَقَوله:

(يحمي الصريمة أحدان الرِّجَال لَهُ … صيد ومستمع بِاللَّيْلِ هماس)

قَالَ ابْن جني: همزَة أحدان بدل من وَاو لِأَنَّهُ جمع وَاحِد الَّذِي بِمَنْزِلَة من لَا نَظِير لَهُ، وَلَيْسَ أحدان جمع وَاحِد الَّذِي يُرَاد بِهِ الْعدَد لِأَن ذَلِك لَا يثنى وَلَا يجمع، أَلا ترى أَنهم قد استغنوا عَن تثنيته، وَعَن جماعته بِثَلَاثَة وَقد قَالَ الشَّاعِر:

(وَقد رجعُوا كحي واحدينا)

)

أَي منفردين. وَفَاء أحدان وَاو. فَأَما قَوْلنَا: مَا فِي الدَّار أحد فهمزته عندنَا أصل وَلَيْسَت بِبَدَل، أَلا ترى أَن مَعْنَاهُ الْعُمُوم وَالْكَثْرَة، وَلَيْسَ فِي معنى الِانْفِرَاد بِشَيْء، بل هُوَ بضده. صَاحب الْعين: الْوحدَة: الِانْفِرَاد. وَرجل وحيد. ابْن السّكيت: وحد: فَرد، ووحد فَرد. أَبُو زيد: وَقد أوحدته. سِيبَوَيْهٍ: جاؤوا أحاد أحاد وموحد موحد معدول عَن قَوْلهم: وَاحِدًا وَاحِدًا، وَسَيَأْتِي ذكر هَذَا الضَّرْب من المعدول فِي هَذَا الْفَصْل الَّذِي نَحن بسبيله وَقَالَ: مَرَرْت بِهِ وَحده مصدر لَا يثنى وَلَا يجمع، وَلَا يُغير عَن الْمصدر، إِلَّا أَنهم قد قَالُوا: نَسِيج وَحده، وجحيش وَحده. وَزَاد صَاحب الْعين: قريع وَحده للمصيب الرَّأْي.

أَبُو زيد: حِدة الشَّيْء، توحده يُقَال: هَذَا الْأَمر على حِدته، وعَلى وَحده. وَقُلْنَا هَذَا
এটি 'ফা' বর্ণটিকে 'লাম' বর্ণের স্থানে স্থানান্তরের মাধ্যমে গঠিত। যখন এই শব্দটি মহান চিরন্তন (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) আল্লাহর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়, তখন তা গুণবাচক বিশেষণ [যেমন 'আল-আলিম' (সর্বজ্ঞ) ও 'আল-কাদির' (সর্বশক্তিমান) হওয়া বৈধ, আবার এটি] বিশেষ্য হওয়াও বৈধ, যেমন আমাদের উক্তি: 'শাই' (বস্তু)। প্রথম মতটিকে মহান আল্লাহর এই বাণী শক্তিশালী করে: {আর তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ}। এবং কবির উক্তি:

(মরুভূমির সংরক্ষিত চারণভূমিকে একাকী বীর পুরুষরা রক্ষা করে... রাতের বেলা শিকারী ও ফিসফিস করে শ্রবণকারী তাদের জন্য বিদ্যমান।)

ইবনে জিন্নি বলেন: 'আহদান' এর হামজাটি 'ওয়াও' এর স্থলাভিষিক্ত, কারণ এটি 'ওয়াহিদ' এর বহুবচন; যা এমন সত্তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার কোনো নজির বা সমকক্ষ নেই। আর 'আহদান' সেই 'ওয়াহিদ' এর বহুবচন নয় যা দ্বারা সংখ্যা বোঝানো হয়, কারণ সেই 'ওয়াহিদ' এর দ্বিবচন বা বহুবচন হয় না। আপনি কি দেখছেন না যে, তারা এর দ্বিবচন এবং বহুবচনের প্রয়োজনীয়তা 'সালাসা' (তিন) এর মাধ্যমে মিটিয়েছে? জনৈক কবি বলেছেন:

(আর তারা ফিরেছে যেন তারা একটি গোত্রেরই অন্তর্ভুক্ত।)

)

অর্থাৎ পৃথক পৃথকভাবে। আর 'আহদান' এর 'ফা' বর্ণটি হলো 'ওয়াও'। আর আমাদের উক্তি: "বাড়িতে কেউ (আহাদ) নেই", এখানে হামজাটি আমাদের নিকট মূল বর্ণ, এটি কোনো পরিবর্তিত বর্ণ নয়। আপনি কি দেখছেন না যে, এর অর্থ ব্যাপকতা এবং আধিক্য প্রকাশ করে? এটি কোনো এককত্বের অর্থ প্রদান করে না, বরং এটি তার বিপরীত। 'কিতাবুল আইন' এর রচয়িতা বলেন: 'আল-ওয়াহদাহ' অর্থ একাকীত্ব। আর 'ওয়াহিদ' একজন একাকী ব্যক্তি। ইবনে সিক্কিত বলেন: 'ওয়াহদ' অর্থ একক, এবং 'উহদ' অর্থ একক। আবু জায়েদ বলেন: আমি তাকে একাকী করেছি। সিবওয়াইহি বলেন: তারা 'আহাদা আহাদা' এবং 'মুওয়াহহাদা মুওয়াহহাদা' হিসেবে এসেছে, যা তাদের 'ওয়াহিদান ওয়াহিদান' (একে একে) বলার পরিবর্তিত রূপ। অচিরেই এই পরিচ্ছেদে এই ধরণের পরিবর্তিত রূপের আলোচনা আসবে যা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। তিনি আরও বলেন: "আমি তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম যখন সে একাকী ছিল (ওয়াহদাহু)", এখানে 'ওয়াহদা' শব্দটি একটি ক্রিয়ামূল যা দ্বিবচন বা বহুবচন হয় না এবং এর রূপান্তর ঘটে না; তবে আরবরা 'নাসিজু ওয়াহদিহি' (অনন্য) এবং 'জুহাইশু ওয়াহদিহি' (একাকী ব্যক্তি) কথাটি ব্যবহার করে থাকে। 'কিতাবুল আইন' এর রচয়িতা আরও যোগ করেছেন: সঠিক মতদানকারীর ক্ষেত্রে 'কারি'উ ওয়াহদিহি' বলা হয়।

আবু জায়েদ বলেন: কোনো বস্তুর 'হিদাহ' (এককত্ব) হলো তার একাকী হয়ে যাওয়া। বলা হয়ে থাকে: "এই বিষয়টি স্বতন্ত্রভাবে অথবা আলাদাভাবে।" আর আমরা এটাই বলেছি।
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الْأَمر وحدينا. وقالتاه وحديهما. صَاحب الْعين: الوحدانية لله عز وجل. والتوحيد: الْإِقْرَار بهَا. والميحاد: جُزْء كالمعشار.

ابْن السّكيت: لَا وَاحِد لَهُ: أَي لَا نَظِير، وَقد تقدم عَامَّة كل ذَلِك.

وحد الشَّيْء صَار على حِدته. وَالرجل الوحيد: لَا أحد لَهُ يؤنسه وحد وحادة ووحدة ووحدا، ووحد وتوحد.

قَالَ أَبُو عَليّ: وَقَوْلهمْ: اثْنَان، مَحْذُوف مَوضِع اللَّام، كَمَا أَن قَوْلهم: ابْنَانِ كَذَلِك. وللمؤنث اثْنَتَانِ، كَمَا تَقول: ابنتان، وَإِن شِئْت: [قلت: ثِنْتَانِ، كَمَا تَقول] : بنتان.

غير وَاحِد: ثَلَاثَة وَأَرْبَعَة وَخَمْسَة وَسِتَّة وَسَبْعَة فَأَما الْأُسْبُوع والسبوع فسبعة أَيَّام لَا تقع على غير هَذَا النَّوْع، وَثَمَانِية وَتِسْعَة وَعشرَة. وسنبين تصاريف هَذِه الْأَسْمَاء بِالْفِعْلِ، وَأَسْمَاء الفاعلين.

وَمَا بعد الِاثْنَيْنِ من أَسمَاء الْعدَد من ثَلَاثَة إِلَى عشرَة تلْحقهُ هَاء التَّأْنِيث إِذا كَانَ للمذكر لِأَن أصل الْعدَد وأوله بِالْهَاءِ، والمذكر أول فَحَمَلُوهُ على مَا يُحَافِظُونَ عَلَيْهِ فِي كَلَامهم من المشاكلة. وتنزع مِنْهَا الْهَاء إِذا كَانَ للمؤنث فَيجْرِي الِاسْم مجْرى عنَاق وعقاب، وَنَحْوهمَا من الْمُؤَنَّث الَّذِي لَا عَلامَة فِيهِ للتأنيث، فَتَقول: ثَلَاثَة رجال، وَخَمْسَة حمير. وَخمْس نسَاء، وَسبع آتن، وثماني أعقب، تثبت الْيَاء فِي ثَمَانِي فِي اللَّفْظ وَالْكتاب لِأَن التَّنْوِين لَا يلْحق مَعَ الْإِضَافَة، وَتسقط الْيَاء لاجتماعها مَعَه، كَمَا تسْقط من: هَذَا قَاض فَاعْلَم. فَهَذَا عقد أبي عَليّ فِي كِتَابه الموسوم بالإيضاح.

قَالَ أَبُو سعيد: اعْلَم أَن أدنى الْعدَد الَّذِي يُضَاف إِلَى أدنى الجموع مَا كَانَ من ثَلَاثَة إِلَى عشرَة، نَحْو ثَلَاثَة، وَأَرْبَعَة، وَخَمْسَة، وَعشرَة. وَأدنى الْجمع على أَرْبَعَة أَمْثِلَة وَهِي: أفعل، وأفعال، وأفعلة، وفعلة.

فأفعل نَحْو ثَلَاثَة أكلب، وَأَرْبَعَة أفلس. وأفعال نَحْو خَمْسَة
বিষয়টি আমরা এককভাবে করেছি। তারা উভয়ও তা এককভাবে বলেছে। 'আল-আইন' গ্রন্থের প্রণেতা বলেন: একত্ববাদ (الوحدانية) মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট। আর তাওহিদ (التوحيد) হলো তা স্বীকার করে নেওয়া। আর মিহাদ (الميحاد) হলো একটি অংশ যেমন দশমাংশ।

ইবনুল সিক্কিত বলেন: তাঁর কোনো একক নেই: অর্থাৎ তাঁর কোনো সমকক্ষ (نظير) নেই। এ বিষয়ের সাধারণ আলোচনার প্রায় সবটুকুই ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

কোনো বস্তু একক হওয়া মানে তা পৃথক হওয়া। একাকী (وحيد) ব্যক্তি হলো এমন ব্যক্তি যার সঙ্গ দেওয়ার মতো কেউ নেই; এটি 'ওয়াহ্দ', 'ওয়াহাদাহ', 'উহদাহ' এবং 'ওয়াহদান' ক্রিয়ামূল থেকে হতে পারে, আবার 'ওয়াহাদা' এবং 'তাওয়াহহাদা' রূপেও ব্যবহৃত হয়।

আবু আলী বলেন: তাদের শব্দ 'ইসনানি' (اثنان), এখানে 'লাম' বর্ণের স্থানটি বিলুপ্ত হয়েছে, যেমনটি 'ইবনানি' (ابنان) শব্দের ক্ষেত্রে হয়েছে। আর স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে 'ইসনাতানি' (اثنتان), যেমন আপনি বলেন: 'ইবনাতানি', আর আপনি চাইলে বলতে পারেন: [আমি বলি: 'সিনতানি' (ثنتان), যেমন আপনি বলেন:] 'বিনতানি'।

এক ব্যতীত অন্যান্য সংখ্যাগুলো হলো: তিন, চার, পাঁচ, ছয় এবং সাত। তবে 'উসবু' ও 'সুবু' বলতে সাত দিনকেই বোঝায় যা এই প্রকার ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না; এছাড়া আট, নয় ও দশ। আমরা অচিরেই এই নামগুলোর ক্রিয়াগত রূপান্তর এবং কর্তৃবাচক বিশেষ্যসমূহ সম্পর্কে বর্ণনা করব।

দুইয়ের পরবর্তী সংখ্যাবাচক শব্দসমূহ অর্থাৎ তিন থেকে দশ পর্যন্ত; যদি তা পুংলিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত হয় তবে তাতে স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্ন 'হা' (هاء) যুক্ত হয়। কারণ গণনার মূল ও প্রারম্ভিক রূপটি 'হা' যুক্ত থাকে, আর পুংলিঙ্গ হলো গণনার প্রথম পর্যায়, তাই তারা তাদের কথাবার্তায় শব্দগত সামঞ্জস্য (المشاكلة) রক্ষার জন্য একে এর ওপর প্রয়োগ করেছে। আর যদি তা স্ত্রীলিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত হয় তবে তা থেকে 'হা' বিলুপ্ত করা হয়; তখন শব্দটি 'আনাক' ও 'উক্বাব' এবং এদের মতো ওইসব স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দের অনুরূপ হয় যাতে স্ত্রীলিঙ্গের কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। সুতরাং আপনি বলবেন: 'সালাসাতু রিজাল' (তিনজন পুরুষ) এবং 'খামসাতু হামির' (পাঁচটি গাধা)। আর স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে: 'খামসু নিসা' (পাঁচজন নারী), 'সাবউ আতিন' (সাতটি গাধী) এবং 'সামানিউ আকব' (আটটি বাজপাখি)। 'সামানি' শব্দটিতে উচ্চারণে ও লেখায় 'ইয়া' (ياء) বর্ণটি স্থির থাকে কারণ সম্বন্ধকরণের (إضافة) সাথে তানভিন (تنوين) যুক্ত হয় না; আর তানভিনের উপস্থিতিতে 'ইয়া' বিলুপ্ত হয়ে যায় যেমনটি 'হাযা কাদিন' এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, তা জেনে রাখুন। এটিই হলো আবু আলীর তাঁর 'ইজাহ' নামক কিতাবে প্রদত্ত বর্ণনা।

আবু সাঈদ বলেন: জেনে রাখুন যে, ক্ষুদ্রতম সংখ্যা যা ক্ষুদ্রতম বহুবচনের (أدنى الجموع) সাথে সম্বন্ধকরণ (إضافة) করা হয় তা হলো তিন থেকে দশ পর্যন্ত। যেমন: তিন, চার, পাঁচ ও দশ। আর ক্ষুদ্রতম বহুবচন (أدنى الجمع) চারটি ওজনের হয়ে থাকে, আর তা হলো: 'আফউল' (أفعل), 'আফআল' (أفعال), 'আফইলাহ' (أفعلة) এবং 'ফুইলাহ' (فعلة)।

সুতরাং 'আফউল' (أفعل) এর উদাহরণ হলো: 'সালাসাতু আকলুব' এবং 'আরবাআতু আফলুস'। আর 'আফআল' (أفعال) এর উদাহরণ হলো: 'খামসাতু'
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
أجمال وَسَبْعَة أجذاع. وأفعلة نَحْو ثَلَاثَة أحمرة، وَتِسْعَة أغربة. وفعلة نَحْو عشرَة غلمة، وَخمْس نسْوَة، فأدنى الْعدَد يُضَاف إِلَى أدنى الجموع. وَإِنَّمَا أضيف إِلَيْهِ من قبل أَن أدنى الْعدَد بعض الْجمع لِأَن الْجمع أَكثر مِنْهُ، وأضيف إِلَيْهِ كَمَا يُضَاف الْبَعْض إِلَى الْكل، كَقَوْلِك: خَاتم حَدِيد. وثوب خَز لِأَن الْحَدِيد، والخز جِنْسَانِ، وَالثَّوْب والخاتم بعضهما. فَإِن قَالَ قَائِل: فَكيف صَارَت إِضَافَة أدنى الْعدَد إِلَى أدنى الْجمع أولى من إِضَافَته إِلَى الْجمع الْكثير

قيل لَهُ: من قبل أَن الْعدَد عددان، عدد قَلِيل، وَعدد كثير. فالقليل مَا ذَكرْنَاهُ من الْأَبْنِيَة الَّتِي قدمنَا. وَجمع كثير وَهُوَ سَائِر أبنية الْجمع، فَاخْتَارُوا إِضَافَة أدنى الْعدَد إِلَى أدنى الْجمع للمشاكلة والمطابقة.

وَقد يُضَاف إِلَى الْجمع الْكثير، كَقَوْلِهِم: ثَلَاثَة كلاب، وَثَلَاثَة قُرُوء لِأَن الْقَلِيل وَالْكثير قد يُضَاف إِلَى جنسه، فعلى هَذَا إضافتهم الْعدَد الْقَلِيل إِلَى الْجمع الْكثير وَلذَلِك قَالَ الْخَلِيل: إِنَّهُم قَالُوا: ثَلَاثَة كلاب، فكأنهم قَالُوا: ثَلَاثَة من الْكلاب، فحذفوا وأضافوا اسْتِخْفَافًا.

وينزعون الْهَاء من الثَّلَاثَة إِلَى الْعشْرَة فِي الْمُؤَنَّث ويثبتونها فِي الْمُذكر كَقَوْلِهِم: ثَلَاث نسْوَة، وَعشر نسْوَة، وَثَلَاثَة رجال وَعشرَة رجال.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم أثبتوا الْهَاء فِي الْمُذكر ونزعوها من الْمُؤَنَّث فَفِي ذَلِك جوابان: أَحدهمَا أَن الثَّلَاث من الْمُؤَنَّث إِلَى الْعشْر مؤنثات الصِّيغَة فالثلاث مثل عنَاق. والأربع مثل عقرب، وَكَذَلِكَ إِلَى الْعشْر، قد صيغت ألفاظها للتأنيث، مثل عنَاق، وأتان، وعقرب، وَقدر، وفهر، وَيَد، وَرجل، وَأَشْبَاه لذَلِك كَثِيرَة، فصيغت هَذِه الْأَلْفَاظ للتأنيث، فَصَارَت بِمَنْزِلَة مَا فِيهِ عَلامَة التَّأْنِيث. وَغير جَائِز أَن تدخل هَاء التَّأْنِيث على مؤنث تأنيثها بعلامة أَو غَيرهَا. وَهَذَا القَوْل يُوجب أَنه مَتى سمي رجل بِثَلَاث، لم يضف إِلَى الْمعرفَة لِأَنَّهُ قد صَار محلهَا مَحل عنَاق، إِذا سمي بهَا رجل.

فَأَما الثَّلَاثَة إِلَى الْعشْرَة فِي الْمُذكر فَإِنَّمَا أدخلت الْهَاء فِيهَا لِأَنَّهَا وَاقعَة على جمَاعَة.
উটসমূহ (أجمال) এবং সাতটি তরুণ উট (أجذاع)। এবং 'আফইলাহ' (أفعلة) ওজনে যেমন তিনটি গাধা (أحمرة) এবং নয়টি কাক (أغربة)। এবং 'ফুইলাহ' (فعلة) ওজনে যেমন দশটি বালক (غلمة) এবং পাঁচটি নারী (نسوة)। সুতরাং নিম্নতম সংখ্যাকে (أدنى العدد) নিম্নতম বহুবচনের (أدنى الجموع) সাথে সম্বন্ধ (يضاف) করা হয়। আর এটি তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয় এই কারণে যে, নিম্নতম সংখ্যা হলো বহুবচনের একটি অংশ, কেননা বহুবচন তার চেয়ে অধিক। আর এটি তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয় যেভাবে অংশকে পূর্ণের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, যেমন আপনার উক্তি: লোহার আংটি এবং রেশমি পোশাক; কারণ লোহা ও রেশম দুটি উপাদান (جنسان), আর আংটি ও পোশাক তাদের একেকটি অংশ। যদি কেউ প্রশ্ন করে: কেন নিম্নতম সংখ্যাকে নিম্নতম বহুবচনের দিকে সম্বন্ধ করা, অধিক বহুবচনের (الجمع الكثير) দিকে সম্বন্ধ করার চেয়ে অধিকতর উত্তম হলো?

তাকে বলা হবে: এই কারণে যে, সংখ্যা দুই প্রকার: অল্প সংখ্যা এবং অধিক সংখ্যা। অল্প সংখ্যা হলো সেই সব শব্দকাঠামো (الأبنية) যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর অধিক বহুবচন (جمع كثير) হলো বহুবচনের অবশিষ্ট শব্দকাঠামোগুলো। অতএব, তারা সাদৃশ্য ও সামঞ্জস্যের জন্য নিম্নতম সংখ্যাকে নিম্নতম বহুবচনের সাথে সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) করাকে বেছে নিয়েছেন।

কখনো কখনো অধিক বহুবচনের (الجمع الكثير) দিকেও সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, যেমন তাদের উক্তি: তিনটি কুকুর এবং তিনটি ঋতুচক্র (قروء); কারণ অল্প ও অধিক উভয়কেই তার শ্রেণির (جنس) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা যায়। এই ভিত্তি অনুসারেই তারা অল্প সংখ্যাকে অধিক বহুবচনের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। এইজন্যই খলিল (الخليل) বলেছেন: তারা 'তিনটি কুকুর' বলেছে, যেন তারা বলেছে: 'কুকুরগুলোর মধ্য হতে তিনটি'; ফলে তারা সহজ করার জন্য (অব্যয়) বিলুপ্ত করেছেন এবং সম্বন্ধযুক্ত (أضافوا) করেছেন।

আর তারা স্ত্রীলিঙ্গের (المؤنث) ক্ষেত্রে তিন থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যা হতে 'হা' (الهاء) বিলোপ করেন এবং পুংলিঙ্গের (المذكر) ক্ষেত্রে তা বহাল রাখেন। যেমন তাদের উক্তি: তিন নারী, দশ নারী এবং তিনজন পুরুষ, দশজন পুরুষ।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: কেন তারা পুংলিঙ্গের (المذكر) ক্ষেত্রে 'হা' বহাল রাখল এবং স্ত্রীলিঙ্গের (المؤنث) ক্ষেত্রে তা বিলোপ করল? এর দুটি উত্তর রয়েছে: একটি হলো তিন থেকে দশ পর্যন্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক সংখ্যাগুলো রূপগতভাবে স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنثات الصيغة)। ফলে 'সালাস' (তিন) শব্দটি 'আনাক' (عناق) শব্দের মতো, আর 'আরবা' (চার) শব্দটি 'আকরাব' (عقرب) শব্দের মতো। একইভাবে দশ পর্যন্ত শব্দগুলোর গঠনই স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে করা হয়েছে, যেমন: আনাক, আতান, আকরাব, কদর, ফিহর, ইয়াদ, রিজল এবং এই জাতীয় আরও অনেক। যেহেতু এই শব্দগুলো স্ত্রীলিঙ্গের জন্য গঠিত হয়েছে, তাই এগুলো এমন শব্দের মর্যাদায় চলে গেছে যাতে স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্ন (علامة التأنيث) বিদ্যমান। আর স্ত্রীলিঙ্গবাচক চিহ্নের মাধ্যমে বা অন্যভাবে যা স্ত্রীলিঙ্গ হয়েছে, তার ওপর পুনরায় স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'হা' (هاء التأنيث) যুক্ত করা বৈধ নয়। এই মতটি আবশ্যক করে যে, যখন কোনো পুরুষের নাম 'সালাস' রাখা হবে, তখন তাকে নির্দিষ্টবাচকতার (المعرفة) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হবে না, কারণ এর স্থান তখন 'আনাক' এর মতো হয়ে যাবে যখন তার দ্বারা কোনো ব্যক্তির নামকরণ করা হয়।

পক্ষান্তরে পুংলিঙ্গের (المذكر) ক্ষেত্রে তিন থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যায় 'হা' (الهاء) যুক্ত করা হয়েছে কারণ তা একটি সমষ্টির (جماعة) ওপর প্রযুক্ত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَالْجَمَاعَة مُؤَنّثَة. وَالثَّلَاث من قَوْلنَا: ثَلَاثَة مُذَكّر، فأدخلت الْهَاء عَلَيْهِ لتأنيث الْجَمَاعَة وَلَو سمي رجل بِثَلَاث من قَوْلك ثَلَاثَة، لانصرف فِي الْمعرفَة والنكرة لِأَنَّهُ يصير محلهَا مَحل سَحَابَة وسحاب، وَإِذا سمي بسحاب رجل انْصَرف فِي الْمعرفَة والنكرة.

وَالْقَوْل الثَّانِي: إِنَّه فصل بَين الْمُؤَنَّث والمذكر بِالْهَاءِ ونزعها لتدل على تَأْنِيث الْوَاحِد وتذكيره. فَإِن قَالَ قَائِل: فَهَلا أدخلُوا الْهَاء فِي الْمُؤَنَّث ونزعوها من الْمُذكر فَالْجَوَاب فِي ذَلِك أَن الْمُذكر أخف فِي واحده من الْمُؤَنَّث فثقل جمعه بِالْهَاءِ، وخفف جمع الْمُؤَنَّث ليعتدلا فِي الثّقل.

وَاعْلَم أَن الثَّلَاثَة إِلَى الْعشْرَة من حكمهَا أَن تُضَاف، إِلَّا أَن يضْطَر شَاعِر فينون وَينصب مَا بعده فَيَقُول: ثَلَاثَة أثوابا، وَنَحْو ذَلِك، وَالْوَجْه مَا ذَكرْنَاهُ. وتعرف الثَّلَاثَة بِإِدْخَال الْألف وَاللَّام على مَا بعْدهَا فَتَقول: ثَلَاثَة الأثواب، وَخَمْسَة الأشبار. قَالَ الشَّاعِر - وَهُوَ ذُو الرمة -:

(وَهل يرجع التَّسْلِيم أَو يكْشف الْعَمى … ثَلَاث الأثافي والديار البلاقع)

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم قَالُوا: ثَلَاثَة أَثوَاب، وَعشر نسْوَة، وَلم يَقُولُوا: وَاحِد أَثوَاب، واثنتا نسْوَة

فَالْجَوَاب فِي ذَلِك أَن الْوَاحِد والاثنين يكون لَهما لفظ يدل على الْمِقْدَار وَالنَّوْع، فيستغني بذلك اللَّفْظ عَن ذكر الْمِقْدَار الَّذِي يُضَاف إِلَى النَّوْع، كَقَوْلِك: ثوب وَامْرَأَتَانِ،
সমষ্টি (جماعة) শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث)। আমাদের বলা 'থালাথাহ' (ثلاثة) শব্দের অন্তর্গত 'থালাথ' (ثلاث) অংশটি পুংলিঙ্গ (مذكر); অতঃপর সমষ্টির স্ত্রীলিঙ্গ হওয়ার দিকে লক্ষ্য রেখে এতে 'হা' (ة) যুক্ত করা হয়েছে। যদি কোনো ব্যক্তির নাম 'থালাথাহ' শব্দের 'থালাথ' (ثلاث) রাখা হয়, তবে তা নির্দিষ্ট (معرفة) ও অনির্দিষ্ট (نكرة) উভয় অবস্থায় রূপান্তরযোগ্য (منصرف) হবে। কারণ তখন এর অবস্থানটি 'সাহাবাহ' (سحابة) ও 'সাহাব' (سحاب) এর অবস্থানের অনুরূপ হয়ে যায়। আর যখন কোনো ব্যক্তির নাম 'সাহাব' রাখা হয়, তখন তা নির্দিষ্ট (معرفة) ও অনির্দিষ্ট (نكرة) অবস্থায় রূপান্তরযোগ্য (منصرف) হয়।

দ্বিতীয় অভিমতটি হলো: 'হা' (ة) যুক্ত করা বা তা বর্জনের মাধ্যমে স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث) ও পুংলিঙ্গ (مذكر) এর মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করা হয়েছে, যাতে তা একবচনের স্ত্রীলিঙ্গ বা পুংলিঙ্গ হওয়া নির্দেশ করে। যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: তারা কেন পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রে 'হা' যুক্ত করল এবং স্ত্রীলিঙ্গ থেকে তা বর্জন করল? এর উত্তর হলো: পুংলিঙ্গের একবচন শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গের তুলনায় হালকা, তাই তার বহুবচনকে 'হা' যুক্ত করার মাধ্যমে ভারী করা হয়েছে; পক্ষান্তরে স্ত্রীলিঙ্গের বহুবচনকে হালকা করা হয়েছে যাতে ওজনের ভারসাম্য রক্ষিত হয়।

জেনে রাখুন যে, তিন থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যার বিধান হলো তা সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) হবে। তবে কোনো কবি যদি বাধ্য হন, তবে তিনি তানভিন (تنوين) প্রদান করতে পারেন এবং পরবর্তী পদটিকে নসবযুক্ত (منصوب) করতে পারেন; যেমন তিনি বলবেন: 'থালাথাতান আসওয়াবান' (ثلاثة أثوابا) এবং এই জাতীয়। তবে নিয়ম সেটিই যা আমরা উল্লেখ করেছি। আর তিন (সংখ্যাটি)-কে পরবর্তী পদের শুরুতে আলিফ-লাম (ال) যুক্ত করার মাধ্যমে নির্দিষ্ট (معرفة) করা হয়। যেমন আপনি বলবেন: 'থালাথাতুল আসওয়াব' (ثلاثة الأثواب) এবং 'খামসাতুল আশবার' (خمسة الأشبار)। কবি যু-রুম্মাহ বলেছেন:

(সালাম কি ফিরিয়ে দিবে অথবা বিভ্রান্তি কি দূর করবে … চুলার তিনটি পাথর এবং জনশূন্য বিরান গৃহসমূহ)

যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: কেন তারা 'থালাথাতু আসওয়াব' (ثلاثة أثواب) এবং 'আশরু নিসওয়াহ' (عشر نسوة) বলে, কিন্তু 'ওয়াহিদু আসওয়াব' (واحد أثواب) বা 'ইছনাতা নিসওয়াহ' (اثنتا نسوة) বলে না?

এর উত্তর হলো: এক এবং দুই এর জন্য এমন শব্দ বিদ্যমান যা পরিমাণ ও প্রকার নির্দেশ করে। ফলে সেই শব্দের মাধ্যমেই এমন পরিমাণের উল্লেখ থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়া যায় যা প্রকারের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) হয়। যেমন আপনার উক্তি: 'থাওব' (একটি কাপড়) এবং 'ইমরাআতানি' (দুজন মহিলা)।
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
فَدلَّ ثوب على الْوَاحِد من هَذَا الْجِنْس، ودلت امْرَأَتَانِ على ثِنْتَيْنِ من هَذَا الْجِنْس، فاستغني بذلك عَن قَوْلك: وَاحِد أَثوَاب، وثنتا نسْوَة. وَقد جَاءَ فِي الشّعْر. قَالَ الراجز:

(كَأَن خصييه من التدلدل … ظرف عَجُوز فِيهِ ثنتا حنظل)

أَرَادَ ثِنْتَانِ، فأضاف ثنتا إِلَى نوع الحنظل.

وَأما ثَلَاثَة إِلَى الْعشْرَة فَلَيْسَ فِيهِ لفظ يدل على النَّوْع والمقدار جَمِيعًا فأضيف الْمِقْدَار الَّذِي هُوَ الثَّلَاثَة إِلَى النَّوْع، وَهُوَ مَا بعْدهَا.

وَاعْلَم أَنَّك إِذا جَاوَزت الْعشْرَة بنيت النيف وَالْعشرَة إِلَى تِسْعَة عشر فجعلتها اسْما وَاحِدًا، كَقَوْلِك: أحد عشر، وَتِسْعَة عشر: وَفتحت الِاسْم الأول.

وَالَّذِي أوجب بناءهما أَن مَعْنَاهُ: أحد وَعشرَة، وَتِسْعَة وَعشرَة، فنزعت الْوَاو وَهِي مقدرَة، وَالْعدَد مُتَضَمّن لمعناها فبنيا لتضمنهما معنى الْوَاو، وَجعلا كاسم وَاحِد، فاختير الْفَتْح لَهما، لِأَن الثَّانِي حِين ضم إِلَى الأول صَار بِمَنْزِلَة تَاء التَّأْنِيث يفتح مَا قبلهَا. وَفتح الثَّانِي لِأَن الْفَتْح أخف الحركات وَلِأَن يكون مثل الأول لِأَنَّهُمَا اسمان جعلا اسْما وَاحِدًا، فَلم يكن لأَحَدهمَا على الآخر مزية، فجريا مجْرى وَاحِدًا فِي الْفَتْح. وَقد قُلْنَا: إِن الَّذِي أوجب فتح الأول هُوَ ضم الثَّانِي إِلَيْهِ وإجراء الثَّانِي مجْرَاه لِأَنَّهُ لَيْسَ أَحدهمَا أولى بِشَيْء من الحركات من الآخر وانتصب مَا بعدهمَا من قبل أَن فيهمَا تَقْدِير التَّنْوِين، وَلَا يَصح إِلَّا كَذَلِك، إِذْ تَقْدِيره خَمْسَة وَعشرَة، فالخمسة لَيْسَ بعْدهَا شَيْء أضيفت إِلَيْهِ فَوَجَبَ أَن تكون منونة، وَالْعشرَة محلهَا مَحل الْخَمْسَة فَكَانَت منونة مثلهَا. وَأَيْضًا فَإنَّا لم نر شَيْئَيْنِ جعلا اسْما، وهما
সুতরাং 'সাওব' (কাপড়) শব্দটি এই শ্রেণির একক (واحد) বস্তুর ওপর নির্দেশ করে, আর 'ইমরাআতানি' (দুই নারী) শব্দটি এই শ্রেণির দুইজনের ওপর নির্দেশ করে। ফলে এর মাধ্যমে আপনার এই কথা বলার আবশ্যকতা দূর হয়ে যায় যে: 'এক সংখ্যক কাপড়' এবং 'দুই সংখ্যক নারী'। কবিতায়ও এমনটি এসেছে। রাজিজ (কবিতা রচয়িতা) বলেন:

(তার অণ্ডকোষদ্বয় ঝুলে থাকার কারণে এমন মনে হয় যেন … বৃদ্ধা মহিলার একটি পাত্র যাতে দুইটি হুনযাল [মাকাল ফল] রয়েছে)

তিনি 'সিনতানি' (দুইটি) বুঝিয়েছেন, অতঃপর তিনি 'সিনতা' শব্দটিকে হুনযাল-এর প্রকারের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

আর তিন থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যার ক্ষেত্রে এমন কোনো শব্দ নেই যা প্রকার এবং পরিমাণ উভয়টিকেই একত্রে নির্দেশ করে। তাই পরিমাণকে—যা এখানে 'তিন'—পরবর্তী প্রকারের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।

জেনে রাখুন, যখন আপনি দশ অতিক্রম করবেন, তখন এক থেকে নয় এবং দশকে এগারো থেকে উনিশ পর্যন্ত একটি নাম হিসেবে গঠন করবেন এবং সেটিকে একটি একক বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করবেন; যেমন আপনার উক্তি: এগারো এবং উনিশ। এক্ষেত্রে আপনি প্রথম অংশটিকে ফাতহাহ বিশিষ্ট করবেন।

আর যে কারণে এই উভয়কে মাবনি করা আবশ্যক হয়েছে তা হলো, এর অর্থ মূলত: এক এবং দশ, নয় এবং দশ। অতঃপর 'ওয়াও' অক্ষরটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে অথচ তা সেখানে উহ্য ছিল। যেহেতু সংখ্যাটি 'ওয়াও'-এর অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে আছে, তাই সেগুলোকে মাবনি করা হয়েছে তাদের মাঝে 'ওয়াও'-এর অর্থ বিদ্যমান থাকার কারণে এবং সেগুলোকে একটি একক বিশেষ্যের মতো গণ্য করা হয়েছে। অতঃপর উভয়ের জন্য ফাতহাহ নির্বাচন করা হয়েছে; কারণ দ্বিতীয় অংশটি যখন প্রথমটির সাথে যুক্ত হয়, তখন তা 'তা-ই তানিস'-এর স্থলাভিষিক্ত হয় যার পূর্ববর্তী বর্ণে ফাতহাহ হয়। দ্বিতীয় অংশটিকেও ফাতহাহ দেওয়া হয়েছে কারণ ফাতহাহ হলো হারাকাতসমূহের মধ্যে সবচেয়ে হালকা এবং যাতে তা প্রথমটির অনুরূপ হয়; যেহেতু তারা দুটি বিশেষ্য যা একটি বিশেষ্যে পরিণত হয়েছে। তাই একটির ওপর অন্যটির কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার নেই, ফলে ফাতহাহ’র ক্ষেত্রে উভয়ই একই নিয়মে পরিচালিত হয়। আমরা ইতিপূর্বে বলেছি যে: প্রথম অংশটিকে ফাতহাহ দেওয়ার কারণ হলো দ্বিতীয় অংশটিকে এর সাথে যুক্ত করা এবং দ্বিতীয়টিকেও প্রথমটির মতো করা হয়েছে কারণ একটির চেয়ে অন্যটি কোনো হারাকাতের অধিক হকদার নয়। এদের পরবর্তী শব্দটি মানসুব হয় কারণ এদের মধ্যে তানভীনের প্রচ্ছন্ন রূপ বিদ্যমান। আর বিষয়টি এভাবেই শুদ্ধ হয়; কেননা এর মূল রূপ হলো 'পাঁচ এবং দশ'। ফলে 'পাঁচ' শব্দের পরে এমন কিছু নেই যার সাথে তা সম্বন্ধযুক্ত হবে, তাই সেটিকে তানভীনযুক্ত করা আবশ্যক। আর 'দশ'-এর স্থানও 'পাঁচ'-এর মতো, তাই সেটিও অনুরূপভাবে তানভীনযুক্ত হবে। এছাড়া আমরা এমন দুটি বিষয় দেখিনি যা একটি বিশেষ্য হিসেবে গঠিত হয়েছে অথচ তারা...
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
مضافان، أَو أَحدهمَا مُضَاف، فَوَجَبَ نصب مَا بعدهمَا للتنوين الْمُقدر فيهمَا وَجعل مَا بعدهمَا وَاحِدًا منكورا.

أما جعلنَا لَهُ وَاحِدًا فلأنهما قد دلا على مِقْدَار الْعدَد، وَبَقِي الدّلَالَة على النَّوْع، فَكَانَ الْوَاحِد مِنْهُ كَافِيا، إِذْ كَانَ مَا قبله دلّ على الْمِقْدَار وَالْعدَد.

وَأما جعلنَا إِيَّاه منكورا فَلِأَن النكرَة شائعة فِي جِنْسهَا، وَلَيْسَت بِبَعْض الْجِنْس أولى مِنْهُ بِبَعْض، فَكَانَت أشكل بِالْمَعْنَى الَّذِي أريدت لَهُ من الدّلَالَة على الْجِنْس، وَأدْخل فِيهِ من غَيرهَا، فَبين بهَا النَّوْع الَّذِي احْتِيجَ إِلَى تبيينه، وَذَلِكَ قَوْلك: أحد عشر رجلا، وَخمْس عشرَة امْرَأَة. فَأَما الْمُذكر فَإنَّك تَقول أحد عشر رجلا، وَاثنا عشر رجلا وَثَلَاثَة عشر رجلا، إِلَى تِسْعَة عشر رجلا.

فَأَما أحد، فالهمزة فِيهِ منقلبة من وَاو، وَقد أبنت ذَلِك وأوضحته بشرح الْفَارِسِي، وَكَذَلِكَ إِحْدَى عشرَة، وَقد أبنتها هُنَالك.

أما اثْنَا شعر [فَإِن قَالَ قَائِل هلا بنيتم اثْنَي عشر على حد وَاحِد، فَلَا تَتَغَيَّر فِي نصب وَلَا رفع وَلَا جر، كَمَا فَعلْتُمْ ذَلِك فِي أخواته قيل لَهُ: من قبل أَن الِاثْنَيْنِ قد كَانَ إعرابهما بِالْألف وَالْيَاء، وَكَانَت النُّون على حَالَة وَاحِدَة فيهمَا جمعيا، كَقَوْلِك: هَذَانِ الِاثْنَان، وَرَأَيْت الِاثْنَيْنِ، ومررت بالاثنين. فَإِذا أضفت سَقَطت النُّون، وَقَامَ الْمُضَاف إِلَيْهِ مقَامه، وَدخل حرف التَّثْنِيَة من التَّغْيِير فِي حَال الرّفْع وَالنّصب والجر مَعَ الْمُضَاف إِلَيْهِ مَا كَانَ يدْخلهُ مَعَ النُّون، فَلَمَّا كَانَ عشر فِي قَوْلك: اثْنَا عشر حل مَحل النُّون، صَار بِمَنْزِلَة الْمُضَاف إِلَيْهِ، وَلم يمْنَع تَغْيِير الْألف إِلَى الْيَاء فِي النصب والجر.] .

وَأما ثنتا عشرَة فَفِيهَا لُغَتَانِ: ثنتا عشرَة، واثنتا عشرَة. فَالَّذِي قَالَ: اثْنَتَا عشرَة بناه على الْمُذكر، فَقَالَ للمذكر: اثْنَان، وللمؤنث: اثْنَتَانِ، كَمَا تَقول: ابْنَانِ، وابنتان.

وَالَّذِي يَقُول: ثنتا عشرَة بنى ثنتا على مِثَال جذع، كَمَا قَالَ بنت، فأحلقها بجذع.
(উভয় অংশই) সম্বন্ধযুক্ত (مضاف), অথবা তাদের একটি সম্বন্ধযুক্ত (مضاف); তাই তাদের পরবর্তী শব্দকে নসব (نصب) প্রদান করা আবশ্যক হয়েছে তাদের মধ্যে থাকা উহ্য তানবিন (تنوين) এর কারণে, এবং পরবর্তী শব্দটিকে একবচন ও অনির্দিষ্ট (نكرة) করা হয়েছে।

আমরা একে একবচন করেছি কারণ তারা (সংখ্যাদ্বয়) সংখ্যার পরিমাণের ওপর প্রমাণ (دلالة) পেশ করে ফেলেছে, আর শুধু প্রকারের ওপর প্রমাণ অবশিষ্ট ছিল; তাই এক্ষেত্রে একবচনই যথেষ্ট ছিল, যেহেতু তার পূর্বের অংশটি পরিমাণ ও সংখ্যার প্রমাণ প্রদান করেছে।

আর আমরা একে অনির্দিষ্ট (نكرة) করেছি কারণ অনির্দিষ্ট (نكرة) পদটি তার স্বজাতীয় সবকিছুর জন্য প্রযোজ্য হয় এবং এর কোনো একটি অংশ অন্য অংশের চেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য নয়। ফলে এটি স্বজাতীয় নির্দেশনার যে উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে সেই অর্থের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে এবং অন্য যে কোনো পদের চেয়ে এতে তা বেশি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে সেই প্রকারটি স্পষ্ট করা হয়েছে যা স্পষ্ট করার প্রয়োজন ছিল। আর তা হলো আপনার উক্তি: এগারো জন পুরুষ (أحد عشر رجلا) এবং পনেরো জন মহিলা (خمس عشرة امرأة)। তবে পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রে আপনি বলবেন: এগারো জন পুরুষ (أحد عشر رجلا), বারো জন পুরুষ (اثنا عشر رجلا), এবং তেরো জন পুরুষ (ثلاثة عشر رجلا) থেকে উনিশ জন পুরুষ (تسعة عشر رجلا) পর্যন্ত।

‘আহাদ’ (أحد) শব্দের ক্ষেত্রে, এর হামজাটি ‘ওয়াও’ থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। আমি ফারসির ব্যাখ্যায় বিষয়টি স্পষ্ট ও ব্যক্ত করেছি। অনুরূপভাবে ‘ইহদা আশরাতা’ (إحدى عشرة), আমি সেখানে এটিও স্পষ্ট করেছি।

‘ইছনা আশারা’ (اثنا عشر) এর ক্ষেত্রে [যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: কেন আপনারা ‘ইছনা আশারা’কে একই নিয়মে অপরিবর্তনীয় (مبني) করেননি, যাতে নসব (نصب), রফ (رفع) বা জর (جر) এর অবস্থায় তা পরিবর্তিত না হয়, যেমনটি আপনারা এর সমজাতীয় অন্যান্য সংখ্যার ক্ষেত্রে করেছেন? তার উত্তরে বলা হবে: কারণ ‘ইছনানি’ (اثنان) বা দ্বিবচনের ইরাব (إعراب) আলিফ ও ইয়া-এর মাধ্যমে হয়ে থাকে এবং নুন-টি উভয় অবস্থায় একই থাকে, যেমন আপনার উক্তি: এই দুইজন (هذان الاثنان), আমি দুইজনকে দেখেছি (رأيت الاثنين), এবং আমি দুইজনের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি (مررت بالاثنين)। যখন আপনি সম্বন্ধ (إضافة) করবেন তখন নুন বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং সম্বন্ধীপদ (مضاف إليه) তার স্থলাভিষিক্ত হয়। ফলে সম্বন্ধীপদ (مضاف إليه) থাকা অবস্থায় দ্বিবচনের চিহ্নে রফ (رفع), নসব (نصب) ও জর (جر) এর অবস্থায় সেই পরিবর্তনই আসে যা নুন থাকা অবস্থায় আসত। সুতরাং যখন আপনার উক্তি ‘ইছনা আশারা’ (اثنا عشر) তে ‘আশারা’ শব্দটি নুন-এর স্থলাভিষিক্ত হলো, তখন তা সম্বন্ধীপদ (مضاف إليه) এর মর্যাদায় চলে গেল। আর এটি নসব (نصب) ও জর (جر) এর অবস্থায় আলিফকে ইয়া-তে রূপান্তরিত হতে বাধা প্রদান করেনি।]

আর ‘ছিনতা আশরাতা’ (ثنتا عشرة) এর ক্ষেত্রে দুটি ভাষা বা রীতি রয়েছে: ‘ছিনতা আশরাতা’ (ثنتا عشرة) এবং ‘ইছনাতা আশরাতা’ (اثنتان عشرة)। যিনি ‘ইছনাতা আশরাতা’ (اثنتان عشرة) বলেন, তিনি পুংলিঙ্গের গঠনের ওপর ভিত্তি করে তা বলেছেন; যেমন পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রে বলা হয় ‘ইছনানে’ (اثنان) এবং স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে ‘ইছনাতানে’ (اثنتان), যেমন আপনি বলেন ‘ইবনানে’ (ابنان) এবং ‘ইবনাতানে’ (ابنتان)।

আর যিনি ‘ছিনতা আশরাতা’ (ثنتا عشرة) বলেন, তিনি ‘ছিনতা’ শব্দটিকে ‘জিজউন’ (جذع) এর ওজনে গঠন করেছেন, যেমন তিনি ‘বিনতুন’ (بنت) বলেন; অতঃপর তিনি একে ‘জিজউন’ (جذع) এর সাথে যুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وَتقول: ثِنْتَانِ، كَمَا تَقول: بنتان، وَلم تدل هَذِه التَّاء على تَقْدِير أَن يكون مَا قبلهمَا مذكرا لِأَنَّهَا لَو دخلت على سَبِيل ذَلِك لأوجبت فتح مَا قبلهَا. وَالْكَلَام فِي تغير الْألف فِي ثِنْتَانِ، وَاثْنَتَانِ، إِذا قلت: ثنتا عشرَة، وثنتي عشرَة.

وَأما ثَمَانِي عشرَة فَإِن أَكثر الْعَرَب يَقُولُونَ: ثَمَانِي عشرَة، كَمَا يَقُولُونَ: ثَلَاث عشرَة، وَأَرْبع عشرَة. وَمِنْهُم من يسكن الْيَاء، فَيَقُول: ثَمَانِي عشرَة. قَالَ الشَّاعِر:

(صَادف من بلائه وشقوته … بنت ثَمَانِي عشرَة من حجَّته)

وَإِنَّمَا أسكن الْيَاء، كَمَا أسكن فِي معد يكرب، وقالي قلا، وأيادي سبا لِأَن الْيَاء أثقل من غَيرهَا، وَغَيرهَا من الصَّحِيح إِنَّمَا يفتح إِذا جعل مَعَ غَيره اسْما وَاحِدًا، فسكنت الْيَاء، إِذْ لم يبْق بعد الْفَتْح إِلَّا التسكين [وَقد قيل: ثَمَان عشرَة] .

وَفِي عشرَة لُغَتَانِ، إِذا قلت: ثَلَاث عشرَة.

فَأَما بَنو تَمِيم فيفتحون الْعين، ويكسرون الشين، ويجعلونها بِمَنْزِلَة ن كلمة. وَأهل الْحجاز يفتحون الْعين ويسكنون الشين، فيجعلونها مثل ضَرْبَة وَهَذَا عكس مَا عَلَيْهِ لُغَة أهل الْحجاز وَبني تَمِيم لِأَن أهل الْحجاز فِي غير هَذَا يشبعون عَامَّة الْكَلَام، وَبَنُو تَمِيم يخففون.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم قَالُوا: عشرَة فكسروا الشين.

قيل لَهُ: من قبل أَن عشر، فِي قَوْلك: عشر نسْوَة مُؤَنّثَة الصِّيغَة، فَلم يَصح دُخُول الْهَاء عَلَيْهَا، فَاخْتَارُوا لَفْظَة أُخْرَى يَصح دُخُول الْهَاء عَلَيْهَا.

وخفف أهل الْحجاز ذَلِك: كَمَا يُقَال: فَخذ وفخذ، وَعلم وَعلم، وَنَحْو ذَلِك.

وعَلى هَذَا الحكم يجْرِي من الْوَاحِد إِلَى التِّسْعَة فَإِذا ضاعفت أدنى الْعدَد كَانَ لَهُ اسْم من لَفظه. وَلَا يثنى العقد، وَيجْرِي ذَلِك الِاسْم مجْرى الْوَاحِد الَّذِي لحقته الزِّيَادَة للْجمع،
এবং আপনি বলবেন: 'ছিনতানি' (ثنتان), যেমন আপনি বলেন: 'বিনতানি' (بنتان)। এই 'তা' (تاء) বর্ণটি এর পূর্ববর্তী বর্ণটি পুংলিঙ্গ (مذكرا) হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নির্দেশ করে না, কারণ এটি যদি সেই নিয়মে যুক্ত হতো তবে তার পূর্ববর্তী বর্ণে ফাতহা (فتح) হওয়া আবশ্যক হতো। আর 'ছিনতানি' (ثنتان) ও 'ইছনাতানি' (اثنتان) শব্দের আলিফ-এর পরিবর্তনের আলোচনা তখনই আসে, যখন আপনি 'ছিনতা আশরাতা' (ثنتا عشرة) এবং 'ছিনতাই আশরাতা' (ثنتي عشرة) বলবেন।

আর 'সামানি আশরাতা' (ثماني عشرة)-এর ক্ষেত্রে অধিকাংশ আরবই 'সামানি আশরাতা' (ثماني عشرة) বলেন, যেভাবে তারা 'সালাসা আশরাতা' (ثلاث عشرة) ও 'আরবাআ আশরাতা' (أربع عشرة) বলেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ 'ইয়া' বর্ণটিকে সুকুন (يسكن) করে পড়েন এবং বলেন: 'সামানি আশরাতা' (ثماني عشرة)। জনৈক কবি বলেছেন:

(সে তার পরীক্ষা ও দুর্ভাগ্যের সম্মুখীন হয়েছে … তার জীবনের আঠারো বছর বয়সে)

তিনি মূলত 'ইয়া' বর্ণটিকে সুকুন (أسكن) করেছেন, যেমন 'মা'দি কারিব' (معد يكرب), 'কালি কালা' (قالي قلا) এবং 'আইয়াদি সাবা' (أيادي سبا)-তে সুকুন করা হয়। কারণ 'ইয়া' (ياء) বর্ণটি অন্য বর্ণের তুলনায় অধিক ভারী। আর অন্যান্য সহীহ (الصحيح) বর্ণগুলোর নিয়ম হলো, যখন অন্য শব্দের সাথে মিলে একটি নাম হিসেবে গঠিত হয় তখন তাতে ফাতহা প্রদান করা হয়। কিন্তু এখানে 'ইয়া' বর্ণটিকে সুকুন করা হয়েছে, কারণ ফাতহার পর সুকুন ব্যতীত আর কোনো গত্যন্তর ছিল না। [বলা হয়ে থাকে: 'সামানি আশরাতা' (ثمان عشرة)]।

আর 'আশরাহ' (عشرة) শব্দের ক্ষেত্রে দুটি উপভাষা (لغتان) রয়েছে, যখন আপনি 'সালাসা আশরাতা' (ثلاث عشرة) বলবেন।

বনু তামীম সম্প্রদায় 'আইন' বর্ণে ফাতহা (يفتحون) প্রদান করে এবং 'শীন' বর্ণে কাসরা (يكسرون) দেয়, তারা একে 'ন' (ن) শব্দের অনুরূপ গণ্য করে। আর হিজাজবাসী 'আইন' বর্ণে ফাতহা দেয় এবং 'শীন' বর্ণে সুকুন (يسكنون) প্রদান করে, ফলে তারা একে 'দারবাতুন' (ضربة) শব্দের মতো উচ্চারণ করে। এটি হিজাজবাসী ও বনু তামীমের প্রচলিত ভাষারীতির বিপরীত, কারণ হিজাজবাসীরা সাধারণত শব্দের পূর্ণ উচ্চারণ (يشبعون) করে থাকে, আর বনু তামীম শব্দকে সংক্ষেপ বা হালকা (يخففون) করে।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: তারা কেন 'আশরাহ' (عشرة) শব্দের 'শীন' বর্ণে কাসরা (كسروا) প্রদান করল?

উত্তরে বলা হবে: কারণ আপনার বক্তব্য 'আশরু নিসওয়াহ' (عشر نسوة)-এর ক্ষেত্রে 'আশর' (عشر) শব্দটি গঠনগতভাবে স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنثة), তাই এতে 'হা' (هاء) যুক্ত হওয়া শুদ্ধ নয়। ফলে তারা অন্য একটি শব্দরূপ বেছে নিয়েছে যাতে 'হা' (هاء) যুক্ত হওয়া ব্যাকরণগতভাবে সঠিক হয়।

হিজাজবাসীরা বিষয়টিকে সহজ বা হালকা (خفف) করেছে, যেমন বলা হয়: 'ফাখিজ' (فخذ) ও 'ফাখজ' (فخذ), 'আলিম' (علم) ও 'আলম' (علم) এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ।

এই নিয়মটি এক থেকে নয় পর্যন্ত কার্যকর হয়। যখন আপনি ক্ষুদ্রতম সংখ্যার দ্বিগুণ করবেন, তখন তার মূল শব্দ থেকেই একটি নাম গঠিত হবে। আর দশকের সংখ্যাগুলোকে দ্বিবচন (يثنى) করা হয় না; বরং সেই নামগুলো একবচন (الواحد) হিসেবেই ব্যবহৃত হয় যাতে বহুবচনের (الجمع) আধিক্য যুক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
وَيكون حرف الْإِعْرَاب الْوَاو وَالْيَاء، وبعدهما النُّون. وَيكون لفظ الْمُذكر والمؤنث فِي ذَلِك سَوَاء، ويفسر بِوَاحِد منكور، وَذَلِكَ قَوْلهم: عشرُون درهما.

فَإِن قَالَ قَائِل: مَا هَذِه الكسرة الَّتِي لحقت أول الْعشْرين وهلا جرت على عشرَة فَيُقَال: عشْرين، أَو على عشر، فَيُقَال: عشْرين.

وَالْجَوَاب فِي ذَلِك أَن عشْرين لما كَانَت وَاقعَة عل الذّكر وَالْأُنْثَى كسر أَولهَا للدلالة على التَّأْنِيث وَجمع بِالْوَاو وَالنُّون للدلالة على التَّذْكِير، فَيكون آخِذا من كل وَاحِد مِنْهُمَا بشبهين.

فَإِن قَالَ قَائِل: فقد كَانَ يَنْبَغِي على هَذَا الْقيَاس أَن يجْعَلُوا هَاتين العلامتين فِي الثَّلَاثِينَ إِلَى التسعين.

قيل: قد يجوز أَن تكون الثَّلَاث من الثَّلَاثِينَ هِيَ الثَّلَاث الَّتِي للمؤنث.

وَيكون الْوَاو وَالنُّون لوُقُوعه على التَّذْكِير، فَيكون قد جمع للثلاثين لفظ التَّذْكِير والتأنيث، فَيكون على قِيَاس الْعلَّة الأولى مطردا، وَيجوز أَن يكون اكتفوا بِالدّلَالَةِ فِي الْعشْرين على الدّلَالَة فِي غَيره من الثَّلَاثِينَ إِلَى التسعين، فَجرى على مثل مَا جرى عَلَيْهِ الْعشْرُونَ.

فَإِذا وَقع الْعشْرُونَ على الْمُذكر والمؤنث كَانَ الثَّلَاثُونَ مثله، وَاكْتفى بعلامة التَّأْنِيث فِي الْعشْرين عَن عَلامَة فِي الثَّلَاثِينَ. وَدَلِيل آخر فِي كسر الْعين من عشْرين وَهُوَ أَنا رأيناهم قَالُوا فِي ثَلَاث عشرات: ثَلَاثُونَ وَفِي أَربع عشرات: أَرْبَعُونَ، فكأنهم ثَلَاثِينَ عشر مرار ثَلَاثَة، وَأَرْبَعين عشر مرار أَرْبَعَة، إِلَى تسعين. فاشتقوا من لفظ الْآحَاد مَا يكون لعشر مَرَّات ذَلِك الْعدَد فَكَانَ قِيَاس الْعشْرين من الثَّلَاثِينَ أَن يُقَال: اثْنَيْنِ واثنون لعشر مرار اثْنَيْنِ. إِلَّا أَنهم تجنبوا ذَلِك لِأَن اثْنَيْنِ لَا يكون إِلَّا مثنى، فَلَو قُلْنَا: اثْنَيْنِ كُنَّا قد نَزَعْنَا اثْنَا من الِاثْنَيْنِ، وأدخلنا عَلَيْهِ الْوَاو وَالنُّون، واثن لَا يسْتَعْمل إِلَّا مَعَ حُرُوف التَّثْنِيَة فَبَطل اسْتِعْمَاله فِي مَوضِع الْعشْرين، فَلَمَّا اضطروا لهَذِهِ الْعلَّة إِلَى اسْتِعْمَال الْعشْرين كسروا أَوله لِأَن اثْنَيْنِ مكسور الأول فكسروا أول الْعشْرين كَذَلِك، وأدخلوا الْوَاو وَالنُّون لِأَنَّهُ يَقع على الْمُذكر.

وَإِذا اخْتَلَط الْمُذكر والمؤنث فِي لفظ غلب التَّذْكِير، وَانْفَرَدَ اللَّفْظ بِهِ.

وَدَلِيل آخر، وَهُوَ أَنهم يَقُولُونَ فِي الْمُؤَنَّث: إِحْدَى عشرَة، وتسع عشرَة، فَلَمَّا جاوزها إِلَى الْعشْرين، نقلوا كسرة الشين الَّتِي كَانَت للمؤنث إِلَى الْعين كَمَا يَقُولُونَ فِي كذب:
এতে ইরাব এর বর্ণ হবে ওয়াও এবং ইয়া, আর এগুলোর পরে নুন যুক্ত হবে। এক্ষেত্রে পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক শব্দের রূপ অভিন্ন হবে এবং এটি একটি অনির্দিষ্ট (منكور) একবচন শব্দ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হবে; যেমন তাদের উক্তি: বিশ দিরহাম।

যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন: 'বিশ' শব্দের শুরুতে যুক্ত হওয়া এই কাসরা বা জেরটির রহস্য কী? কেন এটি 'দশ' শব্দের অনুকরণে 'আশরিন' হলো না, অথবা 'দশ' (একবচন) শব্দের ভিত্তিতে 'আশরিন' হলো না?

এর উত্তর হলো, 'বিশ' শব্দটি যেহেতু পুরুষ ও স্ত্রী উভয় লিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত হয়, তাই স্ত্রীবাচকতা নির্দেশ করতে এর শুরুতে কাসরা প্রদান করা হয়েছে এবং পুরুষবাচকতা নির্দেশ করতে ওয়াও ও নুন সহযোগে বহুবচন করা হয়েছে। ফলে এটি উভয় লিঙ্গ থেকেই দুটি করে সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে।

যদি কেউ প্রশ্ন করেন: তবে এই যৌক্তিক অনুমান (قياس) অনুযায়ী তো ত্রিশ থেকে নব্বই পর্যন্ত শব্দগুলোতেও এই দুটি চিহ্ন রাখা আবশ্যক ছিল।

উত্তরে বলা হয়: এটি সম্ভব যে, 'ত্রিশ' শব্দের 'সালাস' অংশটিই মূলত সেই স্ত্রীবাচক রূপ যা তিন সংখ্যার জন্য নির্দিষ্ট।

আর ওয়াও ও নুন যুক্ত হয়েছে পুরুষবাচক ক্ষেত্রে ব্যবহারের কারণে। ফলে 'ত্রিশ' শব্দটিতে পুরুষ ও স্ত্রীবাচক উভয় শব্দরূপ একত্রিত হয়েছে, যা প্রথম কারণ (علة) এর যৌক্তিক অনুমান (قياس) অনুযায়ী ধারাবাহিক (مطردا) হয়েছে। অথবা এটিও হতে পারে যে, তারা 'বিশ' শব্দের নির্দেশক চিহ্নকেই ত্রিশ থেকে নব্বই পর্যন্ত অন্যান্য সংখ্যার নির্দেশের জন্য যথেষ্ট মনে করেছেন, ফলে সেগুলো 'বিশ' এর অনুরূপ নিয়মেই পরিচালিত হয়েছে।

সুতরাং 'বিশ' যখন পুরুষ ও স্ত্রী উভয় লিঙ্গের জন্য ব্যবহৃত হয়, তখন 'ত্রিশ' শব্দটিও তার অনুরূপ হয়। 'বিশ' শব্দের স্ত্রীবাচক চিহ্নই 'ত্রিশ' শব্দের চিহ্নের অভাব পূরণ করে দেয়। 'বিশ' শব্দের 'আইন' বর্ণে কাসরা হওয়ার আরেকটি দলিল হলো, আমরা দেখি তারা 'তিনটি দশ' এর ক্ষেত্রে 'ত্রিশ' এবং 'চারটি দশ' এর ক্ষেত্রে 'চল্লিশ' বলে থাকে। যেন তারা নব্বই পর্যন্ত প্রতিটি সংখ্যার দশগুণ বোঝাতে এককের শব্দগুলো থেকে নতুন শব্দ গঠন করেছে। ফলে 'ত্রিশ' এর বিপরীতে 'বিশ' এর যৌক্তিক অনুমান (قياس) হওয়া উচিত ছিল 'ইছনাইন' বা 'ইছনুন' বলা। কিন্তু তারা তা পরিহার করেছে কারণ 'ইছনাইন' কেবল দ্বিবচনের জন্যই ব্যবহৃত হয়। যদি আমরা 'ইছনাইন' বলতাম তবে আমরা 'ইছন' থেকে দ্বিবচনের রূপটি বিচ্ছিন্ন করতাম এবং তাতে ওয়াও ও নুন যুক্ত করতাম; অথচ 'ইছন' শব্দটি দ্বিবচনের বর্ণ ছাড়া ব্যবহৃত হয় না। ফলে 'বিশ' এর স্থলে এর ব্যবহার বাতিল হয়ে যায়। যখন তারা এই কারণ (علة) এর দরুন 'বিশ' শব্দটি ব্যবহারে বাধ্য হলেন, তখন এর শুরুতে কাসরা দিলেন। কারণ 'ইছনাইন' শব্দের শুরুতেও কাসরা রয়েছে। তাই তারা 'বিশ' শব্দের শুরুতেও অনুরূপ কাসরা দিলেন এবং ওয়াও ও নুন যুক্ত করলেন কারণ এটি পুরুষবাচক ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।

যখন কোনো শব্দে পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচকতার সংমিশ্রণ ঘটে, তখন পুরুষবাচক রূপটিই প্রধান্য পায় এবং শব্দটি সেই রূপেই এককভাবে ব্যবহৃত হয়।

আরেকটি দলিল হলো, তারা স্ত্রীবাচকের ক্ষেত্রে 'এগারো' এবং 'উনিশ' বলে থাকে। যখন তারা এই সীমা অতিক্রম করে 'বিশ' পর্যন্ত পৌঁছালো, তখন তারা স্ত্রীবাচকতার জন্য নির্ধারিত 'শীন' বর্ণের কাসরাটিকে 'আইন' বর্ণে স্থানান্তরিত করে দিল, যেমনটি তারা 'কাদিব' শব্দের ক্ষেত্রে বলে থাকে:
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
كذب، وَفِي كبد، كبد وجمعوه بِالْوَاو وَالنُّون، كَمَا يَفْعَلُونَ فِي الْأَشْيَاء المؤنثة الْمَحْذُوف مِنْهَا الهاآت عوضا من الْمَحْذُوف، كَقَوْلِهِم فِي سنة: سِنِين وسنون، وَفِي أَرض: أرضون وأرضون. وَفِي ثبة: ثبون وثبون، وَهَذَا كثير جدا.

وَالْجمع بِالْوَاو وَالنُّون لَهُ مزية على غَيره من الجموع، فَجعل عوضا من الْمَحْذُوف.

وَاعْلَم أَن عشْرين وَنَحْوهَا رُبمَا جعل إعرابها فِي النُّون، وَأكْثر مَا يجيىء ذَلِك فِي الشّعْر، فَإِذا جعل كَذَلِك ألزمت الْيَاء لِأَنَّهَا أخف من الْوَاو، كَمَا فعلوا ذَلِك فِي سِنِين إِذا جعلُوا إعرابها فِي النُّون قَالُوا أَتَت عَلَيْهِ سِنِين.

قَالَ الشَّاعِر:

(وَإِن لنا أَبَا حسن عليا … أَب بر وَنحن لَهُ بَنِينَ)

وَأنْشد لغيره:

(أرى مر السنين أخذن مني … كَمَا أَخذ السرَار من الْهلَال)

وَقَالَ سحيم:

(وماذا تَدْرِي الشُّعَرَاء مني … وَقد جَاوَزت رَأس الْأَرْبَعين)

(أَخُو خمسين مُجْتَمع أشدي … ونجذني مداورة الشؤون)
মিথ্যা (كذب), এবং 'কাবদ' (পরিশ্রম) এর ক্ষেত্রে; তারা 'কাবদ' শব্দটিকে 'ওয়াও' এবং 'নুন' যোগে বহুবচন করেছেন, যেমনটি তারা সেই সমস্ত স্ত্রীলিঙ্গ শব্দের ক্ষেত্রে করে থাকেন যেখান থেকে 'হা' বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে এবং যা সেই বিলুপ্ত বর্ণের স্থলাভিষিক্ত হয়। যেমন 'বছর' শব্দের ক্ষেত্রে তাদের উক্তি: সীনীন ও সীনূন, এবং 'ভূমি' শব্দের ক্ষেত্রে: আরদূন ও আরদীন। তদ্রূপ 'দল' শব্দের ক্ষেত্রে: থুবূন ও থুবীন। আর এর প্রয়োগ অত্যন্ত বেশি।

'ওয়াও' ও 'নুন' যোগে গঠিত বহুবচনের অন্যান্য বহুবচনের ওপর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাই একে বিলুপ্ত বর্ণের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।

জেনে রাখুন যে, 'বিশ' এবং এই জাতীয় শব্দগুলোর ক্ষেত্রে কখনো কখনো 'নুন' বর্ণের ওপর বিভক্তি বা ইরাব প্রদান করা হয়, আর এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে কবিতায় দেখা যায়। যখন ইরাব এভাবে প্রদান করা হয়, তখন 'ইয়া' বর্ণটিকে অপরিবর্তনীয় রাখা হয়, কারণ এটি 'ওয়াও' অপেক্ষা হালকা। যেমনটি তারা 'বছর' শব্দের বহুবচনের ক্ষেত্রে করেছেন; যখন তারা 'নুন' বর্ণের ওপর ইরাব প্রদান করেন, তখন তারা বলেন: 'তার ওপর দিয়ে বহু বছর অতিক্রান্ত হয়েছে'।

কবি বলেছেন:

(নিশ্চয়ই আমাদের জন্য রয়েছেন আবু হাসান আলী … এক নেককার পিতা আর আমরা তাঁর সন্তান)

অন্যের কবিতা থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে:

(আমি দেখছি বছরের পরিক্রমা আমার থেকে কেড়ে নিচ্ছে … যেমন মাসের শেষ রাত চাঁদের ঔজ্জ্বল্য কেড়ে নেয়)

সুহাইম বলেছেন:

(কবিরা আমার সম্পর্কে আর কী-ই বা জানবে … অথচ আমি চল্লিশের কোটা পার করেছি)

(পঞ্চাশ বছর বয়সে আমার শক্তি সুসংহত হয়েছে … এবং বিষয়াদির ব্যবস্থাপনা আমাকে অভিজ্ঞ করে তুলেছে)
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
هَذَا عَامَّة قَول الْبَصرِيين إِنَّه مَتى لزم النُّون الْإِعْرَاب لزم الْيَاء، وَصَارَ بِمَنْزِلَة قنسرين وغسلين، وَأكْثر مَا يجيىء هَذَا فِي الشّعْر.

وَقد زعم بَعضهم أَنه قد يجوز أَن يلْزم الْوَاو، وَإِن كَانَ الْإِعْرَاب فِي النُّون.

وَزعم أَن زيتونا يجوز أَن يكون فيعولا، وَيجوز أَن يكون فعلونا، وَهُوَ إِلَى فعلون أقرب لِأَنَّهُ من الزَّيْت، وَقد لزم الْوَاو.

وَقَالَ سِيبَوَيْهٍ: لَو سمي رجل بمسلمين كَانَ فِيهِ وَجْهَان: إِن جعلت الْإِعْرَاب فِي الْوَاو فتحت النُّون على كل حَال، وَجعلت فِي حَال الرّفْع واوا، وَفِي حَال النصب والجر يَاء، كَقَوْلِك: جَاءَنِي مُسلمُونَ، وَرَأَيْت مُسلمين، ومررت بمسلمين. فَهَذَا مَا ذكره وَلم يزدْ عَلَيْهِ شَيْئا.

وَقد رَأينَا فِي كَلَام الْعَرَب وَأَشْعَارهَا بالرواية الصَّحِيحَة وَجها آخر، وَهُوَ أَنهم إِذا سموا بِجمع فِيهِ وَاو وَنون، فقد يلزمون الْوَاو على كل حَال، ويفتحون النُّون وَلَا يحذفونها فِي الْإِضَافَة، فكأنهم حكوا لفظ الْجمع الْمَرْفُوع فِي حَال التَّسْمِيَة، وألزموه طَريقَة وَاحِدَة. قَالَ الشَّاعِر:

(وَلها بالماطرون إِذا … أكل النَّمْل الَّذِي جمعا)
এটি বসরাবাসীদের সাধারণ অভিমত যে, যখন ‘নুন’ ই’রাব বা শব্দরূপ পরিবর্তনের স্থান হিসেবে নির্ধারিত হয়, তখন ‘ইয়া’ থাকাও আবশ্যক হয়ে পড়ে এবং তা ক্বিন্নাসরিন ও গিসলিনের সমপর্যায়ভুক্ত হয়ে যায়। কবিতার ক্ষেত্রে এটিই অধিক প্রচলিত।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, ‘নুন’-এ ই’রাব বা শব্দরূপ পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও ‘ওয়াও’ অপরিবর্তিত থাকা জায়েজ হতে পারে।

তিনি আরও দাবি করেছেন যে, ‘জাইতুন’ শব্দটি ‘ফায়’য়ুলা’ ছন্দের হতে পারে, আবার ‘ফাউ’লুনা’ ছন্দের হওয়াও সম্ভব। তবে এটি ‘ফাউ’লুনা’ ছন্দের অধিক নিকটবর্তী; কারণ এটি ‘জাইত’ শব্দ থেকে উৎপন্ন এবং এতে ‘ওয়াও’ অপরিবর্তিত রয়েছে।

সিবওয়াইহি বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তির নাম ‘মুসলিমুনা’ রাখা হয়, তবে তাতে দুটি রূপ হতে পারে: যদি আপনি ই’রাব বা শব্দরূপ পরিবর্তনের ভিত্তি ‘ওয়াও’-কে করেন, তবে সব অবস্থাতেই ‘নুন’-এর ওপর ফাতহ হবে। সেক্ষেত্রে রফ অবস্থায় ‘ওয়াও’ এবং নাসব ও জার অবস্থায় ‘ইয়া’ হবে। যেমন আপনার উক্তি: ‘জা-আনি মুসলিমুনা’, ‘রাআইতু মুসলিমিনা’ এবং ‘মারারতু বি-মুসলিমিনা’। তিনি এ বিষয়টিই উল্লেখ করেছেন এবং এর অতিরিক্ত কিছু বলেননি।

তবে আমরা আরবদের ভাষা ও কবিতায় সহিহ (صحيحة) বর্ণনার মাধ্যমে আরেকটি দিক খুঁজে পেয়েছি। তা হলো, তারা যখন এমন কোনো জমা বা বহুবচন দ্বারা নামকরণ করে যার শেষে ‘ওয়াও’ ও ‘নুন’ রয়েছে, তখন তারা সব অবস্থাতেই ‘ওয়াও’ বহাল রাখে এবং ‘নুন’-এ ফাতহ প্রদান করে। এমনকি ইজাফাত বা সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও তারা ‘নুন’ বিলোপ করে না। যেন তারা নামকরণের সময় জমা বা বহুবচনের মারফু (مرفوع) রূপটিকেই গ্রহণ করেছে এবং একে একটি নির্দিষ্ট রীতিতে সীমাবদ্ধ রেখেছে। জনৈক কবি বলেছেন:

(এবং আল-মাতরুন নামক স্থানে তার জন্য যখন … পিপীলিকা তার জমাকৃত খাদ্য ভক্ষণ করল)
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
فَفتح نون الماطرون وأثبث الْوَاو، وَهُوَ فِي مَوضِع جر.

وَالْعرب تَقول: الياسمون فِي حَال الرّفْع وَالنّصب والجر، وَيَقُولُونَ: ياسمون الْبر فيثبتون النُّون مَعَ الْإِضَافَة ويفتحونها. وَمِنْهُم من يرويهِ: بالماطرون، ويعرب الياسمون، وَكَذَلِكَ الزَّيْتُون، وَهُوَ الأجود.

فَإِذا زِدْت على الْعشْرين نيفا أعربته، وعطفت الْعشْرين عَلَيْهِ، كَقَوْلِك: أخذت خَمْسَة وَعشْرين، وَهَذِه ثَلَاثَة وَعِشْرُونَ لِأَنَّهُ لَا يَصح أَن يبْنى اسْم مَعَ اسْم، وَأَحَدهمَا مُعرب وَلم يَقع الآخر فِي شَيْء مِنْهُ كوقوع عشر فِي مَوضِع النُّون من اثْنَي عشر وتنصب مَا بعد الْعشْرين إِلَى تسعين وتوحد وتنكر. وَالَّذِي أوجب نَصبه أَن عشْرين جمع فِيهِ نون بِمَنْزِلَة ضاربين، وَيجوز إِسْقَاط نونه إِذا أضيف إِلَى مَالك، كَقَوْلِك هَذِه عشرو زيد.

وَعِشْرُونَ تطلب مَا بعْدهَا وتقتضيه، كَمَا أَن ضاربين يطْلب مَا بعده وتقتضيه فتنصب مَا بعد الْعشْرين، كَمَا نصبت مَا بعد الضاربين من الْمَفْعُول الَّذِي ذَكرْنَاهُ. إِلَّا أَن عشْرين لَا يعْمل إِلَّا فِي منكور، وَلَا يعْمل فِيمَا قبله لِأَنَّهُ لم يقو قُوَّة ضارين فِي كل شَيْء لِأَنَّهُ اسْم غير مُشْتَقّ من فعل، فَلم يتَقَدَّم عَلَيْهِ مَا عمل فِيهِ لِأَنَّهُ غير متصرف فِي نَفسه، وَلم يعْمل إِلَّا فِي نكرَة من قبل أَن الْمَعْنى فِي عشْرين درهما عشرُون من الدَّرَاهِم، فاستخفوا وَأَرَادُوا الِاخْتِصَار فحذفوا من، وجاؤوا بِوَاحِد منكور شَائِع فِي الْجِنْس فدلوا بِهِ على النَّوْع، وَلَا يجوز أَن يكون التَّفْسِير إِلَّا بِوَاحِد إِذْ كَانَ الْوَاحِد دَالا على نَوعه مُسْتَغْنى بِهِ، فَإِذا أردْت أَن تجمع جماعات مُخْتَلفَة جَازَ أَن تفسر الْعشْرين، وَنَحْوهَا بِجَمَاعَة فَتكون عشرُون كل وَاحِد مِنْهُمَا جمَاعَة.

وَمثل ذَلِك قَوْلك: قد التقى الخيلان، فَكل وَاحِد مِنْهُمَا جمَاعَة خيل، فعلى هَذَا تَقول: التقى عشرُون خيلا على أَن كل وَاحِد من الْعشْرين خيل. قَالَ الشَّاعِر:

(تبقلت من أول التبقل … بَين رماحي مَالك ونهشل)
'আল-মাতিরুন' শব্দের নূন-এ ফাতহ প্রদান করা হয়েছে এবং ওয়াও-কে বহাল রাখা হয়েছে, আর এটি এখানে মাজরুর (جر) অবস্থায় রয়েছে।

আর আরবরা বলে থাকে: 'আল-ইয়াসিমুন' রাফা (الرفع), নসব (النصب) এবং মাজরুর (الجر) — সকল অবস্থায়। তারা বলে থাকে: 'ইয়াসিমুনাল বাররি', যেখানে তারা ইযাফত (الإضافة) হওয়া সত্ত্বেও নূন-কে বহাল রাখে এবং তাতে ফাতহ প্রদান করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে 'বিল-মাতিরুন' হিসেবে বর্ণনা করেন এবং 'আল-ইয়াসিমুন'-কে মু’রাব (يعرب) গণ্য করেন; একইভাবে 'আয-যাইতুন' শব্দের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে, আর এটাই অধিকতর উত্তম।

যখন আপনি বিশের (২০) সাথে অতিরিক্ত কিছু যুক্ত করবেন, তখন আপনি তাকে মু’রাব (أعربته) করবেন এবং তার ওপর বিশের ‘আতফ’ (عطفت) করবেন; যেমন আপনার উক্তি: 'আমি পঁচিশটি গ্রহণ করেছি' এবং 'এই হলো তেইশ'। কারণ একটি বিশেষ্যের সাথে অন্য একটি বিশেষ্যকে ‘মাবনি’ (يبنى) করা সঠিক নয় যেখানে একটি মু’রাব (معرب) এবং অন্যটি এমন কোনো অবস্থানে নেই যেমনটি 'বারো' শব্দে 'দশ' শব্দটি 'নূন'-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আপনি বিশ থেকে নব্বই পর্যন্ত পরবর্তী শব্দটিকে নসব (تنصب) প্রদান করবেন এবং তাকে একবচন ও অনির্দিষ্ট (تنكر) রাখবেন। একে নসব (نصبه) প্রদান করার কারণ হলো 'বিশ' এমন একটি বহুবচন (جمع) যাতে নূন রয়েছে 'দারিবিন' শব্দের ন্যায়। যদি এটি কোনো মালিকের দিকে ইযাফত (أضيف) করা হয় তবে এর নূন বিলোপ করা বৈধ, যেমন আপনার উক্তি: 'এই হলো যায়দ-এর বিশ'।

আর 'বিশ' তার পরবর্তী শব্দের আকাঙ্ক্ষা রাখে এবং তাকে দাবি করে, যেমন 'দারিবিন' তার পরবর্তী শব্দের আকাঙ্ক্ষা ও দাবি রাখে। ফলে আপনি বিশের পরবর্তী শব্দটিকে নসব (تنصب) করবেন, যেভাবে আমরা উল্লেখ করেছি যে 'দারিবিন'-এর পরবর্তী কর্মপদ (المفعول)-কে নসব প্রদান করা হয়। তবে বিশ কেবল অনির্দিষ্ট (منكور) শব্দের ওপরই আমল (يعمل) করে। এটি তার পূর্ববর্তী শব্দের ওপর আমল করে না, কারণ সব ক্ষেত্রে এর শক্তি 'দারিবিন'-এর মতো প্রবল নয়; যেহেতু এটি ক্রিয়া থেকে নিষ্পন্ন (مشتق) কোনো বিশেষ্য নয়। সুতরাং তার আমলকৃত বিষয়ের আগে এটি আসতে পারে না কারণ এটি স্বয়ং অ-রূপান্তরযোগ্য (غير متصرف)। এটি কেবল অনির্দিষ্ট (نكرة) শব্দের ওপরই আমল করে, কারণ 'বিশ দিরহাম'-এর অর্থ হলো 'দিরহামসমূহ হতে বিশটি'। তারা সহজীকরণের উদ্দেশ্যে এবং সংক্ষেপ করার (الاختصار) জন্য 'মিন' হরফটি বিলোপ করেছে এবং একটি একবচন অনির্দিষ্ট (منكور) শব্দ নিয়ে এসেছে যা স্বীয় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত সকলকে বোঝায়; এর মাধ্যমে তারা প্রকারভেদ নির্দেশ করেছে। আর এর ব্যাখ্যা (التفسير) কেবল একবচনের মাধ্যমেই হওয়া আবশ্যক, যেহেতু একবচনই তার স্বীয় প্রকার নির্দেশ করে এবং তাতেই উদ্দেশ্য সাধিত হয়। যদি আপনি বিভিন্ন ভিন্ন ভিন্ন দলকে একত্রিত করতে চান, তবে বিশ বা তদ্রূপ শব্দকে একটি দল (جماعة) দ্বারা ব্যাখ্যা করা বৈধ, ফলে বিশের প্রতিটি একক হবে একেকটি দল।

এর উদাহরণ হলো আপনার কথা: 'দুই অশ্বারোহী দল পরস্পর মিলিত হয়েছে', এখানে তাদের প্রত্যেকেই অশ্বের একেকটি দল। এই ভিত্তিতে আপনি বলবেন: 'বিশটি ঘোড়া মিলিত হয়েছে', এই যুক্তিতে যে বিশের প্রতিটি একক হলো একেকটি ঘোড়া। জনৈক কবি বলেছেন:

(সে প্রথম বসন্তকাল হতেই কচি ঘাস ভক্ষণ করেছে … মালিক ও নাহশালের বর্শাগুলোর মাঝে)
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
لِأَن مَالِكًا ونهشلا قبيلتان. وكل وَاحِدَة مِنْهُمَا لَهَا رماح، فَلَو جمعت على هَذَا لَقلت: عشرُون رماحا قد الْتَقت، تُرِيدُ عشْرين قَبيلَة لكل مِنْهَا رماح. وَلَو قلت: عشرُون رمحا كَانَ لكل وَاحِد مِنْهَا رمح. قَالَ الشَّاعِر:

(سعى عقَالًا فَلم يتْرك لنا سبدا … فَكيف لَو قد سعى عَمْرو عِقَالَيْنِ)

(لأصبح الْقَوْم قد بادوا وَلم يَجدوا … عِنْد التَّفَرُّق فِي الهيجا جمالين)

أَرَادَ جمالا لهَذِهِ الْفرْقَة، وجمالا لهَذِهِ الْفرْقَة، فَإِذا بلغت الْمِائَة جِئْت بِلَفْظ يكون للذّكر وَالْأُنْثَى، وَهُوَ مائَة، كَمَا كَانَ عشرُون وَمَا بعْدهَا من الْعُقُود، وبينت الْمِائَة بإضافتها إِلَى وَاحِد منكور. فَإِن قَالَ قَائِل: مَا الْعلَّة الَّتِي أضيفت إِلَى وَاحِد منكور.

فَالْجَوَاب فِي ذَلِك أَنَّهَا شابهت الْعشْرَة الَّتِي حكمهَا أَن تُضَاف إِلَى جمَاعَة، وَالْعِشْرين الَّتِي حكمهَا أَن تميز بِوَاحِد منكور، فَأخذ من كل وَاحِد مِنْهُمَا شبه فأضيف بشبه الْعشْرَة، وَجعل مَا يُضَاف إِلَيْهِ وَاحِدًا بشبهه الْعشْرين لِأَنَّهَا يُضَاف إِلَيْهَا نوع يبينها، كَمَا يبين النَّوْع الْمُمَيز الْعشْرين. فَإِن قَالَ قَائِل: وَمَا شبهها من الْعشْرَة وَالْعِشْرين. قيل لَهُ: أما شبهها من الْعشْرَة فَلِأَنَّهَا عقد، كَمَا أَن الْعشْرَة عقد، وَأما شبهها من الْعشْرين فَلِأَنَّهَا تلِي التسعين.
কারণ মালিক এবং নাহশাল হলো দুটি গোত্র। তাদের প্রত্যেকেরই বর্শা রয়েছে। সুতরাং আপনি যদি এই ভিত্তিতে শব্দটিকে বহুবচন করেন, তবে আপনি বলবেন: 'বিশটি বর্শাসমূহ (رماح) একত্রিত হয়েছে', এর দ্বারা আপনি বিশটি গোত্রকে বোঝাতে চাইবেন যাদের প্রত্যেকের অনেকগুলো বর্শা রয়েছে। আর যদি আপনি বলতেন: 'বিশটি বর্শা' (একবচন অর্থে), তবে এর অর্থ হতো তাদের প্রত্যেকের কাছে একটি করে বর্শা রয়েছে। কবি বলেছেন:

(তিনি যাকাত আদায়ের এক বছর মেয়াদের জন্য চেষ্টা করেছিলেন এবং আমাদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট রাখেননি … তবে আমর যদি দুই মেয়াদের যাকাত আদায়ের চেষ্টা করতেন তবে কেমন হতো?)

(তবে তো কওমের লোকেরা ধ্বংস হয়ে যেত এবং তারা যুদ্ধের ময়দানে … ছত্রভঙ্গ হওয়ার সময় দুটি উটও খুঁজে পেত না)

তিনি এই দলের জন্য একদল উট এবং ওই দলের জন্য একদল উট বুঝিয়েছেন। অতঃপর যখন সংখ্যা একশতে পৌঁছাবে, তখন আপনি এমন একটি শব্দ আনবেন যা পুরুষবাচক ও স্ত্রীবাচক উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য, আর তা হলো 'একশত', যেমনটি ছিল 'বিশ' এবং এর পরবর্তী দশকগুলোর (عقود) ক্ষেত্রে। আর একশতকে একটি অনির্দিষ্ট (منكور) একবচনের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করার (إضافة) মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়। যদি কেউ প্রশ্ন করে: কী কারণে একে একটি অনির্দিষ্ট (منكور) একবচনের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে?

এর উত্তর হলো, এটি 'দশ' এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যার বিধান হলো বহুবচনের সাথে সম্বন্ধযুক্ত (تضاف) হওয়া, আবার 'বিশ' এর সাথেও সাদৃশ্যপূর্ণ যার বিধান হলো একটি অনির্দিষ্ট (منكور) একবচনের মাধ্যমে পার্থক্যকৃত (تميز) হওয়া। ফলে এটি উভয়টির থেকেই একটি করে সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে। সুতরাং 'দশ' এর সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে একে সম্বন্ধযুক্ত (أضيف) করা হয়েছে, আর 'বিশ' এর সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তাকে একবচন রাখা হয়েছে; কারণ এর সাথে এমন একটি প্রকার যোগ করা হয় যা একে স্পষ্ট করে, যেমনটি পার্থক্যকারী প্রকার (المميز) বিশকে স্পষ্ট করে থাকে। যদি কেউ প্রশ্ন করে: দশ ও বিশের সাথে এর সাদৃশ্য কী? তাকে বলা হবে: দশের সাথে এর সাদৃশ্য হলো এটি একটি পূর্ণ সংখ্যা বা দশক (عقد), যেমনটি দশ হলো একটি পূর্ণ সংখ্যা (عقد)। আর বিশের সাথে এর সাদৃশ্য হলো এটি নব্বইয়ের পরপরই আসে।
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَحكم عشرَة الشَّيْء كَحكم تسعته أَلا ترى أَنَّك تَقول: تِسْعَة أَثوَاب وَعشرَة أَثوَاب، فَتكون الْعشْرَة كالتسعة وَالْمِائَة من التسعين كالعشرة من التِّسْعَة، وَذَلِكَ قَوْلك: مِائَتَا دِرْهَم، وَمِائَتَا ثوب، وَنَحْو ذَلِك. وَيجوز فِي الشّعْر إِدْخَال النُّون على الْمِائَتَيْنِ وَنصب مَا بعْدهَا. قَالَ الشَّاعِر:

(إِذا عَاشَ الْفَتى مِائَتَيْنِ عَاما … فقد ذهب اللذاذة والفتاء)

وَقَالَ آخر أَيْضا:

(أَنعَت عيرًا من حمير خنزره … فِي كل عير مِائَتَان كمره)

فَإِذا أردْت تَعْرِيف الْمِائَة والمائتين أدخلت الْألف وَاللَّام فِي النَّوْع، وأضفتها إِلَيْهِ كَقَوْلِك: مائَة الدِّرْهَم، وَمِائَتَا الثَّوْب. فَإِذا جمعت الْمِائَة أضفت الثَّلَاث فَقلت: ثَلَاثمِائَة إِلَى تِسْعمائَة. فَإِن قَالَ قَائِل: هلا قُلْتُمْ: ثَلَاث مئين: أَو مئات، كَمَا قُلْتُمْ: ثَلَاث مسلمات، وتسع تمرات.

فَالْجَوَاب فِي ذَلِك: أَنا رَأينَا الثَّلَاث المضافة إِلَى الْمِائَة قد أشبهت الْعشْرين من وَجه،

কোনো বস্তুর দশের বিধান তার নয়ের বিধানের ন্যায়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে আপনি বলেন: নয়টি কাপড় এবং দশটি কাপড়; সুতরাং দশের বিধান নয়ের বিধানের মতোই। আর নব্বইয়ের ক্ষেত্রে একশ-র অবস্থান নয়ের ক্ষেত্রে দশের অবস্থানের মতো; আর এটি আপনার এই উক্তির ন্যায়: দুইশ দিরহাম, দুইশ কাপড় এবং এই জাতীয় শব্দাবলী। কবিতায় ‘মিআতাইন’ (দুইশ) শব্দের শেষে ‘নুন’ বহাল রাখা এবং পরবর্তী শব্দকে নসব প্রদান করা বৈধ। কবি বলেন:

(যখন কোনো যুবক দুইশ বছর অতিবাহিত করে … তখন জীবনের স্বাদ ও যৌবন বিলুপ্ত হয়ে যায়)

অন্য এক কবিও বলেছেন:

(আমি খিনযিরা গোত্রের গাধাগুলোর বর্ণনা দিচ্ছি … প্রতিটি পালে দুইশটি করে পুং-অঙ্গ রয়েছে)

আপনি যদি ‘একশ’ এবং ‘দুইশ’ শব্দকে নির্দিষ্ট করতে চান, তবে আপনি মূল প্রকারের মধ্যে আলিফ ও লাম যুক্ত করবেন এবং শব্দটিকে তার দিকে সম্বন্ধ করবেন; যেমন আপনার উক্তি: নির্দিষ্ট একশ দিরহাম এবং নির্দিষ্ট দুইশ কাপড়। যখন আপনি ‘একশ’ শব্দটিকে বহুবচনে ব্যবহার করবেন, তখন তিন সংখ্যাটিকে তার দিকে সম্বন্ধ করবেন এবং বলবেন: তিনশ থেকে নয়শ পর্যন্ত। যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন: আপনারা কেন ‘সালাসু মিঈন’ অথবা ‘সালাসু মিআত’ বলেন না, যেমনটি আপনারা ‘তিনজন মুসলিম নারী’ এবং ‘নয়টি খেজুর’ এর ক্ষেত্রে বলে থাকেন?

এর উত্তর হলো: আমরা দেখেছি যে, একশ-র সাথে সম্বন্ধযুক্ত ‘তিন’ সংখ্যাটি এক বিশেষ দিক থেকে ‘বিশ’ শব্দের সদৃশ হয়েছে,

(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وأشبهت الثَّلَاث الَّتِي فِي الْآحَاد من وَجه. فَأَما شبهها بالعشرين فَلِأَن عقدهَا على قِيَاس الثَّلَاث إِلَى التسع لِأَنَّك تَقول: ثَلَاثمِائَة وَتِسْعمِائَة، ثمَّ تَقول: ألف، وَلَا تَقول: عشر مائَة، فَصَارَ بِمَنْزِلَة قَوْلك: عشرُون وَتسْعُونَ. ثمَّ تَقول: مائَة على غير قِيَاس التسعين. وَتقول فِي الْآحَاد: ثَلَاث نسْوَة، وَعشر نسْوَة، فَتكون الْعشْر بِمَنْزِلَة التَّأْنِيث، فَأَشْبَهت ثَلَاثمِائَة الْعشْرين فبينت بِوَاحِد، وأشبهت الثَّلَاث فِي الْآحَاد فَجعل بَيَانهَا بِالْإِضَافَة.

وَالدَّلِيل على صِحَة هَذَا أَنهم قَالُوا: ثَلَاثَة آلَاف، فَإِنَّمَا أضافوا الثَّلَاثَة إِلَى جمَاعَة لأَنهم يَقُولُونَ: عشرَة آلَاف. فَلَمَّا كَانَ عشرته على غير قِيَاس ثلاثته أجروه مجْرى ثَلَاثَة أَثوَاب لأَنهم قَالُوا: عشرَة أَثوَاب.

فَإِذا قلت: ثَلَاثمِائَة، فَحكم الْمِائَة بعد إِضَافَة الثَّلَاث إِلَيْهَا، أَن تُضَاف إِلَى وَاحِد منكور كحكمها حِين كَانَت مُنْفَرِدَة، وَيجوز أَن تنون وتميز بِوَاحِد، كَمَا قيل: مِائَتَان عَاما. فَأَما قَول الله عز وجل: {ثَلَاث مائَة سِنِين وازدادوا تسعا} .

فَإِن أَبَا إِسْحَاق الزّجاج زعم أَن سِنِين منتصبة على الْبَدَل من ثَلَاثمِائَة وَلَا يَصح أَن تنصب على التَّمْيِيز لِأَنَّهَا لَو انتصبت بذلك فِيمَا قَالَ لوَجَبَ أَن يَكُونُوا قد لَبِثُوا تِسْعمائَة، وَلَيْسَ ذَلِك بِمَعْنى الْآيَة، وقبيح أَن يَجْعَل سِنِين نعتا لَهَا لِأَنَّهَا جامدة لَيْسَ فِيهَا معنى فعل.

وَقَالَ الْفراء: يجوز أَن تكون سِنِين على التَّمْيِيز، كَمَا قَالَ عنترة فِي بَيت لَهُ:

(فِيهَا اثْنَتَانِ وَأَرْبَعُونَ حلوبة … سُودًا كخافية الْغُرَاب الأسحم)
এবং এটি একদিক থেকে একক (آحاد) সমূহের মধ্যে বিদ্যমান 'তিন'-এর সদৃশ। আর বিশের সাথে এর সাদৃশ্যের কারণ হলো, এর গঠন তিন থেকে নয়-এর কিয়াসের ওপর ভিত্তি করে। কারণ আপনি বলেন: তিনশ এবং নয়শ, তারপর বলেন: এক হাজার, কিন্তু আপনি 'দশ শত' বলেন না। ফলে এটি আপনার বিশ এবং নব্বই বলার সমপর্যায়ভুক্ত হয়ে গেল। এরপর আপনি নব্বই-এর কিয়াসের বাইরে একশ বলেন। আর এককের ক্ষেত্রে আপনি বলেন: তিনজন নারী এবং দশজন নারী, যেখানে 'দশ' শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে তিনশ শব্দটি বিশ-এর সদৃশ হওয়ায় একে একটি একবচন শব্দ দ্বারা স্পষ্ট করা হয়েছে, আবার এটি একক (آحاد) সমূহের তিন-এর সদৃশ হওয়ায় এর স্পষ্টীকরণ সম্বন্ধের মাধ্যমে করা হয়েছে।

এর সঠিকতার প্রমাণ হলো তারা বলে থাকে: তিন হাজার। এখানে তারা তিন সংখ্যাটিকে একটি সমষ্টির দিকে সম্বন্ধ করেছে, কারণ তারা বলে থাকে: দশ হাজার। যেহেতু দশ-এর গঠন তিন-এর কিয়াসের অনুরূপ নয়, তাই তারা একে 'তিনটি পোশাক'-এর বিধানের অন্তর্ভুক্ত করেছে; কারণ তারা 'দশটি পোশাক' বলে থাকে।

সুতরাং আপনি যখন তিনশ বলেন, তখন তিন-কে এর সাথে সম্বন্ধ করার পর 'শত'-এর বিধান হলো—একে একটি অনির্দিষ্ট একবচনের দিকে সম্বন্ধ করতে হবে, ঠিক যেমন এটি এককভাবে থাকার সময় বিধান ছিল। আর একে তানভীন যুক্ত করা এবং একটি একবচন শব্দ দ্বারা স্পষ্ট করাও বৈধ, যেমন বলা হয়েছে: 'দুইশ বছর'। আর মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তাদের গুহায় তিনশ বছর অবস্থান করেছিল এবং তারা আরও নয় বছর বৃদ্ধি করেছিল}—

আবু ইসহাক আল-যাজ্জাজ দাবি করেছেন যে, 'বছরগুলো' শব্দটি 'তিনশ' থেকে বদল হিসেবে নসব প্রাপ্ত হয়েছে। এটি স্পষ্টকারী হিসেবে নসব হওয়া সঠিক নয়, কারণ তাঁর মতে যদি এটি সেভাবে নসব হতো তবে তারা নয়শ বছর অবস্থান করেছে বলে গণ্য হতো, যা আয়াতের অর্থ নয়। আর 'বছরগুলো' শব্দটিকে এর বিশেষণ বানানোও অশোভন, কারণ এটি একটি নিরেট বিশেষ্য, যার মধ্যে ক্রিয়ার কোনো অর্থ নেই।

আল-ফাররা বলেন: 'বছরগুলো' শব্দটি স্পষ্টকারী হিসেবে হওয়া বৈধ, যেমন আনতারা তাঁর একটি পঙ্ক্তিতে বলেছেন:

(তাতে বিয়াল্লিশটি দুগ্ধবতী উটনী রয়েছে … যা নিকষ কালো কাকের ডানার মতো কালো)
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ويروى: سود. فقد جَاءَ فِي التَّمْيِيز. سُودًا، وَهِي جمَاعَة.

قَالَ أَبُو سعيد: وَلأبي إِسْحَاق أَن يفصل بَين هَذَا وَبَين سِنِين، بِأَن سُودًا إِنَّمَا جَاءَت بعد الْمُمَيز، فَيجوز أَن يحمل على اللَّفْظ مرّة، وعَلى الْمَعْنى مرّة، كَمَا تَقول: كل رجل ظريف عِنْدِي. وَإِن شِئْت قلت: ظريف، فتحمله مرّة على اللَّفْظ، وَمرَّة على الْمَعْنى. وَلَيْسَ قبل سِنِين شَيْء وَقع بِهِ التَّمْيِيز فَيكون سِنِين مثل سُودًا.

وَاعْلَم أَن مائَة نَاقِصَة بِمَنْزِلَة رئة، وإرة، فلك أَن تجمعها مئون فِي حَال الرّفْع ومئين فِي حَال النصب والجر، وَإِن شِئْت قلت: مئين، فَجعلت الْإِعْرَاب فِي النُّون وألزمته الْيَاء، وَإِن شِئْت قلت: مئات، كَمَا تَقول: رئات. وَأما قَول الشَّاعِر:

(وحاتم الطَّائِي وهاب المئي … )

فقد اخْتلف النحويون فِي ذَلِك. فَقَالَ بَعضهم: أَرَادَ جمع الْمِائَة على الْجمع الَّذِي بَينه وَبَين واحده الْهَاء، كَقَوْلِك: تَمْرَة وتمر فَكَأَنَّهُ قَالَ: مائَة ومئ، ثمَّ أطلق القافية للجر.

وَقَالَ بَعضهم: أَرَادَ المي، وَكَانَ أَصله المئي على مِثَال فعيل لِأَن الذَّاهِب من الْمِائَة
এবং বর্ণিত হয়েছে (يروى): 'সাদ' (কালো)। এটি তাময়িজ (تمييز) হিসেবে এসেছে, যা একটি সমষ্টি (جماعة)।

আবু সাঈদ বলেন: আবু ইসহাকের নিকট এটি এবং 'সিনীন' (বছরসমূহ)-এর মধ্যে পার্থক্যের দিকটি হলো এই যে, 'সুদান' শব্দটি মুমাইয়িজ (مميز)-এর পরেই এসেছে। সুতরাং একে কখনো শব্দের (لفظ) ওপর ভিত্তি করে, আবার কখনো অর্থের (معنى) ওপর ভিত্তি করে প্রয়োগ করা বৈধ। যেমন আপনি বলেন: আমার কাছে প্রত্যেক ব্যক্তিই বুদ্ধিমান (ظريف)। আপনি চাইলে 'জারিফ' (ظريف) বলতে পারেন, ফলে আপনি একে একবার শব্দের ওপর এবং একবার অর্থের ওপর প্রয়োগ করলেন। আর 'সিনীন' শব্দের পূর্বে এমন কোনো কিছু নেই যার মাধ্যমে তাময়িজ (تمييز) সম্পন্ন হয়েছে, যাতে 'সিনীন' শব্দটি 'সুদান'-এর মতো হতে পারে।

জেনে রাখুন যে, 'মিয়াহ' (শত) শব্দটি একটি অসম্পূর্ণ (ناقصة) শব্দ যা 'রিয়াহ' এবং 'ইরাহ'-এর সমপর্যায়ের। সুতরাং রফ (رفع) অবস্থায় আপনি একে 'মিউনা' এবং নসব (نصب) ও জর (جر) অবস্থায় 'মিয়িনা' হিসেবে জমা (جمع) করতে পারেন। আর আপনি চাইলে 'মিয়িনা' বলতে পারেন, যেখানে নুন (ن)-এর ওপর ইরাব (إعراب) প্রদান করবেন এবং ইয়া (ي)-কে স্থায়ী রাখবেন। অথবা আপনি চাইলে 'মিয়াত' বলতে পারেন, যেমন আপনি 'রিয়াত' বলে থাকেন। আর কবির উক্তি:

(এবং হাতেম তায়ি, যিনি শত শত উট দানকারী … )

এ বিষয়ে ব্যাকরণবিদদের (نحويون) মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলেছেন: তিনি 'মিয়াহ'-এর এমন জমা (جمع) করতে চেয়েছেন যার একবচন ও বহুবচনের মধ্যে পার্থক্য হলো 'হা' (ة), যেমন আপনার উক্তি: 'তামরাহ' এবং 'তামর'। অর্থাৎ বিষয়টি যেন এমন যে, 'মিয়াহ' এবং 'মি'। অতঃপর জরের (جر) কারণে তিনি কাফিয়াকে মুক্ত করে দিয়েছেন।

আবার কেউ কেউ বলেছেন: তিনি 'আল-মিয়্য' বুঝিয়েছেন, যার মূল ছিল 'আল-মিয়ি' (المئي) যা 'ফায়িল' (فعيل) ওজনে গঠিত, কারণ 'মিয়াহ' শব্দ থেকে যা বিলুপ্ত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
إِمَّا وَاو، وَإِمَّا يَاء. فَإِن كَانَت يَاء فَهِيَ مئي، وَإِن كَانَت واوا انقلبت أَيْضا يَاء، وَصَارَ لَفظهَا وَاحِدًا، ثمَّ تكسر الْمِيم، وَذَلِكَ أَن بني تَمِيم يكسرون الْفَاء من فعيل إِذا كَانَت الْعين أحد الْحُرُوف السِّتَّة وَهِي حُرُوف الْحلق، كَقَوْلِهِم: شعير، وَرَحِيم. فَيَقُولُونَ فِي ذَلِك: مي وَأَصله مئي. وَمِمَّا جَاءَ على هَذَا الْمِثَال من الْجمع معيز جمع معز، وكليب، وَعبيد، وَغير ذَلِك مِمَّا جَاءَ على فعيل، فعلى هَذَا القَوْل مي مشدد. وَيجوز تخفيفها فِي القافية الْمقيدَة، كَمَا ينشد بَعضهم قَول طرفَة فِي بَيت لَهُ:

(أصحوت الْيَوْم أم شاقتك هر … وَمن الْحبّ جُنُون مستعر)

وَقَالَ بعض النَّحْوِيين: إِنَّمَا هُوَ مئين، فاضطر إِلَى حذف النُّون، كَمَا قَالَ:

(قواطنا مَكَّة من ورق الحمي … )

فَإِذا بلغت الْألف أضفته إِلَى وَاحِد فَقلت: ألف دِرْهَم، كَمَا أضفت الْمِائَة إِلَى وَاحِد حِين قلت: مائَة دِرْهَم. وَالْعلَّة فِيهِ كالعلة فِيهَا من قبل أَن الْألف على غير قِيَاس مَا قبله لِأَنَّك لم تقل عشر مائَة، كَمَا قلت: تِسْعمائَة، وضعت لفظا يدل على العقد الَّذِي بعد تِسْعمائَة غير جَار على شَيْء قبله، كَمَا فعلت ذَلِك بِالْمِائَةِ حِين لم تجرها على قِيَاس التسعين، فَإِذا جمعت الْألف جمعته على آلَاف، وَعشرَة آلَاف، كَمَا قلت: ثَلَاثَة أَثوَاب، وَعشرَة أَثوَاب.

وَإِنَّمَا خَالف جمع الْألف فِي الْإِضَافَة جمع الْمِائَة لِأَن الْألف عشرته كثلاثته، فَصَارَ بِمَنْزِلَة الْآحَاد الَّتِي عشرتها كثلاثتها. وَلَيْسَ عشرَة الْمِائَة كثلاثتها.
হয় এটি ওয়াও, না হয় ইয়া। যদি এটি ইয়া হয় তবে তা 'মিই', আর যদি ওয়াও হয় তবে তাও ইয়া-তে রূপান্তরিত হয় এবং উভয়ের উচ্চারণ অভিন্ন হয়ে যায়। অতঃপর মিম অক্ষরে কাসরা প্রদান করা হয়; এর কারণ হলো বনু তামীম গোত্র 'ফাউইল' ছন্দের প্রথম বর্ণে কাসরা প্রদান করে যখন তার দ্বিতীয় বর্ণটি ছয়টি কণ্ঠনালীয় বর্ণের (حروف الحلق) কোনো একটি হয়, যেমন তাদের কথা: 'শিই’র' এবং 'রাহীম'। তারা এক্ষেত্রে বলে: 'মী' আর এর মূল হলো 'মিই'। এই উদাহরণের (مثال) ওপর ভিত্তি করে যে বহুবচনগুলো এসেছে তার মধ্যে রয়েছে 'মাঈয' যা 'মা’য'-এর বহুবচন, এবং 'কুলাইব', 'উবাইদ' ও 'ফাউইল' ছন্দে আসা অন্যান্য শব্দ। এই মতানুসারে 'মী' শব্দটি তাশদীদযুক্ত। আবার অন্ত্যমিলের সীমাবদ্ধতার কারণে একে হালকা করা বৈধ, যেমনটি কেউ কেউ তরফাহ-এর একটি কবিতার চরণে আবৃত্তি করেন:

(তুমি কি আজ সজাগ হলে নাকি হির তোমাকে ব্যাকুল করেছে … আর প্রেম তো এক প্রজ্বলিত উন্মাদনা)

কিছু ব্যাকরণবিদ বলেছেন: এটি মূলত 'মিঈন' ছিল, অতঃপর তিনি নুন বিলোপ করতে বাধ্য হয়েছেন, যেমনটি বলা হয়েছে:

(মক্কার অধিবাসীগণ কবুতরের মতো … )

যখন আপনি হাজারে পৌঁছাবেন, তখন আপনি একে একবচনের সাথে সম্বন্ধ (إضافة) করবেন এবং বলবেন: এক হাজার দিরহাম, যেমনটি আপনি একশতকে একবচনের সাথে সম্বন্ধ (إضافة) করেছিলেন যখন আপনি বলেছিলেন: একশত দিরহাম। এক্ষেত্রে এর কারণ (العلة) পূর্ববর্তী কারণের (العلة) মতোই; কারণ হাজার শব্দটি তার পূর্ববর্তী নিয়মের যৌক্তিক অনুমানের (قياس) বহির্ভূত, যেহেতু আপনি 'দশটি একশত' বলেন না যেভাবে আপনি 'নয়শত' বলেছিলেন। বরং আপনি এমন একটি শব্দ নির্ধারণ করেছেন যা নয়শতের পরবর্তী দশককে নির্দেশ করে যা পূর্ববর্তী কোনো নিয়মের অনুসারী নয়, যেমনটি আপনি একশতের ক্ষেত্রে করেছিলেন যখন আপনি একে নব্বইয়ের যৌক্তিক অনুমানের (قياس) অনুসারী করেননি। অতঃপর যখন আপনি হাজার-কে বহুবচন করবেন, তখন আপনি একে 'আলাফ' এবং 'দশ হাজার' হিসেবে বহুবচন করবেন, যেমনটি আপনি বলেন: তিনটি পোশাক এবং দশটি পোশাক।

সম্বন্ধের (إضافة) ক্ষেত্রে হাজারের বহুবচন একশতের বহুবচনের চেয়ে ভিন্ন হওয়ার কারণ হলো— হাজারের দশটি তার তিনটির মতোই (একই ব্যাকরণিক নিয়মে চলে), ফলে এটি ওই এককের পর্যায়ভুক্ত যার দশটি ও তিনটি অভিন্ন নিয়মে চলে। কিন্তু একশতের দশটি তার তিনটির মতো নয়।
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وَقد بَينا هَذَا فِيمَا تقدم. وَلَيْسَ بعد الْألف شَيْء من الْعدَد على لفظ الْآحَاد، فَإِذا تضَاعف أُعِيد فِيهِ اللَّفْظ بالتكرير، كَقَوْلِك: عشرَة آلَاف ألف وَنَحْو ذَلِك. وَإِنَّمَا قلت: عشرَة آلَاف، لِأَن الْألف قد لزم إِضَافَته إِلَى وَاحِد فِي تبيينه وَكَذَلِكَ جماعته كواحده فِي تبيينه بِالْوَاحِدِ من النَّوْع.

وَاعْلَم أَن الْألف مُذَكّر تَقول: أخذت مِنْهُ ألفا وَاحِدًا.

قَالَ الله تَعَالَى: {بِثَلَاثَة آلَاف} . فَأدْخل الْهَاء على الثَّلَاثَة، فَدلَّ على تذكير الْألف، وَرُبمَا قيل: ألف دِرْهَم، يُرِيدُونَ الدَّرَاهِم.
আমরা ইতিপূর্বে এই বিষয়টি স্পষ্ট করেছি। সহস্রের পর একক (الآحاد) শব্দের বিন্যাসে গণনার আর কোনো শব্দ নেই। সুতরাং যখন এটি সংখ্যাত বৃদ্ধি পায়, তখন শব্দটিকে পুনরাবৃত্তির মাধ্যমেই পুনরায় উল্লেখ করা হয়; যেমন আপনার উক্তি: দশ সহস্র সহস্র এবং এই জাতীয় শব্দ। আমি ‘দশ সহস্র’ বলেছি কারণ ‘সহস্র’ শব্দটিকে তার বর্ণনার ক্ষেত্রে এককের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা আবশ্যক এবং অনুরূপভাবে এর বহুবচনও তার প্রকারের এককের মাধ্যমে বর্ণনার ক্ষেত্রে একবচনের মতোই।

জেনে রাখুন যে, ‘সহস্র’ শব্দটি পুংলিঙ্গ। আপনি বলবেন: আমি তার থেকে এক সহস্র গ্রহণ করেছি।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {তিন সহস্র দ্বারা}। এখানে ‘তিন’ সংখ্যার সাথে ‘হা’ যুক্ত করা হয়েছে, যা ‘সহস্র’ শব্দটি পুংলিঙ্গ হওয়ার প্রমাণ প্রদান করে। কখনো কখনো বলা হয়: এক সহস্র দিরহাম, যা দ্বারা দিরহামসমূহকে উদ্দেশ্য করা হয়।
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
بَاب ذكرك الِاسْم الَّذِي تبين بِهِ الْعدة كم هِيَ مَعَ تَمامهَا الَّذِي هُوَ من ذَلِك اللَّفْظ

 

فبناء الِاثْنَيْنِ وَمَا بعده إِلَى الْعشْرَة فَاعل، وَهُوَ مُضَاف إِلَى الِاسْم الَّذِي يبين بِهِ الْعدَد.

ذكر سِيبَوَيْهٍ فِي هَذَا الْبَاب من كِتَابه: ثَانِي اثْنَيْنِ، وثالث ثَلَاثَة إِلَى عَاشر عشرَة. فَإِذا قلت: هَذَا ثَانِي اثْنَيْنِ، أَو ثَالِث ثَلَاثَة، أَو رَابِع أَرْبَعَة فَمَعْنَاه أحد ثَلَاثَة، أَو بعض ثَلَاثَة، أَو تَمام ثَلَاثَة.

وَقَوْلنَا فِي تَرْجَمَة الْبَاب: الِاسْم الَّذِي تبين بِهِ الْعدة كم هِيَ نعني ثَلَاثَة. وَقَوْلنَا: مَعَ تَمامهَا الَّذِي هُوَ من ذَلِك اللَّفْظ. نعني: ثَالِثا لِأَنَّهُ تَمام ثَلَاثَة، وَهَذَا التَّمام يبْنى على فَاعل، كَمَا قُلْنَا. فَيُقَال: ثَانِي اثْنَيْنِ، وثالث ثَلَاثَة، وتجري الأول مِنْهَا بِوُجُوه الْإِعْرَاب إِلَى عَاشر عشرَة. قَالَ الله تَعَالَى: {لقد كفر الَّذين قَالُوا إِن الله ثَالِث ثَلَاثَة} . وَقَالَ {ثَانِي اثْنَيْنِ إِذْ هما فِي الْغَار} .

وَقد كنت ذكرت فِي المبنيات من أحد عشر إِلَى تِسْعَة عشر مَا فِيهِ كِفَايَة، وَلَكِنِّي اذكر هَهُنَا مِنْهُ جملَة فِيهَا مَا لم أذكرهُ هُنَاكَ، إِذْ كَانَ هَذَا بَابه إِن شَاءَ الله تَعَالَى.

هَذَا الْبَاب يشْتَمل على ضَرْبَيْنِ: أَحدهَا، وَهُوَ الْأَكْثَر فِي كَلَام الْعَرَب على مَا قَالَه سِيبَوَيْهٍ: أَن يكون الأول من لفظ الثَّانِي على معنى أَنه تَمَامه وَبَعضه، وَهُوَ قَوْلك: ثَانِي اثْنَيْنِ، وثالث ثَلَاثَة، وعاشر عشرَة، وَلَا ينون هَذَا فينصب مَا بعده فَيُقَال: ثَالِث ثَلَاثَة لِأَن ثَالِثا فِي هَذَا لَيْسَ يجْرِي مجْرى الْفِعْل فَيصير بِمَنْزِلَة [قَوْلك] : ضَارب زيدا. وَإِنَّمَا هُوَ بعض ثَلَاثَة، وَأَنت لَا تَقول: بعض ثَلَاثَة.
পরিচ্ছেদ: সেই বিশেষ্য পদের বর্ণনা যার মাধ্যমে সংখ্যাটি কত তা তার পূর্ণতাসহ স্পষ্ট হয়, যা মূলত সেই শব্দ থেকেই গঠিত হয়।

 

দুই এবং এর পরবর্তী সংখ্যাসমূহ থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যার গঠন 'ফা-ইল' (فاعل) ওজনে হয় এবং এটি সেই বিশেষ্যের সাথে সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) হয় যা সংখ্যাকে স্পষ্ট করে।

সিবওয়াইহি তার কিতাবের এই অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন: দুইয়ের দ্বিতীয় (ثاني اثنين), তিনের তৃতীয় (ثالث ثلاثة) থেকে দশের দশম (عاشر عشرة) পর্যন্ত। সুতরাং যখন আপনি বলেন: "এটি দুইয়ের দ্বিতীয় (ثاني اثنين)", অথবা "তিনের তৃতীয় (ثالث ثلاثة)", অথবা "চারের চতুর্থ (رابع أربعة)", তখন এর অর্থ দাঁড়ায় তিনের একজন, অথবা তিনের অংশবিশেষ, কিংবা তিনের পূর্ণতা প্রদানকারী।

অধ্যায়ের শিরোনামে আমাদের বক্তব্য: "সেই বিশেষ্য পদ যার দ্বারা সংখ্যাটি কত তা স্পষ্ট হয়", এর দ্বারা আমরা 'তিন' (ثلاثة) সংখ্যাটি উদ্দেশ্য নিয়েছি। আর আমাদের বক্তব্য: "এর পূর্ণতা যা সেই শব্দ থেকেই গঠিত", এর দ্বারা আমরা 'তৃতীয়' (ثالث) উদ্দেশ্য নিয়েছি; কারণ এটি তিনের পূর্ণতা দানকারী। আর এই পূর্ণতা দানকারী শব্দটি 'ফা-ইল' (فاعل) ওজনে গঠিত হয়, যেমনটি আমরা বলেছি। সুতরাং বলা হয়: দুইয়ের দ্বিতীয় (ثاني اثنين), তিনের তৃতীয় (ثالث ثلاثة); এবং এগুলোর প্রথম শব্দটি দশের দশম (عاشر عشرة) পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকারের বিভক্তি বা এরাব (إعراب) অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অবশ্যই তারা কুফরি করেছে যারা বলে যে, আল্লাহ তিনের তৃতীয় (ثالث ثلاثة)}। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: {দুইজনের দ্বিতীয় (ثاني اثنين), যখন তারা উভয়ে গুহায় ছিল}।

আমি অপরিবর্তনীয় (مبني) শব্দাবলির আলোচনায় এগারো থেকে উনিশ পর্যন্ত সংখ্যার বিষয়ে যা যথেষ্ট তা উল্লেখ করেছি, তবে আমি এখানে তার একটি সারসংক্ষেপ উল্লেখ করব যাতে এমন কিছু বিষয় থাকবে যা সেখানে আলোচনা করিনি; যেহেতু ইনশাআল্লাহ তাআলা এটিই তার উপযুক্ত স্থান।

এই অধ্যায়টি দুই প্রকারের বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করে: প্রথমটি—যা সিবওয়াইহির বর্ণনা মতে আরবদের কথাবার্তায় অধিক প্রচলিত—হলো প্রথম শব্দটি দ্বিতীয় শব্দের মূল শব্দ থেকে গঠিত হওয়া এই অর্থে যে, এটি তার পূর্ণতা দানকারী এবং তার অংশ। যেমন আপনার কথা: দুইয়ের দ্বিতীয় (ثاني اثنين), তিনের তৃতীয় (ثالث ثلاثة), এবং দশের দশম (عاشر عشرة)। এক্ষেত্রে প্রথম শব্দটিতে তানভিন (تنوين) হয় না যার ফলে পরবর্তী শব্দটি জবরযুক্ত বা মানসুব (منصوب) হয়; সুতরাং 'তিনের তৃতীয়' (ثالث ثلاثة) বলা হয়। কারণ এখানে 'তৃতীয়' (ثالث) শব্দটি ক্রিয়ার (فعل) ন্যায় আমল করে না যাতে তা আপনার বক্তব্য 'যাইদকে প্রহারকারী' (ضارب زيدا)-এর সমপর্যায়ভুক্ত হয়। বরং এটি তিনের অংশবিশেষ মাত্র, আর আপনি তো 'তিনের অংশ' বলতে 'বাতান ছালাছাতিন' (بعضا ثلاثة) বলেন না।
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
وَقد اجْتمع النحويون على ذَلِك إِلَّا مَا ذكره أَبُو الْحسن بن كيسَان عَن أبي الْعَبَّاس ثَعْلَب أَنه أجَاز ذَلِك. قَالَ أَبُو الْحسن: قلت لَهُ إِذا أجزت ذَلِك فقد أجريته مجْرى الْفِعْل فَهَل يجوز أَن تَقول: ثلثت ثَلَاثَة قَالَ: نعم، على معنى أتممت ثَلَاثَة. وَالْمَعْرُوف قَول الْجُمْهُور. وَقَالَ بَعضهم: سبعت الْقَوْم، وأسبعتهم: صيرتهم سَبْعَة. وسبعت الْحَبل أسبعه: فتلته على سبع قوى. وَكَانُوا سِتَّة فأسبعوا: صَارُوا سَبْعَة.

وأسبعت الشَّيْء وسبعته: صيرته سَبْعَة. ودراهم وزن سَبْعَة، لأَنهم جعلُوا عشرَة دَارهم وزن سَبْعَة مَثَاقِيل. وَسبع الْمَوْلُود: حلق رَأسه وَذبح عَنهُ لسبعة. وَسبع الله لَك: رزقك سَبْعَة أَوْلَاد. وَسبع الله لَك: ضعف لَك مَا صنعت سبع مَرَّات. وسبعت الْإِنَاء غسلته سبعا ولهذه الْكَلِمَة تصاريف قد أبنتها فِي موَاضعهَا.

فَإِذا زِدْت على الْعشْرَة، فَالَّذِي ذكره سِيبَوَيْهٍ بِنَاء الأول وَالثَّانِي، وَذَلِكَ حادي عشر، وَثَانِي عشر، وثالث عشر. فَفتح الأول وَالثَّانِي وجعلهما اسْما وَاحِدًا، وَجعل فتحهما كفتح ثَلَاثَة عشر، وَذكر أَن الأَصْل أَن يُقَال: حادي عشر أحد عشر، وثالث عشر ثَلَاثَة عشر. فَيكون حادي بِمَنْزِلَة ثَالِث لِأَن الثَّالِث قد استغرق حُرُوف ثَلَاثَة وَبني مِنْهَا، فَكَذَلِك يَنْبَغِي أَن يسْتَغْرق حادي عشر حُرُوف أحد عشر. وَقد حَكَاهُ أَيْضا فَقَالَ: وَبَعْضهمْ يَقُول: ثَالِث عشر ثَلَاثَة عشر، وَهُوَ الْقيَاس، وَقد أنكر أَبُو الْعَبَّاس هَذَا وَذكر أَنه غير مُحْتَاج إِلَى أَن يَقُول: ثَالِث عشر ثَلَاثَة عشر، وَأَن الَّذِي قَالَه سِيبَوَيْهٍ خلاف مَذْهَب الْكُوفِيّين.

وَكَأن حجَّة الْكُوفِيّين فِيمَا يتَوَجَّه فِيهِ أَن ثَلَاثَة عشر لَا يُمكن أَن يبْنى من لَفْظهمَا فَاعل، وَإِنَّمَا يبْنى من لفظ أَحدهمَا وَهُوَ الثَّلَاثَة، فَذكر عشر مَعَ ثَالِث لَا وَجه لَهُ.

وَقد قدمنَا احْتَاجَ سِيبَوَيْهٍ لذَلِك مَعَ حكايته إِيَّاه عَن بَعضهم. وَيجوز أَن يُقَال: إِنَّه لما لم يُمكن أَن يبْنى مِنْهُمَا فَاعل. وَبني من أَحدهمَا احْتِيجَ إِلَى ذكر الآخر لينفصل مَا هُوَ
সমস্ত ব্যাকরণবিদ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, তবে আবু আল-হাসান ইবনে কায়সান আবু আল-আব্বাস ছালাব থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা ব্যতীত; তিনি এটি জায়েজ বা বৈধ মনে করতেন। আবু আল-হাসান বলেন: আমি তাকে বললাম, যেহেতু আপনি এটি বৈধ করেছেন, তাই আপনি একে ক্রিয়ার অনুগামী করেছেন; তবে কি এটা বলা জায়েজ হবে: ‘আমি তিনকে তিনে পূর্ণ করেছি’? তিনি বললেন: হ্যাঁ, ‘আমি তিন পূর্ণ করেছি’ এই অর্থে। তবে জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাধিক্য আলিমের মতটিই প্রসিদ্ধ। তাঁদের কেউ কেউ বলেন: ‘আমি লোকগুলোকে সাতজনে উন্নীত করেছি’ এবং ‘আমি তাদের সাতজন করেছি’, অর্থাৎ আমি তাদের সাতজনে পরিণত করেছি। আবার ‘আমি দড়িটিকে সাতগাছি করেছি’, অর্থাৎ আমি একে সাতটি তন্তুর ওপর পাকিয়েছি। তারা ছয়জন ছিল, অতঃপর তারা সাতজন হলো।

আমি কোনো কিছুকে সাতভাগে বিভক্ত করেছি বা সাত করেছি। সাত ওজনের দিরহাম; কারণ তারা দশ দিরহামকে সাত মিছকাল ওজনের সমতুল্য নির্ধারণ করেছিল। নবজাতকের সপ্তম দিনের বিধান: যখন তার মাথা মুণ্ডন করা হয় এবং সপ্তম দিনে তার পক্ষ থেকে পশু জবেহ করা হয়। ‘আল্লাহ তোমার জন্য সাত সন্তান দান করুন’ অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে সাতটি সন্তান দান করুন। আবার ‘আল্লাহ তোমার জন্য সাতগুণ বাড়িয়ে দিন’ অর্থাৎ তুমি যা করেছ তা তোমার জন্য সাত গুণ বৃদ্ধি করে দিন। ‘আমি পাত্রটি সাতবার ধৌত করেছি’—আর এই শব্দের নানাবিধ রূপান্তর রয়েছে যা আমি যথাস্থানে স্পষ্ট করেছি।

যদি আপনি দশের অধিক সংখ্যা ব্যবহার করেন, তবে সিবওয়াইহ যা উল্লেখ করেছেন তা হলো প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় পদের গঠন; যেমন একাদশ, দ্বাদশ এবং ত্রয়োদশ। তিনি প্রথম এবং দ্বিতীয় উভয় পদকে ফাতহা বা জবর যুক্ত করেছেন এবং সেগুলোকে একটি বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি এগুলোর ফাতহাকে তেরো সংখ্যার ফাতহার ন্যায় গণ্য করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, মূল ভিত্তি হলো এটি বলা: ‘এগারোর একাদশ’ এবং ‘তেরোর ত্রয়োদশ’। এখানে ‘একাদশ’ শব্দটি ‘তৃতীয়’ এর সমপর্যায়ের হবে; কারণ ‘তৃতীয়’ শব্দটি ‘তিন’ এর সকল বর্ণকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তা থেকেই গঠিত হয়। অনুরূপভাবে ‘একাদশ’ এর ক্ষেত্রেও ‘এগারো’ এর বর্ণসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত। তিনি এটিও বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: তাদের কেউ কেউ বলেন ‘তেরোর ত্রয়োদশ’, আর এটিই হলো কিয়াস (قياس) বা নিয়মসিদ্ধ পদ্ধতি। তবে আবু আল-আব্বাস এটি অস্বীকার করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, ‘তেরোর ত্রয়োদশ’ বলার কোনো প্রয়োজন নেই। সিবওয়াইহ যা বলেছেন তা কুফিবাদীদের মাযহাব (مذهب) এর পরিপন্থী।

কুফিবাদীদের দলিল সম্ভবত এই যে, ‘তেরো’ শব্দদ্বয় থেকে ‘ফা-ইল’ (فاعل) ওজনে কোনো শব্দ গঠন করা সম্ভব নয়। বরং এর যেকোনো একটি শব্দ থেকে তা গঠিত হয়, আর তা হলো ‘তিন’; সুতরাং ‘তৃতীয়’ এর সাথে ‘দশ’ উল্লেখ করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।

সিবওয়াইহ কারো কারো নিকট থেকে এটি বর্ণনা করার পাশাপাশি এর প্রয়োজনীয়তার স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। এটা বলাও সম্ভব যে: যেহেতু শব্দদ্বয় থেকে ‘ফা-ইল’ (فاعل) গঠন করা সম্ভব নয় এবং তাদের একটি থেকে তা গঠিত হয়েছে, তাই অন্যটি উল্লেখ করার প্রয়োজন হয়েছে যাতে একটি থেকে অন্যটি পৃথক করা যায়।
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
أحد ثَلَاثَة مِمَّا هُوَ أحد ثَلَاثَة عشر فَأتى بِاللَّفْظِ كُله.

وَالضَّرْب الثَّانِي من الضربين أَن يكون التَّمام يجْرِي مجْرى اسْم الْفَاعِل الَّذِي يعْمل فِيمَا بعده، وَيكون لفظ التَّمام من عدد هُوَ أَكثر من المتمم بِوَاحِد كَقَوْلِك: ثَالِث اثْنَيْنِ، ورابع ثَلَاثَة، وعاشر تِسْعَة.

وَيجوز أَن ينون الأول فَيُقَال: رَابِع ثَلَاثَة، وعاشر تِسْعَة لِأَنَّهُ مَأْخُوذ من الْفِعْل. تَقول: كَانُوا ثَلَاثَة فربعتهم، وَتِسْعَة فعشرتهم. فَأَما عاشرهم، كَقَوْلِك: ضربت زيدا فَأَنا ضَارب زيدا، وضارب زيد. قَالَ الله تَعَالَى: {مَا يكون من نجوى ثَلَاثَة إِلَّا هُوَ رابعهم وَلَا خَمْسَة إِلَّا هُوَ سادسهم} .

وَقَالَ سِيبَوَيْهٍ: فِيمَا زَاد على الْعشْرَة فِي هَذَا الْبَاب: رَابِع ثَلَاثَة عشر، كَمَا قلت: خَامِس أَرْبَعَة، وَلم يحكه عَن الْعَرَب وَالْقِيَاس عِنْد النَّحْوِيين أَن لَا يجوز ذَلِك وَقد ذكره الْمبرد عَن نَفسه، وَعَن الْأَخْفَش أَنهم لم يجيزوه لِأَن هَذَا الْبَاب يجْرِي مجْرى الْفَاعِل الْمَأْخُوذ من الْفِعْل، وَنحن لَا نقُول: ربعت ثَلَاثَة عشر، وَلَا أعلم أحدا حَكَاهُ، فَإِن صَحَّ أَن الْعَرَب قالته فقياسه مَا قَالَه سِيبَوَيْهٍ.

وَأما قَوْلهم: حادي عشر، وَلَيْسَ حادي من لفظ وَاحِد. وَالْبَاب أَن يكون اسْم الْفَاعِل الَّذِي هُوَ تَمام من لفظ مَا هُوَ تَمَامه فَفِيهِ قَولَانِ: أَحدهمَا: أَن حادي مقلوب من وَاحِد استثقالا للواو فِي أول اللَّفْظ، فَلَمَّا قلب صَار حادو، فَوَقَعت الْوَاو طرفا وَقبلهَا كسرة فقلبوها يَاء، كَمَا قَالُوا: غَازِي وَهُوَ من غزوت، وَأَصله غازو.

وَذكر الْكسَائي انه سمع من الْأسد، أَبُو بعض عبد الْقَيْس: وَاحِد عشريا هَذَا. وَقَالَ بعض النَّحْوِيين، وَهُوَ الْفراء: حادي عشر من قَوْلك: يَحْدُو: أَي يَسُوق كَأَن الْوَاحِد الرائد يَسُوق الْعشْرَة وَهُوَ مَعهَا. وَأنْشد:

(أَنعَت عشرا والظليم حادي … كأنهن بأعالي الْوَادي)
তেরোর অন্তর্ভুক্ত তিনের একটি অংশ, ফলে তিনি পূর্ণ শব্দবিন্যাসটিই নিয়ে এসেছেন।

দুই প্রকারের মধ্যে দ্বিতীয় প্রকারটি হলো এই যে, পূর্ণতাদানকারী শব্দটি কর্তৃবাচক বিশেষ্যের ন্যায় আমল বা ক্রিয়া সম্পাদন করবে যা তার পরবর্তী শব্দের ওপর প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে পূর্ণতাদানকারী সংখ্যাটি যার পূর্ণতা দান করা হচ্ছে তার চেয়ে এক বেশি হয়; যেমন আপনার উক্তি: দুইয়ের তৃতীয়, তিনের চতুর্থ এবং নয়ের দশম।

প্রথম শব্দটিতে তানভিন বা দ্বিত্ব স্বরচিহ্ন যুক্ত করাও জায়েজ, তখন বলা হয়: তিনের চতুর্থ এবং নয়ের দশম; কারণ এটি ক্রিয়া হতে নিষ্পন্ন। আপনি বলেন: তারা তিনজন ছিল, অতঃপর আমি তাদের চতুর্থ হলাম; এবং নয়জন ছিল, আমি তাদের দশম হলাম। আর 'তাদের দশম' হওয়ার বিষয়টি আপনার এই উক্তির মতো: 'আমি জায়েদকে প্রহার করেছি, সুতরাং আমি জায়েদকে প্রহারকারী'। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ না থাকেন এবং পাঁচ ব্যক্তিরও হয় না যাতে তিনি ষষ্ঠ না থাকেন}।

সিবওয়াইহি এই অধ্যায়ে দশের ঊর্ধ্বের সংখ্যার ক্ষেত্রে বলেছেন: 'তেরোর চতুর্থ', যেমনটি আপনি বলেছিলেন: 'চারের পঞ্চম'। তবে তিনি এটি আরবদের নিকট হতে বর্ণনা করেননি। ব্যাকরণবিদদের নিকট যুক্তি অনুযায়ী এটি জায়েজ নয়। মুবাররাদ এটি নিজের পক্ষ হতে উল্লেখ করেছেন এবং আখফাশ থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তারা এটিকে জায়েজ মনে করতেন না; কারণ এই অধ্যায়টি ক্রিয়া হতে গৃহীত কর্তৃবাচক বিশেষ্যের ন্যায় গণ্য হয়। অথচ আমরা বলি না: 'আমি তেরোকে চার করেছি', আর আমার জানামতে কেউই এটি বর্ণনা করেননি। তবে যদি এটি প্রমাণিত হয় যে আরবরা এমনটি বলেছে, তবে তার যৌক্তিক বিশ্লেষণ সিবওয়াইহির উক্তি অনুযায়ীই হবে।

আর তাদের উক্তি: 'একাদশ'; এখানে 'হাদি' শব্দটি 'ওয়াহিদ' শব্দ হতে গঠিত নয়। অথচ নিয়ম হলো, পূর্ণতাদানকারী কর্তৃবাচক বিশেষ্যটি সেই শব্দ থেকেই হতে হবে যার পূর্ণতা সে দান করছে। এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে: প্রথমটি হলো— 'হাদি' শব্দটি 'ওয়াহিদ' থেকে বর্ণবিপর্যয়ের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে, কারণ শব্দের শুরুতে 'ওয়াও' উচ্চারণ করা ভারি মনে করা হতো। যখন একে উল্টে দেওয়া হলো তখন তা 'হাদু' হলো, অতঃপর 'ওয়াও'টি শব্দের শেষে পতিত হওয়ায় এবং তার পূর্বে জের থাকায় তারা একে 'ইয়া' তে রূপান্তরিত করেছে; যেমন তারা বলে 'গাজি', যা 'গাজাওতু' থেকে এসেছে এবং এর মূল রূপ ছিল 'গাজিউ'।।

কিসায়ি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আসাদ গোত্রের আব্দুল কায়সের কোনো এক ব্যক্তির নিকট হতে শুনেছেন: 'এটি একাদশ' (ওয়াহিদ আশারিয়া হাজা)। কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ, যেমন ফাররা বলেছেন: 'হাদি আশারা' কথাটি আপনার উক্তি 'ইয়াহদু' থেকে এসেছে, যার অর্থ সে চালনা করে বা হাঁকিয়ে নেয়। যেন সেই অগ্রগামী এক ব্যক্তি দশজনকে হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং সে তাদের সাথেই রয়েছে। তিনি কাব্য আবৃত্তি করেছেন:

(আমি দশটি উট এবং তাদের হাঁকিয়ে নেওয়া উটপাখির বর্ণনা দিচ্ছি … যেন তারা উপত্যকার উচ্চভূমিতে রয়েছে।)
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌يرفلن فِي ملاحف جِيَاد

 

[أَرَادَ الظليم حادي عشر.] .

وَفِي ثَالِث عشر وبابها ثَلَاثَة أوجه: فَإِن جِئْت بهَا على التَّمام على مَا ذكر سِيبَوَيْهٍ فَقلت: ثَالِث عشر ثَلَاثَة عشر، فتحت الْأَوَّلين والآخرين لَا يجوز غير ذَلِك. وَإِن حذفت فَقلت: ثَالِث ثَلَاثَة عشر أعربت ثَالِثا بِوُجُوه الْإِعْرَاب، وَفتحت الآخرين فَقلت: هَذَا ثَالِث ثَلَاثَة عشر، وَرَأَيْت ثَالِث ثَلَاثَة عشر، ومررت بثالث ثَلَاثَة عشر لَا يجوز غير ذَلِك عِنْد النَّحْوِيين كلهم. وَإِن حذفت مَا بَين ثَالِث وَعشر الْأَخير، فَالَّذِي ذكره سِيبَوَيْهٍ فتحهما جمعيا.

وَذكر الْكُوفِيُّونَ أَنه يجوز أَن يجرى ثَالِث بِوُجُوه الْإِعْرَاب، وَيجوز أَن يفتح فَمن أجراه بِوُجُوه الْإِعْرَاب أَرَادَ: هَذَا ثَالِث ثَلَاثَة عشر، ومررت بثالث ثَلَاثَة عشر، ثمَّ حذف ثَلَاثَة تَخْفِيفًا، وبقى ثَالِثا على حكمه. وَمن بنى ثَالِثا مَعَ عشر أَقَامَهُ مقَام ثَلَاثَة حِين حذفهَا، وَهَذَا قَول قريب، وَلم يُنكره أَصْحَابنَا.

وَقَالَ الْكسَائي، سَمِعت الْعَرَب تَقول: هَذَا ثَالِث عشر، وثالث عشر، فَرفعُوا ونصبوا. قَالَ سِيبَوَيْهٍ: وَتقول: هَذَا حادي أحد عشر إِذا كن عشر نسْوَة مَعَهُنَّ رجل لِأَن الْمُذكر يغلب الْمُؤَنَّث. وَمثل ذَلِك قَوْلك: خَامِس خَمْسَة إِذا كن أَربع نسْوَة فِيهِنَّ رجل، كَأَنَّك قلت: هُوَ تَمام خَمْسَة. وَتقول: هُوَ خَامِس أَربع، إِذا أردْت أَنه صير أَربع نسْوَة خمْسا.

قَالَ سِيبَوَيْهٍ: وَأما بضعَة عشر فبمنزلة تِسْعَة عشر فِي كل شَيْء. وبضع عشرَة، كتسع عشرَة فِي كل شَيْء، قَالَ الْفَارِسِي: بضعَة بِالْهَاءِ: عدد مُبْهَم من ثَلَاثَة إِلَى تِسْعَة من الْمُذكر. وبضع بِغَيْر الْهَاء عدد مُبْهَم من ثَلَاث إِلَى تسع من الْمُؤَنَّث، وَهِي تجرى مُفْردَة. وَمَعَ الْعشْرَة مجْرى الثَّلَاثَة إِلَى التِّسْعَة فِي الْإِعْرَاب وَالْبناء تَقول: هَؤُلَاءِ بضعَة رجال، وبضع نسْوَة، قَالَ الله تَعَالَى: {وهم من بعد غلبهم سيغلبون فِي بضع سِنِين} . وَفِيمَا
তারা উৎকৃষ্ট চাদর পরিহিত অবস্থায় দম্ভভরে চলে

 

[তিনি পুরুষ উটপাখিকে একাদশতম বুঝিয়েছেন।] .

ত্রয়োদশ এবং এজাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে তিনটি রূপ রয়েছে: আপনি যদি সিবওয়াইহ বর্ণিত পূর্ণাঙ্গ রূপটি ব্যবহার করেন, তবে বলবেন: ‘সালিছ আশার ছালাছাতা আশার’ (তেরো জনের মধ্যে ত্রয়োদশ); এক্ষেত্রে আপনি প্রথম ও শেষ উভয় অংশকেই ফাতহা-যুক্ত করবেন, এছাড়া অন্য কিছু বৈধ নয়। আর যদি আপনি সংক্ষেপ করেন এবং বলেন: ‘সালিছ ছালাছাতা আশার’, তবে ‘সালিছ’ শব্দটিকে ব্যাকরণিক পরিবর্তন অনুযায়ী রূপান্তর করবেন এবং শেষ দুই পদকে ফাতহা-যুক্ত রাখবেন। তখন বলবেন: ‘এটি তেরো জনের মধ্যে তৃতীয়’, ‘আমি তেরো জনের মধ্যে তৃতীয়কে দেখেছি’ এবং ‘আমি তেরো জনের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’; সকল ব্যাকরণবিদের নিকট এটি ছাড়া অন্য কিছু বৈধ নয়। আর যদি আপনি ‘সালিছ’ এবং সর্বশেষ ‘আশার’-এর মধ্যবর্তী অংশটুকু বিলুপ্ত করেন, তবে সিবওয়াইহ-এর বর্ণনা অনুযায়ী উভয় অংশই ফাতহা-যুক্ত হবে।

কুফী ব্যাকরণবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, ‘সালিছ’ শব্দটিকে ব্যাকরণিক পরিবর্তন অনুযায়ী রূপান্তর করা যেমন বৈধ, তেমনি ফাতহা-যুক্ত রাখাও বৈধ। যারা একে ব্যাকরণিক পরিবর্তন অনুযায়ী রূপান্তর করেছেন, তারা মূলত ‘এটি তেরো জনের মধ্যে তৃতীয়’ এবং ‘আমি তেরো জনের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’ বোঝাতে চেয়েছেন; অতঃপর সহজীকরণের জন্য ‘তিন’ (ছালাছাতা) শব্দটি বিলুপ্ত করেছেন এবং ‘সালিছ’ শব্দটিকে তার পূর্বের বিধান (حكم) অনুযায়ী বহাল রেখেছেন। আর যিনি ‘আশার’-এর সাথে ‘সালিছ’-কে যুক্ত করে মাবনি বা অপরিবর্তনীয় রূপ দান করেছেন, তিনি ‘তিন’ শব্দটি বিলুপ্ত করার সময় ‘সালিছ’-কে তারই স্থলাভিষিক্ত করেছেন। এটি একটি যৌক্তিক মত এবং আমাদের বসরাবাদী সঙ্গীরা এটি অস্বীকার করেননি।

কিসায়ী বলেছেন, আমি আরবদের বলতে শুনেছি: ‘এটি ত্রয়োদশ’ এবং ‘ত্রয়োদশ’; অর্থাৎ তারা রফা (পেশ) এবং নাসাব (যবর) উভয়ভাবেই পড়েছেন। সিবওয়াইহ বলেন: আপনি বলবেন, ‘এটি এগারো জনের মধ্যে একাদশতম’ যখন দশজন মহিলার সাথে একজন পুরুষ থাকে, কারণ ব্যাকরণগতভাবে পুংলিঙ্গ স্ত্রীলিঙ্গের ওপর প্রাধান্য পায়। এর উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: ‘পাঁচজনের মধ্যে পঞ্চম’ যখন সেখানে চারজন মহিলার মধ্যে একজন পুরুষ থাকে, যেন আপনি বললেন: সে পাঁচজনকে পূর্ণকারী। আর আপনি বলবেন: ‘সে চারজনের মধ্যে পঞ্চম’, যখন আপনি বোঝাতে চাইবেন যে সে চারজন মহিলাকে পাঁচজনে পরিণত করেছে।

সিবওয়াইহ বলেন: আর তেরো থেকে উনিশ পর্যন্ত অনির্দিষ্ট সংখ্যা (বিদআতাহ আশার) সব কিছুতেই ‘উনিশ’ (তিসআতাহ আশার)-এর পর্যায়ভুক্ত। আর স্ত্রীলিঙ্গবাচক অনির্দিষ্ট সংখ্যা (বিদআ আশরাহ) সব কিছুতেই স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘উনিশ’-এর মতো। ফারিসী বলেন: ‘তা’ যুক্ত ‘বিদআতাহ’ শব্দটি পুরুষবাচক এককের ক্ষেত্রে তিন থেকে নয় পর্যন্ত একটি অনির্দিষ্ট সংখ্যা। আর ‘তা’ বিহীন ‘বিদআ’ শব্দটি স্ত্রীবাচক এককের ক্ষেত্রে তিন থেকে নয় পর্যন্ত অনির্দিষ্ট সংখ্যা, এবং এটি পৃথকভাবেও ব্যবহৃত হয়। দশের সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি ব্যাকরণিক পরিবর্তন এবং গঠনের দিক থেকে তিন থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যাগুলোর নিয়মেই পরিচালিত হয়। আপনি বলবেন: ‘এরা কয়েকজন পুরুষ’ এবং ‘কয়েকজন মহিলা’। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে, কয়েক বছরের মধ্যে}। এবং যে বিষয়ে...
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
زَاد على الْعشْرَة: هَؤُلَاءِ بضعَة عشر رجلا، وبضع عشرَة امْرَأَة وَهِي مُشْتَقَّة - وَالله أعلم - من بضعت الشَّيْء: إِذا قطعته كَأَنَّهُ قِطْعَة من الْعدَد، وَقد كَانَ حَقه أَن يذكر فِي الْبَاب الأول لِأَن هَذَا الْبَاب إِنَّمَا ذكر فِيهِ الْعدَد المتمم نَحْو ثَالِث ثَلَاثَة، ورابع أَرْبَعَة. وَلكنه ذكرهَا هَهُنَا لترى أَنه لَيْسَ بِمَنْزِلَة ثَالِث عشر، أَو ثَالِثَة عشرَة، فاعلمه.

وَمن قَول الْكسَائي: هَذَا الْجُزْء الْعَاشِر عشْرين. وَمن قَول سِيبَوَيْهٍ وَالْفراء: هَذَا الْجُزْء الْعشْرُونَ، وَهَذِه الورقة الْعشْرُونَ، على معنى تَمام الْعشْرين، فتحذف التَّمام وتقيم الْعشْرين مقَامه. وَكَذَلِكَ تَقول: هَذَا الْجُزْء الْوَاحِد وَالْعشْرُونَ، والأحد وَالْعشْرُونَ، وَهَذِه الورقة الإحدى وَالْعشْرُونَ والواحدة وَالْعشْرُونَ. وَكَذَلِكَ الثَّانِي وَالْعشْرُونَ، وَالثَّانيَِة وَالْعشْرُونَ، وَمَا بعده إِلَى قَوْلك: التَّاسِع وَالْعشْرُونَ.

وَتقول: هُوَ الأول، وَالثَّانِي، وَالثَّالِث، وَالرَّابِع، وَالْخَامِس وَقد قَالُوا. الخامي. قَالَ أَبُو عَليّ: وَهُوَ من شَاذ المحول، كَقَوْلِهِم: أمليت فِي أمللت، وَلَا أملاه يُرِيدُونَ: لَا أمله إِلَّا أَن هَذَا حول للتضعيف.

وخامس لَيْسَ فِيهِ تَضْعِيف، فَإِذا هُوَ من بَاب حسيت وأحست فِي حسست وأحسست. وَقَالُوا: سادس وساد على حد خام، وَأنْشد ابْن السّكيت:

(إِذا مَا عد أَرْبَعَة فَسَالَ … فزوجك خَامِس وحموك سادي)

وَفِي هَذَا ثَلَاث لُغَات: جَاءَ سادسا، وساديا، وساتا. فَمن قَالَ سادسا أخرجه على
দশকের অধিক: এরা হলো দশের অধিক (بضعَة عشر) সংখ্যক পুরুষ এবং দশের অধিক (بضع عشرَة) সংখ্যক নারী। এটি মূলত উদ্ভূত হয়েছে—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—'বজাতুশ শাই' (بضعت الشَّيْء) থেকে: যখন আপনি কোনো কিছুকে কর্তন করেন, যেন এটি সংখ্যার একটি কর্তিত অংশ (قطعة)। এর প্রকৃত হক ছিল প্রথম পরিচ্ছেদে উল্লেখিত হওয়া, কারণ সেই পরিচ্ছেদে কেবল পরিপূরক সংখ্যাসমূহ যেমন তিনের তৃতীয় (ثالث ثلاثة) এবং চারের চতুর্থ (رابع أربعة) আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু লেখক একে এখানে উল্লেখ করেছেন যাতে আপনি বুঝতে পারেন যে এটি ত্রয়োদশ (ثالث عشر) কিংবা ত্রয়োদশী (ثالثة عشرة)-এর পর্যায়ের নয়; সুতরাং তা জেনে নিন।

কিসাঈর মতানুসারে: ‘এটি হলো কুড়ির দশম অংশ’। সিবওয়াইহ ও ফাররার মতানুসারে: ‘এটি বিংশতম (العشرون) অংশ’ এবং ‘এটি বিংশতম (العشرون) পৃষ্ঠা’, যা কুড়ির পূর্ণতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। ফলে এখানে ‘পূর্ণতা’ (تمام) শব্দটিকে বিলুপ্ত করে তার স্থলে ‘বিংশ’ (العشرون) শব্দটিকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। একইভাবে আপনি বলবেন: ‘এটি একবিংশ (الواحد والعشرون) অংশ’ এবং ‘একবিংশ (الأحد والعشرون)’, আর ‘এটি একবিংশ (الإحدى والعشرون) পৃষ্ঠা’ এবং ‘একবিংশ (الواحدة والعشرون)’। অনুরূপভাবে দ্বাবিংশ (الثاني والعشرون), দ্বাবিংশতমী (الثانية والعشرون) এবং এর পরবর্তী সংখ্যাগুলো থেকে শুরু করে ঊনত্রিশতম (التاسع والعشرون) পর্যন্ত।

আপনি বলবেন: সে প্রথম (الأول), দ্বিতীয় (الثاني), তৃতীয় (الثالث), চতুর্থ (الرابع) এবং পঞ্চম (الخامস)। তারা ‘খামি’ (الخامي) শব্দটিও ব্যবহার করেছেন। আবু আলী বলেন: এটি রূপান্তরিত বিরল (شاذ) রূপগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যেমন তারা ‘আমলালতু’ (أمللت)-এর পরিবর্তে ‘আমলাইতু’ (أمليت) এবং ‘লা আমলাহু’ (لا أملاه) বলে থাকে; তারা এর মাধ্যমে ‘লা আমাল্লাহু’ (لا أمله) বুঝাতে চায়, তবে এখানে দ্বিত্বকরণ (تضعيف) দূর করার উদ্দেশ্যে রূপান্তর করা হয়েছে।

এবং পঞ্চম (خامس) শব্দটিতে কোনো দ্বিত্বকরণ (تضعيف) নেই, ফলে এটি ‘হাসাইতু’ (حسيت) এবং ‘আহাসাত’ (أحست) প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত যা মূলত ‘হাসাস্তু’ (حسست) এবং ‘আহাসাসতু’ (أحسست) ছিল। তারা ষষ্ঠ (سادس) এবং ‘সাদ’ (ساد) শব্দ দুটিকে ‘খাম’ (خام)-এর ওজনে ব্যবহার করেছেন। ইবনুল সিক্কিত আবৃত্তি করেছেন:

(যখন চার গণনা করা হয় এবং তা বৃদ্ধি পায় … তখন তোমার স্বামী পঞ্চম এবং তোমার শ্বশুর ষষ্ঠ)

এ বিষয়ে তিনটি ভাষাগত রীতি (لغات) রয়েছে: সে ষষ্ঠ হিসেবে (سادسا), ষষ্ঠ হিসেবে (ساديا) এবং ষষ্ঠ হিসেবে (ساتا) এসেছে। যারা ‘সাদিসান’ (سادسا) বলেন, তারা একে নির্গত করেন...
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
الأَصْل، وَمن قَالَ ساتا فعلى اللَّفْظ، وَمن قَالَ ساديا فعلى الْإِبْدَال والتحويل، الَّذِي قدمنَا، وَأنْشد ابْن السّكيت:

(بويزل أَعْوَام أذاعت بِخَمْسَة … وتجعلني إِن لم يق الله ساديا)

وَأنْشد أَيْضا:

(مضى ثَلَاث سِنِين مذ حل بهَا … وعام حلت وَهَذَا التَّابِع الخامي)

يُرِيد الْخَامِس. قَالَ أَبُو عَليّ: فِي الْعُقُود كلهَا هُوَ الموفي كَذَا، وَهِي الموفية كَذَا كَقَوْلِك: الموفي عشْرين، والموفية عشْرين.
এটিই মূল (الأصل)। যে ব্যক্তি 'সাতা' (ساتا) বলেছে সে শব্দরীতি (اللفظ) অনুযায়ী বলেছে, আর যে ব্যক্তি 'সাদিয়া' (ساديا) বলেছে সে বর্ণ পরিবর্তন (الإبدال) ও রূপান্তর (التحويل) অনুযায়ী বলেছে যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। ইবনে সিক্কীত আবৃত্তি করেছেন:

(কয়েক বছরের ছোট উট যা পাঁচ বছর অতিবাহিত করেছে … এবং আল্লাহ যদি রক্ষা না করেন তবে তা আমাকে ষষ্ঠতম (ساديا) বানিয়ে দিত)

তিনি আরও আবৃত্তি করেছেন:

(সেখানে অবতরণ করার পর তিন বছর অতিবাহিত হয়েছে … এবং এক বছর সে তথায় অবস্থান করেছে আর এটি হলো তার পরবর্তী পঞ্চম (الخامي) বছর)

এখানে 'খামি' দ্বারা পঞ্চম (الخامس) উদ্দেশ্য। আবু আলী বলেন: দশকের সংখ্যাগুলোর (العقود) ক্ষেত্রে সর্বদা এটি পূর্ণকারী (الموفي) এরূপ হয় এবং স্ত্রীলিঙ্গে পূর্ণকারী (الموفية) এরূপ হয়; যেমন আপনার উক্তি: বিশ পূর্ণকারী (الموفي عشرين) এবং বিশ পূর্ণকারী (الموفية عشرين)।
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
هَذَا بَاب الْمُؤَنَّث الَّذِي يَقع على الْمُؤَنَّث والمذكر وَأَصله التَّأْنِيث

 

اعْلَم أَن الْمُذكر قد يعبر عَنهُ بِاللَّفْظِ الْمُؤَنَّث فجري حكم اللَّفْظ على التَّأْنِيث وَإِن كَانَ الْمعبر عَنهُ مذكرا فِي الْحَقِيقَة، وَيكون ذَلِك بعلامة التَّأْنِيث، وَبِغير عَلامَة. فَأَما مَا كَانَ بعلامة التَّأْنِيث فقولك: هَذِه شَاة، وَإِن أردْت تَيْسًا، وَهَذِه بقرة، وَإِن أردْت ثوارا، وَهَذِه حمامة، وَهَذِه بطة وَإِن أردْت الذّكر. وَأما مَا كَانَ بِغَيْر عَلامَة فقولك: عِنْدِي ثَلَاث من الْغنم، وَثَلَاث من الْإِبِل، وَقد جعلت الْعَرَب الْإِبِل وَالْغنم مؤنثين، وَجعلت الْوَاحِد مِنْهُمَا مؤنث اللَّفْظ، كَأَن فِيهَا هَاء، وَإِن كَانَ مذكرا فِي الْمَعْنى، كَمَا جعلت الْعين وَالْأُذن وَالرجل مؤنثات بِغَيْر عَلامَة.

فَإِن قَالَ قَائِل: فَلم لَا يُقَال: هَذِه طَلْحَة لرجل يُسمى طَلْحَة لتأنيث اللَّفْظ، كَمَا قَالُوا: هَذِه بقرة للثور. فَالْجَوَاب أَن طَلْحَة لقب وَلَيْسَ باسم مَوْضُوع لَهُ فِي الأَصْل، وَأَسْمَاء الْأَجْنَاس مَوْضُوعَة لَهَا لَازِمَة …

فرقت الْعَرَب بَينهمَا وَقد ذكر سِيبَوَيْهٍ فِي هَذَا الْبَاب أَشْيَاء مَحْمُولَة على الأَصْل الَّذِي ذكرته، وَأَشْيَاء قريبَة مِنْهَا. وَأَنا أسوق ذَلِك وأفسر مَا أحتاج مِنْهُ إِلَى تَفْسِيره.

قَالَ سِيبَوَيْهٍ: فَإِذا جِئْت بالأسماء الَّتِي تبين بهَا الْعدة أجريت الْبَاب على التَّأْنِيث فِي التَّثْلِيث إِلَى تسع عشرَة وَذَلِكَ قَوْلك: لَهُ ثَلَاث شِيَاه ذُكُور، وَله ثَلَاث من الشَّاء، فاجريت ذَلِك على الأَصْل لِأَن الشَّاء أَصْلهَا التَّأْنِيث، وَإِن وَقعت على الْمُذكر، كَمَا أَنَّك تَقول: هَذِه غنم ذُكُور فالغنم مُؤَنّثَة، وَقد تقع على الْمُذكر.

قَالَ أَبُو سعيد، يَعْنِي أَنَّهَا تقع على مَا فِيهَا من الْمُذكر من التيوس والكباش. وَيُقَال:
এটি সেই স্ত্রীলিঙ্গ বিষয়ক অধ্যায় যা স্ত্রীলিঙ্গ ও পুংলিঙ্গ উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং যার মূল (أصل) হলো স্ত্রীলিঙ্গ।

 

জেনে রাখুন যে, কখনো কখনো পুংলিঙ্গকে স্ত্রীলিঙ্গ শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়; ফলে শব্দের বিধানটি স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবেই গণ্য হয়, যদিও বাস্তবে যাকে বোঝানো হচ্ছে সে পুংলিঙ্গ। এটি কখনো স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্নযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ঘটে, আবার কখনো চিহ্ন ছাড়াই ঘটে। চিহ্নযুক্ত হওয়ার বিষয়টি হলো যেমন আপনার উক্তি: "এটি একটি ছাগল", যদিও আপনি এর দ্বারা পাঠা উদ্দেশ্য করেন; এবং "এটি একটি গরু", যদিও আপনি এর দ্বারা ষাঁড় উদ্দেশ্য করেন; তদ্রূপ "এটি একটি কবুতর" এবং "এটি একটি হাঁস", যদিও আপনি এর দ্বারা পুরুষটি উদ্দেশ্য করেন। আর চিহ্নবিহীন হওয়ার বিষয়টি হলো যেমন আপনার উক্তি: "আমার কাছে তিনটি ভেড়া রয়েছে" এবং "তিনটি উট রয়েছে"। আরবরা উট ও ভেড়াকে স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে গণ্য করেছে এবং এগুলোর একক শব্দকে আক্ষরিকভাবে স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে নির্ধারণ করেছে, যেন তাতে একটি 'হা' বিদ্যমান রয়েছে; যদিও অর্থের দিক থেকে তা পুংলিঙ্গ হতে পারে। যেমন তারা চোখ, কান ও পা-কে কোনো বাহ্যিক চিহ্ন ছাড়াই স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে গণ্য করেছে।

যদি কেউ প্রশ্ন করেন: তাহলে তালহা নামক কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ রূপের কারণে কেন "এটি তালহা" (স্ত্রীলিঙ্গবাচক সর্বনাম যোগে) বলা হয় না, যেমনটি ষাঁড়ের ক্ষেত্রে "এটি গরু" বলা হয়েছিল? উত্তর হলো, তালহা একটি উপাধি মাত্র এবং এটি মূল (أصل) হিসেবে তার জন্য নির্ধারিত কোনো নাম নয়। পক্ষান্তরে জাতিবাচক নামসমূহ তাদের জন্য স্থায়ীভাবে নির্ধারিত …

আরবরা এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছে। সিবওয়াইহ এই অধ্যায়ে এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যা আমার উল্লিখিত মূল (أصل) এর ওপর ভিত্তি করে রচিত এবং আরও কিছু বিষয় যা এর নিকটবর্তী। আমি সেগুলো উপস্থাপন করছি এবং যেগুলোর ব্যাখ্যা প্রয়োজন তা ব্যাখ্যা করছি।

সিবওয়াইহ বলেন: যখন আপনি সংখ্যা প্রকাশকারী বিশেষ্যসমূহ আনবেন, তখন তিন থেকে উনিশ পর্যন্ত গণনার ক্ষেত্রে স্ত্রীলিঙ্গের নিয়ম প্রয়োগ করবেন। যেমন আপনার উক্তি: "তার তিনটি পুরুষ ছাগল রয়েছে" এবং "তার তিনটি ভেড়া রয়েছে"। আপনি এখানে মূল (أصل) এর ওপর ভিত্তি করে শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন, কারণ ভেড়ার মূল (أصل) হলো স্ত্রীলিঙ্গ, যদিও তা পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। যেমন আপনি বলেন: "এগুলো পুরুষ ভেড়া", এখানে 'গানাম' শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক, যদিও তা পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে পারে।

আবু সাইদ বলেন, এর অর্থ হলো এটি পালের অন্তর্ভুক্ত পুংলিঙ্গ যেমন পাঠা ও ভেড়ার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়। আর বলা হয়:
(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
هَذِه غنم، وَإِن كَانَت كلهَا كباشا، أَو تيوسا. وَكَذَلِكَ عِنْدِي ثَلَاث من الْغنم، وَإِن كَانَت كباشا، أَو تيوسا لِأَنَّهُ جعل الْوَاحِد مِنْهَا كَأَن فِيهِ عَلامَة التَّأْنِيث، كَمَا جعلت الْعين وَالرجل كَأَن فيهمَا عَلامَة التَّأْنِيث. وَقَالَ الْخَلِيل: قَوْلك: هَذَا شَاة، بِمَنْزِلَة قَوْلك: {هَذَا رَحْمَة من رَبِّي} .

قَالَ أَبُو سعيد: يُرِيد أَن تذكير هَذَا مَعَ تَأْنِيث شَاة كتذكير هَذَا مَعَ تَأْنِيث رَحْمَة. والتأويل فِي ذَلِك كانك قلت: هَذَا الشَّيْء شَاة، وَهَذَا الشَّيْء رَحْمَة من رَبِّي.

قَالَ سِيبَوَيْهٍ: وَتقول: لَهُ خمس من الْإِبِل ذُكُور، وَخمْس من الْغنم ذُكُور من قبل أَن الْإِبِل وَالْغنم اسمان مؤنثان، كَمَا أَن مَا فِيهِ الْهَاء مؤنث الأَصْل، وَإِن وَقع على الْمُذكر، فَلَمَّا كَانَ الْإِبِل وَالْغنم كَذَلِك جَاءَ تثليثهما على التَّأْنِيث لِأَنَّك إِنَّمَا أردْت التَّثْلِيث من اسْم مؤنث بِمَنْزِلَة قدم، وَلم يكسر عَلَيْهِ مُذَكّر للْجمع. فالتثليث مِنْهُ كتثليث مَا فِيهِ الْهَاء كَأَنَّك قلت: هَذِه ثَلَاث غنم، فَهَذَا يُوضح، وَإِن كَانَ لَا يتَكَلَّم بِهِ، كَمَا تَقول: ثَلَاثمِائَة، فتدع الْهَاء لِأَن الْمِائَة أُنْثَى.

قَالَ أَبُو سعيد: قَول سِيبَوَيْهٍ الْغنم وَالْإِبِل وَالشَّاء مؤنثات. يُرِيد أَن كل وَاحِد مِنْهَا إِذا قرن بِمَنْزِلَة مؤنث فِيهِ عَلامَة التَّأْنِيث، أَو مؤنث لَا عَلامَة فِيهِ، كَقَوْلِك: هَذِه ثَلَاث من الْغنم: وَلم تقل: ثَلَاثَة، وَإِن أردْت بهَا كباشا وتيوسا. وَكَذَلِكَ ثَلَاث من الْإِبِل، وَإِن أردْت بهَا مذكرا أَو مؤنثا. وَقَوله: بِمَنْزِلَة قدم لَان الْقدَم أُنْثَى بِغَيْر عَلامَة. وَكَذَلِكَ الثَّلَاث. فقولك: ثَلَاث من الْإِبِل وَالْغنم، لَا يفرد لَهَا وَاحِد فِيهِ عَلامَة التَّأْنِيث. وَقَوله: لم يكسر عَلَيْهِ مُذَكّر للْجمع، يَعْنِي لم يقل ثَلَاثَة ذُكُور، فَيكون ذُكُور جمعا مكسرا لذكر فَتذكر ثَلَاثَة من أجل ذَلِك. وَقَوله: كَأَنَّك قلت هَذِه ثَلَاث غنم يُرِيد كَأَن غنما تكسير للْوَاحِد الْمُؤَنَّث، كَمَا تَقول: ثَلَاثمِائَة، فَتتْرك الْهَاء من ثَلَاث لِأَن الْمِائَة مُؤَنّثَة، وَمِائَة وَاحِد فِي معنى جمع لمؤنث.

قَالَ سِيبَوَيْهٍ: وَتقول: ثَلَاث من البط لِأَنَّك تصيره إِلَى بطة.

قَالَ أَبُو سعيد: يُرِيد: كَأَنَّك قلت لَهُ: ثَلَاث بطات من البط.

এগুলো হলো গনাম (ছাগল বা ভেড়া), যদিও তার সবগুলোই দুম্বা (পুং-ভেড়া) বা পাঁঠা (পুং-ছাগল) হয়ে থাকে। অনুরূপভাবে, আমার নিকট তিনটি গনাম রয়েছে, যদিও সেগুলো দুম্বা বা পাঁঠা হয়; কারণ এর প্রতিটি একবচনকে এমনভাবে গণ্য করা হয়েছে যেন তাতে স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্ন বিদ্যমান রয়েছে, যেমনটি চোখ ও পা-এর ক্ষেত্রে করা হয়েছে। খলীল (র.) বলেন: আপনার উক্তি ‘এটি একটি বকরি (শাতুন)’, এটি মূলত মহান আল্লাহর বাণী: ‘এটি আমার রবের পক্ষ থেকে এক রহমত’-এর সমপর্যায়ভুক্ত।

আবু সাঈদ (র.) বলেন: তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ‘শাতুন’ (স্ত্রীলিঙ্গ) শব্দের সাথে ‘হাযা’ (পুংলিঙ্গ) ব্যবহার করা ঠিক তেমনি, যেমনটি ‘রহমত’ (স্ত্রীলিঙ্গ) শব্দের সাথে ‘হাযা’ (পুংলিঙ্গ) ব্যবহার করা হয়েছে। এর ব্যাখ্যা হলো, যেন আপনি বলছেন: ‘এই বস্তুটি হলো একটি বকরি’ এবং ‘এই বিষয়টি হলো আমার রবের পক্ষ থেকে এক রহমত’।

সিবওয়াইহ (র.) বলেন: আপনি বলবেন—‘তার পাঁচটি উট (ইবিল) রয়েছে যা পুংলিঙ্গ’ এবং ‘পাঁচটি ছাগল (গনাম) রয়েছে যা পুংলিঙ্গ’; কারণ ইবিল ও গনাম শব্দ দুটি স্ত্রীলিঙ্গ বাচক বিশেষ্য। ঠিক যেমন যে শব্দে ‘তা’ (গোল ত) থাকে তা মূলগতভাবে স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়, যদিও তা পুংলিঙ্গের ওপর প্রয়োগ করা হয়। যেহেতু ইবিল ও গনাম-এর বিষয়টিও একইরূপ, তাই এগুলোর সংখ্যাবাচক শব্দ স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবেই আসে। কারণ আপনি একটি স্ত্রীলিঙ্গ বাচক বিশেষ্য থেকে সংখ্যা নির্ধারণ করতে চেয়েছেন, যেমনটি ‘কদাম’ (পা) শব্দের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, যার বহুবচনের জন্য কোনো পুংলিঙ্গ শব্দ ব্যবহৃত হয় না। সুতরাং এর সংখ্যাবাচক শব্দের গঠন হবে গোল ‘তা’ যুক্ত শব্দের ন্যায়। যেন আপনি বলছেন: ‘এই তিনটি গনাম’; এটি বিষয়টিকে স্পষ্ট করে দেয়, যদিও সচরাচর এমনটি বলা হয় না। যেমন আপনি বলেন: ‘তিনশ (সালাসু মিয়াহ)’; এখানে আপনি গোল ‘তা’ বর্জন করেছেন কারণ ‘মিয়াহ’ (শতক) শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ।

আবু সাঈদ (র.) বলেন: সিবওয়াইহ-এর উক্তি—গনাম, ইবিল ও শা’ এগুলো স্ত্রীলিঙ্গ বাচক। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এগুলোর প্রত্যেকটি যখন সংখ্যার সাথে যুক্ত হয়, তখন তা স্ত্রীলিঙ্গ চিহ্নযুক্ত শব্দের ন্যায় অথবা চিহ্নবিহীন স্ত্রীলিঙ্গ শব্দের ন্যায় আচরণ করে। যেমন আপনার কথা: ‘এগুলো তিনটি গনাম’; এখানে আপনি ‘সালাসাতুন’ না বলে ‘সালাসু’ বলেছেন, যদিও এর দ্বারা আপনি দুম্বা বা পাঁঠা উদ্দেশ্য করেছেন। উটের (ইবিল) ক্ষেত্রেও একই নিয়ম, চাই আপনি তার দ্বারা পুংলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গ যা-ই বোঝান না কেন। আর তার উক্তি ‘কদাম-এর সমপর্যায়ভুক্ত’ এর কারণ হলো ‘কদাম’ (পা) শব্দটি কোনো বাহ্যিক চিহ্ন ছাড়াই স্ত্রীলিঙ্গ। তিনের সংখ্যার ক্ষেত্রেও বিষয়টি তাই। সুতরাং ‘তিনটি ইবিল বা গনাম’ বলার ক্ষেত্রে এমন কোনো একবচন শব্দ পৃথক করা হয় না যাতে স্ত্রীলিঙ্গ চিহ্ন বিদ্যমান। আর তার উক্তি ‘বহুবচনের জন্য কোনো পুংলিঙ্গ শব্দ ব্যবহৃত হয় না’ এর অর্থ হলো—তিনি ‘সালাসাতু যুকুর’ (তিনটি পুরুষ) বলেননি, যাতে ‘যুকুর’ শব্দটি ‘যাকর’-এর জম’ বা বহুবচন হিসেবে গণ্য হতো এবং সেই কারণে ‘সালাসাতুন’ শব্দটিকে পুংলিঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করা হতো। আর তার উক্তি ‘যেন আপনি বলছেন—এই তিনটি গনাম’, এর দ্বারা তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, ‘গনাম’ শব্দটি যেন একবচন স্ত্রীলিঙ্গ শব্দের বহুবচন রূপ, যেমনটি আপনি বলেন ‘সালাসু মিয়াহ’; এখানে আপনি ‘সালাসু’ থেকে ‘তা’ বর্জন করেছেন কারণ ‘মিয়াহ’ শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ, আর ‘মিয়াহ’ শব্দটি একবচন হলেও তা স্ত্রীলিঙ্গ বাচক বহুবচনের অর্থ প্রকাশ করে।

সিবওয়াইহ (র.) বলেন: আপনি বলবেন—‘তিনটি পাতিহাঁস (বাত্তু)’, কারণ আপনি একে ‘বাত্তাহ’ (স্ত্রীলিঙ্গ একবচন)-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করাচ্ছেন।

আবু সাঈদ (র.) বলেন: তিনি বোঝাতে চেয়েছেন—যেন আপনি বলছেন: ‘পাতিহাঁসগুলোর মধ্য হতে তিনটি পাতিহাঁস (বাত্তাত)’।

(খণ্ড: ১) আল-আদাদ ফিল লুগাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
قَالَ سِيبَوَيْهٍ: وَتقول: لَهُ ثَلَاثَة ذُكُور من الْإِبِل لِأَنَّك لم تَجِيء بِشَيْء من التَّأْنِيث، وَإِنَّمَا ثلثت الْمُذكر، ثمَّ جِئْت بالتفسير. فَمن الْإِبِل لَا تذْهب الْهَاء، كَمَا أَن قَوْلك ذُكُور بعد قَوْلك من الْإِبِل لَا تثبت الْهَاء.

قَالَ أَبُو سعيد: يُرِيد أَن الحكم فِي اللَّفْظ للسابق من لفظ الْمُؤَنَّث أَو الْمُذكر، فَإِذا قلت: ثَلَاث من الْإِبِل أَو الْغنم ذُكُور نزعت الْهَاء لِأَن قَوْلك من الْإِبِل أَو من الْغنم يُوجب التَّأْنِيث وَإِنَّمَا قلت ذُكُور بعد مَا يُوجب تَأْنِيث اللَّفْظ فَلم تغير. وَكَذَلِكَ إِذا قلت: ثَلَاثَة ذُكُور من الْإِبِل فقد لزم حكم التَّذْكِير بِقَوْلِك: ثَلَاثَة ذُكُور. فَإِذا قلت بعد ذَلِك من الْإِبِل لم يتَغَيَّر اللَّفْظ الأول.

قَالَ سِيبَوَيْهٍ: وَتقول: ثَلَاثَة أشخص، وَإِن عنيت نسَاء لِأَن الشَّخْص اسْم مُذَكّر.

قَالَ أَبُو سعيد: هَذَا ضد الأول لِأَن الأول تؤنثه للفظ وَهُوَ مُذَكّر فِي الْمَعْنى، وَهَذَا تذكره للفظ وَهُوَ مؤنث فِي الْمَعْنى.

قَالَ سِيبَوَيْهٍ: وَمثله قَوْلهم: ثَلَاث أعين، وَإِن كَانُوا رجَالًا لِأَن الْعين مُؤَنّثَة.

قَالَ أَبُو سعيد: وَهَذَا يشبه الأول، وَإِنَّمَا أنثوا لأَنهم جعلُوا الرِّجَال كَأَنَّهُمْ أعين من ينظرُونَ لَهُم.

قَالَ سِيبَوَيْهٍ: وَقَالُوا: ثَلَاثَة أنفس، لِأَن النَّفس عِنْدهم إِنْسَان، أَلا ترى أَنهم يَقُولُونَ: نفس وَاحِد فَلَا يدْخلُونَ الْهَاء.

قَالَ أَبُو سعيد: النَّفس مؤنث، وَقد حمل على الْمَعْنى فِي قَوْلهم: ثَلَاثَة أنفس إِذا أُرِيد بِهِ الرِّجَال. قَالَ الشَّاعِر - وَهُوَ الحطيئة -:

(ثَلَاثَة أنفس وَثَلَاث ذود … لقد جَار الزَّمَان على عيالي)
সিবওয়াইহ বলেন: তুমি বলবে: ‘তার তিনটি (ثلاثة) উটের পুরুষ রয়েছে’, কারণ তুমি কোনো স্ত্রীবাচক শব্দ ব্যবহার করোনি; বরং তুমি পুংলিঙ্গবাচক (مذكر) শব্দকে তিন সংখ্যায় এনেছ, অতঃপর তার ব্যাখ্যা পেশ করেছ। সুতরাং ‘উট থেকে’ (من الإبل) অংশটির জন্য ‘হা’ (الهاء) বিলুপ্ত হবে না, ঠিক যেমন ‘উট থেকে’ বলার পর তোমার ‘পুরুষ’ (ذكور) বলাটি ‘হা’ (الهاء) কে বহাল রাখে না।

আবু সাঈদ বলেন: তিনি বুঝিয়েছেন যে, শব্দের বিধান তার পূর্ববর্তী স্ত্রীলিঙ্গ (مؤنث) বা পুংলিঙ্গ (مذكر) শব্দের ওপর নির্ভর করে। সুতরাং যখন তুমি বলো: ‘তিনটি (ثلاث) উট বা ছাগলের পুরুষ’, তখন তুমি ‘হা’ (الهاء) বর্জন করেছ, কারণ তোমার ‘উট থেকে’ বা ‘ছাগল থেকে’ বলাটি স্ত্রীলিঙ্গ হওয়াকে আবশ্যক করে। আর তুমি পুংলিঙ্গবাচক ‘পুরুষ’ (ذكور) শব্দটি এমন শব্দের পরে বলেছ যা শব্দের লিঙ্গকে স্ত্রীবাচক হওয়া সাব্যস্ত করে, তাই তাতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। অনুরূপভাবে যখন তুমি বলো: ‘তিনটি (ثلاثة) উটের পুরুষ’, তখন তোমার ‘তিনটি পুরুষ’ (ثلاثة ذكور) বলার মাধ্যমে পুংলিঙ্গ হওয়ার বিধানটি সাব্যস্ত হয়ে যায়। এরপর তুমি যদি ‘উট থেকে’ বলো, তবে পূর্ববর্তী শব্দের রূপে কোনো পরিবর্তন হবে না।

সিবওয়াইহ বলেন: তুমি বলবে: ‘তিনজন ব্যক্তি (ثلاثة أشخص)’, যদিও তোমার উদ্দেশ্য নারী হয়; কারণ ‘ব্যক্তি’ (الشخص) একটি পুংলিঙ্গবাচক (مذكر) বিশেষ্য।

আবু সাঈদ বলেন: এটি প্রথমটির বিপরীত (ضد); কারণ প্রথমটির ক্ষেত্রে তুমি শব্দের কারণে তাকে স্ত্রীলিঙ্গ করছ অথচ অর্থের দিক থেকে সেটি পুংলিঙ্গ, আর এটির ক্ষেত্রে শব্দের কারণে তুমি তাকে পুংলিঙ্গ করছ অথচ অর্থের দিক থেকে সেটি স্ত্রীলিঙ্গ।

সিবওয়াইহ বলেন: এরই অনুরূপ হলো তাদের উক্তি: ‘তিনটি চক্ষু (ثلاث أعين)’, যদিও তারা পুরুষ হয়ে থাকে; কারণ ‘চক্ষু’ (العين) শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক (مؤنثة)।

আবু সাঈদ বলেন: এটি প্রথমটির সদৃশ। তারা এখানে স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দ ব্যবহার করেছে কারণ তারা পুরুষদের এমন মনে করেছে যেন তারা তাদের জন্য নজরদারি করার চক্ষু স্বরূপ।

সিবওয়াইহ বলেন: তারা বলেছে: ‘তিনজন ব্যক্তি (ثلاثة أنفس)’, কারণ তাদের নিকট ‘ব্যক্তি’ (النفس) হলো মানুষ। তুমি কি দেখ না যে তারা বলে: ‘এক ব্যক্তি’ (نفس واحد), যেখানে তারা ‘হা’ (الهاء) যুক্ত করে না।

আবু সাঈদ বলেন: ‘নাফস’ (النفس) শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক (مؤنث), তবে ‘তিনজন ব্যক্তি’ (ثلاثة أنفس) উক্তিতে একে অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে যখন এর দ্বারা পুরুষদের উদ্দেশ্য করা হয়। কবি আল-হুতাইয়াহ বলেছেন:

(তিনজন ব্যক্তি (ثلاثة أنفس) এবং তিনটি উট (ثلاث ذود) … কাল আমার পরিবারের ওপর জুলুম করেছে)