(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: -)
اقتطاف الأزاهر والتقاط الجواهر القسم: النحو والصرف
الكتاب: اقتطاف الأزاهر والتقاط الجواهر
المؤلف: أحمد بن يوسف بن مالك الرعيني الغرناطي ثم البيري، أبو جعفر الأندلسي (ت 779هـ)
رسالة: ماجستير - بكلية الشريعة جامعة أم القرى (1402هـ/1982م)
تحقيق: عبد الله حامد النمري
[ترقيم الكتاب موافق لرسالة الماجستير]
عدد الصفحات: 237
تاريخ النشر بالشاملة: 16 رجب 1432
ইকতিতাফ আল-আযাহির ওয়া ইলতিকাত আল-জাওয়াহির বিভাগ: নাহু ও সারফ
গ্রন্থ: ইকতিতাফ আল-আযাহির ওয়া ইলতিকাত আল-জাওয়াহির
লেখক: আহমদ বিন ইউসুফ বিন মালিক আর-রুআইনি আল-গারনাতি অতঃপর আল-বিরি, আবু জাফর আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭৭৯ হি.)
গবেষণাপত্র: মাস্টার্স - শরীয়াহ অনুষদ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় (১৪০২ হি./১৯৮২ খ্রি.)
সম্পাদনা: আব্দুল্লাহ হামিদ আন-নামরি
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মাস্টার্স থিসিসের অনুরূপ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৩৭
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৬ রজব ১৪৩২
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[اقتطاف الأزاهر والتقاط الجواهر]ـ
المؤلف: أبو جعفر أحمد بن يوسف الرعيني
تحقيق: عبد الله حامد النمري
الناشر: هي رسالة ماجستير - بكلية الشريعة جامعة أم القرى (1402هـ/1982م)
[ترقيم الكتاب موافق لرسالة الماجستير]
[ইকতিতাফ আল-আজাহির ওয়া ইলতিকাত আল-জাওয়াহির]
লেখক: আবু জাফর আহমাদ বিন ইউসুফ আল-রুআইনি
সম্পাদনা: আবদুল্লাহ হামিদ আল-নামরি
প্রকাশক: এটি একটি মাস্টার্স থিসিস - শরীয়াহ অনুষদ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় (১৪০২ হিজরী/১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মাস্টার্স থিসিসের অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
بسم الله الرحمن الرحيم
وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدِ وَآلِهِ وَصَحْبِهِ وَسَلَّمَ تَسْلِيمَا
يَقُولُ كَاتِبُهُ أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ بْنِ مَالِكٍ الرُّعَيْنِيُّ الْمَالكِيُّ الأَنْدَلُسِيُّ الْغَرْنَاطِيُّ:
نَحْمَدُ اللَّهَ خَالِقَ الأَفْعَالِ، وَمُصَوّر الأَنَام، وَمُنْطِقَ الأَلْسِنَةِ بِالأَقْوَالِ الدَّالَّةِ عَلَى تَفَارِيعِ الْكَلَامِ، جَعَلَ الأَلْفَاظَ عَلَامَةً عَلَى مَا يُتَصَوَّرُ فِي الأَفْهَامِ، وَخَلَقَهَا مُخْتَلِفَةَ الْجِهَاتِ، مُتَنَوِّعَةَ الأَقْسَام، لِيَبْتَسِمَ ثَغْرُهَا عَنِ الْمَعَانِي الْمُخْتَلِفَةِ أَوْضَحَ الابْتِسَامِ، وَتَجْلُوَ مَدْلُولَاتُهَا عَنِ الأسْمَاعِ أَبْلَجَ مِنَ الْوُجُوهِ الْوِسَامِ، فَمِنْهَا مَا تَخْتَلِفُ وَلَا يَخْتَلِفُ مَعْنَاهَا عِنْدَ إِرَادَةِ الإِفْهَامِ، وَمِنْهَا مَا تَخْتَلفُ الْمَعَانِي بِاخْتِلَافِ جِهَاتِهَا لِلأَوْهَامِ، فَالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَوْسَعَ ذَاكَ الْمَجَالَ فِي هَذَا الْمَرَامِ، وأَطْلَعَ لَنَا بدور "الظُّلَمِ" ظَاهِرَةَ التَّمَامِ، وَجَعَلَ أَفْلَاكَ الأَيَّامِ دَائِرَةً عَلَى تَصَارِيفِ الأَقْلَامِ، وَزَيَّنَ الدُّوَلَ الشَّرِيفَةَ بِمَنِ اشْتَمَلَتْ عَلَيهِ مِنَ الْعُلَمَاءِ الأَعْلامِ، وَصَرَفَ إِلَى اسْتِجْلَابِهِمْ هِمَمَ الْمُلُوكِ مِنْ ذَوِي الاِهْتِمَامِ،
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহাবীদের ওপর আল্লাহর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
এর লেখক আহমদ ইবনে ইউসুফ ইবনে মালিক আর-রুআইনি আল-মালিকি আল-আন্দালুসি আল-গারনাতি বলেন:
আমরা সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি কর্মসমূহের স্রষ্টা, মাখলুকাতের রূপদানকারী এবং যিনি জিহ্বাকে বক্তব্যের শাখা-প্রশাখা নির্দেশকারী বাক্যাবলি উচ্চারণে সক্ষম করেছেন। তিনি শব্দসমূহকে মানুষের বোধগম্য বিষয়ের চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং সেগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন দিক ও বৈচিত্র্যময় প্রকারভেদ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, যাতে শব্দের রূপ থেকে বিচিত্র অর্থসমূহ সুস্পষ্টভাবে প্রস্ফুটিত হয় এবং শ্রবণের নিকট তাদের তাৎপর্য সুন্দর অবয়ব অপেক্ষা অধিকতর উজ্জ্বলভাবে প্রকাশিত হয়। এগুলোর মধ্যে কিছু শব্দ এমন যা ভিন্ন ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও বুঝানোর সময় তাদের অর্থ অভিন্ন থাকে, আবার কিছু এমন রয়েছে যেগুলোর প্রেক্ষিত পরিবর্তনের ফলে উপলব্ধিজাত অর্থও ভিন্ন হয়। সুতরাং সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি এই অন্বেষার ময়দানকে প্রশস্ত করেছেন এবং আমাদের জন্য "অন্ধকার"-এর পূর্ণচন্দ্রসমূহকে পূর্ণতায় উদ্ভাসিত করেছেন। তিনি দিবসসমূহের আবর্তনকে কলমের বিচরণে আবর্তিত করেছেন এবং সম্মানিত রাষ্ট্রসমূহকে সেখানে অবস্থানরত প্রথিতযশা আলেমদের দ্বারা সুশোভিত করেছেন এবং আগ্রহী শাসকদের সংকল্পকে তাঁদের সান্নিধ্য লাভের দিকে ধাবিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَنُصَلِّي عَلَى سَيِّدِنَا وَمَوْلَانَا مُحَمَّدٍ المَبْعُوثِ بِجَوَامِعِ الكَلِمِ وَالمَخْصُوصِ بِالْوَحْيِ وَالإِلْهَامِ، وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ الْقَائِمِينَ بِنُصْرَةِ الإِسْلَامِ، أَمَّا بَعْدُ.
فَإِنَّهُ لَمَّا قَلَّبَتْنِي يَدُ النَّوَى بَيْنَ نَشْرِهَا وَطَيَّهَا، وَأَخْرَجَتْنِي عَنِ الأَوْطَانِ إِخْرَاجَ السِّهَامِ عَنْ قِسِيِّهَا، وَحَمَّلَتْنِي الأَيَّامُ مَا يُثْقِلُ مِنْ أَعْبَاءِ نَأْيِهَا، وَسَعَتْ بِي فِي طَلَبِ الْفَوَائِدِ غَايَةَ [سَعْيِهَا]، وَسَهَّلَتْ لِي مِنْ الرّحْلَةِ فِي طَلَبِ العِلْمِ مَا لَمْ أَزَلْ حَامِداً فِي ذَلِكَ حُسْنَ رَأْيِهَا، وَجَعَلْتُ أَضْرِبُ أَعْدَادَ البِلَادِ بَعْضاً فِي بَعْضٍ، وَأَخُطُّ أَدِيمَ الأَرْضِ تَارَةً عَنْ طُولٍ وَآوِنَةٍ عَنْ عَرْضٍ، وَأَنَا فِي طَيّ ذلِكَ أَسْتَخْرِجُ الْدُّرَرَ مِنْ أَصْدَافِهَا وَأَجْمَعُ الفَوَائِدَ عَلَى اخْتِلَافِ أَصْنَافِهَا، إِلَى أَنْ جَمَعْتُ مِنْ ذَلِكَ مَا مُلِئَ مِنْهُ الوِطَابُ، وَذُقْتُ مِنْ حَلَاوَةِ الرّحْلَةِ مَا يُسْتَعْذَبُ وَيُسْتَطَابُ، فَلَمْ أَزَلْ أَقِفُ عَلَى تَنَوُّعَاتِ الْبُلْدَانِ مَوْقِفَ الاسْتِحْقَاقِ وَأَتَبَيَّنُ مَدْلُولَ قَوْلِهِ تَعَالَى: {سَنُرِيهِمْ آيَاتِنَا فِي الْآفَاقِ} [فصلت: 53].
وَلَا غَرَضَ فِي ذَلِكَ كُلّهِ إِلَاّ مَسْأَلَةٌ أفيدُها أَوْ أسْتَفِيدُهَا، أَوْ كَلِمَةٌ أُجِيدُهَا أَوْ أسْتَجِيدُهَا، أَوْ عَالِمٌ أَعُودُ مِنْ رُؤْيَاهُ [مُمْتَلِئَ] الْفُؤَادِ، أَوْ مُتَعَلّمٌ أَظْفِرُهُ بِالْعِلْمِ الْمُسْتَفَادِ.
وَمَا بَرِحْتُ فِي طَلَبِ هَذَا الْمَقْصَدِ، وَتَوَرُّدِ هَذَا الْمَوْرِدِ، أَحُلُّ مِنْ كُلّ مَدِينَةٍ مَحَلَّ الْمُنْتَقِدِ، وَأَحُلُّ بِهَا مِنْ عُقَدِ الْعِلْمِ مَا أُبْرِمَ وَعُقِدَ،
আমরা আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদ-এর প্রতি সালাত পাঠ করছি, যাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থপূর্ণ বাণীর (جوامع الكلم) মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে এবং ওহী ও ইলহামের দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে; আর তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের প্রতিও, যারা ইসলামের সহযোগিতায় সচেষ্ট ছিলেন। অতঃপর...
যখন বিচ্ছেদের হাত আমাকে তার প্রসারণ ও সংকোচনের মাধ্যমে বিচলিত করে তুলল, এবং আমাকে স্বদেশ থেকে এমনভাবে বের করে দিল যেমন ধনুক থেকে তীর নিক্ষিপ্ত হয়; আর দিনগুলো আমাকে সুদূর সফরের ভারে ক্লান্ত করে তুলল এবং জ্ঞান ও বিবিধ উপকারিতা (فوائد) অন্বেষণে আমাকে চূড়ান্ত প্রচেষ্টায় নিয়োজিত করল। এটি ইলম অন্বেষণে সফরের ক্ষেত্রে আমার জন্য এমন সহজসাধ্য পথ উন্মোচন করল যার জন্য আমি সর্বদাই এর উত্তম সিদ্ধান্তের প্রশংসা করি। আমি একের পর এক জনপদ পাড়ি দিতে লাগলাম এবং কখনও দৈর্ঘ্যে আবার কখনও প্রস্থে পৃথিবীর বুক চিরে পথ চললাম। এই পথচলার মাঝেই আমি ঝিনুক থেকে মুক্তা আহরণ করছিলাম এবং বিভিন্ন প্রকারের বিবিধ উপকারিতা (فوائد) সংগ্রহ করছিলাম। এভাবে আমি জ্ঞান আহরণ করলাম যাতে জ্ঞানভাণ্ডার পূর্ণতা লাভ করল এবং আমি সফরের এমন মিষ্টতা আস্বাদন করলাম যা অত্যন্ত উপাদেয় ও মনোরম। আমি জনপদসমূহের বৈচিত্র্যের মাঝে যাথাযথভাবে অবস্থান করলাম এবং মহান আল্লাহর বাণীর মর্মার্থ উপলব্ধি করলাম: "আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনাবলি দিগন্তসমূহে প্রদর্শন করব" [ফুসসিলাত: ৫৩]।
এই সবকিছুর পেছনে একটি মাসআলা শিক্ষা দেওয়া অথবা তা অর্জন করা, কিংবা একটি বাক্য বিশুদ্ধরূপে গ্রহণ করা অথবা তার উৎকর্ষ লাভ করা, অথবা কোনো আলেমের সাক্ষাৎ লাভ করা যার দর্শনে হৃদয় পূর্ণ হয়ে যায়, কিংবা কোনো শিক্ষার্থীকে অর্জিত ইলমের মাধ্যমে সফল করে তোলা ব্যতীত অন্য কোনো লক্ষ্য ছিল না।
আমি নিরন্তর এই উদ্দেশ্য হাসিলে এবং এই জ্ঞান-উৎসের সন্ধানে লিপ্ত ছিলাম; প্রতিটি শহরে আমি একজন সমালোচক বা বিশ্লেষকের (منتقد) ন্যায় অবতরণ করতাম এবং সেখানে ইলমের এমন জটিল গ্রন্থিগুলো উন্মোচন করতাম যা অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সুসংহত ছিল।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
إِلَى أَنْ أَلحقْتُ الْفُرَاتَ بِالنّيلِ، وَبَلَغْتُ فِيمَا بَيْنَهُمَا غَايَةَ الْمُسْتَنِيلِ، وَجَعَلْتُ مَا بَيْنَ الأَنْدَلُسِ وَالشَّامِ كَمَرْحَلَةِ يَوْمٍ مِنَ الأَيَّامِ، وَمَا حَجَزَنِي عَنِ الْحِجَازِ قَطْعُ حَزْنِ وَلَا سَهْلٍ، وَلَا تَشَاغَلْتُ عَنْ ذَلِكَ بِوَطَنٍ وَلَا أَهْلٍ، إِلَى أَنْ جَمَعْتُ بَيْنَ زِيَارَةِ الْحَرَمَيْنِ، وَحَصَلْتُ مِنَ الرّحْلَةِ عَلَى غُنْمَيْنِ. وَلَمْ يَرُعْنِي أَنَّ بِغَرْنَاطَةَ دِيَارِي، وَبِالشَّامِ مَزَارِي.
وَلَمَّا أَوْدَعْتُ طَرْفِي مِنْ مُشاهَدَةِ أَهْلِ الفَضْلِ مَا أَوْدَعْتُ، وَحَجَجْتُ بَيْنَ [إِفَادَتِهِمْ] وَاسْتِفَادَتِهِمْ فَتَمَتَّعْتُ، وَشَاهَدْتُ مِنْ مُلُوكِ الزَّمَانِ مَا انْطَوَتْ عَلَيْهِ الأَمْصَارُ، وَشَهِدْتُ مِنْهُمْ مَنْ تَزَيَّنَتْ بِهِمُ الأَقْطَارُ، رَأَيْتُ أَنَّ ذَلِكَ كُلَّهُ فِيمَا اتَّفَقَتْ عَلَيْهِ أَلْسُنُ الأَيَّامِ، وَشَهِدَتْ بِهِ مَعَارِفُ الأَنَامِ، كَمَنْ حَفِظَ النَّفْلَ وَضَيَّعَ الْوُجُوبَ، وَقَنِعَ مِنَ الْغَنِيمَةِ بِأَنْ يَئُوبَ، إِذْ فَاتَنِي الأَمْرُ النَّادِرُ، وَالْمَوْرِدُ الَّذِي يَحْمَدُهُ الْوَارِدُ وَالصَّادِرُ، وَالْمَقَامُ الَّذِي تَنْفُقُ فِيهِ الْعُلُومُ، وَتَسْتَهِلُّ فَوَائِدُهُ كَمَا تَسْتَهِلُّ الْغُيُومُ، وَتُعْرَفُ لأهْلِ الْعِلْمِ فِيهِ حُقُوقهمْ، وَتُجْتَنَبُ إِضَاعَتُهُمْ وَعُقُوقُهُمْ، شِنْشِنَةٌ تَوَارَثَهَا كَابِرٌ عَنْ كَابِرٍ، وَمَزِيَّةٌ خَلَّفَهَا أَوَّلٌ لآخِرٍ، حَرَمٌ لَا يَضِيعُ نَزِيلُهُ، وَكَرَمٌ لَا يُخَافُ أَنَّ الزَّمَانَ مُزِيلُهُ، وَمُلْكٌ تَتَهَلَّلُ لَهُ وُجُوهُ الخُطُوبِ وَتَنْفَرِجُ عِنْدَهُ مَضَايِقُ الكُرُوبِ، وَتَدُورُ بِأَنْهَارِ تَدْبِيرِهِ رَحَى الحُرُوبِ، وَيَشْتَمِلُ مِنَ المَجْدِ الأَصِيلِ عَلَى مَا اشْتَهَرَ وَشَذَّ مِنَ الضُّرُوبِ، فَلَمَّا رَأَيْتُ مَا فَتَنِي مِنْ هَذَا الحَظّ الَّذِي لَا يُثْمِرُ غَرْسَ ارْتِحَالِي إِنْ لَمْ أَنَلْ مِنْهُ نَصِيباً، وَلَا أَجِدُنِي مَعَ فَوْتِهِ لِأَدَاءِ الوَاجِبِ مُصِيباً، أقْسَمْتُ لأَزُورَنَّ دِيَارَ بَكْرٍ، مَدَّ
যতক্ষণ না আমি ফোরাতকে নীলের সাথে যুক্ত করেছি এবং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী স্থানে অন্বেষণকারীর চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছেছি। আমি আন্দালুস এবং শামের মধ্যবর্তী দূরত্বকে একদিনের সফরের মতো সংকুচিত করে ফেলেছি। কোনো দুর্গম পথ বা সমতল ভূমি আমাকে হিজাজ সফর থেকে বিরত রাখতে পারেনি। আমি কোনো স্বদেশ বা পরিজনের মোহে এতে লিপ্ত হইনি, যতক্ষণ না আমি দুই পবিত্র হারাম যিয়ারতকে একত্রিত করেছি এবং এই সফর থেকে দ্বিগুণ কল্যাণ অর্জন করেছি। গ্রানাডায় আমার আবাস এবং শামে আমার যিয়ারতগাহের কথা আমাকে বিচলিত করেনি।
যখন আমি গুণীজনদের দর্শনে আমার দৃষ্টিকে নিবিষ্ট করলাম এবং তাদের জ্ঞানদান ও জ্ঞানার্জনের মাঝে বিচরণ করে উপকৃত হলাম; যখন আমি সমকালীন রাজন্যবর্গকে প্রত্যক্ষ করলাম যাদের শাসনে জনপদসমূহ সমৃদ্ধ হয়েছে এবং তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের দেখলাম যাদের উপস্থিতিতে ভূখণ্ডসমূহ সুশোভিত হয়েছে; তখন আমি দেখলাম যে এই সব কিছু—যে বিষয়ে মহাকাল একমত হয়েছে এবং মানবজাতির প্রজ্ঞা যার সাক্ষ্য দিয়েছে—তা কেবল এমন ব্যক্তির মতো যে নফল (نفل) বিষয়গুলো সংরক্ষণ করল কিন্তু ফরজ (وجوب) বিষয়গুলো নষ্ট করে ফেলল, এবং গনীমত থেকে কেবল নিরাপদে ফিরে আসা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকল। কারণ আমি সেই বিরল (نادر) বিষয়টি হারিয়েছি এবং সেই প্রস্রবণ থেকে বঞ্চিত হয়েছি যার প্রশংসা আগন্তুক ও প্রস্থানকারী সকলেই করে। এটি এমন এক মাকাম যেখানে ইলমসমূহ সমাদৃত হয় এবং এর উপকারিতা মেঘমালার বারিবর্ষণের মতো প্রস্ফুটিত হয়; যেখানে জ্ঞানীদের মর্যাদা স্বীকৃত হয় এবং তাদের অবমাননা ও অধিকার হরণ থেকে বিরত থাকা হয়। এটি একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যা বংশপরম্পরায় চলে আসছে এবং পূর্বসূরীরা উত্তরসূরীদের জন্য রেখে গেছেন। এটি এমন এক আশ্রয়স্থল যেখানে কোনো অতিথি নিরাশ হয় না এবং এমন এক দানশীলতা যার বিনাশের কোনো ভয় নেই। এটি এমন এক রাজত্ব যার উপস্থিতিতে কঠিন পরিস্থিতির মুখমণ্ডলও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এবং সকল সংকট বিদূরিত হয়। যার প্রজ্ঞাপূর্ণ পরিচালনার নহরসমূহে যুদ্ধের চাকা আবর্তিত হয়। যেখানে আভিজাত্যের এমন সব গৌরব নিহিত যা সুপরিচিত এবং বিরল (شاذ) উভয় প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করে। যখন আমি দেখলাম যে এই সৌভাগ্য আমি হারিয়েছি—যা অর্জন করতে না পারলে আমার সফরের রোপিত চারাগাছ ফলপ্রসূ হবে না এবং একে ছাড়া আমি কর্তব্য পালনে নিজেকে সঠিক পথে পাব না—তখন আমি শপথ করলাম যে অবশ্যই দিয়ারে বকর যিয়ারত করব, মাদ...
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الزَّمَانُ فِي ذَلِكَ أَوْ قَصُرَ، وَقُلْتُ:
لَا بُدَّ مِنْ صَنْعَا وَإِنْ طَالَ السَّفَرْ
فَعَزَمْتُ أَنْ أُطْلِعَ فِي أُفُقِ شَهْبَائِهَا شِهَابِي وَأُسَهّلَ بِرُؤْيَةِ مَلِكِهَا الْجَلِيلِ أَسْبَابَ إِيَابِي، فَكَمْ رَدَّ مِنْ غَرِيبٍ إِلَى أَوْطَانِهِ، وَأَعَانَ عَلَى الزَّمَانِ بِعُمُومِ إحسانه.
مَلِكٌ بِهِ تُرْسَى المَنَازِلْ
… وَيَنَالُ طِيبَ الْعَيْشِ نَازِلْ
وَيَجِدُّ فِي الْجُودِ الْجَزِيـ
… لِ لِمَنْ رَجَا وَالدَّهْرُ هَازِلْ
وَيَقُولُ دَاعِيَ جُودِهِ
… سَهُلَ الغِنَى مِنَّا لِآمِلْ
فَاعْمَلْ عَلَى رُؤْيَاهُ تَظْ
… فَرْ بِالْمُنَى إِنْ كُنْتَ عَامِلْ
وَارْحَلْ لَهُ وَدَعِ الدِّيَا
… رَ فَعِنْدَهُ كَمْ سُرَّ رَاحِلْ
وَاقْطَعْ إِلَيْهِ مَدَى البلا
… دِ وَلَوْ تَبَاعَدَتِ الْمَرَاحِلْ
هَذَا هُوَ الْبَحْرُ المُحيـ
… طُ وَعَاجِلُ الإِحْسَانِ سَاحِلْ
هَذَا هُوَ الْغَيْثُ الَّذِي
… مَا فِي حِمَاهُ الْيَوْمَ مَاحِلْ
هَذَا هُوَ المَجْدُ الأَصِيـ
… لُ وَهَكَذَا تُحْكَى الفَضَائِلْ
هَذَا هُوَ الفِعْلُ الحَمِيـ
… دُ كَذَاكَ فَلْتَكُنِ الفَعَائِلْ
لِلَّهِ مِنْ مَلِكٍ كَرِيـ
… مِ الأَصْلِ مَرْضِيِّ الشَّمَائِلْ
مَا هَمُّهُ إِلَاّ مَنَا لٌ فِي الـ
… عِِدَا أَوْ بَذْلُ نَائِلْ
لَا فِي سِوَى الْعَلْيَاءِ مَشْـ
… غُولٌ وَلَا لِلْمَالِ مَائِلْ
সেই সময় দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত, এবং আমি বললাম:
সানআয় পৌঁছানো অনিবার্য, যদিও সফর দীর্ঘ হয়
অতঃপর আমি সঙ্কল্প করলাম যে তার (শহর শাহবা - আলেপ্পোর) দিগন্তে আমার উজ্জ্বল নক্ষত্র উদিত করব এবং তার মহান রাজার সাক্ষাতের মাধ্যমে আমার প্রত্যাবর্তনের উপায়সমূহ সহজ করব; তিনি কতই না প্রবাসীকে নিজ স্বদেশে ফিরিয়েছেন এবং আপন দয়া ও অনুগ্রহের মাধ্যমে সময়ের প্রতিকূলতায় সাহায্য করেছেন।
তিনি এমন এক রাজা যার মাধ্যমে আবাসস্থলসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়
… আর সেখানে অবস্থানকারী স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন লাভ করে
তিনি সেই ব্যক্তির জন্য প্রচুর দান করতে সচেষ্ট থাকেন
… যে আশা পোষণ করে, অথচ কাল তখন বিদ্রূপকারী
তাঁর দানশীলতার আহ্বানকারী বলে
… আমাদের পক্ষ থেকে আশাবাদীর জন্য সচ্ছলতা সহজ হয়ে গিয়েছে
সুতরাং তাঁর সাক্ষাতের জন্য সচেষ্ট হও, তবেই তুমি সফলকাম হবে
… আপন বাসনা পূরণে, যদি তুমি সচেষ্ট হও
তাঁর অভিমুখে যাত্রা করো এবং গৃহ ত্যাগ করো
… কারণ তাঁর সন্নিকটে কতই না পরিব্রাজক আনন্দিত হয়েছে
তাঁর উদ্দেশ্যে দেশ-দেশান্তর পাড়ি দাও
… যদিও মনজিলসমূহ অনেক দূরবর্তী হয়
তিনিই হলেন কূলহীন মহাসাগর
… আর তাঁর ত্বরিত অনুগ্রহ হলো তটরেখা
তিনিই হলেন সেই বারিপাত
… যার আশ্রয়ে আজ কোনো দুর্ভিক্ষ নেই
এটিই হলো প্রকৃত মর্যাদা
… আর এভাবেই শ্রেষ্ঠত্বের গুণকীর্তন করা হয়
এটিই হলো প্রশংসনীয় কর্ম
… আর কার্যাবলি এমনই হওয়া উচিত
আল্লাহর প্রশংসা সেই মহানুভব বংশজাত রাজার জন্য
… যিনি পছন্দনীয় চরিত্রের অধিকারী
তাঁর একমাত্র লক্ষ্য হলো শত্রুদের ওপর বিজয় অর্জন
… অথবা দান-সামগ্রী বিতরণ করা
উচ্চমর্যাদা অর্জন ব্যতীত অন্য কিছুতে তিনি ব্যাপৃত নন
… এবং সম্পদের প্রতি তিনি মোটেও আসক্ত নন
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৪০)
فَنِهَايَةُ الدُّنْيَا لَهُ
… فِي صَارِمٍ لَدْنٍ وَذَابِلْ
وَالْجَيْشُ يُنْظَمُ حَوْلَهُ
… مِنْ رَامِحٍ مِنْهُمْ وَنَابِلْ
وَالْخَيْلُ إِثْرَ الْخَيْلِ جَا
… وَبَ صَاهِلٌ مِنْهَا لِصَاهِلْ
وَالْرُّمْحُ مِنْ دَمِ مَنْ عَصَا
… عَنْ أَمْرِهِ فِي الْحَرْبِ نَاهِلْ
وَخَوَافِقُ الرَّايَاتِ تَخْـ
… فِقُ فَوْقَ كَرَّاتِ الْجَحَافِلْ
هَذَا مُنَاهُ وَغَيْرُ هَـ
… ذَا لِلْمَوَاهِبِ وَالنَّوَافِلْ
شِيَمٌ تَوَارَثَهَا فَوَا
… فَقَ شَاهِدٌ فِيهَا وَنَاقِلْ
قُسٌّ إِذَا مَا رَامَ يُحْـ
… صِي عَدَّهَا، أَضْحَى كَبَاقِلْ
وَلَقَدْ سَمِعْتُ بِمَجْدِهِ
… فَأَتَيْتُ أَسْرِي غَيْرَ مَاهِلْ
وَأَتَيْتُ عَنْ عِلْمٍ بِهِ
… مَا عَالِمٌ يَوْماً كَجَاهِلْ
فَرَأَيْتُ مَا قَالُوا وَأَكْـ
… ثَرَ وَهْوَ لَيْسَ لَهُ مُمَاثِلْ
فَلِيَ الْهَنَاءُ بِأَنَّنِي
… أَصْبَحْتُ بَيْنَ يَدَيْهِ مَاثِلْ
فَرَأَيْتُ أَكْرَمَ مَنْ لِقَصْـ
… دِ جَنَابِهِ تُزْجَى الرَّوَاحِلْ
وَخَلَصْتُ حِينَ لَقِيتُهُ
… مِنْ ضُرِّ أَيَّامِي المَوَاحِلْ
وَرَجَوْتُ عَوْدِي كَيْفَ شِئْـ
… تُ إِلَى الأَحِبَّةِ وَالْمَنَازِلْ
فَوْقَ الْجِيَادِ الضُّمْرِ مِنْ
… جَدْوَاهُ وَالْخُوصِ الْبَوَازِلْ
كَمْ رَدَّ لِلأَوْطَانِ مِنْ
… مُتَغَرّبٍ جَزْلِ النَّوَائِلْ
هَذَا هُوَ المَلِكُ الَّذِي
… فِي بَابِهِ مَا خَابَ سَائِلْ
هَذَا الَّذِي مَنْ لَمْ يُقَبْـ
… بِّلْ كَفَّهُ مَا نَالَ طَائِلْ
দুনিয়ার শেষ সীমা তার জন্য
… এক নমনীয় ও সুতীক্ষ্ণ তরবারিতে নিহিত
সেনাবাহিনী তার চারপাশে সুসজ্জিত
… যার মধ্যে রয়েছে বর্শাধারী ও তীরন্দাজ
একের পর এক ঘোড়া আসছে
… আর তাদের একটির হ্রেষাধ্বনি অন্যটির উত্তর দিচ্ছে
যুদ্ধে যে তার আদেশ অমান্য করে
… তার রক্তে বর্শা তৃষ্ণা মেটায়
পতপত করে পতাকা উড়ছে
… বিশাল বাহিনীর আক্রমণের উপরে
এটিই তার আকাঙ্ক্ষা, আর এছাড়া অন্য কিছু
… কেবল দান ও অনুগ্রহের জন্য
এমন গুণাবলি যা তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছেন
… যেখানে প্রত্যক্ষ সাক্ষী (شاهد) এবং বর্ণনাকারী (ناقل) একমত হয়েছে
কুস যদি তা গণনা করতে চায়
… তবে সে বাকিলের মতো অক্ষম হয়ে পড়বে
আমি তার শ্রেষ্ঠত্বের কথা শুনেছি
… তাই আমি বিলম্ব না করে দ্রুতগতিতে এসেছি
আমি তার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান নিয়ে এসেছি
… কারণ জ্ঞানী ব্যক্তি কখনও মূর্খের সমান নয়
তারা যা বলেছিল আমি তা দেখেছি এবং তার চেয়েও বেশি
… আর তার কোনো সমকক্ষ নেই
আমার জন্য এটি পরম আনন্দের বিষয় যে
… আমি তার সামনে উপস্থিত হয়েছি
আমি এমন এক মহানুভব ব্যক্তিকে দেখেছি যার
… সান্নিধ্য লাভের জন্য সওয়ারিগুলো চালিত হয়
যখন আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করলাম তখন মুক্তি পেলাম
… আমার দুঃসময়ের কঠোরতা থেকে
আমি যেভাবে চেয়েছি সেভাবেই ফিরে যাওয়ার আশা করি
… প্রিয়জন ও আপন আলয়ের দিকে
তার দানে প্রাপ্ত সবল ঘোড়া
… এবং শক্তিশালী উটের পিঠে চড়ে
তিনি কত প্রবাসীকে প্রচুর দান-দক্ষিণাসহ
… স্বদেশে ফিরিয়ে দিয়েছেন
তিনিই সেই বাদশাহ যার
… দ্বারে কোনো যাচক বিফল হয় না
তিনিই সেই ব্যক্তি যে তার হাত
… চুম্বন করেনি সে কোনো সুফল পায়নি
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৪১)
هَذَا الَّذِي أَحْيَا مَكَا
… رِمَ قَدْ سُمِعْنَ عَنِ الأَوَائِلْ
قد حاز أوصافاً يحَا
… رُ لوصْفِها سحبان وَائِلْ
هَذَا ابن أُرْتُقَ خَيْرُ مَنْ
… فِي مَدْحِهِ قَدْ قَالَ قَائِلْ
هَذَا الَّذِي لِجُدُودِهِ
… فِي النَّاسِ ذِكْرٌ غَيْرُ زَائِلْ
أَمْدَاحُهُمْ تَبْقَى عَلَى
… طُولِ اللَّيَالي وَالأَصَائِلْ
هَذَا الزَّمَانُ وَأَهْلُهُ
… فَاسْمَعْ ثَنَاءَهُمُ وَسَائِلْ
فَهُمُ المُلُوكُ بَنُو المُلُو
… كِ فَعِنْدَهُمْ تُغْنِي الوَسَائِلْ
وَعَلَى وُجُوهِهِمُ مِنَ الْـ
… بُشْرَى لِمَنْ وَافَى دَلَائِلْ
أَخْلَاقُهُمْ مِثْلُ الرِّيَا
… ضِ إِذَا تَبَسَّمَتِ الخَمَائِلْ
كَالْسّلْكِ نُظِّمَ دُرُّهُ
… فَزَهَتْ بِهِ الغِيدُ العَقَائِلْ
سِلْكُ بِأُرْتُقَ بَدْوُهُ
… وَإِلَى السَّعِيدِ النَّظْمُ وَاصِلْ
وَإِلَى المُظَفَّرِ بَعْدَهُ
… وَالنَّظْمُ لِلْمَنْصُورِ حَاصِلْ
وَكَمَالُهُ بِالصَّالِحِ الْـ
… أَعْلَى فَهَذَا السَّلْكُ كَامِلْ
وَلَسَوْفَ يَبْقَى بَعْدَهُ
… لِبَنِيهِ هَذَا المُلْكُ شَامِلْ
فَبُدُورُ عِزِّهِمُ المُنِيـ
… رَةُ لَمْ يُخَفْ مِنْهُنَّ آفِلْ
وَسَمَاحُهُمْ عَنْ جَبْرِ مَنْ
… يَأْوِي إِلَيْهِمْ غَيْرُ غَافِلْ
وَنَدَاهُمُ بِغِنَى المُقِلّ
… وَحَاجَةِ الرَّاجِينَ كَافِلْ
ইনিই সেই ব্যক্তি, যিনি ঐ সকল মহানুভবতাকে পুনর্জীবিত করে
…ছেন, যা পূর্ববর্তীদের নিকট থেকে শ্রুত হয়েছে।
তিনি এমন সব গুণাবলি অর্জন করেছেন, যা বর্ণনা করতে
… গিয়ে সাহবান ওয়াইলও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে।
ইনিই ইবনে আরতুক, যাঁর প্রশংসায় কোনো প্রশংসাক
…রীর বলা শ্রেষ্ঠ স্তববাক্য ব্যক্ত হয়েছে।
ইনিই সেই ব্যক্তি, যাঁর পূর্বপুরুষদের
… আলোচনা মানুষের মাঝে চিরঅম্লান হয়ে রয়েছে।
তাঁদের এই স্তুতিগাথা দীর্ঘ রজনী
… ও অপরাহ্ণের পরিক্রমায় চিরকাল অবশিষ্ট থাকবে।
এই বর্তমান কাল ও তার অধিবাসীদের নিকট
… তাঁদের প্রশংসা শ্রবণ করো এবং যাঞ্চা করো।
তাঁরাই হলেন রাজন্যবর্গ এবং রাজপুত্র,
… তাঁদের নিকট সকল মাধ্যম ও অসিলাই যথেষ্ট।
তাঁদের মুখমণ্ডলে আগন্তুকদের জন্য সুসং
…বাদের নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্ট।
তাঁদের চরিত্র মাধুর্য যেন সেই উদ্যান,
… যখন তার উপবনসমূহ প্রস্ফুটিত হয়ে হাসে।
যেন এক সুশৃঙ্খল মুক্তার মালা,
… যা দ্বারা আভিজাত্যময়ী রমণীরা শোভা পায়।
এই মালিকা আরতুক থেকে সূচিত হয়ে
… আস-সাঈদ পর্যন্ত এর বিন্যাস অবিচ্ছিন্ন রয়েছে।
অতঃপর আল-মুজাফ্ফর পর্যন্ত
… এবং আল-মানসুরের নিকটও এই বিন্যাস বহমান।
আর এর পূর্ণতা এসেছে আল-সালিহ আল-
…আ'লার মাধ্যমে, ফলে এই শৃঙ্খল এখন সম্পূর্ণ।
আর তাঁর পরেও এই বিস্তৃত রাজত্ব
… তাঁর সন্তানদের জন্য স্থায়ী হবে।
তাঁদের মর্যাদার সেই দীপ্তিময় পূর্ণিমার
… চাঁদগুলো কখনোই অস্তমিত হওয়ার নয়।
তাঁদের আশ্রয়প্রার্থীদের অভাব মোচনে তাঁদের
… উদারতা কখনোই বিমুখ করে না।
তাঁদের বদান্যতা নিঃস্বদের সচ্ছলতা
… এবং প্রার্থনাকারীদের প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وَعُلَاهُمُ مَا زَالَ فِي
… حُلَلِ الثَّنَاءِ الجَزْلِ رَافِلْ
وَإِذَا أَتَى وَفْدُ العُفَا
… ةِ مُدَبِّراً بِمَ ذَا يُقَابِلْ
هَبَّتْ قَبُولُ سَمَاحِهِمْ
… فَتَقُولُ إِنَّ الوَقْتَ قَابِلْ
أَعْطَاهُ حَتَّى قَالَ حَسْـ
… بِي وَانْثَنَى فِي الشُّكْرِ جَائِلْ
لَا زَالَ يَنْشُرُهَا مَكا
… رِمَ لَمْ تَكُنْ يَوْماً زَوَائِلْ
وَيَنَالُ مِنْ مِنَحِ الرِّضَى
… وَالسَّعْدِ غَايةَ كُلِ نَائِلْ
وَلَمَّا عَرَفْتُ مِنْ صِفَاتِهِ هَذِهِ الْجَوَاهِرَ الَّتِي نَظَمْتُهَا فِي سَلْكِ الكَلَامِ، وَزَيَّنْتُ بِنَظْمِهَا أَجْيَادَ المُلْكِ فِي الأَنَامِ، قُلْتُ: لَا بُدَّ مِنْ تُحْفَةِ قَادِمٍ أُقَدِمُهَا بَيْنَ يَدْيَهِ، وَوَسِيلَةِ وَاصِلٍ أَتَوَصَّلُ بِهَا إِلَيْهِ، فَرَأَيْتُ أَنَّ العِلْمَ أَشْرَفُ مَا عُنِيَتْ بِهِ أَكَابِرُ المُلُوكِ، وَأَنْفَسُ الجَوَاهِرِ الَّتِي تَتَضَمَّنُهَا ذَخَائِرُ السُّلُوكِ، وَتَحَقَّقْتُ أَنَّهُ مِمَّنْ يَرَى لِلْعِلْمِ حَقَّهُ، وَيجِبُ أَنْ تُزَيِّنَ بُدُورُهُ أُفْقَهُ، وَحِينَ قد رَأَيْتُهُ قَدْ عُنِيَ بِتَحْسِينِ الأَفْعَالِ، أَلَّفْتُ لَهُ كِتَاباً فِي تَصَارِيفِ الأَفْعَالِ، وَحين أَلْفَيْتُ أَفْعَالَهُ تَتَصَّرَفُ فِي فَتْحِ [الآمَالِ] الَّتِي تُقِرُّ الْعَيْنِ، اقْتَصَرْتُ مِنَ الأَفْعَالِ عَلَى (فَعَلَ) الَّذِي هُوَ مَفْتُوحُ العَيْنِ، مَعَ أَنّي رَأَيْتُ تَصَارِيفَ الأَفْعَالِ مُتَّسِعَةَ المَجَالِ مُلْتَبِسَةً عَلَى كَثِيرٍ مِنَ الرِّجَالِ، وعِلْمَ ذَلِكَ فِي هَذَا الزَّمَانِ مَأْخُوذاً بِيَدِ الإِهْمَالِ،
তাদের সুউচ্চ মর্যাদা সর্বদা
… সুগভীর প্রশংসার আবরণে সুশোভিত।
যখন প্রার্থীদের প্রতিনিধিদল এমন অবস্থায় আসে যে তিনি
… পরাম্মুখ, তখন তিনি তাদের কিসের দ্বারা আপ্যায়িত করবেন?
তাদের দানশীলতার অনুকূল সমীরণ প্রবাহিত হয়েছে,
… যা বলছে যে সময়টি এখন অনুকূল।
তিনি তাকে দান করলেন যতক্ষণ না সে বলল
… ‘আমার জন্য যথেষ্ট’, এবং সে কৃতজ্ঞচিত্তে ফিরে গেল।
তিনি সর্বদা এমন সব মহোত্তম
… গুণাবলি প্রচার করেন যা কখনো বিলীন হওয়ার নয়।
এবং তিনি সন্তুষ্টি ও সৌভাগ্যের দানসমূহ হতে
… প্রত্যেক অর্জনকারীর চরম লক্ষ্য লাভ করেন।
যখন আমি তাঁর গুণাবলির এই রত্নরাজি সম্পর্কে অবগত হলাম যা আমি বক্তব্যের সুতোয় গেঁথেছি এবং যার বিন্যাসের মাধ্যমে মানবজাতির মাঝে রাজকীয় গ্রীবাকে অলঙ্কৃত করেছি, তখন আমি বললাম: তাঁর সমীপে পেশ করার জন্য একজন নবাগতের পক্ষ থেকে অবশ্যই একটি উপঢৌকন এবং তাঁর নিকট পৌঁছানোর জন্য একজন সংযোগকারীর পক্ষ থেকে একটি মাধ্যম থাকা প্রয়োজন। আমি অনুভব করলাম যে, জ্ঞান হলো সেই সর্বশ্রেষ্ঠ বিষয় যার প্রতি মহান রাজন্যবর্গ মনোনিবেশ করেছেন এবং তা হলো সেই মহামূল্যবান রত্ন যা চারিত্রিক উৎকর্ষের ভাণ্ডারে সংরক্ষিত থাকে। আমি সুনিশ্চিত হলাম যে, তিনি এমন এক ব্যক্তিত্ব যিনি জ্ঞানের যথাযথ মর্যাদা অনুধাবন করেন এবং তাঁর দিগন্তে জ্ঞানের পূর্ণিমার চাঁদের জ্যোতি বিকীর্ণ হওয়া আবশ্যক। যেহেতু আমি তাঁকে কার্যাবলির উৎকর্ষ সাধনে যত্নবান দেখেছি, তাই আমি তাঁর জন্য ক্রিয়ার রূপান্তর বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছি। আর যখন আমি দেখলাম যে, তাঁর কার্যাবলি এমন সব [আশা-আকাঙ্ক্ষা] পূরণে ব্যাপৃত যা চক্ষু শীতল করে, তখন আমি ক্রিয়াসমূহের মধ্য থেকে কেবল ‘ফায়ালা’ এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকলাম যার ‘আইন’ বর্ণটি যবরযুক্ত; যদিও আমি দেখেছি যে ক্রিয়ার রূপান্তরসমূহের ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত এবং অনেক বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্বের (الرجال) নিকট তা অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর, আর বর্তমান সময়ে এই শাস্ত্রটি অবহেলার শিকারে পরিণত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَرَأَيْتُ أَنَّ أَكْثَرَ مَا يَدُورُ عَلَى الأَلْسِنَةِ (فَعَلَ) المَفْتُوحُ العَيْنِ، وَأَنَّهُ فِي هَذَا البَابِ كَالسَّوَادِ مِنَ العَيْنِ، فَصَنَّفْتُ هَذَا الكِتَابَ، [وَ] جَمَعْتُ فِيهِ مَا جَاءَ مِنْ (فَعَلَ) بِفَتْحِ العَيْنِ، وَالمُضَارِعُ مِنْهُ بِالضَّمّ وَالكَسْرِ، مَعَ اخْتِلَافِ المَعْنَى وَاتّفَاقِهِ، وَبَوَّبْتُهُ عَلَى حُرُوفِ المُعْجَمِ، فَجَاءَ كَالسِلْكِ المُحْكَمِ.
وَأَبْدَأُ كُلَّ بَابٍ بِمَا هُوَ مُتَّفِقُ المَعْنَى، لِيَكُونَ أَسْهَلَ لِلنَّاظِرِ وَأَهْنَى، وَبَدَأْتُهُ بِمُقَدِمَةٍ فِي أَحْكَامِ (فَعَلَ)، وَنَقْلِهِ، وَصَحِيحِهِ، وَمُعْتَلِّهِ، وَخَتَمْتَهُ بِفَصْلٍ فِيمَا يَتَعَدَّى مِنَ الأَفْعَالِ مَرَّةً دُونَ مَرَّةٍ، فَكَمُلَ تَأْلِيفُهُ بِأَنْفَسِ دُرّة، إِذْ هَذَا النَّوْعُ مِنَ الأَفْعَالِ مِنْ قَبِيلَ النَّادِرِ الَّذِي لَا يُدْرِكُهُ إِلَاّ الحُفَّاظُ، وَلَا يُمَيّزُهُ إِلَاّ مَنْ تَدَاوَلَتْ عَلَى سَمْعِهِ الأَلْفَاظُ.
وَقَدْ جَمَعَ النَّاسُ فِي الأَفْعَالِ تَصَانِيفَ حَصَلَ لَهُمْ بِهَا السَّبْقُ، وَوَجَبَ أَنْ لَا يُشَامَ إِلَاّ ذَلِكَ البَرْقُ، وَلَكِنْ رَأَيْتُ إِفْرَادَ هَذَا الصّنْفِ مِمَّا تَكْثُرُ فَوَائِدُهُ، وَيُحْمَدُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ عَائِدُهُ، وَهَذَا شَيْءٌ اقْتَضَبْنَاهُ بِيَدِ الاسْتِعْجَالِ، وَوَقَعَ مِنَّا مَوْقِعَ الشِعْرِ عِنْدَ الارْتِجَالِ. وَعَلَى كُلِّ وَجْهٍ، فَإِنَّ مَنْ جَمَعَ وَلَوْ مَسْأَلَتَيْنِ نَفَعَ عِلْمُ ذَلِكَ وَضَرَّ جَهْلُهُ، وَحَرَصَ عَلَى تَحْصِيلِهِ أَهْلُهُ، وَسَمَّيْتُهُ: بِـ (اقْتِطَافِ الأَزَاهِرِ، وَالتِقَاطِ الجَوَاهِرِ)، وَرَفَعْتُهُ إِلَى الخِزَانَةِ الشَّرِيفَةِ خِدْمَةً مُخَلَّدَةً فِي دَوَاوِينِهَا وَقَطْرَةً أَضَفْتُهَا إِلَى مَعِينِ عُيُونِهَا.
আমি লক্ষ্য করেছি যে, মানুষের মুখে সর্বাধিক যা উচ্চারিত হয় তা হলো ‘আইন’ বর্ণে ফাতহা (জবর) বিশিষ্ট ‘ফাআলা’ (فَعَلَ) রূপটি এবং এই অধ্যায়ে এটি চোখের মণির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি এই কিতাবটি সংকলন করেছি এবং এতে ‘আইন’ বর্ণে ফাতহা বিশিষ্ট ‘ফাআলা’ (فَعَلَ) রূপের সেই সমস্ত শব্দ একত্রিত করেছি যার মুজারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কাল) রূপে দম্মা (পেশ) ও কাসরা (জের) হয়—চাই তা অর্থের ভিন্নতা সহ হোক বা অর্থের অভিন্নতা সহ। আমি একে বর্ণমালার ক্রমানুসারে বিন্যস্ত করেছি, ফলে এটি একটি সুদৃঢ় ও সুশৃঙ্খল মালার মতো সুসংবদ্ধ হয়েছে।
আমি প্রতিটি অধ্যায় সমার্থক (متفق) শব্দাবলি দিয়ে শুরু করেছি যাতে তা পাঠকের জন্য সহজতর ও অধিক আনন্দদায়ক হয়। আমি কিতাবটি শুরু করেছি ‘ফাআলা’ (فَعَلَ)-এর বিধান, তার রূপান্তর এবং তার সহিহ (صحيح) ও অসুস্থ বা বর্ণ-পরিবর্তিত (معتل) রূপের বর্ণনা সম্বলিত একটি ভূমিকার মাধ্যমে। আর কিতাবটি সমাপ্ত করেছি ক্রিয়াপদের সকর্মক হওয়ার বিবিধ অবস্থা সম্পর্কিত একটি পরিচ্ছেদের মাধ্যমে। এভাবে এক অমূল্য মুক্তার ন্যায় এর সংকলন পূর্ণতা লাভ করেছে; কারণ ক্রিয়াপদের এই প্রকারটি বিরল (نادر) পর্যায়ের যা হাফেজগণ (الحفاظ) ব্যতীত অন্য কেউ অনুধাবন করতে পারে না এবং যার শ্রবণে এই শব্দগুলো বারবার উচ্চারিত হয়নি সে ছাড়া অন্য কেউ এর পার্থক্য নিরূপণ করতে পারে না।
মানুষ ইতিপূর্বে ক্রিয়াপদের ওপর বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন যার মাধ্যমে তারা অগ্রগামী হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছেন এবং সেই প্রতিভার বিচ্ছুরণ ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে দৃষ্টিপাত না করাই ছিল বাঞ্ছনীয়। কিন্তু আমি এই বিশেষ প্রকারটিকে পৃথকভাবে উপস্থাপন করা সমীচীন মনে করেছি কারণ এর উপকারিতা অনেক এবং ইনশাআল্লাহ এর ফলাফল প্রশংসনীয় হবে। এটি এমন এক সংকলন যা আমি দ্রুততার সাথে প্রস্তুত করেছি এবং যা তাৎক্ষণিক কবিতার মতো স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার থেকে প্রকাশ পেয়েছে। যে কোনো বিচারেই হোক, যে ব্যক্তি মাত্র দুটি মাসআলাও একত্রিত করে, তার সেই জ্ঞান উপকারী এবং তার প্রতি অজ্ঞতা ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হয়, আর জ্ঞানানুরাগীগণ তা অর্জনে সচেষ্ট থাকেন। আমি এর নামকরণ করেছি: ‘ইকতিতাফ আল-আজাহির ওয়া ইলতিকাত আল-জাওয়াহির’। আমি এটি রাজকীয় গ্রন্থাগারে পেশ করেছি যাতে তাদের নথিপত্রে এটি একটি চিরস্থায়ী খিদমত হিসেবে সংরক্ষিত থাকে এবং যা তাদের জ্ঞান-সমুদ্রের উৎসে আমার পক্ষ থেকে যুক্ত করা একটি বিন্দুর ন্যায় গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَاللَّهَ أسألُ أَنْ يَكْفِيَنَا أَلْسِنَةَ الْحُسَّادِ، وَيَصْرِفَ هَذِهِ البِضَاعَةَ عَنْ سُوقِ الكَسَادِ، وَيُلْهِمَنَا إِلَى مَا يَعْصِمُ مِنَ الهُجْرِ، وَلَا يَجْعَلَنَا مِمَّنْ قُوبِلَ بِالهَجْرِ، وَعَلَى اللَّهِ أَتَوَكَّلُ، وَبِهِ أَتَوَسَّلُ.
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের হিংসুকদের জিহ্বা থেকে রক্ষা করেন, এবং এই পণ্যকে (ইলমি সম্পদকে) মন্দার বাজার থেকে বিমুখ রাখেন; আর তিনি আমাদের এমন বিষয়ের ইলহাম দান করেন যা অসার বাক্য (الهجر) থেকে রক্ষা করে এবং আমাদের এমন ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত না করেন যারা বর্জনের (الهجر) সম্মুখীন হয়। আর আমি আল্লাহর ওপরই ভরসা করি এবং তাঁরই অসিলা গ্রহণ করি।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
ذكر المقدمة
في أحكام (فَعَلَ) المفتوح العين
اعْلَمْ أَنَّ المَفْتُوحَ العَيْنِ، أَخَفُّ أَبْنِيَةِ الأَفْعَالِ، لأَنَّهُ ثُلَاثِيٌ، وَالثُلَاثِيُّ أَخَفُّ مِمَّا زَادَ عَلَيْهِ، وَلأَنَّهُ مَفْتُوحُ العَيْنِ، والفَتْحَةُ أَخَفُّ الحَرَكَاتِ.
تَنْبِيهٌ:
وَاعْلَمْ أَنَّ الفِعْلَ الثُّلَاثِيَّ المُجَرَّدَ، لَا يَكُونُ أَوَّلُهُ إِلَاّ مَفْتُوحاً لِخِفَّةِ الفَتْحَةِ، فَأَمَّا ضُرِبَ المبْنِيُّ لِلْمَفْعُولِ فَلَيْسَ بِأَصْلِ بِنَاءٍ، وَإِنَّمَا هُوَ فَرْعٌ عَنْ بِنْيَةِ الفَاعِلِ، دَلِيلُهُ، قَوْلُهُ تَعَالَى: {مَا وُورِيَ عَنْهُمَا} [الأعراف: 20] بِضَمّ الوَاوِ مِنَ غَيْرِ هَمْزٍ، وَلَوْ كَانَ اجْتِمَاعُ الوَاوَيْنِ أَصْلاً، لَكَانَ مِنْ بَابِ (أَوَاصِلَ)، لَا يَجُوزُ فِي الوَاوِ إِلَاّ الهَمْزُ، لأَنَّ القَاعِدَةَ: مَهْمَا اجْتَمَعَ فِي أَوَّلِ الكَلِمَةِ وَاوَانِ كَانَ هَمْزُ الأَوَّلِ مِنْهُمَا لُزُوماً، بِشَرْطِ أَنْ يَكُونَ الاجْتِمَاعُ لَازِماً كَـ (أَوَاصِلَ) وَنَحْوِهِ، وَالأَصْلُ فِيهِ: وَوَاصِلُ، جَمْعُ وَاصِلٍ،
মুকাদ্দিমার বর্ণনা
মধ্য বর্ণ ফাতাহ-যুক্ত (ফায়ালা) এর বিধানাবলী প্রসঙ্গে
জেনে রাখুন যে, মধ্য বর্ণ ফাতাহ-যুক্ত শব্দ ক্রিয়া-কাঠামোর মধ্যে সবচেয়ে হালকা। কারণ এটি ত্রিমাত্রিক (সুলাসি), আর ত্রিমাত্রিক শব্দ অতিরিক্ত বর্ণবিশিষ্ট শব্দের চেয়ে হালকা। এছাড়া এটি মধ্য বর্ণ ফাতাহ-যুক্ত (মাপ্তুহুল আইন), আর ফাতাহ হলো হরকতসমূহের (স্বরচিহ্ন) মধ্যে সবচেয়ে হালকা।
সতর্কীকরণ:
জেনে রাখুন যে, মূল ত্রিমাত্রিক ক্রিয়ার (সুলাসি মুজাররাদ) প্রথম বর্ণটি ফাতাহ-র লঘুতার কারণে কেবল ফাতাহ-যুক্তই হয়ে থাকে। তবে কর্মবাচ্যের (মাবনি লিল মাফউল) জন্য ব্যবহৃত ‘দুরিবা’ মূল গঠন নয়; বরং এটি কর্তৃবাচ্যের (ফায়িল) গঠন থেকে নির্গত একটি শাখা মাত্র। এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের নিকট যা গোপন করা হয়েছিল} [আল-আ’রাফ: ২০], এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি হামজা ব্যতীতই দম্মাহ (পেশ) যোগে উচ্চারিত হয়েছে। যদি দুটি ‘ওয়াও’ এর একত্র হওয়াটি মূলগত হতো, তবে এটি ‘আওয়াসিল’ এর পর্যায়ভুক্ত হতো, যেখানে ‘ওয়াও’ এর ক্ষেত্রে হামজা ব্যতীত অন্য কিছু পড়া বৈধ নয়। কারণ ব্যাকরণিক নিয়ম হলো: যখনই শব্দের শুরুতে দুটি ‘ওয়াও’ একত্রে আসে, তখন তাদের প্রথমটিকে হামজা করা আবশ্যক, যদি সেই একত্র হওয়াটি অপরিহার্য হয়; যেমন ‘আওয়াসিল’ এবং এর সমজাতীয় শব্দসমূহ। এর মূল রূপ ছিল ‘ওয়াওয়াসিল’, যা ‘ওয়াসিল’ শব্দের বহুবচন।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
وَأَمَّا إِذَا كَانَ الاجْتِمَاعُ عَارِضاً فَلَا يَلْزَمُ الهَمْزُ، بَلْ يجُوزُ كَـ (وُوِريَ) فَـ (وُوِريَ) عَلَى هَذَا مِنْ بَابِ (وُقِتَتْ) لَا مِنْ بَابِ (أَوَاصِلَ)، فَجَوَازُ الأَمْرَيْنِ فِيهِ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ بِنَاءَهُ عَارِضٌ، وَأَنَّ اجْتِمَاعَ الوَاوَيْنِ فِيهِ لَيْسَ بِأَصْلِ، وَإِنَّمَا جَعَلُوا الضَّمَّ مَعَ الفَعْلِ المَبْنِيّ لِلْمَفْعُولِ لِأَنَّهُ قَلِيلٌ بِالنِّسْبَةِ إِلَى فِعْلِ الفَاعِلِ، وَجَعَلُوا الفَتْحَ مَعَ الفَاعِلِ لأَنَّهُ كَثِيرٌ، فَجَعَلُوا الخَفِيفَ مَعَ الكَثِيرِ وَالثَّقِيلَ مَعَ القَليلِ.
وَأَمَّا (شِهِدَ)، بِكَسْرِ الشّينِ، فَكَذَلِكَ أَيْضاً لَيْسَ بِأَصْلِ بِنَاءٍ، وَإِنَّمَا الأَصْلُ: شَهِدَ بِفَتْحِ الشِينِ، وَإِنَّمَا كُسِرَ إِتْبَاعاً.
ثُمَّ إِنَّ هَذَا الفِعْلَ الَّذِي نَحْنُ بِصَدَدِهِ، يَنْقَسِمُ أَقْسَاماً:
القِسْمُ الأَوَّلُ
أَنْ يَكُونَ صَحِيحَ الفَاءِ وَالعَيْنِ وَاللَاّمِ، غَيْرَ مُضَاعَفٍ، نَحْوُ: ضَرَب، فَهَذَا القِسْمُ يَأتِي المُضَارِعُ مِنْهُ عَلَى (يَفْعُلُ) بِضَمّ العَيْنِ وَعَلَى (يَفْعِلُ) بِكَسْرِهَا سَوَاءٌ كَانَ مُتَعَدِياً أَوْ غَيْرَ مُتَعَدٍّ نَحْوَ: خَرَجَ يَخْرُجُ وَضَرَبَ يَضْرِبُ،
আর যখন (দুটি বর্ণের) একত্র হওয়াটি আগন্তুক (عارض) হয়, তখন হামযাহ (همزة) করা আবশ্যক হয় না, বরং তা জায়েজ; যেমন (وُوِريَ)। সুতরাং এই ভিত্তিতে (وُوِريَ) শব্দটি (وُقِتَتْ) এর প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, (أَوَاصِلَ) এর প্রকারের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং উভয় পদ্ধতির বৈধতা একথারই দলিল যে, এর গঠনটি আগন্তুক (عارض), এবং এতে দুইটি ওয়াও-এর একত্র হওয়াটি মৌলিক (أصل) নয়। মূলত তারা কর্মবাচ্য (المبني للمفعول) ক্রিয়ার ক্ষেত্রে পেশ (ضم) নির্ধারণ করেছেন কারণ কর্তৃবাচ্য (فعل الفاعل) ক্রিয়ার তুলনায় এর ব্যবহার কম। আর কর্তৃবাচ্যের ক্ষেত্রে জবর (فتح) নির্ধারণ করেছেন কারণ এর ব্যবহার বেশি। ফলে তারা অধিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে হালকা এবং স্বল্প ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভারী রূপ নির্ধারণ করেছেন।
আর শীন বর্ণে যের (كسر) যোগে (شِهِدَ) এর বিষয়টিও তদ্রূপ; এটিও মৌলিক (أصل) গঠন নয়। বরং এর মূল (أصل) হলো: শীন বর্ণে জবর (فتح) সহকারে (شَهِদَ)। মূলত অনুবর্তনের (إتباعا) কারণে এতে যের প্রদান করা হয়েছে।
অতঃপর আমরা যে ক্রিয়াটি নিয়ে আলোচনা করছি, তা কয়েক ভাগে বিভক্ত:
প্রথম প্রকার
ক্রিয়াটির ফা, আইন এবং লাম মূলবর্ণগুলো সহিহ (صحيح) হওয়া এবং দ্বিত্ব (مضاعف) না হওয়া; যেমন: (ضَرَبَ)। এই প্রকারের মুযারি (المضارع) আইন বর্ণে পেশ (ضم) সহকারে (يَفْعُلُ) ওজনে এবং আইন বর্ণে যের (كسر) সহকারে (يَفْعِلُ) ওজনে আসে; তা সকর্মক (متعديا) হোক বা অকর্মক (غير متعد) হোক; যেমন: (خَرَجَ يَخْرُجُ) এবং (ضَرَبَ يَضْرِبُ)।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَقَدْ يَجِيءُ ذَلِكَ فِي الفَعْل الواحِدِ نَحْوُ: عَرَشَ يَعْرُشُ وَيَعْرِشُ، وَهُوَ كَثِيرٌ جِدّاً، وَبِسَبِبِهِ وَضَعْتُ هَذَا الكِتَابَ.
وَقَدْ عَقَدَ عَلَيْهِ أَبُو بَكْرٍ بْنُ دُرَيْدٍ بَاباً فِي كِتَابِ الأَبْنِيَةِ مِنْ كِتَابِ "الجَمْهَرَةِ". فَإِذَا التَبَسَ عَلَيْكَ مُضَارِعُ فِعْلٍ، وَلَا تَعْلَمُ أَمَضْمُومٌ هُوَ أَمْ مَكْسُورٌ، فَتَتَبَّع السَّمَاعَ، فَإِنْ لَمْ تَجِدْهُ مَسْمُوعاً، فَأَنْتَ بِالخِيَارِ فِي الضَّمّ والكَسْرِ، إِلَاّ أَنَّ الكَسْرَ أَوْلَى لخِفَّتِهِ.
وَحُكِيَ عَنْ أَبِي زَيْدٍ أَنَّهُ قَالَ: طُفْتُ فِي سَافِلَةِ قَيْسٍ وَعَلْيَاءَ تَمِيمٍ فَمَا رَأَيْتُ أَحَداً فَصَلَ بَيْنَهُمَا، وَلَمْ أَجِدْ لِذَلِكَ حَصْراً، وَكُلٌّ يَتَكَلَّمُ بِهِ عَلَى مَا يُرِيدُ؛ يَعْنِي: مِنْ ضَمّ المُضَارِعِ أَوْ كَسْرِهِ.
قُلْتُ: هَذَا إِذَا لَمْ يَثْبُتِ السَّمَاعُ، فَأَمَّا إِذَا ثَبَتَ السَّمَاعُ فَلَا يُعْدَلُ إِلَى غَيْرِهِ. وَقَدْ يَأْتِي المُضَارِعُ بالضَّمّ وَلَا يَجُوزُ غَيْرُهُ، وَذَلِكَ فِي بَابِ المُغَالَبَةِ نَحْوُ أنْ تَقُولَ: ضَارَبْتُهُ فَضَرَبْتُهُ أَضْرُبُهُ، أَيْ: غَلَبْتُهُ فِي الضَّرْبِ، وَخَاصَمْتُهُ فَخَصَمْتُهُ أَخْصُمُهُ، أَيْ: غَلَبْتُهُ فِي
কখনও কখনও এটি একই ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও ঘটে, যেমন: ‘আরাশা’ থেকে ‘ইয়া’রুশু’ ও ‘ইয়া’রিশু’। এটি অত্যন্ত ব্যাপক এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমি এই গ্রন্থটি রচনা করেছি।
আবু বকর ইবন দুরাইদ তাঁর ‘আল-জামহারা’ গ্রন্থের ‘কিতাবুল আবনিয়া’ অংশে এ বিষয়ে একটি পরিচ্ছেদ নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং যদি কোনো ক্রিয়ার বর্তমানকালীন রূপ (مضارع) নিয়ে তোমার সংশয় দেখা দেয় এবং তুমি না জান যে তা পেশযুক্ত (مضموم) হবে নাকি যেরযুক্ত (مكسুর) হবে, তবে শ্রুত প্রয়োগ (سماع) অনুসরণ করো। যদি তার কোনো শ্রুত প্রয়োগ না পাওয়া যায়, তবে পেশ (ضم) বা যের (كسر) ব্যবহারের ক্ষেত্রে তোমার ইখতিয়ার রয়েছে; তবে উচ্চারণে সহজ হওয়ার কারণে যের (كسر) প্রদান করাই অধিকতর উত্তম।
আবু যায়েদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আমি কায়স গোত্রের নিম্নভূমি এবং তামীম গোত্রের উচ্চভূমি ভ্রমণ করেছি, কিন্তু কাউকেই এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে দেখিনি। আমি এর কোনো সীমাবদ্ধতা খুঁজে পাইনি; বরং প্রত্যেকেই নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী তা উচ্চারণ করে; অর্থাৎ বর্তমানকালীন রূপের (مضارع) পেশ (ضم) বা যের (كسر) ব্যবহারের ক্ষেত্রে।
আমি বলছি: এটি তখনই প্রযোজ্য যখন কোনো শ্রুত প্রয়োগ (سماع) প্রমাণিত না হয়। কিন্তু যদি শ্রুত প্রয়োগ (سماع) প্রমাণিত থাকে, তবে তা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। কখনও কখনও বর্তমানকালীন রূপটি (مضارع) কেবল পেশ (ضم) সহযোগে আসে এবং অন্য কোনোটি বৈধ হয় না; এটি মূলত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন (مغالبة) সংক্রান্ত অধ্যায়ে হয়ে থাকে। যেমন তোমার বলা: ‘আমি তার সাথে প্রহারে প্রতিযোগিতা করেছি এবং তাকে পরাজিত করার পর আমি তাকে প্রহার করছি (আদ্বরুবুহু)’, অর্থাৎ: আমি প্রহারে তার ওপর জয়ী হয়েছি। এবং ‘আমি তার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছি এবং তাকে পরাজিত করার পর আমি তার ওপর জয়ী হচ্ছি (আখসুমুহু)’, অর্থাৎ: আমি বিতর্কে তার ওপর জয়ী হয়েছি...
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
الخُصُومَةِ؛ هذَا مَا لَمْ يَكُنْ مُعْتَلَّ العَيْنِ أَوِ اللَاّمِ بِالْيَاءِ، أَوْ مُعْتَلَّ الفَاءِ بِالْوَاوِ، فَإِنْ كَانَ كَذَلِكَ لَزِمَ المُضَارِعُ (يَفْعِلُ) بِكَسْرِ العَيْنِ، نَحْوَ قَوْلِكَ: رَامَانِي فَرَمَيْتُهُ أَرْمِيهِ، وَسَايَرَنِي فَسِرْتُهُ أَسِيرُهُ، وَوَاعَدَنِي فَوَعَدْتُهُ أَعِدُهُ، إِذَا غَلَبْتَهُ فِي الرَّمْيِ وَالسَّيْرِ والوَعْدِ. وَإِنَّمَا التُزِمَ فِي هَذَا المُعْتَلّ أَنْ يَكُونَ مُضَارِعُهُ بِكَسْرِ العَيْنِ لِأَنَّهُ لَوْ جَاءَ بِالضَّمّ لَخَرَجُوا عَنْ لُغَتِهِمْ، لِأَنَّهُ لَيْسَ فِي كَلَامِهِمْ مِثْلُ وَعَدَ يَوْعُدُ وَلَا بَاعَ يَبُوع مِنَ البَيْعِ وَلَا رَمَى يَرْمُو، فَلِذَلِكَ جَاؤُوا بِالمُضَارِعِ عَلَى الكَسْرِ مُوَافَقَةً لِلْقِيَاسِ، وَزَعَمَ الكِسَائِيُّ أَنَّهُ يَجِيءُ عَلَى (يَفْعَلُ) بِفَتْحِ العَيْنِ إِذَا كَانَ العَيْنُ حَرْفَ حَلْقٍ نَحْوُ: فَاخَرَنِي فَفَخَرْتُهُ أَفْخَرُهُ،
বিবাদ বা প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে; এটি ততক্ষণ পর্যন্ত কার্যকর যতক্ষণ না ক্রিয়াটি ‘ইয়া’ সহযোগে আইন বর্ণে দুর্বল (معتل العين) অথবা লাম বর্ণে দুর্বল (معتل اللام) হয়, কিংবা ‘ওয়াও’ সহযোগে ফা বর্ণে দুর্বল (معتل الفاء) হয়। যদি এমনটি হয়, তবে মুজারি (مضارع) ক্রিয়াটি আইন বর্ণের কাসরা (كسر العين) সহযোগে ‘ইয়াফইলু’ (يَفْعِلُ) ওজনে হওয়া আবশ্যক। যেমন আপনার উক্তি: ‘সে আমার সাথে তীর নিক্ষেপে পাল্লা দিয়েছে এবং আমি তাকে পরাজিত করেছি, আমি তাকে পরাজিত করি’, এবং ‘সে আমার সাথে পথ চলায় প্রতিযোগিতা করেছে এবং আমি তাকে অতিক্রম করেছি, আমি তাকে অতিক্রম করি’, এবং ‘সে আমার সাথে ওয়াদা করার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করেছে এবং আমি তার ওপর জয়ী হয়েছি, আমি জয়ী হই’; যখন আপনি তীর নিক্ষেপ, পথ চলা এবং ওয়াদার ক্ষেত্রে তার ওপর জয়লাভ করেন। মূলত এই প্রকারের দুর্বল (معتل) ক্রিয়াগুলোর মুজারি (مضارع) আইন বর্ণের কাসরা (كسر العين) বিশিষ্ট হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, কারণ তা যদি জম্মা (ضم) সহযোগে ব্যবহৃত হতো তবে তারা তাদের নিয়মিত ভাষাগত প্রয়োগ থেকে বিচ্যুত হতো। কেননা আরবদের বাকরীতিতে ‘ওয়াদা-ইয়াউদু’ অথবা ক্রয়-বিক্রয় অর্থে ‘বা-আ ইয়াবুউ’ কিংবা ‘রামা-ইয়ারমু’ এর মতো কোনো প্রয়োগ নেই। এ কারণেই তারা ব্যাকরণগত নিয়মের (قياس) সাথে সংগতি রেখে মুজারিকে (مضارع) কাসরা বিশিষ্ট রূপে ব্যবহার করেছে। আর ইমাম আল-কিসায়ী মনে করেন যে, যদি আইন বর্ণটি হলকি বর্ণ (حرف حلق) হয়, তবে তা আইন বর্ণের ফাতহা (فتح العين) সহ ‘ইয়াফআলু’ (يَفْعَلُ) ওজনে আসবে; যেমন: ‘সে আমার সাথে শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার করেছে এবং আমি তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছি, আমি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করছি’।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وَحَكَى أَبُو زَيْدٍ فِيهِ الضَّمَّ، قَالَ: يُقَالُ: شَاعَرَنِي وَشَعَرْتُهُ أَشْعُرُهُ، وَفَاخَرَنِي فَفَخَرْتُهُ أَفْخُرُهُ بِالضَّمّ.
تَنْبِيهٌ:
اعْلَمْ أَنَّ بَابَ المُغَالَبَةِ المُرَادُ بِهِ: أَنْ يَقْصِدَ كُلُّ وَاحِدِ مِنَ الاثْنَيْنِ غَلَبَةَ الآخَرِ فِي الفِعْلِ المَقْصُودِ لَهُمَا، فَيُسْنَدُ الفِعْلُ إِلَى الغَالِبِ مِنْهُمَا، فَإِذَا قِيلَ: خَاصَمَ زَيْدٌ عَمْراً فَتعَلَمُ أَنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا قَصَدَ أَنْ يَغْلِبَ صَاحِبَهُ فِي الخُصُومَةِ.
وَشَذَّ عَنْ هَذَا القِسْمِ: رَكَنَ يَرْكَنُ بِفَتْحِ العَيْنِ فِي المُضَارِعِ وَلَوْ جَاءَ عَلَى مَا أَصَّلْنَاهُ، لَكَانَ إِمَّا بِالضَّمّ أَوْ بِالْكَسْرِ، وَهَذَا عِنْدَهُمْ مِنْ تَدَاخُلِ اللُّغَاتِ، وَذَلِكَ أَنَّهُ يُقَالُ: رَكَنَ بِالفَتْحِ يَرْكُنُ بالضم (فِي المُضَارِعِ) نَحْوَ: خَرَجَ يَخْرُجُ، وَرَكِنَ بِالْكَسْرِ يَرْكَنُ (بِالفَتْحِ) (فِي المُضَارِع) مِثْلُ: عَلِمَ يَعْلَمُ، فَأَخَذُوا يَركَنُ (بِالْفَتْحِ) الَّذِي هُوَ مُضَارِعُ رَكِنَ بِالكَسْرِ، وَرَكَّبُوهُ عَلَى رَكَنَ بِالفَتْحِ، وَهِيَ لُغَةٌ؛
আবু যায়দ এতে যম্ম হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: বলা হয়ে থাকে, ‘শাআ’রানি ওয়া শাআ’রতুহু আশউরুহু’ এবং ‘ফাখারানি ফাফাখারতুহু আফখুরুহু’—উভয়টিই যম্ম সহকারে।
সতর্কীকরণ:
জেনে রাখুন যে, ‘মুগালাবাহ’ (পারস্পরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের পরিচ্ছেদ) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: দুই ব্যক্তির প্রত্যেকেই তাদের উদ্দিষ্ট কাজে অন্যের ওপর জয়ী হওয়ার সংকল্প করবে, অতঃপর সেই কাজটি তাদের মধ্যে যে জয়ী হয়েছে তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হবে। সুতরাং যখন বলা হয়: ‘খাছামা যায়দুন আমরান’, তখন আপনি বুঝতে পারেন যে, তাদের প্রত্যেকেই বিবাদে নিজ সঙ্গীর ওপর জয়ী হতে চেয়েছিল।
এই বিভাগের নিয়ম থেকে ব্যতিক্রম (شاذ) হয়েছে: ‘রাকানা ইয়ারকানু’ শব্দবন্ধটি, যেখানে বর্তমান-ভবিষ্যৎকালে (মুজারি) ‘আইন’ বর্ণে ফাতহ হয়েছে। যদি এটি আমাদের নির্ধারিত মূলনীতি অনুযায়ী হতো, তবে এটি হয় যম্ম অথবা কাসরা বিশিষ্ট হতো। এটি ভাষাবিদদের নিকট ‘তাদাখুলুল লুগাত’ (বিভিন্ন ভাষাভঙ্গির সংমিশ্রণ) এর অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টি হলো, ‘রাকানা’ (ফাতহ সহযোগে) এর মুজারি ‘ইয়ারকুনু’ (যম্ম সহযোগে) বলা হয়, যেমন: ‘খারাজা ইয়াখরুজু’। আবার ‘রাকিনা’ (কাসরা সহযোগে) এর মুজারি ‘ইয়ারকানু’ (ফাতহ সহযোগে) বলা হয়, যেমন: ‘আলিমা ইয়ালামু’। অতঃপর তারা ‘রাকিনা’ (কাসরা সহযোগে) এর মুজারি ‘ইয়ারকানু’ (ফাতহ সহযোগে)-কে গ্রহণ করেছে এবং সেটিকে ‘রাকানা’ (ফাতহ সহযোগে) এর ওপর প্রয়োগ করেছে; আর এটি একটি স্বীকৃত ভাষা রীতি।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وَقَدْ مَهَّدْنَاهُ فِي كِتَابِنَا: "رَدّ الشَّوَارِدِ إِلَى حُكْمِ القَوَاعِدَ". وَكَذَلِكَ شَذَّ قَنَطَ يَقْنَطُ بِفَتْحِ العَيْنِ فِي المَاضِي والمُضَارِعِ.
فَإِذَا كَانَتْ العَيْنُ أَوِ اللَاّمُ مِنْ هَذَا القِسْمِ حَرْفَ حَلْقٍ، جَاءَ المُضَارِعُ عَلَى (يَفْعَلُ) بِفَتْحِ العَيْنِ فِي الأَكْثَرِ، وَحُرُوفُ الحَلْقِ سِتَّةٌ: الهَمْزَةُ، والهَاءُ، والعَيْنُ، وَالحَاءُ، والخَاءُ، والغَيْنُ؛ وَإِنَّمَا سُمّيَتْ هَذِهِ الحُرُوفُ حُرُوفَ حَلْقٍ، لأنَّهَا تَخْرُجُ مِنَ الحَلْقِ، فَالهَمْزَةُ وَالهَاءُ مِنْ أَقْصَى الحَلْقِ، وَالعَيْنُ وَالحَاءُ مِنْ وَسَطِهِ، والغَيْنُ وَالخَاءُ مِنْ أَدْنَاهُ. وَلَا أَثَرَ لِهَذِهِ الحُرُوفِ إِذَا وَقَعَتْ فَاءً.
مِثَالُ الْهَمْزَةِ عَيْناً: سَأَلَ يَسْأَلُ، جَاءَ المُضَارِعُ بالفَتْحَ لأنَّ عَيْنَهُ مِنْ حُرُوفِ الحَلْقِ، وَمِثَالُهُ لَاماً: قَرَأَ يَقْرَأُ، وَأَمَّا أَكَلَ يَأْكُلُ، فَجَاءَ المُضَارِعُ بِالضَّمّ، وَلَمْ يُؤَثِّرْ حَرْفُ الحَلْقِ، لأنَّهُ وَقَعَ فَاءً.
যা আমরা আমাদের কিতাব 'রাদ্দুশ শাওয়ারিদ ইলা হুকমিল কাওয়ায়িদ'-এ বিশদভাবে আলোচনা করেছি। একইভাবে 'ক্বানাতা ইয়াক্বনাতু' শব্দটির মাজি এবং মুজারি উভয় ক্ষেত্রেই 'আইন' বর্ণে ফাতহা (জবর) হওয়াটি ব্যতিক্রমী (شاذ)।
সুতরাং যদি এই প্রকারের (কালিমার) 'আইন' অথবা 'লাম' বর্ণটি হলক্বি বর্ণ (حرف حلق) হয়, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুজারি 'আইন' বর্ণে ফাতহা (জবর) সহ 'ইয়াফআলু' ওজনে আসে। আর হলক্বি বর্ণ (حروف حلق) মোট ছয়টি: হামযাহ, হা, আইন, হা, খা এবং গাইন। এই বর্ণগুলোকে হলক্বি বর্ণ (حروف حلق) নামকরণ করা হয়েছে, কারণ এগুলো কণ্ঠনালী (হলক্ব) থেকে উচ্চারিত হয়। হামযাহ ও হা কণ্ঠনালীর দূরবর্তী অংশ থেকে, আইন ও হা এর মধ্যভাগ থেকে এবং গাইন ও খা এর নিকটবর্তী অংশ থেকে নির্গত হয়। তবে এই বর্ণগুলো যদি 'ফা' কালিমা হিসেবে আসে, তবে তার কোনো প্রভাব নেই।
'আইন' বর্ণ হিসেবে হামযাহ এর উদাহরণ: 'সাআলা ইয়াসআলু'। এখানে মুজারি ফাতহা (জবর) যোগে এসেছে, কারণ এর 'আইন' বর্ণটি হলক্বি বর্ণ (حرف حلق) এর অন্তর্ভুক্ত। আর 'লাম' বর্ণ হিসেবে এর উদাহরণ: 'ক্বারাআ ইয়াক্বরাউ'। পক্ষান্তরে 'আকালা ইয়াকুলু' এর ক্ষেত্রে মুজারি পেশ (জম্মাহ) যোগে এসেছে এবং এখানে হলক্বি বর্ণ (حرف حلق) এর কোনো প্রভাব পরেনি, কারণ তা 'ফা' কালিমার স্থানে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৫১)
ومِثَالُ الهَاءِ عَيْناً: ذَهَبَ يَذْهَبُ، وَمِثَالُهُ لَاماً: جَبَهَ يَجْبَهُ، وَأَمَّا هَرَبَ، فَلَا أَثَرَ فِيهِ لِحَرْفِ الحلْقِ، لأَنَّهُ وَقَعَ فَاءً.
وَمِثَالُ العَيْنِ عَيْناً: جَعَلَ يَجْعَلُ، وَمِثَالُهُ لَاماً: جَمَعَ يَجْمَعُ، وَأَمَّا عَجَمَ يَعْجُمُ، فَلَا أَثَرَ لِحَرْفِ الحَلْقِ، لِأَنَّهُ فَاءٌ.
وَمِثَالُ الحَاءِ عَيْناً: لَحَم يَلْحَمُ، وَمِثَالُهُ لَاماً: لَمَحَ يَلْمَحُ، وَأَمَّا حَكَمَ يَحْكُمُ، فَلَا أَثَرَ لِحَرْفِ الحَلْقِ، لِأَنَّهُ فَاءٌ.
وَمِثَالُ الخَاءِ عَيْناً: شَخَصَ يَشْخَصُ، وَمِثَالُهُ لَاماً شَدَخ يَشْدَخُ، وَأَمَّا خَرَجَ يَخْرُجُ، فَلَا أَثَرَ لِحَرْفِ الحَلْقِ، لِأَنَّهُ فَاءٌ.
وَمِثَالُ الغَيْنِ عَيْناً: شَغَبَ يَشْغَبُ وَمِثَالُهُ لَاماً: لَدَغَ يَلْدَغُ، وَأَمَّا غَلَبَ يَغْلِبُ، فَلَا أَثَرَ لِحَرْفِ الحَلْقِ، لِأَنَّهُ فَاءٌ.
فَإِنْ قُلْتَ: فَلأَيِّ شَيْءٍ فَتَحُوا مَعَ حَرْفِ الحَلْقِ إِذَا كَانَ عَيْناً أَوْ لَاماً، وَلَمْ يَفْتَحُوا مَعَهُ إِذَا كَانَ فَاءً؟
قُلْتُ: إِنَّمَا كَانَ ذَلِكَ لِلتَّنَاسُبِ الَّذِي بَيْنَ الفَتْحِ وَحَرْفِ
এবং আইন কালেমা (عين) হিসেবে 'হা'-এর উদাহরণ: যাহাবা ইয়াজহাবু, এবং লাম কালেমা (لام) হিসেবে এর উদাহরণ: জাবাহা ইয়াজবাহু। পক্ষান্তরে 'হারাবা' শব্দের ক্ষেত্রে কণ্ঠনালীর বর্ণের (حرف الحلق) কোনো প্রভাব নেই, কারণ এটি ফা কালেমা (فاء) হিসেবে এসেছে।
এবং আইন কালেমা (عين) হিসেবে 'আইন'-এর উদাহরণ: জা'আলা ইয়াজ'আলু, এবং লাম কালেমা (لام) হিসেবে এর উদাহরণ: জামা'আ ইয়াজমা'উ। পক্ষান্তরে 'আজামা ইয়া'জুমু' শব্দের ক্ষেত্রে কণ্ঠনালীর বর্ণের (حرف الحلق) কোনো প্রভাব নেই, কারণ এটি ফা কালেমা (فاء)।
এবং আইন কালেমা (عين) হিসেবে 'হা'-এর উদাহরণ: লাহামা ইয়ালহামু, এবং লাম কালেমা (لام) হিসেবে এর উদাহরণ: লামাহা ইয়ালমাহু। পক্ষান্তরে 'হাকামা ইয়াহকুমু' শব্দের ক্ষেত্রে কণ্ঠনালীর বর্ণের (حرف الحلق) কোনো প্রভাব নেই, কারণ এটি ফা কালেমা (فاء)।
এবং আইন কালেমা (عين) হিসেবে 'খা'-এর উদাহরণ: শাখাছো ইয়াশাখাছো, এবং লাম কালেমা (لام) হিসেবে এর উদাহরণ: শাদাখা ইয়াশদাখু। পক্ষান্তরে 'খারাজা ইয়াখরুজু' শব্দের ক্ষেত্রে কণ্ঠনালীর বর্ণের (حرف الحلق) কোনো প্রভাব নেই, কারণ এটি ফা কালেমা (فاء)।
এবং আইন কালেমা (عين) হিসেবে 'গাইন'-এর উদাহরণ: শাগাবা ইয়াশগাবু, এবং লাম কালেমা (لام) হিসেবে এর উদাহরণ: লাদাগা ইয়ালদাগু। পক্ষান্তরে 'গালাবা ইয়াগলিবু' শব্দের ক্ষেত্রে কণ্ঠনালীর বর্ণের (حرف الحلق) কোনো প্রভাব নেই, কারণ এটি ফা কালেমা (فاء)।
আপনি যদি প্রশ্ন করেন: কণ্ঠনালীর বর্ণ (حرف الحلق) যখন আইন কালেমা (عين) অথবা লাম কালেমা (لام) হয়, তখন কেন তারা ফাতহা (فتح) প্রদান করেন, অথচ তা ফা কালেমা (فاء) হলে কেন ফাতহা প্রদান করেন না?
আমি বলব: এটি কেবল ফাতহা (فتح) এবং বর্ণের (حرف) মধ্যবর্তী সামঞ্জস্যের কারণে।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৫২)
الحَلْقِ فِي المَخْرَجِ، فَفَتَحُوا لِأَجْلِ العَيْنِ لِأَنَّهُمْ رَاعَوْا مَا فِي اليَدِ، أَعْنِي: أَنَّ الفَتْحَ يَكُونُ عَلَى حَرْفِ الحَلْقِ، وَفَتَحُوا لِأَجْلِ اللَاّمِ لِأَنَّهُمْ رَاعَوْا مَا يَأتِي، وَلَمْ يَفْتَحُوا لِأَجْلِ الفَاءِ إِذَا كَانَتْ حَرْفَ حَلْقٍ، لِأَنَّهُمْ قَدِ انْصَرَفُوا عَنْهُ، وَمَا انْصَرَفُوا عَنْهُ لَا يَرْجِعُونَ إِلَيْهِ؛ أَلَا تَرَاهُمْ لَا يُتْبِعُونَ فِي الصِفَةِ بَعْدَ القَطْعِ، وَمِنْ كَلَامِهِمْ:
إِذَا انْصَرَفَتْ نَفْسِي عَنِ الشَّيْءِ لَمْ تَكَدْ
… إِلَيْهِ بِوَجْهِ آخِرَ الدَّهْرِ تَرْجِعُ
وَقَدْ جَاءَ مُضَارِعُ (فَعَلَ) - مَعَ كَوْنِهِ فِيهِ حَرْفٌ مِنْ حُرُوفِ الحَلْقِ - عَلَى الأَصْلِ، وَيُعَدُّ ذَلِكَ مِنَ الشُّذُوذِ،
মাখরাজ বা উচ্চারণস্থলের (مخرج) দিক থেকে কণ্ঠনালি (حلق); তারা 'আইন' (ع) বর্ণের কারণে ফাতাহ বা জবর দিয়েছেন, কারণ তারা বর্তমান বিষয়টি বিবেচনা করেছেন; অর্থাৎ: ফাতাহ কণ্ঠনালির বর্ণের (حرف حلق) ওপর হয়ে থাকে। তারা 'লাম' (ل) বর্ণের কারণে ফাতাহ দিয়েছেন কারণ তারা পরবর্তী বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন। কিন্তু তারা 'ফা' (ف) বর্ণটি যদি কণ্ঠনালির বর্ণ (حرف حلق) হয় তবে তার কারণে ফাতাহ দেননি; কারণ তারা তা থেকে সরে এসেছেন, আর যা থেকে তারা একবার সরে আসেন সেটিতে পুনরায় ফিরে যান না। আপনি কি দেখেন না যে, তারা সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার (قطع) পর গুণের (صفة) ক্ষেত্রে আর অনুগামী করেন না? তাদের বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত হলো:
যখন আমার মন কোনো বিষয় থেকে বিমুখ হয়, তখন তা চিরকালের জন্য আর কোনোভাবেই সেদিকে ফিরে আসার
… উপক্রম হয় না।
আর কণ্ঠনালির কোনো বর্ণ (حرف حلق) থাকা সত্ত্বেও (فَعَلَ) এর মুদারী (مضارع) মূল রীতি অনুযায়ী এসেছে এবং একে ব্যতিক্রমধর্মী (شذوذ) হিসেবে গণ্য করা হয়।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
وَذَلِكَ نَحْوُ: رَجَعَ يَرْجِعُ، وَنَزَعَ يَنْزِعُ، وَنَكَحَ يَنْكِحُ، وَنَحَتَ يَنْحِتُ، وَشَخَبَ يَشْخُبُ، وَلَغَبَ يَلْغُبُ، وَصَلَحَ يَصْلُحُ، وَزَأَرَ يَزْئِرُ، وَسَهَمَ يَسْهُمُ، وَنَعَقَ الغُرَابُ يَنْعِقُ، وَنَزَغَ يَنْزِغُ، وَنَهَقَ يَنْهِقُ، وَنَفَخَ يَنْفُخُ.
وَجَاءَتْ أَحْرُفٌ عَلَى القِيَاسِ مَرَّةً وَعَلَى السَّمَاعِ أُخْرَى، نَحْوُ؛ بَرَأَ مِنْ مَرَضِهِ يَبْرَأُ بِالفَتْحِ قِيَاساً، وَيَبْرُؤُ بِالضَّمّ سَمَاعاً، وَصَبَغَ الشَّيْءَ يَصْبَغُ بِالفَتْحِ قِيَاساً، وَيَصْبُغُ سَمَاعاً، وَفَرَغَ يَفْرَغُ بِالفَتْحِ قِيَاساً، وَيَفْرُغُ بِالضَّمّ سَمَاعاً، وَقَدْ كَانَ غَرَضِي أَنْ أَتَتَبَّعَ هَذَا الفَصْلَ وَأَجْمَعَهُ وَلَكِنْ لَمْ يُقْضَ ذَلِكَ، وَالأُمُورُ مَرْهُونَةٌ بِأَوْقَاتِهَا.
القِسْمُ الثَّانِي
مَا كَانَ مُعْتَلَّ الفَاءِ، فَإِنَّ المُضَارِعَ مِنْهُ يَأتِي عَلَى (يَفْعِلُ) بِالكَسْرِ نَحْوُ: وَقَرَ الشَّيْءُ فِي صَدْرِي يَقِرُ، وَوَعَدَ يَعِدُ، وَيَسَرَ يَيْسِرُ، وَكَانَ الأَصْلُ فِي يَعِدُ: يَوْعِدُ فَحُذِفَتْ الوَاوُ لِوُقُوعِهَا بَيْنَ يَاءٍ وَكَسْرَةٍ.
আর তা হচ্ছে যেমন: ফিরে আসা (رَجَعَ يَرْجِعُ), উপড়ে ফেলা বা ছিনিয়ে নেওয়া (نَزَعَ يَنْزِعُ), বিবাহ করা (نَكَحَ يَنْكِحُ), খোদাই করা (نَحَتَ يَنْحِتُ), প্রবাহিত হওয়া (شَخَبَ يَشْخُبُ), ক্লান্ত হওয়া (لَغَبَ يَلْغُبُ), উপযুক্ত হওয়া (صَلَحَ يَصْلُحُ), গর্জন করা (زَأَرَ يَزْئِرُ), অংশ গ্রহণ করা (سَهَمَ يَسْهُمُ), কাকের ডাক দেওয়া (نَعَقَ الغُرَابُ يَنْعِقُ), প্ররোচিত করা (نَزَغَ يَنْزِغُ), গাধার ডাক দেওয়া (نَهَقَ يَنْهِقُ), এবং ফুঁ দেওয়া (نَفَخَ يَنْفُخُ)।
এবং কিছু শব্দ কখনো নিয়মসিদ্ধ (قياس) অনুযায়ী এসেছে আবার কখনো শ্রুতিগত (سماع) ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এসেছে। যেমন: রোগ থেকে আরোগ্য লাভের ক্ষেত্রে 'বারা’আ' (بَرَأَ) থেকে নিয়মসিদ্ধ (قياس) অনুযায়ী যবর (فتح) সহযোগে 'ইয়াবরা’উ' (يَبْرَأُ), এবং শ্রুতিগত (سماع) ভাবে পেশ (ضم) সহযোগে 'ইয়াবরু’উ' (يَبْرُؤُ) হিসেবে এসেছে; কোনো কিছু রঙ করার ক্ষেত্রে 'সাবাগা' (صَبَغَ) থেকে নিয়মসিদ্ধ (قياس) অনুযায়ী যবর (فتح) সহযোগে 'ইয়াসবাগু' (يَصْبَغُ) এবং শ্রুতিগত (سماع) ভাবে 'ইয়াসবুগু' (يَصْبُغُ) হিসেবে এসেছে; এবং অবসর হওয়ার ক্ষেত্রে 'ফারাগা' (فَرَغَ) থেকে নিয়মসিদ্ধ (قياس) অনুযায়ী যবর (فتح) সহযোগে 'ইয়াফরাগু' (يَفْرَغُ) এবং শ্রুতিগত (سماع) ভাবে পেশ (ضم) সহযোগে 'ইয়াফরুগু' (يَفْرُغُ) হিসেবে এসেছে। আমার উদ্দেশ্য ছিল এই পরিচ্ছেদটির বিস্তারিত অনুসন্ধান করা এবং তা সংকলন করা, কিন্তু তা আর সম্পন্ন (لم يقض) হয়নি; আর সকল বিষয়ই তার নির্দিষ্ট সময়ের ওপর নির্ভরশীল।
দ্বিতীয় বিভাগ
যেটি আদিবর্ণে দুর্বল (معتل الفاء), সেটির বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع) যের (كسر) সহযোগে 'ইয়াফ’ইলু' (يَفْعِلُ) ওজনে আসে। যেমন: কোনো বিষয় অন্তরে গেঁথে যাওয়া (وَقَرَ الشَّيْءُ فِي صَدْرِي يَقِرُ), প্রতিশ্রুতি দেওয়া (وَعَدَ يَعِدُ), এবং সহজ হওয়া (يَسَرَ يَيْسِرُ)। আর 'ইয়া’ইদু' (يَعِدُ) এর মূল রূপ (أصل) ছিল 'ইয়াউ’ইদু' (يَوْعِدُ), অতঃপর 'ওয়াও' বর্ণটি 'ইয়া' এবং যের (كسرة)-এর মাঝখানে পড়ার কারণে তা বিলুপ্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
فَإِنْ قُلْتَ: فَمَا بَالُهُمْ حَذَفُوا الوَاوَ مَعَ بَاقِي حُرُوفِ المُضَارَعَةِ فَقَالُوا: نَعِدُ، وَتَعِدُ، وَأَعِدُ، وَلَمْ تَقَعِ الوَاوُ بَيْنَ يَاءٍ وَكَسْرَةٍ؟. فَالجَوَابُ: أَنَّهُمْ حَذَفُوا الوَاوَ فِي هَذِهِ المَوَاضِعِ لِغَيْرِ مُوجِبِ بِالْحَمْلِ عَلَى مَا فِيهِ المُوجِبُ، لِتَجْرِيَ حُرُوفُ المُضَارَعَةِ عَلَى وَجْهٍ وَاحِدٍ، وَنَظِيرُهُ: أُكْرِمُ، أَصْلَهُ أُأَكْرِمُ، فَحَذَفُوا إِحْدَى الهَمْزَتَيْنِ فِرَاراً مِن اجْتِمَاعِهِمَا، وَحَمَلُوا بَاقِيَ حُرُوفِ المُضَارَعَةِ فِي الحَذْفِ دُونَ مُوجِبٍ، بِالحَمْلِ عَلَى مَا فِيهِ المُوجِبُ، وَالحَمْلُ فِي كَلَامِ العَرَبِ بَابٌ مُتَّسِعٌ، وَقَدْ خَطَرَ بِخَاطِرِي أَنْ أَجْمَعَ فِيهِ كِتَاباً لِمَا رَأَيْتُ مِنْ سَعَتِهِ.
فَإِنْ قُلْتُ: فَلَوْ كَانَ وُقُوعُ الوَاوِ بَيْنَ يَاءٍ وَكَسْرَةٍ مُوجِباً لِحَذْفِ الوَاوِ، لَوَجَبَ حَذْفُهَا فِي يُوعِدُ مُضَارِعُ أَوْعَدَ؟
فالجَوَابُ: أَنَّهُمْ رَاعَوْا الأَصْلَ، وَذَلِكَ أَنَّ أَصْلَهُ: يُأَوْعِدُ، فَلَمْ تَقَعِ الوَاوُ فِي الأَصْلِ بَيْنَ يَاءٍ وَكَسْرَةٍ، بَلْ بَيْنَ هَمْزَةٍ وَكَسْرَةٍ فَأَهْمَلُوا مَا فِي اليَدِ، وَهِيَ الصُّورَةُ اللَّفْظِيَّةُ، وَرعَوْا الأَصْلَ.
وَشَذَّ عَنْ هَذَا القِسْمِ: وَجَدَ يَجُدُ بِضَمّ العَيْنِ فِي المُضَارِعِ. وَلَوْ جَاءَ عَلَى مَا أَصَّلْنَاهُ، لَكَانَ: يَجِدُ بِالكَسْرِ،
আপনি যদি বলেন: মুদারে-এর অবশিষ্ট অক্ষরগুলোর সাথে তারা কেন 'ওয়াও' বিলুপ্ত করল? ফলে তারা বলেছে: 'না’ইদু', 'তা’ইদু' এবং 'আ’ইদু', অথচ এখানে 'ওয়াও' তো 'ইয়া' এবং কাসরাহ-এর মাঝখানে পড়েনি? এর উত্তর হলো: তারা এই স্থানগুলোতে কোনো অপরিহার্য কারণ ছাড়াই 'ওয়াও' বিলুপ্ত করেছে সেই বিষয়ের সাদৃশ্যে যাতে বিলুপ্তির কারণ বিদ্যমান ছিল, যেন মুদারে-এর সকল অক্ষর একই নিয়মে পরিচালিত হয়। এর উদাহরণ হলো: 'উকরিমু', যার মূল রূপ ছিল 'উআকরিমু'। তারা দুটি হামজাহ একত্র হওয়া থেকে বাঁচার জন্য একটি হামজাহ বিলুপ্ত করেছে এবং মুদারে-এর অবশিষ্ট অক্ষরগুলোর ক্ষেত্রেও কোনো কারণ ছাড়াই বিলুপ্তির নিয়ম প্রয়োগ করেছে সেই বিষয়ের সাদৃশ্যে যাতে বিলুপ্তির কারণ ছিল। আর আরবদের বক্তব্যে সাদৃশ্যবিধান একটি বিস্তৃত অধ্যায়। এর ব্যাপকতা দেখে আমার মনে এ বিষয়ে একটি কিতাব সংকলন করার সংকল্প জেগেছিল।
যদি আমি বলি: যদি 'ইয়া' এবং কাসরাহ-এর মাঝে 'ওয়াও' এর অবস্থান হওয়াটি 'ওয়াও' বিলুপ্তির কারণ হতো, তবে 'আও’য়াদা' এর মুদারে 'ইউ’য়িদু'-তে কি 'ওয়াও' বিলুপ্ত করা আবশ্যক হতো না?
উত্তর হলো: তারা মূলটির প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন। আর বিষয়টি হলো, এর মূল রূপ ছিল: 'ইউআউ’য়িদু'। ফলে মূলে 'ওয়াও' ইয়া এবং কাসরাহ-এর মাঝে পড়েনি, বরং হামজাহ এবং কাসরাহ-এর মাঝে পড়েছিল। তাই তারা বর্তমান অবস্থা তথা বাহ্যিক রূপটিকে উপেক্ষা করেছেন এবং মূলের অনুসরণ করেছেন।
আর এই বিষয়ের ব্যতিক্রম (شاذ) হলো: 'ওয়াজাদা-ইয়াজুদু', যেখানে মুদারে-তে আইন বর্ণে পেশ হয়েছে। যদি এটি আমাদের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি অনুযায়ী হতো, তবে তা কাসরাহ সহকারে 'ইয়াজিডু' হতো।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
وَلَمْ تَرْجِعِ الوَاوُ، مَعَ أَنَّ مُوجِبَ حَذْفِهَا قَدْ زَالَ، مَعَ أَنَّ الضَّمَّ هُنَا شَاذٌّ، فَلَمْ يَعْتَدُّوا بِهِ، وَرَاعَوِا الأَصْلَ، وَهُوَ الكَسْرُ.
فَإِنْ كَانَتِ العَيْنُ أَوِ اللَاّمُ حَرْفاً مِنْ حُرُوفِ الحَلْقِ فَتَحْتَ، نَحْوُ: وَهَبَ يَهَبُ، وَوَضَعَ يَضَعُ، وَلَمْ تَرْجِع الوَاوُ فِي المُضَارِعِ مَعَ أَنَّهُ قَدْ زَالَ مُوجِبُ حَذْفِهَا، أَلَا تَرَى أَنَّهَا لَمْ تَقَعْ فِي (يَضَعُ) بَيْنَ يَاءٍ وَكَسْرَةٍ، بَلْ بَيْنَ يَاءٍ وَفَتْحَةٍ، لِأَنَّهُمْ رَاعَوِا الأَصْلَ، وَهُوَ الكَسْرُ، لأَنَّ الفَتْحَ لِأَجْلِ حَرْف الحَلْقِ عَارِضٌ، وَالعَارِضُ لَا يُعْتَدُّ بِهِ فِي كَثِيرٍ مِنْ هَذِهِ الصَّنْعَةِ.
حاشِيَة:
يَرِدُ عَلَى الأَصْلِ الْمَذْكُورِ والاِعْتِذارِ فِي وَهَبَ يَهَبُ فِعْلانِ، وَهُما: وَسِعَ يَسَعُ وَوَطِئَ يَطَأُ؛ فَإنَّ مُقتَضَى الأَصْلِ الْمَذْكُورِ ثُبُوتُ الوَاوِ فِيهِما، لِعَدَمِ وُقوعِهِما بَيْنَ يَاءٍ وَكَسْرَةٍ.
এবং "ওয়াও" ফিরে আসেনি, যদিও তা বিলুপ্ত হওয়ার কারণটি দূরীভূত হয়েছে; পাশাপাশি এখানে "যম্মাহ" (পেশ) হওয়াটি ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ), তাই তারা একে গণ্য করেননি এবং মূলকেই বিবেচনা করেছেন, আর তা হলো "কাসরা" (যের)।
অতঃপর যদি "আইন" কালিমা অথবা "লাম" কালিমা কন্ঠনালীর বর্ণসমূহের কোনো একটি হয়, তবে আপনি ফাতহাহ (যবর) দেবেন, যেমন: 'ওয়াহাবা ইয়াহাবু' এবং 'ওয়াদ্বাআ ইয়াদ্বাআউ'। এখানে মুদারে-এর ক্ষেত্রে "ওয়াও" ফিরে আসেনি, যদিও তা বিলুপ্ত হওয়ার কারণটি দূরীভূত হয়েছে। আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, (ইয়াদ্বাআউ) শব্দটিতে "ওয়াও" বর্ণটি "ইয়া" এবং "কাসরা"-এর মাঝে পতিত হয়নি, বরং "ইয়া" এবং "ফাতহাহ"-এর মাঝে পতিত হয়েছে? এর কারণ হলো তারা মূলকেই বিবেচনা করেছেন, আর তা হলো "কাসরা"; কেননা কন্ঠনালীর বর্ণের কারণে এখানে "ফাতহাহ" হওয়াটি একটি আগন্তুক (عارض) বিষয়, আর এই শাস্ত্রের অনেক ক্ষেত্রেই আগন্তুক (عارض) বিষয়কে গণ্য করা হয় না।
টীকা:
উল্লিখিত মূলনীতি এবং 'ওয়াহাবা ইয়াহাবু' এর ক্ষেত্রে প্রদত্ত ব্যাখ্যার ওপর দুটি ক্রিয়া আপত্তি হিসেবে আসে, আর তা হলো: 'ওয়াসিআ ইয়াসাউ' এবং 'ওয়াত্বিআ ইয়াত্বাউ'; কেননা উল্লিখিত মূলনীতির দাবি অনুযায়ী এই দুটিতে "ওয়াও" বহাল থাকা আবশ্যক ছিল, যেহেতু এগুলো "ইয়া" এবং "কাসরা"-এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হয়নি।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
ولَا يُعْتَذَرُ بِأنّ الفَتْحَ عَارِضٌ، وَالأَصْلُ الْكَسْرُ، كَما فِي وَهَبَ يَهَبُ، لأَنَّ (فَعَلَ يَفْعِلُ)، بِكَسْرِ العَيْنِ، فِيهِما شَاذٌّ، وَفَتْحُ العَيْنِ فِي مُضارِعِهما هُوَ الأَصْلُ، لَا فِي مَاضِيهِما بِكَسْرِ العَيْنِ. وَأَجَابَ الجَوْهَرِيُّ عَنْهُما بِأَنّ الوَاوَ سَقَطَتْ مِنْهُما لِتَعَدِّيهِما، لأَنَّ (فَعِلَ يَفْعَلُ) مِمَّا اعْتَلَّ فاؤُهُ لَا يَكُونُ إِلاّ لَازِمًا، فَلَمّا جَاءَا مِنْ بَيْنِ أَخَوَاتِهِما مُتَعَدِّيَيْنِ خُولِفَ فِيهِما نَظَائِرُهُما.
এবং এই অজুহাত দেওয়া যাবে না যে, ফাতহ হলো আকস্মিক (عارض) এবং মূল (أصل) হলো কাসরা; যেমনটি ‘ওয়াহাবা ইয়াহাবু’ এর ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। কেননা (ফায়ালা ইয়াফইলু) (فَعَلَ يَفْعِلُ) ওজনে আইন কলিমার কাসরা হওয়া এই দুটির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমধর্মী (شاذ)। আর তাদের মুদারে বা বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন রূপে (مضارع) আইন কলিমার ফাতহ হওয়াই হলো মূল (أصل), তাদের মাদি বা অতীতকালীন রূপে (ماضي) আইন কলিমার কাসরা হওয়া মূল নয়। ইমাম জাওহারী এই দুটি শব্দ প্রসঙ্গে উত্তর দিয়েছেন যে, এ দুটির সকর্মক (متعدي) হওয়ার কারণে তাদের থেকে ‘ওয়াও’ বিলুপ্ত হয়েছে। কারণ (ফায়িলা ইয়াফআলু) (فَعِلَ يَفْعَلُ) ওজনের যে সকল ক্রিয়ার ফা-কালিমা দুর্বল (معتل) হয়, সেগুলো সাধারণত অকর্মক (لازم) হয়ে থাকে। সুতরাং যখন তাদের সমজাতীয় শব্দগুলোর মধ্য থেকে এই দুটি সকর্মক (متعدي) হিসেবে এল, তখন তাদের ক্ষেত্রে তাদের অনুরূপ শব্দগুলোর নিয়মের ব্যতিক্রম করা হলো।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
القِسْمُ الثَّالِثُ
مَا كَانَ مُعْتَلَّ العَيْنِ أَوِ اللَاّمِ، وَهَذَا الاعْتلَالُ لَا يَخْلُو أَنْ يَكُونَ بِالوَاوِ أَوْ بِاليَاءِ، فَإِنْ كَانَ بِالوَاوِ، جَاءَ المُضَارِعُ عَلَى (يَفْعُلُ) بِالضَّمّ نَحْوُ: قَامَ يَقُومُ، وَغَزَا يَغْزُو.
وَإِنْ كَانَ بِاليَاءِ، جَاءَ المُضَارِعُ عَلَى (يَفْعِلُ) بِالكَسْرِ، نَحْوُ: بَاعَ يَبِيعُ، وَرَمَى يَرْمِي، فَإِنْ كَانَتِ العَيْنُ حَرْفَ حَلْقِ جَاءَ عَلَى (يَفْعَلُ) بِالفَتْحِ نَحْوُ: سَعَى يَسْعَى، وَمَحَا يَمْحَى، وَشَأَى يَشْأَى، وَرَأَى يَرَى، وَقَدْ جَاءَ عَلَى الأَصْلِ نَحْوُ: مَحَا يَمْحُو.
وَشَذَّ عَنْ هَذا القِسْمِ: أَبَى يَأْبَى، وَقَلَى يَقْلَى، وَجَبَا يَجْبَى، وَغَزَا يَغْزَى، وَغَسَا اللَّيْلُ يَغْسَى. وَوَجْهُ الشُّذُوذِ فِي أَبَى يَأْبَى: أَنَّهُمْ شَبَّهُوا الأَلِفَ بِالْهَمْزَةِ، فَكَأَنَّ لَامَ أَبَى وَقَعَتْ هَمْزَةً، فَكَمَا قَالُوا: قَرَأَ يَقْرَأُ بِالفَتْحِ فِي المُضَارِعِ، قَالُوا: أَبَى يَأْبَى لِلشَّبَهِ الَّذِي بَيْنَ الأَلِفِ والهَمْزَةِ.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ
যা আইন বর্ণে দুর্বল (معتل العين) অথবা লাম বর্ণে দুর্বল (معتل اللام) সম্বলিত, আর এই দুর্বলতা (الاعتلال) ‘ওয়াও’ অথবা ‘ইয়া’ হওয়া থেকে মুক্ত নয়। সুতরাং যদি তা ‘ওয়াও’ যোগে হয়, তবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (المضارع) পেশ (الضم) যোগে ‘ইয়াফউলু’ ওজনে আসবে; যেমন: ক্বামা ইয়াক্বুমু এবং গাযা ইয়াগযু।
আর যদি তা ‘ইয়া’ যোগে হয়, তবে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (المضارع) যের (الكسر) যোগে ‘ইয়াফইলু’ ওজনে আসবে; যেমন: বা-আ ইয়াবি-উ এবং রমা ইয়ারমি। আর যদি আইন (العين) বর্ণটি কণ্ঠনালীয় বর্ণ (حرف حلق) হয়, তবে তা জবর (الفتح) যোগে ‘ইয়াফআলু’ ওজনে আসবে; যেমন: সা-আ ইয়াস-আ, মাহা ইয়ামহা, শা-আ ইয়াশ-আ এবং র-আ ইয়ারা। আর কখনো তা মূল (الأصل) নিয়ম অনুযায়ী আসে; যেমন: মাহা ইয়ামহু।
আর এই পরিচ্ছেদের নিয়মের ব্যতিক্রম হয়েছে (شذ): আবা ইয়া’বা, ক্বলা ইয়াক্বলা, জাবা ইয়াজবা, গাযা ইয়াগযা এবং গাসা আল-লাইলু ইয়াগসা। আবা ইয়া’বা-এর ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যতিক্রম (الشذوذ) হওয়ার কারণ হলো: তারা আলিফকে হামযাহর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে করেছেন। ফলে যেন ‘আবা’-এর লাম (اللام) বর্ণটি হামযাহ হিসেবে গণ্য হয়েছে। সুতরাং যেমন তারা বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ায় (المضارع) জবর (الفتح) যোগে ক্বরা-আ ইয়াক্বরা-উ বলেছেন, তেমনি আলিফ ও হামযাহর মাঝে সাদৃশ্য থাকার কারণে তারা আবা ইয়া’বা বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
وَأَمَّا قَلَى يَقْلَى بِالْفَتْحِ فِيهِمَا، فَيُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ مِنْ تَدَاخُلِ اللُّغَتَيْنِ، وَذَلِكَ أَنَّهُ قَدْ حَكَى بَعْضُهُمْ: قَلِيَ يَقْلَى مِثْلُ: عَلِمَ يَعْلَمُ، وَقَلَى يَقْلِي مِثْلُ ضَربَ يَضْرِبُ، فَأَخَذُوا مُضَارِعَ قَلِيَ بِالكَسْرِ وَرَكَّبُوهُ عَلَى قَلَى بِالفَتْحِ فَقَالُوا: قَلَى يَقْلَى بالفَتْحِ فِيهِمَا، وَيُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ قَلَى يَقْلَى بِالفَتْحَ جَاءَ عَلَى لُغَةِ طَيّءِ الَّذِين يَقُولُونَ فِي مِثْلِ بَقِيَ يَبْقَى: بَقَى يَبْقَى، وَفِي مِثْلِ دُعِيَ وَبُنِيَ: دُعَى وَبُنَى، قَالَ الشَّاعِرُ:
نَسْتَوْقِدُ النَّبْلَ بالحَضِيضِ وَنَصْـ
… طَادُ نُفُوساً بُنَتْ عَلَى الكَرَمِ
وَهُوَ قِيَاسٌ عِنْدَهُمْ فِي كُلّ يَاءٍ مَفْتُوحَة فَتْحَةَ بِنَاءٍ وَقَبْلَهَا كَسْرَةٌ، وَصَنَعُوا ذَلِكَ تَخْفِيفاً.
আর উভয় ক্ষেত্রে ফাতহা সহযোগে ‘ক্বালা ইয়াক্বলা’ পড়ার বিষয়টি সম্ভবত দুটি উপভাষার সংমিশ্রণের কারণে হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি এই যে, তাঁদের কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন: ‘ক্বালিয়া ইয়াক্বলা’ শব্দটি ‘আলিমা ইয়া’লামু’-এর ওজনে এবং ‘ক্বালা ইয়াক্বলি’ শব্দটি ‘দরাবা ইয়াদরিবু’-এর ওজনে ব্যবহৃত হয়। অতঃপর তাঁরা কাসরাবিশিষ্ট ‘ক্বালিয়া’-এর বর্তমানকালীন রূপটি গ্রহণ করে তা ফাতহা বিশিষ্ট ‘ক্বালা’-এর সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন; ফলে তাঁরা উভয় ক্ষেত্রে ফাতহা সহযোগে ‘ক্বালা ইয়াক্বলা’ বলেছেন। আবার এমনটিও হতে পারে যে, উভয় ক্ষেত্রে ফাতহা সহযোগে ‘ক্বালা ইয়াক্বলা’ বলাটি তায়্যি গোত্রের ভাষা অনুযায়ী হয়েছে, যারা ‘বাকিয়া ইয়াবক্বা’-এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে ‘বাক্বা ইয়াবক্বা’ এবং ‘দুয়িয়া’ ও ‘বুনিয়া’-এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে ‘দুয়া’ ও ‘বুনা’ বলে থাকে। কবি বলেছেন:
আমরা নিম্নভূমিতে তীরের জন্য আগুন জ্বালাই এবং আমরা
… এমন সব প্রাণ শিকার করি যা আভিজাত্যের ওপর গড়ে তোলা হয়েছে।
তাদের নিকট এটি এমন প্রত্যেক ‘ইয়া’-এর ক্ষেত্রে একটি নিয়মিত সূত্র যা শব্দগঠনগত দিক থেকে ফাতহাযুক্ত এবং যার পূর্বে কাসরা রয়েছে; আর তারা উচ্চারণের সহজীকরণের উদ্দেশ্যে এরূপ করে থাকেন।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
القِسْمُ الرَّابِعُ
مَا كَانَ مُضَاعَفاً، وَهُوَ لَا يَخْلُو أَنْ يَكُونَ مُتَعَدّياً أَوْ غَيْرَ مُتَعَدّ، فَإِنْ كَانَ مُتَعَدّياً، فَإِنَّ مُضَارِعَهُ جَاءَ عَلَى (يَفْعُلُ) بِالضَّمّ نَحْوُ: رَدَّ يَرُدُّ.
قَالَ الجَوْهَرِيُّ: وَقَدْ شَذَّ مِنْ ذَلِكَ خَمْسَةُ أَفْعَالٍ جَاءَ المُضَارِعُ مِنْهَا بِالضَّمّ عَلَى القِيَاسِ، وَبالكَسْرِ عَلَى السَّمَاعِ، وَذَلِك نَحْوُ: شَدَّهُ يَشُدُّهُ وَيَشِدُّهُ، وَعَلَّهُ ويَعُلُّهُ وَيَعِلُّهُ، وَبَتَّ الشَّيْءَ يَبُتُّه وَيَبِتُّهُ، وَنَمَّ الحَدِيثَ يَنُمُّهُ وَيَنِمُّهُ وَرَمَّ الشَّيْءَ يَرُمُّهُ وَيَرِمُّهُ، وَحَبَّهُ يَحِبُّهُ بالكَسْرِ لَا غَيْرُ.
مَسْأَلَةٌ:
اعْلَمْ أَنَّ قَوْلَ الشَّاعِرِ:
أُحِبُّ لِحُبِهَا السُّودَانَ حَتَّى
… أُحِبَّ لِحُبِّهَا سُودَ الكِلَابِ
চতুর্থ পরিচ্ছেদ
যা দ্বিত্ব বিশিষ্ট, আর তা সকর্মক অথবা অকর্মক হওয়া থেকে মুক্ত নয়। যদি তা সকর্মক হয়, তবে তার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালীন রূপ পেশ যোগে (ইয়াফউলু) ওজনে আসে। যেমন: রদ্দা ইয়ারুদ্দু।
আল-জাওহারি বলেন: এই নিয়ম থেকে পাঁচটি ক্রিয়া বিচ্যুত (شاذ) হয়েছে, যেগুলোর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালীন রূপ নীতিগত অনুমান অনুযায়ী পেশ যোগে এবং শ্রুতি (سماع) অনুযায়ী জের যোগে গঠিত হয়। আর সেগুলো হলো: শাদ্দাহু (সেটিকে শক্ত করল) — ইয়াশুদ্দুহু ও ইয়াশিদ্দুহু; আল্লাল্লাহু (সে পুনরায় পান করাল) — ইয়াউল্লুহু ও ইয়ািল্লুহু; বাত্তাশ শাইয়া (সে বস্তুটি বিচ্ছিন্ন করল) — ইয়াবৃত্তুহু ও ইয়াবিত্তুহু; সে হাদিস চাউর করল (নাম্মাল হাদিসা) — ইয়ানুম্মুহু ও ইয়ানিম্মুহু; এবং রাম্মাশ শাইয়া (সে বস্তুটি মেরামত করল) — ইয়ারুম্মুহু ও ইয়ারিম্মুহু। আর হাব্বাহু এর ক্ষেত্রে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালীন রূপ কেবল জের যোগে ইয়াহিব্বুহু হয়, অন্য কিছু নয়।
মাসআলা:
জেনে রাখুন যে, কবির উক্তি:
আমি তার ভালোবাসার কারণে সুদানবাসীদের ভালোবাসি, এমনকি
… তার ভালোবাসার কারণে কালো কুকুরগুলোকেও ভালোবাসি।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৬০)
يُرْوَى: إِحِبُّ بِكَسْرِ الهَمْزَةِ، وَلَيْسَ عَلَى لُغَةِ مَنْ يَكْسِرُ حَرْفَ المُضَارَعَةِ، لِأَنَّ ذَلِكَ لَا يَكُونُ إِلَاّ فِي المُضَارِعِ مِنْ (فَعِلَ) بِكَسْرِ العَيْنِ نَحْوُ: نِعْلَمُ وَإِنَّمَا الكَسْرُ هُنَا إِتْبَاعٌ لِكَسْرَةِ الحَاءِ؛ وَاخْتَلَفُوا فِي هَذَا الإتْبَاعِ، فَذَهَبَ سِيبَوَيْهِ إِلَى أَنَّ هَذَا الإتْبَاعَ مِنْ أَحِبُّه بِفَتْحِ الهَمْزَةِ مُضَارِعُ حَبَّ، وَذَهَبَ غَيْرُهُ إِلَى أَنَّهُ مِنْ أُحِبُّه بِضَمِّ الهَمْزَةِ مُضَارِعُ أَحَبَّ، وَمَذْهَبُ سِيبَويْهِ أَوْلَى، لِأَنَّهُ لَيْسَ فِيهِ فَصْلٌ بَيْنَ كَسْرِ الهَمْزَةِ وَكَسْرِ الحَاءِ، وَمَذْهَبُ غَيْرِهِ يَلْزَمُ فِيهِ الفَصْلُ، وَإِنْ كَانَ فِي التَقْدِيرِ، لِأَنَّ التَّقْدِيرَ فِيهِ: أُأَحِبُّ فَلَمَّا اجْتَمَعَتِ الهَمْزَتَانِ حُذِفَتِ الثَّانِيَةُ ثُمَّ كُسِرَتِ الأُولَى إتْبَاعاً لِحَرَكَةِ الحَاءِ، فَوَقَعَ الفَصْلُ بَيْنَ التَّابِعِ والمَتْبُوعِ فِي التَّقْدِيرِ بالهَمْزَةِ الثَّانِيَةِ المَحْذُوفَةِ.
বর্ণিত হয়েছে (يُرْوَى): হামযাহ-এর কাসরা সহ ‘ইচিব্বু’; এটি সেই সব লোকদের ভাষাগত রীতি অনুযায়ী নয় যারা বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল বা মুদারে (مُضَارِع) সূচক বর্ণের শুরুতে কাসরা প্রদান করে। কারণ এটি কেবল ‘আইন’ বর্ণে কাসরা বিশিষ্ট ‘ফা-ই-লা’ ওযনের ক্রিয়াপদের মুদারে (مُضَارِع) হওয়ার ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে, যেমন: ‘নি’লামু’। মূলত এখানকার কাসরাটি হলো ‘হা’ বর্ণের কাসরার অনুকরণ (إِتْبَاع) মাত্র। এই অনুকরণের (إِتْبَاع) বিষয়ে তারা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। সীবাওয়াই-এর মতে, এই অনুকরণটি মূলত হামযাহ-এর ফাতহা বিশিষ্ট ‘আহাব্বুহু’ থেকে এসেছে যা ‘হাব্বা’ ক্রিয়ার মুদারে (مُضَارِع)। আর অন্যদের মতে, এটি হামযাহ-এর দম্মাহ বিশিষ্ট ‘উহিব্বুহু’ থেকে এসেছে যা ‘আহাব্বা’ ক্রিয়ার মুদারে (مُضَارِع)। সীবাওয়াই-এর মতটিই অধিক অগ্রগণ্য; কারণ এতে হামযাহ-এর কাসরা এবং ‘হা’ বর্ণের কাসরার মধ্যে কোনো ব্যবধান নেই। কিন্তু অন্যদের মতানুসারে এখানে একটি ব্যবধান আবশ্যক হয়, যদিও তা উহ্য অবস্থায় (تَقْدِير) থাকে। কারণ এর উহ্য রূপ (تَقْدِير) ছিল: ‘উআহিব্বু’। অতঃপর যখন দুটি হামযাহ একত্রিত হলো, তখন দ্বিতীয়টি বিলুপ্ত করা হলো এবং ‘হা’ বর্ণের হারাকাতের অনুকরণে (إِتْبَاع) প্রথমটিতে কাসরা দেওয়া হলো। ফলে উহ্য দ্বিতীয় হামযাহটির মাধ্যমে অনুসারী ও অনুসৃতের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وَإِنْ كَانَ قَدْ جَاءَ الفَصْلُ فِي الإتْبَاعِ نَحْوُ: مِنْتِنٌ إِلَاّ أَنَّ الأَوْلَى عَدَمُ الفَصْلِ.
وَقَدْ زَادَ غَيْرُ الجَوْهَرِيّ فِيمَا شَذَّ: هَرَّ الشَّيْءَ يَهُرُّهُ وَيَهِرُّهُ: إِذَا كَرِهِهُ وَغَدَّ العِرْقُ الدَّمَ يَغُدُّهُ، وَيَغِدُّهُ، وَهَشَّ يَهُشُّ وَيَهِشُّ: إِذَا كَسَّرَ.
فَإِنْ كَانَ غَيرَ مُتَعَدٍّ، جَاءَ المُضَارِعُ [عَلَى (يَفْعِلُ)] بِالكَسْرِ نَحْوُ: فَرَّ يَفِرُّ.
وَقَدْ شَذَّ مِنْ ذَلِكَ أَفْعَالٌ جَاءَ المُضَارِعُ مِنْهَا بالضَّمّ والكَسْرِ نَحْوُ: [طَلَّ يَطُلُّ وَيَطِلُّ]، وَشَحَّ يَشُحُّ وَيَشِحُّ، وَجَدَّ فِي الأَمْرِ يَجُدُّ وَيَجِدُ، وَصَدَّ: إِذَا ضَجَّ، يَصُدُّ وَيَصِدُّ، وَجَمَّ مِنَ الجِمَامِ يَجُمُّ وَيَجِمُّ، وَفَحَّتِ الأَفْعَى تَفُحُّ وَتَفِحُّ، وَشَبَّ الفَرَسُ يَشُبُّ وَيَشِبّ.
وَلَا أَثَرَ لِحَرْفِ الحَلْقِ، فِي هَذَا القِسْمِ، أَعْني: فِي المُضَاعَفِ،
যদিত্ত অনুবর্তিতার (الإتْباع) ক্ষেত্রে 'মিনতিন' (مِنْتِنٌ) এর ন্যায় পৃথকীকরণ পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে উত্তম হলো পৃথকীকরণ না করা।
জাওহারি ব্যতীত অন্যান্য ভাষাবিদগণ বিরল (شاذ) প্রয়োগের ক্ষেত্রে কিছু শব্দ বৃদ্ধি করেছেন: যেমন কোনো বস্তুকে ঘৃণা করা অর্থে 'হাররা' (هَرَّ), তখন এর মুদারি বা অনিয়ত বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল (المضارع) 'ইয়াহুররুহু' ও 'ইয়াহিররুহু' (يَهُرُّهُ وَيَهِرُّهُ) উভয়ভাবে আসে; এবং শিরা থেকে রক্ত নির্গত হওয়ার ক্ষেত্রে 'গাদ্দা' (غَدَّ) এর মুদারি 'ইয়াগুদ্দুহু' ও 'ইয়াগিদ্দুহু' (يَغُدُّهُ وَيَغِدُّهُ) হয়; এবং চূর্ণবিচূর্ণ করার অর্থে 'হাশশা' (هَشَّ), তখন মুদারি 'ইয়াহুশশু' ও 'ইয়াহিশশু' (يَهُشُّ وَيَهِشُّ) হয়।
আর যদি ক্রিয়াটি অকর্মক (غير متعد) হয়, তবে মুদারি (المضارع) কাসরা (الكسر) যোগে [ইয়াফ’ইলু (يَفْعِلُ) এর ওজনে] আসে, যেমন: 'ফাররা' 'ইয়াফিররু' (فَرَّ يَفِرُّ)।
আর এই নিয়ম থেকে বেশ কিছু ক্রিয়া বিরল (شذ) হিসেবে এসেছে যেগুলোর মুদারি (المضارع) যম্মাহ (الضم) ও কাসরা (الكسر) উভয় যোগে পঠিত হয়; যেমন: ['ত্বল্লা' 'ইয়াত্বুল্লু' ও 'ইয়াত্বিল্লু' (طَلَّ يَطُلُّ وَيَطِلُّ)], এবং 'শাহ্হা' 'ইয়াশুহ্হু' ও 'ইয়াশিহ্হু' (شَحَّ يَشُحُّ وَيَشِحُّ), এবং কোনো কাজে মনোযোগী হওয়া বা গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে 'জাদ্দা' 'ইয়াজুদ্দু' ও 'ইয়াজিদু' (جَدَّ فِي الأَمْرِ يَجُدُّ وَيَجِدُ), এবং 'ছদ্দা' (صَدَّ) যখন শোরগোল বা চিৎকার করা বুঝায়, তখন 'ইয়াসুদদু' ও 'ইয়াসিদদু' (يَصُدُّ وَيَصِدُّ) হয়, এবং বিশ্রামের অর্থে 'জাম্মা' 'ইয়াজুম্মু' ও 'ইয়াজিম্মু' (جَمَّ يَجُمُّ وَيَجِمُّ), এবং সাপের ফোঁস ফোঁস শব্দ করার ক্ষেত্রে 'ফাহ্হাত' 'তাফুহ্হু' ও 'তাফিহ্হু' (فَحَّتِ الأَفْعَى تَفُحُّ وَتَفِحُّ), এবং ঘোড়ার লাফিয়ে ওঠা বা পেছনের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়ানোর অর্থে 'শাব্বা' 'ইয়াশুব্বু' ও 'ইয়াশিব্বু' (شَبَّ الفَرَسُ يَشُبُّ وَيَشِبُّ)।
আর কণ্ঠনালীর বর্ণের (حرف الحلق) কোনো প্রভাব এই বিভাগে নেই, অর্থাৎ: দ্বিত্বাক্ষর বিশিষ্ট (المضاعف) ক্রিয়ার ক্ষেত্রে।
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৬২)
وَلَا فِي المُعْتَلّ، وَإِنَّمَا يُفْتَحُ لِحَرْفِ الحَلْقِ بِشَرْطَيْنِ:
أَنْ لَا يَكُونَ مُضَاعَفاً وَلَا مُعْتَلَّ العَيْن نَحْوُ: سَحَّ المَطَرُ يَسُحُّ، وَكَعَّ يَكِعُّ، وَشَحَّ بِدِينَارِهِ يَشُحُّ، وَجَاءَ يَجِيءُ، وَبَاعَ يَبِيعُ.
فَإِنْ قُلْتَ: فَلِأَيِ شَيْءٍ لَمْ تَقُلْ بِثَلَاثَةِ شُرُوطٍ، وَتَذْكُرُ المُعْتَلَّ الفَاءِ، لِأَنَّهُ تَقَدَّمَ أَنَّ مُضَارِعَهُ عَلَى (يَفْعِلُ) بالكَسْرِ نَحْوُ: وَعَدَ يَعِدُ؟
فالجَوَابُ عَنْ هَذَا أَنْ يُقَالَ: إِنَّ المُعْتَلَّ الفَاءِ لَا يُضْبَطُ لِقِلَّتِهِ، وَأَيْضاً فَإِنَّهُ قَدْ جَاءَ فِيمَا كَانَتِ العَيْنُ مِنْهُ حَرْفَ حَلْقٍ عَلَى (يَفْعِلُ) بِالكَسْرِ، وَ (يَفْعَلُ) بِالفَتْحِ نَحْوُ: وَعَدَ يَعِدُ، وَوَغَرَ يَوْغَرُ، وَقَدْ جَاءَ فِيمَا لَيْسَتِ العَيْنُ فِيهِ حَرْفَ حَلْقٍ عَلَى (يَفْعُلُ) بِالضَّمّ نَحْوُ: وَجَدَ يَجُدُ، وَهُوَ شَاذٌّ لَا يُعَوَّلُ عَلَيْهِ، والفَصِيحُ: يَجِدُ بالكَسْرِ، وَهُوَ الأَصْلُ، لِأَنَّ الفَاءَ
এবং অসুস্থ (معتل) ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও নয়, বরং কণ্ঠনালীয় বর্ণের (حرف حلق) কারণে (মুদারে’র আইন বর্ণ) জবর (فتح) হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে:
প্রথমত, তা যেন দ্বিত্ববর্ণ বিশিষ্ট (مضاعف) না হয় এবং দ্বিতীয়ত, তা মধ্যবর্ণ অসুস্থ (معتل العين) না হয়। যেমন: ‘সাহ্হা আল-মাতারু ইয়াসুহ্হু’, ‘কা-আ ইয়াকি-উ’, ‘শাহ্হা বি-দিনারিহি ইয়াশুহ্হু’, ‘জা-আ ইয়াজি-উ’ এবং ‘বা-আ ইয়াবি-উ’।
যদি আপনি প্রশ্ন করেন: তবে কেন আপনি তিনটি শর্তের কথা উল্লেখ করলেন না এবং আদিবর্ণ অসুস্থ (معتل الفاء) হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করলেন না? কারণ ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, এর মুদারে ‘ইয়াফই’লু’ ওজনে যের (كسر) সহকারে গঠিত হয়; যেমন: ‘ওয়াআদা ইয়া’ইদু’।
এর উত্তরে বলা হবে: আদিবর্ণ অসুস্থ (معتل الفاء) হওয়ার বিষয়টি তার স্বল্পতার কারণে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়মের (ضبط) আওতাভুক্ত নয়। তদুপরি, যে সকল ক্রিয়ার মধ্যবর্ণ (আইন বর্ণ) কণ্ঠনালীয় বর্ণ (حرف حلق), সেগুলো যেরযুক্ত (كسر) ‘ইয়াফই’লু’ এবং জবরযুক্ত (فتح) ‘ইয়াফআলু’—উভয় ওজনেই এসেছে; যেমন: ‘ওয়াআদা ইয়া’ইদু’ এবং ‘ওয়াগারা ইয়াওগারু’। আবার এমন শব্দও পাওয়া গেছে যার মধ্যবর্ণ কণ্ঠনালীয় বর্ণ নয়, অথচ তা পেশযুক্ত (ضم) ‘ইয়াফউলু’ ওজনে এসেছে; যেমন: ‘ওয়াজাদা ইয়াজুদু’। এটি একটি বিরল (شاذ) প্রয়োগ যার ওপর নির্ভর করা যায় না; বরং বিশুদ্ধ (فصيح) হলো যের যোগে ‘ইয়াজিদু’ বলা এবং এটিই মূল ভিত্তি, কারণ আদিবর্ণ...
(খণ্ড: ১)
ইকতিতাফুল আযাহিরি ওয়াত্তিকাতি জাওয়াহির
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
لَا تُحْذَفُ إِلَاّ لِوُقُوعِهَا بَيْنَ ياءٍ وَكَسْرَةٍ.
وَقَدْ شَذَّ مِنَ المُضَاعَفِ: كَعَّ يَكَعُّ، وَأَشَذُّ مِنْهُ: عَضَضْتَ تَعَضُّ، وَأَشَذُّ مِنْهُ: دَرَّ وَجْهُ الرَّجُلِ يَدَرُّ بِفَتْحِ الدَّالِ، وَذَرَّ الرَّجُلُ يَذَرُّ إِذَا شَابَ مُقَدَّمُ رَأْسِهِ بِفَتْحِ الذَّالِ المُعْجَمَةِ، وَجَرَّ: إِذَا جَنَى يَجَرُّ بِفَتْحِ الجِيمِ، وَعَزَّ يَعَزُّ: إِذَا اشْتَدَّ وَغَلَبَ، وَمِنْهُ: مَنْ عَزَّ بَزَّ، وَغَرَّ بِالغَيْنِ المُعْجَمَةِ يَغَرُّ، إِذَا تَصَابَا بَعْدَ حُنْكَةٍ.
تَتْمِيمٌ:
وَاعْلَمْ أَنَّ الذِي قَرَّرْنَاهُ فِي مُضَارِعِ (فَعَلَ) الصَّحِيحِ مِنْ كَوْنِهِ يَأتِي عَلَى (يَفْعُلُ) وَ (يَفْعِلُ)، وَلَيْسَ أحَدُهُمَا أَفْصَحَ مِنَ الآخَرِ، هُوَ الصَّحِيحُ، وَهُوَ مَذْهَبُ أَبِي عَلِيّ، لِأَنَّهُ قَالَ: هَذَانِ المِثَالَانِ، يَعْنِي: (يَفْعُلُ) وَ (يَفْعِلُ)، جَارِيَانِ عَلَى السَّوَاءِ فِي الغَلَبَةِ والكَثْرَةِ.
এটি বিলুপ্ত (حذف) করা হয় না, কেবল তখনই হয় যখন তা একটি ‘ইয়া’ এবং একটি কাসরাহ-এর মাঝে পতিত হয়।
এবং দ্বিত্ব (مضاعف) ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ‘কা’আ ইয়াকা’উ’ (كَعَّ يَكَعُّ) রূপটি ব্যতিক্রমী (شاذ) হিসেবে এসেছে। এর চেয়েও অধিকতর ব্যতিক্রমী (أشذ) হলো ‘আদাত্তু তাআদ্দু’ (عَضَضْتَ تَعَضُّ)। এর চাইতেও অধিকতর ব্যতিক্রমী (أشذ) হলো: ‘দাররা ইয়াদাররু’ (دَرَّ يَدَرُّ) (ব্যক্তির চেহারা উজ্জ্বল হওয়া), যেখানে দাল বর্ণে ফাতহা (فتح) প্রদান করা হয়; এবং ‘যাররা ইয়ায়াররু’ (ذَرَّ يَذَرُّ) যখন কারো মাথার সম্মুখভাগের চুল পেকে যায়, তখন নুকতাযুক্ত যাল বর্ণে ফাতহা (فتح) প্রদান করা হয়; এবং ‘জাররা ইয়াজাররু’ (جَرَّ يَجَرُّ) যখন কেউ অপরাধ করে, তখন জিম বর্ণে ফাতহা (فتح) প্রদান করা হয়; এবং ‘আযযা ইয়াআযযু’ (عَزَّ يَعَزُّ) যখন শক্তিশালী ও বিজয়ী হয়—যার থেকে প্রবাদ এসেছে: ‘যে শক্তিশালী হয় সে ছিনিয়ে নেয়’—এবং নুকতাযুক্ত গইন বর্ণ সহযোগে ‘গাররা ইয়াগাররু’ (غَرَّ يَغَرُّ) যখন কেউ বার্ধক্যের অভিজ্ঞতার পর পুনরায় যৌবনের ন্যায় চপল আচরণ করে।
পরিশিষ্ট (تتميم):
জেনে রাখুন যে, আমরা ‘ফায়ালা’ (فَعَلَ) এর সহিহ (صحيح) মুদারে (مضارع) সম্পর্কে যা নির্ধারণ করেছি—অর্থাৎ এটি ‘ইয়াফউলু’ (يَفْعُلُ) এবং ‘ইয়াফইলু’ (يَفْعِلُ) উভয় ওজনেই আসে এবং এদের একটি অন্যটির চেয়ে অধিকতর বিশুদ্ধ (أفصح) নয়—এটিই সঠিক (صحيح) সিদ্ধান্ত। এটি আবু আলীরও মাযহাব (مذهب); কেননা তিনি বলেছেন: এই দুটি উদাহরণ অর্থাৎ ‘ইয়াফউলু’ (يَفْعُلُ) এবং ‘ইয়াফইলু’ (يَفْعِلُ), আধিক্য ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রচলিত।