القسم: النحو والصرف
الكتاب: رسالة الحدود
المؤلف: علي بن عيسى بن علي بن عبد الله، أبو الحسن الرماني المعتزلي (ت 384هـ)
المحقق: إبراهيم السامرائي
الناشر: دار الفكر - عمان
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 85
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব
বই: রিসালাতুল হুদুদ
লেখক: আলী বিন ঈসা বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ, আবু আল-হাসান আল-রুমমানি আল-মুতাজিলি (মৃত্যু ৩৮৪ হিজরি)
গবেষক: ইব্রাহিম আল-সামাররাই
প্রকাশক: দার আল-ফিকর - আম্মান
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৫
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
‘আফআলু’ (أفعل) এর রূপটি কেবল বহুবচনের (جمع) দিকেই সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) হয় যখন সেটি সেই দলেরই অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি এমন শব্দ যা একটি বিষয়ের ওপর অন্যটির আধিক্য বা শ্রেষ্ঠত্বের অর্থ প্রদান করে। যেমন আপনার উক্তি: ‘ইয়াকুত পাথরসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ (أفضل)’; কিন্তু এটি বলা বৈধ নয় যে, ‘ইয়াকুত কাঁচের মধ্যে শ্রেষ্ঠ’, কারণ ইয়াকুত কাঁচের অংশ নয়। আবার ‘ইউসুফ ভাইদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ’ বলা বৈধ, কিন্তু ‘ইউসুফ তার ভাইদের শ্রেষ্ঠ’ বলা বৈধ নয়, কারণ তার ভাইয়েরা সে নিজে নয়। ‘আমি তোমাদের মধ্যে লাল বর্ণের ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি’ বলা বৈধ, কারণ এতে একটির ওপর অন্যটির আধিক্যের অর্থ নেই, ফলে এটি অন্য কিছুর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) হওয়া সম্ভব। একইভাবে বর্ণের ক্ষেত্রেও যেমন: ‘এই গোলামটি তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে কালো’।
যে উত্তরটি সংযোজনের (عطف) সদৃশ, তা হলো ‘ফা’ (فاء) যুক্ত উত্তর। যেমন আপনার উক্তি: ‘সিংহের নিকটবর্তী হয়ো না, তাহলে সে তোমাকে খেয়ে ফেলবে’। কারণ এটি মূলত: ‘সিংহের নিকটবর্তী হয়ো না, কেননা তুমি যদি তার নিকটবর্তী হও তবে সে তোমাকে খেয়ে ফেলবে’—এর স্থলাভিষিক্ত।
যে বিশেষ্যটি (اسم) তথ্যের বা উপকারের স্থানে থাকে, সেটি নির্দিষ্ট (معرفة) এবং অনির্দিষ্ট (نكرة) উভয়ই হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এটি মূলত সেই বিশেষ্য যা সংবাদের বা বিধেয় প্রদানের স্থানে থাকে; যেমন উদ্দেশ্য-বিধেয় এর ক্ষেত্রে আপনার উক্তি: ‘জায়েদ দণ্ডায়মান’ এবং ‘জায়েদই দণ্ডায়মান ব্যক্তি’।
আর যা নির্দিষ্ট (معرفة) হওয়ার সম্ভাবনা রাখে না, তা হলো অতিরিক্ত তথ্য প্রদানের স্থানে থাকা বিশেষ্য; যেমন: ‘এই যে জায়েদ দণ্ডায়মান অবস্থায়’। এখানে অবস্থা (حال) হিসেবে ‘জায়েদই দণ্ডায়মান ব্যক্তি’ বলা বৈধ নয়। বাক্যের মূল ভিত্তি যা বিলুপ্ত করা বৈধ নয় তা হলো কর্তা (فاعل), কারণ ক্রিয়ার সাথে তার সুদৃঢ় সম্পর্কের কারণে তার উল্লেখ অপরিহার্য।
আর বাক্যের সেই ভিত্তি যা বিলুপ্ত করা বৈধ তা হলো উদ্দেশ্য (مبتدأ), কারণ বিশেষ্যটি (اسم) যখন সম্বন্ধপদ (مضاف) বা কর্ম (مفعول) হয় তখন বিধেয় (خبر) ছাড়াও ব্যবহারের অবকাশ থাকে। এটি এমন এক একক যা এই বিভিন্ন স্থানে রূপান্তরযোগ্য। কিন্তু ক্রিয়ার বিষয়টি এমন নয়, কারণ কর্তা (فاعل) এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়া ব্যতীত ক্রিয়ার কোনো অবস্থান নেই। আর যা সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) হওয়ার যোগ্য তা হলো বিশেষ্য (اسم)।
অর্থগত স্থলাভিষিক্ত (بدل الاشتمال) যা বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত থাকে তা হলো এমন একটি বিষয় যেখানে প্রথম বাক্যটি নির্দেশ করে যে ক্রিয়ার প্রভাবকের (العامل) সংশ্লিষ্ট বিষয়টি উল্লেখিত বিষয়ের বাইরে অন্য কিছু, যেমন আপনার উক্তি— 'যায়েদের কাপড় চুরি হয়েছে'; এখানে 'যায়েদ চুরি হয়েছে' দ্বারা ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে যে যায়েদের মালিকানাধীন কোনো কিছু চুরি হয়েছে, ফলে স্থলাভিষিক্তকরণ (البدل) এই অর্থের ওপর ভিত্তি করে সংঘটিত হয়েছে।
যেসব হরফ (الحروف) কেবল বিশেষ্যের (الاسم) ওপর প্রবেশ করে, সেগুলো হলো এমন যার অর্থ বিশেষ্যের মধ্যেই নিহিত থাকে; যেমন সম্বন্ধবাচক হরফসমূহ (حروف الإضافة) এবং নির্দিষ্টকরণের জন্য ব্যবহৃত আলিফ ও লাম (الألف واللام المعرفة)।
যেসব হরফ (الحروف) কেবল ক্রিয়ার (الفعل) ওপর প্রবেশ করে, সেগুলো হলো এমন যার অর্থ ক্রিয়ার মধ্যেই নিহিত থাকে; যেমন ভবিষ্যৎবাচক হরফসমূহ (حروف الاستقبال), আদেশ ও নিষেধসূচক হরফসমূহ (حروف الأمر والنهي) এবং প্রতিদান বা শর্তবাচক হরফসমূহ (حروف الجزاء)।
বিশেষ্য (الاسم) এবং ক্রিয়া (الفعل) উভয়ের জন্য সাধারণ হরফসমূহ (الحروف المشتركة) হলো সেগুলো, যা পূর্ণ বাক্যের শুরুতে আসে এবং অর্থপূর্ণ তথ্য অনুসন্ধান করে; যেমন না-বোধক হরফসমূহ (حروف النفي) এবং প্রশ্নবোধক হরফসমূহ (حروف الاستفهام)।
সকর্মক করার হরফসমূহ (حروف التعدية) হলো সেগুলো যা ক্রিয়া প্রভাবককে (العامل) তার পরবর্তী পদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম করে তোলে যাতে সেটি তার সাথে সংশ্লিষ্ট হতে পারে; যেমন ইতিবাচক বাক্যে ব্যতিরেকসূচক হরফ (حرف الاستثناء) এবং অব্যয় বা যার-এর হরফসমূহ (حروف الجر)।
অসম্পূর্ণ বিশেষ্য (الاسم الناقص) হলো সেটি যা পূর্ণ অর্থ প্রকাশের জন্য একটি যোগসূত্র বা সিলার (صلة) মুখাপেক্ষী হয়, যেমন— 'আল্লাজি' (الذي)।
সুপ্রতিষ্ঠিত বিশেষ্য (الاسم المتمكن) হলো সেটি যার মধ্যে বিশেষ্যের বৈশিষ্ট্য সুস্পষ্টভাবে বিদ্যমান এবং যা হরফের (الحرف) সাথে সদৃশ নয়।
বাক্য প্রারম্ভিক হরফসমূহ (حروف صدر الكلام) হলো সেগুলো যা বাক্যের শুরুতে প্রবেশ করে একে পূর্ববর্তী বক্তব্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়; যেমন প্রারম্ভিক লাম (لام الابتداء), প্রশ্নবোধক হরফসমূহ (حروف الاستفهام) এবং না-বোধক 'মা' (ما النافية)।
যে গুণবাচক শব্দ (الصفة) বিশেষভাবে পরোক্ষ বা সম্বন্ধযুক্ত পদের (السببي) ক্ষেত্রে ক্রিয়াশীল হয়, তা হলো ছিফাতে মুশাব্বাহ (الصفة المشبهة) এবং যা ক্রিয়ার সদৃশ (الجارية) থেকে...
যে আমেল (عامل) অনুগামী শব্দের (معطوف) শব্দের ওপর ক্রিয়া করে এবং অনুগামী শব্দের (معطوف) শব্দের ওপর ক্রিয়া করে না, তা হলো সেই বিষয় যা প্রথমটিকে কোনো প্রতিবন্ধকের কারণে নির্দিষ্ট করে দেয়। যেমন: "যায়েদ কতই না চমৎকার ব্যক্তি" এবং অনুরূপ উদাহরণসমূহে এটি বাক্যের শব্দের ওপর ক্রিয়া করে না; কারণ বাক্যটি যে অর্থ প্রদান করে তা উল্লেখ করা হয়নি, আর আমেল (عامل) কেবল উল্লিখিত বিষয়ের ওপরই ক্রিয়া করে। যেমন আপনার উক্তি: "আমি যায়েদ ও আমরের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি"; কেননা এখানে ‘বা’ বর্ণটি আমেল (عامل) হিসেবে বিদ্যমান, আর একই মামুলের (معمول) ওপর দুটি আমেল (عامل) ক্রিয়া করতে পারে না। তদ্রূপ আপনার উক্তি: "আমি এদেরকে এবং যায়েদকে প্রহার করেছি"; কারণ ‘হাওলা-ই’ শব্দটি মাবনি (مبني)।
যে অর্থ দ্বারা মারেফাহ (معرفة) বা নির্দিষ্ট বিশেষ্যকে বিশেষায়িত করা যায় না—যতক্ষণ না তা একক শব্দের পদ্ধতিতে রূপান্তরিত হয়—তাহলো বাক্যের অর্থ যখন তা সিলাহ (صلة) বা সম্বন্ধসূচক হয়। আর মারেফাহ (معرفة)-কে যা দ্বারা বিশেষায়িত করা শুদ্ধ, তা হলো যা পৃথকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
যে মারেফাহ (معرفة) ক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে ফায়েল (فاعل) বা মাফউল (مفعول) হিসেবে গঠিত হয় এবং তা দ্বারা বিশেষায়িত করা যায় না, তা হলো যা শ্রেণি বা প্রকারের (جنس) পদ্ধতিতে গঠিত, যা মাবনি (مبني) হওয়ার কারণে এবং একাধিক অর্থে ব্যবহারের কারণে পূর্ণ সক্ষমতাহীন। যেমন: ‘মান’ এবং ‘মা’। তবে ‘আল্লাজি’ এমন নয়, কারণ এটি মুশতারাক (مشترك) বা সাধারণ নয়; এবং ‘আইয়্যু’ এর মতোও নয়, কারণ এটি মুরব (معرب)।
প্রশ্ন (سؤال) হলো বাক্যের মধ্যে নির্দিষ্ট উপকরণের মাধ্যমে উত্তর (جواب) অনুসন্ধান করা।
প্রশ্নের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ উত্তর (جواب) হলো কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি ব্যতিরেকে প্রশ্নের দাবি অনুযায়ী বিষয়টি উল্লেখ করা।
সীমিত প্রশ্ন (سؤال الحجرة) হলো নির্দিষ্ট কোনো পরিধির মধ্য থেকে একটি অংশ অনুসন্ধান করা। এটি দুই প্রকার: প্রথমটি হলো প্রশ্নের কোনো একটি অংশ চাওয়া, যেমন আপনার উক্তি: "যায়েদ কি ঘরে আছে নাকি আমর?" আর অন্যটি হলো বিলুপ্ত বা মাহজুফ (محذوف) বিষয়ের পরিবর্তে এমন কিছুর নির্দেশ করা যা এমন অর্থের দাবি রাখে যা উল্লেখ করা হয়নি অথচ উল্লেখ করার প্রয়োজন ছিল; আর তা হলো যেমন তাকবির।