(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: -)
اعتراض الشرط على الشرط   (ابن هشام النحوي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: اعتراض الشرط على الشرط

المؤلف: عبد الله بن يوسف بن أحمد بن عبد الله ابن يوسف، أبو محمد، جمال الدين، ابن هشام (ت 761هـ)

المحقق: د. عبد الفتاح الحموز

الناشر: دار عمار - الأردن

الطبعة: الأولى، 1406هـ 1986م

عدد الصفحات: 54

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ই’তিরাজুশ শারতি ‘আলাশ শারত   (ইবনে হিশাম আন-নাহবী)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


বই: ই’তিরাজুশ শারতি ‘আলাশ শারত

গ্রন্থকার: আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আহমাদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ, আবু মুহাম্মদ, জামালুদ্দিন, ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: ড. আবদুল ফাত্তাহ আল-হামুজ

প্রকাশক: দার আম্মার - জর্ডান

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬ হিজরি ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

(قَالَ الشَّيْخ جمال الدّين (بن) هِشَام)

هَذَا فصل نتكلم فِيهِ بحول الله تَعَالَى وقوته على مَسْأَلَة اعْتِرَاض الشَّرْط على الشَّرْط

اعْلَم أَنه يجوز أَن يتوارد شَرْطَانِ على جَوَاب وَاحِد فِي اللَّفْظ على الْأَصَح، وَكَذَا فِي أَكثر من شرطين، وَرُبمَا توهم (متوهم) من عبارَة النُّحَاة حَيْثُ يَقُولُونَ اعْتِرَاض الشَّرْط على الشَّرْط إِن ذَلِك لَا يكون فِي أَكثر من شرطين، وَلَيْسَ كَذَلِك، وَلَا هُوَ مُرَادهم

ولنحقق أَولا الصُّورَة الَّتِي يُقَال فِيهَا فِي اصطلاحهم اعْتِرَاض الشَّرْط على الشَّرْط، فَإِن ذَلِك مِمَّا يَقع فِيهِ الالتباس والغلط، فقد وَقع ذَلِك لجَماعَة من النُّحَاة والمفسرين ثمَّ نتكلم على الْبَحْث فِي ذَلِك، وَالْخلاف فِي (تَوْجِيهه وَفِي جَوَازه)

فَنَقُول لَيْسَ من اعْتِرَاض الشَّرْط (وَاحِد) من هَذِه الْمسَائِل الْخمس الَّتِي سنذكرها
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

(শেখ জামালুদ্দীন ইবনে হিশাম বলেন)

এটি একটি পরিচ্ছেদ যেখানে আমরা মহান আল্লাহ তায়ালার শক্তি ও সামর্থ্যের ওপর ভরসা করে একটি শর্তের (شرط) ওপর অন্য শর্তের আপতিত হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা নিয়ে আলোচনা করব।

জেনে রাখুন যে, বিশুদ্ধতম (الأصح) মতানুসারে শাব্দিকভাবে একই জবাবের (جواب) ওপর দুটি শর্ত (شرط) পর্যায়ক্রমে আসা বৈধ, আর দুটির বেশি শর্তের ক্ষেত্রেও অনুরূপ। সম্ভবত বৈয়াকরণদের (نحاة) পরিভাষা ‘শর্তের ওপর শর্তের আপতিত হওয়া’ থেকে কেউ ধারণা করতে পারেন যে, এটি দুটির অধিক শর্তের ক্ষেত্রে হয় না; কিন্তু বিষয়টি তেমন নয় এবং এটি তাঁদের উদ্দেশ্যও নয়।

প্রথমে আমরা সেই রূপটি সঠিকভাবে যাচাই করব যাকে তাঁদের পরিভাষায় (اصطلاح) ‘শর্তের ওপর শর্তের আপতিত হওয়া’ বলা হয়, কারণ এটি এমন একটি বিষয় যেখানে বিভ্রান্তি ও ভুল হওয়ার অবকাশ থাকে; যা ইতোমধ্যেই একদল বৈয়াকরণ (نحاة) ও মুফাসসিরদের ক্ষেত্রে ঘটেছে। অতঃপর আমরা এ বিষয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা এবং এর ব্যাখ্যা ও বৈধতা (جواز) সংক্রান্ত মতভেদ (خلاف) নিয়ে আলোচনা করব।

সুতরাং আমরা বলি যে, নিম্নে বর্ণিত পাঁচটি বিষয়ের কোনোটিই ‘শর্তের ওপর শর্তের আপতিত হওয়া’র অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌أَحدهَا

 

أَن يكون الشَّرْط الأول مقترنا بجوابه، ثمَّ يَأْتِي الشَّرْط الثَّانِي بعد ذَلِك، كَقَوْلِه سُبْحَانَهُ (وَتَعَالَى) {يَا قوم إِن كُنْتُم آمنتم بِاللَّه فَعَلَيهِ توكلوا إِن كُنْتُم مُسلمين} ، خلافًا لمن غلط، (فَجعله) من الِاعْتِرَاض

وَقَائِل هَذَا من الْحق على مراحل لِأَنَّهُ إِذا ذكر جَوَاب الأول تاليا لَهُ فَأَي اعْتِرَاض هُنَا

‌‌الثَّانِيَة

 

أيقترن الثَّانِي بفاء الْجَواب لفظا، نَحْو إِن تكلم زيد فَإِن أَجَاد فَأحْسن إِلَيْهِ لِأَن الشَّرْط الثَّانِي وَجَوَابه جَوَاب الأول

‌‌الثَّالِثَة

 

أَن (يقْتَرن) بهَا تَقْديرا، نَحْو فَأَما إِن كَانَ من المقربين خلافًا
প্রথমটি হলো

 

প্রথম শর্ত (الشرط) তার জবাব (الجواب) এর সাথে যুক্ত হওয়া, অতঃপর দ্বিতীয় শর্তটি (الشرط) এর পরে আসা; যেমন সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী: {হে আমার কওম, যদি তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনে থাকো তবে তাঁরই ওপর ভরসা করো, যদি তোমরা আত্মসমর্পণকারী হও}। এটি সেই ব্যক্তির মতের পরিপন্থী যিনি ভুলবশত একে বাক্যান্তর্ভুক্তি (الاعتراض) হিসেবে গণ্য করেছেন।

এই কথা যে বলেছে সে সত্য থেকে বহু দূরে অবস্থান করছে; কারণ যখন প্রথমটির জবাব (الجواب) তার পরপরই উল্লেখ করা হয়েছে, তখন এখানে বাক্যান্তর্ভুক্তির (الاعتراض) অবকাশ কোথায়?

দ্বিতীয়টি

 

দ্বিতীয় শর্তটি শাব্দিকভাবে 'ফা'-এ জাওয়াব (فاء الجواب) এর সাথে যুক্ত হওয়া। যেমন: "যদি জায়েদ কথা বলে, অতঃপর সে যদি তা সুন্দরভাবে বলে, তবে তুমি তার প্রতি অনুগ্রহ করো।" কারণ দ্বিতীয় শর্ত (الشرط) এবং তার জবাব (الجواب) মূলত প্রথমটিরই জবাব (الجواب)।

তৃতীয়টি

 

উহ্যভাবে (تقديرا) তার সাথে যুক্ত হওয়া, যেমন: "অতঃপর যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়..." এর বিপরীতে।
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৩৩)
لمن اسْتدلَّ بذلك على تعَارض الشَّرْطَيْنِ لِأَن الأَصْل عِنْد النُّحَاة مهما يكن من شَيْء، فَإِن كَانَ الْمُتَوفَّى من المقربين فَجَزَاؤُهُ روح، فحذفت (مهما) وَجُمْلَة شَرطهَا، وأنيب عَنْهَا (أما) ، فَصَارَ أما فَإِن كَانَ، فَفرُّوا من ذَلِك لوَجْهَيْنِ

أَحدهمَا أَن الْجَواب لَا يلى أَدَاة الشَّرْط بِغَيْر فاصل

وَالثَّانِي أَن الْفَاء فِي الأَصْل للْعَطْف، فحقها أَن تقع بَين شَيْئَيْنِ، وهما المتعاطفان، فَلَمَّا أخرجوها فِي بَاب الشَّرْط عَن الْعَطف حفظوا عَلَيْهَا الْمَعْنى الآخر، وَهُوَ التَّوَسُّط فَوَجَبَ أَن (يقدم) (شَيْء عَلَيْهَا) إصلاحا
যারা এর মাধ্যমে দুটি শর্তের (شرطين) বৈপরীত্যের ওপর দলিল পেশ করেছেন তাদের জন্য; কেননা ব্যাকরণবিদদের নিকট মূলনীতি (أصل) হলো: 'যাই হোক না কেন, যদি মৃত ব্যক্তি নৈকট্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত হয় তবে তার প্রতিদান আরাম ও স্বস্তি'। অতঃপর (مهما) এবং এর শর্তের (شرط) বাক্যটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে (أما)-কে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। ফলে তা 'আম্মা ফাইন্না কানা' হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতঃপর তারা দুটি কারণে তা থেকে বিমুখ হয়েছেন:

তার একটি হলো, উত্তর (جواب) কোনো ব্যবধান ব্যতীত শর্তের অব্যয়ের (أداة الشرط) সরাসরি অনুগামী হয় না।

দ্বিতীয়টি হলো, 'ফা' মূলত সংযোজন (عطف) এর জন্য, তাই এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি দুটি বিষয়ের মাঝে অবস্থান করবে এবং তারা হলো পরস্পর সংযুক্ত পদ (المتعاطفان)। যখন তারা একে শর্তের (شرط) অধ্যায়ে সংযোজনের অর্থ থেকে বের করে আনলেন, তখন তারা এর অপর একটি অর্থ অর্থাৎ মধ্যবর্তিতা রক্ষা করলেন। ফলে ভাষাগত সংশোধনের নিমিত্তে আবশ্যক হলো যে, (অগ্রবর্তী করা) (يقدم) হবে (কোনো বিষয়কে এর ওপর) (شيء عليها)।
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৩৪)
للفظ، فَقدمت جملَة الشَّرْط الثَّانِي لِأَنَّهَا كالجزء الْوَاحِد، كَمَا قدم الْمَفْعُول فِي فَأَما الْيَتِيم فَلَا تقهر فَصَارَ أما إِن كَانَ من المقربين (فَروح) ، فحذفت الْفَاء الَّتِي هِيَ جَوَاب (إِن) لِئَلَّا تلتقي فاءان، (فتخلص أَن) جَوَاب (أما) لَيْسَ محذوفا، بل مقدما (بعضه) على الْفَاء فَلَا اعْتِرَاض

‌‌الرَّابِعَة

 

أَن يعْطف على فعل الشَّرْط شَرط آخر، كَقَوْلِه (تَعَالَى) {وَإِن تؤمنوا وتتقوا يُؤْتكُم أجوركم وَلَا يسألكم أَمْوَالكُم إِن يسألكموها فيحفكم تبخلوا}

وَيفهم من كَلَام ابْن مَالك أَن هَذَا من اعْتِرَاض الشَّرْط على الشَّرْط، وَلَيْسَ (كَذَلِك)

‌‌(الْخَامِسَة)

 

أَن يكون جَوَاب الشَّرْطَيْنِ محذوفا، فَلَيْسَ من الِاعْتِرَاض نَحْو {وَلَا ينفعكم نصحي}
শব্দের সংগতির জন্য, তাই দ্বিতীয় শর্তসূচক বাক্যটিকে অগ্রবর্তী করা হয়েছে কারণ তা একটি অখণ্ড অংশের ন্যায়, যেমনটি ‘ফা আম্মাল ইয়াতীমা ফালা তাকহার’ আয়াতে কর্মপদকে অগ্রবর্তী করা হয়েছে। ফলে বাক্যটি হয়েছে— ‘আম্মা ইন কানা মিনাল মুকাররাবীন (ফারওহ)’। অতঃপর ‘ইন’-এর উত্তরসূচক ‘ফা’ বর্ণটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে যাতে দু’টি ‘ফা’ একত্রিত না হয়। (এর নির্যাস এই যে,) ‘আম্মা’-এর উত্তরটি উহ্য নয়, বরং এর (কিয়দাংশ) ‘ফা’-এর আগে আনা হয়েছে; সুতরাং এখানে কোনো আপত্তি নেই।

‌‌চতুর্থ বিষয়

 

শর্তের ক্রিয়ার ওপর অন্য একটি শর্তের সমন্বয় ঘটা, যেমন মহান (আল্লাহর) বাণী: {আর যদি তোমরা ঈমান আনো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো তবে তিনি তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিদান প্রদান করবেন এবং তিনি তোমাদের ধন-সম্পদ চাইবেন না। যদি তিনি তোমাদের কাছে সেগুলো চান এবং তোমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তবে তোমরা কার্পণ্য করবে।}

ইবনে মালিকের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে এটি একটি শর্তের ওপর অন্য একটি শর্তের প্রক্ষিপ্ত হওয়া, তবে বিষয়টি (তেমন) নয়।

‌‌(পঞ্চম বিষয়)

 

উভয় শর্তের উত্তর উহ্য হওয়া। এটি প্রক্ষিপ্ত হওয়ার অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমন: {আর আমার উপদেশ তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না।}
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৩৫)
) الْآيَة، وَكَذَلِكَ {وَامْرَأَة مُؤمنَة إِن وهبت نَفسهَا للنَّبِي} ) الْآيَة، خلافًا لجَماعَة من النَّحْوِيين، مِنْهُم ابْن مَالك
) আয়াতটি, এবং অনুরূপভাবে {আর কোনো মুমিন নারী যদি সে নিজেকে নবীর নিকট নিবেদন করে} ) আয়াতটি, একদল ব্যাকরণবিদের মতের পরিপন্থী, যাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন ইবনে মালিক।
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَحجَّتنَا على ذَلِك أَنا نقُول (يقدر) جَوَاب الأول تاليا (لَهُ) مدلولا عَلَيْهِ (بِالشّرطِ الأول وَجَوَابه المقدمين عَلَيْهِ) ، فَيكون التَّقْدِير فِي (الأولى) (إِن أردْت أَن أنصح لكم فَلَا ينفعكم نصحي) (وَكَذَا) التَّقْدِير فِي الثَّانِيَة

وَمثل ذَلِك أَيْضا بَيت (الحماسة)

(لَكِن قومِي وَإِن كَانُوا ذَوي عدد … لَيْسُوا من الشَّرّ فِي شَيْء وَإِن هانا // الْبَسِيط //

(فَتدبر)) فَإِنَّهُ حسن

(وَإِذ) قد عرفت أَنا لَا نُرِيد شَيْئا من هَذِه الْأَنْوَاع بقولنَا اعْتِرَاض
এ বিষয়ে আমাদের দলিল হলো এই যে, আমরা বলি প্রথমটির উত্তর (জবাব) তার অনুবর্তী হিসেবে উহ্য (يقدر) ধরা হবে, যা তার পূর্ববর্তী প্রথম শর্ত ও তার উত্তরের মাধ্যমে নির্দেশিত। সুতরাং প্রথমটির ক্ষেত্রে উহ্য (الأولى) রূপটি হবে: (যদি আমি তোমাদের উপদেশ দিতে চাই, তবে আমার উপদেশ তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না); এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রেও উহ্য (وَكَذَا) রূপটি অনুরূপ হবে।

এর উদাহরণ হামাসা কাব্যগ্রন্থের এই পঙক্তিটিও:

(কিন্তু আমার সম্প্রদায়, যদিও তারা সংখ্যায় অধিক … তারা অনিষ্টের কোনো কিছুতেই লিপ্ত নয়, যদিও তা তুচ্ছ হয় // আল-বাসীত ছন্দ //

(অতএব গভীরভাবে চিন্তা করুন); কেননা এটি উত্তম (حسن)

(যেহেতু) আপনি অবগত হয়েছেন যে, আমরা 'আপত্তি' (اعتراض) ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রকারগুলোর কোনোটিই উদ্দেশ্য করছি না।
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৩৭)
الشَّرْط على الشَّرْط، فَاعْلَم أَن مرادنا نَحْو إِن ركبت إِن لبست فَأَنت طَالِق

وَقد اخْتلف أَولا فِي صِحَة هَذَا التَّرْكِيب، فَمَنعه بَعضهم على مَا حَكَاهُ ابْن الدهان، وَأَجَازَهُ الْجُمْهُور، وَاسْتدلَّ بعض المجيزين بِالْآيَاتِ السَّابِقَة، وَقد بَينا أَنَّهَا لَيست مِمَّا نَحن فِيهِ لَا فِي ورد وَلَا صدر

وَإِنَّمَا الدَّلِيل فِي قَوْله سُبْحَانَهُ (وَتَعَالَى) {وَلَوْلَا رجال مُؤمنُونَ} إِلَى قَوْله (تَعَالَى) {لعذبنا}
শর্তের ওপর শর্ত; জেনে রাখুন যে, আমাদের উদ্দেশ্য হলো—যদি তুমি আরোহণ করো, যদি তুমি পরিধান করো, তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা—জাতীয় বাক্যসমূহ।

প্রথমত এই শব্দবিন্যাসের শুদ্ধতা (صحة) নিয়ে মতভেদ হয়েছে। ইবনে আদ-দাহহান যা বর্ণনা করেছেন সেই অনুযায়ী কেউ কেউ একে নিষিদ্ধ করেছেন, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) আলিমগণ একে বৈধ বলেছেন। বৈধতা প্রদানকারীদের কেউ কেউ পূর্ববর্তী আয়াতসমূহ দ্বারা দলিল পেশ করেছেন; অথচ আমরা স্পষ্ট করেছি যে, আলোচ্য বিষয়টি ওই আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়—না শুরুতে, না শেষে।

মূলত এর দলিল হলো মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণী: {যদি মুমিন পুরুষরা না থাকত...} থেকে নিয়ে মহান আল্লাহর বাণী {...তবে আমি অবশ্যই আজাব দিতাম} পর্যন্ত।
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৩৮)
فالشرطان وهما (لَوْلَا) و (لَو) قد اعترضا، وَلَيْسَ مَعَهُمَا إِلَّا جَوَاب وَاحِد مُتَأَخّر عَنْهُمَا، وَهُوَ (لعذبنا)

وَفِي آيَة أُخْرَى على مَذْهَب أبي الْحسن رحمه الله ، وَهِي قَوْله سُبْحَانَهُ (وَتَعَالَى) {إِذا حضر أحدكُم الْمَوْت إِن ترك خيرا الْوَصِيَّة}
সুতরাং শর্তদ্বয় (الشرطان), যথা ‘লাওলা’ (لَوْلَا) এবং ‘লাও’ (لَوْ) এখানে মধ্যবর্তী হয়েছে, এবং এ দুটির জন্য কেবল একটিই উত্তর (جواب) রয়েছে যা তাদের পরে এসেছে, আর তা হলো ‘লা-আযযাবনা’ (لَعَذَّبْنَا)।

এবং আবুল হাসান (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব (مذهب) অনুযায়ী অন্য একটি আয়াতে, যা হলো মহান ও সুমহান আল্লাহ তাআলার বাণী: {যখন তোমাদের কারো নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে কোনো সম্পদ রেখে যায়, তবে অসিয়ত (الوصية) করা...}
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৩৯)
فَإِنَّهُ زعم أَن قَوْله جلّ ثَنَاؤُهُ (الْوَصِيَّة للْوَالِدين) على تَقْدِير الْفَاء، أَي فَالْوَصِيَّة، فعلى مذْهبه يكون مِمَّا نَحن فِيهِ، وَأما إِذا رفعت (الْوَصِيَّة) ب (كتب) ، فَهِيَ كالآيات السابقات فِي حذف الجوابين

وَهَذَانِ الموطنان خطرا لي قَدِيما، وَلم أرهما لغيري
কেননা তিনি দাবি করেছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বাণী (পিতা-মাতার জন্য অসিয়্যত) 'ফা' (فاء) এর প্রাক-অনুমান (تقدير) এর ভিত্তিতে, অর্থাৎ 'ফাল-অসিয়্যাহ' (فالوصية); সুতরাং তাঁর মাযহাব (مذهب) অনুযায়ী এটি আমাদের বর্তমান আলোচনার বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যদি 'অসিয়্যাহ' (الوصية) শব্দটিকে 'কুতিবা' (كتب) এর মাধ্যমে রফ' (رفع) প্রদান করা হয়, তবে তা উভয় জওয়াব (جواب) বিলুপ্তির (حذف) ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আয়াতসমূহের ন্যায় হবে।

এই দুইটি বিষয় অনেক আগে আমার মনে উদিত হয়েছিল এবং আমি অন্য কারো নিকট এগুলো দেখিনি।
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৪০)
وَمِمَّا يدل أَيْضا قَول الشَّاعِر (بَيت)

(إِن تستغيثوا بِنَا إِن تذعروا تَجدوا … منا معاقل عز (زانها) كرم) // الْبَسِيط //

وَقد اسْتعْمل ذَلِك الإِمَام أَبُو بكر بن (دُرَيْد) فِي مقصورته حَيْثُ
আর যা এর সপক্ষে প্রমাণ বহন করে তা হলো কবির উক্তি (কবিতাংশ)

(যদি তোমরা আমাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো, যদি তোমরা ভীত হও, তবে তোমরা আমাদের মাঝে সম্মানের এমন দুর্গ খুঁজে পাবে … যাকে মহত্ব (সুশোভিত করেছে)) // আল-বাসিত ছন্দ //

আর ইমাম আবু বকর ইবন (দুরাইদ) তাঁর ‘মাকসুরাহ’ কাব্যে এটি ব্যবহার করেছেন যেখানে
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৪১)
(يَقُول)

(فَإِن عثرت بعْدهَا إِن وألت … نَفسِي من هاتا فقولا لالعا // رجز // (وَإِذ) قد عرفت صُورَة الْمَسْأَلَة وَمَا فِيهَا من الْخلاف، وَأَن الصَّحِيح جَوَازهَا، فَاعْلَم أَن المجيزين لَهَا اخْتلفُوا فِي تَحْقِيق مَا يَقع بِهِ مَضْمُون الْجَواب الْوَاقِع بعد الشَّرْطَيْنِ على ثَلَاثَة مَذَاهِب فِيهَا بلغنَا

أَحدهَا أَنه إِنَّمَا يَقع بِمَجْمُوع أَمريْن أَحدهمَا حُصُول كل من الشَّرْطَيْنِ

وَالْآخر كَون الشَّرْط الثَّانِي وَاقعا قبل وُقُوع الأول (فَإِن) قيل إِن ركبت إِن لبست فَأَنت طَالِق فَإِن ركبت فَقَط أَو (لبست) لم تطلق فِيهِنَّ، وَإِن لبست ثمَّ ركبت طلقت)

هَذَا قَول جُمْهُور النَّحْوِيين وَالْفُقَهَاء

وَقد اخْتلف النحويون فِي تَأْوِيله على (فريقين) أَحدهمَا قَول الْجُمْهُور إِن الْجَواب الْمَذْكُور للْأولِ، وَجَوَاب الثَّانِي مَحْذُوف لدلَالَة الأول وَجَوَابه عَلَيْهِ
(তিনি বলেন)

(যদি এরপর আমি পদস্খলিত হই, আর যদি আমি রক্ষা পাই … আমার আত্মা এ থেকে, তবে তোমরা শুভকামনা করো // রাজাজ ছন্দ // (এবং যখন) তুমি মাসআলাটির স্বরূপ এবং এতে বিদ্যমান মতভেদ সম্পর্কে অবগত হয়েছ, আর এটিও জেনেছ যে বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুসারে এটি বৈধ, তবে জেনে রাখো যে, যারা একে বৈধ বলেছেন তারা দুটি শর্তের পর ঘটিত জবাবের বিষয়বস্তু কীভাবে বাস্তবায়িত হবে সে সম্পর্কে তিনটি মাযহাবে বিভক্ত হয়েছেন যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে।

তন্মধ্যে প্রথমটি হলো: এটি দুটি বিষয়ের সমষ্টির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে; যার একটি হলো উভয় শর্তের বাস্তবায়ন হওয়া।

আর অন্যটি হলো প্রথম শর্তটি ঘটার পূর্বে দ্বিতীয় শর্তটি সংঘটিত হওয়া। (সুতরাং) যদি বলা হয়: "যদি তুমি আরোহণ করো, যদি তুমি পরিধান করো, তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা"; এমতাবস্থায় যদি সে কেবল আরোহণ করে অথবা (পরিধান করে), তবে তালাক কার্যকর হবে না। আর যদি সে পরিধান করে এবং এরপর আরোহণ করে, তবে তালাক হবে।)

এটি অধিকাংশ (الجمهور) ব্যাকরণবিদ এবং ফকিহগণের অভিমত।

ব্যাকরণবিদগণ এর ব্যাখ্যায় (দুটি দলে) বিভক্ত হয়েছেন; তন্মধ্যে প্রথমটি হলো জমহুর বা সংখ্যাধিক্যের (الجمهور) বক্তব্য যে, উল্লিখিত জবাবটি প্রথম শর্তের জন্য, আর দ্বিতীয় শর্তের জবাবটি বিলুপ্ত (محذوف) ধরা হয়েছে, যেহেতু প্রথম শর্ত এবং তার জবাব এর প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে।
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَالدَّلِيل على أَن الشَّرْط الأول وَجَوَابه يدلان على (الشَّرْط) يَا قوم إِن كُنْتُم آمنتم بِاللَّه فَعَلَيهِ توكلوا إِن كُنْتُم مُسلمين، فَهَذَا بِتَقْدِير إِن كُنْتُم مُسلمين (إِن) كُنْتُم آمنتم بِاللَّه فَعَلَيهِ توكلوا، فَحذف الْجَواب لدلَالَة مَا تقدم عَلَيْهِ

وَهَذَا القَوْل من (الْحق) بمَكَان لِأَن الْقَاعِدَة أَنه إِذا توارد فِي غير مَسْأَلَتنَا على جَوَاب وَاحِد شَيْئَانِ، كل مِنْهُمَا يَقْتَضِي جَوَابا كَانَ الْجَواب الْمَذْكُور للْأولِ كَقَوْلِك وَالله إِن تأتني لأكرمنك (بالتأكيد جَوَابا للْأولِ) ، وَإِن تأتني وَالله
এবং প্রথম শর্ত ও তার উত্তর (جواب) যে (শর্ত (الشرط)) এর প্রতি নির্দেশ করে তার প্রমাণ হলো: "হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যদি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাকো তবে তাঁরই ওপর ভরসা করো, যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকো।" এটি মূলত এই উহ্য ধারায় (تقدير) রয়েছে: "যদি তোমরা মুসলিম হয়ে থাকো (যদি (إن)) তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনে থাকো তবে তাঁরই ওপর ভরসা করো।" এখানে উত্তরটি (جواب) বিলুপ্ত করা হয়েছে, কারণ পূর্ববর্তী অংশটি তার দিকে ইঙ্গিত প্রদান করছে।

আর এই বক্তব্যটি (সত্য (الحق)) এর বিচারে অত্যন্ত সুদৃঢ়। কেননা মূলনীতি (قاعدة) হলো, আমাদের আলোচ্য মাসআলাটি ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে যখন একটি উত্তরের (جواب) ওপর এমন দুটি বিষয় আপতিত হয় যাদের প্রত্যেকেই একটি পৃথক উত্তর (جواب) দাবি করে, তখন উল্লিখিত উত্তরটি (جواب) প্রথমটির জন্যই সাব্যস্ত হয়। যেমন আপনার উক্তি: "আল্লাহর শপথ! আপনি যদি আমার নিকট আসেন তবে আমি অবশ্যই আপনাকে সম্মানিত করব" (নিশ্চিতভাবে প্রথমটির উত্তর (بالتأكيد جوابا للأول) হিসেবে); আর "যদি আপনি আমার নিকট আসেন, আল্লাহর শপথ!"
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৪৩)
أكرمك بِالْجَزْمِ جَوَابا للشّرط

فَكَذَا الْقيَاس يَقْتَضِي فِي مَسْأَلَة توارد شَرط على شَرط أَن يكون الْجَواب للسابق مِنْهُمَا، وَيكون جَوَاب الثَّانِي محذوفا لدلَالَة الأول وَجَوَابه عَلَيْهِ، فَمن ثمَّ لزم فِي وُقُوع الْمُعَلق على ذَلِك أَن يكون الثَّانِي وَاقعا قبل الأول ضَرُورَة أَن الأول قَائِم مقَام الْجَواب، حَتَّى إِن الْكُوفِيّين وَأَبا زيد (والمبرد) يَزْعمُونَ فِي نَحْو أَنْت ظَالِم إِن فعلت، أَن السَّابِق على الأداة هُوَ الْجَواب لَا دَلِيل، وَالْجَوَاب لابد من تَأَخره عَن الشَّرْط، لأته (أَثَره) ومسببه (فَلذَلِك) الدَّلِيل على الْجَواب، لِأَنَّهُ قَائِم مقَامه ومغن فِي اللَّفْظ عَنهُ

وَقد (تحرر) فِي هَذَا أَن فِي كل من الجملتين (مجَازًا) ، فمجازا الأولى الْفَصْل بَينهَا وَبَين جوابها بِالشّرطِ الثَّانِي ومجاز الثَّانِيَة بِحَذْف جوابها

وعَلى هَذَا فَيجوز كَون الشَّرْط الأول مَاضِيا ومضارعا وَأما الثَّانِي فَلَا يجوز فِي فصيح الْكَلَام أَن يكون إِلَّا مَاضِيا لِأَن الْقَاعِدَة فِي الْجَواب أَنه لَا يحذف الأول إِلَّا وَالشّرط مَاض فَأَما قَوْله
শর্ত (شرط)-এর উত্তর (جواب) হিসেবে জজম (جزم) প্রদানের মাধ্যমে 'আমি তোমাকে সম্মানিত করব'।

অনুরূপভাবে, কিয়াস (قياس) এ কথা দাবি করে যে, একটি শর্তের ওপর অন্য শর্তের সমাপতনের ক্ষেত্রে উত্তর (جواب) তাদের মধ্যে পূর্ববর্তী শর্তটির জন্য হবে। আর দ্বিতীয় শর্তের উত্তর (جواب) উহ্য (محذوف) থাকবে, কারণ প্রথম শর্ত এবং তার উত্তর (جواب) সেটির ওপর নির্দেশনা দেয়। এই কারণে, কোনো বিষয়কে শর্তযুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি আবশ্যক যে, দ্বিতীয় শর্তটি প্রথমটির আগে সংঘটিত হবে; কেননা প্রথমটি উত্তরের (جواب) স্থলাভিষিক্ত। এমনকি কুফীগণ, আবু যাইদ এবং আল-মুবররাদ 'তুমি অবিচারকারী যদি তুমি তা করো'—জাতীয় বাক্যের ক্ষেত্রে দাবি করেন যে, শর্তের অব্যয়ের পূর্ববর্তী অংশটিই হলো উত্তর (جواب), কোনো নির্দেশক (دليل) নয়। অথচ উত্তরকে (جواب) অবশ্যই শর্ত (شرط)-এর পরে আসতে হয়, কারণ সেটি তার প্রভাব (أثر) এবং ফলাফল। তাই এটি উত্তরের (جواب) ওপর নির্দেশক (دليل), যেহেতু এটি তার স্থলাভিষিক্ত এবং শব্দগতভাবে তার অভাব পূরণ করে।

এ বিষয়ে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, বাক্য দুটির প্রতিটিতে রূপক (مجاز) রয়েছে। প্রথম বাক্যের রূপক (مجاز) হলো শর্ত ও তার উত্তরের মাঝে দ্বিতীয় শর্ত (شرط) দ্বারা ব্যবধান তৈরি করা, আর দ্বিতীয় বাক্যের রূপক (مجاز) হলো এর উত্তর (جواب) উহ্য (محذوف) রাখা।

এর ভিত্তিতে, প্রথম শর্তটি (شرط) অতীতকাল (ماض) অথবা বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল (مضارع) হওয়া বৈধ। তবে দ্বিতীয় শর্তটির ক্ষেত্রে সাবলীল ভাষারীতিতে অতীতকাল (ماض) হওয়া ছাড়া অন্য কিছু বৈধ নয়। কারণ উত্তরের (جواب) ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, শর্ত অতীতকাল (ماض) না হলে প্রথম উত্তরটি উহ্য (محذوف) হয় না। আর তাঁর উক্তি সম্পর্কে...
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৪৪)
(إِن تستغيثوا بِنَا إِن تذعروا تَجدوا … )

فضرورة كَقَوْلِه (بَيت) (رجز)

يَا أَقرع بن حَابِس يَا أَقرع إِنَّك إِن يصرع أَخُوك تصرع

القَوْل الثَّانِي قَول ابْن مَالك رحمه الله (تَعَالَى) إِن الْجَواب المذكورللأول كَمَا (يَقُول) الْجُمْهُور، لَكِن الشَّرْط الثَّانِي لَا جَوَاب لَهُ لَا مَذْكُور وَلَا مُقَدّر، لِأَنَّهُ مُقَيّد للْأولِ، (تَقْدِيره) بِحَال وَاقعَة موقعه، فَإِذا قلت إِن ركبت إِن لبست فَأَنت طَالِق، (فَالْمَعْنى إِن ركبت لابسة فَأَنت طَالِق)

وَكَذَلِكَ التَّقْدِير فِي الْبَيْت إِن تستغيثوا بِنَا مذعورين تَجدوا، فَهُوَ (مُوَافق) فِي اشْتِرَاط (تَأَخّر) (الْمُتَقَدّم) وَتَقْدِيم (الْمُتَأَخر) ، لَكِن تَخْرِيجه مُخَالف لتخريجهم

وَعِنْدِي أَن مَا ادعوهُ أولى من جِهَات

أَحدهَا أَن دَعوَاهُم جَارِيَة على الْقيَاس فَإِن الشَّرْط يكون جَوَابه ظَاهرا
(যদি তোমরা আমাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো, যদি তোমরা ভীত হও, তবে তোমরা পাবে … )

এটি একটি কাব্যিক আবশ্যকতা (ضرورة), যেমন তার উক্তি (بيت) (রজয ছন্দ) (رجز):

হে আকরা বিন হাবিস, হে আকরা! নিশ্চয়ই যদি তোমার ভাই ধরাশায়ী হয়, তবে তুমিও ধরাশায়ী হবে।

দ্বিতীয় মতটি হলো ইবনে মালিক (রহিমাহুল্লাহ)-এর বক্তব্য যে, উল্লিখিত উত্তরটি (جواب) প্রথমটির জন্য, যেমনটি জমহুর (الجمهور) বলে থাকেন। তবে দ্বিতীয় শর্তের (شرط) কোনো উত্তর (جواب) নেই—না উল্লিখিত, না উহ্য (مقدر); কারণ এটি প্রথমটির জন্য সীমাবদ্ধকারী। এর ব্যাখ্যা (تقدير) হলো এটি হাল বা অবস্থার (حال) স্থলাভিষিক্ত হবে। সুতরাং আপনি যখন বলেন, "যদি তুমি আরোহণ করো যদি তুমি পরিধান করো তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তখন এর অর্থ দাঁড়ায়: "যদি তুমি পরিহিত অবস্থায় আরোহণ করো তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা" (فالمعنى إن ركبت لابسة فأنت طالق)।

অনুরূপভাবে কাব্যের পঙ্‌ক্তিটির ব্যাখ্যা (تقدير) হলো: "যদি তোমরা ভীত অবস্থায় আমাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো, তবে তোমরা পাবে"। সুতরাং এটি অগ্রবর্তীর বিলম্ব (تأخر) এবং পরবর্তীর অগ্রবর্তী (تقديم) হওয়ার শর্তারোপের ক্ষেত্রে সংগতিপূর্ণ (موافق), কিন্তু এর বিশ্লেষণ (تخريج) তাদের বিশ্লেষণের তুলনায় ভিন্ন।

আমার নিকট তারা যা দাবি করেছেন তা কয়েকটি দিক থেকে অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য।

তার মধ্যে একটি হলো, তাদের দাবিটি কিয়াস বা বিধিবদ্ধ নিয়মের (قياس) অনুগামী, কেননা শর্তের (شرط) ক্ষেত্রে উত্তর (جواب) সাধারণত প্রকাশ্য হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৪৫)
ومقدرا، ودعواه خَارِجَة عَن الْقيَاس لِأَنَّهُ (جعل) شرطا لَا جَوَاب لَهُ، لَا فِي اللَّفْظ، وَلَا فِي التَّقْدِير، فَكَانَ ادِّعَاء مَا يجْرِي على الْقيَاس أولى

‌‌الثَّانِي

 

أَن مَا ادَّعَاهُ لَا يطرد لَهُ إِلَّا حَيْثُ يُمكن اجْتِمَاع (الْفِعْلَيْنِ) كالأمثلة (الْمُتَقَدّمَة) السَّابِقَة، أما إِذا قيل إِن قُمْت إِن قعدت فَأَنت طَالِق (لَا) يُمكن أَن يقدر فِي ذَلِك إِن قُمْت (قَاعِدَة) ، فَإِن هَذَا من الْمحَال، وَيَنْبَغِي على قَوْله أَنَّهَا لَا تطلق أصلا، وَكَذَلِكَ إِذا لم يجْتَمع الفعلان فِي الْعَادة، وَإِن لم يتضادا نَحْو إِن أكلت إِن شربت، وَكَذَلِكَ إِذا قَالَ إِن صليت إِن تَوَضَّأت أثبت، فَإِنَّهُ لَا يَصح أَن يقدر إِن صليت متوضئا بِمَعْنى موقعا للْوُضُوء، فَإِنَّهُمَا لَا يَجْتَمِعَانِ

‌‌الثَّالِث

 

أَن الشَّرْط بعيد من مَذْهَب الْحَال أَلا ترى أَنه للاستقبال، وَالْحَال حَال كلفظها، (وبأنها) الْمُقَارنَة، وَإِذا تبَاعد مَا بَين الشَّيْئَيْنِ (لم يَصح التَّجَوُّز) بِأَحَدِهِمَا عَن الآخر، وَقد نَص هُوَ على أَن الْجُمْلَة الْوَاقِعَة حَالا شَرطهَا (أَن لَا) تصدر بِدَلِيل اسْتِقْبَال لما بَينهمَا من التَّنَافِي

نعم (رَأَيْت) فِي مسَائِل القصري عَن الشَّيْخ أَبى عَليّ (الْفَارِسِي)
এবং এটি উহ্য (مقدرا) হিসেবে ধরা হবে; আর তার এই দাবিটি কিয়াসের (قياس) বহির্ভূত, কারণ তিনি (جعل) একটি শর্ত (شرط) সাব্যস্ত করেছেন যার কোনো উত্তর (جواب) নেই—না শব্দগতভাবে (لفظ), আর না উহ্যভাবে (تقدير)। সুতরাং কিয়াস (قياس) অনুযায়ী যা পরিচালিত হয়, সেটির দাবি করাই অধিক সমীচীন।

‌‌দ্বিতীয়ত (الثاني)

 

তিনি যা দাবি করেছেন তা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, কেবল সেখানেই সম্ভব যেখানে দুটি ক্রিয়ার (فعلين) সমন্বয় সম্ভব, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত (متقدمة) উদাহরণগুলোতে দেখা গেছে। তবে যদি বলা হয়: "যদি তুমি দাঁড়াও, যদি তুমি বসো, তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে সে ক্ষেত্রে "যদি তুমি বসা অবস্থায় (قاعدة) দাঁড়াও" এরূপ উহ্য ধরা সম্ভব নয় (لا); কারণ এটি অসম্ভব (محال)। আর তার মতানুসারে হওয়া উচিত যে, সেক্ষেত্রে আদৌ তালাক হবে না। অনুরূপভাবে যখন অভ্যাসগতভাবে দুটি ক্রিয়া (فعلان) একত্রে সংঘটিত হয় না, যদিও তারা পরস্পরবিরোধী নয়; যেমন: "যদি তুমি আহার করো, যদি তুমি পান করো"। তদ্রূপ যদি কেউ বলে: "যদি তুমি সালাত আদায় করো, যদি তুমি অজু করো, তবে সওয়াব পাবে", তবে এক্ষেত্রে "অজু সম্পাদনরত অবস্থায় সালাত আদায় করা" মর্মে উহ্য ধরা সঠিক হবে না; কারণ এই দুটি বিষয় একত্রে সংঘটিত হয় না।

‌‌তৃতীয়ত (الثالث)

 

শর্তের (شرط) বিষয়টি হালের (حال) প্রকৃতি থেকে ভিন্ন। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, শর্ত (شرط) ভবিষ্যৎকালের (استقبال) জন্য হয়ে থাকে, আর হাল (حال) তার শব্দগত অর্থের মতোই বর্তমান সময়ের জন্য এবং এটি (وبأنها) সমকালীনতা নির্দেশ করে। যখন দুটি বিষয়ের মধ্যে ব্যবধান সৃষ্টি হয়, তখন একটির পরিবর্তে অন্যটিকে রূপকার্থে ব্যবহার করা সঠিক হয় না (لم يصح التجوز)। তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন যে, যে বাক্যটি (جملة) হাল (حال) হিসেবে আসে, তার শর্ত (شرط) হলো সেটি যেন ভবিষ্যৎকাল (استقبال) জ্ঞাপক কোনো চিহ্ন দ্বারা শুরু না হয় (أن لا); কারণ তাদের উভয়ের মাঝে বৈপরীত্য বিদ্যমান।

হ্যাঁ, আমি (رأيت) শেখ আবু আলী আল-ফারিসির (الفارسي) মাসায়িলে কাসরিতে দেখেছি।
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৪৬)
رَحمَه الله (تَعَالَى) إجَازَة ذَلِك فِي نَحْو لأضربنه ذهب أَو مكث، ولأضربنه إِن ذهب وَإِن مكث

وَالَّذِي يتحرر لي أَن الْحَال كَمَا ذكر النُّحَاة على ضَرْبَيْنِ حَال مُقَارنَة ومنتظرة، وَتسَمى (حَالا) مقدرَة، فَالْأولى (ظَاهِرَة) ، وَالثَّانيَِة نَحْو {فادخلوها خَالِدين} فَإِن الخلود لَيْسَ شَيْئا يقارن الدُّخُول، وَإِنَّمَا هُوَ اسْتِمْرَار فِي الْمُسْتَقْبل، (وَيقدر) النحويون ذَلِك ادخلوها مقدرين الخلود

وَكَذَلِكَ (لتدخلن الْمَسْجِد الْحَرَام إِن شَاءَ الله (آمِنين) مُحَلِّقِينَ رؤوسكم وَمُقَصِّرِينَ، أَي مقدرين فَإِنَّهُم فِي حَال الدُّخُول لَا يكونُونَ مُحَلِّقِينَ
আল্লাহ (তাআলা) তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি এই ধরণের বাক্যে এর বৈধতা দিয়েছেন যেমন— 'আমি তাকে অবশ্যই প্রহার করব সে চলে যাক বা অবস্থান করুক', এবং 'আমি তাকে অবশ্যই প্রহার করব যদি সে যায় এবং যদি সে অবস্থান করে'।

আমার নিকট যা পরিষ্ফুটিত হয়েছে তা হলো, ব্যাকরণবিদগণ যেভাবে উল্লেখ করেছেন অবস্থা (حال) দুই প্রকার: সমসাময়িক অবস্থা (حال مقارنة) এবং প্রতীক্ষিত অবস্থা (حال منتظرة), যাকে অনুমিত অবস্থা (حال مقدرة) বলা হয়। প্রথম প্রকারটি হলো প্রকাশ্য (ظاهرة), আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো যেমন— {তোমরা সেখানে চিরস্থায়ী হিসেবে প্রবেশ করো}; কেননা চিরস্থায়ী হওয়া এমন কোনো বিষয় নয় যা প্রবেশের সময়ের সাথে সমসাময়িক হয়, বরং এটি ভবিষ্যতে অবস্থার ধারাবাহিকতা মাত্র। ব্যাকরণবিদগণ এর ব্যাখ্যা প্রদান করেন— 'তোমরা সেখানে প্রবেশ করো চিরস্থায়ী হওয়াকে অনুমিত (مقدرين) রেখে'।

অনুরূপভাবে— (তোমরা অবশ্যই ইনশাআল্লাহ মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নিরাপদ অবস্থায় (آمنين), তোমাদের মস্তক মুণ্ডনকারী ও চুল কর্তনকারী অবস্থায়)। অর্থাৎ বিষয়টি অনুমিত (مقدرين) অর্থে; কারণ প্রবেশের মুহূর্তে তারা মস্তক মুণ্ডনরত অবস্থায় থাকেন না।
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَمُقَصِّرِينَ، إِنَّمَا هم مقدرون الْحلق وَالتَّقْصِير، (فَهَذِهِ) الْحَال لَا يمْتَنع اقترانها بِحرف الِاسْتِقْبَال، لِأَنَّهَا مُسْتَقْبلَة، بِخِلَاف (الْحَال الأولى)

وعَلى هَذِه (صحت) مَسْأَلَة أبي عَليّ، (وَصَحَّ) تَخْرِيج المُصَنّف مَسْأَلَة الشَّرْط، أَعنِي صِحَّتهَا من هَذَا الْوَجْه لَا صِحَّتهَا مُطلقًا، فَإِنَّهَا مُعْتَرضَة بِغَيْر ذَلِك

نعم، ويتضح بِهَذَا بطلَان تَعْمِيم ابْن مَالك امْتنَاع اقتران الْحَال بِحرف الِاسْتِقْبَال، وَقد اتَّضَح الْأَمر فِي تَحْقِيق هذَيْن الْوَجْهَيْنِ، وَالْحَمْد لله (رب الْعَالمين)

‌‌(الْمَذْهَب) الثَّانِي

 

(فِيمَا) يَقع (بِهِ) مَضْمُون الْجَواب (بعد الشَّرْطَيْنِ) حكى لي بعض عُلَمَائِنَا عَن إِمَام الْحَرَمَيْنِ رحمه الله (تَعَالَى) أَن الْقَائِل إِذا قَالَ إِن ركبت إِن لبست فَأَنت طَالِق، كَانَ الطَّلَاق مُعَلّقا على حُصُول الرّكُوب واللبس، سَوَاء أوقعا على ترتيبهما فِي الْكَلَام أم متعاكسين أم مُجْتَمعين

ثمَّ رَأَيْت هَذَا القَوْل محكيا عَن غير الإِمَام رحمه الله

وَالَّذِي يظْهر لي فَسَاد هَذَا القَوْل، لإن قَائِله لَا يَخْلُو أمره من أَن يَجْعَل
...এবং চুল ছাঁটনাকারীগণ, তারা তো কেবল মাথা মুণ্ডন ও চুল ছাঁটার সংকল্পকারী। এই অবস্থা (الحال) ভবিষ্যৎবোধক হরফের (حرف الاستقبال) সাথে যুক্ত হতে বাধাগ্রস্ত হয় না, কারণ এটি ভবিষ্যৎকাল নির্দেশক; যা প্রথম অবস্থার (الحال الأولى) বিপরীত।

এর ওপর ভিত্তি করেই আবু আলী-র মাসআলাটি সঠিক (صحت) প্রমাণিত হয় এবং গ্রন্থকারের শর্তযুক্ত মাসআলার বিশ্লেষণটি (تخريج) সঠিক (صح) সাব্যস্ত হয়। আমি বলতে চাচ্ছি যে, এটি এই দিক থেকে সঠিক (صحة), সামগ্রিকভাবে সঠিক নয়; কারণ এটি অন্য বিষয়ের দ্বারা আপত্তিকৃত।

হ্যাঁ, এর মাধ্যমে ইবনে মালিকের সেই সাধারণীকরণের অসারতা স্পষ্ট হয় যে, অবস্থা (الحال) ভবিষ্যৎবোধক হরফের সাথে যুক্ত হওয়া নিষিদ্ধ। এই দুটি দিকের বিশ্লেষণের (تحقيق) ক্ষেত্রে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক (رب العالمين) আল্লাহর জন্য।

‌দ্বিতীয় মতাদর্শ (المذهب)

 

দুইটি শর্তের পরে (بعد الشرطين) জবাবের (جواب) বিষয়বস্তু যা দ্বারা সংঘটিত হয়: আমাদের কোনো কোনো আলিম ইমামুল হারামাইন (রহিমাহুল্লাহু তাআলা - تعالى)-এর সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, কোনো বক্তা যখন বলে: 'যদি তুমি আরোহণ করো, যদি তুমি পরিধান করো, তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা', তখন তালাক কার্যকর হওয়া আরোহণ ও পরিধান সংঘটিত হওয়ার ওপর স্থগিত (معلق) থাকবে; চাই তা বাক্যের ক্রম অনুযায়ী সংঘটিত হোক কিংবা বিপরীত ক্রমে অথবা একত্রে।

পরবর্তীতে আমি এই মতটি ইমাম (রহিমাহুল্লাহ) ছাড়া অন্য কারো থেকেও বর্ণিত হতে দেখেছি।

আর আমার নিকট এই মতটির অসারতা স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, কারণ এর প্রবক্তার বিষয়টি এমন হওয়া থেকে মুক্ত নয় যে, তিনি এটিকে...
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৪৮)
الْجَواب الْمَذْكُور (لمجموع) الشَّرْطَيْنِ، أَو للْأولِ فَقَط، أَو (الثَّانِي) فَقَط، لَا جَائِز أَن يَجعله جَوَابا لَهما مَعًا لِأَنَّهُ إِمَّا أَن يقدر بَين الشَّرْطَيْنِ حرفا رابطا أَو لَا، فَإِن لم يقدر ذَلِك لم يَصح أَن يوردا على جَوَاب وَاحِد، لِأَن ذَلِك نَظِير أَن (تَقول) زيد عَمْرو عنْدك، (وَتقول) عنْدك خبر عَنْهُمَا فَيُقَال لَك (هَل) إِذْ شركت بَين الاسمين فِي الْخَبَر الْوَاحِد أتيت بِمَا يرْبط بَينهمَا، وَإِن قدرته فَلَا يَخْلُو ذَلِك الَّذِي تقدره من أَن يكون فَاء أَو (واوا) إِذْ لَا يَصح (غَيرهَا) فَإِن قدرته فَاء (كَمَا الْفَاء مقدرَة) فِي قَوْله

(من يفعل الْحَسَنَات الله يشكرها … ) // الْبَسِيط //
উল্লিখিত উত্তর (الجواب) কি শর্তদ্বয়ের (الشرطين) সমষ্টির (لمجموع) জন্য, নাকি কেবল প্রথমটির জন্য, অথবা কেবল দ্বিতীয়টির (الثاني) জন্য? একে উভয় শর্তের জন্য একত্রে উত্তর (الجواب) হিসেবে নির্ধারণ করা বৈধ নয়। কারণ, এক্ষেত্রে হয় শর্তদ্বয়ের (الشرطين) মাঝে একটি সংযোজক অব্যয় (حرف رابط) উহ্য ধরতে হবে, নতুবা নয়। যদি তা উহ্য ধরা না হয়, তবে তাদের একটি মাত্র উত্তরের (الجواب) ওপর উপস্থাপন করা শুদ্ধ হবে না। কারণ এটি অনেকটা এমন যে আপনি বললেন (تقول): "জায়েদ ও আমর আপনার নিকট", এবং বললেন (وتقول): "আপনার নিকট" কথাটি তাদের উভয়ের জন্য খবর (خبر)। এমতাবস্থায় আপনাকে বলা হবে (هل): যেহেতু আপনি একটি খবরের (الخبر) ক্ষেত্রে দুই বিশেষ্যের মাঝে সমন্বয় করেছেন, তবে কি আপনি তাদের মাঝে কোনো সংযোজক এনেছেন? আর যদি আপনি তা উহ্য ধরেন, তবে সেই উহ্য বিষয়টি 'ফা' (فاء) অথবা 'ওয়াও' (واوا) হওয়া ব্যতীত অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয়। কারণ এগুলো ছাড়া অন্য কিছু (غيرها) শুদ্ধ নয়। সুতরাং যদি আপনি 'ফা' (فاء) উহ্য ধরেন (যেভাবে 'ফা' উহ্য (مقدرة) ধরা হয়েছে) কবির এই উক্তিতে:

(যে ব্যক্তি নেক কাজ করে, আল্লাহ তার প্রতিদান দেন … ) // আল-বাসিত //
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৪৯)
أَي فَالله يشكرها

فَالشَّرْط الثَّانِي وَجَوَابه جَوَاب الأول، فعلى هَذَا لَا يَقع الطَّلَاق إِلَّا بِوُقُوع مَضْمُون الشَّرْطَيْنِ، وَكَون الثَّانِي بعد الأول، كَمَا أَنَّك لَو صرحت بِالْفَاءِ كَانَ الحكم كَذَلِك

وَهَذَا خلاف قَوْله ثمَّ حذف الْفَاء لَا يَقع إِلَّا فِي النَّادِر من الْكَلَام، أَو فِي الضَّرُورَة، فَلَا يحمل عَلَيْهِ الْكَلَام (الفصيح)

وَإِن قدرت الْوَاو كَمَا هِيَ مقدرَة فِي (قَوْله) سُبْحَانَهُ (وَتَعَالَى) {وُجُوه يَوْمئِذٍ خاشعة} ، فَلَا شكّ أَن الطَّلَاق يَقع بِكُل من الْأَمريْنِ على هَذَا التَّقْدِير، وَلَكِن هَذَا التَّقْدِير لَا يتَعَيَّن لجَوَاز أَن الْمُتَكَلّم إِنَّمَا قدر الْفَاء (إِمَّا بالمجموع) ، (من) التَّرْتِيب الْمَذْكُور، أَو يكون الْكَلَام لَا تَقْدِير فِيهِ، فَلم قلت يتَعَيَّن تَقْدِير الْوَاو

(وَلَا) جَائِز أَن (تَجْعَلهُ) جَوَابا للْأولِ فَقَط، وَجَوَاب الثَّانِي
অর্থাৎ, আল্লাহ এর প্রতিদান দেবেন।

সুতরাং দ্বিতীয় শর্ত (شرط) এবং এর জবাব (جواب) হলো প্রথমটির জবাবের অনুরূপ; অতএব, এই ভিত্তিতে উভয় শর্তের বিষয়বস্তু বাস্তবায়িত হওয়া এবং প্রথমটির পর দ্বিতীয়টি ঘটা ব্যতীত তালাক কার্যকর হবে না, যেমনটি আপনি যদি স্পষ্টভাবে ‘ফা’ বর্ণটি উল্লেখ করতেন তবে বিধানটি তেমনই হতো।

আর এটি তার এই বক্তব্যের পরিপন্থী যে, ‘ফা’ বিলুপ্ত হওয়া কেবল বিরল (نادر) কথাবার্তায় অথবা বিশেষ প্রয়োজনে (ضرورة) ঘটে থাকে; সুতরাং প্রাঞ্জল (فصيح) বক্তব্যকে এর ওপর প্রয়োগ করা সমীচীন নয়।

আর আপনি যদি এখানে ‘ওয়াও’ এর উপস্থিতি ধরে নেন (تقدير), যেমনটি মহান ও পবিত্র আল্লাহর বাণী: {সেদিন কতগুলো মুখমন্ডল হবে অবনত} এর ক্ষেত্রে উহ্য ধরা হয়েছে, তবে এই উহ্য মান্যতা (تقدير) অনুযায়ী নিঃসন্দেহে উভয় বিষয়ের মাধ্যমেই তালাক পতিত হবে। কিন্তু এই উহ্য মান্যতাটি (تقدير) সুনির্ধারিত নয়; কারণ এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে বক্তা কেবল উল্লিখিত ধারাবাহিকতা (ترتيب) অনুযায়ী ‘ফা’ এর উপস্থিতি ধরে নিয়েছিলেন, অথবা বাক্যটিতে কোনো কিছুই উহ্য (تقدير) নেই; এমতাবস্থায় কেন আপনি বললেন যে ‘ওয়াও’ এর উপস্থিতি ধরা (تقدير) সুনির্ধারিত?

এবং এটি বৈধ নয় যে আপনি একে কেবল প্রথমটির জবাব (جواب) হিসেবে সাব্যস্ত করবেন, আর দ্বিতীয়টির জবাব...
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৫০)
(مَحْذُوف) لدلَالَة الشَّرْط الأول وَجَوَابه عَلَيْهِ لِأَنَّهُ على هَذَا التَّقْدِير يلْزمه أَن يَقُول بقول الْجُمْهُور، وَهُوَ لَا يَقُول بِهِ، وَلَا جَائِز أَن يَجعله جَوَابا للثَّانِي لِأَنَّك إِمَّا أَن تجْعَل جَوَاب الشَّرْط الأول هُوَ الشَّرْط الثَّانِي وَجَوَابه، أَو محذوفا، يدل عَلَيْهِ الْجَواب الْمَذْكُور للثَّانِي

لَا سَبِيل إِلَى الأول لِأَنَّهُ على هَذَا التَّقْدِير تجب الْفَاء فِي الشَّرْط الثَّانِي لِأَنَّهُ (لم) يَصح للشّرط أَن يَلِي الشَّرْط، لَو قلت إِن إِن لم يَصح، وكل جَوَاب لَا يَصح (أَن) يكون شرطا، فَإِنَّهُ يتَعَيَّن اقترانه بِالْفَاءِ، وَلَا فَاء هُنَا، فاستحال هَذَا الْوَجْه

فَإِن قلت لَعَلَّه يَجعله مثل قَوْله

(من يعْمل الْحَسَنَات الله يشكرها … )

فَهَذَا وَجه ضَعِيف كَمَا قدمنَا، فَلم حمل الْكَلَام عَلَيْهِ بل لم أوجب أَن يكون الْكَلَام مَحْمُولا (مَحْمُولا)

وَلَا سَبِيل إِلَى الثَّانِي، لِأَنَّهُ خلاف المالوف فِي الْعَرَبيَّة، فَإِن منهاج كَلَامهم أَن يحذف من الثَّانِي لدلَالَة الأول، لَا الْعَكْس

فَأَما قَوْله (المنسرح)

(نَحن بِمَا عندنَا وَأَنت بِمَا … عنْدك رَاض (وَالْأَمر) مُخْتَلف)
(বিলুপ্ত (محذوف)) প্রথম শর্ত ও তার জওয়াবের ইশারার কারণে; কারণ এই অনুমিতি অনুযায়ী তাকে জমহুর বা সংখ্যাগুরু আলেমদের মত অনুযায়ী বলতে হয়, অথচ তিনি তা বলেন না। আর একে দ্বিতীয় শর্তের জওয়াব হিসেবে গণ্য করা বৈধ নয়, কারণ আপনি হয় প্রথম শর্তের জওয়াবকে দ্বিতীয় শর্ত ও তার জওয়াব হিসেবে সাব্যস্ত করবেন, অথবা একে বিলুপ্ত (محذوف) ধরবেন যা দ্বিতীয়টির জন্য উল্লিখিত জওয়াব দ্বারা নির্দেশিত হবে।

প্রথম পদ্ধতির কোনো সুযোগ নেই, কারণ এই অনুমিতি অনুযায়ী দ্বিতীয় শর্তে ‘ফা’ থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ে। কেননা একটি শর্তের পরপরই আরেকটি শর্ত আসা সঠিক নয়; যেমন আপনি যদি ‘ইন’ ‘ইন’ বলেন তবে তা সঠিক হবে না। আর যে জওয়াব শর্ত হওয়ার যোগ্যতা রাখে না, তার সাথে ‘ফা’ যুক্ত হওয়া আবশ্যক, অথচ এখানে কোনো ‘ফা’ নেই, তাই এই সুরতটি অসম্ভব।

যদি আপনি বলেন: সম্ভবত তিনি একে তাঁর নিম্নোক্ত বাণীর মতো গণ্য করেছেন:

(যে ব্যক্তি নেক আমল করবে, আল্লাহ তার শুকরিয়া আদায় করবেন/প্রতিদান দেবেন … )

এটি একটি দুর্বল (ضعيف) দিক যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। তবে কেন বক্তব্যকে এর ওপর ভিত্তি করা হলো, বরং কেন বক্তব্যকে ভিত্তিশীল (محمولاً) হওয়া আবশ্যক করা হলো?

আর দ্বিতীয় পদ্ধতিরও কোনো অবকাশ নেই, কারণ এটি আরবি ভাষার পরিচিত রীতির পরিপন্থী। তাদের ভাষার পদ্ধতি হলো প্রথমটির ইঙ্গিত অনুযায়ী দ্বিতীয়টি বিলুপ্ত (محذوف) করা, এর বিপরীতটি নয়।

আর তাঁর এই উক্তি (মুনসারিহ ছন্দ):

(আমাদের কাছে যা আছে তা নিয়ে আমরা এবং তোমার কাছে যা আছে তা নিয়ে তুমি সন্তুষ্ট, আর বিষয়টি ভিন্ন)
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৫১)
(فخلاف) الجادة حَتَّى (تحيل لَهُ) ابْن كيسَان، فَجعل (نَحن) للمتكلم الْمُعظم نَفسه ليَكُون (رَاض) خَبرا عَنهُ

فَأَنت ترى عدم أنسهم بِهَذَا النَّوْع حَتَّى تكلّف لَهُ هَذَا الإِمَام هَذَا الْوَجْه، (حكى عَنهُ ذَلِك) أَبُو جَعْفَر النّحاس فِي شرح الأبيات وَلِأَنَّهُ أَيْضا خلاف المألوف من عَادَتهم فِي توارد ذَوي جوابين من جعل الْجَواب للثَّانِي

ثمَّ الَّذِي يبطل هَذَا الْمَذْهَب من أَصله أَنا تأملنا مَا ورد من كَلَام الْعَرَب من اعْتِرَاض الشَّرْط على (الشَّرْط) ، فوجدناهم (لَا) يستعملونه إِلَّا وَالْحكم مُعَلّق على مَجْمُوع الْأَمريْنِ بِشَرْط تقدم الْمُؤخر وَتَأَخر الْمُقدم فَوَجَبَ أَن يحمل الْكَلَام على مَا ثَبت فِي كَلَامهم (كَقَوْلِه)

(إِن تستغيثوا بِنَا … الْبَيْت … )
(সুতরাং এটি) প্রচলিত ধারার পরিপন্থী, এমনকি (তার জন্য একটি ব্যাখ্যা বের করেছেন) ইবনে কায়সান; তিনি (আমরা) শব্দটিকে এমন বক্তার জন্য নির্ধারণ করেছেন যে নিজেকে মহিমান্বিত করে, যাতে (সন্তুষ্ট) শব্দটি তার খবর বা বিধেয় হিসেবে গণ্য হয়।

সুতরাং আপনি দেখছেন যে এই প্রকারের সাথে তারা পরিচিত ছিলেন না, এমনকি এই ইমাম এই ব্যাখ্যার স্বপক্ষে অনেক শ্রম দিয়েছেন। (তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন) আবু জাফর আন-নাহহাস ‘শারহুল আবইয়াত’-এ। এছাড়া এটি তাদের রীতিরও পরিপন্থী যেখানে দুটি জওয়াবের সমাগম ঘটলে দ্বিতীয়টিকে উত্তর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

অতঃপর যা এই মতবাদকে সমূলে বাতিল করে দেয় তা হলো, আমরা আরবের বাকরীতিতে শর্তের ওপর (শর্তের) অনুপ্রবেশ নিয়ে নিবিড়ভাবে চিন্তা করেছি। আমরা দেখেছি যে তারা এটি (না) ব্যবহার করেন যদি না বিধানটি উভয় বিষয়ের সমষ্টির ওপর স্থগিত থাকে, যেখানে পরবর্তীটি আগে এবং পূর্ববর্তীটি পরে আসার শর্ত থাকে। সুতরাং বক্তব্যটিকে তাদের ভাষায় যা প্রমাণিত হয়েছে সে অনুযায়ীই গ্রহণ করা আবশ্যক (যেমন তাঁর উক্তি):

(যদি তোমরা আমাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো … কবিতাংশ … )
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৫২)
فَإِن الذعر مقدم على الاستغاثة، والاستغاثة مُقَدّمَة على الوجدان

فَهَذَا مَا عِنْدِي فِي دفع هَذَا الْمَذْهَب

‌‌الْمَذْهَب الثَّالِث

أَن الشَّرْط الثَّانِي جَوَابه مَذْكُور، وَالشّرط الأول جَوَابه الشَّرْط الثَّانِي وَجَوَابه

فَإِذا قيل إِن لبست إِن ر كبت فَأَنت طَالِق، فَإِنَّمَا تطلق (إِن ركبت أَولا ثمَّ لبست)

وَهَذَا القَوْل رَاعى من قَالَ بِهِ تَرْتِيب اللَّفْظ وَإِعْطَاء الْجَواب لما جاوره، وَإِنَّمَا يَسْتَقِيم لَهُ هَذَا الْعَمَل على تَقْدِير الْفَاء فِي الشَّرْط الثَّانِي ليَصِح كَونه جَوَابا للْأولِ

(وعَلى هَذَا) فَلَا يلرم مُضِيّ فعل الشَّرْط الأول وَلَا الثَّانِي لِأَن كلا مِنْهُمَا قد أَخذ جَوَابه

وَهَذَا القَوْل بَاطِل بِأُمُور

أَحدهَا أَن الْفَاء لَا تحذف إِلَّا فِي الشّعْر

الثَّانِي أَن الْقَاعِدَة فِي اجْتِمَاع ذَوي جَوَاب أَن يكون الْجَواب للسابق مِنْهُمَا

وَالثَّالِث أَنه لَا يَتَأَتَّى لَهُ فِي (قَوْله)

(إِن تستغيثوا بِنَا إِن تذعروا … الْبَيْت … )
কেননা আতঙ্ক আর্তনাদ করার চেয়ে অগ্রবর্তী (مقدم), আর আর্তনাদ উপলব্ধির চেয়ে অগ্রবর্তী (مقدم)।

এই মত (المذهب) খণ্ডন করার ব্যাপারে এটিই আমার নিকট যা রয়েছে।

‌‌তৃতীয় মত (المذهب)

দ্বিতীয় শর্তের (الشرط) উত্তর (الجواب) উল্লিখিত রয়েছে, আর প্রথম শর্তের (الشرط) উত্তর (الجواب) হলো দ্বিতীয় শর্ত ও তার উত্তর (الجواب)।

অতএব যখন বলা হয়, "যদি তুমি পরিধান করো, যদি তুমি আরোহণ করো, তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তবে সে কেবল তখনই তালাকপ্রাপ্তা হবে (যদি সে প্রথমে আরোহণ করে এবং পরে পরিধান করে)।

এই অভিমতটি যারা ব্যক্ত করেছেন, তারা শব্দের বিন্যাস রক্ষা করেছেন এবং উত্তরটিকে (الجواب) তার নিকটবর্তী শব্দের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। এটি কেবল তখনই সংগত হতে পারে যখন দ্বিতীয় শর্তের (الشرط) ক্ষেত্রে 'ফা' (الفاء) অক্ষরটি উহ্য ধরা হবে, যেন তা প্রথম শর্তের উত্তর (الجواب) হওয়ার যোগ্য হয়।

(এই ভিত্তিতে) প্রথম বা দ্বিতীয় কোনো শর্তের (الشرط) ক্রিয়া অতিবাহিত হওয়া আবশ্যক নয়, কারণ তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ উত্তর (الجواب) গ্রহণ করেছে।

এই অভিমতটি কয়েকটি কারণে বাতিল (باطل)।

প্রথমত, কাব্য ব্যতিরেকে 'ফা' (الفاء) বিলুপ্ত হয় না।

দ্বিতীয়ত, একাধিক উত্তর (الجواب) বিশিষ্ট পদের একত্র হওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, উত্তরটি (الجواب) উভয়ের মধ্যে পূর্ববর্তীটির জন্য নির্ধারিত হবে।

তৃতীয়ত, এটি তার এই (উক্তির) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না:

(যদি তোমরা আমাদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো, যদি তোমরা আতঙ্কিত হও … কাব্য পঙ্ক্তি (البيت) … )
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৫৩)
لِأَن الذعر (مقدم) على الاستغاثة

فَهَذَا مَا بلغنَا من الْأَقْوَال فِي هَذِه الْمَسْأَلَة، وَمَا حَضَرنَا فِيهَا من المباحث

(وتحرر لنا أَنه إِذا قيل) إِن تذعروا إِن تستغيثوا بِنَا تَجدوا، أَو إِن تتوضأ إِن صليت أثبت كَانَ كلَاما بَاطِلا لما قَررنَا من أَن الصَّحِيح أَن الْجَواب للشّرط الأول، وَأَن جَوَاب الثَّانِي مَحْذُوف، مَدْلُول عَلَيْهِ بِالشّرطِ الأول وَجَوَابه

فَيجب (أَلا يكون) الشَّرْط الأول وَجَوَابه مسببين عَن الشَّرْط الثَّانِي، وَالْأَمر فِيمَا ذكرنَا بِالْعَكْسِ، وَالصَّوَاب أَن يُقَال إِن صليت إِن تَوَضَّأت أثبت بِتَقْدِير إِن تَوَضَّأت فَإِن صليت أثبت،

وَكُنَّا قدمنَا أَنه يعْتَرض (أَكثر) من (الشَّرْطَيْنِ) ، وتمثيل ذَلِك إِن أَعطيتك إِن وعدتك إِن سَأَلتنِي فَعَبْدي حر، فَإِن وَقع السُّؤَال أَولا، ثمَّ الْوَعْد، ثمَّ (الْعَطاء) وَقعت الْحُرِّيَّة، وَإِن وَقع على غير هَذَا التَّرْتِيب فَلَا حريَّة على القَوْل الأول، وَهُوَ الصَّحِيح، وَيَأْتِي فِيهِ ذَلِك الْخلاف فِي التَّوْجِيه

فالجمهور يَقُولُونَ فَعَبْدي حر جَوَاب إِن أَعطيتك، وَإِن أَعطيتك فَعَبْدي حر دَال على جَوَاب إِن وعدتك، وَهَذَا كُله دَال على جَوَاب إِن سَأَلتنِي، وَكَأَنَّهُ قيل إِن سَأَلتنِي، فَإِن وعدتك فَإِن أَعطيتك فَعَبْدي حر

وَعند (ابْن مَالك) إِن أَعطيتك واعدا لَك سَائِلًا إيَّايَ فَعَبْدي حر، (واعدا) حَال من فَاعل (أَعطيتك) و (سَائِلًا) حَال من مَفْعُوله، وَقَوله
কারণ আতঙ্ক সাহায্য প্রার্থনার (অগ্রবর্তী)

এই মাসআলায় যে সকল অভিমত আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং এ বিষয়ে যে সকল আলোচনা আমাদের নিকট উপস্থিত হয়েছে তা এই

(এবং আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, যদি বলা হয়) "যদি তোমরা আতঙ্কিত হও, যদি তোমরা আমাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো, তবে তোমরা আমাদের পাবে," অথবা "যদি তুমি ওযু করো, যদি তুমি নামাজ পড়ো, তবে সওয়াব পাবে"—তবে এটি একটি বাতিল বা অসার বক্তব্য হবে। কারণ আমরা যা সাব্যস্ত করেছি তা হলো, সঠিক (الصحيح) মত অনুযায়ী জওয়াব বা উত্তর প্রথম শর্তের জন্য নির্ধারিত থাকে, আর দ্বিতীয় শর্তের উত্তরটি উহ্য থাকে, যা প্রথম শর্ত ও তার উত্তর দ্বারা নির্দেশিত হয়

সুতরাং এটি আবশ্যক যে, প্রথম শর্ত ও তার উত্তর যেন দ্বিতীয় শর্তের কারণে সংঘটিত (মসব্বাব) না হয়, অথচ আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে বিষয়টি এর বিপরীত। বরং সঠিক পদ্ধতি হলো এভাবে বলা: "যদি তুমি নামাজ পড়ো, যদি তুমি ওযু করো, তবে সওয়াব পাবে," যার প্রচ্ছন্ন অর্থ হলো: "যদি তুমি ওযু করো, অতঃপর যদি তুমি নামাজ পড়ো, তবে সওয়াব পাবে,"

আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, (দুইয়ের অধিক শর্ত) একসাথ হতে পারে। এর উদাহরণ হলো: "যদি আমি তোমাকে দান করি, যদি আমি তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিই, যদি তুমি আমার কাছে চাও, তবে আমার দাস মুক্ত।" এমতাবস্থায় যদি প্রথমে সাহায্য প্রার্থনা, অতঃপর প্রতিশ্রুতি এবং সবশেষে (দান) সম্পন্ন হয়, তবে দাস মুক্ত হবে। কিন্তু যদি এই ক্রম অনুযায়ী না ঘটে, তবে প্রথম মতানুসারে দাস মুক্ত হবে না; আর এটিই হলো সঠিক (الصحيح) মত। এ বিষয়ে ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে যে মতভেদ রয়েছে তা সামনে আসবে

জমহুর বা সংখ্যাগুরু উলামায়ে কেরাম বলেন, "তবে আমার দাস মুক্ত" বাক্যটি "যদি আমি তোমাকে দান করি" এর উত্তর। আর "যদি আমি তোমাকে দান করি, তবে আমার দাস মুক্ত" এই পুরো অংশটি "যদি আমি তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিই" এর উত্তরের নির্দেশক। আবার এই সবটুকুই "যদি তুমি আমার কাছে চাও" এর উত্তরের দিকে ইঙ্গিত করে। বিষয়টি যেন এমন যে বলা হলো: "যদি তুমি আমার কাছে চাও, অতঃপর যদি আমি তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিই, অতঃপর যদি আমি তোমাকে দান করি, তবে আমার দাস মুক্ত"

ইবনে মালিকের মতে (বাক্যটির অর্থ হবে): "আমি তোমাকে প্রতিশ্রুতি দানকারী ও তোমার পক্ষ থেকে প্রার্থনাকারী অবস্থায় যদি দান করি, তবে আমার দাস মুক্ত।" এখানে (প্রতিশ্রুতি দানকারী) শব্দটি (আমি তোমাকে দান করি) এর কর্তার অবস্থা (হাল) এবং (প্রার্থনাকারী) শব্দটি তার কর্মের অবস্থা (হাল) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এবং তাঁর বক্তব্য...
(খণ্ড: ১) ইতিরাদুশ শারতি আলাশ শারত (পৃষ্ঠা: ৫৪)
(فَعَبْدي حر) جَوَاب (عَن الشَّرْط) الأول

(فَهَذَا) مُقْتَضى قَوْله فِي (الشَّرْطَيْنِ، وَهُوَ ضَعِيف، وَالله (سُبْحَانَهُ) وَتَعَالَى أعلم

انْتهى تمت بِحَمْد الله وعونه (وَالْحَمْد لله على كل حَال)
(তবে আমার দাস মুক্ত) এটি প্রথম (শর্তের) উত্তর

(সুতরাং এটিই) উভয় শর্তের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যের দাবি, আর এটি দুর্বল (ضعيف); আর আল্লাহ (সুবহানাহু) ওয়া তাআলা অধিক জ্ঞাত

সমাপ্ত। আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর সাহায্যে এটি সম্পন্ন হলো (এবং সর্বাবস্থায় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য)