(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: -)
اتحاف الفاضل بالفعل المبني لغير الفاعل القسم: النحو والصرف
الكتاب: اتحاف الفاضل بالفعل المبني لغير الفاعل
المؤلف: محمد علي بن محمد بن علان الصديقي (ت 1057 هـ)
علق عليه ووضع حواشيه: إبراهيم شمس الدين
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2001 م
عدد الصفحات: 110
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইতহাফুল ফাদিল বিল ফি'লিল মাবনি লি-গয়রিল ফা'ইল বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
গ্রন্থ: ইতহাফুল ফাদিল বিল ফি'লিল মাবনি লি-গয়রিল ফা'ইল
লেখক: মুহাম্মাদ আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আল্লান আল-সিদ্দিকী (মৃত্যু ১০৫৭ হি.)
টীকা ও ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন: ইব্রাহিম শামস আল-দীন
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিইয়াহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২১ হি. - ২০০১ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
[خطبة الكتاب]الحمد لله الفاعل لجميع ما في الكون ففعل أسند فيه لغيره فعل أسند لغير الفاعل الموجد لجميع ما فيه مما هو على كمال وحدانيته وباهر قدرته أقوم البراهين وأعظم الدلائل أحمده حمدا لا يغير عن صفته بحال وأشكره على نعمه المتواترة بالبكر والآصال وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له الواحد الغفار وأشهد أن سيدنا محمدا عبده ورسوله المصطفى المختار
وزاده فضلا وشرفا لديه وعلى آله الأطهار وصحابته الأخيار ووارثيه العلماء وتابعيه على هديه القويم ما دامت الأرض والسماء
وبعد. . . فإن الكتاب المسمى بالمنهل المأهول في الفعل المبني للمجهول جمع الأوحد الفاضل الأمجد العالم العامل الشيخ الإمام الحبر الهمام ذي التآليف المفيدة والتحقيقات العديدة القاضي خير الدين أبي الخير ابن أبي السعود بن ظهيرة القرشي المخزومي المكي الشافعي تغمده الله برحمته وأسكنه بحبوح جنته مؤلف فريد في بابه مفيد لقاصدي معناه وطلابه إلا أنه فاته من ذلك الكثير وما أتى به بالنسبة إلى ما أخل به كاد أن يكون كالنزر اليسير فرأيت أن أذيل عليه ما فاته من ذلك وأكمل بنيان كثير من المتروكات لينتفع بها الطالب لتلك المسالك وجمعت بين الأصل والمزيد ليعم النفع المفيد والمستفيد وجعلت على المزيد صورة ميم تنبيها على أنه مزيد على أصله الفخيم وذكرت اللفظ في الحرف المبدوء هو به سواء فيه الأصلي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
[গ্রন্থের ভূমিকা]সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মহাবিশ্বের সবকিছুর প্রকৃত কর্তা; তাঁর কার্যে যখন অন্য কাউকে সম্পৃক্ত করা হয়, তখন তা মূলত প্রকৃত কর্তা ব্যতীত অন্যের দিকে সম্বন্ধ করা হয় (রূপকার্থে)। তিনিই মহাবিশ্বের সবকিছুর অস্তিত্বদানকারী, যা তাঁর একত্ববাদের পূর্ণতা ও অসীম ক্ষমতার সুষ্পষ্ট প্রমাণ এবং মহান নিদর্শন। আমি তাঁর এমন প্রশংসা করি যা কোনো অবস্থাতেই তাঁর গুণাবলি থেকে বিচ্যুত হয় না। আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি তাঁর সেই নিরবচ্ছিন্ন (المتواترة) নিয়ামতরাজির ওপর যা সকাল ও সন্ধ্যায় বর্ষিত হয়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি অদ্বিতীয় ও অতিশয় ক্ষমাশীল। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা এবং মনোনীত রাসুল।
আল্লাহ তাঁর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব বৃদ্ধি করুন এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ, নেককার সাহাবীগণ, তাঁর উত্তরাধিকারী ওলামায়ে কেরাম এবং আসমান-জমিন যতকাল বিদ্যমান থাকবে ততকাল তাঁর সঠিক পথের অনুসারীদের ওপর রহমত ও বরকত বর্ষণ করুন।
অতঃপর... 'আল-মানহাল আল-মাহউল ফিল ফেইল আল-মাবনি লিল মাজহুল' নামক গ্রন্থটি সংকলন করেছেন অনন্য, মহৎ ও বরেণ্য আলেম, শেখ, ইমাম ও বিদগ্ধ পণ্ডিত, বহু গবেষণাধর্মী ও উপকারী কিতাবের রচয়িতা, কাজী খাইরুদ্দীন আবু আল-খাইর ইবনে আবি আল-সউদ ইবনে জহিরা আল-কুরাশি আল-মাখজুমি আল-মাক্কি আল-শাফিঈ (আল্লাহ তাঁকে রহমতের চাদরে আবৃত করুন এবং জান্নাতুল ফেরদাউসে স্থান দিন)—এটি স্বীয় বিষয়ে একটি অদ্বিতীয় কিতাব এবং এর জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তবে এতে অনেক কিছুই বাদ পড়ে গিয়েছিল এবং তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা বাদ পড়া বিষয়গুলোর তুলনায় নগণ্য ছিল। তাই আমি সংকল্প করলাম যে, তিনি যা ছেড়ে গেছেন তা সংযোজন করব এবং অনেক পরিত্যক্ত (المتروكات) বিষয়ের ভিত্তি পূর্ণ করব, যাতে এই শাস্ত্রের শিক্ষার্থীরা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে। আমি মূল আলোচনা ও আমার বর্ধিত অংশকে একত্রিত করেছি যাতে এর উপকারিতা সর্বজনীন হয়। আমি বর্ধিত অংশের শুরুতে 'মিম' (م) চিহ্ন প্রদান করেছি যাতে এটি যে মূল গ্রন্থের অতিরিক্ত অংশ তা স্পষ্ট হয়। আমি শব্দগুলোকে বর্ণানুক্রমিক সাজিয়েছি, তা মূল গ্রন্থের হোক কিংবা আমার সংযোজন।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والمزيد وقدمت وأخرت ليحسن الترتيب فيقرب على المستفيد وسميته «إتحاف الفاضل بالفعل المبني لغير الفاعل».
وتلك الزوائد غالبها من كتابي الأفعال أحدهما للعلامة أبي مروان عبد الملك بن طريف الأندلسي والثاني للإمام أبي بكر محمد بن عبد العزيز بن القوطية
وإذا قلت: قالاه فهما المراد.
وتارة أصرح باسمهما تكميلا للمفاد.
وقد تتبع الكتابين المذكورين واستخرج درر البحرين المسطورين صديقنا السيد الشريف ذو الرتبة العلية والمنح الإلهية الجامع بين شرفي العلم والنسب المتمسك من عرى العلوم الشريعة بأوثق سبب السيد علي بن يحيى الحسني الإدريسي الفاسي المكي نزيل البلد الحرام أدام الله عليه الإنعام ومن الله استمد الإعانة والتوفيق للصواب والإبانة وترتيبه كترتيب أصله في ذكر مادة الباب وفعله
আমি এতে আরও অনেক কিছু সংযোজন করেছি এবং বিন্যাস সুন্দর করার জন্য বিষয়গুলোকে আগে-পিছে করেছি যাতে তা পাঠকদের নিকট সহজবোধ্য হয়। আমি এর নামকরণ করেছি 'ইতহাফুল ফাদিল বিল ফি’লিল মাবনি লিগয়রিল ফায়িল'।
আর এই বর্ধিত অংশগুলোর অধিকাংশ 'কিতাবুল আফ’আল' নামক দু’টি গ্রন্থ হতে সংগৃহীত; যার একটি আল্লামা আবু মারওয়ান আব্দুল মালিক ইবনে তরীফ আল-আন্দালুসী এবং দ্বিতীয়টি ইমাম আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ ইবনুল কুতিয়্যাহ-এর রচিত।
আর যখন আমি বলি: "তারা দু’জন বলেছেন", তখন তারাই উদ্দিষ্ট হন।
কখনও কখনও আমি বক্তব্যের পূর্ণতার স্বার্থে তাদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করি।
উল্লিখিত কিতাবদ্বয় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং এই লিপিবদ্ধ দুই সমুদ্র হতে অমূল্য রত্নরাজি আহরণ করেছেন আমাদের সুহৃদ, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও ঐশী অনুদানপ্রাপ্ত শরীফ, যিনি জ্ঞান ও বংশীয় আভিজাত্যের সমন্বয় ঘটিয়েছেন এবং শরয়ি জ্ঞানসমূহের রজ্জুকে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছেন—সাইয়্যেদ আলী বিন ইয়াহইয়া আল-হাসানী আল-ইদ্রিসি আল-ফাসি আল-মাক্কি, যিনি পবিত্র নগরী মক্কার অধিবাসী, আল্লাহ তাঁর ওপর সর্বদা অনুগ্রহ বর্ষণ করুন। আর আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য এবং সঠিক পথ ও স্পষ্ট বর্ণনার তাওফিক প্রার্থনা করছি। এর বিন্যাস অধ্যায়ের মূল ধাতু এবং ক্রিয়া রূপ বর্ণনার ক্ষেত্রে মূল গ্রন্থের বিন্যাস অনুসারেই করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
(مقدمة)الصحيح أن صيغة المبني للمفعول مغيرة عن صيغة المبني للفاعل فهذه أصل لتلك خلافا لظاهر الألفية تبعا للكوفيين والمبرد وابن الطراوة ونسبه لسيبويه زعموا أن كلا منهما أصل برأسه قالوا لأنه جاءت أفعال ملازمة للبناء للمفعول كزهي وزكم وحم وجن فلو كان فرعا عن المبني للفاعل للزم أن لا يوجد إلا حيث يوجد الأصل
وأجيب بأن العرب قد تستغني بالفرع عن الأصل ألا ترى أنه قد جاءت مصغرات لم ينطق بمكبر لها أصلا كرويد وكميت
وجموعات لم ينطق لها بمفردات كملامح ومحاسن ومشابه ومذاكر
(ভূমিকা)সঠিক (صحيح) মতটি হলো এই যে, কর্মবাচ্য (مبني للمفعول)-এর রূপটি কর্তৃবাচ্য (مبني للفاعل)-এর রূপ থেকে পরিবর্তিত হয়ে গঠিত হয়েছে। সুতরাং এটি (কর্তৃবাচ্য) হলো সেটির (কর্মবাচ্য) মূল। এটি আলফিয়্যাহ-এর বাহ্যিক ভাষ্যের পরিপন্থী, যা কুফী ভাষাবিদগণ, মুবাররাদ এবং ইবনে তরাওয়াহ অনুসরণ করেছেন এবং একে সিবওয়াইহের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। তারা দাবি করেন যে, এদের প্রতিটিই স্বতন্ত্রভাবে মূল। তারা বলেন যে, এমন কিছু ক্রিয়া রয়েছে যা সর্বদা কর্মবাচ্য (مبني للمفعول)-এর কাঠামোতেই ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'জুহিয়া', 'জুকিমা', 'হুম্মা' এবং 'জুন্না'। যদি এটি কর্তৃবাচ্য (مبني للفاعل)-এর শাখা হতো, তবে যেখানে মূল নেই সেখানে শাখার অস্তিত্ব থাকাও অসম্ভব হতো।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, আরবরা অনেক সময় মূলের পরিবর্তে কেবল শাখার ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে থাকে। আপনি কি দেখেন না যে, এমন কিছু ক্ষুদ্রতাবাচক শব্দ (مصغر) রয়েছে যেগুলোর কোনো মূল রূপ (مكبر) মূলত ব্যবহৃতই হয়নি, যেমন: 'রুয়াইদ' এবং 'কুমাইত'।
এবং এমন কিছু বহুবচন (جمع) রয়েছে যেগুলোর কোনো একবচন (مفرد) ব্যবহৃত হয়নি, যেমন: 'মালামিহ', 'মাহাসিন', 'মুশাবিহ' এবং 'মুজাকির'।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ومطايب الجذور وأطايبه وأباطيل وأعاريض على الصحيح أنها ليست جموعا للمحة وحسنة وشبه وذكر وطيب وباطل وعروض وهي لا شك ثوان على المفردات والمكبرات المهملة
كذا في تحفة الأثبات لبعض أهل اليمن
মুতায়েবুল জুযুর, আতায়িবুহু, আবাতিল (أباطيل) এবং আ'আরীয-এর ক্ষেত্রে সঠিক (الصحيح) মত হলো যে, এগুলো মূলত লামহা, হাসানাহ, শিবহ, যিকর, তায়িব, বাতিল (باطل) এবং আরুয-এর বহুবচন নয়। বরং এগুলো নিঃসন্দেহে একবচন (المفردات) এবং অব্যবহৃত মূল রূপসমূহের (المكبرات المهملة) দ্বিতীয় রূপ।
ইয়েমেনের জনৈক জ্ঞানীর তুহফাতুল আসবাত গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
(حرف الهمزة)
أبشر: الرجل بالموحدة والشين المعجمة والراء مبني للمجهول فهو مبشر
أبلط: الرجل بالموحدة واللام والطاء المهملة مبني للمجهول أي قل ماله وهذا معناه مبنيا للفاعل أيضا
أبهلت: الناقة بالموحدة والهاء واللام مبني للمجهول ويقال «بهلت» بفتح أوليه لم يكن عليها صرار فهي مباح أيضا ما لم يكن عليه سمة
أترف: بالمثناة الفوقية وبالراء والفاء مبني للمجهول إذا أفرط في التنعم هذا هو الأعم الأغلب ويقال: ترف كفرح ترفا وترفه لغة
ويقال: أترفه الله وأترفته النعمة أفسدته وأبطرته
هذه المواد مأخوذة من ابن القوطية
أثغر: فمه بالمثلثة والغين المعجمة مبني للمفعول سقطت أسنانه أو رواضعه ذكره في الأصل في مادة ثغر وسيأتي إن شاء الله
(বর্ণ হামজা)আবশারা (أبشر): ব্যক্তিটির ক্ষেত্রে এক নুক্তাবিশিষ্ট 'বা' (موحدة), তিন নুক্তাবিশিষ্ট 'শিন' (شين معجمة) এবং 'রা' বর্ণযোগে এটি কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; তখন তাকে 'মুবশার' বলা হয়।
আবলতা (أبلط): ব্যক্তিটির ক্ষেত্রে এক নুক্তাবিশিষ্ট 'বা' (موحدة), 'লাম' এবং নুক্তাবিহীন 'তা' (طاء مهملة) বর্ণযোগে এটি কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ হলো তার সম্পদ কমে যাওয়া। এটি কর্তৃবাচ্য (مبني للفاعل) হিসেবেও একই অর্থ প্রদান করে।
আহবালাত (أبهلت): উটনীটির ক্ষেত্রে এক নুক্তাবিশিষ্ট 'বা' (موحدة), 'হা' এবং 'লাম' বর্ণযোগে এটি কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একে 'বাহালাত' (بهلت)-ও বলা হয়ে থাকে যেখানে প্রথম দুই বর্ণে ফাতহা হয়; এর অর্থ হলো যার ওলান বাঁধার রশি নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত তাতে কোনো বিশেষ চিহ্ন না থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা উন্মুক্ত হিসেবেও গণ্য।
আতুরাফা (أترف): উপরে দুই নুক্তাবিশিষ্ট 'তা' (مثناة فوقية), 'রা' এবং 'ফা' বর্ণযোগে এটি কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যখন বিলাসিতায় সীমা লঙ্ঘন করা হয় তখন এটি ব্যবহৃত হয় এবং এটিই সর্বাধিক প্রচলিত অর্থ। এছাড়াও বলা হয়: 'ফারিহা' (فرح)-এর ওজনে 'তারিফা' (ترف), 'তারাফান' (ترفا); আবার ভাষাতাত্ত্বিকভাবে 'তুর্ফাহ' (ترفه)-ও বলা হয়ে থাকে।
বলা হয়ে থাকে: 'আল্লাহ তাকে বিলাসিতা দান করেছেন' এবং 'নিয়ামত তাকে উদ্ধত ও অকৃতজ্ঞ করে তাকে পথভ্রষ্ট করেছে'।
এই বিষয়গুলো ইবনুল কুতিয়্যাহ থেকে সংগৃহীত।
উসগিরা (أثغر): তার মুখগহ্বরের ক্ষেত্রে তিন নুক্তাবিশিষ্ট 'সা' (مثلثة) এবং নুক্তাবিশিষ্ট 'গইন' (غين معجمة) বর্ণযোগে এটি কর্মবাচ্য (مبني للمفعول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো—তার দাঁত অথবা দুধদাঁত পড়ে যাওয়া। মূল গ্রন্থে 'ছাগর' (ثغر) মূলধাতুর অধীনে এটি উল্লেখ করা হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ অচিরেই তা বর্ণিত হবে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أجر: في أولاده بالجيم والراء كعني أي ماتوا فصاروا أجره بموتهم وأجرت يده كذلك جبرت عن فساد كسرها
أجفر: الإنسان بالجيم والفاء والراء مبني للمجهول تغيرت رائحته والفرس وغيره عظم بطنه
أحيط: بالقوم بالحاء والطاء المهملتين بينهما تحتية ساكنة مبني للمجهول أي هلكوا
أخذ: البعير بالخاء والذال المعجمتين كعني أخذا كالجنون يعتريه والعين رمدت
أخفي: بالخاء المعجمة والفاء والتحتية مبني للمجهول ضد أظهر ومنه قوله تعالى: {أخفي لهم} [السجدة: الآية 17]
أدمج: الفرس بالدال والميم والجيم مبني للمجهول شد حلقه قاله فيها ابن القوطية
أدير: بالدال المهملة والتحتية والراء مبني للمجهول مثل دير به كعني مذكور في الأصل في حرف الدال
أربع: بالراء والموحدة مبني للمجهول مذكور في الأصل في حرف الراء
أرجد بالراء والجيم والدال المهملة مبني للمجهول
أرعد: بالراء والعين والدال المهملتين مبني للمجهول أصابته رعدة من علة مذكور في الأصل في مادة رعد
أرض: الإنسان بالراء والضاد المعجمة كعني إذا أصابه زكام أو خبل من أهل الأرض أو الجن أو إذا تحرك رأسه وجسده بلا عمد والخشبة أكلتها
আউজিরা (أجر): সন্তানদের ক্ষেত্রে; জীম এবং রা বর্ণের মাধ্যমে ‘উনিয়া’ এর ওজনে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ তারা মারা গেছে এবং তাদের মৃত্যুর কারণে তারা তার জন্য সওয়াব হিসেবে গণ্য হয়েছে। তেমনিভাবে তার হাত ‘উজরাত’ করা হয়েছে, অর্থাৎ হাড় ভাঙার বিকৃতি থেকে তার হাত জোড়া লাগানো হয়েছে।
উজফিরা (أجفر): মানুষের ক্ষেত্রে; জীম, ফা এবং রা বর্ণের মাধ্যমে কর্মবাচ্যে (مبني للمجهول) ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো তার গায়ের গন্ধ পরিবর্তন হয়ে যাওয়া। আর ঘোড়া বা অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো পেট বড় হয়ে যাওয়া।
উহিতা (أحيط): কোনো কওম বা সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে; নুকতাহীন (مهملة) ‘হা’ ও ‘ত’ বর্ণের মাধ্যমে এবং এ দুটির মাঝে সাকিনযুক্ত ‘ইয়া’ যোগে কর্মবাচ্যে (مبني للمجهول) ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো তারা ধ্বংস হয়ে গেছে।
উখিযা (أخذ): উটের ক্ষেত্রে; নুকতাযুক্ত (معجمة) ‘খা’ ও ‘যাল’ বর্ণের মাধ্যমে ‘উনিয়া’ এর ওজনে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো উটের ওপর উম্মাদনার মতো কিছু ভর করা। আর চোখের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো চোখ ওঠা বা চক্ষুপ্রদাহ হওয়া।
উখফিয়া (أخفي): নুকতাযুক্ত (معجمة) ‘খা’, ‘ফা’ এবং ‘ইয়া’ বর্ণের মাধ্যমে কর্মবাচ্যে (مبني للمجهول) ব্যবহৃত হয়; এটি ‘আজহারা’ (প্রকাশ করা) এর বিপরীত। মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের জন্য যা গোপন রাখা হয়েছে} [সূরা আস-সাজদাহ: আয়াত ১৭] এর উদাহরণ।
উদমিজা (أدمج): ঘোড়ার ক্ষেত্রে; দাল, মীম এবং জীম বর্ণের মাধ্যমে কর্মবাচ্যে (مبني للمجهول) ব্যবহৃত হয়; ইবনুল কুতিয়্যাহ এর মতে, এর অর্থ হলো তার কণ্ঠনালি শক্ত হওয়া।
উদিরা (أدير): নুকতাহীন (مهملة) ‘দাল’, ‘ইয়া’ এবং ‘রা’ বর্ণের মাধ্যমে কর্মবাচ্যে (مبني للمجهول) ব্যবহৃত হয়; এটি ‘দিরা বিহি’ এর মতো এবং ‘উনিয়া’ এর ওজনে। এটি মূল গ্রন্থের ‘দাল’ বর্ণের অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
উরবিআ (أربع): ‘রা’ এবং এক নুকতাযুক্ত ‘বা’ বর্ণের মাধ্যমে কর্মবাচ্যে (مبني للمجهول) ব্যবহৃত হয়; এটি মূল গ্রন্থের ‘রা’ বর্ণের অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
উরজিদা (أرجد): ‘রা’, ‘জীম’ এবং নুকতাহীন (مهملة) ‘দাল’ বর্ণের মাধ্যমে কর্মবাচ্যে (مبني للمجهول) ব্যবহৃত হয়।
উরইদা (أرعد): নুকতাহীন (مهملة) ‘রা’, ‘আইন’ এবং ‘দাল’ বর্ণের মাধ্যমে কর্মবাচ্যে (مبني للمجهول) ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ অসুস্থতার কারণে কারও শরীরে কম্পন সৃষ্টি হওয়া। এটি মূল গ্রন্থের ‘রা-আইন-দাল’ (رعد) মূলধাতুর অধীনে বর্ণিত হয়েছে।
উরিদা (أرض): মানুষের ক্ষেত্রে; ‘রা’ এবং নুকতাযুক্ত (معجمة) ‘দদ’ বর্ণের মাধ্যমে ‘উনিয়া’ এর ওজনে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো যখন কেউ সর্দি-কাশি অথবা জমিনের অধিবাসী (অশুভ আত্মা) বা জিনের দ্বারা পাগলামি বা মস্তিষ্ক বিকৃতিতে আক্রান্ত হয়, অথবা যখন কোনো অবলম্বন ছাড়াই তার মাথা ও দেহ অনিচ্ছাকৃতভাবে নড়াচড়া করে। আর কাঠের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো উইপোকায় খাওয়া।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الأرضة بالتحريك الدويبة المعروفة
قلت: قال: أرض الإنسان كعني أرضا فهو مأروض أرعد قال الهذلي: حملت سوطك حتى ظننت
… أن قد أرضت ولم تؤرض
أرق: الإنسان والزرع بالراء والقاف كعني أصابهما الأرقان كاليرقان
أرمت: المرأة بالراء والميم كعني أرما فهي مأرومة سد حلقها قاله ابن طريف
أرهمت: الأرض بالراء والهاء والميم مبني للمجهول أمطرت بالرهام وهي اللينة من الأمطار قاله ابن طريف وابن القوطية
أزي: الظل بالزاي والتحتية كعني قلص كأزي كسمع
أسبت: الرجل بالموحدة والفوقية مبني للمجهول لم يتحرك قالاه أي ابن طريف وابن القوطية وهو المراد من ضمير التثنية إذا أتى مع قال
استنقع: اللون بالفوقية والنون والقاف والعين مبني للمجهول من باب الاستفعال تغير وبوزنه وضبطه
‘আরাযাহ’ হরকতের সাথে, এটি একটি সুপরিচিত ক্ষুদ্র পতঙ্গ।
আমি বলছি: তিনি বলেছেন: মানুষের ক্ষেত্রে ‘আরিদা’ শব্দটি ‘উনিয়া’-র মতো ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ সে প্রকম্পিত হয়েছে; এমতাবস্থায় সে হলো ‘মা’রূদ’। আল-হুজালী বলেছেন: আমি তোমার চাবুক বহন করেছি যতক্ষণ না আমি ধারণা করলাম
… যে তুমি দুর্বল হয়ে পড়েছ অথচ তোমাকে দুর্বল করা হয়নি।
আরাক্ব: মানুষ ও শস্যের ক্ষেত্রে ‘রা’ এবং ‘ক্বাফ’ বর্ণের সাথে ‘উনিয়া’-র ওজনে ব্যবহৃত হয়; যার অর্থ তারা ‘আরক্বান’ নামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে যা জন্ডিস বা পীত রোগের মতো।
আরিমাত: নারীর ক্ষেত্রে ‘রা’ এবং ‘মীম’ বর্ণের সাথে ‘উনিয়া’-র ওজনে ‘আরমা’ শব্দ থেকে ব্যবহৃত হয়। তখন তাকে ‘মা’রূমাহ’ বলা হয়, যার অর্থ তার কণ্ঠরোধ হয়ে গেছে। এটি ইবনে তরীফ বর্ণনা করেছেন।
উরহিমাত: ভূমির ক্ষেত্রে ‘রা’, ‘হা’ এবং ‘মীম’ বর্ণের সাথে কর্মবাচ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ ভূমি ‘রিহাম’ অর্থাৎ মৃদু বৃষ্টির মাধ্যমে সিক্ত হয়েছে। এটি ইবনে তরীফ এবং ইবনুল কূতিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন।
আযিয়া: ছায়ার ক্ষেত্রে ‘যা’ এবং নিচের নুকতাহযুক্ত ‘ইয়া’ বর্ণের সাথে ‘উনিয়া’-র ওজনে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ ছায়া সংকুচিত হওয়া; যেমন এটি ‘সামিয়া’-র ওজনেও ব্যবহৃত হয়।
উসবিতা: ব্যক্তির ক্ষেত্রে এক নুকতাহযুক্ত ‘বা’ এবং উপরের নুকতাহযুক্ত ‘তা’ বর্ণের সাথে কর্মবাচ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ সে নড়াচড়া করেনি। তাঁরা দুজন অর্থাৎ ইবনে তরীফ এবং ইবনুল কূতিয়্যাহ এটি বলেছেন; আর ‘ক্বলা’ (উভয়ে বলেছেন) ক্রিয়ার দ্বিবচন সর্বনাম দ্বারা তাঁদের দুজনকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
উসতুনক্বি’আ: রঙের ক্ষেত্রে ‘তা’, ‘নূন’, ‘ক্বাফ’ এবং ‘আইন’ বর্ণের সাথে কর্মবাচ্য হিসেবে ‘ইসতিফ’আল’ অনুচ্ছেদ থেকে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ রঙ পরিবর্তিত হওয়া। এটি এর ওজন ও গঠনরীতি অনুযায়ী।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
استنقع: الشيء في الماء أي نقع وهما مذكوران في الأصل في مادة نقع
استهتر: بكذا الفوقية والهاء والفوقية والراء مبني للمجهول كما في القاموس والمستهتر بالشيء المولع به لا يبالي بما فعل ذكره في الأصل في مادة هتر
أسف: وجهه بكسر المهملة وتشديد الفاء أي تغير مذكور في مادة سف في الأصل
أسر: الرجل بالسين المهملة والراء كعني أسرا احتبس بوله والاسم الأسر
أسكت: المرأة بالسين المهملة والكاف كعني أصابت الخافضة غير موضع الخفض منها قاله فيهما ابن القوطية
أسقط: في يده بالسين المهملة والقاف والطاء المهملة مبني للمجهول مذكور في الأصل في مادة سقط وبمعناه
أسقع: لونه بالسين المهملة والقاف والعين مبني للمجهول تغير مذكور في الأصل في مادة سقع
أشب: لي الشيء بالشين المعجمة والموحدة كعني رفعت طرفي فنظرت إليه من غير أن أحتبسه قاله ابن القوطية
ইস্তানক্বায়া (استنقع): কোনো কিছু পানিতে ভেজানো; অর্থাৎ সিক্ত করা। এই উভয় শব্দই মূল গ্রন্থে 'নাক্বায়া' (نقع) অনুচ্ছেদে উল্লিখিত হয়েছে।
ইস্তাহতারা (استهتر): এর শুরুতে 'তা', এরপর 'হা', পুনরায় 'তা' এবং শেষে 'রা' রয়েছে। 'আল-ক্বামুস' অভিধান অনুযায়ী এটি কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত। কোনো বিষয়ের প্রতি 'মুস্তাহতার' (মোহগ্রস্ত) ব্যক্তি বলতে তাকেই বুঝায়, যে সেই বিষয়ের প্রতি অতিমাত্রায় অনুরাগী এবং সে যা করছে সে বিষয়ে কোনো পরোয়া করে না। মূল গ্রন্থে 'হাতারা' (هتر) অনুচ্ছেদে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
আসাফ্ফা (أسف): 'সিন' (س) বর্ণে কাসরাহ এবং 'ফা' (ف) বর্ণে তাশদিদ সহযোগে; এর অর্থ হলো তার মুখমণ্ডল বিবর্ণ হওয়া বা পরিবর্তন হওয়া। মূল গ্রন্থে 'সাফফা' (سف) অনুচ্ছেদে এটি বর্ণিত হয়েছে।
আসিরা (أسر): ব্যক্তিটির প্রস্রাব আটকে যাওয়া। এটি 'সিন' (س) এবং 'রা' (ر) বর্ণ সহযোগে 'উনিয়া' (عني) এর ওজনে ব্যবহৃত হয়। এর ক্রিয়ামূল হলো 'আসর' (أسرا) এবং বিশেষ্য হলো 'আল-আসর' (الأسر)।
উসুকিতাত (أسكت): নারীর ক্ষেত্রে শব্দটি 'সিন' (س) এবং 'কাফ' (ك) বর্ণ সহযোগে 'উনিয়া' (عني) এর ওজনে ব্যবহৃত হয়। ইবনুল কুতীয়্যাহ বলেন, এর অর্থ হলো খতনা করার সময় খতনা পরিচালনাকারী নারী কর্তৃক খতনার প্রকৃত স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে আঘাত পাওয়া।
উসক্বিতা (أسقط): 'উসক্বিতা ফী ইয়াদিহি' (সে লজ্জিত বা অনুতপ্ত হলো)। এটি 'সিন' (س), 'ক্বাফ' (ق) এবং 'ত' (ط) বর্ণ সহযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত। মূল গ্রন্থে 'সাক্বাত্বা' (سقط) অনুচ্ছেদে এটি এবং এর সমার্থবোধক শব্দ উল্লিখিত হয়েছে।
উসক্বিয়া (أسقع): তার গায়ের রং বিবর্ণ হওয়া। এটি 'সিন' (س), 'ক্বাফ' (ق) এবং 'আইন' (ع) বর্ণ সহযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত। মূল গ্রন্থে 'সাক্বায়া' (سقع) অনুচ্ছেদে এটি বর্ণিত হয়েছে।
উশিবা (أشب): 'শীন' (ش) এবং 'বা' (ب) বর্ণ সহযোগে 'উনিয়া' (عني) এর ওজনে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হলো আমি আমার দৃষ্টি উপরে উঠালাম এবং স্থিরভাবে না তাকিয়েই কোনো কিছুর দিকে তাকালাম; এটি ইবনুল কুতীয়্যাহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
اشتغل: بالشين المعجمة من باب الافتعال بالبناء للمجهول
قال في المصباح قال الأزهري اشتغل بأمره فهو مشتغل أي بالبناء للفاعل ولا يكادون يقولون اشتغل وهو جائز يعني بالبناء للفاعل
ومن هنا قال بعضهم: اشتغل بالبناء للمفعول ولا يجوز بناؤه للفاعل لأن الافتعال إن كان مطاوعا فهو لازم لا غير وإن كان غير مطاوع فلا بد أن يكون فيه معنى التعدي نحو اكتسب المال واكتحلت واختضبت أي كحلت عيني وخضبت يدي واشتغلت ليس بمطاوع ولا فيه معنى التعدي وأجيب بأنه في الأصل لمطاوع لفعل هجر استعماله في فصيح الكلام والأصل اشتغلته فاشتغل مثل أخرفته فأخرف
وفيه معنى التعدي أيضا فإنك تقول اشتغلت بكذا فالجار والمجرور في معنى المفعول وقد نص الأزهري على استعمال مشتغل ومشتغل
انتهى
أشهد: بالشين المعجمة والهاء والدال المهملة مبني للمجهول أي قتل في سبيل الله فهو مشهد ذكره في الأصل في حرف الشين المعجمة
أصبي: القوم مبني للمجهول دخلوا في ريح الصبا ذكره في الأصل في حرف الصاد المهملة
ইশতাগালা (اشتغل): ফোঁটাযুক্ত ‘শিন’ (শিন) বর্ণযোগে, ‘ইফতিয়াল’ (افتعال) অধ্যায় থেকে কর্মবাচ্য (مجهول) রূপে গঠিত।
‘আল-মিসবাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, আল-আজহারী বলেছেন: “সে তার কাজে ব্যস্ত”, অর্থাৎ এটি কর্তৃবাচ্য (فاعل) রূপে ব্যবহৃত। তারা সাধারণত কর্তৃবাচ্য (فاعل) হিসেবে “ইশতাগালা” (اشتغل) বলে না, যদিও এটি জায়েজ বা বৈধ।
এখান থেকেই কেউ কেউ বলেছেন: শব্দটি কর্মবাচ্য (مفعول) হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং কর্তৃবাচ্য (فاعل) হিসেবে এর গঠন জায়েজ নয়। কারণ ‘ইফতিয়াল’ (افتعال) যদি মুতাওয়া (مطاوع) হয়, তবে তা অকর্মক (لازم) ছাড়া অন্য কিছু হয় না। আর যদি মুতাওয়া (مطاوع) না হয়, তবে তাতে অবশ্যই সকর্মক (تعدي) অর্থ থাকতে হবে; যেমন: “সে সম্পদ অর্জন করেছে”, “আমি চোখে সুরমা লাগিয়েছি” এবং “আমি হাতে মেহেদি লাগিয়েছি”, অর্থাৎ আমি আমার চোখে সুরমা দিয়েছি এবং হাতে মেহেদি দিয়েছি। কিন্তু “ইশতাগালা” (اشتغل) শব্দটি মুতাওয়া (مطاوع) নয় এবং এতে সকর্মক (تعدي) অর্থও নেই। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি মূলত এমন একটি ক্রিয়ার মুতাওয়া (مطاوع) রূপ যার ব্যবহার প্রাঞ্জল ভাষায় পরিত্যক্ত হয়েছে। এর মূল রূপ ছিল ‘ইশতাগালতুহু ফা-ইশতাগালা’, যেমন ‘আখরাফতুহু ফা-আখরাফা’।
এতে সকর্মক (تعدي) অর্থও বিদ্যমান, কারণ আপনি বলেন: “আমি অমুক কাজে ব্যস্ত হয়েছি”। এখানে জার-মাজরুর (অব্যয় ও বিশেষ্য) কর্মের (مفعول) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আল-আজহারী ‘মুশতাগিল’ (مشتغل) এবং ‘মুশতাগাল’ (مشتغل) উভয় শব্দের ব্যবহারের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন।
সমাপ্ত
উশহিদা (أشهد): ফোঁটাযুক্ত ‘শিন’ (شين), ‘হা’ এবং ফোঁটাবিহীন ‘দাল’ (دال) বর্ণযোগে কর্মবাচ্য (مجهول) রূপে গঠিত; অর্থাৎ আল্লাহর পথে নিহত হওয়া। এমতাবস্থায় তাকে ‘মুশহাদ’ (مشهد) বলা হয়। মূল গ্রন্থে ‘শিন’ (شين) বর্ণের আলোচনায় এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
উসবিয়া (أصبي): এটি কর্মবাচ্য (مجهول) রূপে গঠিত। অর্থ: কওম বা সম্প্রদায় ‘সাবা’ (পূর্বদিকের) বাতাসে প্রবেশ করেছে। মূল গ্রন্থে এটি ফোঁটাবিহীন ‘সাদ’ (صاد) বর্ণের অধীনে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
أصعب: الفحل مبني للمجهول بالصاد والعين المهملتين والموحدة قال ابن القوطية لم يرض
أضربت: الأرض بالضاد المعجمة والراء والموحدة مبني للمجهول أصابها الضريب كأمير وهو الصقيع ذكره ابن القوطية والصقيع يأتي بيانه إن شاء الله في مادة ضرب
اضطر: إلى كذا بالضاد المعجمة والطاء المهملة والراء المشددة مبني للمجهول أي ألجئ إليه مذكور في الأصل في مادة ضر
أطرق: جناح الطائر بالطاء المهملة والراء والقاف مبني للمجهول أي ألبس الريش الأعلى الأسفل والإبل تتابعت والرجل بقي راجلا قاله ابن القوطية
أطعم: الرجل بالطاء والعين المهملتين وبالميم مبني للمجهول كان مرزوقا في الصيد قالاه
أطل: دم فلان بالطاء واللام المشددة مبني للمجهول أهدر فلا يطالب به ذكره في حرف الطاء من الأصل
أطم: عليه وائتطم الرجل والبعير بالطاء المهملة والميم في الثلاثة كفرح وطعم في الأولى
أطمي: بالفتح والبناء للمجهول في الأخيرين أصابه الأطام كغراب وكتاب وهو حصر البول والبعير من ذا قلت قال ابن طريف وأطم الإنسان أي فرح أطاما احتبس بطنه
أطير: الرجل والفرس بالطاء المهملة والتحتية والراء مبني للمجهول حديث أ نفسرها وفي الحديث
(اتقوا طيرات الشباب) أي آفاته وأطير الرجل كذلك صدع
আসআব (أصعب): পুংলিঙ্গ উট (ফাহল), কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) রূপে, বিন্দুহীন 'সাদ' ও 'আইন' এবং 'বা' বর্ণযোগে। ইবনে আল-কুতিয়্যাহ বলেছেন, তাকে বংশবৃদ্ধির জন্য পছন্দ করা হয়নি।
আদ্রিবাত (أضربت): জমিন; বিন্দুযুক্ত 'দাদ', 'রা' এবং 'বা' বর্ণযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) রূপে। এর ওপর 'দারিব' আপতিত হয়েছে, যা 'আমির' এর ওজনে; আর এটি হলো হিম বা কুয়াশা (সাকি’)। ইবনে আল-কুতিয়্যাহ এটি উল্লেখ করেছেন। হিম (সাকি’) এর ব্যাখ্যা ইনশাআল্লাহ 'দারব' পরিচ্ছেদে আসবে।
ইদতুররা (اضطر): কোনো বিষয়ের প্রতি; বিন্দুযুক্ত 'দাদ', বিন্দুহীন 'ত' এবং তাসদিদযুক্ত 'রা' বর্ণযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) রূপে। অর্থাৎ তাকে সেদিকে বাধ্য করা হয়েছে। এটি মূল গ্রন্থের 'দার' পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।
উতরিক্বা (أطرق): পাখির ডানা; বিন্দুহীন 'ত', 'রা' এবং 'ক্বাফ' বর্ণযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) রূপে। অর্থাৎ উপরের পালক নিচের পালককে আবৃত করেছে। উটের ক্ষেত্রে এর অর্থ তারা একে অপরের অনুগামী হওয়া। আর মানুষের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো সে পদব্রজে রয়ে গেছে। ইবনে আল-কুতিয়্যাহ এটি বলেছেন।
উত'ইমা (أطعم): ব্যক্তি; বিন্দুহীন 'ত' ও 'আইন' এবং 'মিম' বর্ণযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) রূপে। এর অর্থ সে শিকারে সফল বা রিযিকপ্রাপ্ত হয়েছে। তাঁরা উভয়ই (ইবনে আল-কুতিয়্যাহ ও ইবনে তারিফ) এটি বলেছেন।
উতিল্লা (أطل): অমুকের রক্ত; 'ত' এবং তাসদিদযুক্ত 'লাম' বর্ণযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) রূপে। অর্থাৎ তা বৃথা গেছে, সুতরাং এর জন্য কোনো দাবি করা হবে না। এটি মূল গ্রন্থের 'ত' বর্ণে উল্লেখ করা হয়েছে।
উতিমা (أطم): তার ওপর এবং ব্যক্তি ও উট 'ই’তাতামা' হয়েছে; তিনটিতেই বিন্দুহীন 'ত' এবং 'মিম' রয়েছে, প্রথমটি 'ফারিহা' এবং 'তা’ইমা' এর ওজনে।
আতামি (أطمي): ফাতহা যোগে এবং শেষোক্ত দুটিতে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) রূপে; তাকে 'আতাম' (أطام) (গুরাব ও কিতাব এর ওজনে) আক্রমণ করেছে, যা হলো প্রস্রাব আটকে যাওয়া। উটের ক্ষেত্রেও তাই। আমি বলছি: ইবনে তারিফ বলেছেন, মানুষের ক্ষেত্রে 'আতামা' অর্থ সে আনন্দিত হয়েছে; 'আতামান' (أطاما) অর্থ তার পেট ফেঁপে গেছে (মলমূত্র আটকে গেছে)।
উতিরা (أطير): ব্যক্তি ও ঘোড়া; বিন্দুহীন 'ত', 'ইয়া' এবং 'রা' বর্ণযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) রূপে। এটি কি একটি হাদিস যা আমরা ব্যাখ্যা করব? হাদিসে এসেছে: (তোমরা যুবকদের অনিষ্ট বা চপলতা থেকে বেঁচে থাকো) অর্থাৎ তাদের বিপদ-আপদ। আর মানুষের ক্ষেত্রেও 'উতিরা' অর্থ হলো সে মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
أعرم: بكذا بالعين المهملة والراء مبني للمجهول أولع به وأهلك قاله وما قبله ابن القوطية
اعتقل: لسانه بالعين المهملة والفوقية والقاف واللام مبني للمجهول لم يقدر على الكلام ذكره في الأصل في حرف العين المهملة
أعقمت: المرأة بالعين المهملة والقاف والميم مبني للمجهول أصابها العقم ذكره ابن القوطية
أغد: القوم بالغين المعجمة وتشديد الدال المهملة مبني للمجهول أصابت إبلهم الغدة نقلا عن أبي زيد
أغري: بكذا بالغين المعجمة والراء والتحتية مبني للمجهول أولع به ذكره الأصل في باب الغين
أغرب: الفرس بالغين المعجمة والراء الموحدة مبني للمجهول أذى يأخذ العينين فيبيض الأشفار وأغرب الرجل أيضا كذلك إذا اشتد وجعه عن الأصمعي ذكره في الأصل في باب الغين المعجمة
আ’রিমা (أعرم): এটি নুকতাহীন আইন (العين المهملة) এবং র (الراء) সহযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত; এর অর্থ হলো কোনো কিছুর প্রতি আসক্ত হওয়া এবং ধ্বংস হওয়া। ইবনুল কুতীয়্যাহ এটি এবং এর পূর্ববর্তী শব্দ সম্পর্কে এরূপ বলেছেন।
ই’তাক্বিলা (اعتقل): ‘তার জিহ্বা আড়ষ্ট হওয়া’ অর্থে; এটি নুকতাহীন আইন (العين المهملة), উপরে দুই নুকতাযুক্ত তা (الفوقية), ক্বাফ (القاف) এবং লাম (اللام) সহযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত। এর অর্থ হলো কথা বলতে সক্ষম না হওয়া। মূল গ্রন্থের নুকতাহীন আইন (العين المهملة) বর্ণের আলোচনায় এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
উ’ক্বিমাত (أعقمت): নারীটির ক্ষেত্রে; এটি নুকতাহীন আইন (العين المهملة), ক্বাফ (القاف) এবং মীম (الميم) সহযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত। এর অর্থ হলো সে বন্ধ্যাত্বে আক্রান্ত হয়েছে। ইবনুল কুতীয়্যাহ এটি উল্লেখ করেছেন।
উগিদদা (أغد): ‘সম্প্রদায়টি আক্রান্ত হওয়া’ অর্থে; এটি নুকতাযুক্ত গাইন (الغين المعجمة) এবং নুকতাহীন দাল (الدال المهملة)-এর তাশদীদ সহযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত। আবু যায়েদ থেকে বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী এর অর্থ হলো তাদের উটগুলো গ্রন্থি রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
উগরিয়া (أغري): এটি নুকতাযুক্ত গাইন (الغين المعجمة), র (الراء) এবং নিচে দুই নুকতাযুক্ত ইয়া (التحتية) সহযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত। এর অর্থ হলো কোনো কিছুর প্রতি আসক্ত হওয়া। মূল গ্রন্থের গাইন অধ্যায়ে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
উগরিবা (أغرب): ঘোড়ার ক্ষেত্রে; এটি নুকতাযুক্ত গাইন (الغين المعجمة), র (الراء) এবং এক নুকতাযুক্ত বা (الموحدة) সহযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত। এটি চোখের এমন একটি রোগ যা চোখের কোণ আক্রান্ত করে এবং চোখের পাতার লোম সাদা করে দেয়। আসমাঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, কোনো ব্যক্তির ব্যথা তীব্র হলে তাকেও অনুরূপ বলা হয়। মূল গ্রন্থের নুকতাযুক্ত গাইন (الغين المعجمة) অধ্যায়ে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
اغتسل: الفرس افتعال من الغسل بالغين المعجمة مبني للمجهول أي عرق
أغمي: عليه بالغين المعجمة والميم والتحتية مبني للمجهول أي غشي مذكور في الأصل في مادة غمي وسيأتي فيه مزيد عن طريف
أغين: بالرجل بالغين المعجمة والتحتية والنون مبني للمجهول إذا أحاط به الرين قاله ابن طريف
أفحم: البعير بالفاء والحاء المهملة والميم مبني للمجهول أهمل وأيضا اثني وأربع في عام واحد وأفحم أهل البادية هبطوا إلى الأرياف في السنة الشديدة والفحمة الشدة
أفرح: القتيل بالفاء والراء والحاء المهملة مبني للمجهول أي وجد بفلاة لم يدر قاتله والرجل لم يكن له ديوان وأيضا أسلم فلم يوال أحدا
أفرع: الفرس وغيره بالفاء والراء والعين المهملة مبني للمجهول طال
أفضيت: المرأة بالفاء والضاد المعجمة صار مسلكاها واحدا ذكره ابن القوطية في الأربعة
ইগতাসালা: ঘোড়ার ক্ষেত্রে শব্দটি নুকতাযুক্ত ‘গইন’ বর্ণ যোগে ‘গুসল’ ধাতু থেকে ‘ইফতি’আল’ ওজনে কর্মবাচ্যের রূপে ব্যবহৃত; যার অর্থ হলো ঘর্মাক্ত হওয়া।
উগমিয়া: এতে নুকতাযুক্ত ‘গইন’, ‘মিম’ এবং নিচে দুই নুকতাযুক্ত ‘ইয়া’ রয়েছে; এটি কর্মবাচ্যের রূপে ব্যবহৃত, যার অর্থ হলো মূর্ছিত হওয়া। এটি মূল গ্রন্থের ‘গ-ম-ই’ পরিচ্ছেদে উল্লিখিত হয়েছে এবং অচিরেই ইবনে তারিফ থেকে এ বিষয়ে আরও তথ্য আসবে।
উগিনা: ব্যক্তির ক্ষেত্রে নুকতাযুক্ত ‘গইন’, নিচে দুই নুকতাযুক্ত ‘ইয়া’ এবং ‘নুন’ যোগে কর্মবাচ্যের রূপে ব্যবহৃত হয়; যখন তাকে কলুষতা বা পঙ্কিলতা আচ্ছন্ন করে ফেলে। এটি ইবনে তারিফ উল্লেখ করেছেন।
আফহামা: উটের ক্ষেত্রে ‘ফা’, নুকতাহীন ‘হা’ এবং ‘মিম’ যোগে কর্মবাচ্যের রূপে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো তাকে অবহেলা করা হয়েছে। এছাড়াও এটি এক বছরে উটের দুই দাঁত ও চার দাঁত ওঠার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। আর ‘আফহামা আহলুল বাদিয়াহ’ এর অর্থ হলো—তীব্র দুর্ভিক্ষের বছরে মরুচারী লোকজনের গ্রামাঞ্চল বা লোকালয়ে চলে আসা। আর ‘ফাহমাহ’ শব্দের অর্থ হলো তীব্রতা।
উফরিহা: নিহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘ফা’, ‘র’ এবং নুকতাহীন ‘হা’ যোগে কর্মবাচ্যের রূপে ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ জনমানবহীন প্রান্তরে এমন মৃতদেহ পাওয়া যার হত্যাকারী অজ্ঞাত। এছাড়াও এটি এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার নাম দাপ্তরিক খাতায় নেই। আবার যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছে কিন্তু কারও সাথে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়নি, তার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়।
উফরি’আ: ঘোড়া বা অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে ‘ফা’, ‘র’ এবং নুকতাহীন ‘আইন’ যোগে কর্মবাচ্যের রূপে ব্যবহৃত হয়; যার অর্থ হলো দীর্ঘকায় হওয়া।
আফদিয়াত: নারীর ক্ষেত্রে ‘ফা’ এবং নুকতাযুক্ত ‘দদ’ যোগে ব্যবহৃত; এর অর্থ হলো তার দুটি পথ এক হয়ে যাওয়া। ইবনে আল-কুতিয়্যাহ এটি ‘আল-আরবা’আহ’ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
أفظع: فلان بالفاء والظاء المعجمة والعين المهملة مبني للمجهول ومنه قول لبيد
هم السقاة إذا العشيرة أفظعت
… وهم فوارسها وهم حكامها
مذكور في الأصل في باب الفاء
أفك: الرجل بالفاء والكاف كعني ضعف عقله والمكان لم يصبه مطر وليس به نبات وهي بها أفكا بالفتح
قلت في كتاب الأفعال أفكت الأرض كعني فهي مأفوكة لم تمطر وأفك الرجل كذلك فهو مأفوك لم يكن له عقل ولا خير فيه قال الراجز
ما لي أراك عاجزا أفيكا
… أكلت جديا وأكلت ديكا
تعجز أن تأخذ ما أريكا
… لا بارك الرحمن ربي فيكا
وقال بعض العرب لرسول الله
(لقد أفك قوم كذبوك)
আফজি‘আ (أفظع): অমুক ব্যক্তি; শব্দটি ফা (فاء), জ-মু‘জামাহ (ظاء معجمة) এবং আইন-মুহমালাহ (عين مهملة) সহযোগে গঠিত এবং এটি কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। লাবিদ-এর কবিতা থেকে এর উদাহরণ পাওয়া যায়:
যখন গোত্র বিপদে পড়ে তখন তারাই পানীয় সরবরাহ করে
… তারাই এর অশ্বারোহী এবং তারাই এর বিচারক।
এটি মূল গ্রন্থের ‘ফা’ অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আফিকা (أفك): শব্দটি ফা (فاء) ও কাফ (كاف) যোগে ‘উনিয়া’ (عني) এর ওজনে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো ব্যক্তির বুদ্ধিবৃত্তি দুর্বল (ضعف) হয়ে যাওয়া। আর স্থানের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো যেখানে বৃষ্টিপাত হয়নি এবং কোনো উদ্ভিদ নেই। ফাতহা যোগে এর মাসদার হলো ‘আফকান’ (أفكا)।
আমি ‘কিতাবুল আফআল’-এ বলেছি যে, ‘আফিকাতিল আরদু’ (أفكت الأرض) শব্দটি ‘উনিয়া’ এর ওজনে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ ভূমিটি বৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছে। একইভাবে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ‘আফিকা’ (أفك) ব্যবহৃত হলে এর অর্থ হয় সে বুদ্ধিহীন এবং তার মাঝে কোনো কল্যাণ নেই। জনৈক রাজিজ (কবিতা আবৃত্তিকারী) বলেছেন:
আমার কী হলো যে আমি তোমাকে অক্ষম এবং বুদ্ধিহীন (أفيكا) দেখছি?
… তুমি তো একটি ছাগলছানা ও একটি মোরগ খেয়ে ফেললে।
আমি তোমাকে যা দেখাচ্ছি তা গ্রহণ করতে তুমি অক্ষমতা প্রকাশ করছ;
… আমার প্রতিপালক রহমান তোমার মাঝে বরকত না দিন।
জনৈক আরব ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্-কে বলেছিলেন:
(নিশ্চয়ই সেই সম্প্রদায় বুদ্ধিহীন ও সত্যবিচ্যুত হয়েছে যারা আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে)
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
اقتتل: فلان بالقاف والمثناتين الفوقيتين مبني للمجهول مذكور في الأصل في باب القاف قال اقتتل فلان قال قتله العشق والحب
قال في الصحاح حكاه الفراء عن الكسائي ولا يقال في هذين إلا اقتتل
أقرب: الفرس بالقاف والراء والموحدة مبني للمجهول صين قالاه
أقرم: الفحل بالقاف والراء والميم مبني للمجهول أكرم عن الركوب قال أوس بن حجر:
إذا مقرم منا ذرا حد نابه
… تخمط فينا ناب آخر مقرم
قاله ابن القوطية
ইকতুতিল (اقتتل): অমুক ব্যক্তি, ‘কাফ’ এবং উপরে দুই নুক্তাবিশিষ্ট দুই ‘তা’ বর্ণযোগে, এটি কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে গঠিত। এটি মূলত মূল গ্রন্থের ‘কাফ’ পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়: ‘অমুক ব্যক্তি ইকতুতিল (اقتتل) হয়েছে’, অর্থাৎ প্রেম ও অনুরাগ তাকে শেষ করে দিয়েছে।
‘আস-সিহাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: আল-ফাররা এটি আল-কিসায়ি থেকে বর্ণনা করেছেন। এই দুই ক্ষেত্রে ‘ইকতুতিল’ (اقتتل) ব্যতীত অন্য কোনো শব্দ বলা হয় না।
উকরিবা (أقرب): ঘোড়া প্রসঙ্গে, ‘কাফ’, ‘রা’ এবং এক নুক্তাবিশিষ্ট ‘বা’ বর্ণযোগে, কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত; এর অর্থ হলো সংরক্ষিত। তাঁরা উভয়েই এটি বলেছেন।
উকরিমা (أقرم): পুরুষ উট প্রসঙ্গে, ‘কাফ’, ‘রা’ এবং ‘মিম’ বর্ণযোগে, কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত; এর অর্থ হলো আরোহণ করা থেকে তাকে সম্মান প্রদর্শনপূর্বক রেহাই দেওয়া হয়েছে। আউস বিন হাজার বলেছেন:
যখন আমাদের মধ্য থেকে কোনো উচ্চমর্যাদাশীল (مقرم) তার ক্ষমতার চরম শিখরে পৌঁছায়
… তখন আমাদের মধ্যে অন্য এক উচ্চমর্যাদাশীল (مقرم) সগৌরবে গর্জন করে ওঠে।
ইবনে আল-কুতিয়্যাহ এটি বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
أقطع: الرجل بالقاف والطاء والعين المهملتين مبني للمجهول لم يرد النساء ولم ينتشر لهن وأٌ قطع الفحل عن إناثه كذلك عجز وأقطع الرجل كذلك فرض لنظرائه ولم يفرض له وأقطع أيضا تغرب عن أهله فهو مقطع قالاه
أقعد: الإنسان بالقاف والعين والدال المهملتين مبني للمجهول منع القيام والجمل أصابه القعاد كغراب وهو استرخاء الوركين
أقمح: الرجل بالقاف والميم والحاء المهملة مبني للمجهول ذل وخشع قاله فيهما ابن القوطية
أقن: الطعام بالقاف والنون كعني يوقن وهو الذي يعجبك ولا خير فيه قلت: ابن القوطية أقره أي كعني أقنا لم يكن له عقل ولا خير فيه أ ه
أقهر: فلان بالقاف والهاء والراء مبني للمجهول ذل وغلب ذكر في الأصل في مادة قهر
أكرب: الفرس بالكاف والراء الموحدة مبني للمجهول شد خلقه قاله ابن القوطية
أكمت: الأرض بالكاف والميم أكما أكل جميع ما فيها
أل: بتشديد اللام مبني للمجهول ذكره في الأصل في مادة غل بالغين المعجمة واللام المشددة وسيأتي
التمع: اللون باللام والفوقية والميم والعين المهملة مبني للمجهول أذهب وتغير وبوزنه ومعناه
أليم: اللون بالتحتية بدل الميم مذكوران في الأصل في باب اللام
আকতাআ (أقطع): এটি কাফ, ত এবং নুকতাহীন আইন বর্ণযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি নারীদের প্রতি কোনো আকাঙ্ক্ষা রাখে না এবং তাদের সাথে মিলিত হয় না। একইভাবে পুরুষ পশুর ক্ষেত্রেও যখন সেটি মাদি পশুর সাথে সংগম করতে অক্ষম হয়ে পড়ে, তখন একে ‘আকতাআ’ বলা হয়। এর আরেকটি অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তির সমপর্যায়ের অন্যদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতা নির্ধারিত হয়েছে কিন্তু তার জন্য হয়নি। এছাড়া এর অর্থ হলো, সে নিজ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে প্রবাস জীবন যাপন করছে; এমতাবস্থায় তাকে ‘মুকতা’ (مقطع) বলা হয়। তাঁরা (ভাষাবিদগণ) এটি উল্লেখ করেছেন।
আকউদা (أقعد): এটি কাফ, আইন এবং নুকতাহীন দাল বর্ণযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মানুষের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো, তাকে দণ্ডায়মান হতে বাধা প্রদান করা হয়েছে (অর্থাৎ সে পঙ্গু হয়ে পড়েছে)। আর উটের ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো, সে ‘কুআদ’ (القعاد) নামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে (যা ‘গুরাব’ শব্দের ওজনে উচ্চারিত হয়); এটি হলো পশুর নিতম্বের হাড় শিথিল হয়ে যাওয়ার একটি রোগ।
আকমাহা (أقمح): এটি কাফ, মিম এবং নুকতাহীন হা বর্ণযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হলো, সে লাঞ্ছিত ও বিনম্র হয়েছে। ইবনুল কুতীয়াহ উভয় অর্থেই এটি উল্লেখ করেছেন।
আকনা (أقن): খাবারের ক্ষেত্রে এটি কাফ ও নুন বর্ণযোগে ‘উনিয়া’ এর ওজনে ‘ইউকানু’ (يوقن) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো এমন খাবার যা আপনাকে মুগ্ধ করে কিন্তু তাতে কোনো কল্যাণ নেই। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইবনুল কুতীয়াহ একে সমর্থন করে বলেছেন যে, এটি ‘উনিয়া আকনান’ (عني أقنا) এর মতো, যার অর্থ হলো—যার কোনো বুদ্ধি বা কল্যাণ নেই।
আকহারা (أقهر): অমুক ব্যক্তি কাফ, হা এবং রা বর্ণযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো সে লাঞ্ছিত ও পরাজিত হয়েছে। মূল গ্রন্থে ‘কাহারা’ (قهر) মূলধাতুর অধীনে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
আকরাবা (أكرب): ঘোড়ার ক্ষেত্রে কাফ, রা এবং এক নুকতাযুক্ত বা বর্ণযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো তার শারীরিক গঠন সুদৃঢ় হয়েছে। ইবনুল কুতীয়াহ এটি বর্ণনা করেছেন।
আকামাত (أكمت): ভূমির ক্ষেত্রে এটি কাফ ও মিম বর্ণযোগে ‘আকমান’ (أكما) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো ভূমিতে যা কিছু ছিল তার সবই নিঃশেষ করে খাওয়া হয়েছে।
আল্লা (أل): এটি লাম বর্ণের তাশদীদসহ কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মূল গ্রন্থে নুকতাযুক্ত গাইন ও তাশদীদযুক্ত লাম বর্ণযোগে ‘গাল্লা’ (غل) পরিচ্ছেদে এটি উল্লেখ করা হয়েছে এবং সামনেও এর আলোচনা আসবে।
ইলতুমিআ (التمع): রঙের ক্ষেত্রে লাম, তা, মিম এবং নুকতাহীন আইন বর্ণযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো রঙ চলে যাওয়া বা বিবর্ণ হওয়া। একই ওজনে এবং একই অর্থে এটি ব্যবহৃত হয়।
আলিমা (أليم): রঙের ক্ষেত্রে মিম বর্ণের পরিবর্তে ইয়া বর্ণযোগে এটি গঠিত। উভয় শব্দই মূল গ্রন্থের ‘লাম’ (اللام) অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
ألفح: الرجل بالفاء والحاء المهملة مبني للمجهول ذهب ماله قاله ابن القوطية
ألق: الرجل باللام والقاف كعني أصابه الجنون في الصحاح في فصل الهمزة من باب القاف الأولق الجنون وهو فوعل لأنه يقال للمجنون مؤولق على مفوعل وإن شئت جعلت الأولق أفعل يقال الرجل أولق فهو مألوق على مفعول
وقال في فصل الواو من الباب المذكور والأولق شبه الجنون ومنه قول الشاعر:
لعمرك بي من حب أسماء أولق
وهو أفعل لأنهم قالوا ألق الرجل فهو مألوق على مفعول ويقال مؤولق مثل مفولق فإن جعلته من هذا فهو فوعل أ هـ
وقال في القاموس في فصل الهمزة من الباب المذكور الأولق الجنون ألق كعني وهو مألوق ومؤولق
أمتع: فلان بالعافية بالميم والفوقية والعين المهملة مبني للمجهول مثل تمتع قالاه
أمر: الرجل وغيره بالميم والراء كعني شد خلقه قالاه
أمطرنا: بالميم والطاء المهملة والراء مبني للمجهول قاله ابن طريف وابن القوطية
امتقع: اللون بالميم والفوقية والقاف والعين المهملة مبني للمجهول تغير من قهر أو فزع ذكره في الأصل في آخر حرف الميم
أملح: الماء بالميم واللام والحاء المهملة مبني للمجهول صار ملحا قاله ابن القوطية
আলফাহা (ألفح): 'ফা' এবং বিন্দুহীন 'হা' বর্ণযোগে শব্দটি কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো তার সম্পদ নিঃশেষ হয়ে গেছে। ইবনুল কুতিয়্যাহ এটি উল্লেখ করেছেন।
আলিকা (ألق): 'লাম' এবং 'কাফ' বর্ণযোগে শব্দটি 'উনিয়া' (عني)-এর ন্যায় কর্মবাচ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ সে উন্মাদনায় আক্রান্ত হয়েছে। সাহাহ গ্রন্থের 'হামযা' পরিচ্ছেদের 'কাফ' অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে, 'আওলাক' (الأولق) অর্থ উন্মাদনা। এটি 'ফাওয়াল' (فوعل) ওজনে গঠিত, কারণ পাগল ব্যক্তিকে 'মুআওলাক' (مؤولق) বলা হয় যা 'মুফাওয়াল' (مفوعل) ওজনের অনুরূপ। আর আপনি চাইলে 'আওলাক' শব্দটিকে 'আফআল' (أفعل) ওজনেও গণ্য করতে পারেন; বলা হয় লোকটি 'আলিকা' (ألق), অতএব সে হলো 'মালুক' (مألوق) যা 'মাফউল' (مفعول) ওজনে।
উক্ত অধ্যায়ের 'ওয়াও' পরিচ্ছেদে তিনি বলেছেন যে, 'আওলাক' হলো এক প্রকার উন্মাদনা। এ প্রসঙ্গে জনৈক কবির উক্তি:
তোমার জীবনের শপথ, আসমার প্রতি ভালোবাসায় আমার মাঝে এক প্রকার উন্মাদনা (أولق) বিরাজ করছে।
এটি 'আফআল' (أفعل) ওজনে গঠিত, কারণ ভাষাবিদগণ বলেন 'আলিকা' (ألق) ব্যক্তিটি হলো 'মালুক' (مألوق) যা 'মাফউল' (مفعول) ওজনে। আবার 'মুআওলাক' (مؤولق) শব্দটিও 'মুফাওলাক' (مفولق)-এর ন্যায় ব্যবহৃত হয়; যদি আপনি একে এই মূল থেকে ধরেন তবে তা 'ফাওয়াল' (فوعل) ওজনে হবে। সমাপ্ত (أ هـ)।
কামূস গ্রন্থের উল্লিখিত অধ্যায়ের 'হামযা' পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, 'আওলাক' হলো উন্মাদনা; 'আলিকা' (ألق) শব্দটি 'উনিয়া' (عني)-এর ওজনে ব্যবহৃত হয় এবং এর বিশেষণ হলো 'মালুক' (مألوق) ও 'মুআওলাক' (مؤولق)।
উমতিআ (أمتع): 'মিম', 'তা' এবং বিন্দুহীন 'আইন' বর্ণযোগে 'অমুক ব্যক্তি সুস্থতা লাভ করেছেন' অর্থে শব্দটি কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা 'তামাত্তাআ' (تمتع)-এর সমার্থবোধক। তাঁরা উভয়ে এটি উল্লেখ করেছেন।
উমিরা (أمر): 'মিম' এবং 'রা' বর্ণযোগে ব্যক্তি বা অন্য কিছুর ক্ষেত্রে শব্দটি 'উনিয়া' (عني)-এর ন্যায় ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো তার শারীরিক গঠন সুদৃঢ় হয়েছে। তাঁরা উভয়ে এটি বলেছেন।
উমতিরনা (أمطرنا): 'মিম', 'তয়া' এবং 'রা' বর্ণযোগে শব্দটি কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইবনু তারিফ এবং ইবনুল কুতিয়্যাহ এটি উল্লেখ করেছেন।
উমতুবিআ (امتقع): বর্ণের রঙের ক্ষেত্রে 'মিম', 'তা', 'কাফ' এবং বিন্দুহীন 'আইন' বর্ণযোগে শব্দটি কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ হলো দমন বা ভীতির কারণে রঙের পরিবর্তন হওয়া। মূল গ্রন্থের 'মিম' বর্ণের শেষে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।
উমলিহা (أملح): পানির ক্ষেত্রে 'মিম', 'লাম' এবং বিন্দুহীন 'হা' বর্ণযোগে শব্দটি কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যার অর্থ হলো পানি লবণাক্ত হয়ে যাওয়া। ইবনুল কুতিয়্যাহ এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
أمهت: الغنم بالميم والهاء كعني وعلم إصابتها الأميهة كسفينة وهو جدري الغنم أمها وأمهت فهي أميهة ومأهوهة وموهوهة وأمه الرجل فهو مأموه ليس معه عقل مذكور في حرف الميم في الأصل
انتقع: اللون بوزن امتقع المذكور قبله إلا أنه بالنون بدل الميم
قال في الصحاح انتقع لونه أي بالبناء للمفعول فهو منتقع لغة في انتقع أي مبنيا للفاعل
وقال امتقع لونه أي تغير من خوف أو فزع وكذا انتقع والميم أجود واستنقع اللون مبني للمجهول تغير وهو من باب الاستفعال واستنقع الشيء في الماء بوزنه وضبطه نقع ذكره في الأصل في حرف النون
انتسف: بالنون والفوقية والسين المهملة والفاء مبني للمجهول تغير وبوزنه وضبطه انتشف إلا أنه بالشين المعجمة بدل المهملة ومعناه أيضا تغير ذكره وما قبله في الأصل في حرف النون
أنجد: الفرس بالنون والجيم والدال المهملة عرق وأنجد الرجل بالوزن المذكور أي كرب كربا يعرف منه
أنحض: فلان بالنون والحاء المهملة والضاد المعجمة قل لحمه مذكور في الأصل في باب النون
أنزفت: البئر بالنون والزاي والفاء مبني للمجهول يتعدى ولا يتعدى مذكور في باب النون في الأصل
قال ابن طريف وابن القوطية: أنزف القوم أي مبني للمجهول نفد شرابهم
انقطع: بفلان بالنون والفاء والطاء والعين المهملتين مبني للمجهول فهو منقطع به إذا عجز في سفره عن نفقته أو ذهبت راحلته وأتاه أمر لا يقدر أن يتحرك منه وبمعناه قطع الأثر في حرف القاف ذكره في الأصل في بابه
أنكر: بالنون والكاف والراء مبني للمجهول فهو نكر ومنكر إذا صار داهيا قاله ابن القوطية
উমিহাত (أمهت): মেষপালের ক্ষেত্রে মিম এবং হা সহযোগে এটি 'উনিয়া' (عني) এবং 'আলিমা' (علم) এর ওজনে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হলো 'উমাইহা' (أميهة) নামক রোগে আক্রান্ত হওয়া যা 'সাফিনা' (سفينة) এর ওজনে গঠিত; আর এটি হলো মেষের বসন্ত রোগ। এটি 'আমা' (أمها) এবং 'উমিহাত' (أمهت) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, ফলে সেটিকে 'উমাইহা' (أميهة), 'মা’হুহা' (مأهوهة) এবং 'মাউহুহা' (موهوهة) বলা হয়। আর ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'আমিহা' (أمه) বলা হয় যখন সে 'মা’মুহ' (مأموه) হয়, অর্থাৎ যার হিতাহিত জ্ঞান বা বুদ্ধি নেই। এটি মূল গ্রন্থের মিম (م) বর্ণে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইনতাকা’আ (انتقع): বর্ণের ক্ষেত্রে এটি পূর্বে বর্ণিত 'ইমতাকা’আ' (امتقع) এর ওজনে ব্যবহৃত হয়, তবে এখানে মিম এর পরিবর্তে নুন হবে।
আস-সিহাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'ইনতাকা’আ লাউনুহু' (انتقع لونه) শব্দটি কর্মবাচ্যে ব্যবহৃত হয়; এটি 'ইনতাকা’আ' (انتقع) শব্দের একটি ভাষাগত রূপ যা কর্তৃবাচ্যেও ব্যবহৃত হয়।
তিনি আরও বলেন, 'ইমতাকা’আ লাউনুহু' (امتقع لونه) এর অর্থ হলো ভয় বা আতঙ্কে বর্ণ পরিবর্তিত হওয়া; 'ইনতাকা’আ' (انتقع) শব্দের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, তবে মিম বর্ণটি অধিকতর বিশুদ্ধ। 'ইস্তানকা’আ আল-লাউন' (استنقع اللون) শব্দটি কর্মবাচ্যে ব্যবহৃত হলে তার অর্থও বর্ণ পরিবর্তিত হওয়া, যা 'ইস্তিফ’আল' (استفعال) পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত। আর 'ইস্তানকা’আ আশ-শাইউ ফিল মা' (استنقع الشيء في الماء) এর ওজন ও গঠন 'নাকা’আ' (نقع) এর ন্যায়; এটি মূল গ্রন্থের নুন (ن) বর্ণে বর্ণিত হয়েছে।
ইনতাসাফা (انتسف): নুন, তা, সিন এবং ফা সহযোগে কর্মবাচ্যে এর অর্থ হলো বর্ণ পরিবর্তিত হওয়া। এর ওজন এবং গঠন 'ইনতাশাফা' (انتشف) এর ন্যায়, তবে এখানে সিনের পরিবর্তে শিন ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর অর্থও পরিবর্তিত হওয়া। এটি এবং এর পূর্ববর্তী শব্দটি মূল গ্রন্থের নুন (ن) বর্ণে আলোচিত হয়েছে।
আনজাদা (أنجد): ঘোড়ার ক্ষেত্রে নুন, জিম এবং দাল সহযোগে এর অর্থ ঘর্মাক্ত হওয়া। আর মানুষের ক্ষেত্রে উক্ত ওজনে এর অর্থ হলো এমন দুশ্চিন্তা বা বিপদে পড়া যা তার অবয়ব দেখে বোঝা যায়।
আনহাদা (أنحض): অমুক ব্যক্তি 'আনহাদা' (أنحض) হওয়ার অর্থ হলো তার শরীরের মাংস কমে যাওয়া। এটি নুন, হা এবং দাদ সহযোগে গঠিত এবং মূল গ্রন্থের নুন (ن) অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আনজিফাত (أنزفت): কূপের ক্ষেত্রে নুন, যা এবং ফা সহযোগে কর্মবাচ্যে এটি সকর্মক ও অকর্মক উভয় ভাবেই ব্যবহৃত হয়। এটি মূল গ্রন্থের নুন (ن) অধ্যায়ে উল্লিখিত।
ইবনে তরিফ এবং ইবনুল কুতিয়্যাহ বলেন: 'আনজিফাল ক্বাউমু' (أنزف القوم) অর্থাৎ কর্মবাচ্যে এর অর্থ হলো লোকজনের পানীয় বা শরাব শেষ হয়ে যাওয়া।
ইনকাতি’আ (انقطع): নুন, ফা, ত এবং আ'ইন সহযোগে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে কর্মবাচ্যে এটি ব্যবহৃত হয়; তখন তাকে 'বিচ্ছিন্ন (منقطع)' বলা হয় যদি সে সফরে পাথেয় ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে অপারগ হয়ে পড়ে অথবা তার বাহন হারিয়ে যায় এবং এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় যেখান থেকে সে নড়াচড়া করতে পারে না। একই অর্থে 'ক্বুতি’আ আল-আসার' (قطع الأثر) শব্দটি ক্বাফ (ق) বর্ণে মূল গ্রন্থের সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আনকারা (أنكر): নুন, কাফ এবং রা সহযোগে কর্মবাচ্যে এর প্রয়োগ হয়; তখন তাকে 'নাকুর' (نكر) এবং 'অপরিচিত বা প্রত্যাখ্যাত (منكر)' বলা হয় যখন সে অত্যন্ত ধূর্ত বা বুদ্ধিমান হয়। এটি ইবনুল কুতিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
أنهج: بالنون والهاء والجيم مبني للمجهول علاه الربو ونهج الإنسان علا نفسه أو حدث به ربو من شر عاجله في حديث عمر
(إن سلمان بن ربيعة شكا إليه عاملا من عماله فضربه بالدرة حتى أنهج) أي حتى ربا موضع الضرب قالاه
أهتر: الرجل بالهاء والفوقية والراء مبني للمجهول ذهب عقله من الكبر
قاله ابن القوطية
اهتقع: اللون بالفوقية والقاف والعين المهملة مبني للمجهول تغير وبوزنه ومعناه اهتمع اللون بإبدال القاف ميما وهما من باب الافتعال
أهدر: دمه بالهاء والدال المهملة والراء مبني للمجهول فهو مهدور
أهرع: الرجل بالهاء والراء والعين المهملة مبني للمجهول فهو مهرع بصيغة المفعول كما في القاموس أي يرعد من غضب أو ضعف أو خوف وفي الضياء أهرع الرجل أي مبني للمجهول إذا ارتعد فزعا أو غضبا والإهراع شدة السوق قال تعالى (يهرعون إليه) [هود: الآية 78] قيل لا يكون الإهراع إلا إسراعا مع رعدة
انتهى
وفي الصحاح أهرع الرجل على ما لم يسم فاعله فهو مهرع إذا كان يرعد من غضب أو حمق أو هزل
أهل: الهلال بالهاء واللام المشددة واستهل من باب الاستفعال مبني للمجهول فيهما ويقالان بالبناء للفاعل ذكر الأصل الخمسة في حرف الهاء
أهل: المكان بالهاء واللام كعني إذا كان فيه أهله فهو مأهول وآهل
আন্নাহজা: এটি নুন, হা এবং জিম বর্ণযোগে কর্মবাচ্য হিসেবে গঠিত। এর অর্থ হলো শ্বাসকষ্ট হওয়া। 'নাহাজাল ইনসান' অর্থ হলো ব্যক্তির দম আটকে যাওয়া বা দ্রুত চলার কারণে হাঁপিয়ে ওঠা অথবা উপস্থিত কোনো কষ্টের কারণে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়া। উমরের হাদিসে এসেছে:
(সালমান বিন রাবিয়াহ তাঁর কাছে তাঁর একজন আমিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তিনি তাকে চাবুক দিয়ে আঘাত করেন, ফলে সে হাঁপিয়ে ওঠে) অর্থাৎ আঘাতের স্থানটি ফুলে উঠেছিল—তাঁরা উভয়ে (ভাষাবিদ) এ কথাই বলেছেন।
আহতারা: এটি হা, তা এবং রা বর্ণযোগে কর্মবাচ্য হিসেবে গঠিত; যার অর্থ বার্ধক্যের কারণে কোনো ব্যক্তির বুদ্ধি লোপ পাওয়া।
ইবনুল কুতিয়াহ এটি বর্ণনা করেছেন।
ইহতাক্বা’আ: এটি তা, ক্বফ এবং আইন বর্ণ সহযোগে কর্মবাচ্য হিসেবে গঠিত। এর অর্থ হলো রঙের পরিবর্তন হওয়া। একই ওজনে এবং একই অর্থে ক্বফ বর্ণকে মিম দ্বারা পরিবর্তন করে 'ইহতামায়া' শব্দটিও ব্যবহৃত হয়। এই উভয় শব্দই ইফতিয়াল পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত।
আহদারা: এটি হা, দাল এবং রা বর্ণযোগে কর্মবাচ্য হিসেবে গঠিত; যার অর্থ হলো কারো রক্ত (মূল্যহীন বা দণ্ডযোগ্য হিসেবে) বৈধ করা। এর কর্মবাচ্য রূপ হলো 'মাহদুর'।
আহরুআ: এটি হা, রা এবং আইন বর্ণযোগে কর্মবাচ্য হিসেবে গঠিত। 'আল-ক্বামুস' অভিধান অনুযায়ী এটি 'মুহরা' অর্থাৎ কর্মবাচ্যের রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হলো রাগ, দুর্বলতা বা ভয়ে প্রকম্পিত হওয়া। 'আদ-দিয়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে, 'আহরা' শব্দটি কর্মবাচ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় যখন কেউ আতঙ্ক বা রাগে প্রকম্পিত হয়। আর 'ইহরা' অর্থ হলো দ্রুত চালনা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: (তারা তাঁর দিকে দ্রুত ছুটে আসছিল) [সূরা হুদ: আয়াত ৭৮]। বলা হয়েছে যে, 'ইহরা' কেবল কম্পনের সাথে দ্রুত চলাকেই বোঝায়।
আলোচনা সমাপ্ত
'আস-সিহাহ' গ্রন্থে রয়েছে, 'আহরা' শব্দটি অনুক্ত কর্তা বা কর্মবাচ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে 'মুহরা' বলা হয়; যখন কেউ রাগ, বোকামি বা দুর্বলতার কারণে কাঁপতে থাকে।
আহাল্লা: এটি হা এবং দ্বিত্ব লাম বর্ণযোগে গঠিত। নতুন চাঁদ উঠার ক্ষেত্রে এটি এবং 'ইস্তাহাল্লা' (যা ইসতিফআল পরিচ্ছেদ থেকে এসেছে) উভয়টিই কর্মবাচ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার এগুলো কর্তৃবাচ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। মূল পাঁচটি গ্রন্থ 'হা' বর্ণের অধীনে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছে।
আহিলা: কোনো স্থান জনবহুল হওয়া অর্থে এটি হা এবং লাম বর্ণযোগে 'আনিইয়া' এর ওজনে ব্যবহৃত হয়। যখন সেখানে বাসিন্দারা থাকে, তখন তাকে 'মাহউল' বা 'আহিল' (জনবসতিপূর্ণ) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
أوبصت: الأرض بالواو والموحدة والصاد ظهر نباتها
قال ابن القوطية وبص الشيء والنار وبيصا برقا وأوبصت الأرض بالبناء للفاعل ظهر نباتها وأوبصت أي بالبناء للمجهول كذلك
أوزع: بالشيء بالزاي والعين المهملة أولع به قاله ابن القوطية
أوضع: بالواو والضاد المعجمة والعين المهملة مبني للمجهول ووضع كعني أي خسر
أوكس: الرجل بالواو والكاف والسين المهملة أي خسر مذكور في الأصل في وكس
أولع: بكذا بالواو واللام والعين المهملة مبني للمجهول أغري به واشتغل مذكور وهو وما قبله في الأصل في باب الواو
وقال ابن القوطية: يقال: ولع بالشيء ولعا وولوعا لزمه وأغري به لغة والأعم أولع به أ هـ
وفي المصباح ولع بالشيء بالبناء للمفعول يولع ولعا بفتح الواو علق به
وفي لغة ولع بفتح اللام وكسرها يلع بفتحها فيها مع سقوط الواو ولعا بسكون اللام وفتحها أ ه
আওবাসাত (أوبصت): যমীন; এটি ওয়াও, এক নুক্তাবিশিষ্ট (الموحدة) বা এবং সদ অক্ষরের সমন্বয়ে গঠিত। এর অর্থ হলো ভূমিতে উদ্ভিদ দৃশ্যমান হওয়া।
ইবনে আল-কুতিয়্যাহ বলেন, কোনো বস্তু বা আগুনের দ্যুতি বা চমককে ‘বাসসা’ (بص) বলা হয়। ‘আওবাসাত’ (أوبصت) শব্দটি কর্তৃবাচ্য (بالبناء للفاعل) হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার অর্থ হয় যমীন উদ্ভিদ প্রকাশ করেছে। একইভাবে এটি কর্মবাচ্য (بالبناء للمجهول) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
আওযাআ (أوزع): কোনো বিষয়ের প্রতি; এটি যাই এবং নুক্তাহীন (المهملة) আইন বর্ণযোগে গঠিত। এর অর্থ হলো কোনো বিষয়ের প্রতি অতিশয় অনুরাগী হওয়া। ইবনে আল-কুতিয়্যাহ এটি বর্ণনা করেছেন।
আওদাআ (أوضع): এটি ওয়াও, নুক্তাবিশিষ্ট (المعجمة) দদ এবং নুক্তাহীন (المهملة) আইন বর্ণযোগে গঠিত। এটি কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং ‘উনিয়া’ এর ওজনে ‘উদিআ’ পড়লে এর অর্থ হয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।
আওকাসা (أوكس): ব্যক্তিটি; এটি ওয়াও, কাফ এবং নুক্তাহীন (المهملة) সিন বর্ণযোগে গঠিত। এর অর্থ হলো সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি মূল গ্রন্থে ‘ওয়াকস’ (وكس) পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।
আওলাআ (أولع): অমুক বিষয়ে; ওয়াও, লাম এবং নুক্তাহীন (المهملة) আইন বর্ণযোগে গঠিত এবং কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) রূপে ব্যবহৃত। এর অর্থ হলো কোনো বিষয়ে আসক্ত হওয়া এবং তাতে নিমগ্ন থাকা। এই শব্দটি এবং এর পূর্ববর্তী শব্দটি মূল গ্রন্থে ‘ওয়াও’ অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইবনে আল-কুতিয়্যাহ বলেন: বলা হয়, ‘ওয়ালিআ’ (ولع) অর্থাৎ সে বিষয়টিতে অবিচল থাকল এবং সেটির প্রতি আসক্ত হলো। এটি একটি ভাষাগত প্রয়োগ, তবে অধিক প্রচলিত ব্যবহার হলো ‘আওলাআ’ (أولع)। (সমাপ্ত)
আল-মিসবাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে, ‘উলিআ’ (ولع) কর্মবাচ্য (بالبناء للمفعول) হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ কোনো কিছুর প্রতি আসক্ত হওয়া।
অন্য একটি ভাষাগত রীতিতে, ‘লাম’ বর্ণের ফাতহ বা কাসরা সহযোগে ‘ওয়ালাআ’ (ولع) বা ‘ওয়ালিআ’ (ولع) ব্যবহৃত হয়। এর বর্তমান কালীয় রূপ ‘ইয়ালাউ’ (يلع), যেখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং ক্রিয়াবিশেষ্য বা মাসদার হিসেবে ‘লাম’ বর্ণের সুকুন বা ফাতহ যোগে ‘ওয়ালআন’ (ولعا) বা ‘ওয়ালাআন’ (ولعا) রূপে ব্যবহৃত হয়। (সমাপ্ত)
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
(حرف الباء)
بخت: بالخاء المعجمة والفوقية كعني بختا أي صار له حظ وجد قاله ابن طريف
بدي: أي كعني بدا حصب أو جدر
بر: حجه بفتح الموحدة وضمها وبالراء المشددة أي خلص من الإثم فهو مبرور
بطن: الرجل بالطاء المهملة والنون كعني اشتكى بطنه
بعض: المكان بالعين المهملة والضاد المعجمة صار فيه البعوض قاله ابن طريف
بقع: بالقاف والعين المهملة كعني رمي بكلام قبيح
بلد: زيد مبني للمعلوم وللمجهول والدابة عجز وبطؤ وبلد بالمكان بلودا كقعد أقام به وبلد كشرف بلادة أعيا قاله ابن القوطية
بليت: الناقة باللام والتحتية كعني إذا مات ربها وشدت عند قبره حتى تموت كانوا يفعلون ذلك ويقولون حتى يحشر عليها
بهت: الرجل بالهاء والفوقية كعلم ونصر وكرم وزهي إذا أخذ بغتة أو انقطع أو تحير فهو مبهوت لا باهت ولا بهت
(বর্ণ: বা)
বখত: এটি নুক্তাযুক্ত ‘খা’ এবং ওপরের নুক্তাযুক্ত ‘তা’ বর্ণযোগে ‘উনিয়া’ এর ওজনে গঠিত; এর অর্থ হলো—সে সৌভাগ্যবান বা ভাগ্যবান হয়েছে। ইবনুত তরীফ এটি বর্ণনা করেছেন।
বাদী: অর্থাৎ এটি ‘উনিয়া’ এর ওজনে ব্যবহৃত হয়; এর অর্থ—হাম বা বসন্ত রোগে আক্রান্ত হওয়া।
বার্রা: ‘বার্রা হাজ্জাহু’ বাক্যটিতে এটি প্রথম বর্ণে ফাতহা (যবর) ও পেশ উভয়টি এবং ‘রা’ বর্ণে তাশদীদ যোগে গঠিত। এর অর্থ—পাপ থেকে মুক্ত হওয়া; এমতাবস্থায় হজকে ‘মাবরুর’ (কবুলকৃত) বলা হয়।
বাতিনা: ‘বাতিনা আল-রাজুল’ এটি নুক্তাহীন ‘তা’ এবং ‘নুন’ বর্ণযোগে ‘উনিয়া’ এর ওজনে গঠিত; এর অর্থ—লোকটি পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়েছে।
বা’ইদা: কোনো স্থানের বর্ণনায় এটি নুক্তাহীন ‘আইন’ এবং নুক্তাযুক্ত ‘দাদ’ বর্ণযোগে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ—সেখানে মশার উপদ্রব হয়েছে। ইবনুত তরীফ এটি বর্ণনা করেছেন।
বুকি’আ: এটি ‘কাফ’ এবং নুক্তাহীন ‘আইন’ বর্ণযোগে ‘উনিয়া’ এর ওজনে গঠিত। এর অর্থ—কাউকে কটু কথা বা অশ্লীল ভাষায় বিদ্ধ করা।
বালাদা: ‘যায়েদুন বালাদা’ এটি কর্তৃকবাচ্য ও কর্মবাচ্য উভয় রূপেই গঠিত হয়। আর পশুর ক্ষেত্রে এর অর্থ হলো—অক্ষম ও ধীরগতি সম্পন্ন হওয়া। ‘বালাদা বিল মাকান’ অর্থ—কোনো স্থানে অবস্থান করা, যা ‘কা’আদা’ এর ওজনে ‘বালুদান’ (ক্রিয়ামূল) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার এটি ‘শারুফা’ এর ওজনে ‘বালাদাতান’ হিসেবে ব্যবহৃত হলে এর অর্থ—ক্লান্ত বা শ্রান্ত হওয়া। ইবনুল কুতিয়্যাহ এটি বর্ণনা করেছেন।
বুলিয়াত: উষ্ট্রী সম্পর্কে এটি ‘লাম’ এবং ‘ইয়া’ বর্ণযোগে ‘উনিয়া’ এর ওজনে গঠিত। যখন উষ্ট্রীর মালিক মারা যেত, তখন সেটিকে তার কবরের নিকট বেঁধে রাখা হতো যতক্ষণ না সেটি মারা যায়। তারা এমনটি করত এবং বলত যে, কিয়ামতের দিন মালিক এর পিঠে চড়েই পুনরুত্থিত হবে।
বাহিতা: ‘বাহিতা আল-রাজুল’ এটি ‘হা’ এবং ওপরের নুক্তাযুক্ত ‘তা’ বর্ণযোগে ‘আলিমা’, ‘নাসারা’, ‘কারুমা’ এবং ‘যুহিয়া’ এর ওজনে ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ—যখন সে অতর্কিতভাবে ধরা পড়ে অথবা বাকরুদ্ধ হয়ে যায় অথবা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় তাকে ‘মাবহুত’ বলা হয়; ‘বাহীত’ বা ‘বাহাত’ নয়।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
بيع: به بالتحتية والعين المهملة مبني للمجهول
قال الشيخ مجد الدين ثوران الدم وباع يبيع هلك ولسداد فارس بعت به انقطعت به وبيع به مجهولا وتبيع عليه الأمر اختلط والدم هاج وغلب اللبن كثر
انتهى
قلت: وقوله: يبيع عليه يحتمل أن يكون مجهولا قيدا فيه وفيما قبله ويحتمل أن يكون خاصا ببيع ويبيع مبني للفاعل فليحرر ذلك والأول أقرب في كلامه
বিয়া (بيع): এটি নিচের নুক্তাযুক্ত ইয়া এবং বিন্দুহীন আইন সহযোগে কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে গঠিত।
শায়খ মাজদুদ্দীন বলেছেন, এর অর্থ রক্তের প্রবল প্রবাহ; আর 'বা’আ ইয়াবি’উ' (باع يبيع) অর্থ ধ্বংস হওয়া। পারস্যের সিদাদের বর্ণনায় 'বি’তু বিহি' (بعت به) অর্থ আমি তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। আর 'বি’আ বিহি' (بيع به) শব্দটি অজ্ঞাত (مجهول) হিসেবে পঠিত। 'তাবি’আ আলাইহিল আমরু' (تبيع عليه الأمر) এর অর্থ বিষয়টি সংমিশ্রিত বা বিভ্রান্তিকর হয়ে যাওয়া (اختلط)। আর রক্ত প্রবল হওয়া এবং দুধের আধিক্য পাওয়ার অর্থ হলো তা বৃদ্ধি পাওয়া।
সমাপ্ত
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তার বক্তব্য 'ইয়াবি’উ আলাইহি' (يبيع عليه) এর ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি অজ্ঞাত (مجهول) হিসেবে এই শব্দের এবং তার পূর্ববর্তী শব্দের জন্য একটি সীমাবদ্ধতা হবে। আবার এও সম্ভাবনা আছে যে, এটি কেবল 'বি’আ' (بيع) ও 'ইয়াবি’উ' (يبيع) এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হবে যা কর্তৃবাচ্য (مبني للفاعل) হিসেবে গঠিত। সুতরাং বিষয়টি আরও পর্যালোচনার দাবি রাখে, তবে তার বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে প্রথম বিষয়টিই অধিকতর নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
(حرف التاء)قال صاحب الأصل: لم أر فيه شيئا وذكر الدميري في منظومته وهو مراده بالمنظومة والنظم فيما ينقله عنه ما صورته:
تخم: بالفوقية والخاء المعجمة والميم وهو إن كان من التخمة فأصله الواو لأن التخمة أصلها وخمة ولكن لم أره مذكورا بالبناء للمجهول ويحتمل أن يكون مصحفا وقد نظرت في جميع تصاريفه فلم أر فيها شيئا بالبناء للمجهول فليحرر
تطلق: الرجل بالطاء المهملة واللام المشددة والقاف
قال في الضياء: إذا لدغ فسكن وجعه بعد العداد ذكره في الأصل في حرف الطاء
تل: عرش القوم بتشديد اللام ذهب ملكهم وعزهم قاله ابن القوطية
(তা বর্ণমালা)মূল গ্রন্থের রচয়িতা বলেন: আমি এই বিষয়ে কোনো বর্ণনা পাইনি। আদ-দামিরি তাঁর কাব্যগ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন—আর তিনি যখন তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন, তখন 'মানজুমাহ' ও 'নাজম' দ্বারা এই বর্ণনাটিই তাঁর উদ্দেশ্য—যার বিবরণ নিম্নরূপ:
তুখিম (تخم): এটি উপরিভাগে নুক্তাযুক্ত 'তা', নুক্তাযুক্ত 'খা' এবং 'মিম' সহযোগে গঠিত। এটি যদি 'তুখামাহ' থেকে ব্যুৎপন্ন হয়, তবে এর মূল বর্ণ হবে 'ওয়াও', কারণ 'তুখামাহ'-এর মূল উৎস হলো 'ওয়াখামাহ'। কিন্তু আমি একে কর্মবাচ্য (بناء للمجهول) হিসেবে উল্লিখিত হতে দেখিনি এবং সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি একটি ভ্রান্ত পাঠ (مصحف)। আমি এর সকল প্রকার শব্দরূপ পর্যালোচনা করেছি এবং সেখানে কর্মবাচ্য (بناء للمجهول) হিসেবে কোনো ব্যবহার পাইনি। অতএব বিষয়টি পুনঃনিরীক্ষণ করা প্রয়োজন।
তুতলিক্বা (تطلق): নুক্তাবিহীন 'ত্বা', তাসদীদযুক্ত 'লাম' এবং 'ক্বাফ' সহযোগে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণিত।
'আদ-দিয়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে: যখন দংশিত ব্যক্তির বিষক্রিয়ার তীব্রতা শেষে যন্ত্রণা প্রশমিত হয়। তিনি এটি মূল গ্রন্থের 'ত্বা' অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।
তাল্লা (تل): 'তাল্লা আরশু আল-ক্বাওম' বাক্যটিতে 'লাম' বর্ণটি তাসদীদযুক্ত। এর অর্থ হলো—তাদের রাজত্ব ও সম্মান বিলীন হয়েছে। ইবনে আল-কুতিয়্যাহ এটি বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
تودع: من فلان بالواو والدال والعين المهملتين مبني للمجهول أي سلم عليه وقوله
(إذا رأيت أمتي تهاب الظالم أن تقول له ظالم فقد تودع منهم) أي استريح وخذلوا وخلي بينهم وبين المعاصي أو تحفظ منهم وتوقي منهم كما يتوقى من شرار الناس ذكره في الأصل في حرف الواو
তুদ্দা (تودع): এটি ‘ওয়াও’, ‘দাল’ এবং নুকতাহীন ‘আইন’ (العين المهملة) বর্ণযোগে গঠিত এবং কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) হিসেবে ব্যবহৃত, যার অর্থ হলো তাকে বিদায় জানানো হয়েছে। আর তাঁর বাণী—
(যখন তুমি দেখবে আমার উম্মত কোনো জালেমকে ‘জালেম’ বলতে ভয় পাচ্ছে, তখন তাদের থেকে বিদায় নেওয়া হয়েছে) অর্থাৎ তাদের থেকে অব্যাহতি নেওয়া হয়েছে, তারা লাঞ্ছিত হয়েছে এবং তাদের ও তাদের পাপকাজের মাঝে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অথবা তাদের থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে এবং তাদের থেকে আত্মরক্ষা করা হয়েছে যেমনটি পাপাচারী লোকদের থেকে করা হয়। এটি মূল গ্রন্থে ‘ওয়াও’ বর্ণে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৫০)
(حرف الثاء)
ثئط: الرجل بالهمزة والطاء المهملة كعني أصابه الثؤاط كغراب وهو الزكام
ثبل: البعير بالموحدة واللام كعني ثبلا عظم بطنه وهو وعاء قضيبه
ثطئ: الرجل بالطاء المهملة والهمزة ثطيا حمق قاله فيهما ابن القوطية
ثطع: الرجل بالطاء والعين المهملتين كعني أصابه الثطاع كغراب وهو الزكام
ثطغ: بالطاء المهملة والغين المعجمة كعني إذا زكم فهو مثطوغ قاله ابن طريف
ثغر: فمه كعوي وأثغر مبني للمجهول بالغين المعجمة والراء فيهما دق وسقطت أسنانه أو رواضعه فهو مثغور
قلت: قال ابن القوطية: ثغر الصبي ثغورا سقطت رواضعه وأثغر نبتت أسنانه والقوم صاروا في الثغر
انتهى
ثلج: فؤاد الرجل باللام والجيم فهو مثلوج إذا كان بليدا وثلج فلان تحير بالزنة والضبط أتاه ثلج: سر به
(বর্ণ ছা)
ছুইতা: ব্যক্তি সম্পর্কে হামজা এবং নুকতাহীন 'ত্ব' বর্ণযোগে, 'উনিয়া' এর ওজনে; এর অর্থ সে সর্দিতে আক্রান্ত হয়েছে, যা 'ছুআত' (গুরাব-এর ওজনে), আর তা হলো সর্দি বা ঠাণ্ডা লাগা।
ছুবিলা: উট সম্পর্কে, এক নুকতাযুক্ত 'বা' এবং 'লাম' যোগে, 'উনিয়া' এর ওজনে; 'ছাবলান' অর্থ তার পেট বড় হয়ে যাওয়া, যা মূলত তার পুরুষাঙ্গের আধার।
ছাতিআ: ব্যক্তি সম্পর্কে নুকতাহীন 'ত্ব' এবং হামজা যোগে; 'ছাত-ইয়ান' অর্থ সে নির্বোধ (حمق) হওয়া। ইবনুল কুতিয়্যাহ এ উভয়টি সম্পর্কে এরূপ বলেছেন।
ছুতিআ: ব্যক্তি সম্পর্কে নুকতাহীন 'ত্ব' এবং 'আইন' বর্ণযোগে, 'উনিয়া' এর ওজনে; এর অর্থ সে সর্দিতে আক্রান্ত হওয়া যা 'ছুতা‘' (গুরাব-এর ওজনে), আর তা হলো সর্দি-কাশি।
ছুতিগা: নুকতাহীন 'ত্ব' এবং নুকতাযুক্ত 'গাইন' বর্ণযোগে, 'উনিয়া' এর ওজনে; যখন কেউ সর্দিতে আক্রান্ত হয় তখন তাকে 'মাছতুগ' বলা হয়। ইবনু তারিফ এটি বলেছেন।
ছুগিরা: তার মুখগহ্বর সম্পর্কে, 'ছুগিরা' এবং 'উছগিরা' শব্দদ্বয় কর্মবাচ্য হিসেবে; নুকতাযুক্ত 'গাইন' এবং 'রা' বর্ণযোগে। এ উভয়টির অর্থ হলো দাঁত ভেঙে যাওয়া কিংবা সামনের দুধদাঁতগুলো পড়ে যাওয়া। এমতাবস্থায় তাকে 'মাছগুর' বলা হয়।
আমি বলছি: ইবনুল কুতিয়্যাহ বলেছেন: শিশুর দুধদাঁত পড়ে গেলে 'ছাগারা' বলা হয়, আর যখন তার নতুন দাঁত গজায় তখন তাকে 'আছগারা' বলা হয়। আর যখন কোনো লোকালয় সীমান্ত অঞ্চলে পরিণত হয় তখন এই শব্দের ব্যবহার হয়।
সমাপ্ত।
ছুলিজা: ব্যক্তির অন্তর সম্পর্কে, 'লাম' এবং 'জিম' বর্ণযোগে; যদি সে স্থূলবুদ্ধি (بليد) হয় তবে তাকে 'মাছলুজ' বলা হয়। আর অমুক 'ছালিজা' অর্থ সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়েছে; এটি একই ওজন ও স্বরবিন্যাসে ব্যবহূত হয়। তার নিকট 'ছালজ' আসা মানে হলো সে আনন্দিত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৫১)
ثوي: الرجل بالواو والتحتية كعني قبر
ثئب: الرجل ثأبا كعني أصابه كسل أو فترة كفترة النعاس فهو مثؤب
থুবি (ثوي): ব্যক্তিটির ক্ষেত্রে (الرجل) ওয়াও এবং ইয়া (بالواو والتحتية) সহকারে এটি 'উনিয়া' এর ন্যায় (كعني) ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ হলো সমাহিত করা হয়েছে (قبر)।
থুইবা (ثئب): ব্যক্তিটি (الرجل) 'থাবআন' (ثأبا) সহকারে 'উনিয়া' এর ন্যায় (كعني), অর্থাৎ তাকে অলসতা (كسل) বা তন্দ্রার ন্যায় অবসাদ (فترة) গ্রাস করেছে; এমতাবস্থায় তাকে 'মাছউব' (مثؤب) বলা হয়।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৫২)
(حرف الجيم)
جثث: الرجل بالهمزة والمثلثة فزع ومنه حديث أول نزول جبريل
(فجئثت منه فزعا)
وقال بعضهم: (فجثثت) أي بمثلثتين مع الجيم وهو فيهما مبني للمفعول
جئر: الرجل بالهمزة والراء كعني إذا أصابه الجائر وهو جيشان النفس قال الشاعر:
فلما سمعت القوم نادوا مقاعسا
… تعرض لي دون الترائب جائر
جبل: الإنسان بالموحدة واللام كعني جبلا فهو مجبول عظم خلقه
وفي حديث ابن مسعود: أن رجلا وكزه إلى الأرض وكان رجلا مجبولا عظيما قاله ابن طريف فيهما
(জিম বর্ণ)জুথিশা: হামযা এবং তিন নুক্তাবিশিষ্ট (المثلثة) বর্ণযোগে ব্যক্তিটির ভীত হওয়া। এ থেকেই জিবরীলের প্রথম অবতরণ সংক্রান্ত হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে:
(আমি তাঁর কারণে অত্যন্ত ভীত হয়ে পড়েছিলাম)
কেউ কেউ বলেছেন: (আমি ভীত হয়েছিলাম) অর্থাৎ জিমের সাথে দুটি 'ছা' বর্ণসহ; আর এটি উভয় শব্দরূপেই কর্মবাচ্য (مبني للمفعول) হিসেবে ব্যবহৃত।
জুয়িরা: 'উনিয়া' ক্রিয়ার ওজনে হামযা এবং রা বর্ণসহ, যার অর্থ হলো কোনো ব্যক্তি অস্থিরতা বা প্রাণের ব্যাকুলতা দ্বারা আক্রান্ত হওয়া। কবি বলেছেন:
যখন আমি লোকজনকে মুকায়িসদের ডাকতে শুনলাম
… তখন পাজরের হাড়ের নিচে আমার মধ্যে এক অস্থিরতা প্রকাশ পেল।
জুবিলা: এক নুক্তাবিশিষ্ট (الموحدة) বা এবং লাম বর্ণসহ 'উনিয়া' ক্রিয়ার ওজনে (জুবিলা), এর অর্থ হলো সৃষ্টিগতভাবে সুঠাম হওয়া; সুতরাং সে হলো সুঠাম (مجبول), যার শারীরিক গঠন বিশাল।
ইবনে মাসউদের হাদিসে বর্ণিত আছে: এক ব্যক্তি তাঁকে জোরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিলেন, আর তিনি ছিলেন একজন সুঠামদেহী (مجبول) ও বিশাল আকৃতির মানুষ। ইবনে তরীফ উভয় শব্দের ক্ষেত্রেই এ কথা বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
جث: الإنسان بتشديد المثلثة مبني للمجهول جثوا فزع قلت ومنه حديث البخاري في بدء الوحي السابق قريبا فإن بعض الرواة رواه هكذا كما تقدم
جحش: الإنسان بالحاء المهملة والشين المعجمة كعني
قاله ابن طريف معناه خدش
وفي الحديث: أن رسول الله
سقط من فرسه فجحش شقه الأيمن
قال الكسائي: جحش هو أن يصيبه شيء فيشج منه جلده وهو كالخدش أو أكثر من ذلك يقال منه جحش فهو مجحوش
وقال الخليل الجحش دون الخدش أ هـ
جحف: بالحاء المهملة والفاء كعني أخذه انطلاق من كثرة الأكل وأجحفت السن أذهبت الأموال
قال زهير:
إذا السنة الشهباء بالناس أجحفت
… ونال كرام المال في الجحرة الأكل
وأجحف الرجل بآخرته أهلكها بإيثار الدنيا عليها قاله ابن طريف
জুসসা (جث): মানুষ; তিন নুক্তাবিশিষ্ট বর্ণের ওপর তাশদিদসহ কর্মবাচ্য (مبني للمجهول) রূপে গঠিত। এর অর্থ হলো আতঙ্কিত হওয়া। আমি বলছি, ওহির সূচনা অধ্যায়ে ইতিপূর্বে বর্ণিত বুখারির হাদিসটি এর অন্তর্ভুক্ত; কারণ কতিপয় বর্ণনাকারী (رواة) এটি এভাবেই বর্ণনা করেছেন যেমনটি আগে বর্ণিত হয়েছে।
জহিশা (جحش): মানুষ; নুক্তাবিহীন 'হা' এবং নুক্তাযুক্ত 'শীন' সহযোগে 'উনিয়া' (عني) শব্দের ওজনে।
ইবনে তারিফ বলেছেন, এর অর্থ হলো ছিলে যাওয়া (خدش)।
হাদিসে এসেছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ঘোড়া থেকে পড়ে গেলেন, ফলে তাঁর ডান পাশ ছিলে গেল (فجحش)।
কিসায়ী বলেছেন: 'জহশ' (جحش) হলো কোনো কিছুর আঘাত পাওয়া যার ফলে চামড়া ছিলে যায়, যা আঁচড় লাগার মতো বা তার চেয়েও বেশি কিছু। এটি থেকে বলা হয় 'জুহিশা' (جحش), সুতরাং সেই ব্যক্তি হলো 'মাজহুঁশ' (مجحوش)।
খলিল বলেছেন: 'জহশ' (جحش) হলো আঁচড় লাগার (الخدش) চেয়েও সামান্য বা কম কিছু। (সমাপ্ত)
জুহিফা (جحف): নুক্তাবিহীন 'হা' এবং 'ফা' সহযোগে 'উনিয়া' (عني) শব্দের ওজনে; এর অর্থ হলো অতিরিক্ত আহারের ফলে পেট ছেড়ে দেওয়া। আর 'আজহাফাতুস সিন' (أجحفت السن) অর্থ হলো দুর্ভিক্ষ সম্পদ বিনাশ করেছে।
জুহাইর বলেছেন:
যখন তীব্র দুর্ভিক্ষ মানুষের ওপর চড়াও (أجحفت) হয়... এবং সুরক্ষিত স্থানে অবস্থানরত গবাদিপশুগুলো ধ্বংসের মুখে পড়ে।
ইবনে তারিফ বলেছেন: কোনো ব্যক্তি তার পরকালের ক্ষতিসাধন (أجحف) করেছে মানে হলো দুনিয়াকে প্রাধান্য দিয়ে সে তা ধ্বংস করেছে।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
جدر: الشخص بالدال المهملة والراء كعني وتشدد وبضم الجيم وفتحها أصابه الجدري وهو قروح في البدن تنقط وتتقيح
جدلت: الجارية بالدال واللام كعني جدلا رق خصرها وقيل خلقها ورجل مجدول إذا كان قضيفا خلقه لا هزالا وامرأة مجدولة كذلك وغلام جادل إذا ترعرع
جرد: المكان بالراء والدال المهملة كعني وأجرد مجهول أيضا أصابه الجراد قاله ابن طريف وابن القوطية فيه وفيما قبله
جشر: الشخص بالشين المعجمة والراء كعني وعني حصلت له خشونة في الصدر وغلظ في الصوت فهو أجشر وهي جشراء
قلت: قال ابن طريف: جشر البعير كأجشر كالسعال والإنسان كذلك والجشرة غلظ في الصدر أو في الصوت أ هـ
جعم: بفتح أوله وضمه وكسر ثانيه فيهما جعما فهو مجعوم إذا لم يشته الطعام وقد يقال أيضا جعم جعما إذا قدم إلى اللحم وطمع والجعم النهم قاله ابن طريف وابن القوطية
جلد: بالرجل كعني باللام والدال المهملة سقط
قلت: قال ابن طريف وابن القوطية: جلد المكان جلدا وأجلد أصابه الجليد
جلز: الشيء باللام والزاي كعني غلظ جسمه واشتد قاله ابن القوطية
جنب: الرجل بالنون والموحدة كعني شكا جنبه أو أصابته ريح الجنوب
قلت: قال ابن طريف: والشجر والنبات كذلك أ هـ
قال: الأصل وهي أي ريح الجنوب التي تخالف الشمال ومهبها من مطلع سهيل إلى مطلع الثريا والشمال بالفتح وتكسر مهبها من قبل الحجر بكسر الحاء أو ما استقبلك عن يمينك وأنت مستقبل والصحيح أن مهبها بين مطلع الشمس وبنات نعش أو مطلع الشمس إلى مسقط النسر الطائر ويكون اسما وصفة ولا تكاد تهب ليلا
جن: الرجل واستجن بالنون المشددة فيهما أصابته الجن فهو مجنون
قلت: قال ابن طريف وابن القوطية: جن الإنسان جنونا
وقال الكسائي: أجنه
জাদার (جدر): ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে 'দাল' ও 'রা' বর্ণের সমন্বয়ে (عني) এর ওজনে এবং তশদীদ সহকারে; 'জীম' বর্ণে পেশ ও যবর উভয় রূপেই পঠিত হয়। এর অর্থ হলো বসন্ত রোগে আক্রান্ত হওয়া; যা শরীরের এমন ক্ষত যা থেকে বিন্দু বিন্দু রস ও পুঁজ নির্গত হয়।
জাদিলাত (جدلت): কিশোরীর ক্ষেত্রে 'দাল' ও 'লাম' বর্ণের সমন্বয়ে (عني) এর ওজনে; এর অর্থ হলো কোমর চিকন বা সরু হওয়া। বলা হয়, তার শারীরিক গঠন সুঠাম হওয়া। সুঠাম দেহের অধিকারীকে 'মাজদূল' (مجدول) বলা হয় যখন তার গঠন কৃশ না হয়ে মজবুত হয়; নারীর ক্ষেত্রেও 'মাজদূলাহ' (مجدولة) অনুরূপ ব্যবহৃত হয়। আর কিশোর যখন যৌবনে পদার্পণ করে তখন তাকে 'জাদিল' (جادل) বলা হয়।
জারাদ (جرد): স্থান বিশেষের ক্ষেত্রে 'রা' ও 'দাল' বর্ণের সমন্বয়ে (عني) এর ওজনে; এর 'আজারাদ' (أجرد) রূপটি অজ্ঞাত (مجهول) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হলো স্থানটি পঙ্গপাল দ্বারা আক্রান্ত হওয়া। ইবনে তারিফ ও ইবনুল কুতিয়্যা এটি এবং এর পূর্ববর্তী শব্দ সম্পর্কে এরূপ উল্লেখ করেছেন।
জাশার (جشر): ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে 'শীন' ও 'রা' বর্ণের সমন্বয়ে (عني) এর ওজনে। এর অর্থ হলো বক্ষে কর্কশ ভাব এবং কণ্ঠে স্থূলতা বা গম্ভীরতা সৃষ্টি হওয়া। এমতাবস্থায় পুরুষকে 'আশার' (أجشر) এবং নারীকে 'জাশরা' (جشراء) বলা হয়।
আমি বলছি: ইবনে তারিফ বলেছেন, উটের ক্ষেত্রে 'জাশার' শব্দটি 'আজশার'-এর মতো কাশির অর্থে ব্যবহৃত হয়; মানুষের ক্ষেত্রেও অনুরূপ। 'জাশরাহ' হলো বক্ষ বা কণ্ঠস্বরের স্থূলতা ও কর্কশতা। (শেষ)
জা'ম (جعم): প্রথম বর্ণে যবর ও পেশ এবং উভয় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বর্ণে যের সহকারে; তাকে 'মাজ'উম' (مجعوم) বলা হয় যখন তার খাবারের প্রতি কোনো আসক্তি থাকে না। আবার বলা হয়, 'জা'ম' তখনই হয় যখন সে গোশতের প্রতি প্রলুব্ধ হয় এবং লোভ করে। 'জাশাম' মানে অতিভোজী। ইবনে তারিফ ও ইবনুল কুতিয়্যা এরূপ বলেছেন।
জালাদ (جلد): মানুষের ক্ষেত্রে (عني) এর ওজনে 'লাম' ও 'দাল' বর্ণের সমন্বয়ে; এর অর্থ হলো সে ভূপাতিত হয়েছে।
আমি বলছি: ইবনে তারিফ ও ইবনুল কুতিয়্যা বলেছেন, 'জালাদ' (جلد) বা 'আজলাদ' (أجلد) হলো স্থানে বরফ বা তুহিন পড়া।
জালাজ (جلز): বস্তুর ক্ষেত্রে 'লাম' ও 'যা' বর্ণের সমন্বয়ে (عني) এর ওজনে। এর অর্থ হলো তার দেহ স্থূল ও সুদৃঢ় হওয়া। ইবনুল কুতিয়্যা এটি বর্ণনা করেছেন।
জানাব (جنب): ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'নুন' ও 'বা' বর্ণের সমন্বয়ে (عني) এর ওজনে। এর অর্থ হলো সে তার পার্শ্বদেশের ব্যথায় অভিযোগ করেছে অথবা দক্ষিণা বাতাস তাকে স্পর্শ করেছে।
আমি বলছি: ইবনে তারিফ বলেছেন, গাছপালা ও উদ্ভিদের ক্ষেত্রেও একই অর্থ প্রযোজ্য। (শেষ)
তিনি বলেছেন: মূল হলো 'জানুব' (দক্ষিণা বাতাস), যা উত্তর বাতাসের বিপরীত। এর প্রবাহস্থল হলো সুহাইল নক্ষত্র উদিত হওয়ার স্থান থেকে সুরাইয়া নক্ষত্র উদিত হওয়ার স্থান পর্যন্ত। আর 'শামাল' (উত্তর বাতাস) 'শীন' বর্ণের যবর বা যের উভয়ভাবেই হতে পারে; এর প্রবাহস্থল হলো 'হিজর' (حجر) বা তার দিক থেকে, অথবা তুমি যখন কিবলামুখী হবে তখন যা তোমার ডান দিকে থাকে। সঠিক মত হলো, এর প্রবাহস্থল সূর্যোদয় ও 'বানাতু না'শ' এর মধ্যবর্তী স্থান অথবা সূর্যোদয় থেকে 'নাসরুত তয়ির' নক্ষত্রের অস্তাচল পর্যন্ত। এটি নাম এবং বিশেষণ উভয়ই হতে পারে এবং সাধারণত রাতে প্রবাহিত হয় না।
জুন্না (جن): ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে, এবং 'ইস্তাজান্না' (استجن) উভয়ই 'নুন' বর্ণের তশদীদ সহকারে। এর অর্থ হলো সে জিনের আছর দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, এমতাবস্থায় সে উম্মাদ (مجنون)।
আমি বলছি: ইবনে তারিফ ও ইবনুল কুতিয়্যা বলেছেন, মানুষের উন্মাদনা বা পাগল হওয়া।
ইমাম কিসায়ী বলেছেন, 'আজান্নাহু' (তাকে পাগল করে দিয়েছেন)।
(খণ্ড: ১)
ইতহাফুল ফাদিলি বিল ফিলি আল-মাবনি লি-গায়রিল ফায়িল
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
الله فهو مجنون
وقال ابن أحمر: وجن الماء بان به جنونا وجن النبات أخرج زهره وأجنت المرأة
جهض: الرجل بالهاء والضاد المعجمة أعجل والناقة ألقت ولدها فهي مجهض
আল্লাহর কসম, সে তো উন্মাদ (مجنون)
ইবন আহমার বলেন: পানির উন্মত্ততা হলো তাতে অস্থিরতা প্রকাশ পাওয়া, উদ্ভিদের উন্মত্ততা হলো তার ফুল ফুটে বের হওয়া এবং নারী গর্ভধারণ করল।
জাহায: 'হা' এবং নুকতাযুক্ত 'দাদ' বর্ণযোগে এর অর্থ হলো ব্যক্তিটি দ্রুততা করল; আর উষ্ট্রী তার শাবক নিক্ষেপ করলে (গর্ভপাত করলে) তাকে গর্ভপাতকারিণী বলা হয়।