(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: -)
همع الهوامع في شرح جمع الجوامع   (الجلال السيوطي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: همع الهوامع في شرح جمع الجوامع

المؤلف: عبد الرحمن بن أبي بكر، جلال الدين السيوطي (ت 911هـ)

المحقق: عبد الحميد هنداوي

الناشر: المكتبة التوفيقية - مصر

عدد الأجزاء: 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হামাউল হাওয়া-মি' ফি শারহি জাময়িল জাওয়ামি'   (জালালুদ্দিন সুয়ূতী)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


কিতাব: হামাউল হাওয়া-মি' ফি শারহি জাময়িল জাওয়ামি'

লেখক: আব্দুর রহমান বিন আবু বকর, জালালুদ্দিন সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)

তাহকীক: আব্দুল হামিদ হিন্দাউয়ী

প্রকাশনী: মাকতাবাতুত তাওফিকিয়্যাহ - মিশর

খণ্ড সংখ্যা: ৩

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

‌‌[مُقَدّمَة همع الهوامع للمؤلف]

يَقُول عبد الرَّحْمَن بن أبي بكر السُّيُوطِيّ الشَّافِعِي - لطف الله تَعَالَى بِهِ - سُبْحَانَكَ! لَا أحصي ثَنَاء عَلَيْك أَنْت كَمَا أثنيت على نَفسك وأصلي وَأسلم على مُحَمَّد أفضل من خصصته بِروح قدسك وَبعد فَإِن لنا تأليفا فِي الْعَرَبيَّة جمع أدناها وأقصاها وكتابا لم يُغَادر من مسائلها صَغِيرَة وَلَا كَبِيرَة إِلَّا أحصاها ومجموعا تشهد لفضله أَرْبَاب الْفَضَائِل وجموعا قصرت عَنهُ جموع الْأَوَاخِر والأوائل حشدت فِيهِ مَا يقر الْأَعْين ويشنف المسامع وأوردته مناهل كتب فاض عَلَيْهَا همع الهوامع وَجمعته من نَحْو مائَة مُصَنف فَلَا غرو أَن لقبته جمع الْجَوَامِع وَقد كنت أُرِيد أَن أَضَع عَلَيْهِ شرحا وَاسِعًا كثير النقول طَوِيل الذيول جَامعا للشواهد والتعاليل معتنيا بالانتقاد للأدلة والأقاويل منبها على الضوابط وَالْقَوَاعِد والتقاسيم والمقاصد فَرَأَيْت الزَّمَان أضيق من ذَلِك ورغبة أَهله قَليلَة فِيمَا هُنَالك مَعَ إلحاح الطلاب عَليّ فِي شرح يرشدهم إِلَى مقاصده ويطلعهم على غَرَائِبه وشوارده فنجزت لَهُم هَذِه العجالة الكافلة بِحل مبانيه وتوضيح مَعَانِيه وتفكيك نظامه وتعليل أَحْكَامه مُسَمَّاة بهمع الهوامع فِي شرح جمع الْجَوَامِع … وَالله أسأَل أَن يبلغ بِهِ الْمَنَافِع ويجعلنا مِمَّن يسابق إِلَى الْخيرَات ويسارع بمنه وَكَرمه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

[গ্রন্থকারের হামউল হাওয়ামি-র ভূমিকা]

আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর আস-সুয়ূতী আশ-শাফিঈ - আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করুন - বলেন: আপনি মহাপবিত্র! আমি আপনার প্রশংসার ইয়ত্তা করতে পারি না; আপনি ঠিক তেমনই যেমনটি আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন। আর আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যাঁকে আপনি আপনার পবিত্র রূহ দ্বারা সর্বোত্তমভাবে বিশিষ্ট করেছেন। অতঃপর, নিশ্চয়ই আরবি ব্যাকরণ শাস্ত্রে আমার একটি রচনা রয়েছে যা এর নিকটবর্তী ও দূরবর্তী সকল বিষয়কে একত্রিত করেছে, এবং এমন একটি কিতাব যা এর মাসআলাসমূহের ছোট-বড় কোনো কিছুই বাদ দেয়নি বরং তা লিপিবদ্ধ করেছে। এটি এমন এক সংকলন যার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য দেন গুণীজনরা, আর এটি এমন এক সংগ্রহ যার সামনে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সংকলনসমূহ ম্লান হয়ে গেছে। আমি এতে এমন সব বিষয় একত্রিত করেছি যা চোখকে শীতল করে এবং কানকে তৃপ্ত করে। আমি একে কিতাবসমূহের এমন প্রস্রবণ থেকে আহরণ করেছি যার ওপর প্রচুর বৃষ্টিপাত উপচে পড়েছে। আমি এটি প্রায় একশটি কিতাব থেকে সংকলন করেছি, তাই একে ‘জামউল জাওয়ামি’ (সংকলনের সংকলন) নামে অভিহিত করাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। আমি ইচ্ছা করেছিলাম এর উপর একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করব, যা উদ্ধৃতিতে সমৃদ্ধ ও দীর্ঘ হবে, উদাহরণ ও কারণসমূহ সংগ্রহ করবে, দলিল ও বক্তব্যসমূহের পর্যালোচনার প্রতি যত্নবান হবে এবং নীতিমালা, নিয়মাবলি, বিন্যাস ও উদ্দেশ্যসমূহ সম্পর্কে সজাগ করবে। কিন্তু আমি দেখলাম সময় তার চেয়েও সংকীর্ণ এবং মানুষের আগ্রহও সে বিষয়ে খুবই কম। অথচ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমার ওপর এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের জন্য প্রচণ্ড চাপ ছিল যা তাদের এর লক্ষ্যসমূহের দিকে পথ দেখাবে এবং এর বিরল ও জটিল বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত করবে। তাই আমি তাদের জন্য এই সংক্ষিপ্ত সংকলনটি সম্পন্ন করেছি যা এর শব্দগত জটিলতা নিরসনে, অর্থ স্পষ্টীকরণে, বিন্যাস বিশ্লেষণে এবং বিধানসমূহের কারণ বর্ণনায় যথেষ্ট; আর এর নাম রেখেছি ‘হামউল হাওয়ামি ফি শারহি জামইল জাওয়ামি’। … আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এর দ্বারা ব্যাপক উপকার দান করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদেরকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা কল্যাণের পথে প্রতিযোগিতা করে এবং দ্রুত ধাবিত হয়।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌[مُقَدّمَة جمع الْجَوَامِع]

أحمدك اللَّهُمَّ على مَا أسبغت من النعم وأصلي وَأسلم على نبيك الْمَخْصُوص بجوامع الْكَلم وعَلى آله وَصَحبه مَا قَامَ بِالنَّفسِ ضمير وأعرب عَنهُ فَم وأستعينك فِي إِكْمَال مَا قصدت إِلَيْهِ من تأليف مُخْتَصر فِي الْعَرَبيَّة جَامع لما فِي الْجَوَامِع من الْمسَائِل وَالْخلاف حاو لوجازة اللَّفْظ وَحسن الائتلاف مُحِيط بخلاصة كتابي (التسهيل) (والارتشاف) مَعَ مزِيد واف فائق الانسجام قريب من الأفهام وَأَسْأَلك النَّفْع بِهِ على الدَّوَام (ص) : وينحصر فِي مُقَدمَات وَسَبْعَة كتب (ش) : الْمُقدمَات فِي تَعْرِيف الْكَلِمَة وأقسامها وَالْكَلَام والكلم وَالْجُمْلَة وَالْقَوْل وَالْإِعْرَاب وَالْبناء والمنصرف وَغَيره والنكرة والمعرفة وأقسامها وَالْكتاب الأول: فِي الْعمد وَهِي المرفوعات وَمَا شابهها من مَنْصُوب النواسخ وَالثَّانِي: فِي الفضلات وَهِي المنصوبات وَالثَّالِث: فِي المجرورات وَمَا حمل عَلَيْهَا من المجزومات وَمَا يتبعهَا من الْكَلَام على أدوات التَّعْلِيق غير الجازمة وَمَا ضم إِلَيْهَا من بَقِيَّة حُرُوف الْمعَانِي وَالرَّابِع: فِي العوامل فِي هَذِه الْأَنْوَاع وَهُوَ الْفِعْل وَمَا ألحق بِهِ وَختم باشتغالها عَن معمولاتها وتنازعها فِيهَا
[জামি’উল জাওয়ামি’-এর ভূমিকা]

হে আল্লাহ, আপনি যে নিয়ামতসমূহ পরিপূর্ণভাবে দান করেছেন, তজ্জন্য আমি আপনার প্রশংসা জ্ঞাপন করছি। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি আপনার সেই নবীর প্রতি, যাঁকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবহ বাণীর (জাওয়ামিউল কালিম) বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট করা হয়েছে; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরগণের প্রতি, যতক্ষণ অন্তরে কোনো ভাব উদিত হবে এবং মুখ তা ব্যক্ত করবে। আমি আরবি ব্যাকরণ বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনার যে সংকল্প করেছি, তা পূর্ণ করতে আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি; যা 'জাওয়ামি' গ্রন্থের মাসআলা ও মতভেদসমূহকে সংকলিত করবে, শব্দের সংক্ষিপ্ততা ও চমৎকার বিন্যাসকে ধারণ করবে এবং আমার 'আত-তাসহিল' ও 'আল-আরতিশাফ' নামক গ্রন্থদ্বয়ের সারাংশকে বেষ্টন করবে। এর সাথে থাকবে পর্যাপ্ত অতিরিক্ত সংযোজন, যা হবে অত্যন্ত সাবলীল এবং বোধগম্যতার নিকটবর্তী। আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যেন এর দ্বারা স্থায়ীভাবে উপকৃত হওয়া যায়। (মূল পাঠ): এটি একটি ভূমিকা এবং সাতটি অধ্যায়ে (কিতাব) সীমাবদ্ধ। (ব্যাখ্যা): ভূমিকাটি কালিমা (শব্দ) ও তার প্রকারভেদ, কালাম (বাক্য), কালিম, জুমলাহ (উপবাক্য), কাওল (উক্তি), ইরাব (শব্দরূপান্তর) ও বিনা (অপরিবর্তনীয়তা), মুনসারিফ ও গয়রে মুনসারিফ, এবং নাকিরাহ (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য) ও মা’রিফা (নির্দিষ্ট বিশেষ্য) ও তার প্রকারভেদ সংক্রান্ত। প্রথম অধ্যায়: প্রধান পদসমূহ (উমাদ) প্রসঙ্গে, আর তা হলো মারফুআত (পেশযুক্ত পদসমূহ) এবং নওয়াসিখের প্রভাবে মানসুব (যবরযুক্ত) হওয়া তৎসদৃশ পদসমূহ। দ্বিতীয় অধ্যায়: অতিরিক্ত পদসমূহ (ফাদলাত) প্রসঙ্গে, আর তা হলো মানসুবাত (যবরযুক্ত পদসমূহ)। তৃতীয় অধ্যায়: মাজরুরাত (জেরযুক্ত পদসমূহ) এবং তার ওপর কিয়াসকৃত মাজজুমাত (জযমযুক্ত পদসমূহ) প্রসঙ্গে, এবং তৎসংশ্লিষ্ট অ-জাযিম (জযম প্রদান করে না এমন) শর্তসূচক অব্যয়সমূহ এবং এর সাথে যুক্ত অবশিষ্ট অর্থবোধক অব্যয়সমূহ (হুরুফুল মাআনি) প্রসঙ্গে। চতুর্থ অধ্যায়: এই প্রকারগুলোর ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী (আওয়ামিল) প্রসঙ্গে; আর তা হলো ফেল (ক্রিয়া) এবং যা তার স্থলাভিষিক্ত হয়; এবং এর পরিসমাপ্তি ঘটানো হয়েছে আমলকারীর আমল থেকে বিমুখ হওয়া (ইশতিগাল) এবং একাধিক আমলকারীর বিরোধ (তানাযু) সংক্রান্ত আলোচনার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ২১)
وَالْخَامِس: فِي التوابع لهَذِهِ الْأَنْوَاع وعوارض التَّرْكِيب الإعرابي من تَغْيِير كالإخبار والحكاية وَالتَّسْمِيَة وضرائر الشّعْر وَهَذِه الْكتب الْخَمْسَة فِي النَّحْو وَالسَّادِس فِي الْأَبْنِيَة وَالسَّابِع: فِي تغييرات الْكَلم الإفرادية كالزيادة والحذف والإبدال وَالنَّقْل والإدغام وَختم بِمَا يُنَاسِبه من خَاتِمَة الْخط وَهَذَا تَرْتِيب بديع لم أسبق إِلَيْهِ حذوت فِيهِ حَذْو كتب الْأُصُول وَفِي جعلهَا سَبْعَة مُنَاسبَة لَطِيفَة مَأْخُوذَة من حَدِيث ابْن حبَان وَغَيره إِن الله وتر يحب الْوتر أما ترى السَّمَوَات سبعا وَالْأَيَّام سبعا وَالطّواف سَبْعَة الحَدِيث
পঞ্চম: এই প্রকারসমূহের অনুগামী বিষয়সমূহ এবং পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাকরণগত গঠনের আনুষঙ্গিক বিষয়সমূহ সম্পর্কে, যেমন—সংবাদ প্রদান, অনুকরণ, নামকরণ এবং কাব্যিক অপরিহার্যতা। এই পাঁচটি কিতাব নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র বিষয়ক। ষষ্ঠ: শব্দকাঠামো সম্পর্কে। সপ্তম: একক শব্দসমূহের পরিবর্তন সম্পর্কে, যেমন—বৃদ্ধি, বিলোপ, বিনিময়, রূপান্তর এবং ইদগাম (সন্ধি); এবং একে সমাপ্ত করা হয়েছে লিখনশৈলীর সমাপ্তি বিষয়ক উপযুক্ত আলোচনার মাধ্যমে। এটি একটি অভিনব বিন্যাস যাতে আমার পূর্বে কেউ অগ্রণী হয়নি। এতে আমি উসুল (মূলনীতি) শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি। একে সাতটি ভাগে বিন্যস্ত করার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম সামঞ্জস্য রয়েছে যা ইবনে হিব্বান ও অন্যদের বর্ণিত হাদিস থেকে গৃহীত— "নিশ্চয়ই আল্লাহ বিজোড়, তিনি বিজোড়কে পছন্দ করেন; তুমি কি দেখ না যে আসমানসমূহ সাতটি, দিনসমূহ সাতটি এবং তাওয়াফ সাতবার..." (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌[الْكَلِمَة حَدهَا وأقسامها]

 

‌‌[الْكَلَام فِي الْمُقدمَات]

ص الْكَلِمَة قَول مُفْرد مُسْتَقل وَكَذَا منوي مَعَه على الصَّحِيح وَشرط قوم كَونه حرفين ش الْكَلِمَة لُغَة تطلق على الْجمل المفيدة قَالَ الله تَعَالَى {وَكلمَة الله هِيَ الْعليا} التَّوْبَة 40 أَي لَا إِلَه إِلَّا الله {تَعَالَوْا إِلَى كلمة سَوَاء بَيْننَا وَبَيْنكُم أَلا نعْبد إِلَّا الله} آل عمرَان 64 {كلا إِنَّهَا كلمة هُوَ قَائِلهَا} الْمُؤْمِنُونَ 100 إِشَارَة إِلَى قَوْله {رب ارْجِعُونِ} الْمُؤْمِنُونَ 99 وَمَا بعده فِي حَدِيث الصَّحِيحَيْنِ الْكَلِمَة الطّيبَة صَدَقَة وَأفضل كلمة قَالَهَا شَاعِر كلمة لبيد

(أَلا كلُّ شَيْء مَا خلا اللهََ باطِلُ … )

وَهَذَا الْإِطْلَاق مُنكر فِي اصْطِلَاح النَّحْوِيين وَلذَا لَا يتَعَرَّض لذكره فِي كتبهمْ بِوَجْه كَمَا قَالَ ابْن مَالك فِي شرح التسهيل وَإِن ذكره فِي الألفية فقد
[শব্দ: এর সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ]

 

[ভূমিকা বিষয়ক আলোচনা]

মূল পাঠ: শব্দ হলো একক ও স্বতন্ত্র কথা। একইভাবে সঠিক মতানুসারে যা মনে সংকল্পিত থাকে তাও এর অন্তর্ভুক্ত। আর একদল ব্যাকরণবিদ শব্দ হওয়ার জন্য তা অন্তত দুই অক্ষরবিশিষ্ট হওয়াকে শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন। ব্যাখ্যা: আভিধানিক অর্থে শব্দ (কালিমা) অর্থপূর্ণ বাক্যের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আল্লাহর বাণীই হচ্ছে সুউচ্চ} (আত-তাওবাহ: ৪০), অর্থাৎ 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। আরও ইরশাদ হয়েছে: {তোমরা এমন এক বাণীর দিকে আসো যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান, যেন আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত না করি} (আল-ইমরান: ৬৪)। এবং: {কখনোই নয়, এটি তো কেবল একটি কথা যা সে বলছে} (আল-মুমিনুন: ১০০), যা তার এই উক্তির প্রতি ইঙ্গিত: {হে আমার প্রতিপালক! আমাকে পুনরায় (দুনিয়ায়) পাঠিয়ে দিন} (আল-মুমিনুন: ৯৯) এবং এর পরবর্তী অংশ। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর হাদীসে এসেছে: 'উত্তম কথা একটি সদকা'। আর কোনো কবির বলা সর্বশ্রেষ্ঠ কথা হলো লাবীদের এই পঙ্ক্তি:

(জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া প্রতিটি বস্তুই অসার ... )

ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় শব্দের এই (বাক্য অর্থে) প্রয়োগটি স্বীকৃত নয়। একারণেই তাদের কিতাবসমূহে এর কোনো আলোচনা করা হয় না, যেমনটি ইবনে মালিক ‘শারহুত তাসহীল’-এ উল্লেখ করেছেন। যদিও তিনি ‘আলফিয়্যাহ’-তে এর উল্লেখ করেছেন, তবে তা...
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ২৩)
قيل إِنَّه من أمراضها الَّتِي لَا دَوَاء لَهَا وَقد اخْتلفت عباراتهم فِي حد الْكَلِمَة اصْطِلَاحا وَأحسن حُدُودهَا قَول مُفْرد مُسْتَقل أَو منوي مَعَه فَخرج بتصدير الْحَد بالْقَوْل غَيره من الدوال كالخط وَالْإِشَارَة وبالمفرد وَهُوَ مَا لَا يدل جزؤه على جُزْء مَعْنَاهُ الْمركب وبالمستقل أبعاض الْكَلِمَات الدَّالَّة على معنى كحروف المضارعة وياء النّسَب وتاء التَّأْنِيث وَألف ضَارب فَلَيْسَتْ بِكَلِمَات لعدم استقلالها وَمن أسقط هَذَا الْقَيْد رَأْي مَا جنح إِلَيْهِ الرضي من أَنَّهَا مَعَ مَا هِيَ فِيهِ كلمتان صارتا وَاحِدَة لشدَّة الامتزاج فَجعل الْإِعْرَاب على آخِره كالمركب المزجي وَلم أحتج إِلَى مَا زَاده فِي التسهيل من قَوْله دَال بِالْوَضْعِ مخرجا المهمل لتعبيره بِاللَّفْظِ الشَّامِل لذَلِك وذكري القَوْل الَّذِي يُخرجهُ لما سَيَأْتِي من أَنه الْمَوْضُوع لِمَعْنى وَلذَلِك عدلت إِلَيْهِ وَمَا قيل من أَن ذكر اللَّفْظ أولي لإِطْلَاق القَوْل على غَيره كالرأي مَمْنُوع لعدم تبادره إِلَى الأذهان إِذْ هُوَ مجَاز وَعدلت كاللباب إِلَى جعل الْإِفْرَاد صفة القَوْل عَن جعلهم إِيَّاه صفة الْمَعْنى حَيْثُ قَالُوا وَمِنْهُم ابْن الْحَاجِب وَأَبُو حَيَّان وضع لِمَعْنى مُفْرد لِأَنَّهُ كَمَا قَالَ الرضي وَغَيره صفته فِي الْحَقِيقَة وَإِنَّمَا يكون صفة للمعنى بتبعية

বলা হয়ে থাকে যে, এটি (শব্দের সংজ্ঞায়ন) সেই সকল জ্ঞানগত সমস্যার অন্তর্ভুক্ত যার কোনো সমাধান নেই। পরিভাষায় শব্দের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে পণ্ডিতদের অভিব্যক্তিতে ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। এগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম সংজ্ঞা হলো: এমন একক শব্দ যা স্বতন্ত্র কিংবা অন্য কিছুর সাথে মিলিত থাকা অভিপ্রায়ভুক্ত। সংজ্ঞার শুরুতে 'শব্দ' (কাওল) উল্লেখ করার মাধ্যমে অন্যান্য নির্দেশকসমূহ যেমন লিখন ও সংকেত বাদ পড়ে গিয়েছে। 'একক' বলার মাধ্যমে 'যৌগিক' শব্দ বাদ পড়েছে; আর একক হলো তা, যার কোনো অংশ তার পূর্ণ অর্থের কোনো অংশের ওপর নির্দেশ করে না। আর 'স্বতন্ত্র' বলার মাধ্যমে শব্দের সেই অংশগুলো বাদ পড়েছে যা কোনো অর্থের নির্দেশক, যেমন: বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার বর্ণসমূহ, সম্বন্ধবাচক 'ইয়া', স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা' এবং 'কর্তৃবাচক বিশেষ্যের' মধ্যকার আলিফ। এগুলো স্বতন্ত্র না হওয়ার কারণে এগুলোকে স্বতন্ত্র শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয় না। যারা এই স্বতন্ত্র হওয়ার শর্তটি বাদ দিয়েছেন, তারা আল-রাযি-র সেই অভিমতের দিকে ঝুঁকেছেন যাতে বলা হয়েছে যে, উক্ত অংশটি যার সাথে যুক্ত হয়েছে উভয়টি মূলত দুটি শব্দ ছিল যা প্রবল সংমিশ্রণের কারণে একটিতে পরিণত হয়েছে। ফলে তিনি এর শেষাংশে 'সংমিশ্রিত যৌগিক' শব্দের ন্যায় শব্দ-বিভক্তি প্রদান করেছেন। 'আত-তাশহিল' গ্রন্থে 'পরিভাষা অনুযায়ী অর্থ নির্দেশক' বলে যে অতিরিক্ত অংশটি যোগ করা হয়েছে অর্থহীন শব্দকে বর্জন করার জন্য, আমার তার প্রয়োজন পড়েনি; কারণ তাঁর ব্যবহৃত উচ্চারিত শব্দ বা লফজ পরিভাষাটিই তা অন্তর্ভুক্ত করার জন্য যথেষ্ট ছিল। আর আমার 'শব্দ' (কাওল) উল্লেখ করাই অর্থহীন শব্দকে বহির্ভূত করে দেয়, কারণ সামনে বর্ণিত হবে যে, 'কাওল' মূলত কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থের জন্যই গঠিত হয়, আর একারণেই আমি এই পরিভাষাটি গ্রহণ করেছি। আর এই যে দাবি করা হয় যে, 'লফজ' বা উচ্চারিত শব্দ উল্লেখ করা অধিক উত্তম—কারণ 'কাওল' শব্দটি কখনো কখনো মতামতের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়—তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ 'কাওল' দ্বারা মতামত বুঝানো একটি রূপক ব্যবহার যা সাধারণত মানুষের মস্তিষ্কে তৎক্ষণাৎ উদয় হয় না। আমি 'আল-লুবাব' গ্রন্থের ন্যায় 'একক হওয়া'-কে শব্দের বিশেষণ হিসেবে গ্রহণ করেছি, অন্যদের মতো একে অর্থের বিশেষণ হিসেবে গণ্য করিনি। যেখানে তারা—যাদের মধ্যে ইবনুল হাজিব ও আবু হাইয়ান রয়েছেন—বলেছেন: 'যা একক অর্থের জন্য গঠিত হয়েছে'। কেননা আল-রাযি ও অন্যান্যরা যেমনটি বলেছেন, একক হওয়া প্রকৃতপক্ষে শব্দেরই একটি বৈশিষ্ট্য, আর অর্থের ক্ষেত্রে এটি কেবল শব্দের অনুগামী হিসেবে প্রকাশ পায়।

(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ২৪)
اللَّفْظ وسلامته من الِاعْتِرَاض بِنَحْوِ الْخَبَر فَإِنَّهُ كلمة وَمَعْنَاهُ مركب وَهُوَ زيد قَائِم مثلا وَنَحْو ضرب فَإِنَّهُ كلمة وَمَعْنَاهُ مركب من الْحَدث وَالزَّمَان وقدمت الْمُعَرّف على الْمُعَرّف كصنع الْجُمْهُور لِأَنَّهُ الأَصْل فِي الْإِخْبَار عَنهُ وَعكس صَاحب اللب لتقدم الْمُعَرّف عقلا فَقدم وضعا وَمن قَالَ إِن اللَّام فِي الْكَلِمَة للْجِنْس الْمُقْتَضِي للاستغراق وَالتَّاء للوحدة فيتناقضان فقد سَهَا سَهوا ظَاهرا بل هِيَ للماهية والحقيقة وشملت الْعبارَة الْكَلِمَة تَحْقِيقا كزيد وتقديرا كَأحد جزأي الْعلم الْمُضَاف كَعبد الله فَإِن كلا مِنْهُمَا كلمة تَقْديرا إِذْ لَا تَأتي الْإِضَافَة إِلَّا فِي كَلِمَتَيْنِ وَإِن كَانَ مجموعهما كلمة تَحْقِيقا لعدم دلَالَة جزئه على جُزْء مَعْنَاهُ وَشَمل الْمَنوِي المستكن وجوبا كَأَنْت فِي قُم وجوازا كَمَا سَيَأْتِي فِي مَبْحَث الْمُضمر وَخرج بِقَوْلِي مَعَه مَا نَوَاه الْإِنْسَان فِي نَفسه من الْكَلِمَات المفردة فَإِنَّهُ لَا يُسمى كلمة فِي اصطلاحهم لِأَنَّهُ لم ينْو مَعَ اللَّفْظ وَقَيده فِي التسهيل بقوله كَذَلِك قَالَ إِشَارَة إِلَى الِاسْتِقْلَال ليخرج الْإِعْرَاب الْمُقدر فَإِنَّهُ منوي مَعَ اللَّفْظ وَلَيْسَ بِكَلِمَة لعدم استقلاله وحذفته للْعلم بِهِ لِأَنَّهُ إِذا شَرط ذَلِك فِي اللَّفْظ الْمَوْجُود مَعَ قوته فَفِي الْمَنوِي أولى وَمُقَابل الصَّحِيح فِيهِ مَا نَقله أَبُو حَيَّان وَغَيره أَن صَاحب النِّهَايَة وَهُوَ ابْن الخباز منع تَسْمِيَة الضَّمِير المستكن اسْما قَالَ لِأَنَّهُ لَا يُسمى كلمة وَذهب قوم إِلَى أَن شَرط الْكَلِمَة أَن تكون على حرفين فَصَاعِدا نَقله الإِمَام
শব্দ এবং সংবাদের (খবর) ন্যায় আপত্তিমুক্ত হওয়া; কেননা এটি একটি শব্দ এবং এর অর্থ যৌগিক, যেমন উদাহরণস্বরূপ 'যায়েদ দণ্ডায়মান'। আবার 'দ্বরাবা' (সে প্রহার করেছে) এর মতো শব্দ, যা একটি একক শব্দ হওয়া সত্ত্বেও এর অর্থ কার্য এবং কালের সমন্বয়ে গঠিত যৌগিক। অধিকাংশ আলেমের ন্যায় আমিও সংজ্ঞায়িত বিষয়ের পূর্বে সংজ্ঞাকে উপস্থাপন করেছি, কারণ কোনো বিষয় সম্পর্কে তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে এটিই মূল নীতি। অন্যদিকে 'লুব্ব' গ্রন্থের লেখক এর বিপরীত করেছেন, কারণ বুদ্ধিগতভাবে সংজ্ঞায়িত বিষয়টি অগ্রগণ্য, তাই তিনি বিন্যাসের ক্ষেত্রেও একে অগ্রে রেখেছেন। আর যারা বলেন যে, 'কালিমা' শব্দের 'লাম' অক্ষরটি এমন এক শ্রেণির জন্য যা সামগ্রিকতা দাবি করে এবং 'তা' অক্ষরটি একত্ব নির্দেশ করে, যার ফলে উভয়ের মাঝে বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়, তারা স্পষ্টত বিভ্রান্ত হয়েছেন। বরং এটি দ্বারা সারবস্তু ও বাস্তবতা উদ্দেশ্য। এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে প্রকৃতপক্ষে যা শব্দ, যেমন 'যায়েদ'; এবং যা পরোক্ষভাবে শব্দ, যেমন 'আব্দুল্লাহ'র মতো সম্বন্ধযুক্ত বিশিষ্ট্য নামের দুটি অংশের প্রতিটি। কারণ পরোক্ষভাবে এর প্রতিটিই এক একটি শব্দ, যেহেতু সম্বন্ধ (ইদাফাত) কেবল দুটি শব্দের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়, যদিও সামগ্রিকভাবে নাম হিসেবে তা প্রকৃতপক্ষে একটি শব্দ হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এর কোনো অংশ তার অর্থের কোনো অংশের ওপর নির্দেশ করে না। এটি আবশ্যিকভাবে লুক্কায়িত সংকল্পিত সর্বনামকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন 'কুম' (দাঁড়াও) ক্রিয়ার মধ্যে 'তুমি'; আবার যা ঐচ্ছিকভাবে লুক্কায়িত থাকে তাকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি সর্বনামের আলোচনায় সামনে আসবে। আমার 'তার সাথে' কথাটি দ্বারা মানুষের মনের মধ্যে সংকল্পিত একক শব্দগুলো বাদ পড়ে গেছে, কারণ ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় সেগুলোকে 'শব্দ' বলা হয় না, যেহেতু সেগুলো উচ্চারণের সাথে সংকল্প করা হয়নি। 'তাসহিল' গ্রন্থে একে 'অনুরূপভাবে' বলে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে স্বকীয়তার দিকে ইঙ্গিত করার জন্য, যাতে পরোক্ষ বা উহ্য বিভক্তি (ইরাব) বাদ পড়ে যায়; কেননা তা উচ্চারণের সাথে সংকল্পিত হলেও স্বকীয়তা না থাকায় তা শব্দ নয়। আমি বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কারণে তা বাদ দিয়েছি, কারণ যদি শক্তিশালী বিদ্যমান শব্দের ক্ষেত্রে এটি শর্ত হয়, তবে সংকল্পিত বা উহ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি অগ্রগণ্য। এর বিপরীতে বিশুদ্ধ মতের পরিপন্থী হিসেবে আবু হাইয়ান ও অন্যান্যরা যা বর্ণনা করেছেন তা হলো— 'নিহায়া'র লেখক ইবনুল খাব্বায প্রচ্ছন্ন বা লুক্কায়িত সর্বনামকে 'বিশেষ্য' বলতে অস্বীকার করেছেন; তিনি বলেছেন, কারণ একে শব্দ বলা হয় না। একদল আলিম মনে করেন যে, শব্দ হওয়ার শর্ত হলো তা অন্তত দুই বা ততোধিক অক্ষরবিশিষ্ট হওয়া, যা ইমাম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ২৫)
فَخر الدّين الرَّازِيّ فِي تَفْسِيره ومحصوله قَالَ ورد عَلَيْهِم بِالْبَاء وَاللَّام وَنَحْوهمَا مِمَّا هُوَ كلمة وَلَيْسَ على حرفين

‌‌[أَقسَام الْكَلِمَة]

ص فَإِن دلّت على معنى فِي نَفسهَا وَلم تقترن بِزَمَان فاسم أَو اقترنت فَفعل أَو فِي غَيرهَا بِأَن احْتَاجَت فِي إِفَادَة مَعْنَاهَا إِلَى اسْم أَو فعل أَو جملَة فحرف فَقَالَ ابْن النّحاس مَعْنَاهُ فِي نَفسه ش الْكَلِمَة إِمَّا اسْم وَإِمَّا فعل وَإِمَّا حرف وَلَا رَابِع لَهَا إِلَّا مَا سَيَأْتِي فِي مَبْحَث اسْم الْفِعْل من أَن بَعضهم جعله رَابِعا وَسَماهُ الخالفة وَالدَّلِيل على الْحصْر فِي الثَّلَاثَة الاستقراء وَالْقِسْمَة الْعَقْلِيَّة فَإِن الْكَلِمَة لَا تَخْلُو إِمَّا أَن تدل على معنى فِي نَفسهَا أَو لَا الثَّانِي الْحَرْف وَالْأول إِمَّا أَن يقْتَرن بِأحد الْأَزْمِنَة الثَّلَاثَة أَو لَا الثَّانِي الِاسْم وَالْأول الْفِعْل وَقد علم بذلك حد كل مِنْهَا بِأَن يُقَال الِاسْم مَا دلّ على معنى فِي نَفسه وَلم يقْتَرن بِزَمَان وَالْفِعْل مَا دلّ على معنى فِي نَفسه واقتران والحرف مَا دلّ على معنى فِي غَيره وَفِي فِي الْمَوَاضِع الثَّلَاثَة للسَّبَبِيَّة أَي دلّت على معنى بِسَبَب نَفسه لَا بانضمام غَيره إِلَيْهِ وبسبب غَيره أَي انضمامه إِلَيْهِ فالحرف مَشْرُوط فِي إِفَادَة مَعْنَاهُ الَّذِي وضع لَهُ انضمامه إِلَى غَيره من اسْم ك الْبَاء فِي مَرَرْت بزيد أَو فعل ك قد قَامَ أَو جملَة كحروف النَّفْي والاستفهام وَالشّرط وَقد يحذف الْمُحْتَاج إِلَيْهِ للْعلم بِهِ ك نعم وَلَا وك أَن قد وَأما
ফখরুদ্দীন আল-রাযী তাঁর তাফসীর ও আল-মাহসুল গ্রন্থে বলেছেন যে, তাদের উপর 'বা', 'লাম' এবং এই জাতীয় যা একটি শব্দ হওয়া সত্ত্বেও দুই অক্ষরের নয়, তা দিয়ে আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে।

‌‌[শব্দের প্রকারভেদ]

মূল পাঠ: যদি শব্দ নিজের মধ্যে কোনো অর্থের প্রতি নির্দেশ করে এবং কালের সাথে যুক্ত না হয়, তবে তা বিশেষ্য (ইসিম); আর যদি যুক্ত হয়, তবে তা ক্রিয়া (ফিল); অথবা যদি অন্যের সাহায্যে অর্থ প্রকাশ করে অর্থাৎ তার অর্থ প্রদানের জন্য কোনো বিশেষ্য, ক্রিয়া বা বাক্যের মুখাপেক্ষী হয়, তবে তা অব্যয় (হারফ)। অতঃপর ইবনুন নাহহাস বলেছেন, এর অর্থ হলো তার নিজস্ব সত্তা। ব্যাখ্যা: শব্দ হয় বিশেষ্য, না হয় ক্রিয়া, না হয় অব্যয়। এ তিনটির বাইরে চতুর্থ কোনো প্রকার নেই, তবে 'ক্রিয়াসূচক বিশেষ্য' (ইসমে ফিল) এর আলোচনায় যা আসবে তা ব্যতীত; কারণ কেউ কেউ একে চতুর্থ প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন 'আল-খালিফাহ'। শব্দকে এই তিন প্রকারে সীমাবদ্ধ করার দলিল হলো পর্যবেক্ষণ এবং যৌক্তিক বিভাজন। কারণ শব্দ হয় নিজের মধ্যে কোনো অর্থের প্রতি নির্দেশ করবে অথবা করবে না। দ্বিতীয়টি হলো অব্যয়। আর প্রথমটি হয় তিন কালের কোনো একটির সাথে যুক্ত হবে অথবা হবে না। দ্বিতীয়টি হলো বিশেষ্য এবং প্রথমটি হলো ক্রিয়া। এর মাধ্যমে প্রত্যেকটির সংজ্ঞা জানা গেল এভাবে যে: বিশেষ্য হলো এমন শব্দ যা নিজের মধ্যে কোনো অর্থের প্রতি নির্দেশ করে এবং কালের সাথে যুক্ত হয় না। ক্রিয়া হলো এমন শব্দ যা নিজের মধ্যে কোনো অর্থের প্রতি নির্দেশ করে এবং কালের সাথে যুক্ত হয়। আর অব্যয় হলো এমন শব্দ যা অন্যের মাধ্যমে কোনো অর্থের প্রতি নির্দেশ করে। উল্লিখিত তিনটি স্থানে 'মধ্যে' শব্দটি কারণবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ শব্দটি তার নিজস্ব সত্তার কারণে অর্থের প্রতি নির্দেশ করেছে, অন্য কিছুর সাথে মিলিত হওয়ার কারণে নয়। আর 'অন্যের মাধ্যমে' অর্থ হলো অন্যের সাথে মিলিত হওয়ার কারণে। সুতরাং অব্যয় তার নির্ধারিত অর্থ প্রদানের জন্য অন্যের সাথে মিলিত হওয়ার শর্তযুক্ত, যেমন বিশেষ্যের সাথে মিলিত হওয়া, যেমন: 'আমি যাইদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম' বাক্যে 'বি' অব্যয়টি, অথবা ক্রিয়ার সাথে মিলিত হওয়া, যেমন: 'সে নিশ্চয়ই দাঁড়িয়েছে' বাক্যে 'কদ', অথবা বাক্যের সাথে মিলিত হওয়া, যেমন: না-বোধক, প্রশ্নবোধক এবং শর্তবাচক অব্যয়সমূহ। কখনো কখনো যার প্রতি মুখাপেক্ষী তা জানা থাকার কারণে উহ্য থাকে, যেমন: 'হ্যাঁ' এবং 'না', এবং যেমন: 'নিশ্চয়ই', 'ইতিমধ্যেই' এবং 'পরন্তু'।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ২৬)
ذُو وَفَوق وَنَحْوهمَا وَإِن لم تذكر إِلَّا بمتعلقها فَلَيْسَ مَشْرُوطًا فِي إِفَادَة مَعْنَاهَا للْقطع بفهم معنى ذُو وَهُوَ صَاحب من لَفظه وَكَذَا فَوق وَإِنَّمَا شَرط ليتوصل بهَا إِلَى الْوَصْف بأسماء الْأَجْنَاس وب فَوق إِلَى علو خَاص وَقس على هَذَا وَقيل هِيَ للظرفية أَي معنى ثَابت فِي نَفسه وَفِي غَيره أَي حَاصِل فِيهِ ك من فِي نَحْو أكلت من الرَّغِيف فَإِنَّهَا تفِيد مَعْنَاهَا وَهُوَ التَّبْعِيض فِي الرَّغِيف وَهُوَ متعلقها بِخِلَاف زيد مثلا وَمن جعل الضَّمِير الْمُتَّصِل ب نفس وَغير رَاجعا للمعنى كَابْن الْحَاجِب فقد أبعد إِذْ لَا معنى لقولنا مَا دلّ على معنى بِسَبَب نفس الْمَعْنى أَو بِسَبَب غَيره أَو ثَابت فِيهِ أَو فِي غَيره أما الأول فَلِأَن الشَّيْء لَا يدل على مَعْنَاهُ بِسَبَب عين ذَلِك الْمَعْنى وَإِنَّمَا يدل عَلَيْهِ بِسَبَب وَضعه لَهُ وَدلَالَة اللَّفْظ عَلَيْهِ وَأما الثَّانِي فَلِأَنَّهُ لَا يَصح أَن يكون الشَّيْء ظرفا لنَفسِهِ وَالْمرَاد بِالزَّمَانِ حَيْثُ أطلق الْمعِين الْمعبر عَنهُ بالماضي وَالْحَال والاستقبال لشهرتها فِي هَذَا الْمَعْنى وَالْعبْرَة بِدلَالَة بِأَصْل الْوَضع فنحو مضرب الشول اسْم لِأَنَّهُ دَال على مُجَرّد الزَّمَان وَكَذَا الصبوح للشُّرْب فِي أول النَّهَار لِأَنَّهُ وَإِن أفهم معنى مقترنا بِزَمَان لكنه غير معِين وَكَذَا اسْم الْفَاعِل وَالْمَفْعُول لِأَنَّهُمَا وَإِن دلا على الزَّمَان الْمعِين فدلالتهما عَلَيْهِ عارضة وَإِنَّمَا وضعا لذات قَامَ بهَا الْفِعْل وَكَذَلِكَ أَسمَاء الْأَفْعَال وَنَحْو نعم وَبئسَ وَعَسَى أَفعَال لوضعها فِي الأَصْل للزمان وَعرض لتجردها مِنْهُ وَمَا ذَكرْنَاهُ من أَن الْحَرْف لَا يدل على معنى فِي نَفسه هُوَ الَّذِي أجمع عَلَيْهِ النُّحَاة وَقد خرق إِجْمَاعهم الشَّيْخ بهاء الدّين بن النّحاس فَذهب فِي تَعْلِيقه على

'জু', 'ফাওকা' এবং এগুলোর মতো শব্দগুলো যদিও তাদের সংশ্লিষ্ট শব্দ ছাড়া উল্লেখ করা হয় না, তবে তাদের অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শব্দ থাকাটা শর্ত নয়। কারণ, 'জু' শব্দটির উচ্চারণ থেকেই নিশ্চিতভাবে এর অর্থ 'অধিকারী' বোঝা যায়; একইভাবে 'ফাওকা'-এর ক্ষেত্রেও তাই। মূলত সংশ্লিষ্ট শব্দের শর্ত দেওয়া হয় যাতে এগুলোর মাধ্যমে জাতিবাচক বিশেষ্য দ্বারা গুণ বর্ণনা করা যায় অথবা 'ফাওকা'র মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট উচ্চতা নির্দেশ করা যায়; এর ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য শব্দকেও বিবেচনা করুন। এবং বলা হয়েছে যে, এগুলো আধার বা পাত্র হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ এমন অর্থ যা স্বীয় সত্তায় এবং অন্য সত্তায় বিদ্যমান থাকে। যেমন: 'আমি রুটি থেকে খেয়েছি' বাক্যে 'থেকে' অব্যয়টি। এটি তার নিজস্ব অর্থ প্রকাশ করে, আর তা হলো রুটির কিয়দাংশ; যা তার সংশ্লিষ্ট শব্দের মধ্যে নিহিত এবং এটি 'যায়েদ'-এর মতো শব্দের বিপরীত। আর ইবনুল হাজিবের মতো যারা 'সত্তা' এবং 'অন্য' শব্দের সাথে যুক্ত সর্বনামকে 'অর্থের' দিকে ফিরিয়েছেন, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে দূরে সরে গেছেন। কেননা আমাদের এই কথার কোনো অর্থ হয় না যে—'যা কোনো অর্থের ওপর ঐ অর্থের নিজের কারণে বা অন্য কিছুর কারণে নির্দেশ করে' অথবা 'তাতে বা অন্য কিছুতে বিদ্যমান থাকে'। প্রথমটির কারণ হলো, কোনো বস্তু সেই অর্থের মূল সত্তার কারণে তার অর্থের ওপর নির্দেশ করে না; বরং তা নির্দেশ করে তার জন্য শব্দটির নির্দিষ্টকরণ এবং শব্দের মাধ্যমে ঐ অর্থটি বুঝানোর কারণে। আর দ্বিতীয়টির কারণ হলো, কোনো বস্তু নিজের জন্য নিজে আধার হওয়া সঠিক নয়। আর যেখানে 'কাল' শব্দটিকে সাধারণভাবে ব্যবহার করা হয়, সেখানে নির্দিষ্ট কালই উদ্দেশ্য, যা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়; কারণ এই অর্থেই তা প্রসিদ্ধ। আর মূল বিবেচ্য বিষয় হলো মূল ভাষাগত গঠনের মাধ্যমে নির্দেশ করা। সুতরাং 'মাদরাবুশ শাওল' (উট দোহনের সময়) একটি বিশেষ্য, কারণ এটি কেবল সময়ের ওপর নির্দেশ করে। একইভাবে দিনের শুরুতে পান করার ক্ষেত্রে 'সাবুহ' শব্দটিও বিশেষ্য; কারণ এটি সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অর্থ দিলেও তা অনির্দিষ্ট। একইভাবে কর্তাবাচক ও কর্মবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য; কারণ যদিও তারা নির্দিষ্ট কালের ওপর নির্দেশ করে, তবে সেই নির্দেশ করাটা গৌণ বা আকস্মিক। মূলত সেগুলো এমন সত্তার জন্য গঠন করা হয়েছে যার সাথে ক্রিয়া সংশ্লিষ্ট। ঠিক তেমনি ক্রিয়া-বিশেষ্য এবং 'নি'মা', 'বি'সা', 'আসা'-এর মতো শব্দগুলো মূলত ক্রিয়া; কারণ এগুলো মূলত কালের সাথে সংশ্লিষ্ট করে গঠন করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে কাল থেকে মুক্ত হওয়াটা ছিল আকস্মিক। আর আমরা যা উল্লেখ করেছি যে, অব্যয় স্বীয় সত্তাগতভাবে কোনো অর্থ প্রকাশ করে না—এটিই বৈয়াকরণদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত। তবে শেখ বাহাউদ্দিন ইবনুন নাহহাস এই সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছেন এবং তাঁর টীকায় তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে...

(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ২৭)
المقرب إِلَى أَنه يدل على معنى فِي نَفسه قَالَ لِأَنَّهُ إِن خُوطِبَ بِهِ من لَا يفهم مَوْضُوعه لُغَة فَلَا دَلِيل فِي عدم فهم الْمَعْنى على أَنه لَا معنى لَهُ لِأَنَّهُ لَو خُوطِبَ بِالِاسْمِ وَالْفِعْل وَهُوَ لَا يفهم موضوعهما لُغَة كَانَ كَذَلِك وَإِن خُوطِبَ بِهِ من يفهمهُ فَإِنَّهُ يفهم مِنْهُ معنى عملا بفهمه مَوْضُوعه لُغَة كَمَا إِذا خُوطِبَ ب هَل من يفهم أَن موضوعها الِاسْتِفْهَام وَكَذَا سَائِر الْحُرُوف قَالَ وَالْفرق بَينه وَبَين الِاسْم وَالْفِعْل أَن الْمَعْنى الْمَفْهُوم مِنْهُ مَعَ غَيره أتم من الْمَفْهُوم مِنْهُ حَال الْإِفْرَاد بخلافهما فالمفهوم مِنْهُمَا فِي التَّرْكِيب عين الْمَفْهُوم مِنْهُمَا فِي الْإِفْرَاد انْتهى

‌‌[خَواص الِاسْم]

ص فالاسم من خواصه نِدَاء وَنَحْو يَا لَيْت تَنْبِيه وتنوين لَا فِي روى وحرف تَعْرِيف وَإِسْنَاده إِلَيْهِ وَتسمع بالمعيدي على حذف أَن أَو نزل منزلَة الْمصدر وَإِضَافَة وجر وحرفه وبنام صَاحبه على حذف الْمَوْصُوف وعود ضمير واعدلوا هُوَ على الْمصدر الْمَفْهُوم ومباشرة فعل وَهُوَ لعين أَو معنى اسْما أَو وَصفا وَمِنْه مَا سمي بِهِ أَو أُرِيد لَفظه كَلَوْ واللو وَزَعَمُوا مَطِيَّة الْكَذِب وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه كنز ش للاسم خَواص تميزه عَن غَيره وعلامات يعرف بهَا وَذكر مِنْهَا هُنَا تِسْعَة أَحدهَا النداء وَهُوَ الدُّعَاء بحروف مَخْصُوصَة نَحْو يَا زيد وَإِنَّمَا اخْتصَّ بِهِ لِأَن الْمُنَادِي مفعول بِهِ فِي الْمَعْنى أَو فِي اللَّفْظ أَيْضا على مَا سَيَأْتِي والمفعولية لَا تلِيق بِغَيْر الِاسْم فَإِن أورد على ذَلِك نَحْو قَوْله تَعَالَى {يَا لَيْت قومِي يعلمُونَ} يس 26 {يَا ليتنا نرد} الْأَنْعَام 27 {أَلا يسجدوا} النَّمْل 25 وَحَدِيث البُخَارِيّ يَا رب كاسية فِي الدُّنْيَا عَارِية يَوْم الْقِيَامَة

বিষয়টি এই যে, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি অর্থের ওপর দলালত করে। তিনি বলেন, কারণ যদি এমন কাউকে সম্বোধন করা হয় যে এর ভাষাগত প্রয়োগ বোঝে না, তবে তার অর্থ না বোঝার মধ্যে এই দলীল নেই যে এর কোনো অর্থ নেই। কেননা তাকে যদি বিশেষ্য ও ক্রিয়া দ্বারা সম্বোধন করা হতো এবং সে সেগুলোর ভাষাগত প্রয়োগ না বুঝত, তবে ফলাফল একই হতো। আর যদি এমন ব্যক্তিকে সম্বোধন করা হয় যে তা বোঝে, তবে সে এর ভাষাগত প্রয়োগ বোঝার কারণে এটি থেকে একটি অর্থ বুঝতে পারবে। যেমন যখন 'কি' (হাল) দ্বারা কাউকে সম্বোধন করা হয়, যে বোঝে যে এর প্রয়োগ জিজ্ঞাসার জন্য, তেমনি অন্যান্য অব্যয়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ। তিনি বলেন, অব্যয় এবং বিশেষ্য ও ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য হলো, অন্য শব্দের সাথে মিলিত অবস্থায় এর থেকে যে অর্থ বোঝা যায়, তা একক অবস্থায় বোঝা যাওয়া অর্থের চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ; যা বিশেষ্য ও ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন। কারণ বিশেষ্য ও ক্রিয়ার ক্ষেত্রে বাক্য গঠনে যে অর্থ পাওয়া যায়, তা একক অবস্থায় পাওয়া অর্থের অনুরূপ। সমাপ্ত।

‌‌[বিশেষ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ]

মূলপাঠ: বিশেষ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে সম্বোধন (নিদা), আর 'হায় যদি' এর মতো ক্ষেত্রে 'ইয়া' শব্দটি সতর্কীকরণের জন্য। আরও রয়েছে তানউইন যা কবিতার অন্ত্যমিলে আসে না এমন, সংজ্ঞা প্রদানকারী বর্ণ (আলিফ-লাম), এবং তার দিকে ইসনাদ করা। 'মুয়াইদির কথা শুনবে' - এখানে 'আন' উহ্য থাকার কারণে অথবা ক্রিয়াটি মাসদারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে এটি বিশেষ্য। আরও রয়েছে ইদাফাত (সম্বন্ধ), হরফে জর যোগে মাজরুর হওয়া, এবং 'তার সাথীর ঘুমের সাথে' - এখানে বর্ণিত বিশেষ্যটি উহ্য হওয়ার কারণে এমন হয়েছে। আরও রয়েছে সর্বনামের প্রত্যাবর্তন; যেমন 'তোমরা ইনসাফ করো, তা (ইনসাফ)...' - এখানে সর্বনামটি পূর্বোক্ত ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত মাসদারের দিকে ফিরেছে। ক্রিয়ার সরাসরি আমল গ্রহণ করা। আর বিশেষ্য বলতে কোনো বস্তু বা অর্থ, নাম বা গুণ হতে পারে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো যা দ্বারা নামকরণ করা হয়েছে কিংবা যার কেবল শব্দগত রূপ উদ্দেশ্য, যেমন 'যদি' এবং 'আল-লাও'। 'তারা ধারণা করে যে এটি মিথ্যার বাহন' এবং 'আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই' হলো জান্নাতের ধনভাণ্ডার। ব্যাখ্যা: বিশেষ্যের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা তাকে অন্য শব্দ থেকে পৃথক করে এবং এমন কিছু চিহ্ন রয়েছে যার দ্বারা এটি চেনা যায়। লেখক এখানে এর নয়টি চিহ্ন উল্লেখ করেছেন। প্রথমটি হলো সম্বোধন (নিদা)। আর তা হলো নির্দিষ্ট কিছু বর্ণের মাধ্যমে আহ্বান করা, যেমন 'হে যায়দ'। এটি বিশেষ্যের জন্য নির্দিষ্ট কারণ যাকে সম্বোধন করা হয় সে অর্থের দিক থেকে অথবা শব্দের দিক থেকেও কর্ম (মাফউল বিহি) হয়ে থাকে, যা সামনে আলোচিত হবে। আর কর্ম হওয়ার যোগ্যতা বিশেষ্য ছাড়া অন্য কারও নেই। যদি এর বিপরীতে মহান আল্লাহর বাণী 'হায়! আমার সম্প্রদায় যদি জানত!', 'হায়! যদি আমাদের ফিরিয়ে নেয়া হতো!', 'কেন তারা সিজদা করে না' এবং বুখারী শরীফের হাদীস 'হে দুনিয়াতে পোশাক পরিধানকারিণী, যারা কিয়ামতের দিন উলঙ্গ থাকবে' পেশ করা হয়- (তবে তার উত্তর পরবর্তী অংশে আসবে)।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ২৮)
حَيْثُ دخل فِيهِ يَا على رب وهما حرفان وعَلى اسجدوا وَهُوَ فعل فَالْجَوَاب أَن يَا فِي ذَلِك وَنَحْوه للتّنْبِيه لَا للنداء وحرف التَّنْبِيه يدْخل على غير الِاسْم وَقيل للنداء والمنادي مَحْذُوف أَي يَا قوم وَضَعفه ابْن مَالك فِي تَوْضِيحه بِأَن الْقَائِل لذَلِك قد يكون وَحده فَلَا يكون مَعَه منادى ثَابت وَلَا مَحْذُوف وَمن الْأَسْمَاء مَا لَا دَلِيل على اسميته إِلَّا النداء نَحْو يَا مكرمان وَيَا فل لِأَنَّهُمَا يختصان بالنداء الثَّانِي التَّنْوِين وَسَيَأْتِي حَده وأقسامه الْعشْرَة فِي خَاتِمَة الْكتاب الثَّالِث وَالَّذِي يخْتَص بِالِاسْمِ مِنْهُ مَا عدا الترنم والغالي اللاحقين لروي الْبَيْت وَهُوَ الْحَرْف الَّذِي تعزى لَهُ القصيدة فَإِنَّهُمَا لَا يختصان بِهِ كَمَا سَيَأْتِي وَإِنَّمَا اخْتصَّ الْبَاقِي بِهِ لِأَن التَّمْكِين فِيهِ للْفرق بَين المنصرف وَغَيره والتنكير للْفرق بَين النكرَة وَغَيرهَا والمقابلة إِنَّمَا يدْخل جمع الْمُؤَنَّث السَّالِم والعوض إِنَّمَا يدْخل الْمُضَاف عوضا من الْمُضَاف إِلَيْهِ ولاحظ لغير الِاسْم فِي الصّرْف وَلَا التَّعْرِيف والتنكير وَلَا الْجمع وَلَا الْإِضَافَة فَإِن أورد على هَذَا نَحْو قَول الشَّاعِر 1 -

(ألامُ على لَوٍّ وَلَو كنت عَالما … بأذناب لَوّ لم تَفتْني أوائِلُهْ)

حَيْثُ أَدخل التَّنْوِين على لَو وَهُوَ حرف فَالْجَوَاب أَن لَو هُنَا اسْم علم للفظة لَو وَلذَلِك شدد آخرهَا وأعرب ودخلها الْجَرّ وَالْإِضَافَة كَمَا سَيَأْتِي ذَلِك فِي مَبْحَث التَّسْمِيَة الثَّالِث حرف التَّعْرِيف إِذْ لاحظ لغي الِاسْم فى التَّعْرِيف وَالتَّعْبِير بذلك أحسن من التَّعْبِير ب أل لشُمُوله لَهَا وللام على قَول من يَرَاهَا وَحدهَا الْمعرفَة ول أم فِي لُغَة طئ ولسلامته من وُرُود أل الموصولة وَأما قَوْله

إياك واللو فَإِن اللو تفتح عمل الشَّيْطَان رَوَاهُ بِهَذَا اللَّفْظ ابْن مَاجَه وَغَيره فَالْجَوَاب عَنهُ كَمَا سبق فِي الْكَلَام على لَو
যেহেতু এতে 'ইয়া' প্রবেশ করেছে 'রব'-এর ওপর, অথচ উভয়টিই অব্যয়; এবং 'উসজুদু'-এর ওপর প্রবেশ করেছে, যা একটি ক্রিয়া। এর উত্তর হলো, এক্ষেত্রে এবং অনুরূপ স্থলে 'ইয়া' শব্দটি সতর্কীকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, আহ্বানের জন্য নয়। আর সতর্কীকরণের অব্যয় বিশেষ্য ব্যতীত অন্য পদের ওপরও প্রবেশ করতে পারে। কেউ কেউ বলেছেন, এটি আহ্বানের জন্যই, তবে এখানে আহূত ব্যক্তি উহ্য রয়েছে; অর্থাৎ 'হে কওম'। ইবনে মালিক তার 'তাওদিহ' গ্রন্থে এই মতটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন এই যুক্তিতে যে, বক্তা অনেক সময় একাকী থাকতে পারেন, ফলে সেখানে কোনো দৃশ্যমান বা উহ্য আহূত ব্যক্তি থাকা সম্ভব নয়। আর বিশেষ্যসমূহের মধ্যে এমন কিছু শব্দ রয়েছে যার বিশেষ্য হওয়ার স্বপক্ষে আহ্বান ব্যতীত অন্য কোনো প্রমাণ নেই, যেমন: 'ইয়া মুকরিমান' এবং 'ইয়া ফুল'; কারণ এই শব্দগুলো আহ্বানের সাথেই নির্দিষ্ট। দ্বিতীয় চিহ্ন হলো তানউইন; এর সংজ্ঞা এবং দশটি প্রকার কিতাবের শেষে আসবে। তৃতীয় চিহ্ন (যা বিশেষ্যের সাথে নির্দিষ্ট), তা হলো 'তারাননুম' এবং 'গালি' নামক তানউইনদ্বয় ব্যতীত অন্য প্রকারগুলো, যা কবিতার অন্ত্যমিলের সাথে যুক্ত হয়—আর অন্ত্যমিল হলো সেই অক্ষর যার দিকে কাসিদাহকে সম্বন্ধ করা হয়। কেননা এই দুই প্রকার তানউইন কেবল বিশেষ্যের সাথে নির্দিষ্ট নয়, যেমনটি সামনে আসবে। অবশিষ্ট প্রকারগুলো বিশেষ্যের সাথে নির্দিষ্ট হওয়ার কারণ হলো: 'তামকিন' আসে রূপান্তরযোগ্য ও অপরিবর্তনীয় শব্দের মধ্যে পার্থক্য করতে, 'তানকির' আসে অনির্দিষ্ট ও নির্দিষ্টের মধ্যে পার্থক্য করতে, 'মুকাবালা' কেবল স্ত্রীলিঙ্গবাচক বহুবচনের ক্ষেত্রে আসে, আর 'ইওয়াদ' কেবল সম্বন্ধযুক্ত পদের ক্ষেত্রে আসে যা সম্বন্ধিত পদের পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। শব্দ রূপান্তর, নির্দিষ্টকরণ, অনির্দিষ্টকরণ, বহুবচন কিংবা সম্বন্ধ—এসবের ক্ষেত্রে বিশেষ্য ছাড়া অন্য কোনো পদের অংশ নেই। যদি এর বিপরীতে কবির এই উক্তিটি পেশ করা হয়:

(আমি তিরস্কৃত হই 'যদি'-এর ওপর, আর আমি যদি জানতাম... 'যদি'-এর শেষ পরিণতি সম্পর্কে, তবে তার শুরুটা আমার হাতছাড়া হতো না)

যেখানে 'যদি' শব্দের ওপর তানউইন যুক্ত করা হয়েছে অথচ সেটি একটি অব্যয়; তবে উত্তর হলো, এখানে 'যদি' শব্দটি 'যদি' শব্দটিরই নাম বা সত্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই কারণেই এর শেষে দ্বিত্ব করা হয়েছে, এটি বিভক্তি গ্রহণ করেছে এবং এতে যতিচিহ্ন ও সম্বন্ধ প্রবেশ করেছে, যেমনটি নাম প্রদানের আলোচনায় সামনে আসবে। তৃতীয় চিহ্ন হলো নির্দিষ্টতাবাচক অব্যয়। কেননা বিশেষ্য ব্যতীত অন্য পদের নির্দিষ্ট হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এক্ষেত্রে 'আল' বলার চেয়ে 'নির্দিষ্টতাবাচক অব্যয়' বলা অধিক উত্তম, যাতে 'আল' এবং যারা কেবল 'লাম'-কে নির্দিষ্টতাবাচক মনে করেন তাদের মত—উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হয়; এবং তায় গোত্রের ভাষায় ব্যবহৃত 'আম'-ও এর অন্তর্ভুক্ত হয়। এছাড়া এর মাধ্যমে সম্বন্ধসূচক 'আল'-এর অনুপ্রবেশ থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। আর তাঁর বাণী:

'তোমরা 'যদি' বলা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ 'যদি' শয়তানের কর্মের পথ খুলে দেয়'—ইবনে মাজাহ ও অন্যরা এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন। এর উত্তরও 'যদি' সম্পর্কে পূর্বে যা বলা হয়েছে অনুরূপ।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ২৯)
الرَّابِع الْإِسْنَاد إِلَيْهِ وَهُوَ أَنْفَع علاماته إِذْ بِهِ تعرف اسمية التَّاء من ضربت والإسناد تَعْلِيق خبر بمخبر عَنهُ أَو طلب بمطلوب مِنْهُ ولشموله الْقسم الثَّانِي دون الْإِخْبَار عبرت بِهِ دونه وَسَوَاء الْإِسْنَاد الْمَعْنَوِيّ واللفظي كَمَا حَقَّقَهُ ابْن هِشَام وَغَيره وَغلط فِيهِ ابْن مَالك فِي شرح التسهيل حَيْثُ جعل الثَّانِي صَالحا للْفِعْل والحرف كَقَوْلِك ضرب فعل مَاض وَمن حرف جر ورد بِأَنَّهَا هُنَا اسمان مجردان عَن مَعْنَاهُمَا الْمَعْرُوف لإِرَادَة لَفْظهمَا وَلِهَذَا يحكم على موضعهما بِالرَّفْع على الِابْتِدَاء فَضرب هُنَا مثلا اسْم مُسَمَّاهُ ضرب الدَّال على الْحَدث وَالزَّمَان وَقد صرح ابْن مَالك نَفسه فِي الكافية باسمية مَا أخبر عَن لَفظه حَيْثُ قَالَ

(وَإِن نسبتَ لأداةٍ حكمَا … فَابْن أَو اعربْ واجعلنْها اسْما)

وَفِي شرح أَوسط الْأَخْفَش لمبرمان إِذا قلت هَل حرف اسْتِفْهَام فَإِنَّمَا جِئْت باسم الْحَرْف وَلم تأت بِهِ على مَوْضِعه وَهَذَا مَعَ مَا تقدم فِي الْكَلَام على لَو معنى قولي وَمِنْه مَا سمي بِهِ أَو أُرِيد لَفظه وعَلى الثَّانِي يتَخَرَّج قَول الْعَرَب زَعَمُوا مَطِيَّة الْكَذِب وَحَدِيث الصَّحِيحَيْنِ لَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه كنز من كنوز الْجنَّة حَيْثُ أسْند إِلَى الْجُمْلَة الفعلية فِي الأول وللاسمية فِي الثَّانِي فَالْمَعْنى فِي الأول هَذَا اللَّفْظ مَطِيَّة الْكَذِب أَي يقدمهُ الرجل أَمَامه كَلَامه ليتوصل بِهِ إِلَى غَرَضه من نِسْبَة الْكَذِب إِلَى القَوْل المحكي كَمَا يركب الرجل فِي مسيره إِلَى بلد مَطِيَّة ليقضي عَلَيْهَا حَاجته وَفِي الثَّانِي هَذَا اللَّفْظ كنز من كنوز الْجنَّة أَي كالكنز فِي نفاسته وصيانته عَن أعين النَّاس
চতুর্থটি হলো 'ইসনাদ ইলাইহি' (তার দিকে সম্বন্ধ করা), যা বিশেষ্যের আলামতসমূহের মধ্যে সর্বাধিক উপকারী। কারণ এর মাধ্যমেই 'দারাবতু' (আমি প্রহার করেছি) ক্রিয়ার অন্তর্গত 'তা' সর্বনামটির বিশেষ্য হওয়া চেনা যায়। আর ইসনাদ হলো কোনো সংবাদকে সংবাদদাতার সাথে সংশ্লিষ্ট করা অথবা কোনো দাবিকে দাবিকৃত ব্যক্তির সাথে যুক্ত করা। যেহেতু এটি 'ইখবার' (সংবাদ প্রদান) ব্যতীত দ্বিতীয় প্রকারকেও (দাবি) শামিল করে, তাই আমি 'ইখবার' শব্দের পরিবর্তে এটি (ইসনাদ) ব্যবহার করেছি। অর্থগত ও শাব্দিক—উভয় প্রকার ইসনাদই সমান, যেমনটি ইবনে হিশাম ও অন্যান্যরা নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে ইবনে মালিক 'শারহুত তাসহিল'-এ ভুল করেছেন; যেখানে তিনি দ্বিতীয় প্রকারটিকে (শাব্দিক ইসনাদ) ক্রিয়া ও অব্যয়ের জন্য যোগ্য মনে করেছেন, যেমন আপনার কথা: 'দারাবা (ضرب) একটি অতীতকালীন ক্রিয়া' এবং 'মিন (من) একটি অব্যয়'। এর উত্তর হলো, এগুলো এখানে এমন দুটি বিশেষ্য যা তাদের সুপরিচিত অর্থ থেকে বিমুক্ত হয়ে কেবল শব্দ দুটিকে বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এই কারণেই তাদের স্থানকে 'মুবতাদা' (উদ্দেশ্য) হিসেবে 'রাফ' (পেশ) হওয়ার হুকুম দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, এখানে 'দারাবা' এমন একটি বিশেষ্য যার নামীয় সত্তা (মুসাম্মা) হলো সেই 'দারাবা' শব্দটি যা কাজ ও কালের ওপর দালালত করে। স্বয়ং ইবনে মালিক তাঁর 'কাফিয়া' গ্রন্থে সেই শব্দের বিশেষ্য হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যার শব্দ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়, যেখানে তিনি বলেছেন:

(যদি তুমি কোনো অব্যয়ের প্রতি কোনো বিধান সম্বন্ধ করো … তবে তাকে অপরিবর্তনীয় রাখো অথবা রূপান্তর করো এবং তাকে বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করো)

মুবারমান কর্তৃক রচিত আল-আখফাশের 'শারহুল আওসাত'-এ আছে: যখন আপনি বলেন 'হাল (هل) একটি প্রশ্নবোধক অব্যয়', তখন আপনি কেবল অব্যয়টির নাম উল্লেখ করেছেন, তাকে তার (আসল) স্থানে ব্যবহার করেননি। এটি এবং পূর্বে 'লাও' (لو) শব্দের আলোচনায় যা অতিক্রান্ত হয়েছে, তা-ই আমার এই কথার মর্মার্থ: "আর তারই অন্তর্ভুক্ত হলো যা দ্বারা নামকরণ করা হয়েছে অথবা যার শব্দকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।" আর দ্বিতীয়টির (শব্দগত উদ্দেশ্য) ওপর ভিত্তি করেই আরবদের এই প্রবাদটি প্রচলিত হয়েছে: "তারা দাবি করেছে" (যায়ামূ) হলো মিথ্যার বাহন। এবং সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর হাদীস: "আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই" (লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ) জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের একটি। এখানে প্রথম উদাহরণটিতে একটি 'ক্রিয়াসমৃদ্ধ বাক্য' (জুমলা ফে'লিয়া)-এর দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টিতে একটি 'বিশেষ্যসমৃদ্ধ বাক্য' (জুমলা ইসমিয়া)-এর দিকে। সুতরাং প্রথমটির অর্থ হলো: এই শব্দটি (যায়ামূ) মিথ্যার বাহন; অর্থাৎ মানুষ তার কথার আগে এটি পেশ করে যাতে বর্ণিত কথার সাথে মিথ্যাকে সম্বন্ধ করার মাধ্যমে সে তার উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারে, যেমন একজন মানুষ কোনো জনপদে যাওয়ার পথে কোনো বাহনে আরোহণ করে যাতে তার মাধ্যমে সে তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে। আর দ্বিতীয়টির অর্থ হলো: এই বাক্যটি জান্নাতের গুপ্তধনসমূহের একটি; অর্থাৎ এর মূল্যবান হওয়া এবং মানুষের চোখ থেকে সুরক্ষিত থাকার দিক দিয়ে এটি গুপ্তধনের সদৃশ।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৩০)
فَإِن قلت فَمَا تصنع بقوله تسمع بالمعيدي خير من أَن ترَاهُ فَإِن الْإِسْنَاد وَقع فِيهِ إِلَى تسمع وَهُوَ فعل وَلم يرد لَفظه فَالْجَوَاب من وَجْهَيْن أَحدهمَا أَنه مَحْمُول على حذف أَن أَي أَن تسمع وهما فِي تَأْوِيل الْمصدر أَي سماعك فالإسناد فِي الْحَقِيقَة إِلَيْهِ وَهُوَ اسْم كَمَا هُوَ فِي قَوْله تَعَالَى {وَأَن تعفوا أقرب للتقوى} الْبَقَرَة 237 {وَأَن تَصُومُوا خير لكم} الْبَقَرَة 184 وَنَظِيره فِي حذف أَن قَوْله

(أَلا أيُّهذا اللاّئمى أحْضُرُ الوغى … وَأَن أشهدَ اللَّذَّاتِ هَل أَنْت مُخْلِدي)
আপনি যদি বলেন, তবে "(আরবদের এই প্রবাদ) মুয়াইদি সম্পর্কে তোমার শোনা তাকে দেখার চেয়ে উত্তম"—এর ক্ষেত্রে আপনি কী করবেন? কারণ এখানে 'তাসমাউ' (তুমি শোনো) শব্দটির প্রতি সম্বন্ধ (ইসনাদ) করা হয়েছে, অথচ সেটি একটি ক্রিয়া এবং এর শব্দগত রূপটি এখানে উদ্দেশ্য নয়। এর উত্তর দুইভাবে দেওয়া যায়: প্রথমটি হলো, এটি 'আন' (أن) অব্যয়টি উহ্য থাকার ওপর ভিত্তিশীল, অর্থাৎ 'তোমার শোনা' (আন তাসমাউ); আর এই দু’টি মিলে মাসদারের (ক্রিয়ামূল) ব্যাখ্যা প্রদান করে, অর্থাৎ 'তোমার শ্রবণ করা'। সুতরাং মূলত সম্বন্ধটি সেই মাসদারের দিকেই হয়েছে, যা একটি বিশেষ্য (ইসম)। যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {তোমাদের ক্ষমা করে দেওয়া তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী} (আল-বাকারাহ: ২৩৭) এবং {তোমাদের রোজা রাখা তোমাদের জন্য কল্যাণকর} (আল-বাকারাহ: ১৮৪)। আর 'আন' উহ্য থাকার অনুরূপ উদাহরণ হলো কবির এই উক্তি:

(ওহে আমার সেই নিন্দাকারী, যে আমাকে যুদ্ধে উপস্থিত হতে … এবং আনন্দ-উল্লাস উপভোগ করতে দেখে নিন্দা করছ, তুমি কি আমাকে অমর করে দেবে?)
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৩১)
فِيمَن رَوَاهُ بِرَفْع أحضر فَإِنَّهُ حذف مِنْهُ أَن لقَرِينَة ذكرهَا فِي الْمَعْطُوف ليَصِح عطفه عَلَيْهِ وَإِلَّا لزم عطف مُفْرد على جملَة وَهُوَ مَمْنُوع أما من رَوَاهُ بِالنّصب فَهُوَ على إِضْمَار أَن لَا حذفهَا والمضمر فِي قُوَّة الْمَذْكُور وَالثَّانِي أَنه مِمَّا نزل فِيهِ الْفِعْل منزلَة الْمصدر وَهُوَ سماعك لِأَنَّهُ مَدْلُول الْفِعْل مَعَ الزَّمَان فَجرد لأحد مدلوليه كَمَا فِي قَوْله 4 -

(فَقَالُوا مَا تَشَاءُ فَقلت: ألهو … )

فَإِنَّهُ نزل فِيهِ ألهو منزلَة اللَّهْو ليَكُون مُفردا مطابقا للمسؤول عَنهُ الْمُفْرد وَهُوَ مَا فِي مَا تشَاء وَلم يحمل على حذف أَن كَمَا فِي الْبَيْت السَّابِق لِأَن قَوْله مَا تشَاء سُؤال عَمَّا يَشَاء فِي الْحَال لَا الِاسْتِقْبَال وَلَو حمل على حذفهَا لَكَانَ مُسْتَقْبلا فَلَا يُطَابق السُّؤَال وَاعْترض بِجَوَاز أَن يُرَاد أَشَاء فِي الْحَال اللَّهْو فِي الِاسْتِقْبَال وَدفع بِأَن قَوْله فِي تَمَامه

(إِلَى الإصباح آثرَ ذِي أثير … )

يمْنَع ذَلِك الْخَامِس الْإِضَافَة أَي كَونه مُضَافا أَو مُضَافا إِلَيْهِ وَأما نَحْو {يَوْم ينفع الصَّادِقين} الْمَائِدَة 119 فَإِن الْفِعْل فِيهِ مَوضِع الْمصدر السَّادِس وَالسَّابِع الْجَرّ وحرفه وَإِنَّمَا اخْتصَّ بِهِ لِأَنَّهُ إِنَّمَا دخل الْكَلَام ليعدي إِلَى الْأَسْمَاء معنى الْأَفْعَال الَّتِي لَا تتعدى بِنَفسِهَا إِلَيْهَا لاقتضائها معنى ذَلِك
যারা 'আহদুরু' শব্দটিকে রফ (পেশ) দিয়ে বর্ণনা করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এখানে 'আন' উহ্য ধরা হয়েছে। কারণ পরবর্তী শব্দে তার উল্লেখ থাকার কারণে এটি একটি ইঙ্গিত হিসেবে কাজ করে, যাতে সেটির ওপর এর আতফ (সংযোজন) হওয়া সঠিক হয়। অন্যথায় একটি একক শব্দের (মুফরাদ) আতফ জুমলার (বাক্য) ওপর হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে, যা ব্যাকরণগতভাবে নিষিদ্ধ। আর যারা একে নসব (যবর) দিয়ে বর্ণনা করেছেন, তাদের মতে এখানে 'আন' উহ্য রাখা হয়েছে, বিলোপ করা হয়নি; আর উহ্য বিষয়টি উল্লিখিত বিষয়ের মতোই শক্তিশালী। দ্বিতীয়ত, এটি এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যেখানে ক্রিয়াকে মাসদারের (ক্রিয়ামূল) স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। আর তা হলো আপনার শোনা; কারণ ক্রিয়াটি সময়ের সাথে সম্পৃক্ত অর্থের নির্দেশক। তাই এর দুটি নির্দেশিত অর্থের মধ্যে একটি থেকে একে মুক্ত করা হয়েছে, যেমনটি নিচের চরণে বলা হয়েছে - ৪ -

(তারা বলল: আপনি কী চান? আমি বললাম: আমি আমোদ-প্রমোদ করতে চাই … )

এখানে 'আলাহু' (আমি আমোদ করি) ক্রিয়াটিকে 'লাহও' (আমোদ-প্রমোদ) মাসদারের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে যাতে এটি জিজ্ঞাসিত একক বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, আর তা হলো 'মা তাশাউ' বাক্যের 'মা' শব্দটি। এখানে 'আন' বিলোপ করার ওপর ভিত্তি করা হয়নি যেমনটি পূর্ববর্তী চরণে করা হয়েছে। কারণ 'মা তাশাউ' কথাটি বর্তমানে যা চাওয়া হচ্ছে সে সম্পর্কে প্রশ্ন, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নয়। যদি এখানে 'আন' বিলোপ করা হয়েছে বলে ধরা হতো, তবে তা ভবিষ্যৎকালীন অর্থ প্রদান করত, ফলে তা প্রশ্নের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো না। এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, বর্তমানে ইচ্ছা করা এবং ভবিষ্যতে আমোদ-প্রমোদ করা উদ্দেশ্য হওয়া সম্ভব। এর প্রত্যুত্তরে বলা হয়েছে যে, কবিতার শেষাংশ -

(ভোর পর্যন্ত সবকিছুর আগে … )

তা হতে বাধা দেয়। পঞ্চম (চিহ্ন) হলো ইজাফত, অর্থাৎ মুদাফ (সম্বন্ধযুক্ত) বা মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধপদ) হওয়া। আর সূরা আল-মায়িদার ১১৯ নম্বর আয়াতের "যেদিন সত্যবাদীদের তাদের সত্যবাদিতা উপকারে আসবে" এর মতো ক্ষেত্রে ক্রিয়াটি মাসদারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। ষষ্ঠ ও সপ্তম চিহ্ন হলো জর (জের) হওয়া এবং জরের হরফ। এটি বিশেষ্য বা ইসমের সাথে বিশিষ্ট হয়েছে কারণ বাক্যে এর প্রবেশ ঘটে মূলত সেই সব ক্রিয়ার অর্থকে বিশেষ্য পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য যেগুলো সরাসরি সেগুলোর প্রতি অর্থের সংযোগ ঘটাতে পারে না, কারণ সেগুলো সেই অর্থের দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৩২)
الْحَرْف فَامْتنعَ دُخُولهَا إِلَّا على اسْم بعد فعل لفظا أَو تَقْديرا وَإِذا امْتنع دُخُول عَامل الْجَرّ على كلمة امْتنع الْجَرّ الَّذِي هُوَ أَثَره فَإِن أورد على هَذَا نَحْو قَول الشَّاعِر 5 -

(وَالله مَا لَيْلِي بنَامَ صاحبُهْ … وَلَا مخالطِ اللّيَان جانِبُهْ)
অক্ষরটি, তাই শব্দগতভাবে অথবা উহ্যভাবে ক্রিয়ার পরে থাকা বিশেষ্য ব্যতীত এর প্রবেশ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর যখন কোনো শব্দের ওপর 'জর' (জের) প্রদানকারী আমিলের প্রবেশ অসম্ভব হয়, তখন সেই 'জর' হওয়াও অসম্ভব হয় যা উক্ত আমিলেরই প্রভাব। যদি এর ওপর কবির নিম্নোক্ত বাণীর মতো আপত্তি উত্থাপন করা হয় ৫ -

(আল্লাহর কসম, আমার রাত এমন নয় যার সঙ্গী ঘুমায় ... এবং না তার পার্শ্বদেশ কোমলতার সংশ্রব পায়)
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
حَيْثُ أَدخل الْبَاء على نَام وَهُوَ فعل بِاتِّفَاق فَالْجَوَاب أَنه على حذف الْمَوْصُوف أَي بلَيْل نَام صَاحبه الثَّامِن عود ضمير عَلَيْهِ وَبِه اسْتدلَّ على اسمية مهما لعود الْهَاء عَلَيْهَا فِي قَوْله تَعَالَى {مهما تأتنا بِهِ} الْأَعْرَاف 132 وَمَا التعجبية لعود ضمير الْفَاعِل المستكن عَلَيْهَا فِي نَحْو مَا أحسن زيدا وأل الموصولة لعوده عَلَيْهَا فِي قَوْلهم قد أَفْلح المتقي ربه فَإِن أورد على هَذَا نَحْو قَوْله تَعَالَى {اعدلوا هُوَ أقرب للتقوى} الْمَائِدَة 8 حَيْثُ عَاد الضَّمِير إِلَى فعل الْأَمر فَالْجَوَاب أَنه عَائِد على الْمصدر الْمَفْهُوم مِنْهُ وَهُوَ الْعدْل لَا على الْفِعْل نَفسه التَّاسِع مُبَاشرَة الْفِعْل أَي وَلَاؤُه من غير فاصل وَبِذَلِك اسْتدلَّ على اسمية كَيفَ قَالَ تَعَالَى {ألم تَرَ كَيفَ فعل رَبك} الْفِيل 1 وَبِه اسْتدلَّ الرياشي على اسمية إِذا فِي قَوْله أَلْقَاك إِذا خرج زيد ثمَّ نبهت على أَن الِاسْم يَنْقَسِم إِلَى أَرْبَعَة أَقسَام اسْم عين وَهُوَ مَا دلّ على الذَّات بِلَا قيد كزيد وَرجل وَاسم معنى وَهُوَ مَا دلّ على غير الذَّات بِلَا قيد كقيام وقعود وَوصف عين وَهُوَ مَا دلّ على قيد فِي الذَّات كقائم وقاعد وَوصف معنى وَهُوَ مَا دلّ على قيد فِي غير الذَّات كجلي وخفي وَقد يَصح الِاسْم لَهما كبعض الْمُضْمرَات وَالْوَصْف كنافع وضار وَالْمرَاد بِالِاسْمِ هُنَا قسيم الْوَصْف لَا قسيم الْفِعْل والحرف وَلَا قسيم الكنية واللقب وبالمعنى قسيم الذَّات لَا الْمَعْنى الْمَذْكُور فِي أَقسَام الْكَلِمَة السَّابِق فَإِنَّهُ أَعم
যেখানে 'বা' বর্ণটি 'নাম' শব্দের ওপর প্রবেশ করেছে, অথচ এটি সর্বসম্মতভাবে একটি ক্রিয়া। এর উত্তর হলো, এটি মূলত একটি উহ্য বিশেষ্যের বর্ণনার ক্ষেত্রে ঘটেছে; অর্থাৎ 'এমন এক রাতে যার সঙ্গী ঘুমিয়েছিল'। অষ্টম আলামত হলো কোনো সর্বনামের তার দিকে ফিরে আসা। এর মাধ্যমেই 'মাহমা' শব্দটির বিশেষ্য হওয়ার স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করা হয়েছে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী—'তুমি আমাদের নিকট তা দিয়ে যা-ই নিয়ে আসো' (সূরা আল-আ'রাফ: ১৩২)—এই আয়াতে 'হু' সর্বনামটি তার দিকে ফিরেছে। অনুরূপভাবে বিস্ময়বোধক 'মা'-এর ক্ষেত্রেও, কারণ 'যাইদ কতই না সুন্দর'—এর ন্যায় বাক্যে এর ভেতরে থাকা উহ্য কর্তা-সর্বনামটি তার দিকেই ফিরে আসে। এবং সম্বন্ধসূচক 'আল'-এর ক্ষেত্রেও, যেমন তাদের বক্তব্য—'সেই ব্যক্তি সফল হয়েছে যে তার প্রতিপালককে ভয় করে', কারণ এখানেও সর্বনামটি তার দিকে ফিরেছে। যদি এর বিপরীতে মহান আল্লাহর এই বাণী পেশ করা হয়—'তোমরা ইনসাফ করো, তা তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী' (সূরা আল-মায়িদাহ: ৮)—যেখানে সর্বনামটি একটি অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়ার দিকে ফিরেছে বলে মনে হয়, তবে এর উত্তর হলো: সর্বনামটি মূলত সেই ক্রিয়া থেকে প্রাপ্ত মূল শব্দ বা মাসদারের দিকে ফিরেছে, যা হলো 'ইনসাফ'; স্বয়ং ক্রিয়াটির দিকে নয়। নবম আলামত হলো ক্রিয়ার সাথে সরাসরি যুক্ত হওয়া, অর্থাৎ কোনো ব্যবধান ছাড়া ক্রিয়ার অনুগামী হওয়া। এর মাধ্যমেই 'কায়ফা' শব্দটির বিশেষ্য হওয়ার প্রমাণ পেশ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: 'আপনি কি দেখেননি আপনার প্রতিপালক কী রূপ আচরণ করেছেন' (সূরা আল-ফীল: ১)। এর মাধ্যমেই রিয়াশী 'ইযা' শব্দটির বিশেষ্য হওয়ার স্বপক্ষে দলীল দিয়েছেন তাঁর এই উক্তিতে—'যখন যাইদ বের হবে তখন আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব'। অতঃপর আমি উল্লেখ করেছি যে, বিশেষ্য (ইসিম) চার প্রকার: সত্তাবাচক নাম—যা কোনো শর্ত ছাড়াই সরাসরি সত্তাকে বোঝায়, যেমন 'যাইদ' ও 'পুরুষ'; অর্থবাচক নাম—যা কোনো শর্ত ছাড়াই সত্তা ভিন্ন অন্য কিছুকে বোঝায়, যেমন 'দাঁড়ানো' ও 'বসা'; সত্তাবাচক বিশেষণ—যা সত্তার কোনো বিশেষ অবস্থাকে বোঝায়, যেমন 'দণ্ডায়মান' ও 'উপবিষ্ট'; এবং অর্থবাচক বিশেষণ—যা সত্তা ভিন্ন অন্য কিছুর অবস্থাকে বোঝায়, যেমন 'প্রকাশ্য' ও 'গোপন'। কখনো কখনো বিশেষ্য শব্দটি উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য হতে পারে, যেমন কিছু সর্বনাম। আবার বিশেষণও হতে পারে, যেমন 'উপকারী' ও 'ক্ষতিকারক'। এখানে 'বিশেষ্য' বলতে বিশেষণের প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্য, ক্রিয়া বা অব্যয়ের প্রতিপক্ষ নয়; কিংবা এটি উপনাম বা উপাধির প্রতিপক্ষও নয়। আর 'অর্থ' বলতে এখানে সত্তার প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্য, কালিমার প্রকারভেদে পূর্বে আলোচিত সেই 'অর্থ' নয়; কেননা সেটি আরও ব্যাপক।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَقَوْلِي وَمِنْه مَا سمي بِهِ إِلَخ فِيهِ لف وَنشر مُرَتّب فالمثلان الْأَوَّلَانِ لما سمي بِهِ والأخيران لما أُرِيد لَفظه فَائِدَة قَوْلهم زَعَمُوا مَطِيَّة الْكَذِب لم أَقف عَلَيْهِ فِي شَيْء من كتب الْأَمْثَال وَذكر بَعضهم أَنه رُوِيَ مَظَنَّة الْكَذِب بالظاء الْمُعْجَمَة وَالنُّون وَأخرج ابْن أبي حَاتِم فِي تَفْسِيره عَن صَفْوَان بن عَمْرو الكلَاعِي قَالَ بئس مَطِيَّة الْمُسلم زَعَمُوا إِنَّمَا زَعَمُوا مَطِيَّة الشَّيْطَان وَأخرج ابْن سعد فِي الطَّبَقَات من طَرِيق الْأَعْمَش عَن شُرَيْح القَاضِي قَالَ زَعَمُوا كنية الْكَذِب

‌‌[أَقسَام الْفِعْل]

ص وَالْفِعْل مَاض إِن دخله تَاء فَاعل أَو تَاء تَأْنِيث سَاكِنة وَأمر إِن أفهم الطّلب وَقبل نون توكيد وَهُوَ مُسْتَقْبل وَقد يدل عَلَيْهِ بالْخبر وَعَكسه ومضارع إِن بُدِئَ بِهَمْزَة مُتَكَلم فَردا أَو نونه مُعظما أَو جمعا أَو تَاء مُخَاطب مُطلقًا أَو غَائِبَة أَو غائبتين أَو يَاء غَائِب مُطلقًا أَو غائبات ش الْفِعْل ثَلَاثَة أَقسَام خلافًا للكوفيين فِي قَوْلهم قِسْمَانِ وجعلهم الْأَمر مقتطعا من الْمُضَارع وَذكرت مَعَ كل قسم علامته لِأَنَّهُ أبلغ فِي الِاخْتِصَار أَحدهَا الْمَاضِي ويتميز بتاء الْفَاعِل سَوَاء كَانَت لمتكلم أم لمخاطب وبتاء التَّأْنِيث الساكنة وَإِنَّمَا اخْتصَّ بهَا لاستغناء الْمُضَارع عَنْهَا بتاء المضارعة واستغناء الْأَمر بياء المخاطبة وَالِاسْم والحرف بِالتَّاءِ المتحركة قَالَ ابْن مَالك فِي شرح الكافية وَقد انْفَرَدت التَّاء الساكنة بلحاقها نعم وَبئسَ كَمَا انْفَرَدت تَاء الْفَاعِل بلحاقها تبَارك ورد الْأَخير بِجَوَاز أَن يُقَال تَبَارَكت أَسمَاء الله الثَّانِي الْأَمر وخاصته أَن يفهم الطّلب وَيقبل نون التوكيد فَإِن أفهمته كلمة وَلم تقبل النُّون فَهِيَ اسْم فعل نَحْو صه أَو قبلتها وَلم تفهمه فَفعل مضارع
আমার বক্তব্য "এবং এর অন্তর্ভুক্ত তা-ও রয়েছে যার নামকরণ করা হয়েছে এর দ্বারা" ইত্যাদি অংশে সুবিন্যস্ত 'লাফ ও নাশর' (বিন্যাস ও বিস্তার) বিদ্যমান। সুতরাং প্রথম দুটি উদাহরণ যা নামকরণ করা হয়েছে তার জন্য, এবং শেষ দুটি উদাহরণ যার শব্দকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে তার জন্য। একটি বিশেষ জ্ঞাতব্য: তাদের প্রবাদ "তারা দাবি করেছে মিথ্যার বাহন" - এটি আমি প্রবাদ বিষয়ক কোনো গ্রন্থে খুঁজে পাইনি। তবে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে এটি "মিথ্যার ক্ষেত্র" হিসেবে বর্ণিত হয়েছে যা ‘যা’ (ظ) এবং ‘নুন’ (ن) যোগে উচ্চারিত। ইবনে আবি হাতিম তার তাফসিরে সাফওয়ান ইবনে আমর আল-কালা’ঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মুসলমানের জন্য কতই না মন্দ বাহন হলো 'তারা দাবি করেছে' (যামু); নিশ্চয়ই 'তারা দাবি করেছে' হলো শয়তানের বাহন।" ইবনে সাদ ‘তাবাকাত’-এ আ’মাশ-এর সূত্রে শুরাইহ আল-কাদি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তারা দাবি করেছে" (যামু) হলো মিথ্যার ডাকনাম।

‌‌[ক্রিয়ার প্রকারভেদ]

মূল পাঠ: ক্রিয়া অতীতকালীন হবে যদি তাতে কর্তার ‘তা’ অথবা স্থির স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’ যুক্ত হয়। আর এটি নির্দেশসূচক ক্রিয়া হবে যদি তা কোনো চাহিদার অর্থ প্রকাশ করে এবং তাকিদসূচক ‘নুন’ গ্রহণ করে; আর এটি ভবিষ্যৎকালীন। কখনো সংবাদের মাধ্যমে এটি বোঝানো হয় এবং এর বিপরীতও ঘটে। আর এটি বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া হবে যদি তা একবচন উত্তম পুরুষের হামজা দিয়ে শুরু হয়, অথবা সম্মানসূচক বা বহুবচনের নুন দিয়ে, অথবা সাধারণভাবে মধ্যম পুরুষের ‘তা’ দিয়ে, অথবা একবচন বা দ্বিবচন নাম পুরুষ স্ত্রীলিঙ্গের ‘তা’ দিয়ে, অথবা সাধারণভাবে নাম পুরুষ পুরুষবাচকের ‘ইয়া’ দিয়ে কিংবা বহুবচন নাম পুরুষ স্ত্রীলিঙ্গের ‘ইয়া’ দিয়ে শুরু হয়। ব্যাখ্যা: ক্রিয়া তিন প্রকার; এটি কুফিবাসী বৈয়াকরণদের মতের বিপরীত, কারণ তাদের মতে ক্রিয়া দুই প্রকার এবং তারা নির্দেশসূচক ক্রিয়াকে বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া থেকে কর্তনকৃত বা উদ্ভূত মনে করেন। আমি প্রতিটি প্রকারের সাথে তার আলামত বা চিহ্ন উল্লেখ করেছি, কারণ এটি সংক্ষিপ্তকরণের ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর। প্রথমটি হলো অতীতকালীন ক্রিয়া, যা কর্তার ‘তা’ দ্বারা বিশিষ্ট হয়—তা উত্তম পুরুষের জন্য হোক বা মধ্যম পুরুষের জন্য—এবং স্থির স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’ দ্বারা। এই স্থির ‘তা’ কেবল অতীতকালীন ক্রিয়ার সাথেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে, কারণ বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া তার শুরুতে থাকা মুদারে-র অক্ষরগুলোর কারণে এটি থেকে অমুখাপেক্ষী, নির্দেশসূচক ক্রিয়া মধ্যম পুরুষ স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘ইয়া’ দ্বারা এবং বিশেষ্য ও অব্যয় নড়াচড়াযুক্ত ‘তা’ দ্বারা এটি থেকে অমুখাপেক্ষী। ইবনে মালিক ‘শারহুল কাফিয়া’-তে বলেছেন: স্থির ‘তা’ কেবল ‘নি’মা’ এবং ‘বি’সা’ শব্দদ্বয়ের সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র, যেমন কর্তার ‘তা’ কেবল ‘তাবারাকা’ শব্দের সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র। শেষোক্ত বিষয়টি (তাবারাকা-র ক্ষেত্রে) এই বলে খণ্ডন করা হয়েছে যে, ‘তাবারাকতা আসমাউল্লাহ’ (হে আল্লাহ! আপনার নামসমূহ বরকতময় হয়েছে) বলা বৈধ। দ্বিতীয় প্রকার হলো নির্দেশসূচক ক্রিয়া, এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি কোনো চাহিদা বা প্রার্থনার অর্থ প্রকাশ করবে এবং তাকিদসূচক ‘নুন’ গ্রহণ করবে। যদি কোনো শব্দ চাহিদার অর্থ প্রদান করে কিন্তু ‘নুন’ গ্রহণ না করে, তবে সেটি ‘ইসমু ফিয়েল’ (ক্রিয়া-সদৃশ বিশেষ্য), যেমন: ‘সাহ্’ (চুপ করো)। আর যদি সেটি ‘নুন’ গ্রহণ করে কিন্তু চাহিদার অর্থ প্রকাশ না করে, তবে সেটি বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَالْأَمر مُسْتَقْبل أبدا لِأَنَّهُ مَطْلُوب بِهِ حُصُول مَا لم يحصل أَو دوَام مَا حصل نَحْو {يَا أَيهَا النَّبِي اتَّقِ الله} الْأَحْزَاب 1 قَالَ ابْن هِشَام إِلَّا أَن يُرَاد بِهِ الْخَبَر نَحْو ارْمِ وَلَا حرج فَإِنَّهُ بِمَعْنى رميت وَالْحَالة هَذِه وَإِلَّا لَكَانَ أمرا لَهُ بتجديد الرَّمْي وَلَيْسَ كَذَلِك وَقد يدل على الْأَمر بِلَفْظ الْخَبَر نَحْو {والوالدات يرضعن} الْبَقَرَة 233 {والمطلقات يَتَرَبَّصْنَ} الْبَقَرَة 228 كَمَا يدل على الْخَبَر بِلَفْظ الْأَمر نَحْو {فليمدد لَهُ الرَّحْمَن مدا} مَرْيَم 75 أَي فيمد الثَّالِث الْمُضَارع ويميزه افتتاحه بِأحد الأحرف الْأَرْبَعَة الْهمزَة وَالنُّون وَالتَّاء وَالْيَاء والتمييز بهَا أحسن من التَّمْيِيز ب سَوف وَأَخَوَاتهَا للُزُوم تِلْكَ وَعدم لُزُوم هَذِه إِذْ لَا تدخل على أهاء وأهلم فالهمزة للمتكلم مُفردا نَحْو أكْرم وَالنُّون لَهُ جمعا أَو مُفردا مُعظما نَفسه نَحْو {نَحن نقص} يُوسُف 3 والكهف 13 وَالتَّاء للمخاطب مُطلقًا مُفردا كَانَ أَو مثنى أَو مجموعا مذكرا أَو مؤنثا للغائبة والغائبتين وَالْيَاء للْغَائِب مُطلقًا مُفردا أَو مثنى أَو مجموعا وللغائبات وَاحْترز من همزَة وَنون وتاء وياء لَا تكون كَذَلِك كأكرم ونرجس الدَّوَاء إِذا جعل فِيهِ نرجسا وَتكلم ويرنأ الشيب خضبه باليرناء وَهُوَ الْحِنَّاء

এবং আমর (আদেশসূচক ক্রিয়া) সর্বদা ভবিষ্যৎকালীন অর্থ প্রদান করে। কারণ আমরের মাধ্যমে এমন কিছু অর্জনের দাবি করা হয় যা এখনো অর্জিত হয়নি, অথবা যা অর্জিত হয়েছে তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দাবি করা হয়। যেমন: {হে নবী, আপনি আল্লাহকে ভয় করুন} (আল-আহজাব: ১)। ইবনে হিশাম বলেন, তবে যদি এর মাধ্যমে ‘খবর’ (সংবাদ) উদ্দেশ্য হয়, তবে ভিন্ন কথা; যেমন: ‘তুমি নিক্ষেপ করো এবং এতে কোনো দোষ নেই’। এমতাবস্থায় এটি ‘তুমি নিক্ষেপ করেছ’ অর্থের অন্তর্ভুক্ত হবে। অন্যথায় এটি তাকে নতুন করে নিক্ষেপ করার আদেশ হিসেবে গণ্য হতো, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। কখনও কখনও খবরের (বিবৃতিমূলক) শব্দের মাধ্যমে আমরের (আদেশ) অর্থ প্রকাশ পায়, যেমন: {মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে} (আল-বাকারা: ২৩৩), {এবং তালাকপ্রাপ্তা নারীগণ নিজেদের তিন ঋতু পর্যন্ত প্রতীক্ষায় রাখবে} (আল-বাকারা: ২২৮)। ঠিক একইভাবে আমরের শব্দের মাধ্যমে খবরের অর্থও প্রকাশ পায়, যেমন: {পরম করুণাময় তাকে দীর্ঘ অবকাশ দেবেন} (মারইয়াম: ৭৫), অর্থাৎ ‘তিনি অবকাশ দিচ্ছেন’।

তৃতীয় প্রকার হলো মুজারি (বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া)। এটি চেনার উপায় হলো এর শুরুতে চারটি অক্ষরের (হামজা, নুন, তা এবং ইয়া) কোনো একটি থাকা। এই অক্ষরগুলোর মাধ্যমে মুজারি শনাক্ত করা ‘সাওফা’ এবং তার সমগোত্রীয় অব্যয়গুলোর মাধ্যমে শনাক্ত করার চেয়ে অধিক উত্তম। কারণ এই অক্ষরগুলো মুজারির জন্য অপরিহার্য, কিন্তু ‘সাওফা’ ইত্যাদি অপরিহার্য নয়; কেননা সেগুলো ‘আহা’ এবং ‘আহলাম’ এর শুরুতে প্রবেশ করে না। হামজা হলো একবচন মুতাকাল্লিমের (উত্তম পুরুষ) জন্য, যেমন: ‘আমি সম্মান করছি’। নুন হলো বহুবচন মুতাকাল্লিমের জন্য অথবা নিজের মাহাত্ম্য প্রকাশকারী একবচন মুতাকাল্লিমের জন্য, যেমন: {আমরা আপনার কাছে বর্ণনা করছি} (ইউসুফ: ৩ ও আল-কাহাফ: ১৩)। ‘তা’ সাধারণভাবে সকল মুখাতাবের (মধ্যম পুরুষ) জন্য—সে একবচন, দ্বিবচন বা বহুবচন হোক এবং পুরুষ বা স্ত্রীবাচক হোক; তদ্রূপ তা একবচন ও দ্বিবচন স্ত্রীবাচক গায়েবের (নাম পুরুষ) জন্যও আসে। আর ‘ইয়া’ সাধারণভাবে সকল পুরুষবাচক গায়েবের জন্য—সে একবচন, দ্বিবচন বা বহুবচন হোক; তদ্রূপ তা বহুবচন স্ত্রীবাচক গায়েবের জন্যও আসে। তবে এমন হামজা, নুন, তা এবং ইয়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে যেগুলো মুজারির আলামত নয়। যেমন: ‘আকরামা’ (সে সম্মান করেছে), ‘নারজাসা’ (ওষুধে নারজিস ফুল মেশানো), ‘তাকাল্লামা’ (সে কথা বলেছে) এবং ‘ইয়ারনা’ (মেহেদি দিয়ে চুলে কলপ লাগানো; ‘ইয়ারনা’ অর্থ হলো মেহেদি)।

(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৩৬)
0 -‌‌[الْمُضَارع]

ص وَهُوَ صَالح للْحَال والاستقبال خلافًا لمن خصّه بِأَحَدِهِمَا ثمَّ الْمُخْتَار حَقِيقَة فِي الْحَال وَثَالِثهَا فيهمَا ش فِي زمَان الْمُضَارع خَمْسَة أَقْوَال أَحدهَا أَنه لَا يكون إِلَّا للْحَال وعليهه ابْن الطراوة قَالَ لِأَن الْمُسْتَقْبل غير مُحَقّق الْوُجُود فَإِذا قلت زيد يقوم غَدا فَمَعْنَاه يَنْوِي أَن يقوم غَدا الثَّانِي أَنه لَا يكون إِلَّا للمستقبل وَعَلِيهِ الزّجاج وَأنكر أَن يكون للْحَال صِيغَة لقصره فَلَا يسع الْعبارَة لِأَنَّك بِقدر مَا تنطق بِحرف من حُرُوف الْفِعْل صَار مَاضِيا وَأجِيب بِأَن مُرَادهم بِالْحَال الْمَاضِي غير الْمُنْقَطع لَا الْآن الْفَاصِل بَين الْمَاضِي والمستقبل الثَّالِث وَهُوَ رَأْي الْجُمْهُور وسيبويه أَنه صَالح لَهما حَقِيقَة فَيكون مُشْتَركا بَينهمَا لِأَن إِطْلَاقه على كل مِنْهُمَا لَا يتَوَقَّف على مسوغ وَإِن ركب بِخِلَاف إِطْلَاقه على الْمَاضِي فَإِنَّهُ مجَاز لتوقفه على مسوغ الرَّابِع أَنه حَقِيقَة فِي الْحَال مجَاز فِي الِاسْتِقْبَال وَعَلِيهِ الْفَارِسِي وَابْن أبي
০ -‌‌[আল-মুদারি (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া)]

মূল পাঠ: এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয় কালের জন্যই উপযোগী, তাদের বিপরীতে যারা একে যেকোনো একটির সাথে নির্দিষ্ট করেছেন। অতঃপর পছন্দনীয় মত হলো এটি বর্তমান কালের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে (হাকিকত) ব্যবহৃত হয়। আর তৃতীয় মত হলো এটি উভয়ের জন্যই প্রকৃত অর্থ। ব্যাখ্যা: মুদারি ক্রিয়ার কালের ব্যাপারে পাঁচটি অভিমত রয়েছে। প্রথমটি হলো: এটি কেবল বর্তমান কালের জন্যই হয়। ইবনুত তরাওয়াহ এই মত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, কারণ ভবিষ্যৎকাল অস্তিত্বের দিক থেকে সুনিশ্চিত নয়। সুতরাং আপনি যখন বলেন "জায়েদ আগামীকাল দাঁড়াবে", তখন এর অর্থ হলো সে আগামীকাল দাঁড়ানোর সংকল্প করছে। দ্বিতীয়টি হলো: এটি কেবল ভবিষ্যৎ কালের জন্যই হয়। ইমাম আজ-জাজ্জাজ এই মত পোষণ করেছেন। তিনি বর্তমান কালের জন্য কোনো নির্দিষ্ট রূপ বা গঠন থাকাকে অস্বীকার করেছেন এর সময়সীমা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হওয়ার কারণে। ফলে এটি কোনো বাক্য বা বর্ণনাকে ধারণ করতে পারে না; কারণ আপনি ক্রিয়ার কোনো একটি অক্ষর উচ্চারণ করার সাথে সাথেই তা অতীত হয়ে যায়। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, বর্তমান (হাল) দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য হলো এমন অতীত যা এখনো নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে, কেবল সেই মুহূর্তটি নয় যা অতীত ও ভবিষ্যতের মাঝে ব্যবধানকারী সূক্ষ্ম রেখা। তৃতীয়টি হলো: আর এটি জুমহুর (অধিকাংশ ভাষাবিদ) এবং সিবওয়াইহ-এর অভিমত যে, এটি উভয় কালের জন্যই প্রকৃত অর্থে (হাকিকত) উপযোগী। ফলে এটি উভয়ের মধ্যে সাধারণ অর্থবোধক (মুশতারাক) হিসেবে গণ্য। কারণ একে উভয় কালের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা কোনো বিশেষ প্রাসঙ্গিক কারণ বা অনুমোদকের (মুসাওবিগ) ওপর নির্ভরশীল নয়, যদিও তা বাক্যে ব্যবহৃত হয়। পক্ষান্তরে একে অতীতের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা রূপক (মাজায), কারণ তা একটি বিশেষ প্রাসঙ্গিক কারণের ওপর নির্ভরশীল। চতুর্থটি হলো: এটি বর্তমান কালের ক্ষেত্রে প্রকৃত (হাকিকত) এবং ভবিষ্যৎ কালের ক্ষেত্রে রূপক (মাজায)। আল-ফারিসি এবং ইবন আবি... এই মত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৩৭)
ركب وَهُوَ الْمُخْتَار عِنْدِي بِدَلِيل حلمه على الْحَال عِنْد التجرد من الْقَرَائِن وَهَذَا شَأْن الْحَقِيقَة وَدخُول السِّين عَلَيْهِ لإِفَادَة الِاسْتِقْبَال وَلَا تدخل الْعَلامَة إِلَّا على الْفُرُوع كعلامات التَّثْنِيَة وَالْجمع والتأنيث الْخَامِس عَكسه وَعَلِيهِ ابْن طَاهِر لِأَن أصل أَحْوَال الْفِعْل أَن يَبْكُونَ منتظرا ثمَّ حَالا ثمَّ مَاضِيا فالمستقبل أسبق فَهُوَ أَحَق بالمثال ورد بِأَنَّهُ لَا يلْزم من سبق الْمَعْنى سبقية الْمِثَال

‌‌[للمضارع أَربع حالات]

ص ويرجح الْحَال مُجَردا وَيتَعَيَّن ب الْآن وَنَحْوه وَلَيْسَ وَمَا وَإِن وَلَام الِابْتِدَاء عِنْد الْأَكْثَر والاستقبال بظرفه وَإِسْنَاده لمتوقع وَكَونه طلبا أَو وَعدا مَعَ توكيد وترج ومجازاة وناصب خلافًا لبَعْضهِم مُطلقًا وللسهيلي فِي أَن وَلَو مَصْدَرِيَّة وحرف تَنْفِيس لَا لَام قسم وَلَا نَافِيَة فِي الْأَصَح وينصرف للمضي ب لمَم وَلما وَقيل كَانَ مَاضِيا فغيرت صيغته وَلَو للشّرط وَإِذ وَرُبمَا وَقد للتقليل وَكَونه خبر بَاب كَانَ قيل وَلما الجوابية وَمَا عطف عَلَيْهِ أَو عطف على حَال أَو مُسْتَقْبل أَو مَاض فكهو ش للمضارع أَربع حالات أَحدهمَا أَن يتَرَجَّح فِيهِ الْحَال وَذَلِكَ إِذا كَانَ مُجَردا لِأَنَّهُ لما كَانَ لكل من الْمَاضِي والمستقبل صِيغَة تخصه وَلم يكن للْحَال صِيغَة تخصه جعلت دلَالَته على
এটিই আমার নিকট মনোনীত মত, যার দলিল হলো কোনো অনুষঙ্গ বা প্রেক্ষিত থেকে মুক্ত থাকা অবস্থায় এটি বর্তমান কালের অর্থ প্রদান করে। আর এটিই হলো প্রকৃত অর্থের বৈশিষ্ট্য। এর ওপর 'সীন' যুক্ত হওয়া ভবিষ্যৎ কাল বোঝানোর জন্য; আর কোনো আলামত বা চিহ্ন কেবল তখনই যুক্ত হয় যখন সেটি মূল থেকে নির্গত শাখা হয়, যেমন দ্বিবচন, বহুবচন এবং স্ত্রীলিঙ্গের আলামতসমূহ। পঞ্চম মতটি এর বিপরীত এবং এটি ইবনে তাহিরের অভিমত। কারণ ক্রিয়ার অবস্থার মূল হলো যে, সেটি প্রথমে প্রতীক্ষিত থাকে, এরপর বর্তমানে ঘটে এবং তারপর অতীতে পরিণত হয়। সুতরাং ভবিষ্যৎ কাল অগ্রগামী, তাই এটিই মূল কাঠামোর অধিক হকদার। এর প্রত্যুত্তরে বলা হয়েছে যে, অর্থের অগ্রগামিতা শব্দের বা রূপগত কাঠামোর অগ্রগামিতাকে আবশ্যক করে না।

‌‌[মুদারি-এর চারটি অবস্থা]

মূল পাঠ: মুদারি ক্রিয়া কোনো কিছু থেকে মুক্ত থাকলে বর্তমান কালকে প্রাধান্য দেয়। আর 'এখন' এবং এই জাতীয় শব্দ দ্বারা এটি বর্তমান কালের জন্য সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়। অধিকাংশের মতে 'লাইসা', 'মা', 'ইন' এবং 'লামুল ইবতিদা' এর ক্ষেত্রেও একই বিধান। আর ভবিষ্যৎ কাল সুনির্দিষ্ট হয় এর সময়ের বিশেষ্য দ্বারা, এবং কোনো প্রত্যাশিত বিষয়ের সাথে এর সম্পৃক্ততার মাধ্যমে; অথবা এটি অনুরোধ, প্রতিশ্রুতি, দৃঢ়তা প্রকাশ, আশা এবং প্রতিদানমূলক বাক্য হওয়ার মাধ্যমে। এছাড়া নসব প্রদানকারী অব্যয় দ্বারাও এটি ভবিষ্যৎ কাল বোঝায়, যা কারো কারো সাধারণ মতের পরিপন্থী। আর সুহাইলির মতে 'আন' এবং 'লাও' মাসদারিয়্যাহ হলে এবং হারফে তানফিস যুক্ত হলে এটি ভবিষ্যৎ কাল বোঝায়; বিশুদ্ধ মতানুযায়ী শপথের লাম বা না-বোধক 'লা' এর ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। আর 'লাম' এবং 'লাম্মা' যুক্ত হলে এটি অতীত কালের অর্থ প্রদান করে। কেউ কেউ বলেছেন, এটি মূলত অতীত কাল ছিল তবে এর রূপ পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া শর্তের জন্য ব্যবহৃত 'লাও', 'ইয', 'রুব্বামা' এবং স্বল্পতা বোঝাতে 'কাদ' যুক্ত হলেও এটি অতীত অর্থ দেয়। 'কান' পরিচ্ছেদে এটি সংবাদ হিসেবে আসলেও এমনটি হয় বলে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর হিসেবে আসা 'লাম্মা' এবং এর ওপর যা কিছু যুক্ত করা হয়েছে অথবা যা বর্তমান, ভবিষ্যৎ বা অতীত কালের ওপর যুক্ত করা হয়েছে তার ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিধান। ব্যাখ্যা: মুদারি-এর চারটি অবস্থা রয়েছে। প্রথমটি হলো যাতে বর্তমান কালের অর্থ প্রাধান্য পায়; আর তা হলো যখন এটি কোনো অনুষঙ্গ থেকে মুক্ত থাকে। কারণ অতীত এবং ভবিষ্যৎ কাল উভয়ের জন্যই যখন নির্দিষ্ট রূপ রয়েছে এবং বর্তমান কালের জন্য কোনো নির্দিষ্ট রূপ নেই, তখন এর অর্থ প্রদানের বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছে এভাবে যে-
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৩৮)
الْحَال راجحة عِنْد تجرده من الْقَرَائِن جبرا لما فَاتَهُ من الِاخْتِصَاص بِصِيغَة وَعلله الْفَارِسِي بِأَنَّهُ إِذا كَانَ لفظ صَالحا للأقرب والأبعد فَالْأَقْرَب أَحَق بِهِ وَالْحَال أقرب من الْمُسْتَقْبل وَالثَّانِي أَن يتَعَيَّن فِيهِ الْحَال وَذَلِكَ إِذا اقْترن ب الْآن وَمَا فِي مَعنا ك الْحِين والساعة وآنفا أَو نفي ب لَيْسَ أَو مَا أَو إِن لِأَنَّهَا مَوْضُوعَة لنفي الْحَال أَو دخل عَلَيْهِ لَام الِابْتِدَاء هَذَا قَول الْأَكْثَر فِي الْجَمِيع وَزعم بَعضهم أَنه يجوز بَقَاء المقرون ب الْآن وَنَحْوه مُسْتَقْبلا لاقتران ذَلِك بِالْأَمر وَهُوَ لَازم الِاسْتِقْبَال نَحْو {فَالْآن باشروهن} الْبَقَرَة 187 وَأجِيب بِأَن اسْتِعْمَالهَا فِي الْمُسْتَقْبل والماضي مجَاز وَإِنَّمَا تخلص للْحَال إِذا اسْتعْملت على حَقِيقَتهَا وَزعم ابْن مَالك أَن الْمَنْفِيّ بِالثَّلَاثَةِ قد يكون مُسْتَقْبلا على قلَّة قَالَ حسان

(وَلَيْسَ يَكُون - الدّهرَ - مَا دَامَ يّذْبُلُ … )

وَقَالَ تَعَالَى {قل مَا يكون لي أَن أبدله من تِلْقَاء نَفسِي إِن أتبع إِلَّا مَا يُوحى إِلَيّ} يُونُس 15 وَأجِيب بِأَن الْكَلَام إِذا لم يكن قرينَة تصرفه إِلَى الِاسْتِقْبَال لفظية أَو معنوية وَزعم ابْن أبي الرّبيع وَابْن مَالك أَن لَام الِابْتِدَاء تُوجد مَعَ الْمُسْتَقْبل قَلِيلا نَحْو {وَإِن رَبك ليحكم بَينهم يَوْم الْقِيَامَة} النَّحْل 124 {إِنِّي ليحزنني أَن تذْهبُوا بِهِ} يُوسُف 13 ف يحزن مُسْتَقْبل لإسناده إِلَى متوقع
যখন ক্রিয়াটি কোনো অনুষঙ্গ থেকে মুক্ত থাকে, তখন তা বিশেষ কাঠামোর অভাব পূরণের জন্য বর্তমান কাল হিসেবেই প্রাবল্য লাভ করে। আল-ফারিসি এর কারণ দর্শিয়েছেন যে, যখন কোনো শব্দ নিকটবর্তী ও দূরবর্তী উভয় অর্থের উপযোগী হয়, তখন নিকটবর্তী অর্থটিই তার জন্য অধিকতর অগ্রাধিকারযোগ্য; আর বর্তমান কাল ভবিষ্যৎ কালের চেয়ে অধিক নিকটবর্তী। দ্বিতীয়ত: বর্তমান কাল তখনই সুনির্দিষ্ট হয়, যখন এটি 'এখন' এবং এর সমার্থবোধক শব্দ যেমন 'এই সময়', 'এই মুহূর্ত' এবং 'অল্পকাল আগে' ইত্যাদির সাথে যুক্ত হয়। অথবা যদি তা 'লাইসা', 'মা' অথবা 'ইন' দ্বারা নেতিবাচক করা হয়, কারণ এই অব্যয়গুলো বর্তমান কালকে নেতিবাচক করার জন্যই গঠিত। অথবা যখন এর শুরুতে 'সূচনামূলক লাম' যুক্ত হয়। অধিকাংশ ব্যাকরণবিদের মতে এই সকল ক্ষেত্রেই নিয়মটি প্রযোজ্য। তবে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, 'এখন' বা এই জাতীয় শব্দের সাথে যুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তা ভবিষ্যৎ কালীন থাকতে পারে, যদি তার সাথে কোনো আদেশের সম্পৃক্ততা থাকে; আর আদেশ ভবিষ্যৎ কালকে অপরিহার্য করে। যেমন: {সুতরাং এখন তোমরা তাদের সাথে সংগত হও} সূরা আল-বাকারা: ১৮৭। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, ভবিষ্যৎ ও অতীত কালে এর ব্যবহার রূপক মাত্র; এটি কেবল তখনই প্রকৃত অর্থে বর্তমান কালের জন্য নির্দিষ্ট হয় যখন একে এর মৌলিক অর্থে ব্যবহার করা হয়। ইবনে মালিক দাবি করেছেন যে, উক্ত তিনটি অব্যয় দ্বারা নেতিবাচক হওয়া ক্রিয়াগুলো কদাচিৎ ভবিষ্যৎ কালীন হতে পারে। কবি হাসসান বলেছেন:

(আর তা কখনো হবে না—অনন্তকাল—যতক্ষণ ইয়াযবুল পাহাড় অটল থাকবে … )

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, আমার নিজের পক্ষ থেকে একে পরিবর্তন করা আমার কাজ নয়; আমার প্রতি যা ওহী করা হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি} সূরা ইউনূস: ১৫। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, কথাটি তখন প্রযোজ্য যখন সেখানে কোনো শাব্দিক বা অর্থগত অনুষঙ্গ না থাকে যা শব্দটিকে ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত করে। ইবনে আবি আল-রাবী এবং ইবনে মালিক দাবি করেছেন যে, 'সূচনামূলক লাম' কদাচিৎ ভবিষ্যৎ কালের সাথেও যুক্ত হয়, যেমন: {এবং অবশ্যই আপনার প্রতিপালক কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে বিচার করবেন} সূরা আন-নাহল: ১২৪; {নিশ্চয়ই এটি আমাকে ব্যথিত করবে যে তোমরা তাকে নিয়ে যাবে} সূরা ইউসুফ: ১৩। এখানে 'ব্যথিত করা' ক্রিয়াটি ভবিষ্যৎ কালীন, কারণ একে একটি প্রত্যাশিত বা সম্ভাব্য বিষয়ের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَقَالَ أَبُو عَليّ لَا تُوجد إِلَّا مَعَ الْحَال وَهَذِه حِكَايَة حَال يَعْنِي الْآيَة الأولى وَأول بَعضهم الثَّانِيَة على حذف مُضَاف تَقْدِيره نبتكم أَو قصدكم أَن تذْهبُوا بِهِ الثَّالِث أَن يتَعَيَّن فِيهِ الِاسْتِقْبَال وَذَلِكَ إِذا اقْترن بظرف مُسْتَقْبل سَوَاء كَانَ مَعْمُولا بِهِ أَو مُضَافا إِلَيْهِ نَحْو أزورك إِذا تزورني فالفعلان مستقبلان لعمل الأول فِي إِذا وَإِضَافَة إِذا إِلَى الثَّانِي أَو أسْند إِلَى متوقع كَقَوْلِه 7 -

(يَهُولُكَ أَن تموتَ وَأَنت مُلْغ … لما فِيهِ النّجَاةُ من العَذَابِ)

إِذْ لَو أُرِيد بِهِ الْحَال لزم سبق الْفِعْل للْفَاعِل فِي الْوُجُود وَهُوَ محَال أَو اقْتضى طلبا نَحْو {والوالدات يرضعن} الْبَقَرَة 233 {لينفق ذُو سَعَة} الطَّلَاق 7 {رَبنَا لَا تُؤَاخِذنَا} الْبَقَرَة 286 أَو وَعدا نَحْو {يعذب من يَشَاء وَيغْفر لمن يَشَاء} الْمَائِدَة 40 أَو صحب أَدَاة توكيد كالنونين لِأَنَّهُ إِنَّمَا يَلِيق بِمَا لم يحصل أَو أَدَاة ترج نَحْو {لعَلي أبلغ الْأَسْبَاب} غَافِر 36 أَو أَدَاة مجازاة جازمة أم لَا نَحْو {إِن يَشَأْ يذهبكم} النِّسَاء 133 كَيفَ تصنع أصنع أَو حرف نصب ظَاهرا كَانَ أم مُقَدرا خلافًا لبَعض الْمُتَأَخِّرين فِي قَوْله لَا يتَعَيَّن بِشَيْء من حُرُوف النصب وللسهيلي فِي قَوْله لَا يتَعَيَّن ب أَن أَو لَو المصدرية نَحْو {يود أحدكُم لَو يعمر ألف سنة} الْبَقَرَة 96 بِخِلَاف لَو الشّرطِيَّة فَإِنَّهَا
এবং আবু আলী বলেন, এটি কেবল বর্তমান কালের (হাল) সাথেই পাওয়া যায়। আর এটি হলো বর্তমান অবস্থার বর্ণনা, অর্থাৎ প্রথম আয়াতটি। কেউ কেউ দ্বিতীয় আয়াতটির ব্যাখ্যায় একটি উহ্য সম্বন্ধপদ (মুদাফ) মেনেছেন, যার সম্ভাব্য রূপ হলো: 'তোমাদের সংবাদ' অথবা 'তোমাদের উদ্দেশ্য' যে তোমরা তাকে নিয়ে যাবে। তৃতীয় প্রকার হলো, যাতে ভবিষ্যৎ কাল (ইস্তিকবাল) সুনির্দিষ্ট হয়ে যায়। আর তা তখনই হয় যখন এটি এমন কোনো ভবিষ্যৎ নির্দেশক সময়ের (জরফ) সাথে যুক্ত হয়, চাই সেটি আমলকারী হোক কিংবা যার প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে। যেমন: "আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব যখন তুমি আমার সাথে সাক্ষাৎ করবে।" এখানে উভয় ক্রিয়াপদই ভবিষ্যৎ নির্দেশক; কারণ প্রথমটি 'যখন' (ইযা) শব্দের ওপর আমল করছে এবং 'যখন' শব্দটি দ্বিতীয় ক্রিয়াপদটির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে। অথবা যখন এটি কোনো প্রত্যাশিত বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত হয়, যেমন কবির উক্তি: ৭ -

(তোমাকে আতঙ্কিত করে যে তুমি মৃত্যুবরণ করবে অথচ তুমি উদাসীন... যাতে রয়েছে আযাব থেকে মুক্তি)

কারণ, এখানে যদি বর্তমান কাল উদ্দেশ্য হতো, তবে অস্তিত্বের জগতে কর্তার পূর্বে ক্রিয়ার ঘটে যাওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ত, যা অসম্ভব। অথবা এটি কোনো অনুরোধ বা নির্দেশের (তলব) অর্থ প্রকাশ করে, যেমন: {মায়েরা (তাদের সন্তানদের) দুধ পান করাবে} (আল-বাকারাহ ২৩৩), {সামর্থ্যবান ব্যক্তি যেন ব্যয় করে} (আত-তালাক ৭), {হে আমাদের রব, আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না} (আল-বাকারাহ ২৮৬)। অথবা কোনো প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে, যেমন: {তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন} (আল-মায়েদাহ ৪০)। অথবা যখন কোনো দৃঢ়তা জ্ঞাপক চিহ্নের (তাকিদ) সাথে যুক্ত হয়, যেমন দুই প্রকারের 'নুন', কারণ এটি কেবল এমন বিষয়ের ক্ষেত্রেই উপযুক্ত যা এখনো ঘটেনি। অথবা কোনো আশাবাচক চিহ্নের সাথে যুক্ত হয়, যেমন: {যাতে আমি পৌঁছাতে পারি সেই পথগুলোতে} (গাফির ৩৬)। অথবা কোনো শর্ত ও প্রতিদানবাচক শব্দের (জাযা) সাথে যুক্ত হয়, চাই তা জাযম প্রদানকারী হোক বা না হোক, যেমন: {যদি তিনি চান তবে তোমাদের অপসারিত করবেন} (আন-নিসা ১৩৩), 'তুমি যেমন করবে আমিও তেমন করব'। অথবা কোনো নসব দানকারী বর্ণ (হরফ) যুক্ত হয়, চাই তা প্রকাশ্য হোক কিংবা উহ্য, যা পরবর্তীকালের কোনো কোনো ব্যাকরণবিদের মতের বিপরীত, যারা বলেন যে নসবের কোনো হরফ দ্বারাই কাল সুনির্দিষ্ট হয় না। এবং এটি সুহাইলীর মতের বিপরীত, যিনি বলেন যে 'আন' (أن) অথবা মাসদারী 'লাও' (لو) দ্বারা কাল সুনির্দিষ্ট হয় না, যেমন: {তাদের প্রত্যেকে কামনা করে যদি তাকে এক হাজার বছর আয়ু দেওয়া হতো} (আল-বাকারাহ ৯৬)। তবে শর্তবাচক 'লাও' এর বিষয়টি ভিন্ন, কারণ তা...
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৪০)
تصرفه للمضي كَمَا سَيَأْتِي أَو حرف تَنْفِيس وَهُوَ السِّين وسوف لِأَن وضعهما لتخليص الْمُضَارع من ضيق الْحَال إِلَى سَعَة الِاسْتِقْبَال قيل أَو لَام الْقسم أَو لَا النافية وَعَلِيهِ فِي الأولى الْجُزُولِيّ وَجَمَاعَة لِأَنَّهَا فِي معنى التوكيد وَفِي الثَّانِيَة مُعظم الْمُتَأَخِّرين وَصحح ابْن مَالك مَذْهَب الْأَخْفَش والمبرد وَهُوَ بَقَاؤُهُ على الِاحْتِمَال مَعَهُمَا فقد دخلت على الْحَال فِي قَوْله {وَلَا أَقُول لكم عِنْدِي خَزَائِن الله} هود 31 الرَّابِع أَن ينْصَرف مَعْنَاهُ إِلَى الْمُضِيّ وَذَلِكَ إِذا اقْترن ب لم أَو لما وَذهب الْجُزُولِيّ وَغَيره أَن مدخولهما كَانَ مَاضِيا فغيرت صيغته وَنسب إِلَى سِيبَوَيْهٍ وَوَجهه أَن الْمُحَافظَة على الْمَعْنى أولى من الْمُحَافظَة على اللَّفْظ ورد بِأَنَّهُ لَا نَظِير لَهُ وَنَظِير الأول الْمُضَارع الْوَاقِع بعد لَو إِذْ الْمَعْهُود للحروف قلب الْمعَانِي لَا قلب الْأَلْفَاظ وَلم أقيد لما بالجازمة للاستغناء عَنهُ إِذْ لَا يدْخل على الْمُضَارع سواهَا أَو لَو الشّرطِيَّة نَحْو {وَلَو يُؤَاخذ الله النَّاس} النَّحْل 61 وفاطر 45 أَو إِذْ نَحْو {وَإِذ تَقول للَّذي أنعم الله عَلَيْهِ} الْأَحْزَاب 37 أَي قلت أَو رُبمَا نَحْو 8 -

(ربّما تَكْرَهُ النُّفُوسُ مِن الأمْر … لَهُ فرجْةٌ كحلّ العِقَال)
এটিকে অতীতকালের দিকে ধাবিত করে যেমনটি সামনে আসবে, অথবা এটি প্রশস্ততার হরফ (তানফিস), যা হলো 'সিন' এবং 'সাওফা'। কারণ এই দুটির ব্যবহার হলো বর্তমানের সংকীর্ণতা থেকে মুদারে'-কে মুক্ত করে ভবিষ্যতের প্রশস্ততায় নিয়ে যাওয়া। কেউ কেউ বলেছেন, এটি কসমের 'লাম', অথবা না-বোধক 'লা'। প্রথমটির ব্যাপারে আল-জুজুলি এবং একদল উলামা একমত হয়েছেন, কারণ এটি তাকীদের (দৃঢ়তা) অর্থে ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয়টির ব্যাপারে অধিকাংশ পরবর্তীকালীন আলেমগণ মত দিয়েছেন। ইবনে মালিক আল-আখফাশ ও আল-মুবররাদের মাযহাবকে সঠিক বলেছেন, আর তা হলো—এই দুটির সাথেও বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয়টির সম্ভাবনা অবশিষ্ট থাকা। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমি তোমাদের বলি না যে আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডার রয়েছে} (হূদ: ৩১); এখানে এটি বর্তমান কালের ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে। চতুর্থত: এর অর্থ অতীতকালের দিকে ফিরে যায়। আর এটি তখন হয় যখন তা 'লাম' অথবা 'লাম্মা'-র সাথে যুক্ত হয়। আল-জুজুলি ও অন্যান্যরা মনে করেন যে, এগুলোর পরবর্তী পদটি মূলত অতীতকাল ছিল, পরে তার রূপ পরিবর্তন করা হয়েছে। এটি সিবওয়াইহ-এর প্রতিও সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। এর কারণ হলো, শব্দের রক্ষণাবেক্ষণের চেয়ে অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ অধিকতর শ্রেয়। তবে এটি এই বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে যে, এর কোনো নজির নেই। আর প্রথমটির নজির হলো 'লাউ'-এর পরে আসা মুদারে', কেননা হরফগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো অর্থের পরিবর্তন ঘটানো, শব্দের রূপান্তর ঘটানো নয়। আর আমি 'লাম্মা'-কে জাযেমকারী (জযম প্রদানকারী) হিসেবে বিশেষায়িত করিনি এর প্রয়োজন না থাকায়, কারণ মুদারে'-এর ওপর এটি ব্যতীত অন্য কোনো 'লাম্মা' প্রবেশ করে না। অথবা শর্তবাচক 'লাউ', যেমন: {আর যদি আল্লাহ মানুষকে পাকড়াও করতেন} (আন-নাহল: ৬১ এবং ফাতির: ৪৫)। অথবা 'ইয', যেমন: {যখন আপনি তাকে বলছিলেন যার ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন} (আল-আহযাব: ৩৭), অর্থাৎ 'আপনি বলেছিলেন'। অথবা 'রুব্বামা', যেমন ৮-

(হয়তো আত্মা কোনো বিষয়কে অপছন্দ করে … তার জন্য মুক্তির পথ রয়েছে উটের পায়ের বাঁধন খুলে দেওয়ার মতো)
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৪১)
أَو قد التقليلية نَحْو 9 -

(قد أترك القِرْن مُصْفَرّاً أنَامِلُه … )

بِخِلَاف مَا إِذا كَانَ لم تكن للتقليل أَو كَانَ خَبرا لباب كَانَ نَحْو كَانَ زيد يقوم قَالَ ابْن عُصْفُور أَو صحب لما الجوابية نَحْو لما يقوم زيد قَامَ عَمْرو وَقَالَ أَبُو حَيَّان وَيحْتَاج إِثْبَات ذَلِك إِلَى دَلِيل من السماع أَي فِي جَوَاز وُقُوع الْمُضَارع بعْدهَا إِذْ الْمَعْرُوف أَنَّهَا لَا تدخل إِلَّا على ماضي اللَّفْظ وَالْمعْنَى كَمَا سَيَأْتِي
অথবা অল্পতা জ্ঞাপক 'কাদ', যেমন ৯ -

(আমি কদাচিৎ প্রতিপক্ষকে বিবর্ণ আঙুল বিশিষ্ট অবস্থায় ফেলে রাখি ... )

পক্ষান্তরে যখন তা অল্পতা জ্ঞাপনের জন্য হয় না, অথবা যখন তা 'কানা' পরিচ্ছেদের খবর হিসেবে আসে, যেমন 'যায়েদ দাঁড়াত'। ইবনে উসফুর বলেন, অথবা যদি তা ফলাফলসূচক 'লাম্মা'-র সঙ্গী হয়, যেমন 'যখন যায়েদ দাঁড়াবে তখন আমর দাঁড়িয়ে গেল'। আবু হাইয়ান বলেন, এটি সাব্যস্ত করার জন্য শ্রবণযোগ্য প্রমাণের প্রয়োজন; অর্থাৎ এর পরে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (মুদারে) ব্যবহারের বৈধতার ক্ষেত্রে। কেননা এটি সুপরিচিত যে, এটি (লাম্মা) কেবল শব্দগত ও অর্থগতভাবে অতীতকালীন ক্রিয়ার (মাজি) পূর্বেই যুক্ত হয়, যা সামনে বিস্তারিত আসবে।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَمَا عطف على حَال أَو مُسْتَقْبل أَو مَاض أَو عطف عَلَيْهِ ذَلِك فَهُوَ مثله لاشْتِرَاط اتِّحَاد الزَّمَان فِي الْفِعْلَيْنِ المتعاطفين نَحْو {ألم تَرَ أَن الله أنزل من السَّمَاء مَاء فَتُصْبِح الأَرْض} الْحَج 63 أَي فَأَصْبَحت الأَرْض وَقَوله 10 -

(وَلَقَد أَمُرّ على اللَّئِيم يسبّني … فمضْيتُ ثُمّتَ قلتُ: لَا يَعْنِني)
যা বর্তমান, ভবিষ্যৎ বা অতীত কালের ওপর সমন্বিত হয় অথবা এগুলোর ওপর যা কিছু সমন্বিত হয়, তা তার অনুরূপই গণ্য হবে; কারণ পরস্পর সমন্বিত দুটি ক্রিয়ার ক্ষেত্রে সময়ের অভিন্নতা থাকা শর্ত। যেমন: {তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, ফলে জমিন সবুজ হয়ে যায়?} (আল-হজ্জ: ৬৩)। অর্থাৎ: ফলে জমিন সবুজ হয়ে গেল। এবং কবির উক্তি ১০ -

(আমি অবশ্যই এমন নীচ ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করি যে আমাকে গালি দেয় ... অতঃপর আমি চলে গেলাম এবং বললাম: সে আমাকে উদ্দেশ্য করেনি।)
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৪৩)
أَي مَرَرْت قَالَ أَبُو حَيَّان وَمن الْقَرَائِن المخلصة للْحَال وُقُوعه فِي مَوضِع نصب على الْحَال نَحْو جَاءَ زيد يضْحك

‌‌[حالات الْمَاضِي]

ص والماضي للْحَال بالإنشاء والاستقبال بِطَلَب ووعد وَعطف على مُسْتَقْبل وَنفي ب لَا وَإِن بعد قسم ويحتمله والمضي بعد همزَة التَّسْوِيَة فَإِن كَانَت لم بعد أم تعين الْمُضِيّ وتحضيض وَكلما وَحَيْثُ وواقعا صلَة أَو صفة نكرَة عَامَّة وَأنكر أَبُو حَيَّان هَذَا الْقسم ش للماضي أَربع حالات أَيْضا أَحدهَا أَن يتَعَيَّن مَعْنَاهُ للمضي وَهُوَ الْغَالِب الثَّانِي أَن ينْصَرف إِلَى الْحَال وَذَلِكَ إِذْ قصد بِهِ الْإِنْشَاء كبعت واشتريت وَغَيرهمَا من أَلْفَاظ الْعُقُود إِذْ هُوَ عبارَة عَن إِيقَاع معنى بِلَفْظ يقارنه فِي الْوُجُود الثَّالِث أَن ينْصَرف إِلَى الِاسْتِقْبَال وَذَلِكَ إِذا اقْتضى طلبا نَحْو غفر الله لَك وعزمت عَلَيْك إِلَّا فعلت أَو لما فعلت أَو وَعدا نَحْو {إِنَّا أعطيناك الْكَوْثَر} الْكَوْثَر 1 أَو عطف على مَا علم استقباله نَحْو {يقدم قومه يَوْم الْقِيَامَة فأوردهم النَّار} هود 98 {وَيَوْم ينْفخ فِي الصُّور فَفَزعَ} النَّمْل 87 أَو نفي ب لَا أَو إِن بعد قسم نَحْو {وَلَئِن زالتا إِن أمسكهما من أحد من بعده} فاطر 41 أَي مَا يمسكهما

(ردُوا فواللَّهِ لَا ذُدْناكُمُ أبدا … )

الرَّابِع أَن يحْتَمل الِاسْتِقْبَال والمضي وَذَلِكَ إِذا وَقع بعد همزَة التَّسْوِيَة نَحْو سَوَاء عَليّ أَقمت أم قعدت إِذْ يحْتَمل أَن يُرَاد مَا كَانَ مِنْك من قيام أَو قعُود أَو مَا يكون من ذَلِك وَسَوَاء كَانَ الْفِعْل معادلا ب أم أم لَا نَحْو سَوَاء عَليّ أَي وَقت جئتني فَإِن
অর্থাৎ আমি অতিক্রম করলাম। আবু হাইয়ান বলেন, বর্তমান কালকে নির্দিষ্টকারী আলামতগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হাল (অবস্থা) হিসেবে নসবের স্থানে পতিত হওয়া, যেমন: 'জায়েদ হাসতে হাসতে এল'।

‌‌[অতীতকালীন ক্রিয়ার অবস্থাসমূহ]

মূল পাঠ: অতীতকালীন ক্রিয়া (মাজি) বর্তমান কালের অর্থ দেয় ইনশা (তাৎক্ষণিক কার্যকরীকরণ)-র মাধ্যমে; আর ভবিষ্যৎ কালের অর্থ দেয় প্রার্থনা, প্রতিশ্রুতি, ভবিষ্যতের উপর আতফ (সংযোজন), এবং শপথের পর 'লা' ও 'ইন' দ্বারা না-বোধক হলে; আর সমতার হামজার পরে এটি অতীত ও ভবিষ্যৎ উভয় সম্ভাবনা রাখে। তবে যদি 'আম'-এর পরে 'লাম' থাকে তবে অতীত কাল নির্দিষ্ট হয়ে যায়; এছাড়া উৎসাহ প্রদান (তাহদিদ), 'কুল্লামা', 'হাইসু', সিলাহ (সম্বন্ধ পদ) হিসেবে বা সাধারণ অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের সিফাত (গুণ) হিসেবে আসলেও ভবিষ্যৎ অর্থ দেয়; তবে আবু হাইয়ান এই শেষোক্ত বিভাগটি অস্বীকার করেছেন। ব্যাখ্যা: অতীতকালীন ক্রিয়ারও চারটি অবস্থা রয়েছে। প্রথমত: এর অর্থ অতীত কালের জন্য নির্দিষ্ট হওয়া, আর এটাই প্রধানত ঘটে থাকে। দ্বিতীয়ত: এটি বর্তমান কালের অর্থ প্রদান করে, যখন এর দ্বারা ইনশা (তাৎক্ষণিক কার্যকর করা) উদ্দেশ্য হয়, যেমন: 'আমি বিক্রয় করলাম' ও 'আমি ক্রয় করলাম' এবং চুক্তির অন্যান্য শব্দাবলী; কারণ এটি এমন এক অর্থ বাস্তবায়নের অভিব্যক্তি যা উচ্চারণের সাথেই অস্তিত্ব লাভ করে। তৃতীয়ত: এটি ভবিষ্যৎ কালের অর্থ প্রদান করে। এটি তখন হয় যখন তা প্রার্থনা বা অনুরোধের অর্থ প্রকাশ করে, যেমন: 'আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন' এবং 'আমি তোমাকে কসম দিচ্ছি যে তুমি অবশ্যই করবে' অথবা 'কেন তুমি করলে না'; অথবা যখন প্রতিশ্রুতির অর্থ দেয়, যেমন: {নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি} (সূরা কাউসার: ১)। অথবা এমন শব্দের উপর আতফ (সংযোজন) হলে যার ভবিষ্যৎ হওয়া জানা আছে, যেমন: {সে কিয়ামতের দিন তার সম্প্রদায়ের আগে আগে থাকবে, অতঃপর সে তাদের জাহান্নামে নিয়ে যাবে} (সূরা হুদ: ৯৮), {এবং যেদিন শিংগায় ফুঁক দেওয়া হবে, তখন ভীত হবে} (সূরা নামল: ৮৭)। অথবা শপথের পর 'লা' বা 'ইন' দ্বারা না-বোধক অর্থ প্রকাশ করলে, যেমন: {যদি তারা উভয়ে স্থানচ্যুত হয়, তবে তিনি ব্যতীত আর কেউ তাদের ধরে রাখতে পারবে না} (সূরা ফাতির: ৪১), অর্থাৎ কেউ তাদের ধরে রাখবে না।

(ফিরিয়ে দাও, আল্লাহর শপথ, আমরা তোমাদের কখনোই বাধা দেব না...) …

চতুর্থত: এটি ভবিষ্যৎ ও অতীত উভয় কালের সম্ভাবনা রাখে। এটি তখন হয় যখন তা সমতার হামজার পর পতিত হয়, যেমন: 'তুমি দাঁড়াও বা বসো, আমার কাছে সমান'; কারণ এখানে তোমার অতীত কালের দাঁড়ানো বা বসা অথবা ভবিষ্যতে যা হবে—উভয়ই উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এবং ক্রিয়াটি 'আম' দ্বারা যুক্ত হোক বা না হোক, যেমন: 'তুমি যে কোনো সময় আমার কাছে আসো না কেন, তা আমার কাছে সমান'। কারণ...
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৪৪)
كَانَ الْفِعْل بعد أم مَقْرُونا ب لم تعين الْمُضِيّ نَحْو {سَوَاء عَلَيْهِم أأنذرتهم أم لم تنذرهم} الْبَقَرَة 6 لِأَن الثَّانِي مَاض معنى فَوَجَبَ مُضِيّ الأول لِأَنَّهُ معادل لَهُ أَو وَقع بعد أَدَاة تحضيض نَحْو هلا فعلت إِن أردْت الْمُضِيّ فَهُوَ توبيخ نَحْو {فلولا كَانَ من الْقُرُون من قبلكُمْ أولُوا بَقِيَّة} هود 116 أَو الِاسْتِقْبَال فَهُوَ أَمر بِهِ نَحْو {فلولا نفر} التَّوْبَة 122 أَي لينفر أَو بعد كلما فالمضي نَحْو {كل مَا جَاءَ أمة رسولها} الْمُؤْمِنُونَ 44 والاستقبال نَحْو {كلما نَضِجَتْ جُلُودهمْ بَدَّلْنَاهُمْ} النِّسَاء 56 أَو بعد حَيْثُ فالمضي نَحْو {فأتوهن من حَيْثُ أَمركُم الله} الْبَقَرَة 222 والاستقبال نَحْو {وَمن حَيْثُ خرجت فول} الْبَقَرَة 149 أَو وَقع صلَة فالمضي نَحْو {الَّذين قَالَ لَهُم النَّاس} آل عمرَان 173 والاستقبال نَحْو {إِلَّا الَّذين تَابُوا من قبل أَن تقدروا عَلَيْهِم} الْمَائِدَة 34 وَقد اجْتمعَا فِي قَوْله 12 -

(وإنِّي لآتيكم تَشَكُّرَ مَا مَضى … من الأَمْر واستيجابَ مَا كَانَ فِي غَدِ)

أَو وَقع صفو لنكرة عَامَّة فلمضي نَحْو 13 -

(رُبّ رفْدٍ هَرَقْتهُ ذَلِك الْيَوْم … )
যদি 'আম' (أم)-এর পরবর্তী ক্রিয়াটি 'লাম' (لم)-এর সাথে যুক্ত হয়, তবে তা অতীতকালকে নির্দিষ্ট করে। যেমন: {তাদের জন্য সমান যে, আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন কিংবা না করুন} (আল-বাকারা: ৬); কারণ দ্বিতীয় অংশটি অর্থের দিক থেকে অতীতকালীন, তাই প্রথম অংশটিও অতীতকালীন হওয়া আবশ্যক যেহেতু এটি তার সমান্তরাল। অথবা যদি তা কোনো উৎসাহব্যঞ্জক অব্যয়ের (তাহদীদ) পরে আসে, যেমন: 'কেন তুমি করলে না?'। যদি এর দ্বারা অতীতকাল উদ্দেশ্য হয়, তবে তা তিরস্কার করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: {তোমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মগুলোর মধ্যে কেন এমন সৎকর্মশীল লোক ছিল না?} (হুদ: ১১৬)। আর যদি ভবিষ্যৎকাল উদ্দেশ্য হয়, তবে তা কোনো কাজের আদেশ দেওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: {তবে তাদের প্রতিটি দল থেকে একটি অংশ কেন বের হয় না?} (আত-তাওবাহ: ১২২); অর্থাৎ: যেন তারা বের হয়। অথবা 'কুল্লামা' (كلما) এর পরে আসলে তা অতীতকাল বোঝায়। যেমন: {যখনই কোনো জাতির কাছে তাদের রাসূল আসতেন} (আল-মুমিনুন: ৪৪)। আর ভবিষ্যৎকাল বোঝাতে উদাহরণ: {যখনই তাদের চামড়াগুলো দগ্ধ হবে, আমরা সেগুলো পরিবর্তন করে দেব} (আন-নিসা: ৫৬)। অথবা 'হাইসু' (حيث) এর পরে আসলে অতীতকাল বোঝায়। যেমন: {অতএব তোমরা তাদের নিকট গমন করো যেখান থেকে আল্লাহ তোমাদের আদেশ করেছেন} (আল-বাকারা: ২২২)। আর ভবিষ্যৎকাল বোঝাতে উদাহরণ: {আর আপনি যেখান থেকেই বের হন না কেন, আপনার মুখ (সেই দিকে) ফিরিয়ে নিন} (আল-বাকারা: ১৪৯)। অথবা যদি তা সম্বন্ধসূচক বাক্যাংশ (সিলাহ) হিসেবে আসে, তবে অতীতকাল বোঝাতে উদাহরণ: {যাদেরকে লোকেরা বলেছিল} (আলে ইমরান: ১৭৩)। আর ভবিষ্যৎকাল বোঝাতে উদাহরণ: {তবে তাদের ব্যতীত যারা তোমরা তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ লাভের পূর্বে তওবা করেছে} (আল-মায়িদাহ: ৩৪)। আর কবির এই উক্তিতে উভয় কাল একত্রিত হয়েছে: ১২-

(নিশ্চয়ই আমি তোমাদের নিকট আসি যা অতিবাহিত হয়েছে সেই বিষয়ের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ … এবং যা আগামীকাল ঘটবে তার হকদার হতে।)

অথবা যখন কোনো সাধারণ অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকিরা আম্মাহ) গুণবাচক শব্দ (সিফাত) হিসেবে আসে, তখন অতীতকাল বোঝাতে উদাহরণ: ১৩-

(কতই না সাহায্য যা আমি সেদিন বিলিয়ে দিয়েছিলাম …)
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৪৫)
والاستقبال كَحَدِيث نضر الله امْرأ سمع مَقَالَتي فوعاها فأداها كَمَا سَمعهَا أَي يسمع لِأَنَّهُ ترغيب لمن أدْرك حَيَاته فِي حفظ مَا يسمعهُ مِنْهُ وَأنكر أَبُو حَيَّان هَذَا الْقسم الرَّابِع بصوره كلهَا فَقَالَ بعد أَن سَاقهَا وَهَذِه الْمثل فِي هَذِه الِاحْتِمَالَات من كَلَام ابْن مَالك وَالَّذِي نَذْهَب إِلَيْهِ الْحمل على الْمُضِيّ لإبقاء اللَّفْظ على مَوْضُوعه وَإِنَّمَا فهم الِاسْتِقْبَال فِيمَا مثل بِهِ من خَارج وَوَافَقَهُ الْمرَادِي ص وَلَيْسَ أصلا للأفعال وَالْبَاقِي فرع وَالْأَمر مقتطع من الْمُضَارع على الْأَصَح ش فِيهِ مَسْأَلَتَانِ الأولى ذهب بَعضهم إِلَى أَن الأَصْل فِي الْأَفْعَال هُوَ الْمَاضِي لِأَنَّهُ أسبق الْأَمْثِلَة لاعتلال الْمُضَارع وَالْأَمر باعتلاله وَلِأَن الْمُضَارع هُوَ الْمَاضِي مَعَ الزَّوَائِد وَالْأَمر مِنْهُ بعد طرحها وَالْجُمْهُور على أَن الثَّلَاثَة أصُول الثَّانِيَة ذهب الْكُوفِيُّونَ إِلَى أَن أصُول الْفِعْل الْمَاضِي والمضارع فَقَط وَأَن الْأَمر مقتطع من الْمُضَارع إِذْ أصل افْعَل ليفعل كأمر الْغَائِب وَلما كَانَ أَمر الْمُخَاطب أَكثر على ألسنتهم استثقلوا مَجِيء اللَّام فِيهِ فحذفوها مَعَ حرف المضارعة طلبا للتَّخْفِيف مَعَ كَثْرَة الِاسْتِعْمَال وبنوا على ذَلِك أَنه مُعرب والبصريون على أَنه أصل بِرَأْسِهِ وَمَا ذكر فِي أَصله فَمَمْنُوع
এবং ভবিষ্যৎ অর্থ জ্ঞাপন করা; যেমন হাদিস: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমার কথা শুনেছে, তা স্মরণ রেখেছে এবং যেভাবে শুনেছে ঠিক সেভাবেই তা পৌঁছে দিয়েছে।" অর্থাৎ "যাতে সে শোনে", কারণ এটি এমন ব্যক্তিদের জন্য উৎসাহ প্রদান যারা তাঁর জীবদ্দশা লাভ করেছেন যাতে তাঁরা তাঁর থেকে যা শোনেন তা সংরক্ষণে সচেষ্ট হন। আবু হাইয়ান এই চতুর্থ প্রকারটিকে এর সকল রূপসহ অস্বীকার করেছেন। তিনি তা উল্লেখ করার পর বলেছেন, "এই সম্ভাবনাগুলোর যে উদাহরণ দেওয়া হয়েছে তা ইবনে মালিকের বক্তব্য। কিন্তু আমাদের অভিমত হলো শব্দকে তার মৌলিক অর্থের ওপর বহাল রাখার জন্য একে অতীতকালীন অর্থেই গ্রহণ করা। আর যে উদাহরণগুলো দেওয়া হয়েছে তাতে ভবিষ্যৎ অর্থ মূলত বাহ্যিক প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা গেছে।" আল-মুরাদী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। মূল পাঠ: এবং এটি ক্রিয়াসমূহের মূল নয় এবং অবশিষ্টগুলো শাখা নয়; বরং বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী নির্দেশাত্মক ক্রিয়া বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া থেকে নির্গত। ব্যাখ্যা: এতে দুটি বিষয় রয়েছে। প্রথমটি হলো, কেউ কেউ মনে করেন ক্রিয়ার মূল হলো অতীতকাল; কারণ বর্তমান ও নির্দেশাত্মক ক্রিয়ার রূপান্তরের তুলনায় এটিই আদি রূপ। তাছাড়া বর্তমানকালীন ক্রিয়া হলো অতিরিক্ত বর্ণসহ অতীতকালীন ক্রিয়া, আর নির্দেশাত্মক ক্রিয়া হলো সেই অতিরিক্ত বর্ণগুলো বাদ দেওয়ার পরের রূপ। তবে জুমহুর উলামায়ে কেরাম মনে করেন তিনটিই স্বতন্ত্র মূল। দ্বিতীয়টি হলো, কুফাবাসীরা মনে করেন ক্রিয়ার মূল হলো শুধুমাত্র অতীত ও বর্তমানকাল এবং নির্দেশাত্মক ক্রিয়া বর্তমানকালীন ক্রিয়া থেকে নির্গত। কারণ নির্দেশাত্মক ক্রিয়ার মূল রূপ ছিল নামপুরুষের নির্দেশের মতো। যেহেতু মধ্যম পুরুষের নির্দেশ তাদের ভাষায় অধিক ব্যবহৃত হয়, তাই এতে 'লাম' অক্ষরের উপস্থিতি তারা গুরুভার মনে করেছে। ফলে অধিক ব্যবহারের কারণে সহজ করার উদ্দেশ্যে তারা বর্তমানকালীন ক্রিয়ার চিহ্নসহ 'লাম' বিলুপ্ত করে দিয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করেই তারা একে পরিবর্তনশীল বলে গণ্য করেছেন। পক্ষান্তরে বসরার বৈয়াকরণগণ মনে করেন এটি নিজেই একটি স্বতন্ত্র মূল এবং এর উৎস সম্পর্কে যা দাবি করা হয়েছে তা তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৪৬)
‌‌[الْحَرْف وأقسامه]

ص والحرف لَا عَلامَة لَهُ فَإِن اخْتصَّ باسم أَو فعل عمل وَإِلَّا فَلَا وَيسْتَثْنى من الأول هَل الَّتِي فِي حيزها فعل وَمن الثَّانِي مَا وَلَا وَإِن النافيات ش الْحَرْف لَا عَلامَة لَهُ وجودية بل علامته أَلا يقبل شَيْئا من خَواص الِاسْم وَلَا من خَواص الْفِعْل وَهُوَ ثَلَاثَة أَقسَام مُخْتَصّ بالإسم ومختص بِالْفِعْلِ ومشترك بَينهمَا وَالْأَصْل فِي كل حرف يخْتَص أَن يعْمل فِيمَا اخْتصَّ بِهِ وَفِي كل حرف لَا يخْتَص أَلا يعْمل وَقيد أَبُو حَيَّان الأول بألا يتنزل مِنْهُ منزلَة الْجُزْء فَإِن تنزل ك أل وسين التَّنْفِيس لم يعْمل وَمِمَّا خرج عَن هَذَا الأَصْل هَل الَّتِي فِي حيزها فعل فَإِنَّهَا تخْتَص بِهِ بِمَعْنى أَنه يجب إيلاؤه إِيَّاه كَمَا سَيَأْتِي فِي بَاب الِاشْتِغَال حَيْثُ رجح النصب بعْدهَا وَمَعَ ذَلِك لَا تعْمل لِأَن هَذَا الِاخْتِصَاص عرضي لَا يلْزم وَمَا وَلَا وَإِن النافيات فَإِنَّهَا لَا تخْتَص وَمَعَ ذَلِك تعْمل لِأَن لَهَا شبها ب لَيْسَ فِي أَنَّهَا للنَّفْي وللحال وَتدْخل على الْمُبْتَدَأ وَالْخَبَر فألحقت بهَا ص وَلَيْسَ مِنْهُ عَسى وَلَيْسَ وَكَانَ وَأَخَوَاتهَا على الصَّحِيح ش الْمَشْهُور من مَذْهَب الْجُمْهُور أَن الْمَذْكُورَات أَفعَال لَا تصال ضمائر الرّفْع وَالتَّاء الساكنة بهَا وَذهب ابْن السراج إِلَى الحرفية عَسى وَلَيْسَ مُسْتَندا إِلَى عدم تصرفهما وَوَافَقَهُ فِي الأولى ثَعْلَب وَفِي الثَّانِيَة الْفَارِسِي وَابْن شقير ورد بِأَن ذَلِك لَا يصلح دَلِيلا للحرفية مَعَ قيام دَلِيل الفعلية وَذهب الزجاجي إِلَى أَن كَانَ وَأَخَوَاتهَا حُرُوف
[অব্যয় এবং এর প্রকারভেদ]

মূল পাঠ: অব্যয়ের (নিজস্ব কোনো অস্তিত্বশীল) চিহ্ন নেই। সুতরাং এটি যদি বিশেষ্য অথবা ক্রিয়ার সাথে নির্দিষ্ট হয় তবে তা আমল করবে, অন্যথায় করবে না। আর প্রথম প্রকার থেকে সেই 'হাল' ব্যতিক্রম যার পরিসরে ক্রিয়া থাকে, এবং দ্বিতীয় প্রকার থেকে না-বোধক 'মা', 'লা' এবং 'ইন' ব্যতিক্রম। ব্যাখ্যা: অব্যয়ের কোনো অস্তিত্বশীল চিহ্ন নেই, বরং এর চিহ্ন হলো বিশেষ্যের বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং ক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যসমূহের কোনোটিই গ্রহণ না করা। এটি তিন প্রকার: বিশেষ্যের জন্য নির্দিষ্ট, ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট এবং উভয়ের মাঝে সাধারণ। মূল নীতি হলো, প্রতিটি নির্দিষ্ট অব্যয় তার নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর আমল করবে এবং প্রতিটি অনির্দিষ্ট অব্যয় আমল করবে না। আবু হাইয়ান প্রথম বিষয়টিকে এই শর্তযুক্ত করেছেন যে, অব্যয়টি শব্দের কোনো অংশের স্থলাভিষিক্ত হবে না। যদি তা শব্দের অংশের মতো হয়, যেমন 'আল' এবং 'সীন', তবে তা আমল করবে না। এই মূল নীতি থেকে যা বের হয়ে গেছে তা হলো সেই 'হাল' যার পরিসরে ক্রিয়া থাকে। কারণ এটি তখন ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট হয় এই অর্থে যে, ক্রিয়াকে এর অব্যবহিত পরে আনা আবশ্যক, যেমনটি 'ইশতিগাল' অধ্যায়ে আসবে যেখানে এর পরবর্তী শব্দে নসব হওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এতদসত্ত্বেও এটি আমল করে না, কারণ এই নির্দিষ্ট হওয়াটি আপতিক যা অপরিহার্য নয়। আর না-বোধক 'মা', 'লা' এবং 'ইন' নির্দিষ্ট নয়, তবুও সেগুলো আমল করে। কারণ 'লাইসা' এর সাথে এগুলোর সাদৃশ্য রয়েছে এই দিক থেকে যে, সেগুলো না-বোধক অর্থ প্রদান করে, বর্তমান কালের অর্থ দেয় এবং মুক্তাদা ও খবরের ওপর দাখিল হয়; তাই এগুলোকে 'লাইসা'র বিধানভুক্ত করা হয়েছে। মূল পাঠ: বিশুদ্ধ মতানুযায়ী 'আসা', 'লাইসা' এবং 'কানা' ও এর সমজাতীয় শব্দগুলো এর (অব্যয়ের) অন্তর্ভুক্ত নয়। ব্যাখ্যা: জুমহুর ওলামায়ে কেরামের প্রসিদ্ধ মাযহাব হলো, উল্লিখিত শব্দগুলো ক্রিয়া; কারণ এগুলোর সাথে রফ-বাচক সর্বনাম এবং সাকিন 'তা' যুক্ত হয়। ইবনে সাররাজ 'আসা' এবং 'লাইসা' অব্যয় হওয়ার মত পোষণ করেছেন এগুলোর রূপান্তর না হওয়ার কারণে। প্রথমটির ক্ষেত্রে ছা'লাব এবং দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে ফারিসি ও ইবনে শুকাইর তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, ক্রিয়া হওয়ার প্রমাণ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় রূপান্তর না হওয়া অব্যয় হওয়ার দলীল হওয়ার যোগ্যতা রাখে না। আর জুজাজি এই মত পোষণ করেছেন যে, 'কানা' ও এর সমজাতীয় শব্দগুলো অব্যয়।
(খণ্ড: ১) হামউল হাওয়ামি ফী শারহি জামইল জাওয়ামি (পৃষ্ঠা: ৪৭)
وَقَالَ ابْن هِشَام فِي حَوَاشِي التسهيل الْخلاف فِي عَسى وَلَيْسَ شهير وَفِي كَانَ غَرِيب قَالَ ابْن الْحَاج فِي النَّقْد حكى الْعَبْدي فِي شرح الْإِيضَاح أَن الْمبرد قَالَ إِن كَانَ حرف قَالَ الْعَبْدي وَهَذَا أطرف من قَول من قَالَ إِن لَيْسَ وَعَسَى حرفان قَالَ ابْن الْحَاج هُوَ وَإِن كَانَ فِي بادئ الرَّأْي ضَعِيفا إِلَّا أَنه أقوى لمن تَأمل لِأَنَّهَا لَا تدل على حدث بل دخلت لتفيد معنى الْمُضِيّ فِي خبر مَا دخلت عَلَيْهِ

এবং ইবনে হিশাম আত-তাসহিলের টীকাগুলোতে বলেছেন যে, 'আসা' ও 'লাইসা'-এর ক্ষেত্রে (সেগুলো ক্রিয়া না কি অব্যয় তা নিয়ে) মতভেদ প্রসিদ্ধ, কিন্তু 'কানা'-এর ক্ষেত্রে তা বিরল। ইবনুল হাজ 'আন-নাকদ' গ্রন্থে বলেছেন যে, আল-আবদী 'শারহুল ইজাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে আল-মুবরারিদ বলেছেন, 'কানা' হলো একটি অব্যয়। আল-আবদী বলেন, এটি তাদের বক্তব্যের চেয়েও অধিক বিস্ময়কর যারা বলে যে 'লাইসা' ও 'আসা' হলো দুটি অব্যয়। ইবনুল হাজ বলেন, বিষয়টি প্রাথমিক দৃষ্টিতে দুর্বল মনে হলেও যারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তাদের নিকট এটি অধিক শক্তিশালী; কারণ এটি কোনো ক্রিয়া বা ঘটনার (হাদাস) ওপর দালালত করে না, বরং এটি যার ওপর প্রবেশ করেছে তার সংবাদের (খবর) মধ্যে অতীত কালের অর্থ প্রদানের জন্য যুক্ত হয়েছে।