(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: -)
موصل الطلاب إلى قواعد الإعراب   (خالد الأزهري)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: موصل الطلاب إلى قواعد الإعراب

المؤلف: خالد بن عبد الله بن أبي بكر بن محمد الجرجاويّ الأزهري، زين الدين المصري، وكان يعرف بالوقاد (ت 905هـ)

المحقق: عبد الكريم مجاهد

الناشر: الرسالة - بيروت

الطبعة: الأولى، 1415هـ 1996م

عدد الصفحات: 173

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুসিলুত তুল্লাব ইলা কাওয়াইদিল ই'রাব   (খালিদ আল-আজহারি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


বই: মুসিলুত তুল্লাব ইলা কাওয়াইদিল ই'রাব

লেখক: খালিদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবি বকর বিন মুহাম্মদ আল-জারজাভি আল-আজহারি, জাইন উদ্দিন আল-মিসরি, এবং তিনি আল-ওয়াক্কাদ নামে পরিচিত ছিলেন (মৃত্যু ৯০৫ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: আব্দুল কারিম মুজাহিদ

প্রকাশক: আল-রিসালাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৫ হিজরি ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم وَبِه نستعين وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد وَآله وَصَحبه الْحَمد لله الملهم لحمده وَالصَّلَاة على سيدنَا مُحَمَّد رَسُوله وَعَبده وعَلى آله وَصَحبه وجنده وَبعد فَيَقُول العَبْد الْفَقِير إِلَى مَوْلَاهُ الْغَنِيّ خَالِد بن عبد الله الْأَزْهَرِي هَذَا شرح لطيف على قَوَاعِد الْإِعْرَاب سألنيه بعض الْأَصْحَاب يحل المباني وَيبين الْمعَانِي سميته موصل الطلاب إِلَى قَوَاعِد الْإِعْرَاب نَافِع إِن شَاءَ الله تَعَالَى

بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْبَاء مُتَعَلقَة بِفعل مَحْذُوف تَقْدِيره افْتتح يقدر مُؤَخرا لإِفَادَة الْحصْر عِنْد البيانيين والإهتمام عِنْد النَّحْوِيين أما بِفَتْح الْهمزَة وَتَشْديد الْمِيم حرف فِيهِ معنى الشَّرْط بِدَلِيل دُخُول الْفَاء فِي جوابها بعد بِالنّصب على الظَّرْفِيَّة الزمانية وَاخْتلفَا فِي ناصبه فَقيل فعل مَحْذُوف وَهُوَ الَّذِي نابت عَنهُ أما وَقيل لنيابتها عَن الْمَحْذُوف
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। তাঁরই নিকট আমরা সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর প্রশংসার প্রেরণা দানকারী। দরুদ বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ-এর ওপর, যিনি তাঁর রাসূল ও বান্দা; আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার, সঙ্গী ও বাহিনীর ওপর। অতঃপর, মহান ও অভাবমুক্ত মাওলার মুখাপেক্ষী অকিঞ্চন বান্দা খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আজহারী বলছেন: এটি কাওয়ায়েদুল ই’রাব-এর ওপর একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা আমার জনৈক বন্ধু আমার কাছে চেয়েছিলেন। এটি শব্দবিন্যাসের জটিলতা নিরসন করে এবং অর্থসমূহ সুস্পষ্ট করে। আমি এর নামকরণ করেছি মুসিলুত তুল্লাব ইলা কাওয়ায়েদিল ই’রাব। ইনশাআল্লাহ এটি একটি উপকারী গ্রন্থ হবে।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। এখানে 'বা' বর্ণটি একটি উহ্য ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, যার সম্ভাব্য রূপ হলো 'আমি শুরু করছি'। অলঙ্কারশাস্ত্রবিদদের নিকট সীমাবদ্ধকরণ এবং ব্যাকরণবিদদের নিকট গুরুত্ব প্রদানের উদ্দেশ্যে একে বাক্যশেষে অনুমান করা হয়। 'আম্মা' শব্দটি হামজায় ফাতহা এবং মিমে তাশদীদযুক্ত একটি বর্ণ, যার মধ্যে শর্তের অর্থ নিহিত রয়েছে; এর প্রমাণ হলো এর জওয়াবে 'ফা' বর্ণের সংশ্লিষ্টতা। 'বাদু' শব্দটি কালবাচক আধেয় হিসেবে নসবপ্রাপ্ত। এর নসব প্রদানকারী সম্পর্কে ব্যাকরণবিদগণ মতভেদ করেছেন; কেউ কেউ বলেছেন এটি একটি উহ্য ক্রিয়া, যার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে 'আম্মা' শব্দটি। আবার কেউ বলেছেন, 'আম্মা' শব্দটি উহ্য ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণেই নসব হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
وَهُوَ مَا ذهب إِلَيْهِ سِيبَوَيْهٍ وَالْأَصْل عِنْده مهما يكن من شَيْء بعد حمد الله بَدَأَ بِالْحَمْد تأدية لحق شَيْء مِمَّا وَجب عَلَيْهِ وَالْجَلالَة اسْم للذات المستجمع لسَائِر الصِّفَات حق حَمده أَي وَاجِب حَمده الَّذِي يتَعَيَّن لَهُ ويستحقه كَمَال ذَاته وَقدم صِفَاته وتقدس اسمائه وَعُمُوم آلائه وانتصابه على المفعولية الْمُطلقَة وَالصَّلَاة وَالسَّلَام بِالْجَرِّ عطفا على حمد الله على سيدنَا مُتَعَلق بِالسَّلَامِ على اخْتِيَار الْبَصرِيين ومعلق الصَّلَاة مَحْذُوف تَقْدِيره عَلَيْهِ وَلَا يجوز أَن يتَعَلَّق الْمَذْكُور بِالصَّلَاةِ لِأَنَّهُ كَانَ يجب ذكر الْمُتَعَلّق بِالسَّلَامِ على الْأَصَح وَفِي نُسْخَة وَعَبده وَهُوَ مَعْطُوف على سيدنَا وَفِيه من أَنْوَاع البديع الْمُطَابقَة وَمُحَمّد بَدَلا من سيدنَا لِأَن نعت الْمعرفَة إِذا تقدم عَلَيْهَا أعرب بِحَسب العوامل وأعربت الْمعرفَة بَدَلا

এটিই সিবওয়াইহ-এর অভিমত। তাঁর নিকট মূল ভিত্তি (الأصل) হলো: 'আল্লাহর প্রশংসার পর যা কিছুই হোক না কেন'। তিনি তাঁর ওপর ওয়াজিব হওয়া বিষয়ের হক আদায় করার নিমিত্তে আল্লাহর প্রশংসা বা হামদ দ্বারা শুরু করেছেন। 'আল্লাহ' (الجلالة) শব্দটি এমন এক সত্তার নাম যা সমস্ত গুণের আধার। 'তাঁর প্রশংসার হক' অর্থাৎ তাঁর জন্য নির্ধারিত ওয়াজিব প্রশংসা, যার তিনি তাঁর সত্তার পূর্ণতা, গুণাবলির অনাদিত্ব, নামসমূহের পবিত্রতা এবং নেয়ামতসমূহের ব্যাপকতার কারণে উপযুক্ত। শব্দটির নসব বা জবর (انتصابه) হয়েছে মাফউলে মুতলাক (المفعولية المطلقة) হিসেবে। 'আস-সালাত' এবং 'আস-সালাম' শব্দদ্বয় আল্লাহর প্রশংসার ওপর আতফ বা অনুগামী হওয়ার কারণে জের (بالجر) বিশিষ্ট হয়েছে। 'আলা সাইয়্যিদিনা' (আমাদের নেতার ওপর) অংশটি বসরী নাহুবিদদের পছন্দ অনুযায়ী 'আস-সালাম'-এর সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلق)। আর সালাত-এর সংশ্লিষ্ট বিষয়টি উহ্য (محذوف) রয়েছে, যার সম্ভাব্য রূপ হলো 'তাঁর ওপর'। বিশুদ্ধতম (الأصح) মতানুসারে উল্লিখিত বিষয়টি 'আস-সালাত'-এর সাথে সংশ্লিষ্ট (يتعلق) হওয়া জায়েজ নেই; কারণ তখন 'আস-সালাম'-এর সংশ্লিষ্ট বিষয়টি উল্লেখ করা ওয়াজিব হতো। একটি পাণ্ডুলিপিতে (نسخة) 'ও আবদুহু' (এবং তাঁর বান্দা) শব্দটিও রয়েছে, যা 'সাইয়্যিদিনা' শব্দের ওপর আতফ হয়েছে। এর মধ্যে অলঙ্কারশাস্ত্র (البديع)-এর প্রকারভেদসমূহের মধ্য থেকে মুতাবাকা (المطابقة) বিদ্যমান। 'মুহাম্মদ' শব্দটি 'সাইয়্যিদিনা' এর বদল (بدلا) হিসেবে এসেছে; কারণ নির্দিষ্ট বিশেষ্য (المعرفة)-এর গুণ যদি তার আগে আসে, তবে তা আমেল বা কারক অনুযায়ী ব্যবহৃত হয় এবং মূল নির্দিষ্ট বিশেষ্য (المعرفة) শব্দটিকে বদল (بدلا) হিসেবে গণ্য করা হয়।

(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
فَصَارَ الْمَتْبُوع تَابعا كَقَوْلِه تَعَالَى {إِلَى صِرَاط الْعَزِيز الحميد الله} فِي قِرَاءَة الْجَرّ نَص على ذَلِك ابْن مَالك وعَلى آله هم كَمَا قَالَ الشَّافِعِي أَقَاربه الْمُؤمنِينَ من بني هَاشم وَبني الْمطلب ابْني عبد منَاف من بعده أَي من بعد مُحَمَّد وَأَشَارَ بذلك إِلَى أَن الصَّلَاة على الْآل مرتبَة وتابعة للصَّلَاة على مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فَهَذِهِ فَوَائِد جملَة مقرونة بِالْفَاءِ على أَنَّهَا جَوَاب الشَّرْط وَأَشَارَ بِهَذِهِ إِلَى أَشْيَاء مستحضرة فِي ذهنه والفوائد جمع فَائِدَة وَهُوَ مَا يكون الشَّيْء بِهِ أحسن حَالا مِنْهُ بِغَيْرِهِ جليلة أَي عَظِيمَة فِي قَوَاعِد جمع قَاعِدَة وَهِي قَضِيَّة كُلية يتعرف مِنْهَا أَحْكَام جزئياتها الْإِعْرَاب الاصطلاحي تقتفي من القفو وَهُوَ الِاتِّبَاع تَقول قَفَوْت فلَانا إِذا تبِعت أَثَره وَضَمنَهُ معنى تسلك بمتأملها أَي بالناظر فِيهَا جادة بِالْجِيم أَي مُعظم طَرِيق الصَّوَاب وَهُوَ ضد الْخَطَأ وتطلعه أَي توقفه فِي الأمد أَي فِي الزَّمن الْقصير خلاف الطَّوِيل وَلَو قَالَ الْقَلِيل بدل الْقصير كَانَ أنسب لكثير فِي قَوْله

ফলে যা অনুসরণীয় (متبوع) ছিল তা অনুগামী (تابع) হয়ে গেল; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {পরাক্রমশালী, প্রশংসিত আল্লাহর পথের দিকে}—এখানে ‘জের’ (الجر) দিয়ে পড়ার রীতি অনুযায়ী ইবনে মালিক এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) প্রদান করেছেন। আর তাঁর পরিবারের ওপর; যেমনটি ইমাম শাফেঈ বলেছেন যে, তাঁরা হলেন তাঁর পরবর্তী বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবের মুমিন আত্মীয়-স্বজন—অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরবর্তী। আর এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, পরিবারের ওপর দরুদ পাঠের বিষয়টি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠের ক্রমানুসারে এবং তার অনুগামী। এই ‘ফাওয়ায়েদ’ (فوائد) শব্দটি এখানে বাক্য হিসেবে ‘ফা’ (الفاء) বর্ণের সাথে যুক্ত হয়েছে এই কারণে যে এটি একটি শর্তের জবাব (جواب الشرط)। ‘হাজিহি’ (هذه) দ্বারা তিনি তাঁর হৃদয়ে উপস্থিত বিষয়াবলিকে ইঙ্গিত করেছেন। ‘ফাওয়ায়েদ’ (الفوائد) হলো ‘ফায়েদাহ’ (فائدة)-এর বহুবচন (جمع), আর এটি হলো এমন কিছু যার মাধ্যমে কোনো বিষয় তার পূর্বের অবস্থার চেয়ে উত্তম অবস্থায় পরিণত হয়। ‘জালilah’ (جليلة) অর্থ হলো মহান (عظيمة)। ‘কাওয়ায়েদ’ (قواعد) শব্দটি ‘কায়েদাহ’ (قاعدة)-এর বহুবচন; যা হলো এমন একটি সামগ্রিক নীতি (قضية كلية) যার মাধ্যমে তার অন্তর্গত খুটিনাটি বিষয়সমূহের পারিভাষিক (اصطلاحي) ব্যাকরণগত অবস্থান (إعراب) সংক্রান্ত বিধান সম্পর্কে জানা যায়। ‘তাকতাফি’ (تقتفي) শব্দটি ‘ক্বাফওয়া’ (القفو) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো অনুসরণ করা (الاتباع)। আপনি যখন বলেন ‘আমি অমুকের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি’, তার অর্থ হলো আপনি তার চিহ্নের অনুসরণ করেছেন; আর এখানে এটি ‘পথ চলা’ (تسلك) অর্থকেও অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর অনুধাবনকারীর জন্য—অর্থাৎ যিনি এতে গভীর দৃষ্টিপাত করেন—এটি ‘জাদ্দাহ’ (جادة) বা ‘জিম’ (جيم) বর্ণ সহযোগে সঠিক পথের (الصواب) প্রধান অংশকে বুঝায়, যা ভুলের (الخطأ) বিপরীত। আর তাকে স্বল্প সময়ের (الأمد) মধ্যে সেখানে পৌঁছে দেয়—অর্থাৎ যা দীর্ঘ সময়ের বিপরীত। তিনি যদি ‘দীর্ঘ’-এর বিপরীতে ‘স্বল্প’ (القصير) না বলে ‘সামান্য’ (القليل) বলতেন, তবে তা তাঁর বক্তব্যে উল্লিখিত ‘অধিক’ (كثير) শব্দের সাথে অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো।

(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
على نكت كثير بِالْإِضَافَة والنكت بِالْمُثَنَّاةِ جمع نُكْتَة وَهِي الدقيقة من الْأَبْوَاب جمع بَاب وَتجمع أَيْضا على أبوبة للإزدواج كَقَوْل ابْن مقبل

(هتاك أخبية ولاج أبوبة … يخالط الْبر مِنْهُ الْجد واللينا)

عملتها بِكَسْر الْمِيم عمل بِفَتْحِهَا من طب لمن حب لُغَة فِي أحب وَالْأَصْل كعمل من طب لمن أحب وَالْمرَاد أَنِّي بالغت فِي النصح فَجعلت هَذِه الْفَوَائِد لطلبة الْعلم كَمَا يَجْعَل الطَّبِيب الحاذق الْأَدْوِيَة النافعة لمحبوبه وَالْغَرَض من هَذَا التَّشْبِيه بَيَان كَمَال الِاجْتِهَاد فِي تَحْصِيل الْموَاد وَإِلَّا فقد قَالَ الْأَطِبَّاء الْأَب لَا يطب وَلَده والمحب لَا يطب حبيبته والعاشق لَا يطب معشوقه وسميتها أَي الْفَوَائِد الجليلة بالإعراب لُغَة هُوَ الْبَيَان عَن قَوَاعِد الْإِعْرَاب اصْطِلَاحا وَهُوَ علم النَّحْو وَفِي هَذِه التَّسْمِيَة من البديع التَّجْنِيس التَّام اللَّفْظِيّ والخطي وَمن الله استمد أَي أطلب المدد قدم معموله عَلَيْهِ لإِفَادَة الْحصْر التَّوْفِيق خلق قدرَة الطَّاعَة فِي العَبْد وضده الخذلان وَالْهِدَايَة الْإِرْشَاد وَالدّلَالَة وضدها الغواية والضلالة إِلَى اقوم طَرِيق قدم الصّفة على الْمَوْصُوف وإضافتها إِلَيْهِ رِعَايَة للسجع وَالْأَصْل إِلَى طَرِيق أقوم أَي مُسْتَقِيم وَهُوَ كِنَايَة عَن
অতিরিক্ত অনেকগুলো সূক্ষ্ম বিষয়ের (نكت) উপর। ‘নুকাত’ (نكت) শব্দটি ‘তা’ (ت) বর্ণ যোগে ‘নুকতাহ’ (نكتة) শব্দের বহুবচন, যা কোনো বিষয়ের সূক্ষ্ম দিককে বোঝায়। এটি ‘আবওয়াব’ (أبواب) এর অন্তর্ভুক্ত, যা ‘বাব’ (باب) শব্দের বহুবচন। অন্ত্যমিলের (ازدواج) খাতিরে একে ‘আবওয়াবাহ’ (أبوبة) হিসেবেও বহুবচন করা হয়, যেমনটি ইবনে মুকবিল বলেছেন:

(তিনি তাবু ছিন্নকারী এবং বহু দরজায় প্রবেশকারী … তার নেক আমলের সাথে কঠোরতা ও কোমলতা মিশ্রিত থাকে)

আমি এটি প্রস্তুত করেছি—এখানে ‘মীম’ বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে ‘আমি আমল করেছি’ পড়তে হবে—অর্থাৎ ‘আহাব্বা’ (أحب) এর স্থলে ‘হাব্বা’ (حب) লুগাত বা ভাষা ব্যবহারকারীর প্রতি চিকিৎসকের আচরণের ন্যায়। এর মূল পাঠ হলো সেই ব্যক্তির কাজের ন্যায় যে ব্যক্তি যাকে ভালোবাসে তার চিকিৎসা করে। এর উদ্দেশ্য হলো, আমি নসিহত বা উপদেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছি, ফলে আমি ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য এই ফায়দাগুলোকে সেভাবে উপস্থাপন করেছি যেভাবে একজন দক্ষ চিকিৎসক তার প্রিয়ভাজনের জন্য উপকারী ঔষধসমূহ প্রস্তুত করেন। এই উপমা দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো বিষয়বস্তু সংগ্রহের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ প্রচেষ্টার (اجتهاد) বিষয়টি বর্ণনা করা। অন্যথায় চিকিৎসকেরা বলে থাকেন: পিতা তার সন্তানের চিকিৎসা করেন না, প্রেমিক তার প্রেমিকার চিকিৎসা করেন না এবং অনুরাগী তার মাশুকের চিকিৎসা করেন না। আমি এই মহান ফায়দাগুলোর নামকরণ করেছি ‘ইরাব’ (إعراب) নামে, যার শাব্দিক অর্থ হলো প্রকাশ করা, আর পরিভাষায় (اصطلاحا) যা ইরাব বা বাক্যতত্ত্বের নিয়মাবলী তথা নাহু শাস্ত্র (علم النحو)। এই নামকরণের মাঝে ইলমে বাদি’র (بديع) অন্তর্ভুক্ত পূর্ণ শাব্দিক ও লৈখিক সাদৃশ্য (تجنيس تام) বিদ্যমান। আর আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য (استمداد) প্রার্থনা করছি; এখানে সীমাবদ্ধতা (حصر) বোঝানোর জন্য কর্মপদকে (معمول) আগে আনা হয়েছে। তৌফিক (توفيق) হলো বান্দার মধ্যে আনুগত্যের ক্ষমতা সৃষ্টি করা, যার বিপরীত হলো লাঞ্ছনা বা সহায়তাহীনতা (خذلان)। আর হেদায়েত (هداية) হলো পথপ্রদর্শন (إرشاد) ও পথনির্দেশ (دلالة), যার বিপরীত হলো পথভ্রষ্টতা (غواية) ও গোমরাহি (ضلالة)। সরলতম পথের দিকে; এখানে অন্ত্যমিলের (سجع) খাতিরে বিশেষণের (صفة) সম্বন্ধ তার বিশেষ্যের (موصوف) দিকে করা হয়েছে এবং তাকে আগে আনা হয়েছে। এর মূল রূপ হলো ‘সরল পথ’ (طريق أقوم) তথা সোজা পথ। এটি মূলত একটি রূপক (كناية) যা...
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
سرعَة الْوُصُول إِلَى المأمول لِأَن الْخط الْمُسْتَقيم أقل من المنحني بمنه أَي إنعامه وَيُطلق الْمَنّ على تعديد النعم الصادرة من الشَّخْص إِلَى غَيره كَقَوْلِه فعلت مَعَ فلَان كَذَا وَكَذَا وتعداد النعم من الله تَعَالَى مدح وَمن الْإِنْسَان ذمّ وَمن بلاغات الزَّمَخْشَرِيّ طعم الآلاء أحلى من الْمَنّ وَهُوَ أَمر من الآلاء عِنْد الْمَنّ أَرَادَ بالآلاء الأولى النعم وبالثانية الشّجر المر وَأَرَادَ بالمن الأول الْمَذْكُور فِي قَوْله تَعَالَى {الْمَنّ والسلوى} وَبِالثَّانِي تعديد النعم وَكَرمه أَي جوده يُقَال على الله تَعَالَى كريم وَلَا يُقَال سخي إِمَّا لعدم الْوُرُود وَإِمَّا للإشعار بِجَوَاز الشُّح وينحصر تقْرَأ بالتحتانية على إِرَادَة المُصَنّف اَوْ الْكتاب وبالفوقانية على إِرَادَة الْفَوَائِد الجليلة أَو الْمُقدمَة فِي أَرْبَعَة أَبْوَاب من حصر الْكل فِي أَجْزَائِهِ وَهِي الْجُمْلَة وأحكامها وَالْجَار وَالْمَجْرُور وَتَفْسِير كَلِمَات وَالْإِشَارَة إِلَى عِبَارَات محررة وستمر بك هَذِه الْأَبْوَاب بَابا بَابا
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে দ্রুত উপনীত হওয়া; কেননা সরলরেখা বক্ররেখার তুলনায় অধিকতর সংক্ষিপ্ত। তাঁরই অনুগ্রহ অর্থাৎ নেয়ামত দানের বরকতে। অন্যের প্রতি কৃত নেয়ামতের কথা বারবার উল্লেখ করার ক্ষেত্রে ‘মান্ন’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়; যেমন কারো উক্তি: ‘আমি অমুকের জন্য এই এই কাজ করেছি’। মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নেয়ামতের উল্লেখ করা প্রশংসনীয়, কিন্তু মানুষের পক্ষ থেকে তা নিন্দনীয়। যামাখশারীর আলঙ্কারিক বাচনভঙ্গির একটি হলো: ‘নেয়ামতের স্বাদ মান্না অপেক্ষা অধিক মিষ্টি, তবে অনুগ্রহের খোঁটা দেওয়ার সময় তা তিক্ত বৃক্ষ অপেক্ষাও তিতা’। এখানে তিনি প্রথম ‘আলা’ দ্বারা নেয়ামতসমূহ এবং দ্বিতীয়টি দ্বারা তিক্ত বৃক্ষ বুঝিয়েছেন। আর প্রথম ‘মান্ন’ দ্বারা মহান আল্লাহর বাণী {মান্ন ও সালওয়া}-এ বর্ণিত খাদ্য এবং দ্বিতীয়টি দ্বারা নেয়ামতের খোঁটা দেওয়াকে বুঝিয়েছেন। তাঁর কারাম তথা বদান্যতা; আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে ‘কারিম’ বলা হয়, কিন্তু ‘সাখি’ বলা হয় না—হয় এর স্বপক্ষে কোনো বর্ণনা না থাকায়, অথবা এটি কৃপণতার অবকাশ থাকার প্রতি ইঙ্গিত করে বলে। এটি চারটি পরিচ্ছেদে সীমাবদ্ধ; শব্দটি ‘ইয়া’ (নিচে দুই নুকতাযুক্ত বর্ণ দিয়ে) পড়লে গ্রন্থকার বা কিতাব উদ্দেশ্য হবে, আর ‘তা’ (উপরে দুই নুকতাযুক্ত বর্ণ দিয়ে) পড়লে সুমহান ফায়দাগুলো বা ভূমিকা উদ্দেশ্য হবে—যা মূলত একটি পূর্ণাঙ্গ বিষয়কে তার অংশসমূহে বিভক্ত করার অন্তর্ভুক্ত। পরিচ্ছেদগুলো হলো: বাক্য ও তার বিধানসমূহ, জার ও মাজরুর, শব্দসমূহের ব্যাখ্যা এবং পরিমার্জিত বাক্যরীতির প্রতি ইঙ্গিত। অচিরেই আপনি এই পরিচ্ছেদগুলো একে একে পাঠ করবেন।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
الْبَاب الأول

 

‌‌شرح الْجُمْلَة وَذكر أسمائها وأحكامها وَفِيه أَربع مسَائِل
প্রথম অধ্যায়

 

‌‌সংক্ষিপ্ত বিবৃতির (الجملة) ব্যাখ্যা এবং এর নামসমূহ ও বিধানসমূহের (أحكام) আলোচনা; আর এতে চারটি মাসআলা (مسائل) রয়েছে
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الْمَسْأَلَة الأولى فِي شرح الْجُمْلَة

 

إعلم أَيهَا الْوَاقِف على هَذَا المُصَنّف أَن اللَّفْظ الْمركب الاسنادي يكون مُفِيدا كقام زيد وَغير مُفِيد نَحْو إِن قَامَ زيد وَأَن غير الْمُفِيد يُسمى جملَة فَقَط وَأَن الْمُفِيد يُسمى كلَاما لوُجُود الْفَائِدَة وَيُسمى جملَة لوُجُود التَّرْكِيب الاسنادي

ونعني معشر النُّحَاة بالمفيد حَيْثُ أطلقناه فِي بحث الْكَلَام مَا يحسن من الْمُتَكَلّم السُّكُوت عَلَيْهِ بِحَيْثُ لَا يصير السَّامع منتظرا لشَيْء آخر

وَبَين الْجُمْلَة وَالْكَلَام عُمُوم وخصوص مُطلق وَذَلِكَ أَن الْجُمْلَة أَعم من الْكَلَام لصدقها بِدُونِهِ وَعدم صدقه بِدُونِهَا فَكل كَلَام جملَة لوُجُود التَّرْكِيب الاسنادي وَلَا ينعكس عكسا لغويا أَي لَيْسَ كل جملَة كلَاما لِأَنَّهُ يعْتَبر فِيهِ الإفادة بِخِلَافِهَا أَلا ترى أَن جملَة الشَّرْط نَحْو قَامَ زيد من قَوْلك إِن قَامَ زيد قَامَ عَمْرو تسمى جملَة لاشتمالها على الْمسند والمسند إِلَيْهِ وَلَا تسمى كلَاما لِأَنَّهُ لَا يُفِيد معنى يحسن السُّكُوت عَلَيْهِ لِأَن إِن الشّرطِيَّة أخرجته عَن صلاحيته لذَلِك لِأَن السَّامع ينْتَظر الْجَواب وَكَذَلِكَ أَي وكالقول فِي جملَة الشَّرْط القَوْل فِي جملَة
বাক্যের (جملة) ব্যাখ্যা সংক্রান্ত প্রথম পরিচ্ছেদ (مسألة)

 

হে এই গ্রন্থটি পাঠকারী, জেনে রাখুন যে, সমন্ধযুক্ত যৌগিক শব্দ (اللفظ المركب الإسنادي) কখনও অর্থবহ (مفيد) হয় যেমন: ‘যায়েদ দাঁড়িয়েছে’, আবার কখনও অর্থহীন (غير مفيد) হয় যেমন: ‘যদি যায়েদ দাঁড়ায়’। যা অর্থবহ নয় তাকে কেবল জুমলা (جملة) বলা হয়। আর যা অর্থবহ তাকে পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদানের (فائدة) কারণে কালাম (كلام) বলা হয় এবং সমন্ধযুক্ত গঠন (التركيب الإسنادي) বিদ্যমান থাকার কারণে জুমলা (جملة) বলা হয়।

আমরা ব্যাকরণবিদ (النحاة) সমাজ কালামের আলোচনায় অর্থবহ (مفيد) বলতে সেই বক্তব্যকে বুঝিয়ে থাকি, যার ওপর বক্তার নীরব থাকা বা কথা শেষ করা সঠিক হয়, যাতে শ্রোতা অন্য কোনো বিষয়ের অপেক্ষায় না থাকে।

জুমলা (جملة) এবং কালাম (كلام) এর মধ্যে সাধারণ ও বিশেষের নিরঙ্কুশ (عموم وخصوص مطلق) সম্পর্ক বিদ্যমান। এর কারণ হলো জুমলা শব্দটি কালামের চেয়ে অধিক ব্যাপক (أعم); কারণ কালাম ছাড়াও জুমলার অস্তিত্ব পাওয়া যায়, কিন্তু জুমলা ছাড়া কালামের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। সুতরাং সমন্ধযুক্ত গঠন (التركيب الإسنادي) থাকার কারণে প্রত্যেক কালামই (كلام) একটি জুমলা (جملة), কিন্তু এর বিপরীতটি ভাষাগতভাবে সত্য নয় অর্থাৎ প্রত্যেক জুমলাই কালাম (كلام) নয়। কারণ কালামের ক্ষেত্রে অর্থবহ হওয়া (إفادة) শর্ত, যা জুমলার ক্ষেত্রে নয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আপনার উক্তি ‘যদি যায়েদ দাঁড়ায় তবে আমর দাঁড়াবে’-এর মধ্যে ‘যায়েদ দাঁড়িয়েছে’ নামক শর্তীয় বাক্যটি (جملة الشرط) জুমলা হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এটি মুসনাদ (مسند) ও মুসনাদ ইলাইহি (مسند إليه) এর সমষ্টি। কিন্তু একে কালাম (كلام) বলা হয় না, কারণ এটি এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রদান করে না যার ওপর নীরব থাকা সঠিক হয়; যেহেতু শর্তবাচক ‘ইন’ (إن الشرطية) একে সেই যোগ্যতা থেকে বের করে দিয়েছে এবং শ্রোতা জওয়াবের (الجواب) অপেক্ষায় থাকে। অনুরূপভাবে শর্তীয় বাক্যের ন্যায় অন্যান্য বাক্যের হুকুমও একই...
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩২)
الْجَواب أَي جَوَاب الشَّرْط وَهِي جملَة قَامَ عَمْرو من الْمِثَال الْمَذْكُور تسمى جملَة وَلَا تسمى كلَاما لما قُلْنَاهُ وَالْحَاصِل أَنه جعل فِي كل من جملتي الشَّرْط وَجَوَابه أَمريْن أَحدهمَا ثبوتي وَهُوَ التَّسْمِيَة بِالْجُمْلَةِ وَالْآخر سَلبِي وَهُوَ عدم التَّسْمِيَة بالْكلَام فَفِي ذَلِك دَلِيل على مَا ادَّعَاهُ من عدم ترادف الْجُمْلَة وَالْكَلَام ورد على من قَالَ بتراد فهما كالزمخشري وعَلى من قَالَ جملَة جَوَاب الشَّرْط كَلَام بِخِلَاف جملَة الشَّرْط كالرضى ثمَّ الْجُمْلَة تَنْقَسِم أَولا بِالنِّسْبَةِ إِلَى التَّسْمِيَة إِلَى اسمية وفعلية وَذَلِكَ أَنَّهَا تسمى اسمية إِن بدأت باسم صَرِيح كزيد قَائِم أَو مؤول نَحْو {وَأَن تَصُومُوا خير لكم} أَي صومكم خير لكم

أَو بِوَصْف رَافع لمكتف بِهِ نَحْو أقائم الزيدان أَو اسْم فعل
জবাব (الجواب) অর্থাৎ শর্তের উত্তর (جواب الشرط), যা উল্লিখিত উদাহরণের ‘ক্বামা আমরুন’ বাক্য; একে বাক্য (جملة) বলা হয়, কিন্তু আমাদের ইতিপূর্বে বর্ণিত কারণে একে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য (كلام) বলা হয় না। সারকথা হলো, তিনি শর্ত এবং তার উত্তর—এই উভয় বাক্যের ক্ষেত্রেই দুটি বিষয় নির্ধারণ করেছেন: একটি ইতিবাচক, যা হলো একে বাক্য (جملة) হিসেবে নামকরণ করা; অন্যটি নেতিবাচক, যা হলো একে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য (كلام) হিসেবে অভিহিত না করা। এতে তাঁর সেই দাবির সপক্ষে দলিল রয়েছে যে, বাক্য (جملة) এবং বক্তব্য (كلام) পরস্পর সমার্থক নয়। এটি তাদের মতের খণ্ডন যারা এদেরকে সমার্থক (ترادف) মনে করেন, যেমন যামাখশারী। তদ্রূপ এটি তাদের মতের বিপরীতেও দলিল যারা মনে করেন যে, শর্তের উত্তরের বাক্যটি বক্তব্য (كلام), কিন্তু শর্তের বাক্যটি তা নয়, যেমন ইমাম রাযী। অতঃপর, নামকরণের বিচারে বাক্য (جملة) প্রাথমিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত: নামবাচক (اسمية) এবং ক্রিয়াবাচক (فعلية)। কোনো বাক্যকে নামবাচক (اسمية) বলা হবে যদি তা স্পষ্ট বিশেষ্য (اسم صريح) দ্বারা শুরু হয়, যেমন: ‘যাইদুন ক্বায়িমুন’; অথবা বিশেষ্য হিসেবে ব্যাখ্যাযোগ্য (مؤول) পদ দ্বারা শুরু হয়, যেমন আল্লাহর বাণী: {তোমাদের রোজা রাখা তোমাদের জন্য কল্যাণকর} অর্থাৎ তোমাদের সিয়ামই তোমাদের জন্য কল্যাণকর।

অথবা এমন কোনো বিশেষণ (وصف) দ্বারা শুরু হয় যা পরবর্তী পদের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ (مكتف به), যেমন: ‘আক্বায়িমুন আল-যাইদানি?’ অথবা তা ইসমে ফেয়েল (اسم فعل) দ্বারা শুরু হয়।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
نَحْو هَيْهَات العقيق وَإِذا دخل عَلَيْهَا حرف فَلَا يُغير التَّسْمِيَة سَوَاء غير الْإِعْرَاب دون الْمَعْنى أم الْمَعْنى دون الْإِعْرَاب أم غَيرهمَا مَعًا أم لم يُغير وَاحِدًا مِنْهُمَا فَالْأول نَحْو إِن زيدا قَائِم وَالثَّانِي نَحْو هَل زيد قَائِم وَالثَّالِث مَا زيد قَائِما وَالرَّابِع نَحْو لزيد قَائِم

وَالْجُمْلَة تسمى فعلية إِن بدأت بِفعل سَوَاء كَانَ مَاضِيا أم مضارعا أم أمرا وَسَوَاء كَانَ الْفِعْل متصرفا أم جَامِدا وَسَوَاء كَانَ تَاما أم نَاقِصا وَسَوَاء كَانَ مَبْنِيا للْفَاعِل أم مَبْنِيا للْمَفْعُول كقام زيد وَيضْرب عَمْرو وَاضْرِبْ زيدا وَنعم العَبْد وَكَانَ زيد قَائِما و {قتل الخراصون} وَلَا فرق فِي الْفِعْل أَن يكون مَذْكُورا أَو محذوفا تقدم معموله عَلَيْهِ أَولا تقدم عَلَيْهِ حرف أَولا نَحْو هَل قَامَ زيد وَنَحْو زيدا ضَربته وَيَا عبد الله فزيدا وَعبد الله منصوبان بِفعل مَحْذُوف لِأَن التَّقْدِير فِي الأول ضربت زيدا ضَربته فَحذف ضربت لوُجُود مفسره وَهُوَ ضَربته وَفِي الثَّانِي أَدْعُو عبد الله فَحذف أَدْعُو لِأَن حرف النداء نَائِب عَنهُ وَنَحْو {ففريقا كَذبْتُمْ} ففريقا مقدم من تَأْخِير وَالْأَصْل كَذبْتُمْ فريقا

ثمَّ الْجُمْلَة تَنْقَسِم ثَانِيًا بِالنِّسْبَةِ إِلَى الوصفية الى صغرى وكبرى فالصغرى هِيَ الْمخبر بهَا عَن مُبْتَدأ فِي الأَصْل أَو فِي الْحَال إسمية كَانَت أَو فعلية

والكبرى هِيَ الَّتِي خَبَرهَا جملَة كزيد قَامَ أَبوهُ فجملة قَامَ أَبوهُ
যেমন ‘হায়হাত আল-আকিক’। যখন এর উপর কোনো অব্যয় প্রবেশ করে, তখন এটি এর নাম পরিবর্তন করে না; চাই তা অর্থ অপরিবর্তিত রেখে ব্যাকরণিক বিন্যাস (ই’রাব) পরিবর্তন করুক, কিংবা ব্যাকরণিক বিন্যাস অপরিবর্তিত রেখে অর্থ পরিবর্তন করুক, অথবা উভয়ই পরিবর্তন করুক, কিংবা কোনোটিই পরিবর্তন না করুক। প্রথমটির উদাহরণ: ‘ইন্না যাইদান কায়িমুন’, দ্বিতীয়টি: ‘হাল যাইদুন কায়িমুন’, তৃতীয়টি: ‘মা যাইদুন কায়িমান’, এবং চতুর্থটি: ‘লা-যাইদুন কায়িমুন’।

আর বাক্যটিকে ক্রিয়াসূচক বাক্য (জুমলা ফে’লিয়া) বলা হয় যদি তা ক্রিয়া দ্বারা শুরু হয়; চাই সেই ক্রিয়াটি অতীতকালীন, বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন কিংবা আদেশসূচক হোক। আর সেই ক্রিয়াটি রূপান্তরযোগ্য হোক কিংবা রূপান্তরহীন হোক; পূর্ণাঙ্গ হোক কিংবা অসম্পূর্ণ হোক; আর তা কতৃবাচ্য হোক কিংবা কর্মবাচ্য হোক। যেমন: ‘কামা যাইদুন’, ‘ইয়াদরিবু আমরুন’, ‘ইদরিব যাইদান’, ‘নি’মাল আবদু’, ‘কানা যাইদুন কায়িমান’ এবং {কুতিলাল খাররাসুন}। ক্রিয়াটি উল্লিখিত থাকুক কিংবা উহ্য থাকুক তাতে কোনো পার্থক্য নেই; তার সংশ্লিষ্ট পদ (মা’মূল) তার পূর্বে আসুক বা না আসুক; তার পূর্বে কোনো অব্যয় আসুক বা না আসুক। যেমন: ‘হাল কামা যাইদুন’, এবং ‘যাইদান দারাবতুহু’ ও ‘ইয়া আবদুল্লাহ’। এখানে ‘যাইদান’ এবং ‘আবদুল্লাহ’ শব্দ দুটি একটি উহ্য ক্রিয়া দ্বারা যবরযুক্ত (মানসুব) হয়েছে। কারণ প্রথমটির ক্ষেত্রে মূল বিন্যাস ছিল ‘দারাবতু যাইদান দারাবতুহু’; এখানে ‘দারাবতু’ ক্রিয়াটি উহ্য রাখা হয়েছে কারণ তার ব্যাখ্যাকারী হিসেবে ‘দারাবতুহু’ বিদ্যমান রয়েছে। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে মূল ছিল ‘আদউ আবদুল্লাহ’; এখানে ‘আদউ’ উহ্য রাখা হয়েছে কারণ সম্বোধনসূচক অব্যয় তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আর যেমন {ফাফারিকান কাযযাবতুম}, এখানে ‘ফারিকান’ শব্দটি বাক্যবিন্যাসের শেষে থাকার কথা থাকলেও আগে আনা হয়েছে এবং এর মূল রূপ ছিল ‘কাযযাবতুম ফারিকান’।

অতঃপর বাক্যটি বর্ণনার আধারে পুনরায় ক্ষুদ্র বাক্য ও বৃহৎ বাক্য—এই দুই ভাগে বিভক্ত। ক্ষুদ্র বাক্য হলো সেই বাক্য যা মূলত কিংবা বর্তমানে কোনো উদ্দেশ্য (মুক্তাদা) সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করে, তা বিশেষ্যসূচক বাক্য হোক কিংবা ক্রিয়াসূচক বাক্য হোক।

আর বৃহৎ বাক্য হলো সেই বাক্য যার বিধেয় (খবর) নিজেই একটি বাক্য। যেমন: ‘যাইদুন কামা আবুহু’। এখানে ‘কামা আবুহু’ বাক্যটি (একটি বৃহৎ বাক্যের খবর)।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩৪)
صغرى لِأَنَّهَا خبر عَن زيد

وَجُمْلَة زيد قَامَ أَبوهُ كبرى لِأَن خبر الْمُبْتَدَأ فِيهَا جملَة

وَقد تكون الْجُمْلَة صغرى وكبرى باعتبارين كَمَا إِذا قيل زيد أَبوهُ غُلَامه منطلق فزيد مُبْتَدأ أول وَأَبوهُ مُبْتَدأ ثَان وَغُلَامه مُبْتَدأ ثَالِث ومنطلق خبر الْمُبْتَدَأ الثَّالِث وَهُوَ غُلَامه والمبتدأ الثَّالِث وَخَبره وهما غُلَامه منطلق خبر الْمُبْتَدَأ الثَّانِي وَهُوَ أَبوهُ والرابط بَينهمَا الْهَاء من غُلَامه والمبتدأ الثَّانِي وَخَبره وهما أَبوهُ غُلَامه منطلق خبر الْمُبْتَدَأ الأول وَهُوَ زيد والرابط بَينهمَا الْهَاء من أَبوهُ وَيُسمى الْمَجْمُوع وَهُوَ زيد ومنطلق وَمَا بَينهمَا جملَة كبرى لَا غير لِأَن خبر مبتدأيها جملَة وَتسَمى جملَة غُلَامه منطلق جملَة صغرى لَا غير لِأَنَّهَا وَقعت خَبرا عَن مُبْتَدأ وَهُوَ أَبوهُ وَتسَمى جملَة أَبوهُ غُلَامه منطلق جملَة كبرى بِالنِّسْبَةِ إِلَى جملَة غُلَامه منطلق وَتسَمى جملَة أَبوهُ غُلَامه منطلق أَيْضا جملَة صغرى بِالنِّسْبَةِ إِلَى زيد لكَونهَا وَقعت خَبرا عَنهُ وَالْمعْنَى غُلَام أَي زيد منطلق وَلَك فِي الرابط طَرِيقَانِ أَحدهمَا أَن تضيف كلا من المبتدآت غير الأول إِلَى ضمير متلوه كَمَا مثل المُصَنّف وَالثَّانِي أَن تَأتي بالرابط بعد خبر المبتدإ الْأَخير نَحْو زيد هِنْد الأخوان الزيدون ضاربوهما عِنْدهَا باذنه فضمير التَّثْنِيَة للأخوين وَضمير الْمُؤَنَّث لهِنْد وَضمير الْمُذكر لزيد وَيتَفَرَّع من هذَيْن الطَّرِيقَيْنِ طَريقَة ثَالِثَة مركبة مِنْهُمَا وَهِي أَن نجْعَل بعض الروابط مَعَ الْمُبْتَدَأ وَبَعضهَا مَعَ الْخَبَر نَحْو زيد عبداه الزيدون ضاربوهما وَمثله فِي كَون الْجُمْلَة فِيهِ صغرى وكبرى باعتبارين قَوْله تَعَالَى {لَكِن هُوَ الله رَبِّي} إِذْ اصله أَي أصل {لَكِن هُوَ الله رَبِّي} لَكِن أَنا فحذفت الْهمزَة بِنَقْل الْحَرَكَة أَو بِدُونِهِ
এটি ক্ষুদ্রতর (صغرى), কারণ এটি যায়েদ সম্পর্কে একটি সংবাদ (خبر)।

এবং "যায়েদ তার পিতা দাঁড়িয়েছে" বাক্যটি (جملة) বৃহত্তর (كبرى), কারণ এতে মুক্তাদার (مبتدأ) সংবাদটি (خبر) একটি বাক্য (جملة)।

আবার ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বাক্য (جملة) একই সাথে ক্ষুদ্রতর (صغرى) এবং বৃহত্তর (كبرى) হতে পারে; যেমন যদি বলা হয় "যায়েদ, তার পিতা, তার গোলাম প্রস্থানকারী", এখানে 'যায়েদ' হলো প্রথম মুক্তাদা (مبتدأ), 'তার পিতা' দ্বিতীয় মুক্তাদা (مبتدأ), এবং 'তার গোলাম' তৃতীয় মুক্তাদা (مبتدأ)। আর 'প্রস্থানকারী' হলো তৃতীয় মুক্তাদার (مبتدأ) সংবাদ (خبر) যা হলো 'তার গোলাম'। আর তৃতীয় মুক্তাদা (مبتدأ) ও তার সংবাদ (خبر) — অর্থাৎ 'তার গোলাম প্রস্থানকারী' — হলো দ্বিতীয় মুক্তাদার (مبتدأ) সংবাদ (خبر) যা হলো 'তার পিতা', আর তাদের উভয়ের মাঝে সংযোগকারী (رابط) হলো 'গোলাম' শব্দের 'হা' (هاء) বর্ণটি। এবং দ্বিতীয় মুক্তাদা (مبتدأ) ও তার সংবাদ (خبر) — অর্থাৎ 'তার পিতা, তার গোলাম প্রস্থানকারী' — হলো প্রথম মুক্তাদার (مبتدأ) সংবাদ (خبر) যা হলো 'যায়েদ', আর তাদের মাঝে সংযোগকারী (رابط) হলো 'পিতা' শব্দের 'হা' (هاء) বর্ণটি। আর এই সমষ্টিকে — যা হলো 'যায়েদ', 'প্রস্থানকারী' এবং তাদের মধ্যবর্তী অংশ — কেবল বৃহত্তর (كبرى) বাক্য (جملة) বলা হয় কারণ এর মুক্তাদাদ্বয়ের সংবাদ (خبر) হলো একটি বাক্য (جملة)। আর 'তার গোলাম প্রস্থানকারী' বাক্যটিকে (جملة) কেবল ক্ষুদ্রতর (صغرى) বলা হয় কারণ এটি একটি মুক্তাদার (مبتدأ) সংবাদ (خبر) হিসেবে এসেছে যা হলো 'তার পিতা'। আর 'তার পিতা, তার গোলাম প্রস্থানকারী' বাক্যটিকে (جملة) 'তার গোলাম প্রস্থানকারী' বাক্যের (جملة) প্রেক্ষিতে বৃহত্তর (كبرى) বলা হয়, আবার যায়েদের প্রেক্ষিতে এটি ক্ষুদ্রতর (صغرى) বাক্য (جملة) হিসেবেও গণ্য হয় কারণ এটি তার সম্পর্কে সংবাদ (خبر) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ হলো যায়েদের গোলাম প্রস্থানকারী। সংযোগকারী (رابط) ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনার দুটি পদ্ধতি রয়েছে: একটি হলো প্রথমটি ব্যতীত প্রতিটি মুক্তাদাকে (مبتدأ) তার পরবর্তী শব্দের সর্বনামের (ضمير) সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা, যেমনটি লেখক উদাহরণ দিয়েছেন। দ্বিতীয়টি হলো সর্বশেষ মুক্তাদার সংবাদের (خبر) পরে সংযোগকারী (رابط) নিয়ে আসা, যেমন: 'যায়েদ, হিন্দ, দুই ভাই এবং যায়েদগণ — তারা (যায়েদগণ) তার (হিন্দের) নিকট তার (যায়েদের) অনুমতিক্রমে ঐ দুই ভাইকে প্রহারকারী'। এখানে দ্বিবচনের সর্বনামটি (ضمير) দুই ভাইয়ের জন্য, স্ত্রীলিঙ্গের সর্বনামটি (ضمير) হিন্দের জন্য এবং পুংলিঙ্গের সর্বনামটি (ضمير) যায়েদের জন্য। এই দুই পদ্ধতি থেকে একটি তৃতীয় পদ্ধতির উদ্ভব হয় যা এ দুটির সমন্বয়ে গঠিত; আর তা হলো কিছু সংযোগকারীকে (رابط) মুক্তাদার (مبتدأ) সাথে রাখা এবং কিছুকে সংবাদের (خبر) সাথে রাখা, যেমন: 'যায়েদ, তার দুই গোলাম এবং যায়েদগণ — তারা ঐ দুই গোলামকে প্রহারকারী'। ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বাক্য (جملة) একই সাথে ক্ষুদ্রতর (صغرى) ও বৃহত্তর (كبرى) হওয়ার অনুরূপ উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "কিন্তু তিনি আল্লাহ আমার প্রতিপালক", কারণ এর মূল ছিল — অর্থাৎ "কিন্তু তিনি আল্লাহ আমার প্রতিপালক"-এর মূল রূপ হলো — "কিন্তু আমি", অতঃপর হরকতের রূপান্তরের মাধ্যমে অথবা তা ছাড়াই হামজাহ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وتلاقت النونان فأدغم فِي قِرَاءَة ابْن عَامر بِإِثْبَات ألف نَا وصلا ووقفا وَالَّذِي حسن ذَلِك وُقُوع الْألف عوضا عَن همزَة أَنا وَقَرَأَ أبي بن كَعْب لَكِن أَنا على الأَصْل وَإِلَّا أَي وَإِن لم يكن أَصله لَكِن أَنا بِالتَّخْفِيفِ بل كَانَ أَصله لَكِن هُوَ بِالتَّشْدِيدِ وَإِسْقَاط الْألف لقيل لكنه لِأَن لَكِن الْمُشَدّدَة عاملة عمل إِن فَإِذا كَانَ اسْمهَا ضميرا وَجب اتِّصَاله بهَا

وَقد تسَامح المصنفون بِدُخُول اللَّام فِي جَوَاب إِن الشّرطِيَّة المقرونة بِلَا النافية فِي قَوْلهم وَإِلَّا لَكَانَ كَذَا حملا على دُخُولهَا فِي جَوَاب لَو الشّرطِيَّة لِأَنَّهَا أُخْتهَا وَمنع الْجُمْهُور دُخُول اللَّام فِي جَوَاب إِن وَأَجَازَهُ ابْن الْأَنْبَارِي

দুটি 'নূন' একত্রিত হয়েছে, ফলে ইবনে আমিরের কিরাআতে (قراءة) তা ইদগাম (إدغام) করা হয়েছে, সংযুক্তি (وصلا) ও বিরতি (وقفا) উভয় অবস্থায় 'না'-এর আলিফকে বহাল রাখার মাধ্যমে। আর যা এই বিষয়টিকে শ্রুতিমধুর করেছে তা হলো 'আনা' শব্দের হামজার পরিবর্তে আলিফের প্রতিস্থাপন। উবাই ইবনে কাব মূল রূপ অনুযায়ী 'লাকিন আনা' পাঠ করেছেন। অন্যথায়, অর্থাৎ যদি এর মূল রূপটি লঘুকরণ (تخفيف) সহ 'লাকিন আনা' না হয়ে বরং দ্বিত্বকরণ (تشديد) সহ হতো এবং আলিফ বিলুপ্ত হতো, তবে 'লাকিন্নাহু' বলা হতো। কারণ দ্বিত্বযুক্ত 'লাকিন' শব্দটি 'ইন্না'-এর ন্যায় আমল বা কার্য সম্পাদন করে; সুতরাং যখন এর ইসম (اسم) সর্বনাম হয়, তখন তা শব্দের সাথে সংযুক্ত হওয়া আবশ্যক।

গ্রন্থকারগণ না-বোধক 'লা' যুক্ত শর্তসূচক 'ইন'-এর জবাবে 'লাম' ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন—যেমন তাঁদের উক্তি: "অন্যথায় এমন হতো"—একে শর্তসূচক 'লাউ'-এর জবাবের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হিসেবে গণ্য করে, যেহেতু এটি তার সমগোত্রীয়। জুমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমগণ 'ইন'-এর জবাবে 'লাম' ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন, তবে ইবনুল আনবারী একে বৈধতা দিয়েছেন।

(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَلَكِن حرف اسْتِدْرَاك من أكفرت كَأَنَّهُ قَالَ أَنْت كَافِر بِاللَّه لَكِن أَنا هُوَ الله رَبِّي فَأَنا مُبْتَدأ أول وَهُوَ ضمير الشَّأْن مُبْتَدأ ثَان وَالله مُبْتَدأ ثَالِث

وربي خبر الثَّالِث وَالثَّالِث وَخَبره خبر الثَّانِي وَلَا يحْتَاج إِلَى رابط لِأَنَّهَا خبر عَن ضمير الشَّأْن وَالثَّانِي وَخَبره خبر الأول والرابط بَينهمَا يَاء الْمُتَكَلّم وَيُسمى الْمَجْمُوع جملَة كبرى وَالله رَبِّي جملَة صغرى وَهُوَ الله رَبِّي جملَة كبرى بِالنِّسْبَةِ إِلَى الله رَبِّي وصغرى بِالنِّسْبَةِ إِلَى أَنا

وَقد تكون الْجُمْلَة لَا صغرى وَلَا كبرى لفقد الشَّرْطَيْنِ كقام زيد وَهَذَا زيد
কিন্তু (لكن) শব্দটি 'তুমি কি অস্বীকার করেছ' (বাক্যাংশ) থেকে সংশোধনী অব্যয় (حرف استدراك) হিসেবে এসেছে; যেন তিনি বলছেন: তুমি আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী, কিন্তু আমি—তিনিই আল্লাহ আমার রব। এখানে 'আমি' হলো প্রথম উদ্দেশ্য (مبتدأ), 'তিনি' হলো ঘটনার পরিচায়ক সর্বনাম (ضمير الشأن) যা দ্বিতীয় উদ্দেশ্য (مبتدأ), এবং 'আল্লাহ' হলো তৃতীয় উদ্দেশ্য (مبتدأ)।

আর 'আমার রব' হলো তৃতীয় খণ্ডের বিধেয় (خبر), এবং তৃতীয় উদ্দেশ্য ও তার বিধেয় মিলে দ্বিতীয় উদ্দেশ্যের বিধেয় (خبر) হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে কোনো সংযোগকারীর (رابط) প্রয়োজন নেই, কারণ এটি ঘটনার পরিচায়ক সর্বনাম (ضمير الشأن) সম্পর্কে বিধেয়। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ও তার বিধেয় মিলে প্রথম উদ্দেশ্যের বিধেয় (خبر) হবে এবং এই দুইয়ের মাঝে সংযোগকারী (رابط) হলো উত্তম পুরুষবাচক ইয়া (ياء المتكلم)। এই সমষ্টিগত রূপটিকে বৃহৎ বাক্য (جملة كبرى) বলা হয়। 'আল্লাহ আমার রব' হলো ক্ষুদ্র বাক্য (جملة صغرى), এবং 'তিনিই আল্লাহ আমার রব' অংশটি 'আল্লাহ আমার রব' এর তুলনায় বৃহৎ বাক্য (جملة كبرى) এবং 'আমি' এর তুলনায় ক্ষুদ্র বাক্য (جملة صغرى)।

কখনো কখনো বাক্য ক্ষুদ্র (صغرى) বা বৃহৎ (كبرى) কোনোটিই হয় না যদি উভয় শর্তের অনুপস্থিতি থাকে, যেমন: 'যায়েদ দাঁড়িয়েছে' এবং 'এ হলো যায়েদ'।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة فِي بَيَان الْجمل الَّتِي لَهَا مَحل من الْإِعْرَاب

 

الَّذِي هُوَ الرّفْع وَالنّصب والخفض والجزم وَهِي سبع على الْمَشْهُور إِحْدَاهَا الْوَاقِعَة خَبرا لمبتدأ فِي الأَصْل أَو فِي الْحَال فَالْأول نَحْو زيد قَامَ أَبوهُ فجملة قَامَ أَبوهُ فِي مَوضِع رفع خبر زيد وَالثَّانِي نَحْو إِن زيدا أَبوهُ قَائِم فجملة أَبوهُ قَائِم فِي مَوضِع رفع خبر إِن وَالْفرق بَين الْبَابَيْنِ من وُجُوه أَحدهَا إِن الْعَامِل فِي الْخَبَر على الأول الْمُبْتَدَأ وعَلى الثَّانِي إِن

ثَانِيهَا إِن الْخَبَر فِي الأول مُحكم وَفِي الثَّانِي مَنْسُوخ

ثَالِثهَا إِن الْخَبَر فِي الأول يلقى إِلَى خَالِي الذِّهْن من الحكم والتردد فِيهِ وَالثَّانِي يلقى إِلَى الشاك أَو الْمُنكر فِي أول درجاته
দ্বিতীয় আলোচনা (المسألة الثانية): সেই বাক্যসমূহের বর্ণনায় যেগুলোর ব্যাকরণিক অবস্থান (محل من الإعراب) রয়েছে

 

তা হলো রফউ (الرفع), নসব (النصب), খফয (الخفض) এবং জজম (الجزم); আর প্রসিদ্ধ মতানুসারে তা সাতটি। তার মধ্যে একটি হলো—যা মূলত অথবা বর্তমান অবস্থায় মুবতাদার খবর (خبر) হিসেবে আপতিত হয়। প্রথমটির উদাহরণ: ‘যায়েদ, তার পিতা দাঁড়িয়েছেন’; এখানে ‘তার পিতা দাঁড়িয়েছেন’ বাক্যটি যায়েদ-এর খবর (خبر) হিসেবে রফউ (رفع) এর স্থলে রয়েছে। দ্বিতীয়টির উদাহরণ: ‘নিশ্চয়ই যায়েদ, তার পিতা দণ্ডায়মান’; এখানে ‘তার পিতা দণ্ডায়মান’ বাক্যটি ইন্না-র খবর (خبر) হিসেবে রফউ (رفع) এর স্থলে রয়েছে। এই দুই প্রকারের মধ্যে কয়েক দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে। প্রথমত, প্রথমটির ক্ষেত্রে খবরের আমিল (العامل) হলো মুবতাদা (المبتدأ), আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে আমিল হলো ইন্না (إن)।

দ্বিতীয়ত, প্রথম প্রকারের খবরটি সুপ্রতিষ্ঠিত (محكم), আর দ্বিতীয় প্রকারের খবরটি রহিত বা পরিবর্তিত (منسوخ)।

তৃতীয়ত, প্রথম প্রকারের খবরটি এমন ব্যক্তির নিকট পেশ করা হয় যে বিধান ও এ বিষয়ে সংশয় থেকে মুক্তমনা (خالي الذهن); আর দ্বিতীয় প্রকারের খবরটি সংশয়বাদী (شاك) অথবা প্রাথমিক স্তরের অস্বীকারকারীর (منكر) নিকট পেশ করা হয়।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩৮)
وموضعها نصب فِي بَابي كَانَ وَكَاد فَالْأول نَحْو {كَانُوا أنفسهم يظْلمُونَ} فجملة يظْلمُونَ من الْفِعْل وَالْفَاعِل فِي مَوضِع نصب خبر لَكَانَ وَالثَّانِي نَحْو {وَمَا كَادُوا يَفْعَلُونَ} فجملة يَفْعَلُونَ فِي مَوضِع نصب خبر لكاد

وَالْفرق بَين الْبَابَيْنِ من وُجُوه الأول أَن جملَة خبر كَانَ تكون جملَة اسمية أَو فعلية وَجُمْلَة خبر كَاد لَا تكون إِلَّا فعلية فعلهَا مضارع

الثَّانِي إِن خبر كَانَ لَا يجوز إقترانه بِأَن المصدرية وَيجوز فِي خبر كَاد

الثَّالِث أَن خبر كَانَ مُخْتَلف فِي نَصبه على ثَلَاثَة أَقْوَال أَحدهَا أَنه خبر مشبه بالمفعول عِنْد الْبَصرِيين
আর 'কান' এবং 'কাদ'-এর অধ্যায়দ্বয়ে এদের অবস্থান হলো নসব (نصب)। প্রথমটির উদাহরণ যেমন: {তারা নিজেদের প্রতিই জুলুম করত}; এখানে 'তারা জুলুম করত' বাক্যটি ক্রিয়া (فعل) এবং কর্তা (فاعل) মিলে 'কান'-এর খবর (خبر) হিসেবে নসব (نصب)-এর স্থানে রয়েছে। দ্বিতীয়টির উদাহরণ যেমন: {এবং তারা তা করতে প্রস্তুত ছিল না}; এখানে 'তারা করত' বাক্যটি 'কাদ'-এর খবর (خبر) হিসেবে নসব (نصب)-এর স্থানে রয়েছে।

উভয় অধ্যায়ের মধ্যকার পার্থক্য কয়েকটি দিক থেকে বিদ্যমান। প্রথমত: 'কান'-এর খবর (خبر) বিশেষ্যমূলক বাক্য (جملة اسمية) অথবা ক্রিয়ামূলক বাক্য (جملة فعلية) হতে পারে, কিন্তু 'কাদ'-এর খবর (خبر) কেবল ক্রিয়ামূলক বাক্য (جملة فعلية) ব্যতীত অন্য কিছু হয় না, যার ক্রিয়াটি হবে মুদারে (مضارع)।

দ্বিতীয়ত: 'কান'-এর খবরের সাথে আন মাসদারিয়্যাহ (أن المصدرية) যুক্ত হওয়া জায়েজ নয়, তবে 'কাদ'-এর খবরের ক্ষেত্রে তা জায়েজ।

তৃতীয়ত: 'কান'-এর খবরের নসব (نصب) হওয়ার বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো—বসরাবাসীদের মতে এটি এমন একটি খবর (خبر) যা কর্মের (مفعول) সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَالثَّانِي أَنه مشبه بِالْحَال عِنْد الْفراء

وَالثَّالِث أَنه حَال عِنْد بَقِيَّة الْكُوفِيّين

بِخِلَاف خبر كَاد فَإِنَّهُ مَنْصُوب بهَا بِلَا خلاف الْجُمْلَة الثَّانِيَة وَالثَّالِثَة من الَّتِي لَهَا مَحل الْوَاقِعَة حَالا والواقعة مَفْعُولا بِهِ ومحلهما النصب فالحالية نَحْو قَوْله تَعَالَى {وجاؤوا أباهم عشَاء يَبْكُونَ} فجملة يَبْكُونَ من الْفِعْل وَالْفَاعِل فِي مَحل نصب على حَال من الْوَاو وعشاء مَنْصُوب على الظَّرْفِيَّة

وَقَوله صلى الله عليه وسلم أقرب مَا يكون العَبْد من ربه وَهُوَ ساجد فجملة وَهُوَ ساجد من الْمُبْتَدَأ وَالْخَبَر فِي مَحل نصب على الْحَال من العَبْد

وَالْجُمْلَة المفعولية تقع فِي أَرْبَعَة مَوَاضِع الأول أَن تقع محكية بالْقَوْل نَحْو قَالَ إِنِّي عبد الله فجملة إِنِّي
দ্বিতীয় মতটি হলো, এটি আল-ফাররার নিকট হালের সাদৃশ্যপূর্ণ (مشبه بالحال)।

তৃতীয় মতটি হলো, এটি অবশিষ্ট কুফাবাসীদের নিকট হাল (حال)।

'কাদা' (كاد) এর খবরের বিষয়টি এর ব্যতিক্রম, কারণ সেটি কোনো মতভেদ ছাড়াই এর মাধ্যমে মানসুব (منصوب) হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রকারের বাক্য—যাদের ব্যাকরণিক অবস্থান (محل) রয়েছে—তা হলো হাল (حال) হিসেবে পতিত হওয়া এবং মাফউল বিহি (مفعول به) হিসেবে পতিত হওয়া; আর উভয়ের অবস্থানই হলো নসব (نصب)। হাল (حال) সম্বন্ধীয় বাক্যের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তাদের পিতার নিকট সন্ধ্যায় কাঁদতে কাঁদতে এল}। এখানে 'ইয়াবকুন' (يَبْكُونَ) বাক্যটি ক্রিয়া (فعل) ও কর্তা (فاعل) মিলে 'ওয়াও' থেকে হাল (حال) হওয়ার ভিত্তিতে নসবের মহলে (محل نصب) রয়েছে এবং 'ইশা-আন' (عشاء) শব্দটি আধার বা সময় (ظرفية) হিসেবে মানসুব (منصوب) হয়েছে।

এবং নবী ﷺ-এর বাণী: "বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হয় যখন সে সিজদারত থাকে।" এখানে 'ওয়া হুয়া সাজিদ' (وَهُوَ ساجد) বাক্যটি মুবতাদা (مبتدأ) ও খবর (خبر) মিলে 'বান্দা' (العبد) থেকে হাল (حال) হওয়ার কারণে নসবের মহলে (محل نصب) রয়েছে।

আর মাফউল (مفعول) সম্বন্ধীয় বাক্যটি চারটি ক্ষেত্রে পতিত হয়। প্রথমটি হলো যা উক্তি (قول) হিসেবে বর্ণিত হয়, যেমন: তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা।" এখানে 'ইন্নি' (إِنِّي) বাক্যটি...
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪০)
عبد الله فِي مَوضِع نصب على المفعولية محكية بقال وَالدَّلِيل على أَنَّهَا محكية بقال كسر إِن بعد دُخُول قَالَ

وَالثَّانِي أَن تقع تالية للْمَفْعُول الأول فِي بَاب ظن نَحْو ظَنَنْت زيدا يقْرَأ فجملة يقْرَأ من الْفِعْل وفاعله الْمُسْتَتر فِيهِ فِي مَوضِع نصب على أَنَّهَا الْمَفْعُول الثَّانِي لظن

وَالثَّالِث أَن تقع تالية للْمَفْعُول الثَّانِي فِي بَاب أعلم نَحْو أعلمت زيدا عمرا أَبوهُ قَائِم فجملة أَبوهُ قَائِم فِي مَوضِع نصب على أَنَّهَا الْمَفْعُول الثَّالِث لأعْلم

وَإِنَّمَا لم تقع تالية للْمَفْعُول فِي بَاب اعْلَم لِأَن مَفْعُوله الثَّانِي مُبْتَدأ فِي الأَصْل والمبتدأ لَا يكون جملَة

وَالرَّابِع أَن تقع مُعَلّقا عَنْهَا الْعَامِل وَالتَّعْلِيق إبِْطَال الْعَمَل لفظا وإبقاؤه محلا لمجىء مَا لَهُ صدر الْكَلَام سَوَاء كَانَ الْعَامِل من بَاب علم أم من غَيره فَالْأول نَحْو {لنعلم أَي الحزبين أحصى}

فَأَي الحزبين مُبْتَدأ ومضاف إِلَيْهِ وأحصى خَبره وَهُوَ فعل مَاض لَا اسْم تَفْضِيل من الإحصاء على الْأَصَح وَجُمْلَة الْمُبْتَدَأ وَخَبره فِي مَوضِع نصب سادة مسد مفعولي نعلم

وَالثَّانِي {فَلْينْظر أَيهَا أزكى طَعَاما} فأيها مُبْتَدأ ومضاف إِلَيْهِ وأزكى خَبره وَطَعَامًا تَمْيِيز وَجُمْلَة الْمُبْتَدَأ وَخَبره فِي مَوضِع نصب سادة مسد مفعول ينظر الْمُقَيد بالجار

قَالَ المُصَنّف فِي الْمُغنِي لِأَنَّهُ يُقَال نظرت فِيهِ وَلكنه هُنَا علق بالاستفهام عَن الْوُصُول فِي اللَّفْظ إِلَى
'আবদুল্লাহ' শব্দটি 'কাল' (قَالَ) ক্রিয়ার মাধ্যমে বর্ণিত (محكية) হওয়ার কারণে মাফউল (مفعول) হিসেবে নসব (نصب)-এর স্থলে রয়েছে। আর এটি যে 'কাল' (قَالَ) দ্বারা বর্ণিত, তার প্রমাণ হলো 'কাল' (قَالَ) শব্দটির পরে 'ইন্না' (إِن) বর্ণের নিচে কাসরা হওয়া।

দ্বিতীয় প্রকার হলো, 'যন্না' (ظن) অধ্যায়ে প্রথম মাফউল (مفعول)-এর অনুবর্তী হওয়া। যেমন: 'যানানতু যাইদান ইয়াকরাউ' (ظَنَنْت زيدا يقْرَأ)। এখানে ক্রিয়া ও তার অন্তর্গত উহ্য কর্তা নিয়ে গঠিত 'ইয়াকরাউ' বাক্যটি 'যন্না' এর দ্বিতীয় মাফউল (مفعول) হিসেবে নসব (نصب)-এর স্থলে রয়েছে।

তৃতীয় প্রকার হলো, 'আ'লামা' (أعلم) অধ্যায়ে দ্বিতীয় মাফউল (مفعول)-এর অনুবর্তী হওয়া। যেমন: 'আ'লামতু যাইদান আমরান আবুহু কায়িমুন' (أعلمت زيدا عمرا أَبوهُ قَائِم)। এখানে 'আবুহু কায়িমুন' বাক্যটি 'আ'লামা' এর তৃতীয় মাফউল (مفعول) হিসেবে নসব (نصب)-এর স্থলে রয়েছে।

'আ'লাম' (اعْلَم) এর ক্ষেত্রে এটি মাফউল-এর অনুবর্তী হয় না, কারণ এর দ্বিতীয় মাফউল (مفعول) মূলত মুবতাদা (مبتدأ) হয়ে থাকে, আর মুবতাদা (مبتدأ) কখনও বাক্য হয় না।

চতুর্থ প্রকার হলো, আমিল (عامل) বা ক্রিয়াটি সেই বাক্য থেকে স্থগিত (تعليق) হওয়া। তালীক (تعليق) বলতে বোঝায়—বাক্যের শুরুতে আসার অধিকার রাখে এমন কোনো শব্দের আগমনের কারণে শব্দগতভাবে আমল বাতিল হওয়া কিন্তু স্থানগতভাবে তা বহাল থাকা। এই আমিল (عامل) 'আলিমা' (علم) অধ্যায়ের হোক বা অন্য কোনো অধ্যায়ের হোক। প্রথমটির উদাহরণ: {যাতে আমি জেনে নিই যে, দুই দলের মধ্যে কোনটি অধিক সঠিকভাবে গণনা করেছে}।

এখানে 'আইয়্যু' (أَي) শব্দটি মুবতাদা (مبتدأ) ও মুদাফ ইলাইহি এবং 'আহসা' (أحصى) হলো তার খবর (خبر)। এটি বিশুদ্ধতম মতানুসারে 'ইহসা' থেকে নির্গত একটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض), ইসম তাফদীল (اسم تفضيل) নয়। আর মুবতাদা ও খবর সম্বলিত এই বাক্যটি নসব (نصب)-এর স্থলে থেকে 'না'লামু' (نعلم) ক্রিয়ার দুটি মাফউল (مفعول)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।

দ্বিতীয়টির উদাহরণ: {সে যেন দেখে যে, তাদের মধ্যে কার খাদ্য অধিক পবিত্র}। এখানে 'আইয়্যুহা' (أيها) মুবতাদা (مبتدأ) ও মুদাফ ইলাইহি এবং 'আযকা' (أزكى) হলো তার খবর (خبر), আর 'তাআমান' (طَعَامًا) হলো তাময়ীজ (تمييز)। মুবতাদা ও খবর সম্বলিত এই বাক্যটি নসব (نصب)-এর স্থলে থেকে 'ইয়ানযুর' (ينظر) ক্রিয়ার মাফউল (مفعول)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, যা হারফে জার দ্বারা সীমাবদ্ধ।

গ্রন্থকার 'মুগনি' গ্রন্থে বলেছেন: কারণ সাধারণত 'নাযারতু ফীহি' বলা হয়, কিন্তু এখানে এটি প্রশ্নবোধক চিহ্নের কারণে সরাসরি শব্দগত আমল থেকে স্থগিত (تعليق) হয়েছে...
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪১)
الْمَفْعُول وَهُوَ من حَيْثُ الْمَعْنى طَالب لَهُ على معنى ذَلِك الْحَرْف وَزعم ابْن عُصْفُور أَنه لَا يعلق فعل غير علم وَظن حَتَّى يتَضَمَّن مَعْنَاهُمَا وعَلى هَذَا تكون هَذِه الْجُمْلَة سادة مسد مفعولين انْتهى وَالنَّظَر والفكر فِي حَال المنظور فِيهِ

وَالرَّابِعَة من الْجمل الَّتِي لَهَا مَحل من الْإِعْرَاب الْجُمْلَة الْمُضَاف إِلَيْهَا ومحلها الْجَرّ فعلية كَانَت أَو اسمية فَالْأولى نَحْو قَوْله تَعَالَى {هَذَا يَوْم ينفع الصَّادِقين صدقهم} فجملة ينفع الصَّادِقين صدقهم فِي مَحل جر بِإِضَافَة يَوْم إِلَيْهَا

وَالثَّانيَِة نَحْو قَوْله تَعَالَى {يَوْم هم بارزون} فجملة هم بارزون من الْمُبْتَدَأ وَالْخَبَر فِي مَحل جر بِإِضَافَة يَوْم إِلَيْهَا وَالدَّلِيل على أَن يَوْم فيهمَا مُضَاف عدم تنوينه

وكذك كل جملَة بعد إِذْ الدَّالَّة على الْمَاضِي أَو إِذا الدَّالَّة على الْمُسْتَقْبل أَو حَيْثُ الدَّالَّة على الْمَكَان أَو لما الوجودية الدَّالَّة على وجود شَيْء لوُجُود غَيره عِنْد من قَالَ باسميتها وَهُوَ ابو بكر بن السراج
কর্ম (مفعول) এবং এটি অর্থের দিক থেকে সেই হরফের অর্থের ভিত্তিতে তার অন্বেষণকারী। ইবনে উসফুর দাবি করেছেন যে, 'ইলম' (علم) ও 'যন্ন' (ظن) ব্যতীত অন্য কোনো ক্রিয়াকে স্থগিত (تعليق) করা হয় না যতক্ষণ না তা এই দুইটির অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই ভিত্তিতে, এই বাক্যটি দুটি কর্মের (مفعولين) স্থলাভিষিক্ত হবে। সমাপ্ত। আর দৃষ্টিপাত (نظر) ও চিন্তা (فكر) হলো যা দেখা হচ্ছে তার অবস্থা সম্পর্কে।

চতুর্থটি হলো সেই সকল বাক্য যার ব্যাকরণগত অবস্থান (إعراب) রয়েছে; আর তা হলো সেই বাক্য যার দিকে সম্বন্ধ (مضاف إليه) করা হয়েছে। এর অবস্থান হলো জর (جر), চাই তা ক্রিয়াভিত্তিক বাক্য (جملة فعلية) হোক বা বিশেষ্যভিত্তিক বাক্য (جملة اسمية)। প্রথমটির উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {এটি এমন এক দিন যেদিন সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের উপকারে আসবে}; এখানে "সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা উপকারে আসবে" বাক্যটি এর দিকে 'ইয়াওম' (يوم) শব্দটির সম্বন্ধ (إضافة) হওয়ার কারণে জর (جر)-এর স্থলে রয়েছে।

দ্বিতীয়টির উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {যেদিন তারা প্রকাশ হয়ে পড়বে}; এখানে মুক্তাদা (مبتدأ) ও খবর (خبر) সম্বলিত "তারা প্রকাশ হয়ে পড়বে" বাক্যটি 'ইয়াওম' (يوم) শব্দের সম্বন্ধ (إضافة) হওয়ার কারণে জর (جر)-এর স্থলে রয়েছে। আর এই উভয় স্থানে 'ইয়াওম' শব্দটি যে সম্বন্ধযুক্ত (مضاف) হয়েছে তার প্রমাণ হলো এতে তানউইন (تنوين) না থাকা।

অনুরূপভাবে অতীতকাল জ্ঞাপক 'ইয' (إذ), ভবিষ্যৎকাল জ্ঞাপক 'ইযা' (إذا), স্থান জ্ঞাপক 'হাইসু' (حيث) অথবা অস্তিত্বমূলক 'লাম্মা' (لما الوجودية)—যা অন্য কিছুর অস্তিত্বের কারণে কোনো কিছুর অস্তিত্ব বোঝায়—এগুলোর পরবর্তী প্রতিটি বাক্যই এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত; এটি তাদের মত যারা একে বিশেষ্য (اسم) হিসেবে গণ্য করেন, আর তিনি হলেন আবু বকর ইবনুল সাররাজ।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪২)
وَتَبعهُ أَبُو عَليّ الْفَارِسِي وتبعهما أَبُو الْفَتْح بن جني وتبعهم جمَاعَة زَعَمُوا أَنَّهَا ظرف بِمَعْنى حِين وَقَالَ ابْن مَالك ظرف بِمَعْنى إِذْ وَاسْتَحْسنهُ المُصَنّف فِي الْمُغنِي أَو بَيْنَمَا أَو بَينا بِزِيَادَة الْمِيم فِي الأولي وحذفها فِي الثَّانِيَة فَهِيَ أَي الْجُمْلَة الْوَاقِعَة بعد هَذِه الْمَذْكُورَات كلهَا فِي مَوضِع خفض بإضافتهن أَي إِضَافَة هَذِه الْمَذْكُورَات إِلَيْهَا مِثَال إِذْ قَوْله تَعَالَى {واذْكُرُوا إِذْ أَنْتُم قَلِيل} و {إِذْ كُنْتُم قَلِيلا} فتضاف إِلَى الجملتين كَمَا مثلنَا وَمِثَال إِذا وتختص بالفعلية على الْأَصَح قَوْله تَعَالَى {إِذا جَاءَ نصر الله} وَمِثَال حَيْثُ جَلَست حَيْثُ جلس زيد وَحَيْثُ زيد جَالس فتضاف للجملتين كَمَا مثلنَا وإضافتها إِلَى الفعلية أَكثر

وَمِثَال لما قَوْلك لما جَاءَ زيد جَاءَ عَمْرو وتختص بِالْفِعْلِ الْمَاضِي

وَمِثَال بَيْنَمَا أَو بَينا قَوْلك بَيْنَمَا اَوْ بَينا زيد قَائِم أَو يقوم زيد وَالصَّحِيح أَن مَا كَافَّة لبين عَن الْإِضَافَة فَلَا مَحل للجملة بعْدهَا من الْإِعْرَاب وَاصل بَينا بَيْنَمَا فحذفت الْمِيم

এবং আবু আলী আল-ফারিসি তার অনুসরণ করেছেন, এবং আবু আল-ফাতহ ইবনে জিন্নি তাদের উভয়কে অনুসরণ করেছেন, এবং তাদের অনুসারী একটি দল দাবি করেছেন যে এটি 'হীন' অর্থে ব্যবহৃত একটি সময়বাচক অব্যয় (ظرف)। ইবনে মালিক বলেছেন যে, এটি 'ইয' অর্থে ব্যবহৃত একটি সময়বাচক অব্যয় (ظرف); আর আল-মুগনি গ্রন্থের লেখক একে উত্তম বলে অভিহিত করেছেন। অথবা এটি 'বাইনামা' বা 'বাইনা' এর অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেখানে প্রথম শব্দটিতে 'মীম' অতিরিক্ত যুক্ত হয়েছে এবং দ্বিতীয়টিতে তা বিলুপ্ত হয়েছে। সুতরাং, উল্লিখিত এই শব্দগুলোর পরে অবস্থিত বাক্যটি (جملة) এদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে সম্বন্ধসূচক অবস্থানে (خفض) থাকে; অর্থাৎ এই শব্দগুলো উক্ত বাক্যের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) হয়। 'ইয' এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {واذْكُرُوا إِذْ أَنْتُم قَلِيل} এবং {إِذْ كُنْتُم قَلِيلا}। সুতরাং এটি আমাদের প্রদর্শিত উদাহরণের ন্যায় উভয় প্রকার বাক্যের (جملة) দিকেই সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) হয়। আর 'ইযা' এর উদাহরণ—যা অধিকতর বিশুদ্ধ মতানুসারে ক্রিয়াপ্রধান বাক্যের (فعلية) জন্য সুনির্দিষ্ট—মহান আল্লাহর বাণী: {إِذا جَاءَ نصر الله}। আর 'হাইসু' এর উদাহরণ হলো: 'আমি বসেছি যেখানে যায়েদ বসেছে' এবং 'যেখানে যায়েদ উপবিষ্ট'। সুতরাং এটি আমাদের প্রদর্শিত উদাহরণের ন্যায় উভয় প্রকার বাক্যের (جملة) দিকেই সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) হয়, তবে ক্রিয়াপ্রধান বাক্যের (فعلية) দিকে এর সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) হওয়ার ব্যবহারই অধিক।

আর 'লাম্মা' এর উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: 'যখন যায়েদ আসল, তখন আমর আসল'। এটি অতীতকালবাচক ক্রিয়ার (ماضي) জন্য সুনির্দিষ্ট।

আর 'বাইনামা' অথবা 'বাইনা' এর উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: 'যখন যায়েদ দণ্ডায়মান' অথবা 'যখন যায়েদ দাঁড়াচ্ছিল'। সঠিক মত হলো, এখানে 'মা' বর্ণটি 'বাইন' শব্দটিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া (إضافة) থেকে নিবৃত্তকারী (كافة); তাই এর পরবর্তী বাক্যের (جملة) কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান (محل من الإعراب) নেই। আর 'বাইনা' এর মূল রূপ ছিল 'বাইনামা', যা থেকে 'মীম' বিলুপ্ত করা হয়েছে।

(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪৩)
وَالْجُمْلَة الْخَامِسَة الْوَاقِعَة جَوَابا لشرط جازم وَهُوَ إِن الشّرطِيَّة وَأَخَوَاتهَا ومحلها الْجَزْم إِذا كَانَت الْجُمْلَة الجوابية مقرونة بِالْفَاءِ سَوَاء كَانَت اسمية أم فعلية خبرية أم إنشائية أَو كَانَت مقرونة بإذا الفجائية وَلَا تكون إِلَّا اسمية والأداة إِن خَاصَّة فَالْأولى المقرونة بِالْفَاءِ نَحْو قَوْله تَعَالَى {من يضلل الله فَلَا هادي لَهُ ويذرهم}

فجملة لَا هادي لَهُ من لَا وَاسْمهَا وخبرها فِي مَحل جزم لوقوعها جَوَابا لشرط جزم وَهُوَ من وَلِهَذَا أَي وَلأَجل أَنَّهَا فِي مَحل جزم قريء بجزم يذرهم بِالْيَاءِ عطفا على مَحل الْجُمْلَة فيذرهم مجزوم فِي قِرَاءَة حَمْزَة وَالْكسَائِيّ مَعْطُوف على مَحل جملَة فَلَا هادي لَهُ وَالثَّانيَِة المقرونه بإذا الفجائية نَحْو قَوْله تَعَالَى {وَإِن تصبهم سَيِّئَة بِمَا قدمت أَيْديهم إِذا هم يقنطون} فجملة هم يقنطون فِي مَحل جزم لوقوعها جَوَابا لشرط جازم وَهُوَ إِن والفجأة البغته وَتَقْيِيد الشَّرْط بالجازم احْتِرَازًا عَن الشَّرْط غير الْجَازِم كإذا وَلَو وَلَوْلَا

فَأَما إِذا كَانَت جملَة الْجَواب فعلهَا مَاض خَال عَن الْفَاء نَحْو إِن قَامَ زيد قَامَ عَمْرو فَمحل الْجَزْم فِي الْجَواب مَحْكُوم بِهِ
পঞ্চম প্রকার বাক্য (جملة) হলো সেটি, যা জজম প্রদানকারী (جازم) শর্তের (شرط) উত্তর (جواب) হিসেবে আসে; আর তা হলো ‘ইন’ (إن) শর্তিয়া এবং এর সমগোত্রীয় শব্দাবলি। এর অবস্থান হলো জজমের স্থলাভিষিক্ত (محل الجزم), যখন উত্তর বাক্যটি ‘ফা’ (فاء)-এর সাথে যুক্ত থাকে; চাই সেটি বিশেষ্যবাচক বাক্য (جملة اسمية) হোক কিংবা সংবাদমূলক (خبرية) বা উদ্যোগমূলক (إنشائية) ক্রিয়াবাচক বাক্য (جملة فعلية) হোক। অথবা যদি সেটি আকস্মিকতা প্রকাশক ‘ইযা’ (إذا الفجائية)-এর সাথে যুক্ত থাকে; আর এটি কেবল বিশেষ্যবাচক বাক্যের (جملة اسمية) ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে এবং শর্তের অব্যয়টি কেবল ‘ইন’ (إن) হওয়ার সাথে নির্দিষ্ট। প্রথম প্রকারটি যা ‘ফা’ (فاء)-এর সাথে যুক্ত, তার উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই এবং তিনি তাদের ছেড়ে দেন}।

এখানে ‘লা হাদিয়া লাহু’ (لا هادي له) বাক্যটি ‘লা’ (لا) এবং এর বিশেষ্য (اسم) ও খবর (خبر) নিয়ে গঠিত হয়ে জজমের স্থলাভিষিক্ত (محل جزم) হয়েছে, কারণ এটি জজম প্রদানকারী (جازم) শর্ত ‘মান’ (من)-এর উত্তর (جواب) হিসেবে এসেছে। আর এই কারণেই—অর্থাৎ বাক্যটি জজমের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ফলেই—হামযাহ ও কিসায়ীর কিরাত অনুযায়ী ‘ইয়াযারুহুম’ (يذرهم) শব্দটিকে জজমসহ পাঠ করা হয়েছে, যা উক্ত বাক্যের জজমের অবস্থানের ওপর অন্বয় বা আতফ (عطف) হিসেবে গণ্য। সুতরাং হামযাহ ও কিসায়ীর কিরাতে ‘ইয়াযারুহুম’ শব্দটি জজমযুক্ত (مجزوم), যা ‘লা হাদিয়া লাহু’ বাক্যের জজমের অবস্থানের ওপর আতফ। দ্বিতীয় প্রকারটি যা আকস্মিকতা প্রকাশক ‘ইযা’ (إذا الفجائية)-এর সাথে যুক্ত, তার উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের ওপর কোনো বিপদ আসে, তখন তারা তৎক্ষণাৎ হতাশ হয়ে পড়ে}। এখানে ‘হুম ইয়াকনাতুন’ (هم يقنطون) বাক্যটি জজমের স্থলাভিষিক্ত (محل جزم) হয়েছে, কারণ এটি জজম প্রদানকারী (جازم) শর্ত ‘ইন’ (إن)-এর উত্তর (جواب) হিসেবে এসেছে। ‘ফুজআহ’ (فجأة) অর্থ হলো আকস্মিকতা (البغتة)। শর্তকে জজম প্রদানকারী (جازم) দ্বারা সীমাবদ্ধ করার উদ্দেশ্য হলো জজম প্রদান করে না (غير جازم) এমন শর্ত থেকে বিরত থাকা, যেমন: ‘ইযা’ (إذا), ‘লাও’ (لو) এবং ‘লাওলা’ (لولا)।

পক্ষান্তরে যদি উত্তর বাক্যের (جملة الجواب) ক্রিয়াটি ‘ফা’ (فاء) মুক্ত অতীতকালীন (ماض) হয়, যেমন: "যদি যায়েদ দাঁড়ায় তবে আমর দাঁড়াবে", তবে উত্তরের ক্ষেত্রে জজমের স্থলাভিষিক্ত (محل الجزم) হওয়ার বিধানটি সাব্যস্ত থাকে।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪৪)
للْفِعْل وَحده وَهُوَ قَامَ لَا للجملة بأسرها وَهُوَ قَامَ وفاعله

وَكَذَا أَي وكالقول فِي فعل الْجَواب القَوْل فِي فعل الشَّرْط إِن الْجَزْم مَحْكُوم بِهِ للْفِعْل وَحده لَا للجملة بأسرها لِأَن أَدَاة الشَّرْط إِنَّمَا تعْمل فِي شَيْئَيْنِ لفظا أَو محلا فَلَمَّا عملت فِي مَحل الْفِعْلَيْنِ لم يبْق لَهَا تسلط على مَحل الْجُمْلَة بأسرها وَلِهَذَا نقُول إِذا عطفت عَلَيْهِ أَي على فعل الشَّرْط الْمَاضِي فعلا مضارعا وَتَأَخر عَنْهَا مَعْمُول وأعملت الْفِعْل الأول وَهُوَ الْمَاضِي فِي الْمُتَنَازع فِيهِ نَحْو إِن قَامَ وَيقْعد أَخَوَاك قَامَ عَمْرو فتجزم الْمُضَارع الْمَعْطُوف على الْمَاضِي

قبل أَن تكمل الْجُمْلَة بفاعلها وَهُوَ أَخَوَاك فلولا أَن الْجَزْم مَحْكُوم بِهِ للْفِعْل وَحده للَزِمَ الْعَطف على الْجُمْلَة قبل إِتْمَامهَا وَهُوَ مُمْتَنع تَنْبِيه وَهُوَ لُغَة الإيقاظ يُقَال نبهت تَنْبِيها أَي أيقظت إيقاظا وَاصْطِلَاحا عنوان الْبَحْث الْآتِي بِحَيْثُ يعلم من الْبَحْث السَّابِق إِجْمَالا إِذا قلت إِن قَامَ زيد أقوم بِالرَّفْع مَا مَحل أقوم فَالْجَوَاب عَن هَذَا السُّؤَال مُخْتَلف فِيهِ قيل إِن أقوم لَيْسَ هُوَ الْجَواب وَإِنَّمَا هُوَ دَلِيل الْجَواب أَي لَا عينه وَهُوَ مُؤخر من تَقْدِيم وَالْجَوَاب مَحْذُوف وَالْأَصْل أقوم إِن قَامَ زيد أقِم وَهُوَ مَذْهَب سِيبَوَيْهٍ
এটি শুধুমাত্র ক্রিয়া (فعل) এর একক সত্তার জন্য, যা হলো 'কামা', সমগ্র বাক্য (جملة) এর জন্য নয়, যা হলো 'কামা' এবং তার কর্তা (فاعل)।

একইভাবে অর্থাৎ জওয়াব-এর ক্রিয়ার (فعل الجواب) ক্ষেত্রে যা বলা হয়েছে, শর্ত-এর ক্রিয়ার (فعل الشرط) ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য যে, জজম (جزم) প্রদান করা হয়েছে শুধুমাত্র ক্রিয়া (فعل) এর একক সত্তার জন্য, সমগ্র বাক্য (جملة) এর জন্য নয়। কারণ শর্তের অব্যয় (أداة الشرط) শব্দত (لفظا) অথবা স্থানগতভাবে (محلا) কেবল দুটি জিনিসের ওপর আমল করে। সুতরাং যখন এটি দুটি ক্রিয়ার স্থানের ওপর আমল করল, তখন সমগ্র বাক্য (جملة) এর অবস্থানের ওপর তার আর কোনো কর্তৃত্ব অবশিষ্ট থাকল না। এই কারণে আমরা বলি, যখন আপনি অতীতকালীন (ماضي) শর্তের ক্রিয়ার ওপর কোনো বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (فعل مضارع) সংযোজন (عطف) করবেন এবং এরপর কোনো মামুল (معمول) আসবে, আর আপনি প্রথম ক্রিয়া অর্থাৎ অতীতকালীন (ماضي) ক্রিয়াটিকে সেই বিতর্কিত বিষয়ে আমল করাবেন, যেমন: "যদি তোমার দুই ভাই দাঁড়ায় এবং বসে", তবে আপনি অতীতকালীন ক্রিয়ার ওপর সংযোজিত বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াটিকে জজম (جزم) দেবেন।

বাক্যটি তার কর্তা (فاعل) অর্থাৎ 'তোমার দুই ভাই' দ্বারা পূর্ণ হওয়ার আগেই। সুতরাং যদি জজম (جزم) শুধুমাত্র ক্রিয়া (فعل) এর একক সত্তার জন্য নির্ধারিত না হতো, তবে বাক্যটি পূর্ণ হওয়ার আগেই বাক্যের ওপর সংযোজন (عطف) করা আবশ্যক হয়ে পড়ত, যা ব্যাকরণগতভাবে অসম্ভব (ممتنع)। সতর্কতা (تنبيه): এটি আভিধানিক অর্থে জাগ্রত করা। বলা হয়, 'আমি তাকে সতর্ক করেছি' অর্থাৎ 'আমি তাকে জাগ্রত করেছি'। আর পারিভাষিক (اصطلاحا) অর্থে এটি হলো পরবর্তী আলোচনার এমন এক শিরোনাম, যার মাধ্যমে পূর্ববর্তী আলোচনা সম্পর্কে সংক্ষেপে (إجمالا) জানা যায়। আপনি যখন বলেন: "যদি যায়েদ দাঁড়ায়, আমি দাঁড়াব" পেশ সহকারে, তখন 'আমি দাঁড়াব' এর ব্যাকরণিক অবস্থান (محل) কী? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه) বর্ণনা রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন যে, 'আমি দাঁড়াব' শব্দটি সরাসরি জওয়াব নয়, বরং এটি জওয়াবের প্রমাণ (دليل الجواب); অর্থাৎ এটি স্বয়ং জওয়াব নয়। এটি মূলত অগ্রবর্তী পদ থেকে বিলম্বে আসা পদ, আর জওয়াবটি এখানে উহ্য (محذوف)। এর মূল রূপ হলো: "আমি দাঁড়াব, যদি যায়েদ দাঁড়ায় তবে আমি দাঁড়াব।" আর এটিই হলো সিবওয়াইহ-এর মত (مذهب)।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪৫)
وَقيل هُوَ أَي أقوم نفس الْجَواب على إِضْمَار الْفَاء والمبتدأ وَالتَّقْدِير فَأَنا أقوم وَهُوَ مَذْهَب الْكُوفِيّين وَقيل أقوم هُوَ الْجَواب وَلَيْسَ على إِضْمَار الْفَاء وَلَا على نِيَّة التَّقْدِيم وَإِنَّمَا لم يجْزم لَفظه لِأَن الأداة لما لم تعْمل فِي لفظ الشَّرْط لكَونه مَاضِيا مَعَ قربه فَلَا تعْمل فِي الْجَواب مَعَ بعده فعلى القَوْل الأول وَهُوَ أَنه دَلِيل الْجَواب لَا مَحل لَهُ لِأَنَّهُ مُسْتَأْنف وَلَفظه مَرْفُوع لتجرده عَن الناصب والجازم

وعَلى القَوْل الثَّانِي وَهُوَ أَن يكون على إِضْمَار الْفَاء مَحَله مَعَ الْمُبْتَدَأ الْجَزْم وَيظْهر أثر ذَلِك الِاخْتِلَاف فِي التَّابِع فَتَقول إِن قَامَ زيد أقوم وَيقْعد أَخَوَاك بِالرَّفْع وعَلى الثَّانِي وَيقْعد أَخَوَاك بِالْجَزْمِ

وَالْجُمْلَة السَّادِسَة التابعة لمفرد كالجملة المنعوت بهَا ومحلها بِحَسب منعوتها فَإِن كَانَ منعوتها مَرْفُوعا فَهِيَ فِي مَوضِع رفع كالواقعة فِي نَحْو قَوْله تَعَالَى {من قبل أَن يَأْتِي يَوْم لَا بيع فِيهِ} فجملة لَا بيع فِيهِ من اسْم لَا وخبرها فِي مَحل رفع على أَنَّهَا نعت ليَوْم

وَإِن كَانَ منعوتها مَنْصُوبًا فَهِيَ فِي مَوضِع نصب كالواقعة فِي نَحْو قَوْله تَعَالَى {وَاتَّقوا يَوْمًا ترجعون فِيهِ إِلَى الله} فجملة ترجعون فِي مَوضِع نصب على أَنَّهَا نعت
বলা হয়েছে যে, ‘আকূমু’ শব্দটিই জাওয়াব বা উত্তর, যা ‘ফা’ এবং মুবতাদাকে উহ্য রাখার ভিত্তিতে গঠিত; এর প্রাক্কলিত রূপ হলো ‘ফা-আনা আকূমু’। এটি কূফী ব্যাকরণবিদদের মাযহাব। আবার বলা হয়েছে যে, ‘আকূমু’ শব্দটিই সরাসরি জাওয়াব, এখানে ‘ফা’ উহ্য রাখা হয়নি এবং এটি পূর্বে আসার সংকল্পের ভিত্তিতেও নয়। এর শব্দরূপে জজম প্রদান করা হয়নি কারণ শর্তবাচক অব্যয়টি যখন নৈকট্য থাকা সত্ত্বেও শর্তের শব্দের ওপর (তা অতীতকালীন হওয়ার কারণে) আমল করতে পারেনি, তখন ব্যবধানের কারণে জাওয়াবের ওপরও আমল করবে না। সুতরাং প্রথম মত অনুযায়ী—যেটি হলো এটি জাওয়াবের পরিচায়ক—এর কোনো ব্যাকরণিক স্থান নেই। কারণ এটি একটি প্রারম্ভিক বাক্য এবং এর রূপটি আমিল থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে রফ-যুক্ত।

দ্বিতীয় মত অনুযায়ী, অর্থাৎ যদি ‘ফা’ উহ্য ধরা হয়, তবে মুবতাদাসহ এর ব্যাকরণিক স্থান হবে জজম। এই মতভেদের প্রভাব অনুগামী পদের ক্ষেত্রে প্রকাশ পাবে। যেমন আপনি বলবেন: ‘ইন ক্বামা যাইদুন আকূমু ওয়া ইয়াকউদু আখাওয়াকা’ রফ বা পেশ সহকারে। আর দ্বিতীয় মতানুসারে ‘ওয়া ইয়াকউদ আখাওয়াকা’ জজম বা সুকুন সহকারে।

ষষ্ঠ বাক্যটি হলো যা কোনো একক পদের অনুগামী হয়, যেমন বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত বাক্য। এর ব্যাকরণিক অবস্থান তার বিশেষ্যের অনুবর্তী হয়। যদি তার বিশেষ্যটি রফ-যুক্ত হয়, তবে বাক্যটিও রফ-এর স্থানে গণ্য হবে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এমন একটি দিন আসার আগে যাতে কোনো কেনাবেচা নেই}। এখানে ‘লা বাইআ ফীহি’ বাক্যটি ‘লা’-এর ইসিম ও খবর সমন্বয়ে ‘ইয়াওমুন’ শব্দের বিশেষণ হিসেবে রফ-এর স্থানে রয়েছে।

আর যদি তার বিশেষ্যটি নাসব-যুক্ত হয়, তবে বাক্যটি নাসব-এর স্থলাভিষিক্ত হবে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যাতে তোমাদের আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে}। এখানে ‘তুরজাউনা’ বাক্যটি বিশেষণ হিসেবে নাসব-এর স্থানে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪৬)
ل يَوْمًا وَإِن كَانَ منعوتها مجرورا فَهِيَ فِي مَوضِع جر كالواقعة فِي نَحْو قَوْله تَعَالَى {ليَوْم لَا ريب فِيهِ} فجملة لَا ريب فِيهِ فِي مَوضِع جر لِأَنَّهَا نعت ليَوْم

وَالْجُمْلَة السَّابِعَة الْجُمْلَة التابعة لجملة لَهَا مَحل من الْإِعْرَاب وَذَلِكَ فِي بَابي النسق وَالْبدل فَالْأول نَحْو زيد قَامَ أَبوهُ وَقعد أَخُوهُ فجملة قَامَ أَبوهُ فِي مَوضِع رفع لِأَنَّهَا خبر الْمُبْتَدَأ وَكَذَا جملَة قعد أَخُوهُ فِي مَوضِع رفع أَيْضا لِأَنَّهَا معطوفة على جملَة قَامَ ابوه الَّتِي هِيَ خبر عَن زيد

وَلَو قدرت الْعَطف لجملة قعد أَخُوهُ على مَجْمُوع الْجُمْلَة الاسمية الَّتِي هِيَ زيد قَامَ أَبوهُ لم يكن للمعطوفة وَهِي قعد أَخُوهُ مَحل لِأَنَّهَا معطوفة على جملَة مستأنفة وَلَو قدرت الْوَاو فِي وَقعد وَاو الْحَال لَا وَاو الْعَطف وَلَا وَاو الِاسْتِئْنَاف كَانَت الْجُمْلَة الدَّاخِلَة عَلَيْهَا وَاو الْحَال فِي مَوضِع نصب على الْحَال من أَبوهُ وَكَانَت قد فِيهَا مضمرة تقرب الْمَاضِي من الْحَال وَيكون تَقْدِير الْكَلَام زيد قَامَ أَبوهُ وَالْحَال أَنه قعد أَخُوهُ

وَإِذا قلت قَالَ زيد عبد الله منطلق وَعمر ومقيم فَلَيْسَ من هَذَا الْبَاب الَّذِي هُوَ من عطف جملَة على جملَة لَهَا مَحل حَتَّى تكون
...কোনো একদিনের জন্য; আর যদি তার বিশেষ্যটি মাজরুর হয়, তবে সেটি জরের স্থলাভিষিক্ত হবে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এমন এক দিনের জন্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই}-এর ক্ষেত্রে ঘটেছে। এখানে ‘যাতে কোনো সন্দেহ নেই’ বাক্যটি জরের স্থলাভিষিক্ত, কারণ এটি ‘দিন’ (ইয়াউম) শব্দের বিশেষণ।

সপ্তম বাক্যটি হলো সেই বাক্য যা এমন একটি বাক্যের অনুসারী হয় যার ব্যাকরণগত অবস্থান রয়েছে। এটি মূলত সংযোজক অব্যয় এবং বদল-এর পরিচ্ছেদদ্বয়ে হয়ে থাকে। প্রথমটির উদাহরণ: ‘যায়েদ, তার পিতা দাঁড়িয়েছে এবং তার ভাই বসেছে’। এখানে ‘তার পিতা দাঁড়িয়েছে’ বাক্যটি রফ-এর স্থলাভিষিক্ত, কারণ এটি মুবতাদার খবর। অনুরূপভাবে ‘তার ভাই বসেছে’ বাক্যটিও রফ-এর স্থলাভিষিক্ত, কারণ এটি ‘তার পিতা দাঁড়িয়েছে’ বাক্যের ওপর আতফ (সংযুক্ত) হয়েছে, যা যায়েদ সম্পর্কে খবর হিসেবে এসেছে।

আর যদি আপনি ‘তার ভাই বসেছে’ বাক্যটির আতফ (সংযোজন) ‘যায়েদ তার পিতা দাঁড়িয়েছে’ নামক সম্পূর্ণ নামবাচক বাক্যের ওপর ধরেন, তবে এই মা’তুফ বা সংযুক্ত বাক্যটির—অর্থাৎ ‘তার ভাই বসেছে’—কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান থাকবে না; কারণ তখন এটি একটি প্রারম্ভিক বাক্যের ওপর সংযুক্ত হবে। আর যদি আপনি ‘বসেছে’ এর পূর্ববর্তী ‘ওয়াও’ অক্ষরটিকে হাল-এর ‘ওয়াও’ হিসেবে গণ্য করেন—আতফ বা ইস্তিনাফের ‘ওয়াও’ হিসেবে নয়—তবে যে বাক্যের শুরুতে হাল-এর ‘ওয়াও’ এসেছে সেটি ‘পিতা’ শব্দ থেকে হাল হওয়ার কারণে নসব-এর স্থলাভিষিক্ত হবে। সেক্ষেত্রে সেখানে একটি ‘ক্বাদ’ উহ্য থাকবে যা অতীতকালকে বর্তমানের নিকটবর্তী করবে এবং বাক্যটির প্রচ্ছন্ন রূপ হবে: ‘যায়েদ, তার পিতা এমতাবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে তার ভাই বসেছিল’।

আর যখন আপনি বলবেন, ‘যায়েদ বলল: আব্দুল্লাহ প্রস্থানকারী এবং আমর অবস্থানকারী’, তখন এটি এই পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত হবে না যেখানে একটি বাক্যকে এমন বাক্যের ওপর সংযুক্ত করা হয় যার ব্যাকরণগত অবস্থান রয়েছে, যাতে এটি...
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪৭)
جملَة عَمْرو مُقيم محلهَا نصب بالْعَطْف على جملَة عبد الله منطلق المحكية بالْقَوْل بل الَّذِي مَحَله النصب على المفعولية ب قَالَ مَجْمُوع الجملتين المعطوفة والمعطوف عَلَيْهَا لِأَن الْمَجْمُوع الْمركب من الجملتين المذكورتين هُوَ الْمَقُول لِلْقَوْلِ فَكل مِنْهُمَا أَي من الجملتين المتعاطفتين جُزْء الْمَقُول الْمركب من الجملتين لَا أَنه على انْفِرَاده الْمَقُول حَتَّى يكون أَحدهمَا مَعْطُوفًا على الآخر وَالثَّانِي الْبَدَل نَحْو قَوْله

(أَقُول لَهُ ارحل لَا تقيمن عندنَا … وَإِلَّا فَكُن فِي السِّرّ والجهر مُسلما)

فجملة لَا تقيمن عندنَا

فِي مَوضِع نصب على الْبَدَلِيَّة من ارحل وَشَرطه أَن تكون الْجُمْلَة الثَّانِيَة أوفى بتأدية الْمَعْنى المُرَاد من الأولى كَمَا هُنَا فَإِن دلَالَة الثَّانِيَة على مَا أَرَادَهُ من إِظْهَار الْكَرَاهَة لإقامته أولى لِأَنَّهَا تدل عَلَيْهِ بالمطابقة وَالْأولَى تدل عَلَيْهِ بالالتزام
‘আমর অবস্থানকারী’ (عَمْرو مُقيم) বাক্যটির ব্যাকরণগত অবস্থান হলো উক্তি হিসেবে বর্ণিত ‘আবদুল্লাহ প্রস্থানকারী’ (عبد الله منطلق) বাক্যের ওপর সংযোজন (عطف) হওয়ার কারণে নসব (نصب); বরং ‘বললেন’ (قَالَ) ক্রিয়ার কর্মপদ (مفعولية) হিসেবে যা নসব (نصب) প্রাপ্ত হয়েছে, তা হলো সংযোজিত এবং যার ওপর সংযোজন করা হয়েছে—এই উভয় বাক্যের সমষ্টি। কারণ উল্লিখিত বাক্যদ্বয়ের সমন্বিত রূপটিই হলো উক্ত উক্তি (مقول القول)। ফলে এই পরস্পর সংযুক্ত বাক্যদ্বয়ের প্রতিটিই সেই সমন্বিত উক্তির অংশ মাত্র; এমনটি নয় যে তাদের প্রতিটি পৃথকভাবে ‘মাকুল’ বা উক্তি, যাতে তাদের একটি অন্যটির ওপর সংযোজিত হয়। আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো বদল (بدل); যেমন কবির এই উক্তি:

(আমি তাকে বলি, তুমি চলে যাও, আমাদের কাছে অবস্থান করো না … অন্যথায় গোপনে ও প্রকাশ্যে একজন মুসলিম হয়ে থেকো)

এখানে ‘আমাদের কাছে অবস্থান করো না’ বাক্যটি

‘চলে যাও’ এর স্থলাভিষিক্ত বা বদল (بدلية) হওয়ার কারণে নসব (نصب) এর স্থানে রয়েছে। এর শর্ত হলো, দ্বিতীয় বাক্যটি প্রথম বাক্যের তুলনায় উদ্দীষ্ট অর্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ হতে হবে, যেমনটি এখানে হয়েছে। কেননা অবস্থান করার প্রতি অনীহা প্রকাশের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বাক্যের নির্দেশনা অধিক অগ্রগণ্য; কারণ এটি সরাসরি অর্থ বা সামঞ্জস্যতা (مطابقة) দ্বারা বিষয়টি প্রমাণ করছে, আর প্রথমটি কেবল প্রাসঙ্গিকতা বা আবশ্যকতা (التزام) দ্বারা তা নির্দেশ করছে।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪৮)
‌‌الْمَسْأَلَة الثَّالِثَة فِي بَيَان الْجمل الَّتِي لَا مَحل لَهَا من الْأَعْرَاب

 

وَهِي أَيْضا مصدر آض بِالْمدِّ إِذا عَاد سبع إِحْدَاهَا الْجُمْلَة الابتدائية أَي الْوَاقِعَة فِي ابْتِدَاء الْكَلَام اسمية كَانَت أَو فعلية وَتسَمى المستأنفة أَيْضا وَهِي نَوْعَانِ أَحدهمَا المفتتح بهَا الْكَلَام نَحْو قَوْله تَعَالَى {إِنَّا أعطيناك الْكَوْثَر}

وَالثَّانِي المنقطعة عَمَّا قبلهَا نَحْو قَوْله تَعَالَى {إِن الْعِزَّة لله جَمِيعًا} الْوَاقِعَة بعد {وَلَا يحزنك قَوْلهم} فجملة {إِن الْعِزَّة لله جَمِيعًا} مستأنفة لَا مَحل لَهَا من الْإِعْرَاب وَلَيْسَت محكية بالْقَوْل حَتَّى يكون لَهَا مَحل وَإِنَّمَا المحكي بالْقَوْل مَحْذُوف تَقْدِيره إِنَّه مَجْنُون أَو شَاعِر أَو نَحْو ذَلِك

وَإِنَّمَا لم تجْعَل محكية بالْقَوْل لفساد الْمَعْنى إِذْ لَو قَالُوا إِن الْعِزَّة لله جَمِيعًا لم يحزنهُ فَيَنْبَغِي للقارىء أَن يقف على قَوْلهم ويبتدىء {إِن الْعِزَّة لله جَمِيعًا}
তৃতীয় মাসআলা: যে সকল বাক্যের কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান (محل من الإعراب) নেই তাদের বর্ণনায়

 

এটি (أيضاً শব্দটি) ‘আ-দা’ (آض) শব্দের মাসদার (مصدر), যখন এটি ফিরে আসার অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ জাতীয় বাক্য সাতটি। এর একটি হলো প্রারম্ভিক বাক্য (الجملة الابتدائية), অর্থাৎ যা বক্তব্যের শুরুতে আসে, সেটি বিশেষ্যমূলীয় (اسمية) হোক বা ক্রিয়ামূলীয় (فعلية) হোক। একে প্রারম্ভিক (المستأنفة) বাক্যও বলা হয়। এটি দুই প্রকার: প্রথমটি যার মাধ্যমে বক্তব্যের সূচনা করা হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি}

দ্বিতীয়টি যা পূর্ববর্তী বক্তব্য থেকে বিচ্ছিন্ন (المنقطعة), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই সকল সম্মান আল্লাহর জন্য} যা {তাদের কথা যেন আপনাকে ব্যথিত না করে} এর পরে অবস্থিত। এখানে {নিশ্চয়ই সকল সম্মান আল্লাহর জন্য} বাক্যটি প্রারম্ভিক (مستأنفة), যার কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান (محل من الإعراب) নেই। এটি উক্তিকৃত (محكية بالقول) বাক্য নয় যে এর কোনো ব্যাকরণিক স্থান থাকবে; বরং এখানে উক্তিকৃত বিষয়টি উহ্য (محذوف) রয়েছে, যার প্রাক্কলিত রূপ হলো— ‘সে পাগল’ বা ‘কবি’ অথবা এই জাতীয় কিছু

একে উক্তিকৃত বিষয় হিসেবে গণ্য না করার কারণ হলো অর্থগত বৈকল্য; কেননা তারা যদি বলত ‘নিশ্চয়ই সকল সম্মান আল্লাহর জন্য’, তবে তা তাঁকে ব্যথিত করত না। সুতরাং ক্বারীর উচিত ‘তাদের কথা (قولهم)’ পর্যন্ত বিরতি দেওয়া এবং {নিশ্চয়ই সকল সম্মান আল্লাহর জন্য} থেকে পাঠ শুরু করা।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪৯)
فَإِن وصل وَقصد بذلك تَحْرِيف الْمَعْنى أَثم

وَنَحْو {لَا يسمعُونَ إِلَى الملإ الْأَعْلَى} الْوَاقِعَة بعد {وحفظا من كل شَيْطَان مارد} أَي خَارج عَن الطَّاعَة فجملة لَا يسمعُونَ لَا مَحل لَهَا من الْإِعْرَاب لِأَنَّهَا مستأنفة استئنافا نحويا لَا استئنافا بيانيا وَهُوَ مَا كَانَ جَوَابا عَن سُؤال مُقَدّر لِأَنَّهُ لَو قيل لأي شَيْء تحفظ من الشَّيْطَان فَأُجِيب بِأَنَّهُم لَا يسمعُونَ لم يستقم فَيَنْبَغِي أَن يكون كلَاما مُنْقَطِعًا عَمَّا قبله

وَلَيْسَت جملَة لَا يسمعُونَ صفة ثَانِيَة للنكرة وَهِي شَيْطَان وَلَا حَالا مِنْهَا أَي من النكرَة مقدرَة فِي الْمُسْتَقْبل لوصفها أَي النكرَة بمارد وَهُوَ عِلّة لتسويغ مَجِيء الْحَال من النكرَة

وَسَيَأْتِي أَن الْجُمْلَة الْوَاقِعَة بعد نكرَة مَوْصُوفَة تحْتَمل الوصفية والحالية وَإِنَّمَا امْتنع الْوَصْف وَالْحَال لفساد الْمَعْنى أما على تَقْدِير الصّفة فَلِأَنَّهُ لَا معنى للْحِفْظ من شَيْطَان لَا يسمع

وَأما على تَقْدِير الْحَال الْمقدرَة فَلِأَن الَّذِي يقدر معنى الْحَال هُوَ صَاحبهَا وَالشَّيَاطِين لَا يقدرُونَ عدم السماع وَلَا يريدونه قَالَه المُصَنّف فِي المغنى
যদি তিনি যুক্ত করেন এবং এর দ্বারা অর্থের বিকৃতি (تحريف المعنى) ঘটানোর উদ্দেশ্য পোষণ করেন, তবে তিনি গুনাহগার হবেন।

এবং যেমন {তারা উচ্চ জগতের ফেরেশতাদের কথা শুনতে পারে না} বাক্যটি, যা {বিদ্রোহী প্রত্যেক শয়তান হতে রক্ষার জন্য} আয়াতাংশের পরে অবস্থিত। এখানে 'বিদ্রোহী' অর্থ অবাধ্যতা থেকে বেরিয়ে যাওয়া। সুতরাং 'তারা শুনতে পারে না' বাক্যটির কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান (إعراب) নেই; কারণ এটি একটি ব্যাকরণগত প্রারম্ভিক বাক্য (استئناف نحوي), যা ব্যাখ্যামূলক প্রারম্ভিক বাক্য (استئناف بياني) নয়। ব্যাখ্যামূলক প্রারম্ভিক বাক্য হলো এমন বাক্য যা কোনো উহ্য প্রশ্নের উত্তর স্বরূপ আসে। কারণ যদি প্রশ্ন করা হয় যে, শয়তান থেকে কেন রক্ষা করা হয়? আর উত্তরে বলা হয়, তারা শুনতে পায় না বলে—তবে তা সঠিক হয় না। তাই এটি পূর্ববর্তী বাক্যাংশ থেকে বিযুক্ত (منقطع) কথা হওয়া বাঞ্ছনীয়।

আর 'তারা শুনতে পায় না' বাক্যটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة) তথা 'শয়তান' শব্দের দ্বিতীয় বিশেষণ (صفة) নয় এবং তা থেকে অবস্থাসূচক বাক্য (حال) হিসেবেও নয়; অর্থাৎ অনির্দিষ্ট বিশেষ্যটি থেকে ভবিষ্যতে উদ্ভূত কোনো অবস্থা নয়। কারণ অনির্দিষ্ট বিশেষ্যটিকে 'বিদ্রোহী' বিশেষণ দ্বারা বিশেষিত করা হয়েছে, যা অনির্দিষ্ট বিশেষ্য থেকে অবস্থাসূচক বাক্য (حال) আসার বৈধতার কারণ (علة)।

সামনে বর্ণিত হবে যে, বিশেষিত অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (نكرة موصوفة) পরে অবস্থিত বাক্যের ক্ষেত্রে বিশেষণ (وصفية) বা অবস্থাসূচক (حالية) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এখানে অর্থগত ত্রুটির কারণে বিশেষণ ও অবস্থাসূচক হওয়ার বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষণের সম্ভাব্যতার ক্ষেত্রে কারণ হলো, যে শয়তান শুনতেই পায় না, তার থেকে রক্ষা করার কোনো অর্থ হয় না।

আর সম্ভাব্য অবস্থাসূচক (حال مقدرة) হওয়ার ক্ষেত্রে কথা হলো, যে সত্তা অবস্থার অর্থ নির্ধারণ করে সে হলো অবস্থার অধিকারী (صاحب الحال); অথচ শয়তানরা শুনতে না পাওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করে না এবং তারা তা চায়ও না। গ্রন্থকার আল-মুগনি কিতাবে এমনটিই বলেছেন।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৫০)
وَتقول فِي الِاسْتِئْنَاف بالاصطلاحين مَا لَقيته مذ يَوْمَانِ فَهَذَا التَّرْكِيب كَلَام تضمن جملتين مستأنفتين إِحْدَاهمَا جملَة فعلية مُقَدّمَة وَهِي مَا لَقيته وَهِي مستأنفة استئنافا نحويا

وَالثَّانيَِة جملَة اسمية مؤخرة وَهِي مذ يَوْمَانِ وَهِي مستأنفة استئنافا نحويا لِأَنَّهَا فِي التَّقْدِير جَوَاب سُؤال مُقَدّر ناشىء من الْجُمْلَة الْمُتَقَدّمَة وكأنك لما قلت مَا لقيتة قيل لَك على رَأْي من جعل مذ مُبْتَدأ مَا امد ذَلِك فَقلت مجيبا لَهُ أمده يَوْمَانِ

وعَلى رَأْي من يَجْعَلهَا خَبرا مقدما فتقدير السُّؤَال مَا بَيْنك وَبَين لِقَائِه فَجَوَابه بيني وَبَينه يَوْمَانِ

وَالْأول قَول الْمبرد وَابْن السراج والفارسي وَالثَّانِي قَول الْأَخْفَش والزجاج وَنسب إِلَى سِيبَوَيْهٍ
উভয় পরিভাষার আলোকে 'ইস্তিনাফ' বা প্রারম্ভিক বাক্য (الاستئناف) গঠন সম্পর্কে আপনি বলবেন— "আমি তার সাথে দুই দিন যাবত সাক্ষাৎ করিনি"। এই বাক্য গঠনটি মূলত দুটি পৃথক প্রারম্ভিক বাক্যকে অন্তর্ভুক্ত করে। যার প্রথমটি হলো একটি অগ্রবর্তী ক্রিয়াবাচক বাক্য (جملة فعلية مقدمة), আর তা হলো "আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করিনি"; এটি ব্যাকরণিক দিক থেকে একটি প্রারম্ভিক বাক্য (مستأنفة استئنافا نحويا)।

দ্বিতীয়টি হলো একটি পরবর্তী বিশেষ্যবাচক বাক্য (جملة اسمية مؤخرة), আর তা হলো "দুই দিন"। এটিও ব্যাকরণিক দিক থেকে একটি প্রারম্ভিক বাক্য (مستأنفة استئنافا نحويا); কারণ এটি মূলত পূর্ববর্তী বাক্য থেকে উদ্ভূত একটি উহ্য প্রশ্নের উত্তর হিসেবে গণ্য। বিষয়টি এমন যে, যখন আপনি বললেন "আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করিনি", তখন (যারা 'মুয' শব্দটিকে উদ্দেশ্য (مبتدأ) গণ্য করেন তাদের মতে) যেন আপনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "সেই অদর্শনের সময়কাল কতটুকু?" তখন আপনি উত্তর হিসেবে বললেন: "তার সময়কাল দুই দিন"।

আর যারা এটিকে অগ্রবর্তী বিধেয় (خبر مقدم) হিসেবে গণ্য করেন, তাদের মতে উহ্য প্রশ্নটি হবে— "আপনার ও তার সাক্ষাতের মধ্যবর্তী সময় কতটুকু?" তখন তার উত্তর হবে— "আমার ও তার সাক্ষাতের মাঝে দুই দিন (সময় রয়েছে)"।

প্রথম মতটি মুবাররাদ, ইবনুল সাররাজ এবং আল-ফারিসীর; আর দ্বিতীয়টি আল-আখফাশ ও আয-যাজ্জাজের অভিমত এবং এটি সিবওয়াইহ-এর প্রতিও সম্বন্ধ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৫১)
وَأما على القَوْل بِأَن يَوْمَانِ فَاعل لفعل مَحْذُوف وَالتَّقْدِير مَا لَقيته مذ مضى يَوْمَانِ أَو أَن يَوْمَانِ خبر لمبتدأ مَحْذُوف وَالتَّقْدِير مَا لَقيته من الزَّمَان الَّذِي هُوَ يَوْمَانِ

فَلَا يتمشى وَهَذَانِ الْقَوْلَانِ لطائفتين من الْكُوفِيّين

وَمثلهمَا أَي مثل جملتي مَا لَقيته مذ يَوْمَانِ فِي كَونهمَا كلَاما متضمنا جملتين مستأنفتين بالاصطلاحين قَامَ الْقَوْم خلا زيدا وَقَامَ الْقَوْم حاشا عمرا وَقَامَ الْقَوْم عدا بكرا فَكل من هَذِه الْأَمْثِلَة الثَّلَاثَة كَلَام تضمن جملتين مستأنفتين إِحْدَاهمَا الْمُشْتَملَة على الْمُسْتَثْنى مِنْهُ وَهِي مستأنفة استئنافا نحويا

وَالثَّانيَِة الْمُشْتَملَة على الْمُسْتَثْنى وَهِي مستأنفة استئنافا بيانيا لِأَنَّهَا فِي التَّقْدِير جَوَاب سُؤال مُقَدّر فكأنك لما قلت قَامَ الْقَوْم هَل دخل زيد فيهم فَقلت خلا زيدا وَكَذَا الْبَاقِي إِلَّا أَنَّهُمَا أَي جملَة الْمُسْتَثْنى مِنْهُ وَجُمْلَة الْمُسْتَثْنى فِي الْأَمْثِلَة الثَّلَاثَة فعليتان

وَهَذَا إِنَّمَا يتمشى مَعَ القَوْل بِأَن جملَة الْمُسْتَثْنى لَا مَحل لَهَا

أما على القَوْل بِأَنَّهَا فِي مَوضِع نصب على الْحَال فَلَا

وَمن مثلهَا بِضَم الْمُثَلَّثَة
আর এই মতানুসারে যে, 'ইয়াওমানি' শব্দটি একটি উহ্য ক্রিয়ার (فعل محذوف) কর্তা (فاعل), এবং বাক্যটির প্রচ্ছন্ন রূপ (تقدير) হলো 'মা লাকিতুহু মুয মাযা ইয়াওমানি'; অথবা 'ইয়াওমানি' শব্দটি একটি উহ্য উদ্দেশ্য বা মুবতাদার (مبتدأ محذوف) বিধেয় (خبر), এবং এর প্রচ্ছন্ন রূপ (تقدير) হলো 'মা লাকিতুহু মিনায যামানি আল্লাযি হুয়া ইয়াওমানি'।

তবে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। আর এই মতদ্বয় কুফাবাসীদের (الكوفيين) দুটি দলের।

আর এই দুটির উদাহরণ—অর্থাৎ 'মা লাকিতুহু মুয ইয়াওমানি' এই বাক্য দুটির অনুরূপ—এমন বক্তব্য যা উভয় পরিভাষা অনুযায়ী দুটি প্রারম্ভিক বাক্য (جملتين مستأنفتين) অন্তর্ভুক্ত করে, তা হলো: 'ক্বামাল ক্বাওমু খালা যায়দান', 'ক্বামাল ক্বাওমু হাশা আমরান' এবং 'ক্বামাল ক্বাওমু আদা বাকরান'। এই তিনটি উদাহরণের প্রতিটি এমন একটি বক্তব্য যা দুটি প্রারম্ভিক বাক্যকে (جملتين مستأنفتين) অন্তর্ভুক্ত করে। এর মধ্যে একটি হলো সেই বাক্য যা মুস্তাসনা মিনহু (المستثنى منه) বা যার থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে তাকে অন্তর্ভুক্ত করে, এবং এটি ব্যাকরণগতভাবে প্রারম্ভিক বাক্য (مستأنفة استئنافا نحويا) হিসেবে গণ্য।

আর দ্বিতীয়টি হলো সেই বাক্য যা মুস্তাসনা (المستثنى) বা যাকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে তাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি ব্যাখ্যামূলক প্রারম্ভিক বাক্য (مستأنفة استئنافا بيانيا), কারণ এটি প্রচ্ছন্নভাবে (تقدير) একটি উহ্য প্রশ্নের (سؤال مقدر) উত্তর। বিষয়টি এমন যেন আপনি যখন বললেন 'ক্বামাল ক্বাওমু' (লোকেরা দাঁড়িয়েছে), তখন কেউ প্রশ্ন করল—'তাদের মধ্যে কি জায়েদও আছে?' তখন আপনি উত্তর দিলেন—'খালা যায়দান' (জায়েদ ছাড়া)। অবশিষ্ট উদাহরণগুলোও অনুরূপ। তবে পার্থক্য এই যে, এই তিনটি উদাহরণের ক্ষেত্রে মুস্তাসনা মিনহু সম্বলিত বাক্য এবং মুস্তাসনা সম্বলিত বাক্য—উভয়ই ক্রিয়াবাচক বাক্য (فعليتان)।

আর এটি কেবল সেই মতানুসারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে যার ভিত্তিতে মুস্তাসনা সম্বলিত বাক্যের কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান নেই (لا محل لها)।

তবে যে মতানুসারে এটি হাল (حال) হিসেবে নসবের স্থলাভিষিক্ত (موضع نصب), সেই অনুযায়ী এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না।

আর 'মিছলুহা' শব্দটি মিম অক্ষরে পেশ যোগে।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৫২)
جمع مِثَال أَي وَمن أَمْثِلَة الْجُمْلَة المستأنفة الْجُمْلَة الْوَاقِعَة بعد حَتَّى الابتدائية قَول جرير

(فَمَا زَالَت الْقَتْلَى تمج دماءها … حَتَّى مَاء دجلة أشكل)

أَي أَبيض يخالطه حمرَة فماء دجلة مُبْتَدأ ومضاف إِلَيْهِ وأشكل خَبره وَجُمْلَة الْمُبْتَدَأ وَخَبره مستأنفة هَذَا مَذْهَب الْجُمْهُور

وَنقل عَن أبي إِسْحَق الزّجاج وَأبي مُحَمَّد عبد الله بن جَعْفَر ابْن درسْتوَيْه أَن الْجُمْلَة الْوَاقِعَة بعد حَتَّى الابتدائية وَهِي الَّتِي تبدأ بعْدهَا الْجُمْلَة أَي تسْتَأْنف فِي مَوضِع جر بحتى وَخَالَفَهُمَا الْجُمْهُور وَقَالُوا لَيست حَتَّى هَذِه حرف جر بدليلين
এটি ‘মিসাল’ শব্দের বহুবচন। অর্থাৎ প্রারম্ভিক (مستأنفة) বাক্যের উদাহরণসমূহের মধ্যে একটি হলো প্রারম্ভিক ‘হাত্তা’-এর পরে অবস্থিত বাক্য, যেমন কবি জরীরের উক্তি:

(নিহতরা তাদের রক্ত নির্গত করতেই থাকল … এমনকি দজলা নদীর পানি রক্তিম হয়ে উঠল)

অর্থাৎ এমন সাদা যার সাথে লাল রঙের মিশ্রণ রয়েছে। এখানে ‘মাউ দজলা’ হলো মুবতাদা ও মুদাফ ইলাইহি এবং ‘আশকাল’ হলো তার খবর। আর মুবতাদা ও খবরের সমন্বয়ে গঠিত বাক্যটি হলো প্রারম্ভিক (مستأنفة); এটিই জমহুর (الجمهور) বা অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের অভিমত।

আবু ইসহাক আয-যাজজাজ এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে দুরুস্তাওয়াইহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রারম্ভিক ‘হাত্তা’-এর পরে অবস্থিত বাক্য—অর্থাৎ যার মাধ্যমে বাক্য নতুন করে শুরু (مستأنفة) করা হয়—তা ‘হাত্তা’ এর কারণে জার (جر) এর স্থানে থাকে। জমহুর (الجمهور) তাদের এই মতের বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন যে, এই ‘হাত্তা’ দুটি দলিলের ভিত্তিতে হরফে জর (حرف جر) নয়।
(খণ্ড: ১) মুওয়াসসিলুত তুল্লাবি ইলা কাওয়াইদিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৫৩)
أَحدهمَا لَو كَانَت حرف جر لقيل حَتَّى مَاء بِالْجَرِّ وَالرِّوَايَة بِالرَّفْع على الِابْتِدَاء وَالْخَبَر والعدول إِلَى الْعَمَل فِي مَحل الْجُمْلَة نوع من التَّعْلِيق وَهُوَ غير مُنَاسِب لِأَن حُرُوف الْجَرّ لَا تعلق بِفَتْح اللَّام عَن الْعَمَل بِدُخُولِهَا على الْجمل وَإِنَّمَا تدخل على الْمُفْردَات أَو مَا فِي تَأْوِيلهَا

وَالثَّانِي إِن حَتَّى هَذِه لَيست حرف جر لوُجُوب كسر همزَة إِن بعْدهَا فِي نَحْو قَوْلك مرض زيد حَتَّى إِنَّهُم لَا يرجونه بِكَسْر إِن وَلَو كَانَت حرف جر لفتحت الْهمزَة وَفَاء بالقاعدة وَهِي أَنه إِذا دخل الْحَرْف الْجَار على أَن فتحت همزتها نَحْو قَوْله تَعَالَى {ذَلِك بِأَن الله هُوَ الْحق} فَلَمَّا لم تفتح الْهمزَة علمنَا أَنَّهَا لَيست جَارة

وَفِي كل من هذَيْن الدَّلِيلَيْنِ نظر أما الأول فلأنهما لَا يسميان ذَلِك تَعْلِيقا وَإِنَّمَا يَقُولَانِ الْجُمْلَة بعد حَتَّى فِي مَحل جر على معنى أَن تِلْكَ الْجُمْلَة فِي تَأْوِيل مُفْرد مجرور بهَا لَا على معنى أَن تِلْكَ الْجُمْلَة بَاقِيَة على جمليتها غير مؤولة بالمفرد لَا يُقَال حَقِيقَة التَّعْلِيق أَن يمْنَع من الْعَمَل لفظا لمجيء

প্রথম কারণটি হলো, এটি যদি অব্যয় (حرف جر) হতো, তবে জের বা কাসরা (الجر) যোগে ‘হাত্তা মাইন’ বলা হতো। অথচ বর্ণনাটি এসেছে পেশ বা রাফ (الرفع) যোগে প্রারম্ভিক শব্দ ও সংবাদ (الابتداء والخبر) হিসেবে। আর বাক্যের স্থানে আমল করার দিক থেকে সরে আসা এক প্রকার স্থগিতকরণ (تعليق), যা এখানে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ অব্যয়সমূহ (حروف الجر) বাক্যের ওপর প্রবেশের মাধ্যমে তাদের আমল থেকে স্থগিত (تعليق) হয় না, বরং এগুলো কেবল একক শব্দসমূহ (المفردات) বা তার সমার্থক বিষয়ের ওপরই প্রবেশ করে।

দ্বিতীয় কারণটি হলো, এই ‘হাত্তা’ শব্দটি অব্যয় (حرف جر) নয়; কারণ এরপর ‘ইন্না’ শব্দের হামজাতে ‘কাসরা’ প্রদান করা ওয়াজিব। যেমন আপনার কথা: ‘যায়েদ অসুস্থ হয়েছে, এমনকি তারা তার আর সুস্থতার আশা করছে না’—এখানে ‘ইন্না’ শব্দটিকে কাসরা যোগে পড়তে হয়। যদি এটি অব্যয় (حرف جر) হতো, তবে সাধারণ মূলনীতি (القاعدة) অনুযায়ী এখানে হামজাতে ‘ফাতহা’ হতো। নিয়মটি হলো, যখন জের প্রদানকারী অব্যয় (حرف جار) ‘আন্না’ এর ওপর প্রবেশ করে, তখন তার হামজাতে ফাতহা হয়; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: ‘এটি এ কারণে যে, আল্লাহই সত্য’। সুতরাং যেহেতু এখানে হামজাতে ফাতহা হয়নি, তাই আমরা বুঝতে পারলাম যে এটি জের প্রদানকারী (جارة) অব্যয় নয়।

এই উভয় দলীলের ব্যাপারেই পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। প্রথমটির ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তাঁরা বিষয়টিকে স্থগিতকরণ (تعليق) হিসেবে অভিহিত করেন না। বরং তাঁরা বলেন, ‘হাত্তা’ এর পরবর্তী বাক্যটি জেরের স্থলাভিষিক্ত (محل جر) হয় এই অর্থে যে, সেই বাক্যটি একটি জের-যুক্ত একক শব্দের (مفرد مجرور) সমার্থক হিসেবে গণ্য। এটি এই অর্থে নয় যে, বাক্যটি তার বাক্যিক সত্তাতেই বহাল রয়েছে এবং একক শব্দের সমার্থক হিসেবে গণ্য হয়নি। এমনটি বলা ঠিক হবে না যে, স্থগিতকরণের (تعليق) প্রকৃত অর্থ হলো কোনো বিষয়ের আগমনের কারণে শাব্দিক আমলকে বাধা প্রদান করা।