0/0
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: -)
مغني اللبيب عن كتب الأعاريب   (ابن هشام النحوي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: مغني اللبيب عن كتب الأعاريب

المؤلف: عبد الله بن يوسف بن أحمد بن عبد الله ابن يوسف، أبو محمد، جمال الدين، ابن هشام (ت 761هـ)

المحقق: د. مازن المبارك / محمد علي حمد الله

الناشر: دار الفكر - دمشق

الطبعة: السادسة، 1985

عدد الصفحات: 918

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুগনি আল-লাবীব আন কুতুবিল আ’আরীব   (ইবনে হিশাম আন-নাহবি)

বিভাগ: নাহু (ব্যাকরণ) ও সরফ (রূপতত্ত্ব)


বই: মুগনি আল-লাবীব আন কুতুবিল আ’আরীব

লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, আবু মুহাম্মদ, জামালুদ্দীন, ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: ড. মাজিন আল-মুবারক / মুহাম্মদ আলী হামদুল্লাহ

প্রকাশক: দার আল-ফিকর - দামেস্ক

সংস্করণ: ষষ্ঠ, ১৯৮৫

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯১৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ১২)
بسم الله الرحمن الرحيم

قَالَ سيدنَا ومولانا الشَّيْخ الإِمَام الْعَالم الْعَلامَة جمال الدّين رحْلَة الطالبين أَبُو مُحَمَّد عبد الله بن يُوسُف بن هِشَام الْأنْصَارِيّ قدس الله روحه وَنور ضريحه

أما بعد حمد الله على إفضاله وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على سيدنَا مُحَمَّد وعَلى آله فَإِن أولى مَا تقترحه القرائح وَأَعْلَى مَا تجنح إِلَى تَحْصِيله الجوانح مَا يَتَيَسَّر بِهِ فهم كتاب الله الْمنزل ويتضح بِهِ معنى حَدِيث نبيه الْمُرْسل فَإِنَّهُمَا الْوَسِيلَة إِلَى السَّعَادَة الأبدية والذريعة إِلَى تَحْصِيل الْمصَالح الدِّينِيَّة والدنيوية وأصل ذَلِك علم الْإِعْرَاب الْهَادِي إِلَى صوب الصَّوَاب وَقد كنت فِي عَام تِسْعَة وَأَرْبَعين وسبعمئة أنشأت بِمَكَّة زَادهَا الله شرفا كتابا فِي ذَلِك منورا من أرجاء قَوَاعِده كل حالك ثمَّ إِنَّنِي أصبت بِهِ وَبِغَيْرِهِ فِي منصرفي إِلَى مصر وَلما من الله تَعَالَى عَليّ فِي عَام سِتَّة وَخمسين بمعاودة حرم الله والمجاورة فِي خير بِلَاد الله شمرت عَن ساعد الِاجْتِهَاد ثَانِيًا واستأنفت الْعَمَل لَا كسلا وَلَا متوانيا وَوضعت هَذَا التصنيف على أحسن إحكام وترصيف وتتبعت فِيهِ مقفلات مسَائِل الْإِعْرَاب فافتتحتها ومعضلات يستشكلها الطلاب فأوضحتها ونقحتها وأغلاطا وَقعت لجَماعَة من المعربين وَغَيرهم فنبهت عَلَيْهَا وأصلحتها

فدونك كتابا تشد الرّحال فِيمَا دونه وتقف عِنْده فحول الرِّجَال وَلَا يعدونه إِذْ كَانَ الْوَضع فِي هَذَا الْغَرَض لم تسمح قريحة بمثاله وَلم ينسج ناسج على منواله وَمِمَّا حثني على وَضعه أنني لما أنشأت فِي مَعْنَاهُ الْمُقدمَة الصُّغْرَى الْمُسَمَّاة ب الْإِعْرَاب
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের সায়্যিদ এবং মাওলা, শায়খ, ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম, মহা-বিদ্বান, জামালুদ্দীন, জ্ঞানপিপাসুদের গন্তব্যস্থল, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ ইবনে হিশাম আল-আনসারী—আল্লাহ তাঁর রূহকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে নূরানি করুন—বলেছেন:

আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য তাঁর প্রশংসা এবং আমাদের সায়্যিদ মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করার পর: নিশ্চয়ই মেধা ও প্রতিভার উদ্ভাবনযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম এবং মানুষের অন্তরাত্মা যা অর্জনে সর্বাধিক আগ্রহী থাকে, তা হলো এমন কিছু যার মাধ্যমে অবতীর্ণ আল্লাহর কিতাবের অনুধাবন সহজতর হয় এবং তাঁর প্রেরিত নবীর হাদিসের অর্থ স্পষ্ট হয়। কেননা এই দুই বিষয়ই হলো চিরস্থায়ী সৌভাগ্যের মাধ্যম এবং দ্বীনি ও দুনিয়াবি কল্যাণ অর্জনের সোপান। আর এর মূল ভিত্তি হলো ‘ইরাব’ (ব্যাকরণ বিশ্লেষণ) বিদ্যা, যা সঠিক পথের দিশারী। আমি ৭৪৯ হিজরি সনে মক্কায়—আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন—এই বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছিলাম, যা তার মূলনীতির আলোকচ্ছটায় সকল অন্ধকার দূর করে দিয়েছিল। অতঃপর মিসরে ফেরার পথে আমি সেই কিতাবটিসহ আরও কিছু সম্পদ হারিয়ে ফেলি। যখন আল্লাহ তাআলা ৭৫৬ হিজরিতে পুনরায় আল্লাহর হারামে ফিরে আসা এবং আল্লাহর সর্বোত্তম ভূমিতে অবস্থানের সুযোগ দিয়ে আমার ওপর অনুগ্রহ করলেন, তখন আমি দ্বিতীয়বারের মতো কঠোর পরিশ্রমের সংকল্প করলাম এবং কোনো প্রকার অলসতা ও শৈথিল্য ছাড়াই পুনরায় কাজ শুরু করলাম। আমি এই গ্রন্থটি সর্বোত্তম বিন্যাস ও সুদৃঢ় অবয়বে সংকলন করেছি। এতে আমি ব্যাকরণ বিশ্লেষণের জটিল মাসআলাগুলো অনুসন্ধান করে সেগুলো উন্মোচন করেছি, ছাত্রদের নিকট যা দুর্বোধ্য মনে হয় তা স্পষ্ট ও পরিমার্জিত করেছি এবং একদল বৈয়াকরণ ও অন্যদের যেসব ভুলভ্রান্তি হয়েছিল সেগুলো চিহ্নিত করে সংশোধন করে দিয়েছি।

সুতরাং তোমাদের সম্মুখে এমন এক কিতাব (পেশ করছি), যার চেয়ে সামান্য কিছুর জন্যও দূর-দূরান্তে সফর করা হয় এবং প্রাজ্ঞ পণ্ডিতগণ এর নিকট এসে থমকে দাঁড়ান ও একে অতিক্রম করতে পারেন না। কেননা এই বিষয়ে এমন কোনো রচনা এর আগে কোনো মেধা ও প্রতিভা উপহার দিতে পারেনি এবং ইতিপূর্বে কেউ এই আদলে কোনো কিছু তৈরি করেনি। এটি রচনার পেছনে আমাকে যা অনুপ্রাণিত করেছিল তা হলো, আমি যখন এই বিষয়ে ‘আল-ইরাব’ নামক একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা লিখেছিলাম...
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ১৩)
عَن قَوَاعِد الْإِعْرَاب حسن وقعها عِنْد أولي الْأَلْبَاب وَسَار نَفعهَا فِي جمَاعَة الطلاب مَعَ أَن الَّذِي أودعته فِيهَا بِالنِّسْبَةِ إِلَى مَا ادخرته عَنْهَا كشذرة من عقد نحر بل كقطرة من قطرات بَحر وَهَا أَنا بائح بِمَا أسررته مُفِيد لما قَرّرته وحررته مقرب فَوَائده للأفهام وَاضع فرائده على طرف الثمام لينالها الطلاب بِأَدْنَى إِلْمَام سَائل من حسن خيمه وَسلم من دَاء الْحَسَد أديمه إِذا عثر على شَيْء طَغى بِهِ الْقَلَم أَو زلت بِهِ الْقدَم أَن يغفتر ذَلِك فِي جنب مَا قربت إِلَيْهِ من الْبعيد ورددت عَلَيْهِ من الشريد وأرحته من التَّعَب وصيرت القاصي يُنَادِيه من كثب وَأَن يحضر قلبه أَن الْجواد قد يكبو وَأَن الصارم قد ينبو وَأَن النَّار قد تخبو وَأَن الْإِنْسَان مَحل النسْيَان وَأَن الْحَسَنَات يذْهبن السَّيِّئَات

(وَمن ذَا الَّذِي ترْضى سجاياه كلهَا … كفى الْمَرْء نبْلًا أَن تعد معايبه)

وينحصر فِي ثَمَانِيَة أَبْوَاب

الْبَاب الأول فِي تَفْسِير الْمُفْردَات وَذكر أَحْكَامهَا

الْبَاب الثَّانِي فِي تَفْسِير الْجمل وَذكر أقسامها وأحكامها

الْبَاب الثَّالِث فِي ذكر مَا يتَرَدَّد بَين الْمُفْردَات والجمل وَهُوَ الظّرْف وَالْجَار وَالْمَجْرُور وَذكر أحكامهما

الْبَاب الرَّابِع فِي ذكر أَحْكَام يكثر دورها ويقبح بالمعرب جهلها

الْبَاب الْخَامِس فِي ذكر الْأَوْجه الَّتِي يدْخل على الْمُعَرّف الْخلَل من جِهَتهَا

الْبَاب السَّادِس فِي التحذير من أُمُور اشتهرت بَين المعربين وَالصَّوَاب خلَافهَا

الْبَاب السَّابِع فِي كَيْفيَّة الْإِعْرَاب
বাক্যতত্ত্বের নিয়মাবলী (কাওয়াইদুল ই’রাব) সম্পর্কে, যা প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট সমাদৃত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে যার উপকারিতা ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও আমি এতে যা গচ্ছিত করেছি, তা আমার নিকট সংরক্ষিত জ্ঞানের তুলনায় একটি কণ্ঠহারের ছোট পুঁতির মতো, বরং সমুদ্রের বিন্দুমাত্র ফোঁটার মতো। এখন আমি যা সংগোপনে রেখেছিলাম তা প্রকাশ করছি, যা সুসংবদ্ধ ও পরিমার্জিত করেছি তা পরিবেশন করছি। আমি এর উপকারিতাগুলোকে অনুধাবনের নিকটবর্তী করেছি এবং এর সারবস্তুগুলোকে হাতের নাগালে নিয়ে এসেছি যাতে শিক্ষার্থীরা সামান্যতম প্রচেষ্টায় তা অর্জন করতে পারে। আমি সেই ব্যক্তির নিকট আবেদন করছি, যার স্বভাব সুন্দর এবং যার অন্তর হিংসার ব্যাধি থেকে মুক্ত, তিনি যখন এমন কিছু দেখতে পাবেন যেখানে কলম সীমানা ছাড়িয়ে গিয়েছে কিংবা আল্লাহর এই বান্দার পদস্খলন ঘটেছে, তখন তিনি যেন তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন। বিশেষ করে আমি যে দূরবর্তী বিষয়কে তাঁর জন্য নিকটবর্তী করেছি এবং যা অগোচরে ছিল তা তাঁর নিকট ফিরিয়ে এনেছি, তাঁকে পরিশ্রম থেকে মুক্তি দিয়েছি এবং যা দূরে ছিল তাকে অতি সন্নিকট হতে অনুভব করার সুযোগ করে দিয়েছি, তার তুলনায় যেন ভুলগুলো ক্ষমা করেন। তিনি যেন তাঁর হৃদয়ে জাগ্রত রাখেন যে, তেজস্বী ঘোড়াও হোঁচট খেতে পারে, ধারালো তরবারি লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারে, প্রজ্বলিত আগুন নিভে যেতে পারে, আর মানুষ তো বিস্মৃতি ও ভুলের আধার; আর নিশ্চয়ই সৎকর্মসমূহ মন্দকর্মসমূহকে মিটিয়ে দেয়।

(কে সেই ব্যক্তি যার সকল গুণাবলীই প্রশংসিত? একজন মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে তার দোষগুলো গণনা করা যায়।)

এটি আটটি অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ:

প্রথম অধ্যায়: একক শব্দসমূহের বিশ্লেষণ ও তাদের বিধানাবলি প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: বাক্যসমূহের বিশ্লেষণ এবং তাদের প্রকারভেদ ও বিধানাবলি প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: যা একক শব্দ ও বাক্যের মাঝে দোদুল্যমান, অর্থাৎ 'জরফ' (ক্রিয়া বিশেষণ) এবং 'জার ও মাজরুর' (অব্যয় ও তার পরবর্তী বিশেষ্য) এবং তাদের উভয়টির বিধানাবলি প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অধ্যায়: এমন কিছু বিধানের বর্ণনায় যা সচরাচর ঘটে থাকে এবং একজন পদ-বিশ্লেষণকারীর পক্ষে তা না জানা কুরুচিপূর্ণ।

পঞ্চম অধ্যায়: সেই ক্ষেত্রগুলোর বর্ণনায় যেগুলোর কারণে একজন পদ-বিশ্লেষণকারীর কাজে ত্রুটি প্রবেশ করে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: সেই সব বিষয় সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা যা পদ-বিশ্লেষণকারীদের নিকট প্রসিদ্ধ, অথচ সঠিক রূপটি তার বিপরীত।

সপ্তম অধ্যায়: পদ-বিশ্লেষণের পদ্ধতির বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ১৪)
الْبَاب الثَّامِن فِي ذكر أُمُور كُلية يتَخَرَّج عَلَيْهَا مَا لَا ينْحَصر من الصُّور الْجُزْئِيَّة

وَاعْلَم أنني تَأَمَّلت كتب الْإِعْرَاب فَإِذا السَّبَب الَّذِي اقْتضى طولهَا ثَلَاثَة أُمُور

أَحدهَا كَثْرَة التّكْرَار فَإِنَّهَا لم تُوضَع لإِفَادَة القوانين الْكُلية بل للْكَلَام على الصُّور الْجُزْئِيَّة فتراهم يَتَكَلَّمُونَ على التَّرْكِيب الْمعِين بِكَلَام ثمَّ حَيْثُ جَاءَت نَظَائِره أعادوا ذَلِك الْكَلَام أَلا ترى أَنهم حَيْثُ مر بهم مثل الْمَوْصُول فِي قَوْله تَعَالَى {هدى لِلْمُتقين الَّذين يُؤمنُونَ بِالْغَيْبِ} ذكرُوا أَن فِيهِ ثَلَاثَة أوجه وَحَيْثُ جَاءَهُم مثل الضَّمِير الْمُنْفَصِل فِي قَوْله تَعَالَى {إِنَّك أَنْت السَّمِيع الْعَلِيم} ذكرُوا فِيهِ ثَلَاثَة أوجه أَيْضا وَحَيْثُ جَاءَهُم مثل الضَّمِير الْمُنْفَصِل فِي قَوْله تَعَالَى {كنت أَنْت الرَّقِيب عَلَيْهِم} ذكرُوا فِيهِ وَجْهَيْن ويكررون ذكر الْخلاف فِيهِ إِذا أعرب فصلا أَله مَحل بِاعْتِبَار مَا قبله أم بِاعْتِبَار مَا بعده أم لَا مَحل لَهُ وَالْخلاف فِي كَون الْمَرْفُوع فَاعِلا أَو مُبْتَدأ إِذا وَقع بعد إِذا فِي نَحْو {إِذا السَّمَاء انشقت} أَو إِن فِي نَحْو {وَإِن امْرَأَة خَافت} أَو الظّرْف فِي نَحْو (أَفِي الله شكّ) أَو لَو فِي
অষ্টম অধ্যায়: এমন কিছু সামগ্রিক বিষয় বর্ণনায় যা থেকে অগণিত খুটিনাটি বিষয় নির্গত হয়।

জেনে রাখুন যে, আমি ই'রাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) সংক্রান্ত গ্রন্থাবলী নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেছি; অতঃপর দেখেছি যে, সেগুলোর দীর্ঘ হওয়ার কারণ তিনটি বিষয়।

তার মধ্যে প্রথমটি হলো পুনরাবৃত্তির আধিক্য; কারণ সেগুলো সামগ্রিক নিয়মাবলী প্রদানের জন্য রচিত হয়নি, বরং খুটিনাটি বিষয়ের আলোচনার জন্য রচিত হয়েছে। ফলে আপনি তাদের দেখতে পাবেন যে, তারা একটি নির্দিষ্ট গঠনশৈলী নিয়ে আলোচনা করেন, অতঃপর যখনই তার অনুরূপ উদাহরণ আসে, তারা সেই আলোচনার পুনরাবৃত্তি করেন। আপনি কি দেখেন না যে, যখনই মহান আল্লাহর বাণী {মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে}-এর ন্যায় 'মাউসুল' (সংযোজক বিশেষ্য) তাদের সামনে আসে, তখন তারা উল্লেখ করেন যে এতে তিনটি দিক রয়েছে। আর যখন মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ}-এর ন্যায় 'যমীরে মুনফাসিল' (পৃথক সর্বনাম) তাদের সামনে আসে, তখন তারা এতেও তিনটি দিকের কথা উল্লেখ করেন। আবার যখন মহান আল্লাহর বাণী {আপনিই ছিলেন তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক}-এর ন্যায় পৃথক সর্বনাম আসে, তখন তারা এতে দুটি দিকের কথা উল্লেখ করেন। আর যখন একে 'ফাসল' (বিভেদকারী) হিসেবে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ করা হয়, তখন তারা এর মতপার্থক্য বারবার উল্লেখ করেন যে—এর কি পূর্ববর্তী শব্দের বিচারে কোনো ব্যাকরণিক স্থান রয়েছে, নাকি পরবর্তী শব্দের বিচারে, নাকি এর কোনো স্থান নেই? আর 'ইযা'-এর পরে মারফু (পেশযুক্ত শব্দ) আসলে তা ফায়েল (কর্তা) হবে নাকি মুবতাদা (উদ্দেশ্য) হবে—সে বিষয়ে মতভেদ; যেমন {যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে} বাক্যে, অথবা 'ইন'-এর পরে যেমন {আর যদি কোনো নারী আশঙ্কা করে} বাক্যে, অথবা যরফের (স্থান বা কালবাচক শব্দ) পরে যেমন {আল্লাহর ব্যাপারে কি কোনো সন্দেহ আছে?} বাক্যে, অথবা 'লাও'-এর পরে...
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ১৫)
نَحْو {وَلَو أَنهم صَبَرُوا} وَفِي كَون أَن وَأَن وصلتهما بعد حذف الْجَار فِي نَحْو {شهد الله أَنه لَا إِلَه إِلَّا هُوَ} وَنَحْو {حصرت صُدُورهمْ أَن يُقَاتِلُوكُمْ} فِي مَوضِع خفض بالجار الْمَحْذُوف على حد قَوْله

أشارت كُلَيْب بالأكف الْأَصَابِع أَو نصب بِالْفِعْلِ الْمَذْكُور على حد قَوْله

فِيهِ كَمَا عسل الطَّرِيق الثَّعْلَب وَكَذَلِكَ يكررون الْخلاف فِي جَوَاز الْعَطف الْمَجْرُور من غير إِعَادَة الْخَافِض وعَلى الضَّمِير الْمُتَّصِل الْمَرْفُوع من غير وجود الْفَاصِل وَغير ذَلِك مِمَّا إِذا استقصي أمل الْقَلَم وأعقب السأم فَجمعت هَذِه الْمسَائِل وَنَحْوهَا مقررة محررة فِي الْبَاب الرَّابِع من هَذَا الْكتاب فَعَلَيْك بمراجعته فانك تَجِد بِهِ كنزا وَاسِعًا تنْفق مِنْهُ ومنهلا سائغا ترده وتصدر عَنهُ

وَالْأَمر الثَّانِي إِيرَاد مَالا يتَعَلَّق بالإعراب كَالْكَلَامِ فِي اشتقاق اسْم أهوَ من السمة كَمَا يَقُول الْكُوفِيُّونَ أَو من السمو كَمَا يَقُول البصريون والاحتجاج
যেমন {এবং তারা যদি ধৈর্য ধারণ করত}। এবং 'আন্না' ও তার সম্পর্কযুক্ত বাক্যাংশ হতে অব্যয় বিলুপ্ত হওয়ার পর তাদের অবস্থান সম্পর্কে, যেমন {আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই} এবং যেমন {তাদের অন্তর তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে কুণ্ঠিত হয়েছে}। এটি বিলুপ্ত অব্যয়ের কারণে 'জার' (নিম্নস্বর) অবস্থানে রয়েছে, যেমন কবির এই উক্তিতে:

কুলাইব গোত্র তাদের হাতের তালু ও আঙুল দিয়ে ইশারা করল। অথবা এটি উল্লিখিত ক্রিয়া দ্বারা 'নাসব' (উচ্চস্বর) অবস্থানে রয়েছে, যেমন কবির এই উক্তিতে:

এতে শিয়াল যেভাবে দ্রুত পথে চলে। একইভাবে তারা অব্যয় পুনরাবৃত্তি না করে 'মাজরুর'-এর ওপর সংযোজন (আতফ) করার বৈধতা এবং কোনো বিচ্ছেদকারী ছাড়াই সংলগ্ন 'মারফু' সর্বনামের ওপর সংযোজন করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য মাসয়ালা নিয়ে মতভেদ পুনরাবৃত্তি করেন; যা বিস্তারিত আলোচনা করতে গেলে কলম ক্লান্ত হয়ে পড়বে এবং বিরক্তির উদ্রেক করবে। অতএব আমি এই মাসয়ালাগুলো ও এই জাতীয় বিষয়গুলো এই কিতাবের চতুর্থ অধ্যায়ে সুপ্রতিষ্ঠিত ও পরিমার্জিতভাবে সংকলিত করেছি। সুতরাং তোমার উচিত এটি অধ্যয়ন করা, কারণ এতে তুমি এক বিশাল ভাণ্ডার খুঁজে পাবে যা থেকে তুমি ব্যয় করতে পারবে এবং এটি একটি সুমিষ্ট ঝরনা যেখানে তুমি আসবে এবং তৃপ্ত হয়ে প্রস্থান করবে।

আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো এমন বিষয়ের অবতারণা করা যা ব্যাকরণিক কারক বিশ্লেষণের (ইরাব) সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। যেমন 'ইসম' (নাম) শব্দের বুৎপত্তিগত আলোচনা; এটি কি 'সিমা' (চিহ্ন) থেকে উদ্ভূত, যেমনটি কুফাবাসী ব্যাকরণবিদরা বলেন, নাকি এটি 'সুমু' (উচ্চতা) থেকে উদ্ভূত, যেমনটি বসরার ব্যাকরণবিদরা বলেন এবং এর সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করা।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ১৩১৬)
لكل من الْفَرِيقَيْنِ وترجيح الرَّاجِح من الْقَوْلَيْنِ وكالكلام على أَلفه لم حذفت من الْبَسْمَلَة خطا وعَلى بَاء الْجَرّ ولامه لم كسرتا لفظا وكالكلام على ألف ذَا الإشارية أزائدة هِيَ كَمَا يَقُول الْكُوفِيُّونَ أم منقلبة عَن يَاء هِيَ عين وَاللَّام يَاء أُخْرَى محذوفة كَمَا يَقُول البصريون وَالْعجب من مكي بن أبي طَالب إِذْ أورد مثل هَذَا فِي كِتَابه الْمَوْضُوع لبَيَان مُشكل الْإِعْرَاب مَعَ أَن هَذَا لَيْسَ من الْإِعْرَاب فِي شَيْء وَبَعْضهمْ إِذا ذكر الْكَلِمَة ذكر تكسيرها وتصغيرها وتأنيثها وتذكيرها وَمَا ورد فِيهَا من اللُّغَات وَمَا رُوِيَ من الْقرَاءَات وان لم ينبن على ذَلِك شَيْء من الْإِعْرَاب

وَالثَّالِث اعراب الواضحات كالمبتدأ وَخَبره وَالْفَاعِل ونائبه وَالْجَار وَالْمَجْرُور والعاطف والمعطوف وَأكْثر النَّاس استقصاء لذَلِك الحوفي

وَقد تجنب هذَيْن الْأَمريْنِ وأتيت مكانهما بِمَا يتبصر بِهِ النَّاظر ويتمرن بِهِ الخاطر من إِيرَاد النَّظَائِر القرآنية والشواهد الشعرية وَبَعض مَا اتّفق فِي الْمجَالِس النحوية

وَلما تمّ هَذَا التصنيف على الْوَجْه الَّذِي قصدته وتيسر فِيهِ من لطائف المعارف مَا أردته واعتمدته سميته ب مُغنِي اللبيب عَن كتب الأعاريب وخطابي بِهِ لمن ابْتَدَأَ فِي تعلم الْإِعْرَاب وَلمن استمسك مِنْهُ بأوثق الْأَسْبَاب وَمن الله تَعَالَى أَسْتَمدّ الصَّوَاب والتوفيق إِلَى مَا يحظيني لَدَيْهِ بجزيل الثَّوَاب وإياه أسأَل أَن يعْصم الْقَلَم من الْخَطَأ والخطل والفهم من الزيغ والزلل إِنَّه أكْرم مسؤول وَأعظم مأمول
উভয় পক্ষের জন্য এবং দুটি মতের মধ্যে প্রধানটিকে প্রাধান্য দেওয়া। যেমন 'আলিফ' নিয়ে আলোচনা যে, কেন এটি লেখার সময় বিসমিল্লাহ থেকে বাদ দেওয়া হলো, এবং 'জার' এর 'বা' ও 'লাম' নিয়ে আলোচনা যে, কেন উচ্চারণের সময় সেগুলোতে জের দেওয়া হলো। তদ্রূপ ইশারা-সূচক 'যা' এর 'আলিফ' নিয়ে আলোচনা যে, এটি কি অতিরিক্ত (যেমনটি কুফীগণ বলেন), নাকি এটি 'ইয়া' থেকে পরিবর্তিত হয়েছে যা 'আইন' বর্ণ এবং 'লাম' বর্ণটি অন্য একটি বিলুপ্ত 'ইয়া' (যেমনটি বসরীগণ বলেন)। মক্কী ইবন আবি তালিবের ব্যাপারে বিস্ময় জাগে, কারণ তিনি এই জাতীয় বিষয়গুলো তাঁর সেই গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যা জটিল ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ বর্ণনার জন্য রচিত, অথচ এগুলো ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের কোনো অংশই নয়। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ যখন কোনো শব্দ উল্লেখ করেন, তখন তার বহুবচন, ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, স্ত্রীলিঙ্গ ও পুংলিঙ্গ রূপ, শব্দটির ব্যাপারে প্রচলিত ভাষাসমূহ এবং বর্ণিত কিরাতসমূহ উল্লেখ করেন, যদিও এর ওপর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের কোনো কিছু নির্ভর করে না।

তৃতীয় বিষয়টি হলো স্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ বর্ণনা করা, যেমন: মুবতাদা ও তার খবর, কর্তা ও কর্মবাচ্যের কর্তা, জার ও মাজরুর, এবং অব্যয় ও তার অনুগামী শব্দ। এই বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিস্তারিত আলোচনা করেছেন আল-হাউফী।

আমি এই দুটি বিষয় পরিহার করেছি এবং এগুলোর স্থলে এমন বিষয় নিয়ে এসেছি যা দ্বারা পাঠক অন্তর্দৃষ্টি লাভ করবে এবং চিন্তাশক্তি অভ্যস্ত হবে; যার মধ্যে রয়েছে কুরআনের অনুরূপ উদাহরণ, কাব্যিক প্রমাণ এবং ব্যাকরণিক মজলিসসমূহে আলোচিত কিছু বিষয়।

যখন এই সংকলনটি আমার অভিপ্রায় অনুযায়ী পূর্ণ হলো এবং এতে আমার উদ্দেশ্য ও নির্ভরকৃত জ্ঞানগর্ভ সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ সহজতর হলো, তখন আমি এর নাম রাখলাম ‘মুগনি আল-লাবীব আন কুতুবিল আ’আরীব’। এতে আমার সম্বোধন তাদের প্রতি যারা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ শিক্ষা শুরু করেছে এবং যারা এতে পারদর্শিতা অর্জনের মজবুত মাধ্যমসমূহ আঁকড়ে ধরেছে। আমি মহান আল্লাহর নিকট সঠিক বিষয় ও সেই তাওফিক প্রার্থনা করছি যা আমাকে তাঁর নিকট মহা পুরস্কারের অধিকারী করবে। আর আমি তাঁর নিকটই প্রার্থনা করছি যেন তিনি কলমকে ভুল ও ত্রুটি থেকে এবং বোধশক্তিকে বিচ্যুতি ও স্খলন থেকে রক্ষা করেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ প্রার্থিত সত্তা এবং মহান আশার স্থল।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ১৭)
الْبَاب الأول

 

‌‌فِي تَفْسِير الْمُفْردَات وَذكر آحكامها

 

وأعني بالمفردات الْحُرُوف وَمَا تضمن مَعْنَاهَا من الْأَسْمَاء والظروف فَإِنَّهَا المحتاجة إِلَى ذَلِك وَقد رتبتها على حُرُوف المعجم ليسهل تنَاولهَا وَرُبمَا ذكرت أَسمَاء غير تِلْكَ وأفعالا لمسيس الْحَاجة إِلَى شرحها

حرف الْألف

 

الْألف المفردة تَأتي عَليّ وَجْهَيْن

أَحدهمَا أَن تكون حرفا يُنَادى بِهِ الْقَرِيب كَقَوْلِه

3 - أفاطم مهلا بعض هَذَا التدلل وَنقل ابْن الخباز عَن شَيْخه أَنه للمتوسط وَأَن الَّذِي للقريب يَا وَهَذَا خرق لإجماعهم

وَالثَّانِي أَن تكون للاستفهام وَحَقِيقَته طلب الْفَهم نَحْو أَزِيد قَائِم
প্রথম অধ্যায়

 

‌‌একক শব্দসমূহের ব্যাখ্যা এবং সেগুলোর বিধান বর্ণনা প্রসঙ্গে

 

আর একক শব্দ বলতে আমি হরফ (অব্যয়) এবং বিশেষ্য (ইসম) ও কাল/স্থানবাচক শব্দ (জরফ) যা সেগুলোর অর্থ বহন করে—সেগুলোকে উদ্দেশ্য করছি। কারণ মূলত এগুলোই ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী। আর আমি এগুলোকে বর্ণমালার ক্রমানুসারে সাজিয়েছি যাতে সেগুলো আয়ত্ত করা সহজ হয়। অনেক সময় আমি এর বাইরেও কিছু বিশেষ্য ও ক্রিয়া উল্লেখ করেছি সেগুলোর ব্যাখ্যার বিশেষ প্রয়োজনের কারণে।

আলিফ বর্ণ

 

একক আলিফ দুই প্রকারে ব্যবহৃত হয়

প্রথমটি হলো: এটি নিকটবর্তী কাউকে ডাকার জন্য অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া। যেমন কবির উক্তি:

3 - হে ফাতেমা! তোমার এই লাজুক অভিমান কিছুটা কমাও। ইবনুল খাব্বাজ তার উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এটি মধ্যবর্তীদের আহ্বানের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং নিকটবর্তীদের জন্য ‘ইয়া’ ব্যবহৃত হয়; অথচ এটি তাদের (ব্যাকরণবিদদের) ঐকমত্যের পরিপন্থী।

দ্বিতীয়টি হলো: এটি প্রশ্নবোধক হওয়া, আর এর প্রকৃত অর্থ হলো কোনো কিছু বোঝার অন্বেষণ করা। যেমন: যায়েদ কি দণ্ডায়মান?
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ১৮)
وَقد أُجِيز الْوَجْهَانِ فِي قِرَاءَة الحرميين {من هُوَ قَانِت آنَاء اللَّيْل} وَكَون الْهمزَة فِيهِ للنداء هُوَ قَول الْفراء ويبعده أَنه لَيْسَ فِي التَّنْزِيل نِدَاء بِغَيْر يَا ويقربه سَلَامَته من دَعْوَى الْمجَاز إِذْ لَا يكون الِاسْتِفْهَام مِنْهُ تَعَالَى على حَقِيقَته وَمن دَعْوَى كَثْرَة الْحَذف إِذْ التَّقْدِير عِنْد من جعلهَا للاستفهام أَمن هُوَ قَانِت خير أم هَذَا الْكفَّار أَي الْمُخَاطب بقوله تَعَالَى {قل تمتّع بكفرك قَلِيلا} فَحذف شَيْئَانِ معادل الْهمزَة وَالْخَبَر وَنَظِيره فِي حذف المعادل قَول أبي ذُؤَيْب الْهُذلِيّ

4 - (دَعَاني إِلَيْهَا الْقلب إِنِّي لأَمره … سميع فَمَا أَدْرِي أرشد طلابها)

تَقْدِيره أم غي وَنَظِيره فِي مَجِيء الْخَبَر كلمة خير وَاقعَة قبل أم {أَفَمَن يلقى فِي النَّار خير أم من يَأْتِي آمنا يَوْم الْقِيَامَة} وَلَك أَن تَقول لَا حَاجَة إِلَى تَقْدِير معادل فِي الْبَيْت لصِحَّة قَوْلك مَا أَدْرِي هَل طلابها رشد وَامْتِنَاع أَن يُؤْتى ل هَل بمعادل وَكَذَلِكَ لَا حَاجَة فِي الْآيَة إِلَى تَقْدِير معادل لصِحَّة تَقْدِير الْخَبَر بِقَوْلِك كمن لَيْسَ كَذَلِك وَقد قَالُوا فِي قَوْله تَعَالَى {أَفَمَن هُوَ قَائِم على كل نفس بِمَا كسبت} إِن التَّقْدِير كمن لَيْسَ كَذَلِك أَو لم
হারামাইনবাসীদের (মক্কা ও মদীনার ইমামগণের) ক্বিরাতে {যে ব্যক্তি রাতের প্রহরে আনুগত্যে রত থাকে} এই আয়াতাংশে উভয় প্রকার পঠনরীতি অনুমোদিত। এখানে ‘হামযা’ বর্ণটি সম্বোধনের জন্য হওয়া হলো আল-ফাররার অভিমত; তবে একে দূরবর্তী মনে করা হয় কারণ কুরআনে ‘ইয়া’ ব্যতীত অন্য কোনো বর্ণ দিয়ে সম্বোধন করার উদাহরণ নেই। তবে এর সবল দিক হলো এটি রূপক ব্যবহারের দাবি থেকে মুক্ত, কারণ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা প্রকৃত অর্থে (জানার উদ্দেশ্যে) হয় না। তদুপরি এটি অধিক বিলোপ বা ঊহ্য রাখার দাবি থেকেও মুক্ত রাখে, কারণ যারা একে প্রশ্নবোধক ধরেছেন তাদের মতে এখানে ঊহ্য অংশটি হলো: ‘যে ব্যক্তি অনুগত সে কি উত্তম, নাকি এই কাফের?’ অর্থাৎ যাকে মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে সম্বোধন করা হয়েছে: {বলুন, তোমার কুফর নিয়ে অল্পকাল ভোগ করে নাও}। ফলে এখানে দুটি বিষয় বিলুপ্ত হয়েছে: হামযার সমার্থক অংশ এবং খবর (বিধেয়)। সমার্থক অংশ বিলুপ্ত হওয়ার সদৃশ উদাহরণ হলো আবু যুআইব আল-হুযালীর উক্তি:

৪ - (আমার হৃদয় আমাকে তার দিকে আহ্বান জানাল, নিশ্চয়ই আমি তার আদেশের অনুগত … তাই আমি জানি না তার অন্বেষণ কি সঠিক পথ)

এর পূর্ণরূপ হলো "নাকি বিভ্রান্তি"। আর ‘আম’ (নাকি) শব্দের পূর্বে খবর হিসেবে ‘খায়র’ (উত্তম) শব্দ আসার সদৃশ উদাহরণ হলো: {যাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে সে কি উত্তম, নাকি যে কিয়ামতের দিন নিরাপদ হয়ে আসবে?}। আপনি এও বলতে পারেন যে, কবিতার চরণে কোনো সমার্থক অংশ ঊহ্য ধরার প্রয়োজন নেই, কারণ "আমি জানি না তার অন্বেষণ সঠিক কি না" - এ কথাটি ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ এবং ‘হাল’ অব্যয়ের ক্ষেত্রে সমার্থক অংশ আসা অসম্ভব। অনুরূপভাবে, আয়াতেও কোনো সমার্থক অংশ ঊহ্য ধরার প্রয়োজন নেই, কারণ "যে ব্যক্তি এমন নয় তার মতো" - কথাটি দ্বারা খবর ঊহ্য ধরা সঠিক। আর মহান আল্লাহর বাণী: {প্রত্যেক সত্তা যা অর্জন করে, তিনি কি তার রক্ষণাবেক্ষণকারী নন?} - এর ক্ষেত্রে তারা বলেছেন যে, এখানে ঊহ্য অংশ হলো "সে কি ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে এমন নয়" অথবা নয়।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ১৯)
يوحده وَيكون {وَجعلُوا لله شُرَكَاء} مَعْطُوفًا على الْخَبَر على التَّقْدِير الثَّانِي وَقَالُوا التَّقْدِير فِي قَوْله تَعَالَى {أَفَمَن يَتَّقِي بِوَجْهِهِ سوء الْعَذَاب يَوْم الْقِيَامَة} أَي كمن ينعم فِي الْجنَّة وَفِي قَوْله تَعَالَى {أَفَمَن زين لَهُ سوء عمله فَرَآهُ حسنا} أَي كمن هداه الله بِدَلِيل {فَإِن الله يضل من يَشَاء وَيهْدِي من يَشَاء} أَو التَّقْدِير ذهبت نَفسك عَلَيْهِم حسرة بِدَلِيل قَوْله تَعَالَى {فَلَا تذْهب نَفسك عَلَيْهِم حسرات} وَجَاء فِي التَّنْزِيل مَوضِع صرح فِيهِ بِهَذَا الْخَبَر وَحذف الْمُبْتَدَأ على الْعَكْس مِمَّا نَحن فِيهِ وَهُوَ قَوْله تَعَالَى {كمن هُوَ خَالِد فِي النَّار وَسقوا مَاء حميما} أَي أَمن هُوَ خَالِد فِي الْجنَّة يسقى من هَذِه الْأَنْهَار كمن هُوَ خَالِد فِي النَّار وجاءا مُصَرحًا بهما على الأَصْل فِي قَوْله تَعَالَى {أَو من كَانَ مَيتا فأحييناه وَجَعَلنَا لَهُ نورا يمشي بِهِ فِي النَّاس كمن مثله فِي الظُّلُمَات لَيْسَ بِخَارِج مِنْهَا} {أَفَمَن كَانَ على بَيِّنَة من ربه كمن زين لَهُ سوء عمله}

وَالْألف أصل أدوات الِاسْتِفْهَام وَلِهَذَا خصت بِأَحْكَام

أَحدهَا جَوَاز حذفهَا سَوَاء تقدّمت على أم كَقَوْل عمر بن أبي ربيعَة
তিনি তাঁর একত্ব ঘোষণা করবেন এবং {তারা আল্লাহর জন্য শরিক স্থির করেছে} বাক্যটি দ্বিতীয় সম্ভাব্য ব্যাখ্যার ভিত্তিতে খবরের (সংবাদ) ওপর আতফ (সংযুক্ত) হবে। তাঁরা বলেছেন যে, মহান আল্লাহর বাণী: {তবে যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার মুখমণ্ডল দিয়ে নিকৃষ্ট আযাব প্রতিহত করবে} -এর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য উহ্য অর্থ হলো 'সে কি ঐ ব্যক্তির মতো যে জান্নাতে নেয়ামত ভোগ করছে?'। আর মহান আল্লাহর বাণী: {যাকে তার মন্দ কর্ম শোভনীয় করে দেখানো হয়েছে এবং সে তাকে উত্তম মনে করে} -এর উহ্য অর্থ হলো 'সে কি ঐ ব্যক্তির মতো যাকে আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন?', যার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন}। অথবা উহ্য অংশটি হলো 'তোমার প্রাণ কি তাদের জন্য আক্ষেপে শেষ হয়ে যাবে?', যার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমার প্রাণ যেন তাদের জন্য আক্ষেপে নিঃশেষ হয়ে না যায়}। আল-কুরআনে এমন স্থানও এসেছে যেখানে এই খবরটিকে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার বিপরীতে মুবতাদা-কে (উদ্দেশ্য) উহ্য রাখা হয়েছে, যা আমাদের বর্তমান প্রসঙ্গের বিপরীত। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সে কি তার মতো যে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে এবং যাদেরকে ফুটন্ত পানি পান করানো হবে?} অর্থাৎ: যে ব্যক্তি জান্নাতে চিরস্থায়ী হবে এবং এসব নহর থেকে পান করবে, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো যে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে? আবার মূল নিয়ম অনুযায়ী উভয়টিই (মুবতাদা ও খবর) স্পষ্টভাবে এসেছে মহান আল্লাহর বাণী: {যে ব্যক্তি মৃত ছিল, অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তার জন্য এমন একটি আলো দান করেছি যার সাহায্যে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো যে অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে এবং সেখান থেকে নির্গত হতে পারছে না?} এবং {যে ব্যক্তি তার রবের পক্ষ থেকে আগত সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো যাকে তার মন্দ কর্ম শোভনীয় করে দেখানো হয়েছে?}।

আলিফ (হামজাতুল ইস্তিফহাম) হলো প্রশ্নবোধক অব্যয়সমূহের মূল, আর এই কারণেই একে কিছু বিশেষ বিধানে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করা হয়েছে।

তার মধ্যে একটি হলো একে উহ্য রাখা বৈধ, চাই তা ‘আম’ (أم)-এর পূর্বে আসুক, যেমন ওমর ইবনে আবি রাবিআ-র উক্তি:
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ২০)
5 - (بدا لي مِنْهَا معصم حِين جمرت … وكف خضيب زينت ببنان)

(فوَاللَّه مَا أَدْرِي وَإِن كنت داريا … بِسبع رمين الْجَمْر أم بثمان)

أَرَادَ أبسبع أم لم تتقدمها كَقَوْل الْكُمَيْت

6 - (طربت وَمَا شوقا إِلَى الْبيض أطرب … وَلَا لعبا مني وَذُو الشيب يلْعَب)

أَرَادَ أَو ذُو الشيب يلْعَب وَاخْتلف فِي قَول عمر بن أبي ربيعَة

7 - (ثمَّ قَالُوا تحبها قلت بهرا … عدد الرمل والحصى وَالتُّرَاب)

فَقيل أَرَادَ أتحبها وَقيل إِنَّه خبر أَي أَنْت تحبها وَمعنى قلت بهرا قلت أبحها حبا بهرني بهرا أَي غلبني غَلَبَة وَقيل مَعْنَاهُ عجبا

وَقَالَ المتنبي

8 - (أَحْيَا وأيسر مَا قاسيت مَا قتلا … والبين جَار على ضعْفي وَمَا عدلا)

أَحْيَا فعل مضارع وَالْأَصْل أأحيا فحذفت همزَة الِاسْتِفْهَام وَالْوَاو للْحَال وَالْمعْنَى التَّعَجُّب من حَيَاته يَقُول كَيفَ أَحْيَا وَأَقل شَيْء قاسيته قد قتل غَيْرِي والأخفش يقيس ذَلِك فِي الِاخْتِيَار عِنْد أَمن اللّبْس وَحمل عَلَيْهِ قَوْله تَعَالَى {وَتلك نعْمَة تمنها عَليّ} وَقَوله تَعَالَى {هَذَا رَبِّي} فِي الْمَوَاضِع الثَّلَاثَة
৫ - (যখন কঙ্কর নিক্ষেপ করছিলাম তখন তার কবজি আমার সামনে প্রকাশ পেল … এবং রঞ্জিত একটি হাতের তালু যা আঙুলের অগ্রভাগ দিয়ে শোভিত ছিল)

(আল্লাহর কসম, আমি জানি না যদিও আমি সচেতন … তারা কি সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করেছে নাকি আটটি)

তিনি ‘সাতটি কি’ বুঝাতে চেয়েছেন, অন্যথায় এর পূর্বে প্রশ্নবোধক হামযা আসেনি, যেমন কুমাইত-এর উক্তি:

৬ - (আমি আনন্দিত হয়েছি, অথচ শুভ্রকেশীদের প্রতি কোনো আকাঙ্ক্ষার কারণে নয় … এবং আমার পক্ষ থেকে কোনো খেলার ছলে নয়, আর একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি কি খেলা করে?)

তিনি বুঝাতে চেয়েছেন ‘অথবা একজন বৃদ্ধ ব্যক্তি কি খেলা করে?’। আর উমর ইবনে আবি রাবিআহর উক্তি সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে:

৭ - (অতঃপর তারা বলল, তুমি কি তাকে ভালোবাসো? আমি বললাম, অতিশয় … বালু, কঙ্কর এবং ধূলিকণার সমপরিমাণ)

বলা হয়েছে যে, তিনি ‘তুমি কি তাকে ভালোবাসো?’ বুঝাতে চেয়েছেন। আবার বলা হয়েছে যে এটি একটি সংবাদ, অর্থাৎ ‘তুমি তাকে ভালোবাসো’। আর ‘আমি বললাম বাহরান’ উক্তির অর্থ হলো— আমি তাকে এমন ভালোবাসায় ভালোবাসি যা আমাকে অভিভূত করেছে, অর্থাৎ আমাকে পরাস্ত করেছে। কেউ কেউ বলেছেন এর অর্থ ‘বিস্ময়কর’।

এবং মুতানাব্বি বলেছেন:

৮ - (আমি কি বেঁচে আছি? অথচ আমি যা সহ্য করেছি তার সামান্যতম অংশই অন্যদের মেরে ফেলেছে … আর বিচ্ছেদ আমার দুর্বলতার ওপর জুলুম করেছে এবং সুবিচার করেনি)

‘আহয়া’ একটি মুদারে (বর্তমান-ভবিষ্যৎকালসূচক) ক্রিয়া এবং এর মূল রূপ ছিল ‘আ-আহয়া’, অতঃপর প্রশ্নবোধক হামযা বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং ‘ওয়াও’ বর্ণটি অবস্থা (হাল) বর্ণনার জন্য এসেছে। এর অর্থ হলো নিজের বেঁচে থাকার ব্যাপারে বিস্ময় প্রকাশ করা। তিনি বলছেন, আমি কীভাবে বেঁচে আছি অথচ আমার সহ্য করা কষ্টের নূ্যনতম অংশই অন্যকে মেরে ফেলেছে। ইমাম আখফাশ যেখানে অস্পষ্টতার ভয় নেই সেখানে নিয়ম হিসেবে একে বৈধ মনে করেন। আল্লাহ তাআলার বাণী— {আর এটিই কি সেই অনুগ্রহ যার খোঁটা তুমি আমাকে দিচ্ছ?} এবং তিন স্থানে আল্লাহ তাআলার বাণী— {এটি আমার প্রতিপালক}-কে এর ওপর ভিত্তি করেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ২১)
والمحققون على أَنه خبر وَأَن مثل ذَلِك يَقُوله من ينصف خَصمه مَعَ علمه بِأَنَّهُ مُبْطل فيحكي كَلَامه ثمَّ يكر عَلَيْهِ بالإبطال بِالْحجَّةِ وَقَرَأَ ابْن مُحَيْصِن {سَوَاء عَلَيْهِم أأنذرتهم أم لم تنذرهم} وَقَالَ عليه الصلاة والسلام لجبريل عليه السلام وَإِن زنى وَإِن سرق فَقَالَ وَإِن زنى وَإِن سرق

الثَّانِي أَنَّهَا ترد لطلب التَّصَوُّر نَحْو أَزِيد قَائِم أم عَمْرو ولطلب التَّصْدِيق نَحْو أَزِيد قَائِم وَهل مُخْتَصَّة بِطَلَب التَّصْدِيق نَحْو هَل قَامَ زيد وَبَقِيَّة الأدوات مُخْتَصَّة بِطَلَب التَّصَوُّر نَحْو من جَاءَك وَمَا صنعت وَكم مَالك وَأَيْنَ بَيْتك وَمَتى سفرك

الثَّالِث أَنَّهَا تدخل على الْإِثْبَات كَمَا تقدم وعَلى النَّفْي نَحْو {ألم نشرح لَك صدرك} {أَو لما أَصَابَتْكُم مُصِيبَة} وَقَوله

9 - (أَلا اصطبار لسلمى أم لَهَا جلد … إِذا أُلَاقِي الَّذِي لاقاه أمثالي)

ذكره بَعضهم وَهُوَ منتقض بِأم فَإِنَّهَا تشاركها فِي ذَلِك تَقول أَقَامَ زيد أم لم يقم

الرَّابِع تَمام التصدير بدليلين أَحدهمَا أَنَّهَا لَا تذكر بعد أم الَّتِي للاضراب
মুহাক্কিকগণ এই মত পোষণ করেন যে এটি একটি সংবাদ (খবর) এবং এ জাতীয় কথা এমন ব্যক্তি বলেন যিনি নিজের প্রতিপক্ষের সাথে ন্যায়বিচার করেন, যদিও তিনি জানেন যে সে বাতিলপন্থি; ফলে তিনি প্রথমে তার কথা বর্ণনা করেন এবং পরবর্তীতে প্রমাণের মাধ্যমে তা খণ্ডন করেন। ইবনে মুহাইসিন পাঠ করেছেন: {তাদের নিকট সমান, আপনি তাদের সতর্ক করুন কিংবা না করুন}। এবং তিনি (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-কে বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে?" তিনি বললেন: "যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে।"

দ্বিতীয়ত, এটি 'তাসাওয়ুর' (ধারণা) লাভের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন: "যায়েদ কি দণ্ডায়মান নাকি আমর?" এবং 'তাসদিক' (নিশ্চিতকরণ) লাভের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন: "যায়েদ কি দণ্ডায়মান?" পক্ষান্তরে 'হাল' শব্দটি 'তাসদিক' লাভের প্রার্থনার জন্য নির্দিষ্ট, যেমন: "যায়েদ কি দাঁড়িয়েছে?" এবং অবশিষ্ট অব্যয়সমূহ 'তাসাওয়ুর' লাভের জন্য নির্দিষ্ট, যেমন: "কে তোমার নিকট এসেছে?", "তুমি কী করেছ?", "তোমার সম্পদ কত?", "তোমার ঘর কোথায়?" এবং "তোমার সফর কখন?"

তৃতীয়ত, এটি ইতিবাচক বাক্যের ওপর দাখিল হয় যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে, এবং নেতিবাচক বাক্যের ওপরও দাখিল হয়, যেমন: {আমি কি তোমার বক্ষ প্রশস্ত করে দেইনি?}, {কিংবা যখন তোমাদের ওপর বিপদ আপতিত হলো} এবং তাঁর কথা:

৯ - (সালমার কি কোনো ধৈর্য নেই নাকি তার সহনশীলতা আছে … যখন আমি সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হই যার সম্মুখীন আমার সমমনা ব্যক্তিরা হয়েছে)

কেউ কেউ এটি উল্লেখ করেছেন, তবে এটি 'আম' (অব্যয়) দ্বারা খণ্ডিত হয়। কারণ 'আম' এ ক্ষেত্রে হামযার সাথে অংশীদার হয়; আপনি বলেন: "যায়েদ কি দাঁড়িয়েছে নাকি দাঁড়ায়নি?"

চতুর্থত, (বাক্যের) শুরুতে থাকার বিষয়টি দুটি প্রমাণের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়। যার একটি হলো—এটি সেই 'আম'-এর পরে উল্লিখিত হয় না যা 'ইজরাব' (পূর্বের কথা থেকে বিমুখ হওয়া) এর জন্য আসে।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ২২)
كَمَا يذكر غَيرهَا لَا تَقول أَقَامَ زيد أم أقعد وَتقول أم هَل قعد وَالثَّانِي أَنَّهَا إِذا كَانَت فِي جملَة معطوفة بِالْوَاو أَو بِالْفَاءِ أَو بثم قدمت على العاطف تَنْبِيها على أصالتها فِي التصدير نَحْو {أولم ينْظرُوا} {أفلم يَسِيرُوا} {أَثم إِذا مَا وَقع آمنتم بِهِ} وَأَخَوَاتهَا تتأخر عَن حُرُوف الْعَطف كَمَا هُوَ قِيَاس جَمِيع أَجزَاء الْجُمْلَة المعطوفة نَحْو {وَكَيف تكفرون} {فَأَيْنَ تذهبون} {فَأنى تؤفكون} {فَهَل يهْلك إِلَّا الْقَوْم الْفَاسِقُونَ} {فَأَي الْفَرِيقَيْنِ} {فَمَا لكم فِي الْمُنَافِقين فئتين} هَذَا مَذْهَب سِيبَوَيْهٍ وَالْجُمْهُور وَخَالفهُم جمَاعَة أَوَّلهمْ الزَّمَخْشَرِيّ
যেমনটি অন্যান্যগুলোর ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়; আপনি ‘জায়েদ কি দাঁড়িয়েছে নাকি বসেছে’ বলবেন না, বরং বলবেন ‘নাকি সে কি বসেছে’। দ্বিতীয়ত, এটি (হামজা) যখন ‘ওয়াও’, ‘ফা’ কিংবা ‘সুম্মা’ দ্বারা সংযুক্ত কোনো বাক্যে থাকে, তখন বাক্যের শুরুতে আসার মৌলিক অধিকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য একে সংযোজক অব্যয়ের আগে নিয়ে আসা হয়। যেমন: “তারা কি লক্ষ্য করেনি?”, “তারা কি পরিভ্রমণ করেনি?”, “অতঃপর যখন তা সংঘটিত হবে, তখন কি তোমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করবে?”। আর এর সমজাতীয় অন্যান্য শব্দগুলো (অন্যান্য প্রশ্নবোধক অব্যয়) সংযোজক অব্যয়ের পরে আসে, যেমনটি সংযোজিত বাক্যের সকল অংশের ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যাকরণিক নিয়ম। যেমন: “আর তোমরা কীভাবে কুফরি করছ?”, “অতএব তোমরা কোথায় যাচ্ছ?”, “সুতরাং তোমাদের কোথায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে?”, “সুতরাং পাপাচারী সম্প্রদায় ছাড়া আর কাউকেও কি ধ্বংস করা হবে?”, “অতএব দুই দলের মধ্যে কোনটি...?”, “অতঃপর মুনাফিকদের ব্যাপারে তোমাদের কী হলো যে তোমরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়লে?”। এটিই সিবাহওয়াইহি এবং জমহুর (অধিকাংশ আলেম)-এর অভিমত; তবে একটি গোষ্ঠী তাদের বিরোধিতা করেছেন, যাদের মধ্যে অগ্রগণ্য হলেন যামাখশারী।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ২৩)
فزعموا أَن الْهمزَة فِي تِلْكَ الْمَوَاضِع فِي محلهَا الْأَصْلِيّ وَأَن الْعَطف على جملَة مقدرَة بَينهَا وَبَين العاطف فَيَقُولُونَ التَّقْدِير فِي {أفلم يَسِيرُوا} {أفنضرب عَنْكُم الذّكر صفحا} {أَفَإِن مَاتَ أَو قتل انقلبتم} {أفما نَحن بميتين} أمكثوا فَلم يَسِيرُوا فِي الأَرْض أنهملكم فَنَضْرِب عَنْكُم الذّكر صفحا أتؤمنون بِهِ فِي حَيَاته فَإِن مَاتَ أَو قتل انقلبتم أَنَحْنُ مخلدون فَمَا نَحن بميتين ويضعف قَوْلهم مَا فِيهِ من التَّكَلُّف وَأَنه غير مطرد فِي جَمِيع الْمَوَاضِع أما الأول فلدعوى حذف الْجُمْلَة فَإِن قوبل بِتَقْدِيم بعض الْمَعْطُوف فقد يُقَال إِنَّه أسهل مِنْهُ لِأَن المتجوز فِيهِ على قَوْلهم أقل لفظا مَعَ أَن فِي هَذَا التَّجَوُّز تَنْبِيها على أَصَالَة شَيْء فِي شَيْء أَي أَصَالَة الْهمزَة فِي التصدير وَأما الثَّانِي فَلِأَنَّهُ غير مُمكن فِي نَحْو {أَفَمَن هُوَ قَائِم على كل نفس بِمَا كسبت} وَقد جزم الزَّمَخْشَرِيّ فِي مَوَاضِع بِمَا يَقُوله الْجَمَاعَة مِنْهَا قَوْله فِي {أفأمن أهل الْقرى} إِنَّه عطف على {فأخذناهم بَغْتَة} وَقَوله فِي {أئنا لمبعوثون أَو آبَاؤُنَا} فِيمَن قَرَأَ بِفَتْح الْوَاو إِن {آبَاؤُنَا} عطف على الضَّمِير فِي

তারা দাবি করেন যে, ঐ সকল স্থানে হামজা তার মৌলিক অবস্থানেই রয়েছে এবং সংযোজক অব্যয় (আতিফ) ও হামজার মধ্যবর্তী একটি উহ্য বাক্যের ওপর এর সংযোগ (আতফ) হয়েছে। সুতরাং তারা বলেন যে, {তবে কি তারা ভ্রমণ করেনি}, {তবে কি আমি তোমাদের থেকে উপদেশবাণী সরিয়ে নেব}, {তবে কি সে মারা গেলে বা নিহত হলে তোমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন করবে}, {তবে কি আমরা মরণশীল নই}—এগুলোর উহ্য রূপ হলো: তারা কি অবস্থান করেছিল ফলে তারা পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি? আমি কি তোমাদেরকে উপেক্ষা করব ফলে তোমাদের থেকে উপদেশবাণী বিমুখ করে দেব? তোমরা কি তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর ওপর ঈমান এনেছিলে ফলে তিনি মারা গেলে বা নিহত হলে তোমরা ফিরে যাবে? আমরা কি চিরঞ্জীব ফলে আমরা মরণশীল নই? তাদের এই বক্তব্যটি এতে বিদ্যমান কষ্টকল্পনা এবং সকল ক্ষেত্রে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ার কারণে দুর্বল বলে গণ্য হয়। প্রথমত, বাক্য বিলোপের দাবির কারণে; যদি এর বিপরীতে কোনো আতফকৃত অংশের পূর্ববর্তিতার দাবি করা হয়, তবে বলা যেতে পারে যে সেটি এর চেয়ে সহজ। কারণ তাদের মতে যাতে রূপক অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে তার শব্দের পরিমাণ কম, যদিও এই রূপক ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো বিষয়ের মৌলিকত্বের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে; আর তা হলো বাক্যের শুরুতে আসার ক্ষেত্রে হামজার মৌলিকত্ব। দ্বিতীয়ত, কারণ এটি {তবে যিনি প্রত্যেক সত্তার ওপর তার কৃতকর্মসহ দণ্ডায়মান}—এর মতো বাক্যগুলোর ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। যামাখশারী বেশ কিছু স্থানে জামাআতের (সংখ্যাগরিষ্ঠদের) মতের স্বপক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন; তন্মধ্যে {তবে কি জনপদবাসীরা নিরাপদ হয়ে গেছে} সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য হলো যে, এটি {অতঃপর আমি তাদেরকে অতর্কিতে পাকড়াও করলাম}—এর ওপর আতফ হয়েছে। এবং {আমরা কি অবশ্যই পুনরুত্থিত হব, নাকি আমাদের পিতৃপুরুষগণও}—এই আয়াতে যারা ওয়াও বর্ণে ফাতহা দিয়ে পড়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য হলো, {আমাদের পিতৃপুরুষগণ} শব্দটি এর ভেতরের সর্বনামের ওপর আতফ হয়েছে।

(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ২৪)
{مبعوثون} وَإنَّهُ اكْتفى بِالْ‌‌فَصْلِ بَينهمَا بِهَمْزَة الِاسْتِفْهَام وَجوز الْوَجْهَيْنِ فِي مَوضِع فَقَالَ فِي قَوْله تَعَالَى {أفغير دين الله يَبْغُونَ} دخلت همزَة الْإِنْكَار على الْفَاء العاطفة جملَة على جملَة ثمَّ توسطت الْهمزَة بَينهمَا وَيجوز أَن يعْطف على مَحْذُوف تَقْدِيره أيتولون فَغير دين الله يَبْغُونَ

فصل

 

قد تخرج الْهمزَة عَن الِاسْتِفْهَام الْحَقِيقِيّ فَترد لثمانية معَان

أَحدهَا التَّسْوِيَة وَرُبمَا توهم أَن المُرَاد بهَا الْهمزَة الْوَاقِعَة بعد كلمة سَوَاء بخصوصها وَلَيْسَ كَذَلِك بل كَمَا تقع بعْدهَا تقع بعد مَا أُبَالِي وَمَا أَدْرِي وليت شعري ونحوهن وَالضَّابِط أَنَّهَا الْهمزَة الدَّاخِلَة على جملَة يَصح حُلُول الْمصدر محلهَا نَحْو {سَوَاء عَلَيْهِم أَسْتَغْفَرْت لَهُم أم لم تستغفر لَهُم} وَنَحْو مَا أُبَالِي أَقمت أم قعدت أَلا ترى أَنه يَصح سَوَاء عَلَيْهِم الاسْتِغْفَار وَعَدَمه وَمَا أُبَالِي بقيامك وَعَدَمه

وَالثَّانِي الْإِنْكَار الإبطالي وَهَذِه تَقْتَضِي أَن مَا بعْدهَا غير وَاقع وان مدعيه كَاذِب نَحْو {أفأصفاكم ربكُم بالبنين وَاتخذ من الْمَلَائِكَة إِنَاثًا} فاستفتهم ألربك الْبَنَات وَلَهُم البنون) {أفسحر هَذَا} {أشهدوا خلقهمْ} {أَيُحِبُّ أحدكُم أَن يَأْكُل لحم أَخِيه مَيتا}
{পুনরুত্থিত হবে} এবং তিনি কেবল প্রশ্নবোধক হামজা দ্বারা উভয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি এক স্থানে উভয় পদ্ধতির বৈধতা দিয়েছেন, ফলে আল্লাহ তাআলার বাণী {তারা কি আল্লাহর দ্বীন ছাড়া অন্য কিছু তালাশ করে?} সম্পর্কে তিনি বলেছেন যে, এখানে অস্বীকারবোধক (ইনকারি) হামজাটি এক বাক্যকে অন্য বাক্যের সাথে সংযোগকারী ‘ফা’ হরফের ওপর প্রবেশ করেছে, অতঃপর হামজাটি উভয়ের মাঝে মধ্যবর্তী হয়েছে। আবার একে একটি উহ্য শব্দের ওপর আতফ (সংযুক্ত) করাও জায়েজ, যার প্রাক্কলিত রূপ হলো: তারা কি বিমুখ হবে? অতঃপর তারা কি আল্লাহর দ্বীন ছাড়া অন্য কিছু তালাশ করে?

পরিচ্ছেদ

 

হামজা কখনো প্রকৃত প্রশ্নবোধক অর্থ থেকে বের হয়ে আটটি অর্থে ব্যবহৃত হয়।

প্রথমত: সমতা বিধান (তাসবিয়াহ)। সম্ভবত এমন ধারণা হতে পারে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য কেবল ‘সাওয়াহ’ (সমান) শব্দের পরে আসা হামজা; কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। বরং এটি যেমন এই শব্দের পরে আসে, তেমনি ‘মা উবালি’ (আমি পরোয়া করি না), ‘মা আদরি’ (আমি জানি না), ‘লাইতা শায়রি’ (আফসোস যদি আমি জানতাম) এবং এই জাতীয় শব্দাবলির পরেও আসে। এর নিয়ম হলো, এটি এমন একটি হামজা যা এমন বাক্যের শুরুতে আসে যেখানে তার স্থলে মাসদার (ক্রিয়ামূল) স্থাপন করা শুদ্ধ হয়। যেমন: {তাদের জন্য সমান, আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন} এবং যেমন: ‘আমি পরোয়া করি না তুমি দাঁড়ালে কি বসলে’। আপনি কি দেখছেন না যে, ‘তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা বা না করা সমান’ এবং ‘তোমার দাঁড়ানো বা না দাঁড়ানোতে আমি পরোয়া করি না’ বলা শুদ্ধ?

দ্বিতীয়ত: বাতিলকারী অস্বীকৃতি (ইনকার ইবতালি)। এটি দাবি করে যে, এর পরবর্তী বিষয়টি ঘটেনি এবং এর দাবিদার মিথ্যাবাদী। যেমন: {তবে কি তোমাদের রব তোমাদের জন্য পুত্রদের বেছে নিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের মধ্য থেকে কন্যাদের গ্রহণ করেছেন?}, (অতঃপর তাদের জিজ্ঞেস করুন: আপনার রবের কি কন্যারা আর তাদের কি পুত্ররা?) {এটা কি তবে জাদু?}, {তারা কি তাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছে?}, {তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া পছন্দ করবে?}
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ২৫)
أفعيينا بالخلق الأول وَمن جِهَة إِفَادَة هَذِه الْهمزَة نفي مَا بعْدهَا لزم ثُبُوته إِن كَانَ منفيا لِأَن نفي النَّفْي إِثْبَات وَمِنْه أَلَيْسَ الله بكاف عَبده أَي الله كَاف عَبده وَلِهَذَا عطف ووضعنا {على} ألم نشرح لَك صدرك لما كَانَ مَعْنَاهُ شرحنا وَمثله ألم يجدك يَتِيما فآوى ووجدك ضَالًّا فهدى {ألم يَجْعَل كيدهم فِي تضليل وَأرْسل عَلَيْهِم طيرا أبابيل} وَلِهَذَا أَيْضا كَانَ قَول جرير فِي عبد الْملك

10 - (ألستم خير من ركب المطايا … وأندى الْعَالمين بطُون رَاح)

مدحا بل قيل إِنَّه أمدح بَيت قالته الْعَرَب وَلَو كَانَ على الِاسْتِفْهَام الْحَقِيقِيّ لم يكن مدحا الْبَتَّةَ

وَالثَّالِث الْإِنْكَار التوبيخي فَيَقْتَضِي أَن مَا بعْدهَا وَاقع وَأَن فَاعله ملوم نَحْو {أتعبدون مَا تنحتون} {أغير الله تدعون} {أئفكا آلِهَة دون الله تُرِيدُونَ}
আমি কি প্রথমবার সৃষ্টি করেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছি? আর এই হামযা (প্রশ্নবোধক বর্ণ) তার পরবর্তী বিষয়কে নেতিবাচক অর্থ প্রদানের দিক থেকে এটি অবধারিত করে যে, বিষয়টি নেতিবাচক হলে তার সাব্যস্তকরণ (Affirmation) আবশ্যক, কারণ নেতিবাচকতাকে অস্বীকার করা মানেই ইতিবাচকতা বা সাব্যস্তকরণ। এর উদাহরণ হলো: "আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন?" অর্থাৎ, আল্লাহ তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট। একারণেই "আমি কি আপনার বক্ষ প্রশস্ত করে দেইনি?" এর ওপর "এবং আমি অপসারিত করেছি" বাক্যটিকে সংযুক্ত করা হয়েছে, যেহেতু এর অর্থ হলো "আমি প্রশস্ত করেছি"। এর অনুরূপ হলো: "তিনি কি আপনাকে এতিম হিসেবে পাননি? অতঃপর আশ্রয় দিয়েছেন এবং তিনি আপনাকে পথভোলা অবস্থায় পেয়েছেন, অতঃপর পথপ্রদর্শন করেছেন"। "তিনি কি তাদের চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দেননি? এবং তিনি তাদের বিরুদ্ধে একঝাঁক পাখি পাঠিয়েছেন"। আর একারণেই আব্দুল মালিকের প্রশংসায় জারীরের উক্তিটি ছিল:

10 - (আপনারা কি আরোহণকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নন … এবং জগতবাসীর মধ্যে আপনারা কি সর্বাধিক দানশীল নন?)

এটি একটি প্রশংসা ছিল; বরং বলা হয়েছে যে, এটি আরবদের বলা শ্রেষ্ঠতম প্রশংসাসূচক পঙক্তি। যদি এটি প্রকৃত জিজ্ঞাসাবোধক হতো, তবে তা মোটেও প্রশংসাসূচক হতো না।

তৃতীয়টি হলো তিরস্কারমূলক অস্বীকৃতি (ইনকারে তওবিখি), যা দাবি করে যে এর পরবর্তী বিষয়টি সংঘটিত হয়েছে এবং এর কর্তাকে তিরস্কার করা হবে; যেমন: {তোমরা কি তারই ইবাদত করো যা তোমরা নিজেরা খোদাই করো?} {তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকো?} {তোমরা কি মিথ্যার বশবর্তী হয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্যদের কামনা করো?}
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ২৬)
{أتأتون الذكران} {أتأخذونه بهتانا} وَقَول العجاج

1 - (أطربا وَأَنت قنسري … والدهر بالإنسان دواري)

أَي أتطرب وَأَنت شيخ كَبِير

وَالرَّابِع التَّقْرِير وَمَعْنَاهُ حملك الْمُخَاطب على الْإِقْرَار وَالِاعْتِرَاف بِأَمْر قد اسْتَقر عِنْده ثُبُوته أَو نَفْيه وَيجب أَن يَليهَا الشَّيْء الَّذِي تقرره بِهِ تَقول فِي التَّقْرِير بِالْفِعْلِ أضربت زيدا وبالفاعل أَأَنْت ضربت زيدا وبالمفعول أزيدا ضربت كَمَا يجب ذَلِك فِي المستفهم عَنهُ وَقَوله تَعَالَى {أَأَنْت فعلت هَذَا} مُحْتَمل لإِرَادَة الِاسْتِفْهَام الْحَقِيقِيّ بِأَن يَكُونُوا لم يعلمُوا أَنه الْفَاعِل ولإرادة التَّقْرِير بِأَن يَكُونُوا قد علمُوا وَلَا يكون استفهاما عَن الْفِعْل وَلَا تقريرا بِهِ لِأَن الْهمزَة لم تدخل عَلَيْهِ وَلِأَنَّهُ عليه الصلاة والسلام قد أجابهم بالفاعل بقوله {بل فعله كَبِيرهمْ هَذَا}

فَإِن قلت مَا وَجه حمل الزَّمَخْشَرِيّ الْهمزَة فِي قَوْله تَعَالَى {ألم تعلم أَن الله على كل شَيْء قدير} على التَّقْرِير

قلت قد اعتذر عَنهُ بِأَن مُرَاده التَّقْرِير بِمَا بعد النَّفْي لَا التَّقْرِير بِالنَّفْيِ
{তোমরা কি পুরুষদের কাছে আসো?} {তোমরা কি তা অপবাদ দিয়ে গ্রহণ করবে?} এবং আল-আজজাজের কথা:

১ - (তুমি কি আনন্দিত হও অথচ তুমি অতি বৃদ্ধ … আর সময় মানুষের সাথে আবর্তনশীল)

অর্থাৎ, তুমি কি আনন্দিত হও অথচ তুমি একজন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি।

চতুর্থটি হলো 'তাকরীর' (স্বীকৃতি আদায়), আর এর অর্থ হলো সম্বোধিত ব্যক্তিকে এমন কোনো বিষয় স্বীকার বা ইকরার করতে বাধ্য করা যা তার নিকট সাব্যস্ত বা নেতিবাচক হিসেবে স্থির হয়ে আছে। এবং এটি আবশ্যক যে, যার মাধ্যমে আপনি তাকে স্বীকৃতি প্রদান করাবেন, তা যেন এর (হামজার) পরপরই আসে। আপনি ক্রিয়ার মাধ্যমে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে বলবেন 'তুমি কি প্রহার করেছো যায়েদকে?', কর্তার ক্ষেত্রে বলবেন 'তুমিই কি প্রহার করেছো যায়েদকে?' এবং কর্মের ক্ষেত্রে বলবেন 'যায়েদকেই কি তুমি প্রহার করেছো?' যেমনটি প্রশ্নকৃত বিষয়ের ক্ষেত্রে আবশ্যক হয়। এবং মহান আল্লাহর বাণী {তুমি কি এটি করেছো} এর ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি প্রকৃত জিজ্ঞাসা, যেখানে তারা জানত না যে তিনিই কর্তা; অথবা এটি স্বীকৃতি আদায়ের জন্য হতে পারে যেখানে তারা ইতোমধ্যেই জানত যে তিনি এটি করেছেন। আর এটি ক্রিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা নয় এবং এর মাধ্যমে স্বীকৃতি আদায়ও নয়, কারণ হামজা ক্রিয়ার পূর্বে আসেনি এবং যেহেতু তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) কর্তার ব্যাপারে উত্তর দিয়ে তাদের বলেছেন {বরং তাদের এই বড়টিই এটি করেছে}।

যদি আপনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণী {তুমি কি জানো না যে আল্লাহ সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান} -এর মধ্যে হামজাকে জামাখশারী কেন 'তাকরীর' বা স্বীকৃতির অর্থে গ্রহণ করেছেন?

আমি বলব, তার পক্ষ থেকে এই ব্যাখ্যা পেশ করা হয়েছে যে, তার উদ্দেশ্য হলো নফী (না-বোধক শব্দ)-এর পরবর্তী বিষয়টির স্বীকৃতি আদায় করা, নফী-এর স্বীকৃতি আদায় করা নয়।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَالْأولَى أَن تحمل الْآيَة على الْإِنْكَار التوبيخي أَو الإبطالي أم أَي تعلم أَيهَا الْمُنكر للنسخ

وَالْخَامِس التهكم نَحْو {أصلاتك تأمرك أَن نَتْرُك مَا يعبد آبَاؤُنَا}

وَالسَّادِس الْأَمر نَحْو {أأسلمتم} أَي أَسْلمُوا

وَالسَّابِع التَّعَجُّب نَحْو {ألم تَرَ إِلَى رَبك كَيفَ مد الظل}

وَالثَّامِن الاستبطاء نَحْو {ألم يَأن للَّذين آمنُوا}

وَذكر بَعضهم مَعَاني أخر لَا صِحَة لَهَا

تَنْبِيه [قد تقع الْهمزَة فعلا وَذَلِكَ أَنهم يَقُولُونَ وأى بِمَعْنى وعد ومضارعه يئي بِحَذْف الْوَاو لوقوعها بَين يَاء مَفْتُوحَة وكسرة كَمَا تَقول وَفِي يَفِي وونى يني وَالْأَمر مِنْهُ إه بِحَذْف اللَّام لِلْأَمْرِ وبالهاء للسكت فِي الْوَقْف] وعَلى ذَلِك يتَخَرَّج اللغز الْمَشْهُور وَهُوَ قَوْله

1 - (إِن هِنْد المليحة الْحَسْنَاء … وَأي من أضمرت لخل وَفَاء) فَإِنَّهُ يُقَال كَيفَ رفع اسْم إِن وَصفته الأولى وَالْجَوَاب أَن الْهمزَة فعل أَمر وَالنُّون للتوكيد وَالْأَصْل إين بِهَمْزَة مَكْسُورَة وياء سَاكِنة للمخاطبة وَنون مُشَدّدَة
এবং এটিই উত্তম যে, আয়াতটিকে তিরস্কারমূলক অস্বীকৃতি অথবা বাতিলকরণমূলক অস্বীকৃতি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। হে নসখ বা রহিতকরণ অস্বীকারকারী, তুমি কি জানো?

পঞ্চমটি হলো উপহাস করা, যেমন: "তোমার সালাত কি তোমাকে এই নির্দেশ দেয় যে, আমাদের পিতৃপুরুষগণ যার ইবাদত করত আমাদের তা বর্জন করতে হবে?"

ষষ্ঠটি হলো আদেশ প্রদান করা, যেমন: "তোমরা কি আত্মসমর্পণ করেছ?" অর্থাৎ "তোমরা আত্মসমর্পণ করো।"

সপ্তমটি হলো বিস্ময় প্রকাশ করা, যেমন: "তুমি কি তোমার প্রতিপালকের প্রতি লক্ষ্য করোনি, তিনি কীভাবে ছায়াকে প্রসারিত করেন?"

অষ্টমটি হলো বিলম্বের কারণে অনুযোগ করা, যেমন: "যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য কি সেই সময় আসেনি?"

কেউ কেউ আরও কিছু অর্থের কথা উল্লেখ করেছেন যেগুলোর কোনো বিশুদ্ধতা নেই।

সতর্কতা [কখনো কখনো হামযাহ একটি ক্রিয়া হিসেবেও আসতে পারে। সেটি এভাবে যে, আরবরা 'প্রতিশ্রুতি দেওয়া' অর্থে 'ওয়া-আ' শব্দটি ব্যবহার করে। এর মুদারে বা বর্তমানকালীন রূপ হলো 'ইয়াঈ', যেখানে 'ওয়াউ' বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে কারণ তা একটি জবরযুক্ত 'ইয়া' এবং জেরের মাঝখানে পড়েছে; যেমনটি আপনি 'ওয়াফা-ইয়াফী' এবং 'ওয়ানা-ইয়ানী' এর ক্ষেত্রে বলে থাকেন। আর এর আদেশসূচক রূপ বা আমর হলো 'ইহ', যেখানে আমরের কারণে শেষ বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে এবং বিরতি প্রদানের জন্য 'হা' যুক্ত করা হয়েছে।] আর এর ওপর ভিত্তি করেই সেই প্রসিদ্ধ ধাঁধাটি নির্গত হয়, যা হলো তাঁর এই উক্তি:

১ - (নিশ্চয়ই সুন্দরী রূপবতী হিন্দ... এবং বন্ধুর প্রতি যে আনুগত্য অন্তরে পোষণ করা হয় সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করো) এক্ষেত্রে প্রশ্ন করা হয় যে, কীভাবে 'ইন্না' এর পরবর্তী বিশেষ্য এবং তার প্রথম বিশেষণটি পেশযুক্ত হলো? এর উত্তর হলো, এখানে হামযাহটি একটি আদেশসূচক ক্রিয়া এবং 'নুন' বর্ণটি তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য যুক্ত হয়েছে। এর মূল রূপ ছিল 'ঈন', যা গঠিত হয়েছে জেরযুক্ত হামযাহ, সম্বোধনের জন্য সাকিনযুক্ত 'ইয়া' এবং একটি তাশদীদযুক্ত 'নুন' সহযোগে।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ২৮)
للتوكيد ثمَّ حذفت الْيَاء لالتقائها سَاكِنة مَعَ النُّون المدغمة كَمَا فِي قَوْله

13 - (لتقرعن عَليّ السن من نَدم … إِذا تذكرت يَوْمًا بعض أخلاقي)

وَهِنْد منادى مثل {يُوسُف أعرض عَن هَذَا} والمليحة نعت لَهَا على اللَّفْظ كَقَوْلِه

14 - (يَا حكم الْوَارِث عَن عبد الْملك … )

والحسناء إِمَّا نعت لَهَا على الْموضع كَقَوْل مادح عمر بن عبد الْعَزِيز رَضِي الله تَعَالَى عَنهُ

15 - (يعود الْفضل مِنْك على قُرَيْش … وتفرج عَنْهُم الكرب الشدادا)

(فَمَا كَعْب بن مامة وَابْن سعدى … بأجود مِنْك يَا عمر الجوادا)

وَإِمَّا بِتَقْدِير أمدح وَإِمَّا نعت لمفعول بِهِ مَحْذُوف أَي عدي يَا هِنْد الْخلَّة الْحَسْنَاء وعَلى الْوَجْهَيْنِ الْأَوَّلين فَيكون إِنَّمَا أمرهَا بإيقاع الْوَعْد الوفي من غير أَن يعين لَهَا الْمَوْعُود وَقَوله وَأي مصدر نَوْعي مَنْصُوب بِفعل الْأَمر وَالْأَصْل وأيا مثل وَأي من وَمثله {فأخذناهم أَخذ عَزِيز مقتدر} وَقَوله أضمرت بتاء التَّأْنِيث مَحْمُول على معنى من مثل من كَانَت أمك
তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য, এরপর ইদগামকৃত ‘নুন’-এর সাথে সাকিন অবস্থায় মিলিত হওয়ার কারণে ‘ইয়া’ বিলুপ্ত হয়েছে, যেমনটি কবির এই উক্তিতে রয়েছে:

১৩ - (তুমি অনুশোচনার কারণে আমার ওপর দাঁত কিড়মিড় করবে... যখন তুমি কোনো একদিন আমার কিছু স্বভাব স্মরণ করবে)

আর ‘হিন্দ’ হলো মুনাদা (আহ্বানকৃত শব্দ), যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {ইউসুফ, তুমি এ থেকে বিমুখ হও}; আর ‘আল-মালিহা’ শব্দটি শব্দের বাহ্যিক রূপ অনুযায়ী তার সিফাত বা বিশেষণ, যেমনটি কবির এই উক্তিতে রয়েছে:

১৪ - (হে হাকাম, আব্দুল মালিকের উত্তরাধিকারী...)

আর ‘আল-হাসনা’ শব্দটি হয় ব্যাকরণিক অবস্থানের ভিত্তিতে তার বিশেষণ, যেমনটি উমর বিন আব্দুল আজিজ (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহু)-এর প্রশংসাকারীর উক্তিতে রয়েছে:

১৫ - (আপনার পক্ষ থেকে কুরাইশদের প্রতি অনুগ্রহ ফিরে আসে... এবং আপনি তাদের থেকে কঠিন বিপদসমূহ দূর করেন)

(কাব বিন মামাহ এবং ইবনে সুআদা আপনার চেয়ে অধিক দানশীল নয়, হে দানশীল উমর)

অথবা এটি ‘আমি প্রশংসা করছি’ ক্রিয়াটি উহ্য থাকার ভিত্তিতে কর্ম (মাফউল), অথবা এটি একটি উহ্য কর্মের বিশেষণ; অর্থাৎ: হে হিন্দ, তুমি সুন্দর আচরণের প্রতিশ্রুতি দাও। আর প্রথম দুটি মত অনুযায়ী, তিনি তাকে কেবল একটি বিশ্বস্ত ওয়াদা সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন, তার কাছে কোন বিষয়টি ওয়াদা করা হয়েছে তা নির্দিষ্ট না করেই। আর তাঁর বক্তব্য ‘ওয়া আইয়্যা’ হলো মাসদারে নাও‘ঈ (প্রকারবাচক ক্রিয়ামূল) যা আদেশসূচক ক্রিয়া দ্বারা নসবপ্রাপ্ত হয়েছে। এর মূল রূপ ছিল ‘আইয়্যান’, যেমন ‘ওয়া আইয়্যা মান’। এর উদাহরণ হলো আল্লাহর বাণী: {অতঃপর আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম একজন মহাপরাক্রমশালী ও সর্বশক্তিমান সত্তার পাকড়াও করার মতো}। আর তাঁর উক্তি ‘আদমারাত’ শব্দটিতে স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’ যুক্ত হওয়াটি ‘মান’ শব্দের অর্থের ওপর ভিত্তি করে হয়েছে, যেমন: ‘তোমার মা কে ছিলেন?’।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ২৯)
[آبالمد حرف لنداء الْبعيد] وَهُوَ مسموع لم يذكرهُ سِيبَوَيْهٍ وَذكره غَيره [أيا حرف كَذَلِك وَفِي الصِّحَاح أَنه حرف لنداء الْقَرِيب والبعيد] وَلَيْسَ كَذَلِك قَالَ الشَّاعِر

16 - (أيا جبلي نعْمَان بِاللَّه خليا … نسيم الصِّبَا يخلص إِلَيّ نسيمها)

وَقد تبدل همزتها هَاء كَقَوْلِه

17 - (فأصاخ يَرْجُو أَن يكون حَيا … وَيَقُول من فَرح هيا رَبًّا) [أجل بِسُكُون اللَّام حرف جَوَاب مثل نعم فَيكون تَصْدِيقًا للمخبر وإعلاما للمستخبر] ووعدا للطَّالِب فَتَقَع بعد نَحْو قَامَ زيد وَنَحْو أَقَامَ زيد وَنَحْو أضْرب زيدا وَقيد المالقي الْخَبَر بالمثبت والطلب بِغَيْر النَّهْي وَقيل لَا تَجِيء بعد الِاسْتِفْهَام وَعَن الْأَخْفَش هِيَ بعد الْخَبَر أحسن من نعم وَنعم بعد الِاسْتِفْهَام أحسن مِنْهَا وَقيل تخْتَص بالْخبر وَهُوَ قَول الزَّمَخْشَرِيّ وَابْن مَالك وَجَمَاعَة وَقَالَ ابْن خروف أَكثر مَا تكون بعده
[মদ্দযুক্ত 'আ' হলো দূরবর্তীকে ডাকার অব্যয়] এটি শ্রুত যা সিবওয়াইহ উল্লেখ করেননি, তবে অন্যরা তা উল্লেখ করেছেন [আয়া অনুরূপ একটি অব্যয় এবং আস-সিহাহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে এটি নিকটবর্তী ও দূরবর্তী উভয়কে ডাকার অব্যয়] কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। কবি বলেছেন

16 - (হে নু'মানের দুই পাহাড়! আল্লাহর দোহাই, তোমরা পথ ছেড়ে দাও … যেন পূবালী বাতাসের স্নিগ্ধতা আমার নিকট পৌঁছে যায়)

কখনও এর হামযাহটি 'হা' দ্বারা পরিবর্তিত হয় যেমন কবির উক্তি

17 - (অতঃপর সে কান পাতল এই আশায় যে প্রাণের স্পন্দন থাকবে … এবং আনন্দের আতিশয্যে বলতে লাগল: হে প্রভু!) [আজাল (লাম-এর সুকুনসহ) হলো 'না'আম'-এর ন্যায় উত্তরের একটি অব্যয়, যা সংবাদদাতার বক্তব্যের সত্যায়ন এবং প্রশ্নকারীর জিজ্ঞাসার উত্তর প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়] এবং এটি যাচনাকারীর জন্য প্রতিশ্রুতি হিসেবেও আসে। ফলে এটি 'যায়িদ দাঁড়িয়েছে', 'যায়িদ কি দাঁড়িয়েছে?' এবং 'যায়িদকে প্রহার করো' অনুরূপ বাক্যের পরে ব্যবহৃত হয়। আল-মালিকী সংবাদমূলক বাক্যকে ইতিবাচক হওয়ার এবং যাচনাকে নিষেধবাচক না হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন যে এটি প্রশ্নবোধক বাক্যের পরে আসে না। আল-আখফাশ থেকে বর্ণিত যে, সংবাদমূলক বাক্যের পরে এটি 'না'আম'-এর চেয়ে উত্তম, আর 'না'আম' প্রশ্নবোধক বাক্যের পরে এর চেয়ে উত্তম। কেউ কেউ বলেছেন এটি কেবল সংবাদমূলক বাক্যের জন্য নির্দিষ্ট; এটি আল-যামাখশারী, ইবনে মালিক এবং একটি জামাআতের অভিমত। ইবনে খারুফ বলেছেন এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংবাদের পরেই ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ৩০)
إِذن

فِيهَا مسَائِل

الأولى فِي نوعها قَالَ الْجُمْهُور هِيَ حرف وَقيل اسْم وَالْأَصْل فِي إِذن أكرمك إِذا جئتني أكرمك ثمَّ حذفت الْجُمْلَة وَعوض التَّنْوِين عَنْهَا وأضمرت أَن وعَلى القَوْل الأول فَالصَّحِيح أَنَّهَا بسيطة لَا مركبة من إِذْ وَأَن وعَلى البساطة فَالصَّحِيح أَنَّهَا الناصبة لَا أَن مضمرة بعْدهَا

الْمَسْأَلَة الثَّانِيَة فِي مَعْنَاهَا قَالَ سيبوية مَعْنَاهَا الْجَواب وَالْجَزَاء فَقَالَ الشلوبين فِي كل مَوضِع وَقَالَ أَبُو عَليّ الْفَارِسِي فِي الْأَكْثَر وَقد تتمحض للجواب بِدَلِيل أَنه يُقَال لَك أحبك فَتَقول إِذن أَظُنك صَادِقا إِذْ لَا مجازاة هُنَا ضَرُورَة اه

وَالْأَكْثَر أَن تكون جَوَابا لإن أَو لَو ظاهرتين أَو مقدرتين فَالْأول كَقَوْلِه

18 - (لَئِن عَاد لي عبد الْعَزِيز بِمِثْلِهَا … وأمكنني مِنْهَا إِذن لَا أقيلها)

وَقَول الحماسي

19 - (لَو كنت من مَازِن لم تستبح إبلي … بَنو اللقيطة من ذهل بن شيبانا)

(إِذن لقام بنصري معشر خشن … عِنْد الحفيظة إِن ذُو لوثة لانا)
ইযান

এতে কয়েকটি মাসআলা (আলোচ্য বিষয়) রয়েছে

প্রথম মাসআলাটি এর প্রকারভেদ সম্পর্কিত: জমহুর (অধিকাংশ ভাষাবিদ) বলেছেন এটি একটি হরফ (অব্যয়), তবে কারো মতে এটি একটি ইসম (বিশেষ্য)। 'ইযান আকরিমুকা' (তাহলে আমি তোমাকে সম্মানিত করব) এর মূল ভিত্তি হলো 'ইযা জি'তানি আকরিমুকা' (যখন তুমি আমার কাছে আসবে, তখন আমি তোমাকে সম্মানিত করব), এরপর বাক্যটি বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে তানউইন প্রদান করা হয়েছে এবং 'আন' উহ্য রাখা হয়েছে। প্রথম মতানুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত হলো—এটি একটি মৌলিক শব্দ, যা 'ইয' ও 'আন' এর সমন্বয়ে গঠিত কোনো যৌগিক শব্দ নয়। মৌলিক হওয়ার ভিত্তিতে সঠিক মত হলো—এটি নিজেই নসব প্রদানকারী (নাসিবাহ), এর পরে 'আন' উহ্য থাকার কারণে নসব হয় না।

দ্বিতীয় মাসআলাটি এর অর্থ প্রসঙ্গে: সিবাওয়াইহ বলেছেন এর অর্থ হলো উত্তর ও প্রতিদান। আল-শালুবীন বলেছেন এটি সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আবু আলি আল-ফারিসি বলেছেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন হয়। তবে কখনো কখনো এটি কেবল উত্তরের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে যায়, যার প্রমাণ হলো—যখন তোমাকে বলা হয় "আমি তোমাকে ভালোবাসি", তখন তুমি বলো "তাহলে আমি তোমাকে সত্যবাদী মনে করি", কেননা এখানে প্রতিদান বা বিনিময়ের কোনো আবশ্যকতা নেই। সমাপ্ত।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি প্রকাশ্য বা উহ্য 'ইন' অথবা 'লাও' এর উত্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রথমটির উদাহরণ যেমন কবির উক্তি:

১৮ - (যদি আব্দুল আজিজ পুনরায় আমার নিকট অনুরূপ আচরণ করেন... এবং আমাকে সে সুযোগ করে দেন, তবে আমি তা ছেড়ে দেব না।)

এবং হামাসাহ সংকলকের উক্তি:

১৯ - (যদি আমি মাযেন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত হতাম, তবে যুহাল বিন শায়বানের দাসীপুত্ররা আমার উটগুলো লুণ্ঠন করতে পারত না।)

(তাহলে আত্মমর্যাদা রক্ষার মুহূর্তে একদল কঠোর যোদ্ধা আমার সাহায্যে দণ্ডায়মান হতো... যখন কোনো দুর্বল চিত্তের ব্যক্তি নতি স্বীকার করে।)
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ৩১)
فَقَوله إِذن لقام بنصري بدل من لم تستبح وَبدل الْجَواب جَوَاب وَالثَّانِي نَحْو أَن يُقَال آتِيك فَتَقول إِذن أكرمك أَي إِن أتيتني إِذن أكرمك وَقَالَ الله تَعَالَى {مَا اتخذ الله من ولد وَمَا كَانَ مَعَه من إِلَه إِذا لذهب كل إِلَه بِمَا خلق ولعلا بَعضهم على بعض} قَالَ الْفراء حَيْثُ جَاءَت بعْدهَا اللَّام فقبلها لَو مقدرَة إِن لم تكن ظَاهِرَة

الْمَسْأَلَة الثَّالِثَة فِي لَفظهَا عِنْد الْوَقْف عَلَيْهَا وَالصَّحِيح أَن نونها تبدل ألفا تَشْبِيها لَهَا بتنوين الْمَنْصُوب وَقيل يُوقف بالنُّون لِأَنَّهَا كنون لن وَإِن رُوِيَ عَن الْمَازِني والمبرد وَيَنْبَنِي على الْخلاف فِي الْوَقْف عَلَيْهَا خلاف فِي كتَابَتهَا فالجمهور يكتبونها بِالْألف وَكَذَا رسمت فِي الْمَصَاحِف والمازني والمبرد بالنُّون وَعَن الْفراء إِن عملت كتبت بِالْألف وَإِلَّا كتبت بالنُّون للْفرق بَينهَا وَبَين إِذا وَتَبعهُ ابْن خروف

الْمَسْأَلَة الرَّابِعَة فِي عَملهَا وَهُوَ نصب الْمُضَارع بِشَرْط تصديرها واستقباله واتصالهما أَو انفصالها بالقسم أَو بِلَا النافية يُقَال آتِيك فَتَقول إِذن أكرمك وَلَو قلت أَنا إِذن قلت أكرمك بِالرَّفْع لفَوَات التصدير فَأَما قَوْله

20 - (لَا تتركني فيهم شطيرا … إِنِّي إِذن أهلك أَو أطيرا)

فمؤول على حذف خبر إِن أَي إِنِّي لَا أقدر على ذَلِك ثمَّ اسْتَأْنف مَا بعده وَلَو قلت إِذن يَا عبد الله قلت أكرمك بِالرَّفْع للفصل بِغَيْر مَا ذكرنَا
সুতরাং তাঁর উক্তি 'তবে সে অবশ্যই আমার সাহায্যে এগিয়ে আসত' হলো 'তুমি বৈধ মনে করোনি' এর স্থলাভিষিক্ত বা বদল; আর উত্তরের স্থলাভিষিক্ত শব্দও উত্তরই হয়। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো যেমন বলা হয়: "আমি তোমার কাছে আসব", তখন তুমি বললে: "তবে আমি তোমাকে সম্মানিত করব", অর্থাৎ: "যদি তুমি আমার কাছে আসো তবে আমি তোমাকে সম্মানিত করব"। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোনো উপাস্য নেই; (যদি থাকত) তবে প্রত্যেক উপাস্য নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং তারা একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করত।" আল-ফাররা বলেন, যেখানেই এর (ইযান-এর) পরে 'লাম' আসে, সেখানে তার আগে একটি 'লাও' (যদি) উহ্য থাকে, যদি না তা স্পষ্টভাবে বিদ্যমান থাকে।

তৃতীয় মাসআলাহ: এর ওপর বিরতি (ওয়াকফ) করার সময় এর উচ্চারণের বিধান। বিশুদ্ধ অভিমত হলো, এর 'নূন'কে আলিফে রূপান্তরিত করা হবে, জবরযুক্ত শব্দের তানভীনের সাথে সাদৃশ্য রেখে। আর কেউ কেউ বলেছেন যে, নূন হিসেবেই বিরতি করা হবে, কারণ এটি 'লান' এবং 'ইন' এর নূনের মতো। এটি আল-মাযিনী এবং আল-মুবররাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে। বিরতি করার এই মতভেদের ওপর ভিত্তি করে এটি লেখার ক্ষেত্রেও মতভেদ তৈরি হয়েছে। জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামাগণ এটি আলিফ দিয়ে লেখেন এবং মাসহাফসমূহেও এভাবেই লিপিবদ্ধ হয়েছে। আল-মাযিনী এবং আল-মুবররাদ এটি নূন দিয়ে লেখেন। আল-ফাররা থেকে বর্ণিত আছে যে, যদি এটি ব্যাকরণগত আমল করে তবে আলিফ দিয়ে লেখা হবে, অন্যথায় নূন দিয়ে লেখা হবে, যাতে 'ইযান' এবং 'ইযা' এর মধ্যে পার্থক্য করা যায়। ইবনে খারুফ তাঁর অনুকরণ করেছেন।

চতুর্থ মাসআলাহ: এর আমল বা ব্যাকরণগত প্রভাব প্রসঙ্গে। আর তা হলো বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়াকে (মুদারে) নসব প্রদান করা; যার শর্ত হলো এটি বাক্যের শুরুতে থাকবে, ক্রিয়াটি ভবিষ্যৎকাল বোঝাবে এবং ক্রিয়াটির সাথে এটি সরাসরি যুক্ত থাকবে অথবা শপথ কিংবা না-বোধক 'লা' দ্বারা পৃথক থাকবে। যেমন বলা হয়: "আমি তোমার কাছে আসব", তখন তুমি বললে: "তবে আমি তোমাকে সম্মানিত করব" (ইযান আকরিমাকা)। আর যদি তুমি বলো: "আমি তবে" (আনা ইযান), তবে তোমাকে বলতে হবে "আকরিমুকা" (আমি তোমাকে সম্মানিত করি) পেশ দিয়ে, কারণ এটি শুরুতে আসেনি। আর কবির উক্তি প্রসঙ্গে:

২০ - (তুমি আমাকে তাদের মধ্যে একাকী ছেড়ে দিয়ো না... তবে নিশ্চয়ই আমি ধ্বংস হয়ে যাব অথবা উড়ে যাব)

এটি 'ইন্না' এর খবর উহ্য থাকার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, অর্থাৎ: "নিশ্চয়ই আমি এর ওপর সক্ষম নই", এরপর পরবর্তী অংশটি নতুন বাক্য হিসেবে শুরু হয়েছে। আর যদি তুমি বলো: "তবে হে আল্লাহর বান্দা" (ইযান ইয়া আবদাল্লাহ), তবে তোমাকে বলতে হবে "আকরিমুকা" (সম্মান করি) পেশ দিয়ে, কারণ উল্লেখিত বিষয়গুলো ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ৩২)
وَأَجَازَ ابْن عُصْفُور الْفَصْل بالظرف وَابْن بابشاذ الْفَصْل بالنداء وبالدعاء وَالْكسَائِيّ وَهِشَام الْفَصْل بمعمول الْفِعْل والأرجح حِينَئِذٍ عِنْد الْكسَائي النصب وَعند هِشَام الرّفْع وَلَو قيل لَك أحبك فَقلت إِذن أَظُنك صَادِقا رفعت لِأَنَّهُ حَال

تَنْبِيه

قَالَ جمَاعَة من النَّحْوِيين إِذا وَقعت إِذن بعد الْوَاو أَو الْفَاء جَازَ فِيهَا الْوَجْهَانِ نَحْو {وَإِذا لَا يلبثُونَ خِلافك إِلَّا قَلِيلا} {فَإِذا لَا يُؤْتونَ النَّاس نقيرا} وَقُرِئَ شاذا بِالنّصب فيهمَا وَالتَّحْقِيق أَنه إِذا قيل إِن تزرني أزرك وَإِذن أحسن إِلَيْك فَإِن قدرت الْعَطف على الْجَواب جزمت وَبَطل عمل إِذن لوقوعها حَشْوًا أَو على الجملتين جَمِيعًا جَازَ الرّفْع وَالنّصب لتقدم العاطف وَقيل يتَعَيَّن النصب لِأَن مَا بعْدهَا مُسْتَأْنف أَو لِأَن الْمَعْطُوف على الأول أول

وَمثل ذَلِك زيد يقوم وَإِذن أحسن إِلَيْهِ إِن عطفت على الفعلية رفعت أَو على الاسمية فالمذهبان
ইবনে উসফুর যরফ (কাল বা স্থানবাচক শব্দ) দ্বারা ব্যবধান করা জায়েজ বলেছেন, ইবনে বাশশায নিদা (সম্বোধন) এবং দুআ দ্বারা ব্যবধান করা জায়েজ বলেছেন, এবং কিসায়ী ও হিশাম ক্রিয়ার মা’মূল (কর্ম বা সংশ্লিষ্ট পদ) দ্বারা ব্যবধান করা জায়েজ বলেছেন। এমতাবস্থায় কিসায়ীর মতে 'নাসব' (যবর) হওয়া অধিকতর অগ্রগণ্য এবং হিশামের মতে 'রাফআ' (পেশ) হওয়া। আর যদি আপনাকে বলা হয় "আমি তোমাকে ভালোবাসি", আর আপনি উত্তরে বলেন "তাহলে আমি তোমাকে সত্যবাদী মনে করি", তবে আপনি 'রাফআ' পড়বেন; কারণ এটি বর্তমান অবস্থার (হাল) অর্থ দিচ্ছে।

সতর্কতা

একদল ব্যাকরণবিদ বলেছেন, যদি 'ইযান' (إذن) ওয়াও (و) অথবা ফা (ف)-এর পরে আসে, তবে তাতে উভয় পদ্ধতি (রাফআ ও নাসব) জায়েজ। যেমন: {তবে তারা আপনার পরে অল্পকালই অবস্থান করত} এবং {সেক্ষেত্রে তারা মানুষকে তিলপরিমাণও দিত না}। এই দুই স্থানেই শায (বিরল) কিরাতে নাসব সহযোগে পাঠ করা হয়েছে। সঠিক বিশ্লেষণ হলো, যখন বলা হয় "যদি তুমি আমার সাথে সাক্ষাৎ করো তবে আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব এবং তখন আমি তোমার প্রতি অনুগ্রহ করব", তখন আপনি যদি জাওয়াবের (প্রতিদান বাক্য) ওপর আতফ (সংযোজন) ধরেন, তবে জযম হবে এবং 'ইযান'-এর আমল বাতিল হয়ে যাবে, কারণ এটি মধ্যবর্তী বাক্য হিসেবে আপতিত হয়েছে। অথবা যদি উভয় বাক্যের ওপর আতফ ধরা হয়, তবে অব্যয়টি আগে আসার কারণে রাফআ ও নাসব উভয়ই জায়েজ হবে। আবার বলা হয়েছে যে, নাসব হওয়া নির্ধারিত; কারণ এর পরের অংশটি নতুন বাক্য (মুস্তানাফ), অথবা এই কারণে যে প্রথমটির ওপর যা আতফ করা হয় তা প্রথমটির পর্যায়ভুক্ত।

অনুরূপ উদাহরণ হলো "যায়েদ দাঁড়াচ্ছে, আর তখন আমি তার প্রতি অনুগ্রহ করব"। যদি আপনি ক্রিয়াভিত্তিক বাক্যের ওপর আতফ করেন তবে রাফআ হবে, আর যদি বিশেষ্যভিত্তিক বাক্যের ওপর আতফ করেন তবে উভয় মতই প্রযোজ্য হবে।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌إِن الْمَكْسُورَة الْخَفِيفَة

 

ترد على أَرْبَعَة أوجه

أَحدهَا أَن تكون شَرْطِيَّة نَحْو {إِن ينْتَهوا يغْفر لَهُم} {وَإِن تعودوا نعد} وَقد تقترن بِلَا النافية فيظن من لَا معرفَة لَهُ أَنَّهَا إِلَّا الاستثنائية نَحْو {إِلَّا تنصروه فقد نَصره الله} {إِلَّا تنفرُوا يعذبكم} {وَإِلَّا تغْفر لي وترحمني أكن من الخاسرين} {وَإِلَّا تصرف عني كيدهن أصب إلَيْهِنَّ} وَقد بَلغنِي أَن بعض من يَدعِي الْفضل سَأَلَ فِي {إِلَّا تفعلوه} فَقَالَ مَا هَذَا الِاسْتِثْنَاء أمتصل أم مُنْقَطع

الثَّانِي أَن تكون نَافِيَة وَتدْخل على الْجُمْلَة الاسمية نَحْو {إِن الْكَافِرُونَ إِلَّا فِي غرور} {إِن أمهاتهم إِلَّا اللائي ولدنهم} وَمن ذَلِك {وَإِن من أهل الْكتاب إِلَّا ليُؤْمِنن بِهِ قبل مَوته} أَي وَمَا أحد من أهل الْكتاب إِلَّا ليُؤْمِنن
জেরযুক্ত ও সাকিনবিশিষ্ট 'ইন'

 

এটি চারটি অর্থে ব্যবহৃত হয়

প্রথমত: এটি 'শর্তিয়া' (শর্তসূচক) হয়। যেমন: {যদি তারা বিরত হয়, তবে তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে} এবং {যদি তোমরা পুনরায় (কুফরিতে) লিপ্ত হও, তবে আমি পুনরায় (শাস্তি) দেব}। কখনও কখনও এটি না-বোধক 'লা'-এর সাথে যুক্ত হয়, যার ফলে ভাষাজ্ঞানহীন ব্যক্তি একে 'ইল্লা' (ব্যতিক্রমসূচক শব্দ) মনে করে থাকে। যেমন: {যদি তোমরা তাকে সাহায্য না করো, তবে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন}, {যদি তোমরা অভিযানে বের না হও, তবে তিনি তোমাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন}, {আর যদি আপনি আমাকে ক্ষমা না করেন এবং আমার প্রতি দয়া না করেন, তবে আমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব} এবং {যদি আপনি আমার থেকে তাদের ষড়যন্ত্র দূর না করেন, তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ব}। আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, পাণ্ডিত্যের দাবিদার জনৈক ব্যক্তি {যদি তোমরা তা না করো} আয়াতটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "এখানে কি ব্যতিক্রমটি (ইস্তিসনা) সংযুক্ত (মুত্তাসিল) নাকি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি)?"

দ্বিতীয়ত: এটি 'নাফিয়া' (না-বোধক) হয় এবং জুমলা ইসমিয়া (বিশেষ্যমূলক বাক্য)-এর শুরুতে আসে। যেমন: {কাফিররা কেবল বিভ্রান্তিতেই নিমজ্জিত}, {তাদের মা কেবল তারাই যারা তাদের জন্ম দিয়েছে}। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: {আর আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তার মৃত্যুর পূর্বে তাঁর প্রতি অবশ্যই ঈমান আনবে না}, অর্থাৎ: আহলে কিতাবদের এমন কেউ নেই যে অবশ্যই ঈমান আনবে না।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ৩৪)
بِهِ فَحذف الْمُبْتَدَأ وَبقيت صفته وَمثله {وَإِن مِنْكُم إِلَّا واردها} وعَلى الْجُمْلَة الفعلية نَحْو {إِن أردنَا إِلَّا الْحسنى} {إِن يدعونَ من دونه إِلَّا إِنَاثًا} {وتظنون إِن لبثتم إِلَّا قَلِيلا} {إِن يَقُولُونَ إِلَّا كذبا}

وَقَول بَعضهم لَا تَأتي إِن النافية إِلَّا وَبعدهَا إِلَّا كهذه الْآيَات أَو لما الْمُشَدّدَة الَّتِي بمعناها كَقِرَاءَة بعض السَّبْعَة {إِن كل نفس لما عَلَيْهَا حَافظ} بتَشْديد الْمِيم أَي مَا كل نفس إِلَّا عَلَيْهَا حَافظ مَرْدُود بقوله تَعَالَى {إِن عنْدكُمْ من سُلْطَان بِهَذَا} {قل إِن أَدْرِي أَقَرِيب مَا توعدون} {وَإِن أَدْرِي لَعَلَّه فتْنَة لكم}

وَخرج جمَاعَة على إِن النافية قَوْله تَعَالَى {إِن كُنَّا فاعلين} {قل إِن كَانَ للرحمن ولد} وعَلى هَذَا فالوقف هُنَا وَقَوله تَعَالَى {وَلَقَد مكناهم فِيمَا إِن مكناكم فِيهِ}
এর দ্বারা মুবতাদা (উদ্দেশ্য) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার সিফাত (গুণ) অবশিষ্ট রয়েছে। এর উদাহরণ হলো: "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে সেখানে পৌঁছাবে না।" আর এটি জুমলা ফে'লিয়া বা ক্রিয়া পদের বাক্যের ওপর আসে, যেমন: "আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি", "তারা তাকে ছাড়া কেবল নারী মূর্তিদেরই ডাকে", "তোমরা ধারণা করবে যে, তোমরা সামান্য সময় অবস্থান করেছো", "তারা কেবল মিথ্যাই বলছে।"

কারও কারও এই উক্তি যে, না-বোধক 'ইন' কেবল তখনই আসে যখন এরপর 'ইল্লা' থাকে—যেমনটি এই আয়াতগুলোতে দেখা যায়—অথবা তাশদীদযুক্ত 'লাম্মা' আসে যা একই অর্থ প্রদান করে, যেমন সাবআ কিরাআতের ক্বারীদের কারও কারও কিরাআতে রয়েছে: "প্রত্যেক সত্তার ওপর অবশ্যই একজন সংরক্ষক রয়েছে" (মিম বর্ণে তাশদীদসহ), অর্থাৎ: "এমন কোনো সত্তা নেই যার ওপর কোনো সংরক্ষক নেই"—তাদের এই মত মহান আল্লাহর এই বাণীগুলো দ্বারা খণ্ডিত হয়েছে: "তোমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ নেই", "বলুন, আমি জানি না তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা কি নিকটবর্তী?", এবং "আর আমি জানি না, সম্ভবত এটি তোমাদের জন্য একটি পরীক্ষা।"

একদল আলেম মহান আল্লাহর এই বাণীগুলোকে না-বোধক 'ইন' হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন: "আমরা তা সম্পাদনকারী ছিলাম না", "বলুন, পরম করুণাময়ের কোনো সন্তান নেই" (এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী)। এই মতানুসারে এখানে বিরতি (ওয়াকফ) দিতে হবে। আর মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমি তাদেরকে এমন বিষয়ে সামর্থ্য দিয়েছিলাম যাতে তোমাদেরকে সামর্থ্য দিইনি।"
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ৩৫)
) أَي فِي الَّذِي مَا مكناكم فِيهِ وَقيل زَائِدَة وَيُؤَيّد الأول {مكناهم فِي الأَرْض مَا لم نمكن} وَكَأَنَّهُ إِنَّمَا عدل عَن مَا لِئَلَّا يتَكَرَّر فيثقل اللَّفْظ قيل وَلِهَذَا لم زادوا على مَا الشّرطِيَّة مَا قلبوا ألف مَا الأولى هَاء فَقَالُوا مهما وَقيل بل هِيَ فِي الْآيَة بِمَعْنى قد وَإِن من ذَلِك {فَذكر إِن نَفَعت الذكرى} وَقيل فِي هَذِه الْآيَة إِن التَّقْدِير وَإِن لم تَنْفَع مثل {سرابيل تقيكم الْحر} أَي وَالْبرد وَقيل إِنَّمَا قيل ذَلِك بعد أَن عمهم بالتذكير ولزمتهم الْحجَّة وَقيل ظَاهره الشَّرْط وَمَعْنَاهُ ذمهم واستبعاد لنفع التَّذْكِير فيهم كَقَوْلِك عظ الظَّالِمين إِن سمعُوا مِنْك تُرِيدُ بذلك الاستبعاد لَا الشَّرْط

وَقد اجْتمعت الشّرطِيَّة والنافية فِي قَوْله تَعَالَى {وَلَئِن زالتا إِن أمسكهما من أحد من بعده} الأولى شَرْطِيَّة وَالثَّانيَِة نَافِيَة جَوَاب للقسم الَّذِي أَذِنت بِهِ اللَّام الدَّاخِلَة على الأولى وَجَوَاب الشَّرْط مَحْذُوف وجوبا

وَإِذا دخلت على الْجُمْلَة الاسمية لم تعْمل عِنْد سِيبَوَيْهٍ وَالْفراء وَأَجَازَ الْكسَائي والمبرد إعمالها عمل لَيْسَ وَقَرَأَ سعيد بن جُبَير {إِن الَّذين تدعون من دون الله عباد أمثالكم}
) অর্থাৎ যাতে আমরা তোমাদেরকে সক্ষমতা প্রদান করিনি, এবং বলা হয়েছে এটি অতিরিক্ত। প্রথম মতটিকে সমর্থন করে (আল্লাহর এই বাণী): {আমি তাদেরকে জমিনে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যেভাবে তোমাদের করিনি}; এবং মনে হয় তিনি 'মা' ব্যবহার থেকে বিরত থেকেছেন যাতে শব্দের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং শব্দ শ্রুতিমধুর থাকে। বলা হয়েছে যে, এই কারণেই যখন তারা শর্তবাচক 'মা'-এর সাথে অতিরিক্ত 'মা' যুক্ত করেছিল, তখন তারা প্রথম 'মা'-এর আলিফকে 'হা' বর্ণে রূপান্তরিত করে 'মাহমা' বলেছিল। আবার বলা হয়েছে যে, বরং আয়াতের মধ্যে এটি 'ক্বাদ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর 'ইন'-এর এরূপ ব্যবহারের উদাহরণ হলো: {অতএব উপদেশ দিন যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়}। এই আয়াতে বলা হয়েছে যে এর প্রচ্ছন্ন অর্থ হলো "যদি তা ফলপ্রসূ নাও হয়", যেমন: {বস্ত্র যা তোমাদের তাপ থেকে রক্ষা করে} অর্থাৎ এবং শীত থেকেও। আবার বলা হয়েছে যে, এটি তখনই বলা হয়েছে যখন তাদের সকলের কাছে উপদেশ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের ওপর দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আরও বলা হয়েছে যে, এর বাহ্যিক রূপটি শর্তবাচক কিন্তু এর অর্থ হলো তাদের নিন্দা করা এবং তাদের ক্ষেত্রে উপদেশের কার্যকারিতাকে অসম্ভব মনে করা, যেমন আপনার কথা: "জালেমদের উপদেশ দিন যদি তারা আপনার কথা শোনে"; এর মাধ্যমে আপনি বিষয়টি সুদূরপরাহত হওয়া বোঝাচ্ছেন, শর্ত নয়।

এবং মহান আল্লাহর এই বাণীতে শর্তবাচক ও না-বোধক 'ইন' উভয়টিই একত্রিত হয়েছে: {যদি সেগুলো বিচ্যুত হয়, তবে তিনি ছাড়া আর কেউই সেগুলোকে ধরে রাখতে পারবে না}। এখানে প্রথমটি শর্তবাচক এবং দ্বিতীয়টি না-বোধক, যা সেই শপথের উত্তর যা প্রথমটির শুরুতে যুক্ত 'লাম' দ্বারা সূচিত হয়েছে; আর শর্তের উত্তরটি এখানে আবশ্যিকভাবে উহ্য রয়েছে।

আর যখন এটি বিশেষ্যমূলক বাক্যের শুরুতে আসে, তখন সিবওয়াইহ এবং ফাররার মতে তা কোনো ব্যাকরণিক প্রভাব ফেলে না। তবে কিসায়ি এবং মুবাররাদ এটিকে 'লাইসা'-এর ন্যায় আমল করার অনুমতি দিয়েছেন। সাঈদ ইবনে জুবায়ের এভাবে পাঠ করেছেন: {আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের আহ্বান করো তারা তোমাদের মতোই দাস}।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ৩৬)
) بنُون مُخَفّفَة مَكْسُورَة لالتقاء الساكنين وَنصب {عبادا} و {أمثالكم} وَسمع من أهل الْعَالِيَة إِن أحد خيرا من أحد إِلَّا بالعافية وَإِن ذَلِك نافعك وَلَا ضارك وَمِمَّا يتَخَرَّج على الإهمال الَّذِي هُوَ لُغَة الْأَكْثَرين قَول بَعضهم إِن قَائِم وَأَصله إِن أَنا قَائِم فحذفت همزَة أَنا اعتباطا وأدغمت نون إِن فِي نونها وحذفت ألفها فِي الْوَصْل وَسمع إِن قَائِما على الإعمال وَقَول بَعضهم نقلت حَرَكَة الْهمزَة إِلَى النُّون ثمَّ أسقطت على الْقيَاس فِي التَّخْفِيف بِالنَّقْلِ ثمَّ سكنت النُّون وأدغمت مَرْدُود لِأَن الْمَحْذُوف لعِلَّة كَالثَّابِتِ وَلِهَذَا تَقول هَذَا قَاض بِالْكَسْرِ لَا بِالرَّفْع لِأَن حذف الْيَاء لالتقاء الساكنين فَهِيَ مقدرَة الثُّبُوت وَحِينَئِذٍ فَيمْتَنع الْإِدْغَام لِأَن الْهمزَة فاصلة فِي التَّقْدِير وَمثل هَذَا الْبَحْث فِي قَوْله تَعَالَى {لَكِن هُوَ الله رَبِّي}

الثَّالِث أَن تكون مُخَفّفَة من الثَّقِيلَة فَتدخل على الجملتين فَإِن دخلت على الاسمية جَازَ إعمالها خلافًا للكوفيين لنا قِرَاءَة الحرميين وَأبي بكر {وَإِن كلا لما ليوفينهم} وحكاية سيبوية إِن عمرا لمنطلق وَيكثر إهمالها نَحْو {وَإِن كل ذَلِك لما مَتَاع الْحَيَاة الدُّنْيَا} {وَإِن كل لما جَمِيع لدينا محضرون}
) দুই সুকুন একত্রিত হওয়ার কারণে কাসরা (জের) যুক্ত লঘু নুন সহকারে এবং 'ইবাদান' ও 'আমসালাকুম' শব্দদ্বয়কে নসব (জবর) প্রদান করে। আলিয়া অঞ্চলের অধিবাসীদের নিকট থেকে শ্রুত হয়েছে: 'সুস্থতা ব্যতীত কেউ কারো চেয়ে উত্তম নয়' এবং 'নিশ্চয়ই এটি তোমার জন্য উপকারী, ক্ষতিকর নয়'। অধিকাংশ ভাষাবিদের রীতি অনুযায়ী 'ইহামাল' বা অকার্যকর রাখার নিয়মের ওপর যা প্রয়োগ করা হয়, তা হলো কারো কারো উক্তি: 'ইন কা-য়িমুন'। এর মূল রূপ ছিল 'ইন আনা কা-য়িমুন'; এখানে 'আনা' শব্দের হামযাহটি কোনো বিশেষ ব্যাকরণিক কারণ ছাড়াই বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং 'ইন'-এর নুনকে পরবর্তী নুনের সাথে সন্ধি (ইদগাম) করা হয়েছে এবং মিলনকালে এর আলিফটি বিলুপ্ত হয়েছে। আবার 'ইমাল' বা কার্যকর রাখা অনুযায়ী 'ইন কা-য়িমান'ও শোনা গেছে। কারো কারো এই মত যে—হামযাহর স্বরচিহ্ন নুনের দিকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, অতঃপর লঘুকরণের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী তা বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং নুনকে সাকিন করে সন্ধি করা হয়েছে—তা প্রত্যাখ্যাত। কারণ, কোনো ব্যাকরণিক কারণে যা বিলুপ্ত হয়, তা বিদ্যমান বলেই গণ্য হয়। এই কারণেই আপনি 'হাযা কা-দিন' (এটি বিচারক) বলেন কাসরা সহকারে, রফা (পেশ) সহকারে নয়। কেননা এখানে 'ইয়া' বিলুপ্ত হয়েছে দুই সুকুন একত্রিত হওয়ার কারণে, তাই সেটি বিদ্যমান হিসেবেই ধর্তব্য। এমতাবস্থায় সন্ধি করা অসম্ভব, কারণ হামযাহটি সেখানে পরোক্ষভাবে ব্যবধান হিসেবে বিদ্যমান। মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু তিনি আল্লাহ আমার প্রতিপালক}-এর ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিশ্লেষণ প্রযোজ্য।

তৃতীয় প্রকার: এটি 'সাকিলাহ' (ভারী) থেকে 'মুখাফফাফাহ' (লঘু) হওয়া। এটি উভয় প্রকার বাক্যের (জুমলা) শুরুতে আসে। যদি এটি বিশেষ্যবাচক বাক্যের (জুমলা ইসমিয়া) শুরুতে আসে, তবে কুফাবাসীদের মতের বিপরীতে একে কার্যকর (আমল প্রদান) করা জায়েয। আমাদের সপক্ষে দলিল হলো হারামাইন অঞ্চলের কারীগণ ও আবু বকরের কিরাত: {এবং নিশ্চয়ই তাদের সকলকেই আপনার প্রতিপালক তাদের কর্মের পূর্ণ ফল দান করবেন} এবং সিবওয়াইহ-এর উদ্ধৃতি: 'নিশ্চয়ই আমর অবশ্যই প্রস্থানকারী'। তবে এর অকার্যকর (ইহামাল) থাকাই অধিক প্রচলিত, যেমন: {এবং এই সমস্তই তো পার্থিব জীবনের ভোগসামগ্রী মাত্র} এবং {তাদের সকলকেই সমবেতভাবে আমাদের নিকট উপস্থিত করা হবে}।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَقِرَاءَة حَفْص {إِن هَذَانِ لساحران} وَكَذَا قَرَأَ ابْن كثير إِلَّا أَنه شدد نون هَذَانِ وَمن ذَلِك {إِن كل نفس لما عَلَيْهَا حَافظ} فِي قِرَاءَة من خفف لما وَإِن دخلت على الْفِعْل أهملت وجوبا والاكثر كَون الْفِعْل مَاضِيا نَاسِخا نَحْو {وَإِن كَانَت لكبيرة} {وَإِن كَادُوا لَيَفْتِنُونَك} {وَإِن وجدنَا أَكْثَرهم لفاسقين} ودونه أَن يكون مضارعا نَاسِخا نَحْو {وَإِن يكَاد الَّذين كفرُوا ليزلقونك} {وَإِن نظنك لمن الْكَاذِبين} وَيُقَاس على النَّوْعَيْنِ اتِّفَاقًا وَدون هَذَا أَن يكون مَاضِيا غير نَاسخ نَحْو قَوْله

2 - (شلت يَمِينك إِن قتلت لمسلما … حلت عَلَيْك عُقُوبَة الْمُتَعَمد)

لَا يُقَاس عَلَيْهِ خلافًا للأخفش أجَاز إِن قَامَ لأَنا وَإِن قعد لأَنْت وَدون هَذَا أَن يكون مضارعا غير نَاسخ كَقَوْل بَعضهم إِن يزينك لنَفسك وَإِن يشينك لهيه وَلَا يُقَاس عَلَيْهِ إِجْمَاعًا [وَحَيْثُ وجدت إِن وَبعدهَا اللَّام المقترحة كَمَا فِي هَذِه الْمَسْأَلَة فاحكم عَلَيْهَا بِأَن أَصْلهَا التَّشْدِيد وَفِي هَذِه اللَّام خلاف يَأْتِي فِي بَاب اللَّام] إِن شَاءَ الله تَعَالَى
হাফসের কিরাত অনুযায়ী {নিশ্চয়ই এরা দুজন জাদুকর} এবং ইবনে কাসীরও একইভাবে পাঠ করেছেন, তবে তিনি 'হাযানি' শব্দের নুন-কে তাশদীদ যুক্ত করেছেন। এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো যারা 'লাম্মা' শব্দটিকে লঘু বা সহজ (লামা) করে পড়েছেন তাদের কিরাতের ভিত্তিতে {প্রত্যেকটি প্রাণের ওপর অবশ্যই একজন সংরক্ষক রয়েছে}। আর যদি এটি (লঘুকৃত 'ইন') ক্রিয়ার উপর প্রবেশ করে, তবে আবশ্যিকভাবে তা আমলহীন হয়ে যায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্রিয়াটি অতীতকালীন রহিতকারী (নাসিখ) ক্রিয়া হয়। যেমন: {আর নিশ্চয়ই তা ছিল কঠিন}, {আর তারা অবশ্যই আপনাকে ফিতনায় ফেলার উপক্রম করেছিল}, {আর আমরা অবশ্যই তাদের অধিকাংশকেই পাপাচারী হিসেবে পেয়েছি}। এর চেয়ে কম ব্যবহার হলো যখন এটি বর্তমানকালীন রহিতকারী (নাসিখ) ক্রিয়া হয়। যেমন: {আর কাফিররা অবশ্যই আপনাকে তাদের দৃষ্টি দিয়ে বিচ্যুত করে দেবে}, {আর আমরা অবশ্যই আপনাকে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি}। সর্বসম্মতিক্রমে এই দুই প্রকারের ওপর কিয়াস করা যায়। এর চেয়েও কম ব্যবহার হলো যখন এটি অতীতকালীন কিন্তু অ-রহিতকারী (নন-নাসিখ) ক্রিয়া হয়। যেমন কবির কথা:

২ - (তোমার ডান হাত অবশ হয়ে যাক, নিশ্চয়ই তুমি একজন মুসলিমকে হত্যা করেছ... তোমার ওপর ইচ্ছাকৃত হত্যাকারীর শাস্তি অবধারিত হয়েছে)

আল-আখফাশের ভিন্নমতের বিপরীতে এর ওপর কিয়াস করা যাবে না। তিনি 'ইন ক্বামা লা-আনা' (নিশ্চয়ই আমি দাঁড়িয়েছি) এবং 'ইন ক্বা'আদা লা-আন্তা' (নিশ্চয়ই তুমি বসেছ) বৈধ মনে করতেন। এর চেয়েও বিরল হলো যখন এটি বর্তমানকালীন কিন্তু অ-রহিতকারী (নন-নাসিখ) ক্রিয়া হয়। যেমন কারো কথা: 'নিশ্চয়ই যা তোমাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তা তোমার নিজের জন্য এবং যা তোমাকে কলঙ্কিত করে তা-ও নিজের জন্য'। সর্বসম্মতিক্রমে এর ওপর কিয়াস করা যাবে না। [আর যেখানেই 'ইন' এবং এরপরে প্রস্তাবিত 'লাম' (পার্থক্যকারী লাম) পাওয়া যাবে, যেমনটি এই মাসআলায় রয়েছে, তবে সেটির ওপর এই হুকুম দিন যে এর মূল ছিল তাশদীদযুক্ত (ইন্না)। আর এই 'লাম' নিয়ে মতভেদ রয়েছে যা 'লাম' অধ্যায়ে আসবে] ইনশাআল্লাহ তায়ালা।
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ৩৮)
الرَّابِع أَن تكون زَائِدَة كَقَوْلِه

2 - (مَا إِن أتيت بِشَيْء أَنْت تكرههُ … )

وَأكْثر مَا زيدت بعد مَا النافية إِذا دخلت على جملَة فعلية كَمَا فِي الْبَيْت أَو اسمية كَقَوْلِه

23 - (فَمَا إِن طبنا جبن وَلَكِن … منايانا ودولة آخرينا)

وَفِي هَذِه الْحَالة تكف عمل مَا الحجازية كَمَا فِي الْبَيْت وَأما قَوْله

24 - (بني غُدَانَة مَا إِن أَنْتُم ذَهَبا … وَلَا صريفا وَلَكِن أَنْتُم الخزف)

فِي رِوَايَة من نصب ذَهَبا وصريفا فَخرج على أَنَّهَا نَافِيَة مُؤَكدَة ل مَا

وَقد تزاد بعد مَا الموصولة الاسمية كَقَوْلِه

25 - (يرجي الْمَرْء مَا إِن لَا يرَاهُ … وَتعرض دون أدناه الخطوب)

وَبعد مَا المصدرية كَقَوْلِه

26 - (ورج الْفَتى للخير مَا إِن رَأَيْته … على السن خيرا لَا يزَال يزِيد)

وَبعد أَلا الاستفتاحية كَقَوْلِه

27 - (أَلا إِن سرى ليلِي فَبت كئيبا … أحاذر أَن تنأى النَّوَى بغضوبا)
চতুর্থত: এটি অতিরিক্ত হওয়া, যেমন তাঁর উক্তি:

2 - (আমি এমন কোনো বিষয় নিয়ে আসিনি যা আপনি অপছন্দ করেন … )

এটি না-বোধক 'মা'-এর পরে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যখন সেটি কোনো ক্রিয়াঘটিত বাক্যে প্রবেশ করে যেমনটি পূর্বোক্ত কাব্যাংশে রয়েছে, অথবা নামঘটিত বাক্যে প্রবেশ করে যেমন তাঁর উক্তি:

23 - (আমাদের স্বভাব ভীরুতা নয়, কিন্তু … আমাদের মৃত্যু এবং অন্যদের রাজত্বকাল)

এই অবস্থায় এটি হিজাজি 'মা'-এর আমল বা কার্যকারিতা রহিত করে দেয় যেমনটি উক্ত কাব্যাংশে দেখা যায়। আর তাঁর এই উক্তির ক্ষেত্রে:

24 - (হে বনী গুদানাহ! তোমরা স্বর্ণ নও … এবং রূপাও নও, বরং তোমরা তো মাটির পাত্র)

'যাহাবান' এবং 'সারীফান' শব্দদুটিকে যারা নাসব (জবর) দিয়ে পড়েছেন, তাদের বর্ণনামতে এর ব্যাখ্যা এই যে, এটি 'মা'-কে তাকিদ বা জোরালো করার জন্য আসা একটি না-বোধক শব্দ।

কখনও কখনও এটি ইসমী মা-য়ে মাওসুলাহ (যোজক 'মা')-এর পরেও অতিরিক্ত হিসেবে আসে, যেমন তাঁর উক্তি:

25 - (মানুষ এমন কিছুর আশা করে যা সে দেখতে পায় না … অথচ তার নাগাল পাওয়ার আগেই বিপদসমূহ সামনে এসে দাঁড়ায়)

এবং মা-য়ে মাসদারিয়ার পরেও আসে, যেমন তাঁর উক্তি:

26 - (যুবকের কল্যাণের আশা করো যতক্ষণ তাকে দেখবে … বয়সের সাথে সাথে তার কল্যাণ কেবল বৃদ্ধিই পাচ্ছে)

এবং প্রারম্ভিক 'আলা'-এর পরেও আসে, যেমন তাঁর উক্তি:

27 - (সাবধান! আমার রাতের সফর শুরু হলো এবং আমি বিষণ্ণ অবস্থায় রাত কাটালাম … আমি ভয় পাচ্ছি পাছে বিচ্ছেদ গযূবকে দূরে নিয়ে যায়)
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَقبل مُدَّة الْإِنْكَار سمع سِيبَوَيْهٍ رجلا يُقَال لَهُ أتخرج إِن أخصبت الْبَادِيَة فَقَالَ أأنا إنية مُنْكرا أَن يكون رَأْيه على خلاف ذَلِك وَزعم ابْن الْحَاجِب أَنَّهَا تزاد بعد لما الإيجابية وَهُوَ سَهْو وَإِنَّمَا تِلْكَ أَن الْمَفْتُوحَة

وَزيد على هَذِه الْمعَانِي الْأَرْبَعَة مَعْنيانِ آخرَانِ فَزعم قطرب أَنَّهَا قد تكون بِمَعْنى قد كَمَا مر فِي {إِن نَفَعت الذكرى} وَزعم الْكُوفِيُّونَ أَنَّهَا تكون بِمَعْنى إِذْ وَجعلُوا مِنْهُ {وَاتَّقوا الله إِن كُنْتُم مُؤمنين} {لتدخلن الْمَسْجِد الْحَرَام إِن شَاءَ الله آمِنين} وَقَوله عليه الصلاة والسلام وَإِنَّا إِن شَاءَ الله بكم لاحقون وَنَحْو ذَلِك مِمَّا الْفِعْل فِيهِ مُحَقّق الْوُقُوع وَقَوله

28 - (أتغضب إِن أذنا قُتَيْبَة حزتا … جهارا وَلم تغْضب لقتل ابْن خازم)

قَالُوا وَلَيْسَت شَرْطِيَّة لِأَن الشَّرْط مُسْتَقْبل وَهَذِه الْقِصَّة قد مَضَت وَأجَاب الْجُمْهُور عَن قَوْله تَعَالَى {إِن كُنْتُم مُؤمنين} بِأَنَّهُ شَرط جِيءَ بِهِ
ইনকার বা অস্বীকৃতি প্রকাশের সময়ের পূর্বে সিবাহওয়াইহ এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছিলেন যাকে বলা হয়েছিল: "মরুভূমি উর্বর হলে কি তুমি বের হবে?" তখন সে অস্বীকার করে বলেছিল, "আমি কি ইন-প্রকৃতির (অর্থাৎ সন্দেহকারী)?" অর্থাৎ তার অভিমত এর বিপরীত হওয়াকে সে অস্বীকার করেছিল। ইবনুল হাজিব দাবি করেছেন যে, এটি ইতিবাচক 'লাম্মা' (لما)-এর পরে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়; কিন্তু এটি একটি ভুল, মূলত সেটি হলো ফাতহাযুক্ত 'আন' (أن)।

এই চারটি অর্থের সাথে আরও দুটি অর্থ যোগ করা হয়েছে। কুতরুব দাবি করেছেন যে, এটি 'ক্বাদ' (قد) এর অর্থেও ব্যবহৃত হতে পারে, যেমনটি {যদি উপদেশ ফলপ্রসূ হয়} আয়াতের ক্ষেত্রে অতিক্রান্ত হয়েছে। কুফীগণ দাবি করেছেন যে, এটি 'ইয' (إذ) বা 'যখন' অর্থে ব্যবহৃত হয়। তারা এর উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন: {এবং আল্লাহকে ভয় করো যদি তোমরা মুমিন হও}, {তোমরা অবশ্যই মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে, যদি আল্লাহ চান, নিরাপদ অবস্থায়} এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "আর আমরা, যদি আল্লাহ চান, তোমাদের সাথে মিলিত হতে যাচ্ছি" এবং এ জাতীয় অন্যান্য উদাহরণ যেখানে ক্রিয়াটি সংঘটিত হওয়া সুনিশ্চিত। এবং কবির উক্তি—

২৮ - (তুমি কি রাগান্বিত হচ্ছ যেহেতু কুতাইবাহর দুই কান কেটে ফেলা হয়েছে... প্রকাশ্যে, অথচ ইবনে খাযিমের হত্যার জন্য তুমি রাগান্বিত হওনি?)

তারা বলেন, এটি শর্তবাচক নয়; কারণ শর্ত সাধারণত ভবিষ্যৎকালের জন্য হয়, অথচ এই ঘটনাটি অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমগণ মহান আল্লাহর বাণী {যদি তোমরা মুমিন হও} এর উত্তরে বলেন যে, এটি একটি শর্ত যা আনা হয়েছে...
(খণ্ড: ১) মুগনিল লাবীব আন কুতুবিল আআরীব (পৃষ্ঠা: ৪০)
للتهييج والإلهاب كَمَا تَقول لابنك إِن كنت ابْني فَلَا تفعل كَذَا

وَعَن آيَة الْمَشِيئَة بِأَنَّهُ تَعْلِيم للعباد كَيفَ يَتَكَلَّمُونَ إِذا أخبروا عَن الْمُسْتَقْبل أَو بِأَن أصل ذَلِك الشَّرْط ثمَّ صَار يذكر للتبرك أَو أَن الْمَعْنى لتدخلن جَمِيعًا إِن شَاءَ الله أَلا يَمُوت مِنْكُم أحد قبل الدُّخُول وَهَذَا الْجَواب لَا يدْفع السُّؤَال أَو أَن ذَلِك من كَلَام رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لأَصْحَابه حِين أخْبرهُم بالمنام فَحكى الله لنا ذَلِك أَو من كَلَام الْملك الَّذِي أخبرهُ فِي الْمَنَام

وَأما الْبَيْت فَمَحْمُول على وَجْهَيْن أَحدهمَا أَن يكون على إِقَامَة السَّبَب مقَام الْمُسَبّب وَالْأَصْل أتغضب إِن افتخر مفتخر بِسَبَب حز أُذُنِي قُتَيْبَة إِذْ الافتخار بذلك يكون سَببا للغضب ومسببا عَن الحز الثَّانِي أَن يكون على معنى التبين أَي أتغضب إِن تبين فِي الْمُسْتَقْبل أَن أُذُنِي قُتَيْبَة حزتا فِيمَا مضى كَمَا قَالَ الآخر

29 - (إِذا مَا انتسبنا لم تلدني لئيمة … وَلم تجدي من أَن تقري بِهِ بدا)

أَي يتَبَيَّن أَنِّي لم تلدني لئيمة

وَقَالَ الْخَلِيل والمبرد الصَّوَاب أَن أذنا بِفَتْح الْهمزَة من أَن أَي لِأَن أذنا ثمَّ هِيَ عِنْد الْخَلِيل أَن الناصبة وَعند الْمبرد أَنَّهَا أَن المخففة من الثَّقِيلَة

وَيرد قَول الْخَلِيل أَن الناصبة لَا يَليهَا الِاسْم على إِضْمَار الْفِعْل وَإِنَّمَا ذَلِك لإن الْمَكْسُورَة نَحْو {وَإِن أحد من الْمُشْركين استجارك}
উত্তেজনা ও উদ্দীপনা সৃষ্টির জন্য যেমন আপনি আপনার সন্তানকে বলেন, "যদি তুমি আমার সন্তান হও, তবে এমনটি করো না।"

আর আল্লাহর ইচ্ছার (ইনশাআল্লাহ) আয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এটি বান্দাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য যে ভবিষ্যতে কোনো বিষয়ে সংবাদ দেওয়ার সময় তারা কীভাবে কথা বলবে; অথবা এর মূল একটি শর্ত ছিল যা পরবর্তীতে বরকতের জন্য ব্যবহৃত হতে থাকে; অথবা এর অর্থ হলো—আল্লাহ চাহেন তো তোমরা সকলেই অবশ্যই প্রবেশ করবে অর্থাৎ প্রবেশের পূর্বে তোমাদের কেউ মারা যাবে না—তবে এই উত্তরটি প্রশ্নের নিরসন করে না; অথবা এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাহাবীদেরকে স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন তখন তাঁর বলা কথা যা আল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; অথবা এটি সেই ফেরেশতার কথা যিনি তাঁকে স্বপ্নে সংবাদ দিয়েছিলেন।

আর কবিতার চরণের ক্ষেত্রে দুটি ব্যাখ্যা হতে পারে: প্রথমটি হলো কারণকে ফলাফলের স্থলাভিষিক্ত করা; এর মূল অর্থ হলো—"তুমি কি রাগান্বিত হবে যদি কুতাইবাহ-এর কান কাটার কারণে কেউ গর্ব প্রকাশ করে?" কেননা এই বিষয়ে গর্ব প্রকাশ করা রাগের কারণ এবং কান কাটার ফলাফল। দ্বিতীয়টি হলো বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার অর্থে, অর্থাৎ ভবিষ্যতে যদি এটি স্পষ্ট হয় যে অতীতে কুতাইবাহ-এর দুটি কান কাটা হয়েছিল, তবে কি তুমি রাগান্বিত হবে? যেমন অন্য একজন কবি বলেছেন—

২৯ - (যখন আমরা আমাদের বংশ পরিচয় দেব, তখন কোনো হীন নারী আমাকে জন্ম দেয়নি... আর এটি স্বীকার করা ছাড়া তোমার কোনো উপায় থাকবে না)

অর্থাৎ এটা স্পষ্ট হয় যে কোনো হীন নারী আমাকে জন্ম দেয়নি।

খলীল এবং মুবাররাদ বলেছেন যে সঠিক হলো হামযাহ-এর যবর সহকারে 'আন' অর্থাৎ 'যেহেতু কান'। অতঃপর খলীল-এর মতে এটি নসব প্রদানকারী 'আন', আর মুবাররাদ-এর মতে এটি ভারী শব্দ থেকে হালকা করা 'আন'।

খলীল-এর উক্তিটি এভাবে খণ্ডন করা হয় যে, নসব প্রদানকারী 'আন'-এর পরে ক্রিয়া উহ্য রেখে সরাসরি কোনো বিশেষ্য আসে না; বরং এটি কেবল যের-যুক্ত 'ইন'-এর ক্ষেত্রেই ঘটে, যেমন: "আর যদি মুশরিকদের মধ্য থেকে কেউ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে।"