(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: -)
شرح قطر الندى وبل الصدى القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح قطر الندى وبل الصدى
المؤلف: أبو محمد، عبد الله، جمال الدين بن هشام الأنصاري (ت 761 هـ)
المحقق: محمد محيى الدين عبد الحميد [ت 1392 هـ]
الطبعة: الحادية عشرة للمحقق 1383 هـ- 1963 م تمتاز بدقة الضبط والزيادة في الشروح والتحقيقات
الناشر: المكتبة التجارية الكبرى بمصر
طبع: مطبعة السعادة بمصر
عدد الصفحات: 335
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শরহু কাত্রিন নাদা ওয়া বাল্লিস সাদা বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: শরহু কাত্রিন নাদা ওয়া বাল্লিস সাদা
লেখক: আবু মুহাম্মদ، আব্দুল্লাহ، জামালুদ্দিন ইবনে হিশাম আল-আনসারি (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ মহিউদ্দিন আব্দুল হামিদ [মৃত্যু ১৩৯২ হিজরি]
সংস্করণ: সম্পাদকের একাদশতম সংস্করণ, ১৩৮৩ হিজরি- ১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দ; যা নির্ভুল পাঠরীতি ও হরকত প্রদান এবং ব্যাখ্যা ও গবেষণায় অধিকতর সংযোজনের দ্বারা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়্যাতুল কুবরা, মিশর
মুদ্রণ: মাতবাআতুস সাআদাহ, মিশর
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৩৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ১০)
مُقَدّمَةبِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْحَمد لله رَافع الدَّرَجَات لمن انخفض لجلاله وفاتح البركات لمن انتصب لشكر فضاله وَالصَّلَاة وَالسَّلَام على من مدت عَلَيْهِ الفصاحة رواقها وسدت بِهِ البلاغة نطاقها الْمَبْعُوث بِالْآيَاتِ الباهرة والحجج الْمنزل عَلَيْهِ قُرْآن عَرَبِيّ غير ذِي عوج وعَلى آله الهادين وَأَصْحَابه الَّذين شادوا الدّين وَشرف وكرم وَبعد فَهَذِهِ نكت حررتها على مقدمتي الْمُسَمَّاة ب قطر الندى وبل الصدى رَافِعَة لحجابها كاشفة لنقابها مكملة لشواهدها متممة لفوائدها كَافِيَة لمن اقْتصر عَلَيْهَا وافية ببغية من جنح من طلاب علم الْعَرَبيَّة إِلَيْهَا وَالله الْمَسْئُول أَن ينفع بهَا كَمَا نفع بأصلها وَأَن يذلل لنا طرق الْخيرَات وسبلها إِنَّه جواد كريم رؤوف رَحِيم وَمَا توفيقي إِلَّا بِاللَّه عَلَيْهِ توكلت وَإِلَيْهِ أنيب
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি স্বীয় মহিমার তরে বিনম্রদের মর্যাদা উন্নীত করেন এবং স্বীয় অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশে সচেষ্টদের জন্য বরকতের দ্বার উন্মুক্ত করেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁর ওপর সাবলীলতা তার শামিয়ানা প্রসারিত করেছে এবং অলঙ্কারশাস্ত্র যাঁর মাধ্যমে তার পূর্ণতা লাভ করেছে; যিনি সুস্পষ্ট নিদর্শন ও অকাট্য দলিলসহ প্রেরিত হয়েছেন এবং যাঁর প্রতি বক্রতাহীন আরবি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পথপ্রদর্শক পরিবার-পরিজন এবং সেই সকল সাহাবীদের প্রতি, যাঁরা দ্বীনকে সুসংহত করেছেন এবং একে মর্যাদা ও মহিমা দান করেছেন। অতঃপর, এগুলো হলো কিছু সূক্ষ্ম টীকা যা আমি আমার ‘কাতরুন্ নাদা ওয়া বাল্লুস সাদা’ নামক ভূমিকাগ্রন্থের ওপর লিপিবদ্ধ করেছি; যা এর আবরণ উন্মোচনকারী, এর রহস্য উদঘাটনকারী, এর কাব্যিক প্রমাণসমূহের পূর্ণতাদানকারী এবং এর উপকারিতাসমূহকে সমাপ্তকারী। এটি সেই ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট যে কেবল এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে চায় এবং আরবি ভাষা শিক্ষার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য সাধনে এটি পর্যাপ্ত। আল্লাহর নিকটই প্রার্থনা, তিনি যেন এর মাধ্যমেও সেভাবে উপকৃত করেন যেভাবে তিনি এর মূল কিতাবের মাধ্যমে করেছেন। আর তিনি যেন আমাদের জন্য কল্যাণের পথসমূহ সুগম করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় দাতা, মহানুভব, স্নেহশীল ও পরম দয়ালু। আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করি।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ১১)
تَعْرِيف الْكَلِمَة وأقسامهاص الْكَلِمَة قَول مُفْرد ش تطلق الْكَلِمَة فِي اللُّغَة على الْجمل المفيدة كَقَوْلِه تَعَالَى كلا إِنَّهَا كلمة هُوَ قَائِلهَا إِشَارَة إِلَى قَوْله رب ارْجِعُونِ لعَلي أعمل صَالحا فِيمَا تركت وَفِي الِاصْطِلَاح على القَوْل الْمُفْرد وَالْمرَاد بالْقَوْل اللَّفْظ الدل على معنى كَرجل وَفرس وَالْمرَاد بِاللَّفْظِ الصَّوْت الْمُشْتَمل على بعض الْحُرُوف سَوَاء دلّ على معنى كزيد أم لم يدل كديز مقلوب زيد وَقد تبين أَن كل قَول لفظ وَلَا ينعكس وَالْمرَاد بالمفرد مَا لَا يدل جزوه على جُزْء مَعْنَاهُ وَذَلِكَ نَحْو زيد فَإِن أجزاءه وَهِي الزَّاي وَالْيَاء وَالدَّال إِذا أفردت لَا تدل على شَيْء مِمَّا يدل هُوَ عَلَيْهِ بِخِلَاف قَوْلك غُلَام زيد فَإِن كلا من جزئيه وهما الْغُلَام وَزيد دَال على جُزْء مَعْنَاهُ فَهَذَا يُسمى مركبا لَا مُفردا فَإِن قلت فَلم لَا اشْترطت فِي الْكَلِمَة الْوَضع كَمَا اشْترط من قَالَ الْكَلِمَة لفظ وضع لِمَعْنى مُفْرد قلت إِنَّمَا احتاجوا إِلَى ذَلِك لأخذهم اللَّفْظ جِنْسا للكلمة وَاللَّفْظ يَنْقَسِم إِلَى مَوْضُوع ومهمل فاحتاجوا إِلَى الِاحْتِرَاز عَن المهمل بِذكر الْوَضع وَلما أخذت القَوْل جِنْسا للكلمة وَهُوَ خَاص بالموضوع أغناني ذَلِك عَن اشْتِرَاط الْوَضع فَإِن قلت فَلم عدلت عَن اللَّفْظ إِلَى القَوْل قلت لِأَن اللَّفْظ جنس بعيد لانطلاقه على المهمل والمستعمل كَمَا ذكرنَا
শব্দের (كلمة) সংজ্ঞা ও এর প্রকারভেদমূল পাঠ (ص): শব্দ (كلمة) হলো একটি একক (مفرد) উক্তি (قول)। ব্যাখ্যা (ش): আভিধানিক (لغة) অর্থে শব্দ (كلمة) অর্থপূর্ণ বাক্যের (جمل مفيدة) ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "কখনোই নয়, এটি তো একটি বাক্য (كلمة) যা সে বলছে", এখানে শব্দটি দ্বারা তার পূর্বোক্ত উক্তি "হে আমার প্রতিপালক! আমাকে পুনরায় (দুনিয়ায়) পাঠান, যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে নেক আমল করতে পারি" এর দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে শব্দ বলতে একক (مفرد) উক্তিকে (قول) বোঝায়। উক্তি (قول) দ্বারা এমন শব্দোচ্চারণ (لفظ) উদ্দেশ্য যা কোনো অর্থের (معنى) ওপর দালালত বা ইঙ্গিত করে; যেমন- 'মানুষ' (رجل) ও 'ঘোড়া' (فرس)। আর শব্দোচ্চারণ (لفظ) দ্বারা এমন আওয়াজকে বোঝায় যা কিছু বর্ণের (حروف) সমষ্টি, চাই তা কোনো অর্থ প্রকাশ করুক যেমন- যায়দ (زيد), অথবা না করুক যেমন- দায়য (ديز), যা যায়দ শব্দের বর্ণগুলোর বিপরীত বিন্যাস। এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, প্রত্যেক উক্তিই (قول) শব্দোচ্চারণ (لفظ), কিন্তু বিষয়টি বিপরীতমুখী নয় (অর্থাৎ প্রত্যেক শব্দোচ্চারণই উক্তি নয়)। একক (مفرد) বলতে এমন কিছু বোঝায় যার অংশবিশেষ তার পূর্ণ অর্থের কোনো অংশের ওপর ইঙ্গিত করে না। যেমন- যায়দ (زيد); এর অংশগুলো অর্থাৎ 'যা' (ز), 'ইয়া' (ي) এবং 'দাল' (د) যখন পৃথক করা হয়, তখন তা যায়দ শব্দ দ্বারা যা বোঝানো হয় তার কোনো অংশের ওপর ইঙ্গিত করে না। আপনার উক্তি 'গোলামু যায়দিন' (غلام زيد - যায়দের দাস) এর বিপরীত; কারণ এর দুটি অংশের প্রতিটি অর্থাৎ 'গোলাম' ও 'যায়দ' এর পূর্ণ অর্থের এক-একটি অংশের ওপর ইঙ্গিত প্রদান করে। ফলে একে যৌগিক (مركب) বলা হয়, একক (مفرد) নয়। আপনি যদি প্রশ্ন করেন: কেন আপনি শব্দের সংজ্ঞায় 'ভাষাগত নির্ধারণ' (وضع) এর শর্ত যুক্ত করলেন না, যেমনটি সেই ব্যক্তি করেছেন যিনি বলেছেন 'শব্দ হলো এমন এক শব্দোচ্চারণ (لفظ) যা কোনো একক অর্থের জন্য নির্ধারিত (وضع)'? উত্তরে আমি বলব: তারা শব্দোচ্চারণকে (لفظ) শব্দের শ্রেণি (جنس) হিসেবে গ্রহণ করায় এই শর্তারোপের প্রয়োজন পড়েছে। কারণ শব্দোচ্চারণ (لفظ) অর্থবোধক (موضوع) এবং অর্থহীন (مهمل) - এই দুই ভাগে বিভক্ত। ফলে অর্থহীন (مهمل) শব্দকে বাদ দেওয়ার জন্য তারা 'নির্ধারণ' (وضع) শব্দটির উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন। কিন্তু যখন আমি উক্তিকে (قول) শব্দের শ্রেণি (جنس) হিসেবে গ্রহণ করেছি, যা কেবল অর্থবোধক (موضوع) শব্দের সাথেই খাস বা সুনির্দিষ্ট, তখন এটিই আমাকে 'নির্ধারণ' (وضع) এর শর্তারোপ করা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছে। আপনি যদি প্রশ্ন করেন: কেন আপনি শব্দোচ্চারণ (لفظ) পরিহার করে উক্তি (قول) শব্দটি গ্রহণ করলেন? আমি বলব: কারণ শব্দোচ্চারণ (لفظ) হলো একটি দূরবর্তী শ্রেণি (جنس بعيد), যেহেতু এটি অর্থহীন (مهمل) ও ব্যবহৃত (مستعمل) উভয় প্রকার ধ্বনির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ১২)
وَالْقَوْل جنس لاختصاصه بِالْمُسْتَعْملِ وَاسْتِعْمَال لأجناس الْبَعِيدَة فِي الْحُدُود معيب عِنْد أهل النّظر ص وَهِي أسم وَفعل وحرف ش لما ذكرت حد الْكَلِمَة بيّنت أَنَّهَا جنس تَحْتَهُ ثَلَاثَة أَنْوَاع الِاسْم وَالْفِعْل والحرف وَالدَّلِيل على انحصار أَنْوَاعهَا فِي هَذِه الثَّلَاثَة الاستقراء فَإِن عُلَمَاء هَذَا الْفَنّ تتبعوا كَلَام الْعَرَب فَلم يَجدوا إِلَّا ثَلَاثَة أَنْوَاع وَلَو كَانَ ثمَّ نوع رَابِع لعثروا على شَيْء مِنْهُ
عَلَامَات الِاسْمص فَأَما الِاسْم فَيعرف بأل كَالرّجلِ والتنوين كَرجل وَبِالْحَدِيثِ عَنهُ كتاء ضربت ش لما بيّنت مَا انحصرت فِيهِ أَنْوَاع الْكَلِمَة الثَّلَاثَة شرعت فِي بَيَان مَا يتَمَيَّز بِهِ كل وَاحِد مِنْهَا عَن قسيميه لتتم فَائِدَة مَا ذكرته فَذكرت للاسم ثَلَاث عَلَامَات عَلامَة من أَوله وَهِي الْألف وَاللَّام كالفرس والغلام وعلامة من آخِره وَهِي التَّنْوِين وَهُوَ نون زَائِدَة سَاكِنة تلْحق الآخر لفظا لاخطا لغير توكيد نَحْو زيد وَرجل وصه وحينيئذ ومسلمات فَهَذِهِ وَمَا أشبههَا أَسمَاء بِدَلِيل وجود التَّنْوِين فِي آخرهَا وعلامة معنوية وَهِي الحَدِيث عَنهُ ك قَامَ زيد فزيد اسْم لِأَنَّك حدثت عَنهُ بِالْقيامِ وَهَذِه الْعَلامَة أَنْفَع العلامات الْمَذْكُورَة للاسم وَبهَا اسْتدلَّ على اسميه التَّاء فِي ضربت أَلا ترى أَنَّهَا تقبل أل وَلَا يلْحقهَا التَّنْوِين وَلَا غَيرهَا من العلامات الَّتِي تذكر للاسم سوى الحَدِيث عَنْهَا فَقَط
'কাওল' বা 'উক্তি' হলো একটি সাধারণ শ্রেণী (جنس), কারণ এটি কেবল অর্থবোধক ও ব্যবহৃত শব্দের জন্য নির্দিষ্ট। আর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে দূরবর্তী সাধারণ শ্রেণীসমূহ (الأجناس البعيدة) ব্যবহার করা গবেষক ও তার্কিকদের (أهل النظر) নিকট ত্রুটিপূর্ণ। (মূল পাঠ): তা হলো ইসম (বিশেষ্য), ফে’ল (ক্রিয়া) এবং হরফ (অব্যয়)। (ব্যাখ্যা): যখন আমি কালিমার সংজ্ঞা প্রদান করেছি, তখন আমি এটি স্পষ্ট করেছি যে, এটি একটি সাধারণ শ্রেণী (جنس) যার অধীনে তিনটি প্রকার (أنواع) রয়েছে: ইসম, ফে’ল এবং হরফ। আর কালিমার প্রকারভেদ এই তিনটির মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়ার প্রমাণ হলো আরোহ বা ব্যাপক অনুসন্ধান (الاستقراء)। কেননা এই শাস্ত্রের আলিমগণ আরবদের বক্তব্যসমূহ অনুসন্ধান করেছেন এবং তাঁরা এই তিনটি প্রকার ব্যতীত অন্য কিছু পাননি। যদি চতুর্থ কোনো প্রকার থাকত, তবে অবশ্যই তাঁরা তার কোনো না কোনো নিদর্শনের সন্ধান পেতেন।
ইসমের চিহ্নসমূহ(মূল পাঠ): ইসম চেনার উপায় হলো— 'আল' (أل) দ্বারা, যেমন 'আর-রাজুলু' (الرجل); তানউইন (التنوিন) দ্বারা, যেমন 'রাজুলুন' (رجل); এবং তার সম্পর্কে কোনো সংবাদ প্রদান (الحديث عنه) করার মাধ্যমে, যেমন 'দরাবতু' (ضربت) শব্দের 'তা' (ت)। (ব্যাখ্যা): যখন আমি কালিমার তিন প্রকারের সীমাবদ্ধতা বর্ণনা করেছি, তখন আমি এদের প্রত্যেকটি তার অপর দুটি সমজাতীয় প্রকার থেকে পৃথক হওয়ার বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা করতে শুরু করেছি, যাতে উল্লিখিত বিষয়ের উপকারিতা পূর্ণতা পায়। আমি ইসমের জন্য তিনটি চিহ্ন উল্লেখ করেছি: একটি চিহ্ন শব্দের শুরুতে থাকে, আর তা হলো আলিফ ও লাম, যেমন 'আল-ফারাসু' (الفرس) ও 'আল-গুলামু' (الغلام)। দ্বিতীয় চিহ্নটি শব্দের শেষে থাকে, আর তা হলো তানউইন (التنوিন); এটি একটি অতিরিক্ত সাকিন নূন যা উচ্চারণে শব্দের শেষে যুক্ত হয় কিন্তু লেখায় নয় এবং এটি তাকিদ বা জোর দেওয়ার জন্য আসে না। যেমন: জায়দুন (زيد), রাজুলুন (رجل), সাহিন (صه), হীনা ইযিন (حينئذ) এবং মুসলিমাতুন (مسلمات)। এগুলো এবং এ জাতীয় শব্দগুলো ইসম হওয়ার প্রমাণ হলো এগুলোর শেষে তানউইন (التنوিন) বিদ্যমান থাকা। তৃতীয় চিহ্নটি হলো একটি অর্থগত চিহ্ন, আর তা হলো তার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান (الحديث عنه); যেমন 'কামা জায়দুন' (قام زيد); এখানে 'জায়দুন' একটি ইসম, কারণ আপনি তার দাঁড়িয়ে থাকা সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করেছেন। ইসমের জন্য উল্লিখিত চিহ্নগুলোর মধ্যে এই চিহ্নটিই সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ। এর মাধ্যমেই 'দরাবতু' (ضربت) ক্রিয়ার 'তা' (ت) বর্ণটি যে একটি ইসম, তা প্রমাণিত হয়। আপনি কি দেখছেন না যে, এটি 'আল' (أل) গ্রহণ করে না এবং এতে তানউইন (التنوিন) যুক্ত হয় না? এমনকি ইসমের জন্য বর্ণিত অন্য কোনো চিহ্নও এতে পাওয়া যায় না, কেবল তার সম্পর্কে সংবাদ প্রদান (الحديث عنها) ব্যতীত।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ص وَهُوَ ضَرْبَان مُعرب وَهُوَ مَا يتَغَيَّر آخِره بِسَبَب العوامل الدَّاخِلَة عَلَيْهِ كزيد ومبني وَهُوَ بخالفه كهؤلاء فِي لُزُوم الْكسر وَكَذَلِكَ حذام وأمس فِي لُغَة الْحِجَازِيِّينَ وكأحد عشر وأخواته فِي زلزوم الْفَتْح وكقبل وَبعد وَأَخَوَاتهَا فِي لُزُوم الضَّم إِذا حذف الْمُضَاف إِلَيْهِ وَنوى مَعْنَاهُ وَكَمن وَكم فِي لُزُوم السّكُون وَهُوَ أصل الْبناء
انقسام الِاسْم إِلَى مُعرب ومبنيش لما فرغت من تَعْرِيف الِاسْم بِذكر شَيْء من علاماته عقبت ذَلِك بِبَيَان انقسامه إِلَى مُعرب ومبني وقدمت المعرب لِأَنَّهُ الأَصْل وأخرت الْمَبْنِيّ لِأَنَّهُ الْفَرْع وَذكرت أَن المعرب هُوَ مَا يتَغَيَّر آخِره بِسَبَب مَا يدْخل عَلَيْهِ من العوامل كزيد تَقول جَاءَنِي زيد وَرَأَيْت زيدا ومررت بزيد أَلا ترى أَن آخر زيد تغير بالضمة والفتحة والكسرة بِسَبَب مَا دخل عَلَيْهِ من جَاءَنِي وَرَأَيْت وَالْبَاء فَلَو كَانَ التَّغَيُّر فِي غير الآخر لم يكن إعرابا كَقَوْلِك فِي فلس إِذا صغرته فَلَيْسَ وَإِذا كَسرته أفلس وفلوس وَكَذَا لَو كَانَ التَّغَيُّر فِي الآخر وَلكنه لَيْسَ بِسَبَب العوامل كَقَوْلِك جَلَست حَيْثُ جلس زيد فَإِنَّهُ يجوز أَن تَقول حيثن بِالضَّمِّ وَحَيْثُ بِالْفَتْح وَحَيْثُ بِالْكَسْرِ إِلَّا أَن هَذِه الْأَوْجه الثَّلَاثَة لَيست بِسَبَب العوامل أَلا ترى أَن الْعَامِل وَاحِد وَهُوَ جلس وَقد وجد مَعَه التَّغَيُّر الْمَذْكُور وَلما فرغت من ذكر المعرب ذكرت الْمَبْنِيّ وَأَنه الَّذِي يلْزم طَريقَة وَاحِدَة وَلَا يتَغَيَّر آخِره بِسَبَب مَا يدْخل عَلَيْهِ ثمَّ قسمته إِلَى أَرْبَعَة أَقسَام مَبْنِيّ على الْكسر ومبني على الْفَتْح ومبني على الضَّم ومبني على السّكُون ثمَّ قسمت الْمَبْنِيّ على الْكسر إِلَى قسمَيْنِ قسم مُتَّفق عَلَيْهِ وَهُوَ هَؤُلَاءِ فَإِن جَمِيع الْعَرَب يكسرون آخِره فِي جَمِيع الْأَحْوَال وَقسم مُخْتَلف فِيهِ وَهُوَ حذام وقطام وَنَحْوهمَا من الْأَعْلَام المؤنثة الْآتِيَة على وزن فعال وأمس إِذا أردْت بِهِ الْيَوْم الَّذِي قبل يَوْمك
মূল পাঠ (ص): এটি (ইসম) দুই প্রকার: পরিবর্তনশীল (معرب), যার শেষাংশ তার শুরুতে আসা প্রভাবকসমূহের (عوامل) কারণে পরিবর্তিত হয়, যেমন—'জায়দ'; এবং অপরিবর্তনীয় (مبني), যা এর বিপরীত, যেমন—'হা-উলাই' সর্বদা জের (كسر) বিশিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে। অনুরূপভাবে হিজাজীদের ভাষায় 'হাদামি' ও 'আমসি' শব্দ দুটি। এবং 'আহাদা আশারা' ও এর সমজাতীয় শব্দগুলো সর্বদা জবর (فتح) বিশিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে। এবং 'কাবলু', 'বাদু' ও এদের সমজাতীয় শব্দগুলো সর্বদা পেশ (ضم) বিশিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে যখন মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) বিলুপ্ত করা হয় এবং এর অর্থ মনে মনে রাখা হয়। এবং 'মান' ও 'কাম' শব্দগুলো সর্বদা সুকুন (سكون) বিশিষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে, আর এটিই হলো শব্দের গঠনের (بناء) মূল ভিত্তি।
বিশেষ্যের (اسم) পরিবর্তনশীল (معرب) ও অপরিবর্তনীয় (مبني) হিসেবে বিভাজনব্যাখ্যা (ش): যখন আমি বিশেষ্যের (اسم) কিছু চিহ্ন আলোচনার মাধ্যমে এর পরিচয় প্রদান শেষ করলাম, তখন এর পরবর্তী পর্যায়ে বিশেষ্যের পরিবর্তনশীল (معرب) ও অপরিবর্তনীয় (مبني) হিসেবে বিভক্ত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আসলাম। আমি পরিবর্তনশীলকে (معرب) আগে উল্লেখ করেছি কারণ এটিই হলো মূল (أصل), আর অপরিবর্তনীয়কে (مبني) পরে এনেছি কারণ এটি হলো শাখা (فرع)। আমি উল্লেখ করেছি যে, পরিবর্তনশীল (معرب) হলো সেই শব্দ যার শেষাংশ তার শুরুতে আসা প্রভাবকসমূহের (عوامل) কারণে পরিবর্তিত হয়; যেমন—'জায়দ'। আপনি বলেন: "জায়দুন জাআনি" (জায়দ আমার নিকট এসেছে), "রাইতু জায়দান" (আমি জায়দকে দেখেছি) এবং "মারারতু বি-জায়দিন" (আমি জায়দকে অতিক্রম করেছি)। আপনি কি দেখছেন না যে, 'জায়দ' শব্দের শেষাংশ পেশ (ضمة), জবর (فتحة) ও জের (كسرة) গ্রহণের মাধ্যমে পরিবর্তিত হচ্ছে? আর তা ঘটছে এর শুরুতে 'জাআনি', 'রাইতু' এবং 'বা' আসার কারণে। যদি এই পরিবর্তন শেষাংশ ব্যতীত অন্য কোথাও হতো, তবে তাকে শব্দশেষের পরিবর্তন বা ইরাব (إعراب) বলা হতো না; যেমন 'ফিলাস' শব্দটিকে যখন আপনি ক্ষুদ্রার্থবোধক করবেন তখন তা 'ফুলাইস' হয়, আর যখন একে বহুবচনে রূপান্তর করবেন তখন তা 'আফলুস' বা 'ফুলুস' হয়। তেমনিভাবে যদি পরিবর্তন শেষাংশেই হয় কিন্তু তা প্রভাবকসমূহের (عوامل) কারণে না হয়, তবে তাও ইরাব (إعراب) হবে না। যেমন আপনার কথা: "জালাস্তু হাইসু জালাসা জায়দুন" (আমি সেখানে বসেছি যেখানে জায়দ বসেছে)। এখানে 'হাইসু' শব্দটিকে পেশ (ضم), জবর (فتح) ও জের (كسر) দিয়ে তিনভাবেই পড়া বৈধ। তবে এই তিন প্রকারের পঠনপদ্ধতি প্রভাবকসমূহের (عوامل) কারণে নয়। আপনি কি দেখছেন না যে, এখানে প্রভাবক (عامل) একটিই—তা হলো 'জালাসা'—অথচ তা থাকা সত্ত্বেও উক্ত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে? যখন আমি পরিবর্তনশীল (معرب) সম্পর্কে আলোচনা শেষ করলাম, তখন অপরিবর্তনীয় (مبني) সম্পর্কে আলোচনা করলাম। এটি হলো এমন শব্দ যা সর্বদা একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় থাকে এবং শুরুতে কোনো প্রভাবক (عامل) আসলেও এর শেষাংশ পরিবর্তিত হয় না। এরপর আমি অপরিবর্তনীয়কে (مبني) চার ভাগে বিভক্ত করেছি: জের (كسر) ভিত্তিক অপরিবর্তনীয়, জবর (فتح) ভিত্তিক অপরিবর্তনীয়, পেশ (ضم) ভিত্তিক অপরিবর্তনীয় এবং সুকুন (سكون) ভিত্তিক অপরিবর্তনীয়। অতঃপর আমি জের (كسر) ভিত্তিক অপরিবর্তনীয়কে দুই ভাগে ভাগ করেছি: এক প্রকার যার ওপর ঐকমত্য রয়েছে, আর তা হলো 'হা-উলাই'। সকল আরব জাতি সব অবস্থায় এর শেষাংশে জের (كسر) প্রদান করেন। আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো যার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, যেমন: 'হাদামি', 'কাতামি' এবং এ জাতীয় অন্যান্য স্ত্রীবাচক নামসমূহ যা 'ফাআলি' ওজনে আসে; এবং 'আমসি' শব্দটিও যখন এর দ্বারা তোমার বর্তমান দিনের আগের দিনটিকে নির্দিষ্ট করা হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فَأَما بَاب حذام وَنَحْوه فَأهل الْحجاز يبنونه على الْكسر مُطلقًا فَيَقُولُونَ جَاءَتْنِي حذام وَرَأَيْت حذام ومررت بحذام وعَلى ذَلِك قَول الشَّاعِر فلولا المزعجات من اللَّيَالِي لما ترك القطا طيب الْمَنَام إِذا قَالَت حذام فصدقوها فَإِن القَوْل مَا قَالَت حذام فَذكرهَا فِي الْبَيْت مرَّتَيْنِ مَكْسُورَة مَعَ أَنَّهَا فَاعل
হাদাম এবং এই জাতীয় শব্দের পরিচ্ছেদ প্রসঙ্গে হিজাযের অধিবাসীরা একে নিঃশর্তভাবে কাসরা (كسر) বা জেরের ভিত্তিতে মাবনি হিসেবে গঠন করেন। তারা বলেন: ‘হাদাম আমার নিকটে এসেছে’, ‘আমি হাদামকে দেখেছি’ এবং ‘আমি হাদামের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি’। এই নিয়মের প্রেক্ষিতেই কবির পঙ্ক্তিটি রচিত: ‘যদি রজনীর উদ্বেগজনক বিষয়সমূহ না থাকত, তবে কাতা পাখি তার আরামের ঘুম ত্যাগ করত না; যখন হাদাম কথা বলে তখন তাকে সত্য বলে মেনে নাও, কেননা প্রকৃত কথা তা-ই যা হাদাম বলে।’ এখানে কবি পঙ্ক্তিতে শব্দটিকে দুইবার কাসরা (كسر) যুক্ত অবস্থায় উল্লেখ করেছেন, যদিও ব্যাকরণগত বিচারে সেটি ছিল কর্তা (فاعل)।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وافترقت بَنو تَمِيم فرْقَتَيْن فبعضهم يعرب ذَلِك كُله بِالضَّمِّ رفعا وبالفتح نصبا وجرا فَيَقُول جَاءَتْنِي حذام بِالضَّمِّ وَرَأَيْت حذام ومررت بحذام بِالْفَتْح وَأَكْثَرهم يفصل بَين مَا كَانَ آخِره رَاء كوبار اسْم لقبيلة وحضار اسْم لكوكب وسفار اسْم لما فيبنيه على الْكسر كالحجازيين وَمَا لَيْسَ آخِره رَاء كحذام وقطام فيعربه إِعْرَاب مَا لَا ينْصَرف وَأما أمس إِذا أردْت بِهِ الْيَوْم الَّذِي قبل يَوْمك فَأهل الْحجاز يبنونه على الْكسر فَيَقُولُونَ مضى أس واعتكفت أمس وَمَا رَأَيْته مذ أمس بِالْكَسْرِ فِي الْأَحْوَال الثَّلَاثَة قَالَ الشَّاعِر منع البقآء تقلب الشَّمْس وطلوعها من حَيْثُ لَا تمسي
বনু তামীম গোত্র দুই দলে বিভক্ত হয়েছে। তাদের একাংশ এই সবগুলোকে রফ (رفع) অবস্থায় পেশ (ضم) দ্বারা এবং নাসব (نصب) ও জার (جر) অবস্থায় জবর (فتح) দ্বারা ই'রাব প্রদান করেন। ফলে তারা বলেন: পেশ সহযোগে 'জায়াতনি হাজামু', এবং জবর সহযোগে 'রায়াইতু হাজামা' ও 'মারারতু বি-হাজামা'। তাদের অধিকাংশ ঐ শব্দগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেন যেগুলোর শেষে 'রা' বর্ণটি রয়েছে; যেমন একটি গোত্রের নাম 'উবার', একটি নক্ষত্রের নাম 'হাদার' এবং একটি স্থানের নাম 'সাফার'। হিজাজবাসীদের ন্যায় এগুলোকে তারা কাসরা (كسر) এর ওপর মাবনি (بناء) হিসেবে গণ্য করেন। আর যেগুলোর শেষে 'রা' নেই, যেমন 'হাজাম' এবং 'কাতাম', সেগুলোকে তারা গায়রে মুনসারিফ (ما لا ينصرف) এর ই'রাব প্রদান করেন। আর 'আমসি' শব্দের ক্ষেত্রে—যখন তা দ্বারা আপনার বর্তমান দিনের পূর্ববর্তী দিনটি উদ্দেশ্য হয়—তখন হিজাজবাসীরা একে কাসরা (كسر) এর ওপর মাবনি (بناء) হিসেবে গণ্য করেন। ফলে তারা তিন অবস্থাতেই কাসরা যোগে বলেন: 'মদা আমসি', 'ই'তাকাফতু আমসি' এবং 'মা রাআইতুহু মুজ আমসি'। কবি বলেছেন: সূর্যের আবর্তন এবং এমন স্থান থেকে তার উদয় হওয়া যা কখনো অস্তমিত হয় না, তা স্থায়িত্বকে রহিত করেছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وطلوعها حَمْرَاء صافيتم وغربها صفراء كالورس الْيَوْم أعلم مَا يَجِيء بِهِ وَمضى بفصل قَضَائِهِ
এবং এর উদয় স্বচ্ছ রক্তিম এবং এর অস্তগমন ওয়ারস (এক প্রকার পীতবর্ণের উদ্ভিদ)-এর ন্যায় পীত বর্ণের। আজ আমি জানি তা কী নিয়ে আসবে এবং তা তাঁর চূড়ান্ত ফয়সালার সাথে অতিবাহিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أمس فأمس فِي الْبَيْت فَاعل لمضى وَهُوَ مكسور كَمَا ترى وافترقت بَنو تَمِيم فرْقَتَيْن فَمنهمْ من أعربه بالضمة رفعا وبالفتحة مُطلقًا فَقَالَ مضى أمس بالضمة واعتكفت أمس وَمَا رَأَيْته مُنْذُ أمس بِالْفَتْح قَالَ الشَّاعِر لقد رَأَيْت عجبا مذ أمسا عجائزا مثل السعالي خمْسا يأكلن مَا فِي رحليهن همسا لَا ترك الله لَهُنَّ ضرسا وَلَا لقين الدَّهْر إِلَّا تعسا
গতকাল (أمس), সুতরাং বাক্যের মধ্যে 'আমসি' (أمس) শব্দটি 'মাদা' (مضى) ক্রিয়ার কর্তা (فاعل) হিসেবে এসেছে এবং আপনি যেমনটি দেখছেন এটি কাসরাযুক্ত (مكسور)। বনু তামীম গোত্র এই শব্দের ব্যবহারে দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে একদল একে রাফ অবস্থায় (رفعا) দাম্মা (ضمة) দিয়ে এবং সাধারণভাবে ফাতহা (فتحة) দিয়ে ই'রাব প্রদান (أعربه) করেন। তাই তারা বলেন, 'গতকাল গত হয়েছে' (مضى أمسُ) দাম্মা সহযোগে এবং 'আমি গতকাল ইতিকাফ করেছি' (اعتكفت أمسَ) ও 'আমি গতকাল থেকে তাকে দেখিনি' (ما رأيته منذ أمسَ) ফাতহা সহযোগে। জনৈক কবি বলেছেন: 'আমি গতকাল (أمسَ) থেকে এক বিস্ময়কর বিষয় দেখেছি, পেত্নীর ন্যায় পাঁচটি বৃদ্ধা; তারা তাদের হাওদার খাবারগুলো নীরবে চিবিয়ে খাচ্ছিল। আল্লাহ তাদের জন্য কোনো দাঁত অবশিষ্ট না রাখুন এবং তারা যেন যুগে যুগে কেবল লাঞ্ছনারই মুখোমুখি হয়'।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
من أعربه بالضمة رفعا وبناه على الْكسر نصبا وجرا وَزعم الزجاجي أَن من الْعَرَب من يَبْنِي أمس على الْفَتْح وَأنْشد عَلَيْهِ قَوْله مذأمسا وَهُوَ وهم وَالصَّوَاب مَا قدمنَا من أَنه مُعرب غير منصرف وَزعم بَعضهم أَن أمسا فِي الْبَيْت فعل مَاض وفاعله مستتر وَالتَّقْدِير مذ أَمْسَى الْمسَاء وَلما فرغت من ذكر المبنى على الْكسر ذكرت الْمَبْنِيّ على الْفَتْح ومثلته بِأحد عشر وأخواته تَقول جَاءَنِي أحد عشر رجلا وأيت أحد عشر رجلا ومررت بِأحد عشر رجلا بِفَتْح الْكَلِمَتَيْنِ فِي الْأَحْوَال الثَّلَاثَة وَكَذَا تَقول فِي أخواته إِلَّا اثنى عشر فَإِن الْكَلِمَة الأولى مِنْهُ تعرب بِالْألف رفعا وبالياء نصبا وجرا تَقول جَاءَنِي اثْنَا عشر رجلا وَرَأَيْت اثنى عشر رجلا ومررت باثنى عشر رجلا وَإِنَّمَا لم أستثن هَذَا من إِطْلَاق قولي وأخواته لأنني سأذكر فِيمَا بعد أَن اثْنَيْنِ واثنتين يعربان إِعْرَاب الْمثنى مُطلقًا وَإِن ركبا وَلما فرغت من ذكر الْمَبْنِيّ على الْفَتْح ذكرت الْمَبْنِيّ على الضَّم ومثلته بقبل وَبعد وأشرت إِلَى أَن لَهما أَربع حالات إِحْدَاهَا أَن يَكُونَا مضافين فيعربان نصنبا على الظَّرْفِيَّة أَو خفضا بِمن تَقول جئْتُك قبل زيد وَبعده فتنصبها على الظَّرْفِيَّة وَمن قبله وَمن بعده فتخفضها بِمن قَالَ الله تَعَالَى كذبت قبلهم قوم نوح فَبِأَي حَدِيث بعد الله وآياته يُؤمنُونَ وَقَالَ الله تَعَالَى ألم يَأْتهمْ نبأ
যাঁরা একে রফ অবস্থায় পেশ প্রদানের মাধ্যমে মু'রাব করেন এবং নাসব ও জার অবস্থায় কাসরা প্রদানের মাধ্যমে মাবনি করেন। আয-যাজ্জাজি দাবি করেছেন যে, আরবদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যাঁরা ‘আমসি’ শব্দটিকে ফাতহা যোগে মাবনি করেন এবং এর স্বপক্ষে কবির এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: ‘মুয আমসা’; অথচ এটি একটি ভ্রম। সঠিক হলো সেটিই যা আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি যে, এটি একটি গায়রে মুনসারিফ মু'রাব শব্দ। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, উক্ত পঙক্তিতে ‘আমসা’ শব্দটি একটি মাজি ক্রিয়া এবং এর ফায়িল উহ্য রয়েছে; যার প্রাক্কলিত রূপ হলো: ‘যখন সন্ধ্যা উপনীত হলো’। যখন আমি কাসরা-ভিত্তিক মাবনি বিষয়গুলোর আলোচনা শেষ করলাম, তখন ফাতহা-ভিত্তিক মাবনি বিষয়গুলো উল্লেখ করলাম এবং উদাহরণ হিসেবে ‘আহাদা আশারা’ ও এর সমজাতীয় শব্দসমূহ উপস্থাপন করলাম। আপনি বলবেন: ‘আমার নিকট এগারোজন ব্যক্তি এসেছে’, ‘আমি এগারোজন ব্যক্তিকে দেখেছি’ এবং ‘আমি এগারোজন ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছি’—তিনটি অবস্থাতেই উভয় শব্দ ফাতহা-যুক্ত থাকবে। এর সমজাতীয় অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য, কেবল ‘ইসনা আশারা’ ব্যতীত। কেননা এর প্রথম অংশটি রফ অবস্থায় আলিফ যোগে এবং নাসব ও জার অবস্থায় ইয়া যোগে দ্বিবচনের ন্যায় মু'রাব হয়। আপনি বলবেন: ‘আমার নিকট বারোজন ব্যক্তি এসেছে’, ‘আমি বারোজন ব্যক্তিকে দেখেছি’ এবং ‘আমি বারোজন ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছি’। আমি কেন আমার ‘এবং এর সমজাতীয় শব্দসমূহ’ শীর্ষক সাধারণ বক্তব্য থেকে এটিকে বাদ দেইনি, তার কারণ হলো আমি পরবর্তীতে আলোচনা করব যে ‘ইসনাইনি’ ও ‘ইসনাতাইনি’ শব্দ দুটি সর্বদা দ্বিবচনের ন্যায় মু'রাব হয়, এমনকি তা যৌগিক অবস্থায় থাকলেও। যখন আমি ফাতহা-ভিত্তিক মাবনি শব্দাবলির আলোচনা শেষ করলাম, তখন পেশ-ভিত্তিক মাবনি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করলাম এবং ‘কাবলু’ ও ‘বাদু’ শব্দ দুটি দ্বারা উদাহরণ দিলাম। আমি ইঙ্গিত করেছি যে, এগুলোর চারটি অবস্থা রয়েছে। তার একটি হলো—যখন শব্দ দুটি মুদাফ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এগুলো যরফিইয়াহ হিসেবে নাসব প্রাপ্ত হয় অথবা ‘মিন’ অব্যয় দ্বারা মাজরুর হয়। আপনি বলবেন: ‘আমি তোমার নিকট যায়েদের আগে ও পরে এসেছি’—এখানে শব্দ দুটি যরফিইয়াহ হিসেবে নাসব হয়েছে। আর ‘তার আগে ও তার পরে’ বললে শব্দ দুটি ‘মিন’ এর কারণে মাজরুর হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: ‘তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় অস্বীকার করেছিল’; ‘আল্লাহ ও তাঁর আয়াতের পর তারা আর কোন হাদিস-এর ওপর ঈমান আনবে?’ এবং আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: ‘তাদের নিকট কি সংবাদ আসেনি...’
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ২০)
الَّذين من قبلهم من بعد مَا أهلكنا الْقُرُون الأولى الْحَالة الثَّانِيَة أَن يحذف الْمُضَاف إِلَيْهِ وينوى ثُبُوت لَفظه فيعربان الْإِعْرَاب الْمَذْكُور وَلَا ينونان لنِيَّة الْإِضَافَة وَذَلِكَ كَقَوْلِه وَمن قبل نَادَى كل مولى قرَابَة فَم عطفت مولى عَلَيْهِ العواطف
যারা তাদের পূর্বে ছিল, প্রথম যুগের প্রজন্মদের ধ্বংস করার পর। দ্বিতীয় অবস্থা (الحالة الثانية) হলো মুদাফ ইলাইহি (المضاف إليه) বিলুপ্ত (يحذف) করা এবং তার মূল শব্দের (ثبوت لفظه) স্থায়িত্বের নিয়ত (ينوى) করা; এমতাবস্থায় শব্দ দুটি উল্লিখিত ইরাব (الإعراب) অনুযায়ী হবে এবং ইদাফাত (الإضافة)-এর নিয়ত থাকার কারণে তাতে তানউইন (ينونان) হবে না। যেমন কবির উক্তি: "এবং পূর্ব থেকেই প্রত্যেক বন্ধু তার আত্মীয়কে ডেকেছিল, কিন্তু কোনো মমত্ববোধ কোনো বন্ধুকে তার প্রতি দয়াশীল করেনি।"
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ২১)
الرِّوَايَة بخفض قبل بِغَيْر تَنْوِين أى وَمن قبل ذَلِك فَحذف ذَلِك من اللَّفْظ وَقدره ثَابتا وَقَرَأَ الجحدري والعقيلي لله الْأَمر من قبل وَمن بعد فَحذف الْمُضَاف إِلَيْهِ وقدربالخفض بِغَيْر تَنْوِين اي من قبل الغلب وَمن بعده وجوده ثَابتا الْحَالة الثَّالِثَة أَن يقطع عَن الاضافة لفظا وَلَا يَنْوِي الْمُضَاف إِلَيْهِ فيعربان أَيْضا الْإِعْرَاب الْمَذْكُور ولكنهما ينونان لِأَنَّهُمَا حِينَئِذٍ اسمان تامان كَسَائِر الْأَسْمَاء النكرات فَتَقول جئْتُك قبلا وبعدا وَمن قبل وَمن بعد قَالَ الشَّاعِر فساغ لي الشَّرَاب وَكنت قبلا أكاد أغص بِالْمَاءِ الْفُرَات
বর্ণনাটি (الرواية) হলো 'কবল' শব্দটিকে তানউইন ব্যতীত জের (خفض) প্রদান করে পড়া। অর্থাৎ, 'তার পূর্ব থেকে'। এখানে 'তার' শব্দটিকে উচ্চারণ থেকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং একে উহ্য হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। জাহদারি এবং উকায়লি পাঠ করেছেন: "আল্লাহর জন্যই সকল বিষয় পূর্বের ও পরের।" তারা এখানে সম্বন্ধিত পদটি (المضاف إليه) বিলুপ্ত করেছেন এবং তানউইন ব্যতীত জের (خفض) যোগে পড়ার নির্ধারণ করেছেন। অর্থাৎ বিজয়ের পূর্ব থেকে এবং তার পরবর্তী সময় পর্যন্ত; যার অস্তিত্ব বিদ্যমান ধরা হয়েছে।
তৃতীয় অবস্থা হলো, যখন শব্দটিকে উচ্চারণগতভাবে সম্বন্ধকরণ (الإضافة) থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং সম্বন্ধিত পদটি (المضاف إليه) মনে মনেও সংকল্প করা হয় না। এমতাবস্থায় শব্দ দুটি উল্লেখিত শব্দরূপের পরিবর্তন (الإعراب) গ্রহণ করবে, তবে সেগুলোতে তানউইন যুক্ত হবে। কারণ, তখন সেগুলো অন্যান্য অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (النكرات) মতো পূর্ণাঙ্গ বিশেষ্য হিসেবে গণ্য হয়। তাই আপনি বলবেন: "আমি তোমার নিকট আগে ও পরে এসেছি" এবং "আগে থেকে ও পরে থেকে"। জনৈক কবি বলেছেন: "পানীয় আমার জন্য সহজসাধ্য হলো, অথচ ইতিপূর্বে (قبلا) আমি সুপেয় পানিতেও প্রায় কণ্ঠরোধ হওয়ার উপক্রম হতাম।"
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَقَرَأَ بَعضهم لله الْأَمر من قبل وَمن بعد بالخفض والتنين الْحَالة الرَّابِعَة أَن يحذف الْمُضَاف إِلَيْهِ وَيَنْوِي مَعْنَاهُ دون لَفظه فيبنيان حِينَئِذٍ على الضَّم كَقِرَاءَة السَّبْعَة لله الْأَمر من قبل وَمن بعد وَقَوْلِي وَأَخَوَاتهَا أردْت بِهِ أَسمَاء الْجِهَات السِّت وَأول وَدون ونحوهن قَالَ الشَّاعِر لعمرك مَا أَدْرِي وإنى لأوجل على أَيّنَا تعدو الْمنية أول
তাদের মধ্যে কেউ কেউ "লিল্লাহিল আমরু মিন কাবলিন ওয়া মিন বা’দিন" (আল্লাহর জন্যই সকল কর্তৃত্ব পূর্বের ও পরের) বাক্যটি জের (خفض) এবং তানউইন (تنوين) সহ পাঠ করেছেন। চতুর্থ অবস্থা হলো এই যে, মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) বিলুপ্ত করা হয় এবং তার শব্দ ব্যতিরেকে কেবল অর্থ সংকল্প করা হয়; এমতাবস্থায় শব্দগুলো পেশ (ضم) এর ওপর মাবনি (مبني) হয়, যেমন সাতজন ইমামের কিরাআত (قراءة)-এ "লিল্লাহিল আমরু মিন কাবলু ওয়া মিন বা’দু" পাঠ করা হয়েছে। আমার উক্তি "এবং তার সমজাতীয় শব্দসমূহ" দ্বারা আমি ছয়টি দিকের নাম এবং ‘আউয়াল’, ‘দুন’ ও এই জাতীয় শব্দসমূহকে উদ্দেশ্য করেছি। কবি বলেছেন: "তোমার জীবনের কসম, আমি জানি না এবং আমি অবশ্যই শঙ্কিত যে, আমাদের কার ওপর মৃত্যু আগে ধাবিত হবে।"
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَقَالَ آخر إِذْ أَنا لم أومن عَلَيْك وَلم يكن لقاؤك إِلَّا من وَرَاء وَرَاء
এবং অন্য একজন বলেছেন, "যেহেতু আমি আপনার প্রতি আস্থাশীল (أومن) হতে পারিনি এবং আপনার সাথে আমার সাক্ষাৎ কেবল আড়াল থেকেই হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وَلما فرغت من ذكر الْمَبْنِيّ على الضَّم ذكرت الْمَبْنِيّ على السّكُون ومثلت لَهُ بِمن وَكم تَقول جَاءَنِي من قَامَ وَرَأَيْت من قَامَ ومررت بِمن قَامَ فتجد من مُلَازمَة للسكون فِي الْأَحْوَال الثَّلَاثَة وَكَذَا تَقول كم مَالك وَكم عبدا ملكت وبكم دِرْهَم اشْتريت ف كم فِي الْمِثَال الأول فِي مَوضِع رفع بِالِابْتِدَاءِ عِنْد سِيبَوَيْهٍ وعَلى الخبرية عِنْد الْأَخْفَش وَفِي الثَّانِي فِي مَوضِع نصب على المفعولية بِالْفِعْلِ الَّذِي بعْدهَا وَفِي الثَّالِث فِي مَوضِع خفض بِالْبَاء وَهِي سَاكِنة فِي الْأَحْوَال الثَّلَاثَة كَمَا ترى وَلما ذكرت الْمَبْنِيّ على السّكُون مُتَأَخِّرًا خشيت من وهم من يتَوَهَّم أَنه خلاف الأَصْل فَدفعت هَذَا الْوَهم بِقَوْلِي وَهُوَ أصل الْبناء
أَقسَام الْفِعْل وعلاماتهص وَأما الْفِعْل فَثَلَاثَة أَقسَام مَاض وَيعرف بتاء التَّأْنِيث الساكنة وبناؤه على الْفَتْح كضرب إِلَّا مَعَ وَاو الْجَمَاعَة فيضم كضربوا أَو الضَّمِير الْمَرْفُوع المتحرك فيسكن كضربت وَمِنْه نعم وَبئسَ وَعَسَى وَلَيْسَ فِي الْأَصَح وَأمر وَيعرف بدلالته على الطّلب مَعَ قبُوله يَاء المخاطبة وبناؤه على السّكُون كاضرب إِلَّا المعتل فعلى حذف آخِره كاغز واخش وارم وَنَحْو قوما وَقومُوا وقومي فعلى حذف النُّون وَمِنْه هَلُمَّ فِي لُغَة تَمِيم وهات وتعال فِي الْأَصَح ومضارع وَيعرف بلم وافتتاحه بِحرف من حُرُوف نأيت نَحْو نقوم وأقوم وَيقوم وَتقوم وَيضم أَوله إِن كَانَ ماضيه رباعيا ك يدحرج وَيكرم وَيفتح فِي غره ك يضْرب ويجتمع ويستخرج ويسكن آخِره مَعَ نون النسْوَة نَحْو يَتَرَبَّصْنَ وَإِلَّا أَن يعفون وَيفتح مَعَ نون التوكيد الْمُبَاشرَة لفظا وتقديرا نَحْو لينبذن
যখন আমি 'জম্মাহ' (الضم) এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত 'মাবনি' (المبني) বা অপরিবর্তনীয় শব্দগুলোর আলোচনা শেষ করলাম, তখন আমি 'সুকুন' (السكون) এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত 'মাবনি' (المبني) শব্দসমূহ উল্লেখ করেছি এবং এর উদাহরণ হিসেবে 'মান' (من) এবং 'কাম' (كم) কে উপস্থাপন করেছি। তুমি বলতে পারো: "যে দাঁড়িয়েছে সে আমার কাছে এসেছে" (জায়ানি মান কমা), "আমি তাকে দেখেছি যে দাঁড়িয়েছে" (রাআইতু মান কমা), এবং "আমি তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি যে দাঁড়িয়েছে" (মারারতু বি-মান কমা)। এখানে তুমি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবে যে, তিনটি অবস্থাতেই 'মান' (من) শব্দটি 'সুকুন' (السكون) এর ওপর অবিচল রয়েছে। একইভাবে তুমি বলো: "তোমার কতটুকু সম্পদ আছে?" (কাম মালুকা), "তুমি কয়জন দাসের মালিক হয়েছ?" (কাম আবদান মালাকতা), এবং "তুমি কত দিরহাম দিয়ে ক্রয় করেছ?" (বি-কাম দিরহামিন ইশতারাইতা)। এখানে প্রথম উদাহরণে সিবওয়াইহ-এর মতে 'কাম' (كم) শব্দটি 'ইবতিদা' (الابتداء) বা প্রারম্ভিক হওয়ার কারণে 'রফা' (رفع) এর স্থানে রয়েছে, আর আখফাশ-এর মতে এটি 'খবর' (الخبرية) হিসেবে গণ্য। দ্বিতীয় উদাহরণে এটি পরবর্তী ক্রিয়ার 'মাফউল' (المفعولية) বা কর্ম হওয়ার কারণে 'নসব' (نصب) এর স্থানে রয়েছে। আর তৃতীয় উদাহরণে 'বা' (باء) বর্ণের কারণে এটি 'খফদ' (خفض) বা জেরের স্থানে রয়েছে। আর তুমি যেমন দেখতে পাচ্ছ, তিনটি অবস্থাতেই এটি 'সাকিন' বা 'সুকুন' (ساكنة) যুক্ত। আমি যখন 'সুকুন' (السكون) এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত 'মাবনি' (المبني) এর আলোচনা শেষে উল্লেখ করলাম, তখন আমার মনে এই আশঙ্কা হলো যে, কেউ হয়তো একে মূল নিয়মের পরিপন্থী মনে করতে পারে। তাই আমি আমার এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেই বিভ্রান্তি দূর করেছি যে—"এটিই হলো নির্মাণের মূল ভিত্তি" (أصل البناء)।
ক্রিয়ার প্রকারভেদ ও তার আলামতসমূহক্রিয়া তিন প্রকার: 'মাদি' বা অতীতকাল (ماض), যা চেনার উপায় হলো শেষে 'সুকুন' (السكون) যুক্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা' (تاء التأنيث الساكنة) গ্রহণ করা। এর গঠন 'ফতহ' (الفتح) এর ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন: 'দরাবা' (ضرب)। তবে সমষ্টিবাচক 'ওয়াও' (واو الجماعة) যুক্ত হলে এটি 'জম্মাহ' (الضم) যুক্ত হয়, যেমন: 'দরাবূ' (ضربوا)। অথবা হরকতযুক্ত 'রফা' (رفع) বিশিষ্ট সর্বনাম (الضمير المرفوع المتحرك) যুক্ত হলে এটি 'সুকুন' (السكون) যুক্ত হয়, যেমন: 'দরাবতু' (ضربت)। 'নি'মা' (نعم), 'বি'সা' (بئس), 'আসা' (عسى) এবং বিশুদ্ধ মতানুসারে 'লাইসা' (ليس) এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় প্রকার হলো 'আমর' বা আদেশসূচক ক্রিয়া (أمر), যা চেনার উপায় হলো এর মাধ্যমে কোনো কিছু প্রার্থনা বা তলব করা বোঝাবে এবং এটি সম্বোধনবাচক 'ইয়া' (ياء المخاطبة) গ্রহণ করবে। এর গঠন 'সুকুন' (السكون) এর ওপর ভিত্তি করে হয়, যেমন: 'ইদরিব' (اضرب)। তবে 'মু'তাল' বা দুর্বল বর্ণযুক্ত (المعتل) ক্রিয়া হলে এর শেষ বর্ণ বিলোপের (حذف آخره) মাধ্যমে গঠিত হয়, যেমন: 'উগজু' (اغز), 'ইখশা' (اخش), 'ইরমী' (ارم)। আর 'কুমা' (قوما), 'কুমূ' (قوموا) ও 'কূমী' (قومي) এর মতো শব্দগুলো 'নুন' (النون) বিলোপের মাধ্যমে গঠিত হয়। তামীম গোত্রের ভাষা অনুযায়ী 'হালুম্মা' (هلم), এবং বিশুদ্ধ মতানুসারে 'হাতি' (هات) ও 'তাআলা' (تعال) এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
তৃতীয় প্রকার হলো 'মুদারি' বা বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع), যা চেনার উপায় হলো শুরুতে 'লাম' (لم) যুক্ত হওয়া এবং 'নয়াইতু' (نأيت) এর যেকোনো একটি বর্ণ দিয়ে শুরু হওয়া; যেমন: 'নাকূমু' (نقوم), 'আকূমু' (أقوم), 'ইয়াকূমু' (يقوم) এবং 'তাকূমু' (تقوم)। যদি এর অতীতকাল চার বর্ণবিশিষ্ট হয় তবে এর শুরুতে 'জম্মাহ' (الضم) হবে, যেমন: 'ইউদাহরিজু' (يدحرج) এবং 'ইউকরিমু' (يكرم)। আর অন্য ক্ষেত্রে শুরুতে 'ফতহ' (الفتح) হবে, যেমন: 'ইয়াদরিবু' (يضرب), 'ইয়াজতামিউ' (يجتمع) এবং 'ইয়াসতাখরিজু' (يستخرج)। স্ত্রীবাচক 'নুন' (نون النسوة) যুক্ত হলে এর শেষ বর্ণ 'সুকুন' (السكون) যুক্ত হয়, যেমন: 'ইয়াতাবাররাচনা' (يتربصن) এবং 'আই ইয়াজফূনা' (إلا أن يعفون)। আর যদি সরাসরি তাকিদবাচক 'নুন' (نون التوكيد المباشرة) যুক্ত হয়, চাই তা শব্দে উচ্চারিত হোক বা উহ্য থাকুক, তবে এটি 'ফতহ' (الفتح) যুক্ত হবে, যেমন: 'লাইউনবাজান্না' (لينبذن)।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ويعرب فِيمَا عدا ذَلِك نَحْو يقوم زيد وَلَا تتبعان لتبلون فإمَّا تَرين وَلَا يصدنك ش لما فرغت من ذكر عَلَامَات الِاسْم وَبَيَان انقسامه إِلَى مُعرب ومبني وَبَيَان انقسام الْمَبْنِيّ مِنْهُ إِلَى مكسور ومفتوح ومضموم وَمَوْقُوف شرعت فِي ذكر الْفِعْل فَذكرت أَنه يَنْقَسِم إِلَّا ثَلَاثَة أَقسَام مَاض ومضارع وَأمر وَذكرت لكل وَاحِد مِنْهَا علامته الدَّالَّة عَلَيْهِ وَحكمه الثَّابِت لَهُ من بِنَاء وإعراب
الْفِعْل الْمَاضِيوبدأت من ذَلِك بالماضي فَذكرت أَن علامته أَن يقبل تَاء التَّأْنِيث الساكنة كقام وَقعد تَقول قَامَت وَقَعَدت وَأَن حكمه فِي الأَصْل الْبناء على الْفَتْح كَمَا مثلنَا وَقد يخرج عَنهُ إِلَى الضَّم وَذَلِكَ إِذا اتَّصَلت بِهِ وَاو الْجَمَاعَة كَقَوْلِك قَامُوا وقعدوا أَو إِلَى السّكُون وَذَلِكَ إِذا اتَّصل بِهِ الضَّمِير الْمَرْفُوع المتحرك كَقَوْلِك قُمْت وَقَعَدت وقمنا وقعدنا والنسوة قمن وقعدن وتلخص من ذَلِك أَن لَهُ ثَلَاث حالات الضَّم وَالْفَتْح والسكون وَقد بيّنت ذَلِك وَلما كَانَ من الْأَفْعَال الْمَاضِيَة مَا اخْتلف فِي فعليته نصصت عَلَيْهِ ونهبت على أَن الْأَصَح فعليته وَهُوَ أَربع كَلِمَات نعم وَبئسَ وَعَسَى وَلَيْسَ فَأَما نعم وَبئسَ فَذهب الْفراء وَجَمَاعَة من الْكُوفِيّين إِلَى أَنَّهُمَا اسمان وَاسْتَدَلُّوا على ذَلِك بِدُخُول حرف الْجَرّ عَلَيْهِمَا فِي قَول بَعضهم وَقد بشر ببنت وَالله مَا هِيَ بنعم الْوَلَد وَقَول آخر وَقد سَار إِلَى محبوبته على حمَار بطيء السّير نعم السّير على بئس العير
এটি ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে তা রূপান্তরযোগ্য (معرب) হয়; যেমন: 'ইয়াকুমু যাইদুন', 'লা তাত্তাবিআনি', 'লাতুবলাউন্না', 'ফা ইম্মা তারাউন্না' এবং 'লা ইয়াসুদ্দুন্নাকা'। ব্যাখ্যা: যখন আমি বিশেষ্যের (اسم) আলামতসমূহ এবং এটি রূপান্তরযোগ্য (معرب) ও অপরিবর্তনীয় (مبني) হিসেবে বিভক্ত হওয়ার আলোচনা শেষ করলাম, এবং এর অপরিবর্তনীয় (مبني) অংশটি কাসরাযুক্ত (مكسور), ফাতহাযুক্ত (مفتوح), যম্মাযুক্ত (مضموم) ও সুকুনযুক্ত (موقوف) হওয়ার বিবরণ প্রদান করলাম, তখন আমি ক্রিয়া (فعل) সম্পর্কে আলোচনা শুরু করলাম। আমি উল্লেখ করেছি যে এটি তিন প্রকারে বিভক্ত: অতীতকালীন (ماض), বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন (مضارع) এবং আদেশসূচক (أمر)। আমি এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য নির্দেশক আলামত এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধান যথা অপরিবর্তনীয়তা (بناء) ও রূপান্তরযোগ্যতা (إعراب) উল্লেখ করেছি।
অতীতকালীন ক্রিয়া (الفعل الماضي)আমি এগুলো থেকে অতীতকালীন (ماض) ক্রিয়া দিয়ে শুরু করেছি। আমি উল্লেখ করেছি যে, এর আলামত হলো এটি সাকিনযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'তা' (تاء التأنيث الساكنة) গ্রহণ করে; যেমন: 'কামা' ও 'কাআদা'। আপনি বলবেন: 'কামাত' ও 'কাআদাত'। এর বিধান হলো মূলত ফাতহার (فتح) ওপর অপরিবর্তনীয় (بناء) থাকা, যেমনটি আমরা উদাহরণ দিয়েছি। কখনও এটি এই নিয়ম থেকে বের হয়ে যম্মার (ضم) দিকে যায়, যখন এর সাথে বহুবচনবোধক 'ওয়াও' (واو الجماعة) যুক্ত হয়; যেমন আপনার উক্তি: 'কমু' ও 'কাআদু'। অথবা কখনও তা সুকুনের (سكون) দিকে যায়, যখন এর সাথে হরকতযুক্ত মারফু সর্বনাম (الضمير المرفوع المتحرك) যুক্ত হয়; যেমন আপনার উক্তি: 'কুমতু', 'কাআদতু', 'কুমনা', 'কাআদনা' এবং নারীদের ক্ষেত্রে 'কুমনা' ও 'কাআদনা'। এর সারসংক্ষেপ হলো যে, এর তিনটি অবস্থা রয়েছে: যম্মা (ضم), ফাতহা (فتح) এবং সুকুন (سكون); আমি তা বর্ণনা করেছি। যেহেতু অতীতকালীন ক্রিয়াসমূহের (الأفعال الماضية) মধ্যে এমন কিছু শব্দ রয়েছে যেগুলোর ক্রিয়া (فعلية) হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ আছে, তাই আমি সেগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছি এবং এই মর্মে সতর্ক করেছি যে, বিশুদ্ধতম মতানুসারে সেগুলো ক্রিয়া (فعلية)। আর সেগুলো চারটি শব্দ: 'নি'মা' (نعم), 'বি'সা' (بئس), 'আসা' (عسى) এবং 'লাইসা' (ليس)। 'নি'মা' (نعم) ও 'বি'সা' (بئس) প্রসঙ্গে ইমাম ফাররা এবং কুফাবাসীদের একটি দল মনে করেন যে, এ দুটি হলো বিশেষ্য (اسم)। তারা এর সপক্ষে দলীল পেশ করেছেন এদের পূর্বে অব্যয় বা হরফে জর (حرف الجر) যুক্ত হওয়াকে। যেমন কারো উক্তি, যাকে একটি কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল: "আল্লাহর কসম, এটি কতই না উত্তম (نعم) সন্তান নয়।" এবং অন্য এক ব্যক্তির উক্তি, যে তার প্রিয়তমার দিকে ধীরগতির গাধার পিঠে চড়ে যাচ্ছিল: "কতই না চমৎকার ভ্রমণ এই নিকৃষ্ট পশুর (بئس العير) পিঠে।"
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وَأما لَيْسَ فَذهب الْفَارِسِي فِي الحلبيات إِلَى أَنَّهَا حرف نفي بِمَنْزِلَة مَا النافية وَتَبعهُ على ذل أَبُو بكر بن شقير وَأما عَسى فَذهب الْكُوفِيُّونَ إِلَى أَنَّهَا حرف ترج بِمَنْزِلَة لَعَلَّ وتبعهم على ذَلِك ابْن السراج وَالصَّحِيح أَن الْأَرْبَعَة أَفعَال بِدَلِيل اتِّصَال تَاء التَّأْنِيث الساكنة بِهن كَقَوْلِه عليه الصلاة والسلام من تَوَضَّأ يَوْم الْجُمُعَة فبها ونعمت وَمن اغْتسل فالغسل أفضل وَالْمعْنَى من تَوَضَّأ يَوْم الْجُمُعَة فبالرخصة أَخذ ونعمت الرُّخْصَة الْوضُوء وَتقول بئست الْمَرْأَة حمالَة الْحَطب وَلَيْسَت هِنْد مفلحة وعست هِنْد أَن تَزُورنَا وَأما مَا اسْتدلَّ بِهِ الْكُوفِيُّونَ فمؤول على حذف الْمَوْصُوف وَصفته وَإِقَامَة مَعْمُول الصّفة مقَامهَا وَالتَّقْدِير مَا هِيَ بِولد مقول فِيهِ نعم الْوَلَد وَنعم السّير على عير مقول فِيهِ بئس العير فحرف الْجَرّ فِي الْحَقِيقَة إِنَّمَا دخل على اسْم مَحْذُوف كَمَا بَينا وكما قَالَ الآخر
আর লাইসা-এর ব্যাপারে আল-ফারিসি তার আল-হালাবিয়্যাত গ্রন্থে এই অভিমত পোষণ করেছেন যে, এটি একটি না-বোধক অব্যয়, যা না-বোধক ‘মা’-এর সমতুল্য; আবু বকর ইবনে শুকাইর এ বিষয়ে তাকে অনুসরণ করেছেন। আর আসা-এর ব্যাপারে কুফীগণ এই অভিমত দিয়েছেন যে, এটি লাআল্লা-এর সমতুল্য একটি প্রত্যাশামূলক অব্যয় এবং ইবনুস সাররাজও এ ক্ষেত্রে তাদের অনুগামী হয়েছেন। তবে সঠিক (الصحيح) কথা হলো এই চারটিই ক্রিয়া, যার প্রমাণ হলো এগুলোর সাথে স্থির স্ত্রীলিঙ্গজ্ঞাপক ‘তা’ যুক্ত হওয়া; যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি জুমার দিন অজু করল, সে সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করল এবং তা কতই না উত্তম; আর যে ব্যক্তি গোসল করল, তবে গোসলই শ্রেয়।" এর মর্মার্থ হলো: যে ব্যক্তি জুমার দিন অজু করল, সে শরয়ি অবকাশ গ্রহণ করল এবং অজু কতই না উত্তম অবকাশ! আপনি যেমন বলেন: ‘কাঠ বহনকারী স্ত্রীলোকটি কতই না মন্দ’, ‘হিন্দ সফল নয়’ এবং ‘হয়তো হিন্দ আমাদের দেখতে আসবে’। আর কুফীগণ যা দলিল হিসেবে পেশ করেছেন, তা মূলত গুণান্বিত বিশেষ্য ও তার গুণের বিলোপ এবং গুণের আমলকারীকে সেই স্থানে স্থলাভিষিক্ত করার মাধ্যমে ব্যাখ্যাযোগ্য। এর অনুমিত রূপ হলো: ‘সে এমন কোনো সন্তান নয় যার সম্পর্কে বলা হয়: কতই না উত্তম সন্তান’ এবং ‘গাধার পিঠের ভ্রমণ কতই না উত্তম যার সম্পর্কে বলা হয়: গাধাটি কতই না মন্দ’। সুতরাং প্রকৃতপক্ষে অব্যয়টি মূলত একটি উহ্য বিশেষ্যের ওপর দাখিল হয়েছে, যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি এবং যেমনটি অন্য কবি বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وَالله مَا ليلِي بنام صَاحبه وَلَا مخالط الليان جَانِبه
আল্লাহর শপথ! আমার রাত এমন নয় যে এর অতিবাহিতকারী নিশ্চিন্তে নিদ্রা যায়, আর না কোমলতা তার পার্শ্বদেশকে স্পর্শ করে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أَي بلَيْل مقول فِيهِ نَام صَاحبه
فعل الْأَمروَلما فرغت من ذكر عَلَامَات الْمَاضِي وَحكمه وَبَيَان مَا اخْتلف فِيهِ مِنْهُ ثنيت بالْكلَام على فعل الْأَمر فَذكرت أَن علامته الَّتِي يعرف بهَا مركبة من مَجْمُوع شَيْئَيْنِ وهما دلَالَته على الطّلب وقبوله يَاء المخاطبة وَذَلِكَ نَحْو قُم فَإِنَّهُ دَال على طلب الْقيام وَيقبل يَاء المخاطبة تَقول إِذا أمرت الْمَرْأَة قومِي وَكَذَلِكَ اقعد وأقعدي واذهب واذهبي قَالَ الله تَعَالَى فكلي واشربي وقري عينا فَلَو دلّت الْكَلِمَة على الطّلب وَلم تقبل يَاء المخاطبة نَحْو صه بِمَعْنى اسْكُتْ ومه بِمَعْنى اكفف أَو قبلت يَاء المخاطبة وَلم تدل على الطّلب نَحْو أَنْت يَا هِنْد تقومين وتأكلين لم يكن فعل أَمر
অর্থাৎ রাত্রিকালে, যার সম্পর্কে বলা হয় যে তার সঙ্গী ঘুমিয়ে পড়েছে।
আদেশবাচক ক্রিয়া (فعل الأمر)অতীতকালীন ক্রিয়ার (الماضي) আলামতসমূহ, এর বিধান এবং এতে বিদ্যমান মতপার্থক্যসমূহ বর্ণনা করার পর আমি দ্বিতীয় পর্যায়ে আদেশবাচক ক্রিয়া (فعل الأمر) সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেছি। আমি উল্লেখ করেছি যে, আদেশবাচক ক্রিয়া চেনার আলামত বা চিহ্নটি দুইটি বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত: শব্দটির দ্বারা কোনো কিছুর তলব বা প্রার্থনা (الطلب) করা বোঝাবে এবং এটি সম্বোধনসূচক ‘ইয়া’ (ياء المخاطبة) গ্রহণ করবে। যেমন 'কুম' (قُم - দণ্ডায়মান হও); কেননা এটি দণ্ডায়মান হওয়ার নির্দেশের ওপর নির্দেশক (دال) এবং এটি সম্বোধনসূচক ‘ইয়া’ (ياء المخاطبة) গ্রহণ করে। যখন আপনি কোনো নারীকে নির্দেশ দেবেন তখন বলবেন 'কুমি' (قومي)। অনুরূপভাবে 'উকউদ' ও 'উকউদি' এবং 'ইজহাব' ও 'ইজহাবি'। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: "সুতরাং তুমি আহার করো, পান করো এবং চক্ষু জুড়াও।" পক্ষান্তরে যদি কোনো শব্দ তলব বা প্রার্থনা (الطلب) বোঝায় কিন্তু সম্বোধনসূচক ‘ইয়া’ (ياء المخاطبة) গ্রহণ না করে—যেমন 'সাহ' (صه) যার অর্থ 'চুপ করো' এবং 'মাহ' (مه) যার অর্থ 'বিরত থাকো'—অথবা সম্বোধনসূচক ‘ইয়া’ (ياء المخاطبة) গ্রহণ করে কিন্তু কোনো তলব বা প্রার্থনা (الطلب) বোঝায় না—যেমন 'হে হিন্দ, তুমি দণ্ডায়মান হচ্ছো (تقومين) এবং আহার করছো (تأكلين)'—তবে তা আদেশবাচক ক্রিয়া (فعل الأمر) হিসেবে গণ্য হবে না।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ثمَّ بيّنت أَن حكم فعل الْأَمر فِي الأَصْل الْبناء على السّكُون كاضرب وأذهب وَقد يبْنى على حذف آخِره وَذَلِكَ إِن كَانَ مُعْتَلًّا نَحْو اغز واخش وارم وَقد يبْنى على حذف النُّون وَذَلِكَ إِذا كَانَ مُسْتَندا لِأَلف اثْنَيْنِ نَحْو قوما أَو وَاو جمع نَحْو قومُوا أَو يَاء مُخَاطبَة نَحْو قومِي فَهَذِهِ ثَلَاثَة أَحْوَال لِلْأَمْرِ أَيْضا كَمَا أَن للماضي ثَلَاثَة أَحْوَال وَلما كَانَ بعض كَلِمَات الْأَمر مُخْتَلفا فِيهِ هَل هُوَ فعل أَو اسْم نبهت عَلَيْهِ كَمَا فعلت مثل ذَلِك فِي الْفِعْل الْمَاضِي وَهُوَ ثَلَاثَة هَلُمَّ وهات وتعال فَأَما هَلُمَّ فَاخْتلف فِيهَا الْعَرَب على لغتين إِحْدَاهمَا أَن تلْزم طرْقَة وَاحِدَة وَلَا يخْتَلف لَفظهَا بِحَسب من هِيَ مُسندَة إِلَيْهِ فَتَقول هَلُمَّ يَا زيد وهلم يَا زَيْدَانَ وهلم يَا زيدون وهلم يَا هِنْد وهلم يَا هندان وهلم يَا هندات وَهِي لُغَة أهل الْحجاز وَبهَا جَاءَ التَّنْزِيل قَالَ الله تَعَالَى والقائلين لإخوانهم هَلُمَّ إِلَيْنَا أَي ائْتُوا إِلَيْنَا وَقَالَ تَعَالَى قل هَلُمَّ شهداؤكم أَي أحضروا شهداؤكم وَهِي عِنْدهم اسْم فعل لَا فعل أَمر لِأَنَّهَا وان كَانَت دَالَّة على الطّلب لَكِنَّهَا لَا تقبل يَاء المخاطبة وَالثَّانيَِة أَن تلحقها بالضمائر البارزة بِحَسب من هِيَ مُسندَة إِلَيْهِ فَتَقول هَلُمَّ وهلما وهلموا وهلممن بالفك وَسُكُون اللَّام وهلمي وَهِي لُغَة بني تَمِيم وَهِي عِنْد هَؤُلَاءِ فعل أَمر لدلالتها على الطّلب وقبولها يَاء المخاطبة وَقد تبين بِمَا استشهدت بِهِ من الْآيَتَيْنِ أَن هَلُمَّ تسْتَعْمل قَاصِرَة ومتعدية وَأما هَات وتعال فعدهما جمَاعَة من النَّحْوِيين فِي أَسمَاء الْأَفْعَال
এরপর আমি বর্ণনা করেছি যে, আদেশবাচক ক্রিয়ার (فعل الأمر) মূল বিধান হলো সুকুন-এর ওপর ভিত্তি (البناء على السكون) হওয়া; যেমন: 'ইদরিব' এবং 'আযহাব'। কখনো এটি শেষ বর্ণ বিলোপের (حذف آخره) ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়, আর তা হয় যদি শব্দটি স্বরবর্ণযুক্ত বা ত্রুটিযুক্ত (معتلا) হয়; যেমন: 'উগযু', 'ইখশা' এবং 'ইরমি'। আবার কখনো এটি নুন বিলোপের (حذف النون) ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়, আর তা তখন হয় যখন এটি দ্বিবচনের আলিফ (ألف اثنين)-এর সাথে যুক্ত হয় যেমন 'কুমা', অথবা বহুবচনের ওয়াও (واو جمع)-এর সাথে যেমন 'কুমূ', অথবা সম্বোধিত স্ত্রীলিঙ্গের ইয়া (ياء مخاطبة)-এর সাথে যেমন 'কুমী'। সুতরাং অতীতকালীন (الماضي) ক্রিয়ার ন্যায় আদেশবাচক ক্রিয়ারও তিনটি অবস্থা রয়েছে। যেহেতু আদেশবাচক কিছু শব্দের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে যে সেগুলো কি ক্রিয়া (فعل) নাকি বিশেষ্য (اسم), তাই আমি সেগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করেছি যেমনটি আমি অতীতকালীন ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও করেছি। আর সেগুলো হলো তিনটি শব্দ: 'হালুম্মা' (هلم), 'হাতি' (هات) এবং 'তাআলা' (تعال)।
'হালুম্মা' (هلم) শব্দের ক্ষেত্রে আরবদের মাঝে দুটি ভাষা বা উপভাষা প্রচলিত রয়েছে। এর একটি হলো এটি সর্বদা একই অবস্থায় থাকবে এবং যার দিকে এটি সম্বন্ধিত করা হচ্ছে সেই অনুযায়ী এর রূপের কোনো পরিবর্তন হবে না। সুতরাং আপনি বলবেন: 'হালুম্মা ইয়া যায়দু', 'হালুম্মা ইয়া যায়দানি', 'হালুম্মা ইয়া যায়দুন', 'হালুম্মা ইয়া হিন্দু', 'হালুম্মা ইয়া হিন্দানি' এবং 'হালুম্মা ইয়া হিন্দাতু'। এটি হিজাযবাসীদের ভাষা এবং পবিত্র কুরআনও এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "এবং যারা তাদের ভাইদের বলে, আমাদের কাছে এসো (هلم إلينا)" অর্থাৎ তোমরা আমাদের কাছে আসো। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "বলুন, তোমাদের সাক্ষীদের নিয়ে এসো (هلم شهداؤكم)" অর্থাৎ তোমাদের সাক্ষীদের উপস্থিত করো। তাদের মতে এটি একটি ক্রিয়া বিশেষ্য (اسم فعل), আদেশবাচক ক্রিয়া (فعل الأمر) নয়; কারণ যদিও এটি কোনো কিছু চাওয়ার অর্থ প্রদান করে, কিন্তু এটি সম্বোধিত স্ত্রীলিঙ্গের ইয়া (ياء مخاطبة) গ্রহণ করে না।
দ্বিতীয় রীতিটি হলো, যার দিকে এটি সম্বন্ধ করা হচ্ছে সেই অনুযায়ী এর সাথে প্রকাশ্য সর্বনাম (الضمائر البارزة) যুক্ত করা। তখন আপনি বলবেন: 'হালুম্মা', 'হালুম্মা' (দ্বিবচন), 'হালুম্মূ', 'হালমুমনা' (ইদগাম মুক্ত করে (الفك) এবং ল্যাম বর্ণে সুকুন দিয়ে) এবং 'হালুম্মী'। এটি বনু তামীম গোত্রের ভাষা। তাদের নিকট এটি আদেশবাচক ক্রিয়া (فعل الأمر), কারণ এটি অনুরোধ বা তলব নির্দেশ করে এবং সম্বোধিত স্ত্রীলিঙ্গের ইয়া (ياء مخاطبة) গ্রহণ করে। আমি যে দুটি আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করেছি তা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, 'হালুম্মা' (هلم) শব্দটি অকর্মক (قاصرة) এবং সকর্মক (متعدية) উভয়ভাবেই ব্যবহৃত হয়। আর 'হাতি' এবং 'তাআলা' শব্দ দুটির ব্যাপারে একদল ব্যাকরণবিদ (النحويين) সেগুলোকে ক্রিয়া বিশেষ্যসমূহ (أسماء الأفعال)-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وَالصَّوَاب أَنَّهُمَا فعلا أَمر بِدَلِيل أَنَّهُمَا دالان على الطّلب وتلحقهما يَاء المخاطبة تَقول هَاتِي وتعالي وَاعْلَم أَن آخر هَات مكسور أبدا إِلَّا اذا كَانَ لجَماعَة المذكرين فَإِنَّهُ يضم فَتَقول هَات يَا زيد وهاتي يَا هِنْد وهاتيا يَا زَيْدَانَ أَو يَا هندان وَهَاتين يَا هندات كل ذَلِك بِكَسْر التَّاء وَتقول هاتوا يَا قوم بضَمهَا قَالَ الله تَعَالَى قل هاتوا برهانكم وَأَن آخر تعال مَفْتُوح فِي جَمِيع أَحْوَاله من غير اسْتثِْنَاء تَقول تعال يَا زيد وتعالي يَا هِنْد وتعاليا يَا زَيْدَانَ وتعالوا يَا زيدون وتعالين يَا هندات كل ذَلِك بِالْفَتْح قَالَ الله تَعَالَى قل تَعَالَوْا أتل وَقَالَ تَعَالَى فتعالين أمتعكن وَمن ثمَّ لحنوا من قَالَ تعالي أقاسمك الهموم تعالي بِكَسْر اللَّام
সঠিক সিদ্ধান্ত হলো এই যে, শব্দ দুটি আদেশবাচক ক্রিয়া; এর স্বপক্ষে দলিল হলো এই যে, শব্দ দুটি তলব বা কোনো কিছু চাওয়ার অর্থ প্রদান করে এবং এগুলোর শেষে সম্বোধনসূচক ‘ইয়া’ যুক্ত হয়। যেমন আপনি বলেন: ‘হাতি’ এবং ‘তাআলি’। জেনে রাখুন যে, ‘হাত’ শব্দের শেষ বর্ণটি সর্বদা কাসরা বা জেরযুক্ত হয়, তবে পুরুষবাচক বহুবচনের ক্ষেত্রে এটি যম্মাহ বা পেশযুক্ত হয়। সুতরাং আপনি বলবেন: ‘হে যাইদ, আনো’, ‘হে হিন্দা, আনো’, ‘হে যাইদদ্বয় (বা হিন্দাদ্বয়), আনো’ এবং ‘হে নারীগণ, আনো’—এই সবক্ষেত্রেই ‘তা’ বর্ণটি কাসরা বা জের দিয়ে পড়তে হয়। আর আপনি বলবেন ‘হে জাতি, আনো’—এখানে ‘তা’ বর্ণটি যম্মাহ বা পেশ দিয়ে পড়তে হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “বলুন, তোমরা তোমাদের প্রমাণ উপস্থাপন করো।” আর ‘তাআলা’ শব্দের শেষ বর্ণটি সকল অবস্থায় কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই ফাতহা বা জবরযুক্ত হয়। আপনি বলবেন: ‘হে যাইদ, এসো’, ‘হে হিন্দা, এসো’, ‘হে যাইদদ্বয়, এসো’, ‘হে যাইদগণ, এসো’ এবং ‘হে নারীগণ, এসো’—এই সবক্ষেত্রেই ফাতহা বা জবর ব্যবহার করতে হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “বলুন, এসো আমি তিলাওয়াত করি” এবং তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: “অতএব এসো, আমি তোমাদের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেই।” এই কারণেই ভাষাবিদগণ সেই কবিকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন যে বলেছিল: ‘এসো, আমি তোমার সাথে দুঃখ ভাগ করে নেই’, যেখানে সে ‘তাআলি’ শব্দে লাম বর্ণটিকে কাসরা বা জের দিয়ে পাঠ করেছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الْفِعْل الْمُضَارعوَلما فرغت من ذكر أَمر وَحكمه وَبَيَان مَا اخْتلف فِيهِ مِنْهُ ثلثت بالمضارع فَذكرت أَن علامته أَن يصلح دُخُول لم عَلَيْهِ نَحْو لم يلد
বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع)যখন আমি নির্দেশসূচক ক্রিয়া (أمر), এর বিধান (حكم) এবং তাতে বিদ্যমান মতভেদসমূহের বর্ণনা সমাপ্ত করলাম, তখন তৃতীয়ত বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (المضارع) সম্পর্কে আলোচনা করলাম। আমি উল্লেখ করেছি যে, এর চিহ্ন হলো তার পূর্বে ‘লাম’ (لم) আসা শুদ্ধ হওয়া; যেমন: ‘তিনি জন্ম দেননি’ (লাম ইয়ালিদ)।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَلم يُولد وَلم يكن لَهُ كفوا أحد وَذكرت أَنه لَا بُد أَن يكون فِي أَوله حرف من حُرُوف نأيت وَهِي النُّون وَالْألف وَالْيَاء وَالتَّاء نَحْو نقوم وأقوم وَيقوم وَتقوم وَتسَمى هَذِه الْأَرْبَعَة أحرف المضارعة وَإِنَّمَا ذكرت هَذِه الأحرف بساطا وتمهيدا للْحكم الَّذِي بعْدهَا لَا لأعرف بهَا الْفِعْل الْمُضَارع لأَنا وجدناها تدخل فِي أول الْفِعْل الْمَاضِي نَحْو أكرمت زيدا وتعلمت الْمَسْأَلَة ونرجست الدَّوَاء إِذا جعلت فِيهِ نرجسا ويرنأت الشيب إِذا خضبته باليرناء وَهُوَ الْحِنَّاء وَإِنَّمَا الْعُمْدَة فِي تَعْرِيف الْمُضَارع دُخُول لم عَلَيْهِ وَمَا فرغت من ذكر عَلَامَات الْمُضَارع شرعت فِي ذكر حكمه فَذكرت أَن لَهُ حكمين حكما بِاعْتِبَار أَوله وَحكما بِاعْتِبَار آخِره فَأَما حكمه بِاعْتِبَار أَوله فَإِنَّهُ يضم تَارَة وَيفتح أُخْرَى فيضم إِن كَانَ الْمَاضِي اربعة أحرف سَوَاء كَانَت كلهَا أصولا نَحْو دحرج يدحرج أَو كَانَ بَعْضهَا أصلا وَبَعضهَا زَائِدا نَحْو اكرم يكرم فَإِن الْهمزَة فِيهِ زَائِدَة لِأَن أَصله كرم وَيفتح إِن كَانَ الْمَاضِي أقل من الْأَرْبَعَة أَو أَكثر مِنْهَا
...এবং তিনি জন্ম গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। আমি উল্লেখ করেছি যে, মুদারি ক্রিয়ার শুরুতে অবশ্যই ‘নাআইতু’ অক্ষরগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি অক্ষর থাকতে হবে; আর সেগুলো হলো: নুন, আলিফ, ইয়া এবং তা। যেমন: নাকুমু, আকুমু, ইয়াকুমু এবং তাকুমু। এই চারটি অক্ষরকে মুদারির অক্ষর বলা হয়। আমি এই অক্ষরগুলো কেবল পরবর্তী বিধানের আলোচনার পথ সুগম করার জন্য এবং ভূমিকা স্বরূপ উল্লেখ করেছি, এর মাধ্যমে মুদারি ক্রিয়াকে চেনার মানদণ্ড হিসেবে নয়। কারণ আমরা এই অক্ষরগুলোকে মাযি বা অতীতকালীন ক্রিয়ার শুরুতেও প্রবেশ করতে দেখি; যেমন: আকরামতু যাইদান, তাআল্লামতুল মাসআলাতা এবং নারজাসতুদ দাওয়াআ—যখন তাতে ‘নারজিস’ ফুল মেশানো হয়; এবং ইয়ারনাআত আশ-শায়বা—যখন মেহেদি দ্বারা চুলে রঙ করা হয়, আর ‘ইয়ারনা’ অর্থ হলো মেহেদি। প্রকৃতপক্ষে মুদারি ক্রিয়াকে চেনার প্রধান ভিত্তি হলো তার শুরুতে ‘লাম’ এর প্রবেশ ঘটা। যখন আমি মুদারির আলামতসমূহ বর্ণনা শেষ করলাম, তখন তার বিধানসমূহ আলোচনায় প্রবৃত্ত হলাম। আমি উল্লেখ করেছি যে এর দুটি বিধান রয়েছে: একটি বিধান তার শুরুর অক্ষর বিবেচনা করে এবং অন্যটি তার শেষ অক্ষর বিবেচনা করে। শুরুর অক্ষরের বিধান হলো—এটি কখনো পেশযুক্ত হয় আবার কখনো জবরযুক্ত হয়। যদি মাযি বা অতীতকালীন ক্রিয়াটি চার অক্ষরবিশিষ্ট হয় তবে মুদারির শুরুতে পেশ হবে; চাই তার সবগুলো অক্ষরই মূল হোক—যেমন: দাহরাযা থেকে ইউদাহরিযু—অথবা তার কিছু অক্ষর মূল এবং কিছু অতিরিক্ত হোক—যেমন: আকরামা থেকে ইউকরিমু। এখানে হামযাহ অক্ষরটি অতিরিক্ত, কারণ এর মূল হলো ‘কারুমা’। আর যদি মাযি চার অক্ষরের কম বা বেশি হয়, তবে মুদারির শুরুতে জবর হবে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فَالْأول نَحْو ضرب يضْرب وَذهب يذهب وَدخل يدْخل وَالثَّانِي نَحْو انْطلق ينْطَلق واستخرج يسْتَخْرج وَأما حكمه بِاعْتِبَار آخِره فَإِنَّهُ تَارَة يبْنى على السّكُون وَتارَة يبْنى على الْفَتْح وَتارَة يعرب فَهَذِهِ ثَلَاث حالات لآخره كَمَا أَن لآخر الْمَاضِي ثَلَاث حالات وَلآخر الْأَمر ثَلَاث حالات فَأَما بِنَاؤُه على السّكُون فشروط بِأَن يتَّصل بِهِ نون الْإِنَاث نَحْو النسْوَة يقمن ووالوالدات يرضعن والمطلقات يَتَرَبَّصْنَ وَمِنْه إِلَّا أَن يعفون لِأَن الْوَاو أَصْلِيَّة وَهِي وَاو عَفا يعْفُو وَالْفِعْل مَبْنِيّ على السّكُون لاتصاله بالنُّون وَالنُّون فَاعل مُضْمر عَائِد على المطلقات ووزنه يفعلن وَلَيْسَ هَذَا كيعفون فِي قَوْلك الرِّجَال يعفون لِأَن تِلْكَ الْوَاو ضمير لجَماعَة المذكرين كالواو فِي قَوْلك يقومُونَ وواو الْفِعْل حذفت وَالنُّون عَلامَة الرّفْع ووزنه يعفرن وَهَذَا يُقَال فِيهِ إِلَّا أَن يعفوا بِحَذْف نونه كَمَا تَقول إِلَّا أَن يقومُوا وَسَيَأْتِي شرح ذَلِك كُله وَأما بِنَاؤُه على الْفَتْح فمشروط بِأَن تباشره نون التوكيد لفظا وتقديرا نَحْو كلا لينبذن واحترزت بِذكر الْمُبَاشرَة من نَحْو قَوْله تَعَالَى وَلَا تتبعان سَبِيل الَّذين لَا يعلمُونَ لتبلون فِي أَمْوَالكُم فإمَّا تَرين من الْبشر أحدا فَإِن الْألف فِي الأول وَالْوَاو الثَّانِي وَالْيَاء فِي الثَّالِث فاصلة بَين الْفِعْل وَالنُّون فَهُوَ مُعرب لَا مَبْنِيّ وَكَذَلِكَ لَو كَانَ الْفَاصِل بَينهمَا مُقَدرا كَانَ الْفِعْل أَيْضا معربا وَذَلِكَ كَقَوْلِه
প্রথম প্রকারটি হলো যেমন ‘দ্বরাবা-ইয়াদ্বরিবু’ (ضرب يضرب), ‘যাহাবা-ইয়াহযাবু’ (ذهب يذهب) এবং ‘দাখালা-ইয়াদখুলু’ (دخل يدخل)। দ্বিতীয় প্রকারটি হলো যেমন ‘ইনত্বলাক্বা-ইয়ানত্বলিক্বু’ (انطلق ينطلق) এবং ‘ইস্তাখরাজা-ইয়াস্তাখরিজু’ (استخرج يستخرج)। আর এর (মুদারে‘র) শেষাংশের বিধানের ক্ষেত্রে কথা হলো, এটি কখনও সুকুন (سكون)-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبني) হয়, কখনও ফাতহ (فتح)-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبني) হয় এবং কখনও এটি পরিবর্তনশীল (معرب) হয়ে থাকে। সুতরাং এর শেষাংশের জন্য এই তিনটি অবস্থা রয়েছে, যেমনটি অতীতকাল (الماضي)-এর ক্রিয়ার শেষে তিনটি অবস্থা এবং আদেশসূচক (الأمر) ক্রিয়ার শেষেও তিনটি অবস্থা বিদ্যমান থাকে।
সুকুন (سكون)-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبني) হওয়ার শর্ত হলো এর শেষে স্ত্রীবাচক নূন (نون الإناث) যুক্ত হওয়া; যেমন: ‘নারীরা দণ্ডায়মান হচ্ছে’, ‘মায়েরা যেন তাদের সন্তানদের দুধ পান করায়’ এবং ‘তালাকপ্রাপ্ত নারীরা প্রতীক্ষা করবে’। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: ‘যদি না তারা ক্ষমা করে দেয়’; কারণ এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি মূল শব্দমূলের অংশ, যা ‘আফা-ইয়া'ফু’ থেকে এসেছে। আর ক্রিয়াটি সুকুন (سكون)-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبني), কারণ এর সাথে নূন যুক্ত হয়েছে। এই নূন হলো উহ্য থাকা কর্তা (فاعل) যা ‘তালাকপ্রাপ্ত নারীদের’ দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে এবং এর ওজন (وزن) হলো ‘ইয়াফ‘উলনা’। এটি পুরুষদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ‘তারা ক্ষমা করে দেয়’-এর মতো নয়; কারণ পুরুষদের ক্ষেত্রে ওই ‘ওয়াও’ বর্ণটি বহুবচনের সর্বনাম (ضمير), যেমনটি ‘তারা দণ্ডায়মান হচ্ছে’ ক্রিয়ার ‘ওয়াও’-এর ক্ষেত্রে দেখা যায়। সেখানে ক্রিয়ার মূল ‘ওয়াও’ বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং নূন হলো রাফ (رفع)-এর চিহ্ন। এর ওজন (وزন) হলো ‘ইয়াফ‘ঊনা’। এই ক্ষেত্রটির ব্যাপারে (নাসিব বা জাযিম আসলে) ‘নূন’ বিলুপ্ত করে ‘তারা যেন ক্ষমা করে দেয়’ বলা হয়, যেমনটি আপনি ‘তারা যেন দাঁড়ায়’ এর ক্ষেত্রে বলে থাকেন। অচিরেই এই সবকিছুর ব্যাখ্যা বিস্তারিতভাবে আসবে।
আর ফাতহ (فتح)-এর ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় (مبني) হওয়ার শর্ত হলো তাকিদসূচক নূন (نون التوكيد) শাব্দিক ও উহ্যভাবে সরাসরি ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হওয়া; যেমন: ‘কখনোই নয়, অবশ্যই তাকে নিক্ষেপ করা হবে’। আমি ‘সরাসরি’ (المباشرة) কথাটি উল্লেখ করে মহান আল্লাহর বাণী: ‘তোমরা উভয়ে তাদের পথ অনুসরণ করো না যারা জানে না’, ‘তোমরা অবশ্যই তোমাদের ধন-সম্পদের ব্যাপারে পরীক্ষিত হবে’ এবং ‘যদি তুমি কোনো মানুষকে দেখতে পাও’—এই ধরনের উদাহরণগুলোকে বাদ দিয়েছি। কারণ প্রথম উদাহরণে আলিফ, দ্বিতীয়টিতে ওয়াও এবং তৃতীয়টিতে ইয়া বর্ণটি ক্রিয়া ও নূনের মাঝে ব্যবধান তৈরি করেছে। ফলে সেই ক্রিয়াটি পরিবর্তনশীল (معرب), অপরিবর্তনীয় (مبني) নয়। অনুরূপভাবে যদি এই ব্যবধান উহ্যও থাকে, তবুও ক্রিয়াটি পরিবর্তনশীল (معرب) হিসেবেই গণ্য হবে। আর তা হলো যেমন মহান আল্লাহর বাণী—
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
تَعَالَى وَلَا يصدنك عَن آيَات الله ولتسمعن مثله غير أَن نون الرّفْع حذفت تَخْفِيفًا لتوالي الْأَمْثَال ثمَّ التقى ساكنان أَصله قبل دُخُول الْجَازِم يصصدوننك فَلَمَّا دخل الْجَازِم وَهُوَ لَا الناهية حذفت النُّون فَالتقى ساكنان الْوَاو وَالنُّون فحذفت الْوَاو لاعتلالها وَوُجُود دَلِيل يدل عَلَيْهَا وَهُوَ الضمة وَقدر الْفِعْل معربا وَإِن كَانَت النُّون مُبَاشرَة لآخره لفظا لكَونهَا مُنْفَصِلَة عَنهُ تَقْديرا وَقد أَشرت إِلَى ذَلِك كُله ممثلا وَأما إعرابه فَفِيمَا عدا هذَيْن الْمَوْضِعَيْنِ نَحْو يقوم زيد وَلنْ يقوم زيد وَلم يقم زيد
الْحَرْف وعلاماته وَأَنَّهَا جَمِيعهَا مَبْنِيَّةص وَأما الْحَرْف فَيعرف بِأَن لَا يقبل شَيْئا من عَلَامَات الِاسْم وَالْفِعْل نَحْو هَل وبل وَلَيْسَ مِنْهُ مهما وَإِذ مَا بل مَا المصدرية لما الرابطة فِي الْأَصَح ش لما فرغت من القَوْل فِي الِاسْم وَالْفِعْل شرعت فِي ذكر الْحَرْف فَذكرت أَنه يعرف بِأَن لَا يقبل شَيْئا من عَلَامَات الِاسْم وَلَا عَلَامَات الْفِعْل نَحْو هَل وبل فَإِنَّهُمَا لَا يقبلان شَيْئا من عَلَامَات الْأَسْمَاء وَلَا شَيْئا من عَلَامَات الْأَفْعَال فَانْتفى أَن يَكُونَا اسْمَيْنِ وَأَن يَكُونَا فعلين وَتعين أَن يَكُونَا حرفين إِذْ لَيْسَ إِلَّا ثَلَاثَة أَقسَام وَقد انْتَفَى اثْنَان فَتعين الثَّالِث
আল্লাহ তায়ালা বলেন, "এবং তারা যেন আপনাকে আল্লাহর আয়াত থেকে বিমুখ না করে।" আপনি এ জাতীয় আরও উদাহরণ শুনতে পাবেন। তবে এখানে মারফু হওয়ার পরিচায়ক নুন (نون الرفع) টি সমজাতীয় অক্ষরের আধিক্য হেতু সহজকরণের (تخفيفا) উদ্দেশ্যে বিলুপ্ত করা হয়েছে। এরপর দুটি সুকুনযুক্ত বর্ণ (ساكنان) একত্রে মিলিত হয়েছে। আমেল জাজেম (জজম প্রদানকারী অব্যয়) প্রবেশের পূর্বে মূল রূপটি ছিল 'يصصدوننك'। যখন জাজেম তথা 'লা নাহি' (لا الناهية) প্রবেশ করল, তখন 'নুন'টি বিলুপ্ত হলো। এর ফলে দুটি সুকুনযুক্ত বর্ণ—অর্থাৎ 'ওয়াও' এবং 'নুন'—একত্রে মিলিত হলো। এরপর 'ওয়াও'টি ইল্লত বা রুগ্ন (اعلال) হওয়ার কারণে এবং এর অস্তিত্বের প্রমাণস্বরূপ পেশ (ضمة) অবশিষ্ট থাকায় তা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এই ক্রিয়াটিকে পরিবর্তনশীল (معربا) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যদিও উচ্চারণে নুনটি শব্দের শেষে সরাসরি যুক্ত দেখা যাচ্ছে; কারণ তকদির বা হুকুম অনুযায়ী তা শব্দ থেকে পৃথক। আমি উদাহরণসহ এই সমস্ত বিষয় ইতিপূর্বে ইশারা করেছি। আর এই দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য স্থানে এর ইরাব বা কারক বিভক্তি হবে যেমন: 'يقوم زيد' (যায়েদ দাঁড়াচ্ছে), 'لن يقوم زيد' (যায়েদ কখনোই দাঁড়াবে না) এবং 'لم يقم زيد' (যায়েদ দাঁড়ায়নি)।
অব্যয় (الحرف), এর আলামতসমূহ এবং এর সকল প্রকার যে অপরিবর্তনীয় (مبنية) সে প্রসঙ্গমূল পাঠ (ص): অব্যয় (الحرف) চেনার উপায় হলো, এটি বিশেষ্য (الاسم) বা ক্রিয়া (الفعل)-এর কোনো আলামত বা চিহ্ন গ্রহণ করবে না। যেমন: 'হাল' ও 'বাল'। 'মাহমা' এবং 'ইজ মা' অব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং বিশুদ্ধতম মতানুসারে 'মা মাসদারিয়াহ' এবং 'লাম্মা রাবিতা' অব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত। ব্যাখ্যা (ش): যখন আমি বিশেষ্য (الاسم) ও ক্রিয়া (الفعل) সম্পর্কে আলোচনা সমাপ্ত করলাম, তখন অব্যয় (الحرف) সম্পর্কে আলোচনা শুরু করেছি। আমি উল্লেখ করেছি যে, অব্যয় চেনার উপায় হলো এটি বিশেষ্য (الاسم)-এর কোনো চিহ্ন এবং ক্রিয়া (الفعل)-এর কোনো চিহ্ন গ্রহণ করবে না। যেমন: 'হাল' ও 'বাল'। কারণ এই শব্দ দুটি বিশেষ্যের কোনো আলামত গ্রহণ করে না এবং ক্রিয়ার কোনো আলামতও গ্রহণ করে না। যেহেতু শব্দ এই দুই প্রকারের কোনোটি হওয়া নাকচ হয়ে গেল, তাই এগুলো অব্যয় (الحرف) হওয়া অবধারিত হলো। কারণ কালিমাহ বা শব্দ মাত্র তিন প্রকার; আর যখন দুটি প্রকার বাতিল হলো, তখন তৃতীয় প্রকারটিই নির্ধারিত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وَلما كَانَ من الْحُرُوف اخْتلف فِيهِ هَل هُوَ حرف أَو اسْم نصصت عَلَيْهِ كَمَا فعلت فِي الْفِعْل الْمَاضِي وَفعل الْأَمر أَرْبَعَة إِذْ مَا وَمهما وَمَا المصدرية وَلما الرابطة فَأَما إِذْ مَا فَاخْتلف فِيهِ سِيبَوَيْهٍ وَغَيره فَقَالَ سِيبَوَيْهٍ إِنَّهَا حرف بِمَنْزِلَة إِن الشّرطِيَّة فَإِذا قلت إِذْ مَا تقم أقِم فَمَعْنَاه إِن تقم أقِم وَقَالَ الْمبرد وَابْن السراج والفارسي إِنَّهَا ظرف زمَان وَإِن الْمَعْنى فِي الْمِثَال مَتى تقم أقِم وَاحْتَجُّوا بِأَنَّهَا قبل دُخُول مَا كَانَت اسْما ووالأصل عدم التَّغْيِير وَأجِيب بِأَن التَّغْيِير قد تحقق قطعا بِدَلِيل أَنَّهَا كَانَت للماضي فَصَارَت للمستقبل فَدلَّ على أَنَّهَا نزع مِنْهَا ذَلِك الْمَعْنى لبتة وَفِي هَذَا الْجَواب نظر لَا يحْتَملهُ هَذَا الْمُخْتَصر وَأما مهما فَزعم الْجُمْهُور أَنَّهَا اسْم بِدَلِيل قَوْله تَعَالَى مهما تأتنا بِهِ من آيَة فالهاء من بِهِ عَائِدَة عَلَيْهَا وَالضَّمِير لَا يعود إِلَّا على الْأَسْمَاء وَزعم السُّهيْلي وَابْن يسعون أَنَّهَا حرف واستدلا على ذَلِك بقول زُهَيْر وَمهما تكن عِنْد أمرئ من خَلِيقَة وَإِن خالها تخفى على النَّاس تعلم
আর যখন এটি এমন কিছু অব্যয়ের (حرف) অন্তর্ভুক্ত হলো যেগুলোর ক্ষেত্রে এটি কি অব্যয় (حرف) নাকি বিশেষ্য (اسم) তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তখন আমি সেগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেছি যেমনটি আমি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماضي) ও অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়ার (فعل أمر) ক্ষেত্রে করেছি। সেগুলো সংখ্যায় চারটি: 'ইজ মা' (إذ ما), 'মাহমা' (مهما), মাসদারিয়া 'মা' (ما المصدرية) এবং সংযোগকারী 'লাম্মা' (لما الرابطة)। অতঃপর 'ইজ মা' (إذ ما) প্রসঙ্গে সিবওয়াইহি ও অন্যান্যদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। সিবওয়াইহি বলেছেন যে, এটি একটি অব্যয় (حرف) যা শর্তবাচক 'ইন' (إن الشرطية)-এর সমতুল্য। সুতরাং আপনি যখন বলেন 'ইজ মা তাকুম আকুম' (যদি তুমি দাঁড়াও তবে আমি দাঁড়াব), এর অর্থ হলো 'ইন তাকুম আকুম'। পক্ষান্তরে আল-মুবাররাদ, ইবনুস সাররাজ এবং আল-ফারিসি বলেছেন যে এটি একটি কালবাচক বিশেষ্য (ظرف زمان) এবং উক্ত উদাহরণে এর অর্থ হবে 'মাতা তাকুম আকুম' (যখনই তুমি দাঁড়াবে আমি দাঁড়াব)। তারা যুক্তি দিয়েছেন যে, 'মা' যুক্ত হওয়ার পূর্বে এটি বিশেষ্য (اسم) ছিল এবং মূল মূলনীতি হলো কোনো পরিবর্তন না হওয়া। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, রূপান্তরটি নিশ্চিতভাবেই প্রমাণিত হয়েছে এই দলিলে যে, এটি আগে অতীতকালের অর্থের জন্য ব্যবহৃত হতো কিন্তু এখন ভবিষ্যৎকালের অর্থ দিচ্ছে; যা একথারই প্রমাণ বহন করে যে, এর থেকে পূর্বতন অর্থটি সম্পূর্ণরূপে অপসারিত হয়েছে। তবে এই উত্তরের মাঝে সূক্ষ্ম পর্যালোচনার (نظر) অবকাশ রয়েছে যা এই সংক্ষিপ্ত (مختصر) আলোচনাটিতে সম্ভব নয়। আর 'মাহমা' (مهما) সম্পর্কে জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিম দাবি করেছেন যে এটি একটি বিশেষ্য (اسم)। এর প্রমাণ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী: "তুমি আমাদের নিকট যে নিদর্শনই নিয়ে আস না কেন...", এখানে 'বিহি' (به) শব্দের 'হা' (هاء) সর্বনামটি 'মাহমা'-র দিকে ফিরেছে, আর সর্বনাম (ضمير) কেবল বিশেষ্যের (اسم) দিকেই ফিরতে পারে। অন্যদিকে সুহাইলি এবং ইবনু ইয়াসউন দাবি করেছেন যে এটি একটি অব্যয় (حرف); তাঁরা যুহাইরের এই কাব্য পঙ্ক্তিটি দ্বারা দলিল দিয়েছেন: "কোনো ব্যক্তির মাঝে যে স্বভাবই বিদ্যমান থাকুক না কেন, তা মানুষের কাছে গোপন থাকবে বলে সে মনে করলেও তা পরিশেষে প্রকাশ পেয়েই যায়।"
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وَتَقْرِير الدَّلِيل أَنَّهُمَا أعربا خَلِيقَة اسْما لتكن وَمن زَائِدَة فَتعين خلوه الْفِعْل من الضَّمِير وَكَون مهما لَا مَوضِع لَهَا من الْإِعْرَاب إِذْ لَا يَلِيق بهَا هَهُنَا لَو كَانَ لَهَا مَحل إِلَّا تكون مُبْتَدأ والابتداء هُنَا مُتَعَذر لعدم رابط يرْبط الْجُمْلَة الْوَاقِعَة خَبرا لَهُ وَإِذا ثَبت أَن لَا موقع لَهَا من الْإِعْرَاب تعين كَونهَا حرفا وَالتَّحْقِيق أَن اسْم تكن مستتر وَمن خَلِيقَة تَفْسِير لمهما كَمَا أَن
যুক্তির বিবরণ এই যে, তাঁরা উভয়ই ‘খলীকাহ’ শব্দটিকে ‘তাকুন’ ক্রিয়ার বিশেষ্য এবং ‘মিন’ শব্দটিকে অতিরিক্ত হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন। এর ফলে ক্রিয়াটি সর্বনাম মুক্ত হওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে এবং ‘মাহমা’ শব্দটির জন্য বাক্যতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে কোনো স্থান না থাকা সাব্যস্ত হয়। কারণ এখানে যদি শব্দটির কোনো স্থান থাকত, তবে তা মুবতাদা হওয়া ব্যতীত অন্য কিছু হওয়ার যোগ্য ছিল না। অথচ এখানে মুবতাদা হওয়া অসম্ভব; কারণ খবর হিসেবে আপতিত বাক্যটির সাথে মুবতাদাকে সংযুক্ত করার মতো কোনো যোগসূত্র নেই। আর যখন এটি প্রমাণিত হলো যে বাক্যতত্ত্বে এর কোনো স্থান নেই, তখন এটি অব্যয় হওয়া সুনিশ্চিত হলো। তবে প্রকৃত অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ হলো, ‘তাকুন’-এর বিশেষ্যটি এর মধ্যে উহ্য রয়েছে এবং ‘মিন খলীকাহ’ অংশটি ‘মাহমা’-এর ব্যাখ্যা হিসেবে এসেছে, যেমনটি...
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ৪১)
من آيَة تَفْسِير ل مَا فِي قَوْله تَعَالَى مَا ننسخ من آيَة وَمهما مُبْتَدأ وَالْجُمْلَة خبر وَأما مَا المصدرية فَهِيَ الَّتِي تسبك مَعَ مَا بعْدهَا بمصدر نَحْو قَوْله تَعَالَى ودوا مَا عنتم أَي ودوا عنتكم وَقَول الشَّاعِر يسر مَا ذهب اللَّيَالِي وَكَانَ ذهابهن لَهُ ذَهَابًا أَي يسر الْمَرْء ذهَاب اللَّيَالِي
‘আয়াত থেকে’ অংশটি মহান আল্লাহর বাণী ‘আমরা যে আয়াত রহিত করি’-তে বিদ্যমান ‘মা’ শব্দটির ব্যাখ্যা। আর ‘মাহমা’ হলো মুবতাদা এবং বাক্যটি খবর। আর ‘মা মাসদারিয়্যাহ’ হলো সেটি যা তার পরবর্তী শব্দের সাথে মিলে মাসদারের অর্থ প্রদান করে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: ‘তারা তোমাদের কষ্ট কামনা করে’, অর্থাৎ ‘তারা তোমাদের কষ্টে নিপতিত হওয়া কামনা করে’। এবং কবির উক্তি: ‘রাত্রিসমূহের অতিবাহিত হওয়া আনন্দ দেয়, অথচ সেগুলোর অতিবাহিত হওয়া ছিল তার নিজেরই অবসান’, অর্থাৎ ‘রাত্রিসমূহের অতিবাহিত হওয়া মানুষকে আনন্দিত করে’।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وَقد اخْتلف فِيهَا فَذهب سِيبَوَيْهٍ إِلَى أَنَّهَا حرف بِمَنْزِلَة أَن المصدرية وَذهب الْأَخْفَش وَابْن السراج إِلَى أَنَّهَا اسْم بِمَنْزِلَة الَّذِي وَاقع على مَا لَا يعقل وَهُوَ الْحَدث وَالْمعْنَى ودوا الَّذِي عنتموه أَي الْعَنَت الَّذِي عنتموه وَيسر الْمَرْء الَّذِي ذهبه اللَّيَالِي وَيرد على هَذَا القَوْل أَنه لم يسمع أعجبني مَا قمته وَمَا قعدته وَلَو صَحَّ مَا ذكر لجَاز ذَلِك لِأَن الأَصْل أَن الْعَائِد يكون مَذْكُورا لَا محذوفا وَأما لما فَإِنَّهَا فِي الْعَرَبيَّة على ثَلَاثَة أَقسَام نَافِيَة بِمَنْزِلَة لم نَحْو لما يقْض مَا أمره أَي لم يقْض مَا أمره
এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; সীবওয়াইহ-এর অভিমত হলো যে এটি ‘আন’ মাসদারিয়া-এর ন্যায় একটি অব্যয়। অন্যদিকে আল-আখফাশ এবং ইবনে আস-সাররাজ মনে করেন যে এটি ‘আল্লাজি’-এর ন্যায় একটি বিশেষ্য যা জড় বা বিবেকহীন বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, আর তা হলো কোনো ঘটনা বা কর্ম। এর অর্থ হলো: ‘তারা তোমাদের সেই কষ্টই কামনা করেছে যা তোমরা ভোগ করেছ’, অর্থাৎ সেই কষ্ট যা তোমরা ভোগ করেছ। (অনুরূপভাবে) ‘মানুষকে সেই বিষয়টি আনন্দিত করে যা রাতগুলো নিয়ে গিয়েছে’। এই মতের বিপক্ষে আপত্তি হলো যে, ‘আমি যা দাঁড়িয়েছি তা আমাকে বিস্মিত করেছে’ এবং ‘আমি যা বসেছি তা আমাকে বিস্মিত করেছে’—এরূপ কোনো বাক্য শোনা যায়নি। অথচ যদি উল্লিখিত বিষয়টি সঠিক হতো তবে তা বৈধ হতো, কারণ মূলনীতি হলো যে সংযোগকারী সর্বনামটি উল্লিখিত থাকবে, উহ্য থাকবে না। আর ‘লাম্মা’ সম্পর্কে কথা হলো, এটি আরবি ভাষায় তিন প্রকার; (প্রথমত) এটি ‘লাম’-এর ন্যায় না-বোধক, যেমন— ‘সে এখনো তাঁর আদেশ পালন করেনি’, অর্থাৎ সে তা পালন করেনি যা তাঁকে আদেশ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
শারহু কাতরিন নাদা ওয়া বাল্লুস সয়াদা
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
وإيجابية بِمَنْزِلَة إِلَّا نَحْو قَوْلهم عزمت عَلَيْك لما فعلت كَذَا أَي إِلَّا فعلت كَذَا أَي مَا أطلب مِنْك إِلَّا فعل كَذَا وَهِي فِي هذَيْن الْقسمَيْنِ حرف بِاتِّفَاق وَالثَّالِث أَن تكون رابطة لوُجُود شَيْء بِوُجُود غَيره نَحْو لما جَاءَنِي أكرمته فَإِنَّهَا ربطت وجود الْإِكْرَام بِوُجُود الْمَجِيء وَاخْتلف فِي هَذِه فَقَالَ سِيبَوَيْهٍ إِنَّهَا ظرف بِمَعْنى حِين ورد بقوله تَعَالَى فَلَمَّا قضينا عَلَيْهِ الْمَوْت الْآيَة وَذَلِكَ أَنَّهَا لَو كَانَت ظرفا لاحتاجت إِلَى عَامل يعْمل فِي محلهَا النصب وَذَلِكَ الْعَامِل إِمَّا قضينا أَو دلهم إِذْ لَيْسَ مَعنا سواهُمَا وَكَون الْعَامِل قضينا مَرْدُود بِأَن الْقَائِلين بِأَنَّهَا اسْم يَزْعمُونَ أَنَّهَا مُضَافَة إِلَى مَا يَليهَا والمضاف إِلَيْهِ لَا يعْمل فِي الْمُضَاف وَكَون الْعَامِل دلهم مَرْدُود بِأَن مَا النافة لَا يعْمل مَا بعْدهَا فِيمَا قبلهَا وَإِذا بَطل أَن يكون لَهَا عَامل تعين أَن لَا مَوضِع لَهَا من الْإِعْرَاب وَذَلِكَ يَقْتَضِي الحرفية ص وَجَمِيع الْحُرُوف مَبْنِيَّة
تَعْرِيف الْكَلَامش لما فرغت من ذكر عَلَامَات الْحَرْف وَبَيَان مَا اخْتلف فِيهِ مِنْهُ ذكرت حكمه وَأَنه مَبْنِيّ لاحظ لشَيْء من كَلِمَاته فِي الْإِعْرَاب ص وَالْكَلَام لفظ مُفِيد ش لما أنهيت القَوْل فِي الْكَلِمَة وأقسامها الثَّلَاثَة شرعت فِي تَفْسِير الْكَلَام فَذكرت أَنه عبارَة عَن اللَّفْظ الْمُفِيد ونعني بِاللَّفْظِ الصَّوْت الْمُشْتَمل على بعض الْحُرُوف أَو مَا هُوَ فِي قُوَّة ذَلِك فَالْأول نَحْو رجل وَفرس وَالثَّانِي كالضمير الْمُسْتَتر فِي نَحْو اضْرِب واذهب الْمقدرَة بِقَوْلِك أَنْت ونعني بالمفيد
এবং ইতিবাচক (ইজাবিইয়াহ/إيجابية) যা 'ব্যতীত' (ইল্লা/إلا) এর স্থলাভিষিক্ত হয়; যেমন তাদের কথা: "আমি তোমার ওপর শপথ দিচ্ছি তুমি যেন তা করো," অর্থাৎ "আমি তোমার নিকট তা করা ব্যতীত অন্য কিছু চাই না।" এই দুই প্রকারের ক্ষেত্রে এটি সর্বসম্মতভাবে অব্যয় (হারফ/حرف)। আর তৃতীয় প্রকার হলো, এটি এক জিনিসের উপস্থিতিকে অন্য জিনিসের উপস্থিতির সাথে সংযুক্তকারী (রাবিতা/رابطة) হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন: "যখন সে আমার কাছে এল, আমি তাকে সম্মান করলাম।" এখানে সম্মান করার বিষয়টি আসার বিষয়ের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। এ বিষয়টিতে মতভেদ রয়েছে। সিবওয়াইহ বলেন, এটি 'যখন' অর্থে একটি ক্রিয়া-বিশেষণ (জরফ/ظرف)। তবে মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর যখন আমি তার মৃত্যু নির্ধারণ করলাম" - এর মাধ্যমে তাঁর মতটি খণ্ডন করা হয়েছে। কারণ, যদি এটি ক্রিয়া-বিশেষণ (জরফ/ظرف) হতো, তবে এটি নসব (নসব/نصب) প্রদানকারী কোনো আমলকারী (আমিল/عامل) এর মুখাপেক্ষী হতো। আর সেই আমলকারী (আমিল/عامل) হয়তো 'কদাইনা' অথবা 'দাল্লাহুম' হতো; কারণ এগুলো ছাড়া অন্য কোনো শব্দ এখানে নেই। 'কদাইনা' আমলকারী হওয়া প্রত্যাখ্যাত; কারণ যারা এটিকে বিশেষ্য (ইসম/اسم) মনে করেন তারা দাবি করেন যে এটি তার পরবর্তী অংশের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (মুদাফ/مضاف) হয়। আর যাকে সম্বন্ধ করা হয় (মুদাফ ইলাইহি/مضاف إليه), সে তার পূর্ববর্তী সম্বন্ধকারী (মুদাফ/مضاف) এর ওপর আমল করতে পারে না। আবার 'দাল্লাহুম' আমলকারী হওয়াও প্রত্যাখ্যাত; কারণ না-বোধক 'মা' (মা নাফিয়াহ/ما النافية) তার পরবর্তী শব্দকে তার পূর্ববর্তী শব্দের ওপর আমল করতে দেয় না। যখন এর কোনো আমলকারী (আমিল/عامل) থাকা বাতিল হয়ে গেল, তখন নির্ধারিত হয়ে গেল যে এর কোনো ব্যাকরণগত অবস্থান (ই'রাব/إعراب) নেই। আর এটিই এর অব্যয় (হারফিয়্যাহ/حرفية) হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে। মূল পাঠ: এবং সকল অব্যয় (হারফ/حرف) হলো অপরিবর্তনীয় (মাবনি/مبني)।
বাক্যের (কালাম/كلام) সংজ্ঞাব্যাখ্যা: যখন আমি অব্যয়ের আলামতসমূহ এবং এর মধ্যকার মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনা শেষ করলাম, তখন এর বিধান উল্লেখ করেছি যে এটি অপরিবর্তনীয় (মাবনি/مبني); বাক্য গঠনে এর শব্দগুলোর ব্যাকরণগত পরিবর্তনের (ই'রাব/إعراب) কোনো অংশ নেই। মূল পাঠ: বাক্য (কালাম/كلام) হলো অর্থবোধক শব্দ (লাফজ মুফিদ/لفظ مفيد)। ব্যাখ্যা: যখন আমি শব্দ এবং তার তিনটি প্রকার নিয়ে আলোচনা শেষ করলাম, তখন বাক্যের (কালাম/كلام) ব্যাখ্যা শুরু করলাম। আমি উল্লেখ করেছি যে, এটি মূলত অর্থবোধক শব্দ (লাফজ মুফিদ/لفظ مفيد)। আর শব্দ (লাফজ/لفظ) বলতে আমরা এমন আওয়াজ বুঝি যা কিছু বর্ণকে অন্তর্ভুক্ত করে অথবা যা সেই শক্তির পর্যায়ে থাকে। প্রথমটির উদাহরণ হলো "পুরুষ" এবং "ঘোড়া"। আর দ্বিতীয়টি হলো উহ্য সর্বনাম (দামির মুস্তাতিন/ضمير مستتر), যেমন: "ইদরিব" (প্রহার করো) এবং "ইজহাব" (যাও) এর মধ্যে উহ্য 'আনতা' (তুমি) দ্বারা যা নির্ধারিত হয়। আর অর্থবোধক (মুফিদ/مفيد) বলতে আমরা বুঝি-