(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: -)
اللامات القسم: النحو والصرف
الكتاب: اللامات
المؤلف: عبد الرحمن بن إسحاق البغدادي النهاوندي الزجاجي، أبو القاسم (ت 337هـ)
المحقق: مازن المبارك
الناشر: دار الفكر - دمشق
الطبعة: الثانية، 1405هـ 1985م
عدد الصفحات: 161
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-লামাত বিভাগ: নাহু ও সরফ
গ্রন্থ: আল-লামাত
লেখক: আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক আল-বাগদাদি আন-নাহাওয়ান্দি আল-জাজ্জাজি, আবু আল-কাসিম (মৃত্যু ৩৩৭ হিজরি)
সম্পাদক: মাজিন আল-মুবারক
প্রকাশক: দার আল-ফিকর - দামেস্ক
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৫ হিজরি ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
كتاب اللامات
عدد اللامات في كلام العرب
بسم الله الرحمن الرحيمومن يتوكل على الله فهو حسبه؛
قال: أبو القاسم عبد الرحمن بن إسحاق الزجاجي رحمة الله عليه:
هذا كتاب مختصر في ذكر اللامات ومواقعها في كلام العرب وكتاب الله عز وجل ومعانيها وتصرفها والاحتجاج لكل موقع من مواقعها وما بين العلماء في بعضها من الخلاف وبالله التوفيق.
فاللامات إحدى وثلاثون لاماً:
1 - لام أصلية
2 - لام التعريف
3 - لام الملك
4 - لام الاستحقاق
5 - لام كي
6 - لام الجحود
7 - لام إن
8 - لام الابتداء
9 - لام التعجب
10 - لام تدخل على المقسم به
11 - لام تكون جواب القسم
12 - لام المستغاث به
কিতাবুল লামাত
আরবদের ভাষায় 'লাম'-এর সংখ্যা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিমআর যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট;
আবু আল-কাসিম আবদুর রহমান ইবনে ইসহাক আল-জাজ্জাজি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন:
এটি আরবদের কথোপকথন এবং মহান আল্লাহর কিতাবে (আল-কুরআন) 'লাম'-এর ব্যবহার, সেগুলোর অবস্থানসমূহ, অর্থসমূহ, ব্যবহারবিধি এবং প্রতিটি অবস্থানের স্বপক্ষে দলিল উপস্থাপন এবং নির্দিষ্ট কিছু স্থানে ওলামায়ে কেরামের মধ্যকার মতভেদ বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ; আর আল্লাহর মাধ্যমেই সাফল্য লাভ হয়।
লাম মোট একত্রিশ প্রকারের:
1 - মূল লাম (لام أصلية)
2 - পরিচিতি বা সংজ্ঞাবাচক লাম (لام التعريف)
3 - মালিকানাবাচক লাম (لام الملك)
4 - প্রাপ্যতা বা যোগ্যতা জ্ঞাপক লাম (لام الاستحقاق)
5 - 'কাই' (উদ্দেশ্য) অর্থক লাম (لام كي)
6 - অস্বীকারসূচক লাম (لام الجحود)
7 - 'ইন্না'-এর সাথে যুক্ত লাম (لام إن)
8 - প্রারম্ভিক লাম (لام الابتداء)
9 - বিস্ময়সূচক লাম (لام التعجب)
10 - শপথকৃত বিষয়ের ওপর যুক্ত লাম (لام تدخل على المقسم به)
11 - শপথের উত্তরসূচক লাম (لام تكون جواب القسم)
12 - সাহায্য প্রার্থনায় ব্যবহৃত লাম (لام المستغاث به)
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
13 - لام المستغاث من أجله
14 - لام الأمر
15 - لام المضمر
16 - لام تدخل في النفي بين المضاف والمضاف إليه
17 - لام تدخل في النداء بين المضاف والمضاف إليه
18 - لام تدخل على الفعل المستقبل لازمة في القسم ولا يجوز حذفها
19 - لام تلزم إن المكسورة إذا خففت من الثقيلة
20 - لام العاقبة ويسميها الكوفيون لام الصيرورة
21 - لام التبيين
22 - لام لو
23 - لام لولا
24 - لام التكثير
25 - لام تزاد في عبدل وما أشبهه
26 - لام تزاد في لعل
27 - لام إيضاح المفعول من أجله
28 - لام تعاقب حروفا وتعاقبها
29 - لام تكون بمعنى إلى
30 - لام الشرط
31 - لام توصل الأفعال إلى المفعولين وقد يجوز وصل الفعل بغيرها
13 - সাহায্যপ্রার্থীর উদ্দেশ্যবাচক লাম (لام المستغاث من أجله)
14 - আদেশবাচক লাম (لام الأمر)
15 - সর্বনামের লাম (لام المضمر)
16 - না-বাচক বাক্যে মুদাফ (مضاف) ও মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)-র মাঝে ব্যবহৃত লাম
17 - সম্বোধনের ক্ষেত্রে মুদাফ (مضاف) ও মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه)-র মাঝে ব্যবহৃত লাম
18 - ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার শুরুতে শপথের (قسم) জন্য ব্যবহৃত আবশ্যকীয় লাম যা বিলুপ্ত করা বৈধ নয়
19 - ভারী (ثقيلة) থেকে হালকা (خففت) করা কাসরাযুক্ত ‘ইন’ (إن المكسورة)-র সাথে অপরিহার্যভাবে যুক্ত হওয়া লাম
20 - পরিণতিবাচক লাম (لام العاقبة), যাকে কুফাবাসীগণ রূপান্তরবাচক লাম (لام الصيرورة) বলে অভিহিত করেন
21 - স্পষ্টীকরণবাচক লাম (لام التبيين)
22 - ‘লাও’ (لو)-এর লাম
23 - ‘লাওলা’ (لولا)-এর লাম
24 - আধিক্যবাচক লাম (لام التكثير)
25 - ‘আবদাল’ (عبدل) এবং এর সদৃশ শব্দাবলীতে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হওয়া লাম
26 - ‘লাআল্লা’ (لعل)-তে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হওয়া লাম
27 - উদ্দেশ্যবাচক কর্ম (مفعول من أجله) স্পষ্টকারী লাম
28 - এমন লাম যা অন্য বর্ণের স্থলাভিষিক্ত হয় এবং অন্য বর্ণও তার স্থলাভিষিক্ত হয়
29 - ‘ইলা’ (إلى) এর অর্থে ব্যবহৃত লাম
30 - শর্তবাচক লাম (لام الشرط)
31 - ক্রিয়াকে দ্বিকর্মের (مفعولين) সাথে সংযোগকারী লাম, যেখানে অন্য কোনো মাধ্যম দ্বারাও ক্রিয়াকে সংযুক্ত করা বৈধ হতে পারে
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
باب ذكر اللام الأصليةاعلم أنها تكون في الأسماء والأفعال والحروف وتكون فاء وعينا، ولاما فكونها فاء قولك لعب ولهو ولجام وما أشبه ذلك كما قال الله عز وجل: (إِنَّمَا الحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهْوٌ) ؛، وكذلك ما أشبهه وكونها عينا قولك بلد وسلام كما قال تعالى: (السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ) ؛ وكذلك السلم كما قال تعالى: (وَإِن جَنَحُواْ لِلسَّلْمِ فَاجْنَحْ لَهَا) ؛ وكونها لام الاسم قولك: خَطل وجبل وإبل ووصل وحبل، وكذلك ما أشبه فهذا كونها في الأسماء وكونها في الأفعال في هذه المواقع كقولك: لعب الرجل، وسَلس الشيء وفلق، ووصل، وعجل فقد بان لك وقوعها في المواقع الثلاث: في الأسماء والأفعال وهي أكثر من تحصى، وأبْيَن من أن تخفى فأما كونها في الحروف، فإن الحروف لا تقدر بأمثلة الأفاعيل ولكنها قد جاءت فيها أولاً ووسطا وآخرا ولا يحكم عليها فيها بالزيادة إلا بدليل فكونها أولا قولهم لم ولن ولكن وكونها آخراً قولهم: هلْ وبلْ، وهي التي تقع للإضراب
মূল ‘লাম’ (اللام الأصلية) বর্ণ প্রসঙ্গে আলোচনাজেনে রাখুন যে, এটি বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف) সমূহের মধ্যে বিদ্যমান থাকে। এটি কখনো ‘ফা’ (فاء) বর্ণ, কখনো ‘আইন’ (عين) বর্ণ এবং কখনো ‘লাম’ (لام) বর্ণ হিসেবে আসে। এটি ‘ফা’ (فاء) বর্ণ হিসেবে আসার উদাহরণ হলো আপনার উক্তি— ‘খেলা’ (لعب), ‘তামাশা’ (لهو) এবং ‘লাগাম’ (لجام) ও তদ্রূপ শব্দসমূহ; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: (পার্থিব জীবন তো কেবল খেলাধুলা ও তামাশা); অনুরূপ উদাহরণসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত। এটি ‘আইন’ (عين) বর্ণ হওয়ার উদাহরণ হলো আপনার উক্তি— ‘শহর’ (بلد) ও ‘শান্তি’ (سلام), যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (শান্তি দাতা, নিরাপত্তা দানকারী, রক্ষক, পরাক্রমশালী); এবং অনুরূপ ‘শান্তি’ (السلم), যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আর তারা যদি শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে আপনিও তার দিকে ঝুঁকে পড়ুন); বিশেষ্যের ক্ষেত্রে এটি ‘লাম’ (لام) বর্ণ হওয়ার উদাহরণ হলো আপনার উক্তি— ‘বাকপটুতা’ (خطل), ‘পাহাড়’ (جبل), ‘উট’ (إبل), ‘মিলন’ (وصل) এবং ‘রশি’ (حبل) ও অনুরূপ শব্দসমূহ। বিশেষ্যের ক্ষেত্রে এর অবস্থান এরূপ। আর ক্রিয়ার (فعل) ক্ষেত্রে এসব অবস্থানে এর ব্যবহার আপনার উক্তি— ‘লোকটি খেলেছে’ (لعب الرجل), ‘সহজ হওয়া’ (سلس), ‘বিদীর্ণ করা’ (فلق), ‘পৌঁছানো’ (وصل) এবং ‘ত্বরা করা’ (عجل) এর মতো। সুতরাং বিশেষ্য এবং ক্রিয়ার এই তিনটি অবস্থানে এর উপস্থিতি আপনার নিকট স্পষ্ট হলো। এর প্রয়োগ গণনাতীত এবং এটি অস্পষ্ট থাকার চেয়ে অত্যন্ত প্রকাশ্য। অব্যয়ের (حرف) ক্ষেত্রে এর অবস্থানের বিষয়টি হলো, অব্যয়সমূহকে ক্রিয়ার কাঠামোর (أمثلة الأفاعيل) সাহায্যে পরিমাপ করা যায় না; তবে এগুলো শব্দের শুরুতে, মাঝে ও শেষে আসতে পারে। কোনো প্রমাণ (دليل) ব্যতীত সেগুলোকে অতিরিক্ত (زيادة) বর্ণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। শুরুতে আসার উদাহরণ হলো তাদের উক্তি— ‘লাম’ (لم), ‘লান’ (لن) ও ‘লাকিন’ (لكن)। আর শেষে আসার উদাহরণ হলো তাদের উক্তি— ‘হাল’ (هل) ও ‘বাল’ (بل); যা মূলত পূর্ববর্তী বক্তব্য প্রত্যাহার (إضراب) করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
كقولك: ما خرج زيد بلْ عمرو قال الله عز وجل: (بَلِ الْإِنسَانُ عَلَى نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ) ؛ أما قولهم: ألم وألما، فإنما هي: لم ولما، ولكن الألف تزاد في أولهما تقريراً وتوبيخاً واستفهاماً فالتقرير قولك: ألم تخرج، ألم تقصد زيداً قال الله تعالى: (أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَا بَنِي آدَمَ) ؛ فهذا تقرير؛ والتوبيخ مثل قولك: ألم تذنب ألم تسفه على فلان فاحتملك؛ فأما لَيْسَ ففيها خلاف فالفراء وجميع الكوفيين يقولون هي: حرف والبصريون يقولون هي: فعل ودليل الكوفيين على أنه حرف ليس على وزن شيء من الأفعال لسكون ثانيه، وأنه لم يجيء منها اسم فاعل ولا مفعول ولا لفظ المستقبل فلم يقل منها: يليس ولا يس ومليس، كما قيل باع يبيع فهو بائع ومبيع، وكال يكيل فهو كايل ومكيل، وقال البصريون أما الدليل على أنها فعل فهو اتصال المضمر المرفوع به ولا يتصل إلا بفعل كقولك: لست ولسنا ولستم ولستن ولستما وما اشبه ذلك، فهو كقولك: ضربت وضربنا وضربتم وضربتن وضربتما وما أشبه ذلك وانستار المضمر الفاعل فيه كقولك: زيد ليس ذاهباً، وعبد الله ليس راكباً، فهذا هو الدليل على أنه فعل؛ فأما العلة في امتناعه من التصرف فهو أنه لما وقع بلفظ الماضي نفيا للمستقبل فقيل: ليس زيد خارجاً غدا استغني فيه عن لفظ المستقبل ولما استغني فيه عن المستقبل، لم يبن منه اسم الفاعل ولا المفعول فهذه علة امتناعه من التصرف وعلة أخرى وهي أنه لما نفي بها ضارعت حروف المعاني النافية فمنعت من التصرف لذلك، وقد يكون من الأفعال ما لا يتصرف ولا يحكم عليه بأنه ليس بفعل لامتناعه من التصرف ألا ترى أن العرب قالت: يذر ويدع ولم
যেমন আপনার উক্তি: জায়েদ বের হয়নি বরং (بل) আমর। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বরং (بل) মানুষ নিজের সম্পর্কে সম্যক অবগত।" আর তাদের কথা: "আলাম" এবং "আলাম্মা", এগুলো মূলত "লাম" এবং "লম্মা"-ই, তবে এগুলোর শুরুতে একটি আলিফ যুক্ত করা হয়েছে স্বীকৃতি (تقرير), তিরস্কার (توبيخ) এবং জিজ্ঞাসার (استفهام) জন্য। স্বীকৃতির (تقرير) উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: "তুমি কি বের হওনি?", "তুমি কি জায়েদকে উদ্দেশ্য করোনি?" আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে বনী আদম! আমি কি তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিইনি?" (সূরা ইয়াসিন: ৬০); এটি হলো স্বীকৃতি (تقرير)। আর তিরস্কার (توبيخ) যেমন আপনার উক্তি: "তুমি কি অপরাধ করোনি?", "তুমি কি অমুকের সাথে নির্বুদ্ধিতা করোনি অথচ সে তোমাকে সহ্য করেছে?"।
আর "লাইসা" শব্দটির বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। আল-ফাররা এবং সকল কুফাবাসী বলেন এটি একটি অব্যয় (حرف); পক্ষান্তরে বসরার ভাষাবিদগণ বলেন এটি একটি ক্রিয়া (فعل)। কুফাবাসীদের দলিল হলো—এটি একটি অব্যয় (حرف) কারণ এর দ্বিতীয় বর্ণটি সাকিন হওয়ার ফলে এটি ক্রিয়াসমূহের (أفعال) কোনো ওজনের (وزن) অন্তর্ভুক্ত নয়। এছাড়া এটি থেকে কোনো কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم فاعل), কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول) বা ভবিষ্যৎকালের (مستقبل) রূপ গঠিত হয় না। তাই এটি থেকে "ইয়ালীসু", "ইয়াসু" বা "মালীস" বলা হয় না, যেমনটি "বাআ-ইয়াবিউ" থেকে "বায়িউন" ও "মাবিউন" এবং "কালা-ইয়াকিলু" থেকে "কায়িলুন" ও "মাকিলুন" বলা হয়।
বসরার ভাষাবিদগণ বলেন—এটি যে ক্রিয়া (فعل) তার দলিল হলো এর সাথে মারফু সর্বনামের সম্পৃক্ত হওয়া; আর সর্বনাম কেবল ক্রিয়ার (فعل) সাথেই যুক্ত হয়। যেমন আপনার উক্তি: "লাস্তু", "লাস্না", "লাস্তুম", "লাস্তুন্না", "লাস্তুমা" এবং এর অনুরূপ শব্দগুলো। এটি আপনার উক্তি "দারাবতু", "দারাবনা", "দারাবতুম", "দারাবতুন্না", "দারাবতুমা" এবং এর সদৃশ শব্দগুলোর মতো। এছাড়া এর মধ্যে কর্তারূপী সর্বনামের গোপন থাকা (انستار) যেমন আপনার উক্তি: "জায়েদ যাচ্ছে না", "আবদুল্লাহ সওয়ার হচ্ছে না"—এগুলোই এটি ক্রিয়া (فعل) হওয়ার দলিল।
এর রূপান্তর (تصرف) না হওয়ার কারণ হলো—এটি যখন ভবিষ্যৎকালকে (مستقبل) নেতিবাচক করার জন্য অতীতকালের (ماضي) শব্দে ব্যবহৃত হয়, যেমন বলা হয়: "জায়েদ আগামীকাল বের হচ্ছে না", তখন সেখানে ভবিষ্যৎকালের (مستقبل) শব্দের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায়। আর যখন ভবিষ্যৎকালের (مستقبل) শব্দের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল, তখন এটি থেকে কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم فاعل) বা কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول) গঠন করা হয়নি। এটিই এর রূপান্তর (تصرف) না হওয়ার কারণ। আরেকটি কারণ হলো—এটি দ্বারা যেহেতু না-বোধক অর্থ প্রকাশ করা হয়, তাই এটি না-বোধক অর্থবোধক অব্যয়গুলোর (حروف المعاني النافية) সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে গেছে; একারণে একে রূপান্তর (تصرف) হতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় এমন কিছু ক্রিয়া (أفعال) থাকে যা রূপান্তরিত (تصرف) হয় না, কিন্তু রূপান্তরিত না হওয়ার কারণে সেটিকে ক্রিয়া নয় বলে রায় দেওয়া হয় না। আপনি কি দেখেননি যে আরবরা "যাদারু" এবং "য়াদাউ" শব্দদ্বয় ব্যবহার করেছে কিন্তু...
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
يستعملوا منه الماضي ولا اسم الفاعل والمفعول، وكذلك عسى في قولهم: عسى زيد أن يركب، وفي قول الله تعالى: (عَسَى أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَاماً مَّحْمُوداً) ؛ و {فعسى الله أن يأتي بالفتح أو أمر من عنده} هو فعل غير متصرف ولم يستعمل منه يفعل ولا فاعل، وكذلك نعم وبئس هما فعلان غير متصرفين فكذلك ليس هي بهذه المنزلة في امتناعها من التصرف؛ وأما سكون ثانيه، فإن من العرب من يفر من الضم والكسر إلى السكون تخفيفا فيقول في: عَضُدٌ عَضْدٌ وفي: فَخِذ فَخْذ، ولا يفرون من الفتح إلى السكون قال: سيبويه قلت للخليل ما الدليل على أن الفتحة أخف الحركات قال: قول العرب في عَضُد عَضْد وفي كَبِد كَبْد ولم يقولوا فيك جَمَل جَمْل، ولا في قَمَر قَمْر، فدل ذلك على أن الفتحة أخف الحركات ومع ذلك، فإن الضمة والكسرة تخرجان بتكلف واستعمال للشفتين والفتحة تخرج مع النفس بلا علاج، ومن كان هذا من لغته في الأسماء، فإنه يقول أيضا في الأفعال ضُرب زيد وهو يريد ضَرب زيد وعُصر الثوب وهو يريد عَصر، قال الشاعر:
তারা এর অতীতকাল (الماضي) কিংবা কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) ও কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول) ব্যবহার করে না। ঠিক তেমনি তাদের এই উক্তিতে 'আসা' (عسى): "আশা করা যায় যায়েদ আরোহণ করবে", এবং মহান আল্লাহর বাণীতে: {আশা করা যায় আপনার প্রতিপালক আপনাকে প্রশংসিত স্থানে অধিষ্ঠিত করবেন}; এবং {হয়তো আল্লাহ বিজয় দেবেন অথবা তাঁর পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ আনবেন}। এটি একটি রূপান্তরহীন ক্রিয়া (فعل غير متصرف) এবং এর বর্তমান কাল (يفعل) কিংবা কর্তৃবাচক (فاعل) রূপ ব্যবহৃত হয় না। একইভাবে 'নি’মা' (نعم) এবং 'বি’সা' (بئس) হলো দুটি রূপান্তরহীন ক্রিয়া (فعلان غير متصرفين); ফলে 'লাইসা' (ليس)-ও রূপান্তরহীনতার এই একই পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। আর এর দ্বিতীয় বর্ণে সুকুন হওয়ার বিষয়টি হলো—আরবদের মধ্যে কেউ কেউ উচ্চারণ সহজ করার জন্য দম্মাহ ও কাসরাহ থেকে বাঁচতে সুকুন ব্যবহার করে থাকে। যেমন তারা 'আদুদুন' (عَضُدٌ)-এর স্থলে 'আদদুন' (عَضْدٌ) এবং 'ফাখিদুন' (فَخِذ)-এর স্থলে 'ফাখদুন' (فَخْذ) বলে থাকে। তবে তারা ফাতহা থেকে সুকুনের দিকে ধাবিত হয় না। সিবওয়াইহি বলেন: আমি খলিলকে জিজ্ঞেস করলাম, ফাতহা যে সবচাইতে হালকা হরকত তার দলিল কী? তিনি বললেন: আরবদের 'আদুদ'-কে 'আদদ' এবং 'কাবিদ'-কে 'কাবদ' বলা; কিন্তু তারা 'জামাল'-কে 'জামল' কিংবা 'কামার'-কে 'কামর' বলে না। এটিই প্রমাণ করে যে ফাতহা হলো সবচাইতে হালকা হরকত। তাছাড়া দম্মাহ ও কাসরাহ উচ্চারণে ওষ্ঠদ্বয়ের অতিরিক্ত কসরত ও ব্যবহারের প্রয়োজন হয়, কিন্তু ফাতহা কোনো অতিরিক্ত প্রচেষ্টা ছাড়াই নিঃশ্বাসের সাথে অনায়াসে উচ্চারিত হয়। আর যাদের ভাষায় বিশেষ্যের ক্ষেত্রে এই রীতি বিদ্যমান, তারা ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও তা প্রয়োগ করে; যেমন তারা 'দারাবা যায়েদুন' (ضَرب زيد) বুঝাতে 'দুরিবা যায়েদুন' (ضُرب زيد) এবং 'আসারা' (عَصر) বুঝাতে 'উসিরা' (عُصر) বলে থাকে। জনৈক কবি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
لو عصر منه البان والمسك انعصر
وكان أصل ليس لَيَسَ على وزن فَعَل فأسكن من هذه اللغة ولزمها السكون لما لم تصرف ولم تستعمل على الأصل كما لم يستعمل قام وباع وما أشبه ذلك على الأصل؛ وأما كون اللام وسطا في موقع عين الفعل في حروف المعاني فقولهم فقولهم: ألا وهي التي تقع افتتاحا لكلام كقوله تعالى: (أَلَا لَعْنَةُ اللهِ عَلَى الظَّالِمِينَ) ، وكقول الشاعر وهو الشماخ:
ألا ناديا أظعان ليلى تعرج
… يهيجن شوقا ليته لم يهيج؛
وكقول الآخر:
ألا يا اسلمي يا هند هند بني بدر
… وإن كان حيانا عدى آخر الدهر
যদি তা থেকে সুগন্ধি তেল এবং কস্তুরী নিংড়ানো হতো, তবে তা নিংড়ানো হতো।
'লাইসা' শব্দের মূল (أصل) ছিল 'লায়াসা', যা 'ফাআলা' এর ওজন (وزন) অনুযায়ী ছিল। এরপর এই ভাষাগত বৈশিষ্ট্যের কারণে শব্দটিকে সুকুন প্রদান করা হয়েছে এবং এর জন্য সুকুন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে; যেহেতু এটি রূপান্তরিত হয় না এবং এর মূল (أصل) অনুযায়ী ব্যবহৃত হয় না, যেমন 'ক্বামা' ও 'বা'আ' এবং এই জাতীয় শব্দগুলো তাদের মূল (أصل) অনুযায়ী ব্যবহৃত হয় না। আর অর্থবোধক অব্যয়সমূহের মধ্যে 'লাম' বর্ণটি 'আইনুল ফি'ল' (عين الفعل) এর স্থানে আসার উদাহরণ হলো তাদের ব্যবহৃত 'আলা' অব্যয়টি, যা কোনো বক্তব্যের সূচনাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: (সাবধান! যালিমদের ওপর আল্লাহর লানত), এবং কবির উক্তি, যিনি হলেন শাম্মাখ:
হে আহ্বানকারী! লায়লার উষ্ট্রারোহী কাফেলা কি একটু থামবে
… তারা এমন এক ব্যাকুলতা জাগ্রত করছে যা জাগ্রত না হলেই ভালো ছিল;
যেমন অন্যের উক্তি:
হে বনু বদরের হিন্দ! তুমি শান্তিতে থাকো
… যদিও আমাদের গোত্রসমূহ চিরকাল পরস্পরের শত্রু হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وكقول ذي الرمة:
ألا يا اسلمي يا دار مي على البلى
… ولا زال منهلا بجرعائك القطر
ومن ذلك قوله تعالى: (أَلَّا يَسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي يُخْرِجُ الْخَبْءَ) ؛ معناه والله اعلم ألا يا هؤلاء اسجدوا فالمنادي مضمر في النية ويا حرف النداء وألا تنبيه وافتتاح كلام وموقع اللام منها موقع عين الفعل ومما أضمر فيه المنادي قول الشاعر:
يا لعنة الله والأقوام كلهم
… والصالحين على سمعان من جار
قال سيبويه: يا لغير اللعنة ولو كان واقعا عليها لنصبها لأنه نداء مضاف ومن قرأ ألا يسجدوا لله بفتح أوله والتشديد فهي مركبة من حرفين أن ولا تقديره أن لا يسجدوا ثم أدغمت النون في اللام التي بعدها فاللام على هذا التقدير أول كلمة ويسجدوا في موضع نصب بأن وعلامة
যেমন যু-রুম্মার উক্তির ন্যায়:
ওগো ধ্বংসের মাঝেও টিকে থাকা মায়ার গৃহ, তুমি শান্তিতে থাকো
… আর তোমার বালুময় প্রাঙ্গণে যেন সর্বদা বৃষ্টি বর্ষিত হতে থাকে।
আর মহান আল্লাহর বাণীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ: (তারা কেন আল্লাহকে সিজদা করে না, যিনি লুকিয়ে রাখা বস্তু বের করেন); এর অর্থ—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—ওহে তোমরা আল্লাহকে সিজদা করো। এখানে সম্বোধিত ব্যক্তি (منادي) নিয়তের মধ্যে উহ্য (مضمر) রয়েছে। 'ইয়া' (يا) হলো সম্বোধনের অব্যয় (حرف النداء) এবং 'আলা' (ألا) হলো সতর্কীকরণ (تنبيه) ও বাক্য প্রারম্ভের অব্যয় (افتتاح كلام)। এতে 'লাম' বর্ণের অবস্থানটি ক্রিয়ামূলের দ্বিতীয় বর্ণের (عين الفعل) ন্যায়। যেখানে সম্বোধিত ব্যক্তি উহ্য রাখা হয়েছে তার আরেকটি উদাহরণ কবির এই উক্তি:
ওহে, আল্লাহ এবং সকল মানুষের ও পুণ্যবানদের লানত হোক সা’মানের মতো প্রতিবেশীর ওপর।
…সিবাওয়াইহ বলেন: 'ইয়া' (يا) শব্দটি এখানে লানত বা অভিশাপের জন্য ব্যবহৃত হয়নি। যদি এটি লানত শব্দের উপর প্রযুক্ত হতো, তবে তা শব্দটিকে নসব (نصب) প্রদান করত; কারণ এটি তখন একটি সম্বন্ধযুক্ত সম্বোধন (نداء مضاف) হতো। আর যারা 'আলা ইয়াসজুদু' অংশটি প্রথম বর্ণে ফাতহা এবং তাশদীদ দিয়ে পাঠ করেছেন, সেটি মূলত দুটি হরফ—'আন' (أن) এবং 'লা' (لا)—এর সমন্বয়ে গঠিত। এর বিশ্লেষণ হলো—'আন লা ইয়াসজুদু'। এরপর 'নুন' বর্ণটিকে পরবর্তী 'লাম' বর্ণের সাথে সন্ধি (أدغمت) করা হয়েছে। ফলে এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী 'লাম' হলো শব্দের প্রথম বর্ণ এবং 'ইয়াসজুদু' শব্দটি 'আন' (أن) এর কারণে নসবের স্থানে (موضع نصب) অবস্থিত এবং এর চিহ্ন হলো...
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
النصب سقوط النون وهي نظير قوله تعالى: (أَلَّا تَعْلُوا عَلَيَّ وَأْتُونِي مُسْلِمِينَ) ؛ في الفتح والتشديد والعمل، وقد تكون اللام ثانية في حروف المعاني مشددة في قولهم إلا في الاستثناء كقولك: جاء القوم إلا زيدا ومررت بأصحابك إلا بكرا قال الله تعالى: (فَشَرِبُواْ مِنْهُ إِلَاّ قَلِيلاً منهم) ؛ و (ما فعلوه إلا قليل منهم) ؛ وقرأ عبد الله بن عامر؛ (ما فعلوه إلا قليلا منهم) ؛ بالنصب وذلك أن إلا إذا كان ما قبلها من الكلام موجبا كان ما بعدها منصوبا منفيا عنه ما أثبت لما قبلها وإذا كان ما قبلها منفيا جاز فيما بعدها البدل مما قبلها والنصب على أصل الاستثناء هذا مذهب البصريين ولا يجوزون غيره قال: سيبويه إلا في الاستثناء بمنزلة دفلى، فإن سميت بها لم تصرف المسمى به في معرفة ولا نكرة؛ يعني أن إلا كلمة واحدة مؤنثة فالألف التي في آخرها ألف التأنيث بمنزلة الألف التي في دفلى فلذلك لم تصرف المسمى بها؛ وأما الفراء فعنده أن اللام في إلا في الاستثناء أول الكلمة وموقعها موقع فاء الفعل وهي عنده أعني إلا مركبة من حرفين من إن ولا فإذا نصب بها فقال جاء القوم إلا زيدا فالناصب عنده إن ولا ملغاة كأنه قال: قام القوم إن زيدا لا،
নসব (نصب) হলো নূন বিলুপ্ত হওয়া (سقوط النون), যা মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: "তোমরা আমার বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করো না এবং আমার কাছে আত্মসমর্পণকারী হিসেবে উপস্থিত হও"; ফাতহাহ (فتح), তাশদীদ (تشديد) এবং আমলের (عمل) দিক থেকে এটি একই রূপ। কখনও কখনও অর্থবোধক অব্যয়ের (حروف المعاني) ক্ষেত্রে দ্বিতীয় হরফ লাম তাশদীদযুক্ত হতে পারে, যেমন ব্যতিক্রম (استثناء) অর্থ প্রদানকারী তাদের উক্তি 'ইল্লা' (إلا); যেমন তোমার কথা: "দলটি এসেছে যায়েদ ব্যতীত" এবং "আমি বকর ব্যতীত তোমার সাথীদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি।" মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর তাদের মধ্যে অল্পসংখ্যক ব্যতীত তারা তা পান করল"; এবং "তাদের মধ্যে অল্পসংখ্যক ছাড়া তারা তা করেনি"; আর আব্দুল্লাহ বিন আমির নসব (نصب) যোগে পাঠ করেছেন: (ما فعلوه إلا قليلا منهم); আর এটি এ কারণে যে, 'ইল্লা' (إلا)-এর পূর্ববর্তী কালাম যদি ইতিবাচক (موجب) হয়, তবে তার পরবর্তী শব্দটি মানসুব (منصوب) হবে এবং পূর্ববর্তী অংশের জন্য যা সাব্যস্ত করা হয়েছে, তা পরবর্তী অংশ থেকে নেতিবাচক (منفي) হয়ে যাবে। আর যদি পূর্ববর্তী অংশটি নেতিবাচক (منفي) হয়, তবে পরবর্তী শব্দটিতে পূর্ববর্তী অংশ থেকে বদল (بدل) হওয়া যেমন জায়েজ, তেমনি ব্যতিক্রমের (استثناء) মূল নিয়ম অনুযায়ী নসব (نصب) হওয়াও বৈধ। এটি বসরার বৈয়াকরণদের (البصريين) মাজহাব (مذهب) এবং তারা এ ছাড়া অন্য কিছু জায়েজ মনে করেন না। সিবওয়াইহ বলেন: ব্যতিক্রম (استثناء) অর্থে ব্যবহৃত 'ইল্লা' (إلا) হলো 'দুফলা' শব্দের সমপর্যায়ভুক্ত। সুতরাং যদি এটি দিয়ে কোনো কিছুর নামকরণ করা হয়, তবে মারেফাহ (معرفة) বা নাকিরাহ (نكرة) উভয় অবস্থায় সেই নামটিতে তানভীন (صرف) হবে না; অর্থাৎ 'ইল্লা' (إلا) একটি একক স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ। এর শেষে থাকা আলিফটি হলো স্ত্রীলিঙ্গ নির্দেশক আলিফ (ألف التأنيث), যা 'দুফলা' শব্দের আলিফের মতো। এই কারণেই এটি দ্বারা নাম রাখা হলে তাতে তানভীন (صرف) হয় না। পক্ষান্তরে আল-ফাররার মতে, ব্যতিক্রম (استثناء) অর্থে ব্যবহৃত 'ইল্লা' (إلا)-এর লাম হরফটি হলো শব্দের শুরুতে এবং তার অবস্থান হলো ফা আল-ফেল (فاء الفعل)-এর স্থলে। তাঁর মতে অর্থাৎ 'ইল্লা' (إلا) হলো 'ইন' (إن) এবং 'লা' (لا)—এই দুটি হরফের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগিক শব্দ। সুতরাং যখন এটি দ্বারা নসব (نصب) প্রদান করা হয় এবং বলা হয় "দলটি এসেছে যায়েদ ব্যতীত", তখন তাঁর মতে নসব প্রদানকারী হলো 'ইন' (إن) আর 'লা' (لا) হলো নিস্ক্রিয় (ملغاة); যেন তিনি বলছেন: "দলটি দাঁড়িয়েছে, নিশ্চয়ই যায়েদ না।"
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
أي لم يقم فقيل له فأين الخبر فقال اكتفي بالخلاف من الخبر وذلك أن ما بعد إلا مخالف أبدا لما قبلها وإذا رفع بها، فقال قام القوم إلا زيدا فالرافع عنده لا وإن ملغاة كأنه قال: قام القوم لا زيد وهذا تحكم منه وإلغاء إن، وقد بدء بها مالا يعقل في كلام العرب ولا يعرف له نظير وذلك أن العرب قد أجمعوا على أن الملغى لا ويبتدأ به ولا يجوز أن تقول ظننت زيد منطلق على إلغاء الظن، وقد بدأت به، وكذلك موقع إن في إلا إن كانت كما زعم مركبة من حرفين فإلغاؤها غير جائز والرفع بها خطأ لتقدم إن وإجماع العرب والنحويين على إجازة: ما قام القوم إلا زيد، وقول الله تعالى: (مَّا فَعَلُوهُ إِلَاّ قَلِيلٌ مِّنْهُمْ) ، فالرفع يدل على فساد ما ذهب إليه الفراء، وقد أجاز الفراء أيضا الرفع بعد إلا في الموجب
অর্থাৎ তিনি দাঁড়াননি। ফলে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তাহলে সংবাদ (خبر) কোথায়? তিনি বললেন, সংবাদের পরিবর্তে আমি বৈসাদৃশ্য (خلاف) নিয়েই সন্তুষ্ট থাকলাম। আর তা এই কারণে যে, 'ইল্লা' এর পরবর্তী অংশ সর্বদা তার পূর্ববর্তী অংশের বিপরীত হয়ে থাকে। যখন এর মাধ্যমে রফ (رفع) করা হয়, যেমন তিনি বলেন: "দলটি দাঁড়াল জায়েদ ব্যতীত", তখন তার নিকট রফ প্রদানকারী (رافع) হলো 'লা' এবং এখানে 'ইন' শব্দটি কার্যকারিতাহীন (ملغاة); যেন তিনি বলতে চেয়েছেন: "দলটি দাঁড়িয়েছে, জায়েদ নয়"। এটি তার পক্ষ থেকে একটি স্বেচ্ছাচারিতা (تحكم) এবং 'ইন' এর কার্যকারিতা বিলোপ করা। তিনি এমন এক প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন যা আরবদের ভাষায় বোধগম্য নয় এবং এর কোনো নজিরও জানা নেই। কারণ, আরবরা এই বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন যে, যা কার্যকারিতাহীন (ملغى), তা দিয়ে বাক্য শুরু করা যায় না। আপনি এটি বলতে পারেন না যে, "আমি ধারণা করলাম জায়েদ প্রস্থানকারী" যেখানে 'ধারণা' ক্রিয়াটিকে শুরুতেই কার্যকারিতাহীন ধরা হয়েছে। অনুরূপভাবে 'ইল্লা' এর মধ্যে 'ইন' এর অবস্থানও একই; যদি এটি তার দাবি অনুযায়ী দুটি বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত হয়ে থাকে, তবে এর কার্যকারিতা লোপ করা বৈধ নয় এবং 'ইন' আগে আসার কারণে এর মাধ্যমে রফ (رفع) করা ভুল। এছাড়া আরব এবং বৈয়াকরণদের ঐকমত্য (إجماع) রয়েছে এই বাক্যটির বৈধতার ওপর: "লোকেরা দাঁড়ায়নি জায়েদ ব্যতীত"। আর মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের মধ্য থেকে অল্প সংখ্যক লোক ব্যতীত তারা তা করেনি"। এখানে রফ (رفع) হওয়া আল-ফাররার মতবাদের অসারতা (فساد) প্রমাণ করে। আল-ফাররা ইতিবাচক (موجব) বাক্যেও 'ইল্লা' এর পরে রফ (رفع) করা বৈধ বলে গণ্য করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৪০)
فأجاز: قام القوم إلا زيدٌ، وانطلق أصحابك إلا بكرا قال: أرفعه على إلغاء إن والعطف بلا، وقد بينت لك فساد هذا الوجه وهو لحن عند البصريين، وقد استعمله كثير من الشعراء المحدثين وكثيرا ما نراه في شعر أبي نواس ومن هو في طبقته وأحسبهم تأولوا هذا المذهب.
وأما كلا فهي أيضا حرف واحد واللام فيها مكررة مشددة وهي ردع وزجر، فهذه مواقع اللامات الأصلية في الأسماء والأفعال والحروف ومهما ورد منها مما لم نذكره فلن يخرج عن قياس ما أصَّلناه فتدبره، فإنه راجع إليه إن شاء الله
সুতরাং তিনি বৈধ গণ্য করেছেন: ‘দলটি দাঁড়িয়েছে জায়েদ ব্যতীত’ এবং ‘তোমার সঙ্গীরা চলে গেছে বকর ব্যতীত’। তিনি বলেন: আমি একে ‘ইন্না’-এর কার্যকারিতা রহিত করা এবং ‘লা’ দ্বারা আতফ (সংযোজন) করার ভিত্তিতে মারফু (مرفوع) হিসেবে পড়ি। আমি ইতিপূর্বেই আপনার নিকট এই পদ্ধতির অসারতা বর্ণনা করেছি এবং বসরীয় ব্যাকরণবিদদের নিকট এটি একটি ভাষাগত ভুল। অনেক আধুনিক কবি এটি ব্যবহার করেছেন এবং আবু নুওয়াস ও যারা তার সমপর্যায়ের স্তরভুক্ত (طبقة), তাদের কাব্যে আমরা প্রায়শই এটি লক্ষ্য করি। আমার ধারণা, তারা এই মতবাদের ভিন্ন ব্যাখ্যা গ্রহণ করেছেন।
আর ‘কাল্লা’ প্রসঙ্গে, এটিও একটি একক অব্যয় এবং এতে ‘লাম’ বর্ণটি দ্বিত্ব ও তাশদীদযুক্ত। এটি মূলত ধমক ও সতর্কীকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এগুলোই হলো বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয়ের মধ্যে মূল ‘লাম’ বর্ণসমূহের অবস্থান। আমরা যা উল্লেখ করিনি এর বাইরেও যা কিছু বর্ণিত হবে, তা আমাদের প্রতিষ্ঠিত মূলনীতির (قياس) বাইরে যাবে না। সুতরাং এটি নিয়ে নিবিড়ভাবে চিন্তা করুন, কেননা ইনশাআল্লাহ এটি সেই মূলনীতির দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৪১)
لام التعريفاعلم أن الألف واللام اللتين للتعريف وكذلك قولك: الرجل والغلام والثوب والفرس وما أشبه ذلك، للعلماء فيها مذهبان: أما الخليل فيذهب إلى أن الألف واللام كلمة واحدة مبنية من حرفين بمنزلة من ولم وإن وما أشبه ذلك، فيجعل الألف أصلية من بناء الكلمة بمنزلة الألف في إن وأن واستدل على ذلك بقول الشاعر:
دع ذا وعجل ذا وألحقنا بذل
… بالشحم إنا قد مللناه بجل
قال: أراد أن يقول ألحقنا بالشحم فلم تستقم له القافية فأتى باللام ثم ذكر الألف مع اللام في ابتداء البيت الثاني فقال الشحم فدل ذلك على أن الألف من بناء الكلمة قال: وهو بمنزلة قول الرجل إذا تذكر شيئا قدي ثم يقول قد كان كذا وكذا فيرد قد عند ذكر ما نسيه فهذا مذهب الخليل واحتجاجه؛ وأما غيره من علماء البصريين والكوفيين فيذهبون إلى أن اللام للتعريف وحدها وأن الألف زيدت قبلها ليوصل إلى النطق باللام لما سكنت لأن الابتداء بالساكن ممتنع في الفطرة كما أن الوقف على متحرك ممتنع،
লাম আত-তারিফজেনে রাখুন যে, নির্দিষ্টকরণের জন্য ব্যবহৃত আলিফ এবং লাম, এবং আপনার উক্তি: আর-রাজুল, আল-গুলাম, আস-সাওব, আল-ফারাস এবং এই জাতীয় শব্দগুলোর ক্ষেত্রে বিদ্বানগণের দুটি অভিমত রয়েছে। আল-খলীল মনে করেন যে, আলিফ এবং লাম হলো দুটি বর্ণ দ্বারা গঠিত একটি একক শব্দ, যা ‘মিন’, ‘লাম’, ‘ইন’ এবং এই জাতীয় শব্দগুলোর সমপর্যায়ের। তিনি আলিফকে শব্দের মূল গঠনের অংশ হিসেবে গণ্য করেন, যেমনটি ‘ইন্না’ এবং ‘আন্না’ শব্দের আলিফ। তিনি কবির এই উক্তি দ্বারা এর সপক্ষে প্রমাণ পেশ করেছেন:
এটি বর্জন করো ও ওটি দ্রুত করো এবং আমাদের ‘ল’-এর সাথে যুক্ত করো
… চর্বির সাথে, নিশ্চয়ই আমরা এতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, যথেষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন: কবি চেয়েছিলেন বলতে ‘আমাদের চর্বির (আশ-শাহম) সাথে যুক্ত করো’, কিন্তু তার ছন্দের অন্ত্যমিল না মেলায় তিনি কেবল ‘লাম’ নিয়ে এসেছেন। এরপর দ্বিতীয় চরণের শুরুতে লামের সাথে আলিফ উল্লেখ করে বললেন ‘আশ-শাহম’। এটি প্রমাণ করে যে, আলিফ শব্দের মূল কাঠামোর অংশ। তিনি বলেন: এটি সেই ব্যক্তির ন্যায় যে কোনো কিছু স্মরণ করার সময় বলে ‘ক্বাদি...’ এবং এরপর বলে ‘ক্বাদ’ এমন এমন হয়েছিল; অর্থাৎ যা সে ভুলে গিয়েছিল তা উল্লেখ করার সময় সে ‘ক্বাদ’ শব্দটি পুনরায় ফিরিয়ে আনে। এটিই হলো আল-খলীলের মাযহাব এবং তার যুক্তি। অন্যদিকে বসরা ও কুফার অন্যান্য বিদ্বানগণ মনে করেন যে, কেবল ‘লাম’-ই নির্দিষ্টকরণের জন্য এবং এর আগে আলিফটি অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে যাতে সুকুনযুক্ত লামের উচ্চারণ সম্ভব হয়। কারণ প্রকৃতিগতভাবেই সাকিন বা সুকুনযুক্ত বর্ণ দিয়ে কথা শুরু করা অসম্ভব, যেমনটি হরকতযুক্ত বর্ণের ওপর থামা অসম্ভব।
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৪২)
والقول ما ذهب إليه العلماء ومذهب الخليل فيما ذكره ضعيف والدليل على صحة قول الجماعة وفساد قول الخليل هو أن اللام قد وجدت في غير هذا الموضع وحدها تدل على المعاني نحو لام الملك، ولام القسم، ولام الاستحقاق، ولام الأمر وسائر اللامات التي عددناها في أول الكتاب، ولم توجد ألف الوصل في شيء من كلام العرب تدل على معنى ولا وجدت ألف الوصل في شيء من كلام العرب تكون من أصل الكلمة في اسم ولا فعل ولا حرف فيكون هذا ملحقا به، وكيف تكون ألف الوصل من أصل الكلمة، وقد سميت وصلا؟ ومع ذلك، فإن الخليل نفسه قال: إنما سميت ألف الوصل بهذا الاسم لأنها وصلة للسان إلى النطق بالساكن، وقال غيره إنما سميت ألف الوصل لاتصال ما قبلها بما بعدها في وصل الكلام وسقوطها منه فقد بان لك مذهب الخليل واحتجاجه ومذهب العلماء واحتجاجهم، ونقول في هذا الفصل ما قاله المازني قال: إذا قال العالم المتقدم قولا فسبيل من بعده أن يحكيه وإن رأى فيه خللا أبان عنه ودل على الصواب ويكون الناظر في ذلك مخيرا في اعتقاد أي المذهبين بان له فيه الحق، فإن قال قائل: فلم وجب سكون لام المعرفة عندكم، وقد زعمتم أنها حرف دال على معنى بنفسه؟ قيل له أما دلالته على المعنى بنفسه مفردا من غير الألف التي قبلها فليست زعما بل هي حقيقة، توجد ضرورة لأنا إذا قلنا: قام القوم وخرج الغلام وما أشبه ذلك، في جميع الكلام سقطت الألف من اللفظ لوصول الكلام ودلت اللام على التعريف ولو كانت الألف من بناء الكلمة لأخل معناها بسقوطها؛ وأما سكونها فإن ما وجب ذلك لأن اللامات التي تقع أوائل الكلم غيرها ذهبت بالحركات فذهبت لام الابتداء، ولام المضمر
সঠিক অভিমত হলো ওলামায়ে কেরাম যেটির দিকে গিয়েছেন। খলিল যা উল্লেখ করেছেন সে ক্ষেত্রে তার অভিমতটি দুর্বল (ضعيف)। জুমহুর বা অধিকাংশের মতের বিশুদ্ধতা (صحة) এবং খলিলের মতের অসারতার প্রমাণ হলো, এই স্থান ব্যতীত অন্য জায়গায় ‘লাম’ একা বসে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে; যেমন—মালিকানাসূচক ‘লাম’, শপথের ‘লাম’, যোগ্যতাসূচক ‘লাম’, আদেশসূচক ‘লাম’ এবং কিতাবের শুরুতে আমরা যে সকল ‘লাম’ গণনা করেছি। অথচ আরবদের কালামে এমন কোনো ‘আলিফ আল-ওয়াসল’ পাওয়া যায় না যা স্বতন্ত্রভাবে কোনো অর্থ প্রকাশ করে। এমনকি আরবদের কালামে এমন কোনো ‘আলিফ আল-ওয়াসল’ নেই যা কোনো ইসম (বিশেষ্য), ফে’ল (ক্রিয়া) কিংবা হরফ (অব্যয়)-এর মূল অক্ষরের অংশ হতে পারে, যাতে একে তার সাথে সংযুক্ত করা যায়। আলিফ আল-ওয়াসল কীভাবে মূল অক্ষরের অংশ হতে পারে যেখানে এর নামকরণই করা হয়েছে ‘ওয়াসল’ (সংযুক্তকারী)? তা সত্ত্বেও খলিল নিজেই বলেছেন: এই আলিফকে ‘আলিফ আল-ওয়াসল’ নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি স্থির (সুকুন) অক্ষর উচ্চারণের জন্য জিহ্বার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। অন্যরা বলেছেন: বাক্যের প্রবহমানতায় পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অংশকে সংযুক্ত করার কারণে এবং উচ্চারণে এটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণে একে ‘আলিফ আল-ওয়াসল’ বলা হয়। এতে আপনার নিকট খলিলের মাযহাব ও তার যুক্তি এবং ওলামায়ে কেরামের মাযহাব ও তাদের যুক্তি স্পষ্ট হয়েছে।
এই পরিচ্ছেদে আমরা তা-ই বলব যা আল-মাযিনী বলেছেন। তিনি বলেন: যখন কোনো পূর্ববর্তী আলেম কোনো বক্তব্য প্রদান করেন, তখন পরবর্তী প্রজন্মের দায়িত্ব হলো তা বর্ণনা করা; যদি সেখানে কোনো ত্রুটি দেখতে পান, তবে তা স্পষ্ট করে সঠিক বিষয়টি নির্দেশ করবেন। এমতাবস্থায় বিচারকের এখতিয়ার থাকবে দুটি মাযহাবের মধ্যে যেটিতে সত্য প্রকাশিত হয়েছে তা গ্রহণ করার। যদি কেউ প্রশ্ন করে: আপনাদের নিকট ‘লাম আল-মা’রিফা’ (নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক লাম) কেন সুকুন হওয়া আবশ্যক হলো, অথচ আপনারা দাবি করেছেন যে এটি নিজেই অর্থ প্রকাশকারী একটি হরফ? তাকে বলা হবে: পূর্ববর্তী আলিফ ব্যতীত এটি স্বতন্ত্রভাবে অর্থ নির্দেশ করে—এটি কোনো দাবি নয় বরং এক বাস্তবতা, যা অনিবার্যভাবে প্রমাণিত। কেননা আমরা যখন বলি ‘কামাল কাওমু’ এবং ‘খারাজাল গুলামু’ ও এই জাতীয় বাক্য, তখন বাক্যের ধারাবাহিকতায় আলিফটি উচ্চারণ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং ‘লাম’টি নির্দিষ্টতা প্রকাশ করে। যদি আলিফটি শব্দের মূল কাঠামোর অংশ হতো, তবে তা বিলুপ্ত হওয়ার ফলে অর্থের বিঘ্ন ঘটত। আর ‘লাম’টি সুকুন হওয়ার কারণ হলো, শব্দের শুরুতে বসা অন্যান্য ‘লাম’গুলো হরকত (স্বরচিহ্ন) গ্রহণ করে নিয়েছে; যেমন—প্রারম্ভিক ‘লাম’ এবং সর্বনামের ‘লাম’ ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
بالفتح، ولام الأمر، ولام كي بالكسر ولم يبق غير الضم أو السكون فاستثقل في لام التعريف الضم لأنها كثيرة الدور في كلام العرب داخلة على كل اسم منكور يراد تعريفه وليس كذلك سائر اللامات لأن لكل واحد منها موقعا معروفا ومع ذلك، فإنها قد تدخل على مثل إبل وإطل فلو كانت مضمومة لثقل عليهم الخروج من ضم إلى كسرتين، وقد تدخل على مثل حلم وعنق فكان يثقل عليهم الجمع بين ثلاث ضمات لو كانت مضمومة ولو كانت مكسورة لثقل عليهم الخروج من كسر إلى ضمتين ألا ترى أنه ليس في كلامهم مثل فعل بكسر الفاء وضم العين استثقالا للخروج من الكسر إلى الضم ولو كانت مفتوحة أشبهت لام التوكيد والابتداء والقسم فلما لم يكن تحريكها بإحدى هذه الحركات لما ذكرنا ألزمت السكون وأدخلت عليها ألف الوصل كما فعل ذلك في الأسماء والأفعال إذا سكنت أوائلها وهذا بين واضح.
واعلم أن هذه الألف واللام التي للتعريف قد تدخل في الكلام على ضروب: فمنها أن تعرف الاسم على معنى العهد كقولك: جاءني الرجل، فإن ما تخاطب بهذا من بينك وبينه عهد برجل تشير إليه لولا ذلك لم تقل جاءني الرجل ولكنت تقول جاءني رجل، وكذلك قولك: مر بي الغلام وركبت الفرس واشتريت الثوب وما أشبه ذلك إنما صار معرفة لإشارتك بهذه الألف واللام إلى العهد الذي بينك وبين مخاطبك فيما دخلت عليه هذه الألف واللام، وقد تدخل لتعريف الجنس وذلك أن تدخل على اسم واحد من جنس فتكون تعريفا لجميعه لا لواحد منه بعينه وذلك قولهم قد كثر الدرهم
জবর (فتح), নির্দেশসূচক লাম (لام الأمر) এবং কারণজ্ঞাপক লাম (لام كي) যের (كسر) বিশিষ্ট হওয়ার পর পেশ (ضم) বা সাকিন (সكون) ব্যতিরেকে আর কোনো বিকল্প অবশিষ্ট থাকে না। পরিচয়জ্ঞাপক লাম (لام التعريف)-এর ক্ষেত্রে পেশ (ضم) প্রদান করাকে কষ্টকর বিবেচনা করা হয়েছে; কারণ আরবি ভাষায় এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে এবং এটি এমন প্রতিটি অনির্দিষ্ট (منكور) বিশেষ্যের শুরুতে যুক্ত হয় যাকে নির্দিষ্ট (تعريفه) করার ইচ্ছা করা হয়। অন্যান্য লাম-এর বিষয়টি এমন নয়, কারণ সেগুলোর প্রত্যেকটির ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্র রয়েছে। তদুপরি, এই লাম কখনও ‘ইবিল’ এবং ‘ইতল’-এর মতো শব্দের ওপর দাখিল হয়; ফলে এটি যদি পেশ (ضم) যুক্ত হতো, তবে পেশ (ضم) থেকে পরপর দুইটি যের (كسرة)-এর দিকে গমনে তাদের জন্য অত্যন্ত ভারী বা দুরূহ হয়ে পড়ত। আবার এটি কখনও ‘হুলুম’ এবং ‘উনুক’-এর মতো শব্দের ওপরও যুক্ত হয়; এমতাবস্থায় এটি পেশ (ضم) যুক্ত হলে তাদের জন্য তিনটি পেশ (ضم)-এর একত্রীকরণ কষ্টসাধ্য হতো। যদি এটি যের (كسر) যুক্ত হতো, তবে তাদের জন্য যের (كسر) থেকে দুইটি পেশ (ضم)-এর দিকে যাওয়া কঠিন হতো। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, তাদের ভাষায় ‘ফাউলা’ (فعل) অর্থাৎ ফা বর্ণের যের (بكسر الفاء) এবং আইন বর্ণের পেশ (وضم العين) বিশিষ্ট কোনো শব্দ নেই? মূলত যের (كسر) থেকে পেশ (ضم)-এর দিকে গমনের কাঠিন্যের কারণেই তারা এমনটি করে থাকে। আর যদি এটি জবর (فتح) যুক্ত হতো, তবে তা গুরুত্ব প্রদানকারী লাম (لام التوكيد), প্রারম্ভিক লাম (لام الابتداء) এবং শপথের লাম (لام القسم)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে যেত। যখন আমরা উল্লেখ করেছি যে উক্ত কারণসমূহের প্রেক্ষিতে একে এই হরকতগুলোর কোনোটি দ্বারা বিশিষ্ট করা সম্ভব হয়নি, তখন একে সাকিন (سكون) করা অপরিহার্য করা হয় এবং এর শুরুতে সংযোগকারী আলিফ (ألف الوصل) যুক্ত করা হয়, যেমনটি বিশেষ্য এবং ক্রিয়ার ক্ষেত্রে করা হয় যখন সেগুলোর প্রথম বর্ণ সাকিন (سكون) হয়। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও পরিষ্কার।
জেনে রাখুন যে, এই পরিচয়জ্ঞাপক আলিফ এবং লাম (الألف واللام) কথাবার্তায় বিভিন্ন প্রকারে ব্যবহৃত হতে পারে: তার মধ্যে একটি হলো কোনো বিশেষ্যকে পূর্ব-পরিচিতির (العهد) ভিত্তিতে নির্দিষ্ট (تعرف) করা। যেমন আপনার উক্তি: "ব্যক্তিটি (الرجل) আমার নিকট এসেছে।" কেননা আপনি যার সাথে কথা বলছেন, তার এবং আপনার মাঝে কোনো এক ব্যক্তি সম্পর্কে পূর্ব-পরিচিতি (عهد) রয়েছে যার দিকে আপনি ইঙ্গিত করছেন। এটি না থাকলে আপনি "ব্যক্তিটি আমার নিকট এসেছে" না বলে বলতেন "একজন ব্যক্তি (رجل) আমার নিকট এসেছে"। অনুরূপভাবে আপনার উক্তি: "ভৃত্যটি (الغلام) আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করল", "আমি ঘোড়াটিতে (الفرস) আরোহণ করলাম" এবং "আমি কাপড়টি (الثوب) ক্রয় করলাম" ইত্যাদি। এই শব্দগুলো নির্দিষ্ট (معرفة) হওয়ার কারণ হলো, এই আলিফ এবং লাম ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি এবং আপনার সম্বোধিত ব্যক্তির মধ্যে বিদ্যমান সেই পূর্ব-পরিচিতির (العهد) দিকে ইঙ্গিত করেছেন যার ওপর এই আলিফ ও লাম দাখিল হয়েছে। এটি কখনও জাতি বা শ্রেণী (الجنس) পরিচয়ের জন্যও ব্যবহৃত হয়; অর্থাৎ এটি কোনো একটি শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত একটি বিশেষ্যের ওপর দাখিল হয় এবং এর মাধ্যমে ওই শ্রেণীর কোনো নির্দিষ্ট এককে না বুঝিয়ে বরং সামগ্রিকভাবে পুরো শ্রেণীটিকে নির্দিষ্ট (تعريفا) করে। যেমন তাদের উক্তি: "মুদ্রার (الدرهم) প্রাচুর্য ঘটেছে।"
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
والدينار في أيدي الناس لا يراد به تعريف درهم بعينه ولا دينار بعينه وإنما يراد به الجنس، ومن ذلك قولك المؤمن أفضل من الكافر لست تريد مؤمنا بعينه وإنما تريد تفضيل جنس المؤمنين على الكافرين، ومن ذلك قولهم الرجل أفضل من المرأة ومنه قولهم قد أيسر فلان فصار يشتري الفرس العتيق والغلام الفاره والخادمة الحسناء ولا يراد به الواحد من الجنس وإنما يراد ما كان من هذا الجنس، ومن ذلك قولهم هذا الصياد شقيا وهذا الأسد مخوفا لا يراد أسد بعينه ولا صائد بعينه وإنما يراد ما كان من هذا الجنس، وقد تدخل لضرب ثالث من التعريف وذلك أن تدخل عل نعت مخصوص مقرون بمنعوت ثم لا يطرد إدخالها على من كان بتلك الصفة مطلقا إلا معلقا بما يخرجه عن العموم والأشكال وذلك قولهم المؤمن والكافر والفاسق والمنافق والفاجر وما أشبه ذلك من الصفات الشرعية ألا ترى أن اشتقاق المؤمن من التصديق ولا تقع هذه الصفة معرفة بالألف واللام إلا على المؤمنين بالله عز وجل والنبي وشرائعه ولا تقول لمن صدق بخبر من الأخبار أو بشيء من الأشياء وهو مخالف لهذه الشريعة المؤمن مطلقا حتى تقول مؤمن بكذا وكذا، وكذلك الكافر أصله من الستر كل من ستر شيئا فقد كفره ثم صار صفة تقع معرفة بالألف والام على من خالف الإسلام فلا تقول لمن ستر شيئا بعينه قد جاء الكافر أو رأيت الكافر حتى تقرنه بما يخرجه من الأشكال فتقول قد جاءنا الكافر للثوب وما أشبه ذلك فأما منكورا أو موصولا بما يبينه فجائز استعماله ألا ترى أنالله عز وجل، لما ذكره معرفا بالألف واللام وصله بصفة توضحه وتبينه، فقال عز وجل: (كَمَثَلِ غَيْثٍ
মানুষের হাতে থাকা 'দিনার' বলতে কোনো নির্দিষ্ট দিরহাম বা নির্দিষ্ট দিনারকে বোঝানো হয় না, বরং এর দ্বারা এর সাধারণ শ্রেণী (جنس)-কে বোঝানো হয়। এর উদাহরণ হলো আপনার এই কথাটি: 'মুমিন (مؤمن) কাফের (كافر) অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ'। এখানে আপনি কোনো নির্দিষ্ট মুমিনকে বোঝাচ্ছেন না, বরং আপনি কাফেরদের শ্রেণীর ওপর মুমিনদের সাধারণ শ্রেণী (جنس)-এর শ্রেষ্ঠত্ব বোঝাতে চাচ্ছেন। এর আরেকটি উদাহরণ হলো তাদের এই কথা: 'পুরুষ নারীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ'। তদ্রূপ আরও বলা হয়: 'অমুক ব্যক্তি সচ্ছল হয়েছে, তাই সে এখন অভিজাত ঘোড়া, চতুর বালক এবং রূপবতী দাসী ক্রয় করে থাকে'। এখানে এই শ্রেণীর কোনো একটি নির্দিষ্ট সত্তাকে বোঝানো হয় না, বরং যা কিছু এই সাধারণ শ্রেণীর (جنس) অন্তর্ভুক্ত তাকেই বোঝানো হয়। তদ্রূপ তাদের এই কথা: 'এই শিকারিটি দুর্ভাগা' এবং 'এই সিংহটি ভয়ংকর'। এখানে কোনো নির্দিষ্ট সিংহ বা নির্দিষ্ট শিকারিকে বোঝানো হয় না, বরং যা কিছু এই শ্রেণীর (جنس) অন্তর্গত তাকেই বোঝানো হয়। এটি (আলিফ-লাম) তৃতীয় প্রকারের সংজ্ঞায়নের জন্যও ব্যবহৃত হয়; আর তা হলো যখন এটি কোনো নির্দিষ্ট বিশেষণের ওপর যুক্ত হয় যা একটি বিশেষিত পদের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। অতঃপর সেই গুণসম্পন্ন সকলের ওপর এটি সাধারণভাবে প্রযোজ্য হয় না, যতক্ষণ না একে এমন কিছুর সাথে সম্পৃক্ত করা হয় যা একে ব্যাপকতা ও অস্পষ্টতা থেকে বের করে আনে। যেমন তাদের এই শব্দগুলো: মুমিন (مؤمن), কাফের (كافر), পাপাচারী (فاسق), মুনাফিক (منافق), দুরাচারী (فاجر) এবং শরয়ি গুণাবলীর অনুরূপ পরিভাষাগুলো। আপনি কি দেখছেন না যে, 'মুমিন' (مؤمن) শব্দটি প্রত্যয়ন (تصديق) থেকে উদ্ভূত? আর এই গুণবাচক শব্দটি নির্দিষ্ট (معرفة) করার আলিফ-লাম যোগে কেবলমাত্র মহান আল্লাহ, তাঁর নবী এবং তাঁর শরয়ি বিধানের ওপর বিশ্বাস স্থাপনকারী মুমিনদের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। যে ব্যক্তি কোনো সংবাদের ওপর বা কোনো বিষয়ের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে অথচ সে এই শরয়ি বিধানের বিরোধী, তাকে সাধারণভাবে 'মুমিন' (مؤمن) বলা যায় না, যতক্ষণ না আপনি বলেন সে 'অমুক অমুক বিষয়ে বিশ্বাসী'। একইভাবে 'কাফের' (كافر) শব্দটির মূল অর্থ হলো আবৃত করা; যে ব্যক্তি কোনো কিছু আবৃত করে সে-ই তাকে 'কুফর' করল। পরবর্তীতে এটি এমন একটি গুণে পরিণত হয়েছে যা নির্দিষ্ট (معرفة) করার আলিফ-লাম যোগে ইসলামের বিরোধিতাকারীর ওপর প্রয়োগ করা হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট বস্তু ঢেকে রাখে, তাকে আপনি বলতে পারেন না যে 'কাফের (كافر) এসেছে' বা 'আমি কাফের (كافر)-কে দেখেছি', যতক্ষণ না আপনি এর সাথে এমন কিছু যুক্ত করেন যা অস্পষ্টতা দূর করে। যেমন আপনি বলতে পারেন: 'কাপড় আবৃতকারী আমাদের কাছে এসেছে' বা অনুরূপ কিছু। তবে এটি অনির্দিষ্ট (منكر) হিসেবে অথবা স্পষ্টকারী কোনো বিষয়ের সাথে সংযুক্ত (موصول) অবস্থায় ব্যবহার করা বৈধ। আপনি কি দেখেন না যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা যখন একে নির্দিষ্ট (معرفة) করার আলিফ-লাম যোগে উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি একে এমন গুণের সাথে যুক্ত করেছেন যা একে স্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করে? তিনি বলেন: (বৃষ্টির উপমার মতো...)
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ) ؛ يعني الزراع فبان ذلك بذكر الزرع والنبات ولذلك تعلق بهذه الآية بعض أغبياء الملحدين ممن لا علم له بالعربية فقال وكيف يعجب الزرع الكفار دون المؤمنين وذهب عليه أن المعنى بهم هم الزراع لأنهم به عند استحكامه وجودته أشد فرحا من غيرهم لطول معاناتهم له وكدهم فيه وتأميلهم إياه، وكذلك الفاسق أصله عند جميع أهل العربية من قولهم فسقت الرطبة من قشرها إذا خرجت منه ولا تطلق هذه الصفة معرفة بالألف واللام على كل خارج من غشاء وغطاء وستر كان فيه وكان قطرب وحده يذهب إلى أن اشتقاق الفاسق من الاتساع وذكر أن العرب تقول تفسق الرجل في أمره إذا اتسع فيه قال: فكأن الفاسق قد وسع على نفسه من مذاهب الدين ما يحرج فيه غيره فيضيقه على نفسه توقيا للمآثم ولا يجوز على هذا التأويل أيضا إطلاقه معرفا بالألف واللام على كل من توسع في حال من الأحوال، ومن هذا النوع الطبيب والفقيه والشاعر لأنها وإن كانت صفات مشتقات فلا تطلق معرفة بالألف واللام إلا مخصوصة لمن وضعت له اتفاقا،
(উদ্ভিদসমূহ কাফিরদের মুগ্ধ করে); অর্থাৎ এখানে কৃষকদের বুঝানো হয়েছে, যা শস্য ও উদ্ভিদের বর্ণনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। আর এ কারণেই আরবি ভাষায় জ্ঞানহীন কিছু নির্বোধ নাস্তিক এই আয়াতের সাথে সংশয় জড়িয়ে বলেছে যে, কীভাবে শস্য কেবল কাফিরদের মুগ্ধ করবে, মুমিনদের নয়? সে বিষয়টি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে যে, এখানে তাদের দ্বারা কৃষকগণকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে; কারণ শস্য যখন পরিপক্ক ও গুণগতভাবে উৎকৃষ্ট হয়, তখন দীর্ঘ পরিশ্রম, কঠোর মেহনত এবং প্রত্যাশার কারণে কৃষকরাই অন্যদের তুলনায় অধিক আনন্দিত হয়। একইভাবে, সকল আরবি ভাষাবিদের মতে পাপাচারী (فاسق) শব্দের মূল ভিত্তি হলো তাদের এই উক্তি থেকে যে, 'খেজুর তার খোসা থেকে বেরিয়ে এসেছে' যখন তা আবরণ থেকে বের হয়ে যায়। তবে এই গুণবাচক শব্দটি 'আলিফ-লাম' যুক্ত হয়ে নির্দিষ্টভাবে এমন প্রত্যেক সত্তার ওপর প্রয়োগ হয় না, যে কোনো আবরণ, আচ্ছাদন বা পর্দা থেকে বেরিয়ে আসে। কেবল কুতরুব এককভাবে মনে করতেন যে, পাপাচারী (فاسق) শব্দের বুৎপত্তি হয়েছে 'প্রশস্ততা' থেকে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আরবরা বলে থাকে 'ব্যক্তিটি তার বিষয়ে প্রশস্ততা অবলম্বন করেছে' যখন সে তাতে বিস্তৃতি লাভ করে। তিনি বলেন: যেন পাপাচারী (فاسق) ধর্মের পথসমূহের মধ্যে নিজের জন্য এমন প্রশস্ততা তৈরি করে নিয়েছে, যা অন্য কেউ পাপ থেকে বাঁচার জন্য নিজের ওপর সংকীর্ণ বা কঠোর করে নিয়েছিল। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ীও, কোনো অবস্থায় প্রশস্ততা অবলম্বনকারী প্রত্যেকের ক্ষেত্রে 'আলিফ-লাম' যোগ করে এই শব্দটির প্রয়োগ বৈধ নয়। এই প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত হলো চিকিৎসক, ফকিহ (فقيه) এবং কবি; কারণ এগুলি যদিও বুৎপত্তিগত গুণবাচক শব্দ, তবুও পারিভাষিক ঐকমত্য অনুযায়ী এগুলি নির্দিষ্টভাবে যাদের জন্য নির্ধারিত, তাদের ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে 'আলিফ-লাম' যোগে ব্যবহৃত হয় না।
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
وقد تدخل الألف واللام للتعريف في ضرب رابع وهو أن تدخل على صفات شهر بها قوم حتى صارت تنوب عن أسمائهم ثم غلبت عليهم فعرفوا بها دون أسمائهم كقوله: م الفضل والحارث والعباس والقاسم وما أشبه ذلك هكذا كانت في الأصل نعوتا غلبت فعرف بها أصحابها ثم نقلت فسمي بها بعد ذلك قال سيبويه فمن قال: حارث وعباس وفضل فهن عنده بمنزلة زيد وجعفر ومحمد وبكر أسماء أعلام لا يجوز إدخال الألف واللام عليها ومن قال: الحارث والعباس والفضل، فإن ما نقلها من النعوت المشهورة فسمى بها، فإن نادى مناد الحارث والعباس والفضل أسقط منها الألف واللام ورجع إلى اللغة الأخرى فقال: يا حارث ويا عباس وأهل الكوفة يسمون الألف واللام في الحارث والعباس والفضل تبجيلا لأنها الألف واللام الداخلة للتعريف والتبجيل، وقد تدخل الألف واللام للتعريف على ضرب خامس وذلك أن تدخلا على نعت مخصوص وقع لواحد بعينه مشتقا ثم لم يستعمل في جنسه
ولا فيما شاركه في تلك الصفة ولا نقل إلى غيره فسمي به وذلك نحو قولهم:
নির্দিষ্টকরণের (تعريف) জন্য আলিফ এবং লাম চতুর্থ একটি প্রকারেও যুক্ত হতে পারে; আর তা হলো এমন কিছু গুণবাচক বিশেষণের (صفات) ওপর তা যুক্ত হওয়া যার মাধ্যমে একদল লোক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, এমনকি সেই গুণগুলোই তাদের নামের স্থলাভিষিক্ত হয়ে পড়েছে। অতঃপর তা তাদের ওপর এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে যে তারা তাদের মূল নাম বাদ দিয়ে এই গুণগুলোর মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করেছেন। যেমন: আল-ফজল, আল-হারিস, আল-আব্বাস, আল-কাসিম এবং এই জাতীয় নামসমূহ। মূলত এগুলো ছিল গুণবাচক বিশেষণ (نعوت) যা পরবর্তীতে প্রভাব বিস্তার করে এবং এর মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিচিতি লাভ করেন; পরবর্তীতে এগুলোকে স্থানান্তর করা হয় এবং এগুলো দ্বারাই নামকরণ করা হতে থাকে। সিবওয়াইহ বলেছেন: যারা হারিস, আব্বাস এবং ফজল বলেন, তাদের নিকট এগুলো জায়েদ, জাফর, মুহাম্মাদ এবং বকর-এর ন্যায় বিশেষ্য বা নির্দিষ্ট নাম (أسماء أعلام) হিসেবে গণ্য, যেগুলোর শুরুতে আলিফ ও লাম যুক্ত করা জায়েজ নয়। আর যারা আল-হারিস, আল-আব্বাস এবং আল-ফজল বলেন, তারা মূলত এগুলোকে সেই প্রসিদ্ধ গুণবাচক বিশেষণ (نعوت) থেকেই স্থানান্তর করে নামকরণ করেছেন। যদি কোনো আহ্বানকারী আল-হারিস, আল-আব্বাস এবং আল-ফজল-কে সম্বোধন করে, তবে সে আলিফ ও লাম বিলুপ্ত করে অপর ভাষাগত রীতিতে ফিরে যায় এবং বলে: হে হারিস এবং হে আব্বাস। কুফাবাসীরা আল-হারিস, আল-আব্বাস এবং আল-ফজল-এর আলিফ ও লাম-কে সম্মান প্রদর্শনের (تبجيل) জন্য বলে গণ্য করেন; কারণ এগুলো নির্দিষ্টকরণ (تعريف) এবং সম্মান প্রদর্শনের (تبجيل) উদ্দেশ্যে যুক্ত হয়েছে। নির্দিষ্টকরণের (تعريف) জন্য আলিফ এবং লাম পঞ্চম আর একটি প্রকারেও যুক্ত হতে পারে; আর তা হলো এমন এক বিশেষ গুণবাচক বিশেষণের (نعت) ওপর আলিফ-লাম যুক্ত হওয়া যা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে ব্যুৎপন্ন (مشتق) শব্দ হিসেবে প্রযোজ্য হয়েছে, অতঃপর তা সেই জাতীয় অন্য কারো ক্ষেত্রে বা সেই গুণে অংশীদার কারো ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়নি, কিংবা অন্য কারো নামকরণের উদ্দেশ্যেও তা স্থানান্তরিত হয়নি। যেমন তাদের উক্তি:
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
الدبران للنجم إنما سمي بذلك لأنه دبر أي صار في دبر الكوكب التالي له، وكذلك السماك للنجم المعروف وإنما سمي بذلك لسموكه أي ارتفاعه، وكذلك قال سيبويه: ولا يجوز ان يقال لغيره من الأشياء المرتفعة السماك كائنا ما كان، وكذلك قولهم ابن الصعق إنما هي صفة لرجل بعينه أصابه ذلك ثم لم تنقل ولم يسم بها كما فعل بالحارث والعباس والفضل فسمي بها فهذا الفرق بين ما ذكرناه من هذا الباب وبين الحارث والعباس والفرق بينه وبين الفاسق وما ذكر معهما أن ذلك يطرد منكورا في جنسه وهذا لا يطرد ومن قولهم في هذا الباب الثريا للكواكب المجتمعة المعروفة بعينها وإنما هي تصغير ثروى وهي فعلى من الثروة وهي الكثرة ولا يطلق هذا اللفظ مصغرا معرفا بالألف واللام لما كثر من الأشياء غيرها، ومن ذلك قول العرب النجم إذا ذكروه هكذا معرفا بالألف واللام غير متصل بشيء، فإن ما
নক্ষত্রের ক্ষেত্রে ‘আদ-দাবারান’ (الدبران)-এর নামকরণ এই কারণেই করা হয়েছে যে, এটি তার পরবর্তী নক্ষত্রের পশ্চাতে (دبر) অবস্থান করে। একইভাবে সুপরিচিত নক্ষত্র ‘আস-সিমাক’ (السماك)-এর নামকরণ করা হয়েছে এর উচ্চতার (سموك) কারণে। সিবওয়াইহ বলেছেন: ‘আস-সিমাক’ ব্যতীত অন্য কোনো উঁচু বস্তুর ক্ষেত্রে এই শব্দ ব্যবহার করা বৈধ নয়, তা সে যা-ই হোক না কেন। অনুরূপভাবে তাদের উক্তি ‘ইবনে আস-সাইক’ (ابن الصعق) মূলত একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিশেষণ ছিল যাকে সেই আপদ স্পর্শ করেছিল; অতঃপর এটি আর স্থানান্তরিত হয়নি এবং নাম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়নি—যেমনটি আল-হারিস (الحارث), আল-আব্বাস (العباس) ও আল-ফাদল (الفضل)-এর ক্ষেত্রে করা হয়েছে এবং সেগুলো নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং, এই অধ্যায়ে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সাথে আল-হারিস ও আল-আব্বাস-এর পার্থক্য এটাই। আর এর সাথে ‘পাপাচারী’ (الفاسق) এবং তদ্রূপ শব্দগুলোর পার্থক্য হলো এই যে, ‘পাপাচারী’ শব্দটি স্বগোত্রীয় সবার ক্ষেত্রে অনির্দিষ্টভাবে সাধারণভাবে প্রয়োগ করা যায়, কিন্তু আলোচ্য শব্দগুলো সেভাবে হয় না। এই অধ্যায়ে তাদের উক্তির অন্তর্ভুক্ত হলো ‘আস-সুরাইয়া’ (الثريا), যা নির্দিষ্ট একগুচ্ছ নক্ষত্রের নাম; এটি মূলত ‘সুরওয়া’ (ثروى) শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ (تصغير), যা ‘সারওয়াহ’ (الثروة) তথা প্রাচুর্য থেকে ‘ফাল’আ’ (فعلى) ওজনে গঠিত। প্রাচুর্যপূর্ণ অন্য কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে ‘আল’ যুক্ত নির্দিষ্ট অবস্থায় এই ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দটি ব্যবহৃত হয় না। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আরবদের উক্তি ‘আন-নাজম’ (النجم), যখন তারা কোনো কিছুর সাথে যুক্ত না করে কেবল ‘আল’ যোগে নির্দিষ্টভাবে এটি উল্লেখ করে; তখন...
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
يريدون به الثريا بعينها فيقولون غاب النجم وطلع النجم هكذا يقول أكثر أهل اللغة، وقد استعمل النجم معرفا لغير الثريا، وقد قال الله تعالى: (وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى) ؛ وأراه والله أعلم إشارة إلى ما هوى من النجوم إلى الغروب أيها كانت ويجوز أن يكون إشارة إلى ما هوى من الكواكب التي ترجم بها الشياطين، وقد دخلت الألف واللام للتعريف على ضرب سادس وذلك دخولها على بعض الأسماء ثابتة غير منفصلة ولم تسمع قط معراة منها كدخولها على التي والذي واللذين واللتين والذين واللاتي واللائي وما أشبه ذلك، فإن إجماع النحويين كلهم على أن الألف واللام في أوائل هذه الأسماء للتعريف ولم تعر قط منها فسيبويه يقول: أصل الذي لذ مثل عم وشج ثم دخلت عليه الألف واللام للتعريف والفراء يقول أصل الذي ذا وهو إشارة إلى ما بحضرتك ثم نقل من الحضرة إلى الغيبة ودخلت عليه الألف واللام للتعريف وحطت ألفها إلى الياء ليفرق بين الإشارة إلى الحاضر والغائب، وكذلك قولنا الله عز وجل إنما أصله إله ثم دخلت عليه الألف واللام للتعريف وحذفت الهمزة، وقال سيبويه أصله لاه ثم دخلت عليه الألف واللام للتعريف
তারা এর দ্বারা সুনির্দিষ্টভাবে সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জকে বুঝিয়ে থাকেন। তারা বলেন, 'নক্ষত্রটি অস্তমিত হয়েছে' এবং 'নক্ষত্রটি উদিত হয়েছে'—অধিকাংশ ভাষাবিদ এমনটিই বলে থাকেন। তবে 'নক্ষত্র' শব্দটি সুরাইয়া ব্যতিরেকে অন্য ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট (معرفا) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: "(শপথ) নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়;" আমার মতে—আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ—এটি দ্বারা দিগন্তের দিকে অস্তগামী যেকোনো নক্ষত্রকেই বোঝানো হয়েছে। আবার এটি সেই সব নক্ষত্র বা উল্কাপিণ্ডও হতে পারে যা দিয়ে শয়তানদের বিতাড়িত করা হয়।
আলিফ এবং লাম ষষ্ঠ এক প্রকারে নির্দিষ্টকরণের (للتعريف) জন্য ব্যবহৃত হয়, আর তা হলো কিছু বিশেষ্যের শুরুতে এর এমনভাবে যুক্ত হওয়া যা কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না। এগুলোকে কখনোই আলিফ-লাম ব্যতীত শোনা যায়নি; যেমন: আল্লাতি, আল্লাযি, আল্লাযানি, আল্লাতানি, আল্লাযিনা, আল্লাতি, আল্লা-ই এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। সকল ব্যাকরণবিদের সর্বসম্মত অভিমত (إجماع) এই যে, এই শব্দগুলোর শুরুতে থাকা আলিফ এবং লাম নির্দিষ্টকরণের (للتعريف) জন্য এবং এগুলো কখনো তা থেকে মুক্ত হয় না।
সিবওয়াইহি বলেন: 'আল্লাযি'-এর মূল রূপ ছিল 'লায', যেমন 'আম্ম' বা 'শাজ' শব্দদ্বয়; অতঃপর নির্দিষ্টকরণের (للتعريف) জন্য এর শুরুতে আলিফ এবং লাম যুক্ত হয়েছে। আল-ফাররা বলেন: 'আল্লাযি'-এর মূল হলো 'যা', যা মূলত উপস্থিত কোনো কিছুর দিকে ইঙ্গিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। পরবর্তীতে একে উপস্থিত থেকে অনুপস্থিতের অর্থে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং নির্দিষ্টকরণের (للتعريف) জন্য এর শুরুতে আলিফ ও লাম যুক্ত করা হয়েছে; আর উপস্থিত ও অনুপস্থিত নির্দেশকের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য এর শেষে আলিফকে ইয়া-তে রূপান্তর করা হয়েছে।
অনুরূপভাবে 'আল্লাহ' (মহাশক্তিশালী ও মহান) শব্দটির মূল রূপ হলো 'ইলাহ', এরপর নির্দিষ্টকরণের (للتعريف) উদ্দেশ্যে এর শুরুতে আলিফ ও লাম যুক্ত হয়েছে এবং হামযাহ বিলুপ্ত করা হয়েছে। সিবওয়াইহি বলেছেন, এর মূল রূপ ছিল 'লাহ', অতঃপর নির্দিষ্টকরণের (للتعريف) জন্য এর শুরুতে আলিফ এবং লাম যুক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
ومن نادر ما دخلت عليه الألف واللام للتعريف قولهم الآن في الإشارة إلى الوقت الحاضر ونحن نذكره وعلته في الباب الذي يلي هذا الباب إن شاء الله.
এবং নির্দিষ্টকরণের (التعريف) উদ্দেশ্যে ‘আলিফ’ ও ‘লাম’ যুক্ত হওয়ার বিরল দৃষ্টান্তগুলোর মধ্যে একটি হলো বর্তমান সময়ের প্রতি ইঙ্গিত করতে তাদের ‘আল-আন’ বলা; আমরা ইনশাআল্লাহ এই বিষয়টি এবং এর নিগূঢ় কারণ (علة) সম্পর্কে এর পরবর্তী অধ্যায়ে আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৫০)
باب ذكر ما يمتنع اجتماعه مع الألف واللام اللتين للتعريف وما يمتنع إدخاله على هذه الألف واللام وذكر معاني الآن وعلة بنائه
اعلم أنه لا يجوز اجتماع الألف واللام والتنوين على حال من الأحوال نحو قولك رجل وفرس وغلام ثم تقول الرجل والغلام والفرس فيسقط التنوين وخطأ الجمع بينهما والعلة في ذلك عند البصريين أن التنوين دخل في الأسماء فرقا بين المنصرف منها المتمكن وبين الممتنع من الانصراف بثقله مضارعا للفعل فإذا دخلت الألف واللام عليه مكنته فردته إلى الأصل، فإن صرف كله فاستغنى عن دلالة التنوين لأنه لا معنى للجمع بين دليلين على معنى واحد لا فضل لأحدهما على الآخر وعلة امتناع الجمع بين التنوين والألف واللام عند الفراء والكسائي وأصحابهما هي أن التنوين لازم الأسماء فرقا بينها وبين الأفعال لأن من الأسماء ما جاء بوزن الأفعال نحو جعفر لأنه بوزن دحرج ونحو جبل وجمل لأنه بوزن خرج وذهب، وكذلك ما أشبهه فجعل التنوين فرقا بين الأسماء والأفعال وألزم الأسماء لأنها أخف من الأفعال والألف واللام لا تدخل
পরিচ্ছেদ: সংজ্ঞাবাচক (تعريف) আলিফ এবং লামের সাথে যা একত্র হওয়া নিষিদ্ধ এবং যা এইগুলোর ওপর প্রবেশ করানো নিষিদ্ধ তার আলোচনা উক্ত আলিফ ও লামের বর্ণনা এবং 'আল-আন' শব্দের অর্থসমূহ ও এর গঠনগত কারণ (علة بنائه) এর উল্লেখ
জেনে রাখুন যে, কোনো অবস্থাতেই আলিফ-লাম এবং তানউইন (تنوين) একত্রে জমা হওয়া বৈধ নয়। যেমন আপনার উক্তি: রাজুল, ফারাস ও গুলাম; অতঃপর যখন আপনি বলেন 'আর-রাজুল', 'আল-গুলাম' এবং 'আল-ফারাস', তখন তানউইন (تنوين) বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর এই উভয়কে একত্রে জমা করা ভুল। বসরাবাসীদের মতে এর কারণ (علة) হলো, বিশেষ্যসমূহের মধ্যে তানউইন (تنوين) প্রবেশ করেছে মূলত রূপান্তরযোগ্য (منصرف) তথা সুদৃঢ় (متمكن) বিশেষ্য এবং ওজনে ক্রিয়াপদের সদৃশ (مضارع) হওয়ার কারণে যা অপরিবর্তনশীল (ممتنع من الانصراف) বিশেষ্য—তার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য। অতঃপর যখন এতে আলিফ এবং লাম প্রবেশ করে, তখন তা তাকে সুদৃঢ় (متمكن) করে দেয় এবং তাকে মূল (أصل) অবস্থার দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ফলে যখন তা পূর্ণরূপে রূপান্তরযোগ্য (منصرف) হয়ে যায়, তখন তা তানউইনের (تنوين) নির্দেশক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে; কারণ একই অর্থের ওপর দুটি নির্দেশক একত্রে জমা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই যেখানে একটির ওপর অন্যটির কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। আর আল-ফাররা, আল-কিসায়ি এবং তাঁদের অনুসারীদের মতে তানউইন (تنوين) ও আলিফ-লাম একত্রে জমা হওয়া নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ (علة) হলো, বিশেষ্য এবং ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য তানউইন (تنوين) বিশেষ্যের জন্য অপরিহার্য। কারণ কিছু বিশেষ্য এমন আছে যা ক্রিয়ার ওজনে আসে, যেমন: জা'ফার—কারণ এটি দাহরাজা-এর ওজনে; এবং জাবাল ও জামাল—কারণ এগুলো খরাজা ও জাহাবা-এর ওজনে। অনুরূপভাবে যা এর সদৃশ। তাই তানউইনকে (تنوين) বিশেষ্য ও ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্যকারী করা হয়েছে এবং বিশেষ্যের জন্য একে অপরিহার্য করা হয়েছে কারণ বিশেষ্য ক্রিয়া অপেক্ষা হালকা। আর আলিফ ও লাম প্রবেশ করে না
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৫১)
على الأفعال لأنه لا تعتوِرها المعاني التي من أجلها تدخل الألف واللام على الأسماء التي قدمنا شرحها فلما دخلت الألف واللام على الأسماء فارقت شبه الأفعال فاستغني عن التنوين ودلالته فأسقطوا لا يجوز الجمع بين الإضافة والألف واللام نحو قولك هذا غلام زيد وثوب عمرو ودار بكر لو قلت هذا الغلام زيد والثوب عمرو كان خطأ والعلة في امتناع اجتماع الألف واللام والإضافة هي أن الألف واللام يعر، فإن الاسم بالعهد والإضافة تعرف الاسم بالملك والاستحقاق ومحال جمع تعريفين مختلفين على اسم واحد وليس في العربية شيء يجمع فيه بين الألف واللام والإضافة إلا قولهم هذا الحسن الوجه والفاره العبد والكثير المال وما يجري هذا المجرى وإنما جاز هاهنا الجمع بينهما لزوال العلة التي من أجلها امتنع الجمع بينهما وذلك أن الإضافة في هذا الباب لم تعرف المضاف لأنها إضافة غير محضة وتقديرها الانفصال وشرح ذلك أنك إذا قلت هذا غلام وثوب ودار فهو نكرة وإذا أضفته إلى معرفة تعرف به كقولك: هذا ثوب زيد وغلام عمرو وأنت إذا قلت مررت برجل حسن الوجه فحسن نكرة ولم يتعرف بإضافتك إياه إلى الوجه لأن الحسن في الحقيقة للوجه ثم نقل إلى الرجل فذلك جاز إدخال الألف واللام عليه للتعريف إذ كان غير متعرف بالإضافة فقيل مررت بالرجل الحسن الوجه والكثير المال وما أشبه ذلك ولا نظير له في العربية واعلم أنه جائز إدخال جميع العوامل على الاسم المعرف بالألف واللام من رافع وناصب وخافض إلا حرف النداء، فإنه لا يجوز إدخاله عليه لو قلت يالرجل ويالغلام لم يجز والعلة في امتناع الجمع بينهما هي أن حرف النداء
ক্রিয়াসমূহের উপর (আলিফ ও লাম প্রবেশ করে না), কারণ সেগুলোর ক্ষেত্রে এমন অর্থের উদ্ভব ঘটে না যার কারণে বিশেষ্যসমূহের ওপর আলিফ ও লাম যুক্ত হয়, যেগুলোর ব্যাখ্যা আমরা ইতিপূর্বে প্রদান করেছি। সুতরাং যখন বিশেষ্যসমূহের ওপর আলিফ ও লাম প্রবেশ করল, তখন তারা ক্রিয়াসদৃশ বৈশিষ্ট্য থেকে পৃথক হয়ে গেল এবং তানউইন ও এর নির্দেশক অর্থের প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত হলো, ফলে তারা (ভাষাবিদগণ) তা বিলুপ্ত করে দিলেন। ইদাফাত (সম্বন্ধ) এবং আলিফ-লামকে একত্রে যুক্ত করা জায়েজ নয়; যেমন আপনার উক্তি— ‘ইনি যায়েদের গোলাম’, ‘আমরের বস্ত্র’ এবং ‘বাকরের গৃহ’। আপনি যদি বলতেন ‘এই গোলামটি যায়েদ’ এবং ‘এই বস্ত্রটি আমর’ (আলিফ-লাম যোগে), তবে তা ভুল হতো। আলিফ-লাম এবং ইদাফাত একত্রে যুক্ত না হওয়ার কারণ হলো— আলিফ-লাম ‘আহদ’ (পরিচিতি) এর মাধ্যমে বিশেষ্যকে নির্দিষ্ট করে, আর ইদাফাত মালিকানা বা স্বত্বাধিকারের মাধ্যমে বিশেষ্যকে নির্দিষ্ট করে। আর একই বিশেষ্যের ওপর দুটি ভিন্ন ধরনের নির্দিষ্টকরণের পদ্ধতি একত্র করা অসম্ভব। আরবি ভাষায় এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই যেখানে আলিফ-লাম এবং ইদাফাত একত্রে ব্যবহৃত হয়, কেবল তাদের এই উক্তিগুলো ব্যতীত: ‘সুন্দর মুখমণ্ডলবিশিষ্ট ব্যক্তি’, ‘চতুর দাস’ এবং ‘অঢেল ধনসম্পদশালী’; এবং যা এই ধারায় পরিচালিত হয়। এখানে এই দুটির একত্রীকরণ জায়েজ হওয়ার কারণ হলো সেই প্রতিবন্ধকতা দূরীভূত হওয়া যার জন্য অন্য ক্ষেত্রে এদের একত্র করা নিষিদ্ধ ছিল। আর তা হলো— এই ক্ষেত্রে ইদাফাত ‘মুদাফ’কে (সম্বন্ধযুক্ত শব্দ) নির্দিষ্ট করেনি; কারণ এটি হলো অপ্রকৃত ইদাফাত এবং এর প্রকৃতি হলো বিচ্ছিন্নতা। এর ব্যাখ্যা হলো— আপনি যখন বলেন ‘এটি একটি গোলাম’, ‘একটি বস্ত্র’ বা ‘একটি ঘর’, তখন তা অনির্দিষ্ট থাকে। কিন্তু যখন আপনি একে কোনো নির্দিষ্ট বিশেষ্যের (মারেফা) সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেন, তখন তা এর দ্বারা নির্দিষ্ট হয়ে যায়; যেমন আপনার উক্তি: ‘এটি যায়েদের বস্ত্র’ এবং ‘আমরের গোলাম’। আর আপনি যখন বলেন ‘আমি একজন সুন্দর চেহারার লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম’, তখন ‘সুন্দর’ শব্দটি অনির্দিষ্ট থাকে এবং চেহারার দিকে সম্বন্ধ করার কারণে তা নির্দিষ্ট হয়ে যায়নি। কারণ সৌন্দর্য মূলত চেহারার বৈশিষ্ট্য, যা পরে লোকটির প্রতি আরোপিত হয়েছে। এই কারণেই নির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে এর ওপর আলিফ-লাম প্রবেশ করানো বৈধ হয়েছে, যেহেতু তা ইদাফাতের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হয়নি। তাই বলা হয়: ‘আমি সুন্দর চেহারার লোকটির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম’ এবং ‘অঢেল সম্পদশালী ব্যক্তি’ ইত্যাদি; আরবি ভাষায় এর কোনো সমান্তরাল নজির নেই। জেনে রাখুন, আলিফ-লাম দ্বারা নির্দিষ্ট বিশেষ্যের ওপর রাফে (পেশদানকারী), নাসিব (যবরদানকারী) এবং খাফিদ (যেরদানকারী) সহ সকল আমিল (প্রভাবক) প্রবেশ করা জায়েজ, তবে নিদা-র (আহ্বান) অব্যয় ব্যতীত। কেননা এর ওপর নিদা-র অব্যয় প্রবেশ করানো জায়েজ নয়। আপনি যদি বলতেন ‘হে পুরুষ’ বা ‘হে গোলাম’ (আলিফ-লাম যোগে), তবে তা বৈধ হতো না। এই দুটিকে একত্র করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার কারণ হলো নিদা-র অব্যয়টি...
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৫২)
يعرف المنادى بالإشارة والتخصيص والألف واللام يعر، فإنه بالعهد فلم يجز الجمع بين تعريفين مختلفين كما ذكرت في هذا الباب، فإن أردت نداء ما فيه الألف واللام ناديته فقلت يا أيها الرجل ويا أيها الغلام كما قال الله تعالى: (يا أيها الناس اتقوا ربكم) و (يا أيها النبي اتق الله) وليس في العربية اسم في أوله الألف واللام دخل عليه حرف النداء إلا قولهم يا الله اغفر لنا، فإنهم أدخلوا الألف واللام وحرف النداء وإنما جاز ذلك لأن أصله إله ثم دخلت الألف واللام وحذفت الهمزة فصارت الألف واللام لازمتين كالعوض من الهمزة المحذوفة فصارت كأنهما من نفس الكلمة فلذلك دخل عليه حرف النداء، فإن قال قائل، فإن الذي والتي وتثنيتهما وجمعها لا تفارقه الألف واللام ولا تنفصل منه فهل يجوز على هذا أن نناديه فنقول يا الذي في الدار ويا الذي قام قلنا ذلك غير جائز والفرق بينهما هو أن الألف واللام في الله عز وجل عوض من الهمزة المحذوفة كما ذكرنا وليستا في الذي وبابه عوضا من محذوف فصارتا في الله عز وجل: كأنهما من نفس الكلمة إذ كانتا عوضا من حرف أصلي، وقد غلط بعض الشعراء فأدخلها على الذي لما رأى الألف واللام لا تفارقانه فقال:
সম্বোধিত পদকে (منادى) ইঙ্গিত (الإشارة), সুনির্দিষ্টকরণ (التخصيص) এবং নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক আলিফ ও লাম (الألف واللام) দ্বারা চেনা যায়। এটি নির্ধারিত অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাই দুটি ভিন্ন প্রকারের নির্দিষ্টকারী (تعريفين) বিষয়ের সংমিশ্রণ ঘটানো জায়েজ বা বৈধ নয়, যেমনটি আমি এই অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি। সুতরাং আপনি যদি আলিফ ও লাম (الألف واللام) যুক্ত কোনো শব্দকে সম্বোধন করতে চান, তবে তাকে এভাবে সম্বোধন করবেন: "হে লোক" (يا أيها الرجل) এবং "হে বালক" (يا أيها الغلام); যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো" (يا أيها الناس اتقوا ربكم) এবং "হে নবী! আল্লাহকে ভয় করুন" (يا أيها النبي اتق الله)। আরবি ভাষায় এমন কোনো বিশেষ্য (اسم) নেই যার শুরুতে আলিফ ও লাম (الألف واللام) রয়েছে অথচ তাতে সম্বোধনসূচক অব্যয় (حرف النداء) প্রবেশ করেছে, কেবল তাদের এই উক্তি ব্যতীত: "হে আল্লাহ! আমাদের ক্ষমা করুন" (يا الله اغفر لنا)। কেননা তারা আলিফ ও লাম (الألف واللام) এবং সম্বোধনসূচক অব্যয় (حرف النداء) একত্রে প্রবেশ করিয়েছে। এটি কেবল এই কারণে বৈধ হয়েছে যে, এর মূল রূপ ছিল 'ইলাহ', অতঃপর তাতে আলিফ ও লাম (الألف واللام) যুক্ত হয়েছে এবং হামযাহ (الهمزة) বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে আলিফ ও লাম (الألف واللام) সেই বিলুপ্ত হামযাহ (الهمزة)-এর স্থলাভিষিক্ত (عوض) হিসেবে অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ফলে এই বর্ণ দুটি যেন মূল শব্দেরই অংশ হয়ে গিয়েছে, আর এই কারণেই এতে সম্বোধনসূচক অব্যয় (حرف النداء) প্রবেশ করেছে। যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, 'আল্লাযি' (الذي), 'আল্লাতি' (التي) এবং তাদের দ্বিবচন ও বহুবচন রূপগুলো থেকেও তো আলিফ ও লাম (الألف واللام) পৃথক হয় না এবং এগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না, তবে কি এই ভিত্তিতে তাদের সম্বোধন করে "হে ওই ব্যক্তি যে ঘরে আছে" (يا الذي في الدار) বা "হে সেই ব্যক্তি যে দাঁড়িয়েছে" (يا الذي قام) বলা জায়েজ? আমরা বলব যে, তা জায়েজ নয়। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, আল্লাহ (عز وجل)-এর নামের আলিফ ও লাম (الألف واللام) হলো আমাদের পূর্বোল্লিখিত বিলুপ্ত হামযাহ (الهمزة)-এর স্থলাভিষিক্ত (عوض), কিন্তু 'আল্লাযি' (الذي) ও তৎসংশ্লিষ্ট শব্দগুলোতে এগুলো কোনো বিলুপ্ত বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত (عوض) নয়। ফলে মহান আল্লাহ (عز وجل)-এর নামের ক্ষেত্রে এই বর্ণ দুটি শব্দের মূল অংশের মতো হয়ে গিয়েছে, যেহেতু তারা একটি মূল (أصلي) অক্ষরের স্থলাভিষিক্ত (عوض) হিসেবে এসেছে। কোনো কোনো কবি এই বিষয়ে ভুল করেছেন এবং 'আল্লাযি' (الذي) শব্দের সাথে আলিফ ও লাম (الألف واللام)-কে অবিচ্ছেদ্য দেখে তাতে সম্বোধনসূচক অব্যয়টি প্রবেশ করিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
فيا الغلامان اللذان فرا
… إياكما أن تكسبانا شرا
وقال آخر:
من أجلك يا التي تيمت قلبي
… وأنت بخيلة بالود عني
وكان المبرد يرد هذا ويقول هو غلط من قائله أو ناقله لأنه لو قيل فيا غلامان اللذان فرا لاستقام البيت وصح اللفظ به ولم تدع ضرورة إلى إدخال الألف واللام وهذه الأبيات من رواية الكوفيين ولم يروها البصريون وسبيلها في الشذوذ سبيل إدخال بعضهم الألف واللام على الفعل كما أنشد أبو زيد وغيره من البصريين والكوفيين يقول الخنى وأبغض العجم ناطقا إلى ربنا صوت الحمار اليجدع؛
হে সেই দুই কিশোর যারা পালিয়ে গেছ
… সাবধান! তোমরা যেন আমাদের কোনো অমঙ্গল বয়ে না আনো।
এবং অন্যজন বলেছেন:
তোমারই কারণে, হে সেই নারী যে আমার অন্তর হরণ করেছ
… অথচ তুমি আমার প্রতি ভালোবাসায় কার্পণ্য করছ।
মুবাররাদ এটি প্রত্যাখ্যান করতেন এবং বলতেন যে, এটি এর প্রবক্তা বা বর্ণনাকারীর (ناقل) ভুল; কেননা যদি বলা হতো ‘হে দুই কিশোর যারা পালিয়ে গেছ’, তবে কাব্যটি ছন্দোবদ্ধ থাকতো এবং এর উচ্চারণও নির্ভুল হতো, আর সেখানে আলিফ-লাম যুক্ত করার কোনো আবশ্যকতা থাকতো না। এই পঙক্তিগুলো কূফী আলেমদের বর্ণনা (رواية) থেকে এসেছে এবং বসরার আলেমগণ এগুলো বর্ণনা করেননি। এর ব্যতিক্রমী (شذوذ) হওয়ার বিষয়টি ঠিক ক্রিয়ার শুরুতে আলিফ-লাম যুক্ত করার মতো; যেমনটি আবু যায়িদ এবং অন্যান্য বসরী ও কূফী আলেমগণ আবৃত্তি করেছেন: “সে অশ্লীল কথা বলে; আর আমাদের রবের কাছে কথা বলা অনারবদের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত হলো ঐ গাধার কণ্ঠস্বর যার কান কাটা হয়েছে।”
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
أراد الذي يجدع فأدخل الألف واللام على الفعل وهو في الشذوذ شبيه أيضا بقول من جمع بين الألف واللام والإضافة فقالوا بالقوم الرسول الله منهم لهم ذل القبائل من معد ومثل هذا غلط وخطأ لا يعبأ به وإنما حكيناه ليتجنب ولئلا يتوهم متوهم أنه أصل يعمل عليه أو أنا لم نعرفه أو أغفلناه ليكون هذا الكتاب مستوعبا لأحكام اللامات كلها إن شاء الله.
ومن نادر ما دخلت عليه الألف واللام للتعريف قولهم: الآن وذلك أنه مبني وفيه الألف واللام وسبيل المبني إذا أضيف أو دخلته الألف واللام أن يتمكن ويرجع إلى التعريف كما قالوا خرجت أمس وما رأيتك منذ أمس فبنوه على الكسر فإذا أدخلوا الألف واللام أو أضافوه عرفوه وليس في العربية مبني تدخل عليه الألف واللام إلا عرف إلا المبني في حال التنكير، فإن المبني في حال التنكير لم تمكنه الألف واللام لأن التنكير يخفف الأسماء
তিনি 'আল-যি ইয়াজদাউ' বুঝাতে চেয়েছেন, ফলে ক্রিয়াপদ (الفعل)-এর পূর্বে আলিফ-লাম যুক্ত করেছেন। বিচ্যুতি (الشذوذ)-এর দিক থেকে এটি এমন ব্যক্তির উক্তির সদৃশ যে আলিফ-লাম এবং সম্বন্ধকে একত্রিত করেছে; তারা বলে থাকে: "সেই কওমের কসম যাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল রয়েছেন, মা'দ বংশের গোত্রগুলোর মধ্যে তারাই মর্যাদাবান"। এ ধরনের ব্যবহার অশুদ্ধ ও ভুল, যা গুরুত্ববহ নয়। আমরা এটি কেবল এজন্যই বর্ণনা করেছি যাতে তা বর্জন করা হয় এবং কেউ যেন এই ভুল ধারণা পোষণ না করে যে এটি একটি কার্যকর মূলনীতি (أصل), অথবা আমরা এটি সম্পর্কে অবগত নই কিংবা আমরা এটি উপেক্ষা করেছি। এটি করার উদ্দেশ্য হলো যাতে এই গ্রন্থটি, ইনশাআল্লাহ, 'ল্লাম'-এর সকল বিধিবিধানকে পূর্ণাঙ্গরূপে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে।
নির্দিষ্টকরণ (التعريف)-এর জন্য আলিফ-লাম যুক্ত হওয়ার একটি বিরল (نادر) দৃষ্টান্ত হলো তাদের উক্তি: 'আল-আনা' (এখন)। কারণ এটি হলো অপরিবর্তনশীল (مبني) এবং এতে আলিফ-লাম বিদ্যমান। অপরিবর্তনশীল (مبني) শব্দের নিয়ম হলো যখন তাকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় অথবা তাতে আলিফ-লাম যুক্ত হয়, তখন সেটি রূপান্তরযোগ্য হয়ে যায় এবং নির্দিষ্টকরণ (التعريف)-এর দিকে ফিরে আসে; যেমন তারা বলে থাকে 'আমি গতকাল বের হয়েছি' এবং 'আমি তোমাকে গতকাল থেকে দেখিনি', যেখানে তারা শব্দটিকে কাসরা (জের) দিয়ে অপরিবর্তনশীল (مبني) হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু যখন তারা এতে আলিফ-লাম যুক্ত করে অথবা একে সম্বন্ধযুক্ত করে, তখন তারা একে নির্দিষ্ট হিসেবে গণ্য করে। আরবি ভাষায় এমন কোনো অপরিবর্তনশীল (مبني) শব্দ নেই যেখানে আলিফ-লাম যুক্ত হওয়ার পর তা নির্দিষ্ট না হয়, কেবল অনির্দিষ্টকরণ (التنكير) অবস্থায় থাকা অপরিবর্তনশীল (مبني) শব্দগুলো ব্যতীত। কেননা অনির্দিষ্টকরণ (التنكير) অবস্থায় থাকা শব্দকে আলিফ-লাম রূপান্তরযোগ্য করতে পারে না, যেহেতু অনির্দিষ্টকরণ (التنكير) বিশেষ্য পদকে লঘু বা হালকা করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
ويمكنها فإذا وجب لها البناء فيه لم يمكنها غيره وذلك نحو العدد ما بين أحد عشر إلى التسعة عشر، فإنه مبني إلا اثني عشر، فإن أدخلت عليه الألف واللام لم يتعرف أيضا فقلت جاءني الخمسة عشر رجلا ومررت بالخمسة عشر رجلا لهذه العلة التي ذكرتها لك فأما الآن، فإن ك تقول أنت من الآن تفعل كذا وكذا وأنت إلى الآن مقيم فتبنيه على الفتح كما ذكرت لك وللنحويين في بنائه ثلاثة أقوال قال أبو العباس المبرد: إنما بني لأنه كان من شأن الأسماء أن يعرفها كونها أعلاما نحو زيد وعمرو أو مشارا بها مبهمات فتعرفها الإشارة نحو هذا وذاك وبابه أو مضمرات أو مضافات إلى معارف أو نكرات نحو رجل وفرس ثم تعرف بالألف واللام فلما وقع الآن في أول أحواله معرفا بالألف واللام فارق بابه فبني، وقال آخرون من البصريين إنما بني الآن لأنه أشير به إلى الوقت الحاضر لا إلى عهد متقدم فضارع هذا فبني لمضارعته مالا يعرف لأنك
এবং এটি সম্ভব; সুতরাং যখন এতে অপরিবর্তনীয় (مبني) হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে, তখন এটি ছাড়া অন্য কোনো রূপ গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। এটি এগারো থেকে উনিশ পর্যন্ত সংখ্যাগুলোর মতো; কেননা বারো ব্যতীত এগুলো সবই অপরিবর্তনীয় (مبني)। যদি আপনি এগুলোর শুরুতে আলিফ এবং লাম (الألف واللام) যুক্ত করেন, তবুও এগুলো নির্দিষ্ট (معرفة) হয় না। আমি আপনার কাছে যে কারণটি উল্লেখ করেছি, সেই কারণেই আপনি বলেন: "আমার কাছে পনেরো জন ব্যক্তি এসেছে" এবং "আমি পনেরো জন ব্যক্তির নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি"। আর বর্তমান সময়ের (الآن) ক্ষেত্রে আপনি বলেন: "তুমি এখন থেকে এমন এমন কাজ করবে" এবং "তুমি এখন পর্যন্ত অবস্থানরত আছ"। ফলে এটি ফাতহা (الفتح) এর ওপর অপরিবর্তনীয় (مبني) হয়, যেমনটি আমি আপনার কাছে উল্লেখ করেছি। এর অপরিবর্তনীয় (مبني) হওয়ার বিষয়ে ব্যাকরণবিদদের তিনটি অভিমত রয়েছে। আবু আল-আব্বাস আল-মুবররাদ বলেছেন: এটি অপরিবর্তনীয় (مبني) হয়েছে কারণ বিশেষ্যের বৈশিষ্ট্য হলো সেগুলো হয় নামবাচক বিশেষ্য (أعلام) হওয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট (معرفة) হবে—যেমন যায়েদ ও আমর; অথবা অস্পষ্ট শব্দের ইশারা বা নির্দেশের মাধ্যমে নির্দিষ্ট (معرفة) হবে—যেমন এটি (هذا) ও ওটি (ذاك) এবং এই জাতীয় শব্দ; অথবা সর্বনাম (مضمرات) হওয়ার মাধ্যমে; অথবা কোনো নির্দিষ্ট (معرفة) বা অনির্দিষ্ট (نكرة) শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত (مضافات) হওয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট হবে—যেমন ব্যক্তি ও ঘোড়া, যা পরবর্তীতে আলিফ এবং লাম (الألف واللام) যোগে নির্দিষ্ট (معرفة) করা হয়। কিন্তু 'আল-আন' (الآن) শব্দটি যখন তার প্রাথমিক অবস্থাতেই আলিফ এবং লাম (الألف واللام) যুক্ত হয়ে নির্দিষ্ট (معرفة) হিসেবে এসেছে, তখন এটি তার নিজস্ব ব্যাকরণিক ধারা থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং ফলশ্রুতিতে অপরিবর্তনীয় (مبني) হয়ে গেছে। বসরাবাসীদের মধ্যে অন্য একদল বলেছেন: 'আল-আন' (الآن) শব্দটি অপরিবর্তনীয় (مبني) হয়েছে কারণ এর দ্বারা বর্তমান সময়কে নির্দেশ করা হয়, অতিবাহিত কোনো সময়কে নয়; ফলে এটি নির্দেশক শব্দের সদৃশ (مضارعته) হয়েছে এবং যা নির্দিষ্ট নয় তার সদৃশ হওয়ার কারণে এটি অপরিবর্তনীয় (مبني) হয়েছে, কারণ আপনি...
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
اذا قلت أنت الآن تفعل، فإن ما تريد أنت في هذا الوقت، وقال الفراء والكسائي إنما هو محكي وأصله من آن الشيء يئين بمعنى حان يحين وفيه ثلاث لغات يقال آن لك أن تفعل كذا وكذا وأنى لك أن تفعل كذا وكذا يأني لك كما قال الله عز وجل: (ألم يأن للذين آمنوا أن تخشع قلوبهم لذكر الله) ؛ والثالثة أن تقول أنال لك أن تفعل كذا وكذا بزيادة اللام قالوا فدخلت الألف واللام على اللغة الأولى فقيل الآن فاعلم فترك على فتحه كما روي في الأثر أنه نهى عن قيل، وقال يحكى مفتوحا على لفظ الفعل الماضي وبعضهم يورده على قيل، وقال فيجعلهما اسمين ويعربهما وللفراء فيه قول انفرد به قال: يجوز أن يكون محلى ترك على فتحه وهذا ليس بشيء لأنه لا يمتنع من تأثير العوامل فيه إلا أن يكون مبنيا فيرجع إلى ما قال القوم وأصل الآن عند جماعة البصريين وعند الفراء في أحد قوليه أوان حذفت الألف التي بعد الواو، فإن قلبت الواو ألفا لتحركها وانفتاح ما قبلها فقيل آن ويجمع أوان على آونة كما قيل زمان وأزمنة
যখন আপনি বলেন 'আপনি এখন করছেন', তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এই সময়ে আপনার অভিপ্রায়। আল-ফাররা এবং আল-কিসাঈ বলেছেন যে, এটি মূলত একটি উদ্ধৃত রূপ এবং এর মূল উৎস হলো 'আনা আশ-শাইয়ু ইয়ায়িনু', যার অর্থ 'সময় হওয়া'। এ বিষয়ে তিনটি ভাষাগত রীতি রয়েছে। বলা হয়, 'আনা লাকা' (তোমার সময় হয়েছে) যে তুমি অমুক কাজ করবে এবং 'আনা লাকা' (তোমার সময় হয়েছে); যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "মুমিনদের জন্য কি এখনও সেই সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর বিগলিত হবে?"। তৃতীয় রীতিটি হলো 'লাম' বর্ণ বৃদ্ধির মাধ্যমে 'আনালা লাকা' বলা। ভাষাবিদগণ বলেন, প্রথম রীতির শুরুতে 'আলিফ' ও 'লাম' যুক্ত হয়ে 'আল-আন' শব্দ গঠিত হয়েছে। অতঃপর একে জবরযুক্ত অবস্থায় রাখা হয়েছে, যেমনটি বর্ণিত ঐতিহ্যে (الأثر) বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি 'কিল' ও 'কাল' (অহেতুক কথাবার্তা) থেকে নিষেধ করেছেন। এখানে শব্দ দুটিকে অতীতকালীন ক্রিয়ার রূপ অনুযায়ী জবরযুক্ত অবস্থায় উদ্ধৃত করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ এ দুটিকে বিশেষ্য হিসেবে গণ্য করেন এবং বাক্যে এদের অবস্থান অনুযায়ী ব্যাকরণিক রূপান্তর প্রদান করেন। আল-ফাররা এ বিষয়ে একটি একক মত পোষণ করেছেন; তিনি বলেছেন, এটি এমন একটি অলংকার হতে পারে যা জবরযুক্ত অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে এ মতটি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ ব্যাকরণিক প্রভাবকগুলোর প্রভাব কেবল তখনই রোধ করা সম্ভব যদি শব্দটি অপরিবর্তনীয় হয়; নতুবা এটি অন্যান্য আলেমদের মতের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। বসরা অঞ্চলের একদল ভাষাবিদ এবং আল-ফাররার একটি মত অনুযায়ী 'আল-আন' শব্দের মূল হলো 'আওয়ান', যেখান থেকে 'ওয়াও' এর পরবর্তী 'আলিফ' বিলুপ্ত করা হয়েছে। অতঃপর 'ওয়াও' বর্ণটি স্বরযুক্ত হওয়ায় এবং তার পূর্ববর্তী বর্ণ জবরযুক্ত হওয়ায় 'ওয়াও' কে আলিফে রূপান্তর করে 'আনা' করা হয়েছে। 'আওয়ান' এর বহুবচন হলো 'আউয়িনাহ', যেমন 'যামান' এর বহুবচন 'আযমিনাহ' হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
باب في تبيين وجوهدخول الألف واللام على الأسماء المشتقة من الأفعالاعلم أنها تدخل على ثلاثة أوجهأحدها أن تكون بتأويل الذي فتحتاج إلى صلة وعائد وتجري في ذلك مجرى الذي كقول القائل ضرب زيد عمرا فقيل له أخبر عن زيد فقال الضارب عمرا زيد ففي الضارب مضمر يعود على الألف واللام اللذين بمعنى الذي وأنت لم تذكر الذي وإنما ذكرت ما يدل عليه فجئت بالعائد لذلك، والوجه الثاني أن تدخل لتعريف هذه الأسماء المشتقة من الأفعال لا بتأويل الذي ولكن كما تعرف أسماء الأجناس نحو الرجل والفرس فتقول الضارب والقائم تريد به التعريف لا معنى الذي قال أبو عثمان المازني: والدليل على صحة هذا التأويل أنك تقول نعم الضارب ونعم القائم وغير جائز أن تقول نعم الذي عندك لأن نعم وبئس لا يدخلان على الذي وأخواتها ودخولهما على القائم والضارب يدل على أن الألف واللام فيهما ليستا بمعنى الذي والوجه الثالث ينفرد به الكوفيون خاصة ويذكر بعقب هذا الباب مفردا بمسائله إن شاء الله.
ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত বিশেষ্যসমূহের শুরুতে আলিফ ও লামযুক্ত হওয়ার পদ্ধতিসমূহ বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদজেনে রাখুন যে, এটি তিনটি পদ্ধতিতে যুক্ত হয়। তার মধ্যে একটি হলো—এটি 'আল্লাজি' এর ব্যাখ্যায় ব্যবহৃত হওয়া; এমতাবস্থায় এটি একটি 'সিলাহ' (সংযোজক বাক্য) ও 'আইদ' (প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম) এর মুখাপেক্ষী হয় এবং এক্ষেত্রে এটি 'আল্লাজি' এর অনুরূপ কাজ করে। যেমন কোনো বক্তার উক্তি: "যায়েদ আমরকে প্রহার করেছে"। অতঃপর তাকে যদি বলা হয় যায়েদ সম্পর্কে সংবাদ দিন, তখন সে বলবে: "আমরকে প্রহারকারী (আদ-দারিবি) হলো যায়েদ"। এখানে 'আদ-দারিবি' শব্দের মধ্যে একটি উহ্য সর্বনাম রয়েছে যা সেই আলিফ ও লামের দিকে প্রত্যাবর্তন করছে যা 'আল্লাজি' এর অর্থ প্রদান করে। আপনি এখানে সরাসরি 'আল্লাজি' শব্দটি উল্লেখ করেননি, বরং এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা তার অর্থের ওপর দালালত (নির্দেশ) করে, তাই আপনি তার জন্য 'আইদ' নিয়ে এসেছেন। দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হলো—ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত এই বিশেষ্যগুলোকে নির্দিষ্ট করার জন্য আলিফ ও লাম যুক্ত হওয়া, 'আল্লাজি' এর ব্যাখ্যায় নয়; বরং যেভাবে জাতিবাচক বিশেষ্যসমূহকে নির্দিষ্ট করা হয়, যেমন: 'ব্যক্তিটি' (আর-রাজুলু) এবং 'ঘোড়াটি' (আল-ফারাসু)। এমতাবস্থায় আপনি 'প্রহারকারী' (আদ-দারিবি) এবং 'দণ্ডায়মান ব্যক্তি' (আল-কাইমু) বলেন কেবল নির্দিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, 'আল্লাজি' এর অর্থের জন্য নয়। আবু উসমান আল-মাজিনি বলেন: "এই ব্যাখ্যার সঠিকতার প্রমাণ হলো আপনি বলেন—'প্রহারকারীটি কতই না চমৎকার' (নিয়ামাদ-দারিবি) এবং 'দণ্ডায়মান ব্যক্তিটি কতই না চমৎকার' (নিয়ামাল-কাইমু)। অথচ এটি বলা বৈধ নয় যে—'তোমার নিকট যে আছে সে কতই না চমৎকার' (নিয়ামাল্লাজি ইনদাকা); কারণ 'নিয়ামা' এবং 'বি’সা' শব্দদ্বয় 'আল্লাজি' এবং এর সমগোত্রীয় শব্দগুলোর শুরুতে যুক্ত হয় না। আর 'আল-কাইমু' ও 'আদ-দারিবি' এর শুরুতে এগুলোর প্রবেশ একথাই প্রমাণ করে যে, এ দুটির মধ্যে থাকা আলিফ ও লাম 'আল্লাজি' এর অর্থে ব্যবহৃত হয়নি।" আর তৃতীয় পদ্ধতিটি কেবল কুফাবাসীদের জন্য নির্দিষ্ট, যা এই পরিচ্ছেদের ঠিক পরেই এর মাসআলাসমূহসহ স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
ومن هذا الوجه الثاني قول الله عز وجل: وأنا على ذلكم من الشاهدين وكانوا فيه من الزاهدين قال المبرد والمازني: وغيرهما من البصريين ليست الألف واللام بمعنى الذي لأنه لو كان التقدير وأنا من الشاهدين على ذلك بمعنى من الذين شهدوا على ذلك لم تقدم صلة الذي عليه، وكذلك لو كان التقدير وكانوا من الذين زهدوا فيه لم يجز تقديم صلة الذي عليه ولكن الألف واللام للتعريف لا بمعنى الذي قالوا وفي الآيتين وجه آخر أن تكون الألف واللام بمعنى الذي ويكون قوله من الشاهدين ومن الزاهدين تبيينا لا صلة للذي وإذا كان تبيينا جاز تقديمه لأنه ليس في الصلة وعلى هذين التأويلين تأولوا قول الشاعر:
تقول وصكت صدرها بيمينها
… أبعلي هذا بالرحى المتقاعس
এবং এই দ্বিতীয় দিকটি থেকে আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালীর বাণী: "এবং আমি তোমাদের এই বিষয়ের ওপর সাক্ষ্যদাতাদের (الشاهدين) অন্তর্ভুক্ত" এবং "তারা তাঁর ব্যাপারে নিস্পৃহদের (الزاهدين) অন্তর্ভুক্ত ছিল।" মুবাররাদ, মাজিনি এবং বসরাবাসীদের মধ্য থেকে অন্যান্যেরা বলেছেন: আলিফ ও লাম এখানে 'আল্লাজি' (الذي)-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়নি; কারণ যদি এর মর্ম এমন হতো যে "আমি এর ওপর সাক্ষ্যদানকারীদের (الشاهدين) অন্তর্ভুক্ত" অর্থাৎ "যারা এর ওপর সাক্ষ্য দিয়েছে", তবে 'আল্লাজি' (الذي)-এর বাক্য-সংযুক্তি বা সিলাহ (صلة) তার পূর্বে আসত না। তদ্রূপ, যদি এর মর্ম এমন হতো যে "তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল যারা তাঁর ব্যাপারে নিস্পৃহতা অবলম্বন করেছে", তবে 'আল্লাজি' (الذي)-এর সিলাহ (صلة) আগে আসা বৈধ হতো না। বরং আলিফ ও লাম এখানে নির্দিষ্টকরণের (تعريف) জন্য এসেছে, 'আল্লাজি' (الذي)-এর অর্থে নয়। তাঁরা বলেন, এই আয়াতদ্বয়ে অন্য একটি ব্যাখ্যাও রয়েছে; তা হলো আলিফ ও লাম এখানে 'আল্লাজি' (الذي)-এর অর্থে হবে এবং তাঁর বাণী "সাক্ষ্যদাতাদের (الشاهدين) মধ্য থেকে" এবং "নিস্পৃহদের (الزاهدين) মধ্য থেকে" অংশগুলো স্পষ্টীকরণ (تبيين) হিসেবে গণ্য হবে, 'আল্লাজি' (الذي)-এর সিলাহ (صلة) হিসেবে নয়। আর যখন এটি স্পষ্টীকরণ (تبيين) হবে, তখন তা আগে আসা বৈধ; কারণ এটি সিলাহ (صلة)-এর অংশ নয়। আর এই দুটি ব্যাখ্যার (تأويل) ওপর ভিত্তি করে তাঁরা কবির উক্তির ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন:
সে বলে এবং তার ডান হাত দিয়ে নিজের বক্ষে করাঘাত করে...
… আমার স্বামী কি এই ব্যক্তি, যে যাঁতাকলের নিকট অলস হয়ে বসে থাকা (المتقاعس)?
(খণ্ড: ১)
আল-লামাত
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
أحدهما أن تكون الألف واللام في المتقاعس للتعريف لا بمعنى الذي كما ذكرنا فجاز تقديم بالرحى عليه والآخر أن يكونا بتأويل الذي ويكون بالرحى تبيينا كأنه قال: أبعلي هذا المتقاعس وتمت صلة الذي فجعل بالرحى تبيينا فجاز تقديمه لذل كقال: أبو إسحاق الزجاج في قول الشاعر:
ربيته حتى إذا تمعددا
… كان جزائي بالعصا أن أجادا
فيه وجهان أحدهما أن يكون الجزاء اسم كان وبالعصا خبرها ويكون أن أجلد غير متصل بالعصا ولكن يكون الكلام قد تم دونه وأن أجلد في موضع رفع خبر ابتداء مضمر كأنه قال: هو أن أجلد ويجوز أن يكون نصبا بدلا من قوله بالعصا فيكون التقدير كان جزائي أن أجلد والوجه الثاني أن يكون بالعصا تبيينا ويكون أن أجلد خبر كان ولا يجوز أن يكون بالعصا في صلة أن أجلد لأنه قد قدمه عليه، وقال المبرد في قول الله عز وجل: (لا جرم أنهم في الآخرة هم الأخسرون) في الآخرة ظرف لقوله الأخسرون لأن الألف واللام فيه ليستا بتأويل الذي قال: فأما قوله عز وجل: (لَا جَرَمَ أَنَّهُمْ فِي الآخِرَةِ هُمُ الْخَاسِرونَ) ،
একটি হলো 'আল-মুত্যাকা'ইস' (المتقاعس) শব্দে আলিফ ও লাম সংজ্ঞার্থবাচক (للتعريف) অর্থে আসা, 'যা' (الذي) অর্থে নয় যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। ফলে তার পূর্বে 'বির্-রাহা' (بالرحى) আসা বৈধ হয়েছে। অন্যটি হলো, এটি 'যা' (الذي) এর অর্থে আসা এবং 'বির্-রাহা' (بالرحى) ব্যাখ্যামূলক (تبيينا) হওয়া; যেন তিনি বলেছেন: 'এই পশ্চাদপসরণকারী (المتقاعس) কি আমার স্বামী?' এবং এভাবে 'যা' (الذي) এর বাক্য-সম্বন্ধ (صلة) পূর্ণ হয়েছে। ফলে তিনি 'বির্-রাহা' (بالرحى) শব্দটিকে ব্যাখ্যামূলক (تبيينا) করেছেন, যার কারণে একে পূর্বে আনা বৈধ হয়েছে। যেমন আবু ইসহাক আজ-জাজ্জাজ কবির এই উক্তির ব্যাপারে বলেছেন:
আমি তাকে লালন-পালন করেছি যতক্ষণ না সে শক্তিশালী হয়েছে
… আমার প্রতিদান ছিল লাঠি দ্বারা যে আমাকে প্রহার করা হয়েছে
এতে দুটি দিক রয়েছে: একটি হলো 'প্রতিদান' (الجزاء) শব্দটি 'কানা' (كان) এর বিশেষ্য (اسم) এবং 'লাঠি দ্বারা' (بالعصا) হবে তার খবর (خبر), আর 'প্রহার করা' (أن أجلد) অংশটি 'লাঠি দ্বারা' (بالعصا) এর সাথে সংশ্লিষ্ট হবে না। বরং বাক্যটি এর আগেই পূর্ণ হয়ে গেছে এবং 'প্রহার করা' (أن أجلد) অংশটি একটি উহ্য উদ্দেশ্যের বিধেয় (خبر ابتداء مضمر) হিসেবে প্রথমা বিভক্তি (رفع) প্রাপ্ত হবে; যেন তিনি বলেছেন: 'তা হলো আমার প্রহার পাওয়া'। এবং এটি 'লাঠি দ্বারা' (بالعصا) এর স্থলাভিষিক্ত (بدلا) হিসেবে দ্বিতীয়া বিভক্তি (نصبا) হওয়াও সম্ভব, তখন এর বিন্যাস হবে: 'আমার প্রতিদান ছিল প্রহার পাওয়া'। দ্বিতীয় দিকটি হলো 'লাঠি দ্বারা' (بالعصا) শব্দটিকে ব্যাখ্যামূলক (تبيينا) ধরা এবং 'প্রহার করা' (أن أجلد) হবে 'কানা' (كان) এর খবর (خبر)। তবে 'লাঠি দ্বারা' (بالعصا) শব্দটিকে 'প্রহার করা' (أن أجلد) এর বাক্য-সম্বন্ধের (صلة) অন্তর্ভুক্ত করা জায়েজ হবে না, কারণ তিনি একে তার পূর্বে নিয়ে এসেছেন। আর মহান আল্লাহর বাণী 'নিশ্চয় পরকালে তারাই সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত' (لا جرم أنهم في الآخرة هم الأخسرون) সম্পর্কে আল-মুবররাদ বলেছেন: 'পরকালে' (في الآخرة) অংশটি 'সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত' (الأخسرون) শব্দের জন্য স্থান-কালবাচক (ظرف), কারণ এতে থাকা আলিফ ও লাম 'যা' (الذي) অর্থে আসেনি। তিনি বলেন: আর মহান আল্লাহর বাণী: (لَا جَرَمَ أَنَّهُمْ فِي الآخِرَةِ هُمُ الْخَاسِرونَ) ,