(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: -)
المقتضب   (المبرد)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: المقتضب

المؤلف: محمد بن يزيد بن عبد الأكبر الثمالى الأزدي، أبو العباس، المعروف بالمبرد (ت 285هـ)

المحقق: محمد عبد الخالق عظيمة.

الناشر: عالم الكتب. - بيروت

عدد الأجزاء: 4

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মুকতাদাব   (আল-মুবররাদ)

বিভাগ: নাহু ও সারফ


গ্রন্থ: আল-মুকতাদাব

লেখক: মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ বিন আব্দুল আকবার আস-সুমালি আল-আজদি, আবু আব্বাস, আল-মুবররাদ হিসেবে পরিচিত (মৃত্যু ২৮৫ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মদ আব্দুল খালিক আজিমা.

প্রকাশক: আলামুল কুতুব. - বৈরুত

খণ্ড সংখ্যা: ৪

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌(هَذَا تَفْسِير وُجُوه الْعَرَبيَّة \ وإعراب الْأَسْمَاء وَالْأَفْعَال)

فَالْكَلَام كلّه اسْم وفِعل وحرف جاءَ لِمَعْنى لَا يَخْلُو الْكَلَام عربيّا كَانَ أَو أَعجميّا من هَذِه الثَّلَاثَة والمُعْرَب الِاسْم المتمكن وَالْفِعْل الْمُضَارع وسنأْتي على تَفْسِير ذَلِك كلِّه إِن شَاءَ الله أما الْأَسْمَاء فَمَا كَانَ وَاقعا على معنى نَحْو رجل وَفرس وَزيد وَعَمْرو وَمَا أشبه ذَلِك وتعْتَبِرُ الأسماءَ بِوَاحِدَة كلُّ مَا دخل عَلَيْهِ حرف من حُرُوف الجرِّ فَهُوَ اسْم وَإِن امْتنع من ذَلِك فَلَيْسَ باسم
(এটি আরবি ভাষার দিকসমূহের ব্যাখ্যা এবং বিশেষ্য ও ক্রিয়াগুলোর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের বর্ণনা)

সকল বাক্য বা বক্তব্য হলো বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং এমন অব্যয় যা কোনো অর্থের জন্য আসে। আরবি হোক বা অনারবি, কোনো বাক্যই এই তিনটি প্রকারের বাইরে নয়। আর পরিবর্তনশীল শব্দ হলো সুদৃঢ় বিশেষ্য এবং বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া। ইনশাআল্লাহ আমরা অচিরেই এই সবকিছুর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করব। বিশেষ্য হলো তা, যা কোনো অর্থের ওপর প্রযুক্ত হয়, যেমন: পুরুষ, ঘোড়া, যায়েদ, আমর এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। আর তুমি বিশেষ্যকে একটি চিহ্নের মাধ্যমে চিনতে পারো: যার শুরুতে কোনো একটি অব্যয় বা পদান্বয়ী অব্যয় যুক্ত হয়, তা-ই বিশেষ্য; আর যা এটি গ্রহণ করতে পারে না, তা বিশেষ্য নয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ৪)
وإعراب الْأَسْمَاء على ثَلَاثَة أضْرب على الرّفْع وَالنّصب والجرِّ فأمّا رفع الْوَاحِد المعرب غير المعتلّ فالضَّمُّ نَحْو قَوْلك زيدٌ وعبدُ الّله وعمرٌ وونصبه بِالْفَتْح نَحْو قَوْلك زيدا وعمراً وعبدَ اللهِ وجرّه بالكسرة نَحْو قَوْلك زيدٍ وعمرٍ ووعبدِ الله فَهَذِهِ الحركاتُ تسمّى بهذِه الأسماءِ إِذا كَانَ الشيءُ مُعْرَبا فَإِن كَانَ مبنيّا لَا يَزُول من حَرَكَة إِلَى أُخْرَى نَحْو حيثُ وقبْلُ وبعْدُ قيل لَهُ مضموم وَلم يُقَل مَرْفُوع لأنّه لَا يَزُول عَن الضمِّ و " أيْنَ " و " كيفَ " يُقَال لَهُ مَفْتُوح وَلَا يُقَال لَهُ مَنْصُوب لأنَّه لَا يَزُول عَن الْفَتْح وَنَحْو هؤلاءِ وحذَارِ وأمسِ مكسور وَلَا يُقَال لَهُ مجرور لِأَنَّهُ لَا يَزُول عَن الْكسر وَكَذَلِكَ مِنْ وهلْ وبلْ يُقَال لَهُ مَوْقُوف وَلَا يُقَال لَهُ مجزوم لِأَنَّهُ لَا يَزُول عَن الْوَقْف

বিশেষ্য বা নামবাচক শব্দসমূহের ই’রাব বা রূপান্তর তিন প্রকার: রফ’, নাসব এবং জার। অসুস্থ অক্ষরহীন (সহীহ) একবচন মু’রাব শব্দের রফ’ হয় দম্মাহ (পেশ) দ্বারা; যেমন আপনার বক্তব্য: যায়দুন, আবদুল্লাহ এবং আমরুন। আর তার নাসব হয় ফাতহাহ (জবর) দ্বারা; যেমন আপনার বক্তব্য: যায়দান, আমরান এবং আবদাল্লাহ। এবং তার জার হয় কাসরাহ (জের) দ্বারা; যেমন আপনার বক্তব্য: যায়দিন, আমরিন এবং আবদিল্লাহ। এই হরকত বা চিহ্নসমূহকে এই সকল নামে তখনই অভিহিত করা হয় যখন শব্দটি মু’রাব (পরিবর্তনশীল) হয়। পক্ষান্তরে যদি শব্দটি মাবনী (অপরিবর্তনীয়) হয় যা এক হরকত থেকে অন্য হরকতে পরিবর্তিত হয় না—যেমন: হাইসু, ক্ববলু এবং বা’দু—তবে একে ‘মাদমুম’ (পেশযুক্ত) বলা হয়, একে ‘মারফু’ বলা হয় না। কারণ এটি দম্মাহ বা পেশ থেকে বিচ্যুত হয় না। আর ‘আইনা’ এবং ‘কাইফা’-কে বলা হয় ‘মাফতুহ’ (জবরযুক্ত), একে ‘মানসুব’ বলা হয় না। কারণ এটি ফাতহাহ বা জবর থেকে বিচ্যুত হয় না। একইভাবে ‘হাউলাই’, ‘হাযারি’ এবং ‘আমসি’ হলো ‘মাকসুর’ (জেরযুক্ত), একে ‘মাজরুর’ বলা হয় না। কারণ এটি কাসরাহ বা জের থেকে বিচ্যুত হয় না। তদ্রূপ ‘মিন’, ‘হাল’ এবং ‘বাল’-কে বলা হয় ‘মাওকুফ’ (স্থির), একে ‘মাজযুম’ বলা হয় না। কারণ এটি ওয়াকফ বা সুকুন থেকে বিচ্যুত হয় না।

(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ৫)
وَإِذا ثَنَّيْت الْوَاحِد ألحقْتَه الْفَا ونونا فِي الرّفْع أمّا الْألف فإنَّها عَلامَة الرّفْع وأَمّا النُّون فَإِنَّهَا بدَل من الْحَرَكَة والتنوين اللَّذين كَانَا فِي الْوَاحِد فَإِن كَانَ الِاسْم مجروراً أَو مَنْصُوبًا فعلامته ياءٌ مَكَان الأَلف وَذَلِكَ قَوْلك جاءَني الرّجلَانِ وَرَأَيْت الرجليْن ومررت بالرجلَين يَسْتَوِي النصب والجرّ فِي ذَلِك وتُكْسَر النُّون من الِاثْنَيْنِ لعلَّة سنذكرها مَعَ ذكر اسْتِوَاء الجرّ وَالنّصب فِي موضعهَا إِن شاءَ الله فَإِن جمعت الِاسْم على حدّ التَّثْنِيَة أَلحقته فِي الرّفْع واوا ونونا أمّا الْوَاو فعلامة الرّفْع وأمّا النُّون فَبدلٌ من الْحَرَكَة والتنوين اللَّذين كَانَا فِي الْوَاحِد وَيكون فِيهِ فِي الجرّ وَالنّصب ياءٌ مَكَان الْوَاو وَيَسْتَوِي الجرّ وَالنّصب فِي هَذَا الْجمع كَمَا اسْتَويَا فِي التَّثْنِيَة لأَنَّ هَذَا الْجمع على حد التَّثْنِيَة وَهُوَ الْجمع الصَّحِيح وإِنما كَانَ كَذَلِك لأَنَّك إِذَا ذكَرت الْوَاحِد نَحْو قَوْلك مُسْلم ثُمّ ثَنَّيْتَهُ أَدَّيْتَ بناءَه كَمَا
আপনি যখন একবচনকে দ্বিবচন করবেন, তখন রফ-এর অবস্থায় আপনি এর শেষে একটি আলিফ ও নুন যুক্ত করবেন। আলিফ হলো রফ-এর চিহ্ন, আর নুন হলো একবচনে থাকা হরকত ও তানভীনের স্থলাভিষিক্ত। আর যদি শব্দটি জর বা নসব অবস্থায় থাকে, তবে আলিফের স্থলে এর চিহ্ন হবে ইয়া। আর তা হলো আপনার এরূপ বলা: ‘আমার কাছে দুইজন লোক এসেছে’, ‘আমি দুইজন লোককে দেখেছি’ এবং ‘আমি দুইজন লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’। এক্ষেত্রে নসব ও জর একই হয়ে থাকে। আর দ্বিবচনের নুন-এ কাসরা (জের) দেওয়া হয় এমন একটি কারণে যা আমরা যথাস্থানে ইনশাআল্লাহ জর ও নসবের অভিন্ন হওয়ার আলোচনার সাথে উল্লেখ করব। আর যদি আপনি একবচন শব্দকে দ্বিবচনের নিয়মে বহুবচন করেন, তবে রফ-এর অবস্থায় আপনি এর শেষে একটি ওয়াও ও নুন যুক্ত করবেন। ওয়াও হলো রফ-এর চিহ্ন, আর নুন হলো একবচনে থাকা হরকত ও তানভীনের স্থলাভিষিক্ত। আর এই বহুবচনে জর ও নসবের ক্ষেত্রে ওয়াও-এর স্থলে ইয়া হবে। দ্বিবচনের মতো এই বহুবচনেও জর ও নসব অভিন্ন হয়ে থাকে; কারণ এই বহুবচন দ্বিবচনের নিয়মেই গঠিত এবং এটিই হলো সঠিক বহুবচন (জমায়ে সহীহ)। এটি এমন হওয়ার কারণ হলো, আপনি যখন কোনো একবচন শব্দ উল্লেখ করেন—যেমন আপনার কথা ‘মুসলিম’—অতঃপর একে দ্বিবচন করেন, তখন আপনি এর মূল গঠন বজায় রাখেন যেভাবে...
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ৬)
كَانَ ثُمّ زِدْت عَلَيْهِ ألفا ونونا أَو يَاء ونونا فَإِذا جمعته على هَذَا الحدّ أدّيت بناءَه أَيْضا ثُمّ زِدْت عَلَيْهِ واوا ونونا أَو يَاء ونونا وَلم تغيّر بناءَ الْوَاحِد عمّا كَانَ عَلَيْهِ وَلَيْسَ هَكَذَا سَائِر الْجمع لأَنَّك تكْسِر الْوَاحِد عَن بنائِهِ نَحْو / قَوْلك دِرْهَم ثُمّ تَقول دَرَاهِم تفتح الدَّال وَكَانَت مَكْسُورَة وتكسر الهاءَ وَكَانَت مَفْتُوحَة وتفصل بَين الراءِ والهاءِ بأَلف تُدْخلها وَكَذَلِكَ أَكْلُب وأَفْلُس وغِلْمان فَلذَلِك قيل لكلّ جمع بِغَيْر الْوَاو وَالنُّون جمع تكسير وَيكون إِعرابه كإعراب الْوَاحِد لأَنَّه لم يأْتِ على حدِّ التَّثْنِيَة وَنون الْجمع الَّذِي على حدّ التَّثْنِيَة أَبدا مَفْتُوحَة وإِنما حرّكت نون الْجمع وَنون الْإِثْنَيْنِ لالتقاءِ الساكنين فحرّكت نون الْجمع بِالْفَتْح لأَن الْكسر والضمّ لَا يصلحان فِيهَا وَذَلِكَ أَنَّها تقع بعد وَاو مضموم مَا قبلهَا أَو يَاء مكسور مَا قبلهَا وَلَا يَسْتَقِيم توالي الكسَرات الضَّمَّات مَعَ الياءِ وَالْوَاو ففتحت وَكسرت نون الِاثْنَيْنِ لالتقاء الساكنين على أَصْل مَا يجب فيهمَا إِذا التقيا وَلم تكن فيهمَا مثل هَذِه العلَّة فتمتنع وإِذا جمعت المؤنَّث على حدّ التَّثْنِيَة فإِنَّ نَظِير قَوْلك مُسلمُونَ فِي جمع مُسلم أَن تَقول فِي مسلمة مسلمات فَاعْلَم وَإِنَّمَا حذفت التاءُ من مسلمة لأَنَّها علَم التأْنيث والأَلف والتاءُ فِي مسلمات علَم التأْنيث ومحال أَن يدْخل تأْنيث على تأْنيث فإِذا أَردت رَفعه قلت مسلماتٌ فَاعْلَم ونصبه وجرّه مسلماتٍ

সেটি ছিল, অতঃপর আপনি এর সাথে একটি আলিফ ও নুন অথবা ইয়া ও নুন যুক্ত করলেন। সুতরাং আপনি যখন এই নিয়মানুযায়ী একে বহুবচন করবেন, তখনও আপনি এর মূল গঠন বজায় রাখবেন, অতঃপর আপনি এর সাথে একটি ওয়াও ও নুন অথবা ইয়া ও নুন যুক্ত করবেন এবং একবচনের মূল গঠনটি যেমন ছিল তা থেকে পরিবর্তন করবেন না। কিন্তু অন্যান্য সকল বহুবচন এমন নয়, কারণ সেখানে আপনি একবচনের মূল গঠনটি ভেঙে ফেলেন; যেমন আপনার উক্তি— দিরহাম, অতঃপর আপনি বলেন— দারাহিম। এখানে আপনি ‘দাল’ বর্ণটিতে ফাতহা প্রদান করেন অথচ তা কাসরাযুক্ত ছিল, এবং ‘হা’ বর্ণটিতে কাসরা প্রদান করেন অথচ তা ফাতহাযুক্ত ছিল, আর আপনি ‘রা’ ও ‘হা’ বর্ণের মাঝে একটি আলিফ প্রবেশ করিয়ে তাদের পৃথক করে দেন। অনুরূপভাবে— আকলুব, আফলুস এবং গিলমান। একারণেই ওয়াও ও নুন ব্যতীত গঠিত প্রত্যেক বহুবচনকে ‘জামআ তাকসীর’ (ভগ্ন বহুবচন) বলা হয় এবং এর ইরাব (কারক বিভক্তি) একবচনের ইরাবের ন্যায় হয়, কারণ এটি দ্বিবচনের পদ্ধতিতে গঠিত হয়নি। আর দ্বিবচনের পদ্ধতিতে গঠিত বহুবচনের নুন সর্বদা ফাতহাযুক্ত হয়। মূলত বহুবচনের নুন এবং দ্বিবচনের নুনকে হারাকাত (স্বরচিহ্ন) প্রদান করা হয়েছে দুই সাকিন একত্রে মিলিত হওয়ার কারণে। অতঃপর বহুবচনের নুনকে ফাতহা দ্বারা হারাকাত দেওয়া হয়েছে, কারণ এতে কাসরা এবং দাম্মা উপযুক্ত নয়। এর কারণ হলো, এটি এমন একটি ওয়াও-এর পরে আসে যার পূর্বের বর্ণটি দাম্মা-যুক্ত, অথবা এমন একটি ইয়া-এর পরে আসে যার পূর্বের বর্ণটি কাসরা-যুক্ত। আর ইয়া ও ওয়াও-এর সাথে পর্যায়ক্রমিক কাসরা বা দাম্মার সমাহার সংগত নয়, তাই একে ফাতহা প্রদান করা হয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিবচনের নুনকে দুই সাকিন মিলিত হওয়ার মূল নিয়ম অনুযায়ী কাসরা প্রদান করা হয়েছে, যেহেতু সেখানে এমন কোনো ইল্লত (কারণ) বিদ্যমান ছিল না যা একে বাধা দিতে পারে। আর যখন আপনি স্ত্রীলিঙ্গ শব্দকে দ্বিবচনের পদ্ধতিতে বহুবচন করবেন, তখন ‘মুসলিম’ শব্দের বহুবচনে ‘মুসলিমুন’ বলার সমতুল্য হলো ‘মুসলিমাহ’ শব্দের ক্ষেত্রে ‘মুসলিমাত’ বলা—এটি জেনে রাখুন। মূলত ‘মুসলিমাহ’ থেকে ‘তা’ বর্ণটি বিলুপ্ত করা হয়েছে কারণ সেটি হলো স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্ন, আর ‘মুসলিমাত’ শব্দে আলিফ ও তা হলো স্ত্রীলিঙ্গের চিহ্ন; আর এক স্ত্রীলিঙ্গ চিহ্নের ওপর অন্য স্ত্রীলিঙ্গ চিহ্নের আগমন অসম্ভব। সুতরাং যখন আপনি এর রাফ (পেশ) প্রদান করতে চাইবেন, তখন বলবেন ‘মুসলিমাতুন’—এটি জেনে রাখুন—এবং এর নাসব (যবর) ও জার (যের) অবস্থায় হবে ‘মুসলিমাতিন’।

(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ৭)
يَسْتَوِي الْجَرّ وَالنّصب كَمَا اسْتَويَا فِي مسلمِينَ لأَن هَذَا فِي المؤنّث نَظِير ذَلِك فِي المذكِّرَّ وإِنَّما اسْتَوَى الجرّ وَالنّصب فِي التَّثْنِيَة وَالْجمع لاستوائما فِي الْكِنَايَة تَقول مَرَرْت بك ورأَيتك واستواؤهما أَنَّهما مفعولان لأَنَّ معنى قَوْلك مَرَرْت بزيد أَي فعلت هَذَا بِهِ فعلى هَذَا تجْرِي التَّثْنِيَة وَالْجمع فِي المذكّر والمؤنَّث من الأسماءِ فأَمَّا الأَفعال فإِنَّا أَخَّرنا ذكرهَا حتّى نَضَعها فِي موَاضعهَا بِجَمِيعِ تَفْسِيرهَا إِن شاءَ الله
জর ও নসব অভিন্ন হয় যেমন ‘মুসলিমীন’ শব্দে তারা অভিন্ন হয়েছে; কারণ স্ত্রীলিঙ্গে এটি পুংলিঙ্গের অনুরূপ। মূলত দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে জর ও নসব অভিন্ন হয়েছে সর্বনামের ক্ষেত্রে তাদের অভিন্নতার কারণে। আপনি বলেন: ‘মারারতু বিকা’ এবং ‘রাআইতুকা’। তাদের উভয়ের অভিন্নতা হলো তারা উভয়ই কর্মপদ; কেননা আপনার কথা ‘মারারতু বি-জাইদিন’ এর অর্থ হলো ‘আমি তার সাথে এটি করেছি’। এই নিয়মেই বিশেষ্যের ক্ষেত্রে পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের দ্বিবচন ও বহুবচন পরিচালিত হয়। আর ক্রিয়াসমূহের বিষয়টিকে আমরা বিলম্বিত করেছি যাতে ইনশাআল্লাহ আমরা সেগুলোকে পূর্ণ ব্যাখ্যাসহ যথাস্থানে বিন্যস্ত করতে পারি।
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌(هَذَا بَاب الْفَاعِل)

وَهُوَ رَفْع وَذَلِكَ قَوْلك قَامَ عبدُ الله وَجلسَ زيدٌ وإنَّما كَانَ الْفَاعِل رفعا لأَنَّه هُوَ وَالْفِعْل جملةٌ يحسن عَلَيْهَا السُّكُوت / وَتجب بهَا الفائدةُ للمخاطب فالفاعل وَالْفِعْل بِمَنْزِلَة الِابْتِدَاء وَالْخَبَر إِذا قلت قَامَ زيد فَهُوَ بِمَنْزِلَة قَوْلك الْقَائِم زيدُ وَالْمَفْعُول بِهِ نصب إِذا ذكرت مَن فعَل بِهِ وَذَلِكَ لأَنَّه تعدّى إِلَيْهِ فعل الْفَاعِل وإنَّما كَانَ الْفَاعِل رفعا وَالْمَفْعُول بِهِ نصبا ليُعْرَف الْفَاعِل من الْمَفْعُول بِهِ مَعَ العلَّة الَّتِي ذكرت لَك فَإِن قَالَ قَائِل أَنت إِذا قلت قَامَ زيد فَلَيْسَ هَهُنَا مفعول يجب أَن تفصل بَينه وَبَين هَذَا الْفَاعِل فإِن الْجَواب فِي ذَلِك أَن يُقَال لَهُ لمّا وَجب أَن يكون الْفَاعِل رفعا فِي الْموضع الَّذِي لَا لَبْسَ فِيهِ للعلَّة الَّتِي ذكرنَا وَلما سَنذكرُهُ من العِلَل فِي موَاضعهَا فرأَيته مَعَ غَيره علمت أَنَّ الْمَرْفُوع هُوَ ذَلِك الْفَاعِل الَّذِي عهدته مَرْفُوعا وَحْدَه وأَنَّ الْمَفْعُول الَّذِي لم تعهده مَرْفُوعا وَكَذَلِكَ إِذا قلت لم يقم زيد وَلم ينطبق عبد الله وسيقوم أَخوك فإِن قَالَ قَائِل إِنما رفعت زيدا أَوّلا لأَنَّه فاعِل فإِذا قلت لم يقم فقد نفيت عَنهُ الفِعْل فَكيف رفعته قيل لَهُ إِن النَّفْي إِنَّما يكون على جِهَة مَا كَانَ مُوجبا فإِنَّما أَعلمت السَّامع من الَّذِي نفيت عَنهُ أَن يكون فَاعِلا فَكَذَلِك إِذا قلت لم يضْرب عبدُ الله زيدا عُلم بِهَذَا اللَّفْظ مَنْ ذكرنَا
(এটি ফاعل বা কর্তা সংক্রান্ত অধ্যায়)

আর এটি রফ’ (পেশ) বিশিষ্ট হয়, আর তা হলো তোমার কথা: ‘আবদুল্লাহ দাঁড়িয়েছে’ এবং ‘জায়েদ বসেছে’। ফاعل-কে রফ’ প্রদান করা হয়েছে কারণ এটি এবং فعل (ক্রিয়া) মিলে এমন এক পূর্ণাঙ্গ বাক্য গঠিত হয় যার ওপর কথা শেষ করা সংগত এবং এর মাধ্যমে শ্রোতার নিকট পূর্ণ অর্থ বা ফায়দা অর্জিত হওয়া আবশ্যক। সুতরাং ফاعل ও فعل-এর অবস্থান মুবতাদা ও খবর-এর স্তরের সমতুল্য। যখন তুমি বলো ‘জায়েদ দাঁড়িয়েছে’, তখন তা তোমার এই কথা ‘জায়েদ দণ্ডায়মান’-এর সমার্থক। আর যখন তুমি এমন কারো কথা উল্লেখ করো যার ওপর কাজ সম্পাদিত হয়েছে, তখন মফ’উলে বিহি (কর্ম) নসব (জবর) বিশিষ্ট হয়; আর এটি এই কারণে যে, ফاعل-এর ক্রিয়া তার দিকে সঞ্চারিত হয়েছে। ফاعل-কে রফ’ এবং মফ’উলে বিহি-কে নসব প্রদান করার কারণ হলো—আমি তোমার নিকট যে কারণ বর্ণনা করেছি তার পাশাপাশি—যাতে ফاعل-কে মফ’উল থেকে পৃথকভাবে চেনা যায়। যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: ‘তুমি যখন বলো—জায়েদ দাঁড়িয়েছে—তখন তো এখানে কোনো মফ’উল নেই যার থেকে এই ফاعل-কে পৃথক করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে?’ তবে এর উত্তর হলো: আমাদের উল্লিখিত কারণ এবং পরবর্তীতে যথাস্থানে আমরা আরও যেসব কারণ উল্লেখ করব তার প্রেক্ষিতে, যে স্থানে কোনো অস্পষ্টতা নেই সেখানেও যখন ফاعل-এর জন্য রফ’ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ল, তখন যখন তুমি একে অন্য কিছুর সাথে দেখতে পাও, তখন তুমি সহজেই বুঝতে পারো যে মরফু’ (পেশযুক্ত) শব্দটিই হলো সেই ফاعل যাকে তুমি একক অবস্থায় মরফু’ হিসেবে চিনে আসছ। আর মফ’উল হলো সেটি যাকে তুমি মরফু’ হিসেবে চিনতে না। অনুরূপ নিয়ম প্রযোজ্য হবে যখন তুমি বলবে: ‘জায়েদ দাঁড়ায়নি’, ‘আবদুল্লাহ আবদ্ধ হয়নি’ এবং ‘তোমার ভাই অচিরেই দাঁড়াবে’। এরপর যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করে: ‘তুমি তো প্রথমে জায়েদকে রফ’ দিয়েছিলে কারণ সে ফاعل (কর্তা); কিন্তু যখন তুমি বললে—সে দাঁড়ায়নি—তখন তো তুমি তার থেকে ক্রিয়াকে অস্বীকার করলে, তবে কেন তাকে রফ’ দিলে?’ উত্তরে তাকে বলা হবে: নফী বা না-বোধক বাক্য মূলত হাঁ-বোধক বাক্যেরই ধারা অনুসরণ করে। তুমি তো কেবল শ্রোতাকে এটি অবগত করলে যে, কার থেকে তুমি ফاعل হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছ। অনুরূপভাবে যখন তুমি বলো ‘আবদুল্লাহ জায়েদকে প্রহার করেনি’, তখন এই বাক্যের মাধ্যমেই আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি তাদের পরিচয় জানা যায়।
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ৯)
أَنَّه لَيْسَ بفاعل وَمن ذكرنَا أَنَّه لَيْسَ بمفعول أَلا ترى أَن الْقَائِل إِذا قَالَ زيد فِي الدَّار فأَردت أَن تنفى مَا قَالَ أَنَّك تَقول مَا زيد فِي الدَّار فَترد كَلَامه ثمّ تنفيه وَمَعَ هَذَا فإنَّ قَوْلك يضْرب زيد يضْرب هِيَ الرافعة فإِذا قلت لم يضْرب زيدٌ (فَيضْرب) الَّتِي كَانَت رَافِعَة لزيد قد ردَدْتها قبله و (لمْ) إِنَّما عملت فِي (يضْرب) وَلم تعْمل فِي زيد وإِنَّما وَجب الْعَمَل بِالْفِعْلِ فَهَذَا كَقَوْلِك سيضرب زيد إِذا أَخبرت وكاستفهامك إِذا قلت أَضرب زيد إِنَّما استفهمت فَجئْت بالآلة الَّتِي من شأْنها أَن ترفع زيدا وَإِن لم يكن وَقع مِنْهُ فِعْل ولكنَّك إِنَّما سأَلت عَنهُ هَل يكون فَاعِلا وأَخبرت أَنَّه سَيكون فَاعِلا فللفاعل / فِي كلِّ هَذَا لفظ وَاحِد يُعْرَف بِهِ حَيْثُ وَقع وَكَذَلِكَ الْمَفْعُول وَالْمَجْرُور وَجَمِيع الْكَلَام فِي حَال إِيجَابه ونفيه وسنضع من الْحجَج المستقصاة فِي موَاضعهَا أَكثر من هَذَا لأَنَّ هَذَا مَوضِع اخْتِصَار وتَوْطِئة لما بعده إِن شاءَ الله

যে তিনি কর্তা নন, এবং যাঁকে আমরা উল্লেখ করেছি যে তিনি কর্ম নন। আপনি কি দেখেন না যে, বক্তা যখন বলে ‘যায়েদ ঘরে আছে’ এবং আপনি যদি তার বক্তব্যকে অস্বীকার করতে চান, তবে আপনি বলেন ‘যায়েদ ঘরে নেই’; ফলে আপনি তার বক্তব্য পুনরায় উল্লেখ করছেন এবং এরপর তা অস্বীকার করছেন। এর পাশাপাশি, আপনার উক্তি ‘যায়েদ প্রহার করছে’-এ ‘প্রহার করছে’ (ইয়াদরিবু) শব্দটিই হলো রাফ্ প্রদানকারী (কর্তাকে পেশ প্রদানকারী)। সুতরাং যখন আপনি বলেন ‘যায়েদ প্রহার করেনি’, তখন ‘ইয়াদরিব’ (প্রহার করা) শব্দটি—যা যায়েদকে রাফ্ প্রদান করেছিল—তাকে আপনি তার (যায়েদের) পূর্বেই ফিরিয়ে এনেছেন। আর ‘লাম’ (না-বাচক অব্যয়) কেবল ‘ইয়াদরিব’ শব্দের ওপর আমল (প্রভাব বিস্তার) করেছে, যায়েদের ওপর আমল করেনি। আর আমল করা কেবল ক্রিয়া (ফেল) দ্বারাই আবশ্যক হয়েছে। এটি আপনার উক্তি ‘যায়েদ অচিরেই প্রহার করবে’-এর মতো যখন আপনি সংবাদ দেন, এবং আপনার জিজ্ঞাসার মতো যখন আপনি বলেন ‘যায়েদ কি প্রহার করেছে?’; আপনি কেবল প্রশ্ন করেছেন, তাই আপনি এমন একটি উপকরণ নিয়ে এসেছেন যার বৈশিষ্ট্য হলো যায়েদকে রাফ্ প্রদান করা, যদিও তার পক্ষ থেকে কোনো কাজ সংঘটিত হয়নি। কিন্তু আপনি কেবল তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন যে সে কি কর্তা হবে কি না, এবং সংবাদ দিয়েছেন যে সে অচিরেই কর্তা হবে। সুতরাং কর্তার জন্য এই সবকিছুর মধ্যে একটিই শব্দগত রূপ রয়েছে যার মাধ্যমে সে যেখানেই অবস্থিত হোক না কেন তাকে চেনা যায়। অনুরূপভাবে কর্ম (মাফউল), মাজরুর (জেরযুক্ত শব্দ) এবং সমস্ত বাক্যই তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক অবস্থায় একইভাবে গণ্য হয়। আর আমরা এর চেয়েও বেশি বিশদ প্রমাণাদি তাদের উপযুক্ত স্থানে উপস্থাপন করব, কারণ এটি হলো সংক্ষেপ করার এবং পরবর্তী বিষয়ের ভূমিকা প্রদানের স্থান, ইনশাআল্লাহ।

(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌(هَذَا بَاب حُرُوف الْعَطف بمعانيها)

فَمِنْهَا (الْوَاو) وَمَعْنَاهَا إشراك الثانى فِيمَا دخل فِيهِ الأول وَلَيْسَ فِيهَا دَلِيل على أَيهمَا كَانَ أَولا نَحْو قَوْلك جاءنى زيد وَعَمْرو ومررت بِالْكُوفَةِ والبصره فجائزأن تكون ألبصرة أَولا كَمَا قَالَ ألله عز وجل {واسجدي واركعي مَعَ الراكعين} وَالسُّجُود بعد الرُّكُوع وَمِنْهَا (الفاءُ) وهى توجب أَنَّ الثانى بعد الأَوّل وأَنّ الأّمر بَينهمَا قريب نَحْو قَوْلك رَأَيْت زيدا فعمرا وَدخلت مكَّة فالمدينة و (ثُمّ) مثل الفاءِ إلأ أَنَّهَا / أَشَّد تراخيا تَقول ضربت زيدا / ثمّ عمرا وأَتيت الْبَيْت ثُمَّ الْمَسْجِد وَمِنْهَا (أَو) وَهِي لأَحد الأَمرين عِنْد شكِّ المتكلِّم أَو قَصْده أَحدَهما وَذَلِكَ قَوْلك أَتيت زيدا أَو عمرا وجاءَني رجل أَو امرأَةٌ هَذَا إِذا شكَّ فأَمَّا إِذا قصد فَقَوله كل السّمك أَو اشرب اللبنَ أَي لَا تجمع بَينهمَا وَلَكِن اختر أَيَّهما شِئْت وَكَذَلِكَ أَعطني دِينَارا أَو اكسني ثوبا
(এটি সংযোজক অব্যয় এবং সেগুলোর অর্থ সংক্রান্ত অধ্যায়)

এগুলোর মধ্যে একটি হলো (ওয়াও), এর অর্থ হলো প্রথমটি যাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাতে দ্বিতীয়টিকেও অংশীদার করা। এতে কোনটি আগে সংঘটিত হয়েছে সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ নেই। যেমন আপনার কথা: ‘জায়েদ ও আমর আমার নিকট এসেছে’ এবং ‘আমি কুফা ও বসরার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি’। এক্ষেত্রে বসরা আগে হওয়া সম্ভব, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আপনি সেজদা করুন এবং রুকু করুন রুকুকারীদের সাথে}। অথচ সেজদা মূলত রুকুর পরে হয়ে থাকে। আর এগুলোর মধ্যে রয়েছে (ফা), এটি আবশ্যক করে যে দ্বিতীয়টি প্রথমটির পরে হয়েছে এবং উভয়ের মাঝে সময়ের ব্যবধান অত্যন্ত অল্প। যেমন আপনার কথা: ‘আমি জায়েদকে দেখেছি, তারপর আমরকে’ এবং ‘আমি মক্কায় প্রবেশ করেছি, তারপর মদিনায়’। আর (সুম্মা) হলো ‘ফা’-এর মতোই, তবে এটি অধিক বিলম্ব বা দীর্ঘ বিরতি নির্দেশ করে। আপনি বলবেন: ‘আমি জায়েদকে প্রহার করেছি, অতঃপর আমরকে’ এবং ‘আমি বায়তুল্লাহয় এসেছি, অতঃপর মসজিদে’। এগুলোর মধ্যে আরেকটি হলো (আউ), এটি বক্তার সন্দেহ অথবা দুটির মধ্যে কোনো একটিকে নির্দিষ্ট করার সংকল্পের সময় ব্যবহৃত হয়। যেমন আপনার কথা: ‘আমি জায়েদ অথবা আমরের নিকট এসেছি’ এবং ‘আমার কাছে একজন পুরুষ অথবা একজন নারী এসেছে’। এটি সন্দেহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর যদি উদ্দেশ্য (পছন্দ বা অনুমতি) হয়, তবে যেমন বলা হয়: ‘মাছ খাও অথবা দুধ পান করো’, অর্থাৎ এই দুটিকে একত্রে গ্রহণ করো না বরং তুমি যা চাও তা বেছে নাও। অনুরূপভাবে: ‘আমাকে একটি দিনার দাও অথবা আমাকে একটি পোশাক দান করো’।
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ১১)
وَقد يكون لَهَا مَوضِع آخر مَعْنَاهُ الْإِبَاحَة وَذَلِكَ قَوْلك جَالس الْحسن أَو ابنَ سِيرِين وائت الْمَسْجِد أَو السُّوق أَي قد أَذِنت لَك فِي مجالسة هَذَا الضَّرْب من النَّاس وَفِي إتْيَان هَذَا الضَّرْب من الْمَوَاضِع فإِن نهيت عَن هَذَا قلت لَا تُجالس زيدا أَو عمرا أَي لَا تجالسْ هَذَا الضَّرْب من النَّاس وعَلى هَذَا قَول الله عز وجل {وَلَا تُطِع مِنْهُم آثِما أَو كفورا} و (إِمّا) فِي الْخَبَر بِمَنْزِلَة (أَو) وَبَينهمَا فَصْل وَذَلِكَ أَنَّك إِذا / قلت جاءَني زيد أَو عَمْرو وَقع الْخَبَر فِي زيد يَقِينا حتّى ذكَرت أَوْ فَصَارَ فِيهِ وَفِي عَمْرو شكّ وإِمّا تبتدئ بهَا شاكّاً وَذَلِكَ قَوْلك جاءَني إِمّا زيدٌ وإِمّا عَمْرو أَي أَحدهمَا وَكَذَلِكَ وُقُوعهَا للتَّخْيِير تَقول اضْرِب إمّا عبدَ الله وإِمّا خَالِدا فالآمر لم يَشُكَّ ولكنَّه خيّر المأْمور كَمَا كَانَ ذَلِك فِي (أَوْ) وَنَظِيره قَول الله عز وجل {إِنَّا هديناه السَّبِيل إِمَّا شاكرا وَإِمَّا كفورا} وَكَقَوْلِه {فإمَّا منا بعد وَإِمَّا فدَاء} وَمِنْهَا لَا وَهِي تقع لإِخْرَاج الثَّانِي ممّا دخل فِيهِ الأَوَل وَذَلِكَ قَوْلك ضربت زيدا لَا عمرا ومررت بِرَجُل لَا امرأَةٍ

কখনও কখনও এর অন্য একটি প্রয়োগ হয় যার অর্থ বৈধতা দান (ইবাহাহ), আর তা হলো তোমার কথা: "হাসান অথবা ইবনে সিরিনের সাথে বসো" এবং "মসজিদে অথবা বাজারে যাও"। অর্থাৎ আমি তোমাকে এই শ্রেণির মানুষের সাথে বসার এবং এই ধরণের স্থানগুলোতে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছি। যদি তুমি এটি থেকে নিষেধ করো, তবে বলবে: "জায়েদ অথবা আমরের সাথে বসো না।" অর্থাৎ এই শ্রেণির মানুষের সাথে বসো না। আর এ বিষয়ের ওপরই মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের মধ্য থেকে কোনো পাপিষ্ঠ অথবা অকৃতজ্ঞের আনুগত্য করো না}। এবং সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে 'ইম্মা' শব্দটি 'আও'-এর স্থলাভিষিক্ত হয়, তবে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তা হলো, তুমি যখন বলো "আমার কাছে জায়েদ অথবা আমর এসেছে", তখন 'আও' (অথবা) উল্লেখ করার আগ পর্যন্ত জায়েদ আসার বিষয়টি সংবাদে সুনিশ্চিত ছিল, অতঃপর তা তার এবং আমরের ব্যাপারে সন্দেহে পরিণত হলো। আর তুমি সন্দেহের সাথে 'ইম্মা' দিয়ে বাক্য শুরু করো, আর তা হলো তোমার কথা: "আমার কাছে হয় জায়েদ এসেছে, নয়তো আমর এসেছে," অর্থাৎ তাদের একজন। একইভাবে তা পছন্দ নির্বাচনের (তাখয়ির) জন্যও আসে, যেমন তুমি বলো: "হয় আবদুল্লাহকে প্রহার করো, নয়তো খালিদকে।" এখানে আদেশদাতা কোনো সন্দেহ পোষণ করেননি, বরং তিনি যাকে আদেশ করা হয়েছে তাকে পছন্দ করার সুযোগ দিয়েছেন, যেমনটি 'আও' শব্দের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এর সদৃশ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আমি তাকে পথ প্রদর্শন করেছি; হয়তো সে কৃতজ্ঞ হবে, নয়তো অকৃতজ্ঞ} এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর হয় অনুগ্রহ করো, না হয় মুক্তিপণ গ্রহণ করো}। আর এগুলোর মধ্যে একটি হলো 'লা' (না), যা প্রথমজন যে বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তা থেকে দ্বিতীয়জনকে বের করে দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। আর তা হলো তোমার কথা: "আমি জায়েদকে প্রহার করেছি, আমরকে নয়" এবং "আমি এক পুরুষের কাছ দিয়ে গিয়েছি, কোনো মহিলার কাছ দিয়ে নয়"।

(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ১২)
وَمِنْهَا بَلْ وَمَعْنَاهَا الإضراب عَن الأَوَّل وَالْإِثْبَات للثَّانِي نَحْو قَوْلك ضربت زيدا بل عمرا وجاءَني عبد الله بل أَخوه وَمَا جاءَني رجل بل امرأَة وَمِنْهَا (لكنْ) وَهِي للاستدراك بعد النَّفْي وَلَا يجوز أَن تدخل بعد وَاجِب إلاّ لترك قصّة إِلَى قصّة تامّة نَحْو قَوْلك جاءَني زيد لَكِن عبدُ الله لم يأْت / وَمَا جاءَني زيد لكنْ عَمْرو وَمَا مَرَرْت بأَخيك [لَكِن عدوَّك وَلَو قلت مَرَرْت بأَخيك] لَكِن عَمْرو لم يجز وَمِنْهَا (حتَّى) وَلها بَاب على حِياله وَمِنْهَا أَمْ وَهِي فِي الِاسْتِفْهَام نظيرة (أوْ) فِي الْخَبَر ونذكره فِي بَاب الِاسْتِفْهَام إِن شاءَ الله فَهَذِهِ الْحُرُوف - حُرُوف الْعَطف - تُدْخِل الثَّانِي من الْإِعْرَاب فِيمَا دخل فَمَا فِيهِ الأَوّل

এবং সেগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘বাল’ (বরং)। এর অর্থ হলো প্রথমটি থেকে বিমুখ হওয়া এবং দ্বিতীয়টিকে সাব্যস্ত করা। যেমন আপনার উক্তি: ‘আমি জায়েদকে প্রহার করেছি বরং আমরকে’, ‘আমার নিকট আব্দুল্লাহ এসেছে বরং তার ভাই’ এবং ‘আমার নিকট কোনো পুরুষ আসেনি বরং একজন নারী এসেছে’।

এবং এগুলোর মধ্যে আরও আছে ‘লাকিন’ (কিন্তু)। এটি না-বোধক বাক্যের পর সংশোধনের (ইস্তিদরাক) জন্য আসে। এটি হ্যাঁ-বোধক বাক্যের পরে আসা বৈধ নয়, তবে এক প্রসঙ্গ ছেড়ে পূর্ণাঙ্গ অন্য প্রসঙ্গে যাওয়ার ক্ষেত্র ব্যতীত। যেমন আপনার উক্তি: ‘জায়েদ আমার নিকট এসেছে কিন্তু আব্দুল্লাহ আসেনি’, ‘জায়েদ আমার নিকট আসেনি কিন্তু আমর এসেছে’ এবং ‘আমি তোমার ভাইয়ের কাছ দিয়ে অতিক্রম করিনি বরং তোমার শত্রুর কাছ দিয়ে’। যদি বলা হয় ‘আমি তোমার ভাইয়ের কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছি কিন্তু আমর’, তবে তা সঠিক হবে না।

এবং এগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো ‘হাত্তা’ (পর্যন্ত), এর জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে আরও আছে ‘আম’ (অথবা), যা জিজ্ঞাসাবোধক বাক্যে ‘আও’-এর সমরূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয় যেমনটি ‘আও’ সংবাদমূলক বাক্যে ব্যবহৃত হয়। ইনশাআল্লাহ আমরা জিজ্ঞাসাবোধক অধ্যায়ে এটি আলোচনা করব। সুতরাং এই হরফগুলো—অর্থাৎ আতফের অব্যয়সমূহ—দ্বিতীয় শব্দটিকে সেই ই’রাবের (কারক বিভক্তি) অন্তর্ভুক্ত করে দেয়, যাতে প্রথম শব্দটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌(هَذَا بَاب من مسَائِل الْفَاعِل وَالْمَفْعُول بِهِ)

/ وَتقول أَعجبني ضربُ الضاربِ زيدا عبدَ الله رفعت الضَّرْب لأَنَّه فَاعل بالإِعجاب وأَضفته إِلى الضَّارِب ونصبت زيدا لأَنّه مفعول فِي صلَة الضَّارِب ونصبت عبد الله
‌(এটি কর্তা এবং কর্ম সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের একটি অধ্যায়)

এবং আপনি বলবেন: ‘প্রহারকারীর যায়েদকে এবং আব্দুল্লাহকে প্রহার করা আমাকে বিস্মিত করেছে।’ আপনি ‘প্রহার’ শব্দটিকে রফা (পেশ) প্রদান করবেন কারণ এটি ‘বিস্মিত করা’ ক্রিয়ার কর্তা এবং আপনি একে ‘প্রহারকারী’ শব্দের দিকে সম্বন্ধ (ইজাফাত) করেছেন। আর আপনি ‘যায়েদ’কে নসব (জবর) প্রদান করেছেন কারণ এটি ‘প্রহারকারী’র অনুষঙ্গে কর্ম হয়েছে এবং ‘আব্দুল্লাহ’কেও নসব প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
بِالضَّرْبِ الأَوّل وفاعله الضَّارِب الْمَجْرُور وَتَقْدِيره أَعجبني أَن ضربَ الضاربُ زيدا عبدَ الله فَهَكَذَا تَقْدِير الْمصدر وَتقول سرّني قيام أَخيك فقد أَضفت الْقيام إِلى الأَخ وَهُوَ فَاعل وَتَقْدِيره سرَّني أَن قَامَ أَخوك وَتقول أَعجبني ضَرْبُ زيدٍ عمرا وإِن شِئْت قلت ضربُ زيد عَمْرو إِذا كَانَ عَمْرو ضرب زيدا تضيف الْمصدر إِلَى الْمَفْعُول كَمَا أَضفته إِلى الْفَاعِل وَإِن نوّنت أَو أَدخلت فِيهِ أَلفا ولاما جرى مَا بعده على أَصله فَقلت أَعجبني ضربٌ زيدٌ عمرا وإِن شِئْت نصبت (زيد) وَرفعت عمرا أَيُّهما كَانَ فَاعِلا رفعته تقدَّم أَو تأَخَّر وَتقول أَعجبني الضَرْبُ زيدٌ عمرا فممّا جاءَ فِي الْقُرْآن منوّنا قَوْله {أَو إطْعَام فِي يَوْم ذِي مسغبة يَتِيما ذَا مقربة} وَقَالَ الشَّاعِر فِيمَا كَانَ بِالْألف وَاللَّام

(لقد علمت أُوْلَى المُغِيرةِ أَنَّني … لحِقتُ فَلم أَنكُلْ عَن الضَّرب مِسْمَعا)
প্রথম 'প্রহার' (দারব) শব্দের মাধ্যমে এবং এর কর্তা হলো 'প্রহারকারী' (দারিব) যা মাজরুর (জেরযুক্ত) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ হলো: 'প্রহারকারী ব্যক্তি আব্দুল্লাহর পুত্র জায়েদকে প্রহার করেছে—এ বিষয়টি আমাকে মুগ্ধ করেছে'। মাজদারের (ক্রিয়ামূল) বিশ্লেষণ এভাবেই হয়ে থাকে। আপনি বলেন, 'তোমার ভাইয়ের দণ্ডায়মান হওয়া আমাকে আনন্দিত করেছে'। এখানে আপনি 'দণ্ডায়মান হওয়া' (কিয়াম) শব্দটিকে 'ভাই' (আখ)-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, যদিও সে মূলত এখানে কর্তা। এর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ হলো: 'তোমার ভাই দণ্ডায়মান হয়েছে—এ বিষয়টি আমাকে আনন্দিত করেছে'। আপনি আরও বলেন, 'জায়েদের আমরকে প্রহার করা আমাকে মুগ্ধ করেছে'। আবার চাইলে আপনি বলতে পারেন 'জায়েদকে আমরের প্রহার করা', যদি আমর জায়েদকে প্রহার করে থাকে। অর্থাৎ, আপনি মাজদারকে কর্মের (মাফউল) সাথেও সম্বন্ধযুক্ত করতে পারেন ঠিক যেমনটি আপনি কর্তার (ফায়েল) সাথে করেছিলেন। আর যদি আপনি মাজদারে তানভীন ব্যবহার করেন অথবা এতে আলিফ-লাম যুক্ত করেন, তবে তার পরবর্তী শব্দগুলো তাদের মূল ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হবে। তখন আপনি বলবেন, 'জায়েদ কর্তৃক আমরকে প্রহার করা আমাকে মুগ্ধ করেছে'। আপনি চাইলে 'জায়েদ' শব্দটিকে নসব (যবর) এবং 'আমর' শব্দটিকে রফা (পেশ) প্রদান করতে পারেন; এদের মধ্যে যেটিই কর্তা হবে আপনি তাকেই রফা দেবেন, চাই সেটি আগে আসুক বা পরে। আপনি আরও বলতে পারেন, 'এই প্রহার করা—জায়েদ কর্তৃক আমরকে—আমাকে মুগ্ধ করেছে'। কুরআনে মাজদার তানভীনযুক্ত অবস্থায় আসার একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান করা, নিকটাত্মীয় ইয়াতীমকে।" আর আলিফ-লাম যুক্ত হওয়ার উদাহরণে কবি বলেছেন:

(মুগীরা গোত্রের অগ্রবর্তীরা জেনেছে যে, আমি অবশ্যই তাদের নাগাল পেয়েছি … আর আমি মিসমা'কে প্রহার করা হতে পিছুপা হইনি।)
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
أَرَادَ عَن ضرْب مِسْمَع فلمّا أَدخل الأَلف وَاللَّام امْتنعت الإِضافة فَعمل عمَلَ الْفِعْل وَمثله قَوْله

(وهُنَّ وُقوفٌ ينتظرْن قَضاءَه … بضاحى عَذاة أَمْرَهُ وهْو ضامِرُ)

أَي ينتظرن أَن يقْضِي أَمره فأَضاف القضاءَ إِلَى ضَمِيره وَمثل ذَلِك عجبت من ضرْبِ الناسِ زيدا إِذا كَانَ مَفْعُولا وترفعه إِذا كَانَ فَاعِلا على مَا وصفت لَك وتصيّر النَّاس فِي مَوضِع نصب لأَنَّهم مفعولون
তিনি 'মিসমা'-এর প্রহার' বুঝাতে চেয়েছেন। অতঃপর যখন তিনি আলিফ ও লাম যুক্ত করলেন, তখন ইদাফাত (সম্বন্ধ) অসম্ভব হয়ে পড়ল, ফলে তা ক্রিয়ার ন্যায় আমল করল এবং এর উদাহরণ হলো কবির কথা:

(এবং তারা দাঁড়িয়ে তাঁর ফয়সালার অপেক্ষা করছিল … একটি উন্মুক্ত পবিত্র ভূমিতে তাঁর আদেশের, এমতাবস্থায় যে সে ছিল কৃশকায়)

অর্থাৎ তারা অপেক্ষা করছে যেন তিনি তাঁর নির্দেশ চূড়ান্ত করেন; অতঃপর তিনি 'কাযা' (ফয়সালা) শব্দটিকে তাঁর সর্বনামের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। আর এরই সদৃশ হলো: "আমি মানুষের যায়েদকে প্রহার করায় বিস্মিত হলাম" যখন সেটি মাফউল (কর্ম) হয়। আর আপনি একে রাফ'আ (পেশ) প্রদান করবেন যখন এটি ফাইল (কর্তা) হবে, যা আমি আপনার কাছে বর্ণনা করেছি; এবং 'মানুষ' শব্দটিকে নসবের (জবর) স্থানে রাখবেন কারণ তারা মাফউল (কর্ম)।
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
وتَقُول أَعجبني دَقُّالثوب القصّارُ وأَكلُ الخبزِ زيدٌ ومعاقبة اللصّ الأَميرُ فَهَذَا لَا يصلح إِلَاّ أَن يكون الأَخير هُوَ الْفَاعِل وَتقول مَا أَعجب شَيْئا إِعجابَ زيد ركوبُ الفرسِ عَمْرو فَنصبت (إِعجابا) بِالْمَصْدَرِ وأَضفته إِلى زيد فالتقدير مَا أَعجب شيءٌ شَيْئا كَمَا أَعجب زيدا أَنْ ركب الفرَسَ عَمْرو لأَنَّك أَضفت الرّكُوب إِلى الْفرس و (الْفرس) مفعول لأَنَّ عمرا رَكبه و (زيد) الْمَفْعُول لأَنَّ الرّكُوب أَعجبه وَتقول سرَّني والمُشْبِعَه طعامُك شَتْمُ غلامِك زيدا بِالنّصب وَالرَّفْع فِي زيد على مَا تقدّره من أَن يكون فَاعِلا / أَو مَفْعُولا وَتقول أَعجب إِعطاءُ الدَّرَاهِم أَخاك غلامُكَ (إِيّاك) نصبت (إِياك) بأَعجب وَجعلت (غلامُك) هُوَ الَّذِي أَعطى الدَّرَاهِم أَخاك

আপনি বলবেন, "ধোপার কাপড় কাচা আমাকে অভিভূত করেছে", "জায়েদের রুটি ভক্ষণ" এবং "আমীর কর্তৃক চোরকে দণ্ড প্রদান"। এক্ষেত্রে শেষোক্ত শব্দটি কর্তা হওয়া ব্যতিরেকে অন্য কিছু হওয়া সমীচীন নয়। আপনি আরও বলবেন, "আমরের অশ্বারোহণ জায়েদকে যতটুকু মুগ্ধ করেছে, অন্য কোনো কিছু তাকে ততটুকু মুগ্ধ করেনি"। এখানে আপনি "মুগ্ধ হওয়া" শব্দটিকে মাসদার হিসেবে নসব প্রদান করেছেন এবং সেটিকে জায়েদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। এর নিহিতার্থ হলো: কোনো বিষয় অন্য কোনো বিষয়কে ততটা মুগ্ধ করেনি যতটা জায়েদকে মুগ্ধ করেছে আমরের অশ্বারোহণের বিষয়টি। কেননা আপনি "আরোহণ"-কে "অশ্ব"-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং "অশ্ব" এখানে কর্ম, যেহেতু আমর তাতে আরোহণ করেছে। আর "জায়েদ" এখানে কর্ম, কারণ অশ্বারোহণের বিষয়টি তাকে মুগ্ধ করেছে। আপনি আরও বলবেন, "তোমার দাসের জায়েদকে গালি প্রদান এবং তোমার তৃপ্তিকর খাদ্য আমাকে আনন্দিত করেছে"। এখানে "জায়েদ" শব্দটিতে নসব ও রফ উভয়ই হতে পারে, আপনি তাকে কর্তা কিংবা কর্ম হিসেবে যেভাবে বিবেচনা করবেন সে অনুযায়ী। আপনি আরও বলবেন, "তোমার দাসের তোমার ভ্রাতাকে দিরহাম দান করা তোমাকে বিমোহিত করেছে"। এখানে আপনি "তোমাকে" শব্দটিকে "বিমোহিত করা" ক্রিয়ার মাধ্যমে নসব দিয়েছেন এবং "তোমার দাস"-কে ওই ব্যক্তি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন যে তোমার ভ্রাতাকে দিরহাম প্রদান করেছে।

(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
وَتقول ضَرْبَ الضَّارِب عمرا والمكرمَ زيدا أَحبَّ أَخواك نصبت الضَّرْب الأَوّلُّ بأَحبّ وجررت (الضَّارِب) بالإِضافة وعدّيته إِلى عَمْرو ونصبت (المكرم) بِالضَّرْبِ الأَوّل وَالضَّرْب الأَوّل مُتعدِّ فإِن أَردت أَلَاّ تعّديه قلت ضَرْبَ الضَّارِب المكرمِ زيدا أَحبَّ أَخواك وَهَذَا كلُّه فِي صلَة الضَّرْب لأَنَّك أَضفته إِلى الضَّارِب وَسَائِر الْكَلَام إِلى قَوْلك (أَحبّ) متَّصل بِهِ وَتقول سرَّ الشاربُ المطعُمه طعامَك شَرابَك زيدا

আপনি বলবেন, "তোমার দুই ভাই প্রহারকারীর আমরকে প্রহার করা এবং জায়দকে সম্মানকারীকে পছন্দ করেছে।" আপনি প্রথম 'প্রহার করা' শব্দটিকে 'পছন্দ করা' ক্রিয়া দ্বারা নাসাব প্রদান করেছেন এবং 'প্রহারকারী' শব্দটিকে ইজাফাত বা সম্বন্ধের কারণে জার দিয়েছেন এবং একে 'আমর' এর দিকে মুতাআদ্দি করেছেন। আর 'সম্মানকারী' শব্দটিকে প্রথম 'প্রহার করা' এর মাধ্যমে নাসাব প্রদান করেছেন, আর প্রথম 'প্রহার করা' শব্দটি মুতাআদ্দি। যদি আপনি একে মুতাআদ্দি করতে না চান, তবে বলবেন: "তোমার দুই ভাই জায়দকে সম্মানকারী প্রহারকারীর প্রহার করাকে পছন্দ করেছে।" আর এই সব কিছুই 'প্রহার করা' এর অনুষঙ্গের (সিলাহ) অন্তর্ভুক্ত; কারণ আপনি একে 'প্রহারকারী' শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন এবং আপনার 'পছন্দ করা' বলা পর্যন্ত বাক্যের অবশিষ্ট অংশ এর সাথেই সংশ্লিষ্ট। আপনি আরও বলবেন, "তোমার পানীয় পানকারী, যে তাকে তোমার খাদ্য খাইয়েছে, সে জায়দকে আনন্দিত করেছে।"

(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
ف (الشَّرَاب) ينْتَصب ب (الشَّارِب) و (الْمطعم) يرْتَفع بِالْفِعْلِ الَّذِي فِي (الشَّارِب) ونصبت (الطَّعَام) بِالْفِعْلِ الَّذِي فِي (الْمطعم) وكلُّه اسْم وَاحِد وَتقول ظَنَنْت الَّذِي الضاربُ أَخاه زيدٌ عمرا فَالَّذِي فِي / مَوضِع نصب بظننت وعمرا مفعول ثَان وَقَوله الضَّارِب أَخاه زيد الضَّارِب مبتدأٌ وَزيد خَبره وهما جَمِيعًا فِي صلَة الَّذِي وإِنما اتَّصلا بِالَّذِي للهاء الَّتِي فِي قَوْلك أَخاه لأَنَّها ترجع الى الَّذِي
সুতরাং (পানীয়) শব্দটি (পানকারী) দ্বারা নসব প্রাপ্ত হয় এবং (আহার প্রদানকারী) শব্দটি (পানকারী) এর মধ্যে নিহিত ক্রিয়ার মাধ্যমে রফ' প্রাপ্ত হয়। আপনি (খাদ্য) শব্দটিকে (আহার প্রদানকারী) এর মধ্যকার ক্রিয়ার মাধ্যমে নসব প্রদান করেছেন এবং এই পুরোটাই একটি একক বিশেষ্য। আপনি বলবেন: "আমি ধারণা করেছি যে, যার ভাইকে যাইদ প্রহারকারী সে আমর।" এখানে (যে/যাকে) শব্দটি 'আমি ধারণা করেছি' ক্রিয়ার কারণে নসবের স্থানে রয়েছে এবং 'আমর' হলো দ্বিতীয় কর্ম। আর তাঁর বক্তব্য "প্রহারকারী তার ভাইকে যাইদ" এর মধ্যে 'প্রহারকারী' হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং 'যাইদ' হলো তার খবর (বিধেয়)। এই উভয়টিই (যে/যাকে) এর সিলাহ বা অনুবাক্যের অন্তর্ভুক্ত। তারা (যে/যাকে) এর সাথে কেবল 'তার ভাই' শব্দের 'হা' সর্বনামের কারণে অন্বিত হয়েছে, কারণ এটি (যে/যাকে) এর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَلَو قلت قَامَ الَّذِي ضربت هندٌ أَباها لم يجز لأَنَّ " الَّذِي " لَا يكون اسْما إِلَاّ بصلَة وَلَا تكون صلته إِلَاّ كلَاما مستغنيا نَحْو الِابْتِدَاء وَالْخَبَر وَالْفِعْل وَالْفَاعِل والظرف مَعَ مَا فِيهِ نَحْو فِي الدَّار زيد وَلَا تكون هَذِه الْجمل صلَة لَهُ إِلَاّ وفيهَا مَا يرجع إِليه من ذكره فَلَو قلت ضَرَبَنِي الَّذِي أَكرمت هِنْد أَباها عِنْده أَو فِي دَاره لصلح لمّا رددت إِليه من ذكره وَنَظِير الَّذِي مَا وَمن وأَي وأَل الَّتِي فِي معنى الَّذين وكلّ مَوْصُول ممّا لم نذكرهُ فَهَذَا مجْرَاه وَلَو قلت ضرب مَن أَبوك منطلق زيدا لم يجز فإِن جعلت مكانَ الْكَاف هَاء وَقلت أَبوه صحّت المسأَلة بالراجع من ذكره وَكَذَلِكَ بَلغنِي مَا صنعت لأَنَّ هَهُنَا هَاء محذوفة وَالْمعْنَى مَا صَنعته وَكَذَلِكَ رأَيت مَنْ ضربتَ وأَكرمتُ مَنْ أَهنتَ فِي كل هَذَا قد حذفت هَاء وإِنَّما حذفتها لأَنَّ أَربعة أَشياءَ صَارَت اسْما وَاحِدًا وَهِي الَّذِي وَالْفِعْل وَالْفَاعِل وَالْمَفْعُول بِهِ فخفَّفت مِنْهَا وإِن شِئْت جِئْت بهَا وإِنَّما كَانَت الهاءُ أَولى بالحذف لأَنَّ الَّذِي هُوَ الْمَوْصُول الَّذِي يَقع عَلَيْهِ الْمَعْنى وَالْفِعْل هُوَ الَّذِي يوضِّحه وَلم يجز حذف الْفَاعِل لأَنَّ الْفِعْل لَا يكون إِلَاّ بفاعل فحذفت الْمَفْعُول من اللَّفْظ لأَنَّ الْفِعْل قد يَقع وَلَا مفعول فِيهِ نَحْو قَامَ زيد وتكلَّم عبد الله وَجلسَ خَالِد وإِنَّما فعلت هَذَا بالمفعول فِي الصِّلَة لأَنَّه كَانَ متَّصلا بِمَا قبله فحذفته مِنْهُ كَمَا تحذف التَّنْوِين من قَوْله

(وَلَا ذاكِرَ اللَّه إِلَاّ قَلِيلا)

আপনি যদি বলেন, "সেই ব্যক্তি দাঁড়িয়েছে যার পিতাকে হিন্দ প্রহার করেছে", তবে তা বৈধ হবে না। কারণ "যে" (আল্লাযী) শব্দটি কেবল একটি বাক্যাংশের (সিলাহ) মাধ্যমেই বিশেষ্য হিসেবে পূর্ণতা পায়। আর এর সিলাহ কেবল একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাক্যই হতে পারে, যেমন—উদ্দেশ্য ও বিধেয়, অথবা ক্রিয়া ও কর্তা, কিংবা স্থান বা কালবাচক অব্যয় এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয়; যেমন: "ঘরে যায়েদ আছে"। আর এই বাক্যগুলো তার জন্য সিলাহ হবে না যতক্ষণ না তাতে এমন কোনো বিষয় থাকে যা তার (বিশেষ্যের) দিকে ফিরে যায়। অতএব আপনি যদি বলতেন, "সেই ব্যক্তি আমাকে প্রহার করেছে যার কাছে অথবা যার ঘরে হিন্দ তার পিতাকে সম্মান করেছে", তবে তা সঠিক হতো; কারণ আপনি তার দিকে প্রত্যাবর্তিত সর্বনামটি উল্লেখ করেছেন। এবং "যে" (আল্লাযী) শব্দের অনুরূপ হলো "যা", "যিনি", "কোনটি" এবং সেই "আল" যা "যারা" (আল্লাযীনা) অর্থ প্রদান করে; আর যে সকল সংযোজক অব্যয় (মওসুল) আমরা উল্লেখ করিনি, সেগুলোর নিয়মও অনুরূপ। আপনি যদি বলেন, "যে ব্যক্তি তোমার পিতা প্রস্থানকারী সে যায়েদকে প্রহার করেছে", তবে তা বৈধ হবে না। কিন্তু যদি আপনি 'ক' বর্ণের স্থলে 'হ' বর্ণ বসিয়ে বলেন "তার পিতা", তবে প্রত্যাবর্তিত সর্বনাম থাকার কারণে বিষয়টি সঠিক হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে, "তুমি যা করেছ তা আমার নিকট পৌঁছেছে"—এখানে একটি 'হ' বর্ণ (সর্বনাম) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং এর প্রকৃত অর্থ হলো "যা তুমি করেছ (তা)"। ঠিক তেমনিভাবে "আমি তাকে দেখেছি যাকে তুমি প্রহার করেছ" এবং "আমি তাকে সম্মান করেছি যাকে তুমি অপমান করেছ"; এই সব কটি উদাহরণেই 'হ' বর্ণটিকে (কর্মের সর্বনাম) বিলুপ্ত করা হয়েছে। আর আমি তা বিলুপ্ত করেছি কারণ এখানে চারটি বিষয় মিলে একটি একক বিশেষ্যে পরিণত হয়েছে; সেগুলো হলো—সংযোজক অব্যয়, ক্রিয়া, কর্তা এবং কর্ম। ফলে আমি তা সংক্ষেপ করার জন্য হালকা করেছি। আপনি চাইলে সেটি উল্লেখও করতে পারেন। তবে 'হ' বর্ণটি বিলুপ্ত করাই ছিল অধিকতর সমীচীন, কারণ "যে" (আল্লাযী) হলো সেই সংযোজক যার ওপর মূল অর্থটি নিহিত থাকে এবং ক্রিয়াটি তাকে স্পষ্ট করে। আর কর্তা বিলুপ্ত করা বৈধ নয় কারণ কর্তা ছাড়া ক্রিয়া সম্পাদিত হতে পারে না। তাই শব্দ থেকে কর্মকে বিলুপ্ত করা হয়েছে, কারণ ক্রিয়া কখনো কর্ম ছাড়াও সংঘটিত হতে পারে, যেমন: "যায়েদ দাঁড়িয়েছে", "আল্লাহর বান্দা কথা বলেছে" এবং "খালিদ বসেছে"। আমি সিলাহ-এর কর্মের ক্ষেত্রে এটি করেছি কারণ তা তার পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে সরাসরি যুক্ত ছিল। তাই আমি তা থেকে এটি বিলুপ্ত করেছি যেমনিভাবে এই বাণীতে তানভীন বিলুপ্ত করা হয়:

(এবং তারা আল্লাহকে খুব সামান্যই স্মরণ করে)
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ২০)
وَمَا أَشبهه وَلَو كَانَ مُنْفَصِلا لم يجز حذفه لأَنَّ الضَّمِير قد خرج من الْفِعْل وَصَارَ فِي حيِّز الباءِ وَكَذَلِكَ الَّذِي ضربت أَخاه زيد لَا يجوز حذف {الهاءِ من} الأَخ كَمَا حذفت الْهَاء من الأَوّل لما ذكرت لَك وَتقول سَرَّ دَفْعُك إِلى المعطِي زيدا دِينَارا درهما القائمَ فِي دَاره عَمْرو نصبت الْقَائِم
এবং এর সদৃশ যা কিছু আছে, যদি তা পৃথকও হতো তবে তার বিলোপ করা বৈধ হতো না; কেননা সর্বনামটি ক্রিয়া থেকে বের হয়ে ‘বা’ বর্ণের সীমানায় চলে এসেছে। ঠিক তেমনিভাবে—‘যার ভাইকে তুমি প্রহার করেছ সে যায়েদ’, এখানে ‘ভাই’ শব্দ হতে {‘হা’ সর্বনামটি} বিলোপ করা বৈধ নয়, যেমনটি আপনার নিকট বর্ণিত কারণে প্রথম ক্ষেত্রটি থেকে ‘হা’ সর্বনামটি বিলোপ করা হয়েছিল। এবং আপনি বলবেন—‘দানকারী যায়েদকে আপনার একটি দিনার ও দিরহাম প্রদান করা আপন গৃহে দণ্ডায়মান আমরকে আনন্দিত করেছে’, এখানে আপনি ‘দণ্ডায়মান’ শব্দটিকে নসব (যবর) প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ২১)
بسرّ وَرفعت عمرا بقيامه وَلَو قلت سرّ دفْعُك إِلى زيد درهما ضربَك عمرا كَانَ محالا لأَنَّ الضَّرْب لَيْسَ ممّا يُسّرُّ وَكَذَلِكَ لَو قلت أَعجب قيامُك قعودَك كَانَ خطأ وَلَو قلت وَافق قيامُك قعودَ زيد لصلُح وَمَعْنَاهُ أَنَّهما قد اتفقَا فِي وَقت وَاحِد فَلَو أَردت معنى الْمُوَافقَة الَّتِي هِيَ اِعجاب لم يصلح إِلَاّ فِي الآدميّين وَتقول اشْتهى زيد شَتْما عمرا خَالِدا كأَنَّك قلت أَن يشْتم عمرا خَالِدا وَكَذَلِكَ الْألف وَاللَّام فإِن لم تنوّن وَلم تدخل أَلفا ولاماً أَضفت الْمصدر إِلى الِاسْم الَّذِي بعده فَاعِلا كَانَ أَو مَفْعُولا وَجرى الَّذِي بعده على الأَصل وَقد فسرنا هَذَا فِيمَا مضى من ذكرنَا هَذَا الْكتاب وَتقول أَعجبك ضربُ زيد عمرا إِذا كَانَ زيد فَاعِلا وضَرْب زيدٍ عَمْرو إِذا كَانَ زيد مَفْعُولا وَنَحْوه وَقَالَ الشَّاعِر

(أَفْنى تِلادي وَمَا جمّعتُ من نَشَبٍ … قرعُ القواقيزِ أَفْواهُ الأَباريقِ)

التَّقْدِير أَن قرعت القواقيزَ أَفواهُ الأَباريق وتنصب الأَفواه إِن جعلت القواقيز فَاعِلا
খুশি প্রকাশ পায় এবং আপনি 'আমর' শব্দটিকে রফ' প্রদান করেছেন তার দাঁড়ানোর কারণে। আর আপনি যদি বলেন, ‘আপনার জায়েদকে এক দিরহাম প্রদান করা আমরের আপনাকে প্রহার করাকে আনন্দিত করেছে’, তবে তা অসম্ভব হবে; কারণ প্রহার এমন কোনো বিষয় নয় যা দ্বারা কেউ আনন্দিত হয়। অনুরূপভাবে, আপনি যদি বলেন, ‘আপনার দাঁড়ানো আপনার বসাকে আশ্চর্য করেছে’, তবে তা ভুল হবে। কিন্তু যদি আপনি বলেন, ‘আপনার দাঁড়ানো জায়েদের বসার সাথে মিলে গিয়েছে’, তবে তা সঠিক হবে। এর অর্থ হলো তারা উভয়ই একই সময়ে একমত বা একত্রিত হয়েছে। সুতরাং আপনি যদি সেই মিল বা সামঞ্জস্যের অর্থ উদ্দেশ্য নেন যা ‘আশ্চর্য হওয়া’ বুঝায়, তবে তা মানুষ ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে সঠিক হবে না। আপনি বলবেন, ‘জায়েদ আমর কর্তৃক খালিদকে গালি দেওয়া কামনা করেছে’, যেন আপনি বললেন, ‘সে আমর কর্তৃক খালিদকে গালি দেওয়া (কামনা করেছে)’। আলিফ এবং লামের (ال) ক্ষেত্রেও একই বিধান। যদি আপনি তানভীন না দেন এবং আলিফ-লাম যুক্ত না করেন, তবে আপনি মাসদারকে (ক্রিয়ামূল) তার পরবর্তী বিশেষ্যের দিকে সম্বন্ধ (ইজাফাত) করবেন, সেটি কর্তা হোক বা কর্ম। আর তার পরবর্তী শব্দটি মূল নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হবে। আমরা এই কিতাবের পূর্ববর্তী আলোচনায় এ বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করেছি। আপনি বলবেন, ‘জায়েদের আমরকে প্রহার করা আপনাকে আশ্চর্য করেছে’, যখন জায়েদ কর্তা হবে। আর ‘জায়েদকে আমরের প্রহার করা’ (বলবেন) যখন জায়েদ কর্ম হবে এবং অনুরূপ অন্যান্য উদাহরণ। কবি বলেছেন:

(আমার প্রাচীন সম্পদ এবং আমি যা কিছু সঞ্চয় করেছি তা নিঃশেষ করে দিয়েছে ... পানপাত্রের মুখে সুরাপাত্রের আঘাত।)

এর মূল বিন্যাস হলো— সুরাপাত্রের মুখগুলো পানপাত্রকে আঘাত করেছে। আর যদি আপনি ‘পানপাত্র’ শব্দটিকে কর্তা ধরেন তবে ‘মুখগুলো’ শব্দটিকে নসব (জবর) প্রদান করবেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌(هَذَا بَاب وَتقول فِي مسَائِل طوال يمْتَحن بهَا المتعلمون)

الضاربَ الشاتمَ المكرِمَ المعطِيَه درهما القائمُ فِي دَاره أَخوك سَوْطًا أَكْرَمَ الآكِلُ طعامَه غلامُه زيدٌ عمرا خالدٍ بكرا عبدَ الله أَخوك نصبت الضَّارِب بأَكرم وَجعلت مَا بعد الضَّارِب
(এটি একটি পরিচ্ছেদ এবং দীর্ঘ জটিল বিষয়াবলি সম্পর্কে তুমি বলবে যা দ্বারা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা করা হয়)

প্রহারকারীকে, গালিপ্রদানকারীকে, সম্মান প্রদর্শনকারীকে, দিরহাম দানকারীকে; আপন গৃহে দণ্ডায়মান ব্যক্তিটি তোমার ভাই; চাবুক দ্বারা; স্বীয় খাদ্য ভক্ষণকারীর গোলাম জায়েদ সম্মান করেছে আমরকে, খালেদ বকরকে; আল্লাহর বান্দা তোমার ভাই। তুমি ‘আদ-দারিবা’ (প্রহারকারী) শব্দটিকে ‘আকরামা’ (সম্মান করেছে) দ্বারা নসব (মানসুব) প্রদান করেছ এবং ‘আদ-দারিবা’ এর পরবর্তী শব্দগুলোকে করেছ...
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
فِي صلته إِلى قَوْلك أَكرم فَصَارَ اسْما وَاحِدًا وَالْفَاعِل هُوَ الْآكِل وَمَا بعده صلَة لَهُ إِلى ذكرك
আপনার 'আকরাম' বলা পর্যন্ত এর সংযোগের ক্ষেত্রে এটি একটি একক বিশেষ্যে পরিণত হয়েছে; আর এখানে কর্তা হলো 'ভক্ষণকারী' এবং এর পরবর্তী অংশটি আপনার উল্লেখ করা পর্যন্ত এর জন্য সিলাহ বা সংযোজক বাক্য।
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
الأَسماء المفردة وَهَذِه الأَسماءُ المنصوبة بدل من الضَّارِب والشاتم والمكرم وخالدٍ الْمَجْرُور بدل من الْهَاء فِي غُلَامه وَالْمَرْفُوع بدل من أَحد هَؤُلَاءِ الفاعلين الَّذين ذكرتهم وتقديرها كأَنَّك قلت أَكرم الْآكِل طعامَه غلامُه الرجل الَّذِي ضرب سَوْطًا رجلا شتم رجلا أَكرم رجلا أَعطاه درهما رجلٌ قَامَ فِي دَاره أَخوك وَلَو قلت أَعجب ضَرْبُ زيدٍ غلامَه خَالِدا عمرا بكرٍ لم يجز لِقَوْلِك بكر وَحْدَه والمسأَلة إِذا حذفته مِنْهَا صَحِيحَة وَذَلِكَ لأَنَّك إِذا قلت أَعجب ضرْبُ زيدٍ غلامَه خَالِدا عمرا نصبت عمرا بأَعجب ونصبت خَالِدا فَجَعَلته بَدَلا من الْغُلَام فإِن جِئْت ببكر فجررته فإِنما تَجْعَلهُ بَدَلا من الْهَاء فِي غُلَامه والهاءُ هِيَ زيد فقد أَحلت حِين جعلت زيدا بكرا وفصلت بَين الصِّلَة والموصول وَلَو قلت ظَنَنْت بناءَ الدارِ الساكنِهاالمُعْجِبُه القائمُ عِنْده الذَّاهِب إِليه أَخواه مُعْجِبا بكرا كَانَ جيّدا إِذا جعلت معجبا بكرا هُوَ الْمَفْعُول الثَّانِي فِي ظَنَنْت وَلم تذكر الْبَانِي فإِن ذكرت الْبَانِي جعلته اسْما قبل الْمَفْعُول الثَّانِي فَرَفَعته لأَنَّ قَوْلك الساكنها صفة للدَّار وَمَا بعده دَاخل فِي صلته والصلة والموصول اسْم وَاحِد أَلا ترى أَنَّك تَقول جاءَني عبد الله ورأَيت زيدا فإِنما تذكر بعد جاءَني ورأَيت اسْما وَاحِدًا فَاعِلا أَو مَفْعُولا

একক বিশেষ্যসমূহ এবং এই মানসুব (যবরযুক্ত) বিশেষ্যগুলো 'প্রহারকারী', 'গালিদাতা' এবং 'সম্মানকারী' শব্দগুলোর 'বাদাল' বা স্থলাভিষিক্ত। আর মাজরুর (জেরযুক্ত) 'খালিদ' শব্দটি 'তার গোলাম' শব্দের 'হা' সর্বনামের 'বাদাল'। আর মারফু (পেশযুক্ত) শব্দটি আমি ইতিপূর্বে যে সকল কর্তার (ফায়েল) কথা উল্লেখ করেছি, তাদের মধ্য হতে কোনো একজনের স্থলাভিষিক্ত। এর প্রচ্ছন্ন রূপটি এমন যেন আপনি বললেন: "আহারকারী ব্যক্তিটি তার খাবার এবং তার গোলামকে সম্মান করেছে।" অর্থাৎ সেই ব্যক্তি যে চাবুক দ্বারা প্রহার করেছে, জনৈক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছে, জনৈক ব্যক্তিকে সম্মান করেছে এবং তাকে একটি দিরহাম প্রদান করেছে; সে এমন এক ব্যক্তি যার ঘরে আপনার ভাই দাঁড়িয়েছে।

আর আপনি যদি বলেন: "জায়দের তার গোলাম খালিদকে এবং আমরকে প্রহার করা বকরকে আশ্চর্য করেছে", তবে এটি আপনার 'বকর' শব্দটি এককভাবে ব্যবহার করার কারণে বৈধ হবে না। অথচ বাক্যটি থেকে যদি আপনি একে বাদ দেন তবে তা সঠিক হবে। কারণ যখন আপনি বলেন: "জায়দের তার গোলাম খালিদকে এবং আমরকে প্রহার করা আমাকে আশ্চর্য করেছে", তখন আপনি 'আমর' শব্দটিকে 'আশ্চর্য করা' ক্রিয়ার মাধ্যমে মানসুব করেছেন এবং 'খালিদ' শব্দটিকে 'গোলাম' শব্দের 'বাদাল' হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এমতাবস্থায় যদি আপনি 'বকর' শব্দটিকে মাজরুর (জেরযুক্ত) হিসেবে নিয়ে আসেন, তবে আপনি তাকে 'তার গোলাম' শব্দের 'হা' সর্বনামের 'বাদাল' সাব্যস্ত করলেন। অথচ এই 'হা' সর্বনামটি জায়দকে নির্দেশ করছে; ফলে আপনি যখন জায়দকে বকর হিসেবে সাব্যস্ত করলেন, তখন আপনি একটি অসঙ্গতি তৈরি করলেন এবং সম্বন্ধ (সিলাহ) ও সম্বন্ধপদের (মাওসুল) মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিলেন।

আর আপনি যদি বলেন: "আমি ঘরের নির্মাণ, তার অধিবাসী, তাকে পছন্দকারী, যার কাছে দণ্ডায়মান এবং যার দিকে গমনকারী তার দুই ভাইকে বকরের প্রতি মুগ্ধকারী হিসেবে মনে করেছি", তবে এটি উত্তম হবে; যদি আপনি "বকরের প্রতি মুগ্ধকারী" অংশটিকে 'আমি মনে করেছি' (জানান্তু) ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্ম (মাফউল) হিসেবে গণ্য করেন এবং সেখানে নির্মাণকারীর উল্লেখ না করেন। আর যদি আপনি নির্মাণকারীর কথা উল্লেখ করেন, তবে তাকে দ্বিতীয় কর্মের পূর্বে একটি বিশেষ্য হিসেবে আনবেন এবং তাকে মারফু (পেশযুক্ত) করবেন। কারণ আপনার বক্তব্য "তার অধিবাসী" শব্দটি "ঘর" শব্দটির জন্য একটি বিশেষণ, এবং এর পরবর্তী অংশ তার সম্বন্ধের (সিলাহ) অন্তর্ভুক্ত। আর সম্বন্ধ ও সম্বন্ধপদ মিলে একটি একক বিশেষ্য হিসেবে গণ্য হয়। আপনি কি দেখেন না যে আপনি বলেন: "আমার কাছে আবদুল্লাহ এসেছে" এবং "আমি জায়দকে দেখেছি"? এখানে আপনি 'এসেছে' এবং 'দেখেছি' ক্রিয়া দুটির পরে মূলত একটি একক বিশেষ্যকেই উল্লেখ করছেন, যা কখনো কর্তা হয়, আবার কখনো কর্ম হয়।

(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَتقول جاءَني القائمُ إِليه الشاربُ ماءَه الساكنُ دارَه الضاربُ أَخاه زيدٌ فالقائم إِليه اسْم وَاحِد وَهَذَا كلُّه فِي صلته وَكَذَلِكَ لَو قلت جاءَني الَّذِي اللَّذَان ضرباه القائمان إِليك كَانَ الَّذِي جاءَك وَاحِدًا وَهَذَا الْكَلَام من صلته بِمَنْزِلَة قَوْلك جاءَ الَّذِي أَبوه منطلق وجاءَني الَّذِي أَبوه غلامُه زيدٌ إِذا كَانَ

এবং আপনি বলবেন, 'আমার নিকট জায়েদ এসেছে—যে এমন যার প্রতি সে দণ্ডায়মান, যে তার পানি পানকারী, তার ঘরে বসবাসকারী এবং তার ভাইকে প্রহারকারী।' এখানে 'যার প্রতি সে দণ্ডায়মান' একটি একক নাম হিসেবে গণ্য এবং এর সবকিছুই তার সিলাহ (সম্বন্ধ)-এর অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে, আপনি যদি বলেন, 'আমার নিকট সেই ব্যক্তি এসেছে যাকে ঐ দুইজন প্রহার করেছে যারা আপনার নিকট দণ্ডায়মান', তবে আপনার নিকট আগমনকারী ব্যক্তিটি একজনই হবে। আর এই কথাটি তার সিলাহ-এর পর্যায়ভুক্ত হওয়ার দিক থেকে আপনার এই কথার সমতুল্য: 'সেই ব্যক্তি এসেছে যার পিতা প্রস্থানকারী' এবং 'আমার নিকট সেই ব্যক্তি এসেছে যার পিতা হলো জায়েদের গোলাম', যখন এটি...

(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
الْغُلَام للأَب فإِنما الصالة موضَّحة عَن الْمَوْصُول وَفِي هَذِه الْمسَائِل مَا يدلُّك على جَمِيع مَا يرد عَلَيْك فِي هَذَا الْبَاب إِن شَاءَ الله وَتقول ضربت زيدا أَخا عَمْرو فإِن شِئْت جعلت أَخا عَمْرو صفة وإِن شِئْت جعلته بَدَلا وَتقول ضربت أَخاكَ زيدا فَلَا يكون زيد إِلَاّ بَدَلا لأَنه اسْم علَم وإِنما الصِّفَات تحْلِية الشَّيْء نَحْو الظريف والطويل وَمَا أَشبه ذَلِك ممّا أُخِذ من الفِعْل أَو نُسب نَحْو الفلانيّ والتميميّ والبكريّ وَمَا اعتوره شيءمن هذَيْن المعنَييْن وَالْبدل يجوز فِي كلّ اسْم معرفَة كَانَ أَو نكرَة مظْهرا كَانَ أَو مضمرا إِذا كَانَ الأَوّل فِي الْمَعْنى أَو كَانَ بعضه فأَما بدل الْمعرفَة من الْمعرفَة فكقولك مَرَرْت بأَخيكَ عبدِ الله وَنَظِير بدل الْمعرفَة من الْمعرفَة نَحْو قَول الله عز وجل {اهْدِنَا الصِّرَاطَ المُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الذِّبن أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} وَبدل الْمعرفَة من النكرَة كَقَوْلِك مَرَرْت بِرَجُل زيد كأَنَّك نَحّيت الرجل وَوضعت زيدا مَكَانَهُ فكَأَنَّك قلت مَرَرْت بزيد لأَنَّ ذَلِك الرجل هُوَ زيد فِي الْمَعْنى وَنَظِير هَذَا قَول الله {وَإنَّك لتهدي إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيم صِرَاط الله}
ছেলেটি পিতার জন্য, মূলত সম্বন্ধসূচক বাক্যটি (সিলাহ) তার পূর্ববর্তী সম্বন্ধবাচক বিশেষ্যকে (মাউসুল) স্পষ্ট করে। আর এই মাসআলাগুলোর মধ্যে এমন সব বিষয় রয়েছে যা ইনশাআল্লাহ এই অধ্যায়ে আপনার সামনে যা আসবে তার সবকিছুর দিকনির্দেশনা দেবে। আপনি বলবেন, "আমি আমরের ভাই জায়েদকে প্রহার করেছি" (দারাবতু যাইদান আখা আমরিন); এখানে আপনি চাইলে "আখা আমর" (আমরের ভাই)-কে বিশেষণ (সিফাত) বানাতে পারেন, আবার চাইলে তাকে পরিবর্ত (বদল) হিসেবেও গণ্য করতে পারেন। আর আপনি বলবেন, "আমি তোমার ভাই জায়েদকে প্রহার করেছি" (দারাবতু আখাকা যাইদান); এখানে জায়েদ শব্দটি কেবল বদল হিসেবেই গণ্য হবে, কারণ এটি একটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য (ইসমে আলাম)। মূলত সিফাত বা বিশেষণ হলো কোনো বস্তুর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা, যেমন: মার্জিত, দীর্ঘকায় এবং এই জাতীয় অন্যান্য শব্দ যা ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন অথবা কোনো কিছুর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যেমন: অমুক বংশীয়, তামিমি, বাকরি এবং যার মধ্যে এই দুই অর্থের কোনো একটির প্রভাব রয়েছে। আর বদল প্রতিটি নির্দিষ্ট বিশেষ্য (মারেফা) বা অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকেরা), প্রকাশ্য বিশেষ্য বা সর্বনাম—সবক্ষেত্রেই হওয়া বৈধ, যদি তা অর্থের দিক থেকে প্রথম শব্দের অনুরূপ হয় অথবা তার অংশ বিশেষ হয়। নির্দিষ্ট বিশেষ্য থেকে নির্দিষ্ট বিশেষ্যের বদল হওয়ার উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: "আমি তোমার ভাই আবদুল্লাহর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম"। নির্দিষ্ট বিশেষ্য থেকে নির্দিষ্ট বিশেষ্যের বদল হওয়ার দৃষ্টান্ত মহান আল্লাহর এই বাণীর অনুরূপ: "আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন, তাদের পথ যাদের ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন"। আর অনির্দিষ্ট বিশেষ্য থেকে নির্দিষ্ট বিশেষ্যের বদল হলো যেমন আপনার উক্তি: "আমি একজন ব্যক্তি অর্থাৎ জায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম"। এখানে বিষয়টি এমন যেন আপনি "ব্যক্তি" শব্দটি সরিয়ে তার স্থলে "জায়েদ" শব্দটিকে বসিয়েছেন। ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়ালো যেন আপনি বললেন: "আমি জায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম"। কারণ অর্থের দিক থেকে ওই ব্যক্তিই হলো জায়েদ। এর দৃষ্টান্ত হলো আল্লাহর বাণী: "আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শন করেন, আল্লাহর পথের দিকে"।
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَبدل النكرَة من الْمعرفَة كَقَوْلِك مَرَرْت بزيد رجلٍ صَالح وضعت الرجل فِي مَوضِع زيد لأَنَّه هُوَ فِي الْمَعْنى وَنَظِير هَذَا قَول الله عز وجل {لنسفعا بالناصية نَاصِيَة كَاذِبَة} واَمَّا بدل بعض الشيءِ مِنْهُ للتبيين فنحو قَوْلك ضربت زيدا رأْسَه وجاءَني قَوْمك بعضُهم أَراد أَن يبيّن الْموضع الَّذِي وَقع الضَّرْب بِهِ مِنْهُ وأَن يُعْلمك أَنَّ بعض الْقَوْم جاءَ لَا كلَّهم وَمن ذَلِك قَول الله عز وجل {وَللَّه على النَّاس حج الْبَيْت من اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلا} لأَن فرض الْحَج إِنَّما وَقع مِنْهُم على المستطيع وَقد يجوز أَن يُبدل الشيءُ من الشيءِ إِذا اشْتَمَل عَلَيْهِ مَعْنَاهُ لأَنَّه يقْصد قصْد الثَّانِي نَحْو قَوْلك سُلِب زيدٌ ثوبُه لأَنَّ معنى سلب أَخذ ثَوْبه فأَبدل مِنْهُ لدُخُوله فِي الْمَعْنى وَلَو نصبت الثَّوْب كَانَ أَجود إِذا لم ترد الْبَدَل وَمثل ذَلِك قَول الله عز وجل {يَسْأَلُونَك عَن الشَّهْر الْحَرَام قتال فِيهِ} لأَنَّ المسأَلة وَقعت عَن الْقِتَال وَمثل ذَلِك قَول الأَعشى يُنشد كَمَا أَصف لَك

(لقد كَانَ فِي حَوْلٍ ثَوَاءٍ ثَوَيْته … تَقَضَّي لُباناتٍ ويَسْأَمَ سائِمُ)
নির্দিষ্ট বিশেষ্য থেকে অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্তকরণ, যেমন আপনার উক্তি: "আমি সৎ ব্যক্তি যায়িদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি।" এখানে আপনি 'ব্যক্তি' শব্দটি 'যায়িদ'-এর স্থলে রেখেছেন, কারণ অর্থের দিক থেকে সেটিই তিনি। আর এর অনুরূপ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আমি অবশ্যই তাকে কপালে ধরে টেনে নিয়ে যাব, মিথ্যাবাদী কপালে}। আর স্পষ্টকরণের জন্য কোনো বস্তুর অংশকে তার স্থলাভিষিক্ত করা, যেমন আপনার উক্তি: "আমি যায়িদের মাথায় আঘাত করেছি" এবং "তোমার সম্প্রদায়ের কিছু লোক আমার কাছে এসেছে।" এখানে উদ্দেশ্য হলো আঘাতটি তার শরীরের কোন স্থানে লেগেছে তা স্পষ্ট করা এবং আপনাকে জানানো যে সম্প্রদায়ের কেবল কিছু লোক এসেছে, সবাই নয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের ওপর বাইতুল্লাহর হজ করা ফরজ, যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে}। কারণ হজের বিধান তাদের মধ্য থেকে কেবল সামর্থ্যবানদের ওপরই অর্পিত হয়েছে। আর কোনো বস্তুকে অন্য বস্তুর স্থলাভিষিক্ত করা জায়েজ যদি দ্বিতীয়টি প্রথমটির অর্থের অন্তর্ভুক্ত থাকে, কারণ তখন দ্বিতীয়টির দিকেই মূল উদ্দেশ্য থাকে; যেমন আপনার উক্তি: "যায়িদের পোশাক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।" কারণ ছিনিয়ে নেওয়ার অর্থ হলো তার পোশাক গ্রহণ করা। তাই পোশাককে যায়িদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে যেহেতু এটি তার অর্থের অন্তর্ভুক্ত। আর আপনি যদি স্থলাভিষিক্তকরণ না চান, তবে 'পোশাক' শব্দটিকে নসব (যবর) প্রদান করা অধিক উত্তম হবে। আর এর অনুরূপ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তারা তোমাকে পবিত্র মাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, তাতে যুদ্ধ করা বিষয়ে}। কারণ প্রশ্নটি মূলত যুদ্ধ সম্পর্কে করা হয়েছে। আর এর অনুরূপ হলো আল-আশার উক্তি, যা তিনি আবৃত্তি করেন যেমন আমি আপনার নিকট বর্ণনা করছি:

(নিশ্চয়ই এক বছরের অবস্থানে যা আমি অতিবাহিত করেছি … সকল প্রয়োজন পূর্ণ হয় এবং ক্লান্ত ব্যক্তি বিরক্ত হয়ে পড়ে।)
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
أَراد لقد كَانَ فِي ثواءِ حول فأَوقع الْفِعْل على الحَول وَجعل ثواءٍ بَدَلا مِنْهُ كَمَا أَنَّه إِذا قَالَ ضربت زيدا رأْسَه إِنما أَراد ضربت رأْس زيد فأَوقع الْفِعْل وَجعله بَدَلا ويُروى تُقَضَّى لُباناتٌ ويَسْأَمُ وللبدل مَوضِع آخر وَهُوَ الَّذِي يُقَال لَهُ بدل الْغَلَط وَذَلِكَ قَوْلك مَرَرْت بِرَجُل حمارٍ أَراد أَن يَقُول مَرَرْت بِحِمَار فإِمَّا أَن يكون غلِط فِي قَوْله مَرَرْت بِرَجُل فتدارك فَوضع الَّذِي جاءَ بِهِ وَهُوَ يُريدهُ فِي مَوْضِعه أَو يكون كأَنَّه نسِي فَذكر فَهَذَا الْبَدَل لَا يكون مثلُه فِي قُرْآن وَلَا شعر وَلَكِن إِذا وَقع مثلُه فِي الْكَلَام غَلطا أَو نِسْيانا فَهَكَذَا إِعرابه

তিনি মূলত বলতে চেয়েছিলেন 'তিনি এক বছরের অবস্থানে ছিলেন', তাই তিনি ক্রিয়াটিকে 'বছর' শব্দের ওপর আপতিত করেছেন এবং 'অবস্থান' শব্দটিকে তার 'বাদাল' (স্থলাভিষিক্ত) হিসেবে গণ্য করেছেন; যেমনটি ঘটে যখন কেউ বলে 'আমি যায়েদকে তার মাথায় প্রহার করেছি', যেখানে সে মূলত 'যায়েদের মাথায় প্রহার করা' বুঝিয়েছে, ফলে সে ক্রিয়াটিকে যায়েদের ওপর আপতিত করেছে এবং মাথা শব্দটিকে 'বাদাল' বানিয়েছে। বর্ণিত আছে: 'প্রয়োজনসমূহ পূর্ণ হয় এবং সে ক্লান্ত হয়'। 'বাদাল'-এর অন্য একটি ক্ষেত্র রয়েছে যাকে 'বাদালুল গালাত' (ভুলবশত স্থলাভিষিক্তকরণ) বলা হয়। যেমন আপনার উক্তি: 'আমি একজন লোকের—একটি গাধার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম'। তিনি মূলত বলতে চেয়েছিলেন 'আমি একটি গাধার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম'। এখন হয় তিনি 'আমি একজন লোকের পাশ দিয়ে' বলতে গিয়ে ভুল করেছেন এবং পরে তা সংশোধন করে যা বলতে চেয়েছিলেন তা তার সঠিক স্থানে বসিয়েছেন, অথবা এমন হয়েছে যে তিনি ভুলে গিয়েছিলেন এবং পরে তা স্মরণ করেছেন। এই ধরনের 'বাদাল' পবিত্র কুরআনে কিংবা কবিতায় পাওয়া যায় না। তবে কথাবার্তায় যদি ভুলবশত বা বিস্মৃতির কারণে এমন ঘটে, তবে তার ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব) এই নিয়মেই হবে।

(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌(هَذَا بَاب مَا كَانَ لَفظه مقلوبا فحقَّ ذَلِك أَن يكون لَفظه جَارِيا على مَا قُلِبَ إِليه)

فَمن ذَلِك قِسِيّ وإِنَّما وَزنهَا فُعُول وَكَانَ يَنْبَغِي أَن يكون قُوُوس لأَنّ الْوَاحِد قَوْس وأَدنى الْعدَد فِيهِ أَقْواس وَالْكثير قِياس كَمَا تَقول ثوب وأَثواب وَثيَاب وسوط وأَسواط وسياط وَكَذَلِكَ جَمِيع هَذَا الْبَاب الَّذِي مَوضِع الْعين مِنْهُ وَاو فأَمَّا قُوُوس فجارٍ على غير مَا تجْرِي عَلَيْهِ ذَوَات الْوَاو نَحْو كَعْب وكعوب وصقر وصقور فكرهوا واوين بَينهمَا ضمّة فقلبوا وَكَانَ حقَّ فَعْل من غير المعتلّ أَن يكون أَدنى الْعدَد فِيهِ أَفْعُل كَقَوْلِك كَعْب وأَكْعُب وكلْب وأَكلُب وصقْر وأَصقُر فلهذه العلَّة قلب إِلى أَفْعَال فَقيل أَبْيات وأَثْواب إِذ كَانَ ذَلِك قد يكون فِي غير المعتلّ من فَرْخ وأَفْراخ وزَنْد وأَزناد وجَدّ وأَجداد فإِن احْتَاجَ إِلَيْهِ شَاعِر ردّه إِلَى الأَصل كَمَا قَالَ

(لكلِّ دَهْرٍ قد لبِستُ أَثْوُبا)

فَهَذَا نَظِير فُعُول فِي الْوَاو
‌(এটি সেই পরিচ্ছেদ যার শব্দরূপ স্থানান্তরিত বা উল্টানো হয়েছে, সুতরাং এর নিয়ম হলো এর শব্দরূপটি যেভাবে পরিবর্তিত হয়েছে সেভাবেই ব্যবহৃত হওয়া)

এর অন্যতম উদাহরণ হলো ‘কিসিয়্যি’ (ধনুকসমূহ), মূলত এর ওজন হলো ‘ফুউল’। নিয়ম অনুযায়ী এটি ‘কুউস’ হওয়া উচিত ছিল, কারণ এর একবচন হলো ‘ক্বওস’ (ধনুক), এর স্বল্পতার বহুবচন হলো ‘আক্বওয়াস’ এবং অধিকের বহুবচন হলো ‘ক্বিয়াস’, যেমনটি আপনি বলে থাকেন ‘সাওব’ (পোশাক), ‘আসওয়াব’ ও ‘সিয়াব’; এবং ‘সাওত’ (চাবুক), ‘আসওয়াত’ ও ‘সিয়াত’। একইভাবে এই পরিচ্ছেদের সেই সমস্ত শব্দও এর অন্তর্ভুক্ত যার ‘আইন’ বা মধ্যবর্ণের স্থানে ‘ওয়াও’ রয়েছে। তবে ‘কুউস’ শব্দটি ‘ওয়াও’ যুক্ত অন্যান্য শব্দের রীতি অনুযায়ী চলেনি, যেমন ‘কাব’ থেকে ‘কুউব’ এবং ‘সাক্বর’ (বাজপাখি) থেকে ‘সুক্বুর’। তারা দুটি ‘ওয়াও’-এর মাঝে পেশ (দম্মাহ) থাকাকে অপছন্দ করেছে, তাই তারা একে পরিবর্তন করে দিয়েছে। মুতাল বা দুর্বল বর্ণ ছাড়া ‘ফাল’ ওজনের শব্দের ক্ষেত্রে নিয়ম ছিল যে এর স্বল্পতার বহুবচন ‘আফল’ ওজনে হবে, যেমন আপনার বলা: ‘কাব’ ও ‘আকব’, ‘কালব’ (কুকুর) ও ‘আকলুব’ এবং ‘সাক্বর’ ও ‘আসক্বুর’। এই কারণে একে ‘আফআল’ ওজনে পরিবর্তন করা হয়েছে, ফলে বলা হয়েছে ‘আবইয়াত’ (গৃহসমূহ) ও ‘আসওয়াব’ (পোশাকসমূহ), যেহেতু এটি মুতাল ছাড়া অন্য শব্দেও হতে পারে যেমন ‘ফারখ’ (পাখির ছানা) ও ‘আফরাখ’, ‘জান্দ’ (হাতের হাড়) ও ‘আজনান্দ’ এবং ‘জাদ্দ’ (দাদা) ও ‘আজদাদ’। যদি কোনো কবির প্রয়োজন হয়, তবে তিনি শব্দটিকে তার মূল রূপে ফিরিয়ে নেন, যেমন তিনি বলেছেন:

(প্রত্যেক যুগের জন্য আমি পরিধান করেছি পোশাকসমূহ)

এটি ‘ওয়াও’ এর ক্ষেত্রে ‘ফুউল’ ওজনের সমরূপ।
(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
وَمن المقلوب قَوْلهم أَيْنُق فِي جمع نَاقَة وَكَانَ أَصل هَذِه أَنْوُق والعلَّة فِيهِ كالعلُّة فِيمَا وَصفنَا فَلَو سميت بأَيْنُق رجلا لم تصرفه إِلاّ فِي نكرَة لأَنَّه أَفْعُل على مِثَال أَقْتُل وَمن ذَلِك أَشْيَاءُ فِي قَول الْخَلِيل إِنَّما هِيَ عِنْده فَعْلاءُ وَكَانَ أَصلها شَيْئاءَ يَا فَتى فكرهوا همزتين بَينهمَا أَلف فقلبوا لنَحْو مَا ذكرت لَك من خَطَايَا كراهةَ أَلفين بَينهمَا همزَة بل كَانَ هَذَا أَبْعَد فقلبوا فَصَارَت اللَّام الَّتِي هِيَ همزَة فِي أَوّله فَصَارَ تَقْدِيره من الْفِعْل لَفْعَاءَ وَلذَلِك لم ينْصَرف قَالَ الله عز وجل {لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إنْ تُبْدَلَكُمُ تَسُؤكُم} وَلَو كَانَ أَفْعالا لانصرف كَمَا ينْصَرف أَحْياءٌ وَمَا أَشبهه وَكَانَ الأَخفش يَقُول أَشْياءُ أَفْعِلاءُ يَا فَتى جُمع عَلَيْهَا فَعْل كَمَا جُمِع سَمْح على سُمَحاءَ وَكِلَاهُمَا جمع لفعِيل كَمَا تَقول فِي نصيب أَنْصباءُ وَفِي صديق أَصْدِقاءُ وَفِي كريم كُرَماءُ وَفِي جليس جُلَساء فسَمْح وشَيْءٌ على مِثَال فَعْل فَخرج إِلى مِثَال فَعيل وَقَالَ الْمَازِني فَقلت لَهُ كَيفَ تُصَغِّرهُنَّ فَقَالَ أَُشيَّاءُ فسأَلته لمَ لمْ تردّه إِلَى الْوَاحِد إِنَّه أَفْعِلاءُ فقد وَجب عَلَيْهِ فَلم يأْتِ بمُقْنِع وَهَذَا ترك قَوْله لأَنَّه إِذا زعم أَنَّه أَفْعِلاءُ فقد وجَبَ عَلَيْهِ أَن يصغِّر الْوَاحِد ثمّ يجمعه فَيَقُول فِي تَصْغِير أَشْياءَ على مذْهبه شُيَيْئات فَاعْلَم تَقْدِير فُعَيْلات وَلَا يجب هَذَا على الْخَلِيل لأَنَّه إِذا زعم أَنَّه فَعْلاءُ فقد زعم أَنَّه اسْم وَاحِد فِي معنى الْجمع بِمَنْزِلَة قَوْم ونفَر فَهَذَا إِنَّما يجب عَلَيْهِ تصغيره فِي نَفسه فقد ثَبت قَول الْخَلِيل بحجّة لَازِمَة

শব্দ-বিপর্যয়ের (কালব) একটি উদাহরণ হলো ‘নাকাহ্’ (উটী) এর বহুবচন হিসেবে ‘আইনুক’ শব্দের ব্যবহার। মূলত এটি ছিল ‘আনভুক’। এর পেছনের ব্যাকরণিক কারণটিও আমরা পূর্বে যা বর্ণনা করেছি তদ্রূপ। যদি আপনি কোনো ব্যক্তির নাম ‘আইনুক’ রাখেন, তবে তা নাকেরা বা অনির্দিষ্ট অবস্থা ব্যতীত রূপান্তর-অযোগ্য (গাইর মুনসারিফ) হবে; কারণ এটি ‘আকতুল’ এর ওজনে ‘আফউল’ ছাঁচে গঠিত।

অনুরূপভাবে ‘আশইয়া’ (বস্তুসমূহ) শব্দটি সম্পর্কে খলিলের অভিমত হলো, এটি তাঁর নিকট ‘ফা’লা’ ওজনে গঠিত। হে যুবক, এর মূল রূপ ছিল ‘শাইআ’। তারা দুটি আলিফের মাঝে দুটি হামজা একত্রে হওয়াকে অপছন্দ করত। ফলে তারা শব্দটির বিন্যাসকে উল্টিয়ে দিয়েছে, যেমনটি আমি ‘খাতায়া’ শব্দের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি যেখানে দুটি আলিফের মাঝে হামজা থাকাকে অপছন্দ করা হয়েছে। বরং এটি আরও প্রতিকূল ছিল, তাই তারা বর্ণ বিপর্যয় ঘটিয়ে ‘লাম’ কালিমা যা একটি হামজা ছিল, সেটিকে শব্দের শুরুতে নিয়ে এসেছে। ফলে মূল গঠন থেকে এর রূপ দাঁড়িয়েছে ‘লাফআ’। আর এ কারণেই এটি রূপান্তর-অযোগ্য হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {তোমরা এমন সব বস্তু সম্পর্কে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে}। যদি এটি ‘আফআল’ ওজনে হতো, তবে তা ‘আহইয়া’ এবং এর সমজাতীয় শব্দের মতো রূপান্তরযোগ্য হতো।

আখফাশ বলতেন, হে যুবক, ‘আশইয়া’ শব্দটি ‘আফইলা’ ওজনে গঠিত। এটি ‘ফা’ল’ (শাই) এর বহুবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যেমন ‘সামহ’ শব্দের বহুবচন ‘সুমাহা’ হয়ে থাকে। উভয়টিই ‘ফায়ীল’ এর ওজনে বহুবচন হিসেবে আসে, যেমন আপনি ‘নাসীব’ থেকে ‘আনসিবা’, ‘সাদীক’ থেকে ‘আসদিকা’, ‘কারীম’ থেকে ‘কুরামা’ এবং ‘জালিস’ থেকে ‘জুলাসা’ বলে থাকেন। সুতরাং ‘সামহ’ এবং ‘শাই’ শব্দ দুটি ‘ফা’ল’ ওজনে হওয়া সত্ত্বেও ‘ফায়ীল’ এর ওজনে রূপান্তরিত হয়েছে। মাজিনি বলেন, আমি তাকে (আখফাশকে) জিজ্ঞেস করলাম, আপনি এগুলোর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ (তাসগির) কীভাবে করবেন? তিনি বললেন, ‘উশাইইয়া’। তখন আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম, যদি এটি ‘আফইলা’ ওজনে হয়ে থাকে তবে আপনি কেন একে একবচনের দিকে ফিরিয়ে নিলেন না? এটি তো তাঁর নিয়মানুযায়ী আবশ্যক ছিল। কিন্তু তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি।

আর এটি তাঁর মতবাদকে অসার সাব্যস্ত করে। কারণ যদি তিনি দাবি করেন যে এটি ‘আফইলা’ ওজনে গঠিত, তবে তাঁর জন্য আবশ্যক ছিল একবচনকে ক্ষুদ্রার্থবোধক করে তারপর সেটির বহুবচন করা। সেক্ষেত্রে তাঁর মতানুসারে ‘আশইয়া’ এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ হতো ‘শুয়াইইয়াত’; জেনে রাখুন এর ওজন হতো ‘ফুআইলাত’। কিন্তু খলিলের ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা আসে না; কারণ তিনি মনে করেন এটি ‘ফা’লা’ ওজনে গঠিত এবং এটি মূলত একটি একবচন শব্দ যা বহুবচনের অর্থ প্রদান করে, যেমন ‘কওম’ এবং ‘নাফার’ শব্দ দুটি। সুতরাং এর ক্ষেত্রে শব্দটির নিজ কাঠামোর উপরেই ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ হওয়া আবশ্যক। ফলে অকাট্য যুক্তির মাধ্যমে খলিলের অভিমতটিই প্রতিষ্ঠিত হলো।

(খণ্ড: ১) আল-মুকতাদাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
وممّا يؤكِّد ذَلِك السماعُ قَول الأَصمعيّ فِيمَا حدّث بِهِ عُلَمَاؤُنَا إِنَّ أَعرابيّا سمع كَلَام خلَف الأَحمر فَقَالَ يَا أَحمرُ إِنَّ عنْدك لأَشاوَى فَقلب الياءَ واوا وأَخرجه مُخْرَج صحراءَ وصحارَى فكلُّ مقلوب فَلهُ لَفظه
শ্রবণলব্ধ প্রমাণের যে বিষয়টি এটিকে সুনিশ্চিত করে তা হলো আল-আসমায়ীর সেই উক্তি যা আমাদের আলেমগণ বর্ণনা করেছেন যে, জনৈক বেদুঈন খালাফ আল-আহমারের কথা শুনলেন এবং বললেন: হে আহমার! তোমার কাছে তো 'আশাওয়া' রয়েছে। এখানে তিনি 'ইয়া' বর্ণটিকে 'ওয়াও' বর্ণে রূপান্তরিত করেছেন এবং একে 'সাহরা' ও 'সাহারা' এর ওজনে প্রকাশ করেছেন। সুতরাং প্রতিটি রূপান্তরিত শব্দের নিজস্ব উচ্চারণ রূপ রয়েছে।