(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: -)
الجمل في النحو   (الخليل بن أحمد الفراهيدي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: الجمل في النحو

المؤلف: أبو عبد الرحمن الخليل بن أحمد بن عمرو بن تميم الفراهيدي البصري (ت 170هـ)

المحقق: د. فخر الدين قباوة

الطبعة: الخامسة، 1416هـ 1995م

عدد الصفحات: 340

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-জুমাল ফিন নাহু   (আল-খলীল ইবনে আহমদ আল-ফারাহিদী)

বিভাগ: নাহু ও সরফ


গ্রন্থ: আল-জুমাল ফিন নাহু

লেখক: আবু আব্দুর রহমান আল-খলীল ইবনে আহমদ ইবনে আমর ইবনে তামীম আল-ফারাহিদী আল-বাসরী (মৃত্যু ১৭০ হিজরি)

গবেষক: ড. ফখরুদ্দিন কাবাওয়া

সংস্করণ: পঞ্চম، ১৪১৬ হিজরি ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪০

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৬৩)
‌‌بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم

 

قَالَ الْخَلِيل بن أَحْمد رحمه الله

هَذَا كتاب فِيهِ جملَة الْإِعْرَاب إِذْ كَانَ جَمِيع النَّحْو فِي الرّفْع وَالنّصب والجر والجزم

وَقد ألفنا هَذَا الْكتاب وجمعنا فِيهِ جمل وُجُوه الرّفْع وَالنّصب والجر والجزم وجمل الألفات واللامات والهاءات والتاءات والواوات وَمَا يجْرِي من اللَّام ألفات

وَبينا كل معنى فِي بَابه باحتجاج من الْقُرْآن وشواهد من الشّعْر

فَمن عرف هَذِه الْوُجُوه بعد نظره فِيمَا صنفناه من مُخْتَصر النَّحْو قبل هَذَا اسْتغنى عَن كثير من كتب النَّحْو

وَلَا حول وَلَا قُوَّة إِلَّا بِاللَّه

وَإِنَّمَا بدأنا بِالنّصب لِأَنَّهُ أَكثر الْإِعْرَاب طرقا ووجوها
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

আল-খলিল ইবনে আহমদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন

এটি এমন একটি কিতাব যাতে ই'রাব (الإعراب) এর সামগ্রিক রূপরেখা রয়েছে; যেহেতু সমগ্র নাহু (النحو) শাস্ত্র মূলত রফ (الرفع), নসব (النصب), জর (الجر) এবং জজম (الجزم) এর অন্তর্ভুক্ত।

আমরা এই কিতাবটি রচনা করেছি এবং এতে রফ (الرفع), নসব (النصب), জর (الجر) ও জজম (الجزم) এর বিবিধ প্রকারভেদ এবং আলিফ (الألفات), লাম (اللامات), হা (الهاءات), তা (التاءات), ওয়াও (الواوات) এর প্রকারসমূহের সমষ্টি এবং লাম-আলিফ (اللام ألفات) হিসেবে যা গণ্য হয় তার বিবরণ একত্রিত করেছি।

আমরা প্রতিটি বিষয়কে তার স্ব স্ব অধ্যায়ে কুরআনের দলিল এবং কবিতার উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করেছি।

যে ব্যক্তি ইতিপূর্বে আমাদের সংকলিত নাহুর সংক্ষিপ্তসার পর্যালোচনার পর এই প্রকারভেদগুলো সম্পর্কে অবগত হবে, সে নাহুর বহু কিতাব থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যাবে।

আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো উপায় ও শক্তি নেই।

আমরা আলোচনা নসব (النصب) দ্বারা শুরু করেছি, কারণ ই'রাব (الإعراب) এর ক্ষেত্রে এর পদ্ধতি ও দিকসমূহ সর্বাধিক।
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৬৪)
1 -‌‌ وُجُوه النصب

 

فالنصب أحد وَخَمْسُونَ وَجها نصب من مفعول بِهِ وَنصب من مصدر وَنصب من قطع وَنصب من حَال وَنصب من ظرف وَنصب ب إِن وَأَخَوَاتهَا وَنصب بِخَبَر كَانَ وَأَخَوَاتهَا وَنصب من التَّفْسِير وَنصب من التَّمْيِيز وَنصب بِالِاسْتِثْنَاءِ وَنصب بِالنَّفْيِ وَنصب ب حَتَّى وَأَخَوَاتهَا وَنصب بِالْجَوَابِ بِالْفَاءِ وَنصب بالتعجب وَنصب فَاعله مفعول ومفعوله فَاعل وَنصب من نِدَاء نكرَة مَوْصُوفَة وَنصب بالإغراء وَنصب بالتحذير وَنصب من اسْم بِمَنْزِلَة اسْمَيْنِ وَنصب بِخَبَر مَا بَال وَأَخَوَاتهَا وَنصب من مصدر فِي مَوضِع فعل وَنصب بِالْأَمر وَنصب بالمدح وَنصب بالذم وَنصب بالترحم وَنصب بالاختصاص وَنصب بِالصرْفِ وَنصب ب سَاءَ وَنعم وَبئسَ وَأَخَوَاتهَا وَنصب من خلاف الْمُضَاف
1 -‌‌ নসবের অবস্থাসমূহ

 

নসব একান্নটি পদ্ধতিতে হয়ে থাকে; মাফউল বিহি হিসেবে নসব, মাসদার হিসেবে নসব, ক্বত‘ হিসেবে নসব, হাল হিসেবে নসব, জরফ হিসেবে নসব, ইন্না ও তার সমগোত্রীয় অব্যয় দ্বারা নসব, কানা ও তার সমগোত্রীয় ক্রিয়ার খবর হিসেবে নসব, তাফসির হিসেবে নসব, তাময়ীজ হিসেবে নসব, ইসতিসনা হিসেবে নসব, নাফি দ্বারা নসব, হাত্তা ও তার সমগোত্রীয় শব্দ দ্বারা নসব, ফা-যুক্ত জবাবের কারণে নসব, তাআজ্জুবের কারণে নসব, এমন পদের নসব যার ফায়েল মাফউল হিসেবে এবং মাফউল ফায়েল হিসেবে ব্যবহৃত হয়, গুণবাচক অনির্দিষ্ট সম্বোধন হিসেবে নসব, ইগরা দ্বারা নসব, তাহযীর দ্বারা নসব, এমন ইসম যা দুই ইসমের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে নসব, ‘মা বাল’ ও তার সমজাতীয় শব্দের খবর হিসেবে নসব, ক্রিয়ার স্থানে ব্যবহৃত মাসদারের নসব, আমর দ্বারা নসব, মাদহ দ্বারা নসব, যাম দ্বারা নসব, তারাহহুম দ্বারা নসব, ইখতিসাস দ্বারা নসব, সারফ দ্বারা নসব, সা-আ, নি’মা ও বি’সা এবং তাদের সমগোত্রীয় ক্রিয়াপদ দ্বারা নসব এবং মুদাফের বিপরীত হওয়ার কারণে নসব।
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৬৫)
وَنصب على الْموضع لَا على الِاسْم وَنصب من نعت النكرَة تقدم على الِاسْم وَنصب من النداء الْمُضَاف وَنصب على الِاسْتِغْنَاء وَتَمام الْكَلَام وَنصب على النداء فِي الِاسْم الْمُفْرد الْمَجْهُول وَنصب على البنية وَنصب بِالدُّعَاءِ وَنصب بالاستفهام وَنصب بِخَبَر كفى مَعَ الْبَاء وَنصب بالمواجهة وَتقدم الِاسْم وَنصب على فقدان الْخَافِض وَنصب ب كم إِذا كَانَ استفهاما وَنصب يحمل على الْمَعْنى وَنصب بِالْبَدَلِ وَنصب بالمشاركة وَنصب بالقسم وَنصب بإضمار كَانَ وَنصب بالترائي وَنصب بوحده وَنصب بالتحثيث وَنصب من فعل دَائِم بَين صفتين وَنصب من المصادر الَّتِي جعلوها بَدَلا من اللَّفْظ الدَّاخِل على الْخَبَر والاستفهام

‌‌فالنصب من مفعول بِهِ

 

قَوْلك أكرمت زيدا وَأعْطيت مُحَمَّدًا

وَقد يضمرون فِي الْفِعْل الْهَاء فيرفعون الْمَفْعُول بِهِ كَقَوْلِك زيد ضربت وَعَمْرو شتمت على معنى ضَربته وشتمته فيرفع زيد بِالِابْتِدَاءِ ويوقع الْفِعْل على الْمُضمر كَمَا قَالَ الشَّاعِر

(وخَالِد يحمد أَصْحَابه … بِالْحَقِّ لَا يحمد بِالْبَاطِلِ)

يعْنى يحمده أَصْحَابه
পদের মূল নামের পরিবর্তে অবস্থানের ভিত্তিতে নাসব (نصب); অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের গুণবাচক শব্দ (نعت النكرة) বিশেষ্যের পূর্বে আসার কারণে নাসব (نصب); সম্বন্ধযুক্ত সম্বোধনের (النداء المضاف) কারণে নাসব (نصب); অমুখাপেক্ষিতা ও বাক্যের পূর্ণতার (الاستغناء وتمام الكلام) কারণে নাসব (نصب); অপরিচিত একবচন বিশেষ্যের সম্বোধনের (النداء في الاسم المفرد المجهول) কারণে নাসব (نصب); গাঠনিক কারণে (البنية) নাসব (نصب); প্রার্থনার (الدعاء) কারণে নাসব (نصب); প্রশ্নবোধক (الاستفهام) হওয়ার কারণে নাসব (نصب); ‘বা’ অব্যয়সহ ‘কাফা’ শব্দের খবরের (خبر كفى) কারণে নাসব (نصب); সরাসরি সম্বোধন ও বিশেষ্য আগে আসার (المواجهة وتقدم الاسم) কারণে নাসব (نصب); অব্যয় উহ্য থাকার (فقدان الخافض) কারণে নাসব (نصب); প্রশ্নবোধক ‘কাম’ (كم)-এর কারণে নাসব (نصب); অর্থের ওপর ভিত্তি করে নাসব (نصب); স্থলাভিষিক্ত বা বদলের (البدل) কারণে নাসব (نصب); অংশীদারিত্বের (المشاركة) কারণে নাসব (نصب); শপথের (القسم) কারণে নাসব (نصب); ‘কানা’ (كان) উহ্য রাখার (إضمار) কারণে নাসব (نصب); দৃশ্যমানতার (الترائي) কারণে নাসব (نصب); ‘ওয়াহদাহু’ (وحده) শব্দের কারণে নাসব (نصب); উৎসাহ প্রদানের (التحثيث) কারণে নাসব (نصب); দুটি গুণের মাঝে নিরবচ্ছিন্ন ক্রিয়ার কারণে নাসব (نصب); এবং সেই সকল ক্রিয়ামূলের (المصادر) কারণে নাসব (نصب) যা তারা খবর ও জিজ্ঞাসার শুরুতে আসা শব্দের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছে।

‌‌সুতরাং কর্মপদ (مفعول به) হওয়ার কারণে নাসব (نصب)

 

আপনার কথা: আমি জায়েদকে সম্মান করেছি এবং মুহাম্মদকে দান করেছি।

কখনও কখনও তারা ক্রিয়ার মধ্যে ‘হা’ সর্বনামকে উহ্য রাখে (إضمار), ফলে তারা কর্মপদটিকে (مفعول به) রফ (رفع) প্রদান করে। যেমন আপনার কথা: ‘জায়েদ, আমি তাকে প্রহার করেছি’ এবং ‘আমর, আমি তাকে গালি দিয়েছি’। এখানে ‘জায়েদ’ শব্দটি প্রারম্ভিকতা (ابتداء) হওয়ার কারণে রফ (رفع) হয়েছে এবং ক্রিয়াটি উহ্য সর্বনামের (مضمر) ওপর আপতিত হয়েছে, যেমনটি কবি বলেছেন:

(খালিদ, তার সঙ্গীরা তার প্রশংসা করে … সত্যের সাথে, মিথ্যার সাথে নয়)

অর্থাৎ: তার সঙ্গীরা তার প্রশংসা করে।
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৬৬)
وَقَالَ آخر

(أبحت حمى تهَامَة بعد نجد … وَمَا شَيْء حميت بمستباح)

يَعْنِي حميته وَقَالَ آخر

(ثَلَاث كُلهنَّ قتلت عمدا … فأخزى الله رَابِعَة تعود)

يَعْنِي قتلتهن

وَقَالَ آخر

(فَيوم علينا وَيَوْم لنا … وَيَوْم نسَاء وَيَوْم نسر) يَعْنِي نسَاء فِيهِ ونسر فِيهِ وَمِنْه قَول الله جلّ اسْمه فِي الْبَقَرَة {مِنْهُم من كلم الله} أَي كَلمه الله

‌‌وَالنّصب من مصدر

 

كَقَوْلِك خرجت خُرُوجًا وَأرْسلت رَسُولا وإرسالا

قَالَ الشَّاعِر

(أَلا لَيْت شعري هَل إِلَى أم معمر … سَبِيل فَأَما الصَّبْر عَنْهَا فَلَا صبرا)
অন্য একজন কবি বলেছেন

(তুমি নাজদের পর তিহামার সংরক্ষিত চারণভূমিকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছ … আর আমি যা সংরক্ষিত করেছি তা লুণ্ঠনযোগ্য নয়)

অর্থাৎ আমি তা সংরক্ষিত করেছি। অন্য একজন কবি বলেছেন

(তিনটি বিষয় যার সবকটি আমি ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পন্ন করেছি … আল্লাহ চতুর্থ বিষয়টিকে লাঞ্ছিত করুন যা পুনরায় ফিরে আসে)

অর্থাৎ আমি সেগুলো করেছি

অন্য একজন কবি বলেছেন

(এক দিন আমাদের বিপক্ষে এবং এক দিন আমাদের পক্ষে … এক দিন আমরা দুঃখিত হই এবং এক দিন আমরা আনন্দিত হই) অর্থাৎ সেই দিনে ব্যথিত হওয়া এবং সেই দিনে আনন্দিত হওয়া। এর উদাহরণ হলো সূরা আল-বাকারায় মহান আল্লাহর বাণী {তাদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছে যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন} অর্থাৎ আল্লাহ তাঁর সাথে কথা বলেছেন

‌‌ক্রিয়ামূল (مصدر) থেকে নসব (نصب) হওয়া

 

যেমন তোমার কথা: আমি বের হওয়ার মতো বের হলাম এবং আমি বার্তা পাঠানোর মতো বার্তা পাঠালাম

কবি বলেছেন

(হায়! আমি যদি জানতাম, উম্মে মুয়াম্মারের কাছে পৌঁছানোর কি … কোনো পথ আছে? তার বিচ্ছেদে ধৈর্য ধারণ করার বিষয়ে আর কোনো ধৈর্যই (صبرا) অবশিষ্ট নেই)
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৬৭)
لآخر

(أما الْقِتَال فَلَا أَرَاك مُقَاتِلًا … وَلَئِن هربت ليعرفن الأبلق)

نصب الْقِتَال وَالصَّبْر على الْمصدر

وَقد يجْعَلُونَ الِاسْم مِنْهُ فِي مَوضِع مصدر فَيَقُولُونَ أما صديقا مصافيا فَلَيْسَ بصديق وَأما عَالما فَلَيْسَ بعالم

مَعْنَاهُ أما كَونه عَالما فَلَيْسَ بعالم

‌‌وَالنّصب من قطع

 

مثل قَوْلك هَذَا الرجل وَاقِفًا أَنا ذَا عَالما

قَالَ الله جلّ ذكره {وَهَذَا صِرَاط رَبك مُسْتَقِيمًا}

وَمثله (فَتلك بُيُوتهم خاوية) على الْقطع

وَمثله {وَهَذَا بعلي شَيخا} على الْقطع وَكَذَلِكَ {وَله الدّين واصبا}
অন্য একজনের ক্ষেত্রে

(যুদ্ধের বর্ণনায় আমি তোমাকে যোদ্ধা হিসেবে দেখি না … আর যদি তুমি পালিয়ে যাও তবে অবশ্যই চিতাঘোড়া তোমাকে চিনে ফেলবে)

মাসদার (مصدر) হিসেবে 'আল-কিতাল' এবং 'আস-সাবর' শব্দে নাসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে

কখনও কখনও তারা বিশেষ্যকে মাসদারের (مصدر) স্থলে ব্যবহার করে। ফলে তারা বলে: "অকপট বন্ধু হওয়ার দিক থেকে সে কোনো বন্ধু নয়" এবং "আলেম হওয়ার দিক থেকে সে আলেম নয়"

এর অর্থ হলো: আলেম হিসেবে তার অস্তিত্বের ক্ষেত্রে সে আলেম নয়

‌‌বিচ্ছিন্ন অবস্থা (قطع) হিসেবে নাসব (نصب) প্রদান

 

যেমন আপনার উক্তি: "এই ব্যক্তিটি দণ্ডায়মান অবস্থায়" এবং "আমি এই যে আলেম হিসেবে উপস্থিত"

আল্লাহ মহান ইরশাদ করেছেন: {আর এটি আপনার প্রতিপালকের সরল পথ}

তদ্রূপ: (সেগুলো তাদের জনশূন্য ঘর), এখানে শব্দটি বিচ্ছিন্ন অবস্থা (قطع) হিসেবে মানসুব হয়েছে

তদ্রূপ: {আর এই আমার স্বামী, সে বৃদ্ধ}, এটিও বিচ্ছিন্ন অবস্থা (قطع) হিসেবে মানসুব। একইভাবে: {আর তাঁরই জন্য শাশ্বত আনুগত্য}
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৬৮)
وَكَذَلِكَ {وَهُوَ الْحق مُصدقا}

مَعْنَاهُ وَله الدّين الواصب وَهُوَ الْحق الْمُصدق

وَكَذَلِكَ {تساقط عَلَيْك رطبا جنيا} مَعْنَاهُ تساقط عَلَيْك الرطب الجني

فَلَمَّا أسقط الْألف وَاللَّام نصب على قطع الْألف وَاللَّام

وَقَالَ جرير

(هَذَا ابْن عمي فِي دمشق خَليفَة … لَو شِئْت ساقكم الي قطينا)

نصب خَليفَة على الْقطع من الْمعرفَة من الْألف وَاللَّام

وَلَو رفع على معنى هَذَا ابْن عمي هَذَا خَليفَة لجَاز

وعَلى هَذَا الْمَعْنى يقْرَأ من يقْرَأ {وَإِن هَذِه أمتكُم أمة وَاحِدَة}

فَإِن جعل هَذَا اسْما وَابْن عمي صفته وَخَلِيفَة خَبره جَازَ الرّفْع

وَمثل هَذَا قَول الرّفْع

(من يَك ذَا بت فَهَذَا بتي … مقيظ مضيف مشتي)

(أعددته من نعجات سِتّ … سود جعاد من نعاج الدشت)

(من غزل أُمِّي ونسيج بِنْتي … )
অনুরূপভাবে {আর তা সত্য, সত্যায়নকারী হিসেবে}

এর অর্থ হলো— 'এবং তাঁর জন্যই চিরন্তন আনুগত্য' এবং 'তা হলো সেই সত্য যা সত্যায়নকারী'

অনুরূপভাবে {তা তোমার ওপর তাজা ও পরিপক্ক খেজুর ঝরিয়ে দেবে} এর অর্থ হলো— 'তা তোমার ওপর তাজা ও পরিপক্ক খেজুরসমূহ ঝরিয়ে দেবে'

যখন আলিফ ও লাম বিলুপ্ত করা হয়েছে, তখন আলিফ ও লাম থেকে বিচ্ছিন্ন (قطع) হওয়ার ভিত্তিতে একে নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে

জরির বলেছেন—

(ইনি আমার চাচাতো ভাই দামেশকে খলিফা হিসেবে আছেন … আপনি চাইলে তিনি আপনাদেরকে আমার কাছে দাসে পরিণত করে পাঠাতেন)

মারেফাহ বা আলিফ-লাম থেকে বিচ্ছিন্ন (القطع) হওয়ার কারণে 'খলিফা' শব্দটিকে নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে

যদি এই অর্থে রফআ (رفع) করা হতো যে— 'ইনি আমার চাচাতো ভাই, ইনি একজন খলিফা', তবে তাও বৈধ (جائز) হতো

এবং এই অর্থেই তারা কিরাআত পাঠ করেন যারা {নিশ্চয়ই তোমাদের এই জাতি তো একই জাতি} তিলাওয়াত করেন

যদি 'হাযা'-কে ইসিম, 'ইবনু আম্মী'-কে তার সিফাত এবং 'খলিফা'-কে তার খবর হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে রফআ (الرفع) হওয়া বৈধ (جائز)

আর রফআ (الرفع) হওয়ার অনুরূপ উদাহরণ হলো এই পঙক্তি—

(যার পশমি চাদর আছে থাকুক, এটি হলো আমার পশমি চাদর … যা গ্রীষ্ম, শরৎ ও শীতের পোশাক হিসেবে উপযোগী)

(আমি এটি ছয়টি ভেড়া থেকে প্রস্তুত করেছি … যেগুলো দশত অঞ্চলের কুচকুচে কালো ও কোঁকড়ানো পশমের ভেড়া)

(যা আমার মায়ের কাটা সুতা এবং আমার মেয়ের বুনন করা … )
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৬৯)
رفع كُله على معنى هَذَا بتي هَذَا مقيظ هَذَا مصيف هَذَا مشتي

وَأما قَول الشَّاعِر النَّابِغَة

(توهمت آيَات لَهَا فعرفتها … لسِتَّة أَعْوَام وَذَا الْعَام سَابِع)

فَرفع الْعَام بِالِابْتِدَاءِ وسابع خَبره

وَقَالَ أَيْضا

(فَبت كَأَنِّي ساورتني ضئيلة … من الرقش فِي أنيابها السم ناقع)

فَرفع السم بِالِابْتِدَاءِ وناقع خَبره

وَأما قَوْله الله تبارك وتعالى فِي ق {هَذَا مَا لدي عتيد} رفع عتيدا لِأَنَّهُ خبر نكرَة كَمَا تَقول هَذَا شَيْء عتيد عِنْدِي

‌‌وَالنّصب من الْحَال

 

قَوْلهم أَنْت جَالِسا أحسن مِنْك قَائِما أَي فِي حَال جُلُوسه أحسن مِنْهُ فِي حَال قِيَامه
এই সমস্তই পেশযুক্ত হয়েছে এই অর্থের ভিত্তিতে: এটি আমার ঘর, এটি আমার গ্রীষ্মকালীন আবাস, এটি আমার বসন্তকালীন নিবাস, এটি আমার শীতকালীন নিবাস।

আর কবি আন-নাবিগাহ-এর উক্তি প্রসঙ্গে:

(আমি তোরণচিহ্নগুলো দেখে ভ্রমগ্রস্ত হয়েছিলাম, অতঃপর আমি তা চিনতে পারলাম … ছয় বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর, আর এই বছরটি সপ্তম)

এখানে 'আল-আম' শব্দটি উদ্দেশ্য হিসেবে পেশযুক্ত হয়েছে এবং 'সাবি' হলো তার বিধেয়।

তিনি আরও বলেছেন:

(আমি এমনভাবে রাত কাটালাম যেন আমাকে একটি ক্ষুদ্র চিত্রবিচিত্র বিষধর সাপ দংশন করেছে … যার বিষদাঁতে প্রাণঘাতী বিষ সঞ্চিত রয়েছে)

এখানে 'আস-সুম্মু' শব্দটি উদ্দেশ্য হিসেবে পেশযুক্ত হয়েছে এবং 'নাকি' হলো তার বিধেয়।

আর সূরা কাফ-এ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার বাণী: {এটি আমার কাছে প্রস্তুত}, এখানে 'আতিদ' শব্দটিকে পেশযুক্ত করা হয়েছে কারণ এটি একটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের বিধেয়; যেমন আপনি বলে থাকেন: এটি আমার নিকট প্রস্তুত থাকা একটি বস্তু।

‌‌অবস্থা বুঝাতে জবরযুক্ত হওয়া

 

তাদের কথা: "বসা অবস্থায় আপনি দাঁড়ানো অবস্থার চেয়ে উত্তম", অর্থাৎ বসা অবস্থায় থাকা ব্যক্তি দাঁড়ানো অবস্থায় থাকার চেয়ে অধিক সুন্দর।
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৭০)
قَالَ الشَّاعِر

(لعمري إِنِّي ورادا بعد سَبْعَة … لأعشى وَإِنِّي صادرا لبصير)

أَي فِي حَال ورودي أعشى وَحَال صَدْرِي بَصِير

وَإِنَّمَا صَار الْحَال نصبا لِأَن الْفِعْل يَقع فِيهِ

تَقول قدمت رَاكِبًا وَانْطَلَقت مَاشِيا وتكلمت قَائِما

وَلَيْسَ بمفعول فِي مثل قَوْلك لبست الثَّوْب لِأَن الثَّوْب لَيْسَ بِحَال وَقع فِيهِ الْفِعْل

وَالْقِيَام حَال وَقع فِيهِ الْفِعْل فانتصب كانتصاب الظّرْف حِين وَقع فِيهِ الْفِعْل

وَلَو كَانَ الْحَال مَفْعُولا كَالثَّوْبِ لم يجز أَن يعدى الانطلاق إِلَيْهِ لِأَن الانطلاق انفعال والانفعال لَا يتَعَدَّى أبدا لِأَنَّك لَا تَقول انْطَلَقت الرجل

وَالْحَال لَا يكون إِلَّا نكرَة

وَالْحَال فِي الْمعرفَة والنكرة بِحَالَة وَاحِدَة

تَقول قدم عَليّ صَاحب لي رَاجِلا

وَمِنْه قَول الله عز وجل {قَالُوا كَيفَ نُكَلِّم من كَانَ فِي المهد صَبيا} نصب على الْحَال

‌‌وَالنّصب من الظّرْف

 

قَوْلهم غَدا آتِيك وَيَوْم الْجُمُعَة يفْطر النَّاس فِيهِ وَالْيَوْم أزورك

قَالَ سَاعِدَة بن جؤية
কবি বলেছেন

(আমার জীবনের শপথ! সাত [দিন/রাত] ভ্রমণের পর যখন আমি পানি পানের জন্য উপস্থিত হই, তখন আমি যেন রাতকানা হয়ে পড়ি … আর যখন আমি সেখান থেকে ফিরে আসি, তখন আমি প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন হই)

অর্থাৎ: আমার উপস্থিত হওয়ার অবস্থায় আমি রাতকানা এবং প্রত্যাবর্তনের অবস্থায় আমি প্রখর দৃষ্টিসম্পন্ন।

আর ‘হাল’ (অবস্থা) মূলত নসব প্রাপ্ত হয়, কারণ ক্রিয়াটি তার মধ্যে সংঘটিত হয়।

আপনি বলে থাকেন: ‘আমি আরোহী অবস্থায় এসেছি’, ‘আমি পায়ে হেঁটে চলে গিয়েছি’ এবং ‘আমি দাঁড়িয়ে কথা বলেছি’।

এটি ‘মাফউল’ (কর্ম) নয়, যেমনটি আপনার উক্তি ‘আমি পোশাকটি পরিধান করেছি’ এর ক্ষেত্রে হয়; কারণ পোশাক কোনো ‘হাল’ বা অবস্থা নয় যার মধ্যে ক্রিয়াটি সংঘটিত হয়েছে।

বরং দাঁড়িয়ে থাকা হলো এমন একটি অবস্থা (হাল), যার মধ্যে ক্রিয়াটি সংঘটিত হয়েছে; তাই এটি ‘যরফ’ (ক্রিয়া সংগঠনের আধার)-এর নসব প্রাপ্ত হওয়ার ন্যায় নসব প্রাপ্ত হয়েছে যখন তাতে ক্রিয়াটি সংঘটিত হয়।

যদি ‘হাল’ বা অবস্থাটি পোশাকের মতো ‘মাফউল’ (কর্ম) হতো, তবে ‘ইনতিলাক’ (প্রস্থান করা) ক্রিয়াটিকে তার দিকে অতিক্রম করানো (মুতাআদ্দি করা) বৈধ হতো না; কারণ ‘ইনতিলাক’ হলো একটি অকর্মক ক্রিয়া (ইনফি’আল), আর অকর্মক ক্রিয়া কখনো অতিক্রম করে না (কর্ম গ্রহণ করে না)। কেননা আপনি বলতে পারেন না: ‘আমি লোকটিকে প্রস্থান করলাম’।

আর ‘হাল’ সর্বদা ‘নাকিরাহ’ (অনির্দিষ্ট) হয়ে থাকে।

আর ‘মা’রিফাহ’ (নির্দিষ্ট) এবং ‘নাকিরাহ’ (অনির্দিষ্ট) উভয় বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ‘হাল’ একই অবস্থায় থাকে।

আপনি বলেন: ‘আমার এক বন্ধু আমার নিকট পদব্রজে এসেছে’।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তারা বলল, আমরা কীভাবে তার সাথে কথা বলব যে দোলনায় থাকা অবস্থায় শিশু?} এখানে ‘হাল’ হিসেবে নসব হয়েছে।

‌‌যরফ (ক্রিয়া সংগঠনের আধার) হতে নসব হওয়া

 

তাদের উক্তি: ‘আগামীকাল আমি তোমার কাছে আসব’, ‘জুমার দিন মানুষ তাতে রোজা ভঙ্গ করে’ এবং ‘আজ আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব’।

সায়েদাহ ইবনে জুওয়াইয়াহ বলেছেন
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৭১)
(لدن بهز الْكَفّ يعسل مَتنه … فِيهِ كَمَا عسل الطَّرِيق الثَّعْلَب)

فنصب الطَّرِيق على الظّرْف لِأَن عسلان الثَّعْلَب وَهُوَ مشيته وَقع فِي الطَّرِيق

وَقَالَ آخر عَمْرو بن كُلْثُوم

(صددت الكأس عَنَّا أم عَمْرو … وَكَانَ الكأس مجْراهَا اليمينا) فنصب الْيَمين على الظّرْف كَأَنَّهُ قَالَ مجْراهَا على الْيَمين

وَقَالَ آخر

(هبت جنوبا فذكرى مَا ذكرتكم … عِنْد الصفاة الَّتِي شَرْقي حورانا)

نصب الشَّرْقِي على الظّرْف أَي هِيَ شَرْقي حوران

تَقول هُوَ شَرْقي الدَّار

وَإِذا قلت هُوَ شَرْقي الدَّار وَجَعَلته اسْما جَازَ الرّفْع

وَنصب الآخر جنوبا على معنى هبت الرّيح جنوبا

وحوران لَا ينْصَرف
(হাত কাঁপানোর ফলে তার পিঠ দুলছিল … সেখানে যেমন শিয়াল রাস্তায় দ্রুত গতিতে চলে)

এখানে 'রাস্তা' শব্দটিকে আধার (ظرف) হিসেবে নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে; কারণ শিয়ালের দ্রুত পথ চলা, যা তার এক ধরণের চলন, তা রাস্তার উপরেই সংঘটিত হয়েছে।

অন্য একজন কবি আমর বিন কুলসুম বলেছেন:

(হে উম্মু আমর! তুমি আমাদের থেকে পানপাত্র সরিয়ে নিয়েছ … অথচ পানপাত্রটির চলার পথ ছিল ডান দিক দিয়ে)। এখানে ‘ডান দিক’ শব্দটিকে আধার (ظرف) হিসেবে নসব (نصب) দেওয়া হয়েছে, যেন তিনি বুঝিয়েছেন যে এর চলার পথ ছিল ডান দিকের উপরে।

অন্য এক কবি বলেছেন:

(দক্ষিণা বাতাস প্রবাহিত হয়েছে, যা তোমাদের স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দেয় … হাওরানের পূর্ব দিকে অবস্থিত সেই কঠিন পাথরের কাছে)

এখানে ‘পূর্ব দিক’ শব্দটিকে আধার (ظرف) হিসেবে নসব (نصب) দেওয়া হয়েছে, অর্থাৎ সেটি হাওরানের পূর্ব দিকে অবস্থিত।

আপনি বলতে পারেন: ‘সেটি ঘরের পূর্ব দিকে’।

আর যখন আপনি বলবেন ‘সেটি ঘরের পূর্ব দিক’ এবং একে বিশেষ্য (اسم) হিসেবে গণ্য করবেন, তখন তাতে রফ (رفع) প্রদান করা জায়েজ।

অপর কবি ‘দক্ষিণ দিক’ শব্দটিকে নসব (نصب) দিয়েছেন এই অর্থে যে, বাতাস দক্ষিণ দিক থেকে প্রবাহিত হয়েছে।

আর ‘হাওরান’ শব্দটি রূপান্তরহীন (لا ينصرف)।
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৭২)
وَسمي الظّرْف ظرفا لِأَنَّهُ يَقع الْفِعْل فِيهِ كالشيء يَجْعَل فِي الظّرْف فَإِذا قلت هُوَ شَرْقي الدَّار فَجَعَلته اسْما جَازَ الرّفْع وَمثله قَول لبيد بن ربيعَة العامري

(فغدت كلا الفرجين تحسب أَنه … مولى المخافة خلفهَا وأمامها)

رفع خلفهَا وأمامها لِأَنَّهُ جَعلهمَا اسْما وهما حرفا الطَّرِيق

قَالَ الشَّاعِر

(أما النَّهَار فَفِي قيد وسلسلة … وَاللَّيْل فِي جَوف منحوت من الساج) رفع اللَّيْل وَالنَّهَار لِأَنَّهُ جَعلهمَا اسْما وَلم يجعلهما ظرفا وَكَذَلِكَ يلزمون الشَّيْء الْفِعْل وَلَا فعل وَإِنَّمَا هَذَا على الْمجَاز كَقَوْل الله جلّ وَعز فِي الْبَقَرَة {فَمَا ربحت تِجَارَتهمْ} وَالتِّجَارَة لَا تربح فَلَمَّا كَانَ الرِّبْح فِيهَا نسب الْفِعْل إِلَيْهَا وَمثله {جدارا يُرِيد أَن ينْقض} وَلَا إِرَادَة للجدار وَقَالَ الشَّاعِر
আধার (ظرف)-কে আধার নামকরণ করা হয়েছে কারণ এতে ক্রিয়া (فعل) সংঘটিত হয়, যেমন কোনো বস্তুকে পাত্রের (ظرف) মধ্যে রাখা হয়। সুতরাং আপনি যখন বলেন ‘সে বাড়ির পূর্ব দিকে অবস্থিত’ এবং একে বিশেষ্য (اسم) হিসেবে গণ্য করেন, তবে পেশ (رفع) প্রদান করা বৈধ। এর অনুরূপ হলো লবীদ ইবনে রাবিআ আল-আমিরীর উক্তি:

(অতঃপর উভয় দিকই এমন হলো যে মনে হতে লাগল … ভয়ের কারণ তার পেছনে ও সামনে বিদ্যমান)

তিনি ‘পেছনে’ ও ‘সামনে’ শব্দ দুটিকে পেশ (رفع) প্রদান করেছেন কারণ তিনি সেগুলোকে বিশেষ্য (اسم) হিসেবে ব্যবহার করেছেন, অথচ সেগুলো হলো পথের দিকনির্দেশক অব্যয় (حرف)।

কবি বলেছেন:

(দিন তো কাটে বেড়ি ও শিকলে … আর রাত কাটে সেগুন কাষ্ঠের খোদাই করা প্রকোষ্ঠে) এখানে তিনি ‘রাত’ ও ‘দিন’ শব্দ দুটিকে পেশ (رفع) প্রদান করেছেন কারণ তিনি সেগুলোকে বিশেষ্য (اسم) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং সেগুলোকে আধার (ظرف) হিসেবে ব্যবহার করেননি। অনুরূপভাবে, তারা কোনো বস্তুর সাথে ক্রিয়াকে (فعل) এমনভাবে সম্পৃক্ত করে যেখানে প্রকৃতপক্ষে কোনো ক্রিয়া নেই; আর এটি কেবল রূপক (مجاز) অর্থেই হয়ে থাকে। যেমন আল্লাহ জাল্লা ওয়া আযযা সূরা বাকারাহ-তে বলেছেন: {তাদের ব্যবসা লাভজনক হয়নি}। মূলত ব্যবসা নিজে লাভ করে না; তবে যেহেতু ব্যবসায় লাভ অর্জিত হয়, তাই ক্রিয়াটিকে (فعل) ব্যবসার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে। এর অনুরূপ হলো: {একটি প্রাচীর যা ধসে পড়তে চাচ্ছিল}। অথচ প্রাচীরের কোনো ইচ্ছা (إرادة) শক্তি নেই। এবং জনৈক কবি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৭৩)
(

لقد لمتنا يَا أم غيلَان فِي السرى … ونمت وَمَا ليل الْمطِي بنائم)

وَاللَّيْل لَا ينَام وَإِنَّمَا ينَام فِيهِ وَقَالَ آخر

(فَنَامَ ليلِي وتجلى همي)

وَتقول هُوَ مني فرسخان ويومان لِأَنَّك تَقول بيني وَبَينه فرسخان ويومان فَإِذا قلب هُوَ مني مَكَان الثريا ومزجر الْكَلْب نصبت لِأَنَّك لَا تَقول بيني وَبَينه مَكَان الثريا وَلَا مزجر الْكَلْب وَقَالَ الشَّاعِر

(وَأَنت مَكَانك فِي وَائِل … مَكَان الثريا من است الْحمل)

‌‌وَالنّصب ب إِن وَأَخَوَاتهَا

 

قَوْلهم إِن زيدا فِي الدَّار شبهوه بِالْفِعْلِ الَّذِي يتَعَدَّى إِلَى مفعول بِهِ مقدم على الْفَاعِل كَقَوْلِهِم ضرب زيدا عَمْرو وَأخرج عمرا صَالح

‌‌وَالنّصب بِخَبَر كَانَ وَأَخَوَاتهَا

 

قَوْلهم كَانَ زيد قَائِما وَهُوَ فِي التمثال بِمَنْزِلَة الْمَفْعُول بِهِ الَّذِي تقدم فَاعله مثل قَوْلهم ضرب عبد الله زيدا
(

হে উম্মে গেইলান, আপনি রাতের পথচলার বিষয়ে আমাদের তিরস্কার করেছেন … অথচ আপনি ঘুমিয়েছিলেন, কিন্তু সওয়ারি উটের রাত কখনো ঘুমায় না।)

বস্তুত রাত নিজে ঘুমায় না, বরং রাতের বেলা ঘুমানো হয়। অন্য এক কবি বলেছেন—

(আমার রাত ঘুমিয়ে পড়ল এবং আমার দুশ্চিন্তা দূর হলো।)

আপনি বলবেন, ‘সে আমার থেকে দুই ফারসাখ ও দুই দিন (দূরত্বে)’, কারণ আপনি বলতে পারেন, ‘আমার ও তার মাঝে দুই ফারসাখ ও দুই দিন রয়েছে’। কিন্তু যখন বিষয়টিকে উল্টে বলা হয়, ‘সে আমার থেকে সুরাইয়া নক্ষত্রের স্থানে’ অথবা ‘কুকুরের দূরত্বের অবস্থানে’, তখন আপনি নসব প্রদান করবেন; কারণ আপনি বলতে পারেন না, ‘আমার ও তার মাঝে সুরাইয়া নক্ষত্রের স্থান’ অথবা ‘কুকুরের দূরত্বের অবস্থান’। জনৈক কবি বলেছেন—

(আর ওয়ায়েল গোত্রে আপনার অবস্থান তো... মেষ রাশির পশ্চাৎভাগে সুরাইয়া নক্ষত্রের অবস্থানের ন্যায়।)

‌‌'ইন্না' ও এর সমজাতীয় অব্যয়গুলোর মাধ্যমে নসব হওয়া

 

তাদের উক্তি: 'নিশ্চয়ই জায়েদ ঘরের মধ্যে আছে'; তারা একে এমন ক্রিয়ার সাথে তুলনা করেছেন যা এমন কর্মের দিকে ধাবিত হয় যা কর্তার পূর্বে আসে। যেমন তাদের উক্তি: 'জায়েদকে আমর মেরেছে' এবং 'আমরকে সালেহ বের করে দিয়েছে'।

‌‌'কানা' ও এর সমজাতীয় ক্রিয়াগুলোর 'খবর' হিসেবে নসব হওয়া

 

তাদের উক্তি: 'জায়েদ দণ্ডায়মান ছিল'; এটি উদাহরণের ক্ষেত্রে এমন কর্মের সমপর্যায়ভুক্ত যার কর্তা তার আগে এসেছে, যেমন তাদের উক্তি: 'আবদুল্লাহ জায়েদকে মেরেছে'।
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৭৪)
‌‌وَالنّصب من التَّفْسِير

 

قَوْلهم عنْدك خَمْسُونَ رجلا نصبت رجلا على التَّفْسِير قَالَ الله عز وجل

(إِن هَذَا أخي لَهُ تسع وَتسْعُونَ نعجة) نصبت نعجة على التَّفْسِير قَالَ الْأَعْشَى

(فَلَو كنت فِي جب ثَمَانِينَ قامة … ورقيت أَسبَاب السَّمَاء بسلم)

نصبت قامة على التَّفْسِير

‌‌وَالنّصب من التَّمْيِيز

 

قَوْلهم أَنْت أحسن النَّاس وَجها وأسمحهم كفا يَعْنِي إِذا ميزت وَجها وكفا فَنصبت وَجها وكفا على التَّمْيِيز قَالَ الله عز وجل فِي الْمَائِدَة

(قل هَل أنبئكم بشر من ذَلِك مثوبة عِنْد الله) وَمثله

(خير عِنْد رَبك ثَوابًا وَخير مردا) وَمَا كَانَ من نَحوه نصب مثوبة وثوابا ومردا وَمَا أشبهه على التَّمْيِيز
তাফসির (تفسير) বা ব্যাখ্যা প্রদানের কারণে নসব (نصب)

 

তাদের বক্তব্য: 'তোমার কাছে পঞ্চাশজন পুরুষ (رجلاً) রয়েছে', এখানে 'পুরুষ' (رجلاً) শব্দটিকে তাফসির (تفسير)-এর ভিত্তিতে নসব (نصب) করা হয়েছে। আল্লাহ মহান বলেন:

(নিশ্চয় এই আমার ভাই, তার নিরানব্বইটি ভেড়ি (نعجة) রয়েছে); এখানে 'ভেড়ি' (نعجة) শব্দটিকে তাফসির (تفسير)-এর ভিত্তিতে নসব (নصب) করা হয়েছে। কবি আল-আশা বলেছেন:

(যদি তুমি আশি উচ্চতা (قامة) বিশিষ্ট কোনো কূপে অবস্থান করতে … এবং মই বেয়ে আকাশের পথে আরোহণ করতে)

এখানে 'উচ্চতা' (قامة) শব্দটিকে তাফসির (تفسير)-এর ভিত্তিতে নসব (নصب) করা হয়েছে।

‌তাময়িজ (تمييز) বা পার্থক্যকরণের কারণে নসব (نصب)

 

তাদের বক্তব্য: 'তুমি চেহারার দিক থেকে মানুষের মাঝে সবচেয়ে সুন্দর এবং হাতের (দানশীলতার) দিক থেকে সবচেয়ে উদার', অর্থাৎ যখন তুমি চেহারা ও হাতকে পৃথক করে দিলে, তখন চেহারা ও হাত শব্দ দুটি তাময়িজ (تمييز)-এর ভিত্তিতে নসব (نصب) হয়েছে। আল্লাহ মহান সূরা আল-মায়িদাহতে বলেন:

(বলুন, আমি কি তোমাদের আল্লাহর নিকট এর চেয়েও মন্দ প্রতিদান (مثوبة) সম্পর্কে সংবাদ দেব?) এবং এরই অনুরূপ আয়াত:

(আপনার রবের নিকট সওয়াব (ثواباً) হিসেবে তা শ্রেষ্ঠ এবং পরিণাম (مرداً) হিসেবেও শ্রেষ্ঠ)। এবং এই জাতীয় যা কিছু রয়েছে, সেখানে 'প্রতিদান' (مثوبة), 'সওয়াব' (ثواباً) এবং 'পরিণাম' (مرداً) ও অনুরূপ শব্দসমূহ তাময়িজ (تمييز)-এর ভিত্তিতে নসব (نصب) হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৭৫)
قَالَ جرير بن عَطِيَّة

(ألستم خير من ركب المطايا … وأندى الْعَالمين بطُون رَاح)

نصب الْبُطُون على التَّمْيِيز والستم تَقْرِير أخرج مخرج الِاسْتِفْهَام وَقَالَ آخر

(لنا مرفد سَبْعُونَ ألف مدجج … فَهَل فِي معد مثل ذَلِك مرفدا)

يَعْنِي إِذا ميزت مرفدا وَقَالَ آخر

(ومية أحسن الثقلَيْن خدا … وسالفة وَأَحْسَنهمْ قذالا)

يَعْنِي إِذا ميزت خدا وسالفة وقذالا وَقَالَ آخر
জরীর ইবনে আতিয়্যাহ বলেন

(আপনারা কি উষ্ট্রারোহীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নন … এবং দানশীলতায় কি আপনারা বিশ্ববাসীর মধ্যে অগ্রগণ্য নন?)

এখানে ‘বুতুন’ শব্দটি বিশেষায়ন হিসেবে নসবপ্রাপ্ত হয়েছে এবং ‘আলাসতুম’ শব্দটি প্রশ্নবোধক শৈলীতে স্বীকৃতি প্রদানের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অন্য এক কবি বলেন

(আমাদের সত্তর হাজার সুসজ্জিত যোদ্ধার এক বিশাল বাহিনী রয়েছে … মা’আদ বংশে কি এর সমতুল্য কোনো বাহিনী আছে?)

অর্থাৎ যখন আপনি ‘মিরফাদান’ শব্দটিকে বিশেষায়ন করবেন। অন্য এক কবি বলেন

(আর উমাইয়াহ হলো গাল … ঘাড়ের পার্শ্বদেশ এবং মাথার পশ্চাৎদেশের সৌন্দর্যের দিক দিয়ে জিন ও মানবকুলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ)

অর্থাৎ যখন আপনি ‘খাদ্দান’, ‘সালিফাতান’ এবং ‘কুজালান’ শব্দগুলোকে বিশেষায়ন হিসেবে গণ্য করবেন। অন্য এক কবি বলেন
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৭৬)
(فَإِنَّكُم خِيَار النَّاس قدما … وأجلده رجَالًا بعد عَاد)

(وَأَكْثَره شبَابًا فِي كهول … كأسد تبَالَة الشهب الْوَارِد)

‌‌وَالنّصب بِالِاسْتِثْنَاءِ

 

قَوْلهم خرج الْقَوْم إِلَّا زيدا وَقَامَ النَّاس إِلَّا مُحَمَّدًا نصبت زيدا ومحمدا لِأَنَّهُمَا لم يشاركا النَّاس وَالْقَوْم فِي فعلهم فأخرجا من عَددهمْ

‌‌وَالنّصب بِالنَّفْيِ

 

قَوْلهم لَا مَال لعبد الله وَلَا عقل لزيد وَلَا جاه لعَمْرو نصبت مَالا وعقلا وجاها على النَّفْي

وَلَا يَقع النَّفْي إِلَّا على نكرَة قَالَ الشَّاعِر

(أنكرتها بعد أَعْوَام مضين لَهَا … لَا الدَّار دَارا وَلَا الْجِيرَان جيرانا)

فنفى بِالْألف وَاللَّام

‌‌وَالنّصب ب حَتَّى وَأَخَوَاتهَا

 

قَوْلهم لَا أَبْرَح حَتَّى تخرج وَلَا أذهب حَتَّى تقدم وَلنْ أخرج حَتَّى
(নিশ্চয়ই তোমরা প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের মাঝে শ্রেষ্ঠ... এবং আদ জাতির উত্তরকালে সবচেয়ে শক্তিশালী পুরুষ)

(এবং তোমাদের প্রৌঢ়দের মাঝে যুবকের সংখ্যাই অধিক... তাবাআলার ক্ষিপ্রগামী শুভ্র সিংহের ন্যায় যারা শিকারের জন্য আসে)

‌‌ব্যতিক্রমের (استثناء) কারণে নসব (نصب) প্রদান

 

তাদের উক্তি: 'যায়েদ ব্যতীত সম্প্রদায় বের হয়েছে' এবং 'মুহাম্মাদ ব্যতীত লোকসকল দাঁড়িয়েছে'। এখানে 'যায়েদ' ও 'মুহাম্মাদ' শব্দদুটিতে নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে, কারণ তারা লোকসকল বা সম্প্রদায়ের সাথে তাদের কার্যে অংশগ্রহণ করেনি, ফলে তাদেরকে তাদের সংখ্যা থেকে পৃথক করা হয়েছে।

‌‌না-বোধক (نفي) অব্যয়ের কারণে নসব (نصب) প্রদান

 

তাদের উক্তি: 'আবদুল্লাহর কোনো সম্পদ নেই', 'যায়েদের কোনো বুদ্ধি নেই' এবং 'আমরের কোনো প্রভাব-প্রতিপত্তি নেই'। এখানে 'মাল' (সম্পদ), 'আকল' (বুদ্ধি) এবং 'জাহ' (মর্যাদা) শব্দগুলোতে না-বোধক (نفي) অর্থের ভিত্তিতে নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে।

এবং অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة) ব্যতীত না-বোধক (نفي) আমল কার্যকর হয় না। কবি বলেছেন:

(বহু বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আমি তা চিনতে পারিনি... না ঘরটি সেই ঘর হিসেবে আছে, আর না প্রতিবেশীরা সেই প্রতিবেশী হিসেবে রয়েছে)

অতঃপর তিনি আলিফ ও লাম যোগে না-বোধক (نفي) অর্থ প্রকাশ করেছেন।

‌‌হাত্তা (حتى) এবং এর সমগোত্রীয় অব্যয়সমূহের মাধ্যমে নসব (نصب) প্রদান

 

তাদের উক্তি: 'তুমি বের না হওয়া পর্যন্ত আমি সরব না', 'তুমি না আসা পর্যন্ত আমি যাব না' এবং 'আমি কখনই বের হব না যতক্ষণ না...'
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৭৭)
تَأْتِينَا نصبت تخرج وتأتينا وَتقدم ب حَتَّى قَالَ الله جلّ وَعز {لَا أَبْرَح حَتَّى أبلغ مجمع الْبَحْرين}

‌‌وَالنّصب بِالْجَوَابِ بِالْفَاءِ

 

قَوْلهم أكْرم زيدا فيكرمك وَتعلم الْعلم فينفعك نصبت يكرمك وينفعك لِأَنَّهُ جَوَاب الْأَمر بِالْفَاءِ وَكَذَلِكَ القَوْل فِي جَمِيع أخواتها

قَالَ الله جلّ وَعز فِي الشُّعَرَاء {فَلَا تدع مَعَ الله إِلَهًا آخر فَتكون من الْمُعَذَّبين} وَقَالَ جلّ ذكره فِي الْأَعْرَاف {فَهَل لنا من شُفَعَاء فيشفعوا لنا أَو نرد فنعمل} نصب فَتكون لِأَنَّهُ جَوَاب النَّهْي بِالْفَاءِ وَنصب فيشفعوا أَو نرد فنعمل لِأَنَّهُ جَوَاب الِاسْتِفْهَام بِالْفَاءِ

وَأما قَوْله فِي الْأَنْعَام {وَلَا تطرد الَّذين يدعونَ رَبهم بِالْغَدَاةِ والعشي يُرِيدُونَ وَجهه مَا عَلَيْك من حسابهم من شَيْء وَمَا من حِسَابك عَلَيْهِم من شَيْء فَتَطْرُدهُمْ فَتكون من الظَّالِمين} مَعْنَاهُ وَالله أعلم وَلَا تطرد فَتكون من الظَّالِمين تظلمهم فَتَطْرُدهُمْ فَقدم وَأخر
তাতিনা (তأتينا) শব্দটি নসব (نصب) প্রাপ্ত হয়েছে। ‘বের হওয়া’ এবং ‘আসা’ শব্দদ্বয় নসব হয়েছে এবং ‘হাত্তা’ (حتى) দ্বারা অতিক্রান্ত হয়েছে, যেমন মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন: {আমি ক্ষান্ত হব না যতক্ষণ না আমি দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে পৌঁছাই}।

‌‌‘ফা’ সহযোগে উত্তরের ক্ষেত্রে নসব (نصب) হওয়া

 

তাঁদের উক্তি: ‘জায়েদকে সম্মান করো, তবে সে তোমাকে সম্মান করবে’ এবং ‘জ্ঞান অর্জন করো, তবে তা তোমাকে উপকৃত করবে’। এখানে ‘সে তোমাকে সম্মান করবে’ এবং ‘তা উপকৃত করবে’ শব্দদ্বয় নসব (نصب) হয়েছে, কারণ এগুলো ‘ফা’ সহযোগে আদেশের (أمر) উত্তর হিসেবে এসেছে। একইভাবে এর সকল সমগোত্রীয় শব্দের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য।

মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ সুরা আশ-শুআরায় বলেছেন: {সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কোনো ইলাহকে ডেকো না, তবে তুমি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে}। মহান আল্লাহ সুরা আল-আরাফে আরও ইরশাদ করেছেন: {তবে কি আমাদের জন্য কোনো সুপারিশকারী আছে যারা আমাদের জন্য সুপারিশ করবে? অথবা আমাদের কি পুনরায় ফেরত পাঠানো হবে যাতে আমরা (সৎ) আমল করতে পারি?}। এখানে ‘ফাতাকুনা’ শব্দটি নসব (نصب) হয়েছে কারণ এটি ‘ফা’ সহযোগে নিষেধের (نهي) উত্তর। আর ‘ফাইয়াশফাউ’ অথবা ‘ফানামাল’ শব্দগুলো নসব (نصب) হয়েছে কারণ এগুলো ‘ফা’ সহযোগে জিজ্ঞাসার (استفهام) উত্তর।

আর সুরা আল-আনআমে আল্লাহর বাণী: {আর যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের রবকে ডাকে এবং তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে, আপনি তাদের তাড়িয়ে দেবেন না। তাদের হিসাবের কোনো দায়িত্ব আপনার ওপর নেই এবং আপনার হিসাবের কোনো দায়িত্ব তাদের ওপর নেই যে আপনি তাদের তাড়িয়ে দেবেন এবং এর ফলে আপনি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন}। এর অর্থ—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—‘আপনি তাদের তাড়িয়ে দেবেন না, ফলে আপনি জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হবেন’। অর্থাৎ ‘আপনি তাদের ওপর জুলুম করবেন ফলে তাদের তাড়িয়ে দেবেন’—এখানে শব্দ আগে-পিছে করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৭৮)
‌‌وَالنّصب بالتعجب

 

قَوْلهم مَا أحسن زيدا وَمَا أكْرم عمرا هُوَ فِي التمثال بِمَنْزِلَة الْفَاعِل وَالْمَفْعُول بِهِ كَأَنَّهُ قَالَ شَيْء حسن زيدا وحد التَّعَجُّب مَا يجده الْإِنْسَان من نَفسه عِنْد خُرُوج الشَّيْء من عَادَته

وَقَالَ الْكُوفِيُّونَ هَذَا لَا يُقَاس عَلَيْهِ لِأَن قَوْلهم مَا أعظم الله لَا يجوز أَن تَقول شَيْء عظم الله فَرد عَلَيْهِم قَوْلهم وَقَالَ البصريون لَا يذهب الْقيَاس بِحرف وَاحِد وَقَالُوا لَا يَجْعَل فَاعله مَفْعُولا وَلَا مَفْعُوله فَاعِلا وَمن شَأْن الْعَرَب الوسع فِي كل شَيْء وَمعنى مَا أعظم الله مَا أعظم مَا خلق الله وَمَا أحسن مَا خلق

‌‌وَالنّصب الَّذِي فَاعله مفعول ومفعوله فَاعل

 

مثل قَول اللع جلّ وَعز فِي آل عمرَان {قَالَ رب أَنى يكون لي غُلَام وَقد بَلغنِي الْكبر} والحدثان للمخلوق لَا للكبر وَمثله فِي مَرْيَم {واشتعل الرَّأْس شيبا} والحدثان للشيب لَا للرأس وَمَعْنَاهُ وَقد بلغت الْكبر
‌আশ্চর্যবোধক (تعجب) বাক্যে নসব (نصب)

 

তাদের উক্তি: "জায়েদ কতই না সুন্দর!" এবং "আমর কতই না দয়ালু!"—এটি গঠনগত দিক থেকে কর্তা (فاعل) এবং কর্ম (مفعول به) এর সমপর্যায়ের। এটি যেন এমন যে তিনি বলছেন, "কোনো একটি বস্তু জায়েদকে সুন্দর করেছে।" আর আশ্চর্যবোধক (تعجب) এর সংজ্ঞা হলো: কোনো বিষয় যখন তার স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে চলে যায়, তখন মানুষ নিজের মধ্যে যে অনুভূতি অনুভব করে।

কুফীয়গণ (الكوفيون) বলেন, একে পরিমাপ বা তুলনা (قياس) এর ভিত্তি হিসেবে ধরা যাবে না। কারণ তাদের উক্তি: "আল্লাহ কতই না মহান!" এর ক্ষেত্রে এটি বলা বৈধ নয় যে, "কোনো একটি বস্তু আল্লাহকে মহান করেছে।" ফলে তাদের এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বসরীয়গণ (البصريون) বলেন, মাত্র একটি শব্দের কারণে তুলনা (قياس) বর্জন করা যায় না। তাঁরা আরও বলেন যে, এর কর্তাকে (فاعل) কর্ম (مفعول) এবং কর্মকে কর্তা (فاعل) বানানো হয় না। আর সব বিষয়ে প্রশস্ততা বজায় রাখা আরবদের একটি বৈশিষ্ট্য। "আল্লাহ কতই না মহান" উক্তিটির অর্থ হলো: আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন তা কতই না মহান এবং তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তা কতই না সুন্দর!

‌এমন নসব (نصب) যার কর্তা (فاعل) মূলত কর্ম এবং কর্ম (مفعول) মূলত কর্তা

 

যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী, যা তিনি আল ইমরান-এ ইরশাদ করেছেন: {সে বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার কীভাবে পুত্র সন্তান হবে, অথচ বার্ধক্য আমার নিকট পৌঁছে গেছে?} এখানে পৌঁছানোর ক্রিয়াটি মাখলুক বা ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, বার্ধক্যের ক্ষেত্রে নয়। অনুরূপ উদাহরণ সূরা মারইয়াম-এ রয়েছে: {এবং মস্তক বার্ধক্যের শুভ্রতায় উদ্ভাসিত হয়েছে}। এখানে উদ্ভাসিত হওয়ার বিষয়টি বার্ধক্যের শুভ্রতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, মাথার ক্ষেত্রে নয়। এর প্রকৃত অর্থ হলো: "এবং আমি বার্ধক্যে উপনীত হয়েছি।"
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৭৯)
وَمثله {مَا إِن مفاتحه لتنوء بالعصبة أولي الْقُوَّة} مَعْنَاهُ لتنوء الْعصبَة بمفاتحه وَقيل معنى تنوء تذْهب قَالَ الشَّاعِر

(أسلموه فِي دمشق كَمَا … أسلمت وحشية وهقا)

أَلا ترى أَن الْفِعْل للوهق

وَمن ذَلِك قَول جرير

(مثل القنافذ هداجون قد بلغت … نَجْرَان اَوْ بلغت سوءاتهم هجر)

والسوءات بلغت هجر وَقَالَ أَبُو زبيد الطَّائِي

(إِلَيْك إِلَيْك عذرة بعد عذرة … وَقد يبلغ الشَّرّ السديل المشمر)

وَالشَّر قد يبلغ السديل وَمن ذَلِك قَول الآخر

(كَانَت عُقُوبَة مَا جنيت كَمَا … كَانَ الزناء عُقُوبَة الرَّجْم)
এবং এর অনুরূপ হলো {নিশ্চয়ই তার চাবিগুলো একদল শক্তিশালী লোকের জন্য অত্যন্ত ভারী ছিল}; এর অর্থ হলো সেই শক্তিশালী দলটি চাবিগুলোর ভারে নুয়ে পড়ত। আর বলা হয়েছে যে, এখানে 'তানু' শব্দের অর্থ হলো চলে যাওয়া। কবি বলেছেন:

(তারা তাকে দামেস্কে এমনভাবে বর্জন করল যেভাবে … ফাঁসের শিকল বন্য পশুকে বর্জন করে)

আপনি কি দেখছেন না যে, এখানে ক্রিয়াটি ফাঁসের সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে?

এর অন্তর্ভুক্ত হলো জারীরের উক্তি:

(শজারুর ন্যায় ধীরগতিতে বিচরণকারী; তারা নাজরানে পৌঁছে গেছে … অথবা তাদের অপকর্মগুলো হাজারে পৌঁছে গেছে)

মূলত অপকর্মগুলোই হাজারে পৌঁছেছে। আবু জুবাইদ আত-তায়ী বলেছেন:

(তোমার সমীপে একের পর এক ওজর পেশ করছি … আর অনিষ্ট কখনো কখনো উত্তোলিত পর্দা পর্যন্ত পৌঁছে যায়)

অর্থাৎ অনিষ্ট পর্দায় পৌঁছাতে পারে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো অন্য একজনের উক্তি:

(তোমার কৃত অপরাধের শাস্তি এমন ছিল যেমন … ব্যভিচার হলো পাথর নিক্ষেপের শাস্তি)
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৮০)
الزناء يمد وَيقصر والبكاء أَيْضا وَالْوَجْه كَمَا كَانَ الرَّجْم عُقُوبَة الزناء

‌‌وَالنّصب من نِدَاء النكرَة الموصوفة

 

قَوْلهم يَا رجلا فِي الدَّار وَيَا غُلَاما ظريفا ونصبت لِأَنَّك ناديت من لم تعرفه فوصفته بالظرف وَنَحْوه قَول الله تبارك وتعالى فِي يس {يَا حسرة على الْعباد}

وَقَالَ الشَّاعِر

(فيا رَاكِبًا إِمَّا عرضت فبلغن … نداماي من نَجْرَان أَن لَا تلاقيا {

وَقَالَ آخر

(يَا ساريا بِاللَّيْلِ لَا تخش ضلة … سعيد بن سلم ضء وكل بِلَاد) وَقَالَ آخر
ব্যভিচার (الزناء) শব্দটি দীর্ঘস্বর (مد) এবং হ্রস্বস্বর (قصر) উভয়ভাবেই পঠিত হয়; ক্রন্দন (البكاء) শব্দের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। আর বিষয়টি এমন, যেমন পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড (الرجم) ছিল ব্যভিচারের শাস্তি।

‌‌বিশেষায়িত অনির্দিষ্ট বিশেষ্যকে আহ্বানের (نداء النكرة الموصوفة) ক্ষেত্রে নসব বা জবর (النصب) প্রদান

 

তাদের কথা: "হে ঘরের ভেতরের কোনো এক ব্যক্তি!" এবং "হে কোনো এক বুদ্ধিমান বালক!"। এখানে নসব করা হয়েছে কারণ আপনি এমন কাউকে আহ্বান করেছেন যাকে আপনি চেনেন না, অতঃপর তাকে বুদ্ধিমত্তা (الظرف) বা অনুরূপ কোনো গুণ দ্বারা বিশেষায়িত করেছেন। মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী সূরা ইয়াসিনে এর অনুরূপ: {হে আক্ষেপ বান্দাদের ওপর!}।

কবি বলেছেন:

(হে কোনো এক আরোহী (راكبا)! যদি তোমার পথ অতিক্রান্ত হয়, তবে নাজরানের আমার সুহৃদদের সংবাদ পৌঁছে দিও যে, আমাদের আর কোনোদিন দেখা হবে না … )

অন্য এক কবি বলেছেন:

(হে রাতের কোনো এক পথচারী (ساريا)! পথভ্রষ্ট হওয়ার (ضلة) ভয় করো না … সাঈদ ইবনে সালাম হচ্ছেন আলো এবং প্রতিটি জনপদ)। এবং অন্য আরেকজন বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৮১)
(أدَار بحزوى هجت للعين عِبْرَة … فماء الْهوى يرفض أَو يترقرق

وَقَالَ آخر

(فيا موقدا نَارا لغيرك ضوءها … وَيَا حَاطِبًا فِي غير حبلك تحطب)

فنصب رَاكِبًا وساريا وموقدا ودارا لِأَنَّهَا نِدَاء نكرَة مَوْصُوفَة

وَأما قَول الْأَعْشَى

(قَالَت هُرَيْرَة لما جِئْت زائرها … ويلي عَلَيْك وويلي مِنْك يَا رجل)

وَقَول كثير

(لَيْت التَّحِيَّة كَانَت لي فأشكرها … مَكَان يَا جمل حييت يَا رجل)

فَرفع رجلا وَهُوَ نكرَة وَإِنَّمَا رَفعه لِأَنَّهُ قَصده فَسَماهُ بِهَذَا الِاسْم فَكَأَنَّهُ جعله معرفَة

وَأما قَول الآخر
(হে হাযওয়ার গৃহ! তুমি নয়নে অশ্রু বিগলিত করেছ … প্রেমের বারিধারা বিগলিত হয় অথবা ঝরতে থাকে)

অন্য একজন কবি বলেন:

(হে অন্যের জন্য অগ্নি প্রজ্জ্বলনকারী যার আলো অন্যের প্রাপ্য … এবং হে অন্যের রশিতে কাষ্ঠ সংগ্রহকারী)

এখানে 'রাকিবান', 'সারিয়ান', 'মুউকিদান' এবং 'দারান' শব্দগুলোতে নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে; কারণ এগুলো হচ্ছে অনির্দিষ্ট গুণান্বিত (نكرة موصوفة) সম্বোধন (نداء)।

আর আল-আ'শার উক্তি সম্পর্কে বলা যায়:

(হুরায়রা বলল যখন আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করতে এলাম … তোমার জন্য আমার পরিতাপ এবং তোমার কারণে আমার আক্ষেপ, হে পুরুষ!)

এবং কুসাইয়িরের উক্তি:

(আফসোস! যদি অভিবাদনটি আমার জন্য হতো তবে আমি তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতাম … 'হে জামিল' এর স্থলে 'হে পুরুষ, তোমার প্রতি অভিবাদন' বলা হয়েছে)

এখানে 'রাজুলুন' শব্দটিতে রফা (رفع) প্রদান করা হয়েছে যদিও এটি অনির্দিষ্ট (نكرة)। মূলত তিনি এতে রফা (رفع) প্রদান করেছেন কারণ তিনি তাকে নির্দিষ্টভাবে উদ্দেশ্য করেছেন এবং এই নামে তাকে অভিহিত করেছেন, ফলে তিনি যেন তাকে নির্দিষ্ট (معرفة) বিশেষ্যে পরিণত করেছেন।

আর অন্য একজনের উক্তি সম্পর্কে বলা যায়:
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৮২)
(سَلام الله يَا مطر عَلَيْهَا … وَلَيْسَ عَلَيْك يَا مطر السَّلَام)

فَإِنَّهُ نون مَطَرا اضطرارا ويروى بِالنّصب منونا

وَأما قَول الآخر

(إِنِّي وأسطارا سطرن سطرا … لقَائِل يَا نصر نصرا نصرا)

فَإِنَّهُ أَرَادَ أَعنِي نصرا وأدعو نصرا وَقَالَ بَعضهم كَأَنَّهُ قَالَ يَا نصر نصرا كَمَا تَقول صَبر وحديثا أَي اصبر وَحدث ويروى وأسطار بالخفض على الْقسم

‌‌وَالنّصب من الإغراء

 

قَوْلهم عَلَيْك زيدا ودونك عمرا ورويدك مُحَمَّدًا ورويد عمرا نصبته بالإغراء قَالَ الله جلّ وَعز فِي الْمَائِدَة {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا عَلَيْكُم أَنفسكُم} فنصب على الإغراء وَقَالَ الشَّاعِر
(আল্লাহর শান্তি, হে মাতার, তাঁর ওপর বর্ষিত হোক … আর হে মাতার, তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত না হোক)

কেননা তিনি কাব্যিক প্রয়োজনে 'মাতারান' শব্দটিতে তানউইন যুক্ত করেছেন এবং এটি নসব অবস্থায় তানউইনসহ বর্ণিত (يروى) হয়েছে।

আর অপর কবির উক্তি সম্পর্কে:

(নিশ্চয়ই আমি এবং সেই পঙ্ক্তিমালা যা সারিবদ্ধভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে … আমি অবশ্যই বলব, হে নাসর, সাহায্য করো, সাহায্য করো)

কেননা তিনি এর দ্বারা বুঝাতে চেয়েছেন, 'আমি নাসরকে উদ্দেশ্য করছি' এবং 'আমি নাসরকে আহ্বান করছি'। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, এটি যেন এমন যে তিনি বলেছেন: 'হে নাসর, সাহায্য (করো)', যেমনটি আপনি বলে থাকেন: 'ধৈর্য' এবং 'হাদিস', অর্থাৎ 'ধৈর্য ধারণ করো' এবং 'কথা বলো'। আর 'আসতার' শব্দটিকে শপথের ভিত্তিতে জর বা জের অবস্থায়ও বর্ণনা (يروى) করা হয়েছে।

‌‌উদ্বুদ্ধকরণের (إغراء) কারণে নসব হওয়া

 

তাঁদের উক্তি: 'আলাইকা যায়দান' (তুমি যায়িদকে আঁকড়ে ধরো), 'দুনাকা আমরান' (তুমি আমরের কাছে যাও), 'রুওয়াইদাকা মুহাম্মাদান' (তুমি মুহাম্মাদকে অবকাশ দাও) এবং 'রুওয়াইদা আমরান'। আপনি একে উদ্বুদ্ধকরণের (إغراء) কারণে নসব করেছেন। মহান আল্লাহ সূরা আল-মায়িদায় ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ! তোমাদের দায়িত্ব তোমাদের নিজেদেরই ওপর।} সুতরাং এখানে উদ্বুদ্ধকরণের (إغراء) ভিত্তিতে নসব করা হয়েছে। আর কবি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৮৩)
(فعد عَن الصِّبَا وَعَلَيْك هما … توقش فِي فُؤَادك واختبالا)

نصب هما بالإغراء وَقَالَ آخر

(رويدا عليا جد مَا ثدي أمه … إِلَيْنَا وَلَكِن بغضه متماين)

ويغرى بكذلك ايضا قَالَ الشَّاعِر

(أَقُول وَقد تلاحقت لمطايا … كَذَاك القَوْل إِن عَلَيْك عينا)

نصبت القَوْل بالإغراء وَمعنى الإغراء الزم واحفظ

‌‌وَالنّصب من التحذير

 

قَوْلهم رَأسك والحائط والأسد الْأسد مَعْنَاهُ احذر الْأسد قَالَ الله عز وجل {فَقَالَ لَهُم رَسُول الله نَاقَة الله وسقياها} وَمَعْنَاهُ احْذَرُوا نَاقَة الله أَن تمسوها بِسوء

وَقَالَ الشَّاعِر
(যৌবনের চপলতা পরিহার করো এবং এই দুটির প্রতি যত্নবান হও … যা তোমার হৃদয়ে অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে)

এখানে ‘হূমা’ শব্দটিকে উৎসাহপ্রদান বা ইগরা-এর কারণে নসব প্রদান করা হয়েছে। অন্য এক কবি বলেছেন—

(আলীকে সামান্য অবকাশ দাও, তার জননীর স্তন কতই না শ্রেষ্ঠ … আমাদের প্রতি, কিন্তু তার বিদ্বেষ অত্যন্ত প্রবঞ্চনামূলক)

অনুরূপভাবে ‘কাজালিকা’ শব্দ দ্বারাও উৎসাহ প্রদান করা হয়। কবি বলেছেন—

(আমি বললাম যখন আরোহী পশুগুলো একে অপরের অনুগামী হলো … ওই কথাটিই, নিশ্চয়ই তোমার ওপর এক পর্যবেক্ষক নিয়োজিত রয়েছে)

এখানে ‘আল-কাওল’ শব্দটিকে ইগরা-এর কারণে নসব প্রদান করা হয়েছে। আর ইগরা বা উৎসাহপ্রদান-এর অর্থ হলো কোনো কিছুকে আঁকড়ে ধরা এবং তা সংরক্ষণ করা।

‌‌সতর্কীকরণ বা তাহযীর-এর কারণে নসব হওয়া

 

তাদের উক্তি: ‘তোমার মাথা এবং দেয়াল’ এবং ‘সিংহ, সিংহ’—এর অর্থ হলো: সিংহ থেকে সতর্ক থাকো। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর আল্লাহর রাসূল তাদেরকে বললেন, আল্লাহর উটনী এবং তার পানি পানের ব্যাপারে (সতর্ক থাকো)}। এর অর্থ হলো: তোমরা আল্লাহর উটনীর ব্যাপারে সতর্ক হও যেন তাকে কোনো কষ্ট না দাও।

এবং কবি বলেছেন—
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৮৪)
(أَخَاك أَخَاك إِن من لَا أَخا لَهُ … كساع إِلَى الهيجا بِغَيْر سلَاح)

وَقَالَ آخر

(فطر خَالِدا إِن كنت تَسْتَطِيع طيرة … وَلَا تقعن إِلَّا وقلبك حاذر)

نصبت خَالِدا على التحذير

‌‌وَالنّصب من اسْم بِمَنْزِلَة اسْمَيْنِ

 

مثل قَوْلهم أَتَانِي خَمْسَة عشر رجلا ومررت بِخَمْسَة عشر رجلا وَضربت خَمْسَة عشر رجلا صَار الرّفْع وَالنّصب والخفض بِمَنْزِلَة وَاحِدَة لِأَنَّهُ اسْم بِمَنْزِلَة اسْمَيْنِ ضم أَحدهمَا إِلَى الآخر فألزمت فيهمَا الفتحة الَّتِي هِيَ أخف الحركات وَكَذَلِكَ تَقول فِي معد يكرب وحضرموت وبعلبك بِمَنْزِلَة اسْمَيْنِ قَالَ الله عز وجل فِي المدثر {عَلَيْهَا تِسْعَة عشر} نصب وَمحله الرّفْع لِأَنَّهُ خبر الصّفة وَتقول لَقيته كفة كفة وعَلى هَذَا قَالَ امْرُؤ الْقَيْس
(তোমার ভাই, তোমার ভাই! নিশ্চয়ই যার কোনো ভাই নেই … সে যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্রহীনভাবে ধাবমান ব্যক্তির মতো)

এবং অন্য একজন কবি বলেছেন

(হে খালিদ! তুমি যদি উড়তে সক্ষম হও তবে উড়ে যাও … আর তোমার অন্তর সতর্ক না থাকা অবস্থায় কোথাও অবতরণ করো না)

সতর্কীকরণের (تحذير) ভিত্তিতে 'খালিদ' শব্দটিকে নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে।

‌‌দুইটি বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত একটি বিশেষ্যের নসব (نصب) হওয়া

 

যেমন তাদের কথা: "পনেরোজন লোক আমার নিকট এসেছে", "আমি পনেরোজন লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি" এবং "আমি পনেরোজন লোককে প্রহার করেছি"। এখানে রফ (رفع), নসব (نصب) এবং জর (خفض) একই অবস্থায় রয়েছে; কারণ এটি এমন একটি বিশেষ্য যা দুইটি বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত (بِمَنْزِلَة اسْمَيْنِ)। এগুলোর একটিকে অপরটির সাথে যুক্ত করা হয়েছে, ফলে উভয় অংশে ফাতহা (فتحة) অপরিহার্য করা হয়েছে, যা হরকতসমূহের (حركات) মধ্যে সবচেয়ে হালকা। অনুরূপভাবে মা'দিকারিব, হাজরামাউত এবং বালবাক-এর ক্ষেত্রেও আপনি বলবেন যে, এগুলো দুইটি বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত (بِمَنْزِلَة اسْمَيْنِ)। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সূরা আল-মুদ্দাসসির-এ বলেছেন: {তার উপরে রয়েছে উনিশ (تسعة عشر) জন}। এখানে শব্দটি নসব (نصب) অবস্থায় রয়েছে, তবে এর স্থান হলো রফ (رفع); কারণ এটি গুণের খবর (خبر)। আর আপনি বলেন: "আমি তার সাথে সামনাসামনি (كفة كفة) সাক্ষাৎ করেছি"। এই নিয়মেই ইমরুল কায়েস বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৮৫)
(لقد أنكرتني بعلبك وَأَهْلهَا … وَلابْن جريج كَانَ فِي حمص أنكرا)

نصب بعلبك لِأَنَّهُ اسْم بِمَنْزِلَة اسْمَيْنِ

وَأما قَول الْأَعْشَى

(وكسرى شهنشاه الَّذِي سَار ملكه … لَهُ مَا اشْتهى رَاح عَتيق وزنبق)

فَهَذِهِ الْهَاء من شهنشاه تتبع مَا بعْدهَا من رفع وَنصب وخفض تَقول شهنشاه ادخل شهنشاه اذْهَبْ شهنشاه اضْرِب فَإِذا رقفت قلت شهنشاه

‌‌وَالنّصب بِخَبَر مَا بَال وَأَخَوَاتهَا

 

قَوْلهم مَا بَال زيد قَائِما وَمَالك ساكتا وَمَا شَأْنك وَاقِفًا قَالَ الله جلّ ذكره فِي {سَأَلَ سَائل} {فَمَال الَّذين كفرُوا قبلك مهطعين} وَفِي المدثر

(فَمَا لَهُم عَن التَّذْكِرَة معرضين) نصب مهطعين ومعرضين لِأَنَّهُمَا خبر مَال وَمثله فِي النِّسَاء {فَمَا لكم فِي الْمُنَافِقين فئتين} لِأَنَّهُ خبر مَال
(বালবাক এবং এর অধিবাসীরা আমাকে অস্বীকার করেছে … আর ইবনে জুরাইজের নিকট হিমসে তা ছিল অধিক অপরিচিত)

বালবাক শব্দটিকে নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে কারণ এটি এমন একটি বিশেষ্য যা দুটি নামের সমপর্যায়ের।

আর আল-আশা-র উক্তি:

(এবং কিসরা শাহানশাহ যার রাজত্ব বিস্তৃত হয়েছে … তার যা কামনা ছিল তা-ই সে পেয়েছে—পুরাতন শরাব ও লিলি ফুল)

'শাহানশাহ' শব্দের এই 'হা' অক্ষরটি তার পরবর্তী শব্দের রফ (رفع), নসব (نصب) এবং খফদ (خفض) অনুকরণ করে। আপনি বলবেন: 'শাহানশাহ প্রবেশ করো', 'শাহানশাহ যাও', 'শাহানশাহ প্রহার করো'। আর যখন আপনি বিরতি দেবেন তখন বলবেন: 'শাহানশাহ'।

‌‌'মা বালু' এবং এর সমজাতীয় শব্দগুলোর খবর (خبر) হিসেবে নসব (النصب) হওয়া

 

তাদের উক্তি: 'যায়েদ দাঁড়িয়ে কেন?', 'তুমি নীরব কেন?', 'তোমার কী হলো যে তুমি দাঁড়িয়ে আছ?'। আল্লাহ মহান সুরা আল-মাআরিজে ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর কাফেরদের কী হলো যে তারা আপনার দিকে দ্রুতগতিতে ছুটে আসছে?} এবং সুরা আল-মুদ্দাসসিরে:

(তাদের কী হলো যে তারা উপদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে?) এখানে 'মুহতিয়ীন' এবং 'মু’রিদ্বীন' শব্দ দুটিতে নসব (نصب) হয়েছে কারণ তারা 'মাল' এর খবর (خبر) হিসেবে এসেছে। অনুরূপভাবে সুরা আন-নিসায় রয়েছে: {অতঃপর তোমাদের কী হলো যে তোমরা মুনাফিকদের ব্যাপারে দুই দলে বিভক্ত হয়ে গেলে?} কারণ এটিও 'মাল' এর খবর (خبر)।
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৮৬)
قَالَ الرَّاعِي

(مَا بَال دفك بالفراش مذيلا … أقذى بِعَيْنِك أم أردْت رحيلا)

نصب مذيلا لِأَنَّهُ خبر مَا بَال

‌‌وَالنّصب من مصدر فِي مَوضِع فعل

 

قَوْله جلّ وَعز فِي حم الْمُؤمن {سنة الله الَّتِي قد خلت فِي عباده} نصب سنة الله لِأَنَّهُ مصدر فِي مَوضِع فعل كَأَنَّهُ قَالَ سنّ الله سنة فَجعل فِي مَوضِع سنّ سنة وَهُوَ مصدر فأضافه وَأسْقط التَّنْوِين للإضافة

وَقَالَ كَعْب بن زُهَيْر

(يسْعَى الوشاة بجنبيها وقيلهم … إِنَّك يَا بن أبي سلمى لمقتول)

نصب قيلهم لِأَنَّهُ مصدر فِي معنى يَقُولُونَ قيلا فأضاف وَأسْقط التَّنْوِين
কবি আর-রায়ি বলেছেন

(তোমার পাঁজরের কী হলো যে বিছানায় এলিয়ে পড়েছ … তোমার চোখে কি কোনো কুটা পড়েছে নাকি তুমি প্রস্থানের ইচ্ছা করেছ)

'মুযায়্যালান' শব্দটিকে নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে কারণ এটি 'মা বাল' (مَا بَال)-এর খবর (خبر)

‌‌এবং ক্রিয়ার (فعل) স্থলাভিষিক্ত মাসদারের (مصدر) নসব (نصب) হওয়া প্রসঙ্গে

 

সূরা হা-মীম আল-মুমিন-এ মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর সেই বিধান (سنة الله) যা তাঁর বান্দাদের মধ্যে গত হয়েছে}। এখানে 'সুন্নাতাল্লাহ' শব্দটিকে নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে কারণ এটি ক্রিয়ার (فعل) স্থলাভিষিক্ত একটি মাসদার (مصدر)। যেন তিনি বলেছেন, 'আল্লাহ একটি বিধান প্রবর্তন করেছেন' (সান্না আল্লাহু সুন্নাতান)। ফলে তিনি 'সান্না' (سنّ) এর স্থলে 'সুন্নাতা' (سنة) শব্দটিকে মাসদার (مصدر) হিসেবে স্থাপন করেছেন এবং ইযাফাতের (إضافة) কারণে একে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন ও তানউইন (تنوين) বিলুপ্ত করেছেন

কাব বিন যুহাইর বলেছেন

(চোগলখোররা তার দুই পাশে ছোটাছুটি করছে এবং তাদের বক্তব্য হলো … হে ইবনে আবি সুলমা, নিশ্চয়ই তুমি নিহত হবে)

'ক্বিলাহুম' শব্দটিকে নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে কারণ এটি 'তারা একটি কথা বলে' (ইয়াকুলুনা ক্বাইলান) অর্থে ব্যবহৃত একটি মাসদার (مصدر)। অতঃপর একে ইযাফাত (إضافة) করা হয়েছে এবং তানউইন (تنوين) বিলুপ্ত করা হয়েছে
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৮৭)
‌‌وَالنّصب بِالْأَمر

 

قَوْلهم صبرا وحديثا أَي اصبر وَحدث قَالَ الله عز وجل فِي سُورَة مُحَمَّد {فَضرب الرّقاب} مَعْنَاهُ فاضربوا الرّقاب وَمثله فِي الرّوم {منيبين إِلَيْهِ} و {مُخلصين لَهُ الدّين} أَي أنيبوا إِلَيْهِ وَأَخْلصُوا لَهُ الدّين

قَالَ الشَّاعِر

(فدع عَنْك نهبا صِيحَ فِي حجراته … وَلَكِن حَدِيثا مَا حَدِيث الرَّوَاحِل)

مَعْنَاهُ حَدثنِي حَدِيثا

وَكَذَلِكَ قَوْلك صبرا أَي اصبر صبرا قَالَ الراجز

(ملسا بذود الحمسي ملسا … ملسا بِهِ حَتَّى كَأَن الشمسا)

(بالأفق الغربي تُكْسَى الورسا)
আদেশসূচক ক্রিয়া দ্বারা নসব প্রদান

 

তাদের উক্তি 'সবরান' (ধৈর্য) ও 'হাদিসান' (কথা/বিবরণ), অর্থাৎ: তুমি ধৈর্য ধারণ করো এবং কথা বলো। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা সূরা মুহাম্মাদ-এ এরশাদ করেছেন: {অতঃপর গ্রীবা কর্তন}, এর অর্থ হলো: তোমরা গ্রীবা কর্তন করো। এর অনুরূপ উদাহরণ সূরা আর-রূম-এ রয়েছে: {তাঁর অভিমুখী হয়ে} এবং {তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে}, অর্থাৎ: তোমরা তাঁর অভিমুখী হও এবং তাঁর জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করো।

কবি বলেছেন:

(অতঃপর তুমি সেই লুণ্ঠিত সম্পদ পরিত্যাগ করো যার আঙিনায় আর্তচিৎকার ধ্বনিত হয়েছে … তবে আমাকে একটি হাদিস শোনাও, আরোহীদের হাদিস কী?)

এর অর্থ হলো: আমাকে একটি হাদিস (বিবরণ) শোনাও।

অনুরূপভাবে তোমার উক্তি 'সবরান', অর্থাৎ: তুমি ধৈর্য ধারণ করো। রাজেয বলেছেন:

(আল-হামসির উটগুলোকে দ্রুত হাঁটিয়ে চলো, দ্রুত হাঁটাও … সেগুলোকে এমনভাবে দ্রুত চালাও যেন মনে হয় সূর্যটি)

(পশ্চিম দিগন্তে ওয়ারস বৃক্ষের পীত-রক্তিম রঙে রঞ্জিত হয়েছে)
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৮৮)
مَعْنَاهُ املس املس

وَمثله قَوْلهم غفرانك لَا كُفْرَانك قَالَ الله عز وجل فِي الْبَقَرَة {غفرانك رَبنَا وَإِلَيْك الْمصير} اغْفِر لنا رَبنَا وَمثله قَول الشَّاعِر

(وقارك وارتئافك فِي نمير … فَلَا تعجل بِالْغَضَبِ اعجلالا)

أَي توقر وترأف

‌‌وَالنّصب بالمدح

 

قَوْلهم مَرَرْت بزيد الرجل الصَّالح نصبت الرجل الصَّالح على الْمَدْح وَإِن شِئْت جعلته بَدَلا من زيد فخفضته وَإِن شِئْت رفعته على إِضْمَار هُوَ كَقَوْلِك مَرَرْت بزيد هُوَ الرجل الصَّالح وَزعم يُونُس النَّحْوِيّ أَن نصب هَذَا الْحَرْف على الْمَدْح فِي سُورَة النِّسَاء {والمقيمين الصَّلَاة} و {وَالصَّابِرِينَ فِي البأساء وَالضَّرَّاء} قَالَ الشَّاعِر

(لَا يبعدن قومِي الَّذين هم … سم العداة وَآفَة الجزر)
এর অর্থ হলো মসৃণ করা, মসৃণ করা।

এর অনুরূপ হলো তাদের উক্তি: 'আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি, অকৃতজ্ঞতা নয়'। আল্লাহ তাআলা সূরা বাকারায় বলেছেন: {হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তনস্থল}। অর্থাৎ হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ক্ষমা করুন। কবির উক্তিও এর অনুরূপ:

(নুসাইর গোত্রে আপনার গাম্ভীর্য ও আপনার দয়া বজায় থাকুক... সুতরাং রাগের বশবর্তী হয়ে তাড়াহুড়ো করবেন না।)

অর্থাৎ আপনি গাম্ভীর্য বজায় রাখুন এবং দয়া প্রদর্শন করুন।

প্রশংসার কারণে নসব হওয়া

 

যেমন তাদের কথা: 'আমি সৎ ব্যক্তি যায়িদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি'। এখানে 'সৎ ব্যক্তি' পদটিকে প্রশংসার উদ্দেশ্যে নসব প্রদান করা হয়েছে। আপনি চাইলে একে যায়িদের 'বদল' হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, সেক্ষেত্রে তাতে খাফদ বা জের হবে। আর আপনি চাইলে একে উহ্য 'সে' (হুয়া) সর্বনামের ভিত্তিতে রফ করতে পারেন; যেমন আপনার কথা: 'আমি যায়িদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি, সে একজন সৎ ব্যক্তি'। ব্যাকরণবিদ ইউনুস দাবি করেছেন যে, সূরা নিসার {সালাত প্রতিষ্ঠাকারীগণ} এবং {অভাব ও কষ্টের সময় ধৈর্যধারণকারীগণ} আয়াতদ্বয়ে এই শব্দগুলোর নসব হওয়ার কারণ হলো প্রশংসা। কবি বলেছেন:

(আমার সেই সম্প্রদায় যেন ধ্বংস না হোক যারা... শত্রুর জন্য বিষস্বরূপ এবং মেহমানদারির আতিশয্যে পশুর বিনাশকারী)।
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৮৯)
(النازلين بِكُل معترك … والطيبين معاقد الأزر)

نصب النازلين والطيبين على الْمَدْح ويروي بَعضهم والطيبون وينشد على ثَلَاثَة أوجه وَيَقُول اذا طَال كَلَام الْعَرَب بِالرَّفْع نصبوا ثمَّ رجعُوا إِلَى الرّفْع

وَقَالَ الأخطل

(نَفسِي فدَاء أَمِير الْمُؤمنِينَ إِذا … أبدى النواجد يَوْم باسل ذكر)

(الخائض الْغمر والميمون طَائِره … خَليفَة الله يستسقى بِهِ الْمَطَر)

نصب الخائض والميمون وَخَلِيفَة الله على الْمَدْح والتعظيم وَقَالَ الأخطل أَيْضا

(لقد حملت قيس بن عيلان حربها … على مُسْتَقل بالنوائب وَالْحَرب)
(যাঁরা প্রতিটি রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন … এবং পুণ্যবান ব্যক্তিবর্গ)

প্রশংসা (المدح) জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে 'আন-নাযিলীন' এবং 'আত-তয়্যিবীন' শব্দ দুটিকে নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ 'আত-তয়্যিবুন' হিসেবেও বর্ণনা করেন এবং এটি তিনটি পদ্ধতিতে পাঠ করা যায়। তিনি বলেন যে, আরবদের দীর্ঘ বক্তব্যে যখন রাফা (الرفع) দীর্ঘায়িত হয়, তখন তারা নসব (نصب) করে, এরপর পুনরায় রাফা (الرفع)-এ ফিরে আসে।

আল-আখতাল বলেছেন:

(আমার জীবন আমীরুল মুমিনীন-এর জন্য উৎসর্গ হোক, যখন … যুদ্ধের কঠিন দিনে দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়ে)

(যিনি বিপদের গভীরে অবগাহনকারী এবং যাঁর ভাগ্য সুপ্রসন্ন … আল্লাহর খলিফা, যাঁর উসিলায় বৃষ্টি প্রার্থনা করা হয়)

প্রশংসা (المدح) ও সম্মান (التعظيم) প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে 'আল-খায়িদ', 'আল-মায়মুন' এবং 'খলিফাতুল্লাহ' শব্দগুলোতে নসব (نصب) প্রদান করা হয়েছে। আল-আখtal আরও বলেছেন:

(নিশ্চয়ই কায়স বিন আয়লান তার যুদ্ধের ভার অর্পণ করেছে … এমন এক ব্যক্তির ওপর যিনি বিপদাপদ ও যুদ্ধের গুরুদায়িত্ব বহনে সক্ষম)
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৯০)
(أخاها إِذا كَانَت عضاضا سمالها … على كل حَال من ذَلُول وَمن صَعب)

نصب أخاها على الْمَدْح وَلَوْلَا ذَلِك لخفضه على الْبَدَل من مُسْتَقل

وَإِنَّمَا ينصب الْمَدْح والذم والترحم والاختصاص على إِضْمَار أَعنِي ويفسر على ذَلِك لله وَلِرَسُولِهِ وَالْحَمْد وَالشُّكْر

‌‌وَالنّصب بالذم

 

قَوْلهم مَرَرْت بأخيك الْفَاجِر نصبت الْفَاسِق نصبت الْفَاجِر الْفَاسِق على الذَّم وعَلى هَذَا ينصب هَذَا الْحَرْف فِي تبت {وَامْرَأَته حمالَة الْحَطب} وَمثله {مذبذبين بَين ذَلِك} و {ملعونين أَيْنَمَا ثقفوا} مَنْصُوبَة على الذَّم كَمَا ذكر أهل النَّحْو وَقَالَ عُرْوَة بن الْورْد الْعَبْسِي

(سقوني الْخمر ثمَّ تكنفوني … عداة لله من كذب وزور) نصب عداة الله على الذَّم وَقَالَ النَّابِغَة الذبياني
(তিনি তার ভাইয়ের জন্য উচ্চতা অন্বেষণ করেন যখন সে (উষ্ট্রী) কামড়াতে উদ্যত হয় … নম্র কিংবা অবাধ্য—সব অবস্থাতেই)

এখানে 'আখাহা' শব্দটি প্রশংসা (مدح) হিসেবে নসব হয়েছে; যদি তা না হতো, তবে 'মুস্তাকিল' শব্দ থেকে বদল হিসেবে এটি জর হতো।

মূলত প্রশংসা (مدح), নিন্দা (ذم), করুণা এবং বিশেষায়ন—এই বিষয়গুলো 'আমি বোঝাতে চাচ্ছি' (أعني) ক্রিয়াটি উহ্য থাকার ভিত্তিতে নসব হয়ে থাকে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি এবং প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।

‌‌নিন্দাজ্ঞাপক নসব

 

তাদের একটি উদাহরণ হলো—'আমি তোমার পাপাচারী ভাইয়ের পাশ দিয়ে গেলাম'। এখানে 'আল-ফাজের' ও 'আল-ফাসেক' শব্দ দুটি নিন্দা (ذم) প্রকাশের জন্য নসব হয়েছে। এই নিয়মানুসারেই সূরা লাহাবে {তাঁর স্ত্রী, যে কাষ্ঠ বহনকারিণী} আয়াতে এই শব্দটি নসব হয়েছে। অনুরূপভাবে {তারা এর মধ্যে দোদুল্যমান} এবং {তারা অভিশপ্ত, যেখানেই তাদের পাওয়া যাবে} আয়াতগুলোতে শব্দগুলো নিন্দা (ذم) হিসেবে নসব হয়েছে, যেমনটি ব্যাকরণবিদগণ উল্লেখ করেছেন। উরওয়া ইবনুল ওয়ারদ আল-আবিসি বলেছেন:

(তারা আমাকে মদ পান করাল, অতঃপর আমাকে ঘিরে ধরল … মিথ্যা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আল্লাহর শত্রু হিসেবে)। এখানে 'আদাতাল্লাহ' শব্দটি নিন্দা (ذم) হিসেবে নসব হয়েছে। নাবিগা আল-জুবইয়ানি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আল-জুমালু ফিন নাহবি (পৃষ্ঠা: ৯১)
(لعمري وَمَا عمري عَليّ بهين … لقد نطقت بطلا عَليّ الأقارع)

(أقارع عَوْف لَا أحاول غَيرهَا … وُجُوه قرود تبتغي من تجادع)

نصب وُجُوه قرود على الذَّم وَقَالَ آخر

(طليق الله لم يمنن عَلَيْهِ … أَبُو دَاوُد وَابْن أبي كثير)

(وَلَا الْحجَّاج عَيْني بنت مَاء … تقلب عينهَا حذر الصقور)

نصب عَيْني على الذَّم

قَالَ ابْن خياط العكلي

(وكل قوم أطاعوا أَمر سيدهم … إِلَّا نميرا أطاعت أَمر غاويها)

(الظاعنين وَلما يظعنوا أحدا … والقائلين لمن دَار نخليها)

(نصب الظاعنين والقائلين على الذَّم
(আমার জীবনের শপথ, আর আমার জীবন আমার নিকট তুচ্ছ নয় … আল-আকারি‘গণ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বলেছে)

(আউফ গোত্রের আকারি‘গণ, আমি অন্য কারো অন্বেষণ করি না … বানরের ন্যায় মুখমণ্ডল, যারা বিবাদপ্রিয় কাউকে খুঁজে বেড়ায়)

নিন্দা (ذم) হিসেবে 'বানরের মুখমণ্ডল' শব্দটিকে নসব (نصب) করা হয়েছে। অন্য একজন কবি বলেছেন:

(আল্লাহর পক্ষ হতে মুক্ত ব্যক্তি, যার প্রতি ইহসান করা হয়নি … আবু দাউদ এবং ইবনে আবি কাসীর)

(আর হাজ্জাজও নয়, বিনতে মাউ-এর দুই চক্ষু … যা বাজপাখির ভয়ে চক্ষু পিটপিট করে ঘুরায়)

নিন্দা (ذم) প্রকাশের উদ্দেশ্যে 'দুই চক্ষু' শব্দটিকে নসব (نصب) করা হয়েছে।

ইবনে খইয়্যাত আল-উক্বলী বলেছেন:

(প্রত্যেক জাতিই তাদের নেতার আদেশ মান্য করেছে … কেবল নুমাইর গোত্র ব্যতীত, তারা তাদের পথভ্রষ্টকারীর আদেশ মান্য করেছে)

(সেই প্রস্থানকারীরা, অথচ তারা কাউকে প্রস্থান করায়নি … এবং যারা বলে যে আমরা কার জন্য ঘরটি খালি করে দেব)

(নিন্দা (ذم) হিসেবে 'প্রস্থানকারীরা' এবং 'বক্তারা' শব্দ দুটিকে নসব (نصب) করা হয়েছে।