(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: -)
عقد الدرر في شرح مختصر نخبة الفكر القسم: علوم الحديث
الكتاب: عَقْد الدُّرَر في شرح مختصر نخبة الفكر
المؤلف: أبو المعالي محمود شكري الألوسي (1272 - 1342 هـ)
المحقيق: إسلام بن محمود درباله
الناشر: مكتبة الرشد، الرياض - السعودية
الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م
عدد الصفحات: 399
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 جُمادَى الأولى 1445
আকদুদ্দুরার ফি শারহি মুখতাসার নুখবাতিল ফিকার বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
বই: আকদুদ্দুরার ফি শারহি মুখতাসার নুখবাতিল ফিকার
লেখক: আবু আল-মাআলি মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি (১২৭২ - ১৩৪২ হিজরি)
তাহকিককারী: ইসলাম বিন মাহমুদ দারবালাহ
প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ، রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৯
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ জুমাদাল উলা ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون} [آل عمران: 102].
{يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالًا كثيرًا ونساء واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيبًا} [النساء: 1]
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولًا سديدًا* يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزًا عظيمًا} [الأحزاب: 71 - 72].
أما بعد:
«فإن الاشتغال بالعلم من أفضل القرب وأجلِّ الطاعات، وأهم أنواع الخير وآكد العبادات، وأولى ما أُنفقت فيه نفائس الأوقات، وشَمَّرَ في إدراكه والتمكن فيه أصحاب الأنفس الزكيات، وبادر إلى الاهتمام به
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, এক আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান: ১০২]।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন নিসা: ১]
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} [আল আহযাব: ৭০ - ৭১]।
অতঃপর:
«নিশ্চয়ই জ্ঞান অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করা আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম এবং অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আনুগত্য। এটি কল্যাণের গুরুত্বপূর্ণ প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত ও সুনিশ্চিত ইবাদত। এটিই সেই বিষয় যার পেছনে মূল্যবান সময় ব্যয় করা সর্বাধিক সমীচীন। পবিত্র আত্মার অধিকারী ব্যক্তিবর্গ এটি অর্জন ও এতে পারদর্শিতা লাভে সচেষ্ট হয়েছেন এবং এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন...
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৬)
المسارعون إلى الخيرات، وسابق إلى التحلي به مستبقو المكرمات، وقد تظاهر على ما ذكرته جمل من الآيات الكريمات، والأحاديث الصحيحة المشهورات، وأقاويل السلف رضي الله عنهم النيرات.
ومن أهم أنواع العلوم تحقيق معرفة الأحاديث النبويات؛ أعني معرفة متونها صحيحها، وحسنها، وضعيفها، ومتصلها، ومرسلها، ومنقطعها، ومعضلها، ومقلوبها، ومشهورها، وغريبها، وعزيزها، ومتواترها، وآحادها، وأفرادها؛ معروفها، وشاذها، ومنكرها، ومعللها، وموضوعها، ومدرجها، وناسخها ومنسوخها، وخاصها وعامها، ومجملها، ومبيِّنها، ومختلفها
… وغير ذلك من أنواعها المعروفات، وكذا معرفة علم الأسانيد؛ أعني معرفة حال رجالها وصفاتهم المعتبرة، وضبط أسمائهم، وأنسابهم، ومواليدهم، ووفياتهم، وغير ذلك من الصفات. ومعرفة التدليس والمدلسين، وطرق الاعتبار والمتابعات، ومعرفة حكم اختلاف الرواة في الأسانيد، والمتون، والوصل، والإرسال، والوقف والرفع، والقطع والانقطاع، وزيادات الثقات، ومعرفة الصحابة والتابعين وأتباعهم، وأتباع أتباعهم، ومن بعدهم رضي الله عنهم وعن سائر المؤمنين والمؤمنات، وغير ما ذكرته من علومها المشهورات.
ودليل ما ذكرته: أن شرعنا مبني على الكتاب العزيز، والسنن المرويات، وعلى السنن مدار أكثر الأحكام الفقهيات، فإن أكثر الآيات الفروعيات مجملات، وبيانها في السنن المحكمات، وقد اتفق العلماء على أن من شرط المجتهد من القاضي والمفتي أن يكون عالمًا بالأحاديث الحكميات، فثبت بما ذكرناه أن الاشتغال بالحديث من أجلِّ العلوم
কল্যাণের পথে ধাবমান ব্যক্তিগণ এবং মর্যাদা অর্জনে প্রতিযোগিতাকারীরা এ জ্ঞানের দ্বারা সজ্জিত হতে অগ্রণী হন। আমি যা উল্লেখ করেছি, তার স্বপক্ষে বহুসংখ্যক সম্মানিত আয়াত, প্রসিদ্ধ সহিহ হাদিস এবং জ্যোতির্ময় পূর্বসূরি (السلف) —আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন— তাঁদের উক্তিমালা সমর্থন জোগায়।
জ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকারগুলোর অন্যতম হলো প্রফেটিক হাদিসসমূহের যথার্থ জ্ঞান অর্জন করা; অর্থাৎ হাদিসের মতন (متون) বা পাঠের পরিচয় জানা—সেগুলোর সহিহ (صحيح), হাসান (حسن), দুর্বল (ضعيف), সংযুক্ত (متصل), মুরসাল (مرسل), বিচ্ছিন্ন (منقطع), জটিল (معضل), উল্টানো (مقلوب), প্রসিদ্ধ (مشهور), গরিব (غريب), আজিজ (عزيز), মুতাওয়াতির (متواتر), আহাদ (آحاد), একক (أفراد), পরিচিত (معروف), শায (শاذ), মুনকার (منكر), ত্রুটিযুক্ত (معلل), জাল (موضوع), অনুপ্রবিষ্ট (مدرج), রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ), বিশেষ (خاص) ও সাধারণ (عام), সংক্ষিপ্ত (مجمل), বিশদবর্ণিত (مبيّن), বৈচিত্র্যময় (مختلف)
… এবং এ জাতীয় অন্যান্য সুপরিচিত প্রকারভেদ সম্পর্কে অবগত হওয়া। তেমনিভাবে সনদশাস্ত্র (الأسانيد) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা; অর্থাৎ হাদিসের বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও তাঁদের গ্রহণযোগ্য গুণাবলি, তাঁদের নাম, বংশপরিচয়, জন্ম, মৃত্যু এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য সঠিকভাবে নিরূপণ করা। এছাড়া তাদলীস (التدليس) ও মুদাল্লিস (المدلسين) সম্পর্কে জানা, ইতাবার (الاعتبار) ও মুতাবাআত (المتابعات) এর পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং সনদ ও মতনের ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের মতভেদ, মউসুল (الوصل), ইরসাল (الإرسال), ওয়াকফ (الوقف), রাফ’ (الرفع), কাতা’ (القطع) ও ইনকিতা (الانقطاع) এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادات الثقات) এর বিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। আরও প্রয়োজন সাহাবী (الصحابة), তাবিঈ (التابعين) ও তাঁদের অনুসারী এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরের মহান ব্যক্তিবর্গ—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি এবং সকল মুমিন নর-নারীর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—তাঁদের পরিচয় জানা এবং এ শাস্ত্রের অন্যান্য প্রসিদ্ধ বিষয়াবলী সম্পর্কে অবগত হওয়া।
আমি যা উল্লেখ করেছি তার প্রমাণ হলো: আমাদের শরয়ি বিধানসমূহ মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এবং বর্ণিত সুন্নাহর ওপর প্রতিষ্ঠিত। আর অধিকাংশ ফিকহী বিধানের মূল ভিত্তি হলো সুন্নাহ। কেননা শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত অধিকাংশ কুরআনি আয়াত সংক্ষিপ্ত (مجملات); আর সেগুলোর ব্যাখ্যা রয়েছে সুদৃঢ় সুন্নাহর মাঝে। ওলামায়ে কিরাম এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, বিচারক ও মুফতি হওয়ার জন্য একজন মুজতাহিদের অন্যতম শর্ত হলো তাঁকে বিধান সংশ্লিষ্ট হাদিসসমূহ সম্পর্কে বিজ্ঞ হতে হবে। সুতরাং আমাদের আলোচনা থেকে এটি প্রমাণিত হলো যে, হাদিস চর্চায় নিয়োজিত হওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞান।
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৭)
الراجحات، وأفضل أنواع الخير وآكد القربات، وكيف لا يكون كذلك وهو مشتمل مع ما ذكرناه على بيان حال أفضل المخلوقات، عليه من الله الكريم أفضل الصلوات والسلام والبركات.
ولقد كان أكثر اشتغال العلماء في الأعصار الخاليات، حتى لقد كان يجتمع في مجلس من الطالبين ألوف متكاثرات، فتناقص ذلك، وضعفت الهمم؛ فلم يبق إلا آثار من آثارهم قليلات، والله المستعان على هذه المصيبة وغيرها من البليات.
وقد جاء في فضل إحياء السنن المماتات أحاديث كثيرة معروفات مشهورات، فينبغي الاعتناء بعلم الحديث والتحريض عليه لما ذكرنا من الدلالات ولكونه أيضًا من النصيحة لله -تعالى- وكتابه ورسوله صلى الله عليه وسلم وللأئمة، والمسلمين والمسلمات، وذلك هو الدين كما صحَّ عن سيد البريات، صلوات الله وسلامه عليه وعلى آله وصحبه وذريته، وأزواجه الطاهرات».
(1)ثم اعلم -رحمني الله وإياك- أن علم أصول الحديث، وقواعد اصطلاح أهله لا بد منه للمشتغل برواية الحديث؛ إذ بقواعد يتميز صحيح الرواية من سقيمها، ويُعرف المقبول من الأخبار والمردود، وهو للرواية كقواعد النحو لمعرفة صحة التراكيب العربية، فلو سُمي منطلق المنقول وميزان تصحيح الأخبار لكان اسمًا على مُسمَّى.
هذا وقد كتب العلماء فيه من عصر التدوين إلى يومنا هذا نفائس ما يكتب: من ذلك ما نجده في أثناء مباحث «الرسالة» للإمام الشافعي، وفي
--------------------------------------------
অগ্রগণ্য (الراجحات), সর্বোত্তম কল্যাণকর কাজ এবং নৈকট্য লাভের সবচেয়ে সুদৃঢ় মাধ্যম। আর কেনই বা তা হবে না, যেখানে এটি যা উল্লেখ করেছি তার পাশাপাশি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তার অবস্থা বর্ণনাকে অন্তর্ভুক্ত করে; তাঁর প্রতি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক।
বিগত যুগসমূহে আলেমদের সর্বাধিক ব্যস্ততা ছিল এটি নিয়েই, এমনকি (ইলম) অন্বেষণকারীদের এক একটি মজলিসে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হতো। অতঃপর তাতে ভাটা পড়ল এবং সংকল্প দুর্বল হয়ে গেল; ফলে তাঁদের নিদর্শনের সামান্য কিছু অংশ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট থাকল না। এই মুসিবত এবং অন্যান্য বিপদে আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
মৃতপ্রায় সুন্নাতসমূহ জীবিত করার ফজিলত সম্পর্কে অনেক সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিস বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং হাদিস শাস্ত্রের প্রতি যত্নবান হওয়া এবং এর প্রতি উৎসাহিত করা উচিত, কারণ আমরা যে প্রমাণাদি উল্লেখ করেছি এবং এটি আল্লাহ তাআলা, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুসলিম নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মুসলিমদের কল্যাণ কামনার অন্তর্ভুক্ত। আর এটিই হলো দ্বীন, যেমনটি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানবের পক্ষ থেকে বিশুদ্ধভাবে (صح) প্রমাণিত হয়েছে; তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, বংশধর ও পবিত্র সহধর্মিণীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(1)অতঃপর জেনে রাখ—আল্লাহ আমার ও তোমার ওপর রহম করুন—হাদিস বর্ণনার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الحديث) এবং এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের পরিভাষা সংক্রান্ত নিয়মাবলি জানা অপরিহার্য। কারণ এই নিয়মাবলির মাধ্যমেই বর্ণনার সহিহ (صحيح) ও ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) হওয়ার পার্থক্য করা যায় এবং সংবাদ বা বর্ণনাসমূহের মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্য (مقبول) ও বর্জনীয় (مردود) চেনা যায়। এটি বর্ণনার ক্ষেত্রে ঠিক তেমন, যেমন আরবি বাক্য গঠনের শুদ্ধতা যাচাইয়ে নাহু বা ব্যাকরণের নিয়মাবলি। একে যদি 'নকলকৃত বিষয়ের উৎস' এবং 'সংবাদসমূহের সঠিকতা যাচাইয়ের মানদণ্ড' বলা হতো, তবে তা সার্থক নামই হতো।
আলেমগণ হাদিস সংকলনের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে অত্যন্ত মূল্যবান কিতাবাদি রচনা করেছেন। তার মধ্যে ইমাম শাফেয়ীর ‘আর-রিসালাহ’ গ্রন্থের আলোচনার মাঝে যা পাওয়া যায় তা অন্যতম, এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৮)
ثنايا «الأم» له، وما نثله تلاميذ الإمام أحمد في أسئلتهم له، ومحاورته معهم، وما كتبه الإمام مسلم بن الحجاج في مقدمة صحيحه، ورسالة الإمام أبي داود السجستاني إلى أهل مكة في بيان طريقته في سننه الشهيرة، وما كتبه الحافظ أبو عيسى الترمذي في كتابه «العلل المفرد»، في آخر جامع، وما بثَّه في الكلام على أحاديث جامعه في طيات الكتاب: من تصحيح وتضعيف، وتقوية وتعليل، وللإمام البخاري التواريخ الثلاثة، ولغيره من علماء الجرح والتعديل من معاصريه ومن بعدهم بياناتٌ وافية لقواعد هذا الفن، تجيء منتشرة في تضاعيف كلامهم، حتى جاء من بعدهم فجرد هذه القواعد في كتب مستقلة، ومصنفات عدة، أشار إلى أشهرها الحافظ ابن حجر العسقلاني في فاتحة شرحه لنخبة الفكر».
(1)ومما صُنِّف في ذلك، وتبوأ بين كتب الفن أعلى المراتب مختصر الحافظ ابن حجر المعروف ب «نخبة الفِكَر»، ويعدُّ هذا الكتاب اختصارًا للتصانيف في اصطلاح الحديث التي كثرت، وبسطت، واختصرت.
وكان مقصد الاختصار الأول: تلخيص المهم من ذلك، كله في أوراق لطيفة، مع فوائد زيدت عليه. فصارت جديرة -إذ صغُرت حجمًا وتراءت نَجمًا- لكل أثري بقول من قال:
والنجم تَستَصْغِرُ الأبصارُ صورتَه
… والذَّنْبُ للطَّرفِ لا للنجم في الصغرِ
حتى قال في «النخبة» من قال:
عِلمُ الحَديث غَدا في نخبة الفكرِ
… نارًا على عَلَمٍ يدعو أُولي الأثرِ
(2)--------------------------------------------
তার (ইমাম শাফিঈর) 'আল-উম্ম' গ্রন্থের ভাঁজে ভাঁজে, ইমাম আহমাদের ছাত্রগণ তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নে যা আহরণ করেছেন এবং তাঁর সাথে তাঁদের কথোপকথন, ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ তাঁর সহীহ গ্রন্থের ভূমিকায় যা লিখেছেন, মক্কাবাসীদের প্রতি ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানির পত্র—যাতে তিনি তাঁর বিখ্যাত সুনান গ্রন্থের মানহাজ বর্ণনা করেছেন, হাফেজ আবু ঈসা আত-তিরমিযী তাঁর 'জামে' গ্রন্থের শেষে 'আল-ইলাল আল-মুফরাদ' গ্রন্থে যা লিখেছেন এবং গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে হাদিসের ওপর আলোচনার সময় যা ছড়িয়ে দিয়েছেন: যেমন—সহীহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح), যঈফ সাব্যস্তকরণ (تضعيف), শক্তিশালীকরণ (تقوية) এবং ত্রুটিযুক্তকরণ (تعليل); এছাড়া ইমাম বুখারীর তিনটি ইতিহাস গ্রন্থ এবং তাঁর সমসাময়িক ও পরবর্তী জারহ ও তা'দিল (الجرح والتعديل) শাস্ত্রের আলেমগণের নিকট এই শিল্পের নিয়মাবলির পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা বিদ্যমান ছিল, যা তাঁদের আলোচনার পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিল। অবশেষে তাঁদের পরবর্তীগণ আগমন করে এই নিয়মাবলিগুলোকে স্বতন্ত্র কিতাব ও নানাবিধ সংকলনে রূপ দান করেন। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী তাঁর 'নুখবাতুল ফিকার'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের সূচনায় এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
(১)এই বিষয়ে যা কিছু সংকলিত হয়েছে এবং এই শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোর মধ্যে যা সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ স্থান দখল করে নিয়েছে, তা হলো হাফেজ ইবনে হাজারের সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থ, যা 'নুখবাতুল ফিকার' নামে পরিচিত। এই কিতাবটিকে হাদিস পরিভাষা (اصطلاح الحديث) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের একটি সংক্ষেপণ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা পূর্বে অনেক বিস্তারিত ও সংক্ষেপে বিভিন্নভাবে রচিত হয়েছিল।
এই সংক্ষিপ্তকরণের মূল উদ্দেশ্য ছিল: প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোকে কিছু চমৎকার পৃষ্ঠায় সারসংক্ষেপ করা এবং সাথে কিছু অতিরিক্ত ফায়দা বা তথ্য সংযোজন করা। ফলে এটি আকারে ছোট হলেও মর্যাদায় উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায় হয়ে উঠেছে, যা প্রত্যেক হাদিস অনুসারীর জন্য সেই কবির উক্তিকে সত্য প্রমাণ করে, যিনি বলেছেন:
দৃষ্টি নক্ষত্রের অবয়বকে অতি ক্ষুদ্র দেখে
… অথচ ক্ষুদ্রতার দায় চোখের, নক্ষত্রের নয়।
এমনকি 'নুখবা' সম্পর্কে জনৈক কবি বলেছেন:
হাদিস বিজ্ঞান আজ নুখবাতুল ফিকারের কারণে সমুজ্জ্বল
… যেন উচ্চ চূড়ায় প্রজ্জ্বলিত অগ্নি, যা আহলে আছারদের (হাদিস অনুসারীদের) আহ্বান করছে।
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৯)
من أجل ذا اهتم به العلماء والطلاب؛ حفظًا، ودراسةً، وتعليمًا، وشرحًا، ونظمًا، وتحْشية.
وممن اختصرها الشيخ «عبد الوهاب بن بركات الأحمدي» المتوفي بعد سنة (1150 هـ). في كتابه «المختصر من نحبة الفكر».
قال الألوسي في وصف هذا المختصر: بَيْدَ أنِّي وجَدَتُّ مَتْنًا جامعًا لغرَرِ هذا الفنِّ وقواعِدِه، حاويًا لفرائِدِ مَسَائِلِهِ وفوائِدِه، مشتملًا على مباحثَ هي لُبَابُ آراء المحدِّثين، من المتقدمين والمتأخرِّين، ليس له نَظيرٌ في بَابِه، ولا مُمَاثلٌ له ولا مُشَابِه، بوجازة لَفْظٍ تتحيَّرُ فيه الألباب، وحُسْنِ سَبْكٍ يُقْضَى منه العَجَبُ العُجَابِ.
وقد شرح هذا المختصر الإمام الألوسي، في هذا الكتاب الذي بين يديك، وقال مبيَّنًا سبب ذلك:
«ولم أظفر على شرح له تنشرح قلوبُ الطالبين بمكنون فرائده، ويظهر من مطوي إشاراته مَنشور فوائده، مع أنه لا ينبغي أن يُترك مثل هذا ويُهمل، ولا يليق أن يُعرض عنه ويُغفل».
(1)وهكذا صنف الإمام الألوسي هذا السِّفر القيم «عقد الدرر في شرح مختصر نخبة الفِكَر».
وقد وقفت -بفضل من الله ومنة- على هذا السفر الجليل لهذا الإمام النبيل، فأردتُ أن أخرجه في أزهى حلة، وأبرزه ليستفاد منه ولينضم إلى أمثاله من كتب هذا الفن، عسى أن يكون هذا العمل من العلم النافع
--------------------------------------------
এই কারণেই আলিম ও শিক্ষার্থীরা এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন; এটি মুখস্থকরণ, অধ্যয়ন, শিক্ষাদান, ব্যাখ্যা প্রদান, কাব্যরূপ দান এবং টীকা প্রণয়নের মাধ্যমে।
এবং যারা এটি সংক্ষেপ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন শায়খ ‘আবদুল ওয়াহাব বিন বারাকাত আল-আহমাদী’, যিনি ১১৫০ হিজরীর পরে ইন্তেকাল করেন। তাঁর গ্রন্থের নাম ‘আল-মুখতাসার মিন নুখবাতিল ফিকার’।
এই সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থটির বর্ণনায় আলূসী বলেন: তবে আমি এমন একটি মূল পাঠ (متن) পেয়েছি যা এই শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ বিষয়সমূহ ও মূলনীতিমালার (قواعد) সমষ্টি, এর অনন্য মাসআলা ও উপকারিতাসমূহ ধারণকারী এবং এমন সব আলোচনার সংকলন যা পূর্ববর্তী (متقدمين) ও পরবর্তী (متأخرين) মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) মতামতের নির্যাস। এই বিষয়ে এর কোনো নজির নেই এবং এর কোনো সমকক্ষ বা সদৃশ নেই। এর শব্দের সংক্ষিপ্ততা বুদ্ধিকে হতবাক করে দেয় এবং এর চমৎকার রচনাশৈলী অত্যন্ত বিস্ময়কর।
ইমাম আলূসী আপনার হাতে থাকা এই কিতাবে উক্ত সংক্ষিপ্ত সারগ্রন্থের ব্যাখ্যা (شرح) করেছেন এবং এর কারণ বর্ণনা করে বলেছেন:
«আমি এর এমন কোনো ব্যাখ্যা (شرح) পাইনি যার অন্তর্নিহিত অনন্য বিষয়গুলো দ্বারা শিক্ষার্থীদের অন্তর প্রশান্ত হয় এবং এর গূঢ় ইশারাগুলো থেকে ব্যাপক ফায়দা প্রকাশিত হয়। অথচ এই ধরনের কাজ পরিত্যক্ত ও অবহেলিত রাখা সমীচীন নয় এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া বা গাফেল হওয়াও অনুচিত»।
(১)এভাবেই ইমাম আলূসী এই মূল্যবান গ্রন্থ ‘ইকদুদ দুরার ফি শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার’ রচনা করেছেন।
আমি—আল্লাহর অনুগ্রহ ও দানে—এই মহান ইমামের এই মহিমান্বিত গ্রন্থটি সম্পর্কে অবহিত হয়েছি। তাই আমি চেয়েছি একে সর্বোত্তম রূপে প্রকাশ করতে এবং একে উপস্থাপন করতে যাতে এর থেকে উপকৃত হওয়া যায় এবং এটি এই শাস্ত্রের অন্যান্য কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে; সম্ভবত এই কাজটি উপকারী ইলমের অন্তর্ভুক্ত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১০)
الذي ينتفع به، ويجري أجره على المرء بعد أن يكون حبيس الثرى، ولا يبقى مع إلا عمله، كما جاء في الأثر عن نبينا الصادق المصدوق صلوات ربي وسلامه عليه.
عملي في الكتاب:1 - قمت بنسخ المخطوط.
2 - قابلت المنسوخ على الأصل المخطوط.
3 - ضبط النص بالشكل.
4 - وضعت علامات الترقيم العصرية.
5 - عزوت الآيات القرآنية.
6 - خرَّجت الأحاديث النبوية والآثار السلفية.
7 - ترجمت للأعلام الواردة.
8 - عرَّفت بالبلدان والأماكن.
9 - عرَّفت بالفِرَق والطوائف.
10 - وثَّقتُ كلام المؤلف الذي ينقله عن غيره بعزوه إلى مصادره.
11 - وثَّقتُ المسائل التي تكلم فيها المؤلف.
12 - عزوتُ أنواع علوم الحديث الواردة في الكتاب إلى عدة كتب من كتب المصطلح وبخاصة الكتب التي اعتمد عليها المؤلف.
13 - عملتُ على إقامة النص قدر المستطاع وزدت بعض الزيادات اللازمة لذلك وضعتها بين معكوفتين.
14 - جعلتُ متن المختصر مفردًا في بداية الكتاب وميزته في ثنايا الشرح بالحروف السوداء الداكنة.
যা দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় এবং যার সওয়াব মানুষের মৃত্যুর পর মৃত্তিকার গহ্বরে আবদ্ধ থাকা অবস্থায়ও অব্যাহত থাকে, যখন তার আমল ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট থাকে না; যেমনটি আমাদের সত্যবাদী ও সত্যসত্যায়িত (الصادق المصدوق) নবী—তাঁর ওপর আমার রবের দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—থেকে বর্ণিত আছারে (أثر) এসেছে।
কিতাবটিতে আমার সম্পাদিত কাজসমূহ:১ - আমি পাণ্ডুলিপিটি (مخطوط) প্রতিলিপি করেছি।
২ - প্রতিলিপিকৃত অংশটিকে মূল পাণ্ডুলিপির (مخطوط) সাথে মিলিয়েছি।
৩ - মূল পাঠে (نص) হরকত প্রদান করেছি।
৪ - আধুনিক বিরাম চিহ্নসমূহ সংযোজন করেছি।
৫ - কুরআনের আয়াতসমূহের উৎস নির্দেশ করেছি।
৬ - নববী হাদিসসমূহ এবং সালাফদের আছারসমূহের (آثار) তাখরিজ (تخريج) করেছি।
৭ - উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছি।
৮ - বিভিন্ন দেশ ও স্থানসমূহের পরিচয় প্রদান করেছি।
৯ - বিভিন্ন ফিরকা (فرق) ও দলসমূহের পরিচয় দিয়েছি।
১০ - লেখক অন্যের থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন, তা মূল উৎসের সাথে মিলিয়ে প্রামাণ্যরূপে উপস্থাপন করেছি।
১১ - লেখক যেসব মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন, তা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রমাণীকরণ করেছি।
১২ - কিতাবটিতে উল্লিখিত হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারসমূহকে উসুলুল হাদিস বা পরিভাষা শাস্ত্রের বিভিন্ন কিতাবের বরাতে নির্দেশ করেছি, বিশেষত ঐ সকল কিতাব যেগুলোর ওপর লেখক নির্ভর করেছেন।
১৩ - সাধ্যমতো মূল পাঠটি (نص) যথাযথভাবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি এবং এজন্য প্রয়োজনীয় কিছু অতিরিক্ত অংশ তৃতীয় বন্ধনীর [ ] মাঝে যোগ করেছি।
১৪ - সংক্ষিপ্ত মূল পাঠটিকে (متن) কিতাবের শুরুতে স্বতন্ত্রভাবে রেখেছি এবং ব্যাখ্যার মাঝে সেটিকে গাঢ় কালো অক্ষরের মাধ্যমে পৃথক করে চিহ্নিত করেছি।
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১১)
15 - ابتعتُ الكتاب بفهارس علمية تخدم الكتاب وتقربه وتسهل الاستفادة منه.
وقد قدمتُ للكتاب بمقدمة: عرَّفتُ فيها ب «نخبة الفِكَر» ومختصراتها وشروحها ونظمها، كما عرَّفت «بمختصر الأحمدي»، وبيَّنت منهج الألوسي في كتابه «عقد الدرر»، ثم ترجمت لكل من العلامة محمود شكري الألوسي، والشيخ عبد الوهاب الأحمدي. «والله أسأل أن يثيبني به جَميل الذكر في الدنيا، وجزيل الأجر في الآخرة، سائلًا من ينظر من عالم في عَملي، أن يستر عثاري وزللي ويَسدُ بسداد فَضله خَللي، ويصلح ما طغى به القلم، وزاغ عنه البصر، وقَصَرَ عنه الفهم، وغفلَ عنه الخاطر، فالإنسان محل النسيان، وإن أولُ ناسٍ أولُ الناس».
(1)وختامًا: فإني أتوجه بالشكر لوالدي الكريمين، وأدعو الله لهما أن يثيبهما خير الثواب على تنشئتي على حب الدين والشرع. وكذا أتوجه بالشكر للإخوة الأفاضل الذين ساعدوا على إخراج هذا الكتاب سواءً بتصوير مخطوطاته أو مراجعته وتصحيح تجارب طبعه أو غير ذلك.
وأخص بالذكر منهم الأخوة الأفاضل: مؤمن فاروق، وأحمد عيسى، وشقيقي مؤمن محمود. جزاهم الله جميعًا خير الجزاء، ففي الأثر «لا يشكر الله من لا يشكر الناس».
وقبل أن أضع القلم لا أنسى أن أخص بالشكر زوجتي الكريمة على صبرها، ومعونتها، وتشجيعها أسأل الله أن يجزيها عني خير الجزاء.
اللهم اغفر لي ولوالدي وارحمهما كما ربياني صغيرًا، واغفر لمشايخي وأساتذتي، وأجزهم عني خير الجزاء، وأجمعنا بهم في جناتك جنات النعيم.
--------------------------------------------
15 - আমি গ্রন্থটিকে কিছু বৈজ্ঞানিক নির্ঘণ্ট (فهرس) দ্বারা সমৃদ্ধ করেছি যা গ্রন্থটির সেবায় নিয়োজিত এবং একে সহজবোধ্য করার পাশাপাশি এর থেকে উপকৃত হওয়াকে সহজতর করে।
আমি গ্রন্থটির জন্য একটি ভূমিকা পেশ করেছি: যেখানে আমি ‘নুখবাতুল ফিকার’ এবং এর সংক্ষিপ্তসার (مختصر), ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) ও কাব্যানুবাদ (نظم) সম্পর্কে আলোকপাত করেছি। পাশাপাশি আমি ‘মুখতাসার আল-আহমাদি’-এর সাথে পরিচয় করিয়েছি এবং আলুসীর গ্রন্থ ‘আকদুদ দুরার’-এর কর্মপদ্ধতি (منهج) স্পষ্ট করেছি। অতঃপর আমি আল্লামা মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি এবং শায়খ আব্দুল ওয়াহহাব আল-আহমাদি—উভয়ের জীবনী (ترجمة) আলোচনা করেছি। “আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমাকে এর বিনিময়ে দুনিয়াতে সুখ্যাতি এবং আখেরাতে মহাপ্রতিদান দান করেন। আমার এই কর্মটি কোনো আলেম পাঠ করলে তাঁর প্রতি নিবেদন এই যে, তিনি যেন আমার পদস্খলন ও ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখেন এবং তাঁর সুমহান অনুগ্রহের মাধ্যমে আমার সীমাবদ্ধতাগুলো পূরণ করেন। আর কলম যা কিছু অসংলগ্ন লিখেছে, দৃষ্টি যা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, বোধশক্তির যেখানে ঘাটতি ছিল এবং মনের অসতর্কতার কারণে যা কিছু ঘটেছে—তা যেন তিনি সংশোধন করে দেন। কারণ মানুষ হলো বিস্মৃতির আধার, আর প্রথম মানুষই ছিলেন প্রথম বিস্মৃতিপরায়ণ ব্যক্তি।”
(1)পরিশেষে: আমি আমার সম্মানিত পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করছি তিনি যেন আমাকে দ্বীন ও শরীয়তের প্রতি ভালোবাসার সাথে লালন-পালন করার জন্য তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। একইভাবে আমি সেই সকল সম্মানিত ভাইদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা এই গ্রন্থটি প্রকাশে এর পাণ্ডুলিপি (مخطوطة) সংগ্রহ, এর পুনরীক্ষণ, মুদ্রণ সংশোধনী বা অন্যান্য কাজের মাধ্যমে সহায়তা করেছেন।
তাঁদের মধ্যে আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি পরম শ্রদ্ধেয় ভাই: মুমিন ফারুক, আহমদ ঈসা এবং আমার সহোদর মুমিন মাহমুদকে। আল্লাহ তাঁদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। কারণ বর্ণনা (أثر)-এ এসেছে: “যে ব্যক্তি মানুষের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হয় না।”
কলম থামানোর আগে আমি আমার সম্মানিতা স্ত্রীর ধৈর্য, সহযোগিতা এবং উৎসাহের জন্য তাঁকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে ভুলছি না। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।
হে আল্লাহ! আমাকে এবং আমার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন এবং তাঁদের প্রতি দয়া করুন যেমনটি তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছিলেন। আমার মাশায়েখ ও শিক্ষকদের ক্ষমা করুন এবং আমার পক্ষ থেকে তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দিন। আর জান্নাতুন নাঈমে আমাদের সবাইকে তাঁদের সাথে একত্রিত করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১২)
التعريف ب «نخبة الفِكَر» وشروحها ومختصراتها ونظمها.* نخبة الفِكَر:
تعدُ «نخبة الفِكَر» مختصرًا جمع خلاصة التصانيف في مصطلح الحديث، قال الحافظ في مقدمتها: «فإن التصانيف في اصطلاح أهل الحديث قد كثُرت، وبُسطت، واختُصرت، فسألني بعضُ الإخوان أن ألخصَ له المهم من ذلك فأجبته إلى سؤاله؛ رجاء الاندراج في تلك المسالك».
(1)وقال مبيِّنًا طريقته في «النخبة» بعد أن ذكر أن بعض الإخوان سأله أن يلخص له المهم من ذلك، قال: «فلخصته في أوراقٍ لطيفة
… ، على ترتيبٍ ابتكرته، وسبيل انتهجته، ومع ما ضممته إليه من شوارد الفرائد، وزوائد الفوائد».
(2) * شروحها:
1 - شرح الحافظ ابن حجر المسمى «نزهة النظر»، قال في مقدمتها بعد أن ذكر أن بعض الإخوان قد سأله تأليف «النخبة»: «فرعب إليَّ جماعة ثانيًا أن أضع عليها شرحًا يحلُّ رموزها، ويفتح كنوزها، ويوضح ما خفي على المبتدئ من ذلك، فأجبته إلى سؤاله؛ رجاء الاندراج في تلك المسالك، فبالغت في
--------------------------------------------
«নুখবাতুল ফিকার» ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, সংক্ষিপ্তসারসমূহ এবং কাব্যরূপের পরিচিতি।* নুখবাতুল ফিকার:
«নুখবাতুল ফিকার» হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের নির্যাস সম্বলিত একটি সংক্ষিপ্তসার (مختصر) হিসেবে বিবেচিত। হাফেজ ইবনে হাজার এর ভূমিকায় বলেন: «নিশ্চয়ই আহলে হাদিসগণের পরিভাষা সংক্রান্ত রচনাবলি সংখ্যায় অনেক হয়েছে, সেগুলো বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে এবং সংক্ষিপ্তও করা হয়েছে। অতঃপর আমার জনৈক দ্বীনি ভাই আমাকে এ বিষয়গুলোর গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো সারসংক্ষেপ (ملخص) করার অনুরোধ করেন, তাই আমি তার সেই আহবানে সাড়া দিই; সেই পথে নিজেকে শামিল করার আশায়।»
(১)তিনি «নুখবা»-তে তার অনুসৃত পদ্ধতি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন—জনৈক ভাই তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরার অনুরোধ করার পর—তিনি বলেন: «অতঃপর আমি তা কয়েকটি সুবিন্যস্ত পাতায় সংক্ষেপ করেছি ..., আমার উদ্ভাবিত একটি বিন্যাস ও অনুসৃত পদ্ধতির আলোকে, সাথে আমি এতে যুক্ত করেছি কিছু বিরল তাত্ত্বিক মুক্তা ও অতিরিক্ত ফায়দা।»
(২) * এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ:
১ - হাফেজ ইবনে হাজারের ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম «নুজহাতুন নাজার»; তিনি এর ভূমিকায় জনৈক ভাইয়ের «নুখবা» রচনার অনুরোধের কথা উল্লেখ করার পর বলেন: «অতঃপর একদল শিক্ষার্থী পুনরায় আমার কাছে এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) রচনার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন যা এর সংকেতসমূহ উন্মোচন করবে, এর গুপ্তভাণ্ডার উন্মুক্ত করবে এবং নবীন শিক্ষার্থীর (المبتدئ) নিকট অস্পষ্ট বিষয়গুলো পরিষ্কার করবে। তাই আমি সেই পথে শামিল হওয়ার আশায় তাদের অনুরোধ রক্ষা করি। অতঃপর আমি এতে ব্যাপক প্রচেষ্টা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
شَرحها في الإيضاح والتوجيه، ونبهتُ على خبايا زواياها؛ لأن صاحب البيت أدرى بما فيه».
(1)وقد أكثر الشارح الألوسي في الاعتماد عليه في شرحه ل «مختصر الأحمدي»، وكذلك أكثر من ذكر الاعتراضات على كلام ابن حجر.
2 - «نتيجة النظر» لكمال الدين الشمني، المتوفي سنة (821 هـ).
وقد نقل عنه الألوسي في عدة مواضع.
3 - «عنوان معاني نخبة الفِكَر» لأبي الفضل أحمد بن صدقة، المتوفي سنة (905 هـ).
4 - «شرح نخبة الفكر»
(2) لابن موسى المراكشي، المتوفي سنة (823 هـ).
5 - «منتهى الرغبة في حلِّ ألفاظ النخبة»
(3) لمحمد بن عبد الله الخرشي المالكي ت (1101 هـ).
6 - «شرح نخبة الفِكَر» للأبهري.
*
نَظْمُها:1 - «الرتبة في نظم النخبة».
(4)محمد بن محمد الشُّمِّني، المتوفي (821 هـ).
2 - «نظم نخبة الفِكَر» لشهاب الدين الطوفي المتوفي سنة (839 هـ).
--------------------------------------------
আমি এটি ‘আল-ইজাহ ওয়াত তাওজিহ’-এ ব্যাখ্যা করেছি এবং এর নিহিত রহস্যগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি; কেননা গৃহস্বামীই ভালো জানেন তার ঘরে কী আছে।
(১)ব্যাখ্যাকার আল-আলুসি তার ‘মুখতাসার আল-আহমাদি’-র ব্যাখ্যাগ্রন্থে এর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন এবং তেমনিভাবে তিনি ইবনে হাজারের বক্তব্যের ওপর অধিকহারে আপত্তি (اعتراضات) উল্লেখ করেছেন।
২ - কামালুদ্দিন আশ-শুমুন্নি (মৃত্যু ৮২১ হি.) রচিত ‘নাতীজাতুন নাজার’।
আল-আলুসি বিভিন্ন স্থানে এটি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
৩ - আবুল ফাদল আহমদ ইবনে সাদাকা (মৃত্যু ৯০৫ হি.) রচিত ‘উনওয়ানু মাআনি নুখবাতিল ফিকার’।
৪ - ইবনে মুসা আল-মাররাকুশি (মৃত্যু ৮২৩ হি.) রচিত ‘শারহু নুখবাতিল ফিকার’।
(২)৫ - মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খারশি আল-মালিকি (মৃত্যু ১১০১ হি.) রচিত ‘মুনতাহাল রাগবাহ ফি হাল্লি আলফাজিন নুখবাহ’।
(৩)৬ - আল-আবহারি রচিত ‘শারহু নুখবাতিল ফিকার’।
*
এটির কাব্যরূপ (نظم):১ - ‘আর-রুতবাহ ফি নাজমিত নুখবাহ’।
(৪)মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শুমুন্নি (মৃত্যু ৮২১ হি.)।
২ - শিহাবুদ্দিন আত-তুফি (মৃত্যু ৮৩৯ হি.) রচিত ‘নাজমু নুখবাতিল ফিকার’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
3 - «سلك الدرر في علم الأثر» لرضي الدين الغزي، المتوفي سنة (935 هـ).
4 - «قصب السكر في نظم نخبة الفِكَر» لمحمد بن إسماعيل الصنعاني، المتوفي سنة (1182 هـ).
* و
من شروح النظم:1 - «العالي الرتبة في شرح نظم النخبة»
(1) لأحمد بن محمد الشُّمني، المتوفي سنة (877 هـ). شرح فيه نظم أبيه المسمى «الرتبة في نظم النخبة».
2 - «شرح سلك الدرر في علم الأثر» لشهاب الدين أحمد عبد الكريم الغزي، المتوفي سنة (1143 هـ). شرح فيه نظم جده.
3 - «إسبال المطر على قصب السكر»
(2) لمحمد بن إسماعيل الصنعاني، شرح نظمه الذي تقدم ذكره.
4 - «سح المطر شرح قصب السكر»
(3) لعبد الكريم بن مراد الأثري.
*
مختصراتها:1 - «المختصر من نخبة الفِكَر»
(4) لعبد الوهاب بن أحمد بن بركات الأحمدي، المتوفي بعد سنة (1150 هـ).
2 - «المختصر في علوم الحديث»
(5) لمحمد بن إبراهيم الوزير، المتوفي (840 هـ).
--------------------------------------------
3 - রযীউদ্দীন আল-গাজ্জী (মৃত্যু ৯৩৫ হি.) রচিত «সিলকুদ দুরার ফী ইলমিল আসার»।
4 - মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আস-সানআনী (মৃত্যু ১১৮২ হি.) রচিত «কাসাবুশ সুক্কর ফী নাযমি নুখবাতিল ফিকার»।
* এবং
পদ্যের (نظم) ব্যাখ্যাসমূহের (شروح) মধ্য হতে:1 - আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আশ-শুমুন্নী (মৃত্যু ৮৭৭ হি.) রচিত «আল-আলী আর-রুতবাহ ফী শারহি নাযমিল নুখবাহ»
(১)। এতে তিনি তাঁর পিতার রচিত «আর-রুতবাহ ফী নাযমিল নুখবাহ» নামক পদ্যটির (نظم) ব্যাখ্যা (شرح) করেছেন।
2 - শিহাবুদ্দীন আহমদ আব্দুল কারীম আল-গাজ্জী (মৃত্যু ১১৪৩ হি.) রচিত «শারহু সিলকিদ দুরার ফী ইলমিল আসার»। এতে তিনি তাঁর দাদার পদ্যের (نظم) ব্যাখ্যা (شرح) করেছেন।
3 - মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল আস-সানআনী রচিত «ইসবালুল মাতার আলা কাসাবিস সুক্কর»
(২), যা তাঁর পূর্বে উল্লিখিত পদ্যটির (نظم) ব্যাখ্যা (شرح)।
4 - আব্দুল কারীম ইবনে মুরাদ আল-আসারি রচিত «সাহহুল মাতার শারহু কাসাবিস সুক্কর»
(৩)।
*
এর সংক্ষিপ্তসারসমূহ (مختصرات):1 - আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আহমদ ইবনে বারাকাত আল-আহমদী (মৃত্যু ১১৫০ হি. এর পর) রচিত «আল-মুখতাসার মিন নুখবাতিল ফিকার»
(৪)।
2 - মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহীম আল-ওয়ায়ীর (মৃত্যু ৮৪০ হি.) রচিত «আল-মুখতাসার ফী উলূমিল হাদীস»
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
3 - «مختصر نخبة الفِكَر في علم الأثر»
(1) لمحمد بن مصطفى الأقكرماني.
4 - «نتيجة النظر في علم الأثر»
(2) لمحمد همات زاده، ت (1175 هـ)، وشرح مختصره في «قلائد الدرر على نتيجة النظر في علم الأثر».
5 - «المختصر في مصطلح أهل الأثر»
(3) للشنشوري، المتوفي سنة؟؟؟؟.
*
ومن شروح مختصراتها:1 - «عقد الدرر في شرح مختصر نخبة الفكر»
(4) لمحمود شكري الألوسي، المتوفي سنة (1342 هـ) شرح مختصر الأحمدي.
2 - «قلائد الدرر على نتيجة النظر في علم الأثر»
(5) لمحمد همات زاده، المتوفي سنة (1175 هـ). شرح فيه مختصره للنخبة المسمى «نتيجة النظر».
3 - «خلاصة الفِكَر في شرح المختصر في مصطلح الأثر»
(6) للشنشوري، المتوفي سنة؟؟؟. شرح فيه مختصره للنخبة.
وغير ذلك كثير مما تذخر به بطون مكتبات التراث من شروح ومنظومات ومختصرات ل «نخبة الفكر». مما الإحاطة بمثله غير يسيرة، وإن دلَّ ذلك على شيء فإنما يدل على اهتمام أهل العلم وطلبته بهذا
--------------------------------------------
3 - মুহাম্মাদ বিন মুস্তফা আল-আককিরমানি বিরচিত «মুখতাসারু নুখবাতিল ফিকার ফি ইলমিল আছার»
(১)।
4 - মুহাম্মাদ হাম্মাত জাদাহ (মৃত্যু ১১৭৫ হি.) বিরচিত «নাতীজাতুন নাজার ফি ইলমিল আছার»
(২), এবং তাঁর সংক্ষিপ্তসার (مختصر)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) হলো «কালাইদুদ দুরার আলা নাতীজাতিন নাজার ফি ইলমিল আছার»।
5 - আশ-শানশুরি (মৃত্যু ????) বিরচিত «আল-মুখতাসার ফি মুসতালাহি আহলিল আছার»
(৩)।
*
এবং এর সংক্ষিপ্তসারগুলোর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ (شروح) থেকে:1 - মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি (মৃত্যু ১৩৪২ হি.) বিরচিত «উকদুদ দুরার ফি শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার»
(৪), যা 'মুখতাসার আল-আহমাদি'-র একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح)।
2 - মুহাম্মাদ হাম্মাত জাদাহ (মৃত্যু ১১৭৫ হি.) বিরচিত «কালাইদুদ দুরার আলা নাতীজাতিন নাজার ফি ইলমিল আছার»
(৫)। এতে তিনি 'নুখবাহ'-এর ওপর তাঁর তৈরিকৃত সংক্ষিপ্তসার (مختصر) «নাতীজাতুন নাজার»-এর ব্যাখ্যা (شرح) করেছেন।
3 - আশ-শানশুরি (মৃত্যু ????) বিরচিত «খুলাসাতুল ফিকার ফি শারহিল মুখতাসার ফি মুসতালাহিল আছার»
(৬)। এতে তিনি 'নুখবাহ'-এর ওপর তাঁর সংক্ষিপ্তসার (مختصر)-এর ব্যাখ্যা (شرح) করেছেন।
এ ছাড়াও «নুখবাতুল ফিকার»-এর আরও অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح), কাব্যগ্রন্থ (منظومات) এবং সংক্ষিপ্তসার (مختصر) রয়েছে যা ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিগুলোর সংগ্রহে বিদ্যমান। এসবের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ দেওয়া সহজসাধ্য নয়; আর এটি যদি কোনো কিছুর প্রতি ইঙ্গিত করে, তবে তা হলো এই কিতাবটির প্রতি উলামায়ে কেরাম ও ইলম অন্বেষণকারীদের গভীর গুরুত্বারোপ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
«المختصر» الذي اشتغل به المتأخرون من المشتغلين بالحديث شغلًا ليس باليسير.
*
«مختصر الأحمدي»:لم يذكر الأحمدي رحمه الله شيئًا عن منهجه في اختصار «النخبة» ولا غرضه؛ فقد بدأ بعد حمد الله والصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم بقوله: «هذه كلمات سميتها «المختصر من نخبة الفِكَر»
(1) ثم شرع في تعريف الخبر
…إلى أن قال في خاتمتها معتذرًا عن تركه بعض التفاصيل والمسائل المهمة: «وتركتُ تفاصيلًا ومهمات أحلتها على المطولات لغرض الاختصار»
(2) وذكر في خاتمتها أنه قد فرغ من تأليفها في ختام سنة (1150 هـ).
وقد قال الألوسي في وصف وصف «مختصر الأحمدي»:
«بيد أني وجدتُّ متنًا جامعًا لغرر هذا الفن وقواعده، حاويًا لفرائد مسائله وفوائده، مشتملًا على مباحث هي لباب آراء المحدثين، من المتقدمين والمتأخرين، ليس له نظير في بابه، ولا مماثل له ولا مشابه، بوجازة لفظ تتحير فيه الألباب، وحسن سَبكٍ يُقضي منه العَجب العُجاب».
--------------------------------------------
এই ‘সংক্ষিপ্তসার (المختصر)’ নিয়ে পরবর্তী যুগের হাদিস বিশারদগণ গুরুত্বের সাথে কাজ করেছেন।
*
‘মুখতাসার আল-আহমাদি’:আহমাদি (রহিমাহুল্লাহ) ‘নুখবাহ্’ সংক্ষেপকরণের ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেননি; তিনি আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করার পর এই কথা বলে শুরু করেছেন: “এগুলো কিছু কথা, যার নাম আমি রেখেছি ‘মুখতাসার মিন নুখবাতিল ফিকার’” এরপর তিনি সংবাদ (الخبر) এর সংজ্ঞার আলোচনায় প্রবৃত্ত হয়েছেন …
পরিশেষে তিনি কিছু বিস্তারিত আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেওয়ার ব্যাপারে ওজর পেশ করে বলেন: “সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে আমি অনেক বিস্তারিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বর্জন করেছি এবং সেগুলো বিস্তারিত গ্রন্থসমূহের (المطولات) ওপর সোপর্দ করেছি।” এবং গ্রন্থের শেষে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ১১৫০ হিজরি সনের শেষভাগে এর রচনা সম্পন্ন করেছেন।
আল্লামা আলুসি ‘মুখতাসার আল-আহমাদি’-র বর্ণনায় বলেছেন:
“যাই হোক, আমি এমন একটি মূল পাঠ (متن) পেয়েছি যা এই শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠাংশ ও মূলনীতিসমূহকে (قواعد) একত্রিত করেছে। এটি এর অনন্য মাসয়ালা ও উপকারিতাগুলোকে ধারণকারী এবং এমন সব আলোচনার অন্তর্ভুক্তকারী যা পূর্ববর্তী (المتقدمين) ও পরবর্তী (المتأخرين) হাদিস বিশারদদের (المحدثين) মতামতের নির্যাস। এই বিষয়ে এর কোনো দ্বিতীয়টি নেই, নেই কোনো সমতুল্য বা সদৃশ। এটি এমন সংক্ষিপ্ত শব্দশৈলীতে রচিত যা মানুষের বুদ্ধিকে অভিভূত করে এবং এর চমৎকার গঠনশৈলী এক বিস্ময়কর অনুভূতির সৃষ্টি করে।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
*
سبب تأليف «عقد الدرر»:قال الألوسي مبيِّنًا سبب شرحه «مختصر الأحمدي» بعد أن ذكر محاسنة من جمعه لغرر هذا الفن، واشتماله على مباحث هي لباب آراء المحدثين، إضافةً إلى حسن سبكه ووجازة لظفه «ولم أظفر على شرحٍ له تنشرح قلوب الطالبين بمكنون فرائده، ويظهر من مطوي إشاراته مَنشور فوائده مع أنه لا ينبغي أن يترك مثل هذا ويهمل، ولا يليق أن يُعرض عنه ويُغفل.
فحدثتني نفسي، وسارني حَدسي، بما يستوجب الاستغفار، ويُطلب منه الفِرار، مما تشتد إليه الضرورة من شرح يذلل من اللفظ صعابه، ويكشف عن وجه المعاني نقابه».
(1)إضافةً إلى ذلك فقد «أكد ذلك رغبة بعض الأخوان، ومزيد حثي وتشويقي على ما هنالك في كل آن، فركبتُ تلك الشدائد والأخطار، واقتحمتُ هاتيك الزوايا القرار، وكلفتُ نفسي فوق الطاقة، وشددتُّ على كاهل العزم نطاقه؛ حرصًا على ألا يبقى مث لهذا الكتاب مضروبًا عليه من الخمول باب، وخدمةً للإخوان».
(2) *
منهج الإمام الألوسي في شرحه ل «المختصر من نخبة الفِكَر»:سلك الإمام الألوسي رحمه الله منهجًا وسطًا في شرحه، وقد حرص على توضيح المسائل بالأمثلة والشرح، وذكر الأقوال والاختلافات في المسألة التي يعرض لها إن كان ثمة خلاف.
--------------------------------------------
*
‘আকদুদ দুরার’ রচনার কারণ:আলূসী (রহ.) তাঁর ‘মুখতাসারুল আহমাদী’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে—উক্ত গ্রন্থে এই শাস্ত্রের শ্রেষ্ঠ বিষয়াবলি সংকলন, মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) মতামতের সারবস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকা এবং এর চমৎকার বিন্যাস ও শব্দশৈলীর প্রশংসা করার পর—বলেন: “আমি এর এমন কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাইনি যা তার নিগূঢ় রত্নরাজির দ্বারা শিক্ষার্থীদের অন্তরকে প্রফুল্ল করবে এবং এর প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতসমূহ থেকে তার ছড়িয়ে থাকা উপকারিতাগুলোকে প্রকাশ করবে। অথচ এ ধরনের কিতাবকে পরিত্যাগ করা বা অবহেলা করা সমীচীন নয়, আর এ থেকে বিমুখ হওয়া বা গাফেল থাকাও অনুচিত।
অতঃপর আমার নফস এবং আমার অন্তর্দৃষ্টি আমাকে এমন একটি কাজের প্রতি তাড়িত করল—যার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত এবং যা থেকে পলায়ন করা কাম্য—অর্থাৎ এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা যা শব্দের কাঠিন্যকে সহজ করবে এবং অর্থের চেহারা থেকে পর্দা উন্মোচন করবে।”
(১)এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “কিছু দ্বীনি ভাইয়ের আগ্রহ এবং এ বিষয়ে তাদের ক্রমাগত উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা আমার এই ইচ্ছাকে আরও দৃঢ় করেছে। ফলে আমি সেই সব কষ্ট ও ঝুঁকি গ্রহণ করেছি, প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছি এবং নিজের সামর্থ্যের অতিরিক্ত ভার বহন করেছি; আর সংকল্পের কোমর শক্ত করে বেঁধেছি। এর উদ্দেশ্য ছিল যেন এই কিতাবটি অখ্যাত ও বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে না যায় এবং দ্বীনি ভাইদের খিদমত করা যায়।”
(২) *
‘আল-মুখতাসার মিন নুখবাতিল ফিকার’-এর ব্যাখ্যায় ইমাম আলূসীর কর্মপদ্ধতি (منهج):ইমাম আলূসী (রহ.) তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে একটি মধ্যমপন্থা বা ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি (منهجًا) অনুসরণ করেছেন। তিনি উদাহরণ ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে মাসআলাসমূহ স্পষ্ট করতে সচেষ্ট ছিলেন। এছাড়া তিনি কোনো মাসআলা বর্ণনার সময় যদি তাতে মতভেদ থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট মতামত ও মতভেদগুলো (الاختلافات) উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد أكثر رحمه الله من النقل عن عدة كتب من كتب مصطلح الحديث، إضافة إلى نقله أقوال الفقهاء والأصولين، مع إيضاحه لبعض المسائل والمباحث التي ليست من علوم الحديث بل هي من مباحث أصول الفقه أصالةً وإشارته إلى ذلك. وقد قال موضحًا أسلوبه في الكتاب:
«وقد صرفتُ غاية وسعي في تهذيب هذا الشرح وتنقيحه، وبذلت نهاية جَهدي في كشفه وتوضيحه، باسطًا فيه الكلام، ممهدًا فيه المقاصد والأحكام، وقد أكثرت فيه الفوائد، وشحنته بالأمثلة والشواهد؛ فاتضح بذلك غاية الاتضاح، واستغنى بالصباح عن المصباح، وبيَّنتُ -حسب الطاقة- المراد، ودفعتُ ما بدا لي من إيراد؛ فجاء -ولله الحمد- حسبما كنت أتمناه وسألته من كرمه جلَّ شأنه وعُلاه».
(1)وقد ابتدأ كتابه بعد حمد الله والصلاة والسلام على رسول الله صلى الله عليه وسلم بذكر شرف علم الحديث وفضله؛ فقال: «إن أحق العلوم بالتقديم، وأجدر الفضائل بالتبجيل والتعظيم، وأحسن ما تصر ف له الأعمار، وتوجه إليه الهم والأفكار، الاشتغال بعلم الحديث الممدوح في القديم والحديث، كيف لا؛ وهو الذي يُعْرَف به سائر التكاليف والأحكام، ويتميز به الحق من الباطل، والحلال من الحرام، والعارف به مرفوع القدر في كل قرنٍ وعصر».
(2)ثم قام بعد شرحه للبسملة والحمد لله والصلاة والسلام على النبي صلى الله عليه وسلم وصحبه، وما يتعلق بذلك، بذكر ثلاث فوائد كالمقدمات:
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, তিনি হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث) সংক্রান্ত বেশ কিছু গ্রন্থ থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি ফকিহগণ (فقهاء) ও উসুলবিদদের (أصوليين) বক্তব্যসমূহও উদ্ধৃত করেছেন। সাথে সাথে তিনি এমন কিছু মাসআলা ও গবেষণার বিষয়ও স্পষ্ট করেছেন যা মূলত হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং তা উসুলুল ফিকহের (أصول الفقه) মূল আলোচনার বিষয় এবং তিনি সেদিকে ইঙ্গিতও করেছেন। তিনি গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি স্পষ্ট করে বলেছেন:
«আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটিকে সুবিন্যস্ত ও পরিমার্জিত করতে আমার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি এবং একে উম্মোচন ও স্পষ্ট করতে আমার সামর্থ্যের শেষবিন্দু দিয়ে চেষ্টা করেছি। এতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি, উদ্দেশ্য ও বিধানসমূহকে সুবিন্যস্ত করেছি। আমি এতে অনেক ফায়দা বা উপকারী বিষয় (فوائد) সংযোজন করেছি এবং একে উদাহরণ ও সমর্থনমূলক বর্ণনা (شواهد) দ্বারা পরিপূর্ণ করেছি। ফলে এটি চূড়ান্তভাবে স্পষ্ট হয়েছে এবং সকালের আলোর উপস্থিতিতে প্রদীপের প্রয়োজন যেমন ফুরিয়ে যায়, এর অবস্থাও তদ্রূপ হয়েছে। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেছি এবং আমার নিকট প্রতীয়মান হওয়া আপত্তিগুলো খণ্ডন করেছি। ফলে আল্লাহর প্রশংসায় এটি তেমনভাবেই সম্পন্ন হয়েছে যেমনটি আমি কামনা করেছিলাম এবং তাঁর সুমহান অনুগ্রহের কাছে প্রার্থনা করেছিলাম।»
(১)তিনি আল্লাহর প্রশংসা এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করার মাধ্যমে গ্রন্থটি শুরু করার পর হাদিস শাস্ত্রের মর্যাদা ও ফজিলত উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই অগ্রাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযুক্ত জ্ঞান এবং সম্মান ও মহত্ত্ব প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে যোগ্য বিষয়, যার জন্য জীবন ব্যয় করা উচিত এবং যাতে চিন্তা-চেতনা নিবদ্ধ করা উচিত, তা হলো হাদিস চর্চায় আত্মনিয়োগ করা, যা প্রাচীন ও বর্তমান সর্বকালেই প্রশংসিত। কেনই বা তা হবে না; অথচ এর মাধ্যমেই যাবতীয় বিধি-বিধান ও হুকুম-আহকাম জানা যায়, এর মাধ্যমে সত্য থেকে মিথ্যা এবং হালাল থেকে হারামকে পৃথক করা যায়। আর এই শাস্ত্রের জ্ঞান রাখেন এমন ব্যক্তি প্রতিটি যুগে ও সময়ে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন।»
(২)এরপর তিনি বিসমিল্লাহ, হামদ এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালামের ব্যাখ্যা এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সমাপ্ত করে ভূমিকা স্বরূপ তিনটি ফায়দা বা উপকারী বিষয় (فوائد) উল্লেখ করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الأولى: في بيان حد هذا الفن وموضوعه وغايته.
الثانية: في بيان أول من ابتدأ بتصنيف هذا العلم.
الثالثة: في بيان آداب طالب علم الحديث.
(1)ثم شرع في بيان حد الخبر وتقسيمه إلى آحاد ومتواتر.
وقال وهو بصدد الكلام على خبر الآحاد: «ولنتعرض في هذا المقام لمسألة دعتنا المناسبة لذكرها تبعًا لجماعة من الفضلاء في استطرادهم».
وقال في ختامه: «وتمام هذا البحث في أصول الفقه».
(2)وقد استطرد في بعض المباحث الأصولية الأخرى، حيث قال بعد أن أطال النفس في الكلام على الفرق بين التواتر والاستفاضة: «وإنما أطنبنا الكلام -وإن كان ذلك ليس في محله- ليقف الناظر على حقيقة الحال، ويحيط بما في هذا البحث من المقال».
(3)إلا أنه في بعض المباحث الأخرى كان يحيل على كتب الأصول مباشرةً دونما استطرد، وينبه في مباحث أخرى على أن هذه المباحث ليست من مباحث علوم الحديث، وإنما من مباحث أصول الفقه، حيث قال رحمه الله في مبحث دلالة خبر الآحاد «ولما أراد المصنف أن يقسم الآحاد فقط إلى أقسامه الآتية دون المتواتر؛ لأنه ليس من مباحث علم الإسناد، بل من مباحث أصول الفقه؛ لأن علم الإسناد علمُ ما يبحث فيه عن صحة الحديث أو ضعفه ليعمل به أو يترك
… ».
--------------------------------------------
প্রথমত: এই শাস্ত্রের সংজ্ঞা (حد), আলোচ্য বিষয় (موضوع) এবং এর উদ্দেশ্য (غاية) বর্ণনা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয়ত: এই শাস্ত্র প্রথম কে সংকলন শুরু করেছেন তা বর্ণনা প্রসঙ্গে।
তৃতীয়ত: হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর আদব বা শিষ্টাচার বর্ণনা প্রসঙ্গে।
(১)অতঃপর তিনি সংবাদের (خبر) সংজ্ঞা এবং একে একক বর্ণনা (آحاد) ও মুতাওয়াতিরে (متواتر) বিভক্ত করার আলোচনা শুরু করেন।
তিনি একক বর্ণনা (آحاد) সম্পর্কে আলোচনারত অবস্থায় বলেন: «আমরা এই পর্যায়ে এমন একটি মাসআলা নিয়ে আলোচনা করব, যা একদল বিদগ্ধ পণ্ডিতের অনুসরণে তাঁদের দীর্ঘ আলোচনার প্রেক্ষাপটে এখানে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক মনে করছি»।
তিনি এর শেষে বলেন: «এই আলোচনার পূর্ণতা রয়েছে উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে»।
(২)তিনি উসুল সংক্রান্ত অন্যান্য কিছু আলোচনায় প্রাসঙ্গিকভাবে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। যেমন তিনি মুতাওয়াতির (متواتر) এবং ইস্তিফাদাহর (استفاضة) মধ্যকার পার্থক্য নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর বলেন: «আমরা এই আলোচনা দীর্ঘ করেছি—যদিও তা এর যথাযোগ্য স্থান নয়—যাতে পাঠক প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন এবং এই আলোচনায় যা কিছু বলা হয়েছে তা পূর্ণরূপে অনুধাবন করতে পারেন»।
(৩)তবে অন্য কিছু আলোচনায় তিনি দীর্ঘ আলোচনা না করে সরাসরি উসুল শাস্ত্রের কিতাবগুলোর বরাতে আলোচনা করেছেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে তিনি সতর্ক করেছেন যে, এসব আলোচনা উলুমুল হাদিসের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। যেমন তিনি একক বর্ণনার (آحاد) দালালাত বা প্রমাণযোগ্যতা প্রসঙ্গে বলেছেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন): «গ্রন্থকার যখন মুতাওয়াতিরকে (متواتر) বাদ দিয়ে কেবল একক বর্ণনাকে (آحاد) পরবর্তী প্রকারগুলোতে বিভক্ত করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন; কারণ এটি ইসনাদ শাস্ত্রের (علم الإسناد) আলোচ্য বিষয় নয়, বরং উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের বিষয়। কেননা ইসনাদ শাস্ত্র (علم الإسناد) এমন এক বিদ্যা যেখানে হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) কিংবা দুর্বলতা (ضعف) নিয়ে গবেষণা করা হয়, যাতে সে অনুযায়ী আমল করা যায় কিংবা তা বর্জন করা যায়... »।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২০)
وفي مبحث زيادات الثقات ذكر بعض المرجحات ثم قال: «إلى غير ذلك من المرجحات المذكورة في الأصول».
(1)وفي بحث النسخ ذكر أنه مختلفٌ في حقيقته ثم ذكر بعض الأقوال في ذلك ثم قال: «ودلائل الطرفين في كتب الأصول».
(2)وفي آخر مبحث المرفوع ذكر حكم قول الصحابي «من السنة كذا» ثم قال بعد أن ذكر ما ظهر عنده: «والتفصيل في الأصول الفقهية».
(3)وهكذا فإن المصنف استطرد في المباحث المتعلقة بأصول الفقه إلا أنه كان ينبه ويشير إلى أن هذه المباحث من مباحث علم أصول الفقه، وليس من علوم الحديث وهذا مما يتميز به هذا الكتاب.
ومما يتميز به الكتاب -أيضًا- حشده لكثير من الأمثلة على مختلف أنواع علوم الحديث، إضافة إلى بسطه وتوضيحه للمسائل المختلف فيها، وذكره الأقوال في ذلك. كما تميز بأنه يختار من الأقوال ما يراه راجحًا عنده، ولا يكتفي بسرد الأقوال فقط.
وهذا إن دلَّ على شيء فإنما يدل على نضج عقليته، وتوقد ذهنه رحمه الله إضافةً إلى مناقشته لبعض اختيارات الحافظ ابن حجر وآرائه في «نخبته» و «نزهته»، وكذلك فقد ناقش بعض اختيارات الأحمدي في مختصره.
--------------------------------------------
নির্ভরযোগ্যদের অতিরিক্ত বর্ণনা (زيادات الثقات) বিষয়ক পরিচ্ছেদে তিনি কিছু প্রাধান্যদানকারী বিষয় (مرجحات) উল্লেখ করেছেন এবং অতঃপর বলেছেন: «উসূলের (الأصول) কিতাবসমূহে বর্ণিত এ জাতীয় অন্যান্য প্রাধান্যদানকারী বিষয় (مرجحات) ছাড়াও...»।
(১)রহিতকরণ (نسخ) বিষয়ক আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে এর প্রকৃত রূপ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে, অতঃপর এ বিষয়ে কিছু মতামত উল্লেখ করে তিনি বলেছেন: «উভয় পক্ষের দলীলসমূহ (دلائل) উসূলের (الأصول) কিতাবসমূহে রয়েছে»।
(২)মারফু (مرفوع) বিষয়ের আলোচনার শেষে তিনি সাহাবীর উক্তি «সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত হলো এমন এমন» এর বিধান (حكم) বর্ণনা করেছেন। এরপর তাঁর নিকট যা স্পষ্ট হয়েছে তা উল্লেখ করার পর বলেছেন: «এর বিস্তারিত বিবরণ উসূলে ফিকহে (الأصول الفقهية) রয়েছে»।
(৩)এভাবে গ্রন্থকার উসূলে ফিকহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর অবতারণা করেছেন, তবে তিনি এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই আলোচনাগুলো মূলত উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত, হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) বিষয় নয়। আর এটিই এই গ্রন্থের অন্যতম একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
গ্রন্থটির আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো এতে হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) বিভিন্ন প্রকারের ওপর প্রচুর উদাহরণ একত্রিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি মতভেদপূর্ণ মাসআলাগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন মতামত তিনি উল্লেখ করেছেন। গ্রন্থটি আরও এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী যে, তিনি কেবল মতামতগুলো বর্ণনা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং সেসব মতামতের মধ্য থেকে তাঁর নিকট যা অগ্রগণ্য (راجح) মনে হয়েছে সেটি তিনি নির্বাচন করেছেন।
এটি তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্কতা এবং প্রখর মেধার (রহিমাহুল্লাহ) প্রমাণ বহন করে। এর পাশাপাশি তিনি হাফেজ ইবনে হাজার এর «নুখবাতুল ফিকার» ও «নুজহাতুন নাযার» গ্রন্থে তাঁর কিছু চয়নকৃত বিষয় ও মতামতের ওপর পর্যালোচনা করেছেন। একইভাবে তিনি আহমাদীর «মুখতাসার» গ্রন্থের কিছু চয়নকৃত বিষয়ের ওপরও আলোচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقد اعتمد الألوسي على عدد غير يسير من كتب المصطلح والفقه والأصول. ومن الكتب التي أكثر الاعتماد عليها:
1 - «نزهة النظر شرح نخبة الفِكَر» لابن حجر.
2 - «فتح المغيث شرح ألفية الحديث» للعراقي.
3 - «حاشية نزهة النظر» للكمال محمد بن أبي شريف.
4 - «فتح الباقي شرح ألفية العراقي» لزكريا الأنصاري.
5 - «فتح المغيث شرح ألفية العراقي» للسخاوي.
6 - «الكافي» للتبريزي.
7 - «الهداية في علوم الحديث» لابن الجزري.
আলূসী পরিভাষা (مصطلح), ফিকহ এবং উসূল (أصول) সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রন্থের ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি যেসব গ্রন্থের ওপর সর্বাধিক নির্ভর করেছেন:
1 - ইবনে হাজার রচিত ‘নুজহাতুন নাযার শারহু নুখবাতিল ফিকার’।
2 - আল-ইরাকী রচিত ‘ফাতহুল মুগীস শারহু আলফিয়্যাতিল হাদিস’।
3 - কামাল মুহাম্মদ ইবনে আবি শরীফ রচিত ‘হাশিয়াতু নুজহাতুন নাযার’।
4 - যাকারিয়া আল-আনসারী রচিত ‘ফাতহুল বাকী শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকী’।
5 - সাখাভী রচিত ‘ফাতহুল মুগীস শারহু আলফিয়্যাতিল ইরাকী’।
6 - আত-তিবরীযী রচিত ‘আল-কাফী’।
7 - ইবনুল জাযারী রচিত ‘আল-হিদায়াহ ফী উলূমিল হাদিস’।
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২২)
ترجمة صاحب «عقد الدرر»(1)*
اسمه ونسبه وكنيته ولقبه:هو محمود شكري، أبو المعالي جمال الدين الألوسي البغدادي الحسيني بن السيد عبد الله بهاء الدين بن السيد محمود شهاب الدين، صاحب تفسير «روح المعاني» ابن عبد الله صلاح الدين بن محمد الخطيب الألوسي، وينتهي نسبه إلى الإمام الحسين رضي الله عنه.
*
أسرته:(ألوس) التي تنتسبُ إليها أسرة الألوسي، فيها لغات، منها، (ألُوس)
--------------------------------------------
‘আকদুদ দুরার’ প্রণেতার জীবনী(১)*
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, কুনিয়াত (উপনাম) ও লকব (উপাধি):তিনি হলেন মাহমুদ শুকরি, আবুল মা‘আলি জামালুদ্দিন আল-আলুসি আল-বাগদাদি আল-হুসাইনি ইবনে আস-সাইয়্যিদ আব্দুল্লাহ বাহাউদ্দিন ইবনে আস-সাইয়্যিদ মাহমুদ শিহাবুদ্দিন—যিনি ‘রুহুল মা‘আনি’ তাফসিরের রচয়িতা—ইবনে আব্দুল্লাহ সালাহুদ্দিন ইবনে মুহাম্মাদ আল-খতিব আল-আলুসি। তাঁর বংশধারা ইমাম হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত পৌঁছেছে।
*
তাঁর পরিবার:(আলুস) যার সাথে আলুসি পরিবার সম্বন্ধযুক্ত, এর নামকরণে কয়েকটি উচ্চারণরীতি রয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো (আলুস)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بوزن صبُور و (آلوسة) بالمد، ذكرهما الزبيدي في «تاريخ العروس»، و (ألوسة) كما وردت في نزهة المشتاق للإدريسي «وصورة الأرض» له أيضًا، و (آلُس) بمد الهمزة وضم اللام، وقد ذكر هذا ابنُ خلكان عن ابن النجار المؤرخ البغدادي.
وهي جزيرة صغيرة قديمة في أعالي نهر الفرات بالعراق.
(1)وقد رجح الأستاذ محمد بهجة الأثري في كتابه «أعلام العراق» أن الألوسي نسبه إلى (ألوس) بقصر الهمزة.
(2)قال الأستاذ الأثري: «والألوسيون سادة أشراف، محبوكوا الأطراف ضموا إلى زينة النسب، حلية الأدب، فتفيئوا في الشرف مكانًا عليًّا
… وهم -على ثبوت نسبهم- من أبعد الناس عن التفاخر بالأنساب، ولعَمري إن انتسابهم إلى العلم ليكفيهم، ومحك النسب العمل:
إن فاتكم أصل امرئ ففعاله
… تنبيكم عن أصله المتناهي
(3) *
أشهر رجالات الأسرة الألوسية:
1 - أبو الثناء شهاب الدين محمود الألوسي (1217 - 1270 هـ):وهو جد العلامة محمود شكري، قال الأستاذ محمد بهجة الأثري: «هو مؤسس هذه الأسرة والمظهر الأول والأكبر لنبوغها، فهو مؤسس المجد العلمي والأدبي في العراق في عصوره الأخيرة بلا منازع، ولا نعرف من
--------------------------------------------
'সবুর' শব্দের ওজনে এবং দীর্ঘস্বরযোগে 'আলূসাহ'; আয-যাবিদী তাঁর 'তারিখুল আরূস' গ্রন্থে এই উভয় রূপ উল্লেখ করেছেন। 'আলূসাহ' শব্দটি যেমন ইদরীসীর 'নুযহাতুল মুশতাক' এবং তাঁর 'সূরাতুল আরদ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, তেমনি হামযাহর দীর্ঘস্বর এবং লামের পেশসহ 'আলূস' রূপটিও পাওয়া যায়; ইবনে খাল্লিকান বাগদাদী ইতিহাসবিদ ইবনুন নাজ্জারের সূত্রে এটি উল্লেখ করেছেন।
এটি ইরাকের ফোরাত নদীর উচ্চ অববাহিকায় অবস্থিত একটি প্রাচীন ক্ষুদ্র দ্বীপ।
(১)উস্তাদ মুহাম্মদ বাহজাতুল আসারি তাঁর 'আলামুল ইরাক' গ্রন্থে এই মতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন যে, 'আলূসী' শব্দটি হামযাহর হ্রস্বস্বরযোগে 'আলুস' শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত।
(২)উস্তাদ আল-আসারি বলেন: "আলূসীগণ অত্যন্ত সম্মানিত ও সম্ভ্রান্ত সর্দার, যাঁরা সুসংগঠিত ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তাঁরা বংশীয় আভিজাত্যের সাথে শিষ্টাচারের ভূষণকেও একীভূত করেছেন এবং মর্যাদার সুউচ্চ শিখরে আরোহণ করেছেন... তাঁরা—তাঁদের বংশমর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও—বংশ নিয়ে অহংকার করা থেকে অনেক দূরে অবস্থান করেন। আমার জীবনের শপথ, ইলমের সাথে তাঁদের সম্পৃক্ততাই তাঁদের জন্য যথেষ্ট, আর বংশমর্যাদার কষ্টিপাথর হলো আমল বা কর্ম:
যদি কারো বংশের মূল তোমাদের অগোচরে থাকে, তবে তার কর্মই তোমাদের তার প্রকৃত আভিজাত্য সম্পর্কে জানিয়ে দেবে।"
(৩) *
আলূসী পরিবারের বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ:
১. আবুল সানা শিহাবুদ্দিন মাহমুদ আলূসী (১২১৭ - ১২৭০ হিজরি):তিনি আল্লামা মাহমুদ শুকরীর দাদা। উস্তাদ মুহাম্মদ বাহজাতুল আসারি বলেন: "তিনি এই পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা এবং এর মেধার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। তিনি সমসাময়িক ইরাকের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সাহিত্যিক গৌরবের অবিসংবাদিত স্থপতি, এবং আমরা জানি না..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يناصيه في إحاطته وتعمقه، وافتنانه، وجمعه بين العلم والأدب واللغة والشعر والنثر والفتيا والتأليف البارع في كل هذا بأساليب زاخرة بالروعة والجمال
…أخذ علمه من أبيه، ومن نفر من علماء العراق، منهم عبد العزيز الشواف، وعلي السويدي، ومحمد أمين الحلي، علاء الدين الموصلي.
وبدأ التأليف وهو ابن ثلاث عشرة عام، وكان نبوغه مثيرًا للدهشة والاستغراب، وفنصبه بعض الوجهاء مدرسًا وواعظًا وخطيبًا، وثم عُيِّن أمين الفتوى ومدرسًا وواعظًا وخطيبًا، ثم عُيِّن أمين الفتوى ومدرسًا في المدرسة القادرية، وكانت مشروطة لأعلم أهل بغداد بالكتاب والسُّنَّة، وأجازه السلطان «محمود علي» ببعض كتبه برتبة «رءوس تدريس إسلامبول»، ونُصِّب مفتي الخنفية ببغداد، ثم قلب له بعض الولاة ظهر المجن، وكاد له، وطالت أيام محنته، وساءت حاله، فرحل إلى إستنبول ليعرض أمره على السلطان «عبد المجيد»، وقدم إليه تفسيره: «روح المعاني».
فأكبره وأكرمه، وخصص له مبلغًا من بيت المال في كل عام، وبعد أن أقام في إستنبول عامين قفل إلى بغداد، ولم تصل أيامه فتوفي عن ثلاث وخمسين سنة، وهي عمر قصير، غير أنه عَرُضَت جوانبه وطالت أبعاده بإنتاجه الخصب القيم وإبداعه في هذا الإنتاج وتنويعه له من تفسير، وحديث، وفقه، وكلام، ومنطق، وجدل، ونحو، ولغة، وتاريخ، ورِحَل، وشعر، ونثر، مع اضطلاعه بالتدريس وبالإفتاء، وكان بيته مثابة طلاب العلم والأدب من أهل العلم والأدب من أهل بغداد، ومن أطرف العراق وكردستان، فتخرج به خلق كثير، وراسله العلماء، وألتف حوله الشعراء
তিনি তাঁর পাণ্ডিত্য, গভীরতা ও অনন্য দক্ষতার ক্ষেত্রে তাঁর সমকক্ষ ছিলেন। তিনি জ্ঞান, সাহিত্য, ভাষা, কবিতা, গদ্য, ফতোয়া প্রদান এবং এসব বিষয়ে চমৎকার রচনার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন এমন এক শৈলীতে যা চমৎকারিত্ব ও সৌন্দর্যে ভরপুর
…তিনি তাঁর জ্ঞান অর্জন করেছেন তাঁর পিতার নিকট থেকে এবং ইরাকের একদল আলেমদের নিকট থেকে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল আজিজ আশ-শাওওয়াফ, আলী আস-সুওয়াইদি, মুহাম্মাদ আমিন আল-হিল্লি এবং আলাউদ্দিন আল-মাওসিলি।
তিনি মাত্র তেরো বছর বয়সে লেখালেখি শুরু করেন এবং তাঁর প্রতিভা ছিল অত্যন্ত বিস্ময়কর ও আশ্চর্যজনক। কতিপয় গণ্যমান্য ব্যক্তি তাঁকে শিক্ষক, ওয়ায়েজ ও খতিব হিসেবে নিযুক্ত করেন। পরবর্তীতে তিনি 'আসিনুল ফতোয়া' এবং কাদেরিয়া মাদরাসার শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন; এই পদটি বাগদাদের কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য নির্ধারিত ছিল। সুলতান «মাহমুদ আলী» তাঁর কিছু বইয়ের বদৌলতে তাঁকে «রুউসু তাদরিসে ইস্তাম্বুল» পদমর্যাদায় অনুমতি (إجازة) প্রদান করেন। তিনি বাগদাদে হানাফি মাযহাবের মুফতি হিসেবে নিযুক্ত হন। অতঃপর কিছু শাসক তাঁর প্রতি বিমুখ হয়ে বৈরি আচরণ শুরু করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেন। এতে তাঁর পরীক্ষার দিনগুলো দীর্ঘ হয় এবং তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটে। ফলে তিনি সুলতান «আব্দুল মাজিদ»-এর নিকট তাঁর আর্জি পেশ করার জন্য ইস্তাম্বুলে সফর করেন এবং তাঁর নিকট নিজের তাফসির গ্রন্থ «রুহুল মাআনি» পেশ করেন।
সুলতান তাঁকে অত্যন্ত সম্মান ও মর্যাদা দিলেন এবং প্রতি বছর বায়তুল মাল থেকে তাঁর জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করলেন। ইস্তাম্বুলে দুই বছর অবস্থানের পর তিনি বাগদাদে ফিরে আসেন। তাঁর আয়ু খুব বেশি ছিল না, তিনি মাত্র তিপ্পান্ন বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। এটি সংক্ষিপ্ত জীবনকাল হলেও তাঁর উর্বর ও মূল্যবান সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে এর পরিধি ও বিস্তৃতি ছিল বিশাল। তাঁর এই বহুমুখী সৃষ্টির মধ্যে ছিল তাফসির, হাদিস, ফিকহ, ইলমুল কালাম, যুক্তিবিদ্যা, বিতর্কশাস্ত্র, নাহু, ভাষা, ইতিহাস, ভ্রমণকাহিনী, কবিতা ও গদ্য। পাশাপাশি তিনি শিক্ষকতা ও ফতোয়া প্রদানের দায়িত্বও পালন করতেন। তাঁর ঘর ছিল বাগদাদ এবং ইরাক ও কুর্দিস্তানের দূর-দূরান্ত থেকে আসা জ্ঞান ও সাহিত্যের অন্বেষীদের আশ্রয়স্থল। তাঁর নিকট থেকে অসংখ্য লোক শিক্ষা সমাপন করেছেন, ওলামায়ে কেরাম তাঁর সাথে পত্রালাপ করতেন এবং কবিরা তাঁর সান্নিধ্যে সমবেত হতেন।
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
والأدباء، ومدحوه بمدائح طنانة لم يُتح نظائرها إلا لا للملوك والأمراء
…وآثار أبي الثناء تمتاز بالإحاطة والعمق واستقلال الفكر وحريته، مع روعة البيان وحسن الافتنان في صياغة معانيه وأفكاره، وقد جاوزت مؤلفاته العشرين منها: «روح المعاني في تفسير القرآن العظيم والسبع المثاني»، «الأجوبة العراقية على الأسئلة الإيرانية»، «الأجوبة العراقية عن الأسئلة اللاهورية»، «نهج السلامة إلى مباحث الإمامة»، «نزهة الألباب، وضرائب الاغتراب في الذهاب والإقامة والإياب»، «المقامات»، وغيرها.
«وقد خلف أبو الثناء خمسة أشبال، اغترفوا جميعًا من بحره، واقتبسوا من نوره، ومشوا على أثره».
(1)
2 - عبد الله بهاء الدين الألوسي (1248 - 1291 هـ):هو بِكْر أولاد أبي الثناء ووالد أبي المعالي الألوسي، عالم في علوم الشريعة، وكاتب يجري في مذهب أبيه وأسلوبه، تخرج بأبيه في المنقول والمعقول، واقتدى به في جملة فضائله، وحاكاه حتى في خطه، وتعاطى الصناعة اليدوية، فكان يشتغل أدق الأشغال بغاية المهارة والإتقان، وترفع عن مناصب الدولة، وآثر عليها التدريس فانصرف إليه، وكان نسيج وحده في التقرير، وتقريب الشوارد إلى الأذهان
…وكان تقيًّا زاهدًا عفيفًا أبيًّا شديد الورع، كبير النفس، حاد المزاج، سريع الغضب سريع الرضى، قوي الفطنة، طيب المفاكهة،
--------------------------------------------
এবং সাহিত্যিকগণ; তাঁরা তাঁর এমন উচ্চকিত প্রশংসা করেছেন যার নজির কেবল রাজা-বাদশাহ ও আমির-ওমরাদের ক্ষেত্রেই মেলা সম্ভব
…আবু আল-ছানা-এর রচনাবলি ব্যাপকতা, গভীরতা এবং চিন্তার স্বতন্ত্রতা ও স্বাধীনতার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এর পাশাপাশি তাঁর বর্ণনাভঙ্গি অত্যন্ত চমৎকার এবং তাঁর ভাব ও চিন্তার রূপায়ণে রয়েছে নিপুণ কারুকার্য। তাঁর গ্রন্থসংখ্যা বিশটি ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ‘রুহুল মাআনী ফি তাফসিরিল কুরআনিল আজিম ওয়াস সাবয়িল মাছানি’, ‘আল-আজউয়িবাতুল ইরাকিয়্যাহ আলাল আসইলাতিল ইরানিয়্যাহ’, ‘আল-আজউয়িবাতুল ইরাকিয়্যাহ আনিল আসইলাতিল লাহোরিয়্যাহ’, ‘নাহজুস সালামাহ ইলা মাবাহিছিল ইমামাহ’, ‘নুযহাতুল আলবাব ওয়া দরাইবুল ইগতিরাব ফিজ জাহাবি ওয়াল ইকামতি ওয়াল ইয়াব’, ‘আল-মাকামাত’ ইত্যাদি।
“আবু আল-ছানা পাঁচজন সুযোগ্য সন্তান রেখে গেছেন, তাঁরা সকলেই তাঁর জ্ঞানের সমুদ্র থেকে সিঞ্চন করেছেন, তাঁর নূর থেকে আলো গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন।”
(১)
২ - আবদুল্লাহ বাহাউদ্দিন আল-আলুসি (১২৪৮ - ১২৯১ হিজরি):তিনি আবু আল-ছানা-এর জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং আবু আল-মাআলি আল-আলুসি-এর পিতা। তিনি শরয়ি জ্ঞানে (علوم الشريعة) পণ্ডিত এবং একজন লেখক ছিলেন যিনি তাঁর পিতার আদর্শ ও শৈলী অনুসরণ করতেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে শ্রুতনির্ভর (منقول) ও যুক্তিভিত্তিক (معقول) উভয় বিদ্যায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি তাঁর পিতার গুণাবলি অনুসরণ করতেন, এমনকি হস্তাক্ষরেও তাঁর অনুকরণ করতেন। তিনি হস্তশিল্পের চর্চাও করতেন এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম কাজগুলো পূর্ণ দক্ষতা ও নিপুণতার সাথে সম্পাদন করতেন। তিনি রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা থেকে বিমুখ ছিলেন এবং এর পরিবর্তে অধ্যাপনাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন, ফলে তিনি সেদিকেই নিবিষ্ট হন। পাঠদান এবং জটিল বিষয়গুলোকে সহজবোধ্য করে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য (نسيج وحده)
…তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ (تقي), দুনিয়াবিমুখ (زاهد), পবিত্র-স্বভাব (عفيف), আত্মমর্যাদাবান এবং অত্যন্ত পরহেজগার (ورع)। তিনি ছিলেন মহৎপ্রাণ, তীক্ষ্ণ মেজাজের অধিকারী; দ্রুত রাগান্বিত হতেন আবার দ্রুতই শান্ত হয়ে যেতেন। তিনি ছিলেন প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন (فطنة) এবং সরস আলাপচারিতায় পটু।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
موصوفًا بمراعاة حقوق الخلاء وحب الفقراء.
(1)ولكنه -معه الأسف- كان غارقًا في التصوف يحب أهل الطرق المبتدعة وكان «نقشبنديًّا»، ومسلكه هذا كان له تأثيرًا في توجه ابنه أبي المعالي في أول حياته، ثم أنقذه الله من غياهب تلك الضلالات كما ستقف عليه إن شاء الله في ترجمته.
وتصوفه هذا كان ناشئًا عن علل شتى نفسية وجسمية أورثته وساوس وخيالات خيلت إليه شفاءه به.
(2)وله مصنفات قليلة في التصوف والنحو والمنطق والبيان.
(3)وقد خلَّف خمسة بنين جروا على منهجه في العلم والأدب والتعفف، وكانوا أصحاب فضل ووجاهة وتهذيب، تولى ثلاثة منهم القضاة والإدارة في الدولة العثمانية وبلغوا درجاتها الرفيعة
… وكان واسطة عقدهم نابغتهم أبو المعالي محمود شكري الألوسي الذي ورث أرفع خصال أبيه وجده، وكان أحد أعمدة هذه الأسرة.
(4)
3 - عبد الباقي الألوسي (1250 - 1298 هـ):وهو ثاني أبناء أبي الثناء، وقد كان من أجلاء علماء العراق، تخرج بأبيه وبعض تلاميذه، وغيرهم كعيسى البندنيجي البغدادي، فتأدب وتفقه، ودرس الهيأة وسائر الرياضي، وقرأ الأصلين والتفسير والحديث.
--------------------------------------------
তিনি নির্জনতার হক রক্ষা এবং দরিদ্রদের প্রতি ভালোবাসার গুণে গুণান্বিত ছিলেন।
(১)তবে পরিতাপের বিষয় এই যে, তিনি সূফিবাদে (التصوف) নিমজ্জিত ছিলেন এবং বিদআতি তরিকাপন্থীদের পছন্দ করতেন। তিনি ছিলেন একজন ‘নকশবন্দি’। তার এই আদর্শিক পথ তার পুত্র আবু আল-মাআলির জীবনের প্রথম ভাগের ওপর প্রভাব ফেলেছিল। পরবর্তীতে আল্লাহ তাকে সেই ভ্রান্তির অন্ধকার থেকে রক্ষা করেন, যেমনটি ইনশাআল্লাহ আপনি তার জীবনীতে (ترجمة) জানতে পারবেন।
তার এই সূফিবাদ (التصوف) গ্রহণ ছিল মূলত বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতা (علل) থেকে সৃষ্ট, যা তার মনে এমন কিছু সংশয় ও কল্পনার উদ্রেক করেছিল যার ফলে তিনি এর মধ্যেই নিজের আরোগ্য কল্পনা করতেন।
(২)সূফিবাদ (التصوف), ব্যাকরণ, যুক্তিবিদ্যা ও অলঙ্কারশাস্ত্রে তার অল্প কিছু রচনা রয়েছে।
(৩)তিনি পাঁচজন পুত্র সন্তান রেখে যান যারা জ্ঞান, সাহিত্য ও আত্মমর্যাদার ক্ষেত্রে তার পথ অনুসরণ করেছিলেন। তারা অত্যন্ত গুণী, প্রভাবশালী ও সুসংস্কৃত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিচার বিভাগ ও প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত হয়ে উচ্চ মর্যাদা লাভ করেন
… আর তাদের মধ্যে মধ্যম মণি ও প্রতিভাবান ছিলেন আবু আল-মাআলি মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি, যিনি তার পিতা ও পিতামহের সর্বোত্তম গুণাবলী অর্জন করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন এই পরিবারের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।
(৪)
৩ - আবদুল বাকি আল-আলuসি (১২৫০ - ১২৯৮ হিজরি):তিনি ছিলেন আবু আস-সানা-এর দ্বিতীয় পুত্র এবং ইরাকের প্রথিতযশা আলেমদের অন্যতম। তিনি তার পিতা ও পিতার কিছু ছাত্র এবং ঈসা আল-বানদানিজি আল-বাগদাদি ও অন্যান্যদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তিনি সাহিত্য ও ফিকহ (تفقه) অর্জন করেন, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গণিত শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং উসুলাইন (الأصلين), তাফসির ও হাদিস পাঠ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
من تصانيفه: «القول الماضي فيما يجب للمفتي والقاضي»، «الروضة اليانعة في بيان السفرة الرابعة»، «أوضح منهج إلى معرفة مناسك الحج»، وغيرها.
(1)
4 - أبو البركات نعمان خير الدين الألوسي (1252 - 1317 هـ):وهو ثالث أنجال أبي الثناء، وثاني اثنين بنيا مجد الأسرة، وأعلم أهل عصره في مِصْرِه، كان أنبغ إخوته الخمسة، وأعلمهم، وأكثرهم شبهًا بأبيه في حدة ذكائه وسعة علمه وشدة نشاطه، وإليه يعود الفضل في نشر أهم كتب أبيه وتعريف الناس بنبوغه، وهو علامة في العلوم الإسلامية متبحرًا واسع الفكر والأفق، مصلح متحمس، متحرر من التقليد جريء في مجاهدة البدع، بذل جهودًا كبيرة في سبيل تجديد الإسلام وتنقيته من الشوائب التي أضيفت إليه
… ، وانتصب لقراع «المبشرين» من دعاة النصرانية وصد حملاتهم على الإسلام.
تخرج بأبيه، وتلميذه الفقيه السلفي محمد أمين الواعظ، ونبغ وتحرر فكره ونزع إلى الاجتهاد، وتولى في شبابه القضاء في بلاد عديدة ثم تركه وانصرف إلى التأليف، من مؤلفاته: «جلاء العينين في محاكمة الأحمدين»، «الجواب الفسيح لما لفقه عبد المسيح»، «غالية المواعظ»، «الأجوبة العقلية لأشرفية الشريعة المحمدية»، وقد خلَّف أبو البركات ثلاثة أولاد سلكوا مسلكه في العلم والأدب والإصلاح الديني.
(2)--------------------------------------------
তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘আল-কাওলুল মাদি ফিমা ইয়াজিবু লিল-মুফতি ওয়াল কাদি’, ‘আর-রওদাতুল ইয়ানিআহ ফি বায়ানি আস-সাফারাতির রাবিআহ’, ‘আওদাহু মানহাজ ইলা মারিফাতি মানাসিকিল হাজ্জ’ এবং অন্যান্য।
(1)
৪ - আবু আল-বারাকাত নুমান খাইরুদ্দিন আল-আলুসি (১২৫২ - ১৩১৭ হিজরি):তিনি আবু আস-সানা-এর তৃতীয় পুত্র এবং সেই দুইজনের দ্বিতীয় ব্যক্তি যারা এই পরিবারের গৌরব তিল তিল করে গড়ে তুলেছেন। তিনি নিজ ভূখণ্ডে তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বাধিক মেধাবী ও জ্ঞানী। তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞানের গভীরতা এবং কর্মোদ্দীপনার ক্ষেত্রে তাঁর পিতার সাথে তাঁর সর্বাধিক সাদৃশ্য ছিল। তাঁর পিতার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ প্রকাশ এবং জনসমক্ষে তাঁর প্রতিভার পরিচয় তুলে ধরার কৃতিত্ব মূলত তাঁরই। তিনি ইসলামী জ্ঞানবিজ্ঞানে একজন অগাধ পাণ্ডিত্যের অধিকারী পণ্ডিত (علامة) এবং বিস্তৃত চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন একনিষ্ঠ সংস্কারক (مصلح), অন্ধ অনুকরণ (تقليد) থেকে মুক্ত এবং বিদআত (بدع) প্রতিরোধের সংগ্রামে অত্যন্ত সাহসী। তিনি ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং এর সাথে যুক্ত হওয়া আবিলতা থেকে একে মুক্ত করতে মহান প্রচেষ্টা চালিয়েছেন... এবং তিনি খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের অপতৎপরতা মোকাবেলায় রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণ প্রতিহত করেছিলেন।
তিনি তাঁর পিতার নিকট এবং তাঁর ছাত্র সালফি ফকিহ মুহাম্মদ আমিন আল-ওয়াইজের নিকট শিক্ষালাভ করেন। তিনি অসামান্য প্রতিভা নিয়ে বিকশিত হন, তাঁর চিন্তাধারা মুক্ত ও স্বাধীন হয় এবং তিনি গবেষণার (اجتهاد) প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। যৌবনে তিনি বিভিন্ন অঞ্চলে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন, পরবর্তীতে তা বর্জন করে গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: ‘জালাউল আইনাইন ফি মুহাকামাতিল আহমাদাইন’, ‘আল-জাওয়াবুল ফাসিহ লিমা লাফফাকাহু আব্দুল মসিহ’, ‘গালিইয়াতুল মাওয়াইজ’, ‘আল-আজওয়াবাতুল আকলিয়্যাহ লি আশরাফিয়্যাতিশ শারিয়াতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ’। আবু আল-বারাকাত তিন পুত্র সন্তান রেখে গেছেন যারা জ্ঞান, সাহিত্য এবং ধর্মীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে তাঁরই প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করেছিলেন।
(2)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
5 - محمد حامد الألوسي (1262 - 1290 هـ):وهو رابع أنجال أبي الثناء، أخذ العلوم العربية والفقه والحديث عن إخوته وغيرهم من علماء بغداد وكان حاد الذكاء؛ فنبغ وشرح قبل بلوغه العشرين أربعين حديثًا من صحاح الأحاديث، ثم قضت عليه الحياة بالتحول إلى السلك المدني، فرح إلى إستنبول، ودخل إحدى المدارس السلطانية، وتعلم التركية ومهر فيها حتى ألَّف بها، وتقلد بعض المناصب، وتوفي شابًا.
(1)
6 - أحمد شاكر الألوسي (1264 - 1330 هـ):خامس أنجال أبي الثناء، تخرج بإخوته وغيرهم من علماء بغداد، وامتاز بقوة الحافظة فحفظ كثيرًا من المتون، وولي القضاء، وله كتاب «أحسن الكلام ببعثة محمد عليه الصلاة والسلام»، ضمَّنه مقدمة في الوحدانية والنبوة والرسل، وخمسة أبواب في رسالة محمد صلى الله عليه وسلم إلى جميع الأنام وأنه خاتم الأنبياء، وفي مولده ونسبه، ومبعثه وهجرته ودلائل نبوته، ومعجزاته وسيرته، وما يلزم العمل به من شريعته.
(2)
7 - علي علاء الدين الألوسي (1227 - 1340 هـ):وهو ابن أبي البركات نعمان خير الدين بن أبي الثناء، أخذ عن أبيه وعن ابن عمه محمود شكري الألوسي وغيرهما، وتعلم الفارسية
--------------------------------------------
৫ - মুহাম্মদ হামিদ আল-আলুসি (১২৬২ - ১২৯০ হিজরি):তিনি আবুস সানা-এর চতুর্থ পুত্র। তিনি তাঁর ভাই ও বাগদাদের অন্যান্য আলেমদের নিকট থেকে আরবি ভাষা, ফিকহ ও হাদিস শিক্ষা লাভ করেন। তিনি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী ছিলেন; ফলে তিনি বিশেষ বুৎপত্তি লাভ করেন এবং বিশ বছর বয়স হওয়ার পূর্বেই সহিহ (صحاح) হাদিসসমূহ থেকে চল্লিশটি হাদিসের একটি ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনা করেন। অতঃপর জীবন তাকে বেসামরিক কর্মক্ষেত্রের দিকে ধাবিত করে, ফলে তিনি ইস্তাম্বুল গমন করেন এবং সেখানকার একটি রাজকীয় মাদরাসায় ভর্তি হন। তিনি তুর্কি ভাষা শেখেন এবং তাতে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন, এমনকি এই ভাষায় গ্রন্থও রচনা করেন। তিনি কিছু সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং যুবক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
(১)
৬ - আহমদ শাকির আল-আলুসি (১২৬৪ - ১৩৩০ হিজরি):আবুস সানা-এর পঞ্চম পুত্র। তিনি তাঁর ভাই ও বাগদাদের অন্যান্য আলেমদের নিকট শিক্ষা সমাপন করেন। তিনি প্রখর স্মৃতিশক্তির জন্য সুপরিচিত ছিলেন এবং অনেক মূলপাঠ (متون) মুখস্থ করেছিলেন। তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর ‘আহসানুল কালাম বি-বাসাতি মুহাম্মাদ আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম’ নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে; যাতে তিনি একত্ববাদ, নবুওয়াত ও রাসুলগণের বিষয়ে একটি ভূমিকা এবং পাঁচটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অধ্যায়গুলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল মানুষের প্রতি প্রেরিত রিসালাত এবং তিনি যে শেষ নবী, তাঁর জন্ম ও বংশপরিচয়, নবুওয়াত প্রাপ্তি ও হিজরত, নবুওয়াতের প্রমাণাদি, তাঁর মুজিজা ও সিরাত এবং তাঁর শরিয়তের অনুসরণীয় বিষয়সমূহ নিয়ে রচিত।
(২)
৭ - আলি আলাউদ্দীন আল-আলুসি (১২২৭ - ১৩৪০ হিজরি):তিনি আবুল বারাকাত নুমান খাইরুদ্দীন বিন আবুস সানা-এর পুত্র। তিনি তাঁর পিতা এবং চাচাতো ভাই মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি ও অন্যান্যদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ফারসি ভাষা শেখেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والتركية، وأوفده أبوه في صباه إلى ملك بهوبال العلامة السيد حسن صديق خان، فقرأ عليه وعلى شيخه، الشيخ حسين بن محسن الأنصاري وأجازاه إجازةً عامةً.
وكان على جانب عظيم من العلم والأدب والذكاء، وقوة العقل والنبل، وأصالة الرأي والورع، وعلو النفس وجمال السمت، جمع بين الفقه واللغة والأدب، ونشر طائفة من كتب أبيه، ورسائل بعض السلف، ك «كتاب التوحيد»، و «غاية السول» وغيرها.
لا شك أن أسرة أخرجت أولئك، الأعلام الأماجد والعلماء الأفاضل لهي أسرة حازت من مجامع الشرف نصيب ومن السمات الحسان خير نصيب، وقد ذكر الأستاذ محمد بهجة الأثري تلميذ العلامة محمود شكري الألوسي عدة مميزات لهذه الأسرة منها:
كثرة عدد النبغاء فيها، قيام حياتها على أصول الإيمان والصلاح والتقوى ونحوها من المثل الأخلاقية، تمثيلها للفكر الإسلامي، وتمكينها له، واحتفالها بمقوماته من تشريع ولغة وأدب، المنافحة عن الإسلام الصحيح ومحاربة الانحرافات الدخيلة على الإسلام، التحرر من الجمود والتقليد، الانصراف التام إلى الإنتاج الخصب المثمر، نشاطها للرحلة وجوب الآفاق في طلب العلم، الشجاعة التي جعلتهم لا يخافون في الحق لومة لائم.
(1)ولا شك أن العلامة محمود شكري قد أصابته بعض هذه الخصال العلية والسلمات الشريفة إن لم يكن رزقها كلها وزيادة عليها.
--------------------------------------------
এবং তুর্কি ভাষা; তাঁর পিতা তাঁর শৈশবে তাঁকে ভোপালের অধিপতি আল্লামা আস-সাইয়্যিদ হাসান সিদ্দিক খানের নিকট প্রেরণ করেছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর নিকট এবং তাঁর উস্তাদ শায়খ হুসাইন ইবনে মুহসিন আল-আনসারির নিকট পাঠ গ্রহণ করেন এবং তাঁরা উভয়েই তাঁকে সাধারণ অনুমতি (إجازة عامة) প্রদান করেন।
তিনি জ্ঞান, সাহিত্য, বুদ্ধিমত্তা, মানসিক শক্তি, আভিজাত্য, মৌলিক চিন্তা, পরহেজগারি (ورع), আত্মিক উচ্চতা এবং সুন্দর আচরণের এক মহান স্তরে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ফিকহ, ভাষাতত্ত্ব ও সাহিত্যের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন এবং তাঁর পিতার বেশ কিছু গ্রন্থ ও সালাফদের কিছু রিসালা প্রকাশ করেছিলেন, যেমন: "কিতাবুত তাওহিদ" এবং "গায়াতুস সউল" ইত্যাদি।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যে পরিবার এই ধরনের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব ও শ্রেষ্ঠ আলেমদের জন্ম দিয়েছে, তা এমন এক পরিবার যা মর্যাদার পূর্ণ অংশ এবং উত্তম গুণাবলির শ্রেষ্ঠ ভাগ লাভ করেছে। আল্লামা মাহমুদ শুকরি আল-আলুসির ছাত্র উস্তাদ মুহাম্মদ বাহজাত আল-আসারি এই পরিবারের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে:
এই পরিবারে প্রতিভাবানদের আধিক্য; ঈমান, সততা, খোদাভীতি (تقوى) এবং অনুরূপ নৈতিক আদর্শের ওপর তাঁদের জীবন পরিচালিত হওয়া; ইসলামি চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব ও একে সুসংহত করা এবং শরিয়াহ, ভাষা ও সাহিত্যের মতো এর বুনিয়াদি বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্বারোপ করা; বিশুদ্ধ ইসলামের প্রতিরক্ষা এবং ইসলামে অনুপ্রবেশকারী বিচ্যুতিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করা; জড়তা ও অন্ধ অনুসরণ (تقليد) থেকে মুক্তি; ফলপ্রসূ ও সৃজনশীল কাজে পূর্ণ আত্মনিয়োগ; জ্ঞান অন্বেষণে দেশ-দেশান্তর ভ্রমণের তৎপরতা; এবং এমন সাহসিকতা যা তাঁদের সত্যের পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া না করতে উদ্বুদ্ধ করত।
(১)এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আল্লামা মাহমুদ শুকরি এই উচ্চতর গুণাবলি এবং মর্যাদাপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের অংশবিশেষ লাভ করেছিলেন, যদি না এর সবগুলো এবং তার চেয়েও অতিরিক্ত কিছু তিনি প্রাপ্ত হয়ে থাকেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
*
عصره:ولد السيد محمود شكري الألوسي ببغداد في 19 شهر رمضان 1273 هـ (الموافق 12 أيار 1856 م)، وتوفي فيها يوم الخميس 4 شوال 1342 هـ (الموافق 8 أيار 1924 م).
فهو قد عاش تسعًا وستين سنة، قضى معظمها تحت راية الخلافة العثمانية حتى شهد زوالها.
*
الحالة السياسية:تعاقب على الحكم في الخلافة العثمانية في فترة حياة محمود شكري ستة من سلاطين الدولة العثمانية.
كان آخرهم عبد المجيد بن عبد العزيز الثاني تولى من سنة (1922 م- 1924 م)، جاء إلى الحكم وقد أصبح أتاتورك سيد الموقف فجعله أتاتورك خليفة فقط وجرده من السلطة، وبعد سنتين ألغى أتاتورك الخلافة وطرده ليعيش في منفاه.
(1)وقد وافق زمن الألوسي أيام هرم دولة الخلافة العثمانية، لكن هرمها كان أشبه في ظواهره بالشباب؛ لأنه تميز بشيء من روح الحياة الجديدة تدب إليه، والهرم كما نعلم مرض من الأمراض المزمنة التي لا يمكن دواؤها وارتفاعها، لكنه -كما ابن خلدون- ربما يحدث عند آخر الدولة قوة توهم أنه قد ارتفع عنها، ويومض ذبالها إيماض الخمود، كما قد
--------------------------------------------
*
তাঁর যুগ:সাইয়্যিদ মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি ১২৭৩ হিজরির ১৯ রমজান (মোতাবেক ১২ মে ১৮৫৬ খ্রিষ্টাব্দ) বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৪২ হিজরির ৪ শাওয়াল, বৃহস্পতিবার (মোতাবেক ৮ মে ১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দ) সেখানেই ইন্তেকাল করেন।
তিনি উনসত্তর বছর বেঁচে ছিলেন, যার অধিকাংশ সময় উসমানীয় খিলাফতের পতাকাতলে অতিবাহিত করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত এর পতন প্রত্যক্ষ করেছেন।
*
রাজনৈতিক অবস্থা:মাহমুদ শুকরির জীবদ্দশায় উসমানীয় খিলাফতে উসমানীয় সাম্রাজ্যের ছয়জন সুলতান ধারাবাহিকভাবে শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ ছিলেন দ্বিতীয় আব্দুল মজিদ বিন আব্দুল আজিজ, যিনি (১৯২২ খ্রি.- ১৯২৪ খ্রি.) পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। তিনি যখন ক্ষমতায় আসেন তখন আতাতুর্ক পরিস্থিতির প্রধান নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছিলেন; ফলে আতাতুর্ক তাঁকে কেবল খলিফা হিসেবে মনোনীত করেন এবং সকল ক্ষমতা থেকে রিক্ত করেন। দুই বছর পর আতাতুর্ক খিলাফত বিলুপ্ত করেন এবং তাঁকে নির্বাসনে জীবন কাটানোর জন্য বহিষ্কার করেন।
(১)আল-আলুসির সময়কাল উসমানীয় খিলাফতের বার্ধক্যের দিনগুলোর সমসাময়িক ছিল। তবে সেই বার্ধক্য বাহ্যিক রূপের দিক থেকে ছিল অনেকটা যৌবনের মতো; কারণ এটি নতুন জীবনের স্পন্দনের বিশেষত্বের দ্বারা স্বতন্ত্র ছিল। আমরা জানি, বার্ধক্য এমন এক দীর্ঘস্থায়ী ব্যাধি যার চিকিৎসা বা নিরাময় সম্ভব নয়। তবে ইবনে খালদুনের মতে, সম্ভবত রাষ্ট্রের অন্তিম লগ্নে এমন এক শক্তির উদয় হয় যা এই ধারণা দেয় যে জরাগ্রস্ততা দূর হয়ে গেছে, এবং নির্বাপিত হওয়ার প্রাক্কালে প্রদীপের সলতে যেমন উজ্জ্বল শিখা বিকিরণ করে, ঠিক তেমনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
يقع في الذبال المشتعل، فإنه عند مقاربة انطفائه يومض إيماضه توهم أنها اشتعال وهي انطفاء.
(1)وقد كان محمود شكري حائرًا بين الرضى -بدولة الخلافة العثمانية- والكره لها، ومن أسباب رضاه بها أنها كانت في هذا الشرق، طوال خمسة قرون موئل المسلمين، وحامية الإسلام والحصن المنيع الذي قام بوجه الغرب المتحضر للاستيلاء على دياره وإخضاعها لسلطانه الذي قد يتعذر الخلاص منه إذا هي وقعت في قبضته.
فإذا زالت هذه الخلافة، يزول معها الوجود السياسي للإسلام، ويحدث بعدها فراغ في الحياة الإسلامية يُهدَّدُ بملئه بحياة أخرى مكانها أو يعرضها لمصاير منكرة لا طاقة لأحد بدفعها، أو هكذا كان يخيلُ إليه.
وأما باعثه على كرهها، فهو الفساد الذي أصاب حياة الدولة في أخريات أيامها، وكان قد استشرى، وجاوز المدى، وبلغ الحدِّ الذي جزع منه الأحرار، وعلاهم القنوط من إصلاحه ولم تغن معه حيلة، ولا ريب أن حزم الحازم يضيع في مثل هذين الحالين مهما ملك الإنسان صوابه ورشده، ولا تكون في أحدهما خيرة المختار.
(2)هذه هي الصورة العامة للدولة التركية قد انعكس بخيرها وشرِّها على حياة العراق موطن الألوسي، وقد تميز عهده في العراق بكثيرة تبديل الولاة
… وقد تراوحت مدد هؤلاء الولاة في مناصبهم من شهور إلا ثلاث سنين، وقلَّ من تجاوز ذلك، وكانوا متفاوتين في الثقافة وأسلوب
--------------------------------------------
এটি প্রজ্জ্বলিত সলতের ন্যায়; যখন এটি নিভে যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন এটি এমনভাবে ক্ষণস্থায়ী দ্যুতি ছড়ায় যা দেখে মনে হতে পারে এটি প্রজ্জ্বলিত হচ্ছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে তা নিভে যাওয়ারই একটি রূপ।
(১)মাহমুদ শুকরি উসমানীয় খিলাফতের প্রতি সন্তুষ্টি ও বিরাগের মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। তাঁর সন্তুষ্টির অন্যতম কারণ ছিল এই যে, দীর্ঘ পাঁচ শতাব্দী ধরে এই প্রাচ্যে খিলাফত ছিল মুসলিমদের আশ্রয়স্থল, ইসলামের রক্ষক এবং সেই দুর্ভেদ্য দুর্গ যা মুসলিম ভূখণ্ড দখল ও নিজেদের কর্তৃত্বাধীন করার লক্ষ্যে অগ্রসরমান সভ্য পশ্চিমা বিশ্বের সামনে দাঁড়িয়েছিল; যে কর্তৃত্বের নাগাল থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ত যদি দেশগুলো তাদের কবজায় চলে যেত।
যদি এই খিলাফতের পতন ঘটে, তবে তার সাথে ইসলামের রাজনৈতিক অস্তিত্বও বিলীন হয়ে যাবে এবং পরবর্তীতে ইসলামি জীবনে এমন এক শূন্যতা তৈরি হবে যা অন্য কোনো জীবনধারা দিয়ে পূর্ণ হওয়ার হুমকি সৃষ্টি করবে অথবা একে এমন এক অস্বীকৃত (منكر) পরিণতির দিকে ধাবিত করবে যা প্রতিহত করার শক্তি কারো থাকবে না; অথবা তাঁর কাছে বিষয়টি এমনই মনে হতো।
আর তাঁর বিরাগের কারণ ছিল সেই দুর্নীতি যা রাষ্ট্রের শেষ দিনগুলোতে এর জীবনব্যবস্থাকে গ্রাস করেছিল। তা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং সীমা অতিক্রম করেছিল যে, স্বাধীনচেতা ব্যক্তিগণ তা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং এর সংস্কারের ব্যাপারে তাঁদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছিল। কোনো কৌশলই সেখানে ফলপ্রসূ হয়নি। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ জাতীয় পরিস্থিতিতে একজন বিচক্ষণ ব্যক্তির দৃঢ়তাও হারিয়ে যায়, মানুষ যতই সঠিক পথ ও প্রজ্ঞার অধিকারী হোক না কেন। এমন অবস্থায় কোনো উত্তম বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে না।
(২)তুর্কি রাষ্ট্রের এই সামগ্রিক চিত্রটিই এর ভালো ও মন্দ প্রভাবসহ আল-আলুসির স্বদেশ ইরাকের জনজীবনে প্রতিফলিত হয়েছিল। ইরাকে তাঁর সময়কালটি ঘনঘন গভর্নর পরিবর্তনের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল … এই গভর্নরদের মেয়াদকাল কয়েক মাস থেকে তিন বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতো, খুব কম সংখ্যকই তা অতিক্রম করতে পেরেছিলেন। তাঁরা সংস্কৃতি ও কর্মপদ্ধতির দিক থেকে ছিলেন বিভিন্ন স্তরের...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الحكم، بل منهم الأمي، والسكير، والمجاهر بالارتشاء، وربما وجد فيهم الأديب والمتصوف والفقيه.
(1)وهؤلاء الولاة لم يستثن منهم إلا أربعة أو خمسة هم الذين استطاعوا أن يتركوا أثرًا مذكورًا في العراق.
وعلى رأسهم «مدحت باشا» الذي تولى ولاية بغداد من سنة (1286 هـ) إلى (1289 هـ)، فقد استطاع أن ينجز في سنواته الثلاث ما لم ينجزه الولاة الآخرون.
وفي سنة (1335 هـ- 1917 م) سقطت بغداد بأيدي الكفرة الإنجليز بعد معارك شديدة مع الأتراك.
وفي ذلك الوقت كان الألوسي قد بلغ الستين من عمره فعاشر ثمانية أعوام من سن الشيخوخة في سلطان الاحتلال البريطاني لبغداد، وكانت البصرة وما حولها قد احتلت من طرف بريطانيا سنة 1914 م.
(2)وفي سنة (1327 هـ- 1909 م) تم إسقاط السلطان عبد الحميد، وكانت الحرب العالمية الأولى (1333 - 1337 هـ)، (1914 م- 1918 م).
ثم توالى على الدولة العثمانية ثلاثة من سلاطين إلى أن أسقط أتاتورك الخبيث الخلافة العثمانية سنة (1924 م)
(3)، وهي السنة التي توفي فيها الألوسي، وقد كان للعلامة محمود شكري موقف مشرف تجاه الاحتلال البريطاني للعراق نذكره في مواقفه.
--------------------------------------------
শাসন পরিচালনা; বরং তাদের মধ্যে কেউ ছিল নিরক্ষর, কেউ মদ্যপ, কেউ প্রকাশ্য ঘুষখোর, আবার হয়তো তাদের মাঝে সাহিত্যিক, সুফি (المتصوف) ও ফকিহ (الفقيه)-এরও দেখা মিলত।
(১)এই শাসকদের মধ্যে মাত্র চার বা পাঁচজন ছাড়া আর কাউকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করা যায় না, যারা ইরাকে উল্লেখযোগ্য কোনো চিহ্ন রেখে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।
তাদের শীর্ষে ছিলেন «মিদহাত পাশা», যিনি (১২৮৬ হি.) থেকে (১২৮৯ হি.) পর্যন্ত বাগদাদের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তার তিন বছরের শাসনামলে এমন সব কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছিলেন যা অন্য কোনো গভর্নর পারেননি।
আর (১৩৩৫ হি.- ১৯১৭ খ্রি.) সালে তুর্কিদের সাথে ভয়াবহ যুদ্ধের পর কাফের ইংরেজদের হাতে বাগদাদের পতন ঘটে।
সেই সময়ে আলূসী ষাট বছরে পদার্পণ করেছিলেন। ফলে তিনি ব্রিটিশ দখলদারিত্বের অধীনে বাগদাদে তাঁর বার্ধক্যের আটটি বছর অতিবাহিত করেন। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটেন কর্তৃক বসরা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ দখল করা হয়েছিল।
(২)(১৩২৭ হি.- ১৯০৯ খ্রি.) সালে সুলতান আব্দুল হামিদকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং (১৩৩৩ - ১৩৩৭ হি. / ১৯১৪ - ১৯১৮ খ্রি.) সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
অতঃপর উসমানীয় সাম্রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে তিনজন সুলতান ক্ষমতায় আসেন, যতক্ষণ না জঘন্য আতাতুর্ক (১৯২৪ খ্রি.) সালে উসমানীয় খিলাফত বিলুপ্ত করে
(৩)। এই বছরেই আলূসী ইন্তেকাল করেন। ইরাকে ব্রিটিশ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে আল্লামা মাহমুদ শুকরীর একটি গৌরবোজ্জ্বল অবস্থান ছিল, যা আমরা তাঁর জীবনীর আলোচনাপ্রসঙ্গে উল্লেখ করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উকুদুদ দুরার ফী শারহি মুখতাসারি নুখবাতিল ফিকার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
*
الحالة الاجتماعية:كان أهل بغداد على طبقات متفاوتة وينقسمون إلى شرائح مختلفة في لغاتهم وأديانهم ومذاهبهم.
وقد وصفهم العلامة محمود شكري في كتابه «أخبار بغداد» وتوسع في ذلك فمما ذكره: أن بغداد ونواحيها أكثر سكانها من قبائل العرب المحافظين على أنسابهم، وفيهم أكراد وأتراك، وفي كربلاء والنجف وسامراء كثير من الإيرانيين المتعربين وغير المتعربين، وينقسمون بالنظر إلى البداوة والحضارة إلى ثلاثة أقسام: القسم الأول: أهل الحضر: وهم سكان المدن والمترفون والأعيان، منهم موظفون مع الدولة، ومنهم أصحاب عقار ومزارع وتجارة، وأما عوامهم فيعملون في الصناعات والتجارة والملاحة.
القسم الثاني: سكنة البوادي والأرياق: ومن طبائعهم الخشونة والجفاء والشجاعة والكرم، والغيرة والشرف، ومعاشرهم من الفلاحة وتربية المواشي.
القسم الثالث: البدو الصرف البعيدون عن الأرياف المتنقلون من محل إلى محل.
أما اللغة: فاللغة العامة في بغداد وما جاورها العربية العامية، وفيهم من يتكلم التركية، ومنهم من يتكلم بالفارسية، ولا سيما الشيعة، ومنهم من يتكلم بالكردية، ومن اليهود من يتكلم بالعبرانية، ومن النصار من يتكلم بالسريانية.
(1)--------------------------------------------
সামাজিক অবস্থা:বাগদাদের অধিবাসীগণ বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত ছিলেন এবং তারা তাদের ভাষা, ধর্ম ও মাযহাবের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত ছিলেন।
আল্লামা মাহমুদ শুকরি তার ‘আখবার বাগদাদ’ গ্রন্থে তাদের বর্ণনা দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তার আলোচনার কিয়দাংশ হলো: বাগদাদ ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের অধিকাংশ অধিবাসী ছিল এমন সব আরব গোত্র যারা তাদের বংশমর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট ছিল। তাদের মধ্যে কুর্দি ও তুর্কি জাতিসত্তার লোকও ছিল। কারবালা, নাজাফ ও সামাররায় অনেক আরবিকৃত ও অনারবিকৃত ইরানি বসবাস করত। যাযাবর জীবন ও স্থায়ী সভ্যতার নিরিখে তারা তিন ভাগে বিভক্ত ছিল: প্রথম ভাগ: নগরবাসী: তারা শহরের অধিবাসী, বিলাসপ্রিয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তাদের মধ্যে কেউ সরকারি চাকুরিজীবী, কেউ স্থাবর সম্পত্তি, খামার ও ব্যবসার মালিক ছিলেন। আর তাদের সাধারণ মানুষ শিল্প, বাণিজ্য ও নৌ-চলাচলের কাজে নিয়োজিত ছিল।
দ্বিতীয় ভাগ: মরুভূমি ও গ্রামাঞ্চলের অধিবাসী: কঠোরতা, রুক্ষতা, বীরত্ব, উদারতা, আত্মমর্যাদা ও আভিজাত্য ছিল তাদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। কৃষি ও পশুপালনই ছিল তাদের জীবিকা।
তৃতীয় ভাগ: খাঁটি যাযাবর যারা জনপদ থেকে দূরে জীবনযাপন করত এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাযাবর হিসেবে ঘুরে বেড়াত।
ভাষার ক্ষেত্রে: বাগদাদ ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রধান ভাষা ছিল আঞ্চলিক আরবি। তাদের মধ্যে কেউ তুর্কি ভাষায় কথা বলত, কেউবা ফারসি ভাষায় কথা বলত—বিশেষ করে শিয়াগণ, কেউ কুর্দি ভাষায়। ইহুদিদের মধ্যে হিব্রু ভাষায় এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে কেউ সিরিয়াক ভাষায় কথা বলত।
(১)--------------------------------------------