(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: -)
معاهد التنصيص على شواهد التلخيص (أبو الفتح العباسي)
القسم: البلاغة
الكتاب: معاهد التنصيص على شواهد التلخيص
المؤلف: عبد الرحيم بن عبد الرحمن بن أحمد، أبو الفتح العباسي (ت 963 هـ)
المحقق: محمد محيي الدين عبد الحميد [ت 1392 هـ]
الناشر: عالم الكتب - بيروت
عدد الأجزاء: 2 في مجلد واحد
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস (আবু আল-ফাতহ আল-আব্বাসী)
বিভাগ: অলঙ্কারশাস্ত্র
বই: মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
লেখক: আব্দুর রহীম বিন আব্দুর রহমান বিন আহমাদ, আবু আল-ফাতহ আল-আব্বাসী (মৃত্যু ৯৬৩ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন আব্দুল হামীদ [মৃত্যু ১৩৯২ হিজরি]
প্রকাশক: আলামুল কুতুব - বৈরুত
খণ্ড সংখ্যা: এক মলাটে ২ খণ্ড
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ১)
بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم الْحَمد لله الَّذِي جعل الْعقل مِفْتَاح الْعُلُوم ومدرك مَعَاني الْمَنْطُوق وَالْمَفْهُوم ومنشأ بَيَان الْمُحَقق والموهوم ومظهر بديع المنثور والمنظومأَحْمَده حمد من بجزيل نعمه اعْترف وأشكره شكر من ورد مناهل فَضله واغترف وَأشْهد أَنه الرب الرَّحْمَن الَّذِي خلق الْإِنْسَان وَعلمه الْبَيَان وَأشْهد أَن سيدنَا ومولانا مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله وحبيبه وخليله الَّذِي تلخص الدّين بإرشاده أحسن تَلْخِيص وتخلص مُتبع هَدْيه من الْجَحِيم أعظم تَخْلِيص فَكَانَت بعثته مِفْتَاح بَاب الْخيرَات وَالطَّرِيق الْموصل إِلَى مَنْهَج المبرات صلى الله عليه وسلم وعَلى آله الْكِرَام وَصَحبه الْأَئِمَّة الْأَعْلَام مَا أغرب مبتدئ ببديع النظام وأعجب منته بِحسن الختام وَبعد فَإِن الْفَقِير الحقير الْمُعْتَرف بِالْعَجزِ وَالتَّقْصِير نطر الله إِلَيْهِ بِعَين الْعَفو والغفران وَرَضي عَنهُ أتم الرضْوَان لما كَانَ متحلياً بحلية الْعلمَاء مستشعراً شعار الْفُضَلَاء وَبرد الشبيبة قشيب وغصن الصِّبَا رطيب ومربع الْأَمَانِي خصيب والسعادة تلحظه عيونها وتتوارد عَلَيْهِ أبكارها وعونها لم يزل فِي خدمَة الْعلم وتأليفه وترتيبه وتصنيفه بِقدر مَا يصل إِلَيْهِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আকলকে (বিবেক) জ্ঞানসমূহের চাবিকাঠি এবং উচ্চারিত ও অনুধাবিত অর্থের উপলব্ধি কারক করেছেন; আর যিনি সুনিশ্চিত ও কাল্পনিক বিষয়ের বর্ণনার উৎস এবং গদ্য ও পদ্যের চমৎকারিত্বের প্রকাশস্থল বানিয়েছেন।আমি তাঁর প্রশংসা করি এমন ব্যক্তির প্রশংসার ন্যায় যে তাঁর অঢেল নেয়ামত স্বীকার করে; আর আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এমন ব্যক্তির ন্যায় যে তাঁর অনুগ্রহের প্রস্রবণে উপনীত হয়েছে এবং সেখান থেকে অঞ্জলি ভরে পান করেছে। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনিই সেই প্রতিপালক, পরম দয়ালু (রহমান), যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ভাষা শিক্ষা দিয়েছেন। এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাঁর বান্দা, তাঁর রাসুল, তাঁর প্রিয়ভাজন ও তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু; যাঁর নির্দেশনার মাধ্যমে দ্বীন অত্যন্ত সুচারুভাবে সারসংক্ষেপিত হয়েছে এবং তাঁর হেদায়েতের অনুসারী জাহান্নাম থেকে লাভ করেছে মহান মুক্তি। ফলে তাঁর আগমন হয়েছিল যাবতীয় কল্যাণ-দ্বারের চাবিকাঠি এবং নেক আমলের পথে পৌঁছানোর মাধ্যম। তাঁর ওপর এবং তাঁর সম্মানিত পরিবারবর্গ ও শীর্ষস্থানীয় ইমামগণের ন্যায় সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক; যতক্ষণ কোনো প্রারম্ভকারী অপূর্ব বিন্যাসে অভিভূত হবে এবং কোনো সমাপ্তকারী উত্তম সমাপ্তিতে বিস্ময় প্রকাশ করবে। অতঃপর, অক্ষমতা ও ত্রুটির কথা স্বীকারকারী এই নিঃস্ব ও নগণ্য ব্যক্তি—আল্লাহ তাআলা তার প্রতি ক্ষমা ও মার্জনার দৃষ্টি দান করুন এবং তার ওপর পূর্ণ সন্তুষ্টি বর্ষণ করুন—যখন সে ওলামায়ে কেরামের অলঙ্কারে অলঙ্কৃত এবং গুণীজনদের বৈশিষ্ট্যে ভূষিত ছিল; যখন যৌবনের পোশাক ছিল নতুন, শৈশবের ডাল ছিল সতেজ, কামনার প্রান্তর ছিল উর্বর এবং সৌভাগ্য তার দিকে সজাগ দৃষ্টি দিচ্ছিল আর তার প্রাথমিক ও পরবর্তী আনুকূল্যসমূহ তার ওপর অবতীর্ণ হচ্ছিল—তখন থেকেই সে তার সাধ্যানুযায়ী ইলমের সেবা, এর সংকলন, বিন্যাস ও রচনার কাজে নিরন্তর নিয়োজিত ছিল।
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ২)
علمه الْقَاصِر وَحسب مَا ينفذ فِيهِ فهمه الفاتر وَكَانَ من جملَة مَا حفظه من الْمُتُون وعلق بخاطره من الْفُنُون كتاب تَلْخِيص الْمِفْتَاح الَّذِي هُوَ فِي بَابه رَاحَة الْأَرْوَاح تغمد الله مُؤَلفه برحمته ورضوانه وَأَسْكَنَهُ بحابح جنانه وَفِيه من الشواهد الشعرية مَا يعزى للأقدمين وَمَا ينْسب للمولدين إِلَّا أَن أَكْثَرهَا مَجْهُول الْأَنْسَاب مغفول الأحساب وَرُبمَا عزاهُ بعض شارحي الْكتاب لغير قائليه وَنسبه إِلَى غير أَبِيه إِمَّا لاشتباه فِي الأوزان أَو تماثل فِي المعان وَلم أر من عمل على تِلْكَ الشواهد شرحاً يشفي العليل أَو يروي الغليل غير أَن شَيخنَا المرحوم الْعَلامَة الْجلَال السُّيُوطِيّ سقى الله من صوب الرَّحْمَة ثراه وَأكْرم منزله ومثواه عمل على بَعْضهَا تَعْلِيقا لطيفاً لم يكمله وَلم يخرج عَن مسودته وَكَثِيرًا مَا كَانَت نَفسِي تنازعني للتصدي لذَلِك وَأَقُول لَهَا لست هُنَالك وأعللها بالمواعيد وَهِي تقرب إِلَى الْبعيد وتسول لي أَنه أقرب إِلَيّ من حَبل الوريد فيقوي الْعَزْم وَيسْتَعْمل الْجَزْم ويهمل الْأَخْذ بالحزم إِلَى أَن آن أَوَانه وحان إبانه فشمرت عَن ساعد الِاجْتِهَاد واستعملت الْجد فِي تَحْصِيل ذَلِك المُرَاد وسلكت فِيهِ مَنْهَج الِاخْتِصَار ومدرج الِاقْتِصَار ونصيت على أبحر تِلْكَ الشواهد العروضية وَوضعت فِي كل شَاهد مِنْهَا مَا يُنَاسِبه من نَظَائِره الأدبية وَذكرت تَرْجَمَة قَائِله إِلَّا مَا لم أطلع عَلَيْهِ بعد
তাঁর অপূর্ণ জ্ঞান এবং তাঁর অসার অনুধাবন যতটুকু কাজ করে সে অনুযায়ী; তিনি যেসব মূলপাঠ মুখস্থ করেছিলেন এবং তাঁর স্মৃতিতে যেসব শাস্ত্র গেঁথে ছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল 'তালখীসুল মিফতাহ' কিতাবটি, যা নিজ বিষয়ে আত্মার প্রশান্তি স্বরূপ। আল্লাহ তাআলা এর লেখককে তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন এবং জান্নাতের প্রশস্ত স্থানে স্থান দান করুন। এতে এমন সব কাব্যিক উদ্ধৃতি রয়েছে যা প্রাচীন কবিদের প্রতি কিংবা পরবর্তী যুগের কবিদের প্রতি সম্পৃক্ত করা হয়; তবে এগুলোর অধিকাংশেরই উৎস অজ্ঞাত এবং পরিচয় অবহেলিত। অনেক সময় এই কিতাবের কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারী উদ্ধৃতিগুলো প্রকৃত রচয়িতা ব্যতীত অন্যের প্রতি আরোপ করেছেন এবং ভুল সূত্রের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন; হয়তো ছন্দের বিভ্রম অথবা অর্থের সাদৃশ্যের কারণে। আর আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি এই উদ্ধৃতিগুলোর ওপর এমন কোনো ব্যাখ্যা প্রস্তুত করেছেন যা অসুস্থকে আরোগ্য দান করে অথবা তৃষ্ণার্তকে পরিতৃপ্ত করে। কেবল আমাদের উস্তাদ মরহুম আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী —আল্লাহ তাঁর কবরে রহমতের বারিধারা বর্ষণ করুন এবং তাঁর আবাস ও অবস্থানকে সম্মানিত করুন— এর কিছু অংশের ওপর একটি চমৎকার টীকা লিখেছিলেন, যা তিনি সম্পন্ন করতে পারেননি এবং তা পাণ্ডুলিপি অবস্থাতেই রয়ে গিয়েছিল। প্রায়শই আমার মন আমাকে এই কাজে প্রবৃত্ত হওয়ার জন্য প্ররোচিত করত, কিন্তু আমি নিজেকে বলতাম যে আমি সেই স্তরের নই। আমি মনকে নানা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে প্রবোধ দিতাম, অথচ মন দূরের বস্তুকে নিকটে নিয়ে আসত এবং আমাকে কুমন্ত্রণা দিত যে এটি আমার শাহরগের চেয়েও নিকটতর। ফলে সংকল্প সুদৃঢ় হলো এবং আমি সিদ্ধান্ত স্থির করলাম আর সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়টি উপেক্ষা করলাম। পরিশেষে যখন এর উপযুক্ত সময় ও লগ্ন উপস্থিত হলো, তখন আমি কঠোর পরিশ্রমের নিমিত্তে কোমর বাঁধলাম এবং সেই উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ব্যয় করলাম। আমি এতে সংক্ষিপ্তকরণের পথ এবং পরিমিতিবোধের ধারা অনুসরণ করেছি। আমি এই উদ্ধৃতিগুলোর ছন্দসমূহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি এবং প্রতিটি উদ্ধৃতির সাথে তার উপযুক্ত সাহিত্যিক দৃষ্টান্তসমূহ স্থাপন করেছি। এছাড়া রচয়িতার জীবনীও উল্লেখ করেছি, কেবল যাদের বিষয়ে আমি এখনও অবগত হতে পারিনি তারা ব্যতীত।
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ৩)
التفتيش فِي كتب الْأَدَب والتحري وَالِاسْتِقْصَاء فِي الطّلب ومزجت فِيهِ الْجد بِالْهَزْلِ والحزن بالسهلوسميته ب معاهد التَّنْصِيص على شَوَاهِد التَّلْخِيصفجَاء بِحَمْد الله غَرِيب الابتداع عَجِيب الاختراع بديع التَّرْتِيب رائع التَّرْكِيب مُفردا فِي فن الْأَدَب كَفِيلا لمن تَأمله بالعجب وَهُوَ وَإِن كَانَ من جنس الفضول الَّذِي رُبمَا يستمل أَو هُوَ بقول الحسود دَاخل فِي قسم المهمل فَهُوَ أُمْنِية كَانَ الخاطر يتمناها وحاجةٌ فِي نفس يَعْقُوب قَضَاهَا على أَنه لَا يَخْلُو من فَائِدَة فريدة ونكتة عَن مواطنها شريدة ودرة مستخرجة من قاع البحور وشذرة تزين بهَا قلائد النحور وعجائب تحل لَهَا الحبا وغرائب يَقُول لَهَا الْعقل السَّلِيم مرْحَبًا مرْحَبًا وَلَئِن خالط هَذَا القَوْل هوى النَّفس أَو ظن المغالاة بِهِ صَادِق الحدس(فالمرْءُ مَفتونٌ بِتأليفهِ … ونَفسهُ فِي مَدْحهِ غَاويهْ)(وَالفضلُ مِنْ ناظره أَن يَرى … مَا قد حَوى بالمقلةِ الراضيهْ)(وَإِنْ يَجدْ عيَباً يَكن ساتراً … عَوارهُ بالمنَّةِ الْوافيهْ)وَمن تَأمله بِعَين الْإِنْصَاف والرضى شهد بِصدق هَذَا الْوَصْف وبصحته قضىوَحين سهل الله الْوُصُول ثَانِيًا إِلَى الممالك الرومية لَا زَالَت من المكاره محمية استوطن مِنْهَا قسطنطينة الْعُظْمَى لَا زَالَت من الله وقاية وَحمى
সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থসমূহে অনুসন্ধান, গভীর তদন্ত ও জ্ঞানান্বেষণে পূর্ণ প্রচেষ্টার পর আমি এতে গুরুত্বের সাথে কৌতুক এবং বিষণ্ণতার সাথে স্বাচ্ছন্দ্যের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছি।
এবং আমি এর নামকরণ করেছি 'মাআহিদুত তানসিস আলা শাওয়াভিদিত তালখিস' (তালখিসের কাব্যিক নিদর্শনাদির বর্ণনাস্থলসমূহ)।
ফলশ্রুতিতে আল্লাহর প্রশংসায় এটি এক অনন্য উদ্ভাবন, বিস্ময়কর আবিষ্কার, চমৎকার বিন্যাস ও অপূর্ব গঠনশৈলী নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে; যা সাহিত্যশাস্ত্রে এক অনন্য সৃষ্টি এবং এর প্রতি অভিনিবেশকারীর জন্য এটি বিস্ময় নিশ্চিতকারী। যদিও এটি এমন এক প্রকারের আধিক্য যা কখনো হয়তো বিরক্তির উদ্রেক করতে পারে, অথবা কোনো হিংসুকের মতে এটি গুরুত্বহীন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, তবুও এটি মনের এমন এক সুপ্ত বাসনা ছিল যা পূর্ণ হয়েছে এবং এটি ইয়াকুব (আ.)-এর মনের এক বিশেষ প্রয়োজন ছিল যা তিনি মিটিয়েছেন। তদুপরি এটি দুর্লভ উপকারিতা, উৎস থেকে বিচ্যুত সূক্ষ্ম রহস্য, সমুদ্রের তলদেশ থেকে আহরিত মুক্তা এবং কণ্ঠহারের শোভা বর্ধনকারী অলঙ্কারের ন্যায় রত্নরাজি থেকে মুক্ত নয়। এটি এমন সব বিস্ময়কর বিষয় ধারণ করে যা বিচারবুদ্ধিকে বিমুগ্ধ করে এবং এমন সব বিরল উপাদানে সমৃদ্ধ যা দেখে সুস্থ বিবেক বারবার 'স্বাগতম, স্বাগতম' বলে ওঠে। আর যদি এই বক্তব্যে নফসের খেয়ালখুশি মিশে থাকে অথবা অতিশয়োক্তির ধারণা সত্য বলে মনে হয়—
(কেননা মানুষ তার নিজ রচনায় বিমোহিত থাকে … আর তার আত্মা নিজের প্রশংসায় বিভোর হয়ে পথ হারায়।)
(আর পাঠকের মাহাত্ম্য হলো যা এতে সংকলিত হয়েছে তা … সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে অবলোকন করা।)
(এবং যদি কোনো দোষ খুঁজে পায় তবে যেন তা ঢেকে রাখে … পূর্ণ অনুগ্রহের সাথে তার ত্রুটির ওপর আবরণ টেনে দিয়ে।)
আর যে ব্যক্তি ইনসাফ ও সন্তুষ্টির চোখে এটি পাঠ করবে, সে এই বর্ণনার সত্যতার সাক্ষ্য দেবে এবং এর যথার্থতার রায় প্রদান করবে।
অতঃপর যখন আল্লাহ তাআলা পুনরায় রোম সাম্রাজ্যে (উসমানীয় সাম্রাজ্য) পৌঁছানো সহজ করে দিলেন—যা সর্বদা সকল আপদ থেকে সুরক্ষিত থাকুক—তখন আমি মহান কনস্টান্টিনোপলে বসতি স্থাপন করলাম, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বদা নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের ছায়াতলে থাকুক।
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ৪)
إِذْ هِيَ مَحل الْكَرم وموطن النعم ومحط الرّحال ومنتهى الآمال ومشرق السَّعَادَة وأفق السِّيَادَة وموسم الأدباء وحلبة الخطباء وَدَار الْإِسْلَام ومقر الْعلمَاء الْأَعْلَام وتخت الْملك الْمُعظم الشَّأْن وَمحل الدولة وَالسُّلْطَان لَا زَالَت دَار الْإِسْلَام وَالْإِيمَان ومستقر الْأَمْن والأمان مَا تعاقب الملوان بدوام حَيَاة سُلْطَان الْعَالم وَخير مُلُوك بني آدم سُلَيْمَان الزَّمَان وخاقان الْعَصْر والأوان ومفخر آل عُثْمَان لَا بَرحت دولته مخلدة خُلُود الْأَبْرَار فِي دَار الْقَرار وسعادته مُؤَبّدَة مسلسلة الأدوار مَا دَار الْفلك الْمدَار بتعاقب اللَّيْل وَالنَّهَاروَكَانَ من أعظم خبايا السعد وعطايا الْجد أَن شملته الْعِنَايَة وحفته الرِّعَايَة بِنَظَر فَرد الدَّهْر وَوَاحِد الْعَصْر وَبكر عُطَارِد ونادرة الْفلك وتاريخ الْمجد وغرة الزَّمَان وينبوع الْخَيْر وَالْإِحْسَان الْعَالم الْعَلامَة والحبر الْبَحْر الفهامة جَامع أشتات المفاخر والمتفرد بغايات المآثر سيدنَا ومولانا سعدى قَاضِي الْقُضَاة بتخت الْملك قسطنطينية الْعُظْمَى فَهُوَ مولى تنخفض همم الْأَقْوَال عَن بُلُوغ أدنى فضائله ومعاليه ويقتصر جهد الْوَصْف عَن أيسر فواضله ومساعيه حَضرته مطلع الْجُود ومقصد الْوُفُود وقبلة الآمال ومحط الرّحال وَمجمع الأدباء وحلبة الشُّعَرَاء ذُو همة مَقْصُورَة على مجد يشيده وإنعام يجدده وفاضل يصطنعه وخامل وَضعه الدَّهْر فيرفعه فاق الأقران وساد الْأَعْيَان فَلَا يدانيه مدان وَلَو كَانَ من بني عبد المدان وَلَيْسَ يجاريه فِي مضمار جود جواد وَلَا يباريه فِي ارتياد السِّيَادَة مرتاد
যেহেতু তা মহত্ত্বের স্থান, নিআমতের নিবাস, কাফেলার গন্তব্য এবং আশা-আকাঙ্ক্ষার সমাপ্তিস্থল; সৌভাগ্যের উদয়স্থল এবং সার্বভৌমত্বের দিগন্ত, সাহিত্যিকদের মিলনমেলা এবং বাগ্মীদের প্রতিযোগিতার ময়দান, ইসলামের আলয় এবং প্রথিতযশা আলেমদের আবাসস্থল, মহিমান্বিত রাজত্বের সিংহাসন এবং রাষ্ট্র ও সুলতানের কেন্দ্র। দিন ও রাতের আবর্তনের ধারায় এটি যেন সর্বদা ইসলাম ও ঈমানের আবাস এবং নিরাপত্তা ও শান্তির নীড় হয়ে থাকে; বিশ্বের সুলতান, বনী আদমের শ্রেষ্ঠ রাজন্যবর্গ, সমসাময়িক সুলাইমান, যুগের মহান খাকান এবং উসমানীয় বংশের গৌরব—তাঁর দীর্ঘায়ুর বরকতে। তাঁর রাষ্ট্র যেন চিরস্থায়ী আবাসে নেককারদের অমরত্বের ন্যায় অক্ষয় থাকে এবং তাঁর সৌভাগ্য যেন দিবা-রাত্রির আবর্তনে ও গ্রহ-নক্ষত্রের ঘূর্ণনের সাথে সাথে অনন্তকাল নিরবচ্ছিন্ন থাকে।সৌভাগ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুপ্তধন এবং তাকদীরের অন্যতম মহান দান ছিল এই যে, ঐশ্বরিক করুণা তাকে বেষ্টন করেছে এবং তাঁর তত্ত্বাবধান করেছেন জামানার অনন্য ব্যক্তিত্ব, যুগের অদ্বিতীয় পুরুষ, জ্ঞান-গগনের উদীয়মান বুধ গ্রহ, আকাশমন্ডলীর বিরল জ্যোতিষ্ক, মহিমার জীবন্ত ইতিহাস, কালের ললাটতিলক এবং কল্যাণ ও ইহসানের ঝর্ণাধারা; তিনি হলেন পরম পণ্ডিত মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞার অতল সমুদ্র, নানামুখী গৌরবের সমাহার এবং শ্রেষ্ঠ কীর্তিসমূহে অনন্য, আমাদের নেতা ও অভিভাবক ‘সাদী’, যিনি মহান সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলের প্রধান বিচারপতি। তিনি এমন এক অভিভাবক যার সামান্যতম ফযীলত ও উচ্চমর্যাদায় পৌঁছাতে শব্দের সাহসও হার মেনে যায় এবং তাঁর সামান্যতম মহত্ত্ব ও প্রচেষ্টার বর্ণনায় প্রশংসাকারীর শ্রমও অপর্যাপ্ত প্রমাণিত হয়। তাঁর সান্নিধ্য হলো দানশীলতার উদয়স্থল, আগন্তুকদের গন্তব্য, আশা-আকাঙ্ক্ষার কিবলা এবং কাফেলার বিশ্রামস্থল; সাহিত্যিকদের সমাবেশ এবং কবিদের মিলনমেলা। তাঁর সুউচ্চ সংকল্প কেবল সেই মর্যাদা বিনির্মাণে নিয়োজিত যা তিনি প্রতিষ্ঠা করেন, সেই নিআমত যা তিনি নবায়ন করেন, সেই গুণী ব্যক্তি যাকে তিনি সমাদর করেন এবং সেই বিস্মৃতপ্রায় ব্যক্তি যাকে কাল অবদমিত করেছিল অথচ তিনি তাকে উচ্চাসীন করেন। তিনি সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছেন এবং শ্রেষ্ঠদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন; ফলে কোনো নিকটবর্তী ব্যক্তিই তাঁর সমকক্ষ হতে পারে না, এমনকি সে যদি বনী আবদিল মুদান বংশীয়ও হয়। দানশীলতার ময়দানে কোনো দানবীরই তাঁর সাথে পাল্লা দিতে পারে না এবং নেতৃত্ব অন্বেষণে কোনো অভিলাষীই তাঁর সাথে প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ৫)
(مَا كل من طلب الْمَعَالِي نافدا … فِيهَا وَلَا كل الرِّجال فُحولا) لَا زَالَت آي مجده بألسن الأقلام متلوة وأبكار الأفكار بمديح معاليه مجلوةوَحين أَنَاخَ مطايا قَصده بأفناء سعده صَادف مولى حفياً وظلا ضفيا ومرتعا رحيباً ومربعاً خصيباً وبشاشة وَجه تسر الْقُلُوب وطلاقة محياً تفرج الكروب وَتغْفر للدهر مَا جناه من الذُّنُوب مَعَ مَا يُضَاف لذَلِك من منظر وسيم ومخبر كريم وخلائق رقت وراقت وطرائف علت وفاقت وفضائل ضفت مدارعها وشمائل صفت مشارعها وسودد تثنى بِهِ عُقُود الخناصر وتثنى عَلَيْهِ طيب العناصر فَحَمدَ من صباح قَصده السرى وَعلم أَن كل الصَّيْد فِي جَوف الفرا(إِن الكَريمَ إِذا قَصدتَ جَنابه … تلَقاه طَلقَ الوَجِهِ رَحبَ المنزلِ)وَهَا هُوَ فِي ظلّ عزه رخي البال متميز الْحَال آمن من صرفان الدَّهْر وحدثان الْقَهْر يرتع فِي رياض فَضله ويجرع من طل جوده ووبله قد عجز عَن الشُّكْر لِسَانه وكل عَن رقم الْحَمد بنانه لم يفقد من مُغنِي رأفته ظلالاً وَلم يقل لصيدح آماله انتجعي بِلَالًا وَبِه حقق قَول الْقَائِل من الْأَوَائِل(ولمَا انْتجعنَا لائذينَ بظلهِ … أعانَ وَمَا عَنَّي ومَنَّ وَمَا منَّا)(ورَدَنَا عَليهِ مُقترِينَ فَراشنَا … وردنانداه مُجدبينَ فأخصبنَا)
(উচ্চমর্যাদা অন্বেষণকারী সকলেই তাতে সফল হয় না … আর সকল পুরুষই বীর্যবান হয় না)। তার গৌরবের নিদর্শনাবলি কলমের জিহ্বায় সর্বদা পঠিত হতে থাকল এবং অভিনব চিন্তাগুলো তার উচ্চমর্যাদার প্রশংসায় সুশোভিত হয়ে রইল।আর যখন তিনি তার সংকল্পের বাহনসমূহকে তার সৌভাগ্যের আঙিনায় বসালেন, তখন তিনি একজন হিতৈষী অভিভাবক, বিস্তৃত ছায়া, প্রশস্ত বিচরণভূমি, উর্বর আবাসস্থল, অন্তরকে আনন্দিত করা হাস্যোজ্জ্বল চেহারা এবং বিষণ্ণতা দূরকারী প্রফুল্ল মুখচ্ছবি লাভ করলেন, যা কালের কৃত অপরাধগুলোকে যেন ক্ষমা করে দেয়। এর পাশাপাশি তিনি লাভ করলেন সুন্দর অবয়ব, মহৎ স্বভাব, কোমল ও মনোমুগ্ধকর চরিত্র, উন্নত ও শ্রেষ্ঠ কৌতূহলোদ্দীপক জ্ঞান, বিস্তৃত আস্তরণবিশিষ্ট ফযিলত, স্বচ্ছ উৎসবিশিষ্ট গুণাবলি এবং এমন নেতৃত্ব যার জন্য কনিষ্ঠ আঙ্গুলসমূহ অবনমিত হয় এবং যার উৎকৃষ্ট মূল উপাদানগুলোর প্রশংসা করা হয়। ফলে তিনি তার সংকল্পের প্রভাতে নৈশভ্রমণের প্রশংসা করলেন এবং জানতে পারলেন যে, গোরখরের পেটের ভেতরেই সমস্ত শিকার রয়েছে (অর্থাৎ তিনি একাধারে সব পেয়ে গেছেন)।(নিশ্চয়ই মহৎ ব্যক্তি এমন যে, যখন তুমি তার সান্নিধ্য চাইবে … তখন তাকে প্রফুল্ল চেহারার এবং প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী হিসেবে পাবে)।আর এখন তিনি তার মর্যাদার ছায়াতলে নিশ্চিন্ত মনে এবং বিশিষ্ট অবস্থায় রয়েছেন; কালের বিবর্তন ও দমনমূলক দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদ থেকে তিনি তার অনুগ্রহের উদ্যানে বিচরণ করছেন এবং তার দানশীলতার শিশির ও বৃষ্টিধারা পান করছেন। তার জিহ্বা কৃতজ্ঞতা প্রকাশে অক্ষম হয়ে পড়েছে এবং তার অঙ্গুলিগুলো প্রশংসা লিপিবদ্ধ করতে ক্লান্ত হয়ে গেছে। তিনি তার দয়ার ভাণ্ডার থেকে ছায়া হারাননি এবং তার আশারূপ গায়ককে বলেননি যে, সজীবতার সন্ধান করো; বরং তার মাধ্যমেই পূর্ববর্তীদের এই উক্তিটি সার্থক হয়েছে।(আর যখন আমরা তার ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে সজীবতার অন্বেষণ করলাম … তখন তিনি সাহায্য করলেন এবং কষ্ট দিলেন না, আর তিনি দান করলেন কিন্তু খোঁটা দিলেন না)।(আমরা নিঃস্ব অবস্থায় তার নিকট উপস্থিত হলাম এবং আমাদের বিছানা পাতলাম … আমরা অভাবগ্রস্ত অবস্থায় তার বদান্যতার নিকট এলাম এবং সচ্ছলতা লাভ করলাম)
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ৬)
وَجُمْلَة مَا يَقُوله فِي الْعَجز عَن حَمده وشكره وَالثنَاء على جوده وبره(أما وَجميل الصُّنعَ منِه وإنّها … ألِيَّةُ برٍ مِثلها لَا يِكفّرُ)(لَو اسْطعتُ حَوَّلتُ البريةَ ألسْناً … وكنْتُ بهَا أُثني عَلَيْهِ وأشكرُ)(ولَسْتُ أوفيِّ حَقِّ ذاكَ وإنّما … قيَاما بِحَق الشُّكرِ جَهدِي أُشمِّرُ)وَكَانَ من جملَة دواعي السعد وبواعث الْجد أَن شَمل هَذَا التَّأْلِيف نظره الشريف حِين وصل إِلَى حَضْرَة مجده المنيف فأظهر بِهِ إعجاباً رفع من مقَامه وَنصب فَوق متن المجرة خوافق أَعْلَامه جَريا على عَادَته النفيسة فِي جبر الْقُلُوب وَستر الْعُيُوب فحين طرق السّمع خبر استحسانه لذَلِك الْجمع أحب الْفَقِير أَن يخْدم حَضرته الْعلية وسدته السّنيَّة بنسخة مِنْهُ لتَكون مذكرة بِحَال الْفَقِير مَا دَامَ فِي قيد الْحَيَاة وسبباً باعثاً على الترحم عَلَيْهِ بعد الْمَمَات وعساه يكون وَسِيلَة للانتظام فِي سلكه وذريعة إِلَى الانحياز إِلَى ملكه وَإِلَّا فَهُوَ أقل من أَن يشاع ذكره أَو يشاد قصره وَكَيف يهدي الوشل إِلَى الْبَحْر أَو الطل إِلَى الْقطر غير أَن هواجس الْفِكر وخواطر الأمل متمسكة فِي قبُوله بأذيال عَسى وَلَعَلَّ وَالَّذِي يُقَوي فِي الظَّن بشيمه الزاكية تلقيه بالبشر ولمحة بالمقلة الراضية وَهُوَ يَرْجُو أَن يهب عَلَيْهِ نسيم قبُول الْقُلُوب ويؤمل أَن يسبل ستر الْعَفو عَمَّا فِيهِ من الْعُيُوب وَهَا هُوَ يرفع أكف التضرع والابتهال إِلَى ذِي العظمة والجلال أَن يبلغهُ من ذَلِك أقْصَى غَايَة الآمال بمنه ويمنه
তাঁর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এবং তাঁর বদান্যতা ও অনুগ্রহের গুণগানে অক্ষমতা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ হলো:(সাবধান, তাঁর পক্ষ থেকে যে সুন্দর সৃষ্টিশৈলী রয়েছে, নিশ্চয় তা এমন এক মহানুভবতার শপথ যার সমতুল্য বিষয়কে অস্বীকার করা যায় না … )(আমি যদি সক্ষম হতাম তবে সৃষ্টিজগতকে অসংখ্য জিহ্বায় রূপান্তরিত করতাম … এবং সেগুলোর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতাম)(আমি সেই হকের পূর্ণতা দানে সক্ষম নই, তবে … কৃতজ্ঞতার হক আদায়ের উদ্দেশ্যে আমি আমার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা নিয়োজিত করছি)সৌভাগ্যের অন্যতম কারণ এবং সাফল্যের উদ্দীপক বিষয় ছিল এই যে, এই সংকলনটি যখন তাঁর সুউচ্চ ও মহিমান্বিত দরবারে পৌঁছে তখন তাঁর সম্মানিত দৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত হয়। অতঃপর তিনি এর প্রতি এমন মুগ্ধতা প্রকাশ করেন যা এর মর্যাদাকে উন্নীত করেছে এবং ছায়াপথের পিঠের ওপর এর নিশান উড্ডীন করেছে। এটি ছিল ভগ্ন হৃদয় জোড়া দেওয়া এবং দোষ-ত্রুটি গোপন রাখার ক্ষেত্রে তাঁর চিরচেনা মূল্যবান অভ্যাসেরই অনুবৃত্তি। অতঃপর যখন তাঁর এই সংকলনটি পছন্দ করার সংবাদ কানে এল, তখন এই অধম ব্যক্তি তাঁর উচ্চমর্যাদাপূর্ণ দরবার ও সুউচ্চ আস্তানায় এর একটি অনুলিপি পেশ করে খেদমত করতে চাইল; যাতে এটি এই অধমের জীবিত থাকাকালীন তাঁর অবস্থার স্মারক হয়ে থাকে এবং মৃত্যুর পর তাঁর জন্য রহমত কামনার উসিলা হয়। সম্ভবত এটি তাঁর সান্নিধ্য লাভের সোপান এবং তাঁর রাজকীয় পরিমণ্ডলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যম হবে; অন্যথায় এটি এমন নগণ্য যে এর চর্চা হওয়া বা এর মাহাত্ম্য প্রচার করা সাজে না। পাহাড়ের চুঁইয়ে পড়া সামান্য পানি কীভাবে সমুদ্রের কাছে উপহার পাঠানো যায়, কিংবা ভোরের শিশির বিন্দুকে কীভাবে বড় বৃষ্টির কাছে উপঢৌকন হিসেবে পেশ করা যায়? তবে চিন্তার উদ্রেক ও আশার আকাঙ্ক্ষাসমূহ এর কবুলিয়াতের ব্যাপারে 'হয়তো' ও 'সম্ভবত' এর প্রান্তদেশ আঁকড়ে ধরে আছে। তাঁর পবিত্র স্বভাবের প্রতি যে প্রবল ধারণা জন্মে তা হলো তিনি প্রফুল্ল চিত্তে এবং সন্তুষ্টির দৃষ্টিতে এটি গ্রহণ করবেন। আর লেখক আশা করেন যে, এর ওপর যেন অন্তরের কবুলিয়াতের সমীরণ প্রবাহিত হয় এবং এর ভুল-ত্রুটির ওপর যেন ক্ষমার পর্দা টেনে দেওয়া হয়। আর এই যে তিনি এখন সুমহান ও প্রতাপশালী সত্তার দরবারে কাকুতি-মিনতি ও প্রার্থনার হাত তুলেছেন, যেন তিনি স্বীয় অনুগ্রহ ও বরকতে তাঁকে তাঁর সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষায় পৌঁছে দেন।
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ৭)
شَوَاهِد الْمُقدمَة
ভূমিকার প্রমাণসমূহ
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ৮)
1 - (غَدَا ثره مستشرزات إِلى العُلَا … )قَائِله امْرُؤ الْقَيْس وَتَمَامه(تَضلُ العِقاصُ فِي مِثنىُّ ومُرسِل … )وَهُوَ من الْبَحْر الطَّوِيل من القصيدة الْمَشْهُورَة الَّتِي هِيَ إِحْدَى المعلقات السَّبع وأولها(قفا نبك من ذكرى حبيب ومنزل … بسقط اللوى بَين الدَّخُولِ فحَوملِ)(فَتوضحَ فالمقراةِ لم يَعفِ رَسمها … لما نَسجتها من جنوب وشمأل)(وقوفا بهَا صحبي على مطيهم … يَقُولُونَ لَا تهْلك أسى وتجمَّلِ)(وبَيضَةِ خِدرٍ لَا يرامُ خِباؤها … تمتعتُ مِنْ لَهو بهَا غيرَ مُعجلِ)(تجاوزتُ أحْراساً إِلَيْهَا ومَعْشَراً … عَليَّ حِراصاً لَو يُسِرُّون مَقْتِلي)(إِذا مَا الثريا فِي السَّمَاء تعرضت … تعرض أثْنَاء الوشاح المْفصلِ)(فَجئتُ وقدْ نَضتْ لِنومٍ ثِيَابهَا … لَدى السِّتر إلَاّ لِبسةَ المتفضلِ)(فَقَالَت يَميُن اللهِ مَا لَك حِيلةٌ … وَمَا إِنْ أَرى عَنْك الغوَاية تنَجلِي)(خَرجتُ بهَا أَمْشِي تجرُّ وَرَاءَنَا … عَلى إثرنا أذيال مرط مرحل)(فَلَمَّا أجَزْنا ساحة الحيِّ وانْتحى … بِنَا بطن خبت ذِي حِقاف عقَنْقل)(هصرتُ بفوْدَىْ رأسِها فتمايلتْ … عَليَّ هَضيمِ الكشح ريَّاً المُخلخَلِ)(مُهفهفةٌ بَيضاءُ غَيرُ مُفاضةٍ … تَرائبها مصقولةٌ كالسَّجنجلِ)(تصد عَن وتبدي أسيلٍ وتَتقي … بناظرةٍ من وَحْش وَجْرةَ مُطفلِ)
১ - (তার চুলের বেণীগুলো ওপরের দিকে উঠে আছে... )এর রচয়িতা হলেন ইমরুল কায়েস এবং এর পূর্ণ রূপ হলো:(ভাঁজ করা এবং খোলা চুলের ভিড়ে বেণীগুলো হারিয়ে যায়... )এটি বাহরে তবীলে রচিত সেই বিখ্যাত কাসিদা থেকে নেওয়া হয়েছে, যা সাতটি মুআল্লাকার অন্যতম এবং তার প্রথমটি হলো:(থামো, এসো আমরা প্রিয়তমা এবং তার আবাসস্থলের স্মরণে কাঁদি, যা সিকতুল লিওয়া নামক স্থানে দাখুল ও হাওমালের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।)(তুযিহ ও মাকরাতের চিহ্নগুলো এখনো মুছে যায়নি, কারণ দক্ষিণ ও উত্তরের বাতাস সেখানে বালু রাশি বুনে দিয়েছে।)(সেখানে আমার সাথীরা তাদের সওয়ারি নিয়ে দাঁড়িয়ে বলছে, তুমি শোকে নিজেকে ধ্বংস করো না, ধৈর্য ধারণ করো।)(পর্দার অন্তরালে থাকা সেই সুন্দরী নারী, যার তাঁবুর নাগাল পাওয়া দুষ্কর ছিল, আমি তড়িঘড়ি না করে তার সাথে দীর্ঘ সময় আমোদ-প্রমোদে কাটিয়েছি।)(আমি পাহারাদারদের এড়িয়ে এবং একদল শত্রুকে অতিক্রম করে তার কাছে পৌঁছেছি, যারা আমাকে হত্যা করার সুযোগ খুঁজছিল।)(যখন আকাশে সুরাইয়া নক্ষত্রপুঞ্জ উদিত হলো, যেন রত্নখচিত কোমরবন্ধের ভাঁজগুলোর কারুকার্য।)(আমি যখন তার কাছে পৌঁছলাম, তখন সে ঘুমের জন্য পর্দার আড়ালে তার পোশাক খুলে রেখেছিল, কেবল পাতলা অন্দরবাস ছাড়া আর কিছুই ছিল না।)(সে বলল, আল্লাহর শপথ! তোমার হাত থেকে নিস্তার নেই এবং আমি দেখছি না যে তোমার এই মত্ততা ও বিভ্রম দূর হবে।)(আমি তাকে নিয়ে বের হলাম, সে আমাদের পদচিহ্ন মুছে ফেলার জন্য তার নকশা করা চাদরের আঁচল হেঁচড়ে নিয়ে আসছিল।)(যখন আমরা জনবসতি অতিক্রম করলাম এবং উঁচু-নিচু বালুকাময় প্রান্তরের ঢালে উপনীত হলাম।)(আমি তার মাথার দুপাশ ধরে তাকে নিজের দিকে টানলাম, সে আমার দিকে ঝুঁকে পড়ল; সে ছিল কৃশকটি এবং তার পায়ের গোড়ালি ছিল সুপুষ্ট।)(সে ছিল ক্ষীণকটি ও শ্বেতশুভ্রা, অতিরিক্ত মেদহীন; তার বুকের উপরিভাগ ছিল আয়নার মতো মসৃণ ও উজ্জ্বল।)(সে বিমুখ হয় এবং তার মসৃণ গাল প্রদর্শন করে, আর ওয়াজরা নামক স্থানের শাবকবিশিষ্ট হরিণীর মতো সকরুণ দৃষ্টি দিয়ে নিজেকে আড়াল করে।)
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ৯)
(وجِيد كجيد الرِّيم لَيْسَ بفاحش … إِذا هِيَ نصته وَلَا بمُعَطَّلِ)(وفَرعٍ يَزينُ المَتن أسودَ فَاحم … أثيث كقنو النَّخْلَة المتعثكل) // الطَّوِيل //وَبعده الْبَيْت وَالْقَصِيدَة طَوِيلَة وَسَيَأْتِي طرف مِنْهَا فِي شَوَاهِد الْإِنْشَاء إِن شَاءَ الله تَعَالَىوالغدائر جمع غديرة الذوائب والاستشراز الرّفْع والارتفاع جَمِيعًا وَالْفِعْل مِنْهُ لَازم إِن كسرت زايه ومتعدٍّ إِن فتحت والعلا جمع علياء تَأْنِيث الْأَعْلَى وَأَرَادَ الْجِهَات الْعلَا والعقاص جمع عقيصة وَهِي الْخصْلَة من الشّعْر تأخذها الْمَرْأَة فتلويها ثمَّ تعقدها حَتَّى يبْقى فِيهَا التواء ثمَّ ترسلها والمثنى من الشّعْر وَغَيره مَا ثني والمرسل ضِدّهوَمعنى الْبَيْت أَن حبيبته لِكَثْرَة شعرهَا بعضه مَرْفُوع وَبَعضه مثنى وَبَعضه مُرْسل وَبَعضه معقوص ملوي بَين الْمثنى والمرسلوَالشَّاهِد فِي الْبَيْت التنافر وَهُوَ لَفْظَة مستشزرات لثقلها على اللِّسَان وعسر النُّطْق بهَاوامرؤ الْقَيْس اسْمه حندج بن حجر بن عَمْرو الْمَقْصُور سمي بذلك لِأَنَّهُ اقْتصر بِهِ على ملك أَبِيه حندج والحندج فِي اللُّغَة رَملَة طيبَة تنْبت ألواناً وَأمه فَاطِمَة وَقيل تملك بنت ربيعَة بن الْحَرْث أُخْت كُلَيْب ومهلهل
(আর তার ঘাড়টি হরিণীর ঘাড়ের মতো, যা দৃষ্টিকটু নয় … যখন সে তা উঁচু করে, আর তা অলংকারহীনও নয়)(এবং পিঠকে সুশোভিতকারী কুচকুচে কালো ঘন চুল … যা খেজুর গাছের ঝুলে থাকা থোকার মতো ঘন) // আত-তবিল ছন্দ //এর পরে আরও একটি পঙক্তি রয়েছে এবং কাসিদাটি দীর্ঘ, এর কিছু অংশ ইনশাআল্লাহ তাআলা রচনার প্রমাণাদি (শাওয়াাহিদ আল-ইনশা) অধ্যায়ে সামনে আসবে।‘গদাইর’ হলো ‘গদিরাহ’ এর বহুবচন যার অর্থ চুলের বেণী। ‘আল-ইস্তিশরাজ’ অর্থ উপরে তোলা এবং উপরে উঠা উভয়ই; এই ক্রিয়াটির ‘যা’ বর্ণে কাসরা (জের) থাকলে তা অকর্মক এবং ফাতহা (যবর) থাকলে সকর্মক হয়। ‘উলা’ শব্দটি ‘আলিয়া’ এর বহুবচন যা ‘আলা’ এর স্ত্রীলিঙ্গ, এখানে উচ্চ দিকসমূহ বোঝানো হয়েছে। ‘ইকাস’ হলো ‘আকিসাহ’ এর বহুবচন, যা চুলের সেই গুচ্ছ যা নারী হাতে নিয়ে মোচড়ায় এবং এরপর তা বেঁধে দেয় যাতে তাতে কুঞ্চন অবশিষ্ট থাকে, তারপর তা ছেড়ে দেয়। চুলের ‘মুসান্না’ হলো যা ভাঁজ করা হয়েছে এবং ‘মুরসাল’ হলো তার বিপরীত।পঙক্তিটির অর্থ হলো, তার প্রিয়ার চুলের প্রাচুর্যের কারণে তার কিছু অংশ উপরে তোলা, কিছু ভাঁজ করা, কিছু ছেড়ে দেওয়া এবং কিছু অংশ ভাঁজ করা ও ছেড়ে দেওয়া অংশের মাঝে পেঁচিয়ে গিঁট দেওয়া।এই পঙক্তির কাব্যিক নিদর্শন বা শাহিদ হলো ‘তানাফুর’ (শব্দগত শ্রুতিকটুতা), যা ‘মুসতাশযিরাত’ শব্দটিতে বিদ্যমান; কারণ এটি জিহ্বার ওপর ভারী এবং উচ্চারণ করা দুঃসাধ্য।ইমরুল কায়েসের নাম হলো হুনদুজ বিন হুজর বিন আমর আল-মাকসুর। তাকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ তিনি কেবল তার পিতা হুনদুজের রাজত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। আভিধানিক অর্থে ‘হুনদুজ’ হলো এমন উৎকৃষ্ট বালুকাভূমি যাতে বিভিন্ন বর্ণের উদ্ভিদ জন্মে। তার মাতা ছিলেন ফাতিমা, মতান্তরে রবীআ বিন আল-হারিসের কন্যা তামালুক, যিনি কুলাইব ও মুহালহিলের বোন ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ১০)
وكنية امْرُؤ الْقَيْس أَبُو وهب وَأَبُو الْحَرْث ويلقب ذَا القروح لقَوْله(وَبُدِّلتُ قَرحاً دَامياً بعدْ صِحَّةٍ … لَعلَّ مَنايانْا تحولنَ أبؤُسا) // الطَّوِيل // ويلقب الذائد أَيْضا لقَوْله(أذُودُ القوافيَ عَني ذيادا … ) // المتقارب //وَيُقَال لَهُ الْملك الضليل وَمعنى امْرِئ الْقَيْس رجل الشدَّة والقيس فِي اللُّغَة الشدَّة وَقيل الْقَيْس اسْم صنم وَلِهَذَا كَانَ الْأَصْمَعِي يكره أَن يروي قَوْله يَا امْرأ الْقَيْس فَانْزِل وَيَرْوِيه يَا امْرأ الله فَانْزِل وَهُوَ الَّذِي روى عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ فِيهِ أشعر الشُّعَرَاء وَقَائِدهمْ إِلَى النَّار وَقيل فِي تَأْوِيله إِن المُرَاد شعراء الْجَاهِلِيَّة وَالْمُشْرِكينوَهُوَ أول من لطف الْمعَانِي وَمن استوقف على الطلول وَشبه النِّسَاء بالظباء والمها وَالْبيض وَشبه الْخَيل بالعقبان والعصي وَفرق بَين النسيب وَمَا سواهُ من القصيد وأجاد الِاسْتِعَارَة والتشبيهوَكَانَ من حَدِيثه أَن أَبَاهُ طرده لما قَالَ الشّعْر وَإِنَّمَا طرده من أجل زَوجته وَهِي أم الحويريث الَّتِي كَانَ امْرُؤ الْقَيْس يشبب بهَا فِي شعره وَكَانَ
ইমরুল কায়েসের কুনিয়াত ছিল আবু ওয়াহাব এবং আবু আল-হারিস। তাঁর নিম্নোক্ত পঙক্তির কারণে তাঁকে 'জু আল-কুরুহ' (ক্ষতবিক্ষত) উপাধি দেওয়া হয়েছিল:(সুস্থতার পরে আমি রক্তক্ষয়ী ক্ষতের সম্মুখীন হয়েছি … সম্ভবত আমাদের মৃত্যুগুলো দুর্ভাগ্যে পরিণত হয়েছে) // তাবিল ছন্দ // এবং তাঁর নিম্নোক্ত পঙক্তির কারণে তাঁকে 'আল-জায়েদ' (প্রতিরোধকারী) উপাধিতেও ভূষিত করা হয়:(আমি পদ্যগুলোকে নিজের থেকে জোরালোভাবে তাড়িয়ে দিচ্ছি … ) // মুতাকারিব ছন্দ //তাঁকে 'আল-মালিকুল দালিল' (ভবঘুরে রাজা) বলা হয়। ইমরুল কায়েস নামের অর্থ হলো 'কঠোরতার পুরুষ', কারণ আভিধানিক অর্থে 'কায়েস' মানে কঠোরতা। আবার বলা হয় যে, কায়েস একটি মূর্তির নাম। এই কারণেই আল-আসমাঈ 'হে ইমরুল কায়েস, অবতরণ করুন'—এই কথাটি বর্ণনা করা অপছন্দ করতেন এবং এর পরিবর্তে 'হে ইমরুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা), অবতরণ করুন' বর্ণনা করতেন। তিনি সেই ব্যক্তি যাঁর সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "সে কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি এবং জাহান্নামের দিকে তাদের অগ্রপথিক।" এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা জাহেলী যুগের এবং মুশরিক কবিদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে।তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি কাব্যের ভাবার্থকে সূক্ষ্ম ও সুচারু করেছেন, ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে ক্রন্দনের রীতি শুরু করেছেন এবং নারীদের হরিণী, বন্য গাভী ও ডিমের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি ঘোড়াকে ঈগল পাখি ও লাঠির সাথে তুলনা করেছেন এবং কাসিদার নাসিব (প্রেমের ভূমিকা) ও অন্যান্য অংশের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করেছেন। তিনি রূপক ও উপমা অলংকারে অত্যন্ত পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন।তাঁর জীবনী থেকে জানা যায় যে, কবিতা রচনা করার কারণে তাঁর পিতা তাঁকে বহিষ্কার করেছিলেন। মূলত তাঁর বিমাতা উম্মে আল-হুয়াইরিসের কারণেই তাঁকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাঁর প্রতি ইমরুল কায়েস তাঁর কবিতায় প্রেমাসক্তি প্রকাশ করতেন। তিনি ছিলেন—
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ১১)
يتنقل فِي أَحيَاء الْعَرَب ويستتبع صعاليكهم وذؤبانهم وَالْعرب تطلق على اللُّصُوص الذؤبان تَشْبِيها بالذئاب وَكَانَ يُغير بهم وَكَانَ أَبوهُ ملك بني أَسد فعسفهم عسفاً شَدِيدا فتمالأوا على قَتله فَلَمَّا بلغه قتل أَبِيه وَكَانَ يشرب الْخمر قَالَ ضيعني صَغِيرا وحملني ثقل الثأر كَبِيرا الْيَوْم خمر وَغدا أَمر فأرسلها مثلا وَقيل بل قَالَ الْيَوْم قحاف وَغدا نقاف والقحاف من القحف وَهُوَ شدَّة الشّرْب والنقاف من نقف الْهَام إِذا قطعهَاثمَّ إِنَّه جمع جمعا من بني بكر بن وَائِل وَغَيرهم من صعاليك الْعَرَب وَخرج يُرِيد بني أَسد فَخَبرهُمْ كاهنهم بِخُرُوجِهِ إِلَيْهِم فارتحلوا وتبعهم امْرُؤ الْقَيْس فأوقع ببني كنَانَة وَكَانُوا بني أَسد قد لجأوا إِلَيْهِم ثمَّ ارتحلوا عَنْهُم فَقَتلهُمْ قتلا ذريعاً وَأَقْبل أَصْحَابه يَقُولُونَ يَا لثارات الْهمام فَقَالَت عَجُوز مِنْهُم وَاللات أَيهَا الْملك مَا نَحن بثأرك وَإِنَّمَا ثأرك بَنو أَسد وَقد ارتحلوا فَرفع الْقَتْل عَنْهُم وَقَالَ(أَلا لَهْفَ نَفسي إِثْر قَومٍ … هم كَانُوا الشفَاء فَلم يصُابوا)(وَقاهمْ جَدُّهمُ ببني عَليٍّ … وبالأشْقينَ مَا كانَ العقابُ)(وأفلتهن عِلباء جَريضاً … وَلَو أدركنهُ صَفِرَ الوِطابُ) // الوافر //وَقيل إِن أَصْحَابه اخْتلفُوا عَلَيْهِ حِين أوقع ببني كنَانَة وَقَالُوا لَهُ أوقعت بِقوم بُرَآء وظلمتهم فَخرج إِلَى الْيمن إِلَى بعض مقاولة حمير واسْمه قرمل فاستجاشه
তিনি আরব জনপদগুলোতে ঘুরে বেড়াতেন এবং তাদের নিস্ব ও দস্যু-তস্করদের সাথে রাখতেন। আরবরা চোরদের 'নেকড়ে' বলত নেকড়ের সাথে সাদৃশ্য থাকার কারণে। তিনি তাদের নিয়ে আক্রমণ চালাতেন। তার পিতা ছিলেন বনু আসাদ গোত্রের রাজা। তিনি তাদের ওপর কঠোর নিপীড়ন চালাতেন, ফলে তারা তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করল। যখন তার পিতার নিহত হওয়ার সংবাদ তার কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি মদ্যপান করছিলেন। তিনি বললেন: "তিনি আমাকে শৈশবে অবহেলা করেছেন এবং বার্ধক্যে আমার ওপর প্রতিশোধের গুরুভার চাপিয়েছেন। আজ সুরা পান, আর কাল হবে কাজ।" তিনি একে একটি প্রবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলেন। বলা হয় যে তিনি বলেছিলেন: "আজ আকণ্ঠ পান, আর কাল হবে মাথা দ্বিখণ্ডিত করা।" 'কাহাফ' শব্দটি 'কাহ্ফ' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ প্রচণ্ড মদ্যপান, আর 'নিক্বাফ' শব্দটি এসেছে 'নাক্বফুল হাম' থেকে যখন মাথার খুলি দ্বিখণ্ডিত করা হয়।এরপর তিনি বনু বকর বিন ওয়াইল এবং অন্যান্য আরব নিস্বদের একটি দল গঠন করলেন এবং বনু আসাদের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। তাদের গণক তাদের কাছে তার আগমনের সংবাদ দিল, ফলে তারা প্রস্থান করল। ইমরুল কায়েস তাদের অনুসরণ করলেন এবং বনু কিনানার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। বনু আসাদ মূলত তাদের কাছে আশ্রয় নিয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে সেখান থেকে প্রস্থান করেছিল। তিনি তাদের নির্মমভাবে হত্যা করলেন। তার সঙ্গীরা চিৎকার করে বলতে লাগল: "হে সাহসী নেতার রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণকারীগণ!" তখন তাদের মধ্যকার এক বৃদ্ধা নারী বলল: "লাতের কসম হে রাজা, আমরা আপনার প্রতিশোধের লক্ষ্যবস্তু নই। আপনার প্রতিশোধ তো বনু আসাদের ওপর, অথচ তারা চলে গিয়েছে।" তখন তিনি তাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করলেন এবং বললেন:(হায়! আমার প্রাণ তাদের অনুগামী হয়ে আক্ষেপ করছে … যারা ছিল আরোগ্যস্বরূপ, অথচ তাদের কোনো বিপদ স্পর্শ করল না।)(তাদের সৌভাগ্য বনু আলীর মাধ্যমে তাদের রক্ষা করেছে … আর হতভাগ্যদের ওপর যা শাস্তি হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি।)(ইলবা তাদের থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় মুক্তি পেল … যদি তারা তাকে ধরত তবে তার চর্মপাত্র শূন্য হয়ে যেত অর্থাৎ সে প্রাণ হারাত।) // আল-ওয়াফির ছন্দ //বলা হয় যে, যখন তিনি বনু কিনানার ওপর আক্রমণ চালালেন তখন তার সঙ্গীরা তার সাথে দ্বিমত পোষণ করল এবং তাকে বলল যে আপনি নিরপরাধ কওমের ওপর আক্রমণ করেছেন এবং তাদের ওপর জুলুম করেছেন। ফলে তিনি ইয়েমেনের হিময়ারের জনৈক সর্দার কুরমালের কাছে গেলেন এবং তার কাছে সৈন্য সাহায্য প্রার্থনা করলেন।
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ১২)
فثبطه قرمل فَذَلِك حَيْثُ يَقُول(وكُنا أُناساً قَبلَ غَزوةِ قَرْمل … وَرثنَا الغِنَى والمجدَ أكبر أكبرا) // الطَّوِيل //ثمَّ خرج إِلَى قَيْصر بعد أَن أودع أدراعه وكراعه السموءل ابْن عادياء فَذَلِك حَيْثُ يَقُول(بَكَى صَاحِبي لما رأى الدَّرْب دونه … وأيقن أنَّا لَاحِقانِ بقيصرا)(فَقلت لَهُ لَا تبك عَيْنك إِنَّمَا نحاول ملكا أَو نَموتَ فَنُعذرَا) // الطَّوِيل //وَصَاحبه عَمْرو بن قميئة الشَّاعِر وَهُوَ من بني قيس بن ثَعْلَبَة وَكَانَ قد طوى عَنهُ الْخَبَر حَتَّى جَاوز الدَّرْب فَلَمَّا وصل إِلَى قَيْصر اسْتَغَاثَ بِهِ فوعده أَن يرفده بِجَيْشوَكَانَ امْرُؤ الْقَيْس جميل الْوَجْه وَكَانَ لقيصر ابنةٌ جميلَة فَأَشْرَفت يَوْمًا من قصرهَا فرآها امْرُؤ الْقَيْس فِي دُخُوله إِلَى أَبِيهَا فَتعلق بهَا وراسلها فأجابته إِلَى مَا سَأَلَ فَذَلِك حَيْثُ يَقُول لما وصل إِلَيْهَا(فَقلت يَمِين الله أبْرح قَاعِدا … وَلَو قطعُوا رَأْسِي لديك وأوصالي) // الطَّوِيل //وَقيل إِن أَبَاهَا زوجه إِيَّاهَا وَقد كَانَ سبق إِلَى قَيْصر رجل من بني أَسد يُقَال لَهُ الطماح فوشى بِهِ إِلَى قَيْصر فَوجه مَعَه جَيْشًا ثمَّ أتبعه رجلا مَعَه حلَّة مَسْمُومَة وَقَالَ لَهُ اقْرَأ عليه السلام وَقل لَهُ إِن الْملك قد بعث إِلَيْك بحلة قد لبسهَا ليكرمك بهَا وَأدْخلهُ الْحمام فَإِذا خرج فألبسه إِيَّاهَا فَلَمَّا فعل تنفط بدنه وَكَانَ يحمل فِي محفة فَذَلِك حَيْثُ يَقُول(لَقدْ طَمِحَ الطَّماحُ مِنْ بُعْدِ أرضهِ … لِيْلُبسني مِنْ دائه مَا تلبسا) // الطَّوِيل //
অতঃপর কারমাল তাকে নিরুৎসাহিত করল, আর তখনই তিনি বললেন(আমরা কারমালের যুদ্ধের পূর্বে এমন এক জাতি ছিলাম … যারা পর্যায়ক্রমে উত্তরাধিকারসূত্রে বিশাল সম্পদ ও গৌরব লাভ করেছি) // আত-তাবিল //অতঃপর তিনি সামাওয়াল ইবনে আদিয়ার নিকট তার বর্ম ও রণসম্ভার গচ্ছিত রেখে কায়সারের (রোম সম্রাট) উদ্দেশ্যে বের হলেন; আর তখনই তিনি বললেন(আমার সাথী কেঁদে ফেলল যখন সে দেখল গিরিপথ তার সামনে … এবং সে নিশ্চিত হলো যে আমরা কায়সারের কাছে পৌঁছাতে যাচ্ছি)(আমি তাকে বললাম: তুমি কেঁদো না, আমরা তো কেবল রাজত্ব উদ্ধারের চেষ্টা করছি অথবা আমরা মারা যাব এবং তাতে আমরা অপারগ হিসেবে গণ্য হব) // আত-তাবিল //তার সাথী ছিলেন কবি আমর ইবনে কামিয়াহ, তিনি বনু কায়স ইবনে সা'লাবা গোত্রের লোক ছিলেন। ইমরুল কায়েস তার থেকে আসল খবর গোপন রেখেছিলেন যতক্ষণ না তিনি গিরিপথ অতিক্রম করেন। যখন তিনি কায়সারের কাছে পৌঁছালেন, তখন তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করলেন। কায়সার তাকে একটি সৈন্যবাহিনী দিয়ে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিলেন।ইমরুল কায়েস অত্যন্ত সুশ্রী চেহারার অধিকারী ছিলেন। কায়সারের এক রূপবতী কন্যা ছিল। একদিন সে তার প্রাসাদ থেকে উঁকি দিল, আর ইমরুল কায়েস তার পিতার কাছে প্রবেশের সময় তাকে দেখে ফেললেন। তিনি তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লেন এবং তার কাছে পত্র পাঠালেন। সে তার আহ্বানে সাড়া দিল। যখন তিনি তার কাছে পৌঁছালেন, তখন তিনি বললেন(আমি বললাম: আল্লাহর শপথ, আমি এখান থেকে নড়ব না … যদিও তোমার সামনে তারা আমার মাথা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে) // আত-তাবিল //বলা হয়ে থাকে যে, তার পিতা তাকে তার সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন। তবে ইতিপূর্বে বনু আসাদ গোত্রের আত-তাম্মাহ নামক এক ব্যক্তি কায়সারের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল এবং সে কায়সারের কাছে ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করেছিল। ফলে কায়সার তার সাথে একটি সেনাবাহিনী পাঠালেন এবং পরে তার পেছনে এক ব্যক্তিকে একটি বিষলিপ্ত পোশাকসহ পাঠালেন। কায়সার তাকে বললেন: তাকে সালাম জানিও এবং বোলো যে, রাজা আপনাকে সম্মানিত করার জন্য নিজের পরিহিত একটি পোশাক পাঠিয়েছেন। তাকে গোসলখানায় নিয়ে যেয়ো এবং সে যখন বের হবে, তখন তাকে এটি পরিয়ে দিয়ো। যখন সে তাই করল, তখন তার শরীর ফোস্কায় ভরে গেল। তাকে একটি পালকিতে করে বহন করা হতো। আর তখনই তিনি বললেন(নিশ্চয়ই আত-তাম্মাহ দূর দেশ থেকে এই উচ্চাভিলাষ পোষণ করেছিল … যেন সে আমাকে তার সেই রোগে আক্রান্ত করতে পারে যাতে সে নিজে লিপ্ত ছিল) // আত-তাবিল //
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وَكَانَ الطماح قبل ذَلِك قد عَبث بِامْرَأَة من قومه فسعى بِهِ فهرب فَأَرَادَ كَمَا سعى بِهِ أَن يسْعَى بِهِثمَّ إِن امْرأ الْقَيْس لما بلغ أنقرة طعن فِي إبطه وَارْفض عَنهُ أَصْحَابه وَكَانَ نُزُوله إِلَى جَانب جبل وإِلى جَانِبه قبر لابنَة بعض الْمُلُوك فَسَالَ عَنهُ فَأخْبر فَقَالَ(أجارتنا إِن الخطوب تَنوبُ … وَإِنِّي مقُيمٌ مَا أقامَ عَسيبُ)(أجَارتنَا إِنَّا غَريبانِ هَاهُنَا … وكلُّ غَريبٍ للغريبِ نَسيبُ)(فإِنْ تَصليني تسعدي بمَوَدَّتي … وإنِ تَقطعيني فالغريب غَرِيب) // الطَّوِيل //ثمَّ مَاتَ هُنَالك فَدفن بأنقرة وَكَانَ آخر مَا تكلم بِهِ(رُبَ طَعنةٍ مُثْعَنجرَه … وَخطُبةٍ مُسحنَفره)(وَجفنةٍ مُدعترَه … وَقصيدَةٍ مُحبَّرَهْ)(تَبْقَى غَداً بأنْقَرهْ … )
ইতিপূর্বে আত-তাম্মাহ তার কওমের এক মহিলার সাথে অশালীন আচরণ করেছিল। অতঃপর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হলে সে পালিয়ে যায়। তাই সে চেয়েছিল তার সাথে যেমনটি করা হয়েছে, সেও অন্যের সাথে তেমনটি করতে।এরপর ইমরুল কায়েস যখন আঙ্কারায় পৌঁছাল, তখন তার বগলে ক্ষতের সৃষ্টি হলো এবং তার সঙ্গীরা তাকে ত্যাগ করল। সে একটি পাহাড়ের পাশে অবস্থান গ্রহণ করল, যার সন্নিকটে কোনো এক রাজার কন্যার কবর ছিল। সে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তাকে জানানো হলো। তখন সে বলল:(হে আমাদের প্রতিবেশী! নিশ্চয়ই বিপদ-আপদ আবর্তিত হয় ... আর আসিব পাহাড় যতক্ষণ অনড় আছে, আমিও ততক্ষণ অবস্থানরত)(হে আমাদের প্রতিবেশী! আমরা এখানে দুজনেই প্রবাসী ... আর প্রত্যেক প্রবাসীই অন্য প্রবাসীর পরম আত্মীয়)(যদি তুমি আমার সাথে সৌহার্দ্য রাখো তবে আমার ভালোবাসায় ধন্য হবে ... আর যদি সম্পর্ক ছিন্ন করো, তবে প্রবাসী তো নিঃসঙ্গ প্রবাসীই)অতঃপর সেখানেই তার মৃত্যু হলো এবং তাকে আঙ্কারায় দাফন করা হলো। তার শেষ কথা ছিল:(কতই না ফিনকি দিয়ে বের হওয়া রক্তক্ষয়ী আঘাত ... এবং সাবলীল বাগ্মিতাপূর্ণ ভাষণ)(কতই না খাদ্যপূর্ণ বৃহৎ পাত্র ... এবং অলঙ্কৃত উন্নতমানের কবিতা)(যা আগামীকাল আঙ্কারার মাটিতে পড়ে থাকবে ... )
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
2 - (وفَاحماً وَمرْسِناً مُسَرَّجا … )قَائِله رؤبة بن العجاج وَهُوَ من بَحر الرجز من أرجوزة طَوِيلَة أَولهَا(مَا هَاج أشْجاناً وَشجواً قد شجا … مِنْ طَللٍ كالأتْحمُّى أنهجا)(أَمْسَى لعافي الرَّامساتِ مَدْرَجَاً … واتّخذتهُ الناثجات منأجا)(مَنازلٌ هَيَّجنَ مَن تَهيجَا … مِنْ آل لَيلى قد عَفونَ حِجَجَا)(والشحطُ قَطاعٌ رَجاء مَن رَجا … أزمانَ أبْدتْ وَاضحاً مُفلَّجَا)(أغرَ برَّاقَاً وَطرفاً أبرجَا … وَمقلةً وحاجباً مُزججَا) // الرجز //وَبعده الْبَيْت وَبعده(وكَفَلاً وَعْثَاً إِذا ترجرجَا … )الفاحم الْأسود وَأَرَادَ شعرًا فاحماً فَحذف الْمَوْصُوف وَأقَام الصّفة مقَامه والمرسن بِفَتْح السِّين وَكسرهَا الْأنف الَّذِي يشد بالرسن ثمَّ استعير لأنف الْإِنْسَان ومسرجاً مختلفٌ فِي تَخْرِيجه فَقيل من سَرْجه تسريجا بهجة وَحسنه وَقيل من قَوْلهم سيوف سريجية منسوبة إِلَى قين يُقَال لَهُ
২ - (এবং কুচকুচে কালো চুল ও উজ্জ্বল নাসিকা … )এর রচয়িতা হলেন রু'বাহ ইবনুল আজ্জাজ। এটি রাজায ছন্দের একটি দীর্ঘ কবিতা থেকে গৃহীত, যার সূচনা নিম্নরূপ:(কী সেই বস্তু যা শোক ও দুঃখকে জাগিয়ে তুলল … এমন এক ধ্বংসাবশেষ দেখে যা জীর্ণ বস্ত্রের ন্যায় হয়ে গেছে)(বাতাস যার চিহ্ন মুছে দিয়েছে এবং এটি ধূলিকণার বিচরণস্থলে পরিণত হয়েছে … আর উত্তর দিকের বায়ু একে নিজের যাতায়াতের পথ বানিয়ে নিয়েছে)(এমন এক বসতি যা আবেগপ্রবণ ব্যক্তিকে উদ্বেলিত করে … লায়লার বংশধরদের এই চিহ্নগুলো বহুবছর অতিক্রান্ত হওয়ার ফলে বিলীন হয়ে গেছে)(দূরত্ব হলো আশাবাদীর আশাকে ছিন্নকারী … সেই সময়ের কথা যখন সে তার উজ্জ্বল ও ফাঁকা দাঁতগুলো উন্মোচন করেছিল)(উজ্জ্বল ললাট, দীপ্তিময় দৃষ্টি … এবং চোখের মণি ও সুবিন্যস্ত সরু ভ্রু) // রাজায //এরপর আলোচ্য পঙ্ক্তিটি এবং তারপর নিম্নোক্ত পঙ্ক্তিটি রয়েছে:(এবং ভারী নিতম্ব যা চলাচলের সময় দুলতে থাকে … )‘ফাহিম’ অর্থ কালো। কবি এখানে কুচকুচে কালো চুল বুঝিয়েছেন, তাই তিনি বিশেষ্যটিকে উহ্য রেখে তার পরিবর্তে বিশেষণটি ব্যবহার করেছেন। ‘মারসান’ (সীন অক্ষরে ফাতহাহ বা কাসরাহ সহ) হলো নাকের সেই অংশ যেখানে লাগাম বাঁধা হয়, পরবর্তীতে এটি মানুষের নাকের ক্ষেত্রে রূপকার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘মুসাররাজান’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে; বলা হয় এটি ‘সাররাজাহু তাসরীজান’ থেকে উদ্ভূত যার অর্থ উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্য। আবার কেউ বলেন, এটি আরবদের উক্তি ‘সুয়ুফ সরাইজিয়্যাহ’ (সরাইজি তলোয়ার) থেকে এসেছে, যা জনৈক কর্মকারের নামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত যাকে বলা হয়—
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
سُرَيج شبه بهَا الْأنف فِي الدقة والاستواء وَقيل من السراج وَهُوَ قريب من قَوْلهم سرِج وَجهه بِكَسْر الرَّاء أَي حَسُنَ والزَّجَجُ دقة الحاجبينوَالْمعْنَى أَن لهَذِهِ الْمَرْأَة الموصوفة مقلة سَوْدَاء وحاجبا مدققا مقوسا وشعرا اسود وأنفاً كالسيف السريجي فِي دقته واستوائه أَو كالسراج فِي بريقه وضيائهوَالشَّاهِد فِيهِ الغرابة فِي مسرجا للِاخْتِلَاف فِي تَخْرِيجهورؤبة قَائِل هَذَا الْبَيْت هُوَ أَبُو مُحَمَّد رؤبة بن العجاج والعجاج لقبه واسْمه عبد الله بن رؤبة الْبَصْرِيّ التَّمِيمِي السَّعْدِيّ سمي باسم قِطْعَة من الْخشب يشعب بهَا الْإِنَاء وَهِي بِضَم الرَّاء وَسُكُون الْهمزَة وَفتح الْبَاء الْمُوَحدَة وَبعدهَا هَاء سَاكِنة وَهُوَ وَأَبوهُ راجران مشهوران كلٌّ مِنْهُمَا لَهُ ديوَان رجز لَيْسَ فِيهِ شعر سوى الأراجيز وهما مجيدان فِي رجزهما وَكَانَ رؤبة هَذَا بَصيرًا باللغة قيمًا بحوشياً وغريبهاحكى يُونُس بن حبيب النَّحْوِيّ قَالَ كنت عِنْد أبي عَمْرو بن الْعَلَاء فجَاء شبيل بن عُرْوَة الضبعِي فَقَامَ إِلَيْهِ أَبُو عَمْرو وَألقى لَهُ لبد بغلته فَجَلَسَ عَلَيْهِ ثمَّ أقبل عَلَيْهِ يحدثه فَقَالَ شبيل يَا أَبَا عَمْرو سَأَلت رؤبتكم عَن اشتقاق اسْمه فَمَا عرفه يَعْنِي رؤبة قَالَ يُونُس فَلم أملك نَفسِي عِنْد ذكره فَقلت لَعَلَّك تظن أَن معد بن عدنان أفْصح مِنْهُ وَمن أَبِيه أفتعرف أَنْت مَا الرُّوبَةُ والرُّوبة والرُّوبة والرُّوبة والرُّوبة وَأَنا غُلَام رؤبة فَلم يحر جَوَابا وَقَامَ مغضباً فَأقبل عَليّ أَبُو عَمْرو وَقَالَ هَذَا رجلٌ شرِيف يقْصد مجالسنا وَيَقْضِي حقوقنا وَقد أَسَأْت فِيمَا
সুরাইজ; এর মাধ্যমে নাকের সূক্ষ্মতা ও সোজা হওয়ার তুলনা দেওয়া হয়েছে। আবার বলা হয়েছে এটি সিরাজ (প্রদীপ) থেকে উদ্ভূত, যা তাদের এই উক্তির কাছাকাছি— "তার চেহারা সুশ্রী হয়েছে" (র-বর্ণে কাসরা যোগে)। আর 'যাজাজ' অর্থ ভ্রুযুগলের সূক্ষ্মতা।এর অর্থ হলো, বর্ণিত এই মহিলার রয়েছে কালো মণি, সূক্ষ্ম ও ধনুকাকৃতি ভ্রু, কালো চুল এবং সুরাইজি তলোয়ারের ন্যায় সূক্ষ্ম ও সোজা নাক, অথবা প্রদীপের ন্যায় উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় নাক।এখানে কাব্যিক নিদর্শনের বিষয়টি হলো 'মুসাররাজান' শব্দের মধ্যকার গূঢ়ার্থ বা অস্পষ্টতা, কারণ এর ব্যুৎপত্তি নির্ণয়ে মতভেদ রয়েছে।এই পঙক্তির রচয়িতা রু'বাহ হলেন আবু মুহাম্মদ রু'বাহ বিন আল-আজজাজ। আল-আজজাজ তার উপাধি, আর তার নাম আব্দুল্লাহ বিন রু'বাহ আল-বাসরি আল-তামিমি আস-সাদি। তার নাম রাখা হয়েছে কাঠের এমন এক খণ্ডের নামে যা দিয়ে পাত্র মেরামত করা হয়। এটি র-বর্ণে পেশ, হামযাহ-বর্ণে সাকিন এবং বা-বর্ণে জবর ও শেষে সাকিনযুক্ত হা সহকারে উচ্চারিত হয়। তিনি এবং তার পিতা দুজনেই প্রখ্যাত রজয ছন্দের কবি ছিলেন; তাদের উভয়েরই রজয কাব্যগ্রন্থ রয়েছে যাতে রজয ছন্দ ব্যতীত অন্য কোনো কবিতা নেই। তারা উভয়েই রজয রচনায় অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন। আর এই রু'বাহ ভাষার বিষয়ে গভীর জ্ঞান রাখতেন এবং ভাষার বিরল ও কঠিন শব্দাবলীতে পারদর্শী ছিলেন।ব্যাকরণবিদ ইউনুস বিন হাবিব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু আমর বিন আল-আলার নিকট ছিলাম, এমতাবস্থায় শাবিল বিন উরওয়াহ আদ-দাবি'ই আসলেন। আবু আমর তার সম্মানে উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের খচ্চরের গদিটি তার বসার জন্য বিছিয়ে দিলেন। তিনি সেটির ওপর বসলেন এবং তার সাথে কথা বলতে শুরু করলেন। তখন শাবিল বললেন, "হে আবু আমর, আমি আপনাদের রু'বাহকে তার নামের ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, কিন্তু সে তা জানতে পারেনি।" ইউনুস বলেন: তার এই মন্তব্যে আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলাম না এবং বললাম, "হয়তো আপনি মনে করেন যে মা'আদ বিন আদনান তার এবং তার পিতার চেয়েও বেশি প্রাঞ্জল ভাষী ছিলেন? আপনি কি জানেন আর-রুবাহ, আর-রুবাহ, আর-রুবাহ, আর-রুবাহ এবং আর-রুবাহ-এর অর্থ কী? অথচ আমি রু'বাহর একজন সামান্য ছাত্র মাত্র।" তিনি কোনো উত্তর দিতে পারলেন না এবং রাগান্বিত অবস্থায় প্রস্থান করলেন। তখন আবু আমর আমার দিকে ফিরে বললেন, "ইনি একজন সম্মানিত ব্যক্তি যিনি আমাদের মজলিসে আসেন এবং আমাদের হকের মূল্যায়ন করেন, আর আপনি যা করেছেন তা অনুচিত হয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَفعلت مِمَّا واجهته بِهِ فَقلت لم أملك نَفسِي عِنْد ذكر رؤبة فَقَالَ أَبُو عَمْرو أَو سلطت على تَقْوِيم النَّاس ثمَّ فسر يُونُس مَا قَالَه فَقَالَ الروبة خميرة اللَّبن والروبة قِطْعَة من اللَّيْل والروبة الْحَاجة يُقَال فلَان مَا يقوم بروبة أَهله أَي بِمَا اسندوا إِلَيْهِ من حوائجهم والروبة جمام مَاء الْفَحْل والرؤبة بِالْهَمْز الْقطعَة الَّتِي يشعب بهَا الْإِنَاء والجميع بِضَم الرَّاء وَسُكُون الْوَاو إِلَّا رؤبة فَإِنَّهُ بِالْهَمْزوَقيل ليونس من أشعر النَّاس فَقَالَ العجاج ورؤبة فَقيل لَهُ لم نعن الرجاز قَالَ هما أشعر أهل القصيد وَإِنَّمَا الشّعْر كَلَام وأجوده أشعره قَالَ العجاج(قد جبر الدّين الْإِلَه فجبر … ) // الرجز //فَهِيَ نحوٌ من مِائَتي بَيت مَوْقُوفَة القوافي وَلَو أطلقت قوافيها كلهَا لكَانَتْ مَنْصُوبَة وَكَذَلِكَ عَامَّة أراجيزهماوَعَن ابْن قُتَيْبَة قَالَ كَانَ رؤبة يَأْكُل الفأر فعوتب فِي ذَلِك فَقَالَ هِيَ وَالله أنظف من دواجنكم ودجاجكم اللَّاتِي تَأْكُل الْعذرَة وَهل يَأْكُل الفأر إِلَّا نقي الْبر ولباب الطَّعَاموَحدث أَبُو زيد الْأنْصَارِيّ النَّحْوِيّ قَالَ دخل رؤبة بن العجاج السُّوق وَعَلِيهِ بركاني أَخْضَر فَجعل الصّبيان يعبثون بِهِ ويغرزون شوك النّخل فِي بركانه ويصيحون بِهِ يَا مردوم يَا مردوم فجَاء إِلَى الْوَالِي فَقَالَ أرسل معي الوزعة فَإِن الصّبيان قد حالوا بيني وَبَين السُّوق فَأرْسل مَعَه أعواناً فَشد عَليّ الصّبيان وَهُوَ يَقُول
এবং আমি যা মোকাবেলা করেছি তার কারণে আমি যা করার তা-ই করেছি, আর বললাম: ‘রুবাহর উল্লেখ আসতেই আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।’ আবু আমর বললেন: ‘নাকি তোমাকে মানুষের সংশোধনের ভার দেওয়া হয়েছে?’ এরপর ইউনুস তাঁর কথার ব্যাখ্যা দিয়ে বললেন: ‘রুবাহ’ হলো দুধের খামির; ‘রুবাহ’ হলো রাতের একটি অংশ; ‘রুবাহ’ হলো প্রয়োজন—বলা হয়: ‘অমুক ব্যক্তি তার পরিবারের প্রয়োজন (রুবাহ) পূরণ করে না’, অর্থাৎ তারা তার ওপর যে সব প্রয়োজনের দায়িত্ব অর্পণ করেছে তা সে পালন করে না। ‘রুবাহ’ হলো পুং-পশুর বীর্য। আর ‘রু’বাহ’ হামযাহ যোগে হলো সেই তালি যা দিয়ে পাত্র মেরামত করা হয়। এই সবগুলো শব্দই ‘রা’ বর্ণে পেশ এবং ‘ওয়াও’ বর্ণে সুকুন যোগে উচ্চারিত হয়, কেবল ‘রুবাহ’ (ব্যক্তির নাম) ব্যতীত, কারণ এটি হামযাহ যোগে পঠিত হয়।ইউনুসকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘সবচেয়ে বড় কবি কে?’ তিনি বললেন, ‘আল-আজজাজ এবং রুবাহ।’ তাকে বলা হলো, ‘আমরা রাজায-কবিদের (বিশেষ ছন্দের কবি) কথা বোঝাতে চাইনি।’ তিনি বললেন, ‘তারাই কাসিদা রচয়িতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি। কবিতা তো মূলত কথা ছাড়া আর কিছু নয়, আর তার মধ্যে যা সবচেয়ে কাব্যময় তাই শ্রেষ্ঠ।’ আল-আজজাজ বলেছেন:(নিশ্চয়ই ইলাহ দ্বীনকে সংশোধন করেছেন, ফলে তা সংশোধিত হয়েছে … ) // রাজায ছন্দ //এটি প্রায় দুইশত পঙক্তির একটি কবিতা যার অন্ত্যমিলগুলো স্থির। যদি এর সকল অন্ত্যমিলকে উন্মুক্ত রাখা হতো, তবে সেগুলো নসব (জবর) বিশিষ্ট হতো। তাদের অধিকাংশ রাজায কবিতার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।ইবনে কুতাইবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রুবাহ ইঁদুর খেতেন। এ বিষয়ে তাকে তিরস্কার করা হলে তিনি বললেন: ‘আল্লাহর কসম, এগুলো তোমাদের গৃহপালিত পশু এবং তোমাদের সেই মুরগিগুলোর চেয়েও পরিচ্ছন্ন যারা বিষ্ঠা খায়। ইঁদুর তো কেবল খাঁটি গম এবং খাবারের নির্যাসটুকু ছাড়া আর কিছুই খায় না।’আবু যাইদ আল-আনসারী আন-নাহবী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রুবাহ ইবনুল আজজাজ একটি সবুজ বুরকানি পোশাক পরে বাজারে প্রবেশ করলেন। তখন ছোট ছোট ছেলেরা তাঁকে নিয়ে তামাশা করতে লাগল এবং তাঁর পোশাকে খেজুরের কাঁটা বিধিয়ে দিতে লাগল আর চিৎকার করে বলতে লাগল: ‘হে তালি দেওয়া ব্যক্তি! হে তালি দেওয়া ব্যক্তি!’ তখন তিনি ওয়ালীর কাছে গিয়ে বললেন, ‘আমার সাথে পাহারাদারদের পাঠান, কারণ এই ছেলেরা আমার এবং বাজারের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।’ তখন তিনি তাঁর সাথে কিছু সাহায্যকারী পাঠালেন, আর তিনি ছেলেদের ওপর চড়াও হলেন এই বলতে বলতে যে-
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(أنحى عَلَى أمّكَ بالمَردومِ … أَعْورُ جَعدٌ من بني تَمِيم)(شراب ألبان خلايا كوم … )قَالَ فَجعلُوا يعدون بَين يَدَيْهِ حَتَّى دخلُوا دَارا فِي الصيارفة فَقَالَ لَهُ الشرطي أَيْن هم قَالَ دخلُوا دَار الظَّالِمين فسميت إِلَى الْآن دَار الظَّالِمين لقَوْل رؤبة وَهِي فِي صيارفة سوق الْبَصْرَةوَعَن الْمَدَائِنِي قَالَ قدم الْبَصْرَة راجز من رجاز الْمَدِينَة فَجَلَسَ إِلَى حَلقَة فِيهَا الشُّعَرَاء فَقَالَ أَنا أرجز الْعَرَب أَنا الَّذِي أَقُول(مَروانُ يُعطِي وسَعيدٌ يَمنعُ … مَروانُ نَبعٌ وَسَعِيد خروع) // الرجز //وددت أَنِّي راهنت من أحب فِي الرجز يدا بيد وَالله وَالله لأَنا أرجز من العجاج فليت الْبَصْرَة جمعت بيني وَبَينه قَالَ والعجاج حَاضر وَابْنه رؤبة مَعَه فَأقبل رؤبة على أَبِيه فَقَالَ قد أنصفك الرجل فَأقبل عَلَيْهِ العجاج فَقَالَ هَا أَنا ذَا العجاج فَهَلُمَّ وزحف إِلَيْهِ فَقَالَ وَأي العجاجين أَنْت قَالَ مَا خلتك تَعْنِي غَيْرِي أَنا أَبُو عبد الله الطَّوِيل وَكَانَ يكنى بذلك فَقَالَ لَهُ الْمدنِي مَا عنيتك وَلَا أردتك قَالَ كَيفَ وَقد هَتَفت باسمي قَالَ أَو مَا فِي الدُّنْيَا عجاج سواك قَالَ مَا علمت قَالَ وَلَكِنِّي أعلم وإياه عنيت قَالَ فَهَذَا ابْني رؤبة قَالَ اللَّهُمَّ غفرا مَا بيني وبينكما عمل وَإِنَّمَا مرادي غيركما قَالَ فَضَحِك أهل الْحلقَة وكفا عَنهُوَعَن عبد الرَّحْمَن بن مُحَمَّد بن عَلْقَمَة قَالَ أخرج شاهين بن عبد الله الثَّقَفِيّ رؤبة مَعَه إِلَى أرضه فقعدوا يَلْعَبُونَ بالنرد فَلَمَّا أَتَوا بالخوان قَالَ رؤبة فِيهِ(يَا إخْوتِي جَاء الخِوانُ فَارفعُوا … حَنَّانةً كعَابُها تَقَعْقَعُ)(لَم أدْرِ مَا ثَلاثُها والأربعُ … ) قَالَ فضحكنا ورفعناها وَقدم الطَّعَاموَكَانَ رؤبة مُقيما بِالْبَصْرَةِ فَلَمَّا ظهر بهَا إِبْرَاهِيم بن عبد الله بن الْحسن بن عَليّ
(তিনি তোমার মায়ের উপর বড় পাথর দিয়ে আঘাত হেনেছিলেন … বনু তামীম গোত্রের এক কোঁকড়া চুলওয়ালা কানা ব্যক্তি)(বিপুল সংখ্যক দুগ্ধবতী উটনীর দুগ্ধ পানীয় … )তিনি বললেন: অতঃপর তারা তার সামনে দৌড়াতে শুরু করল, এমনকি তারা সরাফদের (মুদ্রা বিনিময়কারী) একটি বাড়িতে প্রবেশ করল। তখন পুলিশ তাকে জিজ্ঞেস করল, তারা কোথায়? তিনি বললেন, তারা জালিমদের ঘরে প্রবেশ করেছে। রু'বার এই উক্তির কারণে আজ পর্যন্ত একে 'জালিমদের ঘর' বলা হয়; এটি বসরার বাজারের সরাফদের এলাকায় অবস্থিত।মাদায়িনী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মদীনার জনৈক রাজয রচয়িতা কবি বসরায় এলেন এবং কবিদের একটি মজলিসে বসলেন। তিনি বললেন: আমি আরবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রাজয রচয়িতা। আমিই সেই ব্যক্তি যে বলে থাকে—(মারওয়ান দান করে আর সাঈদ রুদ্ধ করে … মারওয়ান হলো শক্ত বৃক্ষ আর সাঈদ হলো ক্যাস্টর বৃক্ষ) // আর-রাজয //আমি চেয়েছিলাম যদি রাজয রচনায় আমার প্রিয় কারও সাথে হাতে হাত রেখে বাজি ধরতাম। আল্লাহর কসম, আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চয়ই আজজাজের চেয়ে বড় রাজয রচয়িতা। হায়, যদি বসরা আমার ও তার মধ্যে সাক্ষাৎ ঘটিয়ে দিত! বর্ণনাকারী বলেন: তখন আজজাজ সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তার পুত্র রু'বাও তার সাথে ছিলেন। তখন রু'বা তার পিতার দিকে ফিরে বললেন: লোকটি আপনাকে ইনসাফ করেছে। তখন আজজাজ তার দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন: এই তো আমি আজজাজ, আসো দেখি! তিনি তার দিকে অগ্রসর হলেন। তখন মদীনার কবি বললেন: আপনি দুই আজজাজের মধ্যে কোনজন? আজজাজ বললেন: আমি মনে করি না যে আপনি আমি ছাড়া অন্য কাউকে বুঝিয়েছেন। আমি আবু আব্দুল্লাহ আল-তাবীল; আর এটিই ছিল তার উপনাম। তখন মদীনাবাসী তাকে বললেন: আমি আপনাকে বুঝাইনি এবং আপনাকে উদ্দেশ্যও করিনি। আজজাজ বললেন: তা কী করে হয়, অথচ আপনি আমার নাম ধরে ডেকেছেন? তিনি বললেন: পৃথিবীতে কি আপনি ছাড়া আর কোনো আজজাজ নেই? আজজাজ বললেন: আমার জানা নেই। তিনি বললেন: কিন্তু আমি জানি এবং তাকেই আমি উদ্দেশ্য করেছি। আজজাজ বললেন: তবে এই যে আমার পুত্র রু'বা। তিনি বললেন: হে আল্লাহ! ক্ষমা করুন, আমার এবং আপনাদের মধ্যে কোনো বিবাদ নেই, আমার উদ্দেশ্য আপনাদের বাইরে অন্য কেউ। বর্ণনাকারী বলেন: তখন মজলিসের লোকজন হাসলেন এবং আজজাজ তার থেকে নিবৃত্ত হলেন।আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলকামা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: শাহীন ইবনে আব্দুল্লাহ আল-সাকাফী রু'বাকে সাথে নিয়ে তার জমিতে গেলেন। সেখানে তারা পাশা খেলতে বসলেন। অতঃপর যখন দস্তরখান আনা হলো, তখন রু'বা সে বিষয়ে বললেন—(হে আমার ভাইয়েরা! দস্তরখান এসে গেছে, অতএব সরিয়ে ফেলো … শব্দকারী সেই জিনিস যার ঘুঁটিগুলো খটখট শব্দ করে)(আমি জানতাম না যে তিন আর চার কী … ) তিনি বললেন: তখন আমরা হাসলাম এবং সেগুলো সরিয়ে ফেললাম এবং খাবার পরিবেশন করা হলো।রু'বা বসরায় অবস্থান করছিলেন। অতঃপর যখন সেখানে ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হাসান ইবনে আলী আবির্ভূত হলেন—
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ابْن أبي طَالب كرم الله وَجهه على الْمَنْصُور وَجَرت الْوَاقِعَة الْمَشْهُورَة خَافَ رؤبة على نَفسه وَخرج إِلَى الْبَادِيَة ليجتنب الْفِتْنَة فَلَمَّا وصل إِلَى النَّاحِيَة الَّتِي قَصدهَا أدْركهُ أَجله بهَا فَتوفي سنة خمس وَأَرْبَعين وَمِائَةوَهَذَا يُخَالف مَا رَوَاهُ يَعْقُوب بن دَاوُد قَالَ لقِيت الْخَلِيل بن أَحْمد يَوْمًا بِالْبَصْرَةِ فَقَالَ يَا أَبَا عبد الله دفنا الشّعْر واللغة والفصاحة الْيَوْم فَقلت لَهُ كَيفَ ذَلِك قَالَ حِين انصرفت من جَنَازَة رؤبة بن العجاج وَكَانَ قد أسن رحمه اللهوَقد سمع أَبَاهُ وَأَبوهُ سمع أَبَا هُرَيْرَة رضي الله عنه وَقَالَ النَّسَائِيّ وَلَيْسَ هُوَ بِالْقَوِيّ وَقد روى رؤبة بن العجاج عَن أبي الشعْثَاء عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي سفر وحاد يَحْدُو(طافَ الخَيالانِ فَهاجا سَقماً … خَيالُ لبُنْيَ وَخيالُ تَكُتماَ)(قَامتْ تُريك خَشيةً أَن تَصْرما … ساقاً بَخنْداةً وكعبا ادرما) // الرجز //وَالنَّبِيّ صلى الله عليه وسلم يسمع وَلَا يُنكروَحدث أَبُو عُبَيْدَة الْحداد قَالَ حَدثنَا رؤبة بن العجاج قَالَ سَمِعت أَبَا هُرَيْرَة رضي الله عنه يَقُول السِّوَاك يذهب وضر الطَّعَام وَهَذَا الْخَبَر يدل على أَنه سمع من أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه وَالله أعلموَمن شعره(أَيهَا الشامت الْمُعير بالشّيب أقِلّنّ بالشبّابِ افْتخارّا … )(قَدْ لَبستُ الشّبابَ غَضَّاً طَريّا … فَوجدتُ الشّبابَ ثوبا معارا) // الْخَفِيف //3 - (الْحَمد لله الْعلي الأجْلَلِ … )قَائِله أَبُو النَّجْم وَهُوَ من بَحر الرجز من أرجوزة طَوِيلَة وَبعده(الوَاهب الفَضلِ الوَهوب المُجزِل … أعْطَى فَلمْ يَبخلْ وَلم يُبخَّلِ) // الرجز //وَالشَّاهِد فِيهِ مُخَالفَة الْقيَاس اللّغَوِيّ فِي قَوْله الأجلل إِذْ الْقيَاس الْأَجَل بِالْإِدْغَامِ
...ইবনে আবু তালিব (আল্লাহ তার মুখমণ্ডলকে সম্মানিত করুন) মনসুরের বিরুদ্ধে এবং সেই প্রসিদ্ধ ঘটনাটি ঘটল, তখন রু'বা নিজের জীবনের ব্যাপারে শঙ্কিত হলেন এবং ফিতনা এড়াতে মরুপ্রান্তরের দিকে বেরিয়ে পড়লেন। যখন তিনি তার উদ্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছালেন, তখন সেখানেই তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো এবং তিনি ১৪৫ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।এটি ইয়াকুব ইবনে দাউদ কর্তৃক বর্ণিত বর্ণনার বিপরীত। তিনি বলেন, একদিন বসরায় খলীল ইবনে আহমদের সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি বললেন, হে আবু আব্দুল্লাহ, আজ আমরা কবিতা, ভাষা এবং সাবলীলতাকে দাফন করে এলাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, তা কীভাবে? তিনি বললেন, যখন আমি রু'বা ইবনুল আজজাজের জানাজা থেকে ফিরলাম। আর তিনি বৃদ্ধ হয়েছিলেন, আল্লাহ তার ওপর রহম করুন।তিনি তার পিতার নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন এবং তার পিতা আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে শ্রবণ করেছেন। নাসাঈ বলেছেন, তিনি খুব বেশি শক্তিশালী (বর্ণনাকারী) নন। রু'বা ইবনুল আজজাজ আবুশ শাসা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমরা এক সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম এবং একজন উটচালক উট চালনার গান গাইছিল।(দুটি কল্পনা মানসপটে উদিত হলো এবং তারা পীড়া জাগিয়ে তুলল … লুবনার কল্পনা এবং তাকতুমের কল্পনা)(তিনি এমনভাবে দাঁড়ালেন যে বিচ্ছেদের আশঙ্কায় তোমাকে দেখাচ্ছিলেন … মাংসল একটি জঙ্ঘা এবং নিটোল গোঁড়ালি-সন্ধি) // রাজায //আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা শুনছিলেন এবং এতে কোনো আপত্তি করেননি।আবু উবায়দাহ আল-হাদ্দাদ বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমাদের নিকট রু'বা ইবনুল আজজাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলতে শুনেছি: মেসওয়াক খাবারের দুর্গন্ধ দূর করে। এই বর্ণনাটি নির্দেশ করে যে তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সরাসরি শ্রবণ করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।এবং তার কবিতা থেকে:(হে উপহাসকারী, যে বার্ধক্য নিয়ে বিদ্রূপ করছো, যৌবনের দম্ভ কমিয়ে দাও … )(আমি সতেজ ও নবীন যৌবনকে পরিধান করেছি … এরপর যৌবনকে এক ধার করা পোশাক হিসেবে পেয়েছি) // খাফিফ //৩ - (সমস্ত প্রশংসা সুউচ্চ ও অতি মহান আল্লাহর জন্য … )এর রচয়িতা আবু নাজম এবং এটি রাজায ছন্দভুক্ত একটি দীর্ঘ উরজুযা থেকে নেওয়া হয়েছে এবং এর পরবর্তী অংশ হলো:(তিনি অনুগ্রহ দানকারী, মহান দাতা … তিনি দান করেন, কার্পণ্য করেন না এবং তাকে কৃপণ বলাও হয় না) // রাজায //এখানে ভাষাগত প্রমাণের বিষয়টি হলো 'আল-আজালাল' শব্দটিতে ভাষাগত নিয়মের বিপরীত প্রয়োগ, কারণ নিয়ম অনুযায়ী এটি ইদগামসহ 'আল-আজাল্ল' হওয়ার কথা ছিল।
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَأَبُو النَّجْم اسْمه الْفضل بن قدامَة بن عبيد الله الْعجلِيّ وَهُوَ من رجاز الْإِسْلَام والفحول الْمُتَقَدِّمين فِي الطَّبَقَة الأولى مِنْهُموَفد على هِشَام بن عبد الْملك وَقد طعن فِي السن فَقَالَ يَا أَبَا النَّجْم حَدثنِي قَالَ أَعنِي أَو عَن غَيْرِي قَالَ بل عَنْك قَالَ إِنِّي لما كَبرت عرض لي الْبَوْل فَوضعت عِنْد رجْلي شَيْئا أبول فِيهِ فَقُمْت من اللَّيْل أبول فَخرج مني صَوت فتشددت ثمَّ عدت فَخرج مني صَوت آخر فأويت إِلَى فِرَاشِي وَقلت يَا أم الْخِيَار هَل سَمِعت شَيْئا قَالَت لَا وَالله وَلَا وَاحِدَة مِنْهُمَا فَضَحِك هِشَاموَعَن أبي عُبَيْدَة قَالَ مَا زَالَت الشُّعَرَاء تقصر بالرجاز حَتَّى قَالَ أَبُو النَّجْم(الْحَمد لله الْعلي الأجلل … )وَقَالَ العجاج(قد جبر الدّين الإلهُ فجبر … )وَقَالَ رؤبة(وقاتم الأعماق خاوي المخترق … ) فانتصفوا مِنْهُموَعَن أبي عَمْرو الشَّيْبَانِيّ قَالَ قَالَ فتيانٌ من عجلٍ لأبي النَّجْم هَذَا رؤبة بالمربد يجلس فَيسمع شعره وينشد النَّاس ويجتمع إِلَيْهِ فتيَان بني تَمِيم قَالَ أَو تحبون ذَلِك قَالُوا نعم قَالَ فائتوني بِشَيْء من نَبِيذ فَأتوهُ بِهِ فشربه ثمَّ انتفض فَقَالَ(إِذا اصطبحت أَرْبعا عَرفتني … ثمَّ تَجَشمتُ الَّذِي جشمتني) // الرجز //
আবু নজমের নাম হলো ফজল ইবনে কুদামা ইবনে ওবায়দুল্লাহ আল-ইজলি। তিনি ইসলামের রাজজ কবিদের এবং তাদের প্রথম স্তরের অগ্রগণ্য ও শক্তিশালী কবিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।তিনি হিশাম ইবনে আব্দুল মালিকের কাছে প্রতিনিধি হিসেবে আসলেন যখন তিনি বার্ধক্যে উপনীত হয়েছেন। হিশাম বললেন, হে আবু নজম, আমাকে কিছু বলুন। তিনি বললেন, আমার নিজের পক্ষ থেকে না কি অন্য কারো পক্ষ থেকে? তিনি বললেন, বরং আপনার নিজের পক্ষ থেকেই। তিনি বললেন, যখন আমি বৃদ্ধ হলাম, তখন আমার প্রস্রাবের বেগ হওয়ার সমস্যা দেখা দিল, ফলে আমি আমার পায়ের কাছে প্রস্রাব করার জন্য একটি পাত্র রাখলাম। এক রাতে আমি প্রস্রাব করার জন্য উঠলাম, তখন আমার থেকে একটি শব্দ নির্গত হলো। আমি নিজেকে শক্ত করলাম, এরপর পুনরায় চেষ্টা করলাম এবং আরেকটি শব্দ নির্গত হলো। এরপর আমি আমার বিছানায় ফিরে আসলাম এবং বললাম, হে উম্মুল খিয়ার, তুমি কি কিছু শুনেছ? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, না, ঐ দুটির একটিও শুনিনি। এতে হিশাম হাসলেন।আবু উবাইদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কবিরা রাজজ কবিদের সবসময় তুচ্ছ জ্ঞান করত যতক্ষণ না আবু নজম বললেন:(সমস্ত প্রশংসা সুউচ্চ ও অতি মহান আল্লাহর জন্য … )এবং আল-আজজাজ বললেন:(আল্লাহ ইলাহ দীনকে সুসংহত করেছেন, ফলে তা সুসংহত হয়েছে … )এবং রু’বাহ বললেন:(গভীর অন্ধকারাচ্ছন্ন এবং জনমানবহীন পথ … ) তখন তারা তাদের থেকে নিজেদের প্রাপ্য মর্যাদা আদায় করে নিলেন।আবু আমর আশ-শায়বানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইজল গোত্রের কিছু যুবক আবু নজমকে বলল, এই যে রু’বাহ মিরবাদে বসে আছেন, তিনি কবিতা শোনেন এবং মানুষকে কবিতা আবৃত্তি করে শোনান এবং বনু তামিমে যুবকরা তার কাছে সমবেত হয়। তিনি বললেন, তোমরা কি তা পছন্দ করো? তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে আমার জন্য কিছু নাবীজ নিয়ে এসো। তারা তা নিয়ে এলে তিনি তা পান করলেন এবং গা ঝাড়া দিয়ে উঠলেন, তারপর বললেন:(যখন আমি সকালে চার পাত্র পান করি তখন তুমি আমাকে চিনতে পারবে … এরপর আমি সেই কষ্টের বোঝা বহন করলাম যা তুমি আমাকে দিয়েছ) // আর-রাজজ //
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ২০)
فَلَمَّا رَآهُ رؤبة أعظمه وَقَامَ لَهُ عَن مَكَانَهُ وَقَالَ هَذَا رجاز الْعَرَب وسألوه أَن ينشدهم فأنشدهم(الحمدُ لله العليِّ الأجلل … )وَكَانَ من أحسن النَّاس إنشاداً فَلَمَّا فرغ مِنْهَا قَالَ لَهُ رؤبة هَذِه أتم الرجز ثمَّ قَالَ يَا أَبَا النَّجْم قربت مرعاها إِذْ جَعلتهَا بَين رجل وَابْنه يُوهم عَلَيْهِ أَنه حَيْثُ قَالَ(تَبقَّلَتْ مِنْ أَوّلِ التبَّقِّلِ … بَينَ رِماحَيْ مَالك ونهشل) // الرجز // أَنه يُرِيد نهشل بن مَالك بن حَنْظَلَة بن زيد بن مَنَاة فَقَالَ لَهُ أَبُو النَّجْم هَيْهَات الكمر تتشابه أَي إِنَّمَا أُرِيد مَالك بن ضبيعة بن قيس ونهشل قَبيلَة من ربيعَةوَعَن أبي بَرزَة المربدي قَالَ خرج العجاج محتفلاً عَلَيْهِ جُبَّة من خَز وعمامة من خَز على نَاقَة لَهُ قد أَجَاد رَحلهَا حَتَّى وقف بالمربد وَالنَّاس مجتمعون عَلَيْهِ وأنشدهم(قد جبر الدّين الإلهُ فَجَبرْ … )وَذكر فِيهَا ربيعَة فهجاهم فجَاء رجل من بني بكر بن وَائِل إِلَى أبي النَّجْم وَهُوَ فِي بَيته فَقَالَ أَنْت جَالس وَهَذَا العجاج يهجونا فِي المربد قد اجْتمع عَلَيْهِ النَّاس فَقَالَ صف لي حَاله وزيه الَّذِي هُوَ فِيهِ فوصف لَهُ فَقَالَ ابغني جملا طحاناً قد أَكثر عَلَيْهِ من الهناء فجَاء بالجمل فَأخذ سَرَاوِيل لَهُ فَجعل إِحْدَى
রউবা যখন তাঁকে দেখলেন, তাঁকে অত্যন্ত সম্মান করলেন এবং তাঁর জন্য নিজের জায়গা ছেড়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি বললেন, "ইনি হচ্ছেন আরবদের রাজায রচয়িতাদের শিরোমণি।" তারা তাঁর কাছে কবিতা শোনানোর অনুরোধ করলে তিনি তাদের কবিতা শোনালেন।(সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সুউচ্চ এবং মহিমান্বিত … )কবিতা আবৃত্তিতে তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ। যখন তিনি তা শেষ করলেন, রউবা তাঁকে বললেন, "এটিই হচ্ছে সবচাইতে পূর্ণাঙ্গ রাজায।" এরপর তিনি বললেন, "হে আবু নাজম! আপনি এর চারণভূমিকে নিকটবর্তী করে দিয়েছেন যখন আপনি একে একজন ব্যক্তি ও তার সন্তানের মাঝে স্থাপন করেছেন।" তিনি তাঁকে এই ধারণা দিচ্ছিলেন যে, যখন তিনি বলেছেন:(বসন্তের শুরু থেকেই এটি ঘাস খেতে শুরু করেছে … মালিক ও নাহশালের দুই বল্লমের মাঝে) // আর-রাজায // অর্থাৎ তিনি নাহশাল বিন মালিক বিন হানজালা বিন যায়েদ বিন মানাত-কে বুঝিয়েছেন। তখন আবু নাজম তাঁকে বললেন, "অসম্ভব! অঙ্গসমূহ পরস্পর সদৃশ হতে পারে," অর্থাৎ "আমি কেবল মালিক বিন দবিয়াহ বিন কাইস এবং রাবিয়াহ গোত্রের নাহশালকে উদ্দেশ্য করেছি।"আবু বারযাহ আল-মারবাদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল-আজজাজ জাঁকজমকপূর্ণভাবে বের হলেন, তাঁর অঙ্গে ছিল রেশমি জুব্বা এবং রেশমি পাগড়ি। তিনি তাঁর এক উষ্ট্রীর পিঠে সওয়ার ছিলেন যার জিন তিনি অত্যন্ত নিপুণভাবে প্রস্তুত করেছিলেন। অবশেষে তিনি মারবাদ নামক স্থানে গিয়ে থামলেন এবং মানুষ তাঁর চারপাশে সমবেত হলো। তিনি তাদের কবিতা শোনালেন:(আল্লাহ দ্বীনকে সংস্কার করেছেন, ফলে তা সংস্কার হয়ে গেছে … )তাতে তিনি রাবিয়াহ গোত্রের কথা উল্লেখ করে তাদের নিন্দা করলেন। তখন বকর বিন ওয়াইল গোত্রের এক ব্যক্তি আবু নাজম-এর কাছে এলেন যখন তিনি তাঁর বাড়িতে ছিলেন। লোকটি বলল, "আপনি বসে আছেন, অথচ এই আল-আজজাজ মারবাদে আমাদের নিন্দা করে কবিতা পড়ছে এবং মানুষ তার চারপাশ ঘিরে ধরেছে!" তিনি বললেন, "তার অবস্থা এবং সে যে পোশাকে আছে তার বিবরণ দাও।" সে তাঁকে তার বর্ণনা দিল। তখন তিনি বললেন, "আমার জন্য একটি শক্তিশালী উট খুঁজে আনো যার গায়ে প্রচুর আলকাতরা মাখানো হয়েছে।" সে উটটি নিয়ে এলে তিনি তাঁর একটি পায়জামা নিলেন এবং তার একটি...
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ২১)
رجلَيْهِ فِي السَّرَاوِيل واتزر بِالْأُخْرَى وَركب الْجمل وَدفع خطامه إِلَى من يَقُودهُ فَانْطَلق حَتَّى أَتَى المربد فَلَمَّا دنا من العجاج قَالَ اخلع خطامه فخلعه وَأنْشد(تذكرَّ القلبُ وجهلاً مَا ذكر … )فَجعل الْجمل يدنو من النَّاقة ويتشممها ويتباعد عَنهُ الْحجَّاج لِئَلَّا يفْسد ثِيَابه ورحله بالقطران حَتَّى بلغ قَوْله(شَيْطَانه أُنْثَى وشيطاني ذكر … )فعلق النَّاس هَذَا الْبَيْت وهرب العجاج مِنْهُوَورد أَبُو النَّجْم على هِشَام بن عبد الْملك فِي الشُّعَرَاء فَقَالَ لَهُم هِشَام صفوا إبِلا فقيظوها وأوردوها وأصدروها حَتَّى كأنني أنظر إِلَيْهَا فأنشدوه وأنشده أَبُو النَّجْم(الْحَمد لله الْعلي الأجْلِلِ … )حَتَّى إِذا بلغ إِلَى ذكر الشَّمْس فَقَالَ(فِهيِ عِلى الأُفقِ كِعين … . . … )فَأَرَادَ أَن يَقُول الْأَحول ثمَّ ذكر حول هِشَام فَلم يتم الْبَيْت وأرتج عَلَيْهِ فَقَالَ هِشَام أجز فَقَالَ كعين الْأَحول وَأمر القصيدة فَأمر هِشَام بوجء عُنُقه وإخراجه من الرصافة وَقَالَ لصَاحب شرطته يَا ربيع إياك وَأَن أرى هَذَا فَكلم وُجُوه النَّاس صَاحب شرطته أَن يقره فَفعل فَكَانَ يُصِيب من فضول أَطْعِمَة النَّاس ويأوي الْمَسَاجِد قَالَ أَبُو النَّجْم وَلم يكن بالرصافة أحد يضيف إِلَّا سليم بن كيسَان الْكَلْبِيّ وَعَمْرو بن بسطَام التغلبي فَكنت آتِي سليما فأتغذى عِنْده وَآتى عمرا فأتعشى عِنْده وَآتى الْمَسْجِد فأبيت قَالَ فاهتم هِشَام لَيْلَة وَأمسى لقس النَّفس وَأَرَادَ مُحدثا يحدثه فَقَالَ لخادم ابغني مُحدثا أَعْرَابِيًا أهوج شَاعِرًا يروي الشّعْر فَخرج الْخَادِم إِلَى الْمَسْجِد فَإِذا هُوَ بِأبي النَّجْم فَضَربهُ
তিনি তাঁর দুই পা পাজামার ভেতর ঢোকালেন এবং অন্য একটি কাপড় দিয়ে ইজার বাঁধলেন। এরপর তিনি উটের পিঠে আরোহণ করলেন এবং সেটির লাগাম চালকের হাতে সোপর্দ করলেন। তিনি চলতে চলতে মিরবাদ নামক স্থানে পৌঁছালেন। যখন তিনি আল-আজ্জাজের নিকটবর্তী হলেন, তখন বললেন, "তার লাগাম ছেড়ে দাও।" সে তা ছেড়ে দিল এবং তিনি আবৃত্তি করলেন:
(হৃদয় স্মরণ করল, আর অজ্ঞতাবশত সে যা স্মরণ করল … )
তখন উটটি মাদী উটটির নিকটবর্তী হতে লাগল এবং তাকে শুঁকতে শুরু করল। আল-হাজ্জাজ তার থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলেন যাতে আলকাতরার কারণে তার পোশাক ও সরঞ্জাম নষ্ট না হয়। অবশেষে তিনি তাঁর এই কথা পর্যন্ত পৌঁছালেন:
(তার শয়তান নারী আর আমার শয়তান পুরুষ … )
মানুষ এই পঙ্ক্তিটি গেঁথে নিল এবং আল-আজ্জাজ সেখান থেকে পালিয়ে গেল।
আবু আল-নাজম কবিদের একটি দলের সাথে হিশাম বিন আব্দুল মালিকের দরবারে উপস্থিত হলেন। হিশাম তাঁদের বললেন, "তোমরা উটের বর্ণনা দাও—তাদের গ্রীষ্মকালীন অবস্থান, তাদের ঘাটে আগমন এবং প্রস্থান—এমনভাবে বর্ণনা করো যেন আমি সেগুলো চাক্ষুষ দেখছি।" তখন তাঁরা তাঁকে শোনালেন এবং আবু আল-নাজমও আবৃত্তি করলেন:
(সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি সমুন্নত ও অত্যন্ত মহান … )
এমনকি যখন তিনি সূর্যের বর্ণনায় পৌঁছালেন, তখন বললেন:
(সেটি দিগন্তের ওপর যেন একটি চোখের মতো … . . … )
তিনি 'ট্যারা' (আল-আহওয়াল) শব্দটি বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু হিশামের চোখের ট্যারা হওয়ার কথা তাঁর স্মরণে আসায় তিনি পঙ্ক্তিটি পূর্ণ করতে পারলেন না এবং বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। হিশাম বললেন, "সম্পূর্ণ করো।" তখন তিনি বললেন, "ট্যারা ব্যক্তির চোখের মতো" এবং কবিতাটি চালিয়ে গেলেন। হিশাম তাঁর ঘাড়ে সজোরে আঘাত করার এবং তাঁকে রুসাফা থেকে বের করে দেওয়ার আদেশ দিলেন। তিনি তাঁর প্রধান পুলিশ কর্মকর্তাকে বললেন, "হে রাবি! সাবধান, আমি যেন একে আর কখনও না দেখি।" এরপর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রধান পুলিশ কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করলেন যেন তাঁকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয় এবং তিনি তা মেনে নিলেন। ফলে তিনি মানুষের বেঁচে যাওয়া অতিরিক্ত খাবার খেয়ে জীবনধারণ করতেন এবং মসজিদে আশ্রয় নিতেন।
আবু আল-নাজম বলেন, "রুসাফাতে সুলাইম বিন কায়সান আল-কালবি এবং আমর বিন বাসতাম আল-তাগলিবি ব্যতীত এমন কেউ ছিল না যে মেহমানদারি করত। আমি সুলাইমের কাছে দুপুরের খাবার খেতাম এবং আমরের কাছে রাতের খাবার খেতাম, আর মসজিদে গিয়ে রাত কাটাতাম।" তিনি বলেন, "এক রাতে হিশাম অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন এবং তাঁর মন অস্থির হয়ে উঠল। তিনি একজন গল্পকথক চাইলেন যিনি তাঁর সাথে কথা বলবেন। তিনি তাঁর খাদেমকে বললেন, 'আমার জন্য এমন একজন গল্পকথক খুঁজে আনো যে মরুবাসী, কিছুটা বেপরোয়া এবং কবি, যে কবিতা বর্ণনা করতে পারে।' খাদেম মসজিদের দিকে বেরিয়ে গেলেন এবং সেখানে আবু আল-নাজমকে পেয়ে তাঁকে আঘাত করলেন।"
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ২২)
بِرجلِهِ وَقَالَ قُم أجب أَمِير الْمُؤمنِينَ فَقَالَ إِنَّنِي رجل أَعْرَابِي غَرِيب فَقَالَ إياك أبغي هَل تروي الشّعْر قَالَ نعم وأقوله فَأقبل بِهِ حَتَّى أدخلهُ الْقصر وأغلق الْبَاب قَالَ فأيقن أَبُو النَّجْم بِالشَّرِّ ثمَّ مضى بِهِ فَأدْخلهُ على هِشَام فِي بَيت صَغِير بَينه وَبَين نِسَائِهِ ستر رَقِيق والشمع بَين يَدَيْهِ يزهر فَلَمَّا دخل قَالَ لَهُ هِشَام أَبُو النَّجْم قَالَ نعم يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ طريدك قَالَ اجْلِسْ فَسَأَلَهُ وَقَالَ لَهُ أَيْن كنت تأوي وَأَيْنَ مَنْزِلك فَأخْبرهُ قَالَ وَكَيف اجْتمعَا لَك قَالَ كنت أتغذى عِنْد هَذَا وأتعشى عِنْد الآخر قَالَ فَأَيْنَ كنت تبيت قَالَ فِي الْمَسْجِد حَيْثُ وجدني رَسُولك قَالَ وَمَا لَك من الْوَلَد وَالْمَال قَالَ أما المَال فَلَا مَال لي وَأما الْوَلَد فلي ثَلَاث بَنَات وَبني يُقَال لَهُ شَيبَان فَقَالَ هَل أخرجت من بناتك أحدا قَالَ نعم زوجت اثْنَتَيْنِ وَبقيت وَاحِدَة تجمز فِي أبياتها كَأَنَّهَا نعَامَة قَالَ وَمَا أوصيت بِهِ الأولى وَكَانَت تسمى برة بالبراء فَقَالَ(أوِصيتُ مِنْ بِرِّةِ قِلباً حُرّا … بِالكلبِ خِيراً وِالحماةِ شِرّا)(لَا تِسأِمي ضِرباً لهِا وِجِرِا … حِتى ترى حُلوِ الحياةِ مُرّا)(وِإنْ كِستكِ ذِهباً وِدرّا … وِالحيُّ عمُيِّهمْ بشرٍّ طُرّا) // الرجز //فَضَحِك هِشَام وَقَالَ فَمَا قلت لِلْأُخْرَى قَالَ قلت(سُبِّي الحِماةِ وابْهتيِ عِليها … وِإنْ دِنتْ فازْدَلِفي إِليْهَا)(وَأوْجعِي بالنَّهزِ رُكبتيهَا … وَمِرفقيهَا واضْرِبي جَنبيهَا)
নিজের পা দিয়ে তাকে গুঁতো দিয়ে তিনি বললেন, "উঠুন এবং আমীরুল মুমিনীনের আহ্বানে সাড়া দিন।" তিনি বললেন, "আমি একজন অপরিচিত বেদুঈন লোক।" তিনি বললেন, "আমি আপনাকেই খুঁজছি। আপনি কি কবিতা আবৃত্তি করেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, এবং আমি কবিতা রচনাও করি।" অতঃপর তিনি তাকে সাথে নিয়ে অগ্রসর হলেন যতক্ষণ না তাকে প্রাসাদে প্রবেশ করালেন এবং দরজা বন্ধ করে দিলেন। আবু নাজম বিপদের আশঙ্কা করলেন। তারপর তিনি তাকে নিয়ে হিশামের নিকট এক ছোট কক্ষে প্রবেশ করলেন, যেখানে হিশাম ও তার পরিবারের নারীদের মাঝে এক পাতলা পর্দা ছিল এবং তার সামনে মোমবাতি জ্বলজ্বল করছিল। যখন তিনি প্রবেশ করলেন, হিশাম তাকে বললেন, "আবু নাজম?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, হে আমীরুল মুমিনীন, আপনারই অন্বেষিত ব্যক্তি।" হিশাম বললেন, "বসুন।" অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি কোথায় অবস্থান করছিলেন এবং আপনার নিবাস কোথায়?" তিনি তাকে তা জানালেন। হিশাম বললেন, "এই দুইয়ের সমন্বয় আপনার জন্য কীভাবে হলো?" তিনি বললেন, "আমি একজনের কাছে দুপুরের খাবার খেতাম এবং অন্যজনের কাছে রাতের খাবার খেতাম।" হিশাম বললেন, "তবে রাতে কোথায় থাকতেন?" তিনি বললেন, "মসজিদে, যেখানে আপনার দূত আমাকে খুঁজে পেয়েছে।" হিশাম বললেন, "আপনার সন্তান ও ধনসম্পদ কী আছে?" তিনি বললেন, "সম্পদ বলতে আমার কিছুই নেই। আর সন্তানের ক্ষেত্রে আমার তিনটি কন্যা এবং একটি পুত্র আছে যাকে শাইবান বলা হয়।" হিশাম বললেন, "আপনি কি আপনার কন্যাদের কাউকে বিয়ে দিয়েছেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, দুইজনের বিয়ে দিয়েছি এবং একজন অবশিষ্ট আছে যে নিজ ঘরে উটপাখির ন্যায় চঞ্চল চরণে ঘুরে বেড়ায়।" হিশাম বললেন, "আপনি প্রথমজনকে কী উপদেশ দিয়েছিলেন?" যার নাম ছিল বাররা। তিনি বললেন:
(আমি বাররাকে একনিষ্ঠ হৃদয়ে উপদেশ দিয়েছি … কুকুরের প্রতি সদয় হতে আর শাশুড়ির প্রতি কঠোর হতে)(তাকে প্রহার করতে ও টেনে-হিঁচড়ে নিতে ক্লান্ত হয়ো না … যতক্ষণ না সে জীবনের মিষ্টতাকে তিক্ত হিসেবে দেখে)(যদিও সে তোমাকে স্বর্ণ ও মুক্তা দ্বারা সজ্জিত করে … আর পুরো গোত্রকে অনিষ্টের বন্যায় ডুবিয়ে দিও) // রাজায //হিশাম হেসে উঠলেন এবং বললেন, "তবে অন্যজনের ক্ষেত্রে আপনি কী বলেছিলেন?" তিনি বললেন, "আমি বলেছি:"(শাশুড়িকে গালি দিও এবং তার ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করো … আর সে যদি নিকটবর্তী হয় তবে তার থেকে দূরে সরে যেও)(ধাক্কা দিয়ে তার হাঁটু দুটিকে ব্যথিত করো … এবং তার কনুই দুটিকে, আর তার পার্শ্বদেশে প্রহার করো)
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(وَظَاهري الْبَدِيِّ لَهَا عَلَيْهَا … لَا تُخْبِرِي الدَّهرَ بِهِ ابْنتيهَا) // الرجز //قَالَ فَضَحِك هِشَام حَتَّى بَدَت نَوَاجِذه وَسقط على قَفاهُ وَقَالَ وَيحك مَا هَذِه وَصِيَّة يَعْقُوب عليه السلام وَلَده فَقَالَ وَلَا أَنا كيعقوب يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ قَالَ فَمَا قلت للثالثة قَالَ قلت(أوصِيكِ يَا بِنْتي فَإِنِّي ذَاهبُ … أُوصِيكِ أَن تَحْمَدكِ الأقاربُ)(والجارُ والضَّيفُ الكريمُ الساغب … وَيرجع الْمِسْكِين وهوَ خائبُ)(ولَا تَني أظْفارُكِ السَّلاهبُ … لَهن فِي وجهِ الحماة كاتبُ)(والزوْجِ إنَّ الزوجَ بئس الصاحب … ) // الرجز //قَالَ فَكيف قلت هَذَا وَلم تتَزَوَّج وَأي شَيْء قلت فِي تَأَخّر تَزْوِيجهَا قَالَ قلت(كَأَن ظَلَاّمةَ أخْتَ شَيبانْ … يَتيمةٌ ووالداها حَيَّانْ)(الرَّأسُ قملٌ كُلُّهُ وصِئْبان … ولَيسَ فِي السَّاقين إِلَّا خَيطانْ)(تِلكَ الَّتِي يَفْزَعُ مِنْهَا الشَّيطانْ … ) // الرجز //قَالَ فَضَحِك هِشَام حَتَّى ضحك النِّسَاء لضحكه وَقَالَ للخصي كم بَقِي من نَفَقَتك قَالَ ثَلَاثمِائَة دِينَار قَالَ أعْطه إِيَّاهَا ليجعلها فِي رجل ظلامة مَكَان الْخَيْطَيْنِ
(আমার সুনিপুণ বাহ্যরূপ তার জন্য তার ওপর … যুগকে তার দুই কন্যা সম্পর্কে সংবাদ দিও না) // রাজায // তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন, হিশাম এমনভাবে হাসলেন যে তার মাড়ির দাঁত প্রকাশিত হয়ে পড়ল এবং তিনি চিৎ হয়ে পড়ে গেলেন। তিনি বললেন, তোমার জন্য পরিতাপ! ইয়াকুব আলাইহিস সালাম কি তার সন্তানকে এমন উপদেশ দিয়েছিলেন? তিনি বললেন, হে আমিরুল মুমিনীন, আমিও তো ইয়াকুবের ন্যায় নই। তিনি বললেন, তবে তৃতীয় জনের জন্য তুমি কী বলেছ? তিনি বললেন, আমি বলেছি: (হে আমার কন্যা, আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি কারণ আমি চলে যাচ্ছি … আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যেন আত্মীয়-স্বজনরা তোমার প্রশংসা করে) (এবং প্রতিবেশী ও ক্ষুধার্ত সম্মানিত মেহমান … আর অভাবী ব্যক্তি যেন ব্যর্থ হয়ে ফিরে না যায়) (আর তোমার দীর্ঘ নখগুলো যেন অলস না থাকে … শাশুড়ির মুখমণ্ডলে সেগুলো যেন আঁচড় কেটে দেয়) (আর স্বামীর ক্ষেত্রে; নিশ্চয়ই স্বামী এক নিকৃষ্ট সঙ্গী … ) // রাজায // তিনি (হিশাম) বললেন, তুমি কেন এমনটি বললে অথচ সে এখনও বিবাহ করেনি? আর তার বিবাহ বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে তুমি কী বলেছ? তিনি বললেন, আমি বলেছি: (মনে হয় যেন দাল্লামাহ শায়বানের বোন … এক এতিম মেয়ে অথচ তার পিতা-মাতা জীবিত) (মাথাটা পুরোপুরি উকুন এবং উকুনের ডিমে ভরা … আর দুই পায়ে কেবল দুটি সুতোই অবশিষ্ট আছে) (ইনি সেই নারী যাকে দেখে শয়তানও আতঙ্কিত হয় … ) // রাজায // তিনি বললেন, হিশাম এমনভাবে হাসলেন যে তার হাসির কারণে উপস্থিত মহিলারাও হেসে ফেলল। তিনি খোজা ভৃত্যকে বললেন, তোমার ব্যয়ের আর কতটুকু অবশিষ্ট আছে? সে বলল, তিনশ দিনার। তিনি বললেন, তাকে তা দিয়ে দাও যেন সে দাল্লামাহর পায়ে সেই দুই সুতোর পরিবর্তে তা অলঙ্কার হিসেবে প্রদান করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وَدخل أَبُو النَّجْم يَوْمًا على هِشَام وَقد مَضَت لَهُ سَبْعُونَ سنة فَقَالَ لَهُ هِشَام مَا رَأْيك فِي النِّسَاء قَالَ إِنِّي لأنظر إلَيْهِنَّ شزراً وينظرن إِلَى حذرا فوهب لَهُ جَارِيَة وَقَالَ لَهُ اغْدُ عَليّ فَأَخْبرنِي مَا كَانَ مِنْك فَلَمَّا أصبح غَدا عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ مَا صنعت شَيْئا وَلَا قدرت على شَيْء وَقلت فِي ذَلِك أبياتاً(نَظرتْ فأعجبها الذِي فِي دِرْعِها … مِن حُسنه ونظرتُ فِي سرباليا)(ظيقا يَعضُّ بكلِّ عَردٍ نَالهُ … كالصدغِ أَو صدع يرى متجافيا)(فرأت لَهَا كَفلاً ينوء بخَصْرها … وَعْثاً رَوادفُه وأجثْمَ نابيا)(وَرَأَيْت منتشر العَجانِ مُقلّصاً … رخْواً مَفاصلهُ وجلداً باليَا)(أُدِنى لهُ الرِّكبَ الحَليقَ كأنَّما … أُدنى إِلَيْهِ عقَارباً وأفَاعيَا)(إِن الندامة والسدامة فاعلمن … لَو قد خبرتك للمواسي حاليا)(مَا بالُ رأسكَ من ورائي طالعاً … أظَننتَ أنَّ حِرَ الفَتاةِ وَرائِيا)(فاذهبْ فإِنكَ مَيِّتٌ لَا تَرُتّجَي … أبَد الأبيد وَلو عمرت لَياليَا)(أنْتَ الْغرُور إِذا خبرت وربَّما … كَانَ الْغرُور لمن رجاه شَافيَا)(لَكنّ أيْرِي لَا يُرجَّى نَفعُه … حَتَّى أعُودَ أخَا فتَاءٍ ناشيا) // الْكَامِل //فَضَحِك هِشَام وَأمر لَهُ بجائزة أُخْرَىوَحدث أَبُو الْأَزْهَر ابْن بنت أبي النَّجْم عَن أبي أمه أَنه كَانَ عِنْد عبد الْملك ابْن مَرْوَان وَيُقَال عِنْد سُلَيْمَان بن عبد الْملك يَوْمًا وَعِنْده جمَاعَة من
একদা আবু নাজম হিশামের নিকট প্রবেশ করলেন, এমতাবস্থায় যে তাঁর সত্তর বছর বয়স অতিক্রান্ত হয়েছে। হিশাম তাঁকে বললেন, "নারীদের ব্যাপারে আপনার মতামত কী?" তিনি বললেন, "আমি তাদের দিকে আড়চোখে তাকাই এবং তারাও আমার দিকে সতর্ক দৃষ্টিতে (কিংবা অনীহার সাথে) তাকায়।" তখন হিশাম তাঁকে একটি দাসী দান করলেন এবং বললেন, "আগামীকাল সকালে আমার নিকট আসবেন এবং আপনার সাথে কী ঘটল তা আমাকে জানাবেন।" যখন সকাল হলো, তিনি তাঁর নিকট গেলেন এবং বললেন, "আমি কিছুই করতে পারিনি এবং কোনো কিছুর সামর্থ্যও রাখিনি। এ প্রসঙ্গে আমি কিছু পংক্তি বলেছি:"(সে তাকাল এবং তার কামিজের ভেতরে যা ছিল তার সৌন্দর্যে সে বিমোহিত হলো … আর আমি তাকালাম আমার পাজামার ভেতরে)(তা সংকীর্ণ যা প্রতিটি স্পর্শ করা শক্ত বস্তুকে দংশন করে … কানের লতির ন্যায় কিংবা এমন বিচ্যুতি যা বিচ্ছিন্ন দেখা যায়)(সে দেখল যে তার কোমর নিতম্বের ভারে নুইয়ে পড়ছে … যা মাংসল, ভারী এবং প্রকটভাবে উত্থিত)(আর আমি দেখলাম সংকুচিত কুঁচকি যা গুটিয়ে গেছে … যার সন্ধিগুলো শিথিল এবং চামড়া জীর্ণ হয়ে গেছে)(আমি তার নিকট কামানো যৌনাঙ্গ নিকটবর্তী করলাম … যেন আমি তার কাছে বিচ্ছু ও সাপ নিয়ে এলাম)(জেনে রাখুন, নিশ্চয়ই অনুশোচনা ও গভীর পরিতাপ … যদি আমি আমার বর্তমান অবস্থা জানাতাম তবে তা ক্ষুরের মতো তীক্ষ্ণ হতো)(আমার পেছন দিক থেকে তোমার মাথা উঁকি দিচ্ছে কেন? … তুমি কি ভেবেছিলে যে তরুণীর যৌনাঙ্গ আমার পেছনে?)(দূর হও, কেননা তুমি মৃত যার কোনো প্রত্যাশা নেই … অনন্তকাল পর্যন্ত—এমনকি তোমার আয়ু দীর্ঘ হলেও)(পরীক্ষিত হলে তুমি এক প্রবঞ্চক মাত্র, আর সম্ভবত … প্রবঞ্চনাই তার জন্য নিরাময় যে তা আশা করে)(কিন্তু আমার লিঙ্গের উপকারের কোনো আশা নেই … যতক্ষণ না আমি পুনরায় এক বাড়ন্ত যুবক হয়ে ফিরে আসি) // আল-কামিল //হিশাম হেসে দিলেন এবং তাঁর জন্য অন্য একটি পুরস্কারের আদেশ দিলেন।আবু নাজম-এর দৌহিত্র আবু আল-আযহার তাঁর মাতামহের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, একদিন তিনি আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নিকট ছিলেন—বলা হয়ে থাকে সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের নিকট—এবং তাঁর নিকট একদল লোক ছিল।
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الشُّعَرَاء وَكَانَ أَبُو النَّجْم فيهم والفرزدق وَجَارِيَة واقفة على رَأس سُلَيْمَان أَو عبد الْملك تذب عَنهُ فَقَالَ من صحبني بقصيدة يفتخر فِيهَا وَصدق فِي فخره وهبته هَذِه الْجَارِيَة قَالَ فَقَامُوا على ذَلِك ثمَّ قَالُوا إِن أَبَا النَّجْم يغلبنا بمقطعاته يعنون الرجز فَقَالَ أَلا أَقُول إِلَّا قصيداً فَقَالَ من ليلته قصيدته الَّتِي فَخر فِيهَا وَهِي(عَلقَ الْفُؤَاد حَبائِل الشعْثَاء … ) // الْكَامِل //ثمَّ أصبح وَدخل عَلَيْهِ وَمَعَهُ الشُّعَرَاء فأنشده حَتَّى بلغ إِلَى قَوْله(منَّا الذِي رَبعَ الجيوشَ لِصُلبهِ … عِشرونَ وَهْوَ يُعدُّ فِي الأحْياء)قَالَ لَهُ عبد الْملك أَو سُلَيْمَان قف إِن كنت صدقت فِي هَذَا الْبَيْت فَلَا تزد مَا وَرَاءه فَقَالَ الفرزدق أَنا أعرف مِنْهُم سِتَّة عشر وَمن ولد وَلَده أَرْبَعَة كلهم قد ربع فَقَالَ عبد الْملك أَو سُلَيْمَان ولد وَلَده هم وَلَده ادْفَعْ إِلَيْهِ الْجَارِيَة يَا غُلَام قَالَ فَغَلَبَهُمْ يَوْمئِذٍوَحدث الْأَصْمَعِي قَالَ قَالَ أَبُو النَّجْم للعديل بن الفرخ أَرَأَيْت قَوْلك
কবিগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে আবু আন-নাজম ও আল-ফারাজদাকও ছিলেন। সুলাইমান অথবা আবদুল মালিকের শিয়রে একজন দাসী দাঁড়িয়ে তাঁকে (মাছি ইত্যাদি থেকে) রক্ষা করছিল। তখন তিনি বললেন, "যে ব্যক্তি আমার সম্মুখে এমন একটি কাসিদা পাঠ করবে যাতে সে আভিজাত্য বা শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব প্রকাশ করবে এবং স্বীয় গৌরবের বর্ণনায় সত্যবাদী হবে, আমি তাকে এই দাসীটি দান করব।" বর্ণনাকারী বলেন, তারা এই শর্তে সম্মত হলেন। এরপর তারা (অন্য কবিরা) বললেন, আবু আন-নাজম তাঁর খণ্ড কবিতাগুলোর (রাজায ছন্দ) মাধ্যমে আমাদের ওপর জয়ী হয়ে যান। তখন তিনি (আবু আন-নাজম) বললেন, "আমি পূর্ণাঙ্গ কাসিদা ব্যতীত অন্য কিছু বলব না।" অতঃপর সেই রাতেই তিনি তাঁর সেই কাসিদাটি রচনা করলেন যাতে তিনি স্বীয় আভিজাত্যের গৌরব প্রকাশ করেছিলেন, আর তা হলো:(হৃদয় অনুরাগী হয়েছে আলুথালু কেশী নারীর প্রেমের জালে … ) // আল-কামিল ছন্দ //অতঃপর সকাল হলে তিনি অন্যান্য কবিদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন এবং তাঁকে কবিতাটি পাঠ করে শোনালেন, যতক্ষণ না তিনি তাঁর এই বাণীতে পৌঁছালেন:(আমাদের মধ্য থেকেই সেই ব্যক্তি, যার ঔরসজাত বিশজন বীর সেনাদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তিনি জীবিতদের মধ্যেই গণ্য হন … )আবদুল মালিক অথবা সুলাইমান তাঁকে বললেন, "থামো! যদি তুমি এই পঙক্তিতে সত্য বলে থাকো, তবে এর অতিরিক্ত আর কিছু বলার প্রয়োজন নেই।" তখন আল-ফারাজদাক বললেন, "আমি তাদের মধ্যে ষোলজনকে চিনি এবং তাঁর পৌত্রদের মধ্যে চারজনকে চিনি, যাঁরা সকলেই সেনাদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন।" তখন আবদুল মালিক অথবা সুলাইমান বললেন, "পৌত্রগণও তো তাঁরই সন্তান। হে বালক! দাসীটিকে তাঁর নিকট সমর্পণ করো।" বর্ণনাকারী বলেন, সেদিন তিনি তাঁদের ওপর বিজয়ী হলেন।আল-আসমাঈ বর্ণনা করেন, আবু আন-নাজম উদাইল ইবনুল ফারখকে বললেন, "তুমি কি তোমার সেই উক্তিটি সম্পর্কে ভেবে দেখেছ?"
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(فَإِن تَكُ مِنْ شَيبانَ أمَّي فإنَّني … لأَبْيضَ مجليّ عَريض المفارق) // الطَّوِيل //أَكنت شاكاً فِي نسبك حَتَّى قلت مثل هَذَا فَقَالَ العديل أشككت فِي نَفسك أَو فِي شعرك حِين قلت(أنَا أبُو النَّجم وَشِعرِي شِعرِي … لله دَرّى مَا يِجنِّ صَدْرِي) // الرجز //فَأمْسك أَبُو النَّجْم واستحيا وَكَانَت وَفَاته آخر دولة بني أُميَّة4 - (كَريمُ الجِرِشَّي شَرِيفُ النَّسَبْ … ) قَائِله أَبُو الطّيب المتنبي من قصيدة من بَحر المتقارب وَكَانَ سيف الدولة ابْن حمدَان صَاحب حلب قد أنفذ إِلَيْهِ كتابا بِخَطِّهِ إِلَى الْكُوفَة بِأَمَان وَسَأَلَهُ الْمسير إِلَيْهِ فَأَجَابَهُ بِهَذِهِ القصيدة(فَهمتُ الكِتابَ أبَرَّ الكتَبْ … فَسمعاً لأمْرِ أَمير العَربْ)(وطَوعاً لَهُ وابتهاجاً بهِ … وَإِن قَصَّرَ الفِعلُ عمَّا وَجبْ)(وَمَا عَاقنِي غيَرُ خَوفِ الوُشاة … فإِن الوشاة طريقُ الكِذبْ)(وَتكثيرُ قومٍ وتَقليلهم … وتقَريبهُم بَيْننَا والخَبَبْ)(وَقَد كَانَ ينصرهم سَمعهُ … وينصرُنِي قلبه والحَسبْ)(وَمَا قُلتُ للبدر أنتَ اللجَينُ … وَلَا قلتُ للشمس أنْتِ الذَهبْ)(فَيقْلقَ مِنهُ البَعيدُ الأناةِ … ويغَضبَ مِنْهُ البَطيءُ الغَضبْ)(ومَا لاقنيِ بَعدكُم بَلدةُ … وَلا اعتْضْتُ مِنْ رَبٍّ نُعماىَ رَب)
(যদি শায়বান গোত্র থেকে আমার মা হন, তবে নিশ্চয়ই আমি … উজ্জ্বল শুভ্র চেহারা ও প্রশস্ত সিঁথির অধিকারী) // তবিল ছন্দ //আপনি কি আপনার বংশপরিচয় নিয়ে সন্দিহান ছিলেন যে এমন কথা বললেন? তখন আল-আদিল বললেন: আপনি কি আপনার নিজের ব্যাপারে অথবা আপনার কবিতার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করেছিলেন যখন আপনি বলেছিলেন:(আমি আবু আল-নাজম এবং আমার কবিতা আমারই কবিতা … আল্লাহর জন্যই প্রশংসা, আমার বক্ষ যা গোপন করে তা কতই না চমৎকার) // রাজায ছন্দ //তখন আবু আল-নাজম বিরত হলেন এবং লজ্জিত হলেন। উমাইয়া বংশের শাসনের শেষ দিকে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।৪ - (মহৎ হৃদয়ের অধিকারী, উন্নত বংশমর্যাদাপূর্ণ … ) এর রচয়িতা হলেন আবু আল-তৈয়্যিব আল-মুতানাব্বি। এটি মুতাকারি্ব ছন্দের একটি কাসিদা থেকে নেওয়া। আলেপ্পোর অধিপতি সাইফুদ দৌলা ইবনে হামদান কুফায় নিজ হাতে লেখা একটি নিরাপত্তা পত্র তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর কাছে আসার অনুরোধ করেছিলেন। জবাবে তিনি এই কাসিদাটি লিখেছিলেন:(আমি পত্রটি বুঝতে পেরেছি যা সর্বোত্তম পত্র … অতএব আরব আমিরের আদেশের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য।)(তাঁর প্রতি আনুগত্য ও এতে আনন্দ প্রকাশ করছি … যদিও কাজ আবশ্যকীয় কর্তব্যের তুলনায় কম হয়ে থাকে।)(চোগলখোরদের ভয় ছাড়া অন্য কিছু আমাকে বাধা দেয়নি … কারণ চোগলখোররা হলো মিথ্যার পথ।)(একদল লোকের সংখ্যাধিক্য এবং অন্য দলের স্বল্পতা দেখানো … এবং আমাদের মাঝে চোগলখোরি ও দ্রুতগতিতে বিচরণ করে নৈকট্য লাভ করা।)(তাঁর শ্রবণেন্দ্রিয় তাদেরকে সাহায্য করত … কিন্তু তাঁর অন্তর এবং আভিজাত্য আমাকে সাহায্য করত।)(আমি পূর্ণিমাকে বলিনি যে তুমি রূপা … আর সূর্যকেও বলিনি যে তুমি স্বর্ণ।)(যাতে অত্যন্ত ধৈর্যশীল ব্যক্তিও এতে অস্থির হয়ে পড়ে … এবং যার রাগ সহজে আসে না সেও রাগান্বিত হয়।)(আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার পর কোনো জনপদই আমার কাছে পছন্দনীয় হয়নি … আর আমার নেয়ামতদাতার পরিবর্তে অন্য কোনো প্রতিপালককে আমি গ্রহণ করিনি।)
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(ومنْ رَكبَ الثَّوْرَ بعد الْجواد … أنكرَ أظلافهُ وَالغبَبْ)(ومَا قِستْ كلَّ مُلوِك البلادِ … فَدعْ ذِكرَ بَعضِ بِمنْ فِي حَلبْ)(وَلو كنُتُ سَميّتهمْ باسمهِ … لَكانَ الحديدَ وكانوُا الخشبْ)(أَفِي الرَّأْي يُشْبَهُ أمْ فِي السخاء … أمْ فِي الشجاعةِ أمْ فِي الأدبِّ)(مُباركُ الاسِم أغرُّ اللقَّبْ … كَريمُ الجرشيَّ شَريفُ النسبْ)(أَخُو الحربِ يُخدمُ مِمَّا سَبَى … قَناهُ وَيخْلعُ مِمَّا سَلبْ)(إِذَا حازَ مَالا فَقدْ حَازهُ … فَتى لَا يُسرُّ بِما لَا يهب) // المتقارب //والجرشي بِكَسْر الْجِيم وَالرَّاء مَقْصُورا النَّفس وَأَشَارَ بقوله مبارك اللاسم إِلَى أَن اسْم الممدوح عَليّ وَهُوَ اسْم مبارك يتبرك بِهِ لمَكَان عَليّ بن أبي طَالب رضي الله عنه وَلِأَنَّهُ مُشْتَقّ من الْعُلُوّ والعلو مبارك وَمعنى أغر اللقب مَشْهُور لِأَنَّهُ سيف الدولة والأغر من الْخَيل الَّذِي فِي وَجهه غرَّة وَهِي الْبيَاض استعير لكل وَاضح مَعْرُوفوَالشَّاهِد فِيهِ كَرَاهَة السّمع للفظة تكون فِي الْبَيْت كالجرشي هُنَاوَأَبُو الطّيب اسْمه أَحْمد بن الْحُسَيْن بن الْحسن بن عبد الصَّمد الْجعْفِيّ الْكِنْدِيّ الْكُوفِي المتنبي الشَّاعِر الْمَشْهُور وَإِنَّمَا قيل لَهُ المتنبي لِأَنَّهُ ادّعى النُّبُوَّة فِي بادية السماوة وَتَبعهُ خلق كثير من بني كلب وَغَيرهم فَخرج إِلَيْهِ لُؤْلُؤ
(আর যে ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ ঘোড়ার পরে বলদের পিঠে চড়ে … সে তার খুর এবং গলকম্বলকে অপছন্দই করবে)(আমি পৃথিবীর সকল রাজাদের সমান জ্ঞান করিনি … সুতরাং আলেপ্পোতে যিনি আছেন তাঁর মোকাবেলায় অন্যদের আলোচনা ত্যাগ করো)(আমি যদি তাদের তাঁর নামে নামাঙ্কিত করতাম … তবে তিনি হতেন লোহা আর তারা হতো কাঠ)(তাঁকে কি প্রজ্ঞায় তুলনা করা যায়, নাকি দানশীলতায় … নাকি বীরত্বে, নাকি শিষ্টাচারে?)(বরকতময় নামের অধিকারী এবং উজ্জ্বল উপাধিধারী … উদার হৃদয়ের অধিকারী এবং সুউচ্চ বংশজাত)(যুদ্ধের সহযাত্রী, তাঁর বর্শা যা যুদ্ধলব্ধ হিসেবে নিয়ে আসে তা দিয়েই তাঁর সেবা করা হয় … আর তিনি যা লুণ্ঠন করেন তা থেকেই দান করেন)(যখন তিনি সম্পদ লাভ করেন, তখন তা এমন এক যুবক লাভ করে … যে যা দান করতে পারে না তাতে আনন্দিত হয় না) // আল-মুতাকারিব //আর 'আল-জুরাশি' শব্দটি জিম এবং রা বর্ণে কাসরাহ (জের) যোগে এবং সংক্ষিপ্তভাবে পঠিত, যার অর্থ হলো আত্মা বা নফস। কবি তাঁর 'বরকতময় নাম' উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন যে, প্রশংসিত ব্যক্তির নাম হলো 'আলী', আর এটি একটি বরকতময় নাম যা আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সুবাদে বরকত হিসেবে গণ্য হয়। এছাড়া এটি 'উলুউ' (উচ্চতা) শব্দ থেকে নির্গত, আর উচ্চতা বরকতময়। 'উজ্জ্বল উপাধি' (আগাররুল লাকাব) এর অর্থ হলো সুপ্রসিদ্ধ, কারণ তাঁর উপাধি হলো সাইফুদ দাওলাহ। 'আগার' মূলত সেই ঘোড়াকে বলা হয় যার কপালে শুভ্র দাগ বা 'গুররাহ' থাকে; এটি প্রতিটি স্পষ্ট ও সুপরিচিত বিষয়ের রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।এখানে কাব্যিক প্রমাণ (শাহিদ) হলো পঙক্তির মধ্যে এমন শব্দের ব্যবহার যা শ্রবণে অপ্রীতিকর ঠেকে, যেমন এখানে ব্যবহৃত 'আল-জুরাশি' শব্দটি।আবু তাইয়্যিবের নাম হলো আহমাদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে আল-হাসান ইবনে আবদুস সামাদ আল-জু'ফি আল-কিন্দী আল-কুফী আল-মুতানাব্বী, যিনি একজন সুপ্রসিদ্ধ কবি। তাঁকে 'মুতানাব্বী' (নবুওয়তের দাবিদার) বলা হয় কারণ তিনি সামাওয়া মরুপ্রান্তরে নবুওয়তের দাবি করেছিলেন এবং বনু কালব ও অন্যান্য গোত্রের বহু লোক তাঁর অনুসারী হয়েছিল। অতঃপর লুলু তাঁর বিরুদ্ধে অভিযানে বের হন।
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أَمِير حمص نَائِب الأخشيدية فَأسرهُ وتفرق أَصْحَابه وحبسه طَويلا ثمَّ استتابه وَأطْلقهُوَكَانَ قد قَرَأَ على الْبَوَادِي كلا مَا ذكر أَنه قُرْآن أنزل عَلَيْهِ فَمِنْهُ والنجم السيار والفلك الدوار وَاللَّيْل وَالنَّهَار إِن الْكَافِر لفي أخطار امْضِ على سننك وَاقِف أثر من كَانَ قبلك من الْمُرْسلين فَإِن الله قامع بك زيغ من ألحد فِي الدّين وضل عَن السَّبِيلوَكَانَ إِذا جلس فِي مجْلِس سيف الدولة وَأَخْبرُوهُ عَن هَذَا الْكَلَام فينكره ويجحدهوَلما أطلق من السجْن الْتحق بالأمير سيف الدولة بن حمدَان ثمَّ فَارقه وَدخل مصر سنة سِتّ وَأَرْبَعين وثلاثمائة ومدح كافوراً الأخشيدي وأنوجور بن الأخشيد وَكَانَ يقف بَين يَدي كافور وَفِي رجلَيْهِ خفان وَفِي وَسطه سيف ومنطقة ويركب بحاجبين من مماليكه وهما بِالسُّيُوفِ والمناطق وَلما لم يرضه هجاه وفارقه لَيْلَة عيد النَّحْر سنة خمسين وثلاثمائة فَوجه كافور خَلفه عدَّة رواحل فَلم يلْحق وَقصد بِلَاد فَارس ومدح عضد الدولة بن بويه الديلمي فأجزل صلته وَلما رَجَعَ من عِنْده عرض لَهُ فاتك بن أبي جهل الْأَسدي فِي عدَّة من أَصْحَابه فقاتله فَقتل المتنبي وَابْنه محسد وَغُلَامه مُفْلِح بِالْقربِ من النعمانية فِي مَوضِع يُقَال لَهُ الصافية من الْجَانِب الغربي من سَواد بَغْدَاد وَيُقَال إِنَّه قَالَ شَيْئا فِي عضد الدولة فَدس عَلَيْهِ من قَتله لِأَنَّهُ لما وَفد عَلَيْهِ وَصله بِثَلَاثَة آلَاف دِينَار وَثَلَاثَة أَفْرَاس مسرجة محلاة وَثيَاب مفتخرة ثمَّ دس عَلَيْهِ من سَأَلَهُ أَيْن هَذَا الْعَطاء من عَطاء سيف الدولة فَقَالَ هَذَا أجزل إِلَّا أَنه عَطاء متكلف وَسيف الدولة كَانَ يُعْطي طبعا فَغَضب عضد الدولة فَلَمَّا انْصَرف جهز عَلَيْهِ قوما من بني ضبة فَقَتَلُوهُ بعد أَن قَاتل قتالاً
হিমসের আমির, যিনি ইখশিদিদের প্রতিনিধি ছিলেন, তাকে বন্দি করেন এবং তার সঙ্গীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি তাকে দীর্ঘকাল কারারুদ্ধ করে রাখেন, এরপর তার তওবা গ্রহণ করেন এবং তাকে মুক্তি দেন।তিনি মরুবাসীদের সামনে এমন কিছু কথা পাঠ করতেন যা তার নিকট অবতীর্ণ কুরআন বলে দাবি করতেন। তার মধ্যে ছিল: "চলমান নক্ষত্র, ঘূর্ণায়মান আকাশমন্ডলী এবং রাত ও দিনের কসম, নিশ্চয়ই কাফেররা মহাবিপদে রয়েছে। তুমি তোমার পথে চলতে থাকো এবং তোমার পূর্ববর্তী রাসূলগণের পদাঙ্ক অনুসরণ করো, কেননা আল্লাহ তোমার মাধ্যমে দ্বীনের ব্যাপারে ধর্মদ্রোহীদের বিচ্যুতি দমন করবেন এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে তাদের প্রতিহত করবেন।"তিনি যখন সাইফুদ্দৌলার মজলিসে বসতেন এবং তারা তাকে এই কথাগুলো সম্পর্কে সংবাদ দিত, তখন তিনি তা অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করতেন।কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আমির সাইফুদ্দৌলা বিন হামদানের সাথে যোগ দেন, তারপর তাকে ত্যাগ করে তিনশ ছেচল্লিশ হিজরিতে মিসরে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি কাফুর আল-ইখশিদি এবং আনুজুর বিন আল-ইখশিদির প্রশংসা করেন। তিনি কাফুরের সামনে দুই পায়ে মোজা (খুফ), কোমরে তলোয়ার ও কোমরবন্ধনী পরিহিত অবস্থায় দাঁড়াতেন এবং তার অধীনস্থ দুজন দেহরক্ষীসহ সওয়ার হতেন, যারা তলোয়ার ও কোমরবন্ধনী ধারণ করত। যখন তিনি সন্তুষ্ট হতে পারলেন না, তখন তিনি তার নিন্দা করে তিনশ পঞ্চাশ হিজরির ঈদুল আজহার রাতে তাকে ত্যাগ করে চলে যান। কাফুর তার পেছনে বেশ কিছু সওয়ারি পাঠালেও তারা তাকে ধরতে পারেনি। এরপর তিনি পারস্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন এবং আদুদুদ্দৌলা বিন বুওয়াইহ আদ-দাইলামির প্রশংসা করেন, যিনি তাকে প্রচুর উপঢৌকন প্রদান করেন। যখন তিনি তার কাছ থেকে ফিরছিলেন, তখন ফাতিক বিন আবি জাহল আল-আসাদি তার একদল সঙ্গীসহ তাকে বাধা দেন। তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করেন এবং বাগদাদের নিকটবর্তী আল-নুমানিয়ার কাছে আস-সাফিয়াহ নামক স্থানে আল-মুতানাব্বি, তার পুত্র মুহাসসাদ এবং তার গোলাম মুফলিহ নিহত হন, যা বাগদাদের গ্রাম্য অঞ্চলের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। বলা হয় যে, তিনি আদুদুদ্দৌলা সম্পর্কে কিছু বলেছিলেন, যার ফলে তিনি গোপনে লোক পাঠিয়ে তাকে হত্যা করান; কারণ তিনি যখন তার কাছে এসেছিলেন, তখন তিনি তাকে তিন হাজার দিনার, সজ্জিত ও অলংকৃত তিনটি ঘোড়া এবং অত্যন্ত মূল্যবান পোশাক দিয়েছিলেন। এরপর তিনি গোপনে লোক পাঠিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করান যে, সাইফুদ্দৌলার উপঢৌকনের তুলনায় এই দান কেমন? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: "এটি অনেক বেশি, তবে এটি কৃত্রিম বা লোক দেখানো দান, আর সাইফুদ্দৌলা দান করতেন স্বভাবজাতভাবে।" এতে আদুদুদ্দৌলা রাগান্বিত হন, তাই যখন তিনি বিদায় নিলেন, তখন তিনি বনু দাব্বাহর একদল লোককে তার পেছনে লেলিয়ে দেন এবং বীরত্বের সাথে লড়াই করার পর তারা তাকে হত্যা করে।
(খণ্ড: ১)
মাআহিদুত তানসীস আলা শাওয়াহিদিত তালখীস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
شَدِيدا ثمَّ انهزم فَقَالَ لَهُ غُلَامه أَيْن قَوْلك(الخيلُ واللَّيلُ وَالبَيدَاءُ تَعرفُنْيِ … وَالطَّعنُ والضَّربُ والقرطاس والقلم) // الْبَسِيط //فَقَالَ قتلتني قَتلك الله ثمَّ قَاتل فَقتلوَيُقَال إِن الخفراء جَاءُوهُ وطلبوا مِنْهُ خمسين درهما ليسيروا مَعَه فَمَنعه الشُّح وَالْكبر فتقدموه فَوَقع لَهُ مَا وَقعوَكَانَ قَتله يَوْم الْأَرْبَعَاء لست بَقينَ وَقيل لثلاث بَقينَ وَقيل لليلتين بَقِيَتَا من شهر رَمَضَان سنة أَربع وَخمسين وثلثمائةومولده كَانَ فِي سنة ثَلَاث وثلثمائة بِالْكُوفَةِ فِي محلّة تسمى كِنْدَة وَلَيْسَ هُوَ من كِنْدَة الَّتِي هِيَ قَبيلَة بل هُوَ جعفيوَقيل إِن أَبَاهُ كَانَ سقاء بِالْكُوفَةِ وَكَانَ يلقب بعبدان ثمَّ انْتقل إِلَى الشَّام بولده وإِلى هَذَا أَشَارَ بعض الشُّعَرَاء فِي هجوه فَقَالَ(أيُّ فَضلٍ لِشاعرٍ يطْلب الْفضل … مِنَ النَّاسِ بُكرةً وَعشيَّا)(عَاشَ حِيناً يَبيعُ فِي الكُوفةِ المَاء … وَحيناً يَبيعُ ماءَ الْمحيا) // الْخَفِيف //وَلَقَد أولع بعض شعراء عصره بهجوه حسداً لَهُ على فَضله وتمكنه من الْمُلُوك ومراعاة لتيهه وتكبره وَمِمَّنْ أفحش فِي ذَلِك ابْن حجاج فَقَالَ جَارِيا على عَادَته فِي السخف والمجون(يَا ديمةَ الصَّفع صُبيٍّ … علَى قَفا المُتنبُّي)(وَيَا قَفاهُ تَقدَّمْ … حَتَّى تَصيرَ بْجَنْبِي)(وَأنتَ يَا ريحَ بَطنِي … عَلَى سباليه هبي) // المجتث //وَيَقُول فِيهَا(إِنْ كُنت أنتَ نَبياً … فَالقِرِدُ لَا شكَّ رَبيِّ)وَقَالَ فِيهِ أَيْضا من قصيدة
ভীষণভাবে (লড়লেন), অতঃপর পরাজিত হয়ে পিছু হটলেন। তখন তার ভৃত্য তাকে বলল, "আপনার সেই কথা কোথায় গেল?(ঘোড়া, নিশীথ এবং মরুপ্রান্তর আমাকে চেনে … আর চেনে বর্শা বিদ্ধ করা, তলোয়ারের আঘাত, কাগজ এবং কলম।)" // আল-বাসীত ছন্দ //তখন তিনি বললেন, "তুমি তো আমাকে মেরেই ফেললে, আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন!" এরপর তিনি লড়াই করলেন এবং নিহত হলেন।বলা হয়ে থাকে যে, রক্ষীরা তার কাছে এসেছিল এবং তার সাথে যাওয়ার বিনিময়ে পঞ্চাশ দিরহাম চেয়েছিল; কিন্তু কৃপণতা ও অহংকার তাকে তা দিতে বাধা প্রদান করল। ফলে তারা তাকে ছেড়ে সামনে এগিয়ে গেল এবং তার ভাগ্যে যা ঘটার তা-ই ঘটল।তার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল ৩৫৪ হিজরির রমজান মাসের শেষ ছয় দিন বাকি থাকতে বুধবার দিনে। মতান্তরে তিন দিন বাকি থাকতে, আবার কেউ বলেছেন দুই দিন বাকি থাকতে।তার জন্ম হয়েছিল ৩০৩ হিজরিতে কুফা নগরীর 'কিনদাহ' নামক এক মহল্লায়। তিনি কিনদাহ গোত্রের লোক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন জু’ফী।বলা হয় যে, তার পিতা কুফায় একজন পানি বিক্রেতা ছিলেন এবং তাকে ‘আবদান’ উপাধিতে ডাকা হতো। পরে তিনি তার সন্তানসহ সিরিয়ায় চলে যান। জনৈক কবি তার নিন্দায় এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছিলেন:(সেই কবির আবার শ্রেষ্ঠত্ব কী, যে কি না মানুষের কাছে … সকাল-সন্ধ্যা করুণা ভিক্ষা করে বেড়ায়?)(সে জীবনের একটা সময় কুফায় পানি বিক্রি করত, … আর এখন সে জীবনের মর্যাদা (কবিতা) বিক্রি করে বেড়ায়।) // আল-খাফীফ ছন্দ //সমকালীন কিছু কবি তার পাণ্ডিত্য এবং রাজদরবারে তার প্রভাব-প্রতিপত্তির প্রতি ঈর্ষাবশত তাকে নিয়ে উপহাস ও নিন্দা করতে লিপ্ত হয়েছিলেন; বিশেষ করে তার দম্ভ ও অহংকারের কারণে। তাদের মধ্যে ইবনে হাজ্জাজ অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভাষায় তার নিন্দা করেছেন, যা ছিল তার স্বাভাবিক নির্বুদ্ধিতা ও বেহায়াপনারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেছিলেন:(ওহে চড়-থাপ্পড়ের বর্ষণ! তুমি বর্ষিত হও … মুতানাব্বির ঘাড়ে।)(আর ওহে তার ঘাড়! তুমি সামনে এগিয়ে এসো … যাতে তুমি আমার বগলের নিচে চলে আসো।)(আর ওহে আমার উদরের বায়ু! তুমি … তার গোঁফের উপর দিয়ে প্রবাহিত হও।) // আল-মুজতাস ছন্দ //তাতে তিনি আরও বলেন:(তুমি যদি নবী হয়ে থাকো, … তবে বানর নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক।)তিনি অন্য এক কবিতায় তার সম্পর্কে আরও বলেন: