(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: -)
المجلى في شرح القواعد المثلى في صفات الله وأسمائه الحسنى   (كاملة الكواري)

القسم: العقيدة


الكتاب: المجلى في شرح القواعد المثلى في صفات الله وأسمائه الحسنى للعلامة محمد صالح العثيمين

المؤلف: كاملة بنت محمد بن جاسم بن علي آل جهام الكواري

الناشر: دار ابن حزم

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2002 م

عدد الصفحات: 360

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল্লাহর গুণাবলী ও সুন্দর নামসমূহ সম্পর্কিত ‘আল-কাওয়ায়েদুল মুসলা’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-মুজাল্লা’   (কামিলা আল-কুওয়ারী)

বিভাগ: আকীদা


বই: আল্লামা মুহাম্মদ সালেহ আল-উসাইমীন রচিত আল্লাহর গুণাবলী ও তাঁর সুন্দর নামসমূহ সম্পর্কিত ‘আল-কাওয়ায়েদুল মুসলা’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আল-মুজাল্লা’

লেখক: কামিলা বিনতে মুহাম্মদ বিন জাসিম বিন আলী আল জাহাম আল-কুওয়ারী

প্রকাশক: দার ইবনে হাজম

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬০

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল ছাপানো কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: -)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

المجلى في شرح القواعد المثلى في صفات الله وأسمائه الحسنى

 

للعلامة محمد صالح العثيمين

 

تأليف

كاملة الكواري

 

دار ابن حزم

 

جميع الحقوق محفوظة

الطبعة الأولى

1422 هـ - 2002 م

 

الكتب والدراسات التي تصدرها الدار

تعبر عن آراء واجتهادات أصحابها
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

আল্লাহর গুণাবলি ও সুন্দর নামসমূহ সম্পর্কিত আদর্শ নীতিমালার ব্যাখ্যা: আল-মুজাল্লা

 

আল্লামা মুহাম্মাদ সালেহ আল-উসাইমীন

 

গ্রন্থনায়

কামিলা আল-কুওয়ারি

 

দার ইবনে হাযম

 

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪২২ হিজরি - ২০০২ খ্রিষ্টাব্দ

 

এই প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বই ও গবেষণাসমূহ

সংশ্লিষ্ট লেখকগণের নিজস্ব মতামত ও ইজতিহাদ প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

والحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه وبعد:

فما أجمل العمل إذا أتقن، وما أجمل السعي إذا أحسن، وما أروع البحث عن الحق، والغوص على درر المعرفة، والظفر بنيل ثمار العلم وأحسن من ذلك توفيق الله عبده للصراط المستقيم، وتسديده للنهج القويم، الذي سار عليه سلفنا الصالح شرعة ومنهاجا، وعلما وإيمانا وأدبا وأخلاقا.

وقد اطلعت على كتاب (المجلى في شرح القواعد المثلى في صفات الله وأسمائه الحسنى) لطالبة علم الشريعة، وجامعة فرائد الميراث النبوي كاملة الكواري، فوجدت تأليفها عجبا في حسنه، مشرقا في بيانه، لا يجد القارئ منه عوجا ولا أمتا، فقد استقصت المراجع، ونوعت مصادر شرحها لغة ونحوا وتفسيرا وأدبا وأصولا، بتحقيق وتأصيل وتدقيق وتفصيل وصبرا ودأب وذكاء ن يشهد له كل من أمعن النظر في التأليف فجاء تماما على الذي هو أحسن، يكاد شرحها يضيء ولو لم تمسه نار المادحين، أقول هذا بعد تقليب نظر، وثبات فكر، وكثرة تأمل، ويصح في المؤلفة وفي أمثالها من النساء الصالحات قول أب الطيب المتنبي:

ولو أن النساء كمن عرفنا … لفضلت النساء على الرجال

فما التأنيث لاسم الشمس عيب … ولا التذكير فخرا للهلال

وقد رزق هذا البحث سعادة، لأمور اجتمعت فيه، فبابه أجل الأبواب، وهو الحديث عن أسماء الله وصفاته جل في علاه، وهذا أفضل
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর। অতঃপর:

কাজ যখন সুচারুভাবে সম্পন্ন হয় তখন তা কতই না সুন্দর, প্রচেষ্টা যখন উত্তম হয় তখন তা কতই না চমৎকার! সত্যের অনুসন্ধান করা, জ্ঞানের মনিমুক্তা আহরণে ডুব দেওয়া এবং ইলমের ফল লাভে ধন্য হওয়া কতই না চমৎকার বিষয়। তবে এর চেয়েও অধিক উত্তম হলো আল্লাহ কর্তৃক তাঁর বান্দাকে সিরাত-ই-মুস্তাকিমের তাওফিক দান এবং সঠিক পথের দিশা প্রদান করা, যে পথে আমাদের সালাফে সালেহীন শরীয়ত ও কর্মপদ্ধতি হিসেবে এবং জ্ঞান, ঈমান, আদব ও আখলাকের ওপর ভিত্তি করে চলেছেন।

আমি ইলমে শরীয়তের বিদ্যানুরাগী এবং নববী উত্তরাধিকারের অনন্য মনিমুক্তা সংগ্রহকারী কামিলা আল-কুওয়ারির রচিত ‘আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়ায়িদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা’ কিতাবটি আদ্যোপান্ত দেখেছি। আমি তাঁর এই রচনাটিকে এর সৌন্দর্যে বিস্ময়কর এবং এর বর্ণনায় উজ্জ্বল হিসেবে পেয়েছি। পাঠক এতে কোনো বক্রতা বা অসংগতি খুঁজে পাবেন না। তিনি সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই, মূলনীতি নির্ধারণ এবং অত্যন্ত ধৈর্য ও মেধার সাথে ভাষা, ব্যাকরণ, তাফসীর, সাহিত্য ও উসূলের বিভিন্ন উৎসের সাহায্য নিয়ে তথ্যসূত্রগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করেছেন। যে কেউ এই রচনার ওপর গভীর দৃষ্টিপাত করবেন তিনি এর সাক্ষ্য দেবেন যে এটি সর্বোত্তম রূপে সম্পন্ন হয়েছে। এর ব্যাখ্যাটি যেন নিজেই আলো ছড়াচ্ছে, যদিও প্রশংসাকারীদের অগ্নির ছোঁয়া এতে লাগেনি। গভীর পর্যবেক্ষণ ও সুচিন্তিত ভাবনার পর আমি এ কথা বলছি। লেখিকা এবং তাঁর মতো নেককার নারীদের ক্ষেত্রে আবু তাইয়্যেব আল-মুতানাব্বির এই উক্তিটি যথার্থ:

যদি নারীরা তেমন হতো যাদের আমরা চিনেছি … তবে নারীরা পুরুষদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করত

সূর্য নামের স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া কোনো ত্রুটি নয় … আর চাঁদের পুংলিঙ্গ হওয়া কোনো গর্বের বিষয় নয়

এই গবেষণা কর্মটি কিছু বিষয়ের সমন্বয়ে পরম সৌভাগ্য লাভ করেছে। এর বিষয়টি হলো সুমহান অধ্যায়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, আর তা হলো মহামহিম আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সংক্রান্ত আলোচনা। আর এটিই সর্বোত্তম
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৬)
العلوم، وغاية المطالب، ونهاية المقاصد، ثم مقدم المتن سماحة شيخ العصر وإمام الوقت الشيخ عبد العزيز بن باز أكرم الله نزله، وأجزل مثوبته، وصاحب المتن العلامة الفقيه الشيخ محمد الصالح بن عثيمين ثم جاء الشرح آية في الحسن، يسر الناظرين، وشامة في الإتقان، يبهج الباحثين، فالحمد لله على أن سهل لمن شاء من عبادة صيانة هذه الشريعة، والذب عن الملة، وخدمة هذه التركة النبوية الشريفة، أجزل الله للجميع أجرا، ورفع لهم بها ذكرا، ووضع عنهم بها وزرا، وجعلها لهم عنده زخرا، والله أعلم.

 

كتبه

أبو عبد الله بن عبد الله القرني

الرياض 17/4/1420
জ্ঞানের শিখর, পরম কাঙ্ক্ষিত বিষয়সমূহের চূড়ান্ত গন্তব্য এবং লক্ষ্যসমূহের শেষ প্রান্ত। এরপর মূল পাঠের ভূমিকাকার হলেন বর্তমান যুগের মহৎ ব্যক্তিত্ব ও সময়ের ইমাম শাইখ আবদুল আজিজ বিন বাজ, আল্লাহ তাঁর অবস্থানকে সম্মানিত করুন এবং তাঁর প্রতিদানকে বর্ধিত করুন। আর মূল পাঠের রচয়িতা হলেন বিদগ্ধ ফকিহ শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ ইবনে উসাইমিন। এরপর এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সৌন্দর্যের এক অনুপম নিদর্শন হিসেবে এসেছে যা পাঠকদের আনন্দ দেয় এবং নিপুণতার এমন এক উজ্জ্বল চিহ্ন যা গবেষকদের প্রফুল্ল করে। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যার জন্য ইচ্ছা করেছেন এই শরিয়ত সংরক্ষণ, ধর্মের প্রতিরক্ষা এবং এই মহান নববী উত্তরাধিকারের খিদমত করাকে সহজ করে দিয়েছেন। আল্লাহ সকলের প্রতিদানকে মহান করুন, এর মাধ্যমে তাঁদের সুখ্যাতিকে উচ্চ করুন, তাঁদের পাপসমূহ মোচন করুন এবং এটিকে তাঁর নিকট তাঁদের জন্য সঞ্চয় হিসেবে কবুল করুন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

 

এটি লিখেছেন

আবু আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-কারনি

রিয়াদ ১৭/০৪/১৪২০
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين. وبعد،،،

فقد وصل إلى منذ شهور كثيرة هذا الكتاب الذي جاء شرحا أو حاشية على كتاب شيخنا محمد الصالح العثيمين - حفظه الله ووفقه - القواعد المثلى وقد جعلته المؤلفة الفاضلة كاملة الكواري بعنوان " المجلى في شرح القواعد المثلى في صفات الله وأسمائه الحسنى " - وقد ظننته - أول ما رأيته - شرحا عاما يقوم به بعض طلبة العلم ليحصل على شرف الانتساب إلى شيخنا عن طريق شرح أحد كتبه.

ولكن بعد أن قطعت في قراءة هذا الشرح شوطا تبين لي أنني أمام كتاب من طالبة علم متمكنة في علوم الآلة وفي علوم الشريعة والعقيد، زادها الله علما وعملا وإخلاصا - ولذا عدت إلى الكتاب أقرأه من جديد، وبعد قراءته جرت مكاتبة مع المؤلفة حول وجهات النظر التي تقبلتها بترحاب وسعة صدر.

وهذا الشرح الذي بين يديك أخي القارئ، حوى فوائد عديدة، ونكت جميلة، وتنبيهات مهمة، وزيادات في البيان والتوضيح لما في الأصل المشروح.

وترجع أهمية هذا الشرح الممتع إلى أمور ثلاثة: -

أحدهما: أنه شرح لكتاب في قواعد الأسماء والصفات وهو من أشمل وأفضل ما كتب في هذا الباب - حسب علمنا - ويكفي الكتاب أهمية أن مؤلفه شيخنا الفاضل، وقد كتب الله القبول لهذا الكتاب على صغر حجمه وانتفع به عموم المسلمين وطلاب العلم بشكل خاص.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ নবী ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর...

অনেক মাস পূর্বে আমার নিকট এই গ্রন্থটি পৌঁছেছে যা আমাদের শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন -আল্লাহ তাঁকে সংরক্ষণ করুন ও তাওফিক দান করুন- এর কিতাব 'আল-কাওয়ায়িদুল মুসলা' এর ব্যাখ্যা বা টীকা হিসেবে প্রণীত। বিদুষী লেখিকা কামিলা আল-কুয়ারি এর নামকরণ করেছেন "আল-মুজাল্লা ফি শারহিল কাওয়ায়িদিল মুসলা ফি সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা" (আল্লাহর গুণাবলী ও সুন্দর নামসমূহের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ মূলনীতিসমূহের ব্যাখ্যায় সুস্পষ্ট গ্রন্থ)। গ্রন্থটি প্রথম যখন আমি দেখি, তখন ভেবেছিলাম এটি সাধারণ কোনো ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা কোনো জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থী লিখেছেন আমাদের শাইখের কোনো কিতাব ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাঁর সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার সম্মান লাভের নিমিত্তে।

কিন্তু যখন আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির পাঠে অগ্রসর হলাম, তখন আমার নিকট এটি স্পষ্ট হলো যে, আমি এমন এক বিদুষী শিক্ষার্থীর কিতাবের সম্মুখে রয়েছি যিনি সহায়ক শাস্ত্র (Ulum al-Ala), শরীয়াহ এবং আকিদাহশাস্ত্রে অত্যন্ত পারদর্শী। আল্লাহ তাঁর ইলম, আমল ও ইখলাস বৃদ্ধি করে দিন। একারণেই আমি পুনরায় কিতাবটি পাঠ করতে আরম্ভ করলাম এবং তা পড়ার পর লেখিকার সাথে কিছু বিষয়ে পত্রালাপ হলো, যা তিনি অত্যন্ত হৃদ্যতা ও প্রশস্ত হৃদয়ে গ্রহণ করেছেন।

হে পাঠক ভাই, আপনার হাতের এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি বহুবিধ ফায়দা, চমৎকার সূক্ষ্ম বিষয়, গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা এবং মূল গ্রন্থের অধিকতর ব্যাখ্যা ও বিশদ বর্ণনায় সমৃদ্ধ।

এই চিত্তাকর্ষক ব্যাখ্যাগ্রন্থটির গুরুত্ব তিনটি বিষয়ের দিকে ফিরে যায়:-

প্রথমত: এটি আল্লাহর নাম ও গুণাবলী বিষয়ক মূলনীতির ওপর রচিত একটি কিতাবের ব্যাখ্যা, যা -আমাদের জ্ঞানমতে- এই অধ্যায়ে লিখিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে অত্যন্ত ব্যাপক ও শ্রেষ্ঠ। কিতাবটির গুরুত্বের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, এর মূল লেখক আমাদের সম্মানিত শাইখ। আল্লাহ তাআলা এই কিতাবটিকে কবুলিয়াত দান করেছেন যদিও তা অবয়বে ছোট, এবং এর দ্বারা সাধারণ মুসলিমগণ ও বিশেষত ইলম অন্বেষীগণ ব্যাপকভাবে উপকৃত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৮)
الثاني: أن الشارحة الفاضلة اتخذت طريقة جيدة في الشرح تبعد عنه الملل الذي يقع في بعض شروح الكتب حيث تشرح كل الكلمات الواضحة وغير الواضحة في المتن أما هي فقد جاء شرحها على طريقة نافعة لطلاب العلم خاصة ولعموم المطلعين عليه حيث اشتمل شرحها على:

أ- تعليقات وحواشي على الكتاب المشروح، وهي تعليقات مشتملة على فوائد جمة، وتخريجات نافعة، يلمسها القارئ، وقد يشعر وقد يرى أن الحاجة ماسة إليها لإزالة غموض، أو بيان لفهم خاطئ، أو رد على مخالف - وهكذا.

ومعلوم أن الكتب الواضحة - ككتاب الشيخ المشروح - لا يحتاج في الغالب إلى شرح لأنه مشتمل على الشرح والتوضيح والمثال، فلا حاجة إلى شرح كل كلمة أو عبارة أو مثال مرة أخرى.

ومن ثم جاءت طريقة المؤلفة - وفقها الله - محصلة للفوائد بعيدة عن السأم والملل الذي يأتي من شرح الواضحات.

ب - ملاحق لكل فصل أو قاعدة، ضمنتها عددا من الفوائد والفرائد والمسائل النافعة، جعلتها على شكل مسائل مستقلة، وإن كان قد جاء ذكرها في الكتاب المشروح، ويبرز في عرض هذه القواعد الملحقة سعة العلم وطول الباع في الاستفادة من كتب العلم المختلفة وعلى رأسها كتب أئمة السنة قديما وحديثا.

الثالث: تنوع الفوائد الموجودة في هذا الشرح بقسميه: التعليقات والملاحق، حيث اشتملت على فوائد نحوية ولغوية وبلاغية، وحديثية، وعقدية، وأقوال المخالفين عند الحاجة مع الرد والبيان، إضافة إلى تنوع المصادر وكثرتها.

ولعل الإطلاع على مثل هذا الشرح من أخت فاضلة يحفز طلاب العلم إلى ضرورة التميز والقوة في طلب العلم على التركيز على علوم الآلة وخاصة النحو والصرف _ حتى لا يحتج أهل البدع على بعض أهل السنة
দ্বিতীয়ত: বিদুষী ব্যাখ্যাকারিকা ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি চমৎকার পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, যা পাঠককে সেই একঘেয়েমি থেকে দূরে রাখে যা সাধারণত কিতাবের কিছু ব্যাখ্যাগ্রন্থে দেখা যায়, যেখানে মূল পাঠের (মতন) স্পষ্ট ও অস্পষ্ট সকল শব্দই ব্যাখ্যা করা হয়। পক্ষান্তরে, তাঁর ব্যাখ্যাটি ইলম অন্বেষণকারী এবং সাধারণ পাঠকদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী পদ্ধতিতে উপস্থাপিত হয়েছে, কারণ তাঁর ব্যাখ্যায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

ক- ব্যাখ্যাকৃত কিতাবটির ওপর টীকা ও পাদটীকা, যা প্রচুর জ্ঞানগর্ভ উপকারিতা এবং উপকারী তথ্যসূত্র (তাখরিজাত) সমৃদ্ধ, যা পাঠক উপলব্ধি করবেন। এমনকি পাঠক এটিও অনুভব করতে পারেন যে, কোনো অস্পষ্টতা দূর করতে, ভুল ধারণা স্পষ্ট করতে কিংবা বিরোধীদের জবাব দিতে এর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু - এবং অনুরূপ অন্যান্য ক্ষেত্রেও।

এটি সুবিদিত যে, সহজবোধ্য কিতাবসমূহ - যেমন শাইখের এই ব্যাখ্যাকৃত কিতাবটি - সাধারণত ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না, কারণ এটি নিজেই ব্যাখ্যা, স্পষ্টীকরণ এবং উদাহরণ সমৃদ্ধ। তাই প্রতিটি শব্দ, বাক্য বা উদাহরণ পুনরায় ব্যাখ্যা করার কোনো প্রয়োজন নেই।

ফলে লেখিকার - আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন - অনুসৃত পদ্ধতিটি স্পষ্ট বিষয়সমূহের অনর্থক ব্যাখ্যাজনিত ক্লান্তি ও একঘেয়েমি থেকে মুক্ত থেকে বহুবিধ জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হয়েছে।

খ- প্রতিটি অধ্যায় বা মূলনীতির জন্য পরিশিষ্টসমূহ, যেখানে তিনি অসংখ্য উপকারী জ্ঞানগর্ভ তথ্য, দুর্লভ বিষয় এবং প্রয়োজনীয় মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি এগুলোকে স্বতন্ত্র মাসআলা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যদিও ব্যাখ্যাকৃত মূল কিতাবে সেগুলোর উল্লেখ এসেছে। এই সংযুক্ত নিয়মাবলি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইলমি কিতাব, বিশেষ করে প্রাচীন ও আধুনিক যুগের আহলুস সুন্নাহর ইমামগণের কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর জ্ঞানের গভীরতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ফুটে উঠেছে।

তৃতীয়ত: এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের উভয় অংশে (টীকা ও পরিশিষ্ট) বিদ্যমান জ্ঞানগর্ভ বিষয়গুলোর বৈচিত্র্য; যেখানে নাহু, লুগাত, বালাগাত, হাদিস এবং আকিদাহ বিষয়ক বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনে বিরোধীদের বক্তব্য এবং তার খণ্ডন ও ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে উৎসের বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য।

সম্ভবত একজন বিদুষী বোনের পক্ষ থেকে এই ধরনের ব্যাখ্যাগ্রন্থের সাথে পরিচিত হওয়া জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য ইলম অর্জনে শ্রেষ্ঠত্ব ও শক্তি অর্জনের প্রয়োজনীয়তাকে অনুপ্রাণিত করবে, যাতে তারা সহায়ক বিজ্ঞানসমূহের (উলূমুল আলা) ওপর, বিশেষত নাহু ও সরফের ওপর গুরুত্বারোপ করে - যাতে বিদআতিরা আহলুস সুন্নাহর কিছু লোকের বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি বা অজুহাত দাঁড় করাতে না পারে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৯)
المعاصرين عندما يرون ضعفهم في هذه العلوم أو بعضها، والعلم مهما علا وسما - إذا قدم بآلة مشوهة أو مكسرة صار عرضه لتندر المتندرين، وربما كان سببا في رد الحق الذي جاء به صاحبه، وأخيرا فهذه طريقة في الشرح متميزة، تعطي الفائدة دون ملل، وتحترم القاريء ووقته، وهي ليست جديدة فقد كانت قديما يفعلها بعض الشراح حيث يأتون بالفوائد عند الحاجة إليها دون تكرار.

أسأل الله تعالى أن يبارك لصنع الأخت الفاضلة وفي عملها وأن ينفعها وينفع المسلمين بعلمها، وأن يرزقنا جميعا الاستقامة على السنة ومنهاج السلف الصالح، ثم أسأله تعالى أن يجزل المثوبة لشيخنا محمد الصالح العثيمين على علومه النافعة، وأن يوفقنا جميعا إلى العلم والعمل والثبات على الحق والسنة.

وصلى الله على نبينا وعلى آله وصحبه وسلم

 

كتبه/ د. عبد الرحمن الصالح المحمود

الرياض في 20/12/1420هـ
সমসাময়িক ব্যক্তিগণ যখন এই সকল বিদ্যায় বা এর কোনো অংশে তাদের দুর্বলতা দেখতে পান, এবং ইলম যতই উচ্চ ও মহান হোক না কেন—যদি তা কোনো বিকৃত বা ত্রুটিপূর্ণ পন্থায় উপস্থাপন করা হয়, তবে তা উপহাসকারীদের উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয় এবং সম্ভবত এটি লেখকের উপস্থাপিত সত্য প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরিশেষে, এটি ব্যাখ্যার একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি, যা একঘেয়েমি ছাড়াই উপকার প্রদান করে এবং পাঠকের ও তার সময়ের মূল্যায়ন করে। এটি কোনো নতুন পদ্ধতি নয়; বরং অতীতেও কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার এটি অনুসরণ করতেন, যেখানে তারা পুনরাবৃত্তি ছাড়াই প্রয়োজন অনুসারে ফায়দা বা শিক্ষাগুলো উপস্থাপন করতেন।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই মহীয়সী বোনের প্রচেষ্টায় ও তাঁর কাজে বরকত দান করেন এবং তাঁর ইলমের মাধ্যমে তাঁকে ও মুসলিমদের উপকৃত করেন। আর তিনি যেন আমাদের সকলকে সুন্নাহ ও সালাফে সালেহীনের মানহাজের ওপর অবিচল থাকার তাওফীক দান করেন। অতঃপর মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের শাইখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীনকে তাঁর উপকারী ইলমের জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং আমাদের সকলকে ইলম, আমল এবং সত্য ও সুন্নাহর ওপর অটল থাকার তাওফীক দান করেন।

আমাদের নবী, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

লিখেছেন/ ড. আব্দুর রহমান সালেহ আল-মাহমুদ

রিয়াদ, ২০/১২/১৪২০ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১০)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهداه. أما بعد: -

فقد اطلعت على المؤلف القيم الذي كتبه صاحب الفضيلة العلامة أخونا الشيخ محمد بن صالح العثيمين في الأسماء والصفات وسماه " القواعد المثلى في صفات الله وأسمائه الحسنى". وسمعته من أوله إلى أخره فألفيته كتابا جليلا قد اشتمل على بيان عقيدة السلف الصالح في أسماء الله وصفاته، كما اشتمل على قواعد عظيمة وفوائد جمة في باب الأسماء والصفات وأوضح معنى المعية الواردة في كتاب الله عز وجل الخاصة والعامة عند أهل السنة والجماعة وإنها حق على حقيقتها لا تقتضي امتزاجا واختلاطا بالمخلوقين بل هو سبحانه فوق عرشه كما أخبر عن نفسه وكما يليق بجلاله سبحانه وإنما تقتضي علمه وإطلاعه وإحاطته بهم وسماعه لأقوالهم وحركاتهم ويصره بأحوالهم وضمائرهم وحفظه وكلاءته لرسله وأوليائه المؤمنين ونصره لهم وتوفيقه لهم إلى غير ذلك مما تقضيه المعية العامة والخاصة من المعاني الجليلة والحقائق الثابتة لله سبحانه، كما اشتمل على إنكار قول أهل التعطيل والتشبيه والتمثيل وأهل الحلول والاتحاد فجزاه الله خيرا وضاعف مثوبته وزادنا وإياه علما وهدى وتوفيقا ونفع بكتابه القراء وسائر المسلمين إنه ولي ذلك والقادر عليه قاله ممليه الفقير إلى الله تعالى عبد العزيز بن عبد الله بن باز سامحه الله.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه

5/11/1404هـ

الرئيس العام لإدارة البحوث العلمية والإفتاء

والدعوة والإرشاد
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের উপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর হেদায়াত অনুসরণ করেছেন তাদের উপর। অতঃপর: -

আমি শ্রদ্ধেয় আলেম আমাদের ভাই শায়খ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন কর্তৃক আল্লাহর নাম ও গুণাবলী বিষয়ে লিখিত মূল্যবান পাণ্ডুলিপিটি দেখেছি, যার নামকরণ তিনি করেছেন "আল্লাহর গুণাবলী ও সুন্দর নামসমূহের সর্বোত্তম নীতিমালা"। আমি এটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শ্রবণ করেছি এবং একে এক মহান গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি, যা আল্লাহর নাম ও গুণাবলী বিষয়ে সালাফে সালেহীনের আকিদা বর্ণনায় সমৃদ্ধ। পাশাপাশি এটি আল্লাহর নাম ও গুণাবলী অধ্যায়ে মহান নীতিমালা এবং অনেক উপকারী বিষয়ে পরিপূর্ণ। এতে মহান আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট 'মাঈয়াহ' (সাথে থাকা)-এর বিশেষ ও সাধারণ অর্থের ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে এবং এটি যে তার প্রকৃত অর্থেই সত্য তা স্পষ্ট করা হয়েছে। এটি সৃষ্টির সাথে সংমিশ্রণ বা একীভূত হওয়াকে আবশ্যক করে না; বরং তিনি তাঁর আরশের উপরে রয়েছেন যেমনটি তিনি নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন এবং যা তাঁর মহানত্বের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এটি কেবল তাঁর জ্ঞান, পর্যবেক্ষণ, তাদের পরিবেষ্টন করে থাকা, তাদের কথাবার্তা ও নড়াচড়া শ্রবণ করা, তাদের অবস্থা ও মনের খবর দেখা এবং তাঁর রাসূলগণ ও মুমিন বন্ধুদের হেফাযত ও রক্ষণাবেক্ষণ, তাদের সাহায্য করা ও তাদের তাওফীক দান করা ইত্যাদি মহান অর্থ ও ধ্রুব সত্যকে সাব্যস্ত করে যা মহান আল্লাহর জন্য প্রযোজ্য এবং যা সাধারণ ও বিশেষ 'মাঈয়াহ' দাবি করে। এছাড়াও এটি গুণাবলী অস্বীকারকারী, সাদৃশ্য প্রদানকারী, উপমা দানকারী এবং সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর অনুপ্রবেশ বা একীভূত হওয়ার মতবাদে বিশ্বাসীদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন, তার সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করুন, আমাদের ও তাকে ইলম, হেদায়াত ও তাওফীক বাড়িয়ে দিন এবং তাঁর এই কিতাবের মাধ্যমে পাঠক ও সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। এটি শ্রুতিলিখন করিয়েছেন আল্লাহর নিকট মুখাপেক্ষী আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।

আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সাহাবীগণের উপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

৫/১১/১৪০৪ হিজরী

জেনারেল প্রেসিডেন্ট, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ইফতা, দাওয়াত ও ইরশাদ বিভাগ
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌تمهيد
উপস্থাপনা
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৩)
تمهيد

 

وقد نظمت فيه ثلاثة أشياء:

(1) إهداء للمؤلف يتضمن سبب تأليف الكتاب.

(2) نظم الأسماء الحسنى ليسهل حفظها.

(3) نظم قواعد الكتاب في الأسماء والصفات وفي أدلتهما.

أولاً: الإهداء

مني سلامٌ طيبٌ مباركا … ورحمةٌ من رَبِنّا تباركا

لحضرةِ الشيخِ الكريمِ الصالحِ … المتقيْ محمدِ بن صالحِ

وبعدُ ذي حاشيةٌ أدعوها … هديةً لكم لتقبلوها

حفزني لفعلها أسبابُ … لمثلها اللبيب لا يرتابُ

فاولاً رأيتني في النومِ … جالسةً مع كرام القوم

أنتَ وأحمدُ الإمامُ الأورعُ … وشيخُ الإسلامِ فنعمَ المجمعُ

فَقَّدمَ الإمامُ في البدايةْ … لك التي سميتها البدايةْ (1)

فبادر الشيخُ ابن تيمية لكْ … فسبقَ الإمامَ ثُم نحلكْ

حاشيتي هذي على القواعد … ثُمَتَ ناداني منادٍ صاعد

يقول هذي رفعةٌ في العاجلِ … لك وايضاً رفعةٌ في الآجلِ

وثانياً كونُ الكتابِ متناً … يحتاجُ للشرحِ فيجلو المعنى

كما ذكرتَ ذاك لي في الهاتفِ … وهو جلىٌ للنبيهِ العارفِ

وثالثاً إني أحبك كما … أحبُ جهدَك الذي قد عظما

--------------------------------------------

(1) كتاب في فقه الإمام أحمد بن حنبل
ভূমিকা

 

আমি এতে তিনটি বিষয় পদ্যাকারে সংকলন করেছি:

(১) লেখকের প্রতি একটি উৎসর্গ, যাতে গ্রন্থটি রচনার কারণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

(২) আসমাউল হুসনার (সুন্দর নামসমূহের) কাব্যরূপ, যেন তা মুখস্থ করা সহজ হয়।

(৩) নাম ও গুণাবলি এবং এ সংক্রান্ত দলীলসমূহের ব্যাপারে কিতাবের নিয়মাবলির কাব্যরূপ।

প্রথমত: উৎসর্গ

আমার পক্ষ থেকে পবিত্র ও বরকতময় সালাম … এবং আমাদের বরকতময় রবের পক্ষ থেকে রহমত

সম্মানিত, নেককার ও মুত্তাকী … শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ-এর প্রতি

অতঃপর, এটি একটি টীকা যাকে আমি আপনার জন্য … উপহার হিসেবে পেশ করছি যেন আপনি তা গ্রহণ করেন

এটি করার পেছনে আমাকে এমন কিছু কারণ উদ্বুদ্ধ করেছে … যার জন্য বুদ্ধিমান ব্যক্তি কোনো সন্দেহ পোষণ করে না

প্রথমত, আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি … জাতির সম্মানিত ব্যক্তিদের সাথে বসে আছি

আপনি এবং ইমাম আহমদ—যিনি অতীব পরহেযগার— … এবং শায়খুল ইসলাম; কতই না চমৎকার সেই সমাবেশ!

অতঃপর ইমাম শুরুতে আপনার নিকট … সেটি পেশ করলেন যার নাম আমি আল-বিদায়া রেখেছি (১)

অতঃপর শায়খ ইবনে তাইমিয়াহ আপনার দিকে দ্রুত এগিয়ে গেলেন … এবং ইমামের পূর্বেই তা আপনাকে প্রদান করলেন

কায়েদাহ (নিয়মাবলি)-এর ওপর এটি আমার এই টীকা … এরপর এক উচ্চৈঃস্বরে আহ্বানকারী আমাকে ডাকলেন

তিনি বলছিলেন, এটি তোমার জন্য ইহকালে এক উচ্চ মর্যাদা … এবং পরকালেও এক উচ্চ মর্যাদা

দ্বিতীয়ত, গ্রন্থটি একটি মূল পাঠ (মতন) হওয়ার কারণে … এর ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল যা এর অর্থকে স্পষ্ট করবে

যেমনটি আপনি আমাকে টেলিফোনে বলেছিলেন … আর এটি যে কোনো বুদ্ধিমান ও বিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে সুস্পষ্ট

তৃতীয়ত, আমি আপনাকে ভালোবাসি যেমনটি … আপনার সেই মহান প্রচেষ্টাকে ভালোবাসি যা অত্যন্ত মহান হয়েছে

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমদ বিন হাম্বল-এর ফিকহ বিষয়ক একটি গ্রন্থ
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৪)
فاقبلْ هديتي وقَوِّم الخَطَأ … مني وادعُ لي بتثبيتِ الخُطا

هذا وإني كنتُ في الأساسِ … أخشى مُخالطةَ كلِّ الناسِ

وأرغبُ العزلةَ عنهم قاطعهْ … والانشغالِ بالعلومِ النافعهْ

وإنني أحزنني من استخفْ … بالعلمِ أو بأهلهِ أولي الشرفْ

ولا يفي بقدرهم وأشفقُ … عليه إذ تفكيرهُ ممزقُ

ولو درى فضلَ العلوم قطعا … لكان سباقاً إليها يسعى

وكنت أعجبُ من الذي يرى … هذا الطريقَ للنساءِ أوعرا

ولا كفاءة لديهنَّ على … طَلَبهِ ونحوِ ذلك ألا

يذكرُ ما عليه نسوةُ السلفْ … من التقاةِ والعلومِ والشرفْ

لِكنَّه دفعني لطلبهْ … والاختلاطِ بالذي يهتم بِهْ

وحمله ودعوة الناس إلى … تعليمه ونشره بين الملا

نصيحةٌ منكَ أتت مباركهْ … وإنني لستُ لها بتاركه

ثانياً: الأسماء الحسنى

يا اللهُ يا رحمنُ يا رحيمُ … أنتَ الحليمُ العالمُ العليمُ

أنتَ الحفيظُ الحافظُ الأعلىَ العليْ … أنت المليكُ الملكُ المولىَ الوليْ

الأكرمُ الكريمُ والرزاقُ … والبارئُ الخالقُ والخلاقُ

القادرُ المقتدر القدير … المؤمن السميع والبصير

ياحي يا قيوم يا وهاب … يا بر يا لطيف يا تواب

أنتَ العفو الشاكر الشكور … الطيب الغفار والغفور

أنتَ المتين القاهر القهار … أنت الكبير الواسع الجبار

والمتكبر السلام والحميدْ … والمتعالي والمحيط والشهيدْ

والحكم الحكيم والحسيب … والحق والمقيت والرقيب

والأحد القدوس والخبير … والواحد السبوح والنصير

والأول العظيم والقوي … والآخر المبين والغني

والظاهر الإله والحفي … والباطن الودود والحيي
সুতরাং আমার উপহার গ্রহণ করুন এবং আমার ভুল সংশোধন করে দিন … আর আমার পদক্ষেপসমূহকে অবিচল রাখার জন্য আমার জন্য দোয়া করুন।

অধিকন্তু আমি মূলত … সকল মানুষের সাথে মেলামেশা করতে ভয় পেতাম।

এবং আমি তাদের থেকে সম্পূর্ণ নির্জনতা অবলম্বন … এবং উপকারী জ্ঞান অর্জনে মগ্ন থাকাকেই পছন্দ করতাম।

আর আমি তাদের কারণে ব্যথিত হয়েছি যারা তুচ্ছজ্ঞান করেছে … জ্ঞানকে অথবা উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন জ্ঞানীদের।

সে তাদের যথাযথ কদর করে না, আমি তার জন্য করুণা বোধ করি … কারণ তার চিন্তাচেতনা বিক্ষিপ্ত।

সে যদি নিশ্চিতভাবে জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব জানত … তবে সে অবশ্যই এর অন্বেষণে অগ্রগামী হওয়ার চেষ্টা করত।

আর আমি সেই ব্যক্তিকে দেখে আশ্চর্য হতাম যে মনে করে … নারীদের জন্য এই পথ অত্যন্ত বন্ধুর।

এবং জ্ঞান অন্বেষণে তাদের কোনো যোগ্যতা নেই … অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু, অথচ সাবধান!

সে কি স্মরণ করে না সালাফদের সেই নারীদের কথা … যারা তাকওয়া, জ্ঞান ও মর্যাদার অধিকারী ছিলেন?

কিন্তু আপনার পক্ষ থেকে আসা একটি বরকতময় উপদেশ … আমাকে জ্ঞান অন্বেষণে এবং জ্ঞানীদের সাথে সম্পৃক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

আর সেই জ্ঞানের ভার বহন করতে এবং মানুষকে দাওয়াত দিতে … এটি শিক্ষা দিতে এবং জনসমক্ষে প্রচার করতে প্রেরণা জুগিয়েছে।

আপনার সেই উপদেশটি অত্যন্ত বরকতময় ছিল … আর আমি তা বর্জন করার পাত্র নই।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ (আল-আসমাউল হুসনা)

হে আল্লাহ! হে পরম করুণাময়! হে অসীম দয়ালু! … আপনিই সহনশীল, মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ।

আপনিই হিফাযতকারী, সংরক্ষণকারী, সুউচ্চ ও সুমহান … আপনিই অধিপতি, রাজাধিরাজ, অভিভাবক ও বন্ধু।

আপনি মহাসম্মানিত, অত্যন্ত দয়ালু ও রিযিকদাতা … আপনিই উন্মেষকারী, স্রষ্টা ও মহাস্রষ্টা।

আপনি সক্ষম, পরাক্রমশালী ও সর্বশক্তিমান … আপনি নিরাপত্তা দানকারী, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।

হে চিরঞ্জীব! হে মহানিয়ন্তা! হে মহাদাতা! … হে পরম কল্যাণময়! হে সূক্ষ্মদর্শী! হে তওবা কবুলকারী!

আপনি পরম ক্ষমাশীল, গুণগ্রাহী ও মহা পুরস্কারদাতা … আপনি পবিত্র, পরম ক্ষমাশীল এবং অত্যন্ত ক্ষমাশীল।

আপনি সুদৃঢ়, প্রবল ও মহাপরাক্রমশালী … আপনি সুমহান, সর্বব্যাপী ও প্রবল প্রতাপশালী।

আপনি অতীব অহংকারী (গৌরবান্বিত), শান্তিদাতা ও চিরপ্রশংসিত … আপনি সমুন্নত, পরিবেষ্টনকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী।

আপনি মীমাংসাকারী, প্রজ্ঞাময় ও হিসাব গ্রহণকারী … আপনি ধ্রুব সত্য, আহার্য দানকারী ও নিবিড় পর্যবেক্ষক।

আপনি এক ও অদ্বিতীয়, অতি পবিত্র ও সম্যক পরিজ্ঞাত … আপনি এক, অত্যন্ত পবিত্র ও সাহায্যকারী।

আপনি অনাদি, মহিমান্বিত ও শক্তিশালী … আপনি অনন্ত, সুস্পষ্ট ও অভাবমুক্ত।

আপনি প্রকাশ্য, উপাস্য ও অত্যন্ত মেহেরবান … আপনি অপ্রকাশ্য, প্রেমময় ও অতিশয় লজ্জাশীল।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৫)
والباسط المنان والمصور … والقابض المقدم المؤخر

والوارث الفتاح والمهيمن … أنتَ العزيز والمجيد المحسن

والشافيْ والرفيق والوكيل … والمعطي والجواد والجميل

أنتَ القريب والمجيب الصمد … والوتر والرب الرؤف السيد

ندعوكَ رَبِّ بالاساميّ الحسنىَ … وما حوتَه من جمالِ المعنى

لتُعْطِيَنِّا اكملَ المرَامِ … ولْتَمْحُ عَنّا جُملةَ الآثامِ

وَرَقِناَ في درجاتِ الخيرِ … وَجَنِبَنَّا دركاتِ الضيرِ

ثالثاً: قواعد الأسماء

الحمْدُ لله العليِّ الحيِّ … ثم صلاتُه على النبيِّ

وبعدُ ذي قواعدُ الأسماءِ … نظمتُها في ذائه (1) الانشاءِ

القاعدة الأولى

اسماؤه حسنى لأنْ تضمنتْ … صفاتِه التي علَتْ وكُملَتْ

لا نقصَ فيها يخرمُ الكمالا … لله تقديرا او احتمالا

القاعدة الثانية

وهي أعلامٌ على اعتبار أنْ … دلت على الذاتِ وأوصافٌ تعن

له على اعتبار ما تدلُّ … عليه من معنى لها يجل

وباعتبار الأُلِّ (2) قد تَرادَفتْ … وباعتبار الثاني قد تَخالَفتْ

القاعدة الثالثة

واسمٌ على وصفٍ تعدى دلا … مشتملٌ على أمورٍ تُجْلى

ثُبوتُه مَع ثُبوتِ الصفةِ … مَعَ ثُبوتِ حُكْمها في الشرعةِ

وإنْ على وصَفٍ لزومّيٍ يَدُلْ … فهو على غير الأخير مُشتَمِلْ

--------------------------------------------

(1) لغة في اسم الإشارة كما في شرح الأشموني المطبوع مع حاشية الصبان (1/138)

(2) … الأل بضم الهمزة وتشديد اللام بمعنى الأول كما في القاموس مادة أل ل ص1243 ط الرسالة.
এবং প্রসারকারী, অত্যধিক দানকারী, রূপদানকারী … এবং সংকোচনকারী, অগ্রবর্তীকারী, পশ্চাৎবর্তীকারী

এবং উত্তরাধিকারী, উন্মোচনকারী, রক্ষক … আপনি মহাপরাক্রমশালী, মহিমান্বিত এবং অনুগ্রহকারী

এবং আরোগ্যকারী, কোমল, তত্ত্বাবধায়ক … এবং দানকারী, বদান্য ও সুন্দর

আপনি নিকটবর্তী, সাড়া দানকারী, অমুখাপেক্ষী … এবং একক, প্রতিপালক, পরম দয়ালু ও প্রভু

হে আমার প্রতিপালক! আমরা আপনাকে ডাকি আপনার সুন্দর নামসমূহ দ্বারা … এবং সেই নামগুলো অর্থের যে সৌন্দর্য ধারণ করে তার মাধ্যমে

যাতে আপনি আমাদের পূর্ণ লক্ষ্যসমূহ দান করেন … এবং আমাদের থেকে সমস্ত পাপ মুছে দেন

এবং আমাদের কল্যাণের সোপানে উন্নীত করুন … এবং ক্ষতির স্তরগুলো থেকে আমাদের দূরে রাখুন

তৃতীয়ত: নামসমূহের নীতিমালা

সকল প্রশংসা সুউচ্চ, চিরঞ্জীব আল্লাহর জন্য … অতঃপর তাঁর সালাত বর্ষিত হোক নবীর ওপর

অতঃপর এগুলো হলো নামসমূহের নীতিমালা … যা আমি এই রচনায় ছন্দবদ্ধ করেছি

প্রথম নীতি

তাঁর নামসমূহ অতি সুন্দর, কারণ সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে … তাঁর সেই গুণাবলিকে যা অতি উচ্চ ও পূর্ণ

তাতে এমন কোনো ত্রুটি নেই যা পূর্ণতাকে ক্ষুণ্ণ করে … আল্লাহর জন্য তা ধারণাগতভাবে বা সম্ভাব্য হিসেবেও অসম্ভব

দ্বিতীয় নীতি

সেগুলো ব্যক্তিনাম এই বিবেচনায় যে … তা সত্তাকে নির্দেশ করে; আর সেগুলো গুণাবলি হিসেবে প্রকাশিত হয়

তাঁর জন্য এই বিবেচনায় যে, তা যা নির্দেশ করে … তা এমন এক অর্থের যা তাঁর জন্য অতি মহান

প্রথমটি (সত্তা) বিবেচনায় সেগুলো সমার্থক … আর দ্বিতীয়টি (গুণ) বিবেচনায় সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন

তৃতীয় নীতি

যে নাম কোনো সকর্মক গুণের ওপর প্রমাণ করে … তা সুষ্পষ্ট কিছু বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে

নামটির সাব্যস্ত হওয়ার সাথে গুণের সাব্যস্ত হওয়া … এবং শরিয়তে তার বিধান বা প্রভাবের সাব্যস্ত হওয়া

আর যদি তা কোনো অকর্মক গুণের ওপর প্রমাণ করে … তবে তা শেষোক্ত বিষয়টি ব্যতীত অন্যগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে

--------------------------------------------

(১) ইশারা বা নির্দেশসূচক শব্দের একটি রূপ, যেমনটি সাব্বানের টীকা সম্বলিত আল-আশমুনীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে (১/১৩৮) বর্ণিত হয়েছে।

(২) … আল-আল (الأل) হামজার পেশ এবং লামের তাশদীদ সহযোগে, এর অর্থ হলো প্রথম, যেমনটি আল-কামুস গ্রন্থের ১২৪৩ পৃষ্ঠায় 'আল' পরিচ্ছেদে রিসালাহ সংস্করণে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৬)
القاعدة الرابعة

دلالة الاسما على ذاتِ الغني … أو صِفَتِهْ تكون بالتضمنِ

وبالتطابقِ والالتزامِ … واضحةً في سائرِ الاسامي

القاعدة الخامسة

أسماؤُهُ موقوفةٌ للنقْلِ … فلا مجالَ كائنٌ للعقلِ

القاعدة السادسة

اسماؤُهُ سبحانَه لم تكنِ … محصورةً بعددٍ معينِ

القاعدة السابعة

الالحادُ في الاسماء ميلٌ عما … يجبُ وهو للحرام يُنمى

وهُو أنواعٌ قد ابتدَعَها … طوائفُ الزيغِ ومن تَبِعَها

القاعدة الثامنة

الاسما إذا من صفةٍ واحدةِ … تَشتقُّ كالعلو أو كالقدرةِ

فلا تعد كُلَّها اسماً واحداً … بل كُلُّ صيغةِ سماً متحِداً

القاعدة التاسعة

مقترنُ الاسماء ما ليس يَصِحْ … اطلاقُهُ دونَ القرِينِ المتِّضحْ

القاعدة العاشرة

يجوز الاخبار عن الله بكل … مالا انتقاص فيه كالقديم جل

القاعدة الحادية عشرة

أسماؤُه قديمةً كذاتِه … سبحانَه لا بعضُ مخلوقاتهِ

القاعدة الثانية عشرة

وبعضُها دُلَّ على أكثر من … وصفٍ مثالُه الحكيُم فافهمن

القاعدة الثالثة عشرة

اسماؤُه مختصةٌ به ولا … يعني اتفاقٌ في السُما تماثُلا
চতুর্থ নিয়ম

অভাবমুক্ত (আল্লাহর) সত্তা … অথবা তাঁর গুণের ওপর নামের নির্দেশনা হয় অন্তর্ভুক্তিকরণের মাধ্যমে

এবং সামঞ্জস্যতা ও অপরিহার্যতা এর মাধ্যমে … যা অন্য সকল নামের ক্ষেত্রেও সুস্পষ্ট

পঞ্চম নিয়ম

তাঁর নামসমূহ ওহীর ওপর নির্ভরশীল … সুতরাং এখানে আকল বা বিবেকের কোনো স্থান নেই

ষষ্ঠ নিয়ম

মহান আল্লাহর নামসমূহ … কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়

সপ্তম নিয়ম

আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি হলো যা ওয়াজিব তা থেকে সরে যাওয়া … আর এটি হারামের অন্তর্ভুক্ত

এর বিভিন্ন প্রকার রয়েছে যা বিভ্রান্ত গোষ্ঠীগুলো … এবং তাদের অনুসারীরা উদ্ভাবন করেছে

অষ্টম নিয়ম

নামসমূহ যদি একটিমাত্র গুণ থেকে … নির্গত হয়, যেমন উচ্চতা অথবা ক্ষমতা

তবে সেগুলোকে একটি মাত্র নাম হিসেবে গণ্য করো না … বরং প্রতিটি শব্দরূপই একেকটি স্বতন্ত্র নাম

নবম নিয়ম

যুক্ত নামসমূহ এমন যা এককভাবে বলা সঠিক নয় … তার স্পষ্ট সহযোগী নাম উল্লেখ করা ব্যতীত

দশম নিয়ম

আল্লাহর সম্পর্কে এমন সব শব্দ দ্বারা সংবাদ দেওয়া জায়েজ … যাতে কোনো প্রকার অপূর্ণতা নেই, যেমন 'অনাদি', তিনি মহান

একাদশ নিয়ম

তাঁর নামসমূহ তাঁর সত্তার মতোই অনাদি … মহান আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ তাঁর কোনো সৃষ্টি নয়

দ্বাদশ নিয়ম

কিছু নাম একাধিক গুণের … নির্দেশনা দেয়, যেমন 'প্রজ্ঞাময়' (হাকীম), অতএব বিষয়টি বুঝে নাও

ত্রয়োদশ নিয়ম

তাঁর নামসমূহ তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট এবং … নামের ক্ষেত্রে মিল থাকা মানেই সাদৃশ্য হওয়া নয়
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৭)
مسمياتِ تلكْمُ الاسماءِ … وذاك أيضاً في الصفاتِ جاءِ

رابعاً: قواعد الصفات

وهذه قواعدُ الصفاتِ … نظمتُها في هذه الأبياتِ

القاعدة الأولى

صفاتُه في غايةِ الكمالِ … لا نقصَ فيها أبداً بحالِ

القاعدة الثانية

بابُ صفاتهِ تعالى أوسعُ … من باب الأسماء فلا تبتدعوا

القاعدة الثالثة

وهْيَ ثبوتيِّةٌ أو سلبيهْ … أما ثبوتُيتُها العليهْ

فهي صفات للكمال كُلاّ … لا نقص فيها فتعالى جَلاّ

أما التي للسلبِ منها تُسندُ … فهْي صفاتٌ قد نفاها الصمدُ

القاعدة الرابعة

أما صفاتُه الثبوتية جَلّْ … فهي على الكمال والمدح تَدُلّْ

فكلما كثرت أو تنوعت … دلالةٌ لها ومهما اتسعت

ظهر من كمال من بها وُصِفْ … ما هو أكثرُ من الذي عُرِفْ

القاعدة الخامسة

وَهِيَ ذاتّيةٌ أو فعليّةْ … أما صفاتُ رَبِّنا الذاتيّهْ

فلم يزل له بها اتصافُ … والخبريّة لها تنضافُ

أما التي بالفعل منها تَلحَقُ … فبالمشيئة لها تَعلُّقُ

القاعدة السادسة

يلزم في اثباتنا كُلَّ صفةْ … أن نَتَطّهرَ طُهَورَ المعرفةْ

عن حومة التكييفِ والتمثيلِ … كما تخَلَّينا عن التعطيلِ
সেইসব নামের নামধারী সত্তা … আর তা গুণাবলির ক্ষেত্রেও এসেছে।

চতুর্থত: গুণাবলির নীতিমালা

আর এগুলো হলো গুণাবলির নীতিমালা … যা আমি এই পঙক্তিমালায় ছন্দবদ্ধ করেছি।

প্রথম নীতিমালা

তাঁর গুণাবলি চূড়ান্ত পূর্ণতায় অভিষিক্ত … কোনো অবস্থাতেই তাতে কোনো ত্রুটি নেই।

দ্বিতীয় নীতিমালা

মহান আল্লাহর গুণাবলির অধ্যায় অধিক প্রশস্ত … নামসমূহের অধ্যায় অপেক্ষা, সুতরাং তোমরা নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না।

তৃতীয় নীতিমালা

আর সেগুলো ইতিবাচক অথবা নেতিবাচক … তবে তাঁর উচ্চতর ইতিবাচক গুণাবলি—

সেগুলো সবই পূর্ণতার গুণাবলি … তাতে কোনো অপূর্ণতা নেই, সুতরাং তিনি অতি সুমহান ও মহিমান্বিত।

আর তাঁর দিকে যেসব নেতিবাচক গুণাবলি সম্বন্ধযুক্ত করা হয় … সেগুলো এমন গুণ যা অমুখাপেক্ষী সত্তা নিজের থেকে নাকচ করেছেন।

চতুর্থ নীতিমালা

আর তাঁর সুমহান ইতিবাচক গুণাবলি … তা পূর্ণতা ও প্রশংসার প্রমাণ বহন করে।

সুতরাং যখনই তার প্রমাণাদি বৃদ্ধি পায় বা বৈচিত্র্যময় হয় … এবং তা যতই বিস্তৃত হোক না কেন—

যিনি সেই গুণে গুণান্বিত তাঁর পূর্ণতা তত বেশি প্রকাশিত হয় … যা ইতিপূর্বে জানা বিষয়ের চেয়েও অধিক।

পঞ্চম নীতিমালা

আর সেগুলো সত্তাগত অথবা কর্মগত … আমাদের রবের সত্তাগত গুণাবলি হলো—

যা দ্বারা তিনি অনাদিকাল থেকে বিশেষিত … আর সংবাদনির্ভর গুণাবলিও এর সাথে যুক্ত হয়।

আর তাঁর যেসব গুণাবলি কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট … তা মূলত তাঁর ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত।

ষষ্ঠ নীতিমালা

প্রতিটি গুণ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে আমাদের ওপর আবশ্যক হলো … সঠিক মারেফাতের পবিত্রতায় পবিত্র হওয়া—

গুণাবলির ধরন নির্ধারণ ও সাদৃশ্য প্রদানের পরিমণ্ডল থেকে … ঠিক যেমন আমরা বিমুক্ত হয়েছি গুণাবলি অস্বীকার করা থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ১৮)
القاعدة السابعة

صفاتُه موقوفةٌ للنقلِ … فلا مجالَ كائنٌ للعقلِ

 

خامساً: قواعد أدلة الأسما والصفات:

 

وذي قواعدُ في الاستدلالِ … على اسامي وصفاتِ الوالي

القاعدة الأولى

طريقةُ استدلالِ سائرِ السلفْ … عليهما الوحيُ فقَطْ فلا تَحِفْ

القاعدة الثانية

يُجرى نصوصُ الوحيِ بالظواهرِ … إلا لصارفٍ سديدٍ ظاهرِ

بدون تحريفٍ ولا إلحادِ … أحرى نصوص في صفات الهادي

القاعدة الثالثة

ظواهرُ النصوصِ في الصفاتِ … هي لنا معلومةٌ المعناةِ

مجهولةٌ كيفاً وجاء ذلكْ … عن جِلَّةٍ أئمةٍ كمالكْ

القاعدة الرابعة

ظاهرُ نصِ هو ما يبتدرُ … للذهنِ منه من معانٍ تُذكرُ

مختلفٌ بِحَسَبِ السياقِ … وحَسَبِ الكلامِ في المساقِ

 

خاتمة:

أوصيكمُ بحفظِ ذى الأسماءِ … وبالدعا بها والالتجاءِ

فانه فيها اسمُه العظيمُ … وفضلُه لكلنا معلومُ

وأن تحيطوا هذه القواعدْ … حفظاً وفهماً فبها فوائد

ستجدونها تساعد الخلف … أن يفهموا الوحي كفهمه السلف
সপ্তম নীতি

তাঁর গুণাবলি ওহীর সংবাদের ওপর নির্ভরশীল … সুতরাং এতে বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির কোনো অবকাশ নেই।

 

পঞ্চম: নাম ও গুণাবলির দলীল সংক্রান্ত মূলনীতিসমূহ:

 

এগুলো হলো দলীল পেশ করার মূলনীতি … মহান অভিভাবক আল্লাহর নাম ও গুণাবলির বর্ণনায়।

প্রথম নীতি

সকল পূর্বসূরি বা সালাফগণের দলীল গ্রহণের পদ্ধতি হলো … কেবল ওহীর ওপর নির্ভর করা, সুতরাং তুমি সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ো না।

দ্বিতীয় নীতি

ওহীর পাঠসমূহকে তার বাহ্যিক ও প্রকাশ্য অর্থের ওপর বহাল রাখা হবে … যতক্ষণ না কোনো সুস্পষ্ট ও সঠিক প্রমাণ তা থেকে বিমুখ করে।

কোনো প্রকার বিকৃতি এবং সত্যবিচ্যুতি ছাড়াই … পথপ্রদর্শক আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত পাঠসমূহ গ্রহণ করাই অধিক সঙ্গত।

তৃতীয় নীতি

গুণাবলি সংক্রান্ত পাঠসমূহের বাহ্যিক অর্থ … আমাদের কাছে অর্থগতভাবে পরিজ্ঞাত।

তবে এর প্রকৃত ধরন বা কাইফিয়াত অজ্ঞাত, আর এটিই বর্ণিত হয়েছে … ইমাম মালিকের মতো শ্রেষ্ঠ ইমামগণের পক্ষ থেকে।

চতুর্থ নীতি

কোনো পাঠের বাহ্যিক অর্থ হলো তা-ই, যা উল্লেখ করার পর … প্রথমেই মনের মধ্যে অর্থ হিসেবে ভেসে ওঠে।

এটি প্রসঙ্গের ভিন্নতা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে … এবং বাক্যের প্রবাহ ও গঠনশৈলী অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

 

উপসংহার:

আমি আপনাদের এই নামগুলো মুখস্থ করার উপদেশ দিচ্ছি … এবং এগুলোর মাধ্যমে প্রার্থনা ও আশ্রয় প্রার্থনা করার পরামর্শ দিচ্ছি।

কেননা এগুলোর মধ্যেই তাঁর মহান নাম নিহিত … আর এর ফযীলত আমাদের সকলেরই জানা।

আর আপনারা এই মূলনীতিগুলো আয়ত্ত করুন … মুখস্থ ও অনুধাবনের মাধ্যমে, কেননা এতে রয়েছে অনেক উপকার।

আপনারা এগুলোকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সাহায্যকারী হিসেবে পাবেন … যেন তারা ওহীকে সেভাবেই বুঝতে পারে যেভাবে সালাফগণ বুঝেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২০)
مقدمة الشارحة
ব্যাখ্যাকারিণীর ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২১)
المقدمة

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله

{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون}

{يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالاً كثيراً ونساء واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيباً}

[يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولاً سديداً يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزاً عظيماً}

الحمد لله الذي جعل في كل زمان فترة من الرسل بقايا من أهل العلم، يدعون من ضل إلى الهدى، ويصبرون منهم على الأذى، يحيون بكتاب الله الموتى، ويبصرون بكتاب الله أهل العمى، فكم من قتيل لإبليس قد أحيوه وكم من تائه ضال قد هدوه فما أحسن أثرهم على الناس، وما أقبح أثر الناس عليهم، ينفون عن كتاب الله تحريف الغالين، وانتحال المبطلين وتأويل الجاهلين.

أما بعد،،،،

 

فلا شك أن مسألة الأسماء والصفات تعد من أجل وأعظم ما تكلم فيه من أصول الاعتقاد، وقد اختلفت فيها المقالات فمنهم من قال بالنفي
ভূমিকা

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রব্বকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তবে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করে।}

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রাসুলগণের বিরতিকালীন প্রতিটি যুগে অবশিষ্ট একদল আলেম রেখেছেন, যারা পথভ্রষ্টদের হিদায়াতের দিকে আহ্বান করেন এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা কষ্ট ও যাতনায় ধৈর্য ধারণ করেন। তারা আল্লাহর কিতাবের মাধ্যমে মৃতদের জীবিত করেন এবং আল্লাহর কিতাবের সাহায্যে অন্ধদের চক্ষুষ্মান করেন। ইবলিসের হাতে কত নিহতকে তারা জীবন দান করেছেন এবং কত বিভ্রান্ত পথহারাকে তারা সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন! মানুষের ওপর তাদের অবদান কতই না উত্তম, আর তাদের ওপর মানুষের আচরণ কতই না জঘন্য! তারা আল্লাহর কিতাব থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেন।

অতঃপর...

 

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নাম ও গুণাবলির বিষয়টি আকিদার মূলনীতিসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও মহান বিষয় হিসেবে গণ্য। এ প্রসঙ্গে মানুষের বক্তব্য ও মতবাদ বিভিন্নমুখী হয়েছে; তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে অস্বীকার করার মত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২২)
المحض، ومنهم من أقر بأسماء الله في الجملة، ونفى الصفات، ومنهم من أقر بالأسماء والصفات لكنه رد طائفة منها وتأولها وصرفها عن ظاهرها ومنهم من ذهب إلي وجوب الإيمان بكل ما ورد في كتاب الله، وصحيح السنة من الأسماء والصفات وإجرائها على ظواهرها ونفي التكييف والتشبيه عنها، وأصحاب هذا القول هم الذين يلقبون بالسلف وأهل السنة

وقد اختار المؤلف حفظه الله مقالة هؤلاء، وارتضاها، وأيدها بالنقول الضافية عن الأئمة الذين لهم قدم راسخة في هذا الباب ممن هو مشهود له بالاستقامة والسداد، وجودة الفهم، وحسن الاستنباط (1) .

أهمية العلم بالأسماء والصفات (2)

إن دراسة وفهم أسماء الله عز وجل وصفاته لها أهمية كبرى في حياة المسلمين للأسباب التالية:

1 - ما ذكره المؤلف في مقدمة كتابه من أن أسماء الله وصفاته أحد أركان التوحيد، والتوحيد هو الأمر الأعظم الذي جاءت به الرسل

2 - أن العلم يشرف بشرف المعلوم فإذا كان هناك علوم مختلفة منها ما يتعلق بالبحار أو طبقات الأرض أو الحيوانات أو النجوم أو الإنسان أو غير ذلك فلا شك أن أفضل العلوم على الإطلاق ما يعرفنا على ربنا عز وجل ولهذا يقول ابن العربي في أحكام القرآن (2/804) : شرف العلم بشرف المعلوم والباري أشرف المعلومات، فالعلم بأسمائه أشرف العلوم ا. هـ

3 - إن العلم بأسماء الله وصفاته والفقه لمعناها والعمل بمقتضاها وسؤال الله بها يوجد في قلوب العابدين تعظيم الباري، وتقديسه ومحبته، ورجاءه وخوفه والتوكل عليه والإنابة إليه بحيث يصبح الباري في

--------------------------------------------

(1) مقدمة أقاويل الثقات لشعيب الأرناؤوط ص5 بتصرف.

(2) هذا المبحث مأخوذ من:

الأسماء والصفات للأشقر ص 26، مفتاح دار السعادة لابن القيم (1/291)
বিশুদ্ধ [মতবাদ], আবার তাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা সামগ্রিকভাবে আল্লাহর নামসমূহকে স্বীকার করেন কিন্তু গুণাবলিকে (সিফাত) অস্বীকার করেন। আবার কেউ কেউ নাম ও গুণাবলি স্বীকার করেন কিন্তু তাদের একটি অংশকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং সেগুলোর অপব্যাখ্যা (তাবিল) করেন ও সেগুলোকে তাদের প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরিয়ে দেন। আর তাদের মধ্যে এমন একদল আছেন যারা আল্লাহর কিতাব ও সহিহ সুন্নাহতে বর্ণিত সকল নাম ও গুণাবলির প্রতি ঈমান আনাকে এবং সেগুলোকে তাদের প্রকাশ্য অর্থের ওপর প্রয়োগ করাকে অপরিহার্য মনে করেন, পাশাপাশি এগুলোর ধরণ নির্ধারণ (তাকয়িফ) ও সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) করাকে অস্বীকার করেন। এই মত পোষণকারীগণই 'সালাফ' এবং 'আহলুস সুন্নাহ' নামে অভিহিত।

লেখক (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) তাদের মতটিই গ্রহণ করেছেন, তা পছন্দ করেছেন এবং সেই সকল ইমামদের পর্যাপ্ত উদ্ধৃতি দিয়ে একে সমর্থন করেছেন যাদের এই বিষয়ে গভীর জ্ঞান রয়েছে এবং যারা সততা, সঠিকতা, প্রজ্ঞার শ্রেষ্ঠত্ব ও উত্তম উদঘাটন ক্ষমতার জন্য স্বীকৃত। (১) ।

আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কিত জ্ঞানের গুরুত্ব (২)

আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলি নিয়ে পড়াশোনা ও তা বোঝার গুরুত্ব মুসলিম জীবনে অত্যন্ত বেশি, যার কারণসমূহ নিম্নরূপ:

১ - লেখক তাঁর বইয়ের ভূমিকায় যা উল্লেখ করেছেন যে, আল্লাহর নাম ও গুণাবলি তাওহিদের অন্যতম একটি রুকন বা স্তম্ভ, আর তাওহিদ হলো সেই মহান বিষয় যা নিয়ে রাসুলগণ প্রেরিত হয়েছিলেন।

২ - জ্ঞানের মর্যাদা নির্ভর করে যে বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা হচ্ছে তার মর্যাদার ওপর। সুতরাং যখন বিভিন্ন জ্ঞান বা বিজ্ঞান থাকে, যার কিছু সমুদ্র নিয়ে, কিছু মাটির স্তর নিয়ে, কিছু প্রাণীকুল, নক্ষত্ররাজি বা মানুষ কিংবা অন্য কিছু নিয়ে—তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সর্বোত্তম জ্ঞান হলো তা যা আমাদের মহান রব সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেয়। এই কারণে ইবনুল আরাবি 'আহকামুল কুরআন' (২/৮০৪) গ্রন্থে বলেন: জ্ঞানের মর্যাদা নির্ভর করে যার সম্পর্কে জানা হচ্ছে তার মর্যাদার ওপর, আর স্রষ্টা হলেন সকল জ্ঞাত বিষয়ের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান; সুতরাং তাঁর নামসমূহ সম্পর্কিত জ্ঞানই হলো সর্বোত্তম জ্ঞান। সমাপ্ত।

৩ - আল্লাহর নাম ও গুণাবলির জ্ঞান, সেগুলোর অর্থ অনুধাবন করা, সেগুলোর দাবি অনুযায়ী আমল করা এবং সেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা ইবাদতকারীদের অন্তরে স্রষ্টার প্রতি মহিমা, পবিত্রতা বোধ, ভালোবাসা, আশা, ভয়, তাঁর ওপর ভরসা এবং তাঁর দিকে ফিরে আসার প্রেরণা সৃষ্টি করে, যার ফলে স্রষ্টা তাদের কাছে হয়ে ওঠেন...

--------------------------------------------

(১) শুআইব আরনাউত কর্তৃক সম্পাদিত 'আকাউয়িলুস সিকাত'-এর ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৫, পরিমার্জিত।

(২) এই আলোচনাটি গ্রহণ করা হয়েছে:

আশক্বার রচিত 'আল-আসমা ওয়াস সিফাত', পৃষ্ঠা ২৬ এবং ইবনুল কাইয়্যিমের 'মিফতাহু দারিস সা'আদাহ' (১/২৯১) থেকে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৩)
قلوبهم المثل الأعلى الذي لا شريك له في ذاته ولا في صفاته وليس لأحد مثل هذه المكانة التي في قلوبهم وبذلك يحقق العبد التوحيد القلبي، وتتحقق العبودية لله، وتخضع القلوب لجلاله وتسكن النفوس لعظمته

4 - عظم ثواب من أحصى أسماء الله:

فقد ثبت في الصحيحين أن لله تسعة وتسعين اسماً من أحصاها دخل الجنة

وسيأتي الخلاف في معنى الإحصاء وأن الذي اختاره الأكثرون هو أن الإحصاء حفظ هذه الأسماء وسيأتي أن للمؤلف رأياً آخر في المسألة.

فحري بمن يعلم هذا الأجر العظيم لإحصاء أسماء الله أن يجعل ذلك من أجل المهام في حياته.

فلهذه الأسباب أحببت أن أهتم في هذا الباب وأعين إخواني وأخواتي عليه وكنت قد درست كتاب القواعد المثلى للشيخ ابن عثيمين ووجدته قد احتوى على قواعد في الأسماء والصفات ورد شبه أهل التعطيل وامتاز بجودة الترتيب، وحسن العرض، وسهولة العبارة في الجملة إلا أنه بحاجة إلى شرح يحل المغلق ويوضح الخفي ويبين المصطلحات الموجودة فاستعنت بالله أن أقوم بهذه المهمة وقد سلكت في ذلك المنهج الآتي:

(1) … تخريج الآيات القرآنية مع الرجوع إلى ما كتبه المفسرون في شرح الآية وإيضاح موطن الشاهد منها غالباً.

(2) … تخريج الأحاديث والآثار الواردة في الكتاب وبيان درجتها من حيث القبول والرد مستعينةً في ذلك بما كتبه المحدثون.

وقد يتطلب الأمر بيان حال بعض رجال الإسناد فأرجع إلى ما كتبه علماء الجرح والتعديل.

(3) … إذا كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما لم أنسبه لغيرهما إلا لفائدة وهذا هو صنيع المحدثين فقد جرى عليه الحافظ الدمياطي ت سنة 705هـ في كتابه المتجر الراح ص6 والعراقي ت 806هـ في تخريج
তাদের অন্তরে আল্লাহর জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ উপমা, যাঁর সত্তা কিংবা গুণাবলিতে কোনো শরিক নেই এবং তাদের অন্তরে আল্লাহর যে উচ্চমর্যাদা রয়েছে তা অন্য কারো জন্য নেই। এর মাধ্যমে বান্দা অন্তরের তাওহীদ বাস্তবায়ন করে, আল্লাহর দাসত্ব অর্জিত হয়, অন্তরসমূহ তাঁর মহিমার নিকট অবনত হয় এবং আত্মা তাঁর মহানুভবতায় প্রশান্তি লাভ করে।

৪ - আল্লাহর নামসমূহ গণনা (ইহসা)কারীর প্রতিদানের মাহাত্ম্য:

সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে; যে ব্যক্তি সেগুলো গণনা (ইহসা) করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

অচিরেই 'ইহসা' (গণনা)-র অর্থের ব্যাপারে মতভেদ এবং অধিকাংশ আলেম যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা বর্ণিত হবে; আর তা হলো ইহসা মানে এই নামগুলো মুখস্থ করা। সামনে আরও আসবে যে, এ বিষয়ে লেখকের ভিন্ন একটি মত রয়েছে।

সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর নামসমূহ গণনার এই মহান সওয়াব সম্পর্কে অবগত, তার জন্য সমীচীন হলো এটিকে তার জীবনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা।

এই সকল কারণে আমি এই বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করা এবং আমার ভাই ও বোনদের এ ব্যাপারে সাহায্য করা পছন্দ করেছি। আমি শেখ ইবনে উসাইমীনের 'আল-কাওয়ায়িদুল মুসলা' বইটি অধ্যয়ন করেছি এবং দেখেছি যে এটি আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সংক্রান্ত মূলনীতিসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এতে 'আহলে তা'তীল' (গুণ অস্বীকারকারী)-দের সংশয়সমূহের খণ্ডন রয়েছে। এটি বিন্যাসের চমৎকারিত্ব, উপস্থাপনার সৌন্দর্য এবং সামগ্রিকভাবে সাবলীল ভাষার জন্য অনন্য। তবে এটি এমন একটি ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল যা জটিল বিষয়গুলোর জট খুলবে, অস্পষ্ট বিষয়সমূহ স্পষ্ট করবে এবং ব্যবহৃত পরিভাষাগুলো ব্যাখ্যা করবে। তাই আমি এই কাজ সম্পন্ন করার জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেছি এবং এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

(১) … কুরআনের আয়াতসমূহের সূত্র নির্দেশ (তাখরীজ) করা এবং আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ যা লিখেছেন তা পর্যালোচনা করা এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে আয়াতের মূল প্রাসঙ্গিক অংশটি স্পষ্ট করা।

(২) … কিতাবে বর্ণিত হাদিস ও আছারসমূহের সূত্র নির্দেশ করা এবং মুহাদ্দিসগণ যা লিখেছেন তার আলোকে সেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা ও বর্জনের মানদণ্ড স্পষ্ট করা।

কখনো কখনো সনদের কিছু বর্ণনাকারীর অবস্থা বর্ণনা করার প্রয়োজন দেখা দিলে আমি 'জারহ ওয়াত তা'দীল' (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা) শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ যা লিখেছেন তার প্রতি প্রত্যাবর্তন করেছি।

(৩) … হাদিসটি যদি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) অথবা এই দুইটির কোনো একটিতে বিদ্যমান থাকে, তবে বিশেষ কোনো উপকারিতা ছাড়া আমি তা অন্য কোনো কিতাবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করিনি। এটিই মুহাদ্দিসগণের অনুসৃত পদ্ধতি; হাফেজ দিময়াতি (মৃত্যু ৭০৫ হিজরি) তাঁর 'আল-মাতজারুর রাবিহ' গ্রন্থের ৬ নং পৃষ্ঠায় এবং ইরাকী (মৃত্যু ৮০৬ হিজরি) তাঁর তাখরীজে এটিই অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৪)
أحاديث إحياء علوم الدين (1/2) والمناوي في كتابه الفتح السماوي بتخريج أحاديث البيضاوي (1/69) حيث نقل عنه ابنه أنه قال: القاعدة عند المحدثين إذا كان الحديث في أحد الصحيحين لا يعز لغيرهما.

 

(4) … استشهد المؤلف ببيتين من الشعر في القاعدة الثالثة من قواعد الصفات وحققتهما بفوائد جمة نقلاً عما كتبه الأدباء وشراح الحماسة.

وأما الأبيات الأخرى فقد ذكر بيتاً عن الصفات التي يثبتها الأشاعرة، وأبياتاً من نونية ابن القيم وهذه جملة أشعار الكتاب.

(5) … استفدت من التنسيق والعناوين التي وضعها الشيخ أشرف بن عبد المقصود في تحقيقه للكتاب.

6 - … شرحت العبارات والمسائل والمصطلحات التي ذكرها المؤلف في كتابه واتبعت في ذلك الطريقة التالية

أ - إذا كانت العبارة تحتاج إلى شرح يسير فإني أكتفي بذلك في الحاشية غالباً ما دام أنه يحقق المقصود.

ب - إذا كانت العبارة تحتاج إلى بسط وإيضاح وذكر الخلاف فإني جعلت بعد كل قاعدة ملحقاً أذكر فيه هذه المسائل بتوسع ومن ذلك تحقيق بعض الأحاديث التي تحتاج إلى بسط فإني جعلتها في الملحق.

وهذه طريقة مفيدة حتى لا يمل القاريء من كثرة الحواشي والاستطراد الذي يكون سبباً في شرود الذهن وقد سلك الدكتور عباس حسن في كتابه النحو الوافي منهجاً مقارباً لهذا.

6 - … رجعت في حاشيتي هذه على القواعد إلى أمات (1) المصادر وسيجد القاريء جملة وافرة من ذلك وهي متنوعة في علوم شتى تشمل ما كتبه المفسرون والمحدثون واللغويون والأصولويون والنحويون والمناطقة

--------------------------------------------

(1) ويقال أمهات لبنات آدم وأما غيرهن فيقال أمات ومن ذلك قول علي: عد عليهم الصغار والكبار فلو ماتت الأمات فنتجت سخلة انقطع ا. هـ

انظر الروض المربع مع حاشية ابن قاسم (3/172) ، وفي المسألة خلاف مشهور.
'ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন'-এর হাদীসসমূহ (১/২) এবং আল-মুনাওয়ী তাঁর গ্রন্থ 'আল-ফাতহ আস-সামাওয়ী বি তাখরীজি আহাদীসিল বায়দাভী' (১/৬৯)-তে এটি উল্লেখ করেছেন, যেখানে তাঁর পুত্র তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: মুহাদ্দিসগণের নিকট মূলনীতি হলো, হাদীস যদি সহীহায়নের (বুখারী ও মুসলিম) কোনো একটিতে থাকে, তবে তা অন্য কারো দিকে সম্বন্ধ করা হয় না।

 

(৪) … লেখক সিফাত বা গুণাবলির মূলনীতিসমূহের মধ্য হতে তৃতীয় মূলনীতিতে দুই ছত্র কবিতা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন এবং আমি সাহিত্যিকগণ ও 'হামাসাহ'-এর ব্যাখ্যাকারগণের লেখনী হতে উদ্ধৃত করে প্রচুর তথ্য ও ফায়দাসহ সে দুটি বিশ্লেষণ করেছি।

আর অন্যান্য কবিতাগুলোর ক্ষেত্রে, তিনি আশআরিদের সাব্যস্তকৃত গুণাবলি সম্পর্কে একটি পঙ্‌ক্তি এবং ইবনুল কায়্যিমের 'নুনিয়াহ' থেকে কিছু পঙ্‌ক্তি উল্লেখ করেছেন; আর এগুলোই হলো বইটির সামগ্রিক কবিতা।

(৫) … আমি শেখ আশরাফ বিন আব্দুল মাকসূদ কর্তৃক গ্রন্থটির তাহকীকে বিন্যস্ত বিন্যাস ও শিরোনামসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছি।

৬ - … লেখক তাঁর গ্রন্থে যেসকল বাক্য, মাসআলা এবং পরিভাষা উল্লেখ করেছেন আমি সেগুলোর ব্যাখ্যা করেছি এবং এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

ক - যদি বাক্যটির সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা উদ্দেশ্য পূরণ করে, ততক্ষণ আমি সাধারণত টীকাতেই তা যথেষ্ট মনে করেছি।

খ - যদি বাক্যটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা, স্পষ্টীকরণ এবং মতভেদ উল্লেখের প্রয়োজন হয়, তবে আমি প্রতিটি মূলনীতির পরে একটি পরিশিষ্ট যুক্ত করেছি যেখানে আমি এই বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছি। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো এমন কিছু হাদীসের তাহকীক যেগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণের প্রয়োজন ছিল, যা আমি পরিশিষ্টে স্থান দিয়েছি।

আর এটি একটি উপকারী পদ্ধতি যাতে অতিরিক্ত টীকা এবং অপ্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গের কারণে পাঠক ক্লান্ত না হয়ে পড়েন, যা অনেক সময় মনোযোগ বিচ্যুতি ঘটায়। ডক্টর আব্বাস হাসান তাঁর 'আন-নাহভুল ওয়াফী' গ্রন্থে এর কাছাকাছি একটি পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।

৬ - … মূলনীতিসমূহের ওপর আমার এই টীকায় আমি মূল (১) উৎসগ্রন্থসমূহের শরণাপন্ন হয়েছি। পাঠক এখানে তার একটি বিশাল ভাণ্ডার পাবেন যা বিভিন্ন ইলমের ওপর বৈচিত্র্যময়, যার মধ্যে মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ভাষাবিদ, উসুলবিদ, ব্যাকরণবিদ এবং যুক্তিবিদদের লেখনী অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) আদম-সন্তানদের মায়েদের ক্ষেত্রে 'উম্মাহাত' বলা হয়, আর অন্যদের ক্ষেত্রে 'উম্মাত' বলা হয়। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো আলী (রা.)-এর উক্তি: তাদের ছোট ও বড়দের গণনা করো, যদি মাগুলো (মা পশুগুলো) মারা যায় এবং একটি ছাগলছানা জন্ম নেয় তবে তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে... সমাপ্ত।

দেখুন: আর-রাওদুল মুরবি' সহ ইবনে কাসিমের টীকা (৩/১৭২); আর এই বিষয়ে প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৫)
وعلماء الجرح والتعديل وما كتبه أهل السير وأما ما كتبه أهل العقائد فإني لم أقتصر على كتب أهل السنة بل استقيت من كتب المتكلمين من الأشعرية والماتريدية والمعتزلة لسببين:

أ - أنه ليس كل ما كتبه هؤلاء يكون خطأ بل فيه ما هو صواب وبخاصة في حجج الأشعرية ضد المعتزلة والحكمة ضالة المؤمن

ب - ان كثيراً من الذين أشربوا في قلوبهم حب الرجال إذا أتيت له بكل دليل ما تبع قبلتك حتى تأتي له بما عليه علماء مذهبه وأساطين مشربه ولهذا قال الشيخ ابن عثيمين في تلخيص حموية شيخ الإسلام ص 98

وقد نقل المؤلف رحمه الله في هذه الفتوى كثيراً من كلام من تكلم في هذا الباب من المتكلمين قال: وإن كنا مستغنين بالكتاب والسنة وآثار السلف عن كل كلام ولكن كثيراً من الناس قد صار منتسباً إلى بعض طوائف المتكلمين ومحسناً للظن بهم دون غيرهم ومتوهماً أنهم حققوا في هذا الباب ما لم يحققه غيرهم فلو أتى بكل آية ما تبعها حتى يؤتي بشيء من كلامهم ثم قال: وليس كل من ذكرنا قوله من المتكلمين وغيرهم نقول بجميع ما يقوله في هذا

وغيره ولكن الحق يقبل من كل من تكلم به حتى ولو كان كافراً ا. هـ

فبين رحمه الله أن الغرض من نقله بيان الحق من أي إنسان وإقامة الحجة على هؤلاء من كلام أئمتهم والله أعلم ا. هـ.

8 - القواعد التي أتي بها المؤلف ذكرها شيخ الإسلام ابن تيمية في مواطن من كتبه كالتدمرية والحموية وغيرهما، وذكرها ابن القيم في بدائع الفوائد وفي الصواعق المرسلة ونقلها الشيخ عبد العزيز الرشيد في التنبيهات السنية على الواسطية ص 21 والشيخ زيد بن فياض في مواطن متفرقة من الروضة الندية على شرح الواسطية. وكذلك الشيخ عبد العزيز السلمان في الأسئلة على الواسطية وفي كتابه الكواشف الجلية ص423.

وأسأل الله أن ينفع بهذه الحاشية كما نفع بأصلها وأن يجعل عملي خالصا لوجهه إنه سميع قريب.
এবং জারহ ও তা'দীল (সমালোচনা ও সংশোধন) শাস্ত্রের আলেমগণ এবং সীরাত লেখকদের লেখা থেকে। আর আকিদাহ লেখকদের বিষয়ে বলতে গেলে, আমি কেবল আহলে সুন্নাহর বইগুলোর ওপরই সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং আশআরিয়া, মাতুরিদিয়া ও মুতাজিলা কালাম শাস্ত্রবিদদের কিতাব থেকেও গ্রহণ করেছি; এর পেছনে দুটি কারণ রয়েছে:

ক - তারা যা কিছু লিখেছেন তার সবটুকুই যে ভুল এমনটি নয়, বরং তাতে সঠিক বিষয়ও রয়েছে। বিশেষ করে মুতাজিলাদের বিরুদ্ধে আশআরিয়াদের দেওয়া দলীলসমূহের ক্ষেত্রে। আর প্রজ্ঞা হচ্ছে মুমিনের হারানো সম্পদ।

খ - অনেক লোক যাদের অন্তরে কতিপয় ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসা গেঁথে দেওয়া হয়েছে, তাদের কাছে আপনি সমস্ত দলীল নিয়ে আসলেও তারা আপনার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে না, যতক্ষণ না আপনি তাদের কাছে তাদের মাযহাবের আলেম এবং তাদের পথের স্তম্ভদের কথা তুলে ধরছেন। এই কারণেই শাইখ ইবনে উসাইমীন শাইখুল ইসলামের হামাউয়্যাহ কিতাবের সারসংক্ষেপ (পৃষ্ঠা ৯৮)-এ বলেছেন:

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) এই ফতোয়ায় কালাম শাস্ত্রবিদদের মধ্যে যারা এই বিষয়ে কথা বলেছেন তাদের অনেক বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেছেন: যদিও আমরা কিতাব, সুন্নাহ এবং সালাফদের আসার (চিহ্ন বা কথা) থাকার ফলে অন্য যেকোনো কথা থেকে মুখাপেক্ষীহীন, কিন্তু অনেক মানুষই কালাম শাস্ত্রবিদদের কোনো কোনো দলের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে এবং অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল তাদের প্রতিই সুধারণা পোষণ করেছে। তারা ধারণা করে নিয়েছে যে, এই অধ্যায়ে কালাম শাস্ত্রবিদরা এমন সব বিষয় তাহকীক করেছেন যা অন্যরা করেনি। ফলে তাদের সামনে প্রত্যেকটি আয়াত পেশ করা হলেও তারা তা অনুসরণ করবে না, যতক্ষণ না তাদের কাছে কালাম শাস্ত্রবিদদের বক্তব্য থেকে কিছু পেশ করা হয়। এরপর তিনি বলেছেন: আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি—চাই তারা কালাম শাস্ত্রবিদ হোক বা অন্য কেউ—তাদের বলা সব কথার সাথে আমরা একমত পোষণ করি না।

এবং অন্যান্য বিষয়। তবে সত্য কথা যে কেউই বলুক না কেন তা গ্রহণ করা হবে, এমনকি সে যদি কাফিরও হয়। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

সুতরাং তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) স্পষ্ট করেছেন যে, এই সব উদ্ধৃতির উদ্দেশ্য হলো যেকোনো মানুষের পক্ষ থেকে সত্যকে প্রকাশ করা এবং তাদের নিজেদের ইমামদের বক্তব্যের মাধ্যমেই তাদের ওপর হুজ্জাত (প্রমাণ) কায়েম করা। আর আল্লাহই ভালো জানেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

৮ - লেখক যেসব মূলনীতি নিয়ে এসেছেন তা শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছেন, যেমন: তাদমুরিয়্যাহ, হামাউয়্যাহ এবং অন্যান্য কিতাবে। ইবনুল কাইয়্যিম এগুলো বাদায়িউল ফাওয়াইদ এবং সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ কিতাবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া শাইখ আব্দুল আজিজ আর-রাশিদ আত-তানবিহাতুস সানিয়্যাহ আলাল ওয়াসিতিয়্যাহ (পৃষ্ঠা ২১) এবং শাইখ যাইদ বিন ফাইয়াদ আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ আলা শারহিল ওয়াসিতিয়্যাহ এর বিভিন্ন স্থানে এগুলো বর্ণনা করেছেন। একইভাবে শাইখ আব্দুল আজিজ আস-সালমান আল-আসইলাহ আলাল ওয়াসিতিয়্যাহ এবং তাঁর কিতাব আল-কাওয়াশিফুল জালিয়্যাহ (পৃষ্ঠা ৪২৩)-এ এগুলো উল্লেখ করেছেন।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই টীকা দ্বারা উপকার করেন যেমনটি তিনি এর মূল কিতাব দ্বারা করেছেন, এবং আমার এই কাজকে যেন একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও অতি নিকটবর্তী।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة المؤلف

 

الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه ومن تبعهم بإحسان وسلم تسليماً.

وبعد:

فإن الإيمان بأسماء الله وصفاته أحد أركان الإيمان بالله تعالى وهي: الإيمان بوجود الله تعالى (1) والإيمان بربوبيته والإيمان بألوهيته، والإيمان بأسمائه وصفاته.

‌‌منزلة العلم بأسماء الله وصفاته من الدين:

وتوحيد الله به أحد أقسام التوحيد الثلاثة: توحيد الربوبية، وتوحيد الألوهية، وتوحيد الأسماء والصفات (2)

فمنزلته في الدين عالية وأهميته عظيمة ولا يمكن أحداً (3) أن يعبد الله

--------------------------------------------

(1) أدلة وجود الله أكثر من أن تحصر ولأهل السنة والجماعة طريقة تخالف طريقة المتكلمين في إثبات وجود الله عز وجل

انظر منهج أهل السنة ومنهج الأشاعرة في التوحيد لخالد نور وموقف ابن تيمية من الأشاعرة د. عبد الرحمن المحمود

(2) أنواع التوحيد سنذكرها في الملحق.

(3) مفعول به منصوب ليمكن، والفاعل هو المصدر المؤول من أن وما دخلت عليه 0
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

‌‌লেখকের ভূমিকা

 

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁদের সকলের ওপর অজস্র রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণাবলির ওপর ঈমান আনা মহান আল্লাহর ওপর ঈমান আনার অন্যতম স্তম্ভ। আর তা হলো: মহান আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস (১), তাঁর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বে বিশ্বাস, তাঁর উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার ওপর বিশ্বাস এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির ওপর বিশ্বাস।

‌‌দ্বীনের মধ্যে আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সংক্রান্ত ইলমের মর্যাদা:

এর মাধ্যমে আল্লাহর তাওহীদ সাব্যস্ত করা তাওহীদের তিনটি প্রকারের অন্যতম একটি: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত (২)।

সুতরাং দ্বীনের মধ্যে এর মর্যাদা সুউচ্চ এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। কারো পক্ষেই সম্ভব নয় (৩) আল্লাহর ইবাদত করা...

--------------------------------------------

(১) আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণাদি এতো বেশি যে তা গণনা করে শেষ করা যাবে না। আর মহান আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করার ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পদ্ধতি কালামশাস্ত্রবিদদের পদ্ধতি থেকে ভিন্ন।

দেখুন: খালিদ নূর রচিত ‘মানহাজু আহলিস সুন্নাহ ওয়া মানহাজুল আশায়িরা ফিত তাওহীদ’ এবং ড. আব্দুর রহমান আল-মাহমুদ রচিত ‘মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশায়িরা’।

(২) তাওহীদের প্রকারভেদসমূহ আমরা পরিশিষ্টে উল্লেখ করব।

(৩) এটি ‘ইউমকিনু’ ক্রিয়ার কর্মপদ (মাফউলে বিহি), আর এর কর্তা (ফায়িল) হলো ‘আন’ ও তার পরবর্তী অংশ থেকে গঠিত ব্যাখ্যাত ক্রিয়ামূল (মাসদারে মুআউওয়াল)।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৮)
على الوجه الأكمل (1) حتى يكون على علم بأسماء الله تعالى وصفاته

ليعبده على بصيرة قال الله تعالى: (ولله الأسماء الحسنى فادعوه بها) … [الأعراف: 180] وهذا يشمل دعاء المسألة ودعاء العبادة (2) .

- فدعاء المسألة:

أن تقدم بين يدي مطلوبك من أسماء الله تعالى ما يكون مناسباً مثل أن تقول: "يا غفور اغفر لي ويا رحيم ارحمني ويا حفيظ احفظني " ونحو ذلك (3)

--------------------------------------------

(1) لم يقل المؤلف على الوجه الواجب وإنما قال على الوجه الأكمل لأن الواجب هو عبادة الله إلا أن الأكمل هو أن يكون على علم بالأسماء والصفات.

(2) ذهب كثير من المفسرين إلى أن المراد من الآية هو أن يسمى الله في الدعاء أي دعاء المسألة في تعريف المؤلف إلا أن المحققين على أن الدعاء نوعان: دعاء مسألة ودعاء عبادة وهذا اختيار شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم واختاره السعدي في تفسيره (2/174) وقد درج المؤلف على هذا التقسيم وسيأتي تفصيل الكلام على هذه المسألة في الملحق

وقد استدل الألوسي على أن المراد هو التسمية قولنا: دعوته زيداً أو بزيد أي سميته

انظر تفسير الآلوسي (9/121) ، حاشية الجمل على الجلالين (3/146)

وتفسير الشربيني (1/539) ، وحاشية محي الدين زاده (2/286) وحاشية الشهاب على البيضاوي (4/408)

(3) قوله يقدم من الأسماء ما يكون مناسباً أي ما يليق به كالأمثلة التى ضربها المؤلف، وكقولنا: يا هادي اهدني أو يا تواب تب على وغير ذلك، لكن لو خالف وقال: اللهم اغفر لي إنك أنت المنتقم واعطني فأنت الضار المانع فإنه لم يرتكب محرماً في الدعاء إلا أنه لم يتبع الأكمل كما هو ظاهر كلام ابن العربي (2/816)

أما الإلحاد في الأسماء فإنه هو المحرم كما سيأتي وقال القاسمي في تفسيره (7/38) في قوله تعالى (فادعوه بها)

 

المعنى سموه بها، وفي ذلك أمر بدعائه بالأسماء الحسنى وهو أمر ندب إذا حمل على التلاوة بالتسعة والتسعين وحث على ذلك في الحديث عنه صلى الله عليه وسلم وإن أريد التسمية بما فيه مدح دون ما فيه إلحاد فذلك للوجوب

وقد نبه ابن العربي إلى أن بعض أسمائه عامة تصلح لأن يدعى بها في كل موضع وفي كل الأمور مثل: الله، والرب وقد تبعه على ذلك القرطبي (7/327)

وانظر الأسماء والصفات للأشقر ص 34، وسيأتي تفصيل الأسماء في القاعدة السابعة
পূর্ণাঙ্গভাবে (১) যাতে তিনি মহান আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারেন

যাতে তিনি চাক্ষুষ জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টির সাথে তাঁর ইবাদত করতে পারেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো) … [আরাফ: ১৮০] আর এটি প্রার্থনার দোয়া (দোআউল মাসআলা) এবং ইবাদতের দোয়া (দোআউল ইবাদত) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে (২)।

- প্রার্থনার দোয়া (দোআউল মাসআলা):

তা হলো আপনার চাহিদাকৃত বিষয়ের আগে মহান আল্লাহর নামসমূহ থেকে এমন নাম উপস্থাপন করা যা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; যেমন আপনি বলবেন: "হে ক্ষমাশীল, আমাকে ক্ষমা করুন; হে দয়ালু, আমার প্রতি দয়া করুন; হে হিফাযতকারী, আমাকে রক্ষা করুন" এবং এই জাতীয় (৩)।

--------------------------------------------

(১) লেখক 'ওয়াজিব' বা আবশ্যক পন্থায় বলেননি, বরং 'পূর্ণাঙ্গতম' পন্থায় বলেছেন। কারণ ওয়াজিব বা আবশ্যক হলো আল্লাহর ইবাদত করা, তবে পূর্ণাঙ্গ বা শ্রেষ্ঠতর বিষয় হলো নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা।

(২) অনেক মুফাসসিরের মতে আয়াতের উদ্দেশ্য হলো দোয়ার মধ্যে আল্লাহর নাম নেওয়া, অর্থাৎ লেখকের সংজ্ঞায় যা প্রার্থনার দোয়া। তবে গবেষকদের মতে দোয়া দুই প্রকার: প্রার্থনার দোয়া এবং ইবাদতের দোয়া। এটিই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও তাঁর ছাত্র ইবনুল কায়্যিমের অভিমত এবং সাদী তাঁর তাফসীরে (২/১৭৪) এটিই পছন্দ করেছেন। লেখক এই বিভাজন অনুযায়ীই চলেছেন এবং এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরিশিষ্টে আসবে।

আলূসী দলিল পেশ করেছেন যে, এখানে 'ডাকা'র অর্থ হলো নামকরণ করা, যেমন আমাদের কথা: 'আমি তাকে যায়েদ বলে ডেকেছি' অর্থাৎ আমি তার নাম রেখেছি।

দেখুন: তাফসীরে আলূসী (৯/১২১), জালালাইনের ওপর হাশিয়াতুল জামাল (৩/১৪৬)

এবং তাফসীরে শারবিনী (১/৫৩৯), হাশিয়াহ মুহিউদ্দিন জাদাহ (২/২৮৬) এবং বায়যাবীর ওপর হাশিয়াহ শিহাব (৪/৪০৮)।

(৩) তাঁর কথা 'নামসমূহ থেকে যা উপযুক্ত তা আগে উপস্থাপন করা' অর্থাৎ যা তার সাথে মানানসই, যেমন লেখক যে উদাহরণগুলো দিয়েছেন। যেমন আমাদের বলা: হে হেদায়াতকারী আমাকে হেদায়াত দিন অথবা হে তওবা কবুলকারী আমার তওবা কবুল করুন ইত্যাদি। কিন্তু কেউ যদি এর বিপরীত করে এবং বলে: হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই আপনি প্রতিশোধ গ্রহণকারী; এবং আমাকে দান করুন কারণ আপনি ক্ষতিসাধনকারী ও প্রতিরোধকারী—তবে সে দোয়ার ক্ষেত্রে কোনো হারাম কাজ করেনি, তবে সে পূর্ণাঙ্গ বা উত্তম পন্থা অনুসরণ করেনি, যেমনটি ইবনুল আরাবীর বক্তব্য (২/৮১৬) থেকে স্পষ্ট হয়।

আর নামের ক্ষেত্রে ইলহাদ বা বিচ্যুতি হলো হারাম, যা সামনে আসবে। কাসেমী তাঁর তাফসীরে (৭/৩৮) আল্লাহর বাণী (সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো) প্রসঙ্গে বলেন:

 

এর অর্থ হলো তাঁকে সেই নামে ডাকুন। এর মধ্যে সুন্দরতম নামসমূহ দ্বারা তাঁকে ডাকার নির্দেশ রয়েছে, যা নিরানব্বইটি নাম পাঠের অর্থে নেওয়া হলে মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) আর যদি বিচ্যুতিমুক্ত প্রশংসাসূচক নামকরণের অর্থে নেওয়া হয় তবে তা ওয়াজিব বা আবশ্যক।

ইবনুল আরাবী সতর্ক করেছেন যে, তাঁর কিছু নাম ব্যাপক যা সব স্থানে এবং সব বিষয়ে ডাকার জন্য উপযুক্ত, যেমন: আল্লাহ এবং রব। কুরতুবীও (৭/৩২৭) তাঁর অনুসরণ করেছেন।

দেখুন: আশকারের 'আল-আসমা ওয়াস-সিফাত' পৃষ্ঠা ৩৪; সপ্তম নীতিতে নামসমূহের বিস্তারিত বিবরণ আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ২৯)
- ودعاء العبادة: أن تتعبد الله تعالى بمقتضى هذه الأسماء فتقوم بالتوبة إليه لأنه التواب وتذكره بلسانك لأنه السميع وتتعبد له بجوارحك لأنه البصير وتخشاه في السر لأنه اللطيف الخبير وهكذا (1)

‌‌سبب تأليف هذا الكتاب:

ومن أجل منزلته هذه، ومن أجل كلام الناس فيه بالحق تارة وبالباطل الناشيء عن الجهل أو التعصب تارة أخرى (2)

أحببت أن أكتب فيه ما تيسر من القواعد (3) راجياً من الله تعالى أن يجعل عملي خالصاً لوجهه موافقاً لمرضاته نافعاً لعباده.

--------------------------------------------

(1) قد فصلنا المسألة وبينا معنى الدعاء لغة واصطلاحاً والفرق بين دعاء المسألة ودعاء العبادة وأيهما أفضل في الملحق

(2) … في هذه العبارة ذكر المؤلف سبب تأليف الكتاب وهو أمران:

الأول: للمنزلة العظيمة على اعتبار أنه السبب في عبادة الله على الوجه الأكمل إذ أن الإنسان لا يدعو ربه إلا بالأسماء الحسنى وهذه الدعوة لا تتأتى إلا إذا عرف معاني تلك الأسماء.

الثاني: لكلام الناس في الأسماء والصفات وكلامهم قسمان:

(أ) كلام حق

(ب) كلام باطل وهو ناشيء عن أمرين:

الأول: الجهل

الثاني: التعصب

وبعد أن كتب المؤلف هذه القواعد وأقام الأدلة عليها فإنه جدير بمن كان جاهلاً أن يتعلم، وبمن كان متعصباً أن يرجع إلى هداه وكل ذلك توفيق من الله

ملاحظة: من الذين تكلموا بالباطل في هذا الباب هشام البدراني في كتابه الحكم الشرعي في بحث أسماء الله وصفاته المطبوع 1419هـ وزعم في ص 5 من كتابه أن الشيخ ابن عثيمين أتى في كتابه شرح الواسطية بغرائب وعجائب يحار به النبيه وأنه لا يستحق الرد لأنه رأى لا يعتد به، وفي ص 178 حرم شرح أسماء الله وصفاته أو التعليق عليها وفي ص 193 وص 194 حكم بالكفر على من يثبت لله الوجه واليد والعين والرجل والإصبع.

 

ورأيه هذا هو الذي لا يستحق أن يرد عليه لأنه لا يعتد به لمخالفته معتقد أهل السنة.

(3) القواعد جمع قاعدة وهي في اللغة: الأساس فقاعدة كل شيء هي أساسه ومن ذلك قواعد البيت أي أسسه وهي في الأمور الحسية إلا أنها استعملت في الأمور المعنوية ومن ذلك قواعد العلوم

 

= انظر الصحاح (2/525) ومعجم مقاييس اللغة لابن فارس (5/108)

وأما القاعدة اصطلاحاً فقد ذكرها علماء الأشباه والنظائر واختلفوا هل هي كلية أو أغلبية على جزئياتها إلا أن القاعدة النحوية والأصولية قاعدة كلية كالفاعل مرفوع، والأمر إذا تجرد عن القرائن أفاد الوجوب والقواعد التي أتى بها المؤلف في الأسماء والصفات لا شك إنها قواعد كلية ويكون معناها (حكم كلي ينطبق على جزئيات كثيرة) وهذا واضح من خلال دراسة القواعد.

وهنا يرد سؤال وهو لماذا لم يقل المؤلف: الضوابط بدلاً من القواعد مع أن كلاً منهما شمل جزئيات كثيرة؟

والجواب هو أحد أمرين:

الأول: إما أن القاعدة تستخدم بمعنى الضابط والضابط بمعنى القاعدة وهو ظاهر كلام تاج الدين ابن السبكي في الأشباه (1/11)

الثاني: أو أن القاعدة تجمع فروعاً في أبواب شتى كالأمور بمقاصدها وأما الضابط فهو يشمل فروعاً في باب.

ولا شك أن القواعد في الأسماء والصفات كلية كما ذكر ولهذا ناسب التعبير بها.
ইবাদতের দুআ: তা হলো মহান আল্লাহর ইবাদত করা এই নামসমূহের দাবি অনুযায়ী। সুতরাং আপনি তাঁর নিকট তাওবা করবেন কারণ তিনি তাওবা কবুলকারী, আপনার জিহ্বা দ্বারা তাঁকে স্মরণ করবেন কারণ তিনি সর্বশ্রোতা, আপনার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা তাঁর ইবাদত করবেন কারণ তিনি সর্বদ্রষ্টা এবং গোপনে তাঁকে ভয় করবেন কারণ তিনি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক পরিজ্ঞাত, এভাবেই চলবে। (১)

‌‌এই গ্রন্থ রচনার কারণ:

এবং এর এই সুউচ্চ মর্যাদার কারণে, এবং এই বিষয়ে মানুষের কখনো সত্য কথা বলা এবং কখনো অজ্ঞতা বা গোঁড়ামি থেকে উদ্ভূত বাতিল কথা বলার কারণে (২)

আমি এই বিষয়ে সহজবোধ্য কিছু মূলনীতি লিখতে পছন্দ করেছি (৩), মহান আল্লাহর কাছে আশা করছি যে তিনি যেন আমার এই কাজটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, তাঁর সন্তুষ্টির অনুকূলে বানান এবং তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী করেন।

--------------------------------------------

(১) আমরা বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে দুআর অর্থ বর্ণনা করেছি। সেই সাথে যাচনা বা প্রার্থনার দুআ ও ইবাদতের দুআর মধ্যে পার্থক্য এবং কোনটি শ্রেষ্ঠ তা পরিশিষ্টে ব্যাখ্যা করেছি।

(২) … এই বাক্যে লেখক কিতাবটি রচনার দুটি কারণ উল্লেখ করেছেন:

প্রথমত: পূর্ণাঙ্গভাবে আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যম হওয়ার বিবেচনায় এর সুমহান মর্যাদার জন্য। কেননা মানুষ তার রবকে কেবল সুন্দরতম নামসমূহ দিয়েই ডাকে, আর এই ডাক বা আহ্বান ততক্ষণ সম্ভব নয় যতক্ষণ না সে সেই নামগুলোর অর্থ জানবে।

দ্বিতীয়ত: নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে মানুষের কথাবার্তার কারণে। তাদের কথা দুই প্রকার:

(ক) সত্য কথা

(খ) বাতিল কথা, যা দুটি বিষয় থেকে উদ্ভূত:

১. অজ্ঞতা

২. গোঁড়ামি

লেখক যখন এই নিয়মগুলো লিখেছেন এবং এর সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন, তখন যে ব্যক্তি অজ্ঞ তার জন্য শিক্ষা গ্রহণ করা এবং যে ব্যক্তি গোঁড়া তার জন্য হিদায়াতের পথে ফিরে আসা বাঞ্ছনীয়। আর এ সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফিক।

দ্রষ্টব্য: যারা এই বিষয়ে বাতিল কথা বলেছে তাদের একজন হলো হিশাম আল-বাদরানি, তার 'আল-হুকমুশ শারঈ ফি বাহছি আসমাইলাহি ওয়া সিফাতিহি' গ্রন্থে (প্রকাশকাল ১৪১৯ হিজরি)। সে তার গ্রন্থের ৫ পৃষ্ঠায় দাবি করেছে যে, শেখ ইবনে উসাইমিন তার 'শারহুল ওয়াসিতিয়্যাহ' গ্রন্থে এমন সব অদ্ভুত ও বিস্ময়কর বিষয় নিয়ে এসেছেন যা বুদ্ধিমানকে হতবাক করে দেয় এবং তিনি (উসাইমিন) জবাব দেওয়ার যোগ্য নন কারণ তাঁর মতামত গণ্য করার মতো নয়। এবং ১৭৮ পৃষ্ঠায় সে আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ব্যাখ্যা বা তার ওপর টীকা দেওয়া হারাম করেছে এবং ১৯৩ ও ১৯৪ পৃষ্ঠায় সে ঐ ব্যক্তিকে কাফির ফতোয়া দিয়েছে যে আল্লাহর জন্য মুখমণ্ডল, হাত, চোখ, পা এবং আঙুল সাব্যস্ত করে।

 

তার এই মতামতই জবাব দেওয়ার যোগ্য নয় কারণ আহলুস সুন্নাহর আকিদার পরিপন্থী হওয়ার কারণে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

(৩) 'কাওয়াইদ' হলো 'কায়িদাহ' এর বহুবচন, যার আভিধানিক অর্থ: ভিত্তি। কোনো কিছুর কায়িদাহ মানে তার ভিত্তি। যেমন ঘরের কায়িদাহ অর্থাৎ তার ভিত্তিপ্রস্তরসমূহ। এটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তবে তা ভাবার্থের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে, যেমন বিজ্ঞানের মূলনীতি বা ভিত্তি।

 

= আস-সিহাহ (২/৫২৫) এবং ইবনে ফারিসের মু‘জাম মাকায়িসুল লুগাহ (৫/১০৮) দেখুন।

পরিভাষায় কায়িদাহ এর সংজ্ঞা আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর এর আলেমগণ উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে যে এটি কি সার্বজনীন নাকি অধিকাংশ বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? তবে নাহু (ব্যাকরণ) ও উসূলের কায়িদাহগুলো হলো সার্বজনীন, যেমন: 'কর্তা সর্বদা পেশযুক্ত হয়', এবং 'কোনো নির্দেশ যদি অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক প্রমাণমুক্ত হয় তবে তা অপরিহার্যতা বোঝায়'। লেখক নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে যে নিয়মগুলো এনেছেন তা নিঃসন্দেহে সার্বজনীন নিয়ম। এর অর্থ হলো (একটি সামগ্রিক বিধান যা অনেকগুলো আংশিক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য)। নিয়মগুলো অধ্যয়ন করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।

এখানে একটি প্রশ্ন আসে যে, লেখক 'কাওয়াইদ' (মূলনীতি) না বলে 'দাওয়াবিত' (নিয়ামক) কেন বললেন না, যেখানে উভয়টিই অনেকগুলো আংশিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে?

উত্তরটি দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি:

প্রথমত: হয় কায়িদাহ শব্দটি দাওয়াবিত অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং দাওয়াবিত শব্দটি কায়িদাহ অর্থে, যা তাজউদ্দীন ইবনে সুবকির 'আল-আশবাহ' (১/১১) গ্রন্থে স্পষ্ট হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: অথবা কায়িদাহ বিভিন্ন অধ্যায়ের শাখাসমূহকে একত্রিত করে, যেমন: 'কাজসমূহ তার নিয়তের ওপর নির্ভরশীল'। আর দাওয়াবিত কেবল একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের শাখাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।

নিঃসন্দেহে আসমা ও সিফাতের নিয়মগুলো সার্বজনীন যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, তাই এই শব্দটির ব্যবহারই যুৎসই হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌ملحق المقدمة

 

ذكرنا في الحاشية على مقدمة المؤلف أننا سنتكلم في الملحق على أمرين:

1 - أنواع التوحيد.

2 - دعاء المسألة ودعاء العبادة، والفرق بينهما، وأيهما أفضل

 

‌‌أولاً: أنواع التوحيد

 

ينقسم التوحيد إلى ثلاثة أقسام:

1 - توحيد " الربوبية "

2 - توحيد " الألوهية "

3 - توحيد الأسماء والصفات

 

(1) توحيد الربوبية

ومعناه اعتقاد أنه تعالى رب السموات والأرض وخالق من فيهما وما فيهما ومالك الأمر في هذا العالم كله لا شريك له في ملكه ولا معقب عليه في حكمه وهو وحده رب كل شيء ورازق كل حي ومدبر كل أمر وهو وحده الخافض الرافع، المعطي المانع، الضار النافع، المعز المذل، وكل من سواه وما سواه لا يملك لنفسه ولا لغيره نفعاً ولا ضراً إلا بإذن الله ومشيئته.

وهذا القسم من التوحيد لم يجحده إلا الماديون الملحدون الذين ينكرون وجود الله تعالى كالدهريين قديماً والشيوعيين في عصرنا ومثل الماديين " الثنوية " الذين يعتقدون أن للعالم إلهين إلهاً للنور وإلهاً للظلمة
ভূমিকা সংলগ্নী

 

আমরা লেখকের ভূমিকার টীকায় উল্লেখ করেছি যে, আমরা এই পরিশিষ্টে দুটি বিষয়ে আলোচনা করব:

১ - তাওহীদের প্রকারভেদ।

২ - প্রার্থনামূলক দুআ ও ইবাদতমূলক দুআ, তাদের মধ্যকার পার্থক্য এবং কোনটি অধিক উত্তম।

 

‌প্রথমত: তাওহীদের প্রকারভেদ

 

তাওহীদ তিন ভাগে বিভক্ত:

১ - তাওহীদুর "রুবুবিয়্যাহ" (প্রভুত্বের একত্ববাদ)

২ - তাওহীদুল "উলুহিয়্যাহ" (উপাসনার একত্ববাদ)

৩ - তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত (নাম ও গুণাবলীর একত্ববাদ)

 

(১) তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ

এর অর্থ হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, মহান আল্লাহ আসমানসমূহ ও জমিনের রব এবং যা কিছু তাতে আছে ও যারা তাতে আছে তাদের সকলের স্রষ্টা; তিনি সমগ্র জগতের কর্তৃত্বের মালিক, তাঁর রাজত্বে কোনো অংশীদার নেই এবং তাঁর ফয়সালায় কোনো রদবদলকারী নেই। তিনি একাই সবকিছুর রব, সকল জীবের রিযিকদাতা এবং সকল বিষয়ের পরিচালক। তিনি একাই অবনতকারী ও উন্নতকারী, দানকারী ও বারণকারী, অনিষ্টকারী ও কল্যাণকারী, সম্মান দানকারী ও লজ্জিতকারী। আল্লাহ ছাড়া অন্য যা কিছু বা যারাই আছে তারা আল্লাহর অনুমতি ও ইচ্ছা ছাড়া নিজের বা অন্যের কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না।

তাওহীদের এই প্রকারটিকে কেবল সেই সব বস্তুবাদী নাস্তিকরাই অস্বীকার করেছে যারা মহান আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে; যেমন প্রাচীনকালের দাহরিয়্যাহ (কালবাদী) এবং বর্তমান সময়ের কমিউনিস্টরা। আর বস্তুবাদীদের মতো "দ্বিত্ববাদী" (সানিউইয়্যাহ)-রাও এর অন্তর্ভুক্ত, যারা বিশ্বাস করে যে জগতের জন্য দুইজন ইলাহ আছে—একজন আলোর ইলাহ এবং অন্যজন অন্ধকারের ইলাহ।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩২)
أما معظم المشركين كالعرب في الجاهلية فكانوا يعترفون بهذا النوع من التوحيد ولا ينكرونه كما حكى عنهم القرآن.

"ولئن سألتهم من خلق السموات والأرض وسخر الشمس والقمر؟ ليقولن: الله ولئن سألتهم من نزل من السماء ماء فأحيا به الأرض من بعد موتها، ليقولن: الله " قل لمن الأرض ومن فيها إن كنتم تعلمون سيقولون لله، قل أفلا تذكرون؟ قل من رب السموات السبع ورب العرش العظيم؟ سيقولون لله، قل أفلا تتقون؟ قل من بيده ملكوت كل شيء وهو يجير ولا يجار عليه إن كنتم تعلمون؟ سيقولون لله، قل فأنى تسحرون؟ "

فهذه أجوبة المشركين تدل على أنهم يقرون بربوبية الله تعالى للكون وتدبيره لأمره وكان مقتضى إيمانهم بربوبيته تعالى للكون أن يعبدوه وحده ولا يشركوا بعبادة ربهم أحداً ولكنهم أنكروا القسم الآخر من التوحيد هذا وهو توحيد الإلهية أو الألوهية.

 

2 - … توحيد الألوهية

ومعنى توحيد الألوهية إفراد الله تعالى بالعبادة والخضوع والطاعة المطلقة فلا يعبد إلا الله وحده ولا يشرك به شيء في الأرض أو في السماء ولا يتحقق التوحيد ما لم ينضم توحيد الألوهية إلى توحيد الربوبية فإن هذا وحده لا يكفي فالعرب المشركون كانوا يقرون به ومع هذا لم يدخلهم في الإسلام لأنهم أشركوا بالله ما لم ينزل به سلطاناً واتخذوا مع الله آلهة أخرى زعموا أنها تقربهم إلى الله زلفى أو تشفع لهم عند الله.

والنصارى لم ينكروا أن الله رب السموات والأرض ولكنهم أشركوا به المسيح عيسى واتخذوه إلهاً من دون الله واعتبر القرآن هؤلاء وأولئك كفاراً تحرم عليهم الجنة ويخلدون في النار.

ومنذ أقدم العصور ضل الناس عن هذا التوحيد فعبدوا من دون الله آلهة شتى عبد قوم نوح ودا وسواع ويغوث ويعوق ونسرا … وعبد قوم إبراهيم الأصنام … .......وعبد قدماء المصريين العجل......... … وعبد الهندوس
পক্ষান্তরে জাহেলি যুগের আরবদের মতো অধিকাংশ মুশরিক তাওহীদের এই প্রকারটিকে স্বীকার করত এবং তারা এটি অস্বীকার করত না, যেমনটি কুরআন তাদের সম্পর্কে বর্ণনা করেছে।

“আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, কে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়োজিত করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে: আল্লাহ। আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, কে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন এবং তা দিয়ে জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে: আল্লাহ।” “বলুন, পৃথিবী এবং এতে যা আছে তা কার, যদি তোমরা জানো? তারা বলবে, আল্লাহর। বলুন, তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? বলুন, সপ্তাকাশের রব এবং মহান আরশের রব কে? তারা বলবে, আল্লাহর। বলুন, তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না? বলুন, কার হাতে সবকিছুর রাজত্ব, যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যাঁর বিরুদ্ধে কেউ আশ্রয় দিতে পারে না, যদি তোমরা জানো? তারা বলবে, আল্লাহর। বলুন, তাহলে তোমরা কোত্থেকে জাদুগ্রস্ত হচ্ছ?”

মুশরিকদের এই উত্তরগুলো প্রমাণ করে যে, তারা মহাবিশ্বের ওপর মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব) এবং বিষয়াবলি পরিচালনায় তাঁর কর্তৃত্ব স্বীকার করত। মহাবিশ্বের ওপর আল্লাহর রুবুবিয়্যাহর প্রতি তাদের এই বিশ্বাসের দাবি ছিল যে, তারা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাদের রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক করবে না; কিন্তু তারা তাওহীদের অন্য অংশটি অস্বীকার করেছিল, আর তা হলো তাওহীদুল ইলাহিয়্যাহ বা উলুহিয়্যাহ।

 

২ - … তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ

তাওহীদুল উলুহিয়্যাহর অর্থ হলো ইবাদত, আনুগত্য ও নিরঙ্কুশ বশ্যতায় মহান আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা। সুতরাং একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করা হবে না এবং আসমান বা জমিনের কোনো কিছুকেই তাঁর সাথে শরিক করা হবে না। তাওহীদুল উলুহিয়্যাহর সাথে তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাওহীদ অর্জিত হয় না, কারণ শুধু রুবুবিয়্যাহর স্বীকৃতিই যথেষ্ট নয়। আরব মুশরিকরা এটি স্বীকার করত, কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি তাদের ইসলামে প্রবেশ করায়নি; কারণ তারা আল্লাহর সাথে এমন সব সত্তাকে শরিক করেছিল যাদের ব্যাপারে তিনি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি এবং তারা আল্লাহর সাথে অন্যান্য উপাস্য গ্রহণ করেছিল এই দাবি করে যে, তারা তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সাহায্য করবে অথবা আল্লাহর নিকট তাদের জন্য সুপারিশ করবে।

আর খ্রিস্টানরা (নাসারা) এটি অস্বীকার করেনি যে আল্লাহ আসমান ও জমিনের রব, কিন্তু তারা মাসীহ ঈসাকে তাঁর সাথে শরিক করেছিল এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাকে ইলাহ (উপাস্য) হিসেবে গ্রহণ করেছিল। কুরআন এদের উভয়কেই কাফির হিসেবে গণ্য করেছে, যাদের জন্য জান্নাত হারাম এবং যারা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে।

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ এই তাওহীদ থেকে বিচ্যুত হয়ে আল্লাহ ছাড়া বিভিন্ন উপাস্যের ইবাদত করেছে। নূহ (আ.)-এর জাতি ওয়াদ্দ, সুওয়া‘, ইয়াগূস, ইয়া‘ঊক এবং নাসর-এর ইবাদত করত... ইবরাহিম (আ.)-এর জাতি মূর্তিপূজা করত... প্রাচীন মিশরীয়রা বাছুরের পূজা করত... এবং হিন্দুরা...
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
البقر … . وعبد أهل سبأ الشمس.. وعبد الصابئون الكواكب..وعبد المجوس النار.. وعبد العرب الأوثان والحجارة.. وعبد النصارى المسيح وأمه.. وعبدوا الأحبار والرهبان من دون الله فهؤلاء كلهم مشركون لأنهم لم يفردوا الله تعالى بالعبادة التي لا تستحق لأحد غيره

وأما تفصيل أنواع العبادة فيمكن الرجوع إلى كتاب التوحيد للإمام محمد بن عبد الوهاب وما ذكره الشراح.

 

(3) … توحيد الأسماء والصفات

 

ومعنى هذا القسم من التوحيد إفراد الله تعالى بأحسن الأسماء وأكمل الصفات التي لا تنبغي لأحد غيره.

فكل ما وصف الله تعالى به نفسه أو وصفه به رسوله الكريم من الأسماء الحسنى والصفات العليا، نثبته لله تعالى بلا تحريف ولا تعطيل ولا تكييف ولا تمثيل

فهو سبحانه في صفاته وأسمائه كما هو في ذاته تعالى ليس له ند ولا شريك ولا شبيه:

(قل هو الله أحد * الله الصمد * لم يلد ولم يولد * ولم يكن له كفواً أحد *) (ليس كمثله شيء وهو السميع البصير)

الفرق بين توحيد الربوبية والألوهية

توحيد الربوبية

توحيد الألوهية

 

1 - هو اعتقاد أن خالق الكون … ومدبره واحد هو الله تعالى

1 - هو إفراد الخالق بالعبادة والطاعة والرغبة والرهبة … الخ

 

2 - هو اعتقاد قلبي فقط

2 - اعتقاد وعمل وتوجه وسلوك وانقياد تابع لما استقر في القلب

 

3 - هو يقتضي توحيد الألوهية لأنه كالسبب له والبرهان عليه

3 - هو لازم لتوحيد الربوبية ونتيجة حتمية له فما يستحق أن يعبد أو يطاع إلا خالق الكون ومدبره

 

4 - جلي مستقر في النظر يقر به أكثر الناس من ثم اعتمد عليه الرسل في دعوتهم لتوحيد الألوهية
গাভী … । এবং সাবা জাতি সূর্যের ইবাদত করত... সাবিয়ীরা নক্ষত্রপুঞ্জের ইবাদত করত... অগ্নিপূজকরা আগুনের ইবাদত করত... আরবরা মূর্তি ও পাথরের ইবাদত করত... খ্রিস্টানরা মসীহ ও তাঁর মাতার ইবাদত করত... এবং তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের আলেম ও দরবেশদের ইবাদত করত। এরা সবাই মুশরিক, কারণ তারা ইবাদতের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহকে একক গণ্য করেনি যা তিনি ব্যতীত অন্য কারো প্রাপ্য নয়।

আর ইবাদতের প্রকারভেদের বিস্তারিত বর্ণনার জন্য ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব রচিত কিতাবুত তাওহীদ এবং ব্যাখ্যাকারগণ যা উল্লেখ করেছেন তা দেখা যেতে পারে।

 

(৩) … নাম ও গুণাবলির তাওহীদ (তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত)

 

তাওহীদের এই প্রকারের অর্থ হলো মহান আল্লাহকে তাঁর সর্বোত্তম নামসমূহ এবং অত্যন্ত নিখুঁত গুণাবলিতে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা, যা তিনি ছাড়া অন্য কারো জন্য প্রযোজ্য নয়।

অতএব মহান আল্লাহ নিজের জন্য যে সকল সুন্দর নাম ও উচ্চ গুণাবলি বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর সম্মানিত রাসুল তাঁর জন্য যা বর্ণনা করেছেন, আমরা সেগুলো মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করি—কোনো ধরনের বিকৃতি (তাহরিফ), অর্থহীন করা (তাতিল), ধরন নির্ধারণ (তাকিয়িফ) বা সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ছাড়াই।

কেননা তিনি তাঁর নাম ও গুণাবলিতে সেরূপই, যেরূপ তিনি তাঁর সত্তার ক্ষেত্রে পবিত্র; তাঁর কোনো সমকক্ষ, অংশীদার বা সদৃশ নেই:

(বলুন: তিনিই আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।) (কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।)

তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ ও তাওহীদে উলুহিয়্যাহর মধ্যে পার্থক্য

তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ

তাওহীদে উলুহিয়্যাহ

 

১ - এটি এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, বিশ্বজগতের স্রষ্টা … এবং এর পরিচালক কেবল একজন, আর তিনি হলেন মহান আল্লাহ।

১ - এটি হলো ইবাদত, আনুগত্য, আশা ও ভয়ের ক্ষেত্রে একমাত্র স্রষ্টাকেই একক করা … ইত্যাদি।

 

২ - এটি শুধুমাত্র একটি হৃদয়ের বিশ্বাস।

২ - এটি বিশ্বাস, আমল, সংকল্প, আচরণ ও আনুগত্যের সমন্বয়—যা হৃদয়ে প্রোথিত বিশ্বাসের অনুসারী।

 

৩ - এটি তাওহীদে উলুহিয়্যাহর দাবি রাখে, কারণ এটি তার কারণ ও প্রমাণের মতো।

৩ - এটি তাওহীদে রুবুবিয়্যাহর জন্য অপরিহার্য এবং এর অনিবার্য ফলাফল; কেননা বিশ্বজগতের স্রষ্টা ও পরিচালক ব্যতীত অন্য কেউ ইবাদত বা আনুগত্য পাওয়ার যোগ্য নয়।

 

৪ - এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও যুক্তিগ্রাহ্য বিষয় যা অধিকাংশ মানুষ স্বীকার করে, এ কারণেই রাসুলগণ তাঁদের তাওহীদে উলুহিয়্যাহর দাওয়াতের ক্ষেত্রে এর ওপর ভিত্তি করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
4 - دقيق ضل عنه كثير من الناس ومن ثم كانت عناية الرسل به كان أول ما دعوا الناس إليه

 

5 - الإقرار به لا يدخل في الإسلام إلا إذا اقترن بتوحيد الألوهية فقد اقر به المشركون ولم يدخلهم في الإسلام لما جحدوا توحيد الألوهية وعبدوا غير الله

5 - لب الإسلام وتحرير الفرد من كل عبودية لغير الله وتقرير المساواة بين الناس وسبب السيادة في الدنيا والنجاة في الآخرة (1)

 

(2)‌‌ دعاء المسألة ودعاء العبادة

 

تكلم الشيخ ابن عثيمين حفظه الله في مقدمة كتابه عن الفرق بين دعاء المسألة ودعاء العبادة، وزيادة في الإيضاح أقول:

الدعاء لغة يطلق على معان منها:

1 - الطلب والسؤال (2)

2 - العبادة: وممن صرح بهذا المعنى أبو إسحاق الزجاج.

--------------------------------------------

(1) كتاب التوحيد المقرر على المعهد الديني في قطر.

(2) المخصص لابن سيده (13/88)

نزهة الأعين النواظر لابن الجوزي ص 294

الوجوه والنظائر للدامغاني، تحقيق محمد الزفيني (1/335)

والكليات لأبي البقاء الكفوي ص 446
৪ - এটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিষয় যা থেকে অনেক মানুষ বিচ্যুত হয়েছে, আর একারণেই রাসূলগণ এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন। এটিই ছিল প্রথম বিষয় যার দিকে তাঁরা মানুষকে দাওয়াত দিয়েছিলেন।

 

৫ - এর স্বীকৃতিই ইসলামে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট নয় যতক্ষণ না তা তাওহিদে উলুহিয়্যাহর সাথে যুক্ত হয়। কেননা মুশরিকরা এর স্বীকৃতি দিয়েছিল, কিন্তু তা তাদের ইসলামে প্রবেশ করায়নি; যেহেতু তারা তাওহিদে উলুহিয়্যাহকে অস্বীকার করেছিল এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করেছিল।

৫ - এটি ইসলামের মূল নির্যাস এবং ব্যক্তিকে আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুর দাসত্ব থেকে মুক্ত করার মাধ্যম, মানুষের মধ্যে সমতা প্রতিষ্ঠাকারী এবং দুনিয়াতে শ্রেষ্ঠত্ব ও আখিরাতে নাজাতের কারণ। (১)

 

(২)‌‌ প্রার্থনামূলক দোয়া এবং ইবাদতমূলক দোয়া

 

শাইখ ইবনে উসাইমীন (আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন) তাঁর বইয়ের ভূমিকায় প্রার্থনামূলক দোয়া এবং ইবাদতমূলক দোয়ার মধ্যকার পার্থক্য সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার জন্য আমি বলছি:

আভিধানিক অর্থে 'দোয়া' শব্দটি বেশ কিছু অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - চাওয়া এবং প্রার্থনা করা (২)

২ - ইবাদত: আবু ইসহাক আল-যাজ্জাজ এই অর্থের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) কিতাবুত তাওহীদ, যা কাতারের ধর্মীয় ইন্সটিটিউটে পাঠ্যপুস্তক হিসেবে নির্ধারিত।

(২) ইবনে সীদাহ রচিত আল-মুখাসসাস (১৩/৮৮)

ইবনুল জাওযী রচিত নুযহাতুল আ’য়ুনিন নাওয়াযির, পৃষ্ঠা ২৯৪

দামঘানী রচিত আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর, মুহাম্মাদ আয-যাফীনীর তাহকীক (১/৩৩৫)

এবং আবু আল-বাকা আল-কাফাউয়ী রচিত আল-কুল্লিয়াত, পৃষ্ঠা ৪৪৬
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
(ت سنة 311هـ) فإنه قال في قوله تعالى (أجيب دعوة الداع إذا دعان) [البقرة: 186] (الدعاء لله عز وجل على ثلاثة أضرب، فضرب منها توحيده والثناء عليه، كقولك، يا الله لا إله إلا أنت، وقولك: ربنا لك الحمد (1)

وصرح به الدامغاني ت سنة 478هـ حيث قال: إن من معاني الدعاء العبادة ومنه قوله تعالى (قل أندعوا من دون الله ما لا ينفعنا ولا يضرنا) يعني: انعبد (2)

وصرح به ابن الجوزي ت سنة 597 حيث قال إن من معاني الدعاء هو العبادة (3) وصرح به السمين الحلبي ت سنة 756هـ (4) ، والفيروز آبادى ت سنة 817هـ (5) وللدعاء معان أخرى ذكرها أهل اللغة وأصحاب الوجوه والنظائر (6)

الدعاء باعتبار معناه:

اختلفت عبارة العلماء في تقسيم الدعاء باعتبار معناه إلا أنه ليس بينهما اختلاف كبير وتباين، وأدق من قسمه هو شيخ الإسلام ابن تيمية وتلميذه ابن القيم وهو أن الدعاء قسمان:

1 - دعاء مسألة وطلب

2 - دعاء عبادة وثناء (7)

--------------------------------------------

(1) معاني القرآن للزجاج (1/255) وانظر الدعاء للعروسي (1/108) .

(2) الوجوه والنظائر (1/335)

(3) نزهة الأعين النواظر لابن الجوزي ص 293

(4) عمدة الحفاظ (2/11)

(5) … بصائر ذوي التمييز (2/601)

(6) … انظر المراجع السابقة

(7) … الفتاوى (1/237) ، وبدائع الفوائد (3/2)

ويلاحظ أن البعض قسم الدعاء إلى دعاء عبادة، ودعاء عادة وهذا التقسيم لرشيد رضا … كما ذكره في تعليقه على كتاب صيانة الإنسان عن وسوسة زينى دحلان ص435
(মৃত্যু ৩১১ হিজরি) তিনি মহান আল্লাহর বাণী—"আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেই যখন সে আমাকে আহ্বান করে" [আল-বাকারাহ: ১৮৬] সম্পর্কে বলেছেন: (মহান আল্লাহর নিকট দোয়া তিন প্রকার। তার একটি প্রকার হলো তাঁর একত্ববাদ (তাওহিদ) বর্ণনা করা এবং তাঁর প্রশংসা করা। যেমন তোমার বলা: হে আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; এবং তোমার বলা: হে আমাদের রব, সমস্ত প্রশংসা আপনারই (১)

এবং এটি আদ-দামঘানি (মৃত্যু ৪৭৮ হিজরি) স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: দোয়ার অন্যতম অর্থ হলো ইবাদত। এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, আমরা কি আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুর ইবাদত করব যা আমাদের কোনো উপকার করতে পারে না এবং অপকারও করতে পারে না?) অর্থাৎ: আমরা কি ইবাদত করব (২)

এবং ইবনুল জাওজি (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি) এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, তিনি বলেছেন যে দোয়ার অন্যতম অর্থ হলো ইবাদত (৩)। আস-সামিন আল-হালাবি (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরি) (৪) এবং আল-ফায়রুজাবাদিও (মৃত্যু ৮১৭ হিজরি) (৫) এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। দোয়ার আরও অন্যান্য অর্থ রয়েছে যা ভাষাবিদ এবং 'আল-উজুহ ওয়ান-নাজাইর' বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেছেন (৬)

অর্থের বিচারে দোয়া:

দোয়ার অর্থ অনুযায়ী এর শ্রেণিবিভাগের ক্ষেত্রে আলেমদের বর্ণনাভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন হলেও তাদের মধ্যে বড় কোনো মতভেদ বা বৈপরীত্য নেই। যারা একে সবচেয়ে সূক্ষ্মভাবে বিভক্ত করেছেন তারা হলেন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং তাঁর ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম। আর তা হলো দোয়া দুই প্রকার:

১ - যাচনা ও প্রার্থনার দোয়া

২ - ইবাদত ও প্রশংসার দোয়া (৭)

--------------------------------------------

(১) আয-যাজ্জাজ রচিত 'মাআনিল কুরআন' (১/২৫৫) এবং আল-আরুসি রচিত 'আদ-দোয়া' (১/১০৮) দেখুন।

(২) আল-উজুহ ওয়ান-নাজাইর (১/৩৩৫)

(৩) ইবনুল জাওজি রচিত 'নুযহাতুল আইয়ুনিন নাওয়াযির', পৃষ্ঠা ২৯৩

(৪) উমদাতুল হাফিজ (২/১১)

(৫) … বাসাইরু যাউয়িত তামিইয (২/৬০১)

(৬) … পূর্বোক্ত উৎসসমূহ দেখুন

(৭) … আল-ফাতাওয়া (১/২৩৭), এবং বাদাইউল ফাওয়াইদ (৩/২)

উল্লেখ্য যে, কেউ কেউ দোয়াকে ইবাদতের দোয়া এবং অভ্যাসের দোয়া—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। এই বিভাজনটি রশীদ রিযার... যেমনটি তিনি 'সিয়ানাতুল ইনসান আন ওয়াসওয়াসা যাইনি দাহলান' বইয়ের টিকায় উল্লেখ করেছেন, পৃষ্ঠা ৪৩৫।
(খণ্ড: ১) আল-মুজাল্লা ফী শারহিল কাওয়াইদিল মুসলা ফী সিফাতিল্লাহি ওয়া আসমায়িহিল হুসনা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
أولاً: دعاء المسألة:

عرفنا حقيقة الدعاء في اللغة وأنها تطلق على المسألة والطلب كطلب ما ينفع الداعي، وطلب ما يكشف الضر ويرفعه

أما دعاء المسألة بالنسبة للأسماء الحسنى فهو: سؤال الله في كل مطلوب بما يناسب ذلك المطلوب، والتوسل إلى الله بالأسماء في الدعاء فيقول الداعي: اللهم اغفر لي وارحمني إنك أنت الغفور الرحيم، وتب على يا تواب، وارزقني يا رزاق ونحو ذلك (1)

 

ثانياً دعاء العبادة:

عرفنا أن من معاني الدعاء في اللغة هو العبادة، وأما دعاء العبادة بالنسبة للأسماء الحسنى فهو التعبد لله سبحانه وتعالى، والثناء عليه بأسمائه الحسنى، فكل اسم يتعبد به بما يقتضيه ذلك الاسم، فيقوم بالتوبة إليه لأن من أسماء الله التواب، وتخشاه في السر لأن من أسمائه اللطيف الخبير وهكذا (2)

سؤال: لقد ورد في القرآن آيات كثيرة فيها لفظ الدعاء فكيف نفرق بين دعاء المسألة والعبادة منها أو ما هو الضابط في معرفة دعاء المسألة ودعاء العبادة؟

قبل أن نذكر الضابط أحب أن أبين أن تقسيم الدعاء إلى نوعين لا يعنى أنهما متضادان بحيث أنه لا يدل إلا على النوع الذي أريد به، بل معناه أنه في تلك الحالة دلالته على أحد النوعين أظهر، ويدل على النوع الآخر إما بدلالة الالتزام، أو بدلالة التضمن، وعلى النوع الذي فيه أظهر بدلالة المطابقة (3)

--------------------------------------------

(1) أسماء الله لعبد الله الغصن ص 127، وتفسير الآلوسي (9/121)

وحاشية الجمل على الجلالين (3/182)

(2) أسماء الله للغصن ص 127 ومقدمة كتاب المؤلف

(3) دلالة المطابقة والتضمن والالتزام سنذكرها في مبحث خاص لأن المؤلف قد ذكرها في الكتاب.
প্রথমত: প্রার্থনামূলক দোয়া:

আমরা অভিধানে দোয়ার প্রকৃত অর্থ জেনেছি যে, এটি প্রার্থনা ও আবেদনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; যেমন দোয়াকারীর জন্য যা উপকারী তা চাওয়া এবং যা ক্ষতিকর তা দূর করা বা সরিয়ে দেওয়ার আবেদন করা।

আর আসমাউল হুসনার (আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ) প্রেক্ষিতে প্রার্থনামূলক দোয়া হলো: প্রত্যেকটি প্রার্থিত বিষয়ের ক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে সেই বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নামের মাধ্যমে প্রার্থনা করা এবং দোয়ার মধ্যে এই নামগুলোর অসিলা গ্রহণ করা। যেমন দোয়াকারী বলবে: হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন ও আমার প্রতি দয়া করুন, নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু। হে তওবা কবুলকারী, আমার তওবা কবুল করুন। হে রিজিকদাতা, আমাকে রিজিক দান করুন—এবং এই জাতীয় অন্যান্য দোয়া (১)।

 

দ্বিতীয়ত: ইবাদতমূলক দোয়া:

আমরা জেনেছি যে, অভিধানে দোয়ার অন্যতম অর্থ হলো ইবাদত। আর আসমাউল হুসনার প্রেক্ষিতে ইবাদতমূলক দোয়া হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ইবাদত করা এবং তাঁর সুন্দরতম নামসমূহের মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করা। সুতরাং প্রতিটি নামের দাবি অনুযায়ী সেই নাম দ্বারা আল্লাহর ইবাদত করা হবে। যেমন, সে আল্লাহর কাছে তওবা করবে কারণ আল্লাহর অন্যতম নাম হলো তওবা কবুলকারী, সে নির্জনে আল্লাহকে ভয় করবে কারণ তাঁর অন্যতম নাম হলো অতি সূক্ষ্মদর্শী ও সম্যক অবগত—এভাবেই অন্যান্য নামের ক্ষেত্রেও (২)।

প্রশ্ন: কুরআনে এমন অনেক আয়াত বর্ণিত হয়েছে যেখানে 'দোয়া' শব্দটির উল্লেখ রয়েছে, এমতাবস্থায় এগুলোর মধ্য থেকে প্রার্থনামূলক দোয়া ও ইবাদতমূলক দোয়ার মধ্যে আমরা কীভাবে পার্থক্য করব? অথবা প্রার্থনামূলক দোয়া ও ইবাদতমূলক দোয়া চেনার মাপকাঠি কী?

সেই মাপকাঠি উল্লেখ করার আগে আমি এটি স্পষ্ট করতে চাই যে, দোয়াকে দুই ভাগে ভাগ করার অর্থ এই নয় যে তারা একে অপরের বিপরীত, যাতে করে একটি শব্দের দ্বারা কেবল একটি নির্দিষ্ট প্রকারই উদ্দেশ্য হবে। বরং এর অর্থ হলো, নির্দিষ্ট কোনো অবস্থায় কোনো একটি প্রকারের ওপর শব্দটির ইঙ্গিত অধিকতর স্পষ্ট হয় এবং অন্য প্রকারটির ওপর এটি 'দালালাতুল ইলতিজাম' (অপরিহার্য বা আনুষঙ্গিক অর্থ) অথবা 'দালালাتুত তাদাম্মুন' (অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থ)-এর মাধ্যমে ইঙ্গিত প্রদান করে। আর যে প্রকারটির ওপর এর অর্থ অধিকতর স্পষ্ট হয়, সেটি 'দালালাতুল মুতাবাকাহ' (শাব্দিক সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ)-এর মাধ্যমে নির্দেশিত হয় (৩)।

--------------------------------------------

(১) আবদুল্লাহ আল-গুসন রচিত আসমাউল্লাহ, পৃষ্ঠা ১২৭; এবং তাফসিরে আলূসী (৯/১২১); এবং জালালাইনের ওপর হাশিয়াতুল জামাল (৩/১৮২)।

(২) আল-গুসন রচিত আসমাউল্লাহ, পৃষ্ঠা ১২৭ এবং লেখকের বইয়ের ভূমিকা।

(৩) মুতাবাকাহ, তাদাম্মুন এবং ইলতিজাম সংক্রান্ত ইঙ্গিত বা অর্থবোধকতার বিষয়টি আমরা একটি বিশেষ পরিচ্ছেদে আলোচনা করব, কারণ লেখক কিতাবটিতে এটি উল্লেখ করেছেন।