(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: -)
زيارة القبور والاستنجاد بالمقبور   (ابن تيمية)

القسم: العقيدة


الكتاب: زيارة القبور والاستنجاد بالمقبور

المؤلف: تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (ت 728هـ)

الناشر: دار طيبة، الرياض، المملكة العربية السعودية

عدد الصفحات: 79

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কবর যিয়ারত এবং কবরবাসীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা   (ইবনে তাইমিয়া)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: কবর যিয়ারত এবং কবরবাসীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা

লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল কাসেম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানী আল-হাম্বলী আদ-দিমাশকী (ওফাত ৭২৮ হিজরি)

প্রকাশক: দার তাইবাহ, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজত্ব

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা পাঠাগারে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহাজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: -)
‌‌[نص السؤال في زيارة القبور والاستنجاد بالمقبور]

زيارة القبور والاستنجاد بالمقبور
[কবর যিয়ারত এবং কবরবাসীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা প্রসঙ্গে প্রশ্নের বিবরণ]

কবর যিয়ারত এবং কবরবাসীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

زيارة القبور والاستنجاد بالمقبور

[نص السؤال]

وسئل أحمد بن تيمية رحمه الله تعالى: عمن يزور القبور ويستنجد بالمقبور في مرض به أو بفرسه أو بعيره، يطلب إزالة المرض الذي بهم، ويقول: يا سيدي! أنا في جيرتك، أنا في حسبك، فلان ظلمني، فلان قصد أذيتي، ويقول: إن المقبور يكون واسطة بينه وبين الله تعالى. وفيمن ينذر للمساجد، والزوايا والمشايخ - حيهم وميتهم - بالدراهم والإبل والغنم والشمع والزيت وغير ذلك، يقول: إن سلم ولدي فللشيخ علي كذا وكذا،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

কবর যিয়ারত এবং কবরস্থ ব্যক্তির নিকট সাহায্য প্রার্থনা

[প্রশ্নের পাঠ্য]

আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন)-কে প্রশ্ন করা হয়েছে: সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে কবর যিয়ারত করে এবং নিজের অথবা নিজের ঘোড়া বা উটের অসুস্থতায় কবরস্থ ব্যক্তির কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে, তাদের রোগমুক্তির আবেদন জানায় এবং বলে: হে আমার সায়্যিদ! আমি আপনার আশ্রয়ে আছি, আমি আপনার নিরাপত্তায় আছি; অমুক আমার ওপর জুলুম করেছে, অমুক আমার ক্ষতির সংকল্প করেছে; এবং সে বলে যে, কবরস্থ ব্যক্তি তার ও আল্লাহ তাআলার মাঝে মাধ্যম। এবং সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যে মসজিদ, খানকাহ এবং শায়খদের উদ্দেশ্যে—তাঁরা জীবিত হোন বা মৃত—দিরহাম, উট, বকরি, মোমবাতি, তেল ইত্যাদি মানত করে এবং বলে: যদি আমার সন্তান সুস্থ হয়, তবে অমুক শায়খের জন্য আমার ওপর এত এত কিছু (মানত) আবশ্যক,
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ৪)
وأمثال ذلك. وفيمن يستغيث بشيخه يطلب تثبيت قلبه من ذاك الواقع؟ وفيمن يجيء إلى شيخه ويستلم القبر ويمرغ وجهه عليه، ويمسح القبر بيديه، ويمسح بهما وجهه، وأمثال ذلك؟ وفيمن يقصده بحاجته، ويقول: يا فلان! ببركتك، أو يقول: قضيت حاجتي ببركة الله وبركة الشيخ؟ وفيمن يعمل السماع ويجيء إلى القبر فيكشف ويحط وجهه بين يدي شيخه على الأرض ساجدا. وفيمن قال: إن ثم قطبا غوثا جامعا في الوجود؟ أفتونا مأجورين، وابسطوا القول في ذلك.

 

‌‌[بداية الجواب]

(1) فأجاب: الحمد لله رب العالمين، الدين الذي بعث الله به رسله وأنزل به كتبه هو عبادة

--------------------------------------------

(1) جميع العناوين التي بين معقوفتين وضعت للتوضيح من قبل الناشر.
এবং এ জাতীয় বিষয়সমূহ। আর ওই ব্যক্তির ব্যাপারে কী বিধান, যে তার শায়খের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে এবং এই বিপদে তার অন্তরকে সুদৃঢ় রাখার আবেদন জানায়? এবং ওই ব্যক্তির ব্যাপারে কী বিধান, যে তার শায়খের কবরে আসে, তা স্পর্শ করে এবং কবরের ওপর নিজ মুখ ঘষে, নিজ হাত দিয়ে কবর মোছে এবং সেই হাত নিজ মুখে মাখে, আর এ জাতীয় কাজ করে? এবং ওই ব্যক্তির ব্যাপারে কী বিধান, যে নিজ প্রয়োজনে তাকে (শায়খকে) উদ্দেশ্য করে এবং বলে: হে অমুক! আপনার বরকতে, অথবা বলে: আল্লাহর বরকতে এবং শায়খের বরকতে আমার প্রয়োজন পূরণ হয়েছে? এবং ওই ব্যক্তির ব্যাপারে কী বিধান, যে সামা (আধ্যাত্মিক গান) আয়োজন করে এবং কবরের কাছে আসে, অতঃপর আবরণ সরিয়ে তার শায়খের সামনে সিজদাবনত হয়ে মাটিতে মুখ রাখে? এবং ওই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বিধান, যে বলে: এই অস্তিত্বজগতে একজন 'কুতুব', 'গাওস' ও 'জামে' (সমষ্টিগত ক্ষমতার অধিকারী) বিদ্যমান আছেন? সওয়াবের আশায় আমাদের ফাতাওয়া প্রদান করুন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করুন।

 

‌‌[উত্তরের শুরু]

(১) তিনি উত্তর দিয়েছেন: সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। সেই দ্বীন, যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন এবং যার সাথে তাঁর কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন, তা হলো ইবাদত...

--------------------------------------------

(১) থার্ড ব্র্যাকেটের ভেতরের সকল শিরোনামসমূহ প্রকাশকের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যার সুবিধার্থে যুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ৫)
الله وحده لا شريك له، واستعانته، والتوكل عليه، ودعاؤه لجلب المنافع، ودفع المضار، كما قال تعالى: {تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ - إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ - أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ} [الزمر: 1 - 3] يقول تعالى: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18] وقال تعالى: {قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} [الأعراف: 29] وقال تعالى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنْكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا - أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا} [الإسراء: 56 - 57]

আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরিক নেই, এবং কেবল তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা, তাঁর ওপরই ভরসা করা এবং কল্যাণ লাভ ও অকল্যাণ দূর করার জন্য কেবল তাঁর নিকটেই দুআ করা; যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {এই কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি; সুতরাং আপনি আল্লাহর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁর ইবাদত করুন। জেনে রাখুন, একনিষ্ঠ দ্বীন কেবল আল্লাহরই প্রাপ্য। আর যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা বলে, ‘আমরা তাদের ইবাদত করি কেবল এজন্য যে, তারা আমাদের আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে।’ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের মাঝে ফয়সালা করে দেবেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে।} [যুমার: ১ - ৩] মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।} [জীন: ১৮] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, আমার রব ইনসাফের নির্দেশ দিয়েছেন। আর তোমরা প্রত্যেক সিজদার সময় তোমাদের লক্ষ্য স্থির রাখো এবং তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে তাঁকে ডাকো।} [আরাফ: ২৯] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদের (ইলাহ) মনে করো তাদের ডাকো, তারা তো তোমাদের থেকে দুঃখ-কষ্ট দূর করার বা পরিবর্তনের কোনো ক্ষমতা রাখে না। তারা যাদের ডাকে, তারা নিজেরাই তো তাদের রবের নৈকট্য লাভের মাধ্যম সন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে কত বেশি নিকটবর্তী হতে পারে এবং তারা তাঁর রহমতের আশা করে ও তাঁর আজাবকে ভয় করে। নিশ্চয়ই আপনার রবের আজাব অত্যন্ত ভয়াবহ।} [ইসরা: ৫৬ - ৫৭]

(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ৬)
قالت طائفة من السلف: كان أقوام يدعون المسيح وعزيرا والملائكة، قال الله تعالى: هؤلاء الذين تدعونهم عبادي كما أنتم عبادي، ويرجون رحمتي كما ترجون رحمتي، ويخافون عذابي كما تخافون عذابي، ويتقربون إلي كما تتقربون إلي، فإذا كان هذا حال من يدعو الأنبياء والملائكة، فكيف بمن دونهم؟ ! .

وقال تعالى: {أَفَحَسِبَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ يَتَّخِذُوا عِبَادِي مِنْ دُونِي أَوْلِيَاءَ إِنَّا أَعْتَدْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ نُزُلًا} [الكهف: 102] وقال تعالى: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شِرْكٍ وَمَا لَهُ مِنْهُمْ مِنْ ظَهِيرٍ - وَلَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ} [سبأ: 22 - 23] فبين سبحانه أن من
সালাফদের একটি দল বলেছেন: এমন কিছু লোক ছিল যারা মাসীহ (ঈসা), উযায়ের এবং ফেরেশতাদের ডাকত। মহান আল্লাহ বলেছেন: তোমরা যাদের ডাকো তারা আমার বান্দা যেমন তোমরা আমার বান্দা; তারা আমার রহমতের আশা করে যেমন তোমরা আমার রহমতের আশা করো, তারা আমার আযাবকে ভয় পায় যেমন তোমরা আমার আযাবকে ভয় পাও এবং তারা আমার নৈকট্য অন্বেষণ করে যেমন তোমরা আমার নৈকট্য অন্বেষণ করো। সুতরাং যারা নবী এবং ফেরেশতাদের ডাকে তাদের অবস্থা যদি এই হয়, তবে যারা তাদের নিম্নপর্যায়ের (তাদের ডাকলে কি দশা হবে)?!।

মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {তবে কি কাফিররা মনে করে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে? নিশ্চয়ই আমি কাফিরদের আপ্যায়নের জন্য জাহান্নাম প্রস্তুত করে রেখেছি} [আল-কাহফ: ১০২]। মহান আল্লাহ আরও বলেছেন: {বলুন, তোমরা তাদের ডাকো যাদের তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে (উপাস্য) মনে করো; তারা আসমানসমূহ ও জমিনে অণু পরিমাণ কিছুরও মালিক নয় এবং এ দুটিতে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই এবং তাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁর সাহায্যকারীও নয়। যার জন্য তিনি অনুমতি দেবেন তাকে ছাড়া তাঁর নিকট কোনো সুপারিশ ফলপ্রসূ হবে না} [সাবা: ২২ - ২৩]। সুতরাং মহান পবিত্র আল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, যে ব্যক্তি...
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ৭)
دعي من دون الله من جميع المخلوقات من الملائكة والبشر وغيرهم أنهم لا يملكون مثقال ذرة في ملكه، وأنه ليس له شريك في ملكه، بل هو سبحانه له الملك، وله الحمد، وهو على كل شيء قدير، وأنه ليس له عون يعاونه كما يكون للملك أعوان وظهراء، وأن الشفعاء عنده لا يشفعون إلا لمن ارتضى، فنفى بذلك وجوه الشرك.

وذلك أن من يدعون من دونه إما أن يكون مالكا، وإما أن لا يكون مالكا وإذا لم يكن مالكا فإما أن يكون شريكا، وإما أن لا يكون شريكا، وإذا لم يكن شريكا فإما أن يكون معاونا وإما أن يكون سائلا طالبا، فالأقسام الأول الثلاثة وهي: الملك، والشركة، والمعاونة
আল্লাহ ব্যতীত ফেরেশতা, মানুষ এবং অন্যান্য সকল মাখলুকাত থেকে যাদেরই ডাকা হয়, তারা তাঁর রাজত্বে একটি অণু পরিমাণ মালিকানাও রাখে না। তাঁর রাজত্বে তাঁর কোনো অংশীদার নেই, বরং সার্বভৌমত্ব একমাত্র তাঁরই এবং সকল প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য, আর তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। তাঁর এমন কোনো সাহায্যকারী নেই যে তাঁকে সাহায্য করে, যেমন রাজাদের জন্য সাহায্যকারী ও সহযোগী থাকে। সুপারিশকারীরা তাঁর নিকট কেবলমাত্র তাদের জন্যই সুপারিশ করতে পারে যাদের ওপর তিনি সন্তুষ্ট হয়েছেন। এভাবে তিনি শিরকের সকল দিককে অপনোদন করেছেন।

আর তা এই জন্য যে, আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাকা হয় তারা হয় মালিক হবে নতুবা মালিক হবে না; আর যদি মালিক না হয় তবে হয় অংশীদার হবে নতুবা অংশীদার হবে না; আর যদি অংশীদার না হয় তবে হয় সাহায্যকারী হবে নতুবা নিছক যাঞ্চাকারী বা প্রার্থনাকারী হবে। সুতরাং প্রথম তিনটি প্রকার হলো: মালিকানা, অংশীদারিত্ব এবং সহায়তা।
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ৮)
منتفية. وأما الرابع: فلا يكون إلا من بعد إذنه، كما قال تعالى: {مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ} [البقرة: 255] وكما قال تعالى: {وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَى} [النجم: 26] وقال تعالى: {أَمِ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ شُفَعَاءَ قُلْ أَوَلَوْ كَانُوا لَا يَمْلِكُونَ شَيْئًا وَلَا يَعْقِلُونَ - قُلْ لِلَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعًا لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [الزمر: 43 - 44] وقال تعالى: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ مَا لَكُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا شَفِيعٍ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ} [السجدة: 4] وقال تعالى: {وَأَنْذِرْ بِهِ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَنْ يُحْشَرُوا إِلَى رَبِّهِمْ لَيْسَ لَهُمْ مِنْ دُونِهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ} [الأنعام: 51] وقال تعالى: {مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادًا لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ} [آل عمران: 79]
অস্বীকৃত। আর চতুর্থ প্রকারটি কেবল তাঁর অনুমতির পরেই হবে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {কে সেই যে তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে?} [আল-বাকারা: ২৫৫] এবং যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আসমানসমূহে কত ফেরেশতা রয়েছে, যাদের সুপারিশ কোনোই কাজে আসবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন এবং যার প্রতি তিনি সন্তুষ্ট হন তার অনুমতি প্রদান করেন।} [আন-নাজম: ২৬] এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা কি আল্লাহ ছাড়া অন্যদের সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করেছে? বলুন, তারা যদি কিছুরই মালিক না হয় এবং কিছু না বোঝে তবুও কি? বলুন, সকল সুপারিশ কেবল আল্লাহরই জন্য, আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব একমাত্র তাঁরই।} [আয-যুমার: ৪৩ - ৪৪] এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আল্লাহ তিনিই, যিনি আসমানসমূহ, জমিন ও এর মধ্যবর্তী যা কিছু আছে সব ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর আরশের উপর উঠেছেন। তিনি ছাড়া তোমাদের জন্য কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই; তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?} [আস-সাজদাহ: ৪] এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর এর মাধ্যমে তাদের সতর্ক করুন যারা ভয় করে যে তাদেরকে তাদের রবের নিকট সমবেত করা হবে; তিনি ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই, যাতে তারা তাকওয়া অবলম্বন করে।} [আল-আনআম: ৫১] এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {কোনো মানুষের জন্য সংগত নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, হিকমত ও নবুওয়াত দান করবেন, অতঃপর সে মানুষকে বলবে, 'তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমার দাস হয়ে যাও'; বরং সে বলবে, 'তোমরা রব্বানী হও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তোমরা তা অধ্যয়ন করতে'।} [আলে ইমরান: ৭৯]
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ৯)
{وَلَا يَأْمُرَكُمْ أَنْ تَتَّخِذُوا الْمَلَائِكَةَ وَالنَّبِيِّينَ أَرْبَابًا أَيَأْمُرُكُمْ بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 80]

فإذا جعل من اتخذ الملائكة والنبيين أربابا كافرا فكيف من اتخذ من دونهم من المشايخ وغيرهم أربابا؟ !

وتفصيل القول: أن مطلوب العبد إن كان من الأمور التي لا يقدر عليها إلا الله تعالى. مثل أن يطلب شفاء مريضه من الآدميين والبهائم أو وفاء دينه من غير جهة معينة، أو عافية أهله، وما به من بلاء الدنيا والآخرة، وانتصاره على عدوه، وهداية قلبه، وغفران ذنبه، أو دخوله الجنة، أو نجاته من النار، أو
{আর তিনি তোমাদের নির্দেশ দেবেন না যে তোমরা ফেরেশতা ও নবীদের প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ করবে। তোমরা মুসলিম হওয়ার পর তিনি কি তোমাদের কুফুরির নির্দেশ দেবেন?} [আল-ইমরান: ৮০]

সুতরাং, যে ব্যক্তি ফেরেশতা ও নবীদের প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ করে তাকে যদি কাফির সাব্যস্ত করা হয়, তবে যারা তাদের পরিবর্তে মাশায়েখ ও অন্যদের প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ করে তাদের অবস্থা কেমন হবে?!

বিস্তারিত কথা হলো: বান্দার প্রার্থিত বিষয় যদি এমন হয় যা আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ সক্ষম নয়—যেমন মানুষ বা পশুর রোগমুক্তি চাওয়া, অথবা নির্দিষ্ট কোনো মাধ্যম ছাড়াই ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা চাওয়া, অথবা পরিবারের সুস্থতা ও দুনিয়া-আখিরাতের বিপদাপদ থেকে মুক্তি চাওয়া, শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয় প্রার্থনা করা, অন্তরের হিদায়াত চাওয়া, গুনাহের ক্ষমা চাওয়া, জান্নাতে প্রবেশ করা, জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া, অথবা
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ১০)
أن يتعلم العلم والقرآن، أو أن يصلح قلبه ويحسن خلقه ويزكي نفسه، وأمثال ذلك: فهذه الأمور كلها لا يجوز أن تطلب إلا من الله تعالى، ولا يجوز أن يقول لملك ولا نبي ولا شيخ - سواء كان حيا أو ميتا - اغفر ذنبي، ولا انصرني على عدوي، ولا اشف مريضي، ولا عافني أو عاف أهلي أو دابتي، وما أشبه ذلك. ومن سأل ذلك مخلوقا كائنا من كان فهو مشرك بربه، من جنس المشركين الذين يعبدون الملائكة والأنبياء والتماثيل التي يصورونها على صورهم، ومن جنس دعاء النصارى للمسيح وأمه، قال الله تعالى: {وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنْتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَهَيْنِ مِنْ دُونِ اللَّهِ} [المائدة: 116] الآية، وقال تعالى:
জ্ঞান ও কুরআন অর্জন করা, কিংবা হৃদয়ের সংশোধন, চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন এবং আত্মশুদ্ধি করা ও এই জাতীয় বিষয়াদি: এই সবকিছুই মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নিকট প্রার্থনা করা বৈধ নয়। কোনো ফেরেশতা, নবী কিংবা শায়খের উদ্দেশ্যে—তিনি জীবিত হোন বা মৃত—এরূপ বলা জায়েয নয় যে: ‘আমার গুনাহ মাফ করুন’, ‘শত্রুর বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন’, ‘আমার রোগীকে সুস্থ করে দিন’, ‘আমাকে কিংবা আমার পরিবার বা গবাদি পশুকে নিরাপদ রাখুন’ অথবা এই জাতীয় অন্য কিছু। যে ব্যক্তি কোনো সৃষ্টির কাছে এসব প্রার্থনা করবে, সে যেই হোক না কেন, সে তার রবের সাথে শিরককারী হিসেবে গণ্য হবে; সে ঐসব মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত যারা ফেরেশতা, নবী এবং তাঁদের প্রতিকৃতিতে নির্মিত মূর্তিসমূহের পূজা করে। এটি খ্রিস্টানদের কর্তৃক মাসীহ ও তাঁর মাতার নিকট দুয়া করার অনুরূপ। মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন আল্লাহ বললেন, হে মারইয়াম-তনয় ঈসা! তুমি কি মানুষকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আমাকে ও আমার জননীকে দুই উপাস্যরূপে গ্রহণ করো?} [আল-মায়িদাহ: ১১৬]—আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন:
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ১১)
{اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ} [التوبة: 31]

وأما ما يقدر عليه العبد فيجوز أن يطلب منه في بعض الأحوال دون بعض؛ فإن " مسألة المخلوق " قد تكون جائزة، وقد تكون منهيا عنها قال الله تعالى: {فَإِذَا فَرَغْتَ فَانْصَبْ - وَإِلَى رَبِّكَ فَارْغَبْ} [الشرح: 7 - 8] وأوصى النبي صلى الله عليه وآله وسلم ابن عباس: «إذا سألت فاسأل الله، وإذا استعنت فاستعن بالله» وأوصى النبي صلى الله عليه وآله وسلم طائفة من أصحابه: أن لا يسألوا الناس شيئا، فكان سوط أحدهم يسقط من كفه فلا يقول لأحد: ناولني إياه، وثبت في الصحيحين أنه صلى الله عليه وآله وسلم قال: «يدخل الجنة من أمتي سبعون ألفا بغير حساب، وهم
{তারা তাদের পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের আল্লাহর পরিবর্তে রবরূপে গ্রহণ করেছে এবং মারইয়ামের পুত্র মসীহকেও। অথচ তারা কেবল এক ইলাহের ইবাদত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই। তারা যা শরিক করে তিনি তা থেকে পবিত্র।} [আত-তাওবাহ: ৩১]

আর বান্দা যা করতে সক্ষম, তা কিছু বিশেষ অবস্থায় তার কাছে চাওয়া জায়েজ হতে পারে, আবার অন্য অবস্থায় তা নয়; কেননা "সৃষ্টির নিকট চাওয়া" কখনো বৈধ হতে পারে, আবার কখনো তা নিষিদ্ধ হতে পারে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব যখন আপনি অবসর পান, তখন পরিশ্রমে ব্রতী হোন। আর আপনার রবের প্রতিই অনুরাগী হোন।} [আশ-শারহ: ৭-৮]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ইবনে আব্বাসকে উপদেশ দিয়েছেন: "যখন তুমি চাইবে, আল্লাহর কাছেই চাও; আর যখন সাহায্য প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করো।" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর একদল সাহাবীকে এই মর্মে উপদেশ দিয়েছেন যে, তারা যেন মানুষের কাছে কিছু না চায়। ফলে তাদের কারো চাবুক যদি হাতের তালু থেকে পড়ে যেত, তবে তিনি কাউকে বলতেন না: "এটি আমাকে তুলে দাও।" সহীহাইন-এ প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজার ব্যক্তি কোনো হিসাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবেন, তারা হলেন তারা যারা...
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ১২)
الذين لا يسترقون، ولا يكتوون، ولا يتطيرون، وعلى ربهم يتوكلون» والاسترقاء: طلب الرقية، وهو من أنواع الدعاء ومع هذا فقد ثبت عنه صلى الله عليه وآله وسلم أنه قال: «ما من رجل يدعو له أخوه بظهر الغيب دعوة إلا وكل الله بها ملكا كلما دعا لأخيه دعوة قال الملك: ولك مثل ذلك» ومن المشروع في الدعاء دعاء غائب لغائب، ولهذا أمر النبي صلى الله عليه وآله وسلم بالصلاة عليه، وطلبنا الوسيلة له، وأخبر بما لنا في ذلك من الأجر إذا دعونا بذلك فقال في الحديث: «إذا سمعتم المؤذن فقولوا مثل ما يقول، ثم صلوا علي، فإن من صلى علي مرة صلى الله عليه عشرا، ثم اسألوا لي الوسيلة، فإنها درجة في الجنة لا ينبغي أن تكون إلا لعبد من عباد الله، وأرجو أن أكون
যারা রুকইয়া প্রার্থনা করে না, আগুনের ছ্যাঁকা নেয় না, কুলক্ষণ গ্রহণ করে না এবং তারা তাদের রবের ওপর ভরসা করে। আর ‘ইস্তিরকা’ হলো রুকইয়া বা ঝাড়ফুঁক প্রার্থনা করা, যা দোয়ারই একটি প্রকার। এতৎসত্ত্বেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: “যে কোনো ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করে, আল্লাহ তার জন্য একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেন; যখনই সে তার ভাইয়ের জন্য দোয়া করে, সেই ফেরেশতা বলে: তোমার জন্যও অনুরূপ হোক।” আর দোয়ার ক্ষেত্রে একজনের অনুপস্থিতিতে অন্যজনের জন্য দোয়া করা শরিয়তসম্মত বিষয়। একারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করার এবং তাঁর জন্য ‘ওয়াসিলা’ প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর আমরা যদি সেভাবে দোয়া করি তবে তাতে আমাদের জন্য কী প্রতিদান রয়েছে সে সম্পর্কেও তিনি সংবাদ দিয়েছেন। তিনি হাদিসে বলেছেন: “যখন তোমরা মুয়াজ্জিনকে (আজান দিতে) শুনবে, তখন সে যা বলে তোমরাও তাই বলো। এরপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করো; কারণ যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন। এরপর আমার জন্য ‘ওয়াসিলা’ প্রার্থনা করো; এটি জান্নাতের এমন একটি সুউচ্চ মর্যাদা যা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল একজনের জন্যই হওয়া বাঞ্ছনীয়। আর আমি আশা করি যে আমিই হব...”
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ১৩)
أنا ذلك العبد، فمن سأل الله لي الوسيلة حلت له شفاعتي يوم القيامة» .

ويشرع للمسلم أن يطلب الدعاء ممن فوقه وممن هو دونه، فقد روي طلب الدعاء من الأعلى والأدنى؛ «فإن النبي صلى الله عليه وآله وسلم ودع عمر إلى العمرة، وقال: لا تنسنا من دعائك يا أخي» لكن النبي صلى الله عليه وآله وسلم لما أمرنا بالصلاة عليه وطلب الوسيلة له ذكر أن من صلى عليه مرة صلى الله بها عليه عشرا، وأن من سأل له الوسيلة حلت له شفاعته يوم القيامة، فكان طلبه منا لمنفعتنا في ذلك، وفرق بين من طلب من غيره شيئا لمنفعة المطلوب منه، ومن يسأل غيره لحاجته إليه فقط، وثبت في الصحيح «أنه صلى الله عليه وآله وسلم ذكر أويسا القرني وقال لعمر: إن
আমি সেই বান্দা; সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আমার জন্য ওয়াসিলার প্রার্থনা করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার শাফাআত অবধারিত হয়ে যাবে।

একজন মুসলিমের জন্য তার চেয়ে উচ্চমর্যাদার এবং তার চেয়ে নিম্নমর্যাদার ব্যক্তির নিকট দুআ প্রার্থনা করা বিধেয়। কারণ উচ্চতর ও নিম্নতর স্তরের মানুষের কাছে দুআ চাওয়ার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে; কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) উমরকে (রা.) উমরার উদ্দেশ্যে বিদায় দেওয়ার সময় বলেছিলেন: ‘হে আমার ভাই, তোমার দুআয় আমাদের ভুলে যেও না’। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) যখন আমাদের তাঁর ওপর দরূদ পাঠ করতে এবং তাঁর জন্য ওয়াসিলা প্রার্থনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, তখন তিনি উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি তাঁর ওপর একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন। আর যে ব্যক্তি তাঁর জন্য ওয়াসিলা প্রার্থনা করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য তাঁর শাফাআত অবধারিত হবে। সুতরাং আমাদের নিকট তাঁর এই প্রার্থনা ছিল আমাদেরই উপকারের জন্য। আর এমন ব্যক্তির মাঝে পার্থক্য রয়েছে যে অন্যের কাছে এমন কিছু চায় যাতে যাকে বলা হয়েছে তার উপকার হয়, এবং যে ব্যক্তি অন্যের কাছে কেবল নিজের প্রয়োজনে কিছু প্রার্থনা করে। আর সহীহ হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) উয়াইস আল-কারনীর কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং উমরকে (রা.) বলেছিলেন: ‘নিশ্চয়...
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ১৪)
استطعت أن يستغفر لك فافعل» وفي الصحيحين «أنه كان بين أبي بكر وعمر رضي الله عنهما شيء، فقال أبو بكر لعمر استغفر لي» ، لكن في الحديث أن أبا بكر ذكر أنه حنق على عمر، وثبت أن «أقواما كانوا يسترقون، وكان النبي صلى الله عليه وآله وسلم يرقيهم» . وثبت في الصحيحين «أن الناس لما أجدبوا سألوا النبي صلى الله عليه وآله وسلم أن يستسقي لهم فدعا الله لهم فسقوا» ، وفي الصحيحين أيضا: «أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه استسقى بالعباس فدعا فقال: اللهم إنا كنا إذا أجدبنا نتوسل إليك بنبينا فتسقينا، وإنا نتوسل إليك بعم نبينا فأسقنا، فيسقون» ، وفي السنن «أن أعرابيا قال للنبي صلى الله عليه وآله وسلم: جهدت
...যদি তুমি পারো যে সে তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তবে তা করো।" আর সহীহদ্বয়ে (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণিত হয়েছে যে, আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়েছিল। তখন আবু বকর উমরকে বলেছিলেন: "আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।" তবে হাদীসে এসেছে যে, আবু বকর উল্লেখ করেছিলেন তিনি উমরের প্রতি রাগান্বিত হয়েছিলেন। এবং এটি প্রমাণিত যে, কিছু লোক রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক) কামনা করত এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাদের ওপর রুকইয়াহ করতেন। সহীহদ্বয়ে আরও সাব্যস্ত হয়েছে যে, মানুষ যখন অনাবৃষ্টির কবলে পড়ল, তখন তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বৃষ্টির জন্য দোয়া করার আবেদন জানাল। তখন তিনি তাদের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করলেন এবং তারা বৃষ্টিপ্রাপ্ত হলো। সহীহদ্বয়ে আরও বর্ণিত হয়েছে: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ! আমরা যখন অনাবৃষ্টিতে পড়তাম, তখন আমাদের নবীর মাধ্যমে আপনার নিকট উসীলা গ্রহণ করতাম এবং আপনি আমাদের বৃষ্টি দান করতেন। এখন আমরা আমাদের নবীর চাচার মাধ্যমে আপনার নিকট উসীলা পেশ করছি, অতএব আমাদের বৃষ্টি দান করুন।" ফলে তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হতো। আর সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, এক গ্রাম্য ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলেছিল: জীবন ধারণ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে...
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ১৫)
الأنفس، وجاع العيال، وهلك المال فادع الله لنا، فإنا نستشفع بالله عليك، وبك على الله، فسبح رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم حتى عرف ذلك في وجوه أصحابه، وقال: ويحك؟ ! إن الله لا يستشفع به على أحد من خلقه، شأن الله أعظم من ذلك» فأقره على قوله: " إنا نستشفع بك على الله "، وأنكر عليه " نستشفع بالله عليك "؛ لأن الشافع يسأل المشفوع إليه، والعبد يسأل ربه ويستشفع إليه، والرب تعالى لا يسأل العبد ولا يستشفع به.

 

‌‌[كيفية الزيارة الشرعية للقبور]

وأما " زيارة القبور المشروعة " فهو أن يسلم على الميت ويدعو له بمنزلة الصلاة على
প্রাণসমূহ ওষ্ঠাগত, পরিবার-পরিজন ক্ষুধার্ত এবং সম্পদ ধ্বংসপ্রাপ্ত, সুতরাং আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করুন। কারণ আমরা আল্লাহর দোহাই দিয়ে আপনার নিকট এবং আপনার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সুপারিশ কামনা করছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম সুবহানাল্লাহ পাঠ করতে থাকলেন, এমনকি তাঁর সাহাবীগণের চেহারায় সেই প্রভাব (উদ্বেগ) ফুটে উঠল। তিনি বললেন: "তোমার ধ্বংস হোক! আল্লাহর সৃষ্টির কারও নিকট আল্লাহর দোহাই দিয়ে সুপারিশ করা যায় না। আল্লাহর মর্যাদা এর চেয়ে অনেক মহান।" অতঃপর তিনি ব্যক্তির এই কথাকে স্বীকৃতি দিলেন যে, "আমরা আপনার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সুপারিশ কামনা করি", কিন্তু তার এই কথাটি প্রত্যাখ্যান করলেন যে, "আমরা আল্লাহর দোহাই দিয়ে আপনার নিকট সুপারিশ কামনা করি"; কারণ সুপারিশকারী যার নিকট সুপারিশ করা হয় তার কাছেই প্রার্থনা করে থাকে; আর বান্দা তার রবের কাছে প্রার্থনা করে এবং তাঁর কাছে সুপারিশ চায়, কিন্তু মহান রব বান্দার কাছে প্রার্থনা করেন না এবং তাঁর মাধ্যমে সুপারিশও কামনা করা হয় না।

 

‌‌[কবর জিয়ারতের শরয়ি পদ্ধতি]

আর "শরয়ি কবর জিয়ারত" হলো মৃত ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া এবং তার জন্য দোয়া করা, যা মৃত ব্যক্তির ওপর জানাজার নামাজের সমতুল্য।
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ১৬)
جنازته، كما كان النبي صلى الله عليه وآله وسلم يعلم أصحابه إذا زاروا القبور أن يقولوا: «سلام عليكم أهل دار قوم مؤمنين، وإنا إن شاء الله بكم لاحقون، يرحم الله المستقدمين منا ومنكم والمستأخرين، نسأل الله لنا ولكم العافية، اللهم لا تحرمنا أجرهم، ولا تفتنا بعدهم» وروي عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أنه قال: «ما من رجل يمر بقبر رجل كان يعرفه في الدنيا فيسلم عليه إلا رد الله عليه روحه حتى يرد عليه السلام» والله تعالى يثيب الحي إذا دعا للميت المؤمن، كما يثيبه إذا صلى على جنازته؛ ولهذا نهى النبي صلى الله عليه وآله وسلم أن يفعل ذلك بالمنافقين، فقال عز من قائل: {وَلَا تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ} [التوبة: 84] فليس
তার জানাজা, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দিতেন যে যখন তাঁরা কবর যিয়ারত করবেন তখন তাঁরা যেন বলেন: «তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক হে মুমিন সম্প্রদায়ের গৃহের অধিবাসীরা, আর আমরাও ইনশাআল্লাহ তোমাদের সাথে মিলিত হতে যাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের ও তোমাদের মধ্য থেকে যারা অগ্রগামী এবং যারা পশ্চাৎগামী তাদের প্রতি দয়া করুন। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের ও তোমাদের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ, আমাদের তাদের সওয়াব থেকে বঞ্চিত করবেন না এবং তাদের পরে আমাদের ফিতনায় ফেলবেন না»। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে দুনিয়াতে তার পরিচিত কোনো ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে সালাম দেয়, অথচ আল্লাহ তার (মৃত ব্যক্তির) রুহ ফিরিয়ে দেন না যাতে সে তার সালামের উত্তর দিতে পারে»। আর মহান আল্লাহ জীবিত ব্যক্তিকে সওয়াব দান করেন যখন সে মৃত মুমিনের জন্য দোয়া করে, ঠিক যেমন তিনি তাকে সওয়াব দান করেন যখন সে তার জানাজার সালাত আদায় করে; আর একারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মুনাফিকদের ক্ষেত্রে এরূপ করতে নিষেধ করেছেন, ফলে মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আপনি তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে কখনও তার ওপর (জানাজার) সালাত আদায় করবেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না} [আত-তাওবাহ: ৮৪]। সুতরাং এটি নয়...
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ১৭)
في الزيارة الشرعية حاجة الحي إلى الميت، ولا مسألته ولا توسله به؛ بل فيها منفعة الحي للميت، كالصلاة عليه، والله تعالى يرحم هذا بدعاء هذا وإحسانه إليه، ويثيب هذا على عمله، فإنه ثبت في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أنه قال: «إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية، أو علم ينتفع به من بعده، أو ولد صالح يدعو له» .

 

فصل

‌‌[حكم من يأتي إلى قبر نبي أو صالح ويسأله ويستنجد به] وأما من يأتي إلى قبر نبي أو صالح، أو من يعتقد فيه أنه قبر نبي أو رجل صالح وليس
শরয়ী যিয়ারতে মৃত ব্যক্তির প্রতি জীবিত ব্যক্তির কোনো প্রয়োজন নেই, এবং তার কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করা বা তার মাধ্যমে উসিলা গ্রহণ করাও নেই; বরং এতে মৃতের প্রতি জীবিত ব্যক্তির উপকার নিহিত রয়েছে, যেমন তার ওপর রহমতের দোয়া করা। মহান আল্লাহ এর দোয়ার মাধ্যমে এবং তার প্রতি কৃত ইহসানের কারণে একে রহমত দান করেন এবং একে তার আমলের জন্য পুরস্কৃত করেন। কেননা সহীহ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «যখন আদমসন্তান মৃত্যুবরণ করে তখন তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত তার আমল বন্ধ হয়ে যায়: সদকায়ে জারিয়া, অথবা এমন ইলম যার দ্বারা তার পরে উপকৃত হওয়া যায়, অথবা সৎ সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে»।

 

পরিচ্ছেদ

‌‌[নবী বা নেককার ব্যক্তির কবরে আসা এবং তার কাছে চাওয়া ও সাহায্য প্রার্থনা করার বিধান] আর যে ব্যক্তি কোনো নবী বা নেককার ব্যক্তির কবরে আসে, অথবা যাকে সে নবী বা নেককার ব্যক্তির কবর বলে বিশ্বাস করে অথচ তা নয়
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ১৮)
كذلك، ويسأله ويستنجده فهذا على ثلاث درجات:

(إحداها) : أن يسأله حاجته مثل أن يسأله أن يزيل مرضه، أو مرض دوابه، أو يقضي دينه، أو ينتقم له من عدوه، أو يعافي نفسه وأهله ودوابه، ونحو ذلك مما لا يقدر عليه إلا الله عز وجل: فهذا شرك صريح، يجب أن يستتاب صاحبه فإن تاب وإلا قتل.

وإن قال: أنا أسأله لكونه أقرب إلى الله مني ليشفع لي في هذه الأمور؛ لأني أتوسل إلى الله به كما يتوسل إلى السلطان بخواصه وأعوانه فهذا من أفعال المشركين والنصارى، فإنهم يزعمون أنهم يتخذون أحبارهم ورهبانهم شفعاء يستشفعون بهم في مطالبهم، وكذلك أخبر الله عن المشركين أنهم قالوا:
অনুরূপভাবে, তার কাছে প্রার্থনা করা এবং তার কাছে সাহায্য চাওয়া—এটি তিনটি পর্যায়ের:

(প্রথমটি): তার কাছে নিজের প্রয়োজন প্রার্থনা করা, যেমন—তার কাছে নিজের রোগ বা গবাদি পশুর রোগ দূর করার প্রার্থনা করা, অথবা তার ঋণ পরিশোধ করে দেওয়ার আবেদন করা, কিংবা তার শত্রুর ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ করা, অথবা নিজেকে, নিজের পরিবারকে ও গবাদি পশুকে নিরাপদ রাখা এবং এ জাতীয় বিষয় যা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ছাড়া আর কেউ করতে সক্ষম নয়: এটি স্পষ্ট শিরক; এর লিপ্ত ব্যক্তিকে তওবা করতে বলা আবশ্যক, সে তওবা করলে ভালো, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে।

আর যদি সে বলে: আমি তার কাছে প্রার্থনা করছি এই কারণে যে, তিনি আমার চেয়ে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী, যাতে তিনি এই বিষয়গুলোতে আমার জন্য সুপারিশ করেন; কেননা আমি তার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট সেভাবে উসিলা তালাশ করছি যেভাবে সুলতানের ঘনিষ্ঠজন ও সহযোগীদের মাধ্যমে সুলতানের নিকট উসিলা ধরা হয়—তবে এটি মুশরিক ও খ্রিষ্টানদের কর্মের অন্তর্ভুক্ত। কারণ তারা দাবি করে যে, তারা তাদের ধর্মগুরু ও সন্ন্যাসীদের সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাদের মাধ্যমে নিজেদের প্রয়োজনে সুপারিশ কামনা করে। অনুরূপভাবে আল্লাহ মুশরিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা বলেছিল:
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ১৯)
{مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} [الزمر: 3] وقال سبحانه وتعالى: {أَمِ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ شُفَعَاءَ قُلْ أَوَلَوْ كَانُوا لَا يَمْلِكُونَ شَيْئًا وَلَا يَعْقِلُونَ - قُلْ لِلَّهِ الشَّفَاعَةُ جَمِيعًا لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} [الزمر: 43 - 44] وقال تعالى: {مَا لَكُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَلِيٍّ وَلَا شَفِيعٍ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ} [السجدة: 4] وقال تعالى: {مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ} [البقرة: 255] فبين الفرق بينه وبين خلقه. فإن من عادة الناس أن يستشفعوا إلى الكبير من كبرائهم بمن يكرم عليه، فيسأله ذلك الشفيع، فيقضي حاجته: إما رغبة، وإما رهبة، وإما حياء وإما مودة، وإما غير ذلك، والله سبحانه لا يشفع عنده أحد حتى يأذن هو للشافع، فلا يفعل إلا ما شاء، وشفاعة الشافع من إذنه، فالأمر كله له.
{আমরা তাদের ইবাদত এই জন্যই করি যাতে তারা আমাদের আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়} [আয-যুমার: ৩] এবং তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {তবে কি তারা আল্লাহকে ছেড়ে অন্যদের সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করেছে? বলুন, তারা যদি কোনো কিছুর মালিক না হয় এবং কিছু না বোঝে তবুও কি? বলুন, সমস্ত সুপারিশ আল্লাহরই মালিকানাধীন। আসমান ও জমিনের রাজত্ব তাঁরই। অতঃপর তোমাদের তাঁর কাছেই ফিরিয়ে নেওয়া হবে} [আয-যুমার: ৪৩ - ৪৪] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং কোনো সুপারিশকারীও নেই। তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?} [আস-সাজদাহ: ৪] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {কে সে, যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?} [আল-বাকারাহ: ২৫৫] অতঃপর তিনি নিজের ও তাঁর সৃষ্টির মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন। কেননা মানুষের অভ্যাস হলো যে, তারা তাদের প্রভাবশালীদের মধ্যে কোনো বড় ব্যক্তির নিকট এমন কাউকে দিয়ে সুপারিশ করায় যে তাঁর কাছে সম্মানিত, ফলে সেই সুপারিশকারী তাঁর নিকট আবেদন করে এবং তিনি তাঁর প্রয়োজন পূরণ করেন: হয় আগ্রহবশত, নয়তো ভয়বশত, অথবা লজ্জাবশত, কিংবা ভালোবাসাবশত অথবা অন্য কোনো কারণে। কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু—তাঁর নিকট কেউ সুপারিশ করতে পারে না যতক্ষণ না তিনি সুপারিশকারীকে অনুমতি দেন। সুতরাং তিনি যা চান তা ব্যতীত অন্য কিছুই ঘটে না এবং সুপারিশকারীর সুপারিশও তাঁর অনুমতির মাধ্যমেই হয়ে থাকে; ফলে সকল বিষয় কেবল তাঁরই নিয়ন্ত্রণাধীন।
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ২০)
ولهذا قال النبي صلى الله عليه وآله وسلم في الحديث المتفق عليه عن أبي هريرة رضي الله عنه: «لا يقولن أحدكم: اللهم اغفر لي إن شئت، اللهم ارحمني إن شئت، ولكن ليعزم المسألة فإن الله لا مكره له» فبين أن الرب سبحانه يفعل ما يشاء لا يكرهه أحد على ما اختاره، كما قد يكره الشافع المشفوع إليه، وكما يكره السائل المسئول إذا ألح عليه وآذاه بالمسألة. فالرغبة يجب أن تكون إليه كما قال تعالى: {فَإِذَا فَرَغْتَ فَانْصَبْ - وَإِلَى رَبِّكَ فَارْغَبْ} [الشرح: 7 - 8] والرهبة تكون من الله كما قال تعالى: {وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ} [البقرة: 40] وقال تعالى: {فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ} [المائدة: 44] وقد أمرنا أن نصلي على النبي صلى الله عليه وآله وسلم في الدعاء، وجعل ذلك من أسباب إجابة دعائنا.
আর এ কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি (সর্বসম্মত) হাদীসে বলেছেন: «তোমাদের কেউ যেন না বলে: হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমার প্রতি দয়া করুন; বরং সে যেন দৃঢ়তার সাথে প্রার্থনা করে, কারণ আল্লাহকে বাধ্য করার মতো কেউ নেই»। সুতরাং তিনি বর্ণনা করেছেন যে, সুবহানাহু রব যা চান তা-ই করেন, তিনি যা পছন্দ করেন তাতে তাঁকে কেউ বাধ্য করতে পারে না, যেমন সুপারিশকারী সুপারিশকৃত ব্যক্তিকে বাধ্য করতে পারে, অথবা যেমন সাহায্যপ্রার্থী দাতার কাছে পিড়াপিড়ি করে এবং প্রার্থনার মাধ্যমে তাকে বিরক্ত করে তাকে বাধ্য করতে পারে। অতএব আকাঙ্ক্ষা কেবল তাঁরই প্রতি হওয়া আবশ্যক, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সুতরাং যখনই অবসর পাবেন, তখনই পরিশ্রমে রত হোন - এবং আপনার রবের প্রতিই অনুরাগী হোন} [আশ-শারহ: ৭ - ৮]। আর ভয় কেবল আল্লাহকেই করতে হবে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং কেবল আমাকেই ভয় করো} [আল-বাকারাহ: ৪০] এবং তিনি আরও বলেছেন: {সুতরাং তোমরা মানুষকে ভয় করো না বরং আমাকেই ভয় করো} [আল-মায়িদাহ: ৪৪]। আর আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা দুআর মধ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর দরূদ পাঠ করি, এবং তিনি এটিকে আমাদের দুআ কবুল হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ২১)
وقال كثير من الضلال: هذا أقرب إلى الله مني، وأنا بعيد من الله لا يمكنني أن أدعوه إلا بهذه الواسطة، ونحو ذلك من أقوال المشركين، فإن الله تعالى يقول: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ} [البقرة: 186] وقد روي: أن الصحابة قالوا يا رسول الله: ربنا قريب فنناجيه أم بعيد فنناديه؟ فأنزل الله هذه الآية. وفي الصحيح أنهم كانوا في سفر وكانوا يرفعون أصواتهم بالتكبير، فقال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: «يا أيها الناس أربعوا على أنفسكم فإنكم لا تدعون أصم ولا غائبا بل تدعون سميعا قريبا، إن الذي تدعونه أقرب إلى أحدكم من عنق راحلته» وقد أمر الله تعالى العباد كلهم بالصلاة له ومناجاته وأمر كلا
অনেক পথভ্রষ্ট লোক বলে: "ইনি আমার চেয়ে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী, আর আমি আল্লাহ থেকে দূরে; তাই এই মাধ্যম ছাড়া তাঁকে ডাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়" এবং মুশরিকদের এ জাতীয় অন্যান্য উক্তি। অথচ মহান আল্লাহ বলেন: {আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন নিশ্চয়ই আমি অতি নিকটে। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার আহ্বানে সাড়া দেই} [আল-বাকারা: ১৮৬]। বর্ণিত আছে যে, সাহাবীগণ বলেছিলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের রব কি নিকটে যে আমরা তাঁর সাথে সংগোপনে কথা বলব, নাকি দূরে যে আমরা তাঁকে উচ্চস্বরে ডাকব?" তখন আল্লাহ এই আয়াতটি নাজিল করেন। আর সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তারা এক সফরে ছিল এবং উচ্চস্বরে তাকবীর দিচ্ছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «হে লোকসকল! তোমরা নিজেদের প্রতি সদয় হও, কারণ তোমরা কোনো বধির বা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না; বরং তোমরা সর্বশ্রোতা ও অতি নিকটবর্তী সত্তাকে ডাকছ। নিশ্চয়ই তোমরা যাঁর কাছে প্রার্থনা করছ, তিনি তোমাদের কারো কাছে তার সওয়ারির ঘাড়ের চেয়েও অধিক নিকটবর্তী।» আল্লাহ তাআলা সকল বান্দাকে তাঁর উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করার ও তাঁর সাথে সংগোপনে কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং প্রত্যেককে নির্দেশ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ২২)
منهم أن يقولوا: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} [الفاتحة: 5] وقد أخبر عن المشركين أنهم قالوا: {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} [الزمر: 3]

ثم يقال لهذا المشرك: أنت إذا دعوت هذا فإن كنت تظن أنه أعلم بحالك وأقدر على عطاء سؤالك أو أرحم بك فهذا جهل وضلال وكفر، وإن كنت تعلم أن الله أعلم وأقدر وأرحم فلم عدلت عن سؤاله إلى سؤال غيره؟ ألا تسمع إلى ما خرجه البخاري وغيره عن جابر رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمنا الاستخارة في الأمور، كما يعلمنا السورة من القرآن، يقول: «إذا هم أحدكم بأمر فليركع ركعتين من غير الفريضة، ثم ليقل: اللهم: إني أستخيرك بعلمك، وأستقدرك بقدرتك، وأسألك من فضلك
তাদের পক্ষ থেকে এটি বলা যে: {আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি} [আল-ফাতিহা: ৫]। অথচ তিনি মুশরিকদের সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে তারা বলেছিল: {আমরা তাদের ইবাদত কেবল এই জন্য করি যেন তারা আমাদের আল্লাহর অতি নৈকট্যে পৌঁছে দেয়} [আয-যুমার: ৩]

অতঃপর এই মুশরিককে বলা হবে: তুমি যখন একে আহ্বান করছ, তখন তুমি যদি মনে কর যে সে তোমার অবস্থা সম্পর্কে অধিক অবগত এবং তোমার প্রার্থনা পূরণে অধিক সক্ষম অথবা তোমার প্রতি অধিক দয়াবান, তবে এটি মূর্খতা, পথভ্রষ্টতা ও কুফরি। আর যদি তুমি জানো যে আল্লাহই অধিক পরিজ্ঞাত, অধিক সক্ষম এবং অধিক দয়াবান, তবে কেন তুমি তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কারো নিকট প্রার্থনায় লিপ্ত হলে? তুমি কি শোননি যা বুখারী ও অন্যরা জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের সকল বিষয়ে ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন, যেমনটি তিনি আমাদের কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন: «যখন তোমাদের কেউ কোনো কাজের সংকল্প করে, তখন সে যেন ফরয ব্যতীত দুই রাকআত নামায আদায় করে, অতঃপর বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার ইলমের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার নিকট সামর্থ্য প্রার্থনা করছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ থেকে প্রার্থনা করছি...
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ২৩)
العظيم، فإنك تقدر ولا أقدر، وتعلم ولا أعلم، وأنت علام الغيوب، اللهم: إن كنت تعلم أن هذا الأمر خير لي في ديني ومعاشي، وعاقبة أمري، فاقدره لي ويسره لي ثم بارك لي فيه، وإن كنت تعلم أن هذا الأمر شر لي في ديني ومعاشي، وعاقبة أمري، فاصرفه عني، واصرفني عنه، واقدر لي الخير حيث كان، ثم أرضني به - قال - ويسمي حاجته» أمر العبد أن يقول: أستخيرك بعلمك، وأستقدرك بقدرتك، وأسألك من فضلك العظيم.

وإن كنت تعلم أنه أقرب إلى الله منك وأعلى درجة عند الله منك فهذا حق؛ لكن كلمة حق أريد بها باطل؛ فإنه إذا كان أقرب منك وأعلى درجة منك فإنما معناه أن يثيبه ويعطيه أكثر مما يعطيك، ليس معناه أنك إذا دعوته كان
মহান, নিশ্চয়ই আপনি সক্ষম আর আমি অক্ষম, আপনি অবগত আর আমি অনবগত, আর আপনিই অদৃশ্য বিষয়ের পরিজ্ঞাতা। হে আল্লাহ! আপনি যদি জানেন যে এই বিষয়টি আমার দ্বীন, জীবন এবং পরিণামের জন্য কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করুন ও সহজ করে দিন এবং তাতে আমাকে বরকত দান করুন। আর যদি আপনি জানেন যে এই বিষয়টি আমার দ্বীন, জীবন এবং পরিণামের জন্য অকল্যাণকর, তবে তা আমার থেকে সরিয়ে নিন এবং আমাকেও তা থেকে ফিরিয়ে রাখুন। আর আমার জন্য যেখানেই কল্যাণ থাকুক তা নির্ধারিত করুন এবং আমাকে তাতে সন্তুষ্ট রাখুন - তিনি বলেন - এবং সে তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে। বান্দাকে আদেশ করা হয়েছে সে যেন বলে: আমি আপনার ইলমের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার কুদরতের মাধ্যমে আপনার নিকট সামর্থ্য প্রার্থনা করছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ হতে আপনার নিকট প্রার্থনা করছি।

আর আপনি যদি জানেন যে তিনি আপনার চেয়ে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী এবং আল্লাহর নিকট আপনার চেয়ে উচ্চ মর্যাদাবান, তবে এটি একটি সত্য কথা; কিন্তু এটি এমন সত্য যার দ্বারা বাতিল উদ্দেশ্য করা হয়েছে। কারণ তিনি যদি আপনার চেয়ে অধিক নিকটবর্তী ও উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হন, তবে তার অর্থ হলো আল্লাহ তাকে আপনার চেয়ে অধিক সওয়াব ও দান প্রদান করবেন; এর অর্থ এই নয় যে আপনি যখন তাকে ডাকবেন তখন তা...
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ২৪)
الله يقضي حاجتك أعظم مما يقضيها إذا دعوت أنت الله تعالى، فإنك إن كنت مستحقا للعقاب ورد الدعاء - مثلا لما فيه من العدوان - فالنبي والصالح لا يعين على ما يكره الله، ولا يسعى فيما يبغضه الله، وإن لم يكن كذلك فالله أولى بالرحمة والقبول.

 

‌‌[طلب الدعاء من الغير حيا كان أو ميتا]

وإن قلت: هذا إذا دعا الله أجاب دعاءه أعظم مما يجيبه إذا دعوته. فهذا هو:

(القسم الثاني) وهو أن لا تطلب منه الفعل ولا تدعوه، ولكن تطلب أن يدعو لك، كما تقول للحي: ادع لي، وكما كان الصحابة - رضوان الله عليهم - يطلبون من النبي صلى الله عليه وآله وسلم الدعاء، فهذا مشروع في
আল্লাহ আপনার প্রয়োজন এমনভাবে পূরণ করবেন যা আপনার নিজের আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়ার মাধ্যমে পূরণের চেয়েও শ্রেষ্ঠ, কেননা আপনি যদি শাস্তির যোগ্য হন এবং দোয়া প্রত্যাখ্যান করা হয় - উদাহরণস্বরূপ তাতে সীমালঙ্ঘন থাকার কারণে - তবে নবী ও সৎ ব্যক্তিগণ আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তাতে সাহায্য করবেন না এবং আল্লাহ যা ঘৃণা করেন তার জন্য প্রচেষ্টা করবেন না। আর যদি বিষয়টি এমন না হয়, তবে আল্লাহই দয়া ও কবুল করার বিষয়ে অধিক হকদার।

 

‌‌[জীবিত হোক বা মৃত, অন্যের কাছে দোয়া প্রার্থনা করা]

আর যদি আপনি বলেন: তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করলে আল্লাহ তার দোয়া এমনভাবে কবুল করবেন যা আপনি নিজে দোয়া করলে কবুল হওয়ার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তবে এটি হলো:

(দ্বিতীয় প্রকার) আর তা হলো আপনি তার কাছে সরাসরি কোনো কাজ চাইবেন না এবং তাকে ডাকবেন না, বরং তিনি যেন আপনার জন্য দোয়া করেন সেই অনুরোধ করবেন, যেমন আপনি জীবিত কাউকে বলেন: আমার জন্য দোয়া করুন, এবং যেভাবে সাহাবীগণ - আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কাছে দোয়া প্রার্থনা করতেন। সুতরাং এটি শরীয়তসম্মত...
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ২৫)
الحي كما تقدم، وأما الميت من الأنبياء والصالحين وغيرهم فلم يشرع لنا أن نقول: ادع لنا، ولا اسأل لنا ربك، ولم يفعل هذا أحد من الصحابة والتابعين، ولا أمر به أحد من الأئمة، ولا ورد فيه حديث، بل الذي ثبت في الصحيح أنهم لما أجدبوا زمن عمر رضي الله عنه استسقى بالعباس، وقال: اللهم إنا كنا إذا أجدبنا نتوسل إليك بنبينا فتسقينا، وإنا نتوسل إليك بعم نبينا فأسقنا، فيسقون، ولم يجيئوا إلى قبر النبي صلى الله عليه وآله وسلم قائلين: يا رسول الله! ادع الله لنا واستسق لنا، ونحن نشكو إليك مما أصابنا، ونحو ذلك، لم يفعل ذلك أحد من الصحابة قط، بل هو بدعة، ما أنزل الله بها من سلطان، بل كانوا إذا جاءوا عند قبر

জীবন্ত ব্যক্তি যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে; আর নবীগণ, সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণ এবং অন্যদের মধ্য হতে যারা মৃত, তাদের সম্পর্কে আমাদের জন্য এটা বিধিবদ্ধ করা হয়নি যে আমরা বলব: আমাদের জন্য দোয়া করুন, কিংবা আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা করুন। সাহাবী এবং তাবেয়ীদের মধ্যে কেউ এমনটি করেননি, ইমামদের কেউ এর নির্দেশ দেননি এবং এ সম্পর্কে কোনো হাদীসও বর্ণিত হয়নি। বরং সহীহ হাদীসে যা সাব্যস্ত হয়েছে তা হলো, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর যুগে যখন তারা অনাবৃষ্টির শিকার হলেন, তখন তিনি আব্বাসের মাধ্যমে বৃষ্টির প্রার্থনা করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ! আমরা যখন অনাবৃষ্টিতে আক্রান্ত হতাম, তখন আপনার কাছে আমাদের নবীর ওসিলা দিতাম এবং আপনি আমাদের বৃষ্টি দান করতেন। এখন আমরা আপনার কাছে আমাদের নবীর চাচার ওসিলা দিচ্ছি, সুতরাং আমাদের বৃষ্টি দান করুন। অতঃপর তাদের বৃষ্টি দান করা হতো। তারা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবরের কাছে এসে এ কথা বলেননি: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য দোয়া করুন এবং আমাদের জন্য বৃষ্টির প্রার্থনা করুন, আমাদের ওপর যা আপতিত হয়েছে সে সম্পর্কে আমরা আপনার কাছে অভিযোগ করছি— এবং এই জাতীয় কিছু। সাহাবীদের কেউ কখনো এমন কাজ করেননি; বরং এটি একটি বিদআত, যার কোনো প্রমাণ আল্লাহ নাজিল করেননি। বরং তারা যখন কোনো কবরের কাছে আসতেন...

(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ২৬)
النبي صلى الله عليه وآله وسلم يسلمون عليه، فإذا أرادوا الدعاء لم يدعوا الله مستقبلي القبر الشريف، بل ينحرفون ويستقبلون القبلة، ويدعون الله وحده لا شريك له كما يدعونه في سائر البقاع.

وذلك أن في " الموطأ " وغيره عنه صلى الله عليه وآله وسلم قال: «اللهم لا تجعل قبري وثنا يعبد، اشتد غضب الله على قوم اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» وفي السنن عنه أنه قال: «لا تتخذوا قبري عيدا، وصلوا علي حيثما كنتم، فإن صلاتكم تبلغني» وفي الصحيح عنه أنه قال في مرضه الذي لم يقم منه: «لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد» يحذر ما فعلوا. قالت عائشة رضي الله عنها وعن أبويها: ولولا ذلك
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওপর তারা সালাম পেশ করেন। অতঃপর যখন তারা দুআ করার ইচ্ছা করেন, তখন তারা সম্মানিত কবরের দিকে মুখ করে আল্লাহর কাছে দুআ করেন না; বরং তারা ঘুরে যান এবং কিবলার দিকে মুখ করেন। আর তারা একমাত্র আল্লাহর কাছেই দুআ করেন, যার কোনো শরিক নেই, যেমনটি তারা অন্যান্য স্থানেও তাঁর কাছে দুআ করে থাকেন।

আর তা এজন্য যে, 'মুওয়াত্তা' ও অন্যান্য কিতাবে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমার কবরকে এমন মূর্তিতে পরিণত করবেন না যার ইবাদত করা হয়। আল্লাহর ক্রোধ সেই কওমের ওপর তীব্র হয়েছে যারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।" এবং সুনান গ্রন্থসমূহে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না এবং তোমরা যেখানেই থাকো আমার ওপর দরুদ পাঠ করো, কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছে থাকে।" আর সহিহ গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর সেই অসুস্থতার সময়—যা থেকে তিনি আর সুস্থ হননি—বলেছিলেন: "আল্লাহ ইহুদি ও নাসারাদের ওপর লানত বর্ষণ করুন, তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করেছে।" তারা যা করেছিল, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক করছিলেন। আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা ও তাঁর পিতা-মাতার ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: "যদি এটি না হতো..."
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ২৭)
لأبرز قبره، ولكن كره أن يتخذ مسجدا، وفي صحيح مسلم عنه صلى الله عليه وآله وسلم أنه قال قبل أن يموت بخمس: «إن من كان قبلكم كانوا يتخذون القبور مساجد، ألا فلا تتخذوا القبور مساجد، فإني أنهاكم عن ذلك» وفي سنن أبي داود عنه قال: «لعن الله زوارات القبور، والمتخذين عليها المساجد والسرج» .

ولهذا قال علماؤنا: لا يجوز بناء المسجد على القبور، وقالوا: إنه لا يجوز أن ينذر لقبر، ولا للمجاورين عند القبر شيئا من الأشياء، لا من درهم، ولا من زيت، ولا من شمع، ولا من حيوان، ولا غير ذلك، كله نذر معصية، وقد ثبت في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم أنه قال: «من نذر أن يطيع الله
যাতে তাঁর কবর প্রকাশ্য করা হতো, কিন্তু এটিকে মসজিদে পরিণত করা অপছন্দ করা হয়েছে। আর সহীহ মুসলিমে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর মৃত্যুর পাঁচ দিন পূর্বে বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তীরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করত; সাবধান, তোমরা কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করো না, আমি তোমাদেরকে এ থেকে নিষেধ করছি।" আর সুনান আবু দাউদে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা অধিক কবর যিয়ারতকারী নারীদের ওপর এবং যারা কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করে ও সেখানে প্রদীপ প্রজ্বলন করে, তাদের ওপর লানত করেছেন।"

এই কারণেই আমাদের উলামায়ে কেরাম বলেছেন: কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করা জায়েজ নেই। তাঁরা আরও বলেছেন: কবরের উদ্দেশ্যে কিংবা কবরের পাশে অবস্থানকারীদের জন্য কোনো কিছুই মানত করা জায়েজ নেই; চাই তা দিরহাম হোক, তেল হোক, মোমবাতি হোক, পশু হোক বা অন্য কিছু—এসবই পাপাচারের মানত। আর সহীহ গ্রন্থে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করে...
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ২৮)
فليطعه، ومن نذر أن يعصي الله فلا يعصه» . واختلف العلماء: هل على الناذر كفارة يمين؟

ولهذا لم يقل أحد من أئمة السلف: أن الصلاة عند القبور وفي مشاهد القبور مستحبة، أو فيها فضيلة، ولا أن الصلاة هناك والدعاء أفضل من الصلاة في غير تلك البقعة والدعاء؛ بل اتفقوا كلهم على أن الصلاة في المساجد والبيوت أفضل من عند القبور - قبور الأنبياء والصالحين - سواء سميت " مشاهد " أو لم تسم.

وقد شرع الله ورسوله في المساجد دون المشاهد أشياء؛ فقال تعالى: {وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ مَنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَى فِي خَرَابِهَا} [البقرة: 114] ولم يقل: المشاهد، وقال تعالى:
...সে যেন তাঁর আনুগত্য করে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার মানত করে সে যেন তাঁর অবাধ্য না হয়।" আর আলেমগণ মতভেদ করেছেন: মানতকারীর ওপর কি শপথের কাফফারা ওয়াজিব হবে?

একারণে সালাফগণের ইমামদের মধ্যে কেউ বলেননি যে, কবরের নিকট এবং কবরের মাজারগুলোতে সালাত আদায় করা মুস্তাহাব, অথবা তাতে কোনো বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, কিংবা সেখানে সালাত ও দোয়া করা ঐ স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও সালাত ও দোয়ার চেয়ে উত্তম; বরং তারা সকলেই এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, মসজিদে এবং ঘরে সালাত আদায় করা কবরের—চাই তা নবীগণের কবর হোক বা নেককারদের—নিকট সালাত আদায়ের চেয়ে উত্তম; চাই সেগুলোকে 'মাজার' বলা হোক বা না হোক।

আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মাজারের পরিবর্তে মসজিদের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় বিধিবদ্ধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তার চেয়ে বড় জালেম কে হতে পারে, যে আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা প্রদান করে এবং সেগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা চালায়?" [আল-বাকারাহ: ১১৪]। তিনি এখানে মাজারের কথা বলেননি। আর মহান আল্লাহ বলেন:
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ২৯)
{وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ} [البقرة: 187] ولم يقل في المشاهد، وقال تعالى: {قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ} [الأعراف: 29] وقال تعالى: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ فَعَسَى أُولَئِكَ أَنْ يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ} [التوبة: 18] وقال تعالى: {وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا} [الجن: 18] وقال صلى الله عليه وآله وسلم: «صلاة الرجل في المسجد تفضل على صلاته في بيته وسوقه بخمس وعشرين ضعفا» وقال صلى الله عليه وآله وسلم: «من بنى لله مسجدا بنى الله له بيتا في الجنة» .

وأما القبور فقد ورد نهيه صلى الله عليه وآله وسلم عن اتخاذها مساجد، ولعن من يفعل ذلك وقد ذكره واحد من الصحابة
{আর তোমরা যখন মসজিদে ইতিকাফ অবস্থায় থাকো} [আল-বাকারা: ১৮৭] এবং তিনি ‘মাশাহেদ’ (সমাধিস্থল) বলেননি, এবং মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, আমার রব ইনসাফের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তোমরা প্রত্যেক মসজিদে তোমাদের চেহারা সোজা রাখো} [আল-আ’রাফ: ২৯] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করবে যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান এনেছে, সালাত কায়েম করেছে, জাকাত প্রদান করেছে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করেনি; অতএব আশা করা যায় তারা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে} [আত-তাওবা: ১৮] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না} [আল-জিন: ১৮] এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «ব্যক্তির মসজিদে আদায় করা সালাত তার ঘরে বা বাজারে আদায় করা সালাতের চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশি মর্যাদা রাখে» এবং তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন»।

আর কবরের বিষয়টি হলো, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম এগুলোকে সিজদাহগাহ (মসজিদ) হিসেবে গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন এবং যে ব্যক্তি এরূপ করে তাকে অভিশাপ দিয়েছেন, আর এটি সাহাবীদের মধ্য থেকে একজন উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিয়ারাতুল কুবুর ওয়াল ইসতিনজাদ বিল মাকবুর (পৃষ্ঠা: ৩০)
والتابعين، كما ذكره البخاري في صحيحه والطبراني وغيره في تفاسيرهم، وذكره وثيمة وغيره في " قصص الأنبياء " في قوله تعالى: {وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا} [نوح: 23] قالوا: هذه أسماء قوم صالحين كانوا من قوم نوح، فلما ماتوا عكفوا على قبورهم، ثم طال عليهم فاتخذوا تماثيلهم أصناما وكان العكوف على القبور والتمسح بها وتقبيلها والدعاء عندها وفيها ونحو ذلك هو أصل الشرك وعبادة الأوثان؛ ولهذا قال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: «اللهم لا تجعل قبري وثنا يعبد» .

واتفق العلماء على أن من زار قبر النبي صلى الله عليه وآله وسلم أو قبر غيره من الأنبياء والصالحين - الصحابة وأهل البيت
এবং তাবিঈগণ, যেমনটি বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং তাবারানী ও অন্যান্যরা তাঁদের তাফসীর গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ করেছেন। আর ওয়াসীমা এবং অন্যান্যরা 'কাসাসুল আম্বিয়া' গ্রন্থে মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায় এটি উল্লেখ করেছেন: "এবং তারা বলেছিল, তোমরা তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না; আর পরিত্যাগ করো না ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াঊক ও নাসরকে।" [নূহ: ২৩] তাঁরা বলেন: এগুলো নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের একদল নেককার লোকের নাম। যখন তাঁরা মৃত্যুবরণ করলেন, তখন লোকেরা তাঁদের কবরে অবস্থান শুরু করল। অতঃপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তারা তাঁদের প্রতিকৃতিগুলোকে মূর্তিতে পরিণত করল। আর কবরে অবস্থান করা, তা স্পর্শ করা, তা চুম্বন করা এবং সেখানে ও তার সন্নিকটে দুআ করা এবং এই জাতীয় কাজগুলোই হলো শিরক ও মূর্তিপূজার মূল ভিত্তি; এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "হে আল্লাহ, আপনি আমার কবরকে এমন মূর্তিতে পরিণত করবেন না যার পূজা করা হয়।"

আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-এর কবর কিংবা অন্যান্য নবী ও নেককার ব্যক্তিগণ—অর্থাৎ সাহাবী এবং আহলে বাইতের সদস্যদের—কবর যিয়ারত করবে