(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: -)
دراسة علم الأديان - أهميتها ومناهج الباحثين فيها - القسم: الفرق والردود
الكتاب: دراسة علم الأديان - أهميتها ومناهج الباحثين فيها -
المؤلف: د. عبد المجيد بن محمد الوعلان
عدد الصفحات: 53
[الكتاب غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 25 صفر 1442
তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন: এর গুরুত্ব এবং গবেষকদের অনুসৃত পদ্ধতিসমূহ - বিভাগ: ফেরকা ও খণ্ডনমূলক শাস্ত্র
গ্রন্থ: তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন - এর গুরুত্ব এবং গবেষকদের অনুসৃত পদ্ধতিসমূহ -
লেখক: ড. আবদুল মাজীদ বিন মুহাম্মাদ আল-ওয়ালান
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩
[গ্রন্থটি মুদ্রিত নয়]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৫ সফর ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১)
دراسة علم الأديان
أهميتها ومناهج الباحثين فيها
د. عبد المجيد بن محمد الوعلان
ধর্মবিজ্ঞান অধ্যায়ন
এর গুরুত্ব এবং এতে গবেষকদের পদ্ধতিসমূহ
ড. আব্দুল মাজীদ বিন মুহাম্মাদ আল-ওয়ালান
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২)
المقدمةالحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره المشركون وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله خاتم الأنبياء والمرسلين صلى الله عليه وعلى آله وصحبه أجمعين ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين أما بعد.
فإن دراسة علم الأديان، أهميتها وضوابطها الشرعية، ومناهج الباحثين فيها قديمًا وحديثًا، وبيان المنهج الحق من حيث التلقي والاستدلال والعرض، من الموضوعات المتعلقة بالعقيدة التي ينبغي العناية بها، "وتأتي أهمية الكتابة في هذا الموضوع من خطورة تلك الديانات الضالة والمذاهب والاتجاهات المنحرفة الهدامة على المسلمين وعلى البشرية أجمع، ولأن المسلم، يجب أن يكون على جانب كبير من الإدراك واليقظة والاهتمام بأمر دينه وأمته، وعلى علم وبصيرة بما يدور حوله من الآراء والمناهج والاتجاهات الضالة التي تعصف بالمسلمين وبالبشرية جمعاء، ليكون خير داع إلى الهدى وخير منقذ من الضلالة.
فالصراع بين الحق والباطل سنة الله في خلقه، والحق لا ينصره إلا من يعرف الخير ويعمل به ويدعو إليه، ويعرف الشر ويجتنبه ويحذر منه"
(1).
وقد اشتمل هذا البحث على مقدمة وتمهيد وخمسة فصول وخاتمة.
أما المقدمة فتشتمل على:
- أهمية البحث.
- خطة البحث.
- منهج البحث.
أما التمهيد فيشتمل على:
- تعريف علم الأديان ومسمياته.
الفصل الأول: - مشروعية دراسة علم الأديان، ويشتمل على ثلاثة مباحث:
- المبحث الأول: - الأدلة من القرآن الكريم.
- المبحث الثاني: - الأدلة من السنة النبوية.
- المبحث الثالث: - الأدلة من آثار الصحابة والسلف.
--------------------------------------------
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন যেন তিনি একে সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি নবী ও রাসূলগণের মোহর (সর্বশেষ নবী)। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর...
ধর্মতত্ত্ব (ইলমুল আদইয়ান) অধ্যয়ন, এর গুরুত্ব ও শরয়ী নীতিমালা, এবং এ ক্ষেত্রে প্রাচীন ও আধুনিক গবেষকদের অনুসৃত পদ্ধতিসমূহ আলোচনা করা এবং গ্রহণ, দলীল উপস্থাপন ও বর্ণনার ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতিটি স্পষ্ট করা আকিদাহ বা বিশ্বাস সংক্রান্ত এমন সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যেগুলোর প্রতি বিশেষ যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। "এই বিষয়ে রচনার গুরুত্ব মূলত মুসলিম উম্মাহ ও সমগ্র মানবজাতির ওপর সেসব পথভ্রষ্ট ধর্ম এবং বিচ্যুত ও ধ্বংসাত্মক মতবাদ ও চিন্তাধারার ভয়াবহতা থেকে উদ্ভূত। যেহেতু একজন মুসলিমকে তার দ্বীন ও উম্মাহর বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন, সতর্ক এবং যত্নবান হতে হয় এবং তার চারপাশে বিদ্যমান সেসব ভ্রান্ত মতামত, পদ্ধতি ও প্রবণতা সম্পর্কে জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি রাখতে হয় যা মুসলিমদের এবং সমগ্র মানবজাতিকে বিপর্যস্ত করছে, যাতে সে হিদায়াতের দিকে সর্বোত্তম আহ্বানকারী এবং গোমরাহি থেকে সর্বোত্তম উদ্ধারকারী হতে পারে।
কেননা সত্য ও মিথ্যার দ্বন্দ্ব সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর একটি চিরাচরিত নিয়ম। আর সত্যকে কেবল তারাই সাহায্য করতে পারে যারা কল্যাণকে চেনে, তদনুযায়ী আমল করে ও তার দিকে দাওয়াত দেয় এবং মন্দকে চেনে, তা পরিহার করে ও সে সম্পর্কে সতর্ক করে"
(১)।
এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, পাঁচটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।
ভূমিকাটি নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ নিয়ে গঠিত:
- গবেষণার গুরুত্ব।
- গবেষণার পরিকল্পনা।
- গবেষণার পদ্ধতি।
উপক্রমণিকাটি নিম্নোক্ত বিষয় নিয়ে গঠিত:
- ধর্মতত্ত্বের সংজ্ঞা ও এর বিভিন্ন নামকরণ।
প্রথম অধ্যায়: ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের শরয়ী বৈধতা। এটি তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
- প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআন থেকে প্রাপ্ত দলীলসমূহ।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ নববী থেকে প্রাপ্ত দলীলসমূহ।
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবী ও সালফে সালেহীনের আছার (বর্ণনা) থেকে প্রাপ্ত দলীলসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
الفصل الثاني: - فوائد دراسة علم الأديان، ويشتمل على خمسة مباحث:
- المبحث الأول: - حفظ الإسلام.
- المبحث الثاني: - دعوة الكفار إلى الإسلام.
- المبحث الثالث: - الرد على شبهات أهل الديانات.
- المبحث الرابع: - العبرة والعظة.
- المبحث الخامس: - استبانة سبيل المجرمين.
الفصل الثالث: الضوابط الشرعية لدراسة علم الأديان، ويشتمل على سبعة ضوابط:
- الضابط الأول: الإخلاص.
- الضابط الثاني: العلم.
- الضابط الثالث: تقديم المصلحة والمفسدة في دراسة علم الأديان.
- الضابط الرابع: الرجوع إلى المصادر.
- الضابط الخامس: التجرد من الهوى.
- الضابط السادس: العدل والإنصاف.
- الضابط السابع: الالتزام بالمصطلحات الشرعية.
الفصل الرابع: مناهج الباحثين في دراسة علم الأديان بصفة عامة، ويشتمل على أربعة مباحث:
- المبحث الأول: التعريف بهذا العلم.
- المبحث الثاني: أهمية مناهج البحث.
- المبحث الثالث: علاقة هذا العلم بعلم الأديان.
- المبحث الرابع: مناهج البحث ويشتمل على ستة مطالب:
المطلب الأول: المنهج التاريخي الوصفي.
المطلب الثاني: المنهج التحليلي النقدي.
المطلب الثالث: المنهج المقارن.
المطلب الرابع: المنهج العلمي التجريبي.
المطلب الخامس: منهج الجدال والرد والمحاجة.
المطلب السادس: المنهج العلمي الشامل في دراسة الأديان.
দ্বিতীয় অধ্যায়: - ধর্মবিজ্ঞান অধ্যয়নের উপকারিতা, এবং এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:
- প্রথম পরিচ্ছেদ: - ইসলাম রক্ষা।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: - অমুসলিমদের ইসলামের দাওয়াত।
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: - বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সংশয়সমূহের খণ্ডন।
- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: - শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ।
- পঞ্চম পরিচ্ছেদ: - অপরাধীদের পথ স্পষ্ট করা।
তৃতীয় অধ্যায়: ধর্মবিজ্ঞান অধ্যয়নের শরয়ী নীতিমালা, এবং এটি সাতটি নীতিমালাকে অন্তর্ভুক্ত করে:
- প্রথম নীতিমালা: ইখলাস বা নিষ্ঠা।
- second নীতিমালা: ইলম বা জ্ঞান।
- তৃতীয় নীতিমালা: ধর্মবিজ্ঞান অধ্যয়নের ক্ষেত্রে কল্যাণ ও অকল্যাণের বিবেচনা।
- চতুর্থ নীতিমালা: মূল উৎসসমূহের প্রতি প্রত্যাবর্তন।
- পঞ্চম নীতিমালা: খেয়াল-খুশি বা প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত থাকা।
- ষষ্ঠ নীতিমালা: ন্যায়বিচার ও ইনসাফ।
- সপ্তম নীতিমালা: শরয়ী পরিভাষাগুলোর অনুসরণ।
চতুর্থ অধ্যায়: সাধারণভাবে ধর্মবিজ্ঞান অধ্যয়নে গবেষকদের গবেষণা পদ্ধতিসমূহ, এবং এটি চারটি পরিচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:
- প্রথম পরিচ্ছেদ: এই বিজ্ঞানের পরিচয়।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গবেষণা পদ্ধতির গুরুত্ব।
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মবিজ্ঞানের সাথে এই বিজ্ঞানের সম্পর্ক।
- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গবেষণা পদ্ধতিসমূহ, এবং এটি ছয়টি অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: বর্ণনামূলক ঐতিহাসিক পদ্ধতি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সমালোচনামূলক বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তুলনামূলক পদ্ধতি।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণ পদ্ধতি।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: বিতর্ক, খণ্ডন ও যুক্তিনির্ভর পদ্ধতি।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: ধর্ম অধ্যয়নের ক্ষেত্রে সমন্বিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
الفصل الخامس: منهج أهل السنة في دراسة الأديان، ويشتمل على ثلاثة مباحث:
- المبحث الأول: منهج التلقي ومصادر الاستدلال.
- المبحث الثاني: منهج الاستدلال.
- المبحث الثالث: منهج العرض والرد.
الفصل السادس: مناهج المخالفين لأهل السنة في دراسة علم الأديان ونقدها، ويشتمل على أربعة مباحث:
- المبحث الأول: مناهج أهل الكلام في دراسة علم الأديان.
- المبحث الثاني: الأسس المنهجية لدراسة الأديان عند أهل الكلام ونقدها.
- المبحث الثالث: مناهج الكفار في دراسة علم الأديان
- المبحث الرابع: مناهج المستشرفين في دراسة علم الأديان والملل وتقويمه وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: المسلمات التي انطلق منها المستشرقون.
المطلب الثاني: منهج المستشرقين في دراسة الأديان.
المطلب الثالث: أساليب المستشرقين في الدراسات الإسلامية.
أما الخاتمة فقد ذكرت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها.
أما منهجي في البحث فهو كالتالي:
1 - عزو الآيات إلى أماكنها في القرآن، وذلك ببيان اسم السورة ورقم الآية ووضعها بين قوسين {}.
2 - تخريج الأحاديث والآثار وذلك بذكر المصدر ورقم الحديث إن وجد ورقم الجزء والصفحة.
3 - عمل فهرس للمراجع.
4 - عمل فهرس للموضوعات.
أسأل الله سبحانه وتعالى أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم.
والله أعلم وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
د: عبد المجيد بن محمد الوعلان
awalaan@gmail.com
পঞ্চম অধ্যায়: ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নে আহলুস সুন্নাহর মানহাজ (পদ্ধতি), যা তিনটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
- প্রথম পরিচ্ছেদ: জ্ঞান আহরণ পদ্ধতি ও দলীল গ্রহণের উৎসসমূহ।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি।
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উপস্থাপন ও খণ্ডন পদ্ধতি।
ষষ্ঠ অধ্যায়: ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নে আহলুস সুন্নাহর বিরোধীদের অনুসৃত পদ্ধতিসমূহ ও সেগুলোর সমালোচনা, যা চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
- প্রথম পরিচ্ছেদ: ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নে আহলুল কালামের পদ্ধতিসমূহ।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আহলুল কালামের ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের পদ্ধতিগত মূলনীতি ও সেগুলোর সমালোচনা।
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নে কাফিরদের পদ্ধতিসমূহ।
- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ধর্মতত্ত্ব ও ধর্মমত অধ্যয়নে প্রাচ্যবিদদের পদ্ধতি ও তার মূল্যায়ন, এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: প্রাচ্যবিদদের গৃহীত স্বতঃসিদ্ধ ধারণাসমূহ।
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নে প্রাচ্যবিদদের পদ্ধতি।
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: ইসলামি গবেষণায় প্রাচ্যবিদদের কর্মপন্থা।
উপসংহারে আমি গবেষণালব্ধ প্রধান ফলাফলগুলো উল্লেখ করেছি।
গবেষণায় আমার অনুসৃত পদ্ধতি নিম্নরূপ:
১ - কুরআনের আয়াতসমূহকে সংশ্লিষ্ট সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে উদ্ধৃত করা এবং তা এই বন্ধনীতে {} রাখা।
২ - হাদীস ও আছারসমূহের তাখরীজ করা, এক্ষেত্রে মূল উৎস, হাদীস নম্বর (যদি থাকে), খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করা।
৩ - সহায়ক গ্রন্থপঞ্জি তৈরি করা।
৪ - বিষয়সূচি তৈরি করা।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কাজটিকে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন।
আল্লাহই সর্বজ্ঞাত। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীসাথীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
ডঃ আব্দুল মাজীদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়ালান
awalaan@gmail.com
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
التمهيد
تعريف علم الأديان ومسمياته:هو العلم الذي يعني بمقالات الأمم الكافرة؛ فالمقالات عموماً تنقسم إلى قسمين:
القسم الأول: المقالات الواقعة في هذه الأمة.
القسم الثاني: مقالات الأمم الأخرى.
ولذلك لما ألف أبو الحسن الأشعري في علم المقالات، أَلفَ كتابا سماه "مقالات الإسلاميين" وكتابا آخر سماه "مقالات غير الإسلاميين".
ولكن الذي استقر عليه الحال في الوقت الحاضر هو الفصل بين هذين النوعين من المقالات، بتسمية مقالات غير الإسلاميين بـ "علم الأديان"، وتسمية مقالات الإسلاميين بـ "علم الفرق".
ومن المعلوم أنه في العصر الراهن شققت بعض العلوم وفرع عنها عدة علوم، ومن ذلك علم المقالات الذي تفرع إلى العلوم التالية:
1 - علم الفرق.
2 - علم الأديان.
3 - علم المذاهب المعاصرة
(1).
وعلم الأديان له عدة مصطلحات منها: تاريخ الأديان ومقارنة الأديان، والمقالات، والملل والنحل.
ويذكر الباحثون
(2) بأن علم الأديان يشتمل على ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: تاريخ الأديان: وهي تلك الدراسة الوصفية، التحليلية الخاصة بملةٍ ملة، وهي التي يمكن أن تعرفنا نشأة ديانة ما، وحياة مؤسسها
… وأسباب انتشارها وألوان تطورها.
المبحث الثاني: الأسس والمبادئ: ويدرس في هذا المبحث العلاقات بين الأسس التي تستند إليها الأديان المختلفة، من عقيدة وعبادة وشريعة وأخلاق ومعاملات، والغايات التي تهدف إليها، ومن أهم الموضوعات في هذا المبحث موضوع الألوهية.
المبحث الثالث: مقارنة الأديان: ويدرس فيه خصائص ومميزات كل دين، ويوازن بينها وبين خصائص ومميزات الأديان الأخرى
(3).
--------------------------------------------
ভূমিকা
ধর্মতত্ত্বের সংজ্ঞা ও এর নামসমূহ:এটি এমন একটি শাস্ত্র যা অবিশ্বাসী জাতিসমূহের ধর্মীয় মতবাদ বা আকিদা নিয়ে আলোচনা করে। সাধারণভাবে মতবাদসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথম ভাগ: এই উম্মতের মধ্যে উদ্ভূত মতবাদসমূহ।
দ্বিতীয় ভাগ: অন্যান্য জাতির মতবাদসমূহ।
এই কারণেই যখন আবুল হাসান আল-আশআরী মতবাদ শাস্ত্র (ইলমুল মাকালাত) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন, তখন তিনি একটি বইয়ের নাম দিয়েছিলেন "মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন" (মুসলিমদের মতবাদসমূহ) এবং অন্য একটি বইয়ের নাম দিয়েছিলেন "মাকালাতু গাইরিল ইসলামিয়্যিন" (অ-মুসলিমদের মতবাদসমূহ)।
তবে বর্তমান সময়ে যে বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা হলো এই দুই ধরণের মতবাদের মধ্যে পার্থক্য করা; অ-মুসলিমদের মতবাদকে "ধর্মতত্ত্ব" (ইলমুল আদইয়ান) এবং মুসলিমদের অভ্যন্তরীণ উপদলীয় মতবাদকে "উপদলীয় শাস্ত্র" (ইলমুল ফিরাক) হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।
এটা সুবিদিত যে বর্তমান যুগে কিছু শাস্ত্র হতে বেশ কিছু শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে মতবাদ শাস্ত্র (ইলমুল মাকালাত) অন্যতম, যা নিম্নোক্ত শাখাগুলোতে বিভক্ত হয়েছে:
১ - উপদলীয় শাস্ত্র (ইলমুল ফিরাক)।
২ - ধর্মতত্ত্ব (ইলমুল আদইয়ান)।
৩ - সমকালীন মতবাদ শাস্ত্র
(১)।
ধর্মতত্ত্বের বেশ কিছু পরিভাষা রয়েছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ধর্মের ইতিহাস, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব, মাকালাত এবং আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল।
গবেষকগণ উল্লেখ করেন যে
(২) ধর্মতত্ত্ব তিনটি প্রধান আলোচ্য বিষয় বা পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ধর্মের ইতিহাস: এটি প্রতিটি ধর্মের একটি বর্ণনামূলক ও বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়ন, যা আমাদের কোনো ধর্মের উদ্ভব, এর প্রবর্তকের জীবন
... এবং এর প্রসারের কারণ ও বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মূলনীতি ও ভিত্তি: এই পরিচ্ছেদে বিভিন্ন ধর্মের মৌলিক ভিত্তিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে আকিদা (বিশ্বাস), ইবাদত, শরীয়ত, নৈতিকতা ও লেনদেন, এবং এগুলোর অভীষ্ট লক্ষ্যসমূহ। এই পরিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো উলুহিয়াত বা ঈশ্বরতত্ত্ব।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব: এতে প্রতিটি ধর্মের বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং সেগুলোর সাথে অন্যান্য ধর্মের বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্যের তুলনা ও সমতা নিরূপণ করা হয়
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
الفصل الأول: مشروعية دراسة علم الأديانالمتأمل في نصوص القرآن الكريم والسنة النبوية يجد أن هناك عناية بجانب علم الأديان، فقد أوردت النصوص عددًا من الأديان وذكرت جانبًا من عقائدها، والتي كان بعضها على الحق ثم حرفت، فذكر على سبيل المثال اليهودية، والنصرانية، والصابئة، وعبادة الأصنام وغيرها. ثم بينت النصوص مخالفتها للحق وزيفها وحذرت منها وذمت أصحابها وسنذكر إن شاء الله تعالى الأدلة على ذلك.
المبحث الأول: الأدلة من القرآن الكريم:لقد جاء ذكر الأديان في القرآن بشكل واضح وكبير وقد جمعت بعض الآيات ستة من الأديان وهي قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئِينَ وَالنَّصَارَى وَالْمَجُوسَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا إِنَّ اللَّهَ يَفْصِلُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ (17)} [الحج: 17]
(1).
ومن الآيات التي جاء فيها ذكر الديانات وشيء من عقائدها، والرد عليها قوله تعالى: {مَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَهُودِيًّا وَلَا نَصْرَانِيًّا وَلَكِنْ كَانَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ (67)} [آل عمران: 67]
(2). وقوله تعالى: {وَقَفَّيْنَا عَلَى آثَارِهِمْ بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَآتَيْنَاهُ الْإِنْجِيلَ فِيهِ هُدًى وَنُورٌ وَمُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ (46)} [المائدة: 46]
(3).
وقوله تعالى: {وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِيهِ لَفِي شَكٍّ مِنْهُ مَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِلَّا اتِّبَاعَ الظَّنِّ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِينًا (157) بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا (158)} [النساء: 157 - 158]
(4). إلى غير ذلك من الآيات.
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: ধর্মবিজ্ঞান অধ্যয়নের বৈধতাপবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, সেখানে ধর্মবিজ্ঞানের বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই ভাষ্যসমূহ বহু ধর্মের কথা উল্লেখ করেছে এবং তাদের কতিপয় বিশ্বাসের বর্ণনা দিয়েছে, যার কিছু সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল কিন্তু পরবর্তীতে বিকৃত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ—ইহুদি ধর্ম, খ্রিস্টধর্ম, সাবেয়ি ধর্ম, মূর্তিপূজা ইত্যাদির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অতঃপর এই ভাষ্যসমূহ সত্যের সাথে তাদের বৈপরীত্য ও অসারতা স্পষ্ট করেছে এবং সেগুলো থেকে সতর্ক করেছে ও তাদের অনুসারীদের নিন্দা জ্ঞাপন করেছে। ইনশাআল্লাহ তাআলা, অচিরেই আমরা এর সপক্ষে প্রমাণাদি উল্লেখ করব।
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআন থেকে প্রমাণাদি:কুরআনে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ও বিস্তারিতভাবে বিভিন্ন ধর্মের কথা এসেছে। কোনো কোনো আয়াতে ছয়টি ধর্মের একত্র সমাবেশ ঘটেছে, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং যারা ইহুদি হয়েছে, সাবেয়ি, খ্রিস্টান, অগ্নিপূজক ও যারা শিরক করেছে; নিশ্চয় আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী। (১৭)} [আল-হাজ্ব: ১৭]
(১)।
যেসব আয়াতে বিভিন্ন ধর্ম ও তাদের বিশ্বাসের কিয়দংশ উল্লেখিত হয়েছে এবং সেগুলোর খণ্ডন করা হয়েছে, তার মধ্যে আল্লাহ তাআলার বাণী অন্যতম: {ইব্রাহিম ইহুদি ছিলেন না এবং খ্রিস্টানও ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। (৬৭)} [আলে ইমরান: ৬৭]
(২)। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আমি তাদের পদচিহ্নের ওপর মারইয়াম-তনয় ঈসাকে পাঠিয়েছিলাম তার সম্মুখে বিদ্যমান তাওরাতের সত্যায়নকারীরূপে এবং তাকে প্রদান করেছিলাম ইনজিল, যাতে রয়েছে হিদায়াত ও নূর এবং তা তার সম্মুখে বিদ্যমান তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত ও উপদেশস্বরূপ। (৪৬)} [আল-মায়িদাহ: ৪৬]
(৩)।
এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে ক্রুশবিদ্ধও করেনি, বরং তাদের জন্য (এক ব্যক্তিকে তার) সদৃশ করা হয়েছিল। আর নিশ্চয় যারা এ ব্যাপারে মতভেদ করেছে, তারা অবশ্যই এ বিষয়ে সংশয়ে রয়েছে। এ বিষয়ে অনুমানের অনুসরণ ছাড়া তাদের কোনো জ্ঞান নেই। আর তারা তাকে নিশ্চিতভাবে হত্যা করেনি। (১৫৭) বরং আল্লাহ তাকে নিজের দিকে তুলে নিয়েছেন এবং আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (১৫৮)} [আন-নিসা: ১৫৭ - ১৫৮]
(৪)। এ ছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
المبحث الثاني: - الأدلة من السنة:السنة هي الوحي الثاني وقد جاء فيها من ذكر الأديان مثل ما جاء في القرآن الكريم حتى أن النبي صلى الله عليه وسلم لا يزال يذكر هذه الديانات ويحذر منها حتى عند وفاته حيث يقول صلى الله عليه وسلم: " لعنة الله على اليهود والنصارى اتخذوا قبور أنبيائهم مساجد"
(1).
وقد عرف النبي صلى الله عليه وسلم أمته "الأنبياء وأممهم، وما جرى لهم وما جرى عليه معهم، حتى كأنهم كانوا بينهم"
(2). ولذلك تجد في كتب السنة كتباً وأبواباً تتحدث عن الأنبياء، مثل كتاب أحاديث الأنبياء في صحيح البخاري.
ومن الأدلة على ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "بلغوا عني ولو آية وحدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج، ومن كذب علي متعمداً فليتبوأ مقعده من النار"
(3)، وقوله صلى الله عليه وسلم: تفرقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة أو اثنتين وسبعين فرقة، والنصارى مثل ذلك، وستفترق أمتي على ثلاث وسبعين فرقة"
(4)، إلى غير ذلك من الأحاديث.
المبحث الثالث: الأدلة من آثار الصحابة والسلف:الصحابة هم الجيل الذي اختارهم الله لصحبه نبيه صلى الله عليه وسلم، ولذلك فهم أعلم الناس بمراد الله ومراد رسوله صلى الله عليه وسلم وهم خير القرون بشهادة النبي صلى الله عليه وسلم لهم حيث قال: " خير الناس قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم"
(5).
ومواقف الصحابة في ذلك كثيرة منها: محاورة جعفر بن أبي طالب مع النجاشي وفد قريش
(6). وجدال أبي بكر رضي الله عنه مع اليهود
(7)، وجدال عمر رضي الله عنه مع اليهود
(8).
تلك بعض الإشارات عما حواه كتاب الله عز وجل وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم وهدي أصحابه رضي الله عنهم من ذكر الأديان الباطلة ومجادلة أهلها مما يؤكد ضرورة الاهتمام بتلك الأديان بقصد بيان زيغها وفسادها والرد عليها والتحذير منها ومن الوقوع فيها.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ থেকে প্রমাণাদি:সুন্নাহ হলো ওহীর দ্বিতীয় উৎস এবং এতে অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে আলোচনা ঠিক সেভাবেই এসেছে যেভাবে পবিত্র কুরআনে এসেছে। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মৃত্যুর সময় পর্যন্ত এই ধর্মগুলো সম্পর্কে উল্লেখ করতেন এবং এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করতেন। যেমনটি তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন: "ইয়াহুদি ও নাসারাদের ওপর আল্লাহর লানত (অভিশাপ), তারা তাদের নবীদের কবরসমূহকে মসজিদে (সেজদাহগাহ) পরিণত করেছে"
(১)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে "নবীগণ ও তাঁদের জাতিসমূহ, তাদের সাথে যা ঘটেছিল এবং নবীদের সাথে তাদের যা আচরণ ছিল সে সম্পর্কে অবগত করেছেন, এমনকি মনে হতো তারা যেন তাদের মাঝেই বিদ্যমান ছিল"
(২)। এই কারণেই আপনি সুন্নাহর গ্রন্থগুলোতে এমন অনেক অধ্যায় ও অনুচ্ছেদ পাবেন যা নবীগণ সম্পর্কে আলোচনা করে, যেমন সহীহ বুখারীর ‘কিতাব আহাদিসুল আম্বিয়া’ (নবীগণের হাদীস অধ্যায়)।
এই বিষয়ের প্রমাণাদির মধ্যে রয়েছে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী: "আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও এবং বনী ইসরাঈল থেকে বর্ণনা করো, এতে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়"
(৩)। এবং তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণী: "ইয়াহুদিরা একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, নাসারারাও অনুরূপ দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং অচিরেই আমার উম্মত তেহাত্তর দলে বিভক্ত হবে"
(৪)। এছাড়াও আরও অনেক হাদীস রয়েছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সাহাবী ও সালাফদের আছার (বর্ণনা) থেকে প্রমাণাদি:সাহাবীগণ হলেন সেই প্রজন্ম যাদের আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছেন। তাই তাঁরা আল্লাহর উদ্দেশ্য এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত ছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষ্য অনুযায়ী তাঁরাই সর্বোত্তম প্রজন্ম; তিনি বলেছেন: "সর্বোত্তম মানুষ হলো আমার যুগের তারা, তারপর তাদের পরবর্তী যারা, তারপর তাদের পরবর্তী যারা"
(৫)।
এই বিষয়ে সাহাবীদের অসংখ্য অবস্থান লক্ষ্য করা যায়, যার মধ্যে রয়েছে: নাজ্জাশী ও কুরাইশ প্রতিনিধিদের সম্মুখে জাফর ইবনে আবি তালিবের কথোপকথন
(৬), ইয়াহুদিদের সাথে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিতর্ক
(৭) এবং ইয়াহুদিদের সাথে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিতর্ক
(৮)।
এগুলো হলো মহান আল্লাহর কিতাব, তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ এবং তাঁর সাহাবীদের রাদিয়াল্লাহু আনহুম জীবনপদ্ধতি থেকে প্রাপ্ত কিছু দিকনির্দেশনা, যেখানে ভ্রান্ত ধর্মগুলোর উল্লেখ এবং তাদের অনুসারীদের সাথে বিতর্কের বিষয়টি এসেছে। এটি এই বিষয়ের গুরুত্বকে নিশ্চিত করে যে, বাতিল ধর্মগুলোর বিচ্যুতি ও অসারতা স্পষ্ট করা, সেগুলোর খণ্ডন করা এবং সেগুলো থেকে ও সেগুলোর ফাঁদে পড়া থেকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে সেগুলোর প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা প্রয়োজন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الثاني: فوائد دراسة علم الأديان
المبحث الأول: حفظ الإسلام:"لما كان محمد صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين، ولم يكن بعده رسول، لم يزل سبحانه وتعالى يقيم لتجديد الدين من الأسباب ما يكون مقتضياً لظهوره، كما وعد به في الكتاب، فيظهر به محاسن الإيمان ومجامعه، ويعرف به مساوئ الكفر ومفاسده.
ومن أعظم أسباب ظهور الإيمان والدين، وبيان حقيقة أنباء المرسلين، ظهور المعارضين له من أهل الإفك المبين كما قال تعالى: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنْسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ (112) وَلِتَصْغَى إِلَيْهِ أَفْئِدَةُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَلِيَرْضَوْهُ وَلِيَقْتَرِفُوا مَا هُمْ مُقْتَرِفُونَ (113) أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِي حَكَمًا وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتَابَ مُفَصَّلًا وَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ مُنَزَّلٌ مِنْ رَبِّكَ بِالْحَقِّ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ (114) وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ (115)} [الأنعام: 112 - 115].
(1)وذلك أن الحق - إذا جحد وعورض بالشبهات- أقام الله تعالى- له مما يحق به الحق ويبطل به الباطل من الآيات البينات بما يظهره من أدلة الحق وبراهينه الواضحة، وفساد ما عارضه من الحجج الداحضة"
(2).
المبحث الثاني: دعوة الكفار إلى الإسلام:"إن الهدف الأول والأساس من دراسة الأديان عند المسلمين هو دعوة أهله إلى الإسلام وذلك انطلاقاً من الإيمان بوجوب الدعوة، فقد ورد في الأمر بالدعوة نصوص كثيرة منها: قوله تعالى {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [النحل: 125]
(3). وقال تعالى: {(14) فَلِذَلِكَ فَادْعُ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ} [الشورى: 15]
(4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের উপকারিতা
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসলাম সংরক্ষণ:"যেহেতু মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন সর্বশেষ নবী এবং তাঁর পরে আর কোনো রাসূল নেই, তাই মহান আল্লাহ সর্বদা দ্বীন পুনর্জাগরণের জন্য এমন সব কারণ ও উপকরণ জারি রেখেছেন যা দ্বীনের বিজয়ের দাবি রাখে, যেমনটি তিনি কিতাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ঈমানের সৌন্দর্য ও এর সামগ্রিক কল্যাণ প্রকাশিত হয় এবং কুফরের বীভৎসতা ও এর অপকারিতা চিহ্নিত হয়।
ঈমান ও দ্বীনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ এবং রাসূলগণের আনীত সংবাদের সত্যতা স্পষ্ট হওয়ার অন্যতম মহত্তম কারণ হলো, সুস্পষ্ট মিথ্যাচারী ও বাতিলপন্থীদের পক্ষ থেকে এর বিরোধিতার উদ্ভব ঘটা। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর এভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্য মানুষ ও জিনের মধ্য থেকে শয়তানদের শত্রু বানিয়েছি, তারা ধোঁকা দেওয়ার জন্য একে অপরকে অলংকৃত কথার কুমন্ত্রণা দেয়। যদি আপনার পালনকর্তা চাইতেন তবে তারা তা করত না; সুতরাং আপনি তাদেরকে ও তাদের মিথ্যাচারকে বর্জন করুন। (১১২) আর তা এই জন্য যে, যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর যেন সেদিকে ঝুঁকে পড়ে এবং তারা যেন তাতে সন্তুষ্ট হয় এবং তারা যা অর্জন করছে তা যেন অর্জন করে। (১১৩) তবে কি আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো বিচারক অনুসন্ধান করব? অথচ তিনিই তোমাদের প্রতি বিস্তারিত কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। আর যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা জানে যে, এটি আপনার পালনকর্তার পক্ষ থেকে সত্যসহ অবতীর্ণ হয়েছে; সুতরাং আপনি সংশয়বাদীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। (১১৪) আপনার পালনকর্তার বাণী সত্য ও ন্যায়ের দিক দিয়ে পূর্ণ হয়েছে, তাঁর বাণী পরিবর্তন করার কেউ নেই; আর তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (১১৫)} [সূরা আল-আনআম: ১১২ - ১১৫]।
(১)আর এর কারণ হলো, সত্য যখন প্রত্যাখ্যাত হয় এবং সংশয় দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন আল্লাহ তাআলা সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এবং বাতিলকে নস্যাৎ করার জন্য এমন সব সুস্পষ্ট নিদর্শন ও উজ্জ্বল দলীলসমূহ প্রকাশ করেন যা সত্যের অকাট্য প্রমাণাদিকে মূর্ত করে তোলে এবং বিরোধিতাকারীদের অসার যুক্তিগুলোর অসারতা প্রমাণ করে।"
(২)
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অমুসলিমদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়া:"মুসলিমদের নিকট ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট ধর্মের অনুসারীদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়া। আর এটি দাওয়াতের আবশ্যকতা সম্পর্কে বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। দাওয়াতের নির্দেশে অনেক নস বা পাঠ বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি আপনার পালনকর্তার পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সর্বোত্তম পন্থায়} [সূরা আন-নাহল: ১২৫]
(৩)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {(১৪) সুতরাং আপনি সেই দিকেই দাওয়াত দিন এবং সেভাবেই অবিচল থাকুন যেভাবে আপনি আদিষ্ট হয়েছেন} [সূরা আশ-শূরা: ১৫]
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقد قام النبي صلى الله عليه وسلم بالدعوة إلى الله امتثالاً لأمر ربه فدعا جميع أهل الأديان إلى الإسلام، فأرسل رسله إلى جميع ملوك الأرض، وحاور جميع الأصناف المخالفين للحق، وخاصة أهل الكتاب قال تعالى: {قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ (64)} [آل عمران: 64]
(1) "
(2).
المبحث الثالث: الرد على شبهات أهل الأديان:في تاريخ الأديان والملل لم يتعرض دين ولا ملة مثلما تعرض له دين الإسلام من خصومه من محاولات لتشويهه وتحريفه، وإثارة الشبهات حوله، فقد تعرضت أصوله وفروعه هجوماً شرساً منذ أن وقف النبي صلى الله عليه وسلم يصدع بدعوة الحق مبلغاً رسالة ربه، ومنادياً للناس أن يدخلوا دين الله الحق، وأن ينبذوا ما سواه من الأديان والملل.
من ذلك الوقت أعلن أهل الباطل حربهم على الإسلام، وكانت إثارة الشبهات، والشكوك أهم الأسباب، وأنجع الوسائل عندهم، وكان القرآن يتصدى لشبهاتهم، ويفندها بالحجج، والبراهين القاطعة، قال تعالى: {وَلَا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا (33)} [الفرقان: 33]
(3).
فالله يخبر رسوله بأنهم لا يأتون بحجة، أو شبهة، ولا يقولون قولا يعترضون به الحق، إلا أجبناهم بما هو الحق في نفس الأمر، وأبين، وأوضح، وأفصح من مقالاتهم
(4).
ولما قام أعداء الدين بإثارة الشبهات، والشكوك بين المسلمين، وبدأوا يبتدعون أموراً لا أصل لها في الدين، ويفرقون بين المسلمين، قام علماء المسلمين بحق الله عليهم فكشفوا صنوف المؤامرات التي كانت ضد الإسلام، فردوا الشبهات التي كان أهل الأديان يبثونها بين المسلمين في محاولاتهم اليائسة لوقف زحف الإسلام، وبذلك انتصر الإسلام في ميدان الفكر كانتصاره في ميدان الجهاد بالسنان.
إن كشف زيف الباطل، وبيان الشبهات التي يختلقها أهل الباطل، وردها رداً محكماً أصل عظيم من أصول الإسلام، وباب من أبواب الجهاد، قال شيخ الإسلام ابن تيمية: " فالراد على أهل البدع مجاهد"
(5). ونقل عن يحيى بن يحيى أنه قال: "الذب عن السنة أفضل الجهاد"
(6). وقال الشيخ بكر أبو زيد: " فالرد على أهل الباطل، ومجادلتهم ومناظرتهم حتى تنقطع شبهتهم، ويزول عن المسلمين ضررهم مرتبة من منازل الجهاد باللسان، والقلم أحد اللسانين"
(7). وبهذا تتم حماية الدين وحراسته
(8).
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রবের নির্দেশ পালনার্থে আল্লাহর দিকে দাওয়াত প্রদান করেছেন এবং সকল ধর্মাবলম্বীকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পৃথিবীর সকল রাজন্যবর্গের নিকট তাঁর দূত প্রেরণ করেছিলেন এবং সত্যের বিরোধিতাকারী সকল শ্রেণীর সাথে সংলাপে লিপ্ত হয়েছিলেন, বিশেষ করে আহলে কিতাবদের সাথে। মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, ‘হে কিতাবীগণ! তোমরা এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা হলো, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করব না এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব হিসেবে গ্রহণ করবে না।’ অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে তোমরা বলো, ‘ তোমরা সাক্ষী থাকো যে, নিশ্চয় আমরা মুসলিম’" (আলে ইমরান: ৬৪)
(১) "
(২).
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সংশয়সমূহের খণ্ডন:ধর্ম ও মতাদর্শের ইতিহাসে ইসলাম ধর্মকে বিকৃত ও পরিবর্তিত করার এবং এর সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টির লক্ষ্যে শত্রুদের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ অপপ্রয়াস চালানো হয়েছে, অন্য কোনো ধর্ম বা মতাদর্শকে তা পোহাতে হয়নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন থেকে সত্যের দাওয়াত নিয়ে দণ্ডায়মান হয়ে তাঁর রবের রিসালাত প্রচার শুরু করেন এবং মানুষকে আল্লাহর সত্য দ্বীনে প্রবেশ করতে ও অন্য সকল ধর্ম ও মতাদর্শ বর্জন করার আহ্বান জানান, তখন থেকেই ইসলামের মৌলিক ও শাখা বিষয়গুলো প্রচণ্ড আক্রমণের শিকার হয়েছে।
সেই সময় থেকেই বাতিলপন্থীরা ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করা ছিল তাদের নিকট প্রধান কারণ ও সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। আর পবিত্র কুরআন তাদের এসকল সংশয়ের মোকাবিলা করত এবং অকাট্য যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে তা খণ্ডন করত। মহান আল্লাহ বলেন: "তারা তোমার কাছে এমন কোনো সমস্যাই নিয়ে আসে না, যার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি তোমাকে দান করি না" (আল-ফুরকান: ৩৩)
(৩)।
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে অবহিত করছেন যে, তারা সত্যের বিরোধিতায় এমন কোনো যুক্তি বা সংশয় উপস্থাপন করে না অথবা এমন কোনো কথা বলে না, যার উত্তর আমি যথাযথ সত্যের মাধ্যমে এবং তাদের বক্তব্যের চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট, পরিষ্কার ও প্রাঞ্জলভাবে প্রদান করি না
(৪)।
যখন দ্বীনের শত্রুরা মুসলিমদের মধ্যে সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করতে শুরু করল এবং ধর্মে ভিত্তিহীন নব উদ্ভাবিত বিষয়ের সূচনা করে মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাইল, তখন মুসলিম উলামায়ে কেরাম আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত তাঁদের দায়িত্ব পালন করলেন। তাঁরা ইসলামের বিরুদ্ধে নানাবিধ ষড়যন্ত্র উন্মোচন করলেন এবং ইসলামি দাওয়াতের অগ্রযাত্রা থামানোর জন্য বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা মুসলিমদের মাঝে যে সকল সংশয় ছড়িয়ে দিচ্ছিল, তা খণ্ডন করলেন। এভাবে ইসলাম বুদ্ধিবৃত্তিক ময়দানে সেভাবেই বিজয়ী হলো যেভাবে জিহাদের ময়দানে অস্ত্রের মাধ্যমে বিজয় লাভ করেছিল।
বাতিলের অসারতা উন্মোচন করা, বাতিলপন্থীদের উদ্ভাবিত সংশয়সমূহ স্পষ্ট করা এবং সেগুলোর সুদৃঢ় জবাব প্রদান করা ইসলামের মহান মূলনীতিসমূহের অন্যতম এবং জিহাদের একটি বিশেষ মাধ্যম। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: "বিদআতপন্থীদের খণ্ডনকারী ব্যক্তি একজন মুজাহিদ"
(৫)। ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করা সর্বোত্তম জিহাদ"
(৬)। শাইখ বাকর আবু যায়েদ বলেন: "বাতিলপন্থীদের খণ্ডন করা এবং তাদের সাথে বিতর্ক ও মুনাজারা করা—যতক্ষণ না তাদের সংশয় ছিন্নভিন্ন হয় এবং মুসলিমদের থেকে তাদের ক্ষতি দূর হয়—তা জিহাদ বিল লিসান বা মৌখিক জিহাদের একটি স্তর; আর কলম হলো জিহাদের অন্যতম মাধ্যম (দুই জিহবার একটি)"
(৭)। এর মাধ্যমেই দ্বীনের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الرابع: العبرة والعظة:لقد تحدث القرآن كثيراً عن قصص السابقين، فقال تعالى: {كَذَلِكَ نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَاءِ مَا قَدْ سَبَقَ وَقَدْ آتَيْنَاكَ مِنْ لَدُنَّا ذِكْرًا (99)} [طه: 99]
(1). وقال عقب حديثه عن الأمم السابقين: {تِلْكَ الْقُرَى نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنْبَائِهَا وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ} [الأعراف: 101]
(2). وأمر الله -سبحانه- نبيه محمداً صلى الله عليه وسلم أن يقص على الناس {فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ (176) سَاءَ مَثَلًا الْقَوْمُ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَأَنْفُسَهُمْ كَانُوا يَظْلِمُونَ} [الأعراف: 176 - 177]
(3). ووصف سبحانه وتعالى تلك القصص الواردة في القرآن بأنه قصص حق فقال تعالى: {إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْقَصَصُ الْحَقُّ وَمَا مِنْ إِلَهٍ إِلَّا اللَّهُ} [آل عمران: 62]
(4). وذلك لمطابقتها الواقع، ووصف سبحانه تلك القصص بأنها أحسن القصص، فقال: {إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ (2) نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَذَا الْقُرْآنَ وَإِنْ كُنْتَ مِنْ قَبْلِهِ لَمِنَ الْغَافِلِينَ (3)} [يوسف: 2 - 3]
(5). وفي الآية إشارة تدل بأنه يجب أن نكتفي من القصص السابقين ما ورد في القرآن، لأنه كاف عن كل ما سواه من الكتب
(6).
ولأن ما عداه إما كتب غير موثوقة، أو مشكوك فيها، كما أن أخبار السابقين صارت بالنسبة لنا من أمر الغيب الذي لا يمكن الوصول إليه إلا عن طريق مصدر موثوق، قال تعالى: {ذَلِكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهِ إِلَيْكَ وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يُلْقُونَ أَقْلَامَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ وَمَا كُنْتَ لَدَيْهِمْ إِذْ يَخْتَصِمُونَ (44)} [آل عمران: 44]
(7).
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শিক্ষা ও উপদেশ:কুরআন পূর্ববর্তীদের কাহিনী সম্পর্কে অনেক আলোচনা করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "এভাবেই আমি আপনার কাছে ইতিপূর্বে যা ঘটে গেছে তার সংবাদ বর্ণনা করি। আর আমি আপনাকে আমার পক্ষ থেকে দান করেছি এক উপদেশবাণী (৯৯)।" [ত্ব-হা: ৯৯]
(১)। এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহ সম্পর্কে আলোচনার পর তিনি বলেন: "এগুলো সেই জনপদ, যার সংবাদ আমি আপনাকে বর্ণনা করছি। অবশ্যই তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আগমন করেছিলেন।" [আল-আরাফ: ১০১]
(২)। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানুষের নিকট বর্ণনা করার আদেশ দিয়ে বলেন: "সুতরাং আপনি কাহিনী বর্ণনা করুন যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে (১৭৬)। সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত কতই না মন্দ যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তারা নিজেদের প্রতিই যুলুম করছিল।" [আল-আরাফ: ১৭৬ - ১৭৭]
(৩)। আর সুবহানাহু ওয়া তাআলা কুরআনে বর্ণিত এই কাহিনীগুলোকে সত্য কাহিনী হিসেবে অভিহিত করে বলেন: "নিশ্চয়ই এটি সত্য কাহিনী এবং আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।" [আলে ইমরান: ৬২]
(৪)। আর এটি বাস্তবের সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়ার কারণেই। তিনি এই কাহিনীগুলোকে সর্বোত্তম কাহিনী হিসেবে বর্ণনা করে বলেন: "নিশ্চয়ই আমি একে আরবী ভাষায় কুরআন হিসেবে অবতীর্ণ করেছি যাতে তোমরা বুঝতে পারো (২)। আমি আপনার নিকট সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি—এই কুরআন আপনার প্রতি ওহী করার মাধ্যমে, যদিও এর আগে আপনি এ বিষয়ে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (৩)।" [ইউসুফ: ২ - ৩]
(৫)। এই আয়াতে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে, পূর্ববর্তীদের কাহিনী বর্ণনার ক্ষেত্রে কুরআনে যা এসেছে তাতেই আমাদের তুষ্ট থাকা আবশ্যক; কারণ এটি অন্য সকল কিতাবের তুলনায় যথেষ্ট
(৬)।
তাছাড়া কুরআন ছাড়া অন্য যা আছে তা হয় নির্ভরযোগ্য নয়, অথবা সন্দেহপূর্ণ। একইভাবে পূর্ববর্তীদের সংবাদসমূহ এখন আমাদের জন্য অদৃশ্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস ছাড়া জানা সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ বলেন: "এটি অদৃশ্যের সংবাদ যা আমি আপনাকে ওহীর মাধ্যমে জানাচ্ছি। মারইয়ামের লালন-পালনের দায়িত্ব কে গ্রহণ করবে সে বিষয়ে যখন তারা নিজেদের কলম নিক্ষেপ করছিল, তখন আপনি তাদের নিকট উপস্থিত ছিলেন না। আর যখন তারা বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল তখনও আপনি তাদের নিকট ছিলেন না (৪৪)।" [আলে ইমরান: ৪৪]
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
فالقصص بما تحوي من الحوادث المتشابهة تساعد الإنسان على معرفة السنن الربانية التي لا تتخلف - إلا أن يشاء الله- وذلك بقياس الحاضر على الماضي، قال ابن تيمية رحمه الله: " ومن هذا الباب صارت قصص المتقدمين عبرة لنا، ولولا القياس، واطراد فعله وسنته لم يصح الاعتبار بها، لأن الاعتبار إنما يكون إذا كان حكم الشيء حكم نظيره كالأمثال المضروبة في القرآن"
(1).
المبحث الخامس: استبانة سبيل المجرمين:من أهم الأهداف، وأجل الغايات التي تحصل من دراسة الأديان معرفة سبيل المجرمين، قال تعالى عقب حديثه عن الرسل والرسالات: {(54) وَكَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ وَلِتَسْتَبِينَ سَبِيلُ الْمُجْرِمِينَ} [الأنعام: 55]
(2)، والله قد بين في كتابه سبيل المؤمنين مفصلة، وسبيل المجرمين مفصلة، وعاقبة هؤلاء مفصلة، وعاقبة هؤلاء مفصلة، وأعمال هؤلاء، وأعمال هؤلاء، وأولياء هؤلاء، وأولياء هؤلاء، وخذلانه لهؤلاء، وتوفيقه لهؤلاء، والأسباب التي وفق بها هؤلاء، والأسباب التي خذل بها هؤلاء
… والعالمون بالله وكتابه، ودينه، عرفوا سبيل المؤمنين معرفة تفصيلية، وسبيل المجرمين معرفة تفصيلية، فاستبانت لهم السبيلان، كما يستبين للسالك الطريق الموصل إلى مقصوده، والطريق الموصل إلى الهلكة، فهؤلاء أعلم الخلق، وأنفعهم للناس، وأنصحهم لهم، وهم الأدلاء الهداة، وبذلك برز الصحابة على جميع من أتى بعدهم إلى يوم القيامة، فإنهم نشأوا في سبيل الضلال، والكفر، والشرك، والسبل الموصلة إلى الهلاك، وعرفوها مفصلة، ثم جاءهم الرسول، فأخرجهم من تلك الظلمات إلى سبيل الهدى، وصراط الله المستقيم
(3).
"والله -سبحانه- يحب أن تُعرف سبيل أعدائه لتُجتنب، وتُبغض، كما يحب أن تُعرف سبل أوليائه، لتحب وتسلك، وفي هذه المعرفة من الفوائد، والأسرار ما لا يعلمه إلا الله .. "
(4).
إن تميز أهل الحق عن أهل الباطل من أهل الأهواء والبدع، ومن أهل الأديان والنحل الباطلة، قضية في غاية الأهمية، فقد حرص السلف -رضوان الله عليهم- ذلك، وما تسمية أهل الحق بألقاب "أهل السنة والجماعة" و"السلف" و"أهل الحديث" و"أهل الأثر" إلا من باب التمايز، وتبين سبيل الحق عن سبل أهل الضلال، وإذا كان التمايز عن أهل البدع الذين هم من أهل القبلة مطلوباً شرعاً فإن غيرهم من أهل الأديان والنحل الباطلة من باب الأولى
(5).
--------------------------------------------
কাহিনীসমূহ তার অন্তর্ভুক্ত সমজাতীয় ঘটনাবলির মাধ্যমে মানুষকে রব্বানী সুন্নাত বা শাশ্বত ঐশী বিধানসমূহ চিনতে সাহায্য করে যা কখনো ব্যত্যয় ঘটে না - আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত। আর তা বর্তমানকে অতীতের ওপর তুলনা করার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন: "এই দৃষ্টিকোণ থেকেই পূর্ববর্তীদের কাহিনীসমূহ আমাদের জন্য শিক্ষা হিসেবে গণ্য হয়েছে। যদি কিয়াস বা সাদৃশ্য এবং আল্লাহর কর্ম ও সুন্নাতের ধারাবাহিকতা না থাকত, তবে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ সঠিক হতো না। কারণ শিক্ষা গ্রহণ তখনই সম্ভব যখন কোনো বিষয়ের বিধান তার সদৃশ বিষয়ের বিধানের ন্যায় হয়, যেমনটি কুরআনে বর্ণিত দৃষ্টান্তসমূহের ক্ষেত্রে দেখা যায়"
(১)।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হওয়া:বিভিন্ন ধর্ম পর্যালোচনার মাধ্যমে অর্জিত অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং মহান উদ্দেশ্য হলো অপরাধীদের পথ চেনা। আল্লাহ তাআলা রাসূলগণ ও তাঁদের রিসালাত সম্পর্কে আলোচনার পর বলেন: {আর এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি, যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে যায়} [সূরা আল-আন'আম: ৫৫]
(২)। আল্লাহ তাঁর কিতাবে মুমিনদের পথ যেমন সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন, তেমনি অপরাধীদের পথও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি এদের পরিণাম ও তাদের পরিণাম, এদের আমল ও তাদের আমল, এদের বন্ধু ও তাদের বন্ধু, এদের প্রতি তাঁর লাঞ্ছনা ও তাদের প্রতি তাঁর তাওফিক, যে কারণে তিনি এদের তাওফিক দিয়েছেন এবং যে কারণে তাদের লাঞ্ছিত করেছেন - এ সবই তিনি বিস্তারিত বয়ান করেছেন... যারা আল্লাহ, তাঁর কিতাব এবং তাঁর দ্বীন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখেন, তারা মুমিনদের পথ সবিস্তারে জানেন এবং অপরাধীদের পথও বিস্তারিতভাবে চিনতে পারেন। ফলে তাদের নিকট উভয় পথই সুস্পষ্ট হয়ে যায়, যেমন একজন পথিকের নিকট গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ এবং ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিয়ে যাওয়ার পথ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। এরাই সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে বড় আলিম, মানুষের জন্য সর্বাধিক কল্যাণকামী এবং শ্রেষ্ঠ উপদেশদাতা; এরাই সঠিক পথের দিশারী। এ কারণেই সাহাবায়ে কেরাম কিয়ামত পর্যন্ত আগত পরবর্তী সকল মানুষের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। কেননা তাঁরা গোমরাহি, কুফর, শিরক এবং ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া পথগুলোর মধ্যেই বেড়ে উঠেছিলেন এবং সেগুলো সম্পর্কে সবিস্তারে অবগত ছিলেন। অতঃপর রাসূল (সা.) তাঁদের নিকট আসলেন এবং তাঁদেরকে সেই সব অন্ধকার থেকে হেদায়েতের পথে ও আল্লাহর সরল-সঠিক পথে বের করে আনলেন
(৩)।
"আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পছন্দ করেন যে তাঁর শত্রুদের পথ চেনা হোক যাতে তা বর্জন করা যায় এবং ঘৃণা করা যায়, ঠিক তেমনি যেমন তিনি পছন্দ করেন তাঁর বন্ধুদের পথ চেনা হোক যাতে তা ভালোবাসা যায় এবং অনুসরণ করা যায়। এই জ্ঞানের মধ্যে এমন সব উপকারিতা ও রহস্য নিহিত রয়েছে যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানেন না..."
(৪)।
প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতি এবং বাতিল ধর্ম ও মতবাদের অনুসারীদের থেকে সত্যপন্থীদের পৃথক হওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সালাফে সালেহীন (রা.) এ ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ ছিলেন। সত্যপন্থীদেরকে "আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত", "সালাফ", "আহলে হাদীস" এবং "আহলে আছার" উপাধিতে ভূষিত করা কেবল পার্থক্যের খাতিরেই করা হয়েছে, যেন পথভ্রষ্টদের পথ থেকে সত্যের পথ স্পষ্টভাবে পৃথক করা যায়। যদি কিবলার অনুসারী বিদআতিদের থেকে আলাদা হওয়া শরীয়তের কাম্য হয়, তবে অন্যান্য বাতিল ধর্ম ও মতবাদের অনুসারীদের থেকে পৃথক হওয়া আরও বেশি গুরুত্ববহ
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
الفصل الثالث: الضوابط الشرعية لدراسة علم الأديانإن لهذا العلم ضوابط ينبغي الالتزام بها، وهذه الضوابط ليست خاصة به، بل هي عامة في كل أمر يراد بحثه، فمن هذه الضوابط:
الضابط الأول: الإخلاص:وهو أن يبتغي الإنسان بعلمه وعمله وجه الله تعالى، قال تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا (110)} [الكهف: 110] فالعمل المتقبل من العبد ما كان موافقاً للشرع، مراداً به وجه الله وحده
(1). وفي الحديث الصحيح عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امرئ ما نوى"
(2). فمدار صحة الأعمال أو فسادها النية.
والقائم بالدفاع عن الحق، والدعوة إليه، والمجادلة من أجله أشد حاجة إلى الإخلاص من غيره. لذا فإن توفر سلامة النية، والقصد شرط أساسي لمن يشتغل بدراسة الأديان، فلا بد أن يكون قصده في هذا حراسة الدين، والذب عنه، ودلالة الناس على الهدى، وتثبيتهم عليه
(3)، وألا يكون له أي غرض آخر.
قال إمام الحرمين الجويني موضحاً آداب الجدل: "فأول شيء فيه مما على الناظر أن يقصد التقرب إلى الله -سبحانه- وطلب مرضاته في امتثال أمره سبحانه فيما أمر به ويبالغ قدر طاقته في البيان والكشف، عن تحقيق الحق وتمحيق الباطل، ويتقي الله أن يقصد بنظره المباهاة وطلب الجاه والتكسب والممارة، والمحك، والرياء، ويحذر أليم عقاب الله -سبحانه- ولا يكن قصده الظفر بالخصم، والسرور بالغلبة، والقهر، فإنه من دأب الأنعام الفحولة، كالكباش، والديكة"
(4).
--------------------------------------------
তৃতীয় অধ্যায়: ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নের শরয়ী নীতিমালানিশ্চয়ই এই বিদ্যার কিছু নীতিমালা রয়েছে যা অনুসরণ করা আবশ্যক। এই নীতিমালাগুলো কেবল এই বিষয়ের জন্যই নির্দিষ্ট নয়, বরং এটি প্রতিটি বিষয়ের ক্ষেত্রেই সাধারণ যা গবেষণার লক্ষ্য হয়। এই নীতিমালাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
প্রথম নীতিমালা: ইখলাস বা নিষ্ঠা:আর তা হলো মানুষ তার জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করবে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে (১১০)} [সূরা আল-কাহাফ: ১১০]। সুতরাং বান্দার কবুলযোগ্য আমল সেটিই যা শরীয়ত সম্মত এবং যার দ্বারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য করা হয়
(১)। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যার সে নিয়ত করবে"
(২)। সুতরাং আমল সঠিক হওয়া বা নষ্ট হওয়া নিয়তের ওপরই আবর্তিত।
সত্যের প্রতিরক্ষা, সত্যের দিকে আহ্বান এবং সত্যের জন্য বিতর্কে লিপ্ত ব্যক্তির জন্য অন্যদের তুলনায় নিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। তাই যারা ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নে নিয়োজিত, তাদের জন্য নিয়তের বিশুদ্ধতা ও সংকল্প থাকা একটি মৌলিক শর্ত। অবশ্যই তার উদ্দেশ্য হতে হবে দ্বীনের সুরক্ষা, দ্বীনের পক্ষে প্রতিরক্ষা, মানুষকে হেদায়েতের পথ দেখানো এবং হেদায়েতের ওপর তাদের দৃঢ় রাখা
(৩); এছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকা চলবে না।
ইমামুল হারামাইন আল-জুওয়াইনী বিতর্কের আদব বা শিষ্টাচার স্পষ্ট করতে গিয়ে বলেন: "বিতর্কের ক্ষেত্রে একজন তাত্ত্বিক বা গবেষকের প্রথম কাজ হলো—মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের সংকল্প করা এবং তাঁর আদেশ পালনের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা। গবেষক সত্যকে উন্মোচন ও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে এবং বাতিলকে পরাভূত ও বিলুপ্ত করতে তার সাধ্যমতো চেষ্টা করবে। সে আল্লাহকে ভয় করবে যেন তার এই গবেষণার উদ্দেশ্য দম্ভ করা, উচ্চ মর্যাদা অন্বেষণ করা, অর্থোপার্জন, বিবাদ ও লোক দেখানো না হয়। সে আল্লাহর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিকে ভয় করবে এবং তার উদ্দেশ্য যেন কেবল প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা এবং বিজয় ও আধিপত্যের আনন্দ লাভ করা না হয়; কারণ এটি চতুষ্পদ জন্তুর স্বভাব, যেমন পুরুষ ভেড়া ও মোরগ"
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الضابط الثاني: العلم:العلم من الأمور الضرورية والضوابط المهمة لمن يشتغل بعلم الأديان، وذلك أن المشتغل بدراسة الأديان إذا لم يكن مؤهلاً لها كان ضرره أكثر من نفعه.
فالعلم من أهم الشروط التي يجب توفرها على من يقوم بوظيفة الدفاع عن الدين، وذلك أن العلم قبل العمل، قال تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ (19)} [محمد: 19]
(1)، وقد تنبه الإمام البخاري رحمه الله لهذا، فبوب لهذه الآية بقوله: باب العلم قبل القول والعمل
(2).
فالعلم مقدم على القول والعمل، لأنه شرط في صحة القول والعمل، فلا يعتبران إلا به
(3).
ومن الأدلة الدالة على ذم القول قبل العلم قوله تعالى: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَلَا هُدًى وَلَا كِتَابٍ مُنِيرٍ (8)} [الحج: 8]
(4)، فالآية دلت على ذم المجادل بغير علم، وقال تعالى في ذم أهل الكتاب الذين جادلوا بغير علم: {يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لِمَ تُحَاجُّونَ فِي إِبْرَاهِيمَ وَمَا أُنْزِلَتِ التَّوْرَاةُ وَالْإِنْجِيلُ إِلَّا مِنْ بَعْدِهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ (65) هَاأَنْتُمْ هَؤُلَاءِ حَاجَجْتُمْ فِيمَا لَكُمْ بِهِ عِلْمٌ فَلِمَ تُحَاجُّونَ فِيمَا لَيْسَ لَكُمْ بِهِ عِلْمٌ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ (66)} [آل عمران: 65 - 66]
(5).
بل نجد أن شيخ الإسلام ابن تيمية يرى أن من يحكم في الملل، والأديان بغير علم، ولا عدل، أولى بالنار، ممن يقضي بين الناس، في الأموال والدماء والأعراض، بغير علم ولا عدل، فيقول: "ولما كان أتباع الأنبياء هم أهل العلم والعدل، كان كلام أهل الإسلام والسنة مع الكفر وأهل البدع بالعلم والعدل، لا بالظن وما تهوى الأنفس، ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم: (القضاة ثلاثة: قاضيان في النار، وقاض في الجنة، رجل علم الحق وقضى به فهو في الجنة، ورجل علم الحق وقضى خلافه فهو في النار، ورجل قضى للناس على جهل فهو في النار)
(6).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় নীতিমালা: ইলম (জ্ঞান):যারা ধর্মতত্ত্ব বা তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে কাজ করেন, তাদের জন্য ইলম বা জ্ঞান একটি অপরিহার্য বিষয় এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা। কারণ, যে ব্যক্তি ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নে নিয়োজিত কিন্তু তার উপযুক্ত যোগ্যতা নেই, তার দ্বারা উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে।
সুতরাং দ্বীন বা ধর্ম রক্ষার দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য ইলম একটি অন্যতম প্রধান শর্ত। কেননা ইলম বা জ্ঞান হচ্ছে আমল বা কর্মের পূর্বশর্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ও মুমিন নর-নারীদের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে সম্যক অবগত।" [সূরা মুহাম্মদ: ১৯]
(১)। ইমাম বুখারী (রহ.) বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষ্য করেছেন। তাই তিনি এই আয়াতের প্রেক্ষাপটে অধ্যায় বিন্যাস করেছেন এভাবে: "পরিচ্ছেদ: কথা ও কাজের পূর্বে ইলম অর্জন"
(২)।
অতএব কথা ও কাজের উপর জ্ঞান অগ্রাধিকারযোগ্য; কেননা কথা ও কাজ সঠিক হওয়ার জন্য এটি একটি শর্ত। জ্ঞান ব্যতীত কথা ও কাজ গ্রহণযোগ্য হয় না
(৩)।
জ্ঞান ব্যতিরেকে কথা বলার নিন্দায় প্রমাণস্বরূপ আল্লাহ তাআলার বাণী হলো: "মানুষের মধ্যে কেউ কেউ জ্ঞান, পথনির্দেশ ও দীপ্তিময় কিতাব ছাড়াই আল্লাহ সম্পর্কে বিতণ্ডা করে।" [সূরা আল-হাজ্জ: ৮]
(৪)। এই আয়াতটি জ্ঞান ছাড়াই বিতর্ককারী ব্যক্তির নিন্দা জ্ঞাপন করে। জ্ঞানহীন বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্য আহলে কিতাবদের নিন্দা জানিয়ে আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "হে আহলে কিতাবগণ! ইব্রাহীম সম্পর্কে কেন তোমরা বিতর্ক করছ? অথচ তাওরাত ও ইঞ্জিল তো তাঁর পরেই অবতীর্ণ করা হয়েছে। তবে কি তোমরা বুঝতে পারছ না? শোনো! তোমরা তো তারা, যারা বিতর্ক করছিলে এমন বিষয়ে যে সম্পর্কে তোমাদের কিছু জ্ঞান ছিল; তবে যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে কেন বিতর্ক করছ? আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।" [সূরা আলে ইমরান: ৬৫-৬৬]
(৫)।
এমনকি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ মনে করেন যে, যে ব্যক্তি জ্ঞান ও ন্যায়বিচার ছাড়াই বিভিন্ন ধর্মাদর্শ ও মতবাদ সম্পর্কে বিচার-বিশ্লেষণ করে, সে ওই ব্যক্তির চেয়েও জাহান্নামের অধিক যোগ্য যে জ্ঞান ও ন্যায়বিচার ব্যতীত মানুষের মাঝে সম্পদ, রক্ত এবং মান-সম্মানের বিষয়ে ফয়সালা করে। তিনি বলেন: "যেহেতু নবীগণের অনুসারীরাই হলেন জ্ঞান ও ন্যায়ের ধারক, তাই কুফর ও বিদআতিদের বিরুদ্ধে ইসলাম ও সুন্নাহর অনুসারীদের বক্তব্য জ্ঞান ও ন্যায়ের ভিত্তিতেই হয়, ধারণা বা প্রবৃত্তি তাড়িত হয়ে নয়। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (বিচারক তিন প্রকার: দুই প্রকার জাহান্নামী এবং এক প্রকার জান্নাতি। যে ব্যক্তি সত্য জানে এবং সেই অনুযায়ী ফয়সালা করে, সে জান্নাতি। যে ব্যক্তি সত্য জানে কিন্তু তার বিপরীত ফয়সালা করে, সে জাহান্নামী। আর যে ব্যক্তি অজ্ঞতার ভিত্তিতে মানুষের ফয়সালা করে, সেও জাহান্নামী)"
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
فإذا كان من يقضي بين الناس في الأموال، والدماء، والأعراض -إذا لم يكن عالماً عادلاً - كان في النار، فكيف بمن يحكم في الملل، والأديان، وأصول الإيمان، والمعارف الإلهية، والمعالم الكلية، بلا علم ولا عدل"
(1).
والعلم يشمل في مجال دراسة الأديان العلم بالإسلام من مصادره الأساسية من الكتاب والسنة، وما يفسرهما من أقوال السلف، أو يساعد على فهمهما من علوم الآلة كاللغة العربية، كما يشمل العلم بشبهات أهل الأديان والملل، وطرق الرد عليها
(2).
الضابط الثالث: تقدير المصلحة والمفسدة في دراسة الأديان:فدراسة الأديان، والملل الكفرية، والاشتغال بها لا تخلو من مخاطر ومزالق قد تضر المشتغل بها، كأن تترك شبهات أهل تلك الأديان في قلبه شيئاً، وقد يلحق ضرراً منها بالحق الذي معه، وذلك فيما إذا ضعف عن رد شبهات الخصوم، كما يمكن أن تؤدي دراستها إلى نشرها، وترويج مبادئها، لاسيما إذا لم يحكم الرد عليها.
لهذا ينبغي قبل التعرض إلى دراسة أي دين أو ملة أن يقدر في هذه الدراسة المصلحة والمفسدة، والقول المعتمد في تقدير المصلحة والمفسدة: قول العلماء المؤتمنين على دينهم
(3).
الضابط الرابع: الرجوع إلى المصادر:الرجوع إلى مصادر العقائد المبحوثة، ونقل النصوص منها بألفاظها، والدقة في نسبة الآراء إلى أهلها.
أما نسبة الأقوال إلى الناس من غير طريق صحيحة، أو من طريق مشكوك في صحتها، أو من طريق لا يعرف مدى التزامها بالصدق والعدل، فإن هذا من باب الظن الذي نهينا عن إتباعه، كما قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ} [الحجرات: 12]
(4) وذم الله -تعالى- متبعي الظن والهوى فقال: {إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ} [النجم: 23]
(5).
وقد التزم هذا علماء السلف، فهذا شيخ الإسلام ابن تيمية -رحمة الله تعالى- يقول في رده على النصارى: "وأنا أذكر ما ذكروه بألفاظهم بأعيانها فصلاً فصلاً، واتبع كل فصل مما يناسبه من الجواب فرعاً وأصلاً، وعقداً وحلاً"
(6).
--------------------------------------------
যিনি মানুষের মাঝে সম্পদ, রক্ত এবং মান-সম্মানের বিষয়ে ফয়সালা করেন—যদি তিনি জ্ঞানী ও ন্যায়পরায়ণ না হন—তবে তিনি জাহান্নামী হবেন। তাহলে সেই ব্যক্তির অবস্থা কী হবে, যে জ্ঞান ও ন্যায়বিচার ছাড়াই বিভিন্ন মতাদর্শ, ধর্ম, ঈমানের মূলনীতি, ঐশ্বরিক জ্ঞান এবং সামষ্টিক নিদর্শনাবলি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করে?
(১).
ধর্ম পর্যালোচনার ক্ষেত্রে 'জ্ঞান' বলতে ইসলামের মৌলিক উৎসসমূহ—কুরআন ও সুন্নাহ, পূর্বসূরিগণের (সালাফ) বক্তব্য যা এই দুই উৎসকে ব্যাখ্যা করে, এবং সহায়ক শাস্ত্রসমূহ (যেমন আরবি ভাষা) যা এই দুই উৎস বুঝতে সাহায্য করে—সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান থাকাকে বোঝায়। তদ্রূপ, এর মধ্যে বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শীদের সংশয়সমূহ এবং সেগুলো নিরসনের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকাও অন্তর্ভুক্ত।
(২).
তৃতীয় নীতিমালা: ধর্ম পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কল্যাণ ও অকল্যাণের (মাসলাহাত ও মাফাসাদাত) মূল্যায়ন:ধর্ম এবং কুফরি মতবাদসমূহ নিয়ে পড়াশোনা বা এগুলোতে মগ্ন হওয়া নানাবিধ ঝুঁকি ও পদস্খলন থেকে মুক্ত নয়, যা গবেষকের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। যেমন—ঐসব ধর্মাবলম্বীদের সংশয়সমূহ তাঁর অন্তরে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে, অথবা তাঁর কাছে যে সত্য রয়েছে তার ক্ষতিসাধন করতে পারে; বিশেষ করে যখন তিনি বিরোধীদের সংশয় খণ্ডন করতে অক্ষম হন। তদ্রূপ, এসবের চর্চা অনেক সময় সেগুলোর প্রচার এবং মূলনীতিসমূহের প্রসারের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে, বিশেষত যখন সেগুলোর যথাযথ খণ্ডন করা সম্ভব না হয়।
এজন্য যেকোনো ধর্ম বা মতবাদ পর্যালোচনায় প্রবৃত্ত হওয়ার আগে এতে বিদ্যমান কল্যাণ ও অকল্যাণের পরিমাপ করা উচিত। আর কল্যাণ ও অকল্যাণ নিরূপণের ক্ষেত্রে সেই সমস্ত নির্ভরযোগ্য আলেমদের বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে, যাঁরা দ্বীনের বিষয়ে আমানতদার।
(৩).
চতুর্থ নীতিমালা: মূল উৎসসমূহের শরণাপন্ন হওয়া:আলোচ্য আকিদাহ বা বিশ্বাসসমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে মূল উৎসের দিকে ফিরে যাওয়া, সেখান থেকে অবিকল উদ্ধৃতি গ্রহণ করা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দিকে মতবাদসমূহ সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে সঠিকতা বজায় রাখা।
সঠিক মাধ্যম ছাড়া, কিংবা সন্দেহযুক্ত অথবা সত্যবাদিতা ও ন্যায়ননিষ্ঠার ব্যাপারে অস্পষ্ট মাধ্যম অবলম্বন করে মানুষের দিকে কোনো উক্তি বা বক্তব্য সম্বন্ধ করা এক প্রকার ধারণা বা অনুমান, যা অনুসরণ করতে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ অনুমান থেকে দূরে থাকো; কারণ কোনো কোনো অনুমান পাপ" [আল-হুজুরাত: ১২]
(৪) এবং আল্লাহ তাআলা ধারণা ও প্রবৃত্তির অনুসরণকারীদের নিন্দা করে বলেন: "তারা তো কেবল ধারণা এবং নিজেদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে" [আন-নাজম: ২৩]
(৫)।
পূর্বসূরি আলেমগণ (সালাফ) এই নীতি কঠোরভাবে মেনে চলতেন। যেমন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ—আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন—খ্রিস্টানদের জবাবে বলেন: "তারা যা কিছু উল্লেখ করেছে আমি তাদের নিজস্ব শব্দে তা অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অবিকল উল্লেখ করছি। এরপর প্রতিটি অনুচ্ছেদের বিপরীতে শাখা-প্রশাখা ও মূলনীতিসহ এবং এর জটিলতা নিরসন ও সমাধানের মাধ্যমে মানানসই উত্তর প্রদান করছি।"
(৬).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الضابط الخامس: التجرد من الهوى:فإن الهوى يحمل على الاختلاف وقول الإفك، وقد قال الله تبارك وتعالى: {إِنْ يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَمَا تَهْوَى الْأَنْفُسُ} [النجم: 23]
(1). وقال تعالى: {الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ} [ص: 26]
(2).
الضابط السادس: العدل والإنصاف:العدل والإنصاف، والأمانة العلمية من أهم الخصال التي ينبغي أن يتحلى بها المختلفون والمختصمون، لئلا يقع ظلم على أي طرف منهما، قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ بِالْقِسْطِ شُهَدَاءَ لِلَّهِ وَلَوْ عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَوِ الْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ إِنْ يَكُنْ غَنِيًّا أَوْ فَقِيرًا فَاللَّهُ أَوْلَى بِهِمَا فَلَا تَتَّبِعُوا الْهَوَى أَنْ تَعْدِلُوا} [النساء: 135]
(3) وقال تعالى: {وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا} [الأنعام: 152]
(4).
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله مبيناً وجوب العدل في كل حال، وتحريم الظلم مطلقاً: "ومعلوم أنا إذا تكلمنا فيمن هو دون الصحابة، مثل الملوك المختلفين على الملك، والعلماء والمشايخ المختلفين في العلم والدين، وجب أن يكون الكلام بعلم وعدل، لا بجهل وظلم، فإن العدل واجب لكل أحد على كل أحد في كل حال، والظلم محرم مطلقاً، لا يباح قط بحال، قال تعالى: {وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} [المائدة: 8]
(5)، وهذه الآية نزلت بسبب بغضهم للكفار، وهو بغض مأمور به، فإذا كان البغض الذي أمر الله به قد نهى صاحبه أن يظلم من أبغضه فكيف في بغض مسلم"
(6).
--------------------------------------------
পঞ্চম মূলনীতি: প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত হওয়া:নিশ্চয়ই প্রবৃত্তি মতবিরোধ এবং মিথ্যাচারের দিকে ধাবিত করে। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তারা কেবল ধারণা এবং তাদের প্রবৃত্তিরই অনুসরণ করে} [আন-নাজম: ২৩]
(১)। আল্লাহ তাআলা আরও ইরশاد করেছেন: {প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে} [সোয়াদ: ২৬]
(২)।
ষষ্ঠ মূলনীতি: ন্যায় ও ইনসাফ:ন্যায়বিচার, ইনসাফ এবং ইলমী আমানতদারিতা হলো সেই সব গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত যার দ্বারা মতবিরোধকারী ও বিবাদমান পক্ষগুলোর সজ্জিত হওয়া উচিত, যাতে কোনো পক্ষের প্রতি জুলুম না হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা ন্যায়ের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহর সাক্ষী হও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে কিংবা পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হয়। সে ধনী হোক বা দরিদ্র, আল্লাহ উভয়েরই শ্রেষ্ঠতর অভিভাবক। অতএব তোমরা ন্যায়বিচার করতে প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না} [আন-নিসা: ১৩৫]
(৩) এবং আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {আর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ন্যায়সংগত বলবে} [আল-আনআম: ১৫২]
(৪)।
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) সর্বাবস্থায় ন্যায়বিচারের আবশ্যকতা এবং চূড়ান্তভাবে জুলুমের নিষিদ্ধতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "এটা সুবিদিত যে, আমরা যখন সাহাবায়ে কেরামের পরবর্তী স্তরের ব্যক্তিবর্গ—যেমন ক্ষমতা নিয়ে বিবাদমান বাদশাহগণ এবং ইলম ও দ্বীনের বিষয়ে মতভেদকারী উলামা ও মাশায়েখদের ব্যাপারে আলোচনা করব, তখন সেই আলোচনা অবশ্যই ইলম ও ইনসাফের সাথে হওয়া ওয়াজিব; মূর্খতা ও জুলুমের সাথে নয়। কেননা ন্যায়বিচার করা প্রত্যেকের ওপর প্রত্যেকের জন্য সর্বাবস্থায় ওয়াজিব। আর জুলুম সর্বাবস্থায় হারাম, যা কোনো অবস্থাতেই বৈধ নয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের এমনভাবে প্ররোচিত না করে যে তোমরা ইনসাফ করবে না। তোমরা ইনসাফ করো, এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী} [আল-মায়িদা: ৮]
(৫)। এই আয়াতটি কাফেরদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণের প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে, যা একটি আদিষ্ট বিষয়। সুতরাং আল্লাহ যে বিদ্বেষের আদেশ দিয়েছেন, তাতেও যদি ঘৃণাভাজন ব্যক্তির প্রতি জুলুম করতে নিষেধ করা হয়, তবে একজন মুসলমানের প্রতি বিদ্বেষের ক্ষেত্রে তা কেমন হবে।"
(৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الضابط السابع: الالتزام بالمصطلحات الشرعية:قضية ضبط المصطلحات أمر نبه القرآن الكريم عليه المؤمنين في عهد نزول الوحي، فقد نهى الله المؤمنين أن يقولوا {رَاعِنَا} [البقرة: 104] وأمرهم أن يقولوا {انْظُرْنَا} [البقرة: 104] فقال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انْظُرْنَا} [البقرة: 104]
(1)، وذلك أن اليهود كانت تستخدم كلمة {رَاعِنَا} [البقرة: 104] لمعنى فاسد يحمل مسبة للنبي صلى الله عليه وسلم
(2).
وأخبر النبي صلى الله عليه وسلم عن أناس يأتون في أخر الزمان يسمون الخمر بغير اسمها
(3).
ويتلخص موقف أهل السنة من أمر المصطلحات التي تنسب إلى الأنبياء أو السلف أو إلى الخصوم بما يلي:
1 - التأكد من صحة نسبة المصطلح ومعناه:
قال شيخ الإسلام: " المنقول عن السلف والعلماء يحتاج إلى معرفة بثبوت لفظه، ومعرفة دلالته، كما يحتاج إلى ذلك المنقول عن الله ورسوله"
(4) والأمر في هذا أن العلم يحتاج إلى نقل مصدق، ونظر محقق
(5).
2 - اتباع المنقول من المصطلحات من الكتاب والسنة:
وذلك أن اتباع ألفاظ الكتاب والسنة أولى من أي ألفاظ أخرى في تقرير أمور الدين لأن ذلك يؤدي إلى موافقة النصوص لفظاً ومعناً.
3 - فهم المصطلحات:
وذلك بمعرفة دلالة المصطلح ومعرفة مراد المتكلم به، "وذلك أن دلالة الخطاب إنما تكون بلغة المتكلم وعادته المعروفة في خطابه، لا بلغة وعادة واصطلاح أحدثه قوم آخرون بعد انقراض عصر الذين خاطبهم بلغته وعادته
(6) كما قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ} [إبراهيم: 4]
(7).
--------------------------------------------
সপ্তম নিয়ম: শরয়ি পরিভাষাসমূহের প্রতি দায়বদ্ধতা:পরিভাষা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এমন একটি বিষয় যা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ওহী নাযিলের সময়কালে মুমিনদের সতর্ক করেছিল। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের ‘রায়িনা’ বলতে নিষেধ করেছেন এবং তাদের ‘উনজুরনা’ বলতে নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: “হে মুমিনগণ, তোমরা ‘রায়িনা’ বলো না, বরং ‘উনজুরনা’ বলো” [আল-বাকারাহ: ১০৪]
(১)। এর কারণ ছিল এই যে, ইহুদিরা ‘রায়িনা’ শব্দটি একটি মন্দ অর্থে ব্যবহার করত যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গালমন্দ করার উদ্দেশ্যে করা হতো
(২)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একদল লোক সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যারা শেষ জামানায় আসবে এবং মদের ভিন্ন নামকরণ করবে
(৩)।
নবীগণ, সালফ (পূর্বসূরি) কিংবা প্রতিপক্ষের দিকে সম্বন্ধযুক্ত পরিভাষাসমূহের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর অবস্থান নিম্নরূপে সংক্ষেপ করা যায়:
১ - পরিভাষার সম্বন্ধ এবং এর অর্থের সঠিকতা নিশ্চিত করা:
শায়খুল ইসলাম বলেন: “সালফ ও আলেমদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার শব্দের বিশুদ্ধতা এবং তার তাৎপর্য জানা আবশ্যক, যেমনটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল থেকে বর্ণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়”
(৪)। এ বিষয়ে মূল কথা হলো, জ্ঞান অর্জনের জন্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনা এবং সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন
(৫)।
২ - কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বর্ণিত পরিভাষাসমূহ অনুসরণ করা:
দ্বীনি বিষয়াদি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর শব্দাবলি অনুসরণ করা অন্য যেকোনো শব্দের চেয়ে অধিকতর শ্রেয়; কারণ এটি শব্দের গঠন ও অর্থের দিক থেকে সরাসরি দলিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
৩ - পরিভাষাসমূহ অনুধাবন করা:
এটি পরিভাষার তাৎপর্য এবং এর দ্বারা বক্তার উদ্দেশ্য কী তা জানার মাধ্যমে সম্ভব। “বক্তব্যের তাৎপর্য বক্তার ভাষা এবং তার বক্তব্যে ব্যবহৃত পরিচিত রীতিনীতি অনুযায়ী নির্ধারিত হয়; অন্য কোনো জাতির ভাষা, রীতিনীতি বা পরিভাষা অনুযায়ী নয় যারা মূল সম্বোধিত ব্যক্তিদের যুগ অতিক্রান্ত হওয়ার পর তা উদ্ভাবন করেছে”
(৬) যেমন মহান আল্লাহ বলেন: “আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তাঁর নিজ জাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি যেন তিনি তাদের কাছে পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করতে পারেন” [ইব্রাহিম: ৪]
(৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الرابع: مناهج الباحثين في دراسة علم الأديان بصفة عامة
المبحث الأول: التعريف بهذا العلم:المنهج لغة:
مفعل من مادة نهج ينهج نهجاً، وهو الطريق المستقيم البين. قال الجوهري: "نهج الطريق: أبانه، وأوضحه، ونهجه: سلكه، والمنهاج: الطريق الواضح"
(1).
وقال الفيروز آبادي: "استنهج الطريق: صار نهجا، وفلان نهج سبيل فلان، أي: سلك مسلكه"
(2).
أما تعريفه الاصطلاحي: فقد عرف بتعريفات كثيرة منها:
1 - هو الطريق المؤدي إلى التعرف على الحقيقة في العلوم، بواسطة طائفة من القواعد العامة، والتي تهيمن على سير العقل، وتحدد عملياته، حتى يصل إلى نتيجة معلومة.
2 - هو القانون أو القاعدة التي تحكم أي محاولة للدراسة العلمية وفي أي مجال.
3 - القواعد العلمية التي يسلكها العقل في حركته للبحث عن الحقيقة في أي مجال من مجالات المعرفة.
وهذه التعريفات واحدة في المعنى وإن اختلف التعبير عنها باللفظ، لأن مدارها على القواعد التي يسير عليها الباحث أو تسير الباحث عند إرادته بحث أي مسألة علمية.
"وكان العلماء المسلمون يعبرون عن المنهج بالأصول والقواعد".
(3)تعريف علم مناهج البحث في العقيدة:
هو علم يعني بدراسة دلائل المسائل التي تذهب إليه كل فرقة من الفرق من حيث مصادرها، وطريقة الاستدلال بها، وموقفها من مصادر غيرها، وطريقتها في دراسة العقيدة
(4).
ويقال عن تعريف دراسة علم الأديان ما قيل في تعريف علم مناهج البحث في العقيدة؛ لكن يختص بالأديان: هو علم يعني بدراسة دلائل المسائل التي يذهب إليها كل دين من الأديان من حيث مصادرها، وطريقة الاستدلال بها، وموقفها من مصادر غيرها، وطريقتها في دراسة الأديان.
--------------------------------------------
চতুর্থ অধ্যায়: সাধারণভাবে ধর্মতত্ত্ব বা তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নে গবেষকদের পদ্ধতিসমূহ
প্রথম পরিচ্ছেদ: এই শাস্ত্রের পরিচিতি:পদ্ধতি (মানহাজ) শব্দের আভিধানিক অর্থ:
এটি 'নাহাজা' মূলধাতু থেকে 'মাফআল' ওজনে গঠিত, যার অর্থ হলো সুস্পষ্ট ও সরল পথ। আল-জাওহারী বলেন: "পথ উন্মুক্ত ও স্পষ্ট করাকে 'নাহাজাত ত্বরীক' বলা হয়, আর সেই পথে চলাকেও 'নাহাজাহু' বলা হয়। আর 'মিনহাজ' অর্থ হলো সুস্পষ্ট পথ"
(১)।
আল-ফিরোজাবাদী বলেন: "পথ সুস্পষ্ট হওয়াকে 'ইসতানহাজাত ত্বরীক' বলা হয়। আর 'অমুক ব্যক্তি অমুকের পথ অনুসরণ করেছে' বলতে বোঝায় সে তার পথ বা পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে"
(২)।
পারিভাষিক সংজ্ঞা: এর অনেকগুলো সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১ - এটি এমন একটি পথ যা সাধারণ কিছু নিয়মনীতির মাধ্যমে বিজ্ঞানের সত্য উদ্ঘাটনে সহায়তা করে। এই নীতিগুলো বুদ্ধিবৃত্তিক গতিধারাকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং এর প্রক্রিয়াগুলো নির্ধারণ করে দেয়, যাতে একটি সুনির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
২ - এটি এমন এক কানুন বা নিয়ম যা যেকোনো ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণার যেকোনো প্রচেষ্টাকে পরিচালনা করে।
৩ - জ্ঞান-বিজ্ঞানের যেকোনো শাখায় সত্য অনুসন্ধানের লক্ষ্যে পরিচালিত বুদ্ধিবৃত্তিক পদচারণায় ব্যবহৃত বৈজ্ঞানিক মূলনীতিসমূহ।
এই সংজ্ঞাগুলো শাব্দিক দিক থেকে ভিন্ন হলেও অর্থগতভাবে অভিন্ন; কারণ এগুলোর মূল আবর্তন হলো সেই সব নিয়মনীতির ওপর, যা একজন গবেষক কোনো বৈজ্ঞানিক বিষয় গবেষণার প্রাক্কালে অনুসরণ করেন।
"মুসলিম পন্ডিতগণ 'মানহাজ' বা পদ্ধতি বোঝাতে 'উসুল' (মূলনীতি) এবং 'কাওয়ায়িদ' (নিয়মাবলী) শব্দগুলো ব্যবহার করতেন।"
(৩)আকীদা গবেষণা পদ্ধতি শাস্ত্রের সংজ্ঞা:
এটি এমন একটি শাস্ত্র যা প্রতিটি ফেরকা বা দলের মতাদর্শিক বিষয়গুলোর দলীলসমূহ নিয়ে আলোচনা করে; বিশেষ করে দলীলের উৎসসমূহ, দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি, অন্যদের উৎসের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং আকীদা অধ্যয়নের ক্ষেত্রে তাদের অনুসৃত পদ্ধতিসমূহ
(৪)।
তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বা ধর্মসমূহ অধ্যয়নের সংজ্ঞার ক্ষেত্রেও তাই বলা হয় যা আকীদা গবেষণা পদ্ধতির সংজ্ঞায় বলা হয়েছে; তবে এটি ধর্মের সাথে নির্দিষ্ট: এটি এমন একটি শাস্ত্র যা প্রতিটি ধর্মের মৌলিক বিশ্বাসের দলীলসমূহ নিয়ে আলোচনা করে; বিশেষ করে দলীলের উৎসসমূহ, দলীল গ্রহণের পদ্ধতি, অন্যদের উৎসের প্রতি তাদের অবস্থান এবং ধর্মসমূহ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে তাদের অনুসৃত পদ্ধতিসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الثاني: أهمية مناهج البحث:إن لمناهج البحث في العلوم أهمية كبرى، إذ هي الطريق الموصل إلى أي علم، فالعلوم متعددة في موضوعاتها، وفي أهدافها وعناصرها، وفي مصادرها، وفي مناهج بحثها، والعلوم لا تعرف بموضوعاتها؛ لأن الموضوعات تساعد على البحث في هذا العلم، أو ذاك، ومثلها الأهداف، وإنما الذي يعين على ذلك هو المنهج الصحيح للبحث.
فبقدر ما يكون منهج البحث قوياً قويماً قائماً على أساسا منهج سليم، ومناسب للموضوع الذي يبحث فيه، بقدر ما تكون النتائج المتوصل إليها معتبرة من الناحية العلمية
(1).
فللمنهج أثره ودوره الكبير في أصالة الفكر وسلامة الأفكار والمعلومات والنظريات والمفاهيم المستنتجة، فما لم يكن منهج البحث والتفكير سليماً أو موافقاً لاتجاهه، فإن النتائج لن تكون صحيحة ومنسجمة.
والباحث بدون منهج يقع في متاهات الفوضى، والاضطراب، والتناقض، وارتباك الآراء والنتائج، ويظل البحث مشوشا، وعقيما، وتكون حصيلته الاستنتاجية متناقضة، بلا وحدة في الاتجاه والنتيجة، فيخسر بذلك كثيراً من النتائج التي كان بإمكان البحث أن يعطيها لو أنه سار على أصول وأسس منهجية بحثية سليمة، واضحة الأهداف والمعالم، سليمة الرؤى
(2).
ولذا أيضاً كان من الضروري أن يحدد لكل موضوع من موضوعات العلم والمعرفة البشرية منهجه المناسب له، وطريقته الخاصة، فيكون للعلوم الطبيعة منهج معين، وللتاريخ منهج معين ولكل من الفقه والعقائد والرياضيات والفلسفة .. إلخ منهجه الخاص به ضمن إطار منطقي علمي موحد.
وذلك أن المنهج يحفظ للعلم نظامه واتساقه
(3)، فتقدم العلم وتأخره مرتهن بمسألة المنهج، يدور معها وجوداً وعدماً
(4).
وإذا كان الأمر كذلك، فإنه - أيضاً- من الخطورة بمكان اتخاذ مناهج غير صحيحة، فاتخاذ هذه المناهج كغياب المنهج الصحيح، بل هو أشد خطراً، فإنه إذا اتخذت أمة من الأمم منهجاً، واعتقدته صحيحاً، والتزمت به، وكان هذا المنهج مضللا ولا يوصل إلى الحقيقة المنشودة والعلم المطلوب، فإن هذه الأمة تكون قد أوقعت نفسها في متاهات وأوهام كبيرة تنحرف بها عن المسار المنشود والغاية المطلوبة
(5).
وأما أهميته في علم العقيدة والأديان على وجه الخصوص، فإنه ينبغي أن يعلم أن مسألة اختيار المنهج، وطريقة الفهم والتفسير العقائدي، ليست قضية ذاتية ترتبط بالميول الشخصية، أو بالتصورات والأهواء الذاتية، بل أن المنهج العقائدي يرتبط ارتباطاً وثيقاً بالأصول الشرعية، وبمفاهيم العقل الإيمانية التي تدور حول مركز الانطلاق، وقاعدة الفهم والتفكير (عقيدة التوحيد)، كما يرتبط بموضوع البحث وطبيعته.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গবেষণাপদ্ধতির গুরুত্ব:জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় গবেষণাপদ্ধতির গুরুত্ব অপরিসীম, কেননা এটিই যেকোনো জ্ঞানে পৌঁছানোর একমাত্র পথ। বিজ্ঞানের শাখাগুলো তাদের বিষয়বস্তু, লক্ষ্য, উপাদান, উৎস এবং গবেষণাপদ্ধতির বিচারে বহুমুখী। বিজ্ঞান কেবল তার বিষয়বস্তুর মাধ্যমে পরিচিতি লাভ করে না; কারণ বিষয়বস্তু বা লক্ষ্যগুলো কেবল সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রে গবেষণার ক্ষেত্রে সহায়তা প্রদান করে মাত্র। বরং যা গবেষণাকে সুনির্দিষ্ট রূপ দান করে, তা হলো গবেষণার সঠিক পদ্ধতি।
গবেষণাপদ্ধতি যতটা শক্তিশালী, সুসংগত এবং সঠিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে এবং পঠিত বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তার মাধ্যমে অর্জিত ফলাফল বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ততটাই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে
(১)।
চিন্তার মৌলিকত্ব এবং লব্ধ ধারণা, তথ্য, তত্ত্ব ও সংজ্ঞার নির্ভুলতার ক্ষেত্রে পদ্ধতির সুদূরপ্রসারী প্রভাব ও ভূমিকা রয়েছে। গবেষণার পদ্ধতি ও চিন্তাধারা যদি সঠিক অথবা বিষয়ের গতিপ্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তবে ফলাফল কখনোই সঠিক ও সংগতিপূর্ণ হবে না।
সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ছাড়া একজন গবেষক বিশৃঙ্খলা, অস্থিরতা, বৈপরীত্য এবং চিন্তা ও ফলাফলের বিভ্রান্তিতে নিপতিত হন। ফলে গবেষণাটি অগোছালো ও নিষ্ফল থেকে যায় এবং এর অর্জিত ফলাফলগুলোও হয় স্ববিরোধী, যেখানে লক্ষ্যের ও ফলাফলের কোনো ঐক্য থাকে না। এর মাধ্যমে গবেষক এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন থেকে বঞ্চিত হন, যা গবেষণাটি সঠিক নীতিমালা ও সুস্পষ্ট লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পন্ন পদ্ধতিগত ভিত্তির ওপর পরিচালিত হলে অর্জন করা সম্ভব হতো
(২)।
এই কারণেই মানবীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয়ের জন্য তার উপযোগী নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও বিশেষ ধারা নির্ধারণ করা আবশ্যক। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের জন্য একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি থাকবে, ইতিহাসের জন্য থাকবে স্বতন্ত্র পদ্ধতি; একইভাবে ফিকহ, আকীদা, গণিত ও দর্শনের প্রত্যেকের জন্য একটি সুসংগত যৌক্তিক বৈজ্ঞানিক কাঠামোর আওতায় নিজস্ব স্বতন্ত্র পদ্ধতি থাকবে।
এর কারণ হলো, পদ্ধতি বিজ্ঞানের শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা রক্ষা করে
(৩)। বিজ্ঞানের উন্নতি বা অবনতি পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল; পদ্ধতির অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের সাথেই বিজ্ঞানের অস্তিত্ব আবর্তিত হয়
(৪)।
যদি বিষয়টি এমনই হয়, তবে ভুল পদ্ধতি গ্রহণ করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভুল পদ্ধতি অবলম্বন করা পদ্ধতিহীন থাকার মতোই, বরং তার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক। কারণ কোনো জাতি যদি কোনো একটি পদ্ধতি গ্রহণ করে এবং তাকে সঠিক মনে করে তার অনুসরণ করে, অথচ সেই পদ্ধতিটি বিভ্রান্তিকর এবং কাঙ্ক্ষিত সত্য ও কাঙ্ক্ষিত জ্ঞানের পথে পরিচালিত না করে, তবে সেই জাতি নিজেকে এক বিশাল গোলকধাঁধা ও মরীচিকার মধ্যে নিক্ষেপ করবে, যা তাকে অভীষ্ট লক্ষ্য ও গন্তব্য থেকে বিচ্যুত করে দেবে
(৫)।
বিশেষ করে আকীদা ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব হলো, এটি জানা আবশ্যক যে, পদ্ধতি নির্বাচন এবং আকীদা সংক্রান্ত ব্যাখ্যা ও উপলব্ধির বিষয়টি ব্যক্তিগত রুচি, খেয়াল-খুশি বা নিজস্ব ধ্যান-ধারণার ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং পদ্ধতিগত আকীদা শাস্ত্রীয় মূলনীতি এবং ঈমানি প্রজ্ঞার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত, যা আবর্তিত হয় মূল কেন্দ্রবিন্দু তথা উপলব্ধি ও চিন্তার ভিত্তি 'তাওহীদ'-কে কেন্দ্র করে। এর পাশাপাশি এটি গবেষণার বিষয়বস্তু ও প্রকৃতির সাথেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والباحث في علم العقائد والديانات والملل والنحل والمذاهب يجد نفسه أمام زخم كثير من الآراء المتناقضة، التي سببها التنكب عن الطريق السوي والمنهج المستقيم، وهذا مصداق قول الله تعالى: {أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا (82)} [النساء: 82]
(1) وقوله تعالى: {بَلْ كَذَّبُوا بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُمْ فَهُمْ فِي أَمْرٍ مَرِيجٍ (5)} [ق: 5]
(2).
ولما كان الأمر كذلك، فإنه لا يجمل بالباحث الطالب للحق أن يبحث عن المسائل، ثم يحكم على أصحابها، دون أن يبحث في الدلائل التي نتجت عنها تلك المسائل، إذ لا يمكن معالجة الأخطاء في المسائل دون النظر في الأصول التي بنيت عليها، فالبحث فيها يبقى عقيماً عديم الجدوى.
وبمنهج البحث العلمي في العقيدة يستطيع الباحث المسلم إزالة كثير من الإشكالات التي تواجهه اليوم، فإن كثيراً من العلوم والنظريات التي أطلق عليها اسم العلم، قد بحثت وفق مناهج بحث خاصة وصفت بالمنهجية أو الموضوعية والعلمية، واكتسبت ثقة جميع الباحثين في هذه المجالات، بل حازت إيمانهم، والنتائج التي توصل إليها، هي نتائج تصطدم -في أحيان كثيرة- بعقيدة المسلم، ولا تنسجم إلا نادراً مع فكرة المسلم الكلية عن الكون والإنسان والحياة، والاعتراض على ذلك يكاد يكون اعتراضاً على قضايا علمية مسلمة، لأنها بحثت وفق منهج بحث علمي، ومنهج البحث نفسه وراءه فلسفة قوم آخرين لا يستطيع المسلم قبولها كما هي، ولذلك كان لا بد من العمل على تلمس منهج للبحث في هذه العلوم يكون قانوناً يعصم الباحث المسلم فيها من الوقوع فيما يقع فيه غيره من أخطاء، ويساعده على الوصول إلى نتائج تنسجم وعقيدة المسلم ونظرته إلى الكون والإنسان والحياة
(3).
--------------------------------------------
আকিদা (বিশ্বাসতত্ত্ব), ধর্মসমূহ, বিভিন্ন মতাদর্শ ও মাযহাব নিয়ে কাজ করা গবেষক নিজেকে অসংখ্য পরস্পরবিরোধী মতামতের প্রাচুর্যের সম্মুখে দেখতে পান, যার মূল কারণ হলো সঠিক পথ ও ঋজু কর্মপন্থা থেকে বিচ্যুতি। এটি মহান আল্লাহর বাণীরই প্রতিফলন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে অবশ্যই তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত (৮২)} [সূরা আন-নিসা: ৮২]
(১) এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বরং তাদের কাছে যখন সত্য এসেছে তখন তারা তা অস্বীকার করেছে, ফলে তারা এক বিভ্রান্তিকর অবস্থায় রয়েছে (৫)} [সূরা ক্বাফ: ৫]
(২).
বিষয়টি যেহেতু এমন, তাই সত্যসন্ধানী গবেষকের জন্য এটি শোভন নয় যে, তিনি কেবল বিভিন্ন মাসআলা বা শাখা-বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করবেন এবং এরপর সেগুলোর প্রবক্তাদের ওপর কোনো রায় দেবেন—সেই সব দলীল-প্রমাণ বিশ্লেষণ করা ছাড়াই যা থেকে ওই সকল মাসআলা উদ্ভূত হয়েছে। কেননা, যেসব মূলনীতির (উসুল) ওপর মাসআলাগুলো ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তা বিবেচনা না করে মাসআলাগত ভুলত্রুটির প্রতিকার করা অসম্ভব; সেক্ষেত্রে এ সংক্রান্ত গবেষণা হবে নিষ্ফল ও নিরর্থক।
আকিদা সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির মাধ্যমে একজন মুসলিম গবেষক বর্তমান সময়ে তাঁর সম্মুখস্থ বহু জটিলতা নিরসন করতে পারেন। কারণ অনেক বিজ্ঞান ও তত্ত্ব যেগুলোকে 'বিজ্ঞান' নামে অভিহিত করা হয়েছে, সেগুলো এমন কিছু সুনির্দিষ্ট গবেষণা পদ্ধতির আলোকে পর্যালোচিত হয়েছে যাকে নিয়মতান্ত্রিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা বা বিজ্ঞানসম্মত হিসেবে গণ্য করা হয় এবং যা সংশ্লিষ্ট সকল গবেষকের আস্থা অর্জন করেছে, এমনকি তাঁদের বিশ্বাসের স্তরে পৌঁছে গেছে। অথচ এসব গবেষণালব্ধ ফলাফল অনেক ক্ষেত্রেই মুসলিম আকিদার সাথে সাংঘর্ষিক হয় এবং মহাবিশ্ব, মানুষ ও জীবন সম্পর্কে একজন মুসলিমের সামগ্রিক জীবনদর্শনের সাথে খুব কমই সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এক্ষেত্রে কোনো আপত্তি তোলা যেন স্বতঃসিদ্ধ বৈজ্ঞানিক বিষয়াবলির ওপর আপত্তি করার মতো হয়ে দাঁড়ায়, কারণ তা একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির ভিত্তিতে উদ্ভাবিত হয়েছে। অথচ সেই গবেষণা পদ্ধতির নেপথ্যে রয়েছে ভিন্ন জাতির দর্শন, যা একজন মুসলিমের পক্ষে অবিকল গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তাই এই বিজ্ঞানসমূহের ক্ষেত্রে এমন একটি গবেষণা পদ্ধতি অনুসন্ধানের লক্ষ্যে কাজ করা অপরিহার্য, যা হবে একটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড যা মুসলিম গবেষককে অন্যদের মতো ভুলত্রুটিতে নিপতিত হওয়া থেকে সুরক্ষা দেবে এবং তাঁকে এমন ফলাফলে পৌঁছাতে সাহায্য করবে যা মুসলিম আকিদা এবং মহাবিশ্ব, মানুষ ও জীবন সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সংগতিপূর্ণ হবে
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث الثالث: علاقة هذا العلم بعلم الأديان:إن لعلم مناهج البحث في العقيدة ارتباطاً وثيقاً بالعلوم المتعلقة بالاعتقاد، ومن هذه العلوم علم الموازنة بين الأديان، أو المعروف بعلم مقارنة الأديان أو علم الأديان أو الملل والنحل أو علم المقالات إلى غير ذلك.
فعلم مناهج البحث في العقيدة يبحث في الأصول التي استقى منها أهل كل دين دينهم وأقوالهم، هل الأصل: الوحي، أو غيره؟ هل هذا الوحي محرف، أو أنه محفوظ من التحريف؟ .. الخ
فهذا العلم، أعنى علم المناهج أصل لمعرفة علم الأديان، فلا غني للباحث في هذا العلم عن النظر فيه
(1).
المبحث الرابع: مناهج البحث:للدارسين لعلم العقيدة والأديان مناهج متعددة في دراستها، وذلك تبعاً للغرض من دراستها، وسأذكر هنا أبرز هذه المناهج:
المطلب الأول: المنهج التاريخي الوصفي:هذا المنهج يسلك فيه المؤلفون جانب العرض التاريخي الوصفي السردي، دون حكم على المقولات، أو نقد لها.
وهذا النوع سلكه علماء متقدمون، كأبي الحسن الأشعري والشهرستاني.
كما أن هناك من غير المسلمين من سلكه، وهو ابن كمونة اليهودي، في كتابه: "تنقيح الأبحاث للملل الثلاث".
والحقيقة أن هذا المنهج لا يؤدي الدور المطلوب من العالم، بل إن مثل هذا المنهج قد يؤدي إلى ما يسمى بتقارب الأديان، لذا كان هذا المنهج " أوفر مناهج المسلمين حظاً وإشادة عند علماء الغرب، وبه يرتضون أن يتناول علماء الإسلام الأديان"
(2).
وهذا أمر لا يفرح به، لهذا لم نجد مثل هذا المنهج عند علماء أهل السنة والجماعة، وإنما وجد عند غيرهم.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ধর্মবিজ্ঞানের সাথে এই শাস্ত্রের সম্পর্ক:আকিদাহ বিষয়ক গবেষণাপদ্ধতি শাস্ত্রের সাথে আকিদাহ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শাস্ত্রের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এ সব শাস্ত্রের মধ্যে অন্যতম হলো তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব, যা ধর্মতত্ত্বের তুলনা বা ‘ইলমুল আদইয়ান’ কিংবা ‘আল-মিলাল ওয়ান নিহাল’ অথবা ‘ইলমুল মাকালাত’ ইত্যাদি নামে পরিচিত।
আকিদাহ বিষয়ক গবেষণাপদ্ধতি শাস্ত্র মূলত সেই সকল মূল উৎস নিয়ে আলোচনা করে যেখান থেকে প্রতিটি ধর্মের অনুসারীরা তাদের ধর্ম ও মতবাদ গ্রহণ করেছে। সেই উৎস কি ওহী (প্রত্যাদেশ), নাকি অন্য কিছু? এই ওহী কি বিকৃত হয়েছে, নাকি তা বিকৃতি থেকে সুরক্ষিত আছে? .. ইত্যাদি।
সুতরাং, গবেষণাপদ্ধতি বিষয়ক এই শাস্ত্রটি ধর্মবিজ্ঞান বা ‘ইলমুল আদইয়ান’ অনুধাবনের মূল ভিত্তি। এই বিষয়ে গবেষণাকারীর জন্য এই শাস্ত্র পর্যালোচনার কোনো বিকল্প নেই
(১)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গবেষণার পদ্ধতিসমূহ:আকিদাহ ও ধর্মতত্ত্ব শাস্ত্রের শিক্ষার্থীদের গবেষণার উদ্দেশ্যভেদে বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। আমি এখানে এই সকল পদ্ধতির মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্যগুলো উল্লেখ করছি:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ঐতিহাসিক বর্ণনামূলক পদ্ধতি:এই পদ্ধতিতে লেখকগণ কোনো মতবাদের ওপর বিচার-বিশ্লেষণ বা সমালোচনা না করে কেবল ঐতিহাসিক বর্ণনা ও ধারাবাহিক উপস্থাপনের পথ অনুসরণ করেন।
এই ধরণের পদ্ধতি প্রাচীন আলেমদের মধ্যে আবুল হাসান আল-আশআরি এবং শাহরাস্তানি অবলম্বন করেছেন।
অনুরূপভাবে অমুসলিমদের মধ্যেও কেউ কেউ এই পথ অনুসরণ করেছেন, যেমন ইহুদি ইবনে কামমুনা তার ‘তানকিহুল আবহাছ লিল-মিলালিল ছালাছ’ নামক গ্রন্থে এটি ব্যবহার করেছেন।
প্রকৃতপক্ষে এই পদ্ধতিটি একজন আলেমের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালন করে না; বরং এ জাতীয় পদ্ধতি তথাকথিত ‘ধর্মীয় সমন্বয়’ বা ধর্মের নৈকট্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এই কারণেই মুসলিমদের অনুসৃত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে এই পদ্ধতিটিই পশ্চিমা পণ্ডিতদের নিকট সর্বাধিক সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে এবং তারা চান যেন ইসলামি স্কলাররা এই পদ্ধতিতেই ধর্মসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন
(২)।
এটি এমন কোনো বিষয় নয় যা নিয়ে আনন্দিত হওয়া যায়; তাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের বিজ্ঞ আলেমদের মাঝে এ জাতীয় পদ্ধতির প্রচলন পাওয়া যায় না, বরং অন্যদের মাঝেই এটি লক্ষ্য করা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
المطلب الثاني: المنهج التحليلي النقدي:التحليل "عملية يراد بها اكتشاف عناصر موضوع معين من أجل غرض خاص"
(1).
والنقد يراد به عرض تلك العناصر على الموازين الدقيقة، لمعرفة صحتها من فسادها.
وجملة هذا المنهج: ملاحظة الظواهر، ثم الحكم عليها، ومناقشتها.
ومنهج التحليل والنقد من أبرز الخصائص التي امتاز بها العلماء المسلمون، وعلى وجه الخصوص: علماء السلف أهل السنة والجماعة، فلشمولية العقيدة عندهم جاءت شمولية التحقيق والنقد مصاحبة لها.
وهذا المنهج نجده كثيراً في كتب السلف، وبخاصة ما يتعلق منها بالردود على الطوائف والفرق أو من يحملون فكراً مخالفاً.
وليس في أهل البدع والأهواء من عني بهذا الأمر عناية أهل السنة والجماعة، وهذا المنهج قد أفاد أهل السنة والجماعة كثيراً، فقد حفظوا عقيدتهم به على مر الدهور وتعاقب القرون، فلا تجد بينهم تناقضاً، ولا اختلافاً
(2).
المطلب الثالث: المنهج المقارن:وهو منهج يسلك سبيل الربط بين الموضوعات المتعددة، لاستخلاص أوجه الشبه أو الخلاف بينها، ثم الخروج من ذلك بحكم تدعمه نتائج العملية
(3).
وهذا المنهج في دراسة العقائد والأديان والملل والنحل، منهج فريد يمتاز بنتيجة مهمة وهي الخروج من تلك المقارنة بأوجه الحسن التي تدعو ضمناً إلى وجوب إتباعها، واطراح الباطل.
ومن ميزات هذا المنهج: إظهاره نقاط الاتفاق والاختلاف بين الفرق المتفرقة والأديان المختلفة، وهذا بدوره يؤدي إلى النظر الصحيح من قبل عقلاء تلك الطوائف في الحق الذي عند الآخرين، قال الله تعالى: {قُلْ يَاأَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ (64)} [آل عمران: 64]
(4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বিশ্লেষণাত্মক ও সমালোচনামূলক পদ্ধতি:বিশ্লেষণ হলো "এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের উপাদানসমূহ উদঘাটন করা হয়"
(১)।
আর সমালোচনা বলতে ঐসব উপাদানকে নিখুঁত মানদণ্ডে উপস্থাপন করা বোঝায়, যাতে সেগুলোর সঠিকতা বা অসারতা নির্ণয় করা যায়।
এই পদ্ধতির সারসংক্ষেপ হলো: বিষয়সমূহ পর্যবেক্ষণ করা, অতঃপর সেগুলোর ওপর সিদ্ধান্ত প্রদান এবং তা নিয়ে আলোচনা করা।
বিশ্লেষণ ও সমালোচনার এই পদ্ধতিটি মুসলিম পন্ডিতদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, বিশেষ করে সালাফে সালেহীন তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আলেমদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়। তাঁদের আকিদার ব্যাপকতার কারণে এর পাশাপাশি তাহকীক (গবেষণা) ও সমালোচনার ব্যাপকতাও লক্ষ্য করা যায়।
এই পদ্ধতিটি সালাফে সালেহীনের কিতাবসমূহে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, বিশেষ করে বিভিন্ন দল-উপদল বা ভিন্নমতাবলম্বীদের খণ্ডন সংক্রান্ত বিষয়াবলিতে।
বিদআত ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের মধ্যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মতো এই বিষয়ের প্রতি এতটা গুরুত্বারোপ আর কেউ করেনি। এই পদ্ধতিটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতকে প্রভূত উপকৃত করেছে; এর মাধ্যমেই তাঁরা যুগ যুগ ধরে এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তাঁদের আকিদাকে সংরক্ষিত রেখেছেন। ফলে তাঁদের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য বা অনৈক্য দেখা যায় না
(২)।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তুলনামূলক পদ্ধতি:এটি এমন একটি পদ্ধতি যা বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপনের পথ অবলম্বন করে, যাতে সেগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের দিকগুলো বের করা যায় এবং শেষ পর্যন্ত প্রায়োগিক ফলাফলের ভিত্তিতে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়
(৩)।
আকিদা, ধর্ম ও বিভিন্ন মতবাদ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এটি একটি অনন্য পদ্ধতি যা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল প্রদান করে। আর তা হলো—এই তুলনার মাধ্যমে সত্যের সৌন্দর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব ফুটিয়ে তোলা যা পরোক্ষভাবে তা অনুসরণ করতে এবং বাতিলকে বর্জন করতে আহ্বান জানায়।
এই পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: এটি বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন দল ও বিচিত্র ধর্মের মধ্যে ঐকমত্য ও পার্থক্যের জায়গাগুলো স্পষ্ট করে দেয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের জ্ঞানবান ব্যক্তিদের পক্ষে অন্যের কাছে থাকা সত্যের প্রতি সঠিক দৃষ্টি নিবদ্ধ করা সম্ভব হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, ‘হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা এমন এক কথার দিকে আসো যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন; তা এই যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণ করব না’। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমরা বলো, ‘তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা অবশ্যই মুসলিম’ (আলে ইমরান: ৬৪)}
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقال تعالى: {قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى آللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ (59) أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَأَنْزَلَ لَكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنْبَتْنَا بِهِ حَدَائِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُنْبِتُوا شَجَرَهَا أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَعْدِلُونَ (60) أَمَّنْ جَعَلَ الْأَرْضَ قَرَارًا وَجَعَلَ خِلَالَهَا أَنْهَارًا وَجَعَلَ لَهَا رَوَاسِيَ وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزًا أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ (61) أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ قَلِيلًا مَا تَذَكَّرُونَ (62) أَمَّنْ يَهْدِيكُمْ فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَنْ يُرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ (63) أَمَّنْ يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَمَنْ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (64)} [النمل: 59 - 64]
(1).
وهذا المنهج سلكه علماء المسلمين في كتاباتهم وفيما دونوه من مؤلفات
(2).
المطلب الرابع: المنهج العلمي التجريبي:هذا المنهج منهج حديث تبع فيه بعض المسلمين في القرن الهجري الأخير قادة الفكر الأوروبي الحديث الذي انسلخوا من كل معتقد ما عدا المعتقدات الدنيوية، وأتباعه موجودون في البلدان الإسلامية التي احتك أهلها بالمستعمر الغربي وبالتيارات الفكرية الوافدة من الغرب إلى العالم الإسلامي، وكذا من كانت دراساته الدينية والفكرية في بلاد الكفر أو الجامعات المقامة في بعض البلدان الإسلامية والتي تتبع لبلدان كافرة كبعض الجامعات التي تتبع الإرساليات التنصيرية.
وهؤلاء لهم آراء غريبة في أدوات المعرفة البشرية، حيث يعتدون بالأساليب الحسية والتجريبية فقط، ويرفضون أي منهج آخر يخالف ما هم عليه، كالمنهج النقلي، والمنهج العقلي، ويحاولون البحث عن المعارف الإلهية والدين بأساليب العلوم العملية والتجربة الميدانية
(3).
وقد صارت من آثار هذا المذهب تفسير المعجزات تفسيراً مادياً وتفسير النبوة بالنبوغ والعبقرية البشرية.
وقد حمل هؤلاء على هذا: إرادة التجديد ومواكبة التطور العلمي الدنيوي، فرأوا أن تفسير القرآن بالحقائق العلمية والمكتشفات العصرية سبيل قوى لبيان عظمة القرآن، وكونه شاملاً لكل شيء.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা বলেন: {বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি যাদের তিনি মনোনীত করেছেন। আল্লাহ কি শ্রেষ্ঠ নাকি তারা যাদের এরা শরিক সাব্যস্ত করে? (৫৯) বরং কে তিনি, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন? অতঃপর আমি তা দিয়ে মনোরম উদ্যানসমূহ সৃষ্টি করেছি, যার বৃক্ষরাজি উৎপন্ন করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোনো উপাস্য আছে? বরং তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা সত্য থেকে বিচ্যুত হয় (৬০) নাকি তিনি, যিনি পৃথিবীকে স্থিতিশীল করেছেন এবং তার মাঝে নদ-নদী প্রবাহিত করেছেন এবং তাতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা এবং দুই সমুদ্রের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি করেছেন? আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোনো উপাস্য আছে? বরং তাদের অধিকাংশই জানে না (৬১) নাকি তিনি, যিনি আর্তের ডাকে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ দূর করেন এবং তোমাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধি বানান? আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোনো উপাস্য আছে? তোমরা খুব সামান্যই উপদেশ গ্রহণ করো (৬২) নাকি তিনি, যিনি তোমাদের স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি তাঁর রহমতের প্রাক্কালে সুসংবাদবাহী বায়ু প্রেরণ করেন? আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোনো উপাস্য আছে? তারা যা শরিক করে আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে (৬৩) নাকি তিনি, যিনি সৃষ্টির সূচনা করেন অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি করবেন এবং কে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে রিযিক দান করেন? আল্লাহর সঙ্গে কি অন্য কোনো উপাস্য আছে? বলুন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ করো (৬৪)} [আন-নামল: ৫৯ - ৬৪]
(১)।
মুসলিম পণ্ডিতগণ তাঁদের লেখনী ও সংকলিত গ্রন্থাবলিতে এই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন
(২)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বৈজ্ঞানিক পরীক্ষণমূলক পদ্ধতি:এটি একটি আধুনিক পদ্ধতি, যা গত হিজরি শতাব্দীতে কিছু মুসলিম সেই আধুনিক ইউরোপীয় চিন্তানায়কদের অনুসরণে গ্রহণ করেছেন যারা পার্থিব বিশ্বাস ব্যতীত অন্য সকল বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। এই পদ্ধতির অনুসারীরা সেইসব মুসলিম দেশে বিদ্যমান যেখানে মানুষ পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শক্তি এবং পশ্চিমা বিশ্ব থেকে মুসলিম বিশ্বে আসা বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক স্রোতের সংস্পর্শে এসেছে। একইভাবে তারা এর অন্তর্ভুক্ত যারা কুফরি রাষ্ট্রে অথবা মুসলিম দেশগুলোতে অবস্থিত এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে (যেমন মিশনারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ) ধর্মীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক শিক্ষা লাভ করেছে যা সরাসরি কুফরি রাষ্ট্রসমূহের অনুগামী।
মানবীয় জ্ঞানের উপকরণের ক্ষেত্রে এদের অদ্ভুত মতামত রয়েছে; কারণ তারা কেবল ইন্দ্রিয়জাত ও পরীক্ষালব্ধ পদ্ধতিসমূহকেই গুরুত্ব দেয় এবং তাদের অবস্থানের পরিপন্থী অন্য যেকোনো পদ্ধতি যেমন—বর্ণনামূলক পদ্ধতি ও যৌক্তিক পদ্ধতি প্রত্যাখ্যান করে। তারা ব্যবহারিক বিজ্ঞানের পদ্ধতি ও তাত্ত্বিক অভিজ্ঞতার আলোকে ঐশী জ্ঞান ও ধর্ম অনুসন্ধানের চেষ্টা করে
(৩)।
এই মতবাদের প্রভাবস্বরূপ মুজিজাসমূহের বস্তুবাদী ব্যাখ্যা প্রদান এবং নবুয়তকে মানবিক মেধা ও প্রজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
তাদেরকে এই পথে পরিচালিত করেছে মূলত সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা এবং জাগতিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলার ইচ্ছা। ফলে তারা মনে করেছে যে, বৈজ্ঞানিক সত্য ও আধুনিক আবিষ্কারের মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদান করা কুরআনের শ্রেষ্ঠত্ব এবং এটি যে সর্বব্যাপী—তা প্রমাণের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهذا المنهج منهج خطرٌ على العقيدة الإسلامية، خصوصاً إذا علم أن بعض التنازلات والتأويلات فيه تبلغ بصاحبها إلى الردة عن الإسلام، وقد أثبت خطورة هذا المنهج: ما عم أوروبا من موجة إلحاد عارمة، نتيجة لتطبيقها الخاطئ لهذا المنهج.
كما أن في هذا المنهج جناية كبرى على القرآن الكريم والسنة النبوية الشريفة، لما يحمله هذا الأمر من عدم الثقة باللفظ القرآني واللفظ النبوي، وأيضاً، فإن هذا المنهج قصر البحث على الظواهر الكونية، ومعلوم أن هناك أموراً كثيرة غير داخلة تحت التجربة ولا الحس.
ثم إن هذا المنهج لا يؤدي الدور المطلوب منه، بل هو سبيل لتسليط الأعداء على كل المسلمات العقدية، وحينئذ يصبح من العسير على من نهج هذا المنهج أن يفرق بين الأمور، إذا ما من أمر من الأمور إلا وهو يحتمل أن يفسر بأي نظرية استحدثها مستحدث كما فسر غيرها بالنظريات الأخرى
(1).
المطلب الخامس: منهج الحوار والجدال والرد والمحاجة:سلك بعض علماء المسلمين في دراستهم للأديان اتجاهاً دفاعياً، يواجه حملات التنصير، والتشكيك التي تتربص بالمجتمع الإسلامي، وتثير الفتنة بين المسلمين، واتخذ هذا الاتجاه شكل مناظرات حية بين علماء المسلمين والكفار، من أصحاب الأديان والنحل المختلفة، وبالمحاورات، والرد على الشبهات المكتوبة في رسائل، أو في كتب، ويمثل هذا المنهج أغلب كتب علماء المسلمين
(2).
المطلب السادس: المنهج العلمي الشامل في دراسة الأديان:والمراد بالمنهج الشامل هو المنهج الذي يشمل جميع المناهج السابقة، حيث يهتم بعرض ما يتناوله بالدراسة عرضاً أميناً، مع المناقشة، والمقارنة، والتحليل النقدي، ورد الباطل وبيانه، وقد يتم ذلك في قالب حوار، أو مناظرة.
وهذا المنهج الشامل هو الأمثل في تناول دراسة الأديان، إذ وصف الأديان وحده لا يغني، كما أن المقارنة غير الموجهة غير مجدية، والنقد والردود قبل استيفاء العرض والمناقشة قد يكون فيها مجانبة للأمانة والإنصاف، ومن تتبع كتب المسلمين في دراسة الأديان يجد هذا المنهج الشامل، ولعل خير أنموذج لهذا المنهج كتاب "الجواب الصحيح لمن بدل دين المسيح" لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله
(3).
--------------------------------------------
এই পদ্ধতিটি ইসলামি আকিদার জন্য এক বিপজ্জনক পথ, বিশেষ করে যখন এটি জানা যায় যে, এর অন্তর্ভুক্ত কিছু আপসকামিতা এবং ব্যাখ্যা তার অনুসারীকে ইসলাম থেকে বিচ্যুতি বা মুরতাদ হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। এই পদ্ধতির ভয়াবহতা প্রমাণিত হয়েছে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়া প্রবল নাস্তিক্যবাদের ঢেউয়ের মাধ্যমে, যা ছিল এই পদ্ধতির ভুল প্রয়োগের ফলাফল।
এছাড়া এই পদ্ধতিতে পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহর প্রতি এক বড় ধরনের অপরাধ করা হয়েছে; কারণ এটি কুরআনি এবং নববি শব্দমালার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করে। পাশাপাশি, এই পদ্ধতি গবেষণাকে কেবল মহাজাগতিক দৃশ্যমান বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেয়, অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা পরীক্ষণ বা ইন্দ্রিয় অনুভূতির আওতাভুক্ত নয়।
অধিকন্তু, এই পদ্ধতিটি তার কাঙ্ক্ষিত ভূমিকা পালনে সক্ষম নয়, বরং এটি আকিদাগত ধ্রুব সত্যগুলোর ওপর শত্রুদের আধিপত্য বিস্তারের পথ করে দেয়। এমতাবস্থায় এই পদ্ধতির অনুসারীদের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে, যেহেতু প্রতিটি বিষয়কেই কোনো না কোনো নতুন উদ্ভাবিত তত্ত্বের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করার সুযোগ তৈরি হয়, ঠিক যেভাবে অন্যান্য বিষয়গুলোকে বিভিন্ন তত্ত্বের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হয়েছে
(১)।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সংলাপ, বিতর্ক, খণ্ডন ও যুক্তিতর্কের পদ্ধতি:কোনো কোনো মুসলিম আলেম ধর্মতত্ত্ব পর্যালোচনায় একটি আত্মরক্ষামূলক পথ অবলম্বন করেছেন, যা ইসলামি সমাজের ওপর ওত পেতে থাকা খ্রিস্টান মিশনারি তৎপরতা এবং সংশয়বাদিতার মোকাবিলা করে এবং মুসলিমদের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টিতে বাধা দেয়। এই ধারাটি মুসলিম আলেম এবং বিভিন্ন ধর্ম ও মতাবলম্বী কাফেরদের মধ্যে সরাসরি বিতর্ক, সংলাপ এবং চিঠিপত্র বা বই আকারে লিখিত সংশয়ের জবাব প্রদানের রূপ পরিগ্রহ করেছে। মুসলিম আলেমদের অধিকাংশ কিতাব এই পদ্ধতিরই প্রতিনিধিত্ব করে
(২)।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ধর্ম পর্যালোচনায় ব্যাপকভিত্তিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি:ব্যাপকভিত্তিক পদ্ধতি বলতে সেই পদ্ধতিকে বোঝায় যা পূর্ববর্তী সকল পদ্ধতির সমন্বয় ঘটায়। এতে আলোচিত বিষয়বস্তুকে বিশ্বস্ততার সাথে উপস্থাপন করার পাশাপাশি পর্যালোচনা, তুলনা, সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ এবং মিথ্যার অপনোদন ও তার স্বরূপ উন্মোচন করা হয়। আর এটি কখনো সংলাপ বা বিতর্কের আদলেও হতে পারে।
ধর্ম পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এই ব্যাপকভিত্তিক পদ্ধতিই হলো সর্বোত্তম। কারণ কেবল ধর্মের বর্ণনা প্রদান যথেষ্ট নয়, আবার লক্ষ্যহীন তুলনাও ফলপ্রসূ নয়। তেমনিভাবে যথাযথ উপস্থাপন ও পর্যালোচনার পূর্বে সমালোচনা বা খণ্ডন করা হলে তা আমানতদারিতা ও ইনসাফের পরিপন্থী হতে পারে। যারা ধর্ম পর্যালোচনায় মুসলিমদের রচিত গ্রন্থসমূহ অনুসন্ধান করবেন, তারা এই ব্যাপকভিত্তিক পদ্ধতিটির দেখা পাবেন। সম্ভবত এই পদ্ধতির সর্বোত্তম উদাহরণ হলো শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) রচিত "আল-জওয়াব আস-সহীহ লিমান বাদ্দালা দ্বীন আল-মাসীহ" গ্রন্থটি
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الفصل الخامس: منهج أهل السنة في دراسة علم الأديانإن المنهج الحق في دراسة علم الأديان هو الذي يعتمد على قواعد وضوابط ترجع إلى ثلاثة أمور:
1 - مصادر الاستدلال في دراسة الأديان.
2 - المنهج في الاستدلال.
3 - طريقة العرض والرد.
وسأذكر إن شاء الله تعالى في هذا الفصل منهج أهل السنة في هذه الأمور.
المبحث الأول: مصادر الاستدلال على علم الأديان عند أهل السنة:إن الاختلاف في المصادر يؤدي إلى اختلاف في المناهج والنتائج، فربما يبحث شخصان موضوعاً واحداً مع اختلاف مصادرهما فيكون ذلك سببا لاختلافهما في النتائج، من هنا كان تحديد المصادر من الأمور الضرورية، وقد اتفق أهل السنة على المصادر الت استندوا عليها في دراسات الأديان:
أولاً: القرآن الكريم:القرآن الكريم عند أهل السنة والجماعة هو المصدر الأول لمعرفة الحق والباطل، والخير والشر، وهو الفيصل في كل ما يحدث بين العباد، وقد أمر بالاعتصام به في غير موضع من كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، ومن ذلك قوله -تعالى-: {وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ فَاتَّبِعُوهُ وَاتَّقُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ (155)} [الأنعام: 155]
(1)، وقوله تعالى: {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ (32)} [آل عمران: 32]
(2)، وقوله تعالى: {كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِنْ لَدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ (1)} [هود: 1]
(3)، وقوله تعالى: {(54) وَكَذَلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ وَلِتَسْتَبِينَ سَبِيلُ الْمُجْرِمِينَ} [الأنعام: 55]
(4).
لهذا فقد استمد علماء السلف أحكامهم على الأديان الأخرى من القرآن الكريم.
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নে আহলুস সুন্নাহর মানহাজ (পদ্ধতি)ধর্মতত্ত্ব বা বিভিন্ন ধর্ম অধ্যয়নের সঠিক পদ্ধতি হলো সেটি, যা তিনটি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নিয়মনীতি ও মানদণ্ডের ওপর নির্ভর করে:
১ - ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়নে দলীল গ্রহণের উৎসসমূহ।
২ - দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি।
৩ - উপস্থাপনা ও খণ্ডন পদ্ধতি।
ইনশাআল্লাহ তাআলা, এই পরিচ্ছেদে আমি এই বিষয়গুলোতে আহলুস সুন্নাহর মানহাজ উল্লেখ করব।
প্রথম অনুচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহর নিকট ধর্মতত্ত্বের দলীল গ্রহণের উৎসসমূহ:উৎসের ভিন্নতা পদ্ধতি ও ফলাফলের ভিন্নতা তৈরি করে। সম্ভবত দুজন ব্যক্তি একই বিষয়ে গবেষণা করছেন কিন্তু তাদের দলীল গ্রহণের উৎস ভিন্ন হওয়ার কারণে ফলাফলেও ভিন্নতা দেখা দেয়। এ কারণে উৎস নির্ধারণ করা একটি অপরিহার্য বিষয়। আহলুস সুন্নাহ ঐ সকল উৎসের ব্যাপারে একমত হয়েছেন যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে তারা বিভিন্ন ধর্ম বিষয়ক গবেষণা পরিচালনা করেছেন:
প্রথমত: পবিত্র কুরআন:আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট সত্য-মিথ্যা এবং কল্যাণ ও অকল্যাণ জানার প্রথম উৎস হলো পবিত্র কুরআন। এটি বান্দাদের মধ্যে সংঘটিত সকল মতপার্থক্য নিরসনের চূড়ান্ত মানদণ্ড। আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যবানে কুরআনকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {আর এই কিতাব আমি অবতীর্ণ করেছি, যা বরকতময়; সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয় (১৫৫)} [আল-আনআম: ১৫৫]
(১), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {বলো, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো। তারপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে জেনে রেখো আল্লাহ তো কাফিরদের ভালোবাসেন না (৩২)} [আল-ইমরান: ৩২]
(২), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {এটি এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত, অতঃপর প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞাত সত্তার পক্ষ থেকে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত (১)} [হুদ: ১]
(৩), এবং মহান আল্লাহর বাণী: {(৫৪) আর এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি, যাতে অপরাধীদের পথ সুস্পষ্ট হয়ে যায়} [আল-আনআম: ৫৫]
(৪)।
এ কারণেই পূর্বসূরি (সালাফ) আলিমগণ অন্যান্য ধর্মের ব্যাপারে তাঁদের বিধানসমূহ পবিত্র কুরআন থেকেই গ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يقول ابن حزم رحمه الله: "نحن -إن شاء الله تعالى- نذكر صفة وجوه النقل الذي عند المسلمين لكتابهم ودينهم، ثم لما نقلوه عن أئمتهم حتى يقف عليه المؤمن والكافر، والعالم والجاهل، عياناً إن شاء الله فيعرفون أين نقل سائر الأديان من نقلهم"
(1).
ثانياً: السنة النبوية:والسنة هي كل ما صدر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول، أو فعل، أو تقرير. وهي وحي كالقرآن قال -تعالى-: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى (3) إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى (4)} [النجم: 3 - 4]
(2) وهي كالقرآن في الحجية، قال النبي صلى الله عليه وسلم "ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه
… "
(3). وبناءً على هذا اعتمدوا عليها في مجال دراسة الأديان.
ثالثاً: الإجماع:الإجماع حجة بدلالة القرآن، والسنة، والعقل، فمن القرآن قوله تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا (115)} [النساء: 115]
(4).
ومن السنة قوله صلى الله عليه وسلم: " إن الله لا يجمع أمتى أو قال أمة محمد صلى الله عليه وسلم على ضلالة، ويد الله مع الجماعة، ومن شذ شذ في النار"
(5).
--------------------------------------------
ইবন হাজম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমরা—ইনশাআল্লাহ তাআলা—মুসলিমদের কাছে তাদের কিতাব ও দ্বীনের বর্ণনার পদ্ধতি এবং তাদের ইমামদের থেকে প্রাপ্ত বর্ণনাসমূহের স্বরূপ উল্লেখ করব, যাতে মুমিন ও কাফির এবং আলেম ও জাহেল সকলেই তা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করতে পারে—ইনশাআল্লাহ; ফলে তারা জানতে পারবে যে অন্যান্য ধর্মের বর্ণনাসমূহ মুসলিমদের বর্ণনার তুলনায় কোথায় অবস্থান করছে"
(১).
দ্বিতীয়: সুন্নাহ নববী:সুন্নাহ হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে আগত সকল কথা, কাজ অথবা মৌনসম্মতি। এটি কুরআনের মতোই ওহী। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং তিনি প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহী, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।" [আন-নাজম: ৩-৪]
(২) প্রামাণিকতার ক্ষেত্রে এটি কুরআনের মতোই। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জেনে রাখো, আমাকে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং তার সাথে তারই অনুরূপ আরেকটি জিনিস (সুন্নাহ) দেওয়া হয়েছে..."
(৩)। এর ওপর ভিত্তি করেই তারা ধর্মতত্ত্ব চর্চার ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করেছেন।
তৃতীয়: ইজমা (ঐক্যমত্য):কুরআন, সুন্নাহ এবং যুক্তির নিরিখে ইজমা একটি অকাট্য দলিল। কুরআন থেকে দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর যে ব্যক্তি তার কাছে সঠিক পথ প্রকাশ হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করবে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করবে, আমি তাকে সে পথেই ছেড়ে দেব যা সে অবলম্বন করেছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব; আর তা কতই না মন্দ আবাস।" [আন-নিসা: ১১৫]
(৪)।
সুন্নাহ থেকে দলিল হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতকে—অথবা তিনি বলেছেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতকে—গোমরাহীর ওপর একত্রিত করবেন না। আর জামাতের ওপর আল্লাহর হাত রয়েছে। যে ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন হবে, সে বিচ্ছিন্ন হয়ে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে"
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: "والإجماع هو الأصل الثالث الذي يعتمد عليه في العلم والدين"
(1). وأهل السنة والجماعة لا يفرقون في حجية الإجماع بين الأمور الاعتقادية وبين غيرها، كما أن الإجماع يدفع احتمال الخطأ الذي قد يتطرق للظنيات، فيرتفع -بفضل الإجماع- إلى مقام القطعيات"
(2).
والمقصود هنا هو بيان أن الإجماع مصدر من مصادر المعرفة الدينية عند أهل السنة والجماعة، وأنه يستند عليه في جميع أبواب الدين، ويدخل ذلك الأحكام الشرعية التي تتعلق بأهل الأديان الأخرى، فينبغي على كل من يشتغل بدراسة الأديان أن يعرف مواطن الإجماع في أحكام أهل الأديان.
رابعاً: العقل:يقول شيخ الإسلام ابن تيمية مبيناً مفهوم العقل عند أهل السنة: "العقل شرط في معرفة العلوم، وكمال صلاح الأعمال، وبه يكمل العلم والعمل، لكنه ليس مستقلاً بذلك"
(3).
فالعقل إذاً عند أهل السنة عبارة عن غريزة فطرية في الإنسان، يستطيع بها أن يميز بين الحق والباطل في المعتقدات، والصواب والخطأ في الأقوال والأفعال، لكن دون استقلال عن الوحي، وهذا التحديد لمفهوم العقل يدل على أن السلف اهتموا بالعقل إدراكاً منهم بمكانته العظيمة.
وقد جعل علماء أهل السنة العقل احد دعائمهم في دراسة الأديان فهذا ابن تيمية يقول موضحاً أسس منهجه في الرد على النصارى: " ونبين - إن شاء الله- أن ما عليه النصارى من التثليث والاتحاد لم يدل عليه شيء من كتب الله، لا الإنجيل ولا غيره، بل دلت على نقيض ذلك، ولا دل على ذلك عقل، بل العقل الصريح مع نصوص الأنبياء يدل على نقيض ذلك"
(4).
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: "ইজমা বা ঐকমত্য হলো তৃতীয় মূলনীতি, যার ওপর জ্ঞান ও দ্বীনের ক্ষেত্রে নির্ভর করা হয়"
(১)। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ইজমার প্রামাণিকতার ক্ষেত্রে আকিদাগত বিষয় এবং অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না; যেমনটি ইজমা সেই ভুলের সম্ভাবনাকে দূর করে দেয় যা ধারণা-নির্ভর বিষয়গুলোতে প্রবেশ করতে পারে, ফলে ইজমার কল্যাণে তা নিশ্চিত বিষয়ের মর্যাদায় উন্নীত হয়"
(২)।
এখানে উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নিকট ইজমা দ্বীনি জ্ঞানার্জনের অন্যতম একটি উৎস এবং দ্বীনের সকল ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করা হয়। এর মধ্যে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথে সংশ্লিষ্ট শরয়ি বিধানসমূহও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যারা বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে গবেষণায় নিয়োজিত, তাদের জন্য ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের বিধান সংক্রান্ত ইজমার ক্ষেত্রগুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া আবশ্যক।
চতুর্থত: আকল (বিবেক-বুদ্ধি):আহলে সুন্নাতের নিকট আকলের ধারণা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: "জ্ঞানার্জনের জন্য এবং কর্মের সংশোধনের পূর্ণতার জন্য আকল একটি শর্ত; এর মাধ্যমেই জ্ঞান ও কর্ম পূর্ণতা পায়, তবে এটি এক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়"
(৩)।
সুতরাং আহলে সুন্নাতের নিকট আকল হলো মানুষের মধ্যে বিদ্যমান একটি সহজাত প্রবৃত্তি, যার মাধ্যমে সে বিশ্বাসের ক্ষেত্রে সত্য ও মিথ্যার এবং কথা ও কাজের ক্ষেত্রে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য করতে পারে, তবে তা ওহী থেকে স্বাধীন হয়ে নয়। আকলের ধারণার এই সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রমাণ করে যে, সালফে সালেহীন আকলের সুমহান মর্যাদা উপলব্ধি করে এর প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দিয়েছেন।
আহলে সুন্নাতের পণ্ডিতগণ ধর্মতত্ত্ব পর্যালোচনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে আকলকে গ্রহণ করেছেন। ইবনে তাইমিয়া নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) মতবাদ খণ্ডনে তাঁর পদ্ধতির ভিত্তি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "আমরা ইনশাআল্লাহ এটি স্পষ্ট করব যে, নাসারারা ত্রিত্ববাদ ও ইত্তিহাদের যে বিশ্বাস পোষণ করে, আল্লাহর কোনো কিতাব তার স্বপক্ষে প্রমাণ দেয় না—না ইঞ্জিল, না অন্য কিছু; বরং কিতাবসমূহ এর বিপরীত বিষয়েরই প্রমাণ দেয়। এমনকি কোনো আকল বা যুক্তিও তা সমর্থন করে না, বরং নবীদের বাণীর পাশাপাশি অকাট্য যুক্তিও এর বিপরীতটিই প্রমাণ করে"
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث الثاني: منهج الاستدلال:ومعرفة هذا المنهج مهم، إذ أن كل من ينتسب إلى الإسلام يدعي أنه يستمد أحكامه من الكتاب والسنة، ويعتمد عليها، والاختلاف في منهج الاستدلال هو الفيصل بين منهج أهل السنة في التعامل مع الأدلة، وبين مناهج المخالفين، فلأهل السنة قواعد منهجية تميز منهجهم في الاستدلال وتضبطه، والتزامهم بهذه القواعد جنبهم الاضطراب في المنهج، والحيرة الفكرية التي لازمت الفرق الأخرى ومن أهم هذه القواعد في مجال دراسة الأديان:
1 - الإيمان بجميع نصوص الكتاب والسنة والتسليم لها:قال تعالى: {أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاءُ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنْكُمْ إِلَّا خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ} [البقرة: 85]
(1). وقد التزم أهل السنة والجماعة على هذه القاعدة امتثالاً لأمر الله، واحترازاً من هذا الوعيد الذي وجه إلى من آمن ببعض الكتاب وكفر ببعضه. قال شيخ الإسلام رحمه الله: "فما جاء في الكتاب والسنة وجب على كل مؤمن الإيمان به وإن لم يفهم معناه"
(2).
وقال ابن أبي العز: "فالواجب كمال التسليم للرسول صلى الله عليه وسلم والانقياد لأمره، وتلقي خبره بالقبول، والتصديق، دون أن نعارضه بخيال باطل نسميه معقولاً، أو نحمله شبهة، أو نقدم عليه آراء الرجال، وزبالة أذهانهم، فنوحده بالتحكيم والتسليم، والانقياد والإذعان"
(3).
2 - اشتمال الكتاب والسنة على أصول الدين:يؤمن أهل السنة والجماعة أن الكتاب والسنة وافيان لأمور الدين أصولاً وفروعاً، قال تعالى: {وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ (89)} [النحل: 89]
(4). وقال تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: 38]
(5).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দলিল গ্রহণের পদ্ধতি:এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি দলই দাবি করে যে তারা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে তাদের বিধান গ্রহণ করে এবং এগুলোর ওপর নির্ভর করে। দলিল গ্রহণের পদ্ধতির ভিন্নতাই হচ্ছে দলিলের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাতের মানহাজ এবং বিরোধীদের মানহাজের মধ্যকার পার্থক্যকারী মানদণ্ড। আহলে সুন্নাতের এমন কিছু পদ্ধতিগত মূলনীতি রয়েছে যা দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের মানহাজকে স্বতন্ত্র ও সুসংহত করে। এই মূলনীতিগুলোর প্রতি তাদের অবিচলতা তাদেরকে সেই পদ্ধতিগত বিশৃঙ্খলা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করেছে যা অন্যান্য ফিরকা বা দলগুলোর অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। ধর্মতত্ত্ব বা ধর্ম অধ্যয়নের ক্ষেত্রে এই মূলনীতিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
১ - কুরআন ও সুন্নাহর সমস্ত নস বা পাঠের ওপর ঈমান আনা এবং সেগুলোর প্রতি আত্মসমর্পণ করা:আল্লাহ তাআলা বলেন: "তবে কি তোমরা কিতাবের কিছু অংশে বিশ্বাস করো আর কিছু অংশকে অস্বীকার করো? তোমাদের মধ্যে যারা এরূপ করে তাদের একমাত্র প্রতিফল তো পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা এবং কিয়ামতের দিন তারা কঠোরতম আজাবের দিকে নিক্ষিপ্ত হবে" [আল-বাকারাহ: ৮৫]
(১)। আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে এবং কিতাবের কিছু অংশে ঈমান আনা ও কিছু অংশকে অস্বীকারকারীদের জন্য প্রদত্ত এই সতর্কবাণী থেকে বেঁচে থাকার লক্ষ্যে এই মূলনীতিটি অনুসরণ করেছেন। শায়খুল ইসলাম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "কুরআন ও সুন্নাহতে যা কিছু এসেছে, প্রত্যেক মুমিনের ওপর তার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব, যদিও সে তার অর্থ বুঝতে সক্ষম না হয়"
(২)।
ইবন আবিল ইজ্জ বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ, তাঁর নির্দেশের আনুগত্য এবং তাঁর আনীত সংবাদকে গ্রহণ ও সত্যায়ন করা ওয়াজিব। আমরা যেন সেটিকে কোনো বাতিল কল্পনা দিয়ে প্রতিহত না করি যাকে আমরা 'যুক্তি' নাম দিই, কিংবা সেটিকে কোনো সন্দেহের ওপর চাপিয়ে না দিই, অথবা মানুষের মতামত ও তাদের মস্তিস্কপ্রসূত আবর্জনাকে তাঁর ওপর প্রাধান্য না দিই। বরং আমরা কেবল তাঁরই ফয়সালা মানা, আত্মসমর্পণ, আনুগত্য ও বশ্যতার মাধ্যমে তাঁর তাওহীদ বা এককত্ব বজায় রাখব"
(৩)।
২ - কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে দ্বীনের মূলনীতিসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকা:আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত বিশ্বাস করে যে, কুরআন ও সুন্নাহ দ্বীনের মৌলিক (উসুল) ও শাখা-প্রশাখা (ফুরু) উভয় বিষয়ের জন্যই পর্যাপ্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং আমি আপনার ওপর কিতাবটি নাজিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ" [আন-নাহল: ৮৯]
(৪)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি" [আল-আনআম: ৩৮]
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وقد شهد هذا الكمال والوفاء بكل شيء، حتى الخصوم من الأمم الأخرى، فقد قال أحد اليهود لسلمان الفارسي رضي الله عنه: "قد علّم نبيكم صلى الله عليه وسلم كل شيء حتى الخراءة، فقال: أجل، لقد نهانا أن نستقبل القبلة لغائط أو بول"
(1)، فإذا كان النبي صلى الله عليه وسلم قد علم الأمة حتى الخراءة فإنه من باب الأولى أن يعلمهم كليات هذا الدين، وهذا ما يعتقده أهل السنة اعتقاداً جازماً، لا تزلزله الشبهات، ولا تزعزعه الفتن، وقد تضافرت أقوالهم على هذا: يقول ابن حزم: "كتاب الله عز وجل .. هو جامع علوم الأولين والآخرين .. لم يفرط فيه من شيء .. من فهمه كفاه، وسنن رسول الله صلى الله عليه وسلم هي بيان الحق ونور الألباب"
(2)ويقول ابن تيمية: "فكل ما يحتاج الناس إليه في دينهم فقد بينه الله ورسوله بياناً شافياً"
(3)وقد ظهرت أهمية هذه القاعدة، وفائدتها العظيمة لدى علماء السلف في مجال دراسة الأديان، لا سيما في المقارنة بين الإسلام وبين اليهودية والنصرانية.
3 - أصول الدين واحدة لا نسخ فيها ولا في الأخبار:إن معرفة ما يدخله النسخ مما لا يدخله من الشريعة، أمر في غاية الأهمية، لأنه من خلاله يدرك أن النسخ لا يستلزم على أمر محال؛ وإنما يكون لحكمة ومصلحة، كما يعرف به كذب من يدعي نسخ ما لا يدخله النسخ من أمور الدين، وحقيقة الأمر أن الشريعة نوعان:
الأول: خبر: ويدخل فيه كل ما أخبر الله تعالى أنه سيكون، أو كان، أو وعدنا، أو قص علينا من أخبار الأمم الماضية، وما قص علينا من أخبار الجنة والنار، والحساب، والعقاب، والبعث والحشر، وخلق السماوات والأرض .. وكذلك ما أخبرنا الله تعالى به عن ذاته وصفاته، وأفعاله، فهذا وشبهه من الأخبار المحضة لا يجوز دخول النسخ عليه
(4).
الثاني: الأوامر والنواهي يجوز دخول النسخ فيها شريطة ألا تتعلق بالاعتقادات، وأمهات الأخلاق وأصول العبادات والمعاملات، لأن الشريعة مبنية على حفظ هذه الكليات
(5).
--------------------------------------------
এই পূর্ণতা ও সব বিষয়ে কামিলিয়াতের সাক্ষ্য অন্য জাতির শত্রু ও বিরোধীরাও দিয়েছে। জনৈক ইহুদি সালমান আল-ফারিসি (রা.)-কে বললেন: "তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদের সবকিছুই শিক্ষা দিয়েছেন, এমনকি মলত্যাগের শিষ্টাচার পর্যন্ত।" তখন তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তিনি আমাদের মলমূত্র ত্যাগের সময় কিবলার দিকে মুখ করতে নিষেধ করেছেন।"
(১) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদি উম্মতকে মলত্যাগের শিষ্টাচার পর্যন্ত শিক্ষা দিয়ে থাকেন, তবে দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলো শিক্ষা দেওয়া তো আরও অগ্রগণ্য। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের এটিই অটল বিশ্বাস, যা কোনো সংশয় দ্বারা প্রকম্পিত হয় না এবং কোনো ফিতনা দ্বারা বিচলিত হয় না। এ বিষয়ে তাদের বক্তব্যসমূহ পরস্পর সুসংগত। ইবনে হাজম বলেন: "আল্লাহর কিতাব... পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জ্ঞানের আধার... এতে কোনো কিছুরই কমতি রাখা হয়নি... যে ব্যক্তি এটি বুঝবে, তার জন্য এটিই যথেষ্ট। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ হলো সত্যের বর্ণনা এবং প্রজ্ঞার আলো।"
(২)ইবনে তাইমিয়া বলেন: "মানুষের দ্বীনের ক্ষেত্রে যা কিছু প্রয়োজন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা পরিপূর্ণ ও পর্যাপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন।"
(৩)সালাফগণের নিকট ধর্মতত্ত্ব চর্চার ক্ষেত্রে এই মূলনীতির গুরুত্ব ও মহান উপকারিতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে ইসলাম এবং ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের তুলনামূলক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে।
৩ - দ্বীনের মূলনীতিসমূহ অভিন্ন, যাতে কোনো রহিতকরণ (নাসখ) নেই এবং সংবাদসমূহেও নেই:শরীয়তের কোন বিষয়গুলোতে রহিতকরণ (নাসখ) প্রবেশ করে আর কোনগুলোতে করে না, তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমেই উপলব্ধি করা যায় যে, রহিতকরণ কোনো অসম্ভব বিষয়ের ওপর অনিবার্য হয় না; বরং তা কোনো হিকমত ও কল্যাণের জন্যই হয়ে থাকে। এর মাধ্যমেই সেই ব্যক্তির মিথ্যাচার ধরা পড়ে যে দ্বীনের এমন বিষয়ে রহিতকরণের দাবি করে যাতে রহিতকরণ প্রবেশাধিকার রাখে না। প্রকৃত সত্য হলো, শরীয়ত দুই প্রকার:
প্রথম: সংবাদ (খবর): এর মধ্যে সেইসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ তাআলা ভবিষ্যতে ঘটবে বা অতীতে ঘটেছে বলে সংবাদ দিয়েছেন, অথবা আমাদের যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিংবা পূর্ববর্তী জাতিসমূহের যেসব কাহিনী আমাদের শুনিয়েছেন। জান্নাত, জাহান্নাম, হিসাব-নিকাশ, শাস্তি, পুনরুত্থান ও হাশর এবং আসমান ও জমিন সৃষ্টির সংবাদসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা তাঁর সত্তা, গুণাবলী এবং কার্যাবলী সম্পর্কে আমাদের যা সংবাদ দিয়েছেন, এই সংবাদ ও এর সদৃশ বিষয়গুলোতে রহিতকরণ প্রবেশ করা বৈধ নয়।
(৪).
দ্বিতীয়: আদেশ ও নিষেধ: এগুলোতে রহিতকরণ প্রবেশ করা বৈধ, তবে শর্ত হলো সেগুলো যেন আকিদাহ বা বিশ্বাস, মৌলিক নৈতিকতা এবং ইবাদত ও লেনদেনের (মুয়ামালাত) মূলনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়। কারণ শরীয়ত এই মৌলিক বিষয়গুলোর সংরক্ষণের ওপরই প্রতিষ্ঠিত।
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দিরাসাতু ইলমিল আদইয়ান - আহাম্মিয়াতুহা ওয়া মানাহিজুল বাহিছিনা ফিহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وبناء على هذا فإن الكلام ينصرف إلى النوع الأول عندما يقال أصول الأديان السماوية واحدة لا نسخ فيها، وإلى النوع الثاني عند ما يقال الإسلام ناسخ للأديان السابقة.
والمقصود هنا بيان أن علماء المسلمين حددوا ما يدخله النسخ مما لا يدخله، فانحصر ما ينقل عن الأنبياء السابقين إما أن يكون من النوع الذي يدخله النسخ، فإذا خالف هذا حكماً ثابتاً في الإسلام علم إما نسخه أو تبديله، أما إذا نقل شيئاً يخالف الشريعة الإسلامية مما لا يدخله النسخ علم بطلان هذا المنقول قطعاً، وهذا النهج لا يستقيم إلا لمن انطلق من هذه القاعدة.
4 - رد التنازع إلى الكتاب والسنة:تميز منهج أهل السنة بتحكيم الشريعة والتحاكم إليها في ما تنازع الناس فيه من أمور الدين امتثالاً لأمر الله تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا (59)} [النساء: 59]
(1).
ويقينا منهم أن الكتاب جاء للفصل بين الناس فيما اختلفوا فيه، قال تعالى: {أَلِيمٌ (63) وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدًى وَرَحْمَةً} [النحل: 64]
(2)، قال ابن حزم: " فلم يسع مسلماً يقر بالتوحيد أن يرجع عند التنازع إلى غير القرآن والخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا أن يأبى عما وجد فيهما، فإن فعل ذلك بعد قيام الحجة عليه فهو فاسق، وأما من فعله مستحلاً للخروج عن أمرهما، وموجباً لطاعة أحد دونهما، فهو كافر لا شك عندنا في ذلك"
(3).
وقد استعمل أهل الحق هذه القاعدة مع أهل الأديان، وهم في هذا الأمر مقتدون بالقرآن الذي طالب منهم إقامة دينهم والتحاكم بما أنزل الله إليهم. قال تعالى: {يَاأَهْلَ الْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلَى شَيْءٍ حَتَّى تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مِنْ رَبِّكُمْ} [المائدة: 68]
(4)، وقال تعالى: {وَلْيَحْكُمْ أَهْلُ الْإِنْجِيلِ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ (47)} [المائدة: 47]
(5).
--------------------------------------------
এর ওপর ভিত্তি করে কথাটি প্রথম প্রকারের দিকে ধাবিত হয় যখন বলা হয় যে, আসমানি ধর্মসমূহের মূলনীতি এক এবং এতে কোনো রহিতকরণ (নাসখ) নেই; আর কথাটি দ্বিতীয় প্রকারের দিকে ধাবিত হয় যখন বলা হয় যে, ইসলাম পূর্ববর্তী ধর্মসমূহকে রহিতকারী।
এখানে উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, মুসলিম উলামায়ে কেরাম রহিতকরণ যে বিষয়ে প্রযোজ্য এবং যে বিষয়ে প্রযোজ্য নয় তা নির্ধারণ করেছেন। সুতরাং পূর্ববর্তী নবীদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে যাতে রহিতকরণ কার্যকর হয়। অতএব, যদি তা ইসলামের কোনো সুসাব্যস্ত বিধানের পরিপন্থী হয়, তবে তা রহিত বা পরিবর্তিত বলে গণ্য হবে। আর যদি এমন কোনো বিষয় বর্ণিত হয় যা ইসলামি শরিয়তের পরিপন্থী এবং যাতে রহিতকরণ সম্ভব নয়, তবে সেই বর্ণিত বিষয়টির অসারতা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হবে। এই পদ্ধতিটি কেবল তাদের জন্যই সঠিক হবে যারা এই মূলনীতির ভিত্তিতে অগ্রসর হন।
৪ - বিরোধপূর্ণ বিষয়কে কিতাব ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করানো:দ্বীনি বিষয়ে মানুষের মাঝে যে মতভেদ দেখা দেয়, সেখানে আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে শরিয়তকে বিচারক হিসেবে মান্য করা এবং শরিয়তের কাছে ফয়সালা চাওয়ার মাধ্যমে আহলুস সুন্নাহর মানহাজ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।" (আন-নিসা: ৫৯)
(১)।
এটি ছিল তাদের এই দৃঢ় বিশ্বাসের কারণে যে, কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে মানুষের মধ্যকার মতবিরোধ নিরসনের জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি আপনার প্রতি এই কিতাব এ জন্যই অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তাদের কাছে সেই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে দেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে এবং এটি মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও রহমত।" (আন-নাহল: ৬৪)
(২)। ইবনে হাজম বলেন: "তাওহিদে বিশ্বাসী কোনো মুসলিমের জন্য বিরোধের সময় কুরআন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ ব্যতিরেকে অন্য কিছুর দিকে প্রত্যাবর্তন করা বৈধ নয়, আর এ দুটিতে যা পাওয়া যায় তা অস্বীকার করাও সঙ্গত নয়। প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যদি কেউ এমনটি করে তবে সে ফাসিক; আর যে ব্যক্তি এ দুটির নির্দেশ থেকে বিচ্যুত হওয়াকে বৈধ মনে করে এবং এ দুটি ছাড়া অন্য কারও আনুগত্যকে আবশ্যকীয় জ্ঞান করে, তবে সে কাফের—এ ব্যাপারে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই"
(৩)।
সত্যপন্থীরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সাথেও এই মূলনীতি ব্যবহার করেছেন। এক্ষেত্রে তারা কুরআনের অনুসরণ করেছেন, যা তাদের কাছে নিজেদের দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার এবং আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী বিচার ফয়সালা করার দাবি জানিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "হে কিতাবধারীগণ! তোমরা কোনো ভিত্তির ওপর নেই যতক্ষণ না তোমরা তাওরাত, ইঞ্জিল এবং তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করো।" (আল-মায়িদাহ: ৬৮)
(৪)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "ইঞ্জিলের অনুসারীরা যেন আল্লাহ তাতে যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুযায়ী ফয়সালা করে। আর যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুযায়ী ফয়সালা করে না, তারা পাপাচারী।" (আল-মায়িদাহ: ৪৭)
(৫)।
--------------------------------------------