(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: -)
قصر الأمل لابن أبي الدنيا   (ابن أبي الدنيا)

القسم: كتب السنة


الكتاب: قصر الأمل

المؤلف: أبو بكر عبد الله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن قيس البغدادي الأموي القرشي المعروف بابن أبي الدنيا (ت 281هـ)

المحقق: محمد خير رمضان يوسف

الناشر: دار ابن حزم - لبنان / بيروت

الطبعة: الثانية، 1417هـ - 1997م

عدد الصفحات: 211

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনু আবিদ দুনিয়ার আশার সংক্ষিপ্ততা (কাসরুল আমাল)   (ইবনু আবিদ দুনিয়া)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: কাসরুল আমাল (আশার সংক্ষিপ্ততা)

লেখক: আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন কায়েস আল-বাগদাদি আল-উমাবি আল-কুরাশি, যিনি ইবনু আবিদ দুনিয়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ২৮১ হিজরি)

তাহকিক: মুহাম্মাদ খায়ের রামাদান ইউসুফ

প্রকাশক: দার ইবনে হাযম - লেবানন / বৈরুত

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১১

[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٥)
1 - أَخْبَرَنَا الشَّيْخُ أَبُو مُحَمَّدٍ جَعَفْرُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْحُسَيْنِ الْمَعْرُوفُ بِالسَّرَّاجِ الْبَغْدَادِيُّ الْقَارِي ، قَدِمَ عَلَيْنَا مِنْ دِمَشْقَ قَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَسَنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ إِبرَاهِيمَ بْنِ شَاذَانَ الْبَزَّازُ ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ فِي شَهْرِ رَبِيعٍ الْأَوَّلِ مِنْ سَنَةِ ثَلَاثٍ وَعِشْرِينَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ، وَقَالَ: أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عِيسَى ابْنِ الْمَنْصورِ ابْنِ بَرِّيَّةَ الْهَاشِمِيُّ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ قَبْلَ الصَّلَاةِ مُسْتَهَلَّ جُمَادَى الْآخِرَةِ ، مِنْ سَنَةِ أَرْبَعٍ وَأَرْبَعِينَ وَثَلَاثِمِائَةٍ فِي مَنْزِلِهِ مِنْ مَدِينَةِ الْمَنْصُورِ أَبِي جَعْفَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ سُفْيَانَ الْقُرَشِيُّ الْمَعْرُوفُ بِابْنِ أَبِي الدُّنْيَا قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ خِدَاشِ بْنِ عَجْلَانَ الْمُهَلَّبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ لَيْثٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَوْمًا بِبَعْضِ جَسَدِي، فَقَالَ: «يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ، وَكَأَنَّكَ عَابِرُ سَبِيلٍ، وَعُدَّ نَفْسَكَ مِنْ أَهْلِ الْقُبُورِ» ⦗ص: 26⦘ قَالَ مُجَاهِدٌ: ثُمَّ قَالَ لِي ابْنُ عُمَرَ: «يَا مُجَاهِدُ، إِذَا أَصْبَحْتَ فَلَا تُحَدِّثْ نَفْسَكَ بِالْمَسَاءِ، وَإِذَا أَمْسَيْتَ فَلَا تُحَدِّثْ نَفْسَكَ بِالصَّبَاحِ، وَخُذْ مِنْ حَيَاتِكَ لِمَوْتِكَ، وَمِنْ صِحَّتِكَ لِسَقَمِكَ، فَإِنَّكَ يَا عَبْدَ اللَّهِ لَا تَدْرِي مَا اسْمُكَ غَدًا» .

 

2 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الطُّفَاوِيُّ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ
১ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ আবু মুহাম্মদ জাফর ইবন আহমদ ইবন আল-হুসাইন, যিনি আস-সাররাজ আল-বাগদাদী আল-কারী নামে পরিচিত; তিনি দামেশক থেকে আমাদের নিকট আগমন করেন এবং বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান ইবন আহমদ ইবন ইবরাহিম ইবন শাযান আল-বাযযায, চারশ তেইশ হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসে তাঁর নিকট পাঠকালে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর আবদুল্লাহ ইবন ইসমাইল ইবন ইবরাহিম ইবন ঈসা ইবনুল মানসুর ইবন বাররিয়্যাহ আল-হাশেমী, তিনশ চুয়াল্লিশ হিজরী সনের জুমাদাল আখিরা মাসের শুরুতে জুমুআর দিন নামাযের পূর্বে আবু জাফর আল-মানসুরের নগরে তাঁর নিজ বাসভবনে। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর আবদুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন উবাইদ ইবন সুফিয়ান আল-কুরাশী, যিনি ইবন আবিদ দুনইয়া নামে পরিচিত। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খালিদ ইবন খিদাশ ইবন আজলান আল-মুহাল্লাবী। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবন যায়দ, লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদিন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার শরীরের কিছু অংশ ধরলেন এবং বললেন: «হে আবদুল্লাহ ইবন উমর! দুনিয়াতে এমনভাবে থাকো যেন তুমি একজন অপরিচিত আগন্তুক অথবা একজন পথচারী মুসাফির; আর নিজেকে কবরের বাসিন্দাদের একজন গণ্য করো।» ⦗পৃষ্ঠা: ২৬⦘ মুজাহিদ বলেন: এরপর ইবন উমর আমাকে বললেন: «হে মুজাহিদ! তুমি যখন সকালে উপনীত হও তখন নিজেকে সন্ধ্যার কথা বলো না (সন্ধ্যা পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশা করো না), আর যখন সন্ধ্যায় উপনীত হও তখন নিজেকে সকালের কথা বলো না। তোমার জীবন থেকে তোমার মৃত্যুর জন্য পাথেয় গ্রহণ করো এবং তোমার সুস্থতা থেকে তোমার অসুস্থতার জন্য; কেননা হে আল্লাহর বান্দা! তুমি জানো না আগামীকাল তোমার নাম কী হবে (অর্থাৎ তুমি জীবিতদের তালিকায় থাকবে নাকি মৃতদের)»।

 

২ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ইবন মুহাম্মদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান আত-তুফাবী, আমাশ থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবন উমর থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٦)
3 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ زُهَيْرٍ الضَّبِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ الْأَسَدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْيَمَانُ بْنُ حُذَيْفَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي حَنْظَلَةَ مَوْلَى عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رضي الله عنه، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " إِنَّ أَشَدَّ مَا أَتَخَوَّفُ عَلَيْكُمْ خَصْلَتَيْنِ: اتِّبَاعَ الْهَوَى، وَطُولَ الْأَمَلِ. فَأَمَّا اتِّبَاعُ الْهَوَى فَإِنَّهُ يَعْدِلُ عَنِ الْحَقِّ. وَأَمَّا طُولُ الْأَمَلِ فَالْحُبُّ لِلدُّنْيَا " ثُمَّ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ يُعْطِي الدُّنْيَا مَنْ يُحِبُّ وَيُبْغِضُ. وَإِذَا أَحَبَّ اللَّهُ عَبْدًا أَعْطَاهُ الْإِيمَانَ ⦗ص: 27⦘، أَلَا إِنَّ لِلدِّينِ أَبْنَاءً، وَلِلدُّنْيَا أَبْنَاءً. فَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الدِّينِ، وَلَا تَكُونُوا مِنْ أَبْنَاءِ الدُّنْيَا. أَلَا إِنَّ الدُّنْيَا قَدِ ارْتَحَلَتْ مُولِّيَةً، وَالْآخِرَةَ قَدِ ارْتَحَلَتْ مُقْبِلَةً أَلَا وَإِنَّكُمْ فِي يَوْمِ عَمَلٍ لَيْسَ فِيهِ حِسَابٌ، أَلَا وَإِنَّكُمْ تُوشِكُونَ فِي يَومِ حِسَابٍ وَلَيْسَ فِيهِ عَمَلٌ»
৩ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ ইবনে আমর ইবনে জুহায়র আদ-দাব্বী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-আসাদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-ইয়ামান ইবনে হুযায়ফা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আলী ইবনে আবি হানজালা থেকে—যিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুক্তদাস ছিলেন—তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদের ব্যাপারে যে দুটি বৈশিষ্ট্যকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো: প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং দীর্ঘ আশা। প্রবৃত্তির অনুসরণ মানুষকে সত্য থেকে বিচ্যুত করে দেয়। আর দীর্ঘ আশা হলো দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা।" অতঃপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ দুনিয়া তাকেও দান করেন যাকে তিনি ভালোবাসেন এবং তাকেও দান করেন যাকে তিনি অপছন্দ করেন। আর আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে ঈমান দান করেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৭⦘। জেনে রেখো, দ্বীনেরও সন্তান (অনুসারী) রয়েছে এবং দুনিয়ারও সন্তান রয়েছে। সুতরাং তোমরা দ্বীনের সন্তান হও, দুনিয়ার সন্তান হয়ো না। জেনে রেখো, দুনিয়া পৃষ্ঠপ্রদর্শন করে বিদায় নিচ্ছে এবং আখিরাত সম্মুখে অগ্রসর হয়ে আসছে। সাবধান! তোমরা এখন আমলের জগতে আছ যেখানে কোনো হিসাব নেই, আর অচিরেই তোমরা হিসাবের জগতে পৌঁছে যাবে যেখানে কোনো আমল নেই।"
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٧)
4 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ يَعْنِي الزَّعْفَرَانِيَّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ. . .، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي: الْهَوَى وَطُولَ الْأَمَلِ فَأَمَّا الْهَوَى فَيَصُدُّ عَنِ الْحَقِّ. وَأَمَّا طُولُ الْأَمَلِ فَيَصُدُّ عَنِ الْآخِرَةِ. وَهَذِهِ الدُّنْيَا مُرْتَحِلَةٌ. وَهَذِهِ الْآخِرَةُ قَادِمَةٌ، وَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا بَنُونَ، فَكُونُوا بَنِي الْآخِرَةِ وَلَا تَكُونُوا مِنْ بَنِي الدُّنْيَا، فَإِنَّكُمُ الْيَوْمَ فِي دَارِ الْعَمَلِ، وَأَنْتُمْ غَدًا فِي دَارِ جَزَاءٍ وَلَا عَمَلَ "
4 - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ অর্থাৎ আয-জা’ফরানি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুয়াবিয়া ইবনে মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবনে... বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির বর্ণনা করেছেন, তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি আমার উম্মতের ওপর যা সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো: প্রবৃত্তির অনুসরণ এবং দীর্ঘ আশা। প্রবৃত্তির অনুসরণ সত্য থেকে বিমুখ করে দেয়, আর দীর্ঘ আশা আখিরাত থেকে বিমুখ করে দেয়। এই দুনিয়া প্রস্থান করছে এবং এই আখিরাত আগমন করছে। এদের প্রত্যেকেরই সন্তান রয়েছে, সুতরাং তোমরা আখিরাতের সন্তান হও এবং দুনিয়ার সন্তান হয়ো না। কেননা তোমরা আজ আমলের ঘরে আছ, আর আগামীকাল তোমরা প্রতিদানের ঘরে থাকবে যেখানে কোনো আমল নেই।"
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
5 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْآدَمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ ثَابِتٍ، عَنِ الْوَازِعِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أُمِّ الْمُنْذِرِ، قَالَتِ: اطَّلَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ عَشِيَّةٍ إِلَى النَّاسِ فَقَالَ: " أَيُّهَا النَّاسُ، أَمَا تَسْتَحْيُونَ مِنَ اللَّهِ؟ قَالُوا: وَمَا ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «تَجْمَعُونَ مَا لَا تَأْكُلُونَ، وَتَأْمُلُونَ مَا لَا تُدْرِكُونَ، وَتَبْنُونَ مَا لَا تَعْمُرُونَ»
৫ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আল-আদামি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাদ ইবনে আবদুল হামিদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলি ইবনে সাবিত আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়াজি ইবনে নাফি থেকে, তিনি সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি উম্মুল মুনজির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: একদা সন্ধ্যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সামনে উপস্থিত হয়ে বললেন: "হে লোকসকল, তোমরা কি আল্লাহকে লজ্জা পাও না?" তারা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল, সেটি কী?" তিনি বললেন: «তোমরা তা জমা করো যা তোমরা ভক্ষণ করো না, আর এমন আশা পোষণ করো যা তোমরা অর্জন করতে পারবে না, এবং এমন সব নির্মাণ করো যাতে তোমরা বসবাস করো না»
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٨)
6 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: وَحَدَّثَنِي الْعَبَّاسُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حِمْيَرَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ ⦗ص: 29⦘: اشْتَرَى أُسَامَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَلِيدَةً بِمِائَةِ دِينَارٍ إِلَى شَهْرٍ، فَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «أَلَا تَعْجَبُونَ مِنْ أُسَامَةَ الْمُشْتَرِي إِلَى شَهْرٍ؟ إِنَّ أُسَامَةَ لَطَوِيلُ الْأَمَلِ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا طَرَفَتْ عَيْنَاي إِلَّا ظَنَنْتُ أَنَّ شَفْرَيَّ لَا يَلْتَقِيَانِ حَتَّى يَقْبِضَ اللَّهُ رُوحِي، وَلَا رَفَعْتُ طَرْفِيَ فَظَنَنْتُ أَنِّي وَاضِعُهُ حَتَّى أُقْبَضَ، وَلَا لَقِمْتُ لُقْمَةً إِلَّا ظَنَنْتُ أَنِّي لَا أَسِيغُهَا حَتَّى أَغُصَّ بِهَا مِنَ الْمَوْتِ» ، ثُمَّ قَالَ: «يَا بَنِي آدَمَ، إِنْ كُنْتُمْ تَعْقِلُونَ فَعُدُّوا أَنْفُسَكُمْ مِنَ الْمَوْتَى؛ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ مَا تُوعَدُونَ لَآتٍ، وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ»
৬ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্বাস ইবনে জাফর আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল মুসাফফা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে হিমইয়ার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর ইবনে আবি মারইয়াম আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সাঈদ আল-খুদরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ২৯⦘: ওসামা ইবনে যায়েদ ইবনে সাবিত এক মাসের মেয়াদে একশ দীনারের বিনিময়ে একজন দাসী ক্রয় করলেন। তখন আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনলাম: "তোমরা কি ওসামার প্রতি বিস্মিত হচ্ছ না যে এক মাসের মেয়াদে ক্রয় করছে? নিশ্চয়ই ওসামার দীর্ঘ আশা রয়েছে। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আমার চোখ যখনই পলক ফেলেছে তখনই আমি মনে করেছি যে, আল্লাহ আমার রূহ কবজ করার আগে হয়তো চোখের পাতা দু’টি আর মিলিত হবে না। আর যখনই আমি আমার দৃষ্টি উপরে তুলেছি তখনই আমি মনে করেছি যে, আমার প্রাণ হরণের আগে হয়তো আমি তা আর নামাতে পারব না। আর যখনই আমি কোনো লোকমা মুখে নিয়েছি তখনই আমি মনে করেছি যে, মৃত্যুর কারণে গলায় আটকে যাওয়ার আগে হয়তো আমি তা আর গিলতে পারব না।" এরপর তিনি বললেন: "হে আদম সন্তান! যদি তোমাদের বোধশক্তি থাকে তবে নিজেদের মৃতদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করো। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তোমাদের যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে তা অবশ্যই আসবে, আর তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না।"
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٢٩)
7 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي عِصْمَةُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنِ ابْنِ هُبَيْرَةَ، عَنْ حَنَشٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ،: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " كَانَ يُهْرِيقُ الْمَاءَ، فَيَتَمَسَّحُ بِالتُّرَابِ، فَأَقُولُ ⦗ص: 30⦘: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ الْمَاءَ مِنْكَ قَرِيبٌ؟، فَيَقُولُ «وَمَا يُدْرِينِي لَعَلِّي لَا أَبْلُغُهُ»
৭ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইসমাহ ইবনুল ফাযল আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়া থেকে, তিনি ইবনে হুবাইরা থেকে, তিনি হানাশ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রস্রাব করতেন, অতঃপর মাটি দিয়ে তায়াম্মুম (মাসেহ) করতেন। তখন আমি বলতাম ⦗পৃষ্ঠা: ৩০⦘: হে আল্লাহর রাসূল! পানি তো আপনার নিকটেই রয়েছে? তখন তিনি বলতেন: “আমি কী করে জানব? সম্ভবত আমি সেখানে পৌঁছাতে পারব না।”
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٠)
8 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْحَسَنِ الْهَيْثَمُ بْنُ خَالِدٍ الْبَصْرِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ جَمِيلٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُثَنَّى بْنِ أَنَسٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ آلِ أَنَسٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: رَأَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلًا قَدِ اتَّخَذَ قِبَالًا مِنْ حَدِيدٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " أَمَّا أَنْتَ فَقَدْ أَطَلْتَ الْأَمَلَ، وَزَهَدْتَ فِي الْأَجْرِ، وَكَرِهْتَ الْحَسَنَاتِ، إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا انْقَطَعَ شِسْعُهُ فَقَالَ: إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ، كَانَ عَلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ الصَّلَاةُ وَالْهُدَى وَالرَّحْمَةُ، فَذَاكَ خَيْرٌ لَهُ مِنَ الدُّنْيَا "
৮ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল হাসান আল-হাইসাম বিন খালিদ আল-বাসরী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-হাইসাম বিন জামিল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ বিন আল-মুসান্না বিন আনাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আনাসের পরিবারের একজন লোক আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে লোহার তৈরি জুতার ফিতা গ্রহণ করেছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "তোমার ব্যাপারে কথা হলো, তুমি আকাঙ্ক্ষাকে দীর্ঘ করেছ, প্রতিদানের প্রতি বিমুখ হয়েছ এবং নেক আমলকে অপছন্দ করেছ। নিশ্চয়ই তোমাদের কারো যখন জুতার ফিতা ছিঁড়ে যায় এবং সে বলে: 'নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী', তখন তার রবের পক্ষ থেকে তার ওপর রহমত, হেদায়েত ও করুণা বর্ষিত হয়; আর তা তার জন্য দুনিয়ার চেয়েও উত্তম।"
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣١)
9 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَّامٍ الْجُمَحِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ جَدِّهِ أَنَسٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَضَعَ أَنَامِلَهُ عَلَى الْأَرْضِ فَقَالَ: «هَذَا ابْنُ آدَمَ، وَهَذَا أَجَلُهُ مِنْ خَلْفِهِ، وَثَمَّ أَمَلُهُ، وَأَشَارَ بِيَدَيْهِ»
৯ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন সাল্লাম আল-জুমাহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাম্মাদ বিন সালামাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উবাইদুল্লাহ বিন আবি বকর বিন আনাস থেকে, তিনি তাঁর দাদা আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আঙ্গুলের অগ্রভাগ মাটিতে রাখলেন এবং বললেন: «এটি আদম সন্তান, আর এটি তার নির্ধারিত সময় (মৃত্যু) যা তার পিছনে রয়েছে, আর সেখানে রয়েছে তার আশা; এবং তিনি তাঁর দুই হাত দিয়ে ইশারা করলেন।»
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣١)
10 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ الْجَوْهَرِيُّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ عَلِيٍّ الرِّفَاعِيُّ، عَنْ أَبِي الْمُتَوَكِّلِ النَّاجِيِّ، قَالَ: أَخَذَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثَةَ أَعْوَادٍ، فَغَرَزَ عُودًا بَيْنَ يَدَيْهِ، وَالْآخَرَ إِلَى جَنْبِهِ، وَأَمَّا الثَّالِثُ فَأَبْعَدَهُ، وَقَالَ: «هَلْ تَدْرُونَ مَا هَذَا؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «هَذَا الْإِنْسَانُ، وَهَذَا الْأَجَلُ، وَذَاكَ الْأَمَلُ، يَتَعَاطَاهُ ابْنُ آدَمَ وَيَخْتَلِجُهُ دُونَ الْأَمَلِ»

 

11 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو هُرَيْرَةَ الصَّيْرَفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي ⦗ص: 32⦘ حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَلِيٍّ الرِّفَاعِيِّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْمُتَوَكِّلِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ
১০ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী বিন আল-জাদ আল-জাওহারী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী বিন আলী আর-রিফায়ি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি আবু আল-মুতাওয়াক্কিল আন-নাজি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনটি কাঠি গ্রহণ করলেন। অতঃপর তিনি একটি কাঠি তাঁর সামনে পুঁতলেন, অন্যটি তাঁর পাশে এবং তৃতীয়টি দূরে স্থাপন করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: «তোমরা কি জানো এগুলো কী?» তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: «এটি হলো মানুষ, এটি হলো তার আয়ু, আর ঐটি হলো তার আশা। আদম সন্তান সেই আশার দিকে হাত বাড়ায়, কিন্তু আশা অর্জনের পূর্বেই মৃত্যু তাকে ছিনিয়ে নেয়।»

 

১১ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আবু হুরায়রা আস-সায়রাফি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট ⦗পৃষ্ঠা: ৩২⦘ হারামী বিন উমারা বর্ণনা করেছেন, তিনি আলী বিন আলী আর-রিফায়ি থেকে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আল-মুতাওয়াক্কিল বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু সাঈদ থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٢)
12 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ عِيسَى الْأَهْوَازِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَلَّادُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ: حَدَّثَنَا بَشِيرُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَصَاتَيْنِ، فَرَمَى بِهِمَا، وَقَالَ: «هَذَا الْأَجَلُ، وَهَذَاكَ الْأَمَلُ»
১২ - আবদুল্লাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে ইসহাক ইবনে ঈসা আল-আহওয়াজী আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: বশীর ইবনে আল-মুহাজির আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদা থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দুটি কঙ্কর নিলেন, অতঃপর তিনি সেগুলো নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: «এটি হলো মৃত্যু, আর ওটি হলো আশা।»
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٢)
13 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ فِرَاسٍ الضُّبَعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَوَّامِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَثَلُ ابْنِ آدَمَ وَإِلَى جَنْبِهِ تِسْعٌ وَتِسْعُونَ مَنِيَّةً، إِنْ أَخْطَأَتْهُ الْمَنَايَا ⦗ص: 33⦘ وَقَعَ فِي الْهَرَمِ»
১৩ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এবং মুহাম্মদ ইবনে ফিরাাস আয-যুবাই আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু কুতায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-আওয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «আদম সন্তানের উদাহরণ হলো এই যে, তার পাশে নিরানব্বইটি বিপদ (মৃত্যুর কারণ) রয়েছে; যদি বিপদগুলো তাকে এড়িয়ে যায় ⦗পৃষ্ঠা: ৩৩⦘ তবে সে বার্ধক্যে পতিত হয়।»
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٣)
14 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ، قَالَ: قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ: «هَذَا الْمَرْءُ وَهَذِهِ الْحُتُوفُ حَوْلَهُ شَوَارِعُ إِلَيْهِ، وَالْهَرَمُ وَرَاءَ الْحُتُوفِ، وَالْأَمَلُ وَرَاءَ الْهَرَمِ، فَهُوَ يَأْمُلُ، وَهَذِهِ الْحُتُوفُ شَوَارِعُ إِلَيْهِ، فَأَيُّهَا أُمِرَ بِهِ أَخَذَهُ، فَإِنْ أَخْطَأَتْهُ الْحُتُوفُ قَتَلَهُ الْهَرَمُ، وَهُوَ يَنْظُرُ إِلَى الْأَمَلِ»
১৪ - আব্দুল্লাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু খাইসামাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহীম আত-তাইমী থেকে, তিনি হারিস ইবনে সুওয়াইদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে মাসউদ বলেছেন: «এই হলো মানুষ এবং এই হলো তার চারপাশে তার দিকে মুখিয়ে থাকা মৃত্যুসমূহ, আর বার্ধক্য হলো সেই মৃত্যুসমূহের পেছনে, এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা হলো বার্ধক্যের পেছনে। সে আশা করতে থাকে, অথচ এই মৃত্যুগুলো তার দিকেই উদ্যত হয়ে আছে; সুতরাং এগুলোর মধ্যে যেটিকে তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয় সেটিই তাকে পাকড়াও করে। আর যদি মৃত্যুসমূহ তাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করে (ছেড়ে দেয়), তবে বার্ধক্য তাকে সংহার করে; এমতাবস্থায় সে আশা-আকাঙ্ক্ষার দিকেই তাকিয়ে থাকে।»
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٣)
15 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ أَبِي يَعْلَى، عَنْ رَبِيعِ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ ⦗ص: 34⦘: خَطَّ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطًّا مُرَبَّعًا، وَخَطَّ وَسَطَهُ، وَخَطَّ خُطُوطًا هَكَذَا إِلَى جَانِبِ الْخَطِّ، وَخَطَّ خَطًّا خَارِجًا فَقَالَ: «أَتَدْرُونَ مَا هَذَا؟» قُلْنَا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «هَذَا الْإِنْسَانُ لِلْخَطِّ الَّذِي فِي وَسَطِ الْخَطِّ، وَهَذَا الْأَجَلُ مُحِيطٌ بِهِ، وَهَذِهِ الْأَعْرَاضُ الْخُطُوطُ تَنْهَشُهُ، إِنْ أَخْطَأَ هَذَا نَهَشَهُ ذَا، وَذَلِكَ الْأَمَلُ لِلْخَطِّ الْخَارِجِ»
১৫ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু খাইসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ সুফিয়ান থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আবু ইয়ালা থেকে, তিনি রাবি ইবনে খুছাইম থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৪⦘: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের জন্য একটি বর্গাকার রেখা অঙ্কন করলেন এবং এর মাঝখানে একটি রেখা টানলেন, আর মাঝখানের রেখাটির পার্শ্বে এভাবে আরও কিছু রেখা টানলেন। এরপর তিনি (বর্গক্ষেত্রের) বাইরে একটি রেখা টানলেন এবং বললেন: «তোমরা কি জানো এটা কী?» আমরা বললাম: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। তিনি বললেন: «মাঝখানের এই রেখাটি হলো মানুষ, আর এটি (বর্গাকার রেখাটি) হলো তার মৃত্যু যা তাকে পরিবেষ্টন করে আছে। আর এই (পার্শ্ববর্তী ছোট) রেখাগুলো হলো পার্থিব বিপদ-আপদ যা তাকে দংশন করে; যদি একটি তাকে ছেড়ে দেয় তবে অন্যটি তাকে দংশন করে। আর বাইরের রেখাটি হলো মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা।»
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٤)
16 - قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ الْمَاجِشُونُ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ وُهَيْبٍ، عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: جَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ، فَأَدَارَ مُدَّةً، فَقَالَ «هَذِهِ الدُّنْيَا» ، ثُمَّ ⦗ص: 35⦘ أَدَارَ أُخْرَى مِنْ وَرَائِهَا فَقَالَ: «هَذَا الْمَوْتُ» ، ثُمَّ أَدَارَ أُخْرَى مِنْ وَرَائِهَا، فَقَالَ: «هَذَا الْأَمَلُ» . ثُمَّ نَكَتَ بِيَدِهِ فِي. . الْأُولَى فَقَالَ: «هَذَا ابْنُ آدَمَ، فَنَفْسُهُ تَتُوقُ إِلَى الْأَمَلِ، وَالْأَجَلِ. . .»
১৬ - তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুল মালিক ইবনে আবদুল আজীজ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবু সালামাহ আল-মাজিশুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে আবিয যিনাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনে আবদুল আজীজ ইবনে উহাইব থেকে, তিনি খারিজাহ ইবনে যায়েদ ইবনে সাবিত থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসলেন, এরপর তিনি একটি বৃত্ত আঁকলেন এবং বললেন, «এটি দুনিয়া»। এরপর ⦗পৃষ্ঠা: ৩৫⦘ তার বাইরে আরেকটি বৃত্ত আঁকলেন এবং বললেন: «এটি মৃত্যু»। এরপর তার বাইরে আরেকটি বৃত্ত আঁকলেন এবং বললেন: «এটি আশা»। এরপর তিনি তাঁর হাত দিয়ে প্রথম বৃত্তটির মাঝে চিহ্ন দিলেন এবং বললেন: «এটি আদম সন্তান, তার প্রাণ আশার দিকে ব্যাকুল হয়, আর নির্ধারিত সময় (মৃত্যু)...»
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٥)
17 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عَتَّابٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكَّارٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «مَثَّلَ الْإِنْسَانَ وَالْأَجَلَ وَالْأَمَلَ، فَمَثَّلَ الْأَجَلَ إِلَى جَانِبِهِ، وَالْأَمَلَ أَمَامَهُ، فَبَيْنَمَا هُوَ يَأْمُلُ، إِذْ أَتَاهُ أَجَلُهُ فَاخْتَلَجَهُ»
১৭ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আবি আত্তাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন বাক্কার বর্ণনা করেছেন, সাঈদ বিন বশীর থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষ, তার আয়ু এবং তার আকাঙ্ক্ষার একটি উদাহরণ পেশ করেছেন। তিনি আয়ুকে তার পার্শ্বে এবং আকাঙ্ক্ষাকে তার সামনে স্থাপন করেছেন। এমতাবস্থায় যখন সে আকাঙ্ক্ষা করতে থাকে, হঠাৎ তার নির্দিষ্ট সময় (মৃত্যু) উপস্থিত হয় এবং তাকে ছিনিয়ে নেয়।
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٥)
18 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ، قَالَ: أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: " يَهْرَمُ ابْنُ آدَمَ وَيَبْقَى مِنْهُ اثْنَتَانِ: الْحِرْصُ وَالْأَمَلُ "
১৮ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু খাইসামা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ওকী’ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: শু’বা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, কাতাদা থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আদম সন্তান বৃদ্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তার মাঝে দুটি বিষয় অবশিষ্ট থাকে: লোভ এবং আকাঙ্ক্ষা।"
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٥)
19 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ⦗ص: 36⦘: " يَهْرَمُ ابْنُ آدَمَ، وَتَشِبُّ مِنْهُ اثْنَتَانِ: الْحِرْصُ عَلَى الْمَالِ، وَالْحِرْصُ عَلَى الْعُمْرِ "
১৯ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালাফ ইবনে হিশাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আওয়ানাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৬⦘: "আদম সন্তান বার্ধক্যে উপনীত হয়, আর তার মধ্যে দুটি বিষয় নবযৌবন লাভ করে: সম্পদের প্রতি লোভ এবং দীর্ঘ জীবনের প্রতি লোভ।"
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٦)
20 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ لَهِيعَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «نَجَا أَوَّلُ هَذِهِ الْأُمَّةِ بِالْيَقِينِ وَالزُّهْدِ، وَيَهْلِكُ آخِرُ هَذِهِ الْأُمَّةِ بِالْبُخْلِ وَالْأَمَلِ»
২০ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালামাহ ইবনে শাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারওয়ান ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবন লাহি'আহ থেকে, তিনি আমর ইবনে শুয়াইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «এই উম্মতের প্রথম অংশ মুক্তি পেয়েছে ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস) ও জুহদ (দুনিয়াবিমুখতা)-এর মাধ্যমে, আর এই উম্মতের শেষ অংশ ধ্বংস হবে কৃপণতা ও দীর্ঘ আকাঙ্ক্ষার কারণে।»
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٦)
21 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ مُوسَى، قَالَ ⦗ص: 37⦘: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، قَالَ: «قَدْ بَلَغْتُ ثَلَاثِينَ وَمِائَةَ سَنَةٍ، فَمَا مِنِّي شَيْءٌ إِلَّا قَدْ عَرَفْتُ فِيهِ النُّقْصَانَ إِلَّا أَمَلِي، فَإِنَّهُ كَمَا هُوَ»
২১ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ ইবনে মুসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৭⦘: উবাইদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-কুরাশী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ্ থেকে, তিনি হুমাইদ থেকে এবং তিনি আবু উসমান আন-নাহদী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি একশত ত্রিশ বছর বয়সে পদার্পণ করেছি। আমার প্রতিটি বিষয়ের মধ্যেই আমি ঘাটতি অনুভব করেছি, কেবল আমার আশা ব্যতীত; কেননা তা আগের মতোই অটুট রয়েছে।»
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٧)
22 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا غَسَّانُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدَ، وَحُمَيْدٍ، قَالَا ⦗ص: 38⦘: " بَيْنَمَا عِيسَى جَالِسٌ، وَشَيْخٌ يَعْمَلُ بِمِسْحَاتِهِ يُثِيرُ بِهَا الْأَرْضَ، فَقَالَ عِيسَى: «اللَّهُمَّ انْزَعْ مِنْهُ الْأَمَلَ» فَوَضَعَ الشَّيْخُ الْمِسْحَاةَ وَاضْطَجَعَ. فَلَبِثَ سَاعَةً، فَقَالَ عِيسَى: «اللَّهُمَّ ارْدُدْ إِلَيْهِ الْأَمَلَ» . فَقَامَ، فَجَعَلَ يَعْمَلُ، فَقَالَ عِيسَى: «مَا لَكَ بَيْنَمَا أَنْتَ تَعْمَلُ أَلْقَيْتَ مِسْحَاتَكَ وَاضْطَجَعْتَ سَاعَةً، ثُمَّ إِنَّكَ قُمْتَ بَعْدُ تَعْمَلُ؟» فَقَالَ الشَّيْخُ: بَيْنَمَا أَنَا أَعْمَلُ، إِذْ قَالَتْ لِي نَفْسِي: إِلَى مَتَى تَعْمَلُ وَأَنْتَ شَيْخٌ كَبِيرٌ؟ فَأَلْقَيْتُ الْمِسْحَاةَ وَاضْطَجَعْتُ. ثُمَّ قَالَتْ لِي نَفْسِي: وَاللَّهِ مَا بُدٌّ لَكَ مِنْ عَيْشٍ مَا بَقِيتَ؛ فَقُمْتُ إِلَى مِسْحَاتِي "
২২ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন গাসসান ইবনে মালিক, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, তিনি দাউদ ইবনে আবি হিন্দ এবং হুমায়দ থেকে বর্ণনা করেন, তাঁরা উভয়ে বলেন ⦗পৃষ্ঠা: ৩৮⦘: "একদা ঈসা (আলাইহিস সালাম) বসা ছিলেন, এমতাবস্থায় এক বৃদ্ধ লোক তার কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়ে কাজ করছিলেন। তখন ঈসা (আলাইহিস সালাম) বললেন: «হে আল্লাহ, আপনি তার থেকে আশা (দীর্ঘজীবনের আকাঙ্ক্ষা) ছিনিয়ে নিন»। তখন বৃদ্ধ লোকটি কোদালটি রেখে দিলেন এবং শুয়ে পড়লেন। তিনি কিছুক্ষণ সেভাবে অতিবাহিত করলেন, এরপর ঈসা (আলাইহিস সালাম) বললেন: «হে আল্লাহ, আপনি তার নিকট আশা ফিরিয়ে দিন»। অমনি তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং কাজ করতে লাগলেন। তখন ঈসা (আলাইহিস সালাম) জিজ্ঞেস করলেন: «আপনার কী হলো যে, কাজ করা অবস্থায় হঠাৎ আপনি কোদাল ফেলে দিলেন এবং কিছুক্ষণ শুয়ে থাকলেন, তারপর আবার উঠে কাজ শুরু করলেন?» বৃদ্ধ লোকটি বললেন: 'আমি যখন কাজ করছিলাম, তখন আমার নফস আমাকে বলল: তুমি কতকাল কাজ করবে অথচ তুমি একজন অতি বৃদ্ধ মানুষ? তখন আমি কোদালটি ফেলে দিলাম এবং শুয়ে পড়লাম। এরপর আমার নফস আমাকে বলল: আল্লাহর কসম, তুমি যতদিন বেঁচে আছো, তোমার জীবনধারণের উপকরণ ছাড়া তো কোনো গত্যন্তর নেই; তাই আমি পুনরায় আমার কোদালের কাছে গিয়ে কাজে প্রবৃত্ত হলাম'।"
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٨)
23 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ بَرْعَمَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: «لَوْلَا السَّهْوُ وَالْأَمَلُ مَا مَشَى الْمُسْلِمُونَ فِي الطَّرِيقِ»
২৩ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: সুলায়মান বিন হারব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: হাম্মাদ বিন যায়িদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মামার বিন বারআমা থেকে, হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «যদি বিস্মৃতি এবং দীর্ঘ আশা না থাকত, তবে মুসলিমগণ পথে চলাচল করত না।»
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٨)
24 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ الْمُحَبَّرِ، عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: «السَّهْوُ وَالْأَمَلُ نِعْمَتَانِ عَظِيمَتَانِ عَلَى ابْنِ آدَمَ»
২৪ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট দাউদ বিন আল-মুহাব্বার বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহিদ বিন যাইদ থেকে, তিনি আল-হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «বিস্মৃতি এবং আশা বনী আদমের জন্য দু’টি মহান নিআমত»
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٩)
25 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي رَزِينٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُهَيْلٌ أَخُو حَزْمٍ، عَنْ غَالِبٍ الْقَطَّانِ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ، قَالَ: قَالَ مُطَرِّفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ: «لَوْ عَلِمْتُ مَتَى أَجَلِي لَخَشِيتُ عَلَى ذَهَابِ عَقْلِي، وَلَكِنَّ اللَّهَ مَنَّ عَلَى عِبَادِهِ بِالْغَفْلَةِ عَنِ الْمَوْتِ. وَلَوْلَا الْغَفْلَةُ مَا تَهَنَّئُوا بِعَيْشٍ، وَلَا قَامَتْ بَيْنَهُمُ الْأَسْوَاقُ»
২৫ - আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি রাজীন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজমের ভাই সুহাইল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি গালিব আল-কাত্তান থেকে, তিনি বকর ইবনে আবদুল্লাহ আল-মুজানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ বলেছেন: «আমি যদি জানতাম আমার মৃত্যুর সময় কখন, তবে আমি আমার বুদ্ধি বিলোপ হওয়ার ভয় পেতাম। কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর মৃত্যু সম্পর্কে উদাসীনতা দান করে অনুগ্রহ করেছেন। যদি এই উদাসীনতা না থাকতো, তবে তারা জীবন উপভোগ করতে পারতো না এবং তাদের মাঝে বাজার-ঘাটও বসতো না।»
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٩)
26 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو سُفْيَانَ الْمَعْمَرِيُّ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، قَالَ: بَلَغَنِي «أَنَّ الْإِنْسَانَ خُلِقَ أَحْمَقَ لَوْلَا ذَلِكَ لَمْ يَهِنْهُ الْعَيْشُ»
২৬ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট সুরাইজ বিন ইউনুস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু সুফিয়ান আল-মা'মারি বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান আল-সাওরি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমার নিকট এই মর্মে সংবাদ পৌঁছেছে যে, “নিশ্চয়ই মানুষকে নির্বোধ হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে; যদি তা না হতো, তবে তার জীবনযাপন সুখকর বা সহজসাধ্য হতো না।”
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٣٩)
27 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي سُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ: حَدَّثَنَا ⦗ص: 40⦘ سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُمَحِيُّ، قَالَ: «إِنَّمَا عُمِّرَتِ الدُّنْيَا بِقِلَّةِ عَقْلِ أَهْلِهَا»
২৭ - আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুরাইজ ইবনে ইউনুস আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ⦗পৃষ্ঠা: ৪০⦘ সাঈদ ইবনে আবদুর রহমান আল-জুমাহি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «দুনিয়া কেবল এর অধিবাসীদের বুদ্ধির স্বল্পতার কারণেই আবাদ হয়েছে»
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٠)
28 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: أَخْبَرَنَا سُرَيْجٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، أَوْ غَيْرِهِ قَالَ: قَالَ مُطَرِّفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ: «كُلُّهُمْ أَحْمَقُ فِيمَا بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ رَبِّهِمْ، وَلَكِنَّ بَعْضَ الْحُمْقِ أَهْوَنُ مِنْ بَعْضٍ»
২৮ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুরায়জ, তিনি বলেন: আমাদের নিকট রাওহ বিন উবাদাহ বর্ণনা করেছেন, হাম্মাদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি সাবিত অথবা অন্য কারো থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুতাররিফ বিন আবদুল্লাহ বলেছেন: "তাদের এবং তাদের রবের মধ্যকার বিষয়ের ক্ষেত্রে তারা সকলেই নির্বোধ, তবে কিছু নির্বুদ্ধিতা অন্যগুলোর তুলনায় হালকা।"
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤٠)
29 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مِرْدَاسٍ السَّرَّاجُ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ يَحْيَى الْأَبَحُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ: " ثَلَاثٌ أَعْجَبَتْنِي، ثُمَّ أَضْحَكَتْنِي، مُؤَمِّلُ الدُّنْيَا وَالْمَوْتُ يَطْلُبُهُ. وَغَافِلٌ وَلَيْسَ بِمَغْفُولٍ عَنْهُ. وَضَاحِكٌ مِلْءَ فِيهِ وَلَا يَدْرِي أَسَاخِطٌ رَبُّ الْعَالَمِينَ عَلَيْهِ أَمْ رَاضٍ عَنْهُ. وَثَلَاثَةُ أَحَزَنَتْنِي حَتَّى أَبَكَتْنِي ⦗ص: 41⦘: فِرَاقُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وَحِزْبِهِ وَالْأَحِبَّةِ. وَهَوْلُ الْمَطْلَعِ. وَالْوُقُوفُ بَيْنَ يَدَيْ رَبِّي، لَا أَدْرِي إِلَى الْجَنَّةِ يُؤمَرُ بِي أَوْ إِلَى النَّارِ "
২৯ - আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট খালিদ বিন মিরদাস আস-সাররাজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আল-আবাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি সুলাইমান আত-তাইমি থেকে, তিনি আবু উসমান আন-নাহদি থেকে, তিনি সালমান আল-ফারসি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তিনটি বিষয় আমাকে বিস্মিত করেছে, অতঃপর আমাকে হাসিয়েছে: দুনিয়ার উচ্চাশা পোষণকারী ব্যক্তি অথচ মৃত্যু তাকে অন্বেষণ করছে; এমন উদাসীন ব্যক্তি যাকে ভুলে যাওয়া হয়নি (অর্থাৎ যার কর্ম সংরক্ষিত হচ্ছে); এবং মুখভর্তি অট্টহাসি দানকারী ব্যক্তি অথচ সে জানে না রব্বুল আলামীন তার প্রতি রাগান্বিত নাকি তার প্রতি সন্তুষ্ট। আর তিনটি বিষয় আমাকে ব্যথিত করেছে এমনকি আমাকে কাঁদিয়েছে ⦗পৃষ্ঠা: ৪১⦘: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর দল ও প্রিয়জনদের বিচ্ছেদ; মৃত্যু পরবর্তী অবস্থার ভয়াবহতা; এবং আমার রবের দুই হাতের সামনে দণ্ডায়মান হওয়া—আমি জানি না আমাকে কি জান্নাতের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে নাকি জাহান্নামের দিকে।"
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤١)
30 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِسْطَامٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَيْمُونٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي وَاصِلٌ مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي رَجُلٌ مِنْ بَلْحَرِيشٍ يُقَالُ لَهُ صَالِحٌ الْبَرَّادُ، قَالَ: رَأَيْتُ زُرَارَةَ بْنَ أَوْفَى بَعْدَ مَوْتِهِ فِي مَنَامِي، فَقُلْتُ: أَيُّ الْأَعْمَالِ أَبْلَغُ فِيمَا عِنْدَكُمْ؟ قَالَ: «التَّوَكُّلُ، وَقِصَرُ الْأَمَلِ»
৩০ - আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে বিসতাম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাইমুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু উয়াইনার আযাদকৃত দাস ওয়াসিল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বালহারিশ গোত্রের সালিহ আল-বাররাদ নামক এক ব্যক্তি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি যুরারাহ ইবনে আওফাকে তার মৃত্যুর পর স্বপ্নে দেখেছি। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনাদের নিকট কোন আমলটি সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ? তিনি বললেন: «তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা করা) এবং স্বল্প আকাঙ্ক্ষা (দুনিয়ার দীর্ঘ আশা ত্যাগ করা)»।
(খণ্ড: ১) কাসরুল আমাল লিইবনি আবিদ দুনিয়া (পৃষ্ঠা: ٤١)
31 - حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ التَّمِيمِيُّ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِأَصْحَابِهِ ⦗ص: 42⦘: " أَكُلُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ؟ قَالُوا: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: «قَصِّرُوا الْأَمَلَ، وَأَثْبِتُوا آجَالَكُمْ بَيْنَ أَبْصَارِكُمْ، وَاسْتَحْيُوا مِنَ اللَّهِ حَقَّ حَيَائِهِ»
৩১ - আমাদের নিকট আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট আহমাদ ইবনে আবদুল আ'লা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু সাঈদ আত-তামিমী বর্ণনা করেছেন, মালিক ইবনে মিগওয়াল থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের বললেন ⦗পৃষ্ঠা: ৪২⦘: "তোমাদের প্রত্যেকেই কি জান্নাতে প্রবেশ করতে পছন্দ করো? তাঁরা বললেন: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: «তোমরা আকাঙ্ক্ষা সংক্ষিপ্ত করো, তোমাদের মৃত্যুকে তোমাদের চোখের সামনে স্থির রাখো এবং আল্লাহর প্রতি যথাযথ লজ্জা পোষণ করো»।"