(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: -)
عناية الإسلام بصحة الإنسان   (أمين الشقاوي - عبد الرحيم بن حسين المالكي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: عناية الإسلام بصحة الإنسان

إعداد: عبد الرحيم بن حسين المالكي - أمين بن عبد الله الشقاوي

الطبعة: الأولى 1440 هـ - 2019 م

عدد الصفحات: 172

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 ربيع الأول 1443

মানব স্বাস্থ্যের প্রতি ইসলামের যত্ন   (আমিন আশ-শাক্বাবি - আবদুর রহিম বিন হুসাইন আল-মালিকি)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলি


বই: মানব স্বাস্থ্যের প্রতি ইসলামের যত্ন

প্রস্তুতকারী: আবদুর রহিম বিন হুসাইন আল-মালিকি - আমিন বিন আবদুল্লাহ আশ-শাক্বাবি

সংস্করণ: প্রথম ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭২

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

الحمد للَّه رب العالمين، وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه أجمعين، .. وبعد

فإن الإسلام وهو الدين الذي بعث اللَّه به رسوله محمدًا صلى الله عليه وسلم هو ما اشتمل عليه الوحيان، كتاب اللَّه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وإن لهذا الدين العظيم من الفضائل ما لا يُحصى كثرةً، فهو الدين الشامل لعموم مناحي الحياة، ومن ذلك الطب وصحة الإنسان، قال تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} [الأنعام: 38].

وقال في وصف رسوله صلى الله عليه وسلم: {وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ} [الأعراف: 157].

قال أبو ذر رضي الله عنه: لقد تركنا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وما يتقلب في السماء طائر إلا ذكر لنا منه علمًا(1).

وعن سلمان الفارسي رضي الله عنه أنه قيل له: قد علمكم نبيكم صلى الله عليه وسلم

--------------------------------------------

(1) مسند الإمام أحمد (35/ 346) برقم 21439، وقال محققوه: حديث حسن.
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর...

নিশ্চয়ই ইসলাম—সেই দ্বীন যা দিয়ে আল্লাহ তাঁর রাসুল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পাঠিয়েছেন—তা হচ্ছে দুই ওহি অর্থাৎ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসুলের সুন্নাহর সমষ্টি। এই মহান দ্বীনের অসংখ্য ও অগণিত ফজিলত রয়েছে। এটি জীবনের সকল দিক ও বিভাগকে পরিব্যাপ্তকারী এক পূর্ণাঙ্গ দ্বীন; যার অন্তর্ভুক্ত হলো চিকিৎসা বিজ্ঞান ও মানবস্বাস্থ্য। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দিইনি।" [আল-আন'আম: ৩৮]

তিনি তাঁর রাসুলের বর্ণনায় আরও বলেন: "তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন।" [আল-আ'রাফ: ১৫৭]

আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের মাঝে এমন অবস্থায় বিদায় নিয়েছেন যে, আকাশে ডানা ঝাপটানো প্রতিটি পাখি সম্পর্কেও তিনি আমাদের কোনো না কোনো জ্ঞান দান করেছেন(১)।

সালমান আল-ফারসি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে বলা হয়েছিল: তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি তোমাদের সবকিছুই শিক্ষা দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) মুসনাদ ইমাম আহমাদ (৩৫/ ৩৪৬), হাদিস নং ২১৪৩৯; এবং এর গবেষকগণ বলেছেন: এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৬)
كل شيء حتى الخراءة، قال: أجل لقد نهانا أن نستقبل القبلة بغائط أو بول، أو أن نستنجي باليمين، أو أن نستنجي بأقل من ثلاثة أحجار، أو أن نستنجي برجيع أو عظم(1).

أما الطب وصحة الإنسان، فقد أولاهما الإسلام عناية فائقة كما سنذكره في ثنايا هذه الرسالة، وما ذلك إلا أن صحة الإنسان وسيلة إلى صحة عقله، وبالتالي سلامة دينه واكتماله.

ولذلك قال بعض أهل العلم: إن العناية بصحة الإنسان هي المرتبة الثانية بعد سلامة الدين، وضربوا لذلك مثلاً بأن الروح في البدن كالناس في السكن، فما دام أن السكن صالح، فإن أهله فيه، فإذا دخله الخراب وبدأ يتهدم خرج أهله منه، فكذلك الروح في البدن، وقد قال النبي صلى الله عليه وسلم: «الْمُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ»(2).

ولأن من شرائع الإسلام العظيمة ما لا يمكن القيام به إلا بصحة البدن، كالخلافة، والإمارة، والصلاة(3)، والحج، والجهاد … وغيرها.

وإن مما يجدر التنبيه عليه، أن تلف البدن والإخلال بصحته سبب للأمراض والعاهات التي ترد عليه، وإن كان ذلك مما قدر

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم برقم 262.

(2) جزء من حديث في صحيح مسلم برقم 2664.

(3) لأن القيام للصلاة أحد أركانها للمستطيع.
সবকিছুই, এমনকি মলত্যাগের শিষ্টাচার পর্যন্ত। তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ, তিনি আমাদের নিষেধ করেছেন পায়খানা বা প্রস্রাবের সময় কিবলার দিকে মুখ করতে, অথবা ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন করতে, অথবা তিনটির কম পাথর দিয়ে শৌচকার্য করতে, অথবা গোবর বা হাড় দিয়ে শৌচকার্য করতে’(১)。

চিকিৎসা ও মানবস্বাস্থ্যের প্রতি ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে, যা আমরা এই রিসালাহর (পুস্তিকা) বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করব। আর এটি কেবল এজন্য যে, মানুষের সুস্থতা তার বুদ্ধিবৃত্তিক সুস্থতার মাধ্যম, যার ফলশ্রুতিতে তার দ্বীনের নিরাপত্তা ও পূর্ণতা অর্জিত হয়।

এজন্য কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ আলিম বলেছেন: মানুষের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া দ্বীনের নিরাপত্তার পর দ্বিতীয় স্তরের বিষয়। তারা এর উদাহরণ হিসেবে বলেছেন যে, দেহের মধ্যে রুহ হচ্ছে বাসস্থানের অধিবাসীর মতো; যতক্ষণ বাসস্থানটি ত্রুটিমুক্ত থাকে ততক্ষণ এর অধিবাসীরা এতে অবস্থান করে, কিন্তু যখন তাতে ধ্বংস দেখা দেয় এবং তা ভেঙে পড়তে শুরু করে, তখন এর অধিবাসীরা তা ছেড়ে চলে যায়। দেহের মধ্যে রুহের অবস্থাও ঠিক তদ্রূপ। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর নিকট দুর্বল (ضعيف) মুমিনের চেয়ে অধিক উত্তম ও প্রিয়»(২)。

কেননা ইসলামের মহান বিধানগুলোর মধ্যে এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা শারীরিক সুস্থতা ব্যতিরেকে সম্পাদন করা সম্ভব নয়; যেমন খিলাফত, ইমারত (নেতৃত্ব), সালাত(৩), হজ, জিহাদ … ইত্যাদি।

একটি বিষয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন যে, দেহের ক্ষতিসাধন ও স্বাস্থ্যের হানি ঘটানো বিভিন্ন রোগ ও শারীরিক অসামর্থ্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যদিও তা তাকদিরের লিখন অনুযায়ী ঘটে থাকে

--------------------------------------------

(১) সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৬২।

(২) সহিহ মুসলিম-এর একটি হাদিসের অংশ, হাদিস নং ২৬৬৪।

(৩) কারণ সক্ষম ব্যক্তির জন্য সালাতে দণ্ডায়মান হওয়া এর অন্যতম অপরিহার্য স্তম্ভ (ركن)।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৭)
اللَّه على العبد، فإنه من حيث السبب ينقسم إلى قسمين؛ الأول: ما لا سبب للعبد فيه، وهذا إن رضي العبد به، وآمن بقضاء ربه، نال الأجر كاملاً، وسلم من الإثم، الثاني: ما كان سببه من العبد نفسه، وذلك بتركه الأسباب المشروعة فعلاً أو تركًا، فيخشى على من هذه حاله أن يكون آثمًا مستحقًّا للعقوبة.

فالمتهور أثناء قيادة السيارة إذا حدث له حادث مات به خُشيَ عليه أن يكون قاتلاً لنفسه، والمسرف في الطعام إذا أُصيب بالأمراض يُخشى عليه من الإثم لإضراره ببدنه، ولما يترتب على ذلك من تقصير في الواجبات، ولربما يتعدى الضرر والتقصير إلى من حوله.

وإننا في هذه الرسالة نأمل أن نوفق في جمع ما تيسر في هذا الباب مما له علاقة مباشرة وقوية من النصوص الشرعية على سبيل الاختصار، وذلك ببيان شيء من محاسن الدين الإسلامي التي لا تحصى محاسنه وفضائله مع إعلامنا كل من يطلع على هذه الرسالة، أنها ليست رسالة في الطب بما يقتضيه معنى هذه الكلمة، وإنما المقصود ما ذكرناه سالفًا وهو واضح من عنوانها هذا، وقد تم تقسيمها إلى مقدمة وبابين وخاتمة.

الباب الأول: الأدوية الإلهية وهي الأدعية والرقى والأذكار والصدقات وغيرها من الأعمال الصالحة، ويشتمل على فصلين:
বান্দার ওপর আল্লাহর [ফয়সালা বা পরীক্ষা], কারণ এটি হেতু বা কারণের দিক থেকে দুই ভাগে বিভক্ত; প্রথমত: যাতে বান্দার কোনো হাত নেই। এমতাবস্থায় বান্দা যদি তাতে সন্তুষ্ট থাকে এবং তার রবের ফয়সালায় বিশ্বাস রাখে, তবে সে পূর্ণ সওয়াব লাভ করবে এবং পাপ থেকে রক্ষা পাবে। দ্বিতীয়ত: যার কারণ স্বয়ং বান্দা নিজেই, আর তা হলো শরিয়তসম্মত উপায়-উপকরণ গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে তার অবহেলা; সুতরাং যার অবস্থা এমন হয়, তার ব্যাপারে আশঙ্কা করা হয় যে সে গুনাহগার এবং শাস্তির যোগ্য হবে।

সুতরাং গাড়ি চালানোর সময় যে ব্যক্তি বেপরোয়া হওয়ার কারণে দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করে, তার ক্ষেত্রে আশঙ্কা করা হয় যে সে আত্মহত্যাকারী হতে পারে। আর আহারের ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করে এবং এর ফলে ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, তার নিজ শরীরের ক্ষতি সাধন এবং এর দরুন আবশ্যিক কার্যাদি পালনে অবহেলার কারণে তার গুনাহগার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে; এমনকি সম্ভবত এই ক্ষতি ও অবহেলা তার চারপাশের মানুষদের ওপরও প্রভাব ফেলে।

আমরা এই পুস্তিকাটিতে সংক্ষিপ্তাকারে এই বিষয় সংশ্লিষ্ট সরাসরি ও সুদৃঢ় শরিয়তসম্মত দলিলসমূহ যতটুকু সহজসাধ্য তা সংকলনে সফল হওয়ার আশা রাখি। এটি ইসলামি শরিয়তের এমন কিছু সৌন্দর্য বর্ণনার মাধ্যমে করা হয়েছে যার মাহাত্ম্য ও ফযিলত অগণিত। সেই সাথে আমরা এই পুস্তিকাটির প্রত্যেক পাঠককে অবহিত করছি যে, এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের আক্ষরিক অর্থের কোনো পুস্তিকা নয়; বরং এর উদ্দেশ্য তা-ই যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি এবং যা এর শিরোনাম থেকে স্পষ্ট। এটি একটি ভূমিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

প্রথম অধ্যায়: ঐশ্বরিক প্রতিকারসমূহ; আর তা হলো দোয়া, ঝাড়ফুঁক, জিকির, সদকা এবং অন্যান্য নেক আমল। এটি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الأول: ما يحفظ به الصحة ويدفع به الداء قبل وقوعه.

الفصل الثاني: مايحفظ به الصحة ويدفع به الداء بعد وقوعه.

الباب الثاني: الأدوية المادية ويشتمل على فصلين:

الفصل الأول: ما يحفظ به الصحة ويدفع به الداء قبل وقوعه.

الفصل الثاني: ما يدفع به الداء بعد وقوعه.

أما الخاتمة ففيها أهم ما تشتمل عليه هذه الرسالة.

… المؤلفان

أمين بن عبد الله الشقاوي

وعبد الرحيم بن حسين المالكي
প্রথম পরিচ্ছেদ: যার মাধ্যমে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার পূর্বে তা প্রতিরোধ করা হয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যার মাধ্যমে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার পর তা নিরাময় করা হয়।

দ্বিতীয় অধ্যায়: বস্তুগত ঔষধসমূহ এবং এটি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: যার মাধ্যমে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয় এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার পূর্বে তা প্রতিরোধ করা হয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যার মাধ্যমে রোগাক্রান্ত হওয়ার পর তা নিরাময় করা হয়।

উপসংহার প্রসঙ্গে, এতে এই গবেষণাপত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

… লেখকদ্বয়

আমীন বিন আব্দুল্লাহ আশ-শাকাবি

এবং আব্দুর রহিম বিন হুসাইন আল-মালিকি
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الباب الأول

الأدوية الإلهية

وهي الأدعية والأذكار والرقى والصدقات وغيرها من الأعمال الصالحة.

قال تعالى: {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} [الإسراء: 82]، وقال تعالى: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ (57)} [يونس: 57]، وقال تعالى عن عبده أيوب وقد أصيب من البلاء ما لا يعلم عظمه إلا اللَّه، ومكث فيه ثماني عشرة سنة(1)، قال تعالى: {وَأَيُّوبَ إِذْ نَادَى رَبَّهُ أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ (83) فَاسْتَجَبْنَا لَهُ فَكَشَفْنَا مَا بِهِ مِنْ ضُرٍّ وَآتَيْنَاهُ أَهْلَهُ وَمِثْلَهُمْ مَعَهُمْ رَحْمَةً مِنْ عِنْدِنَا وَذِكْرَى لِلْعَابِدِينَ (84)} [الأنبياء: 83 - 84].

وروى البخاري في صحيحه من حديث ابن عباس رضي الله عنهما: أن نفرًا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم مروا بماء فيهم لديغ أو سليم، فعرض لهم رجل من أهل الماء فقال: هل فيكم من راق، إن

--------------------------------------------

(1) راجع كتاب الدرر المنتقاة للمؤلف أمين الشقاوي (1/ 529).
প্রথম অধ্যায়

আসমানি চিকিৎসাসমূহ

আর তা হলো দোয়া, জিকির, ঝাড়ফুঁক, সদকা এবং অন্যান্য নেক আমল।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি কুরআন থেকে এমন বিষয় অবতীর্ণ করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত} [আল-ইসরা: ৮২], এবং আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {হে মানুষ! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে এসেছে উপদেশ এবং অন্তরের রোগের আরোগ্য, আর মুমিনদের জন্য হেদায়েত ও রহমত (৫৭)} [ইউনূস: ৫৭]। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা আইয়ুব (আ.) সম্পর্কে বলেছেন—যিনি এমন এক বিপদে আক্রান্ত হয়েছিলেন যার ভয়াবহতা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না এবং তিনি তাতে আঠারো বছর(1) অতিবাহিত করেছিলেন—আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং আইয়ুবের কথা স্মরণ করুন, যখন তিনি তাঁর রবকে ডেকে বলেছিলেন, ‘আমি কষ্টে পতিত হয়েছি, আর আপনি তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (৮৩) তখন আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁর কষ্ট দূর করে দিলাম। আর আমি তাঁকে তাঁর পরিবার-পরিজন দান করলাম এবং তাদের সাথে তাদের সমপরিমাণ আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে রহমতস্বরূপ এবং ইবাদতকারীদের জন্য উপদেশস্বরূপ (৮৪)} [আল-আম্বিয়া: ৮৩ - ৮৪]।

ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেছেন যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবি একটি জলাশয়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেখানে একজন দংশিত বা বিষাক্রান্ত ব্যক্তি ছিল। তখন সেই জলাশয়ের অধিবাসীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাঁদের সামনে এসে বলল: ‘আপনাদের মধ্যে কি কোনো ঝাড়ফুঁককারী আছে? কারণ

--------------------------------------------

(1) লেখক আমিন আশ-শাকাবির আদ-দুরার আল-মুনতাকাহ গ্রন্থটি দেখুন (১/ ৫২৯)।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১০)
في الماء رجلاً لديغًا أو سليمًا، فانطلق رجل منهم، فقرأ بفاتحة الكتاب على شاء(1)، فبرأ، فجاء بالشاء إلى أصحابه، فكرهوا ذلك وقالوا: أخذت على كتاب اللَّه أجرًا، حتى قدموا المدينة فقالوا: يا رسول اللَّه! أخذ على كتاب اللَّه أجرًا، فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أَحَقَّ مَا أَخَذْتُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا كِتَابُ اللَّهِ»(2).

--------------------------------------------

(1) شاء جمع شاه، والمقصود جمع من الغنم أجرة له.

(2) برقم 5737
জলাশয়ের নিকট জনৈক দংশিত অথবা সুস্থ ব্যক্তিকে পাওয়া গেল। অতঃপর তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি অগ্রসর হয়ে এক পাল বকরির(১) বিনিময়ে সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন, ফলে সে ব্যক্তি সুস্থ হয়ে গেল। এরপর তিনি বকরিগুলো নিয়ে তার সাথীদের নিকট আসলেন। তারা বিষয়টি অপছন্দ করলেন এবং বললেন: তুমি আল্লাহর কিতাবের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করেছ। পরিশেষে তারা মদিনায় পৌঁছে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! সে আল্লাহর কিতাবের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করেছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই তোমরা যার ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ করো, আল্লাহর কিতাব তার অধিক হকদার"(২)।

--------------------------------------------

(১) 'শা' হলো 'শাহ' এর বহুবচন, আর এখানে উদ্দেশ্য হলো পারিশ্রমিক হিসেবে তাকে প্রদত্ত একদল বকরি।

(২) ৫৭৩৭ নম্বর।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الفصل الأول

ما يحفظ به الصحة ويدفع به الداء قبل وقوعه

روى البيهقي في شعب الإيمان من حديث ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «دَاوُوا مَرضاكُمْ بِالصَّدقةِ»(1).

قال ابن القيم رحمه الله: «فإن للصدقة تأثيرًا عجيبًا في دفع أنواع البلاء، ولو كانت من فاجر أو ظالم، بل من كافر، فإن اللَّه تعالى يدفع بها عنه أنواعًا من البلاء، وهذا أمر معلوم عند الناس خاصتهم وعامتهم، وأهل الأرض كلهم مقرون به لأنهم جربوه»(2).

وروى الترمذي في سننه من حديث أبي أمامة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ، فَإِنَّهُ دَأْبُ الصَّالِحِينَ قَبْلَكُمْ، وَهُوَ قُرْبَةٌ إِلَى رَبِّكُمْ، وَمَكْفَرَةٌ لِلسَّيِّئَاتِ، وَمَنْهَاةٌ لِلإِثْمِ،

--------------------------------------------

(1) جزء من حديث برقم 3278، وقال الشيخ الألباني رحمه الله كما في تعليقه على صحيح الترغيب والترهيب (1/ 458): قلت: مع إرساله حسن الإسناد، وما أشار إليه من الروايات عن الجماعة لا تخلو من ضعف بعضه شديد، وقد خرجت طائفة منها في الضعيفة (2575، و 3492، و 6162) وهي على اختلاف ألفاظها قد اتفقت على جملة المداواة هذه ولذلك حسنتها. والله أعلم.

(2) الوابل الصيب من الكلم الطيب ص 57.
প্রথম পরিচ্ছেদ

যার মাধ্যমে স্বাস্থ্য রক্ষা করা যায় এবং রোগ হওয়ার পূর্বে তা প্রতিরোধ করা যায়

ইমাম বায়হাকি শুআবুল ইমান গ্রন্থে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা তোমাদের অসুস্থদের সদকা প্রদানের মাধ্যমে চিকিৎসা করো»(1).

ইবনুল কায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «নিশ্চয়ই বিভিন্ন প্রকারের বালা-মুসিবত দূর করার ক্ষেত্রে সদকার এক আশ্চর্যজনক প্রভাব রয়েছে, এমনকি সেই সদকা যদি কোনো পাপাচারী, জালেম বা কাফেরের পক্ষ থেকেও হয়। আল্লাহ তাআলা এর মাধ্যমে তাদের থেকে বিভিন্ন প্রকারের বিপদাপদ দূর করেন। এটি সাধারণ ও বিশিষ্ট নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছেই সুপরিচিত একটি বিষয়। পৃথিবীর সমস্ত মানুষই এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন, কারণ তারা এর অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন»(2).

এবং ইমাম তিরমিজি তার সুনান গ্রন্থে আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা রাতের ইবাদতকে (কিয়ামুল লাইল) অবশ্যই আঁকড়ে ধরবে, কারণ এটি তোমাদের পূর্ববর্তী নেককারদের অভ্যাস ছিল এবং এটি তোমাদের রবের নৈকট্য লাভের মাধ্যম, পাপমোচনকারী এবং গুনাহ থেকে বিরত রাখার উপায়...

--------------------------------------------

(1) ৩২৭৮ নং হাদিসের অংশবিশেষ। শায়খ আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ) সহিহ আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব (১/৪৫৮) এর টিকায় যেমনটি বলেছেন: আমি বলি: এটি মুরসাল (إرسال) হওয়া সত্ত্বেও এর সনদটি হাসান (حسن الإسناد)। তবে বর্ণনাকারীদের একটি দল থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতগুলোর ক্ষেত্রে তিনি যা ইঙ্গিত করেছেন, সেগুলো দুর্বলতা (ضعف) থেকে মুক্ত নয়, যার কিছু গুরুতর (شديد)। আমি এগুলোর একটি অংশ আদ-দাঈফাহ (২৫৭৫, ৩৪৯২ এবং ৬১৬২) গ্রন্থে সংকলিত করেছি। শব্দগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এ হাদিসের চিকিৎসা সংক্রান্ত মূল কথাটির ব্যাপারে রেওয়ায়েতগুলো একমত, তাই আমি একে হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য করেছি। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

(2) আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব মিনাল কালিমিত তাইয়্যিব, পৃষ্ঠা ৫৭।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১২)
وَمَطْرَدَةٌ لِلدَّاءِ عَنِ الْجَسَدِ»(1).

وقيام الليل من أنفع أسباب حفظ الصحة، ومن أنفع الأمور لكثير من الأمراض المزمنة، ومن أنشط شيء للبدن والروح والقلب، قال ابن القيم رحمه الله: «والصلاة منهاة عن الإثم ودافعة لأدواء القلوب، ومطردة للداء عن الجسد ومنورة للقلب، ومبيضة للوجه، ومنشطة للجوارح والنفس، وجالبة للرزق، ودافعة للظلم، وناصرة للمظلوم وقامعة لأخلاط الشهوات وحافظة للنعمة ودافعة للنقمة، ومنزلة للرحمة، وكاشفة للغمة»(2)، كما في الصحيحين من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «يَعْقِدُ الشَّيْطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأْسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلَاثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ كُلَّ عُقْدَةٍ عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ فَذَكَرَ اللَّهَ، انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقْدَةٌ، فَأَصْبَحَ نَشِيطًا طَيِّبَ النَّفْسِ وَإِلَّا أَصْبَحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلَانَ»(3).

وروى الإمام أحمد في مسنده من حديث عثمان بن عفان رضي الله عنه قال: قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَالَ: بِسْمِ اللَّّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ،

--------------------------------------------

(1) برقم 3549، وحسنه الألباني رحمه الله كما في إرواء الغليل وقال: الحديث حسن دون الزيادة: ومطردة للداء عن الجسد (2/ 202).

(2) زاد المعاد (4/ 299) بتصرف.

(3) صحيح البخاري برقم 1142، وصحيح مسلم برقم 776.
“এবং শরীর থেকে রোগ দূরকারী।”(1).

কিয়ামুল লাইল (রাতের ইবাদত) স্বাস্থ্য রক্ষার অন্যতম উপকারী কারণ, এবং অনেক দীর্ঘস্থায়ী রোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বিষয়, এবং শরীর, রুহ ও অন্তরের জন্য সর্বাধিক সজীবতা দানকারী। ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “সালাত গোনাহ থেকে বিরত রাখে, অন্তরের ব্যাধি দূর করে, শরীর থেকে রোগ হটিয়ে দেয়, অন্তরকে আলোকিত করে, চেহারা উজ্জ্বল করে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও আত্মাকে সজীব রাখে, রিজিক বৃদ্ধি করে, জুলুম প্রতিহত করে, মজলুমকে সাহায্য করে, কুপ্রবৃত্তি দমন করে, নেয়ামত রক্ষা করে, বিপদ-আপদ দূর করে, রহমত নাজিল করে এবং দুশ্চিন্তা লাঘব করে।”(2), যেমনটি সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদ্ভাগে তিনটি গিঁট দেয়। প্রতি গিঁটে সে এই বলে ফু দেয় যে, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি ঘুমাও। অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহর জিকির করে, তবে একটি গিঁট খুলে যায়। যদি অজু করে, তবে আরেকটি গিঁট খুলে যায়। আর যদি সালাত আদায় করে, তবে (সবগুলো) গিঁট খুলে যায়। ফলে সে উদ্যমী ও প্রফুল্ল মনে ভোরে উপনীত হয়। অন্যথায় সে কলুষিত মন ও অলসতা নিয়ে ভোরে উপনীত হয়।”(3).

ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ-এ উসমান ইবন আফফান (রা.) বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি বলে: আল্লাহর নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ...

--------------------------------------------

(1) নম্বর ৩৫৪৯, এবং আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) ইরওয়াউল গালীল-এ এটিকে হাসান (حسن) বলেছেন এবং তিনি বলেছেন: এই বর্ধিত অংশ “এবং শরীর থেকে রোগ দূরকারী” ব্যতিরেকে হাদিসটি হাসান (حسن) (২/২০২)।

(2) যাদুল মা’আদ (৪/২৯৯) ভাবানূদিত।

(3) সহীহ বুখারি নম্বর ১১৪২, এবং সহীহ মুসলিম নম্বর ৭৭৬।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১৩)
لَمْ يَضُرُّهُ شَيْءٌ»(1).

وفي لفظ لأبي داود: «مَنْ قَالَ: بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ، وَلَا فِي السَّمَاءِ، وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، لَمْ تُصِبْهُ فَجْأَةُ بَلَاءٍ، حَتَّى يُصْبِحَ، وَمَنْ قَالَهَا حِينَ يُصْبِحُ ثَلَاثُ مَرَّاتٍ، لَمْ تُصِبْهُ فَجْأَةُ بَلَاءٍ حَتَّى يُمْسِيَ»، وَقَالَ: فَأَصَابَ أَبَانَ بْنَ عُثْمَانَ الْفَالِجُ، فَجَعَلَ الرَّجُلُ الَّذِي سَمِعَ مِنْهُ الْحَدِيثَ يَنْظُرُ إِلَيْهِ، فَقَالَ لَهُ: مَا لَكَ تَنْظُرُ إِلَيَّ؟ فَوَاللَّهِ مَا كَذَبْتُ عَلَى عُثْمَانَ وَلَا كَذَبَ عُثْمَانُ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، وَلَكِنَّ الْيَوْمَ الَّذِي أَصَابَنِي فِيهِ مَا أَصَابَنِي غَضِبْتُ فَنَسِيتُ أَنْ أَقُولَهَا.

وروى مسلم في صحيحه من حديث خولة السلمية رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ نَزَلَ مَنْزِلًا فَقَالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ يَضُرُّهُ فِيهِ شَيْءٌ حَتَّى يَرْتَحِلَ مِنْهُ»(2).

وروى مسلم في صحيحه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أنه قال جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَقِيتُ مِنْ عَقْرَبٍ لَدَغَتْنِي الْبَارِحَةَ. قَالَ: «أَمَا لَوْ قُلْتَ حِينَ أَمْسَيْتَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ لَمْ تَضُرُّكَ»(3)

وروى مالك في الموطأ أن كعب الأحبار قال: لولا كلمات

--------------------------------------------

(1) (1/ 498) برقم 445، وقال محققوه: إسناده حسن.

(2) برقم 2708.

(3) برقم 2709.
কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।"(১).

আবু দাউদের এক বর্ণনায় রয়েছে: «যে ব্যক্তি তিনবার বলবে: "আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ", সকাল হওয়া পর্যন্ত কোনো আকস্মিক বিপদ তাকে স্পর্শ করবে না। আর যে ব্যক্তি সকালে তিনবার এটি বলবে, সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত কোনো আকস্মিক বিপদ তাকে স্পর্শ করবে না।"» এবং তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: পরবর্তীতে আবান বিন উসমান পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। তখন যে ব্যক্তি তাঁর নিকট থেকে হাদিসটি শুনেছিলেন, তিনি তাঁর (আবানের) দিকে তাকাতে লাগলেন। তখন আবান তাঁকে বললেন: "তুমি কেন আমার দিকে তাকাচ্ছ? আল্লাহর কসম! আমি উসমানের নামে মিথ্যা বলিনি এবং উসমানও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে মিথ্যা বলেননি। কিন্তু যেদিন আমি এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছি, সেদিন আমি রাগান্বিত ছিলাম, ফলে এটি বলতে ভুলে গিয়েছিলাম।"

এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে খাওলা আস-সুলামিয়্যাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো স্থানে অবতরণ করে বলে: "আমি আল্লাহর নিখুঁত কালিমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি", তবে সেখান থেকে প্রস্থান না করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।"»(২).

এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! গত রাতে আমাকে একটি বিচ্ছু দংশন করায় আমি কতই না কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি। তিনি বললেন: «শোনো! তুমি যদি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলতে: "আমি আল্লাহর নিখুঁত কালিমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি", তবে তা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারত না।"»(৩)

এবং মালিক মুয়াত্তা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, কাব আল-আহবার বলেছেন: যদি কিছু বাক্য না থাকত...

--------------------------------------------

(১) (১/ ৪৯৮) হাদিস নম্বর ৪৪৫; এর গবেষকগণ বলেছেন: এর বর্ণনা সূত্র (إسناد) হাসান (حسن)।

(২) হাদিস নম্বর ২৭০৮।

(৩) হাদিস নম্বর ২৭০৯।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১৪)
أقولهن لجعلتني يهود حمارًا، فقيل له: وما هن؟ فقال: أَعُوذُ بِوَجْهِ اللَّهِ الْعَظِيمِ، الَّذِي لَيْسَ شَيْءٌ أَعْظَمَ مِنْهُ، وَبِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لَا يُجَاوِزُهُنَّ بَرٌّ وَلَا فَاجِرٌ، وَبِأَسْمَاءِ اللَّهِ الْحُسْنَى كُلِّهَا مَا عَلِمْتُ مِنْهَا وَمَا لَمْ أَعْلَمْ، مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَبَرَأَ وَذَرَأَ(1).

وروى مسلم في صحيحه من حديث أبي أمامة الباهلي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اقْرَءُوا سُورَةَ الْبَقَرَةِ؛ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ، وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ، وَلَا تَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ»، قَالَ مُعَاوِيَةُ(2): بَلَغَنِي أَنَّ الْبَطَلَةَ السَّحَرَةُ(3).

قال الشيخ ابن عثيمين رحمه الله: «قوله: ولا تستطيعها البطلة، يعني السحرة، فهي تدفع عن الإنسان السحر؛ لأن السحرة لا يستطيعونها، إذ أن السحرة من الشياطين، وقد قال اللَّه في سورة البقرة عن السحرة: {وَمَا هُمْ بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ} [البقرة: 102]. فلهذا من قرأ البقرة بإخلاص وإيمان، فإنه لا يقدر عليه السحرة، وظاهر عموم الحديث أنه يشمل من قرأها حفظًا، أو عن نظر في المصحف كما يعم من قرأها في مجلس واحد أو مجالس متفرقة»(4).

وروى البخاري ومسلم في صحيحيهما من حديث أبي

--------------------------------------------

(1) برقم 2955. وقال محققه: صحيح مقطوع.

(2) هو ابن سلّام، أحد رواة الحديث.

(3) جزء من حديث برقم 804.

(4) التعليق على صحيح مسلم (4/ 334).
...আমি যদি এই বাক্যগুলো না বলতাম, তবে ইহুদিরা আমাকে গাধায় পরিণত করে দিত। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: সেই বাক্যগুলো কী? তিনি বললেন: আমি মহান আল্লাহর সত্তার আশ্রয় নিচ্ছি, যার চেয়ে মহান আর কিছু নেই; এবং আল্লাহর সেই পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের আশ্রয় নিচ্ছি, যা কোনো নেককার বা পাপাচারী অতিক্রম করতে পারে না; এবং আল্লাহর সকল সুন্দর নামের আশ্রয় নিচ্ছি—যা আমি জানি এবং যা জানি না—তাঁর সৃষ্টি করা, অস্তিত্বদান করা এবং ছড়িয়ে দেওয়া সবকিছুর অনিষ্ট থেকে(১).

এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু উমামা আল-বাহিলি (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: «তোমরা সূরা আল-বাকারাহ পাঠ করো; কারণ এটি গ্রহণ করা বরকতময় এবং এটি পরিত্যাগ করা পরিতাপের বিষয়, আর বাতিলপন্থীরা (জাদুকররা) এর মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখে না», মুয়াবিয়া(২) বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, 'বাতিলপন্থী' (বাতালাহ) হলো জাদুকর(৩).

শাইখ ইবনে উসাইমিন (রহ.) বলেন: «তাঁর উক্তি: (আর বাতিলপন্থীরা এর মোকাবিলা করার সক্ষমতা রাখে না), অর্থাৎ জাদুকররা। এটি মানুষের থেকে জাদু প্রতিহত করে; কেননা জাদুকররা এর মোকাবিলা করতে পারে না, যেহেতু জাদুকররা শয়তানদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা সূরা আল-বাকারায় জাদুকরদের সম্পর্কে বলেছেন: {আর তারা তা দিয়ে কারও কোনো ক্ষতি করতে পারে না আল্লাহর অনুমতি ছাড়া} [আল-বাকারাহ: ১০২]। এ কারণে যে ব্যক্তি ইখলাস ও ঈমানের সাথে সূরা আল-বাকারাহ পাঠ করবে, জাদুকররা তার ওপর নিয়ন্ত্রণ পাবে না। হাদিসের সাধারণ অর্থ থেকে এটিই স্পষ্ট যে, এটি তাকেও শামিল করে যে তা মুখস্থ পড়েছে অথবা তা মুসহাফ দেখে পড়েছে, ঠিক যেমন এটি তাকেও শামিল করে যে তা এক বৈঠকে পড়েছে অথবা বিভিন্ন পৃথক বৈঠকে পড়েছে»(৪).

এবং বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে আবুর বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) ২৯৫৫ নং। এর গবেষক বলেছেন: সঠিক (صحيح) বিচ্ছিন্ন (مقطوع)।

(২) তিনি ইবনে সাল্লাম, হাদিসের অন্যতম বর্ণনাকারী।

(৩) ৮০৪ নং হাদিসের অংশ।

(৪) আত-তালিক আলা সহিহ মুসলিম (৪/ ৩৩৪)।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১৫)
مسعود رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ قَرَأَ بِالْآيَتَيْنِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ البَقَرَةِ فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ»(1).

قال النووي رحمه الله: «قيل: معناه كفتاه من قيام الليل، وقيل من الشيطان، وقيل من الآفات، ويحتمل من الجميع»(2).

وروى أبو داود في سننه من حديث عبد اللَّه بن خبيب رضي الله عنه أنه قال: خرجنا في ليلة مطر وظلمة شديدة نطلب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ليصلي لنا، فأدركناه، فقال: «أَصَلَّيْتُمْ؟» فَلَمْ أَقُلْ شَيْئًا، فَقَالَ: «قُلْ»، فَلَمْ أَقُلْ شَيْئًا، ثُمَّ قَالَ: «قُلْ»، فَلَمْ أَقُلْ شَيْئًا، ثُمَّ قَالَ: «قُلْ»، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَقُولُ؟ قَالَ: «قُلْ: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ (1)}، وَالْمُعَوِّذَتَيْنِ حِينَ تُمْسِي، وَحِينَ تُصْبِحُ، ثَلَاثَ مَرَّاتٍ تَكْفِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ»(3).

وقد أوصى النبي صلى الله عليه وسلم عقبة بن عامر رضي الله عنه بهما وقال: «تَعَوَّذْ بِهِمَا فَمَا تَعَوَّذَ مُتَعَوِّذٌ بِمِثْلِهِمَا»(4).

قال ابن القيم رحمه الله في كلامه على المعوذتين: «المقصود الكلام على هاتين السورتين وبيان عظيم منفعتهما وشدة

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري برقم 5009، وصحيح مسلم برقم 807.

(2) شرح صحيح مسلم (6/ 333).

(3) سنن أبي داود برقم 5082، وصححه الشيخ الألباني في صحيح سنن أبي داود (3/ 957 - 958) برقم 4241.

(4) سنن أبي داود برقم 1463، وصححه الشيخ الألباني في صحيح سنن أبي داود (1/ 275) برقم 1299.
মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: «যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে»(1).

ইমাম নববী (রহ.) বলেন: «বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো তা তাকে রাতের কিয়াম (তাহাজ্জুদ) থেকে যথেষ্ট করবে; আবার বলা হয়েছে তা তাকে শয়তান থেকে রক্ষা করবে; আবার বলা হয়েছে সকল বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করবে। আর সম্ভাবনা আছে যে, সবগুলোর জন্যই তা যথেষ্ট হবে»(2).

আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমরা এক বৃষ্টিস্নাত ও প্রচণ্ড অন্ধকার রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে খুঁজতে বের হলাম যাতে তিনি আমাদের সালাত পড়ান। আমরা তাঁকে পেয়ে গেলাম। তখন তিনি বললেন: «তোমরা কি সালাত আদায় করেছ?» আমি কিছুই বললাম না। তিনি বললেন: «বলো»। আমি কিছুই বললাম না। তারপর তিনি বললেন: «বলো»। আমি কিছুই বললাম না। পুনরায় তিনি বললেন: «বলো»। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসুল! আমি কী বলব? তিনি বললেন: «বলো: {কুল হুয়াল্লাহু আহাদ (১)}, এবং মুআব্বিযাতাইন (সূরা ফালাক ও সূরা নাস) যখন তুমি সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন সকালে উপনীত হও, তিনবার; তা তোমাকে সব কিছু থেকে রক্ষা করার জন্য যথেষ্ট হবে»(3).

আর নবী (সা.) উকবা ইবনে আমির (রা.)-কে এই দুই সূরা সম্পর্কে অসিয়ত করেছেন এবং বলেছেন: «এই দুটির মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করো; কারণ কোনো আশ্রয়প্রার্থনাকারী এর সমতুল্য অন্য কিছু দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে পারে না»(4).

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) মুআব্বিযাতাইন সম্পর্কে তাঁর আলোচনায় বলেন: «উদ্দেশ্য হলো এই দুই সূরা সম্পর্কে আলোচনা করা এবং এগুলোর মহান উপকারিতা ও বিশেষ গুরুত্ব বর্ণনা করা...»

--------------------------------------------

(1) সহিহ বুখারি নম্বর 5009, এবং সহিহ মুসলিম নম্বর 807।

(2) শরহ সহিহ মুসলিম (6/ 333)।

(3) সুনান আবু দাউদ নম্বর 5082, এবং শেখ আলবানি একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন সহিহ সুনান আবু দাউদ (3/ 957 - 958) নম্বর 4241-এ।

(4) সুনান আবু দাউদ নম্বর 1463, এবং শেখ আলবানি একে সহিহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন সহিহ সুনান আবু দাউদ (1/ 275) নম্বর 1299-এ।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১৬)
الحاجة، بل الضرورة إليهما، وأنه لا يستغني عنهما أحد قط، وأن لهما تأثيرًا خاصًّا في دفع السحر، والعين، وسائر الشرور، وأن حاجة العبد إلى الاستعانة بهاتين السورتين أعظم من حاجته إلى النفس، والطعام، والشراب، واللباس»(1).

وروى البخاري في صحيحه من حديث ابن عباس رضي الله عنهما قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يُعوذ الحسن والحسين ويقول: «إِنَّ أَبَاكُمَا كَانَ يُعَوِّذُ بِهَا إِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ»(2).

قال ابن حجر رحمه الله: «قوله: «مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ» يدخل تحته شياطين الإنس والجن، «وَهَامَّةٍ» واحدة الهوام ذوات السموم، وقيل كل ما له سم يقتل، فأما ما لا يقتل سمه فيقال له: السوام، وقيل: المراد كل نسمة تهم بسوء، «وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ» قال الخطابي: المراد به كل داء وآفة تلم بالإنسان من جنون وخبل … »(3)

وروى الترمذي في سننه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَن رَأَى مُبتَلًى فقال: الحمدُ للَّهِ الذي عافَانِي مِمَّا ابْتلاكَ به، وفَضَّلَنِي على كَثيرٍ مِمَّنْ خلق تَفضِيلًا، لَمْ يُصِبْهُ

--------------------------------------------

(1) بدائع الفوائد ص 536.

(2) صحيح البخاري برقم 3371.

(3) فتح الباري (6/ 410).
এর প্রয়োজনীয়তা, বরং এ দুটির অপরিহার্যতা এবং এ কথা যে, কেউ কখনও এ দুটি থেকে বিমুখ হতে পারে না। জাদু, কুদৃষ্টি এবং অন্যান্য সকল অনিষ্ট দূর করতে এ দুটির বিশেষ প্রভাব রয়েছে। আর এই দুই সূরার মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনার ক্ষেত্রে বান্দার প্রয়োজনীয়তা তার শ্বাস-প্রশ্বাস, খাদ্য, পানীয় এবং পোশাকের প্রয়োজনীয়তার চেয়েও অধিকতর।(১)

আর বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাসান ও হুসাইনকে (আল্লাহর) আশ্রয়ে দিতেন এবং বলতেন: «তোমাদের পিতা (ইব্রাহিম আ.) ইসমাইল ও ইসহাককে এর মাধ্যমে আশ্রয়ে দিতেন: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রত্যেক শয়তান ও বিষধর প্রাণী থেকে এবং প্রত্যেক ক্ষতিকর কুদৃষ্টি থেকে»(২)।

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «তাঁর উক্তি: ‘প্রত্যেক শয়তান থেকে’—এর অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষ ও জিন শয়তান। ‘হামমাহ’ হলো বিষাক্ত প্রাণীকুল বা হাওয়াম-এর একবচন; বলা হয়েছে যে, যা কিছু বিষাক্ত এবং প্রাণঘাতী তাকেই হামমাহ বলা হয়। আর যার বিষ প্রাণঘাতী নয় তাকে ‘সাওয়াম’ বলা হয়। আবার কেউ বলেছেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রত্যেক সেই অশুভ সত্তা যা মন্দের সংকল্প করে। ‘প্রত্যেক ক্ষতিকর কুদৃষ্টি থেকে’—সম্পর্কে খাত্তাবি বলেন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রত্যেক সেই রোগ ও ব্যাধি যা মানুষকে স্পর্শ করে, যেমন উন্মাদনা বা মস্তিস্ক বিকৃতি...»(৩)

আর তিরমিজি তাঁর সুনান গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তিকে দেখে বলে: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে সেই বিপদ থেকে মুক্ত রেখেছেন যাতে তোমাকে লিপ্ত করেছেন এবং আমাকে তাঁর সৃষ্টির অনেকের ওপর বিশেষভাবে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন, তবে তা তাকে স্পর্শ করবে না...

--------------------------------------------

(১) বাদায়েউল ফাওয়ায়েদ, পৃ. ৫৩৬।

(২) সহিহ বুখারি, নম্বর ৩৩৭১।

(৩) ফাতহুল বারি (৬/৪১০)।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১৭)
ذلكَ البلاءُ»(1).

وروى البخاري ومسلم من حديث جابر رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِذَا كَانَ جُنْحُ اللَّيْلِ - أَوْ أَمْسَيْتُمْ - فَكُفُّوا صِبْيَانَكُمْ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْتَشِرُ حِينَئِذٍ، فَإِذَا ذَهَبَ سَاعَةٌ مِنَ اللَّيْلِ فَخَلُّوهُمْ، وَأَغْلِقُوا الْأَبْوَابَ، وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَفْتَحُ بَابًا مُغْلَقًا … »(2).

وفي رواية أخرى للبخاري: « … فَإِنَّ لِلْجِنِّ انْتِشَارًا وَخَطْفَةً، وَأَطْفِئُوا المَصَابِيحَ عِنْدَ الرُّقَادِ، فَإِنَّ الفُوَيْسِقَةَ رُبَّمَا اجْتَرَّتِ الفَتِيلَةَ فَأَحْرَقَتْ أَهْلَ البَيْتِ»(3).

وروى مسلم في صحيحه من حديث جابر رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «غَطُّوا الْإِنَاءَ وَأَوْكُوا السِّقَاءَ، فَإِنَّ فِي السَّنَةِ لَيْلَةً يَنْزِلُ فِيهَا وَبَاءٌ لَا يَمُرُّ بِإِنَاءٍ لَيْسَ عَلَيْهِ غِطَاءٌ أَوْ سِقَاءٍ لَيْسَ عَلَيْهِ وِكَاءٌ، إِلَّا نَزَلَ فِيهِ مِنْ ذَلِكَ الْوَبَاءِ»(4).

وفي رواية لمسلم «فَإِنَّ فِي السَّنَةِ يَوْمًا يَنْزِلُ فِيهِ وَبَاءٌ»(5).

وروى مسلم في صحيحه من حديث جابر رضي الله عنه عن

--------------------------------------------

(1) برقم 3432، وحسنه الشيخ ناصر الدين الألباني كما في صحيح الترغيب 3392.

(2) صحيح البخاري برقم 5623، وصحيح مسلم برقم 2012 واللفظ له.

(3) برقم 3316.

(4) برقم 2014.

(5) برقم 2014.
সেই বালা-মুসিবত»(1).

ইমাম বুখারি ও মুসলিম জাবির (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন রাতের আঁধার নেমে আসে—অথবা তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও—তখন তোমরা তোমাদের শিশুদের (ঘরের ভেতর) আটকে রাখো, কারণ শয়তান সেই সময় ছড়িয়ে পড়ে। আর যখন রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হবে, তখন তাদের ছেড়ে দাও। তোমরা দরজাগুলো বন্ধ করো এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করো; কেননা শয়তান কোনো বন্ধ দরজা খুলতে পারে না ... »(2).

বুখারির অপর এক বর্ণনায় রয়েছে: « ... কেননা জিনদের বিচরণ ও ছোঁ মেরে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। আর তোমরা ঘুমানোর সময় বাতিগুলো নিভিয়ে দাও; কারণ অনিষ্টকারী ইঁদুর অনেক সময় সলতে টেনে নিয়ে যায় এবং ঘরের বাসিন্দাদের পুড়িয়ে ফেলে»(3).

মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে জাবির (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা পাত্রগুলো ঢেকে রাখো এবং মশক (পানির পাত্র)-এর মুখ বেঁধে রাখো; কারণ বছরের মধ্যে এমন একটি রাত আছে যাতে মহামারি অবতীর্ণ হয়। এমন কোনো পাত্র যা ঢাকা নেই কিংবা এমন কোনো মশক যার মুখ বাঁধা নেই—তার ওপর দিয়ে সেই মহামারি যাওয়ার সময় তাতে তা প্রবেশ করে»(4).

মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে, «কেননা বছরের মধ্যে এমন একটি দিন আছে যাতে মহামারি অবতীর্ণ হয়»(5).

মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে জাবির (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(1) হাদিস নম্বর ৩৪৩২; শায়খ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানি একে হাসান (حسن) বলেছেন, যেমনটি সহিহুত তারগিব-এর ৩৩৯২ নম্বরে রয়েছে।

(2) সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৬২৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২০১২ এবং শব্দাবলি তাঁর।

(3) হাদিস নম্বর ৩৩১৬।

(4) হাদিস নম্বর ২০১৪।

(5) হাদিস নম্বর ২০১৪।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১৮)
رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «غَطُّوا الْإِنَاءَ، وَأَوْكُوا السِّقَاءَ، وَأَغْلِقُوا الْبَابَ، وَأَطْفِئُوا السِّرَاجَ، فَإِنَّ الشَّيْطَانَ لَا يَحُلُّ سِقَاءً، وَلَا يَفْتَحُ بَابًا، وَلَا يَكْشِفُ إِنَاءً، فَإِنْ لَمْ يَجِدْ أَحَدُكُمْ إِلَّا أَنْ يَعْرُضَ عَلَى إِنَائِهِ عُودًا، وَيَذْكُرَ اسْمَ اللَّهِ، فَلْيَفْعَلْ، فَإِنَّ الْفُوَيْسِقَةَ تُضْرِمُ عَلَى أَهْلِ الْبَيْتِ بَيْتَهُمْ»(1).

وروى مسلم في صحيحه من حديث جابر رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لَا تُرْسِلُوا فَوَاشِيَكُمْ(2) وَصِبْيَانَكُمْ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ، حَتَّى تَذْهَبَ فَحْمَةُ الْعِشَاءِ(3)، فَإِنَّ الشَّيَاطِينَ تُبْعَثُ إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ حَتَّى تَذْهَبَ فَحْمَةُ الْعِشَاءِ»(4).

ولا يبعد أن كثيرًا مما يصيب الناس من الأسقام والعلل النفسية والبدنية هو من التفريط في الامتثال لهذه التوجيهات الكريمة، وقد بلّغ رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ونصح، فلا يلومن امرؤ إلا نفسه.

قال القرطبي رحمه الله: «وقد تضمنت جملة هذه الأحاديث أن اللَّه تعالى قد أطلع نبيه صلى الله عليه وسلم على ما يكون في هذه الأوقات من المضار من جهة الشياطين، والفأر والوباء، وقد أرشدنا

--------------------------------------------

(1) برقم 2012.

(2) الفواشي: الماشية، كل منتشر من المال كالإبل والغنم وسائر البهائم وغيرها.

(3) فحمة الليل: أي سواده.

(4) برقم 2013.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: «তোমরা পাত্রসমূহ ঢেকে রাখো, পানপাত্রের মুখ বেঁধে রাখো, দরজা বন্ধ করো এবং প্রদীপ নিভিয়ে দাও। কেননা শয়তান কোনো বন্ধ পানপাত্রের মুখ খোলে না, কোনো বন্ধ দরজা খোলে না এবং কোনো আবৃত পাত্র উন্মুক্ত করে না। তোমাদের কেউ যদি তার পাত্রের ওপর আড়াআড়িভাবে রাখার জন্য একটি কাষ্ঠখণ্ড ব্যতীত অন্য কিছু না পায় এবং আল্লাহর নাম স্মরণ করে (অর্থাৎ বিসমিল্লাহ বলে), তবে সে যেন তা-ই করে। কারণ অনিষ্টকারী ইঁদুর গৃহবাসীর ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে তাদের ঘর পুড়িয়ে দিতে পারে»(১).

ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে জাবির (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সূর্য ডুবে গেলে তোমরা তোমাদের গবাদি পশু(২) এবং শিশুদের ছেড়ে রেখো না, যতক্ষণ না ইশার ঘোর অন্ধকার(৩) দূরীভূত হয়। কারণ সূর্য ডুবে যাওয়ার পর থেকে ইশার ঘোর অন্ধকার অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে»(৪).

এটা অসম্ভব নয় যে, মানুষ যেসব শারীরিক ও মানসিক রোগ ও ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, তার অনেকটা এই মহান দিকনির্দেশনাগুলো পালনে অবহেলার কারণে হতে পারে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং সদুপদেশ দান করেছেন; সুতরাং কোনো ব্যক্তি যেন নিজেকে ছাড়া অন্য কাউকে দোষারোপ না করে।

ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন: «এই হাদিসসমূহ সামগ্রিকভাবে এটিই অন্তর্ভুক্ত করে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই সময়গুলোতে শয়তান, ইঁদুর এবং মহামারীর পক্ষ থেকে যেসব ক্ষতি হতে পারে, সে সম্পর্কে অবহিত করেছেন এবং তিনি আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) হাদিস নং ২০১২।

(২) আল-ফাওয়াশি: গবাদি পশু; উট, ছাগল ও অন্যান্য চতুষ্পদ জন্তুর মতো সম্পদের মধ্য থেকে যা কিছু ছড়িয়ে থাকে।

(৩) ফাহমাতুল লাইল: অর্থাৎ রাতের অন্ধকার।

(৪) হাদিস নং ২০১৩।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ১৯)
النبي صلى الله عليه وسلم إلى ما يُتقى به ذلك - فليبادر الإنسان إلى فعل تلك الأمور ذاكرًا اللَّه تعالى - ممتثلاً أمر نبيه صلى الله عليه وسلم، وشاكرًا للَّه تعالى على ما أرشدنا إليه، وأعلمنا به، ولنبيه صلى الله عليه وسلم على تبليغه ونصحه، فمن فعل ذلك لم يصبه من شيء من ذلك ضرر بحول اللَّه وقوته، وبركة امتثال أوامره صلى الله عليه وسلم، وجازاه عنا أفضل ما جازى نبيًّا عن أمته، فقد بلغ ونصح»(1).

وروى البخاري في صحيحه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «إِذَا وَقَعَ الذُّبَابُ فِي شَرَابِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْمِسْهُ ثُمَّ لِيَنْزِعْهُ، فَإِنَّ فِي إِحْدَى جَنَاحَيْهِ دَاءً وَالأُخْرَى شِفَاءً»(2).

قال الخطابي: «تكلم على هذا الحديث من لا خلاق له، فقال: كيف يجتمع الشفاء والداء في جناحي الذباب، وكيف يعلم ذلك من نفسه حتى يقدم جناح الشفاء، وما ألجأه إلى ذلك؟ قال: وهذا سؤال جاهل أو متجاهل، فإن كثيرًا من الحيوان قد جمع الصفات المتضادة، وقد ألف اللَّه بينها وقهرها على الاجتماع، وجعل منها قوى الحيوان، وإن الذي ألهم النحلة اتخاذ البيت العجيب الصنعة للتعسيل فيه، وألهم النملة أن تدخر قوتها أوان حاجتها، وأن تكسر الحبة نصفين لئلا تستنبت، لقادر على إلهام

--------------------------------------------

(1) المفهم لما أشكل من تلخيص كتاب مسلم (5/ 282).

(2) برقم 3320.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা দ্বারা তা থেকে আত্মরক্ষা করা যায় তার দিকে (নির্দেশ করেছেন) - সুতরাং মানুষের উচিত সেই কাজগুলো পালনে তৎপর হওয়া, মহান আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করা - তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদেশ পালনকারী হিসেবে এবং আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে যা পথ দেখিয়েছেন ও জানিয়েছেন তার জন্য তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায়কারী হিসেবে, আর তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি তাঁর (বাণী) পৌঁছে দেওয়া ও হিতাকাঙ্ক্ষার জন্য (কৃতজ্ঞ হওয়া)। যে ব্যক্তি এটি করবে, আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদেশ পালনের বরকতে সেই বিষয়ের কোনো ক্ষতি তাকে স্পর্শ করবে না। আর আল্লাহ যেন তাঁকে আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন যা তিনি একজন নবীকে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে দান করেন; কেননা তিনি পৌঁছে দিয়েছেন এবং হিতাকাঙ্ক্ষা করেছেন।»(১).

ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কারো পানীয় বস্তুতে যদি মাছি পড়ে, তবে সে যেন তা ডুবিয়ে দেয় এবং এরপর তা তুলে ফেলে দেয়; কেননা তার এক ডানায় রয়েছে রোগ এবং অন্যটিতে নিরাময়।»(২).

খাত্তাবি বলেছেন: «এই হাদিস সম্পর্কে এমন ব্যক্তি কথা বলেছে যার (দ্বীনি কল্যাণে) কোনো অংশ নেই; সে বলেছে: মাছির দুই ডানায় কীভাবে নিরাময় ও রোগ একত্রিত হতে পারে? আর মাছি নিজে থেকে তা কীভাবে জানবে যাতে সে নিরাময়ের ডানাটি আগে বাড়িয়ে দেবে? আর কী-ই বা তাকে এতে বাধ্য করল? তিনি (খাত্তাবি) বলেন: এটি একজন মূর্খ অথবা মূর্খতা ভানকারীর প্রশ্ন। কেননা অনেক প্রাণীই বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য ধারণ করে, আর আল্লাহ সেগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করেছেন এবং সেগুলোকে একত্রিত থাকতে বাধ্য করেছেন, আর তা থেকেই প্রাণীর জীবনীশক্তি উৎপন্ন করেছেন। আর যিনি মৌমাছিকে মধু জমানোর জন্য এমন চমৎকার কারুকার্যমণ্ডিত ঘর তৈরির কৌশল শিখিয়েছেন, আর পিঁপড়াকে তার প্রয়োজনের সময় খাদ্য সঞ্চয় করার এবং দানাটি দুই ভাগে ভেঙে ফেলার প্রেরণা দিয়েছেন যাতে তা অঙ্কুরিত না হয়, তিনি অবশ্যই সক্ষম প্রেরণা দিতে...

--------------------------------------------

(১) আল-মুফহিম লিমা আশকালা মিন তালখিস কিতাবি মুসলিম (৫/ ২৮২)।

(২) নম্বর ৩৩২০।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২০)
الذبابة أن تقدم جناحًا وتؤخر آخر»(1).

وكان النبي صلى الله عليه وسلم يسأل ربه صباحًا ومساءً العافية وعند نومه، فروى أبو داود في سننه من حديث ابن عمر رضي الله عنهما قال: لم يكن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يدع هؤلاء الدعوات حين يمسي وحين يصبح: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَدُنْيَايَ وَأَهْلِي وَمَالِي، اللَّهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِي، وَآمِنْ رَوْعَاتِي، اللَّهُمَّ احْفَظْنِي مِنْ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِي، وَعَنْ يَمِينِي وَعَنْ شِمَالِي وَمِنْ فَوْقِي، وَأَعُوذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي»(2). وروى مسلم في صحيحه من حديث عبد اللَّه بن الحارث يحدث عن عبد اللَّه بن عمر رضي الله عنهما أنه أمر رجلًا إذا أخذ مضجعه قال: «اللَّهُمَّ خَلَقْتَ نَفْسِي … » الحديث، وقال في آخره: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ»، فقال له رجل: أسمعت هذا من عمر؟ فقال: من خير من عمر، من رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم(3).

«والعافية في الدنيا هي دفع اللَّه عن العبد جميع الأسقام والبلايا وجميع ما يكرهه ويشينه، والعافية في الآخرة هي دفع اللَّه عنه جميع أهوال الآخرة وأفزاعها، ولا يخرج مطلوب العبد من هذين القسمين»(4).

--------------------------------------------

(1) فتح الباري (10/ 304).

(2) برقم 5074، وصححه الألباني رحمه الله في صحيح سنن أبي داود (3/ 957) برقم 4239.

(3) برقم 2712.

(4) انظر: رسالة الشيخ عبدالهادي وهبي: الوسيلة الكافية في تحصيل العافية.
মাছি (তার) একটি ডানা সামনে বাড়িয়ে দেয় এবং অন্যটি পেছনে সরিয়ে নেয়।”(১)।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকাল-সন্ধ্যায় এবং শয্যাগ্রহণের সময় তাঁর রবের নিকট আফিয়াত (সুস্থতা ও নিরাপত্তা) প্রার্থনা করতেন। আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদীসে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সন্ধ্যা ও সকালে উপনীত হওয়ার সময় এই দোয়াগুলো পাঠ করা বাদ দিতেন না: “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতে আফিয়াত প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের ক্ষেত্রে ক্ষমা ও আফিয়াত প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপনীয় বিষয়সমূহ গোপন রাখুন এবং আমার ভীতিসমূহকে নিরাপত্তায় রূপান্তর করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার সম্মুখ, পশ্চাৎ, ডান, বাম এবং উপর থেকে হেফাযত করুন। আর আমি আপনার মহত্ত্বের উসিলায় আমার নিচ থেকে হঠাৎ আক্রান্ত হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”(২)। মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি এক ব্যক্তিকে শয্যাগ্রহণের সময় বলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন: “হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রাণ সৃষ্টি করেছেন...” হাদীসটির শেষ পর্যন্ত; আর তিনি এর শেষে বলেছিলেন: “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আফিয়াত প্রার্থনা করছি।” তখন এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল: “আপনি কি এটি উমর থেকে শুনেছেন?” তিনি বললেন: “উমরের চেয়েও উত্তম ব্যক্তির নিকট থেকে (শুনেছি), অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে।”(৩)।

“দুনিয়াতে আফিয়াত হলো আল্লাহ কর্তৃক বান্দার থেকে যাবতীয় ব্যাধি ও বালা-মুসিবত এবং তার নিকট অপছন্দনীয় ও তাকে কলঙ্কিত করে এমন সবকিছু দূর করে দেওয়া। আর আখিরাতে আফিয়াত হলো আল্লাহ কর্তৃক তার থেকে আখিরাতের যাবতীয় ভয়াবহতা ও আতঙ্ক দূর করে দেওয়া। আর বান্দার কাম্য বিষয়সমূহ এই দুই প্রকারের বাইরে নয়।”(৪)।

--------------------------------------------

(১) ফাতহুল বারী (১০/ ৩০৪)।

(২) নং ৫০৭৪, এবং আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) একে সহীহ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন সহীহ সুনান আবু দাউদ (৩/ ৯৫৭) গ্রন্থে, নং ৪২৩৯।

(৩) নং ২৭১২।

(৪) দেখুন: শেখ আব্দুল হাদী ওয়াহবীর পুস্তিকা: আল-ওয়াসিলাহ আল-কাফিয়াহ ফী তাহসীল আল-আফিয়াহ।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২১)
«والدعاء من أنفع الأدوية، وهو عدو البلاء، يدافعه ويعالجه ويمنع نزوله، ويرفعه أو يخففه إذا نزل، وهو سلاح المؤمن وعماد الدين، وله مع البلاء ثلاثة مقامات:

أحدها: أن يكون أقوى من البلاء فيدفعه.

الثاني: أن يكون أضعف من البلاء، فيقوى عليه البلاء، فيصاب العبد ولكن قد يخففه وإن كان ضعيفًا.

الثالث: أن يتقاوما ويمنع كل واحد منهما صاحبه»(1).

فقد روى الترمذي في سننه من حديث ثوبان رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لَا يَرُدُّ القَضَاءَ إِلاَّ الدُّعَاءُ، وَلَا يَزِيدُ فِي العُمْرِ إِلاَّ البِرُّ»(2).

وروى ابن ماجه في سننه من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَا مِنْ دَعْوَةٍ يَدْعُو بِهَا الْعَبْدُ أَفْضَلَ مِنْ: اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْمُعَافَاةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ»(3).

فبين النبي صلى الله عليه وسلم أن أفضل ما سأله العباد أن يعافيهم اللَّه؛ لأن العمدة الكبرى والمنحة العظمى في نيل السعادة الدنيوية والأخروية هي العافية.

--------------------------------------------

(1) الجواب الكافي لمن سأل عن الدواء الشافي ص (9 - 10) لابن القيم رحمه الله.

(2) برقم 2139، وحسنه الألباني رحمه الله في صحيح الترمذي (2/ 225) برقم 1738.

(3) برقم 3851، وصححه الألباني ? في صحيح سنن ابن ماجه برقم 3106.
«দোয়া হলো সর্বাপেক্ষা উপকারী ওষুধসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি বিপদের শত্রু; এটি বিপদকে প্রতিহত করে, তার চিকিৎসা করে এবং এর অবতরণ প্রতিরোধ করে। আর বিপদ আপতিত হলে এটি তা দূর করে অথবা লাঘব করে। এটি মুমিনের হাতিয়ার এবং দীনের স্তম্ভ। বিপদের মোকাবিলায় দোয়ার তিনটি অবস্থা রয়েছে:

প্রথমটি: দোয়া বিপদের চেয়ে শক্তিশালী হওয়া, ফলে এটি তাকে প্রতিহত করে।

দ্বিতীয়টি: দোয়া বিপদের চেয়ে দুর্বল (ضعيف) হওয়া, ফলে বিপদ তার ওপর প্রবল হয় এবং বান্দা বিপদগ্রস্ত হয়; তবে দোয়া দুর্বল (ضعيف) হলেও তা বিপদকে লাঘব করতে পারে।

তৃতীয়টি: উভয়টি একে অপরের মোকাবিলা করে এবং একে অপরকে প্রতিরোধ করে»(১)।

তিরমিযি তাঁর সুনানে সাওবান (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: «তাকদির কেবল দোয়াই পরিবর্তন করতে পারে এবং নেক আমল ছাড়া আর কিছুই হায়াত বৃদ্ধি করতে পারে না»(২)।

ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: «বান্দার কোনো দোয়াই এর চেয়ে উত্তম নয়: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখেরাতে নিরাপত্তা ও সুস্থতা (আফিয়াত) প্রার্থনা করছি»(৩)।

নবী (সা.) এখানে বর্ণনা করেছেন যে, বান্দা আল্লাহর কাছে যা কিছু প্রার্থনা করে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো— আল্লাহ যেন তাকে ক্ষমা ও নিরাপত্তা দান করেন; কারণ দুনিয়া ও আখেরাতে সৌভাগ্য লাভের প্রধান ভিত্তি এবং সর্বশ্রেষ্ঠ অনুদান হলো সুস্থতা ও নিরাপত্তা (আফিয়াত)।

--------------------------------------------

(১) আল-জওয়াবুল কাফি লিমান সাআলা আনিদ দাওয়াশ শাফি, পৃষ্ঠা (৯-১০), ইবনুল কাইয়্যিম (রাহি.)।

(২) হাদিস নং ২১৩৯; আলবানী (রাহি.) একে সহিহ তিরমিযি (২/২২৫, হাদিস নং ১৭৩৮)-তে হাসান (حسن) বলেছেন।

(৩) হাদিস নং ৩৮৫১; আলবানী (রাহি.) একে সহিহ সুনানে ইবনে মাজাহ (হাদিস নং ৩১০৬)-তে সহিহ (صحيح) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২২)
وروى البزار في كشف الأستار من حديث أنس بن مالك رضي الله عنه أنه صلى الله عليه وسلم مر بقوم مبتلين فقال: «أَمَا كَانَ هَؤُلاءِ يَسْأَلُونَ اللَّهَ الْعَافِيَةَ»(1).

«وفي الحديث دليل على أن سؤال اللَّه العافية يدفع كل بلية، ويرفع كل محنة، ولهذا جاء صلى الله عليه وسلم بهذا الاستفهام بمعنى الاستنكار، فكأنه قال لهم: كيف تتركون أنفسكم في هذه المحنة والبلاء؟ وأنتم تجدون الدواء الحاسم لها، والمرهم الشافي لما أصابكم منها، وهو الدعاء بالعافية، واستدفاع هذه المحنة النازلة بكم بهذه الدعوة الكافية.

وفي هذا ما يزيد النفوس نشاطًا، والقلوب بصيرة باستعمال هذا الدواء عند عروض كل داء ومساس كل محنة، ونزول كل بلية»(2).

وكان النبي صلى الله عليه وسلم يتعوذ باللَّه من سيئ الأسقام، فروى الإمام أحمد في مسنده من حديث أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقول: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ، وَالْجُنُونِ، وَالْجُذَامِ، وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ»(3).

--------------------------------------------

(1) (4/ 36) برقم 3134، وصححه الشيخ الألباني رحمه الله كما في السلسلة الصحيحة برقم 2197.

(2) انظر: رسالة الشيخ عبدالهادي وهبي: الوسيلة الكافية في تحصيل العافية.

(3) (20/ 309) برقم 13004، وقال محققوه: إسناده صحيح على شرط مسلم.
ইমাম আল-বাজ্জার কাশফুল আসতার-এ আনাস ইবন মালিক (রা.) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) এক বিপদগ্রস্ত সম্প্রদায়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন: “তারা কি আল্লাহর নিকট আফিয়াত (সুস্থতা ও নিরাপত্তা) প্রার্থনা করতে পারত না?”(১).

“এই হাদিসটিতে প্রমাণ রয়েছে যে, আল্লাহর নিকট আফিয়াত প্রার্থনা করা প্রতিটি বিপদকে প্রতিহত করে এবং প্রতিটি দুঃখ-দুর্দশাকে দূর করে। এ কারণেই নবী (সা.) বিস্ময় ও তিরস্কারসূচক এই প্রশ্নটি করেছেন। তিনি যেন তাদের বলছেন: তোমরা কীভাবে নিজেদের এই বিপদ ও দুঃখ-দুর্দশার মধ্যে ফেলে রাখছ? অথচ তোমাদের কাছে এর চূড়ান্ত সমাধানকারী ওষুধ এবং তোমাদের ওপর আপতিত কষ্টের আরোগ্যদায়ী মলম বিদ্যমান রয়েছে; আর তা হলো—আফিয়াতের দোয়া এবং এই স্বয়ংসম্পূর্ণ দোয়ার মাধ্যমে আপতিত বিপদকে প্রতিহত করা।

এর মধ্যে প্রতিটি ব্যাধির প্রাদুর্ভাব, প্রতিটি কষ্টের স্পর্শ এবং প্রতিটি দুর্যোগের সময় এই ওষুধটি ব্যবহারের মাধ্যমে আত্মার উদ্যম ও অন্তরের অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধির উপাদান রয়েছে।”(২).

নবী (সা.) কঠিন রোগব্যাধি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলতেন: “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ধবল, উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ এবং মন্দ ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”(৩).

--------------------------------------------

(১) (৪/ ৩৬), নং ৩১৩৪; শায়খ আলবানি (রহ.) একে সহিহ (صحيح) বলেছেন, যেমনটি সিলসিলা সহিহা-তে রয়েছে, নং ২১৯৭।

(২) দেখুন: শায়খ আবদুল হাদি ওয়াহবির রিসালা: ‘আল-ওয়াসিলা আল-কাফিয়া ফি তাহসিলিল আফিয়া’।

(৩) (২০/ ৩০৯), নং ১৩০০৪; এর মুহাক্কিকগণ বলেছেন: এর সনদ (إسناد) মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২৩)
قال الشاعر:

إِنِّي وَإِنْ كَانَ جَمْعُ المَالِ يُعْجِبُنِي … مَا يَعْدِلُ المَالُ عِنْدِي صِحَّةَ الجَسَدِ

المَالُ زَيْنٌ وَفِي الأَوْلَادِ مَكْرُمَةٌ … وَالسَّقْمُ يُنْسِيكَ ذِكْرَ المَالِ وَالوَلَدِ
কবি বলেছেন:

নিশ্চয়ই আমি, যদিও ধন-সম্পদ আহরণ করা আমাকে আনন্দিত করে … তবুও আমার নিকট কোনো সম্পদই শরীরের সুস্থতার সমতুল্য নয়।

সম্পদ হলো শোভাবর্ধক এবং সন্তান-সন্ততির মাঝে রয়েছে বিশেষ মর্যাদা … কিন্তু অসুস্থতা তোমাকে ধন-সম্পদ ও সন্তানের কথা ভুলিয়ে দেয়।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الفصل الثاني

ما يحفظ به الصحة ويدفع به الداء

بعد وقوعه من الأدوية الإلهية

من الأدعية والرقى والصدقات ونحوها من الأعمال الصالحة، قال تعالى: {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ وَلَا يَزِيدُ الظَّالِمِينَ إِلَّا خَسَارًا (82)} [الإسراء: 82]، وقال تعالى: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ (57)} [يونس: 57]، وقال تعالى: {قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ} [فصلت: 44].

قال الشيخ عبدالرحمن بن سعدي رحمه الله: «فالقرآن مشتمل على الشفاء والرحمة، وليس ذلك لكل أحد، وإنما ذلك للمؤمنين به، المصدقين بآياته، العاملين به، وأما الظالمون بعدم التصديق به أو عدم العمل به، فلا تزيدهم آياته إلا خسارًا، إذ به تقوم عليهم الحجة. فالشفاء الذي تضمنه القرآن عام لشفاء القلوب من الشبه والجهالة والآراء الفاسدة والانحراف السيئ، والقصود السيئة، فإنه مشتمل على العلم اليقين الذي تزول به كل شبهة وجهالة، والوعظ والتذكير الذي يزول به كل شهوة تخالف
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার পর

ঐশী ওষুধের মাধ্যমে তা নিরাময়ের বর্ণনা

দুআ, রুকইয়া (الرقى), সদকা এবং এ জাতীয় নেক আমলসমূহের মাধ্যমে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি কুরআন থেকে এমন বিষয় অবতীর্ণ করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত, কিন্তু তা জালিমদের জন্য কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে (৮২)} [আল-ইসরা: ৮২], আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {হে মানবকুল, তোমাদের নিকট তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এবং অন্তরের রোগের আরোগ্য এসেছে, আর মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত (৫৭)} [ইউনুস: ৫৭], আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {বলুন, এটি মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও আরোগ্য} [ফুসসিলাত: ৪৪]।

শেখ আব্দুর রহমান বিন সাদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «কুরআন আরোগ্য ও রহমতকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে তা সকলের জন্য নয়; বরং কেবল সেই মুমিনদের জন্য যারা এর প্রতি ঈমান আনে, এর আয়াতসমূহকে সত্য বলে বিশ্বাস করে এবং তদানুযায়ী আমল করে। পক্ষান্তরে যারা একে অস্বীকার করে কিংবা আমল না করে নিজেদের ওপর জুলুম করে, কুরআনের আয়াতসমূহ তাদের কেবল ক্ষতিই বৃদ্ধি করে, কেননা এর মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হয়। কুরআন যে আরোগ্যের নিশ্চয়তা দেয়, তা সন্দেহ (الشبه), মূর্খতা (الجهالة), ভ্রান্ত মতবাদ, মন্দ বিচ্যুতি এবং অসৎ উদ্দেশ্য থেকে অন্তরের আরোগ্যের জন্য ব্যাপক। কারণ এটি এমন সুনিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقين) সমৃদ্ধ যা দ্বারা প্রতিটি সন্দেহ (شبهة) ও মূর্খতা (جهالة) দূরীভূত হয়, আর এতে রয়েছে এমন উপদেশ ও নসিহত যার মাধ্যমে সকল কুপ্রবৃত্তি যা বিরোধপূর্ণ...
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২৬)
أمر اللَّه، ولشفاء الأبدان من آلامها وأسقامها. وأما الرحمة فإن ما فيه من الأسباب والوسائل التي يحث عليها متى فعلها العبد فاز بالرحمة والسعادة الأبدية والثواب العاجل والآجل»(1).

«ولا شك ولا ريب أن العلاج بالقرآن الكريم وبما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم من الرقى هو علاج نافع، وشفاء تام، قال تعالى: {قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاءٌ} [فصلت: 44]، ومن هنا لبيان الجنس، يعني: من في قوله: {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ} [الإسراء: 82 [، فإن القرآن كله شفاء كما في الآية الكريمة: {يَاأَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَشِفَاءٌ لِمَا فِي الصُّدُورِ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ (57)}] يونس: 57]. فالقرآن هو الشفاء التام من جميع الأدواء القلبية والبدنية، وأدواء الدنيا والآخرة، وما كل أحد يؤهل ولا يوفق للاستشفاء بالقرآن، وإذا أحسن العليل التداوي به وعالج به مرضه بصدق وإيمان، وقبول تام، واعتقاد جازم، واستيفاء شروطه لم يقاومه الداء أبدًا، وكيف تقاوم الأدواء كلام رب الأرض والسماء الذي لو نزل على الجبال لصدعها، أو على الأرض لقطعها، فما من مرض من أمراض القلوب والأبدان إلا وفي القرآن سبيل الدلالة على علاجه وسببه، والحمية منه لمن رزقه اللَّه فهمًا لكتابه»(2).

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن سعدي ص 603.

(2) انظر: زاد المعاد (4/ 519 - 520).
আল্লাহর নির্দেশ, এবং শরীরকে সকল বেদনা ও রোগ থেকে আরোগ্য প্রদানের জন্য। আর রহমতের বিষয়টি হলো—এতে যে সকল কারণ ও উপকরণের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে, বান্দা যখন তা সম্পাদন করে, তখন সে রহমত, চিরস্থায়ী সুখ এবং ইহকাল ও পরকালের সওয়াব লাভে ধন্য হয়।(১)

«এতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই যে, পবিত্র কুরআন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثبت) রুকইয়াহ (الرقى) এর মাধ্যমে চিকিৎসা একটি উপকারী চিকিৎসা এবং পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, এটি মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও নিরাময়} [ফুসসিলাত: ৪৪]। আর এখানে ‘মিন’ (من) শব্দটি শ্রেণি বর্ণনার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি কুরআন থেকে অবতীর্ণ করি} [আল-ইসরা: ৮২] এর ‘মিন’ (من) শব্দটি। কারণ সম্পূর্ণ কুরআনই আরোগ্য, যেমনটি এই মহান আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: {হে মানবকুল, তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে উপদেশ এবং অন্তরের ব্যাধির আরোগ্য আর মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত এসেছে} [ইউনুস: ৫৭]। সুতরাং কুরআন হলো যাবতীয় আত্মিক ও শারীরিক ব্যাধি এবং দুনিয়া ও আখেরাতের সকল অসুস্থতার পূর্ণাঙ্গ নিরাময়। তবে প্রত্যেক ব্যক্তিকে কুরআনের মাধ্যমে আরোগ্য লাভের যোগ্য করা হয় না বা তৌফিক দেওয়া হয় না। যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তি সততা, ঈমান, পূর্ণ একাগ্রতা, দৃঢ় বিশ্বাস এবং এর শর্তাবলি পূরণ করে এর মাধ্যমে উত্তমরূপে চিকিৎসা গ্রহণ করে, তখন রোগ কখনোই এর সামনে টিকতে পারে না। আর আসমান-যমিনের রবের বাণীর সামনে রোগ-ব্যাধি কীভাবে টিকবে—যা যদি পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ হতো তবে তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিত, অথবা যমিনের ওপর অবতীর্ণ হলে তাকে বিদীর্ণ করে দিত? সুতরাং অন্তর ও শরীরের এমন কোনো রোগ নেই যার চিকিৎসার পথনির্দেশনা, তার কারণ এবং তা থেকে বেঁচে থাকার উপায় কুরআনে বিদ্যমান নেই—সেই ব্যক্তির জন্য যাকে আল্লাহ তাঁর কিতাব বোঝার তৌফিক দান করেছেন।»(২)

--------------------------------------------

(১) তাফসীর ইবনে সাদী, পৃষ্ঠা ৬০৩।

(২) দেখুন: যাদুল মা'আদ (৪/ ৫১৯ - ৫২০)।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২৭)
«ولكن ها هنا أمرٌ لابد من بيانه، وهو أن من شرط انتفاع العليل بالدواء قبوله واعتقاد النفع به، حتى إن كثيرًا من المعالجات تنفع بالاعتقاد وحسن القبول وكمال التلقي، وقد شاهد الناس من ذلك عجائب.

واعتبر هذا بأعظم الأدوية والأشفية، وأنفعها للقلوب والأبدان والمعاش والمعاد والدنيا والآخرة، وهو القرآن الذي هو شفاءٌ من كل داء، كيف لا ينفع القلوب التي لا تعتقد فيه الشفاء والنفع، بل لا يزيدها إلا مرضًا إلى مرضها! وليس لشفاء القلوب قط دواءٌ أنفع من القرآن، فإنه شفاؤها التام الكامل الذي لا يغادر فيها سقمًا إلا أبرأه، ويحفظ عليها صحتها المطلقة، ويحميها الحِمية التامة من كل مؤذٍ ومضر، ومع هذا فإعراض أكثر القلوب عنه، وعدم اعتقادها الجازم الذي لا ريب فيه أنه كذلك، وعدم استعماله، والعدول إلى الأدوية التي ركبها بنو جنسها حال بينها وبين الشفاء به، وغلبت العوائد، واشتد الإعراض، وتمكنت العلل والأدواء المزمنة من القلوب، وتربى بعض المرضى والأطباء على علاج بني جنسهم، فعظم المصاب، واستحكم الداء، وتركبت أمراضٌ وعللٌ أعيا علاجها، ولسان الحال يُنادي:

وَمِنَ العَجَائِبِ وَالعَجَائِبُ جَمَّةٌ … قُرْبُ الشِّفَاءِ وَمَا إِلَيْهُ وُصُولُ

كَالعَيْسِ فِي البَيْدَاءِ يَقْتُلُهَا الظَّمَا … وَالمَاءُ فَوْقَ ظُهُورِهَا مَحْمُولُ»(1)

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد (4/ 140 - 141) بتصرف.
«তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন, আর তা হলো—অসুস্থ ব্যক্তির ওষুধ থেকে উপকৃত হওয়ার একটি শর্ত হলো সেটি গ্রহণ করা এবং তাতে উপকার রয়েছে বলে বিশ্বাস রাখা। এমনকি অনেক চিকিৎসায় বিশ্বাস, উত্তম গ্রহণযোগ্যতা এবং পূর্ণাঙ্গ উপলব্ধির কারণে উপকার পাওয়া যায়; আর মানুষ এ ব্যাপারে বিস্ময়কর সব বিষয় প্রত্যক্ষ করেছে।

আর এই বিষয়টি আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক নিরাময়কারী এবং অন্তর, দেহ, জীবিকা, পরকাল এবং ইহকাল ও পরকালের জন্য সবচেয়ে উপকারী ওষুধের ক্ষেত্রে বিবেচনা করুন; আর তা হলো কুরআন যা সকল রোগের মহৌষধ। তবে সেই অন্তরের জন্য এটি কীভাবে ফলপ্রসূ হবে যা এতে নিরাময় ও উপকারের বিশ্বাস রাখে না, বরং এটি তাদের ব্যাধিকে কেবল বাড়িয়েই দেয়! অন্তরের আরোগ্যের জন্য কুরআনের চেয়ে অধিক উপকারী কোনো ওষুধ কখনোই নেই। কেননা এটি হলো অন্তরের জন্য এমন এক পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত আরোগ্য যা কোনো ব্যাধিকেই নিরাময় না করে ছাড়ে না। এটি অন্তরের নিরঙ্কুশ সুস্থতা বজায় রাখে এবং প্রতিটি কষ্টদায়ক ও ক্ষতিকর বিষয় থেকে একে পূর্ণ সুরক্ষা প্রদান করে। তা সত্ত্বেও অধিকাংশ অন্তরের এটি থেকে বিমুখ থাকা, এতে আরোগ্য রয়েছে বলে সংশয়হীন ও দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ না করা, এর প্রয়োগ বর্জন করা এবং মানুষের তৈরি ওষুধের দিকে ঝুঁকে পড়া তাদের ও কুরআনের মাধ্যমে আরোগ্য লাভের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভ্যাসসমূহ প্রবল হয়েছে, বিমুখতা তীব্র হয়েছে এবং অন্তরে দীর্ঘমেয়াদী রোগ ও ব্যাধিগুলো জেঁকে বসেছে। কিছু রোগী ও চিকিৎসক তাদের স্বজাতির তৈরি চিকিৎসার ওপর অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, ফলে বিপদ ঘনীভূত হয়েছে, ব্যাধি সুদৃঢ় হয়েছে এবং এমন সব জটিল রোগের সৃষ্টি হয়েছে যার চিকিৎসা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। আর বর্তমান অবস্থা যেন উচ্চস্বরে বলছে:

আশ্চর্যের বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম—আর আশ্চর্যের বিষয় তো বহুত—আরোগ্য অতি নিকটে হওয়া সত্ত্বেও সেখানে পৌঁছাতে না পারা।

যেমন মরুভূমির সেই উট যাকে পিপাসা মেরে ফেলে, অথচ তার পিঠের ওপরেই পানি বহন করা হচ্ছে।»(১)

--------------------------------------------

(১) যাদুল মা'আদ (৪/ ১৪০ - ১৪১) পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২৮)
قال ابن القيم رحمه الله: «بل ها هنا من الأدوية التي تشفي من الأمراض ما لم يهتد إليها عقول أكابر الأطباء، ولم تصل إليها علومهم وتجاربهم وأقيستهم من الأدوية القلبية والروحانية، وقوة القلب واعتماده على اللَّه، والتوكل عليه والالتجاء إليه، والانطراح والانكسار بين يديه، والتذلل له، والصدقة، والصلاة، والدعاء، والتوبة، والاستغفار، والإحسان إلى الخلق، وإغاثة الملهوف، والتفريج عن المكروب، فإن هذه الأدوية قد جربتها الأمم على اختلاف أديانها ومللها فوجدوا لها من التأثير في الشفاء ما لا يصل إليه علمُ أعلم الأطباء، ولا تجربته ولا قياسه.

وقد جربنا نحن وغيرنا من هذا أمورًا كثيرة، ورأيناها تفعل ما لا تفعل الأدوية الحسية؛ بل تصير الأدوية الحسية عندها بمنزلة أدوية الطرقية عند الأطباء. وهذا جار على قانون الحكمة الإلهية ليس خارجًا عنها، ولكن الأسباب متنوعة، فإن القلب متى اتصل برب العالمين، وخالق الداء والدواء، ومدبر الطبيعة ومصرفها على ما يشاء كانت له أدوية أخرى غير الأدوية التي يعانيها القلب البعيد منه، المعرض عنه، وقد عُلِم أن الأرواح متى قويت وقويت النفس والطبيعة تعاونا على دفع الداء وقهره، فكيف ينكر لمن قويت طبيعته ونفسه، وفرحت بقربها من بارئها، وأنسها به، وحبها له، وتنعمها بذكره، وانصراف قواها كلها إليه، وجمعها عليه، واستعانتها به، وتوكلها عليه أن يكون ذلك لها من
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: «বরং এখানে এমন কিছু ঔষধ রয়েছে যা রোগ নিরাময় করে, বড় বড় চিকিৎসকদের বুদ্ধিও যেগুলোর দিশা পায়নি এবং তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও অনুমানলব্ধ বিদ্যাও হৃদরোগ ও আধ্যাত্মিক ব্যাধির সেসব ঔষধ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। আর তা হলো হৃদয়ের শক্তি এবং আল্লাহর ওপর তার গভীর আস্থা, তাঁর ওপর ভরসা ও তাঁর প্রতি শরণাপন্ন হওয়া, তাঁর দরবারে নিজেকে সঁপে দেওয়া ও বিনয়াবনত হওয়া, তাঁর প্রতি বিনম্র হওয়া, দান-সদকা, নামাজ, দোয়া, তওবা, ক্ষমা প্রার্থনা, সৃষ্টির প্রতি সদাচরণ, আর্তমানবতার সেবা এবং বিপদগ্রস্তের দুঃখ মোচন। কেননা এই ঔষধগুলো বিভিন্ন ধর্ম ও আদর্শের জাতিসমূহ পরীক্ষা করে দেখেছে এবং তারা আরোগ্যের ক্ষেত্রে এগুলোর এমন প্রভাব খুঁজে পেয়েছে যেখানে বিজ্ঞতম চিকিৎসকদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা অনুমানও পৌঁছাতে পারে না।

আমরা এবং আমাদের ছাড়া অন্যরা এ জাতীয় অনেক বিষয় পরীক্ষা করে দেখেছি। আমরা দেখেছি যে, এগুলো এমন কাজ করে যা জাগতিক ঔষধসমূহ করতে পারে না; বরং এগুলোর কাছে জাগতিক ঔষধগুলো চিকিৎসকদের নিকট হাতুড়ে চিকিৎসকদের ঔষধের ন্যায় মনে হয়। আর এটি মহান আল্লাহর প্রজ্ঞার নিয়মের অধীনেই পরিচালিত, এর বাইরে নয়। তবে কারণসমূহ বৈচিত্র্যময়। কেননা যখন অন্তর রাব্বুল আলামীন, রোগ ও ঔষধের স্রষ্টা এবং প্রকৃতির পরিচালক ও ইচ্ছানুসারে পরিবর্তনকারীর সাথে যুক্ত হয়, তখন তার জন্য এমন কিছু ঔষধ কাজ করে যা তাঁর থেকে বিমুখ ও দূরবর্তী অন্তরের জন্য প্রযোজ্য ঔষধ থেকে ভিন্ন। আর এটি সুনিশ্চিত যে, যখন রুহ শক্তিশালী হয় এবং নফস ও শারীরিক প্রকৃতি শক্তিশালী হয়, তখন তারা রোগ প্রতিরোধ ও দমনে পরস্পরকে সহায়তা করে। অতএব, যার প্রকৃতি ও নফস শক্তিশালী হয়েছে, যে তার স্রষ্টার নৈকট্য লাভে আনন্দিত, তাঁর প্রতি অনুরাগী ও তাঁর ভালোবাসায় সিক্ত, তাঁর জিকিরের মাধ্যমে নেয়ামতপ্রাপ্ত এবং যার সমস্ত শক্তি কেবল তাঁর দিকেই নিবদ্ধ ও তাঁর ওপরেই কেন্দ্রীভূত এবং যে তাঁর সাহায্যপ্রার্থী ও তাঁর ওপর ভরসাশীল, তার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো যে তার জন্য...»
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ২৯)
أكبر الأدوية، وتُوجب لها هذه القوة دفع الألم بالكلية؟ ولا ينكر هذا إلا أجهل الناس، وأغلظهم حجابًا، وأكثفهم نفسًا، وأبعدهم عن اللَّه وعن حقيقة الإنسانية»(1).

روى مسلم في صحيحه من حديث عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم إذا اشتكى منا إنسان مسحه بيمينه ثم قال: «أَذْهِبِ الْبَاسَ رَبَّ النَّاسِ، وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا»(2).

وروى البخاري ومسلم في صحيحيهما من حديث عائشة رضي الله عنها: أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم كان إذا اشتكى الإنسان الشيء منه أو كانت به قرحة أو جرح قال النبي صلى الله عليه وسلم بإصبعه هكذا - ووضع سفيان سبابته بالأرض ثم رفعها- «بِاسْمِ اللَّهِ، تُرْبَةُ أَرْضِنَا، بِرِيقَةِ(3) بَعْضِنَا يُشْفَى بِهِ سَقِيمُنَا بِإِذْنِ رَبِّنَا»(4).

وروى البخاري ومسلم من حديث عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم إذا مرض أحد من أهله نفث عليه بالمعوذات، فلما مرض مرضه الذي مات فيه جعلت أنفث عليه، وأمسحه بيد

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد (4/ 13 - 14).

(2) برقم 2191.

(3) قال (جمهور العلماء: أرضنا بريقة) المراد بأرضنا هنا جملة الأرض وقيل أرض المدينة خاصة لبركتها، والريقة أقل من الريق، ومعنى الحديث أنه يأخذ من ريق نفسه على إصبعه السبابة ثم يضعها على التراب فيعلق منه شيء فيمسح به على الموضع الجريح أو العليل ويقول هذا الكلام في حال المسح. شرح صحيح مسلم للنووي (14/ 404).

(4) صحيح البخاري برقم 5745، وصحيح مسلم برقم 2194 واللفظ له.
...সর্বশ্রেষ্ঠ ঔষধ, আর এই শক্তি কি বেদনাকে সম্পূর্ণরূপে দূর করতে সক্ষম করে না? মূর্খতম ব্যক্তি, সর্বাধিক স্থূল অন্তরালে আচ্ছন্ন, স্থূলতম আত্মার অধিকারী এবং আল্লাহ ও মানবতার হাকীকত থেকে সর্বাধিক দূরে অবস্থানকারী ব্যক্তি ছাড়া কেউ এটি অস্বীকার করে না।(১).

ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন আমাদের মধ্য থেকে কেউ অসুস্থ হতেন, তখন তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে তাকে মাসাহ করতেন এবং বলতেন: «হে মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করে দিন এবং আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদানকারী। আপনার আরোগ্য ছাড়া আর কোনো আরোগ্য নেই, এমন আরোগ্য যা কোনো রোগকেই অবশিষ্ট রাখে না»(২).

ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে যখন কোনো মানুষ কোনো শারীরিক কষ্টের অভিযোগ করত অথবা কারো ফোঁড়া বা জখম হতো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর আঙুল দিয়ে এভাবে করতেন— রাবী সুফিয়ান তাঁর তর্জনী আঙুল মাটিতে রাখলেন এবং এরপর তা উঠালেন— এবং বললেন: «আল্লাহর নামে, আমাদের জমিনের মাটি, আমাদের কারো লালার সাহায্যে, আমাদের প্রতিপালকের অনুমতিতে আমাদের অসুস্থ ব্যক্তি আরোগ্য লাভ করবে»(৩).(৪).

ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরিবারের কেউ যখন অসুস্থ হতো, তখন তিনি তাদের ওপর মুআওয়াজাত (সুরা ফালাক ও সুরা নাস) পড়ে ফুঁ দিতেন। অতঃপর তিনি যখন সেই রোগে আক্রান্ত হলেন যাতে তিনি ইন্তেকাল করেছেন, তখন আমি তাঁর ওপর ফুঁ দিতে শুরু করলাম এবং তাঁর হাত দিয়েই মাসাহ করতাম...

--------------------------------------------

(১) যাদুল মাআদ (৪/ ১৩ - ১৪)।

(২) হাদিস নং ২১৯১।

(৩) তিনি (আলেমদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ [جمهور العلماء]: 'আমাদের জমিন ও লালা') বলেন: এখানে আমাদের জমিন বলতে সমগ্র জমিনকে বোঝানো হয়েছে, আবার কেউ কেউ বলেছেন এর দ্বারা বিশেষভাবে মদিনার জমিন উদ্দেশ্য তার বরকতের কারণে। 'রিকা' (ريقة) শব্দটি 'রিক' (লালা) অপেক্ষা অল্প পরিমাণ বোঝায়। হাদিসের অর্থ হলো, তিনি তাঁর তর্জনী আঙুলে নিজের কিছু লালা নিতেন, এরপর তা মাটির ওপর রাখতেন ফলে কিছু মাটি তাতে লেগে যেত, অতঃপর মাসাহ করার সময় এই কথাগুলো বলে জখম বা অসুস্থ স্থানে তা মাসাহ করতেন। শারহ সহীহ মুসলিম লিন-নববী (১৪/ ৪০৪)।

(৪) সহীহ বুখারি নং ৫৭৪৫, এবং সহীহ মুসলিম নং ২১৯৪; শব্দবিন্যাস তাঁর (মুসলিমের)।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৩০)
نفسه؛ لأنها كانت أعظم بركة من يدي(1).

وروى مسلم في صحيحه من حديث أبي سعيد رضي الله عنه: أن جبريل عليه السلام أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا محمد اشتكيت؟ قال: «نَعَمْ»، قال: بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ(2).

وروى البخاري في صحيحه من حديث عائشة رضي الله عنها قالت: كان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم إذا أوى إلى فراشه نفث في كفيه بـ {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ (1)} [الإخلاص: 1] وبالمعوذتين جميعًا، ثم يمسح بهما وجهه وما بلغت يداه من جسده(3)، قالت عائشة رضي الله عنها: فلما اشتكى كان يأمرني أن أفعل ذلك به(4).

وروى البخاري ومسلم في صحيحيهما من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه أن ناسًا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم أتوا على حي من أحياء العرب فلم يقروهم، فبينما هم كذلك إذ لدغ سيد أولئك، فقالوا: هل معكم من دواء أو راق؟ فقالوا: إنكم لم تقرونا، ولا نفعل حتى تجعلوا لنا جعلاً، فجعلوا لهم قطيعًا من الشاء، فجعل يقرأ بأم القرآن، ويجمع بزاقه ويتفل، فبرأ،

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري برقم 4439، وصحيح مسلم برقم 2192 واللفظ له.

(2) برقم 2186.

(3) ظاهره لزوم ملامسة اليدين للجسد لأنه أبلغ في الانتفاع.

(4) برقم 5748.
তাঁর হাত; কারণ তা ছিল আমার হাতের চেয়ে অধিক বরকতময়।(1).

আর ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে: জিবরাঈল (আ.) নবী (সা.)-এর নিকট আসলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনি কি অসুস্থ বোধ করছেন? তিনি বললেন: «হ্যাঁ», জিবরাঈল (আ.) বললেন: «আল্লাহর নামে আমি আপনাকে রুকইয়াহ করছি, এমন প্রতিটি বস্তু হতে যা আপনাকে কষ্ট দেয়; প্রতিটি প্রাণের অনিষ্ট হতে কিংবা হিংসুকের বদনজর হতে, আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন, আল্লাহর নামে আমি আপনাকে রুকইয়াহ করছি»(2).

আর ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন বিছানায় যেতেন তখন তিনি তাঁর দুই হাতের তালুতে {কুল হুয়াল্লাহু আহাদ} এবং মুআউওয়াযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস) উভয়টি পাঠ করে ফুঁ দিতেন, এরপর তা দিয়ে তাঁর মুখমণ্ডল এবং দেহের যতটুকু অংশে তাঁর হাত পৌঁছাত তা মুছে নিতেন(3)। আয়েশা (রা.) বলেন: অতঃপর যখন তিনি অসুস্থ হলেন, তখন তিনি আমাকে অনুরূপ করার নির্দেশ দিতেন যেন আমি তাঁর হয়ে এটি করি(4).

আর বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহিহদ্বয়ে আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.)-এর সাহাবীদের একদল লোক আরবের একটি গোত্রের নিকট উপস্থিত হলেন কিন্তু তারা তাঁদের আতিথেয়তা করল না। তাঁরা এমতাবস্থায় থাকাকালীন সেই গোত্রের নেতা দংশিত হলো। তারা বলল: তোমাদের নিকট কি কোনো ওষুধ বা ঝাড়ফুঁককারী আছে? তাঁরা বললেন: তোমরা আমাদের মেহমানদারি করোনি, তাই আমরা তা করব না যতক্ষণ না তোমরা আমাদের জন্য কোনো পারিশ্রমিক নির্ধারণ করো। অতঃপর তারা তাঁদের জন্য এক পাল বকরি নির্ধারণ করল। এরপর তিনি (সাহাবী) উম্মুল কুরআন (সূরা ফাতিহা) পাঠ করতে শুরু করলেন এবং লালা একত্রিত করে ফুঁ দিতে লাগলেন, ফলে সে সুস্থ হয়ে গেল।

--------------------------------------------

(1) সহিহ বুখারি নম্বর ৪৪৩৯, এবং সহিহ মুসলিম নম্বর ২১৯২, আর শব্দগুলো তাঁর (ইমাম মুসলিমের)।

(2) নম্বর ২১৮৬।

(3) এর বাহ্যিক (ظاهر) অর্থ হলো শরীরের সাথে দুই হাতের স্পর্শ থাকা আবশ্যক; কারণ এটি উপকার লাভের ক্ষেত্রে অধিক ফলপ্রসূ।

(4) নম্বর ৫৭৪৮।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৩১)
فأتوا بالشاء، فقالوا: لا نأخذه حتى نسأل النبي صلى الله عليه وسلم، فسألوه، فضحك وقال: «وَمَا أَدْرَاكَ أَنَّهَا رُقْيَةٌ، خُذُوهَا وَاضْرِبُوا لِي بِسَهْمٍ»(1).

قال ابن القيم رحمه الله: «من المعلوم أن بعض الكلام له خواص ومنافع مجربة، فما الظن بكلام رب العالمين الذي فضله على كل كلام كفضل اللَّه على خلقه، الذي هو الشفاء التام والعصمة النافعة والنور الهادي والرحمة العامة، الذي لو أُنزل على جبل لتصدع من عظمته وجلالته.

قال تعالى: {وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} [الإسراء: 82]، ومن ها هنا لبيان الجنس لا للتبعيض، هذا أصح القولين، كقوله تعالى: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا (29)} [الفتح: 29]، وكلهم من الذين آمنوا وعملوا الصالحات. فما الظن بفاتحة الكتاب التي لم ينزل في القرآن ولا في التوراة ولا في الإنجيل ولا في الزبور مثلها، المتضمنة لجميع معاني كتب اللَّه، المشتملة على ذكر أصول أسماء الرب تعالى ومجامعها - وهي اللَّه والرب والرحمن - وإثبات المعاد، وذكر التوحيدين: توحيد الربوبية وتوحيد الألوهية، وذكر الافتقار إلى الرب سبحانه في طلب الإعانة وطلب الهداية وتخصيصه سبحانه بذلك، وذكر أفضل الدعاء

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري برقم 5736، وصحيح مسلم برقم 2201.
অতঃপর তারা বকরিগুলো নিয়ে এল এবং বলল: আমরা নবী (সা.)-কে জিজ্ঞাসা না করা পর্যন্ত এগুলো গ্রহণ করব না। তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি হাসলেন এবং বললেন: "তুমি কীভাবে জানলে যে এটি ঝাড়ফুঁক (رقية)? তোমরা এগুলো গ্রহণ করো এবং এতে আমার জন্য একটি অংশ রেখো।"(১).

ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এটি সুপরিচিত যে কিছু কথার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও পরীক্ষিত উপকারিতা রয়েছে। তাহলে বিশ্বজগতের রবের কালাম (বাণী) সম্পর্কে কী ধারণা হতে পারে, যার শ্রেষ্ঠত্ব সমস্ত কথার ওপর তেমন, যেমন আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর সৃষ্টির ওপর? যা পূর্ণাঙ্গ নিরাময়, উপকারী সুরক্ষা, পথপ্রদর্শক নূর এবং সাধারণ রহমত; যা যদি কোনো পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ করা হতো, তবে তার মহিমা ও গাম্ভীর্যের কারণে তা বিদীর্ণ হয়ে যেত।

আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি কুরআন থেকে এমন কিছু নাজিল করি যা মুমিনদের জন্য নিরাময় ও রহমত} [আল-ইসরা: ৮২]। আর এখানে 'মিন' (من) শব্দটি প্রকার বর্ণনার (لبيان الجنس) জন্য এসেছে, আংশিকতা (للتبعيض) বোঝানোর জন্য নয়। এটিই দুই মতের মধ্যে অধিকতর সঠিক (أصح)। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা করেছেন} [আল-ফাতহ: ২৯]। আর তারা সকলেই তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে। তাহলে সূরা ফাতিহা সম্পর্কে কী ধারণা হতে পারে, যার সদৃশ কোনো কিছু কুরআন, তাওরাত, ইঞ্জিল কিংবা যাবুরে নাজিল করা হয়নি? যা আল্লাহর কিতাবসমূহের সকল অর্থকে ধারণ করে এবং যা রবের (তাআলা) নামসমূহের মূলভিত্তি ও তাদের সমষ্টির—আর সেগুলো হলো আল্লাহ, আল-রব এবং আর-রাহমান—উল্লেখ, পরকাল প্রমাণ, উভয় প্রকার তাওহিদ—রুবুবিয়্যাহর তাওহিদ (توحيد الربوبية) ও উলুহিয়্যাহর তাওহিদ (توحيد الألوهية)-এর উল্লেখ, সাহায্য প্রার্থনা ও হিদায়াত কামনায় রবের (সুবহানাহু) মুখাপেক্ষী হওয়া এবং নির্দিষ্টভাবে তাঁর নিকটেই তা প্রার্থনা করা এবং সর্বোত্তম দোয়ার উল্লেখকে অন্তর্ভুক্ত করে।

--------------------------------------------

(১) সহীহ বুখারী, হাদিস নং ৫৭৩৬; এবং সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২২০১।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৩২)
على الإطلاق وأنفعه وما العباد أحوج شيء إليه، وهو الهداية إلى صراطه المستقيم المتضمن كمال معرفته وتوحيده وعبادته بفعل ما أمر به، واجتناب ما نهى عنه، والاستقامة عليه إلى الممات. وتتضمن ذكر أصناف الخلائق وانقسامهم إلى منعم عليه بمعرفة الحق والعمل به ومحبته وإيثاره، ومغضوب عليه بعدوله عن الحق بعد معرفته له، وضال بعدم معرفته له؛ وهؤلاء أقسام الخليقة، مع تضمنها لإثبات القدر والشرع، والأسماء والصفات، والمعاد، والنبوات، وتزكية النفوس وإصلاح القلوب، وذكر عدل اللَّه وإحسانه، والرد على جميع أهل البدع والباطل؛ وحقيق بسورة هذا بعض شأنها أن يستشفى بها من الأدواء، ويرقى بها اللديغ.

وبالجملة، فما تضمنته الفاتحة من إخلاص العبودية، والثناء على اللَّه، وتفويض الأمر كله إليه، والاستعانة به، والتوكل عليه، وسؤاله مجامع النعم كلها، وهي الهداية التي تجلب النعم وتدفع النقم من أعظم الأدوية الشافية والكافية.

وقد قيل: إن موضع الرقية منها {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ (5)} [الفاتحة: 5]، ولا ريب أن هاتين الكلمتين من أقوى أجزاء هذ الدواء، فإن فيهما من عموم التفويض والتوكل، والالتجاء والاستعانة، والافتقار والطلب، والجمع بين أعلى الغايات وهي عبادة الرب وحده، وأشرف الوسائل وهي الاستعانة به على
এটি নিরঙ্কুশভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে উপকারী বিষয় এবং এর প্রতিই বান্দারা সর্বাধিক মুখাপেক্ষী। আর তা হলো তাঁর সরল পথ (সিরাতুম মুস্তাকিম)-এর দিকে হিদায়াত, যা তাঁর পরিচয়ের পূর্ণতা, তাঁর একত্ববাদ ও নির্দেশিত বিষয় পালনের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত, নিষিদ্ধ বিষয় বর্জন করা এবং মৃত্যু পর্যন্ত এর ওপর অবিচল থাকাকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি সৃষ্টির বিভিন্ন শ্রেণি এবং তাদের বিভাজনের আলোচনাকে অন্তর্ভুক্ত করে: একদল হলো তারা যাদের ওপর সত্যের জ্ঞান অর্জন, তার ওপর আমল এবং সত্যের প্রতি ভালোবাসা ও একে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে অনুগ্রহ করা হয়েছে। অন্যদল হলো তারা যাদের ওপর সত্য জানার পর তা থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণে ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে। আর অপর দল হলো তারা যারা সত্য সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার কারণে পথভ্রষ্ট। এরাই সৃষ্টির বিভিন্ন শ্রেণি। এর পাশাপাশি এতে তাকদির, শরিয়ত, আল্লাহর নাম ও গুণাবলী, পরকাল, নবুওয়ত, নফসের পরিশুদ্ধি ও অন্তরের সংশোধন, আল্লাহর ন্যায়বিচার ও অনুগ্রহের বর্ণনা এবং সকল বিদআত (بدعة) ও বাতিলপন্থীদের খণ্ডন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যে সূরার মাহাত্ম্য এমন, সেটি দ্বারা রোগব্যাধি থেকে আরোগ্য অন্বেষণ করা এবং দংশিত ব্যক্তিকে রুকইয়া (رقية) বা ঝাড়ফুঁক করা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত।

সারকথা হলো, সূরা ফাতিহা ইবাদতের একনিষ্ঠতা, আল্লাহর প্রশংসা, সমস্ত বিষয় তাঁর ওপর সোপর্দ করা, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, তাঁর ওপর ভরসা করা এবং তাঁর নিকট সকল নিয়ামতের সমষ্টি তথা হিদায়াত প্রার্থনা করাকে অন্তর্ভুক্ত করে—যা নিয়ামতকে ত্বরান্বিত করে এবং বিপদকে প্রতিহত করে। এটি অন্যতম মহান আরোগ্য দানকারী ও পর্যাপ্ত প্রতিষেধক।

বলা হয়ে থাকে যে, এই সূরার মধ্যে রুকইয়ার (رقية) মূল অংশ হলো: "আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি।" নিসন্দেহে এই বাক্য দুটি এই মহৌষধের অন্যতম শক্তিশালী অংশ। কেননা এতে পূর্ণ সমর্পণ, তাওয়াক্কুল, আশ্রয় গ্রহণ, সাহায্য প্রার্থনা, দীনতা ও যাচ্ঞা নিহিত রয়েছে। এটি সর্বোচ্চ লক্ষ্য—তথা কেবল রবের ইবাদত—এবং শ্রেষ্ঠ মাধ্যম—তথা তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা—উভয়ের সমন্বয় করার ওপর...
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
عبادته، ما ليس في غيرها.

ولقد مر بي وقت بمكة سقمت فيه، وفقدت الطبيب والدواء، فكنت أتعالج بها، آخذ شربة من ماء زمزم، وأقرؤها عليه مرارًا، ثم أشربه، فوجدت بذلك البرء التام، ثم صرت أعتمد ذلك عند كثيرٍ من الأوجاع، فأنتفع بها غاية الانتفاع»(1).

قال ابن حجر رحمه الله: «وقد أجمع العلماء على جواز الرقية عند اجتماع ثلاثة شروط:

أن يكون بكلام اللَّه تعالى، أو بأسمائه وصفاته، و باللسان العربي أو بما يعرف معناه بغيره، وأن يعتقد أن الرقية لاتؤثر بذاتها بل بذات اللَّه تعالى»(2).

وروى مسلم في صحيحه من حديث عثمان بن أبي العاص رضي الله عنه: أنه شكا إلى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وجعًا يجده في جسده منذ أسلم، فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: «ضَعْ يَدَكَ عَلَى الَّذِي تَأَلَّمَ مِنْ جَسَدِكَ، وَقُلْ: بِاسْمِ اللَّهِ ثَلَاثًا، وَقُلْ سَبْعَ مَرَّاتٍ: أَعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ»(3).

وروى أبو داود في سننه من حديث ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «مَنْ عَادَ مَرِيضًا لَمْ يَحْضُرْ أَجَلُهُ، فَقَالَ عِنْدَهُ سَبْعَ

--------------------------------------------

(1) زاد المعاد (4/ 252 - 254).

(2) فتح الباري (10/ 195).

(3) برقم 2202.
তাঁর ইবাদত, যা অন্য কিছুতে নেই।

মক্কায় আমার এমন এক সময় অতিবাহিত হয়েছিল যখন আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম এবং কোনো চিকিৎসক ও ওষুধ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তখন আমি এর (সূরা ফাতিহা) মাধ্যমে চিকিৎসা করতাম; আমি জমজমের পানি নিতাম এবং তার ওপর বারবার এটি পাঠ করতাম, অতঃপর তা পান করতাম। ফলে আমি এর মাধ্যমে পূর্ণ আরোগ্য লাভ করলাম। এরপর থেকে আমি বহু ব্যথার ক্ষেত্রে এর ওপর নির্ভর করতে শুরু করি এবং এর দ্বারা চূড়ান্তভাবে উপকৃত হই।(১)

ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তিনটি শর্তের উপস্থিতিতে ঝাড়ফুঁক (الرقية) বৈধ হওয়ার বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম ঐকমত্য পোষণ করেছেন: তা মহান আল্লাহর কালাম, অথবা তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে হতে হবে; আরবি ভাষায় হতে হবে অথবা অন্য কোনো ভাষায় হতে হবে যার অর্থ বোধগম্য; এবং এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, ঝাড়ফুঁক (الرقية) নিজস্ব ক্ষমতায় কোনো প্রভাব ফেলে না, বরং মহান আল্লাহর ইচ্ছাতেই তা কার্যকর হয়।"(২)

ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে উসমান বিন আবি আল-আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেছেন যে: তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে তাঁর শরীরের এমন এক ব্যথার অভিযোগ করলেন যা তিনি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে অনুভব করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমার শরীরের যেখানে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে সেখানে হাত রাখো এবং তিনবার বলো: 'আল্লাহর নামে', আর সাতবার বলো: 'আমি আল্লাহর মর্যাদা ও তাঁর কুদরতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি সেই অনিষ্ট থেকে যা আমি অনুভব করছি এবং যার আশঙ্কা করছি'।"(৩)

ইমাম আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো রোগীকে দেখতে যাবে যার মৃত্যুর সময় নিকটবর্তী হয়নি, অতঃপর তার নিকট সাতবার বলবে...

--------------------------------------------

(১) যাদুল মা'আদ (৪/ ২৫২ - ২৫৪)।

(২) ফাতহুল বারী (১০/ ১৯৫)।

(৩) নম্বর ২২০২।
(খণ্ড: ১) ইনায়াতুল ইসলাম বি-সিহহাতিল ইনসান (পৃষ্ঠা: ৩৪)
مَرَّاتٍ: أَسْأَلُ اللَّهَ الْعَظِيمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَكَ؛ إِلَّا عَافَاهُ اللَّهُ مِنْ ذَلِكَ الْمَرَضِ»(1).

وروى أبو داود في سننه من حديث عبد اللَّه بن عمرو رضي الله عنهما: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «إِذَا جَاءَ الرَّجُلُ يَعُودُ مَرِيضًا فَلْيَقُلِ: اللَّهُمَّ اشْفِ عَبْدَكَ، يَنْكَأُ لَكَ عَدُوًّا أَوْ يَمْشِي لَكَ إِلَى صَلَاةٍ»(2).

وروى البخاري ومسلم في صحيحيهما من حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم دعا له في مرضه، فقال: «اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا، اللَّهُمَّ اشْفِ سَعْدًا - ثَلَاثَ مِرَاتٍ»(3).

ودخل النبي صلى الله عليه وسلم على أعرابي يعوده، قال: «وكان النبي صلى الله عليه وسلم إذا دخل على مريض يعوده قال: «لا بَأْسَ طَهُورٌ(4) إنْ شَاءَ اللَّهُ»(5).

وروى الإمام أحمد في مسنده: قال أبو التياح: قلت لعبد الرحمن بن خنبش التميمي - وكان كبيرًا -: أدركت رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم؟ قال: نعم، قال: قلت كيف صنع رسول اللَّه ليلة

--------------------------------------------

(1) برقم 3106 وأخرجه ابن حبان في صحيحه برقم 2964، وصححه الألباني رحمه الله في صحيح سنن أبي داود (2/ 600) برقم 2663.

(2) سنن أبي داود برقم 3107، وصححه ابن حبان في صحيحه برقم 2963، وصححه الألباني رحمه الله في صحيح سنن أبي داود (2/ 600) برقم 2664.

(3) صحيح البخاري برقم 5675، وصحيح مسلم برقم 2191.

(4) طهور: بفتح أوله، أي مرضك مطهر لذنبك إن شاء الله.

(5) صحيح البخاري برقم 3616.
সাতবার: ‘আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, যিনি মহান আরশের অধিপতি, তিনি যেন তোমাকে আরোগ্য দান করেন’; তবে আল্লাহ তাকে সেই রোগ থেকে সুস্থতা দান করবেনই»(১)।

এবং আবু দাউদ তাঁর সুনানে আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যখন কোনো ব্যক্তি কোনো রোগীকে দেখতে আসে, সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দাকে আরোগ্য দান করুন, যে আপনার কোনো শত্রুকে আঘাত করবে (প্রতিহত করবে) অথবা আপনার সন্তুষ্টির জন্য সালাতের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাবে»(২)।

এবং বুখারি ও মুসলিম তাঁদের সহিহদ্বয়ে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর অসুস্থতার সময় তাঁর জন্য দোয়া করেছিলেন এবং বলেছিলেন: «হে আল্লাহ! আপনি সাদকে আরোগ্য দান করুন, হে আল্লাহ! আপনি সাদকে আরোগ্য দান করুন—তিনবার»(৩)।

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জনৈক গ্রাম্য আরবের অসুস্থতায় তাকে দেখতে তার কাছে প্রবেশ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: «এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই কোনো রোগীকে দেখতে যেতেন, বলতেন: কোনো সমস্যা নেই, ইনশাআল্লাহ এটি পবিত্রকারী (طهور)(৪) হবে»(৫)।

এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন: আবু তায়্যাহ বলেন: আমি আবদুর রহমান ইবনে খানবাশ আত-তামিমিকে—যিনি বয়োবৃদ্ধ ছিলেন—বললাম: আপনি কি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বলেন: আমি বললাম: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই রাতে কী করেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) ৩১০৬ নম্বরে; এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহে ২৯৬৪ নম্বরে এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং আলবানি (রহিমাহুল্লাহ) সহিহ সুনানে আবু দাউদ (২/৬০০)-এর ২৬৬৩ নম্বরে একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

(২) সুনানে আবু দাউদ, ৩১০৭ নম্বর; এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহে ২৯৬৩ নম্বরে একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং আলবানি (রহিমাহুল্লাহ) সহিহ সুনানে আবু দাউদ (২/৬০০)-এর ২৬৬৪ নম্বরে একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

(৩) সহিহ বুখারি, ৫৬৭৫ নম্বর এবং সহিহ মুসলিম, ২১৯১ নম্বর।

(৪) তাহুর (طهور): প্রথম বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগে; অর্থাৎ ইনশাআল্লাহ আপনার অসুস্থতা আপনার গুনাহের জন্য পবিত্রকারী হবে।

(৫) সহিহ বুখারি, ৩৬১৬ নম্বর।