(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: -)
الدخول في أمان غير المسلمين وآثاره في الفقه الإسلامي القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الدخول في أمان غير المسلمين وآثاره في الفقه الإسلامي
المؤلف: عبد الحق بن ملا حقي التركماني
تقريظ: الدكتور عبد الله بن عبد المحسن التركي، الشيخ أحمد ولد المرابط، الدكتور عبد الله شاكر الجنيدي
الناشر: دار البشائر الإسلامية، بيروت.
الطبعة الأولى: 1438 هـ - 2017 م
عدد الصفحات: 168
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 ربيع الأول 1443
অমুসলিমদের নিরাপত্তায় প্রবেশ এবং ইসলামি ফিকহে এর প্রভাব বিভাগ: ফিকহী মাসআলা
বই: অমুসলিমদের নিরাপত্তায় প্রবেশ এবং ইসলামি ফিকহে এর প্রভাব
লেখক: আব্দুল হক বিন মুল্লা হাক্কি আল-তুর্কমানি
অভিমত: ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আল-তুর্কী, শেখ আহমদ উলদ আল-মুরাবিত, ডক্টর আব্দুল্লাহ শাকের আল-জুনাইদি
প্রকাশক: দারুল বাশাইর আল-ইসলামিয়্যাহ, বৈরুত.
প্রথম প্রকাশ: ১৪৩৮ হিজরি - ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৮
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩)
الدُّخُولُ في أَمَانِ غير المسلمِينَ
وآثارُهُ في الفِقهِ الإِسلامِيّ
تأليف: عبد الحق التركماني
تقريظ:
معالي الشيخ الدكتور عبد الله بن عبد المحسن التركي
سماحة الشيخ العلامة أحمد ولد المرابط
فضيلة الشيخ الدكتور عبد الله شاكر الجنيدي
الناشر: دار البشائر الإسلامية، بيروت.
الطبعة الأولى: 1438 هـ-2017 م
অমুসলিমদের নিরাপত্তায় (أمان) প্রবেশ
এবং ইসলামি ফিকহে (الفقه الإسلامي) এর প্রভাবসমূহ
রচনা: আব্দুল হক আল-তুর্কমানি
অভিমত (تقريظ):
মহামান্য শায়খ ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আল-তুর্কি
মহামান্য শায়খ আল্লামা আহমাদ উলদ আল-মুরাবিত
মাননীয় শায়খ ডক্টর আব্দুল্লাহ শাকির আল-জুনাইদি
প্রকাশক: দার আল-বাশায়ের আল-ইসলামিয়্যাহ, বৈরুত।
প্রথম সংস্করণ: ১৪৩৮ হি.-২০১৭ খ্রি.
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৫)
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ}
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
«المُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ النَّاسُ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ،
وَالْمُؤْمِنُ مَنْ آمَنَهُ النَّاسُ عَلَى دِمَائِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ»
(1)--------------------------------------------
{হে মুমিনগণ! তোমরা চুক্তিসমূহ পূর্ণ করো।}
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
«প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মানুষ নিরাপদ থাকে; এবং প্রকৃত মুমিন সে-ই, যার নিকট মানুষ তাদের জান ও মালের বিষয়ে নিরাপদ বোধ করে»
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৬)
عُرضَ هذا الكتاب على الرئاسة العامَّة للبحوث العلمية والإفتاء بالمملكة العربية السعودية، فأَفادتْ ـ مشكورةً ـ بخطاب الإدارة العامة لمراجعة المطبوعات الدينيَّة، 92/ 11، في 6/ 3/ 1431: «أنَّه بالاطِّلاع على البحث المذكور تبيَّن أنَّه قيِّمٌ في طَرْحِه، ومتميِّزٌ في موضوعه، خاصَّةً أنَّ الموضوع مهمٌّ، ويحتاج إليه كثيرٌ من المقيمين في بلاد الغرب»
* * *
صدرت الطبعة الأولى لهذا الكتاب عن رابطة العالم الإسلاميِّ في مكة المكرمة ضمن سلسلة «دعوة الحق: كتاب شهريٌّ محكَّم»، العدد (250)، السنة السادسة والعشرون: 1433.
এই বইটি সৌদি আরবের জেনারেল প্রেসিডেন্সি অফ স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা-এর নিকট পেশ করা হয়েছিল। অতঃপর তারা—কৃতজ্ঞতার সাথে—ধর্মীয় প্রকাশনা পর্যালোচনা বিষয়ক সাধারণ প্রশাসনের ৯২/১১ নম্বর পত্রের মাধ্যমে ০৬/০৩/১৪৩১ হিজরি তারিখে জানিয়েছে যে: "উল্লিখিত গবেষণাটি পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এটি এর উপস্থাপনায় অত্যন্ত উচ্চমানের এবং এর বিষয়বস্তুতে অনন্য; বিশেষ করে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পশ্চিমা দেশগুলোতে বসবাসরত অনেকের জন্য এটি প্রয়োজনীয়।"
* * *
এই বইটির প্রথম সংস্করণ মক্কা আল-মুকাররামাহ-এর মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগ থেকে 'দাওয়াতুল হক: মাসিক পিয়ার-রিভিউড (محكَّم) কিতাব' সিরিজের অধীনে প্রকাশিত হয়েছে, সংখ্যা (২৫০), ২৬তম বর্ষ: ১৪৩৩ হিজরি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৭)
تقديم معالي الشيخ الأستاذ الدكتور عبد الله بن عبد المحسن التركيالأمين العام لرابطة العالم الإسلامي بمكة المكرمة سابقًا
وعضو هيئة كبار العلماء بالمملكة العربية السعودية
الحمدُ لله ربِّ العالمين، وصلَّى الله وسلَّم على نبيِّنا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد: فإنَّ هذا الكتاب الموسوم بعنوان: «الدخول في أمان غير المسلمين وآثاره في الفقه الإسلامي»؛ من الكتب التي توضِّح فقه التعامل بين المسلمين وبين غيرهم، في ظلِّ التغيُّرات المعاصرة. وقد تزايدت الحاجةُ إلى هذا الفقه بعد أن كثر انتقال المسلمين إلى دول غير إسلامية، وإقامتهم فيها، وما يتبع ذلك من مساكنةِ غير المسلمين ومخالطتهم ومشاركتهم في مجالات العيش، مما يحتاج إلى فقهٍ وتبصُّرٍ.
والواقعُ أنَّ فئةً من المسلمين المقيمين في بلدان غير مسلمةٍ يغلبُ عليهم الجهلُ بأحكام الشريعة، وقلَّةُ الاكتراث بمراعاتها في معاملة بعضهم بعضًا، وفي معاملة غيرهم ممن يقيمون بين أَظهُرِهِم.
وتراثنا الفقهيُّ المتَّصلُ بتنظيم العلاقة بين المسلمين وبين غيرهم مفصِّلٌ مستفيضٌ في الحالة العكسيَّة لما عليه الوضعُ الآن؛ أي في حالة غير مسلمٍ يقيم بين أظهر المسلمين، بصورةٍ مؤقَّتةٍ أو مؤبَّدةٍ، فرديَّةٍ أو جماعيَّةٍ، بناءً على التَّسويغ المبدئيِّ لهذه الإقامة، وذلك يقتضي جملةً من التفاصيل الإجرائيَّة، يتَّضحُ من خلالها شروطُ هذه الإقامة وحقوقُها وواجباتُها في العبادات والمعاملات والآداب والأخلاق.
মহামান্য শায়খ প্রফেসর ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি এর ভূমিকামক্কাতুল মুকাররামায় অবস্থিত রাবেতাতুল আলাম আল-ইসলামী (মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ)-এর সাবেক মহাসচিব
এবং সৌদি আরবের ‘হায়আতু কিবারিল উলামা’ (উচ্চতর ওলামা পরিষদ)-এর সদস্য
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
হামদ ও সালাতের পর: নিশ্চয়ই ‘অমুসলিমদের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে প্রবেশ এবং ইসলামি ফিকহে (فقه) এর প্রভাব’ শীর্ষক এই বইটি সেই সকল গ্রন্থসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা বর্তমান সময়ের পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে পারস্পরিক আচরণের ফিকহ (فقه) ব্যাখ্যা করে। অমুসলিম দেশগুলোতে মুসলিমদের হিজরত ও সেখানে বসবাসের হার বৃদ্ধি পাওয়ার পর এই ফিকহের (فقه) প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। সেই সঙ্গে সেখানে অমুসলিমদের সাথে একত্রে বসবাস, মেলামেশা এবং জীবনযাত্রার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সাথে অংশীদারিত্বের বিষয়টিও জড়িয়ে আছে, যার জন্য গভীর ফিকহ (فقه) ও দূরদৃষ্টির প্রয়োজন।
বাস্তবতা হলো, অমুসলিম দেশগুলোতে বসবাসকারী মুসলিমদের একটি অংশের মধ্যে শরীয়তের (شريعة) বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রবল এবং নিজেদের মধ্যে কিংবা যাদের মাঝে তারা বসবাস করছেন সেই অমুসলিমদের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে শরীয়তের (شريعة) বিধানগুলো মেনে চলার ব্যাপারে উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়।
মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে সম্পর্ক বিন্যাস সংক্রান্ত আমাদের ফিকহি (فقهي) ঐতিহ্য বর্তমান পরিস্থিতির বিপরীত অবস্থার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিস্তারিত ও সুপরিসর; অর্থাৎ যখন কোনো অমুসলিম ব্যক্তি মুসলিমদের ভূখণ্ডে অস্থায়ী বা স্থায়ীভাবে, কিংবা ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগতভাবে বসবাস করে। এই বসবাসের প্রাথমিক বৈধতার (تسويغ) ভিত্তিতে সেখানে একগুচ্ছ পদ্ধতিগত বিবরণ রয়েছে, যার মাধ্যমে ইবাদত, মুয়ামালাত (معاملات), আদব ও আখলাকের ক্ষেত্রে এই অবস্থানের শর্তাবলী, অধিকার ও কর্তব্যসমূহ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৮)
وظهر هذا النَّوع من الفقه في المصنَّفات القديمة - بصورةٍ عامَّةٍ - تحت عنوان: السِّيَر؛ أي سِيَر الخلفاء والأمراء والقضاة، ومسالكهم السياسيَّة والحُكْميَّة في معاملة غير المسلمين، وما يلزمهم في ذلك من العدل فيهم والرِّفق بهم، وكفِّ أذاهم عن المسلمين والعكسُ، إظهارًا لعدل الإسلام وسماحته.
وبمقتضى فقه الأقليَّات غيرِ المسلمة في دولة الإسلام؛ عاشتْ أممٌ من ملَلٍ شتَّى في كنَفِ المسلمين، آمنةً، مطمَئِنَّةً، مصونةَ الحقوق، سواءٌ في مراحل قوَّة دول الإسلام أو ضعفها، فلم يُكرهوا على ترك دينهم والتحوُّل إلى الإسلام، ولا حِيفَ عليهم في شيءٍ مما يتعلَّق بنسائهم وأولادهم وأموالهم ومعابدهم ومعاملاتهم؛ ما استقاموا على ما عاهدوا عليه المسلمين، ولم يظهر منهم خيانةٌ أو مظاهرةٌ لعدوِّ المسلمين عليهم.
وقد أطلق المسلمونَ على من يعيشون بين أظهرهم من أهلِ الملل الأخرى اسمَ: «أهل الذمة» لتأكيد حقِّهم على المسلمين، وأنَّهم في ذمَّتهم ومسؤوليَّتهم، على خلاف ما تدلُّ عليه التسميةُ التي سُمُّوا بها في معاجم وموسوعاتٍ أجنبيةٍ، حيثُ سُمِّي النظامُ الذي يخضعون إليه: «نظام الاستسلام»، أو: «نظام الخضوع».
والسَّماحةُ التي عامل بها الإسلامُ الذِّميِّين والمستَأْمَنين؛ مكَّنَتْ أعدادًا منهم أنْ ينْبُغُوا في فنونٍ شتَّى، كالطِّبِّ والصَّيدلة والفلك والجغرافيا والحساب والهندسة والأدب والتَّرجمة، وأسهموا في التقدم العلميِّ والتِّقنيِّ الذي وصلتْ إليه الحضارةُ الإسلاميةُ في عهدها الزَّاهر.
واليوم وقد أصبح الواقع منعكسًا بإقامة فئةٍ من المسلمين في بلادٍ غير مسلمةٍ، واستيطانها على التأبيد، أو المقام فيها لأمدٍ محدودٍ لغرضٍ تعليميٍّ أو تجاريٍّ أو دبلوماسيٍّ، أو غير ذلك؛ فالحاجةُ تقتضي أن يتفقَّهوا في أوضاعهم الجديدة، حتَّى يحافظوا على هَوِيَّتِهم من المسْخِ، ودينِهم من الضَّياعِ، ويتعاونوا في إقامته فيما بينهم، وتعليمه لأبنائهم. ويُحسِنُوا التَّعاملَ مع
এই ধরণের ফিকহ প্রাচীন সংকলনগুলোতে সাধারণভাবে 'আস-সিয়ার' শিরোনামে পরিলক্ষিত হয়েছে; অর্থাৎ খলিফা, আমির ও বিচারকদের জীবনী এবং অমুসলিমদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তাদের রাজনৈতিক ও বিচারিক কর্মপন্থা। এতে তাদের প্রতি ইনসাফ ও সদয় আচরণ এবং মুসলমানদের থেকে তাদের কষ্ট দূর করা ও এর বিপরীত বিষয়টিও (তাদের থেকে মুসলমানদের কষ্ট দূর করা) নিশ্চিত করার নির্দেশ রয়েছে, যা ইসলামের ন্যায়বিচার ও উদারতাকে ফুটিয়ে তোলে।
ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম সংখ্যালঘুদের ফিকহ অনুযায়ী, বিভিন্ন ধর্ম ও আদর্শের জাতিগোষ্ঠী মুসলমানদের আশ্রয়ে নিরাপদ, নিশ্চিন্ত এবং সংরক্ষিত অধিকার নিয়ে বসবাস করেছে, চাই তা ইসলামী রাষ্ট্রের শক্তিশালী বা দুর্বল উভয় যুগেই হোক না কেন। তাদের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হয়নি এবং তাদের নারী, সন্তান, সম্পদ, উপাসনালয় ও লেনদেন সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে তাদের ওপর অন্যায় করা হয়নি; যতক্ষণ তারা মুসলমানদের সাথে করা চুক্তির ওপর অটল ছিল এবং তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিশ্বাসঘাতকতা বা মুসলমানদের বিরুদ্ধে শত্রুদের সহযোগিতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মুসলমানরা তাদের মাঝে বসবাসরত অন্য ধর্মাবলম্বীদের 'আহলুজ জিম্মাহ' (أهل الذمة) হিসেবে অভিহিত করেছেন যাতে মুসলমানদের ওপর তাদের অধিকারের বিষয়টি সুদৃঢ় হয় এবং তারা যে মুসলমানদের রক্ষণাবেক্ষণ ও দায়িত্বে রয়েছে তা স্পষ্ট হয়। এটি বিদেশী অভিধান ও বিশ্বকোষগুলোতে তাদের জন্য ব্যবহৃত নামগুলোর বিপরীত, যেখানে তাদের অধীনস্থ ব্যবস্থাকে 'আত্মসমর্পণ ব্যবস্থা' বা 'বশ্যতা স্বীকার ব্যবস্থা' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলাম জিম্মি (ذمي) ও নিরাপত্তা লাভকারীদের (مستأمن) সাথে যে উদার আচরণ করেছে, তা তাদের অনেককে চিকিৎসা, ফার্মাসি, জ্যোতির্বিদ্যা, ভূগোল, গণিত, প্রকৌশল, সাহিত্য ও অনুবাদের মতো বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শী হতে সাহায্য করেছে। তারা সেই বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে অবদান রেখেছিলেন যা ইসলামী সভ্যতা তার স্বর্ণযুগে অর্জন করেছিল।
আজকাল বাস্তবতা অনেকটা বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেহেতু মুসলমানদের একটি অংশ অমুসলিম দেশগুলোতে বসবাস করছে—কেউ স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেছে, আবার কেউ শিক্ষা, বাণিজ্য, কূটনীতি বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সেখানে অবস্থান করছে। এমতাবস্থায় প্রয়োজন হলো তারা যেন তাদের নতুন পরিস্থিতির আলোকে ফিকহ অর্জন করে, যাতে তারা বিকৃতি থেকে নিজেদের পরিচয় এবং বিলুপ্তি থেকে নিজেদের দ্বীন রক্ষা করতে পারে। তারা যেন নিজেদের মধ্যে দ্বীন প্রতিষ্ঠায় একে অপরকে সহযোগিতা করে এবং তাদের সন্তানদের তা শিক্ষা দেয়। এছাড়া তারা যেন অন্যদের সাথে উত্তম আচরণ করে...
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৯)
غيرهم على ضوء ما تهدي إليه الشريعةُ من أحكامٍ وآدابٍ، فإنَّهم يقدِّمون مِنْ أخلاقِهم ومعاملاتِهم صورةً عن الإسلامِ وثقافتِه وحضارتِه، ذلك أنَّ كثيرًا من الفئات غير المسلمة لا تكلِّف نفسها التعرُّفَ على الإسلام، أو لا تتمكَّن من ذلك؛ إلا من خلال هذا السُّلوك الذي تراه من أبناء الجاليات المسلمة، فإذا كان سلوكُها لا ينضبِطُ بما جاء به الإسلام من الأحكام والأخلاق والآداب، فإنَّه ـ بلا شكٍّ ـ يُورثُ موقفًا سلبيًّا من هذا الدِّين، ويؤكِّد تلكَ الصُّورةَ السيِّئةَ التي يروِّج لها الحاقدونَ عليه في بعض وسائل الإعلام.
والمؤمَّلُ أنْ يُسهِمَ هذا الكتابُ ـ الَّذي تصفَّحتُ جزءً منه ـ في تجلية مسائلَ وقضايا أساسيَّةٍ من الفقه الذي تحتاج إليه الجالياتُ والأقلياتُ المسلمةُ في خصوص العلاقة بينها وبين الدُّول التي تقيم فيها، ويصوِّبَ بعض التصرُّفاتِ الخاطئةِ، التي نشأتْ من القصور في الفهم أو التَّنزيل للمسائل الفقهيَّة على وقائعَ معاصرةٍ.
وقد جاء قَيِّمًا في معلوماتِه، وتحريرِه اللُغَويِّ والفقهيِّ والموضوعيِّ، مِمَّا يدلُّ على مَقْدِرَةِ المؤلِّفِ، واهتمامِهِ بالدَّعوةِ وقضاياها بين الجاليات المسلمة في أوروبا.
أسألُ الله أَنْ ينفع به، ويجزي صاحبَه بأحسن ما بذَلَ فيه من جُهْدٍ ونُصْحٍ فيه لإخوانه من الجاليات المسلمة وغيرهم. وأَنْ يوفِّق الجميعَ لما يحبُّه ويرضاه.
الأمين العام لرابطة العالم الإسلامي
أ. د. عبد الله بن عبد المحسن التركي
অন্যান্যদের সাথে তাদের আচরণ যখন শরিয়াহর নির্দেশিত বিধিবিধান (أحكام) ও আদব (آداب)-এর আলোকে পরিচালিত হয়, তখন তারা তাদের নৈতিকতা ও পারস্পরিক লেনদেনের মাধ্যমে ইসলাম, এর সংস্কৃতি ও সভ্যতার একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। কারণ, অনেক অমুসলিম গোষ্ঠী ইসলাম সম্পর্কে জানার তেমন আগ্রহ দেখায় না অথবা তাদের পক্ষে তা সম্ভব হয় না; বরং তারা কেবল মুসলিম অভিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে যে আচরণ ও চালচলন লক্ষ্য করে, তার মাধ্যমেই ইসলামকে চেনে। এমতাবস্থায়, যদি তাদের আচরণ ইসলামের বিধিবিধান (أحكام), নৈতিকতা ও আদব (آداب) দ্বারা সুশৃঙ্খল না হয়, তবে তা নিঃসন্দেহে এই দ্বীন সম্পর্কে একটি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে এবং কিছু গণমাধ্যমে ইসলাম-বিদ্বেষীদের দ্বারা প্রচারিত সেই নেতিবাচক ভাবমূর্তিকেই সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করবে।
আশা করা যায় যে, এই গ্রন্থটি—যার কিছু অংশ আমি পাঠ করেছি—ফিকার (الفقه) এমন কিছু মৌলিক মাসআলা (مسائل) ও বিষয় স্পষ্ট করতে অবদান রাখবে, যা মুসলিম অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষত তাদের বসবাসরত দেশগুলোর সাথে বিদ্যমান সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রয়োজন। এটি এমন কিছু ভুল আচরণ সংশোধন করবে, যা সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ফিকহি মাসআলাসমূহের (مسائل) প্রয়োগ (تنزيل) বা অনুধাবনের সীমাবদ্ধতা থেকে তৈরি হয়েছে।
গ্রন্থটি এর তথ্যসম্ভার এবং ভাষাগত, ফিকহি (فقهي) ও বিষয়বস্তুগত সম্পাদনার দিক থেকে অত্যন্ত মানসম্মত হয়েছে, যা লেখকের পাণ্ডিত্য এবং ইউরোপের মুসলিম অভিবাসীদের মাঝে দাওয়াত ও এর প্রাসঙ্গিক বিষয়াবলির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলকে উপকৃত করেন এবং লেখক তাঁর অভিবাসী মুসলিম ভাই ও অন্যদের প্রতি যে শ্রম ও নসিহত (نصح) প্রদান করেছেন, তার জন্য তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আর তিনি যেন সকলকে তাঁর পছন্দনীয় ও সন্তোষজনক কাজের তাওফিক দান করেন।
মহাসচিব, রাবেতা আল-আলম আল-ইসলামি
প্রফেসর ড. আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুহসিন আল-তুর্কি
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১১)
تقريظ سماحة الشيخ العلامة أحمد المرابط الشنقيطيمفتي الجمهورية الإسلامية الموريتانية العام
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله
وعلى آله وصحبه ومن اهتدى بهداه
أما بعد:
فقد اطَّلعتُ على كتاب: «الدخول في أمان غير المسلمين وآثاره في الفقه الإسلامي» بعد ما أَطْلَعَنِي عليه وأهدى لي منه نسخة مُؤلِّفُه أخونا وحبيبنا في الله الأستاذ عبد الحق التركماني.
وبما أنني ينازعني من الأشغال ما لم أتَمَكَّنْ بسببه من كتابة ما يستحقه المؤلف من تقديم وتقريظ في عدة صفحات، قلت الأبيات التالية تقريظًا له:
يا من بحكم الشرع في (الدخول في
… أمان غير المسلمين) تحتفي
تبحث عنه في جميع الصُّحُف
… وما كفتْكَ تحفةٌ مِن مُتحِفِ
معروضةٌ على رفوفِ مَتْحَف
… بشراك إن (التركمانِيَّ) الوفي
لكَ وفَى بما كفى من تُحَف
… ألَّفَ فيه خيرَ ما مُؤلَّفِ
لسنَّةٍ مع الكتاب يقتفي
… معتمدًا على هُداةِ السلفِ
فكُن بـ «عبد الحق» فيه تقتفي
… واشدُدْ عليه اليد من معتَرِفِ
মহামহিম শাইখ আল্লামা আহমাদ আল-মুরাবিত আশ-শিনকিতী-এর প্রশংসা ও মূল্যায়নমৌরিতানিয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রের গ্র্যান্ড মুফতি
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর
এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর হিদায়াত অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর
অতঃপর:
আমি «অমুসলিমদের নিরাপত্তায় (أمان) প্রবেশ এবং ইসলামি ফিকহে এর প্রভাবসমূহ» শীর্ষক কিতাবটি পর্যালোচনা করেছি; যখন এর লেখক, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমাদের ভাই ও প্রিয়জন উস্তাদ আব্দুল হক আত-তুর্কমানী আমাকে কিতাবটি দেখিয়েছেন এবং এর একটি কপি আমাকে উপহার দিয়েছেন।
যেহেতু আমি এমন কিছু ব্যস্ততার মধ্যে ছিলাম যার ফলে লেখকের প্রাপ্য অনুযায়ী কয়েক পৃষ্ঠাব্যাপী ভূমিকা ও মূল্যায়ন লিখে দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি, তাই তাঁর প্রশংসা স্বরূপ আমি নিম্নোক্ত পঙ্ক্তিগুলো বলছি:
হে সেই ব্যক্তি, যে (অমুসলিমদের
… নিরাপত্তায় (أمان) প্রবেশের) শরয়ি বিধানকে গুরুত্ব দাও,
তুমি সকল পত্রে এর সন্ধান করো
… অথচ কোনো উপহারদাতার উপহারই তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল না।
যা জাদুঘরের তাকে প্রদর্শিত থাকে;
… তোমার জন্য সুসংবাদ যে, সেই বিশ্বস্ত ‘তুর্কমানী’,
তোমার জন্য পর্যাপ্ত উপঢৌকনের মাধ্যমে অভাব পূরণ করেছেন
… তিনি এ বিষয়ে সর্বোত্তম গ্রন্থটি রচনা করেছেন।
তিনি কিতাবের সাথে সুন্নাহ (سنة)-এর অনুসরণ করেন
… এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত পূর্বসূরি (السلف)-দের ওপর নির্ভর করেন।
সুতরাং তুমি এতে ‘আব্দুল হক’-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করো
… এবং একজন সমঝদারের ন্যায় একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১২)
ومن معينه الزُّلال اغتَرِف
… ولأخيك بالجميل اعتَرِفِ
ربِّ له بالحِفْظِ منك أتْحِف
… وللثواب يا كريمُ ضاعِفِ
ثم على خير نبِيٍّ اقتُفي
… أزكى صلاةٍ معَ تسليمٍ تَفي
والآل والصحْبِ وكلُّ مقتَفي
أملاه
أحمد المرابط الشنقيطي
এর সুপেয় প্রস্রবণ হতে তুমি আহরণ করো
… এবং তোমার ভাইয়ের সৌজন্যের স্বীকৃতি প্রদান করো।
হে প্রতিপালক! তোমার পক্ষ হতে তাঁকে সংরক্ষণ (الحفظ) দ্বারা ধন্য করো
… এবং হে মহানুভব! তাঁর প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করো।
অতঃপর অনুসরণকৃত শ্রেষ্ঠতম নবীর প্রতি
… পবিত্রতম দরুদ ও পরিপূর্ণ সালাম।
এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ (الصحب) ও সকল অনুসারীর প্রতি।
এটি শ্রুতিলিখ করিয়েছেন
আহমদ আল-মুরাবিত আশ-শানকিতী
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تقديم فضيلة الشيخ الدكتورعبد الله شاكر الجنيديالرئيس العام لجماعة أنصار السنة المحمدية بمصر
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي أرسل رسوله بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره الكافرون، والصلاة والسلام على من بعثه ربُّه بالحق بشيرًا ونذيرًا وعلى آله وصحبه.
وبعد: فإنَّ دينَ النبيِّ صلى الله عليه وسلم هو الدِّين الذي رضيه الله لعباده، وختم الله به الرسالات، وقد أوجب الله علينا اتِّباع دينه، وأخبر في كتابه أنه لا يقبل من أحدٍ سواه.
ولقد حمل هذا الدِّينَ قومٌ فتح الله عليهم، فدعوا النَّاسَ إليه بأعمالهم وسلوكهم وأخلاقهم، وقد دخل كثيرٌ في الدِّين الإسلامي بسلوك الفاتحين وكرم وأخلاق المسلمين المجاهدين.
ولقد شهد العالم لأمَّة الإسلام في عهودها الفتيَّة بسموِّ الأخلاق، وحُسْن التعامل مع الآخرين، ومراعاة الحقوق والواجبات، وعدم الظلم والاعتداء، وكان غير المسلمين يقيمون في بلاد الإسلام وقد أمِنُوا على أموالهم وأنفسهم.
وقد اتفق الفقهاء على مشروعية منح الكافر الأمان في دخول بلاد المسلمين إن دعت الحاجة لذلك، وفي عصرنا الحاضر تغيَّرت بعض الأمور،
উপস্থাপনা: ফযীলাতুশ শাইখ ডক্টরআবদুল্লাহ শাকির আল-জুনাঈদীমিশরের জামায়াতে আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদীয়াহ-এর প্রধান সভাপতি
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে অন্য সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাকে তাঁর প্রতিপালক সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর।
অতঃপর: নিশ্চয়ই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বীনই সেই দ্বীন যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য মনোনীত করেছেন এবং যার মাধ্যমে আল্লাহ সকল আসমানী বার্তার (الرسالات) সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের ওপর তাঁর দ্বীনের অনুসরণ করা আবশ্যক করেছেন এবং তাঁর কিতাবে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি এটি ব্যতীত অন্য কারো পক্ষ থেকে কোনো কিছুই কবুল করবেন না।
আর এই দ্বীনকে এমন এক সম্প্রদায় বহন করেছেন যাদের ওপর আল্লাহ বিজয় দান করেছিলেন। তাঁরা তাঁদের কর্ম, আচরণ ও আখলাকের মাধ্যমে মানুষের কাছে এর দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন। বিজয়ী বীরদের আচরণ এবং মুজাহিদদের (المجاهدين) মহানুভবতা ও চারিত্রিক মাধুর্যের প্রভাবে বহু মানুষ ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন।
বিশ্ববাসী ইসলামের প্রাথমিক স্বর্ণযুগগুলোতে এই উম্মতের সুউচ্চ নৈতিকতা, অন্যদের সাথে সুন্দর আচরণ, অধিকার ও কর্তব্যের যথাযথ পরিপালন এবং জুলুম ও সীমালঙ্ঘন না করার সাক্ষ্য দিয়েছে। অমুসলিমরা ইসলামের ভূখণ্ডে নিজেদের জান ও মালের নিরাপত্তা নিয়ে নির্বিঘ্নে বসবাস করত।
ফকিহগণ (الفقهاء) যদি প্রয়োজন দেখা দেয় তবে মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশের জন্য অমুসলিমকে নিরাপত্তা (الأمان) প্রদানের বৈধতার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তবে বর্তমান যুগে কিছু পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে,
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأصبح نفر من المسلمين يذهبون إلى بلاد غير إسلامية، ويقيمون فيها لحاجاتٍ دعتْ لذلك، ولا بأس به إن دعت مصلحةٌ للمسلم في ذلك ـ على تفصيل مذكور في كتب الفقه ـ، وقد دخل الصِّدِّيقُ رضي الله عنه في جوار ابن الدغنة ـ وهو سيد في قومه ـ.
وهذا البحث الذي بين يديكَ ـ أيها القارئ الكريم! ـ والذي كتبه أخونا الباحثُ المحقِّقُ الشيخُ عبد الحق التركماني حفظه الله؛ يتناول موضوعَ دخول المسلم وإقامته في ديار غير المسلمين، وقد بيَّنَ فيه ـ وفَّقه الله ـ الآثارَ المترتبة على الدخول في أمان غير المسلمين، واستدل على ذلك بأدلة من القرآن الكريم وما صحَّ من سنة النبي الأمين صلى الله عليه وسلم، فجاء بحثه بذلك موافقًا للأدلة الشرعية، مفيدًا في بابه في هذا العصر لوجود عدد من المسلمين في ديار الكافرين.
وأودُّ هنا أن أشير إلى بعض المسائل المهمَّة الموجودة في هذا البحث، والتي يجب على من يعيش في غير ديار المسلمين معرفتها، وهي: تحريم خيانتهم والغدر بهم في أنفسهم وأموالهم وأعراضهم، وأنهم يملكون أموالهم ملكًا صحيحًا، فلا يجوز للمسلم أن يستولي على أموالهم إلا بوجهٍ أذن فيه الشرعُ، وعليه؛ فمجرد الكفر لا يُبيح مال الكافر، والأدلة على ذلك متضافرةٌ، وقد كان المشركون يُودِعون أماناتهم عند النبيِّ صلى الله عليه وسلم ولم يحدث أن خانَهم، أو غدر بهم صلى الله عليه وسلم مع شدَّة عداوتهم له. كما أنه تجوز معاملتهم بسائر المعاملات المباحة من بيع وشراء وهبة وقرض.
ومما أرى التنبيه عليه هنا: أنه يجب على المقيم من المسلمين في بلاد الكافرين عبوديَّة ربِّ العالمين كما شرع في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، فالعبودية لا تنفكُّ عن المسلم بحالٍ في أيِّ زمانٍ ومكانٍ طالما أنَّه قادر على القيام بما أوجبه الله عليه.
বর্তমানে একদল মুসলিম অমুসলিম দেশসমূহে গমন করছেন এবং বিশেষ প্রয়োজনে সেখানে বসবাস করছেন। যদি এতে মুসলিমের কোনো কল্যাণ (مصلحة) নিহিত থাকে, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই—যেমনটি ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থাবলিতে বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। যেমন সিদ্দিক (রা.) ইবনুল দাগুনাহ্-এর আশ্রয়ে (جوار) প্রবেশ করেছিলেন—যিনি তার সম্প্রদায়ের একজন নেতা ছিলেন।
হে সম্মানিত পাঠক! আপনার সম্মুখে উপস্থিত এই গবেষণাটি আমাদের ভ্রাতা, গবেষক ও মুহাক্কিক শায়খ আব্দুল হক আল-তুর্কমানি (হাফিযাহুল্লাহ) কর্তৃক রচিত। এটি অমুসলিম ভূখণ্ডে মুসলিমদের প্রবেশ ও সেখানে বসবাসের বিষয়টি আলোচনা করে। এতে তিনি—আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন—অমুসলিমদের নিরাপত্তা (أمان) বা আশ্রয়ে প্রবেশের ফলে উদ্ভূত প্রভাবসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি এর সপক্ষে পবিত্র কুরআন এবং বিশ্বস্ত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর সহিহ (صحيح) দলিলসমূহ পেশ করেছেন। ফলে তার এই গবেষণাটি শরয়ি দলিলসমূহের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়েছে এবং বর্তমান যুগে অমুসলিমদের রাষ্ট্রে বহু সংখ্যক মুসলিমের উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে এটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
আমি এখানে এই গবেষণায় বিদ্যমান কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করতে চাই, যা অমুসলিম ভূখণ্ডে বসবাসকারীদের জানা আবশ্যক। সেগুলো হলো: তাদের জান, মাল ও সম্মানের ক্ষেত্রে খিয়ানত করা বা তাদের সাথে প্রতারণা করা হারাম (حرام)। তারা তাদের সম্পদের বৈধ (صحيح) মালিক, তাই শরয়ি কোনো অনুমোদন ব্যতীত কোনো মুসলিমের জন্য তাদের সম্পদ হস্তগত করা জায়েজ (جائز) নয়। সুতরাং, কেবল কুফর কারো সম্পদকে বৈধ করে দেয় না এবং এ বিষয়ে দলিলসমূহ সুসংবদ্ধ। মক্কার মুশরিকরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট তাদের আমানত (أمانات) গচ্ছিত রাখত, কিন্তু তিনি কখনো তাদের সাথে খিয়ানত করেননি বা প্রতারণা করেননি, অথচ তাঁর প্রতি তাদের চরম শত্রুতা ছিল। তদ্রূপ, ক্রয়-বিক্রয়, হেবা (هبة) ও করজ (قرض)-এর মতো যাবতীয় বৈধ (مباح) লেনদেন তাদের সাথে করা জায়েজ (جائز)।
এখানে আমি যে বিষয়টি সতর্ক করা সমীচীন মনে করি তা হলো: অমুসলিমদের দেশে বসবাসরত মুসলিমের ওপর রাব্বুল আলামিনের বন্দেগি বা দাসত্ব (عبودية) বজায় রাখা আবশ্যক, যেভাবে তিনি তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূলের যবানে বিধিবদ্ধ করেছেন। কেননা দাসত্ব (عبودية) কোনো অবস্থাতেই, কোনো সময়ে বা স্থানে মুসলিম থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত সে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার ওপর অর্পিত ওয়াজিব (واجب) দায়িত্বসমূহ পালনে সক্ষম থাকে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
هذا وقد اشتمل الكتاب على فوائد علميةٍ، وأقوال فقهية لبعض أئمتنا رحمهم الله، وقد عزا الكاتبُ هذه الأقوالَ إلى أصحابها، وأشار إلى أماكن وجودها، فجاء الكتاب بذلك على صورةٍ علميَّةٍ طيِّبةٍ.
أسأل الله له التوفيق والسداد. وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وآله وصحبه.
د. عبد الله شاكر الجنيدي
الرئيس العام لأنصار السنة المحمدية بمصر
السبت 16/ 10 /1431 هـ
এই গ্রন্থটি বিভিন্ন জ্ঞানগর্ভ উপকারিতা এবং আমাদের কতিপয় ইমামের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) ফিকহি মতামতে সমৃদ্ধ। লেখক এই উক্তিগুলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উদ্ধৃতিসহ উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর মূল উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন; ফলে গ্রন্থটি একটি চমৎকার ইলমি অবয়ব লাভ করেছে।
আমি আল্লাহর নিকট তাঁর তাওফিক ও সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার প্রার্থনা করছি। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
ড. আব্দুল্লাহ শাকির আল-জুনাইদি
মিশরের আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়ার প্রধান সভাপতি
শনিবার ১৬/ ১০ /১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلِّفالحمد لله ربِّ العالمين، وأشهدُ أَن لا إله إلا الله وحدَه لا شريكَ له، إلهُ الأوَّلين والآخرين، وأشهد أنَّ محمدًا عبدُه ورسولُه المبعوثُ رحمةً للعالمين، صلَّى الله عليه وعلى آله وأصحابه أجمعين.
(1)أما بعدُ: فإنَّ الله عز وجل قد أرسل محمدًا صلى الله عليه وسلم بالدِّين الحقِّ، وقضَى بحكمته ورحمته أن يختم به أنبياءَه ورسله، ويتكفَّل بحفظ كتابه الذي أنزله عليه، ويُكمِّل بشريعته الشرائعَ السابقة، فهي مصدِّقةٌ لها، ومهيمنةٌ عليها، صالحةٌ لكلِّ زمانٍ ومكانٍ، وعامَّةٌ للناس جميعًا ما بقيتْ على هذه الأرض حياةٌ.
ومن كمال الشَّريعة اشتمالُها على كلِّ ما فيه هدايةُ النَّاس واستقامَتُهم وتوفيقُهم وسعادتُهم في الحياة الدنيا، وفوزُهم ونجاتُهم في الحياة الأُخرَى، ففيها بيانُ الاعتقاد الصَّحيح في الله تعالى وأسمائه وصفاته، وما أمرهم به من عبادته وطاعته والإحسان إلى خَلْقِه، وما نهاهم عنه مِنَ الشِّرك والظُّلم والفواحش وسائر المحرَّمات، وما أرشدهم إليه من الأخلاق الفاضلة، والآداب الرَّفيعة، والسلوك القويم؛ الذي فيه صلاح الفرد والمجتمع.
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম
লেখকের ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের ইলাহ। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করা হয়েছে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
(১)অতঃপর: মহান আল্লাহ মুহাম্মদ (সা.)-কে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁর প্রজ্ঞা ও করুণা অনুযায়ী ফয়সালা করেছেন যে, তাঁর মাধ্যমেই নবী ও রাসূলগণের সিলসিলার সমাপ্তি ঘটাবেন। তিনি তাঁর ওপর অবতীর্ণ কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর শরীয়তের মাধ্যমে পূর্ববর্তী শরীয়তসমূহকে পূর্ণতা দান করেছেন। এই শরীয়ত পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর ওপর তদারককারী (مهيمنة); যা পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা পর্যন্ত সকল সময়ের জন্য, সকল স্থানের জন্য এবং সমগ্র মানবজাতির জন্য উপযোগী ও সার্বজনীন।
এই শরীয়তের পূর্ণতার একটি দিক হলো, এতে এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যাতে মানুষের হিদায়াত, সঠিক পথে অটল থাকা, তাওফিক এবং পার্থিব জীবনের সুখ নিহিত। সেই সাথে পরকালীন জীবনের সফলতা ও মুক্তিও এতে বিদ্যমান। এতে মহান আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলি সম্পর্কে সঠিক আকিদা (اعتقاد)-র বর্ণনা রয়েছে। আরও রয়েছে তাঁর ইবাদত, আনুগত্য ও সৃষ্টির প্রতি ইহসান করার নির্দেশ এবং শিরক, জুলুম, অশ্লীলতা ও যাবতীয় নিষিদ্ধ (محرمات) বিষয় থেকে বারণ। এছাড়া এই শরীয়ত মানুষকে সেই সব উন্নত চরিত্র, মহান শিষ্টাচার ও সঠিক আচরণের দিকনির্দেশনা প্রদান করে, যাতে ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণ নিহিত।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فالشريعةُ جامعةٌ لكلِّ ما فيه إصلاحُ علاقة العبد بربِّه، وعلاقته بغيره، وأوَّلُ ذلك وأعلاه: توحيدُ الله تعالى بالعبادة، فلا يتَّخِذُ من دونه الأندادَ، ولا يُشرِكُ به أحدًا، وهو حقُّ الله تعالى عليه، فإن أدَّاهُ فأوَّل ما يأمره الله تعالى به، ويسأله عنه: حقوق العباد، لهذا نهاه عن ظلمهم والاعتداء عليهم، وذلك ـ أيضًا ـ وصيَّة الله تعالى للنَّاس أجمعين، كما قال تعالى: {قُلْ تَعَالَوْا أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلَّا تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ مِنْ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ وَلَا تَقْرَبُوا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ (151) وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّى يَبْلُغَ أَشُدَّهُ وَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا وَإِذَا قُلْتُمْ فَاعْدِلُوا وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْبَى وَبِعَهْدِ اللَّهِ أَوْفُوا ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ (152) وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (153)} [الأنعام].
فهذه أهمُّ المحرَّماتِ التي جاءتْ بها الشريعةُ، وهي تتضمَّنُ الأمرَ بأضدادها مما يُحبِّهُ الله ويرضاه، فالنَّهيُ عن الشرك أَمْرٌ بالتوحيد، والنَّهيُ عن عقوق الوالدين أَمْرٌ بالإحسان إليهما، والنَّهيُ عن القتل أمرٌ بحفظ الحياة البشرية، وهكذا في سائر المحرمات.
وقد تكرَّرت هذه الأحكام في مواضعَ من القرآن الكريم؛ إمَّا بصيغة الأمر بالواجبات، وإما بصيغة النَّهي عن المحرَّمات، ووردتْ بسياقٍ قريبٍ وببعض الزِّيادة في سورة الإسراء (23 - 39)، وهي مصدِّقة للأحكام التي وردتْ في «التَّوراة»، واشتهرت باسم: «الوصايا العشر»، وهذه هي كما وردت في «سفر الخروج» (20/ 3 - 17)، وفي «سفر التَّثْنية» (5/ 6 - 21) ـ باستثناء تعظيم يوم السَّبْتِ ودعوى أنَّه يومُ الرَّاحة لأنَّ الله تعالى استراح فيه، تعالى الله عمَّا يقولون علوًّا كبيرًا ـ:
শরিয়ত হলো এমন এক সংকলন যা বান্দার সাথে তার রবের এবং অন্যদের সাথে তার সম্পর্কের সংশোধনের যাবতীয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মধ্যে সর্বপ্রথম এবং সর্বোচ্চ হলো: ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা; ফলে সে যেন তিনি ব্যতীত অন্য কোনো সমকক্ষ গ্রহণ না করে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করে। আর এটিই হলো বান্দার ওপর আল্লাহ তাআলার প্রাপ্য অধিকার। সে যদি তা আদায় করে, তবে এরপর আল্লাহ তাআলা তাকে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের নির্দেশ দেন এবং যা সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করেন তা হলো: বান্দার অধিকারসমূহ। একারণেই তিনি তাদের ওপর জুলুম করতে এবং সীমালঙ্ঘন করতে নিষেধ করেছেন। আর এটি সকল মানুষের প্রতি আল্লাহ তাআলার উপদেশও বটে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন: এসো, তোমাদের রব তোমাদের ওপর যা হারাম করেছেন আমি তা তিলাওয়াত করি: তোমরা তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না, পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করো, দারিদ্র্যের কারণে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না, আমিই তোমাদের এবং তাদের রিজিক দান করি, অশ্লীল কাজের কাছেও যেয়ো না—তা প্রকাশ্য হোক কিংবা গোপন, আর আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে সংগত কারণ ছাড়া হত্যা করো না। তিনি তোমাদের এসব নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা অনুধাবন করো। (১৫১) আর এতিমের সম্পদের কাছেও যেয়ো না—উত্তম পদ্ধতি ছাড়া, যতক্ষণ না সে তার পূর্ণ শক্তিতে পৌঁছায়। আর পরিমাপ ও ওজন ইনসাফের সাথে পূর্ণ করো। আমি কাউকে তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পণ করি না। আর যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ইনসাফ রক্ষা করবে—যদিও সে নিকটাত্মীয় হয়। আর আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ করো। তিনি তোমাদের এসব নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ করো। (১৫২) আর নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদের এসব নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো। (১৫৩)} [আল-আনআম]।
শরিয়ত যেসব গুরুত্বপূর্ণ হারাম বিষয় নিয়ে এসেছে এগুলো তার অন্তর্ভুক্ত, আর এগুলোর মধ্যে এগুলোর বিপরীত বিষয়গুলোর নির্দেশও নিহিত রয়েছে যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। শিরক থেকে নিষেধ করার অর্থ হলো তাওহিদের নির্দেশ প্রদান, পিতা-মাতার অবাধ্যতা থেকে নিষেধ করার অর্থ হলো তাদের প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ প্রদান, আর হত্যা থেকে নিষেধ করার অর্থ হলো মানবজীবন রক্ষার নির্দেশ প্রদান। অন্যান্য হারাম বিষয়ের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।
এই বিধানগুলো পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে পুনরাবৃত্ত হয়েছে; কখনো আবশ্যিক বিষয়গুলোর আদেশের ভঙ্গিতে, আবার কখনো নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর নিষেধের ভঙ্গিতে। সুরা আল-ইসরায় (২৩-৩৯) এগুলো কাছাকাছি প্রেক্ষাপটে এবং কিছুটা অতিরিক্ত বিবরণসহ বর্ণিত হয়েছে। এগুলো ‘তাওরাত’-এ বর্ণিত বিধানগুলোরই সত্যায়নকারী, যা ‘দশ আজ্ঞা’ নামে প্রসিদ্ধ। এগুলো ‘যাত্রাপুস্তক’ (২০/৩-১৭) এবং ‘দ্বিতীয় বিবরণ’ (৫/৬-২১)-এ যেভাবে বর্ণিত হয়েছে তা নিম্নরূপ—কেবল শনিবারের মাহাত্ম্য বর্ণনা এবং এই দাবি ব্যতিরেকে যে এটি বিশ্রামের দিন কারণ আল্লাহ তাআলা সেদিন বিশ্রাম নিয়েছিলেন—তারা যা বলে আল্লাহ তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে এবং অতি মহান:
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
1 - «لا يَكُنْ لكَ آلهةٌ أُخرَى أمامي».
2 - «لا تَصْنَعْ لك تمثالاً منحوتًا، ولا صورةً ممَّا في السماء من فوقٍ، وما في الأرض من تحتٍ، وما في الماء من تحت الأرض، لا تسجدْ لهنَّ، ولا تعبدْهُنَّ؛ لأَنِّي أنا الرَّبُّ إلهك، إلهٌ غَيُور».
3 - «لا تَنْطِقْ باسم الرَّبِّ إلهكَ باطلاً، لأنَّ الربَّ لا يُبْرِئُ من نطقَ باسمه باطلاً».
4 - «أَكْرِمْ أباكَ وأُمَّكَ لكي تطولَ أيَّامُكَ على الأرض التي يُعطيكَ الربُّ إلهك».
5 - «لا تقتلْ».
6 - «لا تزنِ».
7 - «لا تسرقْ».
8 - «لا تشهد شهادةَ زورٍ».
9 - «لا تَشْتَهِ بيتَ قريبكَ، ولا امرأتَه، ولا عَبْدَه، ولا أمَتَه، ولا ثَوْرَه، ولا حماره».
إذن هذا هو المفهوم العامُّ لشريعة الله ووصاياه، فهو يشمل كلَّ ما شرعه الله تعالى ووصَّى به عباده من العقائد والعبادات والأحكام التي تنظِّمُ علاقةَ الإنسان بربِّه، وجميعَ تصرُّفاته في نفسه ومع غيره، في شؤون الحياة كلها. ويشملُ ـ أيضًا ـ كلَّ ما أوصاه الله تعالى بتَرْكِهِ واجتنابِهِ.
وتُطلق «الشريعةُ» على بعض ما تدلُّ عليه، وهو الأحكام العمليَّة من الأوامر والنَّواهي، وهي بهذا الإطلاق قسيمٌ لما يتعلَّق بالجانب الاعتقاديِّ، وبهما جِماعُ أَمْرِ الدِّين، لهذا يقال: «العقيدة والشريعة»، ويقال: «العلم والعمل»، ويقال: «التوحيد والفقه»، ونحو ذلك من العبارات التي يراد بها
1 - «আমার সম্মুখে তোমার অন্য কোনো ইলাহ যেন না থাকে।’
2 - «তুমি নিজের জন্য কোনো খোদাই করা মূর্তি তৈরি করো না, আর উপরের আকাশে, নিচের জমিনে কিংবা জমিনের নিচে পানির গভীরে যা কিছু আছে তার কোনো প্রতিকৃতি তৈরি করো না। তুমি তাদের প্রতি সিজদাবনত হয়ো না এবং তাদের ইবাদত করো না; কেননা আমিই তোমার রব ও ইলাহ, এক আত্মমর্যাদাবান ইলাহ।’
3 - «তোমার রব ইলাহের নাম বৃথা উচ্চারণ করো না; কারণ যে ব্যক্তি তাঁর নাম বৃথা উচ্চারণ করে, রব তাকে নির্দোষ গণ্য করেন না।’
4 - «তোমার পিতা ও মাতাকে সম্মান করো, যাতে তোমার রব ইলাহ তোমাকে যে ভূমি দান করবেন, সেখানে তোমার আয়ু দীর্ঘ হয়।’
5 - «হত্যা করো না।’
6 - «ব্যভিচার করো না।’
7 - «চুরি করো না।’
8 - «মিথ্যা সাক্ষ্য দিও না।’
9 - «তোমার প্রতিবেশীর গৃহের প্রতি লোভ করো না; তার স্ত্রী, তার দাস, তার দাসী, তার ষাঁড় কিংবা তার গাধার প্রতিও লোভ করো না।’
সুতরাং এটিই আল্লাহর শরিয়ত ও তাঁর অসিয়তসমূহের সাধারণ ধারণা। এতে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য আকিদা, ইবাদত এবং বিধানসমূহের মধ্য থেকে যা কিছু বিধিবদ্ধ ও অসিয়ত করেছেন তার সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত; যা আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্ক এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে নিজের ও অন্যের সাথে তার যাবতীয় আচরণকে সুসংহত করে। তদুপরি, আল্লাহ তাআলা যা কিছু বর্জন ও পরিহার করার নির্দেশ দিয়েছেন তাও এর অন্তর্ভুক্ত।
আর 'শরিয়ত' শব্দটি কখনো কখনো তার নির্দেশিত আংশিক অর্থের ওপরও প্রয়োগ করা হয়, আর তা হলো আদেশ ও নিষেধ সম্বলিত ব্যবহারিক বিধানসমূহ। এই প্রয়োগ অনুযায়ী এটি বিশ্বাসগত দিকের সমান্তরাল একটি অংশ, আর এই দুটির সমন্বয়েই দ্বীনের যাবতীয় বিষয়ের সমষ্টি গঠিত হয়। এজন্যই বলা হয়: ‘আকিদা ও শরিয়ত’, বলা হয়: ‘ইলম ও আমল’, কিংবা বলা হয়: ‘তাওহিদ ও ফিকহ’ এবং এই জাতীয় অন্যান্য অভিব্যক্তি যা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২০)
التَّمييزُ بين الجانب الاعتقاديِّ والجانب العمَلِيِّ من الدِّين، وإن كان الجانبان متلازمَيْن متداخلَيْن، لا يقومُ الدِّينُ بأحدهما دونَ الآخر.
وجاءتِ الشريعةُ بهذا المعنى الخاصِّ في قوله تعالى: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} [المائدة: 48]؛ فالمقصود في هذه الآية الشَّرائعُ دونَ العقائد، لأنَّ العقيدةَ واحدةٌ في كلِّ أُمَّةٍ، وعلى لسانِ كلِّ نبيٍّ ورسولٍ، وأساسُها: التوحيدُ والإِخلاصُ لله وحده، وهو الدِّينُ الواحدُ الذي لا يُقبل غيرُه، أما الأحكامُ الشَّرعيَّةُ العمليَّةُ فأصولُها واحدةٌ، لكنَّها تختلف في تفاصيلها وجزئيَّاتِها بما يناسبُ كلَّ أمَّةٍ.
ومما تقدَّم يظهر لنا أنَّ «الشريعةَ» تتضمَّن ـ سواء أطلقت بمعناها العامِّ أو بمعناها الخاصِّ ـ كلَّ ما يتعلق بالعبادات، وبالمعاملات مثل أحكام البيوع والشركة والإجارة والقَرْض والرَّهن والهبة والوكالة وغيرها، وبما يسمَّى بالأحوال الشخصيَّة مثل النِّكاح والطلاق والحضانة والوصايا والمواريث وغيرها، وبأحكام السِّلْم والحرب، وبالعلاقات بين المسلمين وغير المسلمين، وكذلك تشمل الأخلاق والسلوك والآداب الاجتماعية. وهذه الأحكام ـ وغيرُها كثيرٌ ـ مقرَّرةٌ في كتب التفسير والحديث والفقه والآداب الشرعية وغيرها من كتب الإسلام.
ورغم وضوح هذا كلِّه؛ فإنَّ من المؤسف أن مفهوم: «الشريعة» قد أصابه في هذا العصر كثير من التَّقْزِيم والتَّحْجِيم، فأصبحَ في أذهان كثيرٍ من النَّاس قاصرًا على أحكام: «القصاص والحدود والعقوبات» التي هي جزءٌ يسيرٌ من تلك الأحكام الشَّاملة والواسعة التي تتضمَّنُها الشريعةُ الإسلامية. وكان للحركاتِ الإسلاميَّةِ أثرٌ سيِّءٌ في ترسيخ هذا المفهوم الجزئيِّ للشَّريعة، حيث اتَّخذته شعارًا للتغيير السياسيِّ، وتجاهلتِ الجوانبَ الأُخرَى من الشريعة، وهي أكثرُ أهميَّةً، وأعظمُ أثرًا، والانحراف فيها أشدُّ وأخطرُ، خاصَّةً ما يتعلَّق بتحقيق إفراد الله تعالى بالعبادة، حيثُ ينتشر في العالم الإسلامي أسوأُ
দ্বীনের বিশ্বাসগত (اعتقادي) দিক এবং ব্যবহারিক (عملي) দিকের মধ্যে পার্থক্য করা হয়, যদিও এই উভয় দিক অবিচ্ছেদ্য ও পরস্পর সংশ্লিষ্ট; একটি ব্যতীত অন্যটির মাধ্যমে দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় না।
মহান আল্লাহর এই বাণীতে শরিয়ত শব্দটি এই বিশেষ অর্থে এসেছে: "তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরিয়ত ও স্পষ্ট পথ (منهاج) নির্ধারণ করে দিয়েছি" [আল-মায়িদাহ: ৪৮]; এই আয়াতে বিশ্বাসমালার (عقائد) পরিবর্তে শরিয়তসমূহ (شرائع) উদ্দেশ্য, কারণ বিশ্বাসমালা (عقيدة) প্রতিটি উম্মতের ক্ষেত্রে এবং প্রত্যেক নবী ও রাসূলের মুখে অভিন্ন ছিল। এর ভিত্তি হলো: তাওহিদ (التوحيد) এবং শুধুমাত্র আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা (الإخلاص), আর এটিই সেই একমাত্র দ্বীন যা ছাড়া অন্য কিছু কবুল করা হয় না। পক্ষান্তরে ব্যবহারিক শরয়ি বিধানসমূহের মূলনীতিগুলো এক হলেও প্রতিটি জাতির অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ ও শাখাগত বিষয়াদিতে ভিন্নতা থাকে।
উপরের আলোচনা থেকে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, 'শরিয়ত'—তা সাধারণ বা বিশেষ যে অর্থেই ব্যবহৃত হোক না কেন—ইবাদত (عبادات) এবং মুয়ামালাত (معاملات) তথা লেনদেন সংক্রান্ত সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন: ক্রয়-বিক্রয়, অংশীদারিত্ব, ইজারা, ঋণ, বন্ধক, হেবা, ওকালতি ইত্যাদির বিধান। এছাড়া ব্যক্তিগত আইন (الأحوال الشخصية) হিসেবে পরিচিত বিষয়সমূহ যেমন: বিবাহ, তালাক, সন্তান লালন-পালন, অসিয়ত, উত্তরাধিকার ইত্যাদিও এর অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি এটি শান্তি ও যুদ্ধের বিধান, মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যকার সম্পর্ক এবং আখলাক (أخلاق), আচরণ ও সামাজিক আদবকেও শামিল করে। এই বিধানসমূহ—এবং আরও অনেক কিছু—তাফসির, হাদিস, ফিকহ এবং শরয়ি আদব-সংক্রান্ত গ্রন্থসহ ইসলামের অন্যান্য কিতাবে সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছে।
এসব কিছু স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমান যুগে 'শরিয়ত' এর ধারণাটি অত্যন্ত সংকুচিত ও সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক মানুষের মনে এটি কেবল 'কিসাস (قصاص), হুদুদ (حدود) এবং দণ্ডবিধি (عقوبات)' সংক্রান্ত বিধানের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে, যা ইসলামি শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত সেই ব্যাপক ও বিস্তৃত বিধানাবলির একটি সামান্য অংশ মাত্র। শরিয়তের এই আংশিক ধারণাটি বদ্ধমূল করার ক্ষেত্রে ইসলামি আন্দোলনগুলোর একটি নেতিবাচক প্রভাব ছিল। তারা একে রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং শরিয়তের অন্যান্য দিকগুলোকে উপেক্ষা করেছে, যা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাবের অধিকারী এবং যেগুলোর ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটা অত্যন্ত কঠিন ও বিপজ্জনক। বিশেষ করে ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্ব (إفراد الله تعالى بالعبادة) নিশ্চিত করার বিষয়টি, যেখানে মুসলিম বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছড়িয়ে পড়ছে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২১)
الممارسات الشركيَّة من دعاء الأمواتِ وتعظيمِ قبورهم، والبناءِ عليها، وشدِّ الرِّحال إليها، والطَّواف والسُّجود إليها، والذَّبحِ لها، إلى جانب الانحرافات الخطيرة في أصول الدِّين والاعتقاد، وكذلك الإخلالُ بكثير من العبادات ـ خاصَّةً الصَّلاة التي هي أهمُّ أركان الدِّين العملية ـ، وارتكاب المحرَّمات، وسوء الأخلاق، والبعد عن الممارسة الصحيحة لأحكام الدِّين وآدابه في واقع الحياة. لهذا أخفقت أكثر الحركات الإسلامية في مشروعها المبنيِّ على هذا الفهم الجزئيِّ، وانتهى ببعضها إلى العُنْفِ والإرهاب، وببعضها الآخر إلى التَّخَلِّي عن المطالبة بتنفيذ أحكام الشريعة والاتجاه إلى ممارسة اللعبة الدِّيمقراطيَّة من خلال عرض الإسلام كمرجعيَّةٍ فكريَّةٍ مجمَلَةٍ. وكان لوسائل الإعلام ـ أيضًا ـ تأثيرٌ في تنمية هذا المفهوم السيِّئ من خلال استغلال صنائع تلك الحركات الإسلامية، حتَّى صار مفهوم الشريعة في ذِهْنِ أكثر النَّاس ـ خاصَّةً في العالم الغربيِّ ـ لا يتجاوزُ أحكام العقوبات؛ كقطع يد السَّارق وجلد الزَّاني أو شارب الخمر، وأحكام حجاب المرأة، ونحو ذلك!
(2)لقد سألني مرَّةً مثقَّفٌ سويديٌّ عن مدى تأييدي لتنفيذ أحكام الشريعة؟ فقلتُ له: إنَّ الشريعةَ بالمفهوم الذي تقصِدُه ـ أي: أحكام القصاص والحدود ـ لا يجوز العمل بها ـ حسَبَ حُكْمِ الشريعة نفسِها ـ إلا في بلاد المسلمين، ولا يجوزُ تنفيذُها ـ حسب حكم الشريعة أيضًا ـ إلا مِنْ قِبَلِ وَلِيِّ الأَمْرِ الذي له نفوذٌ وسلطانٌ وجهازٌ قضائيٌّ، وبالتالي فإنَّني أؤيِّدُ تنفيذَ أحكامِ الشريعة في ضوء انتمائي للدَّولة والمجتمع اللَّذَينِ يتمتَّعان بالخصوصيَّة الدينيَّة عقيدةً وشريعةً، وهذه قضيَّةٌ داخليَّةٌ تمسُّ سيادةَ الدَّولةِ واستقلالَها، وليسَ من حقِّ الدُّول أو الجهاتِ الخارجيَّةِ التدخُّلُ فيها.
واسترسلتُ قائلاً: لكنَّ هذا المفهومَ الذي تحملُه عن الشريعة؛ مفهومٌ قاصرٌ وناقصٌ، وهو لذلك يحملك على نظرةٍ خاطئةٍ إليها، تنتهي بخوفٍ
শিরকপূর্ণ কর্মকাণ্ডসমূহ যেমন মৃতদের নিকট প্রার্থনা করা, তাদের কবরের প্রতি অতিশয় ভক্তি প্রদর্শন করা, কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ করা, কবরের উদ্দেশ্যে সফর করা, কবরকে কেন্দ্র করে তাওয়াফ ও সিজদা করা এবং কবরের নামে পশু উৎসর্গ করা; এর পাশাপাশি দ্বীনের মূলনীতি ও আকিদার ক্ষেত্রে গুরুতর বিচ্যুতি, সেই সাথে অনেক ইবাদতের ক্ষেত্রে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা—বিশেষ করে নামাজ, যা দ্বীনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক রুকনসমূহ—এবং নিষিদ্ধ কার্যে লিপ্ত হওয়া, মন্দ চরিত্র এবং বাস্তব জীবনে দ্বীনের বিধান ও শিষ্টাচারের সঠিক অনুশীলন থেকে দূরে সরে যাওয়া। এই কারণেই অধিকাংশ ইসলামি আন্দোলন তাদের এই খণ্ডিত বুঝের ওপর ভিত্তি করে গৃহীত প্রকল্পে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে তাদের কোনো কোনোটির পরিণতি হয়েছে সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ, আবার অন্য কোনোটি শরিয়তের বিধান বাস্তবায়নের দাবি পরিত্যাগ করে এবং ইসলামকে কেবল একটি সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক রেফারেন্স হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক খেলায় মেতে ওঠার পথে ধাবিত হয়েছে। আর এই নেতিবাচক ধারণা প্রসারে গণমাধ্যমেরও প্রভাব ছিল—ঐ সকল ইসলামি আন্দোলনের কর্মকাণ্ডকে ব্যবহারের মাধ্যমে—যার ফলে অধিকাংশ মানুষের মনে—বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বে—শরিয়তের ধারণা কেবল দণ্ডবিধি সংক্রান্ত বিধানসমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে; যেমন চোরের হাত কাটা, ব্যভিচারী বা মদ্যপায়ীকে বেত্রাঘাত করা, নারীর হিজাব সংক্রান্ত বিধান এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ!
(২)একবার একজন সুয়েডীয় বুদ্ধিজীবী আমাকে শরিয়তের বিধান বাস্তবায়নে আমার সমর্থনের মাত্রা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমি তাকে বললাম: আপনি যে অর্থে শরিয়ত বুঝছেন—অর্থাৎ কিসাস ও দণ্ডবিধি—তা শরিয়তের নিজস্ব বিধান অনুযায়ীই কেবল মুসলিম ভূখণ্ডে প্রয়োগ করা জায়েজ। আর শরিয়তের বিধান অনুযায়ীই তা কার্যকর করার অধিকার কেবল সেই রাষ্ট্রপ্রধানের রয়েছে, যার প্রশাসনিক ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান। ফলশ্রুতিতে, আমি আমার রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি আনুগত্যের নিরিখে শরিয়তের বিধান বাস্তবায়নের সমর্থন করি, যা আকিদা ও শরিয়তগত স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত। এটি একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় যা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং এতে অন্য কোনো রাষ্ট্র বা বিদেশি পক্ষের হস্তক্ষেপ করার অধিকার নেই।
আমি আরও বলে চললাম: কিন্তু শরিয়ত সম্পর্কে আপনার এই ধারণাটি অত্যন্ত সংকীর্ণ ও অপূর্ণাঙ্গ; আর একারণেই এটি আপনাকে শরিয়ত সম্পর্কে একটি ভুল দৃষ্টিভঙ্গির দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যার পরিণতি হচ্ছে ভীতি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২২)
لا مسوِّغ له، وبأحكامٍ جائرةٍ، خاصَّةً عندما يتعلَّقُ الأمرُ بتأييد الشَّريعةِ مِن قِبَلِ مسلمٍ مقيمٍ في الغرب.
فقال لي: فما هو المفهومُ الكاملُ والصَّحيحُ للشَّريعة؟
قلتُ: إنَّ الشريعة هي دينُ الإسلام كلُّه، وأهمُّ أحكامها أصولُ الإيمان، وهي الإيمان بالله تعالى وحدَه لا شريك له، وبأسمائه الحسنَى وصفاته العليا، وأنَّه الربُّ الخالقُ المالكُ المتصرِّفُ، المستحقُّ وحده للعبادة. والعبادةُ هي الغايةُ التي من أجلها خَلَقَ الله تعالى الجنَّ والإنسَ؛ فلا ندعو إلا الله، ولا نستعينُ إلا به، ولا نتوكَّل إلا عليه، ولا نصلي ونسجدُ إلا له وحده. والإيمانُ بملائكة الله تعالى، وبكتبه التي أنزلَها على رُسُله، وبأنبيائه ورُسُلِه أجمعين، وباليوم الآخر والجنَّةِ والنَّارِ، وبقضاء الله تعالى وقَدَرِه.
ومن الشريعة: إقامةُ الصَّلاةِ، وإيتاءُ الزَّكاةِ، وصومُ رمضانَ، وحجُّ البيتِ لمن استطاعَ إليه سبيلاً.
ومن الشريعة: برُّ الوالدين، وصلةُ الأرحام، وكفالةُ الأيتام، ومعونةُ الفقراء، ونُصرَةُ المظلوم، وإغاثةُ الملهوف، وحُسْنُ الجوار، وإكرامُ الضَّيف، والرِّفقُ بالحيوان، وصِدْقُ الحديث، وحُسْنُ العِشْرَةِ، وكرَمُ الأخلاق، والصَّبرُ الجميلُ، والعفوُ والسَّماحةُ، والإحسانُ إلى القريب والبعيد، وإلى المسلم والكافر.
ومن الشريعة: الصِّدْق في المعاملة، وأداءُ الأمانة، والوفاءُ بالعهود والعقود.
ومن الشريعة: تحريمُ الظُّلمِ والبَغْي، والغَدْرِ والخيانةِ، والاعتداءِ على الأنفس والأموال والأعراض، وتعظيمُ أمرِ الدماء، وتحريمُ الزِّنَى والسرقةِ والخمرِ والمخدِّرات، وسائرِ الفواحش والمنكَرات.
এর কোনো সংগত কারণ নেই এবং এটি একটি অবিচারমূলক রায়, বিশেষ করে যখন পশ্চিমা বিশ্বে বসবাসকারী একজন মুসলিমের পক্ষ থেকে শরিয়তকে সমর্থন করার বিষয়টি জড়িত থাকে।
তখন তিনি আমাকে বললেন: শরিয়তের পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক ধারণাটি আসলে কী?
আমি বললাম: নিশ্চয়ই শরিয়ত হলো সমগ্র ইসলাম ধর্ম; আর এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধান হলো ইমানের মূলনীতিসমূহ। আর তা হলো—অংশীদারহীন এক আল্লাহ তাআলার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, তাঁর সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলির প্রতি বিশ্বাস করা এবং এই বিশ্বাস রাখা যে, তিনি একমাত্র রব, স্রষ্টা, মালিক, পরিচালক এবং এককভাবে ইবাদতের যোগ্য। ইবাদত হলো সেই লক্ষ্য, যার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তাআলা জিন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন; সুতরাং আমরা আল্লাহ ছাড়া কাউকে ডাকি না, তিনি ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি না, কেবল তাঁর ওপরই ভরসা করি এবং একমাত্র তাঁর উদ্দেশ্যেই নামাজ পড়ি ও সিজদা করি। এছাড়া আল্লাহ তাআলার ফেরেশতামণ্ডলী, তাঁর রাসুলদের প্রতি অবতীর্ণ কিতাবসমূহ, সকল নবী ও রাসুল, পরকাল, জান্নাত ও জাহান্নাম এবং আল্লাহ তাআলার ফয়সালা ও তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাও এর অন্তর্ভুক্ত।
আর শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত হলো: নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য আল্লাহর ঘরের হজ পালন করা।
শরিয়তের আরও অন্তর্ভুক্ত হলো: পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, এতিমদের লালন-পালন করা, দরিদ্রদের সহায়তা করা, মজলুমের সাহায্য করা, বিপদগ্রস্তকে উদ্ধার করা, সুন্দর প্রতিবেশীসুলভ আচরণ, মেহমানদারি, প্রাণীদের প্রতি দয়া প্রদর্শন, কথার সততা (হাদিস), সুন্দর সাহচর্য, উন্নত চরিত্র, উত্তম ধৈর্য, ক্ষমা ও উদারতা এবং আত্মীয়-অনাত্মীয় ও মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের প্রতি ইহসান বা সদয় আচরণ করা।
শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত হলো: লেনদেনে সততা বজায় রাখা, আমানত রক্ষা করা এবং প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি পূরণ করা।
আর শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত হলো: জুলুম ও সীমা লঙ্ঘন, প্রতারণা ও খিয়ানত এবং জান-মাল ও ইজ্জতের ওপর চড়াও হওয়াকে হারাম গণ্য করা; প্রাণের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া; ব্যভিচার, চুরি, মদ্যপান, মাদকদ্রব্য এবং সকল প্রকার অশ্লীলতা ও গর্হিত (منكرات) বিষয়কে নিষিদ্ধ করা।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فإذا تجلَّى لك هذا المفهومُ الواسعُ والشَّاملُ للشريعة؛ علمتَ أنَّ المسلمَ يستطيعُ الالتزام بأهمِّ أحكامِ الشَّريعة وأكثرِها، والعمل بها، وإن كان مقيمًا في بلدٍ لغير المسلمين، ولا تفوته من الشَّريعة إلا الأحكامُ الخاصَّة بمجتمع المسلمين ودولتهم.
ثم إنَّ في القانون السويديِّ جملةً كبيرةً من الأحكام الموافقة للشريعة؛ مثل احترام النفس البشرية بغضِّ النظر عن الدِّين والجنس والعرق واللَّون؛ فالاعتداء عليها بالقتلِ أو بما دونَهُ جريمةٌ تستلزمُ العقوبةَ، وإيجابِ نفقةِ الأولاد على والدهم تُدفع للأمِّ الحاضنة، ومنعِ البغاءِ والمخدِّراتِ ومنها القاتُ ـ الذي يُستباح في بعض دول المسلمين! ـ، وتكفُّلِ الدولةِ بالتعليم والخدماتِ الصحية، وضمانِها للحدِّ الضروريِّ من المسكن والمأكل والملبس لجميع مواطنيها.
وفي القانون السويديِّ ـ أيضًا ـ جملةٌ كبيرةٌ من الأحكام غير المنافية للشريعة؛ مثل أنظمةِ المرور والأعمالِ والصَّنائعِ، وأغلبِ ما يتعلَّق بتنظيم الحياة المدنيَّة التي تحقِّقُ مصالحَ للفرد والمجتمع، وتعمل على سَيْرُورةِ حركتهما وتطورهما.
وبهذا ندركُ أنَّ «الشريعةَ» هي المنظومةُ الكاملةُ التي تحمل المسلمَ على الاعتقاد الصَّحيح، والعبادة الخالصة لله تعالى وحده، والتزام الحقِّ والعدل والصِّدق والوفاء والرحمة والإحسان في معاملة الخلق، وتوجِّهُهُ إلى الأخلاق الحسنة والسلوك القويم. فكلُّ ما في المسلمين من خيرٍ وحقٍّ وصوابٍ فهو من بركة علمهم بهذه الشريعة وعملهم بها، وكلُّ ما فيهم من شرٍّ وباطلٍ وخطإٍ فهو من شُؤْم جهلهم بهذه الشريعة أو عدم عملهم بها. فلا عجبَ أنْ تَصْدُرَ بين الحينِ والآخر دعواتٌ إلى الاستفادة من الشريعة الإسلامية يُطلقُها بعضُ كبار علماء السياسة والقانون والاقتصاد والاجتماع من غير المسلمين.
শরীয়তের এই ব্যাপক ও সর্বব্যাপী ধারণাটি যখন আপনার নিকট স্পষ্ট হবে, তখন আপনি অনুধাবন করতে পারবেন যে, একজন মুসলিম শরীয়তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অধিকাংশ বিধান মেনে চলতে এবং তদানুযায়ী আমল করতে সক্ষম, যদিও তিনি অমুসলিম কোনো দেশে বসবাস করেন। শরীয়তের কেবল সেই বিধানগুলোই তার নাগালের বাইরে থাকে যা মুসলিম সমাজ ও রাষ্ট্রের সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট।
তদুপরি, সুইডিশ আইনে শরীয়তসম্মত অনেক বিধান বিদ্যমান; যেমন ধর্ম, লিঙ্গ, বংশ ও বর্ণ নির্বিশেষে মানবসত্তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন। ফলে হত্যার মাধ্যমে বা তার চেয়ে কম কোনো উপায়ে মানুষের ওপর চড়াও হওয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া সন্তানদের ভরণপোষণ পিতার ওপর আবশ্যক করা যা লালনপালনকারী মাতাকে প্রদান করা হয়, এবং ব্যভিচার ও মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধকরণ—যার অন্তর্ভুক্ত ‘কাত’ (এক প্রকার মাদক উদ্ভিদ), যা কোনো কোনো মুসলিম দেশে বৈধ মনে করা হয়!—রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার দায়ভার গ্রহণ এবং সকল নাগরিকের জন্য অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা প্রদান করা।
এছাড়াও সুইডিশ আইনে এমন অনেক বিধান রয়েছে যা শরীয়তের পরিপন্থী নয়; যেমন ট্রাফিক ব্যবস্থা, ব্যবসায়িক ও শিল্প কারুকার্য সংক্রান্ত নিয়মাবলী এবং নাগরিক জীবন পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ বিষয় যা ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণ নিশ্চিত করে এবং তাদের গতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে কাজ করে।
এর মাধ্যমে আমরা অনুধাবন করতে পারি যে, ‘শরীয়ত’ হলো এমন এক পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা যা একজন মুসলিমকে সঠিক বিশ্বাস এবং একমাত্র মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদিত একনিষ্ঠ ইবাদত করতে উদ্বুদ্ধ করে। এটি সৃষ্টির সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সত্য, ন্যায়বিচার, সততা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা, দয়া ও ইহসানের পথ দেখায় এবং তাকে উত্তম চরিত্র ও সঠিক আচরণের দিকে পরিচালিত করে। সুতরাং মুসলমানদের মধ্যে যা কিছু কল্যাণ, সত্য ও সঠিকতা রয়েছে, তা এই শরীয়ত সম্পর্কে তাদের জ্ঞান ও আমলেরই বরকত। আর তাদের মধ্যে যা কিছু মন্দ, বাতিল ও ভুল রয়েছে, তা এই শরীয়ত সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতা অথবা তদানুযায়ী আমল না করার অশুভ পরিণতি। অতএব, এতে বিস্ময়ের কিছু নেই যে, মাঝেমধ্যেই অমুসলিমদের মধ্য থেকে প্রথিতযশা রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, আইনবিদ, অর্থনীতিবিদ এবং সমাজবিজ্ঞানীদের পক্ষ থেকে ইসলামী শরীয়ত থেকে উপকৃত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
(3)إنَّ هذا البحثَ يهدف إلى بيان جانبٍ من عظمة شريعة الإسلام من خلال استحضار بعض ما ورد فيها من قواعد وأحكام تتعلَّق بدخول المسلم في أمان غير المسلمين.
إنَّ إقامة غير المسلمين في بلاد الإسلام كانت أمرًا شائعًا منذ العهد الأول، أمَّا إقامةُ المسلمين في بلاد غيرهم؛ فكانت حدثًا نادرًا وعارضًا في القرون الماضية وحتَّى عهدٍ قريبٍ، فليس من المستغرب ـ إذَنْ ـ أن تزخر كتبُ الفقه ببحوثٍ مطوَّلةٍ عن أحكام إقامة غير المسلمين في بلاد الإسلام، سواء كانت الإقامة مؤقتةً أو دائمةً، ولكن قد يكون مستغربًا أن تزخر تلك الكتب ببحوث وافية عن أحكام إقامة المسلمين في بلاد غيرهم؛ ولكنَّ هذا الاستغرابَ ينبغي أن يتلاشى بعدَ ما ذكرناه من سَعَةِ الشَّريعة وشمولها وصلاحها لكلِّ زمانٍ ومكانٍ.
ومن هنا فإنَّ هذا البحثَ يهدفُ إلى تعريف المسلم المقيم في بلدٍ لغير المسلمين ببعض الأحكام الشرعيَّة التي يجبُ عليه معرفتُها والالتزامُ بها ومراعاتُها قَدْرَ استطاعته، كما أنَّه يهدف إلى تعريف غير المسلم ببعض ما تضمنته الشريعة السَّمْحَة من أحكام رائعة مبنيَّة على قاعدة الصِّدق والعدل والوفاء والإحسان.
ومن أجل تقديم مادَّة علميَّة موثَّقة؛ فقد حرصتُ على نقل كلام فقهاء الإسلام من الكتب المعتمدة، وذكرت تعريفًا موجزًا بكلِّ واحدٍ منهم، مع ذكر سنة الوفاة بالتاريخين الهجري والميلادي، ليكون لدى القارئ تصوُّرٌ واضحٌ عن صاحب النصِّ وعصره، ويُدركَ أنَّ هذه النصوص صدرتْ عن أشهر علماء الإسلام في وقتٍ كانت دولتهم فيه أعظمَ دول العالم وأقواها، ومع ذلك لم يُخرجهم شعُورهم بالفَخْرِ والعزَّة والغَلَبَة عن موجبات الحقِّ والعدل والرحمة، لأنَّهم كانوا يتقيَّدون في آرائهم بأحكام القرآن الكريم والسنة النبوية.
(৩)এই গবেষণার লক্ষ্য হলো অমুসলিমদের দেওয়া নিরাপত্তা বা আশ্রয়ের (أمان) ক্ষেত্রে একজন মুসলমানের প্রবেশের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু নিয়ম ও বিধান উপস্থাপনের মাধ্যমে ইসলামের শরীয়তের মহত্ত্বের একটি দিক ফুটিয়ে তোলা।
ইসলামের প্রথম যুগ থেকেই ইসলামী ভূখণ্ডে অমুসলিমদের বসবাস একটি সাধারণ বিষয় ছিল। অন্যদিকে, অমুসলিমদের ভূখণ্ডে মুসলমানদের বসবাস বিগত শতাব্দীগুলোতে এবং নিকট অতীত পর্যন্ত একটি বিরল ও আকস্মিক বিষয় ছিল। ফলে এটি আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, ফিকহশাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ ইসলামী ভূখণ্ডে অমুসলিমদের বসবাসের বিধান সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনায় সমৃদ্ধ থাকবে—তা বসবাস স্থায়ী হোক বা অস্থায়ী। তবে সেই গ্রন্থগুলো অমুসলিমদের দেশে মুসলমানদের বসবাসের বিধান সম্পর্কেও পর্যাপ্ত আলোচনায় সমৃদ্ধ হওয়া হয়তো বিস্ময়কর মনে হতে পারে; কিন্তু শরীয়তের প্রশস্ততা, ব্যাপকতা এবং সব সময় ও স্থানের জন্য এর উপযোগিতার বিষয়টি উল্লেখ করার পর এই বিস্ময় দূর হয়ে যাওয়া উচিত।
এ কারণেই এই গবেষণার লক্ষ্য হলো অমুসলিম দেশে বসবাসরত একজন মুসলমানকে এমন কিছু শরয়ী বিধানের সাথে পরিচিত করা, যা জানা, মেনে চলা এবং সাধ্যানুযায়ী অনুসরণ করা তার জন্য আবশ্যক। পাশাপাশি এর লক্ষ্য হলো একজন অমুসলিমকেও এই উদার শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত এমন কিছু চমৎকার বিধানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, যা সত্যবাদিতা, ন্যায়বিচার, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং সদাচরণের নীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।
একটি প্রামাণ্য (موثقة) জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদান উপস্থাপনের লক্ষ্যে আমি নির্ভরযোগ্য (معتمدة) গ্রন্থসমূহ থেকে ইসলামের ফকিহগণের বক্তব্য উদ্ধৃত করার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি। আমি তাদের প্রত্যেকের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় উল্লেখ করেছি এবং সাথে হিজরি ও খ্রিস্টাব্দ অনুযায়ী তাদের মৃত্যুসাল উল্লেখ করেছি, যাতে পাঠকের কাছে উদ্ধৃতিদাতা এবং তার যুগ সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়। পাঠক যেন বুঝতে পারেন যে, এই বক্তব্যগুলো ইসলামের সেই প্রখ্যাত আলেমদের থেকে বর্ণিত হয়েছে, যখন তাদের রাষ্ট্র ছিল বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র। তা সত্ত্বেও গৌরব, মর্যাদা ও বিজয়ের অনুভূতি তাদের সত্য, ন্যায়বিচার ও দয়ার আবশ্যকতা থেকে বিচ্যুত করেনি; কারণ তারা তাদের মতামতের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন এবং সুন্নাহর বিধানের অনুসারী ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لهذا فإنَّ المسلم عندما يتقيَّدُ بهذه الأحكام؛ فإنَّه يتقيَّدُ بها لا لضَعْفِه أو خوفه أو لغرضِ نَيْلِ بعض المكاسبِ، بل لطاعته لربِّه عز وجل والتزامه بشَرعه.
(4)ولم يكن بخافٍ على الباحث أنَّ الدُّوَلَ الغربيَّةَ اليوم لا تُعامل المسلمين المقيمين على أرضها ـ ولا غيرهم ـ على أساس أنَّهم داخلون معها في عقد الأمان؛ إلا في المدَّة الأولى من إِقامتهم فيها، وهي مدَّة قصيرة يحصل طالب اللجوء بعدها على الإقامة الدائمة، أو على الجنسية الوطنية، وبذلك يصبح مواطنًا؛ له ما للمواطنين الأصليين، وعليه ما عليهم. ومنح اللجوء ثم الإقامة الدائمة والتجنيس؛ كلُّ ذلك لا يخضع لأيِّ اعتبارٍ دينيٍّ، وإنَّما يجري وفق سياقات القوانين المدنيَّة الوضعيَّة. ومع هذا كلِّه يبقى الموقفُ الدينيُّ والأخلاقيُّ من هذه الصُّور واحدًا، وإن اختلف التَّكييف الشرعيُّ والقانونيُّ لتلك الصور حسب ما يتعلق بها من شروط وواجبات وحقوق وآثار، وبعضها أشدُّ من بعض، فالحصول على «الجنسية» بمثابة الدخول في عقد الأمان المؤبَّد، فلا شكَّ أنَّه من أقوى صُوَرِ الأمان وأشدِّها إلزامًا، وأعلَى منه: أن يكون مواطنًا أصليًّا، ثم يُسْلِمُ؛ فلا يزيدُ الإسلام ما كان بينه وبين أهلِ بلده من رحِمٍ وواجباتٍ وحقوقٍ مشروعةٍ إلا ثباتًا ورسوخًا، فالإسلامُ يأمُرُه بأن يكونَ أعظمَ وفاءً لهم، وأكرمَ معاملةً معهم، وأعرفَ بحقوقهم، وأبعدَ عن غدرهم وخيانتهم، وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إِنَّمَا بُعِثْتُ لأُتَمِّمَ صَالِحَ الأَخْلَاقِ»
(1).
--------------------------------------------
এই কারণে একজন মুসলিম যখন এই বিধানগুলো মেনে চলেন; তখন তিনি তা নিজের দুর্বলতা বা ভয় কিংবা কোনো বৈষয়িক সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে মেনে চলেন না, বরং তাঁর মহান প্রতিপালকের আনুগত্য এবং তাঁর শরিয়তের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার কারণে মেনে চলেন।
(৪)গবেষকদের কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, বর্তমান সময়ে পশ্চিমা দেশগুলো তাদের ভূখণ্ডে বসবাসরত মুসলিমদের—কিংবা অন্যদেরও—নিরাপত্তা চুক্তির (عقد الأمان) ভিত্তিতে গণ্য করে না; কেবল তাদের অবস্থানের প্রাথমিক সময়টুকু ছাড়া, যা একটি সংক্ষিপ্ত সময়। এরপর আশ্রয়প্রার্থী ব্যক্তি স্থায়ী আবাসন অথবা রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং এর মাধ্যমে তিনি একজন নাগরিক হয়ে ওঠেন; ফলে মূল নাগরিকদের যে অধিকার ও দায়িত্ব থাকে, তার ওপরও ঠিক তা-ই বর্তায়। আশ্রয় প্রদান, অতঃপর স্থায়ী আবাসন ও নাগরিকত্ব প্রদান—এর কোনোটিই ধর্মীয় বিবেচনার অধীন নয়, বরং তা প্রচলিত দেওয়ানি আইনের পরিমণ্ডলে পরিচালিত হয়। এতদসত্বেও এই রূপরেখাগুলোর ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও নৈতিক অবস্থান একই থাকে, যদিও শর্তাবলি, বাধ্যবাধকতা, অধিকার ও প্রভাবের প্রেক্ষিতে ওই রূপরেখাগুলোর শরয়ি ও আইনি বিশ্লেষণে ভিন্নতা থাকতে পারে এবং একটির গুরুত্ব অন্যটির চেয়ে বেশি হতে পারে। যেমন: ‘নাগরিকত্ব’ লাভ করা হলো এক চিরস্থায়ী নিরাপত্তা চুক্তিতে (عقد الأمان) প্রবেশের সমতুল্য। নিঃসন্দেহে এটি নিরাপত্তার সবচেয়ে শক্তিশালী ও অত্যন্ত বাধ্যতামূলক একটি রূপ। আর এর চেয়েও উচ্চতর স্তর হলো: যখন কেউ জন্মগত নাগরিক হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন; তখন ইসলাম তাঁর ও তাঁর দেশবাসীর মধ্যকার আত্মীয়তার বন্ধন, কর্তব্য ও বৈধ অধিকারগুলোকে কেবল দৃঢ়তা ও স্থায়িত্বই প্রদান করে। ইসলাম তাঁকে নির্দেশ দেয় তাদের প্রতি সর্বোচ্চ বিশ্বস্ত থাকতে, তাদের সাথে সর্বোত্তম আচরণ করতে, তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে এবং তাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা ও খিয়ানত করা থেকে দূরে থাকতে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি কেবল সর্বোত্তম চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।”
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ومن نظر في النصوص الكثيرة التي ذكرناها في ثنايا بحثنا هذا؛ سيجد أنَّ الفقهاء يعدُّون عَقْدَ الأمان حكمًا دينيًّا ملزمًا للمسلم، بغضِّ النظر عن كون الطرف الآخر في العقد متديِّنًا بذلك أم لا، وبغضِّ النظر ـ أيضًا ـ عن كونه من أهل الكتاب ـ اليهود أو النَّصارى ـ، أو من المشركين الوثنيِّين.
إنَّ لهذه الرؤية الدِّينيَّة أثرًا بالغًا على سلوك المسلم المتديِّنِ وتصرُّفه وهو يقيم في بلاد المخالفين له في الدِّين، فقد تدفعه الحماسةُ الإيمانيَّة، والمفاصلةُ الدينيَّة إلى استحلالِ دمائهم وأموالهم وأعراضهم، وإلى الاعتقاد بأنَّه غير ملزمٍ بأيِّ ضابطٍ دينيٍّ أو أخلاقيٍّ في التعامل معهم، وبالتالي يجوز له نقض العهود معهم، وغشهم وخيانتهم والغدر بهم كلَّما وجد إلى ذلك سبيلاً! لكنَّه إذا علم بهذه التفاصيل التي قرَّرها العلماء في كتبهم؛ تبيَّن له أنَّ التزامه بشروط الدخول في أمان الكفار واجبٌ شرعيُّ وأخلاقيٌّ، وأنَّ نقضه للعقد القانونيِّ الذي لم يُبنَ على أصل دينيٍّ، ولم يقصد به التعبُّد لله تعالى، أو الموافقة لشرعه؛ هو بالنسبة إليه مخالفةٌ لشرع الله، ومعصيةٌ يحاسبه الله تعالى عليها يوم القيامة؛ وإن استطاع بمكره ودهائه التملُّص من المسؤولية القانونية، أو التخلُّص من العقوبة الجزائية في هذه الحياة الدنيا.
(5)وأصل هذا البحث محاضرة ألقيتُها في المؤتمر الذي أقامه مركز البحوث الإسلامية في السويد بالتعاون مع مسجد مريم محمد جبر المسلِّم بمدينة أوربرو، في غرَّة محرَّم: 1430 هـ/كانون الثاني 2009 م، تحت شعار: «هكذا علَّم محمد صلى الله عليه وسلم».
وقد لقيتْ تلك المحاضرة ـ بفضل الله ـ استحسان واهتمام أكثر الحاضرين، وألحَّ عليَّ كثيرٌ منهم في التوسُّع فيها لتخرج في بحث موثَّق، وصرَّح كثيرٌ منهم بأنَّه لم يخطر ببالهم قطُّ أنَّ كتب الأئمة المتقدِّمين يمكن أن تزخر بهذه النصوص الرائعة، ولا سمعوا من يتحدَّث في هذا الموضوع،
যিনি আমাদের এই গবেষণায় উল্লিখিত অসংখ্য মূল পাঠ্য (نصوص) পর্যবেক্ষণ করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে, ফকিহগণ নিরাপত্তার চুক্তিকে (عقد الأمان) একজন মুসলমানের জন্য একটি ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলক বিধান হিসেবে গণ্য করেন; চাই চুক্তির অপর পক্ষ সেই ধর্মে বিশ্বাসী হোক বা না হোক, এবং চাই সে আহলে কিতাব—ইহুদি বা খ্রিস্টান—হোক কিংবা মূর্তিপূজারী মুশরিক হোক।
এই ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্নধর্মাবলম্বীদের দেশে বসবাসকারী ধর্মপ্রাণ মুসলমানের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। অনেক সময় ঈমানি উদ্দীপনা এবং ধর্মীয় পৃথকীকরণ তাকে তাদের রক্ত, সম্পদ ও সম্মানকে বৈধ মনে করতে এবং তাদের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো ধর্মীয় বা নৈতিক বিধিনিষেধ মানতে বাধ্য নয় বলে বিশ্বাস করতে প্ররোচিত করতে পারে। ফলে সে যখনই সুযোগ পায়, তখনই তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ করা, তাদের সাথে প্রতারণা, খেয়ানত ও বিশ্বাসঘাতকতা করাকে বৈধ মনে করতে পারে! কিন্তু যখন সে উলামায়ে কেরামের কিতাবসমূহে বর্ণিত এই বিস্তারিত বিবরণগুলো জানবে, তখন তার কাছে স্পষ্ট হবে যে, কাফিরদের দেওয়া আশ্রয়ে প্রবেশের শর্তাবলি মেনে চলা একটি শরয়ি ও নৈতিক আবশ্যকতা (واجب)। আর সেই আইনি চুক্তি ভঙ্গ করা—যা কোনো ধর্মীয় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয় এবং যার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত বা তাঁর শরিয়তের আনুগত্যের উদ্দেশ্যও ছিল না—তার জন্য আল্লাহর শরিয়তের লঙ্ঘন এবং এমন এক পাপ (معصية), যার জন্য কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন করবেন; যদিও সে তার চাতুর্য ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পার্থিব আইনি দায়বদ্ধতা থেকে এড়িয়ে যেতে পারে কিংবা ইহকালে দণ্ডবিধি থেকে মুক্তি পেয়ে যায়।
(৫)এই গবেষণার মূল ভিত্তি হলো একটি বক্তৃতা, যা আমি সুইডেনের ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার কর্তৃক ওরেব্রো শহরের মারইয়াম মোহাম্মদ জাবর আল-মুসলিম মসজিদের সহযোগিতায় আয়োজিত সম্মেলনে পেশ করেছিলাম। এটি ১৪৩০ হিজরির পহেলা মহররম / ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে «মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এভাবেই শিখিয়েছেন»—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে সেই বক্তৃতাটি অধিকাংশ উপস্থিতির প্রশংসা ও মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল এবং তাদের মধ্যে অনেকেই আমাকে এটি আরও বিস্তারিতভাবে লিখে একটি প্রামাণ্য গবেষণায় (بحث موثق) রূপ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। তাদের অনেকে ব্যক্ত করেছেন যে, পূর্ববর্তী ইমামগণের কিতাবসমূহ যে এই ধরনের চমৎকার মূল পাঠ্যে (نصوص) ভরপুর হতে পারে, তা কখনো তাদের কল্পনাতেও আসেনি এবং তারা আগে কখনো কাউকে এই বিষয়ে আলোচনা করতে শোনেননি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
رغم شدَّة حاجتهم إلى معرفته والإلمام بأحكامه، بل ذلك من الواجبات الشرعيَّة المتعيِّنة على كلِّ مسلمٍ مقيمٍ في بلاد غير المسلمين، لأنَّ من تلبَّس بأمرٍ وجب عليه ـ باتِّفاق أهل العلم ـ تعلُّم أحكام الله تعالى المتعلِّقة بذلك الأمر.
إنَّ تجنُّبَ كثيرٍ من طلاب العلم والدُّعاة ـ بَلْهَ غيرهم من الجهلة بالشَّريعة المتصدِّرين للدَّعوة! ـ التطرُّقَ إلى هذا الموضوع في دعوتهم وتوجيههم لعامَّة المسلمين ـ رغم توفُّر المادة العلمية في المصادر الفقهية، وفي كتابات المعاصرين في فقه الأقليات المسلمة ـ له أسباب عديدة:
فبعضهم: لا عِلْمَ له بهذه الأحكام أصلاً! فنذكِّر هذا الصِّنفَ بقول الله تعالى: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النحل: 43].
وبعضهم: قد عَلِمَ بها، لكنَّه وجدَها مخالِفَةً لأهوائه وانتماءاته الحزبية والحركية؛ فهو لذلك يتجاهلها ويُعْرِضُ عنها، ويخشَى أن يتعلَّمها المسلمون فتفُوته أغراضٌ ومصالحُ! فنُذَكِّرُ هذا الصِّنفَ ـ منبِّهين محذِّرين ـ بمثل قول الحقِّ عز وجل: {وَإِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِنْهُمْ مُعْرِضُونَ (48) وَإِنْ يَكُنْ لَهُمُ الْحَقُّ يَأْتُوا إِلَيْهِ مُذْعِنِينَ (49) أَفِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ أَمِ ارْتَابُوا أَمْ يَخَافُونَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُولُهُ بَلْ أُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ (50) إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ (51) وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَخْشَ اللَّهَ وَيَتَّقْهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ (52)} [النُّور].
وبعضهم: يعلم بها، ويرضى بها بإيمانٍ وخضوعٍ لدين الله تعالى، لكنَّه يُؤثرُ السَّلامةَ، ويلتزمُ الصَّمتَ؛ خشيةَ أَنْ يثورَ عليه الجهلةُ والغوغاءُ! فنذكِّر هذا الصِّنفَ ـ ناصحين مُشْفِقينَ ـ بقول ربِّنَا سبحانه: {أَتَخْشَوْنَهُمْ فَاللَّهُ أَحَقُّ أَنْ تَخْشَوْهُ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} [التوبة: 13].
অমুসলিম দেশে বসবাসকারী প্রতিটি মুসলিমের জন্য এই বিষয়টি জানা এবং এর বিধানসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত তীব্র হওয়া সত্ত্বেও, বরং এটি তাদের প্রত্যেকের ওপর অর্পিত একটি অপরিহার্য শারয়ি দায়িত্ব (واجبات شرعية); কারণ যে ব্যক্তি কোনো কাজে লিপ্ত হয়—আলেম সমাজের ঐক্যমত্য (اتفاق أهل العلم) অনুযায়ী—তার জন্য সেই কাজ সংশ্লিষ্ট মহান আল্লাহর বিধানাবলী শিক্ষা করা আবশ্যক।
ফিকহী উৎসসমূহ এবং মুসলিম সংখ্যালঘুদের ফিকহ (فقه الأقليات) বিষয়ে সমসাময়িক লেখকদের রচনায় পর্যাপ্ত জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদান থাকা সত্ত্বেও, অনেক ইলম অন্বেষণকারী (طلاب العلم) ও দাঈদের (دعاة)—এমনকি দাওয়াতের ময়দানে নেতৃত্বদানকারী শরয়ি জ্ঞানহীন মূর্খদের কথা তো বলাই বাহুল্য—সাধারণ মুসলিমদের দাওয়াত ও দিকনির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আলোচনা করা থেকে এড়িয়ে যাওয়ার পেছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে:
তাদের মধ্যে কেউ কেউ: এই বিধানগুলো সম্পর্কে আদৌ কোনো জ্ঞান রাখে না! এই শ্রেণির লোকদের আমরা মহান আল্লাহর এই বাণীর কথা স্মরণ করিয়ে দিই: "অতএব তোমরা যদি না জানো তবে জ্ঞানীদের (أهل الذكر) জিজ্ঞাসা করো।" [আন-নাহল: ৪৩]।
আবার তাদের কেউ কেউ: এই বিধানগুলো সম্পর্কে অবগত, কিন্তু তারা এগুলোকে তাদের খেয়ালখুশি (أهواء) এবং দলীয় ও সাংগঠনিক সংশ্লিষ্টতার পরিপন্থী হিসেবে দেখতে পায়; ফলে তারা এগুলোকে উপেক্ষা করে এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা ভয় পায় যে, সাধারণ মুসলিমরা যদি এগুলো শিখে ফেলে তবে তাদের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য ও স্বার্থ বিঘ্নিত হবে! এই শ্রেণির লোকদের আমরা সতর্ক ও সাবধান করে মহান সত্যের বাণীর কথা স্মরণ করিয়ে দিই: "যখন তাদেরকে তাদের মধ্যে বিচার-মীমাংসা করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, তখন তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয় (৪৮) আর সত্য যদি তাদের সপক্ষে হয়, তবে তারা বিনীতভাবে তাঁর কাছে ছুটে আসে (৪৯) তাদের অন্তরে কি ব্যাধি আছে, না কি তারা সংশয়ে নিপতিত? না কি তারা ভয় পায় যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের ওপর অবিচার করবেন? বরং তারাই তো জালেম (৫০) মুমিনদের উক্তি তো এই যে, যখন তাদের মধ্যে বিচার-মীমাংসা করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, তখন তারা বলে: আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম। আর তারাই সফলকাম (৫১) আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই হলো সফলকাম (৫২)" [আন-নূর]।
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ: এই বিধানগুলো সম্পর্কে জানে এবং ঈমান ও আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আনুগত্যের সাথে তা গ্রহণও করে, কিন্তু তারা বিপদমুক্ত থাকাকেই শ্রেয় মনে করে এবং নীরবতা অবলম্বন করে; এই ভয়ে যে, পাছে মূর্খ ও হঠকারী জনতা তাদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত হয়ে ওঠে! এই শ্রেণির লোকদের হিতাকাঙ্ক্ষী ও দয়াপরবশ হয়ে আমাদের রবের এই বাণীর কথা স্মরণ করিয়ে দিই: "তোমরা কি তাদেরকে ভয় পাও? অথচ আল্লাহই সবচেয়ে বেশি হকদার যে, তোমরা তাঁকে ভয় করবে, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো।" [আত-তাওবাহ: ১৩]।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أسأل الله تعالى أن يعلِّمنا جميعًا ما ينفعنا، وينفعنا بما علَّمنا، ويجعله حجَّة لنا لا علينا، ويوفِّقنا به إلى العمل الصالح، والخُلُق الحسَن. آمين، آمين. والحمد لله ربِّ العالمين.
غوطبورغ/ السويد: في 15/ 3 /1430 هـ
… كتبه:
الموافق لـ: 13/ 3 /2009 م
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকলকে এমন বিষয় শিক্ষা দেন যা আমাদের উপকারে আসে এবং যা তিনি আমাদের শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করেন। তিনি যেন একে আমাদের পক্ষে প্রমাণ (حجة) হিসেবে কবুল করেন, আমাদের বিপক্ষে নয়। তিনি যেন এর মাধ্যমে আমাদের সৎকর্ম এবং উত্তম চরিত্রের তাওফিক দান করেন। আমিন, আমিন। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
গুটেনবার্গ/সুইডেন: ১৫/ ৩ /১৪৩০ হিজরি
… লিখেছেন:
যা ১৩/ ৩ /২০০৯ খ্রিস্টাব্দের সাথে সংগতিপূর্ণ
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الأول:مقدمة في عقد الأمانوفيه:
1 - التعريف.
2 - مشروعيَّة منح الكفار الحربيِّين الأمانَ، ووجوب الوفاء لهم به.
3 - جواز الدخول في أمان الكفَّار للحاجة.
4 - ما ينعقدُ به الأمان.
5 - التأسيس الفقهي لمسائل هذا الكتاب، ووجه ارتباطها بالواقع المعاصر.
প্রথম পরিচ্ছেদ:নিরাপত্তা চুক্তির (عقد الأمان) ভূমিকাএতে রয়েছে:
১ - সংজ্ঞা (تعريف)।
২ - যুদ্ধরত কাফেরদের (كفار حربيين) নিরাপত্তা (أمان) প্রদানের বৈধতা (مشروعيّة) এবং তাদের প্রতি সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করার (وفاء) আবশ্যকতা (وجوب)।
৩ - প্রয়োজনে কাফেরদের দেওয়া নিরাপত্তার (أمان) আশ্রয়ে প্রবেশের বৈধতা (جواز)।
৪ - যা দ্বারা নিরাপত্তা (أمان) সম্পাদিত হয়।
৫ - এই কিতাবের মাসআলাসমূহের ফিকহি ভিত্তি (تأسيس فقهي) এবং সমকালীন বাস্তবতার সাথে সেগুলোর সংশ্লিষ্টতার দিক।
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
1 - التعريف:الأمان لغةً:
قال ابنُ فارسٍ رحمه الله
(1): «أَمن ـ الهمزة والميم والنون ـ أصلان متقاربان: أحدهما: الأمانة التي هي ضد الخيانة، ومعناها: سكون القلب. والآخر: التصديق. والمعنيان كما قلنا متدانيان. قال الخليلُ
(2): الأَمَنَة من الأمن، والأمان إعطاء الأمنة، والأمانة ضد الخيانة».
(3)وقال الراغبُ الأصفهانيُّ رحمه الله
(4): «أصل الأمْنِ: طمأنينة النفس، وزوال الخوف، والأمن والأمانة والأمان في الأصل مصادر [للفعل: أَمِنَ]، ويجعل الأمان تارة اسمًا للحالة التي يكون عليها الإنسان في الأمن، وتارة اسمًا لما يؤمَّن عليه الإنسانُ نحو قوله تعالى: {وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ} [الأنفال: 27]
--------------------------------------------
১ - সংজ্ঞা:আমান (নিরাপত্তা) শাব্দিক অর্থ:
ইবনে ফারিস (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন
(১): «আমান —হামজা, মীম ও নূন— এর দুটি কাছাকাছি মূল অর্থ রয়েছে: একটি হলো আমানত (আমানতদারী), যা খিয়ানতের (বিশ্বাসঘাতকতা) বিপরীত; এর অর্থ হলো হৃদয়ের স্থিরতা। আর অন্যটি হলো তাসদিক (সত্যয়ন করা)। আর এই দুটি অর্থই, যেমনটি আমরা বলেছি, একে অপরের খুব কাছাকাছি। খলীল
(২) বলেছেন: আল-আমানাহ (নিরাপত্তা) শব্দটি আমান থেকে উদ্ভূত, আর আল-আমান হলো নিরাপত্তা প্রদান করা, এবং আল-আমানাহ হলো খিয়ানতের বিপরীত»।
(৩)রাগিব আল-আসফাহানি (রহিমাহুল্লাহ)
(৪) বলেছেন: «আমান-এর মূল অর্থ হলো: মনের প্রশান্তি এবং ভয়ের অপনোদন। আমান, আমানত এবং আমানাহ মূলত [আনিমা-ক্রিয়ার] মাসদার (ক্রিয়ামূল)। কখনো কখনো আমান শব্দটিকে মানুষের নিরাপদ অবস্থার নাম হিসেবে গণ্য করা হয়, আবার কখনো এটি এমন জিনিসের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয় যার ওপর মানুষকে বিশ্বস্ত গণ্য করা হয় (আমানত রাখা হয়), যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: {এবং তোমরা তোমাদের আমানতসমূহের খিয়ানত করো না} [আনফাল: ২৭]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
أي: ما ائتمنتم عليه».
(1)وقال المُنَاويُّ رحمه الله
(2): «الأمْنُ: عدم توقُّعِ مكروهٍ في الزَّمَن الآتي».
(3)والأَمِنُ ـ ككَتِف ـ: المستجير ليأمن على نفسه. واستأمنه: طلب منه الأمان. واستأمن إليه: دخل في أمانه. والمأمن: موضع الأمان
(4)واستأمن الحربيُّ: استجار، ودخل دار الإسلام مستأمَنًا، وهؤلاء قومٌ مستأمَنَةٌ.
(5)والمستأمِنُ ـ بكسر الميم ـ: اسم فاعلٍ. وهو الطالب للأمان، وبفتحه: اسم مفعول، وهو من أعطي الأمان، والسين والتاء للصيرورة: أي من صار مؤامنًا.
الأمان اصطلاحًا:
هذا ما يتعلَّق بلفظ الأمان ودلالاته اللُّغويَّة، أما في بحثنا هذا فنقصِدُ بالأمان ما اصطلح عليه الفقهاء في كتبهم من إطلاقه على: «عقد الأمان أو صكِّه»
(6) أي: الأمان بمعناه الديني والسياسي والقانوني، وهو عقد ملزم تترتَّب عليه نتائج وآثار، بخلاف الأمان النفسي، فهو شعور وجدانيٌّ لا ينضبط، وتتفاوت مراتبُ النَّاسِ فيه، فبعضهم تسْكُنُ نفسه ويطمئنُّ قلبه بأدنَى مظنَّةِ أمانٍ،
--------------------------------------------
অর্থাৎ: যার ওপর তোমাদের বিশ্বস্ততা অর্পণ করা হয়েছে।»
(1)এবং আল-মুনাওয়ি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন
(2): «নিরাপত্তা হলো: ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা না থাকা।»
(3)আর ‘আমিন’ — কাতিফ-এর ওজনে — হলো সেই আশ্রয়প্রার্থী ব্যক্তি, যে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চায়। ‘ইস্তামানাহু’ অর্থ: সে তার কাছে নিরাপত্তা চেয়েছে। ‘ইস্তামানা ইলাইহি’ অর্থ: সে তার আশ্রয়ে প্রবেশ করেছে। আর ‘মা’মান’ অর্থ: নিরাপত্তার স্থান।
(4)আর যুদ্ধরত অমুসলিম যখন নিরাপত্তা প্রার্থনা করে, তখন সে আশ্রয় গ্রহণ করে এবং নিরাপত্তা লাভকারী হিসেবে ইসলামি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে; আর এরা হলো নিরাপত্তা প্রাপ্ত এক জনগোষ্ঠী।
(5)আর ‘মুস্তামিন’ — মিম বর্ণে কাসরা (জের) যোগে — হলো এটি কর্তৃবাচক বিশেষ্য। সে হলো নিরাপত্তা অন্বেষণকারী। আর মিম বর্ণে ফাতহা (জবর) যোগে এটি কর্মবাচক বিশেষ্য; অর্থাৎ যাকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। এখানে ‘সিন’ ও ‘তা’ বর্ণ দুটি কোনো অবস্থায় উপনীত হওয়া অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে: অর্থাৎ যে ব্যক্তি নিরাপত্তা লাভকারীতে পরিণত হয়েছে।
পরিভাষাগতভাবে নিরাপত্তা:
এটি নিরাপত্তা শব্দ এবং এর ভাষাগত তাৎপর্য সংশ্লিষ্ট আলোচনা। তবে আমাদের এই গবেষণায় নিরাপত্তা বলতে আমরা সেই পারিভাষিক অর্থটিই উদ্দেশ্য নিয়েছি, যা ফকিহগণ তাদের কিতাবসমূহে ‘নিরাপত্তা চুক্তি বা সনদ’ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
(6) অর্থাৎ: ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও আইনি অর্থে নিরাপত্তা; যা একটি বাধ্যতামূলক চুক্তি এবং যার ওপর বিভিন্ন ফলাফল ও প্রভাব বর্তায়। এটি মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তার চেয়ে ভিন্ন; কারণ মনস্তাত্ত্বিক নিরাপত্তা হলো একটি আবেগগত অনুভূতি যা সুনির্দিষ্ট নয় এবং এ ক্ষেত্রে মানুষের স্তরের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। ফলে কারো মন শান্ত হয় এবং সামান্যতম নিরাপত্তার সংশয়েই তার অন্তর প্রশান্ত হয়ে ওঠে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وبعضهم لا يزال في شكِّه وقلقه واضطرابه وإن تقلَّب في رياضٍ آمنةٍ، واجتمعت له أسباب الطمأنينة والسكينة والسعادة، وهذا حال أكثر النَّاس، كما قال ربُّنا سبحانه: {وَقَلِيلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ} [سبأ: 13]، وقال تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ خَرَجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَهُمْ أُلُوفٌ حَذَرَ الْمَوْتِ فَقَالَ لَهُمُ اللَّهُ مُوتُوا ثُمَّ أَحْيَاهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَذُو فَضْلٍ عَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ} [البقرة: 243]؛ وما أشبه حال كثيرٍ من اللاجئين إلى البلاد الغربيِّة بهذا، فإنَّ كثيرًا منهم قد خرجوا من ديارهم حَذَرَ الفقر والمرض والظلم والاضطهاد والموت، فبلَّغهم الله تعالى مأْمَنَهم، وأحياهم خير حياةٍ في المأكل والملبس والمسكن، ومع ذلك تجد أكثرهم متذمِّرين ساخطين، قلقين مضطربين؛ لأنَّهم قومٌ لا يشكرون!
والمقصود بالمستأمَن: «من يدخل دار غيره بأمانٍ؛ مسلمًا كان أو حربيًّا»
(1)، وهو في بحثنا هذا: المسلمُ الذي يدخل دار غير المسلمين بأمانٍ.
مصطلحات ذات صلة بموضوع البحث:
الجِوَارُ: مِنْ أجارَ الرجلَ إجارةً: خَفَرَهُ. واستجاره: سأله أن يجيره. وفي التنزيل العزيز: {وإن أحد من المشركين استجارك فأجره حتى يسمع كلام الله} [التوبة: 6]، قال الزَّجَّاجُ
(2): المعنى: إنْ طلب منك أحدٌ من أهل الحرب أن تُجيره من القتل إلى أن يسمع كلام الله؛ فأجره، أي: أَمِّنه، وعرِّفه ما يجب عليه أن يعرفه من أمر الله تعالى الذي يتبيَّن به الإسلامُ، ثم أبْلِغْهُ مأمنه، لئلا يُصابَ بسوءٍ قبلَ انتهائه إلى مأمنه. ويقال للذي يستجير بك: جارٌ. وللذي يُجير:
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে কেউ কেউ সর্বদা সন্দেহ, উৎকণ্ঠা ও অস্থিরতার মাঝে নিমজ্জিত থাকে, যদিও তারা নিরাপদ উদ্যানে বিচরণ করে এবং তাদের জন্য প্রশান্তি, স্বস্তি ও সুখের সকল উপকরণ একত্রিত হয়। এটিই অধিকাংশ মানুষের অবস্থা, যেমনটি আমাদের রব সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর আমার বান্দাদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই কৃতজ্ঞ} [সাবা: ১৩]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তুমি কি তাদের দেখনি যারা মৃত্যুভয়ে হাজারে হাজারে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়েছিল? তখন আল্লাহ তাদের বললেন: 'তোমাদের মৃত্যু হোক'। তারপর তিনি তাদের জীবিত করলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম দয়ালু, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না} [বাকারা: ২৪৩]। পশ্চিমা দেশগুলোতে আশ্রয় নেওয়া অনেক শরণার্থীর অবস্থা এর সাথে খুবই সাদৃশ্যপূর্ণ; কেননা তাদের অনেকেই দারিদ্র্য, রোগ-ব্যধি, জুলুম, নিপীড়ন এবং মৃত্যুর ভয়ে নিজ ঘরবাড়ি ত্যাগ করেছেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিয়েছেন এবং আহার, পোশাক ও বাসস্থানের দিক থেকে তাদের সর্বোত্তম জীবন দান করেছেন। তা সত্ত্বেও আপনি তাদের অধিকাংশকেই অভিযোগকারী, অসন্তুষ্ট, উৎকণ্ঠিত ও অস্থির দেখতে পাবেন; কারণ তারা এমন এক কওম যারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না!
নিরাপত্তাপ্রাপ্ত (المستأمن) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: «যে ব্যক্তি নিরাপত্তা (أمان) লাভের মাধ্যমে অন্যের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে; সে মুসলিম হোক কিংবা যুদ্ধরত কাফির (حربي) হোক»
(১)। আর আমাদের এই গবেষণায় এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: সেই মুসলিম যে নিরাপত্তার সাথে অমুসলিমদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে।
গবেষণার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিভাষাসমূহ:
আশ্রয় (الجِوَارُ): এটি ‘আজারা’ (أجار) থেকে নির্গত, যার অর্থ—কাউকে সুরক্ষা প্রদান করা। আর ‘ইস্তাজারা’ (استجاره) মানে হলো—আশ্রয় প্রার্থনা করা। পবিত্র কুরআনে এসেছে: {আর যদি মুশরিকদের কেউ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়} [তাওবা: ৬]। আয-যাজ্জাজ
(২) বলেন: এর অর্থ হলো—যদি যুদ্ধরতদের (أهل الحرب) কেউ তোমার কাছে আল্লাহর কালাম শোনার আগ পর্যন্ত হত্যার হাত থেকে বাঁচতে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দাও; অর্থাৎ তাকে নিরাপত্তা (أَمِّنه) প্রদান করো এবং মহান আল্লাহর নির্দেশের মধ্য থেকে তার যা জানা আবশ্যক, যার মাধ্যমে ইসলাম সুস্পষ্ট হয়, তা তাকে অবগত করো। এরপর তাকে তার নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দাও, যাতে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর আগে সে কোনো বিপদে না পড়ে। আর যে তোমার কাছে আশ্রয় চায় তাকে আশ্রয়প্রার্থী (جار) বলা হয়। আর যে আশ্রয় প্রদান করে তাকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
جارٌ. والجار: الذي أجرته من أن يظلمه ظالم. والجار والمجير: هو الذي يمنعك ويجيرك. واستجاره من فلان فأجاره منه. وأجاره الله من العذاب: أنقذه. وفي الحديث: «ويُجير عليهم أدناهم»
(1) أي: إذا أجار واحد من المسلمين ـ حُرٌّ أو عبدٌ أو امرأةٌ ـ واحدًا أو جماعةً من الكفار وخَفَرَهم وأَمَّنَهُم، جازَ ذلك على جميع المسلمين، لا يُنْقَضُ عليه جوارُه وأمانُه.
(2)وكان الجوارُ معروفًا عند العرب في جاهليَّتها، وكان موافقًا لشرع الله تعالى، فأقرَّه الإسلام.
المعاهِد والمعاهَد: بالبناء للفاعل والمفعول، لأنَّ الفعل من اثنين، فكل واحدٍ يفعل بصاحبه مثل ما يفعله صاحبه به، فكل واحدٍ في المعنى فاعلٌ ومفعولٌ، وهذا كما يقال: مكاتِبٌ ومكاتَبٌ، ومضارِبٌ ومضارَبٌ، وما أشبه ذلك. والعهد: الأمان والموْثِقُ والذِّمَّةُ، ومنه قيل للحربيِّ يدخل بالأمانِ: ذو عهدٍ، ومعاهد أيضًا. وأكثر ما يطلق في الحديث على أهل الذِّمَّة، وقد يطلق على غيرهم من الكفَّار إذا صُولحوا على ترك الحرب مدَّةً ما.
(3)--------------------------------------------
‘জার’ (جار)। আর ‘আল-জার’ (الجار) হলো সেই ব্যক্তি যাকে আপনি কোনো অত্যাচারীর জুলুম থেকে আশ্রয় দান করেছেন। আর ‘আল-জার’ (الجار) ও ‘আল-মোজির’ (المجير) হলো সেই ব্যক্তি যে আপনাকে সুরক্ষা প্রদান করে এবং আশ্রয় দেয়। সে অমুকের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা (استجاره) করল এবং সে তাকে আশ্রয় প্রদান (أجاره) করল। আর আল্লাহ তাকে আজাব থেকে মুক্তি দিয়েছেন (أجاره) অর্থাৎ উদ্ধার করেছেন। হাদিসে এসেছে: «তাদের (মুসলিমদের) সর্বনিম্ন স্তরের ব্যক্তিও তাদের পক্ষ থেকে আশ্রয় প্রদান (يجير) করতে পারে»
(১) অর্থাৎ: যদি কোনো একজন মুসলিম—চাই তিনি স্বাধীন হোন বা দাস হোন কিংবা নারী হোন—যদি কোনো একজন বা একদল কাফিরকে আশ্রয় প্রদান (أجار) করেন, তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করেন এবং তাদের নিরাপত্তা (أمن) দান করেন, তবে তা সকল মুসলিমের ওপর কার্যকর হবে; তার প্রদত্ত সেই আশ্রয় (جوار) ও নিরাপত্তা (أمان) ভঙ্গ করা যাবে না।
(২)জাহেলি যুগে আরবদের মাঝে এই আশ্রয় প্রদানের (جوار) প্রথা প্রচলিত ছিল এবং এটি মহান আল্লাহর শরীয়তের অনুকূলে ছিল, তাই ইসলাম একে অনুমোদন দিয়েছে।
‘মুআহিদ’ (المعاهد) এবং ‘মুআহাদ’ (المعاهد): এটি কর্তৃবাচ্য (اسم فاعل) ও কর্মবাচ্য (اسم مفعول) উভয় রূপেই পঠিত হয়, কারণ ক্রিয়াটি উভয় পক্ষ থেকে সম্পাদিত হয়। ফলে প্রত্যেকেই অপরের সাথে যা করে, অপরজনও তার সাথে তদ্রূপ আচরণ করে। তাই অর্থগতভাবে প্রত্যেকেই কর্তা (فاعل) এবং কর্ম (مفعول)। এটি ঠিক যেমন বলা হয় ‘মুকাতিব’ (مكاتب) ও ‘মুকাতাব’ (مكاتب), ‘মুদারিব’ (مضارب) ও ‘মুদারাব’ (مضارب) এবং এই জাতীয় অন্যান্য শব্দের মতো। আর ‘আহদ’ (العهد) অর্থ হলো নিরাপত্তা (الأمان), দৃঢ় অঙ্গীকার (الموثق) ও জিম্মাদারি (الذمة)। এই অর্থ থেকেই এমন হারবি বা যুদ্ধরত কাফিরকে ‘যু আহদ’ (ذو عهد) বা ‘মুআহিদ’ (معاهد) বলা হয় যে নিরাপত্তা (أمان) নিয়ে মুসলিম জনপদে প্রবেশ করে। হাদিসে এই শব্দটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে জিম্মিদের (أهل الذمة) ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। তবে জিম্মি ছাড়া অন্যান্য কাফিরদের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে, যখন তাদের সাথে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুদ্ধ বিরতির চুক্তি করা হয়।
(৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদ-দুখুল ফী আমানি গাইরিল মুসলিমীন ওয়া আসারুহু ফিল ফিকহিল ইসলামী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
2 - مشروعيَّةُ مَنْحِ الكفَّارِ الحربيِّينَ الأمانَ، ووجوبُ الوفاءِ لهم به:تبيَّن لنا من المبحث السابق أنَّ للأمان صورتين:
الأولى: دخول غير المسلم في أمان المسلمين.
والثانية: دخول المسلم في أمان غير المسلمين.
وأرى من المناسب أن أقدِّم بذكر نبذةٍ في تقرير الصورة الأولى، وإن كانت خارجةً عن موضوع بحثنا هذا، ولها أحكام تفصيلية مذكورة في كتب الفقه؛ ولكنَّ الإشارةَ إليها مفيدةٌ لتعلُّقها بموضوعنا من جهة أنَّ الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم قد أوجبَا على المسلم الوفاء بعهد الأمان والالتزام بموجباته في كلا الحالتين. فكما أنَّ المسلمَ يحبُّ أن يُعامَل بالصدق والوفاء ويتوقَّى الغدرَ والخيانةَ؛ فكذلك يجب عليه شرعًا أنْ يُعامِل غيرَه على أساسٍ متينٍ من المبادئ السامية، والأخلاق القويمة؛ فلا يُقامُ الدِّينُ ولا تصلح حياة البشرية إلا بالتعايش بينهم بقواعد مشتركة، أهمُّ معالمها: العدلُّ والالتزام بالعهود والمواثيق.
لقد اتَّفق العلماءُ على مشروعيَّة منح الكافر الأمان في دخول بلاد الإسلام والإقامة فيها مدَّة معيَّنةً؛ إِنْ دعت الحاجةُ إلى ذلك، وكان فيه مصلحةٌ
(1)، والأصل في هذا قوله تعالى: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لا يَعْلَمُونَ} [التوبة: 6].
--------------------------------------------
২ - যুদ্ধরত কাফিরদের নিরাপত্তা প্রদানের বৈধতা এবং তা পূর্ণ করার আবশ্যকতা:পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদ থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, নিরাপত্তার দুটি রূপ রয়েছে:
প্রথমটি: অমুসলিমদের মুসলিমদের নিরাপত্তায় প্রবেশ করা।
দ্বিতীয়টি: মুসলিমদের অমুসলিমদের নিরাপত্তায় প্রবেশ করা।
আমি প্রথম রূপটির বর্ণনায় একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদান করা সমীচীন মনে করছি, যদিও এটি আমাদের বর্তমান আলোচনার বিষয়ের বহির্ভূত এবং ফিকহশাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে এর বিস্তারিত বিধানাবলি উল্লিখিত হয়েছে; তবে এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা উপকারী, কারণ এর সাথে আমাদের বর্তমান প্রসঙ্গের সম্পৃক্ততা রয়েছে। মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উভয় ক্ষেত্রেই নিরাপত্তার অঙ্গীকার পূর্ণ করা এবং এর দাবিগুলো মেনে চলা মুসলিমদের ওপর আবশ্যক করেছেন। একজন মুসলিম যেভাবে প্রত্যাশা করে যে তার সাথে সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার আচরণ করা হোক এবং সে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা থেকে বেঁচে থাকতে চায়; ঠিক তেমনিভাবে শারঈ দৃষ্টিকোণ থেকে তার ওপর আবশ্যক হলো অন্যের সাথে মহৎ মূলনীতি ও সুদৃঢ় চরিত্রের ভিত্তিতে আচরণ করা। সাধারণ নিয়মাবলির ভিত্তিতে সহাবস্থান ব্যতীত দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় না এবং মানবজীবনও সুন্দর হয় না, যার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো: ন্যায়বিচার এবং অঙ্গীকার ও চুক্তিসমূহ পালন করা।
আলেমগণ কোনো কাফিরকে মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশ এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেখানে অবস্থানের উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা প্রদানের বৈধতার ব্যাপারে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন; যদি তার প্রয়োজন দেখা দেয় এবং তাতে কোনো কল্যাণ নিহিত থাকে
(১)। আর এর মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: “আর মুশরিকদের মধ্যে কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় চায়, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়। তারপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। এটা এজন্য যে, তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা জানে না।” [সূরা আত-তাওবা: ৬]
--------------------------------------------