(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: -)
الروض الأنف في شرح سيرة ابن هشام - ت الوكيل   (السهيلي)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: الروض الأنف في شرح السيرة النبوية لابن هشام

المؤلف: عبد الرحمن السهيلي (508 - 581 هـ)

ومعه: "السيرة النبوية" للإمام ابن هشام (ت 218 هـ)

تحقيق وتعليق وشرح: عبد الرحمن الوكيل [ت 1390 هـ]

الناشر: دار الكتب الحديثة، لصاحبها توفيق عفيفي - مصر

طبع: دار النصر للطباعة، لصاحبها أحمد حمدي شعبان - القاهرة

الطبعة: الأولى (1387 - 1390 هـ) = (1967 - 1970 م)

وصَوّرَتْها: مكتبة ابن تيمية - القاهرة

عدد الأجزاء: 7

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সীরাতে ইবনে হিশামের ব্যাখ্যাগ্রন্থ আর-রওযুল উনুফ - আল-ওয়াকীল সম্পাদিত   (আস-সুহাইলী)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


কিতাব: ইবনে হিশামের সীরাতুন নবীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আর-রওযুল উনুফ

লেখক: আব্দুর রহমান আস-সুহাইলী (৫০৮ - ৫৮১ হিজরী)

সাথে রয়েছে: "সীরাতুন নবী" ইমাম ইবনে হিশাম (ওফাত ২১৮ হিজরী) বিরচিত

তাহকীক, টীকা ও ব্যাখ্যা: আব্দুর রহমান আল-ওয়াকীল [ওফাত ১৩৯০ হিজরী]

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-হাদীসাহ, স্বত্বাধিকারী তাওফীক আফীফী - মিসর

মুদ্রণ: দারুন নাসর মুদ্রণালয়, স্বত্বাধিকারী আহমদ হামদী শা'বান - কায়রো

সংস্করণ: প্রথম (১৩৮৭ - ১৩৯০ হিজরী) = (১৯৬৭ - ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দ)

অনুলিপি প্রস্তুতকারক: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়া - কায়রো

খণ্ড সংখ্যা: ৭

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الجزء الأول

 

‌‌مقدمة المؤلف

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمنِ الرَّحِيمِ الْحَمْدُ لِلّهِ رَبّ العالمين.

والصلاة والسلام على خاتم النبيين.

أما بعد: فحينما عهد إلىّ بهذا الكتاب «كتاب الروض الأنف» لتحقيقه توجهت إلى الله بالضراعة أن يهدى فكرى إلى الحق الجليل، والصدق النبيل، والصواب الجميل، وأن يلهمنى البيان الذى يرف بوضاءة الحق، وإشراق الجمال، وأن يجعل من عملى فى الكتاب صالحة أبلغ بها من رضوانه رزقا كريما به تنعم الروح، وتهنأ النفس، وتجمل الحياة فى الأولى والآخرة.

ليس تحقيق هذا الكتاب بالعمل الهين، فهو عن النبى العظيم الذى به ختمت النبوات، والإنسان الذى أشرقت الإنسانية فيه بكمالها الأعظم، والذى يعتبر تاريخه بعد الوحى هو تاريخ التطبيق الحق لما جاء به القرآن، كما قالت أم المؤمنين عائشة- رضى الله عنها- حين سئلت عن خلق النبى، فقالت:

«كان خلقه القرآن»

ثم هو من تأليف إمام أندلسى كبير ذهبت آراؤه- فى دين كثير من الناس- مذهب الحجة الناصعة التى لا يجوز أن تتلقى إلا بالإذعان، ومذهب البرهان الذى يشع منه فلق الصبح الوضئ.
প্রথম খণ্ড

 

‌‌লেখকের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবীর ওপর।

অতঃপর: যখন আমাকে এই 'কিতাবুর রওজুল উনুফ' গ্রন্থটি সম্পাদনার দায়িত্ব অর্পণ করা হলো, তখন আমি আল্লাহর নিকট বিনীত প্রার্থনা জানালাম যেন তিনি আমার চিন্তাধারাকে মহান সত্য, মহৎ সততা এবং সুন্দর সঠিকতার দিকে পরিচালিত করেন। আর তিনি যেন আমাকে এমন বর্ণনাভঙ্গি দান করেন যা সত্যের উজ্জ্বলতা ও সৌন্দর্যের আভায় উদ্ভাসিত হয়। তিনি যেন এই কিতাবে আমার কাজকে এমন এক নেক আমলে পরিণত করেন যার মাধ্যমে আমি তাঁর সন্তুষ্টির এমন এক উত্তম রিযিক লাভে সক্ষম হই, যা দ্বারা আত্মা প্রশান্তি পায়, প্রাণ তৃপ্ত হয় এবং ইহকাল ও পরকালে জীবন সুন্দর হয়।

এই কিতাবটি সম্পাদনা করা কোনো সহজ কাজ নয়; কারণ এটি সেই মহান নবী সম্পর্কে যাঁর মাধ্যমে নবুওয়াতের পরিসমাপ্তি ঘটেছে এবং সেই মহামানব সম্পর্কে যাঁর মাঝে মানবতা তার চরম পূর্ণতায় উদ্ভাসিত হয়েছে। ওহীর পর যাঁর জীবন ইতিহাস হলো কুরআনের আনীত বিধানের বাস্তব প্রয়োগের সঠিক ইতিহাস। যেমনটি উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছিলেন, যখন তাঁকে নবীর চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছিলেন:

«তাঁর চরিত্র ছিল কুরআন»

তদুপরি, এটি একজন প্রথিতযশা আন্দালুসীয় ইমামের রচনা, যাঁর সুচিন্তিত মতামত—বহু মানুষের দ্বীনি বিষয়ে—অকাট্য প্রমাণের মর্যাদা লাভ করেছে, যা আনুগত্য ব্যতিরেকে গ্রহণ করার অবকাশ নেই। এটি এমন এক প্রমাণের পথ যা থেকে ভোরের উজ্জ্বল আলোকচ্ছটা বিচ্ছুরিত হয়।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ৬)
إمام بسط سلطانه القوى على الكثير من أئمة الدين فى عصره وبعد عصره- لما ذهب إليه فى كتابه «الروض الأنف» - الهيمنة على من قاموا بشرح السيرة، أو الحديث عنها بعده؛ لأنه احتشد لهذا الكتاب بكل ما كان عليه من علم وذكاء ومعرفة وريفة، فأودعه كل هذا، فكان أشبه «بدائرة معارف» فى السيرة والتاريخ والحديث والفقه والنحو واللغة.

والكتاب شرح لسيرة «ابن هشام» وحسبنا أن نذكر هذا؛ فسيرة ابن هشام أجلّ من أن تعرّف، فلمؤلقها- أو لمهذيها- المكانة الممتازة التى تتألق على ذرا التاريخ بآياتها الباهرة.

وأنت فى هذا الكتاب تجد نفسك بين عاطفة تتوهج بالأشواق، وعقل يرصد أفق الحقيقة، عاطفة قد لا يندى ظمأها إلا تهويلات الخرافات، وتهويمات الأساطير، وعقل يستشرف الحق علوىّ السلطان، وقد جعله الإيمان ذا رغبة فى أن يكون هذا الحق فى وضوحه جمال صبح ناضر، وألق نور زكى باهر.

ثم أنت أيضا قبل هذا تحت سلطان عقيدة هى المثل الأعلى للحق فى صفائه وجماله وجلاله. عقيدة لا يلمح أحد فى حقائقها الإلهية أثارة ما من خيال يفتنه بسحره وشعره، وإنما يرى نورا وحياة بهما يكون النور، وتكون الحياة لكل مسلم، لأن هذه العقيدة حق من حكيم حميد.

ثم أنت- أيضا- أمام نصوص انتقلت إلينا عبر قرون. والأمانة تفرض علينا أن نبقيها كما هى، لنعرف الحقيقة غير مشوبة بشئ. فهذا هو الواجب فى تحقيق التراث، فلا ينزع بنا الهوى إلى تحريف أو تبديل، فنعيد مأساة التراث حين استخفت به اللعنة اليهودية، فغيرت معالمه، وأحالته أمشاجا
তিনি এমন একজন ইমাম, যিনি তাঁর সমকালীন এবং পরবর্তী যুগের বহু ধর্মীয় ইমামের ওপর নিজের শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তাঁর 'আর-রাওদ আল-উনুফ' গ্রন্থে যা বিধৃত হয়েছে, তা তাঁর পরবর্তী সীরাত ব্যাখ্যাকারী বা সীরাত আলোচনা কারীদের ওপর এক আধিপত্য বজায় রেখেছে। কেননা, তিনি তাঁর সমস্ত ইলম, মেধা এবং সুগভীর জ্ঞান এই কিতাবটিতে পুঞ্জীভূত করেছেন এবং এতে সবটুকু ঢেলে দিয়েছেন। ফলে এটি সীরাত, ইতিহাস, হাদীস, ফিকহ, নাহু ও ভাষার এক 'বিশ্বকোষ' সদৃশ হয়ে উঠেছে।

কিতাবটি 'সীরাতে ইবনে হিশাম'-এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এ কথা উল্লেখ করাই আমাদের জন্য যথেষ্ট; কারণ সীরাতে ইবনে হিশাম পরিচিতি প্রদানের ঊর্ধ্বে। এর সংকলক—বা পরিমার্জনকারীর—মর্যাদা ইতিহাসের শিখরে তাঁর উজ্জ্বল নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে ভাস্বর হয়ে আছে।

এই কিতাবটিতে আপনি নিজেকে এমন এক আবেগের মাঝে পাবেন যা আকাঙ্ক্ষায় প্রজ্বলিত, এবং এমন এক বুদ্ধিবৃত্তির মাঝে যা সত্যের দিগন্ত পর্যবেক্ষণ করে। এমন এক আবেগ যার তৃষ্ণা হয়তো কেবল অলীক কল্পকাহিনী ও পৌরাণিক গল্পের মোহগ্রস্ততা ছাড়া মেটে না, এবং এমন এক বুদ্ধিবৃত্তি যা সুউচ্চ কর্তৃত্বসম্পন্ন সত্যের প্রত্যাশা করে। ঈমান এই বুদ্ধিবৃত্তিকে এমন এক আকাঙ্ক্ষায় রূপান্তিত করেছে যেন এই সত্য তার স্পষ্টতায় একটি সজীব প্রভাতের সৌন্দর্য এবং এক পবিত্র উজ্জ্বল আলোর দীপ্তি লাভ করে।

তদুপরি, আপনি এমন এক আকিদার অধীনে রয়েছেন যা তার শুভ্রতা, সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্যের দিক থেকে সত্যের এক সর্বোচ্চ আদর্শ। এমন এক আকিদা যার ঐশী হাকীকত বা বাস্তবতার মাঝে কেউ কল্পনাপ্রসূত কোনো নিদর্শনের লেশমাত্র খুঁজে পায় না যা তাকে যাদু বা কাব্য দিয়ে মোহাচ্ছন্ন করবে; বরং সেখানে দেখা যায় এমন এক নূর ও জীবন, যার মাধ্যমে প্রতিটি মুসলিমের জন্য নূর ও জীবনের অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়। কারণ এই আকিদা প্রজ্ঞাময় ও প্রশংসিত সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এক ধ্রুব সত্য।

এছাড়া আপনি এমন সব মূল পাঠের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন যা শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে আমাদের কাছে পৌঁছেছে। আমানতদারিতার দাবি হলো আমরা এগুলোকে ঠিক সেভাবেই সংরক্ষণ করি যেভাবে তা রয়েছে, যাতে আমরা কোনো প্রকার মিশ্রণ ছাড়াই প্রকৃত সত্যকে জানতে পারি। এটিই হলো ঐতিহ্য বা তুরাছ গবেষণার আবশ্যিক কর্তব্য। সুতরাং প্রবৃত্তি যেন আমাদের কোনো বিকৃতি বা পরিবর্তনের দিকে ধাবিত না করে; অন্যথায় আমরা ঐতিহ্যের সেই ট্র্যাজেডিরই পুনরাবৃত্তি করব যখন ইহুদি অভিশাপ একে তুচ্ছজ্ঞান করেছিল, এর বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিবর্তন করে দিয়েছিল এবং একে এক জগাখিচুড়ি বা মিশ্রণে পরিণত করেছিল।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ৭)
من الحق والباطل، ومن الإيمان والكفر، ومن وحى الرحمن، ووسوسة الشيطان، ثم أظهرته فى عماية التاريخ تزعم أنه مطيّب بروح السماء. وإذا كان هذا هو المفروض علينا حيال أى تراث، فما بالنا ونحن مع تراث يقص سيرة النبوة الخاتمة، سيرة الإنسانية الكاملة، وهى تسلك السبيل الأقوم على نور الوحى وهدايته، سيرة محمد- صلى الله عليه وسلم وهو يطبق القرآن أول تطبيق وأعظم تطبيق ليكون للبشرية المؤمنة شرعا ومنهاجا، يطبقه فى اعتقاده وعبادته وخلقه، وسلوكه فى الحياة. كل هذا فى أصدق إيمان، وأشرف إرادة، وأقدس غاية ونية، فكانت سنته- عليه الصلاة والسلام الآية على السلوك الذى به تهتدى وتشرف الحياة، وتضئ بأعظم القيم.

وكانت سيرته السيرة التى تجذب إليها بالحب الصدوق، والإعجاب الودود كل مشاعر النفس ونوازع الحس، وتفرض بالحب على الفكر الحر الذى لم تزغه حمية جاهلية، أو ضلالة صليبية أن يسجد خاشعا لله الذى خلق هذا الإنسان، واصطفاه خاتما للنبيين.

فإذا وجدنا نصوص التراث آيات حقّ أحببنا التراث وأكبرناه، وإذا لم نجده كذلك فماذا نفعل؟ هذا بعض ما يعرض من قضايا أمام العقل والقلب، ولقد استهديت- للفصل فيها فصلا قويما- بهدى القرآن، فإننا نراه يقص علينا مفتريات عبدة الهوى والإثم. ثم يكر عليها بالحجة التى تزهق الباطل؛ لهذا تركت النص كما هو فى شعور جعلنى أو من أننى لو نلت منه- حين يصدم ما أدين به- فإنى أنال من قدسية الحقيقة. هذا والإنسان الذى يكتب عن الرسول- صلى الله عليه وسلم يخشى على نفسه أن تجمح به عاطفة مشبوبة أو مجنونة تسحرها خلابة التصورات التى يفتن بها الهوى عبيده، أو يخشى عليها من شطط الفكر المغرور بنفسه، فإن استبدّت تلك العاطفة بزمامه استهواه
সত্য ও মিথ্যা, ঈমান ও কুফর, দয়াময়ের ওহি এবং শয়তানের কুমন্ত্রণার মধ্য থেকে; অতঃপর ইতিহাসের অন্ধকারের ভেতর তা এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যে তা আসমানি রুহ দ্বারা সুশোভিত বলে দাবি করা হয়। যেকোনো ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে যদি আমাদের উপর এটিই অর্পিত দায়িত্ব হয়, তবে সেই ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা কী হওয়া উচিত যা সর্বশেষ নবুওয়াতের সীরাত এবং পূর্ণাঙ্গ মানবতার সীরাত বর্ণনা করে, যা ওহির আলো ও হিদায়াতের ওপর সুদৃঢ় পথে পরিচালিত হয়; অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাত, যখন তিনি কুরআনের প্রথম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন যাতে মুমিন মানবতার জন্য তা শরীয়ত ও জীবনপদ্ধতি হিসেবে গণ্য হয়; তিনি তা প্রয়োগ করেছেন নিজের আকিদা, ইবাদত, আখলাক এবং জীবনের প্রতিটি আচরণে। এই সবকিছুই ছিল সত্যতম ঈমান, সুমহান ইচ্ছা এবং পবিত্রতম লক্ষ্য ও নিয়তের সাথে। ফলে তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সুন্নাহ এমন এক আচরণের নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে যার মাধ্যমে জীবন পরিচালিত ও সম্মানিত হয় এবং মহান সব মূল্যবোধে উদ্ভাসিত হয়।

তাঁর সীরাত ছিল এমন এক সীরাত যা সত্য ভালোবাসা এবং প্রীতিময় মুগ্ধতার মাধ্যমে আত্মার সমস্ত অনুভূতি ও ইন্দ্রিয়ের স্পন্দনকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে। আর তা এমন মুক্তচিন্তার ওপর ভালোবাসার মাধ্যমে এই বাধ্যবাধকতা আরোপ করে—যাকে কোনো জাহেলি গোঁড়ামি বা ক্রুসেডীয় ভ্রষ্টতা বিচ্যুত করেনি—যেন সে সেই আল্লাহর সামনে বিনম্রভাবে সিজদাবনত হয়, যিনি এই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁকে সর্বশেষ নবী হিসেবে মনোনীত করেছেন।

সুতরাং আমরা যদি ঐতিহ্যের পাঠ্যগুলোতে সত্যের নিদর্শন খুঁজে পাই, তবে আমরা সেই ঐতিহ্যকে ভালোবাসি এবং সম্মান করি; আর যদি তা না পাই, তবে আমরা কী করব? এগুলো এমন কিছু বিষয় যা বুদ্ধি ও হৃদয়ের সামনে উপস্থিত হয়। এগুলোর ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আমি কুরআনের হিদায়াত থেকে আলো গ্রহণ করেছি। কারণ আমরা দেখি যে, কুরআন আমাদের কাছে প্রবৃত্তি ও গুনাহের পূজারীদের মিথ্যাচারগুলো বর্ণনা করে। অতঃপর কুরআন এমন সব দলিলের মাধ্যমে সেগুলোর ওপর আঘাত হানে যা বাতিলকে ধ্বংস করে দেয়। এ কারণেই আমি মূল পাঠ্যটিকে তার নিজ অবস্থায় রেখে দিয়েছি এমন এক অনুভূতির সাথে, যা আমাকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে, আমি যদি এর থেকে কোনো অংশ পরিবর্তন বা বিয়োজন করি—যখন তা আমার বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক হয়—তবে আমি মূলত সত্যের পবিত্রতাকেই ক্ষুণ্ণ করব। আর যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে লিখেন, তিনি নিজের ব্যাপারে এই আশঙ্কা করেন যে, কোনো প্রজ্বলিত বা উন্মত্ত আবেগ যেন তাঁকে নিয়ন্ত্রণহীন করে না ফেলে, যা সেইসব বিভ্রান্তিকর কল্পনার মাধ্যমে মোহাচ্ছন্ন করে যার দ্বারা প্রবৃত্তি তার দাসদের প্রলুব্ধ করে। অথবা তিনি নিজের ব্যাপারে আত্মগর্বী চিন্তার বাড়াবাড়ি থেকে আশঙ্কা করেন; কেননা যদি সেই আবেগ তার নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করে, তবে তা তাকে পথভ্রষ্ট করবে।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ৮)
الشيطان واستغواه، واستزله إلى عبادة وهم أسطورى سحرىّ الأصباغ والألوان يسميه له محمدا!! واصفا إيّاه له بما لله وحده من صفات كما صنع الصوفيون الإشراقيون أمثال السهروردى المقتول، والحلاج وابن عربى والجيلى وابن سبعين والصدر القونوى، وغيرهم ممن حكموا على محمد أنه هو الله ذاتا وصفة وربوبية وألوهية، أنه هو الحق والخلق، والرب والعبد، أنه هو الوجه الإنسانى للحقيقة الإلهية، أو أنه المظهر البشرى لماهية الربوبية، أو أنه حقيقة الوجود المطلق فى إطلاقه وعمائه وتجلّياته وتعيّناته وسرمديته وديموميته. وقد لا يستزله الشيطان إلى أعماق هذه الهاوية، وهو يكتب عن النبى- صلى الله عليه وسلم فيحمله على أن يؤكد بألفاظه أنه يدين بالفصل بين الوجودات، فيدين بوجود حق، ويدين بوجود خلق. بوجود رب، ووجود عبد، ولكنه يضيف إلى هذا الذى تسميه عبدا أسماء وأفعالا تجعلك ترى ربا لا عبدا، وخالقا لا خلقا. إنه يزعم أن الله صرّف محمدا، أو غيره فى شئون خلقه، ووهب له تدبير شئون الملك والملكوت، والجبر والجبروت!! هذا الإنسان الذى يكتب هذا أو يتصوره إما خادع بنفاق، وإما مخدوع بنفاق!! لقد فصل لغويا بين لفظين هما: رب وعبد، وبين اسمين هما: الله ومحمد، وظن أنه بهذا الفصل اللغوى قد نجا مع الإيمان من الكفر، ومع التوحيد من الشرك. غير أنك حين تبتلى ما يعتقده فى محمد، وما يكتبه عن محمد عبدا ورسولا، تجده يسوى فى اعتقاده تسوية تامة بين محمد وبين الله. لقد خدعه الشيطان عن قتلته، فظن أنه أحياه، ورشف من يديه كأس السعادة والخلود!! إن مصيره مع نفس تلك المصائر التى تردّى فيها كهنته من قبل كابن عربى وتلاميذه.

إنك حين تقرأ لابن عربى فصوص الحكم، ولعبد الكريم الجيلى كتابه الموسوم بالإنسان الكامل ولابن الفارض تائيته الكبرى التى تدنو من
শয়তান তাকে বিভ্রান্ত করেছে এবং তাকে একটি পৌরাণিক মোহে লিপ্ত করে পদস্খলিত করেছে, যা জাদুকরী রঙে রঞ্জিত এবং সেটিকে সে তার জন্য 'মুহাম্মাদ' নাম দিয়েছে!! সে তাকে আল্লাহর সেই সমস্ত গুণাবলি দ্বারা বিশেষিত করেছে যা একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট, যেমনটি ইশরাকি সুফিরা করেছেন; যেমন সুহরাওয়ার্দী আল-মাকতুল, হাল্লাজ, ইবনুল আরাবি, আল-জিলি, ইবনে সাবঈন, সদর আল-কুনাবি এবং অন্যান্যরা। তারা মুহাম্মাদের ব্যাপারে এই ফয়সালা দিয়েছেন যে, তিনি সত্তা, গুণাবলি, রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব) এবং উলুহিয়্যাত (উপাস্যত্ব) অনুযায়ী স্বয়ং আল্লাহ; তিনি হক (স্রষ্টা) এবং খালক (সৃষ্টি), তিনি রব এবং বান্দা। তিনি ইলাহি সত্যের মানবিক চেহারা, অথবা রুবুবিয়্যাতের মূল সত্তার মানবীয় প্রকাশ, অথবা তিনি তাঁর পরম অবস্থা, অস্পষ্টতা, বিকাশ, প্রকাশভঙ্গি, অবিনশ্বরতা এবং স্থায়িত্বে পরম অস্তিত্বের হাকিকত। শয়তান হয়তো তাকে এই গভীর অতলে পতিত করেনি, অথচ তিনি যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে লেখেন, তখন তিনি তার শব্দের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করতে বাধ্য হন যে তিনি অস্তিত্বসমূহের পার্থক্যে বিশ্বাস করেন। তাই তিনি হকের (স্রষ্টার) অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন এবং সৃষ্টির অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন; রবের অস্তিত্বে এবং বান্দার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন। কিন্তু তিনি এই বান্দা নামক সত্তার সাথে এমন কিছু নাম এবং কর্ম যুক্ত করেন যা আপনাকে একজন রব দেখায়, বান্দা নয়; একজন স্রষ্টা দেখায়, সৃষ্টি নয়। তিনি দাবি করেন যে, আল্লাহ মুহাম্মাদকে—অথবা অন্য কাউকে—তাঁর সৃষ্টির বিষয়াবলি পরিচালনার ভার দিয়েছেন এবং তাঁকে মুলক ও মালাকুত (জগত ও আধ্যাত্মিক জগত) এবং জাবর ও জাবরুত (ক্ষমতা ও মহিমা)-এর বিষয়াবলি পরিচালনার ক্ষমতা দান করেছেন!! যে ব্যক্তি এটি লেখে বা কল্পনা করে, সে হয় মুনাফেকির মাধ্যমে প্রতারণা করছে, অথবা নিজেই মুনাফেকির দ্বারা প্রতারিত!! তিনি ভাষাগতভাবে দুটি শব্দের মধ্যে পার্থক্য করেছেন: 'রব' এবং 'বান্দা', এবং দুটি নামের মধ্যে: 'আল্লাহ' এবং 'মুহাম্মাদ'। তিনি ভেবেছিলেন এই ভাষাগত পার্থক্যের মাধ্যমে তিনি ইমানের সাথে কুফুর থেকে এবং তাওহিদের সাথে শিরক থেকে বেঁচে গিয়েছেন। তবে আপনি যখন মুহাম্মাদের প্রতি তার বিশ্বাস এবং বান্দা ও রাসুল হিসেবে মুহাম্মাদ সম্পর্কে তার লেখনি পরীক্ষা করবেন, তখন দেখবেন তিনি তার বিশ্বাসে মুহাম্মাদ এবং আল্লাহর মধ্যে পূর্ণ সমতা স্থাপন করেছেন। শয়তান তাকে তার ধ্বংসের বিষয়ে প্রতারিত করেছে, ফলে সে ভেবেছে যে সে তাকে জীবিত করেছে এবং তার হাত থেকে সুখ ও অমরত্বের পেয়ালা পান করেছে!! তার পরিণতি ঠিক সেই পরিণতিগুলোর মতোই হবে যেগুলোর মধ্যে তার পূর্বসূরি গুরুরা নিপতিত হয়েছিল, যেমন ইবনুল আরাবি এবং তার শিষ্যরা।

আপনি যখন ইবনুল আরাবির 'ফুসুসুল হিকাম', আব্দুল কারিম আল-জিলির 'আল-ইনসানুল কামিল' এবং ইবনুল ফারিদ-এর 'তাইয়্যাতুল কুবরা' পড়বেন, যা... এর নিকটবর্তী...
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ৯)
سبعمائة بيت، ستجد نعيق الحقد، ونعيب الوثنية، مصوّرين نغمات محبة، وتسبيحات توحيد، وحفيف أجنحة الملائكة فى فجر المحاريب.

ستجد الزعم بأن فرعون هو الله حكمة وحكما، وقهرا وملكا، وبأن الشيطان هو أصل من أصول الحقيقة المحمدية، وبأن أولئك الغوانى اللاتى سرن فى التاريخ غزل فتنة، ونسيب صبوات لم يكنّ سوى الله فى أجمل مظاهره!! كان قيس هو الله فى مظهر ذكورة، وكانت ليلى هى الله فى مظهر أنوثة. كان كل شئ هو حقيقة الله التى تتجلى فى صور شتى، شيخ عابد، وعربيد جاحد، وملك كريم، وشيطان رجيم. فالحقيقة الإلهية تجمع فى كنهها بين النقيضين وبين الضدين، وبهذا تنعدم التفرقة بين الحقائق المتباينة، أو تلتقى المتناقضات كلها فى حقيقة سموها: الحقيقة الإلهية، أو الحقيقة المحمدية التى هى حقيقة الوجود، وحقيقة العدم، الوجود المطلق، والوجود المتعين، الخير والشر، الإيمان والكفر، الحق والباطل، الصدق والكذب، وفى التعين البشرى هى: نوح ويغوث، وهى موسى وفرعون، وهى أبو بكر وأبو جهل!!

بين هذه الفهوم تناوحت صور الحقيقة المحمدية، أو صورة الوهم الذى افتروا له اسم محمد، وبهذا النباح تجاوبت الكلاب الشاردة، لعلها تطغى به على النغمة العلوية التى تمجد محمدا، وهو على قمة البشرية، يشع بأنوار النبوة الخاتمة.

إن هؤلاء وأولئك عبد شياطين تنزّت بهم أحقادهم، فإذا هى تدق بهم كل باب من أبوب جهنم.

وإن استبدّت بالكاتب عبادته لعقله فى قصوره وتقصيره تردّت به فى
সাতশটি পঙ্ক্তি, আপনি এতে বিদ্বেষের কর্কশ চিৎকার এবং পৌত্তলিকতার হাহাকার খুঁজে পাবেন, যেগুলোকে চিত্রিত করা হয়েছে ভালোবাসার সুর, তাওহীদের মহিমাগান এবং মেহরাবগুলোর ভোরে ফেরেশতাদের ডানার ঝাপটানি হিসেবে।

আপনি সেখানে এমন দাবি পাবেন যে, ফেরাউন হলো হিকমত ও শাসন এবং প্রতাপ ও রাজত্বের দিক থেকে আল্লাহ; এবং শয়তান হলো হাকীকতে মুহাম্মাদিয়ার মূল ভিত্তিগুলোর একটি; আর ইতিহাসের পাতায় বিচরণকারী সেই নর্তকী-গায়িকারা যারা ফিতনা ও লালসার কারণ ছিল, তারা আল্লাহরই সুন্দরতম প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই ছিল না!! কায়েস ছিল পুরুষরূপে আল্লাহ, আর লাইলী ছিল নারীরূপে আল্লাহ। প্রতিটি বস্তুই ছিল আল্লাহর হাকীকত যা বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়; কখনো ইবাদতকারী শায়েখ, কখনো অবিশ্বাসী মদ্যপ, কখনো দয়ালু ফেরেশতা, আবার কখনো বিতাড়িত শয়তান। ফলে ঐশ্বরিক হাকীকত তার সত্তায় দুই বৈপরীত্য ও দুই বিপরীতমুখী বিষয়ের সমন্বয় ঘটায়। এর মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতার মধ্যকার পার্থক্য বিলুপ্ত হয়ে যায়, অথবা সমস্ত বৈপরীত্য এক উচ্চতর হাকীকতে এসে মিলিত হয়: যা হলো ঐশ্বরিক হাকীকত বা হাকীকতে মুহাম্মাদিয়া; যা অস্তিত্ব ও অনস্তিত্বের হাকীকত, পরম অস্তিত্ব ও নির্দিষ্ট অস্তিত্ব, কল্যাণ ও অকল্যাণ, ঈমান ও কুফর, সত্য ও মিথ্যা, সততা ও অসত্য। আর মানবীয় রূপায়নে তা হলো: নূহ ও ইয়াগুস, মূসা ও ফেরাউন এবং আবু বকর ও আবু জাহল!!

এই সব উপলব্ধির মাঝে হাকীকতে মুহাম্মাদিয়ার বিভিন্ন রূপ আন্দোলিত হয়েছে, অথবা সেই ভ্রান্তির চিত্র যাকে তারা মুহাম্মাদ নাম দিয়েছে। এই ঘেউ ঘেউ ধ্বনিতে বিভ্রান্ত কুকুরগুলো সাড়া দিয়েছে, সম্ভবত তারা এর মাধ্যমে সেই উচ্চতর সুরকে দমিয়ে দিতে চায় যা মুহাম্মাদকে মহিমান্বিত করে, যখন তিনি মানবতার শীর্ষে অবস্থান করে শেষ নবুওয়াতের আলোয় উদ্ভাসিত।

নিশ্চয়ই এরা এবং তারা সবাই শয়তানের দাস যাদের বিদ্বেষ তাদের ভেতরে উথলে উঠেছে, ফলে তা তাদের নিয়ে জাহান্নামের প্রতিটি দরজায় করাঘাত করছে।

আর যদি লেখকের নিজ বুদ্ধির সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটির মাঝে তার বুদ্ধিপূজা তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তবে তা তাকে নিপতিত করে...
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ১০)
هوة سحيقة، وهو يحسب أنه يرقى معارج السماء!.

إنه نزّاع إلى إخضاع كل شئ فى وضح الشهود، أو فى سرائر الغيب لمقاييسه العقلية، أو- بتعبير أدق- لهواه يعبق بالفتنة الخلوب، فالخير هو ما يرى، أو ما يشعر أنه خير، وكذلك الشر، وكذلك الحق والباطل، وإن يك كلّ ذلك فى مقياس الحقيقة مناقضا لرؤيته ووجدانه.

مثل هذا المترف بعبادة العقل، أو المسرف فى الجحود ينظر إلى محمد، وكأنما هو بشر بلا نبوة، أو آدمى هواه يقود نوازع حسّه، ويبطش بعواطف نفسه، وبهذه النظرة يرى فى محمد ما يرى الكفر فى الإيمان، وما يرى الخبث فى الطيب، وما يرى الحقد فى النعم المتلألئة الوسامة، الناضرة الجمال.

ويقول عنه عين ما تقول العداوة فى جهالتها وحماقتها وضلالتها المركومة، ويسخر فى أعماقه التى تفح فيها أفاعية من قولنا: صلى الله عليه وسلم.

ونحن المسلمين نعوذ بالله من هؤلاء الذين أسرفوا فى التجريد والجحود والحقود، ومن أولئك الذين أسرفوا فى العشق، وعاشوا أنضاءه، فرأوا الوجود كله أنوثة تلفح بالحرمان والصدود، حين استبد بهم غرام جسدى لم يبرد لهم أواما، ولم يند منهم غليلا. ولم يقرّ بهم فى سكن.

فكان هذا التصور لمحمد، وكان هذا التصوير منهم للحقيقة.

إن الكتابة عن الرسول- صلى الله عليه وسلم تفرض علينا أن نكون على بينة من الكتاب والسنة، وأن نجعل ما نقول حليفا للحق، ووليا للصدق، وكذلك يفرض على كلّ من يتصدى لتحقيق كتاب عن خاتم النبيين.

ومن هنا تتجلى لنا خطورة الأمر وجلالته! فقد خلف لنا أسلافنا تراثا
এক গভীর গহ্বর, অথচ সে মনে করছে যে সে আকাশের সোপান বেয়ে উপরে উঠছে!

সে দৃশ্যমান জগতের প্রতিটি বিষয় কিংবা অদৃশ্যের রহস্যসমূহকে তার বুদ্ধিভিত্তিক মানদণ্ড অথবা—আরও নির্ভুলভাবে বললে—তার মোহময় ফিতনায় আচ্ছন্ন প্রবৃত্তির বশীভূত করতে উন্মুখ। তাই কল্যাণ সেটাই যা সে দেখে বা যা সে কল্যাণ বলে অনুভব করে; অনুরূপভাবে অকল্যাণ, সত্য ও মিথ্যাও তার কাছে তাই, যদিও সত্যের মানদণ্ডে তার এই দৃষ্টিভঙ্গি ও উপলব্ধি বাস্তবতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী হয়।

বুদ্ধিবৃত্তির পূজায় মত্ত কিংবা চরম অস্বীকারকারী এমন ব্যক্তি মুহাম্মাদের দিকে এমনভাবে তাকায় যেন তিনি নবুওয়াতহীন একজন সাধারণ মানুষ, অথবা এমন এক আদম সন্তান যার প্রবৃত্তি তার ইন্দ্রিয়জাত তাড়নাকে পরিচালিত করে এবং তার আত্মিক আবেগসমূহকে পরাভূত করে। এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সে মুহাম্মাদের মাঝে তা-ই দেখতে পায়, যা কুফর ঈমানের মাঝে দেখে, যা অপবিত্রতা পবিত্রতার মাঝে দেখে এবং যা হিংসা উজ্জ্বল লাবণ্যময় ও সতেজ সৌন্দর্যের নিআমতের মাঝে দেখে।

আর সে তাঁর সম্পর্কে তা-ই বলে যা শত্রুতা তার অজ্ঞতা, মূর্খতা ও পুঞ্জীভূত ভ্রষ্টতার বশবর্তী হয়ে বলে থাকে। তার অন্তরের গভীরে, যেখানে বিষধর সর্পরা হিসহিস শব্দ করে, সেখানে সে আমাদের বলা ‘আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন’ বাক্যটি নিয়ে উপহাস করে।

আমরা মুসলিমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই ঐসব লোক থেকে যারা বিমূর্তায়ন, অস্বীকার ও বিদ্বেষের ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন করেছে; আর ঐসব লোক থেকেও যারা অনুরাগের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করেছে এবং এর যাতনায় জীবন অতিবাহিত করেছে। ফলে তারা সমগ্র অস্তিত্বকে নারীসুলভ এক রূপ হিসেবে দেখেছে যা বঞ্চনা ও বিমুখতায় দগ্ধ। যখন এক শারীরিক প্রেম তাদের ওপর চড়াও হয়েছিল যা তাদের পিপাসা নিবারণ করতে পারেনি, তাদের দহন প্রশমিত করেনি এবং তাদের কোনো স্বস্তিকর আশ্রয়ে থিতু হতে দেয়নি।

মুহাম্মাদ সম্পর্কে এটিই ছিল তাদের ধারণা, আর সত্য সম্পর্কে এটিই ছিল তাদের চিত্রায়ন।

রাসুল—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন—সম্পর্কে লেখা আমাদের ওপর এই বাধ্যবাধকতা আরোপ করে যে, আমাদের কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে এবং আমরা যা বলি তাকে সত্যের মিত্র ও সততার বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। একইভাবে, এটি সেই ব্যক্তির ওপরও অপরিহার্য হয় যে সর্বশেষ নবী সম্পর্কে কোনো কিতাব তাহকীক বা সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

এখান থেকেই আমাদের কাছে এ বিষয়ের ভয়াবহতা ও মাহাত্ম্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে! আমাদের পূর্বসূরিগণ আমাদের জন্য এক বিশাল ঐতিহ্য রেখে গেছেন...
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ১১)
مكتوبا عن النبى، لا يوجد مثيله فى أمة من الأمم كتبت تاريخ زعيم، أو قائد أو بطل، أو نبى هو منها فى مكانة الشمس من الكون، وفى الكثير مما خلف لنا الأسلاف من تراث مكتوب عن النبى لا نلمح فيه شعاعة حقّ إلا كما نلمح ومضة البرق فى الليلة الداجية زكمت آفاقها الظلمات، فلقد خيل إلى أصحاب هذا التراث أن الكذب آية حب، وأن محمدا لا يكون عظيما إلا بما افترت الصليبية ليسوع، فصوروا رسول الله فى صورة بشر تستكنّ فى أعماقه ربوبية قهارة خلاقة، تهيمن على مصائر الوجود، وأقدار كائناته، وتجمع بين أزل الوجود، وأبده فى معرفة لا يخفى عليها شئ!! وافتروا قصصا، وأحاديث هى نفثات يهودية، ومفتريات وثنية، وضلالات صليبية، ورددت أفواه وألسن فى عديد من قرون التاريخ هذه القصص والأحاديث، وتلقفت الأجيال- خلفها عن سلفها- كلّ ذلك، وقد صنع التاريخ الكذوب لمن افتروا هذه الأكاذيب، أو لمن رددوها عن بلاهة عروشا تسجد تحتها أفكار أجيال وأجيال، وتهطع فى قنوت يأخذ منها كل العمر، فتسخّر لتمجيد تلك الأكاذيب كلّ فكر ولسان وقلم، فصار قرينا للمستحيل أن يفكر امرؤ فى نقد شئ من تراث أولئك الأسلاف بشروح هؤلاء الأخلاف، وصارت هذه الترهات التى يمجها حتى الباطل لعوارها- تختال وكأنها درر حقائق تتلألأ بنور الوحى، بل صارت، وهى أحب ما يعشق الناس مما كتب عن الرسول- صلى الله عليه وسلم وصارت مكانة أربابها كالزجر القاصف، والردع العاصف لمن يهم بالهمس بكلمة حق ينقدبها تلك الضلالات. والمسلم الذى يحاول أن يجلو للناس سيرة النبى- صلى الله عليه وسلم على نور من القرآن وهدى من الأحاديث الصحيحة. تجده وقد تفجرت فى وجهه حمم، ودوّت فى سمعه رعود، وألوف الألسنة تبهتة بالسوء، وهى التى لم تطب لحظة بذكر الحق: إن الباطل الذى سخّر هذه الألسنة، وزكم بطون أربابها بسحته لا يحب أن يعرف الناس أنه باطل،

নবী সম্পর্কে যা কিছু লিখিত হয়েছে, অন্য কোনো জাতির ইতিহাসে কোনো নেতা, সেনাপতি, বীর বা নবীর জীবনী রচনার ক্ষেত্রে তার সমতুল্য কিছু পাওয়া যায় না; যিনি তাদের নিকট মহাবিশ্বে সূর্যের অবস্থানের ন্যায় উচ্চ মর্যাদার অধিকারী। আমাদের পূর্বসূরিরা নবী সম্পর্কে যে বিপুল পরিমাণ লিখিত ঐতিহ্য রেখে গেছেন, তার অনেক কিছুর মধ্যেই আমরা সত্যের কোনো কিরণ দেখতে পাই না; কেবল ঘুটঘুটে অন্ধকারাচ্ছন্ন রাতে দিগন্তব্যাপী অন্ধকারের মাঝে হঠাৎ চমকে ওঠা বিদ্যুতের ঝলকানির মতো সামান্য কিছু সত্য দৃষ্টিগোচর হয়। এই ঐতিহ্যের রচয়িতাদের কাছে মনে হয়েছিল যে, মিথ্যাচার হলো ভালোবাসার এক নিদর্শন, আর ঈসা সম্পর্কে ক্রুসেডবাদীরা যা কিছু উদ্ভাবন করেছে, মুহাম্মাদ-এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য অনুরূপ কিছু উদ্ভাবন করা ছাড়া যেন তিনি মহান হতে পারেন না। ফলে তারা আল্লাহর রাসূলকে এমন এক মানবরূপে চিত্রায়িত করেছে, যার সত্তার গভীরে এক পরাক্রমশালী ও সৃজনশীল প্রভুত্ব লুকিয়ে আছে, যা অস্তিত্বের ভাগ্য ও প্রাণিকুলের তাকদির নিয়ন্ত্রণ করে এবং অস্তিত্বের অনাদি ও অনন্তকালকে এমন এক জ্ঞানের মধ্যে শামিল করে যা থেকে কোনো কিছুই গোপন থাকে না!! তারা এমন সব গল্প ও হাদিস উদ্ভাবন করেছে যা মূলত ইহুদিদের কুপ্ররোচনা, পৌত্তলিকদের মিথ্যাচার এবং ক্রুসেডীয় বিভ্রান্তি। ইতিহাসের বহু শতাব্দী ধরে অসংখ্য মুখ ও জিহ্বা এই গল্প ও হাদিসগুলোই পুনরাবৃত্তি করেছে। উত্তরসূরি প্রজন্ম তাদের পূর্বসূরিদের থেকে এসবই গ্রহণ করেছে। এই মিথ্যা ইতিহাস তাদের জন্য উচ্চাসন তৈরি করে দিয়েছে যারা এসব মিথ্যা উদ্ভাবন করেছে কিংবা যারা নির্বুদ্ধিতার কারণে সেগুলো প্রচার করেছে; আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাদের চিন্তাধারাকে সেই সব সিংহাসনের সামনে অবনত করে রেখেছে এবং একনিষ্ঠ আনুগত্যের সাথে তাতে বিলীন হয়ে আছে যা তাদের পুরো জীবনকে গ্রাস করে নেয়। এভাবে সেই মিথ্যাগুলোকে মহিমান্বিত করার জন্য প্রতিটি চিন্তা, জিহ্বা ও কলমকে নিয়োজিত করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পরবর্তীকালের লোকেদের ব্যাখ্যাসহ সেই পূর্বসূরিদের ঐতিহ্যের কোনো কিছু সমালোচনা করা কোনো ব্যক্তির জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি এই সব অসার কথাবার্তা—যা তার ত্রুটির কারণে স্বয়ং মিথ্যাও প্রত্যাখ্যান করে—তা এমনভাবে দম্ভভরে প্রদর্শিত হতে লাগল যেন সেগুলো ওহির আলোয় উদ্ভাসিত সত্যের মুক্তাদানা। বরং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে রচিত বিষয়গুলোর মধ্যে এগুলোই মানুষের সবচেয়ে প্রিয় ও আবেগঘন বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আর এগুলোর প্রচারকদের মর্যাদা এমন এক বজ্রহুংকার ও প্রচণ্ড প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, কেউ যদি সেই বিভ্রান্তিগুলো সংশোধনের জন্য সত্যের সামান্য শব্দ উচ্চারণ করার সাহস করে, তবে তাকে কঠোরভাবে দমন করা হয়। যে মুসলিম কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে মানুষের সামনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত স্পষ্ট করার চেষ্টা করে, আপনি দেখতে পাবেন যে তার মুখের ওপর অগ্নিশিখা নিক্ষিপ্ত হচ্ছে, তার কানে গগনবিদারী গর্জন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে এবং হাজার হাজার জিহ্বা তাকে মন্দ অপবাদে জর্জরিত করছে—অথচ এই জিহ্বাগুলো সত্য উচ্চারণের মাধ্যমে এক মুহূর্তের জন্যও পবিত্র হয়নি। নিশ্চয়ই যে মিথ্যা এই জিহ্বাগুলোকে ব্যবহার করছে এবং হারাম উপার্জনের মাধ্যমে এর ধারকদের উদর পূর্ণ করেছে, সে চায় না যে মানুষ জানুক যে এটি একটি মিথ্যা।

(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ১২)
لأنه- بما هو عليه- فى عقول عبيدى الخرافة يعيش مسجودا له، معبودا تساق إليه حمر النّعم، وتحتشد الدنيا فى باحاته وساحاته بكل ترفها وزينتها وفسوقها وشهواتها!!.

إنهم يريدون منه أن يقول ما قال الإشراقيون من الصوفية عن محمدهم الموهوم: إن محمدا هو الأول والآخر، والظاهر والباطن. أن يقول عنه ما يقول نعقة «الموالد» ونبحة المناوى!! «لولاه ما كان ملك الله منتظما» !!.

أو ما قاله الوضاع الأقاك الذى افترى أن الله قال لمحمد: «لولاك ما خلقت الأفلاك» .

أو ما قاله البوصيرى:

فإن من جودك الدنيا وضرّتها … ومن علومك علم اللوح والقلم

وإذا كانت الدنيا والآخرة بعض كرم الرسول، فماذا بقى لله؟ وإذا كان علم اللوح والقلم بعض علم محمد، فماذا بقى لله؟.

يريدون منه أن يؤمن، وأن يحمل الناس على الإيمان بأن محمدا حى فى قبره لم يمت، وأن أعمالنا عليه تعرض، يريدون منه أن يعتقد بلا وهم ريبة فى أن قبر محمد خير وأفضل من عرش الله. والذين يريدون حمله على هذا لا يعرفون عما جاء به محمد شيئا. مدى معرفتهم أنه خلق من نور، وأن المصحف لا يجوز أن يمس على غير طهارة!! أما عن نبوة محمد، أما ماذا فى المصحف من هدى؟ أما هذا النور والحق والحياة فهم عنه عمون!!
কারণ কুসংস্কারের দাসদের মস্তিষ্কে তার যে স্বরূপ চিত্রিত রয়েছে, তাতে তিনি এমন এক সত্তা হিসেবে বিরাজমান যাকে সিজদা করা হয় এবং উপাসনা করা হয়; যার সমীপে শ্রেষ্ঠ সম্পদসমূহ উৎসর্গ করা হয়; আর দুনিয়া তার প্রাঙ্গণ ও চত্বরসমূহে তার যাবতীয় বিলাসিতা, সাজসজ্জা, পাপাচার এবং কামনা-বাসনা নিয়ে ভিড় জমায়!!

তারা চায় তিনি যেন তাই বলেন যা ইশরাকী সূফীরা তাদের কাল্পনিক মুহাম্মদ সম্পর্কে বলেছে: মুহাম্মদই হলেন আদি ও অন্ত, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য। তারা চায় তিনি মুহাম্মদ সম্পর্কে তা-ই বলুন যা মিলাদ মাহফিলের চিৎকারকারীরা এবং মুনাবীর ন্যায় ঘেউঘেউকারীরা বলে থাকে!! "যদি তিনি না হতেন তবে আল্লাহর রাজত্ব সুশৃঙ্খল হতো না"!!

অথবা সেই চরম মিথ্যাবাদী জালিয়াতের ন্যায় কথা বলতে চায় যে অপবাদ দিয়ে বলেছে যে আল্লাহ মুহাম্মদকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "যদি আপনি না হতেন তবে আমি আসমানসমূহ সৃষ্টি করতাম না"।

অথবা যা বুসীরী বলেছে:

নিশ্চয়ই আপনার দানশীলতার অংশ হলো দুনিয়া ও তার সপত্নী (আখিরাত) … আর আপনার জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো লাওহ ও কলমের জ্ঞান

আর যদি দুনিয়া ও আখিরাত রাসূলের বদান্যতার সামান্য অংশ হয়, তবে আল্লাহর জন্য আর কী অবশিষ্ট রইল? আর যদি লাওহ ও কলমের জ্ঞান মুহাম্মদের জ্ঞানের কিঞ্চিৎ অংশ হয়, তবে আল্লাহর জন্য আর কী বাকি থাকল?।

তারা চায় যে তিনি বিশ্বাস করেন এবং মানুষকেও এই বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ করেন যে, মুহাম্মদ তার কবরে জীবিত, তিনি মারা যাননি; আর আমাদের আমলসমূহ তার কাছে পেশ করা হয়। তারা চায় যে তিনি কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই এই আকিদা পোষণ করেন যে, মুহাম্মদের কবর আল্লাহর আরশের চেয়েও উত্তম ও শ্রেষ্ঠ। আর যারা তাকে এই পথে পরিচালিত করতে চায় তারা মুহাম্মদ যা নিয়ে এসেছেন সে সম্পর্কে কিছুই জানে না। তাদের জ্ঞানের দৌড় কেবল এটুকু পর্যন্তই যে, তিনি নূর থেকে সৃষ্টি হয়েছেন এবং পবিত্রতা ব্যতীত কুরআন স্পর্শ করা জায়েয নেই!! অথচ মুহাম্মদের নবুওয়াত সম্পর্কে, কিংবা কুরআনে কী হিদায়াত রয়েছে সে বিষয়ে? আর এই নূর, সত্য ও জীবন সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ অন্ধ!!
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ১৩)
بل إنهم فى كثير مما تعرفة الحياة عنهم لا يذكرون محمدا إلا حين يرون عرائس «المولد» ، وثمت ترى على الشفاه غمغمة وهمهمة!!

وقد يخيّل إليك أن هذه صلوات وسجدات، وما هى إلا نفثات من حمم شهوات!!. فماذا نفعل، لنكتب الحق؟.

أنجبن عن الهتاف الروحى الجميل بالحقيقة خشية هؤلاء المنذرين بالوعيد الكنود، والفتنة الحقود؟.

أندهن كما يدهنون مخافة أن يعر بد علينا الباطل ببهتانه وعدوانه، أو يقترف ضدّنا المكر السئ؟!.

إن إيماننا بالله، وبرسوله- صلى الله عليه وسلم لأكرم وأعز من أن نذلّه لدعاة إلافك، وكهنة الزور، أو أن نرغمه على الاستخذاء فى سبيل الوصول إلى غرض دون هو: النجاء من سلاطة جاهلية جاحدة، أو سفاهة وثنية حاقدة، وإن الحق الذى يجعل من الحياة شيئا جميلا وعظيما، لأسمى من أن نأذن لهذا الركام الأسود من الأساطير أن يزحف على أفق ضياء الحق، لا لشئ سوى أن نكون مع ردغة الأكثرية فى تلطّخ نتن!!

والله يهدينا بقوله: (وَما أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ) يوسف: 103 (وَإِنْ تُطِعْ أَكْثَرَ مَنْ فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ) . الأنعام: 116

ثم إنى أتساءل: هل تحتاج مكانة الرسول- صلى الله عليه وسلم إلى أن ندعمها بالأكاذيب، حتى نؤيد أو نردد كل أكذوبة اختلقت؟

إن الذى يزعم هذا كالذى يزعم أن الحق فى حاجة إلى الباطل، وأن الصدق
বস্তুত তাদের সম্পর্কে জীবন যা জানে তার অনেক কিছুই এমন যে, তারা ‘মাওলিদ’-এর পুতুলগুলো দেখা ছাড়া মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে স্মরণ করে না, আর তখনই ঠোঁটের ওপর বিড়বিড়ানি ও অস্ফুট গুঞ্জন দেখা যায়!!

তোমার মনে হতে পারে যে এগুলো সালাত ও সিজদাহ, অথচ এগুলো প্রবৃত্তির লাভার উদগিরণ বৈ কিছু নয়!! তাহলে সত্য লেখার জন্য আমরা কী করব?

অকৃতজ্ঞ হুমকির ভয় প্রদর্শনকারী এবং বিদ্বেষপরায়ণ ফিতনাবাজদের ভয়ে আমরা কি সত্যের সুন্দর আত্মিক চিৎকার থেকে পিছিয়ে আসব?

মিথ্যা কি তার অপবাদ ও শত্রুতা নিয়ে আমাদের ওপর চড়াও হবে, অথবা আমাদের বিরুদ্ধে মন্দ চক্রান্ত করবে—এই ভয়ে আমরা কি তাদের মতো তোষামোদ করব?!

আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি আমাদের ঈমান এর চেয়ে অনেক বেশি সম্মানিত ও মূল্যবান যে, আমরা একে মিথ্যা প্রচারক ও প্রবঞ্চক পুরোহিতদের সামনে লাঞ্ছিত করব, অথবা তুচ্ছ কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য একে হীনতা স্বীকারে বাধ্য করব; আর সেই উদ্দেশ্যটি হলো: অস্বীকারকারী জাহিলিয়াতের কটুকাটব্য কিংবা বিদ্বেষী পৌত্তলিকতার নির্বুদ্ধিতা থেকে মুক্তি পাওয়া। আর যে সত্য জীবনকে সুন্দর ও মহান করে তোলে, তা এই পৌরাণিক কাহিনীর কালো স্তূপকে সত্যের আলোকের দিগন্তে হানা দেওয়ার অনুমতি দেওয়ার চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে; কেবল দুর্গন্ধযুক্ত পঙ্কে নিমজ্জিত সংখ্যাগরিষ্ঠদের সাথে থাকার জন্য আমরা এমনটা করতে পারি না!!

আর আল্লাহ তাঁর বাণীর মাধ্যমে আমাদের পথপ্রদর্শন করেন: “তুমি যতই চাও না কেন, অধিকাংশ মানুষই ঈমান আনয়নকারী নয়” (ইউসুফ: ১০৩); “আর যদি তুমি জমিনের অধিকাংশ মানুষের আনুগত্য করো, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে দেবে” (আল-আনআম: ১১৬)।

অতঃপর আমি প্রশ্ন করি: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মর্যাদাকে সমর্থন করার জন্য আমাদের কি মিথ্যার আশ্রয় নিতে হবে, যাতে করে আমরা উদ্ভাবিত প্রতিটি মিথ্যার সমর্থন করি বা তার পুনরাবৃত্তি করি?

যে ব্যক্তি এমনটি দাবি করে, সে ঐ ব্যক্তির মতো যে দাবি করে যে সত্যের জন্য মিথ্যার প্রয়োজন রয়েছে এবং সততার জন্য...
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ১৪)
محتاج- فى تأييد الناس له- إلى الكذب، وأن الإيمان يريد سندا من الكفر، وأن الخير فقير إلى الشر؛ ليهب له فى الحياة مكانته.

إن محمدا- صلى الله عليه وسلم كالشمس لا تحتاج إلى دليل يثبت أنها بزغت سوى أن تراها وهى بازغة فحسب، ومكانته أجل من أن نقترف الكذب لنثبت به أنه صدوق. إن نوره يدل عليه، ويثبت بلا برهان- سوى تألقه وتوهجه- أنه حقا يضئ، فلنقل عنه ما قاله ربه الذى خلقه فى أحسن تقويم لنقل: إنه ما كان بدعا من الرسول، وإنه كان بشرا يوحى إليه.

ألا وإن حق القرآن هو الحق الأول، فهو المهيمن على كل كتاب جاء به البشر، أو جاء به رسول الله من عند الله، فلنعتصم به، ونحن نكتب، أو ننقد ما كتب، ليهب الله لنا الفرقان المبين. ولنحذر أن نتهيب اسما يسحرنا تهيّبه عن الصواب، أو نذعن لسلطان ما يخادعنا، ليلوينا عن الحق.

وبهذه الروح أقبلت على تحقيق كتاب «الروض الأنف» «1» وفى فكرى، وعلى قلمى حفاظ قوى على النص، وإن وجدت فيه ما يخالف بعض ما أرى أنه مجانف للحق، وقد احتشدت لهذا الكتاب بكل ما أملك من جهد، لا أزعم أنه عظيم، وإنما أزعم أنه كل ما أملك. وقد لقيت فى سبيل تحقيقه ما لقيت من مشاق لا آمن بها، وإنما أضرع إلى الله أن يكون لها عند الله حسن المثوبة؛ فما يكون الثواب إلا على ما يرضيه سبحانه.

--------------------------------------------

(1) فى اللسان «روضة أنف: لم يرعها أحد، أو لم توطأ. وكأس أنف: لم يشرب بها قبل ذلك كأنه استؤنف شربها مثل- روضة أنف» ويريد السهيلى بهذه التسمية أن يؤكد أن كتابه هذا لم يؤلف أحد مثله من قبل.
মানুষের সমর্থন লাভের ক্ষেত্রে সে মিথ্যার মুখাপেক্ষী, এবং ঈমান কুফরের সাহায্য চায়, আর কল্যাণ অকল্যাণের প্রতি মুখাপেক্ষী; যাতে করে জীবনে তা স্বীয় মর্যাদা লাভ করতে পারে।

নিশ্চয় মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূর্যের ন্যায়, যা উদিত হয়েছে তা প্রমাণ করার জন্য তাকে উদিত অবস্থায় দেখা ব্যতীত অন্য কোনো প্রমাণের প্রয়োজন পড়ে না। তাঁর মর্যাদা এর চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে যে, তাঁকে সত্যবাদী প্রমাণ করার জন্য আমাদের মিথ্যার আশ্রয় নিতে হবে। তাঁর নূরই তাঁর পরিচয় দেয় এবং তাঁর দীপ্তি ও উজ্জ্বলতা ব্যতীত অন্য কোনো প্রমাণ ছাড়াই সাব্যস্ত করে যে, তিনি সত্যিই আলোকবর্তিকা। সুতরাং আসুন তাঁর সম্পর্কে আমরা তাই বলি যা তাঁর রব বলেছেন, যিনি তাঁকে সর্বোত্তম কাঠামোতে সৃষ্টি করেছেন। আমরা বলি: তিনি রাসূলদের মধ্যে কোনো অভিনব কেউ ছিলেন না এবং তিনি ছিলেন একজন মানুষ যার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হতো।

জেনে রাখুন, কুরআনের সত্যতাই হলো আদি ও আসল সত্য। মানুষের লেখা প্রতিটি কিতাব কিংবা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল যা কিছু নিয়ে এসেছেন, সে সবের ওপর এটিই রক্ষক ও মানদণ্ড। সুতরাং আমরা যখন লিখি বা যা লেখা হয়েছে তার সমালোচনা করি, তখন যেন আমরা একেই শক্তভাবে আঁকড়ে ধরি, যাতে আল্লাহ আমাদের সুস্পষ্ট সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী জ্ঞান দান করেন। আর আমাদের সাবধান থাকতে হবে যেন কোনো ব্যক্তির নাম আমাদের এমনভাবে মোহিত না করে যা আমাদের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে দেয়, অথবা আমরা যেন কোনো প্রতারণামূলক কর্তৃত্বের সামনে নতি স্বীকার না করি যা আমাদের সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

এই চেতনা নিয়েই আমি ‘আর-রওযুল উনুফ’ কিতাবটির সম্পাদনার কাজে অগ্রসর হয়েছি। আমার চিন্তায় ও কলমে মূল পাঠের প্রতি ছিল শক্তিশালী রক্ষণশীলতা, যদিও আমি এতে এমন কিছু পেয়েছি যা আমার দৃষ্টিতে সত্যবিচ্যুত বলে মনে হয়েছে। আমি এই কিতাবটির জন্য আমার সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছি; আমি দাবি করি না যে তা মহান কিছু, বরং আমি দাবি করি যে এটিই আমার সামর্থ্যের সবটুকু। এর সম্পাদনার পথে আমি এমন অনেক কষ্টের সম্মুখীন হয়েছি যা বলে শেষ করা যাবে না। আমি কেবল আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর জন্য আমাকে উত্তম প্রতিদান দান করেন; কেননা প্রতিদান তো কেবল তাতেই নিহিত যা মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে।

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব গ্রন্থে আছে: ‘রওযাতুন উনুফ’ হলো এমন বাগান যাতে আগে কেউ পশু চরায়নি বা যা ইতিপূর্বে কেউ পদদলিত করেনি। আর ‘কা’সুন উনুফ’ হলো এমন পানপাত্র যা থেকে ইতিপূর্বে কেউ পান করেনি, যেন এর পানকার্য নতুন করে শুরু হয়েছে—যেমনটি ‘রওযাতুন উনুফ’-এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। সুহাইলী এই নামকরণের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করতে চেয়েছেন যে, তাঁর এই কিতাবটির মতো এর আগে অন্য কেউ কোনো কিতাব রচনা করেনি।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ১৫)
الروض الأنف: وكتاب الروض الأنف- كما ذكر مؤلفه فى مقدمته- هو: «إيضَاحِ مَا وَقَعَ فِي سِيرَةِ رَسُولِ اللهِ- صلى الله عليه وسلم الّتِي سَبَقَ إلَى تأليفها أبو مُحَمّدُ بْنُ إسْحَاقَ الْمُطّلِبِيّ، وَلَخَصّهَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ هِشَامٍ الْمَعَافِرِيّ الْمِصْرِيّ النّسّابَةُ النّحْوِيّ مِمّا بَلَغَنِي عِلْمُهُ، وَيُسّرَ لِي فَهْمُهُ مِنْ لَفْظٍ غَرِيبٍ، أَوْ إعْرَابٍ غَامِضٍ، أَوْ كَلَامٍ مُسْتَغْلِقٍ، أو نسب عويص، أو موضع فاته التّنْبِيهُ عَلَيْهِ، أَوْ خَبَرٍ نَاقِصٍ يُوجَدُ السّبِيلُ إلى تتمته» إلى أن يقول: «تَحَصّلَ فِي هَذَا الْكِتَابِ مِنْ فَوَائِدِ الْعُلُومِ وَالْآدَابِ وَأَسْمَاءِ الرّجَالِ وَالْأَنْسَابِ وَمِنْ الْفِقْهِ الْبَاطِنِ اللّبَابِ، وَتَعْلِيلِ النّحْوِ، وَصَنْعَةِ الْإِعْرَابِ مَا هُوَ مُسْتَخْرَجٌ مِنْ نَيّفٍ عَلَى مِائَةٍ وَعِشْرِينَ دِيوَانًا سوى ما أنتجه صدرى» .

وهو جهد بارع صادع بأن الرجل كان إماما فى فنون عصره. فهو المحدّث الفقيه النسابة اللغوى النحوى «1» المفسر المؤرخ الآخذ من كل فنون عصره بنصيب وفير. وقد لاءم بين فنون معرفته، حتى جعل منها وحدة يصدر عنها فى كل ما يكتب، ومما يزيدنا إعجابا بالرجل أنه فقد بصره، وأن الكتب كانت فى زمانه مخطوطة، فمتى طالع كل هذا؟ وكيف طالعه؟ وتراثه يشهد له بأنه استوعب كل ما قرأ، وبدت سعة اطلاعه، ونفاذ بصيرته وقوة تفكيره فى أكثر ما كتب.

ومما يجعلنا أيضا شديدى الاحترام للرجل- رغم ما وجدت عنده من خرف- هذه الحقيقة التى تطالعك فى كتابه: إنها الأمانة الصادقة فى النقل، وفى نسبة كل شئ

--------------------------------------------

(1) انتفع بمادته كثير ممن جاءوا بعده، ولا سيما ابن القيم فى كتابه بدائع الفوائد. ولكنه كان كما يقول ابن مضاء القرطبى «كان صاحبنا الفقيه أبو القاسم السهيلى- رحمه الله يولع بعلل النحو الثوانى ويخترعها ويعتقد ذلك كمالا فى الصنعة وبصرابها» ص 160 كتاب الرد على النحاة.
আর-রাওদুল উনুফ: আর আর-রাওদুল উনুফ কিতাবটি—যেমনটি এর লেখক তাঁর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন—তা হলো: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতে যা বর্ণিত হয়েছে তার স্পষ্টীকরণ, যা আগে সংকলন করেছেন আবু মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-মুত্তালিবী এবং তা সংক্ষেপ করেছেন মিশরের বংশবিদ্যাবিশারদ ও ব্যাকরণবিদ আব্দুল মালিক বিন হিশাম আল-মা'আফিরী; সেই সীরাতে উল্লিখিত এমন অদ্ভুত শব্দ, অস্পষ্ট ব্যাকরণগত অবস্থান, জটিল বক্তব্য, দুষ্প্রাপ্য বংশলতিকা বা এমন কোনো স্থান যা নির্দেশ করতে তিনি ভুলে গেছেন, অথবা এমন কোনো অসম্পূর্ণ সংবাদ যা পূর্ণ করার পথ খুঁজে পাওয়া গেছে, যার জ্ঞান আমার কাছে পৌঁছেছে এবং যা বোঝা আমার জন্য সহজ করা হয়েছে» পরবর্তীতে তিনি বলেন: «এই কিতাবে বিজ্ঞানের নানা উপকারিতা, আদব, ব্যক্তিবর্গের নাম ও বংশপরিচয় এবং মূল বাতেনী ফিকহ, ব্যাকরণের কারণতত্ত্ব এবং বাক্য বিশ্লেষণের কলাকৌশল থেকে এমন সব বিষয় সংগৃহীত হয়েছে যা একশ বিশটিরও বেশি সংকলন থেকে চয়ন করা হয়েছে, এছাড়া আমার নিজের অন্তরের ফসল তো রয়েছেই»।

এটি এমন এক নিপুণ প্রচেষ্টা যা প্রমাণ করে যে, এই ব্যক্তি তাঁর যুগের বিভিন্ন বিদ্যায় একজন ইমাম ছিলেন। তিনি ছিলেন মুহাদ্দিস, ফকীহ, বংশবিদ্যাবিশারদ, ভাষাবিদ, ব্যাকরণবিদ «১», মুফাসসির ও ইতিহাসবিদ, যিনি তাঁর সময়ের প্রতিটি বিদ্যা থেকে এক বিশাল অংশ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি তাঁর জ্ঞানের শাখাগুলোর মধ্যে এমন সমন্বয় করেছিলেন যে, তিনি যা কিছু লিখতেন তা থেকে এক সুসংহত রূপ প্রকাশ পেত। যা এই ব্যক্তির প্রতি আমাদের বিস্ময় আরও বাড়িয়ে দেয় তা হলো, তিনি তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন এবং তাঁর সময়ে বইগুলো ছিল পাণ্ডুলিপি আকারে, তবে তিনি কখন এই সব পাঠ করেছিলেন? এবং কীভাবে পাঠ করেছিলেন? তাঁর এই জ্ঞানগত ঐতিহ্য সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি যা পড়েছেন তা পুরোপুরি অনুধাবন করেছেন এবং তাঁর বেশিরভাগ লেখায় তাঁর জ্ঞানের পরিধি, অন্তর্দৃষ্টির তীক্ষ্ণতা ও চিন্তাশক্তির প্রবলতা প্রকাশ পেয়েছে।

আরও যা আমাদের এই ব্যক্তির প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল করে তোলে—তাঁর কাছে পাওয়া কিছু ভ্রান্তি সত্ত্বেও—তা হলো তাঁর কিতাবে ফুটে ওঠা এই বাস্তবতাটি: তা হলো তথ্য হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সততাপূর্ণ আমানতদারি এবং প্রতিটি বিষয়কে তার মূল উৎসের দিকে সম্বন্ধ করা।

--------------------------------------------

(১) তাঁর পরবর্তী সময়ের অনেকে তাঁর সংগৃহীত উপকরণ থেকে উপকৃত হয়েছেন, বিশেষ করে ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর ‘বাদায়েউল ফাওয়ায়িদ’ গ্রন্থে। তবে তিনি ছিলেন যেমনটি ইবনে মাদা আল-কুরতুবী বলেছেন, «আমাদের সাথী ফকীহ আবুল কাসিম আস-সুহাইলি—রহিমাহুল্লাহ—ব্যাকরণের দ্বিতীয় পর্যায়ের কারণসমূহ অনুসন্ধানে অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন এবং তিনি সেগুলো উদ্ভাবন করতেন; তিনি একে এই শিল্পের পূর্ণতা ও পারদর্শিতা বলে বিশ্বাস করতেন»। পৃষ্ঠা ১৬০, কিতাবুর রাদ্দ আলা আল-নুহাহ।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ১৬)
إلى قائله، فلم يأت بزيادة مفتراة، أو يقترف فى نقله نقصا قد يغير من مفهوم القول، وقد راجعت أعظم ما نقل، وقايسته على مصادره، فلم أجد إلا طهر الأمانة، ونبل الصدق فى كل نقوله، غير أنه كان لا يميل إلى نقد ما ينقل إلا حين كان يجد النص معارضا لما يدين به، لهذا نراه ينقل ما يتفق مع الحق، وما لا يتفق فى بعض أحيانه.

ينقل ما يلمع بنور الحقيقة، وينقل ما يمكن فيه خبث الباطل من رأى فطير أو حديث سنده أو هى من بيت العنكبوت، ومعناه كيد دنئ من طاغوت.

 

‌‌عملى فى الكتاب:

طبع هذا الكتاب من أكثر من نصف قرن، وقد بذل المشرف على طبعه كثيرا مما كان يبذل. غير أنه أغفل كثيرا من الأخطاء المطبعية وغيرها، ولم يكتب رقم آية، ولم يخرج حديثا، ولم يضبط كلمة، ولم يعلق بشئ سوى بضع كلمات، فقمت بما يأتى:

أولها: ضبط مئات الأعلام التى وردت فيه، وقد رجعت فى هذا إلى أهم، كتب الأنساب، وإلى اللسان والقاموس كما ضبطت ألوف الكلمات، وقد لقيت فى هذا عنتا كبيرا ومشقة مضنية.

ثانيها: مراجعة نقوله التاريخية واللغوية فى المصادر التى أشار إليها كتاريخ الطبرى ومروج الذهب للمسعودى، وأشرت إلى مكانها من الكتب. أما اللغويات فراجعتها فى اللسان والقاموس ومعجم ابن فارس والاشتقاق لابن دريد ومفردات الراغب والنهاية لابن الأثير وغيرها.

ثالثها: راجعت ما نقله عنه المؤرخون وأصحاب السير للمقارنة بين ما هو فى كتابه، وبين ما نقلوه هم عنه، مثل ابن كثير فى البداية، وابن خلدون
তার প্রবক্তার প্রতি, তিনি কোনো মনগড়া সংযোগ ঘটাননি, কিংবা বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন কোনো ঘাটতিও করেননি যা বক্তব্যের মর্মার্থ বদলে দিতে পারে। আমি তাঁর উদ্ধৃত অধিকাংশ বিষয় পর্যালোচনা করেছি এবং সেগুলোকে মূল উৎসের সাথে মিলিয়ে দেখেছি; ফলে তাঁর সকল উদ্ধৃতিতে আমি আমানতদারিতার পবিত্রতা এবং সত্যবাদিতার আভিজাত্য ছাড়া আর কিছুই পাইনি। তবে তিনি যা উদ্ধৃত করতেন তা সমালোচনা করার প্রতি আগ্রহী ছিলেন না, যতক্ষণ না সেই পাঠটি তাঁর বিশ্বাসের পরিপন্থী হতো। এই কারণেই আমরা দেখি তিনি সত্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলোও বর্ণনা করেন, আবার মাঝে মাঝে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় সেগুলোও উদ্ধৃত করেন।

তিনি যেমন সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত বিষয়গুলো বর্ণনা করেন, তেমনি বর্ণনা করেন এমন বিষয়ও যার মধ্যে বাতিলের কলুষতা থাকতে পারে—সেটি কোনো অপরিণত মতামত হোক কিংবা এমন কোনো হাদিস হোক যার সনদ মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল এবং যার অর্থ কোনো তাগুতের নিকৃষ্ট চক্রান্ত।

 

‌‌গ্রন্থে আমার কাজ:

এই গ্রন্থটি অর্ধশতাব্দীরও বেশি আগে মুদ্রিত হয়েছিল। এর মুদ্রণ তদারককারী সাধ্যমতো অনেক পরিশ্রমই করেছিলেন। তবে তিনি বহু মুদ্রণজনিত ও অন্যান্য ভুল এড়িয়ে গেছেন। তিনি কোনো আয়াতের নম্বর দেননি, কোনো হাদিসের সূত্র নির্দেশ করেননি, কোনো শব্দের উচ্চারণ বা গঠন ঠিক করেননি এবং সামান্য কিছু শব্দ ছাড়া কোনো টিকাও যুক্ত করেননি। তাই আমি নিম্নোক্ত কাজগুলো সম্পন্ন করেছি:

প্রথমত: এতে উল্লিখিত শত শত ব্যক্তির নাম ও পরিচিতি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা। এক্ষেত্রে আমি বংশবিদ্যা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ এবং 'লিসান' ও 'কামুস'-এর শরণাপন্ন হয়েছি। একইভাবে আমি হাজার হাজার শব্দের উচ্চারণ ও গঠন ঠিক করেছি, যার জন্য আমাকে প্রচুর কষ্ট ও হাড়ভাঙা খাটুনি সহ্য করতে হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: তিনি যেসব ঐতিহাসিক ও ভাষাতাত্ত্বিক উৎসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, সেগুলোতে তাঁর উদ্ধৃতিগুলো যাচাই করা; যেমন—তাবারির ইতিহাস ও মাসউদির 'মুরুজুয যাহাব'। আমি মূল বইগুলোতে এগুলোর স্থানও নির্দেশ করেছি। আর ভাষাতাত্ত্বিক বিষয়গুলোর জন্য আমি লিসানুল আরব, আল-কামুস, ইবনে ফারিসের মু'জাম, ইবনে দুরিদ-এর আল-ইশতিকাক, রাগিবের মুফরাদাত এবং ইবনুল আসিরের আন-নিহায়া সহ অন্যান্য গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছি।

তৃতীয়ত: তাঁর থেকে ইতিহাসবিদ ও সীরাত রচয়িতারা যা উদ্ধৃত করেছেন তা পর্যালোচনা করেছি, যাতে তাঁর গ্রন্থে যা আছে এবং তাঁরা তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন—এই দুইয়ের মধ্যে তুলনা করা যায়; যেমন—ইবনে কাসীর 'আল-বিদায়া' গ্রন্থে এবং ইবনে খালদুন
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ১৭)
فى تاريخه، والقسطلانى فى المواهب، والحلبى فى سيرته، والحافظ ابن حجر فى الفتح.

رابعها: راجعت وصوّبت الأنساب التى ذكرها فى أهم كتب النسب، وقد أشرت إليها فى تعليقاتى.

خامسها: راجعت الترجمات التى ذكرها للصحابة فى الإصابة لابن حجر وغيرها.

سادسها: أشرت إلى مراجع عشرات الأحاديث التى ذكرها، وإلى ما قيل عنها فى كتب الأحاديث.

سابعها: ترقيم الآيات القرآنية، وإتمام ما ذكره منها مبتورا.

ثامنها: التعليق على بعض ما ذكره من مسائل النحو العويصة، ومراجعة هذه المسائل فى مصادرها الأصلية، والمقارنة بينها وبين ما نقله الإمام ابن القيم فى كتابه «بدائع الفوائد» من هذه المسائل. والرجل- أعنى السهيلى- كان شديد الولع بمسائل النحو.

تاسعها: قمت بالتعليق على ما ذكره، أو رآه فى أمر الدين مما رأيته مجافيا للحق، فكانت هذه التعليقات التى أضرع إلى الله أن تكون حقا وصوابا.

ولقد كان الرجل أشعرى العقيدة- والأشعرية كانت دين الدولة فى أيامه- فأشرت فى تعليقاتى إلى ما يجانب الحق القرآنى مما ذهب إليه، وذكرت ما آمن به سلفنا الصالح، وما قالوه عن صفات الله سبحانه.

عاشرها: راجعت ما ذكره من شواهد شعرية وأمثال وغيرها فى مصادره الأصلية أو فى اللسان، وضبطت كل هذا ضبطا دقيقا.
তার ইতিহাসে, কাসতাল্লানি 'আল-মাওয়াহিব'-এ, হালাবি তার 'সিরাত'-এ এবং হাফিজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারি'-তে।

চতুর্থত: তিনি যে বংশপরম্পরাসমূহ উল্লেখ করেছেন তা আমি বংশতত্ত্বের প্রধান কিতাবসমূহে পর্যালোচনা ও সংশোধন করেছি এবং আমার টীকাগুলোতে সেদিকে ইঙ্গিত করেছি।

পঞ্চমত: সাহাবায়ে কেরামের যে জীবনীসমূহ তিনি উল্লেখ করেছেন, তা আমি ইবনে হাজারের 'আল-ইসাবাহ' ও অন্যান্য গ্রন্থে যাচাই করেছি।

ষষ্ঠত: তিনি যে অসংখ্য হাদিস উল্লেখ করেছেন সেগুলোর সূত্রের প্রতি এবং হাদিসের কিতাবসমূহে সে সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার দিকে আমি ইঙ্গিত করেছি।

সপ্তমত: কুরআনের আয়াতসমূহের নম্বর প্রদান এবং তিনি যে অংশগুলো অসম্পূর্ণ রেখেছিলেন তা পূর্ণ করা।

অষ্টমত: তিনি নাহুর (ব্যাকরণ) যেসব জটিল মাসআলা উল্লেখ করেছেন সেগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটির উপর টীকা প্রদান, সে বিষয়গুলো মূল উৎস থেকে যাচাই করা এবং ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম তার 'বাদাইউল ফাওয়ায়িদ' গ্রন্থে এসব মাসআলা সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন তার সাথে তুলনা করা। আর এই ব্যক্তি—অর্থাৎ সুহাইলি—নাহুর মাসআলাগুলোর প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন।

নবমত: দ্বীনি বিষয়ে তিনি যা উল্লেখ করেছেন অথবা তার যে মত আমি সত্যের পরিপন্থী মনে করেছি, তার ওপর টীকা প্রদান করেছি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন এই টীকাগুলো সত্য ও সঠিক হয়।

আর তিনি আশআরি আকিদার অনুসারী ছিলেন—এবং আশআরি মতবাদ ছিল তাঁর সময়ে রাষ্ট্রের ধর্ম—তাই তিনি যে সকল মত পোষণ করেছেন যা কুরআনের সত্যের পরিপন্থী, আমি আমার টীকাগুলোতে সেদিকে নির্দেশ করেছি এবং আমাদের সালাফে সালেহীন যা বিশ্বাস করতেন ও আল্লাহর সিফাত বা বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে তারা যা বলেছেন তা উল্লেখ করেছি।

দশমত: তিনি কবিতার যে সকল উদ্ধৃতি, প্রবাদ এবং অন্যান্য যা কিছু উল্লেখ করেছেন, তা আমি মূল উৎসসমূহ অথবা 'লিসানুল আরব' থেকে যাচাই করেছি এবং সেগুলোকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বিন্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ১৮)
حادى عشرها: قمت باستعمال علامات الترقيم، وهناك غير ذلك مما قمت به، وأسأل الله أن يكون لوجهه- جل شأنه- وأن يجزينا عنه. كان من الممكن أن يكون الجهد المبذول أقل مما كان، غير أنه كتاب عَنْ رَسُولِ اللهِ- صلى الله عليه وسلم عن القرآن الكريم، ونبيه العظيم، وقد توعدنا بالنار نتبوّأ منها مقعدنا إن تعمدنا عليه كذبا.

وأعتقد أن الكتاب- وما ذكرته معه- أصبح شيئا يمكن الاعتداد به فيما يقال ممن خاتم النبيين- صلى الله عليه وسلم غير أنى لا أزعم أنى بلغت كل ما كان بجب أن يبلع، وإنما أزعم أننى بذلت كل ما كنت أملك من جهد أسأل الله أن يكون جهدا يكافئ هذه المهمة الجليلة.

وأرجو ممن يعثر على أخطاء أن يذكر أننا بشر، والسهو والنسيان والخطأ من خصائص البشرية، وكما نحب أن يعفو الله عن أخطائنا ويغفرها لنا، فإننا نحب أن يعفو عنا القراء، حين يعثرون على خطأ أحب أن يثقوا فى أنى لم أتعمده.

 

‌‌السيرة:

وقد رأيت- كما رأى الناشر- أن يكون مع الكتاب نفس سيرة ابن هشام التى ألف السّهيلىّ كتابه الروض شرحا لها، ليكون النفع قيما.

والسيرة من عمل ابن إسحاق وروايته عن شيوخه وغيرهم، ولكن ابن هشام عكف على هذه السيرة بالتهذيب حتى، صارت إلى ما هى عليه الآن. وقد لخص عمله فيها بقوله:

«وَأَنَا- إنْ شَاءَ اللهُ- مُبْتَدِئٌ هَذَا الْكِتَابَ بِذِكْرِ إسْمَاعِيلَ بْنِ إبْرَاهِيمَ،
একাদশতম: আমি যতিচিহ্নের ব্যবহার করেছি এবং এছাড়া আরও কিছু কাজ করেছি। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তা তাঁর সন্তুষ্টির জন্য হয়—তাঁর মহিমা অতি মহান—এবং তিনি যেন আমাদের এর প্রতিদান দান করেন। ব্যয়িত পরিশ্রম এর চেয়ে কম হতে পারতো, কিন্তু এটি আল্লাহর রাসুল—তাঁর ওপর আল্লাহর দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক—আল-কুরআন এবং তাঁর মহান নবী সম্পর্কে একটি কিতাব। আর নবী আমাদের আগুনের ভয় দেখিয়েছেন যে, আমরা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ওপর মিথ্যা আরোপ করি তবে যেন জাহান্নামে আমাদের আবাস নির্ধারণ করে নিই।

আমি বিশ্বাস করি যে, এই কিতাবটি—এবং এর সাথে যা আমি উল্লেখ করেছি—তা শেষ নবী—তাঁর ওপর আল্লাহর দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক—এর বাণীর ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য উপাদানে পরিণত হয়েছে। তবে আমি দাবি করি না যে আমি সেই পূর্ণতায় পৌঁছেছি যেখানে পৌঁছানো উচিত ছিল, বরং আমি এই দাবি করি যে আমার সাধ্যানুযায়ী সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন এই প্রচেষ্টা এই মহান দায়িত্বের সমতুল্য হয়।

যারা ভুলত্রুটি খুঁজে পাবেন তাদের নিকট আমার অনুরোধ, তারা যেন মনে রাখেন যে আমরা মানুষ; আর ভুল, বিস্মৃতি ও বিচ্যুতি মানবীয় বৈশিষ্ট্য। আমরা যেমন ভালোবাসি যে আল্লাহ আমাদের ভুলগুলো ক্ষমা করুন ও আমাদের মার্জনা করুন, তেমনি আমরা ভালোবাসি যে পাঠকরাও যেন আমাদের ক্ষমা করেন। যখন তারা কোনো ভুল খুঁজে পাবেন, আমি চাই তারা যেন এই বিশ্বাস রাখেন যে আমি তা ইচ্ছাকৃতভাবে করিনি।

 

‌‌সীরাত:

আমি—প্রকাশকের ন্যায়—অনুভব করেছি যে, এই কিতাবের সাথে ইবনে হিশামের সেই সীরাতটিই থাকা উচিত যেটির ব্যাখ্যা হিসেবে সুহায়লী তাঁর 'আর-রওদ' কিতাবটি রচনা করেছেন, যাতে এর উপকারিতা ফলপ্রসূ হয়।

এই সীরাতটি মূলত ইবনে ইসহাকের কর্ম এবং তাঁর উস্তাদ ও অন্যদের নিকট থেকে বর্ণিত তাঁর বর্ণনা; কিন্তু ইবনে হিশাম এই সীরাতটির পরিমার্জনে আত্মনিয়োগ করেন, ফলে এটি বর্তমান রূপে এসে পৌঁছেছে। তিনি এতে তাঁর কর্মপদ্ধতি সংক্ষেপে বর্ণনা করে বলেছেন:

«আমি—ইনশাআল্লাহ—ইবরাহীমের পুত্র ইসমাঈলের আলোচনার মাধ্যমে এই কিতাবটি শুরু করছি,
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ১৯)
وَمَنْ وَلَدَ رَسُولَ اللهِ- صلى الله عليه وآله وسلم مِنْ وَلَدِهِ، وَأَوْلَادِهِمْ لِأَصْلَابِهِمْ الْأَوّلَ فَالْأَوّلَ، مِنْ إسْمَاعِيلَ إلَى رَسُولِ اللهِ- صلى الله عليه وسلم وَمَا يَعْرِضُ مِنْ حَدِيثهِمْ، وَتَارِكٌ ذِكْرَ غَيْرِهِمْ مِنْ وَلَدِ إسْمَاعِيلَ عَلَى هَذِهِ الْجِهَةِ لِلِاخْتِصَارِ، إلَى حَدِيثِ سِيرَةِ رَسُولِ اللهِ- صلى الله عليه وسلم وَتَارِكٌ بَعْضَ مَا ذَكَرَهُ ابْنُ إسْحَاقَ فِي هَذَا الْكِتَابِ مِمّا لَيْسَ لِرَسُولِ اللهِ- صلى الله عليه وآله وسلم فِيهِ ذِكْرٌ، وَلَا نَزَلَ فِيهِ مِنْ الْقُرْآنِ شئ، وليس سببا لشئ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ، وَلَا تَفْسِيرًا لَهُ، وَلَا شَاهِدًا عَلَيْهِ لِمَا ذَكَرْت مِنْ الِاخْتِصَارِ، وَأَشْعَارًا ذَكَرَهَا لَمْ أَرَ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالشّعْرِ يَعْرِفُهَا، وَأَشْيَاءَ بَعْضُهَا يَشْنُعُ الْحَدِيثُ بِهِ، وَبَعْضٌ يَسُوءُ بَعْضَ النّاسِ ذِكْرُهُ، وَبَعْضٌ لَمْ يُقِرّ لَنَا الْبَكّائِيّ «1» بِرِوَايَتِهِ، وَمُسْتَقْصٍ- إنْ شَاءَ اللهُ تَعَالَى- مَا سِوَى ذَلِك مِنْهُ بِمَبْلَغِ الرواية له، والعلم به»

ولهذا الجهد الذى بذله ابن هشام اشتهرت السيرة بالانتساب إليه، حتى كاد ينسى صاحبها الأول، وهو: محمد بن إسحاق، والله أسأل أن يهيئ لنا من أمرنا رشدا، وأن يعين كل امرئ على القيام بما فرض الله عليه، وأن يجمعنا نحن أبناء هذه الأمة على كلمة سواء، ولها ما كان من مجد وسؤدد، ودولة تجيش

--------------------------------------------

(1) هو زياد بن عبد الله بن الطفيل العامرى أبو محمد البكائى الكوفى، والبكائى نسبة إلى البكاء بن عمرو بن ربيعة بن صعصعة بن معاوية تركه ابن المدينى، وضعفه النسائى وابن سعد، وقال أبو زرعة: صدوق، وقال أبو حاتم: يكتب حديثه، ولا يحتج به، ولكنه من أثبت الناس فى سيرة ابن إسحاق، وقال أحمد: ليس به بأس مات سنة 183 هـ
এবং যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে জন্ম দিয়েছেন তাঁর পূর্বপুরুষদের মধ্য থেকে, এবং তাঁদের সন্তানদের মধ্য থেকে পরম্পরাক্রমে তাঁদের সরাসরি বংশধরদের বিবরণ—ইসমাইল থেকে শুরু করে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত, এবং তাঁদের সংবাদ থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে; আর সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে ইসমাইল আলাইহিস সালামের সন্তানদের মধ্য থেকে অন্যদের আলোচনা এই ধারায় বর্জন করছি, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সীরাতের বর্ণনা পর্যন্ত। ইবনে ইসহাক এই গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্য থেকে এমন কিছু বিষয়ও বর্জন করছি যাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কোনো উল্লেখ নেই, সে সম্পর্কে কুরআনের কোনো অংশ অবতীর্ণ হয়নি, এই গ্রন্থের কোনো বিষয়ের প্রেক্ষাপট হিসেবে তা নেই, এর কোনো ব্যাখ্যাও নয় এবং এর ওপর কোনো প্রমাণও নয়—পূর্বোক্ত সংক্ষেপ করার কারণে। এছাড়া এমন কিছু কবিতা বর্জন করেছি যা তিনি উল্লেখ করেছেন কিন্তু কাব্য বিশারদদের কাউকেই আমি তা চিনতে দেখিনি। আরও বর্জন করেছি এমন কিছু বিষয় যার বর্ণনা শ্রুতিকটু, কিছু বিষয় যা উল্লেখ করা মানুষের জন্য কষ্টকর হতে পারে, এবং কিছু বিষয় যা আল-বক্কায়ী (১) আমাদের কাছে বর্ণনা করার অনুমতি দেননি। তবে ইনশাআল্লাহ তাআলা এর বাইরে যা কিছু আছে, তা বর্ণনার সামর্থ্য এবং জ্ঞানের পরিধি অনুযায়ী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করব।

ইবনে হিশামের এই প্রচেষ্টার কারণেই সীরাত গ্রন্থটি তাঁর নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, এমনকি এর মূল রচয়িতা মুহাম্মদ বিন ইসহাকের নাম প্রায় বিস্মৃত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকল কাজে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, প্রত্যেক ব্যক্তিকে তাঁর ওপর অর্পিত ফরজ দায়িত্ব পালনে সাহায্য করেন এবং আমাদের এই উম্মতের সন্তানদের এক অভিন্ন বাক্যে ঐক্যবদ্ধ করেন; আর এই উম্মতের জন্য রয়েছে অতীত গৌরব ও মর্যাদা এবং একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র যা আন্দোলিত হয়।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ বিন তুফাইল আল-আমেরী আবু মুহাম্মদ আল-বক্কায়ী আল-কুফি। ‘আল-বক্কায়ী’ সম্বন্ধটি বক্কা বিন আমর বিন রবিয়া বিন সা’সা বিন মুয়াবিয়া এর দিকে। ইবনুল মাদীনী তাঁকে বর্জন করেছেন, নাসায়ী ও ইবনে সাদ তাঁকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআ বলেছেন: তিনি সত্যবাদী। আবু হাতেম বলেছেন: তাঁর হাদিস লেখা যাবে কিন্তু তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়, তবে ইবনে ইসহাকের সীরাতের বর্ণনায় তিনি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। আহমাদ বলেছেন: তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই। তিনি ১৮৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ২০)
فيها من «كشغر على حدود الصين إلى جبال البرانس على مشارف فرنسا» تكبيرات النصر، وتسبيحات الشكر، وصلوات الحمد لله رب العالمين «1»

القاهرة- مدينة الزهراء

حلوان

عبد الرحمن الوكيل

الرئيس العام لجماعة أنصار السنة المحمدية

--------------------------------------------

(1) سننشر سيرة ابن هشام فى أعلى الصفحة، وتحتها «الروض الأنف» ثم تعليقاتى
তাতে «চীনের সীমান্তে অবস্থিত কাশগড় থেকে শুরু করে ফ্রান্সের উপকণ্ঠে পিরেনিজ পর্বতমালা পর্যন্ত» বিজয়ের তাকবীর, কৃতজ্ঞতার তাসবীহ এবং বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসাসূচক সালাত ধ্বনিত হচ্ছিল «১»

কায়রো- মাদিনাতুজ জাহরা

হেলওয়ান

আব্দুর রহমান আল-ওয়াকিল

জামা'আতে আনসারুস সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদীয়াহ-এর সাধারণ সভাপতি

--------------------------------------------

(১) আমরা পৃষ্ঠার উপরিভাগে সীরাতে ইবনে হিশাম প্রকাশ করব, তার নিচে থাকবে «আর-রওদুল উনুফ» এবং এরপর থাকবে আমার টীকা-টিপ্পনী।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌ترجمة ابن إسحاق

محمد ابن إسحاق بن يسار المطّلبى مولى قيس بن مخرمة أبو عبد الله المدنى أحد الأئمة الأعلام، ولا سيما فى المغازى والسير رأى أنس بن مالك. وجدّه يسار كان من سبى عين التمر التى افتتحها المسلمون فى السنة الثانية عشرة من الهجرة.

وقد ولد ابن إسحاق فى المدينة، والراجح أنه ولد سنة خمس وثمانين من الهجرة، وتوفى- كما يقول صفى الدين الخزرجى- سنة إحدى وخمسين ومائة.

وقيل: (150 أو 153) وهو الذى ألف السيرة المشهورة النسبة إلى ابن هشام وقد ألفها بأمر أبى جعفر المنصور؛ ليعلمها لابنه المهدى، وفى هذا يقول ابن عدى:

«ولو لم يكن لابن إسحاق من الفضل إلا أنه صرف الملوك عن الاشتغال بكتب لا يحصل منها شئ للاشتغال بمغازى رسول الله- صلى الله عليه وسلم ومبعثه ومبتدأ الخلق، لكانت هذه فضيلة سبق بها ابن إسحاق، وقد فتشت أحاديثه الكثيرة، فلم أجدها تهيئ أن يقطع عليه بالضعف، وربما أخطأ واتهم فى الشئ بعد الشئ كما يخطئ غيره.

ولم يتخلف فى الرواية عنه الثقات والأئمة، أخرج له مسلم فى المبايعات واستشهد به البخارى فى مواضع، وروى له أبو داود والترمذى والنسائى وابن ماجة» ، وقد روى هو عن أبيه وعن الزهرى وخلق غيرهم، وممن روى عنه شيخه يحيى الأنصارى، وعبد الله بن عون وشعبة وسفيان الثورى وسفيان بن عيينة.

الرأى فى ابن إسحاق: أثار ابن إسحاق خلافا كبيرا حوله بين رجال
ইবনে ইসহাকের জীবনী

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বিন ইয়াসার আল-মুত্তালিবী, কায়েস ইবনে মাখরামার মুক্তদাস, আবু আব্দুল্লাহ আল-মাদানী ছিলেন অন্যতম প্রধান ইমাম, বিশেষ করে মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) এবং সীরাত (জীবনী) শাস্ত্রে। তিনি আনাস বিন মালিককে দেখেছেন। তাঁর দাদা ইয়াসার ছিলেন আইনুত তামর-এর বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত, যা হিজরি দ্বাদশ সনে মুসলমানরা বিজয় করেছিলেন।

ইবনে ইসহাক মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং নির্ভরযোগ্য মতানুসারে তিনি পঁচাশি হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। সাফিউদ্দিন আল-খাজরাজীর মতে, তিনি একশত একান্ন হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

বলা হয়ে থাকে: (১৫০ বা ১৫৩)। তিনি সেই ব্যক্তি যিনি বিখ্যাত সীরাত রচনা করেছেন যা ইবনে হিশামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। তিনি এটি আবু জাফর আল-মনসুরের আদেশে তাঁর পুত্র আল-মাহদীকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য রচনা করেছিলেন। এ সম্পর্কে ইবনে আদী বলেন:

«ইবনে ইসহাকের যদি আর কোনো ফযীলত না-ও থাকতো, কেবল এটাই যথেষ্ট হতো যে তিনি বাদশাহদের নিরর্থক বইপত্রের ব্যস্ততা থেকে সরিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুদ্ধাভিযান, তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি এবং সৃষ্টির আদি বৃত্তান্তের আলোচনায় ব্যাপৃত করেছেন। এটিই এমন এক ফযীলত যার দ্বারা ইবনে ইসহাক অগ্রগামী হয়েছেন। আমি তাঁর অনেক হাদিস অনুসন্ধান করেছি এবং এমন কিছু পাইনি যার ভিত্তিতে তাঁকে নিশ্চিতভাবে দুর্বল বলা যায়। হয়তো তিনি মাঝেমধ্যে ভুল করেছেন অথবা কোনো কোনো বিষয়ে অভিযুক্ত হয়েছেন, যেমনটা অন্যরাও ভুল করেন।

নির্ভরযোগ্য রাবী এবং ইমামগণ তাঁর থেকে বর্ণনা করতে পিছপা হননি। মুসলিম তাঁর থেকে ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং বুখারী বিভিন্ন স্থানে তাঁর থেকে প্রমাণ পেশ করেছেন। আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন», তিনি স্বয়ং তাঁর পিতা, যুহরী এবং আরও অনেকের থেকে বর্ণনা করেছেন। আর যাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর উস্তাদ ইয়াহইয়া আল-আনসারী, আব্দুল্লাহ ইবনে আওন, শু'বাহ, সুফিয়ান আস-সাওরী এবং সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ।

ইবনে ইসহাক সম্পর্কে অভিমত: ইবনে ইসহাক রিজাল শাস্ত্রবিদদের মাঝে নিজের সম্পর্কে বড় ধরনের মতভেদ সৃষ্টি করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ২২)
الجرح والتعديل، وقد اختلف فيه هؤلاء بين قادح ومادح، أو بين مجرح ومعدل، فبينا يقول ابن شهاب: «لا يزال بالمدينة علم جم ما كان فيها ابن إسحاق» إذا بغيره يقول: إنه كان يرى التشيع والقدر وكان يلعب بالديوك.

المجرّحون: ممن جرّحه مالك، وقال فيه: «ابن إسحاق كذاب ودجال من الدجاجلة» ، وروى عن أحمد بن حنبل أنه قال: «ابن إسحاق ليس بحجة» وحكم عليه ابن معين فى رواية عنه بأنه سقيم، وليس بحجة، وممن جرحه: هشام بن عروة، ويعقوب بن شيبة، وسليمان التيمى والدارقطنى، وقد اتهم بأنه كان يسمع بعض اليهود والنصارى، ويسميهم أهل العلم الأول وقد اتهم ابن إسحاق بأنه كان يضع فى السيرة شعرا مصنوعا.

المتوسطون فى الرأى فيه: وكما نسب إلى أحمد اتهامه لابن إسحاق فإنه نسب إليه قوله عنه: «حسن الحديث. أو: هو صالح ألحديث، ماله ذنب عندى إلا ما روى فى السيرة من الأخبار المنكرة» وقد نسب إلى محمد بن عبد الله بن نمير قوله عنه: كان ابن إسحاق يرمى بالقدر، وكان أبعد الناس منه. وقوله:

«إذا حدث عن المعروفين، فهو حسن الحديث صدوق، وإنما أتى من أنه يحدث عن المجهولين أحاديث باطلة»

المعدّلون له: ينسب إلى ابن معين أيضا قوله: «ابن إسحاق ثبت فى الحديث» ونسب إلى ابن عينة قوله: «ما رأيت أحدا يتهم ابن إسحاق» وقال أبو زرعة: «قد أجمع الكبراء من أهل العلم على الأخذ منه» وقد استشهد به مسلم، وصحح له الترمذى، وروى له أبو داود والنسائى وابن ماجة.

وأرى- قياسا على السيرة- أن أصدق قول قيل فيه هو قول ابن
জারহ ও তাদিল (সমালোচনা ও যাচাই-বাছাই); এ বিষয়ে আলেমগণ তাঁর সম্পর্কে নিন্দাকারী ও প্রশংসাকারী অথবা জারহ ও তাদিলকারীরূপে মতভেদ করেছেন। ইবনে শিহাব যখন বলছিলেন: «মদিনায় যতক্ষণ ইবনে ইসহাক থাকবেন, ততক্ষণ সেখানে প্রচুর ইলম বিদ্যমান থাকবে», তখন অন্য কেউ বলছিলেন: তিনি শিয়া মতবাদ ও কাদরিয়া মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন এবং মোরগ নিয়ে খেলা করতেন।

সমালোচনাকারীবৃন্দ: যারা তাঁর সমালোচনা করেছেন তাদের মধ্যে ইমাম মালিক অন্যতম, তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «ইবনে ইসহাক একজন মিথ্যাবাদী এবং দাজ্জালদের মধ্য থেকে একজন দাজ্জাল»। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: «イবনে ইসহাক দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নন»। ইবনে মাঈন তাঁর থেকে বর্ণিত এক রেওয়ায়েতে ফয়সালা দিয়েছেন যে তিনি ত্রুটিযুক্ত এবং দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নন। তাঁর সমালোচনা করেছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন: হিশাম বিন উরওয়া, ইয়াকুব বিন শাইবা, সুলাইমান আত-তাইমি এবং আদ-দারা কুতনি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, তিনি কিছু ইহুদি ও খ্রিস্টানদের থেকে বর্ণনা শুনতেন এবং তাদেরকে 'প্রথম যুগের ইলমের অধিকারী' বলে অভিহিত করতেন। ইবনে ইসহাকের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তিনি সিরাত গ্রন্থে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা কবিতা রাখতেন।

যাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি মধ্যমপন্থি: ইবনে ইসহাকের বিরুদ্ধে ইমাম আহমাদ থেকে যেমন অভিযোগের কথা বর্ণিত হয়েছে, তেমনি তাঁর সম্পর্কে তাঁর এই উক্তিও বর্ণিত হয়েছে: «তিনি হাসানুল হাদিস। অথবা: তিনি সালেহুল হাদিস, সিরাত গ্রন্থে বর্ণিত কিছু মুনকার সংবাদ ছাড়া আমার কাছে তাঁর আর কোনো দোষ নেই»। মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন নুমাইর থেকে তাঁর সম্পর্কে এই উক্তি বর্ণিত হয়েছে: ইবনে ইসহাকের ওপর কাদরিয়া হওয়ার অপবাদ দেওয়া হতো, অথচ তিনি ছিলেন এ থেকে মানুষের মাঝে সবচেয়ে দূরবর্তী। তাঁর উক্তি:

«যখন তিনি পরিচিত বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করেন, তখন তিনি হাসানুল হাদিস ও সত্যবাদী। তাঁর ত্রুটি কেবল এখান থেকে আসে যে, তিনি অপরিচিত ব্যক্তিদের থেকে বাতিল হাদিসসমূহ বর্ণনা করেন»

যাঁরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন: ইবনে মাঈন থেকেও এই উক্তি বর্ণিত হয়েছে: «ইবনে ইসহাক হাদিসের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য»। ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণিত হয়েছে: «আমি কাউকে ইবনে ইসহাককে অভিযুক্ত করতে দেখিনি»। আবু জুরআ বলেছেন: «বড় বড় আলেমগণ তাঁর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন»। ইমাম মুসলিম তাঁকে সহায়ক বর্ণনাকারী হিসেবে গ্রহণ করেছেন, তিরমিযী তাঁর হাদিসকে সহিহ বলেছেন এবং আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।

সিরাত গ্রন্থের নিরিখে আমি মনে করি যে, তাঁর সম্পর্কে বলা সবচেয়ে সত্য কথাটি হলো ইবনে
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ২৩)
عبد الله بن نمير؛ فقد روى فى السيرة عن المجهولين مالا يحترمه الصدق، وروى أيضا ما ينفح بطيب الحق، وقد بقى فيها ما لا يصح، رغم قيام ابن هشام بتهذيبها، وهو الذى يقول عن ابن إسحاق فى مقدمة كتابه من أنه سيترك مما ذكر ابن إسحاق «أشعارا ذَكَرَهَا، لَمْ أَرَ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالشّعْرِ يَعْرِفُهَا وَأَشْيَاءَ بَعْضُهَا يَشْنُعُ الْحَدِيثُ بِهِ، وَبَعْضٌ يَسُوءُ بَعْضَ النّاسِ ذِكْرُهُ وَبَعْضٌ لَمْ يُقِرّ لَنَا الْبَكّائِيّ بِرِوَايَتِهِ، وَمُسْتَقْصٍ- إنْ شَاءَ الله تعالى-، سِوَى ذَلِك مِنْهُ بِمَبْلَغِ الرّوَايَةِ لَهُ وَالْعِلْمِ به» .

আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর; তিনি সীরাত গ্রন্থে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের সূত্রে এমন সব বিষয় বর্ণনা করেছেন যা সত্যনিষ্ঠার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নয়, আবার তিনি এমন কিছুও বর্ণনা করেছেন যা সত্যের সৌরভে সুবাসিত। ইবনে হিশাম সীরাত গ্রন্থটি পরিমার্জন করা সত্ত্বেও তাতে এমন কিছু বিষয় রয়ে গেছে যা বিশুদ্ধ নয়। তিনি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় ইবনে ইসহাক সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি ইবনে ইসহাকের বর্ণিত বিষয়সমূহ থেকে বর্জন করবেন: “এমন কিছু কবিতা যা তিনি উল্লেখ করেছেন অথচ কাব্যবিশারদদের কাউকেই আমি তা চিনতে দেখিনি, এবং এমন কিছু বিষয় যা বর্ণনা করা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, এবং এমন কিছু বিষয় যার উল্লেখ কিছু মানুষকে ব্যথিত করবে, আর এমন কিছু বিষয় যা আল-বাক্কায়ী আমাদের নিকট বর্ণনার ক্ষেত্রে স্বীকৃতি দেননি। এছাড়া তাঁর বর্ণিত ও জানা অবশিষ্ট বিষয়গুলো আমি -আল্লাহ তাআলা চাইলে- বর্ণনার ব্যাপ্তি ও ইলম অনুযায়ী সবিস্তারে উল্লেখ করব।”

(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌ترجمة ابن هشام

جاء عنه فى وفيات الأعيان: «قال أبو القاسم السهيلى عنه فى كتاب الروض الأنف شرح سِيرَةِ رَسُولِ اللهِ- صلى الله عليه وسلم: إنه مشهور بِحَمْلِ الْعِلْمِ، مُتَقَدّمٌ فِي عِلْمِ النّسَبِ وَالنّحْوِ، وهو من مصر، وأصله من البصرة، وَلَهُ كِتَابٌ فِي أَنْسَابِ حِمْيَرَ وَمُلُوكِهَا، وَكِتَابٌ فِي شَرْحِ مَا وَقَعَ فِي أَشْعَارِ السّيَرِ من الغريب فيما ذكر لى.

وتوفى بمصر سنة ثلاث عشرة ومائتين رحمه الله تعالى» . قلت- أى ابن خلكان- وهذا ابن هشام هو الذى جمع سِيرَةِ رَسُولِ اللهِ- صلى الله عليه وسلم من المغازى والسير لابن إسحاق وهذبها ولخصها وشرحها السهيلى المذكور، وهى الموجودة بأيدى الناس المعروفة بسيرة ابن هشام، وقال أبو سعيد عبد الرحمن بن أحمد بن يونس صاحب تاريخ مصر المقدم ذكره فى تاريخه الذى جعله للغرباء القادمين على مصر: إن عبد الملك المذكور توفى لثلاث عشرة ليلة خلت من شهر ربيع الآخر سنة ثمانى عشرة ومائتين بمصر والله أعلم بالصواب. وقال: إنه ذهلىّ والحميرى «1» قد تقدم الكلام عنه والمعافرىّ هذه النسبة إلى المعافر بن «2» يعفر قبيل كبير ينسب إليه بشر كثير»

--------------------------------------------

(1) نسبة إلى حمير بْنِ سَبَأِ بْنِ يَشْجُبَ بْنِ يَعْرُبَ بْنِ قحطان، وفى حمير بطون وأفخاذ كثيرة (ص 120 الإنباه لابن عبد البر)

(2) هو معافر بن يعفر بن مالك بن الحارث بن مرة بن أدد بن الهميسع بن عمرو ابن يشجب بْنِ عَرِيبِ بْنِ زَيْدِ بْنِ كُهْلَانَ بْنِ سبأ، وفى معافر بطون كثيره (الإنباه لابن عبد البر ص 118)
ইবনে হিশামের জীবনী

'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: «আবু কাসিম আস-সুহায়লি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আর-রওদুল উনুফ'-এ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি ইলম ধারণের জন্য প্রসিদ্ধ, বংশবিদ্যা ও ব্যাকরণশাস্ত্রে অগ্রগণ্য। তিনি মিসরীয়, তবে তাঁর আদি নিবাস ছিল বসরা। হিময়ারের বংশলতিকা ও তাদের রাজাদের নিয়ে তাঁর একটি কিতাব রয়েছে এবং সীরাতের কবিতাসমূহে ব্যবহৃত দুর্বোধ্য শব্দাবলির ব্যাখ্যা নিয়ে তাঁর একটি কিতাব আছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে।

তিনি ২১৩ হিজরিতে মিসরে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন।» আমি—অর্থাৎ ইবনে খাল্লিকান—বলছি: এই ইবনে হিশামই ইবনে ইসহাকের 'আল-মাগাযি' ও 'আস-সিয়ার' থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত সংকলন করেছেন এবং একে পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত করেছেন, যার ব্যাখ্যা লিখেছেন উল্লিখিত সুহায়লি। এটিই বর্তমানে মানুষের হাতে 'সীরাতে ইবনে হিশাম' নামে পরিচিত। ইতিপূর্বে উল্লিখিত 'তারিখে মিসর'-এর রচয়িতা আবু সাঈদ আবদুর রহমান ইবনে আহমদ ইবনে ইউনুস তাঁর সেই ইতিহাসগ্রন্থে—যা তিনি মিসরে আগত বিদেশিদের জন্য রচনা করেছিলেন—বলেছেন: উক্ত আব্দুল মালিক ২১৮ হিজরির রবিউস সানি মাসের তেরো তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর মিসরে ইন্তেকাল করেন। আর আল্লাহই সঠিক বিষয়টি সবচেয়ে ভালো জানেন। তিনি আরও বলেন: তিনি যাহলি। আর 'হিময়ারি' সম্পর্কে আলোচনা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। 'মুয়াফিরি' হলো মুয়াফির ইবনে ইয়াফুরের দিকে সম্বন্ধিত; এটি একটি বিশাল গোত্র যার সাথে বহু মানুষ সম্পৃক্ত।

--------------------------------------------

(১) হিময়ার বিন সাবা বিন ইশজুব বিন ইয়ারুব বিন কাহতানের দিকে সম্বন্ধিত। হিময়ার গোত্রে অনেক শাখা ও উপশাখা রয়েছে। (ইবনে আব্দুল বার রচিত আল-ইনবাহ, পৃষ্ঠা ১২০)

(২) তিনি হলেন মুয়াফির ইবনে ইয়াফুর ইবনে মালিক ইবনে হারিস ইবনে মুররা ইবনে আদাদ ইবনে হামায়সা ইবনে আমর ইবনে ইশজুব ইবনে আরিব ইবনে যায়দ ইবনে কাহলান ইবনে সাবা। মুয়াফির গোত্রে অনেক শাখা রয়েছে। (ইবনে আব্দুল বার রচিত আল-ইনবাহ, পৃষ্ঠা ১১৮)
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌ترجمة الإمام السهيلى

وردت ترجمته فى عدة كتب: «الضبى فى البغية، وابن خلكان فى وفيات الأعيان، وابن دحية فى المطرب الورقة 74، والسيوطى فى البغية، والمقرى فى نفح الطيب، وابن تغرى بردى فى النجوم الزاهرة، وابن عماد الحنبلى فى شذرات الذهب، وكتاب المطرب فى حلى المغرب، ونكت الهميان للصفدى، والديباج المذهب لابن فرحون» ، وأنقل هنا ترجمته عن الديباج بلفظه معقبا عليها بما له فائدة من المصادر الأخرى

«عبد الرحمن السهيلى أبو القاسم، وأبو زيد عبد الرحمن بن الخطيب، أبى محمد ابن عبد الله بن الخطيب، أبى عمر أحمد بن أبى الحسن أصبغ بن حسين بن سعدون بن رضوان بن فتوح السهيلى، الإمام المشهور، صاحب كتاب «الروض الأنف» فى شرح سيرة سيدنا رسول الله- صلى الله عليه وسلم وله كتاب «التعريف والإعلام فيما أبهم فى القرآن من الأسماء الأعلام» . وله كتاب «نتائج الفكر» وكتاب «شرح آية الوصية فى الفرائض» كتاب بديع «ومسئلة رؤية النّبِيّ- صلى الله عليه وسلم فِي الْمَنَامِ «1» » ، «ومسئلة السر فى عور الدجال» إلى غير ذلك من تآليفه المفيدة «2» وأوضاعه الغريبة، وكان له حظ وافر من العلم والأدب أخذ الناس عنه، وانتفعوا به «3» ومن شعره- قال ابن دحية: أنشدنى، وقال:

ما سأل الله بها حاجة إلا أعطاه إياها، وكذلك من استعمل إنشادها وهى:

--------------------------------------------

(1) فى الوفيات. أن الكتاب فى رؤية الله وفى رؤية النبى

(2) زاد الصفدى فى نكت الهميان كتاب. شرح الجمل وقال. لم يتم

(3) فى نكت الهميان «ناظر على بن الحسين بن الطراوة فى كتاب سيبويه، وسمع منه كثيرا من اللغة والآداب، وكان عالما بالعربية واللغة والقراءات بارعا فى ذلك، تصدر للافتاء والتدريس والحديث، وبعد صيته، وجل قدره جمع بين الرواية والدراية» .
ইমাম আল-সুহায়লির জীবনী

তাঁর জীবনী বেশ কিছু গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: ‘আল-বুগইয়াহ’ গ্রন্থে আয-যাব্বি, ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’ গ্রন্থে ইবনে খাল্লিকান, ‘আল-মুতরিব’ (পত্র ৭৪) গ্রন্থে ইবনে দিহয়াহ, ‘আল-বুগইয়াহ’ গ্রন্থে আস-সুয়ুতি, ‘নাফহুত তীব’ গ্রন্থে আল-মাক্কারি, ‘আন-নুজুমুয যাহিরাহ’ গ্রন্থে ইবনে তাগরি বারদি, ‘শাযারাতুয যাহাব’ গ্রন্থে ইবনে ইমাদ আল-হাম্বলি, ‘আল-মুতরিব ফি হুলাল মাগরিব’ গ্রন্থ, আস-সাফাদির ‘নুকাতুল হিমইয়ান’ এবং ইবনে ফারহুনের ‘আদ-দিবাজুল মুযাহহাব’। আমি এখানে ‘আদ-দিবাজ’ থেকে তাঁর জীবনী হুবহু বর্ণনা করছি এবং সাথে অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত উপকারী তথ্যাদিও যুক্ত করছি।

«আবদুর রহমান আল-সুহায়লি আবুল কাসিম, এবং আবু যায়েদ আবদুর রহমান ইবনুল খাতিব আবু মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল খাতিব আবু উমর আহমদ ইবনে আবিল হাসান আসবাগ ইবনে হুসাইন ইবনে সা’দুন ইবনে রিদওয়ান ইবনে ফুতূহ আল-সুহায়লি। তিনি একজন প্রসিদ্ধ ইমাম, আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আর-রওযুল উনুফ’-এর লেখক। তাঁর ‘আত-তা’রিফু ওয়াল ই’লামু ফীমা উবহামা ফিল কুরআনি মিনাল আসমাউল আ’লাম’ নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর ‘নাতাইজুল ফিকর’ নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে এবং উত্তরাধিকার আইন বা ফারায়েয শাস্ত্রের ‘শরহু আয়াতিল ওয়াসিয়্যাহ’ নামক একটি চমৎকার গ্রন্থ রয়েছে। এবং ‘স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিদার সম্পর্কিত মাসআলা «১»’, এবং ‘দাজ্জালের কানা হওয়ার রহস্য সম্পর্কিত মাসআলা’ সহ তাঁর আরও অনেক উপকারী রচনা «২» ও দুর্লভ সংকলন রয়েছে। ইলম ও আদব বা সাহিত্যে তাঁর অগাধ জ্ঞান ছিল। মানুষ তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন «৩»। তাঁর কবিতা সম্পর্কে ইবনে দিহয়াহ বলেন: তিনি আমাকে শুনিয়েছেন এবং বলেছেন:

এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে যে কোনো প্রয়োজনের কথা চাওয়া হলে তিনি তা দান করেন; একইভাবে যারা এটি পাঠ করে প্রার্থনা করেন তাদের জন্যও তাই; আর সেটি হলো:

--------------------------------------------

(১) ‘আল-ওয়াফায়াত’ গ্রন্থে রয়েছে যে, বইটি আল্লাহ তা’আলার দর্শন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দর্শন সম্পর্কে।

(২) আস-সাফাদি ‘নুকাতুল হিমইয়ান’ গ্রন্থে ‘শরহুল জুমাল’ নামক গ্রন্থের কথা যোগ করেছেন এবং বলেছেন যে, এটি সমাপ্ত হয়নি।

(৩) ‘নুকাতুল হিমইয়ান’ গ্রন্থে রয়েছে: «তিনি সিবওয়াইহ-এর কিতাব নিয়ে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনুত তারাওয়ার সাথে বিতর্ক করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে প্রচুর ভাষা ও সাহিত্য শ্রবণ করেছেন। তিনি আরবী ভাষা, সাহিত্য ও ক্বিরাআত শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ও পারদর্শী ছিলেন। তিনি ফতোয়া প্রদান, শিক্ষকতা এবং হাদীস বর্ণনার জন্য আসীন হন। তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ হয়; তিনি বর্ণনা (রিওয়ায়াত) ও উপলদ্ধি (দিরায়াত) — উভয় জ্ঞানের সমন্বয় করেছিলেন»।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ২৬)
يا من يرى ما فى الضمير ويسمع … أنت المعدّ لكل ما يتوقّع

يا من يرجّى للشدائد كلّها … يا من إليه المشتكى والمفزع

يا من خزائن ملكه فى قول: كن … امنن فإنّ الخير عندك أجمع

مالى سوى فقرى إليك وسيلة … فبالافتقار إليك فقرى أدفع

مالى سوى قرعى لبابك حيلة … فلئن رددت، فأى باب أقرع؟!

ومن الذى أدعو، وأهتف باسمه … إن كان فضلك عن فقيرك يمنع؟!

حاشا لمجدك أن تقنط عاصيا … والفضل أجزل والمواهب أوسع

ثم الصلاة على النبى وآله … خير الأنام، ومن به يستشفع «1»

وله أشعار كثيرة، وكان ببلده يتسوغ بالعفاف، ويتبلغ بالكفاف، حتى نمى خبره إلى صاحب مراكش، فطلبه إليها، وأحسن إليه وأقبل بوجهه كل الإقبال عليه، وأقام بها نحو ثلاثة أعوام «2» ، وذكره الذهبى: فقال: أبو زيد، وأبو القاسم وأبو الحسن: عبد الرحمن، العلامة الأندلسى المالقى النحوى الحافظ العلم، صاحب التصانيف، أخذ القراءات عن سليمان بن يحيى وجماعة، وروى عن ابن العربى القاضى أبى بكر وغيره من الكبار، وبرع فى العربية واللغة والأخبار والأثر، وتصدر للافادة، وذكر الآثار، وحكى عنه أنه قال: أخبرنا أبو بكر بن العربى فى

--------------------------------------------

(1) فى مصادر أخرى مغايرة طفيفة لما هنا مثل: يا من خزائن رزقه، فبالافتقار إليك ربى أضرع، إن كان فضلك عن فقير يمنع. ولا يستشفع برسول الله صلى الله عليه وسلم، فإن الشفاعة لله جميعا.

(2) وولاه بها قضاء الجماعة، وصاحب مراكش هو: أبو يعقوب يوسف ابن عبد المؤمن الذى تولى إمرة الموحدين فى المغرب سنه 558. وأظن أنه استدعى السهيلى سنه 578 هـ.
হে তিনি, যিনি অন্তরের গোপন বিষয় দেখেন এবং শ্রবণ করেন … প্রতিটি সম্ভাব্য ঘটনার জন্য আপনিই একমাত্র সহায়

হে তিনি, সকল বিপদে যাঁর নিকট প্রত্যাশা করা হয় … হে তিনি, যাঁর নিকট ফরিয়াদ জানানো হয় এবং আশ্রয় গ্রহণ করা হয়

হে তিনি, যাঁর রাজত্বের ভাণ্ডারসমূহ 'কুন' (হও) শব্দের মধ্যে নিহিত … অনুগ্রহ করুন, কেননা সকল কল্যাণ আপনার নিকটেই নিহিত

আপনার প্রতি আমার চরম মুখাপেক্ষিতা ছাড়া আমার আর কোনো উসিলা নেই … তাই আপনার প্রতি আমার এই অভাববোধের মাধ্যমেই আমি আমার অভাব দূর করি

আপনার দ্বারে করাঘাত করা ছাড়া আমার কোনো উপায় নেই … সুতরাং আপনি যদি আমাকে ফিরিয়ে দেন, তবে আমি আর কার দ্বারে করাঘাত করব?!

আর কে আছে যাকে আমি ডাকব এবং যাঁর নাম ধরে প্রার্থনা করব … যদি আপনার অনুগ্রহ আপনার এই মুখাপেক্ষী বান্দার থেকে রুদ্ধ হয়ে যায়?!

আপনার সুমহান মর্যাদার শানে এটি অসম্ভব যে আপনি কোনো পাপিষ্ঠকে নিরাশ করবেন … অথচ আপনার অনুগ্রহ অতি মহান এবং দানসমূহ অতি প্রশস্ত

অতঃপর দরুদ বর্ষিত হোক নবী এবং তাঁর পরিবারের ওপর … যিনি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ এবং যাঁর মাধ্যমে সুপারিশ কামনা করা হয়

তাঁর অনেক কবিতা রয়েছে। তিনি নিজ শহরে অত্যন্ত পবিত্রতা ও অল্পে তুষ্টির সাথে জীবন অতিবাহিত করতেন এবং ন্যূনতম জীবনোপকরণ নিয়ে তুষ্ট থাকতেন, অবশেষে তাঁর সুখ্যাতি মরক্কোর অধিপতির নিকট পৌঁছালে তিনি তাঁকে সেখানে তলব করেন। তিনি তাঁর প্রতি অত্যন্ত সদাচার করেন এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ করেন। তিনি সেখানে প্রায় তিন বছর অবস্থান করেন। আয-যাহাবি তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করে বলেন: আবু যাইদ, আবুল কাসিম এবং আবুল হাসান: আব্দুর রহমান, আল্লামা, আন্দালুসি, মালেকি, ব্যাকরণবিদ, হাফিজ ও প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, বহু গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি সুলাইমান বিন ইয়াহইয়া এবং একটি জামাতের নিকট কিরাত শিক্ষা করেন এবং বিচারক আবু বকর ইবনুল আরাবি ও অন্যান্য বড় বড় আলেমদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আরবি সাহিত্য, ভাষাতত্ত্ব, ইতিহাস ও হাদিসে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং জ্ঞান বিতরণে ও আসার (পূর্বসূরিদের বাণী) বর্ণনায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আবু বকর ইবনুল আরাবি আমাদের জানিয়েছেন...

--------------------------------------------

(১) অন্যান্য উৎসগুলোতে এখানে উল্লিখিত পাঠের চেয়ে সামান্য ভিন্নতা পাওয়া যায়, যেমন: 'হে তিনি, যাঁর রিজিকের ভাণ্ডারসমূহ', 'সুতরাং আপনার প্রতি মুখাপেক্ষিতার মাধ্যমে হে আমার রব আমি বিনতি করি', 'যদি আপনার অনুগ্রহ কোনো দরিদ্রের জন্য রুদ্ধ হয়'। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট সুপারিশ প্রার্থনা করা যাবে না, কেননা সুপারিশের সমস্ত মালিকানা কেবল আল্লাহর জন্য নির্ধারিত।

(২) তিনি তাঁকে সেখানে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব প্রদান করেন। মরক্কোর অধিপতি হলেন: আবু ইয়াকুব ইউসুফ ইবনে আব্দিল মুমিন, যিনি ৫৫৮ হিজরিতে মাগরিবে মুওয়াহহিদুনদের শাসনভার গ্রহণ করেন। আমার ধারণা, তিনি ৫৭৮ হিজরিতে আস-সুহাইলিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ২৭)
مشيخته عن أبى المعالى، أنه سأله فى مجلسه رجل من العوام فقال: أيها الفقيه الإمام: أريد أن تذكر لى دليلا شرعيا على أن الله تعالى لا يوصف بالجهة، ولا يحدد بها. فقال: نعم قول رسول الله- صلى الله عليه وسلم: «لا تفضلونى على يونس بن متّى» فقال الرجل: إنى لا أعرف وجه الدليل من هذا الدليل، وقال كل من حضر المجلس مثل قول الرجل، فقال أبو المعالى: أضافنى الليلة ضيف له علىّ ألف دينار، وقد شغلت بالى، فلو قضيت عنى قلتها، فقام رجلان من التجار، فقالا: هى فى ذمتنا، فقال أبو المعالى: لو كان رجلا واحدا يضمنها كان أحب إلىّ فقال أحد الرجلين أو غيرهما: هى فى ذمتى، فقال أبو المعالى: نعم إن الله تعالى أسرى بعبده إلى فوق سبع سموات، حتى سمع صرير الأقلام، والتقم يونس الحوت، فهوى به إلى جهة التحت من الظلمات ما شاء الله، فلم يكن سيدنا محمد- صلى الله عليه وسلم فى علو مكانه بأقرب إلى الله تعالى من يونس فى بعد مكانه «1» ، فالله تعالى لا يتقرب إليه بالأجرام والأجسام، وإنما يتقرب إليه بصالح الأعمال، ومن شعره:

إذا قلت يوما: سلام عليكم … ففيها شفاء، وفيها السقام

شفاء إذا قلتها مقبلا … وإن أنت أدبرت فيها الحمام

قال صاحب الوفيات: «والسّهيلىّ يضم السين المهملة وفتح الهاء وسكون

--------------------------------------------

(1) هذا دليل مصنوع، ومدفوع، فالله يقول «أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّماءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ» وقد سأل الرسول- صلى الله عليه وسلم: أين الله يا جارية؟ فقالت: فى السماء. فقال لصاحبها: أعتقها فإنها مؤمنة. إنه معنا حيث كنا وهو مستو على العرش.
আবু আল-মাআলীর উস্তাদদের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর মজলিসে এক সাধারণ ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: হে ইমাম ফকিহ! আমি চাই আপনি আমার কাছে এমন একটি শরয়ী দলিল বর্ণনা করুন যে, আল্লাহ তাআলাকে কোনো দিকের মাধ্যমে গুণান্বিত করা যায় না এবং তিনি কোনো দিকের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নন। তিনি বললেন: হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «তোমরা আমাকে ইউনুস ইবনে মাত্তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না»। লোকটি বলল: আমি এই দলিলের মাধ্যমে প্রমাণের ধরনটি বুঝতে পারছি না। মজলিসে উপস্থিত সকলেই লোকটির মতো একই কথা বললেন। তখন আবু আল-মাআলী বললেন: আজ রাতে আমার কাছে এক পাওনাদার এসেছেন যার আমার কাছে এক হাজার দিনার প্রাপ্য রয়েছে, এটি আমার মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। যদি তোমরা আমার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দিতে, তবে আমি এর ব্যাখ্যা করতাম। তখন বণিকদের মধ্য থেকে দুজন লোক দাঁড়িয়ে বললেন: এটি আমাদের জিম্মায় রইল। আবু আল-মাআলী বললেন: যদি একজন ব্যক্তি এটি জিম্মায় নিত তবে তা আমার কাছে বেশি পছন্দনীয় হতো। তখন সেই দুজনের একজন বা অন্য কেউ বললেন: এটি আমার জিম্মায়। এরপর আবু আল-মাআলী বললেন: হ্যাঁ, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাকে সাত আসমানের ঊর্ধ্বে পরিভ্রমণ করিয়েছেন, এমনকি তিনি কলমের খসখস শব্দ শুনেছেন। আবার ইউনুসকে মাছ গিলে ফেলেছিল, ফলে তিনি গভীর অন্ধকারের নিচে আল্লাহ যতটুকু চেয়েছিলেন ততটুকু নিচে চলে গিয়েছিলেন। সুতরাং আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় উচ্চ মাকামের কারণে আল্লাহর কাছে ইউনুস (আ.)-এর চেয়ে অধিক নিকটবর্তী ছিলেন না। কারণ আল্লাহ তাআলার নৈকট্য দেহ বা বস্তুর দূরত্বের মাধ্যমে অর্জিত হয় না, বরং সৎ কর্মের মাধ্যমেই তাঁর নৈকট্য লাভ করা যায়। তাঁর কবিতা থেকে:

যদি আমি কোনোদিন বলি: তোমাদের ওপর সালাম … তবে তাতে আরোগ্য আছে, আবার তাতে ব্যাধিও আছে।

আরোগ্য হবে যদি তুমি তা গ্রহণ করো … আর যদি তুমি মুখ ফিরিয়ে নাও তবে তাতে মৃত্যু।

ওয়াফিয়াত গ্রন্থের লেখক বলেন: «আস-সুহাইলি শব্দটি সিন বর্ণে পেশ, হা বর্ণে জবর এবং ইয়া বর্ণে সাকিন যুক্ত»

--------------------------------------------

(১) এটি একটি বানোয়াট ও প্রত্যাখ্যাত দলিল। আল্লাহ বলেন: «তোমরা কি আসমানে যিনি আছেন তাঁর থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছ যে, তিনি তোমাদেরকে জমিনে ধসিয়ে দেবেন?» আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক দাসীকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আল্লাহ কোথায়? সে বলেছিল: আসমানে। তখন তিনি তার মালিককে বললেন: একে মুক্ত করে দাও, কেননা সে মুমিন। নিশ্চয়ই তিনি আমাদের সাথেই আছেন যেখানেই আমরা থাকি না কেন এবং তিনি আরশের ওপর উঠেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ২৮)
الياء المثناة من تحت، وبعدها لام، ثم ياء هذه النسبة إلى سهيل، وهى قرية بالقرب من مالقة سميت باسم الكوكب «1» لأنه لا يرى فى جميع الأندلس إلا من جبل مطلّ عليها، ومالقة بفتح اللام والقاف، وهى مدينة بالأندلس. وقال السمعانى بكسر اللام وهو غلط، وتوفى بمراكش سنة إحدى وثمانين وخمسمائة وكان- رحمه الله مكفوفا، وعاش اثنتين وسبعين سنة» . هذا ما فى الديباج المذهب لابن فرحون، ويقول الصفدى فى كتابه نكت الهميان: «ومن شعره يرثى بلده، وكان الفرنج قد ضربته، وقتلت رجاله ونساءه [وقتلوا أهله وأقاربه وكان غائبا عنهم، فاستأجر من أركبه دابة، وأتى به إليه، فوقف إزاءه وقال: «2»

يا دار أين البيض والآرام! … أم أين جيران علىّ كرام

راب المحبّ من المنازل أنه … حيّا، فلم يرجع إليه سلام!

أخرسن أم بعد المدى، فنسينه … أم غال من كان المجيب حمام!

دمعى شهيدى أننى لم أنسهم … إن السلوّ على المحبّ حرام

لما أجابنى الصدى عنهم، ولم … يلج المسامع للحبيب كلام

طارحت ورق حمامها مترنّما … بمقال صبّ، والدموع سجام

يا دار ما صنعت بك الأيام … ضامتك، والأيام ليس تضام

--------------------------------------------

(1) وهو سهيل. وهو كوكب يمان لا يرى بخراسان، ويرى بالعراق، وقال ابن كناسة: سهيل يرى بالحجاز، وفى جميع أرض العرب، ولا يرى بأرمينية «عن اللسان» . وعند الصفدى: «وأصله من قرية بوادى سهيل من كورة مالقة، وهى- كما وصفها ياقوت فى معجمه- سورها على شاطئ البحر بين الجزيرة الخضراء والمرية.

(2) ما بين قوسين من المغرب فى حلى المغرب.
নিচে দুই নকতাযুক্ত ইয়া, এরপর লাম, তারপর ইয়া—এই সম্বন্ধটি হলো 'সুহাইল'-এর দিকে। এটি মালাগাহ-র (Malaga) নিকটবর্তী একটি গ্রাম, যা নক্ষত্রের নামে নামকরণ করা হয়েছে [১]। কারণ এটি সমগ্র আন্দালুসের মধ্যে কেবল সেই গ্রামের ওপর অবস্থিত একটি পাহাড় থেকেই দেখা যায়। আর মালাগাহ শব্দটি লাম ও কাফ অক্ষরে ফাতাহ (যবর) সহকারে উচ্চারিত হয়, এটি আন্দালুসের একটি শহর। আস-সামআনী লাম অক্ষরে কাসরা (যের) দিয়ে উচ্চারণ করেছেন, যা ভুল। তিনি ৫৮১ হিজরি সনে মারাকেশে ইন্তেকাল করেন। তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—দৃষ্টিহীন ছিলেন এবং বাহাত্তর বছর জীবন লাভ করেছিলেন। এটি ইবনে ফারহুনের 'আদ-দিবাজ আল-মুযাহহাব' গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তা-ই। আস-সাফাদী তাঁর 'নুখাতুল হিমইয়ান' গ্রন্থে বলেন: "তাঁর কবিতার মধ্যে রয়েছে যা তিনি তাঁর জন্মভূমির জন্য শোকগাঁথা হিসেবে লিখেছিলেন। ফ্রাঙ্করা (ইউরোপীয়রা) সেখানে আক্রমণ করেছিল এবং সেখানকার পুরুষ ও নারীদের হত্যা করেছিল [এবং তারা তাঁর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের হত্যা করেছিল যখন তিনি তাদের থেকে দূরে ছিলেন। অতঃপর তিনি একজনকে ভাড়া করলেন যে তাঁকে একটি বাহনে করে সেখানে নিয়ে যাবে। তিনি সেখানে পৌঁছালেন এবং সেটির সামনে দাঁড়িয়ে বললেন: [২]

হে গৃহ! শুভ্র রূপসীরা ও হরিণীরা কোথায় গেল? … আর আমার সেই সম্মানিত প্রতিবেশীরাই বা কোথায়?

প্রেমিককে গৃহগুলোর এই আচরণ বিচলিত করেছে যে … সে সম্ভাষণ জানাল, অথচ তাকে সালামের উত্তর দেওয়া হলো না!

তারা কি বোবা হয়ে গিয়েছে, নাকি দূরত্বের কারণে আমাকে ভুলে গেছে? … নাকি উত্তরদাতাকে মৃত্যু গ্রাস করেছে!

আমার চোখের অশ্রুই তার সাক্ষী যে আমি তাদের ভুলিনি … নিশ্চয়ই প্রেমিকের জন্য প্রিয়জনকে ভুলে থাকা হারাম

যখন তাদের পক্ষ থেকে কেবল প্রতিধ্বনিই আমাকে উত্তর দিল, আর … প্রিয়ার কোনো কথা কানে পৌঁছাল না;

তখন আমি সেখানকার ধূসর কপোতদের সাথে বিলাপ শুরু করলাম … এক আসক্তের বাক্যে, যখন চোখের জল ছিল প্রবাহমান।

হে গৃহ! কালচক্র তোমার সাথে কী আচরণ করল? … সে তোমার ওপর জুলুম করেছে, অথচ কালচক্রের ওপর কেউ জুলুম করতে পারে না।

--------------------------------------------

(১) আর এটি হলো সুহাইল (নক্ষত্র)। এটি একটি ইয়ামানী নক্ষত্র যা খুরাসানে দেখা যায় না, তবে ইরাকে দেখা যায়। ইবনে কুনাসাহ বলেন: সুহাইল হিজাজে এবং সমগ্র আরব ভূখণ্ডে দেখা যায়, কিন্তু আর্মেনিয়ায় দেখা যায় না (লিসানুল আরব থেকে সংগৃহীত)। আস-সাফাদীর মতে: "তার আদি নিবাস হলো মালাগাহ অঞ্চলের ওয়াদী সুহাইলের একটি গ্রাম। আর এটি—যেমনটি ইয়াকুত তাঁর মু'জাম গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—সমুদ্রতীরবর্তী একটি প্রাচীরবেষ্টিত শহর, যা জাজিরাতুল খাদরা (Algeciras) এবং আল-মারিয়াহর (Almeria) মাঝে অবস্থিত।

(২) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু 'আল-মুগরিব ফী হুলিল মুগরিব' গ্রন্থ থেকে নেওয়া।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ২৯)
ويقول ابن خلكان عنه: «ومولده سنة ثمان وخمسمائة بمدينة مالقة، وتوفى بحضرة مراكش يوم الخميس، ودفن وقت الظهر، وهو السادس والعشرون من شعبان سنة إحدى وثمانين وخمسمائة» ، وقال عنه إنه خثعمى نسبة إلى خثعم بن أنمار، وهى قبيلة كبيرة. وذكر صاحب النجوم الزاهرة أيضا أنه مات فى شعبان.
ইবনে খাল্লিকান তাঁর সম্পর্কে বলেন: «তাঁর জন্ম পাঁচশত আট হিজরি সনে মালাকা শহরে, এবং তিনি মারাকেশ নগরে বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করেন। আর জোহরের সময় তাঁকে দাফন করা হয়, যা ছিল পাঁচশত একাশি হিজরি সনের ছাব্বিশে শাবান»। তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেন যে, তিনি খাশআমি, যা খাশআম বিন আনমারের দিকে সম্বন্ধযুক্ত; আর এটি একটি বৃহৎ গোত্র। ‘আন-নুজুমুজ জাহিরা’র রচয়িতাও উল্লেখ করেছেন যে তিনি শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ৩১)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مُقَدّمَةُ الرّوْضِ الْأُنُفِ

حَمْدًا لِلّهِ الْمُقَدّمِ عَلَى كُلّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ، وَذِكْرُهُ- سُبْحَانَهُ- حَرِيّ أَلّا يُفَارِقَ الْخَلَدَ وَالْبَالَ، كَمَا بَدَأَنَا- جَلّ وَعَلَا- بِجَمِيلِ عَوَارِفِهِ قَبْلَ الضّرَاعَةِ إلَيْهِ وَالِابْتِهَالِ، فَلَهُ الْحَمْدُ- تَعَالَى- حَمْدًا لَا يَزَالُ دَائِمَ الِاقْتِبَالِ.

ضَافِيَ السّرْبَالِ «1» ، جَدِيدًا عَلَى مَرّ الْجَدِيدَيْنِ «2» غَيْرَ بَالٍ. عَلَى أَنّ حَمْدَهُ- سُبْحَانَهُ- وَشُكْرَهُ عَلَى نِعَمِهِ، وَجَمِيلِ بَلَائِهِ مِنّةٌ مِنْ مِنَنِهِ. وَآلَاءٌ مِنْ آلَائِهِ. فَسُبْحَانَ مَنْ لَا غَايَةَ لِجُودِهِ وَنَعْمَائِهِ! وَلَا حَدّ لِجَلَالِهِ، وَلَا حَصْرَ لِأَسْمَائِهِ وَالْحَمْدُ لِلّهِ الّذِي أَلْحَقَنَا بِعِصَابَةِ الْمُوَحّدِينَ، وَوَفّقَنَا لِلِاعْتِصَامِ بِعُرْوَةِ هَذَا الْأَمْرِ الْمَتِينِ، وَخَلَقَنَا فِي إبّانِ الْإِمَامَةِ الْمَوْعُودِ بِبَرَكَتِهَا عَلَى لِسَانِ الصّادِقِ الْأَمِينِ، إمَامَةِ سَيّدِنَا الْخَلِيفَةِ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ ابن أمير المؤمنين ابن أمير المؤمنين «3» ،

--------------------------------------------

(1) القميص والدرع، أو كل ما يلبس

(2) الليل والنهار

(3) يعنى دولة الموحدين التى بدأ أمرها بمحمد بن تومرت، والتى حكمت المغرب العربى والأندلس، ويعنى بالخليفة: أبا يعقوب يوسف بن عبد المؤمن الذى تولى إمرة الموحدين سنة 558 هـ بالمغرب، وفى عهده تم للموحدين إخضاع الأندلس، وعنه يقول ابن خلكان: «كان يوسف فقيها حافظا متقنا نشأ فى ظهور الخيل بين أبطال الفرسان» وعنه أيضا يقول المراكشى فى المعجب: «لم يكن فى بنى عبد المؤمن فيمن تقدم منهم، وتأخر ملك بالحقيقة غير أبى يعقوب» هذا وقد توفى أبو يعقوب سنة 580 هـ. وقد بدأ السهيلى فى إملاء كتابه هذا فى المحرم سنة 569 هـ وانتهى منه فى جمادى الأولى من نفس العام.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌আর-রওযুল উনুফ-এর ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যা সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের শুরুতে অগ্রগণ্য। তাঁর—পবিত্রতা বর্ণনা করছি—স্মরণ মন ও মস্তিষ্ক থেকে বিচ্যুত না হওয়াই বাঞ্ছনীয়। যেমন তিনি—সুমহান ও সুউচ্চ—আমাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের প্রার্থনা ও বিনতি করার আগেই সুন্দর দানে আমাদের ধন্য করেছেন। অতএব তাঁরই জন্য সমস্ত প্রশংসা—তিনি সুউচ্চ—এমন প্রশংসা যা সর্বদা সমাদৃত ও অবিরাম।

যা একটি প্রশস্ত পোশাকের মতো [১], যা দিন ও রাতের [২] আবর্তনে সর্বদা নতুন থাকে এবং কখনো জরাজীর্ণ হয় না। অধিকন্তু তাঁর—পবিত্রতা বর্ণনা করছি—প্রশংসা করা এবং তাঁর নেয়ামত ও সুন্দর পরীক্ষার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা স্বয়ং তাঁরই অন্যতম এক অনুগ্রহ। এটি তাঁর নেয়ামতসমূহেরই অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং পবিত্রতা সেই সত্তার, যাঁর বদান্যতা ও নেয়ামতের কোনো শেষ নেই! যাঁর মহত্ত্বের কোনো সীমা নেই এবং যাঁর নামসমূহ গণনা করে শেষ করা যায় না। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের একত্ববাদীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং এই সুদৃঢ় রজ্জু শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার তাওফিক দান করেছেন। তিনি আমাদের এমন এক ইমামতের যুগে সৃষ্টি করেছেন, যার বরকতের প্রতিশ্রুতি সত্যবাদী ও আমানতদার (রাসূলুল্লাহ ﷺ)-এর যবানে দেওয়া হয়েছিল; যা আমাদের নেতা খলিফা, আমিরুল মুমিনীনের পুত্র, আমিরুল মুমিনীনের পুত্র, আমিরুল মুমিনীনের ইমামত [৩],

--------------------------------------------

(১) জামা ও বর্ম, অথবা পরিধানযোগ্য সবকিছু

(২) রাত ও দিন

(৩) অর্থাৎ মুওয়াহহিদুন রাষ্ট্র যার সূচনা হয়েছিল মুহাম্মাদ ইবনে তুমারতের মাধ্যমে এবং যা মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) ও আন্দালুস শাসন করেছিল। এখানে খলিফা বলতে বুঝানো হয়েছে আবু ইয়াকুব ইউসুফ ইবনে আব্দুল মুমিনকে, যিনি ৫৫৮ হিজরিতে মাগরিবে মুওয়াহহিদুনদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনকালেই মুওয়াহহিদুনদের হাতে আন্দালুস বিজিত হয়েছিল। তাঁর সম্পর্কে ইবনে খাল্লিকান বলেন: "ইউসুফ ছিলেন একজন ফকিহ, হাফেজ ও শাস্ত্রজ্ঞ। তিনি ঘোড়ার পিঠে বীর যোদ্ধাদের মাঝে বেড়ে উঠেছিলেন।" তাঁর সম্পর্কে আল-মাররাকুশি 'আল-মু'জিব' গ্রন্থে বলেন: "আব্দুল মুমিনের সন্তানদের মধ্যে পূর্ববর্তী বা পরবর্তী কারও রাজত্ব আবু ইয়াকুবের মতো প্রকৃত রাজত্ব ছিল না।" উল্লেখ্য যে, আবু ইয়াকুব ৫৮০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সুহাইলি ৫৬৯ হিজরির মহররম মাসে এই গ্রন্থটি শ্রুতিলিপি প্রদান শুরু করেন এবং একই বছরের জমাদিউল উলা মাসে তা সম্পন্ন করেন।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ৩২)
السّاطِعَةِ أَنْوَارُهَا فِي جَمِيعِ الْآفَاقِ. الْمُطْفِئَةِ بِصَوْبِ سَحَائِبِهَا، وَجَوْبِ «1» كَتَائِبِهَا جَمَرَاتِ الْكُفْرِ وَالنّفَاقِ:

فِي دولة لحظ الزمان شعاعها … فَارْتَدّ مُنْتَكِصًا بِعَيْنَيْ أَرْمَدِ

مَنْ كَانَ مَوْلِدُهُ تَقَدّمَ قَبْلَهَا … أَوْ بَعْدَهَا، فَكَأَنّهُ لَمْ يُولَدْ

فَلَهُ الْحَمْدُ- تَعَالَى- عَلَى ذَلِكَ كُلّهِ، حَمْدًا لَا يَزَالُ يَتَجَدّدُ وَيَتَوَالَى، وَهُوَ الْمَسْئُولُ- سُبْحَانَهُ- أَنْ يَخُصّ بِأَشْرَفِ صَلَوَاتِهِ، وَأَكْثَفِ بَرَكَاتِهِ، الْمُجْتَبَى مِنْ خَلِيقَتِهِ، وَالْمَهْدِيّ بِطَرِيقَتِهِ، الْمُؤَدّيَ إلَى اللّقَمِ الْأَفْيَحِ «2» وَالْهَادِيَ إلَى مَعَالِمِ دِينِ اللهِ مَنْ أَفْلَحَ، نَبِيّهُ مُحَمّدًا- صلى الله عليه وآله وسلم كَمَا قَدْ أَقَامَ بِهِ الْمِلّةَ الْعَوْجَاءَ، وَأَوْضَحَ بِهَدْيِهِ الطّرِيقَةَ الْبَلْجَاءَ «3» ، وَفَتَحَ بِهِ آذَانًا صُمّا، وَعُيُونًا عُمْيًا، وَقُلُوبًا غُلْفًا «4» . فَصَلّى اللهُ عَلَيْهِ، وَعَلَى آلِهِ صَلَاةً تُحِلّهُ أَعْلَى مَنَازِلِ الزّلْفَى.

 

‌‌الْغَايَةُ مِنْ تَأْلِيفِ الْكِتَابِ

(وَبَعْدُ) فَإِنّي قَدْ انْتَحَيْت فِي هَذَا الْإِمْلَاءِ بَعْدَ اسْتِخَارَةِ ذِي الطّوْلِ «5» ، وَالِاسْتِعَانَةِ بِمَنْ لَهُ الْقُدْرَةُ وَالْحَوْلُ «6» . إلَى إيضَاحِ مَا وَقَعَ فِي سِيرَةِ رَسُولِ الله

--------------------------------------------

(1) الصوب: المطر بقدر ما ينفع، ولا يؤذى، والجوب: القميص تلبسه المرأة، والترس والكانون والدلو الضخمة. والأخيرة هى المناسبة

(2) اللقم: الطريق الواضح

(3) الواضحة.

(4) جمع أغلف. يقال: غلف قلبه- بكسر اللام- لم يع قلبه الرشد

(5) الغنى والفضل واليسر

(6) من معانيها الحركة والتحول، والحيلة والقوة، وهذه هى المقصودة.
যার নূরসমূহ সকল দিগন্তে উদ্ভাসিত। যা স্বীয় মেঘমালার বারিবর্ষণ এবং স্বীয় সেনাদলের অভিযানের মাধ্যমে কুফর ও মুনাফিকির অগ্নিস্ফুলিঙ্গকে নির্বাপিতকারী:

এমন এক রাজত্বে যার রশ্মির দিকে কাল দৃষ্টিপাত করেছে … অতঃপর তা চোখ উঠা রোগীর ন্যায় পিছু হটে ফিরে গেছে।

যার জন্ম এর পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে … অথবা এর পরে, সে যেন জন্মই নেয়নি।

সুতরাং সেই সব কিছুর জন্য প্রশংসা তাঁরই—তিনি সুউচ্চ—এমন প্রশংসা যা সর্বদা নবায়িত ও নিরবচ্ছিন্ন হতে থাকে। আর তিনিই সেই সত্তা—তিনি মহাপবিত্র—যার নিকট প্রার্থনা করা হয় যেন তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে মনোনীত এবং তাঁর প্রদর্শিত পন্থায় পরিচালিত ব্যক্তির জন্য তাঁর শ্রেষ্ঠ রহমত এবং সর্বাধিক বরকত নির্দিষ্ট করেন। যিনি প্রশস্ত পথের দিকে নিয়ে যান এবং আল্লাহর দ্বীনের নিদর্শনাবলীর দিকে পথপ্রদর্শন করেন, যে ব্যক্তি সফল হয়। তিনি হলেন তাঁর নবী মুহাম্মাদ—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম—যেমনিভাবে তিনি তাঁর মাধ্যমে বক্র মিল্লাতকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাঁর হিদায়াতের মাধ্যমে উজ্জ্বল পথকে সুস্পষ্ট করেছেন এবং তাঁর দ্বারা বধির কান, অন্ধ চক্ষু ও মোহরকৃত হৃদয়সমূহ উন্মুক্ত করেছেন। সুতরাং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারের উপর, এমন রহমত যা তাঁকে নৈকট্যের সর্বোচ্চ মর্যাদায় আসীন করবে।

 

‌‌গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য

(অতঃপর) আমি এই শ্রুতলিপিতে অনুগ্রহের মালিকের নিকট ইস্তিখারা করার পর এবং যার ক্ষমতা ও শক্তি রয়েছে তাঁর সাহায্য কামনার পর প্রবৃত্ত হয়েছি আল্লাহর রাসূলের সীরাতে যা বর্ণিত হয়েছে তা স্পষ্ট করার দিকে।

--------------------------------------------

(১) আস-সাওব: উপকার সাধনকারী ও ক্ষতিকারক নয় এমন বৃষ্টি। আল-জাওব: নারীর পরিহিত কামিজ, ঢাল, চুলা এবং বিশাল বালতি। শেষোক্তটিই এখানে অধিক উপযুক্ত।

(২) আল-লাকাম: স্পষ্ট পথ।

(৩) স্পষ্ট বা উজ্জ্বল।

(৪) আগলাফ-এর বহুবচন। বলা হয়: তার অন্তর ‘ঘালিফা’ (লাম বর্ণে কাসরা যোগে)—অর্থাৎ তার অন্তর সঠিক পথ অনুধাবন করেনি।

(৫) ঐশ্বর্য, অনুগ্রহ ও সচ্ছলতা।

(৬) এর অর্থসমূহের মধ্যে রয়েছে গতিশীলতা ও পরিবর্তন, কৌশল ও শক্তি; আর এখানে এটিই উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
- صلى الله عليه وسلم الّتِي سَبَقَ إلَى تَأْلِيفِهَا أَبُو بَكْرِ مُحَمّدُ بْنُ إسْحَاقَ الْمُطّلِبِيّ، وَلَخَصّهَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ هِشَامٍ الْمَعَافِرِيّ «1» الْمِصْرِيّ النّسّابَةُ «2» النّحْوِيّ مِمّا بَلَغَنِي عِلْمُهُ، وَيُسّرَ لِي فَهْمُهُ: مِنْ لَفْظٍ غَرِيبٍ، أَوْ إعْرَابٍ غَامِضٍ، أَوْ كَلَامٍ مُسْتَغْلِقٍ «3» ، أَوْ نَسَبٍ عَوِيصٍ، أَوْ مَوْضِعِ فِقْهٍ يَنْبَغِي التّنْبِيهُ عَلَيْهِ، أَوْ خَبَرٍ نَاقِصٍ يُوجَدُ السّبِيلُ إلَى تَتِمّتِهِ، مَعَ الِاعْتِرَافِ بِكُلُولِ الْحَدّ، عَنْ مَبْلَغِ ذَلِكَ الْحَدّ «4» ، فَلَيْسَ الْغَرَضُ الْمُعْتَمَدُ أَنْ أَسْتَوْلِيَ عَلَى ذَلِكَ الْأَمَدِ «5» ، وَلَكِنْ لَا يَنْبَغِي أَنْ يُدَعّ الْجَحْشُ مَنْ بَذّهُ الْأَعْيَارُ «6» ، وَمَنْ سَافَرَتْ فِي الْعِلْمِ هِمّتُهُ، فَلَا يُلْقِ عَصَا التّسْيَارِ، وَقَدْ قَالَ الْأَوّلُ:

افْعَلْ الْخَيْرَ مَا اسْتَطَعْت، وَإِنْ كَا … نَ قَلِيلًا فَلَنْ تُحِيطَ بِكُلّهْ

وَمَتَى تَبْلُغُ الْكَثِيرَ مِنْ الْفَضْلِ … إذَا كُنْت تَارِكًا لِأَقَلّهْ؟!

نَسْأَلُ الله التّوْفِيقَ لِمَا يُرْضِيهِ، وَشُكْرًا يَسْتَجْلِبُ الْمَزِيدَ مِنْ فضله ويقتضيه.

--------------------------------------------

(1) نسبة إلى معافر بن يعفر، وهم قبيل كبير نزح بعضهم إلى مصر، ومن الرواة من يجعله حميريا، ومنهم من يرد نسبه إلى ذهل، وآخرون يردونه إلى سدوس.

(2) العليم بالأنساب، والتاء للمبالغة.

(3) استغلقت المسألة: عسر فهمها.

(4) كلّ كلولة وكلالة: ضعف. وكلّ حد السيف: لم يقطع. وحدّ الرجل: بأسه. ونفاذه فى نجدته، وحد الشئ: نهايته.

(5) الغاية والنهاية.

(6) الجحش: ولد الحمار. وبذّه: غلبه وفاقه وسبقه، والأعيار: جمع عير: الحمار الوحشى والأهلى. ويدع: يدفع.
আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—যা সংকলনে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-মুত্তালিবী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন এবং যা সংক্ষেপ করেছেন বংশবিদ্যাবিশারদ ও ব্যাকরণবিদ মিশরের আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম আল-মাআফিরি (১) (২)। উক্ত কিতাব থেকে যা আমার জ্ঞানে এসেছে এবং যা অনুধাবন করা আমার জন্য সহজ হয়েছে, আমি তা ব্যাখ্যা করছি: যেমন—কোনো বিরল শব্দ, অস্পষ্ট ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ, দুর্বোধ্য বক্তব্য (৩), জটিল বংশপরিচয়, অথবা ফিকহ বা আইনগত কোনো বিষয় যা নির্দেশ করা আবশ্যক, কিংবা কোনো অপূর্ণ সংবাদ যা পূর্ণ করার পথ পাওয়া সম্ভব। যদিও আমি সেই সীমানায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে আমার মেধার অক্ষমতা বা দুর্বলতা স্বীকার করছি (৪)। তবে আমার প্রধান উদ্দেশ্য এই নয় যে, আমি সেই লক্ষ্য অর্জনে সবার ঊর্ধ্বে থাকব (৫)। কিন্তু বন্য গাধাদের কাছে পরাজিত হওয়ার কারণে ছোট গাধাকে যেন অবজ্ঞার সাথে তাড়িয়ে দেওয়া না হয় (৬)। আর জ্ঞানের পথে যার সংকল্প পাড়ি জমাচ্ছে, তার উচিত নয় তার ভ্রমণের লাঠি নামিয়ে রাখা (অর্থাৎ সফর স্থগিত করা)। প্রাচীনকালের বিজ্ঞজন বলেছেন:

সাধ্যমতো ভালো কাজ করো, তা যদিও অল্প হয়, কারণ তুমি সবটুকু আয়ত্ত করতে পারবে না।

আর তুমি কখন মঙ্গলের আধিক্যে পৌঁছাবে, যদি তুমি তার সামান্য অংশটুকুও ত্যাগ করো?!

আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর সন্তোষজনক কাজের তাওফিক প্রার্থনা করি এবং এমন কৃতজ্ঞতার সুযোগ চাই যা তাঁর অনুগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দেয় এবং তা অনিবার্য করে তোলে।

--------------------------------------------

(১) মাআফির ইবনে ইয়াফুর-এর সাথে সম্পর্কিত; তারা একটি বড় গোত্র যাদের কিছু অংশ মিশরে হিজরত করেছিল। বর্ণনাকারীদের মধ্যে কেউ কেউ তাকে হিময়ারি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কেউ তার বংশসূত্র যোহলের দিকে আবার কেউ সদূসের দিকে ফিরিয়েছেন।

(২) বংশবিদ্যায় পারদর্শী; এখানে 'তা' অক্ষরটি অতিশয়তা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

(৩) বিষয়টি দুর্বোধ্য হওয়া: অর্থাৎ তা বুঝতে কঠিন হওয়া।

(৪) 'কাল্লু', 'কালুলা' ও 'কালালা' শব্দের অর্থ দুর্বলতা। তলোয়ারের ধার ভোঁতা হলে তাকে 'কাল্লা' বলা হয়, যখন তা কাটতে পারে না। মানুষের 'হাদ্দ' বলতে তার তেজ এবং বীরত্বের ক্ষেত্রে তার প্রভাবকে বোঝায়। কোনো বিষয়ের 'হাদ্দ' হলো তার প্রান্ত বা শেষ সীমা।

(৫) লক্ষ্য এবং সমাপ্তি।

(৬) 'জাহশ' মানে গাধার বাচ্চা। 'বায্যাহু' মানে তাকে পরাজিত করা, তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হওয়া বা তার অগ্রবর্তী হওয়া। 'আল-আইয়ার' হলো 'আইর' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ বন্য বা গৃহপালিত গাধা। 'ইউদাউ' মানে ধাক্কা দেওয়া বা তাড়িয়ে দেওয়া।
(খণ্ড: ১) আর-রওযুল উনুফু ফী শারহি সিরাতি ইবনে হিশাম - ত আল-ওয়াকিল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌لِمَاذَا أَتْقَنَ التّأْلِيفَ:

قَالَ الْمُؤَلّفُ أَبُو الْقَاسِمِ: قُلْت هَذَا؛ لِأَنّي كُنْت حِينَ شَرَعْت فِي إمْلَاءِ هَذَا الْكِتَابِ خُيّلَ إلَيّ أَنّ الْمَرَامَ عَسِيرٌ، فَجَعَلْت أَخْطُو خَطْوَ الْحَسِيرِ «1» ، وَأَنْهَضُ نَهْضَ الْبَرْقِ الْكَسِيرِ «2» ، وَقُلْت: كَيْفَ أَرِدُ مَشْرَعًا لَمْ يسبقنى إليه فارط «3» ، وأسلك سَبِيلًا لَمْ تُوطَأْ قَبْلِي بِخُفّ وَلَا حَافِرٍ، فبينا أنا أتردد تردد الحائر، إذ سنح لى هنا لك خَاطِرٌ: أَنّ هَذَا الْكِتَابَ سَيَرِدُ الْحَضْرَةَ الْعَلِيّةَ الْمُقَدّسَةَ الْإِمَامِيّةَ «4» ، وَأَنّ الْإِمَامَةَ سَتَلْحَظُهُ بِعَيْنِ الْقَبُولِ، وَأَنّهُ سَيُكْتَتَبُ لِلْخِزَانَةِ الْمُبَارَكَةِ- عَمّرَهَا اللهُ- بِحِفْظِهِ وَكِلَاءَتِهِ، وَأَمَدّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ بِتَأْيِيدِهِ وَرِعَايَتِهِ، فَيَنْتَظِمُ الْكِتَابُ بِسَلْكِ أَعْلَاقِهَا «5» ، وَيَتّسِقُ مَعَ تِلْكَ الْأَنْوَارِ فى مطالع إشراقها، فَعِنْدَ ذَلِكَ امْتَطَيْت صَهْوَةَ الْجِدّ، وَهَزَزْت نَبْعَةَ العزم «6» . ومريت أخلاف الحفظ «7» ،

--------------------------------------------

(1) حسر بصره حسارة: كل وانقطع من طول مدى، وما أشبه ذلك،

(2) البرق: الحمل وجمعه: أبراق، وبرقان «بضم الباء أو كسرها» وهو معرب: بره.

(3) المشرع: مورد الماء، والفارط: من يسبق القوم إلى الماء، ليهيئه ويعده.

(4) كناية عن أبى يعقوب يوسف بن عبد المؤمن، وقد سبق الكلام عنه.

(5) جمع علق: وهو النفيس من الشئ

(6) أصل النّبعة؛ شجرة تتخذ منها القسى. ومن أغصانها السهام وهى تنبت فى قلة الجبل.

(7) مرى الشئ: استخرجه، ومريت الفرس بفتح الميم والراء: حملته على إبراز مقدرته على الجرى، ومرى الناقه: مسّ ضرعها، والأخلاف: جمع: خلف بكسر الخاء: حلمة الضّرع، وضرع الناقة.
কেন তিনি রচনাশৈলী নিখুঁত করেছেন:

গ্রন্থকার আবুল কাসিম বলেছেন: আমি এটি বলেছি; কারণ যখন আমি এই গ্রন্থটি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে সংকলন করা শুরু করি, তখন আমার মনে হয়েছিল যে লক্ষ্যটি অত্যন্ত কঠিন। তাই আমি এক ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত পথিকের মতো কদম বাড়াতে শুরু করি এবং এক ভেঙে পড়া মেষশাবকের মতো উঠে দাঁড়াতে প্রয়াস পাই। আমি মনে মনে বললাম: আমি কীভাবে এমন এক পানির ঘাটে পৌঁছাব যেখানে আমার আগে কোনো অগ্রগামী পথপ্রদর্শক পৌঁছেনি? এবং কীভাবে এমন এক পথে চলব যা আমার আগে কোনো চতুষ্পদ জন্তুর খুর বা পা দ্বারা মাড়ানো হয়নি? আমি যখন একজন দ্বিধাগ্রস্ত ব্যক্তির মতো ইতস্তত করছিলাম, তখন সেখানে আমার মনে এক চিন্তার উদয় হলো: নিশ্চয়ই এই গ্রন্থটি সুউচ্চ পবিত্র ইমামি দরবারে পৌঁছাবে, এবং ইমামত একে কবুলিয়াতের নজরে দেখবেন। আর এটি সেই বরকতময় গ্রন্থাগারের জন্য অনুলিপি করা হবে—আল্লাহ একে আবাদ রাখুন—তাঁরই হিফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে। আর আল্লাহ মুমিনদের আমিরকে তাঁর সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ধন্য করবেন। ফলে গ্রন্থটি সেই মূল্যবান সংগ্রহশালার মালায় গেঁথে যাবে এবং সেই আলোগুলোর উদয়স্থলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। সেই মুহূর্তে আমি একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার পিঠে সওয়ার হলাম এবং দৃঢ় সংকল্পের মূলকে আন্দোলিত করলাম। আর স্মৃতির ওলান থেকে নির্যাস বের করে আনলাম।

--------------------------------------------

(১) দৃষ্টি ক্লান্ত হওয়া: দীর্ঘ দূরত্বের কারণে দৃষ্টিশক্তি পরিশ্রান্ত ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, এবং এই জাতীয় বিষয়।

(২) বারক্ব: মেষশাবক, এর বহুবচন: আবরাক্ব এবং বুরক্বান (বা-এর উপর পেশ বা নিচে যের দিয়ে)। এটি ফারসি শব্দ 'বারাহ' এর আরবি রূপ।

(৩) মাশরা': পানির ঘাট। ফারিত: যে ব্যক্তি লোকজনের আগেই পানির ঘাটে পৌঁছে যায়, যেন তা গুছিয়ে ও প্রস্তুত করে রাখতে পারে।

(৪) এটি আবু ইয়াকুব ইউসুফ বিন আব্দুল মুমিনকে বুঝাতে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, তাঁর সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।

(৫) 'ইলক্ব' এর বহুবচন: কোনো জিনিসের অতি মূল্যবান অংশ।

(৬) নাব'আহ এর মূল অর্থ; এক প্রকার গাছ যা থেকে ধনুক তৈরি করা হয়। এর শাখাগুলো থেকে তীর তৈরি করা হয় এবং এটি পাহাড়ের চূড়ায় জন্মে।

(৭) মারিয়্যা: কোনো কিছু নিংড়ে বের করা। ঘোড়াকে তার দৌড়ানোর সক্ষমতা প্রকাশে উদ্বুদ্ধ করা। উটের ওলান স্পর্শ করা। আখলাফ: খিলফ (খ-এ যের দিয়ে) এর বহুবচন: ওলানের বোঁটা বা উটের ওলান।