(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: -)
إيقاظ همم أولي الأبصار للاقتداء بسيد المهاجرين والأنصار   (الفلاني)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: إيقاظ همم أولي الأبصار للاقتداء بسيد المهاجرين والأنصار

المؤلف: صالح بن محمد بن نوح بن عبد الله العَمْري المعروف بالفُلَّاني المالكي (ت 1218هـ)

الناشر: دار المعرفة - بيروت

سنة النشر:

عدد الصفحات: 170

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুহাজির ও আনসারদের সরদারের অনুসরণের জন্য জ্ঞানবানদের সংকল্প জাগ্রত করা   (আল-ফুলানি)

বিভাগ: উসূলে ফিকহ


কিতাব: মুহাজির ও আনসারদের সরদারের অনুসরণের জন্য জ্ঞানবানদের সংকল্প জাগ্রত করা

লেখক: সালিহ বিন মুহাম্মাদ বিন নূহ বিন আব্দুল্লাহ আল-আমরি, যিনি আল-ফুলানি আল-মালিকি নামে পরিচিত (মৃ. ১২১৮ হিজরী)

প্রকাশক: দারুল মা’রিফাহ - বৈরুত

প্রকাশের বছর:

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭০

[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌خطْبَة الْكتاب

 

حمدا لمن جعل أهل الحَدِيث حراس الدّين وَصرف عَنْهُم كيد المعاندين وشكرا لمن ألهمهم التَّمَسُّك بِالشَّرْعِ الْمُبين وهداهم لإقتفاء آثَار الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَصَلَاة وَسلَامًا على من ببعثته كل مُنكر مَتْرُوك وموضوع وكل مَعْرُوف مَوْصُول غير مَقْطُوع وَلَا مَمْنُوع الْمنزل عَلَيْهِ أحسن الحَدِيث والمبجل بَين الورى فِي الْقَدِيم والْحَدِيث وَرَحْمَة مَوْصُولَة بطرائق الاكرام من الْملك العلام مكفولة لأنصار السّنة المطهرة وحماتها وأبطال الكفاح عَنْهَا وكماتها الرامين بشهب التَّحْقِيق الثاقبة شُبْهَة التحريف والانتحال المحرقين بصواعق الْحجَج الْبَالِغَة بدع أهل الزيغ والضلال الَّذين جعلهم الله اركان الشَّرِيعَة وَهدم بهم كل بِدعَة شنيعة

أما بعد فَيَقُول الْفَقِير الى مَوْلَاهُ الْغَنِيّ صَالح بن مُحَمَّد الْعمريّ الشهير بالفلاني إِنَّه قد إلتمس مني بعض من يُرِيد أَن يتزود لمعاده وَيعْمل بِكِتَاب الله وهدي خير عباده أَن أنقل لَهُ مَا ورد من ذَلِك فِي كتاب رب الْعَالمين وَمَا رَوَاهُ الثِّقَات الْأَثْبَات من سنة سيد الْمُرْسلين وَمَا أثر فِي ذَلِك من آثَار الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ فأحجمت عَن ذَلِك احجام الجبان وتحرجت من الْخَوْض فِي غمرة هَذَا الميدان وَرجعت الْقَهْقَرَى وَرَأَيْت أَن الْوُقُوف دون ذَلِك أَحَق بمقامى وَأَحْرَى ثمَّ بدا لي أَن الأولى إسعافه بالمراد رَجَاء أَن يعْمل بِهِ من وَفقه الله من الْعباد

فَأَقُول كَلَام الله تَعَالَى وَكَلَام رَسُوله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وعَلى آله وَبَارك وَسلم متظاهران على الْحَث على الْعَمَل بِالْكتاب وَالسّنة وقضايا الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ كاشفة عَن ذَلِك كل دجنة وَكَلَام الْأَئِمَّة الْأَرْبَعَة وَغَيرهم مُصَرح بِهِ وَكَاشف عَن قُلُوب متبعيهم الاكنة بل فِي كَلَامهم التَّصْرِيح بِتَحْرِيم تقليدهم بعد وُرُود نَص يخالفهم من كتاب أَو سنة وان تَقْلِيد المتعصبين بعد ذَلِك ضلال وجنة وَأَنه لَيْسَ لغير الْعَاميّ تَقْلِيد بِغَيْر برهَان وَحجَّة فها أَنا أنقله بحول الله وقوته وأنسبه الى قَائِله بِفضل الله ومنته من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم وتابعيهم وَمن تَبِعَهُمْ من أهل مِلَّته
গ্রন্থের ভূমিকা

 

সকল প্রশংসা তাঁর জন্য, যিনি আহলে হাদিসগণকে দ্বীনের প্রহরী বানিয়েছেন এবং তাদের থেকে বিরোধীদের চক্রান্ত দূর করেছেন। এবং শুকরিয়া তাঁর জন্য, যিনি তাদেরকে সুস্পষ্ট শরীয়ত আঁকড়ে ধরার প্রেরণা দিয়েছেন এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের পদাঙ্ক অনুসরণের হেদায়েত দান করেছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি, যাঁর প্রেরণের মাধ্যমে প্রতিটি বর্জিত ও বানোয়াট বিষয় প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং প্রতিটি সত্য বিষয় অবিচ্ছিন্নভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা বিচ্ছিন্ন বা নিষিদ্ধ নয়। যাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে সর্বোত্তম বাণী এবং যিনি সৃষ্টির মাঝে আদি ও অন্তকাল ধরে পরম মর্যাদাবান। আর অবিরত রহমত ও সম্মাননার ধারা সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে বর্ষিত হোক পবিত্র সুন্নাহর সাহায্যকারী, এর রক্ষক এবং এর প্রতিরক্ষায় লড়াকু বীরদের ওপর; যারা সঠিক ও সুতীক্ষ্ণ তীরের সাহায্যে বিকৃতি ও মিথ্যার সংশয়কে প্রতিহত করেন এবং যারা অকাট্য দলিলের বজ্রপাতে পথভ্রষ্ট ও বিচ্যুতদের বিদআতকে ভস্মীভূত করেন; যাদেরকে আল্লাহ তাআলা শরীয়তের স্তম্ভ বানিয়েছেন এবং যাদের মাধ্যমে প্রতিটি জঘন্য বিদআতকে ধূলিসাৎ করেছেন।

অতঃপর, তাঁর অমুখাপেক্ষী মাওলার মুখাপেক্ষী অভাবী বান্দা সালেহ ইবনে মুহাম্মদ আল-উমারি, যিনি আল-ফুলানি নামে পরিচিত, তিনি বলছেন: আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করতে ইচ্ছুক এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর সর্বোত্তম বান্দার হেদায়েত অনুযায়ী আমল করতে আগ্রহী এমন জনৈক ব্যক্তি আমার কাছে অনুরোধ করেছেন যে, আমি যেন তার জন্য বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের কিতাব থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে রাসূলগণের সরদারের সুন্নাহ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে এবং সাহাবী ও তাবিঈগণের যে সকল আসার এ বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে তা সংকলন করে দেই। প্রথমে আমি এ কাজ থেকে ভীরুর ন্যায় পিছু হটেছিলাম এবং এ ময়দানের গভীরতায় অবগাহন করতে দ্বিধাবোধ করছিলাম। আমি পেছনে ফিরে আসলাম এবং ভাবলাম যে, এ কাজ থেকে বিরত থাকাই আমার অবস্থানের জন্য অধিক সমীচীন ও উপযুক্ত। অতঃপর আমার কাছে প্রতীয়মান হলো যে, তার উদ্দেশ্য পূরণ করাই শ্রেয়—এই আশায় যে, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যাঁকে আল্লাহ তাওফিক দেবেন তিনি এর ওপর আমল করবেন।

আমি বলছি, মহান আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক) বাণী কিতাব ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার উৎসাহ প্রদানের ক্ষেত্রে একে অপরের পরিপূরক। সাহাবী ও তাবিঈগণের ফয়সালাসমূহ এক্ষেত্রে সকল অন্ধকার দূর করে দেয়। চার ইমাম ও অন্যান্যদের বক্তব্যও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট এবং তা তাঁদের অনুসারীদের হৃদয়ের পর্দা উন্মোচনকারী। বরং তাঁদের বক্তব্যে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে যে, কিতাব বা সুন্নাহ থেকে তাঁদের মতের বিরোধী কোনো দলিল আসার পর তাঁদের তাকলীদ করা হারাম; এবং এর পরেও যারা অন্ধ অনুসরণ করে, তাদের সেই গোঁড়ামি পথভ্রষ্টতা ও মূর্খতা। আর সাধারণ মানুষ ব্যতীত অন্য কারো জন্য প্রমাণ ও দলিল ছাড়া তাকলীদ করা বৈধ নয়। সুতরাং আমি আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে ভর করে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় তা উদ্ধৃত করছি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ এবং তাঁর মিল্লাতের অন্তর্ভুক্ত তাঁদের অনুসারীদের মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট প্রবক্তার দিকে তা সম্পৃক্ত করছি।
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ৩)
وَقد بدا لي أَن أرتب ذَلِك على مُقَدّمَة فِي بَيَان مَا ورد فِي الْكتاب وَالسّنة من ذَلِك وَمَا رُوِيَ عَن الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ فِي بَيَان مَا هُنَالك وَأَرْبَعَة مَقَاصِد فِيمَا للأئمة الْأَرْبَعَة فِي ذَلِك من الْمذَاهب

الأول فِيمَا قَالَه الامام أَبُو حنيفَة وَأَصْحَابه أهل المناقب المنفية وَالثَّانِي فِيمَا قَالَه مَالك بن أنس أَمَام دَار الْهِجْرَة وَمَا قَالَه أَصْحَاب السَّادة المهرة وَالثَّالِث فِي بَيَان مقَالَة عَالم قُرَيْش مُحَمَّد بن ادريس الشَّافِعِي وَمَا لأَصْحَابه فِي ذَلِك من الْكَلَام الشافي من العى وَالرَّابِع فِيمَا نقل عَن نَاصِر السّنة أَحْمد بن حَنْبَل وَمَا لأَصْحَابه من الحض على الْعَمَل بِالسنةِ وَالْكتاب الْمنزل وخاتمة فِي ابطال شبه المقلدين وَالْجَوَاب عَن حجج أهل الْأَهْوَاء المتعصبين وسميته إيقاظ همم أولي الْأَبْصَار للإقتداء بِسَيِّد الْمُهَاجِرين وَالْأَنْصَار وتحذيرهم عَن الإبتداع الشَّائِع فِي الْقرى والامصار من تَقْلِيد الْمذَاهب مَعَ الحمية والعصبية بَين فُقَهَاء الْأَعْصَار

‌‌الْمُقدمَة فِي وجوب طَاعَة الله تَعَالَى وَرَسُوله صلى الله عليه وسلم وَاتِّبَاع الْكتاب وَالسّنة وذم الرَّأْي وَالْقِيَاس على غير أُصُوله والتحذير من إكثار الْمسَائِل وَبَيَان أصُول الْعلم وَحده مقسوما ومحازا وَمن يسْتَحق أَن يُسمى فَقِيها أَو عَالما حَقِيقَة لَا مجَازًا وَبَيَان فَسَاد التَّقْلِيد فِي دين الله تَعَالَى ونفيه وَالْفرق بَينه وَبَين اتِّبَاع كتاب الله وَسنة نبيه

 

قَالَ الله تَعَالَى {ونزلنا عَلَيْك الْكتاب تبيانا لكل شَيْء وَهدى وَرَحْمَة} {وأنزلنا إِلَيْك الذّكر لتبين للنَّاس مَا نزل إِلَيْهِم} وَقد فرض الله تَعَالَى عَلَيْهِم اتِّبَاع مَا نزل اليهم وَأعلم أَن مَعْصِيَته تَعَالَى فِي ترك أمره وَأمر رَسُوله ص وَلم يَجْعَل لَهُم الا اتِّبَاعه وَلذَا قَالَ لرَسُول الله صلى الله عليه وسلم {وَلَكِن جَعَلْنَاهُ نورا نهدي بِهِ من نشَاء من عبادنَا وَإنَّك لتهدي إِلَى صِرَاط مُسْتَقِيم صِرَاط الله} مَعَ مَا علم الله تَعَالَى نبيه ثمَّ مَا فرض اتِّبَاع كِتَابه فَقَالَ {فَاسْتَمْسك بِالَّذِي أُوحِي إِلَيْك} وَقَالَ {وَأَن احكم بَينهم بِمَا أنزل الله وَلَا تتبع أهواءهم} وأعلمهم أَنه أكمل لَهُم دينه فَقَالَ عز وجل {الْيَوْم أكملت لكم دينكُمْ وَأَتْمَمْت عَلَيْكُم نعمتي ورضيت لكم الْإِسْلَام دينا} ثمَّ من عَلَيْهِم بِمَا اتاهم من الْعلم فَأَمرهمْ بالاقتصار عَلَيْهِ وَأَن لَا يَقُولُوا غَيره إِلَّا مَا علمهمْ فَقَالَ لنَبيه صلى الله عليه وسلم {وَكَذَلِكَ أَوْحَينَا إِلَيْك روحا من أمرنَا مَا كنت تَدْرِي مَا الْكتاب وَلَا الْإِيمَان} وَقَالَ لنَبيه صلى الله عليه وسلم {وَلَا تقولن لشَيْء إِنِّي فَاعل ذَلِك غَدا إِلَّا أَن يَشَاء الله} ثمَّ أنزل على نبيه {وَلَا تقف مَا لَيْسَ لَك بِهِ علم}

وَبَعثه بِالْهدى وَدين الْحق لِيظْهرهُ على الدّين كُله وَلَو كره الْمُشْركُونَ وَانْزِلْ عَلَيْهِ كِتَابه الْهدى
আমি এটি একটি ভূমিকা এবং চারটি উদ্দেশ্যের ওপর বিন্যস্ত করা সমীচীন মনে করেছি। ভূমিকায় কুরআন ও সুন্নাহ থেকে এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার বর্ণনা থাকবে। আর চারটি উদ্দেশ্য থাকবে এ বিষয়ে চার ইমামের মাযহাবের বর্ণনায়।

প্রথমটি ইমাম আবু হানিফা এবং প্রশংসিত গুণাবলির অধিকারী তাঁর অনুসারীদের বক্তব্য সম্পর্কে। দ্বিতীয়টি দারুল হিজরতের ইমাম মালিক ইবনে আনাস এবং তাঁর সুদক্ষ অনুসারী মহান ব্যক্তিদের বক্তব্য সম্পর্কে। তৃতীয়টি কুরাইশ আলেম মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফেয়ী এবং এ বিষয়ে তাঁর অনুসারীদের সংশয় নিরসনকারী পর্যাপ্ত আলোচনার বর্ণনায়। চতুর্থটি সুন্নাহর সাহায্যকারী আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে যা বর্ণিত হয়েছে এবং সুন্নাহ ও নাযিলকৃত কিতাব অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসারীদের উৎসাহ প্রদানের বর্ণনায়। এবং একটি উপসংহার থাকবে মুকাল্লিদদের সংশয় নিরসন এবং অন্ধ অনুসরণকারী প্রবৃত্তি পূজারীদের দলিলের জবাবে। আমি এর নাম রেখেছি 'মুহাজির ও আনসারদের নেতার অনুসরণের জন্য অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্নদের হিম্মত জাগ্রতকরণ এবং যুগ যুগ ধরে ফকীহদের মাঝে গোঁড়ামি ও পক্ষপাতিত্বের সাথে মাযহাব তাকলীদের যে বিদআত গ্রাম ও নগরে ছড়িয়ে পড়েছে সে সম্পর্কে সতর্কীকরণ'।

‌‌আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূলের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) আনুগত্যের আবশ্যকতা, কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ, রায় (ব্যক্তিগত অভিমত) ও মূলনীতিহীন কিয়াসের নিন্দা, অপ্রয়োজনীয় মাসআলার আধিক্য থেকে সতর্কতা, ইলমের মূলনীতি এবং এর প্রকারভেদ ও সীমা নির্ধারণ, আর প্রকৃতপক্ষে (রূপক অর্থে নয়) কে ফকীহ বা আলেম হওয়ার যোগ্য তাঁর বর্ণনা এবং আল্লাহর দ্বীনের ক্ষেত্রে তাকলীদের অসারতা ও তা প্রত্যাখ্যান এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ অনুসরণের সাথে এর পার্থক্যের বর্ণনায় এই ভূমিকা।

 

আল্লাহ তাআলা বলেন, "আমি আপনার প্রতি এমন কিতাব নাযিল করেছি যা প্রত্যেকটি বিষয়ের সুস্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত ও রহমত।" "আমি আপনার প্রতি জিকর (কুরআন) নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষের নিকট যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন।" আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর যা নাযিল হয়েছে তা অনুসরণ করা ফরয করেছেন এবং জানিয়ে দিয়েছেন যে, আল্লাহর অবাধ্যতা হলো তাঁর আদেশ এবং তাঁর রাসূলের (সা.) আদেশ ত্যাগ করার মধ্যে। তিনি তাঁদের জন্য অনুসরণ ছাড়া আর কিছু রাখেননি। এই জন্য তিনি আল্লাহর রাসূলকে (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "কিন্তু আমি এটাকে করেছি একটি নূর, যা দ্বারা আমি আমার বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথ প্রদর্শন করেন, যা আল্লাহর পথ।" আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে যা শিখিয়েছেন এবং তারপর তাঁর কিতাব অনুসরণের যা ফরয করেছেন তা হলো: "সুতরাং আপনার প্রতি যা ওহী করা হয়েছে তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন।" তিনি আরও বলেছেন: "আর আপনি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা দিয়ে বিচার করুন এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না।" তিনি তাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি তাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।" অতঃপর আল্লাহ তাঁদের যে ইলম দান করেছেন সেজন্য তিনি অনুগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তাঁদেরকে কেবল ইলমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া অন্য কিছু না বলতে বলেছেন। তিনি তাঁর নবীকে (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন: "এভাবেই আমি আপনার নিকট আমার আদেশ থেকে রূহ (ওহী) প্রেরণ করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী।" তিনি তাঁর নবীকে (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) আরও বলেছেন: "আর আপনি কোন বিষয়ে বলবেন না যে, আমি তা আগামীকাল করব, আল্লাহ না চাইলে।" অতঃপর তিনি তাঁর নবীর ওপর নাযিল করেছেন: "যে বিষয়ে আপনার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করবেন না।"

এবং তিনি তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে প্রেরণ করেছেন যাতে তিনি একে সমস্ত দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। আর তিনি তাঁর ওপর তাঁর কিতাব নাযিল করেছেন যা হিদায়াত।
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ৪)
والنور لمن اتبعهُ وَجعل رَسُوله الدَّال على مَا أَرَادَ من ظَاهره وباطنه وخاصه وعامه وناسخه ومنسوخه وَمَا قصد لَهُ الْكتاب فَكَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم هُوَ الْمعبر عَن كتاب الله الدَّال على مَعَانِيه شَاهده فِي ذَلِك اصحابه الَّذين ارتضاهم الله تَعَالَى لنَبيه واصطفاهم لَهُ ونقلوا ذَلِك عَنهُ فَكَانُوا هم اعْلَم النَّاس برَسُول الله صلى الله تَعَالَى عَلَيْهِ وَآله وَسلم بِمَا أَرَادَ الله تَعَالَى من كِتَابه بمشاهدتهم مَا قصد لَهُ الْكتاب فَكَانُوا هم المعبرين عَن ذَلِك بعد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَالَ الله تَعَالَى {وَمَا كَانَ لمُؤْمِن وَلَا مُؤمنَة إِذا قضى الله وَرَسُوله أمرا أَن يكون لَهُم الْخيرَة من أَمرهم وَمن يعْص الله وَرَسُوله فقد ضل ضلالا مُبينًا} وَقَالَ {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تقدمُوا بَين يَدي الله وَرَسُوله وَاتَّقوا الله إِن الله سميع عليم} وَقَالَ {إِنَّمَا كَانَ قَول الْمُؤمنِينَ إِذا دعوا إِلَى الله وَرَسُوله ليحكم بَينهم أَن يَقُولُوا سمعنَا وأطعنا وَأُولَئِكَ هم المفلحون} وَقَالَ {إِنَّا أنزلنَا إِلَيْك الْكتاب بِالْحَقِّ لتَحكم بَين النَّاس بِمَا أَرَاك الله وَلَا تكن للخائنين خصيما} وَقَالَ {اتبعُوا مَا أنزل إِلَيْكُم من ربكُم وَلَا تتبعوا من دونه أَوْلِيَاء قَلِيلا مَا تذكرُونَ} وَقَالَ {وَأَن هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبعُوهُ وَلَا تتبعوا السبل فَتفرق بكم عَن سَبيله ذَلِكُم وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُون} {إِن الحكم إِلَّا لله يقص الْحق وَهُوَ خير الفاصلين} وَقَالَ {لَهُ غيب السَّمَاوَات وَالْأَرْض أبْصر بِهِ وأسمع مَا لَهُم من دونه من ولي وَلَا يُشْرك فِي حكمه أحدا} وَقَالَ {وَمن لم يحكم بِمَا أنزل الله فَأُولَئِك هم الْكَافِرُونَ} {وَمن لم يحكم بِمَا أنزل الله فَأُولَئِك هم الظَّالِمُونَ} {وَمن لم يحكم بِمَا أنزل الله فَأُولَئِك هم الْفَاسِقُونَ}

فأكد الله هَذَا التَّأْكِيد وَكرر هَذَا التكرير فِي مَوضِع وَاحِد لعظم مفْسدَة الحكم بِغَيْر مَا أنزلهُ وَعُمُوم مضرته وبليته لأمته قَالَ تَعَالَى {إِنَّمَا حرم رَبِّي الْفَوَاحِش مَا ظهر مِنْهَا وَمَا بطن وَالْإِثْم وَالْبَغي بِغَيْر الْحق وَأَن تُشْرِكُوا بِاللَّه مَا لم ينزل بِهِ سُلْطَانا وَأَن تَقولُوا على الله مَا لَا تعلمُونَ}

وَأنكر تَعَالَى على من حَاج فِي دينه بِمَا لَيْسَ لَهُ بِهِ علم فَقَالَ {هَا أَنْتُم هَؤُلَاءِ حاججتم فِيمَا لكم بِهِ علم فَلم تحاجون فِيمَا لَيْسَ لكم بِهِ علم وَالله يعلم وَأَنْتُم لَا تعلمُونَ} وَنهى أَن يَقُول أحد هَذَا حَلَال وَهَذَا حرَام لما لم يحرمه الله وَرَسُوله أَيْضا وَأخْبر أَن فَاعل ذَلِك مفتر عَلَيْهِ الْكَذِب وَقَالَ {وَلَا تَقولُوا لما تصف أَلْسِنَتكُم الْكَذِب هَذَا حَلَال وَهَذَا حرَام لتفتروا على الله الْكَذِب إِن الَّذين يفترون على الله الْكَذِب لَا يفلحون مَتَاع قَلِيل وَلَهُم عَذَاب أَلِيم} والآيات الدَّالَّة على وجوب طَاعَة الرَّسُول صلى الله عليه وسلم كَثِيرَة

قَالَ الله تَعَالَى {وَأَطيعُوا الله وَالرَّسُول لَعَلَّكُمْ ترحمون} وَقَالَ {قل أطِيعُوا الله وَالرَّسُول فَإِن توَلّوا فَإِن الله لَا يحب الْكَافرين} وَقَالَ {وَمن يطع الله وَالرَّسُول فَأُولَئِك مَعَ الَّذين أنعم الله عَلَيْهِم من النَّبِيين وَالصديقين وَالشُّهَدَاء وَالصَّالِحِينَ وَحسن أُولَئِكَ رَفِيقًا} وَقَالَ {وأرسلناك للنَّاس رَسُولا وَكفى بِاللَّه شَهِيدا من يطع الرَّسُول فقد أطَاع الله وَمن تولى فَمَا أَرْسَلْنَاك عَلَيْهِم حفيظا}
এবং যে তাঁকে (কুরআনকে) অনুসরণ করে তার জন্য তিনি একে নূর (আলো) করেছেন। তিনি তাঁর রাসূলকে এর প্রকাশ্য ও গোপন, বিশেষ ও সাধারণ, রহিতকারী ও রহিতকৃত এবং কিতাবের উদ্দেশ্য যা কিছু আছে, সেসবের পথপ্রদর্শক করেছেন। সুতরাং আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ছিলেন আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যাকারী এবং এর অর্থসমূহের নির্দেশক। তাঁর এই কাজে সাক্ষী ছিলেন তাঁর সাহাবীগণ, যাদেরকে মহান আল্লাহ তাঁর নবীর জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাঁর জন্য মনোনীত করেছেন। তাঁরা তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ফলে তাঁরাই ছিলেন আল্লাহর কিতাব থেকে মহান আল্লাহ যা উদ্দেশ্য করেছেন সে বিষয়ে আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর সুন্নাহ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত; যেহেতু তাঁরা কিতাবের উদ্দেশ্যসমূহ প্রত্যক্ষ করেছেন। সুতরাং আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর পরে তাঁরাই ছিলেন এর ব্যাখ্যাকারী। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সে বিষয়ে কোনো ইখতিয়ার (পছন্দ করার অধিকার) থাকে না। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে, সে স্পষ্ট ভ্রষ্টতায় লিপ্ত হবে।" তিনি আরও বলেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চেয়ে অগ্রগামী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" তিনি আরও বলেছেন: "মুমিনদের উক্তি তো এই যে, যখন তাদের মধ্যে বিচার-মীমাংসা করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, তখন তারা বলে: আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম। আর তারাই সফলকাম।" তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি, যাতে আপনি মানুষের মধ্যে বিচার করতে পারেন আল্লাহ আপনাকে যা দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী। আর আপনি বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষাবলম্বনকারী হবেন না।" তিনি আরও বলেছেন: "তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ করো এবং তাঁকে ছাড়া অন্য কোনো অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাকো।" তিনি আরও বলেছেন: "আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।" "বিধান দেওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহরই। তিনি সত্য বর্ণনা করেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ ফয়সালাকারী।" তিনি আরও বলেছেন: "আসমান ও জমিনের অদৃশ্যের জ্ঞান একমাত্র তাঁরই। তিনি কতই না সুন্দর দেখেন এবং কতই না সুন্দর শোনেন! তাঁকে ছাড়া তাদের কোনো অভিভাবক নেই এবং তিনি তাঁর ফয়সালায় কাউকে অংশীদার করেন না।" তিনি আরও বলেছেন: "আর যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফির।" "আর যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই জালিম।" "আর যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই ফাসিক।"

আল্লাহ তাআলা এই বিষয়টি অত্যন্ত তাকিদ (গুরুত্ব) সহকারে ব্যক্ত করেছেন এবং একই স্থানে বারবার পুনরাবৃত্তি করেছেন, কারণ যা তিনি নাযিল করেছেন তা ব্যতিরেকে অন্য কিছু দিয়ে বিচার করার অনিষ্টতা অত্যন্ত ভয়াবহ এবং উম্মতের জন্য এর ক্ষতি ও বিপদ অত্যন্ত ব্যাপক। মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, আমার রব তো কেবল হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ—যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন—আর পাপাচার, অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন এবং আল্লাহর সাথে এমন কিছুকে শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি নাযিল করেননি, আর আল্লাহ সম্পর্কে এমন কিছু বলা যা তোমরা জানো না।"

আর মহান আল্লাহ এমন ব্যক্তির নিন্দা করেছেন যে তার দ্বীন সম্পর্কে না জেনে বিতর্ক করে। তিনি বলেছেন: "শোনো, তোমরা তো এমন যে, যে বিষয়ে তোমাদের জ্ঞান ছিল তা নিয়ে তোমরা বিতর্ক করেছ। কিন্তু যে বিষয়ে তোমাদের কোনো জ্ঞান নেই, সে বিষয়ে কেন বিতর্ক করছ? আল্লাহ জানেন আর তোমরা জানো না।" আল্লাহ যা হারাম করেননি সে সম্পর্কে কেউ 'এটি হালাল' এবং 'এটি হারাম' বলুক—তা থেকেও তিনি নিষেধ করেছেন। আর তিনি সংবাদ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি এমনটি করে সে তাঁর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপকারী। তিনি বলেছেন: "তোমাদের জিহ্বা থেকে যে মিথ্যা বর্ণিত হয় তার ভিত্তিতে তোমরা বলো না যে—এটি হালাল এবং এটি হারাম, যাতে তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করতে পারো। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে তারা সফলকাম হবে না। (এটি) যৎসামান্য ভোগ এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।" আর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর আনুগত্য ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে নির্দেশক আয়াতসমূহ অনেক।

মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমত প্রাপ্ত হও।" তিনি আরও বলেছেন: "বলুন, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো। তারপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের ভালোবাসেন না।" তিনি আরও বলেছেন: "যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সঙ্গী হবে যাদের ওপর আল্লাহ নিয়ামত দান করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং নেককারগণ। আর সাথী হিসেবে তাঁরা কতই না উত্তম।" তিনি আরও বলেছেন: "আমি আপনাকে মানুষের জন্য রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছি এবং সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হলো, তবে আমি আপনাকে তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে পাঠাইনি।"
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ৫)
وَقَالَ {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول وأولي الْأَمر مِنْكُم فَإِن تنازعتم فِي شَيْء فَردُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُول إِن كُنْتُم تؤمنون بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر ذَلِك خير وَأحسن تَأْوِيلا} وَقَالَ {وَمن يطع الله وَرَسُوله يدْخلهُ جنَّات تجْرِي من تحتهَا الْأَنْهَار خَالِدين فِيهَا وَذَلِكَ الْفَوْز الْعَظِيم وَمن يعْص الله وَرَسُوله ويتعد حُدُوده يدْخلهُ نَارا خَالِدا فِيهَا وَله عَذَاب مهين} وَقَالَ {وَأَطيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول واحذروا فَإِن توليتم فاعلموا أَنما على رَسُولنَا الْبَلَاغ الْمُبين} وَقَالَ {يَسْأَلُونَك عَن الْأَنْفَال قل الْأَنْفَال لله وَالرَّسُول فَاتَّقُوا الله وَأَصْلحُوا ذَات بَيْنكُم وَأَطيعُوا الله وَرَسُوله إِن كُنْتُم مُؤمنين} وَقَالَ {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا اسْتجِيبُوا لله وَلِلرَّسُولِ إِذا دعَاكُمْ لما يُحْيِيكُمْ وَاعْلَمُوا أَن الله يحول بَين الْمَرْء وَقَلبه وَأَنه إِلَيْهِ تحشرون} وَقَالَ {وَأَطيعُوا الله وَرَسُوله وَلَا تنازعوا فتفشلوا وَتذهب ريحكم واصبروا إِن الله مَعَ الصابرين} وَقَالَ {إِنَّمَا كَانَ قَول الْمُؤمنِينَ إِذا دعوا إِلَى الله وَرَسُوله ليحكم بَينهم أَن يَقُولُوا سمعنَا وأطعنا وَأُولَئِكَ هم المفلحون وَمن يطع الله وَرَسُوله ويخش الله ويتقه فَأُولَئِك هم الفائزون} وَقَالَ {وَأقِيمُوا الصَّلَاة وَآتوا الزَّكَاة وَأَطيعُوا الرَّسُول لَعَلَّكُمْ ترحمون} وَقَالَ {قل أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول فَإِن توَلّوا فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حمل وَعَلَيْكُم مَا حملتم وَإِن تطيعوه تهتدوا وَمَا على الرَّسُول إِلَّا الْبَلَاغ الْمُبين} وَقَالَ {لَا تجْعَلُوا دُعَاء الرَّسُول بَيْنكُم كدعاء بَعْضكُم بَعْضًا قد يعلم الله الَّذين يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُم لِوَاذًا فليحذر الَّذين يخالفون عَن أمره أَن تصيبهم فتْنَة أَو يصيبهم عَذَاب أَلِيم} وَقَالَ {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذين آمنُوا بِاللَّه وَرَسُوله وَإِذا كَانُوا مَعَه على أَمر جَامع لم يذهبوا حَتَّى يستأذنوه إِن الَّذين يَسْتَأْذِنُونَك أُولَئِكَ الَّذين يُؤمنُونَ بِاللَّه وَرَسُوله فَإِذا استأذنوك لبَعض شَأْنهمْ فَأذن لمن شِئْت مِنْهُم واستغفر لَهُم الله إِن الله غَفُور رَحِيم} وَقَالَ {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا اتَّقوا الله وَقُولُوا قولا سديدا يصلح لكم أَعمالكُم وَيغْفر لكم ذنوبكم وَمن يطع الله وَرَسُوله فقد فَازَ فوزا عَظِيما} وَقَالَ {لقد كَانَ لكم فِي رَسُول الله أُسْوَة حَسَنَة لمن كَانَ يَرْجُو الله وَالْيَوْم الآخر وَذكر الله كثيرا} وَقَالَ {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول وَلَا تُبْطِلُوا أَعمالكُم} وَقَالَ {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تقدمُوا بَين يَدي الله وَرَسُوله وَاتَّقوا الله إِن الله سميع عليم} وَكَانَ الْحسن يَقُول لَا تذبحوا قبل ذبحه وَقَالَ {يَا أَيهَا الَّذين آمنُوا لَا تَرفعُوا أَصْوَاتكُم فَوق صَوت النَّبِي وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بالْقَوْل كجهر بَعْضكُم لبَعض أَن تحبط أَعمالكُم وَأَنْتُم لَا تشعرون إِن الَّذين يَغُضُّونَ أَصْوَاتهم عِنْد رَسُول الله أُولَئِكَ الَّذين امتحن الله قُلُوبهم للتقوى لَهُم مغْفرَة وَأجر عَظِيم إِن الَّذين يُنَادُونَك من وَرَاء الحجرات أَكْثَرهم لَا يعْقلُونَ وَلَو أَنهم صَبَرُوا حَتَّى تخرج إِلَيْهِم لَكَانَ خيرا لَهُم وَالله غَفُور رَحِيم} وَقَالَ {وَمن يطع الله وَرَسُوله يدْخلهُ جنَّات تجْرِي من تحتهَا الْأَنْهَار وَمن يتول يعذبه عذَابا أَلِيمًا} وَقَالَ {والنجم إِذا هوى مَا ضل صَاحبكُم وَمَا غوى وَمَا ينْطق عَن الْهوى إِن هُوَ إِلَّا وَحي يُوحى علمه شَدِيد القوى}

এবং তিনি (আল্লাহ) বলেছেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য হতে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদেরও। যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান রেখে থাকো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট।" এবং তিনি বলেছেন: "আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে দাখিল করবেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়, তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। আর এটিই মহা সাফল্য। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করে এবং তাঁর সীমালঙ্ঘন করে, তিনি তাকে আগুনে দাখিল করবেন যেখানে সে চিরস্থায়ী হবে, এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব।" এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং সতর্ক থাকো। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো যে, আমার রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।" এবং তিনি বলেছেন: "তারা তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (আনফাল) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে; বলো, ‘আনফাল আল্লাহ ও রাসূলের জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করো, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো—যদি তোমরা মুমিন হও।’" এবং তিনি বলেছেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদের জীবন দান করে। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।" এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্য ধরো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" এবং তিনি বলেছেন: "মুমিনদের কথা তো এই যে, যখন তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় যেন তিনি তাদের মধ্যে বিচার করে দেন, তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম ও মান্য করলাম।’ আর তারাই সফলকাম। আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে এবং আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই কৃতকার্য।" এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।" এবং তিনি বলেছেন: "বলো, আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো। এরপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য সে-ই দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো তবে হেদায়েত পাবে। আর রাসূলের ওপর তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বই ন্যস্ত।" এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মতো গণ্য করো না। আল্লাহ তাদের জানেন যারা তোমাদের মধ্য হতে লুকিয়ে সরে পড়ে। সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, পাছে তাদের ওপর কোনো ফিতনা (বিপর্যয়) নেমে আসে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব আপতিত হয়।" এবং তিনি বলেছেন: "মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছে এবং যখন তারা তাঁর সাথে কোনো সামষ্টিক কাজে থাকে, তখন তাঁর অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না। নিশ্চয়ই যারা তোমার অনুমতি প্রার্থনা করে, তারাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান রাখে। সুতরাং তারা তাদের কোনো প্রয়োজনে তোমার অনুমতি চাইলে তুমি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুমতি দাও এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" এবং তিনি বলেছেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তবে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।" এবং তিনি বলেছেন: "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ—তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।" এবং তিনি বলেছেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না।" এবং তিনি বলেছেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" আর হাসান (বসরি) বলতেন: "তোমরা তাঁর (রাসূলের) যবেহ করার আগে যবেহ করো না।" এবং তিনি (আল্লাহ) বলেছেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তাঁর সাথে কথা বলার সময় তেমন উচ্চস্বরে কথা বলো না যেমন তোমরা একে অপরের সাথে উচ্চস্বরে কথা বলো—পাছে তোমাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যায় অথচ তোমরা বুঝতেও পারবে না। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর রাসূলের সামনে নিজেদের কণ্ঠস্বর নিচু করে, আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহকে তাকওয়ার জন্য পরীক্ষা করেছেন; তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার। নিশ্চয়ই যারা হুজরাসমূহের (কক্ষসমূহের) পেছন থেকে তোমাকে উচ্চস্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশেরই বোধশক্তি নেই। আর যদি তারা ধৈর্য ধারণ করত যতক্ষণ না তুমি তাদের কাছে বের হয়ে আসতে, তবে তা তাদের জন্য উত্তম হতো। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" এবং তিনি বলেছেন: "আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে দাখিল করবেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়। আর যে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তিনি তাকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব দেবেন।" এবং তিনি বলেছেন: "শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়! তোমাদের সাথী (মুহাম্মদ) পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। আর তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর কাছে পাঠানো হয়। তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন এক মহাশক্তিশালী সত্তা।"

(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ৬)
وَقَالَ تَعَالَى {وَمَا آتَاكُم الرَّسُول فَخُذُوهُ وَمَا نهاكم عَنهُ فَانْتَهوا وَاتَّقوا الله إِن الله شَدِيد الْعقَاب} وَقَالَ {وَأَطيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول فَإِن توليتم فَإِنَّمَا على رَسُولنَا الْبَلَاغ الْمُبين} وَقَالَ {فَاتَّقُوا الله يَا أولي الْأَلْبَاب الَّذين آمنُوا قد أنزل الله إِلَيْكُم ذكرا رَسُولا يَتْلُو عَلَيْكُم آيَات الله مبينات ليخرج الَّذين آمنُوا وَعمِلُوا الصَّالِحَات من الظُّلُمَات إِلَى النُّور} وَقَالَ {إِنَّا أَرْسَلْنَاك شَاهدا وَمُبشرا وَنَذِيرا لتؤمنوا بِاللَّه وَرَسُوله وتعزروه وتوقروه} وَقَالَ {أَفَمَن كَانَ على بَيِّنَة من ربه ويتلوه شَاهد مِنْهُ} قَالَ ابْن عَبَّاس هُوَ جِبْرَائِيل وَبِه قَالَ مُجَاهِد وَمن قبله كتاب مُوسَى اماما وَرَحْمَة أُولَئِكَ يُؤمنُونَ بِهِ وَمن يكفر بِهِ من الْأَحْزَاب فَالنَّار موعده قَالَ سعيد بن جُبَير الاحزاب الْملَل فَالنَّار موعده فَلَا تَكُ فِي مرية مِنْهُ ثمَّ ذكر حَدِيث يعلى بن أُميَّة طفت مَعَ عمر فَلَمَّا بلغنَا المغربي الَّذِي يَلِي الْأسود جررت بِيَدِهِ يسْتَلم فَقَالَ مَا شَأْنك تعلّقت فَقلت الا تستلم فَقَالَ ألم تطف مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقلت بلَى قَالَ أفرأيته يسْتَلم هذَيْن الرُّكْنَيْنِ المغربيين قلت لَا قَالَ أَلَيْسَ لَك فِيهِ أُسْوَة حَسَنَة قلت بلَى قَالَ فلتقر عَيْنك وَجَاء أَن مُعَاوِيَة اسْتَلم الْأَركان كلهَا فَقَالَ لَهُ ابْن عَبَّاس تستلم هذَيْن الرُّكْنَيْنِ وَلم يكن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يستلمهما فَقَالَ مُعَاوِيَة لَيْسَ شَيْء من الْبَيْت مَهْجُورًا فَقَالَ ابْن عَبَّاس لقد كَانَ لكم فِي رَسُول الله أُسْوَة حَسَنَة فَقَالَ مُعَاوِيَة صدقت قلت والآيات فِي وجوب اتِّبَاع كتاب الله تَعَالَى وَسنة رَسُوله ص كَثِيرَة وَفِيمَا ذَكرْنَاهُ كِفَايَة

وَأما الْأَحَادِيث الدَّالَّة على وجوب الْعَمَل بِكِتَاب الله وَسنة رَسُوله ص فكثيرة

فَفِي الصَّحِيحَيْنِ من حَدِيث ابْن عَبَّاس أَن هِلَال ابْن أُميَّة قذف إمرأته بِشريك من سَحْمَاء عِنْد النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَذكر حَدِيث اللّعان وَقَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم أبصروها فان جَاءَت بِهِ أكحل الْعَينَيْنِ سابغ الاليتين خَدلج السَّاقَيْن فَهُوَ لِشَرِيك بن سَحْمَاء وان جَاءَت بِهِ كَذَا وَكَذَا فَهُوَ لهِلَال بن أُميَّة فَجَاءَت بِهِ على النَّعْت الْمَكْرُوه فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَوْلَا مَا مضى من كتاب الله لَكَانَ لي وَلها شَأْن

يُرِيد وَالله أعلم بِكِتَاب الله قَوْله تَعَالَى {ويدرأ عَنْهَا الْعَذَاب أَن تشهد أَربع شَهَادَات بِاللَّه} وَيُرِيد بالشأن وَالله أعلم أَنه كَانَ يحدها لمشابهة وَلَدهَا بِالَّذِي رميت بِهِ وَلَكِن كتاب الله فصل الْحُكُومَة وَأسْقط كل قَول وَرَاءه وَلم يبْق للإجتهاد بعده مَوضِع وَقَالَ الشَّافِعِي فِي الرسَالَة الَّتِي أرسلها الى عبد الرَّحْمَن بن مهْدي أخبرنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة عَن عبيد الله بن ابي يزِيد عَن أَبِيه قَالَ أرْسلهُ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه الى شيخ من زهرَة كَانَ يسكن دَارنَا فَذَهَبت مَعَه الى عمر فَسَأَلَ عَن وليدة من ولائد الْجَاهِلِيَّة فَقَالَ أما الْفراش فلفلان وَأما النُّطْفَة فلفلان فَقَالَ صدقت وَلَكِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قضى بالفراش

قَالَ الشَّافِعِي وَأَخْبرنِي من لَا أتهم عَن ابْن أبي ذِئْب قَالَ أَخْبرنِي مخلد بن خفاف قَالَ ابتعت
এবং মহান আল্লাহ বলেছেন, "রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।" এবং তিনি বলেছেন, "তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে আমাদের রাসূলের দায়িত্ব কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।" এবং তিনি বলেছেন, "হে ঈমানদার বিবেকবানগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ তোমাদের কাছে অবতীর্ণ করেছেন এক উপদেশ (যিকর); এক রাসূলকে, যিনি তোমাদের কাছে আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করেন, যাতে তিনি মুমিন ও সৎকর্মশীলদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন।" এবং তিনি বলেছেন, "নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি; যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনো এবং তাঁকে সাহায্য করো ও সম্মান করো।" এবং তিনি বলেছেন, "তবে কি সেই ব্যক্তি (মুশরিকদের সমান), যে তার রবের পক্ষ থেকে আসা সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তার সাথে আসে তাঁর পক্ষ থেকে একজন সাক্ষী?" ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, "তিনি হলেন জিবরাঈল।" মুজাহিদও একই কথা বলেছেন। "আর এর পূর্বে ছিল মূসার কিতাব, যা ছিল পথপ্রদর্শক ও রহমত। তারাই এর ওপর ঈমান আনে। আর বিভিন্ন দলের যারা একে অস্বীকার করে, জাহান্নামই তাদের প্রতিশ্রুত স্থান।" সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেন, "বিভিন্ন দল" অর্থ হলো বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠী। "কাজেই তুমি এ বিষয়ে কোনো সন্দেহে থেকো না।" অতঃপর তিনি ইয়ালা ইবনে উমাইয়ার হাদীস উল্লেখ করেন যে, আমি ওমরের সাথে তাওয়াফ করছিলাম। যখন আমরা পশ্চিমের রুকনে পৌঁছালাম যা হাজরে আসওয়াদের সংলগ্ন, তখন আমি ওমরের হাত ধরে ইস্তিলাম (স্পর্ষ) করার জন্য টানলাম। তিনি বললেন, "তোমার কী হয়েছে? তুমি কেন টানছ?" আমি বললাম, "আপনি কি ইস্তিলাম করবেন না?" তিনি বললেন, "তুমি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে তাওয়াফ করোনি?" আমি বললাম, "হ্যাঁ করেছি।" তিনি বললেন, "তুমি কি তাঁকে এই দুই পশ্চিমের রুকন ইস্তিলাম করতে দেখেছ?" আমি বললাম, "না।" তিনি বললেন, "তোমার জন্য কি তাঁর মাঝে উত্তম আদর্শ নেই?" আমি বললাম, "অবশ্যই আছে।" তিনি বললেন, "তবে তোমার চোখ জুড়াক (অর্থাৎ নিশ্চিন্ত থাকো)।" বর্ণিত আছে যে, মুয়াবিয়া (রা.) কাবার সকল রুকন ইস্তিলাম করেছিলেন। তখন ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁকে বললেন, "আপনি এই দুই রুকন ইস্তিলাম করছেন কেন, অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা করতেন না?" মুয়াবিয়া বললেন, "বাইতুল্লাহর কোনো অংশই পরিত্যক্ত নয়।" ইবনে আব্বাস বললেন, "নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মাঝে উত্তম আদর্শ রয়েছে।" মুয়াবিয়া বললেন, "আপনি সত্য বলেছেন।" আমি বলছি, আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সা.) সুন্নাহ অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কে আয়াতসমূহ অনেক, আর যা আমি উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট।

আর আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী আমল ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণবাহী হাদীসসমূহও প্রচুর।

সহীহাইন-এ ইবনে আব্বাসের হাদীসে রয়েছে যে, হিলাল ইবনে উমাইয়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে শারীক ইবনে সাহমার সাথে ব্যভিচারের অপবাদ দেন। অতঃপর লিআনের হাদীস এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই উক্তি বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা লক্ষ্য করো, যদি সে এমন সন্তান প্রসব করে যার চোখ দুটি গভীর কালো, নিতম্ব সুপুষ্ট এবং পায়ের নলা মাংসল, তবে সে শারীক ইবনে সাহমার। আর যদি সে এমন ও এমন বৈশিষ্ট্যের সন্তান প্রসব করে, তবে সে হিলাল ইবনে উমাইয়ার।" অতঃপর সে সেই অপছন্দনীয় বৈশিষ্ট্যের সন্তানই প্রসব করল। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, "যদি আল্লাহর কিতাবের বিধান আগে না আসত, তবে আমার ও তার ব্যাপারে দেখার মতো কিছু হতো।"

আল্লাহই ভালো জানেন, আল্লাহর কিতাব বলতে তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী উদ্দেশ্য করেছেন: "আর তার (স্ত্রীর) শাস্তি রহিত হবে যদি সে আল্লাহর নামে চারবার সাক্ষ্য দেয়।" আর "দেখার মতো কিছু হতো" বলতে আল্লাহ ভালো জানেন তিনি বুঝিয়েছেন যে, সন্তানের সাথে সেই ব্যক্তির সাদৃশ্যের কারণে তিনি মহিলার ওপর দণ্ডবিধি কার্যকর করতেন যাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর কিতাব এ বিবাদ মীমাংসা করে দিয়েছে এবং এর বাইরের সকল কথা বাতিল করে দিয়েছে। এরপর ইজতিহাদের আর কোনো অবকাশ থাকেনি। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) তাঁর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে যা তিনি আব্দুর রহমান ইবনে মাহদীর কাছে প্রেরণ করেছিলেন, তাতে বলেছেন: সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা আমাদের নিকট ওবায়দুল্লাহ ইবনে আবি ইয়াজিদ থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) তাঁকে জাহেলী যুগের এক দাসীর সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার জন্য জুহরা গোত্রের এক বৃদ্ধের কাছে পাঠিয়েছিলেন যিনি আমাদের বাড়িতে বাস করতেন। আমি তাঁর সাথে ওমরের কাছে গেলাম। তিনি এক দাসীর গর্ভজাত সন্তান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। তখন সেই ব্যক্তি বলল, "শয্যা (মালিকানা) তো অমুকের, কিন্তু বীর্য ছিল অমুকের।" ওমর (রা.) বললেন, "তুমি সত্য বলেছ, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফয়সালা দিয়েছেন যে সন্তান শয্যার অধিকারীর (আল-ওয়ালাদু লিল ফিরাশ)।"

ইমাম শাফেয়ী বলেন, আমার নিকট এমন একজন বর্ণনা করেছেন যাকে আমি নির্ভরযোগ্য মনে করি, তিনি ইবনে আবি যিব থেকে, তিনি বলেন যে মাখলাদ ইবনে খাফফাফ বলেছেন: আমি ক্রয় করেছি...
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ৭)
غُلَاما فاستغللته ثمَّ ظَهرت مِنْهُ على عيب فخاصمت فِيهِ الى عمر بن عبد الْعَزِيز فَقضى لي برده وَقضى عَليّ برد غَلَّته فَأتيت عُرْوَة فَأَخْبَرته فَقَالَ أروح إِلَيْهِ العشية فَأخْبرهُ أَن عَائِشَة أَخْبَرتنِي أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قضى فِي مثل هَذَا أَن الْخراج بِالضَّمَانِ فعجلت الى عمر فَأَخْبَرته بِمَا أَخْبرنِي بِهِ عُرْوَة عَن عَائِشَة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عمر بن عبد الْعَزِيز فَمَا أيسر عَليّ من قَضَاء قَضيته وَالله يعلم أَنِّي لم أرد فِيهِ إِلَّا الْحق فبلغتني فِيهِ سنة عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فأرد قَضَاء عمر وأنفذ سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فراح إِلَيْهِ عُرْوَة فَقضى لي أَن آخذ الْخراج من الَّذِي قضى بِهِ عَليّ لَهُ

قَالَ الشَّافِعِي وَأَخْبرنِي من لَا أتهم من أهل الْمَدِينَة عَن ابْن أبي ذِئْب قَالَ قضى سعد ابْن ابراهيم على رجل بقضية بِرَأْي ربيعَة بن أبي عبد الرَّحْمَن فَأَخْبَرته عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِخِلَاف مَا قضى بِهِ فَقَالَ سعد لِرَبِيعَة هَذَا ابْن أبي ذِئْب وَهُوَ عِنْدِي ثِقَة يُخْبِرنِي عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِخِلَاف مَا قضيت بِهِ فَقَالَ لَهُ ربيعَة قد اجنهدت وَمضى حكمك فَقَالَ سعد وَاعجَبا أنفذ قَضَاء سعد ابْن أم سعد وَارِد قَضَاء رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بل أرد قَضَاء سعد بن ام سعد وانفذ قَضَاء رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فدعى سعد بِكِتَاب الْقَضِيَّة فشقه وَقضى للمقضي عَلَيْهِ

وَقَالَ الشَّافِعِي أخبرنَا ابو حنيفَة سماك بن الْفضل الشهابي قَالَ حَدثنِي ابْن أبي ذِئْب عَن المَقْبُري عَن أبي شُرَيْح الكعبي أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ عَام الْفَتْح من قتل لَهُ قَتِيل فَهُوَ بِخَير النظرين أَن أحب أَخذ الْعقل وان أحب فَلهُ الْقود قَالَ أَبُو حنيفَة فَقلت لإبن أبي ذِئْب أتأخذ بِهَذَا يَا أَبَا الْحَرْث فَضرب صَدْرِي وَصَاح عَليّ صياحا كثيرا ونال مني وَقَالَ أحَدثك عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَتقول أتأخذ بِهِ نعم آخذ بِهِ وَذَلِكَ الْفَرْض عَليّ وعَلى من سَمعه أَن الله تبارك وتعالى اخْتَار مُحَمَّدًا ص من النَّاس فهداهم بِهِ وعَلى يَدَيْهِ وَاخْتَارَ لَهُم مَا اخْتَار لَهُ وعَلى لِسَانه فعلى الْخلق أَن يتبعوه طائعين أَو داخرين لَا مخرج لمُسلم من ذَلِك وَمَا سكت حَتَّى تمنيت أَن يسكت انْتهى

قلت تَأمل فعل عمر بن الْخطاب وَفعل عمر بن عبد الْعَزِيز وَفعل سعد بن ابراهيم يظْهر لَك أَن الْمَعْرُوف عِنْد الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وَمن تَبِعَهُمْ بِإِحْسَان الى يَوْم الدّين وَعند سَائِر الْعلمَاء الْمُسلمين أَن حكم الْحَاكِم الْمُجْتَهد إِذا خَالف نَص كتاب الله تَعَالَى أَو سنة رَسُوله ص وَجب نقضه وَمنع نُفُوذه وَلَا يُعَارض نَص الْكتاب وَالسّنة بالاحتمالات الْعَقْلِيَّة والخيالات النفسانية والعصبية الشيطانية بِأَن يُقَال لَعَلَّ هَذَا الْمُجْتَهد قد اطلع على هَذَا النَّص وَتَركه لَعَلَّه ظَهرت لَهُ أَو أَنه اطلع على دَلِيل آخر وَنَحْو هَذَا مِمَّا لهج بِهِ فرق الْفُقَهَاء المتعصبين واطبق عَلَيْهِ جهلة المقلدين فَافْهَم

قَالَ أَبُو النَّضر هَاشم بن الْقسم حَدثنَا مُحَمَّد بن أبي رَاشد عَن عَبدة بن أبي لبَابَة عَن هَاشم

(আমি) একটি দাস (ক্রয় করেছিলাম) এবং তাকে কাজে লাগিয়েছিলাম, তারপর তার মধ্যে একটি খুঁত প্রকাশ পেল। ফলে আমি এ বিষয়ে উমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট মামলা করলাম। তিনি আমার পক্ষে তাকে ফেরত দেওয়ার ফয়সালা দিলেন এবং আমার বিপক্ষে তার উপার্জিত লভ্যাংশ ফেরত দেওয়ার রায় দিলেন। অতঃপর আমি উরওয়াহর নিকট এসে তাকে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন, "আমি আজ সন্ধ্যায় তাঁর কাছে যাব এবং তাঁকে সংবাদ দেব যে, আয়েশা আমাকে জানিয়েছেন যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ জাতীয় বিষয়ে ফয়সালা দিয়েছেন যে, লভ্যাংশ দায়বদ্ধতার অধীন।" এরপর আমি দ্রুত উমরের নিকট গেলাম এবং উরওয়াহ আয়েশার সূত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাকে যা জানিয়েছেন, তা তাঁকে অবহিত করলাম। তখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বললেন, "আমার জন্য সেই ফয়সালাটি পরিবর্তন করা কতই না সহজ যা আমি দিয়েছিলাম। আল্লাহর কসম! তিনি জানেন যে, আমি এতে সত্য ছাড়া অন্য কিছু ইচ্ছা করিনি। এখন আমার কাছে এ বিষয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ পৌঁছেছে, তাই আমি উমরের ফয়সালা বাতিল করছি এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ কার্যকর করছি।" এরপর উরওয়াহ তাঁর কাছে গেলেন এবং তিনি আমার পক্ষে ফয়সালা দিলেন যেন আমি সেই লভ্যাংশ পুনরায় গ্রহণ করি যা তিনি ইতিপূর্বে আমার বিপক্ষে দেওয়ার রায় দিয়েছিলেন।

শাফিঈ বলেন, মদীনার এমন এক ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যাকে আমি নির্ভরযোগ্য মনে করি, তিনি ইবনে আবি যিব থেকে বর্ণনা করেন যে, সা'দ ইবনে ইবরাহীম রাবিয়াহ ইবনে আবি আব্দুর রহমানের রায় অনুযায়ী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি ফয়সালা দিলেন। অতঃপর আমি তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর দেওয়া ফয়সালার বিপরীত সংবাদ দিলাম। তখন সা'দ রাবিয়াহকে বললেন, "এই যে ইবনে আবি যিব, তিনি আমার নিকট নির্ভরযোগ্য; তিনি আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার দেওয়া ফয়সালার বিপরীত সংবাদ দিচ্ছেন।" রাবিয়াহ তাঁকে বললেন, "আপনি তো ইজতিহাদ করেছেন এবং আপনার হুকুম কার্যকর হয়ে গেছে।" তখন সা'দ বললেন, "কী আশ্চর্য! আমি কি সা'দ ইবনে উম্মে সা'দের ফয়সালা কার্যকর রাখব আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালা প্রত্যাখ্যান করব? বরং আমি সা'দ ইবনে উম্মে সা'দের ফয়সালাই প্রত্যাখ্যান করব এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালা কার্যকর করব।" এরপর সা'দ সেই ফয়সালার নথিপত্র তলব করলেন এবং তা ছিঁড়ে ফেললেন এবং যার বিপক্ষে রায় দিয়েছিলেন তার অনুকূলে নতুন ফয়সালা দিলেন।

শাফিঈ বলেন, আবু হানিফা সিমাক ইবনুল ফাদল আল-শিহাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ইবনে আবি যিব মাকবুরির সূত্রে আবু শুরাইহ আল-কাবি থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর বলেছেন, "যার কোনো আত্মীয় নিহত হয়, তার জন্য দুটি বিষয়ের মধ্যে যেটি উত্তম সেটি গ্রহণের অধিকার রয়েছে; সে চাইলে রক্তপণ গ্রহণ করতে পারে অথবা চাইলে কিসাস (প্রতিশোধ) নিতে পারে।" আবু হানিফা বলেন, আমি ইবনে আবি যিবকে বললাম, "হে আবু হারিস! আপনি কি এটি গ্রহণ করেন?" তখন তিনি আমার বুকে আঘাত করলেন এবং আমার ওপর খুব জোরে চিৎকার করলেন এবং আমাকে আক্রমণাত্মক ভাষায় বললেন, "আমি আপনার নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বর্ণনা করছি আর আপনি বলছেন যে আমি এটি গ্রহণ করি কি না? হ্যাঁ, আমি এটি গ্রহণ করি এবং এটি আমার ওপর এবং যে ব্যক্তি এটি শুনবে তার ওপর ফরজ। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মানুষদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনোনীত করেছেন, অতঃপর তাঁর মাধ্যমে ও তাঁর হাতে তাদের হেদায়েত দান করেছেন। আর তিনি তাঁর জন্য যা পছন্দ করেছেন এবং তাঁর জবানে যা ব্যক্ত করেছেন, তা-ই তাদের জন্য পছন্দ করেছেন। সুতরাং সৃষ্টির কর্তব্য হলো স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়—তাঁর অনুসরণ করা। কোনো মুসলমানের জন্য তা থেকে বের হওয়ার পথ নেই।" তিনি থামছিলেন না, এমনকি আমি কামনা করছিলাম যে তিনি যেন এখন থামেন। সমাপ্ত।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি, উমর ইবনুল খাত্তাব, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ এবং সা'দ ইবনে ইবরাহীমের কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করুন। আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হবে যে, সাহাবী, তাবেঈন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের নিকট এবং সকল মুসলিম আলেমদের নিকট এটিই পরিচিত ও স্বীকৃত বিষয় যে, কোনো মুজতাহিদ বিচারকের রায় যদি মহান আল্লাহর কিতাব কিংবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর বিরোধী হয়, তবে তা বাতিল করা এবং তার কার্যকারিতা রোধ করা ওয়াজিব। কিতাব ও সুন্নাহর অকাট্য বিধানকে বুদ্ধিভিত্তিক সম্ভাবনা, কুপ্রবৃত্তিপ্রসূত কল্পনা এবং শয়তানি গোঁড়ামির মাধ্যমে বিরোধিতা করা যাবে না। যেমন এই কথা বলা যে, "হয়তো এই মুজতাহিদ এই বিধানটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং জেনেশুনেই তা বর্জন করেছেন" অথবা "হয়তো তাঁর কাছে এর কোনো কারণ স্পষ্ট হয়েছিল" কিংবা "হয়তো তিনি অন্য কোনো দলিলের সন্ধান পেয়েছিলেন" ইত্যাদি। এই ধরণের কথাবার্তায় গোঁড়া ফকীহদের দলগুলো মত্ত থাকে এবং মূর্খ মুকাল্লিদরা এতে একমত হয়। অতএব বিষয়টি অনুধাবন করুন।

আবু নযর হাশিম ইবনুল কাসিম বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আবি রাশিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদাহ ইবনে আবি লুবাবাহর সূত্রে, তিনি হাশিম থেকে বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ৮)
ابْن يحيى المَخْزُومِي أَن رجلا من ثَقِيف أَتَى عمر بن الْخطاب فَسَأَلَهُ عَن إمرأة حَاضَت وَقد كَانَت زارت الْبَيْت يَوْم النَّحْر ألها أَن تنفر قبل أَن تطهر قَالَ عمر لَا فَقَالَ لَهُ الثَّقَفِيّ فان رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أفتاني فِي هَذِه الْمَرْأَة بِغَيْر مَا أَفْتيت بِهِ فَقَامَ اليه عمر يضْربهُ بِالدرةِ وَيَقُول لم تستفتي فِي شئ قد افتى فِيهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَرَوَاهُ أَبُو دَاوُد بِنَحْوِهِ

وَقَالَ أَبُو بكر بن أبي شيبَة ثَنَا صَالح بن عبد الله ثَنَا سُفْيَان عَن عَامر عَن عتاب بن مَنْصُور قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقَالَ إِسْرَائِيل عَن أبي إِسْحَق عَن سعد بن أبي أياس عَن ابْن مَسْعُود أَن رجلا تزوج إمرأة فَرَأى أمهَا فَأَعْجَبتهُ فَطلق إمرأته ليتزوج أمهَا فَقَالَ لَا بَأْس فَتَزَوجهَا الرجل وَكَانَ عبد الله على بَيت المَال فَكَانَ يَبِيع نقود بَيت المَال يُعْطي الْكثير وَيَأْخُذ الْقَلِيل حَتَّى قدم الْمَدِينَة فَسَأَلَ أَصْحَاب مُحَمَّد ص فَقَالُوا لَا تحل لهَذَا الرجل هَذِه الْمَرْأَة وَلَا تصح الْفضة بِالْفِضَّةِ الا وزنا بِوَزْن فَلَمَّا قدم عبد الله انْطلق الى الرجل فَلم يجده وَوجد قومه فَقَالَ ان الَّذِي أَفْتيت بِهِ صَاحبكُم لَا يحل وأتى الصيارفة فَقَالَ يَا معشر الصيارفة ان الَّذِي كنت أُبَايِعكُم عَلَيْهِ لَا يحل لَا تحل الْفضة بِالْفِضَّةِ الا وزنا بِوَزْن

وَفِي صَحِيح مُسلم من حَدِيث اللَّيْث عَن يحيى بن سعيد عَن سُلَيْمَان بن يسَار أَن أَبَا هُرَيْرَة وَابْن عَبَّاس وَأَبا سَلمَة تَذَاكَرُوا الْمُتَوفَّى عَنْهَا الْحَامِل تضع عِنْد وَفَاة زَوجهَا فَقَالَ ابْن عَبَّاس تَعْتَد آخر الْأَجَليْنِ فَقَالَ أَبُو سَلمَة تحل حِين تضع فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَة وَأَنا مَعَ ابْن أخي فأرسلوا الى أم سَلمَة فَقَالَت قد وضعت سبيعة بعد وَفَاة زَوجهَا بِليَال فَأمرهَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن تزوج وَقد تقدم ذكر رُجُوع ابْن عمر وَابْن عَبَّاس عَن اجتهادهم الى السّنة مَا فِيهِ كِفَايَة

قَالَ مُحَمَّد بن اسحاق بن خُزَيْمَة الملقب بامام الْأَئِمَّة لَا قَول لأحد مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم اذا صَحَّ الْخَبَر عَنهُ وَقد كَانَ امام الْأَئِمَّة ابْن خُزَيْمَة لَهُ أَصْحَاب ينتحلون مذْهبه وَلم يكن مُقَلدًا بل اماما مُسْتقِلّا كَمَا ذكر الْبَيْهَقِيّ فِي مدخله عَن يحيى بن مُحَمَّد الْعَنْبَري قَالَ طَبَقَات أَصْحَاب الحَدِيث جمة الْمَالِكِيَّة وَالشَّافِعِيَّة والحنبلية والراهوية والخزيمية أَصْحَاب مُحَمَّد بن خُزَيْمَة

وَقَالَ الشَّافِعِي قَالَ لي قَائِل ذَات يَوْم إِن عمر عمل شَيْئا ثمَّ صَار الى غَيره لخَبر نبوي قلت لَهُ حَدثنِي سُفْيَان عَن الزُّهْرِيّ عَن ابْن الْمسيب ان عمر كَانَ يَقُول الدِّيَة لِلْعَاقِلَةِ وَلَا تَرث الْمَرْأَة من دِيَة زَوجهَا شَيْئا حَتَّى أخبرهُ الضَّحَّاك بن سُفْيَان أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كتب إِلَيْهِ أَن يُورث إمرأة اشيم الضبابِي من دِيَته فَرجع إِلَيْهِ عمر

وَأَخْبرنِي ابْن عُيَيْنَة عَن عَمْرو بن دِينَار وَابْن طَاوس أَن عمر قَالَ اذكر الله امْرَءًا سمع
ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাখজুমি থেকে বর্ণিত যে, সাকিফ গোত্রের এক ব্যক্তি উমর ইবনুল খাত্তাবের নিকট এসে এমন এক নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, যিনি মাসিকে আক্রান্ত হয়েছেন অথচ তিনি কোরবানির দিন (তাওয়াফে ইফাদাহ সম্পন্ন করতে) বায়তুল্লাহ জিয়ারত করেছিলেন; তিনি কি পবিত্র হওয়ার আগেই প্রস্থান করতে পারবেন? উমর বললেন, "না।" তখন সাকিফি ব্যক্তিটি তাকে বললেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নারীর বিষয়ে আমাকে আপনার দেওয়া ফতোয়ার বিপরীত ফতোয়া দিয়েছেন।" তখন উমর তার দিকে উঠে দাঁড়ালেন এবং চাবুক দিয়ে তাকে মারতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন, "যে বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফতোয়া দিয়েছেন, সে বিষয়ে তুমি কেন (অন্যের কাছে) ফতোয়া চাচ্ছ?" আবু দাউদও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

আবু বকর ইবনে আবি শায়বা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান আমির থেকে, তিনি আত্তাব ইবনে মনসুর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। ইসরাঈল আবু ইসহাক থেকে, তিনি সাদ ইবনে আবি ইয়াস থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি এক নারীকে বিয়ে করলেন, এরপর তিনি তার শাশুড়িকে দেখে পছন্দ করলেন। ফলে তিনি নিজের স্ত্রীকে তালাক দিলেন যাতে তার মাকে বিয়ে করতে পারেন। তখন (ইবনে মাসউদ) বললেন, "এতে কোনো সমস্যা নেই।" ফলে সেই ব্যক্তি তাকে বিয়ে করলেন। আর আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) তখন বায়তুল মালের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বায়তুল মালের মুদ্রা কেনা-বেচা করতেন; বেশি দিতেন এবং কম নিতেন। অবশেষে যখন তিনি মদিনায় আসলেন এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের জিজ্ঞাসা করলেন, তখন তারা বললেন, "এই ব্যক্তির জন্য এই নারী হালাল নয় এবং রূপার বিনিময়ে রূপা সমান সমান ওজন ব্যতীত বৈধ নয়।" অতঃপর আব্দুল্লাহ যখন ফিরে আসলেন, তিনি লোকটির কাছে গেলেন কিন্তু তাকে পেলেন না, তবে তার কওমকে পেলেন। তিনি বললেন, "আমি তোমাদের সাথীকে যে ফতোয়া দিয়েছিলাম তা হালাল নয়।" এরপর তিনি মুদ্রা বিনিময়কারীদের কাছে গিয়ে বললেন, "হে মুদ্রা বিনিময়কারীগণ! আমি তোমাদের সাথে যা কেনা-বেচা করতাম তা হালাল নয়। রূপার বিনিময়ে রূপা সমান সমান ওজন ব্যতীত হালাল নয়।"

সহীহ মুসলিমে লাইস থেকে, তিনি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস এবং আবু সালামা এমন এক গর্ভবতী বিধবা নারী সম্পর্কে আলোচনা করলেন যে তার স্বামীর মৃত্যুর পরপরই সন্তান প্রসব করেছে। ইবনে আব্বাস বললেন, "তিনি দুটি সময়ের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর (চার মাস দশ দিন অথবা সন্তান প্রসব) সেই পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবেন।" আবু সালামা বললেন, "সন্তান প্রসবের সাথে সাথেই তিনি (বিয়ের জন্য) হালাল হয়ে যাবেন।" আবু হুরায়রা বললেন, "আমি আমার ভাতিজার (আবু সালামার) সাথে আছি।" তখন তারা উম্মে সালামার নিকট লোক পাঠালেন। তিনি বললেন, "সুবাইয়াহ তার স্বামীর মৃত্যুর কয়েক রাত পরেই সন্তান প্রসব করেছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বিয়ে করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।" ইবনে উমর এবং ইবনে আব্বাসের তাদের ইজতিহাদ থেকে সুন্নাহর দিকে ফিরে আসার যে বর্ণনা আগে উল্লেখ করা হয়েছে তা-ই যথেষ্ট।

'ইমামুল আইম্মাহ' (ইমামদের ইমাম) উপাধিতে ভূষিত মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইবনে খুজাইমা বলেছেন, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো হাদীস যখন সহীহ প্রমাণিত হয়, তখন তার বিপরীতে অন্য কারো কথার কোনো মূল্য থাকে না।" ইমামুল আইম্মাহ ইবনে খুজাইমার এমন কিছু অনুসারী ছিলেন যারা তার মাযহাব অনুসরণ করতেন। তিনি কোনো মুকাল্লিদ ছিলেন না, বরং একজন স্বতন্ত্র ইমাম ছিলেন। যেমনটি বায়হাকী তার 'মাদখাল' গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ আল-আনবারি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "আসহাবুল হাদীসের স্তরসমূহ অনেক, যেমন: মালিকি, শাফিঈ, হাম্বলী, রাহওয়িয়্যাহ এবং খুজাইমিয়্যাহ—যারা মুহাম্মাদ ইবনে খুজাইমার অনুসারী।"

ইমাম শাফিঈ বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি আমাকে বললেন যে, উমর একটি কাজ করেছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে একটি নববী হাদীসের কারণে তিনি তা থেকে অন্য দিকে ফিরে যান। আমি তাকে বললাম, সুফিয়ান যুহরি থেকে, তিনি ইবনুল মুসায়্যিব থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, উমর বলতেন: "দিয়ত (রক্তপণ) আসাবায়ে আমেলা বা আত্মীয়দের জন্য, আর স্ত্রী তার স্বামীর দিয়ত থেকে কিছুই পাবে না।" অবশেষে দাহহাক ইবনে সুফিয়ান তাকে জানালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট লিখে পাঠিয়েছিলেন যেন তিনি আশয়াম আদ-দিবাবির স্ত্রীকে তার দিয়ত থেকে মিরাস (উত্তরাধিকার) প্রদান করেন। তখন উমর সেই পূর্বের রায় থেকে ফিরে আসলেন।

ইবনে উইয়ায়না আমর ইবনে দিনার এবং ইবনে তাউস থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উমর বলেছিলেন, "আমি আল্লাহর দোহাই দিয়ে সেই ব্যক্তিকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে শুনেছে..."
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ৯)
من النَّبِي صلى الله عليه وسلم فِي الْجَنِين شَيْئا فَقَامَ حمل بن مَالك بن النَّابِغَة وَقَالَ كنت بَين جارتين لي فَضربت احداهما الاخرى بمسطح فَأَلْقَت جَنِينا مَيتا فَقضى فِيهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بغرة فَقَالَ عمر لَو لم نسْمع فِيهِ هَذَا لقضينا فِيهِ بِغَيْر هَذَا وَقَالَ غَيره ان كدنا لنقضي فِيهِ برأينا فَترك اجْتِهَاده للنَّص وَهَذَا هُوَ الْوَاجِب على كل مُسلم إِذْ إجتهاد الرَّأْي إِنَّمَا يُبَاح عِنْد الضَّرُورَة فَمن أضطر غير بَاغ وَلَا عَاد فَلَا إِثْم عَلَيْهِ إِن الله غَفُور رَحِيم وَكَذَلِكَ الْقيَاس إِنَّمَا يُصَار إِلَيْهِ عِنْد الضَّرُورَة قَالَ الامام أَحْمد سَأَلت الشَّافِعِي عَن الْقيَاس فَقَالَ عِنْد الضَّرُورَة نَقله الْبَيْهَقِيّ فِي مدخله وَقَالَ ابْن عمر كُنَّا نخابر وَلَا نرى بذلك بَأْسا حَتَّى زعم رَافع أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نهى عَنْهَا فتركناها من أجل ذَلِك وَقَالَ عَمْرو بن دِينَار عَن سَالم بن عبد الله أَن عمر بن الْخطاب نهى عَن الطّيب قبل زِيَارَة الْبَيْت وَبعد الْجَمْرَة فَقَالَت عَائِشَة طيبت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بيَدي لاحرامه قبل أَن يحرم ولحله قبل أَن يطوف بِالْبَيْتِ وَسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَحَق

قَالَ الشَّافِعِي فَترك سَالم قَول جده لروايتها قَالَ ابْن عبد الْبر وَابْن تَيْمِية وَهَذَا شَأْن كل مُسلم لَا كَمَا يصنع فرقة التَّقْلِيد

وَفِي كتاب الْعلم بَاب مَا جَاءَ فِي ذمّ القَوْل فِي دين الله بِالرَّأْيِ وَالظَّن وَالْقِيَاس على غير اصل وعيب الاكثار من الْمسَائِل دون اعْتِبَار قَالَ ابْن عبد الْبر ثَنَا عبد الرَّحْمَن بن يحيى قَالَ ثَنَا عَليّ ابْن مُحَمَّد قَالَ ثَنَا أَحْمد بن دَاوُد قَالَ ثَنَا سَحْنُون بن سعيد قَالَ حَدثنَا عبد الله بن وهب قَالَ ثَنَا ابْن لَهِيعَة عَن أبي الْأسود عَن عُرْوَة بن الزبير قَالَ حج علينا عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ فَجَلَست إِلَيْهِ فَسَمعته يَقُول سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول إِن الله لَا ينتزع الْعلم من النَّاس بعد إِذْ أعطاهموه انتزاعا وَلَكِن ينتزعه مِنْهُم مَعَ قبض الْعلمَاء بعلمهم فَيبقى النَّاس جُهَّالًا يستفتون فيفتون برأيهم فيضلون ويضلون قَالَ عُرْوَة فَحدثت بذلك عَائِشَة ثمَّ إِن عبد الله بن عَمْرو حج بعد ذَلِك فَقَالَت لي عَائِشَة يَا ابْن أخي إنطلق إِلَى عبد الله فاستثبت لي مِنْهُ الحَدِيث الَّذِي حَدثنِي بِهِ عَنهُ قَالَ فَجِئْته فَسَأَلته فَحَدثني بِهِ كنحو مَا حَدثنِي فَأتيت عَائِشَة فَأَخْبَرتهَا فعجبت وَقَالَت وَالله لقد حفظ عبد الله ابْن عَمْرو فِيهِ ابْن لَهِيعَة وَفِيه مقَال قَالَ ابْن وهب وَأَخْبرنِي عبد الرَّحْمَن بن شُرَيْح عَن أبي الْأسود عَن عُرْوَة عَن عبد الله بن عَمْرو عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بذلك أَيْضا وحَدثني عبد الْوَارِث بن سُفْيَان قَالَ حَدثنَا قَاسم بن أصبغ قَالَ حَدثنَا عبيد بن عبد الْوَاحِد بن شريك قَالَ حَدثنَا نعيم بن حَمَّاد قَالَ حَدثنَا ابْن الْمُبَارك قَالَ حَدثنَا عِيسَى بن يُونُس عَن حريز بن عُثْمَان الرَّحبِي قَالَ حَدثنَا
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ভ্রূণ সম্পর্কে কোনো ফয়সালা আসার পূর্বে, হামাল ইবন মালিক ইবনুন নাবিকা দাঁড়িয়ে বললেন: আমি আমার দুই স্ত্রীর মধ্যে ছিলাম, তখন তাদের একজন অন্যজনকে লাঠি দিয়ে আঘাত করল, ফলে তার গর্ভপাত হয়ে মৃত ভ্রূণ নির্গত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে একটি দাস বা দাসী প্রদানের ফয়সালা দিলেন। উমর বললেন: যদি আমরা এ বিষয়ে এই হাদিস না শুনতাম, তবে আমরা অন্যভাবে ফয়সালা দিতাম। অন্য একজন বললেন: আমরা তো আমাদের ব্যক্তিগত রায় অনুযায়ী ফয়সালা দেওয়ার উপক্রম করেছিলাম। ফলে তিনি দলিলের (নস) সামনে নিজের ইজতিহাদ ত্যাগ করলেন। আর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এটাই ওয়াজিব। কারণ রায়ের মাধ্যমে ইজতিহাদ কেবল প্রয়োজনের মুহূর্তেই বৈধ। সুতরাং যে ব্যক্তি অবাধ্য বা সীমালঙ্ঘনকারী না হয়ে নিরুপায় হয়ে পড়ে, তার কোনো গুনাহ নেই; নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। অনুরূপভাবে কিয়াস কেবল প্রয়োজনের সময়ই অবলম্বন করা হয়। ইমাম আহমাদ বলেন: আমি শাফিঈকে কিয়াস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: প্রয়োজনের সময়। এটি বায়হাকী তার 'মাদখাল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবন উমর বলেন: আমরা মুখাবারা (বর্গা চাষ) করতাম এবং এতে কোনো সমস্যা মনে করতাম না, যতক্ষণ না রাফি দাবি করলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি নিষেধ করেছেন; ফলে আমরা তাঁর সেই বাণীর কারণে তা ত্যাগ করলাম। আমর ইবন দীনার সালিম ইবন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বায়তুল্লাহ জিয়ারতের আগে এবং জামরায় পাথর নিক্ষেপের পরে সুগন্ধি ব্যবহার করতে নিষেধ করতেন। তখন আয়েশা বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ইহরাম বাঁধার আগে এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করার আগে নিজ হাতে সুগন্ধি মাখিয়ে দিয়েছি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহই অধিক অনুসরণযোগ্য।

শাফিঈ বলেন: সুতরাং সালিম হাদিস বর্ণনার কারণে তাঁর দাদার বক্তব্য ত্যাগ করেছেন। ইবন আব্দুল বারর এবং ইবন তায়মিয়াহ বলেন: আর প্রত্যেক মুসলিমের নীতি এমনই হওয়া উচিত, তকলীদপন্থী দলের মতো নয়।

এবং ইলম (জ্ঞান) অধ্যায়ে এসেছে: কোনো মূল ভিত্তি ব্যতীত আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে রায়, ধারণা এবং কিয়াসের মাধ্যমে কথা বলার নিন্দা এবং শিক্ষা ব্যতিরেকে মাসআলার আধিক্যের দোষ সম্পর্কে পরিচ্ছেদ। ইবন আব্দুল বারর বলেন: আমাদের নিকট আব্দুর রহমান ইবন ইয়াহইয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আলী ইবন মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আহমাদ ইবন দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সাহনুন ইবন সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবন ওয়াহাব বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবন লাহিয়া আবুল আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস আমাদের সাথে হজ পালন করলেন। আমি তাঁর কাছে বসলাম এবং তাঁকে বলতে শুনলাম: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের নিকট ইলম প্রদানের পর তা ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তাদের থেকে ইলম উঠিয়ে নেবেন না। বরং আলেমদের মৃত্যু এবং তাদের ইলম চলে যাওয়ার মাধ্যমেই তিনি ইলম উঠিয়ে নেবেন। ফলে মানুষ জাহেল বা মূর্খ হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে। তাদের কাছে ফতোয়া চাওয়া হবে এবং তারা নিজ রায় দিয়ে ফতোয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে। উরওয়াহ বলেন: আমি আয়েশাকে এটি বর্ণনা করলাম। এরপর আব্দুল্লাহ ইবন আমর পুনরায় হজ করতে এলে আয়েশা আমাকে বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র, তুমি আব্দুল্লাহর কাছে যাও এবং আমার জন্য সেই হাদিসটি দৃঢ়ভাবে যাচাই করো যা সে আমার কাছে বর্ণনা করেছিল। তিনি বলেন: আমি তাঁর কাছে এলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি আমাকে ঠিক সেভাবেই বর্ণনা করলেন যেভাবে পূর্বে করেছিলেন। আমি আয়েশার কাছে এসে তাঁকে সংবাদ দিলাম। তিনি আশ্চর্য হলেন এবং বললেন: আল্লাহর কসম, আব্দুল্লাহ ইবন আমর তা সঠিকভাবে মুখস্থ রেখেছে। এতে ইবন লাহিয়া রয়েছেন এবং তাঁর ব্যাপারে সমালোচনা আছে। ইবন ওয়াহাব বলেন: আমাকে আব্দুর রহমান ইবন শুরাইহ আবুল আসওয়াদ থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন আমর থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একইভাবে সংবাদ দিয়েছেন। এবং আমার কাছে আব্দুল ওয়ারিস ইবন সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট কাসিম ইবন আসবাগ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট উবাইদ ইবন আব্দুল ওয়াহিদ ইবন শারিক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট নুয়াইম ইবন হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনুল মুবারক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ঈসা ইবন ইউনুস হারীজ ইবন উসমান আর-রাহবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ১০)
عبد الرَّحْمَن بن جُبَير بن نفير عَن أَبِيه عَن عَوْف بن مَالك الاشجعي قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تفترق أمتِي على بضع وَسبعين فرقة أعظمها فتْنَة قوم يقيسون الدّين برأيهم يحرمُونَ بِهِ مَا أحل الله ويحللون بِهِ مَا حرم الله وَأخْبرنَا أَحْمد بن قَاسم ويعيش بن سعيد قَالَا أَنا قَاسم بن أصبغ قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل التِّرْمِذِيّ قَالَ ثَنَا نعيم قَالَ ثَنَا ابْن الْمُبَارك قَالَ ثَنَا عِيسَى بن يُونُس قَالَ ثَنَا حريز عَن عبد الرحمن بن جُبَير بن نفير عَن أَبِيه عَن عَوْف بن مَالك الْأَشْجَعِيّ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تفترق أمتِي على بضع وَسبعين فرقة أعظمها فتْنَة على أمتِي قوم يقيسون الْأُمُور برأيهم فيحللون الْحَرَام ويحرمون الْحَلَال انْتهى

قلت وَأخرجه الْبَيْهَقِيّ بِسَنَدِهِ إِلَى نعيم بن حَمَّاد قَالَ ابْن الْقيم بعد إِخْرَاجه بِهَذِهِ الْأَسَانِيد وَهَؤُلَاء كلهم أَئِمَّة ثِقَات حفاظ إِلَّا حريز بن عُثْمَان فَإِنَّهُ كَانَ منحرفا عَن عَليّ رضي الله عنه وَمَعَ هَذَا احْتج بِهِ البُخَارِيّ فِي صَحِيحه وَقد رُوِيَ عَنهُ أَنه تَبرأ مِمَّا نسب إِلَيْهِ من الانحراف عَن عَليّ ونعيم ابْن حَمَّاد إِمَام جليل وَكَانَ سَيْفا على الْجَهْمِية وروى عَنهُ البُخَارِيّ فِي صَحِيحه

قَالَ أَبُو عمر هَذَا هُوَ الْقيَاس على غير أصل وَالْكَلَام فِي الدّين بالتخرص وَالظَّن أَلا ترى إِلَى قَوْله فِي الحَدِيث يحللون الْحَرَام ويحرمون الْحَلَال وَمَعْلُوم أَن الْحَلَال مَا فِي كتاب الله تَعَالَى وَسنة رَسُوله ص تَحْلِيله وَالْحرَام مَا فِي كتاب الله تَعَالَى وَسنة رَسُوله ص تَحْرِيمه فَمن جهل ذَلِك وَقَالَ فِيمَا سُئِلَ عَنهُ بِغَيْر علم وقاس بِرَأْيهِ خلاف مَا خرج مِنْهُ وَمن السّنة فَهَذَا هُوَ الَّذِي قَاس الْأُمُور بِرَأْيهِ فضل وأضل وَمن رد الْفُرُوع فِي علمه إِلَى أُصُولهَا فَلم يقل بِرَأْيهِ انْتهى قلت هَكَذَا أخرجه الْحَافِظ أَبُو عمر وَسكت عَلَيْهِ وَأوردهُ فِي مقَام الِاحْتِجَاج فِي ذمّ الرَّأْي فصنيعه يدل على أَن الحَدِيث صَالح للاحتجاج بِهِ وَقد أخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي الْمدْخل وَقَالَ تفرد بِهِ نعيم بن حَمَّاد وَسَرَقَهُ عَنهُ جمَاعَة من الضُّعَفَاء وَهُوَ مُنكر وَفِي غَيره من الْأَحَادِيث الصِّحَاح الْوَارِدَة فِي مَعْنَاهُ كِفَايَة وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق انْتهى

قلت وَلَعَلَّ مُرَاده بالأحاديث الصِّحَاح الْوَارِدَة فِي مَعْنَاهُ يَعْنِي فِي ذمّ الرَّأْي وَاسْتِعْمَال الْقيَاس فِي مَوضِع النَّص ولأصل الحَدِيث شَاهد أخرجه أَصْحَاب السّنَن الْأَرْبَعَة وَالْإِمَام أَحْمد فِي مُسْنده من حَدِيث أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم افْتَرَقت الْيَهُود على إِحْدَى أَو اثْنَيْنِ وَسبعين فرقة وَتَفَرَّقَتْ النَّصَارَى على إِحْدَى أَو اثْنَيْنِ وَسبعين فرقة وَتَفَرَّقَتْ أمتِي على ثَلَاث وَسبعين فرقة وَأخرج أَبُو دَاوُد عَن مُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان أَنه قَامَ فَقَالَ أَلا إِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَامَ فِينَا فَقَالَ أَلا أَن من كَانَ قبلكُمْ من أهل الْكتاب افْتَرَقُوا على ثِنْتَيْنِ وَسبعين مِلَّة وَأَن هَذِه الْأمة سَتَفْتَرِقُ على ثَلَاث وَسبعين ثِنْتَانِ وَسَبْعُونَ فِي
আবদুর রহমান ইবনে জুবায়ের ইবনে নুফায়ের তাঁর পিতা থেকে, তিনি আওফ ইবনে মালিক আল-আশজাঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "আমার উম্মত সত্তরটিরও বেশি দলে বিভক্ত হবে। তাদের মধ্যে ফেতনার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় হবে ওই কওম যারা দ্বীনকে তাদের নিজস্ব রায়ের (অভিমতের) মাধ্যমে পরিমাপ করবে; ফলে তারা আল্লাহর হালালকৃত বিষয়কে হারাম করবে এবং আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে হালাল করবে।" এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবনে কাসেম ও ইয়াঈশ ইবনে সাঈদ, তাঁরা বলেন: কাসেম ইবনে আসবাগ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আত-তিরমিজি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: নুয়াইম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুল মুবারক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: ঈসা ইবনে ইউনুস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হারিজ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবদুর রহমান ইবনে জুবায়ের ইবনে নুফায়ের থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আওফ ইবনে মালিক আল-আশজাঈ থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "আমার উম্মত সত্তরটিরও বেশি দলে বিভক্ত হবে। আমার উম্মতের ওপর ফেতনার দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় হবে ওই কওম যারা বিষয়গুলোকে তাদের নিজস্ব রায়ের মাধ্যমে পরিমাপ করবে; ফলে তারা হারামকে হালাল করবে এবং হালালকে হারাম করবে।" সমাপ্ত।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: বায়হাকী এটি নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ পর্যন্ত তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল কাইয়্যিম এই সনদগুলো উল্লেখ করার পর বলেন: এঁরা সকলেই নির্ভরযোগ্য এবং হাফেজ ইমাম, তবে হারিজ ইবনে উসমান ছাড়া। কেননা তিনি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি বিরূপ ভাবাপন্ন ছিলেন। এতদসত্ত্বেও ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে তাঁর বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তাঁর থেকে এও বর্ণিত হয়েছে যে, আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর প্রতি বিচ্যুত হওয়ার যে অপবাদ তাঁর ওপর দেওয়া হয়েছিল, তা থেকে তিনি নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন। আর নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ একজন মহান ইমাম এবং তিনি জাহমিয়্যাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার স্বরূপ ছিলেন। ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু উমর (ইবনে আবদিল বার) বলেন: এটি হচ্ছে মূল ভিত্তিহীন কিয়াস (অনুমান) এবং কল্পনা ও ধারণার বশবর্তী হয়ে দ্বীনের বিষয়ে কথা বলা। আপনি কি হাদীসে তাঁর এই উক্তিটির দিকে লক্ষ্য করছেন না— "তারা হারামকে হালাল করবে এবং হালালকে হারাম করবে"? এটা সর্বজনবিদিত যে, হালাল তাই যা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ হালাল করেছে এবং হারাম তাই যা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ হারাম করেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকবে এবং যাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে সে জ্ঞান ছাড়াই উত্তর দেবে এবং সুন্নাহ থেকে যা এসেছে তার বিপরীতে নিজের রায় বা মত দিয়ে কিয়াস করবে, সেই ব্যক্তিই মূলত নিজের রায়ের মাধ্যমে বিষয়গুলোকে পরিমাপ করেছে এবং নিজে পথভ্রষ্ট হয়েছে ও অন্যকে পথভ্রষ্ট করেছে। আর যে ব্যক্তি ইলমের শাখা-প্রশাখাকে তার মূলের দিকে ফিরিয়ে দেয়, সে নিজের রায় বা মত অনুযায়ী কথা বলে না। সমাপ্ত। আমি বলছি: হাফেজ আবু উমর এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন এবং এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। তিনি রায়ের নিন্দাজ্ঞাপন করার ক্ষেত্রে দলিলের অবস্থানে এটি উল্লেখ করেছেন। তাঁর এই আচরণ প্রমাণ করে যে, হাদীসটি দলিল হিসেবে পেশ করার উপযোগী। বায়হাকী এটি 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং দুর্বল বর্ণনাকারীদের একটি দল তাঁর থেকে এটি চুরি করেছে। এটি একটি মুনকার (অস্বীকৃত) বর্ণনা। এছাড়া এই একই অর্থে বর্ণিত অন্যান্য সহীহ হাদীসসমূহ যথেষ্ট। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে। সমাপ্ত।

আমি বলছি: সম্ভবত 'এই অর্থে বর্ণিত সহীহ হাদীসসমূহ' বলতে তাঁর উদ্দেশ্য হচ্ছে রায়ের নিন্দা করা এবং যেখানে অকাট্য নস (দলিল) বিদ্যমান সেখানে কিয়াসের ব্যবহার করা। মূল হাদীসটির সমর্থক বর্ণনা রয়েছে যা চার সুনান গ্রন্থকারগণ এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "ইয়াহুদিরা একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, নাসারারা একাত্তর বা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল এবং আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে।" আবু দাউদ মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি দাঁড়িয়ে বললেন: জেনে রাখো, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, "জেনে রাখো, তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবগণ বাহাত্তর মিল্লাতে (দলে) বিভক্ত হয়েছিল এবং এই উম্মত অচিরেই তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে। বাহাত্তরটি হবে..."
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ১১)
النَّار وَوَاحِدَة فِي الْجنَّة وَهِي الْجَمَاعَة زَاد ابْن يحيى وَعَمْرو فِي حَدِيثهمَا وَأَنه سيخرج فِي أمتِي أَقوام تجاري بهم تِلْكَ الْأَهْوَاء كَمَا يتجارى الْكَلْب بِصَاحِبِهِ وَقَالَ عَمْرو الْكَلْب بِصَاحِبِهِ لَا يبْقى مِنْهُ عرق وَلَا مفصل إِلَّا دخله وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث أبي هُرَيْرَة حسن صَحِيح وَفِي رِوَايَة لِأَحْمَد هِيَ مَا أَنا عَلَيْهِ الْيَوْم وأصحابي

قلت ونعيم بن حَمَّاد من رجال البُخَارِيّ قَالَ فِي الْكَمَال قَالَ ابْن حبَان قَالَ يحيى بن معِين نعيم ابْن حَمَّاد ثِقَة صَدُوق رجل صدق أَنا أعرف النَّاس بِهِ وَكَانَ رفيقي بِالْبَصْرَةِ وَكتب عَن روح بن عبَادَة خمسين ألف حَدِيث وَقَالَ أَحْمد بن حَنْبَل لقد كَانَ من الثقاة وَقَالَ أَحْمد بن عبد الله نعيم ابْن حَمَّاد مروزي ثِقَة وَقَالَ أَبُو حَاتِم مَحَله الصدْق وَقَالَ ابْن سعد كَانَ نعيم من أهل المرو وَطلب الحَدِيث طلبا كثيرا بالعراق والحجاز ثمَّ نزل مصر وَلم يزل حَتَّى شخص مِنْهَا فِي خلَافَة إِسْحَاق بن هرون وَسُئِلَ عَن الْقُرْآن فَأبى أَن يُجيب فِيهِ بِشَيْء مِمَّا أرادوه عَلَيْهِ فحبس بسامرا وَلم يزل مَحْبُوسًا بهَا حَتَّى مَاتَ فِي السجْن سنة ثَمَان وَعشْرين ومأتين قَالَ أَبُو بكر الْخَطِيب يُقَال إِن أول من جمع الْمسند وصنفه نعيم بن حَمَّاد روى لَهُ البُخَارِيّ وَالتِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد وَابْن ماجة انْتهى

قلت إِذا علمت هَذَا ظهر لَك وَجه سكُوت الْحَافِظ أبي عمر عَن الحَدِيث الْمَذْكُور واحتجاجه بِهِ

قَالَ ابْن عبد البر حَدثنَا عبيد بن مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا عبد الله بن مُحَمَّد القَاضِي بالقلزم حَدثنَا مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم بن زِيَاد بن عبد الله الرَّازِيّ ثَنَا الْحَرْث بن عبد الله بهمدان ثَنَا عُثْمَان بن عبد الرحمن الوقاصي عَن الزُّهْرِيّ عَن سعيد بن الْمسيب عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تعْمل هَذِه الْأمة بُرْهَة بِكِتَاب الله وبرهة بِسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ثمَّ يعْملُونَ بِالرَّأْيِ فَإِذا فعلوا ذَلِك فقد ضلوا وَأخْبرنَا مُحَمَّد بن خَليفَة حَدثنَا مُحَمَّد بن الْحُسَيْن حَدثنَا مُحَمَّد بن اللَّيْث حَدثنَا جبارَة بن الْمُغلس قَالَ حَدثنَا حَمَّاد بن يحيى الْأَبَح عَن الزُّهْرِيّ عَن سعيد بن الْمسيب عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تعْمل هَذِه الْأمة بِكِتَاب الله ثمَّ تعْمل بُرْهَة بِسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ثمَّ تعْمل بعد ذَلِك بِالرَّأْيِ فَإِذا عمِلُوا بِالرَّأْيِ ضلوا

 

قلت فِيهِ جبارَة تكلم فِيهِ غير وَاحِد وَهُوَ من رجال ابْن ماجة

حَدثنَا عبد الرحمن بن يحيى قَالَ حَدثنَا عَليّ بن مُحَمَّد قَالَ حَدثنَا احْمَد بن دَاوُد قَالَ ثَنَا سَحْنُون ثَنَا ابْن وهب ثَنَا يُونُس بن يزِيد عَن ابْن شهَاب أَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه قَالَ وَهُوَ على الْمِنْبَر يَا أَيهَا النَّاس أَن الرَّأْي إِنَّمَا كَانَ من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مصيبا لِأَن الله كَانَ يرِيه وَإِنَّمَا هُوَ منا الظَّن والتكلف قلت هَذَا مُنْقَطع ابْن شهَاب لم يدْرك عمر بن الْخطاب وَبِهَذَا
(জাহান্নামের) আগুনে এবং একটি জান্নাতে, আর সেটি হলো জামাআত। ইবনে ইয়াহইয়া এবং আমর তাদের বর্ণনায় আরও যোগ করেছেন যে, "আমার উম্মতের মধ্যে অচিরেই এমন কিছু সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যাদের মধ্যে এই প্রবৃত্তিপূজা এমনভাবে ছড়িয়ে পড়বে যেমন জলাতঙ্ক রোগীর শরীরে জলাতঙ্ক রোগ ছড়িয়ে পড়ে।" আমর বলেছেন, "জলাতঙ্ক রোগীর কোনো রগ বা গ্রন্থি অবশিষ্ট থাকে না যেখানে তা প্রবেশ করে না।" ইমাম তিরমিযী বলেছেন, আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিসটি হাসান সহীহ। আহমদের এক বর্ণনায় রয়েছে, "সেটি (জান্নাতি দল) হলো যার ওপর আমি এবং আমার সাহাবীগণ আজ রয়েছি।"

আমি বলছি, নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ ইমাম বুখারীর বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। 'আল-কামাল' গ্রন্থে বলা হয়েছে, ইবনে হিব্বান বলেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: "নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ নির্ভরযোগ্য, অত্যন্ত সত্যবাদী এবং একজন সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি। আমি তার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জানি, তিনি বসরার আমার সাথী ছিলেন এবং তিনি রাওহ ইবনে উবাদাহ থেকে পঞ্চাশ হাজার হাদিস লিখেছিলেন।" আহমদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।" আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ বলেছেন: "নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ মারওয়াযী নির্ভরযোগ্য।" আবু হাতিম বলেছেন: "তার অবস্থান সত্যবাদিতার ওপর।" ইবনে সা'দ বলেছেন: "নুয়াইম মার্ভের অধিবাসী ছিলেন এবং তিনি ইরাক ও হিজাজে প্রচুর হাদিস অন্বেষণ করেছেন। এরপর তিনি মিশরে বসবাস শুরু করেন এবং ইসহাক ইবনে হারুনের খেলাফতকাল পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন। তাকে কুরআন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তাদের চাহিদামতো উত্তর দিতে অস্বীকার করেন, ফলে তাকে সামাররায় বন্দী করা হয়। তিনি দুইশ আটাশ হিজরিতে কারাগারে মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই বন্দী ছিলেন।" আবু বকর আল-খতিব বলেছেন: "বলা হয় যে, নুয়াইম ইবনে হাম্মাদই সর্বপ্রথম মুসনাদ সংগ্রহ ও সংকলন করেছিলেন। বুখারী, তিরমিযী, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ তার থেকে বর্ণনা করেছেন।" সমাপ্ত।

আমি বলছি, যখন আপনি এটি জানতে পারলেন, তখন হাফেজ আবু ওমরের উক্ত হাদিসটি সম্পর্কে নীরব থাকার এবং সেটিকে দলিল হিসেবে পেশ করার কারণ আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল।

ইবনে আব্দুল বার বলেন, উবাইদ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, কুলযুমের বিচারক আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে যিয়াদ ইবনে আব্দুল্লাহ আর-রাযী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারিস ইবনে আব্দুল্লাহ হামদানে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উসমান ইবনে আব্দুর রহমান আল-ওয়াক্কাসী আমাদের নিকট যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এই উম্মত কিছুকাল আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আমল করবে, এবং কিছুকাল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করবে, এরপর তারা ব্যক্তিগত মতামত অনুযায়ী আমল করবে। যখন তারা এটি করবে, তখন তারা পথভ্রষ্ট হবে।" মুহাম্মদ ইবনে খলিফা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মদ ইবনুল লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জুব্বারাহ ইবনুল মুগাল্লিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-আবাহ আমাদের নিকট যুহরী থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এই উম্মত আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আমল করবে, এরপর কিছুকাল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করবে, এরপর তারা এরপরে ব্যক্তিগত মতামত অনুযায়ী আমল করবে। যখন তারা ব্যক্তিগত মতামত অনুযায়ী আমল করবে, তখন তারা পথভ্রষ্ট হবে।"

 

আমি বলছি, এতে জুব্বারাহ রয়েছেন, যার সম্পর্কে একাধিক বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন এবং তিনি ইবনে মাজাহ-র বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত।

আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, সাহনুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইউনুস ইবনে ইয়াযিদ ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন: "হে লোকসকল! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ব্যক্তিগত মতামত সঠিক ছিল কারণ আল্লাহ তাঁকে তা দেখাতেন, আর আমাদের পক্ষ থেকে তা কেবল ধারণা এবং কষ্টকল্পিত প্রয়াস মাত্র।" আমি বলছি, এটি বিচ্ছিন্ন সনদ; কারণ ইবনে শিহাব ওমর ইবনুল খাত্তাবকে পাননি। আর এর মাধ্যমেই...
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ১২)
السَّنَد أخرجه الْبَيْهَقِيّ فِي الْمدْخل وَقَالَ هَذِه الْآثَار عَن عمر كلهَا مَرَاسِيل انْتهى يَعْنِي مُنْقَطِعَة

وَبِه عَن ابْن وهب قَالَ أَخْبرنِي ابْن لَهِيعَة عَن ابْن الْهَاد عَن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم التَّيْمِيّ أَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه قَالَ أصبح أهل الرَّأْي أَعدَاء السّنَن أعيتهم الْأَحَادِيث أَن يعوها وتفلتت مِنْهُم أَن يردوها فاستبقوا الرَّأْي قَالَ ابْن وهب وَأخْبرنَا عبد الله بن عَيَّاش عَن مُحَمَّد بن عجلَان عَن عبيد الله بن عمر أَن عمر بن الْخطاب قَالَ اتَّقوا الرَّأْي فِي دينكُمْ قَالَ سَحْنُون يَعْنِي الْبدع وَقَالَ ابْن وهب وَأَخْبرنِي رجل من أهل الْمَدِينَة عَن ابْن عجلَان عَن صَدَقَة بن أبي عبد الله أَن عمر بن الْخطاب كَانَ يَقُول إِن أَصْحَاب الرَّأْي أَعدَاء السّنَن أعيتهم أَن يحفظوها وتفلتت مِنْهُم أَن يعوها واستحيوا حِين يسْأَلُوا أَن يَقُولُوا لَا نعلم فعارضوا السّنَن برأيهم فإياكم وإياهم حَدثنَا أَحْمد بن عبد الله بن مُحَمَّد ثَنَا أبي ح وثنا عبد الله بن مُحَمَّد بن يُوسُف ثَنَا سهل بن إِبْرَهِيمُ قَالَا جَمِيعًا ثَنَا مُحَمَّد بن فطيس ثَنَا أَحْمد بن يحيى اللأواي الصُّوفِي ثَنَا عبد الرحمن بن شريك قَالَ ثَنَا أبي عَن مجَالد بن سعيد عَن عَامر يَعْنِي الشّعبِيّ عَن عَمْرو بن حُرَيْث قَالَ قَالَ عمر رضي الله عنه إيَّاكُمْ وَأَصْحَاب الرَّأْي فَإِنَّهُم أَعدَاء السّنَن أعيتهم الْأَحَادِيث أَن يحفظوها فَقَالُوا بِالرَّأْيِ فضلوا وأضلوا أخبرنَا مُحَمَّد بن خَليفَة قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن الْحُسَيْن الْبَغْدَادِيّ ثَنَا أَبُو بكر بن أبي دَاوُد ثَنَا مُحَمَّد بن عبد الملك الْقَزاز ثَنَا ابْن أبي مَرْيَم ثَنَا نَافِع ابْن يزِيد عَن ابْن الْهَاد عَن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم التَّيْمِيّ قَالَ قَالَ عمر بن الْخطاب إيَّاكُمْ والرأي فَإِن أَصْحَاب الرَّأْي أَعدَاء السّنَن أعيتهم الْأَحَادِيث أَن يعوها وتفلتت مِنْهُم أَن يحفظوها فَقَالُوا فِي الدّين برأيهم قَالَ أَبُو بكر بن أبي دَاوُد فِي قصيدته فِي السّنة … ودع عَنْك آراء الرِّجَال وَقَوْلهمْ … فَقَوْل رَسُول الله أزكى وأشرح …

حَدثنَا أَحْمد بن عبد الله ثَنَا الْحسن بن إِسْمَاعِيل ثَنَا عبد الملك بن بَحر ثَنَا مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل ثَنَا سنيد ثَنَا يحيى بن زَكَرِيَّا عَن مجَالد بن سعيد عَن الشّعبِيّ عَن مَسْرُوق عَن عبد الله قَالَ لَا يَأْتِي عَلَيْكُم زمَان إِلَّا وَهُوَ شَرّ من الَّذِي قبله أما إِنِّي لَا أَقُول أَمِير خير من أَمِير وَلَا عَام أخصب من عَام وَلَكِن فقهاؤكم يذهبون ثمَّ لَا تَجِدُونَ مِنْهُم خلفا وَيَجِيء أَقوام يقيسون الْأُمُور برأيهم حَدثنَا عبد الرحمن ثَنَا عَليّ ثَنَا أَحْمد ثَنَا سَحْنُون ثَنَا ابْن وهب ثَنَا سُفْيَان عَن مجَالد عَن الشّعبِيّ عَن مَسْرُوق عَن عبد الله بن مَسْعُود أَنه قَالَ لَيْسَ عَام إِلَّا وَالَّذِي بعده شَرّ مِنْهُ لَا أَقُول عَام أمطر من عَام وَلَا عَام أخصب من عَام وَلَا أَمِير خير من أَمِير وَلَكِن ذهَاب خياركم وعلمائكم
সনদ: এটি বায়হাকী ‘আল-মাদখাল’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে, উমর থেকে বর্ণিত এই সকল আছার (বিবরণ) সবই মুরসাল; অর্থাৎ এগুলো বিচ্ছিন্ন সনদযুক্ত।

আর তার মাধ্যমেই ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে লাহিয়াহ আমাকে ইবনুল হাদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেছেন: রায়-পন্থীরা সুন্নাহর শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে; হাদিসসমূহ আত্মস্থ করতে তারা অক্ষম হয়েছে এবং সেগুলো বর্ণনা করা তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে, তাই তারা রায়ের (ব্যক্তিগত মতামতের) আশ্রয় নিয়েছে। ইবনে ওয়াহাব বলেন, আব্দুল্লাহ বিন আইয়াশ আমাদের মুহাম্মদ বিন আজলান থেকে, তিনি উবাইদুল্লাহ বিন উমর থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে রায় (ব্যক্তিগত মতামত) থেকে বেঁচে থাকো। সাহনুন বলেন: এর অর্থ হলো বিদআত। ইবনে ওয়াহাব বলেন, মদিনার এক ব্যক্তি ইবনে আজলান থেকে, তিনি সাদাকা বিন আবি আব্দুল্লাহ থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব বলতেন: নিশ্চয়ই রায়-পন্থীরা সুন্নাহর শত্রু; তারা সেগুলো মুখস্থ করতে অক্ষম হয়েছে এবং সেগুলো আত্মস্থ করা তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। যখন তাদের কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন ‘আমরা জানি না’ বলতে তারা লজ্জাবোধ করে; ফলে তারা নিজেদের রায় দিয়ে সুন্নাহর বিরোধিতা করে। সুতরাং তোমরা তাদের থেকে সাবধান থাকো। আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন (হ), এবং আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তারা উভয়ে বলেন সাহল বিন ইব্রাহিম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তারা সকলে বলেন মুহাম্মদ বিন ফুতাইস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ বিন ইয়াহইয়া আল-লাওয়াই আস-সুফি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আব্দুর রহমান বিন শারিক আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমার পিতা মুজাহিদ বিন সাঈদ থেকে, তিনি আমির অর্থাৎ আশ-শাবী থেকে, তিনি আমর বিন হারিছ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উমর (রা.) বলেছেন: তোমরা রায়-পন্থীদের থেকে সাবধান থাকো, কারণ তারা সুন্নাহর শত্রু। হাদিসসমূহ মুখস্থ করতে তারা অক্ষম হয়েছে, ফলে তারা নিজেদের রায়ের ভিত্তিতে কথা বলেছে; এতে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছে। মুহাম্মদ বিন খলিফা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আল-বাগদাদি আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আবু বকর বিন আবি দাউদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আল-কাযযায আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ইবনে আবি মারয়াম আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন নাফি বিন ইয়াজিদ ইবনুল হাদ থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: তোমরা রায় (ব্যক্তিগত মতামত) থেকে সাবধান থাকো, কারণ রায়-পন্থীরা সুন্নাহর শত্রু। হাদিসসমূহ আত্মস্থ করতে তারা অক্ষম হয়েছে এবং সেগুলো মুখস্থ রাখা তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে, তাই তারা দ্বীনের ব্যাপারে নিজেদের রায়ের ভিত্তিতে কথা বলেছে। আবু বকর বিন আবি দাউদ সুন্নাহ বিষয়ক তার কাসিদায় (কবিতায়) বলেছেন: ... আর তুমি মানুষের রায় (মতামত) ও তাদের কথা বর্জন করো ... কেননা আল্লাহর রাসূলের বাণী অধিক পবিত্র ও অধিক বিশদ ব্যাখ্যাদানকারী ...

আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন হাসান বিন ইসমাইল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আব্দুল মালিক বিন বাহর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন সুনাইদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া মুজাহিদ বিন সাঈদ থেকে, তিনি আশ-শাবী থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: তোমাদের ওপর এমন কোনো জামানা (সময়) আসবে না যা তার পূর্বের সময়ের চেয়ে নিকৃষ্ট নয়। জেনে রেখো, আমি এ কথা বলছি না যে এক শাসক অন্য শাসকের চেয়ে উত্তম, কিংবা এক বছর অন্য বছরের চেয়ে অধিক উর্বর; বরং তোমাদের ফকিহগণ (বিজ্ঞ আলেমগণ) চলে যাবেন, এরপর তোমরা তাদের কোনো স্থলাভিষিক্ত পাবে না। তখন এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা বিষয়গুলোকে নিজেদের রায়ের ভিত্তিতে কিয়াস (অনুমান) করবে। আব্দুর রহমান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আলী আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন সাহনুন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ইবনে ওয়াহাব আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন সুফিয়ান মুজাহিদ থেকে, তিনি আশ-শাবী থেকে, তিনি মাসরুক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: এমন কোনো বছর নেই যার পরবর্তী বছর তার চেয়ে মন্দ নয়। আমি এ কথা বলছি না যে এক বছরে অন্য বছরের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়, কিংবা এক বছর অন্য বছরের চেয়ে অধিক উর্বর, অথবা এক শাসক অন্য শাসকের চেয়ে উত্তম; বরং (নিকৃষ্ট হওয়ার কারণ হলো) তোমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তি ও আলেমদের চলে যাওয়া।
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ১৩)
ثمَّ يحدث قوم يقيسون الْأُمُور برأيهم فيهدم الْإِسْلَام ويثلم حَدثنَا مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم ثَنَا أَحْمد بن مطرف ثَنَا سعيد بن عُثْمَان وَسَعِيد بن حمير قَالَا ثَنَا يُونُس بن عبد الأعلى ثَنَا سُفْيَان بن عُيَيْنَة عَن مجَالد بن سعيد عَن الشّعبِيّ عَن مَسْرُوق عَن ابْن مَسْعُود قَالَ لَيْسَ عَام إِلَّا وَالَّذِي بعده شَرّ مِنْهُ وَلَا أَقُول عَام أمطر من عَام وَلَا عَام أخصب من عَام وَلَا أَمِير خير من أَمِير وَلَكِن ذهَاب خياركم وعلمائكم ثمَّ يحدث قوم يقيسون الْأُمُور برأيهم فيهدم الْإِسْلَام ويثلم

قلت وَأخرجه الْبَيْهَقِيّ أَيْضا بِسَنَد رِجَاله ثِقَات عَن ابْن مَسْعُود

حَدثنَا يُونُس بن عبد الله ثَنَا مُحَمَّد بن مُعَاوِيَة ثَنَا جَعْفَر بن مُحَمَّد الْفرْيَابِيّ ثَنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة ثَنَا أَبُو خَالِد الْأَحْمَر عَن مجَالد عَن الشّعبِيّ عَن مَسْرُوق قَالَ قَالَ عبد الله بن مَسْعُود قراؤكم وعلماؤكم يذهبون ويتخذ النَّاس رؤسا جُهَّالًا يقيسون الْأُمُور برأيهم حَدثنَا أَحْمد بن عبد الله ثَنَا الْحسن ابْن إِسْمَاعِيل ثَنَا عبد الملك بن بَحر ثَنَا مُحَمَّد بن إِسْمَعِيل ثَنَا سنيد بن دَاوُد ثَنَا مُحَمَّد بن فضل عَن سَالم بن أبي حَفْصَة عَن مُنْذر الثَّوْريّ عَن الرّبيع بن خَيْثَم أَنه قَالَ يَا عبد الله مَا علمك الله فِي كِتَابه من علم فاحمد الله وَمَا اسْتَأْثر بِهِ عَلَيْك من علم فكله إِلَى عالمه وَلَا تتكلف فَإِن الله عز وجل يَقُول لنَبيه ص {قل مَا أَسأَلكُم عَلَيْهِ من أجر وَمَا أَنا من المتكلفين إِن هُوَ إِلَّا ذكر للْعَالمين ولتعلمن نبأه بعد حِين} قَالَ الْقَائِل هُوَ مُحَمَّد بن إِسْمَاعِيل فِي السَّنَد الَّذِي قبله فَليعلم

وَحدثنَا سنيد قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن فُضَيْل عَن دَاوُد بن أبي هِنْد عَن مَكْحُول عَن أبي ثَعْلَبَة الْخُشَنِي قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن الله فرض عَلَيْكُم فَرَائض فَلَا تضيعوها وَنهى عَن أَشْيَاء فَلَا تنتهكوها وحد حدودا فَلَا تعتدوها وَعَفا عَن أَشْيَاء رَحْمَة لكم لَا نِسْيَانا فَلَا تبحثوا عَنْهَا

حَدثنَا عبد الرحمن ثَنَا أَحْمد ثَنَا إِسْحَاق ثَنَا مُحَمَّد بن عَليّ ثَنَا عَفَّان ثَنَا عبد الرحمن بن زِيَاد ثَنَا الْحسن بن عَمْرو الْفُقيْمِي عَن أبي فَزَارَة قَالَ قَالَ ابْن عَبَّاس إِنَّمَا هُوَ كتاب الله وَسنة رَسُوله ص فَمن قَالَ بعد ذَلِك بِرَأْيهِ فَمَا أَدْرِي أَفِي حَسَنَاته أم فِي سيئاته أخبرنَا عبد الرحمن ثَنَا عَليّ ثَنَا أَحْمد ثَنَا سَحْنُون ثَنَا ابْن وهب ثَنَا ابْن لَهِيعَة عَن عبيد الله بن أبي جَعْفَر قَالَ قَالَ عمر بن الْخطاب رضي الله عنه السّنة مَا سنه الله تَعَالَى وَرَسُوله ص لَا تجْعَلُوا خطأ الرَّأْي سنة للْأمة رحم الله عمر فَكَأَنَّهُ علم بِوُقُوع ذَلِك فحذر مِنْهُ فقد شاهدنا فِي هَذِه الْأَعْصَار رَأيا مُخَالفا لسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مصادما لما فِي كتاب الله عز وجل قد جَعَلُوهُ سنة واعتقدوه دينا يرجعُونَ إِلَيْهِ عِنْد التَّنَازُع وسموه مذهبا ولعمري أَنَّهَا
এরপর এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটবে যারা বিষয়গুলোকে নিজেদের ব্যক্তিগত রায় বা মত দিয়ে পরিমাপ করবে, ফলে ইসলাম ধ্বংস হয়ে যাবে এবং তাতে ফাটল ধরবে। মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনে মুতাররিফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাঈদ ইবনে উসমান ও সাঈদ ইবনে হুমাইর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন: ইউনুস ইবনে আবদিল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ মুজালিদ ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি মাসরুক থেকে এবং তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এমন কোনো বছর আসে না যার পরবর্তী বছরটি তার চেয়ে মন্দ নয়। আমি একথা বলছি না যে, এক বছরের বৃষ্টি অন্য বছরের চেয়ে বেশি কিংবা এক বছর অন্য বছরের চেয়ে বেশি উর্বর অথবা এক আমীর অন্য আমীরের চেয়ে উত্তম; বরং (মন্দ হওয়ার অর্থ হলো) তোমাদের মধ্যকার উত্তম ব্যক্তি ও আলেমদের চলে যাওয়া। এরপর এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটবে যারা বিষয়গুলোকে নিজেদের ব্যক্তিগত মত দিয়ে পরিমাপ করবে, ফলে ইসলাম ধ্বংস হবে এবং তাতে ফাটল ধরবে।

আমি বলি, বাইহাকীও এটি ইবনে মাসউদ থেকে এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

ইউনুস ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আল-ফিরইয়াবি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু খালিদ আল-আহমার মুজালিদ থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি মাসরুক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন, তোমাদের কারী ও আলেমরা চলে যাবেন এবং মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে যারা নিজেদের ব্যক্তিগত মত দিয়ে বিষয়গুলো পরিমাপ করবে। আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল মালিক ইবনে বাহর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুনাইদ ইবনে দাউদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে ফাদল সালিম ইবনে আবি হাফসাহ থেকে, তিনি মুনজির আস-সাওরি থেকে এবং তিনি রাবি ইবনে খাইসাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: হে আব্দুল্লাহ! আল্লাহ তাঁর কিতাবে তোমাকে যে জ্ঞান দান করেছেন তার জন্য আল্লাহর প্রশংসা করো। আর যে জ্ঞান তিনি তোমার নিকট থেকে গোপন রেখেছেন, তা তার পরিজ্ঞাতার (আল্লাহর) নিকট সোপর্দ করো এবং অহেতুক কষ্ট-কল্পনা করো না। কেননা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর নবী (সা.)-কে লক্ষ্য করে বলেন: "বলুন, আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না এবং আমি লৌকিকতাকারী নই। এটা তো কেবল বিশ্বজগতের জন্য উপদেশ মাত্র। আর এক সময় তোমরা অবশ্যই এর সংবাদ জানতে পারবে।" বক্তা বলেন, তিনি হলেন পূর্ববর্তী সনদের মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল, এটি যেন অবগত থাকা হয়।

সুনাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ফুদাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি আবু সা’লাবা আল-খুশানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর কিছু ফরজ বিধান আবশ্যক করেছেন, সুতরাং সেগুলো নষ্ট করো না। তিনি কিছু বিষয়ে নিষেধ করেছেন, সুতরাং সেগুলো লঙ্ঘন করো না। তিনি কিছু সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, সুতরাং সেগুলো অতিক্রম করো না। আর তিনি তোমাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে কিছু বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন, ভুলে গিয়ে নয়; সুতরাং তোমরা সেগুলো নিয়ে খোঁজাখুঁজি করো না।"

আব্দুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আফফান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে যিয়াদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাসান ইবনে আমর আল-ফুকাইমি আবু ফাযারা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি কেবল আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ। এরপর যে ব্যক্তি নিজের ব্যক্তিগত মত অনুযায়ী কথা বলবে, আমি জানি না তা কি তার নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত হবে নাকি পাপাচারের।" আব্দুর রহমান আমাদের জানিয়েছেন, আলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সাহনুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে লাহিয়া উবায়দুল্লাহ ইবনে আবি জাফর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: "সুন্নাহ তা-ই যা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সা.) প্রবর্তন করেছেন। তোমরা ব্যক্তিগত মতের ভ্রান্তিকে উম্মতের জন্য সুন্নাহ বানিও না।" আল্লাহ ওমরের ওপর রহম করুন, তিনি যেন এটি ঘটবে জেনেছিলেন বলেই তা থেকে সতর্ক করেছিলেন। আমরা বর্তমান যুগে এমন কিছু ব্যক্তিগত মত প্রত্যক্ষ করছি যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর পরিপন্থী এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার কিতাবের সাথে সাংঘর্ষিক; অথচ তারা এগুলোকে সুন্নাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং দীন হিসেবে বিশ্বাস করে নিয়েছে, বিবাদের সময় তারা এরই দিকে প্রত্যাবর্তন করে এবং এর নাম দিয়েছে ‘মাযহাব’। আমার জীবনের শপথ, এটি হলো...
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ১৪)
لمصيبة وبلية وحمية وعصبية أُصِيب بهَا الْإِسْلَام {إِنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون}

وَقَالَ ابْن وهب وَأَخْبرنِي يحيى بن أَيُّوب عَن هِشَام بن عُرْوَة أَنه سمع أَبَاهُ يَقُول لم يزل أَمر بني إِسْرَائِيل مُسْتَقِيمًا حَتَّى أدْرك فيهم المولدون أَبنَاء سَبَايَا الْأُمَم فَأخذُوا فيهم بِالرَّأْيِ فأضلوا بني إِسْرَائِيل قَالَ ابْن وهب وَأَخْبرنِي يحيى بن أَيُّوب عَن عِيسَى بن أبي عِيسَى عَن الشّعبِيّ أَنه سَمعه يَقُول إيَّاكُمْ والمقايسة فوالذي نَفسِي بِيَدِهِ لَئِن أَخَذْتُم بالمقايسة لتحللن الْحَرَام ولتحرمن الْحَلَال وَلَكِن مَا يبلغكم من حفظ عَن أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فاحفظوه

حَدثنَا خلف بن قَاسم ثَنَا مُحَمَّد بن الْقَاسِم بن شعْبَان ثَنَا إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم بن يُونُس ثَنَا عبد الله ابْن مُحَمَّد الضَّعِيف ثَنَا إِسْمَاعِيل بن علية ثَنَا صَالح بن مُسلم عَن الشّعبِيّ قَالَ إِنَّمَا هلكتم حِين تركْتُم الْآثَار وأخذتم بالمقاييس وَعَن الشّعبِيّ عَن مَسْرُوق قَالَ لَا أَقيس شَيْئا بِشَيْء قلت لم قَالَ أَخَاف أَن تزل رجْلي حَدثنَا ابْن قَاسم ثَنَا ابْن شعْبَان حَدثنَا إِسْحَق بن إِبْرَاهِيم ثَنَا مُحَمَّد بن عَليّ بن الْحسن بن شَقِيق ثَنَا النَّضر بن شُمَيْل ثَنَا ابْن عون عَن ابْن سِيرِين قَالَ كَانُوا يرَوْنَ أَنه على الطَّرِيق مَا دَامَ على الْأَثر قَالَ حَدثنَا مُحَمَّد بن عبد العزيز قَالَ سَمِعت الْحسن بن عَليّ بن شَقِيق يَقُول سَمِعت عبد الله بن الْمُبَارك يَقُول لرجل إِن ابْتليت بِالْقضَاءِ فَعَلَيْك بالأثر وَقَالَ ابْن الْمُبَارك عَن سُفْيَان قَالَ إِنَّمَا الدّين الْآثَار وَعنهُ أَيْضا ليكن الَّذِي تعتمد عَلَيْهِ هَذَا الْأَثر وَخذ من الرَّأْي مَا يُفَسر لَك الحَدِيث وَعَن شُرَيْح أَنه قَالَ إِن السّنة سبقت قياسكم فاتبعوا وَلَا تبتدعوا فَإِنَّكُم لن تضلوا مَا أَخَذْتُم بالأثر وروى عمر بن ثَابت عَن الْمُغيرَة عَن الشّعبِيّ قَالَ إِن السّنة لم تُوضَع بالمقاييس وروى الْحسن بن وَاصل عَن الْحسن قَالَ إِنَّمَا هلك من كَانَ قبلكُمْ حِين تشعبت بهم السبل وحادوا عَن الطَّرِيق فتركوا الْآثَار وَقَالُوا فِي الدّين برأيهم فضلوا وأضلوا

وَذكر نعيم بن حَمَّاد عَن أبي مُعَاوِيَة عَن الْأَعْمَش عَن مُسلم عَن مَسْرُوق قَالَ من يرغب بِرَأْيهِ عَن أَمر الله يضل وَذكر ابْن وهب قَالَ أَخْبرنِي بكر بن مُضر عَن رجل من قُرَيْش أَنه سمع ابْن شهَاب يَقُول وَهُوَ يذكر مَا وَقع فِيهِ النَّاس من هَذَا الرَّأْي وتركهم السّنَن فَقَالَ إِن الْيَهُود وَالنَّصَارَى إِنَّمَا استحلوا من الْعلم الَّذِي كَانَ بِأَيْدِيهِم حِين استبقوا الرَّأْي وَأخذُوا فِيهِ قَالَ وَأَخْبرنِي يحيى بن أَيُّوب عَن هِشَام بن عُرْوَة عَن أَبِيه أَنه كَانَ يَقُول السّنَن السّنَن فَإِن السّنَن قوام الدّين قَالَ وَكَانَ عُرْوَة يَقُول أزهد النَّاس فِي عَالم أَهله وَعَن هِشَام بن عُرْوَة أَنه قَالَ إِن بني إِسْرَائِيل لم يزل أَمرهم معتدلا حَتَّى نَشأ فيهم مولدون أَبنَاء سَبَايَا الْأُمَم فَأخذُوا فيهم بِالرَّأْيِ فضلوا وأضلوا وَقَالَ الزُّهْرِيّ إيَّاكُمْ وَأَصْحَاب الرَّأْي أعيتهم الْأَحَادِيث أَن يعوها
এটি একটি মুসিবত, বিপদ, গোঁড়ামি এবং পক্ষপাতিত্ব যাতে ইসলাম আক্রান্ত হয়েছে। [নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।]

ইবনে ওয়াহাব বলেন, আমাকে ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব, হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তার পিতাকে বলতে শুনেছেন: বনী ইসরাঈলের কার্যাবলি ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক পথে ছিল, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে অন্য জাতিগোষ্ঠীর যুদ্ধবন্দীদের সন্তানদের প্রজন্ম বেড়ে উঠল। তখন তারা রায় (ব্যক্তিগত মতামত) গ্রহণ করল এবং বনী ইসরাঈলকে পথভ্রষ্ট করল। ইবনে ওয়াহাব বলেন, আমাকে ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব, ঈসা ইবনে আবি ঈসা থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি শা'বীকে বলতে শুনেছেন: তোমরা কিয়াস (অনুমাননির্ভর তুলনা) থেকে বেঁচে থাকো। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, যদি তোমরা কিয়াস গ্রহণ করো তবে অবশ্যই তোমরা হারামকে হালাল করবে এবং হালালকে হারাম করে ফেলবে। বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের পক্ষ থেকে যা কিছু তোমরা সংরক্ষিত হিসেবে পাবে, তা হিফজ করো বা যথাযথভাবে আঁকড়ে ধরো।

খালাফ ইবনে কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম ইবনে শাবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে ইউনুস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দয়িফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সালেহ ইবনে মুসলিম শা'বী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তোমরা তখনই ধ্বংস হয়েছ যখন তোমরা আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) বর্জন করেছ এবং কিয়াস (অনুমাননির্ভর তুলনা) গ্রহণ করেছ। এবং শা'বী মাসরুক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি কোনো কিছুর সাথে কোনো কিছুর কিয়াস করি না। আমি (শা'বী) জিজ্ঞেস করলাম, কেন? তিনি বললেন: আমি ভয় করি পাছে আমার পা পিছলে না যায়। ইবনে কাসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে শাবান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকিক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, নাদর ইবনে শুমাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আউন ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা মনে করতেন যে ব্যক্তি আসারের (বর্ণনা) ওপর অটল থাকে সে সঠিক পথেই রয়েছে। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল আজিজ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি হাসান ইবনে আলী ইবনে শাকিককে বলতে শুনেছি, আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি: যদি তুমি বিচারকার্যের ফয়সালা করার পরীক্ষায় পতিত হও, তবে তোমার জন্য আসার অনুসরণ করা আবশ্যক। এবং ইবনুল মুবারক সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই দ্বীন হলো আসার (বর্ণনা)। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত আছে: তোমার নির্ভরতা যেন হয় এই আসারের ওপর, আর রায় (মতামত) থেকে ততটুকুই গ্রহণ করো যা তোমার জন্য হাদিসের ব্যাখ্যা প্রদান করে। এবং শুরাইহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: সুন্নাহ তোমাদের কিয়াসের পূর্বেই নির্ধারিত হয়েছে। সুতরাং তোমরা অনুসরণ করো এবং বিদআত (নতুন উদ্ভাবন) করো না। কেননা যতক্ষণ তোমরা আসার আঁকড়ে থাকবে ততক্ষণ তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। এবং উমর ইবনে সাবিত মুগিরাহ থেকে এবং তিনি শা'বী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সুন্নাহ কিয়াসের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত হয়নি। এবং হাসান ইবনে ওয়াসিল হাসান (বসরী) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তোমাদের পূর্ববর্তীরা তখনই ধ্বংস হয়েছিল যখন তাদের পথগুলো বিভিন্ন দিকে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল এবং তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। ফলে তারা আসার বর্জন করল এবং দ্বীনের ব্যাপারে নিজেদের রায় অনুযায়ী কথা বলল; এতে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হলো এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করল।

নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ আবু মুয়াবিয়া থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি মুসলিম থেকে এবং তিনি মাসরুক থেকে উল্লেখ করেন, মাসরুক বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর নির্দেশ বাদ দিয়ে নিজের রায়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে, সে পথভ্রষ্ট হয়। এবং ইবনে ওয়াহাব উল্লেখ করেন, তিনি বলেন: আমাকে বাকর ইবনে মুদার কুরাইশ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ইবনে শিহাবকে (যুহরি) বলতে শুনেছেন—যখন তিনি মানুষের এই রায়ের মধ্যে জড়িয়ে পড়া এবং সুন্নাহ বর্জনের বিষয়টি আলোচনা করছিলেন—তিনি বললেন: ইহুদি ও খ্রিস্টানরা তাদের নিকট থাকা জ্ঞানকে তখনই পরিবর্তন করেছিল যখন তারা রায়ের দিকে ধাবিত হয়েছিল এবং তা গ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন, আমাকে ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব, হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলতেন: সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো, সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো; কেননা সুন্নাহই হলো দ্বীনের স্তম্ভ। তিনি বলেন, উরওয়াহ বলতেন: একজন আলেমের প্রতি সবচেয়ে বিমুখ হলো তার নিজ পরিবারের লোকজন। হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: বনী ইসরাঈলের বিষয়াদি ততক্ষণ ভারসাম্যপূর্ণ ছিল যতক্ষণ না তাদের মধ্যে যুদ্ধবন্দীদের সন্তানদের প্রজন্ম বেড়ে উঠল। তখন তারা রায় গ্রহণ করল, ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হলো এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করল। যুহরি বলেন: তোমরা রায়পন্থীদের (আসহাবুর রায়) থেকে সতর্ক থাকো, কারণ হাদিস মুখস্থ রাখা বা বুঝতে পারা তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ১৫)
قَالَ أَبُو عمر اخْتلف الْعلمَاء فِي الرَّأْي الْمَقْصُود إِلَيْهِ بالذم وَالْعَيْب فِي هَذِه الرِّوَايَات الْمَذْكُورَة فِي هَذَا الْبَاب عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَعَن أَصْحَابه رضي الله عنهم وَعَن التَّابِعين لَهُم بِإِحْسَان فَقَالَ جُمْهُور أهل الْعلم الرَّأْي المذموم الْمَذْكُور هُوَ القَوْل فِي أَحْكَام شرائع الدّين بالاستحسان والظنون والاشتغال بِحِفْظ المعضلات والأغلوطات ورد الْفُرُوع والنوازل بَعْضهَا على بعض قِيَاسا دون ردهَا على أُصُولهَا وَالنَّظَر فِي عللها واعتبارها فَاسْتعْمل فِيهَا الرَّأْي قبل أَن تنزل وفرعت وشققت قبل أَن تقع وَتكلم فِيهَا قبل أَن تكون بِالرَّأْيِ الْمُضَارع للظن قَالُوا فَفِي الِاشْتِغَال بِهَذَا والاستغراق فِيهِ تَعْطِيل للسنن والبعث على جهلها وَترك الْوُقُوف على مَا يلْزم الْوُقُوف عَلَيْهِ مِنْهَا وَمن كتاب الله عز وجل ومعانيهما وَاحْتَجُّوا على صِحَة مَا ذَهَبُوا إِلَيْهِ من ذَلِك بأَشْيَاء

مِنْهَا مَا أخبرنَا بِهِ خلف بن أَحْمد قَالَ حَدثنَا أَحْمد بن مطرف ثَنَا سعيد بن عُثْمَان ثَنَا نضر بن مَرْزُوق ثَنَا أَسد بن مُوسَى ثَنَا شريك عَن لَيْث عَن طَاوس عَن ابْن عمر قَالَ لَا تسئلوا عَمَّا لم يكن فَإِنِّي سَمِعت عمر يلعن من سَأَلَ عَمَّا لم يكن وَحدثنَا عبد الله بن مُحَمَّد بن عبد المؤمن ثَنَا مُحَمَّد بن بكر ثَنَا أَبُو دَاوُد ثَنَا إِبْرَاهِيم بن مُوسَى الرَّازِيّ ثَنَا عِيسَى بن يُونُس عَن الْأَوْزَاعِيّ عَن عبد الله بن سعد عَن الصنَابحِي عَن مُعَاوِيَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم نهى عَن الأغلوطات

وَأخْبرنَا سعيد بن نضر ثَنَا قَاسم بن أصبغ ثَنَا ابْن وضاح ثَنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة ثَنَا عِيسَى بن يُونُس عَن الْأَوْزَاعِيّ عَن عبد الله بن سعد عَن الصنَابحِي عَن مُعَاوِيَة قَالَ نهى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَن الأغلوطات فسره الْأَوْزَاعِيّ قَالَ يَعْنِي صعاب الْمسَائِل وَحدثنَا خلف ابْن سعيد قَالَ حَدثنَا عبد الله بن مُحَمَّد ثَنَا أَحْمد بن خَالِد ثَنَا عَليّ بن عبد العزيز ثَنَا سُلَيْمَان بن أَحْمد ثَنَا الْوَلِيد بن مُسلم عَن الْأَوْزَاعِيّ عَن عبد الله بن سعد عَن عبَادَة بن نسى عَن الصنَابحِي عَن مُعَاوِيَة بن أبي سُفْيَان أَنهم ذكرُوا الْمسَائِل عِنْده فَقَالَ أما تعلمُونَ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم نهى عَن عضل الْمسَائِل

وَاحْتَجُّوا ايضا بِحَدِيث سهل بن سعد وَغَيره أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كره الْمسَائِل وعابها وَبِأَنَّهُ ص قَالَ إِن الله يكره لكم قيل وَقَالَ وَكَثْرَة السُّؤَال حَدثنَا عبد الوارث بن سُفْيَان ثَنَا قَاسم بن أصبغ ثَنَا أَحْمد بن زُهَيْر ثَنَا أبي ثَنَا عبد الرحمن بن مهْدي ثَنَا مَالك عَن الزُّهْرِيّ عَن سهل بن سعد قَالَ لعن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْمسَائِل وعابها
আবু ওমর বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) এবং তাঁদের সঠিক অনুসারী তাবেঈগণের পক্ষ থেকে এই অধ্যায়ে বর্ণিত বর্ণনাগুলোতে যে 'রায়' বা ব্যক্তিগত মতের নিন্দা ও সমালোচনা করা হয়েছে, সেটির উদ্দেশ্য কী—তা নিয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। অধিকাংশ আলেম বলেছেন, উল্লিখিত নিন্দনীয় 'রায়' হলো—উত্তম মনে করার (ইস্তিহসান) ভিত্তিতে এবং ধারণার ওপর নির্ভর করে দ্বীনের শরীয়তের বিধিবিধান সম্পর্কে কথা বলা; এবং জটিল ও বিভ্রান্তিকর মাসআলাসমূহ (আগ্লুতাত) মুখস্থ করার কাজে লিপ্ত হওয়া এবং কোনো শাখাগত মাসআলা বা উদ্ভূত পরিস্থিতিকে (নাওয়াজিল) তাদের মূল উৎসের (উসূল) দিকে না ফিরিয়ে এবং সেগুলোর কারণ (ইল্লাত) ও তাৎপর্য বিবেচনা না করে বরং কিয়াসের ভিত্তিতে এক শাখাকে অন্য শাখার ওপর প্রয়োগ করা। ফলে ঘটনা ঘটার পূর্বেই সেগুলোতে ব্যক্তিগত মতের প্রয়োগ করা হয়েছে, সেগুলো সংঘটিত হওয়ার আগেই সেগুলোর শাখা-প্রশাখা বের করা হয়েছে এবং সেগুলো অস্তিত্বে আসার পূর্বেই ধারণার সদৃশ মতামতের মাধ্যমে তা নিয়ে কথা বলা হয়েছে। তাঁরা বলেন, এসব কাজে লিপ্ত থাকা এবং এতে মগ্ন হওয়ার মাধ্যমে সুন্নাহসমূহ অকেজো হয়ে পড়ে, সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা তৈরি হয় এবং আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহর অর্থের মধ্যে যে বিষয়ের ওপর অবস্থান করা বা থামা আবশ্যক, তা বর্জন করা হয়। তাঁরা তাঁদের এই অভিমতের সত্যতার সপক্ষে বিভিন্ন প্রমাণ পেশ করেছেন।

তন্মধ্যে একটি হলো যা আমাদের কাছে খালাফ ইবনে আহমদ সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আহমদ ইবনে মুতাররিফ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে সাঈদ ইবনে উসমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে নাসর ইবনে মারযুক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আসাদ ইবনে মুসা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে শারিক বর্ণনা করেছেন লাইস থেকে, তিনি তাউস থেকে, তিনি ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, “যা এখনও ঘটেনি সে সম্পর্কে প্রশ্ন করো না। কারণ আমি ওমরকে সেই ব্যক্তিকে অভিশাপ দিতে শুনেছি যে এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করে যা এখনও ঘটেনি।” এবং আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মুমিন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবনে বকর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইব্রাহিম ইবনে মুসা আল-রাযী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ঈসা ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন আওযাঈ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ থেকে, তিনি সানাবিহী থেকে, তিনি মুয়াবিয়া থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'আগ্লুতাত' (বিভ্রান্তিকর জটিল মাসআলা) থেকে নিষেধ করেছেন।

এবং আমাদের সাঈদ ইবনে নাসর সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে কাসেম ইবনে আসবাগ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইবনে ওয়াদদাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবু বকর ইবনে আবি শাইবা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ঈসা ইবনে ইউনুস বর্ণনা করেছেন আওযাঈ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ থেকে, তিনি সানাবিহী থেকে, তিনি মুয়াবিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) 'আগ্লুতাত' থেকে নিষেধ করেছেন। আওযাঈ এর ব্যাখ্যা করে বলেছেন, এর অর্থ হলো অত্যন্ত কঠিন ও জটিল মাসআলাসমূহ। এবং আমাদের কাছে খালাফ ইবনে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আহমদ ইবনে খালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আলী ইবনে আব্দুল আজিজ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে সুলায়মান ইবনে আহমদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম বর্ণনা করেছেন আওযাঈ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ থেকে, তিনি উবাদা ইবনে নুসাই থেকে, তিনি সানাবিহী থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান থেকে বর্ণনা করেন যে, লোকেরা তাঁর নিকট বিভিন্ন মাসআলা আলোচনা করলে তিনি বললেন, “তোমরা কি জানো না যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জটিল ও কঠিন মাসআলাসমূহ (উদলুল মাসাইল) নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে নিষেধ করেছেন?”

তাঁরা সাহল ইবনে সাদ এবং অন্যদের হাদীস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপ্রয়োজনীয় মাসআলাসমূহ অপছন্দ করেছেন এবং এর নিন্দা করেছেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য অনর্থক বলাবলি করা (ক্বিলা ওয়া ক্বালা) এবং অধিক প্রশ্ন করা অপছন্দ করেন।” আমাদের কাছে আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সুফিয়ান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে কাসেম ইবনে আসবাগ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আহমদ ইবনে জুহাইর বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে মালিক বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি সাহল ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন ও জটিল মাসআলাসমূহকে ঘৃণা করেছেন এবং এর নিন্দা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ১৬)
هَكَذَا ذكره أَحْمد بن زُهَيْر بِهَذَا الْإِسْنَاد وَهُوَ خلاف لفظ الْمُوَطَّأ وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيّ لم يرو عبد الرحمن بن مهْدي عَن مَالك من حَدِيث اللّعان إِلَّا هَذِه الْكَلِمَة وَتَابعه على ذَلِك قراد أَبُو نوح ونوح بن مَيْمُون الْمَضْرُوب عَن مَالك فَذكر حَدِيث عبد الرحمن ابْن مهْدي من رِوَايَة أبي خَيْثَمَة والمخزومي وَأحمد بن سِنَان عَن ابْن مهْدي كَمَا ذكره ابْن أبي خَيْثَمَة سَوَاء حَدثنَا أَبُو بكر عبد الله بن مُحَمَّد بن أبي سعيد الْبَزَّار قَالَ حَدثنَا عَبَّاس بن مُحَمَّد ثَنَا قراد ثَنَا مَالك عَن ابْن شهَاب عَن سهل بن سعد قَالَ كره رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْمسَائِل وعابها قَالَ وثنا عبد الله ابْن مُحَمَّد بن أبي سعيد وَالْحصين بن صَفْوَان قَالَا ثَنَا عبد الله بن أَحْمد بن حَنْبَل قَالَ ثَنَا أبي قَالَ ثَنَا نوح بن مَيْمُون أَبُو مُحَمَّد بن نوح قَالَ حَدثنَا مَالك عَن ابْن شهَاب قَالَ أَخْبرنِي سهل بن سعد عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه كره الْمسَائِل وعابها

قَالَ الْأَوْزَاعِيّ عَن عَبدة بن ابي لبَابَة قَالَ وددت أَن حظي من أهل هَذَا الزَّمَان أَن لَا أسألهم عَن شَيْء وَلَا يَسْأَلُونِي عَن شَيْء يتكاثرون بالمسائل كَمَا يتكاثر أهل الدَّرَاهِم بِالدَّرَاهِمِ

أخبرنَا عبد الوارث قَالَ حَدثنَا قَاسم ثَنَا أَحْمد بن زُهَيْر ثَنَا عبد الوهاب بن نجدة ثَنَا إِسْمَاعِيل بن عَيَّاش ثَنَا شُرَحْبِيل بن مُسلم أَنه سمع الْحجَّاج بن عَامر الثمالِي وَكَانَ من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ إيَّاكُمْ وَكَثْرَة السُّؤَال وَفِي سَماع أَشهب سَأَلَ مَالك عَن قَول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أنهاكم عَن قيل وَقَالَ وَكَثْرَة السُّؤَال فَقَالَ أما كَثْرَة السُّؤَال فَلَا أَدْرِي أهوَ مَا أَنْتُم فِيهِ مِمَّا أنهاكم عَنهُ من كَثْرَة الْمسَائِل فقد كره رَسُول الله صلى الله عليه وسلم الْمسَائِل وعابها وَقَالَ تَعَالَى {لَا تسألوا عَن أَشْيَاء إِن تبد لكم تَسُؤْكُمْ} فَلَا أَدْرِي أهوَ هَذَا أم السُّؤَال فِي مسئلة النَّاس فِي الاستعطاء وَاحْتج الْجُمْهُور أَيْضا بِمَا رَوَاهُ ابْن شهَاب عَن عَامر بن سعد بن أبي وَقاص أَنه سمع أَبَاهُ يَقُول قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أعظم الْمُسلمين فِي الْمُسلمين جرما من سَأَلَ عَن شَيْء لم يحرم على الْمُسلمين فَحرم عَلَيْهِم من أجل مَسْأَلته وَرَوَاهُ عَن ابْن شهَاب معمر وَابْن عُيَيْنَة وَيُونُس بن يزِيد وَغَيرهم وَهَذَا لفظ حَدِيث يُونُس بن يزِيد من رِوَايَة ابْن وهب عَنهُ وروى ابْن وهب أَيْضا قَالَ حَدثنِي ابْن لَهِيعَة عَن الْأَعْرَج عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ ذروني مَا تركتكم فَإِنَّمَا أهلك الَّذين قبلكُمْ سُؤَالهمْ وَاخْتِلَافهمْ على أَنْبِيَائهمْ فَإِذا نَهَيْتُكُمْ عَن شَيْء فَاجْتَنبُوهُ وَإِذا أَمرتكُم بِشَيْء فَخُذُوا مِنْهُ مَا استطعم قَالَ وَأَخْبرنِي يُونُس بن يزِيد عَن ابْن شهَاب عَن سعيد بن الْمسيب وَأبي سَلمَة بن عبد الرحمن عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ ذَلِك وَقَالَ عمر بن الْخطاب وَهُوَ على الْمِنْبَر أحرج بِاللَّه على كل امْرِئ سَأَلَ عَن
আহমদ ইবনে জুহাইর এই সনদে এভাবেই এটি উল্লেখ করেছেন এবং এটি মুয়াত্তার শব্দের বিপরীত। দারা কুতনী বলেছেন, আবদুর রহমান ইবনে মাহদী মালেক থেকে লিআনের হাদিস হতে এই শব্দটি ছাড়া আর কিছুই বর্ণনা করেননি। কুরাদ আবু নূহ এবং নূহ ইবনে মাইমুন আল-মাদরুবও মালেক থেকে বর্ণনায় তার অনুসরণ করেছেন। এরপর তিনি আবু খাইসামা, মাখজুমি এবং আহমদ ইবনে সিনান-এর সূত্রে আবদুর রহমান ইবনে মাহদীর হাদিসটি উল্লেখ করেছেন যেমনটি ইবনে আবি খাইসামা অবিকল বর্ণনা করেছেন। আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি সাঈদ আল-বাজার আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন কুরাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন মালেক ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সাহল ইবনে সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (অহেতুক) মাসআলা-মাসায়েল বা প্রশ্ন করা অপছন্দ করেছেন এবং এর সমালোচনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি সাঈদ ও হুসাইন ইবনে সাফওয়ান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তারা বলেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আমার পিতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন নূহ ইবনে মাইমুন আবু মুহাম্মদ ইবনে নূহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন মালেক ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সাহল ইবনে সা'দ আমাকে আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি প্রশ্ন করা অপছন্দ করেছেন এবং এর সমালোচনা করেছেন।

আওযায়ী আবদাহ ইবনে আবি লুবাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি পছন্দ করতাম যে এই যমানার লোকদের থেকে আমার পাওনা বা সম্পর্ক এমন হতো যে, আমি তাদের কিছু জিজ্ঞেস করব না এবং তারাও আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না। তারা মাসআলা নিয়ে তদ্রূপ আধিক্য দেখায় যেমন দিরহামওয়ালারা দিরহামের আধিক্য নিয়ে দেখায়।"

আবদুল ওয়ারিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন কাসেম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আহমদ ইবনে জুহাইর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন আবদুল ওয়াহহাব ইবনে নাজদাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন ইসমাইল ইবনে আইয়াশ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন শুরাহবীল ইবনে মুসলিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন যে তিনি হাজ্জাজ ইবনে আমের আল-সুমালিকে বলতে শুনেছেন—যিনি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্যতম সাহাবী ছিলেন—যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা অত্যাধিক প্রশ্ন করা থেকে বেঁচে থাকো।" আশহাবের শ্রবণে এসেছে, তিনি মালেককে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী "আমি তোমাদের 'এটা ওটা বলা' এবং অত্যাধিক প্রশ্ন করা থেকে নিষেধ করছি" সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: "অত্যাধিক প্রশ্ন করার অর্থ আমি জানি না এটি কি সেই বিষয় যার মধ্যে তোমরা লিপ্ত আছো—অর্থাৎ মাসআলা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা, যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপছন্দ করেছেন এবং সমালোচনা করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের সামনে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে}। সুতরাং আমি জানি না এটিই কি সেই বিষয়, নাকি মানুষের কাছে হাত পেতে সাহায্য চাওয়ার প্রশ্ন।" জুমহুর উলামায়ে কেরাম ইবনে শিহাব থেকে আমের ইবনে সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের সূত্রে বর্ণিত হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন যে, তিনি তার পিতাকে বলতে শুনেছেন যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুসলিমদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি অপরাধী, যে এমন একটি বিষয়ে প্রশ্ন করেছে যা মুসলিমদের জন্য হারাম ছিল না, কিন্তু তার প্রশ্নের কারণে তা তাদের ওপর হারাম করে দেয়া হয়েছে।" ইবনে শিহাব থেকে মামার, ইবনে উয়ায়না, ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। এটি ইউনুস ইবনে ইয়াজিদের হাদিসের শব্দ যা ইবনে ওয়াহাব তার থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে ওয়াহাব আরও বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন ইবনে লাহিয়াহ আমাকে আরাহজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আমি তোমাদের যে অবস্থায় ছেড়েছি তোমরা সেভাবেই আমাকে থাকতে দাও। কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের অধিক প্রশ্ন এবং তাদের নবীদের সাথে মতবিরোধের কারণেই ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং যখন আমি তোমাদের কোনো বিষয়ে নিষেধ করি, তখন তা থেকে দূরে থাকো। আর যখন তোমাদের কোনো আদেশ করি, তখন সাধ্যানুসারে তা পালন করো।" তিনি আরও বলেন, ইউনুস ইবনে ইয়াজিদ আমাকে ইবনে শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব এবং আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে, তারা আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে তদ্রূপ বর্ণনা করেছেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব মিম্বরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বললেন: "আমি আল্লাহর কসম দিয়ে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য এটি নিষিদ্ধ করছি যে সে প্রশ্ন করবে..."
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ১৭)
شَيْء لم يكن فَإِن الله قد بَين مَا هُوَ كَائِن وروى جرير بن عبد الحميد وَمُحَمّد بن فُضَيْل عَن عَطاء بن السَّائِب عَن سعيد بن جُبَير عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ مَا رَأَيْت قوما خيرا من أَصْحَاب مُحَمَّد ص مَا سَأَلُوهُ إِلَّا عَن ثَلَاث عشرَة مَسْأَلَة حَتَّى قبض كُلهنَّ فِي الْقُرْآن {ويسألونك عَن الْمَحِيض} {يَسْأَلُونَك عَن الشَّهْر الْحَرَام} {ويسألونك عَن الْيَتَامَى} مَا كَانُوا يسْأَلُون إِلَّا عَمَّا يَنْفَعهُمْ

قَالَ أَبُو عمر لَيْسَ فِي الحَدِيث من الثَّلَاث عشرَة مَسْأَلَة إِلَّا ثَلَاث أَقُول إِن أَرَادَ تعداد مَا فِي الْقُرْآن من الأسئلة كَمَا هُوَ ظَاهر كَلَام ابْن عَبَّاس فَمِنْهَا قَوْله تَعَالَى يَسْأَلُونَك عَن الْخمر وَالْميسر يَسْأَلُونَك مَاذَا يُنْفقُونَ يَسْأَلُونَك عَن الْأَهِلّة يَسْأَلُونَك مَاذَا أحل لَهُم يَسْأَلك النَّاس عَن السَّاعَة يَسْأَلك أهل الْكتاب أَن تنزل عَلَيْهِم سُورَة تنبئهم بِمَا فِي قُلُوبهم

قَالُوا وَمن تدبر الاثار المروية فِي ذمّ الرَّأْي المرفوعة وآثار الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ فِي ذَلِك بِأَن لَهُ مَا ذكرنَا قَالُوا أَلا ترى أَنهم كَانُوا يكْرهُونَ الْجَواب فِي مسَائِل الْأَحْكَام مالم تنزل فَكيف بِوَضْع الِاسْتِحْسَان وَالظَّن والتكلف وتسطير ذَلِك واتخاذه دينا

وَذكروا من الْآثَار أَيْضا مَا حَدثنَا سعيد بن نصر ثَنَا قَاسم بن أصبغ ثَنَا ابْن وضاح ثَنَا أَبُو بكر بن أبي شيبَة ثَنَا أَبُو خَالِد الْأَحْمَر عَن مُحَمَّد بن عجلَان عَن طَاوس عَن معَاذ بن جبل قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا تعجلوا بالبلية قبل نُزُولهَا فَإِنَّكُم أَن لَا تفعلو أوشك أَن يكون فِيكُم من إِذا قَالَ سدد أَو وفْق فَإِنَّكُم إِن عجلتم تشَتت بكم الطّرق هَاهُنَا وَهَاهُنَا وَقَالَ عمر أَنه لَا يحل لأحد أَن يسْأَل عَمَّا لم يكن أَن الله تبارك وتعالى قد قضى فِيمَا هُوَ كَائِن وَسَأَلَ مَسْرُوق أبي بن كَعْب عَن مَسْأَلَة فَقَالَ أَكَانَت هَذِه بعد قلت لَا قَالَ فاجمني حَتَّى تكون وَعَن خَارِجَة بن زيد ابْن ثَابت عَن أَبِيه أَنه كَانَ لَا يَقُول بِرَأْيهِ فِي شَيْء حِين يسْأَل عَنهُ حَتَّى يَقُول انْزِلْ أم لَا فَإِن لم يكن نزل لم يقل فِيهِ وَإِن يكن وَقع تكلم فِيهِ قَالَ وَكَانَ إِذا سُئِلَ عَن مَسْأَلَة فَيَقُول اوقعت فَيُقَال لَهُ يَا أَبَا سعيد مَا وَقعت وَلكنهَا نعدها فَيَقُول دَعُوهَا فَإِن كَانَت وَقعت أخْبرهُم قَالَ ابْن وهب وَأَخْبرنِي ابْن أبي الزِّنَاد عَن هِشَام بن عُرْوَة قَالَ مَا سَمِعت أبي يَقُول فِي شَيْء قطّ بِرَأْيهِ قَالَ وَرُبمَا سُئِلَ عَن الشَّيْء فَيَقُول هَذَا من خَالص السُّلْطَان وروينا عَن بشر بن الْحَرْث قَالَ قَالَ سُفْيَان بن عُيَيْنَة من أحب أَن يسْأَل وَلَيْسَ بِأَهْل أَن يسْأَل فَمَا يَنْبَغِي أَن يسْأَل قَالَ ابْن وهب وَأَخْبرنِي بكر بن مُضر عَن ابْن هُرْمُز قَالَ أدْركْت أهل الْمَدِينَة وَمَا فِيهَا إِلَّا الْكتاب وَالسّنة وَالْأَمر
কোনো বিষয় যা এখনো ঘটেনি, সে সম্পর্কে প্রশ্ন করা নিরর্থক; কেননা আল্লাহ যা ঘটবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। জরীর বিন আব্দুল হামিদ ও মুহাম্মদ বিন ফুদাইল আতা বিন আস-সাইব থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবাইর থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক)-এর সাহাবীদের চেয়ে উত্তম কোনো জাতি দেখিনি। তাঁর ওফাত হওয়া পর্যন্ত তাঁরা তাঁকে মাত্র তেরটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যার সবকটিই কুরআনে বিদ্যমান: "তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে", "তারা আপনাকে সম্মানিত মাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে", "তারা আপনাকে এতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে"। তাঁরা কেবল তা নিয়েই জিজ্ঞাসা করতেন যা তাঁদের উপকারে আসত।

আবু উমর বলেন: এই হাদিসে সেই তেরটি মাসআলার মধ্যে মাত্র তিনটি উল্লেখ করা হয়েছে। আমি বলছি, যদি ইবনে আব্বাসের কথার প্রকাশ্য অর্থ অনুযায়ী কুরআনে উল্লিখিত প্রশ্নাবলির সংখ্যা গণনা করা উদ্দেশ্য হয়, তবে তার মধ্যে মহান আল্লাহর এই বাণীসমূহও অন্তর্ভুক্ত: "তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে", "তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে তারা কী ব্যয় করবে", "তারা আপনাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে", "তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে তাদের জন্য কী হালাল করা হয়েছে", "মানুষ আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে", "আহলে কিতাবরা আপনার কাছে দাবি করে যে আপনি আকাশ থেকে তাদের উপর একটি কিতাব নাযিল করবেন", "তারা আপনাকে তা সম্পর্কে সংবাদ দিতে বলে যা তাদের অন্তরে রয়েছে"।

তাঁরা বলেন: যারা ব্যক্তিগত রায়ের (মতামত) নিন্দায় বর্ণিত মারফূ বর্ণনা এবং এ বিষয়ে সাহাবী ও তাবিঈদের আসারসমূহ নিয়ে চিন্তা করবে, তাদের কাছে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। তাঁরা বলেন: আপনি কি দেখেন না যে, সাহাবীগণ আহকাম সংক্রান্ত বিষয়গুলো ঘটার আগে সে সম্পর্কে উত্তর দেওয়া অপছন্দ করতেন? তাহলে ইস্তিহসান (ব্যক্তিগত পছন্দ), অনুমান, কৃত্রিমতা এবং তা লিপিবদ্ধ করা ও সেটিকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়টি কেমন হবে?

বর্ণনাগুলোর মধ্যে তাঁরা এটিও উল্লেখ করেছেন যা আমাদের নিকট সাঈদ বিন নাসর বর্ণনা করেছেন, তিনি কাসেম বিন আসবাগ থেকে, তিনি ইবনে ওয়াদদাহ থেকে, তিনি আবু বকর বিন আবি শায়বাহ থেকে, তিনি আবু খালিদ আল-আহমার থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আজলান থেকে, তিনি তাউস থেকে এবং তিনি মুয়াজ বিন জাবাল থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর উপর বর্ষিত হোক) বলেছেন, "কোনো বিপদ ঘটার আগে তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করো না। কারণ তোমরা যদি তা না করো (অর্থাৎ অহেতুক প্রশ্ন না করো), তবে অচিরেই তোমাদের মধ্যে এমন কেউ থাকবে যে কথা বললে সঠিক বলবে বা তাওফিকপ্রাপ্ত হবে। কিন্তু তোমরা যদি তাড়াহুড়ো করো, তবে তোমাদের পথসমূহ এদিক-ওদিক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।" উমর বলেন: যা এখনো ঘটেনি তা নিয়ে প্রশ্ন করা কারো জন্য বৈধ নয়; আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা যা ঘটবে সে বিষয়ে ফয়সালা করে দিয়েছেন। মাসরূক উবাই বিন কাবকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এটি কি ঘটেছে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: তবে এটি ঘটা পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দাও। খারিজাহ বিন যায়েদ ইবনে সাবিত তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন তাঁকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, তখন তিনি তাঁর ব্যক্তিগত রায় দিতেন না যতক্ষণ না তিনি নিশ্চিত হতেন যে এর সমাধান নাযিল হয়েছে কি না। যদি নাযিল না হতো, তবে তিনি সে বিষয়ে কিছু বলতেন না; আর যদি তা ঘটে থাকত, তবে তিনি সে বিষয়ে কথা বলতেন। বর্ণনাকারী বলেন: যখন তাঁকে কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, তিনি বলতেন, এটি কি ঘটেছে? তাঁকে বলা হতো, হে আবু সাঈদ, এটি ঘটেনি, তবে আমরা এটি (ভবিষ্যতের জন্য) প্রস্তুত রাখছি। তিনি বলতেন, এটি ছেড়ে দাও, যখন এটি ঘটবে তখন আমি তোমাদের জানিয়ে দেব। ইবনে ওয়াহাব বলেন: ইবনে আবি যিনাদ হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে কোনো বিষয়ে কখনো নিজের ব্যক্তিগত রায়ে কিছু বলতে শুনিনি। তিনি বলেন: মাঝেমধ্যে তাঁকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন, এটি সম্পূর্ণভাবে কর্তৃপক্ষের বিষয়। বিশর বিন হারিস থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি জিজ্ঞাসিত হতে ভালোবাসে অথচ সে জিজ্ঞাসিত হওয়ার যোগ্য নয়, তাকে জিজ্ঞাসা করা উচিত নয়। ইবনে ওয়াহাব বলেন: বকর বিন মুদার ইবনে হুরমুজ থেকে আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেন: আমি মদিনাবাসীদের এমন অবস্থায় পেয়েছি যে, সেখানে কিতাব, সুন্নাহ এবং প্রচলিত বিধান ছাড়া আর কিছুই ছিল না।
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ১৮)
ينزل فَينْظر فِيهِ السُّلْطَان قَالَ فَقَالَ لي مَالك أدْركْت أهل هَذِه الْبِلَاد وَإِنَّهُم ليكرهون هَذَا الْإِكْثَار الَّذِي فِي النَّاس الْيَوْم قَالَ ابْن وهب يُرِيد الْمسَائِل قَالَ وَقَالَ مَالك إِنَّمَا كَانَ النَّاس يفتون بِمَا سمعُوا وَعَلمُوا وَلم يكن هَذَا الْكَلَام الَّذِي فِي النَّاس الْيَوْم وَقَالَ ابْن وهب أخبرنَا أشهل بن حَاتِم عَن عبد الله بن عون عَن ابْن سِيرِين قَالَ قَالَ عمر بن الْخطاب لأبي مَسْعُود عقبَة ابْن عَمْرو ألم أنبأ أَنَّك تُفْتِي النَّاس وَلست باميرول حارها من تولى قارها وَكَانَ عمر بن الْخطاب يَقُول إيَّاكُمْ وَهَذِه العضل فَإِنَّهَا إِذا نزلت بعث الله إِلَيْهَا من يقيمها ويفسرها قَالَ ابْن وهب وَأَخْبرنِي ابْن لَهِيعَة عَن يزِيد بن أبي حبيب أَن عبد الملك بن مَرْوَان سَأَلَ ابْن شهَاب عَن شَيْء فَقَالَ لَهُ ابْن شهَاب أَكَانَ هَذَا يَا أَمِير الْمُؤمنِينَ فَقَالَ لَا قَالَ فَدَعْهُ فَإِنَّهُ إِذا كَانَ أَتَى الله لَهُ بفرج

حَدثنَا عبد الوارث بن سُفْيَان قَالَ حَدثنَا قَاسم بن أصبغ قَالَ حَدثنَا أَحْمد بن زُهَيْر ثَنَا أبي ثَنَا جرير عَن لَيْث عَن مُجَاهِد عَن ابْن عمر قَالَ يَا أَيهَا النَّاس لَا تسألوا عَمَّا لم يكن فَإِن عمر كَانَ يلعن من سَأَلَ عَمَّا لم يكن حَدثنَا عبد الوارث ثَنَا قَاسم ثَنَا أَحْمد بن زُهَيْر ثَنَا أبي ثَنَا عبد الرحمن ابْن مهْدي ثَنَا مُوسَى بن عَليّ عَن أَبِيه قَالَ كَانَ زيد بن ثَابت إِذا سَأَلَهُ إِنْسَان عَن شَيْء قَالَ الله أَكَانَ هَذَا فَإِن قَالَ نعم نظرُوا لَا لم يتَكَلَّم وأتى قوم زيد بن ثَابت فَسَأَلُوهُ عَن أَشْيَاء فَأخْبرهُم بهَا وكتبوها ثمَّ قَالُوا لَو أخبرناه قَالَ فَأتوهُ فأخبروه فَقَالَ أعذرا لَعَلَّ كل شَيْء حدثتكم بِهِ خطأ إِنَّمَا اجتهدت لكم رَأْيِي قَالَ سنيد ثَنَا حَمَّاد بن زيد عَن عَمْرو بن دِينَار قَالَ قيل لجَابِر بن زيد أَنهم يَكْتُبُونَ مَا يسمعُونَ مِنْك قَالَ إِنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون يَكْتُبُونَ رَأيا أرجع عَنهُ غَدا قَالَ سنيد ثَنَا يزِيد عَن الْعَوام بن حَوْشَب عَن الْمسيب بن رَافع قَالَ كَانَ إِذا جَاءَ الشَّيْء من الْقَضَاء لَيْسَ فِي الْكتاب وَلَا فِي السّنة سمي صوافي الْأُمَرَاء فيرفع إِلَيْهِم فَجمع لَهُ أهل الْعلم فَمَا اجْتمع عَلَيْهِ رَأْيهمْ فَهُوَ الْحق وَذكر الطَّبَرِيّ فِي كتاب تَهْذِيب الْآثَار لَهُ قَالَ حَدثنَا الْحسن بن الصَّباح الْبَزَّار حَدثنِي إِسْحَاق بن إِبْرَاهِيم الحنيني قَالَ قَالَ مَالك قبض رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَقد تمّ هَذَا الْأَمر واستكمل فَإِنَّمَا يَنْبَغِي أَن تتبع آثَار رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَلَا يتبع الرَّأْي فَإِنَّهُ مَتى اتبع الرَّأْي جَاءَ رجل آخر أقوى فِي الرَّأْي مِنْك فاتبعته فَأَنت كلما جَاءَ رجل عَلَيْك اتبعته أرى هَذَا لَا يتم وَقَالَ عبد إِن سَمِعت عبد الله بن الْمُبَارك يَقُول ليكن الَّذِي تعتمد عَلَيْهِ الْأَثر وَخذ من الرَّأْي مَا يُفَسر بِهِ الحَدِيث قَالَ وَقَالَ ابْن الْمُبَارك قَالَ مَالك بن دِينَار لِقَتَادَة أَتَدْرِي أَي حكم رفعت قسمت بَين الله وَبَين عباده فَقلت هَذ لَا يصلح وَهَذَا يصلح وَذكر الْحسن بن عَليّ الْحلْوانِي قَالَ حَدثنِي عَليّ بن الْمَدِينِيّ ثَنَا معن بن عِيسَى ثَنَا مَالك عَن يحيى بن سعيد قَالَ جَاءَ رجل إِلَى سعيد بن الْمسيب فَسَأَلَهُ عَن شَيْء فأملاه عَلَيْهِ ثمَّ سَأَلَهُ عَن رَأْيه فَأَجَابَهُ فَكتب الرجل فَقَالَ رجل من جلساء سعيد

...যাতে সুলতান তা দেখতে পারেন। তিনি বললেন, মালিক আমাকে বলেছিলেন: আমি এই শহরের (মদীনার) লোকদের পেয়েছি এবং তারা বর্তমানে মানুষের মাঝে বিদ্যমান এই আধিক্যকে (মাসআলা তৈরির প্রবণতা) অপছন্দ করতেন। ইবনে ওয়াহব বলেন, এর দ্বারা তিনি মাসআলাসমূহ উদ্দেশ্য করেছেন। তিনি বলেন, মালিক বলেছেন: মানুষ কেবল যা তারা শুনেছে এবং জেনেছে সে অনুযায়ী ফতোয়া দিত, আর বর্তমানে মানুষের মাঝে যে ধরণের কথা (বিতর্ক) রয়েছে তা ছিল না। ইবনে ওয়াহব বলেন, আশহাল বিন হাতিম আমাদের আব্দুল্লাহ বিন আউন থেকে এবং তিনি ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব আবু মাসউদ উকবা ইবনে আমরকে বলেছিলেন: আমি কি সংবাদ পাইনি যে আপনি মানুষকে ফতোয়া দিচ্ছেন অথচ আপনি আমির নন? এর গরম (দায়ভার) তাকেই সইতে দিন যে এর মিষ্টতা (পদমর্যাদা) গ্রহণ করেছে। উমর ইবনুল খাত্তাব বলতেন: তোমরা এই জটিল মাসআলাগুলো থেকে বেঁচে থাকো, কারণ যখন এগুলো দেখা দেয়, আল্লাহ এমন কাউকে পাঠান যে তা সমাধান করে ও ব্যাখ্যা করে। ইবনে ওয়াহব বলেন, ইবনে লাহিয়াহ ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে আমাকে জানিয়েছেন যে, আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান ইবনে শিহাবকে কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন ইবনে শিহাব তাকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, এটি কি ঘটেছে? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: তবে এটি ছেড়ে দিন, কারণ যখন এটি ঘটবে, আল্লাহ এর জন্য কোনো পথ তৈরি করে দেবেন।

আব্দুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, কাসিম বিন আসবাগ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন, আহমদ বিন জুহাইর আমাদের বলেছেন, আমার পিতা জুবাইর আমাদের বলেছেন, লাইস থেকে মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, ইবনে উমর (রা.) বলেন: হে লোকসকল, যা ঘটেনি তা নিয়ে জিজ্ঞাসা করো না। কেননা উমর তাকে অভিশাপ দিতেন যে এমন কিছু নিয়ে জিজ্ঞাসা করত যা এখনো ঘটেনি। আব্দুল ওয়ারিস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, কাসিম আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন, আহমদ বিন জুহাইর আমাদের বলেছেন, আমার পিতা আমাদের বলেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী আমাদের বলেছেন, মুসা বিন আলী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যাইদ ইবনে সাবিতকে যখন কোনো ব্যক্তি কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করত, তিনি বলতেন: আল্লাহর কসম, এটি কি ঘটেছে? যদি সে বলত ‘হ্যাঁ’, তবে তারা তা নিয়ে চিন্তা করতেন, আর যদি না ঘটত তবে তিনি কথা বলতেন না। একদল লোক যাইদ ইবনে সাবিতের কাছে এসে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তিনি তাদের তা জানালেন এবং তারা তা লিখে নিল। এরপর তারা বলল, ‘যদি আমরা তাকে জানাতাম (যে আমরা লিখছি)’। তারা তার কাছে গিয়ে তা জানাল। তখন তিনি বললেন: আমাকে ক্ষমা করুন, হতে পারে আমি আপনাদের যা কিছু বলেছি তার সবই ভুল, আমি কেবল আমার রায় (মতামত) দিয়ে আপনাদের জন্য ইজতিহাদ করেছি। সুনাইদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ বিন যাইদ আমর বিন দিনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জাবির বিন যাইদকে বলা হলো যে, লোকেরা আপনার কাছ থেকে যা শোনে তা লিখে রাখে। তিনি বললেন: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন! তারা এমন মত লিখে রাখছে যা থেকে আমি হয়তো আগামীকালই ফিরে আসব। সুনাইদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইয়াজিদ থেকে আল-আওয়াম বিন হাওশাব থেকে বর্ণিত যে, আল-মুসায়্যিব বিন রাফি বলেছেন: যখন বিচারকার্যের এমন কোনো বিষয় আসত যা কিতাব বা সুন্নাহতে নেই, তাকে ‘সাওয়াফী আল-উমারা’ (শাসকদের জন্য উন্মুক্ত বিষয়) বলা হতো এবং তা তাদের নিকট পেশ করা হতো। তখন বিজ্ঞ আলেমদের একত্রিত করা হতো এবং তাদের রায় যে বিষয়ে একমত হতো সেটিই হতো সত্য। তাবারী তার ‘তহযীবুল আসার’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন, হাসান বিন সাব্বাহ আল-বাযযার আমাদের বলেছেন, ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-হুনাইনী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, মালিক বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত লাভ করেছেন এমতাবস্থায় যে এই দ্বীন পূর্ণতা পেয়েছে এবং সম্পন্ন হয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আসার (চিহ্ন বা আদর্শ) অনুসরণ করা উচিত এবং মতের (রায়ের) অনুসরণ করা উচিত নয়। কারণ যখন মতের অনুসরণ করা হয়, তখন আপনার চেয়েও শক্তিশালী মতের অধিকারী অন্য এক ব্যক্তি আসবে এবং আপনি তার অনুসরণ করবেন। এভাবে যখনই কেউ আপনার চেয়ে প্রবল হবে, আপনি তার অনুসরণ করবেন—আমি মনে করি এভাবে দ্বীন পূর্ণ হবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারককে বলতে শুনেছি যে, আপনার নির্ভরতা যেন হয় আসার-এর ওপর, আর মতের মধ্য থেকে কেবল ততটুকুই গ্রহণ করুন যা হাদিসের ব্যাখ্যা প্রদান করে। ইবনুল মুবারক বলেন, মালিক বিন দিনার কাতাদাহকে বলেছিলেন: আপনি কি জানেন আপনি কোন ধরণের শাসনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন? আপনি আল্লাহ এবং তাঁর বান্দাদের মাঝে মধ্যস্থতা করছেন এবং বলছেন ‘এটি বৈধ নয়’ আর ‘এটি বৈধ’। হাসান বিন আলী আল-হুলওয়ানী উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনুল মাদীনী আমাদের বলেছেন, মা’ন বিন ঈসা আমাদের বলেছেন, মালিক ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের কাছে এসে তাকে কোনো একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তিনি তাকে তা বলে দিলেন। এরপর সে তার রায় (মতামত) জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিলেন এবং লোকটি তা লিখে নিতে শুরু করল। তখন সাঈদের মজলিসে উপবিষ্ট এক ব্যক্তি বললেন...

(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ১৯)
أنكتب يَا أَبَا مُحَمَّد رَأْيك فَقَالَ سعيد للرجل ناولنيها فَنَاوَلَهُ الصَّحِيفَة فحرقها قَالَ وَحدثنَا نعيم ثَنَا ابْن الْمُبَارك عَن عبد الله بن موهب أَن رجلا جَاءَ إِلَى الْقسم بن مُحَمَّد فَسَأَلَهُ عَن شَيْء فَأَجَابَهُ فَلَمَّا ولى الرجل دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ لَا تقل إِن الْقَاسِم زعم أَن هَذَا هُوَ الْحق وَلَكِن إِن اضطررت إِلَيْهِ عملت بِهِ

حَدثنَا مُحَمَّد بن خَليفَة قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن الْحسن قَالَ ثَنَا جَعْفَر بن مُحَمَّد الْفرْيَابِيّ ثَنَا الْعَبَّاس بن الْوَلِيد بن مزِيد قَالَ أَخْبرنِي أبي قَالَ سَمِعت الْأَوْزَاعِيّ يَقُول عَلَيْك بآثار من سلف وَإِن رفضك النَّاس وَإِيَّاك وآراء الرِّجَال وَإِن زخرفوا لَك القَوْل وَرَوَاهُ غير الْفرْيَابِيّ عَن الْعَبَّاس بن الْوَلِيد عَن أَبِيه عَن الْأَوْزَاعِيّ مثله قَالَ وَإِن زخرفوه بالْقَوْل فَإِن الْأَمر ينجلي وَأَنت مِنْهُ على طَرِيق مُسْتَقِيم وَذكر البُخَارِيّ عَن ابْن بكير عَن اللَّيْث قَالَ قَالَ ربيعَة لِابْنِ شهَاب يَا أَبَا بكر إِذا حدثت النَّاس بِرَأْيِك فَأخْبرهُم أَنه رَأْيك وَإِذا حدثت النَّاس بِشَيْء من السّنة فَأخْبرهُم أَنه سنة لَا يظنون أَنه رَأْيك حَدثنَا عبد الرحمن ابْن يحيى ثَنَا عَليّ بن مُحَمَّد ثَنَا أَحْمد بن دَاوُد ثَنَا سَحْنُون ثَنَا ابْن وهب قَالَ قَالَ لي مَالك بن أنس وَهُوَ يُنكر كَثْرَة الْجَواب للمسائل يَا عبد الله مَا عَلمته فَقل بِهِ وَدلّ عَلَيْهِ ومالم تعلم فاسكت عَنهُ وَإِيَّاك أَن تتقلد للنَّاس قلادة سوء حَدثنَا أَحْمد بن عبد الله بن مُحَمَّد بن عَليّ ثَنَا أبي ثَنَا مُحَمَّد بن عمر بن لبَابَة ثَنَا مَالك بن عَليّ الْقرشِي ثَنَا عبد الله بن مسلمة القعْنبِي قَالَ دخلت على مَالك فَوَجَدته باكيا فَسلمت عَلَيْهِ فَرد عَليّ ثمَّ سكت عني يبكي فَقلت لَهُ يَا أَبَا عبد الله مَا الَّذِي يبكيك فَقَالَ لي يَا ابْن قعنب أَنا لله على مَا فرط مني لَيْتَني جلدت بِكُل كلمة تَكَلَّمت بهَا فِي هَذَا الْأَمر بِسَوْط وَلم يكن فرط مني مَا فرط من هَذَا الرَّأْي وَهَذِه الْمسَائِل قد كَانَت لي سَعَة فِيمَا سبقت إِلَيْهِ وَذكر مُحَمَّد بن حرث بن أَسد الْخُشَنِي حَدثنَا أَبُو عبد اله مُحَمَّد بن عَبَّاس النّحاس قَالَ سَمِعت أَبَا مُحَمَّد سعيد بن مُحَمَّد بن الْحداد يَقُول سَمِعت سَحْنُون بن سعيد يَقُول مَا أَدْرِي مَا هَذَا الرَّأْي سفكت بِهِ الدِّمَاء واستحلت بِهِ الْفروج واستخفت بِهِ الْحُقُوق غير أَنا رَأينَا رجلا صَالحا فقلدناه قَالَ الْأَوْزَاعِيّ إِذا أَرَادَ الله أَن يحرم عَبده بركَة الْعلم ألْقى على لِسَانه الأغاليط وروينا عَن الْحسن أَنه قَالَ إِن شرار عباد الله الَّذين يجيئون بشرار الْمسَائِل ويفتون بهَا عباد الله وَقَالَ عبد الرحمن بن مهْدي سَمِعت حَمَّاد بن زيد يَقُول قيل لأيوب مَالك لَا تنظر فِي الرَّأْي فَقَالَ أَيُّوب قيل للحمار مَالك لَا تجتر قَالَ أكره مضغ الْبَاطِل وروينا عَن رَقَبَة بن مصقلة أَنه قَالَ لرجل رَآهُ يخْتَلف إِلَى صَاحب الرَّأْي يَا هَذَا يَكْفِيك من رَأْيه مَا مضغت وَترجع إِلَى أهلك بِغَيْر ثِقَة
"হে আবু মুহাম্মদ, আমরা কি আপনার মতামত লিখে রাখব?" সাঈদ লোকটিকে বললেন, "সেটা আমাকে দাও।" তখন সে তাকে লিপিটি দিল এবং তিনি তা পুড়িয়ে ফেললেন। তিনি বলেন, নুয়াইম আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, ইবনুল মুবারাক আবদুল্লাহ বিন মাওহাব থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি কাসিম বিন মুহাম্মাদের কাছে এসে তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল। তিনি তাকে উত্তর দিলেন। যখন লোকটি চলে যেতে লাগল, তিনি তাকে ডেকে বললেন, "তুমি এটা বলো না যে কাসিম মনে করে এটাই চূড়ান্ত সত্য। বরং (বলো) যদি তুমি নিরুপায় হও, তবে এর ওপর আমল করতে পারো।"

মুহাম্মাদ বিন খলিফা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ বিন হাসান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, জাফর বিন মুহাম্মাদ আল-ফিরইয়াবি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আব্বাস বিন আল-ওয়ালিদ বিন মজিদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি আল-আওযায়ীকে বলতে শুনেছি: "তোমার জন্য পূর্বসূরিদের (সালাফদের) আদর্শ অনুসরণ করা আবশ্যক, যদিও মানুষ তোমাকে বর্জন করে। আর তুমি মানুষের মতামত থেকে বেঁচে থাকো, যদিও তারা তোমার সামনে কথাকে চাকচিক্যময় করে উপস্থাপন করে।" ফিরইয়াবি ছাড়াও অন্যরাও আব্বাস বিন আল-ওয়ালিদ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আওযায়ী থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "যদিও তারা কথা দিয়ে তা সুশোভিত করে, তবুও প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে এবং তুমি এর ফলে সঠিক পথের ওপর থাকবে।" বুখারী ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাবিয়া ইবনে শিহাবকে বললেন, "হে আবু বকর, যখন আপনি মানুষের কাছে আপনার নিজস্ব মত বর্ণনা করবেন, তখন তাদের বলে দেবেন যে এটি আপনার মতামত। আর যখন আপনি তাদের কাছে সুন্নাহর কোনো কিছু বর্ণনা করবেন, তখন তাদের বলবেন যে এটি সুন্নাহ; যেন তারা এটাকে আপনার মতামত মনে না করে।" আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আলী বিন মুহাম্মাদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমদ বিন দাউদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সাহনুন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, ইবনে ওয়াহাব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মালিক বিন আনাস আমাকে বললেন—অধিক মাসআলার উত্তর দেওয়াকে অপছন্দ করে—"হে আবদুল্লাহ, তুমি যা জানো তা বলো এবং সেদিকে পথ দেখাও। আর যা তুমি জানো না, সে বিষয়ে নিশ্চুপ থাকো। সাবধান! মানুষের জন্য মন্দ কোনো দায়ভার নিজের ঘাড়ে নিও না।" আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি মুহাম্মাদ বিন উমর বিন লুবাবাহ থেকে, তিনি মালিক বিন আলী আল-কুরাশি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন মাসলামাহ আল-কানাবি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইমাম মালিকের কাছে প্রবেশ করলাম এবং তাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় পেলাম। আমি তাকে সালাম দিলাম, তিনি উত্তর দিলেন, তারপর আমার দিক থেকে মনোযোগ সরিয়ে কাঁদতে লাগলেন। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, "হে আবু আবদুল্লাহ, কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে?" তিনি আমাকে বললেন, "হে ইবনে কানাব, আমার থেকে যা কিছু ত্রুটি হয়েছে সে বিষয়ে আমি আল্লাহর কাছে দায়বদ্ধ। হায়! আমি যদি এই দ্বীনি বিষয়ে যত কথা বলেছি তার প্রত্যেকটি কথার বিনিময়ে চাবুক দিয়ে প্রহৃত হতাম, তবুও যদি আমার থেকে নিজস্ব মতামত ও মাসআলার ক্ষেত্রে এই ত্রুটিগুলো না হতো! অথচ আমার পূর্ববর্তীদের অনুসরণের মধ্যেই আমার জন্য যথেষ্ট অবকাশ ছিল।" মুহাম্মাদ বিন হারিস বিন আসাদ আল-খুশানি বর্ণনা করেছেন, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্বাস আন-নাহাস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, আমি আবু মুহাম্মাদ সাঈদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাদ্দাদকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি সাহনুন বিন সাঈদকে বলতে শুনেছি: "আমি জানি না এই ব্যক্তিগত মতামত (রায়) কী জিনিস! এর দ্বারা রক্ত প্রবাহিত করা হয়েছে, এর দ্বারা লজ্জাস্থানকে (অবৈধভাবে) হালাল করা হয়েছে এবং এর দ্বারা হক বা অধিকারসমূহকে তুচ্ছজ্ঞান করা হয়েছে। তবে আমরা একজন নেককার মানুষকে দেখেছি এবং আমরা তার অনুসরণ (তাকলিদ) করেছি।" আল-আওযায়ী বলেন: "আল্লাহ যখন কোনো বান্দাকে ইলমের বরকত থেকে বঞ্চিত করতে চান, তখন তার জিহ্বায় অসার ও ভুল তর্কের উদ্ভব ঘটান।" হাসান (বসরী) থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট তারা, যারা নিকৃষ্ট সব মাসআলা নিয়ে আসে এবং তা দিয়ে আল্লাহর বান্দাদের ফতোয়া দেয়।" আবদুর রহমান ইবনে মাহদি বলেন, আমি হাম্মাদ বিন যায়েদকে বলতে শুনেছি: আইয়ুবকে জিজ্ঞেস করা হলো, "আপনার কী হয়েছে যে আপনি ব্যক্তিগত মতামতের (রায়) দিকে দৃষ্টিপাত করেন না?" আইয়ুব উত্তরে বললেন, "গাধাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তুমি কেন জাবর কাটো না? সে উত্তর দিল, আমি বাতিল বা মিথ্যা চিবানো অপছন্দ করি।" রাকাবাহ বিন মাসকালাহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে জনৈক ব্যক্তিগত রায় বা মত পোষণকারী ব্যক্তির কাছে যাতায়াত করছে। তিনি তাকে বললেন: "হে লোক! তুমি তার মতামতের যা কিছু চিবিয়েছো তা-ই তোমার জন্য যথেষ্ট, অথচ তুমি তোমার পরিবারের কাছে ফিরে যাচ্ছ এমন কোনো বিষয় ছাড়াই যার ওপর আস্থা রাখা যায়।"
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ২০)
قَالَ الشّعبِيّ وَالله لقد بغض هَؤُلَاءِ الْقَوْم إِلَى الْمَسَاجِد حَتَّى لهي أبْغض إِلَيّ من كناسَة دَاري قلت من هم يَا أَبَا عَمْرو قَالَ الأرائيون قَالَ وَمِنْهُم الحكم وَحَمَّاد وأصحابهم قَالَ الرّبيع بن خثيم إيَّاكُمْ أَن يَقُول الرجل لشَيْء إِن الله حرم هَذَا أَو نهى عَنهُ فَيَقُول الله كذبت لم أحرمهُ وَلم أَنه عَنهُ قَالَ أَو يَقُول إِن الله أحل هَذَا وَأمر بِهِ فَيَقُول كذبت لم أحله وَلم آمُر بِهِ وَذكر ابْن وهب وعتيق بن يَعْقُوب إنَّهُمَا سمعا مَالك بن أنس يَقُول لم يكن من أَمر النَّاس وَلَا من مضى من سلفنا وَلَا أدْركْت أحدا أقتدي بِهِ يَقُول فِي شَيْء هَذَا حَلَال وَهَذَا حرَام مَا كَانُوا يجترءون على ذَلِك وَإِنَّمَا كَانُوا يَقُولُونَ نكره هَذَا نرى هَذَا حسنا ونتقي هَذَا وَلَا نرى هَذَا وَزَاد عَتيق بن يَعْقُوب وَلَا يَقُولُونَ حَلَال وَلَا حرَام أما سَمِعت قَول الله عز وجل {قل أَرَأَيْتُم مَا أنزل الله لكم من رزق فجعلتم مِنْهُ حَرَامًا وحلالا قل آللَّهُ أذن لكم أم على الله تفترون} الْحَلَال مَا أحله الله تَعَالَى وَرَسُوله ص وَالْحرَام مَا حرمه الله تَعَالَى وَرَسُوله ص

قَالَ أَبُو عمر معنى قَول مَالك هَذَا أَن مَا أَخذ من الْعلم رَأيا واستحسانا لم يقل فِيهِ حَلَال وَلَا حرَام وَالله تَعَالَى أعلم وَقد رُوِيَ عَن مَالك أَنه قَالَ فِي بعض مَا كَانَ ينزل فَيسْأَل عَنهُ فيجتهد فِيهِ رَأْيه أَن نظن إِلَّا ظنا وَمَا نَحن بمستيقنين وَلَقَد أحسن أَبُو الْعَتَاهِيَة حَيْثُ يَقُول … وَمَا كل الظنون تكون حَقًا … وَلَا كل الصَّوَاب على الْقيَاس …

وَقَالَ أَبُو وَائِل لَا تقاعدوا أَصْحَاب أَرَأَيْت وَقَالَ الشّعبِيّ مَا كلمة أبْغض إِلَى من أَرَأَيْت وَقَالَ دَاوُد الأودي قَالَ لي الشّعبِيّ احفظ عني ثَلَاثًا لَهُنَّ شَأْن إِذا سَأَلت عَن مَسْأَلَة فأجبت فِيهَا فَلَا تتبع مسألتك أَرَأَيْت فَإِن الله تَعَالَى يَقُول فِي كِتَابه أَرَأَيْت من اتخذ إلهه هَوَاهُ حَتَّى فرغ من الْآيَة وَالثَّانيَِة إِذا سُئِلت عَن مسئلة فَلَا تقس شَيْئا بِشَيْء فَرُبمَا حرمت حَلَالا أَو أحللت حَرَامًا وَالثَّالِثَة إِذا سُئِلت عمالا تعلم فَقل لَا أعلم وَأَنا شريكك وَقَالَ الشّعبِيّ إِنَّمَا هلك من كَانَ قبلكُمْ فِي أَرَأَيْت وَقَالَ اللَّيْث بن سعد رَأَيْت ربيعَة بن أبي عبد الرحمن فِي الْمَنَام فَقلت لَهُ يَا أَبَا عُثْمَان مَا حالك قَالَ صرت إِلَى خير إِلَّا أَنِّي لم أَحْمد على كثير مِمَّا خرج مني من الرَّأْي وَقَالَ يحيى بن أَيُّوب بَلغنِي أَن أهل الْعلم كَانُوا يَقُولُونَ إِذا أَرَادَ الله تَعَالَى أَن لَا يعلم عَبده خير أشغله بالأغاليط وَسُئِلَ رَقَبَة بن مصقلة عَن أَصْحَاب الرَّأْي فَقَالَ هم أعلم النَّاس بِمَا لم يكن وأجهلهم بِمَا كَانَ يُرِيد أَنهم لم يكن لَهُم علم مِمَّن مضى قلت وَهَذَا أَمر مشَاهد فِي الطَّائِفَة المقلدين والعصابة المتعصبين فَإنَّك إِذا قلت لوَاحِد مِنْهُم أَرَأَيْت لَو نسي الْمُصَلِّي فَسلم فِي ثَلَاثَة من الرّبَاعِيّة لبادر أَن يَقُول مَذْهَبنَا كَذَا وَإِذا قلت لَهُ لم أَسأَلك عَن مذهبك إِنَّمَا أسئلك عَن فعل النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَالْخُلَفَاء الْأَرْبَعَة وقف حمارا يشخ فِي الْعقبَة وَغَضب وإحمار وإصفار

قَالَ أَبُو عمر بن عبد البر حَدثنَا عبد الرحمن بن عبد الله بن خَالِد ثَنَا يُوسُف بن يَعْقُوب النجيرمي
আশ-শাবি বলেন, "আল্লাহর কসম, এই লোকগুলো মসজিদগুলোকে আমার কাছে এতোটাই অপ্রিয় করে তুলেছে যে, সেগুলো এখন আমার বাড়ির আবর্জনার স্তূপের চেয়েও আমার কাছে অধিক অপ্রিয়।" আমি বললাম, "হে আবু আমর, তারা কারা?" তিনি বললেন, "আরাইয়ুন (ধারণা ও রায় প্রদানকারী দল)।" তিনি আরও বললেন, "তাদের মধ্যে আল-হাকাম, হাম্মাদ এবং তাদের সঙ্গীরা অন্তর্ভুক্ত।" রাবী ইবনে খুসাইম বলেন, "তোমরা কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো বিষয় সম্পর্কে এমনটি বলা হতে সাবধান থাকো যে, 'আল্লাহ এটি হারাম করেছেন' বা 'এটি থেকে নিষেধ করেছেন', এরপর আল্লাহ বলবেন, 'তুমি মিথ্যা বলেছ, আমি এটি হারাম করিনি এবং এটি থেকে নিষেধও করিনি'। অথবা সে বলবে, 'আল্লাহ এটি হালাল করেছেন এবং এর নির্দেশ দিয়েছেন', এরপর আল্লাহ বলবেন, 'তুমি মিথ্যা বলেছ, আমি এটি হালাল করিনি এবং এর নির্দেশও দেইনি'।" ইবনে ওয়াহাব এবং আতিক ইবনে ইয়াকুব উল্লেখ করেছেন যে, তারা দুজন মালিক ইবনে আনাসকে বলতে শুনেছেন, "মানুষের কর্মপন্থা এমন ছিল না, আমাদের অতীত পূর্বসূরিদের রীতিও এমন ছিল না, আর আমি এমন কাউকে পাইনি যাকে আমি অনুসরণ করি এবং তিনি কোনো বিষয়ে বলতেন 'এটি হালাল আর এটি হারাম'। তারা এমনটি করার ধৃষ্টতা দেখাতেন না। বরং তারা বলতেন, 'আমরা এটিকে অপছন্দ করি', 'আমরা এটিকে উত্তম মনে করি', 'আমরা এটি থেকে বেঁচে চলি', অথবা 'আমরা এটিকে সঠিক মনে করি না'।" আতিক ইবনে ইয়াকুব আরও যোগ করেন যে, তারা 'হালাল' বা 'হারাম' বলতেন না। তুমি কি মহান আল্লাহর বাণী শোনোনি— {বলুন, তোমরা কি দেখেছ আল্লাহ তোমাদের জন্য যে রিযিক নাযিল করেছেন, অতঃপর তোমরা তার কিছু অংশ হারাম ও কিছু অংশ হালাল করেছ? বলুন, আল্লাহ কি তোমাদের অনুমতি দিয়েছেন নাকি তোমরা আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করছ?} প্রকৃত হালাল হলো তা-ই যা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সা.) হালাল করেছেন, আর হারাম তা-ই যা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সা.) হারাম করেছেন।

আবু উমর বলেন, মালিকের এই কথার অর্থ হলো— ইলম বা জ্ঞান থেকে যা কেবল রায় (ব্যক্তিগত মতামত) এবং ইসতিহসান (পছন্দ) হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে 'হালাল' বা 'হারাম' বলা যাবে না। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। মালিক থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, যখন তাঁর কাছে কোনো পরিস্থিতি আসত এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করা হতো, তখন তিনি সে বিষয়ে ইজতিহাদ ও রায় প্রদানকালে বলতেন, "আমরা কেবল একটি ধারণা পোষণ করি মাত্র, আমরা সুনিশ্চিত নই।" আবু আল-আতাহিইয়া কতই না চমৎকার বলেছেন: … সব ধারণাই সত্য হয় না … আর সব সঠিক সিদ্ধান্ত কিয়াসের (অনুমান) ওপর ভিত্তি করে হয় না …

আবু ওয়াইল বলেন, "আরাইতা (যদি এমন হতো) ওয়ালাদের সাথে বসবে না।" আশ-শাবি বলেন, "আমার কাছে 'আরাইতা' শব্দের চেয়ে অধিক অপ্রিয় কোনো শব্দ নেই।" দাউদ আল-আওদী বলেন, আশ-শাবি আমাকে বললেন, "আমার কাছ থেকে তিনটি বিষয় মনে রেখো যেগুলোর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে: যখন তোমাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হবে এবং তুমি তার উত্তর দিবে, তখন তোমার উত্তরের পেছনে 'আরাইতা' (আপনার রায় কী বা যদি এমন হতো) যুক্ত করো না; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে বলেন— {আপনি কি তাকে দেখেছেন যে তার নফসকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করেছে} আয়াতের শেষ পর্যন্ত। দ্বিতীয়ত, যখন তোমাকে কোনো মাসআলা জিজ্ঞেস করা হবে, তখন এক জিনিসকে অন্য জিনিসের সাথে কিয়াস করো না; কারণ হতে পারে তুমি এর মাধ্যমে কোনো হালালকে হারাম করে ফেলবে অথবা কোনো হারামকে হালাল করে ফেলবে। তৃতীয়ত, যখন তোমাকে এমন কিছু জিজ্ঞেস করা হবে যা তুমি জানো না, তখন বলো 'আমি জানি না', আর এ ক্ষেত্রে আমি তোমার অংশীদার।" আশ-শাবি আরও বলেন, "তোমাদের পূর্ববর্তীরা কেবল এই 'আরাইতা'র কারণেই ধ্বংস হয়েছে।" লাইস ইবনে সাদ বলেন, "আমি স্বপ্নে রবিয়া ইবনে আবি আবদুর রহমানকে দেখলাম। আমি তাঁকে বললাম, 'হে আবু উসমান, আপনার অবস্থা কী?' তিনি বললেন, 'আমি কল্যাণের দিকেই ফিরেছি, তবে আমার পক্ষ থেকে প্রকাশিত অনেক রায়ের জন্য আমি প্রশংসিত হইনি'।" ইয়াহইয়া ইবনে আইয়ুব বলেন, "আমার কাছে পৌঁছেছে যে, আলেমগণ বলতেন: আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর বান্দার জন্য কল্যাণ না জানানোর ইচ্ছা করেন, তখন তাকে জটিল ধাঁধা ও ভুলভ্রান্তির (আঘালিত) মধ্যে ব্যস্ত করে দেন।" রাকাবাহ ইবনে মাসকালাহকে 'আসহাবুর রায়' সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "যা ঘটেনি সে বিষয়ে তারা মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী, আর যা ঘটে গেছে সে বিষয়ে তারা সবচেয়ে বেশি মূর্খ।" এর দ্বারা তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, যারা গত হয়ে গেছেন তাদের (সুন্নাহর) ইলম সম্পর্কে তাদের জ্ঞান ছিল না। আমি বলি, এই বিষয়টি বর্তমানে মুকাল্লিদ (অন্ধ অনুসারী) এবং গোঁড়া দলের মধ্যে প্রত্যক্ষ করা যায়। কারণ আপনি যদি তাদের কাউকে জিজ্ঞেস করেন, "আপনার রায় কী, যদি কোনো নামাযী ভুলবশত চার রাকাতের নামাযে তিন রাকাতে সালাম ফিরিয়ে দেয়?" তবে সে দ্রুত বলে উঠবে, "আমাদের মাযহাব এই এই।" যখন আপনি তাকে বলবেন, "আমি তো আপনাকে আপনার মাযহাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি, বরং আমি আপনাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং চার খলিফার আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছি," তখন সে সংকীর্ণ পাহাড়ি পথে প্রস্রাবরত গাধার মতো থমকে দাঁড়ায়, রাগান্বিত হয় এবং (রাগে) চেহারা লাল ও ফ্যাকাসে হয়ে যায়।

আবু উমর ইবনে আব্দুল বার বলেন, আমাদের কাছে আবদুর রহমান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে খালিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের কাছে ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব আল-নাজিরানি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ২১)
بِالْبَصْرَةِ ثَنَا الْعَبَّاس بن الْفضل قَالَ سَمِعت سَلمَة بن شبيب يَقُول سَمِعت أَحْمد بن حَنْبَل يَقُول رَأْي الْأَوْزَاعِيّ ورأي مَالك ورأي أبي حنيفَة كُله رَأْي وَهُوَ عِنْدِي سَوَاء وَإِنَّمَا الْحجَّة فِي الْآثَار قَالَ أَبُو عمر بَلغنِي عَن سهل بن عبد الله التسترِي أَنه قَالَ مَا أحدث أحد فِي الْعلم شَيْئا إِلَّا سُئِلَ عَنهُ يَوْم الْقِيَامَة فَإِن وَافق السّنة سلم وَإِلَّا فَهُوَ العطب انْتهى كَلَام ابْن عبد البر بِطُولِهِ وَزَاد الْبَيْهَقِيّ فِي الْمدْخل إِلَى علم السّنَن فَقَالَ بَاب مَا يذكر من ذمّ الرَّأْي وتكلف الْقيَاس فِي مَوضِع النَّص قَالَ الله تَعَالَى {فَإِن تنازعتم فِي شَيْء فَردُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُول} وَقَالَ الشَّافِعِي فَإِن تنازعتم يَعْنِي وَالله تَعَالَى أعلم هم وأمراؤهم الَّذين أمروا بطاعتهم فَردُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُول يَعْنِي وَالله تَعَالَى أعلم إِلَى مَا قَالَ الله وَالرَّسُول وَقَالَ تَعَالَى {وَأَن هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبعُوهُ وَلَا تتبعوا السبل فَتفرق بكم عَن سَبيله} قَالَ مُجَاهِد الْبدع والشبهات وَأخرج الْبَيْهَقِيّ بِسَنَدِهِ إِلَى جَعْفَر بن مُحَمَّد عَن أَبِيه عَن جَابر بن عبد الله قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا خطب احْمَرَّتْ عَيناهُ وَعلا صَوته وَاشْتَدَّ غَضَبه حَتَّى كَأَنَّهُ مُنْذر جَيش يَقُول صبحكم ومساكم وَيَقُول بعثت أَنا والساعة كهاتين ويقرن بَين إصبعيه السبابَة وَالْوُسْطَى وَيَقُول أما بعد فَإِن خير الحَدِيث كتاب الله وَخير الْهَدْي هدي مُحَمَّد ص وَشر الْأُمُور محدثاتها وكل بِدعَة ضَلَالَة ثمَّ يَقُول أَنا أولى بِكُل مُؤمن من نَفسه من ترك مَالا فلأهله وَمن ترك دينا أَو ضيَاعًا فَإِلَيَّ وَعلي رَوَاهُ مُسلم وَرَوَاهُ الثَّوْريّ عَن جَعْفَر وَقَالَ فِيهِ وكل محدثة بِدعَة وكل بِدعَة ضَلَالَة وكل ضَلَالَة فِي النَّار قَالَ الشَّافِعِي المحدثات من الْأُمُور ضَرْبَان أَحدهمَا مَا أحدث يُخَالف كتابا أَو سنة أَو أثرا أَو إِجْمَاعًا فَهُوَ الْبِدْعَة الضَّلَالَة وَالثَّانِي مَا أحدث من الْخَيْر لَا خلاف فِيهِ لوَاحِد من هَذَا وَهَذِه محدثة غير مذمومة وَقد قَالَ عمر فِي قيام شهر رَمَضَان نعمت الْبِدْعَة هَذِه يَعْنِي أَنَّهَا محدثة لم تكن وَإِذا كَانَت فَلَيْسَ فِيهَا رد لما مضى وَأخرج عَن عبد الله بن مَسْعُود أَنه قَالَ اتبعُوا وَلَا تبتدعوا فقد كفيتم وَأخرج أَيْضا عَن عبَادَة بن الصَّامِت رضي الله عنه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول يكون بعدِي رجال يعرفونكم مَا تنكرون وَيُنْكِرُونَ عَلَيْكُم مَا تعرفُون فَلَا طَاعَة لمن عصى الله تَعَالَى وَلَا تعملوا برأيكم وَأخرج عَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لن يستكمل مُؤمن إيمَانه حَتَّى يكون هَوَاهُ تبعا لما جِئتُكُمْ بِهِ قَالَ الْبَيْهَقِيّ تفرد بِهِ نعيم بن حَمَّاد قلت تقدم أَن نعيما ثِقَة صَدُوق زَاد فِي التَّقْرِيب يُخطئ كثيرا وَعَن عمر اتَّقوا الرَّأْي فِي دينكُمْ وَعَن الشبعي أَنه قَالَ لقد بغض إِلَيّ هَؤُلَاءِ الْمَسَاجِد حَتَّى لهي أبْغض إِلَيّ من كناسَة دَاري فَقلت مِم يَا أَبَا عَمْرو قَالَ هَؤُلَاءِ الأرائيون أَصْحَاب الرَّأْي لما أعيتهم أَحَادِيث رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن يحفظوها جَاءُوا يجادلون وَعَن الزُّهْرِيّ مثل ذَلِك وَعَن عمر بن الْخطاب بِسَنَد رِجَاله ثِقَات أَنه قَالَ يَا أَيهَا النَّاس اتهموا الرَّأْي على الدّين فَلَقَد رَأَيْتنِي أرد أَمر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بِرَأْي اجْتِهَاد فوَاللَّه مَا ألو على الْحق وَذَلِكَ يَوْم أبي جندل وَالْكتاب بَين يَدي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَأهل مَكَّة فَقَالَ اكتبوا بِسم الله الرَّحْمَن الرَّحِيم قَالُوا تَرَانَا قد صدقناك بِمَا تَقول وَلَكِنَّك تكْتب بِاسْمِك اللَّهُمَّ قَالَ فَرضِي

বসরায় আব্বাস ইবনে ফাদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সালামাহ ইবনে শাবিবকে বলতে শুনেছি: আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: আওজাঈর মত, মালিকের মত এবং আবু হানিফার মত—সবই নিছক ব্যক্তিগত অভিমত এবং আমার নিকট এগুলো সমান; দলিল তো কেবল আসার বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনার মধ্যেই নিহিত। আবু উমর বলেন: সাহল ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তুস্তারি থেকে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন: ইলমের বিষয়ে কেউ নতুন কিছু উদ্ভাবন করলে কিয়ামতের দিন তাকে অবশ্যই সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে; যদি তা সুন্নাহর অনুকূলে হয় তবে সে মুক্তি পাবে, অন্যথায় সে ধ্বংস হবে। ইবনে আব্দুল বার-এর দীর্ঘ আলোচনা এখানেই শেষ হলো।

বায়হাকী তাঁর 'আল-মাদখাল ইলা ইলমিস সুনান' গ্রন্থে আরও যোগ করে বলেছেন: 'নস' বা অকাট্য দলিলের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত অভিমতের নিন্দা এবং কষ্টসাধ্য কিয়াসের বর্ণনা সম্পর্কিত অধ্যায়। মহান আল্লাহ বলেন: "যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।" ইমাম শাফিঈ বলেন: "যদি তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও" এর অর্থ—আল্লাহই ভালো জানেন—তারা (সাধারণ মানুষ) এবং তাদের সেই সকল শাসক যাদের আনুগত্যের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; "তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও" এর অর্থ—আল্লাহই ভালো জানেন—আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা বলেছেন তার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "নিশ্চয়ই এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না; অন্যথায় সেগুলো তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।" মুজাহিদ বলেন: [অন্যান্য পথ বলতে] বিদআত এবং সংশয়সমূহকে বোঝানো হয়েছে।

বায়হাকী নিজ সনদে জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন খুতবা দিতেন তখন তাঁর চোখ লাল হয়ে যেত, কণ্ঠস্বর উচ্চ হতো এবং ক্রোধ তীব্র হতো, যেন তিনি কোনো এক বাহিনীকে সতর্ক করছেন—এমতাবস্থায় তিনি বলতেন: "শত্রুরা তোমাদের ওপর সকালে বা সন্ধ্যায় আক্রমণ করবে।" তিনি বলতেন: "আমি এবং কিয়ামত এভাবে প্রেরিত হয়েছি" এবং তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল জোড়া করে দেখাতেন। তিনি বলতেন: "অতঃপর, সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ (সা.)-এর পথনির্দেশ। নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা।" অতঃপর তিনি বলতেন: "আমি প্রত্যেক মুমিনের নিকট তার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ। যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যায় তা তার পরিবারের জন্য, আর যে ঋণ বা অভিভাবকহীন পরিবার রেখে যায় তার ভার আমার ওপর এবং তা পরিশোধের দায়িত্বও আমার।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। সাওরি জাফর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: "এবং প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতাই জাহান্নামে।"

ইমাম শাফিঈ বলেন: নতুন উদ্ভাবিত বিষয় দুই প্রকার; প্রথমত, যা কুরআন, সুন্নাহ, আসার বা ইজমার বিরোধী হিসেবে উদ্ভাবিত হয়—তা-ই পথভ্রষ্ট বিদআত। দ্বিতীয়ত, এমন কল্যাণকর বিষয় যা উদ্ভাবিত হয়েছে কিন্তু এর কোনোটির সাথেই বিরোধ নেই—এটি নিন্দনীয় নতুন উদ্ভাবন নয়। ওমর (রা.) রমজান মাসের রাতের সালাত (তারাবিহ) সম্পর্কে বলেছিলেন: "এই বিদআতটি কতই না চমৎকার!" অর্থাৎ এটি এমন এক নতুন বিষয় যা আগে (এভাবে) ছিল না, কিন্তু এটি যেহেতু অতীতের কোনো মূলনীতির পরিপন্থী নয়, তাই তা সঠিক।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না, কারণ তোমাদের জন্য সুন্নাহই যথেষ্ট।" উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "আমার পরে এমন কিছু লোক আসবে যারা তোমাদের কাছে এমন বিষয়কে ন্যায় হিসেবে পেশ করবে যা তোমরা অন্যায় হিসেবে জানো এবং যা তোমরা ন্যায় হিসেবে জানো তাকে তারা অন্যায় হিসেবে পেশ করবে। সুতরাং যে আল্লাহর অবাধ্য হয় তার জন্য কোনো আনুগত্য নেই এবং তোমরা তোমাদের ব্যক্তিগত অভিমত দিয়ে আমল করো না।"

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কোনো মুমিনের ঈমান ততক্ষণ পূর্ণতা পাবে না যতক্ষণ না তার খেয়ালখুশি আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসারী হয়।" বায়হাকী বলেন: এটি কেবল নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: নুয়াইম যে নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী তা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, তবে 'তাকরিব' গ্রন্থে যোগ করা হয়েছে যে তিনি প্রচুর ভুল করতেন। ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত: "তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে ব্যক্তিগত অভিমত থেকে বেঁচে থাকো।" শাবী থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: "এই মসজিদগুলো আমার কাছে এতটাই অপছন্দনীয় হয়ে উঠেছে যে, তা আমার বাড়ির আবর্জনার স্তূপের চেয়েও বেশি অপ্রিয়।" আমি বললাম: কেন হে আবু আমর? তিনি বললেন: "এই রায়পন্থীদের কারণে; রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসসমূহ মুখস্থ করা যখন তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ল, তখন তারা বিতর্ক ও ব্যক্তিগত মতের আশ্রয় নিল।" যুহরি থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে।

ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সনদে বর্ণিত যে তিনি বলেন: "হে লোকসকল! দ্বীনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিমতকে সন্দেহের চোখে দেখো। আমি নিজেকে দেখেছি যে, আমি আবু জান্দালের দিনে নিজের ইজতিহাদপ্রসূত মতের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশের প্রতিবাদ করছিলাম—আল্লাহর কসম, আমি সত্য লাভে কোনো ত্রুটি করিনি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ও মক্কাবাসীদের মাঝে চুক্তিপত্র লেখা হচ্ছিল। তিনি বললেন: 'লেখো—বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম'। তারা বলল: আমরা যদি আপনাকে আপনার দাবিতে সত্যবাদী মনে করতাম তবে তো মেনেই নিতাম, কিন্তু আপনি আপনার নাম দিয়ে লিখুন—হে আল্লাহ আপনার নামে (আল্লাহুম্মা)। তিনি তাতে সম্মত হলেন।"

(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ২২)
رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وأتيت عَلَيْهِم حَتَّى قَالَ لي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تراني أرْضى وتأبى أَنْت قَالَ فرضيت وَعَن أبي حُصَيْن قَالَ قَالَ أَبُو وَائِل لما قدم سهل بن حنيف من صفّين أتيناه نستخبره قَالَ فَقَالَ اتهموا الرَّأْي على الدّين فَلَقَد رَأَيْتنِي يَوْم أبي جندل وَلَو أَسْتَطِيع أَن أرد على رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أمره لرددت وَالله وَرَسُوله أعلم وَمَا وَضعنَا أسيافنا على عواتقنا فِي أَمر يفظعنا إِلَّا أسهلن بِنَا على أَمر نعرفه قبل هَذَا الْأَمر مَا يسد مِنْهُ خصم إِلَّا انْفَتح علينا خصم مَا نَدْرِي كَيفَ نأتي إِلَيْهِ رَوَاهُ البُخَارِيّ فِي صَحِيحه وَعَن عَليّ رضي الله عنه قَالَ لَو كَانَ الدّين بِالرَّأْيِ لَكَانَ بَاطِن الْخُفَّيْنِ أَحَق بِالْمَسْحِ من ظاهرهما وَلَكِن رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يمسح على ظاهرهما وَعَن ابْن عمر أَنه قَالَ لَا يزَال النَّاس على الطَّرِيق مَا اتبعُوا الْأَثر وَعَن عُرْوَة بن الزبير أَنه كَانَ يَقُول اتِّبَاع السّنَن قوام الدّين

قَالَ الْبَيْهَقِيّ حَدثنَا أَبُو سعيد ثَنَا أَبُو الْحر ثَنَا بشير ثَنَا الْحميدِي ثَنَا يحيى بن سليم ثَنَا دَاوُد بن أبي هِنْد قَالَ سَمِعت ابْن سِيرِين يَقُول أول من قَاس إِبْلِيس قَالَ خلقتني من نَار وخلقته من طين وَإِنَّمَا عبدت الشَّمْس وَالْقَمَر بالمقاييس وَعَن الْحسن أَنه كَانَ يَقُول اتهموا أهواءكم ورأيكم على دين الله وانتصحوا كتاب الله على أَنفسكُم ودينكم وَعَن الشّعبِيّ مَا كلمة أبْغض إِلَيّ من أَرَأَيْت وَعَن ابْن عون قَالَ قَالَ إِبْرَاهِيم أَن الْقَوْم لم يدّخر عَنْهُم شَيْء خبئ لكم بِفضل عنْدكُمْ وَعَن عَامر بن يسَاف أَنه قَالَ سَمِعت الْأَوْزَاعِيّ يَقُول إِذا بلغك عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَدِيث فإياك يَا عَامر أَن تَقول بِغَيْرِهِ فَإِن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ مبلغا عَن الله تبارك وتعالى وَعَن سُفْيَان الثَّوْريّ أَنه قَالَ الْعلم كُله الْعلم بالآثار وَقَالَ الرّبيع بن سُلَيْمَان سَمِعت الشَّافِعِي يَقُول المراء فِي الْعلم يقسي الْقلب وَيُورث الضغائن وَقَالَ أَبُو الْأسود قلت لِابْنِ الْمُبَارك مَا ترى فِي كِتَابَة الرَّأْي قَالَ أَن تكتبه لتعرف بِهِ الحَدِيث فَنعم وَأما أَن تكتبه فتتخذه دينا فَلَا وَقَالَ ابْن وهب ثَنَا عبد العزيز بن أبي سَلمَة قَالَ لما جِئْت الْعرَاق جَاءَنِي أهل الْعرَاق فقالو حَدثنَا عَن ربيعَة الرَّأْي قَالَ فَقلت يَا أهل الْعرَاق تَقولُونَ ربيعَة الرَّأْي لَا وَالله مَا رَأَيْت أحدا أحفظ للسّنة مِنْهُ وَعَن سُفْيَان أَنه قَالَ قَالَ ربيعَة بن أبي عبد الرحمن إِذا بشع الْقيَاس فَدَعْهُ يَعْنِي إِذا شنع قَالَ وَكِيع قَالَ أَبُو حنيفَة من الْقيَاس مَا هُوَ أقبح من الْبَوْل فِي الْمَسْجِد قلت وَصدق الإِمَام أَبُو حنيفَة وَهُوَ الْقيَاس المصادم لنَصّ كتاب أَو سنة وَقَالَ يحيى بن حربس سَمِعت سُفْيَان وَأَتَاهُ رجل فَقَالَ مَا تنقم على أبي حنيفَة قَالَ وَمَاله قَالَ سمعته يَقُول آخذ بِكِتَاب الله فمالم أجد فبسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَإِن لم أجد فِي كتاب الله وَلَا سنة نبيه أخذت بقول أَصْحَابه من شِئْت مِنْهُم وأدع قَول من شِئْت مِنْهُم وَلَا أخرج من قَوْلهم إِلَى قَول غَيرهم فَأَما إِذا انْتهى الْأَمر إِلَى إِبْرَاهِيم وَالشعْبِيّ وَابْن سِيرِين وَالْحسن وَعَطَاء وَسَعِيد بن الْمسيب وَعدد رجَالًا فقوم اجتهدوا فاجتهد كَمَا اجتهدوا قَالَ فَسكت سُفْيَان طَويلا ثمَّ قَالَ كَلِمَات بِرَأْيهِ مَا بَقِي فِي الْمجْلس أحد إِلَّا كتبه نستمع السديد من الحَدِيث فنخاف ونسمع اللين فنرجوه وَلَا نحاسب الْأَحْيَاء وَلَا نقضي على الْأَمْوَات نسلم مَا سمعناه وَنكل
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আমি তাদের কাছে আসলাম। অবশেষে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, "তুমি কি দেখছ যে আমি সন্তুষ্ট হচ্ছি আর তুমি তা অস্বীকার করছ?" তিনি বললেন, তখন আমি সন্তুষ্ট হলাম। আবু হুসাইন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু ওয়ায়িল বলেছেন: যখন সাহল বিন হুনাইফ সিফফীন থেকে ফিরে আসলেন, তখন আমরা তাঁর কাছে খবরাখবর নিতে গেলাম। তিনি বললেন, "তোমরা দ্বীনের ব্যাপারে ব্যক্তিগত রায়কে (মতামত) অভিযুক্ত করো। আমি নিজেকে আবু জানদালের দিন দেখেছি; আমি যদি আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ রদ করতে সক্ষম হতাম, তবে অবশ্যই তা রদ করতাম। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক অবগত। আমরা যখনই কোনো ভয়াবহ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি এবং আমাদের তলোয়ার কাঁধে রেখেছি, তা আমাদের জন্য এমন এক সহজ সমাধানের পথ বের করে দিয়েছে যা আমরা এই পরিস্থিতির আগে থেকেই চিনতাম। কিন্তু বর্তমানের এই পরিস্থিতির অবস্থা এমন যে, এর একদিকের ফাটল বন্ধ করলেই অন্য দিক থেকে ফাটল খুলে যাচ্ছে, আমরা বুঝতে পারছি না কীভাবে এর মোকাবেলা করব।" এটি ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "যদি দ্বীন ব্যক্তিগত মতামতের ওপর নির্ভরশীল হতো, তবে চামড়ার মোজার নিচের অংশ মাসাহ করা উপরের অংশের চেয়ে বেশি যুক্তিযুক্ত হতো। কিন্তু আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মোজার উপরের অংশে মাসাহ করতে দেখেছি।" ইবনে উমর থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন, "মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক পথে থাকবে যতক্ষণ তারা পূর্বসূরিদের আদর্শ (আসার) অনুসরণ করবে।" উরওয়াহ বিন যুবাইর থেকে বর্ণিত যে তিনি বলতেন, "সুন্নাতের অনুসরণই হলো দ্বীনের ভিত্তি।"

ইমাম বায়হাকী বলেন, আবু সাঈদ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি আবু আল-হুর থেকে, তিনি বশীর থেকে, তিনি আল-হুমাইদী থেকে, তিনি ইয়াহইয়া বিন সালীম থেকে, তিনি দাউদ বিন আবু হিন্দ থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন, আমি ইবনে সিরীনকে বলতে শুনেছি, "সর্বপ্রথম যে কিয়াস (যুক্তিপ্রয়োগ) করেছিল সে হলো ইবলিস। সে বলেছিল: 'আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।' আর মূলত সূর্য ও চন্দ্রের পূজা কিয়াসের মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল।" হাসান (বসরি) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলতেন, "আল্লাহর দ্বীনের বিপরীতে তোমাদের প্রবৃত্তি ও মতামতকে অভিযুক্ত করো এবং তোমাদের নিজেদের ও তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে আল্লাহর কিতাবের উপদেশ গ্রহণ করো।" শাবি থেকে বর্ণিত, "আমার কাছে 'আপনার রায় কী?' (আরায়তা) এই কথাটির চেয়ে অধিক ঘৃণিত আর কোনো শব্দ নেই।" ইবনে আউন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইব্রাহিম (নাখয়ী) বলেছেন, "সেই কাওমের (সালাফদের) কাছে এমন কিছু গোপন রাখা হয়নি যা তোমাদের অতিরিক্ত শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তোমাদের জন্য তুলে রাখা হয়েছে।" আমির বিন ইয়াসাফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আওযায়ীকে বলতে শুনেছি: "যখন তোমার কাছে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে কোনো হাদীস পৌঁছে, তখন হে আমির, সাবধান! তুমি তার বিপরীতে অন্য কিছু বলো না। কেননা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন প্রচারক ছিলেন।" সুফিয়ান সাওরী থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন, "ইলম (জ্ঞান) বলতে মূলত আসার (সালাফদের বর্ণনা) সংক্রান্ত জ্ঞানকেই বোঝায়।" রাবী বিন সুলাইমান বলেন, আমি শাফিয়ীকে বলতে শুনেছি, "ইলমের বিষয়ে ঝগড়া-বিবাদ অন্তরকে কঠোর করে এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ সৃষ্টি করে।" আবু আল-আসওয়াদ বলেন, আমি ইবনুল মুবারককে বললাম, "ব্যক্তিগত মতামত লিখে রাখা সম্পর্কে আপনি কী মনে করেন?" তিনি বললেন, "হাদীস চেনার জন্য যদি তা লেখো তবে ঠিক আছে। কিন্তু যদি তা লিখে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করো, তবে না।" ইবনে ওয়াহাব বলেন, আব্দুল আজিজ বিন আবু সালামাহ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, যখন আমি ইরাকে আসলাম, ইরাকবাসীরা আমার কাছে এসে বলল, "আমাদের কাছে রাবিআতুর রায়ের (মতামতের রাবিআ) হাদীস বর্ণনা করুন।" তিনি বলেন, আমি বললাম, "হে ইরাকবাসী, তোমরা তাকে 'রাবিআতুর রায়' বলো? না, আল্লাহর কসম, আমি তাঁর চেয়ে সুন্নাতের অধিক হাফেজ (সংরক্ষণকারী) কাউকে দেখিনি।" সুফিয়ান থেকে বর্ণিত যে রাবিআ বিন আবু আব্দুর রহমান বলেছেন, "যখন কিয়াস কুৎসিত বা অসংগত হয়ে পড়ে, তখন তা বর্জন করো।" ওয়াকী বলেন, আবু হানিফা বলেছেন, "এমন কিছু কিয়াস আছে যা মসজিদে প্রস্রাব করার চেয়েও জঘন্য।" আমি (গ্রন্থকার) বলছি, ইমাম আবু হানিফা সত্য বলেছেন; আর তা হলো সেই কিয়াস যা কুরআন বা সুন্নাহর নস (সুস্পষ্ট পাঠ)-এর সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক হয়। ইয়াহইয়া বিন হারবিস বলেন, আমি সুফিয়ানকে বলতে শুনেছি—এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, "আপনি আবু হানিফার প্রতি কেন অসন্তুষ্ট?" তিনি বললেন, "তাঁর কী হয়েছে?" লোকটি বলল, "আমি তাঁকে বলতে শুনেছি—'আমি আল্লাহর কিতাব গ্রহণ করি, যা তাতে পাই না তা আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ থেকে গ্রহণ করি। আর যা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহে পাই না, তা তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে যাঁর বক্তব্য ইচ্ছে গ্রহণ করি এবং যাঁর বক্তব্য ইচ্ছে বর্জন করি, কিন্তু তাঁদের বক্তব্যের বাইরে অন্য কারও বক্তব্যের দিকে যাই না। তবে যখন বিষয়টি ইব্রাহিম, শাবি, ইবনে সিরীন, হাসান, আতা, সাঈদ বিন মুসাইয়িব এবং আরও কয়েকজনের কাছে পৌঁছে—তারা তো এমন এক দল যারা ইজতিহাদ করেছেন, তাই আমিও তাদের মতো ইজতিহাদ করি।'" বর্ণনাকারী বলেন, তখন সুফিয়ান দীর্ঘক্ষণ চুপ থাকলেন। এরপর তিনি নিজের পক্ষ থেকে এমন কিছু কথা বললেন যা মজলিসের সবাই লিখে নিল—"আমরা সুদৃঢ় হাদীস শুনি এবং ভয় পাই, আবার শিথিল কথা শুনি এবং আশা করি। আমরা জীবিতদের হিসাব নিই না এবং মৃতদের ব্যাপারে কোনো ফয়সালা দিই না। আমরা যা শুনেছি তা মেনে নিই এবং (অজ্ঞাত বিষয়গুলো আল্লাহর দিকে) সোপর্দ করি।"
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ২৩)
مَا لم نعلم إِلَى عالمه ونتهم رَأينَا لرأيهم

قَالَ الشَّيْخ أَحْمد الْبَيْهَقِيّ فَذَكرنَا فِي الصَّحَابَة رضي الله عنهم إِذا اخْتلفُوا كَيفَ يرجح قَول بَعضهم على بعض وبماذا يرجح وَلَيْسَ لَهُ فِي الْأَخْذ بقول بَعضهم اخْتِيَار شَهْوَة من غير دلَالَة وَالَّذِي قَالَ سُفْيَان الثَّوْريّ من أَنا نتهم رَأينَا لرأيهم أَن أَرَادَ الصَّحَابَة إِذا اتَّفقُوا على شَيْء أَو الْوَاحِد مِنْهُم إِذا انْفَرد بقوله وَلَا مُخَالف لَهُ نعلمهُ مِنْهُم فَكَمَا قَالَ وَإِن أَرَادَ التَّابِعين إِذا اتَّفقُوا على شَيْء فَكَمَا قَالَ وَأَن أَرَادَ الْوَاحِد مِنْهُم إِذا انْفَرد بقوله لامخالف لَهُ نعلمهُ مِنْهُم فقد قَالَ كَذَلِك بعض أَصْحَابنَا وَأَن اخْتلفُوا فَلَا بُد من الِاجْتِهَاد وَفِي اخْتِيَار أصح أَقْوَالهم وَبِاللَّهِ التَّوْفِيق

وَأخْبرنَا أَبُو عبد الله الْحَافِظ قَالَ سَمِعت أَبَا زَكَرِيَّا الْعَنْبَري يَقُول سَمِعت أَبَا الْوَلِيد وَحدث بِحَدِيث مَرْفُوع عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقيل لَهُ مَا رَأْيك فَقَالَ لَيْسَ لي مَعَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم رَأْي وَقَالَ يحيى بن آدم لَا تحْتَاج مَعَ قَول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِلَى قَول أحد وَإِنَّمَا يُقَال سنة النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَأبي بكر وَعمر رضي الله عنهما ليعلم أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم مَاتَ وَهُوَ عَلَيْهَا

أَقُول وعَلى هَذَا يَنْبَغِي أَن يحمل حَدِيث عَلَيْكُم بِسنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين من بعدِي فَلَا يبْقى فِيهِ إِشْكَال فِي الْعَطف فَلَيْسَ للخلفاء سنة تتبع إِلَّا مَا كَانَ عَلَيْهِ الرَّسُول صلى الله عليه وسلم وَعَن مُجَاهِد لَيْسَ أحد إِلَّا يُؤْخَذ من قَوْله وَيتْرك من قَوْله إِلَّا النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَرُوِيَ مَعْنَاهُ عَن الشّعبِيّ وَعَن الشّعبِيّ أَنه قَالَ مَا حدثوك عَن أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَخذ بِهِ وَمَا قَالُوا فِيهِ برأيهم قبل عَلَيْهِ قَالَ أَبُو عمر يُرِيد بِهِ الرَّأْي الْمُخَالف للأثر

بَاب معرفَة أصُول الْعلم وَحَقِيقَته وَمَا الَّذِي يَقع عَلَيْهِ اسْم الْفِقْه وَالْعلم مُطلقًا

 

أخرج ابْن عبد البر بِسَنَد فِيهِ عبد الرحمن بن زِيَاد الأفريقي عَن عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ الْعلم ثَلَاثَة فَمَا سوى ذَلِك فضل آيَة محكمَة وَسنة قَائِمَة وفريضة عادلة قلت وَأخرجه أَبُو دَاوُد وَابْن ماجة وَالْحَاكِم وَفِي إِسْنَاده عبد الرحمن بن رَافع وَفِيهِمَا مقَال قَالَ ابْن عبد البر وَالسّنة الْقَائِمَة الدائمة المحافظ عَلَيْهَا الْقيام إسنادها وَالْفَرِيضَة العادلة المساوية لِلْقُرْآنِ فِي وجوب الْعلم بهَا وَفِي كَونهَا صدقا وصوابا وَعَن عبد الله بن عمر بن الْخطاب الْعلم ثَلَاثَة أَشْيَاء كتاب نَاطِق وَسنة مَاضِيَة وَلَا أَدْرِي قلت وَأخرجه الديلمي فِي مُسْند الفردوس مَوْقُوفا وَأَبُو نعيم وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط والخطيب فِي رُوَاة مَالك وَالدَّارَقُطْنِيّ فِي غرائب مَالك مَوْقُوفا قَالَ الْحَافِظ بن حجر الْمَوْقُوف حسن الْإِسْنَاد وَقَالَ أَبُو عمر وَعَن ابْن عَبَّاس عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّمَا الْأُمُور ثَلَاثَة
যা আমরা জানি না তা আমরা তার প্রাজ্ঞ জাননেওয়ালার নিকট সোপর্দ করি এবং আমাদের নিজেদের অভিমতকে তাদের (পূর্ববর্তীদের) অভিমতের বিপরীতে ত্রুটিপূর্ণ সাব্যস্ত করি।

শায়খ আহমদ আল-বায়হাকী বলেন: আমরা সাহাবায়ে কিরাম (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর বিষয়ে উল্লেখ করেছি যে, যখন তারা মতভেদ করেন তখন কীভাবে একজনের মতকে অন্যজনের মতের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে এবং কিসের ভিত্তিতে প্রাধান্য দেওয়া হবে। কোনো দলিল ছাড়া কেবল প্রবৃত্তির তাড়নায় তাদের কোনো একজনের মত গ্রহণ করার ইখতিয়ার বা সুযোগ কারো নেই। আর সুফিয়ান সাওরী যে বলেছেন, 'আমরা আমাদের অভিমতকে তাদের অভিমতের বিপরীতে ত্রুটিপূর্ণ মনে করি', এর দ্বারা তিনি যদি সাহাবায়ে কিরামকে বুঝিয়ে থাকেন যে—যখন তারা কোনো বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন অথবা তাদের কেউ কোনো বিষয়ে একক মত প্রদান করেন এবং আমাদের জানামতে তাদের মধ্যে এর কোনো বিরোধিতাকারী না থাকে—তবে বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন। আর যদি তিনি তাবিঈদের বুঝিয়ে থাকেন যে যখন তারা কোনো বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন, তবে তা-ও তেমনই। আর যদি তিনি তাবিঈদের মধ্যে কোনো একজনের একক মত বুঝিয়ে থাকেন যার কোনো বিরোধিতাকারী আমাদের জানা নেই, তবে আমাদের কোনো কোনো বিজ্ঞ সাথী এমনটিই বলেছেন। আর যদি তারা মতভেদ করেন, তবে অবশ্যই ইজতিহাদ করতে হবে এবং তাদের মতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সঠিকটি বেছে নিতে হবে। আর আল্লাহর কাছেই তাওফীক প্রার্থনা করছি।

আমাদেরকে আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিয সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু যাকারিয়া আল-আনবারীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি আবুল ওয়ালিদকে বলতে শুনেছি যে, তিনি নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর একটি মারফু হাদিস বর্ণনা করলেন। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'এ বিষয়ে আপনার রায় বা মতামত কী?' তিনি বললেন, 'আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর বাণীর উপস্থিতিতে আমার কোনো রায় নেই।' ইয়াহিয়া ইবনে আদম বলেন, 'আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর বাণীর উপস্থিতিতে অন্য কারো কথার প্রয়োজন নেই। বরং নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক), আবু বকর ও ওমর (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর সুন্নাহর কথা একারণে উল্লেখ করা হয় যাতে জানা যায় যে নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এই আদর্শের ওপর থেকেই ইন্তেকাল করেছেন।'

আমি বলছি: এই অর্থেই হাদিসটি গ্রহণ করা উচিত যেখানে বলা হয়েছে, 'তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো।' ফলে খুলাফায়ে রাশেদীনকে নবীজির সুন্নাহর সাথে যুক্ত করার ক্ষেত্রে আর কোনো অস্পষ্টতা থাকে না। কারণ খুলাফায়ে রাশেদীনের এমন কোনো স্বতন্ত্র সুন্নাহ নেই যা অনুসরণীয় হবে, কেবল তা-ই অনুসরণীয় যা রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর আদর্শের অনুকূল ছিল। মুজাহিদ থেকে বর্ণিত: নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ব্যতীত এমন কোনো ব্যক্তি নেই যার সব কথা গ্রহণ করা হবে এবং কিছু কথা বর্জন করা যাবে না। ইমাম শাবী থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইমাম শাবী আরও বলেন, 'রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সাহাবীগণের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট যা হাদিস হিসেবে বর্ণনা করা হয় তা গ্রহণ করো, আর তারা নিজেদের রায়ের ভিত্তিতে যা বলেন তা ছুড়ে ফেলো।' আবু ওমর বলেন, এর দ্বারা তিনি সেই রায় বা অভিমত বুঝিয়েছেন যা বর্ণিত দলিলের পরিপন্থী।

অনুচ্ছেদ: ইলমের মূলনীতি ও এর হাকিকত এবং সাধারণভাবে ফিকহ ও ইলম শব্দ দুটি কিসের ওপর প্রযোজ্য হয় তার পরিচিতি।

 

ইবনে আব্দুল বার এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ আল-আফরিকী রয়েছেন, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: 'ইলম হলো তিনটি, আর এর অতিরিক্ত যা আছে তা কেবল অতিরিক্ত ফযিলত; তা হলো: সুষ্পষ্ট আয়াত, প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ এবং ইনসাফপূর্ণ ফরয বিধান।' আমি বলছি: আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে আব্দুর রহমান বিন রাফি রয়েছেন; তাদের উভয়ের ব্যাপারে বর্ণনাকারী হিসেবে আপত্তি রয়েছে। ইবনে আব্দুল বার বলেন: 'প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ' হলো সেই স্থায়ী সুন্নাহ যা সংরক্ষিত এবং যার সনদ সুপ্রতিষ্ঠিত। আর 'ইনসাফপূর্ণ ফরয' হলো যা ইলম অর্জন ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে এবং সত্য ও সঠিক হওয়ার ক্ষেত্রে কুরআনের সমমর্যাদাপূর্ণ। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত: ইলম হলো তিনটি জিনিস—বলিষ্ঠ কিতাব, অতীত হয়ে যাওয়া সুন্নাহ এবং 'আমি জানি না' বলা। আমি বলছি: দায়লামী 'মুসনাদুল ফিরদাউস'-এ এটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও আবু নুআইম, তাবারানী (আল-আওসাত-এ), খতীব বাগদাদী (মালিকের বর্ণনাকারীদের আলোচনায়) এবং দারাকুতনী (মালিকের বিরল বর্ণনাগুলোর আলোচনায়) এটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হাফেয ইবনে হাজার বলেন: মাওকুফ বর্ণনাটির সনদ হাসান। আবু ওমর বলেন: ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: 'নিশ্চয়ই বিষয়াদি হলো তিনটি...'
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ২৪)
أَمر تبين لَك رشده فَاتبعهُ وَأمر تبين لَك زيغه فاجتنبه وَأمر اخْتلف فِيهِ فكله إِلَى عالمه وَأخرج بِسَنَدِهِ عَن كثير بن عبد الله بن عَمْرو بن عَوْف عَن أَبِيه عَن جده قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تركت فِيكُم أَمريْن لن تضلوا مَا تمسكتم بهما كتاب الله وَسنة نبيه صلى الله عليه وسلم

وَقَالَ أَبُو عمر أَيْضا وَفِي كتاب عمر بن عبد العزيز إِلَى عُرْوَة كتبت إِلَيّ تَسْأَلنِي عَن الْقَضَاء بَين النَّاس وَأَن رَأس الْقَضَاء اتِّبَاع مَا فِي كتاب الله ثمَّ الْقَضَاء بِسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ثمَّ بِحكم أَئِمَّة الْهَدْي ثمَّ استشارة ذَوي الْعلم والرأي وَذكر ابْن أبي عمر عَن سُفْيَان بن عُيَيْنَة قَالَ كَانَ ابْن شبْرمَة يَقُول … مَا فِي الْقَضَاء شَفَاعَة لمخاصم … عِنْد اللبيب وَلَا الْفَقِيه الْعَالم

هون عَليّ إِذا قضيت بِسنة … أَو بِالْكتاب برغم أنف الراغم

وقضيت فِيمَا لم 2 أجد أثرا بِهِ … ببصائر مَعْرُوفَة ومعالم …

وَعَن ابْن وهب قَالَ قَالَ مَالك الحكم حكمان حكم جَاءَ بِهِ كتاب الله وَحكم أحكمته السّنة قَالَ ومجتهد رَأْيه فَلَعَلَّهُ يوفق قَالَ ومتكلف فطعن عَلَيْهِ وَأخرج بِسَنَدِهِ إِلَى ابْن وهب قَالَ قَالَ لي مَالك الحكم الَّذِي يحكم بِهِ بَين النَّاس حكمان مَا فِي كتاب الله أَو أحكمته السّنة فَذَلِك الحكم الْوَاجِب وَذَلِكَ الصَّوَاب وَالْحكم الَّذِي يجْتَهد فِيهِ الْعَالم رَأْيه فَلَعَلَّهُ يوفق وثالث متكلف فَمَا أحراه أَلا يوفق قَالَ وَقَالَ مَالك الْحِكْمَة وَالْعلم نور يهدي بِهِ الله من يَشَاء وَلَيْسَ بِكَثْرَة الْمسَائِل وَقَالَ فِي مَوضِع آخر من ذَلِك الْكتاب سَمِعت مَالِكًا يَقُول لَيْسَ الْفِقْه بِكَثْرَة الْمسَائِل وَلَكِن الْفِقْه يؤتيه الله من يَشَاء من خلقه وَقَالَ ابْن وضاح وَسُئِلَ سَحْنُون أيسع الْعَالم أَن يَقُول لَا أَدْرِي فِيمَا يدْرِي فَقَالَ أما مَا فِيهِ كتاب قَائِم أَو سنة ثَابِتَة فَلَا يَسعهُ ذَلِك وَأما كَانَ من هَذَا الرَّأْي فَإِنَّهُ يَسعهُ ذَلِك لِأَنَّهُ لَا يدْرِي أمصيب هُوَ أم مُخطئ

وَذكر ابْن وهب فِي كتاب الْعلم من جَامعه قَالَ سَمِعت مَالِكًا يَقُول إِن الْعلم لَيْسَ بِكَثْرَة الرِّوَايَة وَلكنه نور يَجعله الله تَعَالَى فِي الْقُلُوب وَقَالَ فِي مَوضِع آخر من ذَلِك الْكتاب وَقَالَ مَالك الْعلم وَالْحكمَة نور يهدي بِهِ الله من يَشَاء وَلَيْسَ بِكَثْرَة الْمسَائِل

قَالَ أَبُو عمر وَأخْبرنَا إِبْرَاهِيم بن شَاكر قَالَ ثَنَا مُحَمَّد بن يحيى بن عبد العزيز ثَنَا أسلم بن عبد العزيز قَالَ ثَنَا الْمُزنِيّ وَالربيع بن سُلَيْمَان قَالَا قَالَ الشَّافِعِي لَيْسَ لأحد أَن يَقُول فِي شَيْء حَلَال وَلَا حرَام إِلَّا من جِهَة الْعلم وجهة الْعلم مَا نَص فِي الْكتاب أَو فِي السّنة أَو فِي الْإِجْمَاع أَو الْقيَاس على هَذِه الْأُصُول وَمَا فِي مَعْنَاهَا قَالَ أَبُو عمر أما الْإِجْمَاع فمأخوذ من قَول الله تَعَالَى {وَيتبع غير سَبِيل الْمُؤمنِينَ} لِأَن الِاخْتِلَاف لَا يَصح مَعَه هَذَا الظَّاهِر وَقَول النَّبِي صلى الله عليه وسلم لَا تَجْتَمِع أمتِي على ضَلَالَة وَعِنْدِي أَن إِجْمَاع الصَّحَابَة لَا يجوز خلافهم وَالله تَعَالَى أعلم لِأَنَّهُ لَا يجوز على جَمِيعهم جهل التَّأْوِيل وَفِي قَوْله تَعَالَى {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أمة وسطا لِتَكُونُوا شُهَدَاء على النَّاس}
যে বিষয়ের সঠিক পথ আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে তা অনুসরণ করুন, আর যে বিষয়ের ভ্রষ্টতা আপনার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে তা বর্জন করুন, আর যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে তা তার জ্ঞানীর কাছে সোপর্দ করুন। তিনি তাঁর সনদে কাসীর ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আউফ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি তোমাদের মাঝে দুটি বিষয় রেখে যাচ্ছি, তোমরা যতক্ষণ তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে ততক্ষণ পথভ্রষ্ট হবে না; আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ।"

আবু উমর আরও বলেন, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ উরওয়ার নিকট প্রেরিত পত্রে লিখেছিলেন: "তুমি মানুষের মাঝে বিচারকার্য সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছ; জেনে রেখো, বিচারকার্যের প্রধান ভিত্তি হলো আল্লাহর কিতাবে যা আছে তা অনুসরণ করা, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী ফয়সালা করা, এরপর হিদায়েতপ্রাপ্ত ইমামদের ফয়সালা অনুসরণ করা, অতঃপর বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করা।" ইবনে আবি উমর সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনা থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে শুবরুমা বলতেন … বুদ্ধিমান বা ফকীহ আলেমের নিকট বিচারকার্যে বিবাদীর জন্য কোনো সুপারিশ চলে না …

যখন আমি সুন্নাহর ভিত্তিতে ফয়সালা করি … অথবা কিতাবের ভিত্তিতে, তখন বিরুদ্ধাচরণকারীর নাক ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়াটা আমার কাছে সহজ মনে হয়।

আর যে বিষয়ে আমি কোনো বর্ণনা (আসার) পাইনি … সেখানে সুপরিচিত অন্তর্দৃষ্টি ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করেছি …

ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইমাম মালিক বলেছেন: "হুকুম (বিধান) দুই প্রকার; আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত বিধান এবং সুন্নাহ কর্তৃক সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান।" তিনি বলেন: "আর মুজতাহিদ তার মতের মাধ্যমে চেষ্টা করেন, সম্ভবত তিনি সঠিক পথের তাওফিক পান।" তিনি আরও বলেন: "আর যে ব্যক্তি অনধিকার চর্চা করে, তার নিন্দা করা হয়েছে।" তিনি ইবনে ওয়াহাবের কাছে তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইমাম মালিক আমাকে বলেছেন: "মানুষের মাঝে যে বিচার করা হয় তা দুই ধরনের; যা আল্লাহর কিতাবে আছে অথবা যা সুন্নাহ সুসংহত করেছে, সেটিই হলো অপরিহার্য বিধান এবং সঠিক। আর যে বিধান আলেম তাঁর গবেষণালব্ধ মতের ভিত্তিতে প্রদান করেন, তাতে হয়তো তিনি তাওফিক পান। আর তৃতীয়জন হলো অনধিকার চর্চাকারী, সে তাওফিক না পাওয়ারই যোগ্য।" তিনি বলেন, ইমাম মালিক আরও বলেছেন: "হিকমত এবং ইলম হলো একটি নূর, যার মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়েত দান করেন; এটি অধিক মাসআলা জানার নাম নয়।" তিনি সেই কিতাবের অন্য স্থানে বলেছেন: "আমি ইমাম মালিককে বলতে শুনেছি, ফিকহ অধিক মাসআলা জানার নাম নয়, বরং ফিকহ হলো এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির মধ্যে যাকে ইচ্ছা দান করেন।" ইবনে ওয়াদদাহ বলেন, সাহনুনকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "একজন আলেম কি এমন বিষয়ে 'আমি জানি না' বলতে পারেন যা তিনি জানেন?" তিনি উত্তর দিলেন: "যে বিষয়ে সুস্পষ্ট কিতাব বা প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ রয়েছে, সে ক্ষেত্রে তাঁর জন্য তা বলা বৈধ নয়। তবে যা ইজতিহাদী রায়ের অন্তর্ভুক্ত, সেখানে তিনি তা বলতে পারেন; কারণ তিনি জানেন না যে তিনি সঠিক নাকি ভুল।"

ইবনে ওয়াহাব তাঁর সংকলিত 'কিতাবুল ইলম'-এ উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: "আমি ইমাম মালিককে বলতে শুনেছি, ইলম কেবল অধিক বর্ণনার নাম নয়, বরং এটি একটি নূর যা আল্লাহ তাআলা অন্তরে স্থাপন করেন।" তিনি সেই কিতাবের অন্য স্থানে আরও বলেন: "ইমাম মালিক বলেছেন, ইলম এবং হিকমত হলো একটি নূর যার মাধ্যমে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়েত দান করেন; এটি অধিক মাসআলা জানার নাম নয়।"

আবু উমর বলেন, আমাদের খবর দিয়েছেন ইবরাহিম ইবনে শাকির, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল আজিজ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আসলাম ইবনে আব্দুল আজিজ, তিনি বলেন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আল-মুযানী ও আর-রাবী ইবনে সুলাইমান, তাঁরা দুজনেই বলেন: ইমাম শাফেয়ী বলেছেন, "কারও পক্ষে কোনো কিছুকে হালাল বা হারাম বলার অধিকার নেই ইলমের ভিত্তি ছাড়া। আর ইলমের ভিত্তি হলো আল্লাহর কিতাব বা সুন্নাহ অথবা ইজমা কিংবা এই মূলনীতিগুলোর আলোকে কিয়াস এবং এর সমপর্যায়ের উৎসগুলোতে যা বর্ণিত হয়েছে।" আবু উমর বলেন: আর ইজমার বিষয়টি আল্লাহ তাআলার বাণী—"এবং মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথ অনুসরণ করে"—থেকে গৃহীত। কারণ, যেখানে মতভেদ থাকে, সেখানে এই আয়াতের প্রকাশ্য অর্থ প্রযোজ্য হয় না। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমার উম্মত কখনও ভ্রষ্টতার ওপর একমত হবে না।" আমার মতে, সাহাবায়ে কেরামের ইজমার বিরোধিতা করা জায়েজ নয়—এবং আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ—কারণ তাঁদের সকলের পক্ষে ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অজ্ঞ থাকা অসম্ভব। আর আল্লাহ তাআলার বাণী: "এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছি, যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পারো।"
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ২৫)
دَلِيل على أَن جَمَاعَتهمْ إِذا أَجمعُوا حجَّة على من خالفهم كَمَا أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حجَّة على جَمِيعهم قلت بل أَدِلَّة الْإِجْمَاع من الْكتاب وَالسّنة كَثِيرَة

وَأخرج البُخَارِيّ فِي صَحِيحه وَأَبُو عمر وَاللَّفْظ لَهُ بِسَنَدَيْهِمَا إِلَى أبي هُرَيْرَة أَنه قَالَ يَا رَسُول الله من أسعد النَّاس بشفاعتك يَوْم الْقِيَامَة قَالَ لقد ظَنَنْت يَا أَبَا هُرَيْرَة أَنه لَا يسألني عَن هَذَا الحَدِيث أحد أول مِنْك لما رايت من حرصك على الحَدِيث أَن أسعد النَّاس بشفاعتي يَوْم الْقِيَامَة من قَالَ لَا إِلَه إِلَّا الله خَالِصا من قبل نَفسه وَأخرج ابْن عبد البر بِسَنَد رِجَاله ثِقَات عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ سَأَلت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَاذَا رد إِلَيْك رَبك فِي الشَّفَاعَة فَقَالَ وَالَّذِي نفس مُحَمَّد بِيَدِهِ لقد ظَنَنْت أَنَّك أول من يسألني عَن ذَلِك لما رَأَيْت من حرصك على الْعلم وَذكر الحَدِيث

قَالَ أَبُو عمر فِي الْخَبَر الأول لما رَأَيْت من حرصك على الحَدِيث وَفِي هَذَا لما رَأَيْت من حرصك على الْعلم فَسُمي الحَدِيث علما على الْإِطْلَاق وَمثل ذَلِك قَوْله ص نضر الله عبدا سمع مَقَالَتي فوعاها ثمَّ بلغَهَا غَيره فَرب حَامِل فقه غير فَقِيه وَرب حَامِل فقه إِلَى من هُوَ أفقه مِنْهُ فَسُمي الحَدِيث فقها مُطلقًا وعَلى ذَلِك قَوْله ص لعبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ إِذْ أذن لَهُ أَن يكْتب حَدِيثه قيد الْعلم فَقَالَ يَا رَسُول الله وَمَا تَقْيِيد الْعلم قَالَ الْكتاب فَأطلق على حَدِيثه اسْم الْعلم لمن تدبره وفهمه وَأخرج بِسَنَد رِجَاله رجال الصَّحِيح عَن أبي بن كَعْب قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَبَا الْمُنْذر أَي آيَة مَعَك فِي كتاب الله أعظم مرَّتَيْنِ قَالَ قلت الله لَا إِلَه إِلَّا هُوَ الْحَيّ القيوم قَالَ فَضرب فِي صَدْرِي وَقَالَ لِيَهنك الْعلم أَبَا الْمُنْذر وَذكر تَمام الحَدِيث وَأخرج بِسَنَد رِجَاله ثِقَات عَن دَاوُد بن أبي عَاصِم أَن أَبَا سَلمَة بن عبد الرحمن قَالَ بَينا أَنا وَأَبُو هُرَيْرَة عِنْد ابْن عَبَّاس جَاءَت امْرَأَة فَقَالَت توفى عَنْهَا زَوجهَا وَهِي حَامِل فَذكرت أَنَّهَا وضعت لأدنى من أَرْبَعَة أشهر من يَوْم مَاتَ عَنْهَا زَوجهَا فَقَالَ ابْن عَبَّاس أَنْت لآخر الْأَجَليْنِ قَالَ أَبُو سَلمَة فَقلت إِن عِنْدِي من هَذَا علما وَذكر حَدِيث سبيعة الأسْلَمِيَّة وروى مَالك عَن مُحَمَّد ابْن شهَاب عَن عبد الحميد بن عبد الرحمن عَن عبد الله بن عبد الله بن الْحَرْث عَن ابْن عَبَّاس أَن عمر بن الْخطاب حِين خرج إِلَى الشَّام فَأخْبر أَن الوباء قد وَقع فِيهَا وَاخْتلف عَلَيْهِ أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم جَاءَ عبد الرحمن بن عَوْف فَقَالَ إِن عِنْدِي من هَذَا علما سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول إِذا سَمِعْتُمْ بِهِ بِأَرْض وَذكر الحَدِيث

قلت فَهَذِهِ الْأَحَادِيث والْآثَار مصرحة بِأَن اسْم الْعلم إِنَّمَا يُطلق على مَا فِي كتاب الله وَسنة رَسُول
এটি এর প্রমাণ যে তাদের জামাত (দল) যখন কোনো বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করে, তখন তা বিরোধীদের বিরুদ্ধে একটি দলিল বা প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়; ঠিক যেমন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের সকলের জন্য প্রমাণ। আমি বলি, বরং কিতাব ও সুন্নাহ থেকে ইজমার (ঐক্যমতের) দলিল অনেক।

ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং আবু উমর (শব্দাবলি তাঁর) স্বীয় সনদে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আপনার শাফাআতের মাধ্যমে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি কে হবে? তিনি বললেন: হে আবু হুরায়রা! আমি ধারণা করেছিলাম যে, তোমার আগে আর কেউ আমাকে এই হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে না, কারণ আমি হাদীসের প্রতি তোমার যে গভীর আগ্রহ দেখেছি। কিয়ামতের দিন আমার শাফাআতের মাধ্যমে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ব্যক্তি সেই হবে, যে স্বীয় অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে বলবে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। এবং ইবন আবদিল বার নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সনদে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার প্রতিপালক শাফাআতের ব্যাপারে আপনাকে কী জবাব দিয়েছেন? তিনি বললেন: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে, আমি ধারণা করেছিলাম যে, তুমিই প্রথম ব্যক্তি যে আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবে, যেহেতু আমি ইলমের প্রতি তোমার গভীর আগ্রহ দেখেছি—অতঃপর তিনি হাদীসটি উল্লেখ করলেন।

আবু উমর বলেন: প্রথম বর্ণনায় রয়েছে "হাদীসের প্রতি তোমার আগ্রহের কারণে" এবং এতে রয়েছে "ইলমের প্রতি তোমার আগ্রহের কারণে"। সুতরাং হাদীসকে নিরঙ্কুশভাবে ইলম বা জ্ঞান বলে অভিহিত করা হয়েছে। অনুরূপভাবে তাঁর (সা.) বাণী: "আল্লাহ সেই বান্দাকে সজীব রাখুন যে আমার কথা শুনল, তা ধারণ করল এবং অন্যের নিকট পৌঁছে দিল। অনেক ফিকহ (জ্ঞানের বিষয়) বহনকারী নিজে ফকীহ নন, আবার অনেক ফিকহ বহনকারী এমন ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছে দেন যিনি তার চেয়ে অধিকতর ফকীহ।" এখানে হাদীসকে নিরঙ্কুশভাবে 'ফিকহ' (গভীর জ্ঞান) বলা হয়েছে। এবং এরই ওপর ভিত্তি করে আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রা.)-কে তাঁর হাদীস লেখার অনুমতি দেওয়ার সময় তিনি (সা.) বলেছিলেন: "ইলমকে লিপিবদ্ধ করো।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ইলম লিপিবদ্ধ করা কী? তিনি বললেন: "লিখনী।" সুতরাং যে ব্যক্তি তা নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করবে তার জন্য তিনি তাঁর হাদীসের ওপর 'ইলম' শব্দটি প্রয়োগ করেছেন। এবং সহীহ হাদীসের বর্ণনাকারীদের সনদে উবাই ইবন কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে আবুল মুনযির! তোমার কাছে আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মহান? (তিনি দুইবার এটি বললেন)। তিনি (উবাই) বলেন: আমি বললাম, আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক। তখন তিনি আমার বুকে আঘাত করলেন এবং বললেন: হে আবুল মুনযির! তোমার জন্য ইলম আনন্দদায়ক হোক। এবং পূর্ণ হাদীসটি উল্লেখ করলেন। এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সনদে দাউদ ইবন আবি আসিম থেকে বর্ণিত যে, আবু সালামাহ ইবন আবদুর রহমান বলেছেন: আমি এবং আবু হুরায়রা যখন ইবন আব্বাসের কাছে ছিলাম, তখন এক মহিলা এসে বললেন যে তার স্বামী মারা গেছে এবং তিনি গর্ভবতী। তিনি উল্লেখ করলেন যে, স্বামী মারা যাওয়ার চার মাসের কম সময়ের মধ্যেই তিনি সন্তান প্রসব করেছেন। ইবন আব্বাস (রা.) বললেন: তোমাকে দুই মেয়াদের মধ্যে যেটি দীর্ঘতর তা পালন করতে হবে। আবু সালামাহ বলেন: আমি বললাম, এ বিষয়ে আমার কাছে 'ইলম' রয়েছে। অতঃপর তিনি সুবাইআহ আল-আসলামিয়্যাহর হাদীসটি উল্লেখ করলেন। এবং ইমাম মালিক মুহাম্মদ ইবন শিহাব থেকে, তিনি আব্দুল হামীদ ইবন আবদুর রহমান থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব যখন সিরিয়ার উদ্দেশ্যে বের হলেন, তখন তাঁকে জানানো হলো যে সেখানে মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে আল্লাহর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হলো। তখন আবদুর রহমান ইবন আউফ (রা.) এসে বললেন: এ বিষয়ে আমার কাছে 'ইলম' রয়েছে, আমি আল্লাহর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতে শুনেছি: "যখন তোমরা কোনো ভূখণ্ডে এর (মহামারীর) কথা শুনবে..." এবং পূর্ণ হাদীসটি উল্লেখ করলেন।

আমি বলি, এই হাদীস এবং আছারসমূহ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করছে যে, 'ইলম' বা জ্ঞান নামটি কেবল আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহর মধ্যে যা রয়েছে তার ওপরই প্রয়োগ করা হয়।
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ২৬)
الله صلى الله عليه وسلم وَالْإِجْمَاع أَو مَا قيس على هَذِه الْأُصُول عِنْد فقد نَص على ذَلِك عِنْد من يرى ذَلِك لَا على مَا لهج بِهِ أهل التَّقْلِيد والعصبية من حصرهم الْعلم على مَا دون من كتب الرَّأْي المذهبية مَعَ مصادمة بعض ذَلِك لنصوص الْأَحَادِيث النَّبَوِيَّة

وَقد قَالَ الشّعبِيّ وَمَا قَالُوا فِيهِ برأيهم فَبل عَلَيْهِ وَهَذَا فِي عصر التَّابِعين الَّذين شهد لَهُم سيد الْمُرْسلين ص بالخيرية فَمَا بالك بِرَأْي أهل الْقرن الثَّالِث عشر الَّذين جعلُوا دينهم الحمية والعصبية وانحصروا على طوائف فطائفة مِنْهُم خليليون ادعوا أَن جَمِيع مَا أنزل على مُحَمَّد ص مَحْصُور فِي مُخْتَصر خَلِيل ونزلوه منزلَة كتاب الله الْعَزِيز الْجَلِيل فصاروا يتبعُون مَفْهُومه ومنطوقه وكل دَقِيق فِيهِ وجليل وَطَائِفَة مِنْهُم كنزيون أَو دريون ادعوا أَن مَا فِي هذَيْن الْكِتَابَيْنِ هُوَ الْعلم وأنهما معصومان من الْخَطَأ وَالوهم فَإِن شَذَّ شَيْء عَن هذَيْن من علم فالعمدة على مَا فِي الأسعدية والخيرية وَمَا فِي هَذِه الْكتب عِنْد عُلَمَائهمْ مقدم فِي الْعَمَل عل مَا نزل بِهِ جِبْرِيل على خير الْبَريَّة عَلَيْهِم الصَّلَوَات والتسليمات والبركات وعَلى من تَبِعَهُمْ وَطَائِفَة مِنْهُم منهجيون أَو منهاجيون فيحثون عَن منطوقهما ومفهومهما وَبِمَا فيهمَا يتعبدون فَإنَّا لله وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُون

وَقد قَالَ الله تَعَالَى {فَإِن تنازعتم فِي شَيْء فَردُّوهُ إِلَى الله وَالرَّسُول} قَالَ عَطاء بن أبي رَبَاح إِلَى الله إِلَى كتاب الله وَالرَّسُول إِلَى سنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَعَن مَيْمُون بن مهْرَان أَنه قَالَ إِلَى الله إِلَى كتاب الله وَالرَّسُول قَالَ مَا دَامَ حَيا فَإِذا قبض فَإلَى سنته

وَأخرج ابْن عبد البر بِسَنَد رِجَاله ثِقَات عَن ابْن عون أَنه قَالَ ثَلَاث أخبئهن لي ولإخواني هَذَا الْقُرْآن يتدبره الرجل ويتفكر فِيهِ فيوشك أَن يَقع على علم لم يكن يُعلمهُ وَهَذِه السّنة يتطلبها وَيسْأل عَنْهَا ويذر النَّاس إِلَّا من خير قَالَ أَحْمد بن خَالِد هَذَا هُوَ الْحق الَّذِي لَا شكّ فِيهِ قَالَ وَكَانَ ابْن وضاح يُعجبهُ هَذَا الْخَبَر وَيَقُول جيد جيد وَقَالَ يحيى بن أَكْثَم لَيْسَ من الْعُلُوم كلهَا علم هُوَ أوجب على الْعلمَاء وعَلى المتعلمين وعَلى كَافَّة الْمُسلمين من علم نَاسخ الْقُرْآن ومنسوخه لِأَن الْإِيمَان بناسخه وَاجِب فرضا وَالْعَمَل بِهِ لَازم وَاجِب ديانَة والمنسوخ لَا يعْمل بِهِ وَلَا ينتهى إِلَيْهِ فَالْوَاجِب على كل عَالم علم ذَلِك لِئَلَّا يُوجب على نَفسه وعَلى عباد الله أمرا لم يُوجِبهُ الله أَو يضع عَنْهُم فرضا أوجبه الله وَعَن عَطاء فِي قَوْله عز وجل {أطِيعُوا الله وَأَطيعُوا الرَّسُول} قَالَ طَاعَة الله وَرَسُوله اتِّبَاع الْكتاب وَالسّنة وَأولى الْأُمَم مِنْكُم قَالَ أولُوا الْعلم وَالْفِقْه
আল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), ইজমা এবং যে সকল বিষয় এই মূলনীতিগুলোর ওপর কিয়াস বা অনুমান করা হয়েছে যখন কোনো অকাট্য নস বা দলীল বিদ্যমান থাকে না—সে সব ব্যক্তির নিকট যারা এটি বৈধ মনে করেন। এটি সে সব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে নয় যার প্রতি অন্ধ অনুসারী এবং গোঁড়া ব্যক্তিরা আসক্ত, যারা ইলম বা জ্ঞানকে মযহাবী রায়ের কিতাবসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে, অথচ এর কিছু বিষয় নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসসমূহের স্পষ্ট নসের সাথে সাংঘর্ষিক।

ইমাম শাবী (রহ.) বলেছেন: "তারা তাদের নিজস্ব মতামতের ভিত্তিতে যা বলেছে, তার ওপর প্রস্রাব করে দাও।" আর এটি ছিল তাবেয়ীদের যুগে, যাদের শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিয়েছেন। তাহলে ত্রয়োদশ শতাব্দীর সেই লোকদের মতামতের ব্যাপারে তোমার কী ধারণা, যারা তাদের দ্বীনকে গোঁড়ামি ও পক্ষপাতিত্বে পরিণত করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে? তাদের একদল হচ্ছে ‘খলীলী’, যারা দাবি করে যে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর যা কিছু অবতীর্ণ হয়েছে তা সবই ‘মুখতাসার খলীল’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং তারা একে আল্লাহর মহা পরাক্রমশালী ও সম্মানিত কিতাবের মর্যাদায় আসীন করেছে। ফলে তারা এর শব্দার্থ, মর্মার্থ এবং এর ছোট-বড় সকল বিষয়ের অনুসরণ করতে শুরু করেছে। তাদের অন্য একদল হচ্ছে ‘কানযী’ বা ‘দুররী’, যারা দাবি করে যে এই দুই কিতাবের মধ্যেই জ্ঞান নিহিত এবং তারা এই দুই কিতাবকে ভুল ও ভ্রান্তি থেকে মুক্ত মনে করে। যদি এই দুই কিতাবের বাইরে কোনো জ্ঞান থেকে থাকে, তবে তাদের আলেমদের নিকট আমলের ক্ষেত্রে ‘আসআদিয়াহ’ এবং ‘খায়রিয়াহ’ কিতাবের ওপর নির্ভর করাই মূল ভিত্তি; যা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানুষের ওপর যা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছিলেন তার চেয়েও অগ্রগণ্য—তাদের ওপর এবং তাদের অনুসারীদের ওপর শান্তি, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক। আর তাদের অন্য একদল হচ্ছে ‘মানহাজী’ বা ‘মিনহাজী’, যারা এই কিতাবদ্বয়ের শব্দার্থ ও ভাবার্থ নিয়ে চর্চা করে এবং যা কিছু তাতে আছে তা দিয়েই ইবাদত করে। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও}। আতা বিন আবি রাবাহ (রহ.) বলেছেন: "আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়া মানে আল্লাহর কিতাবের দিকে, আর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দেয়া মানে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহর দিকে।" মায়মুন বিন মাহরান (রহ.) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: "আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেয়া মানে আল্লাহর কিতাবের দিকে, আর রাসূলের ব্যাপারে তিনি বলেন—যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন; কিন্তু যখন তিনি ইন্তেকাল করেছেন, তখন তাঁর সুন্নাহর দিকে।"

ইবনে আব্দুল বার (রহ.) এমন এক সনদে যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, ইবনে আউন (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "তিনটি বিষয় আমি নিজের এবং আমার ভাইদের জন্য সঞ্চয় করে রেখেছি: এই কুরআন—ব্যক্তি এতে গভীরভাবে মনোনিবেশ করবে এবং তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করবে, ফলে অচিরেই সে এমন এক জ্ঞান লাভ করবে যা সে আগে জানত না। আর এই সুন্নাহ—সে তা তালাশ করবে এবং এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। আর মানুষকে বর্জন করবে, কেবল কল্যাণকর বিষয় ছাড়া।" আহমাদ বিন খালিদ বলেন: "এটিই হচ্ছে সেই সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই।" তিনি আরও বলেন যে, ইবনে ওয়াদ্দাহ এই বর্ণনাটি পছন্দ করতেন এবং বলতেন—"চমৎকার, চমৎকার!" ইয়াহইয়া বিন আকসাম বলেন: "আলেম, শিক্ষার্থী এবং সকল মুসলমানের ওপর কুরআনের নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিত) আয়াতসমূহের জ্ঞানের চেয়ে অধিক আবশ্যক কোনো জ্ঞান নেই। কারণ নাসিখ আয়াতের ওপর ঈমান আনা ফরয এবং ধর্মীয়ভাবে এর ওপর আমল করা ওয়াজিব। পক্ষান্তরে মানসুখ আয়াতের ওপর আমল করা হয় না এবং তা পালন করা হয় না। সুতরাং প্রত্যেক আলেমের জন্য এ বিষয়ে জ্ঞান রাখা আবশ্যক, যাতে তিনি নিজের ওপর এবং আল্লাহর বান্দাদের ওপর এমন কিছু আবশ্যক না করে দেন যা আল্লাহ আবশ্যক করেননি অথবা আল্লাহ যে ফরয বিধান দিয়েছেন তা তাদের থেকে তুলে না নেন।" আর মহান আল্লাহর বাণী {আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো}-এর ব্যাখ্যায় আতা (রহ.) বলেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য হলো কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ করা। আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বশীল)} বলতে তিনি ইলম ও ফিকহের অধিকারীদের বুঝিয়েছেন।"
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ২৭)
وَعَن مُجَاهِد أَيْضا أولي الْأَمر أهل الْفِقْه قلت وَتقدم أَن الْعلم الْفِقْه هُوَ مَا جَاءَ عَن الله تَعَالَى وَرَسُوله ص من الْقُرْآن وَالْأَحَادِيث وَمَا جَاءَ عَن أَصْحَابه من الْآثَار وَالْإِجْمَاع وَالْقِيَاس بِشَرْط عدم النَّص وَعَن بَقِيَّة بن الْوَلِيد قَالَ قَالَ لي الْأَوْزَاعِيّ يَا بَقِيَّة الْعلم مَا جَاءَ عَن أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم ومالم يَجِيء عَن أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم فَلَيْسَ بِعلم

وَقَالَ بَقِيَّة أَيْضا سَمِعت الْأَوْزَاعِيّ يَقُول الْعلم مَا جَاءَ عَن أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم ومالم يجِئ عَن أَصْحَاب مُحَمَّد ص فَلَيْسَ بِعلم وَعَن قَتَادَة فِي قَوْله عز وجل {وَيرى الَّذين أُوتُوا الْعلم الَّذِي أنزل إِلَيْك من رَبك هُوَ الْحق} قَالَ أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَقَالَ عمر بن عبد الواحد سَمِعت الْأَوْزَاعِيّ يحدث عَن ابْن الْمسيب أَنه سُئِلَ عَن شَيْء فَقَالَ اخْتلف فِيهِ أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَلَا رَأْي لي مَعَهم قَالَ ابْن وضاح هَذَا هُوَ الْحق قَالَ أَبُو عمر مَعْنَاهُ لَيْسَ لَهُ أَن يَأْتِي بقول يخالفهم بِهِ وَعَن مُجَاهِد أَنه قَالَ الْعلمَاء أَصْحَاب مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم وَعَن سعيد بن جُبَير أَنه قَالَ مالم يعرفهُ البدريون فَلَيْسَ من الدّين قَالَ طلق بن غَنَّام أَبْطَأَ حَفْص بن غياث فِي قَضِيَّة فَقلت لَهُ فَقَالَ إِنَّمَا هُوَ رَأْي لَيْسَ فِيهِ كتاب وَلَا سنة وَإِنَّمَا أحز فِي لحمي فَمَا عجلني قَالَ قَالَ أَبُو سُفْيَان الْحمير سَأَلت هشيما عَن تَفْسِير الْقُرْآن كَيفَ صَار فِيهِ اخْتِلَاف قَالَ قَالُوا برأيهم فَاخْتَلَفُوا وَقَالَ عَاصِم الْأَحول كَانَ ابْن سِيرِين إِذا سُئِلَ عَن شَيْء قَالَ لَيْسَ عِنْدِي فِيهِ إِلَّا رَأْي أَتَّهِمهُ فَيُقَال لَهُ قل فِيهِ على ذَلِك بِرَأْيِك فَيَقُول لَو أعلم أَن رَأْيِي يثبت لَقلت فِيهِ وَلَكِنِّي أَخَاف أَن أرى الْيَوْم رَأيا وَأرى غَدا غَيره فأحتاج أَن أتبع النَّاس فِي دُورهمْ وَعَن سَالم بن عبد الله بن عمر أَن رجلا سَأَلَهُ عَن شَيْء فَقَالَ لَهُ لم أسمع فِي هَذَا بِشَيْء فَقَالَ لَهُ الرجل إِنِّي أرْضى بِرَأْيِك فَقَالَ لَهُ سَالم لعَلي أَن أخْبرك برأيي ثمَّ تذْهب فَأرى بعْدك رَأيا غَيره فَلَا أجدك وَعَن عبد الله بن عمر أَنه كَانَ إِذا سُئِلَ عَن شَيْء لم يبلغهُ فِيهِ شَيْء قَالَ إِن شِئْتُم أَخْبَرتكُم بِالظَّنِّ

وَقَالَ أَبُو عمر بن عبد البر أخبرنَا عبد الرحمن بن يحيى حَدثنَا عَليّ بن مُحَمَّد ثَنَا أَحْمد بن سُلَيْمَان ثَنَا سَحْنُون ثَنَا ابْن وهب قَالَ سَمِعت خَالِد بن سُلَيْمَان الْحَضْرَمِيّ يَقُول سَمِعت دَرَّاجًا أَبَا السَّمْح يَقُول يَأْتِي على النَّاس زمَان يسمن الرجل رَاحِلَته حَتَّى يقْعد شحما ثمَّ يسير عَلَيْهَا فِي الْأَمْصَار حَتَّى تسير نقضا يلْتَمس من يفتيه بِسنة قد عمل بهَا فَلَا يجد إِلَّا من يفتيه بِالظَّنِّ

قلت وَلَقَد صدق أَبُو السَّمْح وَلَعَلَّه أَخذه من الحَدِيث الصَّحِيح عَن عبد الله بن عَمْرو قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول إِن الله لَا يقبض الْعلم انتزاعا ينتزعه من النَّاس وَلَكِن
মুজাহিদ থেকেও বর্ণিত আছে যে, ‘উলুল আমর’ হলেন ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ। আমি বলি, ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, ফিকহী জ্ঞান হলো তা-ই যা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কুরআন ও হাদীসের মাধ্যমে এসেছে এবং যা তাঁর সাহাবীগণ থেকে আছার (বর্ণনা), ইজমা এবং নস (সুস্পষ্ট প্রমাণ) না থাকার শর্তে কিয়াসের মাধ্যমে এসেছে। বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আওযাঈ আমাকে বলেছেন, ‘হে বাকিয়্যাহ! জ্ঞান হলো তা-ই যা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ থেকে এসেছে; আর যা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ থেকে আসেনি তা জ্ঞান নয়।’

বাকিয়্যাহ আরও বলেন, আমি আওযাঈকে বলতে শুনেছি, ‘জ্ঞান হলো তা-ই যা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ থেকে এসেছে; আর যা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ থেকে আসেনি তা জ্ঞান নয়।’ কাতাদাহ থেকে মহান আল্লাহর বাণী— “আর যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে তারা দেখে যে, আপনার রবের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তা-ই সত্য” (সূরা সাবা: ৬)—প্রসঙ্গে বর্ণিত, তিনি বলেন: তারা হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ। উমর বিন আব্দুল ওয়াহিদ বলেন, আমি আওযাঈকে ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, তাঁকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ মতভেদ করেছেন, আর তাঁদের সামনে আমার নিজস্ব কোনো মত নেই।’ ইবনে ওয়াদদাহ বলেন, এটিই সত্য। আবু উমর বলেন, এর অর্থ হলো সাহাবীদের বিরোধিতা করে কোনো কথা বলার অধিকার তাঁর নেই। মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আলেমগণ হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ।’ সাঈদ বিন জুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণ যা জানেন না, তা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ তালক বিন গান্নাম বলেন, হাফস বিন গিয়াছ একটি বিচারিক ফয়সালায় বিলম্ব করছিলেন। আমি তাঁকে এ বিষয়ে বললে তিনি বললেন, ‘এটি কেবল একটি রায় (ব্যক্তিগত অভিমত), এতে কোনো কিতাব (কুরআন) বা সুন্নাহ নেই। এটি কেবল আমার অন্তরে বিঁধছে, তাই আমি তাড়াহুড়ো করছি না।’ আবু সুফিয়ান আল-হিমইয়ার বলেন, আমি হুশাইমকে কুরআনের তাফসীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এতে মতভেদ কীভাবে সৃষ্টি হলো? তিনি বললেন, ‘তারা নিজেদের রায় (ব্যক্তিগত মতামত) অনুযায়ী কথা বলেছে, ফলে তারা মতভেদে জড়িয়েছে।’ আসিম আল-আহওয়াল বলেন, ইবনে সীরীনকে যখন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো, তিনি বলতেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কেবল ব্যক্তিগত অভিমত রয়েছে যাকে আমি নিজেই সন্দেহ করি (নির্ভরযোগ্য মনে করি না)।’ তাঁকে বলা হতো, ‘তবুও আপনি আপনার রায় অনুযায়ী কথা বলুন।’ তখন তিনি বলতেন, ‘আমি যদি জানতাম যে আমার রায় অপরিবর্তিত থাকবে, তবে আমি তা বলতাম। কিন্তু আমি ভয় পাই যে, আজ আমি একটি রায় দেব আর কাল ভিন্ন রায় দেব; তখন আমাকে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তা সংশোধন করতে হবে।’ সালেম বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি তাঁকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু শুনিনি।’ লোকটি তাঁকে বলল, ‘আমি আপনার রায়েই সন্তুষ্ট।’ তখন সালেম তাকে বললেন, ‘হয়তো আমি তোমাকে আমার রায় জানালাম, এরপর তুমি চলে গেলে আর আমি ভিন্ন রায় গ্রহণ করলাম, তখন তো তোমাকে আর খুঁজে পাব না।’ আব্দুল্লাহ বিন উমর থেকে বর্ণিত, তাঁকে যখন এমন কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হতো যে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো বর্ণনা পৌঁছেনি, তিনি বলতেন, ‘তোমরা চাইলে আমি তোমাদেরকে আমার ধারণা (অনুমান) দিয়ে জানাতে পারি।’

আবু উমর ইবনে আব্দুল বার বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুর রহমান বিন ইয়াহইয়া, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী বিন মুহাম্মাদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন সুলাইমান, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সাহনুন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনু ওয়াহাব; তিনি বলেন, আমি খালিদ বিন সুলাইমান আল-হাদরামিকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি দাররাজ আবুস সামহকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: ‘মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে যখন এক ব্যক্তি তার বাহনকে হৃষ্টপুষ্ট করবে এমনকি সেটি চর্বিতে ভরে যাবে, এরপর সেটির ওপর সওয়ার হয়ে বিভিন্ন জনপদে সফর করবে এমনকি বাহনটি ক্লান্ত-জীর্ণ হয়ে পড়বে, কেবল এমন কাউকে খোঁজার জন্য যে তাকে এমন কোনো সুন্নাহ অনুযায়ী ফতোয়া দেবে যা ইতিপূর্বে আমল করা হয়েছে; কিন্তু সে এমন কাউকেই পাবে না যে তাকে কেবল ধারণা (অনুমান) ব্যতীত ফতোয়া দেয়।’

আমি (গ্রন্থকার) বলি, আবুস সামহ সত্য বলেছেন। সম্ভবত তিনি এটি আব্দুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত সহীহ হাদীস থেকে গ্রহণ করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মানুষের মাঝ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে জ্ঞান তুলে নেবেন না, বরং...’
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ২৮)
يقبض الْعلم بِقَبض الْعلمَاء حَتَّى إِذا لم يتْرك عَالما اتخذ النَّاس رُءُوسًا جُهَّالًا فسئلوا فافتوا بِغَيْر علم فضلوا وأضلوا

وَقَالَ ابْن عبد البر قَرَأت على أَحْمد بن قَاسم أَن قَاسم بن أصبغ حَدثهمْ قَالَ حَدثنَا الْحَرْث ابْن أبي أُسَامَة ثَنَا يزِيد بن هَارُون ثَنَا مُحَمَّد بن عبد الله الْفَزارِيّ ثَنَا عبد الله بن زحر عَن عَليّ بن يزِيد عَن الْقَاسِم عَن أبي أُمَامَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن الله بَعَثَنِي رَحْمَة وَهدى للْعَالمين وَأَمرَنِي رَبِّي أَن أمحو المزامير وَالْمَعَازِف وَالْخمر والأوثان الَّتِي كَانَت تعبد فِي الْجَاهِلِيَّة وَأقسم رَبِّي بعزته لَا يشرب عبد الْخمر فِي الدُّنْيَا إِلَّا سقيته من حميم جَهَنَّم معذبا أَو مغفورا لَهُ وَلَا يَدعهَا عبد من عَبِيدِي تحرجا عَنْهَا إِلَّا سقيته إِيَّاهَا من حَظِيرَة الْقُدس

قَالَ أَبُو أُمَامَة وَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن لكل شَيْء إقبالا وإدبارا وَإِن من إقبال هَذَا الدّين مَا بَعَثَنِي الله بِهِ حَتَّى إِن الْقَبِيلَة تتفقه من عِنْد أيسرها أَو قَالَ آخرهَا حَتَّى لَا يكون فِيهَا إِلَّا الْفَاسِق أَو الفاسقان فهما مقموعان ذليلان إِن تكلما أَو نطقا قمعا وقهرا واضطهدا ثمَّ ذكرا أَن من إدبار هَذَا الدّين أَن تجفو الْقَبِيلَة كلهَا الْعلم من عِنْد أيسرها حق لَا يبْقى إِلَّا الْفَقِيه أَو الفقيهان فهما مقموعان ذليلان إِن تكلما أَو نطقا قمعا وقهرا واضطهدا وَقيل أتطغيان علينا وَحَتَّى تشرب الْخمر فِي ناديهم ومجالسهم وأسواقهم وتنحل الْخمر اسْما غير أسمائها وَحَتَّى يلعن آخر هَذِه الْأمة أَولهَا أَلا فَعَلَيْهِم حلت اللَّعْنَة وَذكر تَمام الحَدِيث

قلت وَلَقَد صدق رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَكل ذَلِك قد وَقع لِأَن اسْم الْفَقِيه عِنْد السّلف كَمَا تقدم إِنَّمَا يَقع على من علم الْكتاب وَالسّنة وآثار الصَّحَابَة وَمن بعدهمْ من عُلَمَاء الْأمة وَأما من اشْتغل بآراء الرِّجَال واتخذه دينا ومذهبا ونبذ كتاب الله وَسنة رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وقضايا الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ وآثارهم من وَرَائه فَلَا يُطلق عَلَيْهِ اسْم الْفَقِيه بل هُوَ باسم الْهوى والعصبية أولى وَأَحْرَى وَلَقَد شاهدنا فِي زَمَاننَا هَذَا مِمَّا قَالَه أَبُو السَّمْح فَلَقَد طفت من أقْصَى الْمغرب وَمن أقْصَى السودَان إِلَى الْحَرَمَيْنِ الشريفين فَلم ألق أحدا يسْأَل عَن نازلة فَيرجع إِلَى كتاب رب الْعَالمين وَسنة سيد الْمُرْسلين وآثار الصَّحَابَة وَالتَّابِعِينَ إِلَّا ثَلَاثَة رجال وكل وَاحِد مِنْهُم مقموع مَحْسُود يبغضه جَمِيع من فِي بَلَده من المتفقهين وغالب من فِيهِ من الْعَوام والمتسمين بسيم الصَّالِحين وَمُوجب الْعَدَاوَة والحسد تمسكهم بِالْكتاب وَسنة إِمَام الْمُتَّقِينَ صلى الله عليه وسلم ورفضهم كَلَام الطَّائِفَة العصبية والمقلدين

قَالَ أَبُو عمر بِسَنَدِهِ إِلَى عَطاء عَن أَبِيه قَالَ سُئِلَ بعض أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم عَن شَيْء فَقَالَ لأستحيي من رَبِّي أَن أَقُول فِي أمة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم برأيي وَقَالَ عَطاء وأضعف الْعلم أَيْضا علم النّظر أَن يَقُول الرجل رَأَيْت فلَانا يفعل كَذَا وَلَعَلَّه فعله سَاهِيا وَقَالَ ابْن
আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে ইলম তুলে নেওয়া হবে। এমনকি যখন কোনো আলেম অবশিষ্ট থাকবে না, তখন মানুষ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে, আর তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেবে। ফলে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হবে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করবে।

ইবন আবদিল বার বলেন, আমি আহমদ ইবন কাসিমের কাছে পাঠ করেছি যে, কাসিম ইবন আসবাগ তাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে হারিস ইবন আবী উসামাহ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে ইয়াযিদ ইবন হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ আল-ফাযারি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবন যাহর বর্ণনা করেছেন আলী ইবন ইয়াযিদ থেকে, তিনি আল-কাসিম থেকে, তিনি আবু উমামাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত ও হেদায়াত স্বরূপ পাঠিয়েছেন। আর আমার প্রতিপালক আমাকে বাঁশি, বাদ্যযন্ত্র, মদ এবং জাহেলিয়াত যুগে পূজিত মূর্তিসমূহ মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। আমার প্রতিপালক তাঁর ইজ্জতের শপথ করে বলেছেন, আমার কোনো বান্দা দুনিয়াতে মদ পান করলে আমি তাকে অবশ্যই জাহান্নামের ফুটন্ত পানি পান করাব, চাই সে শাস্তিপ্রাপ্ত হোক বা ক্ষমাপ্রাপ্ত। আর আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ যদি আমার ভয়ে তা বর্জন করে, তবে আমি তাকে পবিত্র জান্নাত থেকে তা পান করাব।

আবু উমামাহ (রা.) বলেন এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, নিশ্চয়ই প্রত্যেক জিনিসেরই উত্থান ও পতন আছে। আর এই দ্বীনের উত্থান হলো যা দিয়ে আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন, এমনকি একটি গোত্র তাদের সাধারণ বা কনিষ্ঠ ব্যক্তির কাছ থেকেও দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করবে। অবশেষে সেখানে কেবল একজন বা দুইজন পাপাচারী অবশিষ্ট থাকবে, যারা হবে অবদমিত ও লাঞ্ছিত। যদি তারা কথা বলে তবে তাদের কণ্ঠ রোধ করা হবে, পরাজিত ও নিপীড়িত করা হবে। এরপর তিনি উল্লেখ করেন যে, এই দ্বীনের পতন হলো পুরো গোত্রই তাদের সাধারণ বা কনিষ্ঠ ব্যক্তি থেকে ইলম বিমুখ হয়ে পড়বে। শেষ পর্যন্ত কেবল একজন বা দুইজন ফকিহ অবশিষ্ট থাকবে, আর তারা হবে অবদমিত ও লাঞ্ছিত। যদি তারা কথা বলে তবে তাদের কণ্ঠ রোধ করা হবে, পরাজিত ও নিপীড়িত করা হবে। আর বলা হবে, তোমরা কি আমাদের ওপর উদ্ধত আচরণ করছ? এমনকি তাদের আড্ডাখানা, মজলিস ও বাজারে মদ পান করা হবে। মদের নাম পরিবর্তন করে অন্য নাম রাখা হবে। এই উম্মতের শেষ ভাগের লোকেরা প্রথম ভাগের লোকদের লানত দেবে। সাবধান! তাদের ওপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হোক। এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করেন।

আমি বলছি, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য বলেছেন। কেননা এর সবটুকুই বাস্তবায়িত হয়েছে। কারণ পূর্বসূরিদের নিকট 'ফকিহ' শব্দটি কেবল তাদের জন্যই ব্যবহৃত হতো যারা কুরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবী ও পরবর্তী উলামায়ে কিরামের আসার (বর্ণনা) সম্পর্কে জ্ঞান রাখতেন। পক্ষান্তরে, যারা মানুষের রায় বা মতামত নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং একেই দ্বীন ও মাযহাব হিসেবে গ্রহণ করেছে, আর আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের ফয়সালা ও আসারকে পেছনে ফেলে দিয়েছে, তাদের ওপর 'ফকিহ' শব্দটির প্রয়োগ খাটে না। বরং তারা প্রবৃত্তি ও অন্ধ গোঁড়ামির নামেই অভিহিত হওয়ার অধিক যোগ্য। আবু সামহ যা বলেছেন তা আমরা বর্তমান যুগে প্রত্যক্ষ করেছি। আমি সুদূর মাগরিব ও সুদূর সুদান থেকে পবিত্র হারামাইন পর্যন্ত ভ্রমণ করেছি, কিন্তু সমসাময়িক কোনো সমস্যার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে রব্বুল আলামীনের কিতাব, সাইয়্যিদুল মুরসালিনের সুন্নাহ এবং সাহাবী ও তাবেয়ীদের আসারের দিকে প্রত্যাবর্তন করেন এমন কাউকে পাইনি—কেবল তিনজন ব্যক্তি ব্যতীত। তাদের প্রত্যেকেই ছিলেন অবদমিত এবং ঈর্ষার শিকার। তাদের শহরের তথাকথিত ফকিহগণ, অধিকাংশ সাধারণ মানুষ এবং নেককার লেবাসধারী ব্যক্তিরা তাদের ঘৃণা করত। এই শত্রুতা ও হিংসার কারণ ছিল কুরআন এবং মুত্তাকীদের ইমামের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর প্রতি তাদের অবিচলতা এবং অন্ধ গোঁড়া দল ও মুকাল্লিদদের কথা প্রত্যাখ্যান করা।

আবু উমর তাঁর সনদে আতা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জনৈক সাহাবীকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, 'আমি আমার প্রতিপালকের সামনে এই লজ্জা বোধ করছি যে, আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতের মধ্যে নিজের রায় বা মতামত দিয়ে কোনো কথা বলব।' আতা আরও বলেন, ইলমের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল ইলম হলো নিছক ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণজাত মত; যেখানে কোনো লোক বলে—আমি অমুককে এমন করতে দেখেছি। অথচ হতে পারে তিনি তা ভুলবশত করেছেন। আর ইবন...
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ২৯)
المقفع فِي الْيَتِيمَة ولعمري أَن لقَولهم لَيْسَ الدّين بِالْخُصُومَةِ أصلا يثبت وَصَدقُوا مَا الدّين بِالْخُصُومَةِ وَلَو كَانَ خُصُومَة لَكَانَ موكولا إِلَى النَّاس يثبتون بآرائهم وظنهم وكل موكول إِلَى النَّاس رهينة ضيَاع وَمَا ينقم على أهل الْبدع إِلَّا أَنهم اتَّخذُوا الدّين رَأيا وَلَيْسَ الرَّأْي ثِقَة وَلَا حتما وَلم يُجَاوز الرَّأْي منزلَة الشَّك وَالظَّن إِلَّا قَرِيبا وَلم يبلغ أَن يكون يَقِينا وَلَا ثبتا ولستم بسامعين أحدا يَقُول لأمر قد استيقنه وَعلمه أرى أَنه كَذَا وَكَذَا فَلَا أجد أحدا أَشد اسْتِخْفَافًا بِدِينِهِ مِمَّن أَخذ رَأْيه وَرَأى الرِّجَال دينا مَفْرُوضًا

قَالَ أَبُو عمر وَإِلَى هَذَا الْمَعْنى وَالله أعلم أَشَارَ مُصعب بن الزبير فِي قصيدته حَيْثُ قَالَ … أاقعد بعد مَا رجفت عِظَامِي … وَكَانَ الْمَوْت أقرب مَا يليني

أجادل كل معترض خصيم … وَأَجْعَل دينه عرضا لديني

فاترك مَا علمت لرأي غَيْرِي … وَلَيْسَ الرَّأْي كَالْعلمِ الْيَقِين

وَمَا أَنا وَالْخُصُومَة وَهِي لبس … تصرف فِي الشمَال وَفِي الْيَمين

وَقد سنت لنا سنَن قوام … يلحن بِكُل فج أَو وجين

وَكَانَ الْحق لَيْسَ بِهِ خَفَاء … أغر كغرة الفلق الْمُبين

وَمَا عوض لنا منهاج جهم … بمنهاج ابْن أَمَنَة الْأمين

فَأَما مَا علمت فقد كفاني … وَأما مَا جهلت فجنبوني

فلست بمكفر أحدا يُصَلِّي … وَلم أجزمكموا أَن تكفروني

وَكُنَّا إخْوَة نرمي جَمِيعًا … فنرمي كل مرتاب ظنين

وَمَا برح التَّكَلُّف إِن رمينَا … لشأن وَاحِد فَوق الشئوني

فَأوشك أَن يخر عماد بَيت … وَيَنْقَطِع القرين من القرين …

قَالَ وَلَا أعلم بَين مُتَقَدِّمي هَذِه الْأمة وسلفها خلافًا إِن الرَّأْي لَيْسَ بِعلم حَقِيقَة وَأما أصُول الْعلم فالكتاب وَالسّنة وتنقسم السّنة قسمَيْنِ أَحدهمَا إِجْمَاع يَنْقُلهُ الكافة عَن الكافة فَهَذَا من الْحجَج القاطعة للأعذار إِذا لم يوجدهناك خلاف وَمن رد إِجْمَاعهم فقد رد نصا من نُصُوص الله تَعَالَى يجب استتابته عَلَيْهِ وإراقة دَمه إِن لم يتب لِخُرُوجِهِ مِمَّا أجمع عَلَيْهِ الْمُسلمُونَ وسلوكه غير سَبِيل جَمِيعهم وَالضَّرْب الثَّانِي من السّنة خبر الْآحَاد والثقات الْأَثْبَات الْمُتَّصِل فَهَذَا يُوجب الْعَمَل عِنْد جمَاعَة عُلَمَاء الْأمة الَّذين هم الْقدْوَة وَالْحجّة وَمِنْهُم من يَقُول أَنه يُوجب الْعلم وَالْعَمَل جَمِيعًا وَقَالَ بشر بن السّري السَّقطِي نظرت فِي الْعلم فَإِذا هُوَ الحَدِيث والرأي فَوجدت فِي الحَدِيث ذكر النَّبِيين وَالْمُرْسلِينَ وَذكر الْمَوْت وَذكر ربوبية الله تَعَالَى سُبْحَانَهُ وجلاله وعظمته وَذكر الْجنَّة وَالنَّار وَذكر الْحَلَال وَالْحرَام والحث على صلَة
ইবনে আল-মুকাফ্ফা 'আল-ইয়াতিমাহ' গ্রন্থে বলেছেন: আমার জীবনের শপথ, তাদের এই বক্তব্য যে 'দ্বীন কোনো ঝগড়া-বিবাদের বিষয় নয়' তার একটি সুদৃঢ় ভিত্তি রয়েছে। তারা সত্যই বলেছেন, দ্বীন কোনো বিবাদের বিষয় নয়। যদি এটি বিবাদের বিষয় হতো, তবে তা মানুষের ওপর ন্যস্ত করা হতো যাতে তারা তাদের নিজস্ব মতামত এবং ধারণার ভিত্তিতে তা প্রতিষ্ঠা করত। আর মানুষের ওপর ন্যস্ত প্রতিটি বিষয়ই ধ্বংসের হাতছানি দেয়। বিদআতপন্থীদের বিরুদ্ধে একমাত্র অভিযোগ হলো তারা দ্বীনকে একটি ব্যক্তিগত মতামত (রায়) হিসেবে গ্রহণ করেছে। অথচ ব্যক্তিগত মতামত কোনো নির্ভরযোগ্য বা অকাট্য বিষয় নয়। ব্যক্তিগত মতামতের মর্যাদা কেবল সন্দেহ এবং ধারণার কাছাকাছি, তা কখনোই নিশ্চিত জ্ঞান বা অকাট্য প্রমাণের স্তরে পৌঁছাতে পারে না। আপনি কাউকে এমন কোনো বিষয়ে যার ব্যাপারে সে নিশ্চিত এবং ইলম রাখে, এমন বলতে শুনবেন না যে: 'আমি মনে করি এটি এমন বা এমন।' সুতরাং আমি এমন ব্যক্তির চেয়ে নিজের দ্বীনের প্রতি অধিক অবজ্ঞাকারী আর কাউকে দেখি না, যে নিজের মতামত এবং মানুষের মতামতকে একটি অপরিহার্য দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করেছে।

আবু উমর বলেন, আল্লাহই ভালো জানেন, সম্ভবত মুসআব ইবনুল জুবাইর তার কবিতায় এই অর্থের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: … আমার হাড়গুলো যখন প্রকম্পিত হচ্ছে এবং মৃত্যু আমার খুব সন্নিকটে, তখন কি আমি বসে থাকব? …

আমি কি প্রত্যেক বিরুদ্ধবাদী বিবাদীর সাথে তর্কে লিপ্ত হব … এবং তার দ্বীনকে আমার দ্বীনের বিপরীতে দাঁড় করাব?

আমি কি অন্যের মতামতের জন্য আমার জানা সত্যকে বর্জন করব? … অথচ ব্যক্তিগত মতামত কখনোই নিশ্চিত ইলমের মতো নয়।

ঝগড়া-বিবাদের সাথে আমার কী সম্পর্ক? অথচ তা হলো বিভ্রান্তি … যা ডানে ও বামে বিচ্যুত করে।

আমাদের জন্য সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ বা আদর্শসমূহ নির্ধারিত করা হয়েছে … যা প্রতিটি পথে বা প্রান্তরে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত।

সত্য এমন যা অস্পষ্ট নয় … এটি ভোরের শুভ্র আলোর মতোই উজ্জ্বল ও স্পষ্ট।

আমিনার আমানতদার পুত্রের (রাসূলুল্লাহ ﷺ এর) মানহাজ বা পথের পরিবর্তে … আমাদের জন্য জাহমের মানহাজ কোনো বিনিময় হতে পারে না।

আমি যা জানি তা-ই আমার জন্য যথেষ্ট … আর যা আমি জানি না তা থেকে আমাকে দূরে রাখুন।

আমি সালাত আদায়কারী কাউকে কাফির বলি না … এবং আমি তোমাদেরও অনুমতি দিইনি যে তোমরা আমাকে কাফির বলবে।

আমরা পরস্পর ভাই ছিলাম যারা একযোগে নিক্ষেপ করতাম … আমরা প্রতিটি সন্দেহ পোষণকারী ও সংশয়বাদীর দিকে তীর নিক্ষেপ করতাম।

আমরা যদি কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে একতাবদ্ধভাবে কাজ করি … তবে অহেতুক কঠোরতা বা কৃত্রিমতা দূর হয়ে যায়।

অচিরেই গৃহের স্তম্ভ ধসে পড়ার উপক্রম হবে … এবং বন্ধু তার বন্ধু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। …

তিনি বলেন: এই উম্মতের পূর্বসূরি ও সালাফদের মধ্যে আমি এমন কোনো মতভেদ জানি না যে, ব্যক্তিগত মতামত বা রায় প্রকৃত ইলম নয়। পক্ষান্তরে ইলমের মূল উৎস হলো কিতাব (কুরআন) এবং সুন্নাহ। সুন্নাহ দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথমটি হলো ইজমা, যা এক বিশাল জনগোষ্ঠী অপর বিশাল জনগোষ্ঠীর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। যদি সেখানে কোনো দ্বিমত না থাকে, তবে তা অজুহাত ছিন্নকারী অকাট্য দলিলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি তাদের ইজমাকে প্রত্যাখ্যান করল, সে মূলত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা কোনো নস বা বিধানকেই প্রত্যাখ্যান করল। তাকে তাওবা করতে বলা ওয়াজিব, আর সে যদি তাওবা না করে তবে তার রক্ত প্রবাহিত করা বৈধ; কারণ সে মুসলিমদের সর্বসম্মত বিষয় থেকে বেরিয়ে গেছে এবং তাদের সবার পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করেছে। আর সুন্নাহর দ্বিতীয় প্রকার হলো আখবারে আহাদ (একক ব্যক্তির বর্ণনা) এবং নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় বর্ণনাকারীদের অবিচ্ছিন্ন বর্ণনা। উম্মতের আলেমদের একটি বড় অংশের নিকট এটি আমল করাকে ওয়াজিব করে, যারা অনুসরণীয় ও দলিল হিসেবে গণ্য। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন যে, এটি ইলম এবং আমল উভয়টিই সাব্যস্ত করে। বিশর ইবনুল সাররি আস-সাকতি বলেন: আমি ইলমের প্রতি দৃষ্টিপাত করলাম এবং দেখলাম যে তা হলো হাদিস এবং রায় (মতামত)। আমি হাদিসের মধ্যে নবী ও রাসূলগণের আলোচনা, মৃত্যুর কথা, মহান আল্লাহর রুবুবিয়্যাত (প্রভুত্ব), তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের কথা, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ, হালাল ও হারামের বিধান এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার উৎসাহ খুঁজে পেয়েছি।
(খণ্ড: ১) ইকজুল হিমাম উলি আল-আবসার লিল ইকতিদা বিসাইয়িদিল মুহাজিরিনা ওয়াল আনসার (পৃষ্ঠা: ৩০)
الْأَرْحَام وجماع الْخَيْر وَنظرت فِي الرَّأْي فَإِذا فِيهِ الْمَكْر والخديعة والتشاح واستقصاء الْحق والمماكسة فِي الدّين وَاسْتِعْمَال الْحِيَل والبعث على قطع الْأَرْحَام والتجرؤ على الْحَرَام وَرُوِيَ مثل هَذَا الْكَلَام عَن يُونُس بن أسلم

قَالَ ابْن عبد البر أَنْشدني عبد الرحمن بن يحيى قَالَ أنشدنا أَبُو عَليّ الْحسن بن الْخضر الأسيوطي بِمَكَّة قَالَ أنشدنا أَبُو الْقَاسِم مُحَمَّد بن جَعْفَر الأخباري قَالَ أنشدنا أَبُو عبد الرحمن عبد الله بن احْمَد بن حَنْبَل عَن أَبِيه … دين النَّبِي مُحَمَّد أَخْبَار … نعم المطية للفتىءاثار

لَا ترغبن عَن الحَدِيث وَأَهله … فَالرَّأْي ليل والْحَدِيث نَهَار

ولربما جهل الْفَتى أثر الْهدى … وَالشَّمْس بازغة لَهَا أنوار … ولبعض أهل الْعلم … الْعلم قَالَ الله قَالَ رَسُوله … قَالَ الصحاب لَيْسَ خلف فِيهِ

مَا الْعلم نصبك للْخلاف سفاهة … بَين النُّصُوص وَبَين رَأْي سَفِيه

كلا وَلَا نصب الْخلاف جَهَالَة … بَين الرَّسُول وَبَين رَأْي فَقِيه

كلا وَلَا رد النُّصُوص تعمدا … حذرا من التجسيم والتشبيه

حاشا النُّصُوص من الَّذِي رميت بِهِ … من فرقة التعطيل والتمويه …

وَقَالَ أَبُو عمر رَحمَه الله تَعَالَى وَقلت أَنا … عقالة ذِي نصح وَذَات فَوَائِد … إِذا من ذَوي الْأَلْبَاب كَانَ استماعها

عَلَيْك بآثار النَّبِي فَإِنَّهَا … من أفضل أَعمال الرشاد اتباعها …

بَاب الْعبارَة عَن حُدُود علم الديانَات وَسَائِر الْعُلُوم المتصرفات بِحَسب تصرف الْحَاجَات

 

قَالَ أَبُو عمر حد الْعلم عِنْد الْمُتَكَلِّمين فِي هَذَا الْمَعْنى هُوَ مَا استيقنته وتبينته وكل من استيقنن شَيْئا وتبينه فقد علمه وعَلى هَذَا من لم يستيقن الشَّيْء وَقَالَ بِهِ تقليدا فَلم يُعلمهُ والتقليد عِنْد جمَاعَة الْعلمَاء غير الِاتِّبَاع لِأَن الِاتِّبَاع هُوَ أَن تتبع الْقَائِل على مَا بَان لَك من فضل قَوْله وَصِحَّة مذْهبه والتقليد أَن تَقول بقول وَأَنت لَا تعرفه وَلَا وَجه القَوْل وَلَا مَعْنَاهُ وتأبى من سواهُ أَو أَن تبين لَك خطأه فتتبعه مَخَافَة خِلَافه وَأَنت قد بَان لَك فَسَاد قَوْله وَهَذَا محرم القَوْل بِهِ
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং কল্যাণের সমষ্টি। আমি ব্যক্তিগত মতামতের (রায়ের) দিকে তাকালাম, দেখলাম তাতে রয়েছে চক্রান্ত, প্রতারণা, পারস্পরিক বিবাদ, অধিকার আদায়ে বাড়াবাড়ি, দ্বীনের বিষয়ে দরাদরি করা, ফন্দি-ফিকিরের আশ্রয় নেয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার উস্কানি এবং হারামের ওপর দুঃসাহস দেখানো। ইউনুস ইবনে আসলাম থেকেও অনুরূপ কথা বর্ণিত হয়েছে।

ইবনুল বারর বলেন: আমাকে আবদুর রহমান ইবনে ইয়াহইয়া আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট মক্কায় আবু আলী আল-হাসান ইবনুল খিজর আল-আসইউতি আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবুল কাসিম মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-আখবারি আবৃত্তি করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর পিতা থেকে আবৃত্তি করেছেন … নবী মুহাম্মদের দ্বীন হলো বর্ণনা (আخبار) … যুবকের জন্য কতই না উত্তম সওয়ারি হলো আছার (বর্ণনাসমূহ)।

তুমি হাদিস এবং হাদিসওয়ালাদের থেকে বিমুখ হয়ো না … কারণ রায় (ব্যক্তিগত মতামত) হলো রাত আর হাদিস হলো দিন।

অনেক সময় যুবক হিদায়াতের আলামত সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে … অথচ সূর্য তার সকল আলোকচ্ছটা নিয়ে উদিত থাকে … কোনো কোনো আলেম বলেছেন … জ্ঞান হলো 'আল্লাহ বলেছেন', 'রাসূল বলেছেন' … এবং 'সাহাবীগণ বলেছেন', এতে কোনো বিরোধ নেই।

জ্ঞান তা নয় যে, তুমি নির্বুদ্ধিতাবশত নস (দলিল) এবং কোনো নির্বোধের মতামতের মধ্যে বিরোধ তৈরি করবে।

কখনোই না, আর অজ্ঞতাবশত রাসূলের কথা এবং কোনো ফকিহের মতামতের মধ্যে বিরোধ দাঁড় করানোও জ্ঞান নয়।

কখনোই না, আর তাজসিম (আল্লাহর দেহ সাব্যস্ত করা) এবং তাশবিহ (সাদৃশ্য দান) এর ভয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নসসমূহকে প্রত্যাখ্যান করাও জ্ঞান নয়।

বাতিলকারী (তা’তিল) এবং বিভ্রান্তকারী দল নসসমূহের ওপর যেসব অপবাদ আরোপ করেছে, তা থেকে নসসমূহ সম্পূর্ণ মুক্ত …

আবু ওমর (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন, আর আমি বলেছি … এটি হিতাকাঙ্ক্ষীর উপদেশ এবং উপকারপূর্ণ বাণী … যদি জ্ঞানবানরা তা শ্রবণ করে।

তুমি নবীর আছারকে (সুন্নাহ ও বর্ণনা) আঁকড়ে ধরো, কারণ সেগুলোর অনুসরণ করাই হলো সঠিক পথের সর্বোত্তম আমল …

পরিচ্ছেদ: ধর্মীয় জ্ঞানের সীমা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য প্রায়োগিক জ্ঞানসমূহের সংজ্ঞায়ন।

 

আবু ওমর বলেন: এই প্রসঙ্গে মুতাকাল্লিমদের (কালামশাস্ত্রবিদ) নিকট জ্ঞানের সংজ্ঞা হলো—যা তুমি সুনিশ্চিতভাবে জেনেছ এবং তোমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে। যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে এবং বিষয়টি তার নিকট স্পষ্ট হয়েছে, সে মূলত তা জেনেছে। এই হিসেবে যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে নিশ্চিত নয় এবং কেবল অন্ধ অনুকরণের (তাকলিদ) বশবর্তী হয়ে তা বলে, সে তা জানে না। আলেমদের জামাতের নিকট ‘তাকলিদ’ (অন্ধ অনুসরণ) আর ‘ইত্তিবা’ (অনুসরণ) এক নয়। কারণ ইত্তিবা হলো বক্তার কথার শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর মাযহাবের বিশুদ্ধতা তোমার কাছে স্পষ্ট হওয়ার পর তাঁকে অনুসরণ করা। আর তাকলিদ হলো এমন কোনো কথা বলা যা সম্পর্কে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, সেই কথার ভিত্তি বা অর্থ তুমি জানো না এবং তা সত্ত্বেও তুমি অন্য সব কথা প্রত্যাখ্যান করো; অথবা তোমার নিকট তাঁর ভুল স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিরোধিতা করার ভয়ে তাঁকে অনুসরণ করো অথচ তুমি সেই কথার অসারতা বুঝতে পেরেছ। এই ধরনের কথা বলা হারাম।