القسم: أصول الفقه
الكتاب: إيقاظ همم أولي الأبصار للاقتداء بسيد المهاجرين والأنصار
المؤلف: صالح بن محمد بن نوح بن عبد الله العَمْري المعروف بالفُلَّاني المالكي (ت 1218هـ)
الناشر: دار المعرفة - بيروت
سنة النشر:
عدد الصفحات: 170
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বিভাগ: উসূলে ফিকহ
কিতাব: মুহাজির ও আনসারদের সরদারের অনুসরণের জন্য জ্ঞানবানদের সংকল্প জাগ্রত করা
লেখক: সালিহ বিন মুহাম্মাদ বিন নূহ বিন আব্দুল্লাহ আল-আমরি, যিনি আল-ফুলানি আল-মালিকি নামে পরিচিত (মৃ. ১২১৮ হিজরী)
প্রকাশক: দারুল মা’রিফাহ - বৈরুত
প্রকাশের বছর:
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭০
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
এবং তিনি (আল্লাহ) বলেছেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য হতে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদেরও। যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর ঈমান রেখে থাকো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট।" এবং তিনি বলেছেন: "আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে দাখিল করবেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়, তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে। আর এটিই মহা সাফল্য। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতা করে এবং তাঁর সীমালঙ্ঘন করে, তিনি তাকে আগুনে দাখিল করবেন যেখানে সে চিরস্থায়ী হবে, এবং তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব।" এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং সতর্ক থাকো। যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো যে, আমার রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়া।" এবং তিনি বলেছেন: "তারা তোমাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ (আনফাল) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে; বলো, ‘আনফাল আল্লাহ ও রাসূলের জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করো, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো—যদি তোমরা মুমিন হও।’" এবং তিনি বলেছেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদের জীবন দান করে। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।" এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, অন্যথায় তোমরা সাহস হারিয়ে ফেলবে এবং তোমাদের শক্তি বিলুপ্ত হবে। আর ধৈর্য ধরো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।" এবং তিনি বলেছেন: "মুমিনদের কথা তো এই যে, যখন তাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় যেন তিনি তাদের মধ্যে বিচার করে দেন, তারা বলে, ‘আমরা শুনলাম ও মান্য করলাম।’ আর তারাই সফলকাম। আর যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে এবং আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই কৃতকার্য।" এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা সালাত কায়েম করো, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।" এবং তিনি বলেছেন: "বলো, আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো। এরপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য সে-ই দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো তবে হেদায়েত পাবে। আর রাসূলের ওপর তো কেবল স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বই ন্যস্ত।" এবং তিনি বলেছেন: "তোমরা রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরকে আহ্বানের মতো গণ্য করো না। আল্লাহ তাদের জানেন যারা তোমাদের মধ্য হতে লুকিয়ে সরে পড়ে। সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, পাছে তাদের ওপর কোনো ফিতনা (বিপর্যয়) নেমে আসে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আযাব আপতিত হয়।" এবং তিনি বলেছেন: "মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান এনেছে এবং যখন তারা তাঁর সাথে কোনো সামষ্টিক কাজে থাকে, তখন তাঁর অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না। নিশ্চয়ই যারা তোমার অনুমতি প্রার্থনা করে, তারাই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান রাখে। সুতরাং তারা তাদের কোনো প্রয়োজনে তোমার অনুমতি চাইলে তুমি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুমতি দাও এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" এবং তিনি বলেছেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তবে তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।" এবং তিনি বলেছেন: "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ—তার জন্য যে আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।" এবং তিনি বলেছেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না।" এবং তিনি বলেছেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রণী হয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।" আর হাসান (বসরি) বলতেন: "তোমরা তাঁর (রাসূলের) যবেহ করার আগে যবেহ করো না।" এবং তিনি (আল্লাহ) বলেছেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং তাঁর সাথে কথা বলার সময় তেমন উচ্চস্বরে কথা বলো না যেমন তোমরা একে অপরের সাথে উচ্চস্বরে কথা বলো—পাছে তোমাদের আমলসমূহ নিষ্ফল হয়ে যায় অথচ তোমরা বুঝতেও পারবে না। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর রাসূলের সামনে নিজেদের কণ্ঠস্বর নিচু করে, আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহকে তাকওয়ার জন্য পরীক্ষা করেছেন; তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার। নিশ্চয়ই যারা হুজরাসমূহের (কক্ষসমূহের) পেছন থেকে তোমাকে উচ্চস্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশেরই বোধশক্তি নেই। আর যদি তারা ধৈর্য ধারণ করত যতক্ষণ না তুমি তাদের কাছে বের হয়ে আসতে, তবে তা তাদের জন্য উত্তম হতো। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" এবং তিনি বলেছেন: "আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, তিনি তাকে এমন জান্নাতে দাখিল করবেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়। আর যে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তিনি তাকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব দেবেন।" এবং তিনি বলেছেন: "শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়! তোমাদের সাথী (মুহাম্মদ) পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। আর তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কোনো কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর কাছে পাঠানো হয়। তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন এক মহাশক্তিশালী সত্তা।"
(আমি) একটি দাস (ক্রয় করেছিলাম) এবং তাকে কাজে লাগিয়েছিলাম, তারপর তার মধ্যে একটি খুঁত প্রকাশ পেল। ফলে আমি এ বিষয়ে উমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট মামলা করলাম। তিনি আমার পক্ষে তাকে ফেরত দেওয়ার ফয়সালা দিলেন এবং আমার বিপক্ষে তার উপার্জিত লভ্যাংশ ফেরত দেওয়ার রায় দিলেন। অতঃপর আমি উরওয়াহর নিকট এসে তাকে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন, "আমি আজ সন্ধ্যায় তাঁর কাছে যাব এবং তাঁকে সংবাদ দেব যে, আয়েশা আমাকে জানিয়েছেন যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ জাতীয় বিষয়ে ফয়সালা দিয়েছেন যে, লভ্যাংশ দায়বদ্ধতার অধীন।" এরপর আমি দ্রুত উমরের নিকট গেলাম এবং উরওয়াহ আয়েশার সূত্রে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমাকে যা জানিয়েছেন, তা তাঁকে অবহিত করলাম। তখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ বললেন, "আমার জন্য সেই ফয়সালাটি পরিবর্তন করা কতই না সহজ যা আমি দিয়েছিলাম। আল্লাহর কসম! তিনি জানেন যে, আমি এতে সত্য ছাড়া অন্য কিছু ইচ্ছা করিনি। এখন আমার কাছে এ বিষয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ পৌঁছেছে, তাই আমি উমরের ফয়সালা বাতিল করছি এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ কার্যকর করছি।" এরপর উরওয়াহ তাঁর কাছে গেলেন এবং তিনি আমার পক্ষে ফয়সালা দিলেন যেন আমি সেই লভ্যাংশ পুনরায় গ্রহণ করি যা তিনি ইতিপূর্বে আমার বিপক্ষে দেওয়ার রায় দিয়েছিলেন।
শাফিঈ বলেন, মদীনার এমন এক ব্যক্তি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যাকে আমি নির্ভরযোগ্য মনে করি, তিনি ইবনে আবি যিব থেকে বর্ণনা করেন যে, সা'দ ইবনে ইবরাহীম রাবিয়াহ ইবনে আবি আব্দুর রহমানের রায় অনুযায়ী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি ফয়সালা দিলেন। অতঃপর আমি তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর দেওয়া ফয়সালার বিপরীত সংবাদ দিলাম। তখন সা'দ রাবিয়াহকে বললেন, "এই যে ইবনে আবি যিব, তিনি আমার নিকট নির্ভরযোগ্য; তিনি আমাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমার দেওয়া ফয়সালার বিপরীত সংবাদ দিচ্ছেন।" রাবিয়াহ তাঁকে বললেন, "আপনি তো ইজতিহাদ করেছেন এবং আপনার হুকুম কার্যকর হয়ে গেছে।" তখন সা'দ বললেন, "কী আশ্চর্য! আমি কি সা'দ ইবনে উম্মে সা'দের ফয়সালা কার্যকর রাখব আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালা প্রত্যাখ্যান করব? বরং আমি সা'দ ইবনে উম্মে সা'দের ফয়সালাই প্রত্যাখ্যান করব এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালা কার্যকর করব।" এরপর সা'দ সেই ফয়সালার নথিপত্র তলব করলেন এবং তা ছিঁড়ে ফেললেন এবং যার বিপক্ষে রায় দিয়েছিলেন তার অনুকূলে নতুন ফয়সালা দিলেন।
শাফিঈ বলেন, আবু হানিফা সিমাক ইবনুল ফাদল আল-শিহাবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ইবনে আবি যিব মাকবুরির সূত্রে আবু শুরাইহ আল-কাবি থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছর বলেছেন, "যার কোনো আত্মীয় নিহত হয়, তার জন্য দুটি বিষয়ের মধ্যে যেটি উত্তম সেটি গ্রহণের অধিকার রয়েছে; সে চাইলে রক্তপণ গ্রহণ করতে পারে অথবা চাইলে কিসাস (প্রতিশোধ) নিতে পারে।" আবু হানিফা বলেন, আমি ইবনে আবি যিবকে বললাম, "হে আবু হারিস! আপনি কি এটি গ্রহণ করেন?" তখন তিনি আমার বুকে আঘাত করলেন এবং আমার ওপর খুব জোরে চিৎকার করলেন এবং আমাকে আক্রমণাত্মক ভাষায় বললেন, "আমি আপনার নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস বর্ণনা করছি আর আপনি বলছেন যে আমি এটি গ্রহণ করি কি না? হ্যাঁ, আমি এটি গ্রহণ করি এবং এটি আমার ওপর এবং যে ব্যক্তি এটি শুনবে তার ওপর ফরজ। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মানুষদের মধ্য থেকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনোনীত করেছেন, অতঃপর তাঁর মাধ্যমে ও তাঁর হাতে তাদের হেদায়েত দান করেছেন। আর তিনি তাঁর জন্য যা পছন্দ করেছেন এবং তাঁর জবানে যা ব্যক্ত করেছেন, তা-ই তাদের জন্য পছন্দ করেছেন। সুতরাং সৃষ্টির কর্তব্য হলো স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়—তাঁর অনুসরণ করা। কোনো মুসলমানের জন্য তা থেকে বের হওয়ার পথ নেই।" তিনি থামছিলেন না, এমনকি আমি কামনা করছিলাম যে তিনি যেন এখন থামেন। সমাপ্ত।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি, উমর ইবনুল খাত্তাব, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ এবং সা'দ ইবনে ইবরাহীমের কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করুন। আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হবে যে, সাহাবী, তাবেঈন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের নিকট এবং সকল মুসলিম আলেমদের নিকট এটিই পরিচিত ও স্বীকৃত বিষয় যে, কোনো মুজতাহিদ বিচারকের রায় যদি মহান আল্লাহর কিতাব কিংবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর বিরোধী হয়, তবে তা বাতিল করা এবং তার কার্যকারিতা রোধ করা ওয়াজিব। কিতাব ও সুন্নাহর অকাট্য বিধানকে বুদ্ধিভিত্তিক সম্ভাবনা, কুপ্রবৃত্তিপ্রসূত কল্পনা এবং শয়তানি গোঁড়ামির মাধ্যমে বিরোধিতা করা যাবে না। যেমন এই কথা বলা যে, "হয়তো এই মুজতাহিদ এই বিধানটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং জেনেশুনেই তা বর্জন করেছেন" অথবা "হয়তো তাঁর কাছে এর কোনো কারণ স্পষ্ট হয়েছিল" কিংবা "হয়তো তিনি অন্য কোনো দলিলের সন্ধান পেয়েছিলেন" ইত্যাদি। এই ধরণের কথাবার্তায় গোঁড়া ফকীহদের দলগুলো মত্ত থাকে এবং মূর্খ মুকাল্লিদরা এতে একমত হয়। অতএব বিষয়টি অনুধাবন করুন।
আবু নযর হাশিম ইবনুল কাসিম বলেন, মুহাম্মদ ইবনে আবি রাশিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদাহ ইবনে আবি লুবাবাহর সূত্রে, তিনি হাশিম থেকে বর্ণনা করেছেন।
...যাতে সুলতান তা দেখতে পারেন। তিনি বললেন, মালিক আমাকে বলেছিলেন: আমি এই শহরের (মদীনার) লোকদের পেয়েছি এবং তারা বর্তমানে মানুষের মাঝে বিদ্যমান এই আধিক্যকে (মাসআলা তৈরির প্রবণতা) অপছন্দ করতেন। ইবনে ওয়াহব বলেন, এর দ্বারা তিনি মাসআলাসমূহ উদ্দেশ্য করেছেন। তিনি বলেন, মালিক বলেছেন: মানুষ কেবল যা তারা শুনেছে এবং জেনেছে সে অনুযায়ী ফতোয়া দিত, আর বর্তমানে মানুষের মাঝে যে ধরণের কথা (বিতর্ক) রয়েছে তা ছিল না। ইবনে ওয়াহব বলেন, আশহাল বিন হাতিম আমাদের আব্দুল্লাহ বিন আউন থেকে এবং তিনি ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর ইবনুল খাত্তাব আবু মাসউদ উকবা ইবনে আমরকে বলেছিলেন: আমি কি সংবাদ পাইনি যে আপনি মানুষকে ফতোয়া দিচ্ছেন অথচ আপনি আমির নন? এর গরম (দায়ভার) তাকেই সইতে দিন যে এর মিষ্টতা (পদমর্যাদা) গ্রহণ করেছে। উমর ইবনুল খাত্তাব বলতেন: তোমরা এই জটিল মাসআলাগুলো থেকে বেঁচে থাকো, কারণ যখন এগুলো দেখা দেয়, আল্লাহ এমন কাউকে পাঠান যে তা সমাধান করে ও ব্যাখ্যা করে। ইবনে ওয়াহব বলেন, ইবনে লাহিয়াহ ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে আমাকে জানিয়েছেন যে, আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান ইবনে শিহাবকে কোনো একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন ইবনে শিহাব তাকে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, এটি কি ঘটেছে? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: তবে এটি ছেড়ে দিন, কারণ যখন এটি ঘটবে, আল্লাহ এর জন্য কোনো পথ তৈরি করে দেবেন।
আব্দুল ওয়ারিস বিন সুফিয়ান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, কাসিম বিন আসবাগ আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন, আহমদ বিন জুহাইর আমাদের বলেছেন, আমার পিতা জুবাইর আমাদের বলেছেন, লাইস থেকে মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, ইবনে উমর (রা.) বলেন: হে লোকসকল, যা ঘটেনি তা নিয়ে জিজ্ঞাসা করো না। কেননা উমর তাকে অভিশাপ দিতেন যে এমন কিছু নিয়ে জিজ্ঞাসা করত যা এখনো ঘটেনি। আব্দুল ওয়ারিস আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, কাসিম আমাদের বলেছেন, তিনি বলেন, আহমদ বিন জুহাইর আমাদের বলেছেন, আমার পিতা আমাদের বলেছেন, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী আমাদের বলেছেন, মুসা বিন আলী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যাইদ ইবনে সাবিতকে যখন কোনো ব্যক্তি কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করত, তিনি বলতেন: আল্লাহর কসম, এটি কি ঘটেছে? যদি সে বলত ‘হ্যাঁ’, তবে তারা তা নিয়ে চিন্তা করতেন, আর যদি না ঘটত তবে তিনি কথা বলতেন না। একদল লোক যাইদ ইবনে সাবিতের কাছে এসে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তিনি তাদের তা জানালেন এবং তারা তা লিখে নিল। এরপর তারা বলল, ‘যদি আমরা তাকে জানাতাম (যে আমরা লিখছি)’। তারা তার কাছে গিয়ে তা জানাল। তখন তিনি বললেন: আমাকে ক্ষমা করুন, হতে পারে আমি আপনাদের যা কিছু বলেছি তার সবই ভুল, আমি কেবল আমার রায় (মতামত) দিয়ে আপনাদের জন্য ইজতিহাদ করেছি। সুনাইদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, হাম্মাদ বিন যাইদ আমর বিন দিনার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জাবির বিন যাইদকে বলা হলো যে, লোকেরা আপনার কাছ থেকে যা শোনে তা লিখে রাখে। তিনি বললেন: ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন! তারা এমন মত লিখে রাখছে যা থেকে আমি হয়তো আগামীকালই ফিরে আসব। সুনাইদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, ইয়াজিদ থেকে আল-আওয়াম বিন হাওশাব থেকে বর্ণিত যে, আল-মুসায়্যিব বিন রাফি বলেছেন: যখন বিচারকার্যের এমন কোনো বিষয় আসত যা কিতাব বা সুন্নাহতে নেই, তাকে ‘সাওয়াফী আল-উমারা’ (শাসকদের জন্য উন্মুক্ত বিষয়) বলা হতো এবং তা তাদের নিকট পেশ করা হতো। তখন বিজ্ঞ আলেমদের একত্রিত করা হতো এবং তাদের রায় যে বিষয়ে একমত হতো সেটিই হতো সত্য। তাবারী তার ‘তহযীবুল আসার’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন, হাসান বিন সাব্বাহ আল-বাযযার আমাদের বলেছেন, ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-হুনাইনী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, মালিক বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত লাভ করেছেন এমতাবস্থায় যে এই দ্বীন পূর্ণতা পেয়েছে এবং সম্পন্ন হয়েছে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আসার (চিহ্ন বা আদর্শ) অনুসরণ করা উচিত এবং মতের (রায়ের) অনুসরণ করা উচিত নয়। কারণ যখন মতের অনুসরণ করা হয়, তখন আপনার চেয়েও শক্তিশালী মতের অধিকারী অন্য এক ব্যক্তি আসবে এবং আপনি তার অনুসরণ করবেন। এভাবে যখনই কেউ আপনার চেয়ে প্রবল হবে, আপনি তার অনুসরণ করবেন—আমি মনে করি এভাবে দ্বীন পূর্ণ হবে না। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারককে বলতে শুনেছি যে, আপনার নির্ভরতা যেন হয় আসার-এর ওপর, আর মতের মধ্য থেকে কেবল ততটুকুই গ্রহণ করুন যা হাদিসের ব্যাখ্যা প্রদান করে। ইবনুল মুবারক বলেন, মালিক বিন দিনার কাতাদাহকে বলেছিলেন: আপনি কি জানেন আপনি কোন ধরণের শাসনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন? আপনি আল্লাহ এবং তাঁর বান্দাদের মাঝে মধ্যস্থতা করছেন এবং বলছেন ‘এটি বৈধ নয়’ আর ‘এটি বৈধ’। হাসান বিন আলী আল-হুলওয়ানী উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন, আলী ইবনুল মাদীনী আমাদের বলেছেন, মা’ন বিন ঈসা আমাদের বলেছেন, মালিক ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের কাছে এসে তাকে কোনো একটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, তিনি তাকে তা বলে দিলেন। এরপর সে তার রায় (মতামত) জানতে চাইলে তিনি উত্তর দিলেন এবং লোকটি তা লিখে নিতে শুরু করল। তখন সাঈদের মজলিসে উপবিষ্ট এক ব্যক্তি বললেন...
বসরায় আব্বাস ইবনে ফাদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সালামাহ ইবনে শাবিবকে বলতে শুনেছি: আমি আহমদ ইবনে হাম্বলকে বলতে শুনেছি: আওজাঈর মত, মালিকের মত এবং আবু হানিফার মত—সবই নিছক ব্যক্তিগত অভিমত এবং আমার নিকট এগুলো সমান; দলিল তো কেবল আসার বা নির্ভরযোগ্য বর্ণনার মধ্যেই নিহিত। আবু উমর বলেন: সাহল ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তুস্তারি থেকে আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি বলেছেন: ইলমের বিষয়ে কেউ নতুন কিছু উদ্ভাবন করলে কিয়ামতের দিন তাকে অবশ্যই সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে; যদি তা সুন্নাহর অনুকূলে হয় তবে সে মুক্তি পাবে, অন্যথায় সে ধ্বংস হবে। ইবনে আব্দুল বার-এর দীর্ঘ আলোচনা এখানেই শেষ হলো।
বায়হাকী তাঁর 'আল-মাদখাল ইলা ইলমিস সুনান' গ্রন্থে আরও যোগ করে বলেছেন: 'নস' বা অকাট্য দলিলের উপস্থিতিতে ব্যক্তিগত অভিমতের নিন্দা এবং কষ্টসাধ্য কিয়াসের বর্ণনা সম্পর্কিত অধ্যায়। মহান আল্লাহ বলেন: "যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।" ইমাম শাফিঈ বলেন: "যদি তোমরা বিবাদে লিপ্ত হও" এর অর্থ—আল্লাহই ভালো জানেন—তারা (সাধারণ মানুষ) এবং তাদের সেই সকল শাসক যাদের আনুগত্যের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; "তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও" এর অর্থ—আল্লাহই ভালো জানেন—আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা বলেছেন তার দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "নিশ্চয়ই এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না; অন্যথায় সেগুলো তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।" মুজাহিদ বলেন: [অন্যান্য পথ বলতে] বিদআত এবং সংশয়সমূহকে বোঝানো হয়েছে।
বায়হাকী নিজ সনদে জাফর ইবনে মুহাম্মদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন খুতবা দিতেন তখন তাঁর চোখ লাল হয়ে যেত, কণ্ঠস্বর উচ্চ হতো এবং ক্রোধ তীব্র হতো, যেন তিনি কোনো এক বাহিনীকে সতর্ক করছেন—এমতাবস্থায় তিনি বলতেন: "শত্রুরা তোমাদের ওপর সকালে বা সন্ধ্যায় আক্রমণ করবে।" তিনি বলতেন: "আমি এবং কিয়ামত এভাবে প্রেরিত হয়েছি" এবং তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল জোড়া করে দেখাতেন। তিনি বলতেন: "অতঃপর, সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদ (সা.)-এর পথনির্দেশ। নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা।" অতঃপর তিনি বলতেন: "আমি প্রত্যেক মুমিনের নিকট তার নিজের প্রাণের চেয়েও অধিক ঘনিষ্ঠ। যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যায় তা তার পরিবারের জন্য, আর যে ঋণ বা অভিভাবকহীন পরিবার রেখে যায় তার ভার আমার ওপর এবং তা পরিশোধের দায়িত্বও আমার।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। সাওরি জাফর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাতে রয়েছে: "এবং প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতাই জাহান্নামে।"
ইমাম শাফিঈ বলেন: নতুন উদ্ভাবিত বিষয় দুই প্রকার; প্রথমত, যা কুরআন, সুন্নাহ, আসার বা ইজমার বিরোধী হিসেবে উদ্ভাবিত হয়—তা-ই পথভ্রষ্ট বিদআত। দ্বিতীয়ত, এমন কল্যাণকর বিষয় যা উদ্ভাবিত হয়েছে কিন্তু এর কোনোটির সাথেই বিরোধ নেই—এটি নিন্দনীয় নতুন উদ্ভাবন নয়। ওমর (রা.) রমজান মাসের রাতের সালাত (তারাবিহ) সম্পর্কে বলেছিলেন: "এই বিদআতটি কতই না চমৎকার!" অর্থাৎ এটি এমন এক নতুন বিষয় যা আগে (এভাবে) ছিল না, কিন্তু এটি যেহেতু অতীতের কোনো মূলনীতির পরিপন্থী নয়, তাই তা সঠিক।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "তোমরা অনুসরণ করো এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করো না, কারণ তোমাদের জন্য সুন্নাহই যথেষ্ট।" উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "আমার পরে এমন কিছু লোক আসবে যারা তোমাদের কাছে এমন বিষয়কে ন্যায় হিসেবে পেশ করবে যা তোমরা অন্যায় হিসেবে জানো এবং যা তোমরা ন্যায় হিসেবে জানো তাকে তারা অন্যায় হিসেবে পেশ করবে। সুতরাং যে আল্লাহর অবাধ্য হয় তার জন্য কোনো আনুগত্য নেই এবং তোমরা তোমাদের ব্যক্তিগত অভিমত দিয়ে আমল করো না।"
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "কোনো মুমিনের ঈমান ততক্ষণ পূর্ণতা পাবে না যতক্ষণ না তার খেয়ালখুশি আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসারী হয়।" বায়হাকী বলেন: এটি কেবল নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: নুয়াইম যে নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী তা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, তবে 'তাকরিব' গ্রন্থে যোগ করা হয়েছে যে তিনি প্রচুর ভুল করতেন। ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত: "তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে ব্যক্তিগত অভিমত থেকে বেঁচে থাকো।" শাবী থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: "এই মসজিদগুলো আমার কাছে এতটাই অপছন্দনীয় হয়ে উঠেছে যে, তা আমার বাড়ির আবর্জনার স্তূপের চেয়েও বেশি অপ্রিয়।" আমি বললাম: কেন হে আবু আমর? তিনি বললেন: "এই রায়পন্থীদের কারণে; রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসসমূহ মুখস্থ করা যখন তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ল, তখন তারা বিতর্ক ও ব্যক্তিগত মতের আশ্রয় নিল।" যুহরি থেকেও অনুরূপ বর্ণিত আছে।
ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) থেকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সনদে বর্ণিত যে তিনি বলেন: "হে লোকসকল! দ্বীনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিমতকে সন্দেহের চোখে দেখো। আমি নিজেকে দেখেছি যে, আমি আবু জান্দালের দিনে নিজের ইজতিহাদপ্রসূত মতের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশের প্রতিবাদ করছিলাম—আল্লাহর কসম, আমি সত্য লাভে কোনো ত্রুটি করিনি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) ও মক্কাবাসীদের মাঝে চুক্তিপত্র লেখা হচ্ছিল। তিনি বললেন: 'লেখো—বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম'। তারা বলল: আমরা যদি আপনাকে আপনার দাবিতে সত্যবাদী মনে করতাম তবে তো মেনেই নিতাম, কিন্তু আপনি আপনার নাম দিয়ে লিখুন—হে আল্লাহ আপনার নামে (আল্লাহুম্মা)। তিনি তাতে সম্মত হলেন।"