(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: -)
أثر تطور المعارف الطبية على تغير الفتوى والقضاء القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أثر تطور المعارف الطبية على تغير الفتوى والقضاء
أصل الكتاب: أطروحة دكتوراة في الفقه المقارن
المؤلف: د حاتم الحاج
إشراف: د صلاح الصاوي
الناشر: دار بلال بن رباح (القاهرة) - دار ابن حزم (القاهرة)
الطبعة: الثانية، 1440 - 2019 م
عدد الصفحات: 849
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 ربيع الأول 1443
ফতোয়া ও বিচারিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ওপর চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের প্রভাব বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
বই: ফতোয়া ও বিচারিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ওপর চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের প্রভাব
বইটির মূল রূপ: তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রে পিএইচডি থিসিস
লেখক: ড. হাতেম আল-হাজ
তত্ত্বাবধান: ড. সালাহ আস-সাভি
প্রকাশক: দার বিলাল বিন রাবাহ (কায়রো) - দার ইবনে হাজম (কায়রো)
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪৪০ - ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৮৪৯
[বইয়ের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ৩)
تقديمالدكتور صلاح الصاويهذا الكتاب
أطروحة علمية قدمت لنيل درجة الدكتوراه في الشريعة الإسلامية، خطها يراع فقيه شاب، آتاه الله تخصصا في العلوم الكونية ونبوغا في العلوم الشرعية، وقد أكرمني الله بالإشراف على هذه الرسالة، فأفدت منه أكثر مما أفاد مني! وكنت أقول لنفسي: نحن أمام مشروع فقيه متميز، وإن امتد به العمر وانقطع لمواصلة الطلب ليملأن أكناف الأرض عليها، ولتعلمن نبأه بعد حين!
وموضوع هذا الكتاب أثر تطور المعارف الطبية على تغير الفتوى والقضاء، وهو موضوع جدير بأن يكون موضع عناية مثله، وهو من جمع بين الفقه والطب، والتطور المعارف الطبية أثرها المحتوم على تغير كثير من أحكام القضاة وفتاوى المفتين، فإن الحكم على الشي ء فرع عن تصوره، وعلى قدر دقة تصور النازلة تكون دقة الفتوى فيها والحكم عليها، وقد طوف في هذا البحث في آفاق شتى منها ما ظهر فيه أثر هذا التطور بصورة جلية ومنها ما كان دون ذلك، وقد أفاد في ذلك كله وأجاد، فأسأل الله أن يهيء له من أمره رشدا، وأن يحملنا وإياه في أحمد الأمور عنده وأجملها عاقبة، وأن ينفع بقلمه العباد والبلاد، اللهم آمين
الأستاذ الدكتور صلاح الصاوي الأمين العام لمجمع فقهاء الشريعة بأمريكا ورئيس الجامعة الإسلامية بأمريكا الشمالية (مشكاة)
উপস্থাপনাডক্টর সালাহ আস-সাবিএই গ্রন্থটি
এটি একটি বৈজ্ঞানিক অভিসন্দর্ভ যা ইসলামী শরীয়াহ বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের জন্য পেশ করা হয়েছে। এটি একজন তরুণ ফকীহর কলমে লিখিত, যাকে আল্লাহ মহাজাগতিক বিজ্ঞানে বিশেষত্ব এবং শরীয়াহ বিজ্ঞানে অসাধারণ মেধা দান করেছেন। আল্লাহ আমাকে এই অভিসন্দর্ভটি তত্ত্বাবধান করার সম্মান দান করেছেন, ফলে আমি তার কাছ থেকে যা শিখেছি তা সে আমার কাছ থেকে যা শিখেছে তার চেয়েও বেশি! আমি নিজের মনে বলতাম: আমরা একজন বিশিষ্ট ফকীহ তৈরির প্রকল্পের সামনে আছি; যদি তার হায়াত দীর্ঘ হয় এবং সে ইলম অন্বেষণ অব্যাহত রাখে, তবে সে পৃথিবীর দিগন্ত পূর্ণ করে দিবে এবং অচিরেই তোমরা তার সংবাদ জানতে পারবে!
এই গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু হলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞানের বিবর্তন ফতোয়া ও বিচারব্যবস্থার পরিবর্তনের ওপর যে প্রভাব ফেলে তা। এটি এমন এক বিষয় যা তার মতো ব্যক্তির পক্ষেই বিশেষ মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য, যিনি ফিকহ ও চিকিৎসা বিজ্ঞান উভয়কেই একত্রিত করেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞানের বিবর্তনের একটি অনিবার্য প্রভাব রয়েছে বিচারকদের রায় এবং মুফতিদের ফতোয়া পরিবর্তনের ওপর। কেননা কোনো বিষয়ের ওপর হুকুম প্রদান করা সেই বিষয়ের সঠিক ধারণার (তাসাউয়ুর) একটি শাখা মাত্র। কোনো ঘটনার চিত্রায়ন বা অনুধাবন যতটা সূক্ষ্ম হবে, তার ওপর ফতোয়া ও হুকুম প্রদানও ততটাই নিখুঁত হবে। তিনি এই গবেষণায় বিভিন্ন দিগন্ত পরিভ্রমণ করেছেন, যার কোনো কোনোটিতে এই বিবর্তনের প্রভাব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে এবং কোনো কোনোটিতে তা ছিল এর চেয়ে কিছুটা কম। তিনি এর সবকিছুর মধ্যেই উপকৃত করেছেন এবং দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তাই আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তার যাবতীয় কাজে কল্যাণের পথ সুগম করে দেন, এবং আমাদের ও তাকে এমন বিষয়ের দিকে পরিচালিত করেন যা আল্লাহর কাছে অধিক প্রশংসনীয় এবং যার পরিণাম অত্যন্ত সুন্দর। আর আল্লাহ যেন তার লেখনীর মাধ্যমে বান্দাদের ও দেশসমূহের কল্যাণ সাধন করেন। হে আল্লাহ, কবুল করুন।
প্রফেসর ডক্টর সালাহ আস-সাবি, মহাসচিব, আমেরিকা শরীয়াহ ফকীহ পরিষদ এবং সভাপতি, উত্তর আমেরিকা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় (মিশকাত)
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ৭)
المقدمةبسم الله والحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا؛ من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، بلغ عن ربه فأتم البلاغ، وبين لنا شرائع ديننا في شتى مناحي الحياة، حتى غبطنا على بيانه أهل الكتاب. فاللهم صل وسلم عليه وعلى آله وصحبه ومن اتبع ملته إلى يوم الدين. أما بعد،
فإن التَّداخُل بين علمَي الفقه والطب أمر يتفق عليه العارفون بهما؛ وذلك لأن موضوع علم الطب هو بدن الإنسان ونفسه، والبدن والنفس مَحَلٌّ للتكاليف الشرعية؛ ولذلك كثر ذكرُ الفقهاء لمسائلَ من علم الطب وإحالتُهم على الأطباء، بل وسؤالُهم إياهم لتحقيق مَناط الأحكام الشرعية.
ولما كان علم الطب متغيرًا، لزم أن تتغير الفتاوى والآراء الفقهية المبنية على المعارف الطبية. ولعل تغير الآراء الفقهيه بتغير المعارف الطبية هو أوضح مثال على تغير تلك الآراء الفقهية - وليس الأحكام الشرعية - بتغير الزمان والمكان والحال.
من أجل ذلك، يُحتاج إلى الكثير من البحوث الفقهية المتخصصة في هذا الباب. وفي هذا البحث محاولة لمراجعة أهم الفتاوى الفقهية المبنية على المعارف الطبية أو المتأثرة بها.
وليس هناك مسألة مما تعرض له الفقهاء قد أطبقَت الأمة على الخطأ فيها، أو تَعارَضَ بشأنها نصُّ الوحي مع قطعيِّ العلم، ولذا فإننا عند مراجعة الآراء الفقهية في ضوء المعارف الطبية الحديثة، لا نَزيد على أن نختار من آراء الفقهاء ما هو الأرجح، حَسَب تلك المعارف الحديثة، وإن كان خلاف الأشهرِ أو قولِ الجمهور.
ভূমিকাআল্লাহর নামে এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে বাণী পৌঁছে দিয়েছেন এবং সেই বাণী পৌঁছানোর কাজ পূর্ণতা দান করেছেন। তিনি আমাদের জন্য জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের দ্বীনের বিধিবিধান বর্ণনা করেছেন, এমনকি আহলে কিতাবগণও তাঁর এই বর্ণনার কারণে আমাদের প্রতি ঈর্ষা পোষণ করেছে। হে আল্লাহ! আপনি তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর আদর্শ অনুসরণ করবে তাদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর,
ফিকহ এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের মধ্যে যে গভীর যোগসূত্র রয়েছে, তা এই দুই বিষয়ে বিশেষজ্ঞগণ ঐকমত্য পোষণ করেন। কারণ, চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল বিষয়বস্তু হলো মানুষের শরীর ও মন, আর শরীর ও মনই হলো শরীয়তের বিধান পালনের মূল ক্ষেত্র। একারণেই ফকীহগণ চিকিৎসাবিজ্ঞানের নানাবিধ মাসআলা অধিক হারে উল্লেখ করেছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হয়েছেন, বরং শরীয়তের বিধানের প্রেক্ষিত (মানাত) নিশ্চিত করার জন্য তাঁদের নিকট বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্নও করেছেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞান যেহেতু পরিবর্তনশীল, তাই চিকিৎসা জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত ফতোয়া ও ফিকহী মতামতগুলো পরিবর্তিত হওয়া আবশ্যক। সম্ভবত চিকিৎসা জ্ঞানের পরিবর্তনের সাথে ফিকহী মতামতের পরিবর্তন হওয়াটি হলো সময়, স্থান ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সেই ফিকহী মতামতগুলো—শরয়ী বিধান নয়—পরিবর্তিত হওয়ার স্পষ্টতম উদাহরণ।
একারণেই এই অধ্যায়ে অনেক বিশেষায়িত ফিকহী গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। আর এই গবেষণায় চিকিৎসা জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে প্রণীত অথবা চিকিৎসা জ্ঞান দ্বারা প্রভাবিত গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়াগুলো পর্যালোচনার একটি প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।
ফকীহগণ যেসব মাসআলা বর্ণনা করেছেন তার মধ্যে এমন কোনো মাসআলা নেই যাতে পুরো উম্মত ভুলের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছে, অথবা যে বিষয়ে ওহীর কোনো দলিলের সাথে বিজ্ঞানের কোনো অকাট্য বিষয় সাংঘর্ষিক হয়েছে। তাই আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে ফিকহী মতামতগুলো পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আমরা সেই আধুনিক জ্ঞান অনুযায়ী ফকীহদের মতামতগুলোর মধ্যে যা সবচেয়ে অগ্রগণ্য বা মজবুত (আরজাহ), কেবল সেটিকেই বেছে নিয়েছি; যদিও তা সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মতের পরিপন্থী কিংবা জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের বিরোধী হয়।
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ৮)
وكذلك فإن هناك مادة علمية ثرية للعديد من البحوث في المسائل المستجدة التي لم يتعرض لها فقهاؤنا بالتفصيل لكونها من النوازل التي أدى إليها تطور الطب، ولكن هذا البحث لن يتناول من هذه النوازل إلا ما كان منها ذا تأثير على تَغيُّر الفتوى في بعض مسائل الفقه.
* * *
তেমনিভাবে এখানে নতুন উদ্ভূত মাসআলাসমূহের উপর বহু গবেষণার জন্য সমৃদ্ধ ইলমি উপাদান রয়েছে, যা আমাদের ফকিহগণ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেননি। কারণ এগুলো চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে সৃষ্ট এমন সব নব্য সংকট (নাওয়াজিল) যা পূর্বে ছিল না। তবে এই গবেষণা এই নব্য সংকটগুলোর মধ্য থেকে কেবল সেগুলো নিয়েই আলোচনা করবে, যেগুলোর ফিকহের কিছু মাসআলায় ফতোয়া পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রভাব রয়েছে।
* * *
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ৯)
أهمية البحث والدراسة في الموضوع في زمنناإن التغير في العلوم الطبية كان بطيئًا حتى بدايات القرن العشرين الميلادي، حيث بدأ تطور العلوم والمعارف الطبية تتسارع خطاه، إلى أن وصلت تلك العلوم إلى مرحلة الازدهار الحالية. وإن فقهاءنا المتقدمين رحمهم الله لم يكن تحت تصرفهم من العلوم الطبية ما هو عندنا، لذلك فقد اختلفت فتاواهم بشأن العديد من الأحكام الفقهية المتعلقة بالطب ومعارفه، كتحديد أدنى الحمل وأقصاه ونوع الخنثى والمنافذ للجَوْف وغير ذلك من المسائل. وكان من أهم أسباب اختلافهم اضطراب أطباء أزمنتهم بشأن هذه الأمور.
أما الآن، فإن الكثير من المعارف والممارسات الطبية صار مبناها على التجربة واليقين، لا الظن والتخمين، ومن ثَمَّ فقد صارت مراجعة هذه الأقوال الفقهية المبثوثةِ في كتب الفقهِ، والتي تتعلقُ بالطب وعلومه، مما تدعو إليه الحاجة.
إن مراجعة وتصحيح الآراء الفقهية المنبنية على معارف طبية قديمة منقوصة أمر مهم لنا في تعبدنا لربنا، وتحاكمنا لشريعتنا؛ وكذلك فهو مهم للتأكيد على عصمة الوحي وبيان أن ما كان من خطأ في بعض هذه الآراء لم يكن أبدًا ناتجًا عن خطأ في أحد مصدريه، كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.
* * *
বর্তমান সময়ে এই বিষয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনার গুরুত্ববিংশ শতাব্দী ঈসায়ীর শুরু পর্যন্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিবর্তন ছিল অত্যন্ত ধীরগতিসম্পন্ন। এরপর থেকে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও জ্ঞানের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হতে শুরু করে এবং বর্তমানে এটি উন্নতির এক অনন্য শিখরে পৌঁছেছে। আমাদের পূর্বসূরি ফকীহগণ (রাহিমাহুমুল্লাহ)-এর কাছে বর্তমানে লভ্য চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই জ্ঞান ছিল না। ফলে চিকিৎসা ও তদসংশ্লিষ্ট জ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত অনেক ফিকহি বিধানের ক্ষেত্রে তাঁদের ফতোয়াগুলোতে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে; যেমন—গর্ভাবস্থার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণ, হিজড়া বা উভয়লিঙ্গের ধরন নির্ণয়, শরীরের অভ্যন্তরে প্রবেশের পথসমূহ এবং এই জাতীয় আরও অন্যান্য মাসআলা। তাঁদের এই মতভেদের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল সমসাময়িক চিকিৎসকদের এই বিষয়গুলো সম্পর্কে সুনিশ্চিত জ্ঞানের অভাব বা অস্থিরতা।
পক্ষান্তরে বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অধিকাংশ জ্ঞান ও চর্চা ধারণা বা অনুমানের পরিবর্তে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিশ্চিত জ্ঞানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাই ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহে চিকিৎসা ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট ছড়িয়ে থাকা ফিকহি অভিমতগুলো পর্যালোচনা করা সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
প্রাচীন ও ত্রুটিপূর্ণ চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত ফিকহি মতামতের পর্যালোচনা ও সংশোধন আমাদের রবের ইবাদত এবং শরীয়তের বিধান পালনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে ওহীর অভ্রান্ততা নিশ্চিত করা এবং এটি স্পষ্ট করার জন্যও তা জরুরি যে, এই মতামতগুলোর কোনোটিতে যদি ভুল থেকে থাকে, তবে তা কখনোই ওহীর দুই উৎস—আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর কোনো ভুলের কারণে ঘটেনি।
* * *
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ১০)
سبب اختياري للموضوعلما كنت قد درست الفقه والطب، رأيت أنه يحسن أن أجعل رسالتي في مرحلة الدكتوراه للمساعدة في سد ثغرة في هذا الباب العظيم من أبواب الفقه، وقررت أن أتتبع فيها مسائل الفقه التي قد يؤثر تطور العلوم الطبية على الترجيح فيها. ولست أزعُم الاستيعاب لكل تلك المسائل، فإن هذا ما لا تتسع له رسالة واحدة، ولكنني حاولت أن أتناول بعض القضايا الأهم في أبواب الفقه كافة، من عبادات وعادات ومعاملات وقضاء.
ولقد رأيت أن أضع لرسالتي هذه عنوان: «أَثَرُ تَطَوُّرِ الْمَعَارِفِ الطِّبِّيَّةِ عَلَى تَغَيُّرِ الْفَتْوَى والْقَضَاءِ»
* * *
বিষয়টি নির্বাচনের কারণযেহেতু আমি ফিকহ (ইসলামি আইনশাস্ত্র) ও চিকিৎসা শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছি, তাই আমি মনে করেছি যে আমার ডক্টরেট পর্যায়ের গবেষণাপত্রটি ফিকহের এই মহান অধ্যায়ের একটি শূন্যতা পূরণে সহায়ক হিসেবে পেশ করা সমীচীন হবে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এতে আমি ফিকহের এমন সব মাসআলা অনুসন্ধান করব যেগুলোর ক্ষেত্রে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি সিদ্ধান্ত গ্রহণের (তরজীহ) ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আমি এই সকল মাসআলা পূর্ণাঙ্গরূপে আয়ত্ত করার দাবি করছি না, কারণ একটিমাত্র গবেষণাপত্রের পক্ষে তা সংকুলান করা সম্ভব নয়। তবে আমি ইবাদাত, অভ্যাস, লেনদেন এবং বিচার ব্যবস্থার মতো ফিকহের সকল অধ্যায়ের অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি।
আমি আমার এই গবেষণাপত্রটির শিরোনাম নির্ধারণ করেছি: «ফতোয়া এবং বিচারিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চিকিৎসা শাস্ত্রীয় জ্ঞানের উন্নতির প্রভাব»
* * *
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ১১)
بعض ما كتب مما له تعلق بالفقه والطب معًالم يتم بحث المسائل الفقهية التي يؤثر تطور الطب عليها بما فيه الكفاية، ولم تُولَ هذه القضيةُ، بعد، العنايةَ التي تستحقها، وإن كان قد كتب العديد من الكتب التي تناولت المسائل الفقهية ذات التعلق بالطب وعلومه؛ أذكر منها:
1 - «أبحاث فقهية في قضايا طبية معاصرة» للدكتور محمد نعيم ياسين.
2 - «بحوث في الفقه الطبي والصحة النفسية من منظور إسلامي» للدكتور عبد الستار أبي غدة.
3 - «دراسات فقهية في قضايا طبية معاصرة» للدكاترة عمر سليمان الأشْقَر ومحمد عثمان شبير وعبد الناصر أبو البصل وعارف علي عارف وعباس أحمد محمد الباز.
4 - «أخلاقيات الطبيب المسلم» للدكتور سعد بن ناصر الشثرى.
5 - «الطبيب المسلم وأخلاقيات المهنة» للدكتور هشام الخطيب وزملائه.
6 - «الطبيب: أدبه وفقهه» للدكتورين السباعي والبار.
7 - «الأحكام الشرعية للأعمال الطبية» للدكتور أحمد شرف الدين.
8 - «الموسوعة الطبية الفقهية» للدكتور أحمد محمد كنعان.
9 - «الوجيز في الطب الإسلامي» للدكتور هشام إبراهيم الخطيب.
10 - «أحكام الجراحة الطبية والآثار المترتبة عليها» للدكتور محمد بن محمد مختار الشنقيطي.
11 - «الأحكام الطبية المتعلقة بالنساء» للدكتور محمد خالد منصور.
ফিকহ এবং চিকিৎসাশাস্ত্র উভয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু রচনাচিকিৎসা বিজ্ঞানের বিবর্তন যেসব ফিকহি মাসআলার ওপর প্রভাব ফেলে, সেগুলো নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা করা হয়নি এবং এ বিষয়টি এখনো প্রাপ্য গুরুত্ব পায়নি; যদিও চিকিৎসা এবং এর বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট ফিকহি বিষয়াবলী নিয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ রচিত হয়েছে। আমি তার মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু নিচে উল্লেখ করছি:
১ - ড. মুহাম্মদ নাঈম ইয়াসিনের «সমসাময়িক চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে ফিকহি গবেষণা»।
২ - ড. আব্দুল সাত্তার আবু গুদ্দাহর «ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে চিকিৎসা ফিকহ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা»।
৩ - ড. উমর সুলাইমান আল-আশকার, মুহাম্মদ উসমান শাবীর, আব্দুল নাসির আবু আল-বাসাল, আরিফ আলি আরিফ এবং আব্বাস আহমদ মুহাম্মদ আল-বাজের «সমসাময়িক চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে ফিকহি অধ্যয়ন»।
৪ - ড. সাআদ বিন নাসির আল-শাতরির «মুসলিম চিকিৎসকের নৈতিকতা»।
৫ - ড. হিশাম আল-খতিব ও তাঁর সহযোগীদের «মুসলিম চিকিৎসক ও পেশাগত নৈতিকতা»।
৬ - ড. সিবাঈ এবং ড. আল-বারের «চিকিৎসক: তার আদব ও ফিকহ»।
৭ - ড. আহমদ শরফুদ্দিনের «চিকিৎসা সংক্রান্ত কার্যাবলীর শরয়ী বিধান»।
৮ - ড. আহমদ মুহাম্মদ কানআনের «চিকিৎসা ফিকহ বিশ্বকোষ»।
৯ - ড. হিশাম ইবরাহিম আল-খতিবের «ইসলামি চিকিৎসাশাস্ত্রের সংক্ষিপ্তসার»।
১০ - ড. মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ মুখতার আল-শানকিতির «চিকিৎসা অস্ত্রোপচারের বিধান এবং এর আনুষঙ্গিক প্রভাব»।
১১ - ড. মুহাম্মদ খালিদ মনসুরের «নারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সংক্রান্ত বিধান»।
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ১২)
12 - «المسائل الطبية المستجدة» للدكتور محمد بن عبد الجواد النتشة.
13 - «مستجدات طبية معاصرة من منظور فقهي» للدكتورين مصلح بن عبد الحي النجار وإياد أحمد إبراهيم.
14 - «بحوث فقهية في مسائل طبية معاصرة» للدكتور علي محمد يوسف المحمدي.
15 - «فقه القضايا الطبية المعاصرة» للدكتورين علي القره داغي وعلي يوسف المحمدي.
16 - «المسؤولية الطبية وأخلاقيات الطبيب» و «التداوي بالمحرمات» و «مداواة الرجل للمرأة ومداواة الكافر للمسلم» و «الختان» و «الموقف الفقهي والأخلاقي من قضية زرع الأعضاء» و «حكم التداوي» و «الإيدز ومشاكله الاجتماعية والفقهية» و «خلق الإنسان بين الطب والقرآن» وكلها للدكتور محمد علي البار.
17 - «الأحكام والفتاوى الشرعية لكثير من المسائل الطبية» للدكتور علي بن سليمان الرميخان.
18 - «الجناية العمد للطبيب» للدكتور محمد يسري إبراهيم.
19 - «مدى مشروعية الانتفاع بأعضاء الآدمي حيا أو ميتا في الفقه الإسلامي» للدكتور عبد المطلب عبد الرزاق حمدان.
20 - «موت الدِّمَاغ بين الطب والإسلام» لندى محمد نعيم الدقر.
21 - «أحكام الجنين» لعمر بن محمد غانم.
১২ - ডক্টর মুহাম্মদ বিন আব্দুল জাওয়াদ আন-নাতশাহ-এর «আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত মাসায়েল»।
১৩ - ডক্টর মুসলিহ বিন আব্দুল হাই আন-নাজ্জার এবং ডক্টর ইয়াদ আহমদ ইবরাহিম-এর «ফিকহী দৃষ্টিকোণ থেকে সমসাময়িক আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়াদি»।
১৪ - ডক্টর আলী মুহাম্মদ ইউসুফ আল-মুহাম্মাদী-এর «সমসাময়িক চিকিৎসা সংক্রান্ত মাসায়েলে ফিকহী গবেষণা»।
১৫ - ডক্টর আলী আল-কাররা দাগী এবং ডক্টর আলী ইউসুফ আল-মুহাম্মাদী-এর «সমসাময়িক চিকিৎসা সংক্রান্ত ইস্যুগুলোর ফিকহ»।
১৬ - «চিকিৎসা সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা ও চিকিৎসকের নীতিশাস্ত্র», «হারাম বস্তুর মাধ্যমে চিকিৎসা», «পুরুষ কর্তৃক নারীর চিকিৎসা ও কাফির কর্তৃক মুসলিমের চিকিৎসা», «খতনা», «অঙ্গ প্রতিস্থাপনের বিষয়ে ফিকহী ও নৈতিক অবস্থান», «চিকিৎসা গ্রহণের বিধান», «এইডস এবং এর সামাজিক ও ফিকহী সমস্যাসমূহ» এবং «চিকিৎসা বিজ্ঞান ও কুরআনের আলোকে মানব সৃষ্টি»—এই সবগুলোই ডক্টর মুহাম্মদ আলী আল-বার-এর রচনা।
১৭ - ডক্টর আলী বিন সুলাইমান আর-রুমাইখান-এর «অসংখ্য চিকিৎসা সংক্রান্ত মাসায়েলে শরয়ী বিধান ও ফতোয়াসমূহ»।
১৮ - ডক্টর মুহাম্মদ ইউসরি ইবরাহিম-এর «চিকিৎসকের ইচ্ছাকৃত অপরাধ»।
১৯ - ডক্টর আব্দুল মুত্তালিব আব্দুল রাজ্জাক হামদান-এর «ইসলামী ফিকহে জীবিত বা মৃত মানুষের অঙ্গ ব্যবহারের বৈধতার পরিধি»।
২০ - নাদা মুহাম্মদ নাঈম আদ-দাক্কার-এর «চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ইসলামের আলোকে মস্তিষ্কের মৃত্যু (ব্রেইন ডেথ)»।
২১ - উমর বিন মুহাম্মদ গানিম-এর «ভ্রূণ সংক্রান্ত বিধানসমূহ»।
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
22 - «أحكام المرأة الحامل» ليحيى عبد الرحمن الخطيب.
23 - «حكم تشريح الإنسان بين الشريعة والقانون» للدكتور عبد العزيز القصار.
24 - «أحكام المرأة الحامل وحملها» للدكتور عبد الرشيد قاسم.
25 - «التلقيح الصناعي بين أقوال الأطباء وآراء الفقهاء» للدكتور أحمد لطفي أحمد.
26 - «موسوعة الفقه والقضاء في الطب الشرعي» للأستاذ شريف الطباخ والدكتور أحمد جلال.
27 - «أثر التقنية الحديثة على الخلاف الفقهي» رسالة دكتوراه للدكتور هشام آل الشيخ. وفيها جملة من المسائل الفقهية المتعلقة بالطب.
28 - «أثر المستجدات الطبية في باب الطهارة» لزايد نواف الدويري.
إن هذه البحوث والكتب، سوى الأخيرين، كان جل ما فيها إما متعلقًا بفقه العمل الطبي أو ببعض النوازل في مجال الطب التي تحتاج إلى بيان الحكم الشرعي. أما عملي فسيكون في المسائل الفقهية التي تعرض لها المتقدمون بالبحث ولكن أخطأ بعضهم فيها بسبب قصور المعارف الطبية في أزمنتهم، أو تلك المسائل التي لم يخطئ فيها أحد، وإنما وجبت مراجعتها لتغير الواقع بسبب تطور الطب، وذلك كتوسيع دائرة الاستيفاء في القِصاص واستيعاب الطب الشرعي في أنظمة القضاء الإسلامي؛ وهو من باب تحقيق المناط.
* * *
২২ - ইয়াহইয়া আব্দুর রহমান আল-খাতিব প্রণীত «গর্ভবতী মহিলার বিধানসমূহ»।
২৩ - ড. আব্দুল আজিজ আল-কাসসার প্রণীত «শরীয়াহ ও আইনের আলোকে মানবদেহ ব্যবচ্ছেদ করার বিধান»।
২৪ - ড. আব্দুর রশীদ কাসিম প্রণীত «গর্ভবতী মহিলা এবং তার গর্ভস্থ সন্তানের বিধানসমূহ»।
২৫ - ড. আহমদ লুৎফি আহমদ প্রণীত «চিকিৎসকদের বক্তব্য ও ফকীহদের মতামতের আলোকে কৃত্রিম প্রজনন»।
২৬ - উস্তাদ শরীফ আত-তাব্বাখ এবং ড. আহমদ জালাল প্রণীত «ফরেনসিক মেডিসিনে ফিকহ ও বিচারিক বিশ্বকোষ»।
২৭ - ড. হিশাম আল আশ-শাইখ-এর পিএইচডি থিসিস «ফকীহদের মতপার্থক্যের ওপর আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাব»। এতে চিকিৎসা সংক্রান্ত একগুচ্ছ ফিকহী মাসআলা রয়েছে।
২৮ - জায়েদ নাওয়াফ আদ-দুওয়াইরী প্রণীত «পবিত্রতা অধ্যায়ে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের উদ্ভাবনসমূহের প্রভাব»।
শেষোক্ত দুটি ব্যতীত এই গবেষণা ও গ্রন্থগুলোর অধিকাংশ বিষয়বস্তুই ছিল হয় চিকিৎসা পেশা সংক্রান্ত ফিকহ অথবা চিকিৎসা ক্ষেত্রের এমন কিছু সমসাময়িক সমস্যা (নাওয়াযিল) সম্পর্কিত, যেগুলোর শরয়ী বিধান স্পষ্ট করার প্রয়োজন ছিল। পক্ষান্তরে, আমার কাজ হবে সেই সব ফিকহী মাসআলা নিয়ে যা পূর্ববর্তীগণ আলোচনা করেছেন, কিন্তু তাঁদের যুগে চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁদের কেউ কেউ তাতে ভুল করেছেন; অথবা এমন সব মাসআলা যাতে কেউ ভুল করেননি, কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে বাস্তব পরিস্থিতি পরিবর্তিত হওয়ার কারণে সেগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। যেমন কিসাসের ক্ষেত্রে হক আদায়ের পরিধি বিস্তৃত করা এবং ইসলামী বিচার ব্যবস্থায় ফরেনসিক মেডিসিনকে আত্তীকরণ করা; যা মূলত 'তাহকীকুল মানাত' (বাস্তব ক্ষেত্রে বিধানের প্রয়োগ নিশ্চিতকরণ)-এর অন্তর্ভুক্ত।
* * *
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
منهجي وأسلوبي في البحث• لقد انتهجت في رسالتي مَنهَج الوصف عند عرض المعلومات الطبية، مع التوثيق، وفي بعض المواضع الخلافية في الطب، نَهَجت طريقة التحليل.
• وعند عرض الآراء الفقهية، سرت على منهج التحليل بمراحله المختلفة من التفسير والنقد والاستنباط، وذلك ببيان الآراء المختلفة والعرض التفسيري لما يتعلق بها من النصوص ووجوه الاستدلال الأخرى، مع النقد والاستنباط ثم الترجيح.
• ولكون الرسالة مقارنة، فقد اعتمدت منهج الاستقراء الجزئي في حصر الآراء المختلفة، ثم سرت على المنهج الحواري الجدلي بعرض ومقابلة الآراء الفقهية المختلفة ثم ترجيح الأقوى دليلا من حيث الخبر ثم النظر.
• ولقد أوردت الخلاف بين المذاهب الأربعة المتفق على شرف مكانتها عند أهل السنة، وذكرت قول السادة الظاهرية عند الحاجة، وكذلك أقوالًا من خارج المذاهب لمجتهدين من غير أتباعها؛ ولكن أكثر الاعتماد كان على أقوال السادة الأئمة من المذاهب الأربعة.
ورَغم كوني على مذهب الإمام أحمد، فقد حرَصت، كباحثٍ، على التجرد والإنْصَاف، وألا يكون التعصب إلا للوحي ومُبلِّغه صلى الله عليه وسلم. وليس شيءٌ إلا أخضعته للنقد والأخذ والرد إلا نصٌ محكمٌ صحيحٌ أو إجماعٌ ثابتٌ صريحٌ أو أوائلُ العقلِ والحسِّ التي لا يختلف عليها ذوو الحِجا.
• من حيث مراعاةُ التوثيق، فقد التزمت بالرجوع إلى المصادر الأصلية المعتمدة في نقل الأقوال عند أصحاب المذاهب الأربعة وغيرها: كـ «المَبسُوط» و «بَدَائع الصَّنَائع» و «تَبْيين الحَقَائق» و «فَتْح القَدِير» و «رَدّ المُحتار» في الفقه الحنفي؛ و «المُدَوَّنَة» و «شَرح مُخْتَصَر خَلِيل» و «حَاشِيَة الدُّسُوقِيّ» و «مَوَاهِب الجَلِيل» و «مِنَح الجَلِيل» في الفقه
গবেষণায় আমার পদ্ধতি ও শৈলী• আমি আমার অভিসন্দর্ভে চিকিৎসাবিষয়ক তথ্যাদি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে উদ্ধৃতিসহ বর্ণনামূলক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের কিছু বিতর্কিত বিষয়ে বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি গ্রহণ করেছি।
• ফিকহী মতাদর্শসমূহ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমি ব্যাখ্যা, সমালোচনা ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন পর্যায়ের সমন্বয়ে বিশ্লেষণধর্মী পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মতামত বর্ণনা করা এবং তৎসংশ্লিষ্ট মূল পাঠ ও দলীলের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি পর্যালোচনা, উদ্ভাবন এবং পরিশেষে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতটি নির্ধারণ করেছি।
• অভিসন্দর্ভটি তুলনামূলক হওয়ার কারণে আমি বিভিন্ন মতসমূহ আহরণের ক্ষেত্রে আংশিক আরোহী পদ্ধতি গ্রহণ করেছি। অতঃপর বিভিন্ন ফিকহী মতামতের উপস্থাপনা ও তুলনার মাধ্যমে সংলাপমূলক ও যৌক্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছি এবং বর্ণনা ও যুক্তির নিরিখে অধিকতর শক্তিশালী দলীলের ভিত্তিতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতটি নির্ধারণ করেছি।
• আমি আহলুস সুন্নাহর নিকট মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে স্বীকৃত চার মাযহাবের মধ্যকার মতভেদসমূহ উল্লেখ করেছি। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সম্মানিত জাহিরী ইমামদের বক্তব্য এবং মাযহাব চতুষ্টয়ের অনুসারী নন এমন মুজতাহিদগণের মতামতও উদ্ধৃত করেছি। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে চার মাযহাবের সম্মানিত ইমামগণের বক্তব্যের উপরেই নির্ভর করা হয়েছে।
আমি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাযহাবের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও একজন গবেষক হিসেবে নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি এবং ওহী ও ওহীর বার্তাবাহক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো প্রতি যেন অন্ধ পক্ষপাত না থাকে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখেছি। অকাট্য সহীহ দলীল, প্রতিষ্ঠিত ও স্পষ্ট ঐক্যমত অথবা বিবেক ও ইন্দ্রিয়জাত প্রাথমিক জ্ঞান—যা নিয়ে প্রজ্ঞাবানদের মাঝে কোনো বিভেদ নেই—তা ব্যতীত অন্য সকল বিষয়কেই আমি পর্যালোচনা এবং গ্রহণ বা বর্জনের আওতায় রেখেছি।
• প্রামাণিকতা রক্ষার খাতিরে আমি চার মাযহাব ও অন্যান্যদের মতামত বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য মূল উৎসসমূহের শরণাপন্ন হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকেছি। যেমন হানাফী ফিকহের ক্ষেত্রে: ‘আল-মাবসুত’, ‘বাদায়িউস সানায়ি’, ‘তাবয়ীনুল হাকায়িক’, ‘ফাতহুল কদীর’ এবং ‘রাদ্দুল মুহতার’; আর মালিকী ফিকহের ক্ষেত্রে: ‘আল-মুদাওওয়ানাহ’, ‘শারহু মুখতাসার খলীল’, ‘হাশিয়াতুদ দাসুকী’, ‘মাওয়াহিবুল জালীল’ এবং ‘মিনাহুল জালীল’ ফিকহ শাস্ত্রে—
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
المالكي؛ و «الأم» و «المَجْمُوع» و «أسْنَى المَطَالِب» و «نهاية المُحْتاج» و «تُحْفَة المُحْتاج» و «مغني المُحْتاج» و «حَاشِيَة البُجَيرَمِيّ» وحاشيتان لقَلْيُوبِيّ وعَمِيرَة» في الفقه الشافعي؛ و «مُخْتَصَر الخِرَقِيّ» و «المُقنِع» و «المُغْنِي» و «الفُرُوع» (لابن مُفْلِح) و «الإنْصَاف» و «كشَّاف القِنَاع» و «مُنْتَهَى الإرَادَات» في الفقه الحنبلي؛ و «المُحَلَّى» في الفقه الظاهري، على أنني لم أتقيد بالنقل من كتب الفتوى دون غيرها؛ لأن المطلوب في بحث كهذا تحرير نسبة الآراء إلى أصحابها، وهذا متحصل من كتب الفتوى وغيرها من المصادر المعتمدة.
• واعتنيت بعزو الأحاديث والآثار إلى مصادرها الأصلية، بما في ذلك العزو إلى الكتاب والباب تسهيلًا على القارئ. وذلك مع العناية ببيان درجتها إن كانت خارج الصحيحين. وهذا وإن كان مهمًّا في كل دراسة، فأهميته أظهر في دراسة تناقش أثر التطور العلمي على الفتوى والقضاء في الإسلام، حتى لا تُحَمَّل الشريعةُ أخطاءَ غيرِ المعصومين أو الأخبارَ الواهية وتلك التي لا أصل لها.
• واعتمدت في نقل المعارف الطبية على المصادر الموثوقة عند الأطباء، وإن كان أكثرها من المراجع الأجنبية؛ لأن الغربيين هم رواد هذا العلم وتلك الصنعة في زماننا، بعد أن تأخر المسلمون ورضُوا باستهلاك العلوم والتقنية دون صناعتها؛ وإلى الله المُشتَكى.
• ومن حيث الأسلوب، فقد اجتهدت في مراعاة الإيجاز مع الوضوح والسلامة من الأخطاء وحسن البيان بقدر الإمكان، وذلك من غير أن يطغى الشكل على المضمون.
• وأوردت نصوص الوحي مَشكولة حماية لجنابها الشريف من اللَّحْنِ. أما غيرها، فشَكَلت ما يحتاج إلى ضبط في النطق، أو ما كان في شكله تسهيلًا للقراءة، فإن كان هناك وجوهٌ، جعلت العلامة الأصح - وإن لم تكن الأشهر في استعمال المتأخرين - هي الأقرب إلى الحرف، متى تيسر ذلك من غير تكرار الكلمة؛ مثال: تُهَمَة. فتح الهاء هو الأشهر في استعمال الأولين، والسكون وجه صحيح.
মালিকি; এবং শাফিয়ি ফিকহ শাস্ত্রে ‘আল-উম্ম’, ‘আল-মাজমু’, ‘আসনা আল-মাতালিব’, ‘নিহায়াত আল-মুহতাজ’, ‘তুহফাত আল-মুহতাজ’, ‘মুগনি আল-মুহতাজ’, ‘হাশিয়া আল-বুজাইরামি’ এবং কালয়ুবি ও আমিরা-এর দু’টি হাশিয়া; এবং হাম্বলি ফিকহ শাস্ত্রে ‘মুখতাসার আল-খিরাকি’, ‘আল-মুকনি’, ‘আল-মুগনি’, ‘আল-ফুরু’ (ইবনে মুফলিহ রচিত), ‘আল-ইনসাফ’, ‘কাশশাফ আল-কিনা’ এবং ‘মুনতাহা আল-ইরাদাত’; এবং জাহিরি ফিকহে ‘আল-মুহাল্লা’; তবে আমি কেবল ফতোয়ার কিতাব থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকিনি; কারণ এই ধরণের গবেষণার উদ্দেশ্য হলো মতগুলোকে সেগুলোর প্রবক্তাদের দিকে সঠিকভাবে সম্পৃক্ত করা, আর এটি ফতোয়ার কিতাব এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য উৎস উভয় থেকেই অর্জিত হয়।
• এবং আমি হাদিস ও আসারগুলোকে সেগুলোর মূল উৎসের দিকে সম্পৃক্ত করার প্রতি যত্নবান হয়েছি, যার মধ্যে পাঠকের সুবিধার্থে কিতাব ও অধ্যায়ের উদ্ধৃতিও অন্তর্ভুক্ত। সেই সাথে সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বাইরে হলে সেগুলোর স্তর বর্ণনার প্রতিও লক্ষ্য রেখেছি। যদিও প্রতিটি গবেষণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ, তবে ইসলামে ফতোয়া ও বিচারব্যবস্থার ওপর বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে এমন গবেষণায় এর গুরুত্ব আরও সুস্পষ্ট, যাতে শরিয়তের ওপর ‘নিষ্পাপ’ (মাসুম) নন এমন ব্যক্তিদের ভুল অথবা দুর্বল ও ভিত্তিহীন বর্ণনাগুলোর দায় চাপানো না হয়।
• চিকিৎসাবিজ্ঞান সংক্রান্ত তথ্য বর্ণনার ক্ষেত্রে আমি চিকিৎসকদের নিকট নির্ভরযোগ্য উৎসসমূহের ওপর নির্ভর করেছি, যদিও সেগুলোর অধিকাংশ বিদেশি রেফারেন্স; কারণ বর্তমান সময়ে পাশ্চাত্যরাই এই বিজ্ঞান ও শিল্পের অগ্রপথিক, যেহেতু মুসলমানরা পিছিয়ে পড়েছে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উদ্ভাবন বাদ দিয়ে কেবল তার ব্যবহারে সন্তুষ্ট থেকেছে; আল্লাহর কাছেই ফরিয়াদ।
• রচনারীতির ক্ষেত্রে আমি যথাসম্ভব অস্পষ্টতামুক্ত সংক্ষিপ্ততা, ভুল থেকে নিরাপত্তা এবং সুন্দর উপস্থাপনার চেষ্টা করেছি, যেন আঙ্গিক কাঠামো বিষয়ের ওপর প্রাধান্য বিস্তার না করে।
• আমি ওহির পাঠসমূহকে হরকতযুক্ত অবস্থায় উল্লেখ করেছি যাতে এর মর্যাদা উচ্চারণের ভুল থেকে সুরক্ষিত থাকে। আর ওহি ছাড়া অন্য পাঠের ক্ষেত্রে যে শব্দগুলোর উচ্চারণ স্পষ্ট করা প্রয়োজন অথবা পাঠ সহজ করার উদ্দেশ্যে হরকত দেওয়া দরকার, সেগুলোতে হরকত প্রদান করেছি। যদি একাধিক উচ্চারণ পদ্ধতি থাকে, তবে আমি অপেক্ষাকৃত বিশুদ্ধ চিহ্নটিকে বর্ণের অধিক নিকটবর্তী করেছি—যদিও তা পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট অধিক প্রচলিত না হয়—যখনই শব্দটির পুনরাবৃত্তি ছাড়া তা সম্ভব হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ: 'তুহামাহ'। 'হা' বর্ণে জবর প্রদান করা পূর্ববর্তীদের ব্যবহারে অধিক প্রসিদ্ধ, তবে সাকিন থাকাও একটি সঠিক পদ্ধতি।
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
• اجتهدت في العمل بالراجح والأقوى من قواعد الإملاء، فحيث كان هناك وجهان اخترت أرجحهما، كما في كتابة الهمزة المضمومة المسبوقة بغير الكسر في مثل (مسؤول)، فالراجح كتابتها على الواو، وإن جاز أن تكتب على النبرة (مسئول) إن كان ما قبلها متصلًا بها. أما عندما يكون الرجحان غير ظاهر، كما في ترك الفراغ بين واو العطف وما بعدها أو علامات الترقيم وما قبلها، فربما عملت بما يترجح لدي من عدم ترك الفراغ بين واو العطف وما بعدها، ولكن، بالنسبة لعلامات الترقيم، قد يلاحظ القارئ، عدم اضطراد العمل بقواعد ثابتة في العلامات غير المتفق عليها. والمرجو أن يحصل توافق بين أصحاب اللسان العربي على حد أدنى من توحيد المعايير، سيما فيما يخص علامات الترقيم. بقي أنني لم أغير في النقول إلا بزيادةِ حركات الضبط وعلامات الترقيم لفائدة القارئ.
• إنه وإن كانت سنة العلماء أحب إلينا، فإن العرف المعاصر في الكتابة، والأيسر عند الكتابة على الحاسوب، هو وضع الخط تحت ما يحتاج إلى التنبيه لا فوقه، وعلى هذا العرف سرت في الرسالة. ووضعت الخط في التراجم تحت الكنية أو الاسم أو اللقب الذي عُرِف به صاحب الترجمة.
• استعملت ألفاظ العلماء مثل (لنا وقلت) تشبهًا بهم من باب قول الشاعر:
فتشبهوا إن لم تكونوا مثلهم
… إن التشبه بالكرام فلاح
وكذلك، فإن توحيد الأسلوب بين الأول والآخر من هذه الأمة يحافظ على قدرة أجيالها على التواصل.
أما استعمال ضمائر الجمع، فإن العلماء قد استعملوها تواضعًا، لا تعاظمًا؛ فبدل نسبة القول إلى أنفسهم، نسبوه إلى أصحاب مذهبهم، أو القائلين بقولهم.
• বানানরীতির নিয়মগুলোর মধ্যে যা অধিক নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী, আমি তা অনুসরণ করার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। যেখানে দুটি মত বিদ্যমান ছিল, সেখানে আমি অধিক গ্রহণযোগ্যটি বেছে নিয়েছি। যেমন: 'মাসউল' এর মতো শব্দের ক্ষেত্রে যেখানে হামযাহ-র পূর্বে কাসরা বা যের নেই এবং হামযাহ-র ওপর যম্মাহ বা পেশ রয়েছে, সেখানে অগ্রগণ্য মত হলো হামযাহ-কে 'ওয়াও'-এর ওপর লেখা, যদিও হামযাহ-র পূর্ববর্তী বর্ণটি যদি পরবর্তী বর্ণের সাথে যুক্ত হওয়ার মতো হয় তবে তা 'নাবরাহ' বা দাঁতের ওপর লেখাও বৈধ। আর যেখানে কোনো একটি পক্ষের প্রাধান্য স্পষ্ট নয়, যেমন—অব্যয় 'ওয়াও' (এবং) এবং এর পরবর্তী শব্দের মাঝে ফাঁকা রাখা বা বিরামচিহ্ন ও তার পূর্ববর্তী শব্দের মাঝে ফাঁকা রাখা; সেক্ষেত্রে আমি 'ওয়াও' এবং এর পরবর্তী শব্দের মাঝে ফাঁকা না রাখার মতটিকেই অধিক যুক্তিযুক্ত মনে করে সে অনুযায়ী আমল করেছি। তবে বিরামচিহ্নের ক্ষেত্রে পাঠক হয়তো লক্ষ্য করবেন যে, সর্বসম্মত নয় এমন চিহ্নগুলোর ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নিয়মের অবিরাম অনুসরণ ঘটেনি। আশা করা যায় যে, আরবী ভাষাভাষী বিশেষজ্ঞগণ অন্তত বিরামচিহ্নের মানদণ্ড নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি ন্যূনতম ঐক্যে পৌঁছাতে পারবেন। আর উদ্ধৃতিগুলোর ক্ষেত্রে আমি পাঠকের উপকারের জন্য স্বরচিহ্ন ও বিরামচিহ্ন যুক্ত করা ছাড়া অন্য কোনো পরিবর্তন করিনি।
• যদিও পূর্ববর্তী আলেমদের রীতি আমাদের নিকট অধিক প্রিয়, তবুও সমসাময়িক লিখনপদ্ধতি এবং কম্পিউটারে টাইপ করার সহজলভ্যতার খাতিরে, যে বিষয়টি সতর্ক করার প্রয়োজন তার উপরে নয় বরং নিচে দাগ দেওয়ার (আন্ডারলাইন) পদ্ধতি অবলম্বন করেছি এবং এই নিয়মেই আমি এই গবেষণাপত্রটি সম্পন্ন করেছি। জীবনীসমূহের ক্ষেত্রে আমি সেই ডাকনাম (কুনিয়াত), নাম বা উপাধির নিচে দাগ দিয়েছি যার মাধ্যমে জীবনীকার পরিচিত ছিলেন।
• আমি আলেমদের পরিভাষা যেমন: (আমাদের জন্য এবং আমি বলেছি) ব্যবহার করেছি তাদের সাদৃশ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে, যেমনটি কবি বলেছেন:
সুতরাং তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করো যদি তাদের মতো হতে না পারো
… নিশ্চয়ই মহান ব্যক্তিদের সাদৃশ্য গ্রহণ করাই হলো সফলতা
তদ্রূপ, এই উম্মতের প্রথম ও শেষ প্রজন্মের মাঝে রচনারীতির সামঞ্জস্য রক্ষা করা তাদের বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে যোগাযোগের সক্ষমতা বজায় রাখে।
আর বহুবচনবোধক সর্বনাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আলেমগণ এটি বিনয়বশত ব্যবহার করেছেন, অহংকারবশত নয়; তারা কোনো বক্তব্যকে নিজের দিকে নিসবত (সম্বন্ধ) করার পরিবর্তে নিজ মাযহাবের অনুসারীদের দিকে অথবা যারা একই কথা বলেন তাদের দিকে নিসবত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
• عمِلت مَسرَدًا للألفاظ والعبارات المهمة: واخترت ألا يكون آليًّا، وألا يشمل كل مواضع ذكر اللفظ المعني، بل تلك المواضع التي كان ذكر اللفظ فيها أصالةً لا تبعًا؛ وفي هذا المسرد ذكر بعض العبارات ذات الأهمية كذلك.
• إن الضابط التعبدي في الدراسة لم يغب عني، فبخلاف البحوث الأخرى في العلوم الإنسانية، فإن هذا البحث في الفقه المقارن. والفقه المقارن أحد فروع العلوم الإنسانية من جهة كون الشريعة إنسانية في مقاصدها، ولكنه يختلف عنها من جهة كونها ربانية في مصدرها.
إن الباحث في هذا العلم الشريف ينبغي له مراعاة المنهجية العلمية في البحث من غير إغفال الجانب العقدي التعبدي، والذي يتجلى في أن المقصود الأعظم من هذه العلوم وتلك البحوث هو نيل رضا الله، ثم يأتي مقصود الإسهام في إسعاد البشرية مع بقية المقاصد الأخرى.
ومن تجليات ذلك أيضًا، أن النقد لا يرد على نصوص الوحي متى عرفت صحة نسبتها إلى مشكاته، ولكن المنهج التحليلي بمعنى التفسير والاستنباط هو الذي يتعامل به مع النصوص. أما آراء العلماء، فتجري عليها المرحلتان السابقتان مع مرحلة النقد ما لم يكن رأيهم إجماعًا صحيحًا، فلا يرد عليه إذًا النقد أو الطعن.
• وفي الجملة، فقد جمعت المسائل ذات التعلق بموضوع الرسالة، ثم عرضت آراء الفقهاء فيها وناقشتها ورجحت أسعدها حظًّا بالدليل، ثم بينت تغير المعارف الطبية بشأنها وأثر ذلك على قَبول أو رد بعض الاجتهادات الفقهية أو الترجيح بينها.
* * *
• আমি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ এবং বাক্যাংশসমূহের একটি নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি: আমি এটি স্বয়ংক্রিয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এবং সংশ্লিষ্ট শব্দটির উল্লিখিত সকল স্থান অন্তর্ভুক্ত না করে বরং কেবল সেই স্থানগুলোই অন্তর্ভুক্ত করেছি যেখানে শব্দটি মূলগতভাবে এসেছে, প্রাসঙ্গিক হিসেবে নয়; এই নির্ঘণ্টে একইভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাক্যাংশও উল্লেখ করা হয়েছে।
• গবেষণার ক্ষেত্রে ইবাদতগত নিয়ম-নীতি আমার দৃষ্টির আড়ালে ছিল না, কারণ মানবিক বিজ্ঞানের অন্যান্য গবেষণার বিপরীতে এই গবেষণাটি তুলনামূলক ফিকহ বিষয়ের উপর। আর তুলনামূলক ফিকহ মানবিক বিজ্ঞানের একটি শাখা এই দিক থেকে যে, শরীয়ত তার উদ্দেশ্যসমূহের ক্ষেত্রে মানবিক, কিন্তু এটি অন্যান্য শাখা থেকে ভিন্ন এই দিক থেকে যে, এটি তার উৎসের ক্ষেত্রে রব্বানী বা ঐশ্বরিক।
এই মহান ইলমের গবেষকের জন্য উচিত গবেষণার ক্ষেত্রে আকিদাগত ও ইবাদতগত দিকটি উপেক্ষা না করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা, যা এতে প্রতিফলিত হয় যে, এই সকল ইলম এবং গবেষণার মহান উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, এরপর অন্যান্য উদ্দেশ্যসমূহের সাথে মানবজাতির কল্যাণে অবদান রাখার উদ্দেশ্যটি আসে।
এর আরেকটি বহিঃপ্রকাশ হলো, ওহীর নস (পাঠ্য)-এর বিশুদ্ধতা যখন তার উৎসের সাথে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় তখন তার উপর কোনো সমালোচনা প্রযোজ্য হয় না, বরং নসসমূহের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা ও গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের অর্থে বিশ্লেষণধর্মী পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আর আলেমদের মতামতের ক্ষেত্রে পূর্বোক্ত দুটি পর্যায়ের সাথে সমালোচনার পর্যায়টিও প্রয়োগ হয় যতক্ষণ না তাদের মতামত কোনো সঠিক ইজমা বা ঐক্যমত হিসেবে গণ্য হয়, সে ক্ষেত্রে তার উপর কোনো সমালোচনা বা আপত্তি উত্থাপন করা যায় না।
• সারসংক্ষেপে, আমি এই গবেষণাপত্রের বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট মাসআলাগুলো একত্রিত করেছি, অতঃপর সেগুলোতে ফকীহগণের মতামত উপস্থাপন ও আলোচনা করেছি এবং দলিলের ভিত্তিতে সবচেয়ে শক্তিশালী মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছি। এরপর এ বিষয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞানের পরিবর্তন এবং ফিকহী ইজতিহাদ গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে কিংবা সেগুলোর মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার প্রভাব বর্ণনা করেছি।
* * *
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
خطة الرسالةلقد كسرتُ الرسالةَ على مقدمةٍ وتمهيدٍ وأربعةِ أبوابٍ وخاتمةٍ لخصت فيها أهم نتائجِ البحثِ.
أما المقدمة، ففيها بيان موضوع البحث وسبب اختياري له وطريقة عملي فيه وتقسيمه وكذلك ذكر ما كتب من قبله مما له تعلق بذات الموضوع.
وفي التمهيد، بينت التداخل بين علمي الفقه والطب، ثم ناقشت المسألة التي يرتكز عليها البحث، وهي مشروعيةُ بل وجوبُ تغيرِ الفتوى بتغير الواقع الذي يحكم فيه الفقيه أو المُعطَياتِ التي يعتمدُ عليها.
* وفي الباب الأول ذكر بعض المسائل الفقهية التي تغيرت الفتوى فيها بتطور الطب في أبواب العبادات. وجعلت هذا الباب مقسمًا إلى ثلاثةِ فصول:
1 - الأولُ في الطهارة: وفيه مسائلُ.
1 - الختان للجنسين.
2 - الماء المشمس.
3 - الحيض وصفته وأقله وأكثره وبدايته ونهايته وهل تحيض الحامل، والطهر وأقله وأكثره.
4 - النفاس وصفته وبدايته وأكثره ومتى يسمى الدم مع السقط نفاسًا والمرأة تلد التؤام بينهما فترة طويلة هل تنفس بعدهما كليهما.
2 - الثاني في الجنائز: وفيه مسائل:
1 - علامات الموت وموت الدِّمَاغ.
গবেষণাপত্রের পরিকল্পনাআমি গবেষণাপত্রটিকে একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা, চারটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করেছি, যেখানে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো সারসংক্ষেপ আকারে তুলে ধরেছি।
ভূমিকার ক্ষেত্রে, এতে গবেষণার বিষয়বস্তু, এটি নির্বাচনের কারণ, কর্মপদ্ধতি ও এর বিন্যাস বর্ণনা করা হয়েছে। সেই সাথে এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী রচনাবলিও উল্লেখ করা হয়েছে।
আর উপক্রমণিকায়, আমি ফিকহ ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক স্পষ্ট করেছি। এরপর সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি যার ওপর এই গবেষণাটি দাঁড়িয়ে আছে; আর তা হলো—বাস্তবতা বা পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তনের কারণে অথবা ফকিহ যে তথ্যের ওপর নির্ভর করেন তার পরিবর্তনের ফলে ফতোয়া পরিবর্তন হওয়ার বৈধতা, এমনকি আবশ্যকতা।
* প্রথম অধ্যায়ে ইবাদত সংক্রান্ত সেই ফিকহি মাসয়ালাগুলো উল্লেখ করেছি, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে যেগুলোর ফতোয়া পরিবর্তিত হয়েছে। আমি এই অধ্যায়টিকে তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:
১ - প্রথম পরিচ্ছেদ পবিত্রতা বিষয়ক: এতে কয়েকটি মাসয়ালা রয়েছে।
১ - উভয় লিঙ্গের খতনা।
২ - রৌদ্রে উত্তপ্ত পানি।
৩ - ঋতুস্রাব, এর প্রকৃতি, এর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়সীমা, এর শুরু ও শেষ, গর্ভবতী মহিলার ঋতুস্রাব হয় কি না এবং পবিত্রতা, এর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সময়সীমা।
৪ - প্রসবোত্তর স্রাব, এর প্রকৃতি, শুরু ও সর্বোচ্চ সময়সীমা; গর্ভপাতের সাথে নির্গত রক্তকে কখন নিফাস বলা হবে এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে যমজ সন্তান প্রসবকারিনী মহিলা উভয় প্রসবের পরেই নিফাসগ্রস্ত হবেন কি না।
২ - দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ জানাজা বিষয়ক: এতে কয়েকটি মাসয়ালা রয়েছে:
১ - মৃত্যুর লক্ষণসমূহ এবং ব্রেন ডেথ (মস্তিষ্কের মৃত্যু)।
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
2 - المنع من انتهاك حرمة الميت وأثرُ ذلك على ما قد يُفعل بالمسلم عند موته أحيانًا من التشريح أو شقِّ البطن لدواعي نقل الجثة أو لمعرفة سبب الوفاة أو غير ذلك.
3 - الثالث في الصيام. وفيه مسائل مبطلات الصيام.
* أما الباب الثاني ففيه ذكر بعض المسائل التي تغيرت الفتوى فيها بتطور الطب في أبواب العادات وقسمته إلى ثلاثة فصول:
1 - الأول في الأطعمة والأشربة. وفيه مسائل:
1 - حكم الجَلالة وإطعامِ الميتةِ والنجاساتِ للحيوانات.
2 - حكم التدخين.
2 - الثاني في الاستمناء.
3 - الثالث في التداوي. وفيه مسائل:
1 - حكم التداوي.
2 - حكم مداواة المصاب بالحياة النباتية المستمرة.
* وفي الباب الثالث ذكر بعض المسائل التي تغيرت الفتوى فيها بتطور الطب في أبواب المعاملات، وقسمته على فصلين:
1 - الأول في النكاح والعدد. وفيه مسائل في الحمل والعدد:
1 - أقل الحمل.
2 - أكثر الحمل.
3 - الحمل من ماءين.
২ - মৃতদেহের অবমাননা নিষিদ্ধকরণ এবং এর প্রভাব যা কখনও কখনও একজন মুসলিমের মৃত্যুর পর তার সাথে করা হয়, যেমন লাশ স্থানান্তর বা মৃত্যুর কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্ত বা পেট চেরা বা অন্য কিছু।
৩ - তৃতীয়টি রোজা সম্পর্কে। এতে রোজা ভঙ্গের কারণসমূহের মাসআলা রয়েছে।
* আর দ্বিতীয় অধ্যায়ে এমন কিছু মাসআলার আলোচনা রয়েছে যাতে চিকিৎসার উন্নতির ফলে অভ্যাস বা প্রথা (আদাত) সংক্রান্ত অনুচ্ছেদে ফতোয়া পরিবর্তিত হয়েছে এবং একে আমি তিনটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছি:
১ - প্রথমটি খাদ্য ও পানীয় সম্পর্কে। এতে কিছু মাসআলা রয়েছে:
১ - জালালা (মলমূত্র ভক্ষণকারী প্রাণী) এবং পশুদের মৃতদেহ ও অপবিত্র বস্তু খাওয়ানোর বিধান।
২ - ধূমপানের বিধান।
২ - দ্বিতীয়টি হস্তমৈথুন সম্পর্কে।
৩ - তৃতীয়টি চিকিৎসার মাধ্যমে আরোগ্য লাভ সম্পর্কে। এতে কিছু মাসআলা রয়েছে:
১ - চিকিৎসার বিধান।
২ - পারসিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট (ক্রমাগত উদ্ভিদবৎ জীবন) আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার বিধান।
* আর তৃতীয় অধ্যায়ে লেনদেন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদে এমন কিছু মাসআলার আলোচনা রয়েছে যাতে চিকিৎসার উন্নতির ফলে ফতোয়া পরিবর্তিত হয়েছে, এবং একে আমি দুটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছি:
১ - প্রথমটি বিবাহ ও ইদ্দত সম্পর্কে। এতে গর্ভধারণ ও ইদ্দত সংক্রান্ত মাসআলা রয়েছে:
১ - গর্ভধারণের সর্বনিম্ন সময়কাল।
২ - গর্ভধারণের সর্বোচ্চ সময়কাল।
৩ - দুই বীর্যের (সহবাসের) মাধ্যমে গর্ভধারণ।
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ২০)
4 - مسائل في عدَّةِ من انقَطَع حيضُها قبل سنِّ الإياس أو تَباعَدَ؛ وعدة المُستحاضة.
2 - الثاني في الحجر والفرائض. وفيه مسائل:
1 - البلوغ وأماراته.
2 - الخنثى وأنواعه.
* وفي الباب الرابع أتعرض إلى القضاء ودور الطب الشرعي فيه. وفيه فصلان:
1 - الأول في القضاء.
وفيه مناقشة أدلة الإثبات في القضاء الإسلامي ودور الطب الشرعي في الإثبات مع الإقرار والشهادة واليمين وغيرها من البينات والقرائن القاطعة؛ وفيه مثال تطبيقي على حجية الدليل المادي، واخترت لذلك مسألة تحديد النسب عن طريق الأحماض الأمينية.
2 - الثاني في الجراح والقِصاص والحدود. وفيه مسائل:
1 - استيفاء القِصاص عن طريق الأطباء الجراحين، وأثر ذلك على الاستيفاء.
2 - أثر تطور علم الأجنة على خلاف الفقهاء في وقت نفخ الروح وما يترتب عليه من أحكام الإجهاض.
* ثم ختمت بخاتمة ذكرت فيها أهم نتائج البحث.
* وجعلت الفهارس سبعة:
1 - أولها للآيات القرآنية.
4 - মেনোপজের বয়সের পূর্বে যার ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গিয়েছে অথবা অনেক বিরতিতে হয় তার ইদ্দত সংক্রান্ত মাসআলা; এবং মুস্তাহাযা নারীর ইদ্দত।
2 - দ্বিতীয় অংশ: আল-হাজর (ব্যয় করার অধিকারে নিষেধাজ্ঞা) এবং ফারায়িয (উত্তরাধিকার আইন) প্রসঙ্গে। এতে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে:
1 - বালেগ হওয়া এবং এর আলামতসমূহ।
2 - খুংছা (উভয়লিঙ্গ) এবং এর প্রকারভেদ।
* চতুর্থ পরিচ্ছেদে আমি বিচার ব্যবস্থা এবং এতে ফরেনসিক মেডিসিনের ভূমিকা আলোচনা করেছি। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
1 - প্রথমটি: বিচার ব্যবস্থা সংক্রান্ত।
এতে ইসলামি বিচার ব্যবস্থায় প্রমাণ উপস্থাপনের দলীলসমূহ এবং স্বীকারোক্তি, সাক্ষ্য, শপথ ও অন্যান্য দলিল ও অকাট্য আলামতের সাথে প্রমাণের ক্ষেত্রে ফরেনসিক মেডিসিনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা রয়েছে; এতে বস্তুগত দলীলের প্রামাণিকতার উপর একটি ফলিত উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যার জন্য আমি অ্যামিনো অ্যাসিডের মাধ্যমে বংশপরিচয় নির্ধারণের বিষয়টি বেছে নিয়েছি।
2 - দ্বিতীয়টি: জখম, কিসাস এবং হুদুদ সংক্রান্ত। এতে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে:
1 - শল্যচিকিৎসকদের মাধ্যমে কিসাস কার্যকর করা এবং কিসাস আদায়ের ক্ষেত্রে এর প্রভাব।
2 - ভ্রূণবিদ্যার উন্নতির ফলে রূহ ফুঁক দেওয়ার সময় নিয়ে ফকীহদের মতভেদের উপর এর প্রভাব এবং এর প্রেক্ষিতে গর্ভপাত সংক্রান্ত বিধানাবলী।
* এরপর আমি একটি উপসংহার দিয়ে শেষ করেছি যেখানে গবেষণার প্রধান ফলাফলগুলো উল্লেখ করেছি।
* এবং আমি সাতটি নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি:
1 - প্রথমটি কুরআনের আয়াতের সূচি।
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ২১)
2 - وثانيها لأطراف الأحاديث النبوية.
3 - وثالثها للأعلام.
4 - ورابعها للألفاظ والعبارات.
5 - والخامس للمراجع.
6 - والسادس للصور والجداول.
7 - والسابع للموضوعات.
والحَمدُ للهِ على مَنِّه وفَضلِه. وصلى اللهُ وسلَّم على سيِّدِنا محمَّدٍ وآلِه وصّحبِه
* * *
২ - দ্বিতীয়টি হলো নববী হাদিসের প্রথমাংশের জন্য।
৩ - তৃতীয়টি হলো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জন্য।
৪ - চতুর্থটি হলো শব্দাবলি ও বাক্যাংশের জন্য।
৫ - পঞ্চমটি হলো তথ্যসূত্রের জন্য।
৬ - ষষ্ঠটি হলো চিত্র ও ছকের জন্য।
৭ - সপ্তমটি হলো বিষয়বস্তুর জন্য।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ার জন্য। এবং আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর।
* * *
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
التمهيد
প্রস্তাবনা
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
التداخل بين الفقه والطبللوقوف على حقيقة وحجم التداخل بين الفقه والطب، أبدأ بتعريفهما.
تعريف الفقه:الفقه: هو في اللغة: الفهم، ثم خُصَّ به علمُ الشريعة لسيادته وشرفه وفضله على سائر أنواع العلم، كما غلب اسم النجم على الثريا
(1). وفي معجم «مقاييس اللغة»: «الفاء والقاف والهاء أصل واحد صحيح يدل على إدراك الشيء والعلم به»
(2).
وفي الاصطلاح: عرفه الإمام أبو حنيفة
(3) بأنه «معرفة النفس ما لها وما عليها»
(4). وهو بذلك يشمل: العقائد والأخلاق والعبادات والمعاملات. وعرفه المُناوِيّ
(5): بأنه «العلم
--------------------------------------------
ফিকহ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়াফিকহ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়ার স্বরূপ ও ব্যাপ্তি সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য আমি এ দুটির সংজ্ঞা দিয়ে শুরু করছি।
ফিকহ-এর সংজ্ঞা:ফিকহ: অভিধানে এর অর্থ হলো— অনুধাবন বা বুঝ। পরবর্তীকালে এর শ্রেষ্ঠত্ব, মর্যাদা ও অন্যান্য সকল শাস্ত্রের উপর এর উৎকর্ষের কারণে এটি বিশেষভাবে শরিয়তের জ্ঞানের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, যেমন 'নাজম' (নক্ষত্র) শব্দটি 'সুরাইয়া' (কৃত্তিকা) নক্ষত্রের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে
(১)। 'মাকায়িসুল লুগাহ' অভিধানে বর্ণিত হয়েছে: 'ফা, কাফ ও হা— এটি একটি সহিহ মূল শব্দ যা কোনো কিছু অনুধাবন করা ও সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করাকে নির্দেশ করে'
(২)।
পরিভাষায়: ইমাম আবু হানিফা
(৩) এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, এটি হলো— "নিজের অধিকার ও দায়িত্ব (অর্থাৎ যা নিজের পক্ষে ও যা নিজের বিপক্ষে) সম্পর্কে আত্মার অবগতি"
(৪)। এ সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি আকিদা (বিশ্বাস), আখলাক (চরিত্র), ইবাদত ও মুয়ামালাত (লেনদেন)—সবকিছুকেই অন্তর্ভুক্ত করে। আল-মুনাউয়ি
(৫) এর সংজ্ঞা দিয়েছেন যে, এটি হলো "এমন জ্ঞান
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
بالأحكام الشرعية التي طريقها الاجتهاد»
(1). وعرفه الأكثرون بأنه «العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسب من أدلتها التفصيلية»
(2).
وإذا كنا بصدد تعريف هذا العلم المخصوص، فلعل تعريف الجمهور هو الأقوى، ولقد ذكروا العمليَّة للتفريق بين أحكام الفقه والعقيدة؛ غير أن الأدلة فيها التفصيلية وغير ذلك، كالاستدلال بكليات الشريعة ومقاصدها والقواعد الفقهية الكلية والضوابط المختصة بأبواب بعينها، فإن المطالع لكتب الفقه يدرك كثرة تعويل العلماء على كل ذلك. وإن كانت هذه بدورها مستنبَطةً من الأدلة التفصيلية.
والمقصود بالعلم الذي يمتاز به الفقيه - كما أشار إليه تعريف المُناوِيّ - هو ما يستفاد عن طريق الاستنباط، الذي يتأتى له لوقوفه على تلك المعاني الخفية التي لا يدركها أكثر الناس
(3). وفي «المنثور»: «وقال ابن سراقة في كتابه في الأصول: حقيقة الفقه عندي الاستنباط، قال الله تعالى: {لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} [النساء: 83]؛ وكذلك قال ابن السَّمْعَانِيِّ في القواطع: هو استنباط حكم المُشكِل من الواضح. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «رُبَّ حامِلِ فِقهٍ غَيرِ فَقيهٍ» أي غير مستنبِط، ومعناه أنه يحمل الرواية من غير أن يكون له استدلالٌ واستنباطٌ منها. قال وما أشبه الفقيهَ بغواصٍ في بحر
--------------------------------------------
শরীয়তের বিধানাবলীর (জ্ঞান) যার মাধ্যম হলো ইজতিহাদ»
(১)। অধিকাংশ (আলেম) একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি হলো «বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে অর্জিত শরীয়তের আমলি (ব্যবহারিক) বিধানাবলীর জ্ঞান»
(২)।
আমরা যখন এই বিশেষ শাস্ত্রের সংজ্ঞায়নের পর্যায়ে আছি, তখন সম্ভবত জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠদের সংজ্ঞাই সবচেয়ে শক্তিশালী। তারা ফিকহ ও আকীদার বিধানের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য 'আমলি' (ব্যবহারিক) শব্দটি উল্লেখ করেছেন; তবে এর দলিলগুলো বিস্তারিত এবং অন্যান্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেমন শরীয়তের সামষ্টিক নীতি ও উদ্দেশ্য (মাকাসিদ), ফিকহী মূলনীতি (কাওয়ায়েদ) এবং নির্দিষ্ট অধ্যায় সংশ্লিষ্ট নীতিমালা (দওয়াবিত) দ্বারা দলিল গ্রহণ করা। কেননা ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ পাঠকারী আলেমদের এই সবকিছুর ওপর ব্যাপক নির্ভরতার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন। যদিও এগুলো আবার বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকেই উদ্ভূত।
ফকীহ যে জ্ঞানের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হন—যেমনটি আল-মুনাবি তাঁর সংজ্ঞায় ইঙ্গিত করেছেন—তা হলো ইস্তিনবাত বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান, যা অর্জিত হয় সেই সব সূক্ষ্ম অর্থ সম্পর্কে অবগত হওয়ার মাধ্যমে যা অধিকাংশ মানুষ অনুধাবন করতে পারে না
(৩)। ‘আল-মানসুর’ গ্রন্থে রয়েছে: ‘ইবনে সুরাকা তাঁর উসুল বিষয়ক গ্রন্থে বলেছেন: আমার মতে ফিকহের প্রকৃত বাস্তবতা হলো ইস্তিনবাত (গবেষণালব্ধ নির্যাস)। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {যাতে তাদের মধ্যে যারা বিষয়টি গবেষণা করে বের করতে সক্ষম তারা তা জানতে পারে} [নিসা: ৮৩]; ঠিক একইভাবে ইবনুস সামআনী ‘আল-কাওয়াতি’ গ্রন্থে বলেছেন: এটি হলো অস্পষ্ট বিষয়ের বিধানকে স্পষ্ট বিষয় থেকে ইস্তিনবাত বা বের করে আনা। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «অনেক ফিকহ বহনকারী এমন আছেন যিনি নিজে ফকীহ (গবেষক) নন» অর্থাৎ তিনি ইস্তিনবাতকারী নন। এর অর্থ হলো, তিনি বর্ণনাটি বহন করে চলেন কিন্তু তা থেকে কোনো দলিল গ্রহণ বা গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তাঁর নেই। তিনি আরও বলেছেন যে, ফকীহ ব্যক্তির সাথে সমুদ্রের ডুবুরির কী চমৎকার সাদৃশ্য রয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
دُرٍّ كلما غاص في بحر فِطنته استخرج دُرًّا وغيره يستخرج آجُرًّا»
(1). وهذا الذي ذكرنا لا ينافي أن العلم بوجوب الصلاة من الفقه في الاصطلاح الخاص على الصحيح.
لكن الفقه أوسع من ذلك في التعريف العام ونصوص الوحي وفهم السلف، فهو يشمل المعارف الإسلامية جملة، بل ويشمل الممارسة العملية
(2) بالقلب والجوارح، فهي المقصودة، ولذا جاء في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ يُرِدِ اللهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ»
(3). ومعلومٌ أنه لا يحوز الخير حتى يعمل بما علِم مخلصًا لله تعالى.
أما المقصود من حديثنا عن التداخل بين الفقه والطب فهو الفقه حسَب التعريف الخاص.
تعريف الطب:الطِّب، هو كما قال ابن طرخان
(4) في تعريفه: «الطِّب: بكسر الطَّاء، في لغة العرب يقال على معانٍ: منها الإِصلاح، يقال: طبَّبته إذا أَصلحته. ويقال: لفلان طِب بالأمور، أي: لطف وسياسة
… قال الشاعر:
وَإِذَا تَغَيَّرَ مِنْ تَمِيمٍ أَمْرُهَا كُنتَ الطَّبِيبَ لَهَا بِرَأْيٍ ثاقِبِ
--------------------------------------------
মুক্তাসদৃশ; যখনই তিনি তাঁর প্রজ্ঞার সাগরে ডুব দেন, তখনই একটি মুক্তা আহরণ করেন, যেখানে অন্যেরা ইট (তুচ্ছ বস্তু) আহরণ করে»
(১)। আর আমরা যা উল্লেখ করেছি তা এই বিষয়ের সাথে সাংঘর্ষিক নয় যে, সঠিক মতানুসারে বিশেষ পারিভাষিক সংজ্ঞায় সালাত ওয়াজিব হওয়ার জ্ঞান ফিকহ-এর অন্তর্ভুক্ত।
কিন্তু সাধারণ সংজ্ঞা, ওহীর ভাষ্য এবং সালাফদের উপলব্ধিতে ফিকহ এর চেয়েও ব্যাপক। এটি সামগ্রিকভাবে সকল ইসলামি জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে, এমনকি অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমলি চর্চাকেও
(২) এটি শামিল করে, যা প্রকৃতপক্ষে উদ্দেশ্য। এজন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসে এসেছে: «আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর প্রজ্ঞা (ফিকহ) দান করেন»
(৩)। আর এটি সর্বজনবিদিত যে, যতক্ষণ না কেউ আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে স্বীয় ইলম অনুযায়ী আমল করবে, ততক্ষণ সে কল্যাণ লাভ করতে পারবে না।
তবে ফিকহ ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের পারস্পরিক যোগসূত্র নিয়ে আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য হলো বিশেষ সংজ্ঞা অনুযায়ী ফিকহ।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের সংজ্ঞা:চিকিৎসা (তীব), ইবনে ত্বরখান
(৪) তাঁর সংজ্ঞায় যেমনটি বলেছেন: «তীব: 'ত্ব' বর্ণের নিচে কাসরা যোগে, আরবি ভাষায় এটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়: তার মধ্যে একটি হলো সংশোধন করা। বলা হয়: আমি তাকে সংশোধন করেছি, যখন আপনি তাকে সুস্থ বা সংস্কার করেছেন। আবার বলা হয়: অমুক ব্যক্তির বিষয়ের প্রতি গভীর দৃষ্টি (তীব) রয়েছে, অর্থাৎ সূক্ষ্মতা ও বিচক্ষণ ব্যবস্থাপনা
… কবি বলেন:
যখন তামীম গোত্রের অবস্থা পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল, তখন আপনি আপনার তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে তাদের জন্য চিকিৎসক (সমাধানকারী) ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ومنها (الحِذْق) لاحتياجه إلى حذقٍ قويٍّ
… قال الجَوْهَريّ رحمه الله
(1): وكلُّ حاذقٍ طَبِيبٌ عند العرب. قال أبو عبيدة
(2): أصل الطب: الحِذق بالأشياء والمهارة بها. يقال للرجل طبٌّ وطبيب إذا كان كذلك، وإن كان في غير علاج المريض. قال غيره: ورجل طبيب أي: حاذقٌ، وسُمِّيَ طبيبًا لحِذقه وفِطنته. وأما في اصطلاح علماء الطب فهو: علمٌ يعرف منه أحوالُ بدن الإنسان من جهة ما يصح، ويزول عن الصحة، لتُحفَظ الصحة حاصلة، وتُستَردَّ زائلةً»
(3).
ومن أجمل ما وصف به الطب ما ذكره العز بن عبد السلام
(4) رحمه الله حيث قال: «فإن
--------------------------------------------
এর মধ্যে একটি হলো (পাণ্ডিত্য বা দক্ষতা), কারণ এর জন্য শক্তিশালী পাণ্ডিত্যের প্রয়োজন
… জাওহারী (রহ.) বলেন
(১): আরবদের নিকট প্রত্যেক পাণ্ডিত্যপূর্ণ ব্যক্তিই একজন চিকিৎসক। আবু উবাইদা
(২) বলেন: চিকিৎসার মূল ভিত্তি হলো বিষয়বস্তুর ওপর পাণ্ডিত্য ও প্রজ্ঞা অর্জন করা। কোনো ব্যক্তির মধ্যে এই গুণ থাকলে তাকে ‘তিব’ বা ‘তাবিব’ (চিকিৎসক) বলা হয়, যদিও তা রোগীর চিকিৎসার বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে হয়। অন্যজন বলেন: ‘তাবিব’ বা চিকিৎসক ব্যক্তি মানে হলো দক্ষ ব্যক্তি; তার পাণ্ডিত্য ও বিচক্ষণতার কারণেই তাকে চিকিৎসক বলা হয়। আর চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের পরিভাষায় এটি হলো: এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে মানবদেহের সুস্থতা এবং সুস্থতা থেকে বিচ্যুতি সংক্রান্ত অবস্থাগুলো জানা যায়, যেন বিদ্যমান সুস্থতাকে রক্ষা করা যায় এবং অপসৃত সুস্থতাকে ফিরিয়ে আনা যায়»
(৩)।
চিকিৎসা বিদ্যার বর্ণনায় ইয বিন আব্দুস সালাম
(৪) (রহ.) যা উল্লেখ করেছেন তা অত্যন্ত চমৎকার, তিনি বলেন: «নিশ্চয়ই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الطب كالشرع وضع لجلب مصالح السلامة والعافية، ولدرء مفاسد المعاطب والأسقام، ولدرء ما أمكن درؤه من ذلك، وجلب ما أمكن جلبه من ذلك. فإن تعذر درء الجميع أو جلب الجميع، فإن تساوت الرتب تخيَّر وإن تفاوتت استعمل الترجيح»
(1).
وقال الدكتور محمد علي البار
(2) في تعريف الطب في الاصطلاح: «الطب هو علاج الجسم والنفس. يقال طَبَّه طِبَّا إذا داواه. وقال ابن سينا
(3) في «أُرجُوزَتِه»: «الطِبُّ حفظ صحة، بُرء مرض». وقال في «القانون»: «الطِبُّ علم يتعرف منه أحوال بدن الإنسان من جهة ما يصح، ويزول عن الصحة، ليَحفَظَ الصحة حاصلةً، ويسترِدَّها زائلةً». وقال ابن رُشْد
(4) الفقيه الطبيب صاحب «بِدَايَة المُجْتَهِد ونهاية المقتصد» في الفقه
--------------------------------------------
চিকিৎসা শাস্ত্রও শরীয়তের মতোই সুস্থতা ও নিরাময়ের কল্যাণ অর্জনের জন্য এবং বিনাশ ও ব্যাধির অপকারিতা প্রতিরোধের জন্য, আর যতটুকু সম্ভব অপকারিতা দূর করা এবং যতটা সম্ভব কল্যাণ আনয়ন করার লক্ষ্যেই প্রণীত হয়েছে। সুতরাং যদি সবটুকু অপকারিতা দূর করা বা সবটুকু কল্যাণ অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে (উপকার ও অপকারের) গুরুত্ব সমান হলে যে কোনোটি বেছে নেওয়া হবে, আর গুরুত্বের পার্থক্য থাকলে অগ্রাধিকারের নীতি অনুসরণ করা হবে
(১)।
ডাক্তার মুহাম্মাদ আলী আল-বার
(২) চিকিৎসার পারিভাষিক সংজ্ঞায় বলেছেন: «চিকিৎসা হলো দেহ ও মনের প্রতিকার। বলা হয় যে, সে তার চিকিৎসা করেছে যখন সে তাকে ওষুধ দিয়েছে। ইবনে সিনা
(৩) তার ‘উরজুযাহ’ গ্রন্থে বলেছেন: «চিকিৎসা হলো স্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং রোগ থেকে মুক্তি প্রদান করা।» তিনি ‘আল-কানুন’ গ্রন্থে বলেছেন: «চিকিৎসা এমন এক বিজ্ঞান যার মাধ্যমে মানবদেহের বিভিন্ন অবস্থা সম্পর্কে সুস্থতা ও অসুস্থতার দিক থেকে জানা যায়, যেন বিদ্যমান স্বাস্থ্য রক্ষা করা যায় এবং হারানো স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা যায়।» ফিকহ শাস্ত্রের ‘বিদায়াতুল মুজতাহিদ ওয়া নিহায়াতুল মুকতাসিদ’-এর রচয়িতা ফকিহ ও চিকিৎসক ইবনে রুশদ
(৪) বলেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
و «الكليات»
(1) في الطب: «الطِبُّ علم يعرف منه أحوال بدن الإنسان من جهة ما يعرض له من صحة وفساد». ونسب إلى جالينوس أنه قال: «الطب علم بأحوال بدن الإنسان يُحْفَظ به حاصلُ الصحة ويُستَرَدُّ زائلُها»
(2).
قلت: الطب هو التصرف بما فيه عافية الإنسان في بدنه وعقله ونفسه، بتعاطي أسبابها الطبيعية؛ والعلم بذلك هو علم الطب.
ولعله يظهر من هذه التعريفات السابقة لزوم التداخل بين علمي الفقه والطب، فإن موضوع
(3) علم الطب هو بدن الإنسان ونفسه، وهذا البدن وتلك النفس مَحَلٌّ للتكاليف الشرعية وأحكامُ الأخيرةِ هي موضوعُ علم الفقه. لذلك، ولكون الفقه والطب معنيين بصلاح وعافية ذلك الكائن البشري - كما أشارت إليه عبارة العز بن عبد السلام -، حصل بينهما من التداخل ما يعرفه المشتغلون بأيهما.
وأنا أضرب بعض الأمثلة لذلك التداخل وحاجة كل منهما للآخر:
--------------------------------------------
এবং «আল-কুল্লিয়াত»
(১) ফিত তিব্ব গ্রন্থে বলা হয়েছে: «চিকিৎসা এমন এক বিজ্ঞান, যার মাধ্যমে মানুষের শরীরের অবস্থা ওই দিক থেকে জানা যায় যে দিক থেকে শরীরে সুস্থতা ও অসুস্থতা আপতিত হয়।» গ্যালেনের দিকে নিসবত করে বলা হয় যে তিনি বলেছেন: «চিকিৎসা হলো মানুষের শরীরের অবস্থা বিষয়ক এমন এক জ্ঞান যার মাধ্যমে বিদ্যমান সুস্থতা রক্ষা করা হয় এবং বিলুপ্ত সুস্থতা পুনরুদ্ধার করা হয়।»
(২).
আমি বলি: চিকিৎসা হলো মানুষের শরীর, বুদ্ধি ও নফসের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য প্রাকৃতিক কারণসমূহ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; আর এই বিষয়ক জ্ঞানই হলো চিকিৎসা বিজ্ঞান।
সম্ভবত পূর্বোক্ত এই সংজ্ঞাগুলো থেকে ফিকহ ও চিকিৎসা শাস্ত্রের মধ্যকার পারস্পরিক সংমিশ্রণের আবশ্যকতা স্পষ্ট হয়, কারণ চিকিৎসা শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়
(৩) হলো মানুষের শরীর ও নফস, আর এই শরীর ও নফসই হলো শরয়ি বিধানসমূহের (তাকলিফ) ক্ষেত্র, এবং শরয়ি বিধানসমূহ হলো ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়। এই কারণে এবং ফিকহ ও চিকিৎসা শাস্ত্র উভয়ই যেহেতু মানবসত্তার কল্যাণ ও সুস্থতার সাথে সংশ্লিষ্ট—যেমনটি ইজ্জ বিন আব্দুস সালামের বক্তব্যে ইঙ্গিত করা হয়েছে—তাই এই দুই শাস্ত্রের মাঝে এমন নিবিড় সংমিশ্রণ ঘটেছে যা এই উভয় শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অবগত আছেন।
আমি এই পারস্পরিক সংমিশ্রণ এবং একে অপরের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়ার কিছু উদাহরণ তুলে ধরছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
حاجة الطب إلى الفقهالطب يحتاج إلى الفقه لكونه من جملة حركة الإنسان في الكون التي جاء الإسلام ليحكمها ويهديها إلى سبيل الرشاد. فالعَلاقة بين الطبيب والمريض أو أوليائه وكذلك بين الطبيب وبقية فريقِ العملِ الطبيِّ، وآدابُ المهنة وضوابطها، وما يجوز التداوي به وما يحرم، وما يجوز من الجراحات وما لا يجوز
… إلخ، كلُّ ذلك محكوم بالفقه. فالفقه إذًا حاكم على جميع أطراف المعاملات الطبية، وكذلك العمل الطبي نفسه.
وليس ذلك يعني أن صناعة المعرفة الطبية مقيدةٌ بالفقه، أو أنها لا تُستمَدُّ إلا من الوحي. كلا فإن هذا وإن جاز في بعض الأزمنة وفي بعض الأديان اعتقاده، فإنه لم يكن يومًا من دين الإسلام في شيء، ولقد وضح ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم أبلغ توضيح وأجلاه حيث قال: «أنتُم أعْلَمُ بأمُورِ دُنْيَاكُم»
(1).
إن البحث العلمي ونتائجه هما العمدة في المعارف والصناعة الطبية لدى المسلمين. والفقه حاكم على وسائل البحث العلمي لا على نتائجه
(2)، فإن الفقه يمنع قتل الأجنة لاستعمالها في بحوث الخلايا الجذعية، ولكنه لا يعارض نتائج البحث أو فكرته بل يحض عليه حتى يعُده من الواجبات الشرعية؛ قال الإمام النَّوَوِيّ رحمه الله
(3): «وأما العلوم
--------------------------------------------
চিকিৎসা বিজ্ঞানে ফিকহের প্রয়োজনীয়তাচিকিৎসা বিজ্ঞানের ফিকহের (ইসলামি আইনশাস্ত্র) প্রয়োজন রয়েছে, কারণ এটি মহাবিশ্বে মানুষের সেই সকল কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত যা ইসলাম নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সঠিক পথের দিশা দিতে এসেছে। সুতরাং চিকিৎসক ও রোগী বা তাদের অভিভাবকদের মধ্যকার সম্পর্ক, তেমনিভাবে চিকিৎসক ও চিকিৎসা দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যকার সম্পর্ক, পেশাগত শিষ্টাচার ও নীতিমালা, কীসের মাধ্যমে চিকিৎসা করা বৈধ আর কোনটি অবৈধ, কোন ধরণের অস্ত্রোপচার জায়েজ আর কোনটি নয়... ইত্যাদি সবকিছুই ফিকহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অতএব, ফিকহ হলো চিকিৎসা সংক্রান্ত লেনদেনের সকল পক্ষ এবং স্বয়ং চিকিৎসা কার্যক্রমের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক।
এর অর্থ এই নয় যে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন ফিকহ দ্বারা সীমাবদ্ধ, অথবা এটি শুধুমাত্র ওহী থেকেই আহরণ করতে হবে। কখনোই না। যদিও কোনো কোনো সময়ে এবং কোনো কোনো ধর্মে এমন বিশ্বাস পোষণ করা বৈধ ছিল, কিন্তু ইসলামের ইতিহাসে কখনোই এর কোনো ভিত্তি ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও স্পষ্টভাবে তা ব্যাখ্যা করেছেন যখন তিনি বলেছেন: «তোমরা তোমাদের পার্থিব বিষয়ে অধিক অবগত»
(১)।
নিশ্চয়ই মুসলিমদের নিকট চিকিৎসা জ্ঞান ও এই শিল্পের প্রধান ভিত্তি হলো বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও তার ফলাফল। ফিকহ বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফলের ওপর নয়, বরং গবেষণার পদ্ধতির ওপর হুকুম প্রদান করে
(২)। ফিকহ স্টেম সেল (Stem Cells) গবেষণায় ব্যবহারের জন্য ভ্রুণ হত্যা নিষিদ্ধ করে, কিন্তু এটি গবেষণার ফলাফল বা ধারণার বিরোধিতা করে না; বরং একে উৎসাহিত করে এবং এমনকি শরয়ী ওয়াজিব (আবশ্যিক কর্তব্য) হিসেবে গণ্য করে। ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন
(৩): «আর যেসব বিজ্ঞান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
العقلية فمنها ما هو فرض كفاية كالطب والحساب المُحْتاج إليه»
(1).
بل إنك تجد إمامًا جليلا كالشافعي رحمه الله
(2) يقول: «لم أعلم علمًا بعد الحلال والحرام أنبل من الطب»
(3).
وبعد انتهاء البحث العلمي يكون الفقه حاكمًا على تطبيقاته حتى يكون استعماله فيما هو نافع وفيه صلاح الإنسان.
وإنه لم يثبت بحمد الله أن شيئًا من قطعيات الوحي يعارض أيًّا من حقائق البحث العلمي. ونحن نجزم أن ذلك لن يكون، فآيات الله لا تتعارض.
--------------------------------------------
বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়গুলোর মধ্যে কিছু ফরজে কিফায়া, যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং প্রয়োজনীয় গণিত।
(১)।
বরং আপনি ইমাম শাফিঈর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)
(২) মতো একজন মহান ইমামকে বলতে পাবেন: "হালাল এবং হারামের জ্ঞানের পর চিকিৎসা বিজ্ঞানের চেয়ে মহৎ আর কোনো জ্ঞান সম্পর্কে আমি জানি না।"
(৩)।
আর বৈজ্ঞানিক গবেষণা সমাপ্ত হওয়ার পর ফিকহ এর প্রয়োগের ওপর ফয়সালাকারী হবে, যাতে এর ব্যবহার এমন ক্ষেত্রে হয় যা উপকারী এবং যাতে মানুষের কল্যাণ রয়েছে।
আর আল্লাহর শুকরিয়া যে, এটি প্রমাণিত নয় যে ওহীর অকাট্য বিষয়গুলোর কোনোটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার কোনো ধ্রুব সত্যের সাথে বিরোধপূর্ণ। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে এমনটি কখনো হবে না, কারণ আল্লাহর নিদর্শনসমূহ পরস্পরের সাথে সাংঘর্ষিক হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
حاجة الفقه إلى الطبالفقه محتاج إلى الطب، ومن أمثلة ذلك:
• الحكم على حِل الأشياء وحرمتها قد يتوقف على معرفة نفعها أو ضررها، فالإسلامُ مبنيةٌ شريعتُه على جلب المصالح وتكميلها ودفع المفاسد وتقليلها. ومن أمثلة ذلك قولُ الشافعي: عن الماء المُشَمَّس: «ولا أكره الماءَ المشَمَّس إلا مِن جهة الطب»
(1).
• الحكم في مسائل الحيض والنفاس والحمل وغيرها يحتاج إلى الرجوع لأهل الخبرة والاختصاص، فمن المتقرر أن ما لا ضابط له في الشرع أو اللغة يرجع فيه إلى العرف والوجود
(2). والوجود يضبطه الخبير به، وهذا هو الطبيب متى تعلق الأمر ببدن الإنسان.
• ويحتاج الفقيه إلى الاطلاع على المعارف والصناعة الطبية لإمكانية الحكم على شتى الممارسات الطبية، فإن الحكم على الشيء فرع عن تصوره.
• وكذلك يحتاج الفقه والفقيه إلى الطب لمعرفة حال الإنسان من الصحة والمرض، وهل هو مرض موت أم غيره، واختلال العقل، ونوع الخنثى، وبلوغ الطفل، ووجود العيوب التي يفسخ بها النكاح. فمن ذلك قولهم عن انتفاع العلوم الشرعية بالطبية: «أما منفعة الطب فيها [أي العلوم الشرعية] فإنه يُرجَع للطبيب في الأمراض؛ إذا أخبر المريضَ بأن الماء يضره تيمَّم»
(3).
--------------------------------------------
চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি ফিকহের প্রয়োজনীয়তাফিকহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের মুখাপেক্ষী, যার কয়েকটি উদাহরণ নিম্নরূপ:
• কোনো বস্তুর বৈধতা বা অবৈধতার বিধান প্রদান তার উপকারিতা বা অপকারিতা জানার ওপর নির্ভর করতে পারে; কেননা ইসলামের শরীয়ত কল্যাণ অর্জন ও তা পূর্ণতা দান এবং অকল্যাণ দূরীকরণ ও তা লাঘব করার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর একটি উদাহরণ হলো রোদে তপ্ত পানি সম্পর্কে ইমাম শাফিঈর উক্তি: «আমি রোদে তপ্ত পানিকে কেবল চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেই অপছন্দ করি»
(১)।
• হায়েজ (ঋতুস্রাব), নিফাস (প্রসবোত্তর রক্তস্রাব), গর্ভধারণ এবং এ জাতীয় মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন পড়ে। এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, শরীয়ত বা ভাষায় যার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই, তা প্রথা ও বাস্তব অস্তিত্বের দিকে প্রত্যাবর্তন করে
(২)। আর মানুষের শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাস্তব অস্তিত্ব নিরূপণ করেন একজন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ, আর তিনিই হলেন চিকিৎসক।
• বিভিন্ন চিকিৎসাকৌশল সম্পর্কে বিধান প্রদানের সক্ষমতা অর্জনের জন্য ফকিহের চিকিৎসাবিষয়ক জ্ঞান ও শিল্প সম্পর্কে অবগতি প্রয়োজন; কারণ কোনো বিষয়ে বিধান প্রদান করা সেই বিষয়টি সঠিকভাবে অনুধাবন বা কল্পনা করারই একটি শাখা মাত্র।
• তদ্রূপ মানুষের সুস্থতা ও অসুস্থতার অবস্থা, তা মৃত্যুশয্যার রোগ কি না, মানসিক বিকৃতি, উভয়লিঙ্গের ধরন, শিশুর বয়ঃসন্ধি এবং বিয়ের চুক্তি বিচ্ছেদের কারণ হতে পারে এমন ত্রুটিসমূহ জানার জন্য ফিকহ ও ফকিহের চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রয়োজন হয়। শরয়ী জ্ঞান চিকিৎসাবিজ্ঞানের দ্বারা উপকৃত হওয়ার বিষয়ে মনীষীদের উক্তি হলো: «এতে [অর্থাৎ শরয়ী বিজ্ঞানে] চিকিৎসাবিজ্ঞানের উপকারিতা হলো, রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া হবে; তিনি যদি রোগীকে জানান যে পানি তার ক্ষতি করবে, তবে সে তায়াম্মুম করবে»
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
• وفي قضايا الجروح والشجاج يُحتاج إلى الأطباء والجرائحيين في الاستيفاء ومعرفة مدى احتمال السِّراية والحَيف وغير ذلك.
• كما يحتاج القضاء إلى الطب الشرعي في إثبات الجرائم وتحديد هُوِيَّة الجناة وكذلك تحديد النسب
… إلخ.
والحق أنه من سعادة البشر أن يتقن الفقهاء والأطباء عملهم ويتعاونوا، فيصلح الله بهم جميعًا أديان الناس وأبدانهم.
* * *
• জখম ও মস্তকাঘাত সংক্রান্ত মামলাগুলোতে হক আদায় এবং সংক্রমণের সম্ভাবনা ও অবিচারের মাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও শল্যবিদদের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।
• অনুরূপভাবে অপরাধ প্রমাণ, অপরাধীদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং বংশপরিচয় নির্ধারণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থা ফরেনসিক মেডিসিনের মুখাপেক্ষী হয়
… ইত্যাদি।
প্রকৃত সত্য এই যে, মানবজাতির সৌভাগ্য এতেই নিহিত যে ফকিহ ও চিকিৎসকগণ নিজ নিজ কর্মে পারদর্শী হবেন এবং একে অপরকে সহযোগিতা করবেন; এর ফলে আল্লাহ তাদের সকলের মাধ্যমে মানুষের দ্বীন ও দেহ উভয়ই সংশোধন করে দেবেন।
* * *
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
مسألة تغير الفتوىبين يدي هذه الرسالة كان لابد أن أتعرض إلى الأصل الذي بُنِيت عليه، وهو مسألة جواز بل وجوب تغير الفتوى بتغير الواقع، ومن ذلك واقع المعارف والصناعة الطبية.
إن هذه المسألة لهي من أكثر المسائل تعقيدًا، وقد وقع فيها - كما في غيرها - كثير من الإفراط والتفريط، فجماعة جاوزوا بها الحد وطاروا بها كل مَطِير، يريدون أن يَدلِفوا منها إلى تغيير الدين، أو قل تحريفه؛ بينما فريق آخر نظر إليها مرتابًا، لاسيما مع التجاوزات التي ترتكب باسمها، فأنكرها وردها.
وأنا في الصفحات القادمة أبدأ ببيان مشروعية بل وجوب أصل المسألة، ثم أتعرض للضوابط التي تمنع من الانحراف بها واتخاذها مَطِيَّة لتحريف الدين، وبعدها أبين المقصود من تغير الفتوى بتغير المعارف والصناعة الطبية على وجه الخصوص.
تعريف الفتوى والقضاء:الفَتْوَى: هي الإخبار عن حكم الله، على وجه الإعلام، في الوقائع وغيرها. أما القَضَاء: فهو الإخبار عن حكم الله، على وجه الإلزام، في الحكم بين المتخاصمين
(1).
فالفتوى ليست ملزمة بعكس القضاء، فكان القضاء أوسع من هذه الجهة لكونه إخبارًا يتبعه إلزام. والفتوى أوسع من أكثر من جهة، فهي متعدية يخاطب بها الخلق الكثير، وتكون في أبواب المعاملات والعبادات بل والعقائد.
وبالنسبة إلى موضوع رسالتنا، فالفتوى والقضاء قريبان، ولا أثر للفرق بينهما على العَلاقة بينهما وبين المعارف والصناعة الطبية.
--------------------------------------------
ফতোয়া পরিবর্তনের মাসআলাএই পুস্তিকাটির প্রারম্ভে সেই মূলনীতিটি আলোচনা করা অপরিহার্য যার ওপর এটি প্রতিষ্ঠিত; আর তা হলো বাস্তবতা পরিবর্তনের সাথে সাথে ফতোয়া পরিবর্তন হওয়া কেবল জায়েজ নয় বরং ওয়াজিব হওয়ার মাসআলা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো চিকিৎসা জ্ঞান ও চিকিৎসা শিল্পের বাস্তবতা।
নিশ্চয়ই এই মাসআলাটি সর্বাধিক জটিল মাসআলাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। অন্যান্য বিষয়ের মতো এতেও চরমপন্থা ও শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়েছে। একদল মানুষ এতে সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং একে অনেক দূর টেনে নিয়ে গেছে; তারা এর মাধ্যমে দ্বীনকে পরিবর্তন বা বিকৃত করতে চায়। অন্যদিকে আরেকটি দল একে সন্দেহের চোখে দেখেছে, বিশেষ করে এর নামে যেসব সীমালঙ্ঘন করা হয় তার কারণে; ফলে তারা একে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করেছে।
আমি পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে এই মাসআলার মূল ভিত্তির বৈধতা বরং আবশ্যকীয়তা বর্ণনার মাধ্যমে আলোচনা শুরু করব। অতঃপর আমি সেই নিয়মাবলী আলোচনা করব যা একে পথভ্রষ্ট হওয়া এবং দ্বীন বিকৃতির বাহন হওয়া থেকে রক্ষা করবে। এরপরে আমি বিশেষভাবে চিকিৎসা জ্ঞান ও চিকিৎসা শিল্পের পরিবর্তনের ফলে ফতোয়া পরিবর্তনের উদ্দেশ্য বর্ণনা করব।
ফতোয়া ও কাজার (বিচার) সংজ্ঞা:ফতোয়া হলো: কোনো ঘটনা বা অন্যান্য বিষয়ে অবগতির উদ্দেশ্যে আল্লাহর বিধান সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা। আর কাজা (বিচার) হলো: বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে ফয়সালার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে আল্লাহর বিধান সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা
(১)।
সুতরাং ফতোয়া কাজার মতো বাধ্যতামূলক নয়। কাজা এই দিক থেকে বেশি ব্যাপক যে এটি এমন সংবাদ যার সাথে বাধ্যবাধকতা জড়িয়ে আছে। তবে ফতোয়া বিভিন্ন দিক থেকে আরও বেশি ব্যাপক; কারণ এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী যা অগণিত মানুষকে সম্বোধন করে এবং এটি মুআমালাত (লেনদেন), ইবাদত এমনকি আকীদার অধ্যায়গুলোতেও হয়ে থাকে।
আমাদের এই পুস্তিকার বিষয়ের ক্ষেত্রে ফতোয়া ও কাজা কাছাকাছি পর্যায়ের, এবং চিকিৎসা জ্ঞান ও চিকিৎসা শিল্পের সাথে এ দুটির সম্পর্কের ক্ষেত্রে এদের মধ্যকার পার্থক্যের কোনো প্রভাব নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আসারু তাতাওয়ুরিল মাআরিফিত তিব্বিয়্যাহ আলা তাগাইয়ুরিল ফাতওয়া ওয়াল কাদা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
المقصود الفتوى لا الحكم الشرعيإن من علمائنا من قال - كما سيأتي - بثبات الحكم واستحالة تغيره، ومنهم من قال بتغير الأحكام، وفي الصفحات الآتية نبين أن الخلاف بينهم في الألفاظ لا في المفاهيم، وكذلك نؤكد على أن ما نقصِده من التغير هو تغير الفتوى دون الحكم الشرعي كما يُعرِّفه الأصوليون.
وذلك لأن الحكم الشرعي -كما يعرفه الأصوليون- هو خطاب الله المتعلق بأفعال المكلفين اقتضاءً أو تخييرًا أو وضعًا
(1). ويُعرِّفه الفقهاء بأنه أثر خطاب الله المتعلق بأفعال المكلفين اقتضاءً أو تخييرًا أو وضعًا
(2).
وهذا - على تعريف الأصوليين - لا يمكن أن يتصور تغيره بعد انقطاع الوحي، وكذلك فالصواب أنه لا يتغير على تعريف الفقهاء، فلكل خطاب أثر ثابت في الواقعة المعينة، أدركه الفقيه أم لا. أما الفتوى، فإنها إخبار المفتي عما اعتقد أنه حكم الله في المسألة المعينة أو الواقع المعين
(3).
--------------------------------------------
অভীষ্ট লক্ষ্য হলো ফতোয়া, শারঈ হুকুম নয়আমাদের আলেমদের মধ্যে এমন একদল রয়েছেন যারা — সামনে যা বিস্তারিত আসবে — হুকুমের স্থায়িত্ব এবং তার পরিবর্তনের অসম্ভবতার কথা বলেছেন, আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ আহকাম বা বিধান পরিবর্তনের কথা বলেছেন। পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে আমরা স্পষ্ট করব যে, তাদের মধ্যকার এই মতপার্থক্য শাব্দিক বা সংজ্ঞাগত, ধারণাগত নয়। একইভাবে আমরা গুরুত্বারোপ করছি যে, পরিবর্তন বলতে আমরা ‘ফতোয়া’র পরিবর্তনকে বোঝাচ্ছি, উসূলবিদদের সংজ্ঞায়িত ‘শারঈ হুকুম’ বা বিধানের পরিবর্তনকে নয়।
কেননা উসূলবিদদের সংজ্ঞানুযায়ী ‘শারঈ হুকুম’ হলো: মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর বাণী, যা দাবি (ইকতিদা), এখতিয়ার (তাখয়ীর) কিংবা পরিস্থিতির (ওয়াদ) সাথে সম্পর্কিত।
(১) আর ফকিহগণ এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন এভাবে যে, এটি হলো মুকাল্লাফদের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর বাণীর প্রভাব বা ফলাফল, যা দাবি, এখতিয়ার কিংবা পরিস্থিতির সাথে সম্পর্কিত।
(২)উসূলবিদদের এই সংজ্ঞা অনুযায়ী, ওহি বা প্রত্যাদেশ বন্ধ হওয়ার পর হুকুমের পরিবর্তন কল্পনা করা সম্ভব নয়। অনুরূপভাবে সঠিক মত এটাই যে, ফকিহদের সংজ্ঞা অনুযায়ীও এটি পরিবর্তিত হয় না; কেননা প্রতিটি বাণীর একটি স্থির ও নির্দিষ্ট প্রভাব বিশেষ বিশেষ ঘটনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান থাকে, চাই ফকিহ তা অনুধাবন করতে সক্ষম হোন কিংবা না হোন। পক্ষান্তরে ফতোয়া হলো—কোনো নির্দিষ্ট বিষয় বা বাস্তব পরিস্থিতির ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান সম্পর্কে মুফতির নিজস্ব বিশ্বাস বা উপলব্ধিজাত সংবাদ প্রদান।
(৩)--------------------------------------------