(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الترغيب والترهيب - المنذري - ط العلمية   (عبد العظيم المنذري)

القسم: كتب السنة

الكتاب: الترغيب والترهيب من الحديث الشريف

المؤلف: عبد العظيم بن عبد القوي بن عبد الله، أبو محمد، زكي الدين المنذري (ت 656 هـ)

المحقق: إبراهيم شمس الدين

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1417

عدد الأجزاء: 4

تنبيهات:

1 - اعتمَد محقق هذه الطبعة في إثبات المتن على تحقيق محمد عمارة كُليّة واستغنَى عن حواشيه المُسهِبة.

2 - انتشرَتْ هذه النُسخة الإلكترونية سابقًا مرقمة الأحاديث من أول الكتاب لآخره، وليس هذا الترقيم من المطبوع، وإنما هو ترقيم آلي مِن بعض البرامج، وقد سلِمَتْ هذه النسخة من ذلك.

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব - আল-মুনজিরি - ইলমিয়া প্রকাশনী   (আবদুল আজিম আল-মুনজিরি)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: হাদিসে শরিফ থেকে আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব

লেখক: আবদুল আজিম বিন আবদুল কাবি বিন আবদুল্লাহ, আবু মুহাম্মদ, জাকিউদ্দিন আল-মুনজিরি (মৃত্যু ৬৫৬ হিজরি)

গবেষক: ইব্রাহিম শামসুদ্দিন

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়া - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭

খণ্ড সংখ্যা: ৪

সতর্কতা:

১ - এই সংস্করণের গবেষক মূল পাঠ্যটি প্রমাণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে মুহাম্মদ আমারা-এর গবেষণার ওপর নির্ভর করেছেন এবং তার দীর্ঘ টীকাগুলি বাদ দিয়েছেন।

২ - এই ইলেকট্রনিক সংস্করণটি পূর্বে কিতাবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হাদিস নম্বর সম্বলিত হয়ে প্রচারিত হয়েছিল, তবে এই নম্বরটি মুদ্রিত কপির নয়; বরং এটি কিছু প্রোগ্রামের স্বয়ংক্রিয় নম্বর ছিল। এই সংস্করণটি তা থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে।

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌التَّرْغِيب فِي الْإِخْلَاص والصدق وَالنِّيَّة الصَّالِحَة

 

• عَن ابْن عمر رضي الله عنهما قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول انْطلق ثَلَاثَة نفر مِمَّن كَانَ قبلكُمْ حَتَّى آواهم الْمبيت إِلَى غَار فَدَخَلُوا فانحدرت صَخْرَة من الْجَبَل فَسدتْ عَلَيْهِم الْغَار فَقَالُوا إِنَّه لَا ينجيكم من هَذِه الصَّخْرَة إِلَّا أَن تدعوا الله بِصَالح أَعمالكُم فَقَالَ رجل مِنْهُم اللَّهُمَّ كَانَ لي أَبَوَانِ شَيْخَانِ كبيران وَكنت لَا أغبق قبلهمَا أَهلا وَلَا مَالا فنأى بِي طلب شجر يَوْمًا فَلم أرح عَلَيْهِمَا حَتَّى نَامَا فحلبت لَهما غبوقهما فوجدتهما نائمين فَكرِهت أَن أغبق قبلهمَا أَهلا أَو مَالا فَلَبثت والقدح على يَدي أنْتَظر استيقاظهما حَتَّى برق الْفجْر

زَاد بعض الروَاة والصبية يتضاغون عِنْد قدمي فَاسْتَيْقَظَا فشربا غبوقهما

اللَّهُمَّ إِن كنت فعلت ذَلِك ابْتِغَاء وَجهك فَفرج عَنَّا مَا نَحن فِيهِ من هَذِه الصَّخْرَة

فانفرجت شَيْئا لَا يَسْتَطِيعُونَ الْخُرُوج مِنْهَا

قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ الآخر اللَّهُمَّ كَانَت لي ابْنة عَم كَانَت أحب النَّاس إِلَيّ فأردتها عَن نَفسهَا فامتنعت مني حَتَّى ألمت بهَا سنة من السنين فجاءتني فأعطيتها عشْرين وَمِائَة دِينَار على أَن تخلي بيني وَبَين نَفسهَا فَفعلت حَتَّى إِذا قدرت عَلَيْهَا قَالَت لَا يحل لَك أَن تفض الْخَاتم إِلَّا بِحقِّهِ فتحرجت من الْوُقُوع عَلَيْهَا فَانْصَرَفت عَنْهَا وَهِي أحب النَّاس إِلَيّ وَتركت الذَّهَب الَّذِي أعطيتهَا اللَّهُمَّ إِن كنت فعلت ذَلِك ابْتِغَاء وَجهك فافرج عَنَّا مَا نَحن فِيهِ

فانفرجت الصَّخْرَة غير أَنهم لَا يَسْتَطِيعُونَ الْخُرُوج مِنْهَا

قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَقَالَ الثَّالِث اللَّهُمَّ إِنِّي اسْتَأْجَرت أجراء وأعطيتهم أجرتهم غير رجل وَاحِد ترك الَّذِي لَهُ وَذهب فثمرت أجره حَتَّى كثرت مِنْهُ الْأَمْوَال فَجَاءَنِي بعد حِين فَقَالَ لي يَا عبد الله أد إِلَيّ أجري فَقلت كل مَا ترى من أجرك من الابل وَالْبَقر وَالْغنم وَالرَّقِيق

فَقَالَ يَا عبد الله لَا تستهزئ بِي فَقلت إِنِّي لَا أستهزئ بك فَأَخذه كُله فساقه فَلم يتْرك مِنْهُ شَيْئا اللَّهُمَّ إِن كنت فعلت ذَلِك ابْتِغَاء وَجهك فافرج عَنَّا مَا نَحن فِيهِ

فانفرجت الصَّخْرَة فَخَرجُوا يَمْشُونَ

وَفِي رِوَايَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ بَيْنَمَا ثَلَاثَة نفر مِمَّن كَانَ قبلكُمْ يَمْشُونَ إِذْ أَصَابَهُم مطر فأووا إِلَى غَار فانطبق عَلَيْهِم فَقَالَ بَعضهم لبَعض إِنَّه وَالله يَا هَؤُلَاءِ لَا ينجيكم إِلَّا الصدْق فَليدع كل رجل مِنْكُم بِمَا يعلم أَنه قد صدق فِيهِ فَقَالَ أحدهم اللَّهُمَّ إِن
ইখলাস (নিষ্ঠা), সত্যবাদিতা এবং নেক নিয়তের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ

 

• ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মধ্য থেকে তিন ব্যক্তি ভ্রমণে বের হলো, অবশেষে রাত যাপনের জন্য তারা একটি গুহায় আশ্রয় নিল এবং তাতে প্রবেশ করল। তখন পাহাড় থেকে একটি বিশাল পাথর ধসে পড়ে তাদের গুহার মুখ বন্ধ করে দিল। তারা বলল, তোমাদের নেক আমলগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দোয়া করা ছাড়া এই পাথর থেকে তোমাদের মুক্তির কোনো উপায় নেই। তাদের মধ্য থেকে একজন বলল: হে আল্লাহ! আমার অত্যন্ত বৃদ্ধ পিতা-মাতা ছিলেন। আমি তাঁদের আগে আমার পরিবার বা অন্য কাউকে রাতের পানীয় পান করাতাম না। একদিন পশুখাদ্য অন্বেষণে আমি দূরে চলে গিয়েছিলাম, ফলে তাঁদের ঘুমিয়ে পড়ার আগে ফিরতে পারিনি। আমি তাঁদের রাতের পানীয় দোহন করলাম কিন্তু তাঁদের ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। তাঁদের আগে পরিবার বা দাস-দাসীদের কাউকে পান করানো আমি অপছন্দ করলাম। তাই আমি হাতে দুধের পাত্র নিয়ে তাঁদের জেগে ওঠার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকলাম, এমনকি ভোর হয়ে গেল।

কোনো কোনো বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে, তখন শিশুরা আমার পায়ের কাছে ক্ষুধার্ত অবস্থায় চিৎকার করছিল। অবশেষে তাঁরা জেগে উঠলেন এবং তাঁদের রাতের পানীয় পান করলেন।

হে আল্লাহ! যদি আমি আপনার সন্তুষ্টির আশায় এই কাজ করে থাকি, তবে এই পাথরের কারণে আমরা যে বিপদে আছি তা আমাদের থেকে সরিয়ে দিন।

ফলে পাথরটি সামান্য একটু সরে গেল, তবে তাঁদের বের হওয়ার মতো জায়গা হলো না।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহ! আমার এক চাচাতো বোন ছিল, যে মানুষের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় ছিল। আমি তার সাথে কুকর্ম করতে চাইলাম, কিন্তু সে নিজেকে আমার থেকে বিরত রাখল। পরে এক দুর্ভিক্ষের বছর সে (অভাবের তাড়নায়) আমার কাছে এল। আমি তাকে একশো বিশ স্বর্ণমুদ্রা এই শর্তে দিলাম যে, সে আমার সাথে একান্তে মিলিত হবে। সে রাজি হলো। যখন আমি তার ওপর সক্ষম হলাম, তখন সে বলল: ন্যায়সঙ্গত অধিকার (বিয়ে) ছাড়া সতীত্বের মোহর নষ্ট করা তোমার জন্য বৈধ নয়। তখন আমি তার সাথে লিপ্ত হওয়া গুনাহ মনে করে বিরত থাকলাম এবং তাকে ছেড়ে চলে এলাম, যদিও সে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ছিল। আর আমি যে স্বর্ণ তাকে দিয়েছিলাম তা-ও ছেড়ে দিলাম। হে আল্লাহ! যদি আমি আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই কাজ করে থাকি, তবে আমাদের এই বিপদ থেকে মুক্ত করুন।

ফলে পাথরটি আরও একটু সরল, তবে তারা বের হতে পারছিল না।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: তৃতীয় ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহ! আমি কয়েকজন শ্রমিক নিয়োগ করেছিলাম এবং একজন ব্যতীত সবার মজুরি পরিশোধ করে দিয়েছিলাম। সেই একজন তার প্রাপ্য মজুরি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। এরপর আমি তার মজুরি দিয়ে বিনিয়োগ করে মুনাফা বৃদ্ধি করলাম, এমনকি এর দ্বারা অনেক সম্পদ অর্জিত হলো। কিছুকাল পর সে আমার কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর বান্দা! আমার মজুরি আমাকে দিয়ে দাও। আমি বললাম: তুমি এই যা কিছু দেখছ—উট, গরু, ছাগল এবং দাস-দাসী—এসবই তোমার মজুরি।

সে বলল: হে আল্লাহর বান্দা! আমার সাথে উপহাস করো না। আমি বললাম: আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না। তখন সে সব কিছু গ্রহণ করল এবং তা নিয়ে চলে গেল, কিছুই বাকি রাখল না। হে আল্লাহ! যদি আমি আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই কাজ করে থাকি, তবে আমাদের এই বিপদ সরিয়ে দিন।

তখন পাথরটি পুরোপুরি সরে গেল এবং তারা সেখান থেকে হেঁটে বেরিয়ে এল।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে তিন ব্যক্তি পথ চলছিল। হঠাৎ তারা বৃষ্টিতে আক্রান্ত হলো। ফলে তারা একটি গুহায় আশ্রয় নিল এবং গুহার মুখ তাদের ওপর বন্ধ হয়ে গেল। তখন তারা একে অপরকে বলল: আল্লাহর কসম, হে লোকসকল! সত্যবাদিতা ছাড়া কোনো কিছুই তোমাদের রক্ষা করবে না। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকে এমন আমল দিয়ে দোয়া করো যার ব্যাপারে তোমরা জানো যে তাতে তোমরা সত্যবাদী ছিলে। তাদের একজন বলল: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই...
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
كنت تعلم أَنه كَانَ لي أجِير عمل لي على فرق من أرز فَذهب وَتَركه وَإِنِّي عَمَدت إِلَى ذَلِك الْفرق فزرعته فَصَارَ من أمره إِلَى أَن اشْتريت مِنْهُ بقرًا وَإنَّهُ أَتَانِي يطْلب أجره فَقلت لَهُ اعمد إِلَى تِلْكَ الْبَقر فَإِنَّهَا من ذَلِك الْفرق

فساقها فَإِن كنت تعلم أَنِّي فعلت ذَلِك من خشيتك فَفرج عَنَّا فانساحت عَنْهُم الصَّخْرَة

فَذكر الحَدِيث قَرِيبا من الأول

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَالنَّسَائِيّ وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه من حَدِيث أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه بِاخْتِصَار وَيَأْتِي لَفظه فِي بر الْوَالِدين إِن شَاءَ الله تَعَالَى

قَوْله وَكنت لَا أغبق قبلهمَا أَهلا وَلَا مَالا

الغبوق بِفَتْح الْغَيْن الْمُعْجَمَة هُوَ الَّذِي يشرب بالْعَشي وَمَعْنَاهُ كنت لَا أقدم عَلَيْهِمَا فِي شرب اللَّبن أَهلا وَلَا غَيرهم

يتضاغون بالضاد والغين المعجمتين أَي يصيحون من الْجُوع

السّنة الْعَام المقحط الَّذِي لم تنْبت الأَرْض فِيهِ شَيْئا سَوَاء نزل غيث أم لم ينزل

تفض الْخَاتم هُوَ بتَشْديد الضَّاد الْمُعْجَمَة وَهُوَ كِنَايَة عَن الْوَطْء

الْفرق بِفَتْح الْفَاء وَالرَّاء مكيال مَعْرُوف

فانساحت هُوَ بِالسِّين والحاء الْمُهْمَلَتَيْنِ أَي تنحت الصَّخْرَة وزالت عَن الْغَار

 

وَعَن أنس بن مَالك عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ من فَارق الدُّنْيَا على الْإِخْلَاص لله وَحده لَا شريك لَهُ وَأقَام الصَّلَاة وَآتى الزَّكَاة فَارقهَا وَالله عَنهُ رَاض

رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شَرط الشَّيْخَيْنِ

 

وَعَن أبي فراس رجل من أسلم قَالَ نَادَى رجل فَقَالَ يَا رَسُول الله مَا الْإِيمَان قَالَ الْإِخْلَاص

وَفِي لفظ آخر قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم سلوني عَمَّا شِئْتُم فَنَادَى رجل يَا رَسُول الله مَا الْإِسْلَام قَالَ إقَام الصَّلَاة وإيتاء الزَّكَاة

قَالَ فَمَا الْإِيمَان قَالَ الْإِخْلَاص

قَالَ فَمَا الْيَقِين قَالَ التَّصْدِيق

رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ وَهُوَ مُرْسل

 

وَعَن معَاذ بن جبل أَنه قَالَ حِين بعث إِلَى الْيمن يَا رَسُول الله أوصني

قَالَ أخْلص دينك يكفك الْعَمَل الْقَلِيل

 

رَوَاهُ الْحَاكِم من طَرِيق عبيد الله بن زحر عَن ابْن أبي عمرَان وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد كَذَا قَالَ
আপনি জানেন যে, আমার একজন শ্রমিক ছিল যে এক ফারাক (পরিমাপক) চালের বিনিময়ে আমার জন্য কাজ করেছিল। এরপর সে চলে গেল এবং তা রেখে গেল। আমি সেই ফারাকটি নিয়ে তা বপন করলাম। তারপর তার ফলাফল এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে, আমি তা থেকে অনেক গরু কিনলাম। অতঃপর সে আমার কাছে এসে তার মজুরি চাইল। আমি তাকে বললাম, ওই গরুগুলোর দিকে যাও, কারণ ওগুলো ওই ফারাক থেকেই উৎপন্ন হয়েছে।

অতঃপর সে সেগুলো নিয়ে চলে গেল। অতএব, আপনি যদি জানেন যে আমি আপনার ভয়ে এটি করেছি, তবে আমাদের থেকে (বিপদ) দূর করে দিন। তখন পাথরটি তাদের থেকে সরে গেল।

অতঃপর তিনি প্রথমটির কাছাকাছি একটি হাদীস উল্লেখ করলেন।

এটি বুখারী, মুসলিম ও নাসায়ী বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদীস থেকে সংক্ষেপে এটি বর্ণনা করেছেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা পিতামাতার প্রতি সদাচরণ অধ্যায়ে এর পাঠ আসবে।

তাঁর বাণী: "আমি তাদের আগে পরিবার বা ধন-সম্পদকে পান করাতাম না।"

"আল-গাবুক" (গাইন বর্ণে ফাতহা যোগে) হলো সেই পানীয় যা সন্ধ্যায় পান করা হয়। এর অর্থ হলো—আমি দুধ পানের ক্ষেত্রে তাদের (পিতামাতার) ওপর আমার পরিবার বা অন্য কাউকেই প্রাধান্য দিতাম না।

"ইয়াতাদাগুন" (দাদ ও গাইন বর্ণ যোগে) অর্থাৎ তারা ক্ষুধার যন্ত্রণায় চিৎকার করছিল।

"আস-সানাহ" হলো সেই দুর্ভিক্ষের বছর যাতে ভূমি কোনো কিছু উৎপন্ন করে না, চাই বৃষ্টি হোক বা না হোক।

"তাফুদ্দাল খাতিম" (দাদ বর্ণে তাশদীদ যোগে) এটি সহবাসের একটি রূপক অভিব্যক্তি।

"আল-ফারাক" (ফা এবং রা বর্ণে ফাতহা যোগে) একটি সুপরিচিত পরিমাপক পাত্র।

"ফানসাহাত" (সীন ও হা বর্ণ যোগে) অর্থাৎ পাথরটি সরে গেল এবং গুহার মুখ থেকে অপসারিত হলো।

 

আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা, তাঁর কোনো শরীক নেই—এই বিশ্বাসের ওপর এবং সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদানের ওপর দুনিয়া ত্যাগ করবে, সে এমতাবস্থায় বিদায় নেবে যে আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট।

এটি ইবনে মাজাহ ও হাকীম বর্ণনা করেছেন এবং তিনি (হাকীম) বলেছেন, এটি শায়খায়নের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহীহ।

 

আসলাম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি আবু ফিরাাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ডেকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান কী? তিনি বললেন: ইখলাস (একনিষ্ঠতা)।

অন্য এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমরা আমাকে যা ইচ্ছে জিজ্ঞেস করো। তখন এক ব্যক্তি ডেকে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলাম কী? তিনি বললেন: সালাত কায়েম করা এবং যাকাত প্রদান করা।

সে বলল, তবে ঈমান কী? তিনি বললেন: ইখলাস (একনিষ্ঠতা)।

সে বলল, তবে ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) কী? তিনি বললেন: তাসদীক (সত্যায়ন করা)।

এটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন এবং এটি একটি মুরসাল হাদীস।

 

মুয়াজ বিন জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে যখন ইয়ামেনে পাঠানো হচ্ছিল, তখন তিনি বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে উপদেশ দিন।

তিনি বললেন: তোমার দ্বীনকে একনিষ্ঠ করো, তবে অল্প আমলই তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।

 

এটি হাকীম ওবায়দুল্লাহ বিন যাহর-এর সূত্রে ইবনে আবি উমরান থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এর সনদ সহীহ; তিনি এমনই বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَرُوِيَ عَن ثَوْبَان قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول طُوبَى للمخلصين أُولَئِكَ مصابيح الْهدى تنجلي عَنْهُم كل فتْنَة ظلماء

رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ

 

وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم أَنه قَالَ فِي حجَّة الْوَدَاع نضر الله امْرأ سمع مَقَالَتي فوعاها فَرب حَامِل فقه لَيْسَ بفقيه

ثَلَاث لَا يغل عَلَيْهِنَّ قلب امرىء مُؤمن إخلاص الْعَمَل لله والمناصحة لائمة الْمُسلمين وَلُزُوم جَمَاعَتهمْ فَإِن دعاءهم مُحِيط من ورائهم

رَوَاهُ الْبَزَّار بِإِسْنَاد حسن وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه من حَدِيث زيد بن ثَابت وَيَأْتِي فِي سَماع الحَدِيث إِن شَاءَ الله تَعَالَى

قَالَ الْحَافِظ عبد الْعَظِيم وَقد رُوِيَ هَذَا الحَدِيث أَيْضا عَن ابْن مَسْعُود ومعاذ بن جبل والنعمان بن بشير وَجبير بن مطعم وَأبي الدَّرْدَاء وَأبي قرصافة جندرة بن خيشنة وَغَيرهم من الصَّحَابَة رضي الله عنهم

وَبَعض أسانيدهم صَحِيح

 

وَعَن مُصعب بن سعد عَن أَبِيه رضي الله عنه أَنه ظن أَن لَهُ فضلا على من دونه من أَصْحَاب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا ينصر الله هَذِه الْأمة بضعيفها بدعوتهم وصلاتهم وإخلاصهم

رَوَاهُ النَّسَائِيّ وَغَيره وَهُوَ فِي البُخَارِيّ وَغَيره دون ذكر الْإِخْلَاص

 

وَعَن الضَّحَّاك بن قيس قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن الله تبارك وتعالى يَقُول أَنا خير شريك فَمن أشرك معي شَرِيكا فَهُوَ لشريكي يَا أَيهَا النَّاس أَخْلصُوا أَعمالكُم فَإِن الله تبارك وتعالى لَا يقبل من الْأَعْمَال إِلَّا مَا خلص لَهُ وَلَا تَقولُوا هَذِه لله وللرحم فَإِنَّهَا للرحم وَلَيْسَ لله مِنْهَا شَيْء وَلَا تَقولُوا هَذِه لله ولوجوهكم فَإِنَّهَا لوجوهكم وَلَيْسَ لله مِنْهَا شَيْء

رَوَاهُ الْبَزَّار بِإِسْنَاد لَا بَأْس بِهِ وَالْبَيْهَقِيّ

قَالَ الْحَافِظ لَكِن الضَّحَّاك بن قيس مُخْتَلف فِي صحبته

 

وَعَن أبي أُمَامَة قَالَ جَاءَ رجل إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَرَأَيْت رجلا غزا يلْتَمس الْأجر وَالذكر مَا لَهُ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا شَيْء لَهُ

فَأَعَادَهَا ثَلَاث مرار وَيَقُول رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا شَيْء لَهُ ثمَّ قَالَ إِن الله عز وجل لَا يقبل من الْعَمَل إِلَّا مَا كَانَ لَهُ
সাওবান (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি: "নিষ্ঠাবান বান্দাদের জন্য সুসংবাদ, তাঁরা হলেন হেদায়েতের প্রদীপ, তাঁদের মাধ্যমে প্রতিটি অন্ধকার ফিতনা দূরীভূত হয়।"

এটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন।

 

আবু সাঈদ খুদরী (রা.) হতে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বিদায় হজ্জের ভাষণে বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব রাখুন যে আমার কথা শুনেছে এবং তা আত্মস্থ করেছে। কেননা অনেক ফিকহ (তত্ত্ব) বহনকারী স্বয়ং ফকীহ (গভীর সমঝদার) নয়।"

"তিনটি বিষয় এমন যাতে কোনো মুমিন ব্যক্তির অন্তর কোনো রূপ বিদ্বেষ বা সংকীর্ণতা পোষণ করে না: আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে আমল করা, মুসলিম শাসকবর্গের কল্যাণ কামনা করা এবং তাদের জামাআতের সাথে সংলগ্ন থাকা। কেননা তাদের দোয়া তাদের পেছন থেকে তাদের বেষ্টন করে রাখে।"

এটি বাজ্জার হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে যায়েদ বিন সাবিত (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন। ইনশাআল্লাহ 'হাদিস শ্রবণ' অধ্যায়ে এটি পুনরায় আসবে।

হাফেজ আব্দুল আজিম বলেন, এই হাদিসটি ইবনে মাসউদ, মুয়াজ ইবনে জাবাল, নুমান ইবনে বশীর, জুবায়ের ইবনে মুতইম, আবু দারদা এবং আবু কুরসাফা জুনদারা ইবনে খাইশানা (রা.) ও অন্যান্য সাহাবীগণ থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

তাঁদের বর্ণিত কোনো কোনো সনদ সহীহ।

 

মুসআব ইবনে সাদ (রা.) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ধারণা করেছিলেন যে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যান্য সাধারণ সাহাবীদের তুলনায় তাঁর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তখন নবী (সা.) বললেন: "আল্লাহ এই উম্মতকে কেবল তাদের দুর্বলদের দোয়ার কারণে, তাদের সালাত এবং তাদের ইখলাসের (নিষ্ঠার) বরকতেই সাহায্য করে থাকেন।"

এটি নাসাঈ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন এবং এটি বুখারী ও অন্যান্য কিতাবেও রয়েছে, তবে তাতে ইখলাসের উল্লেখ নেই।

 

দাহহাক বিন কায়েস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন, আমি অংশীদারদের মধ্যে সর্বোত্তম অংশীদার। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করবে, তবে তা সেই শরিকের জন্যই গণ্য হবে। হে লোকসকল! তোমরা তোমাদের আমলসমূহকে আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করো। কারণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আমলসমূহের মধ্য থেকে কেবল সেটুকুই কবুল করেন যা কেবল তাঁরই জন্য নিবেদিত। আর তোমরা এমন বলো না যে, এটি আল্লাহর জন্য এবং আত্মীয়তার সম্পর্কের জন্য; কারণ তা আত্মীয়তার সম্পর্কের জন্যই হবে এবং আল্লাহর জন্য তাতে কিছুই থাকবে না। তোমরা এমনও বলো না যে, এটি আল্লাহর জন্য এবং তোমাদের সম্মানের জন্য; কারণ তা তোমাদের সম্মানের জন্যই হবে এবং আল্লাহর জন্য তাতে কিছুই থাকবে না।"

এটি বাজ্জার নির্ভরযোগ্য সনদে এবং বায়হাকী বর্ণনা করেছেন।

হাফেজ (মুনজিরী) বলেন, তবে দাহহাক বিন কায়েসের সাহাবী হওয়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।

 

আবু উমামা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট এসে আরজ করল: "আপনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলেন, যে সওয়াব এবং সুখ্যাতি লাভের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ করেছে, তার জন্য কী পাওনা আছে?" রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "তার জন্য কিছুই নেই।"

সেই ব্যক্তি তিনবার একই প্রশ্ন করল এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রতিবারই বললেন: "তার জন্য কিছুই নেই।" এরপর তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আমলের মধ্য থেকে কেবল সেটুকুই কবুল করেন যা একমাত্র তাঁরই জন্য নিবেদিত এবং যার মাধ্যমে তাঁরই সন্তুষ্টি কামনা করা হয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
خَالِصا وابتغي وَجهه

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ بِإِسْنَاد جيد وَسَيَأْتِي أَحَادِيث من هَذَا النَّوْع فِي الْجِهَاد إِن شَاءَ الله تَعَالَى

 

• وَعَن أبي الدَّرْدَاء عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ الدُّنْيَا ملعونة مَلْعُون مَا فِيهَا إِلَّا مَا ابْتغِي بِهِ وَجه الله تَعَالَى

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد لَا بَأْس بِهِ

 

• وَعَن عبَادَة بن الصَّامِت رضي الله عنه قَالَ يجاء بالدنيا يَوْم الْقِيَامَة فَيُقَال ميزوا مَا كَانَ مِنْهَا لله عز وجل فيماز ويرمى سائره فِي النَّار

رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ عَن شهر بن حَوْشَب عَنهُ مَوْقُوفا

 

• وَرَوَاهُ أَيْضا عَن شهر عَن عَمْرو بن عبسة رضي الله عنه قَالَ إِذا كَانَ يَوْم الْقِيَامَة جِيءَ بالدنيا فيميز مِنْهَا مَا كَانَ لله وَمَا كَانَ لغير الله رمي بِهِ فِي نَار جَهَنَّم

مَوْقُوف أَيْضا

قَالَ الْحَافِظ وَقد يُقَال إِن مثل هَذَا لَا يُقَال من قبل الرَّأْي وَالِاجْتِهَاد فسبيله سَبِيل الْمَرْفُوع

 

• وَرُوِيَ عَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ من أخْلص لله أَرْبَعِينَ يَوْمًا ظَهرت ينابيع الْحِكْمَة من قلبه على لِسَانه

ذكره رزين الْعَبدَرِي فِي كِتَابه وَلم أره فِي شَيْء من الْأُصُول الَّتِي جمعهَا وَلم أَقف لَهُ على إِسْنَاد صَحِيح وَلَا حسن إِنَّمَا ذكر فِي كتب الضُّعَفَاء كالكامل وَغَيره لَكِن رَوَاهُ الْحُسَيْن بن الْحُسَيْن الْمروزِي فِي زوائده فِي كتاب الزّهْد لعبد الله بن الْمُبَارك فَقَالَ حَدثنَا أَبُو مُعَاوِيَة أَنبأَنَا حجاج عَن مَكْحُول عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَذكره مُرْسلا وَكَذَا رَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ ابْن حبَان وَغَيره عَن مَكْحُول مُرْسلا وَالله أعلم

 

• وَرُوِيَ عَن أبي ذَر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ قد أَفْلح من أخْلص قلبه للْإيمَان وَجعل قلبه سليما وَلسَانه صَادِقا وَنَفسه مطمئنة وخليقته مُسْتَقِيمَة وَجعل أُذُنه مستمعة وعينه ناظرة فَأَما الْأذن فقمع وَالْعين مقرة بِمَا يوعي الْقلب وَقد أَفْلح من جعل قلبه واعيا

رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ وَفِي إِسْنَاد أَحْمد احْتِمَال للتحسين
বিশুদ্ধচিত্তে এবং তাঁর চেহারা (সন্তুষ্টি) লাভের উদ্দেশ্যে।

এটি আবু দাউদ ও নাসাঈ উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন। ইনশাআল্লাহ জিহাদ অধ্যায়ে এই প্রকারের আরও হাদিস সামনে আসবে।

 

• আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) বলেছেন: দুনিয়া অভিশপ্ত এবং এতে যা কিছু আছে তাও অভিশপ্ত; তবে তা ব্যতীত যা দ্বারা মহান আল্লাহর চেহারা অন্বেষণ করা হয়।

তাবারানি এটি এমন সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে কোনো সমস্যা নেই।

 

• উবাদাহ বিন সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন দুনিয়াকে আনা হবে, অতঃপর বলা হবে, এর মধ্যে যা কিছু মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর জন্য ছিল তা পৃথক করো। অতঃপর তা পৃথক করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

বাইহাকি এটি শাহর বিন হাওশাব থেকে তাঁর সূত্রে মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

• এটি শাহর থেকে আমর বিন আবাসাহ (রা.) এর সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: যখন কিয়ামতের দিন হবে, তখন দুনিয়াকে আনা হবে, অতঃপর তা থেকে যা আল্লাহর জন্য ছিল তা পৃথক করা হবে এবং যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য ছিল তা জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে।

এটিও মাওকুফ।

হাফেজ (মুনজিরি) বলেন: এ কথা বলা যেতে পারে যে, এই জাতীয় কথা নিজস্ব মত বা ইজতিহাদ থেকে বলা সম্ভব নয়, তাই এর বিধান মারফু হাদিসের মতোই।

 

• ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য চল্লিশ দিন একনিষ্ঠ হবে, তার হৃদয় থেকে হিকমতের (প্রজ্ঞার) ঝর্ণাধারা তার জিহ্বায় প্রকাশিত হবে।

রাযীন আল-আবদারি এটি তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি যে মূল গ্রন্থগুলো সংগ্রহ করেছেন সেগুলোর কোনোটিতে আমি এটি দেখিনি। আমি এর জন্য কোনো সহিহ বা হাসান সনদ পাইনি। এটি কেবল দুর্বল বর্ণনাকারীদের কিতাব যেমন 'আল-কামিল' ইত্যাদিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে হুসাইন বিন হুসাইন আল-মারওয়াযি আবদুল্লাহ বিন মুবারকের 'কিতাবুজ যুহদ' এর পরিশিষ্টে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া বর্ণনা করেছেন, তিনি হাজ্জাজ থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি নবী (সা.) থেকে এটি মুরসাল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে আবুশ শাইখ ইবনে হিব্বান ও অন্যান্যরাও মাকহুল থেকে মুরসাল হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

• আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: সেই ব্যক্তি সফল হয়েছে যে নিজের হৃদয়কে ঈমানের জন্য একনিষ্ঠ করেছে, হৃদয়কে ব্যাধিমুক্ত রেখেছে, জিহ্বাকে সত্যবাদী করেছে, নফসকে প্রশান্ত করেছে এবং স্বভাবকে সঠিক রেখেছে। আর সে নিজের কানকে শ্রবণকারী এবং চোখকে দর্শনকারী করেছে। কান হলো (জ্ঞানের) আধার স্বরূপ এবং চোখ হলো সেই বিষয়ের সত্যায়নকারী যা হৃদয় সংরক্ষণ করে। নিশ্চয়ই সেই ব্যক্তি সফল হয়েছে যে নিজের হৃদয়কে উপদেশ গ্রহণকারী করেছে।

আহমদ ও বাইহাকি এটি বর্ণনা করেছেন এবং আহমদের সনদে হাসান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فصل

 

• عَن عمر بن الْخطاب رضي الله عنه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول إِنَّمَا الْأَعْمَال بِالنِّيَّةِ وَفِي رِوَايَة بِالنِّيَّاتِ وَإِنَّمَا لكل امرئ مَا نوى

فَمن كَانَت هجرته إِلَى الله وَرَسُوله فَهجرَته إِلَى الله وَرَسُوله وَمن كَانَت هجرته إِلَى دنيا يُصِيبهَا أَو امْرَأَة ينْكِحهَا فَهجرَته إِلَى مَا هَاجر إِلَيْهِ

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ

قَالَ الْحَافِظ وَزعم بعض الْمُتَأَخِّرين أَن هَذَا الحَدِيث بلغ مبلغ التَّوَاتُر وَلَيْسَ كَذَلِك فَإِنَّهُ انْفَرد بِهِ يحيى بن سعيد الْأنْصَارِيّ عَن مُحَمَّد بن إِبْرَاهِيم التَّيْمِيّ ثمَّ رَوَاهُ عَن الْأنْصَارِيّ خلق كثير نَحْو مِائَتي راو وَقيل سَبْعمِائة راو وَقيل أَكثر من ذَلِك وَقد رُوِيَ من طرق كَثِيرَة غير طَرِيق الْأنْصَارِيّ وَلَا يَصح مِنْهَا شَيْء

كَذَا قَالَه الْحَافِظ عَليّ بن الْمَدِينِيّ وَغَيره من الْأَئِمَّة

وَقَالَ الْخطابِيّ لَا أعلم فِي ذَلِك خلافًا بَين أهل الحَدِيث وَالله أعلم

 

• وَعَن عَائِشَة قَالَت قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَغْزُو جَيش الْكَعْبَة فَإِذا كَانُوا ببيداء من الأَرْض يخسف بأولهم وَآخرهمْ

قَالَت قلت يَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَيفَ يخسف بأولهم وَآخرهمْ وَفِيهِمْ أسواقهم وَمن لَيْسَ مِنْهُم قَالَ يخسف بأولهم وَآخرهمْ ثمَّ يبعثون على نياتهم

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَغَيرهمَا

 

• وَعَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا يبْعَث النَّاس على نياتهم

رَوَاهُ ابْن مَاجَه بِإِسْنَاد حسن وَرَوَاهُ أَيْضا من حَدِيث جَابر إِلَّا أَنه قَالَ يحْشر النَّاس

 

• وَعَن أنس بن مَالك رضي الله عنه قَالَ رَجعْنَا من غَزْوَة تَبُوك مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِن أَقْوَامًا خلفنا بِالْمَدِينَةِ مَا سلكنا شعبًا وَلَا وَاديا إِلَّا وهم مَعنا حَبسهم
পরিচ্ছেদ

 

• উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর এক বর্ণনায় রয়েছে— নিয়তসমূহের ওপর। প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই সে পাবে।

অতএব, যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য কিংবা কোন নারীকে বিয়ে করার জন্য হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।

এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ।

হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন, পরবর্তীকালের কিছু আলিম দাবি করেছেন যে, এই হাদিসটি মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্নভাবে গণবর্ণিত) পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়; কারণ ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-আনসারী এটি মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আত-তাইমী থেকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন। এরপর আল-আনসারী থেকে এক বিশাল গোষ্ঠী এটি বর্ণনা করেছেন, যা প্রায় দুইশ বর্ণনাকারী; কারো মতে সাতশ, আবার কারো মতে তার চেয়েও বেশি। আর আল-আনসারীর সূত্র ছাড়া আরও অনেক সূত্রে এটি বর্ণিত হয়েছে, তবে সেগুলোর কোনটিই সহীহ নয়।

অনুরূপ কথা বলেছেন হাফেজ আলী ইবনুল মাদীনী এবং অন্যান্য ইমামগণ।

খাত্তাবী বলেন, এ বিষয়ে হাদিস বিশারদদের মধ্যে কোনো মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

• আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একটি সেনাবাহিনী কাবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসবে। যখন তারা ভূখণ্ডের একটি উন্মুক্ত মরুপ্রান্তরে পৌঁছাবে, তখন তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সবাইকে মাটির নিচে ধসিয়ে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কিভাবে তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সবাইকে ধসিয়ে দেওয়া হবে, অথচ তাদের মধ্যে বাজারের সাধারণ লোক এবং এমন লোকও থাকবে যারা তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়? তিনি বললেন, তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সবাইকে ধসিয়ে দেওয়া হবে, অতঃপর তাদের নিয়ত অনুযায়ী তাদের পুনরুত্থিত করা হবে।

এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, মুসলিম এবং অন্যান্যরা।

 

• আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই মানুষকে তাদের নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থিত করা হবে।

এটি ইবনে মাজাহ হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস থেকেও এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে বলা হয়েছে: মানুষকে (হাশরের ময়দানে) একত্রিত করা হবে।

 

• আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে আসছিলাম। তখন তিনি বললেন, নিশ্চয়ই মদিনায় এমন কিছু সম্প্রদায় আমাদের পেছনে রয়ে গেছে, আমরা যে কোনো পাহাড়ি পথ কিংবা উপত্যকা অতিক্রম করেছি, তারা আমাদের সাথেই ছিল; (অসুস্থতা বা ওজর) তাদের আটকে রেখেছিল।
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الْعذر

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَأَبُو دَاوُد وَلَفظه إِن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لقد تركْتُم بِالْمَدِينَةِ أَقْوَامًا مَا سِرْتُمْ مسيرًا وَلَا أنفقتم من نَفَقَة وَلَا قطعْتُمْ من وَاد إِلَّا وهم مَعكُمْ

قَالُوا يَا رَسُول الله وَكَيف يكونُونَ مَعنا وهم بِالْمَدِينَةِ قَالَ حَبسهم الْمَرَض

 

• وَعَن أبي هُرَيْرَة قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن الله لَا ينظر إِلَى أجسامكم وَلَا إِلَى صوركُمْ وَلَكِن ينظر إِلَى قُلُوبكُمْ

رَوَاهُ مُسلم

 

• وَعَن أبي كَبْشَة الْأَنمَارِي رضي الله عنه أَنه سمع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول ثَلَاث أقسم عَلَيْهِنَّ وَأُحَدِّثكُمْ حَدِيثا فاحفظوه

قَالَ مَا نقص مَال عبد من صَدَقَة وَلَا ظلم عبد مظْلمَة صَبر عَلَيْهَا إِلَّا زَاده الله عزا وَلَا فتح عبد بَاب مَسْأَلَة إِلَّا فتح الله عَلَيْهِ بَاب فقر أَو كلمة نَحْوهَا وَأُحَدِّثكُمْ حَدِيثا فاحفظوه قَالَ إِنَّمَا الدُّنْيَا لاربعة نفر عبد رزقه الله مَالا وعلما فَهُوَ يَتَّقِي فِيهِ ربه ويصل فِيهِ رَحمَه وَيعلم لله فِيهِ حَقًا فَهَذَا بِأَفْضَل الْمنَازل وَعبد رزقه الله علما وَلم يرزقه مَالا فَهُوَ صَادِق النِّيَّة يَقُول لَو أَن لي مَالا لعملت بِعَمَل فلَان فَهُوَ بنيته فأجرهما سَوَاء وَعبد رزقه الله مَالا وَلم يرزقه علما يخبط فِي مَاله بِغَيْر علم وَلَا يَتَّقِي فِيهِ ربه وَلَا يصل فِيهِ رَحمَه وَلَا يعلم لله فِيهِ حَقًا فَهَذَا بأخبث الْمنَازل وَعبد لم يرزقه الله مَالا وَلَا علما فَهُوَ يَقُول لَو أَن لي مَالا لعملت فِيهِ بِعَمَل فلَان فَهُوَ بنيته فوزرهما سَوَاء

رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ حَدِيث حسن صَحِيح

وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مثل هَذِه الْأمة كَمثل أَرْبَعَة نفر رجل آتَاهُ الله مَالا وعلما فَهُوَ يعْمل بِعِلْمِهِ فِي مَاله يُنْفِقهُ فِي حَقه وَرجل آتَاهُ الله علما وَلم يؤته مَالا وَهُوَ يَقُول لَو كَانَ لي مثل هَذَا عملت فِيهِ بِمثل الَّذِي يعْمل

قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فهما فِي الْأجر سَوَاء وَرجل آتَاهُ الله مَالا وَلم يؤته علما فَهُوَ يخبط فِي مَاله يُنْفِقهُ فِي غير حَقه وَرجل لم يؤته الله علما وَلَا مَالا وَهُوَ يَقُول لَو كَانَ لي مثل هَذَا عملت فِيهِ مثل الَّذِي يعْمل

قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فهما فِي الْوزر سَوَاء
ওজর

ইমাম বুখারী ও আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দাবলি হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমরা মদিনায় এমন কিছু লোককে রেখে এসেছ যে, তোমরা যে পথই চলেছ, যে অর্থই ব্যয় করেছ অথবা যে উপত্যকাই অতিক্রম করেছ, তারা (সওয়াবের দিক থেকে) তোমাদের সাথেই ছিল।"

তারা জিজ্ঞেস করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল! তারা কীভাবে আমাদের সাথে হতে পারেন অথচ তারা মদিনায় অবস্থান করছেন?" তিনি বললেন: "অসুস্থতা তাদেরকে আটকে রেখেছিল।"

 

• আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের শরীর বা তোমাদের অবয়বের দিকে তাকান না, বরং তিনি তোমাদের অন্তরের দিকে তাকান।"

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• আবু কাবশাহ আল-আনমারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "তিনটি বিষয়ের ওপর আমি শপথ করছি এবং তোমাদের একটি কথা বলছি, তোমরা তা স্মরণ রেখো।"

তিনি বললেন: "সদকার কারণে কোনো বান্দার সম্পদ কমে না। কোনো বান্দার ওপর কোনো জুলুম করা হলে আর সে যদি তাতে ধৈর্য ধারণ করে, তবে আল্লাহ অবশ্যই তার সম্মান বাড়িয়ে দেন। আর কোনো বান্দা যদি যাচ্ঞা বা ভিক্ষার দরজা খোলে, তবে আল্লাহ তার ওপর দারিদ্র্যের দরজা খুলে দেন" (অথবা এর অনুরূপ কোনো শব্দ)। "আর আমি তোমাদের একটি কথা বলছি, তোমরা তা স্মরণ রেখো।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই দুনিয়া চার প্রকার ব্যক্তির জন্য: (১) সেই বান্দা যাকে আল্লাহ সম্পদ ও জ্ঞান দান করেছেন, ফলে সে এতে তার রবকে ভয় করে, তার আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে এবং এতে আল্লাহর যে হক রয়েছে তা জানে; সে শ্রেষ্ঠ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। (২) সেই বান্দা যাকে আল্লাহ জ্ঞান দান করেছেন কিন্তু সম্পদ দান করেননি, সে সত্যনিষ্ঠ নিয়তের অধিকারী। সে বলে, 'যদি আমার সম্পদ থাকত, তবে আমি অমুকের মতো আমল করতাম।' সে তার নিয়তের কারণে সওয়াবের ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির সমান। (৩) সেই বান্দা যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন কিন্তু জ্ঞান দান করেননি, সে জ্ঞানহীনভাবে তার সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার করে, এতে তার রবকে ভয় করে না, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে না এবং এতে আল্লাহর হক সম্পর্কেও অবগত নয়; সে নিকৃষ্টতম স্তরে রয়েছে। (৪) আর সেই বান্দা যাকে আল্লাহ সম্পদও দেননি, জ্ঞানও দেননি, সে বলে, 'যদি আমার সম্পদ থাকত, তবে আমি অমুকের মতো কাজ করতাম।' সে তার নিয়তের কারণে পাপের ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির সমান।"

ইমাম আহমাদ ও তিরমিজী এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দাবলি তিরমিজীর। তিনি বলেছেন, হাদিসটি হাসান সহিহ।

ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দাবলি হলো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এই উম্মতের উদাহরণ হলো চার ব্যক্তির মতো: এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ ও জ্ঞান দান করেছেন, সে তার সম্পদে নিজ জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে এবং তা হকের পথে ব্যয় করে। আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ জ্ঞান দান করেছেন কিন্তু সম্পদ দেননি, সে বলে, 'যদি আমার কাছে ওর মতো সম্পদ থাকত তবে আমিও ওর মতোই আমল করতাম'।"

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সওয়াবের ক্ষেত্রে তারা উভয়েই সমান। আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সম্পদ দান করেছেন কিন্তু জ্ঞান দেননি, সে তার সম্পদে অনর্থক কাজ করে এবং তা অন্যায় পথে ব্যয় করে। আর এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ জ্ঞানও দেননি, সম্পদও দেননি, সে বলে, 'যদি আমার কাছে ওর মতো সম্পদ থাকত তবে আমিও ওর মতোই কাজ করতাম'।"

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "পাপের ক্ষেত্রে তারা উভয়েই সমান।"
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
• وَعَن ابْن عَبَّاس أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ فِيمَا يروي عَن ربه عز وجل إِن الله كتب الْحَسَنَات والسيئات ثمَّ بَين ذَلِك فَمن هم بحسنة فَلم يعملها كتبهَا الله عِنْده حَسَنَة كَامِلَة فَإِن هم بهَا فعملها كتبهَا الله عِنْده عشر حَسَنَات إِلَى سَبْعمِائة ضعف إِلَى أَضْعَاف كَثِيرَة وَمن هم بسيئة فَلم يعملها كتبهَا الله عِنْده حَسَنَة كَامِلَة وَإِن هُوَ هم بهَا فعملها كتبهَا الله سَيِّئَة وَاحِدَة زَاد فِي رِوَايَة أَو محاها وَلَا يهْلك على الله إِلَّا هَالك

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم

 

• وَعَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ يَقُول الله عز وجل إِذا أَرَادَ عَبدِي أَن يعْمل سَيِّئَة فَلَا تكتبوها عَلَيْهِ حَتَّى يعملها فَإِن عَملهَا فاكتبوها بِمِثْلِهَا وَإِن تَركهَا من أَجلي فاكتبوها لَهُ حَسَنَة وَإِن أَرَادَ أَن يعْمل حَسَنَة فَلم يعملها اكتبوها لَهُ حَسَنَة فَإِن عَملهَا فاكتبوها لَهُ بِعشر أَمْثَالهَا إِلَى سَبْعمِائة

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَمُسلم

 

• وَفِي رِوَايَة لمُسلم قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من هم بحسنة فَلم يعملها كتبت لَهُ حَسَنَة وَمن هم بحسنة فعملها كتبت لَهُ عشر حَسَنَات إِلَى سَبْعمِائة ضعف وَمن هم بسيئة فَلم يعملها لم تكْتب عَلَيْهِ وَإِن عَملهَا كتبت

 

• وَفِي أُخْرَى لَهُ قَالَ عَن مُحَمَّد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ الله عز وجل إِذا تحدث عَبدِي بِأَن يعْمل حَسَنَة فَأَنا أَكتبهَا لَهُ حَسَنَة مَا لم يعملها فَإِذا عَملهَا فَأَنا أَكتبهَا لَهُ بِعشر أَمْثَالهَا وَإِذا تحدث بِأَن يعْمل سَيِّئَة فَأَنا أغفرها لَهُ مَا لم يعملها فَإِذا عَملهَا فَأَنا أَكتبهَا لَهُ بِمِثْلِهَا وَإِن تَركهَا فاكتبوها لَهُ حَسَنَة إِنَّمَا تَركهَا من جراي

قَوْله من جراي بِفَتْح الْجِيم وَتَشْديد الرَّاء أَي من أَجلي

 

• وَعَن معن بن يزِيد رضي الله عنهما قَالَ كَانَ أبي يزِيد أخرج دَنَانِير يتَصَدَّق بهَا فوضعها عِنْد رجل فِي الْمَسْجِد فَجئْت فأخذتها فَأَتَيْته بهَا فَقَالَ وَالله مَا إياك أردْت فَخَاصَمته إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَك مَا نَوَيْت يَا يزِيد وَلَك مَا أخذت يَا معن

رَوَاهُ البُخَارِيّ
• ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর প্রতিপালক (আজ্জা ওয়া জাল্লা) থেকে বর্ণনা করে বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ পুণ্যসমূহ ও পাপসমূহ লিখে রেখেছেন, অতঃপর তা স্পষ্ট করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো পুণ্যের সংকল্প করল কিন্তু তা করল না, আল্লাহ তার জন্য নিজের কাছে একটি পূর্ণ পুণ্য লিখে দেন। আর যদি সে সংকল্প করার পর তা সম্পন্ন করে, তবে আল্লাহ তার জন্য নিজের কাছে দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত, এমনকি এর চেয়েও অনেক গুণ বৃদ্ধি করে লিখে দেন। আর যে ব্যক্তি কোনো পাপের সংকল্প করল কিন্তু তা করল না, আল্লাহ তার জন্য নিজের কাছে একটি পূর্ণ পুণ্য লিখে দেন। আর যদি সে সংকল্প করার পর তা সম্পন্ন করে, তবে আল্লাহ তার জন্য মাত্র একটি পাপ লিখে দেন।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "অথবা তিনি তা মুছে দেন; আর আল্লাহর কাছে ধ্বংস হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি ছাড়া কেউ ধ্বংস হয় না।"

এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

• আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ (আজ্জা ওয়া জাল্লা) বলেন: "যখন আমার বান্দা কোনো পাপ কাজ করার ইচ্ছা করে, তখন সে তা না করা পর্যন্ত তার আমলনামায় তা লিখো না। অতঃপর যদি সে তা করে, তবে তার সমপরিমাণ পাপ লিখো। আর যদি সে তা আমার খাতিরে বর্জন করে, তবে তার জন্য তা পুণ্য হিসেবে লিখে দাও। আর যখন সে কোনো পুণ্য কাজ করার ইচ্ছা করে কিন্তু তা করতে পারেনি, তখনো তার জন্য তা পুণ্য হিসেবে লিখে দাও। অতঃপর যদি সে তা সম্পাদন করে, তবে তার জন্য দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত লিখে দাও।"

এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন, তবে শব্দসমূহ বুখারীর।

 

• মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো পুণ্যের সংকল্প করল কিন্তু তা করল না, তার জন্য একটি পুণ্য লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি পুণ্যের সংকল্প করল এবং তা করল, তার জন্য দশ গুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো পাপের সংকল্প করল কিন্তু তা করল না, তার বিরুদ্ধে তা লেখা হয় না। কিন্তু সে যদি তা করে ফেলে, তবে তা লেখা হয়।"

 

• মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন, আল্লাহ (আজ্জা ওয়া জাল্লা) বলেছেন: "যখন আমার বান্দা কোনো পুণ্য কাজ করার কথা চিন্তা করে, আমি তা না করা পর্যন্ত তার জন্য পুণ্য লিখে রাখি। অতঃপর সে যখন তা করে, আমি তা দশ গুণ বৃদ্ধি করে লিখে দেই। আর যখন সে কোনো পাপ কাজ করার কথা চিন্তা করে, আমি তা না করা পর্যন্ত তাকে ক্ষমা করে দেই। অতঃপর সে যখন তা করে ফেলে, আমি তার জন্য তার সমপরিমাণ পাপ লিখে দেই। আর যদি সে তা বর্জন করে, তবে তোমরা তার জন্য পুণ্য লিখে দাও; কারণ সে কেবল আমার খাতিরেই তা বর্জন করেছে।"

তাঁর উক্তি 'মিন জাররা-ইয়া' এর অর্থ 'আমার কারণে' বা 'আমার খাতিরে'।

 

• মান ইবনে ইয়াযিদ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতা ইয়াযিদ কিছু স্বর্ণমুদ্রা বের করলেন সাদাকা করার জন্য এবং সেগুলো মসজিদের এক ব্যক্তির কাছে রাখলেন। আমি এসে সেগুলো নিয়ে নিলাম এবং তাঁর কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি বললেন, "আল্লাহর শপথ! আমি তো তোমাকে দেওয়ার ইচ্ছা করিনি।" আমি বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি বললেন, "হে ইয়াযিদ! তুমি যা নিয়ত করেছ তার সওয়াব তুমি পাবে। আর হে মান! তুমি যা গ্রহণ করেছ তা তোমারই।"

এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
• وَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ رجل لأتصدقن اللَّيْلَة بِصَدقَة فَخرج بِصَدَقَتِهِ فوضعها فِي يَد سَارِق فَأَصْبحُوا يتحدثون تصدق اللَّيْلَة على سَارِق فَقَالَ اللَّهُمَّ لَك الْحَمد على سَارِق لأتصدقن بِصَدقَة فَخرج بِصَدَقَتِهِ فوضعها فِي يَد زَانِيَة فَأَصْبحُوا يتحدثون تصدق اللَّيْلَة على زَانِيَة فَقَالَ اللَّهُمَّ لَك الْحَمد على زَانِيَة لأتصدقن بِصَدقَة فَخرج بِصَدَقَتِهِ فوضعها فِي يَد غَنِي فَأَصْبحُوا يتحدثون تصدق اللَّيْلَة على غَنِي فَقَالَ اللَّهُمَّ لَك الْحَمد على سَارِق وزانية وغني فَأتي فَقيل لَهُ أما صدقتك على سَارِق فَلَعَلَّهُ أَن يستعف عَن سَرقته

وَأما الزَّانِيَة فلعلها أَن تستعف عَن زنَاهَا وَأما الْغَنِيّ فَلَعَلَّهُ أَن يعْتَبر فينفق مِمَّا أعطَاهُ الله

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَمُسلم وَالنَّسَائِيّ قَالَا فِيهِ فَقيل لَهُ أما صدقتك فقد تقبلت ثمَّ ذكر الحَدِيث

 

• وَعَن أبي الدَّرْدَاء يبلغ بِهِ النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ من أَتَى فرَاشه وَهُوَ يَنْوِي أَن يقوم يُصَلِّي من اللَّيْل فغلبته عَيناهُ حَتَّى أصبح كتب لَهُ مَا نوى وَكَانَ نَومه صَدَقَة عَلَيْهِ من ربه

رَوَاهُ النَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه بِإِسْنَاد جيد وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه من حَدِيث أبي ذَر أَو أبي الدَّرْدَاء على الشَّك

قَالَ الْحَافِظ عبد الْعَظِيم رحمه الله وَسَتَأْتِي أَحَادِيث من هَذَا النَّوْع مُتَفَرِّقَة فِي أَبْوَاب مُتعَدِّدَة من هَذَا الْكتاب إِن شَاءَ الله تَعَالَى

 

• التَّرْهِيب من الرِّيَاء وَمَا يَقُوله من خَافَ شَيْئا مِنْهُ

 

• عَن أبي هُرَيْرَة قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول إِن أول النَّاس يقْضى يَوْم الْقِيَامَة عَلَيْهِ رجل اسْتشْهد فَأتي بِهِ فَعرفهُ نعْمَته فعرفها قَالَ فَمَا عملت فِيهَا قَالَ قَاتَلت فِيك حَتَّى استشهدت

قَالَ كذبت وَلَكِنَّك قَاتَلت لِأَن يُقَال هُوَ جريء فقد قيل ثمَّ أَمر بِهِ فسحب على وَجهه حَتَّى ألقِي فِي النَّار وَرجل تعلم الْعلم وَعلمه وقرأالقرآن فَأتي بِهِ فَعرفهُ نعمه فعرفها

قَالَ فَمَا عملت فِيهَا قَالَ تعلمت الْعلم وعلمته وقرأت فِيك
• আবূ হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: এক ব্যক্তি বলল, আমি আজ রাতে অবশ্যই কিছু সাদাকা করব। এরপর সে তার সাদাকা নিয়ে বের হলো এবং তা একজন চোরের হাতে অর্পণ করল। পরদিন সকালে লোকেরা আলোচনা করতে লাগল যে, গত রাতে একজন চোরকে সাদাকা দেওয়া হয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহ! আপনারই প্রশংসা, (সাদাকা) চোরের হাতে পড়েছে। আমি পুনরায় অবশ্যই সাদাকা করব। এরপর সে তার সাদাকা নিয়ে বের হলো এবং তা একজন ব্যভিচারিণীর হাতে অর্পণ করল। পরদিন সকালে লোকেরা আলোচনা করতে লাগল যে, গত রাতে একজন ব্যভিচারিণীকে সাদাকা দেওয়া হয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহ! আপনারই প্রশংসা, (সাদাকা) ব্যভিচারিণীর হাতে পড়েছে। আমি পুনরায় অবশ্যই সাদাকা করব। এরপর সে তার সাদাকা নিয়ে বের হলো এবং তা একজন ধনী ব্যক্তির হাতে অর্পণ করল। পরদিন সকালে লোকেরা আলোচনা করতে লাগল যে, গত রাতে একজন ধনী ব্যক্তিকে সাদাকা দেওয়া হয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহ! আপনারই প্রশংসা, (সাদাকা) চোর, ব্যভিচারিণী ও ধনীর হাতে পড়েছে। অতঃপর তাকে (স্বপ্নে) বলা হলো, তোমার চোরকে দেওয়া সাদাকার বিষয়ে কথা হলো, সম্ভবত এর ফলে সে তার চুরি থেকে বিরত থাকবে।

আর ব্যভিচারিণীর বিষয়টি হলো, সম্ভবত সে তার ব্যভিচার থেকে বিরত থাকবে। আর ধনীর বিষয়টি হলো, সম্ভবত সে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং আল্লাহ তাকে যা দান করেছেন তা থেকে সে ব্যয় করবে।

বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁরই, আর মুসলিম ও নাসায়ীও এটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা দুজনেই তাতে উল্লেখ করেছেন যে, তাকে বলা হলো: তোমার সাদাকা কবুল করা হয়েছে। অতঃপর তিনি বাকি হাদীস উল্লেখ করেন।

 

• আবূ দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি তার বিছানায় আসে এই নিয়তে যে সে রাতে জাগ্রত হয়ে সালাত আদায় করবে, কিন্তু ঘুম তাকে পরাভূত করে ফেলে এমনকি সকাল হয়ে যায়, তবে সে যা নিয়ত করেছিল তার জন্য তা লিখে দেওয়া হয়। আর তার এই ঘুম তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তার জন্য একটি সাদাকা স্বরূপ হয়।

নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ উত্তম সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবূ যার অথবা আবূ দারদা থেকে সন্দেহের সাথে এটি বর্ণনা করেছেন।

হাফিজ আব্দুল আজীম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: ইনশাআল্লাহ তাআলা এই গ্রন্থের বিভিন্ন অধ্যায়ে এই ধরণের আরও বিক্ষিপ্ত হাদীস সম্মুখে আসবে।

 

• রিয়া (লোক দেখানো ইবাদত) থেকে ভীতি প্রদর্শন এবং যে ব্যক্তি এর সামান্য কিছুকেও ভয় করে তার করণীয়।

 

• আবূ হুরাইরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যে ব্যক্তির বিচার করা হবে, সে হলো এমন এক ব্যক্তি যে শহীদ হয়েছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতসমূহ চিনিয়ে দেবেন, তখন সে তা চিনতে পারবে। আল্লাহ বলবেন, তুমি এই নিয়ামতসমূহ দিয়ে কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য লড়াই করেছি এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি।

আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। বরং তুমি লড়াই করেছ যাতে তোমাকে 'বীর' বলা হয়, আর তা তো বলা হয়ে গেছে। এরপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে তার চেহারার ওপর ভর করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে যতক্ষণ না তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। এরপর এমন এক ব্যক্তি যে ইলম (জ্ঞান) শিক্ষা করেছে ও অন্যকে শিখিয়েছে এবং কুরআন পাঠ করেছে। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে তাঁর নিয়ামতসমূহ চিনিয়ে দেবেন, সে তা চিনতে পারবে।

আল্লাহ বলবেন, তুমি এই নিয়ামতসমূহ দিয়ে কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি ইলম শিক্ষা করেছি, তা অন্যকে শিখিয়েছি এবং আপনার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الْقُرْآن

قَالَ كذبت وَلَكِنَّك تعلمت ليقال عَالم وقرأت الْقُرْآن ليقال هُوَ قارئ فقد قيل ثمَّ أَمر بِهِ فسحب على وَجهه حَتَّى ألقِي فِي النَّار وَرجل وسع الله عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ من أَصْنَاف المَال فَأتي بِهِ فَعرفهُ نعمه فعرفها

قَالَ فَمَا عملت فِيهَا قَالَ مَا تركت من سَبِيل تحب أَن ينْفق فِيهَا إِلَّا أنفقت فِيهَا لَك

قَالَ كذبت وَلَكِنَّك فعلت ليقال هُوَ جواد فقد قيل ثمَّ أَمر بِهِ فسحب على وَجهه حَتَّى ألقِي فِي النَّار

رَوَاهُ مُسلم وَالنَّسَائِيّ وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَحسنه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه كِلَاهُمَا بِلَفْظ وَاحِد

 

• وَعَن الْوَلِيد بن أبي الْوَلِيد أبي عُثْمَان الْمَدِينِيّ أَن عقبَة بن مُسلم حَدثهُ أَن شفيا الأصبحي حَدثهُ أَنه دخل الْمَدِينَة فَإِذا هُوَ بِرَجُل قد اجْتمع عَلَيْهِ النَّاس فَقَالَ من هَذَا قَالُوا أَبُو هُرَيْرَة قَالَ فدنوت مِنْهُ حَتَّى قعدت بَين يَدَيْهِ وَهُوَ يحدث النَّاس فَلَمَّا سكت وخلا قلت لَهُ أَسأَلك بِحَق وبحق لما حَدَّثتنِي حَدِيثا سمعته من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وعقلته وعلمته فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَة أفعل لأحدثنك حَدِيثا حَدَّثَنِيهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم علقته وعلمته ثمَّ نشغ أَبُو هُرَيْرَة نشغة فَمَكثْنَا قَلِيلا ثمَّ أَفَاق فَقَالَ لأحدثنك حَدِيثا حَدَّثَنِيهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنا وَهُوَ فِي هَذَا الْبَيْت مَا مَعنا أحد غَيْرِي وَغَيره ثمَّ نشغ أَبُو هُرَيْرَة نشغة أُخْرَى ثمَّ أَفَاق وَمسح عَن وَجهه فَقَالَ أفعل لأحدثنك حَدِيثا حَدَّثَنِيهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَنا وَهُوَ فِي هَذَا الْبَيْت مَا مَعنا أحد غَيْرِي وَغَيره ثمَّ نشغ أَبُو هُرَيْرَة نشغة شَدِيدَة ثمَّ مَال خارا على وَجهه فأسندته طَويلا ثمَّ أَفَاق فَقَالَ حَدثنِي رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَن الله تبارك وتعالى إِذا كَانَ يَوْم الْقِيَامَة ينزل إِلَى الْعباد ليقضي بَينهم وكل أمة جاثية فَأول من يدعى بِهِ رجل جمع الْقُرْآن وَرجل قتل فِي سَبِيل الله وَرجل كثير المَال فَيَقُول الله عز وجل للقارئ ألم أعلمك مَا أنزلت على رَسُولي قَالَ بلَى يَا رب قَالَ فَمَا علمت فِيمَا علمت قَالَ كنت أقوم بِهِ آنَاء اللَّيْل وآناء النَّهَار فَيَقُول الله عز وجل لَهُ كذبت وَتقول لَهُ الْمَلَائِكَة كذبت وَيَقُول الله تبارك وتعالى بل أردْت أَن يُقَال فلَان قارئ وَقد قيل ذَلِك وَيُؤْتى بِصَاحِب المَال فَيَقُول الله عز وجل ألم أوسع عَلَيْك حَتَّى لم أدعك تحْتَاج إِلَى أحد قَالَ بلَى يَا رب قَالَ فَمَاذَا عملت فِيمَا آتيتك قَالَ كنت أصل الرَّحِم وأتصدق فَيَقُول الله لَهُ كذبت وَتقول الْمَلَائِكَة كذبت وَيَقُول الله تبارك وتعالى بل أردْت أَن يُقَال فلَان جواد وَقد قيل
আল-কুরআন

তিনি বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ, বরং তুমি ইলম অর্জন করেছিলে যাতে বলা হয় যে তুমি একজন আলিম এবং কুরআন পাঠ করেছিলে যাতে বলা হয় যে তুমি একজন ক্বারী। আর তা বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে তার চেহারার ওপর ভর দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে যতক্ষণ না তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়। আর এমন এক ব্যক্তি যাকে আল্লাহ সচ্ছলতা দিয়েছিলেন এবং তাকে সকল প্রকার সম্পদ দান করেছিলেন। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাকে প্রদত্ত নেয়ামতরাজির কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন, আর সে তা চিনে নেবে (স্বীকার করবে)।

তিনি বলবেন, তুমি এতে কী আমল করেছ? সে বলবে, আপনি পছন্দ করেন এমন কোনো পথ আমি ছাড়িনি যেখানে আপনার সন্তুষ্টির জন্য আমি ব্যয় করিনি।

তিনি বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। বরং তুমি তা করেছিলে যাতে বলা হয় যে তুমি একজন দানবীর। আর তা বলা হয়েছে। অতঃপর তার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হবে এবং তাকে তার চেহারার ওপর ভর দিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে যতক্ষণ না তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়।

এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ও নাসাঈ। আর তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন এবং একে হাসান বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন; উভয়ের শব্দবিন্যাস এক।

 

• আর ওয়ালীদ ইবনে আবী ওয়ালীদ আবু উসমান আল-মাদিনী থেকে বর্ণিত যে, উকবা ইবনে মুসলিম তাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, শাফী আল-আসবাহী তাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি মদিনায় প্রবেশ করে এমন এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন যার কাছে মানুষ ভিড় করে আছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ইনি কে? তারা বলল, আবু হুরায়রা। তিনি বললেন, অতঃপর আমি তার নিকটবর্তী হলাম এমনকি তার সামনে বসলাম যখন তিনি মানুষের কাছে হাদীস বর্ণনা করছিলেন। যখন তিনি নীরব হলেন এবং নির্জন হলেন, আমি তাকে বললাম, আমি আপনাকে মহান হকের কসম দিয়ে বলছি, আপনি আমাকে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করুন যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন এবং তা আপনি যথাযথভাবে অনুধাবন করেছেন ও জেনেছেন। তখন আবু হুরায়রা বললেন, অবশ্যই, আমি তোমাকে এমন একটি হাদীস শোনাব যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শুনিয়েছেন, আমি তা আত্মস্থ করেছি এবং জেনেছি। অতঃপর আবু হুরায়রা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন। আমরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম, তারপর তিনি সুস্থ হলেন এবং বললেন, আমি তোমাকে অবশ্যই এমন একটি হাদীস শোনাব যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শুনিয়েছেন যখন আমি আর তিনি এই ঘরে ছিলাম, আমাদের সাথে আমি আর তিনি ছাড়া আর কেউ ছিল না। এরপর আবু হুরায়রা আবার উচ্চস্বরে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন, তারপর তিনি সুস্থ হলেন এবং তার মুখমণ্ডল মুছলেন। তিনি বললেন, অবশ্যই আমি তোমাকে এমন একটি হাদীস শোনাব যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শুনিয়েছেন যখন আমি আর তিনি এই ঘরে ছিলাম, আমাদের সাথে আমি আর তিনি ছাড়া আর কেউ ছিল না। এরপর আবু হুরায়রা প্রচণ্ড জোরে ফুঁপিয়ে উঠলেন এবং উপুড় হয়ে নিজের চেহারার ওপর পড়ে গেলেন। আমি তাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখলাম, এরপর তিনি সুস্থ হলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা যখন কিয়ামতের দিন হবে, তখন বান্দাদের মাঝে ফয়সালা করার জন্য নেমে আসবেন এবং প্রতিটি উম্মত হাঁটু গেঁড়ে বসে থাকবে। তখন সর্বপ্রথম যাদের ডাকা হবে, তারা হলো: এক ব্যক্তি যে কুরআন হিফজ করেছে, এক ব্যক্তি যে আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে এবং এক ব্যক্তি যার প্রচুর সম্পদ ছিল। আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ক্বারীকে বলবেন, আমি কি তোমাকে তা শিক্ষা দিইনি যা আমি আমার রাসূলের ওপর নাযিল করেছি? সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার রব। তিনি বলবেন, তুমি যা শিখেছ তাতে কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি দিন-রাত তা দিয়ে সালাত কায়েম করতাম। তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাকে বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ এবং ফেরেশতারাও তাকে বলবে, তুমি মিথ্যা বলেছ। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলবেন, বরং তুমি চেয়েছিলে যেন বলা হয় অমুক একজন ক্বারী, আর তা বলা হয়েছে। এরপর সম্পদশালী ব্যক্তিকে আনা হবে এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলবেন, আমি কি তোমাকে সচ্ছলতা দান করিনি, এমনকি তোমাকে কারো মুখাপেক্ষী রাখিনি? সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার রব। তিনি বলবেন, আমি তোমাকে যা দিয়েছিলাম তাতে তুমি কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতাম এবং দান-সদকা করতাম। তখন আল্লাহ তাকে বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ এবং ফেরেশতারা বলবে, তুমি মিথ্যা বলেছ। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলবেন, বরং তুমি চেয়েছিলে যেন বলা হয় অমুক একজন দানবীর, আর তা বলা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ذَلِك وَيُؤْتى بِالَّذِي قتل فِي سَبِيل الله فَيَقُول الله لَهُ فِي مَاذَا قتلت فَيَقُول أَي رب أمرت بِالْجِهَادِ فِي سَبِيلك فقاتلت حَتَّى قتلت فَيَقُول الله لَهُ كذبت وَتقول الْمَلَائِكَة كذبت وَيَقُول الله بل أردْت أَن يُقَال فلَان جريء فقد قيل ذَلِك ثمَّ ضرب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم على ركبتي فَقَالَ يَا أَبَا هُرَيْرَة أُولَئِكَ الثَّلَاثَة أول خلق الله تسعر بهم النَّار يَوْم الْقِيَامَة قَالَ الْوَلِيد أَبُو عُثْمَان الْمَدِينِيّ وَأَخْبرنِي عقبَة أَن شفيا هُوَ الَّذِي دخل على مُعَاوِيَة فَأخْبرهُ بِهَذَا قَالَ أَبُو عُثْمَان وحَدثني الْعَلَاء بن أبي حَكِيم أَنه كَانَ سيافا لمعاوية قَالَ فَدخل عَلَيْهِ رجل فَأخْبرهُ بِهَذَا عَن أبي هُرَيْرَة فَقَالَ مُعَاوِيَة قد فعل بهؤلاء هَذَا فَكيف بِمن بَقِي من النَّاس ثمَّ بَكَى مُعَاوِيَة بكاء شَدِيدا حَتَّى ظننا أَنه هَالك وَقُلْنَا قد جَاءَ هَذَا الرجل بشر ثمَّ أَفَاق مُعَاوِيَة وَمسح عَن وَجهه وَقَالَ صدق الله وَرَسُوله اصلى الله عَلَيْهِ وَسلم من كَانَ يُرِيد الْحَيَاة الدُّنْيَا وَزينتهَا نوف إِلَيْهِم أَعْمَالهم فِيهَا وهم فِيهَا لَا يبخسون أُولَئِكَ الَّذِي لَيْسَ لَهُم فِي الأخرة إِلَّا النَّار وحبط مَا صَنَعُوا فِيهَا وباطل مَا كَانُوا يعْملُونَ وَرَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه نَحْو هَذَا لم يخْتَلف إِلَّا فِي حرف أَو حرفين

قَوْله جريء هُوَ بِفَتْح الْجِيم وَكسر الرَّاء وبالمد أَي شُجَاع نشغ بِفَتْح النُّون والشين الْمُعْجَمَة وَبعدهَا غين مُعْجمَة أَي شهق حَتَّى كَاد يغشى عَلَيْهِ أسقا أَو شوقا

 

• وَعَن عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ قَالَ قلت يَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَخْبرنِي عَن الْجِهَاد والغزو فَقَالَ يَا عبد الله بن عَمْرو إِن قَاتَلت صَابِرًا محتسبا بَعثك الله صَابِرًا محتسبا وَإِن قَاتَلت مرائيا مكاثرا بَعثك الله مرائيا مكاثرا يَا عبد الله بن عَمْرو على أَي حَال قَاتَلت أَو قتلت بَعثك الله على تِلْكَ الْحَال

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

قَالَ الْحَافِظ وَسَتَأْتِي أَحَادِيث من هَذَا النَّوْع فِي بَاب مُفْرد فِي الْجِهَاد إِن شَاءَ الله تَعَالَى

 

• وَعَن أبي بن كَعْب قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بشر هَذِه الْأمة بالسناء والرفعة وَالدّين والتمكين فِي الأَرْض فَمن عمل مِنْهُم عمل الْآخِرَة للدنيا لم يكن لَهُ فِي الْآخِرَة من نصيب

رَوَاهُ أَحْمد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح
এরপর তাকে আনা হবে যাকে আল্লাহর পথে হত্যা করা হয়েছে। আল্লাহ তাকে বলবেন: তুমি কিসের জন্য নিহত হয়েছিলে? সে বলবে: হে আমার রব, আপনি আমাকে আপনার পথে জিহাদ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাই আমি আপনার পথে লড়াই করেছি যতক্ষণ না আমি নিহত হয়েছি। আল্লাহ তাকে বলবেন: তুমি মিথ্যা বলেছ। ফেরেশতারাও বলবে: তুমি মিথ্যা বলেছ। আল্লাহ বলবেন: বরং তুমি চেয়েছিলে যাতে বলা হয় যে, অমুক ব্যক্তি অত্যন্ত সাহসী, আর তা বলা হয়েছে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাঁটুতে আঘাত করলেন এবং বললেন: হে আবু হুরায়রা, কিয়ামতের দিন আল্লাহর সৃষ্টিজগতের মধ্যে এই তিন ব্যক্তি দ্বারাই প্রথম জাহান্নামের আগুন প্রজ্বলিত করা হবে। ওয়ালিদ আবু উসমান আল-মাদিনি বলেন: উকবা আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, শুফাই হলেন সেই ব্যক্তি যিনি মুয়াবিয়া (রা.)-এর নিকট প্রবেশ করে তাকে এই সংবাদটি দিয়েছিলেন। আবু উসমান বলেন: আলা বিন আবি হাকিম আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি মুয়াবিয়া (রা.)-এর দেহরক্ষী ছিলেন। তিনি বলেন: জনৈক ব্যক্তি তার নিকট প্রবেশ করে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এই সংবাদটি তাকে জানালেন। তখন মুয়াবিয়া (রা.) বললেন: যদি এদের সাথে এমন আচরণ করা হয়, তবে অবশিষ্ট মানুষদের অবস্থা কী হবে? এরপর মুয়াবিয়া (রা.) অত্যন্ত প্রবলভাবে কাঁদতে লাগলেন যে আমরা ধারণা করলাম তিনি প্রাণত্যাগ করবেন। আমরা বললাম: এই লোকটি একটি অকল্যাণ নিয়ে এসেছে। এরপর মুয়াবিয়া (রা.) সুস্থ হলেন এবং তার মুখমণ্ডল মুছে ফেললেন এবং বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য বলেছেন: "যারা পার্থিব জীবন ও এর শোভা কামনা করে, আমি তাদের আমলের প্রতিফল ইহকালেই পূর্ণ করে দেই এবং সেখানে তাদের কোনো কমতি করা হয় না। এরাই তারা, পরকালে যাদের জন্য আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই এবং তারা যা করেছিল তা সেখানে নিস্ফল হয়েছে এবং তারা যা করত তা বাতিল হয়ে গেছে।" ইবনে খুজাইমা তার সহিহ গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, যেখানে কেবল একটি বা দুটি শব্দের পার্থক্য রয়েছে।

তার উক্তি 'জারিই' শব্দটি জিম বর্ণে ফাতহ এবং রা বর্ণে কাসরা ও দীর্ঘস্বরে উচ্চারিত হয়, যার অর্থ সাহসী। 'নাশাগা' শব্দটি নুন ও শিন বর্ণে ফাতহ এবং এরপর গাইন বর্ণ সহযোগে গঠিত, যার অর্থ হলো সে এমন দীর্ঘশ্বাস ফেলল যে দুঃখে বা আকাঙ্ক্ষায় প্রায় মূর্ছা যাওয়ার উপক্রম হলো।

 

• আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল-আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আমাকে জিহাদ ও যুদ্ধ সম্পর্কে সংবাদ দিন। তিনি বললেন: হে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, তুমি যদি ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের প্রত্যাশায় লড়াই করো, তবে আল্লাহ তোমাকে ধৈর্যশীল ও সওয়াব প্রত্যাশী হিসেবেই পুনরুত্থিত করবেন। আর যদি তুমি লোকদেখানো এবং দম্ভ প্রকাশের উদ্দেশ্যে লড়াই করো, তবে আল্লাহ তোমাকে লোকদেখানো এবং দম্ভ প্রকাশকারী হিসেবেই পুনরুত্থিত করবেন। হে আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, তুমি যে অবস্থায় লড়াই করবে বা নিহত হবে, আল্লাহ তোমাকে সেই অবস্থাতেই পুনরুত্থিত করবেন।

আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।

হাফেজ বলেন: ইনশাআল্লাহ তাআলা জিহাদ অধ্যায়ে একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে এ জাতীয় আরও হাদিস আসবে।

 

• উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এই উম্মতকে উচ্চমর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, দ্বীন এবং পৃথিবীতে আধিপত্যের সুসংবাদ দিন। সুতরাং তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আখেরাতের আমল দুনিয়ার স্বার্থে করবে, আখেরাতে তার জন্য কোনো অংশ থাকবে না।

আহমদ, ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে, হাকিম এবং বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন এবং হাকিম একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
الْإِسْنَاد وَفِي رِوَايَة للبيهقي قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بشر هَذِه الْأمة بالتيسير والسناء والرفعة بِالدّينِ والتمكين فِي الْبِلَاد والنصر فَمن عمل مِنْهُم بِعَمَل الْآخِرَة للدنيا فَلَيْسَ لَهُ فِي الْآخِرَة من نصيب

 

• وَعَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رجل يَا رَسُول الله إِنِّي أَقف الْموقف أُرِيد وَجه الله وَأُرِيد أَن يرى موطني

فَلم يرد عَلَيْهِ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم حَتَّى نزلت {فَمن كَانَ يَرْجُو لِقَاء ربه فليعمل عملا صَالحا وَلَا يُشْرك بِعبَادة ربه أحدا} الْكَهْف 11

رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح على شرطيهما وَالْبَيْهَقِيّ من طَرِيقه ثمَّ قَالَ رَوَاهُ عَبْدَانِ عَن ابْن الْمُبَارك فَأرْسلهُ لم يذكر فِيهِ ابْن عَبَّاس

 

• وَعَن أبي هِنْد الدَّارِيّ أَنه سمع النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَقُول من قَامَ مقَام رِيَاء وَسُمْعَة رايا الله بِهِ يَوْم الْقِيَامَة وَسمع

رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد جيد وَالْبَيْهَقِيّ وَالطَّبَرَانِيّ وَلَفظه أَنه سمع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول من رايا بِاللَّه لغير الله فقد برئ من الله

 

• وَعَن عبد الله بن عَمْرو رضي الله عنهما قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول من سمع النَّاس بِعَمَلِهِ سمع الله بِهِ سامع خلقه وصغره وحقره

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير بأسانيد أَحدهَا صَحِيح وَالْبَيْهَقِيّ

 

• وَعَن جُنْدُب بن عبد الله رضي الله عنه قَالَ قَالَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم من سمع سمع الله بِهِ وَمن يراء يراء الله بِهِ

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم

سمع بتَشْديد الْمِيم وَمَعْنَاهُ من أظهر عمله للنَّاس رِيَاء أظهر الله نِيَّته الْفَاسِدَة فِي عمله يَوْم الْقِيَامَة وفضحه على رُؤُوس الأشهاد

 

• وَعَن عَوْف بن مَالك الْأَشْجَعِيّ رضي الله عنه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول من قَامَ مقَام رِيَاء رايا الله بِهِ وَمن قَامَ مقَام سمعة سمع الله بِهِ

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد حسن
সনদ এবং বায়হাকীর এক বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এই উম্মতকে সহজতা, শ্রেষ্ঠত্ব, দ্বীনের উচ্চতা, ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠা এবং সাহায্যের সুসংবাদ দাও। সুতরাং তাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে আখেরাতের আমল করবে, আখেরাতে তার জন্য কোনো অংশ থাকবে না।"

 

• ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি এমন একটি অবস্থানে দাঁড়াই (ইবাদত করি) যেখানে আমি আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করি এবং সেই সাথে এটাও চাই যে আমার অবস্থানটি মানুষ দেখুক।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোনো উত্তর দিলেন না, যতক্ষণ না এই আয়াত নাজিল হলো: {সুতরাং যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকাজ করে এবং তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে} আল-কাহাফ ১১০

হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে এটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। বায়হাকীও তার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, এরপর তিনি বলেন, আবদান এটি ইবনুল মুবারক থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে ইবনে আব্বাসের উল্লেখ করেননি।

 

• আবু হিন্দ আদ-দারী থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: যে ব্যক্তি লোকদেখানো এবং লোকশোনানোর অবস্থানে দাঁড়াবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার স্বরূপ প্রকাশ করে দেবেন এবং তার দোষ শুনিয়ে দেবেন।

ইমাম আহমাদ এটি একটি উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন, এছাড়া বায়হাকী ও তাবারানীও বর্ণনা করেছেন। তাবারানীর শব্দ হলো, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য লোকদেখানো কাজ করল, আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক রইল না।

 

• আবদুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি মানুষকে শোনানোর জন্য আমল করবে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কানে তা শুনিয়ে দেবেন (তার লোকদেখানো উদ্দেশ্য প্রকাশ করবেন) এবং তাকে তুচ্ছ ও হেয় প্রতিপন্ন করবেন।

তাবারানী এটি 'আল-কাবীর'-এ একাধিক সনদে বর্ণনা করেছেন যার একটি সহীহ, এবং বায়হাকীও এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• জুনদুব বিন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি (মানুষকে) শোনানোর জন্য আমল করে, আল্লাহ তাকে শুনিয়ে দেন। আর যে লোকদেখানোর জন্য আমল করে, আল্লাহ তার স্বরূপ প্রকাশ করে দেন।

এটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

'সাম্মা' (মিম বর্ণে তাশদীদসহ) এর অর্থ হলো: যে ব্যক্তি লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে মানুষের কাছে নিজের আমল প্রকাশ করে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার আমলের অশুভ নিয়ত প্রকাশ করে দেবেন এবং সাক্ষীদের সামনে তাকে লাঞ্ছিত করবেন।

 

• আউফ বিন মালিক আল-আশজাঈ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি লোকদেখানোর অবস্থানে দাঁড়াবে, আল্লাহ তার স্বরূপ প্রদর্শন করবেন। আর যে ব্যক্তি লোকশোনানোর অবস্থানে দাঁড়াবে, আল্লাহ তাকে (তার প্রকৃত উদ্দেশ্য) শুনিয়ে দেবেন।

তাবারানী এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
• وَعَن معَاذ بن جبل عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا من عبد يقوم فِي الدُّنْيَا مقَام سمعة ورياء إِلَّا سمع الله بِهِ على رُؤُوس الْخَلَائق يَوْم الْقِيَامَة

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد حسن

 

• وَعَن ابْن عَبَّاس رضي الله عنهما قَالَ من رايا بِشَيْء فِي الدُّنْيَا من عمله وَكله الله إِلَيْهِ يَوْم الْقِيَامَة وَقَالَ انْظُر هَل يُغني عَنْك شَيْئا

رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ مَوْقُوفا

 

• وَرُوِيَ عَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول من تزين بِعَمَل الْآخِرَة وَهُوَ لَا يريدها وَلَا يطْلبهَا لعن فِي السَّمَوَات وَالْأَرْض

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط

 

• وَرُوِيَ عَن الْجَارُود قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من طلب الدُّنْيَا بِعَمَل الْآخِرَة طمس وَجهه ومحق ذكره وَأثبت اسْمه فِي النَّار

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير

 

• وَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يخرج فِي آخر الزَّمَان رجال يختلون الدُّنْيَا بِالدّينِ يلبسُونَ للنَّاس جُلُود الضَّأْن من اللين ألسنتهم أحلى من الْعَسَل وَقُلُوبهمْ قُلُوب الذئاب يَقُول الله عز وجل أبي يغترون أم عَليّ يجترئون فَبِي حَلَفت لَأَبْعَثَن على أُولَئِكَ مِنْهُم فتْنَة تدع الْحَلِيم حيران

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ من رِوَايَة يحيى بن عبيد سَمِعت أبي يَقُول سَمِعت أَبَا هُرَيْرَة فَذكره وَرَوَاهُ مُخْتَصرا من حَدِيث ابْن عمر وَقَالَ حَدِيث حسن

 

• وَرُوِيَ عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من تحبب إِلَى النَّاس بِمَا يحبونَ وبارز الله بِمَا يكْرهُونَ لَقِي الله وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَان

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط

 

• وَرُوِيَ عَنهُ أَيْضا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تعوذوا بِاللَّه من جب الْحزن

قَالُوا يَا
• মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "দুনিয়াতে যে ব্যক্তিই লোকদেখানো ও সুখ্যাতির কোনো অবস্থানে দাঁড়াবে (অর্থাৎ এমন কাজ করবে), আল্লাহ কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির সামনে তার সেই কাজ শুনিয়ে দেবেন (অর্থাৎ তাকে লজ্জিত করবেন)।"

ইমাম তাবারানি হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, "যে ব্যক্তি দুনিয়াতে তার আমলের কোনো কিছু দিয়ে লোকদেখানো কাজ করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে সেই আমলের ওপরই ন্যস্ত করবেন এবং বলবেন, দেখ এটি তোমার কোনো উপকারে আসে কি না।"

ইমাম বায়হাকি এটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

• আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, "যে ব্যক্তি আখিরাতের আমল দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করল অথচ সে তা কামনা করে না এবং তার অন্বেষণও করে না, সে আসমান ও জমিনে অভিশপ্ত হয়।"

ইমাম তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• জারুদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি আখিরাতের আমলের মাধ্যমে দুনিয়া অন্বেষণ করবে, তার চেহারা বিবর্ণ করে দেওয়া হবে, তার নাম-যশ মিটিয়ে দেওয়া হবে এবং তার নাম জাহান্নামে লিপিবদ্ধ করা হবে।"

ইমাম তাবারানি 'আল-কাবীর'-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "শেষ জামানায় এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা দ্বীনের বিনিময়ে দুনিয়া শিকার করবে। তারা মানুষের সামনে ভেড়ার চামড়ার মতো কোমল পোশাক পরিধান করবে, তাদের জিহ্বা হবে মধুর চেয়েও মিষ্টি কিন্তু তাদের অন্তর হবে নেকড়ের অন্তরের মতো। মহান আল্লাহ বলেন, তারা কি আমার ব্যাপারে ধোঁকায় পড়ে আছে নাকি আমার বিরুদ্ধে স্পর্ধা দেখাচ্ছে? আমি আমার নিজের সত্তার কসম খেয়ে বলছি, আমি অবশ্যই তাদের মধ্যে এমন এক ফিতনা (বিপর্যয়) প্রেরণ করব যা একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকেও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে দেবে।"

ইমাম তিরমিজি এটি ইয়াহইয়া ইবনে উবাইদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে শুনেছেন—অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন। ইমাম তিরমিজি ইবনে উমরের (রা.) হাদিস থেকে এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি হাসান হাদিস।

 

• তাঁর (আবু হুরায়রা) থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি মানুষের প্রিয় হওয়ার জন্য তাদের পছন্দনীয় কাজ করে কিন্তু আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজের মাধ্যমে তাঁর মোকাবিলা (অবাধ্যতা) করে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যখন তিনি তার ওপর রাগান্বিত থাকবেন।"

ইমাম তাবারানি 'আল-আওসাত'-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• তাঁর থেকেই আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা 'জুব্বুল হুজন' (দুঃখের গর্ত) থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো।" তারা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল..."
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
رَسُول الله وَمَا جب الْحزن قَالَ وَاد فِي جَهَنَّم تتعوذ مِنْهُ جَهَنَّم كل يَوْم مائَة مرّة وَمِائَة قيل يَا رَسُول الله وَمن يدْخلهُ قَالَ الْقُرَّاء المراؤون بأعمالهم

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب وَابْن مَاجَه وَلَفظه تعوذوا بِاللَّه من جب الْحزن

قَالُوا يَا رَسُول الله وَمَا جب الْحزن قَالَ وَاد فِي جَهَنَّم تتعوذ مِنْهُ جَهَنَّم كل يَوْم أَرْبَعمِائَة مرّة قيل يَا رَسُول الله وَمن يدْخلهُ قَالَ أعد للقراء المرائين بأعمالهم وَإِن من أبْغض الْقُرَّاء إِلَى الله عز وجل الَّذين يزورون الْأُمَرَاء

وَفِي بعض النّسخ الْأُمَرَاء الجورة

وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط بِنَحْوِهِ إِلَّا أَنه قَالَ يلقى فِيهِ الغرارون

قيل يَا رَسُول الله وَمَا الغرارون قَالَ المراؤون بأعمالهم فِي الدُّنْيَا

 

• وَرَوَاهُ أَيْضا عَن ابْن عَبَّاس عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِن فِي جَهَنَّم لواديا تستعيذ جَهَنَّم من ذَلِك الْوَادي فِي كل يَوْم أَرْبَعمِائَة مرّة أعد ذَلِك الْوَادي للمرائين من أمة مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم لحامل كتاب الله والمتصدق فِي غير ذَات الله والحاج إِلَى بَيت الله وللخارج فِي سَبِيل الله

قَالَ الْحَافِظ رفع حَدِيث ابْن عَبَّاس غَرِيب وَلَعَلَّه مَوْقُوف وَالله أعلم

 

• وَعَن ابْن مَسْعُود رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من أحسن الصَّلَاة حَيْثُ يرَاهُ النَّاس وأساءها حَيْثُ يَخْلُو فَتلك استهانة استهان بهَا ربه تبارك وتعالى

رَوَاهُ عبد الرَّزَّاق فِي كِتَابه وَأَبُو يعلى كِلَاهُمَا من رِوَايَة إِبْرَاهِيم بن مُسلم الهجري عَن أبي الْأَحْوَص عَنهُ

وَرَوَاهُ من هَذِه الطّرق ابْن جرير الطَّبَرِيّ مَرْفُوعا أَيْضا وموقوفا على ابْن مَسْعُود وَهُوَ أشبه

 

• وَعَن شَدَّاد بن أَوْس رضي الله عنه أَنه سمع النَّبِي صلى الله عليه وسلم يَقُول من صَامَ يرائي فقد أشرك وَمن صلى يرائي فقد أشرك وَمن تصدق يرائي فقد أشرك

رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ من طَرِيق عبد الْمجِيد بن بهْرَام عَن شهر بن حَوْشَب وَسَيَأْتِي أتم من هَذَا إِن شَاءَ الله تَعَالَى

 

• وَعَن ربيح بن عبد الرَّحْمَن بن أبي سعيد الْخُدْرِيّ عَن أَبِيه عَن جده قَالَ خرج علينا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَنحن نتذاكر الْمَسِيح الدَّجَّال فَقَالَ أَلا أخْبركُم بِمَا هُوَ أخوف عَلَيْكُم عِنْدِي من الْمَسِيح الدَّجَّال فَقُلْنَا بلَى يَا رَسُول الله فَقَالَ الشّرك الْخَفي أَن يقوم الرجل فَيصَلي فيزين صلَاته لما يرى من نظر رجل

رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ
আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'জুব্বুল হুজন' (দুঃখের গর্ত) কী? তিনি বললেন, "এটি জাহান্নামের একটি উপত্যকা, যা থেকে জাহান্নাম নিজেই প্রতিদিন একশ বার পানাহ চায়।" জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! এতে কারা প্রবেশ করবে? তিনি বললেন, "সেই সব ক্বারী যারা তাদের আমল দ্বারা লোকদেখানো প্রদর্শনী (রিয়া) করে।"

এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি 'গরীব' হাদিস। ইবনে মাজাহ-ও এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার শব্দাবলী হলো: তোমরা আল্লাহর কাছে 'জুব্বুল হুজন' থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো।

তাঁরা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! 'জুব্বুল হুজন' কী? তিনি বললেন, "এটি জাহান্নামের একটি উপত্যকা, যা থেকে জাহান্নাম নিজেই প্রতিদিন চারশ বার পানাহ চায়।" জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! এতে কারা প্রবেশ করবে? তিনি বললেন, "এটি প্রস্তুত করা হয়েছে সেই সব ক্বারীদের জন্য যারা তাদের আমল দ্বারা লোকদেখানো প্রদর্শনী করে। আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে ঘৃণিত ক্বারী হলো তারা যারা (পার্থিব স্বার্থে) শাসকদের কাছে যাতায়াত করে।"

কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে 'অত্যাচারী শাসক' শব্দটিও রয়েছে।

তাবারানি এটি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এতে 'গাররারুন' (প্রতারিতরা)-দের নিক্ষেপ করা হবে।

জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! 'গাররারুন' কারা? তিনি বললেন, "দুনিয়াতে যারা নিজেদের আমল দ্বারা লোকদেখানো প্রদর্শনী করতো।"

 

• তিনি আরও ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয় জাহান্নামে এমন একটি উপত্যকা আছে যেখান থেকে জাহান্নাম নিজেই প্রতিদিন চারশ বার আশ্রয় প্রার্থনা করে। সেই উপত্যকাটি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উম্মতের লোকদেখানো আমলকারীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে; যেমন—আল্লাহর কিতাবের বাহক, আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে দানকারী, আল্লাহর ঘরের হাজ্বী এবং আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদে) বহির্গত ব্যক্তি।"

হাফেজ (আল-মুনজিরি) বলেন: ইবনে আব্বাসের বর্ণনাটি 'মারফু' হিসেবে উল্লেখ করা 'গরীব'। সম্ভবত এটি 'মাওকুফ'। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

• ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি মানুষের দৃষ্টিগোচরে সালাত সুন্দরভাবে আদায় করে এবং নির্জনে তা নিকৃষ্টভাবে (অবহেলার সাথে) আদায় করে, তবে এটি তার বরকতময় ও সুউচ্চ রবের প্রতি এক প্রকার অবজ্ঞা।"

আবদুর রাজ্জাক তাঁর গ্রন্থে এবং আবু ইয়ালা—উভয়ই ইব্রাহিম ইবনে মুসলিম আল-হাজরি হতে, তিনি আবুল আহওয়াস হতে, তিনি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে জারির তাবারানি এই সূত্রগুলো থেকে এটি 'মারফু' এবং ইবনে মাসউদের ওপর 'মাওকুফ' উভয়ভাবেই বর্ণনা করেছেন, তবে মাওকুফ হওয়াই অধিক সঠিক।

 

• শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি লোকদেখানোর জন্য সিয়াম পালন করল সে শিরক করল, যে ব্যক্তি লোকদেখানোর জন্য সালাত আদায় করল সে শিরক করল এবং যে ব্যক্তি লোকদেখানোর জন্য দান-সদকা করল সেও শিরক করল।"

বায়হাকি এটি আবদুল মাজিদ ইবনে বাহরাম হতে, তিনি শাহর ইবনে হাওশাব হতে বর্ণনা করেছেন। ইনশাআল্লাহ সামনে এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আসবে।

 

• রুবাইহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবু সাঈদ আল-খুদরি তাঁর পিতা হতে এবং তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, একদা আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে এলেন যখন আমরা মাসিহ দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তিনি বললেন: "আমি কি তোমাদের এমন এক বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দেব না যা তোমাদের জন্য আমার কাছে মাসিহ দাজ্জালের চেয়েও বেশি ভীতিপ্রদ?" আমরা বললাম, অবশ্যই, হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন: "তা হলো গোপন শিরক। তা হলো এই যে, কোনো ব্যক্তি সালাতে দাঁড়ায় এবং তার সালাতকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে যখন সে লক্ষ্য করে যে কোনো লোক তার দিকে তাকিয়ে আছে।"

এটি ইবনে মাজাহ এবং বায়হাকি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ربيح بِضَم الرَّاء وَفتح الْبَاء الْمُوَحدَة بعْدهَا يَاء آخر الْحُرُوف وحاء مُهْملَة وَيَأْتِي الْكَلَام عَلَيْهِ إِن شَاءَ الله تَعَالَى

 

• وَعَن مَحْمُود بن لبيد قَالَ خرج النَّبِي صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا أَيهَا النَّاس إيَّاكُمْ وشرك السرائر قَالُوا يَا رَسُول الله وَمَا شرك السرائر قَالَ يقوم الرجل فَيصَلي فيزين صلَاته جاهدا لما يرى من نظر النَّاس إِلَيْهِ فَذَلِك شرك السرائر

رَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه

 

• وَعَن زيد بن أسلم عَن أَبِيه أَن عمر رضي الله عنه خرج إِلَى الْمَسْجِد فَوجدَ معَاذًا عِنْد قبر رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يبكي فَقَالَ مَا يبكيك قَالَ حَدِيث سمعته من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ الْيَسِير من الرِّيَاء شرك وَمن عادى أَوْلِيَاء الله فقد بارز الله بالمحاربة إِن الله يحب الْأَبْرَار الأتقياء الأخفياء الَّذين إِن غَابُوا لم يفتقدوا وَإِن حَضَرُوا لم يعرفوا قُلُوبهم مصابيح الْهدى يخرجُون من كل غبراء مظْلمَة

رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ فِي كتاب الزّهْد لَهُ وَغَيره قَالَ الْحَاكِم صَحِيح وَلَا عِلّة لَهُ

 

• وَعَن مَحْمُود بن لبيد أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ إِن أخوف مَا أَخَاف عَلَيْكُم الشّرك الْأَصْغَر

قَالُوا وَمَا الشّرك الْأَصْغَر يَا رَسُول الله قَالَ الرِّيَاء يَقُول الله عز وجل إِذا جزى النَّاس بأعمالهم اذْهَبُوا إِلَى الَّذين كُنْتُم تراؤون فِي الدُّنْيَا فانظروا هَل تَجِدُونَ عِنْدهم جَزَاء

وَرَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد جيد وَابْن أبي الدُّنْيَا وَالْبَيْهَقِيّ فِي الزّهْد وَغَيره

قَالَ الْحَافِظ رحمه الله ومحمود بن لبيد رأى النَّبِي صلى الله عليه وسلم وَلم يَصح لَهُ مِنْهُ سَماع فِيمَا أرى

وَقد خرج أَبُو بكر بن خُزَيْمَة حَدِيث مَحْمُود الْمُتَقَدّم فِي صَحِيحه مَعَ أَنه لَا يخرج فِيهِ شَيْئا من الْمَرَاسِيل وَذكر ابْن أبي حَاتِم أَن البُخَارِيّ قَالَ لَهُ صُحْبَة

قَالَ وَقَالَ أبي لَا يعرف لَهُ صُحْبَة وَرجح ابْن عبد الْبر أَن لَهُ صُحْبَة وَقد رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَاد جيد عَن مَحْمُود بن لبيد عَن رَافع بن خديج وَقيل إِن حَدِيث مَحْمُود هُوَ الصَّوَاب دون ذكر رَافع بن خديج فِيهِ وَالله أعلم

 

• وَعَن أبي سعيد بن أبي فضَالة وَكَانَ من الصَّحَابَة قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
রবীহ শব্দটি ‘রা’ বর্ণে পেশ, এক নুকতা বিশিষ্ট ‘বা’ বর্ণে জবর, এরপর শেষ বর্ণমালা ‘ইয়া’ এবং নুকতাহীন ‘হা’ যোগে গঠিত। আল্লাহ তাআলা চাইলে সামনে এ সম্পর্কে আলোচনা আসবে।

 

• মাহমুদ বিন লাবীদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হয়ে আসলেন এবং বললেন, ‘হে লোকসকল! তোমরা গোপন শিরক থেকে বেঁচে থাকো।’ তারা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! গোপন শিরক কী?’ তিনি বললেন, ‘কোনো ব্যক্তি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করে এবং মানুষের দৃষ্টি নিজের দিকে পড়ছে দেখে তা সুন্দর করার আপ্রাণ চেষ্টা করে—এটাই হলো গোপন শিরক।’

ইবনে খুজাইমা এটি তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

 

• যায়েদ বিন আসলাম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু মসজিদে বের হয়ে দেখলেন মুআয রাযিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের পাশে বসে কাঁদছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে?’ তিনি বললেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শোনা একটি হাদিস আমাকে কাঁদাচ্ছে। তিনি বলেছেন: সামান্যতম রিয়া বা লৌকিকতাও শিরক। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বন্ধুদের সাথে শত্রুতা করে, সে যেন আল্লাহর সাথে যুদ্ধের ঘোষণা দিল। নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐসব নেককার, মুত্তাকী ও আত্মগোপনকারী বান্দাদের ভালোবাসেন, যারা অনুপস্থিত থাকলে কেউ তাদের খোঁজ করে না এবং উপস্থিত থাকলেও কেউ তাদের চেনে না। তাদের অন্তরসমূহ হেদায়েতের প্রদীপ; তারা প্রতিটি অন্ধকার ও ধুলিমলিন পরিস্থিতি থেকে সফলভাবে বেরিয়ে আসেন।’

ইবনে মাজাহ, হাকেম এবং বায়হাকী তার কিতাবুয যুহদ ও অন্যান্য গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেন, এটি সহীহ এবং এতে কোনো ত্রুটি নেই।

 

• মাহমুদ বিন লাবীদ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমি তোমাদের ব্যাপারে যে জিনিসের ভয় সবচেয়ে বেশি করি, তা হলো ছোট শিরক।’ তারা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! ছোট শিরক কী?’ তিনি বললেন, ‘রিয়া (লৌকিকতা)। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যখন মানুষকে তাদের কর্মের প্রতিদান দেবেন, তখন বলবেন: তোমরা তাদের কাছে যাও যাদেরকে তোমরা দুনিয়াতে দেখাতে। দেখো, তাদের কাছে তোমরা কোনো প্রতিদান পাও কি না।’

আহমদ উত্তম সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও ইবনে আবিদ দুনইয়া এবং বায়হাকী ‘যুহদ’ ও অন্যান্য গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

হাফেজ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মাহমুদ বিন লাবীদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন, তবে আমার মতে তার থেকে সরাসরি শোনার বিষয়টি প্রমাণিত নয়।

তবে আবু বকর বিন খুজাইমা মাহমুদের পূর্বোক্ত হাদিসটি তার সহীহ গ্রন্থে সংকলন করেছেন, যদিও তিনি সেখানে কোনো মুরসাল হাদিস বর্ণনা করেন না। ইবনে আবি হাতিম উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম বুখারী তাকে সাহাবী হিসেবে গণ্য করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমার পিতা বলেছেন যে তার সাহাবী হওয়ার বিষয়টি জানা নেই। তবে ইবনে আব্দুল বার তার সাহাবী হওয়ার বিষয়টিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তাবারানী উত্তম সনদে মাহমুদ বিন লাবীদ থেকে, তিনি রাফে বিন খাদীজ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আবার বলা হয়েছে যে, রাফে বিন খাদীজের উল্লেখ ছাড়াই মাহমুদের হাদিসটিই সঠিক। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

 

• আবু সাঈদ বিন আবু ফাযালা থেকে বর্ণিত, তিনি সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি...
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
يَقُول إِذا جمع الله الْأَوَّلين والآخرين يَوْم الْقِيَامَة ليَوْم لَا ريب فِيهِ نَادَى مُنَاد من كَانَ أشرك فِي عمله لله أحدا فليطلب ثَوَابه من عِنْده فَإِن الله أغْنى الشُّرَكَاء عَن الشّرك

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ فِي التَّفْسِير من جَامعه وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْبَيْهَقِيّ

 

• وَعَن أبي هُرَيْرَة أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ الله عز وجل أَنا أغْنى الشُّرَكَاء عَن الشّرك فَمن عمل لي عملا أشرك فِيهِ غَيْرِي فَأَنا مِنْهُ بَرِيء وَهُوَ للَّذي أشرك

رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَاللَّفْظ لَهُ وَابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه وَالْبَيْهَقِيّ

ورواة ابْن مَاجَه ثِقَات

 

• وَعَن شهر بن حَوْشَب عَن عبد الرَّحْمَن بن غنم قَالَ لما دخلت مَسْجِد الْجَابِيَة ألفينا عبَادَة بن الصَّامِت فَأخذ يَمِيني بِشمَالِهِ وشمال أبي الدَّرْدَاء بِيَمِينِهِ فَخرج يمشي بَيْننَا وَنحن ننتجي وَالله أعلم بِمَا نتناجى فَقَالَ عبَادَة بن الصَّامِت لَئِن طَال بكما عمر أَحَدكُمَا أَو كلاكما لتوشكان أَن تريا الرجل من ثبج الْمُسلمين يَعْنِي من وسط قراء الْقُرْآن على لِسَان مُحَمَّد صلى الله عليه وسلم قد أَعَادَهُ وأبداه فأحل حَلَاله وَحرم حرَامه وَنزل عِنْد مَنَازِله لَا يحور مِنْهُ إِلَّا كَمَا يحور رَأس الْحمار الْمَيِّت

قَالَ فَبَيْنَمَا نَحن كَذَلِك إِذْ طلع علينا شَدَّاد بن أَوْس وعَوْف بن مَالك رضي الله عنهما فَجَلَسَا إِلَيْهِ فَقَالَ شَدَّاد إِن أخوف مَا أَخَاف عَلَيْكُم أَيهَا النَّاس لما سَمِعت من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول من الشَّهْوَة الْخفية والشرك فَقَالَ عبَادَة بن الصَّامِت وَأَبُو الدَّرْدَاء اللَّهُمَّ غفرا أولم يكن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قد حَدثنَا أَن الشَّيْطَان قد يئس أَن يعبد فِي جَزِيرَة الْعَرَب فَأَما الشَّهْوَة الْخفية فقد عرفناها هِيَ شهوات الدُّنْيَا من نسائها وشهواتها فَمَا هَذَا الشّرك الَّذِي تخوفنا بِهِ يَا شَدَّاد فَقَالَ شَدَّاد أَرَأَيْتُم لَو رَأَيْتُمْ رجلا يُصَلِّي لرجل أَو يَصُوم لرجل أَو يتَصَدَّق لَهُ لقد أشرك قَالَ عَوْف بن مَالك عِنْد ذَلِك أَفلا يعمد الله إِلَى مَا ابْتغِي بِهِ وَجهه من ذَلِك الْعَمَل كُله فَيقبل مَا خلص لَهُ ويدع مَا أشرك بِهِ قَالَ شَدَّاد عِنْد ذَلِك فَإِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول إِن الله عز وجل قَالَ أَنا خير قسيم لمن أشرك بِي من أشرك بِي شَيْئا فَإِن جسده وَعَمله وقليله وَكَثِيره لشَرِيكه الَّذِي أشرك بِهِ أَنا عَنهُ غَنِي

رَوَاهُ أَحْمد وَشهر يَأْتِي ذكره وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ وَلَفظه عَن عبد الرَّحْمَن بن غنم أَنه كَانَ
তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলকে এমন এক দিনে একত্রিত করবেন যাতে কোনো সন্দেহ নেই, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কৃত কোনো আমলে অন্য কাউকে শরিক করেছে, সে যেন তার সওয়াব সেই শরিকের কাছেই প্রার্থনা করে। কেননা আল্লাহ অংশীদারদের শিরক থেকে সর্বাধিক অমুখাপেক্ষী।

ইমাম তিরমিজি তাঁর জামে’র তাফসির অধ্যায়ে, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন, আমি অংশীদারদের শিরক থেকে সর্বাধিক অমুখাপেক্ষী। সুতরাং যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমার সাথে অন্য কাউকে শরিক করল, আমি তার থেকে মুক্ত এবং আমলটি তার জন্যই যাকে সে শরিক করেছে।

ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দগুলো তাঁরই, ইবনে খুজাইমা তাঁর সহিহ গ্রন্থে এবং বায়হাকি এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাজাহর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

 

• শাহর ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুর রহমান ইবনে গানাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি যখন জাবিয়া মসজিদে প্রবেশ করলাম, তখন আমরা উবাদাহ ইবনুস সামিতকে পেলাম। তিনি আমার ডান হাত তাঁর বাম হাতে এবং আবু দারদার বাম হাত তাঁর ডান হাতে ধরলেন এবং আমাদের মাঝখানে হাঁটতে শুরু করলেন। আমরা তখন চুপিচুপি কথা বলছিলাম, আর আমরা কী নিয়ে কথা বলছিলাম তা আল্লাহই ভালো জানেন। তখন উবাদাহ ইবনুস সামিত বললেন: তোমাদের দুজনের মধ্যে একজনের বা উভয়ের আয়ু যদি দীর্ঘ হয়, তবে অচিরেই তোমরা দেখতে পাবে যে, কোনো এক ব্যক্তি—অর্থাৎ মুহাম্মাদ (সা.)-এর জবানিতে কুরআন পাঠকারীদের মধ্য থেকে—যিনি কুরআনকে বারবার অধ্যয়ন করেছেন, এর হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম জেনেছেন এবং এর মর্যাদা অনুযায়ী আমল করেছেন, তিনি কুরআন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবেন যেমন মৃত গাধার মাথা (দেহ থেকে) আলাদা হয়ে যায়।

তিনি বলেন: আমরা এমন অবস্থায় থাকাকালীন সাদ্দাদ ইবনে আওস এবং আউফ ইবনে মালিক (রা.) আমাদের সামনে উপস্থিত হলেন এবং তাঁর কাছে বসলেন। সাদ্দাদ (রা.) বললেন: হে লোকসকল! রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট আমি যা শুনেছি, তার মধ্যে তোমাদের জন্য যা আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পাই তা হলো গোপন প্রবৃত্তি ও শিরক। উবাদাহ ইবনুস সামিত এবং আবু দারদা (রা.) বললেন: হে আল্লাহ, ক্ষমা করুন! রাসূলুল্লাহ (সা.) কি আমাদের বলেননি যে, আরব উপদ্বীপে শয়তান তার ইবাদত করানো থেকে নিরাশ হয়ে গেছে? গোপন প্রবৃত্তি তো আমরা জানি, তা হলো দুনিয়ার লালসা—যেমন নারী ও অন্যান্য কামনা-বাসনা। কিন্তু হে সাদ্দাদ! সেই শিরক কী যা দিয়ে আপনি আমাদের ভয় দেখাচ্ছেন? সাদ্দাদ বললেন: তোমাদের কী মত, যদি তোমরা দেখ যে কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির সন্তুষ্টির জন্য নামাজ পড়ছে বা রোজা রাখছে অথবা দান-সদকা করছে? তবে কি সে শিরক করল না? আউফ ইবনে মালিক তখন বললেন: আল্লাহ কি সেই আমলটির দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না যার মাধ্যমে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টি চাওয়া হয়েছিল? তিনি কি সেখান থেকে যা কেবল তাঁর জন্য নিরেটভাবে করা হয়েছে তা গ্রহণ করবেন না এবং যা শরিক করা হয়েছে তা বর্জন করবেন না? সাদ্দাদ তখন বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: আমি শরিক গ্রহণকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অংশীদার। যে ব্যক্তি আমার সাথে কোনো কিছু শরিক করল, তার দেহ, তার আমল এবং তার সামান্য ও অধিক—সবই সেই শরিকের জন্য যার সাথে সে আমাকে শরিক করেছে, আর আমি তার থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী।

ইমাম আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং শাহর-এর উল্লেখ সামনে আসবে। বায়হাকিও এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর শব্দগুলো আবদুর রহমান ইবনে গানাম থেকে এসেছে যে তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فِي مَسْجِد دمشق مَعَ نفر من أَصْحَاب النَّبِي صلى الله عليه وسلم فيهم معَاذ بن جبل فَقَالَ عبد الرَّحْمَن يَا أَيهَا النَّاس إِن أخوف مَا أَخَاف عَلَيْكُم الشّرك الْخَفي فَقَالَ معَاذ بن جبل اللَّهُمَّ غفرا أوما سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول حَيْثُ وَدعنَا إِن الشَّيْطَان قد يئس أَن يعبد فِي جزيرتكم هَذِه وَلَكِن يطاع فِيمَا تَحْتَقِرُونَ من أَعمالكُم فقد رَضِي بذلك فَقَالَ عبد الرَّحْمَن أنْشدك الله يَا معَاذ أما سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول من صَامَ رِيَاء فقد أشرك وَمن تصدق رِيَاء فقد أشرك

فَذكر الحَدِيث وَإِسْنَاده لَيْسَ بالقائم وَرَوَاهُ أَحْمد أَيْضا وَالْحَاكِم من رِوَايَة عبد الْوَاحِد بن زيد عَن عبَادَة بن نسي قَالَ دخلت على شَدَّاد بن أَوْس فِي مُصَلَّاهُ وَهُوَ يبكي فَقلت يَا أَبَا عبد الرَّحْمَن مَا الَّذِي أبكاك قَالَ حَدِيث سمعته من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم

قلت وَمَا هُوَ قَالَ بَيْنَمَا أَنا عِنْد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذْ رَأَيْت بِوَجْهِهِ أمرا سَاءَنِي فَقلت بِأبي وَأمي يَا رَسُول الله مَا الَّذِي أرى بِوَجْهِك

قَالَ أمرا أتخوفه على أمتِي الشّرك وشهوة خُفْيَة

قلت وتشرك أمتك من بعْدك قَالَ يَا شَدَّاد إِنَّهُم لَا يعْبدُونَ شمسا وَلَا وثنا وَلَا حجرا وَلَكِن يراؤون النَّاس بأعمالهم

قلت يَا رَسُول الله الرِّيَاء شرك هُوَ قَالَ نعم

قلت فَمَا الشَّهْوَة الْخفية قَالَ يصبح أحدهم صَائِما فتعرض لَهُ شَهْوَة من شهوات الدُّنْيَا فيفطر

قَالَ الْحَاكِم وَاللَّفْظ لَهُ صَحِيح الْإِسْنَاد

قلت كَيفَ وَعبد الْوَاحِد بن زيد الزَّاهِد مَتْرُوك وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه مُخْتَصرا من رِوَايَة رواد بن الْجراح عَن عَامر بن عبد الله عَن الْحسن بن ذكْوَان عَن عبَادَة بن نسي عَن شَدَّاد قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن أخوف مَا أَخَاف على أمتِي الْإِشْرَاك بِاللَّه أما إِنِّي لست أَقُول يعْبدُونَ شمسا وَلَا قمرا وَلَا وثنا وَلَكِن أعمالا لغير الله وشهوة خُفْيَة

وعامر بن عبد الله لَا يعرف ورواد يَأْتِي الْكَلَام عَلَيْهِ إِن شَاءَ الله تَعَالَى وروى الْبَيْهَقِيّ عَن يعلى بن شَدَّاد عَن أَبِيه قَالَ كُنَّا نعد الرِّيَاء فِي زمن النَّبِي صلى الله عليه وسلم الشّرك الْأَصْغَر

 

• وَعَن الْقَاسِم بن مخيمرة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَا يقبل الله عملا فِيهِ مِثْقَال حَبَّة من خَرْدَل من رِيَاء

رَوَاهُ ابْن جرير الطَّبَرِيّ مُرْسلا

 

• وَرُوِيَ عَن عدي بن حَاتِم قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يُؤمر يَوْم الْقِيَامَة بناس من النَّاس إِلَى الْجنَّة حَتَّى إِذا دنوا مِنْهَا واستنشقوا رِيحهَا ونظروا إِلَى قُصُورهَا وَمَا أعد الله
দামেস্কের মসজিদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবীর সাথে ছিলাম, তাঁদের মধ্যে মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) ছিলেন। অতঃপর আবদুর রহমান বললেন, হে লোকসকল! আমি তোমাদের ব্যাপারে যে জিনিসটিকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো গোপন শিরক। তখন মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বললেন, হে আল্লাহ! ক্ষমা করুন, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শোনেননি—যখন তিনি আমাদের বিদায় দিচ্ছিলেন—যে, শয়তান তোমাদের এই উপদ্বীপে তার ইবাদত করা হবে সে বিষয়ে নিরাশ হয়েছে, তবে তোমাদের তুচ্ছ আমলগুলোর ক্ষেত্রে তার আনুগত্য করা হবে, আর সে তাতেই সন্তুষ্ট। তখন আবদুর রহমান বললেন, হে মুয়াজ! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শোনেননি যে, "যে ব্যক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে রোজা রাখল সে শিরক করল, আর যে ব্যক্তি লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে দান করল সে শিরক করল"?

অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন, তবে এর সনদ শক্তিশালী নয়। আহমদ এবং হাকেমও এটি আবদুল ওয়াহিদ ইবনে যাইদ-এর সূত্রে উবাদাহ ইবনে নুসায়্যি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি শাদ্দাদ ইবনে আউসের ইবাদতখানায় প্রবেশ করলাম, এমতাবস্থায় তিনি কাঁদছিলেন। আমি বললাম, হে আবু আবদুর রহমান! কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, একটি হাদিস যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে শুনেছি।

আমি বললাম, সেটি কী? তিনি বললেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে থাকাকালীন তাঁর চেহারায় এমন কিছু দেখলাম যা আমাকে ব্যথিত করল। আমি বললাম, আমার পিতামাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক হে আল্লাহর রাসূল! আপনার চেহারায় আমি কী দেখতে পাচ্ছি?

তিনি বললেন, এমন একটি বিষয় যা আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে ভয় করি: শিরক এবং গোপন প্রবৃত্তি।

আমি বললাম, আপনার পরে কি আপনার উম্মত শিরক করবে? তিনি বললেন, হে শাদ্দাদ! তারা সূর্য, মূর্তিপূজা বা পাথর পূজা করবে না, বরং তারা তাদের আমল দ্বারা মানুষকে দেখাবে (রিয়া করবে)।

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! রিয়া (লোক দেখানো আমল) কি শিরক? তিনি বললেন, হ্যাঁ।

আমি বললাম, তাহলে গোপন প্রবৃত্তি কী? তিনি বললেন, তাদের কেউ হয়তো রোজা রেখে দিন শুরু করে, অতঃপর তার সামনে পার্থিব কোনো কামনা বা প্রবৃত্তি উপস্থিত হয়, ফলে সে রোজা ভেঙে ফেলে।

হাকেম বলেন—এবং শব্দসমূহ তাঁরই—এর সনদ সহীহ।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি, এটি কীভাবে সম্ভব যখন আবদুল ওয়াহিদ ইবনে যাইদ আল-জাহিদ 'মাতরুক' (পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী)? আর ইবনে মাজাহ এটি সংক্ষেপে রাওয়াদ ইবনে আল-জাররাহ-এর সূত্রে আমির ইবনে আবদুল্লাহ থেকে, তিনি হাসান ইবনে জাকওয়ান থেকে, তিনি উবাদাহ ইবনে নুসায়্যি থেকে, তিনি শাদ্দাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (শাদ্দাদ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে যে জিনিসটিকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি তা হলো আল্লাহর সাথে শিরক করা। শোনো, আমি বলছি না যে তারা সূর্য, চন্দ্র বা মূর্তিপূজা করবে, বরং তারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য আমল করবে এবং গোপন প্রবৃত্তি চরিতার্থ করবে।"

আমির ইবনে আবদুল্লাহ অজ্ঞাত এবং রাওয়াদ সম্পর্কে আলোচনা সামনে আসবে ইনশাআল্লাহ তাআলা। বায়হাকী ইয়ালা ইবনে শাদ্দাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে রিয়া বা লোক দেখানো আমলকে ছোট শিরক হিসেবে গণ্য করতাম।

 

• কাসিম ইবনে মুখাইমিরাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আল্লাহ এমন কোনো আমল কবুল করেন না যাতে সরিষা দানা পরিমাণ রিয়া বা লোক দেখানো উদ্দেশ্য থাকে।"

ইবনে জারীর তাবারী এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

 

• আদি ইবনে হাতিম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন একদল মানুষকে জান্নাতের দিকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। এমনকি যখন তারা জান্নাতের নিকটবর্তী হবে, এর সুঘ্রাণ পাবে এবং জান্নাতের প্রাসাদসমূহ ও আল্লাহ যা প্রস্তুত করে রেখেছেন তা দেখতে পাবে...
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
لاهلها فِيهَا نُودُوا أَن اصرفوهم عَنْهَا لَا نصيب لَهُم فِيهَا فيرجعون بحسرة مَا رَجَعَ الْأَولونَ بِمِثْلِهَا فَيَقُولُونَ رَبنَا لَو أدخلتنا النَّار قبل أَن ترينا مَا أريتنا من ثوابك وَمَا أَعدَدْت فِيهَا لاوليائك كَانَ أَهْون علينا قَالَ ذَاك أردْت بكم كُنْتُم إِذا خلوتم بارزتموني بالعظائم وَإِذا لَقِيتُم النَّاس لقيتموهم مخبتين تراؤون النَّاس بِخِلَاف مَا تعطوني من قُلُوبكُمْ هبتم النَّاس وَلم تهابوني وأجللتم النَّاس وَلم تجلوني وتركتم للنَّاس وَلم تتركوني الْيَوْم أذيقكم أَلِيم الْعَذَاب مَعَ مَا حرمتم من الثَّوَاب

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَالْبَيْهَقِيّ

 

• وَعَن أنس بن مَالك رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا كَانَ آخر الزَّمَان صَارَت أمتِي ثَلَاث فرق فرقة يعْبدُونَ الله خَالِصا وَفرْقَة يعْبدُونَ الله رِيَاء وَفرْقَة يعْبدُونَ الله ليستأكلوا بِهِ النَّاس فَإِذا جمعهم الله يَوْم الْقِيَامَة قَالَ للَّذي يستأكل النَّاس بعزتي وَجَلَالِي مَا أردْت بعبادتي فَيَقُول وَعزَّتك وجلالك أستأكل بِهِ النَّاس قَالَ لم ينفعك مَا جمعت انْطَلقُوا بِهِ إِلَى النَّار ثمَّ يَقُول للَّذي كَانَ يعبده رِيَاء بعزتي وَجَلَالِي مَا أردْت بعبادتي قَالَ بعزتك وجلالك رِيَاء النَّاس قَالَ لم يصعد إِلَيّ مِنْهُ شَيْء انْطَلقُوا بِهِ إِلَى النَّار ثمَّ يَقُول للَّذي كَانَ يعبده خَالِصا بعزتي وَجَلَالِي مَا أردْت بعبادتي قَالَ بعزتك وجلالك أَنْت أعلم بذلك من أردْت بِهِ أردْت بِهِ ذكرك ووجهك قَالَ صدق عَبدِي انْطَلقُوا بِهِ إِلَى الْجنَّة

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط من رِوَايَة عبيد بن إِسْحَاق الْعَطَّار وَبَقِيَّة رُوَاته ثِقَات وَالْبَيْهَقِيّ عَن مولى أنس وَلم يسمه قَالَ قَالَ أنس قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَذكره بِاخْتِصَار

 

• وَعنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يُؤْتى يَوْم الْقِيَامَة بصحف مختمة فتنصب بَين
জান্নাতবাসীদের জন্য যখন তা (নির্ধারিত হবে), তখন তাদের (অন্যদের) সম্পর্কে ঘোষণা করা হবে যে, এদেরকে জান্নাত থেকে সরিয়ে নাও, এতে তাদের কোনো অংশ নেই। ফলে তারা এমন চরম আক্ষেপ নিয়ে ফিরে আসবে যা ইতিপূর্বে কেউ কখনো করেনি। তারা বলবে: হে আমাদের রব! আপনি আপনার বন্ধুদের জন্য যে সওয়াব ও নেয়ামত প্রস্তুত রেখেছেন তা আমাদের দেখানোর আগেই যদি আমাদের জাহান্নামে প্রবেশ করাতেন, তবে তা আমাদের জন্য অনেক সহজ হতো। আল্লাহ বলবেন: আমি তোমাদের ব্যাপারে এমনটাই চেয়েছিলাম। তোমরা যখন নির্জনে থাকতে তখন গুরুতর পাপের মাধ্যমে আমার মোকাবিলা করতে, আর যখন মানুষের সাথে দেখা করতে তখন অত্যন্ত বিনয়ী হয়ে দেখা করতে। তোমরা মানুষের সামনে এমন কিছু প্রদর্শন করতে যা তোমাদের অন্তরের সেই অবস্থার বিপরীত ছিল যা তোমরা আমাকে দিতে। তোমরা মানুষকে ভয় পেতে কিন্তু আমাকে ভয় পেতে না, তোমরা মানুষকে মর্যাদা দিতে কিন্তু আমাকে মর্যাদা দিতে না। তোমরা মানুষের খাতিরে (পাপ) বর্জন করতে কিন্তু আমার খাতিরে করতে না। আজ আমি তোমাদেরকে সওয়াব থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আস্বাদন করাব।

ইমাম তাবারানি এটি আল-কাবিরে এবং ইমাম বায়হাকি বর্ণনা করেছেন।

 

• আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যখন শেষ জামানা আসবে, তখন আমার উম্মত তিন দলে বিভক্ত হয়ে যাবে। একদল একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, একদল লোক দেখানোর জন্য আল্লাহর ইবাদত করবে এবং একদল মানুষের সম্পদ ভোগ করার (দুনিয়া অর্জনের) জন্য আল্লাহর ইবাদত করবে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ যখন তাদেরকে একত্র করবেন, তখন তিনি ঐ ব্যক্তিকে বলবেন যে মানুষের সম্পদ ভোগ করত— আমার ইজ্জত ও মহত্ত্বের কসম! তুমি আমার ইবাদতের মাধ্যমে কী চেয়েছিলে? সে বলবে, আপনার ইজ্জত ও মহত্ত্বের কসম! আমি এর দ্বারা মানুষের সম্পদ ভোগ করতে চেয়েছিলাম। আল্লাহ বলবেন, যা কিছু তুমি সঞ্চয় করেছিলে তা তোমার কোনো উপকারে আসবে না। তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাও। এরপর আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে বলবেন যে লোক দেখানোর জন্য ইবাদত করত— আমার ইজ্জত ও মহত্ত্বের কসম! তুমি আমার ইবাদতের মাধ্যমে কী চেয়েছিলে? সে বলবে, আপনার ইজ্জত ও মহত্ত্বের কসম! আমি মানুষের কাছে লোক দেখানোর জন্য তা করেছিলাম। আল্লাহ বলবেন, এর কোনো কিছুই আমার কাছে পৌঁছায়নি। তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাও। অতঃপর আল্লাহ ঐ ব্যক্তিকে বলবেন যে একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করত— আমার ইজ্জত ও মহত্ত্বের কসম! তুমি আমার ইবাদতের মাধ্যমে কী চেয়েছিলে? সে বলবে, আপনার ইজ্জত ও মহত্ত্বের কসম! আপনি তো সে সম্পর্কে সম্যক অবগত; আমি এর মাধ্যমে কেবল আপনার জিকির ও আপনার চেহারা (সন্তুষ্টি) চেয়েছিলাম। আল্লাহ বলবেন, আমার বান্দা সত্য বলেছে। তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাও।

ইমাম তাবারানি এটি আল-আওসাত-এ উবাইদ ইবনে ইসহাক আল-আত্তারের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং এর বাকি বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। ইমাম বায়হাকি এটি আনাসের জনৈক মুক্ত দাসের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বলেন, আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন... অতঃপর তিনি সংক্ষেপে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।

 

• তাঁর (আনাস) থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: কিয়ামতের দিন সিলমোহরকৃত আমলনামাগুলো আনা হবে এবং সেগুলো স্থাপন করা হবে...
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
يَدي الله تَعَالَى فَيَقُول تبارك وتعالى ألقوا هَذِه واقبلوا هَذِه فَتَقول الْمَلَائِكَة وَعزَّتك وجلالك مَا رَأينَا إِلَّا خيرا فَيَقُول الله عز وجل إِن هَذَا كَانَ لغير وَجْهي وَإِنِّي لَا أقبل إِلَّا مَا ابْتغِي بِهِ وَجْهي

رَوَاهُ الْبَزَّار وَالطَّبَرَانِيّ بِإِسْنَادَيْنِ رُوَاة أَحدهمَا رُوَاة الصَّحِيح وَالْبَيْهَقِيّ

 

• وَرُوِيَ عَن معَاذ رضي الله عنه أَن رجلا قَالَ حَدثنِي حَدِيثا سمعته من رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ فَبكى معَاذ حَتَّى ظَنَنْت أَنه لَا يسكت ثمَّ سكت ثمَّ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ لي يَا معَاذ قلت لَهُ لبيْك بِأبي أَنْت وَأمي

قَالَ إِنِّي محدثك حَدِيثا إِن أَنْت حفظته نفعك وَإِن أَنْت ضيعته وَلم تحفظه انْقَطَعت حجتك عِنْد الله يَوْم الْقِيَامَة يَا معَاذ إِن الله خلق سَبْعَة أَمْلَاك قبل أَن يخلق السَّمَوَات وَالْأَرْض ثمَّ خلق السَّمَوَات فَجعل لكل سَمَاء من السَّبْعَة ملكا بوابا عَلَيْهَا قد جللها عظما فتصعد الْحفظَة بِعَمَل العَبْد من حِين أصبح إِلَى أَن أَمْسَى لَهُ نور كنور الشَّمْس حَتَّى إِذا صعدت بِهِ إِلَى السَّمَاء الدُّنْيَا ذكرته فكثرته فَيَقُول الْملك للحفظة اضربوا بِهَذَا الْعَمَل وَجه صَاحبه أَنا صَاحب الْغَيْبَة أَمرنِي رَبِّي أَن لَا أدع عمل من اغتاب النَّاس يجاوزني إِلَى غَيْرِي قَالَ ثمَّ تَأتي الْحفظَة بِعَمَل صَالح من أَعمال العَبْد فتمر فتزكيه وتكثره حَتَّى تبلغ بِهِ إِلَى السَّمَاء الثَّانِيَة فَيَقُول لَهُم الْملك الْمُوكل بالسماء الثَّانِيَة قفوا واضربوا بِهَذَا الْعَمَل وَجه صَاحبه إِنَّه أَرَادَ بِعَمَلِهِ هَذَا عرض الدُّنْيَا أَمرنِي رَبِّي أَن لَا أدع عمله يجاوزني إِلَى غَيْرِي إِنَّه كَانَ يفتخر على النَّاس فِي مجَالِسهمْ قَالَ وتصعد الْحفظَة بِعَمَل العَبْد يبتهج نورا من صَدَقَة وَصِيَام وَصَلَاة قد أعجب الْحفظَة فتجاوزوا بِهِ إِلَى السَّمَاء الثَّالِثَة فَيَقُول لَهُم الْملك الْمُوكل بهَا قفوا واضربوا بِهَذَا الْعَمَل وَجه صَاحبه أَنا ملك الْكبر أَمرنِي رَبِّي أَن لَا أدع عمله يجاوزني إِلَى غَيْرِي إِنَّه كَانَ يتكبر على النَّاس فِي مجَالِسهمْ

قَالَ وتصعد الْحفظَة بِعَمَل العَبْد يزهر كَمَا يزهر الْكَوْكَب الدُّرِّي لَهُ دوِي من تَسْبِيح وَصَلَاة وَحج وَعمرَة حَتَّى يجاوزوا بِهِ إِلَى السَّمَاء الرَّابِعَة فَيَقُول لَهُم الْملك الْمُوكل بهَا قفوا واضربوا بِهَذَا الْعَمَل وَجه صَاحبه اضربوا ظَهره وبطنه أَنا صَاحب الْعجب أَمرنِي رَبِّي أَن لَا أدع عمله يجاوزني إِلَى غَيْرِي إِنَّه كَانَ إِذا عمل عملا أَدخل الْعجب فِي عمله

قَالَ وتصعد الْحفظَة بِعَمَل العَبْد حَتَّى يجاوزوا بِهِ إِلَى السَّمَاء الْخَامِسَة كَأَنَّهُ الْعَرُوس المزفوفة إِلَى بَعْلهَا فَيَقُول لَهُم الْملك الْمُوكل بهَا قفوا واضربوا بِهَذَا الْعَمَل وَجه صَاحبه واحملوه على عَاتِقه أَنا ملك الْحَسَد إِنَّه كَانَ يحْسد النَّاس مِمَّن يتَعَلَّم وَيعْمل بِمثل عمله وكل من كَانَ يَأْخُذ فضلا من الْعِبَادَة يحسدهم وَيَقَع فيهم أَمرنِي رَبِّي أَن لَا أدع عمله يجاوزني إِلَى غَيْرِي قَالَ وتصعد الْحفظَة بِعَمَل العَبْد من صَلَاة وَزَكَاة وَحج وَعمرَة وَصِيَام فيجاوزون بِهِ إِلَى السَّمَاء السَّادِسَة فَيَقُول لَهُم الْملك الْمُوكل بهَا قفوا واضربوا بِهَذَا الْعَمَل وَجه صَاحبه إِنَّه كَانَ لَا يرحم إنْسَانا قطّ من عباد الله أَصَابَهُ بلَاء أَو ضرّ بل كَانَ يشمت بِهِ أَنا ملك الرَّحْمَة أَمرنِي رَبِّي أَن لَا أدع
আল্লাহ তাআলার দুই হাতের মধ্যে। তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেন, "এগুলো ফেলে দাও এবং এগুলো কবুল করো।" অতঃপর ফেরেশতারা বলেন, "আপনার সম্মান ও মহিমার কসম! আমরা তো কেবল কল্যাণই দেখেছি।" তখন আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল বলেন, "নিশ্চয়ই এটি আমার চেহারার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ছিল না; আর আমি কেবল তা-ই কবুল করি, যা দ্বারা আমার চেহারার সন্তুষ্টি কামনা করা হয়েছে।"

আল-বাযযার এবং আত-তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এমন দু’টি সনদে যার একটির বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, আর বায়হাকিও এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• মুআয (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বলল, "আমাকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করুন যা আপনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে শুনেছেন।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন মুআয (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এত অধিক ক্রন্দন করলেন যে, আমি মনে করলাম তিনি হয়তো আর থামবেন না। তারপর তিনি শান্ত হলেন এবং বললেন, "আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি আমাকে বললেন, 'হে মুআয!'" আমি আরজ করলাম, "আমি হাজির, আপনার জন্য আমার পিতা ও মাতা উৎসর্গিত হোক।"

তিনি বললেন, "আমি তোমাকে এমন একটি হাদিস বর্ণনা করছি, যা যদি তুমি সংরক্ষণ করো তবে তা তোমার উপকারে আসবে। আর যদি তুমি তা নষ্ট করে ফেলো এবং সংরক্ষণ না করো, তবে কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে তোমার দলিল বা ওজর ছিন্ন হয়ে যাবে। হে মুআয! নিশ্চয়ই আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টির পূর্বে সাতজন ফেরেশতা সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আসমানসমূহ সৃষ্টি করে সাতটি আসমানের প্রতিটিতে একজন করে ফেরেশতাকে দ্বাররক্ষী হিসেবে নিযুক্ত করেছেন এবং তাদেরকে সুমহান মর্যাদা দান করেছেন। অতঃপর হিফাযতকারী ফেরেশতারা বান্দার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত করা আমল নিয়ে উপরে আরোহণ করে, যার নূর সূর্যের নূরের ন্যায় চমকাতে থাকে। যখন তারা তা নিয়ে প্রথম আসমানে পৌঁছে, তারা সেই আমলকে অনেক বেশি ও মহান মনে করে। তখন আসমানের দ্বাররক্ষী ফেরেশতা হিফাযতকারী ফেরেশতাদের বলেন, 'এই আমলটি দিয়ে এর কর্তার চেহারায় আঘাত করো। আমি গিবত বা পরনিন্দার পাহারাদার। আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি মানুষের গিবত করে তার আমল যেন আমি আমাকে অতিক্রম করে অন্যের কাছে যেতে না দিই'।"

তিনি বললেন, "অতঃপর হিফাযতকারী ফেরেশতারা বান্দার কোনো নেক আমল নিয়ে আসে এবং তারা তা অনেক বেশি ও পবিত্র মনে করে চলতে থাকে, এমনকি তারা তা নিয়ে দ্বিতীয় আসমানে পৌঁছে। তখন দ্বিতীয় আসমানের দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা তাদের বলেন, 'থামো! এই আমলটি দিয়ে এর কর্তার চেহারায় আঘাত করো। নিশ্চয়ই সে এই আমল দ্বারা পার্থিব স্বার্থ কামনা করেছিল। আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তার আমল যেন আমাকে অতিক্রম করে অন্যের কাছে যেতে না দিই। সে মানুষের মজলিসগুলোতে তাদের ওপর অহংকার প্রদর্শন করত'।"

তিনি বললেন, "হিফাযতকারী ফেরেশতারা বান্দার আমল নিয়ে উপরে আরোহণ করে যা সদকা, রোজা ও নামাজের নূরে উজ্জ্বল থাকে, যা হিফাযতকারী ফেরেশতাদের মুগ্ধ করে। তারা তা নিয়ে তৃতীয় আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তখন সেই আসমানের দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা তাদের বলেন, 'থামো! এই আমলটি দিয়ে এর কর্তার চেহারায় আঘাত করো। আমি অহংকারের ফেরেশতা। আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তার আমল যেন আমাকে অতিক্রম করে অন্যের কাছে যেতে না দিই। সে মজলিসে মানুষের সঙ্গে দম্ভ প্রদর্শন করত'।"

তিনি বললেন, "হিফাযতকারী ফেরেশতারা বান্দার আমল নিয়ে উপরে ওঠে যা উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায় জ্বলজ্বল করে। তাতে তাসবিহ, নামাজ, হজ ও উমরার গুঞ্জন থাকে। তারা তা নিয়ে চতুর্থ আসমান পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তখন সেই আসমানের দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা তাদের বলেন, 'থামো! এই আমল দিয়ে এর কর্তার চেহারায় আঘাত করো। তার পিঠে ও পেটে আঘাত করো। আমি আত্মমুগ্ধতার ফেরেশতা। আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তার আমল যেন আমাকে অতিক্রম করে অন্যের কাছে যেতে না দিই। সে যখন কোনো কাজ করত, তখন সে তার কাজের মধ্যে আত্মমুগ্ধতা প্রকাশ করত'।"

তিনি বললেন, "হিফাযতকারী ফেরেশতারা বান্দার আমল নিয়ে উপরে আরোহণ করে এমনকি তারা পঞ্চম আসমানে পৌঁছে যায়, যা যেন কোনো সুসজ্জিত নববধূর ন্যায় তার বরের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তখন সেই আসমানের দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা তাদের বলেন, 'থামো! এই আমল দিয়ে এর কর্তার চেহারায় আঘাত করো এবং তা তার ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দাও। আমি হিংসার ফেরেশতা। সে ওই সকল লোককে হিংসা করত যারা ইলম অর্জন করত এবং তার মতো আমল করত। আর যারা ইবাদতে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করত, সে তাদের প্রতি হিংসা পোষণ করত এবং তাদের নিন্দা করত। আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তার আমল যেন আমাকে অতিক্রম করে অন্যের কাছে যেতে না দিই'।"

তিনি বললেন, "হিফাযতকারী ফেরেশতারা বান্দার নামাজ, জাকাত, হজ, উমরা ও রোজার আমল নিয়ে উপরে আরোহণ করে এবং তারা ষষ্ঠ আসমানে পৌঁছে যায়। তখন সেই আসমানের দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা তাদের বলেন, 'থামো! এই আমলটি দিয়ে তার চেহারায় আঘাত করো। সে আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা বিপদে বা কষ্টে নিপতিত হতো, তাদের প্রতি কখনও দয়া করত না, বরং তাদের দুর্দশায় আনন্দিত হতো। আমি করুণার ফেরেশতা। আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আমি যেন তার আমল আমাকে অতিক্রম করতে না দিই'..."
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
عمله يجاوزني إِلَى غَيْرِي قَالَ وتصعد الْحفظَة بِعَمَل العَبْد إِلَى السَّمَاء السَّابِعَة من صَوْم وَصَلَاة وَنَفَقَة واجتهاد وورع لَهُ دوِي كَدَوِيِّ الرَّعْد وضوء كضوء الشَّمْس مَعَه ثَلَاثَة آلَاف ملك فيجاوزون بِهِ إِلَى السَّمَاء السَّابِعَة فَيَقُول لَهُم الْمُوكل بهَا قفوا واضربوا بِهَذَا الْعَمَل وَجه صَاحبه واضربوا جوارحه اقفلوا على قلبه إِنِّي أحجب عَن رَبِّي كل عمل لم يرد بِهِ وَجه رَبِّي إِنَّه أَرَادَ بِعَمَلِهِ غير الله إِنَّه أَرَادَ بِهِ رفْعَة عِنْد الْفُقَهَاء وذكرا عِنْد الْعلمَاء وصوتا فِي الْمَدَائِن أَمرنِي رَبِّي أَن لَا أدع عمله يجاوزني إِلَى غَيْرِي وكل عمل لم يكن لله خَالِصا فَهُوَ رِيَاء وَلَا يقبل الله عمل الْمرَائِي قَالَ وتصعد الْحفظَة بِعَمَل العَبْد من صَلَاة وَزَكَاة وَصِيَام وَحج وَعمرَة وَخلق حسن وَصمت وَذكر لله تَعَالَى وتشيعه مَلَائِكَة السَّمَوَات حَتَّى يقطعوا بِهِ الْحجب كلهَا إِلَى الله عز وجل فيقفون بَين يَدَيْهِ وَيشْهدُونَ لَهُ بِالْعَمَلِ الصَّالح المخلص لله قَالَ فَيَقُول الله لَهُم أَنْتُم الْحفظَة على عمل عَبدِي وَأَنا الرَّقِيب على نَفسه إِنَّه لم يردني بِهَذَا الْعَمَل وَأَرَادَ بِهِ غَيْرِي فَعَلَيهِ لَعْنَتِي فَتَقول الْمَلَائِكَة كلهَا عَلَيْهِ لعنتك ولعنتنا وَتقول السَّمَوَات كلهَا عَلَيْهِ لعنة الله ولعنتنا وتلعنه السَّمَوَات السَّبع وَمن فِيهِنَّ

قَالَ معَاذ قلت يَا رَسُول الله أَنْت رَسُول الله وَأَنا معَاذ قَالَ اقتد بِي وَإِن كَانَ فِي عَمَلك تَقْصِير يَا معَاذ حَافظ على لسَانك من الوقيعة فِي إخوانك من حَملَة الْقُرْآن واحمل ذنوبك عَلَيْك وَلَا تحملهَا عَلَيْهِم وَلَا تزك نَفسك بذمهم وَلَا ترفع نَفسك عَلَيْهِم وَلَا تدخل عمل الدُّنْيَا فِي عمل الْآخِرَة وَلَا تتكبر فِي مجلسك لكَي يحذر النَّاس من سوء خلقك وَلَا تناج رجلا وعندك آخر

وَلَا تتعظم على النَّاس فَيَنْقَطِع عَنْك خير الدُّنْيَا وَالْآخِرَة وَلَا تمزق النَّاس فتمزقك كلاب النَّار يَوْم الْقِيَامَة فِي النَّار قَالَ الله تَعَالَى والناشطات نشطا النازعات 2 أَتَدْرِي مَا هن يَا معَاذ

قلت مَا هن بِأبي أَنْت وَأمي قَالَ كلاب فِي النَّار تنشط اللَّحْم والعظم

قلت بِأبي أَنْت وَأمي فَمن يُطيق هَذِه الْخِصَال وَمن ينجو مِنْهَا قَالَ يَا معَاذ إِنَّه ليسير على من يسره الله عَلَيْهِ

قَالَ فَمَا رَأَيْت أَكثر تِلَاوَة لِلْقُرْآنِ من معَاذ للحذر مِمَّا فِي هَذَا الحَدِيث

رَوَاهُ ابْن الْمُبَارك فِي كتاب الزّهْد عَن رجل لم يسمه عَن معَاذ وَرَوَاهُ
তার আমল আমাকে অতিক্রম করে অন্যের কাছে পৌঁছাতে পারবে না। তিনি বলেন, অতঃপর সংরক্ষণকারী ফেরেশতারা বান্দার রোজা, নামাজ, দান-সদকা, প্রচেষ্টা ও পরহেজগারির আমল নিয়ে সপ্তম আসমানের দিকে আরোহণ করেন। সেই আমলের গর্জন মেঘের গর্জনের মতো এবং তার জ্যোতি সূর্যের জ্যোতির মতো। তার সাথে তিন হাজার ফেরেশতা থাকে। তারা সেই আমল নিয়ে সপ্তম আসমানে পৌঁছালে সেখানকার দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তাদের বলেন, "থামো এবং এই আমল দিয়ে এর কর্তার মুখে আঘাত করো এবং তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে আঘাত করো। তার হৃদয়ে তালা লাগিয়ে দাও। আমি আমার রবের পক্ষ থেকে এমন প্রতিটি আমলকে বাধা দিই যা দ্বারা আমার রবের সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য করা হয়নি। সে তার আমল দ্বারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু চেয়েছিল। সে চেয়েছিল ফকিহদের কাছে মর্যাদা লাভ করতে, আলেমদের মাঝে পরিচিতি পেতে এবং নগরীতে সুখ্যাতি অর্জন করতে। আমার রব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তার আমল আমাকে ছাড়িয়ে অন্য কোথাও যেতে না দিই।" আর আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ নয় এমন প্রতিটি আমলই লোকদেখানো (রিয়া), আর আল্লাহ লোকদেখানো ব্যক্তির আমল কবুল করেন না। তিনি বলেন, অতঃপর সংরক্ষণকারী ফেরেশতারা বান্দার নামাজ, জাকাত, রোজা, হজ, উমরা, উত্তম চরিত্র, নীরবতা ও আল্লাহর জিকিরের আমল নিয়ে আরোহণ করেন। আসমানের ফেরেশতারাও সেই আমলের সাথে চলতে থাকে যতক্ষণ না তারা সকল পর্দা পাড়ি দিয়ে মহান আল্লাহর নিকট পৌঁছে যায়। তারা আল্লাহর দুই হাতের সামনে দাঁড়ায় এবং তাঁর জন্য একনিষ্ঠ ও সৎ আমলের সাক্ষ্য দেয়। তিনি বলেন, তখন আল্লাহ তাদের বলেন, "তোমরা আমার বান্দার আমলের পাহারাদার ছিলে, আর আমি ছিলাম তার অন্তরের পর্যবেক্ষক। সে এই আমলের মাধ্যমে আমাকে চায়নি বরং অন্য কিছু চেয়েছিল, তাই তার ওপর আমার লানত।" তখন সমস্ত ফেরেশতা বলে, "তার ওপর আপনার লানত এবং আমাদেরও লানত।" আকাশমণ্ডলী বলে, "তার ওপর আল্লাহর লানত এবং আমাদেরও লানত।" এভাবে সাত আসমান এবং তার বাসিন্দারা তাকে লানত দেয়।

মুয়াজ (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর রাসূল আর আমি মুয়াজ (আমার উপায় কী?)। তিনি বললেন, "আমাকে অনুসরণ করো যদিও তোমার আমলে ত্রুটি থাকে। হে মুয়াজ! তোমার ভাই যারা কুরআনের বাহক, তাদের নিন্দা বা গিবত করা থেকে তোমার জিহ্বাকে হেফাজত করো। তোমার পাপের বোঝা নিজের ওপর রাখো, তাদের ওপর চাপিয়ে দিও না। তাদের নিন্দা করে নিজের পবিত্রতা প্রকাশ করো না। তাদের ওপর নিজেকে উচ্চ মনে করো না। আখিরাতের আমলের মধ্যে দুনিয়ার আমল প্রবেশ করিও না। তোমার মজলিসে অহংকার করো না যাতে মানুষ তোমার দুশ্চরিত্রের ভয়ে সতর্ক থাকে। তোমার পাশে অন্য কেউ থাকা অবস্থায় অন্য একজনের সাথে কানে কানে কথা বলো না।

মানুষের সামনে নিজেকে বড় মনে করো না, নতুবা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। মানুষকে (সমালোচনার মাধ্যমে) ছিঁড়ে ফেলো না, নতুবা কিয়ামতের দিন জাহান্নামের কুকুরগুলো তোমাকে ছিঁড়ে ফেলবে।" মহান আল্লাহ বলেছেন, 'শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা (রূহকে) ভীষণভাবে টেনে বের করে আনে' (সূরা আন-নাজিআত: ২)। হে মুয়াজ, তুমি কি জানো এগুলো কী?

আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোন, এগুলো কী? তিনি বললেন, "জাহান্নামের ঐ সকল কুকুর যারা মাংস ও হাড় ছিঁড়ে ফেলবে।"

আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোন, কার পক্ষে এই বিষয়গুলো পালন করা সম্ভব এবং কে তা থেকে মুক্তি পাবে? তিনি বললেন, "হে মুয়াজ! আল্লাহ যার জন্য এটি সহজ করে দেন, তার জন্য তা অবশ্যই সহজ।"

(বর্ণনাকারী) বলেন, এই হাদিসে বর্ণিত সতর্কবাণীর কারণে আমি মুয়াজের চেয়ে বেশি কুরআন তিলাওয়াতকারী আর কাউকে দেখিনি।

এটি ইবনুল মুবারক তার 'কিতাবুয যুহদ' গ্রন্থে একজন নামহীন ব্যক্তির সূত্রে মুয়াজ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪০)
ابْن حبَان فِي غير الصَّحِيح وَالْحَاكِم وَغَيرهمَا وَرُوِيَ عَن عَليّ وَغَيره وَبِالْجُمْلَةِ فآثار الْوَضع ظَاهِرَة عَلَيْهِ فِي جَمِيع طرقه وبجميع أَلْفَاظه

 

فصل

 

• عَن أبي عَليّ رجل من بني كَاهِل قَالَ خَطَبنَا أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيّ فَقَالَ يَا أَيهَا النَّاس اتَّقوا هَذَا الشّرك فَإِنَّهُ أخْفى من دَبِيب النَّمْل فَقَامَ إِلَيْهِ عبد الله بن حزن وَقيس بن الْمضَارب

فَقَالَا وَالله لَنخْرجَنَّ مِمَّا قلت أَو لنأتين عمر مَأْذُونا لنا أَو غير مَأْذُون

فَقَالَ بل أخرج مِمَّا قلت خَطَبنَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم ذَات يَوْم فَقَالَ يَا أَيهَا النَّاس اتَّقوا هَذَا الشّرك فَإِنَّهُ أخْفى من دَبِيب النَّمْل

فَقَالَ لَهُ من شَاءَ الله أَن يَقُول وَكَيف نتقيه وَهُوَ أخْفى من دَبِيب النَّمْل يَا رَسُول الله قَالَ قُولُوا اللَّهُمَّ إِنَّا نَعُوذ بك من أَن نشْرك بك شَيْئا نعلمهُ ونستغفرك لما لَا نعلمهُ

رَوَاهُ أَحْمد وَالطَّبَرَانِيّ وَرُوَاته إِلَى أبي عَليّ مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح

وَأَبُو عَليّ وَثَّقَهُ ابْن حبَان وَلم أر أحدا جرحه وَرَوَاهُ أَبُو يعلى بِنَحْوِهِ من حَدِيث حُذَيْفَة إِلَّا أَنه قَالَ فِيهِ يَقُول كل يَوْم ثَلَاث مَرَّات

 

• التَّرْغِيب فِي اتِّبَاع الْكتاب وَالسّنة

 

• عَن الْعِرْبَاض بن سَارِيَة رضي الله عنه قَالَ وعظنا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم موعظة وجلت مِنْهَا الْقُلُوب وذرفت مِنْهَا الْعُيُون فَقُلْنَا يَا رَسُول الله كَأَنَّهَا موعظة مُودع فأوصنا

قَالَ أوصيكم بتقوى الله والسمع وَالطَّاعَة وَإِن تَأمر عَلَيْكُم عبد

وَإنَّهُ من يَعش مِنْكُم فسيرى اخْتِلَافا كثيرا فَعَلَيْكُم بِسنتي وَسنة الْخُلَفَاء الرَّاشِدين المهديين عضوا عَلَيْهَا بالنواجذ وَإِيَّاكُم ومحدثات الْأُمُور فَإِن كل بِدعَة ضَلَالَة

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن صَحِيح

قَوْله عضوا عَلَيْهَا بالنواجذ أَي اجتهدوا على السّنة والزموها واحرصوا عَلَيْهَا كَمَا
ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহীহ' ব্যতীত অন্য গ্রন্থে, হাকেম এবং অন্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। এটি আলী ও অন্যান্যদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে। মোটকথা, এর সকল সূত্র এবং সকল শব্দচয়নের মধ্যে জাল হওয়ার চিহ্ন সুস্পষ্ট।

 

পরিচ্ছেদ

 

• বনু কাহিল গোত্রের আবু আলী নামক এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু মুসা আল-আশআরী আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা প্রদানকালে বললেন, "হে লোকসকল! তোমরা এই শিরক থেকে বেঁচে থাকো, কারণ এটি পিপীলিকার পদচারণার চেয়েও সূক্ষ্ম।" তখন আবদুল্লাহ ইবনে হাযন এবং কায়েস ইবনে মুদারিব তাঁর দিকে দাঁড়িয়ে গেলেন।

তারা বললেন, "আল্লাহর কসম! হয় আপনি যা বলেছেন তার স্বপক্ষে প্রমাণ দিবেন, নতুবা আমরা উমরের কাছে উপস্থিত হব—চাই আমাদের অনুমতি দেওয়া হোক বা না হোক।"

তিনি বললেন, "বরং আমি যা বলেছি তার প্রমাণ দিচ্ছি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিয়ে বললেন, 'হে লোকসকল! তোমরা এই শিরক থেকে বেঁচে থাকো, কারণ এটি পিপীলিকার পদচারণার চেয়েও সূক্ষ্ম'।"

তখন আল্লাহ যার দ্বারা বলাতে চাইলেন তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কীভাবে এটি থেকে বেঁচে থাকব অথচ এটি পিপীলিকার পদচারণার চেয়েও সূক্ষ্ম?" তিনি বললেন, "তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আমরা জেনে-শুনে তোমার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি এবং যা আমরা জানি না তা থেকে তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।"

এটি ইমাম আহমাদ ও তাবারানী বর্ণনা করেছেন এবং আবু আলী পর্যন্ত এর বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে সহীহ গ্রন্থে দলিল পেশ করা হয়েছে।

ইবনে হিব্বান আবু আলীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং আমি কাউকে দেখিনি যিনি তাঁর সমালোচনা করেছেন। আবু ইয়ালা অনুরূপ হাদীস হুযাইফা থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে তাতে রয়েছে যে, তিনি প্রতিদিন তিনবার এটি বলতেন।

 

• কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণের প্রতি উৎসাহ প্রদান

 

• ইরবায ইবনে সারিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এমন এক নসিহত করলেন যাতে অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হলো এবং চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হলো। আমরা বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! মনে হচ্ছে এটি বিদায়ী ভাষণ, তাই আমাদের কিছু অসিয়ত করুন।"

তিনি বললেন, "আমি তোমাদের আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন এবং (নেতৃবৃন্দের কথা) শোনার ও আনুগত্য করার অসিয়ত করছি, যদিও তোমাদের ওপর কোনো ক্রীতদাসকে আমির নিযুক্ত করা হয়।"

নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে যারা জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। অতএব তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে। তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা নতুন উদ্ভাবিত বিষয় থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।

এটি আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেছেন, এটি হাসান সহীহ হাদীস।

তাঁর বাণী 'তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে' এর অর্থ হলো—সুন্নাহর ব্যাপারে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা ব্যয় করো, একে আঁকড়ে ধরো এবং এর প্রতি অত্যন্ত যত্নবান হও যেমন...
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪১)
يلْزم العاض على الشَّيْء بنواجذه خوفًا من ذَهَابه وتفلته والن بالنُّون وَالْجِيم والذال الْمُعْجَمَة هِيَ الأنياب وَقيل الأضراس

 

• وَعَن أبي شُرَيْح الْخُزَاعِيّ قَالَ خرج علينا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَلَيْسَ تَشْهَدُون أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَنِّي رَسُول الله قَالُوا بلَى

قَالَ إِن هَذَا الْقُرْآن طرفه بيد الله وطرفه بِأَيْدِيكُمْ فَتمسكُوا بِهِ فَإِنَّكُم لن تضلوا وَلنْ تهلكوا بعده أبدا

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير بِإِسْنَاد جيد

 

• وَرُوِيَ عَن جُبَير بن مطعم قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم بِالْجُحْفَةِ فَقَالَ أَلَيْسَ تَشْهَدُون أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَحده لَا شريك لَهُ وَأَنِّي رَسُول الله وَأَن الْقُرْآن جَاءَ من عِنْد الله قُلْنَا بلَى

قَالَ فأبشروا فَإِن هَذَا الْقُرْآن طرفه بيد الله وطرفه بِأَيْدِيكُمْ فَتمسكُوا بِهِ فَإِنَّكُم لن تهلكوا وَلنْ تضلوا بعده أبدا

رَوَاهُ الْبَزَّار وَالطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَالصَّغِير

 

• وَعَن أبي سعيد الْخُدْرِيّ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من أكل طيبا وَعمل فِي سنة وَأمن النَّاس بوائقه دخل الْجنَّة قَالُوا يَا رَسُول الله إِن هَذَا فِي أمتك الْيَوْم كثير

قَالَ وسيكون فِي قوم بعدِي

رَوَاهُ ابْن أبي الدُّنْيَا فِي كتاب الصمت وَغَيره وَالْحَاكِم وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد

 

• وَعَن ابْن عَبَّاس عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ من تمسك بِسنتي عِنْد فَسَاد أمتِي فَلهُ أجر مائَة شَهِيد

رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ من رِوَايَة الْحسن بن قُتَيْبَة وَرَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ من حَدِيث أبي هُرَيْرَة بِإِسْنَاد لَا بَأْس بِهِ إِلَّا أَنه قَالَ فَلهُ أجر شَهِيد

 

• وَعنهُ أَيْضا أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم خطب النَّاس فِي حجَّة الْوَدَاع فَقَالَ إِن الشَّيْطَان قد يئس أَن يعبد بأرضكم وَلَكِن رَضِي أَن يطاع فِيمَا سوى ذَلِك مِمَّا تحاقرون من أَعمالكُم فاحذروا إِنِّي قد تركت فِيكُم مَا إِن اعْتَصَمْتُمْ بِهِ فَلَنْ تضلوا أبدا كتاب الله وَسنة نبيه الحَدِيث

رَوَاهُ الْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد

احْتج البُخَارِيّ بِعِكْرِمَةَ وَاحْتج مُسلم بِأبي أويس وَله أصل فِي الصَّحِيح

 

• وَعَن ابْن مَسْعُود رضي الله عنه قَالَ الاقتصاد فِي السّنة أحسن من الِاجْتِهَاد فِي الْبِدْعَة

رَوَاهُ الْحَاكِم مَوْقُوفا وَقَالَ إِسْنَاده صَحِيح على شَرطهمَا

 

• وَعَن أبي أَيُّوب الْأنْصَارِيّ قَالَ خرج علينا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم وَهُوَ مرعوب فَقَالَ
কোনো বস্তু চলে যাওয়া বা ছুটে যাওয়ার ভয়ে তা মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরা আবশ্যক। 'নাওয়াজিজ' (নুন, জিম ও যাল সহযোগে) বলতে বুঝায় ছেদন দাঁত, আবার কেউ বলেছেন মাড়ির দাঁত।

 

• আবু শুরাইহ আল-খুজাঈ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন: "তোমরা কি সাক্ষ্য দাও না যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল?" তারা বললেন: "হ্যাঁ, অবশ্যই।"

তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এই কুরআনের এক প্রান্ত আল্লাহর হাতে এবং অন্য প্রান্ত তোমাদের হাতে। অতএব তোমরা একে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো। তাহলে তোমরা এরপর আর কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না এবং ধ্বংস হবে না।"

তাবারানি এটি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।

 

• জুবাইর ইবনে মুতইম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা জুহফা নামক স্থানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "তোমরা কি সাক্ষ্য দাও না যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরীক নেই, আর আমি আল্লাহর রাসূল এবং কুরআন আল্লাহর নিকট থেকে এসেছে?" আমরা বললাম: "হ্যাঁ, অবশ্যই।"

তিনি বললেন: "তবে সুসংবাদ গ্রহণ করো। নিশ্চয়ই এই কুরআনের এক প্রান্ত আল্লাহর হাতে এবং অন্য প্রান্ত তোমাদের হাতে। অতএব তোমরা একে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো। তাহলে তোমরা এরপর আর কখনোই ধ্বংস হবে না এবং পথভ্রষ্ট হবে না।"

বাযযার এবং তাবারানি এটি 'আল-কাবীর' ও 'আস-সাগীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

 

• আবু সাঈদ আল-খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি পবিত্র রিযিক ভক্ষণ করে, সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করে এবং মানুষ তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" তারা বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! বর্তমানে আপনার উম্মতের মাঝে এমন লোকের সংখ্যা তো অনেক।"

তিনি বললেন: "আমার পরের লোকদের মাঝেও এমন লোক থাকবে।"

ইবনে আবিদ দুনিয়া এটি 'কিতাবুস সামত' ও অন্যান্য গ্রন্থে এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন। শব্দবিন্যাস হাকেমের এবং তিনি বলেছেন এর সনদ সহীহ।

 

• ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের বিপর্যয়ের সময় যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য একশত শহীদের সওয়াব রয়েছে।"

বায়হাকী এটি হাসান বিন কুতাইবা-এর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। তাবারানি এটি আবু হুরাইরা (রা.)-এর হাদীস থেকে এমন সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে কোনো সমস্যা নেই, তবে সেখানে বলা হয়েছে: "তার জন্য একজন শহীদের সওয়াব রয়েছে।"

 

• তাঁর (ইবনে আব্বাস) থেকেই বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজ্জে মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই শয়তান তোমাদের এই ভূখণ্ডে তার ইবাদত করা হবে—এ ব্যাপারে নিরাশ হয়েছে। তবে তোমরা তোমাদের যেসব আমলকে তুচ্ছ মনে করো, এমন সব বিষয়ে তার আনুগত্য করা হবে—এতে সে সন্তুষ্ট। সুতরাং তোমরা সতর্ক থেকো। আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহ..." (হাদীসের শেষ পর্যন্ত)।

হাকেম এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এর সনদ সহীহ।

বুখারী ইকরিমার মাধ্যমে এবং মুসলিম আবু উয়াইসের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করেছেন এবং সহীহ গ্রন্থে এর ভিত্তি রয়েছে।

 

• ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "সুন্নাহর ওপর পরিমিত চলা বিদআতের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম করার চেয়ে উত্তম।"

হাকেম এটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এর সনদ তাদের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহীহ।

 

• আবু আইয়ুব আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং বললেন:
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪২)
وأطيعوني مَا كنت بَين أظْهركُم وَعَلَيْكُم بِكِتَاب الله أحلُّوا حَلَاله وحرموا حرَامه رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَرُوَاته ثِقَات 69 وَعَن عبد الله بن مَسْعُود قَالَ إِن هَذَا الْقُرْآن شَافِع مُشَفع من اتبعهُ قَادَهُ إِلَى الْجنَّة وَمن تَركه أَو أعرض عَنهُ أَو كلمة نَحْوهَا زج فِي قَفاهُ إِلَى النَّار

رَوَاهُ الْبَزَّار هَكَذَا مَوْقُوفا على ابْن مَسْعُود وَرَوَاهُ مَرْفُوعا من حَدِيث جَابر وَإسْنَاد الْمَرْفُوع جيد

 

• وَرُوِيَ عَن ابْن عَبَّاس قَالَ خطب رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ إِن الله قد أعْطى كل ذِي حق حَقه إِلَّا أَن الله قد فرض فَرَائض وَسن سننا وحد حدودا وَأحل حَلَالا وَحرم حَرَامًا وَشرع الدّين فَجعله سهلا سَمحا وَاسِعًا وَلم يَجعله ضيقا أَلا إِنَّه لَا إِيمَان لمن لَا أَمَانَة لَهُ وَلَا دين لمن لَا عهد لَهُ وَمن نكث ذمَّة الله طلبه وَمن نكث ذِمَّتِي خاصمته وَمن خاصمته فلجت عَلَيْهِ وَمن نكث ذِمَّتِي لم ينل شَفَاعَتِي وَلم يرد على الْحَوْض

الحَدِيث رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير

قَوْله فلجت عَلَيْهِ بِالْجِيم أَي ظَهرت عَلَيْهِ بِالْحجَّةِ والبرهان وظفرت بِهِ

 

• وَعَن عَابس بن ربيعَة قَالَ رَأَيْت عمر بن الْخطاب رضي الله عنه يقبل الْحجر يَعْنِي الْأسود وَيَقُول إِنِّي لأعْلم أَنَّك حجر لَا تَنْفَع وَلَا تضر وَلَوْلَا أَنِّي رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يقبلك مَا قبلتك

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ

 

• وَعَن عُرْوَة بن عبد الله بن قُشَيْر قَالَ حَدثنِي مُعَاوِيَة بن قُرَّة عَن أَبِيه قَالَ أتيت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فِي رَهْط من مزينة فَبَايَعْنَاهُ وَإنَّهُ لمُطلق الأزرار فأدخلت يَدي فِي جنب قَمِيصه فمسست الْخَاتم

قَالَ عُرْوَة فَمَا رَأَيْت مُعَاوِيَة وَلَا ابْنه قطّ فِي شتاء وَلَا صيف إِلَّا مطلقي الأزرار

رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَاللَّفْظ لَهُ وَقَالَ ابْن مَاجَه إِلَّا مُطلقَة أزرارهما

 

• وَعَن زيد بن أسلم قَالَ رَأَيْت ابْن عمر يُصَلِّي محلولا أزراره فَسَأَلته عَن ذَلِك
এবং যতক্ষণ আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকি তোমরা আমার আনুগত্য করো। আর তোমরা আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরো; এর হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করো এবং এর হারামকে হারাম হিসেবে বর্জন করো। এটি তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। ৬৯. আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন এক সুপারিশকারী যার সুপারিশ কবুল করা হয়। যে ব্যক্তি একে অনুসরণ করবে, এটি তাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে; আর যে ব্যক্তি একে বর্জন করবে বা এর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে—অথবা এই জাতীয় কিছু—তাকে তার ঘাড় ধরে জাহান্নামের দিকে নিক্ষেপ করা হবে।

ইমাম বাজ্জার এটি ইবনে মাসউদের উক্তি (মাওকুফ) হিসেবে এভাবে বর্ণনা করেছেন এবং জাবির (রা.)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উক্তি (মারফূ) হিসেবেও বর্ণনা করেছেন। আর মারফূ বর্ণনার সনদটি উত্তম।

 

• ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খুতবা প্রদানকালে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করেছেন। জেনে রাখো, আল্লাহ কিছু বিধান ফরজ করেছেন, কিছু সুন্নাত প্রবর্তন করেছেন, কিছু সীমা নির্ধারণ করেছেন, কিছু বিষয় হালাল করেছেন এবং কিছু বিষয় হারাম করেছেন। তিনি দ্বীনকে বিধিবদ্ধ করেছেন এবং একে সহজ, সহনশীল ও প্রশস্ত করেছেন, একে সংকীর্ণ করেননি। সাবধান! যার আমানতদারিতা নেই তার কোনো ঈমান নেই, আর যার অঙ্গীকার ঠিক নেই তার কোনো দ্বীন নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, আল্লাহ তাকে পাকড়াও করবেন; আর যে ব্যক্তি আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, আমি তার সাথে বিতর্ক করব। আর আমি যার সাথে বিতর্ক করব, তার ওপর বিজয়ী হব। যে ব্যক্তি আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবে, সে আমার সুপারিশ পাবে না এবং হাউজে কাওসারেও আসতে পারবে না।"

হাদিসটি তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি "ফালাজতু আলাইহি" (জীম বর্ণ সহকারে) এর অর্থ হলো: আমি দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে তার ওপর বিজয়ী হয়েছি এবং তাকে পরাস্ত করেছি।

 

• আবিস ইবনে রাবিয়াহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-কে পাথর অর্থাৎ হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করতে দেখেছি এবং তাকে বলতে শুনেছি, "আমি নিশ্চয়ই জানি যে তুমি একটি পাথর মাত্র, তুমি কোনো উপকারও করতে পারো না এবং কোনো ক্ষতিও করতে পারো না। যদি আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম, তবে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।"

এটি বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।

 

• উরওয়াহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুশাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার কাছে মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (পিতা) বলেছেন: আমি মুজাইনা গোত্রের একটি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলাম এবং আমরা তাঁর কাছে বাইয়াত হলাম। সে সময় তাঁর জামার বোতামগুলো খোলা ছিল। এরপর আমি আমার হাত তাঁর জামার পার্শ্বদেশ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করালাম এবং মোহরে নবুওয়াত স্পর্শ করলাম।

উরওয়াহ বলেন: আমি মুয়াবিয়া ও তাঁর পুত্রকে শীত বা গ্রীষ্মকালে কখনোই বোতাম লাগানো অবস্থায় দেখিনি, বরং সর্বদা বোতাম খোলাই থাকত।

এটি ইবনে মাজাহ ও ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এবং শব্দগুলো ইবনে হিব্বানের। ইবনে মাজাহ-এর বর্ণনায় রয়েছে: "তাঁদের উভয়ের বোতাম খোলা থাকত।"

 

• জায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে ওমর (রা.)-কে বোতাম খোলা অবস্থায় নামাজ আদায় করতে দেখেছি, এরপর আমি তাঁকে সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম।
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৩)
فَقَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَفْعَله

رَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه عَن الْوَلِيد بن مُسلم عَن زيد وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ وَغَيره عَن زُهَيْر بن مُحَمَّد عَن زيد

 

• وَعَن مُجَاهِد قَالَ كُنَّا مَعَ ابْن عمر رحمه الله فِي سفر فَمر بمَكَان فحاد عَنهُ فَسئلَ لم فعلت ذَلِك قَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فعل هَذَا فَفعلت

رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَزَّار بِإِسْنَاد جيد

قَوْله حاد بِالْحَاء وَالدَّال الْمُهْمَلَتَيْنِ أَي تنحى عَنهُ وَأخذ يَمِينا أَو شمالا

 

• وَعَن ابْن عمر رضي الله عنهما أَنه كَانَ يَأْتِي شَجَرَة بَين مَكَّة وَالْمَدينَة فيقيل تحتهَا ويخبر أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم كَانَ يفعل ذَلِك

رَوَاهُ الْبَزَّار بِإِسْنَاد لَا بَأْس بِهِ

 

• وَعَن ابْن سِيرِين قَالَ كنت مَعَ ابْن عمر رحمه الله بِعَرَفَات فَلَمَّا كَانَ حِين رَاح رحت مَعَه حَتَّى أَتَى الإِمَام فصلى مَعَه الأولى وَالْعصر ثمَّ وقف وَأَنا وَأَصْحَاب لي حَتَّى أَفَاضَ الامام فأفضنا مَعَه حَتَّى انْتهى إِلَى الْمضيق دون المأزمين فَأَنَاخَ وأنخنا وَنحن نحسب أَنه يُرِيد أَن يُصَلِّي فَقَالَ غُلَامه الَّذِي يمسك رَاحِلَته إِنَّه لَيْسَ يُرِيد الصَّلَاة وَلكنه ذكر أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم لما انْتهى إِلَى هَذَا الْمَكَان قضى حَاجته فَهُوَ يحب أَن يقْضِي حَاجته

رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته مُحْتَج بهم فِي الصَّحِيح

قَالَ الْحَافِظ رحمه الله والْآثَار عَن الصَّحَابَة رضي الله عنهم فِي اتباعهم لَهُ واقتفائهم سنته كَثِيرَة جدا

وَالله الْمُوفق لَا رب غَيره

 

• التَّرْهِيب من ترك السّنة وارتكاب الْبدع والأهواء

 

• عَن عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من أحدث فِي أمرنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رد

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَلَفظه من صنع أمرا على غير أمرنَا فَهُوَ رد

وَابْن مَاجَه
ফলে তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তা করতে দেখেছি।

ইবনে খুজাইমাহ তাঁর সহীহ গ্রন্থে ওয়ালিদ বিন মুসলিম থেকে, তিনি জায়েদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইমাম বায়হাকী এবং অন্যান্যগণও যুহায়ের বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি জায়েদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে এক সফরে ছিলাম। তিনি একটি স্থান অতিক্রম করার সময় সেখান থেকে সরে পথ পরিবর্তন করলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কেন এমন করলেন? তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন করতে দেখেছি, তাই আমিও করলাম।

ইমাম আহমদ এবং বাজ্জার এটি একটি উত্তম (জায়্যিদ) সনদে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি 'হাদা' (হা এবং দাল বর্ণ যোগে) এর অর্থ হলো তিনি সেখান থেকে সরে গেছেন এবং ডানে অথবা বামে পথ নিয়েছেন।

 

• ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, তিনি মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত একটি গাছের কাছে আসতেন এবং তার নিচে দ্বিপ্রহরের বিশ্রাম (কায়লুলা) নিতেন। তিনি সংবাদ দিতেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করতেন।

বাজ্জার এটি এমন এক সনদে বর্ণনা করেছেন যাতে কোনো সমস্যা নেই।

 

• ইবনে সিরিন রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরাফাতের ময়দানে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে ছিলাম। যখন প্রস্থানের সময় হলো, আমি তাঁর সাথে রওনা হলাম যতক্ষণ না তিনি ইমামের কাছে পৌঁছালেন। তিনি ইমামের সাথে প্রথম সালাত (যুহর) ও আসর আদায় করলেন। এরপর তিনি অবস্থান করলেন এবং আমি ও আমার সাথীরাও অবস্থান করলাম, যতক্ষণ না ইমাম সেখান থেকে প্রস্থান করলেন। আমরাও তাঁর সাথে প্রস্থান করলাম যতক্ষণ না তিনি 'মাযামাইন'-এর নিকটবর্তী সংকীর্ণ গিরিপথে পৌঁছালেন। সেখানে তিনি তাঁর উট বসালেন এবং আমরাও আমাদের উট বসালাম; আমরা ভাবলাম যে তিনি হয়তো সালাত আদায় করতে চান। তখন তাঁর উট পরিচালনাকারী গোলাম বলল, তিনি সালাতের ইচ্ছা করছেন না; বরং তিনি স্মরণ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এই স্থানে পৌঁছেছিলেন তখন তিনি হাজত পূর্ণ করেছিলেন, তাই তিনিও এখানে তাঁর হাজত পূর্ণ করতে পছন্দ করছেন।

ইমাম আহমদ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ সহীহ গ্রন্থের দলীলযোগ্য রাবী।

হাফেজ (আল-মুনজিরী) রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম কর্তৃক তাঁর অনুসরণ এবং তাঁর সুন্নাহর হুবহু অনুকরণের ব্যাপারে বর্ণিত আছারসমূহ সংখ্যায় অনেক।

আল্লাহই তৌফিকদাতা, তিনি ব্যতীত কোনো প্রতিপালক নেই।

 

• সুন্নাহ ত্যাগ করা এবং বিদআত ও কুপ্রবৃত্তিতে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে ভীতিপ্রদর্শন।

 

• আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।"

বুখারী, মুসলিম এবং আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদের শব্দ হলো: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যা আমাদের নির্দেশের পরিপন্থী, তা প্রত্যাখ্যাত।"

এবং ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৪)
وَفِي رِوَايَة لمُسلم من عمل عملا لَيْسَ عَلَيْهِ أمرنَا فَهُوَ رد

 

• وَعَن جَابر رضي الله عنه قَالَ كَانَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِذا خطب احْمَرَّتْ عَيناهُ وَعلا صَوته وَاشْتَدَّ غَضَبه كَأَنَّهُ مُنْذر جَيش يَقُول صبحكم ومساكم وَيَقُول بعثت أَنا والساعة كهاتين ويقرن بَين أصبعيه السبابَة وَالْوُسْطَى

وَيَقُول أما بعد فَإِن خير الحَدِيث كتاب الله وَخير الْهَدْي هدي مُحَمَّد وَشر الْأُمُور محدثاتها وكل بِدعَة ضَلَالَة

ثمَّ يَقُول أَنا أولى بِكُل مُؤمن من نَفسه من ترك مَالا فلاهله وَمن ترك دينا أَو ضيَاعًا فَإِلَيَّ وَعلي

رَوَاهُ مُسلم وَابْن مَاجَه وَغَيرهمَا

 

• وَعَن مُعَاوِيَة رضي الله عنه قَالَ قَامَ فِينَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَلا إِن من كَانَ قبلكُمْ من أهل الْكتاب افْتَرَقُوا على ثِنْتَيْنِ وَسبعين مِلَّة وَإِن هَذِه الْأمة ستفرق على ثَلَاث وَسبعين ثِنْتَانِ وَسَبْعُونَ فِي النَّار وَوَاحِدَة فِي الْجنَّة وَهِي الْجَمَاعَة

رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد وَزَاد فِي رِوَايَة وَإنَّهُ ليخرج فِي أمتِي أَقوام تتجارى بهم الْأَهْوَاء كَمَا يتجارى الْكَلْب بِصَاحِبِهِ لَا يبْقى مِنْهُ عرق وَلَا مفصل إِلَّا دخله

قَوْله الْكَلْب بِفَتْح الْكَاف وَاللَّام

قَالَ الْخطابِيّ هُوَ دَاء يعرض للْإنْسَان من عضة الْكَلْب الْكَلْب قَالَ وعلامة ذَلِك فِي الْكَلْب أَن تحمر عَيناهُ وَلَا يزَال يدْخل ذَنبه بَين رجلَيْهِ فَإِذا رأى إنْسَانا ساوره

 

• وَعَن عَائِشَة رضي الله عنها أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ سِتَّة لعنتهم ولعنهم الله وكل نَبِي مجاب الزَّائِد فِي كتاب الله عز وجل والمكذب بِقدر الله والمتسلط على أمتِي بالجبروت ليذل من أعز الله ويعز من أذلّ الله والمستحل حُرْمَة الله والمستحل من عِتْرَتِي مَا حرم الله والتارك السّنة

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد وَلَا أعرف لَهُ عِلّة

 

• وَعَن أبي بَرزَة رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّمَا أخْشَى عَلَيْكُم شهوات الغي
এবং মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশ নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।"

 

• জাবির (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তার ওপর বর্ষিত হোক) যখন খুতবা দিতেন, তখন তাঁর চোখ দুটি লাল হয়ে যেত, কন্ঠস্বর উঁচু হতো এবং ক্রোধ তীব্র হতো, যেন তিনি কোনো এক বাহিনীকে সতর্ক করছেন এই বলে যে— "শত্রু তোমাদের ওপর সকালে কিংবা সন্ধ্যায় আক্রমণ করবে।" তিনি আরও বলতেন, "আমি এবং কিয়ামত এই দুটির ন্যায় প্রেরিত হয়েছি" এবং তিনি তাঁর তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুল দুটিকে একত্র করে দেখাতেন।

তিনি আরও বলতেন: "অতঃপর সর্বোত্তম বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব-উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা।"

এরপর তিনি বলতেন: "আমি প্রত্যেক মুমিনের কাছে তার নিজের চেয়েও অধিক প্রিয়। যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে যায়, তা তার পরিবারের জন্য; আর যে ব্যক্তি ঋণ অথবা নিঃস্ব পরিবার রেখে যায়, তবে তার দায়ভার আমার ওপর।"

এটি মুসলিম, ইবনে মাজাহ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।

 

• মুয়াবিয়া (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তার ওপর বর্ষিত হোক) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং বললেন: "সাবধান! তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবরা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। আর এই উম্মত শীঘ্রই তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে; বাহাত্তর দল জাহান্নামে যাবে এবং এক দল জান্নাতে যাবে। আর তারা হলো আল-জামাআত।"

এটি আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। এক বর্ণনায় অতিরিক্ত রয়েছে যে: "নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যাদের মধ্যে প্রবৃত্তি এমনভাবে মিশে যাবে যেভাবে জলাতঙ্ক রোগের জীবাণু আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে মিশে যায়—যা শরীরের কোনো শিরা বা জোড় বাকি রাখে না যাতে তা প্রবেশ করে না।"

তাঁর বক্তব্য "আল-কালব" (জলাতঙ্ক) শব্দটি কাফ এবং লাম এর উপরে ফাতহা যোগে।

খাত্তাবি বলেন: এটি এমন একটি ব্যাধি যা মানুষকে পাগলা কুকুরের কামড়ের ফলে আক্রমণ করে। তিনি আরও বলেন: সেই কুকুরের লক্ষণ হলো তার চোখ দুটি লাল হয়ে যায় এবং সে সর্বদা তার লেজকে পেছনের দুই পায়ের মাঝখানে ঢুকিয়ে রাখে, আর যখনই কোনো মানুষকে দেখে তখন তাকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়।

 

• আয়েশা (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (আল্লাহর সালাত ও সালাম তার ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "ছয় প্রকার ব্যক্তি যাদেরকে আমি অভিশাপ দিয়েছি এবং আল্লাহও অভিশাপ দিয়েছেন আর সকল কবুলকৃত নবীও অভিশাপ দিয়েছেন: আল্লাহর কিতাবে অতিরিক্ত কিছু যোগকারী, আল্লাহর তাকদীর অস্বীকারকারী, আমার উম্মতের ওপর জবরদস্তি করে ক্ষমতা দখলকারী—যাতে সে তাকে অপমানিত করতে পারে যাকে আল্লাহ সম্মানিত করেছেন এবং তাকে সম্মানিত করতে পারে যাকে আল্লাহ অপমানিত করেছেন, আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে হালালকারী, আমার বংশধরদের ব্যাপারে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে হালালকারী এবং সুন্নাহ বর্জনকারী।"

এটি তাবারানি 'আল-কাবীর'-এ, ইবনে হিব্বান তার 'সহীহ'-এ এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেন: এর সানাদ সহীহ এবং এতে কোনো ত্রুটি আমি খুঁজে পাইনি।

 

• আবু বারজাহ (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত, নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তার ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "আমি তোমাদের ওপর কেবল ভ্রান্ত প্রবৃত্তির কামনা-বাসনারই আশঙ্কা করছি..."
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৫)
فِي بطونكم وفروجكم ومضلات الْهوى

رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَزَّار وَالطَّبَرَانِيّ فِي معاجيمه الثَّلَاثَة وَبَعض أسانيدهم رُوَاته ثِقَات

 

• وَعَن عَمْرو بن عَوْف رضي الله عنه قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول إِنِّي أَخَاف على أمتِي من ثَلَاث من زلَّة عَالم وَمن هوى مُتبع وَمن حكم جَائِر

رَوَاهُ الْبَزَّار وَالطَّبَرَانِيّ من طَرِيق كثير بن عبد الله وَهُوَ واه وَقد حسنها التِّرْمِذِيّ فِي مَوَاضِع وصححها فِي مَوضِع فَأنْكر عَلَيْهِ وَاحْتج بهَا ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه

 

• وَرُوِيَ عَن غُضَيْف بن الْحَارِث الثمالِي قَالَ بعث إِلَيّ عبد الْملك بن مَرْوَان فَقَالَ يَا أَبَا سُلَيْمَان إِنَّا قد جَمعنَا النَّاس على أَمريْن فَقَالَ وَمَا هما قَالَ رفع الْأَيْدِي على المنابر يَوْم الْجُمُعَة والقصص بعد الصُّبْح وَالْعصر فَقَالَ أما إنَّهُمَا أمثل بدعتكم عِنْدِي وَلست بمجيبكم إِلَى شَيْء مِنْهُمَا

قَالَ لم قَالَ لِأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا أحدث قوم بِدعَة إِلَّا رفع مثلهَا من السّنة فتمسك بِسنة خير من إِحْدَاث بِدعَة

رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَزَّار

 

• وروى عَنهُ الطَّبَرَانِيّ أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ مَا من أمة ابتدعت بعد نبيها فِي دينهَا إِلَّا أضاعت مثلهَا من السّنة

 

• وَرُوِيَ عَن أبي أُمَامَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا تَحت ظلّ السَّمَاء من إِلَه يعبد أعظم عِنْد الله من هوى مُتبع

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير وَابْن أبي عَاصِم فِي كتاب السّنة

 

• وَعَن أنس رضي الله عنه عَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ وَأما المهلكات فشح مُطَاع وَهوى مُتبع وَإِعْجَاب الْمَرْء بِنَفسِهِ

رَوَاهُ الْبَزَّار وَالْبَيْهَقِيّ وَغَيرهمَا وَيَأْتِي بِتَمَامِهِ فِي انْتِظَار الصَّلَاة إِن شَاءَ الله تَعَالَى

 

• وَعَن أنس بن مَالك رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إِن الله حجب التَّوْبَة عَن كل صَاحب بِدعَة حَتَّى يدع بدعته

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَإِسْنَاده حسن وَرَوَاهُ ابْن
তোমাদের পেট, লজ্জাস্থান এবং বিভ্রান্তকারী প্রবৃত্তির বিষয়ে।

আহমদ, বাজ্জার এবং তাবারানি তাঁর তিনটি মু'জাম গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁদের কোনো কোনো সূত্রের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।

 

• আমর ইবনে আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আমি আমার উম্মতের ওপর তিনটি বিষয়ে ভয় পাচ্ছি: আলেমের পদস্খলন, অনুসৃত প্রবৃত্তি এবং জালেম শাসকের বিচার।"

বাজ্জার এবং তাবারানি কাসির ইবনে আবদুল্লাহর সূত্র থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, আর সে হলো অত্যন্ত দুর্বল। তবে তিরমিজি কোনো কোনো স্থানে একে হাসান এবং এক স্থানে সহিহ বলেছেন, যা নিয়ে তাঁর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে; এবং ইবনে খুজাইমা তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।

 

• গুদাইফ ইবনুল হারিস আস-সুমালি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ান আমার কাছে লোক পাঠালেন এবং বললেন, "হে আবু সুলায়মান! আমরা মানুষকে দুটি বিষয়ের ওপর ঐক্যবদ্ধ করেছি।" তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "সে দুটি কী?" তিনি বললেন, "জুমার দিন মিম্বরের ওপর হাত তোলা এবং ফজর ও আসরের পর কিচ্ছা-কাহিনী বা ওয়াজ করা।" তখন তিনি বললেন, "জেনে রাখুন, এগুলো আপনাদের বিদআতগুলোর মধ্যে আমার কাছে তুলনামূলক উত্তম (হলেও), আমি এগুলোর কোনোটিতেই আপনাদের সাথে একমত হব না।"

তিনি বললেন, "কেন?" গুদাইফ বললেন, "কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: 'কোনো সম্প্রদায় যখনই কোনো বিদআতের উদ্ভাবন করে, তখনই তার সমপরিমাণ সুন্নাহ তুলে নেওয়া হয়। সুতরাং সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা কোনো বিদআত উদ্ভাবনের চেয়ে উত্তম।'"

আহমদ এবং বাজ্জার এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• তাবারানি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এমন কোনো উম্মত নেই যারা তাদের নবীর পর তাদের দ্বীনের মধ্যে কোনো বিদআতের প্রবর্তন করেছে, অথচ তারা তার সমপরিমাণ সুন্নাহ হারিয়ে ফেলেনি।"

 

• আবু উমামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আসমানের ছায়ার নিচে উপাসনা করা হয় এমন উপাস্যগুলোর মধ্যে আল্লাহর কাছে অনুসৃত প্রবৃত্তির চেয়ে বড় আর কোনো উপাস্য নেই।"

তাবারানি 'আল-কাবীর' গ্রন্থে এবং ইবনে আবি আসিম 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আর ধ্বংসকারী বিষয়গুলো হলো—অনুসৃত কৃপণতা, অনুসরণকৃত প্রবৃত্তি এবং মানুষের নিজের সম্পর্কে আত্মমুগ্ধতা।"

বাজ্জার, বায়হাকি এবং অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। ইনশাআল্লাহ 'নামাজের জন্য অপেক্ষা' অধ্যায়ে এটি পূর্ণাঙ্গরূপে আসবে।

 

• আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক বিদআতীর জন্য তওবার পথ রুদ্ধ করে রেখেছেন যতক্ষণ না সে তার বিদআত ত্যাগ করে।"

তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান। এটি ইবনে...
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৬)
مَاجَه وَابْن عَاصِم فِي كتاب السّنة من حَدِيث ابْن عَبَّاس

وَلَفْظهمَا قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم أَبى الله أَن يقبل عمل صَاحب بِدعَة حَتَّى يدع بدعته

وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه أَيْضا من حَدِيث حُذَيْفَة وَلَفظه قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَا يقبل الله لصَاحب بِدعَة صوما وَلَا صَلَاة وَلَا حجا وَلَا عمْرَة وَلَا جهادا وَلَا صرفا وَلَا عدلا يخرج من الاسلام كَمَا يخرج الشّعْر من الْعَجِين

 

• وَعَن الْعِرْبَاض بن سَارِيَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم إيَّاكُمْ والمحدثات فَإِن كل محدثة ضَلَالَة

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن صَحِيح وَتقدم بِتَمَامِهِ بِنَحْوِهِ

 

• وَرُوِيَ عَن أبي بكر الصّديق رضي الله عنه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ إِن إِبْلِيس قَالَ أهلكتهم بِالذنُوبِ فأهلكوني بالاستغفار فَلَمَّا رَأَيْت ذَلِك أهلكتهم بالأهواء فهم يحسبون أَنهم مهتدون فَلَا يَسْتَغْفِرُونَ

رَوَاهُ ابْن أبي عَاصِم وَغَيره

 

• وَعَن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لكل عمل شرة وَلكُل شرة فَتْرَة فَمن كَانَت فترته إِلَى سنتي فقد اهْتَدَى وَمن كَانَت فترته إِلَى غير ذَلِك فقد هلك

رَوَاهُ ابْن أبي عَاصِم وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَرَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه أَيْضا من حَدِيث أبي هُرَيْرَة أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لكل عمل شرة وَلكُل شرة فَتْرَة فَإِن كَانَ صَاحبهَا سَاد أَو قَارب فارجوه وَإِن أُشير إِلَيْهِ بالأصابع فَلَا تعدوه

الشرة بِكَسْر الشين الْمُعْجَمَة وَتَشْديد الرَّاء بعْدهَا تَاء تَأْنِيث هِيَ النشاط والهمة وشرة الشَّبَاب أَوله وحدته

 

• وَعَن أنس رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من رغب عَن سنتي فَلَيْسَ مني

رَوَاهُ مُسلم

 

• وَعَن عَمْرو بن عَوْف رضي الله عنه أَن رَسُول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ لِبلَال بن الْحَارِث
ইবনে মাজাহ এবং ইবনে আবি আসিম 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন

এবং তাঁদের শব্দাবলি হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা কোনো বিদআতি ব্যক্তির আমল কবুল করতে অস্বীকার করেছেন যতক্ষণ না সে তার বিদআত পরিত্যাগ করে

ইবনে মাজাহ এটি হুযায়ফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর হাদিস থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর শব্দাবলি হলো, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ কোনো বিদআতির রোজা, নামাজ, হজ, উমরা, জিহাদ, নফল ইবাদত কিংবা ফরজ ইবাদত কবুল করেন না। সে ইসলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যায় যেমন আটা থেকে চুল বের হয়ে যায়

 

• ইরবায বিন সারিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমরা নতুন উদ্ভাবিত বিষয় (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকো, কারণ প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই পথভ্রষ্টতা

এটি আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী বলেছেন এটি হাসান সহীহ হাদিস। এর অনুরূপ বর্ণনাটি ইতিপূর্বে পূর্ণাঙ্গভাবে অতিবাহিত হয়েছে

 

• আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: ইবলিস বলেছিল, আমি মানুষদের গুনাহের মাধ্যমে ধ্বংস করেছি, কিন্তু তারা আমাকে ইস্তেগফারের (ক্ষমা প্রার্থনা) মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়েছে। যখন আমি এটি দেখলাম, তখন আমি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণের মাধ্যমে ধ্বংস করলাম; ফলে তারা মনে করে যে তারা সঠিক পথে আছে, তাই তারা ইস্তেগফার করে না

এটি ইবনে আবি আসিম এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন

 

• আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: প্রত্যেক আমলের একটি উদ্যম থাকে এবং প্রত্যেক উদ্যমের একটি শিথিলতা থাকে। সুতরাং যার শিথিলতা আমার সুন্নতের দিকে হবে, সে সঠিক পথ পাবে। আর যার শিথিলতা অন্য কিছুর দিকে হবে, সে ধ্বংস হবে

এটি ইবনে আবি আসিম এবং ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হিব্বান এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: প্রত্যেক আমলের একটি উদ্যম থাকে এবং প্রত্যেক উদ্যমের একটি শিথিলতা থাকে। যদি আমলকারী মধ্যপন্থা অবলম্বন করে বা তার কাছাকাছি থাকে, তবে তোমরা তার নিকট মঙ্গলের আশা করো। আর যদি (লোকদেখানো প্রসিদ্ধির কারণে) তার দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করা হয়, তবে তাকে (নেককারদের মধ্যে) গণ্য করো না

'শিররাহ' শব্দটি শিন বর্ণে কাসরা (জের) এবং রা বর্ণে তাশদীদ সহযোগে গঠিত, যার শেষে একটি 'তা' রয়েছে; এর অর্থ হলো উদ্যম ও সংকল্প। আর যৌবনের শিরাহ বলতে এর শুরুর দিককার তেজস্বিতা ও তীব্রতাকে বোঝায়

 

• আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়

এটি ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন

 

• আমর বিন আউফ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিলাল বিন হারিসকে বললেন:
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৭)
يَوْمًا اعْلَم يَا بِلَال قَالَ مَا أعلم يَا رَسُول الله قَالَ اعْلَم أَن من أَحْيَا سنة من سنتي أميتت بعدِي كَانَ لَهُ من الْأجر مثل من عمل بهَا من غير أَن ينقص من أُجُورهم شَيْئا وَمن ابتدع بِدعَة ضَلَالَة لَا يرضاها الله وَرَسُوله كَانَ عَلَيْهِ مثل آثام من عمل بهَا لَا ينقص ذَلِك من أوزار النَّاس شَيْئا

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه كِلَاهُمَا من طَرِيق كثير بن عبد الله بن عَمْرو بن عَوْف عَن أَبِيه عَن جده وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث حسن

قَالَ الْحَافِظ بل كثير بن عبد الله مَتْرُوك رَوَاهُ كَمَا تقدم وَلَكِن للْحَدِيث شَوَاهِد

 

• وَعَن الْعِرْبَاض بن سَارِيَة رضي الله عنه أَنه سمع رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَقُول لقد تركتكم على مثل الْبَيْضَاء لَيْلهَا كنهارها لَا يزِيغ عَنْهَا إِلَّا هَالك

رَوَاهُ ابْن أبي عَاصِم فِي كتاب السّنة بِإِسْنَاد حسن

 

• وَعَن عَمْرو بن زُرَارَة قَالَ وقف عَليّ عبد الله يَعْنِي ابْن مَسْعُود وَأَنا أقص فَقَالَ يَا عَمْرو لقد ابتدعت بِدعَة ضَلَالَة أَو إِنَّك لأهدى من مُحَمَّد وَأَصْحَابه فَلَقَد رَأَيْتهمْ تفَرقُوا عني حَتَّى رَأَيْت مَكَاني مَا فِيهِ أحد

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير بِإِسْنَادَيْنِ أَحدهمَا صَحِيح

قَالَ الْحَافِظ عبد الْعَظِيم وَتَأْتِي أَحَادِيث مُتَفَرِّقَة من هَذَا النَّوْع فِي هَذَا الْكتاب إِن شَاءَ الله تَعَالَى

 

التَّرْغِيب فِي الْبدَاءَة بِالْخَيرِ ليستن بِهِ والترهيب من الْبدَاءَة بِالشَّرِّ خوف أَن يستن بِهِ

 

• عَن جرير رضي الله عنه قَالَ كُنَّا فِي صدر النَّهَار عِنْد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَجَاءَهُ قوم غزَاة مجتابي النمار والعباء متقلدي السيوف عامتهم من مُضر بل كلهم من مُضر فتمعر وَجه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لما رأى مَا بهم من الْفَاقَة فَدخل ثمَّ خرج فَأمر بِلَالًا فَأذن وَأقَام فصلى ثمَّ خطب فَقَالَ {يَا أَيهَا النَّاس اتَّقوا ربكُم الَّذِي خَلقكُم من نفس وَاحِدَة} إِلَى آخر الْآيَة {إِن الله كَانَ عَلَيْكُم رقيبا} النِّسَاء 1

وَالْآيَة الَّتِي فِي الْحَشْر
একদিন (তিনি বললেন), 'হে বিলাল, জেনে রাখ।' তিনি বললেন, 'আল্লাহর রাসূল, আমি কী জানব?' তিনি বললেন, 'জেনে রাখ, যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহসমূহের মধ্য থেকে এমন একটি সুন্নাহকে জীবিত করবে যা আমার পরে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, তবে তার জন্য সেই ব্যক্তির সমান সওয়াব রয়েছে যে ব্যক্তি সেই সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করবে, এতে তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো ভ্রান্ত বিদআত (নব-উদ্ভাবন) তৈরি করবে যা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল পছন্দ করেন না, তবে তার ওপর সেই ব্যক্তির সমান গুনাহ বর্তাবে যে ব্যক্তি তা পালন করবে, এতে মানুষের গুনাহ থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।'

এটি তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন, তারা উভয়েই কাসির বিন আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আউফ-এর সূত্রে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেছেন, এটি একটি হাসান হাদিস।

হাফেজ (আল-মুনজিরি) বলেন: বরং কাসির বিন আব্দুল্লাহ একজন পরিত্যক্ত বর্ণনাকারী। তিনি এটি পূর্বোল্লিখিতভাবে বর্ণনা করেছেন, তবে এই হাদিসটির অন্যান্য সমর্থনকারী বর্ণনা (শাওয়াহিদ) রয়েছে।

 

• ইরবাজ বিন সারিয়া (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছেন: আমি তোমাদেরকে এক স্বচ্ছ উজ্জ্বল দ্বীনের ওপর রেখে গেলাম, যার রাতও দিনের মতো (পরিষ্কার)। ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।

এটি ইবনে আবি আসিম তাঁর 'কিতাবুস সুন্নাহ' গ্রন্থে একটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।

 

• আমর বিন যুরারা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ (অর্থাৎ ইবনে মাসউদ) আমার কাছে এসে দাঁড়ালেন যখন আমি নসীহত করছিলাম। তিনি বললেন: হে আমর! তুমি হয়তো একটি ভ্রান্ত বিদআত সৃষ্টি করেছ অথবা তুমি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীদের চেয়েও বেশি সঠিক পথে আছ। (আমরের বর্ণনার পরের অংশ:) আমি দেখলাম তারা আমার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, এমনকি আমি দেখলাম আমার মজলিসে আর কেউ অবশিষ্ট নেই।

এটি তাবারানি তাঁর 'আল-মুজামুল কাবীর' গ্রন্থে দুটি সনদে বর্ণনা করেছেন, যার একটি সহিহ।

হাফেজ আব্দুল আজিম (আল-মুনজিরি) বলেন: ইনশাআল্লাহ তাআলা এই গ্রন্থে এ ধরনের আরও বিভিন্ন হাদিস সামনে আসবে।

 

উত্তম কাজের সূচনা করার ব্যাপারে উৎসাহ দান যেন অন্যরা তা অনুসরণ করে এবং মন্দ কাজের সূচনা করার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন যেন অন্যরা তা অনুসরণ না করে।

 

• জারীর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা দিনের শুরুর ভাগে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় একদল লোক তাঁর কাছে আসল যারা ছিল বস্ত্রহীন (বা সামান্য বস্ত্রাবৃত), চিতা বাঘের ন্যায় ডোরাকাটা পশমী চাদর জড়ানো এবং গলায় তলোয়ার ঝুলানো। তাদের অধিকাংশ বরং তারা সকলেই ছিল মুদার গোত্রের। তাদের অভাব-অনটন দেখে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি ভিতরে প্রবেশ করলেন এবং আবার বেরিয়ে এলেন। এরপর তিনি বিলালকে আদেশ দিলে তিনি আজান ও ইকামত দিলেন। তারপর তিনি নামাজ আদায় করলেন এবং খুতবা প্রদান করলেন। তিনি বললেন: {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর সদা সজাগ দৃষ্টিদানকারী} (সূরা নিসা: ১)।

এবং সূরা হাশরের সেই আয়াতটিও (তিনি পাঠ করলেন)।
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৮)
{اتَّقوا الله ولتنظر نفس مَا قدمت لغد} الْحَشْر 81

تصدق رجل من ديناره من درهمه من ثَوْبه من صَاع بره من صَاع تمره حَتَّى قَالَ وَلَو بشق تَمْرَة

قَالَ فجَاء رجل من الْأَنْصَار بصرة كَادَت كَفه تعجز عَنْهَا بل قد عجزت قَالَ ثمَّ تتَابع النَّاس حَتَّى رَأَيْت كومين من طَعَام وَثيَاب حَتَّى رَأَيْت وَجه رَسُول الله صلى الله عليه وسلم يَتَهَلَّل كَأَنَّهُ مذهبَة فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من سنّ فِي الْإِسْلَام سنة حَسَنَة فَلهُ أجرهَا وَأجر من عمل بهَا من بعده من غير أَن ينقص من أُجُورهم شَيْء وَمن سنّ فِي الْإِسْلَام سنة سَيِّئَة كَانَ عَلَيْهِ وزرها ووزر من عمل بهَا من غير أَن ينقص من أوزارهم شَيْء

رَوَاهُ مُسلم وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه وَالتِّرْمِذِيّ بِاخْتِصَار الْقِصَّة

قَوْله مجتابي هُوَ بِالْجِيم الساكنة ثمَّ تَاء مثناة وَبعد الْألف بَاء مُوَحدَة والنمار جمع نمرة وَهِي كسَاء من صوف مخطط أَي لابسي النمار قد خرقوها فِي رؤوسهم والجوب الْقطع

وَقَوله تمعر هُوَ بِالْعينِ الْمُهْملَة الْمُشَدّدَة أَي تغير

وَقَوله كَأَنَّهُ مذهبَة ضَبطه بعض الْحفاظ بدال مُهْملَة وهاء مَضْمُومَة وَنون وَضَبطه بَعضهم بذال مُعْجمَة وبفتح الْهَاء وَبعدهَا بَاء مُوَحدَة وَهُوَ الصَّحِيح الْمَشْهُور وَمَعْنَاهُ على كلا التَّقْدِيرَيْنِ ظهر الْبشر فِي وَجهه صلى الله عليه وسلم حَتَّى استنار وأشرق من السرُور والمذهبة صحيفَة منقشة بِالذَّهَب أَو ورقة من القرطاس مطلية بِالذَّهَب يصف حسنه وتلألؤه صلى الله عليه وسلم

 

• وَعَن حُذَيْفَة رضي الله عنه قَالَ سَأَلَ رجل على عهد رَسُول الله صلى الله عليه وسلم فَأمْسك الْقَوْم ثمَّ إِن رجلا أعطَاهُ فَأعْطى الْقَوْم فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم من سنّ خيرا فاستن بِهِ كَانَ لَهُ أجره وَمثل أجور من تبعه غير منقص من أُجُورهم شَيْئا وَمن سنّ شرا فاستن بِهِ كَانَ عَلَيْهِ وزره وَمثل أوزار من تبعه غير منتقص من أوزارهم شَيْئا

رَوَاهُ أَحْمد وَالْحَاكِم وَقَالَ صَحِيح الْإِسْنَاد وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه من حَدِيث أبي هُرَيْرَة

 

• وَعَن ابْن مَسْعُود رضي الله عنه أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيْسَ من نفس تقتل ظلما إِلَّا كَانَ على ابْن آدم الأول كفل من دَمهَا لِأَنَّهُ أول من سنّ الْقَتْل

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ
{তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তির লক্ষ্য করা উচিত যে সে আগামীকালের (পরকালের) জন্য কী অগ্রিম পাঠিয়েছে।} আল-হাশর ১৮

কোনো ব্যক্তি যেন তার দীনার থেকে, তার দিরহাম থেকে, তার পোশাক থেকে, তার এক সা’ গম থেকে, তার এক সা’ খেজুর থেকে দান করে—এমনকি তিনি বললেন, খেজুরের অর্ধেক টুকরো হলেও।

তিনি বলেন, অতঃপর আনসারদের এক ব্যক্তি একটি থলি নিয়ে আসলেন যা বহন করতে তার হাতের তালু প্রায় অক্ষম হয়ে পড়েছিল, বরং অক্ষম হয়েই গিয়েছিল। তিনি বলেন, এরপর মানুষ ধারাবাহিকভাবে দান করতে থাকল, এমনকি আমি খাদ্য ও পোশাকের দুটি স্তূপ দেখতে পেলাম। শেষ পর্যন্ত আমি দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে যেন তা স্বর্ণমণ্ডিত কোনো বস্তু। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো ভালো পদ্ধতি প্রবর্তন করল, তার জন্য এর প্রতিদান রয়েছে এবং তার পরবর্তী সময়ে যারা এর ওপর আমল করবে তাদের প্রতিদানও সে পাবে, এতে তাদের প্রতিদান থেকে সামান্যও হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতি প্রবর্তন করল, তার ওপর এর পাপ বর্তাবে এবং তার পরবর্তী সময়ে যারা এর ওপর আমল করবে তাদের পাপও তার ওপর বর্তাবে, এতে তাদের পাপ থেকে সামান্যও হ্রাস করা হবে না।

এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ। আর তিরমিজি ঘটনাটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর বাণী 'মুজতাবী' শব্দটি জিম সাকিন, এরপর তা এবং আলিফের পরে বা যোগে গঠিত। 'নামার' হলো 'নামিরাহ' এর বহুবচন, যা হলো পশমি ডোরাকাটা চাদর; অর্থাৎ তারা নামিরাহ পরিহিত ছিল যা তারা মাথার দিক দিয়ে ছিদ্র করে পরিধান করেছিল। আর 'জাওব' অর্থ হলো কাটা।

আর তাঁর বাণী 'তামা'আরা' শব্দটি আইন হরফটি তাশদীদযুক্ত অবস্থায়; এর অর্থ হলো বিবর্ণ হওয়া বা পরিবর্তিত হওয়া।

তাঁর বাণী 'কাআন্নাহু মুযহাবাহ' সম্পর্কে কিছু হাফেজ (মুহাদ্দিস) দাল ও পেশযুক্ত হা এবং নূন দিয়ে পাঠ করেছেন। আবার কেউ কেউ যাল এবং জবরযুক্ত হা এর পর বা দিয়ে পাঠ করেছেন। আর এটিই সঠিক ও প্রসিদ্ধ। উভয় অর্থেই এর তাৎপর্য হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় খুশির আভা ফুটে উঠেছিল, এমনকি আনন্দের কারণে তা উজ্জ্বল ও প্রদীপ্ত হয়ে উঠেছিল। 'মুযহাবাহ' হলো স্বর্ণখচিত কোনো ফলক বা স্বর্ণের প্রলেপ দেওয়া কোনো কাগজ; এখানে তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সৌন্দর্যের শুভ্রতা ও উজ্জ্বলতার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

 

• হুজাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এক ব্যক্তি কিছু চাইল, কিন্তু লোকেরা বিরত থাকল। অতঃপর এক ব্যক্তি তাকে কিছু প্রদান করল, তখন অন্য লোকেরাও তাকে দিতে শুরু করল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজ শুরু করল এবং তাকে অনুসরণ করা হলো, সে তার নিজের প্রতিদান পাবে এবং যারা তাকে অনুসরণ করেছে তাদের সমপরিমাণ প্রতিদানও পাবে, এতে তাদের প্রতিদান থেকে কিছুই হ্রাস করা হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ শুরু করল এবং তাকে অনুসরণ করা হলো, তার ওপর নিজের পাপের বোঝা বর্তাবে এবং যারা তাকে অনুসরণ করেছে তাদের সমপরিমাণ পাপের বোঝাও তার ওপর বর্তাবে, এতে তাদের পাপের বোঝা থেকে কিছুই হ্রাস করা হবে না।

এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ এবং হাকেম, আর হাকেম একে সহীহ সনদে বর্ণিত বলেছেন। ইবনে মাজাহ এটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

• ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যখনই কোনো ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়, তখন আদমের প্রথম সন্তানের ওপর সেই রক্তের একটি অংশ বর্তায়। কারণ সে-ই প্রথম হত্যার রীতি প্রবর্তন করেছিল।

এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, মুসলিম এবং তিরমিজি।
(খণ্ড: ১) আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব - আল-মুনযিরী - তাবা আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪৯)
• وَعَن وَاثِلَة بن الْأَسْقَع رضي الله عنه عَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ من سنّ سنة حَسَنَة فَلهُ أجرهَا مَا عمل بهَا فِي حَيَاته وَبعد مماته حَتَّى تتْرك وَمن سنّ سنة سَيِّئَة فَعَلَيهِ إثمها حَتَّى تتْرك وَمن مَاتَ مرابطا جرى عَلَيْهِ عمل المرابط حَتَّى يبْعَث يَوْم الْقِيَامَة

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير بِإِسْنَاد لَا بَأْس بِهِ

قَالَ الْحَافِظ وَتقدم فِي الْبَاب قبله حَدِيث كثير بن عبد الله بن عَمْرو بن عَوْف عَن أَبِيه عَن جده أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ لِبلَال بن الْحَارِث اعْلَم يَا بِلَال قَالَ مَا أعلم يَا رَسُول الله قَالَ إِنَّه من أَحْيَا سنة من سنتي قد أميتت بعدِي كَانَ لَهُ من الْأجر مثل من عمل بهَا من غير أَن ينقص من أُجُورهم شَيْئا وَمن ابتدع بِدعَة ضَلَالَة لَا يرضاها الله وَرَسُوله كَانَ عَلَيْهِ مثل آثام من عمل بهَا لَا ينقص ذَلِك من أوزار النَّاس شَيْئا

رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه

 

• وَعَن سهل بن سعد رضي الله عنهما أَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم قَالَ إِن هَذَا الْخَيْر خَزَائِن ولتلك الخزائن مَفَاتِيح فطوبى لعبد جعله الله عز وجل مفتاحا للخير مغلاقا للشر وويل لعبد جعله الله مفتاحا للشر مغلاقا للخير

رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَاللَّفْظ لَهُ وَابْن أبي عَاصِم وَفِي سَنَده لين وَهُوَ فِي التِّرْمِذِيّ بِقصَّة

 

• وَعَن أبي هُرَيْرَة رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم مَا من دَاع يَدْعُو إِلَى شَيْء إِلَّا وقف يَوْم الْقِيَامَة لَازِما لدعوته مَا دَعَا إِلَيْهِ وَإِن دَعَا رجل رجلا

رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَرُوَاته ثِقَات
• ওয়াসিলা বিন আল-আসকা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো ভালো রীতির প্রচলন করল, সে তার প্রতিদান পাবে যতক্ষণ তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরে তার ওপর আমল করা হবে যতক্ষণ না তা বর্জন করা হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো মন্দ রীতির প্রচলন করল, তার ওপর তার পাপ বর্তাবে যতক্ষণ না তা বর্জন করা হয়। আর যে ব্যক্তি সীমান্ত প্রহরায় (মুরাবিত হিসেবে) নিযুক্ত থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল, কিয়ামত দিবসে পুনরুত্থিত হওয়া পর্যন্ত তার জন্য সীমান্ত প্রহরীর আমল জারি থাকবে।"

তাবারানি এটি 'আল-কাবীর'-এ বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাসূত্র মন্দ নয়।

হাফেজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে কাসীর বিন আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আউফ তার পিতা থেকে এবং তিনি তার দাদা থেকে বর্ণিত হাদিসটি অতিক্রান্ত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিলাল বিন হারিসকে বললেন, "হে বিলাল! জেনে রাখো।" তিনি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি কী জানব?" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহর মধ্য থেকে এমন কোনো সুন্নাহ পুনরুজ্জীবিত করল যা আমার পর বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, তবে তার জন্য ঐ ব্যক্তিদের সমান সওয়াব হবে যারা তার ওপর আমল করবে, এতে তাদের সওয়াবের কোনো কমতি হবে না। আর যে ব্যক্তি কোনো পথভ্রষ্ট বিদআত উদ্ভাবন করল যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল পছন্দ করেন না, তবে তার ওপর ঐ ব্যক্তিদের সমান পাপ হবে যারা তার ওপর আমল করবে, এতে মানুষের গুনাহের কোনো কমতি হবে না।"

ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি একে হাসান বলেছেন।

 

• সাহল বিন সা'দ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই কল্যাণ হলো অনেক ভাণ্ডার, আর সেই ভাণ্ডারসমূহের অনেক চাবিকাঠি রয়েছে। অতএব সুসংবাদ সেই বান্দার জন্য যাকে আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল কল্যাণের চাবিকাঠি ও অকল্যাণের প্রতিবন্ধক বানিয়েছেন। আর দুর্ভোগ সেই বান্দার জন্য যাকে আল্লাহ অকল্যাণের চাবিকাঠি ও কল্যাণের প্রতিবন্ধক বানিয়েছেন।"

ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং শব্দসমূহ তাঁরই, আর ইবনে আবি আসিমও এটি বর্ণনা করেছেন; এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে। আর এটি তিরমিজিতে একটি ঘটনার সাথে বর্ণিত হয়েছে।

 

• আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এমন কোনো আহ্বানকারী নেই যে কোনো কিছুর দিকে আহ্বান করে, কিয়ামতের দিন তাকে তার ঐ আহ্বানের সাথেই দণ্ডায়মান রাখা হবে যেটির দিকে সে আহ্বান করেছিল; এমনকি যদি এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তিকে আহ্বান করে থাকে তবুও।"

ইবনে মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।